(খণ্ড: ১)
যিয়াদাতুল কুতায়ী আলা মুসনাদিল ইমাম আহমাদ দিরাসাহ ওয়া তাখরীজান
(পৃষ্ঠা: -)
زيادات القطيعي على مسند الإمام أحمد دراسة وتخريجا القسم: التخريج والأطراف
الكتاب: زيادات القطيعي على مسند الإمام أحمد دراسة وتخريجا
المؤلف: دخيل بن صالح اللحيدان
الناشر: الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة
الطبعة: السنة الرابعة والثلاثون العدد (114) 1422هـ
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
عدد الصفحات: 168
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বলের মুসনাদের ওপর আল-কাতিয়ি-এর অতিরিক্ত বর্ণনা (জিয়াদাত): একটি গবেষণা ও হাদিস বিশ্লেষণ বিভাগ: হাদিস বিশ্লেষণ ও সূচি
বই: ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বলের মুসনাদের ওপর আল-কাতিয়ি-এর অতিরিক্ত বর্ণনা (জিয়াদাত): একটি গবেষণা ও হাদিস বিশ্লেষণ
লেখক: দাখিল বিন সালিহ আল-লুহাইদান
প্রকাশক: মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়
সংস্করণ: চৌত্রিশতম বর্ষ, সংখ্যা (১১৪) ১৪২২ হিজরি
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৬৮
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
যিয়াদাতুল কুতায়ী আলা মুসনাদিল ইমাম আহমাদ দিরাসাহ ওয়া তাখরীজান
(পৃষ্ঠা: ৯১)
مُقَدّمَة…زيادات القَطِيعي على مُسْند الإِمَام أَحْمد بِرِوَايَة ابْنه عبد الله دراسةً وتخريجاً
تأليف الدكتور / دخيل بن صَالح اللحيدان
الْأُسْتَاذ المساعد فِي قسم السّنة وعلومها
كُلية أصُول الدّين بالرياض
جَامِعَة الإِمَام مُحَمَّد بن سعود الإسلامية 1420هـ
إنَّ الحمدَ للهِ نحمده ونستعينه، من يهده الله فَلَا مضل لَهُ، وَمن يضلل فَلَا هادي لَهُ، وَأشْهد أَن لَا إِلَه إِلَّا الله وَحده لَا شريك لَهُ، وَأَن مُحَمَّدًا عَبده وَرَسُوله، أما بعد1:
فَإِن خير الحَدِيث كتاب الله، وَخير الْهَدْي هدي مُحَمَّد، وَشر الْأُمُور محدثاتها، وكل بِدعَة ضَلَالَة2.
إِن الله تَعَالَى حفظ لهَذِهِ الْأمة الْقُرْآن الْكَرِيم الَّذِي تناقلته الأجيال بالتواتر، وَحفظ لَهَا سنة نبيها مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم بِأَن يسر لَهَا صحابته الْكِرَام رضوَان الله عَلَيْهِم، فحفظوها وفهموها وَعمِلُوا بهَا، وَسَار على نهجهم من أَتَى بعدهمْ، وذبّوا عَنْهَا تَحْرِيف المتأولين، وشبهات المبطلين، وَغلط الواهمين.
وقيض الله تَعَالَى للسّنة من الْأَئِمَّة النقاد الَّذين بينوا أَحْوَال الروَاة، وميزوا الصَّحِيح من الضَّعِيف حَتَّى يكون الْمُسْتَدلّ بهَا على بَصِيرَة فِي اسْتِخْرَاج الْأَحْكَام الشَّرْعِيَّة مِنْهَا، وَمَعْرِفَة الْحَلَال من الْحَرَام، وَالْخَاص من الْعَام، والناسخ من الْمَنْسُوخ وَنَحْو ذَلِك.
--------------------------------------------
ভূমিকা...ইমাম আহমাদ বিন হাম্বলের মুসনাদে তাঁর পুত্র আবদুল্লাহর বর্ণনায় আল-ক্বাতীঈর অতিরিক্ত বর্ণনাসমূহ (যিয়াদাত): একটি তাত্ত্বিক ও তাখরীজভিত্তিক গবেষণা
রচনায়: ডক্টর দাখীল বিন সালেহ আল-লুহাইদান
সহকারী অধ্যাপক, সুন্নাহ ও সুন্নাহ-বিজ্ঞান বিভাগ
ধর্মতত্ত্ব অনুষদ (কুল্লিয়াতু উসুলুদ্দীন), রিয়াদ
ইমাম মুহাম্মাদ বিন সাউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়, ১৪২০ হিজরি
নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি এবং তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দেন, তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই; আর তিনি যাকে বিভ্রান্ত করেন, তাকে হিদায়াত দেওয়ার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। অতঃপর:
নিশ্চয়ই সর্বোত্তম বাণী হলো আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশ হলো মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পথনির্দেশ। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (দীনের মধ্যে) নবউদ্ভত বিষয়সমূহ এবং প্রতিটি বিদআতই হলো ভ্রষ্টতা।
নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা এই উম্মতের জন্য পবিত্র কুরআনকে সংরক্ষিত করেছেন, যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম অবিচ্ছিন্ন ঐতিহ্যের (তাওয়াতুর) মাধ্যমে লাভ করেছে। তিনি এই উম্মতের জন্য তাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহকেও সংরক্ষিত করেছেন এভাবে যে, তিনি এর জন্য তাঁর সম্মানিত সাহাবীগণকে (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) সহজলভ্য করে দিয়েছিলেন; তাঁরা তা মুখস্থ করেছেন, অনুধাবন করেছেন এবং সে অনুযায়ী আমল করেছেন। তাঁদের পরবর্তীগণ তাঁদেরই পথ অনুসরণ করেছেন এবং সুন্নাহ থেকে ব্যাখ্যাকারীদের বিকৃতি, বাতিলপন্থীদের সংশয় এবং বিভ্রান্তদের ভুলভ্রান্তি দূর করেছেন।
আর আল্লাহ তাআলা সুন্নাহর হিফাযতের জন্য এমন একদল সমালোচক ইমামকে নির্ধারিত করেছেন, যাঁরা বর্ণনাকারীদের অবস্থা বর্ণনা করেছেন এবং সহীহ ও যয়ীফ (দুর্বল) এর মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করেছেন, যাতে করে সুন্নাহর মাধ্যমে দলিল পেশকারী ব্যক্তি তা থেকে শরয়ি আহকাম বের করতে, হালাল-হারাম জানতে, খাস (বিশেষ) ও আম (সাধারণ) এবং নাসিখ (রহিতকারী) ও মানসুখ (রহিত) ইত্যাদি বিষয়ে সুস্পষ্ট জ্ঞানের ওপর থাকতে পারেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যিয়াদাতুল কুতায়ী আলা মুসনাদিল ইমাম আহমাদ দিরাসাহ ওয়া তাখরীজান
(পৃষ্ঠা: ৯২)
وَقد عُني الْعلمَاء بتدوين الحَدِيث فِي المسانيد وَالسّنَن والجوامع والمصنفات، والمعاجم والمشيخات والأجزاء الحديثية وَغَيرهَا من مصَادر السّنة الَّتِي نقلت بِالْأَسَانِيدِ الْمُتَّصِلَة، وضُبطت ألفاظها بِالْعرضِ والمقابلة وَإِثْبَات السماع تَأْكِيدًا على حفظهَا من الزِّيَادَة وَالنُّقْصَان، مَعَ تَوَاتر الْعزو إِلَيْهَا فِي كتب أهل الْعلم بِمَا لَا يَجْعَل للشَّكّ فِيهَا مجالاً.
وَمن أبرز مَا عُني بِهِ أهل الحَدِيث، زيادات الروَاة عَن شيوخهم، حَيْثُ قد يضيف تلميذ الْمُؤلف أَو من دونه بعض مروياته عَن شُيُوخه بِحَيْثُ تتَمَيَّز بهم عَن مرويات الْمُؤلف.
وَكَانَت هَذِه الزِّيَادَات وَاضِحَة عِنْد مُتَقَدِّمي أهل الحَدِيث لمعرفتهم بالشيوخ والطبقات، ولمّا ضَعُفت الهمم فِيمَن أَتَى بعدهمْ أحتيج إِلَى مَعْرفَتهَا ودراستها والتنبيه إِلَيْهَا، وإفرادها بالتأليف، وَقد جَاءَ هَذَا الْبَحْث فِي دراسة زيادات وَاحِد من هَؤُلَاءِ الروَاة، وَهُوَ: الإِمَام القَطِيعي، ليسهم فِي تَعْرِيف زيادات الروَاة، واستنباط أَنْوَاعهَا، وَمَعْرِفَة درجتها، وضوابطها، وَكَانَ ذَلِك من أَسبَاب اخْتِيَار هَذَا الْمَوْضُوع، إِضَافَة إِلَى تَأْكِيد مَا يَلِي:
1 - منزلَة فن زيادات رُوَاة الْكتب، وَهُوَ مِمَّا يسْتَدرك على من ألف فِي مصطلح الحَدِيث.
2 - الْحَاجة إِلَى معرفَة أَصْحَاب الزِّيَادَات ومروياتهم، وَلَا سِيمَا أَنهم –وَإِن كَانُوا ثقاتاً فِي أنفسهم - إِلَّا أَنهم لَيْسُوا من النقاد الجهابذة الَّذين ينتقون مروياتهم، بل شَأْن أَكْثَرهم الْعِنَايَة بأَدَاء مَا سمعُوا - سَوَاء أَكَانَ صَحِيحا أم ضَعِيفا - بل قد تكون أَكثر زيادات بَعضهم مَوْضُوعَة كالقطِيعي، حَيْثُ إِنَّهُم يرَوْنَ بَرَاءَة الذِّمَّة بِالْإِسْنَادِ، والعهدة على من رووا عَنهُ من شيوخهم.
3 - أثر هَذَا الْفَنّ فِي تَمْيِيز زيادات رُوَاة الْكتب من مرويات مؤلفيها، وَلَا سِيمَا من كَانَ مَعْرُوفا بالانتقاء حَيْثُ يُؤَدِّي خفاؤها إِلَى الْوَهم فِي نِسْبَة الزِّيَادَات - مَعَ ضعفها - إِلَيْهِم، وَقد وهم الْعَلامَة الهيثمي – مَعَ جلالة قدره – فعزى
বিদ্বানগণ মুসনাদ, সুনান, জামে‘, মুসান্নাফ, মু‘জাম, মাশয়াখাহ এবং হাদিস বিষয়ক বিভিন্ন খণ্ডসহ সুন্নাহর অন্যান্য উৎসসমূহে হাদিস লিপিবদ্ধ করার ব্যাপারে বিশেষ যত্ন নিয়েছেন, যা অবিচ্ছিন্ন সনদের মাধ্যমে বর্ণিত হয়েছে। হাদিসের শব্দগুলোকে আরদ (পেশ করা), মুকাবিলা (মূল পাণ্ডুলিপির সাথে তুলনা) এবং সামা‘ (শ্রবণ) প্রমাণের মাধ্যমে সুনিশ্চিত করা হয়েছে যাতে কোনো প্রকার হ্রাস-বৃদ্ধি থেকে একে রক্ষা করা যায়। পাশাপাশি আহলে ইলমদের কিতাবসমূহে এর উদ্ধৃতি নিরবচ্ছিন্নভাবে এমনভাবে বিদ্যমান যে, এতে কোনো প্রকার সন্দেহের অবকাশ নেই।
মুহাদ্দিসগণ যে বিষয়টির প্রতি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন তা হলো শাইখদের থেকে রাবীদের বর্ণিত অতিরিক্ত বর্ণনাগুলো (যিয়াদাত)। এখানে অনেক সময় লেখকের ছাত্র অথবা তার পরবর্তী স্তরের কেউ তার নিজস্ব শাইখদের থেকে বর্ণিত কিছু অংশ যোগ করেন, যার ফলে সেগুলো মূল লেখকের বর্ণনা থেকে স্বতন্ত্র হিসেবে চিহ্নিত হয়।
পূর্ববর্তী মুহাদ্দিসগণের কাছে এই অতিরিক্ত বর্ণনাগুলো সুস্পষ্ট ছিল, কারণ তারা শাইখ এবং রাবীদের স্তর সম্পর্কে পূর্ণ অবগত ছিলেন। কিন্তু পরবর্তী প্রজন্মে যখন একাগ্রতা ও উদ্যম কমে গেল, তখন এগুলো সম্পর্কে জানা, গবেষণা করা, সতর্ক করা এবং এ বিষয়ে স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিল। এই গবেষণাটি তেমনই একজন রাবীর অতিরিক্ত বর্ণনা পর্যালোচনার জন্য করা হয়েছে, আর তিনি হলেন: ইমাম কাতীঈ। এটি রাবীদের অতিরিক্ত বর্ণনার পরিচয় প্রদান, তার প্রকারভেদ উদঘাটন এবং এর মান ও নীতিমালা নির্ণয়ে সহায়তা করবে। এই বিষয়টি নির্বাচনের অন্যতম কারণ ছিল এটিই, এছাড়া নিম্নোক্ত বিষয়গুলো নিশ্চিত করাও এর লক্ষ্য:
১ - কিতাবসমূহের রাবীদের অতিরিক্ত বর্ণনা সংক্রান্ত শাস্ত্রের মর্যাদা উপলব্ধি করা; যা হাদিস পরিভাষা নিয়ে যারা গ্রন্থ রচনা করেছেন তাদের কাজের একটি পরিপূরক সংযোজন।
২ - অতিরিক্ত বর্ণনা প্রদানকারী ব্যক্তি এবং তাদের বর্ণিত হাদিসগুলো সম্পর্কে জানার প্রয়োজনীয়তা। বিশেষ করে এই কারণে যে, তারা ব্যক্তিগতভাবে নির্ভরযোগ্য হওয়া সত্ত্বেও তারা এমন প্রখর বিদগ্ধ সমালোচক ছিলেন না যারা প্রতিটি বর্ণনা যাচাই-বাছাই করে গ্রহণ করেন। বরং তাদের অধিকাংশের মূল লক্ষ্য ছিল তারা যা শুনেছেন তা হুবহু পৌঁছে দেওয়া—তা সহিহ হোক বা যঈফ। এমনকি কারো কারো ক্ষেত্রে অধিকাংশ অতিরিক্ত বর্ণনাই জাল হতে পারে, যেমনটি ইমাম কাতীঈর ক্ষেত্রে দেখা যায়। কারণ তারা মনে করতেন যে সনদ উল্লেখ করার মাধ্যমেই তারা দায়মুক্ত হয়ে গেছেন এবং এর সত্যতার দায়ভার ওই শাইখদের ওপর বর্তায় যাদের থেকে তারা বর্ণনা করেছেন।
৩ - কিতাবের মূল লেখকের বর্ণনার সাথে রাবীদের অতিরিক্ত বর্ণনা পৃথক করার ক্ষেত্রে এই শাস্ত্রের প্রভাব। বিশেষ করে ওই সকল লেখকের ক্ষেত্রে যারা যাচাই-বাছাই করে হাদিস গ্রহণের জন্য প্রসিদ্ধ। কারণ এই অতিরিক্ত বর্ণনাগুলো অস্পষ্ট থাকার ফলে সেগুলো দুর্বল হওয়া সত্ত্বেও মূল লেখকের দিকেই সম্পর্কিত করার বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। আল্লামা হাইসামি তাঁর সুউচ্চ মর্যাদা সত্ত্বেও এমন বিভ্রান্তিতে পড়েছিলেন এবং তিনি উদ্ধৃতি দিয়েছিলেন...
(খণ্ড: ১)
যিয়াদাতুল কুতায়ী আলা মুসনাদিল ইমাম আহমাদ দিরাসাহ ওয়া তাখরীজান
(পৃষ্ঠা: ৯৩)
حَدِيثا إِلَى مُسْند الإِمَام أَحْمد، وَهُوَ من زيادات القَطِيعي عَلَيْهِ1، وَمن هُوَ دون الهيثمي من بَاب أولى، وَيُؤَدِّي هَذَا إِلَى عدم الدقة فِي بَيَان مكانة المصادر، كَمَا قد ينْسب أهل الْأَهْوَاء الحَدِيث الْمَوْضُوع من هَذِه الزِّيَادَات إِلَى الْأَئِمَّة أنفسهم فَتحصل الشُّبْهَة لمن لَا علم لَهُ بهَا، وَقد دحض شيخ الْإِسْلَام ابْن تَيْمِية شبهاتهم فِي عدَّة مَوَاضِع من كتبه، وَمِنْه قَوْله: "لَيْسَ هَذَا الحَدِيث فِي مُسْند أَحْمد، وَلَا رَوَاهُ أَحْمد لَا فِي الْمسند وَلَا فِي الْفَضَائِل
… وَإِنَّمَا هُوَ من زيادات القَطِيعي الَّتِي فِيهَا من الْكَذِب الْمَوْضُوع مَا اتّفق أهل الْعلم على أَنه كذب مَوْضُوع " 2.
4 - تبَاين أراء أهل الْعلم فِي زيادات القَطِيعي على مُسْند الإِمَام أَحْمد بِرِوَايَة ابْنه عبد الله، فَمنهمْ النَّافِي وَمِنْهُم الْمُثبت وَمِنْهُم من يرى قلتهَا، وَمِنْهُم من يرى كثرتها، مِمَّا يَدْعُو إِلَى تَحْرِير القَوْل فِيهَا، وَبَيَان الصَّوَاب بالاستقراء والدراسة التفصيلية المبينة لعددها، ومواضعها، وَمَا يدل على أَنَّهَا من زيادات القَطِيعي، مَعَ الحكم عَلَيْهَا.
وَمن الجدير بِالذكر أَن هَذَا الْبَحْث يعْتَبر –فِيمَا يُعلم - أول دراسة مُفْردَة بِزِيَادَات القَطِيعي على الْمسند، وَهُوَ يتكون بعد الْمُقدمَة السَّابِقَة من:
من فصلين، وخاتمة، وفهارس، وبيانها على النَّحْو التَّالِي:
الْفَصْل الأول: الدراسة، وَفِيه:
المبحث الأول: التَّعْرِيف بِعَبْد الله بن أَحْمد.
المبحث الثَّانِي: التَّعْرِيف بالقَطِيعي.
المبحث الثَّالِث: التَّعْرِيف بِمُسْنَد الإِمَام أَحْمد.
المبحث الرَّابِع: التَّعْرِيف بِزِيَادَات الروَاة.
المبحث الْخَامِس: التَّعْرِيف بِزِيَادَات القَطيعي.
--------------------------------------------
ইমাম আহমদের মুসনাদ-এর প্রতি একটি হাদীস (হিসেবে সম্বন্ধ করা হয়), যা তাতে আল-কাতিয়ীর সংযোজনসমূহের অন্তর্ভুক্ত ১, আর যারা হাইসামীর তুলনায় নিম্নস্তরের তাদের ক্ষেত্রে এটি আরও বেশি প্রযোজ্য। এটি মূল উৎসসমূহের মর্যাদা বর্ণনায় নির্ভুলতার অভাব তৈরি করে, ঠিক যেমন প্রবৃত্তি পূজারীরা এই সংযোজনসমূহ থেকে বানোয়াট হাদীসগুলোকে খোদ ইমামদের দিকেই সম্বন্ধযুক্ত করে থাকে, ফলে যাদের এ বিষয়ে জ্ঞান নেই তাদের মধ্যে সংশয় সৃষ্টি হয়। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ তাঁর কিতাবসমূহের বিভিন্ন স্থানে তাদের এই সংশয়গুলো খণ্ডন করেছেন, যার মধ্যে তাঁর উক্তি হলো: "এই হাদীসটি মুসনাদে আহমদে নেই এবং আহমদ এটি মুসনাদ বা ফাযাইল—কোনোটিতেই বর্ণনা করেননি
… বরং এটি আল-কাতিয়ীর সেই সব সংযোজনের অন্তর্ভুক্ত যার মধ্যে এমন মিথ্যা ও বানোয়াট বিষয় রয়েছে যা বানোয়াট হওয়ার ব্যাপারে আলিমগণ একমত হয়েছেন।" ২।
৪ - আবদুল্লাহ ইবনে আহমদের বর্ণনায় ইমাম আহমদের মুসনাদ-এর ওপর আল-কাতিয়ীর সংযোজনসমূহের ব্যাপারে আলিমদের মতামতের ভিন্নতা। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ তা অস্বীকার করেছেন, কেউ কেউ সাব্যস্ত করেছেন, কেউ মনে করেন এটি পরিমাণে অল্প, আবার কেউ মনে করেন এটি অনেক বেশি। যা এই বিষয়ে চূড়ান্ত বক্তব্য নির্ধারণ এবং আরোহী পদ্ধতি ও বিস্তারিত পর্যালোচনার মাধ্যমে সঠিক বিষয়টি স্পষ্ট করার দাবি রাখে, যা এর সংখ্যা, অবস্থান এবং যা প্রমাণ করে যে এগুলো আল-কাতিয়ীর সংযোজন, তার সাথে এগুলোর ওপর হুকুম স্পষ্ট করবে।
এটি উল্লেখযোগ্য যে, যতদূর জানা যায়, এই গবেষণাটি মুসনাদ-এর ওপর আল-কাতিয়ীর সংযোজনসমূহের বিষয়ে প্রথম একক গবেষণা হিসেবে বিবেচিত। এটি পূর্ববর্তী ভূমিকার পর নিম্নোক্ত বিষয়গুলো নিয়ে গঠিত:
দুটি অধ্যায়, একটি উপসংহার এবং নির্ঘণ্ট, যার বিবরণ নিম্নরূপ:
প্রথম অধ্যায়: পর্যালোচনা, এতে রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: আবদুল্লাহ ইবনে আহমদের পরিচিতি।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আল-কাতিয়ীর পরিচিতি।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ইমাম আহমদের মুসনাদ-এর পরিচিতি।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: বর্ণনাকারীদের সংযোজনের পরিচিতি।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: আল-কাতিয়ীর সংযোজনের পরিচিতি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যিয়াদাতুল কুতায়ী আলা মুসনাদিল ইমাম আহমাদ দিরাসাহ ওয়া তাখরীজান
(পৃষ্ঠা: ৯৪)
الْفَصْل الثَّانِي: تَخْرِيج زيادات القَطِيعي.
الخاتمة: وتشتمل على أهم نتائج الْبَحْث.
الفهارس، وفيهَا:
1 - فهرس المصادر والمراجع.
2 - فهرس الموضوعات.
هَذَا وَسميت هَذَا الْبَحْث: "زيادات القَطِيعي على مُسْند الإِمَام أَحْمد بِرِوَايَة ابْنه عبد الله، دراسة وتخريجاً "، وأسأل الله تَعَالَى أَن ينفع بِهِ وَيغْفر لي ولوالدي ولذوي أرحامي وَلِجَمِيعِ الْمُسلمين، وَالْحَمْد لله رب الْعَالمين.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আল-কাতীয়ী-এর যিয়াদাতসমূহের (অতিরিক্ত বর্ণনাসমূহ) তাখরীজ।
উপসংহার: এটি গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ ফলাফলসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে।
নির্ঘণ্টসমূহ, এতে রয়েছে:
১ - উৎস ও তথ্যসূত্রসমূহের নির্ঘণ্ট।
২ - বিষয়সূচির নির্ঘণ্ট।
আমি এই গবেষণার নামকরণ করেছি: "ইমাম আহমাদ-এর পুত্র আবদুল্লাহর বর্ণনায় মুসনাদে আহমাদ-এর ওপর আল-কাতীয়ী-এর যিয়াদাতসমূহ: একটি তাত্ত্বিক ও তাখরীজভিত্তিক গবেষণা", আর আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি এর দ্বারা উপকার করেন এবং আমাকে, আমার পিতা-মাতাকে, আমার আত্মীয়-স্বজনকে ও সকল মুসলিমকে ক্ষমা করেন। আর সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
(খণ্ড: ১)
যিয়াদাতুল কুতায়ী আলা মুসনাদিল ইমাম আহমাদ দিরাসাহ ওয়া তাখরীজান
(পৃষ্ঠা: ৯৬)
الْفَصْل الأول: الدراسة
المبحث الأول: التَّعْرِيف بِعَبْد الله بن أَحْمد.
…المبحث الأول: التَّعْرِيف بِعَبْد الله بن الإِمَام أَحْمد1:
أَولا: اسْمه وَنسبه ونسبته وتأريخ وِلَادَته:
فَهُوَ: عبد الله بن أَحْمد بن مُحَمَّد بن حَنْبَل بن هِلَال بن أَسد الشَّيْبَانِيّ الْبَغْدَادِيّ أَبُو عبد الرَّحْمَن.
ولد سنة: 213هـ.
ثَانِيًا: شُيُوخه: تلقى عبد الله بن الإِمَام أَحْمد عَن شُيُوخ كثيرين، وَفِي مقدمتهم: وَالِده – ت 241هـ – وَيحيى بن عَبْدَوَيْه –وَهُوَ أكبر شيخ لَهُ – ت 231هـ –، وَأحمد بن جَنَاب المِصِّيصي – ت 230هـ -، وَأحمد بن مُحَمَّد بن أَيُّوب – ت 228هـ -، وَإِبْرَاهِيم بن الْحجَّاج السَّامِي – ت231هـ، وَيحيى بن معِين إِمَام الْجرْح وَالتَّعْدِيل – ت 233هـ -، وَخَلِيفَة بن خياط صَاحب التأريخ والطبقات – ت 240هـ – وَغَيرهم، قَالَ الْحَافِظ أَبُو بكر: مُحَمَّد بن عبد الْغَنِيّ ابْن نقطة –ت 629هـ - عَنهُ: "حدث عَن جمَاعَة يزِيدُونَ على الأربعمائة جَمعنَا أَسْمَاءَهُم فِي كتاب مُفْرد " 2.
ثَالِثا: تلاميذه، وَمِنْهُم: أَحْمد بن شُعَيْب النَّسَائِيّ صَاحب السّنَن– ت 303هـ –، ومُوسَى ابْن هَارُون الْحمال – ت 294هـ -، وَعبد الرَّحْمَن بن أبي حَاتِم – ت 327هـ -، وَأحمد بن جَعْفَر القطِيعي –ت368هـ -، وَغَيرهم.
رَابِعا: مكانته العلمية: عبد الله بن الإِمَام أَحْمد: حَافظ ثِقَة، ومحدث
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: গবেষণাপ্রথম উপ-পরিচ্ছেদ: আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ-এর পরিচিতি.
...প্রথম উপ-পরিচ্ছেদ: ইমাম আহমাদ-এর পুত্র আব্দুল্লাহ-এর পরিচিতি ১:
প্রথমত: তাঁর নাম, বংশ পরিচয়, সম্বন্ধ এবং জন্ম তারিখ:
তিনি হলেন: আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন হাম্বল বিন হিলাল বিন আসাদ আশ-শাইবানী আল-বাগদাদী আবু আব্দুর রহমান।
জন্মসাল: ২১৩ হিজরি।
দ্বিতীয়ত: তাঁর শিক্ষকবৃন্দ: ইমাম আহমাদ-এর পুত্র আব্দুল্লাহ বহু সংখ্যক শিক্ষকের নিকট শিক্ষা গ্রহণ করেছেন, যাদের অগ্রভাগে রয়েছেন: তাঁর পিতা – মৃত্যু ২৪১ হি. – এবং ইয়াহইয়া বিন আবদাওয়াইহ – যিনি তাঁর বয়োজ্যেষ্ঠ শিক্ষক – মৃত্যু ২৩১ হি. –, আহমাদ বিন জানাব আল-মিসসীসী – মৃত্যু ২৩০ হি. –, আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আইয়ুব – মৃত্যু ২২৮ হি. –, ইব্রাহিম বিন হাজ্জাজ আস-সামি – মৃত্যু ২৩১ হি. –, ইয়াহইয়া বিন মাঈন যিনি জারহ ও তাদীল-এর ইমাম – মৃত্যু ২৩৩ হি. –, খলিফা বিন খাইয়াত যিনি আত-তারিখ ও আত-তাবাকাত গ্রন্থের রচয়িতা – মৃত্যু ২৪০ হি. – এবং অন্যান্যরা। হাফিজ আবু বকর মুহাম্মাদ বিন আব্দুল গনি ইবন নুকতাহ – মৃত্যু ৬২৯ হি. – তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: "তিনি চারশ’র অধিক এমন এক জামাতের নিকট থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন যাদের নাম আমরা একটি পৃথক গ্রন্থে একত্রিত করেছি" ২।
তৃতীয়ত: তাঁর ছাত্রবৃন্দ, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: আহমাদ বিন শুআইব আন-নাসায়ী যিনি সুনান গ্রন্থের রচয়িতা – মৃত্যু ৩০৩ হি. –, মুসা বিন হারুন আল-হাম্মাল – মৃত্যু ২৯৪ হি. –, আব্দুর রহমান বিন আবি হাতিম – মৃত্যু ৩২৭ হি. –, আহমাদ বিন জাফর আল-কাতিয়ী – মৃত্যু ৩৬৮ হি. – এবং অন্যান্যরা।
চতুর্থত: তাঁর ইলমি মর্যাদা: ইমাম আহমাদ-এর পুত্র আব্দুল্লাহ: একজন হাফিজ, নির্ভরযোগ্য (সিকাহ) এবং মুহাদ্দিস।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যিয়াদাতুল কুতায়ী আলা মুসনাদিল ইমাম আহমাদ দিরাসাহ ওয়া তাখরীজান
(পৃষ্ঠা: ৯৭)
كَبِير، قَالَ عَنهُ الإِمَام أَحْمد: "إِن ابْني قد وعى علما كثيرا "1، وَقَالَ عَنهُ أَيْضا: "إِن ابْني محظوظ من علم الحَدِيث لَا يكَاد يذاكرني إِلَّا بِمَا لَا أحفظ"، وَقَالَ أَبُو بكر: أَحْمد بن عَليّ الْخَطِيب الْبَغْدَادِيّ –ت463هـ - عَنهُ: "كَانَ ثِقَة ثبتاً فهما " 2 وَقَالَ تِلْمِيذه أَبُو الْحُسَيْن: أَحْمد بن مُحَمَّد الْبَغْدَادِيّ الشهير بِابْن المُنادى – ت 336هـ - عَنهُ: "مَا زلنا نرى أكَابِر شُيُوخنَا يشْهدُونَ لَهُ بِمَعْرِِفَة الرِّجَال وَعلل الحَدِيث والأسماء والكنى والمواظبة على طلب الحَدِيث فِي الْعرَاق وَغَيرهَا، ويذكرون عَن أسلافهم الْإِقْرَار لَهُ بذلك "3.
خَامِسًا: مسموعاته من وَالِده: سمع عبد الله بن الإِمَام أَحْمد من وَالِده غَالب مروياته، وَفِي ذَلِك يَقُول تِلْمِيذه ابْن المُنادى: "لم يكن فِي الدُّنْيَا أحد أروى عَن أَبِيه مِنْهُ؛ لِأَنَّهُ سمع الْمسند وَهُوَ ثَلَاثُونَ ألفا، وَالتَّفْسِير وَهُوَ مائَة ألف وَعِشْرُونَ ألفا، سمع مِنْهَا ثَمَانِينَ ألفا، وَالْبَاقِي وجادة، وَسمع النَّاسِخ والمنسوخ، والتأريخ، وَحَدِيث شُعْبَة، والمقدم والمؤخر فِي كتاب الله تَعَالَى، وجوابات الْقُرْآن، والمناسك الْكَبِير وَالصَّغِير، وَغير ذَلِك من التصانيف " 4.
وَقَالَ عبد الله: "كل شَيْء أَقُول: قَالَ أبي، قد سمعته مرَّتَيْنِ أَو ثَلَاثَة، وَأقله مرّة " 5.
وَقَالَ الطَّبَرَانِيّ: "حَدثنَا عبد الله بن أَحْمد بن حَنْبَل حَدثنَا أبي قَالَ: قُبُور أهل السّنة من أهل الْكَبَائِر رَوْضَة، وقبور أهل الْبِدْعَة من الزهاد حُفْرَة، فساق
--------------------------------------------
বিশাল ব্যক্তিত্ব, ইমাম আহমাদ তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: "নিশ্চয়ই আমার পুত্র প্রচুর জ্ঞান অর্জন করেছে" ১, তিনি তাঁর সম্পর্কে আরও বলেছেন: "নিশ্চয়ই হাদিসের ইলমে আমার পুত্র সৌভাগ্যবান; সে যখনই আমার সাথে ইলমি আলোচনা করে, সাধারণত এমন কিছু নিয়েই করে যা আমার মুখস্থ নেই", এবং আবু বকর আহমাদ বিন আলী আল-খতিব আল-বাগদাদি (ওফাত ৪৬৩ হিজরি) তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: "তিনি ছিলেন বিশ্বস্ত, সুদৃঢ় এবং প্রখর ধীসম্পন্ন" ২। তাঁর ছাত্র আবু আল-হুসাইন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ আল-বাগদাদি, যিনি ইবনুল মুনাদি (ওফাত ৩৩৬ হিজরি) নামে পরিচিত, তিনি তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: "আমরা সবসময়ই আমাদের বড় বড় উস্তাদদের তাঁর সম্পর্কে এই সাক্ষ্য দিতে দেখেছি যে, তিনি রিজাল শাস্ত্র (বর্ণনাকারী), হাদিসের ত্রুটি (ইল্লাল), নাম ও উপনাম সম্পর্কে গভীর জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন এবং ইরাক ও ইরাকের বাইরে হাদিস অন্বেষণে নিরন্তর নিমগ্ন থাকতেন। তাঁরা তাঁদের পূর্বসূরিদের পক্ষ থেকেও তাঁর জন্য এর স্বীকৃতি পাওয়ার কথা উল্লেখ করতেন" ৩।
পঞ্চম: পিতার নিকট থেকে তাঁর শ্রবণকৃত বিষয়াবলি: আব্দুল্লাহ বিন ইমাম আহমাদ তাঁর পিতার অধিকাংশ বর্ণনা শ্রবণ করেছেন। এই প্রসঙ্গে তাঁর ছাত্র ইবনুল মুনাদি বলেন: "পিতার পক্ষ থেকে তাঁর চেয়ে বড় কোনো বর্ণনাকারী পৃথিবীতে ছিল না; কারণ তিনি আল-মুসনাদ শ্রবণ করেছেন যা ত্রিশ হাজার হাদিস সম্বলিত, এবং তাফসির শ্রবণ করেছেন যা এক লক্ষ বিশ হাজার হাদিস সম্বলিত, যার মধ্যে তিনি আশি হাজার সরাসরি শ্রবণ করেছেন এবং বাকিটুকু ওয়াজাদাহ (লিখিত পাণ্ডুলিপি থেকে প্রাপ্ত) হিসেবে। এছাড়া তিনি আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ, আল-তারিখ, শু’বার হাদিস, আল্লাহর কিতাবের মুকাদ্দাম ও মুয়াখখার, জাওয়াবাতুল কুরআন, আল-মানাসিক আল-কাবীর ও আল-সাগীর এবং অন্যান্য কিতাবাদি শ্রবণ করেছেন" ৪।
আব্দুল্লাহ বলেন: "আমি যে কোনো বর্ণনায় যখন বলি: আমার পিতা বলেছেন, তা আমি দুই বা তিনবার শুনেছি, আর সর্বনিম্ন একবার" ৫।
তাবারানি বলেন: "আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ বিন হাম্বল আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা বলেছেন: কাবিরা গুনাহে লিপ্ত আহলুস সুন্নাহর ব্যক্তিদের কবরগুলো জান্নাতের বাগানস্বরূপ, আর দুনিয়াবিমুখ বিদাতিদের কবরগুলো জাহান্নামের গর্তস্বরূপ।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যিয়াদাতুল কুতায়ী আলা মুসনাদিল ইমাম আহমাদ দিরাসাহ ওয়া তাখরীজান
(পৃষ্ঠা: ৯৮)
أهل السّنة: أَوْلِيَاء الله، وزهاد أهل الْبِدْعَة أَعدَاء الله " 1.
سادساً: وَفَاته: كَانَت وَفَاة عبد الله بن الإِمَام أَحْمد فِي شهر جُمَادَى الْآخِرَة، سنة 290هـ، وَله سبع وَسَبْعُونَ سنة كعمر أَبِيه، وَدفن فِي مَقَابِر بَاب التِّبْن2 فِي بَغْدَاد، رَحْمَة الله عَلَيْهِ3.
--------------------------------------------
আহলে সুন্নাত: আল্লাহর অলি (বন্ধু), আর বিদআতিদের সংসারবিরাগীরা আল্লাহর শত্রু" ১।
ষষ্ঠত: তাঁর মৃত্যু: ইমাম আহমদের পুত্র আব্দুল্লাহর মৃত্যু হয় ২৯০ হিজরির জুমাদাল আখিরা মাসে। তাঁর বয়স হয়েছিল সাতাত্তর বছর, যা তাঁর পিতার বয়সের অনুরূপ ছিল। তাঁকে বাগদাদের বাবুত তিবন কবরস্থানে দাফন করা হয়, তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক ৩।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যিয়াদাতুল কুতায়ী আলা মুসনাদিল ইমাম আহমাদ দিরাসাহ ওয়া তাখরীজান
(পৃষ্ঠা: ৯৯)
المبحث الثَّانِي: التَّعْرِيف بالقَطِيعي:أَولا: اسْمه وَنسبه ونسبته وكنيته:
هُوَ: أَحْمد بن جَعْفَر بن حمدَان بن مَالك بن شُعَيْب الْبَغْدَادِيّ القَطِيعي أَبُو بكر، واشتهر "بالقَطِيعي" و " بِأبي بكر ابْن مَالك"، وَرُبمَا نسبه بَعضهم إِلَى جده فَقَالَ: أَحْمد بن شبيب، وحمدان لقب جده، واسْمه: أَحْمد، قَالَه ابْن الْجَوْزِيّ1 –ت 597هـ -.
والقَطيعي: بِفَتْح الْقَاف، وَكسر الطَّاء وَسُكُون الْيَاء المنقوطة من تحتهَا بِاثْنَتَيْنِ وَفِي آخرهَا الْعين الْمُهْملَة، قَالَه الْأَمِير ابْن مَاكُولَا2 –ت475هـ – والسمعاني3 –ت562هـ -، وَهِي نِسْبَة إِلَى: قطيعة الدَّقِيق مَحَلّة فِي أَعلَى غربي بَغْدَاد، سكنها فنسب إِلَيْهَا4.
ثَانِيًا: وِلَادَته ونشأته:
ولد القَطِيعي سنة 274هـ، قَالَ أَبُو طَالب: مُحَمَّد بن الْحُسَيْن بن أَحْمد بن بُكير–ت 436هـ -: "سَمِعت أَبَا بكر بن مَالك يذكر أَن مولده فِي يَوْم الِاثْنَيْنِ لثلاث خلون من الْمحرم سنة أَربع وَسبعين وَمِائَتَيْنِ، وَقَالَ: كَانَت والدتي بنت أخي ابْن عبد الله الْجَصَّاص، وَكَانَ عبد الله بن أَحْمد بن حَنْبَل يجيئنا فنقرأ عَلَيْهِ مَا نريده، وَكَانَ يُقعدني فِي حجره حَتَّى يُقَال لَهُ: يؤلمك فَيَقُول: إِنِّي أحبه " 5.
وَهُوَ صَاحب رحْلَة، قَالَ عَنهُ الذَّهَبِيّ –ت748هـ: "رَحل وكَتَب
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আল-ক্বতী'ঈ-এর পরিচিতি:প্রথমত: তাঁর নাম, বংশপরিচয়, নিসবত (সম্পৃক্ততা) এবং কুনিয়াত (উপনাম):
তিনি হলেন: আহমদ ইবনে জাফর ইবনে হামদান ইবনে মালিক ইবনে শুআইব আল-বাগদাদী আল-ক্বতী'ঈ আবু বকর। তিনি "আল-ক্বতী'ঈ" এবং "আবু বকর ইবনে মালিক" নামে প্রসিদ্ধি লাভ করেন। কখনো কখনো কেউ কেউ তাঁকে তাঁর দাদার দিকে সম্পৃক্ত করে বলতেন: আহমদ ইবনে শাবীব; আর হামদান ছিল তাঁর দাদার লকব (উপাধি), যার আসল নাম ছিল: আহমদ। ইবনুল জাওযী১ (মৃত্যু ৫৯৭ হিজরি) এটি উল্লেখ করেছেন।
আল-ক্বতী'ঈ: ক্বাফ অক্ষরে ফাতহাহ (যবর), ত্বা অক্ষরে কাসরাহ (যের) এবং নিচে দু’টি নুকতাযুক্ত ইয়া সাকিন সহযোগে, আর শেষে আইন বর্ণ রয়েছে। এটি আমীর ইবনে মাকুলা২ (মৃত্যু ৪৭৫ হিজরি) এবং সামআনী৩ (মৃত্যু ৫৬২ হিজরি) উল্লেখ করেছেন। এটি "ক্বতী'আতুল দাক্বীক্ব" নামক স্থানের দিকে সম্পৃক্ত, যা বাগদাদের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের একটি মহল্লা। তিনি সেখানে বসবাস করতেন বিধায় সেই দিকেই তাঁকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে৪।
দ্বিতীয়ত: তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা:
আল-ক্বতী'ঈ ২৭৪ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন। আবু তালিব মুহাম্মদ ইবনে আল-হুসাইন ইবনে আহমদ ইবনে বুকাইর (মৃত্যু ৪৩৬ হিজরি) বলেন: "আমি আবু বকর ইবনে মালিককে উল্লেখ করতে শুনেছি যে, তাঁর জন্ম সোমবার, ২৭৪ হিজরির মুহাররম মাসের তিন দিন অতিবাহিত হওয়ার পর। তিনি আরও বলেন: আমার মা ছিলেন ইবনে আব্দুল্লাহ আল-জাসসাস-এর ভাতিজি। আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে হাম্বল আমাদের নিকট আসতেন এবং আমরা তাঁর কাছে যা পড়তে চাইতাম তা তাঁর সামনে পাঠ করতাম। তিনি আমাকে তাঁর কোলে বসাতেন, এমনকি তাঁকে যখন বলা হতো: এটি আপনাকে কষ্ট দিচ্ছে; তখন তিনি বলতেন: আমি তো তাকে ভালোবাসি।"৫
তিনি ইলম অর্জনের উদ্দেশ্যে দেশ-বিদেশে ভ্রমণকারী ছিলেন। যাহাবী (মৃত্যু ৭৪৮ হিজরি) তাঁর সম্পর্কে বলেন: "তিনি সফর করেছেন এবং লিখেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যিয়াদাতুল কুতায়ী আলা মুসনাদিল ইমাম আহমাদ দিরাসাহ ওয়া তাখরীজান
(পৃষ্ঠা: ১০০)
وخرَّج " 1، وَقَالَ عَنهُ ابْن الْجَزرِي –ت833هـ -: "ارتحل إِلَى الْبَصْرَة والموصل وواسط وَكتب وَجمع، مَعَ الصدْق والدّين وَالْخَيْر وَالسّنة " 2.
ثَالِثا: شُيُوخه:
أَخذ القَطِيعِي الْعلم عَن عدد من الْمُحدثين والحفاظ3، مثل الْحَافِظ أبي إِسْحَاق: إِبْرَاهِيم بن إِسْحَاق بن إِبْرَاهِيم الْحَرْبِيّ الْبَغْدَادِيّ –ت 285هـ - صَاحب الإِمَام أَحْمد وَكتاب غَرِيب الحَدِيث4، والحافظ الْمسند أبي مُسلم: إِبْرَاهِيم بن عبد الله بن مُسلم بن مَاعِز الْبَصْرِيّ الكَجِّ –ت 292هـ - صَاحب كتاب السّنَن5، وَالْإِمَام الْحَافِظ أبي الْعَبَّاس: أَحْمد بن عَليّ بن مُسلم الْبَغْدَادِيّ الأبَّار–ت 290هـ - صَاحب التأريخ6، والمقرئ الثِّقَة أبي الْحسن: إِدْرِيس بن عبد الْكَرِيم الْبَغْدَادِيّ الْحداد–ت 292هـ - 7، والحافظ أبي يَعْقُوب: إِسْحَاق بن الْحسن بن مَيْمُون الْبَغْدَادِيّ الْحَرْبِيّ من رُوَاة الْمُوَطَّأ عَن القَعْنَبي –ت 284هـ8، والحافظ أبي عَليّ: بشر بن مُوسَى بن صَالح الْأَسدي الْبَغْدَادِيّ– ت 288هـ –9، وَالْإِمَام الْحَافِظ أبي بكر: جَعْفَر بن مُحَمَّد بن الْحسن الفِرْيابي صَاحب كتاب أَحْكَام الْعِيدَيْنِ، وَدَلَائِل النُّبُوَّة وَغَيرهمَا –ت
--------------------------------------------
এবং তিনি বর্ণনা করেছেন ১, এবং ইবনুল জাযারি (মৃ. ৮৩৩ হি.) তাঁর সম্পর্কে বলেন: "তিনি সততা, দ্বীনদারি, কল্যাণ ও সুন্নাহর সাথে বসরা, মসুল ও ওয়াসিতে ভ্রমণ করেছেন এবং (হাদিস) লিখেছেন ও সংগ্রহ করেছেন।" ২
তৃতীয়: তাঁর শিক্ষকগণ:
আল-কাতিয়ি অনেক মুহাদ্দিস ও হাফেজের নিকট থেকে ইলম অর্জন করেছেন ৩, যেমন হাফেজ আবু ইসহাক: ইবরাহিম ইবনে ইসহাক ইবনে ইবরাহিম আল-হারবি আল-বাগদাদি (মৃ. ২৮৫ হি.) — ইমাম আহমদের ছাত্র এবং ‘গারিবুল হাদিস’ গ্রন্থের রচয়িতা ৪, হাফেজ আল-মুসনিদ আবু মুসলিম: ইবরাহিম ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে মুসলিম ইবনে মায়েজ আল-বসরি আল-কাজ্জি (মৃ. ২৯২ হি.) — ‘আস-সুনান’ গ্রন্থের রচয়িতা ৫, ইমাম হাফেজ আবু আব্বাস: আহমদ ইবনে আলী ইবনে মুসলিম আল-বাগদাদি আল-আব্বার (মৃ. ২৯০ হি.) — ‘আত-তারিখ’ গ্রন্থের রচয়িতা ৬, নির্ভরযোগ্য ক্বারি আবুল হাসান: ইদ্রিস ইবনে আবদুল কারিম আল-বাগদাদি আল-হাদ্দাদ (মৃ. ২৯২ হি.) ৭, হাফেজ আবু ইয়াকুব: ইসহাক ইবনে হাসান ইবনে মায়মুন আল-বাগদাদি আল-হারবি — আল-ক্বানাবি-র সূত্রে ‘মুয়াত্তা’র বর্ণনাকারী (মৃ. ২৮৪ হি.) ৮, হাফেজ আবু আলী: বিশর ইবনে মুসা ইবনে সালেহ আল-আসাদি আল-বাগদাদি (মৃ. ২৮৮ হি.) ৯, এবং ইমাম হাফেজ আবু বকর: জাফর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হাসান আল-ফিরিয়াবি — ‘আহকামুল ইদাইন’, ‘দালাইলুন নুবুওয়াহ’ ও অন্যান্য গ্রন্থের রচয়িতা — মৃত্যু
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যিয়াদাতুল কুতায়ী আলা মুসনাদিল ইমাম আহমাদ দিরাসাহ ওয়া তাখরীজান
(পৃষ্ঠা: ১০১)
301 - هـ - 1، والحافظ أبي عبد الرَّحْمَن: عبد الله بن الإِمَام أَحْمد بن حَنْبَل الشَّيْبَانِيّ الْمروزِي ثمَّ الْبَغْدَادِيّ– ت 290هـ - 2، والمسند أبي شُعَيْب: عبد الله بن الْحسن بن أَحْمد الْحَرَّانِي – ت 295هـ - 3، والمسند الثِّقَة أبي خَليفَة: الْفضل بن الْحباب بن مُحَمَّد الجُمَحي – ت306هـ - 4، وَأبي الْعَبَّاس: مُحَمَّد بن يُونُس بن مُوسَى الكُدَيمي الْقرشِي الْبَصْرِيّ –ت 286هـ - 5، وَالْإِمَام الْحَافِظ الْفَقِيه القَاضِي الْمُقْرِئ أبي بكر: مُوسَى بن إِسْحَاق بن مُوسَى الخطمي الْأنْصَارِيّ - ت297هـ –6.
رَابِعا: تلاميذه7:
لقد كَانَت للقَطِيعي منزلَة جليلة فِي عصره، وَمِمَّا يدل على ذَلِك: عناية أَئِمَّة الحَدِيث فِي وقته بِالْأَخْذِ عَنهُ، وَالسَّمَاع مِنْهُ مثل: الْحَافِظ أبي نُعيم: أَحْمد بن عبد الله بن أَحْمد الْأَصْبَهَانِيّ صَاحب الْحِلْية8– ت 430هـ -، والمسند المعمر أبي الْحسن: بُشْرى بن مَسِيس الفاتِني الرُّومِي9 - ت 431هـ -، وَالْإِمَام الْعَلامَة الْفَقِيه أبي عَليّ: الْحسن بن شهَاب بن الْحسن العُكْبري–ت 428هـ - 10، والمحدث الْمسند
--------------------------------------------
৩০১ - হিজরি - ১, এবং হাফেজ আবু আবদুর রহমান: আবদুল্লাহ ইবনে ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল আশ-শাইবানি আল-মারওয়াযি অতঃপর আল-বাগদাদী – মৃত্যু ২৯০ হিজরি - ২, এবং মুসনিদ আবু শুআইব: আবদুল্লাহ ইবনুল হাসান ইবনে আহমাদ আল-হাররানি – মৃত্যু ২৯৫ হিজরি - ৩, এবং নির্ভরযোগ্য মুসনিদ আবু খলিফা: আল-ফাদল ইবনুল হুবাব ইবনে মুহাম্মদ আল-জুমাহি – মৃত্যু ৩০৬ হিজরি - ৪, এবং আবুল আব্বাস: মুহাম্মদ ইবনে ইউনুস ইবনে মুসা আল-কুদাইমি আল-কুরাশি আল-বাসরি – মৃত্যু ২৮৬ হিজরি - ৫, এবং ইমাম হাফেজ ফকিহ বিচারক ক্বারি আবু বকর: মুসা ইবনে ইসহাক ইবনে মুসা আল-খাতমি আল-আনসারি - মৃত্যু ২৯৭ হিজরি - ৬।
চতুর্থত: তাঁর ছাত্রগণ ৭:
নিশ্চয়ই আপন যুগে আল-কাতীয়ির এক সুমহান মর্যাদা ছিল, আর যা এর প্রমাণ বহন করে তা হলো: তাঁর সময়কালের হাদিসের ইমামদের তাঁর নিকট থেকে ইলম গ্রহণ ও শ্রবণের প্রতি বিশেষ যত্নশীলতা, যেমন: হাফেজ আবু নুআইম: আহমাদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ আল-আসবাহানি, হিলয়াহ গ্রন্থের রচয়িতা ৮ – মৃত্যু ৪৩০ হিজরি -, এবং দীর্ঘায়ু মুসনিদ আবুল হাসান: বুশরা ইবনে মাসিস আল-ফাতিনি আর-রুমি ৯ - মৃত্যু ৪৩১ হিজরি -, এবং ইমাম আল্লামা ফকিহ আবু আলি: আল-হাসান ইবনে শিহাব ইবনে আল-হাসান আল-উকবারী – মৃত্যু ৪২৮ হিজরি - ১০, এবং মুহাদ্দিস মুসনিদ
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যিয়াদাতুল কুতায়ী আলা মুসনাদিল ইমাম আহমাদ দিরাসাহ ওয়া তাখরীজান
(পৃষ্ঠা: ১০২)
أبي عَليّ: الْحسن بن عَليّ بن مُحَمَّد التَّمِيمِي الْبَغْدَادِيّ الْمَعْرُوف بِابْن المُذْهب–ت 444هـ - 1، وَالْإِمَام الْمُحدث الثِّقَة أبي مُحَمَّد: الْحسن بن عَليّ بن مُحَمَّد بن الْحسن الشِّيرَازِيّ ثمَّ الْبَغْدَادِيّ الْجَوْهَرِي المُقَنَّعي – ت 454هـ - سمع من القَطِيعي سنة ثَلَاث وَسِتِّينَ وَثَلَاث مئة قَالَه الذَّهَبِيّ2، والحافظ أبي مُحَمَّد: الْحسن بن أبي طَالب: مُحَمَّد بن الْحسن بن عَليّ الْبَغْدَادِيّ الْخلال – ت 439هـ - 3، والحافظ النَّاقِد أبي عَليّ: خلف بن مُحَمَّد بن عَليّ الوَاسِطِيّ صَاحب كتاب: "أَطْرَاف الصَّحِيحَيْنِ" –الْمُتَوفَّى بُعيد الْأَرْبَع مئة بِيَسِير - 4، والحافظ الْوَاعِظ أبي الْقَاسِم: عبد الْملك بن مُحَمَّد بن عبد الله بن بَشرَان الْأمَوِي الْبَغْدَادِيّ صَاحب الأمالي– ت 430هـ - 5، والمسند الْمُقْرِئ أبي الْقَاسِم: عُبيد الله بن أَحْمد بن عُثْمَان الْأَزْهَرِي الْبَغْدَادِيّ الصَّيْرَفِي الْمَعْرُوف بِابْن السَّوَادي - ت 430هـ - 6، والواعظ الْمُحدث أبي الْفَتْح: عُبيد الله بن أبي حَفْص: عمر بن عُثْمَان ابْن شاهين الْبَغْدَادِيّ –ت 440هـ - 7، والحافظ النَّاقِد الجهبذ أبي الْحسن: عَليّ بن عمر بن أَحْمد الدَّارَقُطْنِيّ الْبَغْدَادِيّ صَاحب كتاب: "السّنَن والعلل" –ت385هـ - 8، والفقيه الثِّقَة أبي طَالب: عمر بن إِبْرَاهِيم بن سعيد الزُّهْرِيّ الوقاصي –ت 434هـ - 9، وَالْإِمَام الْحَافِظ أبي الْحسن: مُحَمَّد بن أَحْمد بن مُحَمَّد بن أَحْمد بن رَزْق
--------------------------------------------
আবু আলী: হাসান বিন আলী বিন মুহাম্মদ আত-তামিমি আল-বাগদাদি, যিনি ইবনে আল-মুজহিব নামে পরিচিত – মৃত্যু ৪৪৪ হিজরি - ১, এবং ইমাম, নির্ভরযোগ্য মুহাদ্দিস আবু মুহাম্মদ: হাসান বিন আলী বিন মুহাম্মদ বিন হাসান আশ-শিরাজি, অতঃপর আল-বাগদাদি আল-জাওহারি আল-মুগান্নিয়ি – মৃত্যু ৪৫৪ হিজরি – তিনি ৩৬৩ হিজরিতে আল-কাতিয়ি থেকে শ্রবণ করেছেন, যা যাহাবি বলেছেন ২, এবং হাফেজ আবু মুহাম্মদ: হাসান বিন আবু তালিব: মুহাম্মদ বিন হাসান বিন আলী আল-বাগদাদি আল-খিলাল – মৃত্যু ৪৩৯ হিজরি - ৩, এবং হাফেজ ও সমালোচক আবু আলী: খালাফ বিন মুহাম্মদ বিন আলী আল-ওয়াসিতি, "আতরাফ আস-সহিহাইন" গ্রন্থের লেখক – মৃত্যু ৪০০ হিজরির সামান্য পরে - ৪, এবং হাফেজ ও ওয়ায়েজ (উপদেশদাতা) আবুল কাসিম: আব্দুল মালিক বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন বাশরান আল-উমাবি আল-বাগদাদি, "আল-আমালি" গ্রন্থের লেখক – মৃত্যু ৪৩০ হিজরি - ৫, এবং মুসনিদ ও ক্বারি আবুল কাসিম: উবায়দুল্লাহ বিন আহমদ বিন উসমান আল-আযহারি আল-বাগদাদি আস-সাইরাফি, যিনি ইবনে আস-সাওয়াদি নামে পরিচিত - মৃত্যু ৪৩০ হিজরি - ৬, এবং ওয়ায়েজ ও মুহাদ্দিস আবুল ফাতাহ: উবায়দুল্লাহ বিন আবু হাফস: উমর বিন উসমান ইবনে শাহিন আল-বাগদাদি – মৃত্যু ৪৪০ হিজরি - ৭, এবং হাফেজ, প্রখর সমালোচক ও বিশেষজ্ঞ আবুল হাসান: আলী বিন উমর বিন আহমদ আদ-দারা কুতনি আল-বাগদাদি, "আস-সুনান ওয়াল ইলাল" গ্রন্থের লেখক – মৃত্যু ৩৮৫ হিজরি - ৮, এবং নির্ভরযোগ্য ফকিহ আবু তালিব: উমর বিন ইব্রাহিম বিন সাঈদ আজ-জুহরি আল-ওয়াক্কাসি – মৃত্যু ৪৩৪ হিজরি - ৯, এবং ইমাম হাফেজ আবুল হাসান: মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন রিযক
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যিয়াদাতুল কুতায়ী আলা মুসনাদিল ইমাম আহমাদ দিরাসাহ ওয়া তাখরীজান
(পৃষ্ঠা: ১০৩)
الْبَغْدَادِيّ الْبَزَّاز الْمَعْرُوف بِابْن رَزْقويه –ت412هـ - 1، وَالْإِمَام الْحَافِظ الْمُحَقق أبي الْفَتْح: مُحَمَّد بن أَحْمد بن مُحَمَّد بن فَارس ابْن أبي الفوارس الْبَغْدَادِيّ –ت 412هـ - 2، والمسند الصدوق أبي طَالب: مُحَمَّد بن الْحُسَيْن بن أَحْمد بن بُكير–ت436هـ - 3، والفقيه الْمُحدث القَاضِي أبي عمر: مُحَمَّد بن الْحُسَيْن بن مُحَمَّد البَسْطامي –ت 408هـ - 4، والحافظ أبي عبد الله: مُحَمَّد بن عبد الله بن مُحَمَّد الْحَاكِم النَّيْسَابُورِي –ت405هـ - صَاحب كتاب الْمُسْتَدْرك على الصَّحِيحَيْنِ5، والمحدث الْوَاعِظ أبي طَاهِر: مُحَمَّد بن عَليّ بن مُحَمَّد الْبَغْدَادِيّ الْمَشْهُور بِابْن العَلَاّف – ت 442هـ - 6، والمحدث أبي بكر: مُحَمَّد بن المؤمل بن الصَّقْر الْوراق الْمَعْرُوف بِغُلَام الْأَبْهَرِيّ –ت 434هـ - 7.
وَآخر من حدث عَنهُ: أَبُو مُحَمَّد: الْحسن بن عَليّ بن مُحَمَّد الشِّيرَازِيّ الْجَوْهَرِي المُقَنَّعي، قَالَ الذَّهَبِيّ عَنهُ: "خَاتِمَة أَصْحَابه " 8، وَقَالَ أَيْضا: "كَانَ آخر من روى فِي الدُّنْيَا عَنهُ بِالسَّمَاعِ وَالْإِذْن " 9، وَذكر أَن سَمَاعه مِنْهُ كَانَ سنة 368هـ 10.
--------------------------------------------
আল-বাগদাদী আল-বাজ্জায, যিনি ইবনে রিযক্বাওয়াইহ নামে পরিচিত – মৃত্যু ৪১২ হিজরি – ১, এবং ইমাম, হাফেজ, গবেষক আবুল ফাতহ: মুহাম্মদ বিন আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন ফারিস ইবন আবিল ফাওয়ারিস আল-বাগদাদী – মৃত্যু ৪১২ হিজরি – ২, এবং সত্যবাদী মুসনিদ আবু তালিব: মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন বিন আহমাদ বিন বুকাইর – মৃত্যু ৪৩৬ হিজরি – ৩, এবং ফকিহ মুহাদ্দিস কাজী আবু উমর: মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন বিন মুহাম্মদ আল-বিস্তামী – মৃত্যু ৪০৮ হিজরি – ৪, এবং হাফেজ আবু আব্দুল্লাহ: মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আল-হাকিম আন-নাইসাপুরী – মৃত্যু ৪০৫ হিজরি – 'আল-মুস্তাদরাক আলাস সাহিহাইন' গ্রন্থের প্রণেতা ৫, এবং মুহাদ্দিস ওয়ায়েজ আবু তাহির: মুহাম্মদ বিন আলী বিন মুহাম্মদ আল-বাগদাদী, যিনি ইবনুল আল্লাফ নামে পরিচিত – মৃত্যু ৪৪২ হিজরি – ৬, এবং মুহাদ্দিস আবু বকর: মুহাম্মদ বিন আল-মুআম্মাল বিন আস-সাকর আল-ওয়াররাক, যিনি গুলামুল আবহারী নামে পরিচিত – মৃত্যু ৪৩৪ হিজরি – ৭।
এবং তাঁর থেকে বর্ণনাকারী সর্বশেষ ব্যক্তি হলেন: আবু মুহাম্মদ: আল-হাসান বিন আলী বিন মুহাম্মদ আশ-শিরাজী আল-জাওহারী আল-মুকান্নায়ী, আয-যাহাবী তাঁর সম্পর্কে বলেন: "তিনি তাঁর সাথীদের সর্বশেষ ব্যক্তি" ৮, তিনি আরও বলেন: "পৃথিবীতে শ্রবণ এবং অনুমতির মাধ্যমে তাঁর থেকে বর্ণনা করার ক্ষেত্রে তিনি সর্বশেষ ব্যক্তি ছিলেন" ৯, এবং তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তাঁর থেকে শ্রবণ ছিল ৩৬৮ হিজরি সালে ১০।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যিয়াদাতুল কুতায়ী আলা মুসনাদিল ইমাম আহমাদ দিরাসাহ ওয়া তাখরীজান
(পৃষ্ঠা: ১০৪)
خَامِسًا: مكانته العلمية:
كَانَ القَطِيعي مُحدثا مكثراً من أسْند أهل زَمَانه، قَالَ عَنهُ تِلْمِيذه الدَّارَقُطْنِيّ: "ثِقَة زاهد قديم سَمِعت أَنه مجاب الدعْوَة " 1، وَقَالَ تِلْمِيذه أَبُو عبد الله الْحَاكِم: "ثِقَة مَأْمُون " 2، وَقَالَ تِلْمِيذه ابْن المُذْهِب: "الْمُحدث الْعَالم الْمُفِيد الثِّقَة " 3، وَقَالَ عَنهُ تِلْمِيذه أَبُو بكر: أَحْمد بن مُحَمَّد بن غَالب البَرْقاني - ت425هـ - "ثِقَة " 4، وَقَالَ عَنهُ الْخَطِيب الْبَغْدَادِيّ5، والأمير ابْن مَاكُولَا6، والسمعاني7، وَابْن كثير8، وَابْن الْجَزرِي9: "كثير الحَدِيث "، وَزَاد الأخيران: "ثِقَة ".
وَقد تُكلم فِيهِ بِسَبَب نسخه بعض كتبه من غَيرهَا بعد غرق كتبه قَالَ تِلْمِيذه مُحَمَّد بن أَحْمد بن أبي الفوارس: "لَهُ فِي بعض الْمسند أصُول فِيهَا نظر، ذُكر أَنه كتبهَا بعد الْغَرق " 10، وَقَالَ تِلْمِيذه أَبُو بكر البَرْقاني: "كَانَ شَيخا صَالحا غرقت قِطْعَة من كتبه فنسخها من كتاب ذكرُوا أَنه لم يكن سَمَاعه فِيهِ،
--------------------------------------------
পঞ্চম: তাঁর ইলমি মর্যাদা:
কুতায়িঈ ছিলেন প্রচুর হাদিস বর্ণনাকারী একজন মুহাদ্দিস এবং তাঁর সময়ের শ্রেষ্ঠ উচ্চ সনদধারী (মুসনিদ) ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত। তাঁর সম্পর্কে তাঁর ছাত্র আদ-দারাকুতনী বলেছেন: "তিনি নির্ভরযোগ্য (সিকাহ), দুনিয়াবিমুখ ও প্রাচীন আলেম ছিলেন। আমি শুনেছি যে তিনি মুজাবুদ দাওয়াহ (যাঁর দুআ কবুল হয়) ছিলেন।" ১, তাঁর ছাত্র আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিম বলেছেন: "তিনি নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত।" ২, তাঁর ছাত্র ইবনুল মুযহিব বলেছেন: "তিনি ছিলেন মুহাদ্দিস, আলেম, ইলম দানকারী ও নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিত্ব।" ৩, তাঁর ছাত্র আবু বকর আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে গালিব আল-বারকানী (মৃত্যু ৪২৫ হি.) তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: "তিনি নির্ভরযোগ্য।" ৪, খতীব আল-বাগদাদী ৫, আল-আমীর ইবনে মাকূলা ৬, আস-সামআনী ৭, ইবনে কাসীর ৮ এবং ইবনুল জাযারী ৯ তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: "তিনি প্রচুর হাদিস বর্ণনাকারী ছিলেন।" শেষোক্ত দুইজন আরও যোগ করেছেন: "তিনি নির্ভরযোগ্য।"
তাঁর কিতাবগুলো পানিতে ডুবে যাওয়ার পর তিনি যখন অন্য পাণ্ডুলিপি থেকে তাঁর কিছু কিতাব পুনর্লিখন করেন, তখন তাঁর সম্পর্কে কিছু সমালোচনা করা হয়েছিল। তাঁর ছাত্র মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ ইবনে আবুল ফাওয়ারিস বলেছেন: "মুসনাদের কিছু মূল পাণ্ডুলিপিতে তাঁর ব্যাপারে সংশয় রয়েছে; উল্লেখ করা হয়েছে যে তিনি সেগুলো কিতাব ডুবে যাওয়ার ঘটনার পর লিখেছিলেন।" ১০, তাঁর ছাত্র আবু বকর আল-বারকানী বলেছেন: "তিনি একজন নেককার শায়খ ছিলেন। তাঁর কিতাবসমূহের একটি অংশ ডুবে গিয়েছিল, যা তিনি এমন একটি কিতাব থেকে নকল করেছিলেন যে সম্পর্কে মানুষ বলত যে তাতে তাঁর শ্রবণ (সামা') ছিল না,"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যিয়াদাতুল কুতায়ী আলা মুসনাদিল ইমাম আহমাদ দিরাসাহ ওয়া তাখরীজান
(পৃষ্ঠা: ১০৫)
فَغَمَزُوهُ لأجل ذَلِك، وَإِلَّا فَهُوَ ثِقَة " 1، وَقَالَ أَيْضا: "كنت شَدِيد التنقير عَن حَال ابْن مَالك حَتَّى ثَبت عِنْدِي أَنه صَدُوق لَا يُشَك فِي سَمَاعه، وَإِنَّمَا كَانَ فِيهِ بله فَلَمَّا غرقت القَطِيعة بِالْمَاءِ الْأسود غرق كل شَيْء من كتبه، فنسخ بدل مَا غرق من كتاب لم يكن فِيهِ سَمَاعه، وَلما اجْتمعت مَعَ الْحَاكِم بن عبد الله بن البيع بنيسابور، ذكرت ابْن مَالك ولينته فَأنْكر عَليّ، وَقَالَ: ذَاك شَيْخي وَحسن حَاله أَو كَمَا قَالَ " 2.
وَهَذَا الْجرْح مَحل تَأمل؛ لِأَن الثِّقَة لَا يُقدم على ذَلِك إِلَّا إِذا كَانَت هَذِه الْكتب مُعَارضَة على كتبه، قَالَ ابْن الْجَوْزِيّ: "مثل هَذَا لَا يطعن بِهِ عَلَيْهِ؛ لِأَنَّهُ يجوز أَن تكون تِلْكَ الْكتب قد قُرئت عَلَيْهِ، وعورض بهَا أَصله " 3، وَقَالَ ابْن كثير: "هَذَا لَيْسَ بِشَيْء؛ لِأَنَّهَا قد تكون مُعَارضَة على كتبه الَّتِي غرقت " 4، ويؤكد ذَلِك مَا تقدم من تَوْثِيق الْأَئِمَّة لَهُ، ثمَّ إِنَّهُم على شدَّة تحريهم لم يمتنعوا من الرِّوَايَة عَنهُ بِسَبَب ذَلِك، وَلَا سِيمَا أَن فيهم الْحَافِظ النَّاقِد الدَّارَقُطْنِيّ، وَلِهَذَا يَقُول الْخَطِيب الْبَغْدَادِيّ: "لم نر أحدا امْتنع من الرِّوَايَة عَنهُ، وَلَا ترك الِاحْتِجَاج بِهِ " 5، وَيَقُول ابْن الْجَوْزِيّ: "قد روى عَنهُ الْأَئِمَّة: الدَّارَقُطْنِيّ وَابْن شاهين والبَرْقاني، وَأَبُو نُعيم وَالْحَاكِم، وَلم يُمْتَنع من الرِّوَايَة عَنهُ، وَلَا تُرِك الِاحْتِجَاج بِهِ " 6، وَيَقُول ابْن كثير: "لم يمْتَنع أحد من الرِّوَايَة عَنهُ وَلَا
--------------------------------------------
এজন্য তারা তাকে সমালোচনা করেছেন, অন্যথায় তিনি একজন নির্ভরযোগ্য (সিকাহ) বর্ণনাকারী। ১, তিনি আরও বলেন: "আমি ইবনে মালিকের অবস্থা সম্পর্কে অত্যন্ত গভীরভাবে অনুসন্ধান করতাম, যতক্ষণ না আমার কাছে এটি সুনিশ্চিত হয় যে তিনি একজন সত্যবাদী ব্যক্তি এবং তার শ্রবণে (সামা') কোনো সন্দেহ নেই। তবে তার মধ্যে কিছুটা সরলতা ছিল। যখন আল-কতিআ কালো পানিতে ডুবে গিয়েছিল, তখন তার সমস্ত কিতাবপত্র ডুবে যায়। ফলে যা ডুবে গিয়েছিল তার পরিবর্তে তিনি এমন একটি পাণ্ডুলিপি থেকে অনুলিপি তৈরি করেছিলেন যেটিতে তার শ্রবণের প্রমাণ ছিল না। আর যখন আমি নিশাপুরে হাকেম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আল-বায়ি'-এর সাথে সাক্ষাৎ করলাম, আমি ইবনে মালিক এবং তার দুর্বলতার কথা উল্লেখ করলাম। তিনি আমার কথা অস্বীকার করলেন এবং বললেন: 'তিনি তো আমার উস্তাদ' এবং তার প্রশংসা করলেন অথবা যেমন তিনি বলেছিলেন।" ২।
এই সমালোচনাটি (জারহ) পর্যালোচনার দাবি রাখে; কারণ একজন নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি এমন কাজ করবেন না যদি না সেই বইগুলো তার নিজের বইয়ের সাথে মিলিয়ে দেখা (মু'আরাযা) হয়ে থাকে। ইবনুল জাওযী বলেন: "এই ধরনের বিষয় দিয়ে তাকে দোষারোপ করা যায় না; কারণ এমনটা হওয়া সম্ভব যে, সেই বইগুলো তার সামনে পাঠ করা হয়েছিল এবং তার মূল পাণ্ডুলিপির সাথে তা মিলিয়ে দেখা হয়েছিল।" ৩, ইবনে কাসীর বলেন: "এটি উল্লেখযোগ্য কিছু নয়; কারণ হতে পারে সেগুলো তার ডুবে যাওয়া বইগুলোর সাথে মিলিয়ে দেখা হয়েছিল।" ৪, আইম্মায়ে কেরাম কর্তৃক ইতিপূর্বে তাকে নির্ভরযোগ্য (তাওসীক) সাব্যস্ত করার বিষয়টি একে আরও সুনিশ্চিত করে। তদুপরি, অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বন করা সত্ত্বেও তারা এই কারণে তার থেকে বর্ণনা করা হতে বিরত থাকেননি, বিশেষ করে যখন তাদের মধ্যে হাফেয ও সমালোচক দারা কুতনী রহ. এর মতো ব্যক্তিত্ব রয়েছেন। এ কারণেই খতীব বাগদাদী বলেন: "আমরা কাউকে দেখিনি যে তার থেকে বর্ণনা করতে বিরত থেকেছে অথবা তার বর্ণনাকে দলিল হিসেবে গ্রহণ করা ত্যাগ করেছে।" ৫, ইবনুল জাওযী বলেন: "প্রথিতযশা ইমামগণ তার থেকে বর্ণনা করেছেন, যেমন: দারা কুতনী, ইবনে শাহীন, আল-বারকানী, আবু নুয়াইম এবং আল-হাকেম। কেউই তার থেকে বর্ণনা করতে বিরত হননি এবং তার বর্ণনা দ্বারা দলিল পেশ করা বর্জন করেননি।" ৬, ইবনে কাসীর বলেন: "তার থেকে বর্ণনা করতে কেউ বিরত হননি এবং না...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যিয়াদাতুল কুতায়ী আলা মুসনাদিল ইমাম আহমাদ দিরাসাহ ওয়া তাখরীজান
(পৃষ্ঠা: ১০৬)
التفتوا إِلَى مَا طعن عَلَيْهِ بَعضهم وَتكلم فِيهِ " 1.
وتُكلم فِيهِ أَيْضا بِسَبَب اخْتِلَاطه، قَالَ أَحْمد بن أَحْمد القَصْري: "قَالَ لي ابْن اللبان الفَرَضي: لَا تذْهبُوا إِلَى القَطِيعي، قد ضعف واختل، وَقد منعت ابْني من السماع مِنْهُ " 2، ويروي عَن أبي الْحسن: مُحَمَّد بن الْعَبَّاس بن أَحْمد بن الْفُرَات الْبَغْدَادِيّ - ت 384هـ – أَنه قَالَ: "خلط فِي آخر عمره، وكف بعده وخرف، حَتَّى كَانَ لَا يعرف شَيْئا مِمَّا يُقرأ عَلَيْهِ"3، وَقَالَ أَبُو عَمْرو ابْن الصّلاح: "اخْتَلَّ فِي آخر عمره وخَرِف حَتَّى لَا يعرف شَيْئا مِمَّا يُقرأ عَلَيْهِ " 4، وَيرى الإِمَام الذَّهَبِيّ أَن تغير هـ كَانَ قَلِيلا5، وَتعقب ابْن الصّلاح على كَلَامه السَّابِق فَقَالَ: "هَذَا القَوْل غلو وإسراف، وَقد كَانَ أَبُو بكر أسْند أهل زَمَانه " 6، وَكَلَام الذَّهَبِيّ مَحل تَأمل؛ لِأَن ابْن الصّلاح مؤيد بِمن سبق، وَبِذَلِك أجَاب ابْن حجر، وَذكر أَن سَماع ابْن المُذْهِب مِنْهُ كَانَ قبل اخْتِلَاطه7.
وَالَّذِي يتَرَجَّح أَنه: ثِقَة مُسْند مكثر زاهد تغير بِأخرَة.
هَذَا مَا يتَعَلَّق بِحَالهِ، أما عَن مروياته فَالَّذِي يظْهر أَنه لم يكن من الْأَئِمَّة النقاد الَّذين يعنون بالانتقاء، ويعرفون أَحْوَال الروَاة 8، وَلَعَلَّه مِمَّن يرى بَرَاءَة الذِّمَّة
--------------------------------------------
কেউ কেউ তাঁর সমালোচনা করেছেন এবং তাঁর সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন, সেদিকে লক্ষ্য করুন ১।
তাঁর স্মৃতিবিভ্রমের (ইখতিলাত) কারণেও তাঁর সমালোচনা করা হয়েছে। আহমদ বিন আহমদ আল-কাসরী বলেন: "ইবনুল লাব্বান আল-ফারযী আমাকে বলেছেন: তোমরা আল-কাতী'ঈর কাছে যেও না, সে দুর্বল হয়ে গেছে এবং তার স্মৃতি গোলমাল হয়ে গেছে। আমি আমার ছেলেকে তার থেকে হাদিস শ্রবণ করতে নিষেধ করেছি।" ২, আবু আল-হাসান মুহাম্মদ বিন আল-আব্বাস বিন আহমদ বিন আল-ফুরাত আল-বাগদাদী (মৃ. ৩৮৪ হিজরি) থেকে বর্ণিত যে তিনি বলেছেন: "জীবনের শেষভাগে তাঁর স্মৃতি গোলমাল হয়ে গিয়েছিল, এরপর তিনি দৃষ্টিশক্তি হারান এবং বার্ধক্যজনিত চিত্তভ্রম ঘটে, এমনকি তাঁর সামনে যা পাঠ করা হতো তার কিছুই তিনি বুঝতে পারতেন না।" ৩, আবু আমর ইবনুস সালাহ বলেন: "জীবনের শেষ দিকে তাঁর বুদ্ধিবৃত্তিক বৈকল্য দেখা দেয় এবং তিনি স্মৃতিভ্রষ্ট হয়ে যান, ফলে তাঁর কাছে যা পাঠ করা হতো তিনি কিছুই চিনতে পারতেন না।" ৪, তবে ইমাম যাহাবী মনে করেন যে, তাঁর এই পরিবর্তন সামান্যই ছিল। ৫, ইবনুস সালাহ তাঁর পূর্বোক্ত মন্তব্যের ওপর মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন: "এই কথাটি অতিরঞ্জন ও বাড়াবাড়ি। আবু বকর (আল-কাতী'ঈ) তাঁর সমসাময়িকদের মধ্যে সবচেয়ে বড় মুসনিদ (সনদধারী) ছিলেন।" ৬, ইমাম যাহাবীর বক্তব্যটি পর্যালোচনার দাবি রাখে; কারণ ইবনুস সালাহ তাঁর পূর্ববর্তীদের দ্বারা সমর্থিত। ইবনু হাজারও অনুরূপ উত্তর দিয়েছেন এবং উল্লেখ করেছেন যে, ইবনুল মুযহিব তাঁর থেকে স্মৃতিবিভ্রম ঘটার আগেই হাদিস শ্রবণ করেছিলেন। ৭।
অধিকতর সঠিক মত হলো: তিনি একজন নির্ভরযোগ্য, উচ্চ পর্যায়ের সনদধারী মুসনিদ, অধিক হাদিস বর্ণনাকারী এবং দুনিয়াবিমুখ ব্যক্তি ছিলেন, যিনি শেষ জীবনে কিছুটা পরিবর্তিত হয়েছিলেন।
এটি তাঁর ব্যক্তিগত অবস্থার বিষয়। আর তাঁর বর্ণিত হাদিসগুলোর বিষয়ে যা প্রকাশ পায় তা হলো, তিনি সেই স্তরের দক্ষ সমালোচক ইমামদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না যারা হাদিস নির্বাচনে অত্যন্ত পারদর্শী এবং রাবীদের অবস্থা সম্পর্কে গভীর জ্ঞান রাখেন ৮। সম্ভবত তিনি হাদিস বর্ণনা করার মাধ্যমেই দায়মুক্ত হওয়াকেই যথেষ্ট মনে করতেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যিয়াদাতুল কুতায়ী আলা মুসনাদিল ইমাম আহমাদ দিরাসাহ ওয়া তাখরীজান
(পৃষ্ঠা: ১০৭)
بِمُجَرَّد الْإِسْنَاد، وَقد اشْتهر ذَلِك أَيْضا عَن فريق من مُتَقَدِّمي أهل الحَدِيث؛ لأَنهم يرَوْنَ أَن من أسْند أحَال إِلَى مَلِئِ، قَالَ الْحَافِظ ابْن حجر: "أَكثر الْمُحدثين فِي الْأَعْصَار الْمَاضِيَة من سنة مِائَتَيْنِ وهلمَّ جرَّا إِذا ساقوا الحَدِيث بِإِسْنَادِهِ، اعتقدوا أَنهم برئوا من عهدته " 1، وَيَقُول الذَّهَبِيّ عَنهُ: "لم يكن القَطِيعي من فرسَان الحَدِيث، وَلَا مجوداً بل أدّى مَا تحمله إِن سَلِم من أَوْهَام فِي بعض الْأَسَانِيد والمتون " 2.
سادساً: آثاره ومؤلفاته:
يُعتبر القَطِيعي من مكثري الرِّوَايَة وَلَا سِيمَا عَن عبد الله بن الإِمَام أَحْمد – كَمَا تقدم -، وَقد سمع من عبد الله بن الإِمَام أَحْمد: الْمسند، وَذكر ابْن نقطة أَنه فَاتَهُ على عبد الله بن أَحْمد خَمْسَة أوراق من مُسْند عبد الله بن مَسْعُود، فرواها عَنهُ بِالْإِجَازَةِ، وَهِي من أَوله3.
وَسمع مِنْهُ أَيْضا: الزّهْد، والفضائل، والتأريخ، والمسائل وَغير ذَلِك، قَالَه الْخَطِيب الْبَغْدَادِيّ4.
وَمن مروياته أَيْضا كتاب: "النَّهْي عَن اللقب " لشيخه أبي إِسْحَاق: إِبْرَاهِيم الْحَرْبِيّ5، وَحَدِيث أبي عَاصِم: الضَّحَّاك بن مَخْلد النَّبِيل لأبي مُسلم:
--------------------------------------------
শুধুমাত্র সনদের মাধ্যমেই; এবং এটি পূর্ববর্তী একদল আহলে হাদিসগণের নিকটও প্রসিদ্ধ ছিল; কেননা তারা মনে করতেন যে, যে ব্যক্তি সনদ বর্ণনা করল সে তার দায়িত্ব একজন সক্ষম ব্যক্তির ওপর অর্পণ করল। হাফেজ ইবনে হাজার বলেন: "বিগত যুগগুলোতে, দুইশত হিজরি থেকে শুরু করে পরবর্তী সময়ে অধিকাংশ মুহাদ্দিস যখন কোনো হাদিস তার সনদসহ বর্ণনা করতেন, তখন তারা বিশ্বাস করতেন যে তারা এর দায়ভার থেকে মুক্ত হয়েছেন।" ১, এবং ইমাম যাহাবী তাঁর সম্পর্কে বলেন: "কাতীয়ী হাদিসের ময়দানের দক্ষ অশ্বারোহী (পারদর্শী) ছিলেন না এবং তুখোড় মেধাবীও ছিলেন না; বরং তিনি যা বহন করেছেন তা-ই পৌঁছে দিয়েছেন, যদি তিনি কিছু সনদ ও মতনের ভুলভ্রান্তি থেকে মুক্ত থেকে থাকেন।" ২।
ষষ্ঠ: তাঁর জ্ঞানতাত্ত্বিক অবদান ও রচনাবলী:
কাতীয়ীকে বর্ণনার আধিক্যের অধিকারী হিসেবে গণ্য করা হয়, বিশেষ করে ইমাম আহমদের পুত্র আবদুল্লাহ বিন আহমদ থেকে—যেমনটি পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে—এবং তিনি ইমাম আহমদের পুত্র আবদুল্লাহর নিকট থেকে 'আল-মুসনাদ' শুনেছেন; ইবনে নুকতাহ উল্লেখ করেছেন যে, আবদুল্লাহ বিন আহমদের নিকট মুসনাদে আবদুল্লাহ বিন মাসউদের পাঁচটি পাতা তাঁর শ্রবণ করা বাদ পড়েছিল, যা তিনি তাঁর থেকে ইজাজতের (অনুমতি) মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন এবং সেটি ছিল এর শুরুর দিক থেকে।৩
এবং তিনি তাঁর নিকট থেকে আরও শুনেছেন: 'আয-যুহদ', 'আল-ফাদাইল', 'আত-তারিখ', 'আল-মাসায়েল' এবং আরও অন্যান্য কিতাব, যা খতিব আল-বাগদাদি বলেছেন।৪
তাঁর বর্ণিত কিতাবগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে: তাঁর উস্তাদ আবু ইসহাক ইব্রাহিম আল-হারবির কিতাব "আন-নাহইউ আনিল লাকাব" ৫ এবং আবু মুসলিমের জন্য আবু আসিম দাহহাক বিন মাখলাদ আন-নাবিলের হাদিস:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যিয়াদাতুল কুতায়ী আলা মুসনাদিল ইমাম আহমাদ দিরাসাহ ওয়া তাখরীজান
(পৃষ্ঠা: ১০৮)
إِبْرَاهِيم بن عبد الله الكَجِّي1.
وَأما مؤلفاته فَمِنْهَا:
أ - الْفَوَائِد المنتقاة والأفراد والغرائب الحسان2، وَتسَمى أَيْضا القطيعات الْخَمْسَة 3، وخامسها هُوَ جُزْء الْألف دِينَار 4.
ب - أمالي ذكرهَا الْحَافِظ ابْن حجر 5، والكتاني6.
سابعاً: وَفَاته:
توفّي القَطِيعي فِي ذِي الْحجَّة سنة 368هـ بِبَغْدَاد، وَدفن فِي مَقَابِر بَاب حَرْب قَرِيبا من قبر الإِمَام أَحْمد 7، رَحْمَة الله عَلَيْهِمَا.
--------------------------------------------
ইবরাহীম বিন আবদুল্লাহ আল-কাজ্জী ১।
এবং তাঁর রচনাবলির মধ্যে রয়েছে:
ক - আল-ফাওয়ায়িদুল মুনতাকাহ ওয়াল আফরাদ ওয়াল গারায়িবুল হিসান ২, একে ‘আল-কাতিআতুল খামসাহ’ ৩-ও বলা হয়, আর এর পঞ্চম অংশটি হলো ‘জুযউল আলফি দীনার’ ৪।
খ - আমালী; যা হাফিজ ইবনে হাজার ৫ এবং কাত্তানি ৬ উল্লেখ করেছেন।
সপ্তম: তাঁর মৃত্যু:
কাতিয়ী ৩৬৮ হিজরি সনের জিলহজ মাসে বাগদাদে মৃত্যুবরণ করেন এবং তাঁকে ইমাম আহমাদের ৭ কবরের নিকটবর্তী বাব হারব গোরস্থানে দাফন করা হয়, আল্লাহ তাঁদের উভয়ের ওপর রহমত বর্ষণ করুন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যিয়াদাতুল কুতায়ী আলা মুসনাদিল ইমাম আহমাদ দিরাসাহ ওয়া তাখরীজান
(পৃষ্ঠা: ১০৯)
المبحث الثَّالِث: التَّعْرِيف بِمُسْنَد الإِمَام أَحْمد:الْمسند، هُوَ: الْكتاب الَّذِي روى مُؤَلفه فِيهِ أَحَادِيث كل صَحَابِيّ على حِدة، قَالَ الْخَطِيب الْبَغْدَادِيّ: "مِنْهُم من يخْتَار تخريجها على الْمسند، وَضم أَحَادِيث كل وَاحِد من الصَّحَابَة بَعْضهَا إِلَى بعض " 1.
وَقد بدأت عناية أهل الْعلم بتأليف المسانيد فِي أَوَائِل عصر تدوين السّنة فِي أَوَاخِر الْقرن الثَّانِي الهجري2، وَكَانَت بداية تأليف الإِمَام أَحْمد لمسنده بعد عودته من رحلته إِلَى الإِمَام عبد الرَّزَّاق الصَّنْعَانِيّ فِي الْيمن - ت211هـ - قَالَه ابْنه عبد الله3.
ويشتمل الْمسند على ثَمَانِيَة عشر مُسْندًا قَالَه أَبُو المحاسن: مُحَمَّد بن عَليّ الْحُسَيْنِي–ت 765هـ - 4، وَابْن حجر 5، وَقد ذكر مُحَمَّد بن جَابر الْوَادي آشي – ت 749هـ - أَنَّهَا سِتَّة عشر6، وَهُوَ مَحْمُول على أَنه أضَاف بَعْضهَا إِلَى بعض قَالَه ابْن حجر 7.
وَهَذَا الْعدَد إِنَّمَا هُوَ للمسانيد الرئيسة بِحَيْثُ ينْدَرج تَحت بَعْضهَا عدد من المسانيد التفصيلية كمسند: "بني هَاشم " و"الْأَنْصَار"، وَأما عدد مسانيده تَفْصِيلًا فَهُوَ: (1056) مُسْندًا، بِحَسب مَا أوردهُ الْحَافِظ أَبُو الْقَاسِم: عَليّ بن الْحُسَيْن بن هبة الله بن عَسَاكِر - ت 579هـ -، فِي كِتَابه "تَرْتِيب أَسمَاء
--------------------------------------------
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ইমাম আহমাদের মুসনাদ-এর পরিচিতি:'মুসনাদ' হলো সেই কিতাব যার সংকলক প্রত্যেক সাহাবীর হাদীসসমূহকে পৃথক পৃথকভাবে বর্ণনা করেছেন। খতীব আল-বাগদাদী বলেন: "তাদের মধ্যে কেউ কেউ মুসনাদ পদ্ধতিতে সংকলন করা এবং প্রত্যেক সাহাবীর হাদীসসমূহকে একে অপরের সাথে একত্রিত করাকে পছন্দ করেছেন" ১।
হিজরী দ্বিতীয় শতাব্দীর শেষভাগে সুন্নাহ সংকলন যুগের শুরুর দিকে আলেমগণ মুসনাদ গ্রন্থ রচনার প্রতি মনোযোগ দিতে শুরু করেন ২। ইমাম আহমাদ তাঁর মুসনাদ রচনার কাজ শুরু করেন ইয়ামেনে ইমাম আব্দুর রাজ্জাক আস-সানআনী (মৃত্যু ২১১ হি.)-এর নিকট তাঁর সফর থেকে ফিরে আসার পর ৩; এ কথাটি তাঁর পুত্র আব্দুল্লাহ বলেছেন।
মুসনাদ (ইমাম আহমাদের মুসনাদ) আঠারোটি প্রধান মুসনাদ (অধ্যায়) অন্তর্ভুক্ত করে; এ কথা আবু আল-মাহাসিন মুহাম্মদ ইবনে আলী আল-হুসাইনী (মৃত্যু ৭৬৫ হি.) ৪ এবং ইবনে হাজার ৫ বলেছেন। তবে মুহাম্মদ ইবনে জাবির আল-ওয়াদী আশী (মৃত্যু ৭৪৯ হি.) উল্লেখ করেছেন যে এটি ষোলটি ৬। ইবনে হাজার ৭ বলেন, এর অর্থ হলো তিনি কোনো কোনোটিকে অন্যটির সাথে একত্রিত করে উল্লেখ করেছেন।
এই সংখ্যাটি মূলত প্রধান মুসনাদগুলোর ক্ষেত্রে, যাতে সেগুলোর কোনো কোনোটির অধীনে অনেকগুলো বিস্তারিত মুসনাদ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে; যেমন: "বনু হাশিম-এর মুসনাদ" এবং "আনসারদের মুসনাদ"। আর বিস্তারিতভাবে এর মুসনাদ সংখ্যা হলো (১০৫৬) টি। হাফেজ আবুল কাসিম আলী ইবনুল হাসান ইবনে হিবাতুল্লাহ ইবনে আসাকির (মৃত্যু ৫৭৯ হি.) তাঁর "তারতীব আসমা" কিতাবে এটি উল্লেখ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যিয়াদাতুল কুতায়ী আলা মুসনাদিল ইমাম আহমাদ দিরাসাহ ওয়া তাখরীজান
(পৃষ্ঠা: ১১০)
الصَّحَابَة الَّذين أخرج حَدِيثهمْ أَحْمد حَنْبَل فِي الْمسند " 1.
وَعدد أَحَادِيثه ثَلَاثُونَ ألفا قَالَه ابْن المُنادى2، وَهَذَا باطراح المكرر وزيادات ابْنه عبد الله؛ لِأَنَّهُ مَعهَا يصل إِلَى أَرْبَعِينَ ألفا، قَالَ ابْن عَسَاكِر: "يبلغ عدد أَحَادِيثه ثَلَاثِينَ ألفا سوى الْمعَاد وَغير مَا ألحق بِهِ ابْنه عبد الله من عالي الْإِسْنَاد " 3، وَقَالَ الْحُسَيْنِي: "وَجُمْلَة أَحَادِيثه أَرْبَعُونَ ألفا بالمكرر مِمَّا رَوَاهُ عَنهُ ابْنه الْحَافِظ أَبُو عبد الرَّحْمَن: عبد الله، وَفِيه من زياداته " 4.
وَقد توفّي الإِمَام أَحْمد قبل إتْمَام تنقيحه، وَهَذَا مَا يُفَسر وجود التّكْرَار والتداخل فِي مسانيده الرئيسة، فقد قَالَ ابْن عَسَاكِر: "خُلط فِيهِ بَين أَحَادِيث الشاميين والمدنيين
… بل قد امتزج فِي بعضه أَحَادِيث الرِّجَال بِأَحَادِيث النسوان
… وَكثر فِيهِ تكْرَار الحَدِيث الْمعَاد الْمَرْوِيّ بِعَيْنِه بِالْمَتْنِ والإسناد
… وَلست أَظن ذَلِك إِن شَاءَ الله وَقع من جِهَة أبي عبد الله رحمه الله، فَإِن مَحَله فِي هَذَا الْعلم أوفى، وَمثل هَذَا على مثله لَا يخفى، وَقد نرَاهُ توفّي قبل تهذيبه
… وترتيبه " 5، وَقَالَ ابْن الْجَوْزِيّ: "مَاتَ قبل تنقيحه وتهذيبه " 6، وَقَالَ ابْن حجر: "لم يرتب مسانيد المقلين، فرتبها وَلَده عبد الله فَوَقع مِنْهُ إغفال كَبِير من جعل الْمدنِي فِي الشَّامي وَنَحْو ذَلِك " 7.
وَالْمَعْرُوف فِي المسانيد أَنَّهَا تُعنى بِجمع مرويات الصَّحَابِيّ دون النّظر إِلَى
--------------------------------------------
সাহাবীগণ যাদের হাদিস আহমদ ইবনে হাম্বল তাঁর মুসনাদে বর্ণনা করেছেন ১।
এর হাদিস সংখ্যা ত্রিশ হাজার, ইবনুল মুনাদী ২ এ কথা বলেছেন। আর এটি পুনরাবৃত্তি এবং তাঁর পুত্র আবদুল্লাহর অতিরিক্ত বর্ণনাসমূহ বাদ দিয়ে; কারণ সেগুলোসহ এর সংখ্যা চল্লিশ হাজারে পৌঁছে। ইবনে আসাকির বলেছেন: "পুনরাবৃত্তি এবং তাঁর পুত্র আবদুল্লাহর উচ্চতর সনদে সংযুক্ত করা হাদিসগুলো বাদে এর হাদিস সংখ্যা ত্রিশ হাজারে দাঁড়ায়" ৩। আল-হুসাইনি বলেছেন: "পুনরাবৃত্তিসহ এর হাদিসের মোট সংখ্যা চল্লিশ হাজার, যা তাঁর থেকে তাঁর পুত্র হাফেজ আবু আবদুর রহমান আবদুল্লাহ বর্ণনা করেছেন এবং এতে তাঁর (পুত্রের) অতিরিক্ত বর্ণনাও রয়েছে" ৪।
ইমাম আহমদ এর পরিমার্জন সমাপ্ত করার পূর্বেই ইন্তেকাল করেন, আর এটিই তাঁর প্রধান মুসনাদগুলোতে পুনরাবৃত্তি এবং সংমিশ্রণ থাকার কারণ ব্যাখ্যা করে। ইবনে আসাকির বলেছেন: "এতে শামী ও মাদানী হাদিসগুলোর মধ্যে সংমিশ্রণ ঘটে গেছে... বরং এর কিছু অংশে পুরুষদের হাদিসের সাথে নারীদের হাদিস মিশে গেছে... এবং এতে মূল পাঠ ও সনদসহ হুবহু পুনরায় বর্ণিত হাদিসের আধিক্য রয়েছে... আমি মনে করি না যে এটি ইনশাআল্লাহ আবু আবদুল্লাহ (রহ.)-এর পক্ষ থেকে ঘটেছে, কারণ এই বিদ্যায় তাঁর অবস্থান অত্যন্ত সুউচ্চ এবং তাঁর মতো ব্যক্তির কাছে এমন বিষয় গোপন থাকার কথা নয়। আমরা দেখতে পাচ্ছি যে তিনি এটি সংশোধন... ও বিন্যাস করার পূর্বেই ইন্তেকাল করেছেন" ৫। ইবনুল জাওজি বলেছেন: "তিনি এর পরিমার্জন ও সংশোধনের পূর্বেই ইন্তেকাল করেছেন" ৬। ইবনে হাজার বলেছেন: "তিনি স্বল্প হাদিস বর্ণনাকারী সাহাবীদের মুসনাদগুলো বিন্যস্ত করেননি, তাই তাঁর পুত্র আবদুল্লাহ সেগুলো বিন্যস্ত করেছেন। ফলে তাঁর পক্ষ থেকে বড় ধরনের অসতর্কতা ঘটে গেছে, যেমন মাদানী হাদিসকে শামী হাদিসের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো" ৭।
মুসনাদ গ্রন্থসমূহের পরিচিত পদ্ধতি হলো, এতে কোনো বিষয়ের দিকে লক্ষ্য না রেখে একজন সাহাবীর বর্ণিত সকল হাদিস একত্রিত করা হয়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যিয়াদাতুল কুতায়ী আলা মুসনাদিল ইমাম আহমাদ দিরাসাহ ওয়া তাখরীজান
(পৃষ্ঠা: ১১১)
الثُّبُوت وَعَدَمه، وَلِهَذَا فَهِيَ فِي الْمرتبَة التالية للمصنفات على الْأَبْوَاب قَالَه أَبُو عَمْرو: عُثْمَان بن عبد الرَّحْمَن ابْن الصّلاح - ت 643هـ – 1، وَغَيره، وَيحمل كَلَامه على الأَصْل؛ لِأَن الإِمَام أَحْمد انتقى أَحَادِيث مُسْنده، فقد قَالَ: "عملت هَذَا الْكتاب إِمَامًا إِذا اخْتلف النَّاس فِي سنة رَسُول الله صلى الله عليه وسلم رُجع إِلَيْهِ " 2، وَقَالَ ابْن عَمه أَبُو عَليّ: حَنْبَل بن إِسْحَاق الشَّيْبَانِيّ –توفّي قبل 273هـ -: "جَمعنَا عمي لي ولصالح ولعَبْد الله، وَقَرَأَ علينا الْمسند، وَمَا سَمعه مِنْهُ –يَعْنِي تَاما - غَيرنَا، وَقَالَ لنا: إِن هَذَا الْكتاب قد جمعته وانتقيته من أَكثر من سَبْعمِائة وَخمسين ألفا، فَمَا اخْتلف الْمُسلمُونَ فِيهِ من حَدِيث رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَارْجِعُوا إِلَيْهِ، فَإِن كَانَ فِيهِ، وَإِلَّا فَلَيْسَ بِحجَّة " 3، وَيحمل كَلَام الإِمَام على اعْتِبَار المؤلفات إِلَى زَمَنه، حَيْثُ إِن تصنيف الإِمَام البُخَارِيّ وَالْإِمَام مُسلم لِلصَّحِيحَيْنِ بعده، وَيحمل أَيْضا على أَنه يُرِيد أصُول الْأَحَادِيث فِي الْغَالِب، فقد قَالَ الذَّهَبِيّ: "هَذَا القَوْل على غَالب الْأَمر، وَإِلَّا فلنا أَحَادِيث قَوِيَّة فِي الصَّحِيحَيْنِ وَالسّنَن والأجزاء مَا هِيَ فِي الْمسند " 4، وَقَالَ ابْن الْجَزرِي: "يُرِيد أصُول الْأَحَادِيث وَهُوَ صَحِيح، فَإِنَّهُ مَا من حَدِيث غَالِبا إِلَّا وَله أصل فِي هَذَا الْمسند "5.
وَمِمَّا يدل على أَنه انتخبه أَيْضا تَصْرِيح ابْنه عبد الله فِي عدَّة مَوَاضِع من الْمسند بِأَنَّهُ أعرض عَن إِخْرَاج حَدِيث فِيهِ لضَعْفه، وَمِنْه قَول عبد الله عِنْد حَدِيث
--------------------------------------------
সাব্যস্ত হওয়া বা না হওয়ার বিচারে, এই কারণেই এটি অধ্যায়ভিত্তিক বিন্যস্ত সংকলনগুলোর পরবর্তী স্তরে অবস্থান করে। এটি বলেছেন আবু আমর উসমান ইবন আবদুর রহমান ইবন আল-সালাহ (মৃ. ৬৪৩ হি.) ১ এবং অন্যান্যগণ। এবং তাঁর কথাকে মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে বিবেচনা করা হবে; কারণ ইমাম আহমাদ তাঁর মুসনাদের হাদিসসমূহ নির্বাচন করেছিলেন। তিনি বলেছেন: "আমি এই কিতাবটিকে একটি মানদণ্ড হিসেবে তৈরি করেছি, যেন মানুষ যখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহর বিষয়ে মতভেদ করবে, তখন এর দিকে ফিরে আসতে পারে।" ২ এবং তাঁর চাচাতো ভাই আবু আলী হাম্বল ইবন ইসহাক আল-শায়বানি (মৃ. ২৭৩ হিজরির পূর্বে) বলেন: "আমার চাচা আমাকে, সালেহ এবং আবদুল্লাহকে একত্রিত করলেন এবং আমাদের কাছে মুসনাদ পাঠ করলেন। আমাদের ব্যতীত আর কেউ এটি তাঁর কাছ থেকে (অর্থাৎ পূর্ণাঙ্গভাবে) শোনেনি। তিনি আমাদের বললেন: 'নিশ্চয়ই আমি এই গ্রন্থটি সাত লক্ষ পঞ্চাশ হাজারেরও বেশি হাদিস থেকে সংগ্রহ ও নির্বাচন করেছি। সুতরাং মুসলিমরা যখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কোনো হাদিস নিয়ে মতভেদ করবে, তখন তোমরা এর দিকে ফিরে এসো। যদি তা এতে থাকে (তবে গ্রহণ করো), অন্যথায় তা প্রমাণ হিসেবে গণ্য হবে না।' ৩ এবং ইমামের এই বক্তব্যকে তাঁর সময় পর্যন্ত রচিত গ্রন্থসমূহের প্রেক্ষিতে বিবেচনা করা হবে, কারণ ইমাম বুখারি এবং ইমাম মুসলিম কর্তৃক 'সহীহাইন' সংকলন তাঁর পরে সংঘটিত হয়েছে। এছাড়াও এটি এভাবে ধরা হয় যে, তিনি মূলত অধিকাংশ ক্ষেত্রে হাদিসের মূলভিত্তিগুলো বুঝাতে চেয়েছেন। হাফেজ যাহাবি বলেছেন: "এই কথাটি অধিকাংশ বিষয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, নতুবা সহীহাইন, সুনান এবং জুজ' (খণ্ড) গ্রন্থগুলোতে এমন অনেক শক্তিশালী হাদিস রয়েছে যা মুসনাদে নেই।" ৪ এবং ইবনুল জাযারি বলেছেন: "তিনি হাদিসের মূলনীতি বা মৌলিক হাদিসগুলো বুঝাতে চেয়েছেন এবং এটি সঠিক; কেননা সাধারণত এমন কোনো হাদিস নেই যার কোনো না কোনো ভিত্তি এই মুসনাদে নেই।" ৫।
এবং তিনি যে এটি নির্বাচন করেছেন তার আরেকটি প্রমাণ হলো মুসনাদের একাধিক স্থানে তাঁর পুত্র আবদুল্লাহর সুস্পষ্ট বক্তব্য যে, তিনি কোনো হাদিস দুর্বল হওয়ার কারণে তা গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত করা থেকে বিরত থেকেছেন। এরই অংশ হিসেবে একটি হাদিসের বর্ণনায় আবদুল্লাহর উক্তি হলো:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যিয়াদাতুল কুতায়ী আলা মুসনাদিল ইমাম আহমাদ দিরাসাহ ওয়া তাখরীজান
(পৃষ্ঠা: ১১২)
رَوَاهُ عَن أَبِيه: "هَذَا الحَدِيث لم يُخرجهُ أبي فِي مُسْنده من أجل نَاصح1؛ لِأَنَّهُ ضَعِيف فِي الحَدِيث، وأملاه عَليّ فِي النَّوَادِر " 2، وَكَانَ الإِمَام أَحْمد يضْرب على أَحَادِيث أخرجهَا فِي الْمسند حَيْثُ تبين لَهُ ضعفها، وَمِنْهَا حَدِيث عمرَان بن حُصَيْن رضي الله عنه قَالَ: "مَا شبع آل مُحَمَّد من خبز مأدوم حَتَّى مضى لوجهه "، قَالَ عبد الله: "كَانَ أبي قد ضرب على هَذَا الحَدِيث فِي كِتَابه؛ لِأَنَّهُ لم يرض الرجل الَّذِي حدث عَنهُ يزِيد " 3.
وَقد نبه عدد من الْأَئِمَّة إِلَى انتقاء الْمسند، يَقُول أَبُو مُوسَى الْمَدِينِيّ: "هَذَا الْكتاب أصل كَبِير، ومرجع وثيق لأَصْحَاب الحَدِيث، أُنتقي من حَدِيث كثير،
--------------------------------------------
তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন: "নাসিহ-এর কারণে আমার পিতা এই হাদিসটি তাঁর মুসনাদে অন্তর্ভুক্ত করেননি১; কারণ হাদিস শাস্ত্রে সে দুর্বল, এবং তিনি আমাকে এটি 'আন-নাওয়াদির' গ্রন্থে লিখিয়েছেন।" ২, আর ইমাম আহমাদ তাঁর মুসনাদে অন্তর্ভুক্ত এমন হাদিসগুলোকে কেটে দিতেন যখন সেগুলোর দুর্বলতা তাঁর কাছে স্পষ্ট হতো। এর মধ্যে ইমরান ইবন হুসাইন (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিসটি অন্যতম, তিনি বলেন: "মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পরিবার তৃপ্তিভরে তরকারিযুক্ত রুটি খাননি যতক্ষণ না তিনি (মৃত্যুর মাধ্যমে) বিদায় নিয়েছেন।" আবদুল্লাহ বলেন: "আমার পিতা তাঁর কিতাবে এই হাদিসটিকে কেটে দিয়েছিলেন; কারণ তিনি ইয়াজিদ থেকে বর্ণনাকারী ব্যক্তিটিকে পছন্দ করেননি।" ৩.
বেশ কয়েকজন ইমাম মুসনাদ গ্রন্থের মান নির্বাচনের বিষয়ে সজাগ করেছেন। আবু মুসা আল-মাদিনি বলেন: "এই কিতাবটি একটি বিশাল মূল ভিত্তি এবং হাদিস বিশারদদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য তথ্যসূত্র, যা বিপুল সংখ্যক হাদিস থেকে নির্বাচন করা হয়েছে,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যিয়াদাতুল কুতায়ী আলা মুসনাদিল ইমাম আহমাদ দিরাসাহ ওয়া তাখরীজান
(পৃষ্ঠা: ১১৩)
ومسموعات وافرة، فَجعله إِمَامًا ومعتمداً، وَعند التَّنَازُع ملْجأ ومستنداً " 1، وَيَقُول الذَّهَبِيّ: "فَإِنَّهُ محتو على أَكثر الحَدِيث النَّبَوِيّ، وقلَّ أَن يثبت حَدِيث إِلَّا وَهُوَ فِيهِ
… وقلَّ أَن تَجِد فِيهِ خَبرا سَاقِطا " 2، وَيَقُول الْحَافِظ ابْن حجر: "لَا يشك منصف أَن مُسْنده أنقى أَحَادِيث وأتقن رجَالًا من غَيره3، وَهَذَا يدل على أَنه انتخبه " 4.
وَقَالَ الإِمَام أَحْمد: "لم أذكر فِيهِ مَا أجمع النَّاس على تَركه " 5، وَهَذَا شَرط أبي دَاوُد قَالَه أَبُو عبد الله: مُحَمَّد بن عبد الله الزَّرْكَشِيّ6 – ت 794هـ -، وَقَالَ أَيْضا: "أَخْبرنِي شَيخنَا أبوالعباس ابْن تَيْمِية أَنه اعْتبر مُسْند أَحْمد فَوجدَ أَكْثَره على شَرط أبي دَاوُد " 7.
وَالَّذِي يظْهر أَن الْمسند أَجود من سنَن أبي دَاوُد، فقد قَالَ شيخ الْإِسْلَام أَبُو الْعَبَّاس: أَحْمد بن عبد الحليم بن تَيْمِية الْحَرَّانِي الدِّمَشْقِي – ت 728هـ -: "نزه أَحْمد مُسْنده عَن أَحَادِيث جمَاعَة يروي عَنْهُم أهل السّنَن كَأبي دَاوُد وَالتِّرْمِذِيّ، مثل: مشيخة كثير بن عبد الله بن عَمْرو بن عَوْف الْمُزنِيّ عَن أَبِيه عَن جده، وَإِن كَانَ أَبُو دَاوُد يروي فِي سنَنه مِنْهَا، فَشرط أَحْمد فِي مُسْنده أَجود من شَرط أبي دَاوُد فِي سنَنه " 8.
--------------------------------------------
এবং প্রচুর পরিমাণে শ্রুত বর্ণনা, যা একে ইমাম ও নির্ভরযোগ্য করেছে এবং বিরোধের সময় আশ্রয় ও অবলম্বন বানিয়েছে।" ১, এবং যাহাবি বলেন: "নিশ্চয়ই এটি অধিকাংশ নববী হাদিসকে ধারণ করে আছে এবং খুব কমই এমন সাব্যস্ত হাদিস পাওয়া যাবে যা এতে নেই
… এবং খুব কমই আপনি এতে কোনো বর্জিত বর্ণনা পাবেন।" ২, এবং হাফেজ ইবনে হাজার বলেন: "কোনো ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিই সন্দেহ করবেন না যে, তাঁর মুসনাদ অন্যগুলোর তুলনায় হাদিসের বিচারে অধিক পরিচ্ছন্ন এবং বর্ণনাকারীদের বিচারে অধিক সুসংহত ৩, আর এটি প্রমাণ করে যে তিনি এটি নির্বাচন করেছেন।" ৪।
এবং ইমাম আহমাদ বলেছেন: "মানুষ (মুহাদ্দিসগণ) যে হাদিস বর্জন করার বিষয়ে একমত হয়েছেন, আমি তা এতে উল্লেখ করিনি" ৫, আর এটিই আবু দাউদের শর্ত; এটি বলেছেন আবু আব্দুল্লাহ: মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-যারকাশি ৬ — মৃত্যু ৭৯৪ হিজরি —, এবং তিনি আরও বলেন: "আমাদের শাইখ আবুল আব্বাস ইবনে তাইমিয়াহ আমাকে জানিয়েছেন যে, তিনি মুসনাদে আহমাদ পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং এর অধিকাংশকেই আবু দাউদের শর্তানুযায়ী পেয়েছেন।" ৭।
আর যা স্পষ্ট হয় তা হলো মুসনাদ সুনানে আবু দাউদের চেয়ে অধিক উত্তম, কেননা শাইখুল ইসলাম আবুল আব্বাস আহমাদ ইবনে আব্দুল হালিম ইবনে তাইমিয়াহ আল-হাররানি আদ-দিমাশকি — মৃত্যু ৭২৮ হিজরি — বলেছেন: "আহমাদ তাঁর মুসনাদকে এমন একদল বর্ণনাকারীর হাদিস থেকে মুক্ত রেখেছেন যাদের থেকে সুনান সংকলকগণ যেমন আবু দাউদ ও তিরমিজি বর্ণনা করেছেন। যেমন: কাসির ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আউফ আল-মুজানি কর্তৃক তাঁর পিতা ও তাঁর দাদার সূত্রে বর্ণিত হাদিসসমূহ; যদিও আবু দাউদ তাঁর সুনানে সেগুলো থেকে বর্ণনা করেছেন। সুতরাং মুসনাদে আহমাদের শর্ত সুনানে আবু দাউদের শর্তের চেয়ে অধিক উত্তম।" ৮।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যিয়াদাতুল কুতায়ী আলা মুসনাদিল ইমাম আহমাদ দিরাসাহ ওয়া তাখরীজান
(পৃষ্ঠা: ১১৪)
وَمن الجدير بِالذكر أَن مَا تقدم لَا يلْزم مِنْهُ عدم وجود الْأَحَادِيث الضعيفة بل والقليل من الْأَحَادِيث الْمَوْضُوعَة، فقد قَالَ ابْنه عبد الله: "أخرج فِيهِ أَحَادِيث معلولة بَعْضهَا ذكر عللها، وسائرها فِي كتاب الْعِلَل لِئَلَّا يخرج فِي الصَّحِيح " 1، وَقد ذكر عدد من الْعلمَاء أَحَادِيث مَوْضُوعَة فِيهِ، وَمِنْهُم شيخ الْإِسْلَام ابْن تَيْمِية حَيْثُ يَقُول: "لَيْسَ كل حَدِيث رَوَاهُ أَحْمد
… فِي مُسْنده، يَقُول إِنَّه صَحِيح، بل أَحَادِيث مُسْنده هِيَ الَّتِي رَوَاهَا النَّاس عَمَّن هُوَ مَعْرُوف عِنْد النَّاس بِالنَّقْلِ وَلم يظْهر كذبه، وَقد يكون فِي بَعْضهَا عِلّة تدل على أَنه ضَعِيف بل بَاطِل لَكِن غالبها وجمهورها أَحَادِيث جَيِّدَة يُحتج بهَا، وَهِي أَجود من أَحَادِيث سنَن أبي دَاوُد " 2، وَيَقُول أَبُو الْفِدَاء: إِسْمَاعِيل ابْن عمر بن كثير الدِّمَشْقِي – ت 774هـ -: "فِيهِ أَحَادِيث ضَعِيفَة بل مَوْضُوعَة، كأحاديث فَضَائِل مرو، وشهداء عسقلان " 3، وَيَقُول الْحَافِظ عبد الرَّحِيم بن الْحُسَيْن الْعِرَاقِيّ– ت 806هـ -: "أما وجود الضَّعِيف فِيهِ فَهُوَ مُحَقّق، بل فِيهِ أَحَادِيث مَوْضُوعَة وَقد جمعتها فِي جُزْء، وَقد ضعف الإِمَام أَحْمد نَفسه أَحَادِيث فِيهِ "4، وَيَقُول الزَّرْكَشِيّ: "فِي الْمسند أَحَادِيث سُئِلَ عَنْهَا فضعفها وأنكرها"5، وَيَقُول ابْن حجر: "الْحق أَن أَحَادِيثه غالبها جِيَاد، والضعاف مِنْهَا إِنَّمَا يوردها للمتابعات، وَفِيه الْقَلِيل من الضِّعَاف والغرائب والأفراد، أخرجهَا ثمَّ صَار يضْرب عَلَيْهَا شَيْئا فَشَيْئًا، وبقى مِنْهَا بعده بَقِيَّة " 6.
--------------------------------------------
উল্লেখ্য যে, পূর্বোক্ত আলোচনার দ্বারা এটি আবশ্যক হয় না যে সেখানে দুর্বল হাদীস, এমনকি সামান্য সংখ্যক জাল হাদীসও নেই। তাঁর পুত্র আবদুল্লাহ বলেছেন: "তিনি এতে কিছু ত্রুটিপূর্ণ হাদীস বর্ণনা করেছেন, যার কয়েকটির ত্রুটি তিনি উল্লেখ করেছেন এবং অবশিষ্টগুলো 'কিতাবুল ইলাল'-এ রয়েছে, যাতে সেগুলো সহীহ হাদীসের অন্তর্ভুক্ত না হয়।" 1, বেশ কয়েকজন আলেম এতে জাল হাদীসের উপস্থিতির কথা উল্লেখ করেছেন, তাদের মধ্যে শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ অন্যতম, তিনি বলেন: "আহমদ তাঁর মুসনাদে যা বর্ণনা করেছেন
… তার প্রতিটি হাদীসকেই তিনি সহীহ বলেন না, বরং তাঁর মুসনাদের হাদীসগুলো এমন সব লোকদের থেকে বর্ণিত যারা লোকসমাজে বর্ণনাকারী হিসেবে পরিচিত এবং যাদের মিথ্যাচার প্রকাশ পায়নি। তাদের কারো মধ্যে হয়তো এমন ত্রুটি থাকতে পারে যা নির্দেশ করে যে হাদীসটি দুর্বল এমনকি বাতিল, তবে এর অধিকাংশ এবং সিংহভাগ হাদীসই হলো উত্তম যা দলীল হিসেবে ব্যবহারযোগ্য, এবং এগুলো সুনানে আবু দাউদের হাদীসের তুলনায় অধিকতর উৎকৃষ্ট।" 2, আবু আল-ফিদা ইসমাইল ইবনে ওমর ইবনে কাসীর আদ-দিমাশকী – মৃত্যু ৭৭৪ হিজরী – বলেন: "এতে দুর্বল এমনকি জাল হাদীসও রয়েছে, যেমন মার্ভ-এর ফযীলত এবং আসকালানের শহীদদের সংক্রান্ত হাদীসসমূহ।" 3, হাফেজ আবদুর রহীম বিন আল-হুসাইন আল-ইরাকী – মৃত্যু ৮০৬ হিজরী – বলেন: "এতে দুর্বল হাদীসের অস্তিত্ব নিশ্চিত, বরং এতে কিছু জাল হাদীসও রয়েছে যা আমি একটি পুস্তিকায় সংকলিত করেছি এবং খোদ ইমাম আহমদ নিজেও এর কিছু হাদীসকে দুর্বল বলেছেন।" 4, যারকাশী বলেন: "মুসনাদে এমন কিছু হাদীস রয়েছে যা সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি সেগুলোকে দুর্বল ও অগ্রহণযোগ্য বলেছেন।" 5, ইবনে হাজার বলেন: "প্রকৃত বিষয় হলো, এর অধিকাংশ হাদীসই উত্তম, আর এর দুর্বল হাদীসগুলো তিনি কেবল মুতাবেআত (সমর্থনমূলক বর্ণনা) হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এতে সামান্য কিছু দুর্বল, গারীব এবং একক বর্ণনা রয়েছে; তিনি সেগুলো বর্ণনা করার পর পর্যায়ক্রমে সেগুলো বাদ দিতে শুরু করেছিলেন, তবে তাঁর পরে কিছু অবশিষ্টাংশ থেকে গেছে।" 6.
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যিয়াদাতুল কুতায়ী আলা মুসনাদিল ইমাম আহমাদ দিরাসাহ ওয়া তাখরীজান
(পৃষ্ঠা: ১১৫)
وَالتَّحْقِيق أَن الْأَحَادِيث الْمَوْضُوعَة على ضَرْبَيْنِ:
أَحدهمَا: مَا اسْتدلَّ على وَضعهَا بكذب أحد رواتها، وَهَذِه لم يُخرجهَا الإِمَام أَحْمد فِي مُسْنده.
الآخر: مَا اسْتدلَّ على وَضعهَا وبطلانها بِدَلِيل مُنْفَصِل، وَهُوَ الَّذِي ينْدَرج تَحْتَهُ مَا ذكر فِي الْمسند من الْأَحَادِيث الْمَوْضُوعَة، بل يُوجد من ذَلِك فِي كتب السّنَن وَغَيرهَا، وَالْحجّة فِي هَذَا التَّفْصِيل قَول شيخ الْإِسْلَام ابْن تَيْمِية: "تنَازع الْحَافِظ أَبُو الْعَلَاء الْهَمدَانِي وَالشَّيْخ أَبُو الْفرج ابْن الْجَوْزِيّ: هَل فِي الْمسند حَدِيث مَوْضُوع، فَأنْكر الْحَافِظ أَبُو الْعَلَاء أَن يكون فِي الْمسند حَدِيث مَوْضُوع، وَأثبت ذَلِك أَبُو الْفرج وبَيَّن أَن فِيهِ أَحَادِيث قد علم أَنَّهَا بَاطِلَة، وَلَا مُنَافَاة بَين الْقَوْلَيْنِ فَإِن الْمَوْضُوع فِي اصْطِلَاح أبي الْفرج هُوَ الَّذِي قَامَ دَلِيل على أَنه بَاطِل
… وَالْغَالِب على مَا ذكره فِي الموضوعات أَنه بَاطِل بِاتِّفَاق الْعلمَاء، وَأما الْحَافِظ أَبُو الْعَلَاء وَأَمْثَاله فَإِنَّمَا يُرِيدُونَ بالموضوع: المختلق الْمَصْنُوع الَّذِي تعمد صَاحبه الْكَذِب " 1، وَقَالَ فِي مَوضِع آخر: "من قد يغلط فِي الحَدِيث وَلَا يتَعَمَّد الْكَذِب
… تُوجد الرِّوَايَة عَنْهُم فِي السّنَن ومسند الإِمَام أَحْمد وَنَحْوه، بِخِلَاف من يتَعَمَّد الْكَذِب، فَإِن أَحْمد لم يرو فِي مُسْنده عَن أحد من هَؤُلَاءِ " 2.
--------------------------------------------
এবং বিশ্লেষণ হলো এই যে, জাল হাদীসসমূহ দুই প্রকার:
একটি হলো: যেগুলোর জাল হওয়ার পক্ষে তার কোনো একজন রাবীর মিথ্যাবাদিতা দ্বারা দলিল পেশ করা হয়েছে; আর এই ধরণের হাদীস ইমাম আহমাদ তাঁর মুসনাদে সংকলন করেননি।
অন্যটি হলো: যেগুলোর জাল হওয়া এবং বাতিল হওয়ার পক্ষে স্বতন্ত্র দলিলের মাধ্যমে প্রমাণ পেশ করা হয়েছে; আর মুসনাদে উল্লেখিত জাল হাদীসসমূহ এই প্রকারের অন্তর্ভুক্ত। এমনকি সুনান গ্রন্থসমূহ ও অন্যান্য কিতাবেও এ জাতীয় হাদীস পাওয়া যায়। এই বিস্তারিত বর্ণনার পক্ষে দলিল হলো শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ-এর বক্তব্য: "হাফেজ আবুল আলা আল-হামাদানি এবং শায়খ আবুল ফারাজ ইবনুল জাওযী বিতর্কে লিপ্ত হয়েছেন যে, মুসনাদে কোনো জাল হাদীস আছে কি না। হাফেজ আবুল আলা মুসনাদে কোনো জাল হাদীস থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন, আর আবুল ফারাজ তা সাব্যস্ত করেছেন এবং স্পষ্ট করেছেন যে, এতে এমন কিছু হাদীস রয়েছে যেগুলোর বাতিল হওয়া সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এই দুই বক্তব্যের মধ্যে কোনো বৈপরীত্য নেই; কেননা আবুল ফারাজের পরিভাষায় 'জাল' (মাওযু) হলো সেটি, যা বাতিল হওয়ার পক্ষে দলিল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে
… আর তিনি তাঁর 'আল-মাওযুআত' গ্রন্থে যা উল্লেখ করেছেন, তার অধিকাংশ হাদীসই আলেমদের ঐকমত্যে বাতিল। পক্ষান্তরে হাফেজ আবুল আলা এবং তাঁর মতাদর্শীগণ 'জাল' বলতে কেবল সেই হাদীসকেই বুঝিয়েছেন যা বানোয়াট ও তৈরি করা হয়েছে এবং যার বর্ণনাকারী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা বলেছে।" ১, এবং তিনি অন্য স্থানে বলেছেন: "যারা হাদীস বর্ণনায় ভুল করে থাকতে পারেন কিন্তু উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা বলেন না
… সুনান গ্রন্থসমূহ, ইমাম আহমাদের মুসনাদ এবং এই জাতীয় কিতাবগুলোতে তাদের থেকে বর্ণিত রেওয়ায়েত পাওয়া যায়। তবে যারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা বলে তাদের বিষয়টি ভিন্ন; কেননা ইমাম আহমাদ তাঁর মুসনাদে এদের মধ্য থেকে কারো পক্ষ থেকেই কোনো বর্ণনা করেননি।" ২।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যিয়াদাতুল কুতায়ী আলা মুসনাদিল ইমাম আহমাদ দিরাসাহ ওয়া তাখরীজান
(পৃষ্ঠা: ১১৬)
المبحث الرَّابِع: التَّعْرِيف بِزِيَادَات الروَاة.
الْمطلب الأول: مَعْنَاهَا:الْمَقْصُود بالزيادات1 هُنَا: إِضَافَة رَاوِي الْكتاب فِيهِ مَا لَيْسَ مِنْهُ من مروياته أَو مرويات مُؤَلفه فِي كتاب آخر، مَعَ تَمْيِيزه لَهَا، وَتَكون من تلميذ مؤلف الْكتاب الرَّاوِي لَهُ، وَتَكون مِمَّن دونه2.
وَبَاب زيادات الروَاة مِمَّا يسْتَدرك على المصنفين فِي عُلُوم الحَدِيث، وَيَنْبَنِي على الْجَهْل بِهِ خلط كَبِير، وَله أَمْثِلَة مُتعَدِّدَة من صَنِيع رُوَاة المصادر الحديثية المسندة، وَهِي تخْتَلف عَن زيادات الروَاة لكتاب وَاحِد، بَعضهم على بعض، وَعَن فن زَوَائِد المصادر الحديثية بَعْضهَا على بعض 3.
--------------------------------------------
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: বর্ণনাকারীদের অতিরিক্ত বর্ণনার (যিয়াদাত) পরিচয়.
প্রথম অনুচ্ছেদ: এর অর্থ:এখানে অতিরিক্ত বর্ণনা১ বলতে উদ্দেশ্য হলো: গ্রন্থের বর্ণনাকারী কর্তৃক গ্রন্থে এমন কিছু সংযোজন করা যা মূল গ্রন্থের অংশ নয়; বরং তা তার নিজস্ব বর্ণনা অথবা অন্য কোনো গ্রন্থে থাকা মূল গ্রন্থকারেরই কোনো বর্ণনা, তবে তিনি সেটিকে (মূল গ্রন্থ থেকে) পৃথকভাবে চিহ্নিত করে দেন। এই অতিরিক্ত সংযোজন গ্রন্থের মূল লেখকের সরাসরি ছাত্র বর্ণনাকারীর পক্ষ থেকে হতে পারে, আবার তার পরবর্তী স্তরের কারো পক্ষ থেকেও হতে পারে।২
বর্ণনাকারীদের অতিরিক্ত বর্ণনার এই অধ্যায়টি হাদিস বিজ্ঞানের রচয়িতাদের ওপর একটি পরিপূরক আলোচনা। এই বিষয়টি সম্পর্কে অজ্ঞতা বড় ধরনের সংমিশ্রণ বা বিভ্রান্তির জন্ম দেয়। মুসনাদভিত্তিক হাদিস গ্রন্থসমূহের বর্ণনাকারীদের কর্মপদ্ধতিতে এর অনেক উদাহরণ বিদ্যমান। এটি একটি নির্দিষ্ট গ্রন্থের বর্ণনাকারীদের একে অপরের ওপর অতিরিক্ত বর্ণনা থেকে ভিন্ন। আবার এটি এক হাদিস গ্রন্থের ওপর অন্য হাদিস গ্রন্থের ‘যাওয়ায়েদ’ (Zawa'id) শাস্ত্র থেকেও ভিন্ন।৩
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যিয়াদাতুল কুতায়ী আলা মুসনাদিল ইমাম আহমাদ দিরাসাহ ওয়া তাখরীজান
(পৃষ্ঠা: ১১৬)
الْمطلب الثَّانِي: أَنْوَاعهَا.
المتأمل فِي زيادات رُوَاة المصادر الحديثية يلحظ أَنَّهَا على أَنْوَاع، مِنْهَا:
النَّوْع الأول: مرويات لَهُم عَن شُيُوخ آخَرين غير مُؤَلَّفِي هَذِه المصادر، وتتبين عِنْد النّظر فِي طرف الْإِسْنَاد الْأَدْنَى، لمن كَانَ لَهُ معرفَة بطبقات الروَاة والشيوخ، وَهِي الْغَالِب فِي زياداتهم، وَمِنْهَا:
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: এর প্রকারভেদ.
হাদিস শাস্ত্রের উৎসগ্রন্থসমূহের বর্ণনাকারীদের বর্ধিত অংশগুলো (যিয়াদাত) যারা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন, তারা লক্ষ্য করবেন যে এগুলো বিভিন্ন প্রকারের হয়ে থাকে, তন্মধ্যে রয়েছে:
প্রথম প্রকার: এই উৎসগ্রন্থসমূহের সংকলকগণ ব্যতীত অন্য উস্তাদদের থেকে প্রাপ্ত তাদের বর্ণনা। যারা রাবী এবং শায়খদের স্তর (তাবাকাত) সম্পর্কে জ্ঞান রাখেন, সনদের নিম্ন প্রান্তের দিকে তাকালে তাদের কাছে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তাদের যিয়াদাত বা বর্ধিত বর্ণনার ক্ষেত্রে এটিই অধিকাংশ ক্ষেত্রে পরিলক্ষিত হয়, আর এর মধ্যে রয়েছে:
(খণ্ড: ১)
যিয়াদাতুল কুতায়ী আলা মুসনাদিল ইমাম আহমাদ দিরাসাহ ওয়া তাখরীজান
(পৃষ্ঠা: ১১৭)
1 - زيادات الْحَافِظ أبي الْحسن: عَليّ بن إِبْرَاهِيم بن سَلمَة الْقزْوِينِي الْقطَّان – ت 345هـ -، فِي سنَن ابْن مَاجَه – ت 275هـ -، وَهُوَ الرَّاوِي عَنهُ السّنَن.
وَهِي قَليلَة، وَمِنْهَا: قَوْله: "حَدثنَا يحيى بن عبد الله الْكَرَابِيسِي، ثَنَا عَليّ بن الْجَعْد، عَن شُعْبَة، عَن عَمْرو بن مرّة، مثل حَدِيث عَليّ رضي الله عنه "1، يَعْنِي حَدِيث: "إِذا حدثتكم عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم حَدِيثا فظنوا بِهِ الَّذِي هُوَ أَهْناه وأَهداه وأتقاه ".
وَقد أفردها بالتأليف الدكتور الْأُسْتَاذ مُسْفِر بن غرم الله الدميني فِي كتاب سَمَّاهُ: "زيادات أبي الْحسن الْقطَّان على سنَن ابْن مَاجَه " 2.
2 - – زيادات الْحَافِظ أبي عَليّ: مُحَمَّد بن الْحسن ابْن الصَّواف – ت 359هـ - 3 فِي مُسْند الإِمَام الْحميدِي – ت 219هـ -، وَهُوَ الَّذِي يروي الْمسند عَن بشر بن مُوسَى الْأَسدي عَن الإِمَام الْحميدِي.
وَهِي قَليلَة وَمِنْهَا: قَوْله: "ثَنَا إِبْرَاهِيم بن عبد الله الْبَصْرِيّ، ثَنَا إِبْرَاهِيم بن بشار الرَّمَادِي، ثَنَا سُفْيَان بن عُيَيْنَة، عَن ابْن أبي نجيح، عَن أَبِيه، قَالَ: أَخْبرنِي من سمع عَليّ بن أبي طَالب على مِنْبَر الْكُوفَة، فَذكر مَعْنَاهُ " 4، يَعْنِي حَدِيث خطْبَة عَليّ لفاطمة رضي الله عنهما.
3 - – زيادات الْحَافِظ أبي بشر: يُونُس بن حبيب بن عبد القاهر الْأَصْبَهَانِيّ5 فِي مُسْند أبي دَاوُد الطَّيَالِسِيّ – ت 204هـ -، وَهُوَ الرَّاوِي عَنهُ الْمسند.
--------------------------------------------
১ - আল-হাফিজ আবুল হাসান: আলী বিন ইবরাহিম বিন সালামাহ আল-কাজউইনি আল-কাত্তান -মৃত্যু ৩৪৫ হি.- এর যিয়াদাত (অতিরিক্ত বর্ণনাসমূহ), সুনানে ইবনে মাজাহ -মৃত্যু ২৭৫ হি.- এর মধ্যে, এবং তিনি তাঁর নিকট থেকে সুনান-এর বর্ণনাকারী।
আর এগুলো সংখ্যায় অল্প, তার মধ্যে রয়েছে: তাঁর বক্তব্য: "ইয়াহইয়া বিন আব্দুল্লাহ আল-কারাবিসি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আলী বিন আল-জা’দ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, শু’বাহ থেকে, তিনি আমর বিন মুররাহ থেকে, আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদীসের ন্যায়" ১, অর্থাৎ এই হাদীসটি: "যখন আমি তোমাদের কাছে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কোনো হাদীস বর্ণনা করি, তখন তোমরা সে সম্পর্কে এমন ধারণা পোষণ করো যা অধিকতর স্বস্তিদায়ক, অধিকতর হিদায়াতপূর্ণ এবং অধিকতর তাকওয়াপূর্ণ।"
প্রফেসর ডক্টর মুসফির বিন গুরমুল্লাহ আদ-দুমাইনি এগুলোকে স্বতন্ত্রভাবে একটি গ্রন্থে সংকলন করেছেন যার নাম তিনি রেখেছেন: "যিয়াদাতু আবিল হাসান আল-কাত্তান আলা সুনানি ইবনে মাজাহ" ২।
২ - আল-হাফিজ আবু আলী: মুহাম্মদ বিন আল-হাসান ইবনে আস-সাউওয়াফ -মৃত্যু ৩৫৯ হি.- এর ৩ যিয়াদাত (অতিরিক্ত বর্ণনাসমূহ), ইমাম আল-হুমাইদি -মৃত্যু ২১৯ হি.- এর মুসনাদ-এর মধ্যে, এবং তিনিই বিশর বিন মুসা আল-আসাদির মাধ্যমে ইমাম আল-হুমাইদি থেকে মুসনাদ বর্ণনা করেন।
আর এগুলো সংখ্যায় অল্প এবং তার মধ্যে রয়েছে: তাঁর বক্তব্য: "ইবরাহিম বিন আব্দুল্লাহ আল-বাসরি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবরাহিম বিন বাশশার আর-রামাদি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান বিন উয়াইনাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনে আবি নাজিহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি বলেন: আমাকে এমন ব্যক্তি সংবাদ দিয়েছেন যিনি আলী বিন আবি তালিবকে কুফার মিম্বরে শুনেছেন, অতঃপর তিনি এর মর্মার্থ বর্ণনা করেছেন" ৪, অর্থাৎ ফাতিমা রাদিয়াল্লাহু আনহার নিকট আলীর বিয়ের প্রস্তাব সংক্রান্ত হাদীস।
৩ - আল-হাফিজ আবু বিশর: ইউনুস বিন হাবিব বিন আব্দুল কাহির আল-আসবাহানি ৫ এর যিয়াদাত (অতিরিক্ত বর্ণনাসমূহ), আবু দাউদ আত-তায়ালিসি -মৃত্যু ২০৪ হি.- এর মুসনাদ-এর মধ্যে, এবং তিনি তাঁর নিকট থেকে মুসনাদ-এর বর্ণনাকারী।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যিয়াদাতুল কুতায়ী আলা মুসনাদিল ইমাম আহমাদ দিরাসাহ ওয়া তাখরীজান
(পৃষ্ঠা: ১১৮)
وَمِنْهَا قَوْله: "حدثت عَن إعرابي قَالَ عَن شُعْبَة قَالَ عبد الله: إِنَّمَا عَلِقها1 كَانَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَفْعَله " 2.
4 - – زيادات أبي عبد الرَّحْمَن: عبد الله بن الإِمَام أَحْمد فِي كتاب: فَضَائِل الصَّحَابَة لِأَبِيهِ.
وَهِي كَثِيرَة قَالَ شيخ الْإِسْلَام ابْن تَيْمِية: "لَهُ كتاب مَشْهُور فِي فَضَائِل الصَّحَابَة روى فِيهِ أَحَادِيث لَا يَرْوِيهَا فِي الْمسند لما فِيهَا من الضعْف لكَونهَا لَا تصلح أَن تروى فِي الْمسند لكَونهَا مَرَاسِيل أَو ضعافاً بِغَيْر الْإِرْسَال ثمَّ إِن هَذَا الْكتاب زَاد فِيهِ عبد الله زيادات " 3.
وَمِنْهَا قَول عبد الله: "قثنا4 أَبُو عمرَان: مُحَمَّد بن جَعْفَر الْوَركَانِي، قَالَ أَنا أَبُو الْأَحْوَص، عَن عَبْثر أبي زُبيد، عَن مُحَمَّد بن خَالِد، عَن عَطاء، قَالَ: قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم: "لَا تسبوا أَصْحَابِي فَمن سبهم فَعَلَيهِ لعنة الله " 5.
5 - – زيادات لأبي بكر: أَحْمد بن جَعْفَر بن حمدَان القَطِيعي على فَضَائِل الصَّحَابَة للْإِمَام أَحْمد بِرِوَايَة ابْنه عبد الله.
وَهِي كَثِيرَة ومشتملة على أَحَادِيث مَوْضُوعَة، حَيْثُ يَقُول شيخ الْإِسْلَام ابْن تَيْمِية: "ثمَّ إِن الْقطيعِي الَّذِي رَوَاهُ6 عَن ابْنه عبد الله زَاد عَن شُيُوخه
--------------------------------------------
এর মধ্যে একটি হলো তাঁর উক্তি: "আমার কাছে এক গ্রাম্য আরব থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি শু'বাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন যে আব্দুল্লাহ বলেছেন: তিনি এটা কেবল এ জন্যই আঁকড়ে ধরেছেন যে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা করতেন।"
৪ - – আবু আব্দুর রহমানের সংযোজনসমূহ: তিনি হলেন ইমাম আহমদের পুত্র আব্দুল্লাহ, তাঁর পিতার রচিত 'ফাদায়িলুস সাহাবা' গ্রন্থে।
এবং এগুলো অনেক। শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া বলেছেন: "তাঁর সাহাবীদের ফযীলত সম্পর্কে একটি প্রসিদ্ধ কিতাব রয়েছে, যাতে তিনি এমন কিছু হাদীস বর্ণনা করেছেন যা তিনি মুসনাদে বর্ণনা করেননি। কারণ সেগুলোর মধ্যে দুর্বলতা রয়েছে; যেহেতু সেগুলো মুরসাল হওয়ার কারণে অথবা অন্য কোনো দুর্বলতার কারণে মুসনাদে বর্ণিত হওয়ার যোগ্য নয়। এরপর আব্দুল্লাহ এই কিতাবে আরও কিছু বিষয় সংযোজন করেছেন।" ৩।
তার মধ্যে আব্দুল্লাহর একটি উক্তি হলো: "আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু ইমরান: মুহাম্মদ ইবনে জাফর আল-ওয়ারকানি, তিনি বলেছেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-আহওয়াস, তিনি আবসার আবু জুবায়দ থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে খালিদ থেকে, তিনি আতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: 'তোমরা আমার সাহাবীদের গালি দিও না, সুতরাং যে ব্যক্তি তাদের গালি দিবে তার ওপর আল্লাহর লানত'।" ৫।
৫ - – আবু বকর আহমদ ইবনে জাফর ইবনে হামদান আল-কাতী'ঈর সংযোজনসমূহ, যা ইমাম আহমদের পুত্র আব্দুল্লাহর বর্ণনা করা 'ফাদায়িলুস সাহাবা' গ্রন্থের ওপর।
আর এগুলো সংখ্যায় অনেক এবং মওজু বা জাল হাদীস সংবলিত। এ ব্যাপারে শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া বলেন: "অতঃপর আল-কাতী'ঈ যিনি এটি বর্ণনা করেছেন তাঁর পুত্র আব্দুল্লাহ থেকে, তিনি তাঁর উস্তাদদের থেকে আরও সংযোজন করেছেন...।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যিয়াদাতুল কুতায়ী আলা মুসনাদিল ইমাম আহমাদ দিরাসাহ ওয়া তাখরীজান
(পৃষ্ঠা: ১১৯)
زيادات وفيهَا أَحَادِيث مَوْضُوعَة بِاتِّفَاق أهل الْمعرفَة " 1، وَيَقُول أَيْضا: "كتاب الْفَضَائِل فَيَروي فِيهِ مَا سَمعه من شُيُوخه سَوَاء كَانَ صَحِيحا أَو ضَعِيفا فَإِنَّهُ لم يقْصد أَن لَا يروي فِي ذَلِك إِلَّا مَا ثَبت عِنْده، ثمَّ زَاد ابْن أَحْمد زيادات، وَزَاد أبوبكر الْقطيعِي زيادات، وَفِي زيادات الْقطيعِي أَحَادِيث كَثِيرَة مَوْضُوعَة فَظن ذَلِك الْجَاهِل أَن تِلْكَ من رِوَايَة أَحْمد وَأَنه رَوَاهَا فِي الْمسند " 2.
وَمِنْهَا: بَاب فِي آخر فَضَائِل عَليّ رضي الله عنه، حَيْثُ يَقُول: "وَمن فَضَائِل عَليّ رضي الله عنه من حَدِيث أبي بكر بن مَالك3 عَن شُيُوخه غير عبد الله " ثمَّ قَالَ: "حَدثنَا هَيْثَم بن خلف، قثنا مُحَمَّد بن أبي عمر الدوري، قثنا شَاذان، قثنا جَعْفَر بن زِيَاد، عَن مطر عَن أنس يَعْنِي ابْن مَالك قَالَ، قُلْنَا لسلمان: سل النَّبِي صلى الله عليه وسلم من وَصيّه، فَقَالَ لَهُ سلمَان: يَا رَسُول الله من وصيك؟ قَالَ: "يَا سلمَان من كَانَ وَصِيّ مُوسَى؟ " قَالَ: يُوشَع بن نون، قَالَ: "فَإِن وصيي ووارثي يقْضِي ديني وينجز موعودي: عَليّ بن أبي طَالب " 4.
6 - – زيادات عبد الله بن الإِمَام أَحْمد فِي مُسْند وَالِده.
وَهِي كَثِيرَة يَقُول الذَّهَبِيّ: "لَهُ زيادات كَثِيرَة فِي مُسْند وَالِده"5، وَهِي على عدَّة صور مِنْهَا:
أ - مرويات للْإِمَام أَحْمد فِي غير الْمسند، قَامَ عبد الله بنقلها إِلَى الْمسند مَعَ التَّنْبِيه إِلَيْهَا، وَهَذَا النَّوْع قَلِيل جدا، وَمِنْه قَوْله: "حَدثنِي أبي - أملاه علينا فِي النَّوَادِر - قَالَ: كتب إليَّ أَبُو تَوْبَة: الرّبيع بن نَافِع، قَالَ حَدثنَا الْهَيْثَم بن حميد، عَن
--------------------------------------------
অতিরিক্ত অংশসমূহ এবং এতে ইলম বিশেষজ্ঞদের ঐকমত্যে জাল হাদিসসমূহ রয়েছে" ১। তিনি আরও বলেন: "ফাদায়েল কিতাবটি, এতে তিনি তাঁর শিক্ষকদের নিকট থেকে যা শুনেছেন তা-ই বর্ণনা করেছেন, তা সহিহ হোক বা জইফ। কারণ তাঁর উদ্দেশ্য এমন ছিল না যে তিনি কেবল তাঁর নিকট যা প্রমাণিত কেবল তা-ই বর্ণনা করবেন। অতঃপর ইবনে আহমদ কিছু অতিরিক্ত অংশ যোগ করেছেন, এবং আবু বকর আল-কাতিয়ীও কিছু অতিরিক্ত অংশ যোগ করেছেন। আল-কাতিয়ীর অতিরিক্ত অংশসমূহে অনেক জাল হাদিস রয়েছে, ফলে সেই অজ্ঞ ব্যক্তি মনে করেছে যে এগুলো আহমদের বর্ণনা এবং তিনি এগুলো মুসনাদ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন" ২।
আর এর মধ্যে রয়েছে: আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর ফাদায়েল অধ্যায়ের শেষে একটি অনুচ্ছেদ, যেখানে তিনি বলেন: "আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর ফাদায়েল থেকে আবু বকর ইবনে মালিক ৩ এর সূত্রে তাঁর শিক্ষকদের থেকে বর্ণিত যা আবদুল্লাহ ব্যতীত," অতঃপর তিনি বলেন: "আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হায়সাম ইবনে খালাফ, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবনে আবু উমর আদ-দাওরি, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শাযান, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন জাফর ইবনে যিয়াদ, মাতার এর সূত্রে আনাস অর্থাৎ ইবনে মালিক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা সালমানকে বললাম: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করুন তাঁর উত্তরসূরি কে। অতঃপর সালমান তাঁকে বললেন: হে আল্লাহর রাসুল, আপনার উত্তরসূরি কে? তিনি বললেন: 'হে সালমান, মুসার উত্তরসূরি কে ছিলেন?' তিনি বললেন: ইউশা ইবনে নুন। তিনি বললেন: 'নিশ্চয়ই আমার উত্তরসূরি ও উত্তরাধিকারী যে আমার ঋণ পরিশোধ করবে এবং আমার প্রতিশ্রুতি পূরণ করবে সে হলো: আলী ইবনে আবি তালিব'" ৪।
৬ - – তাঁর পিতার মুসনাদে ইমাম আহমদের পুত্র আবদুল্লাহর অতিরিক্ত বর্ণনাসমূহ।
এগুলো অনেক। আজ-যাহাবি বলেন: "তাঁর পিতার মুসনাদে তাঁর অনেক অতিরিক্ত বর্ণনা রয়েছে" ৫। সেগুলো কয়েক প্রকারের, তার মধ্যে রয়েছে:
ক - ইমাম আহমদের এমন বর্ণনাসমূহ যা মুসনাদ গ্রন্থের বাইরে ছিল, আবদুল্লাহ সেগুলো মুসনাদে স্থানান্তর করেছেন এবং সে বিষয়ে সতর্ক করেছেন। এই প্রকারটি অত্যন্ত কম। এর মধ্যে রয়েছে তাঁর কথা: "আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন - তিনি আন-নাওয়াদির গ্রন্থে আমাদের নিকট এটি শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন - তিনি বলেন: আবু তাওবা আর-রাবি ইবনে নাফে আমার নিকট লিখেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাইসাম ইবনে হুমাইদ বর্ণনা করেছেন..."
--------------------------------------------