(খণ্ড: ১)
ওয়াকফাতুন হাদিয়াতুন মাআত তায়িনীনা ফী জামাআতিদ দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: -)
وقفة هادئة مع الطاعنين في جماعات الدعوة القسم: كتب عامة
الكتاب: وقفة هادئة مع الطاعنين في جماعات الدعوة
المؤلف: أبو عبد الله المصري
[الكتاب مرقم آليا]
عدد الصفحات: 52
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
দাওয়াতি জামাতসমূহের সমালোচনাকারীদের সাথে একটি শান্ত আলোচনা বিভাগ: সাধারণ গ্রন্থসমূহ
বই: দাওয়াতি জামাতসমূহের সমালোচনাকারীদের সাথে একটি শান্ত আলোচনা
লেখক: আবু আব্দুল্লাহ আল-মিসরি
[বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫২
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
ওয়াকফাতুন হাদিয়াতুন মাআত তায়িনীনা ফী জামাআতিদ দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১)
وقفة هادئة مع الطاعنين في جماعات الدعوة
كتبها: أبوعبد الله المصري
إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا من يهد الله فلا مضل له ومن يضلل فلا هادي له وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأشهد أن محمدا عبده ورسوله
" ياأيها الذين آمنوا اتقوا الله حق تقاته ولا تموتن إلا وأنتم مسلمون "
" يا أيها الناس اتقوا ربكم الذي خلقكم من نفس واحدة وخلق منها زوجها وبث منهما رجالا كثيرا ونساء واتقوا الله الذي تساءلون به والأرحام إن الله كان عليكم رقيبا "
" يا أيها الذين آمنوا اتقوا الله وقولوا قولا سديدا يصلح لكم أعمالكم ويغفر لكم ذنوبكم ومن يطع الله ورسوله فقد فاز فوزا عظيما " أما بعد ،،،
مقدمة:إن الأمة الإسلامية تعيش في لحظات عصيبة؛ حيث إن أعدائها بدأوا في تنفيذ ما كانوا يخططون إليه بالقوة العسكرية ، فلقد كان الغزو الفكري ونشر الأمراض الفكرية والعضوية على أمتنا مرحلة من المراحل تمهيدا للهدف الأكبر ، والذي بدأ تنفيذه بقتل المسلمين في الشيشان ، وأفغانستان ، والعراق ، والبقية تأتي.
مما يوجب على المسلمين الرجوع إلى ربهم خالقهم وناصرهم ، والإعتصام بحبل الله وسنة نبيهم وما كان عليه هو صلى الله عليه وسلم وصحابته.
فهؤلاء لا يفرقون في قتلهم المسلمين بين انتماءاتهم وأفكارهم ، ولا يستثنون إلا من كان معهم على ملتهم كما قال الله سبحانه " ولن ترضى عنك اليهود ولا النصارى حتى تتبع ملتهم ".
فلا يفرقون بين سلفي ، وإخواني ، وتبليغي ، فكلهم في نظرهم مسلمين ، وإن تفاوت ذلك وفق المنظور الشرعي من الكتاب والسنة.
فإن أهل الحق هم الذين وصفهم الله ورسوله باتباعهم الكتاب والسنة ولم يغيروا ولم يبدلوا عما كان عليه النبي صلى الله وسلم ، بل وَصْفُهُم اتباع النبي صلى الله عليه وسلم في كل شؤونهم.
দাওয়াহ দলসমূহের সমালোচনাকারীদের সাথে একটি শান্ত পর্যবেক্ষণ
লিখেছেন: আবু আবদুল্লাহ আল-মিসরি
নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট ক্ষমা ভিক্ষা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শন করার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক এবং তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর বান্দা ও রাসূল।
"হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।"
"হে মানবসমাজ! তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন, আর তাদের উভয় থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের নিকট যাঞ্চা করো এবং রক্ত-সম্পর্কিত আত্মীয়তা বজায় রাখো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।"
"হে মুমিনগণ! আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই এক মহা সফলতা অর্জন করল।" অতঃপর...
ভূমিকা:নিশ্চয়ই ইসলামি উম্মাহ এক সংকটময় মুহূর্ত অতিবাহিত করছে; কেননা এর শত্রুরা সামরিক শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে তাদের পূর্বপরিকল্পিত লক্ষ্যসমূহ বাস্তবায়ন শুরু করেছে। আমাদের উম্মাহর ওপর বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসন এবং আদর্শিক ও শারীরিক ব্যাধি ছড়িয়ে দেওয়া ছিল বৃহত্তর লক্ষ্য অর্জনের একটি প্রস্তুতিমূলক পর্যায়। যার বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে চেচনিয়া, আফগানিস্তান এবং ইরাকে মুসলিমদের হত্যার মাধ্যমে, আর বাকিগুলো পর্যায়ক্রমে আসছে।
এটি মুসলিমদের জন্য তাদের রব, তাদের সৃষ্টিকর্তা ও সাহায্যকারীর দিকে ফিরে আসা এবং আল্লাহর রজ্জুকে আঁকড়ে ধরা এবং তাদের নবীর সুন্নাহ ও তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীগণ যে আদর্শের ওপর ছিলেন তা দৃঢ়ভাবে ধারণ করাকে অপরিহার্য করে তুলেছে।
এই শত্রুরা মুসলিমদের হত্যা করার ক্ষেত্রে তাদের আদর্শিক সংশ্লিষ্টতা বা চিন্তাধারার মধ্যে কোনো পার্থক্য করে না। তারা কেবল তাদেরকেই অব্যাহতি দেয় যারা তাদের ধর্মাদর্শ অনুসরণ করে, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: "আর ইহুদি ও নাসারারা কখনোই তোমার ওপর সন্তুষ্ট হবে না যতক্ষণ না তুমি তাদের ধর্মাদর্শ অনুসরণ করো।"
তারা সালফি, ইখওয়ানি বা তাবলিগির মধ্যে কোনো পার্থক্য করে না; তাদের দৃষ্টিতে সকলেই মুসলিম, যদিও কুরআন ও সুন্নাহর শরয়ি দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী তাদের মধ্যে মর্যাদাগত তারতম্য থাকতে পারে।
নিশ্চয়ই হকের অনুসারী তারাই, যাদের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল বর্ণনা করেছেন যে, তারা কুরআন ও সুন্নাহর অনুসরণ করবে এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে আদর্শের ওপর ছিলেন তা থেকে কোনো পরিবর্তন বা পরিবর্ধন করবে না। বরং তাদের পরিচয় হলো সকল বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণ করা।
(খণ্ড: ১)
ওয়াকফাতুন হাদিয়াতুন মাআত তায়িনীনা ফী জামাআতিদ দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২)
أما غيرهم من المسلمين الذين يعملون في دعوة الناس إلى دين الله كالإخوان والتبليغ فإن أهل العلم قد أخذوا عليهم بعض المخالفات الشرعية ونبهوا عليها ، وأوجبوا نصحهم وبيان الحق لهم بالرفق والحكمة.
* * *
السبب في كتابة هذه الورقاتإنه بين الحين والآخر نسمع ونقرأ صيحات للتحذير من جماعات إسلامية تعمل في الدعوة إلى دين الله ولهم فضائل لا ينكرها مسلم فضلا عن ذي علم ، ولكن هناك من يغالي ويزعم النصح لهذه الأمة ويعتبر هذه الجماعات أخطر على الأمة من اليهود والنصارى والعلمانيين والمذاهب الهدامة كالماسونية ، وأخطر علينا من الروافض المجوس الذين قد ظهر خطرهم على مدى التاريخ وفي العراق الآن.
هؤلاء لا همَّ لهم إلا التحذير من جماعتي الإخوان والتبليغ ، وينشرون ذلك على الشباب الملتزمين حديثا ويعلمونهم فنَّ الهدم هذا على أنه من الدين وأنه من الواجبات الشرعية العظيمة وأنه جهاد للمبتدعة ، ويُنَزِّلون كلام السلف في ذم البدع وهجر المبتدعة على ما يفعلونه ، كما يستشهدون بكلام لبعض العلماء المعاصرين إما مبتورا ، وإما مُدَلَّسَاً وإما فتوى لعالم في السعودية والتي ينتشر فيها مذهب السلف لا بلد كمصر يختلط فيها الحابل بالنابل والملتزمون عند عوام الناس كلهم أخوة لا يفرقون بينهم كما أنه ولله الحمد هناك ميل للتيار الإسلامي في مصر من هؤلاء العوام.
فإنه قد دار بيني وبين أحد الشباب الملتزم حديثا نقاش أذكره ملخصا.
فقد قابلتُ هذا الأخ فأخذ يحذر من جماعتي الإخوان المسلمين وجماعة التبليغ في مصر ،
পক্ষান্তরে অন্যান্য মুসলিম যারা আল্লাহর দ্বীনের দিকে মানুষকে দাওয়াত দেওয়ার কাজ করছেন, যেমন ইখওয়ান ও তাবলিগ; আলেম সমাজ তাদের কিছু শরয়ী ভুল-ত্রুটি চিহ্নিত করেছেন এবং সেগুলোর ব্যাপারে সতর্ক করেছেন। তারা তাদের নসিহত করা এবং কোমলতা ও প্রজ্ঞার সাথে তাদের নিকট সত্য স্পষ্ট করাকে আবশ্যক করেছেন।
* * *
এই সংক্ষিপ্ত লেখাটি রচনার কারণমাঝে মাঝেই আমরা এমন কিছু হাঁকডাক শুনতে পাই বা পড়তে পারি, যেখানে আল্লাহর দ্বীনের দাওয়াতের কাজে নিয়োজিত বিভিন্ন ইসলামি দল সম্পর্কে সতর্ক করা হয়। অথচ তাদের এমন কিছু গুণ ও অবদান রয়েছে যা সাধারণ কোনো মুসলিম তো বটেই, এমনকি কোনো আলেমও অস্বীকার করবেন না। কিন্তু এমন কিছু লোক আছে যারা এ ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি করে এবং এই উম্মাহর কল্যাণ কামনার দাবি করে। তারা এই দলগুলোকে উম্মাহর জন্য ইহুদি, নাসারা, ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী ও ধ্বংসাত্মক মতবাদ—যেমন ফ্রিম্যাসনরি—এর চেয়েও বেশি বিপজ্জনক মনে করে। এমনকি তারা আমাদের জন্য এদেরকে সেই রাফেজি (الروافض) অগ্নিপূজকদের চেয়েও বেশি বিপজ্জনক মনে করে যাদের বিপদ ইতিহাস জুড়ে এবং বর্তমানে ইরাকেও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
তাদের একমাত্র কাজই হলো ইখওয়ান ও তাবলিগ জামাত সম্পর্কে সতর্ক করা। তারা এই চিন্তা নতুন করে দ্বীনের পথে আসা যুবকদের মাঝে ছড়িয়ে দেয় এবং ধ্বংসের এই কৌশলকে দ্বীনের অংশ, মহান শরয়ী ওয়াজিব এবং বিদআতিদের (مبتدعة) বিরুদ্ধে জিহাদ হিসেবে শেখায়। তারা বিদআতের নিন্দা এবং বিদআতিদের (مبتدعة) বর্জন করার বিষয়ে পূর্বসূরিদের বক্তব্যগুলোকে নিজেদের এই কর্মকাণ্ডের ওপর প্রয়োগ করে। তদুপরি তারা সমকালীন কিছু আলেমের কথা দলিল হিসেবে পেশ করে, যা হয় অসম্পূর্ণ, অথবা প্রতারণামূলক (مدلسا), কিংবা সৌদি আরবের কোনো আলেমের ফতোয়া; যেখানে সালাফদের মানহাজ বিস্তৃত। কিন্তু মিশরের মতো দেশের অবস্থা তেমন নয় যেখানে সব কিছু তালগোল পাকিয়ে আছে। সেখানে সাধারণ মানুষের কাছে দ্বীনদাররা সবাই ভাই ভাই, তারা তাদের মাঝে পার্থক্য করে না। তাছাড়া আল্লাহর শুকরিয়া যে, মিশরের সাধারণ মানুষের মাঝে ইসলামি ধারার প্রতি এক ধরনের ঝোঁক রয়েছে।
সম্প্রতি দ্বীনের পথে আসা এক যুবকের সাথে আমার এক বিতর্ক হয়েছিল, যার সারসংক্ষেপ আমি এখানে উল্লেখ করছি।
সেই ভাইয়ের সাথে আমার সাক্ষাৎ হলে তিনি মিশরের ইখওয়ানুল মুসলিমিন ও তাবলিগ জামাত সম্পর্কে সতর্ক করতে লাগলেন।
(খণ্ড: ১)
ওয়াকফাতুন হাদিয়াতুন মাআত তায়িনীনা ফী জামাআতিদ দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
قال لي: يجب عليك أن تحذر من أهل البدع ، فهؤلاء أخطر على الأمة من اليهود والنصارى ، فاليهود والنصارى قد علمناهم وأنهم أعدائنا ، أما هؤلاء فهم من جلدتنا يتكلمون بألسنتنا ويَدُسُّون لنا البدعة في السنة كمن يَدُسُّ السم في العسل ، وأن أهل البدع فعلوا في الإسلام ما لم يفعله أعداؤه فهم من الاثنتين وسبعين فرقة التي توعدها النبي بالنار لمخالفتها سبيله لأنها تدعو إلى غير سنة النبي صلى الله عليه وسلم وأخذ يستشهد لكلامه بكلام السلف في التحذير من البدع والمبتدعة والذي يحتاج إلى ساعات لقراءته ، وأنني إذا قلت بأننا يمكن أن نتعاون مع بعضنا البعض في أوجه البر والتقوى عملا بقوله تعالى " وتعاونوا على البر والتقوى ولا تعاونوا على الإثم والعدوان " فنتعاون على الوقوف معا ضد النشاط التنصيري أو لإعانة الفقراء والمحتاجين أو الأرامل واليتامى ، قال لي: بأنك صاحب بدعة بهذا القول ، وأننا لا يمكن أن نتعاون مع المبتدعة بحال وبأي نوع من أنواع الأعمال.
* * *
قبل أن أشرع في موضوع هذه الرسالة هناك أمور ينبغي التذكير بها وهي:
إذا استشكل علينا أمر أو أردنا الوصول إلى ما يرضي الله فقد أمرنا الله بالاستعانة به سبحانه والتوجه إليه بالدعاء فقال " وقال ربكم دعوني استجب لكم " ،
ومن دعاء الرسول صلى الله عليه وسلم " الله رب جبرائيل وميكائيل وإسرافيل فاطر السماوات والأرض عالم الغيب والشهادة أنت تحكم بين عبادك فيما كانوا فيه يختلفون فاهدني لما اختلف فيه من الحق بإذنك إنك تهدي من تشاء إلى صراط مستقيم " أخرجه الإمام مسلم في باب الدعاء في صلاة الليل وقيامه برقم 200.
فعلينا أن ندعو الله في مسألتنا هذه أن يهدينا إلى القول الذي يرضيه سبحانه ويشرح صدورنا له.
তিনি আমাকে বললেন: তোমার জন্য ভ্রান্ত উদ্ভাবনকারী সম্প্রদায়ের (أهل البدع) ব্যাপারে সতর্ক থাকা আবশ্যক, কারণ তারা এই উম্মতের জন্য ইহুদি ও নাসারাদের চেয়েও বেশি বিপজ্জনক। ইহুদি ও নাসারাদের সম্পর্কে আমরা অবগত এবং তারা আমাদের শত্রু; কিন্তু এরা আমাদেরই লোক, আমাদের ভাষাতেই কথা বলে এবং মধুর মধ্যে বিষ মিশানোর মতো সুন্নাহর (سنة) মধ্যে বিদআতের (بدعة) অনুপ্রবেশ ঘটায়। ভ্রান্ত উদ্ভাবনকারীরা (أهل البدع) ইসলামের যতটুকু ক্ষতি করেছে, এর শত্রুরাও তা করতে পারেনি। তারা সেই বাহাত্তর দলের (فرقة) অন্তর্ভুক্ত যাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর পথের বিরোধিতা করার কারণে জাহান্নামের ভীতি প্রদর্শন করেছেন; কারণ তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ (سنة) ব্যতীত অন্য আদর্শের দিকে আহ্বান করে। তিনি তাঁর বক্তব্যের সপক্ষে বিদআত (بدعة) ও বিদআতিদের (مبتدعة) থেকে সতর্ক করার বিষয়ে পূর্বসূরিদের (سلف) এমন সব উক্তি উদ্ধৃত করতে লাগলেন যা পাঠ করতে বহু ঘণ্টা সময়ের প্রয়োজন। আমি যখন বললাম যে, আমরা আল্লাহ তাআলার এই বাণী: "তোমরা সৎকর্ম ও তাকওয়ার ক্ষেত্রে একে অপরকে সহযোগিতা করো, আর পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে একে অপরকে সহযোগিতা করো না" —এর ওপর আমল করে কল্যাণের বিভিন্ন দিকগুলোতে একে অপরের সাথে সহযোগিতা করতে পারি; যেমন খ্রিস্টান মিশনারি কার্যক্রমের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নেওয়া অথবা দরিদ্র, অভাবী, বিধবা ও এতিমদের সাহায্য করা। তখন তিনি আমাকে বললেন: এই কথার কারণে তুমি একজন বিদআতি (صاحب بدعة) সাব্যস্ত হয়েছ এবং আমরা কোনোভাবেই কোনো ধরণের কাজে বিদআতিদের (مبتدعة) সাথে সহযোগিতা করতে পারি না।
* * *
এই বার্তার মূল বিষয়ে প্রবেশের আগে কিছু বিষয় স্মরণ করিয়ে দেওয়া প্রয়োজন, আর তা হলো:
যখন আমাদের কাছে কোনো বিষয় অস্পষ্ট মনে হয় অথবা আমরা আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে পৌঁছাতে চাই, তখন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আমাদের তাঁর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করার এবং দুআর মাধ্যমে তাঁর অভিমুখী হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন: "এবং তোমাদের রব বলেছেন, তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব।"
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দুআর অন্তর্ভুক্ত ছিল: "হে আল্লাহ! জিবরাঈল, মিকাঈল ও ইসরাফিলের রব, আসমান ও জমিনের স্রষ্টা, দৃশ্য ও অদৃশ্যের পরিজ্ঞাত, তোমার বান্দারা যে বিষয়ে মতবিরোধ করত সে বিষয়ে তুমিই তাদের মধ্যে ফয়সালা করে দেবে। যে সত্য বিষয়ে মতভেদ সৃষ্টি হয়েছে, তোমার অনুমতিতে আমাকে সেই সত্যের পথে পরিচালিত করো। নিশ্চয়ই তুমি যাকে ইচ্ছা সরল পথের দিশা দাও।" এটি ইমাম মুসলিম রাতের সালাতে দুআ ও কিয়াম অধ্যায়ে ২০০ নম্বর হাদিসে বর্ণনা করেছেন।
অতএব, আমাদের এই সমস্যার ক্ষেত্রে আল্লাহর কাছে দুআ করা উচিত যাতে তিনি আমাদের এমন কথার দিকে হেদায়েত দান করেন যা তাঁকে সন্তুষ্ট করে এবং সে বিষয়ের জন্য আমাদের অন্তরকে প্রশস্ত করে দেন।
(খণ্ড: ১)
ওয়াকফাতুন হাদিয়াতুন মাআত তায়িনীনা ফী জামাআতিদ দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
الخوض في أمر يتعلق بالدعوة وبقطاع عريض من المسلمين أمر لا يحدده طائفة من طلبة العلم أو قلة من العلماء ، بل يحتاج الأمر إلى مشاورة بين كثير من العلماء لامتداد تأثير ذلك على كثير من المسلمين وإن لم يُضْبَطْ ذلك الأمر بضوابطه الشرعية كانت المفاسد والصد عن سبيل الله أكثر من المصالح والدعوة إلى دينه سبحانه.
- أمر الله سبحانه بالجماعة ونهى عن الفرقة.
- جعل الله أشد الناس عداوة للمسلمين اليهود والمشركين وهم على قلب رجل واحد في حربهم على المسلمين.
- فَرَّقَ العلماء بين البدع العقدية والبدع العلمية أي البدع المتعلقة بمسائل الإعتقاد والبدع المتعلقة بأمور العبادات والقربات.
- هناك فرق بين إطلاق القول بأن من فعل كذا فهو مبتدع وبين تعيين المبتدع بأن نقول هذا الشخص بعينه مبتدع إذ يلزم لذلك إقامة الحجة واستيفاء الشروط وانتفاء الموانع.
- من استدل بكلام لأهل العلم فعليه أن يعزوه لمصدره.
* * *
قلت وبالله تعالى التوفيق والهدى:أخي الحبيب أتدري ما تقول؟ فإننا تعلمنا أن نعرض كلام كل أحد على الكتاب والسنة وكلام سلف الأمة؛ لأن ذلك السبيل لمعرفة الصواب والخطأ.
ما قلته فالرد عليه من وجوه:
أولا:
قولك " إن الإخوان والتبليغ من أهل البدع الذين يجب التحذير منهم فهم من الاثنتين وسبعين فرقة الذين توعدهم النبي صلى الله عليه وسلم بالنار " فالرد عليه من وجوه
لا ينكر أحد أن جماعة الإخوان المسلمين والتبليغ في مصر قد يشوب كل منهم بعض الأخطاء التي أخذها عليهم أهل العلم ، ونحن لا نقول لأحد أن يسكت عن هذه الأخطاء بل الواجب أن نأمر بالمعروف ولكن بالمعروف ، وأن ننهى عن المنكر ولكن بغير المنكر.
দাওয়াত এবং মুসলিমদের একটি বিশাল অংশের সাথে সম্পৃক্ত কোনো বিষয়ে আলোচনা করা এমন কোনো বিষয় নয় যা কেবল একদল জ্ঞানান্বেষী বা অল্প সংখ্যক আলিম নির্ধারণ করবেন। বরং এর জন্য বহু সংখ্যক আলিমের মধ্যে পরামর্শের প্রয়োজন, কারণ এর প্রভাব অনেক মুসলিমের ওপর বিস্তৃত। আর যদি এই বিষয়টি শরয়ী মানদণ্ডের আলোকে নিয়ন্ত্রিত না হয়, তবে এর ফলে কল্যাণ ও আল্লাহর দ্বীনের দিকে দাওয়াতের চেয়ে ফিতনা-ফ্যাসাদ এবং আল্লাহর পথ থেকে বিমুখ হওয়ার সম্ভাবনা অধিক হবে।
- মহান আল্লাহ জামায়াতবদ্ধ বা ঐক্যবদ্ধ থাকার নির্দেশ দিয়েছেন এবং অনৈক্য ও দলাদলি থেকে নিষেধ করেছেন।
- আল্লাহ তাআলা ইহুদি ও মুশরিকদেরকে মুসলিমদের প্রতি চরম শত্রুতাপরায়ণ হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন, অথচ তারা মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার ক্ষেত্রে একতাবদ্ধ।
- আলিমগণ আকিদাগত বিদআত (بدعة) এবং আমলগত বিদআতের (بدعة) মধ্যে পার্থক্য করেছেন; অর্থাৎ যে বিদআতগুলো বিশ্বাসের সাথে সংশ্লিষ্ট এবং যে বিদআতগুলো ইবাদত ও নৈকট্য লাভের আমলের সাথে সংশ্লিষ্ট।
- সাধারণভাবে এই কথা বলা যে, "যে ব্যক্তি এই কাজ করবে সে বিদআতি (مبتدع)" এবং কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে "বিদআতি (مبتدع)" হিসেবে চিহ্নিত করার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে; কারণ নির্দিষ্ট কাউকে বিদআতি বলার ক্ষেত্রে প্রমাণ উপস্থাপন, শর্তাবলি পূরণ হওয়া এবং প্রতিবন্ধকসমূহ দূরীভূত হওয়া আবশ্যক।
- যে ব্যক্তি জ্ঞানীদের কোনো কথা দ্বারা দলিল পেশ করবে, তার উচিত সেটি মূল উৎসের দিকে সম্বন্ধ করা।
* * *
আমি বলছি, আর আল্লাহর কাছেই তাওফিক ও হিদায়াত কামনা করছি:হে আমার প্রিয় ভাই, আপনি কি জানেন আপনি কী বলছেন? আমরা তো শিখেছি যে প্রত্যেক ব্যক্তির কথাকে কুরআন, সুন্নাহ এবং উম্মতের সালাফদের বাণীর নিরিখে যাচাই করতে হবে; কারণ সঠিক ও ভুলের পার্থক্য করার একমাত্র পথ এটাই।
আপনি যা বলেছেন, তার উত্তর কয়েকভাবে দেওয়া যায়:
প্রথমত:
আপনার এই কথা যে, "ইখওয়ান ও তাবলিগ বিদআতিদের (أهل البدع) অন্তর্ভুক্ত যাদের থেকে সতর্ক করা ওয়াজিব, তারা সেই বাহাত্তরটি দলের অন্তর্ভুক্ত যাদের ব্যাপারে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জাহান্নামের ধমকি দিয়েছেন" – এর উত্তর কয়েকভাবে দেওয়া যায়:
কেউ এই বিষয়টি অস্বীকার করে না যে মিশরে ইখওয়ানুল মুসলিমিন এবং তাবলিগ জামাতের মধ্যে এমন কিছু ভুলভ্রান্তি থাকতে পারে যা আলিমগণ চিহ্নিত করেছেন। আমরা কাউকে এসব ভুলভ্রান্তির ব্যাপারে নীরব থাকতে বলি না, বরং ওয়াজিব হলো সৎ কাজের আদেশ দেওয়া তবে তা হতে হবে উত্তম পন্থায়, আর অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করা তবে তা হতে হবে মন্দ পন্থায় লিপ্ত না হয়ে।
(খণ্ড: ১)
ওয়াকফাতুন হাদিয়াতুন মাআত তায়িনীনা ফী জামাআতিদ দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
قال شيخ الإسلام ابن تيمية في كتاب الاستقامة (1) 2 / 216 - 219:
وجماع ذلك داخل في القاعدة العامة فيما اذا تعارضت المصالح والمفاسد والحسنات والسيئات أو تزاحمت فإنه يجب ترجيح الراجح منها فيما إذا ازدحمت المصالح والمفاسد وتعارضت المصالح والمفاسد فإن الأمر والنهى وإن كان متضمنا لتحصيل مصلحة ودفع مفسدة فينظر في المعارض له فإن كان الذي يفوت من المصالح أو يحصل من المفاسد أكثر لم يكن مأمورا به ، بل يكون محرما إذا كانت مفسدته أكثر من مصلحته لكن اعتبار مقادير المصالح والمفاسد هو بميزان الشريعة فمتى قدر الإنسان على اتباع النصوص لم يعدل عنها ولا اجتهد رأيه لمعرفة الاشباه والنظائر ، وقل أن تعوز النصوص من يكون خبيرا بها وبدلالتها على الاحكام.
وعلى هذا إذا كان الشخص أوالطائفة جامعين بين معروف ومنكر بحيث لا يفرقون بينهما ، بل إما أن يفعلوهما جميعا ، أو يتركوهما جميعا لم يجز أن يؤمروا بمعروف ولا ان ينهوا عن منكر ، بل ينظر فإن كان المعروف أكثر أمر به ، وإن استلزم ما هو دونه من المنكر ولم ينه عن منكر يستلزم تفويت معروف أعظم منه بل يكون النهي حينئذ من باب الصد عن سبيل الله والسعي في زوال طاعته وطاعة رسوله صلى الله عليه وسلم وزوال فعل الحسنات ، وإن كان المنكر اغلب نهي عنه وإن استلزم فوات ما هو دونه من المعروف ويكون الأمر بذلك المعروف المستلزم للمنكر الزائد عليه أمرا بمنكر وسعيا في معصية الله ورسوله
وإن تكافأ المعروف والمنكر المتلازمان لم يؤمر بهما ولم ينه عنهما فتارة يصلح الأمر وتارة يصلح النهي وتارة لا يصلح لا أمر ولا نهي حيث كان المنكر والمعروف متلازمين وذلك في الأمور المعينة الواقعة ،
--------------------------------------------
শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ তার আল-ইস্তিকামাহ (১) ২ / ২১৬ - ২১৯ গ্রন্থে বলেছেন:
এর সারকথা সেই সাধারণ মূলনীতির (القاعدة العامة) অন্তর্ভুক্ত যখন কল্যাণ (المصالح) ও অকল্যাণ (المفাসদ), এবং পুণ্য (الحسنات) ও পাপের (السيئات) মধ্যে বৈপরীত্য দেখা দেয় বা সেগুলোর সমাবেশ ঘটে। এমতাবস্থায় যখন কল্যাণ ও অকল্যাণের সমাবেশ ঘটে এবং এগুলোর মধ্যে সংঘাত তৈরি হয়, তখন যেটি প্রবল (الراجح) সেটিকে অগ্রাধিকার প্রদান করা ওয়াজিব। কেননা আদেশ ও নিষেধ যদিও কোনো কল্যাণ অর্জন এবং অকল্যাণ দূর করার বিষয়টিকে অন্তর্ভুক্ত করে, তথাপি এর বিপরীতে কী রয়েছে তা দেখতে হবে। যদি এর ফলে যে কল্যাণ হাতছাড়া হয় বা যে অকল্যাণ অর্জিত হয় তা অধিকতর হয়, তবে সেটি আর আদিষ্ট হবে না। বরং অকল্যাণ যদি কল্যাণের চেয়ে বেশি হয় তবে তা নিষিদ্ধ (محرم) বলে গণ্য হবে। তবে কল্যাণ ও অকল্যাণের পরিমাণের বিষয়টি শরয়ি মানদণ্ডের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে। সুতরাং যখনই কোনো ব্যক্তি অকাট্য দলিলের (النصوص) অনুসরণে সক্ষম হবে, তখন সে তা থেকে বিচ্যুত হবে না এবং সমজাতীয় ও দৃষ্টান্তমূলক বিষয়গুলো খোঁজার জন্য নিজস্ব রায়ের (رأيه) মাধ্যমে গবেষণা (اجتهد) করবে না। আর এমন ব্যক্তি খুব কমই পাওয়া যাবে যে অকাট্য দলিল (النصوص) এবং বিধানের (الأحكام) ওপর সেগুলোর নির্দেশনার (دلالتها) বিষয়ে অভিজ্ঞ হওয়া সত্ত্বেও দলিলের অভাব বোধ করবে।
এর ওপর ভিত্তি করে, যখন কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী একই সাথে সৎকাজ (معروف) ও মন্দ কাজের (منكر) সমন্বয়কারী হয় এবং তারা এ দুটির মধ্যে পার্থক্য করে না—বরং হয় তারা উভয়টিই একসাথে করবে, নতুবা উভয়টিই একসাথে বর্জন করবে—তখন তাদের কেবল সৎকাজের (معروف) আদেশ দেয়া যাবে না এবং কেবল মন্দ কাজ (منكر) থেকে নিষেধ করা যাবে না। বরং দেখতে হবে, যদি সৎকাজ (معروف) অধিক হয়, তবে তার আদেশ দিতে হবে, যদিও তা তার চেয়ে নিম্নমানের কোনো মন্দ কাজকে (منكر) অনিবার্য করে তোলে। আর এমন কোনো মন্দ কাজ (منكر) থেকে নিষেধ করা যাবে না যা তার চেয়ে মহান কোনো সৎকাজ (معروف) হাতছাড়া হওয়ার কারণ হয়। বরং সেক্ষেত্রে নিষেধ করা হবে আল্লাহর পথ থেকে বাধা প্রদান এবং তাঁর ও তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আনুগত্য ও পুণ্যকর্ম বিলুপ্ত করার প্রচেষ্টার শামিল। আর যদি মন্দ কাজ (منكر) প্রবল হয়, তবে তা থেকে নিষেধ করতে হবে, যদিও তা তার চেয়ে নিম্নমানের কোনো সৎকাজ (معروف) হাতছাড়া হওয়ার কারণ হয়। আর এমতাবস্থায় সেই সৎকাজের (معروف) আদেশ দেয়া—যা তার চেয়ে অতিরিক্ত মন্দ কাজকে (منكر) অনিবার্য করে তোলে—তা হবে মূলত একটি মন্দ কাজের (منكر) আদেশ এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের নাফরমানির পথে প্রচেষ্টা।
আর যদি পরস্পর অবিচ্ছেদ্য সৎকাজ (معروف) ও মন্দ কাজ (منكر) সমান হয়ে যায়, তবে সেগুলোর আদেশও দেয়া যাবে না এবং নিষেধও করা যাবে না। সুতরাং কখনো আদেশ করা সমীচীন হয়, কখনো নিষেধ করা সমীচীন হয়, আবার কখনো আদেশ বা নিষেধ কোনোটিই সমীচীন হয় না যখন মন্দ কাজ (منكر) ও সৎকাজ (معروف) একে অপরের সাথে অবিচ্ছেদ্য থাকে। আর এটি বাস্তবায়িত সুনির্দিষ্ট বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে ঘটে থাকে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াকফাতুন হাদিয়াতুন মাআত তায়িনীনা ফী জামাআতিদ দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
وأما من جهة النوع فيؤمر بالمعروف مطلقا وينهى عن المنكر مطلقا ، وفي الفاعل الواحد والطائفة الواحدة يؤمر بمعروفها وينهى عن منكرها ويحمد محمودها ويذم مذمومها بحيث لا يتضمن الأمر بمعروف فوات معروف أكبر منه ، أو حصول منكر فوقه ولا يتضمن النهي عن المنكر حصول ما هو أنكر منه أو فوات معروف أرجح منه.
وإذا اشتبه الأمر استثبت المؤمن حتى يتبين له الحق فلا يقدم على الطاعة إلا بعلم ونية ، وإذا تركها كان عاصيا فترك الأمر الواجب معصية وفعل ما نهى عنه من الأمر معصية وهذا باب واسع ولا حول ولا قوة الا بالله.
ومن هذا الباب إقرار النبي صلى الله عليه وسلم لعبد الله بن أبي وأمثاله من أئمة النفاق والفجور لما لهم من الأعوان فإزالة منكره بنوع من عقابه مستلزمة إزاله معروف أكبر من ذلك بغضب قومه وحميتهم وبنفور الناس إذا سمعوا أن محمدا يقتل اصحابه.
* * *
وإليك فتوى الشيخ ابن باز بهذا الشأن - رحمه الله تعالى ورفع درجاته في عليين - وأنا أذكر لك الفتوى مع المرجع الخاص بها وأنشرها كاملة غير مبتورة والله المستعان:
س: هل تعتبر قيام جماعات إسلامية في البلدان الإسلامية لاحتضان الشباب وتربيتهم على الإسلام من إيجابيات هذا العصر؟
ج: وجود هذه الجماعات الإسلامية فيه خير للمسلمين، ولكن عليها أن تجتهد في إيضاح الحق مع دليله وأن لا تتنافر مع بعضها، وأن تجتهد بالتعاون فيما بينها، وأن تحب إحداهما الأخرى، وتنصح لها وتنشر محاسنها، وتحرص على ترك ما يشوش بينها وبين غيرها، ولا مانع أن تكون هناك جماعات إذا كانت تدعو إلى كتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم.
المرجع: لقاء مع سماحة الشيخ أجرته مجلة المجتمع الكويتية بتاريخ 17/7/1410 هـ.
* * *
আর বিষয়ের প্রকারভেদে সৎ কাজের (معروف) আদেশ প্রদান করা এবং অসৎ কাজের (منكر) নিষেধ করা সাধারণভাবে নির্দেশিত। একক ব্যক্তি বা একক দলের ক্ষেত্রে তাদের সৎ কাজের (معروف) আদেশ দেওয়া হবে এবং তাদের অসৎ কাজ (منكر) থেকে নিষেধ করা হবে। তাদের প্রশংসনীয় কাজের প্রশংসা করা হবে এবং মন্দ কাজের নিন্দা করা হবে; তবে শর্ত হলো, সৎ কাজের আদেশ যেন তার চেয়ে বড় কোনো সৎ কাজ বিনষ্ট হওয়ার কারণ না হয় অথবা তার চেয়ে বড় কোনো অসৎ কাজের (منكر) উদ্রেক না ঘটায়। তেমনিভাবে অসৎ কাজ (منكر) থেকে নিষেধ করা যেন এমন কিছুর সৃষ্টি না করে যা তার চেয়েও অধিক গর্হিত (أنكر) অথবা তার চেয়ে অগ্রগণ্য কোনো সৎ কাজ বিলোপের কারণ না হয়।
যখন বিষয়টি অস্পষ্ট হয়, তখন মুমিন ব্যক্তি সত্য উদ্ভাসিত না হওয়া পর্যন্ত দৃঢ়তার সাথে অনুসন্ধান করবে। জ্ঞান ও নিয়ত ছাড়া সে আনুগত্যের কাজে অগ্রসর হবে না। যদি সে তা বর্জন করে তবে সে অবাধ্য হিসেবে গণ্য হবে। সুতরাং ওয়াজিব কাজ বর্জন করা একটি গুনাহ এবং যা থেকে নিষেধ করা হয়েছে তা করাও একটি গুনাহ। এটি একটি অত্যন্ত প্রশস্ত অধ্যায়, আর আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো শক্তি বা ক্ষমতা নেই।
এই অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত হলো আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই এবং তার মতো মুনাফেকি (نفاق) ও পাপাচারের ইমামদের প্রতি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মৌন সম্মতি প্রদান করা; কারণ তাদের অনেক সহযোগী ছিল। ফলে তাকে শাস্তির মাধ্যমে তার অপকর্ম (منكر) দূর করতে গেলে তার চেয়ে বড় কল্যাণ বিনষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা ছিল—তার কওমের ক্রোধ ও সাম্প্রদায়িক জেদ জাগ্রত হওয়ার কারণে এবং মানুষের মধ্যে বিমুখতা তৈরির আশঙ্কায়, যখন তারা শুনবে যে মুহাম্মদ তার সাথীদের হত্যা করছেন।
* * *
আর এই বিষয়ে শাইখ ইবনে বায -রহিমাহুল্লাহু তাআলা- এর ফতোয়া নিচে দেওয়া হলো, আল্লাহ তাআলা ইল্লিয়্যিনে তাঁর মর্যাদা বৃদ্ধি করুন। আমি ফতোয়াটি তার নির্দিষ্ট রেফারেন্সসহ উল্লেখ করছি এবং তা পূর্ণাঙ্গভাবে কোনো কর্তন ছাড়াই প্রকাশ করছি, আর আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি:
প্রশ্ন: মুসলিম দেশগুলোতে যুবকদের আগলে রাখা এবং তাদের ইসলামের ওপর গড়ে তোলার জন্য ইসলামি জামাত বা সংগঠন প্রতিষ্ঠা করা কি বর্তমান সময়ের ইতিবাচক দিকগুলোর অন্তর্ভুক্ত?
উত্তর: এই ইসলামি জামাতগুলোর অস্তিত্বের মধ্যে মুসলিমদের জন্য কল্যাণ রয়েছে। তবে তাদের কর্তব্য হলো দলীলসহ সত্য স্পষ্ট করার আপ্রাণ চেষ্টা করা এবং একে অপরের সাথে বিবাদে লিপ্ত না হওয়া। নিজেদের মধ্যে সহযোগিতার ক্ষেত্রে সচেষ্ট হওয়া, একে অপরকে ভালোবাসা, পরস্পরকে নসিহত করা, একে অপরের গুণাবলি প্রচার করা এবং নিজেদের মধ্যে ও অন্যদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে এমন বিষয় পরিহারে যত্নবান হওয়া। জামাত বা সংগঠন থাকায় কোনো বাধা নেই যদি তারা আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর দিকে আহ্বান করে।
সূত্র: কুয়েতের আল-মুজতামা ম্যাগাজিন কর্তৃক ১৭/৭/১৪১০ হিজরি তারিখে মহামান্য শাইখের সাথে গৃহীত একটি সাক্ষাৎকার।
* * *
(খণ্ড: ১)
ওয়াকফাতুন হাদিয়াতুন মাআত তায়িনীনা ফী জামাআতিদ দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
قولك " هم أخطر علينا من اليهود والنصارى "
أقول لك: هل قرأت التاريخ؟ هل قرأت عن أخطر بدعة حدثت في الأمة وهي التشيع؟ هل قرأت عن الحروب الصليبية وما حدث فيها؟ هل قرأت عن مخططات الروافض وتحالفهم مع اليهود والنصارى وكل أعداء الدين ضد أهل السنة ، وما تسببوا فيه للمسلمين من قتل وهتك أعراض؟
إن أهل السنة ومن تكلم في الفرق وعلماء من الشيعة يقولون بأن من أحدث التشيع هو عبد الله بن سبأ اليهودي واقرأ عن ذلك إن شئت ، وكل فتنة تحصل في الأمة وكل حرب يخوضها المسلمون تجدها مع اليهود والنصارى ومن يوالونهم من الروافض المجوس عليهم من الله ما يستحقون وهذا أمر يصعب إحصائه لكن أحيلك إلى كتب التاريخ ومن تكلم في مكر اليهود والنصارى والروافض المجوس.
إذاً من الأخطر علينا " اليهود والنصارى والروافض " أم الإخوان المسلمون وجماعة التبليغ؟
الإخوان مما يهتمون به تحفيظ أبناء المسلمين كتاب الله لا خطط هدم الدين ولا أقوال تحريف القرآن ولا سب الصحابة ولا الطعن في عرض أم المؤمنين عائشة - حاشاهم الله - بل يحفظونهم كتاب الله ويقيمون لهم المسابقات في ذلك ، كما يعلمونهم سنة النبي صلى الله عليه وسلم في النوم والأكل والشرب وأخلاقه وكذلك مغازيه صلى الله عليه وسلم وإن لم تكن تصدقني فهذه حلقاتهم فانزلها لتسمع بنفسك.
فهم جزاهم الله خيرا يهتمون بأبناء المسلمين في وقت تنتشر فيه ما تراه بعينيك من غناء ومخدرات وأفكار منحرفة وتنصير وشهوات و* * * و* * * و* * * و* * * ، فكيف بعد ذلك يقال: إن هؤلاء أخطر على المسلمين من اليهود والنصارى.
আপনার উক্তি, "তারা আমাদের জন্য ইহুদি ও নাসারাদের চেয়েও অধিক বিপজ্জনক"আমি আপনাকে বলছি: আপনি কি ইতিহাস পাঠ করেছেন? আপনি কি উম্মতের মাঝে সঙ্ঘটিত সবচেয়ে বিপজ্জনক বিদআত (بدعة) তথা শিয়া মতবাদ (التشيع) সম্পর্কে পড়েছেন? আপনি কি ক্রুসেড এবং সেখানে যা ঘটেছিল তা নিয়ে পড়েছেন? আপনি কি রাফেজিদের (الروافض) নীল-নকশা এবং আহলে সুন্নতের বিরুদ্ধে ইহুদি, নাসারা ও দ্বীনের সকল শত্রুদের সাথে তাদের মিত্রতা সম্পর্কে পড়েছেন? তারা মুসলমানদের হত্যা ও সম্ভ্রমহানি করে যে বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে, সে সম্পর্কে কি আপনার জানা আছে?
নিশ্চয়ই আহলে সুন্নত এবং ফিরকা (الفرق) বা দলসমূহ নিয়ে যারা আলোচনা করেন তারা এবং শিয়াদের একদল আলেমও বলেন যে, শিয়া মতবাদের (التشيع) প্রবর্তক হলো ইহুদি আব্দুল্লাহ বিন সাবা; আপনি চাইলে এ বিষয়ে পড়ে দেখতে পারেন। উম্মতের মধ্যে উদ্ভূত প্রতিটি ফিতনা (فتنة) এবং মুসলমানদের প্রতিটি যুদ্ধে দেখা যায় যে, ইহুদি ও নাসারাদের পাশাপাশি তাদের বন্ধু অগ্নিউপাসক রাফেজিরা (الروافض) জড়িত—তাদের ওপর আল্লাহর পক্ষ থেকে যা পাওনা তা বর্ষিত হোক। এ সবের পরিসংখ্যান প্রদান করা দুঃসাধ্য, তবে আমি আপনাকে ইতিহাসের কিতাবসমূহ এবং যারা ইহুদি, নাসারা ও অগ্নিউপাসক রাফেজিদের ষড়যন্ত্র নিয়ে আলোচনা করেছেন, তাদের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
তাহলে আমাদের জন্য কারা অধিক বিপজ্জনক? "ইহুদি, নাসারা ও রাফেজিরা (الروافض)" নাকি ইخوانুল মুসলিমিন ও তাবলিগ জামাত?
ইখওয়ানের মূল লক্ষ্য হলো মুসলিম সন্তানদের আল্লাহর কিতাব মুখস্থ করানো; দ্বীন ধ্বংসের কোনো পরিকল্পনা কিংবা কুরআনের বিকৃতি (تحريف) ঘটানোর কোনো বক্তব্য প্রদান করা নয়, সাহাবীদের গালি দেওয়া নয় কিংবা উম্মুল মুমিনিন আয়েশা (রা.)-এর সতীত্ব নিয়ে অপবাদ দেওয়াও নয়—আল্লাহ তাদের এ থেকে পবিত্র রাখুন—বরং তারা তাদের আল্লাহর কিতাব মুখস্থ করায় এবং এ সংক্রান্ত প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। তদুপরি তারা তাদের নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিদ্রা, আহার, পানীয় এবং তাঁর সুন্নত (سنة) ও আখলাক শিক্ষা দেয়, সেই সাথে তাঁর যুদ্ধাভিযানসমূহ (مغازي) সম্পর্কেও জ্ঞান দান করে। আপনি যদি আমাকে বিশ্বাস না করেন, তবে তাদের হালকাসমূহে যান এবং নিজের কানে শুনে দেখুন।
আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দিন, তারা এমন এক সময়ে মুসলিম সন্তানদের প্রতি মনোনিবেশ করছেন যখন আপনার চোখের সামনে গান-বাজনা, মাদকদ্রব্য, বিচ্যুত (منحرفة) আদর্শ, খ্রিস্টান ধর্ম প্রচার এবং বিবিধ প্রবৃত্তিপূজা ছড়িয়ে পড়ছে। এমতাবস্থায় কীভাবে বলা যায় যে, ইহুদি ও নাসারাদের চেয়ে এরা মুসলমানদের জন্য অধিক বিপজ্জনক?
(খণ্ড: ১)
ওয়াকফাতুন হাদিয়াতুন মাআত তায়িনীনা ফী জামাআতিদ দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
أما جماعة التبليغ فكم من شباب تارك للصلاة ومنغمس في الشهوات والمخدرات قد جعلهم الله سببا في هدايته ، بل وهداية كافرين في الداخل والخارج إلى الإسلام ، فهم يخرجون لدعوة الناس من على المقاهي ويطرقون البيوت ويدخلون أماكن كثيرة لكي يدعون الناس بكتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم ، لا يدعون إلى غير ذلك وأقصد جماعة التبليغ التي عندنا في مصر - لا في باكستان والهند والتي أُلِّفت فيها كتب التحذير لما فيهم من أخطاء اعتقادية وبدعية - فهم أحسن الله إليهم يقومون بتلاوة آيات من كتاب الله ومن كتاب رياض الصالحين للإمام النووي فدعوتهم قائمة على الدعوة إلى الكتاب والسنة بالكتاب والسنة ، وإن كان هناك بعض الأخطاء الشرعية التي نبه عليها أهل العلم لكن ليس معنى ذلك أن نشهر بهم ولا نذكر حسناتهم ونطعن فيهم ولا يكون لنا هَمَّ إلا التحذير منهم.
هل الإخوان والتبليغ يدعون إلى التنصير، أم العلمانية ، أم الماسونية ، أم الخوارج ، أم الشيعة والروافض ، أم الجهمية والمرجئة ، أم القدرية ، أم المعتزلة ، أم * * *.
إذا فاليهود والنصارى والروافض هم الذين فعلوا في الإسلام ومكروا بالمسلمين مكرا لا يعلمه إلا الله عز وجل.
فإن كانوا على مخالفات فعلى أهل العلم النصح لهم وتبيين الحق بالحسنى فهم أعلم بالحق وبكيفية إيصاله إلى المخالف ، لكن كون هذه المخالفات تخرجهم إلى الفرق المتوعدة بالنار في كل بلد فيحددها أهل العلم في تلك البلد ، وكذلك لا نقول هم أهل الحق الذين يجب اتباعهم ، بل كما قال أهل العلم إن أهل الحق هم المتبعون للكتاب والسنة بفهم سلف الأمة.
* * *
তাবলীগী জামাতের কথা যদি বলি, তবে কত শত যুবক যারা সালাত ত্যাগকারী এবং কুপ্রবৃত্তি ও মাদকাসক্তিতে নিমজ্জিত ছিল, আল্লাহ তাআলা তাদেরকে তাদের হিদায়াতের কারণ বানিয়েছেন। এমনকি দেশ-বিদেশে কাফিরদের ইসলামে আসার কারণ হিসেবেও তাদের কবুল করেছেন। তারা মানুষের কাছে দাওয়াত পৌঁছে দিতে কফি শপগুলোতে যান, মানুষের দ্বারে দ্বারে করাঘাত করেন এবং বিভিন্ন স্থানে প্রবেশ করেন যাতে তারা মানুষকে আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুন্নাহর দিকে আহ্বান করতে পারেন। তারা এ ছাড়া অন্য কিছুর দিকে আহ্বান করেন না। আমি এখানে আমাদের মিশরে অবস্থানরত তাবলীগী জামাতের কথা বলছি - পাকিস্তান ও ভারতের জামাতের কথা নয়, যাদের মধ্যে আকিদাগত (اعتقادية) ত্রুটি ও বিদআতি (بدعية) কর্মকাণ্ডের কারণে সতর্কতামূলক কিতাবসমূহ সংকলিত হয়েছে। তারা - আল্লাহ তাদের প্রতি অনুগ্রহ করুন - আল্লাহর কিতাব থেকে এবং ইমাম নববী রচিত রিয়াযুস সালেহীন কিতাব থেকে আয়াতসমূহ পাঠ করেন। সুতরাং তাদের দাওয়াত কুরআন ও সুন্নাহর মাধ্যমেই কুরআন ও সুন্নাহর দিকে ডাকার ওপর প্রতিষ্ঠিত। যদিও সেখানে কিছু শরয়ী ভুলত্রুটি রয়েছে যেগুলোর ব্যাপারে ইলম অন্বেষণকারীগণ (أهل العلم) সতর্ক করেছেন, কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে আমরা তাদের হেয় প্রতিপন্ন করব, তাদের নেক আমলগুলো স্মরণ করব না, তাদের বিরুদ্ধে অপবাদ দেব কিংবা কেবল তাদের থেকে সতর্ক করাই যেন আমাদের একমাত্র লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়।
ইখওয়ান এবং তাবলীগী জামাত কি খ্রিস্টানীকরণ (تنصير), নাকি ধর্মনিরপেক্ষতা (علمانية), নাকি ফ্রিম্যাসনারি (ماسونية), নাকি খারিজি (خوارج), নাকি শিয়া ও রাফেজি (روافض), নাকি জাহমিয়া (جهمية) ও মুরজিয়া (مرجئة), নাকি কাদারিয়া (قدرية), নাকি মুতাজিলাদের (معتزلة) মতবাদের দিকে আহ্বান করে, নাকি অন্য কোনো ভ্রষ্টতার দিকে?
সুতরাং ইয়াহুদি, খ্রিস্টান এবং রাফেজিরাই (روافض) ইসলামের ক্ষতিসাধন করেছে এবং মুসলিমদের বিরুদ্ধে এমন চক্রান্ত (مكر) করেছে যা মহান আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানেন না।
তারা যদি কোনো সত্যবিচ্যুতি বা বিরোধপূর্ণ কাজে (مخالفات) লিপ্ত থাকে, তবে উলামায়ে কেরামের (أهل العلم) কর্তব্য হলো তাদের উপদেশ দেওয়া এবং উত্তম পন্থায় সত্যকে স্পষ্ট করে দেওয়া। কারণ আলেমরা সত্য সম্পর্কে এবং বিরোধীদের কাছে তা পৌঁছানোর পদ্ধতি সম্পর্কে অধিক অবগত। কিন্তু এই বিরোধপূর্ণ কাজগুলো তাদেরকে জাহান্নামের ধমকিপ্রাপ্ত (متوعدة) দলগুলোর অন্তর্ভুক্ত করবে কি না, তা প্রতিটি দেশের উলামায়ে কেরামই (أهل العلم) নির্ধারণ করবেন। তেমনিভাবে আমরা এ কথাও বলি না যে তারাই কেবল সত্যের অনুসারী যাদের অনুসরণ করা আবশ্যক, বরং উলামায়ে কেরাম (أهل العلم) যেমনটি বলেছেন যে, সত্যের অনুসারী তো তারাই যারা উম্মতের সালাফদের (سلف الأمة) বুঝ অনুযায়ী কুরআন ও সুন্নাহর অনুসরণ করে।
(খণ্ড: ১)
ওয়াকফাতুন হাদিয়াতুন মাআত তায়িনীনা ফী জামাআতিদ দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
قولك " إنهم من الفرق الاثنتين والسبعين التي توعدها النبي صلى الله عليه وسلم بالنار "
أسألك سؤالا: هل أجمع السلف على تعييين الاثنين وسبعين فرقة أم اختلفوا؟ وما ضابط جعل جماعة بعينها من الفرق المتوعدة بالنار؟ وكيف أدخلت الإخوان والتبليغ فيها؟
إن من صَنَّفَ من علماء الفرق قد جعل أصول الفرق من خالف في الإعتقادات خاصة مخالفا أصلا أو أكثر من أصول الدين وإليك كلام أشهر من أَلَّفَ منهم في ذلك:
روى الإمام ابن بطة العكبري بإسناده في كتاب الإبانة عن شريعة الفرقة الناجية طـ دار الكتب العلمية
بيروت 1 / 108:
276: قال يوسف بن أسباط: أصل البدع أربعة: الروافض والخوارج والقدرية والمرجئة ، ثم تتشعب كل فرقة ثماني عشرة طائفة فتلك اثنتان وسبعون والثالث والسبعون الجماعة التي قال رسول الله صلى الله عليه وسلم إنها الناجية.
وروى برقم 278: قال حفص بن حميد: قلت لعبد الله بن المبارك: على كم افترقت هذه الأمة؟ فقال: الأصل أربع فرق هم: الشيعة والحرورية والقدرية والمرجئة ، فافترقت الشيعة على اثنتين وعشرين فرقة ، وافترقت الحرورية على إحدى وعشرين فرقة ، وافترقت القدرية على ست عشرة فرقة ، وافترقت المرجئة على ثلاث عشرة فرقة.
* * *
قال البغدادي في كتاب الفَرْق بين الفِرَق (1) صـ 5 - 7:
--------------------------------------------
আপনার কথা "তারা সেই বাহাত্তর দলের (الفرق الاثنتين والسبعين) অন্তর্ভুক্ত যাদের সম্পর্কে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জাহান্নামের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন"
আমি আপনাকে একটি প্রশ্ন করি: সালাফগণ (السلف) কি সেই বাহাত্তর দলের (الاثنتين وسبعين فرقة) নির্দিষ্টকরণের ব্যাপারে ঐকমত্য (أجمع) পোষণ করেছেন নাকি তারা এ বিষয়ে মতভেদ করেছেন? কোনো নির্দিষ্ট জামাতকে জাহান্নামের ওয়াদা করা দলগুলোর অন্তর্ভুক্ত করার মানদণ্ড (ضابط) কী? এবং আপনি কীভাবে ইخوان (الإخوان) ও তাবলিগকে এর অন্তর্ভুক্ত করলেন?
ফেরকা বা দল বিষয়ে যারা গ্রন্থ রচনা করেছেন সেই আলেমদের মতে, মৌলিক দলগুলোর ভিত্তি হলো যারা বিশেষভাবে আকিদাহর (الإعتقادات) ক্ষেত্রে দ্বীনের এক বা একাধিক মৌলিক বিষয়ের (أصول الدين) বিরোধিতা করে। এ বিষয়ে তাদের মধ্যে যারা সবচেয়ে প্রসিদ্ধ, তাদের বক্তব্য নিচে দেওয়া হলো:
イমাম ইবনে বাত্তাহ আল-উকবরি তার আল-ইবানাহ আন শারিয়াতিল ফিরকাতিন নাজিয়াহ (দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত ১/১০৮) গ্রন্থে স্বীয় সনদ (إسناده) সহ বর্ণনা করেছেন:
বৈরুত ১ / ১০৮:
২৭৬: ইউসুফ বিন আসবাত বলেছেন: বিদআতের (البدع) মূল ভিত্তি চারটি: রাফেজি (الروافض), খারিজি (الخوارج), কাদারিয়া (القدرية) এবং মুরজিয়া (المرجئة)। এরপর প্রতিটি দল আঠারোটি করে উপদলে (طائفة) বিভক্ত হয়, ফলে সব মিলিয়ে তা হয় বাহাত্তরটি। আর তেয়াত্তরতম দলটি হলো জামাত (الجماعة) যাদের সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন যে সেটি মুক্তিপ্রাপ্ত (الناجية)।
২৭৮ নম্বর ক্রমিকে বর্ণিত হয়েছে: হাফস বিন হুমায়িদ বলেন: আমি আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারককে বললাম: এই উম্মত কতটি দলে বিভক্ত হয়েছে? তিনি বললেন: মূল দল চারটি, তারা হলো: শিয়া (الشيعة), হারুরিয়া (الحرورية), কাদারিয়া (القدرية) এবং মুরজিয়া (المرجئة)। এরপর শিয়া দল বাইশটি দলে বিভক্ত হয়েছে, হারুরিয়া দল একুশটি দলে বিভক্ত হয়েছে, কাদারিয়া দল ষোলোটি দলে বিভক্ত হয়েছে এবং মুরজিয়া দল তেরোটি দলে বিভক্ত হয়েছে।
* * *
বাগদাদি তার আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক (১) গ্রন্থের ৫ - ৭ পৃষ্ঠায় বলেছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াকফাতুন হাদিয়াতুন মাআত তায়িনীনা ফী জামাআতিদ দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
وقد روى عن الخلفاء الراشدين أنهم ذكروا افتراق الامة بعدهم فرقا ، وذكروا أن الفرقة الناجية منها فرقة واحدة وسائرها على الضلال في الدنيا والبوار في الآخرة ، وروى عن النبي ذم القدرية وأنهم مجوس هذه الأمة ، وروى عنه ذم المرجئة مع القدرية ، وروى عنه أيضا ذم المارقين وهم الخوارج ، وروى عن أعلام الصحابة ذم القدرية والمرجئة والخوارج المارقة ، وقد ذكرهم علي رضى الله عنه في خطبته المعروفة بالزهراء وبرىء فيها من أهل الأديموات ، وقد علم كل ذي عقل من أصحاب المقالات المنسوبة إلى أن النبي عليه السلام لم يرد بالفرق المذمومة التي أهل النار فرق الفقهاء الذين اختلفوا في فروع الفقه مع اتفاقهم على أصول الدين لأن المسلمين فيما اختلفوا فيه من فروع الحلال والحرام على قولين: أحدهما قول من يرى تصويب المجتهدين كلهم في فروع الفقه وفرق الفقه كلها عندهم مصيبون ، والثاني قول من يرى في كل فرع تصويب واحد من المتخلفين فيه وتخطئة الباقين من غير تضليل منه للمخطىء فيه ، وإنما فصل النبي عليه السلام بذكر الفرق المذمومة فرق أصحاب الأهواء الضالة الذين خالفوا الفرقة الناجية في أبواب العدل والتوحيد ، أو في الوعد والوعيد ، أو في بابي القدر والاستطاعة ، أو في تقدير الخير والشر ، أو في باب الهداية والضلالة ، أو في باب الإرادة والمشيئة ، أو في باب الرؤية والإدراك ، أو في باب صفات الله عز وجل وأسمائه وأوصافه ، أو في باب من أبواب التعديل والتجويز ، أو في باب من أبواب النبوة وشروطها ونحوها من الأبواب التي اتفق عليها أهل السنة والجماعة من فريقى الرأى والحديث على أصل واحد خالفهم فيها أهل الأهواء الضالة من القدرية والخوارج والروافض والنجارية والجهمية والمجسمة والمشبهة ومن جرى من فرق الضلال ، فإن المختلفين في العدل والتوحيد والقبور والأسلاف متحدو الروية والصفات والتعديل والتجويز وفى شروط النبوة والإمامة يكفر بعضهم بعضا
খোলাফায়ে রাশেদীন থেকে বর্ণিত (روى) হয়েছে যে, তাঁরা তাঁদের পরবর্তী সময়ে উম্মাহর বিভিন্ন দলে বিভক্ত (افتراق) হওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। তাঁরা আরও উল্লেখ করেছেন যে, তাদের মধ্যে একটি মাত্র দল হবে মুক্তিপ্রাপ্ত দল (الفرقة الناجية) এবং অন্য সকল দল দুনিয়াতে পথভ্রষ্টতা (الضلال) এবং আখেরাতে ধ্বংসের উপর থাকবে। নবী (সা.) থেকে কাদারিয়াদের নিন্দা বর্ণিত (روى) হয়েছে যে, তারা এই উম্মতের মাজুস (অগ্নিপূজক)। তাঁর থেকে কাদারিয়াদের পাশাপাশি মুরজিয়াদের নিন্দাও বর্ণিত (روى) হয়েছে। তাঁর থেকে দ্বীনত্যাগী (المارقين) অর্থাৎ খারেজীদের নিন্দাও বর্ণিত (روى) হয়েছে। প্রথিতযশা সাহাবীগণ থেকেও কাদারিয়া, মুরজিয়া এবং দ্বীনত্যাগী (المارقة) খারেজীদের নিন্দা বর্ণিত (روى) হয়েছে। আলী (রা.) তাঁর 'আজ-জাহরা' নামে পরিচিত খুতবায় তাঁদের কথা উল্লেখ করেছেন এবং সেখানে তিনি 'আহলুল আদামাওয়াত' থেকে নিজেকে মুক্ত ঘোষণা করেছেন। আকিদাগত মতবাদের সাথে সংশ্লিষ্ট প্রত্যেক বুদ্ধিমান ব্যক্তিই অবগত আছেন যে, নবী (সা.) জাহান্নামী হওয়ার উপযুক্ত যে নিন্দিত দলগুলোর (الفرق المذمومة) কথা বলেছেন, তার দ্বারা তিনি ফকিহদের সেই দলগুলোকে উদ্দেশ্য করেননি যারা দ্বীনের মূলনীতিসমূহে (أصول الدين) একমত হওয়া সত্ত্বেও ফিকহের শাখাগত মাসয়ালায় (فروع الفقه) মতভেদ করেছেন। কেননা মুসলমানরা হালাল ও হারামের শাখাগত বিষয়ে যে মতভেদ করেছেন তা মূলত দুটি দৃষ্টিভঙ্গির উপর ভিত্তি করে: প্রথমটি হলো সেই সকল ব্যক্তিদের অভিমত যারা ফিকহের শাখাগত বিষয়ে সকল মুজতাহিদকে (المجتهدين) সঠিক মনে করেন এবং তাঁদের নিকট ফিকহি সকল মাযহাবই সঠিক। দ্বিতীয়টি হলো সেই সকল ব্যক্তিদের অভিমত যারা প্রতিটি শাখাগত মাসয়ালায় মুজতাহিদদের মধ্য থেকে কেবল একজনকে সঠিক মনে করেন এবং বাকিদের ভুল (تخطئة) সাব্যস্ত করেন, তবে সেই ভুলের জন্য তিনি ভুলকারীকে পথভ্রষ্ট (تضليل) মনে করেন না। মূলত নবী (সা.) নিন্দিত দল (الفرق المذمومة) বলতে কেবল সেই সকল ভ্রান্ত প্রবৃত্তি পূজারীদের (أصحاب الأهواء الضالة) পৃথক করে বুঝিয়েছেন, যারা মুক্তিপ্রাপ্ত দলের (الفرقة الناجية) বিরোধিতা করেছে আদল ও তাওহীদ, ওয়াদ ও ওয়াইদ (প্রতিশ্রুতি ও ধমকি), তাকদীর (القدر) ও ইস্তিতআত (সামর্থ্য), কল্যাণ ও অকল্যাণের নির্ধারণ, হেদায়েত ও গোমরাহি (الضلالة), ইচ্ছা (الإرادة) ও মাশিয়াত (চাহিদা), রুয়্যাত (দর্শন) ও ইদরিক (উপলব্ধি), অথবা মহান আল্লাহর গুণাবলী (صفات), নাম ও সিফাতের অধ্যায়ে; কিংবা ন্যায়পরায়ণ সাব্যস্তকরণ ও বৈধকরণ (التعديل والتجويز) সংক্রান্ত কোনো অধ্যায়ে অথবা নবুওয়াত ও তার শর্তাবলী এবং অনুরূপ অন্যান্য অধ্যায়গুলোতে—যে সকল মূলনীতির ওপর আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের আহলুর রায় ও আহলুল হাদিস উভয় পক্ষই একমত পোষণ করেছেন, কিন্তু ভ্রান্ত প্রবৃত্তি পূজারী কাদারিয়া, খারেজী, রাফেজি, নাজ্জারিয়া, জাহমিয়া, মুজাসসিমা, মুসাব্বিহা এবং অন্যান্য পথভ্রষ্ট দলগুলো তাদের বিরোধিতা করেছে। কেননা আদল, তাওহীদ, কবর এবং পূর্বসূরীদের বিষয়ে যারা মতভেদ করেছে, আবার রুয়্যাত, গুণাবলী (صفات), ন্যায়পরায়ণ সাব্যস্তকরণ ও বৈধকরণ এবং নবুওয়াত ও ইমামতের শর্তাবলীর মতো বিষয়ে যারা একে অপরের বিপরীত অবস্থান নিয়েছে, তারা একে অপরকে কাফের (يكفر) সাব্যস্ত করে থাকে।
(খণ্ড: ১)
ওয়াকফাতুন হাদিয়াতুন মাআত তায়িনীনা ফী জামাআতিদ দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
فصح تأويل الحديث المروى في افتراق الأمة ثلاثا وسبعين فرقة إلى هذا النوع من الاختلاف دون الانواع التي اختلفت فيها ائمة الفقه من فروع الاحكام في أبواب الحلال والحرام ، أو ليس فيما بينهم تكفير ولا تضليل فيما اختلفوا فيه من أحكام الفروع؟ .
* * *
قال الشهرستاني في كتاب الملل والنحل (1) :
كبار الفرق الاسلامية أربع:
1) القدرية
2) الصفاتية
3) الخوارج
4) الشيعة
ثم يتركب بعضها مع بعض ويتشعب عن كل فرقة أصناف فتصل إلى ثلاث وسبعين فرقة.
* * *
قال الدكتور مصطفى بن محمد مصطفى في كتابه " تاريخ الفرق الإسلامية " صـ 79 - 83:
المسألة السابعة في تعيين هذه الفرق
وهي مسألة كما قال الطرطوشي طاشت فيها أحلام الخلق ، فكثير ممن تقدم وتأخر من العلماء عينوها ، لكن في الطوائف التي خالفت في مسائل العقائد:
فمنهم من عد أصولها ثمانية ، فقال: كبار الفرق الإسلامية ثمانية: المعتزلة ، والشيعة ، والخوارج ، والمرجئة ، والنجارية ، والجبرية ، والمشبهة ، والناجية.
فإن كان رسول الله صلى الله عليه وسلم أراد بتفرق أمته أصول العقائد التي تجري مجرى الأجناس للأنواع ، والمعاقد للفروع ، لعلهم - والعلم عند الله - ما بلغوا هذا العدد إلى الآن ، غير أن الزمان باق والتكليف قائم والخطرات متوقعة ، وهل قرن أو عصر يخلو إلا وتحدث فيه البدع؟!
وإن كان أراد بالتفرق كل بدعة حدثت في دين الإسلام مما لا يلاءم أصول الإسلام ولا تقبلها قواعده ، من غير التفات إلى التقسيم الذي ذكرنا ، كانت البدع أنواعا لأجناس ، أو كانت متغايرة الأصول والمباني.
فهذا الذي أراده صلى الله عليه وسلم والعلم عند الله - فقد وجد من ذلك عدد كثير من اثنتين وسبعين فرقة
--------------------------------------------
উম্মত তেহাত্তর দলে বিভক্ত হওয়া সংক্রান্ত বর্ণিত (المروى) হাদিসের ব্যাখ্যা এই ধরণের মতভেদের ক্ষেত্রেই সঠিক হয়, সেই সকল মতভেদের ক্ষেত্রে নয় যাতে ফিকহশাস্ত্রের ইমামগণ হালাল ও হারামের অধ্যায়গুলোতে বিধি-বিধানের শাখা-প্রশাখা নিয়ে মতভেদ করেছেন। কারণ তারা শাখা-প্রশাখার বিধি-বিধানের যে বিষয়েই মতভেদ করেছেন, তাতে একে অপরকে কাফির বা গোমরাহ আখ্যা দেননি।
* * *
শাহরাস্তানি তাঁর আল-মিলাল ওয়ান নিহাল (১) গ্রন্থে বলেছেন:
প্রধান ইসলামি দলসমূহ চারটি:
১) কাদারিয়া
২) সিফাতিয়া
৩) খাওয়ারিজ
৪) শিয়া
অতঃপর তাদের কেউ কেউ একে অপরের সাথে মিলিত হয়েছে এবং প্রতিটি দল থেকে বিভিন্ন উপদল তৈরি হয়েছে, যা শেষ পর্যন্ত তেহাত্তরটি দলে গিয়ে পৌঁছেছে।
* * *
ড. মুস্তফা বিন মুহাম্মদ মুস্তফা তাঁর "তারিখুল ফিরাকিল ইসলামিয়া" কিতাবের ৭৯ - ৮৩ পৃষ্ঠায় বলেছেন:
সপ্তম মাসআলা: এই দলগুলোকে চিহ্নিত করা প্রসঙ্গে
এটি এমন একটি মাসআলা যেমনটি তুরতুশি বলেছেন যে, এতে মানুষের বুদ্ধি দিশেহারা হয়ে পড়েছে। পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী আলেমদের অনেকে এই দলগুলোকে সুনির্দিষ্ট করেছেন, তবে তা সেই সকল দলের ক্ষেত্রে যারা আকিদাগত বিষয়ে বিরোধিতা করেছে:
তাদের মধ্যে কেউ কেউ এর মূল নীতিগুলোকে আটটি গণ্য করেছেন এবং বলেছেন: প্রধান ইসলামি দলসমূহ আটটি: মুতাজিলা, শিয়া, খাওয়ারিজ, মুরজিয়া, নাজ্জারিয়া, জাবারিয়া, মুসাব্বিহা এবং মুক্তিপ্রাপ্ত (الناجية)।
যদি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উম্মতের বিভক্ত হওয়া বলতে আকিদার সেই মৌলিক বিষয়গুলোকে উদ্দেশ্য করে থাকেন যা বিভিন্ন প্রকারের জন্য মূল সত্তা এবং শাখা-প্রশাখার জন্য ভিত্তি হিসেবে কাজ করে, তবে সম্ভবত—আর প্রকৃত জ্ঞান আল্লাহর কাছেই—তারা এখন পর্যন্ত এই সংখ্যায় পৌঁছেনি। তবে সময় এখনও বাকি আছে, শরিয়তের বিধান কার্যকর আছে এবং নতুন ফিতনার আশঙ্কা বিদ্যমান। এমন কি কোনো যুগ বা কাল অতিবাহিত হয় যাতে বিদআত (البدع) সৃষ্টি হয় না?
আর যদি তিনি বিভক্তি বলতে ইসলাম ধর্মে উদ্ভূত এমন প্রতিটি বিদআতকে (بدعة) বুঝিয়ে থাকেন যা ইসলামের মূলনীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং ইসলামের নিয়মকানুন তা গ্রহণ করে না, আমাদের উল্লিখিত বিভাজনের দিকে ভ্রুক্ষেপ না করে—চাই সেই বিদআতগুলো (البدع) মূল সত্তার প্রকার হিসেবে হোক কিংবা মূল ভিত্তি ও কাঠামোর দিক থেকে ভিন্ন হোক—
তবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা উদ্দেশ্য করেছেন—আর প্রকৃত জ্ঞান আল্লাহর কাছেই—তাতে বাহাত্তরটি দলের চেয়েও অনেক বেশি সংখ্যা পাওয়া গেছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াকফাতুন হাদিয়াতুন মাআত তায়িনীনা ফী জামাআতিদ দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
ووجه صحيح الحديث على هذا أن يخرج من الحساب غلاة أهل البدع ، ولا يعدون من الأمة ولا في أهل القبلة ، كنفاة الأعراض من القدرية ، وكالحلولية ، والنصيرية ، وأشباههم من الغلاة.
هذا ما قاله الطرطوشي رحمه الله تعالى ، وهو حسن التقرير ، غير أنه يبقى للنظر في كلامه مجالان:
أحدهما:أن ما اختار من أنه ليس المراد الأجناس ، فإن كان مراده مجرد أعيان البدع ، وقد ارتضى اعتبار البدع القولية والعملية ، فمشكل؛ لأنا إذا اعتبرنا كل بدعة دقت أو جلت فكل من ابتدع بدعة كيف كانت لزم أن يكون هو ومن تابعه عليها فرقة فلا تقف في مئة ولا مئتين فضلا عن وقوعها في اثنتين وسبعين فإن البدع - كما قال - لا تزال تحدث مع مرور الأزمنة إلى قيام الساعة.
وقد مر النقل ما يشعر بهذا المعنى ، وهو قول ابن عباس: " ما من عام إلا والناس يحيون فيه بدعة ويميتون فيه سنة حتى تحيا البدع وتموت السنن ".
وهذا موجود في الواقع فإن البدع قد نشأت إلى الآن ولا تزال تكثر وإن فرضنا إزالة بدع الزائغين في العقائد كلها لكان الذي يبقى أكثر من اثنتين وسبعين ، فما قاله - والله أعلم - غير مُخَلِّص.
والثاني: أن حاصل كلامه أن هذه الفرق لم تتعين بعد ، بخلاف القول المتقدم وهو أصح في النظر؛ لأن ذلك التعيين ليس عليه دليل والعقل لا يقتضيه.
فالأولى ما قاله من عدم التعيين ، وإن سلمنا أن الدليل قام له على ذلك ، فلا ينبغي للتعيين.
أما أولا: فإن الشريعة قد فهمنا منها أنها تشير إلى أوصافهم من غير تصريح ليحذر منها ، ويبقى الأمر في تعيين الداخلين في مقتضى الحديث وإنما ورد التعيين في النادر كما قال صلى الله عليه وسلم في الخوارج " إن من ضئضئ هذا قوما يقرؤون القرآن لا يجاوز حناجرهم .... " الحديث ، مع أنه صلى الله عليه وسلم لم يُعَرِّف أنهم ممن شملهم الحديث.
এই ভিত্তিতে হাদিসটি সহীহ (صحيح) হওয়ার ধরণ হলো, বিদআতের চরমপন্থীদের (غلاة أهل البدع) হিসেব থেকে বাদ দেওয়া হবে। তারা উম্মাহর অন্তর্ভুক্ত নয় এবং আহলে কিবলা হিসেবেও গণ্য হবে না; যেমন কদরিয়াদের মধ্যে গুণের অস্বীকারকারী (নফাতে আ'রাজ), হুলুলিয়া, নুসাইরিয়া এবং তাদের মতো অন্যান্য চরমপন্থীরা।
এটিই ইমাম তর্তুশি (রহ.) বলেছেন এবং এটি একটি উত্তম উপস্থাপন। তবে তার বক্তব্যের পর্যালোচনায় দুটি ক্ষেত্র অবশিষ্ট থেকে যায়:
প্রথমত: তিনি যে মতটি গ্রহণ করেছেন যে এখানে মূল প্রকারসমূহ উদ্দেশ্য নয়; যদি তার উদ্দেশ্য হয় স্রেফ সুনির্দিষ্ট বিদআতসমূহ (بدعة) এবং তিনি যদি মৌখিক ও ব্যবহারিক উভয় প্রকার বিদআতকে গণ্য করা পছন্দ করে থাকেন, তবে তা সমস্যাযুক্ত। কারণ আমরা যদি ছোট-বড় প্রতিটি বিদআতকে গণ্য করি, তবে যে ব্যক্তিই যে কোনো বিদআত উদ্ভাবন করবে এবং যারা তার অনুসরণ করবে, তারা একটি পৃথক ফেরকা (فرقة) হিসেবে সাব্যস্ত হবে। সেক্ষেত্রে তাদের সংখ্যা একশো বা দুইশোতেও সীমাবদ্ধ থাকবে না, বাহাত্তর তো দূরের কথা। কারণ বিদআতসমূহ—যেমনটি তিনি বলেছেন—কিয়ামত পর্যন্ত সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে সৃষ্টি হতেই থাকবে।
ইতিপূর্বে এমন কিছু উদ্ধৃতি অতিক্রান্ত হয়েছে যা এই অর্থটিকেই নির্দেশ করে, আর তা হলো ইবনে আব্বাস (রা.)-এর উক্তি: "এমন কোনো বছর আসে না যাতে মানুষ কোনো বিদআত (بدعة) পুনরুজ্জীবিত করে না এবং কোনো সুন্নাহকে মৃত করে দেয় না; এভাবে এক সময় বিদআতগুলো জ্যান্ত হয়ে যায় এবং সুন্নাহগুলো বিলুপ্ত হয়ে যায়।"
বাস্তবতাও তাই, কারণ বিদআতসমূহ এখন পর্যন্ত সৃষ্টি হয়েই চলেছে এবং সর্বদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমরা যদি আকিদার ক্ষেত্রে সকল পথভ্রষ্টদের বিদআতসমূহকে বাদ দিয়েও ধরি, তবুও যা অবশিষ্ট থাকবে তার সংখ্যা বাহাত্তরের বেশি হবে। সুতরাং তিনি যা বলেছেন—আল্লাহই ভালো জানেন—তা নিরঙ্কুশ নয়।
দ্বিতীয়ত: তার বক্তব্যের সারমর্ম হলো এই ফেরকাগুলো (فرق) এখনো নির্দিষ্ট হয়নি, যা পূর্ববর্তী মতের বিপরীত এবং এটিই পর্যালোচনায় অধিকতর সঠিক (أصح); কারণ এই সুনির্দিষ্টকরণের ওপর কোনো দলিল (دليل) নেই এবং যুক্তিও তা দাবি করে না।
সুতরাং সুনির্দিষ্ট না করার যে মতটি তিনি দিয়েছেন সেটিই অগ্রগণ্য। আর যদি আমরা মেনেও নেই যে এ ব্যাপারে তার স্বপক্ষে দলিল (دليل) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তবুও সুনির্দিষ্ট করা সমীচীন নয়।
প্রথমত: শরয়ি বিধান থেকে আমরা যা বুঝতে পারি তা হলো, এটি স্রেফ তাদের বৈশিষ্ট্যসমূহের দিকে ইঙ্গিত করে যেন সেগুলো থেকে সতর্ক থাকা যায়, কিন্তু নাম উল্লেখ করে স্পষ্ট করা হয়নি। আর হাদিসের মর্মার্থের অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিদের সুনির্দিষ্ট করার বিষয়টি উহ্যই থেকে গেছে। কেবল বিরল কিছু ক্ষেত্রেই সুনির্দিষ্ট করার বিষয়টি এসেছে, যেমন নবী (সা.) খারেজিদের (خوارج) সম্পর্কে বলেছিলেন: "এই ব্যক্তির বংশধর থেকে এমন এক কওমের আবির্ভাব ঘটবে যারা কুরআন পাঠ করবে কিন্তু তা তাদের কণ্ঠনালীর নিচে নামবে না..." (হাদিস)। অথচ রাসূল (সা.) এটি পরিষ্কার করেননি যে তারা সেইসব লোকদের অন্তর্ভুক্ত কি না যাদের কথা মূল হাদিসে বলা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
ওয়াকফাতুন হাদিয়াতুন মাআত তায়িনীনা ফী জামাআতিদ দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
أما الثانية: فلأن التعيين هو الذي ينبغي أن يلتزم؛ ليكون سترا على الأمة كما سترت على قبائحهم فلم يُفْضَحوا في الدنيا بها في الغالب.
وأمرنا بالستر على المذنبين ما لم تبد لنا صفحة الخلاف.
وأيضا ، فللستر حكمة أخرى وهي أنها لو أظهرت مع أن أصحابها من الأمة لكان في ذلك داع إلى الفرقة وعدم الألفة التي أمر الله ورسوله صلى الله عليه وسلم بها ، قال الله " واعتصموا بحبل الله جميعا ولا تفرقوا " ، وقال " فاتقوا الله وأصلحوا ذات بينكم " ، وقال " ولا تكونوا كالذين تفرقوا واختلفوا من بعد ما جاءهم البينات ".
فإذا كان من مقتضى العادة أن التعريف بهم على التعيين يورث العداوة بينهم والفرقة ، لزم من ذلك أن يكون منهيا ، إلا أن تكون البدعة فاحشة جدا كبدعة الخوارج وذكرهم بعلامتهم حتى يعرفوا ويلحق بذلك ما هو مثله في الشناعة أو قريب منه بحسب نظر المجتهد وما عدا ذلك فالسكوت أولى.
فمن هنا لا ينبغي للراسخ في العلم أن يقول: هؤلاء الفرق هم بنو فلان ، وبنو فلان! وإن كان يُعَرِّف بعلامتهم بحسب اجتهاده اللهم إلا في موطنين:
أحدهما: حيث نبه الشرع على تعيينهم كالخوارج فإنه ظهر من استقرائه أنهم متمكنون تحت حديث الفرق ويجرى مجراهم من سلك سبيلهم ، فإن أقرب الناس إلى شيعة المهدي المغربي فإنه ظهر فيهم الأمر اللذان عَرَّ ف النبي صلى الله عليه وسلم بهما الخوارج من أنهم يقرؤون القرآن لا يجاوز حناجرهم ، وأنهم يقتلون أهل الإسلام ويدعون أهل الأوثان.
الثاني: حيث تكون الفرقة تدعو إلى ضلالتها وتزيينها في قلوب العوام ومن لا علم عنده؛ فإن ضرر هؤلاء على المسلمين كضرر إبليس وهم من شياطين الإنس فلا بد من التصريح بأنهم من أهل البدعة والضلالة ونسبتهم إلى الفرق إذا قامت له الشواهد على أنهم منهم كما اشتهر عن عمرو بن عبيد
وغيره.
দ্বিতীয়ত: কেননা নির্দিষ্টকরণ (التعيين) পরিহার করাই সমীচীন; যাতে উম্মতের জন্য তা একটি আবরণ হয়, যেভাবে তাদের দোষত্রুটি ঢেকে রাখা হয়েছে এবং সাধারণত দুনিয়াতে তাদের জনসমক্ষে অপমানিত করা হয়নি।
আর আমাদের আদেশ দেওয়া হয়েছে অপরাধীদের দোষ গোপন রাখতে, যতক্ষণ না অবাধ্যতার বিষয়টি আমাদের সামনে প্রকাশ্য রূপ লাভ করে।
এছাড়াও, এই গোপনীয়তার পেছনে আরেকটি হিকমত রয়েছে, আর তা হলো—তারা উম্মতের অন্তর্ভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও যদি তাদের দোষ প্রকাশ করে দেওয়া হতো, তবে তা বিভেদ এবং হৃদ্যতাহীনতার কারণ হতো, অথচ আল্লাহ এবং তাঁর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হৃদ্যতা বজায় রাখার আদেশ দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেছেন, "তোমরা আল্লাহর রজ্জুকে ঐক্যবদ্ধভাবে আঁকড়ে ধরো এবং বিচ্ছিন্ন হয়ো না।" তিনি আরও বলেছেন, "অতএব তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং তোমাদের মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্কের সংশোধন করো।" তিনি আরও বলেন, "তোমরা তাদের মতো হয়ো না যারা তাদের কাছে স্পষ্ট নিদর্শন আসার পর বিচ্ছিন্ন হয়েছে এবং মতভেদ করেছে।"
সুতরাং যখন এটি সাধারণ স্বভাবজাত বিষয় যে, নাম ধরে নির্দিষ্ট করার মাধ্যমে তাদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া পারস্পরিক শত্রুতা ও বিভেদ সৃষ্টি করে, তখন তা অবশ্যই নিষিদ্ধ হবে। তবে যদি সেই উদ্ভাবন (بدعة) চরম পর্যায়ের হয়, যেমন খারেজীদের (الخوارج) উদ্ভাবন (بدعة), এবং তাদের নিদর্শনের কথা উল্লেখ করার মাধ্যমে তাদের পরিচয় স্পষ্ট করা হয় যাতে তাদের চেনা যায়, তবে তা ভিন্ন কথা। একইভাবে এমন বিষয় যা জঘন্যতায় এর সমতুল্য বা নিকটবর্তী—মুজতাহিদের (مجتهد) দৃষ্টিতে—তাও এর সাথে অন্তর্ভুক্ত হবে। এছাড়া অন্য সব ক্ষেত্রে নীরবতা অবলম্বন করাই শ্রেয়।
এ কারণেই ইলমে গভীর পাণ্ডিত্যের অধিকারী (الراسخ في العلم) ব্যক্তির জন্য এটি সমীচীন নয় যে তিনি বলবেন: "অমুক অমুক গোষ্ঠীই হলো এই সব দল!" যদিও তিনি তার ইজতিহাদের (اجتهاد) ভিত্তিতে তাদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করবেন। তবে আল্লাহর ইচ্ছায় এর ব্যতিক্রম রয়েছে দুটি ক্ষেত্রে:
প্রথমটি: যখন শরীয়ত (الشرع) তাদের নির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করে দিয়েছে, যেমন খারেজীগণ (الخوارج)। কেননা পর্যালোচনার (استقراء) মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, তারা দলসমূহ (الفرق) সম্পর্কিত হাদিসের অন্তর্ভুক্ত। আর যারা তাদের পথ অনুসরণ করবে তারাও একই পর্যায়ভুক্ত হবে। যেমন মাগরিবি মাহদীর অনুসারীদের মধ্যে সেই দুটি বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পেয়েছে যার দ্বারা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) খারেজীদের (الخوارج) পরিচয় দিয়েছিলেন; তা হলো—তারা কুরআন পাঠ করে কিন্তু তা তাদের কণ্ঠনালীর নিচে নামে না এবং তারা মুসলমানদের হত্যা করে অথচ মূর্তিপূজকদের ছেড়ে দেয়।
দ্বিতীয়টি: যখন কোনো দল (الفرقة) তাদের ভ্রষ্টতার (ضلالة) দিকে আহ্বান করে এবং সাধারণ মানুষ ও যাদের জ্ঞান নেই তাদের অন্তরে তাকে সুশোভিত করে দেখায়। মুসলমানদের ওপর এদের ক্ষতি ইবলিসের ক্ষতির মতো এবং এরা হলো মানুষরূপী শয়তান। এমতাবস্থায় তারা যে বিদআতি (أهل البدعة) এবং ভ্রষ্ট (الضلالة) তা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করা আবশ্যক। আর যদি তারা নির্দিষ্ট কোনো দলের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার প্রমাণ থাকে, তবে তাদের সে দলের দিকে সম্বন্ধিত করাও আবশ্যক; যেমনটি আমর বিন উবাইদ ও অন্যদের ব্যাপারে প্রসিদ্ধ রয়েছে।
এবং অন্যান্য।
(খণ্ড: ১)
ওয়াকফাতুন হাদিয়াতুন মাআত তায়িনীনা ফী জামাআতিদ দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
فإذا فقد الأمران فلا ينبغي أن يُذْكَروا ولا أن يُعَيَّنوا وإن وُجِدوا؛ لأن ذلك أول مثير للشر وإلقاء العداوة والبغضاء ، ومتى حصل باليد منهم من أحد ذاكره بالرفق ولم ير أنه خارج من السنة ، بل يريه أنه مخالف للدليل الشرعي ، وأن الصواب الموافق للسنة كذا وكذا ، فإن فعل ذلك من غير تعصب ولا إظهار غلبة فهو أنجع وأنفع ، وبهذه الطريقة دُعِيَ الخلق أولا إلى الله تعالى حتى إذا عاندوا وأشاعوا الخلاف وأظهروا الفُرْقَة قوبلوا بحسب ذلك.
قال أبوحامد الغزالي في بعض كتبه: " أكثر الجهالات إنما رسخت في قلوب العوام بتعصب جماعة من جهال أهل الحق أظهروا الحق في معرض التحدي والإذلال ونظروا إلى ضعفاء الخصوم بعين التحقير والازدراء فثارت من بواطنهم دواعي المخالفة والمعاندة ورسخت في قلوبهم الاعتقادات الباطلة وتعذر على العلماء المتلطفين محوها مع ظهور فسادها ".
قال الشيخ - حفظه الله - في صـ 85:
" تحديد الفرق الثنتين والسبعين على سبيل التعيين وتوزيع الأعداد تحديدا على أصول الفرق الكبرى أمر غيبي لا دليل عليه ، وكذلك تسميتها من باب الأولى لأن الافتراق يزداد والأهواء والبدع تتجدد وتنبعث في كل عصر وإلى قيام الساعة والله أعلم.
وقال في صـ 87 - 88:
" لقد حاول بعض العلماء ومؤلفو كتب المقالات تسمية الفرق الثنتين والسبعين وتحديدها عدديا وتوزيع ذلك على أصول الفرق الكبرى ، وكل ذلك اجتهاد من هؤلاء لا يسنده دليل لا سيما وأن المسألة غيبية؛ لأن النبي صلى الله عليه وسلم حينما أخبر لم يتجاوز ذلك العدد وأطلق الزمان والمكان فيبقى احتمال خروج الفرق إلى قيام الساعة وعلى هذا فلا يستطيع أحد أن يحدد هذه الفرق على سبيل الجزم لأن الأمر غيبي والله أعلم ". انتهى كلام الشيخ مصطفى
* * *
সুতরাং যদি এই দুটি বিষয় অনুপস্থিত থাকে, তবে তাদের কথা উল্লেখ করা বা নির্দিষ্ট করা উচিত নয়, এমনকি যদি তাদের অস্তিত্বও থাকে; কারণ এটি অনিষ্টকে উসকে দেওয়ার এবং শত্রুতা ও ঘৃণা ছড়িয়ে দেওয়ার প্রথম ধাপ। আর যখন তাদের মধ্য থেকে কেউ নাগালে আসে, তখন তার সাথে নম্রভাবে আলোচনা করতে হবে এবং তাকে সুন্নাহ বহির্ভূত (خارج من السنة) বলে গণ্য করা যাবে না; বরং তাকে বুঝিয়ে দিতে হবে যে তার অবস্থান শরয়ি দলিলের পরিপন্থী এবং সুন্নাহর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ সঠিক বিষয়টি হলো এই এই। যদি এই কাজটি কোনো গোঁড়ামি বা শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করা ছাড়াই করা হয়, তবে তা অধিকতর কার্যকর ও ফলপ্রসূ হয়। এই পদ্ধতির মাধ্যমেই সৃষ্টির সূচনালগ্নে মানুষকে মহান আল্লাহর দিকে আহ্বান করা হয়েছিল, যতক্ষণ না তারা হঠকারিতা প্রদর্শন করত, মতবিরোধ ছড়াত এবং বিচ্ছিন্নতা প্রকাশ করত; তখন পরিস্থিতি অনুযায়ী তাদের মোকাবেলা করা হতো।
আবু হামিদ আল-গাজালি তাঁর কোনো এক গ্রন্থে বলেছেন: "সাধারণ মানুষের অন্তরে অধিকাংশ মূর্খতা বদ্ধমূল হয়েছে সত্যপন্থীদের মধ্য থেকে একদল জাহেলের গোঁড়ামির কারণে; তারা সত্যকে চ্যালেঞ্জ ও অপদস্থ করার ভঙ্গিতে উপস্থাপন করেছে এবং প্রতিপক্ষের দুর্বলদের তুচ্ছজ্ঞান ও অবজ্ঞার দৃষ্টিতে দেখেছে। ফলে তাদের অন্তরের গভীর থেকে বিরোধিতা ও হঠকারিতার তাড়না জেগে উঠেছে এবং তাদের হৃদয়ে ভ্রান্ত বিশ্বাসগুলো বদ্ধমূল হয়েছে। এমতাবস্থায় বিনয়ী আলেমদের পক্ষে সেগুলোর অসারতা প্রকাশ পাওয়ার পরও তা নির্মূল করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।"
শায়খ (আল্লাহ তাঁকে হেফাজত করুন) ৮৫ পৃষ্ঠায় বলেছেন:
"বাহাত্তরটি দলকে সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা এবং বৃহৎ মূল দলগুলোর মধ্যে সংখ্যার সুনির্দিষ্ট বণ্টন করা একটি গায়েবি বিষয় যার কোনো দলিল নেই। একইভাবে সেগুলোর নামকরণ করাও অধিকতর অনুচিত, কারণ বিভক্তি ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং প্রবৃত্তি ও নবউদ্ভাবিত বিষয় (بدعة) প্রতিটি যুগে পুনরুজ্জীবিত ও উত্থাপিত হচ্ছে এবং কিয়ামত পর্যন্ত এটি অব্যাহত থাকবে। আল্লাহই ভালো জানেন।
তিনি ৮৭-৮৮ পৃষ্ঠায় বলেছেন:
"কিছু আলেম এবং মাকালাত (মতামত বিষয়ক) গ্রন্থ প্রণেতারা বাহাত্তরটি দলের নামকরণ এবং সেগুলোকে সংখ্যাতাত্ত্বিকভাবে নির্ধারণ করে প্রধান দলগুলোর মধ্যে বণ্টন করার চেষ্টা করেছেন। এ সবই তাঁদের ইজতিহাদ মাত্র যার স্বপক্ষে কোনো দলিল নেই, বিশেষ করে বিষয়টি গায়েবি হওয়ার কারণে। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সংবাদ দিয়েছিলেন, তখন তিনি কেবল সেই সংখ্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন এবং সময় ও স্থানকে শর্তহীন রেখেছিলেন। তাই কিয়ামত পর্যন্ত নতুন নতুন দলের উদ্ভব হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়। এর ভিত্তিতে কেউই এই দলগুলোকে সুনিশ্চিতভাবে নির্দিষ্ট করতে পারে না, কারণ বিষয়টি গায়েবি এবং আল্লাহই ভালো জানেন।" শায়খ মুস্তফার বক্তব্য সমাপ্ত।
* * *
(খণ্ড: ১)
ওয়াকফাতুন হাদিয়াতুন মাআত তায়িনীনা ফী জামাআতিদ দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
يتبين مما سبق أن السلف رحمهم الله ومن أَلَّفَ في الفرق جعل أصول الفرق: الخوارج والقدرية والمرجئة والشيعة ، وقسموهم بهذا الإعتبار إلى اثنتين وسبعين فرقة فإنك إما أن تأخذ بكلام السلف الذين لم يدخلوا فيهم الإخوان المسلمين ولا التبليغ ، أوتستدل بكلام الشيخ مصطفى حفظه الله فيلزمك أن تلتزم بما ذكره من عدم التعيين لأنه بناه على علل ذكرها ، ولا يمكن أن تأخذ الشطر الأول من كلامه وتقول: إن الشيخ قال: " إن الفرق لم تعين فأنا أدخل الإخوان والتبليغ فيهم ".
أقول لك: لا يمكن ذلك لأنك خالفت كلامه ولم توافقه؛ لأنه بنى كلامه على علل ذكرها فعليك أن تلتزم بتلك العلل لا أن تفرغ قوله منها فلا يبقى للكلام حينئذ وجه للاستدلال به.
فإذا قلت لي: هو قال: لا نسكت على أهل البدع في حالتين وهو يناسب الإخوان والتبليغ.
أقول لك: لا تبتر كلام العلماء فإن الشيخ حفظه الله قد ضرب مثالا لمن يُشَهَّرُ به وهو عمرو بن عبيد رأس المعتزلة الذين خالفوا الشرع في أصول كثيرة في الصفات والقدر والإيمان وأشنعها عرض نصوص الكتاب والسنة على العقل فإذا وافقا العقل أخذا به وإلا فلا.
* * *
أما الضابط الذي اعتمد عليه العلماء في جعل فرقة بعينها من الفرق المخالفة فإليك أقوال أهل العلم في ذلك:
قال الشهرستاني في كتاب الملل والنحل:
المقدمة الثانية في تعيين قانون يبنى عليه تعديد الفرق الإسلامية
পূর্বের আলোচনা থেকে স্পষ্ট হয় যে, সালাফ (আল্লাহ তাদের ওপর রহম করুন) এবং যারা দলসমূহ (الفرق) নিয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন, তারা দলসমূহের মূল ভিত্তি (أصول الفرق) হিসেবে: খাওয়ারিজ, কাদারিয়া, মুরজিয়া ও শিয়াকে নির্ধারণ করেছেন এবং এই বিচারে তারা এদেরকে বাহাত্তরটি দলে (فرقة) বিভক্ত করেছেন। এখন আপনি হয় সেই সালাফদের কথা গ্রহণ করবেন যারা এদের মধ্যে ইخوانুল মুসলিমিন বা তাবলিগকে অন্তর্ভুক্ত করেননি, অথবা আপনি শায়খ মুস্তফার (আল্লাহ তাকে হিফজ করুন) বক্তব্যের মাধ্যমে দলিল পেশ করবেন। সেক্ষেত্রে আপনাকে তিনি যা উল্লেখ করেছেন অর্থাৎ সুনির্দিষ্ট না করার বিষয়টি মেনে নিতে হবে, কারণ তিনি এটি তার উল্লিখিত কিছু কারণের (علل) ওপর ভিত্তি করে বলেছেন। তার বক্তব্যের প্রথম অংশ গ্রহণ করে এটি বলা সম্ভব নয় যে: "শায়খ যেহেতু বলেছেন যে দলগুলো সুনির্দিষ্ট করা হয়নি, তাই আমি ইخوان ও তাবলিগকে এর অন্তর্ভুক্ত করব।"
আমি আপনাকে বলব: এটি সম্ভব নয় কারণ আপনি তার বক্তব্যের বিরোধিতা করেছেন এবং তার সাথে একমত হননি; কেননা তিনি তার বক্তব্য কিছু কারণের (علل) ওপর ভিত্তি করে প্রদান করেছেন। সুতরাং আপনার জন্য আবশ্যক হলো সেই কারণগুলো মেনে চলা, তার বক্তব্য থেকে সেগুলোকে বাদ দেওয়া নয়। অন্যথায় সেই বক্তব্য থেকে দলিল গ্রহণের আর কোনো ভিত্তি অবশিষ্ট থাকে না।
আপনি যদি আমাকে বলেন: তিনি বলেছেন, দুই অবস্থায় বিদআতপন্থীদের (أهل البدع) ব্যাপারে চুপ থাকা যাবে না এবং এটি ইخوان ও তাবলিগের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
আমি আপনাকে বলব: আলেমদের বক্তব্য কাটছাঁট করবেন না। শায়খ (আল্লাহ তাকে হিফজ করুন) এমন একজনের উদাহরণ দিয়েছেন যার মুখোশ উন্মোচন করা হয়েছে, আর তিনি হলেন আমর ইবনে উবাইদ—মুতাযিলাদের প্রধান, যারা সিফাত (صفات), তাকদির (قدر) এবং ইমান (إيمان) সংশ্লিষ্ট অনেক মূলনীতিতে (أصول) শরয়ি বিধানের বিরোধিতা করেছে। তাদের সবচেয়ে জঘন্য কাজ হলো কুরআন ও সুন্নাহর নসসমূহকে (نصوص) যুক্তির সামনে উপস্থাপন করা; যদি তা যুক্তির সাথে মিলে যায় তবে তারা তা গ্রহণ করে, অন্যথায় নয়।
* * *
কোনো নির্দিষ্ট দলকে পথভ্রষ্ট দলসমূহের (الفرق المخالفة) অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে আলেমগণ যে মানদণ্ডের (ضابط) ওপর নির্ভর করেছেন, সে বিষয়ে আলেমদের বক্তব্য নিচে তুলে ধরা হলো:
শাহরাস্তানি কিতাবুল মিলাল ওয়ান নিহাল গ্রন্থে বলেছেন:
দ্বিতীয় ভূমিকা: ইসলামি দলসমূহের (الفرق الإسلامية) সংখ্যা নির্ধারণের ভিত্তি হিসেবে একটি নিয়ম (قانون) নির্দিষ্টকরণ প্রসঙ্গে।
(খণ্ড: ১)
ওয়াকফাতুন হাদিয়াতুন মাআত তায়িনীনা ফী জামাআতিদ দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
اعلم أن لأصحاب المقالات طرقا في تعديد الفرق الإسلامية لا على قانون مستند إلى أصل ونص ولا على قاعدة مخبرة عن الوجود ، فما وجدت مصنفين منهم متفقين على منهاج واحد في تعديد الفرق ، ومن المعلوم الذى لا مراء فيه أن ليس كل من تميز عن غيره بمقالة ما في مسألة ما عد صاحب مقاله ، وإلا فتكاد تخرج المقالات عن حد الحصر والعد ويكون من انفرد بمسألة فى أحكام الجواهر مثلا معدودا فى عداد أصحاب المقالات ، فلا بد إذن من ضابط فى مسائل هى أصول وقواعد يكون الاختلاف فيها اختلافا يعتبر مقالة ويعد صاحبه صاحب مقالة.
وما وجدت لأحد من أرباب المقالات عناية بتقرير هذا الضابط إلا أنهم استرسلوا في إيراد مذاهب الأمة كيف اتفق وعلى الوجه الذي وجد لا على قانون مستقر وأصل مستمر فاجتهدت على ما تيسر من التقدير وتقدر من التيسير حتى حصرتها في أربع قواعد هى الأصول الكبار:
القاعدة الاولى: الصفات والتوحيد:
وهى تشتمل على مسائل الصفات الأزلية إثباتا عند جماعة ونفيا عند جماعة وبيان صفات الذات وصفات الفعل وما يجب لله تعالى وما يجوز عليه وما يستحيل ، وفيها الخلاف بين الأشعرية والكرامية والمجسمة والمعتزلة.
القاعدة الثانية: القدر والعدل:
وهي تشتمل على مسائل القضاء والقدر والجبر والكسب وإرادة الخير والشر والمقدور والمعلوم إثباتا عند جماعة ونفيا عند جماعة ، وفيها الخلاف بين القدرية والنجارية والجبرية والأشعرية والكرامية
القاعدة الثالثة: الوعد والوعيد والأسماء والأحكام:
وهي تشتمل على مسائل الإيمان والتوبة والوعيد والإرجاء والتكفير والتضليل إثباتا على وجه عند جماعة ونفيا عند جماعة ، وفيها الخلاف بين المرجئة والوعيدية والمعتزلة والأشعرية والكرامية.
القاعدة الرابعة: السمع والعقل والرسالة والإمامة:
জেনে রাখুন যে, বিভিন্ন মতবাদ রচয়িতাদের নিকট ইসলামি দলসমূহ গণনার ক্ষেত্রে এমন কিছু পদ্ধতি রয়েছে যা কোনো মূলনীতি (أصل) বা অকাট্য পাঠের (نص) ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত নয় এবং বাস্তব অস্তিত্ব সম্পর্কে সংবাদ দানকারী কোনো নিয়ম (قاعدة) এর ওপরও নির্ভরশীল নয়। ফলে আমি তাদের মধ্যকার এমন কোনো দুইজন লেখককে পাইনি যারা দলসমূহ গণনার ক্ষেত্রে কোনো একটি সুনির্দিষ্ট পদ্ধতির ওপর একমত হয়েছেন। এটি একটি সুনিশ্চিত বিষয় যাতে কোনো প্রকার সংশয় নেই যে, কোনো একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে কোনো একটি মতবাদের কারণে অন্যের থেকে আলাদা হওয়া প্রত্যেক ব্যক্তিকেই সেই মতবাদের প্রবক্তা হিসেবে গণ্য করা যাবে না। অন্যথায়, মতবাদসমূহ গণনা ও সীমাবদ্ধতার সীমা অতিক্রম করবে এবং উদাহরণস্বরূপ যে ব্যক্তি মৌলিক উপাদানসমূহের বিধানের কোনো একটি মাসআলায় একাকী কোনো মত পোষণ করে, তাকেও মতবাদ রচয়িতাদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। সুতরাং এমন কিছু বিষয়ের ক্ষেত্রে একটি মানদণ্ড থাকা আবশ্যক যা হলো মূলনীতিসমূহ (أصول) ও নিয়মাবলি (قواعد), যেখানে মতভেদ করাকে স্বতন্ত্র একটি মতবাদ হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং তার প্রবক্তাকে একজন স্বতন্ত্র মতবাদের অধিকারী হিসেবে গণ্য করা হবে।
আমি কোনো মতবাদ রচয়িতার মধ্যেই এই মানদণ্ড সুপ্রতিষ্ঠিত করার ব্যাপারে বিশেষ যত্ন নিতে দেখিনি; বরং তারা উম্মতের মাযহাবসমূহ যেভাবে পাওয়া গেছে তা কোনো সুস্থিত নিয়ম বা নিরবচ্ছিন্ন মূলনীতি (أصل) ছাড়াই বর্ণনা করে গেছেন। তাই আমি সামর্থ্য অনুযায়ী বিষয়টিকে বিন্যস্ত করার ক্ষেত্রে যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি, যার ফলে আমি এগুলোকে চারটি প্রধান মূলনীতির (أصول) অন্তর্ভুক্ত করেছি যা হলো বড় মূল ভিত্তি:
প্রথম মূলনীতি (قاعدة): গুণাবলি ও তাওহিদ:
এতে একদলের নিকট সাব্যস্তকরণ (إثبات) এবং অন্যদলের নিকট অস্বীকারকরণের (نفي) ভিত্তিতে অনাদি গুণাবলি সংক্রান্ত মাসআলাসমূহ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া সত্তাগত গুণাবলি ও কর্মগত গুণাবলির বর্ণনা এবং আল্লাহর জন্য যা আবশ্যক, যা সম্ভব এবং যা অসম্ভব—তাও এর অন্তর্ভুক্ত। এই বিষয়ে আশআরিয়া, কাররামিয়া, মুজাসসিমা ও মুতাজিলাদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।
দ্বিতীয় মূলনীতি (قاعدة): ভাগ্য নির্ধারণ (قدر) ও ইনসাফ:
এতে একদলের নিকট সাব্যস্তকরণ (إثبات) এবং অন্যদলের নিকট অস্বীকারকরণের (نفي) ভিত্তিতে ফয়সালা ও ভাগ্য নির্ধারণ (القضاء والقدر), জবর (الجبر), কাসব (الكسب), ভালো-মন্দের ইচ্ছা এবং নির্ধারিত ও জ্ঞাত বিষয়সমূহ সংক্রান্ত মাসআলা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই বিষয়ে কাদারিয়া, নাজ্জারিয়া, জাবরিয়া, আশআরিয়া ও কাররামিয়াদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।
তৃতীয় মূলনীতি (قاعدة): প্রতিশ্রুতি ও ধমক এবং নাম ও বিধানসমূহ:
এতে একদলের নিকট একভাবে সাব্যস্তকরণ (إثبات) এবং অন্যদলের নিকট অস্বীকারকরণের (نفي) ভিত্তিতে ঈমান, তওবা, ধমক (وعيد), ইরজা (إرجاء), তাকফির (تكفير) ও বিভ্রান্ত সাব্যস্তকরণ (تضليل) সংক্রান্ত মাসআলাসমূহ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই বিষয়ে মুরজিয়া, ওয়াইদিয়া, মুতাজিলা, আশআরিয়া ও কাররামিয়াদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।
চতুর্থ মূলনীতি (قاعدة): শ্রুতি (سمع), বিবেক (عقل), রিসালাত ও ইমামত।
(খণ্ড: ১)
ওয়াকফাতুন হাদিয়াতুন মাআত তায়িনীনা ফী জামাআতিদ দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
وهي تشتمل على مسائل التحسين والتقبيح والصلاح والأصلح واللطف والعصمة في النبوة وشرائط الإمامة نصا عند جماعة وإجماعا عند جماعة وكيفية انتقالها على مذهب من قال بالنص وكيفية إثباتها على مذهب من قال بالإجماع ، والخلاف فيها بين الشيعة والخوارج والمعتزلة والكرامية والإشعرية
فإذا وجدنا انفراد واحد من أئمة الأمة بمقالة من هذه القواعد عددنا مقالته مذهبا وجماعته فرقة ، وإن وجدنا واحدا انفرد بمسألة فلا نجعل مقالته مذهبا وجماعته فرقة ، بل نجعله مندرجا تحت واحد ممن وافق سواها مقالته ورددنا باق مقالاته إلى الفروع التى لا تعد مذهبا مفردا فلا تذهب المقالات إلى غير النهاية فإذا تعينت المسائل التى هى قواعد الخلاف تبينت أقسام الفرق الإسلامية وانحصرت كبارها في أربع بعد أن تداخل بعضها فى بعض.
* * *
قال الدكتور مصطفى بن محمد بن مصطفى صـ 76 - 77:
المسألة الخامسة ضابط جعل الفرقة بعينها من الفرق المخالفة
وذلك أن هذه الفرق إنما تصير فرقا بخلافها للفرقة الناجية في معنى كلي في الدين وقاعدة من قواعد الشريعة ، لا في جزئي من الجزئيات إذ الجزئي والفرع الشاذ لا ينشأ عنه مخالفة يقع بسببها التفرق شيعا ، وإنما ينشأ التفرق عند وقوع المخالفة في الأمور الكلية لأن الكليات نص من الجزئيات غير قليل وشأنها في الغالب أن لا تختص بمحل دون محل ولا بباب دون باب.
واعتبر ذلك بمسألة التحسين العقلي فإن المخالفة فيها أنشأت بين المخالفين خلافا في الفروع لا تنحصر ما بين فروع عقائد وفروع أعمال.
ويجرى مجرى القاعدة الكلية كثرة الجزئيات فإن المبتدع إذا أكثر من إنشاء الفروع المخترعة عاد ذلك على كثير من الشريعة بالمعارضة كما تصير القاعدة الكلية معارضة أيضا.
এটি ভালো-মন্দ নির্ধারণ, সংশোধন ও সংশোধনতর হওয়া, অনুগ্রহ এবং নবুওয়াতের নিষ্পাপত্ব সংক্রান্ত মাসআলাসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে। এছাড়া একদলের নিকট অকাট্য পাঠ (نص) এবং অন্যদলের নিকট ঐকমত্যের (إجماع) ভিত্তিতে ইমামতের শর্তাবলি এর অন্তর্ভুক্ত। যারা অকাট্য পাঠের (نص) প্রবক্তা তাদের মাযহাব অনুযায়ী এটি হস্তান্তরের পদ্ধতি এবং যারা ঐকমত্যের (إجماع) প্রবক্তা তাদের মাযহাব অনুযায়ী এটি প্রমাণের পদ্ধতিও এতে বর্ণিত হয়েছে। শিয়া, খাওয়ারিজ, মুতাজিলা, কাররামিয়া এবং আশআরিয়াদের মধ্যে এ সংক্রান্ত মতভেদগুলোও এর অন্তর্ভুক্ত।
সুতরাং আমরা যদি উম্মতের ইমামগণের মধ্যে কোনো একজনকে এই মূলনীতিগুলোর (قواعد) কোনো একটিতে একক হতে দেখি, তবে আমরা তার মতটিকে একটি মাযহাব এবং তার অনুসারীদের একটি দল (فرقة) হিসেবে গণ্য করি। কিন্তু যদি আমরা কাউকে কেবল একটি বিশেষ মাসআলায় একক হতে দেখি, তবে আমরা তার মতটিকে স্বতন্ত্র মাযহাব এবং তার অনুসারীদের স্বতন্ত্র দল (فرقة) হিসেবে গণ্য করি না। বরং আমরা তাকে এমন একজনের অন্তর্ভুক্ত করি যার সাথে অন্যান্য বিষয়ে তার মতের মিল রয়েছে এবং তার অবশিষ্ট মতগুলোকে আমরা শাখা-প্রশাখার অন্তর্ভুক্ত করি যা স্বতন্ত্র মাযহাব হিসেবে গণ্য হয় না। ফলে মতবাদগুলো অসীম পর্যন্ত বিস্তৃত হয় না। যখন মতভেদের মূলনীতি (قواعد) স্বরূপ মাসআলাগুলো সুনিশ্চিত হয়ে যায়, তখন ইসলামি দলগুলোর (الفرق) শ্রেণিবিভাগ স্পষ্ট হয়ে যায় এবং একে অপরের সাথে সংমিশ্রণের পর তাদের প্রধান শাখাগুলো চারটির মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে আসে।
* * *
ড. মুস্তাফা বিন মুহাম্মদ বিন মুস্তাফা পৃষ্ঠা ৭৬ - ৭৭ এ বলেন:
পঞ্চম মাসআলা: কোনো নির্দিষ্ট দলকে ভিন্ন দলগুলোর (الفرق) অন্তর্ভুক্ত করার মানদণ্ড।
বিষয়টি হলো, এই দলগুলো (الفرق) কেবল দ্বীনের কোনো সামগ্রিক অর্থ এবং শরীয়তের কোনো মূলনীতির (قاعدة) ক্ষেত্রে মুক্তিপ্রাপ্ত দলের (الفرقة الناجية) বিরোধিতা করার কারণেই স্বতন্ত্র দলে পরিণত হয়। কোনো আংশিক বিষয়ের ক্ষেত্রে নয়, কেননা আংশিক বিষয় এবং বিচ্ছিন্ন (شاذ) শাখা থেকে এমন কোনো বিরোধিতা তৈরি হয় না যার ফলে অনৈক্য ও উপদলে বিভক্তি সৃষ্টি হয়। অনৈক্য কেবল তখনই সৃষ্টি হয় যখন মৌলিক বা সামগ্রিক বিষয়ে মতবিরোধ ঘটে। কারণ সামগ্রিক বিষয়গুলো অনেক আংশিক বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত থাকে এবং এগুলোর বৈশিষ্ট্য হলো—সাধারণত এগুলো কোনো নির্দিষ্ট স্থান বা নির্দিষ্ট অধ্যায়ের সাথে সীমাবদ্ধ থাকে না।
বুদ্ধিবৃত্তিক ভালো-মন্দ নির্ধারণের মাসআলাটি এর উদাহরণ হিসেবে বিবেচনা করুন; কেননা এই বিষয়ে বিরোধিতার ফলে বিরোধীদের মধ্যে এমন সব শাখাগত মতভেদ সৃষ্টি হয়েছে যা কেবল আকীদার শাখা বা আমলের শাখার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।
আংশিক বিষয়গুলোর প্রাচুর্যও সামগ্রিক মূলনীতির (القاعدة الكلية) স্থলাভিষিক্ত হয়। কারণ কোনো বিদআতি (مبتدع) যদি অনেক বেশি উদ্ভাবিত শাখা-প্রশাখা তৈরি করে, তবে তা শরীয়তের অনেক বিষয়ের সাথে বিরোধিতার রূপ নেয়, ঠিক যেমনটি একটি সামগ্রিক মূলনীতি (القاعدة الكلية) বিরোধিতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
(খণ্ড: ১)
ওয়াকফাতুন হাদিয়াতুন মাআত তায়িনীনা ফী জামাআতিদ দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وأما الجزئي فبخلاف ذلك بل يعد وقوع ذلك من المبتدع له كالزلة والفلتة وإن كانت زلة العالم مما يهدم الدين ولكن إذا قرب موقع الزلة لم يحصل بسببها تفرق في الغالب ولا هدم للدين بخلاف الكليات.
فأنت ترى موقع اتباع المتشابهات كيف هو في الدين إذا كان اتباعا مخلا بالواضحات وهي - أم الكتاب - وكذلك عدم تفهم القرآن مُوقِعٌ في الإخلال بكلياته وجزئياته.
* * *
بعد عرض هذا الكلام من أهل العلم أقول:
ما هي أصول الدين التي خالفها الإخوان والتبليغ حتى نجعلهم من الفرق المخالفة من الاثنتين وسبعين فرقة كما ذكرها العلماء؟
أهو نفي الصفات أم التشبيه أم التأويل أم التفويض ووضع القواعد لذلك والمناظرة عليها ودعوة الناس إليها؟
أهو المخالفة في مسائل الإيمان سواء قالوا بقول الجهمية والمرجئة وفرقها ، أم الخوارج المعتزلة وفرقها؟
أهو المخالفة في مسألة عرض النقل على العقل؟
أهو القول بالحلول والاتحاد ، والقول بقول الصوفية والشيعة " أن هناك نبي بعد نبينا أو معصوم بعده يؤخذ منه الشرع "؟
أهو القول بنفي القدر أو القول بالجبر؟
أهو القول بسب الصحابة وتكفيرهم والطعن في عرض أم المؤمنين عائشة واتهامها بما برَّأها الله منه كما تقول المجوس الرافضة عليهم من الله ما يستحقون؟
أهو بدعة الصوفية وما تشتمل عليه من بدع؟
أخي الحبيب لا تجد في إخواننا من الإخوان والتبليغ في مصر من يتبنى رأيا من تلك الآراء.
فإذا قلت لي: هناك منهم من يتبع الأشعري والماتريدي.
পক্ষান্তরে আংশিক (جزئي) বিষয়ের বিষয়টি ভিন্ন, বরং বিদআতী (مبتدع) ব্যক্তির পক্ষ থেকে এ জাতীয় বিষয়ের প্রকাশকে বিচ্যুতি বা আকস্মিক ভুল হিসেবে গণ্য করা হয়। যদিও আলেমের বিচ্যুতি দ্বীনকে ধ্বংসকারী বিষয়সমূহের অন্তর্ভুক্ত, কিন্তু যখন বিচ্যুতির বিষয়টি আংশিক পর্যায়ের হয়, তখন সাধারণত এর কারণে বিভেদ সৃষ্টি হয় না এবং মৌলিক (كليات) বিষয়ের পরিপন্থী হওয়ার মতো দ্বীন ধ্বংসও হয় না।
সুতরাং আপনি দেখছেন যে, অস্পষ্ট বিষয়সমূহের (متشابهات) অনুসরণ করা দ্বীনের ক্ষেত্রে কেমন প্রভাব ফেলে, যদি সেই অনুসরণ স্পষ্ট বিষয়সমূহের—যা কিতাবের মূল (أم الكتاب)—পরিপন্থী হয়। একইভাবে কুরআন সঠিকভাবে অনুধাবন না করা এর মৌলিক (كليات) ও আংশিক (جزئيات) বিষয়সমূহে বিচ্যুতি ঘটানোর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
* * *
আলেমগণের এই বক্তব্য উপস্থাপনের পর আমি বলছি:
দ্বীনের এমন কোন মূলনীতিগুলো (أصول الدين) রয়েছে যা ইخوان (ইখওয়ান) এবং তাবলীগ লঙ্ঘন করেছে, যার ফলে আমরা তাদেরকে আলেমদের বর্ণিত বিচ্যুত বাহাত্তর দল (فرق)-এর অন্তর্ভুক্ত করব?
এটি কি মহান আল্লাহর গুণাবলী অস্বীকার (نفي الصفات), সাদৃশ্য প্রদান (تشبيه), ব্যাখ্যা (تأويل) কিংবা আল্লাহর ওপর অর্পণ (تفويض) করা এবং এগুলোর জন্য মূলনীতি নির্ধারণ করা, এ নিয়ে বিতর্ক করা ও মানুষের মাঝে এর দাওয়াত দেওয়া?
এটি কি ঈমান (إيمان) সংক্রান্ত মাসআলাসমূহে বিরোধিতা করা, চাই তারা জাহমিয়া ও মুরজিয়া এবং তাদের উপদলগুলোর মতো মত পোষণ করুক, অথবা খারেজী ও মুতাজিলা এবং তাদের দলগুলোর মতো?
এটি কি যুক্তির (عقل) কষ্টিপাথরে বর্ণনাকে (نقل) যাচাই করার মাসআলায় বিরোধিতা করা?
এটি কি আল্লাহর কোনো সৃষ্টিতে প্রবেশ (حلول) কিংবা স্রষ্টা ও সৃষ্টির একীভূত হওয়ার (اتحاد) কথা বলা, অথবা সূফী ও শিয়াদের ন্যায় এই কথা বলা যে, "আমাদের নবীর পর এমন কোনো নবী বা নিষ্পাপ (معصوم) ব্যক্তিত্ব রয়েছেন যার কাছ থেকে শরীয়ত (شرع) গ্রহণ করা হবে"?
এটি কি তাকদীর (قدر) অস্বীকার করা অথবা মানুষের কর্মে বাধ্য হওয়ার (جبر) কথা বলা?
এটি কি সাহাবায়ে কেরামকে গালি দেওয়া, তাদেরকে কাফের সাব্যস্ত করা (تكفير) এবং উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রা.)-এর সতীত্বের ওপর অপবাদ দেওয়া এবং আল্লাহ যা থেকে তাকে পবিত্র করেছেন সেই বিষয়ে অভিযুক্ত করা, যেমনটি অগ্নিপূজক রাফেযীরা (رافضة) বলে থাকে—তাদের ওপর আল্লাহর পক্ষ থেকে যা তাদের প্রাপ্য তা আপতিত হোক?
এটি কি সূফীবাদের নব-উদ্ভাবন (بدعة) এবং এর অন্তর্ভুক্ত নানাবিধ বিদআত (بدع)?
প্রিয় ভাই, মিসরের ইখওয়ান এবং তাবলীগের ভাইদের মধ্যে এমন কাউকে পাবেন না যারা এই মতাদর্শগুলোর কোনো একটি লালন করেন।
তবে আপনি যদি আমাকে বলেন: তাদের মাঝে এমন কেউ আছে যারা আশআরী এবং মাতুরিদী মতবাদ অনুসরণ করে।
(খণ্ড: ১)
ওয়াকফাতুন হাদিয়াতুন মাআত তায়িনীনা ফী জামাআতিদ দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
أقول لك: هناك فرق بين أن يقول شخص منهم رأيا لتأويل أو خطأ أو جهل ، وبين من أن يتبنى رأيا في المسألة المعينة ويناظر عليها ويدعو الناس إليها ، وعليك أن تلاحظ أننا مع حبنا لهم فإننا نأخذ عليهم قلة العلم الشرعي عندهم ، وأن الإخوان المسلمين - جعلنا الله إخوانا على الكتاب والسنة بفهم سلف الأمة - يتبعون شيوخا من الأزهر الشريف ، ونحن نعلم جيدا أن المذهب الذي يُدَرَّسُ هناك هو مذهب أتباع أبي الحسن الأشعري فليس لديهم منهجا عقديا يتبنونه لأنهم يرون كعوام الناس أن العلماء في مصر ينحصرون في الأزهر الشريف.
فالمشكلة ليست معهم بقدر ماهي مع ما ينتشر من بدع ومخالفات في المجتمع الذي يعيشون فيه.
* * *
ثانيا:
نحن نُسَلِّم بأن الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر من أصول هذا الدين ، وليس معنى الكلام السابق أننا نسكت عن أخطاء الآخرين ونقرها ولا ننكرها بل المقصود مراعاة ضوابط الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر فهناك بعض الأسئلة التي تحتاج إلى إجابة صريحة وواضحة:
أسألك أخي الكريم: أيهما أولى بالتحذير: جماعة الإخوان المسلمين وجماعة التبليغ أم التحذير من التنصير ووسائله وأهدافه ، والتحذير من مخططات الروافض التي ظهرت لكل من كان عنده بصر وبصيرة ، والتحذير من العلمانية ، والتحذير من الحركات الباطنية كالبهائية والإسماعيلية ، والتحذير من الحركات والأفكار الصهيونية كالماسونية وأندية الروتاري والليونز؟
بالله عليك هل الإخوان والتبليغ أخطر على الأمة من هؤلاء؟
ورب العرش العظيم لما اختلفت إجابة ذي عقل سليم فضلا عن ذي علم أنه لا يمكن أبدا المقارنة بين الكفر والإيمان والدعوة إلى دين الملك العلَاّم وبين الدعوة إلى الكفر والإلحاد.
আমি আপনাকে বলছি: তাদের মধ্য থেকে কোনো ব্যক্তি ব্যাখ্যাগত ভুল (تأويل), ত্রুটি অথবা অজ্ঞতার কারণে কোনো মত ব্যক্ত করা এবং কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে একটি মতাদর্শ গ্রহণ করে সে বিষয়ে বিতর্ক করা ও মানুষকে সেদিকে আহ্বান করার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। আপনার লক্ষ্য করা উচিত যে, তাদের প্রতি আমাদের ভালোবাসা থাকা সত্ত্বেও আমরা তাদের মধ্যে শরয়ী জ্ঞানের (العلم الشرعي) স্বল্পতাকে একটি ত্রুটি হিসেবে গণ্য করি। আর ইখওয়ানুল মুসলিমিন—আল্লাহ যেন উম্মাহর সালফে সালেহীনের (سلف الأمة) বুঝ অনুযায়ী আমাদের কিতাব ও সুন্নাহর ভিত্তিতে ভাই ভাই হিসেবে কবুল করেন—তারা আল-আযহার আল-শরীফের শায়খদের অনুসরণ করে। আমরা ভালোভাবেই জানি যে, সেখানে যে মাযহাবটি পাঠদান করা হয় তা হলো আবুল হাসান আল-আশআরীর অনুসারীদের মাযহাব; ফলে তাদের নিজস্ব কোনো আকিদাগত মানহাজ (منهجا عقديا) নেই যা তারা ধারণ করে। কারণ তারা সাধারণ মানুষের মতো মনে করে যে মিশরের আলেম সমাজ কেবল আল-আযহার আল-শরীফের গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ।
সুতরাং সমস্যাটি তাদের সাথে ততটা নয়, যতটা তারা যে সমাজে বসবাস করে সেখানে ছড়িয়ে থাকা বিদআত (بدع) ও শরীয়ত বিরোধী কর্মকাণ্ডের (مخالفات) সাথে।
* * *
দ্বিতীয়ত:
আমরা স্বীকার করি যে, সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ (الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر) এই দ্বীনের অন্যতম মূলনীতি (أصول)। পূর্বোক্ত কথার অর্থ এই নয় যে আমরা অন্যের ভুলত্রুটির ব্যাপারে নিশ্চুপ থাকব, সেগুলোকে স্বীকৃতি দেব এবং প্রতিবাদ করব না; বরং উদ্দেশ্য হলো সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধের নীতিমালা (ضوابط) বজায় রাখা। এখানে এমন কিছু প্রশ্ন রয়েছে যার সুস্পষ্ট ও পরিষ্কার উত্তর প্রয়োজন:
হে প্রিয় ভাই, আমি আপনাকে জিজ্ঞাসা করি: সতর্ক করার ক্ষেত্রে কোনটি অধিকতর অগ্রগণ্য: ইখওয়ানুল মুসলিমিন ও তাবলীগ জামাত, নাকি খ্রিস্টধর্ম প্রচারের (التنصير) মাধ্যম ও লক্ষ্যসমূহ সম্পর্কে সতর্ক করা? রাফেযীদের (الروافض) সেই চক্রান্ত সম্পর্কে সতর্ক করা যা প্রত্যেক দৃষ্টি ও অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তির কাছে স্পষ্ট হয়ে গেছে? সেকুলারিজম (العلمانية) সম্পর্কে সতর্ক করা? বাহায়ি ও ইসমাইলিয়াদের মতো বাতেনী (الباطنية) আন্দোলনগুলো সম্পর্কে সতর্ক করা? এবং ফ্রিম্যাসনরি, রোটারি ও লায়ন্স ক্লাবের মতো জায়নবাদী (الصهيونية) আন্দোলন ও মতাদর্শ সম্পর্কে সতর্ক করা?
আল্লাহর কসম, ইখওয়ান ও তাবলীগ কি উম্মাহর জন্য এদের চেয়েও বেশি বিপদজনক?
মহান আরশের রবের কসম, একজন আলেম তো দূরের কথা, কোনো সুস্থ বিবেকসম্পন্ন ব্যক্তির উত্তরও ভিন্ন হবে না যে—কুফর ও ঈমানের মধ্যে এবং মহা মহিমান্বিত আল্লাহর দ্বীনের দাওয়াতের সাথে কুফর ও নাস্তিকতার (الإلحاد) দাওয়াতের মধ্যে কখনই তুলনা হতে পারে না।
(খণ্ড: ১)
ওয়াকফাতুন হাদিয়াতুন মাআত তায়িনীনা ফী জামাআতিদ দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
فإن سلمنا معك تَنَزُّلا في المحاورة على أنه من المصالح العظمى للمسلمين التحذير من الإخوان والتبليغ ، فإنك توافقني على أنه من المصالح الأعظم التحذير ممن ذكرت في النقطة السابقة.
هل فكرت ولو لحظات ما هي الآثار العكسية لهذا التحذير بهذا الشكل؟
أخي الكريم أحاول أن ألخص لك بعض السلبيات التي ظهرت جراء ذلك الأمر:
حصر الخطر الذي يواجهه المسلمون في الإخوان والتبليغ وإهمال ما ذكرنا من أخطار في النقطة الأولى ولا أدري لمصلحة من ذلك.
جعل ذلك الطعن والتجريح من المبادئ التي يتعلمها الأخ الملتزم حديثا وصرفه عن تعلم العلم النافع وزيادة الإيمان وما يجب عليه من فروض الأعيان ، مما يُضْعِفُ القيام بما افترض الله من الحقوق بين المسلمين.
وجود رد فعل ممن تحذر منهم بأن يحذروا من السلفيين ويكونون مع أعداء السلفية في خندق واحد.
عوام المسلمين عندنا في مصر لديهم ولله الحمد تعاطف مع التيار الإسلامي بشكل عام وعندهم أن الملتحين كلهم ملتزمون لا يُفَرِّقُون بأن هذا تبليغ وهذا متدين يقصدون الإخوان وهذا سلفي فالكل عندهم واحد ، فالتحذير الذي يتم بهذا الشكل يجعل العوام لا يتقبلون أيا من هؤلاء؛ لأنهم يجدون أن هذا يحذر من هذا وهذا يحذر من هذا ، فنتسبب في صد الناس عن سبيل الله بسبب هذه الأمور التي تصدر بدون الرجوع إلى العلماء الراسخين في العلم.
تقديم خدمة جليلة إلى أعدائنا من عدة أوجه:
الإنشغال بذلك عن تعليم عوام المسلمون دينهم وما يحتاجون إليه من فروض الأعيان من أمور العقيدة والعبادة.
وقد ناقشتُ من فترة أحد هؤلاء وقلتُ له: لماذا لا نُعَلِّم الناس وندعوهم إلى الله؟
ورب العرش العظيم كانت إجابته: أننا يجب أن نهتم بأنفسنا ونقوي إيماننا.
تقوية قلوبهم برؤية المسلمين متناحرون ومتفرقون.
إنشغال المسلمون بذلك عن كشف مخططاتهم والتحذير منها والرد على شبهاتهم الذين يثيرونها.
* * *
আমরা যদি তর্কের খাতিরে আপনার সাথে আলোচনার সুবিধার্থে মেনেও নেই যে, মুসলিমদের অন্যতম বৃহৎ স্বার্থ হলো ইخوان ও তাবলিগ থেকে সতর্ক করা, তবে আপনিও আমার সাথে একমত হবেন যে, পূর্ববর্তী পয়েন্টে যাদের কথা উল্লেখ করেছি তাদের থেকে সতর্ক করা আরও বড় স্বার্থ।
আপনি কি এক মুহূর্তের জন্যও ভেবে দেখেছেন যে, এই পদ্ধতিতে সতর্ক করার নেতিবাচক প্রভাবগুলো কী হতে পারে?
আমার সম্মানিত ভাই, আমি আপনার সামনে এর ফলে উদ্ভূত কিছু নেতিবাচক দিক সংক্ষেপে তুলে ধরার চেষ্টা করছি:
মুসলিমরা যে বিপদের সম্মুখীন হচ্ছে তাকে কেবল ইخوان ও তাবলিগের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে ফেলা এবং প্রথম পয়েন্টে আমরা যে সব বিপদের কথা উল্লেখ করেছি সেগুলোকে অবহেলা করা। আমি জানি না এটি কার স্বার্থে করা হচ্ছে।
এই তআন বা অপবাদ (طعن) এবং জরাহ বা সমালোচনা (تجريح)-কে এমন সব মূলনীতিতে পরিণত করা যা কেবল নতুন দ্বীনদার হওয়া ভাইদের শেখানো হয় এবং তাকে উপকারী জ্ঞান অর্জন, ঈমান বৃদ্ধি এবং তার ওপর অর্পিত ব্যক্তিগত ফরযসমূহ পালন থেকে বিমুখ করে রাখা। এর ফলে মুসলিমদের পারস্পরিক অধিকার পালনের ক্ষেত্রে আল্লাহ যা ফরয করেছেন, তা পালন করা দুর্বল হয়ে পড়ে।
যাদের থেকে আপনি সতর্ক করছেন তাদের পক্ষ থেকে এমন প্রতিক্রিয়া তৈরি হওয়া যে, তারা সালাফিদের থেকে সতর্ক করতে শুরু করে এবং তারা সালাফিয়্যাতের শত্রুদের সাথে একই কাতারে শামিল হয়ে যায়।
আমাদের মিশরের সাধারণ মুসলিমদের মধ্যে আলহামদুলিল্লাহ সামগ্রিকভাবে ইসলামি ধারার প্রতি এক ধরণের সহানুভূতি রয়েছে। তাদের কাছে দাড়িওয়ালা মানেই দ্বীনদার; তারা এটি তাবলিগ, নাকি দ্বীনদার (ইخوان বোঝাতে) নাকি সালাফি—এভাবে পার্থক্য করে না। তাদের কাছে সবাই সমান। ফলে এই পদ্ধতিতে সতর্ক করার কারণে সাধারণ মানুষ এদের কাউকেই গ্রহণ করতে চায় না; কারণ তারা দেখে যে এ ব্যক্তি ও ব্যক্তিকে সতর্ক করছে আর ও ব্যক্তি একে সতর্ক করছে। এর ফলে অগাধ পাণ্ডিত্যের অধিকারী আলেমদের নিকট ফিরে না গিয়ে এই ধরণের কর্মকাণ্ড করার মাধ্যমে আমরা মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে বাধা দেওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়াই।
এর মাধ্যমে কয়েক দিক থেকে আমাদের শত্রুদের বড় ধরণের উপকার করা হচ্ছে:
সাধারণ মুসলিমদের তাদের দ্বীন এবং আকিদা ও ইবাদত সংক্রান্ত অত্যাবশ্যকীয় ফরয বিষয়গুলো শেখানোর পরিবর্তে এই বিতর্কে লিপ্ত থাকা।
কিছুকাল আগে আমি এমন একজনের সাথে আলোচনা করেছিলাম এবং তাকে বলেছিলাম: কেন আমরা মানুষকে দ্বীন শিক্ষা দিচ্ছি না এবং আল্লাহর দিকে আহ্বান করছি না?
মহান আরশের অধিপতির শপথ করে বলছি, তার উত্তর ছিল: আমাদের উচিত নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত থাকা এবং নিজেদের ঈমানকে মজবুত করা।
মুসলিমদের বিবাদমান ও বিভক্ত দেখে তাদের (শত্রুদের) মনোবল বৃদ্ধি পাওয়া।
মুসলিমদের এই কাজে লিপ্ত থাকা তাদের ষড়যন্ত্র উন্মোচন করা, সে বিষয়ে সতর্ক করা এবং তারা যেসব সংশয় ছড়িয়ে দিচ্ছে তার জবাব প্রদান করা থেকে বিমুখ রাখে।
* * *
(খণ্ড: ১)
ওয়াকফাতুন হাদিয়াতুন মাআত তায়িনীনা ফী জামাআতিদ দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
الرد (1) :
إذا إنك تجهل أهل العلم وتنتقصهم وكأنك تقول: بأنك أعلم منهم حيث إنك ترد كلامهم؟ ومن استشهدت بكلامهم من العلماء كالشيخ ابن باز رحمه الله فهو قبل الرجوع عن فتواه من التعاون مع تلك الجماعات (2) ، فلا حجة لك.
أقول وبالله تعالى التوفيق والهدى:
أولا:
هل لو أقسمت لك أتصدقني؟ أقسم بالله العظيم أنني أحب وأوالي كل شيخ من اهل السنة والجماعة والله حسيبي في ذلك مطلع علي ، وأعوذ بالله أن أتنقص أهل الحق.
ثانيا:
أنا أسلم معك على أصول اتفق عليها أهل السنة وهي الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر والتحذير من أهل الأهواء والبدع لكن أخالفك في طريقة ذلك ، وفي تعيين هذه الفرق وأن الجماعتين المذكورتين ليستا من الاثنتين والسبعين فرقة والتي توعدها النبي صلى الله عليه وسلم.
ثالثا:
أنني لم أقل ذلك من تلقاء نفسي ، ولكنني استشهدت بكلام لأهل العلم قديما وحديثا في ذلك.
رابعا:
أما القول بأن الشيخ ابن باز رحمه الله قد تراجع عن فتواه أو غيره من أهل العلم وأن هذا نص فتوى نشرت مؤخرا في صحيفة أو بعث بها إلى فلان أو من خلال حديث تليفوني أو فاكس أرسل إليه أو شريط كاسيت بصوت الشيخ.
أقول وبالله تعالى التوفيق والهدى:
الفتوى المعنية هي بخصوص جماعة التبليغ ولكن هل يقصد العلماء أهل التبليغ الموجودين في الجزيرة العربية والقريبين من أهل العلم ، أم يحذر من جماعة التبليغ الموجودة في الهند وباكستان ومن دعا إلى فكرهم؟
فإن قلت لي هل هناك فرق؟
أقول لك: نعم ورب العرش العظيم هناك فارق أساسي وهو الحاسم بإذن الله في حوارنا هذا ، أتدري ما هو؟
--------------------------------------------
উত্তর (১) :
নিশ্চয়ই আপনি ইলমের ধারক-বাহকদের সম্পর্কে অজ্ঞ এবং তাঁদের অবমাননা করছেন। আপনার কথা শুনে মনে হচ্ছে যে আপনি তাঁদের চেয়েও অধিক জ্ঞানী, যেহেতু আপনি তাঁদের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করছেন? আর আপনি শেখ ইবনে বাজ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর মতো যে সকল আলেমদের উদ্ধৃতি দিয়েছেন, সেটি মূলত ঐ সকল জামাতের সাথে সহযোগিতার ব্যাপারে তাঁর ফতোয়া থেকে ফিরে আসার আগের বক্তব্য (২), সুতরাং আপনার কাছে কোনো দলিল নেই।
আমি বলছি—আর আল্লাহর কাছেই তাওফিক এবং হিদায়াত প্রার্থনা করছি:
প্রথমত:
আমি যদি আপনার কাছে কসম খাই, তবে কি আপনি আমাকে বিশ্বাস করবেন? আমি মহান আল্লাহর নামে কসম খাচ্ছি যে, আমি আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের প্রত্যেক শায়খকে ভালোবাসি এবং তাঁদের প্রতি আনুগত্য পোষণ করি। এ বিষয়ে আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট এবং তিনি আমার অন্তরের অবস্থা সম্পর্কে অবগত। সত্যের অনুসারীদের অবমাননা করা থেকে আমি আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
দ্বিতীয়ত:
আহলে সুন্নাহ যে সকল মূলনীতির (أصول) ওপর ঐক্যমত পোষণ করেছেন, আমি আপনার সাথে সে বিষয়ে একমত। আর তা হলো—সৎ কাজের আদেশ, অসৎ কাজের নিষেধ এবং খেয়ালখুশি ও বিদআতপন্থীদের (أهل الأهواء والبدع) সম্পর্কে সতর্ক করা। তবে আমি আপনার সাথে দ্বিমত পোষণ করছি এর পদ্ধতি এবং এই দলগুলোর শ্রেণিবিভাগের ক্ষেত্রে; আর এ বিষয়েও যে, উল্লেখিত জামাত দুটি সেই বাহাত্তর ফিরকার অন্তর্ভুক্ত নয়, যাদের ব্যাপারে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সতর্কবাণী দিয়েছেন।
তৃতীয়ত:
আমি নিজের পক্ষ থেকে এ কথা বলছি না, বরং আমি এ বিষয়ে পূর্ববর্তী ও পরবর্তী আলেমদের বাণীর উদ্ধৃতি দিয়েছি।
চতুর্থত:
শেখ ইবনে বাজ (রাহিমাহুল্লাহ) বা অন্যান্য আলেমগণ তাঁদের ফতোয়া থেকে ফিরে এসেছেন বলে যে দাবি করা হয়—এবং বলা হয় যে এটি সম্প্রতি কোনো সংবাদপত্রে প্রকাশিত ফতোয়ার ভাষ্য, কিংবা অমুকের কাছে পাঠানো হয়েছে, অথবা টেলিফোন আলাপ, ফ্যাক্স কিংবা শেখের কণ্ঠ সম্বলিত ক্যাসেটের মাধ্যমে জানা গেছে—
আমি বলছি—আর আল্লাহর কাছেই তাওফিক এবং হিদায়াত প্রার্থনা করছি:
সংশ্লিষ্ট ফতোয়াটি মূলত জামাতে তাবলিগ সম্পর্কে। কিন্তু আলেমগণ কি এর দ্বারা আরব উপদ্বীপে বিদ্যমান এবং আলেমদের সান্নিধ্যে থাকা তাবলিগ জামাতকে বুঝিয়েছেন, নাকি ভারত ও পাকিস্তানে বিদ্যমান তাবলিগ জামাত এবং যারা তাদের মতাদর্শের দিকে আহ্বান জানায় তাদের সম্পর্কে সতর্ক করেছেন?
আপনি যদি আমাকে প্রশ্ন করেন, তবে কি কোনো পার্থক্য আছে?
আমি আপনাকে বলব: হ্যাঁ, মহান আরশের রবের কসম, একটি মৌলিক পার্থক্য রয়েছে যা ইনশাআল্লাহ আমাদের এই আলোচনার ফয়সালা করে দেবে। আপনি কি জানেন সেটি কী?
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াকফাতুন হাদিয়াতুন মাআত তায়িনীনা ফী জামাআতিদ দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
إن أهل التبليغ في الهند وباكستان ينتشر بينهم العقائد الشركية والمخالفات الشرعية العقدية من تعليق تمائم شركية والعكوف على القبور وغير ذلك مما نبه عليه أهل العلم في فتاويهم ، وقد حذروا مما هم عليه من هذه المخالفات.
والدليل على ذلك أنك تجد من كتب عن ذلك هو من علماء الهند وباكستان وينقلها عنهم من ألف المصنفات للتحذير منهم.
وأيضا أنك وبحول الله وبحمده تجد أحوال أهل التبليغ في السعودية ومصر والبلدان التي ينتشر فيها أهل السنة والجماعة لا يكون بينهم هذه المخالفات العقدية كما هو الحال في الهند وباكستان ، وذلك الأمر يتوافق مع كلام الشيخ ابن باز ، وإننا لم نر تغيرا طرأ على أهل التبليغ الموجودين بيننا وإن تغيرت فتوى الشيخ بالتحذير منهم وأنهم من أهل البدع فيجب التحذير منهم فكما بين أنه بالحسنى لا كما هو الحال الآن ، وأن أهل التبليغ المذكورين هم من صُنِّفَ فيهم المصنفات التي تحذر منهم وينتشر فيهم تلك المخالفات التي أخذها عليهم أهل العلم وهم في الهند وباكستان.
إن الكتب التي حذرت من جماعة التبليغ لو لاحظت ستجد أن العلماء المنقول عنهم هم في باكستان والهند وهو ما يؤيد كلامنا ولو سألت أهل التبليغ في البلاد العربية والتي تنتشر فيها بحمد الله الدعوة السلفية عن تلك الخرافات والشركيات والمخالفات العقدية فلن تجد لها أثرا إلا ما يتعلق بما أخذه أهل العلم عليهم والموجودون معهم في بلادهم من تعيين الخروج والتزهيد في العلم الشرعي تأويلا وبعض الأمور الأخرى والتي لا تصل بحال إلى تلك التي في الهند وباكستان.
ভারত ও পাকিস্তানের তাবলিগ জামাতের লোকদের মধ্যে শিরকি আকিদা এবং আকিদাগত শরিয়ত পরিপন্থী বিভিন্ন বিচ্যুতি ছড়িয়ে পড়েছে, যেমন শিরকি তাবিজ লটকানো, কবরে অবস্থান করা এবং অন্যান্য বিষয় যা আলেমগণ তাঁদের ফতোয়াগুলোতে উল্লেখ করেছেন। তাঁরা তাদের এই সব বিচ্যুতি সম্পর্কে সতর্ক করেছেন।
এর প্রমাণ হলো, আপনি দেখতে পাবেন যে এই বিষয়ে যারা লিখেছেন তারা ভারত ও পাকিস্তানেরই আলেম এবং যারা তাদের ব্যাপারে সতর্ক করার জন্য কিতাবসমূহ সংকলন করেছেন তারা তাদের থেকেই এগুলো বর্ণনা করেছেন।
আরও বিষয় হলো, আল্লাহর শক্তিতে ও প্রশংসায় আপনি সৌদি আরব, মিসর এবং যেসব দেশে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাত বিস্তৃত, সেখানকার তাবলিগ জামাতের লোকদের অবস্থা ভারত ও পাকিস্তানের মতো আকিদাগত বিচ্যুতিপূর্ণ পাবেন না। এই বিষয়টি শেখ ইবনে বাজের বক্তব্যের সাথে সংগতিপূর্ণ। আমাদের মাঝে বিদ্যমান তাবলিগ জামাতের লোকদের মধ্যে আমরা কোনো পরিবর্তন দেখিনি, যদিও শেখের ফতোয়া তাদের ব্যাপারে সতর্ক করা এবং তারা বিদআতী (أهل البدع) হওয়ার ব্যাপারে পরিবর্তিত হয়েছে। অতএব তাদের থেকে সতর্ক করা আবশ্যক, যেমনটি তিনি স্পষ্ট করেছেন যে তা হতে হবে উত্তম পন্থায়, বর্তমানে যেভাবে করা হচ্ছে সেভাবে নয়। আর উল্লিখিত ঐ তাবলিগ জামাতের লোকেরাই হলো তারা যাদের ব্যাপারে সতর্কতামূলক গ্রন্থাদি রচিত হয়েছে এবং তাদের মাঝে ঐসব বিচ্যুতি ছড়িয়ে আছে যা ভারত ও পাকিস্তানের আলেমগণ তাদের ওপর আপত্তিরূপে গ্রহণ করেছেন।
আপনি যদি লক্ষ্য করেন তবে দেখবেন যে তাবলিগ জামাতের ব্যাপারে সতর্ককারী কিতাবগুলোতে যেসব আলেমদের থেকে বক্তব্য উদ্ধৃত করা হয়েছে তারা পাকিস্তান ও ভারতের, যা আমাদের কথাকেই সমর্থন করে। আপনি যদি আরব দেশগুলোর তাবলিগ জামাতের লোকদের—যেখানে আল্লাহর প্রশংসায় সালাফি দাওয়াত বিস্তৃত—ঐসব কুসংস্কার, শিরক এবং আকিদাগত বিচ্যুতি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন, তবে সেগুলোর কোনো চিহ্ন পাবেন না। কেবল ঐসব বিষয় ছাড়া যা তাদের নিজ দেশের আলেমগণ তাদের ওপর আপত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছেন, যেমন ‘খুরুজ’ বা বের হওয়ার সময় নির্দিষ্ট করা এবং ইলমে দ্বীনের প্রতি বিমুখ করা ও আরও কিছু বিষয়, যা কোনোভাবেই ভারত ও পাকিস্তানের ঐসব বিষয়ের পর্যায়ে পৌঁছে না।
(খণ্ড: ১)
ওয়াকফাতুন হাদিয়াতুন মাআত তায়িনীনা ফী জামাআতিদ দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وفتوى اللجنة الدائمة بعدم الخروج معهم ليس معناه ترك نصحهم وبيان الحق لهم بالحسنى ، لأننا لا نقول لطلبة العلم بترك التعلم والخروج بل إن هذا ضرره أكثر ، لكن نقول من لا يصلي ويسب الدين ويدمن المخدرات ويخرج مع هؤلاء لعلها تكون سببا في إلتزامه الصلاة وترك ما هو عليه لا أن ننكر عليه ونحذره من أن ذلك بدعة فيعود إلى ما كان عليه.
ونحن نوضح له بعد ذلك أن السنة كذا وكذا وأن هذا الأمر المعين فيه مخالفة بالحسنى لا كما هو الحال الآن
أسألك سؤالا: هل الإخوان والتبليغ في السعودية كما في مصر كما في العراق كما في تونس كما في المغرب كما في اندونيسا كما في لبنان كما في ليبيا؟ فهل يمكن القول بأن المخالفات العقدية والشرعية التي يقع فيها إخواني أو رجل من أهل التبليغ في السعودية هي نفسها التي يقع فيها من هو في الهند وباكستان وبالتالي نطلق التحذير ونجعلهم كلهم سواء؟
الرد: ماذا تقصد من هذا السؤال؟
أقول وبالله تعالى التوفيق والهدى
إن الإخوان والتبليغ يختلفون من بلد لآخر ، وبالتالي يختلف التحذير منهم من بلد لآخر فلا يحمل كلام عالم في بلد ويعمم على كل من وجد فيه هؤلاء؛ لأن الواقع خير دليل بأنهم يختلفون من بلد لآخر كما قال الشيخ ابن باز رحمه الله معللا فتواه فالتعميم خطأ بين.
بل نطالب علماء مصر جميعا من أهل السنة والجماعة أن يبينوا لنا هذا الأمر بجلاء وكيف التعامل معهم ونصحهم وكيفية تنزيل كلام أهل العلم في التحذير منهم ، لا أن ذلك مقصور على عالم أو طائفة من العلماء.
স্থায়ী কমিটির (Lajnah Daimah) ফতোয়া তাদের সাথে বের না হওয়ার ব্যাপারে, এর অর্থ এই নয় যে তাদের উপদেশ প্রদান এবং সুন্দরভাবে তাদের নিকট সত্য স্পষ্ট করা বর্জন করতে হবে। কারণ আমরা ইলম অন্বেষণকারীদের শিক্ষা বর্জন করে বের হওয়ার কথা বলি না, বরং এটি অধিক ক্ষতিকর। তবে আমরা বলি, যে ব্যক্তি নামাজ পড়ে না, দ্বীনকে গালি দেয় এবং মাদকাসক্ত, সে যদি এদের সাথে বের হয় তবে সম্ভবত এটি তার নামাজে মনোযোগী হওয়ার এবং বর্তমান অবস্থা বর্জনের কারণ হতে পারে। আমরা তাকে সরাসরি বাধা দেব না এবং এটি একটি বিদআত (بدعة) বলে তাকে এমনভাবে সতর্ক করব না যাতে সে তার পূর্বের অবস্থায় ফিরে যায়।
বরং আমরা পরবর্তীতে তার নিকট স্পষ্ট করব যে সুন্নাহ (سنة) হলো এই এই, এবং এই নির্দিষ্ট বিষয়টি যে সুন্নাহর পরিপন্থী তা সুন্দরভাবে তুলে ধরব, বর্তমানে যেমনটি করা হচ্ছে তেমনটি নয়।
আমি আপনাকে একটি প্রশ্ন করি: সৌদি আরবের ইখওয়ান ও তাবলিগ কি মিশর, ইরাক, তিউনিসিয়া, মরক্কো, ইন্দোনেশিয়া, লেবানন ও লিবিয়ার মতো? তবে কি বলা সম্ভব যে, সৌদি আরবের কোনো ইখওয়ানি বা তাবলিগ জামাতের ব্যক্তির দ্বারা যে আকিদাগত ও শরিয়তগত বিচ্যুতি ঘটে, তা ভারত ও পাকিস্তানের ব্যক্তিদের বিচ্যুতির অনুরূপ? আর এর ওপর ভিত্তি করে কি সবার বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা জারি করা এবং সবাইকে এক সমান গণ্য করা সম্ভব?
উত্তর: এই প্রশ্নের দ্বারা আপনি কী বোঝাতে চাচ্ছেন?
আমি আল্লাহর নিকট তাওফিক ও হিদায়াত কামনা করে বলছি
নিশ্চয়ই দেশভেদে ইখওয়ান ও তাবলিগের অবস্থার ভিন্নতা থাকে, ফলে দেশভেদে তাদের বিরুদ্ধে সতর্কবার্তার ধরনেও ভিন্নতা আসে। সুতরাং কোনো এক দেশের আলেমের বক্তব্যকে ঢালাওভাবে সব দেশের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা যাবে না যেখানে এরা বিদ্যমান; কারণ বাস্তবতাই এর সর্বোত্তম প্রমাণ যে তারা এক দেশ থেকে অন্য দেশে ভিন্ন হয়ে থাকে, যেমনটি শেখ ইবনে বাজ (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) তাঁর ফতোয়ার কারণ দর্শাতে গিয়ে বলেছিলেন। সুতরাং সাধারণীকরণ করা একটি স্পষ্ট ভুল।
বরং আমরা মিশরের আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের সকল আলেমদের নিকট দাবি জানাই যেন তারা আমাদের নিকট এই বিষয়টি স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেন যে, তাদের সাথে কেমন আচরণ করতে হবে, কীভাবে তাদের উপদেশ দিতে হবে এবং তাদের ব্যাপারে সতর্ক করার ক্ষেত্রে বিজ্ঞ আলেমদের বক্তব্য কীভাবে প্রয়োগ করতে হবে; এটি যেন কেবল একজন আলেম বা কোনো নির্দিষ্ট আলেম গোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে।
(খণ্ড: ১)
ওয়াকফাতুন হাদিয়াতুন মাআত তায়িনীনা ফী জামাআতিদ দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
إن البعض قد غالى وقال: لا نتعاون معهم على أي نوع من أنواع الخير حتى لو كان هناك نشاط تنصيري لا يجوز التعاون معهم على إيقافه ، هل يصدر ذلك من عالم؟ هل يعقل ذلك الأمر؟ ورب العرش العظيم لقد جن جنوني عندما سمعت ذلك والله وحده يعلم كم أصابني عندما سمعت تلك الهراءات بل الأشد من ذلك هناك من يقول أننا لا يعنينا التنصير بل إن الأهم التحذير من الإخوان والتبليغ لأنهم أخطر علينا.
* * *
الرد:
مع كل ما ذكرت فإنك لا تعلم أقوال القوم ولا ما يهدفون إليه ، والذي يعلم ذلك الراسخون في العلم والذين صنفوا الكتب للتحذير من هؤلاء المبتدعة الضالون وأنصحك بقراءة كتب الشيخ حمود التويجري ، وسليم الهلالي وفتاوى الشيخ ناصر الدين الألباني والشيخ الفوزان وغيرهم من أهل العلم فإن هؤلاء هم أعلم منك وأدرى بأحوال هؤلاء ، فهؤلاء العلماء قد بينوا أن جماعة الإخوان قامت على الخروج على الحكام ، وعلى صوفية حسن البنا ، ومذهب الأشعري والماتريدي ، وأن سيد قطب في ظلال القرآن قال بمذهب الروافض ، وأن منهجهم يشبه منهج الروافض الذين قاموا بالثورة الإيرانية.
أما جماعة التبليغ فينتشر فيهم العقائد الشركية من التمائم والتعويذات والعكوف على القبور ، وأن تلقيهم للعقيدة على مذهب الماتريدية ، أضف إلى ذلك بدعة الخروج وتحديد أياما معينة لذلك.
أقول وبالله تعالى التوفيق والهدى:
أولا: أنك صدقت بأن ما ذكرت من علماءنا هم بلا شك أعلم بكثير منا ، ورب العرش العظيم كم نحب شيوخ أهل السنة والجماعة.
ثانيا: فيما يتعلق بالإخوان المسلمين عندنا في مصر فإن الكلام من عدة أوجه:
أنبه أكثر من مرة أنه ليس معنى هذا الكلام أننا نسكت عن خطأ أو نداهن في بدعة لكن نأمر بالمعروف وننهى عن المنكر وفق الضوابط الشرعية ومنها العلم ، والمصلحة والمفسدة.
নিশ্চয়ই কেউ কেউ চরমপন্থা অবলম্বন করে বলেছেন: আমরা কোনো ধরনের ভালো কাজে তাদের সাথে সহযোগিতা করব না, এমনকি সেখানে যদি খ্রিস্টান ধর্মপ্রচার কার্যক্রম (تنصيري) থাকে তবুও তা বন্ধ করতে তাদের সাথে সহযোগিতা করা বৈধ নয়। কোনো আলেমের পক্ষ থেকে কি এ ধরনের কথা প্রকাশ পেতে পারে? এই বিষয়টি কি যুক্তিসঙ্গত? আরশের মহান রবের কসম, যখন আমি এই প্রলাপগুলো শুনেছি তখন আমি স্তম্ভিত হয়ে পড়েছিলাম। আল্লাহ একাই জানেন এই অর্থহীন কথাগুলো শুনে আমার কী অবস্থা হয়েছিল। বরং এর চেয়েও ভয়ংকর বিষয় হলো, কেউ কেউ বলছে যে খ্রিস্টান মিশনারি তৎপরতা আমাদের মাথাব্যথার কারণ নয়, বরং ইخوان (Ikhwan) ও তবলিগ থেকে সতর্ক করাই অধিক গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তারা আমাদের জন্য বেশি বিপজ্জনক।
* * *
উত্তর:
আপনার উল্লেখ করা সমস্ত কিছু সত্ত্বেও আপনি সেই সম্প্রদায়ের বক্তব্য এবং তাদের লক্ষ্য সম্পর্কে অবগত নন। এ সম্পর্কে তারাই অবগত যারা ইলমে সুগভীর পাণ্ডিত্যের অধিকারী (الراسخون في العلم) এবং যারা এই পথভ্রষ্ট (ضالون) বিদআতকারী (مبتدعة) ব্যক্তিদের সম্পর্কে সতর্ক করার জন্য গ্রন্থ রচনা করেছেন। আমি আপনাকে শেখ হামুদ আত-তুওয়াইজরি, সলিম আল-হিলালি এবং শেখ নাসিরুদ্দিন আলবানি ও শেখ ফাওজানসহ অন্যান্য আহলে ইলমের ফতোয়া পড়ার পরামর্শ দিচ্ছি। নিশ্চয়ই তারা এ বিষয়ে আপনার চেয়ে অনেক বেশি জ্ঞানী এবং তাদের অবস্থা সম্পর্কে সম্যক অবগত। এই উলামায়ে কেরাম স্পষ্ট করেছেন যে, ইخوانুল মুসলিমিন জামাত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে শাসকদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ (الخروج), হাসান বান্নার সুফিবাদ (صوفية) এবং আশআরি ও মাতুরিদি মাযহাবের (مذهب) ওপর ভিত্তি করে। আর সাইয়্যেদ কুতুব তার 'ফি জিলালিল কুরআন' গ্রন্থে রাফেজিদের (الروافض) মতবাদের কথা বলেছেন এবং তাদের কর্মপন্থা ইরানের বিপ্লব ঘটানো রাফেজিদের (الروافض) কর্মপন্থার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
অন্যদিকে তবলিগ জামাতের মাঝে শিরকপূর্ণ (الشركية) আকিদাহ (العقائد) যেমন তামায়েম (التمائم) ও কবজ (التعويذات) এবং কবরের ওপর দীর্ঘ সময় একাগ্রচিত্তে অবস্থান করার মতো বিষয়গুলো ছড়িয়ে আছে। তারা আকিদাহ (العقائد) গ্রহণ করে মাতুরিদি মাযহাব (مذهب) অনুযায়ী। এর সাথে আরও যুক্ত হয়েছে নির্দিষ্ট দিনের জন্য বের হওয়ার বিদআতি সফর (الخروج) এবং এর জন্য নির্দিষ্ট দিন ধার্য করার মতো বিদআত (بدعة)।
আমি আল্লাহ তায়ালার তওফিক ও হেদায়েত কামনা করে বলছি:
প্রথমত: আপনি সত্যই বলেছেন যে, আমাদের যে সকল উলামায়ে কেরামের কথা আপনি উল্লেখ করেছেন তারা নিঃসন্দেহে আমাদের চেয়ে অনেক বড় আলেম। আরশের মহান রবের কসম, আমরা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের শায়খদের কতটা ভালোবাসি!
দ্বিতীয়ত: মিশরে আমাদের এখানে ইخوانুল মুসলিমিনের ব্যাপারে যে কথা রয়েছে তা কয়েকটি দিক থেকে বিবেচ্য:
আমি বারবার এই বিষয়ে সতর্ক করি যে, এসব কথার অর্থ এই নয় যে আমরা কোনো ভুলের ব্যাপারে চুপ থাকব কিংবা কোনো বিদআতের (بدعة) সাথে আপস করব। বরং আমরা ভালো কাজের আদেশ দেব (الأمر بالمعروف) এবং মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করব (النهي عن المنكر) শরয়ি নীতিমালা (الضوابط الشرعية) অনুযায়ী, যার মধ্যে ইলম এবং কল্যাণ ও অকল্যাণের (المصلحة والمفسدة) বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ১)
ওয়াকফাতুন হাদিয়াতুন মাআত তায়িনীনা ফী জামাআতিদ দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
ما ذكرت من أخطاء قامت عليها جماعة الإخوان المسلمين في العقيدة كانت في فترة لم تكن العقيدة السلفية منتشرة كما هو الآن ولله الحمد ، ولم يكن هناك من يبين لهم أخطاءهم لا أنهم يتعمدون المخالفة كما حاول البعض التعسف في إثبات ذلك خاصة ما يتعلق بنسبتهم إلى الصوفية.
أكرر هذا السؤال: هل الإخوان في السعودية كعقيدة وفقه بأحكام الشريعة كإخوان مصر ، كإخوان المغرب وتونس وليبيا؟
بلا شك هناك فرق في انتشار المذهب السلفي وسلامة العقيدة والبعد عن البدع في إخوان السعودية ، وكلما كان القرب من علماء أهل السنة وانتشار المذهب السلفي كانت البدع والمخالفات أقل.
أما القول بأنهم خوارج على الحكام فإنهم قد أعلنوا أكثر من مرة البراءة من هذه التهمة عندنا في مصر ، والسماح لهم بالمشاركة في الانتخابات الأخيرة خير دليل على صحة ذلك ، وكذلك فإن من أكبر ما ينكر عليهم هو ضعف الولاء والبراء عندهم من تهنئة الكافرين بأعيادهم والسماح لهم بالإنضمام إليهم ، وأن العداء مع اليهود غير ديني. فإنني أتساءل أي خوارج هؤلاء يكون عندهم الولاء والبراء بهذه الدرجة.
ينتشر بين ما زعمت بأنهم خوارج التمثيل المسرحي بشكل إسلامي وهو ما أنكره عليهم أهل العلم ، كما أن هناك فتاوى تبيح استخدام المعازف في أناشيدهم ، وكذلك فتاوى تبيح للممثل المعتزل والممثلة المعتزلة بالرجوع إلى التمثيل لنشر الدعوة بين أهل الفن والتمثيل وهو ما ينكره أهل العلم عليهم أيضا ، وكذلك فتاوى تبيح لهم حلق اللحية في سبيل نشر الدعوة وإسبال البنطلون لذلك أيضا ، وبين الحين والآخر هناك من قيادتهم من يقوم بمخاطبة ود الأدباء العلمانيين بالقول بأن الإسلام لا يحرم الأدب الراقي وأن هناك حرية ولا رقابة على الإبداع وغير ذلك من الترهات.
আপনি মুসলিম ব্রাদারহুড জামাতটি আকিদাহর (عقيدة) ক্ষেত্রে যে ভুলগুলোর উপর প্রতিষ্ঠিত বলে উল্লেখ করেছেন, তা এমন এক সময়ের ছিল যখন সালাফী আকিদাহ (عقيدة سلفية) বর্তমানের মতো বিস্তৃত ছিল না—সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর। তখন তাদের নিকট তাদের ভুলগুলো স্পষ্ট করার মতো কেউ ছিল না। বিষয়টি এমন নয় যে তারা ইচ্ছাকৃতভাবে বিরোধিতা করত, যেমনটি কেউ কেউ তা প্রমাণ করার জন্য জবরদস্তি করার চেষ্টা করেছেন, বিশেষ করে তাদের সুফিবাদের (صوفية) সাথে সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রে।
আমি এই প্রশ্নটি পুনরায় করছি: সৌদি আরবের ইخوانরা কি আকিদাহ (عقيدة) এবং শরিয়তের বিধিবিধানের ফিকহ (فقه) চর্চার ক্ষেত্রে মিশরের ইخوان, কিংবা মরক্কো, তিউনিসিয়া ও লিবিয়ার ইخوانদের মতো?
নিঃসন্দেহে সৌদি আরবের ইخوانদের মাঝে সালাফী মাজহাবের (مذهب سلفي) প্রসার, আকিদাহর (عقيدة) বিশুদ্ধতা এবং বিদআত (بدعة) থেকে দূরে থাকার ক্ষেত্রে পার্থক্য রয়েছে। আহলে সুন্নাহর আলেমদের (علماء أهل السنة) সান্নিধ্য এবং সালাফী মাজহাবের (مذهب سلفي) প্রসারের ফলে সেখানে বিদআত (بدعة) ও ভুলভ্রান্তি তুলনামূলক কম।
আর তাদের শাসকদের বিরুদ্ধে খারেজি (خوارج) হওয়ার দাবির বিষয়ে বলা যায় যে, তারা আমাদের মিশরে একাধিকবার এই অভিযোগ থেকে তাদের সম্পর্কহীনতা (براءة) ঘোষণা করেছে। সাম্প্রতিক নির্বাচনে তাদের অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া এর সত্যতার উৎকৃষ্ট প্রমাণ। একইভাবে তাদের প্রতি সবচেয়ে বড় যে আপত্তি তোলা হয়, তা হলো তাদের মধ্যে আল-ওয়ালা ওয়াল-বারার (الولاء والبراء) দুর্বলতা; যেমন কাফিরদের (كافر) উৎসবে শুভেচ্ছা জানানো, তাদের দলে যোগদানের অনুমতি দেওয়া এবং ইহুদিদের সাথে শত্রুতা ধর্মীয় নয় বলে গণ্য করা। আমি প্রশ্ন করি, কোনো খারেজিদের (خوارج) নিকট আল-ওয়ালা ওয়াল-বারার (الولاء والبراء) ক্ষেত্রে এই স্তরের শিথিলতা কি থাকতে পারে?
আপনি যাদের খারেজি (خوارج) বলে দাবি করেছেন, তাদের মধ্যে ইসলামী ধাঁচে মঞ্চনাটক বা অভিনয়ের প্রচলন রয়েছে, যা আলেম সমাজ (أهل العلم) তাদের জন্য অস্বীকার করেছেন। এছাড়া এমন সব ফতোয়া (فتاوى) রয়েছে যা তাদের নাশিদগুলোতে বাদ্যযন্ত্র (معازف) ব্যবহারের অনুমতি দেয়। তেমনিভাবে এমন ফতোয়াও (فتاوى) আছে যা অবসরপ্রাপ্ত অভিনেতা-অভিনেত্রীদের বিনোদন জগতের মানুষের মাঝে দাওয়াতের (دعوة) প্রসারে পুনরায় অভিনয়ে ফেরার অনুমতি দেয়, যা আলেম সমাজ (أهل العلم) তাদের ক্ষেত্রে প্রত্যাখ্যান করেছেন। অনুরূপভাবে দাওয়াতের (دعوة) প্রসারের স্বার্থে দাড়ি মুণ্ডন (حلق اللحية) এবং টাখনুর নিচে কাপড় পরিধানের (إسبال) অনুমতি সংবলিত ফতোয়াও (فتاوى) সেখানে বিদ্যমান। মাঝেমধ্যেই তাদের নেতৃত্বের পক্ষ থেকে সেকুলার সাহিত্যিকদের তুষ্ট করে বলা হয় যে, ইসলাম মার্জিত সাহিত্যকে হারাম করে না এবং সৃজনশীলতার ওপর কোনো নিয়ন্ত্রণ বা বিধি-নিষেধ নেই—এই জাতীয় আরও অনেক অসার কথাবার্তা।
(খণ্ড: ১)
ওয়াকফাতুন হাদিয়াতুন মাআত তায়িনীনা ফী জামাআতিদ দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
هل بعد كل ذلك يأتي من يقول بأن الإخوان خوارج؟ كيف؟ ونحن ننكر كل ذلك ولا يقره أحد ونحاول أن نبين لهم بأن ذلك مخالفة للشرع بالأدلة الشرعية بالرفق والأسلوب الحسن ونصبر على ذلك.
أما القول بأن منهجهم يشبه الروافض فإنه يكفي إيراد أقوال لبيان فسادها دون الرد عليه ، فورب العرش العظيم إنك ما سألت أحدا من الإخوان عن حب أبي بكر وعمر والصحابة كلهم إلا وتجد الإجابة لا تختلف بأن حبهم من الدين وأنهم يوالونهم كلهم ، فأين الرفض في منهجهم ، بل إن حرب العراق والتي كشفت عن مجوسية الرفض القبيح جعلت من بعض الإخوان من يكتشف حقيقتهم ، والتي كان دعاة أهل السنة ينادون بها ، وجعلت موقفهم يتغير تماما من هؤلاء الروافض.
أما بالنسبة للقول بأن الإخوان قاموا على الصوفية فلنفترض ذلك وأن ذلك في فترة من الفترات ، لكن هل هم الآن كذلك أم أنهم ينتقدون ما تقوم به جماعات منهم؟ .
إن مما أخذ على الإخوان أنهم يحاولون أن يجمعوا بين مذاهب متناقضة دون الأخذ في الإعتبار التجمع على عقيدة السلف ، فهم يحاولون تجميع الصوفية والشيعة وغيرهم فكيف يجمعون أنفسهم على القول بأنهم كذلك.
أما الحديث عما ظهر منهم من الخير:
الإهتمام بأطفال المسلمين وتحفيظهم القرآن وتعليمهم الآداب الإسلامية وإقامة المسابقات لذلك.
الإهتمام الكبير بتوزيع الصدقات على فقراء المسلمين وتوفير الرعاية الصحية لهم وفق قدراتهم.
النشاط الدعوي بين طلاب وطالبات الجامعات.
مما جعلهم شوكة في حلق العلمانيين وأغلقوا أبوابا أمام النشاط التنصيري والتشيع الرافضي الخبيث.
* * *
ثالثا: أما بالنسبة لجماعة التبليغ في مصر فالرد على ذلك من أوجه:
এরপরও কি এমন কেউ আসবে যে বলবে ইখওয়ানরা খারেজি (خوارج)? এটা কীভাবে সম্ভব? অথচ আমরা এ সবকিছুর প্রতিবাদ করি এবং কেউ তা সমর্থন করে না। আমরা শরয়ী দলিল (الأدلة الشرعية), নম্রতা ও উত্তম পন্থায় তাদের সামনে এটা স্পষ্ট করার চেষ্টা করি যে, এটি শরীয়ত (الشرع) পরিপন্থী এবং এর ওপর আমরা ধৈর্য ধারণ করি।
আর তাদের কর্মপন্থা রাফেজিদের (الروافض) মতো—এ বক্তব্যের অসারতা প্রমাণের জন্য কোনো উত্তরের প্রয়োজন নেই, বরং কেবল তাদের কথাগুলো তুলে ধরাই যথেষ্ট। মহান আরশের রবের শপথ! আপনি ইখওয়ানদের যে কাউকে আবু বকর, ওমর এবং সকল সাহাবী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে দেখবেন তাদের প্রত্যেকের উত্তর একই যে, তাঁদের প্রতি ভালোবাসা দ্বীনের অংশ এবং তারা তাঁদের সকলকে মান্য করেন। সুতরাং তাদের কর্মপন্থায় রাফেজি মতাদর্শ (الرفض) কোথায়? বরং ইরাক যুদ্ধ, যা রাফেজি মতাদর্শের (الرفض) কুৎসিত অগ্নিপূজক রূপ উন্মোচিত করেছে, তা ইখওয়ানদের অনেককে তাদের প্রকৃত স্বরূপ বুঝতে সাহায্য করেছে—যার দিকে আহলে সুন্নাতের দাঈরা আহ্বান জানিয়ে আসছিলেন। এটি এই রাফেজিদের (الروافض) প্রতি তাদের অবস্থানকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে।
আর ইখওয়ানরা সূফীবাদ (الصوفية) এর ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত—এই দাবির প্রেক্ষিতে আমরা যদি ধরেও নিই যে কোনো এক সময়ে এমনটি ছিল, কিন্তু বর্তমানেও কি তারা সেরূপ আছে? নাকি তাদের মধ্যকার অনেক গোষ্ঠীর কর্মকাণ্ডের সমালোচনা তারা নিজেরাই করছে?
ইখওয়ানদের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ হলো যে, তারা সালাফদের আকিদা (عقيدة السلف) বা বিশ্বাসের ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় না নিয়ে পরস্পরবিরোধী মাযহাবগুলোর মধ্যে সমন্বয় করতে চায়। তারা সূফী (الصوفية), শিয়া (الشيعة) এবং অন্যদের একত্রিত করার চেষ্টা করে; তবে তারা নিজেরা কীভাবে এই দাবির ওপর একত্রিত হয়?
তাদের মধ্যে যে সকল কল্যাণকর দিক প্রকাশিত হয়েছে সে সম্পর্কে আলোচনা:
মুসলিম শিশুদের প্রতি গুরুত্বারোপ করা, তাদের কুরআন হিফজ করানো, ইসলামী আদব শিক্ষা দেওয়া এবং এ লক্ষ্যে প্রতিযোগিতার আয়োজন করা।
অভাবী মুসলিমদের মাঝে সাদাকা বিতরণে ব্যাপক গুরুত্ব প্রদান এবং সামর্থ্য অনুযায়ী তাদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে দাওয়াতি তৎপরতা (النشاط الدعوي) চালানো।
যা তাদের সেক্যুলারপন্থীদের গলার কাঁটায় পরিণত করেছে এবং তারা মিশনারি তৎপরতা ও কুৎসিত রাফেজি শিয়া মতাদর্শের (التشيع الرافضي) প্রসারের পথ রুদ্ধ করে দিয়েছে।
* * *
তৃতীয়ত: মিশরের তাবলীগ জামাত সম্পর্কে কয়েকটি দিক (أوجه) থেকে উত্তর দেওয়া যেতে পারে:
(খণ্ড: ১)
ওয়াকফাতুন হাদিয়াতুন মাআত তায়িনীনা ফী জামাআতিদ দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
أنبه أكثر من مرة أنه ليس معنى هذا الكلام أننا نسكت عن خطأ أو نداهن في بدعة لكن نأمر بالمعروف وننهى عن المنكر وفق الضوابط الشرعية ومنها العلم ، والمصلحة والمفسدة فإن كانت هناك سلبيات عند إخواننا في جماعة التبليغ وأهمها وجود قصور في العلم الشرعي والتزهيد فيه فالدعوة مشروطة بالعلم بما تدعو إليه ، وبدعة تحديد أياما معينة ، وترك الزوجة والأولاد عند الخروج فعلينا أن نبين لهم بالحسنى خطأ ذلك وأن نصبر على ذلك.
أكرر هذا السؤال: هل التبليغيون في السعودية كعقيدة وفقه بأحكام الشريعة كتبليغي مصر ، كتبليغي المغرب وتونس وليبيا؟
بلا شك هناك فرق في انتشار المذهب السلفي وسلامة العقيدة والبعد عن البدع في تبليغي السعودية ، وكلما كان القرب من علماء أهل السنة وانتشار المذهب السلفي كانت البدع والمخالفات أقل.
لا يمكن لمسلم منصف فضلا عن ذي علم عندما يتكلم عن المخالفات الموجودة في أهل التبليغ في الهند وباكستان فيجعلها في كل جماعة تبليغ موجودة على وجه الأرض ، لأن أهل التبليغ عندنا في مصر غير منتشر فيهم ما ذكر في أهل الهند من تمائم شركية ومخالفات عقدية وطواف على القبور.
أما بالنسبة عما ظهر من إيجابيات:
إسلام بعض الكافرين على أيديهم سواء في الداخل أو في الخارج
وأقف هنا عند قول لأحد العلماء معلقا على هذه النقطة قال " لا يفرح بإسلام أناس يكونون أتباعا لأناس يمنعونهم من التصريح بالكفر بالطاغوت * * * ولأناس يرابطون على القبور وينتظرون الكشف والكرامات والفيوض الروحية من أهل القبور ويستعملون التمائم والتعاويذ الشركية والشعوذة والأحوال الشيطانية في الاستشفاء من الأمراض ، علاوة على ما هم عليه من البدع والضلالات والجهالات وفساد العقيدة ولا سيما في توحيد الألوهية الذي هو أعظم أصول الإسلام " انتهى كلام الشيخ.
أقول وبالله تعالى التوفيق والهدى:
আমি একাধিকবার সজাগ করছি যে, এই বক্তব্যের অর্থ এই নয় যে আমরা কোনো ভুল দেখে নিশ্চুপ থাকব অথবা কোনো বিদআত (بدعة)-এর বিষয়ে আপস করব; বরং আমরা শরয়ি নীতিমালা অনুযায়ী সৎকাজের আদেশ দেব এবং অসৎকাজ থেকে নিষেধ করব। এই নীতিমালার অন্তর্ভুক্ত হলো ইলম (জ্ঞান), মাসলাহাত (কল্যাণ) এবং মাফাসাদাত (অকল্যাণ)। আমাদের তাবলিগ জামাতের ভাইদের মধ্যে যদি কিছু নেতিবাচক দিক থেকে থাকে—যার মধ্যে প্রধান হলো শরয়ি ইলমের অভাব এবং এর প্রতি বিমুখতা—তবে দাওয়াতের শর্তই হলো আপনি যে বিষয়ে দাওয়াত দিচ্ছেন সে সম্পর্কে আপনার জ্ঞান থাকতে হবে। আর নির্দিষ্ট দিন নির্ধারণ করার বিদআত (بدعة) এবং বের হওয়ার সময় স্ত্রী-সন্তানদের রক্ষণাবেক্ষণ না করে রেখে যাওয়া—এসব ভুলের কথা আমাদের উত্তম পন্থায় তাদের সামনে স্পষ্ট করতে হবে এবং এ বিষয়ে ধৈর্য ধারণ করতে হবে।
আমি এই প্রশ্নটি পুনরায় করছি: সৌদি আরবের তাবলিগিরা কি আকিদা এবং শরিয়তের বিধানের ফিকহ অর্জনের ক্ষেত্রে মিসরের তাবলিগি, কিংবা মরক্কো, তিউনিসিয়া ও লিবিয়ার তাবলিগিদের মতো?
নিঃসন্দেহে সৌদি আরবের তাবলিগিদের মধ্যে সালাফি মানহাজের প্রচার, আকিদার বিশুদ্ধতা এবং বিদআত (بدعة) থেকে দূরে থাকার ক্ষেত্রে পার্থক্য রয়েছে। আহলে সুন্নাহর আলেমদের নৈকট্য এবং সালাফি মানহাজের বিস্তার যত বেশি হবে, বিদআত (بدعة) ও শরিয়ত পরিপন্থী বিষয়গুলো তত কম হবে।
কোনো ইনসাফকারী মুসলিমের পক্ষে—একজন আলেমের কথা তো বলাই বাহুল্য—ভারত ও পাকিস্তানের তাবলিগিদের মধ্যে বিদ্যমান ভুল-ত্রুটিগুলো নিয়ে আলোচনার সময় পৃথিবীর সমস্ত তাবলিগ জামায়াতের ওপর তা ঢালাওভাবে আরোপ করা সম্ভব নয়। কারণ, আমাদের মিসরের তাবলিগিদের মধ্যে ভারত ও পাকিস্তানের তাবলিগিদের সম্পর্কে উল্লিখিত শিরকি তাবিয, আকিদাগত বিচ্যুতি এবং কবর তাওয়াফ করার মতো বিষয়গুলো প্রচলিত নয়।
আর যেসব ইতিবাচক দিক প্রকাশ পেয়েছে, সেগুলোর ব্যাপারে:
দেশ কিংবা বিদেশের মাটিতে তাদের মাধ্যমে কিছু অমুসলিমের ইসলাম গ্রহণ করা।
এই বিষয়ের ওপর মন্তব্য করতে গিয়ে একজন আলেমের একটি বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিচ্ছি, তিনি বলেছেন: "এমন লোকদের ইসলাম গ্রহণে আনন্দিত হওয়া যায় না যারা এমন লোকদের অনুসারী হয় যারা তাদের তাগুতকে অস্বীকার করার বিষয়টি প্রকাশ করতে বাধা দেয়... এবং যারা কবরের পাশে পড়ে থাকে আর কবরবাসীদের নিকট থেকে কাশফ (كشف), কারামত ও আধ্যাত্মিক ফয়েজ প্রত্যাশা করে। আর যারা রোগমুক্তির জন্য শিরকি তাবিয-কবজ, যাদু-টোনা ও শয়তানি পন্থার আশ্রয় নেয়; এর পাশাপাশি তারা বিভিন্ন বিদআত (بدعة), পথভ্রষ্টতা (ضلالة), অজ্ঞতা এবং আকিদাগত বিচ্যুতিতে লিপ্ত, বিশেষ করে তাওহিদুল উলুহিয়্যার ক্ষেত্রে—যা ইসলামের মহান মূলনীতিগুলোর অন্যতম।" — শায়খের বক্তব্য সমাপ্ত।
আমি আল্লাহর সাহায্য ও হেদায়েত প্রার্থনা করে বলছি:
(খণ্ড: ১)
ওয়াকফাতুন হাদিয়াতুন মাআত তায়িনীনা ফী জামাআতিদ দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
انتقال إنسان من عقائد البوذيين والهندوس إلى النطق بالشهادتين وأداء الصلوات والقيام بما علمه من شعائر الإسلام ألا يكون ذلك سببا في فرحة المسلمين ولاء لله ولدينه ولرسوله صلى الله عليه وسلم ، وإن كنا نحن مخطئون في ذلك فنرجو من أهل العلم تبيين ذلك الأمر وتوضيحه ، وهل يعمم على كل من انتسب إليهم أم ذلك مقتصر على من يصدر منه ذلك ، وما حكم من يصدر منه ذلك وهو حديث عهد بكفر.
إن سلمنا بوجود ذلك في طائفة من جماعة التبليغ موجودة في الهند وباكستان - والنقل في تلك الأمور من علماء موجودين في الهند - هل يعمم على كل من انتسب إليهم في كل بلدان المسلمين ، والواقع خير دليل بأنه كلما كانت الدعوة إلى التوحيد منتشرة في بلد ، كلما كانت تلك المخالفات العقدية غير موجودة ، فإن تلك المخالفات العقدية المذكورة - من تمائم وتعاويذ شركية واستغاثة بأصحاب القبور - في جماعة التبليغ في مصر غير موجودة فيهم فنحن أعلم بهم من غيرهم.
إن الخطأ - والله أعلم - لا يكمن في جماعة التبليغ كجماعة وإنما يكمن في انتشار هذه المخالفات العقدية أصلا مما يوجب على أهل السنة إنكارها ، فهي ليست متعلقة بالتبليغ كجماعة أخذوا يجعلونها من أسس قيامها.
ومما ظهر في مصر من خير على يد تلك الجماعة:
إسلام بعض الكافرين على يديهم في الداخل أو برحلاتهم في الخارج.
الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر والدعوة إلى دين الله سبحانه في أماكن كثيرة مما أدى بفضل الله وحده إلى هداية شباب إلى الصلاة كانوا لا يصلون وإلى التزام أوامر ونواهي كانوا لا يلتزمون بها.
انتقال بعضهم إلى المذهب السلفي.
الإنفاق على الفقراء والمحتاجين والأرامل واليتامى.
مما جعلهم أيضا شوكة في حلق العلمانيين وأغلقوا أبوابا أمام النشاط التنصيري والتشيع الرافضي الخبيث
* * *
الرد:
كل ما قلته لا يوزن له وزن أمام كلام أهل العلم وسأسرد إليك بعضا منه:
কোনো ব্যক্তির বৌদ্ধ ও হিন্দু ধর্মবিশ্বাস ত্যাগ করে কালিমায়ে শাহাদাহ পাঠ, সালাত আদায় এবং ইসলামের নিদর্শনাবলি (যা সে শিখেছে) পালনের দিকে ধাবিত হওয়া কি আল্লাহ, তাঁর দ্বীন এবং তাঁর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি আনুগত্যের খাতিরে মুসলমানদের জন্য আনন্দের বিষয় হওয়া উচিত নয়? যদি আমরা এ বিষয়ে ভুল পথে থাকি, তবে আমরা আলেমদের নিকট এই বিষয়টি স্পষ্ট করার ও ব্যাখ্যা প্রদানের অনুরোধ জানাই। আর এই হুকুম কি তাদের সাথে সংশ্লিষ্ট সবার ক্ষেত্রে সাধারণভাবে প্রযোজ্য হবে, নাকি তা কেবল তাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ যারা এমনটি করে থাকে? আর যে ব্যক্তি কুফর ত্যাগ করে নতুন ইসলামে এসেছে, তার পক্ষ থেকে এমন কিছু ঘটার বিধান কী?
যদি আমরা ভারত ও পাকিস্তানে বিদ্যমান তাবলিগ জামাতের কোনো একটি দলের মধ্যে এসবের অস্তিত্ব মেনেও নিই—এবং এ সংক্রান্ত তথ্যের বর্ণনা ভারতে বিদ্যমান আলেমদের পক্ষ থেকেই এসেছে—তবে কি তা সকল মুসলিম দেশে তাদের সাথে সংশ্লিষ্ট সবার ওপর ঢালাওভাবে প্রয়োগ করা যাবে? বাস্তবতাই হলো এর উৎকৃষ্ট প্রমাণ যে, কোনো দেশে তাওহিদের দাওয়াত যত বেশি প্রসারিত হয়, সেখানে আকিদাগত এই বিচ্যুতিগুলো ততটাই অনুপস্থিত থাকে। কেননা তাবলিগ জামাতের মধ্যে উল্লিখিত সেই আকিদাগত বিচ্যুতিগুলো—যেমন শিরকপূর্ণ তাবিয-কবজ এবং কবরবাসীর নিকট সাহায্য প্রার্থনা—মিসরে তাদের মধ্যে বিদ্যমান নেই। তাই অন্যদের তুলনায় আমরাই তাদের সম্পর্কে অধিক অবগত।
ভুলটি—আল্লাহই ভালো জানেন—মূলত জামাত হিসেবে তাবলিগের সংজ্ঞায় নয়, বরং এই আকিদাগত বিচ্যুতিগুলোর ব্যাপক প্রসারের মধ্যে নিহিত, যা প্রত্যাখ্যান করা আহলে সুন্নাতের জন্য আবশ্যক। এটি জামাত হিসেবে তাবলিগের এমন কোনো বিষয় নয় যাকে তারা তাদের ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছে।
মিসরে এই জামাতের মাধ্যমে যেসব কল্যাণ প্রকাশ পেয়েছে:
দেশের অভ্যন্তরে কিংবা বিদেশ সফরের মাধ্যমে তাদের হাতে কিছু অমুসলিমের ইসলাম গ্রহণ।
সৎ কাজের আদেশ, অসৎ কাজের নিষেধ এবং বহু স্থানে আল্লাহর দ্বীনের দাওয়াত প্রদান; যার ফলে আল্লাহর অশেষ দয়ায় এমন অনেক যুবক সালাতের প্রতি হেদায়েত পেয়েছে যারা আগে সালাত পড়ত না এবং এমন অনেক আদেশ-নিষেধ মেনে চলতে শুরু করেছে যা আগে তারা করত না।
তাদের মধ্য থেকে কারো কারো সালাফি মানহাজের দিকে ধাবিত হওয়া।
দরিদ্র, অভাবী, বিধবা ও এতিমদের কল্যাণে ব্যয় করা।
এছাড়া তারা সেকুলারিস্ট বা ধর্মনিরপেক্ষবাদীদের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং খ্রিস্টান মিশনারি তৎপরতা ও জঘন্য রাফেজি শিয়া মতবাদের প্রসারের পথ রুদ্ধ করে দিয়েছে
* * *
উত্তর:
আপনি যা বলেছেন আলেমদের বক্তব্যের সামনে তার কোনো গুরুত্ব বা ওজন নেই। আমি আপনার সামনে তাঁদের কিছু বক্তব্য তুলে ধরছি:
(খণ্ড: ১)
ওয়াকফাতুন হাদিয়াতুন মাআত তায়িনীনা ফী জামাআতিদ দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
وقفات مع فتاوى أهل العلم
أولا فتاوى الشيخ ابن باز:السؤال:
" خرجت مع جماعة التبليغ للهند والباكستان، وكنا نجتمع ونصلي في مساجد يوجد بها قبور وسمعت أن الصلاة في المسجد الذي يوجد به قبر باطلة فما رأيكم في صلاتي وهل أعيدها؟ وما حكم الخروج معهم لهذه الأماكن؟ "
الجواب
جماعة التبليغ ليس عندهم بصيرة في مسائل العقيدة فلا يجوز الخروج معهم إلا لمن لديه علم وبصيرة بالعقيدة الصحيحة التي عليها أهل السنة والجماعة حتى يرشدهم وينصحهم ويتعاون معهم على الخير؛ لأنهم نشيطون في عملهم، لكنهم يحتاجون إلى المزيد من العلم، وإلى من يبصرهم من علماء التوحيد والسنة. رزق الله الجميع الفقه في الدين والثبات عليه.
المصدر: مجموع فتاوى الشيخ ابن باز 8/331.
ونقف مع كلام الشيخ ابن باز وقفات:
قول الشيخ: " حتى يرشدهم وينصحهم ويتعاون معهم على الخير " فالشيخ هنا يقر بأن ينصحوا لا كما يفعل من توجه إليهم الرسالة بالتشهير بهم واتهامهم بأنهم من الاثنتين والسبعين فرقة وأنه لا يتعاون معهم أبدا لأنهم مبتدعة.
فهم يستشهدون بكلام الشيخ ابن باز ويخالفونه ولا يعملون به
قول الشيخ " فإنهم نشيطون في العمل لكنهم يحتاجون إلى العلم " فالشيخ رحمه الله أثنى عليهم ووجه أنظارنا إلى احتياجهم إلى العلم وهو ما نقول به.
* * *
تنبيه: الفتوى التالية قد تكون فيها تدليس بَيِّنٌ على الشيخ
سؤال:
أحسن الله إليك حديث النبي صلى الله عليه وسلم في افتراق الأمم قوله " ستفترق أمتي على ثلاث وسبعين فرقة إلا واحدة " فهل جماعة التبليغ على ما عندهم من شركيات وبدع ، وجماعة الإخوان المسلمين على ما عندهم من تحزب وشق العصا على ولاة الأمور وعدم السمع والطاعة ، هل هاتين الفرقتين تدخل - يقول الناقل انتهى الوجه الأول للشريط -.......؟
جواب:
আলেমগণের ফতোয়া নিয়ে কিছু পর্যবেক্ষণ
প্রথমত শেখ ইবনে বাজের ফতোয়া:প্রশ্ন:
"আমি তাবলিগ জামাতের সাথে ভারত ও পাকিস্তানে গিয়েছিলাম। আমরা এমন সব মসজিদে একত্রিত হতাম এবং নামাজ পড়তাম যেখানে কবর বিদ্যমান ছিল। আমি শুনেছি যে, যে মসজিদে কবর থাকে সেখানে নামাজ পড়া বাতিল। আমার নামাজের ব্যাপারে আপনার মতামত কী এবং আমি কি তা পুনরায় পড়ব? আর এসব স্থানে তাদের সাথে বের হওয়ার বিধান কী?"
উত্তর:
তাবলিগ জামাতের আকিদাহর বিষয়ে সঠিক প্রজ্ঞা বা অন্তর্দৃষ্টি নেই। তাই তাদের সাথে বের হওয়া কেবল সেই ব্যক্তির জন্যই বৈধ হবে যার আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের সঠিক আকিদাহ সম্পর্কে ইলম ও প্রজ্ঞা রয়েছে, যাতে তিনি তাদের সঠিক পথপ্রদর্শন করতে পারেন, নসিহত করতে পারেন এবং কল্যাণের কাজে তাদের সাথে সহযোগিতা করতে পারেন; কারণ তারা তাদের কাজে অত্যন্ত সক্রিয়, তবে তাদের আরও অধিক ইলম প্রয়োজন এবং তাওহিদ ও সুন্নাহর আলেমদের পক্ষ থেকে সঠিক নির্দেশনার মুখাপেক্ষী। আল্লাহ সবাইকে দ্বীনের সঠিক বুঝ এবং এর ওপর অবিচল থাকার তৌফিক দান করুন।
সূত্র: মাজমুউ ফাতাওয়া শেখ ইবনে বাজ ৮/৩৩১।
শেখ ইবনে বাজের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে আমাদের কিছু পর্যবেক্ষণ:
শেখের উক্তি: "যাতে তিনি তাদের পথপ্রদর্শন করতে পারেন, নসিহত করতে পারেন এবং কল্যাণের কাজে তাদের সাথে সহযোগিতা করতে পারেন"—এখানে শেখ তাদের নসিহত করার বিষয়টি অনুমোদন করেছেন। এটি সেই পদ্ধতির মতো নয় যা অনেকে তাদের ক্ষেত্রে অবলম্বন করে থাকেন—তাদের নামে অপপ্রচার চালানো এবং তাদের বাহাত্তর ফেরকার অন্তর্ভুক্ত হওয়ার অভিযোগ তোলা কিংবা তাদের সাথে একেবারেই সহযোগিতা না করা এই অজুহাতে যে তারা বিদআতী (مبتدعة)।
তারা শেখ ইবনে বাজের বক্তব্যের উদ্ধৃতি দেয় ঠিকই, কিন্তু তারা তার বিরোধিতা করে এবং সে অনুযায়ী আমল করে না।
শেখের উক্তি: "তারা কাজে অত্যন্ত সক্রিয়, তবে তাদের ইলমের প্রয়োজন"—এখানে শেখ (রহিমাহুল্লাহ) তাদের প্রশংসা করেছেন এবং তারা যে ইলমের মুখাপেক্ষী সেদিকে আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন, যা আমরাও বলে থাকি।
* * *
সতর্কবার্তা: পরবর্তী ফতোয়াটিতে শেখের ওপর স্পষ্ট কারচুপি বা সত্য গোপন (تدليس) করার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রশ্ন:
আল্লাহ আপনার কল্যাণ করুন। উম্মতের বিভক্ত হওয়া নিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস, যেখানে তিনি বলেছেন: "আমার উম্মত তিয়াত্তর ফেরকায় বিভক্ত হবে, একটি দল ছাড়া।" তো তাবলিগ জামাত—তাদের মধ্যে বিদ্যমান শিরক ও বিদআত (بدع) সত্ত্বেও, এবং ইখওয়ানুল মুসলিমিন—তাদের দলবাজি, শাসকদের অবাধ্য হওয়া এবং আনুগত্য না করার প্রবণতা সত্ত্বেও; এই দুটি দল কি এর অন্তর্ভুক্ত হবে—নকলকারী বলছেন ক্যাসেটের প্রথম পিঠ এখানে শেষ হয়েছে—.......?
উত্তর: