(খণ্ড: ১) জামিউল উলূম ওয়াল হিকাম - ত আরনাউত (পৃষ্ঠা: -)
جامع العلوم والحكم - ت الأرنؤوط   (ابن رجب الحنبلي)

القسم: شروح الحديث


الكتاب: جامع العلوم والحكم في شرح خمسين حديثا من جوامع الكلم

المؤلف: زين الدين أبو الفرج عبد الرحمن بن شهاب الدين البغدادي ثم الدمشقي الشهير بابن رجب (736 - 795 هـ)

المحقق: شعيب الأرناؤوط [ت 1438 هـ]- إبراهيم باجس

الناشر: مؤسسة الرسالة - بيروت

الطبعة: السابعة، 1417 هـ - 1997 م

عدد الأجزاء: 2 (في مجلد واحد)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

জামিউল উলূম ওয়াল হিকাম - তাহকীক আল-আরনাউত   (ইবনে রাজাব আল-হাম্বলী)

বিভাগ: হাদিসের ব্যাখ্যাসমূহ


বই: জাওয়ামিউল কালিম-এর অন্তর্ভুক্ত পঞ্চাশটি হাদিসের ব্যাখ্যায় জামিউল উলূম ওয়াল হিকাম

লেখক: যাইনুদ্দীন আবুল ফারাজ আবদুর রহমান বিন শিহাবুদ্দীন আল-বাগদাদী অতঃপর আদ-দিমাশকী, যিনি ইবনে রাজাব নামে সুপরিচিত (৭৩৬ - ৭৯৫ হিজরি)

গবেষক: শুআইব আল-আরনাউত [মৃত্যু ১৪৩৮ হিজরি]- ইব্রাহিম বাজিস

প্রকাশক: মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ - বৈরুত

সংস্করণ: সপ্তম، ১৪১৭ হিজরি - ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ২ (এক খণ্ডে)

[বইটির নম্বরবিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যুলহিজ্জাহ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) জামিউল উলূম ওয়াল হিকাম - ত আরনাউত (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌مقَدّمة النّاشر

إن إحياء بعض كتب التراث الهامة بإعادة نشرها أو تهذيبها واختصار بعضها الآخر اختصارًا غير مخل، إن هو إلَّا محاولة القصد منها إفادة القارئ ومساعدته بجعلها سهلة قريبة المأخذ، محببة إلى النفس، فضلًا عن إظهارها بالمظهر الجميل الذي يشعر بأهميتها بين المؤلفات.

ولقد عمل مكتب التحقيق في "مؤسسة الرسالة" جاهدًا على تبني هذه الفكرة وتنفيذها فعلًا فأصدر مجموعة من هذه الكتب، أحدها هذا الكتاب الذي بين أيدينا.

وإن وجود الأستاذ الشيخ شعيب الأرنؤوط والأستاذ الشيخ نعيم العرقسوسي وغيرهما على رأس هؤلاء الذين يعملون بصمت، وبنفس رضية ولا يألون جهدًا في سبيل إنتاج تعتز به المؤسسة، يجعلنا نشعر باعتزاز بأن ما نقدمه لقرائنا هو مصدر اطمئنان وثقة نشكر الله عليه.

وأنا إذ أشكر العاملين في المؤسسة على ما يبذلونه من جهد أدعو الله العلي القدير أن يبارك لهم في أعمالهم وأن يوفقهم ويأخذ بأيديهم، فهم أهل فضل ومكرمة، وأن يجزيهم عن المؤسسة أحسن الجزاء.

إننا ندعو الله مخلصين أن يثيبنا على ما نقدم، آملين أن نوفق إلى خدمة القارئ، والله من وراء القصد.

 

رضوان دعبول
প্রকাশকের ভূমিকা

ঐতিহ্যবাহী গুরুত্বপূর্ণ কিতাবসমূহের পুনপ্রকাশ, পরিমার্জন কিংবা সেগুলোর কোনোটির মূলভাব ক্ষুণ্ন না করে সংক্ষিপ্তকরণের মাধ্যমে তা পুনরুজ্জীবিত করা মূলত পাঠককে উপকৃত করার ও তাকে সহায়তা করার একটি প্রয়াসমাত্র; যাতে কিতাবগুলো তার জন্য সহজবোধ্য, নিকটবর্তী ও চিত্তাকর্ষক হয়, সেইসাথে গ্রন্থরাজির মাঝে এগুলোকে এমন সুন্দর অবয়বে উপস্থাপন করা যা এগুলোর গুরুত্বকে ফুটিয়ে তোলে।

“মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ”-এর গবেষণা বিভাগ এই পরিকল্পনা গ্রহণ ও তা বাস্তবে রূপায়িত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং ইতোমধ্যে এই ধারার একগুচ্ছ কিতাব প্রকাশ করেছে, যার অন্যতম হলো আমাদের হাতে থাকা এই কিতাবটি।

উস্তাদ শায়খ শুয়াইব আল-আরনাউত ও উস্তাদ শায়খ নাঈম আল-আরকাসুসি এবং তাদের ন্যায় অন্যান্যরা যারা নীরবে ও সন্তুষ্ট চিত্তে কাজ করে যাচ্ছেন এবং প্রতিষ্ঠানের জন্য গৌরবময় কিছু উপহার দিতে চেষ্টার কোনো ত্রুটি করছেন না—তাদের উপস্থিতি আমাদের এই গর্ববোধ করার সুযোগ করে দেয় যে, আমরা পাঠকদের নিকট যা পেশ করছি তা এক প্রশান্তি ও আস্থার উৎস, যার জন্য আমরা আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করি।

আমি এই প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের তাদের কঠোর পরিশ্রমের জন্য ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি মহান সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন তাদের কাজে বরকত দান করেন, তাদের তাওফিক দেন এবং তাদের হাত ধরেন; নিশ্চয়ই তারা অনুগ্রহ ও সম্মানের অধিকারী। আল্লাহ যেন প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে তাদেরকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন।

আমরা একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের এই নিবেদনের জন্য প্রতিদান দান করেন। আমরা পাঠকদের খিদমত করার তাওফিক পাওয়ার আশা রাখি। আর আল্লাহই একমাত্র অভীষ্ট।

 

রিজওয়ান দাবুল
(খণ্ড: ১) জামিউল উলূম ওয়াল হিকাম - ত আরনাউত (পৃষ্ঠা: ৭)
بسم الله الرَّحمن الرحيم

 

الحمدُ لله الذي هدانا لدينِ الإِسلامِ، وأكرمنا بسنة خيرِ الأنامِ، ووفقنا لِطاعته ومرضاته، وصلى الله على سيدنا محمد النَّبيّ الأمي الذي يؤمن بالله وكَلِمَاتِه، بلغ الرِّسالةَ، وأدى الأمانةَ، ونَصَحَ للأُمَّةِ، وعلى آله وأصحابه الأخيار المُنْتَجَبِينَ، وتابعيهم بإحسانٍ إلى يومِ الدين.

وبعد، فهذا كتابٌ عظيم حافِل، يتضمَّنُ شرحَ خمسين حديثًا منتقاةٍ من جوامع كلمِهِ صلى الله عليه وسلم، يَندرِجُ تحتها معانٍ كثيرةٌ في ألفاظٍ قليلة، وهي مما خصَّ الله به رسولَه صلى الله عليه وسلم.

وقد أشار الإِمامُ أبو سليمان حَمْدُ بن محمد بن إبراهيم الخطابي المُتوفَّى سنة (388) هـ إلى يسيرٍ من جوامع كَلِمِهِ صلى الله عليه وسلم في كتابه "غريب الحديث" 1/ 64 فقال: وقد أمدَّ اللهُ رسولَه صلى الله عليه وسلم بجوامع الكَلِمِ التي جعلها رِدْءًا لِنبوته، وعَلَمًا لرسالته، لينتظِمَ في القليل منها عِلْمُ الكثيرِ، فَيَسْهُلُ على السامعين حِفظُهُ ولا يؤوْدُهُم حَمْلُهُ، ومن تتبع الجوامع من كلامه، لم يَعْدَم بيانَها، وقد وصفتُ منها ضروبًا، وكتبتُ لك مِن أمثلتها حروفًا تدلُّ على ما وراءها من نظائرها وأخواتها، فمنها في القضايا والأحكام قولُه: "المؤمِنونَ تتكافؤُ دماؤُهم، ويَسعَى بِذِمَّتِهم أدناهُم، وهُمْ يَدٌ على من سِواهم" وقوله: "المنيحةُ مردودةٌ، والعارِيَّة مؤدَّاةٌ، والدَّين مَقضِي، والزَّعيمُ غارِم". فهذان الحديثان على خِفَّةِ ألفاظهما يتضمنان عامةَ أحكام الأنفس والأموال. ومنها قولُه صلى الله عليه وسلم: "سَلُوا الله اليقينَ والعافيةَ". فتأمَّل هذه الوصَيَّة الجامعة تجدها محيطةً بخير الدُّنيا والآخرة، وذلك أن مِلاك أمرِ الآخرةِ اليقينُ، وملاك أمر الدُّنيا العافيةُ، فكُلُّ طاعة لا يقين معها هَدَرٌ، وكل
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আমাদের ইসলামের দীনের দিকে হেদায়েত দান করেছেন, এবং সৃষ্টির শ্রেষ্ঠতম সত্তার সুন্নাহর মাধ্যমে আমাদের সম্মানিত করেছেন, আর আমাদের তাঁর আনুগত্য ও সন্তুষ্টির তাওফিক দান করেছেন। আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর, যিনি নিরক্ষর নবী, যিনি আল্লাহ ও তাঁর বাণীসমূহের ওপর ঈমান আনেন; তিনি রিসালাত পৌঁছে দিয়েছেন, আমানত আদায় করেছেন এবং উম্মতকে নসিহত করেছেন। আর তাঁর পরিবার-পরিজন ও মনোনীত উত্তম সাহাবীগণের ওপর এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে তাদের ওপরও (সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক)।

অতঃপর, এটি একটি মহান ও তথ্যসমৃদ্ধ গ্রন্থ, যা তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জাওয়ামিউল কালিম (অল্প কথায় ব্যাপক অর্থবোধক বাণী) থেকে সংকলিত পঞ্চাশটি হাদিসের ব্যাখ্যা সংবলিত। যেগুলোর অল্প শব্দের অধীনে বহু অর্থ নিহিত রয়েছে; আর এটি আল্লাহ তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বিশেষভাবে দান করেছেন।

ইমাম আবু সুলায়মান হামদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহিম আল-খাত্তাবি (ওফাত: ৩৮৮ হি.) তাঁর 'গারিবুল হাদিস' (১/৬৪) গ্রন্থে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জাওয়ামিউল কালিমের সামান্য কিছু অংশের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেছেন: আল্লাহ তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এমন জাওয়ামিউল কালিম বা ব্যাপক অর্থবোধক সংক্ষিপ্ত বাক্য দিয়ে সাহায্য করেছেন যা তিনি তাঁর নবুওয়াতের জন্য সাহায্যকারী এবং রিসালাতের নিদর্শন স্বরূপ বানিয়েছেন। যাতে এর অল্পের মধ্যেই অধিক জ্ঞান বিন্যস্ত থাকে, ফলে শ্রোতাদের পক্ষে তা হিফজ করা সহজ হয় এবং তা বহন করা তাদের জন্য কষ্টকর না হয়। আর যে ব্যক্তি তাঁর বাণীর মধ্য থেকে এই ব্যাপক অর্থবোধক বাক্যগুলো অনুসরণ করবে, সে এগুলোর স্পষ্ট বর্ণনা থেকে বঞ্চিত হবে না। আমি এগুলোর বিভিন্ন প্রকার বর্ণনা করেছি এবং উদাহরণ হিসেবে আপনার জন্য কিছু অংশ লিখেছি যা এগুলোর সমজাতীয় ও অনুরূপ অন্যান্য বাণীর পথ নির্দেশ করবে। এগুলোর মধ্যে বিচার-আচার ও বিধান সংক্রান্ত একটি হাদিস হলো তাঁর এই বাণী: "মুমিনদের রক্ত সমমর্যাদার, তাদের সাধারণ স্তরের ব্যক্তিও তাদের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা প্রদানের অধিকার রাখে এবং তারা অন্যদের বিরুদ্ধে একটি হাতের মতো।" এবং তাঁর বাণী: "দানকৃত বস্তু ফেরতযোগ্য, ধার নেওয়া বস্তু আদায়যোগ্য, ঋণ পরিশোধযোগ্য এবং জামিনদার দায়বদ্ধ।" এই হাদিস দুটি তাদের শব্দের সংক্ষিপ্ততা সত্ত্বেও জীবন ও সম্পদ সংক্রান্ত সাধারণ বিধানসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে। আর এগুলোর মধ্যে একটি হলো তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণী: "তোমরা আল্লাহর কাছে একিন (দৃঢ় বিশ্বাস) ও আফিয়াত (সুস্থতা ও নিরাপত্তা) প্রার্থনা করো।" সুতরাং আপনি এই ব্যাপক অর্থবোধক উপদেশটি নিয়ে চিন্তা করুন, তবে দেখবেন এটি দুনিয়া ও আখিরাতের সকল কল্যাণকে পরিবেষ্টন করে আছে। তা এই কারণে যে, পরকালের বিষয়ের মূল ভিত্তি হলো একিন, আর দুনিয়াবি বিষয়ের মূল ভিত্তি হলো আফিয়াত বা নিরাপত্তা। সুতরাং এমন প্রতিটি আনুগত্য যার সাথে একিন নেই তা নিষ্ফল, আর প্রতিটি...
(খণ্ড: ১) জামিউল উলূম ওয়াল হিকাম - ত আরনাউত (পৃষ্ঠা: ৮)
نعمة لم تصحبها العافية كَدَرٌ، فصار هذا الكلام على وجازته وقِلَّة حروفه أحَدُ شطريه محيطًا بجوامع أمرِ الدين وشطره الآخر متضمنًا عامةَ مصالحِ الدُّنيا.

ثم أملى الإِمامُ الحافظُ المفتي شيخُ الإِسلام تقيُّ الدين أبو عمرو عثمانُ بنُ موسى الشَّهْرزُوري الشهير بابن الصَّلاح المتوفَّى 643 هـ مجلسًا سمَّاه: الأحاديث الكلية جمع فيه الأحاديثَ الجوامعَ التي يُقال: إن مدارَ الدين عليها، وما كان في معناها من الكلمات الجامعة الوجيزة، وقد اشتمل مجلسُه هذا على ستة وعشرين حديثًا.

ثم إنَّ الفقيه الإِمامَ الزاهدَ القُدوةَ أبا زكريا يحيى بن شرف النووي المتوفَّى سنة 676 هـ أخذ هذه الأحاديث التي أملاها ابنُ الصلاح، وزاد عليها تمامَ اثنين وأربعين حديثًا، وسمَّى كتابه بالأربعين، واشتهرت هذه الأربعون التي جمعها، وكَثُرَ حفظُها، ونفع اللهُ بها ببركةِ نيَّةِ جامعها وحُسْنِ قصده رحمه الله.

ثم إنَّ الحافظ ابن رجب ضَمَّ إلى ذلك كُلِّه ثمانية أحاديث أُخَرَ من جوامع الكلم الجامعة لأنواع العلومِ والحِكَمِ، فبلغت خمسين حديثًا. ثم استخارَ الله تعالى - إجابةً لجماعة من طلبة العلم - في جمع كتاب يتضمن شرح ما يَسَّرَ الله من معانيها، وتقييد ما يفتح به سبحانه من تبيين قواعدها ومبانيها.

وقد اعتنى في شرحه هذا بالتفقه بالأحاديث النبوية وتفسير غريبها، وشرحِ معانيها، وتأويلِ مختلفها، وبيان أحكامها، وما يَترتَّبُ عليها من الفِقه واختلاف العلماء، فكان من أَجَلِّ الشروح(1) التي انتهت إلينا، وأكثرِها أهميةً، وأحفلِها بالفوائد.

--------------------------------------------

(1) وقد تولى شرح الأربعين النووية غير واحد من الأئمة منهم:

1 - أبو العباس أحمد بن فرج بن أحمد الإِشبيلي (ت 699) هـ.

2 - والإِمام أبو الفتح تقي الدين محمد بن علي بن وهب الشهير بابن دقيق العيد (ت =

যে নিআমতের সাথে নিরাপত্তা বা সুস্থতা নেই তা ঘোলাটে। ফলে এই কথাটি তার সংক্ষিপ্ততা ও অল্প শব্দ হওয়া সত্ত্বেও এর এক অর্ধাংশ দ্বীনি বিষয়ের ব্যাপকতা পরিবেষ্টনকারী এবং অন্য অর্ধাংশ দুনিয়াবী সাধারণ কল্যাণসমূহ অন্তর্ভুক্তকারী হয়েছে।

অতঃপর ইমাম, হাফিজ, মুফতি, শায়খুল ইসলাম তাকিউদ্দীন আবু আমর উসমান ইবনে মুসা আশ-শাহরাযুরী, যিনি ইবনুস সালাহ নামে প্রসিদ্ধ (মৃত ৬৪৩ হি.), তিনি একটি মজলিস শ্রুতিলিখন করান যার নাম দেন: 'সামগ্রিক হাদিসসমূহ'। এতে তিনি সেই সব ব্যাপক অর্থবোধক হাদিসসমূহ একত্রিত করেছেন যেগুলোর ব্যাপারে বলা হয়: দ্বীনের আবর্তন এগুলোর উপরেই; এবং অনুরূপ অর্থবোধক সংক্ষিপ্ত ব্যাপক শব্দসমূহও এতে রয়েছে। তাঁর এই মজলিসটি ছাব্বিশটি হাদিস অন্তর্ভুক্ত করেছিল।

এরপর ফকিহ, ইমাম, যাহেদ, আদর্শ পুরুষ আবু জাকারিয়া ইয়াহইয়া ইবনে শারাফ আন-নববী (মৃত ৬৭৬ হি.) ইবনুস সালাহ কর্তৃক শ্রুতিলিখিত এই হাদিসগুলো গ্রহণ করেন এবং এর ওপর আরও বৃদ্ধি করে পূর্ণ বিয়াল্লিশটি হাদিস করেন। তিনি তাঁর কিতাবের নাম দেন 'আরবাঈন'। তাঁর সংকলিত এই চল্লিশ (আরবাঈন) হাদিস প্রসিদ্ধি লাভ করে, এর মুখস্থকরণ বৃদ্ধি পায় এবং এর সংকলকের নিয়তের বরকত ও তাঁর সুন্দর উদ্দেশ্যের কারণে আল্লাহ তাআলা এর দ্বারা ব্যাপক উপকার দান করেন, আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন।

অতঃপর হাফিজ ইবনে রাজাব এই সবগুলোর সাথে আরও আটটি হাদিস যুক্ত করেন যা বিভিন্ন প্রকার জ্ঞান ও প্রজ্ঞার ব্যাপক অর্থবোধক বাণীর অন্তর্ভুক্ত ছিল। ফলে হাদিস সংখ্যা পঞ্চাশটিতে পৌঁছায়। এরপর তিনি একদল ইলম অন্বেষীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে—আল্লাহ তাআলা এগুলোর অর্থ থেকে যা সহজ করেছেন তার ব্যাখ্যা সম্বলিত এবং এগুলোর মূলনীতি ও ভিত্তিসমূহ বর্ণনার ক্ষেত্রে মহান আল্লাহ যা উন্মুক্ত করে দিয়েছেন তা লিপিবদ্ধ করার জন্য একটি কিতাব সংকলন করতে ইস্তিখারা করেন।

তিনি তাঁর এই ব্যাখ্যাগ্রন্থে নববী হাদিসসমূহ থেকে ফিকহ আহরণ, এর অপরিচিত শব্দগুলোর ব্যাখ্যা, এর অর্থসমূহের বিশ্লেষণ, আপাতবিরোধী বিষয়গুলোর ব্যাখ্যা প্রদান এবং এগুলোর বিধানসমূহ এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট ফিকহ ও আলেমদের মতভেদ বর্ণনার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। ফলে এটি আমাদের কাছে পৌঁছানো ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোর মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ(১), সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ এবং উপকারে ভরপুর একটি গ্রন্থে পরিণত হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) ইমামগণের মধ্যে একাধিক ব্যক্তি আরবাঈন নববীর ব্যাখ্যা করেছেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন:

১ - আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে ফারাজ ইবনে আহমদ আল-ইশবিলি (মৃত ৬৯৯ হি.)।

২ - এবং ইমাম আবুল ফাতহ তাকিউদ্দীন মুহাম্মাদ ইবনে আলী ইবনে ওয়াহাব, যিনি ইবনে দাকীকুল ঈদ নামে প্রসিদ্ধ (মৃত =

(খণ্ড: ১) জামিউল উলূম ওয়াল হিকাম - ত আরনাউত (পৃষ্ঠা: ৯)
وقد بدأه بمقدمة موجزةٍ أبانَ فيها عن الطريقة التي اتبعها في الشرح، فقال: اعلم أنه ليس من غرضي إلَّا شَرْحُ الألفاظ النبوية التي تضمنتها هذه الأحاديث الكلية، فلذلك لا أتقيَّدُ بألفاظِ الشيخ رحمه الله في تراجم رواة هذه الأحاديث من الصحابة رضي الله عنهم، ولا بألفاظه في العزو إلى الكتب التي يعزو إليها، وإنَّما آتي بالمعنى الذي يدلُّ على ذلك، لأني قد أعلمتُك أنه ليس لي غرض إلا في شرح معاني كلمات النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم الجوامع، وما تضمنته من الآداب والحِكَمِ والمعارفِ، والأحكامِ والشرائع.

وأُشير إشارةً لطيفَة قبل الكلام في شرح الحديث إلى إسناده ليُعْلَمَ بذلك صحته وقوته وضعفه، وأذكرُ بعضَ ما رُوي في معناه من الأحاديث إن كان في ذلك

--------------------------------------------

= 702) هـ وهو مطبوع.

3 - والإِمام نجم الدين سليمان بن عبد القوي الحنبلي الطوفي (ت 710) هـ.

4 - وتاج الدين عمر بن علي اللخمي الإسكندري الفاكهاني (ت 731) هـ.

5 - وزين الدين سَرِيجا بن محمد المَلَطي (ت 788) هـ.

6 - والعلامة سعد الدين سعد بن عمر التفتازاني (ت 791) هـ وهو مطبوع.

7 - وجمال الدين يوسف بن الحسن التبريزي (ت 804) هـ.

8 - والحافظ سراج الدين أبو حفص عمر بن علي بن أحمد الأنصاري المعروف بابن الملقن (ت 804) هـ.

9 - والعلامة معين الدين عبد الرَّحمن بن صفي الدين (ت 905) هـ.

10 - والحافظ جلال الدين عبد الرَّحمن بن أبي بكر بن محمد السيوطي (ت 911) هـ.

11 - العلامة أبو العباس أحمد بن محمد بن علي بن حجر المكي الهيثمي (ت 973) هـ وهو مطبوع.

12 - والعلامة مصلح الدين محمد السعدي العبادي (ت 979) هـ.

13 - والعلامة نور الدين علي بن سلطان محمد القاري الهروي المكي (ت 1114) هـ وهو مطبوع.

তিনি এটি একটি সংক্ষিপ্ত ভূমিকা দিয়ে শুরু করেছেন যাতে তিনি ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে তাঁর অনুসরণকৃত পদ্ধতি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন: জেনে রেখো যে, এই সামগ্রিক হাদিসগুলো যে নববী শব্দাবলি ধারণ করেছে তা ব্যাখ্যা করা ছাড়া আমার অন্য কোনো উদ্দেশ্য নেই। তাই আমি এই হাদিসগুলোর বর্ণনাকারী সাহাবিদের (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) জীবনী বর্ণনায় শাইখের (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) শব্দের অনুসারী হব না, আর তিনি যেসব কিতাবের উদ্ধৃতি দিয়েছেন সে ক্ষেত্রেও তাঁর শব্দের অনুসারী হব না। বরং আমি এমন অর্থ উল্লেখ করব যা এর ওপর নির্দেশ করে। কেননা আমি তোমাকে অবগত করেছি যে, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জওয়ামিউল কালিম (সংক্ষিপ্ত কিন্তু ব্যাপক অর্থবোধক বাণী)-এর অর্থসমূহ এবং এর অন্তর্ভুক্ত শিষ্টাচার, প্রজ্ঞা, জ্ঞান, বিধিবিধান ও শরিয়ত ব্যাখ্যা করা ছাড়া আমার অন্য কোনো লক্ষ্য নেই।

আর আমি হাদিসের ব্যাখ্যা শুরু করার আগে এর সনদের প্রতি একটি সূক্ষ্ম ইঙ্গিত প্রদান করব, যাতে এর মাধ্যমে এর বিশুদ্ধতা, সবলতা ও দুর্বলতা জানা যায়। আর এই অর্থে বর্ণিত হাদিসগুলোর মধ্য থেকে কিছু অংশ আমি উল্লেখ করব যদি তাতে...

--------------------------------------------

= ৭০২ হিজরি) এবং এটি মুদ্রিত হয়েছে।

৩ - এবং ইমাম নাজমুদ্দিন সুলায়মান ইবনে আব্দুল কাবি আল-হাম্বালি আত-তুফি (মৃত্যু: ৭১০ হিজরি)।

৪ - এবং তাজউদ্দিন উমর ইবনে আলি আল-লাখমি আল-ইসকান্দারি আল-ফাকিহানি (মৃত্যু: ৭৩১ হিজরি)।

৫ - এবং যাইনুদ্দিন সারিজা ইবনে মুহাম্মাদ আল-মালাতি (মৃত্যু: ৭৮৮ হিজরি)।

৬ - এবং আল্লামা সা'দুদ্দিন সা'দ ইবনে উমর আত-তাফতাজানি (মৃত্যু: ৭৯১ হিজরি) এবং এটি মুদ্রিত হয়েছে।

৭ - এবং জামালুদ্দিন ইউসুফ ইবনে হাসান আত-তাবরিজি (মৃত্যু: ৮০৪ হিজরি)।

৮ - এবং আল-হাফিজ সিরাজুদ্দিন আবু হাফস উমর ইবনে আলি ইবনে আহমাদ আল-আনসারি, যিনি ইবনুল মুলাক্কিন নামে পরিচিত (মৃত্যু: ৮০৪ হিজরি)।

৯ - এবং আল্লামা মঈনুদ্দিন আব্দুর রহমান ইবনে সফিউদ্দিন (মৃত্যু: ৯০৫ হিজরি)।

১০ - এবং আল-হাফিজ জালালুদ্দিন আব্দুর রহমান ইবনে আবু বকর ইবনে মুহাম্মাদ আস-সুয়ূতী (মৃত্যু: ৯১১ হিজরি)।

১১ - আল্লামা আবুল আব্বাস আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আলি ইবনে হাজার আল-মাক্কি আল-হাইতামি (মৃত্যু: ৯৭৩ হিজরি) এবং এটি মুদ্রিত হয়েছে।

১২ - এবং আল্লামা মুসলিহুদ্দিন মুহাম্মাদ আস-সা'দি আল-আবাদি (মৃত্যু: ৯৭৯ হিজরি)।

১৩ - এবং আল্লামা নুরুদ্দিন আলি ইবনে সুলতান মুহাম্মাদ আল-কারি আল-হারাউই আল-মাক্কি (মৃত্যু: ১১১৪ হিজরি) এবং এটি মুদ্রিত হয়েছে।

(খণ্ড: ১) জামিউল উলূম ওয়াল হিকাম - ত আরনাউত (পৃষ্ঠা: ১০)
الباب شيء غير الحديث الذي ذكره الشيخ وإن لم يكن في الباب غيرُه أو لم يكن يَصِحُّ فيه غيره، نبهتُ على ذلك كُلِّهِ.

ويرى القارئ بإثر كل حديث تصدَّى المؤلفُ لشرحه جملةَ أشياء هي:

1 - تخريج الحديث من الصِّحاح والمسانيد والسنن والمعاجم مما وعته ذاكرته، وإيرادُ طرقه وألفاظه، والمقارنة بينها، والتدقيق في صحتها، وبيانُ درجته من الصحةِ أو الحسن أو الضعف، والمؤلف رحمه الله إمامٌ في هذا الباب، فقد غلب عليه علمُ الحديث روايةً ودراية، وصرف مُعْظَمَ وقته فيه حتَّى صار لا يُعرف إلا به، ولم يُرَ أتقن منه فيه.

2 - الاستشهادُ بالآيات القرآنية التي تجلو معنى الحديثِ الذي يَعْرِضُ له وتوضحه، ونقل ما هو مأثور عن السلف في بيان المراد منها، واحتفاله بذلك في إحلالها مرتبةَ الصدارةِ من شواهده.

3 - إكثارُه من الاستشهادِ بالأحاديث النبوية مما ورد في المعنى الذي تضمنه الحديثُ الذي هو بصدد شرحه، يأتي بها على وجهها لا يَخْرِمُ منها حرفًا، وتخريجُها من مصادرها، وهو شيء كثير وعدد ضخم يدُلُّ على قوة حفظه، ودِقَّة فهمه، وسَعَةِ اطِّلاعه.

وهذه الأحاديث منها ما هو صحيح وهي الكثرة الكاثرة، وقد بين المؤلف درجتها إما بعزوها إلى مخرجيها من أصحاب الصحاح، وإما بالتنصيص على صحتها، ومنها ما فيه ضعفٌ خفيف وقد نبَّه على ضعفها في الأعم الأغلب، وهي من النوع الذي يصلح للمتابعات والشواهد، أو تكون واردة في غير العقائد والأحكام.

وقد ترخص غير واحدٍ من الأئمة ذوي التحقيق في رواية الأحاديث الضعيفة، وجواز العمل بها إذا كان ضعفُها غيرَ شديدٍ، وتَندَرِجُ تحتَ أصلٍ
পরিচ্ছেদে শায়খ বর্ণিত হাদিসের বাইরে যদি অন্য কিছু থেকে থাকে, যদিও পরিচ্ছেদে তা ছাড়া অন্য কিছু নেই অথবা তা ছাড়া অন্য কিছু বিশুদ্ধ নয়, তবুও আমি এ সবকিছুর প্রতি ইঙ্গিত করেছি।

লেখক যে হাদিসগুলোর ব্যাখ্যা করতে উদ্যোগী হয়েছেন, তার প্রত্যেকটির পরেই পাঠক নিম্নোক্ত বিষয়গুলো দেখতে পাবেন:

1 - তাঁর স্মৃতিতে সংরক্ষিত সিহাহ, মাসানিদ, সুনান এবং মু'জামসমূহ থেকে হাদিসের তাখরিজ করা, এর বিভিন্ন সূত্র ও শব্দাবলি উপস্থাপন করা, সেগুলোর মধ্যে তুলনা করা, সেগুলোর বিশুদ্ধতা যাচাই করা এবং হাদিসটি সহিহ, হাসান নাকি দয়িফ—তার স্তর বর্ণনা করা। লেখক (রহিমাহুল্লাহ) এই ক্ষেত্রে একজন ইমাম ছিলেন; হাদিস শাস্ত্রের রেওয়ায়েত এবং দিরায়েত উভয় দিকই তাঁর ওপর প্রবল ছিল এবং তিনি তাঁর সময়ের অধিকাংশ এই শাস্ত্রেই ব্যয় করেছেন, এমনকি তিনি এই শাস্ত্র ব্যতীত অন্য কিছুর জন্য পরিচিত ছিলেন না এবং তাঁর চেয়ে অধিক নিপুণ আর কাউকে এই শাস্ত্রে দেখা যায়নি।

2 - তিনি যে হাদিসটি উপস্থাপন করছেন তার অর্থকে সুস্পষ্ট ও বিশদ করার জন্য কুরআনের আয়াত দ্বারা দলিল পেশ করা এবং সেগুলোর উদ্দেশ্য বর্ণনায় সালাফদের থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তা উদ্ধৃত করা। তাঁর উপস্থাপিত প্রমাণাদির মধ্যে এই আয়াতগুলোকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তা সম্পাদন করেছেন।

3 - তিনি যে হাদিসটি ব্যাখ্যা করছেন, তার অন্তর্ভুক্ত বিষয়ের সমর্থনে বর্ণিত অন্যান্য নবিপ্রদত্ত হাদিস থেকে প্রচুর পরিমাণে উদ্ধৃতি প্রদান করা। তিনি সেগুলো হুবহু উপস্থাপন করেন—তাতে একটি অক্ষরও কম করেন না—এবং সেগুলোকে মূল উৎস থেকে তাখরিজ করেন। এটি এক বিশাল সংখ্যা ও বিপুল পরিমাণ কাজ, যা তাঁর মুখস্থ শক্তির প্রবলতা, সূক্ষ্ম বুঝ এবং জ্ঞানলব্ধ ব্যাপক পড়াশোনার প্রমাণ দেয়।

এই হাদিসগুলোর মধ্যে কিছু সহিহ, আর এগুলোর সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। লেখক এগুলোর স্তর বর্ণনা করেছেন—হয় সিহাহ গ্রন্থকারদের দিকে সম্বন্ধ করার মাধ্যমে, অথবা সরাসরি সেগুলোর বিশুদ্ধতা স্পষ্ট করার মাধ্যমে। আবার এগুলোর মধ্যে এমন কিছু হাদিসও আছে যাতে সামান্য দুর্বলতা রয়েছে এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তিনি সেগুলোর দুর্বলতার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। এগুলো এমন প্রকারের হাদিস যা মুতাবা'আত (অনুগামী) এবং শাওয়াহেদ (সাক্ষ্য) হিসেবে উপযুক্ত, অথবা সেগুলো আকিদা ও আহকাম ব্যতীত অন্য বিষয়ে বর্ণিত হয়েছে।

মুহাক্কিক বা গবেষক ইমামদের মধ্য থেকে একাধিক ইমাম দয়িফ হাদিস বর্ণনা করার এবং তার ওপর আমল করা জায়েজ হওয়ার ব্যাপারে শিথিলতা প্রদর্শন করেছেন, যদি সেটির দুর্বলতা প্রবল না হয় এবং তা কোনো মূলনীতির অধীনে অন্তর্ভুক্ত হয়।
(খণ্ড: ১) জামিউল উলূম ওয়াল হিকাম - ত আরনাউত (পৃষ্ঠা: ১১)
عام في فضائل الأعمال وكرائم الأخلاق، والقصص والمواعظ، والترغيب والترهيب، وما إلى ذلك.

4 - تفسيرُ غريب الحديث وشرح مضامينه بالاعتماد على الأحاديث التي ترد في موضوعه وفيها من التقييد والتخصيص والتوضيح وإزالة اللَّبس ما ليس في حديث الباب. وقد أسهب في الشرح إسهابًا مفيدًا ممتعًا، شحنه بالفوائد والفرائدِ مما تَمَسُّ حاجةُ الإِنسان إليه في شؤون دنياه وآخرته.

5 - إيرادُ الأحكام الفقهية المستفادة من الحديث - وهي مما تشتد حاجةُ المكلف إليها - ونسبتُها إلى قائليها من الصحابة والتابعين والأئمة المتبوعين مما يدل على اطلاعه الواسع على فتاوى السلف، وحفظِه لآثارهم العلمية، وما كانوا يجتهدون من مسائل، وتفهُّم لها، ومعرفةٍ بمراميها وغاياتها، وما اختلفوا فيه من هذه المسائل، فإنه يحتج لِكُلِّ قول منها بدليله، ثم يُرجح ما يراه أبلغَ في الحجة، وأوفق للنص.

6 - ذكرُ طائفة من الحِكَمِ المأثورة عن السلف الصالح الذين وُصِفُوا بالعلم والتقوى والورع في نهاية شرحِ الحديث مما له صلة به، وهي حِكَمٌ مؤثِّرة تتغلغل إلى أعماقِ النفس، فتحدث فيها تغييرًا ملموسًا نحو الأفضل.

ويرى بعض أهل العلم أن هذا الكتاب بعامة، وفصول الأخلاقيات بخاصة تمثل الكثير من حياة ابن رجب، وأن هناك ترابطًا قويًا بين ما ذكره هو في كتابه، وما ذكره عنه من ترجموا له.

 

‌‌الطبعات السابقة لهذا الشرح:

وقد سبق لهذا الشرح أن طبع في الهند في بلدة (آمرتسر) ولم يرد وصفٌ للأصل المعتمدِ في الطبع، ولا السنةِ التي طُبِع فيها، وجاء في آخر صفحة منها بقلم مُصَحِّحَيْها عبد الغني وعبد الواحد الغزنوييْن ما نصه: ولما لم يَتَيَسَّرْ لنا
নেক আমলের ফযিলত, উন্নত চরিত্র, কিচ্ছা-কাহিনী, নসিহত এবং নেক আমলের প্রতি উৎসাহ প্রদান ও পাপাচারের পরিণাম সম্পর্কে ভীতি প্রদর্শনসহ ইত্যাদি বিষয়ে এটি একটি সাধারণ আলোচনা।

৪ - হাদিসের দুর্বোধ্য শব্দসমূহের ব্যাখ্যা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য হাদিসের ওপর ভিত্তি করে এর মর্মার্থের বিশ্লেষণ করা হয়েছে। ওই হাদিসগুলোতে এমন কিছু সীমাবদ্ধতা, বিশেষত্ব, স্পষ্টীকরণ এবং অস্পষ্টতা দূরীকরণ রয়েছে যা মূল হাদিসে অনুপস্থিত। তিনি অত্যন্ত চমৎকার ও উপকারীভাবে এই ব্যাখ্যাকে বিস্তারিত করেছেন এবং একে এমন সব বিরল ইলমি তথ্যে সমৃদ্ধ করেছেন যা মানুষের দুনিয়া ও আখিরাতের প্রয়োজনে অপরিহার্য।

৫ - হাদিস থেকে সংগৃহীত ফিকহি বিধানসমূহ উল্লেখ করা—যার প্রতি একজন মুকাল্লাফের (শরিয়তের বিধান পালনে দায়বদ্ধ ব্যক্তি) প্রয়োজনীয়তা অনেক বেশি। এই বিধানগুলোকে তিনি সাহাবী, তাবিঈ এবং অনুসরণীয় ইমামগণের মধ্যে যারা এগুলো বলেছেন তাদের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেছেন। এটি সালাফদের ফতোয়া সম্পর্কে তাঁর গভীর পাণ্ডিত্য, তাঁদের ইলমি আসার বা জ্ঞানতাত্ত্বিক নিদর্শনসমূহ সংরক্ষণ এবং যেসব মাসয়ালায় তাঁরা ইজতিহাদ করেছেন তা অনুধাবন ও সেগুলোর লক্ষ্য-উদ্দেশ্য সম্পর্কে তাঁর অন্তর্দৃষ্টির প্রমাণ দেয়। যেসব বিষয়ে তাঁদের মধ্যে মতভেদ হয়েছে, সেখানে তিনি প্রত্যেকটি মতের স্বপক্ষে দলিল পেশ করেছেন এবং এরপর দলিল ও নসের (মূল পাঠ) বিচারে যেটি অধিক শক্তিশালী ও সামঞ্জস্যপূর্ণ মনে হয়েছে, সেটিকে প্রাধান্য দিয়েছেন।

৬ - হাদিসের ব্যাখ্যার শেষে সেই সালাফে সালেহীনদের একগুচ্ছ প্রজ্ঞাপূর্ণ বাণী উল্লেখ করা যারা ইলম, তাকওয়া ও খোদাভীতির গুণে গুণান্বিত ছিলেন। এই প্রজ্ঞা বা হিকমতগুলো সংশ্লিষ্ট বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত এবং এগুলো অত্যন্ত প্রভাবশালী যা হৃদয়ের গহীন প্রকোষ্ঠে প্রবেশ করে এবং সেখানে দৃশ্যমান ও ইতিবাচক পরিবর্তন সাধন করে।

কোনো কোনো আলেম মনে করেন যে, সামগ্রিকভাবে এই কিতাবটি এবং বিশেষভাবে এর আখলাক বা নৈতিকতা বিষয়ক অধ্যায়গুলো ইবনে রজবের জীবনের একটি বড় অংশের প্রতিফলন। তিনি তাঁর কিতাবে যা লিখে গেছেন এবং তাঁর জীবনীকারগণ তাঁর সম্পর্কে যা উল্লেখ করেছেন, এ দুইয়ের মাঝে এক গভীর যোগসূত্র বিদ্যমান।

 

‌‌এই ব্যাখ্যার পূর্ববর্তী মুদ্রণসমূহ:

এর আগে ভারতের ‘অমৃতসর’ শহরে এই শরহটি মুদ্রিত হয়েছিল। তবে সেখানে কোন পাণ্ডুলিপির ভিত্তিতে এটি ছাপা হয়েছে তার বিবরণ বা মুদ্রণ সালের উল্লেখ ছিল না। উক্ত কপির শেষ পৃষ্ঠায় এর দুই সংশোধক আব্দুল গনি এবং আব্দুল ওয়াহিদ আল-গজনবীর কলমে যা লেখা ছিল তা হলো: "যেহেতু আমাদের জন্য সম্ভব হয়নি..."
(খণ্ড: ১) জামিউল উলূম ওয়াল হিকাম - ত আরনাউত (পৃষ্ঠা: ১২)
نسخةٌ صحيحة، فالمرجو من الناظزين أن يَعْذُرونَا في العثراتِ، ويرحم الله من عمَّا عن الخطأ والخطل، وسد ما رأى من الخلل.

ثم قامت بطبعه مكتبةُ مصطفى البابي الحلبي في مصر سنة (1346) هـ. معتمدةً على الطبعة الهندية، فجاءت صورةً مطابقة لها بتصحيفاتها وتحريفاتها التي تزيد على الألف كما تبين لنا في المقابلة على الأصول الخطية النفيسة التي اعتمدنا عليها في هذه الطبعة.

وعن هذه الطبعة - أعني طبعة مصطفى البابي الحلبي - صوَّر الوراقون الذين يطمعون بالربح المادي ولو بطريقة غير مشروعة، وعمَّموها في الأسواق.

 

وقد نشر المرحوم العلامة أحمد شاكر ثمانية أحاديث من هذا الشرح في أربع رسائل، اقتصر فيها على تحقيق النَّصِّ، مع تعليقات قليلة تناول فيها مباحث في اللغة والحديث.

 

ثم قام الشيخ محمدٌ الأحمدي أبو النور بتحقيق هذا الشرح معتمدًا على عدة نسخ موجودة في دار الكتب المصرية، فأصدر منه سنة (1388) هـ (1969) م جزأين يتضمنان شرح عشرين حديثًا، ثم توقف عن إصدار ما تبقّى منه وهو ثلاثة أخماسه إلى يومنا هذا[*].

 

وكانت لي في أوائل انتحالي لهذه الصنعة رغبة قوية في تحقيق هذا الشرح الحافل الذي تتبدَّى منه وفرةُ محفوظِ المؤلف، ودِقَّةُ فهمه، واتساعُ دائرته في علوم السنة رواية ودراية وتفقهًا، وكان يَصرِفُنِي عن تحقيقه عدم وجود أصلٍ متقنٍ أعتمده، ثم شاء الله سبحانه وتعالى أن يُحقق لي هذه الرغبة بعد عشرين عامًا أو تزيد، فيسَّرَ لي عدةَ أصول خطية نفيسة مقابلة ومصححة، وكلها قريبةُ عهد بالمؤلف رحمه الله، فالحمد لله حق حمده، ونسأله التوفيق لرشده، ونرغب إليه في المزيد من فضله.

 

-‌‌ وصف الأصول المعتمدة:

- الأولى: نسخة مُصوَّرةٌ عن الأصل الخطي الموجودة في ظاهرية دمشق،

--------------------------------------------

[*] (تعليق الشاملة): ثم أتم الشيخ محمد الأحمدي أبو النور تحقيق الكتاب، وهو منشور تامًا بـ «الشاملة»

এটি একটি সঠিক পাণ্ডুলিপি, তাই পাঠকদের নিকট প্রত্যাশা যে তারা আমাদের ভুলত্রুটিগুলো ক্ষমা করবেন। আল্লাহ সেই ব্যক্তির ওপর রহম করুন যে ভুলভ্রান্তিগুলো গোপন রাখে এবং যেসব বিচ্যুতি দেখতে পায় তা সংশোধন করে দেয়।

অতঃপর মিসরের মোস্তফা আল-বাবী আল-হালাবী লাইব্রেরি ১৩৪৬ হিজরি সনে এটি মুদ্রণ করে। তারা ভারতীয় মুদ্রণের ওপর নির্ভর করেছিল, ফলে এটি সেই সংস্করণের হুবহু প্রতিচ্ছবি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে, যাতে এক হাজারের বেশি বর্ণবিভ্রাট ও বিকৃতি ছিল। আমাদের এই সংস্করণে ব্যবহৃত মূল্যবান মূল পাণ্ডুলিপিগুলোর সাথে মিলিয়ে দেখার সময় বিষয়টি আমাদের নিকট স্পষ্ট হয়েছে।

আর এই মুদ্রণটি—অর্থাৎ মোস্তফা আল-বাবী আল-হালাবী সংস্করণ—সেই সকল প্রকাশকগণ অনুলিপি করেছেন যারা কেবল আর্থিক মুনাফা চান, এমনকি তা অবৈধ পন্থায় হলেও, এবং তারা এগুলো বাজারে ছড়িয়ে দিয়েছেন।

 

মরহুম আল্লামা আহমদ শাকির এই শরহ (ব্যাখ্যাগ্রন্থ) থেকে আটটি হাদিস চারটি পুস্তিকায় প্রকাশ করেছিলেন। সেখানে তিনি কেবল মূল পাঠের তাহকিকের (যাচাই-বাছাই) মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিলেন, সাথে ছিল সামান্য কিছু টীকা যেখানে তিনি ভাষা ও হাদিস শাস্ত্রীয় আলোচনা করেছেন।

 

এরপর শায়খ মুহাম্মদ আল-আহমাদি আবু আল-নূর মিসরের 'দারুল কুতুব'-এ সংরক্ষিত বেশ কয়েকটি পাণ্ডুলিপির ওপর ভিত্তি করে এই শরহটির তাহকিক করেন। তিনি ১৩৮৮ হিজরি (১৯৬৯ খ্রিস্টাব্দ) সনে এর দুটি খণ্ড প্রকাশ করেন যার মধ্যে বিশটি হাদিসের ব্যাখ্যা অন্তর্ভুক্ত ছিল। এরপর আজ অবধি এর অবশিষ্ট অংশ—যা প্রায় পাঁচ ভাগের তিন ভাগ—প্রকাশ করা থেকে তিনি বিরত থাকেন[*]।

 

এই শাস্ত্রীয় কাজে আমার পদচারণার শুরুর দিকে এই বিশাল শরহটি তাহকিক করার তীব্র আকাঙ্ক্ষা ছিল, যাতে লেখকের মুখস্থ বিদ্যার প্রাচুর্য, সূক্ষ্ম বুঝ এবং রেওয়াত, দেরায়াত ও ফিকহের আলোকে সুন্নাহর জ্ঞানে তাঁর গভীরতা প্রকাশ পায়। নির্ভরযোগ্য কোনো মূল পাণ্ডুলিপি না থাকা আমাকে এটি সম্পাদনা করা থেকে বিরত রেখেছিল। এরপর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা চাইলেন যে বিশ বছর বা তারও বেশি সময় পর আমার সেই আকাঙ্ক্ষা পূরণ হোক। তিনি আমার জন্য বেশ কিছু মূল্যবান মূল পাণ্ডুলিপি সহজ করে দিলেন যা অন্যের সাথে মিলিয়ে দেখা এবং সংশোধিত ছিল, এবং সেগুলোর সবই লেখকের (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) সমসাময়িক কালের কাছাকাছি সময়ের। সুতরাং সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর প্রাপ্য অনুযায়ী আল্লাহরই জন্য, এবং আমরা তাঁর নিকট সঠিক পথের তাওফিক প্রার্থনা করি এবং তাঁর অনুগ্রহের আরও বৃদ্ধি কামনা করি।

 

-‌‌ নির্ভরকৃত পাণ্ডুলিপিগুলোর বিবরণ:

- প্রথমটি: দামেস্কের জাহিরিয়া লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত মূল পাণ্ডুলিপি থেকে ধারণকৃত একটি অনুলিপি।

--------------------------------------------

[*] (শামেলা-র টীকা): এরপর শায়খ মুহাম্মদ আল-আহমাদি আবু আল-নূর বইটির তাহকিক সম্পন্ন করেছেন এবং এটি 'শামেলা'-তে পূর্ণাঙ্গভাবে প্রকাশিত হয়েছে।

(খণ্ড: ১) জামিউল উলূম ওয়াল হিকাম - ত আরনাউত (পৃষ্ঠা: ১৩)
وقد أحضرها إلينا الأستاذ سليمان الحرش فجزاه الله خيرًا، ورمزنا لها بِـ (أ)، وعدد أوراقها (231) ورقة، في كلّ صفحة خمسة وعشرون سطرًا، وفي كلّ سطر اثنتا عشرة كلمة تقريبًا، وخَطُّهَا نَسخيٌ واضحٌ ومقروء، وقد كتبت الأحاديث المشروحة بالأحمر، وهي غاية في الجودة والنفاسة، والخطأ فيها نادرٌ، جاء في حواشيها تصحيحات واستدراكات جيدة تزيد من قيمتها وتُعلي من شأنها.

وجاء في لوحة العنوان ما نصّه:

1 - كتاب شرح النواوية، تأليف الشيخ الإِمام العالم العلامة الرِّحْلَةِ محدث الشام الحافظ زين الدين أبو الفرج عبد الرَّحمن بن الشيخ الإِمام العالم العلامة شهاب الدين أبو العباس أحمد بن رجب الحنبلي رحمه الله تعالى ورضي عنه.

2 - الحمد لله رب العالمين: وجدتُ بخط شيخنا العلامة الشيخ عماد الدين أبي الفداء إسماعيل البقاعي الشافعي تغمده الله تعالى برحمته ما صورتُه: قال كاتبُ هذه الأحرف لَطَفَ الله تعالى به: نسختُ هذا الشرح، وقرأتُ منه على مصنفه قطعةً بدمشق وهو ممسك بأصله، ثم توفي إلى رحمة الله تعالى، ولم أعلم أنه خلَّف بعده مثلَه، ثم إنَّ صاحبنا الشيخ عبد القادر الحجازي المدني الشهير بالحجار نسخ الشرحَ، وقرأه على الشيخ رحمه الله، ثم بعد ذلك نظم بيتًا من الشعر في مدح الشرح، فتممتُ عليه أبياتًا، والبيتُ الذي هو قوله:

هذا كتابٌ لو يُباع بوزنه … ذهبًا لكان البائعُ المغبونا

بل لو يُباعُ بوزنه دُرًّا ويا … قُوتًا كذلك لؤلؤًا مكنونا

رَجَعَ الذي قد باعه إن كان ذا … عقلٍ بصفقة خاسرٍ محزونا

كم دُرّ علمٍ نافع أبدى به … للنَّاس كان بصدره مخزونا

ما باع جوهر علمه الباقي بغا … لي الدر إلا أحمقًا مفتونا

يا ربِّ فارحمه وكُلَّ شيوخنا … والوالدين وقائلًا: آمينا

قال ذلك وكتبهُ إسماعيل البقاعي ثم الدمشقي عفا الله تعالى عنه … وبمنه
উস্তাদ সুলাইমান আল-হারশ এটি আমাদের নিকট নিয়ে এসেছেন, আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দিন। আমরা একে (আ) চিহ্ন দ্বারা চিহ্নিত করেছি। এর পৃষ্ঠা সংখ্যা ২৩১টি, প্রতিটি পৃষ্ঠায় পঁচিশটি লাইন রয়েছে এবং প্রতিটি লাইনে প্রায় বারোটি করে শব্দ রয়েছে। এর লিপিশৈলী নাসখ্ পদ্ধতির, যা অত্যন্ত স্পষ্ট ও পাঠযোগ্য। ব্যাখ্যা করা হাদিসগুলো লাল কালিতে লেখা হয়েছে। এটি অত্যন্ত উন্নত মানের ও মূল্যবান; এতে ভুল-ত্রুটি নেই বললেই চলে। এর পার্শ্বটীকায় উত্তম সংশোধন ও সংযোজন রয়েছে যা এর মান বৃদ্ধি করেছে এবং এর গুরুত্বকে উচ্চে তুলে ধরেছে।

শিরোনাম পাতায় যা লেখা রয়েছে তা হলো:

১ - কিতাবু শারহিন নাওয়াবিয়্যাহ, রচনায়: শায়খ, ইমাম, বিজ্ঞ আলেম, আল্লামা, দেশভ্রমণকারী পর্যটক, শামের মুহাদ্দিস, হাফিজ যাইনুদ্দীন আবুল ফারাজ আবদুর রহমান বিন শায়খ, ইমাম, বিজ্ঞ আলেম, আল্লামা শিহাবুদ্দীন আবুল আব্বাস আহমদ বিন রাজাব আল-হানবালী, আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন এবং তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন।

২ - সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য: আমি আমাদের শায়খ আল্লামা শায়খ ইমাদুদ্দীন আবুল ফিদা ইসমাইল আল-বিকাঈ আশ-শাফেঈ—আল্লাহ তাআলা তাঁকে তাঁর রহমতে আবৃত করুন—এর হস্তাক্ষরে যা পেয়েছি তার অনুলিপি নিম্নরূপ: এই অক্ষরগুলোর লেখক—আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি দয়া করুন—বলেছেন: আমি এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটির অনুলিপি করেছি এবং দামেস্কে এর একটি অংশ এর লেখকের সামনে পাঠ করেছি, যখন তিনি তাঁর মূল পাণ্ডুলিপিটি হাতে রেখেছিলেন। এরপর তিনি আল্লাহ তাআলার রহমতের দিকে চলে গেছেন (মৃত্যু বরণ করেছেন)। আমি জানি না যে তিনি তাঁর পরে এর মতো কোনো কিছু রেখে গেছেন কি না। অতঃপর আমাদের সাথী শায়খ আবদুল কাদির আল-হিজাজি আল-মাদানি—যিনি হাজ্জার নামে প্রসিদ্ধ—এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটির অনুলিপি করেন এবং শায়খ (রহিমাহুল্লাহ)-এর নিকট তা পাঠ করেন। এরপর তিনি এই ব্যাখ্যাগ্রন্থের প্রশংসায় একটি পঙক্তি রচনা করেন, অতঃপর আমি তার সাথে আরও কিছু পঙক্তি যুক্ত করে তা পূর্ণ করি। যে পঙক্তিটি তিনি বলেছিলেন তা হলো:

এই কিতাবটি যদি তার ওজনের সমান … স্বর্ণের বিনিময়েও বিক্রি করা হয়, তবে বিক্রেতা নিশ্চিতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

বরং যদি তার ওজনের সমপরিমাণ মুক্তা, ইয়া … কুত কিংবা লুক্কায়িত মণি-মুক্তার বিনিময়েও বিক্রি করা হয়;

তবে যদি বিক্রেতা বুদ্ধিমান হয়, তবে সে … চরম লোকসান ও দুঃখের সাথেই ফিরে আসবে।

তিনি এতে কত যে হিতকর ইলমের মুক্তা প্রকাশ করেছেন … মানুষের জন্য, যা তাঁর বক্ষে গচ্ছিত ছিল।

যে ব্যক্তি তার অবশিষ্ট চিরস্থায়ী ইলমের রত্নকে মহার্ঘ্য … মুক্তার বিনিময়ে বিক্রি করে, সে একজন মূর্খ ও বিভ্রান্ত ব্যক্তি ছাড়া আর কিছুই নয়।

হে প্রভু! আপনি তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন এবং আমাদের সকল শায়খ … ও পিতা-মাতার ওপর এবং যে ব্যক্তি বলবে: আমীন।

এ কথাগুলো বলেছেন এবং লিখেছেন ইসমাইল আল-বিকাঈ, অতঃপর আদ-দিমাশকী, আল্লাহ তাআলা তাঁকে ক্ষমা করুন … এবং এটি তাঁরই অনুগ্রহে।
(খণ্ড: ১) জামিউল উলূম ওয়াল হিকাম - ত আরনাউত (পৃষ্ঠা: ১৪)
في رابع شوال سنة أربع وثمانمئة.

وذا خطّ العبد الفقير الضعيف عبد الرَّحمن بن يوسف الحنبلي عمَّا الله تعالى عنه وغفر له ..

قلت: وإسماعيل البقاعي هذا ترجمه الحافظ في "إنباء الغمر" 5/ 165: فقال: إسماعيلُ بنُ علي بن محمد البقاعي ثم الدمشقي الناسخ، كان يشتغلُ بالعلم ويَصْحَبُ الحنابلة، ويميلُ إلى معتقدهم مع كونه شافعيًا، وكان يقرأ الحديثَ للعامة وينصحهم ويَعِظُهُم، ويكتب للنَّاس مع الدينِ والخير، وله نظم حسن أنشدني منه بدمشق، وقد كتب بخطه "صحيح البخاري" في مجلدة واحدة معدومة النظير، سلمت من الحريق إلا اليسير من حواشيها، فبيعت بأزيدَ من عشرين مثقالًا، وفرَّ في الكائنة إلى طرابلس، فأقام بها إلى آخر سنة خمس، ورجع فمات بدمشق في المحرم سنة (806) هـ.

وقد كتبت هذه النسخة سنة (852) هـ، أي: بعد وفاة المؤلف رحمه الله بسبع وخمسين سنة، فقد جاء في خاتمة الورقة الأخيرة ما نصه:

تم الكتاب المبارك على يد أضعف عباد الله وأحوجهم إلى رحمته وغفرانه العبد الحقير المعترف بالتقصير محمد بن أحمد بن أبي بكر الحنبلى عفا الله عنه، وذلك في عاشر رمضان المعظم سنة اثنتين وخمسين.

ثم قوبلت وصححت سنة (853) هـ. ففي الورقة الأخيرة أيضًا بخطٍّ مغاير ما نصه:

بلغ مقابلة وتصحيحًا بحمد الله تعالى وعونه حَسْبَ الطاقةِ في مجالس متفرقة آخِرُها السادسُ من شهرِ الله المحرم الحرام عامَ ثلاثة وخمسين وثمانمئة بمدرسة الضيائية تغمد الله تعالى واقفها بالرحمة والرضوان بسفح قاسيون بإمساك نسخة مع مالك هذه النسخة المباركة الفقير إلى الله تعالى شيخ … علاء الدين
৮০৪ হিজরীর ৪ঠা শাওয়াল মাসে।

আর এটি আল্লাহ তাআলার মুখাপেক্ষী ও দুর্বল বান্দা আব্দুর রহমান ইবন ইউসুফ আল-হাম্বলীর হস্তাক্ষর—আল্লাহ তাআলা তাকে ক্ষমা করুন এবং তার গুনাহসমূহ মার্জনা করুন।

আমি বলছি: এই ইসমাইল আল-বিকায়ীর জীবনী হাফিজ (ইবন হাজার) 'ইনবাউল গুমর' (৫/১৬৫) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন: ইসমাইল ইবন আলী ইবন মুহাম্মদ আল-বিকায়ী, অতঃপর আদ-দিমাশকী, যিনি একজন লিপিকার ছিলেন। তিনি ইলম অর্জনে রত থাকতেন এবং হাম্বলীদের সান্নিধ্য অবলম্বন করতেন। তিনি শাফেয়ী হওয়া সত্ত্বেও তাদের আকিদার দিকেই ঝুঁকে থাকতেন। তিনি সাধারণ মানুষের সামনে হাদীস পাঠ করতেন এবং তাদেরকে উপদেশ ও ওয়াজ করতেন। তিনি ধার্মিকতা ও সততার সাথে মানুষের জন্য লিখে দিতেন। তার উত্তম কাব্যপ্রতিভা ছিল, তিনি আমাকে দামেস্কে তার কিছু কবিতা শুনিয়েছিলেন। তিনি নিজ হাতে এক খণ্ডে 'সহীহ বুখারী' লিখেছিলেন যার কোনো সমকক্ষ ছিল না। এর পার্শ্বটীকার সামান্য অংশ ব্যতীত বাকিটা অগ্নিকাণ্ড থেকে রক্ষা পেয়েছিল। এটি বিশ মিসকালেরও বেশি মূল্যে বিক্রয় হয়েছিল। তিনি বিপর্যয়ের সময় ত্রিপোলিতে পালিয়ে যান এবং ৮০৫ হিজরীর শেষ পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করেন। অতঃপর ফিরে আসেন এবং ৮০৬ হিজরীর মহররম মাসে দামেস্কে ইন্তেকাল করেন।

এই পাণ্ডুলিপিটি ৮৫২ হিজরীতে প্রতিলিপি করা হয়েছে, অর্থাৎ মূল লেখকের (রহিমাহুল্লাহ) মৃত্যুর সাতান্ন বছর পর। সর্বশেষ পৃষ্ঠার শেষে এর ভাষ্য নিম্নরূপ:

আল্লাহর বান্দাদের মাঝে অত্যন্ত দুর্বল এবং তাঁর রহমত ও ক্ষমার পরম মুখাপেক্ষী, নিজের ত্রুটি স্বীকারকারী নগণ্য বান্দা মুহাম্মদ ইবন আহমদ ইবন আবি বকর আল-হাম্বলীর হাতে এই বরকতময় কিতাবটি সমাপ্ত হলো—আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন। আর তা সম্পন্ন হলো ৮৫২ হিজরীর সম্মানিত রমজান মাসের দশম তারিখে।

অতঃপর ৮৫৩ হিজরীতে এটি মূলের সাথে মিলিয়ে সংশোধন করা হয়েছে। শেষ পৃষ্ঠায় ভিন্ন হস্তাক্ষরে নিম্নোক্ত পাঠটি বিদ্যমান:

আল্লাহ তাআলার প্রশংসা ও তাঁর সাহায্যের মাধ্যমে সাধ্যমতো বিভিন্ন মজলিসে পাণ্ডুলিপিটি মেলানো ও সংশোধনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এর সর্বশেষ মজলিসটি অনুষ্ঠিত হয় ৮৫৩ হিজরীর আল্লাহর মাস মহররমুল হারামের ষষ্ঠ তারিখে জিয়াইয়াহ মাদরাসায়—আল্লাহ তাআলা এর প্রতিষ্ঠাতাকে রহমত ও সন্তুষ্টি দ্বারা সিক্ত করুন—যা কাসিউন পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত। এই বরকতময় পাণ্ডুলিপির মালিক এবং আল্লাহর মুখাপেক্ষী শায়খ ... আলাউদ্দীনের উপস্থিতিতে তার সংরক্ষিত পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে এটি সম্পন্ন করা হয়।
(খণ্ড: ১) জামিউল উলূম ওয়াল হিকাম - ত আরনাউত (পৃষ্ঠা: ১৫)
البغدادي، والنسخة الممسكة مقابلة على قريبٍ من عشر نسخ، منها نسخة عليها خط المصنف تغمده الله تعالى برحمته ورضوانه ومع ذلك:

إن تجد عيبًا فسُدَّ الخللا … جلَّ من لا عَيْبَ فيه وعلا

وكتب الفقير إلى الله تعالى سبحانه عبد الرَّحمن بن إبراهيم بن يوسف الحنبلي حامدًا لله ومصليًا على رسوله محمد …

قلت: والمدرسةُ الضيائية هي بسفح جبل قاسيون شرقي الجامع المظفري، بناها واقِفُها من ماله بمعونة أهل الخير وجعلها دار حديث الحافظُ المتقنُ الثبتُ ضياءُ الدين أبو عبد الله محمد بن عبد الواحد المقدسي المتوفى سنة (643) هـ، وأوقف فيها كتبه وأجزاءه، وكان بها كتب كثيرة نفيسة وأجزاء حديثية من وقف الشيخ موفق الدين، والبهاء عبد الرَّحمن، والحافظ عبد العزيز، وابن الحاجب، وابن سلام، وابن هامل، والشيخ علي الموصلي. وقد نُهبت في نكبة الصالح نوبة قازان التتري سنة (699) هـ، وراح منها شيء كثير، ثم تمايلت وتراجعت.

وقد درَّس بها واقفها وبعدَه جماعةٌ من أهل العلم، منهم الشيخ تقي الدين، وشمس الدين خطيب جبل الصالحية، وشمس الدين بن الكمال المقدسي، وأبو العباس السعدي، ومحمد بن إبراهيم بن عبد الله المقدسي، وزين الدين الحراني، وشمس الدين القباقبي، وأحمد بن محمد بن عبد الرحيم.

قال الشيخ أحمد دهمان رحمه الله: أصبحت هذه المدرسة دارًا تستغل لمصالح الجامع المظفري (جامع الحنابلة) ولم يبق فيها من بنائها القديم إلَّا قوس إيوانها الشمالي.

قلتُ: وعبد الرَّحمن بن إبراهيم بن يوسف كان شيخًا ليوسف بن عبد الهادي، وقد ترجم له في "الجوهر المنضد" ص 64، فقال:
আল-বাগদাদী; এবং এই সংরক্ষিত পাণ্ডুলিপিটি প্রায় দশটি পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে যাচাই করা হয়েছে, যার মধ্যে একটিতে লেখকের নিজ হাতের লেখা রয়েছে; আল্লাহ তাআলা তাঁকে তাঁর রহমত ও সন্তুষ্টি দ্বারা আবৃত করুন। তা সত্ত্বেও:

যদি কোনো ত্রুটি খুঁজে পান তবে সেই শূন্যস্থান পূরণ করে দিন … মহান তিনি যাঁর কোনো ত্রুটি নেই এবং যিনি সমুন্নত

আর মহান আল্লাহর মুখাপেক্ষী আব্দুর রহমান বিন ইবরাহিম বিন ইউসুফ আল-হাম্বলি আল্লাহর প্রশংসা করে এবং তাঁর রাসূল মুহাম্মাদ-এর ওপর দরুদ পাঠ করে এটি লিখেছেন …

আমি বলছি: আল-মাদরাসাতুয যিয়াইয়্যাহ কাসিউন পাহাড়ের পাদদেশে মুযাফফারি মসজিদের পূর্বে অবস্থিত। এর প্রতিষ্ঠাতা নেককার লোকদের সহযোগিতায় নিজ অর্থ ব্যয়ে এটি নির্মাণ করেন এবং সূক্ষ্মদর্শী ও নির্ভরযোগ্য হাফেজ যিয়াউদ্দীন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-মাকদিসি (মৃত্যু ৬৪৩ হিজরী) একে একটি দারুল হাদিস হিসেবে গড়ে তোলেন। তিনি সেখানে তাঁর কিতাবসমূহ এবং পাণ্ডুলিপির অংশসমূহ ওয়াকফ করেন। সেখানে শায়খ মুওয়াফফাকুদ্দীন, আল-বাহা আব্দুর রহমান, হাফেজ আব্দুল আজিজ, ইবনুল হাজিব, ইবনু সালাম, ইবনু হামিল এবং শায়খ আলী আল-মাওসিলির ওয়াকফকৃত অনেক মূল্যবান কিতাব ও হাদিসের পাণ্ডুলিপি ছিল। ৬৯৯ হিজরীতে তাতার শাসক গাজান খানের হামলার সময় সালেহিয়াতে যে বিপর্যয় ঘটেছিল, তখন এটি লুণ্ঠিত হয় এবং এতে প্রচুর মূল্যবান জিনিস হারিয়ে যায়; এরপর এটি জরাজীর্ণ ও অবনতির দিকে চলে যায়।

এর প্রতিষ্ঠাতা স্বয়ং সেখানে শিক্ষকতা করেছেন এবং তাঁর পরে একদল আলেম সেখানে পাঠদান করেছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন শায়খ তাকীউদ্দীন, সালেহিয়া পাহাড়ের খতিব শামসুদ্দীন, শামসুদ্দীন বিন আল-কামাল আল-মাকদিসি, আবুল আব্বাস আস-সা’দি, মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম বিন আব্দুল্লাহ আল-মাকদিসি, যাইনুদ্দীন আল-হাররানি, শামসুদ্দীন আল-কাবাকিবি এবং আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহিম।

শায়খ আহমদ দাহমান রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন: এই মাদরাসাটি বর্তমানে মুযাফফারি মসজিদের (হাম্বলি জামে মসজিদ) স্বার্থে ব্যবহৃত একটি বাড়িতে পরিণত হয়েছে এবং এর প্রাচীন স্থাপত্যের মধ্যে কেবল উত্তর দিকের বারান্দার খিলানটিই অবশিষ্ট রয়েছে।

আমি বলছি: আব্দুর রহমান বিন ইবরাহিম বিন ইউসুফ ছিলেন ইউসুফ বিন আব্দুল হাদির উস্তাদ; তিনি "আল-জাওহারুল মুনাদ্দাদ" গ্রন্থের ৬৪ পৃষ্ঠায় তাঁর জীবনী উল্লেখ করে বলেছেন:
(খণ্ড: ১) জামিউল উলূম ওয়াল হিকাম - ত আরনাউত (পৃষ্ঠা: ১৬)
الشيخُ الإِمام العالم العلامة الزاهد العابد الورع القدوة الحجة ذو الفضل زين الدين أبو الفرج عبد الرَّحمن بن الحبال الحنبلي الفقيه المقرئ المحدث المتقن، كان يُقرئ بمدرسة شيخ الإِسلام في العلم والقرآن وغيرهما، وكان صاحبَ زهدٍ ورضًا وورع ودينٍ ونفس رضية طيبة، وكلام حسن، تابعًا للسنة والآثار، رفيقًا بالطلبة، شفيقًا عليهم، له معرفةٌ بالتفسير وكلام السلف، كتب القرآن مرارًا، حتَّى إنه كتب أكثر من مئة مصحف، وكانت معه مشيخة الضيائية، توفي سنة (866) هـ، وصلّي عليه عقب صلاة الجمعة بالجامع المظفري، ودُفِنَ تحت الروضة بسفح قاسيون، وكانت جنازته حافلة رفعت على الرؤوس.

وأما مالك النسخة علاء الدين البغدادي، فقد ترجم له السخاوي في "الضوء اللامع" 5/ 208 فقال: علي بن البهاء بن عبد الحميد بن البهاء بن إبراهيم بن محمد بن العلاء الزريراني بالنون، البغدادي الأصل العراقي المولد ثم الدمشقي الصالحي الحنبلي، ويُعْرَفُ بالعلاء بن البهاء. وُلِدَ تقريبًا سنة ثمان عشرة وثمانمئة، وقَدِمَ الشام في سنة سبع وثلاثين، فتفقه بالتقي بن قندس، وبالبرهان بن مُفْلِح، وعنهما أخذ الأصول، وحجَّ وزار بيت المقدس مرارًا، ولقيتهُ بصالحية دمشق، فسمع معنا على كثيرين، بل قرأ "الصحيحين" على الشمس محمد بن أحمد بن معتوق والنظّام بن مفلح، وكذا سمع بعض "المسند" وغيره على ابن الطحان وابن ناظر الصاحبة وابن بردس، ومن مسموعه على ابن الطحان "مآخذ العلم" لابن فارس، وقَدِمَ القاهرة في سنة سبع وسبعين، وتردد لمدرسي الوقت لتمييز مراتبهم، وحضر عندي في مجالس الإِملاء، وسمع مني وعلى الشهاب الشاوي بعض "المسند" وأقام إلى أثناء ذي القعدة من التي تليها، ثم توجه بعد أن درّس جماعة من الطلبة كالتقي البسطي، والسيد عبد القادر القادري، وأذن لهما ولغيرهما، ونزل في صوفية الخانقاه الشيخونية، واستوحش من قاضي المذهب البدر السعدي ومن غيره، ولما رجع ناب فيما بلغني عن النجم بن البرهان بن مفلح في القضاء، وما أحببتُه له ولكن
শেখ ইমাম, বিজ্ঞ আলেম, আল্লামা, যাহিদ (সংসারবিরাগী), ইবাদতগুজার, পরহেজগার, আদর্শ ব্যক্তিত্ব, হুজ্জাত (প্রমাণস্বরূপ), শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী জয়নুদ্দীন আবুল ফারাজ আবদুর রহমান ইবনুল হাব্বাল আল-হাম্বলী, ফকীহ, মুকরি (কুরআন পাঠক), মুহাদ্দিস ও সুনিপুণ বিশেষজ্ঞ। তিনি শায়খুল ইসলামের মাদরাসায় ইলম, কুরআন ও অন্যান্য বিষয়ে পাঠদান করতেন। তিনি ছিলেন যাহিদ, সন্তুষ্টচিত্ত, পরহেজগার, ধর্মপ্রাণ, পবিত্র হৃদয়ের অধিকারী এবং চমৎকার বাচনভঙ্গির অধিকারী। তিনি সুন্নাহ ও আসার (পূর্বসূরীদের পদাঙ্ক) অনুসারী ছিলেন এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি অত্যন্ত নম্র ও দয়ালু ছিলেন। তাফসীর এবং সালাফদের বাণীর ওপর তাঁর গভীর জ্ঞান ছিল। তিনি বারবার কুরআন মাজীদ লিপিবদ্ধ করেছেন, এমনকি তিনি একশটিরও বেশি মুসহাফ লিখেছেন। তাঁর কাছে 'যিয়াইয়াহ' মাদরাসার মাশইয়াখাত (শিক্ষক তালিকা) ছিল। তিনি ৮৬৬ হিজরী সনে ইন্তেকাল করেন। জামে মুজাফফরীতে জুমার নামাযের পর তাঁর জানাযার নামায অনুষ্ঠিত হয় এবং কাসিউন পাহাড়ের পাদদেশে রওজার নিচে তাঁকে দাফন করা হয়। তাঁর জানাযায় মানুষের উপচে পড়া ভিড় ছিল এবং কফিন মানুষের মাথার ওপর দিয়ে বহন করা হয়েছিল।

আর পাণ্ডুলিপির মালিক আলাউদ্দীন আল-বাগদাদী সম্পর্কে সাখাভী তাঁর "আদ-দউ আল-লামি" গ্রন্থের ৫/২০৮ পৃষ্ঠায় জীবনী বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আলী ইবনুল বাহা বিন আব্দুল হামীদ বিন আল-বাহা বিন ইবরাহীম বিন মুহাম্মাদ বিন আল-আলা আল-জারীরানী (নুন যোগে), মূলে বাগদাদী, ইরাকে জন্ম, অতঃপর দামেশকী, সালিহী ও হাম্বলী। তিনি আলা বিন বাহা নামে পরিচিত ছিলেন। তিনি আনুমানিক আটশ আঠারো হিজরী সনে জন্মগ্রহণ করেন এবং আটশ সাঁইত্রিশ হিজরী সনে শামে আগমন করেন। তিনি তাকী বিন কুন্দুস এবং বুরহান বিন মুফলিহ-এর কাছে ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন এবং তাঁদের কাছ থেকেই উসূলে ফিকহ গ্রহণ করেন। তিনি বারবার হজ্জ পালন করেছেন এবং বায়তুল মুকাদ্দাস যিয়ারত করেছেন। দামেশকের সালিহিয়াতে তাঁর সাথে আমার সাক্ষাৎ হয়েছিল। তিনি আমাদের সাথে অনেকের কাছ থেকে শ্রবণ করেছেন, বরং তিনি শামস মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন মাতুক এবং নিযাম বিন মুফলিহ-এর কাছে "সহীহাইন" (সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম) পাঠ করেছেন। একইভাবে তিনি ইবনে তাহহান, ইবনে নাযির আল-সাহিবাহ এবং ইবনে বারদাস-এর কাছ থেকে "মুসনাদ" ও অন্যান্য কিতাবের কিয়দংশ শ্রবণ করেছেন। ইবনে তাহহানের কাছে তাঁর শ্রুত কিতাবসমূহের মধ্যে ইবন ফারিসের "মাআখিযুল ইলম" অন্যতম। তিনি আটশ ৭৭ হিজরী সনে কায়রোতে আসেন এবং সমসাময়িক শিক্ষকদের মান যাচাইয়ের জন্য তাঁদের কাছে যাতায়াত করেন। তিনি আমার ইমলা (শ্রুতলিখন) মজলিসে উপস্থিত ছিলেন এবং আমার কাছে ও শিহাব আশ-শাভী-র কাছে "মুসনাদ"-এর কিয়দংশ শ্রবণ করেন। তিনি পরবর্তী বছরের যিলকদ মাস পর্যন্ত অবস্থান করেন। এরপর তাকী আল-বাসতী এবং সাইয়্যিদ আব্দুল কাদির আল-কাদিরীর মতো একদল শিক্ষার্থীকে পাঠদান করেন এবং তাঁদেরকে ও অন্যদেরকে (পাঠদানের) অনুমতি প্রদান করে প্রস্থান করেন। তিনি শায়খুনিয়্যাহ খানকাহর সুফিদের মাঝে অবস্থান করেন। তিনি মাযহাবের বিচারক বদর আস-সাদী এবং অন্যদের প্রতি অসন্তুষ্ট ছিলেন। তিনি যখন ফিরে যান, তখন আমার কাছে পৌঁছানো সংবাদ অনুযায়ী তিনি নাজমু বিন বুরহান বিন মুফলিহ-এর স্থলাভিষিক্ত হিসেবে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর জন্য বিষয়টি আমি পছন্দ করিনি, তবে...
(খণ্ড: ১) জামিউল উলূম ওয়াল হিকাম - ত আরনাউত (পৃষ্ঠা: ১৭)
الغالب عليه الصفاء والخير مع استحضارٍ للفقه ومشاركة، وكان مجاورًا بمكة في سنة تسعين، وأقرأ هناك الفقه.

وفي الورقة الأخيرة:

1 - الحمد لله رب العالمين: أنهاه مطالعةً مالِكُه أفقرُ عبيد الله وأَحْوَجُهُم إلى غفران ربِّه الهادي أحمدُ بن علي بن البغدادي غفر الله له ولوالديه ولمشايخه ولمن دعا لهم بالمغفرة ولسائرِ المسلمين في مجالسَ آخِرُها ليلة الجمعة، حادي عشر ربيع الأول المشرف بالمولد الشريف سنة ثلاث وتسعمئة، والحمد لله، وصلى الله على سيدنا محمد وآله وصحبه وسلم أجمعين.

وأحمد بن علي هذا ترجم له نجم الدين الغزي في "الكواكب السائرة" 1/ 140 فقال: أحمدُ بن علي بن البهاء بن عبد الحميد بن إبراهيم الشيخ العلامة القاضي شهاب الدين ابن القاضي العلامة علاء الدين البغدادي الدمشقي الصالحي الحنبلي. وُلِد ليلة الاثنين عاشر ربيع الأول سنة سبعين وثمانمئة، وأخذ العلمَ عن أبيه وغيره، وكان من العلماء المتميزين في الفقه والفرائض، وانتهت إليه رئاسةُ مذهبه، وقُصِدَ بالفتاوى وانتفع النَّاسُ به فيها، وفي الاشتغال، وتعاطي الشهادة على وجهِ إتقانٍ لم يُسبَقْ إليه، وفوض إليه نيابة القضاء في الدولة العثمانية قاضي القضاة زينُ العابدين في ربيع الأول سنة ثلاث وعشرين وتسعمئة، ثم ترك القضاء وأقبل على العلم والعبادة. وكان من أخصِّ أصحاب شيخ الإِسلام الجدِّ، وله على الوالد مشيخة، وللوالد عليه مشيخة أيضًا، أخذ عنه كثيرًا مِن نظمه وتأليفه، وهو الذي أشار إليه بالكتابة على الفتوى بمحضر من والده شيخ الإِسلام رضي الدين الغزي، وكان يمنعه أولًا من الكتابة في حياة شيوخه، فاستأذنه له في الكتابة صاحب الترجمة، فأَذِنَ له فيها، وكتب ليلة عيد الأضحى سنة ثمانٍ وعشرين وتسعمئة كما استوفيت القصة في كتاب "بلغة الواجد في ترجمة الوالد" ثم كانت وفاةُ الشيخ شهاب الدين البغدادي بكرةَ النَّهار
তাঁর ওপর স্বচ্ছতা ও কল্যাণ প্রাধান্য লাভ করেছিল, সাথে ফিকহ শাস্ত্রের প্রখর উপস্থিতি ও অংশগ্রহণ ছিল। তিনি নব্বই (হিজরি) সনে মক্কায় অবস্থানকারী ছিলেন এবং সেখানে ফিকহ পাঠদান করেছেন।

এবং শেষ পৃষ্ঠায় রয়েছে:

১ - সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য: এর পাঠ সম্পন্ন করেছেন এর মালিক, আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে সবচেয়ে নিঃস্ব এবং তাঁর পথপ্রদর্শক রবের ক্ষমার সর্বাধিক মুখাপেক্ষী আহমদ ইবনে আলী ইবনে আল-বাগদাদী। আল্লাহ তাঁকে, তাঁর পিতা-মাতাকে, তাঁর শায়খদেরকে এবং যারা তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন তাদের ও সকল মুসলিমকে ক্ষমা করুন। এটি সমাপ্ত হয়েছে কয়েকটি মজলিসে, যার শেষটি ছিল ৯০৩ হিজরি সনের ১১ই রবিউল আউয়াল জুমার রাত, যা নবীজির মহিমান্বিত জন্ম দ্বারা বরকতময়। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং আল্লাহ আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সঙ্গীর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন।

এই আহমদ ইবনে আলী সম্পর্কে নাজমুদ্দীন আল-গাজ্জি 'আল-কাওয়াকিব আস-সাইয়্যারাহ' (১/১৪০) গ্রন্থে জীবনী আলোচনা করেছেন এবং বলেছেন: আহমদ ইবনে আলী ইবনে আল-বাহা ইবনে আব্দুল হামিদ ইবনে ইব্রাহিম, শেখ আল্লামা কাজী শিহাবুদ্দীন, যিনি আল্লামা কাজী আলাউদ্দীন আল-বাগদাদী আদ-দিমাশকী আস-সালিহি আল-হানবালীর পুত্র। তিনি ৮৭০ হিজরি সনের ১০ই রবিউল আউয়াল সোমবার রাতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি তাঁর পিতা এবং অন্যান্যদের কাছ থেকে ইলম অর্জন করেন। তিনি ফিকহ এবং ফারায়েয (উত্তরাধিকার আইন) শাস্ত্রে বিশিষ্ট আলেমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং তাঁর মাযহাবের নেতৃত্ব তাঁর নিকট এসে সমাপ্ত হয়েছিল। ফতোয়ার জন্য তাঁর শরণাপন্ন হওয়া হতো এবং মানুষ তাঁর ফতোয়া ও ইলমি চর্চার মাধ্যমে উপকৃত হতো। তিনি সাক্ষী প্রদানের কাজ এমন নিপুণতার সাথে সম্পাদন করতেন যা ইতিপূর্বে কেউ করতে পারেনি। উসমানীয় সালতানাতে ৯২৩ হিজরি সনের রবিউল আউয়াল মাসে প্রধান বিচারপতি যাইনুল আবিদীন তাঁকে বিচারপতির প্রতিনিধিত্বের দায়িত্ব অর্পণ করেন। পরবর্তীতে তিনি বিচারকের পদ ত্যাগ করেন এবং ইলম ও ইবাদতে মনোনিবেশ করেন। তিনি আমার দাদা শায়খুল ইসলামের অন্যতম ঘনিষ্ঠ সঙ্গী ছিলেন। আমার পিতার ওপর তাঁর উস্তাদত্ব ছিল এবং আমার পিতারও তাঁর ওপর উস্তাদত্ব ছিল। তিনি আমার পিতার অনেক কবিতা ও রচনা গ্রহণ করেছিলেন। তিনিই আমার পিতা শায়খুল ইসলাম রাযিউদ্দীন আল-গাজ্জির উপস্থিতিতে তাঁকে ফতোয়া লেখার পরামর্শ দিয়েছিলেন। আমার দাদা প্রথমদিকে তাঁর শায়খদের জীবদ্দশায় তাঁকে লিখতে নিষেধ করতেন। অতঃপর এই জীবনীকার (যাঁর জীবনী আলোচনা হচ্ছে) তাঁর কাছে লেখার অনুমতি চাইলেন, তখন তিনি তাঁকে অনুমতি দিলেন। তিনি ৯২৮ হিজরি সনের ঈদুল আযহার রাতে ফতোয়া লিখেছিলেন, যেমনটি আমি 'বুলগাতুল ওয়াজিদ ফি তারজামাতি ওয়াল ওয়ালিদ' গ্রন্থে বিস্তারিত বর্ণনা করেছি। অতঃপর শেখ শিহাবুদ্দীন আল-বাগদাদীর মৃত্যু হলো দিনের শুরুতে...
(খণ্ড: ১) জামিউল উলূম ওয়াল হিকাম - ত আরনাউত (পৃষ্ঠা: ১৮)
يومَ الجمعة حادي عشر رجب سنة تسع وعشرين وتسعمئة، ودُفِن بتربة باب الفراديس.

2 - طالع فيه العبد الحقير راجي عفو ولطف ربه القدير إسماعيل بن عبد الباقي اليازجي الواعظ والمدرس بالجامع الشريف الأموي غفر الله له وأحسن عاقبته، آمين.

قلت: وإسماعيل هذا ترجم له المرادي في "سلك الدرر" 1/ 255، فقال: إسماعيل بن عبد الباقي بن إسماعيل اليازجي الحنفي الدمشقي الشيخُ الإِمامُ العالم الفقيه الواعظ. كان من العلماء الأجِلَّاء البارعين في الفنون، وُلِدَ بعد الخمسين وألف تقريبًا، ونشأ بدمشق، واشتغل بطلب العلم على جماعة من الشيوخ … ، واشتهر بالفضل، ودرسَ وأفاد بالجامع الأموي، ووعظ به، وله شرحٌ على "الهداية" بالفقه، وصل فيه إلى ربع العبادات في مجلد كبير، وكتب شرحًا على "الجلالين" بالتفسير جزأين ولم يتم، توفي سنة (1121) هـ، واليازجي لفظة تركية معناها: الكاتب.

3 - استوعب مطالعته … بما فيه العبدُ الفقيرُ … القادري المجاور في مدرسةِ العمرية عفا الله عنه وسامحه، آمين، سنة (1047) هـ.

النسخة الثانية المرموز لها بـ (ب):

عَدَدُ أوراقها (230) ورقة، في كُلِّ صفحة (25) سطرًا، وفي كل سطر (17) كلمة تقريبًا، وهي نسخةٌ جيدة يَنْدُرُ وقوعُ الخطأ فيها، وفي حواشيها تصويبات واستدراكات قيمة، وخطها نسخي مقروء واضح.

وجاء العنوانُ في اللوحة الأولى منه هكذا:

كتاب جامع العلوم والحكم في شرح خمسين حديثًا من جوامع الكلم تأليف الشيخ الإِمام العامل العلامة المحدّث المفسِّر الأصولي العابد
৯২৯ হিজরি সালের ১১ই রজব শুক্রবার, এবং তাকে বাবুল ফারাদিসের কবরস্থানে দাফন করা হয়।

২ - এটি পাঠ করেছেন তুচ্ছ বান্দা, তার সর্বশক্তিমান রবের ক্ষমা ও করুণার প্রত্যাশী ইসমাইল ইবনে আব্দুল বাকি আল-ইয়াজিজি, যিনি উমাইয়া জামে মসজিদের উপদেশক ও শিক্ষক ছিলেন। আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন এবং তার শেষ পরিণাম উত্তম করুন, আমিন।

আমি বলছি: এই ইসমাইল সম্পর্কে আল-মুরাদি 'সিলকুদ দুরার' (১/২৫৫) গ্রন্থে জীবনী উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন: ইসমাইল ইবনে আব্দুল বাকি ইবনে ইসমাইল আল-ইয়াজিজি আল-হানাফি আদ-দিমাশকি; তিনি ছিলেন শাইখ, ইমাম, আলেম, ফকিহ ও উপদেশক। তিনি বিভিন্ন বিদ্যায় পারদর্শী ও মর্যাদা সম্পন্ন আলেমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি আনুমানিক ১০৫০ হিজরির পরে জন্মগ্রহণ করেন এবং দামেস্কে বেড়ে ওঠেন। তিনি একদল শাইখের নিকট ইলম অর্জনে আত্মনিয়োগ করেন … , তিনি শ্রেষ্ঠত্বের জন্য প্রসিদ্ধি লাভ করেন। তিনি উমাইয়া জামে মসজিদে পাঠদান ও জ্ঞান বিতরণ করেছেন এবং সেখানে উপদেশ প্রদান করেছেন। ফিকহ শাস্ত্রের 'আল-হিদায়াহ' গ্রন্থের ওপর তার একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ রয়েছে, যার মধ্যে তিনি এক বিশাল খণ্ডে ইবাদত অধ্যায়ের এক চতুর্থাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছিলেন। তিনি তাফসির শাস্ত্রের 'জালালাইন'-এর ওপর দুই খণ্ডে একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ লিখেছেন যা সম্পন্ন হয়নি। তিনি ১১২১ হিজরি সালে মৃত্যুবরণ করেন। 'ইয়াজিজি' একটি তুর্কি শব্দ যার অর্থ: লেখক।

৩ - এটি আমূল পাঠ সম্পন্ন করেছেন … এর বিষয়বস্তুসহ সেই অভাবী বান্দা … আল-কাদিরি, যিনি আল-উমরিয়্যাহ মাদরাসায় অবস্থানরত ছিলেন। আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন এবং মার্জনা করুন, আমিন। সময়: ১০৪৭ হিজরি।

(বা) চিহ্ন দ্বারা নির্দেশিত দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপি:

এর পৃষ্ঠা সংখ্যা ২৩০। প্রতি পৃষ্ঠায় ২৫টি করে লাইন রয়েছে এবং প্রতি লাইনে প্রায় ১৭টি করে শব্দ আছে। এটি একটি উন্নত মানের পাণ্ডুলিপি যাতে ভুলের পরিমাণ নেই বললেই চলে। এর পার্শ্বটীকায় মূল্যবান সংশোধনী ও পরিমার্জন রয়েছে। এর লিপি স্পষ্ট ও পাঠযোগ্য নাসখ পদ্ধতি।

এর প্রথম পৃষ্ঠায় শিরোনামটি এভাবে এসেছে:

কিতাব জামিউল উলুমি ওয়াল হিকাম ফি শারহি খামসিনা হাদিসান মিন জাওয়ামিউল কালিম। এটি রচনা করেছেন শাইখ, ইমাম, আমলকারী আলেম, আল্লামা, মুহাদ্দিস, মুফাসসির, উসুলবিদ ও ইবাদতকারী...
(খণ্ড: ১) জামিউল উলূম ওয়াল হিকাম - ত আরনাউত (পৃষ্ঠা: ১৯)
الزاهد، الرباني، بقية السلف الصالحين زين الدين أبو الفرج عبد الرَّحمن بن الشيخ أبي العباس أحمد بن رجب الحنبلي.

وقد كتبت سنة (838) هـ، فقد جاء في نهاية الورقة الأخيرة ما نصه: وافق الفراغ من تعليقه في مستهل رجب الفردِ من شهور ثمانية وثلاثين وثمانمئة، عَلَّقَهُ العبدُ الفقير إلى الله تعالى الراجي عفو ربه وغفرانه يوسف بن يوسف بن محمد بن خضر التُّجيبي الصفدي الشافعي غفر الله له ورَحِمَ سلفه، وكُتِبَ برسم الأخ العزيز غرس الدين خليل بن علي بن عبد الواحد متَّع الله بطول بقائه، ولطف به في الدارين، وجعلنا وإيَّاه من خير الفريقين، ورَحِمَ سلفه وسَلَفَ من قرأ فيه، ودعا لكاتبه بالمغفرة ولجميع المسلمين، وصلى الله على سيدنا محمد وآله وصحبه وسلم.

وجاء في هامش الورقة الأخيرة ما نصه:

بلغ مقابلةً بحسب الطاقةِ على نسخة قُوبِلَ بَعْضُها على مؤلفه، وصلى الله على سيدنا محمد وسلم.

وقد تملَّك هذه النسخة الشيخُ العلامة شمس الدين محمد بن علي بن محمد الشهير بابنِ طولون الصالحي الحنفي المتوفى سنة (953) هـ، مؤلف "القلائد الجوهرية في تاريخ الصالحية"، وقد أوقفها على المدرسة العمرية الكائنة بصالحية دمشق كما جاء في لوحة العنوان، وفي رأس الورقة الأولى منه وجه ثان.

النسخة الثالثة المرموز لها بِـ (ج):

وهي مصورة عن الأصل الموجود في الظاهرية رقم (1298) عام 676 حديث.

عنوان هذه النسخة: جامع العلوم والحكم في شرح خمسين حديثًا من جوامع الكلم. وعدد أوراقها (155) ورقة، في كل صفحة ثلاثون سطرًا، في
যাহিদ, রব্বানী, নেককার পূর্বসূরিদের উত্তরসূরি যয়নুদ্দীন আবুল ফারাজ আবদুর রহমান বিন আশ-শাইখ আবিল আব্বাস আহমাদ বিন রজব আল-হাম্বলী।

এবং এটি ৮৩৮ হিজরি সনে লিখিত হয়েছে। শেষ পৃষ্ঠার শেষে যা উদ্ধৃত হয়েছে তা হলো: এটি অনুলিপি করার কাজ সমাপ্ত হয়েছে ৮৩৮ হিজরির একক মাস রজবের শুরুতে। এটি অনুলিপি করেছেন মহান আল্লাহর মুখাপেক্ষী বান্দা, তার রবের ক্ষমা ও মার্জনা প্রত্যাশী ইউসুফ বিন ইউসুফ বিন মুহাম্মাদ বিন খিজর আত-তুজিবি আস-সাফাদি আশ-শাফিঈ, আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন এবং তার পূর্বসূরিদের প্রতি রহম করুন। আর এটি প্রিয় ভাই গারসুদ্দীন খলীল বিন আলী বিন আব্দুল ওয়াহিদের জন্য লেখা হয়েছে, আল্লাহ তাকে দীর্ঘায়ু দান করে উপকৃত করুন, উভয় জগতে তার প্রতি সদয় হোন এবং আমাদের ও তাকে সর্বোত্তম দুই দলের অন্তর্ভুক্ত করুন। আর তিনি রহম করুন তার পূর্বসূরিদের ওপর এবং যারা এটি পাঠ করবেন তাদের পূর্বসূরিদের ওপর, আর এর লেখকের জন্য এবং সকল মুসলিমের জন্য ক্ষমার দোয়া করুন। আমাদের নেতা মুহাম্মাদ এবং তার পরিবার ও সঙ্গীদের ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক।

এবং শেষ পৃষ্ঠার হাশিয়ায় (পার্শ্বটীকা) যা উদ্ধৃত হয়েছে তা হলো:

সাধ্যানুযায়ী এমন একটি পান্ডুলিপির সাথে এটি মিলিয়ে দেখা সম্পন্ন হয়েছে যার কিছু অংশ লেখকের পান্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে দেখা হয়েছিল। আমাদের নেতা মুহাম্মাদের ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক।

আর এই পান্ডুলিপিটি শাইখ আল্লামা শামসুদ্দীন মুহাম্মাদ বিন আলী বিন মুহাম্মাদ—যিনি ইবনে তুলুন আস-সালিহি আল-হানাফি (মৃত্যু ৯৫৩ হিজরি) নামে পরিচিত—তার মালিকানায় ছিল। তিনি 'আল-কালাইদ আল-জাওহারিয়াহ ফি তারিখিস সালিহিয়্যাহ' গ্রন্থের লেখক। তিনি এটি দামেস্কের সালিহিয়া এলাকায় অবস্থিত মাদ্রাসা আল-উমরিয়্যাহর জন্য ওয়াকফ করেছিলেন, যেমনটি শিরোনাম পত্রে এবং প্রথম পৃষ্ঠার শুরুর দিকের অপর পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে।

তৃতীয় পান্ডুলিপি যা (জীম) বর্ণ দ্বারা চিহ্নিত:

এটি যাহিরিয়্যাহ লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত মূল পান্ডুলিপি নং (১২৯৮), হাদিস বিভাগ ৬৭৬ থেকে অনুলিপি করা একটি ছবি।

এই পান্ডুলিপির শিরোনাম হলো: 'জামেউল উলূম ওয়াল হিকাম ফি শারহি খামসীনা হাদিসান মিন জাওয়ামিউল কালিম'। এর পত্র সংখ্যা ১৫৫টি এবং প্রতি পৃষ্ঠায় ত্রিশটি করে লাইন রয়েছে।
(খণ্ড: ১) জামিউল উলূম ওয়াল হিকাম - ত আরনাউত (পৃষ্ঠা: ২০)
كل سطر (22) كلمة تقريبًا، الخطُّ نسخي مقروء، تاريخ النسخ (828) هـ، الناسخ إبراهيم بن محمد بن محمود بن بدر الشافعي، فقد جاء في الورقة الأخيرة منه:

وكان الفراغ من تعليقه ليلة الاثنين تاسع عشر ذي القعدة سنة ثمان وعشرين وثمانمئة من الهجرة النبوية، علقه لنفسه بسرعة على ضوءِ السراج إبراهيم بن محمد بن محمود بن بدر الشافعي غفر الله له ولمن قرأ فيه ولجميع المسلمين، ويغلب على الظن أن هذه النسخة لم تقابل، فليس في الحواشي أيَّة تصحيحات.

وقد ترجم للناسخ السخاوي في "الضوء اللامع" 1/ 166 فقال:

إبراهيم بن محمد بن محمود بن بدر برهان الدين الحلبي الأصل الدمشقي القبيباتي الشَّافعي، ويُعرف بالناجي - بالنون والجيم - لكونه كان فيما قبل حنبليًا ثم تشفع، وربما قيل له: المحدث. ولد في أحد الربيعين سنة عشر وثمانمئة بدمشق وقال: إنه سَمِعَ على شيخنا وابن ناصر الدين والفخر عثمان بن الصَّلِف والعلاء بن بردس، والشهاب أحمد بن حسن بن عبد الهادي، والزين عبد الرَّحمن بن الشيخ خليل والأريحي، ومما سمعه على العلاء "الشمائل" و"مشيخة الأشرف الفخر" و"السنن" لأبي داود و"الترمذي"، وعلى الأخير "صحيح البخاري" وكذا سمع على عبد الله وعبد الرحمن ابني زريق، بل قال: إنه أجازت له عائشة ابنة عبد الهادي ثم حُوقِقَ حتَّى بين أنها عامة، واختص بالعلاء بن زكنون، وقرأ عليه القرآن وغيره، وتزوج ابنته ثم فارقه وتحوَّلَ شافعيًا غَيْرَ مرة، وقد تكلم على النَّاس بأماكن، بل وخطب مع مزيد تحريه وشدة إنكاره على معتقدي ابن عربي ونحوه كابن حامد، محبًا في أهل السنة، منجمعًا عن بني الدُّنيا، قانعًا باليسير، والثناء عليه مستفيض، ووصفه الخضيري بأنَّه شيخ عالم فاضل محدث محرر مُتْقِن معتمد، خدم هذا الشأن بلسانه وقلمه، وطالع كثيرًا من كتبه. قلت: ويقال: إنه علق على "الترغيب" للمنذري شيئًا في مجلد
প্রতিটি লাইনে প্রায় ২২টি শব্দ রয়েছে, লিপিটি পাঠযোগ্য নাসখ লিপি। পাণ্ডুলিপিটি অনুলিপির তারিখ ৮২৮ হিজরি। অনুলিপিকার হলেন ইব্রাহিম ইবন মুহাম্মদ ইবন মাহমুদ ইবন বদর আশ-শাফিয়ি। এর শেষ পৃষ্ঠায় যা এসেছে তা হলো:

এটি লিখে শেষ করা হয়েছে নবিজির হিজরতের আটশো আটাশ সনের যিলকদ মাসের ঊনবিংশ তারিখ সোমবার দিবাগত রাতে। প্রদীপের আলোয় দ্রুততার সাথে এটি নিজের জন্য লিপিবদ্ধ করেছেন ইব্রাহিম ইবন মুহাম্মদ ইবন মাহমুদ ইবন বদর আশ-শাফিয়ি; আল্লাহ তাকে, যারা এটি পাঠ করবে তাদের এবং সকল মুসলিমকে ক্ষমা করুন। প্রবল ধারণা এই যে, এই পাণ্ডুলিপিটি মূল কপির সাথে মিলিয়ে সংশোধন করা হয়নি, কারণ এর মার্জিনে কোনো সংশোধনী চিহ্ন নেই।

শাখাবি "আদ-দউ আল-লামি" (১/১৬৬) গ্রন্থে এই অনুলিপিকারের জীবনী বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন:

ইব্রাহিম ইবন মুহাম্মদ ইবন মাহমুদ ইবন বদর বুরহানুদ্দিন, আদি নিবাস হালব, দামেস্কের কুবেবাতি এলাকার অধিবাসী এবং শাফিয়ি মাজহাবের অনুসারী। তিনি 'আন-নাজি' নামে পরিচিত, কারণ পূর্বে তিনি হাম্বলি ছিলেন এরপর শাফিয়ি মাজহাব গ্রহণ করেন। কখনো কখনো তাকে 'মুহাদ্দিস' নামেও অভিহিত করা হতো। তিনি ৮১০ হিজরি সনের রবিউল আউয়াল বা রবিউস সানি মাসের কোনো এক মাসে দামেস্কে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি আমাদের শাইখ (ইবন হাজার), ইবন নাসিরুদ্দিন, আল-ফাখর উসমান ইবন আস-সালাফ, আল-আলা ইবন বারদাস, আশ-শিহাব আহমদ ইবন হাসান ইবন আব্দুল হাদি, আয-যাইন আব্দুর রহমান ইবন আশ-শাইখ খলিল এবং আল-আরীহি-এর নিকট হাদিস শ্রবণ করেছেন। তিনি আল-আলা-এর নিকট 'আশ-শামাইল', 'মাশইয়াখাতুল আশরাফ আল-ফাখর', আবু দাউদের 'আস-সুনান' এবং 'আত-তিরমিযি' শ্রবণ করেছেন। আর শেষোক্ত ব্যক্তির নিকট 'সহিহ আল-বুখারি' শুনেছেন। একইভাবে তিনি আব্দুল্লাহ এবং আব্দুর রহমান ইবন যুরাইক-এর নিকটও পাঠ শুনেছেন। এমনকি তিনি বলেছেন যে, আয়েশা বিনতে আব্দুল হাদি তাকে ইজাজত দিয়েছিলেন, তবে পরবর্তীতে যাচাইয়ের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে যে তা ছিল সাধারণ ইজাজত। তিনি আল-আলা ইবন যাকনুনের বিশেষ সান্নিধ্য লাভ করেন এবং তার নিকট কুরআনসহ অন্যান্য বিষয় পাঠ করেন। তিনি তার কন্যাকে বিবাহ করেন এবং পরবর্তীতে বিচ্ছেদ ঘটে। তিনি একাধিকবার শাফিয়ি মাজহাবের দিকে পরিবর্তিত হয়েছিলেন। তিনি বিভিন্ন স্থানে মানুষের উদ্দেশ্যে নসিহত করতেন, এমনকি তিনি অত্যন্ত সতর্কতার সাথে খুতবা প্রদান করতেন এবং ইবন আরাবি ও ইবন হামিদের মতো আকিদাপোষণকারীদের কঠোরভাবে খণ্ডন করতেন। তিনি আহলুস সুন্নাহর প্রতি অত্যন্ত অনুরাগী ছিলেন, দুনিয়াদারদের থেকে নিজেকে গুটিয়ে রাখতেন এবং অল্পেই সন্তুষ্ট থাকতেন। তার সুখ্যাতি চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছিল। আল-খুদাইরি তাকে এভাবে বিশেষায়িত করেছেন যে, তিনি একজন প্রাজ্ঞ শাইখ, আলেম, গুণী, মুহাদ্দিস, গবেষক, পারদর্শী এবং নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিত্ব; তিনি তার জবান ও কলম দিয়ে এই ইলমের সেবা করেছেন এবং এর প্রচুর কিতাব অধ্যয়ন করেছেন। আমি বলছি: বলা হয়ে থাকে যে, তিনি মুনযিরির 'আত-তারগীব' গ্রন্থের ওপর এক খণ্ড পরিমাণ টীকা লিখেছেন।
(খণ্ড: ১) জামিউল উলূম ওয়াল হিকাম - ত আরনাউত (পৃষ্ঠা: ২১)
لطيف، وعمل مولدًا في كراريس وغير ذلك، وبلغني أنه كثيرًا ما يقرأ الفاتحة في جماعته ثم يدعو لي مع كونه لم أعلم اجتماعي به، وهو الآن في الأحياء. انتهى.

قلت: وترجم له ابن العماد في "شذرات الذهب" 7/ 365، وذكر وفاته سنة (900) هـ، وقال: توفي بدمشق عن أزيد من تسعين سنة.

النسخة الرابعة المرموز لها بِـ (د):

وقد أهدانا صورة عنها الأستاذ محمود الأرنؤوط نَجْلُ صاحبنا وأخينا العلامة الشيخ عبد القادر الأرنؤوط حفظه الله ورعاه، وسدد على الحق خطاه، إسهامًا منه في خدمة العلم، فجزاه الله خير الجزاء.

وتقع في (194) ورقة، وعددُ السطور في كل صفحة (27) سطرًا، وفي كل سطر (14) كلمة تقريبًا، وخطها نسخي واضح، وفي حواشيها تصويبات واستدراكاتٌ، وتفسيرٌ لبعض الكلمات، وتكاد تلحق بالنسخة الأولى في الجودَةِ والنفاسة.

وقد جاء في الورقة الأخيرة منها ما نصه:

تم الكتاب المبارك بحمد الله وعونه وحسن توفيقه، وعلقه لنفسه، ثم لمن شاء الله تعالى من بعدُ أقل عبيد الله وأحوجُهم إلى مغفرة ربه ورحمته أحمد بن إسماعيل بن خليل بن عثمان بن منصور بن عكاشة التروطي بلدًا، وهي ضيعة بالريف ببلاد مصر المحروسة، وكان الفراغُ من نسخه في يوم الأربعاء المبارك ثالث عشر ذي القعدة الحرام سنة .... وثمانمئة بطاحون الجركسية بمدينة دمشق المحروسة، وصلى الله على سيدنا محمد وآله وصحبه وسلم، وحسبنا الله ونعم الوكيل.

قلت: طاحونة الجركسية تقع في صالحية دمشق مقابل مسجد محيي
...ভদ্রোচিত, এবং তিনি কয়েকটি পুস্তিকায় মিলাদ রচনা করেছেন এবং আরও অন্যান্য কাজ করেছেন। আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, তিনি প্রায়শই তার জামাতে সুরা ফাতিহা পাঠ করেন এবং এরপর আমার জন্য দোয়া করেন, যদিও তার সাথে আমার সাক্ষাতের কথা আমার জানা নেই। তিনি বর্তমানে জীবিতদের অন্তর্ভুক্ত। সমাপ্ত।

আমি বলছি: ইবনুল ইমাদ 'শাযারাতুয যাহাব' (৭/৩৬৫) গ্রন্থে তার জীবনী উল্লেখ করেছেন এবং তার মৃত্যুর সাল ৯০০ হিজরি উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন: তিনি নব্বই বছরেরও বেশি বয়সে দামেস্কে ইন্তেকাল করেন।

চতুর্থ পাণ্ডুলিপি, যা (দাল) প্রতীক দ্বারা চিহ্নিত:

আমাদের বন্ধু ও ভাই আল্লামা শাইখ আব্দুল কাদির আল-আরনাউত (আল্লাহ তাকে হিফাযত ও রক্ষা করুন এবং সত্যের ওপর তার পদক্ষেপকে সুদৃঢ় করুন)-এর সুপুত্র উস্তাদ মাহমুদ আরনাউত ইলমের খিদমতে তার অবদানের অংশ হিসেবে আমাদের এর একটি অনুলিপি উপহার দিয়েছেন। আল্লাহ তাকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।

এটি ১৯৪টি পৃষ্ঠা সংবলিত, প্রতি পৃষ্ঠায় লাইনের সংখ্যা ২৭টি এবং প্রতি লাইনে প্রায় ১৪টি শব্দ রয়েছে। এর হস্তলিপি স্পষ্ট নাসখী ধাঁচের। এর পার্শ্বটীকায় সংশোধনী, পরিমার্জন এবং কিছু শব্দের ব্যাখ্যা রয়েছে। এটি গুণগত মান ও শ্রেষ্ঠত্বের দিক থেকে প্রায় প্রথম পাণ্ডুলিপির সমপর্যায়ভুক্ত।

এর শেষ পৃষ্ঠায় যা বর্ণিত হয়েছে তার মূলপাঠ নিম্নরূপ:

আল্লাহর প্রশংসা, তাঁর সাহায্য এবং উত্তম তাওফীকের মাধ্যমে বরকতময় কিতাবটি সমাপ্ত হলো। এটি নিজের জন্য এবং পরবর্তীতে আল্লাহ তাআলা যাকে চান তার জন্য লিপিবদ্ধ করেছেন আল্লাহর নগণ্য বান্দা এবং তার রবের ক্ষমা ও করুণার ভিখারি আহমাদ বিন ইসমাঈল বিন খলীল বিন উসমান বিন মানসুর বিন উকাশাহ আত-তারুতি। তারুত হলো সুরক্ষিত দেশ মিশরের গ্রামাঞ্চলের একটি গ্রাম। এর অনুলিপি তৈরির কাজ শেষ হয়েছে ৮... হিজরি সনের ১৩ই যিলকদ, বুধবার, সুরক্ষিত শহর দামেস্কের তাহুন আল-জারকাসিয়্যাহ নামক স্থানে। আমাদের নেতা মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবার ও তাঁর সাহাবীগণের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক। আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।

আমি বলছি: তাহুনা আল-জারকাসিয়্যাহ দামেস্কের সালিহিয়া এলাকায় মুহিউদ্দিন মসজিদের বিপরীতে অবস্থিত।
(খণ্ড: ১) জামিউল উলূম ওয়াল হিকাম - ত আরনাউত (পৃষ্ঠা: ২২)
الدين بن عربي، ولا تزال آثارها باقية إلى يومنا هذا.

وجاء اسم الشرح في لوحة العنوان هكذا:

كتاب جامع العلوم والحكم في شرح حديث سيد العرب والعجم

وفيها أيضًا ما نصه: تملكه العبد الفقير راجي عفو لطف ربه القوي إسماعيل بن عبد الباقي اليازجي الواعظ والمدرس بالجامع الشريف الأموي في سابع عشر شهر جمادى الأولى سنة تسع وتسعين وألف أحسن الله ختامها، آمين.

قلت: وقد تقدمت ترجمته في النسخة الأولى.

وقد جاء في الورقة (11) وجه أول تعليقًا على قول المصنف من حديث العرباض بن سارية ما نصه:

قلتُ: كدا وقع هنا، وكذا في شرح الحديث الثامن عشر عند قوله "وأتبع السَّيِّئة الحسنة تمحها" قلت: هو في الورقة (72) وجه أول من هذه النسخة، وهو وهم بلا شك، وإنَّما هو النواسُ بن سمعان كما ذكره المصنف على الصواب في شرح الحديث الثلاثين عند قوله: "وحدّ حدودًا فلا تعتدوها".

وجاء في الورقة (13) وجه أول تعليقًا على قوله: "بعث سرية فغارت" ما نصه:

كذا وجد ثلاثيًا، وإنَّما هو بألف رباعي قال الله تعالى: {فَالْمُغِيرَاتِ}.

وجاء في الورقة (52) تعليقًا على قوله كما جاء التصريح بذلك في حديث عثمان ما نصه:

أقول: الأوجه عندي أن الاستثناء في الثلاث من جهة جنس الآدمية وإن اختلفت جهة الإِسلام والكفر، والله أعلم لمحرره إسماعيل اليازجي عفي عنه،
ইবনে আরাবি, এবং আজও এর চিহ্নসমূহ বিদ্যমান রয়েছে।

শিরোনামের ফলকে ভাষ্যগ্রন্থটির নাম এভাবে এসেছে:

কিতাবু জামিউল উলুমি ওয়াল হিকাম ফি শারহি হাদিসি সাইয়্যিদুল আরাবি ওয়াল আজাম (আরব ও অনারবদের সরদারের হাদিসের ব্যাখ্যায় জ্ঞান ও প্রজ্ঞার সংকলন)

সেখানে এই পাঠও রয়েছে: এর মালিকানা লাভ করেছেন সেই অভাবী বান্দা, যে তার শক্তিশালী রবের ক্ষমা ও অনুগ্রহের আশাবাদী—ইসমাঈল বিন আব্দুল বাকি আল-ইয়াজিজি, যিনি উমাইয়া জামে মসজিদের ওয়ায়েজ ও শিক্ষক; তারিখ ১৭ই জুমাদাল উলা, ১০৯৯ হিজরি, আল্লাহ এর সমাপ্তি সুন্দর করুন, আমিন।

আমি বলছি: প্রথম পাণ্ডুলিপিতে তার জীবনী পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।

১১ নম্বর পাতার প্রথম পৃষ্ঠায় গ্রন্থকারের ইর্বাদ ইবনে সারিয়া বর্ণিত হাদিসের বক্তব্যের উপর মন্তব্য হিসেবে এই পাঠ এসেছে:

আমি বলছি: এখানে এভাবেই এসেছে, তেমনি ১৮ নম্বর হাদিসের ব্যাখ্যায় "মন্দের পর ভালো কাজ করো, তা মন্দকে মিটিয়ে দেবে" কথাটির অধীনেও। আমি বলছি: এটি এই পাণ্ডুলিপির ৭২ নম্বর পাতার প্রথম পৃষ্ঠায় রয়েছে; আর এটি নিঃসন্দেহে একটি ভ্রম। বরং এটি হবে নাওয়াস বিন সামআন, যেমনটি গ্রন্থকার সঠিকভাবে ৩০ নম্বর হাদিসের ব্যাখ্যায় "তিনি কিছু সীমানা নির্ধারণ করেছেন, সুতরাং তা লঙ্ঘন করো না" কথাটির অধীনে উল্লেখ করেছেন।

১৩ নম্বর পাতার প্রথম পৃষ্ঠায় তার কথা "তিনি একটি সেনাদল পাঠালেন এবং তারা আক্রমণ করল" এর ওপর মন্তব্য হিসেবে এই পাঠ এসেছে:

এটি এভাবেই তিন অক্ষরবিশিষ্ট ক্রিয়ামূল হিসেবে পাওয়া গেছে, তবে এটি আলিফ যোগে চার অক্ষরবিশিষ্ট হবে; আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "অতঃপর যারা অভিযান চালিয়ে আক্রমণ করে"।

৫২ নম্বর পাতায় তার বক্তব্যের উপর মন্তব্য হিসেবে, যেমনটি উসমান (রা.)-এর হাদিসে সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে, এই পাঠ এসেছে:

আমি বলছি: আমার কাছে অধিকতর গ্রহণযোগ্য মত হলো, এই তিনটির ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হওয়াটা মানব প্রজাতির দিক থেকে, যদিও ইসলাম ও কুফরের দিকটি ভিন্ন হতে পারে; আল্লাহই সর্বজ্ঞ। এটি এর লিপিকার ইসমাঈল আল-ইয়াজিজি কর্তৃক লিখিত, তাকে ক্ষমা করা হোক।
(খণ্ড: ১) জামিউল উলূম ওয়াল হিকাম - ত আরনাউত (পৃষ্ঠা: ২৩)
وتعقب اليازجي هذا محمد الحنبلي، فقال:

أقول: بل ما قاله بعيد جدًّا، والأوجه ما ذكره الحافظ رحمه الله، والذي زعمه لا يظهر إلا مع التكلف الشديد، والله ولي التسديد كاتبه محمد الحنبلي.

وجاء في الورقة (74) وجه أول تعليقًا على قوله: "لم تلفه إلا بغيضًا" نسخة: لم تلقه.

عمان في 22/ 10/ 1410 هـ

17/ 5/ 1990 م
আল-ইয়াজিজি-র এই বক্তব্যের ওপর মুহাম্মদ আল-হাম্বলি পর্যালোচনা পেশ করে বলেছেন:

আমি বলছি: বরং তিনি যা বলেছেন তা অত্যন্ত দূরবর্তী, এবং হাফেজ (রহিমাহুল্লাহ) যা উল্লেখ করেছেন সেটিই অধিকতর যুক্তিযুক্ত। তিনি যা দাবি করেছেন তা কেবল চরম কষ্টকল্পনার মাধ্যমেই প্রতীয়মান হয়। আর আল্লাহই সঠিক পথ প্রদর্শনের অধিপতি। লেখক: মুহাম্মদ আল-হাম্বলি।

৭৪ নম্বর পত্রের প্রথম পৃষ্ঠায় তাঁর উক্তি: "তুমি তাকে কেবল ঘৃণ্য হিসেবেই পেয়েছ"-এর ওপর একটি টীকা এসেছে, পাঠান্তর: "তুমি তার সাক্ষাৎ পাওনি"।

আম্মান, ২২/ ১০/ ১৪১০ হিজরি

১৭/ ৫/ ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১) জামিউল উলূম ওয়াল হিকাম - ত আরনাউত (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌ترجمة المؤلف

‌‌اسمه ونسبه وولادته:

هو الإِمام الحافظُ العلَّامةُ زينُ الدين عبدُ الرَّحمن بنُ أحمد بن عبد الرَّحمن بن الحسن بن محمد بن أبي البركات مسعود السَّلامي البغدادي، ثم الدمشقيُّ الحنبليُّ الشهير بابن رجب وهو لقبُ جده عبد الرَّحمن.

واتفقت المصادرُ التي ترجمت له على أنه وُلِدَ في بغداد سنة (736) هـ بعد انصرامِ ثمانين عامًا على سقوطِ بغداد حاضرة العلم بأيدي المغول.

وهو ينتمي إلى أُسرة عريقةٍ في العلم والفضلِ والصلاح، فجدُّه عبدُ الرَّحمن بن الحسن كانت له حلقةٌ في بغداد يُقرأ عليه فيها الحديثُ، وقد حضرها المؤلفُ غير مرة وهو في الثالثة والرابعة والخامسة(1)، وأبوه هو الشيخ المقرئُ المحدث شهاب الدين أحمد ولد ببغداد سنة (706) هـ ونشأ بها وسمع

--------------------------------------------

(1) قال المؤلف في "ذيل الطبقات" 2/ 213 - 214 قُرِئَ على جدي أبي أحمد رجب بن الحسن غير مرة ببغداد - وأنا حاضر - في الثالثة والرابعة والخامسة: أخبركم أبو عبد الله محمد بن عبد الله بن إبراهيم البزار - سنة ست وثمانين وستمئة - أخبرنا أبو الحسن محمدُ بنُ أحمد بن عمر القطيعي … أخبرنا أبو الوقت عبد الأول بن عيسى أخبرنا أبو الحسن الداوودي أخبرنا أبو محمد السرخسي أخبرنا أبو عبد الله الفربري، حدثنا البخاري حدثنا المكي بن إبراهيم حدثنا يزيد بن أبي عبيد، عن سلمة بن الأكوع، قال: سمعت النَّبي صلى الله عليه وسلم يقول: "من يقل على ما لم أقل فليتبوأ مقعده من النَّار".

قلت: وله ترجمة في "الدرر الكامنة" 2/ 107، وجاء فيها أنه حدَّث ببغداد، وكان يقرئ حسبة، وإنَّما لقب برجب لأنه ولد فيه، ومات في خامس صفر سنة 742 هـ.

লেখকের জীবনী

‌তাঁর নাম, বংশপরিচয় ও জন্ম:

তিনি হলেন ইমাম, হাফিজ, আল্লামা যাইনুদ্দিন আবদুর রহমান ইবনে আহমাদ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে হাসান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবুল বারাকাত মাসউদ আস-সালামি আল-বাগদাদি, অতঃপর আদ-দিমাশকি আল-হাম্বলি, যিনি ইবনে রাজাব নামে সুপরিচিত। এটি ছিল তাঁর দাদা আবদুর রহমানের উপাধি।

তাঁর জীবনী বর্ণনাকারী সকল উৎস এ বিষয়ে একমত যে, তিনি ৭৩৬ হিজরি সালে বাগদাদে জন্মগ্রহণ করেন। এটি ছিল মঙ্গোলদের হাতে ইলমের পাদপীঠ বাগদাদের পতনের আশি বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর।

তিনি ইলম, মর্যাদা ও নেককারির জন্য প্রসিদ্ধ এক সুপ্রাচীন পরিবারভুক্ত ছিলেন। তাঁর দাদা আবদুর রহমান ইবনে হাসানের বাগদাদে একটি শিক্ষাচক্র ছিল যেখানে তাঁর কাছে হাদিস পাঠ করা হতো। লেখক তাঁর শৈশবের তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম বর্ষে একাধিকবার সেই মজলিসে উপস্থিত হয়েছেন(১)। তাঁর পিতা হলেন শায়খ, ক্বারি ও মুহাদ্দিস শিহাবুদ্দিন আহমাদ; তিনি ৭০৬ হিজরিতে বাগদাদে জন্মগ্রহণ করেন, সেখানেই বেড়ে ওঠেন এবং হাদিস শ্রবণ করেন...

--------------------------------------------

(১) লেখক 'যায়লুত তাবাকাত' গ্রন্থে (২/২১৩-২১৪) বলেন: বাগদাদে আমার দাদা আবু আহমাদ রাজাব ইবনে হাসানের নিকট একাধিকবার পাঠ করা হয়েছে—সে সময় আমি উপস্থিত ছিলাম—আমার তিন, চার ও পাঁচ বছর বয়সে: আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে ইবরাহিম আল-বাযযার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন—ছয়শ ছিয়াশি হিজরিতে—আবু হাসান মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ ইবনে উমর আল-কাতিয়ি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন... আবু আল-ওয়াক্ত আবদুল আউয়াল ইবনে ঈসা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু হাসান আদ-দাউদি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু মুহাম্মদ আস-সারখাসি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আবদুল্লাহ আল-ফারাবরি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইমাম বুখারি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মক্কি ইবনে ইবরাহিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াযিদ ইবনে আবি উবায়দ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সালামাহ ইবনে আল-আকওয়া থেকে, তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "যে ব্যক্তি আমার নামে এমন কিছু বলবে যা আমি বলিনি, সে যেন জাহান্নামে তার আবাসস্থল নির্ধারণ করে নেয়।"

আমি বলছি: 'আদ-দুরারুল কামিনাহ' (২/১০৭) গ্রন্থে তাঁর জীবনী রয়েছে, সেখানে উল্লিখিত হয়েছে যে তিনি বাগদাদে হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং সাওয়াবের আশায় নিঃস্বার্থভাবে পাঠদান করতেন। তাঁকে রাজাব উপাধি দেওয়ার কারণ হলো তিনি রাজাব মাসে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তিনি ৭৪২ হিজরির ৫ই সফর মৃত্যুবরণ করেন।

(খণ্ড: ১) জামিউল উলূম ওয়াল হিকাম - ত আরনাউত (পৃষ্ঠা: ২৬)
من مشايخها، وقرأ بالروايات، ثم رحل إلى دمشق بأولاده سنة (744) هـ، فسمع بها وبالحجاز وبالقدس، وجلس للإِقراء بدمشق، وانتفع به، وله معجم خاص بشيوخه نَقَل منه الحافظُ ابنُ حجر في "الدرر الكامنة" في أكثر من موضع.

 

‌‌بداية طلبه للعلم:

كان والده رحمه الله يَحْرِصُ على إسماعه الحديث من الشيوخ الثقات الذين لهم شهرة علمية في الرواية في مُخْتَلِفِ البلادِ الإِسلامية، ويأخذ له الإِجازاتِ منهم، لتكون له حافزًا على مواصلة الطلب والتحمل، فقد سمِعَ الحديث باعتناء والده ببغداد، ودمشق ومصر وغيرها على كثير من الشيوخ، وأجاز(1) له طائفة منهم.

 

‌‌شيوخه في الإِجازة:

1 - زينبُ بنتُ أحمد بن عبد الرحيم المقدسية المتوفاة سنة (740) هـ "ذيل الطبقات" 1/ 53 و 82 و 155.

2 - صفيُّ الدين أبو الفضائل عبد المؤمن بن عبد الحق بن عبد الله البغدادي الحنبلي. المتوفى سنة (739) هـ وقد أجازه بما تجوز له روايته غير مرة. "ذيل الطبقات" 2/ 430.

3 - عبدُ الرحيم بن عبد الله الزريراتي المتوفى سنة (741) هـ المدرس بالمجاهدية في بغداد، وقد حضر درسه وهو صغير لا يُحِقُّه "ذيل الطبقات" 2/ 436.

4 - أبو الربيع عليُّ بنُ عبد الصمد بن أحمد البغدادي الحنبلي المتوفى

--------------------------------------------

(1) الإِجازة: هي أن يأذن الشيخ لغيره بأن يروي عنه مروياته أو مؤلفاته، وكأنها تتضمن إخباره بما أذن له بروايته عنه، قال ابن الصلاح: ان الذي استقر عليه العمل، وقال به جماهير أهل العلم من أهل الحديث وغيرهم القول بتجويز الإِجازة، وإباحة الرواية بها.

তার শায়খদের নিকট থেকে এবং তিনি বিভিন্ন কিরাত ও বর্ণনা শৈলীতে কুরআন পাঠ করেন। এরপর তিনি ৭৪৪ হিজরি সনে সপরিবারে দামেস্কের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। সেখানে এবং হিজায ও কুদসে তিনি হাদীস শ্রবণ করেন। তিনি দামেস্কে কিরাত ও কুরআন পাঠের মজলিসে বসেন এবং মানুষ তার দ্বারা উপকৃত হন। তার শায়খদের জীবনী সম্বলিত একটি বিশেষ সংকলন (মুজাম) রয়েছে, যেখান থেকে হাফেজ ইবনে হাজার তার 'আদ-দুরারুল কামিনাহ' গ্রন্থে একাধিক স্থানে উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন।

 

‌‌তার জ্ঞান অন্বেষণের সূচনা:

তার পিতা (রহিমাহুল্লাহ) তাকে বিভিন্ন মুসলিম ভূখণ্ডের সেই সকল নির্ভরযোগ্য শায়খদের নিকট থেকে হাদীস শ্রবণ করানোর ব্যাপারে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন, যারা বর্ণনার ক্ষেত্রে ইলমী প্রসিদ্ধি লাভ করেছিলেন। তিনি তাদের থেকে তার জন্য ইজাযত (অনুমতি) গ্রহণ করতেন, যাতে এটি তার জ্ঞান অন্বেষণ ও হাদীস গ্রহণের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে। এভাবে তিনি তার পিতার তত্ত্বাবধানে বাগদাদ, দামেস্ক, মিসর ও অন্যান্য স্থানে অনেক শায়খের নিকট হাদীস শ্রবণ করেন এবং তাদের একটি দল তাকে ইজাযত(১) প্রদান করেন।

 

‌‌ইজাযত প্রাপ্ত শায়খগণ:

১ - জয়নাব বিনতে আহমাদ বিন আবদুর রহিম আল-মাকদিসিয়্যাহ, মৃত্যু ৭৪০ হিজরি। 'যাইলুত তাবাকাত' ১/ ৫৩, ৮২ এবং ১৫৫।

২ - সফিউদ্দীন আবুল ফাদায়িল আবদুল মুমিন বিন আবদুল হক বিন আবদুল্লাহ আল-বাগদাদী আল-হাম্বলী। মৃত্যু ৭৩৯ হিজরি। তিনি তাকে যা বর্ণনা করা বৈধ তার ইজাযত একাধিকবার দিয়েছিলেন। 'যাইলুত তাবাকাত' ২/ ৪৩০।

৩ - আবদুর রহিম বিন আবদুল্লাহ আজ-জুরয়রাতি, মৃত্যু ৭৪১ হিজরি। তিনি বাগদাদের মুজাহিদিয়্যাহ মাদরাসার শিক্ষক ছিলেন। তিনি (বর্ণনাকারী) ছোটবেলায় তার দরসে উপস্থিত হয়েছিলেন যখন তিনি বুঝমান হওয়ার বয়সে পৌঁছাননি। 'যাইলুত তাবাকাত' ২/ ৪৩৬।

৪ - আবু রবী’ আলী বিন আবদুস সামাদ বিন আহমাদ আল-বাগদাদী আল-হাম্বলী, মৃত

--------------------------------------------

(১) ইজাযত: এটি হলো শায়খ কর্তৃক অন্য কাউকে তার বর্ণিত হাদীসসমূহ বা রচিত গ্রন্থসমূহ বর্ণনা করার অনুমতি প্রদান করা। যেন এটি তাকে ঐ সকল বিষয় বর্ণনা করার সংবাদ প্রদানকেও অন্তর্ভুক্ত করে যার অনুমতি তাকে দেওয়া হয়েছে। ইবনুস সালাহ বলেন: আমল এর উপরেই স্থির হয়েছে এবং হাদীস বিশারদ ও অন্যান্য অধিকাংশ আলেম ইজাযত বৈধ হওয়া এবং এর মাধ্যমে বর্ণনা করার অনুমতির প্রবক্তা।

(খণ্ড: ১) জামিউল উলূম ওয়াল হিকাম - ত আরনাউত (পৃষ্ঠা: ২৭)
سنة (742) هـ سمع منه في الخامسة جزءًا فيه أربعون حديثًا أخرجها أبوه لنفسه بسماعه من أبيه، وحصل في سماع العشرة الأخيرة بُعْدٌ عن مجلسِ القراءة، فلم يَدْرِ أسمعها أم لا. "ذيل الطبقات" 1/ 67 و 2/ 176 و 192 و 293.

5 - الحافظُ القاسمُ بنُ محمد البرزالي المتوفى سنة (739) هـ. "ذيل الطبقات" 2/ 184 و 192.

6 - محمد بن أحمد بن حسان التلي الدمشقيّ المتوفى سنة (741) هـ وقد أجاز له ما تجوز روايته بخط يده. "ذيل الطبقات" 2/ 434.

وقد قَدِمَ به أبوه إلى دمشق سنة (744) هـ لِيَتِمَّ له بها وبغيرها سماع العوالي على مسندي أعصارهم، وليتخرج في الحديث وغيره بطائفةٍ من الشيوخ الكبار، وكانت دمشق يومئذ مركزًا هامًا من المراكز العلمية يؤُمُّها الطلبةُ من كل حدبٍ وصوب لتلقي المعارف الإِسلامية وما يمت إليها بسبب في مدارسها العامرة الكثيرة التي تمَّ إنشاؤها على يد الأمراء المسلمين الذين عُرِفوا بحب العلم، وتشجيع المشتغلين به، واحترامهم، وإيجاد الظروف الملائمة لهم - فسمع بها من:

1 - قاضي القضاة أبو العباس أحمدُ بن الحسن بن عبد الله الشهير بابن قاضي الجبل المتوفى سنة (771) هـ. "ذيل طبقات الحنابلة" 2/ 453.

2 - شهابُ الدين أبو العباس أحمد بنُ عبد الرَّحمن الحَريري المقدسي الصالحي المتوفى سنة (758) هـ. "ذيل طبقات الحنابلة" 2/ 286.

3 - عمادُ الدين أبو العباس أحمد بن عبد الهادي بن يوسف بن محمد بن قُدامة المقدسي المتوفى سنة (754) هـ. "ذيل طبقات الحنابلة" 2/ 439.

4 - تقي الدين أبو محمد عبدُ الله بن محمد بن إبراهيم بن نصر بن فهد
৭৪২ হিজরি সনে তিনি তার পঞ্চম বছর বয়সে তার নিকট থেকে একটি অংশ শ্রবণ করেছেন যাতে চল্লিশটি হাদিস ছিল, যা তার পিতা নিজের জন্য তার নিজের পিতার নিকট শ্রবণের মাধ্যমে সংকলন করেছিলেন। শেষ দশটি হাদিস শ্রবণের ক্ষেত্রে পাঠের মজলিস থেকে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল, ফলে তিনি জানতেন না যে তিনি সেগুলো শুনেছেন কি না। "যাইলুত তাবাকাত" ১/৬৭ এবং ২/১৭৬, ১৯২ ও ২৯৩।

৫ - হাফেজ আল-কাসেম বিন মুহাম্মদ আল-বিরজালি, মৃত্যু (৭৩৯) হিজরি। "যাইলুত তাবাকাত" ২/১৮৪ ও ১৯২।

৬ - মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন হাসান আল-তাল্লি আদ-দিমাশকি, মৃত্যু (৭৪১) হিজরি; তিনি স্বহস্তে তাকে সেই সবের অনুমতি প্রদান করেছিলেন যা বর্ণনা করা বৈধ। "যাইলুত তাবাকাত" ২/৪৩৪।

তার পিতা তাকে ৭৪৪ হিজরি সনে দামেস্কে নিয়ে আসেন যেন সেখানে এবং অন্যান্য স্থানে তৎকালীন মুসনিদদের নিকট থেকে উচ্চ সনদধারী হাদিসগুলো শ্রবণের কাজ পূর্ণ হয় এবং একদল বড় বড় শায়খদের নিকট হাদিস ও অন্যান্য বিদ্যায় ব্যুৎপত্তি অর্জন করতে পারেন। দামেস্ক তখন ছিল ইলমি কেন্দ্রসমূহের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র, যেখানে চারদিক থেকে ছাত্ররা ইসলামি জ্ঞান এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহ শিক্ষা গ্রহণের জন্য আসত। সেখানে ছিল বহু জনাকীর্ণ মাদ্রাসা যা সেইসব মুসলিম আমিরদের হাতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল যারা ইলমের প্রতি ভালোবাসা, ইলম অন্বেষণকারীদের উৎসাহ প্রদান, তাদের সম্মান প্রদর্শন এবং তাদের জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টির জন্য পরিচিত ছিলেন - সেখানে তিনি যাদের নিকট থেকে শ্রবণ করেছেন:

১ - কাজিউল কুজাত আবুল আব্বাস আহমদ বিন আল-হাসান বিন আব্দুল্লাহ, যিনি ইবনু কাজিল জাবাল নামে পরিচিত, মৃত্যু (৭৭১) হিজরি। "যাইলু তাবাকাতিল হানাবিলাহ" ২/৪৫৩।

২ - শিহাবুদ্দিন আবুল আব্বাস আহমদ বিন আব্দুর রহমান আল-হারিরি আল-মাকদিসি আস-সালিহি, মৃত্যু (৭৫৮) হিজরি। "যাইলু তাবাকাতিল হানাবিলাহ" ২/২৮৬।

৩ - ইমাদুদ্দিন আবুল আব্বাস আহমদ বিন আব্দুল হাদি বিন ইউসুফ বিন মুহাম্মদ বিন কুদামাহ আল-মাকদিসি, মৃত্যু (৭৫৪) হিজরি। "যাইলু তাবাকাতিল হানাবিলাহ" ২/৪৩৯।

৪ - তাকিউদ্দীন আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম বিন নাসর বিন ফাহদ
(খণ্ড: ১) জামিউল উলূম ওয়াল হিকাম - ত আরনাউত (পৃষ্ঠা: ২৮)
المعروف بابن قيم الضيائية، المتوفى سنة (761) هـ. "ذيل الطبقات" 1/ 321.

5 - الإِمام العلامة عز الدين أبو يعلى حمزةُ بنُ موسى أحمد بن بدران المعروف بابن شيخ السلامية المتوفى سنة (769) هـ. "ذيل الطبقات" 2/ 443.

6 - علاء الدين عليُّ بنُ زين الدين المنجا المتوفى سنة (750) هـ قرأ عليه جزءًا فيه الأحاديث التي رواها مسلم في "صحيحه" عن الإِمام أحمد. "ذيل الطبقات" 2/ 447.

7 - مسند العصر عمر بن حسن بن فريد بن أميلة المراغي الحلبي ثم الدمشقيّ ثم المزي المتوفى سنة (778) هـ. "ذيل الطبقات" 1/ 98.

8 - المسند المعمَّر شمسُ الدين محمد بن إسماعيل بن إبراهيم بن سالم الدمشقيّ الأنصاري العُبادي المعروف بابن الخباز، أكثر عنه جدًّا، وعلى ابن الخباز هذا قرأ والدُ المصنف أحمد مسندَ الإِمام أحمد بتمامه كما في "المنهج الأحمد" 2/ 157/ 2.

وجاء في "قواعد التحديث" للقاسمي ص 262: أن الحافظ أبا الفضل العراقي قرأ صحيح مسلم على محمد بن إسماعيل الخباز بدمشق في ستة مجالس متوالية قرأ في آخر مجلس منها أكثر من ثلث الكتاب، وذلك بحضور الحافظ زين الدين بن رجب وهو يُعارض بنسخته.

9 - شمس الدين يوسف بن عبد الرَّحمن بن نجم الحنبلي المتوفى سنة (751) هـ، سمع منه جزء ابن زَبْرٍ الصغير، كان حضره على أبيه ومحمد بن الخباز، وأحمد بن عبد الرَّحمن الحريري. "ذيل طبقات الحنابلة" 2/ 286، و"المنهج الأحمد" ورقة 451.
ইবনুল কায়্যিম আদ-দিয়াইয়্যাহ নামে পরিচিত, মৃত্যু বছর (৭৬১) হিজরি। "যাইলুত তাবাকাত" ১/৩২১।

৫ - ইমাম আল্লামা ইযযুদ্দীন আবু ইয়ালা হামযাহ ইবনে মুসা আহমাদ ইবনে বদরান, ইবনে শাইখুস সালামিয়্যাহ নামে পরিচিত, মৃত্যু বছর (৭৬৯) হিজরি। "যাইলুত তাবাকাত" ২/৪৪৩।

৬ - আলাউদ্দীন আলী ইবনে যাইনুদ্দীন আল-মুনাজ্জা, মৃত্যু বছর (৭৫০) হিজরি; তিনি তাঁর নিকট এমন একটি জুয (পুস্তিকা) পাঠ করেছেন যাতে সেই সব হাদীস রয়েছে যা ইমাম মুসলিম তাঁর "সহীহ" গ্রন্থে ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণনা করেছেন। "যাইলুত তাবাকাত" ২/৪৪৭।

৭ - সমসাময়িক যুগের মুসনিদ উমর ইবনে হাসান ইবনে ফারিদ ইবনে উমাইলা আল-মারাগী আল-হালাবী, অতঃপর আদ-দিমাশকী, অতঃপর আল-মিযযী, মৃত্যু বছর (৭৭৮) হিজরি। "যাইলুত তাবাকাত" ১/৯৮।

৮ - দীর্ঘজীবী মুসনিদ শামসুদ্দীন মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাঈল ইবনে ইবরাহীম ইবনে সালিম আদ-দিমাশকী আল-আনসারী আল-উবাদি, ইবনুল খাব্বায নামে পরিচিত; তিনি তাঁর থেকে অত্যধিক বর্ণনা করেছেন। আর এই ইবনুল খাব্বাযের নিকট গ্রন্থকারের পিতা আহমাদ পূর্ণ 'মুসনাদে ইমাম আহমাদ' পাঠ করেছেন, যেমনটি "আল-মানহাজুল আহমাদ" ২/১৫৭/২-এ বর্ণিত হয়েছে।

কাসিমীর "কাওয়াইদুত তাহদীস" এর ২৬২ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে: হাফিয আবুল ফাদল আল-ইরাকী দামেস্কে মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাঈল আল-খাব্বাযের নিকট টানা ছয়টি মজলিসে সহীহ মুসলিম পাঠ করেছিলেন। এর শেষ মজলিসে তিনি কিতাবটির এক-তৃতীয়াংশের বেশি পাঠ করেন, আর এটি হাফিয যাইনুদ্দীন ইবনে রাজাবের উপস্থিতিতে হয়েছিল যখন তিনি তাঁর নিজস্ব পাণ্ডুলিপির সাথে তা মিলিয়ে দেখছিলেন।

৯ - শামসুদ্দীন ইউসুফ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে নাজদ আল-হাম্বলী, মৃত্যু বছর (৭৫১) হিজরি; তিনি তাঁর নিকট 'জুয ইবনে যাবর আস-সাগীর' শ্রবণ করেছেন, যা তিনি তাঁর পিতা, মুহাম্মাদ ইবনুল খাব্বায এবং আহমাদ ইবনে আবদুর রহমান আল-হারীরীর উপস্থিতিতে শ্রবণ করেছিলেন। "যাইলু তাবাকাতিল হানাবিলা" ২/২৮৬ এবং "আল-মানহাজুল আহমাদ" পত্র ৪৫১।
(খণ্ড: ১) জামিউল উলূম ওয়াল হিকাম - ত আরনাউত (পৃষ্ঠা: ২৯)
10 - الفقيه الفرضي جمال الدين يوسف بن عبد الله بن العفيف محمد النابلسي المتوفى سنة (754) هـ، قرأ عليه سنن ابن ماجه بسماعه من عبد الحافظ بن بدران. "ذيل الطبقات" 2/ 341، و"المقصد الأرشد" 3/ 141.

11 - شمس الدين أبو عبد الله محمدُ بن أبي بكر بن أيوب الزرعي الشهير بابن قيم الجوزية المتوفى سنة (751) هـ لازم مجالسه قبل موته أزيدَ من سنة، وسَمِعَ عليه قصيدته النونية في السنة، وأشياءَ من تصانيفه وغيرها. "ذيل الطبقات" 2/ 448.

12 - شهابُ الدين أحمدُ بن محمد بن عمر الصالحي المسند الشيرازي الأصل، ثم الدمشقيّ المتوفى سنة (771) هـ. "شذرات الذهب" 6/ 220.

13 - ابن النباش - وكان من أصحاب صفي الدين عبد المؤمن بن عبد الحق - قرأ عليه مختصر الخرقي من حفظه، وسمع عليه أجزاء كثيرة من مصنفاته، وصحبه إلى الممات. "ذيل الطبقات" 2/ 432.

14 - عبد الرَّحمن بن أبي بكر بن أيوب بن سعد بن حريز بن مكي أبو الفرج زين الدين الزرعي ثم الدمشقيّ المتوفى سنة (769) هـ وهو أخو الشيخ شمس الدين بن القيم ذكره المؤلف في مشيخته وقال: سمعت عليه كتاب "التوكل" لابن أبي الدُّنيا بسماعه على الشهاب العابر، وتفرد بالرواية عنه. "الدارس في تاريخ المدارس" 2/ 90 - 91، و"شذرات الذهب" 6/ 216.

15 - الشيخ الأصيل المعتبر شمس الدين أبو المحاسن وأبو المظفر يوسف بن يحيى بن الناصح عبد الرَّحمن بن الحنبلي الشيرازي الأصل الدمشقيّ ثم الصالحي المتوفى سنة 751 هـ. "المقصد الأرشد" 3/ 134 - 135.

ثم رحل إلى مصر قبل سنة (754) هـ فسمع بها من:
১০ - ফকিহ ও ফরায়েজবিদ জামালুদ্দিন ইউসুফ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনুল আফিফ মুহাম্মাদ আন-নাবুলুসি, মৃত্যু (৭৫৪) হিজরি। তিনি আবদুল হাফিজ ইবনে বাদরানের নিকট শ্রবণের মাধ্যমে তাঁর কাছে সুনানে ইবনে মাজাহ পাঠ করেছেন। "যাইলুত তবাকাত" ২/৩৪১ এবং "আল-মাকসাদুল আরশাদ" ৩/১৪১।

১১ - শামসুদ্দিন আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে আবি বকর ইবনে আইয়ুব আজ-জুরায়ি, যিনি ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওযিয়্যাহ নামে পরিচিত, মৃত্যু (৭৫১) হিজরি। তিনি তাঁর মৃত্যুর পূর্বে এক বছরেরও বেশি সময় তাঁর মজলিসে নিয়মিত উপস্থিত ছিলেন এবং তাঁর নিকট সুন্নাহ বিষয়ক নুনিয়্যাহ কাসিদা এবং তাঁর রচিত অন্যান্য বহু কিতাব ও বিষয় শ্রবণ করেছেন। "যাইলুত তবাকাত" ২/৪৪৮।

১২ - শিহাবুদ্দিন আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে উমর আস-সালিহি আল-মুসনিদ, মূলত শিরাজি বংশোদ্ভূত, পরবর্তীতে দামেস্কি, মৃত্যু (৭৭১) হিজরি। "শাযারাতুয যাহাব" ৬/২২০।

১৩ - ইবনুন নাব্বাশ - তিনি সফিউদ্দিন আবদুল মুমিন ইবনে আবদুল হকের অন্যতম সঙ্গী ছিলেন - তিনি তাঁর কাছে মুখস্থ পাঠ থেকে মুখতাসারুল খিরাকি পড়েছেন এবং তাঁর রচিত বহু কিতাব শ্রবণ করেছেন এবং মৃত্যু পর্যন্ত তাঁর সঙ্গী ছিলেন। "যাইলুত তবাকাত" ২/৪৩২।

১৪ - আবদুর রহমান ইবনে আবি বকর ইবনে আইয়ুব ইবনে সাদ ইবনে হারীয ইবনে মক্কি, আবু ফরাজ যাইনুদ্দিন আজ-জুরায়ি, অতঃপর দামেস্কি, মৃত্যু (৭৬৯) হিজরি। তিনি শায়খ শামসুদ্দিন ইবনুল কাইয়্যিমের ভাই। লেখক তাঁর ‘মাশইয়াখাহ’ গ্রন্থে তাঁর কথা উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: আমি শিহাব আল-আবিরের নিকট তাঁর শ্রবণের মাধ্যমে তাঁর কাছে ইবনে আবিদ দুনিয়ার "আত-তাওয়াক্কুল" বইটি শুনেছি এবং তাঁর থেকে বর্ণনার ক্ষেত্রে তিনি একক ছিলেন। "আদ-দারিসু ফি তারিখিল মাদারিস" ২/৯০-৯১ এবং "শাযারাতুয যাহাব" ৬/২১৬।

১৫ - সম্মানিত ও নির্ভরযোগ্য শায়খ শামসুদ্দিন আবুল মাহাসিন এবং আবুল মুজাফফর ইউসুফ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে আন-নাসিহ আবদুর রহমান ইবনুল হাম্বালি, মূলত শিরাজি বংশোদ্ভূত, পরবর্তীতে দামেস্কি এবং এরপর সালিহি, মৃত্যু ৭৫১ হিজরি। "আল-মাকসাদুল আরশাদ" ৩/১৩৪-১৩৫।

অতঃপর তিনি (৭৫৪) হিজরির পূর্বে মিশরে সফর করেন এবং সেখানে যাঁদের নিকট থেকে শ্রবণ করেছেন তাঁরা হলেন:
(খণ্ড: ১) জামিউল উলূম ওয়াল হিকাম - ত আরনাউত (পৃষ্ঠা: ৩০)
1 - ناصر الدين محمد بن إسماعيل بن عبد العزيز بن عيسى بن أبي بكر الأيوبي المتوفى سنة (756) هـ أخذ عنه كثيرًا. "ذيل الطبقات" 1/ 24 و 41.

2 - صدر الدين أبو الفتح محمد بن محمد بن إبراهيم الميدومي المتوفى سنة (754) هـ. "ذيل الطبقات" 1/ 118 و 137 و 138 و 140 و 177 و 180 و 182 و 187 و 189 و 196.

3 - المسند فتح الدين أبو الحرم محمد بن محمد القلانسي الحنبلي المتوفى سنة (765) هـ.

4 - عز الدين عبد العزيز بن محمد بن إبراهيم بن سعد الله بن جماعة قاضي الديار المصرية المتوفى سنة (767) هـ لقيه بمصر وبمكة، قال في "الذيل" 1/ 85: وكان شيخنا أبو عمر عبد العزيز … قاضي الديار المصرية وابن قاضيها يمنع النَّاس أن يخاطبوه بقاضي القضاة أو يكتبوا له ذلك، وأمرهم أن يبدلوا ذلك بقاضي المسلمين.

5 - ورافق الحافظ الكبير زين الدين أبي الفضل عبد الرحيم بن الحسين العراقي المتوفى سنة (806) هـ، وسمع معه كثيرًا. "إنباء الغمر" 3/ 175.

وسمع ببغداد وكان فيها سنة (748 هـ)(1) بعدما رحل عنها سنة (744 هـ) من:

1 - جمال الدين أبو العباس أحمد بن عليّ بن محمد بن البابصري

--------------------------------------------

(1) قال في "ذيل الطبقات" 2/ 441 في ترجمة سليمان بن عبد الرَّحمن بن عليّ الشيباني النهرماري: توفي في جمادى الآخرة سنة ثمان وأربعين وسبعمئة، وصُلِّي عليه بجامع قصر الخلافة، وحضرتُ الصلاة عليه، ودُفِنَ بمقبرة الإِمام أحمد بباب حرب.

قلت: وفي تلك السنة توجه إلى الحجاز بصحبة أبيه لأداء الحج كما في "الذيل" 2/ 263.

১ - নাসিরুদ্দীন মুহাম্মাদ বিন ইসমাঈল বিন আব্দুল আযীয বিন ঈসা বিন আবু বকর আল-আইয়ুবী, মৃত্যু (৭৫৬) হিজরী। তাঁর থেকে প্রচুর (ইলম) গ্রহণ করেছেন। "যায়লুত তাবাক্বাত" ১/ ২৪ ও ৪১।

২ - সদরুদ্দীন আবুল ফাতহ মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন ইবরাহীম আল-মাইদুমি, মৃত্যু (৭৫৪) হিজরী। "যায়লুত তাবাক্বাত" ১/ ১১৮ ও ১৩৭ ও ১৩৮ ও ১৪০ ও ১৭৭ ও ১৮০ ও ১৮২ ও ১৮৭ ও ১৮৯ ও ১৯৬।

৩ - আল-মুসনিদ ফাতহুল দীন আবু আল-হারাম মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ আল-কালানিসি আল-হাম্বলী, মৃত্যু (৭৬৫) হিজরী।

৪ - ইযযুদ্দীন আব্দুল আযীয বিন মুহাম্মাদ বিন ইবরাহীম বিন সা’দুল্লাহ বিন জামা’আহ, মিশরের বিচারপতি, মৃত্যু (৭৬৭) হিজরী। মিশর ও মক্কায় তাঁর সাথে সাক্ষাৎ হয়েছে, তিনি "যায়ল" গ্রন্থের ১/ ৮৫ পৃষ্ঠায় বলেছেন: আমাদের শাইখ আবু উমর আব্দুল আযীয … মিশরের বিচারপতি এবং বিচারপতির পুত্র ছিলেন, তিনি মানুষকে তাঁকে ‘কাযিল কুযাত’ (প্রধান বিচারপতি) বলে সম্বোধন করতে বা লিখতে নিষেধ করতেন এবং তাদের নির্দেশ দিতেন যেন এর বদলে ‘কাযিল মুসলিমীন’ (মুসলিমদের বিচারপতি) লেখে।

৫ - তিনি মহান হাফেয যাইনুদ্দীন আবুল ফযল আব্দুর রাহীম বিন আল-হুসাইন আল-ইরাকী (মৃত্যু ৮০৬ হিজরী)-এর সফরসঙ্গী ছিলেন এবং তাঁর সাথে প্রচুর (হাদীস) শ্রবণ করেছেন। "ইনবাউল গুমর" ৩/ ১৭৫।

তিনি বাগদাদে (হাদীস) শ্রবণ করেছেন এবং সেখানে (৭৪৮ হিজরী) সালে অবস্থান করেছিলেন(১) (৭৪৪ হিজরী) সালে সেখান থেকে প্রস্থানের পর। যাঁদের নিকট থেকে শুনেছেন:

১ - জামালুদ্দীন আবুল আব্বাস আহমাদ বিন আলী বিন মুহাম্মাদ বিন আল-বাবসিরি

--------------------------------------------

(১) "যায়লুত তাবাক্বাত" ২/ ৪৪১ পৃষ্ঠায় সুলাইমান বিন আব্দুর রহমান বিন আলী আশ-শাইবানী আন-নাহরামারী-এর জীবনীতে তিনি বলেছেন: তিনি সাতশত আটচল্লিশ হিজরীর জুমাদাল আখিরা মাসে মৃত্যুবরণ করেন, কাসরুল খিলাফা জামে মসজিদে তাঁর জানাজা হয়, আমি তাঁর জানাজায় উপস্থিত ছিলাম এবং ইমাম আহমাদ-এর কবরস্থানের কাছে বাব হারবে তাঁকে দাফন করা হয়।

আমি বলছি: ঐ বছরই তিনি তাঁর পিতার সঙ্গে হজ্জ আদায়ের উদ্দেশ্যে হিজাজের পথে রওনা হন, যেমনটি "যায়ল" ২/ ২৬৩ পৃষ্ঠায় রয়েছে।

(খণ্ড: ১) জামিউল উলূম ওয়াল হিকাম - ত আরনাউত (পৃষ্ঠা: ৩১)
البغدادي المتوفى سنة (750) هـ حضر دروسه وإشغالَه غيرَ مرة، وسمع بقراءته الحديث "ذيل الطبقات" 2/ 446.

2 - صفي الدين أبو عبد الله الحسين بن بدران البصري البغدادي المتوفى سنة (749) هـ قرأ عليه وحضر مجالسه كثيرًا، وسمع بقراءته صحيح البخاري على الشيخ جمال الدين مسافر بن إبراهيم الخالدي بسماعه من الرشيد بن أبي القاسم. "ذيل الطبقات" 2/ 444.

3 - أبو العباس أحمد بن محمد بن سليمان الحنبلي البغدادي قراءة عليه. "ذيل الطبقات" 1/ 301.

4 - تاج الدين عبد الله بن عبد المؤمن بن الوجيه الواسطي المقرئ المتوفى سنة (740) هـ.

5 - سراج الدين أبو حفص عمر بن عليّ بن عمرو القزويني محدث العراق المتوفى سنة (750) هـ، ففي "ذيل الطبقات" 2/ 444: وقَدِمَ سراجُ الدين أبو حفص عمر بن عليّ البغدادي البزار في آخر عمره إلى بغداد، فأقام بها يسيرًا، ثم توجه إلى الحج سنة تسع وأربعين وسبعمئة، وحججتُ أنا تلك السنة أيضًا مع والدي، فقرأت على شيخنا أبي حفص ثلاثيات البخاري بالحلة اليزيدية.

وقد توالت رحلاتُه إلى القدس ونابلس ومصر والحجاز وغيرها في طلب الحديث، وكانت دمشق وطنَ إقامته ومستقره في أثناء ذلك، مِنها يرتحلُ، وإليها يعود، وقد امتدت رحلاتُه إلى سنة (763) هـ.

6 - فسمع بالقدس من الحافظ صلاح الدين أبي سعيد خليل بن كيكلدي العلائي المتوفى سنة (761) هـ ذكر في "ذيل الطبقات" 2/ 365 أنه سمعه ببيت المقدس يقول: رحم الله شيخنا القاضي تقي الدين بن سليمان سمعته يقول: لم أصل الفريضة قط منفردًا إلا مرتين، وكأني لم أصلها قط.
আল-বাগদাদি, মৃত্যু (৭৫০) হিজরি; তিনি একাধিকবার তাঁর পাঠদান ও আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন এবং তাঁর পাঠের মাধ্যমে হাদিস শুনেছেন। "যাইলুত তাবাকাত" ২/ ৪৪৬।

২ - সাফিয়ুদ্দীন আবু আবদুল্লাহ আল-হুসাইন ইবনে বদরান আল-বসরি আল-বাগদাদি, মৃত্যু (৭৪৯) হিজরি; তিনি তাঁর কাছে পাঠ গ্রহণ করেছেন এবং তাঁর মজলিসগুলোতে প্রচুর উপস্থিত ছিলেন। তিনি তাঁর পাঠের মাধ্যমে শায়খ জামালুদ্দীন মুসাফির ইবনে ইবরাহিম আল-খালিদির নিকট সহিহ আল-বুখারি শুনেছেন, যা তিনি আর-রাশিদ ইবনে আবিল কাসিমের নিকট থেকে শুনেছিলেন। "যাইলুত তাবাকাত" ২/ ৪৪৪।

৩ - আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সুলাইমান আল-হাম্বলি আল-বাগদাদি; তাঁর কাছে পাঠ গ্রহণ করেছেন। "যাইলুত তাবাকাত" ১/ ৩০১।

৪ - তাজউদ্দীন আবদুল্লাহ ইবনে আব্দুল মুমিন ইবনুল ওয়াজিহ আল-ওয়াসিতি আল-মুকরি, মৃত্যু (৭৪০) হিজরি।

৫ - সিরাজুদ্দীন আবু হাফস উমর ইবনে আলি ইবনে আমর আল-কাজওয়িনি, ইরাকের মুহাদ্দিস, মৃত্যু (৭৫০) হিজরি। "যাইলুত তাবাকাত" ২/ ৪৪৪-এ বর্ণিত আছে: সিরাজুদ্দীন আবু হাফস উমর ইবনে আলি আল-বাগদাদি আল-বাযযার তাঁর জীবনের শেষভাগে বাগদাদে আগমন করেন এবং সেখানে অল্প সময় অবস্থান করেন। অতঃপর তিনি সাতশ ঊনপঞ্চাশ হিজরি সনে হজ পালনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। আমি নিজেও সেই বছর আমার পিতার সাথে হজ পালন করি এবং হিল্লাহ ইয়াযিদিয়াতে আমাদের শায়খ আবু হাফসের কাছে বুখারির সুলাসিয়াত পাঠ করি।

হাদিস অন্বেষণে তাঁর কুদস, নাবলুস, মিসর, হিজায ও অন্যান্য স্থানে সফর অব্যাহত ছিল। এই সময়ে দামেশক ছিল তাঁর আবাসস্থল ও স্থায়ী ঠিকানা; সেখান থেকেই তিনি সফরে বের হতেন এবং সেখানেই ফিরে আসতেন। তাঁর এই সফরগুলো (৭৬৩) হিজরি পর্যন্ত দীর্ঘায়িত হয়েছিল।

৬ - তিনি কুদসে হাফিজ সালাহুদ্দীন আবু সাঈদ খলিল ইবনে কাইকালদি আল-আলাঈ (মৃত্যু ৭৬১ হিজরি) থেকে হাদিস শুনেছেন। "যাইলুত তাবাকাত" ২/ ৩৬৫-এ উল্লেখ করা হয়েছে যে, তিনি বায়তুল মাকদিসে তাঁকে বলতে শুনেছেন: আল্লাহ আমাদের শায়খ কাযী তাকিউদ্দীন ইবনে সুলাইমানের প্রতি দয়া করুন; আমি তাঁকে বলতে শুনেছি: আমি দুইবার ব্যতীত কখনও একাকী ফরজ সালাত আদায় করিনি, আর আমার মনে হয় যেন আমি ঐ সালাতগুলো আদায়ই করিনি।
(খণ্ড: ১) জামিউল উলূম ওয়াল হিকাম - ত আরনাউত (পৃষ্ঠা: ৩২)
7 - وسَمعَ بمكة سنة (749) هـ من فخر الدين عثمان بن يوسف بن أبي بكر النُّويري الفقيه المالكي المتوفى سنة (756) هـ "ابن قاضي شهبة" ص 488.

ويؤخذ من ترجمة شمس الدين محمد بن الشيخ أحمد السقا في "ذيل الطبقات" 2/ 446 أنه حج سنة (763) هـ والتقى بمكة بالفضلاء من أهل العلم.

8 - وسَمِعَ بالمدينة من حافظها ومؤرخها عفيف الدين أبي محمد عبد الله بن محمد بن محمد الخزرجي العُبادي المطري المتوفى سنة (765) هـ. "ذيل الطبقات" 2/ 370.

وبوفاة أبيه سنة (774) هـ كان قد فَرَغَ من سماع الشيوخ والتفقه، فأقبل على العلم ولازمه مطالعة وكتابة وتصنيفًا وتدريسًا واشتغالًا وإفتاءً إلى أن وافته المنية سنة (790) هـ رحمه الله.

فقد تولَّى التدريس بالمدرسة الحنبلية، وتُشتهر بالمدرسة الكبرى بعدَ وفاة القاضي شمس الدين بن التقي سنة (788) هـ وبقي يُدَرِّسُ فيها إلى سنة (791)، ثم أُخِذَتْ منه مع تَحَقُّقِ الأهلية فيه، وكانت هذه المدرسة عند القباقبية العتيقة شمال الجامع الأموي داخلَ باب الفراديس المعروف الآن بباب العمارة، وقد اندثرت ولم يبق لها أثر.

أوقفها الشيخُ شرفُ الإِسلام عبد الوهَّاب بن عبد الواحد بن محمد الأنصاري الشيرازي، ثم الدمشقيّ الحنبلي الفقيه الواعظ شيخ الحنابلة بالشام بعد والده ورئيسهم المتوفى سنة (536) هـ. قلتُ: وعبدُ الواحد والد شرف الإِسلام هو الذي نشر المذهب الحنبلي بين المقادسة والدمشقيين ولم يكن يُعرف قبله لا في بلاد القدس ولا في بلاد الشام.
৭ - তিনি মক্কায় ৭৪৯ হিজরি সনে মালিকি ফকিহ ফখর উদ্দিন উসমান ইবনে ইউসুফ ইবনে আবি বকর আন-নুওয়াইরি (মৃত্যু ৭৫৬ হিজরি) থেকে ইলম শ্রবণ করেন। "ইবনে কাজি শুহবা", পৃষ্ঠা ৪৮৮।

শামস উদ্দিন মুহাম্মদ ইবনে শাইখ আহমাদ আস-সাক্কার জীবনী থেকে "যাইলুত তাবাকাত" ২/৪৪৬-এ উল্লেখ পাওয়া যায় যে, তিনি ৭৬৩ হিজরি সনে হজ সম্পাদন করেন এবং মক্কায় জ্ঞানীগুণী আলেমদের সাথে সাক্ষাৎ করেন।

৮ - তিনি মদিনায় সেখানকার হাফেজ ও ঐতিহাসিক আফিফ উদ্দিন আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ আল-খাযরাজি আল-উবাদি আল-মাতারি (মৃত্যু ৭৬৫ হিজরি) থেকে ইলম শ্রবণ করেন। "যাইলুত তাবাকাত" ২/৩৭০।

৭৭৪ হিজরি সনে তাঁর পিতার মৃত্যুর পর তিনি শায়খদের নিকট শ্রবণ ও ফিকহ শাস্ত্রে ব্যুৎপত্তি অর্জনের কাজ সমাপ্ত করেন। অতঃপর তিনি ইলমের দিকে মনোনিবেশ করেন এবং অধ্যয়ন, লিখন, গ্রন্থ সংকলন, অধ্যাপনা, জ্ঞানচর্চা ও ফতোয়া প্রদানে নিজেকে নিয়োজিত রাখেন, যতক্ষণ না ৭৯০ হিজরি সনে তাঁর মৃত্যু ঘটে। আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন।

তিনি মাদ্রাসায়ে হাম্বালিয়ায় অধ্যাপনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন, যা কাজি শামস উদ্দিন বিন আত-তাকির মৃত্যুর পর (মৃত্যু ৭৮৮ হিজরি) মাদ্রাসায়ে কুবরা নামে প্রসিদ্ধি লাভ করে। তিনি সেখানে ৭৯১ হিজরি পর্যন্ত অধ্যাপনা চালিয়ে যান। এরপর পূর্ণ যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও তাঁর কাছ থেকে এটি নিয়ে নেওয়া হয়। এই মাদ্রাসাটি উমাইয়া জামে মসজিদের উত্তরে প্রাচীন কাবাক্বিবিয়াহর সন্নিকটে এবং বাবু আল-ফরাদিশের অভ্যন্তরে অবস্থিত ছিল, যা বর্তমানে বাবু আল-আমারাহ নামে পরিচিত। বর্তমানে এটি বিলুপ্ত হয়ে গেছে এবং এর কোনো চিহ্ন অবশিষ্ট নেই।

এটি ওয়াকফ করেছিলেন শাইখ শারাফুল ইসলাম আবদুল ওয়াহহাব ইবনে আবদুল ওয়াহিদ ইবনে মুহাম্মদ আল-আনসারি আশ-শিরাজি, অতঃপর আদ-দিমাশকি আল-হাম্বলি; যিনি ছিলেন একজন ফকিহ, ওয়ায়েজ এবং তাঁর পিতার মৃত্যুর পর শাম দেশের হাম্বলিদের শাইখ ও প্রধান (মৃত্যু ৫৩৬ হিজরি)। আমি বলছি: শারাফুল ইসলামের পিতা আবদুল ওয়াহিদই সেই ব্যক্তি, যিনি ফিলিস্তিনি ও দামেস্কবাসীদের মধ্যে হাম্বলি মাযহাব প্রচার করেন। তাঁর আগে জেরুজালেম কিংবা শাম দেশে এই মাযহাব পরিচিত ছিল না।
(খণ্ড: ১) জামিউল উলূম ওয়াল হিকাম - ত আরনাউত (পৃষ্ঠা: ৩৩)
وولي في حياة والده حلقةَ الثلاثاء التي كانت تُقام في جامع بني أمية الكبير - وهي خاصةٌ بكبار أصحاب مذهب الإِمام أحمد - بعد وفاة ابن قاضي الجبل سنة (771) هـ وذلك قبل وفاة والده.

وكان رحمه الله مجليًا في فن الوعظ، يَشُدُّ إليه انتباهَ مستمعيه، ويُوقِظُ فيهم الإِحساس النبيل، ويُفقههم في دين الله بما وهبه الله من علم نافع، وأسلوب ماتع، وقلب خاشع، ونية صادقة. وقد اجتمعت الفرق عليه، ومالت القلوب بالمحبة إليه.

وكان يسكن بدار الحديث السكرية، وهي بالقصاعين (وتعرف الآن بالخيضرية) داخل باب الجابية جنوب دار القرآن الخيضرية التي لا تزال قائمة إلى الآن، وقد ظَلَّ فيها إلى أن مات. ولم يُثْبِتْ أحد أنه تولَّى مشيختها ولم يَنْفِهِ مع أن الشروط التي ينبغي أن تُوجَدَ في من يتولى مشيخة التدريس فيها متحققةٌ فيه إذ لم يكن في عصره أتقن منه في علم الحديث رواية ودراية.

وفي مكتبة خدابخش بتنة بالهند نسخةٌ خطية من جامع العلوم والحكم، ومنها نسخة مصورة عنها في معهد المخطوطات العربية كتبها من نسخة المؤلف عبد القادر بن محمد بن علي الحجار الحنبلي مذهبًا، المدني مولدًا، وقد انتهى من كتابتها سنة (790) هـ ثم عرضها على المؤلف في عدة مجالس إلى تمام الأسبوع، وكتب له ابن رجب في الورقة الأخيرة منه بخطه: فأثنى عليه، وصحح نسخته، وأجاز له روايتها له في ثاني عشر جُمادى الأولى من السنة المذكورة أي سنة (790) هـ بدار الحديث السكرية بالقصاعين بدمشق المحروسة.

 

‌‌تلاميذه:

وقد تصدَّى الحافظُ ابنُ رجب للإِفادةِ، فأقبل عليه الطلبةُ يأخذون عنه، ويُفيدون من علومه، ويسمعون مروياته، وقد تخرَّج به غيرُ واحد منهم، فكانوا
তিনি তাঁর পিতার জীবদ্দশায় জামে বনি উমাইয়া কাবিরে অনুষ্ঠিত 'মঙ্গলবারি দরস' বা হালকার দায়িত্ব লাভ করেন—যা ইমাম আহমাদের মাযহাবের বড় বড় অনুসারীদের জন্য নির্দিষ্ট ছিল। এটি হয়েছিল (৭৭১) হিজরিতে ইবনে কাদি আল-জাবালের মৃত্যুর পর এবং তাঁর নিজের পিতার মৃত্যুর আগে।

তিনি (রহিমাহুল্লাহ) ওয়ায বা নসিহত শিল্পে অত্যন্ত উজ্জ্বল ছিলেন। তিনি শ্রোতাদের মনোযোগ আকর্ষণ করতেন, তাদের মধ্যে মহৎ অনুভূতি জাগ্রত করতেন এবং আল্লাহ তাঁকে যে উপকারী জ্ঞান, মনোমুগ্ধকর শৈলী, বিনম্র হৃদয় এবং সত্যনিষ্ঠ নিয়ত দান করেছিলেন, তার মাধ্যমে তিনি তাদের আল্লাহর দ্বীন সম্পর্কে বিজ্ঞ করে তুলতেন। সকল দল ও মতের মানুষ তাঁর ওপর একমত হয়েছিল এবং মানুষের অন্তর তাঁর প্রতি ভালোবাসায় ঝুঁকে পড়েছিল।

তিনি দারুল হাদিস আস-সুক্কারিয়্যাহ-তে বসবাস করতেন, যা কাসসাঈন এলাকায় অবস্থিত (বর্তমানে যা আল-খাইদারিয়্যাহ নামে পরিচিত)। এটি বাবুল জাবিয়্যাহ-র অভ্যন্তরে দারুল কুরআন আল-খাইদারিয়্যাহ-র দক্ষিণে অবস্থিত যা আজও বিদ্যমান। তিনি মৃত্যু পর্যন্ত সেখানেই অবস্থান করেছেন। কেউ সুনির্দিষ্টভাবে প্রমাণ করেননি যে তিনি এর প্রধান শাইখ বা মাশয়াখাত এর দায়িত্ব পালন করেছিলেন, আবার কেউ তা অস্বীকারও করেননি। যদিও সেখানে অধ্যাপনার দায়িত্ব পালনের জন্য যে শর্তাবলি থাকা প্রয়োজন ছিল, তা তাঁর মাঝে পূর্ণমাত্রায় বিদ্যমান ছিল। কারণ তাঁর যুগে হাদিস শাস্ত্রের বর্ণনা (রিওয়ায়াত) ও অনুধাবন (দিরায়াত) উভয় ক্ষেত্রে তাঁর চেয়ে অধিক দক্ষ আর কেউ ছিলেন না।

ভারতের পাটনার খুদা বখশ লাইব্রেরিতে ‘জামেউল উলূম ওয়াল হিকাম’-এর একটি পাণ্ডুলিপি সংরক্ষিত আছে। এর একটি ফটোকপি ‘আরব পাণ্ডুলিপি ইনস্টিটিউট’-এ সংরক্ষিত আছে। এটি লেখকের পাণ্ডুলিপি থেকে নকল করেছিলেন আব্দুল কাদির ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আলী আল-হাজ্জার, যিনি মাযহাবের দিক থেকে হাম্বলি এবং জন্মসূত্রে মদিনার অধিবাসী ছিলেন। তিনি (৭৯০) হিজরি সালে এর লেখন কাজ সমাপ্ত করেন এবং এক সপ্তাহ ধরে বেশ কয়েকটি মজলিসে এটি লেখকের নিকট পেশ করেন। ইবনে রজব সেই পাণ্ডুলিপির শেষ পাতায় নিজ হাতে লিখে তাঁর প্রশংসা করেন, পাণ্ডুলিপিটি সংশোধন করেন এবং উক্ত বছরের অর্থাৎ (৭৯০) হিজরি সালের ১২ই জুমাদাল উলা তারিখে দামেস্কের কাসসাঈন এলাকার দারুল হাদিস আস-সুক্কারিয়্যাহ-তে এটি বর্ণনার অনুমতি বা ইজাজত প্রদান করেন।

 

‌‌তাঁর ছাত্রবৃন্দ:

হাফেজ ইবনে রজব দ্বীনি উপকার সাধনে নিজেকে নিয়োজিত করেন। ফলে ছাত্ররা তাঁর কাছে আসতে শুরু করে। তারা তাঁর নিকট শিক্ষা গ্রহণ করত, তাঁর জ্ঞান থেকে উপকৃত হতো এবং তাঁর বর্ণিত হাদিসসমূহ শ্রবণ করত। তাঁদের মধ্যে অনেকে তাঁর কাছে শিক্ষা সমাপন করেছিলেন, তাঁরা হলেন-
(খণ্ড: ১) জামিউল উলূম ওয়াল হিকাম - ত আরনাউত (পৃষ্ঠা: ৩৪)
فيما بعد علماءَ ثقات، نالوا مراتبَ عالية، وخلفوا آثارًا علمية نافعة، فممن أخذ عنه:

1 - قاضي القُضاة شهابُ الدين أبو العباس أحمد بن أبي بكر بن أحمد بن عليّ الحنبلي المعروف بابن الرسام المتوفَّى سنة (844) هـ، أجازه ابن رجب وكان يعمل المواعيدَ، وله كتابٌ في الوعظ على نَمَطِ كتاب شيخه ابن رجب المعروف بلطائف المعارف. "شذرات الذهب" 7/ 252 - 253.

2 - محب الدين أبو الفضل أحمد بن نصر الله بن أحمد بن محمد بن عمر البغدادي، ثم المصري مفتي الديار المصرية (ت 844) هـ، سَمِعَ منه في دمشق، وأخذ عنه الفقه ولازمه. "الضوء اللامع" 2/ 233 - 239، "شذرات الذهب" 7/ 250.

3 - داود بن سليمان بن عبد الله الزين المَوْصلي، ثم الدمشقيّ الحنبلي (ت 844) هـ سمع منه شرحه للأربعين النووية، ومجلسًا في فصل الربيع من لطائفه مع حضور مواعيده. "الضوء اللامع" 3/ 212.

4 - عبد الرَّحمن بن أحمد بن محمد بن محمد بن يوسف الدمشقيّ الأصل المكي الشافعي المقرئ (ت 853) هـ سمع منه بدمشق.

5 - الإِمام العلامة المفسر المحدث الفقيه زين الدين عبد الرَّحمن بن سليمان بن أبي الكرم الدمشقيّ الصالحي الحنبلي الشهير بأبي شعر (ت 844 هـ) قرأ عليه من أول المقنع لابن قدامة إلى أثناء البيع. "الضوء اللامع" 4/ 82، "شذرات الذهب" 7/ 253.

6 - الفقيه أبو ذر عبد الرَّحمن بن محمد بن عبد الله بن محمد المصري الحنبلي الشهير بالزركشي صنعة أبيه (ت 846 هـ)، ارتحل إلى دمشق قبل سنة (803) هـ فأخذ الفقه على ابن رجب "إنباء الغمر" 9/ 194، "الضوء اللامع" 4/ 136 - 137.
পরবর্তী সময়ে এমন অনেক নির্ভরযোগ্য আলেম এসেছেন, যারা উচ্চ মর্যাদা লাভ করেছেন এবং উপকারী ইলমি কাজ রেখে গেছেন। তাদের মধ্যে যারা তাঁর নিকট থেকে ইলম অর্জন করেছেন:

১ - কাযিউল কুযাত শিহাবুদ্দীন আবুল আব্বাস আহমাদ বিন আবি বকর বিন আহমাদ বিন আলী আল-হাম্বালী, যিনি ইবনুর রাসসাম নামে পরিচিত (মৃত্যু ৮৪৪ হিজরি); ইবনে রজব তাঁকে ইজাযত দিয়েছেন। তিনি ওয়াজ ও নসিহতমূলক মজলিস পরিচালনা করতেন। নসিহতের ওপর তাঁর একটি গ্রন্থ রয়েছে যা তাঁর উস্তাদ ইবনে রজবের বিখ্যাত গ্রন্থ 'লাতায়িফুল মাআরিফ'-এর আদলে রচিত। "শাযারাতুয যাহাব" ৭/ ২৫২ - ২৫৩।

২ - মুহিব্বুদ্দীন আবুল ফজল আহমাদ বিন নাসরুল্লাহ বিন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন উমর আল-বাগদাদী, অতঃপর আল-মিসরী, মিসরীয় ভূখণ্ডের মুফতি (মৃত্যু ৮৪৪ হিজরি); তিনি দামেস্কে তাঁর নিকট পাঠ গ্রহণ করেছেন এবং তাঁর নিকট থেকে ফিকহ অর্জন করেছেন ও তাঁর সান্নিধ্যে থেকেছেন। "আদ-দাওউল লামি" ২/ ২৩৩ - ২৩৯, "শাযারাতুয যাহাব" ৭/ ২৫০।

৩ - দাউদ বিন সুলায়মান bin আব্দুল্লাহ আয-যাইন আল-মাওসিলি, অতঃপর আদ-দামেশকী আল-হাম্বালী (মৃত্যু ৮৪৪ হিজরি); তিনি তাঁর নিকট 'শারহুল আরবাঈন আন-নববিয়্যাহ' শুনেছেন এবং তাঁর নসিহতমূলক মাহফিলে উপস্থিত থাকার পাশাপাশি তাঁর 'লাতায়িফ' গ্রন্থের বসন্তকাল বিষয়ক মজলিসটি শুনেছেন। "আদ-দাওউল লামি" ৩/ ২১২।

৪ - আব্দুর রহমান বিন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন ইউসুফ আদ-দামেশকী আল-আসলি আল-মাক্কি আশ-শাফিয়ি আল-মুকরি (মৃত্যু ৮৫৩ হিজরি); তিনি দামেস্কে তাঁর নিকট পাঠ গ্রহণ করেছেন।

৫ - ইমাম আল্লামা মুফাসসির মুহাদ্দিস ফকিহ যাইনুদ্দীন আব্দুর রহমান বিন সুলায়মান বিন আবিল কারাম আদ-দামেশকী আস-সালিহি আল-হাম্বালী, যিনি আবু শা'র নামে পরিচিত (মৃত্যু ৮৪৪ হিজরি); তিনি তাঁর নিকট ইবনে কুদামার 'আল-মুকনি' কিতাবটি শুরু থেকে ক্রয়-বিক্রয় অধ্যায়ের মধ্যভাগ পর্যন্ত পাঠ করেছেন। "আদ-দাওউল লামি" ৪/ ৮২, "শাযারাতুয যাহাব" ৭/ ২৫৩।

৬ - ফকিহ আবু যর আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ আল-মিসরী আল-হাম্বালী, যিনি তাঁর পিতার পেশার কারণে আয-যারকাশি নামে পরিচিত (মৃত্যু ৮৪৬ হিজরি); তিনি ৮০৩ হিজরির পূর্বে দামেস্কে সফর করেন এবং ইবনে রজবের নিকট থেকে ফিকহ অর্জন করেন। "ইনবাউল গুমর" ৯/ ১৯৪, "আদ-দাওউল লামি" ৪/ ১৩৬ - ১৩৭।
(খণ্ড: ১) জামিউল উলূম ওয়াল হিকাম - ত আরনাউত (পৃষ্ঠা: ৩৫)
7 - شيخ الحنابلة الإِمام العلامة الأصولي علاء الدين أبو الحسن عليّ بن محمد بن عباس البعلي الدمشقيّ الحنبلي الشهير بابن اللحام وهي صنعة أبيه (ت 803 هـ)، تتلمذ لابن رجب وتفقه به، وقد أذن له في الإِفتاء، ووعظ في الجامع الأموي في حلقته بعده. "إنباء الغمر" 4/ 301 - 302، "الضوء اللامع" 5/ 320 - 321، "شذرات الذهب" 7/ 31، "المقصد الأرشد" 2/ 237.

8 - علاء الدين عليّ بن محمد بن عليّ الطرسوسي المزي (ت بعد 850 هـ بيسير) حضر على ابن رجب، وسمعه يقول: أرسل إليّ الزين العراقي يستعين بي في شرح الترمذي. "الضوء اللامع" 5/ 328.

9 - عليُّ بنُ محمد بن إبراهيم الجعفري النابلسي الحنبلي ولد سنة (752 هـ) وقف السخاوي له على تصنيفين أحدهما في وصف الحَمام سماه "رشف المدام" نقل فيه عن ابن رجب فكأنه أخذ عنه الفقه. "الضوء اللامع" 5/ 279.

10 - الشيخ الإِمام العلامة القاضي علاء الدين علي بن محمد بن أبي بكر السلمي الحموي الحنبلي (ت 828 هـ) تفقه بابن رجب في دمشق. "الضوء اللامع" 6/ 34، "المقصد الأرشد" 2/ 264 - 266.

11 - أبو حفص عمر بن محمد بن علي بن أبي بكر بن محمد السراج الحلبي الأصل، الدمشقيّ الشافعي (ت 841 هـ) سمع منه بدمشق مجلس البطاقة. "الضوء اللامع" 6/ 120.

12 - قاضي مكة شمس الدين محمد بن أحمد بن سعيد المقدسي الأصل النابلسي، ثم الدمشقيّ الحلبي (ت 864 هـ) سمع منه بدمشق. "الضوء اللامع" 6/ 309.

13 - شهاب الدين أحمد بن عليّ بن محمد الأنصاري الحلبي، ثم
৭ - হাম্বলিদের শাইখ, ইমাম, আল্লামা, উসুলবিদ আলাউদ্দিন আবুল হাসান আলী বিন মুহাম্মদ বিন আব্বাস আল-বালি আদ-দিমাশকি আল-হাম্বলি, যিনি ইবনুল লাহহাম নামে প্রসিদ্ধ—এটি ছিল তার পিতার পেশা—(মৃত্যু ৮০৩ হি.)। তিনি ইবনে রজবের ছাত্র ছিলেন এবং তাঁর নিকট ফিকহ অর্জন করেছেন। ইবনে রজব তাঁকে ফতোয়া প্রদানের অনুমতি দিয়েছিলেন এবং তাঁর পরবর্তী সময়ে উমাইয়া জামে মসজিদে তাঁর হালকায় ওয়াজ-নসিহত করতেন। "ইনবাউল গুমর" ৪/ ৩০১ - ৩০২, "আদ-দাওউল লামি" ৫/ ৩২০ - ৩২১, "শাযারাতুয যাহাব" ৭/ ৩১, "আল-মাকসাদুল আরশাদ" ২/ ২৩৭।

৮ - আলাউদ্দিন আলী বিন মুহাম্মদ বিন আলী আত-তারসুসি আল-মিযযি (মৃত্যু ৮৫০ হিজরির সামান্য পরে)। তিনি ইবনে রজবের নিকট উপস্থিত হতেন এবং তাঁকে বলতে শুনেছেন: যাইন আল-ইরাকি তিরমিযীর শারহ (ব্যাখ্যাগ্রন্থ) রচনায় আমার নিকট সাহায্য চেয়ে পাঠিয়েছেন। "আদ-দাওউল লামি" ৫/ ৩২৮।

৯ - আলী বিন মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম আল-জাফারি আন-নাবুলুসি আল-হাম্বলি, জন্ম (৭৫২ হি.)। সাখাভী তাঁর দু’টি রচনার সন্ধান পেয়েছেন, যার একটি কবুতরের বর্ণনায়, যার নাম তিনি দিয়েছেন "রাশফুল মাদাম"। সেখানে তিনি ইবনে রজব থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন, যা থেকে প্রতীয়মান হয় যে তিনি তাঁর নিকট ফিকহ অর্জন করেছেন। "আদ-দাওউল লামি" ৫/ ২৭৯।

১০ - শাইখ, ইমাম, আল্লামা, বিচারক আলাউদ্দিন আলী বিন মুহাম্মদ বিন আবু বকর আস-সুলামি আল-হামাভি আল-হাম্বলি (মৃত্যু ৮২৮ হি.) দামেস্কে ইবনে রজবের নিকট ফিকহ শিক্ষা লাভ করেন। "আদ-দাওউল লামি" ৬/ ৩৪, "আল-মাকসাদুল আরশাদ" ২/ ২৬৪ - ২৬৬।

১১ - আবু হাফস উমর বিন মুহাম্মদ বিন আলী বিন আবু বকর বিন মুহাম্মদ আস-সিরাজ, আদি নিবাস আলেপ্পো, দামেশকি শাফেয়ী (মৃত্যু ৮৪১ হি.), তিনি দামেস্কে তাঁর নিকট 'মজলিসুল বিতাকাহ' শ্রবণ করেছেন। "আদ-দাওউল লামি" ৬/ ১২০।

১২ - মক্কার বিচারক শামসুদ্দিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন সাঈদ, আদি নিবাস মাকদিস, নাবুলুসি, অতঃপর দামেশকি হালাবি (মৃত্যু ৮৬৪ হি.), তিনি দামেস্কে তাঁর নিকট শ্রবণ করেছেন। "আদ-দাওউল লামি" ৬/ ৩০৯।

১৩ - শিহাবুদ্দিন আহমদ বিন আলী বিন মুহাম্মদ আল-আনসারী আল-হালাবি, অতঃপর...