(খণ্ড: ১) আল-আহকামুল কুবরা (পৃষ্ঠা: -)
الأحكام الكبرى   (عبد الحق الإشبيلي)

القسم: كتب السنة

الكتاب: الأحكام الشرعية الكبرى

المؤلف: عبد الحق بن عبد الرحمن بن عبد الله بن الحسين بن سعيد إبراهيم الأزدي، الأندلسي الأشبيلي، المعروف بابن الخراط (المتوفى: 581 هـ)

المحقق: أبو عبد الله حسين بن عكاشة

الناشر: مكتبة الرشد - السعودية / الرياض

الطبعة: الأولى، 1422 هـ - 2001 م

عدد الأجزاء: 5 (4 أجزاء ومجلد فهارس)

تنبيه: فُقِد مجلدان من أصل مخطوط الكتاب الواقع في سِتّ مجلدات -يسر اللهُ العثور عليها-.

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-আহকামুল কুবরা   (আবদুল হক আল-ইশবিলি)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ

গ্রন্থ: আল-আহকামুশ শারঈয়াহ আল-কুবরা

লেখক: আবদুল হক বিন আবদুর রহমান বিন আবদুল্লাহ বিন আল-হুসাইন বিন সাঈদ ইবরাহিম আল-আজদি, আল-আন্দালুসি আল-ইশবিলি, ইবনুল খাররাত নামে পরিচিত (মৃত্যু: ৫৮১ হিজরি)

সম্পাদক: আবু আবদুল্লাহ হুসাইন বিন উকাশাহ

প্রকাশক: মাকতাবাতুর রুশদ - সৌদি আরব / রিয়াদ

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২২ হিজরি - ২০০১ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ৫ (৪ খণ্ড এবং একটি নির্ঘণ্ট খণ্ড)

সতর্কবার্তা: ছয় খণ্ডে সমাপ্ত এই গ্রন্থের মূল পাণ্ডুলিপি থেকে দুইটি খণ্ড হারিয়ে গেছে - আল্লাহ যেন সেগুলো খুঁজে পাওয়া সহজ করে দেন।

[গ্রন্থের নম্বরবিন্যাস মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-আহকামুল কুবরা (পৃষ্ঠা: -)
ـ[الْأَحْكَام الشَّرْعِيَّة الْكُبْرَى]ـ

الْمُؤلف: عبد الْحق بن عبد الرَّحْمَن بن عبد الله بن الْحُسَيْن بن سعيد إِبْرَاهِيم الْأَزْدِيّ، الأندلسي الأشبيلي، الْمَعْرُوف بِابْن الْخَرَّاط (الْمُتَوفَّى: 581هـ)

الْمُحَقق: أَبُو عبد الله حُسَيْن بن عكاشة

الناشر: مكتبة الرشد - السعودية / الرياض

الطبعة: الأولى، 1422هـ - 2001م

عدد الْأَجْزَاء: 5 (4 أَجزَاء ومجلد فهارس)

[ترقيم الْكتاب مُوَافق للمطبوع]
[আল-আহকামুশ শারঈয়াতুল কুবরা]

লেখক: আব্দুল হক বিন আব্দুর রহমান বিন আব্দুল্লাহ বিন হুসাইন বিন সাঈদ ইব্রাহিম আল-আযদি, আল-আন্দালুসি আল-ইশবিলি, যিনি ইবনুল খাররাত নামে পরিচিত (মৃত্যু: ৫৮১ হিজরি)

তাহকীক: আবু আব্দুল্লাহ হুসাইন বিন উকাশাহ

প্রকাশক: মাকতাবাতুর রুশদ - সৌদি আরব / রিয়াদ

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২২ হিজরি - ২০০১ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ৫ (৪ খণ্ড এবং একটি সূচিপত্র খণ্ড)

[গ্রন্থের নম্বরবিন্যাস মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ]
(খণ্ড: ১) আল-আহকামুল কুবরা (পৃষ্ঠা: ৬৭)
بسم الله الرحمن الرحيم

اللَّهُمَّ صل على مُحَمَّد وعَلى آله

‌‌كتاب الْإِيمَان

 

بَاب بَيَان النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ - الْإِسْلَام وَالْإِيمَان

قَالَ أَبُو الْحُسَيْن مُسلم بن الْحجَّاج رحمه الله: حَدثنَا أَبُو خَيْثَمَة زُهَيْر بن حَرْب، ثَنَا وَكِيع، عَن كهمس، عَن عبد الله بن بُرَيْدَة، عَن يحيى بن يعمر ح.

قَالَ: وثنا عبيد الله بن معَاذ الْعَنْبَري - وَهَذَا حَدِيثه - ثَنَا أبي، ثَنَا كهمس، عَن ابْن بُرَيْدَة، عَن يحيى بن يعمر قَالَ: " كَانَ أول من قَالَ فِي الْقدر بِالْبَصْرَةِ معبد الْجُهَنِيّ، فَانْطَلَقت أَنا وَحميد بن عبد الرَّحْمَن الْحِمْيَرِي حاجين أَو معتمرين، فَقُلْنَا: لَو لَقينَا أحدا من أَصْحَاب رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ -، فَسَأَلْنَاهُ مَا يَقُول هَؤُلَاءِ فِي الْقدر، فوفق لنا عبد الله بن عمر بن الْخطاب دَاخِلا الْمَسْجِد، فاكتنفته أَنا وصاحبي، أَحَدنَا عَن يَمِينه وَالْآخر عَن شِمَاله، فَظَنَنْت أَن صَاحِبي سيكل الْكَلَام إِلَيّ فَقلت: أَبَا عبد الرَّحْمَن، إِنَّه قد ظهر قبلنَا نَاس يقرءُون الْقُرْآن ويتقفرون الْعلم. وَذكر من شَأْنهمْ، وَأَنَّهُمْ يَزْعمُونَ أَن لَا قدر، وَأَن الْأَمر أنف. فَقَالَ: إِذا لقِيت أُولَئِكَ، فَأخْبرهُم أَنِّي بَرِيء مِنْهُم، وَأَنَّهُمْ برَاء مني، وَالَّذِي يحلف بِهِ عبد الله بن عمر: لَو أَن لأَحَدهم مثل أحد ذَهَبا فأنفقه مَا قبل الله مِنْهُ حَتَّى يُؤمن بِالْقدرِ. ثمَّ قَالَ: حَدثنِي أبي عمر بن الْخطاب، قَالَ: بَيْنَمَا نَحن عِنْد رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ - إِذْ طلع علينا رجل شَدِيد بَيَاض الثِّيَاب، شَدِيد سَواد الشّعْر، لَا يرى عَلَيْهِ أثر السّفر، وَلَا يعرفهُ منا أحد، حَتَّى جلس إِلَى النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ -، فأسند رُكْبَتَيْهِ إِلَى رُكْبَتَيْهِ، وَوضع كفيه على فَخذيهِ، وَقَالَ: يَا مُحَمَّد، أَخْبرنِي عَن الْإِسْلَام. قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ -: الْإِسْلَام أَن تشهد أَن لَا إِلَه إِلَّا الله وَأَن مُحَمَّدًا رَسُول الله، وتقيم الصَّلَاة، وتؤتي الزَّكَاة، وتصوم رَمَضَان، وتحج الْبَيْت إِن اسْتَطَعْت إِلَيْهِ سَبِيلا. قَالَ: صدقت. فعجبنا لَهُ يسْأَله ويصدقه. قَالَ: فَأَخْبرنِي عَن الْإِيمَان. قَالَ: أَن تؤمن بِاللَّه وَمَلَائِكَته، وَكتبه، وَرُسُله
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

হে আল্লাহ, মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গের ওপর রহমত বর্ষণ করুন।

‌‌ঈমান অধ্যায়

 

অনুচ্ছেদ: ইসলাম ও ঈমান সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বর্ণনা

আবুল হুসাইন মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু খাইসামা জুহাইর ইবনে হারব, তিনি ওয়াকি থেকে, তিনি কাহমাস থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে বুরাইদাহ থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে ইয়ামার থেকে।

তিনি বলেন: এবং আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন উবায়দুল্লাহ ইবনে মুয়ায আল-আনবারী - এটি তাঁর বর্ণিত হাদীস - আমাদের নিকট আমার পিতা হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি কাহমাস থেকে, তিনি ইবনে বুরাইদাহ থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে ইয়ামার থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "বসরায় তাকদীর সম্পর্কে প্রথম যে ব্যক্তি বিভ্রান্তিকর কথা বলেছিল সে হলো মাবাদ আল-জুহানি। তখন আমি এবং হুমাইদ ইবনে আবদুর রহমান আল-হিময়ারি হাজ্জ অথবা উমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে বের হলাম। আমরা বললাম: যদি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোনো সাহাবীর সাথে আমাদের সাক্ষাৎ হতো, তবে তাকদীর সম্পর্কে এই লোকেরা যা বলে সে বিষয়ে আমরা তাঁকে জিজ্ঞাসা করতাম। এরপর ঘটনাক্রমে আমরা আবদুল্লাহ ইবনে উমর ইবনুল খাত্তাবকে মসজিদে প্রবেশ করতে দেখে তাঁর দিকে এগিয়ে গেলাম। আমি এবং আমার সাথী তাঁকে মাঝখানে রেখে তাঁর দুই পাশে দাঁড়ালাম; একজন তাঁর ডান দিকে এবং অন্যজন তাঁর বাম দিকে। আমার ধারণা হলো যে, আমার সাথী কথা বলার দায়িত্ব আমাকেই অর্পণ করবে। তাই আমি বললাম: হে আবু আবদুর রহমান, আমাদের অঞ্চলে এমন কিছু লোকের আবির্ভাব ঘটেছে যারা কুরআন পাঠ করে এবং জ্ঞান অন্বেষণ করে। এরপর তিনি তাদের অবস্থার কথা উল্লেখ করলেন এবং বললেন যে, তারা দাবি করে তাকদীর বলতে কিছু নেই এবং সব বিষয়ই পূর্ব পরিকল্পনা ছাড়া আকস্মিকভাবে ঘটে। তখন ইবনে উমর বললেন: যখন তুমি তাদের সাথে সাক্ষাৎ করবে, তখন তাদের বলে দিও যে, আমি তাদের থেকে মুক্ত এবং তারাও আমার থেকে মুক্ত। আবদুল্লাহ ইবনে উমর যাঁর নামে শপথ করেন, সেই সত্তার কসম: যদি তাদের কারো কাছে উহুদ পাহাড় পরিমাণ স্বর্ণ থাকে এবং সে তা ব্যয় করে ফেলে, তবে তাকদীরের ওপর ঈমান না আনা পর্যন্ত আল্লাহ তার পক্ষ থেকে তা কবুল করবেন না। এরপর তিনি বললেন: আমার পিতা উমর ইবনুল খাত্তাব আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: একদিন আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে উপস্থিত ছিলাম, এমন সময় আমাদের সামনে এক ব্যক্তি আবির্ভূত হলেন যার পোশাক ছিল ধবধবে সাদা এবং চুল ছিল কুচকুচে কালো। তাঁর মধ্যে সফরের কোনো চিহ্ন দেখা যাচ্ছিল না এবং আমাদের মধ্যে কেউ তাঁকে চিনত না। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে গিয়ে বসলেন এবং নিজের দুই হাঁটু তাঁর দুই হাঁটুর সাথে ঠেকালেন এবং নিজের দুই হাত তাঁর দুই উরুর ওপর রাখলেন। তিনি বললেন: হে মুহাম্মাদ, আমাকে ইসলাম সম্পর্কে বলুন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: ইসলাম হলো তুমি এই সাক্ষ্য দেবে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল, আর তুমি সালাত কায়েম করবে, যাকাত প্রদান করবে, রমজানের সিয়াম পালন করবে এবং সামর্থ্য থাকলে আল্লাহর ঘরের হজ করবে। তিনি বললেন: আপনি সত্য বলেছেন। আমরা তাঁর বিষয়ে আশ্চর্যান্বিত হলাম যে, তিনি নিজেই প্রশ্ন করছেন আবার নিজেই তা সত্যায়ন করছেন। তিনি বললেন: এখন আমাকে ঈমান সম্পর্কে বলুন। তিনি বললেন: ঈমান হলো তুমি বিশ্বাস স্থাপন করবে আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাগণের প্রতি, তাঁর কিতাবসমূহের প্রতি এবং তাঁর রাসূলগণের প্রতি।
(খণ্ড: ১) আল-আহকামুল কুবরা (পৃষ্ঠা: ৬৮)
وَالْيَوْم الآخر، وتؤمن بِالْقدرِ خَيره وشره. قَالَ: صدقت. قَالَ: فَأَخْبرنِي عَن الْإِحْسَان. قَالَ: أَن تعبد الله كَأَنَّك ترَاهُ فَإِن لم تكن ترَاهُ، فَإِنَّهُ يراك. قَالَ: فَأَخْبرنِي عَن السَّاعَة. قَالَ: مَا الْمَسْئُول عَنْهَا بِأَعْلَم من السَّائِل. قَالَ: فَأَخْبرنِي عَن أمارتها. قَالَ: أَن تَلد الْأمة ربتها، وَأَن ترى الحفاة العراة العالة رعاء الشَّاء يتطاولون فِي الْبُنيان. قَالَ: ثمَّ انْطلق فَلَبثت مَلِيًّا، ثمَّ قَالَ: يَا عمر، أَتَدْرِي من السَّائِل.؟ قلت: الله وَرَسُوله أعلم. قَالَ: فَإِنَّهُ جِبْرِيل أَتَاكُم يعلمكم دينكُمْ ".

حَدثنِي: مُحَمَّد بن عبيد الغبري وَأَبُو كَامِل الجحدري وَأحمد بن عَبدة الضَّبِّيّ قَالُوا: ثَنَا حَمَّاد بن زيد، عَن مطر الْوراق، عَن عبد الله بن بُرَيْدَة، عَن يحيى بن يعمر قَالَ: " لما تكلم معبد بِمَا تكلم بِهِ فِي شَأْن الْقدر أَنْكَرْنَا ذَلِك. قَالَ: فحججت أَنا وَحميد بن عبد الرَّحْمَن حجَّة … " وَسَاقُوا الحَدِيث بِمَعْنى حَدِيث كهمس وَإِسْنَاده، وَفِيه بعض زِيَادَة ونقصان أحرف.

أَبُو دَاوُد الطَّيَالِسِيّ - وَهُوَ سُلَيْمَان بن دَاوُد - قَالَ: ثَنَا حَمَّاد بن زيد، عَن مطر الْوراق بِإِسْنَاد مُسلم قَالَ: حَدثنِي عمر بن الْخطاب " أَنه كَانَ عِنْد رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ - فَجَاءَهُ رجل عَلَيْهِ ثَوْبَان أبيضان (مقوم، حسن النَّحْو والناحية) ، فَقَالَ: أدنو مِنْك يَا رَسُول الله؟ قَالَ: ادن. ثمَّ قَالَ: أدنو مِنْك يَا رَسُول الله؟ قَالَ: ادن. فَلم يزل يدنو حَتَّى كَانَ ركبته عِنْد ركبة رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ - ثمَّ قَالَ: أَسأَلك؟ قَالَ: سل. قَالَ: أَخْبرنِي عَن الْإِسْلَام. قَالَ شَهَادَة أَن لَا إِلَه إِلَّا الله وَأَنِّي مُحَمَّد رَسُول الله، وإقام الصَّلَاة، وإيتاء الزَّكَاة، وَحج الْبَيْت، وَصَوْم رَمَضَان. قَالَ: فَإِذا فعلت ذَلِك فَأَنا مُسلم. قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ -: نعم. قَالَ لَهُ الرجل: صدقت. فَجعلنَا نعجب من
এবং পরকাল, আর তুমি বিশ্বাস করবে ভাগ্যের ভালো ও মন্দের ওপর। তিনি বললেন: আপনি সত্য বলেছেন। তিনি বললেন: এবার আমাকে ইহসান সম্পর্কে বলুন। তিনি বললেন: তা হলো তুমি আল্লাহর ইবাদত এমনভাবে করবে যেন তুমি তাঁকে দেখছ, আর যদি তুমি তাঁকে দেখতে না পাও, তবে তিনি অবশ্যই তোমাকে দেখছেন। তিনি বললেন: আমাকে কিয়ামত সম্পর্কে বলুন। তিনি বললেন: এ বিষয়ে যাকে জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে তিনি জিজ্ঞাসাকারীর চেয়ে বেশি জানেন না। তিনি বললেন: তবে আমাকে এর নিদর্শনসমূহ সম্পর্কে বলুন। তিনি বললেন: দাসী যখন তার মালিককে প্রসব করবে এবং যখন তুমি নগ্নপদ, বিবস্ত্রদেহ, দরিদ্র মেষপালকদের অট্টালিকা নির্মাণে পরস্পর প্রতিযোগিতা করতে দেখবে। (উমর) বললেন: এরপর তিনি চলে গেলেন এবং আমি দীর্ঘ সময় অবস্থান করলাম। তারপর তিনি বললেন: হে উমর, তুমি কি জান জিজ্ঞাসাকারী কে ছিলেন? আমি বললাম: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই অধিক অবগত। তিনি বললেন: তিনি ছিলেন জিবরাঈল, তিনি তোমাদেরকে তোমাদের দ্বীন শেখাতে এসেছিলেন।

আমার কাছে বর্ণনা করেছেন: মুহাম্মদ বিন উবাইদ আল-গুবরি, আবু কামিল আল-জাহদারি এবং আহমাদ বিন আবদাহ আদ-দাব্বি, তাঁরা বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ বিন যায়িদ, মাতার আল-ওয়াররাক থেকে, তিনি আবদুল্লাহ বিন বুরাইদাহ থেকে, তিনি ইয়াহইয়া বিন ইয়ামার থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "যখন মাবাদ তাকদির প্রসঙ্গে যা বলার তা বলল, তখন আমরা তা অস্বীকার করলাম। তিনি বললেন: অতঃপর আমি এবং হুমাইদ বিন আবদুর রহমান হজ্জ পালন করলাম … " এবং তাঁরা কাহমাস বর্ণিত হাদিসের অর্থ ও সনদে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন, যাতে কিছু অক্ষরের হ্রাস-বৃদ্ধি রয়েছে।

আবু দাউদ আত-তায়ালিসি - যিনি সুলাইমান বিন দাউদ - তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ বিন যায়িদ, মাতার আল-ওয়াররাক থেকে মুসলিমের সনদে, তিনি বলেন: আমার কাছে বর্ণনা করেছেন উমর বিন আল-খাত্তাব যে, "তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট উপস্থিত ছিলেন - এমতাবস্থায় তাঁর কাছে এমন এক ব্যক্তি আসলেন যার পরনে ছিল দুটি ধবধবে সাদা কাপড় (সুশ্রী ও পরিপাটি বেশভূষার), তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমি কি আপনার নিকটবর্তী হতে পারি? তিনি বললেন: নিকটবর্তী হও। এরপর তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমি কি আপনার নিকটবর্তী হতে পারি? তিনি বললেন: নিকটবর্তী হও। তিনি নিকটবর্তী হতেই থাকলেন যতক্ষণ না তাঁর হাঁটু আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাঁটুর কাছে পৌঁছাল। এরপর তিনি বললেন: আমি কি আপনাকে প্রশ্ন করতে পারি? তিনি বললেন: প্রশ্ন করো। তিনি বললেন: আমাকে ইসলাম সম্পর্কে বলুন। তিনি বললেন: এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং নিশ্চয়ই আমি মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল, এবং সালাত কায়েম করা, যাকাত প্রদান করা, বাইতুল্লাহর হজ্জ করা এবং রমজানের রোজা রাখা। তিনি বললেন: আমি যদি তা করি তবে কি আমি মুসলিম? আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: হ্যাঁ। লোকটি তাঁকে বললেন: আপনি সত্য বলেছেন। এতে আমরা বিস্মিত হলাম যে...
(খণ্ড: ১) আল-আহকামুল কুবরা (পৃষ্ঠা: ৬৯)
قَوْله لرَسُول الله: صدقت. كَأَنَّهُ أعلم مِنْهُ، ثمَّ قَالَ: أَخْبرنِي عَن الْإِيمَان، مَا الْإِيمَان؟ قَالَ: أَن تؤمن بِاللَّه وَمَلَائِكَته، وَكتبه وَرُسُله، والبعث بعد الْمَوْت، وَالْجنَّة وَالنَّار، وتؤمن بِالْقدرِ خَيره وشره. قَالَ: فَإِذا فعلت ذَلِك فَأَنا مُؤمن؟ قَالَ رَسُول الله: نعم. قَالَ: صدقت. فَجعلنَا نعجب من قَوْله لرَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ -: صدقت. ثمَّ قَالَ: أَخْبرنِي مَا الْإِحْسَان؟ قَالَ: أَن تخشى الله كَأَنَّك ترَاهُ، فَإِن كنت لَا ترَاهُ فَإِنَّهُ يراك. قَالَ: صدقت. قَالَ: فَأَخْبرنِي عَن السَّاعَة. فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ -: مَا الْمَسْئُول عَنْهَا بِأَعْلَم من السَّائِل، هن خمس لَا يعلمهُنَّ إِلَّا الله: {إِن الله عِنْده علم السَّاعَة وَينزل الْغَيْث} الْآيَة. فَقَالَ الرجل: صدقت.

مطر هَذَا قَالَ فِيهِ أَبُو حَاتِم وَأَبُو زرْعَة وَيحيى بن معِين: صَالح الحَدِيث وَضَعفه أَبُو حَاتِم وَيحيى بن معِين وَيحيى بن سعيد فِي عَطاء بن أبي رَبَاح. قَالَ يحيى [بن] سعيد: يشبه مطر الْوراق بِابْن أبي ليلى فِي سوء الْحِفْظ. قَالَ أَحْمد بن حَنْبَل: فِي عَطاء خَاصَّة. وَقَالَ أَبُو عبد الرَّحْمَن النَّسَائِيّ: مطر بن طهْمَان لَيْسَ بِالْقَوِيّ. ومطر هَذَا أخرج عِنْد مُسلم فِي الشواهد.

الدَّارَقُطْنِيّ - وَهُوَ أَبُو الْحسن عَليّ بن عمر بن أَحْمد بن مهْدي - قَالَ: حَدثنَا إِسْمَاعِيل بن مُحَمَّد أَبُو عَليّ وَأَبُو بكر أَحْمد بن مُحَمَّد بن مُوسَى بن أبي (خَيْثَمَة) صَاحب بَيت / المَال، قَالَا: ثَنَا مُحَمَّد بن عبيد الله الْمُنَادِي، قَالَ: ثَنَا يُونُس بن مُحَمَّد، ثَنَا مُعْتَمر بن سُلَيْمَان، عَن أَبِيه، عَن يحيى بن يعمر قَالَ: " قلت لِابْنِ عمر: يَا أَبَا عبد الرَّحْمَن، إِن أَقْوَامًا يَزْعمُونَ أَن لَيْسَ قدر، قَالَ: هَل عندنَا مِنْهُم أحد؟ قلت: لَا، قَالَ: فأبلغهم عني إِذا لقيتهم أَن ابْن عمر برِئ إِلَى الله مِنْكُم وَأَنْتُم مِنْهُ برَاء، سَمِعت عمر بن الْخطاب قَالَ: بَيْنَمَا نَحن جُلُوس عِنْد النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ - فِي نَاس؛ إِذْ جَاءَ رجل لَيْسَ عَلَيْهِ شَحْنَاء سفر، وَلَيْسَ من أهل الْبَلَد، يتخطى
রাসূলুল্লাহর প্রতি তার উক্তি: "আপনি সত্য বলেছেন।" মনে হচ্ছিল সে তাঁর চেয়েও বেশি জানে। তারপর সে বলল: "আমাকে ঈমান সম্পর্কে বলুন, ঈমান কী?" তিনি বললেন: "আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাগণের প্রতি, তাঁর কিতাবসমূহের প্রতি, তাঁর রাসূলগণের প্রতি, মৃত্যুর পর পুনরুত্থানের প্রতি, জান্নাত ও জাহান্নামের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা এবং ভাগ্যের ভালো ও মন্দের প্রতি বিশ্বাস রাখা।" সে বলল: "যদি আমি তা করি, তবে কি আমি মুমিন?" রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "হ্যাঁ।" সে বলল: "আপনি সত্য বলেছেন।" আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি তার এই উক্তিতে আশ্চর্য হলাম যে, সে নিজেই প্রশ্ন করছে আবার বলছে: "আপনি সত্য বলেছেন।" তারপর সে বলল: "আমাকে ইহসান সম্পর্কে বলুন।" তিনি বললেন: "আল্লাহকে এমনভাবে ভয় করবে যেন তুমি তাঁকে দেখছ, আর যদি তুমি তাঁকে না দেখো তবে নিশ্চয়ই তিনি তোমাকে দেখছেন।" সে বলল: "আপনি সত্য বলেছেন।" সে বলল: "আমাকে কিয়ামত সম্পর্কে বলুন।" রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "যাকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হচ্ছে, তিনি প্রশ্নকারীর চেয়ে অধিক অবগত নন। এই পাঁচটি বিষয় আল্লাহ ছাড়া কেউ জানেন না: 'নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট কিয়ামতের জ্ঞান রয়েছে এবং তিনি বৃষ্টি বর্ষণ করেন...' আয়াত পর্যন্ত। লোকটি বলল: "আপনি সত্য বলেছেন।"

এই মাতার সম্পর্কে আবু হাতিম, আবু যুরআহ এবং ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন বলেছেন: তিনি হাদিসের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য। তবে আবু হাতিম, ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন এবং ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আতা ইবনে আবি রাবাহর বর্ণনার ক্ষেত্রে তাঁকে দুর্বল বলেছেন। ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ বলেন: স্মৃতিশক্তির দুর্বলতার ক্ষেত্রে মাতার আল-ওয়াররাক ইবনে আবি লাইলার সদৃশ। আহমাদ ইবনে হাম্বল বলেন: বিশেষ করে আতার বর্ণনার ক্ষেত্রে। আবু আবদুর রহমান আন-নাসাঈ বলেন: মাতার ইবনে তাহমান শক্তিশালী নন। আর এই মাতারের বর্ণনা ইমাম মুসলিম 'শাওয়াহিদ' (সমর্থনমূলক বর্ণনা) হিসেবে উদ্ধৃত করেছেন।

আদ-দারাকুতনী—যিনি আবু আল-হাসান আলী ইবনে উমর ইবনে আহমাদ ইবনে মাহদী—বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসমাইল ইবনে মুহাম্মাদ আবু আলী এবং বায়তুল মালের অধিপতি আবু বকর আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে মূসা ইবনে আবি খাইসামাহ। তাঁরা বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবনে উবাইদুল্লাহ আল-মুনাদী। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইউনুস ইবনে মুহাম্মাদ। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুতামির ইবনে সুলাইমান তাঁর পিতা থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে ইয়ামুর থেকে। তিনি বলেন: "আমি ইবনে উমরকে বললাম: হে আবু আবদুর রহমান, কিছু লোক দাবি করে যে ভাগ্যের (তাকদীরের) কোনো অস্তিত্ব নেই। তিনি বললেন: আমাদের নিকট তাদের কেউ কি আছে? আমি বললাম: না। তিনি বললেন: তবে যখন তুমি তাদের সাথে সাক্ষাৎ পাবে, তাদের আমার পক্ষ থেকে সংবাদ পৌঁছে দিও যে, ইবনে উমর আল্লাহর সমীপে তাদের থেকে সম্পর্কছিন্ন এবং তারাও তাঁর থেকে সম্পর্কবিচ্ছিন্ন। আমি উমর ইবনুল খাত্তাবকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: একদা আমরা একদল মানুষের সাথে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট উপবিষ্ট ছিলাম; এমন সময় এক ব্যক্তি আসলেন যার ওপর সফরের কোনো চিহ্ন ছিল না এবং তিনি এই লোকালয়ের কেউ ছিলেন না, তিনি মানুষের ঘাড় ডিঙ্গিয়ে সামনে এগিয়ে আসলেন..."
(খণ্ড: ১) আল-আহকামুল কুবরা (পৃষ্ঠা: ৭০)
حَتَّى (ورد) فَجَلَسَ بَين يَدي رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ - كَمَا يجلس أَحَدنَا فِي الصَّلَاة، ثمَّ وضع يَده على ركبتي رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ - فَقَالَ: يَا مُحَمَّد، أَخْبرنِي مَا الْإِسْلَام؟ قَالَ: الْإِسْلَام أَن تشهد أَن لَا إِلَه إِلَّا الله وَأَن مُحَمَّدًا رَسُول الله، وَأَن تقيم الصَّلَاة، وتؤتي الزَّكَاة، وتحج وتعتمر وتغتسل من الْجَنَابَة، وتتم الْوضُوء، وتصوم رَمَضَان. قَالَ: فَإِن فعلت هَذَا فَأَنا مُسلم. قَالَ: نعم. قَالَ: صدقت … " وَذكر بَاقِي الحَدِيث وَقَالَ فِي آخِره: " فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ -: عَليّ بِالرجلِ. فطلبناه، فَلم نقدر عَلَيْهِ، فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ -. هَل تَدْرُونَ من هَذَا؟ هَذَا جِبْرِيل أَتَاكُم يعلمكم دينكُمْ، فَخُذُوا عَنهُ، فوالذي نَفسِي بِيَدِهِ مَا شبه عَليّ مُنْذُ أَتَانِي قبل مرتي هَذِه، وَمَا عَرفته حَتَّى ولى ". قَالَ أَبُو الْحسن: هَذَا إِسْنَاد ثَابت صَحِيح، أخرجه مُسلم بِهَذَا الْإِسْنَاد.

أَبُو دَاوُد سُلَيْمَان بن الْأَشْعَث قَالَ: حَدثنَا مَحْمُود بن خَالِد، ثَنَا الْفرْيَابِيّ، عَن سُفْيَان، ثَنَا عَلْقَمَة بن مرْثَد، عَن سُلَيْمَان بن بُرَيْدَة، عَن يحيى بن يعمر - يَعْنِي: عَن ابْن عمر - " أَن جِبْرِيل قَالَ للنَّبِي صلى الله عليه وسلم َ -: فَمَا الْإِسْلَام؟ قَالَ: إقَام الصَّلَاة، وإيتاء الزَّكَاة، وَحج الْبَيْت، وَصَوْم رَمَضَان، والاغتسال من الْجَنَابَة ".

مُسلم: حَدثنَا أَبُو بكر بن أبي شيبَة وَزُهَيْر بن حَرْب جَمِيعًا، عَن ابْن علية - قَالَ زُهَيْر: حَدثنَا إِسْمَاعِيل بن إِبْرَاهِيم - عَن أبي حَيَّان، عَن أبي زرْعَة ابْن عَمْرو بن جرير، عَن أبي هُرَيْرَة قَالَ: " كَانَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ - يَوْمًا بارزاً للنَّاس فَأَتَاهُ رجل فَقَالَ: يَا رَسُول الله، مَا الْإِيمَان؟ قَالَ: أَن تؤمن بِاللَّه وَمَلَائِكَته، وَكتابه ولقائه وَرُسُله، وتؤمن بِالْبَعْثِ الآخر. قَالَ: يَا رَسُول الله، مَا الْإِسْلَام؟ قَالَ: الْإِسْلَام أَن تعبد الله وَلَا تشرك بِهِ شَيْئا، وتقيم الصَّلَاة الْمَكْتُوبَة، وَتُؤَدِّي الزَّكَاة
এমনকি (তিনি এসে) আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে বসলেন - যেভাবে আমাদের কেউ নামাজে বসে, তারপর তিনি তাঁর দুই হাত আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দুই হাঁটুর ওপর রাখলেন - এরপর বললেন: হে মুহাম্মদ, আমাকে বলুন ইসলাম কী? তিনি বললেন: ইসলাম হলো তুমি এই সাক্ষ্য দেবে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল, এবং তুমি সালাত কায়েম করবে, জাকাত প্রদান করবে, হজ ও ওমরাহ করবে, জানাবাত (অপবিত্রতা) থেকে গোসল করবে, পূর্ণাঙ্গভাবে অজু করবে এবং রমজানের রোজা রাখবে। তিনি বললেন: যদি আমি এটি করি তবে কি আমি মুসলিম? তিনি বললেন: হ্যাঁ। তিনি বললেন: আপনি সত্য বলেছেন … " এবং হাদিসের বাকি অংশ উল্লেখ করলেন এবং এর শেষে বললেন: "অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: লোকটিকে আমার কাছে নিয়ে এসো। আমরা তাঁকে খুঁজলাম কিন্তু তাঁকে পেলাম না। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তোমরা কি জানো তিনি কে? তিনি জিবরাইল, তোমাদেরকে তোমাদের দ্বীন শেখাতে এসেছিলেন। সুতরাং তাঁর থেকে গ্রহণ করো। সেই সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ, এর আগে যতবার তিনি আমার কাছে এসেছেন ততবারই আমি তাঁকে চিনতে পেরেছি, কিন্তু এইবারের মতো তিনি কখনো আমার কাছে অস্পষ্ট থাকেননি এবং তিনি ফিরে না যাওয়া পর্যন্ত আমি তাঁকে চিনতে পারিনি।" আবুল হাসান বলেন: এটি একটি সুদৃঢ় ও সহিহ সনদ, ইমাম মুসলিম এই সনদেই এটি বর্ণনা করেছেন।

আবু দাউদ সুলায়মান ইবনুল আশআস বলেন: মাহমুদ ইবনে খালিদ আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন, আল-ফিরইয়াবি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান থেকে, তিনি আলকামা ইবনে মারসাদ থেকে, তিনি সুলায়মান ইবনে বুরাইদাহ থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে ইয়ামুর থেকে - অর্থাৎ ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেন যে, "জিবরাইল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললেন: ইসলাম কী? তিনি বললেন: সালাত কায়েম করা, জাকাত প্রদান করা, বাইতুল্লাহর হজ করা, রমজানের রোজা রাখা এবং জানাবাত থেকে গোসল করা।"

মুসলিম: আবু বকর ইবনে আবি শাইবাহ এবং জুহাইর ইবনে হারব উভয়ই আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন ইবনে উলাইয়্যাহ থেকে - জুহাইর বলেছেন: ইসমাইল ইবনে ইবরাহিম আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন - আবু হাইয়ান থেকে, তিনি আবু জুরআ ইবনে আমর ইবনে জারির থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "একদিন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষের সামনে প্রকাশ্যভাবে উপবিষ্ট ছিলেন, এমতাবস্থায় এক ব্যক্তি তাঁর কাছে এসে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, ঈমান কী? তিনি বললেন: ঈমান হলো আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাব, তাঁর সাথে সাক্ষাৎ ও তাঁর রাসূলগণের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা এবং শেষ পুনরুত্থানের প্রতি বিশ্বাস রাখা। তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, ইসলাম কী? তিনি বললেন: ইসলাম হলো আল্লাহর ইবাদত করা এবং তাঁর সাথে কোনো কিছু শরিক না করা, নির্ধারিত ফরজ সালাত কায়েম করা এবং জাকাত আদায় করা।
(খণ্ড: ১) আল-আহকামুল কুবরা (পৃষ্ঠা: ৭১)
الْمَفْرُوضَة، وتصوم رَمَضَان. قَالَ: يَا رَسُول الله، مَا الْإِحْسَان؟ قَالَ: أَن تعبد الله كَأَنَّك ترَاهُ، فَإنَّك إِن لَا ترَاهُ فَإِنَّهُ يراك. قَالَ: يَا رَسُول الله، / مَتى السَّاعَة؟ قَالَ: مَا الْمَسْئُول عَنْهَا بِأَعْلَم من السَّائِل، وَلَكِن سأحدثك عَن أشراطها: إِذا ولدت الْأمة رَبهَا فَذَاك من أشراطها، وَإِذا كَانَت العراء الحفاة رُءُوس النَّاس فَذَاك من أشراطها، وَإِذا تطاول رعاء البهم فِي الْبُنيان فَذَاك من أشراطها، فِي خمس لَا يعلمهُنَّ إِلَّا الله ثمَّ تَلا: {إِن الله عِنْده علم السَّاعَة وَينزل الْغَيْث وَيعلم مَا فِي الْأَرْحَام وَمَا تَدْرِي نفس مَاذَا تكسب غَدا وَمَا تَدْرِي نفس بِأَيّ أَرض تَمُوت إِن الله عليم خَبِير} قَالَ: ثمَّ أدبر الرجل، فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ -: ردوا عَليّ الرجل. فَأخذُوا ليردوه، فَلم يرَوا شَيْئا. فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ -: هَذَا جِبْرِيل جَاءَ ليعلم النَّاس دينهم ".

وَحدثنَا: مُحَمَّد بن عبد الله بن نمير، ثَنَا مُحَمَّد بن بشر، ثَنَا أَبُو حَيَّان التَّيْمِيّ بِهَذَا الْإِسْنَاد مثله، غير أَن فِي رِوَايَته: " إِذا ولدت الْأمة بَعْلهَا. يَعْنِي: السراري ".

أَبُو بكر بن أبي شيبَة اسْمه عبد الله بن مُحَمَّد بن أبي شيبَة، وَأَبُو حَيَّان التَّيْمِيّ اسْمه يحيى بن سعيد بن حَيَّان كُوفِي من خِيَار أهل الْكُوفَة، قَالَه مُسلم بن الْحجَّاج. وَأَبُو زرْعَة اسْمه عبد الرَّحْمَن بن عَمْرو وَيُقَال: عَمْرو بن عَمْرو، عداده فِي أهل الْكُوفَة. وَأَبُو هُرَيْرَة اخْتلف فِي اسْمه، فَقيل: عبد شمس، وَقيل: عبد نهم، وَقيل: سكين بن عَمْرو، وَقيل: عبد الله بن عَمْرو، وَيُقَال: خرثوم، وَيُقَال: عبد الْعُزَّى، ذكر هَذَا مُسلم بن الْحجَّاج فِي كناه، وَزَاد ابْن أبي حَاتِم: وَيُقَال: عبد غنم وَعبد رهم بن عَامر وَعبد نعم وعامر بن عبد شمس وَعبد الله بن عَامر. قَالَ: فَأَما من قَالَ: اسْمه عبد شمس فَأَبُو نعيم وَيحيى بن معِين وَأَبُو زرْعَة وَذكر ذَلِك عَن أَحْمد بن حَنْبَل. قَالَ ابْن أبي حَاتِم أَيْضا وَيُقَال:
নির্ধারিত (যাকাত), এবং তুমি রমজানের রোজা রাখবে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: হে আল্লাহর রাসূল, ইহসান কী? তিনি বললেন: তুমি আল্লাহর ইবাদত এমনভাবে করবে যেন তুমি তাঁকে দেখছ, আর যদি তুমি তাঁকে দেখতে না পাও, তবে নিশ্চয়ই তিনি তোমাকে দেখছেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: হে আল্লাহর রাসূল, কিয়ামত কখন হবে? তিনি বললেন: এ বিষয়ে যাকে জিজ্ঞেস করা হচ্ছে সে জিজ্ঞাসাকারীর চেয়ে অধিক অবগত নয়, তবে আমি তোমাকে এর নিদর্শনসমূহ সম্পর্কে বলব: যখন দাসী তার মালিককে জন্ম দেবে, তখন তা এর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত; যখন নগ্নপদ উলঙ্গ ব্যক্তিরা মানুষের নেতা হবে, তখন তা এর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত; আর যখন পশুপালকরা সুউচ্চ অট্টালিকা নির্মাণে প্রতিযোগিতা করবে, তখন তা এর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত। এটি সেই পাঁচটি বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত যা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না। এরপর তিনি তিলাওয়াত করলেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে কিয়ামতের জ্ঞান রয়েছে, তিনিই বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং তিনি জানেন যা জরায়ুতে আছে। কোনো সত্তাই জানে না আগামীকাল সে কী উপার্জন করবে এবং কোনো সত্তাই জানে না কোন ভূমিতে সে মৃত্যুবরণ করবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সম্যক অবহিত।} বর্ণনাকারী বলেন: তারপর লোকটি ফিরে চলে গেলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: লোকটিকে আমার কাছে ফিরিয়ে আনো। তারা তাকে ফিরিয়ে আনতে গেল, কিন্তু কিছুই দেখতে পেল না। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: ইনি জিবরীল, তিনি মানুষকে তাদের দ্বীন শেখাতে এসেছিলেন।

এবং আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে নুমাইর, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে বিশর, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু হাইয়ান আত-তাইমি এই একই সনদে অনুরূপ হাদিস, তবে তাঁর বর্ণনায় রয়েছে: "যখন দাসী তার স্বামীকে জন্ম দেবে। অর্থাৎ: দাসীগণ।"

আবু বকর ইবনে আবি শায়বার নাম হলো আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবি শায়বা। আর আবু হাইয়ান আত-তাইমির নাম হলো ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ ইবনে হাইয়ান, তিনি কুফার অধিবাসী এবং কুফাবাসীদের মধ্যে উত্তম ব্যক্তিদের একজন; এটি মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ বলেছেন। আবু জুরআহ-এর নাম হলো আব্দুর রহমান ইবনে আমর, এবং বলা হয়: আমর ইবনে আমর, তাঁর গণনা কুফার অধিবাসীদের মধ্যে। আবু হুরায়রা-এর নামের ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে; বলা হয়েছে: আব্দু শামস, বলা হয়েছে: আব্দু নাহম, বলা হয়েছে: সাকীন ইবনে আমর, বলা হয়েছে: আব্দুল্লাহ ইবনে আমর, বলা হয়: খুরসুম, এবং বলা হয়: আব্দুল উযযা—মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ তাঁর 'কুনা' (উপনাম) গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন। ইবনে আবি হাতিম আরও বর্ধিত করে বলেছেন: এবং বলা হয়: আব্দু গানম, আব্দু রুহম ইবনে আমির, আব্দু নুআম, আমির ইবনে আব্দু শামস এবং আব্দুল্লাহ ইবনে আমির। তিনি বলেন: আর যারা বলেছেন তাঁর নাম আব্দু শামস, তারা হলেন আবু নুয়াইম, ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন ও আবু জুরআহ এবং এটি আহমাদ ইবনে হাম্বল থেকেও উল্লেখ করা হয়েছে। ইবনে আবি হাতিম আরও বলেন: এবং বলা হয়:
(খণ্ড: ১) আল-আহকামুল কুবরা (পৃষ্ঠা: ৭২)
اسْمه عبد الرَّحْمَن وَعبد عَمْرو بن عبد غنم وَيُقَال: عَامر بن عبد شمس، وَسمي فِي الْإِسْلَام عبد الله وَلم يذكر قَول مُسلم فِي اسْمه خرثوم وَعبد الْعُزَّى. وَقَالَ أَبُو عمر - وَذكر الِاخْتِلَاف فِي اسْمه -: وَيُقَال: عبد الرَّحْمَن بن صَخْر، وعَلى هَذَا اعتمدت طَائِفَة ألفت فِي الْأَسْمَاء والكنى، وَحكي عَن البُخَارِيّ أَنه قَالَ: كَانَ اسْم أبي هُرَيْرَة فِي الْجَاهِلِيَّة عبد شمس، وَفِي الْإِسْلَام عبد الله. قَالَ أَبُو عمر: وَمثل هَذَا الِاخْتِلَاف وَالِاضْطِرَاب لَا يَصح مَعَه شَيْء وكنيته أولى بِهِ.

مُسلم: حَدثنِي زُهَيْر بن حَرْب، حَدثنِي جرير، عَن عمَارَة بن الْقَعْقَاع، عَن أبي زرْعَة، عَن أبي هُرَيْرَة قَالَ: قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ -: " سلوني. فهابوه أَن يسألوه، قَالَ: فجَاء رجل فَجَلَسَ عِنْد رُكْبَتَيْهِ، فَقَالَ: يَا رَسُول الله، مَا الْإِسْلَام؟ قَالَ: لَا تشرك / بِاللَّه شَيْئا، وتقيم الصَّلَاة، وتؤتي الزَّكَاة، وتصوم رَمَضَان. قَالَ: صدقت. قَالَ: يَا رَسُول الله، مَا الْإِيمَان؟ قَالَ: أَن تؤمن بِاللَّه وَمَلَائِكَته وَكتبه ولقائه وَرُسُله وتؤمن بِالْبَعْثِ وتؤمن بِالْقدرِ كُله. قَالَ: صدقت. قَالَ: يَا رَسُول الله، مَا الْإِحْسَان؟ قَالَ: أَن تخشى الله كَأَنَّك ترَاهُ، فَإنَّك إِن لَا تكن ترَاهُ فَإِنَّهُ يراك. قَالَ: صدقت. قَالَ: يَا رَسُول الله، مَتى تقوم السَّاعَة؟ قَالَ: مَا الْمَسْئُول عَنْهَا بِأَعْلَم من السَّائِل، وسأحدثك عَن أشراطها، إِذا رَأَيْت الْمَرْأَة تَلد رَبهَا فَذَلِك من أشراطها، وَإِذا رَأَيْت رعاء البهم يتطاولون فِي الْبُنيان، فَذَلِك من أشراطها، فِي خمس من الْغَيْب لَا يعلمهُنَّ إِلَّا الله. ثمَّ قَرَأَ الْآيَة: {إِن الله عِنْده علم السَّاعَة وَينزل الْغَيْث وَيعلم مَا فِي الإرحام وَمَا تَدْرِي نفس مَاذَا تكسب غَدا وَمَا تَدْرِي نفس بِأَيّ أَرض تَمُوت} " إِلَى آخر السُّورَة. ثمَّ قَامَ الرجل فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ -: ردُّوهُ عَليّ فالتمس فَلم يجدوه، فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ -: هَذَا جِبْرِيل عليه السلام أَرَادَ أَن تعلمُوا إِذْ لم تسألوا ".

النَّسَائِيّ: أَخْبرنِي مُحَمَّد بن قدامَة، عَن جرير، عَن أبي فَرْوَة، عَن أبي
তার নাম আব্দুর রহমান এবং আব্দুল আমর বিন আব্দুল গানাম। কেউ কেউ বলেন: আমের বিন আব্দুল শামস। ইসলামে তার নাম রাখা হয়েছিল আব্দুল্লাহ। তার নাম খারসুম এবং আব্দুল উজ্জা হওয়ার ব্যাপারে মুসলিমের উক্তি এখানে উল্লেখ করা হয়নি। আবু উমর তার নামের ব্যাপারে মতভেদ উল্লেখ করে বলেন: বলা হয়ে থাকে তার নাম আব্দুর রহমান বিন সাখর। নাম এবং উপনাম বিষয়ে যারা গ্রন্থ রচনা করেছেন, তাদের একটি দল এই মতের ওপর নির্ভর করেছেন। ইমাম বুখারি থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: জাহেলিয়াত যুগে আবু হুরাইরার নাম ছিল আব্দুল শামস এবং ইসলামে আব্দুল্লাহ। আবু উমর বলেন: এই ধরণের মতভেদ ও অস্থিরতার কারণে কোনোটিই নিশ্চিতভাবে সহীহ বলা যায় না, বরং তার উপনামটিই তার জন্য অধিক উপযুক্ত।

মুসলিম: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন যুহাইর বিন হারব, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন জারীর, আমারা বিন আল-কাক্কা থেকে, তিনি আবু জুরআ থেকে, তিনি আবু হুরাইরা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমরা আমাকে জিজ্ঞাসা করো।" কিন্তু তারা তাঁকে জিজ্ঞাসা করতে ভয় পেলেন। তিনি (আবু হুরাইরা) বলেন: তখন এক ব্যক্তি আসলেন এবং তাঁর হাঁটুর কাছে বসলেন। তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, ইসলাম কী? তিনি বললেন: আল্লাহর সাথে কোনো কিছুকে শরিক না করা, সালাত কায়েম করা, জাকাত প্রদান করা এবং রমজানের রোজা রাখা। তিনি বললেন: আপনি সত্য বলেছেন। তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, ঈমান কী? তিনি বললেন: তুমি বিশ্বাস করবে আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাগণের প্রতি, তাঁর কিতাবসমূহের প্রতি, তাঁর সাথে সাক্ষাতের প্রতি, তাঁর রাসূলগণের প্রতি, পুনরুত্থানের প্রতি এবং সম্পূর্ণ তাকদীরের প্রতি। তিনি বললেন: আপনি সত্য বলেছেন। তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, ইহসান কী? তিনি বললেন: তুমি আল্লাহকে এমনভাবে ভয় করবে যেন তুমি তাঁকে দেখছো, আর তুমি যদি তাঁকে না-ও দেখো তবে নিশ্চয়ই তিনি তোমাকে দেখছেন। তিনি বললেন: আপনি সত্য বলেছেন। তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, কিয়ামত কখন হবে? তিনি বললেন: এ বিষয়ে যাকে জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে তিনি জিজ্ঞাসাকারীর চেয়ে বেশি জানেন না। তবে আমি তোমাকে এর আলামতসমূহ সম্পর্কে বলব; যখন দেখবে নারী তার মনিবকে জন্ম দিচ্ছে, তা কিয়ামতের আলামত। আর যখন দেখবে পশুচারণকারী রাখালরা অট্টালিকা নির্মাণে প্রতিযোগিতা করছে, তা কিয়ামতের আলামত। এটি সেই পাঁচটি অদৃশ্যের অন্তর্ভুক্ত যা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না। অতঃপর তিনি এই আয়াত পাঠ করলেন: {নিশ্চয় আল্লাহর কাছেই কিয়ামতের জ্ঞান রয়েছে, তিনিই বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং জরায়ুতে যা আছে তা জানেন। কোনো প্রাণী জানে না আগামীকাল সে কী উপার্জন করবে এবং কোনো প্রাণী জানে না কোন ভূমিতে তার মৃত্যু হবে}—সূরার শেষ পর্যন্ত। অতঃপর লোকটি উঠে চলে গেলে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "তাকে আমার কাছে ফিরিয়ে আনো।" তারা তাকে খুঁজল কিন্তু পেল না। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "ইনি জিবরীল আলাইহিস সালাম, তোমরা যখন জিজ্ঞাসা করছিলে না, তখন তিনি তোমাদের শেখাতে চেয়েছিলেন।"

নাসায়ি: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন কুদামা, জারীর থেকে, তিনি আবু ফারওয়া থেকে, তিনি আবু...
(খণ্ড: ১) আল-আহকামুল কুবরা (পৃষ্ঠা: ৭৩)
زرْعَة، عَن أبي هُرَيْرَة وَأبي ذَر قَالَ: " كَانَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ - يجلس بَين ظهراني أَصْحَابه فَيَجِيء الْغَرِيب فَلَا يدْرِي [أَيهمْ] هُوَ حَتَّى يسْأَل، فطلبنا إِلَى رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ - أَن يَجْعَل لَهُ مَجْلِسا يعرفهُ الْغَرِيب إِذا أَتَاهُ، فبنينا لَهُ دكاناً من طين يجلس عَلَيْهِ، إِنَّا لجُلُوس وَرَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ - فِي مَجْلِسه، إِذْ أقبل رجل أحسن النَّاس وَجها، وَأطيب النَّاس ريحًا كَأَن ثِيَابه لم يَمَسهَا دنس حَتَّى سلم من طرف (السماط) قَالَ: السَّلَام عَلَيْكُم يَا مُحَمَّد. فَرد عليه السلام، قَالَ: " أدنو يَا مُحَمَّد. قَالَ: ادنه. فَمَا زَالَ يَقُول: أدنوا مرَارًا، وَيَقُول: ادن، حَتَّى وضع يَده على ركبتي رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ -. قَالَ: يَا مُحَمَّد، أَخْبرنِي مَا الْإِسْلَام؟ قَالَ: الْإِسْلَام أَن تعبد الله لَا تشرك بِهِ شَيْئا، وتقيم الصَّلَاة، وتؤتيي الزَّكَاة، وتحج الْبَيْت، وتصوم رَمَضَان. قَالَ: فَإِذا فعلت ذَلِك فقد أسلمت؟ قَالَ: نعم. قَالَ: صدقت. فَلَمَّا سمعنَا قَول الرجل: صدقت أنكرناه. قَالَ: يَا مُحَمَّد، أَخْبرنِي مَا الْإِيمَان؟ قَالَ: الْإِيمَان بِاللَّه وَالْمَلَائِكَة، والْكتاب والنبيين، وتؤمن بِالْقدرِ. قَالَ:: فَإِذا فعلت ذَلِك فقد آمَنت. قَالَ رَسُول الله: نعم. قَالَ: صدقت. قَالَ: يَا مُحَمَّد، أَخْبرنِي مَا الْإِحْسَان؟ قَالَ ": أَن تعبد الله كَأَنَّك ترَاهُ فَإِن لم تكن ترَاهُ فَإِنَّهُ يراك. قَالَ: صدقت. قَالَ: يَا مُحَمَّد، أَخْبرنِي مَتى / السَّاعَة؟ قَالَ: فَنَكس فَلم يجبهُ شَيْئا، ثمَّ عَاد فَلم يجبهُ، ثمَّ عَاد فَلم يجبهُ شَيْئا، ثمَّ رفع رَأسه قَالَ: مَا الْمَسْئُول عَنْهَا بِأَعْلَم من السَّائِل، وَلَكِن لَهَا عَلَامَات تعرف بهَا: إِذا رَأَيْت رعاء البهم يتطالون فِي الْبُنيان، وَرَأَيْت الحفاة العراة مُلُوك الأَرْض، وَرَأَيْت الْمَرْأَة تَلد رَبهَا، خمس لَا يعلمهَا إِلَّا الله عز وجل: {إِن الله عِنْده علم السَّاعَة} إِلَى قَوْله: {عليم خَبِير} قَالَ: لَا وَالَّذِي بعث مُحَمَّدًا بِالْحَقِّ هدى وبشيراً، مَا كنت بِأَعْلَم بِهِ من رجل مِنْكُم، وَإنَّهُ لجبريل عليه السلام نزل فِي صُورَة دحْيَة الْكَلْبِيّ ". أَبُو فَرْوَة اسْمه عُرْوَة بن الْحَارِث، كُوفِي روى لَهُ مُسلم وَالْبُخَارِيّ.

যুরআহ হতে, তিনি আবু হুরায়রা ও আবু যার (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তাঁরা বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের মাঝে এমনভাবে বসতেন যে, কোনো আগন্তুক এলে তিনি কে তা জিজ্ঞেস না করা পর্যন্ত চিনতে পারত না। তাই আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আরজ করলাম যেন তাঁর জন্য এমন একটি বসার স্থান তৈরি করা হয় যা আগন্তুক এলে চিনতে পারে। ফলে আমরা তাঁর জন্য মাটির একটি চত্বর (উঁচু স্থান) তৈরি করে দিলাম যার ওপর তিনি বসতেন। একদিন আমরা বসা ছিলাম এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও তাঁর বসার স্থানে ছিলেন, এমতাবস্থায় এক ব্যক্তি উপস্থিত হলেন যার চেহারা ছিল মানুষের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর এবং যার সুগন্ধি ছিল সবচেয়ে সুমিষ্ট, তাঁর কাপড়ে যেন কোনো ময়লা লাগেনি। তিনি বসার সারির এক প্রান্ত থেকে সালাম দিয়ে বললেন: আসসালামু আলাইকুম ইয়া মুহাম্মদ। তিনি (রাসূলুল্লাহ) সালামের উত্তর দিলেন। তিনি বললেন: আমি কি কাছে আসব হে মুহাম্মদ? তিনি বললেন: কাছে এসো। তিনি বারবার 'কাছে আসব' বলতে থাকলেন এবং রাসূলুল্লাহ 'কাছে এসো' বলতে থাকলেন, এমনকি তিনি তাঁর হাত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দুই হাঁটুর ওপর রাখলেন। তিনি বললেন: হে মুহাম্মদ, আমাকে বলুন ইসলাম কী? তিনি বললেন: ইসলাম হলো তুমি আল্লাহর ইবাদত করবে এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করবে না, সালাত কায়েম করবে, জাকাত প্রদান করবে, বাইতুল্লাহর হজ করবে এবং রমজানের রোজা রাখবে। তিনি বললেন: আমি যদি তা করি তবে কি আমি মুসলিম হয়ে যাব? তিনি বললেন: হ্যাঁ। তিনি বললেন: আপনি সত্য বলেছেন। যখন আমরা লোকটির 'আপনি সত্য বলেছেন' কথাটি শুনলাম, তখন আমরা তা বিস্ময়ের সাথে লক্ষ্য করলাম। তিনি বললেন: হে মুহাম্মদ, আমাকে বলুন ঈমান কী? তিনি বললেন: ঈমান হলো আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ, কিতাবসমূহ এবং নবীগণের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা এবং ভাগ্যের প্রতি বিশ্বাস রাখা। তিনি বললেন: আমি যদি তা করি তবে কি আমি মুমিন হয়ে যাব? রাসূলুল্লাহ বললেন: হ্যাঁ। তিনি বললেন: আপনি সত্য বলেছেন। তিনি বললেন: হে মুহাম্মদ, আমাকে বলুন ইহসান কী? তিনি বললেন: তুমি আল্লাহর ইবাদত এমনভাবে করবে যেন তুমি তাঁকে দেখছ, আর যদি তুমি তাঁকে দেখতে না পাও তবে নিশ্চয়ই তিনি তোমাকে দেখছেন। তিনি বললেন: আপনি সত্য বলেছেন। তিনি বললেন: হে মুহাম্মদ, আমাকে বলুন কিয়ামত কখন হবে? তিনি (রাসূলুল্লাহ) মাথা নিচু করলেন এবং তাঁকে কোনো উত্তর দিলেন না। এরপর তিনি পুনরায় জিজ্ঞাসা করলেন কিন্তু তিনি উত্তর দিলেন না। এরপর পুনরায় জিজ্ঞাসা করলেন কিন্তু তিনি কোনো উত্তর দিলেন না। তারপর তিনি তাঁর মাথা উঠিয়ে বললেন: এ বিষয়ে যাকে প্রশ্ন করা হয়েছে সে প্রশ্নকারীর চেয়ে অধিক কিছু জানে না। তবে এর কিছু নিদর্শন রয়েছে যা দ্বারা তা চেনা যায়: যখন তুমি দেখবে মেষপালকরা সুউচ্চ অট্টালিকা নির্মাণে প্রতিযোগিতা করছে, নগ্নপদ ও বস্ত্রহীনদের জমিনের রাজা হতে দেখবে এবং দাসীকে তার প্রভুর জন্ম দিতে দেখবে। পাঁচটি বিষয় আল্লাহ আয্যা ওয়া জাল্লা ছাড়া কেউ জানে না: {নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট কিয়ামতের জ্ঞান রয়েছে} শেষ পর্যন্ত: {নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ ও সম্যক অবহিত}। তিনি বললেন: না, সেই সত্তার কসম যিনি মুহাম্মদকে সত্যসহ হিদায়াতকারী ও সুসংবাদদাতা হিসেবে পাঠিয়েছেন, এ বিষয়ে আমি তোমাদের কোনো ব্যক্তির চেয়ে অধিক কিছু জানি না। আর তিনি ছিলেন জিবরাঈল আলাইহিস সালাম, যিনি দিহয়া আল-কালবীর আকৃতিতে অবতীর্ণ হয়েছিলেন।" আবু ফারওয়াহর নাম উরওয়াহ বিন আল-হারিস, তিনি কুফী; মুসলিম ও বুখারী তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন।

(খণ্ড: ১) আল-আহকামুল কুবরা (পৃষ্ঠা: ৭৪)
عبد بن حميد: أخبرنَا عبد الرَّزَّاق، عَن معمر، عَن يحيى بن أبي كثير، عَن زيد بن سَلام، عَن أبي سَلام، عَن أبي أُمَامَة الْبَاهِلِيّ " أَن رجلا سَأَلَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ - عَن الْإِثْم، فَقَالَ: مَا حاك فِي نَفسك فَدَعْهُ. قَالَ: فَمَا الْإِيمَان؟ قَالَ: من ساءته سيئته، وسرته حسنته فَهُوَ مُؤمن ". أَبُو سَلام اسْمه مَمْطُور، وَأَبُو أُمَامَة اسْمه صدي بن عجلَان.

مُسلم: حَدثنَا أَبُو بكر بن أبي شيبَة وَمُحَمّد بن مثنى وَابْن بشار - وَأَلْفَاظهمْ مُتَقَارِبَة - قَالَ أَبُو بكر: ثَنَا غنْدر، عَن شُعْبَة. وَقَالَ الْآخرَانِ: ثَنَا مُحَمَّد بن جَعْفَر، ثَنَا شُعْبَة، عَن أبي جَمْرَة قَالَ: " كنت أترجم بَين يَدي ابْن عَبَّاس وَبَين النَّاس فَأَتَتْهُ امْرَأَة تسأله عَن نَبِيذ الْجَرّ. فَقَالَ: إِن وَفد عبد الْقَيْس أَتَوا رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ - فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ -: من الْوَفْد - أَو من الْقَوْم -؟ قَالُوا: ربيعَة. قَالَ: مرْحَبًا بالقوم - أَو بالوفد غير خزايا وَلَا الندامى. قَالَ: فَقَالُوا: يَا رَسُول الله، إِنَّا نَأْتِيك من شقة بعيدَة، وَإِن بَينا وَبَيْنك هَذَا الْحَيّ من كفار مُضر، وَإِنَّا لَا نستطيع أَن نَأْتِيك إِلَّا فِي شهر الْحَرَام، فمرنا بِأَمْر فصل نخبر بِهِ من وَرَاءَنَا، ندخل بِهِ الْجنَّة. قَالَ: فَأَمرهمْ بِأَرْبَع، ونهاهم عَن أَربع قَالَ: أَمرهم بِالْإِيمَان بِاللَّه وَحده. وَقَالَ: هَل تَدْرُونَ مَا الْإِيمَان بِاللَّه وَحده؟ قَالُوا: الله وَرَسُوله أعلم، قَالَ: شَهَادَة أَن لَا إِلَه إِلَّا الله وَأَن مُحَمَّدًا رَسُول الله، وإقام الصَّلَاة، وإيتاء الزَّكَاة، وَصَوْم رَمَضَان، وَأَن تُؤَدُّوا خمْسا من الْمغنم. ونهاهم عَن الدُّبَّاء واكنتم والمزفت - قَالَ شُعْبَة: وَرُبمَا قَالَ: النقير. قَالَ شُعْبَة: وَرُبمَا قَالَ: المقير - وَقَالَ: احفظوه وأخبروا بِهِ من وَرَائِكُمْ ". وَقَالَ أَبُو بكر فِي حَدِيثه: " من وراءكم ". وَلَيْسَ فِي رِوَايَته: " المقير ".
আবদ ইবনে হুমাইদ: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুর রাজ্জাক, মা’মার থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসীর থেকে, তিনি জাইদ ইবনে সালাম থেকে, তিনি আবু সালাম থেকে, তিনি আবু উমামাহ আল-বাহিলি থেকে বর্ণনা করেন যে, "এক ব্যক্তি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে পাপ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি বললেন: যা তোমার মনে খটকা সৃষ্টি করে, তা বর্জন করো। সে বলল: তবে ঈমান কী? তিনি বললেন: যার মন্দ কাজ তাকে ব্যথিত করে এবং ভালো কাজ তাকে আনন্দিত করে, সেই মুমিন।" আবু সালামের নাম মামতূর এবং আবু উমামাহর নাম সুদী ইবনে আজলান।

মুসলিম: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবু বকর ইবনে আবি শাইবাহ, মুহাম্মদ ইবনে মুসান্না এবং ইবনে বাশার — তাঁদের বর্ণিত শব্দগুলো কাছাকাছি — আবু বকর বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন গুন্দার, শু’বাহ থেকে। অন্য দুজন বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে জাফর, তিনি শু’বাহ থেকে, তিনি আবু জামরাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "আমি ইবনে আব্বাসের সামনে মানুষের জন্য দোভাষীর কাজ করতাম। তখন এক নারী তাঁর কাছে এসে মাটির পাত্রে তৈরি নাবীজ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি (ইবনে আব্বাস) বললেন: আবদুল কাইসের প্রতিনিধি দল আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট আগমন করেছিলেন। আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জিজ্ঞাসা করলেন: কারা এই প্রতিনিধি দল — অথবা কোন কওম? তারা বলল: রবীআহ। তিনি বললেন: এই কওমকে — অথবা প্রতিনিধি দলকে — স্বাগতম, যারা লাঞ্ছিত বা অনুতপ্ত হবে না। তারা বলল: হে আল্লাহর রাসুল, আমরা আপনার কাছে অনেক দূর পথ অতিক্রম করে এসেছি, আর আমাদের ও আপনার মাঝখানে মুদার গোত্রের এই কাফিররা অবস্থান করছে। আমরা কেবল হারাম মাসগুলো ছাড়া আপনার কাছে আসতে পারি না। সুতরাং আমাদের এমন কিছু অকাট্য আদেশ দিন, যা আমরা আমাদের পেছনের লোকদের জানাব এবং যার মাধ্যমে আমরা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারব। বর্ণনাকারী বলেন: তিনি তাদের চারটি বিষয়ে আদেশ দিলেন এবং চারটি বিষয়ে নিষেধ করলেন। তিনি তাদের একমাত্র আল্লাহর ওপর ঈমান আনার আদেশ দিলেন। তিনি বললেন: তোমরা কি জানো একমাত্র আল্লাহর ওপর ঈমান আনা কী? তারা বলল: আল্লাহ ও তাঁর রাসুলই ভালো জানেন। তিনি বললেন: এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসুল, সালাত কায়েম করা, জাকাত প্রদান করা, রমজানের সিয়াম পালন করা এবং গনীমতের মালের এক-পঞ্চমাংশ আদায় করা। আর তিনি তাদের দুব্বা, হানতাম ও মুজাফফাত থেকে নিষেধ করলেন। শু’বাহ বলেন: সম্ভবত তিনি 'নাকীর' বলেছিলেন। শু’বাহ আরও বলেন: সম্ভবত তিনি 'মুকাইয়্যার' বলেছিলেন। তিনি বললেন: এগুলো মুখস্থ করে রেখো এবং তোমাদের পেছনের লোকদের এগুলো জানিয়ে দিও।" আবু বকর তাঁর হাদিসে বলেছেন: "তোমাদের পেছনে যারা রয়েছে"। আর তাঁর বর্ণনায় 'মুকাইয়্যার' শব্দটির উল্লেখ নেই।
(খণ্ড: ১) আল-আহকামুল কুবরা (পৃষ্ঠা: ৭৫)
ابْن أبي عرُوبَة، عَن قَتَادَة، عَن أبي نَضرة، عَن أبي سعيد، وَذكر فِيهِ الصَّوْم. وَرَوَاهُ عباد بن عباد، عَن أبي جمزة وَلم يذكر الصَّوْم. وَكَذَلِكَ سُلَيْمَان بن حَرْب وحجاج بن منهال، كِلَاهُمَا عَن حَمَّاد بن زيد، عَن أبي جَمْرَة وَلم يذكرَا فِيهِ الصَّوْم.

مُسلم: حَدثنَا خلف بن هِشَام، ثَنَا حَمَّاد بن زيد، عَن أبي جَمْرَة قَالَ: سَمِعت ابْن عَبَّاس ح.

وَحدثنَا: يحيى بن يحيى - وَاللَّفْظ لَهُ، ثَنَا عباد بن عباد، عَن أبي جَمْرَة، عَن ابْن عَبَّاس قَالَ: " قدم وَفد عبد الْقَيْس على رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ - فَقَالُوا: يَا رَسُول الله، إِنَّا هَذَا الْحَيّ من ربيعَة، وَقد حَالَتْ بَيْننَا وَبَيْنك كفار مُضر، وَلَا نخلص إِلَيْك إِلَّا فِي شهر الْحَرَام، فمرنا بِأَمْر نعمل بِهِ وندعو إِلَيْهِ من وَرَاءَنَا. قَالَ: آمركُم بِأَرْبَع، وأنهاكم عَن أَربع: الْإِيمَان بِاللَّه. ثمَّ فَسرهَا لَهُم فَقَالَ: شَهَادَة أَن لَا إِلَه إِلَّا الله وَأَن مُحَمَّدًا رَسُول الله، وَأقَام الصَّلَاة، وإيتاء الزَّكَاة، وَأَن تُؤَدُّوا خمس مَا غَنِمْتُم وأنهاكم عَن الدُّبَّاء والحنتم والنقير والمقير ". وَزَاد خلف فِي رِوَايَته: " شَهَادَة أَن لَا إِلَه إِلَّا الله. وَعقد وَاحِدَة ".

 

‌‌بَاب إِذا لم يكن الْإِسْلَام على الْحَقِيقَة وَكَانَ الاستسلام أَو الْخَوْف لقَوْل الله تَعَالَى {قَالَت الْأَعْرَاب آمنا قل لم تؤمنوا وَلَكِن قُولُوا أسلمنَا وَلما يدْخل الْإِيمَان فِي قُلُوبكُمْ}

مُسلم: حَدثنَا ابْن أبي عمر، حَدثنَا سُفْيَان، عَن الزُّهْرِيّ، عَن عَامر بن سعد، عَن أَبِيه قَالَ: " قسم رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ - قسما فَقلت: يَا رَسُول الله، أعْط فلَانا فَإِنَّهُ مُؤمن فَقَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ -: [أَو مُسلم] . أقولها ثَلَاثًا ويرددها عَليّ ثَلَاثًا: أَو
ইবনে আবি আরুবাহ্, কাতাদাহ্ থেকে, তিনি আবু নাদরাম থেকে, তিনি আবু সাঈদ থেকে বর্ণনা করেছেন এবং এতে রোযার কথা উল্লেখ করেছেন। আর আব্বাদ ইবনে আব্বাদ এটি আবু জামরাহ থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তিনি রোযার কথা উল্লেখ করেননি। একইভাবে সুলায়মান ইবনে হারব এবং হাজ্জাজ ইবনে মিনহাল—তাঁরা উভয়ে হাম্মাদ ইবনে যায়েদ থেকে, তিনি আবু জামরাহ থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁরা এতে রোযার কথা উল্লেখ করেননি।

মুসলিম: আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন খালাফ ইবনে হিশাম, তিনি হাম্মাদ ইবনে যায়েদ থেকে, তিনি আবু জামরাহ থেকে, তিনি বলেন: আমি ইবনে আব্বাসকে বলতে শুনেছি (হাদীসের পরবর্তী অংশ)।

এবং আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহইয়া—শব্দাবলী তাঁরই—তিনি আব্বাদ ইবনে আব্বাদ থেকে, তিনি আবু জামরাহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: "আবদুল কায়েস গোত্রের প্রতিনিধি দল আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট আগমন করল। তারা বলল: হে আল্লাহর রাসূল, আমরা রাবিয়াহ গোত্রের এই শাখা। আমাদের এবং আপনার মাঝে মুদার গোত্রের কাফিররা প্রতিবন্ধক হয়ে আছে। তাই নিষিদ্ধ মাসগুলো ছাড়া আমরা আপনার নিকট পৌঁছাতে পারি না। অতএব আমাদের এমন কিছু নির্দেশ দিন যা আমরা আমল করব এবং আমাদের পেছনে যারা রয়েছে তাদেরও সেদিকে আহ্বান করব। তিনি বললেন: আমি তোমাদের চারটি বিষয়ের নির্দেশ দিচ্ছি এবং চারটি বিষয় থেকে নিষেধ করছি: আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা। অতঃপর তিনি তাদের নিকট এর ব্যাখ্যা দিলেন এবং বললেন: এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল, সালাত কায়েম করা, যাকাত প্রদান করা এবং তোমরা যা গনীমত লাভ করবে তার এক-পঞ্চমাংশ আদায় করা। আর আমি তোমাদের দুব্বা, হানতাম, নাকীর এবং মুকাইয়ার (মদ তৈরির বিভিন্ন পাত্র) ব্যবহার করতে নিষেধ করছি।" খালাফ তাঁর বর্ণনায় আরও বৃদ্ধি করেছেন: "এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই—এবং তিনি একটি (সংখ্যা) গণনা করলেন।"

 

‌‌অধ্যায়: যখন ইসলাম প্রকৃত (ঈমানী) স্তরের হয় না বরং তা কেবল আত্মসমর্পণ বা ভয়ের কারণে হয়; মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: "মরুবাসী আরবরা বলে: ‘আমরা ঈমান এনেছি’। আপনি বলুন: ‘তোমরা ঈমান আনোনি, বরং তোমরা বলো: আমরা ইসলাম কবুল করেছি (আত্মসমর্পণ করেছি), কারণ ঈমান এখনো তোমাদের অন্তরে প্রবেশ করেনি’।"

মুসলিম: আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন ইবনে আবি উমর, তিনি সুফিয়ান থেকে, তিনি যুহরী থেকে, তিনি আমির ইবনে সাদ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: "আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কিছু সম্পদ বণ্টন করলেন। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, অমুক ব্যক্তিকে দিন, কেননা সে একজন মুমিন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: [নাকি মুসলিম?] আমি তিনবার একই কথা বললাম এবং তিনিও তিনবারই আমার কথার উত্তরে বললেন: নাকি [মুসলিম?]"
(খণ্ড: ১) আল-আহকামুল কুবরা (পৃষ্ঠা: ৭৬)
مُسلم. ثمَّ قَالَ: إِنِّي لأعطي الرجل وَغَيره أحب إِلَيّ مِنْهُ، مَخَافَة أَن يكبه الله فِي النَّار ".

 

‌‌بَاب مَا جَاءَ أَن الْإِسْلَام عَلَانيَة وَالْإِيمَان فِي الْقلب

أَبُو بكر بن أبي شيبَة: عَن زيد بن الْحباب، عَن عَليّ بن مسْعدَة، ثَنَا قَتَادَة، ثَنَا أنس قَالَ: قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ -: " الْإِسْلَام عَلَانيَة، وَالْإِيمَان فِي الْقلب، ثمَّ يُشِير بِيَدِهِ إِلَى صَدره: التَّقْوَى هَا هُنَا، التَّقْوَى هَا هُنَا ".

تفرد بِهِ عَليّ بن مسْعدَة، عَن قَتَادَة، عَن أنس على مَا ذكره أَبُو بكر الْبَزَّار رحمه الله وَقَالَ ابْن أبي / حَاتِم: عَليّ بن مسْعدَة روى عَنهُ ابْن الْمُبَارك وَيحيى ابْن سعيد وَعبد الرَّحْمَن بن مهْدي وَأَبُو دَاوُد الطَّيَالِسِيّ وَزيد بن الْحباب وَشُعَيْب ابْن حَرْب وسليم بن أَخْضَر وَمُسلم بن إِبْرَاهِيم. وثقة أَبُو دَاوُد، وَقَالَ يحيى ابْن معِين: عَليّ بن مسْعدَة صَالح. وَقَالَ فِيهِ أَبُو حَاتِم: لَا بَأْس بِهِ. وَقَالَ البُخَارِيّ: عَليّ بن مسْعدَة فِيهِ نظر.

 

‌‌بَاب بَيَان مَا بني عَلَيْهِ الْإِسْلَام

مُسلم: حَدثنَا مُحَمَّد بن عبد الله بن نمير الْهَمدَانِي، ثَنَا أَبُو خَالِد - يَعْنِي سُلَيْمَان بن حَيَّان الْأَحْمَر - عَن أبي مَالك الْأَشْجَعِيّ، عَن سعد بن عُبَيْدَة، عَن ابْن عمر، عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ - قَالَ: " بني الْإِسْلَام على خمس: على أَن يوحد الله، وإقام الصَّلَاة، وإيتاء الزَّكَاة، وَصِيَام رَمَضَان، وَالْحج. فَقَالَ رجل: الْحَج وَصِيَام رَمَضَان؟ فَقَالَ: لَا، صِيَام رَمَضَان وَالْحج. هَكَذَا سمعته من رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ - ".
মুসলিম। অতঃপর তিনি বললেন: “নিশ্চয়ই আমি কোনো ব্যক্তিকে (দান) প্রদান করি যদিও অন্য ব্যক্তি আমার নিকট তার চেয়ে অধিক প্রিয়, এই ভয়ে যে আল্লাহ তাকে জাহান্নামের আগুনে উপুড় করে নিক্ষেপ করবেন।”

 

‌‌পরিচ্ছেদ: ইসলাম প্রকাশ্য এবং ঈমান অন্তরে থাকা প্রসঙ্গে যা বর্ণিত হয়েছে

আবু বকর বিন আবি শায়বা: জায়েদ বিন আল-হুবাব থেকে, তিনি আলী বিন মাসয়াদা থেকে, তিনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন কাতাদা থেকে, তিনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আনাস (রা.) থেকে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: “ইসলাম প্রকাশ্য এবং ঈমান অন্তরে, অতঃপর তিনি তাঁর হাত দিয়ে তাঁর বুকের দিকে ইশারা করে বললেন: তাকওয়া এখানে, তাকওয়া এখানে।”

আবু বকর আল-বাজার (রহিমাহুল্লাহ) এর উল্লেখ মতে, আলী বিন মাসয়াদা এটি কাতাদা থেকে এবং তিনি আনাস থেকে এককভাবে বর্ণনা করেছেন। ইবনে আবি হাতিম বলেছেন: আলী বিন মাসয়াদা থেকে বর্ণনা করেছেন ইবনুল মুবারক, ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ, আবদুর রহমান বিন মাহদী, আবু দাউদ আত-তায়ালিসি, জায়েদ বিন আল-হুবাব, শুয়াইব ইবনে হারব, সালীম বিন আখদার এবং মুসলিম বিন ইবরাহিম। আবু দাউদ তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন। ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন বলেছেন: আলী বিন মাসয়াদা সৎ (সালিহ)। আবু হাতিম তার সম্পর্কে বলেছেন: এতে কোনো সমস্যা নেই। আর বুখারী বলেছেন: আলী বিন মাসয়াদার ব্যাপারে পর্যবেক্ষণ রয়েছে।

 

‌‌পরিচ্ছেদ: ইসলাম যেসব বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত তার বর্ণনা

মুসলিম: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন নুমায়র আল-হামদানি, তিনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু খালিদ—অর্থাৎ সুলাইমান বিন হাইয়ান আল-আহমার—থেকে, তিনি আবু মালিক আল-আশজায়ী থেকে, তিনি সাদ বিন উবায়দা থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: “ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি স্তম্ভের ওপর: আল্লাহকে এক হিসেবে স্বীকার করা, সালাত কায়েম করা, জাকাত প্রদান করা, রমজানের রোজা রাখা এবং হজ সম্পাদন করা। তখন এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করল: হজ এবং রমজানের রোজা? তিনি বললেন: না, রমজানের রোজা এবং হজ। আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে এভাবেই শুনেছি।”
(খণ্ড: ১) আল-আহকামুল কুবরা (পৃষ্ঠা: ৭৭)
أَبُو مَالك اسْمه سعد بن طَارق بن أَشْيَم، لِأَبِيهِ صُحْبَة.

مُسلم: حَدثنَا سهل بن عُثْمَان العسكري، ثَنَا يحيى بن زَكَرِيَّا، ثَنَا سعد ابْن طَارق، ثَنَا سعد بن عُبَيْدَة السّلمِيّ، عَن ابْن عمر، عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ - قَالَ: " بني الْإِسْلَام على خمس: على أَن يعبد الله وَيكفر بِمَا دونه، وإقام الصَّلَاة، وإيتاء الزَّكَاة، وَحج الْبَيْت، وَصَوْم رَمَضَان ".

 

‌‌بَاب حسن إِسْلَام الْمَرْء

البُخَارِيّ: حَدثنَا إِسْحَاق بن مَنْصُور، أبنا عبد الرَّزَّاق، أَنا معمر، عَن همام، عَن أبي هُرَيْرَة قَالَ: قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ -: " إِذا أحسن أحدكُم إِسْلَامه، فَكل حَسَنَة يعملها تكْتب لَهُ بِعشر أَمْثَالهَا إِلَى سَبْعمِائة ضعف، وكل سَيِّئَة يعملها تكْتب لَهُ بِمِثْلِهَا ".

 

‌‌بَاب التَّفْضِيل بَين الْمُسلمين الْمُؤمن وَالْمُسلم

مُسلم: حَدثنِي أَبُو الطَّاهِر أَحْمد بن عَمْرو بن السَّرْح الْمصْرِيّ، أَنا ابْن وهب، عَن عَمْرو بن الْحَارِث، عَن يزِيد بن أبي حبيب، عَن أبي الْخَيْر أَنه سمع عبد الله بن عَمْرو بن الْعَاصِ يَقُول: " إِن رجلا سَأَلَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ -: أَي الْمُسلمين خير؟ قَالَ: من سلم الْمُسلمُونَ من لِسَانه وَيَده ".

مُسلم: حَدثنِي سعيد بن يحيى بن سعيد الْأمَوِي، حَدثنِي أبي، ثَنَا أَبُو بردة بن عبد الله بن أبي بردة بن أبي مُوسَى، عَن أبي بردة، عَن أبي مُوسَى قَالَ: " قلت: يَا رَسُول الله، أَي [الْإِسْلَام] أفضل؟ قَالَ: من / سلم الْمُسلمُونَ من لِسَانه وَيَده ".
আবু মালিক, তাঁর নাম সাদ ইবন তারিক ইবন আশয়াম; তাঁর পিতার সাহচর্য ছিল।

মুসলিম: সাহল ইবন উসমান আল-আসকারী আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া ইবন জাকারিয়া আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, সাদ ইবন তারিক আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, সাদ ইবন উবায়দাহ আস-সুলামী আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইবন উমর হতে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হতে বর্ণনা করেন— তিনি বলেছেন: "ইসলাম পাঁচটি স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত: একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করা ও তাঁকে ছাড়া অন্য সব কিছুকে অস্বীকার করা, সালাত কায়েম করা, জাকাত প্রদান করা, বাইতুল্লাহর হজ করা এবং রমজানের সিয়াম পালন করা।"

 

‌‌পরিচ্ছেদ: ব্যক্তির ইসলামের সৌন্দর্য

বুখারী: ইসহাক ইবন মানসুর আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আবদুর রাজ্জাক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মা’মার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাম্মাম হতে, তিনি আবু হুরায়রা হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের মধ্যে কেউ যখন তাঁর ইসলামকে সুন্দর করে (নিষ্ঠার সাথে পালন করে), তখন সে যে নেক আমলটি করে তার বিনিময়ে দশ গুণ থেকে সাতশত গুণ পর্যন্ত সওয়াব লেখা হয়, আর সে যে মন্দ আমলটি করে তার বিনিময়ে কেবল সমপরিমাণ পাপই লেখা হয়।"

 

‌‌পরিচ্ছেদ: মুসলিমদের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব এবং মুমিন ও মুসলিমের বর্ণনা

মুসলিম: আবু তাহির আহমদ ইবন আমর ইবনাস সারাহ আল-মিসরি আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, ইবন ওয়াহাব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমর ইবনুল হারিস হতে, তিনি ইয়াজিদ ইবন আবি হাবিব হতে, তিনি আবুল খায়ের হতে, তিনি আবদুল্লাহ ইবন আমর ইবনুল আসকে বলতে শুনেছেন: "এক ব্যক্তি আল্লাহর রাসূলকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জিজ্ঞাসা করলেন: মুসলিমদের মধ্যে কে সর্বোত্তম? তিনি বললেন: যার জিহ্বা ও হাত থেকে মুসলিমরা নিরাপদ থাকে।"

মুসলিম: সাঈদ ইবন ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ আল-উমাবী আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আমার পিতা আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আবু বুরদাহ ইবন আবদুল্লাহ ইবন আবি বুরদাহ ইবন আবি মুসা আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু বুরদাহ হতে, তিনি আবু মুসা হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, ইসলামের কোন বিষয়টি শ্রেষ্ঠ? তিনি বললেন: যার জিহ্বা ও হাত থেকে মুসলিমরা নিরাপদ থাকে।"
(খণ্ড: ১) আল-আহকামুল কুবরা (পৃষ্ঠা: ৭৮)
وحدثنيه: إِبْرَاهِيم بن سعيد الْجَوْهَرِي، ثَنَا أَبُو أُسَامَة، حَدثنِي بُرَيْدَة بن عبد الله بِهَذَا الْإِسْنَاد، قَالَ: " سُئِلَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ - أَي الْمُسلمين أفضل … " فَذكر مثله.

مُسلم: حَدثنَا حسن الْحلْوانِي وَعبد بن حميد جَمِيعًا، عَن أبي عَاصِم قَالَ عبد: أبنا أَبُو عَاصِم - عَن ابْن جريح أَنه سمع أَبَا الزبير يَقُول: سَمِعت جَابِرا يَقُول: سَمِعت النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ - يَقُول: " الْمُسلم من سلم الْمُسلمُونَ من لِسَانه وَيَده ".

التِّرْمِذِيّ: حَدثنَا قُتَيْبَة، ثَنَا اللَّيْث، عَن ابْن عجلَان، عَن الْقَعْقَاع، عَن أبي صَالح، عَن أبي هُرَيْرَة قَالَ: قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ -: " الْمُسلم من سلم الْمُسلمُونَ من لِسَانه وَيَده، وَالْمُؤمن من أَمنه النَّاس على دِمَائِهِمْ وَأَمْوَالهمْ ".

قَالَ أَبُو عِيسَى: هَذَا حَدِيث حسن صَحِيح.

البُخَارِيّ: حَدثنَا آدم بن أبي إِيَاس، حَدثنَا شُعْبَة، عَن عبد الله بن أبي السّفر وَإِسْمَاعِيل، عَن الشّعبِيّ، عَن عبد الله بن عَمْرو، عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ - قَالَ: " الْمُسلم من سلم الْمُسلمُونَ من لِسَانه وَيَده، وَالْمُهَاجِر من هجر مَا نهى الله عَنهُ ".

قَالَ أَبُو عبد الله: وَقَالَ أَبُو مُعَاوِيَة: حَدثنَا دَاوُد، عَن عَامر، سَمِعت عبد الله، عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ -

 

‌‌بَاب أَي الْإِسْلَام أفضل

البُخَارِيّ: حَدثنَا سعيد بن يحيى بن سعيد الْقرشِي، ثَنَا أبي، ثَنَا أَبُو بردة ابْن عبد الله بن أبي بردة، عَن أبي بردة، عَن أبي مُوسَى قَالَ: " قَالُوا: يَا
এবং এটি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন ইব্রাহিম ইবনে সাঈদ আল-জাওহারি, তিনি বলেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু উসামাহ, তিনি বলেন, আমার কাছে বর্ণনা করেছেন বুরাইদাহ ইবনে আবদুল্লাহ এই সনদে, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল—কোন মুসলিম উত্তম …" অতঃপর তিনি অনুরূপ উল্লেখ করেছেন।

মুসলিম: আমাদের কাছে হাসান আল-হুলওয়ানি এবং আবদ ইবনে হুমাইদ উভয়ে বর্ণনা করেছেন আবু আসিম থেকে; আবদ বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আসিম—ইবনে জুরাইজ থেকে যে, তিনি আবু যুবাইরকে বলতে শুনেছেন: আমি জাবিরকে বলতে শুনেছি: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলছিলেন: "প্রকৃত মুসলিম সেই ব্যক্তি, যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলিমরা নিরাপদ থাকে।"

তিরমিজি: আমাদের কাছে কুতাইবাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের কাছে লাইস বর্ণনা করেছেন ইবনে আজলান থেকে, তিনি আল-কাকা থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "প্রকৃত মুসলিম সেই ব্যক্তি, যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলিমরা নিরাপদ থাকে, আর মুমিন সেই ব্যক্তি, যার নিকট মানুষ তাদের জান ও মালের ব্যাপারে নিরাপদ থাকে।"

আবু ঈসা বলেন: এই হাদিসটি হাসান সহিহ।

বুখারি: আমাদের কাছে আদম ইবনে আবু ইয়াস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের কাছে শু'বাহ বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে আবু আস-সাফার ও ইসমাইল থেকে, তারা আশ-শা'বি থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আমর থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: "প্রকৃত মুসলিম সেই ব্যক্তি, যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলিমরা নিরাপদ থাকে, আর মুহাজির সেই ব্যক্তি, যে আল্লাহ যা নিষেধ করেছেন তা পরিত্যাগ করে।"

আবু আবদুল্লাহ বলেন: এবং আবু মুয়াবিয়া বলেছেন: আমাদের কাছে দাউদ বর্ণনা করেছেন আমির থেকে, তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহকে বলতে শুনেছি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে—

 

‌‌পরিচ্ছেদ: কোন ইসলাম সর্বোত্তম

বুখারি: আমাদের কাছে সাঈদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কুরাশি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমার পিতা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবু বুরদাহ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আবু বুরদাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু বুরদাহ থেকে, তিনি আবু মুসা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "তারা বলল: হে"
(খণ্ড: ১) আল-আহকামুল কুবরা (পৃষ্ঠা: ৭৯)
رَسُول الله، أَي الْإِسْلَام أفضل؟ قَالَ: من سلم الْمُسلمُونَ من لِسَانه وَيَده ".

البُخَارِيّ: حَدثنَا قُتَيْبَة، ثَنَا اللَّيْث، عَن يزِيد بن أبي حبيب، عَن أبي الْخَيْر، عَن عبد الله بن عَمْرو " أَن رجلا سَأَلَ رَسُول الله: أَي الْإِسْلَام خير؟ قَالَ: تطعم الطَّعَام، وتقرأ السَّلَام على من عرفت وَمن لم تعرف ".

الْبَزَّار: حَدثنَا أَبُو سَلمَة يحيى بن خلف - وَكَانَ ثِقَة - ثَنَا عبد الْأَعْلَى، ثَنَا مُحَمَّد بن إِسْحَاق، عَن دَاوُد بن حُصَيْن، عَن عِكْرِمَة، عَن ابْن عَبَّاس " أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ - سُئِلَ: أَي الْإِسْلَام أفضل - أَو أَي الْإِيمَان أفضل - قَالَ: الحنيفية السمحة ".

مُحَمَّد بن إِسْحَاق وَثَّقَهُ قوم وَضَعفه آخَرُونَ، وَمن وَثَّقَهُ أَكثر، وَسَيَأْتِي ذكره وَذكر مَا قيل فِيهِ فِي بَاب الْقِرَاءَة خلف الإِمَام - إِن شَاءَ الله.

 

بَاب قَول النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ - " أَنا أعلمكُم بِاللَّه "

البُخَارِيّ: حَدثنَا مُحَمَّد، أبنا عَبدة، عَن هِشَام، عَن أَبِيه، عَن عَائِشَة رضي الله عنها قَالَت: " كَانَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ - إِذا أَمرهم أَمرهم من الْأَعْمَال بِمَا يُطِيقُونَ. قَالُوا: إِنَّا لسنا كهيئتك يَا رَسُول الله، إِن الله قد غفر لَك مَا تقدم من ذَنْبك وَمَا تَأَخّر. فيغضب حَتَّى يعرف الْغَضَب فِي وَجهه، ثمَّ يَقُول: إِن أَتْقَاكُم لله وَأعْلمكُمْ بِاللَّه أَنا ".

 

‌‌بَاب الْمعرفَة

قَالَ أَبُو عبد الله البُخَارِيّ: الْمعرفَة عمل الْقلب لقَوْل الله - تَعَالَى: {وَلَكِن
আল্লাহর রাসুল, ইসলামের কোন বিষয়টি শ্রেষ্ঠ? তিনি বললেন: "যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলিমরা নিরাপদ থাকে।"

বুখারি: আমাদের নিকট কুতাইবা বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট লাইস বর্ণনা করেছেন ইয়াজিদ ইবনে আবি হাবিব থেকে, তিনি আবুল খায়ের থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আমর থেকে বর্ণনা করেন যে, জনৈক ব্যক্তি আল্লাহর রাসুলকে জিজ্ঞাসা করলেন: ইসলামের কোন কাজটি উত্তম? তিনি বললেন: "অন্নদান করা এবং পরিচিত ও অপরিচিত উভয়কে সালাম প্রদান করা।"

বাজ্জার: আমাদের নিকট আবু সালামাহ ইয়াহইয়া ইবনে খালাফ বর্ণনা করেছেন—যিনি নির্ভরযোগ্য ছিলেন—আমাদের নিকট আবদুল আলা বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক বর্ণনা করেছেন দাউদ ইবনে হুসাইন থেকে, তিনি ইকরিমাহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: ইসলামের কোন বিষয়টি শ্রেষ্ঠ—অথবা ঈমানের কোন বিষয়টি শ্রেষ্ঠ—তিনি বললেন: "সহজ ও উদার একনিষ্ঠ দ্বীন।"

মুহাম্মদ ইবনে ইসহাককে একদল আলিম নির্ভরযোগ্য বলেছেন এবং অন্য দল তাকে দুর্বল বলেছেন, তবে যারা তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন তাদের সংখ্যাই অধিক। ইমামের পিছনে কিরাত পাঠ অধ্যায়ে তার সম্পর্কে এবং তার বিষয়ে যা বলা হয়েছে সে সম্পর্কে আলোচনা আসবে—ইনশাআল্লাহ।

 

পরিচ্ছেদ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী— "আমি তোমাদের মধ্যে আল্লাহ সম্পর্কে সর্বাধিক অবগত"

বুখারি: আমাদের নিকট মুহাম্মদ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবদাহ সংবাদ দিয়েছেন হিশাম থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সাহাবীদের কোনো নির্দেশ দিতেন, তখন তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী আমলেরই নির্দেশ দিতেন। তারা বলতেন: হে আল্লাহর রাসুল! আমরা তো আপনার মতো নই। নিশ্চয়ই আল্লাহ আপনার পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকল ত্রুটি ক্ষমা করে দিয়েছেন। এতে তিনি রাগান্বিত হতেন, এমনকি তার চেহারায় রাগের চিহ্ন ফুটে উঠত। অতঃপর তিনি বলতেন: "নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যে আমিই আল্লাহকে সবচেয়ে বেশি ভয় করি এবং আমিই আল্লাহ সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি জানি।"

 

‌‌পরিচ্ছেদ: মা’রিফাত (পরিচয়)

আবু আবদুল্লাহ বুখারি বলেন: মা’রিফাত বা পরিচয় হলো হৃদয়ের আমল, যেহেতু মহান আল্লাহ বলেছেন: {কিন্তু...
(খণ্ড: ১) আল-আহকামুল কুবরা (পৃষ্ঠা: ৮০)
يُؤَاخِذكُم بِمَا كسبت قُلُوبكُمْ} .

مُسلم: حَدثنَا أُميَّة بن بسطَام، ثَنَا يزِيد بن زُرَيْع، ثَنَا روح - وَهُوَ ابْن الْقَاسِم - عَن إِسْمَاعِيل بن أُميَّة، عَن يحيى بن عبد الله بن صَيْفِي، عَن أبي معبد، عَن ابْن عَبَّاس " أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ - لما بعث معَاذًا إِلَى الْيمن قَالَ: إِنَّك تقدم على قوم أهل كتاب، فَلْيَكُن أول مَا تدعوهم إِلَيْهِ عبَادَة الله، فَإِذا عرفُوا الله فَأخْبرهُم أَن الله فرض عَلَيْهِم خمس صلوَات فِي يومهم وليلتهم، فَإذْ فعلوا فَأخْبرهُم أَن الله قد فرض عَلَيْهِم زَكَاة تُؤْخَذ من (أَمْوَالهم) فَترد على فقرائهم، فَإِذا أطاعوا بهَا فَخذ مِنْهُم وتوق كرائم أَمْوَالهم ".

 

‌‌بَاب مَا تبلغ بِهِ حَقِيقَة الْإِيمَان

الْبَزَّار: حَدثنَا عمر بن الْخطاب، ثَنَا سُلَيْمَان بن عبد الرَّحْمَن، ثَنَا سُلَيْمَان ابْن عتبَة، سَمِعت يُونُس بن ميسرَة بن حَلبس يحدث، عَن أبي إِدْرِيس، عَن أبي الدَّرْدَاء، عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ - قَالَ: " لَا يبلغ عبد حَقِيقَة الْإِيمَان حَتَّى يعلم أَن مَا أَصَابَهُ لم يكن ليخطئه وَمَا أخطأه لم يكن ليصيبه ".

قَالَ أَبُو بكر: وَهَذَا الحَدِيث قد رُوِيَ عَن غير أبي الدَّرْدَاء، فاقتصرنا على رِوَايَة أبي الدَّرْدَاء، وَإِسْنَاده حسن. انْتهى كَلَام أبي بكر.

سُلَيْمَان هَذَا ضعفه يحيى بن معِين، وَقَالَ أَبُو حَاتِم: سُلَيْمَان بن عتبَة لَيْسَ بِهِ بَأْس، وَهُوَ مَحْمُود عِنْد الدمشقيين.
{তোমাদের অন্তরের উপার্জনের জন্য তিনি তোমাদের পাকড়াও করবেন}।

মুসলিম: আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন উমাইয়্যাহ ইবনে বিসতাম, আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন ইয়াযিদ ইবনে যুরাই, আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন রূহ—যিনি ইবনুল কাসিম—ইসমাইল ইবনে উমাইয়্যাহ থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে সায়ফি থেকে, তিনি আবু মাবাদ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন যে, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন মুয়াজকে ইয়েমেনে পাঠালেন, তখন বললেন: "তুমি এমন এক জাতির কাছে যাচ্ছ যারা আহলে কিতাব (ঐশী কিতাবের অনুসারী)। সুতরাং তাদের প্রতি তোমার প্রথম দাওয়াত হবে আল্লাহর ইবাদতের দিকে। যখন তারা আল্লাহকে চিনবে, তখন তাদের জানিয়ে দাও যে, আল্লাহ তাদের ওপর দিনে ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরজ করেছেন। যখন তারা তা পালন করবে, তখন তাদের জানিয়ে দাও যে, আল্লাহ তাদের ওপর জাকাত ফরজ করেছেন যা তাদের (সম্পদ) থেকে গ্রহণ করা হবে এবং তাদের দরিদ্রদের মাঝে বণ্টন করে দেওয়া হবে। যখন তারা এটি মেনে নেবে, তখন তাদের থেকে তা গ্রহণ করো এবং তাদের মূল্যবান সম্পদ গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকো।"

 

‌‌পরিচ্ছেদ: যার মাধ্যমে ঈমানের হাকিকত বা প্রকৃত অবস্থা অর্জিত হয়

বাযযার: আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন উমর ইবনুল খাত্তাব, আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন সুলাইমান ইবনে আবদুর রহমান, আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন সুলাইমান ইবনে উতবাহ, তিনি বলেন যে আমি ইউনুস ইবনে মাইসারাহ ইবনে হালবাসকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি আবু ইদরিস থেকে, তিনি আবু দারদা থেকে, তিনি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন—তিনি বলেছেন: "কোনো বান্দা ঈমানের হাকিকতে পৌঁছাতে পারবে না যতক্ষণ না সে এ কথা জানবে যে, তার কাছে যা পৌঁছেছে তা তাকে ছেড়ে যাওয়ার ছিল না, আর যা তাকে ছেড়ে গেছে তা তার কাছে পৌঁছানোর ছিল না।"

আবু বকর বলেন: এই হাদিসটি আবু দারদা ছাড়া অন্য থেকেও বর্ণিত হয়েছে, তবে আমরা আবু দারদার বর্ণনার ওপরই সীমাবদ্ধ থেকেছি এবং এর সনদ হাসান (উত্তম)। আবু বকরের বক্তব্য সমাপ্ত।

এই সুলাইমানকে ইয়াহইয়া ইবনে মায়িন দুর্বল বলেছেন। তবে আবু হাতিম বলেছেন: সুলাইমান ইবনে উতবাহর মধ্যে কোনো সমস্যা নেই এবং তিনি দামেস্কবাসীদের নিকট প্রশংসিত।
(খণ্ড: ১) আল-আহকামুল কুবরা (পৃষ্ঠা: ৮১)
بَاب قَول النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ - " نَحن أَحَق بِالشَّكِّ من إِبْرَاهِيم "

مُسلم: حَدثنِي حَرْمَلَة بن يحيى، أَنا ابْن وهب قَالَ: أَخْبرنِي يُونُس، عَن ابْن شهَاب، عَن أبي سَلمَة بن عبد الرَّحْمَن / وَسَعِيد بن الْمسيب، عَن أبي هُرَيْرَة أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ - قَالَ: " نَحن أَحَق بِالشَّكِّ من إِبْرَاهِيم صلى الله عليه وسلم َ - إِذْ قَالَ: {رب أَرِنِي كَيفَ تحيي الْمَوْتَى قَالَ أولم تؤمن قَالَ بلَى وَلَكِن لِيَطمَئِن قلبِي} وَيرْحَم الله لوطا لقد كَانَ يأوي إِلَى ركن شَدِيد، وَلَو لَبِثت فِي السجْن طول لبث يُوسُف لَأَجَبْت الدَّاعِي ".

وحَدثني بِهِ - إِن شَاءَ الله - عبد الله بن مُحَمَّد بن أَسمَاء الضبعِي، ثَنَا جوَيْرِية، عَن مَالك، عَن الزُّهْرِيّ أَن سعيد بن الْمسيب وَأَبا عبيد أخبراه، عَن أبي هُرَيْرَة، عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ - بِمثل حَدِيث يُونُس، عَن الزُّهْرِيّ، وَفِي حَدِيث مَالك: " {وَلَكِن لِيَطمَئِن قلبِي} قَالَ: ثمَّ قَرَأَ هَذِه الْآيَة حَتَّى جازها ".

الْبَزَّار: حَدثنَا أَحْمد بن سِنَان، ثَنَا أَبُو دَاوُد، ثَنَا أَبُو عوَانَة، عَن أبي بشر، عَن سعيد بن جُبَير، عَن ابْن عَبَّاس قَالَ: قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ -: " لَيْسَ الْمخبر كالمعاين، أخبر الله تبارك وتعالى مُوسَى أَن قومه قد فتنُوا فَلم يلق الألواح، فَلَمَّا رَآهُمْ ألْقى الألواح ".
পরিচ্ছেদ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী - "আমরা ইব্রাহীমের চেয়ে সন্দেহের অধিক হকদার"

মুসলিম: আমার কাছে বর্ণনা করেছেন হারমালা ইবনে ইয়াহইয়া, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবনে ওয়াহাব, তিনি বলেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন ইউনুস, ইবনে শিহাব থেকে, তিনি আবু সালামা ইবনে আবদুর রহমান এবং সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব থেকে, তারা আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমরা ইব্রাহীম (আলাইহিস সালাম)-এর চেয়ে সন্দেহের অধিক হকদার যখন তিনি বলেছিলেন: {হে আমার রব! আমাকে দেখান আপনি কীভাবে মৃতকে জীবিত করেন। তিনি বললেন: তবে কি তুমি বিশ্বাস করো না? তিনি বললেন: অবশ্যই, কিন্তু আমার হৃদয়ের প্রশান্তির জন্য}। আর আল্লাহ লুতের ওপর রহম করুন, তিনি এক শক্তিশালী স্তম্ভের আশ্রয় চাইতেন। আর আমি যদি কারাগারে ইউসুফের অবস্থানের মতো দীর্ঘ সময় অবস্থান করতাম, তবে আমি আহ্বানকারীর ডাকে সাড়া দিতাম।"

এবং আমার কাছে এটি বর্ণনা করেছেন — ইনশাআল্লাহ — আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আসমা আদ-দাবায়ী, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন জুওয়াইরিয়া, মালিক থেকে, তিনি যুহরি থেকে, সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব এবং আবু উবাইদ তাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তারা আবু হুরায়রা থেকে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে ইউনুসের বর্ণিত যুহরির হাদিসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আর মালিকের হাদিসে রয়েছে: "{তবে আমার হৃদয়ের প্রশান্তির জন্য}। বর্ণনাকারী বলেন: তারপর তিনি এই আয়াতটি পাঠ করলেন যতক্ষণ না তা শেষ করলেন।"

আল-বাযযার: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনে সিনান, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু আওয়ানা, আবু বিশর থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "সংবাদপ্রাপ্ত ব্যক্তি চাক্ষুষ প্রত্যক্ষকারীর মতো নয়। আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা মুসাকে সংবাদ দিলেন যে তার কওম ফিতনায় নিপতিত হয়েছে, তখন তিনি ফলকগুলো নিক্ষেপ করেননি। কিন্তু যখন তিনি তাদের চাক্ষুষ দেখলেন, তখন তিনি ফলকগুলো নিক্ষেপ করলেন।"
(খণ্ড: ১) আল-আহকামুল কুবরা (পৃষ্ঠা: ৮২)
‌‌بَاب وجوب الشَّهَادَتَيْنِ بِاللِّسَانِ واعتقادهما

بِالْقَلْبِ لقَوْل الله تَعَالَى {قُولُوا آمنا بِاللَّه}

وَقَوله {وَمَا أمروا إِلَّا ليعبدوا الله مُخلصين لَهُ الدَّين}

مُسلم: حَدثنَا مُحَمَّد بن عباد وَابْن أبي عمر قَالَا: ثَنَا مَرْوَان، عَن يزِيد ابْن كيسَان، عَن أبي حَازِم، عَن أبي هُرَيْرَة قَالَ: " قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ - لِعَمِّهِ عِنْد الْمَوْت: قل: لَا إِلَه إِلَّا الله، أشهد لَك بهَا يَوْم الْقِيَامَة. فَأبى فَأنْزل الله عز وجل: {إِنَّك لَا تهدي من أَحْبَبْت} الْآيَة ".

مُسلم: حَدثنِي أَبُو غَسَّان المسمعي وَمُحَمّد بن الْمثنى قَالَا: ثَنَا معَاذ - وَهُوَ ابْن هِشَام - أَخْبرنِي أبي، عَن قَتَادَة، ثَنَا أنس بن مَالك أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ - قَالَ: " يخرج من النَّار من قَالَ لَا إِلَه إِلَّا الله، وَكَانَ فِي قلبه من الْخَيْر مَا يزن شعيرَة، ثمَّ يخرج من النَّار من قَالَ لَا إِلَه إِلَّا الله وَكَانَ فِي قلبه مَا يزن برة، ثمَّ يخرج من قَالَ لَا إِلَه إِلَّا الله وَكَانَ فِي قلبه من الْخَيْر مَا يزن ذرة ".

مُسلم: حَدثنَا زُهَيْر بن حَرْب، ثَنَا عمر بن يُونُس، ثَنَا عِكْرِمَة بن عمار، حَدثنِي أَبُو كثير، حَدثنِي أَبُو هُرَيْرَة قَالَ: " كُنَّا قعُودا حول رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ - مَعنا أَبُو بكر وَعمر فِي نفر، / فَقَامَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ - من بَين أظهرنَا، فَأَبْطَأَ علينا وخشينا أَن يقتطع دُوننَا، وفزعنا وقمنا فَكنت أول من فزع، فَخرجت أَبْتَغِي رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ - حَتَّى
মুখে দুই সাক্ষ্যবাণী (শাহাদাতাইন) উচ্চারণ এবং অন্তরে তা বিশ্বাস করার আবশ্যকতা বিষয়ক অধ্যায়

মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: "তোমরা বলো, আমরা আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছি।"

এবং তাঁর বাণী: "তাদেরকে কেবল এই আদেশই দেওয়া হয়েছিল যে, তারা আল্লাহর ইবাদত করবে তাঁর প্রতি আনুগত্যে একনিষ্ঠ হয়ে।"

মুসলিম: মুহাম্মাদ ইবনে আব্বাদ ও ইবনে আবি উমর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: মারওয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াজিদ ইবনে কায়সান থেকে, তিনি আবু হাযিম থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর চাচার মৃত্যুর সময় বললেন: 'আপনি বলুন: আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, আমি কিয়ামতের দিন আপনার পক্ষে এর মাধ্যমে সাক্ষ্য দেব।' কিন্তু তিনি তা অস্বীকার করলেন। তখন মহান আল্লাহ অবতীর্ণ করলেন: 'নিশ্চয়ই আপনি যাকে ভালোবাসেন তাকে হিদায়াত দিতে পারবেন না' - আয়াতটি শেষ পর্যন্ত।"

মুসলিম: আবু গাসসান আল-মিসমাই ও মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: মুয়াজ - যিনি ইবনে হিশাম - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমার পিতা কাতাদাহ থেকে আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, আনাস ইবনে মালিক (রা.) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "সে ব্যক্তি জাহান্নাম থেকে বের হবে যে বলবে 'আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই' এবং তার অন্তরে একটি যব দানা সমপরিমাণ কল্যাণ থাকবে। এরপর জাহান্নাম থেকে সে বের হবে যে বলবে 'আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই' এবং তার অন্তরে একটি গমের দানা সমপরিমাণ কল্যাণ থাকবে। এরপর সে বের হবে যে বলবে 'আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই' এবং তার অন্তরে একটি অণু সমপরিমাণ কল্যাণ থাকবে।"

মুসলিম: যুহাইর ইবনে হারব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, উমর ইবনে ইউনুস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইকরিমা ইবনে আম্মার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু কাসীর আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু হুরায়রা (রা.) আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমরা একদল লোক রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর চারপাশে বসে ছিলাম, আমাদের সাথে আবু বকর ও উমর (রা.)-ও ছিলেন। এমতাবস্থায় রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের মাঝ থেকে উঠে গেলেন। তিনি ফিরে আসতে দেরি করলেন, ফলে আমরা আশঙ্কা করলাম যে আমাদের ছাড়াই তিনি কোনো বিপদের সম্মুখীন হয়েছেন কি না। এতে আমরা আতঙ্কিত হয়ে উঠে দাঁড়ালাম। আমিই প্রথম আতঙ্কিত হয়েছিলাম। তাই আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে খুঁজতে বের হলাম, যতক্ষণ না..."
(খণ্ড: ১) আল-আহকামুল কুবরা (পৃষ্ঠা: ৮৩)
أتيت حَائِطا للْأَنْصَار لبني النجار، فَدرت بِهِ هَل أجد لَهُ بَابا فَلم أجد، فَإِذا ربيع يدْخل فِي جَوف حَائِط من بِئْر خَارِجَة - وَالربيع الْجَدْوَل - فاحتفزت [كَمَا يحتفز الثَّعْلَب] فَدخلت على رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ - فَقَالَ: أَبُو هُرَيْرَة؟ فَقلت: نعم يَا رَسُول الله، قَالَ: مَا شَأْنك؟ قلت: كنت بَين أظهرنَا فَقُمْت، فأبطأت علينا فَخَشِينَا أَن تقتطع دُوننَا ففزعنا، فَكنت أول من فزع، فَأتيت هَذَا الْحَائِط فاحتفزت كَمَا يحتفز الثَّعْلَب، وَهَؤُلَاء النَّاس ورائي، فَقَالَ: يَا أَبَا هُرَيْرَة - وَأَعْطَانِي نَعْلَيْه - قَالَ: اذْهَبْ بنعلي هَاتين فَمن لقِيت من وَرَاء هَذَا الْحَائِط يشْهد أَن لَا إِلَه إِلَّا الله مُسْتَيْقنًا بهَا قلبه فبشره بِالْجنَّةِ. فَكَانَ أول من لقِيت عمر فَقَالَ: مَا هَاتَانِ النَّعْلَانِ يَا أَبَا هُرَيْرَة؟ قلت: هَاتَانِ نعلا رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ - بَعَثَنِي بهَا من لقِيت يشْهد أَن لَا إِلَه إِلَّا الله مستقيناً بهَا قلبه بَشرته بِالْجنَّةِ، قَالَ: فَضرب عمر بِيَدِهِ بَين ثديي، فَخَرَرْت لاستي فَقَالَ: ارْجع يَا أَبَا هُرَيْرَة. فَرَجَعت إِلَى رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ - فأجهشت بالبكاء، وركبني عمر، فَإِذا هُوَ على أثري فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ -: مَا لَك يَا أَبَا هُرَيْرَة؟ قلت: لقِيت عمر، فَأَخْبَرته بِالَّذِي بعثتني بِهِ فَضرب بَين ثديي ضَرْبَة خَرَرْت لاستي قَالَ: ارْجع. فَقَالَ رَسُول الله: يَا عمر، مَا حملك على مَا فعلت؟ قَالَ: يَا رَسُول الله، بِأبي أَنْت وَأمي، أبعثت أَبَا هُرَيْرَة بنعليك: من لَقِي يشْهد أَن لَا إِلَه إِلَّا الله مستقيناً بهَا قلبه بشره بِالْجنَّةِ؟ قَالَ: نعم. قَالَ: فَلَا تفعل، فَإِنِّي أخْشَى أَن يتكل النَّاس عَلَيْهَا فخلهم يعْملُونَ. قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ -: " فخلهم ".

البُخَارِيّ: حَدثنَا إِسْحَاق بن إِبْرَاهِيم، أبنا معَاذ بن هِشَام، حَدثنِي أبي، عَن قَتَادَة، ثَنَا أنس بن مَالك " أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ - ومعاذ رديفه على الرحل - قَالَ: يَا معَاذ. قَالَ: لبيْك يَا رَسُول الله وَسَعْديك. قَالَ: يَا معَاذ قَالَ: لبيْك يَا رَسُول الله وَسَعْديك - ثَلَاثًا - قَالَ: مَا من أحد يشْهد أَن لَا إِلَه إِلَّا الله وَأَن مُحَمَّدًا رَسُول الله صدقا من قلبه إِلَّا حرمه الله على النَّار. قَالَ: يَا رَسُول الله، أَفلا أخبر بِهِ النَّاس فيستبشرون؟ قَالَ: إِذا يتكلوا. وَأخْبر بهَا معَاذ عِنْد مَوته / تأثماً " زَاد البُخَارِيّ
আমি বনু নাজ্জার গোত্রের আনসারদের একটি বাগানে আসলাম। আমি সেটির চারপাশ ঘুরে দেখলাম কোনো প্রবেশদ্বার পাওয়া যায় কি না, কিন্তু পেলাম না। হঠাৎ দেখলাম একটি নালা—রাবি’ অর্থ ছোট নালা—বাগানের বাইরে থাকা একটি কূপ থেকে বাগানের অভ্যন্তরে প্রবেশ করছে। আমি নিজেকে সংকুচিত করে [যেভাবে শিয়াল নিজেকে গুটিয়ে নেয়] ভেতরে প্রবেশ করলাম এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট পৌঁছালাম। তিনি বললেন: আবু হুরায়রা? আমি বললাম: হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল। তিনি বললেন: তোমার কী বিষয়? আমি বললাম: আপনি আমাদের মাঝে ছিলেন, তারপর উঠে চলে আসলেন এবং আপনার ফিরতে বিলম্ব হলো। এতে আমরা আপনার ব্যাপারে কোনো অনিষ্টের আশঙ্কা করে আতঙ্কিত হয়ে পড়লাম, আর আমিই প্রথম আতঙ্কিত হয়েছিলাম। অতঃপর আমি এই বাগানে আসলাম এবং শিয়ালের মতো নিজেকে গুটিয়ে নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করলাম। আর ওই যে লোকেরা আমার পেছনেই আছে। তিনি বললেন: হে আবু হুরায়রা—এই বলে তিনি আমাকে তাঁর জুতোজোড়া দিলেন—এবং বললেন: আমার এই জুতোজোড়া নিয়ে যাও; এই বাগানের বাইরে যার সাথেই তোমার দেখা হবে এবং সে অন্তরের দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে সাক্ষ্য দেবে যে ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই’, তাকে জান্নাতের সুসংবাদ প্রদান করো। প্রথম যার সাথে আমার দেখা হলো তিনি ছিলেন উমর। তিনি বললেন: হে আবু হুরায়রা, এই জুতোজোড়া কিসের? আমি বললাম: এগুলো আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জুতো। তিনি আমাকে এগুলো দিয়ে পাঠিয়েছেন যেন যার সাথে আমার দেখা হবে এবং সে অন্তরের দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে সাক্ষ্য দেবে যে ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই’, তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দিই। আবু হুরায়রা বলেন: তখন উমর তাঁর হাত দিয়ে আমার বুকের ওপর আঘাত করলেন, ফলে আমি আমার পাছার ওপর ভর দিয়ে পড়ে গেলাম। তিনি বললেন: ফিরে যাও, হে আবু হুরায়রা। আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে উচ্চস্বরে কাঁদতে কাঁদতে ফিরে আসলাম এবং উমরও আমার পিছু নিলেন। অতঃপর তিনি আমার পেছনেই উপস্থিত হলেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: হে আবু হুরায়রা, তোমার কী হয়েছে? আমি বললাম: আমি উমরের দেখা পেয়েছিলাম এবং আপনি যা দিয়ে আমাকে পাঠিয়েছিলেন তা তাকে জানালাম। তখন সে আমার বুকে এমন এক আঘাত করল যে আমি পাছার ওপর ভর দিয়ে পড়ে গেলাম এবং সে বলল: ফিরে যাও। আল্লাহর রাসূল বললেন: হে উমর, তোমাকে কেন এ কাজে প্ররোচিত করল? তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমার পিতা-মাতা আপনার ওপর উৎসর্গিত হোক, আপনি কি আবু হুরায়রাকে আপনার জুতোসহ পাঠিয়েছেন যেন যার সাথে তার দেখা হবে এবং সে অন্তরের দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে সাক্ষ্য দেবে যে ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই’, তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দেয়? তিনি বললেন: হ্যাঁ। উমর বললেন: এমন করবেন না, কেননা আমি আশঙ্কা করছি যে মানুষ কেবল এর ওপরই নির্ভর করে বসে থাকবে; সুতরাং তাদের আমল করতে দিন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “তবে তাদের ছেড়ে দাও।”

বুখারি: আমাদের নিকট ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম বর্ণনা করেছেন, মুয়াজ ইবনে হিশাম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আমার পিতা কাতাদাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, আনাস ইবনে মালিক বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং মুয়াজ সওয়ারির পিঠে তাঁর পেছনে থাকা অবস্থায় তিনি বললেন: হে মুয়াজ। তিনি বললেন: আমি উপস্থিত হে আল্লাহর রাসূল এবং আমি আপনার আজ্ঞাবহ। তিনি পুনরায় বললেন: হে মুয়াজ। তিনি বললেন: আমি উপস্থিত হে আল্লাহর রাসূল এবং আমি আপনার আজ্ঞাবহ—এরূপ তিনবার। তিনি বললেন: এমন কোনো ব্যক্তি নেই যে তার অন্তর থেকে সত্যতার সাথে সাক্ষ্য দেয় যে ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল’, তবে আল্লাহ তার জন্য জাহান্নামের আগুন হারাম করে দেন। মুয়াজ বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমি কি মানুষকে এই সুসংবাদটি দেব না যাতে তারা আনন্দিত হতে পারে? তিনি বললেন: তবে তারা এর ওপরই নির্ভর করে বসে থাকবে। আর মুয়াজ তাঁর মৃত্যুর সময় ইলম গোপন করার গুনাহ থেকে বাঁচতে এই বিষয়টি প্রকাশ করেছিলেন। বুখারি এটি বর্ধিত আকারে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-আহকামুল কুবরা (পৃষ্ঠা: ৮৪)
على مُسلم فِي هَذَا الحَدِيث: " صدقا من قلبه ".

مُسلم: حَدثنَا أَبُو بكر بن النَّضر بن أبي النَّضر، حَدثنِي أَبُو النَّضر هَاشم ابْن الْقَاسِم، ثَنَا عبيد الله الْأَشْجَعِيّ، عَن مَالك بن مغول، عَن طَلْحَة بن مصرف، عَن أبي صَالح، عَن أبي هُرَيْرَة قَالَ: " كُنَّا مَعَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ - فِي مسير، قَالَ: فنفذت أزواد الْقَوْم حَتَّى هم بنحر بعض حمائلهم قَالَ: فَقَالَ عمر: يَا رَسُول الله، لَو جمعت مَا بَقِي من أزواد الْقَوْم، فدعوت الله عَلَيْهَا. قَالَ: فَفعل، قَالَ: فجَاء ذُو الْبر ببره، وَذُو التَّمْر بتمره قَالَ: - وَقَالَ مُجَاهِد، وَذُو النواة بنواه. قلت: وَمَا كَانُوا يصنعون بالنواة؟ قَالَ: يمصونه ويشيريون عَلَيْهِ المَاء - قَالَ: فَدَعَا عَلَيْهَا. قَالَ: حَتَّى مَلأ الْقَوْم [أزودتهم] قَالَ: فَقَالَ عِنْد ذَلِك: أشهد أَن لَا إِلَه إِلَّا الله وَأَنِّي رَسُول الله، لَا يلقى الله بهما عبد غير شَاك فيهمَا إِلَّا دخل الْجنَّة ".

مُسلم: حَدثنِي يُونُس بن عبد الْأَعْلَى الصَّدَفِي، ثَنَا ابْن وهب، وَأَخْبرنِي عَمْرو أَن أَبَا يُونُس حَدثهُ، عَن أبي هُرَيْرَة عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ - أَنه قَالَ: " وَالَّذِي نفس مُحَمَّد بِيَدِهِ لَا يسمع بِي أحد من هَذِه الْأمة: يَهُودِيّ وَلَا نَصْرَانِيّ، ثمَّ يَمُوت وَلم يُؤمن بِالَّذِي أرْسلت بِهِ إِلَّا كَانَ من أَصْحَاب النَّار ".

أَبُو يُونُس اسْمه سليم بن جُبَير - وَيُقَال: ابْن جبيرَة - مولى أبي هُرَيْرَة.

عبد بن حميد: أخبرنَا عبد الرَّزَّاق، عَن معمر، عَن همام، عَن أبي هُرَيْرَة قَالَ: قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ -: " لَا يسمع بِي أحد من هَذِه الْأمة، وَلَا يَهُودِيّ وَلَا نَصْرَانِيّ، وَلم يُؤمن بِالَّذِي أرْسلت بِهِ إِلَّا كَانَ من أَصْحَاب النَّار ".

 

‌‌بَاب قبُول ظواهر النَّاس فِي الْأَعْمَال ووكل سرائرهم إِلَى الله

مُسلم: حَدثنَا أَبُو طَاهِر وحرملة بن يحيى وَأحمد بن عِيسَى. قَالَ أَحْمد:
ইমাম মুসলিম এই হাদিসে (উল্লেখ করেছেন): "তার অন্তর থেকে সত্যান্তকরণে।"

মুসলিম: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবু বকর বিন আন-নাজর বিন আবু নাজর, তিনি বলেন: আমাকে হাদিস শুনিয়েছেন আবু নাজর হাশিম ইবনুল কাসিম, তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন উবায়দুল্লাহ আল-আশজায়ি, তিনি মালিক বিন মিগওয়াল থেকে, তিনি তালহা বিন মুসাররিফ থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "আমরা এক সফরে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে ছিলাম। বর্ণনাকারী বলেন: তখন লোকদের পাথেয় শেষ হয়ে গেল, এমনকি তারা তাদের কিছু বাহন পশু জবেহ করার সংকল্প করল। তিনি বলেন: তখন ওমর (রাযিআল্লাহু আনহু) বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আপনি যদি লোকদের অবশিষ্ট পাথেয়গুলো একত্রিত করতেন এবং সেগুলোর ওপর আল্লাহর কাছে দোয়া করতেন! তিনি বলেন: অতঃপর তিনি তাই করলেন। বর্ণনাকারী বলেন: তখন গমওয়ালা তার গম নিয়ে এল, খেজুরওয়ালা তার খেজুর নিয়ে এল। বর্ণনাকারী বলেন—মুজাহিদ বলেন—এবং খেজুরের আঁটিওয়ালা তার আঁটি নিয়ে এল। আমি জিজ্ঞেস করলাম: তারা আঁটি দিয়ে কী করত? তিনি বললেন: তারা তা চুষত এবং এর ওপর পানি পান করত। বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর তিনি সেগুলোর ওপর দোয়া করলেন। তিনি বলেন: শেষ পর্যন্ত লোকেরা তাদের [পাথেয় রাখার পাত্রগুলো] পূর্ণ করে নিল। তিনি বলেন: তখন তিনি বললেন: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল। কোনো বান্দা এ দুটির ব্যাপারে কোনো প্রকার সন্দেহ পোষণ না করে আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করলে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।"

মুসলিম: আমাকে হাদিস শুনিয়েছেন ইউনুস বিন আব্দুল আলা আস-সাদাফি, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন ইবনে ওয়াহাব, এবং আমাকে আমর সংবাদ দিয়েছেন যে, আবু ইউনুস তাকে আবু হুরায়রা (রাযিআল্লাহু আনহু) থেকে, তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "সেই সত্তার শপথ যার হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ, এই উম্মতের কোনো ব্যক্তি—চাই সে ইহুদি হোক বা খ্রিস্টান—যদি আমার কথা শোনে, অতঃপর আমি যা নিয়ে প্রেরিত হয়েছি তার ওপর ঈমান না এনে মৃত্যুবরণ করে, তবে সে অবশ্যই জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত হবে।"

আবু ইউনুসের নাম হলো সুলাইম বিন জুবায়ের—বলা হয়: ইবনে জুবাইরা—তিনি আবু হুরায়রা (রাযিআল্লাহু আনহু)-এর মুক্ত দাস।

আবদ ইবনে হুমাইদ: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুর রাজ্জাক, মা'মার থেকে, তিনি হাম্মাম থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "এই উম্মতের কোনো ব্যক্তি, ইহুদি হোক বা খ্রিস্টান, যদি আমার কথা শোনে এবং আমি যা নিয়ে প্রেরিত হয়েছি তার ওপর ঈমান না আনে, তবে সে অবশ্যই জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত হবে।"

 

‌‌অনুচ্ছেদ: মানুষের বাহ্যিক আমল গ্রহণ করা এবং তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়াদি আল্লাহর কাছে সোপর্দ করা

মুসলিম: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবু তাহির, হারমালা বিন ইয়াহইয়া এবং আহমাদ বিন ঈসা। আহমাদ বলেছেন:
(খণ্ড: ১) আল-আহকামুল কুবরা (পৃষ্ঠা: ৮৫)
ثَنَا. وَقَالَ الْآخرَانِ: أبنا ابْن وهب، أَخْبرنِي يُونُس، عَن ابْن شهَاب، حَدثنِي سعيد بن الْمسيب أَن أَبَا هُرَيْرَة أخبرهُ أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ - قَالَ: " أمرت أَن أقَاتل النَّاس حَتَّى يَقُولُوا لَا إِلَه إِلَّا الله، فَمن قَالَ لَا إِلَه إِلَّا الله عصم مني مَاله وَنَفسه إِلَّا بِحقِّهِ، وحسابه على الله ".

مُسلم: حَدثنَا أَحْمد بن عَبدة الضَّبِّيّ، أَخْبرنِي عبد الْعَزِيز - يَعْنِي: الداروردي - عَن الْعَلَاء.

وَحدثنَا أُميَّة بن بسطَام - وَاللَّفْظ لَهُ - ثَنَا يزِيد بن زُرَيْع، ثَنَا روح، عَن الْعَلَاء بن عبد الرَّحْمَن بن يَعْقُوب، عَن أَبِيه، عَن أبي هُرَيْرَة، عَن رَسُول صلى الله عليه وسلم َ - قَالَ: " [أمرت أَن] أقَاتل النَّاس حَتَّى يشْهدُوا أَن لَا إِلَه إِلَّا الله، ويؤمنوا بِي وَبِمَا جِئْت بِهِ، فَإِذا فعلوا ذَلِك عصموا مني دِمَاءَهُمْ وَأَمْوَالهمْ إِلَّا بِحَقِّهَا، وحسابهم على الله ".

الْعَلَاء بن عبد الرَّحْمَن سمع أَبَاهُ وأنسا وَابْن عمر، روى عَنهُ مَالك وَشعْبَة وَابْن جريح وَمُحَمّد بن عجلَان وَالْحسن بن الْحر وَابْن عُيَيْنَة وَعبد الْعَزِيز بن أبي حَازِم والوليد بن كثير وَإِسْمَاعِيل بن جَعْفَر وَمُحَمّد بن إِسْحَاق وَغَيرهم، قَالَ أَحْمد بن حَنْبَل: الْعَلَاء ثِقَة، لم أسمع أحدا ذكره بِسوء، وَهُوَ فَوق سُهَيْل. وَقَالَ أَبُو حَاتِم: الْعَلَاء صَدُوق. وَقَالَ أَبُو عبد الرَّحْمَن: الْعَلَاء لَيْسَ بِهِ بَأْس، روى عَنهُ مَالك. وَقَالَ يحيى بن معِين: الْعَلَاء لَيْسَ بِحجَّة. وَقَالَ مرّة: لَيْسَ بِذَاكَ، لم يزل النَّاس [يَتَّقُونَ] حَدِيثه. وَقَالَ أَبُو زرْعَة: [لَيْسَ هُوَ بأقوى مَا يكون وَقَالَ أَبُو حَاتِم] : الْعَلَاء بن عبد الرَّحْمَن روى عَنهُ الثِّقَات، وانا أنكر من حَدِيثه شَيْئا. وَقَالَ الْحَاكِم: الْعَلَاء اعْتَمدهُ مُسلم فِي كل مَا يَصح عَنهُ من
আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। অপর দুই জন বলেছেন: ইবনে ওয়াহাব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইউনুস আমাকে জানিয়েছেন ইবনে শিহাব থেকে, সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, আবু হুরায়রা তাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমি মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য আদিষ্ট হয়েছি যতক্ষণ না তারা বলে 'আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই'। সুতরাং যে ব্যক্তি 'আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই' বলবে, তার সম্পদ ও প্রাণ আমার থেকে নিরাপদ হয়ে যাবে তার হকের কারণ ব্যতীত, আর তার হিসাব আল্লাহর ওপর।"

মুসলিম: আমাদের কাছে আহমাদ বিন আবদাহ আদ-দাব্বী বর্ণনা করেছেন, আব্দুল আজিজ—অর্থাৎ আদ-দারওয়ারদী—আমাকে আল-আলা থেকে সংবাদ দিয়েছেন।

উমাইয়াহ বিন বিস্তাম আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন—এবং শব্দাবলি তার—ইয়াযীদ বিন যুরায় আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, রাওহ বর্ণনা করেছেন আল-আলা বিন আব্দুর রহমান বিন ইয়াকুব থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে, তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: "[আমি আদিষ্ট হয়েছি] মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে যতক্ষণ না তারা সাক্ষ্য দেয় যে আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং আমার ওপর ও আমি যা নিয়ে এসেছি তার ওপর ঈমান আনে। তারা যখন তা করবে, তখন তাদের রক্ত ও সম্পদ আমার থেকে নিরাপদ হয়ে যাবে তার হকের কারণ ব্যতীত, আর তাদের হিসাব আল্লাহর ওপর।"

আল-আলা বিন আব্দুর রহমান তার পিতা, আনাস এবং ইবনে উমর থেকে শ্রবণ করেছেন। তার থেকে মালিক, শুবা, ইবনে জুরাইজ, মুহাম্মদ বিন আজলান, আল-হাসান বিন আল-হুরর, ইবনে উইয়াইনাহ, আব্দুল আজিজ বিন আবি হাযিম, আল-ওয়ালীদ বিন কাসীর, ইসমাঈল বিন জাফর, মুহাম্মদ বিন ইসহাক এবং অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন: আল-আলা নির্ভরযোগ্য, আমি কাউকে তার সম্পর্কে মন্দ কথা বলতে শুনিনি, এবং তিনি সুহাইলের ঊর্ধ্বে। আবু হাতিম বলেন: আল-আলা সত্যবাদী। আবু আব্দুর রহমান বলেন: আল-আলা-তে কোনো সমস্যা নেই, মালিক তার থেকে বর্ণনা করেছেন। ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন: আল-আলা দলীলযোগ্য নন। অন্য সময় তিনি বলেছেন: তিনি তেমন (নির্ভরযোগ্য) নন, মানুষ সব সময় তার হাদীস থেকে [সতর্ক] থাকতো। আবু যুরআ বলেন: [তিনি খুব বেশি শক্তিশালী নন এবং আবু হাতিম বলেন]: আল-আলা বিন আব্দুর রহমান থেকে নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিরা বর্ণনা করেছেন এবং আমি তার হাদীসের কোনো কিছু অস্বীকার করি না। আল-হাকিম বলেন: আল-আলা-র কাছ থেকে যা সহীহ প্রমাণিত হয়েছে তার সবকিছুর ব্যাপারে মুসলিম তার ওপর নির্ভর করেছেন...
(খণ্ড: ১) আল-আহকামুল কুবরা (পৃষ্ঠা: ৮৬)
الرِّوَايَات عَن أَبِيه وَغَيره، إِذا كَانَ الرَّاوِي عَنهُ ثِقَة.

مُسلم: حَدثنَا أَبُو غَسَّان المسمعي مَالك بن عبد الْوَاحِد، ثَنَا عبد الْملك بن الصَّباح، عَن شُعْبَة، عَن وَاقد بن مُحَمَّد بن زيد بن عبد الله بن عمر، عَن أَبِيه، عَن عبد الله بن عمر قَالَ: قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ -: " أمرت أَن أقَاتل النَّاس حَتَّى يشْهدُوا أَن لَا إِلَه إِلَّا الله وَأَن مُحَمَّدًا رَسُول الله، ويقيموا الصَّلَاة، ويؤتوا الزَّكَاة، فَإِذا فَعَلُوهُ عصموا مني دِمَاءَهُمْ وَأَمْوَالهمْ، وحسابهم على الله ".

مُسلم: حَدثنَا أَبُو بكر بن أبي شيبَة، ثَنَا أَبُو خَالِد الْأَحْمَر.

وحدثنيه: زُهَيْر بن حَرْب، ثَنَا يزِيد بن هَارُون، كِلَاهُمَا عَن [أبي] مَالك، عَن أَبِيه أَنه سمع النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ - يَقُول: " من وَحده الله … " ثمَّ ذكر بِمثلِهِ.

أَبُو مَالك اسْمه سعد، وَأَبوهُ طَارق بن أَشْيَم، وَأَبُو خَالِد أُسَمِّهِ سُلَيْمَان بن حَيَّان.

مُسلم: حَدثنَا أَبُو بكر بن أبي شيبَة، ثَنَا وَكِيع، ثَنَا سُفْيَان، عَن [أبي] الزبير، عَن جَابر قَالَ: قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ -: " أمرت أَن أقَاتل النَّاس حَتَّى يَقُولُوا لَا إِلَه إِلَّا الله، فَإِذا / قَالُوا لَا إِلَه إِلَّا الله عصموا مني دِمَاءَهُمْ وَأَمْوَالهمْ إِلَّا بِحَقِّهَا وحسابهم على الله، ثمَّ قَرَأَ: {إِنَّمَا أَنْت مُذَكّر لست عَلَيْهِم بمسيطر} "

مُسلم: حَدثنَا أَبُو بكر بن أبي شيبَة، ثَنَا أَبُو خَالِد الْأَحْمَر.
তাঁর পিতা এবং অন্যদের থেকে বর্ণিত বর্ণনাগুলো, যদি বর্ণনাকারী তাঁর থেকে বিশ্বস্ত হন।

মুসলিম: আমাদের নিকট আবু গাসসান আল-মিসমায়ি মালিক বিন আব্দুল ওয়াহিদ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আব্দুল মালিক বিন আস-সাব্বাহ বর্ণনা করেছেন শু'বাহ থেকে, তিনি ওয়াকিদ বিন মুহাম্মদ বিন যায়িদ বিন আব্দুল্লাহ বিন উমর থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন উমর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আমাকে মানুষের বিরুদ্ধে লড়াই করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যতক্ষণ না তারা সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল, আর তারা সালাত কায়েম করে এবং যাকাত প্রদান করে। যখন তারা তা করবে, তখন তারা আমার থেকে তাদের রক্ত ও সম্পদ নিরাপদ করে নেবে, আর তাদের হিসাব আল্লাহর জিম্মায়।"

মুসলিম: আমাদের নিকট আবু বকর বিন আবি শায়বাহ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবু খালিদ আল-আহমার বর্ণনা করেছেন।

এবং আমার নিকট যুহাইর বিন হারব এটি বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট ইয়াযিদ বিন হারুন বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়ই [আবু] মালিক থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছেন: "যে ব্যক্তি আল্লাহর একত্ববাদ ঘোষণা করবে …" এরপর তিনি অনুরূপ বর্ণনা উল্লেখ করেছেন।

আবু মালিকের নাম হলো সা'দ, তাঁর পিতা তারিক বিন আশইয়াম এবং আবু খালিদের নাম সুলাইমান বিন হাইয়ান।

মুসলিম: আমাদের নিকট আবু বকর বিন আবি শায়বাহ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট ওয়াকি' বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট সুফিয়ান বর্ণনা করেছেন [আবু] যুবাইর থেকে, তিনি জাবির থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আমাকে মানুষের সাথে লড়াই করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যতক্ষণ না তারা বলে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই। অতঃপর যখন তারা 'আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই' বলবে, তখন তারা আমার থেকে তাদের রক্ত ও সম্পদ নিরাপদ করে নেবে, তবে তার হকের বিষয়টি ভিন্ন, আর তাদের হিসাব আল্লাহর জিম্মায়।" অতঃপর তিনি তিলাওয়াত করলেন: {নিশ্চয়ই আপনি কেবল একজন উপদেশদাতা। আপনি তাদের ওপর কোনো কর্মনিয়ন্ত্রক নন।}

মুসলিম: আমাদের নিকট আবু বকর বিন আবি শায়বাহ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবু খালিদ আল-আহমার বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-আহকামুল কুবরা (পৃষ্ঠা: ৮৭)
وَحدثنَا أَبُو كريب وَإِسْحَاق بن إِبْرَاهِيم، عَن أبي مُعَاوِيَة، كِلَاهُمَا عَن الْأَعْمَش، عَن أبي ظبْيَان، عَن أُسَامَة بن زيد - وَهَذَا حَدِيث ابْن أبي شيبَة - قَالَ: " بعثنَا رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ - فِي سَرِيَّة، فصبحنا الحرقات من جُهَيْنَة، فأدركت رجلا فَقَالَ: لَا إِلَه إِلَّا الله. فطعنته، فَوَقع فِي نَفسِي من ذَلِك، فَذَكرته للنَّبِي صلى الله عليه وسلم َ -. فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ -: أقَال لَا إِلَه إِلَّا الله وقتلته؟ ! قَالَ: قلت: يَا رَسُول الله، إِنَّمَا قَالَهَا خوفًا من السِّلَاح. قَالَ: أَفلا شققت عَن قلبه حَتَّى تعلم أقالها أم لَا؟ فَمَا زَالَ يكررها عَليّ حَتَّى تمنيت أَنِّي أسلمت يَوْمئِذٍ. قَالَ: فَقَالَ سعد: وَأَنا وَالله لَا أقتل مُسلما حَتَّى يقْتله ذُو البطين - يَعْنِي: أُسَامَة - قَالَ: قَالَ رجل: ألم يقل الله عز وجل: {قاتلوهم حَتَّى لَا تكون فتْنَة وَيكون الدَّين كُله لله} ؟ فَقَالَ سعد: قد قاتلنا حَتَّى لَا تكون فتْنَة، وَأَنت وَأَصْحَابك تُرِيدُونَ أَن تقاتلوا حَتَّى تكون فتْنَة ".

أَبُو ظبْيَان اسْمه حُصَيْن بن جُنْدُب الْجَنبي.

 

‌‌بَاب ثَوَاب من مَاتَ مقرا بِالشَّهَادَتَيْنِ مخلصاً بهَا

مُسلم: حَدثنَا أَبُو بكر بن أبي شيبَة وَزُهَيْر بن حَرْب، كِلَاهُمَا عَن إِسْمَاعِيل بن إِبْرَاهِيم - قَالَ أَبُو بكر: ثَنَا ابْن علية - عَن خَالِد، ثَنَا الْوَلِيد بن مُسلم، عَن حمْرَان، عَن عُثْمَان قَالَ: قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ -: " من مَاتَ وَهُوَ يعلم أَنه لَا إِلَه إِلَّا الله دخل الْجنَّة ".

مُسلم: حَدثنَا سهل بن عُثْمَان وَأَبُو كريب مُحَمَّد بن الْعَلَاء، جَمِيعًا عَن أبي مُعَاوِيَة - قَالَ أَبُو كريب: ثَنَا مُعَاوِيَة - عَن الْأَعْمَش، عَن أبي صَالح، عَن
আমাদের নিকট আবু কুরাইব ও ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম আবু মুয়াবিয়া থেকে বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়ে আমাশ থেকে, তিনি আবু জাবইয়ান থেকে, তিনি উসামা ইবনে যায়েদ থেকে বর্ণনা করেন - এবং এটি ইবনে আবু শায়বার বর্ণিত হাদিস - তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের একটি অভিযানে পাঠালেন। আমরা ভোরে জুহাইনা গোত্রের হুরকাত নামক স্থানে পৌঁছালাম। আমি এক ব্যক্তিকে ধরে ফেললাম, তখন সে বলল: আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই। এরপরও আমি তাকে বর্শা দিয়ে আঘাত করলাম। পরবর্তীতে আমার মনে এ নিয়ে খটকা তৈরি হলো। তাই আমি বিষয়টি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জানালাম। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: সে কি 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলেছিল আর তুমি তাকে হত্যা করলে?! আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, সে তো কেবল অস্ত্রের ভয়ে এটি বলেছিল। তিনি বললেন: তুমি কি তার হৃদয় চিরে দেখেছিলে যাতে তুমি জানতে পারতে যে সে তা বলেছে কি না? তিনি আমার কাছে কথাটি বারবার বলতে থাকলেন, এমনকি আমি আকাঙ্ক্ষা করতে লাগলাম যে আমি যদি আজই ইসলাম গ্রহণ করতাম। উসামা বলেন: এরপর সা'দ বললেন: আল্লাহর কসম, আমি কোনো মুসলিমকে হত্যা করব না যতক্ষণ না 'ভুঁড়িওয়ালা' অর্থাৎ উসামা তাকে হত্যা করে। উসামা বলেন: জনৈক ব্যক্তি বলল: আল্লাহ মহামহিম কি বলেননি: {তাদের সাথে যুদ্ধ করো যতক্ষণ না ফিতনা দূরীভূত হয় এবং দ্বীন পুরোপুরি আল্লাহর জন্য হয়ে যায়}? সা'দ বললেন: আমরা যুদ্ধ করেছি যাতে ফিতনা না থাকে, আর তোমরা ও তোমাদের সঙ্গীরা চাও যুদ্ধ করতে যাতে ফিতনা সৃষ্টি হয়।"

আবু জাবইয়ানের নাম হলো হুসাইন ইবনে জুনদুব আল-জানাবি।

 

‌‌পরিচ্ছেদ: একনিষ্ঠভাবে শাহাদাতদ্বয়ের স্বীকৃতি দিয়ে মৃত্যুবরণকারীর সওয়াব

মুসলিম: আমাদের নিকট আবু বকর ইবনে আবু শায়বা ও যুহাইর ইবনে হারব বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়ে ইসমাইল ইবনে ইব্রাহিম থেকে - আবু বকর বলেন: আমাদের নিকট ইবনে উলাইয়্যাহ বর্ণনা করেছেন - খালিদ থেকে, আমাদের নিকট ওয়ালিদ ইবনে মুসলিম হুমরান থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি উসমান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল럼 বলেছেন: "যে ব্যক্তি এই অবস্থায় মৃত্যুবরণ করল যে সে জানে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।"

মুসলিম: আমাদের নিকট সাহল ইবনে উসমান ও আবু কুরাইব মুহাম্মাদ ইবনুল আলা বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়ে আবু মুয়াবিয়া থেকে - আবু কুরাইব বলেন: আমাদের নিকট মুয়াবিয়া বর্ণনা করেছেন - আমাশ থেকে, তিনি আবু সালেহ থেকে...
(খণ্ড: ১) আল-আহকামুল কুবরা (পৃষ্ঠা: ৮৮)
أبي هُرَيْرَة - أَو عَن أبي [سعيد] شكّ الْأَعْمَش - قَالَ: " لما كَانَ يَوْم غَزْوَة تَبُوك أصَاب النَّاس مجاعَة، قَالُوا: يَا رَسُول الله، لَو أَذِنت لنا فنحرنا نواضحنا فأكلنا وادهنا. فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ -: افعلوا. قَالَ: فجَاء عمر فَقَالَ: يَا رَسُول الله، إِن فعلت قل الظّهْر، وَلَكِن ادعهم بِفضل أَزْوَادهم، ثمَّ ادْع الله لَهُم عَلَيْهَا بِالْبركَةِ، لَعَلَّ الله أَن يَجْعَل فِي ذَلِك. فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ -: نعم. قَالَ: فَدَعَا بنطع فبسطه، ثمَّ دَعَا بِفضل أَزْوَادهم قَالَ: فَجعل الرجل يَجِيء بكف ذرة، وَجعل يَجِيء الآخر بكف تمر. قَالَ: وَيَجِيء الآخر بكسرة، حَتَّى اجْتمع على النطع من ذَلِك شَيْء يسير. قَالَ: فَدَعَا رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ - بِالْبركَةِ ثمَّ قَالَ: خُذُوا فِي أوعيتكم. قَالَ: فَأخذُوا فِي أوعيتهم حَتَّى مَا تركُوا فِي الْعَسْكَر وعَاء إِلَّا ملئوه. قَالَ: فَأَكَلُوا حَتَّى شَبِعُوا وفضلت فضلَة. فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ -: أشهد أَن لَا إِلَه إِلَّا الله وَأَنِّي رَسُول الله لَا يلقى الله بهما عبد غير شَاك فيحجب عَن الْجنَّة ".

مُسلم: حَدثنَا قُتَيْبَة بن سعيد، ثَنَا اللَّيْث، عَن ابْن عجلَان، عَن مُحَمَّد ابْن يحيى بن حبَان، عَن ابْن محيريز، عَن الصنَابحِي، عَن عبَادَة بن الصَّامِت أَنه قَالَ: " دخلت عَلَيْهِ وَهُوَ فِي الْمَوْت، فَبَكَيْت، فَقَالَ: مهلا، وَلم تبكى؟ فوَاللَّه لَئِن استشهدت لأشهدن لَك، وَلَئِن شفعت لأشفعن لَك، وَلَئِن اسْتَطَعْت لأنفعنك، ثمَّ قَالَ: وَالله، مَا من حَدِيث سمعته من رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ - لكم فِيهِ خير إِلَّا حَدَّثتكُمُوهُ إِلَّا حَدِيثا وَاحِدًا، وسوف أحدثكموه الْيَوْم، وَقد احيط بنفسي، سَمِعت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ - يَقُول: من شهد أَن لَا إِلَه إِلَّا الله وَأَن مُحَمَّدًا رَسُول الله حرم الله عَلَيْهِ النَّار ".

الصنَابحِي اسْمه عبد الرَّحْمَن بن عسيلة أَبُو عبد الله، قدم الْمَدِينَة بعد وَفَاة النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ - بست لَيَال، نزل الشَّام، سمع أَبَا بكر الصّديق وَعبادَة بن الصَّامِت وبلال بن رَبَاح، روى عَنهُ عبد الله بن محيريز وَأَبُو الْخَيْر مرْثَد بن عبد الله وَرَبِيعَة ابْن يزِيد.
আবু হুরায়রা — অথবা আবু সাঈদ হতে বর্ণিত, (বর্ণনাকারী) আমাশ সন্দেহ করেছেন — তিনি বলেন: "যখন তাবুক যুদ্ধের দিন এল, তখন লোকেরা ক্ষুধার সম্মুখীন হলো। তারা বলল: হে আল্লাহর রাসূল, আপনি যদি আমাদের অনুমতি দিতেন তবে আমরা আমাদের পানি বহনকারী উটগুলো জবাই করতাম, অতঃপর তা থেকে আহার করতাম এবং চর্বি ব্যবহার করতাম। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: তোমরা তা করো। তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন: তখন উমর এলেন এবং বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আপনি যদি এমনটি করেন তবে সওয়ারীর সংখ্যা কমে যাবে। বরং আপনি তাদের অবশিষ্ট পাথেয়সহ তাদের ডাকুন, অতঃপর তাতে বরকতের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করুন। সম্ভবত আল্লাহ তাতেই বরকত দান করবেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: হ্যাঁ। তিনি বলেন: এরপর তিনি একটি চামড়ার দস্তরখান আনালেন এবং তা বিছালেন। অতঃপর তিনি তাদের অবশিষ্ট পাথেয় নিয়ে আসার আহ্বান জানালেন। তিনি বলেন: কেউ এক মুষ্টি ভুট্টা নিয়ে আসতে লাগল, আবার কেউ এক মুষ্টি খেজুর নিয়ে আসতে লাগল। তিনি বলেন: অন্য কেউ রুটির টুকরো নিয়ে আসতে লাগল, এভাবে চামড়ার বিছানাটির ওপর সামান্য পরিমাণ খাদ্য জমা হলো। তিনি বলেন: অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বরকতের জন্য দোয়া করলেন এবং বললেন: তোমরা তোমাদের পাত্রগুলোতে খাবার তুলে নাও। তিনি বলেন: এরপর তারা তাদের পাত্রগুলো পূর্ণ করতে লাগল, এমনকি তারা শিবিরের প্রতিটি পাত্র পূর্ণ করে ফেলল। তিনি বলেন: অতঃপর তারা তৃপ্তি সহকারে আহার করল এবং কিছু অংশ অবশিষ্ট রয়ে গেল। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল। কোনো বান্দা যদি এই দুই সাক্ষ্য নিয়ে কোনো প্রকার সন্দেহ ব্যতিরেকে আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে, তবে তাকে জান্নাত থেকে বাধা দেওয়া হবে না।"

মুসলিম: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন কুতায়বা ইবনে সাঈদ, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন লাইস, তিনি ইবনে আজলান থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে হাব্বান থেকে, তিনি ইবনে মুহায়রিজ থেকে, তিনি সুনাবেহী থেকে, তিনি উবাদা বিন সামিত থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: "আমি তাঁর কাছে প্রবেশ করলাম যখন তিনি মৃত্যুশয্যায় ছিলেন। তখন আমি কাঁদতে লাগলাম। তিনি বললেন: থামো, কেন কাঁদছো? আল্লাহর কসম, যদি আমার সাক্ষ্য দেওয়ার সুযোগ হয় তবে আমি অবশ্যই তোমার পক্ষে সাক্ষ্য দেব, যদি আমি সুপারিশ করার সুযোগ পাই তবে অবশ্যই তোমার জন্য সুপারিশ করব, আর যদি আমার সামর্থ্য থাকে তবে অবশ্যই তোমার উপকার করব। এরপর তিনি বললেন: আল্লাহর কসম, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে শোনা এমন কোনো হাদিস নেই যাতে তোমাদের জন্য কল্যাণ রয়েছে যা আমি তোমাদের কাছে বর্ণনা করিনি—কেবল একটি হাদিস ব্যতীত। আজ আমি তোমাদের কাছে সেটি বর্ণনা করব, যেহেতু আমার প্রাণ ওষ্ঠাগত। আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: যে ব্যক্তি সাক্ষ্য দেবে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল, আল্লাহ তার ওপর জাহান্নাম হারাম করে দিয়েছেন।"

সুনাবেহীর নাম হলো আবদুর রহমান বিন উসায়লা আবু আবদুল্লাহ। তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ইন্তেকালের ছয় রাত পর মদিনায় আগমন করেন। তিনি সিরিয়ায় বসবাস করেন। তিনি আবু বকর সিদ্দিক, উবাদা বিন সামিত এবং বিলাল বিন রাবাহ থেকে হাদিস শুনেছেন। তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ বিন মুহায়রিজ, আবুল খায়ের মারসাদ বিন আবদুল্লাহ এবং রাবিয়া ইবনে ইয়াজিদ।
(খণ্ড: ১) আল-আহকামুল কুবরা (পৃষ্ঠা: ৮৯)
النَّسَائِيّ: أخبرنَا أَبُو بكر بن نَافِع، حَدثنَا بهز، ثَنَا حَمَّاد، ثَنَا ثَابت، عَن أنس قَالَ: " حَدثنِي عتْبَان بن مَالك أَنه عمي، فَأرْسل إِلَى رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ - فَقَالَ: تعال فَخط لي مَسْجِدا. فجَاء رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ - وَجَاء قومه وتغيب رجل مِنْهُم يُقَال لَهُ: مَالك بن الدخشم فَقَالُوا: يَا رَسُول الله، إِنَّه وَإنَّهُ - يقعون فِيهِ - فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ -: أَلَيْسَ يشْهد أَن لَا إِلَه إِلَّا الله وَأَنِّي رَسُول الله؟ (قَالَ: إِنَّمَا يَقُولهَا مُتَعَوِّذًا) ، قَالَ: وَالَّذِي نَفسِي بِيَدِهِ، لَا يَقُولهَا أحد صَادِقا إِلَّا حرمت عَلَيْهِ النَّار ".

ذكر مُسلم هَذَا الحَدِيث وَلم يقل: " صَادِقا " وَسَيَأْتِي فِي بَاب اتِّخَاذ الْمَسَاجِد فِي الْبيُوت، إِن شَاءَ الله. /

 

‌‌بَاب من شهد عِنْد الْمَوْت أَن لَا إِلَه إِلَّا الله شهد لَهُ بهَا عِنْد الله

مُسلم: حَدثنِي حَرْمَلَة بن يحيى التجِيبِي، أبنا عبد الله بن وهب، أَخْبرنِي يُونُس، عَن ابْن شهَاب، أَخْبرنِي سعيد بن الْمسيب، عَن أَبِيه قَالَ: " لما حضرت أَبَا طَالب الْوَفَاة جَاءَهُ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ -، فَوجدَ عِنْده أَبَا جهل وَعبد الله بن أبي أُميَّة بن الْمُغيرَة، فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ -: يَا عَم، قل لَا إِلَه إِلَّا الله، كلمة أشهد لَك بهَا عِنْد الله. فَقَالَ أَبُو جهل وَعبد الله بن أبي أُميَّة: يَا أَبَا طَالب، أترغب عَن مِلَّة عبد الْمطلب؟ فَلم يزل رَسُول الله يعرضهَا وَيُعِيد لَهُ تِلْكَ الْمقَالة، حَتَّى قَالَ أَبُو طَالب آخر مَا كَلمهمْ: هُوَ على مِلَّة عبد الْمطلب. وأبى أَن يَقُول لَا إِلَه إِلَّا الله، فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ -: أما وَالله لأَسْتَغْفِرَن لَك مَا لم أَنه عَنْك. فَأنْزل الله عز وجل: {مَا كَانَ للنَّبِي وَالَّذين آمنُوا أَن يَسْتَغْفِرُوا للْمُشْرِكين وَلَو كَانُوا أولي قربى من بعد مَا تبين لَهُم أَنهم
আন-নাসায়ী: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর ইবন নাফি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন বাহজ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাবিত, আনাস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "ইতবান ইবন মালিক আমাকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছিলেন, তাই তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট লোক পাঠালেন এবং বললেন: আপনি আসুন এবং আমার জন্য একটি মসজিদের (নামাজের স্থানের) সীমানা নির্ধারণ করে দিন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসলেন এবং তাঁর কওমের লোকেরাও আসলো, কিন্তু তাদের মধ্য থেকে মালিক ইবনুদ দুখশুম নামক এক ব্যক্তি অনুপস্থিত ছিল। তখন তারা বলল: হে আল্লাহর রাসূল, সে তো এমন এবং এমন—তারা তাঁর সমালোচনা করছিল—তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: সে কি সাক্ষ্য দেয় না যে আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল? (বর্ণনাকারী বলেন: সে কেবল আত্মরক্ষার জন্য এটি বলে), তিনি বললেন: যাঁর হাতে আমার প্রাণ, তাঁর শপথ, যে ব্যক্তিই সত্যান্তঃকরণে তা বলবে, তার ওপর জাহান্নামের আগুন হারাম করে দেওয়া হবে।"

মুসলিম এই হাদিসটি উল্লেখ করেছেন তবে তিনি "সত্যান্তঃকরণে" শব্দটি উল্লেখ করেননি এবং ইনশাআল্লাহ এটি সামনে 'বাড়িতে মসজিদ তৈরি' অধ্যায়ে আসবে। /

 

‌‌অধ্যায়: মৃত্যুর সময় যে ব্যক্তি সাক্ষ্য দেয় যে আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, আল্লাহর নিকট তাঁর পক্ষে সেই সাক্ষ্য প্রদান করা হবে

মুসলিম: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া আত-তুজিবি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল্লাহ ইবন ওয়াহাব, আমাকে সংবাদ দিয়েছেন ইউনুস, ইবন শিহাব থেকে, আমাকে সংবাদ দিয়েছেন সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব, তাঁর পিতা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "যখন আবু তালিবের মৃত্যুর সময় উপস্থিত হলো, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর নিকট আসলেন। তিনি সেখানে আবু জাহল এবং আব্দুল্লাহ ইবন আবি উমাইয়া ইবনুল মুগিরাকে দেখতে পেলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: হে চাচা, আপনি বলুন 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ', এমন একটি বাক্য যা দিয়ে আমি আল্লাহর নিকট আপনার পক্ষে সাক্ষ্য দেব। তখন আবু জাহল ও আব্দুল্লাহ ইবন আবি উমাইয়া বলল: হে আবু তালিব, আপনি কি আব্দুল মুত্তালিবের ধর্মাদর্শ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবেন? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা পেশ করতে থাকলেন এবং তাঁর নিকট ওই কথাটি বারবার বলতে থাকলেন, অবশেষে আবু তালিব তাদের সাথে তাঁর শেষ কথা হিসেবে বললেন: তিনি আব্দুল মুত্তালিবের আদর্শের ওপরই (অটল)। আর তিনি 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলতে অস্বীকার করলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: আল্লাহর কসম, আমি অবশ্যই আপনার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকব যতক্ষণ না আমাকে আপনার ব্যাপারে নিষেধ করা হয়। তখন আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা অবতীর্ণ করলেন: {নবী ও মুমিনদের জন্য সংগত নয় যে, তারা মুশরিকদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবে, যদিও তারা নিকটাত্মীয় হয়, তাদের কাছে এটা স্পষ্ট হওয়ার পর যে তারা}
(খণ্ড: ১) আল-আহকামুল কুবরা (পৃষ্ঠা: ৯০)
أَصْحَاب الْجَحِيم} وَأنزل الله عز وجل فِي أبي طَالب، فَقَالَ لرَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ -: {إِنَّك لَا تهدي من أَحْبَبْت وَلَكِن الله يهدي من يَشَاء وَهُوَ أعلم بالمهتدين} ".

وَحدثنَا إِسْحَاق بن إِبْرَاهِيم وَعبد بن حميد قَالَا: أَنا عبد الرَّزَّاق، أَنا معمر.

وَحدثنَا حسن الْحلْوانِي وَعبد بن حميد قَالَا: ثَنَا يَعْقُوب - وَهُوَ ابْن إِبْرَاهِيم ابْن سعد - أَنا أبي، عَن صَالح كِلَاهُمَا، عَن الزُّهْرِيّ بِهَذَا الْإِسْنَاد مثله، غير أَن حَدِيث صَالح انْتهى عِنْد قَوْله: " فَأنْزل الله عز وجل فِيهِ " وَلم يذكر الْآيَتَيْنِ، وَقَالَ فِي حَدِيثه: " ويعودان لَهُ بِتِلْكَ الْمقَالة " وَفِي حَدِيث معمر مَكَان هَذِه الْمقَالة: " الْكَلِمَة فَلم يَزَالَا بِهِ ".

 

‌‌بَاب أول مَا يدعى إِلَيْهِ النَّاس من فَرَائض الْإِيمَان وَالشَّهَادَة

مُسلم: حَدثنَا أَبُو بكر بن أبي شيبَة وَأَبُو كريب وَإِسْحَاق بن إِبْرَاهِيم جميعأً، عَن وَكِيع - قَالَ أَبُو بكر: ثَنَا وَكِيع - عَن زَكَرِيَّا بن إِسْحَاق، حَدثنِي يحيى بن عبد الله بن صَيْفِي، عَن أبي معبد، عَن ابْن عَبَّاس، عَن معَاذ بن جبل - قَالَ أَبُو بكر: وَرُبمَا قَالَ وَكِيع: عَن ابْن عَبَّاس، أَن معَاذًا - قَالَ: " بَعَثَنِي رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ - فَقَالَ: إِنَّك تَأتي قوما من أهل الْكتاب، فادعهم إِلَى شَهَادَة أَن لَا / إِلَه إِلَّا الله وَأَنِّي رَسُول الله، فَإِن هم أطاعوا لذَلِك فأعلمهم أَن الله افْترض عَلَيْهِم خمس صلوَات فِي كل يَوْم وَلَيْلَة، فَإِن هم أطاعوا لذَلِك فأعلمهم أَن الله افْترض عَلَيْهِم صَدَقَة تُؤْخَذ من أغنيائهم فَترد فِي فقرائهم، فَإِن هم أطاعوا لذَلِك
জাহান্নামবাসী}" এবং আল্লাহ তাআলা আবু তালিবের ব্যাপারে নাযিল করলেন, অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললেন: "নিশ্চয় আপনি যাকে ভালোবাসেন তাকে হিদায়াত করতে পারবেন না, বরং আল্লাহ যাকে ইচ্ছা হিদায়াত দান করেন এবং হিদায়াতপ্রাপ্তদের সম্পর্কে তিনিই অধিক অবগত।"

আমাদের নিকট ইসহাক বিন ইবরাহিম এবং আবদ বিন হুমাইদ বর্ণনা করেছেন, তারা উভয়ে বলেছেন: আমাদের নিকট আব্দুর রাজ্জাক সংবাদ দিয়েছেন, আমাদের নিকট মা'মার সংবাদ দিয়েছেন।

আমাদের নিকট হাসান আল-হুলওয়ানি এবং আবদ বিন হুমাইদ বর্ণনা করেছেন, তারা উভয়ে বলেছেন: আমাদের নিকট ইয়াকুব—যিনি ইবরাহিম বিন সা'দ-এর পুত্র—বর্ণনা করেছেন: আমাদের নিকট আমার পিতা সালেহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তারা উভয়ে যুহরি থেকে এই সনদে অনুরূপ হাদিস বর্ণনা করেছেন। তবে সালেহ-এর হাদিসটি "আল্লাহ তাআলা তার ব্যাপারে নাযিল করলেন" এ কথার কাছে এসে শেষ হয়েছে এবং তিনি আয়াত দুটির উল্লেখ করেননি। তিনি তার হাদিসে বলেছেন: "তারা উভয়ে তার নিকট সেই কথার পুনরাবৃত্তি করতে লাগলেন।" আর মা'মারের হাদিসে 'এই কথা'-এর স্থলে রয়েছে: "এই বাক্য, তারা ক্রমাগত তার কাছে সেটি বলতে লাগলেন।"

 

পরিচ্ছেদ: ঈমানের ফরজ কাজসমূহ ও শাহাদাতের প্রতি মানুষকে সর্বপ্রথম যা দ্বারা আহ্বান করা হবে

মুসলিম: আমাদের নিকট আবু বকর বিন আবি শায়বা, আবু কুরাইব এবং ইসহাক বিন ইবরাহিম সকলে ওয়াকি থেকে বর্ণনা করেছেন—আবু বকর বলেছেন: আমাদের নিকট ওয়াকি বর্ণনা করেছেন—যাকারিয়া বিন ইসহাক থেকে, তিনি বলেন: আমার নিকট ইয়াহইয়া বিন আব্দুল্লাহ বিন সাইফি বর্ণনা করেছেন আবু মা'বাদ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে, তিনি মুয়াজ বিন জাবাল থেকে বর্ণনা করেছেন—আবু বকর বলেছেন: ওয়াকি কখনো ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করে বলেছেন যে, মুয়াজ বলেছেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে প্রেরণ করলেন এবং বললেন: 'নিশ্চয় তুমি আহলে কিতাবদের একটি সম্প্রদায়ের কাছে যাচ্ছ। সুতরাং তুমি তাদের এই সাক্ষ্য দিতে আহ্বান করবে যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল। যদি তারা তা মেনে নেয়, তবে তাদের জানিয়ে দাও যে, আল্লাহ তাদের ওপর প্রতি দিন ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরজ করেছেন। যদি তারা এটিও মেনে নেয়, তবে তাদের জানিয়ে দাও যে, আল্লাহ তাদের ওপর সাদাকাহ ফরজ করেছেন, যা তাদের ধনীদের থেকে গ্রহণ করা হবে এবং তাদের দরিদ্রদের মাঝে বণ্টন করা হবে। যদি তারা এটি মেনে নেয়..."
(খণ্ড: ১) আল-আহকামুল কুবরা (পৃষ্ঠা: ৯১)
فإياك وكرائم أَمْوَالهم، وَاتَّقِ دَعْوَة الْمَظْلُوم، فَإِنَّهُ لَيْسَ بَينهَا وَبَين الله حجاب ".

البُخَارِيّ: حَدثنَا أَبُو عَاصِم، ثَنَا زَكَرِيَّا بن إِسْحَاق، عَن يحيى بن مُحَمَّد ابْن عبد الله بن صَيْفِي، عَن أبي معبد، عَن ابْن عَبَّاس " أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ - بعث معَاذًا إِلَى الْيمن ".

وحَدثني عبد الله بن أبي الْأسود، ثَنَا الْفضل بن الْعَلَاء، ثَنَا إِسْمَاعِيل بن أُميَّة، عَن يحيى بن مُحَمَّد بن عبد الله بن صَيْفِي أَنه سمع أَبَا معبد مولى ابْن عَبَّاس يَقُول: سَمِعت ابْن عَبَّاس قَالَ: " لما بعث النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ - معَاذ بن جبل إِلَى نَحْو أهل الْيمن قَالَ لَهُ: إِنَّك تقدم على قوم من أهل الْكتاب، فَلْيَكُن أول مَا تدعوهم إِلَى أَن (يوحدوا الله، فَإِذا عرفُوا ذَلِك فَأخْبرهُم أَن الله - تَعَالَى - فرض عَلَيْهِم [خمس صلوَات فِي يومهم وليلتهم، فَإِذا صلوا فَأخْبرهُم أَن الله افْترض عَلَيْهِم] زَكَاة فِي أَمْوَالهم) تُؤْخَذ من غنيهم، فَترد على فقيرهم، فَإِذا أقرُّوا بذلك فَخذ مِنْهُم، وتوق كرائم أَمْوَال النَّاس ".

 

‌‌بَاب حق الله على الْعباد أَن يعبدوه وحقهم عَلَيْهِ أَلا يعذبهم إِذا فعلوا ذَلِك

مُسلم: حَدثنَا هداب بن خَالِد الْأَزْدِيّ، ثَنَا همام، ثما قَتَادَة، ثَنَا أنس بن مَالك، عَن معَاذ بن جبل قَالَ: " كنت ردف النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ - لَيْسَ بيني وَبَينه إِلَّا مؤخرة الرحل، فَقَالَ: يَا معَاذ بن جبل. قلت: لبيْك يَا رَسُول الله وَسَعْديك. ثمَّ سَار
সুতরাং তাদের উত্তম মালগুলো গ্রহণ করা থেকে বিরত থেকো এবং মজলুমের বদদোয়াকে ভয় করো, কেননা তার এবং আল্লাহর মাঝে কোনো পর্দা নেই।

বুখারি: আমাদের নিকট আবু আসিম বর্ণনা করেছেন, তিনি যাকারিয়া ইবনে ইসহাক থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে সাইফি থেকে, তিনি আবু মাবাদ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মুআযকে ইয়ামেনে প্রেরণ করেছিলেন।

এবং আমার নিকট আব্দুল্লাহ ইবনে আবিল আসওয়াদ বর্ণনা করেছেন, ফাদল ইবনে আলা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইসমাঈল ইবনে উমাইয়্যাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে সাইফি থেকে যে, তিনি ইবনে আব্বাসের মুক্তদাস আবু মাবাদকে বলতে শুনেছেন, তিনি বলেন: আমি ইবনে আব্বাসকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: “যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মুআয ইবনে জাবালকে ইয়ামেন অঞ্চলের অধিবাসীদের দিকে প্রেরণ করলেন, তখন তাকে বললেন: তুমি আহলে কিতাবদের এক সম্প্রদায়ের কাছে যাচ্ছ। সুতরাং তুমি তাদের প্রতি প্রথম যে আহ্বান জানাবে তা হলো তারা যেন (আল্লাহর একত্ববাদ স্বীকার করে; যখন তারা তা চিনে নেবে তখন তাদের জানিয়ে দিও যে, আল্লাহ তাআলা তাদের ওপর [দিন ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করেছেন; যখন তারা নামাজ পড়বে তখন তাদের জানিয়ে দিও যে, আল্লাহ তাদের ওপর] তাদের ধন-সম্পদে জাকাত ফরজ করেছেন) যা তাদের ধনীদের থেকে গ্রহণ করা হবে এবং তাদের দরিদ্রদের মাঝে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। তারা যখন এটি স্বীকার করে নেবে তখন তুমি তাদের থেকে তা গ্রহণ করবে এবং মানুষের মূল্যবান ধন-সম্পদ গ্রহণ করা থেকে বেঁচে থাকবে।”

 

‌‌পরিচ্ছেদ: বান্দার ওপর আল্লাহর হক হলো তারা তাঁর ইবাদত করবে এবং আল্লাহর ওপর তাদের হক হলো তারা যখন তা করবে তখন তিনি তাদের শাস্তি দেবেন না

মুসলিম: আমাদের নিকট হুদাব ইবনে খালিদ আল-আযদি বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট হাম্মাম বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট কাতাদাহ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আনাস ইবনে মালিক বর্ণনা করেছেন মুআয ইবনে জাবাল থেকে, তিনি বলেন: “আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পেছনে একই সওয়ারিতে আরোহী ছিলাম, আমার ও তাঁর মাঝে পালানের পেছনের কাঠ ছাড়া আর কিছুই ছিল না। তখন তিনি বললেন: হে মুআয ইবনে জাবাল! আমি বললাম: লাব্বাইক ইয়া রাসূলাল্লাহ ওয়া সাদাইক (আমি হাজির হে আল্লাহর রাসূল এবং আপনার নির্দেশ পালনে প্রস্তুত)। এরপর তিনি পথ চললেন”
(খণ্ড: ১) আল-আহকামুল কুবরা (পৃষ্ঠা: ৯২)
سَاعَة ثمَّ قَالَ: يَا معَاذ بن جبل. قلت: لبيْك يَا رَسُول الله وَسَعْديك [ثمَّ سَار سَاعَة. ثمَّ قَالَ: يَا معَاذ بن جبل. قلت: لبيْك رَسُول الله وَسَعْديك] قَالَ: هَل تَدْرِي مَا حق الله على الْعباد؟ قَالَ: قلت الله وَرَسُوله أعلم. قَالَ: فَإِن حق الله على الْعباد أَن يعبدوه وَلَا يشركوا بِهِ شَيْئا. ثمَّ سَار سَاعَة فَقَالَ: يَا معَاذ بن جبل فَقلت: لبيْك رَسُول الله وَسَعْديك. قَالَ: هَل تَدْرِي مَا حق الْعباد على الله إِذا فعلوا ذَلِك؟ قلت: الله وَرَسُوله أعلم. قَالَ: أَلا يعذبهم ".

مُسلم: حَدثنَا مُحَمَّد بن مثنى وَابْن بشار. قَالَ ابْن مثنى: ثَنَا مُحَمَّد بن جَعْفَر، ثَنَا شُعْبَة، عَن أبي حُصَيْن والأشعث بن سليم أَنَّهُمَا سمعا الْأسود بن هِلَال يحدث عَن معَاذ بن جبل قَالَ: قَالَ رَسُول الله / صلى الله عليه وسلم َ -: " يَا معَاذ، أَتَدْرِي مَا حق الله على الْعباد؟ قَالَ: الله وَرَسُوله أعلم. قَالَ: أَن يعبد الله وَلَا يُشْرك بِهِ [شَيْء] . قَالَ: هَل تَدْرِي مَا حَقهم عَلَيْهِ إِذا فعلوا ذَلِك؟ فَقَالَ: الله وَرَسُوله أعلم. قَالَ: أَلا يعذبهم ".

 

‌‌بَاب من اقْتصر على أَدَاء الْفَرَائِض

مُسلم: حَدثنَا قُتَيْبَة بن سعيد بن جميل بن طريف بن عبد الله الثَّقَفِيّ، عَن مَالك بن أنس فِيمَا قرئَ عَلَيْهِ، عَن أبي سُهَيْل، عَن أَبِيه أَنه سمع طَلْحَة بن عبيد الله يَقُول: " جَاءَ رجل إِلَى رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ -، من أهل نجد ثَائِر الرَّأْس نسْمع دوِي صَوته وَلَا نفقه مَا يَقُول حَتَّى دنا من رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ - فَإِذا هُوَ يسْأَل عَن الْإِسْلَام. فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ -: خمس صلوَات فِي الْيَوْم وَاللَّيْلَة. فَقَالَ: هَل عَليّ غَيْرهنَّ؟ قَالَ: لَا، إِلَّا أَن تطوع، وَصِيَام شهر رَمَضَان. فَقَالَ: هَل عَليّ غَيره؟ فَقَالَ: لَا،
কিছুক্ষণ (চলার) পর তিনি বললেন: হে মুআয ইবনে জাবাল। আমি বললাম: আমি উপস্থিত, হে আল্লাহর রাসূল এবং আপনার নির্দেশ পালনে সদা প্রস্তুত। [তারপর তিনি কিছুক্ষণ চললেন। তারপর বললেন: হে মুআয ইবনে জাবাল। আমি বললাম: আমি উপস্থিত, আল্লাহর রাসূল এবং আপনার নির্দেশ পালনে সদা প্রস্তুত।] তিনি বললেন: তুমি কি জানো বান্দাদের ওপর আল্লাহর হক কী? আমি বললাম: আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। তিনি বললেন: বান্দাদের ওপর আল্লাহর হক হলো তারা কেবল তাঁরই ইবাদত করবে এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করবে না। তারপর তিনি কিছুক্ষণ চললেন এবং বললেন: হে মুআয ইবনে জাবাল। আমি বললাম: আমি উপস্থিত, আল্লাহর রাসূল এবং আপনার নির্দেশ পালনে সদা প্রস্তুত। তিনি বললেন: তারা যদি তা করে, তবে আল্লাহর ওপর বান্দাদের হক কী, তা কি তুমি জানো? আমি বললাম: আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। তিনি বললেন: তিনি তাদের শাস্তি দেবেন না।

মুসলিম: মুহাম্মদ ইবনে মুসান্না এবং ইবনে বাশার আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন। ইবনে মুসান্না বলেন: মুহাম্মদ ইবনে জাফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, শু'বাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু হুসাইন এবং আল-আশ'আস ইবনে সুলাইম থেকে যে, তাঁরা আসওয়াদ ইবনে হিলালকে মুআয ইবনে জাবাল থেকে বর্ণনা করতে শুনেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "হে মুআয, তুমি কি জানো বান্দাদের ওপর আল্লাহর হক কী?" তিনি বললেন: "আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই ভালো জানেন।" তিনি বললেন: "আল্লাহর ইবাদত করা এবং তাঁর সাথে কোনো কিছু শরিক না করা।" তিনি বললেন: "তারা যখন তা করবে তখন তাঁর ওপর তাদের হক কী, তা কি তুমি জানো?" তিনি বললেন: "আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই ভালো জানেন।" তিনি বললেন: "তাদের শাস্তি না দেওয়া।"

 

‌‌অধ্যায়: যে ব্যক্তি কেবল ফরজ কাজগুলো আদায়ের ওপর সীমাবদ্ধ থাকে

মুসলিম: কুতাইবাহ ইবনে সাঈদ ইবনে জামিল ইবনে তারিফ ইবনে আব্দুল্লাহ আস-সাকাফি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মালিক ইবনে আনাস থেকে যা তাঁর সামনে পাঠ করা হয়েছিল, তিনি আবু সুহাইল থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি তালহা ইবনে উবাইদুল্লাহকে বলতে শুনেছেন: "নাজদবাসীদের মধ্য থেকে উসকোখুসকো চুলের এক ব্যক্তি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এলেন। আমরা তাঁর কণ্ঠের গুঞ্জন শুনতে পাচ্ছিলাম কিন্তু তিনি কী বলছিলেন তা বুঝতে পারছিলাম না, যতক্ষণ না তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকটবর্তী হলেন। তখন দেখা গেল তিনি ইসলাম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছেন। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: দিন ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ। তিনি বললেন: আমার ওপর কি এ ছাড়া আরও কিছু আছে? তিনি বললেন: না, তবে তুমি যদি নফল নামাজ পড়ো। এবং রমজান মাসের রোজা। তিনি বললেন: আমার ওপর কি এ ছাড়া আরও কিছু আছে? তিনি বললেন: না,"
(খণ্ড: ১) আল-আহকামুল কুবরা (পৃষ্ঠা: ৯৩)
إِلَّا أَن تطوع. وَذكر لَهُ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ - الزَّكَاة فَقَالَ: هَل عَليّ غَيرهَا؟ فَقَالَ: لَا، إِلَّا أَن تطوع. قَالَ: فَأَدْبَرَ الرجل، وَهُوَ يَقُول: وَالله لَا أَزِيد على هَذَا وَلَا أنقص مِنْهُ. فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ -: افلح إِن صدق ".

وحَدثني يحيى بن أَيُّوب وقتيبة بن سعيد جَمِيعًا، عَن إِسْمَاعِيل بن جَعْفَر، عَن أبي سُهَيْل، عَن أَبِيه، عَن طَلْحَة بن عبيد الله، عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ - بِهَذَا الحَدِيث نَحْو حَدِيث مَالك غير أَنه قَالَ: " فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ -: أَفْلح وَأَبِيهِ إِن صدق - أَو دخل الْجنَّة وَأَبِيهِ إِن يصدق ".

مُسلم: حَدثنِي عَمْرو بن مُحَمَّد بن بكير النَّاقِد، ثَنَا هَاشم بن الْقَاسِم أَبُو النَّضر، ثَنَا سُلَيْمَان بن الْمُغيرَة، عَن ثَابت، عَن أنس بن مَالك قَالَ: " نهينَا أَن نسْأَل رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ - عَن شَيْء، فَكَانَ يعجبنا أَن يَجِيء الرجل من أهل الْبَادِيَة الْعَاقِل فيسأله وَنحن نسْمع، فجَاء رجل من أهل الْبَادِيَة فَقَالَ: يَا مُحَمَّد، أَتَانَا رَسُولك فَزعم لنا أَنَّك تزْعم أَن الله أرسلك. قَالَ: صدق. قَالَ: فَمن خلق السَّمَاء؟ قَالَ: الله. قَالَ: فَمن خلق الأَرْض؟ قَالَ: الله. قَالَ: فَمن نصب هَذِه الْجبَال، وَجعل فِيهَا مَا جعل؟ قَالَ: الله. قَالَ: فبالذي خلق السَّمَاء وَخلق الأَرْض وَنصب هَذِه الْجبَال الله أرسلك؟ قَالَ: نعم. قَالَ: وَزعم رَسُولك أَن علينا خمس صلوَات فِي يَوْمنَا وليلتنا. قَالَ: / صدق. قَالَ: فبالذي أرسلك الله أَمرك بِهَذَا؟ قَالَ: نعم. قَالَ: وَزعم رَسُولك أَن علينا زَكَاة فِي أَمْوَالنَا. قَالَ: صدق. قَالَ: فبالذي أرسلك الله أَمرك بِهَذَا؟ قَالَ: نعم. قَالَ وَزعم رَسُولك أَن علينا صَوْم شهر رَمَضَان فِي سنتنا قَالَ: صدق. قَالَ فبالذي أرسلك الله أَمرك بِهَذَا؟ قَالَ: نعم. قَالَ: وَزعم [رَسُولك] أَن علينا حج الْبَيْت من اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلا. قَالَ: صدق. قَالَ: ثمَّ ولى. قَالَ: وَالَّذِي بَعثك بِالْحَقِّ لَا أَزِيد عَلَيْهِنَّ وَلَا أنقص مِنْهُنَّ. فَقَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ -:
তবে তুমি যদি নফল হিসেবে কিছু করো। আর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নিকট যাকাতের কথা উল্লেখ করলেন। তখন সে বলল: আমার ওপর কি এ ছাড়া আর কিছু আছে? তিনি বললেন: না, তবে তুমি যদি নফল হিসেবে কিছু করো। বর্ণনাকারী বলেন: তারপর লোকটি এই বলতে বলতে প্রস্থান করল: আল্লাহর কসম, আমি এর চেয়ে বাড়াবও না এবং তা থেকে কমাবও না। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: সে সফল হবে যদি সে সত্য বলে থাকে।

আর ইয়াহইয়া ইবনে আইয়ুব এবং কুতাইবা ইবনে সাঈদ উভয়ই আমার কাছে বর্ণনা করেছেন ইসমাইল ইবনে জাফর থেকে, তিনি আবু সুহাইল থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহ থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে মালিকের বর্ণিত হাদিসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি এতে বলেছেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তার পিতার কসম, সে সফল হবে যদি সে সত্য বলে থাকে—অথবা তার পিতার কসম, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে যদি সে সত্য বলে থাকে।

মুসলিম: আমর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে বুকাইর আন-নাক্বিদ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, হাশিম ইবনুল কাসিম আবু আন-নাদর আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, সুলাইমান ইবনুল মুগিরা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন সাবিত থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমাদের আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কোনো কিছু জিজ্ঞাসা করতে নিষেধ করা হয়েছিল। তাই মরুভূমির কোনো বুদ্ধিমান লোক এসে তাঁকে প্রশ্ন করবে আর আমরা তা শুনব—এটা আমাদের কাছে অত্যন্ত চমৎকার মনে হতো। একদা মরুভূমির এক লোক এসে বলল: হে মুহাম্মদ, আপনার দূত আমাদের কাছে এসেছিলেন এবং তিনি আমাদের জানিয়েছেন যে আপনি নাকি দাবি করেন যে আল্লাহ আপনাকে পাঠিয়েছেন। তিনি বললেন: সে সত্য বলেছে। সে বলল: তবে আকাশ কে সৃষ্টি করেছেন? তিনি বললেন: আল্লাহ। সে বলল: তবে জমিন কে সৃষ্টি করেছেন? তিনি বললেন: আল্লাহ। সে বলল: তবে এই পাহাড়গুলো কে স্থাপন করেছেন এবং তাতে যা কিছু রাখার তা রেখেছেন? তিনি বললেন: আল্লাহ। সে বলল: তবে যিনি আকাশ সৃষ্টি করেছেন, জমিন সৃষ্টি করেছেন এবং এই পাহাড়গুলো স্থাপন করেছেন সেই সত্তার কসম! আল্লাহই কি আপনাকে পাঠিয়েছেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ। সে বলল: আপনার দূত দাবি করেছেন যে আমাদের দিনে ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করতে হবে। তিনি বললেন: সে সত্য বলেছে। সে বলল: তবে যিনি আপনাকে পাঠিয়েছেন সেই সত্তার কসম! আল্লাহই কি আপনাকে এর নির্দেশ দিয়েছেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ। সে বলল: আপনার দূত দাবি করেছেন যে আমাদের ধন-সম্পদে যাকাত রয়েছে। তিনি বললেন: সে সত্য বলেছে। সে বলল: তবে যিনি আপনাকে পাঠিয়েছেন সেই সত্তার কসম! আল্লাহই কি আপনাকে এর নির্দেশ দিয়েছেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ। সে বলল: আপনার দূত দাবি করেছেন যে আমাদের বছরে রমজান মাসের রোজা রাখতে হবে। তিনি বললেন: সে সত্য বলেছে। সে বলল: তবে যিনি আপনাকে পাঠিয়েছেন সেই সত্তার কসম! আল্লাহই কি আপনাকে এর নির্দেশ দিয়েছেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ। সে বলল: আপনার দূত দাবি করেছেন যে আমাদের মধ্যে যার সামর্থ্য আছে তার জন্য আল্লাহর ঘরের হজ করা আবশ্যক। তিনি বললেন: সে সত্য বলেছে। বর্ণনাকারী বলেন: তারপর লোকটি ফিরে গেল। সে বলল: সেই সত্তার কসম যিনি আপনাকে সত্যসহ পাঠিয়েছেন, আমি এগুলোর ওপর কোনো কিছু বৃদ্ধি করব না এবং এগুলো থেকে কোনো কিছু হ্রাস করব না। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন:
(খণ্ড: ১) আল-আহকামুল কুবরা (পৃষ্ঠা: ৯৪)
لَئِن صدق ليدخلن الْجنَّة ".

وحَدثني عبد الله بن هَاشم الْعَبْدي، ثَنَا بهز، ثَنَا سُلَيْمَان بن الْمُغيرَة، عَن ثَابت قَالَ: قَالَ أنس: " كُنَّا نهينَا فِي الْقُرْآن أَن نسْأَل رَسُول الله عَن شَيْء … " وسَاق الحَدِيث بِمثلِهِ.

مُسلم حَدثنِي أَبُو بكر بن إِسْحَاق، ثَنَا عَفَّان، ثَنَا وهيب، ثَنَا يحيى بن سعيد، عَن أبي زرْعَة، عَن أبي هُرَيْرَة " أَن أَعْرَابِيًا جَاءَ إِلَى رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ - فَقَالَ: يَا رَسُول الله، دلَّنِي على عمل إِذا عملته دخلت الْجنَّة. قَالَ: تعبد الله لَا تشرك بِهِ شَيْئا، وتقيم الصَّلَاة الْمَكْتُوبَة، وَتُؤَدِّي الزَّكَاة الْمَفْرُوضَة، وتصوم رَمَضَان. قَالَ: وَالَّذِي نَفسِي بِيَدِهِ، لَا أَزِيد على هَذَا شَيْئا وَلَا أنقص مِنْهُ. فَلَمَّا ولى قَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ -. من سره أَن ينظر إِلَى رجل من [أهل] الْجنَّة فَلْينْظر إِلَى هَذَا ".

مُسلم: حَدثنَا أَبُو بكر بن أبي شيبَة وَأَبُو كريب - وَاللَّفْظ لأبي بكر - قَالَا: ثَنَا مُعَاوِيَة، عَن الْأَعْمَش، عَن أبي سُفْيَان، عَن جَابر قَالَ: " أَتَى النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ - النُّعْمَان بن قوقل فَقَالَ: يَا رَسُول الله، أَرَأَيْت إِذا صليت الْمَكْتُوبَة، وَحرمت الْحَرَام، وأحللت الْحَلَال، أَأدْخل الْجنَّة؟ فَقَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ -: نعم ".

وحَدثني الْحجَّاج بن الشَّاعِر وَالقَاسِم بن زَكَرِيَّا قَالَا: ثَنَا عبيد الله بن مُوسَى، عَن شَيبَان، عَن الْأَعْمَش، عَن أبي صَالح وَأبي سُفْيَان، عَن جَابر قَالَ: " قَالَ النُّعْمَان بن قوقل: يَا رَسُول الله … " بِمثلِهِ. وَزَادا فِيهِ: " وَلم أَزْد أَزْد
"যদি সে সত্য বলে থাকে, তবে সে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে।"

এবং আবদুল্লাহ ইবনে হাশিম আল-আবদি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, বাহজ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, সুলাইমান ইবনুল মুগিরা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, সাবিত থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আনাস বলেছেন: "আমাদেরকে কুরআনে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে কোনো কিছু জিজ্ঞাসা করতে নিষেধ করা হয়েছিল …" এবং তিনি অনুরূপ হাদিস বর্ণনা করেছেন।

মুসলিম বর্ণনা করেছেন, আবু বকর ইবনে ইসহাক আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, আফফান আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, উহাইব আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আবু জুরআ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, "এক গ্রাম্য ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে এসে বলল: হে আল্লাহর রাসূল, আমাকে এমন একটি আমল বলে দিন যা করলে আমি জান্নাতে প্রবেশ করব। তিনি বললেন: তুমি আল্লাহর ইবাদত করবে, তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করবে না, ফরজ সালাত কায়েম করবে, নির্ধারিত জাকাত প্রদান করবে এবং রমজানের রোজা রাখবে। সে বলল: সেই সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ, আমি এর ওপর কোনো কিছু বৃদ্ধি করব না এবং তা থেকে কমাবও না। যখন সে পিঠ ফিরিয়ে চলে গেল, তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: যাকে জান্নাতী কোনো লোককে দেখে আনন্দিত হতে পছন্দ করে, সে যেন এই ব্যক্তির দিকে তাকায়।"

মুসলিম: আবু বকর ইবনে আবি শাইবা ও আবু কুরায়ব আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন—শব্দবিন্যাস আবু বকরের—তাঁরা বলেন: মুআবিয়া আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আমাশ থেকে, তিনি আবু সুফিয়ান থেকে, তিনি জাবির থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "নুমান ইবনে কাওকাল নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে এসে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আপনি কি মনে করেন যদি আমি ফরজ সালাত আদায় করি, হারামকে হারাম জ্ঞান করি এবং হালালকে হালাল হিসেবে গ্রহণ করি, তবে কি আমি জান্নাতে প্রবেশ করব? নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: হ্যাঁ।"

এবং হাজ্জাজ ইবনুল শায়ির ও কাসিম ইবনে জাকারিয়া আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: উবাইদুল্লাহ ইবনে মুসা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, শায়বান থেকে, তিনি আমাশ থেকে, তিনি আবু সালিহ ও আবু সুফিয়ান থেকে, তাঁরা জাবির থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "নুমান ইবনে কাওকাল বললেন: হে আল্লাহর রাসূল …" অনুরূপ হাদিস। এবং তাঁরা এতে আরও যোগ করেছেন: "এবং আমি আর কোনো বৃদ্ধি করিনি।"