(খণ্ড: ১)
হাল ইয়ুদরিকুল মামুমুর রাকাআতা বি ইদরাকিহির রুকুআ মাআল ইমাম - জিমনা আসারুল মুআল্লিমী
(পৃষ্ঠা: -)
هل يدرك المأموم الركعة بإدراكه الركوع مع الإمام - ضمن «آثار المعلمي» القسم: مسائل فقهية
الكتاب: هل يدرك المأموم الركعة بإدراكه الركوع مع الإمام
[آثار عبد الرحمن بن يحيى المعلمي اليماني (16)]
المؤلف: عبد الرحمن بن يحيى المُعَلِّمي اليماني (1313 - 1386 هـ)
المحقق: محمد عزير شمس
راجعه: محمد أجمل الإصلاحي - سليمان بن عبد الله العمير
الناشر: دار عالم الفوائد للنشر والتوزيع
الطبعة: الأولى، 1434 هـ
قدمه للشاملة: مؤسسة «عطاءات العلم»، جزاهم الله خيرا
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 10 شوّال 1442
ইমামের সাথে রুকু পাওয়ার মাধ্যমে কি মুক্তাদি রাকাত লাভ করবে - "আসারুল মুয়াল্লিমি"-এর অন্তর্ভুক্ত বিভাগ: ফিকহি মাসায়েল
গ্রন্থ: ইমামের সাথে রুকু পাওয়ার মাধ্যমে কি মুক্তাদি রাকাত লাভ করবে
[আবদুর রহমান ইবনে ইয়াহইয়া আল-মুয়াল্লিমি আল-ইয়ামানি এর রচনাবলি (আসার) (১৬)]
লেখক: আবদুর রহমান ইবনে ইয়াহইয়া আল-মুয়াল্লিমি আল-ইয়ামানি (১৩১৩ - ১৩৮৬ হিজরি)
গবেষক ও সম্পাদক: মুহাম্মদ উজাইর শামস
পুনরীক্ষণকারী: মুহাম্মদ আজমল আল-ইসলাহি - সুলায়মান ইবনে আবদুল্লাহ আল-উমাইর
প্রকাশক: দারু আলমিল ফাওয়ায়িদ পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন
সংস্করণ: প্রথম، ১৪৩৪ হিজরি
শামেলা সংস্করণের উপস্থাপক: "আতাআত আল-ইলম" ফাউন্ডেশন، আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দিন
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামেলা-তে প্রকাশের তারিখ: ১০ শাওয়াল ১৪৪২
(খণ্ড: ১৬)
হাল ইয়ুদরিকুল মামুমুর রাকাআতা বি ইদরাকিহির রুকুআ মাআল ইমাম - জিমনা আসারুল মুআল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ১০১)
الرسالة الرابعة
هل يدرك المأموم الركعة بإدراكه الركوع
مع الإمام
চতুর্থ রিসালাহ
রুকু (ركوع) পাওয়ার মাধ্যমে কি মা’মুমের রাকাত (ركعة) অর্জিত হয়
ইমামের সাথে
(খণ্ড: ১৬)
হাল ইয়ুদরিকুল মামুমুর রাকাআতা বি ইদরাকিহির রুকুআ মাআল ইমাম - জিমনা আসারুল মুআল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ১০৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله حمدًا كثيرًا طيبًا مباركًا فيه، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله، وصلَّى الله وسلَّم على محمد وآله وصحبه.
أما بعد، فإن الأخ العلامة الشيخ محمد عبد الرزاق حمزة المدرس بالمسجد الحرام، ومدير دار الحديث ــ عافاه الله ــ، أَطلَعني على رسالته المحررة في اختيار إدراكِ المأموم الركعةَ بإدراكه الركوعَ مع الإمام، وأشار عليَّ أن أكتبَ ما يظهر لي في هذه المسألة، فأستعين الله تبارك وتعالى وأقول:
قال البخاري في "جزء القراءة"
(1): "والقيام فرضٌ في الكتاب والسنة، قال تعالى: {وَقُومُوا لِلَّهِ قَانِتِينَ} [البقرة: 238]، وقال: {إِذَا قُمْتُمْ إِلَى الصَّلَاةِ} [المائدة: 6]، وقال النبي صلى الله عليه وسلم: "صَلِّ قائمًا، فإن لم تستطعْ فقاعدًا"
(2) ". وبسط الكلامَ في تثبيت فرضية قراءة الفاتحة في كل ركعة حتى على المأموم، وساق في موضعٍ آخرَ الأحاديثَ في وجوب قضاء المسبوق ما فاته، ولم يُنازِعْه الشيخ إلا في هذه القضية، فظاهرُ صنيعهِ أنه يُسلِّم ما استدلَّ به البخاري على فرضية القيام
(3)، وعلى فرضية قراءة الفاتحة في كل
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যে প্রশংসা অগণিত, পবিত্র ও বরকতময়। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। আল্লাহ তাআলা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সঙ্গীদের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন।
এরপর, মাসজিদুল হারামের শিক্ষক এবং দারুল হাদিসের পরিচালক, আল্লামা শায়খ মুহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক হামজা —আল্লাহ তাঁকে সুস্থ রাখুন— আমাকে তাঁর সম্পাদিত একটি পুস্তিকা দেখিয়েছেন, যা ইমামের সাথে রুকু পাওয়ার মাধ্যমে মুক্তাদির রাকাত পাওয়ার বিষয়টি বেছে নেওয়ার ব্যাপারে রচিত। তিনি আমাকে এই বিষয়ে আমার নিকট যা প্রতীয়মান হয় তা লিখে দেওয়ার অনুরোধ করেছেন। সুতরাং আমি আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার নিকট সাহায্য প্রার্থনা করছি এবং বলছি:
বুখারি "জুযউল কিরাত" গ্রন্থে বলেছেন
(১): "কিতাব ও সুন্নাহর ভিত্তিতে কিয়াম (দণ্ডায়মান হওয়া) একটি ফরজ (فرض)। মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে বিনীতভাবে দাঁড়াও} [আল-বাকারাহ: ২৩৮]। তিনি আরও বলেছেন: {যখন তোমরা নামাজের জন্য দাঁড়াবে} [আল-মায়িদাহ: ৬]। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ো, যদি সক্ষম না হও তবে বসে নামাজ পড়ো"
(২)।" তিনি প্রতিটি রাকাতে সুরা ফাতিহা পাঠের আবশ্যকতা সাব্যস্ত করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন, এমনকি মুক্তাদির ক্ষেত্রেও। তিনি অন্য এক স্থানে মাসবুক (যে মুক্তাদির রাকাত ছুটে গেছে) ব্যক্তির ছুটে যাওয়া অংশ পূর্ণ করার আবশ্যকতা সম্পর্কে হাদিসসমূহ বর্ণনা করেছেন। শায়খ (হামজা) কেবল এই একটি মাসআলাতেই তাঁর বিরোধিতা করেছেন। শায়খের কাজের ধরন থেকে প্রতীয়মান হয় যে, তিনি কিয়ামের আবশ্যকতা সম্পর্কে বুখারি যে প্রমাণসমূহ পেশ করেছেন তা মেনে নিয়েছেন
(৩), এবং প্রতিটি রাকাতে সুরা ফাতিহা পাঠের আবশ্যকতাকেও...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৬)
হাল ইয়ুদরিকুল মামুমুর রাকাআতা বি ইদরাকিহির রুকুআ মাআল ইমাম - জিমনা আসারুল মুআল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ১০৪)
ركعة حتى على المأموم
(1)، وعلى فرضية قضاء ما فات، مع أن تلك الأدلة تتناول هذه القضية [أيضًا، فجعلها] مستثناةً من ذلك العموم.
ويتلخَّص من كلامه الاحتجاجُ على هذا التخصيص
(2) بأمور:
الأول: عن أبي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "إذا جِئتُم إلى الصلاة ونحن سجودٌ فاسجدوا ولا تَعُدُّوها شيئًا، ومن أدرك الركعة فقد أدرك الصلاة". قال الشيخ: "سكت عليه أبو داود
(3) والمنذري، واحتجَّ به ابن خزيمة في "صحيحه"
(4) .... ".
--------------------------------------------
রাকাত এমনকি মুক্তাদির (المأموم)
(১) ক্ষেত্রেও, এবং যা ছুটে গেছে তা কাযা করার আবশ্যিকতার বিষয়ে; যদিও সেই দলিলসমূহ এই বিষয়টিকেও অন্তর্ভুক্ত করে, তবুও তিনি সেটিকে সেই সাধারণ বিধান (العموم) থেকে ব্যতিক্রম হিসেবে গণ্য করেছেন।
তাঁর বক্তব্য থেকে এই নির্দিষ্টকরণের (التخصيص)
(২) স্বপক্ষে দলিল পেশ করার (الاحتجاج) সারসংক্ষেপ কয়েকটি বিষয়ের মাধ্যমে ফুটে ওঠে:
প্রথমত: আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা যখন সালাতে আসবে আর আমরা সিজদাবনত অবস্থায় থাকি, তখন তোমরাও সিজদা করো, তবে সেটাকে (রাকাত হিসেবে) গণনা করো না। আর যে ব্যক্তি রাকাত পেল, সে সালাত পেল।" শায়খ বলেন: "আবু দাউদ
(৩) ও মুনযিরি এ ব্যাপারে নীরবতা অবলম্বন করেছেন (سكت عليه), এবং ইবনে খুযাইমা তাঁর সহিহ
(৪) গ্রন্থে এটি দ্বারা দলিল পেশ (احتج به) করেছেন...।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৬)
হাল ইয়ুদরিকুল মামুমুর রাকাআতা বি ইদরাকিহির রুকুআ মাআল ইমাম - জিমনা আসারুল মুআল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ১০৫)
الثاني: ابن وهب: حدثني يحيى بن حميد عن قُرَّة بن عبد الرحمن عن ابن شهاب الزهري، أخبره أبو سلمة عن أبي هريرة أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "من أدرك ركعةً من الصلاة فقد أدركها قبل أن يُقيمَ الإمامُ صُلْبَه"
(1). قال الشيخ: "أخرجه الدارقطني وابن خزيمة
(2) محتجًّا على أن من أدرك الركوع مع الإمام أدرك الركعة".
الثالث: حديث مالك عن الزهري عن أبي سلمة عن أبي هريرة مرفوعًا: "من أدرك من الصلاة ركعةً فقد أدركها"
(3).
الرابع: الحسن البصري عن أبي بَكْرة: أنه انتهى إلى النبي صلى الله عليه وسلم وهو راكع، فركع قبل أن يَصِلَ إلى الصفّ، فذَكَر ذلك للنبي صلى الله عليه وسلم فقال: "زادك الله حِرْصًا ولا تَعُدْ". أخرجه البخاري في "صحيحه"
(4)، وذكروا أنَّ فيه
(5) دلالتين:
الأولى: لولا أن أبا بكرة كان يرى أنه بإدراكه الركوعَ يدرك الركعة لما بادر إلى الركوع قبل أن يبلغ الصفَّ.
--------------------------------------------
দ্বিতীয়: ইবনে ওয়াহাব: ইয়াহইয়া ইবনে হুমাইদ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন কুররাহ ইবনে আবদুর রহমান থেকে, তিনি ইবনে শিহাব আল-জুহরি থেকে, তাঁকে আবু সালামাহ সংবাদ দিয়েছেন আবু হুরায়রা থেকে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি সালাতের এক রাকআত পেল, সে মূলত তা পেল ইমাম তাঁর পিঠ সোজা করার আগে।"
(১) শাইখ বলেন: "দারাকুতনি এবং ইবনে খুজাইমাহ এটি দলিল (محتجًّا) হিসেবে সংকলন করেছেন (أخرجه) এই মর্মে যে, যে ব্যক্তি ইমামের সাথে রুকু পেল, সে ওই রাকআতটি পেল।"
তৃতীয়: মালিকের সূত্রে জুহরি থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত মারফু (مرفوعًا) হাদিস: "যে ব্যক্তি সালাতের এক রাকআত পেল, সে মূলত তা পেল।"
(৩)চতুর্থ: হাসান বসরি আবু বাকরাহ থেকে বর্ণনা করেন: তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে এমন অবস্থায় পৌঁছালেন যখন তিনি রুকুতে ছিলেন। ফলে তিনি কাতারে পৌঁছানোর আগেই রুকু করলেন। এরপর তিনি বিষয়টি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে উল্লেখ করলে তিনি বললেন: "আল্লাহ তোমার আগ্রহ বাড়িয়ে দিন, তবে পুনরায় এমন করো না।" বুখারি এটি তাঁর সহিহ গ্রন্থে সংকলন করেছেন (أخرجه), এবং তাঁরা উল্লেখ করেছেন যে, এতে দু’টি প্রমাণ বা ইশারা (دلالتين) রয়েছে:
প্রথমত: আবু বাকরাহ যদি মনে না করতেন যে রুকু পাওয়ার মাধ্যমে রাকআত পাওয়া যায়, তবে তিনি কাতারে পৌঁছানোর আগেই রুকু করার জন্য দ্রুত অগ্রসর হতেন না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৬)
হাল ইয়ুদরিকুল মামুমুর রাকাআতা বি ইদরাকিহির রুকুআ মাআল ইমাম - জিমনা আসারুল মুআল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ১০৬)
الثانية: أن النبي صلى الله عليه وسلم أقرَّ أبا بكرةَ على السلام معه، ولم يأمره بإتمامٍ ولا إعادة.
الخامس: أشار الشيخ إلى دليل خامس، وهو: أنه ثبت عن جماعة من الصحابة القولُ بالإدراك، ولم يتحققْ عن أحدٍ منهم خلافهُ، وتَبِعَهم الجمهور.
* * * *
দ্বিতীয়ত: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু বাকরাহ-এর তাঁর সাথে সালাম প্রদানকে অনুমোদন করেছেন এবং তাঁকে পূর্ণ করার (إتمام) অথবা পুনরায় আদায় করার (إعادة) নির্দেশ দেননি।
পঞ্চমত: শায়খ একটি পঞ্চম দলিলের দিকে ইঙ্গিত করেছেন, আর তা হলো: সাহাবীগণের একদলের পক্ষ থেকে [রাকাআত] প্রাপ্তির (الإدراك) বিষয়টি প্রমাণিত (ثبت) হয়েছে এবং তাঁদের কারোর পক্ষ থেকেই এর বিপরীত কিছু নিশ্চিত হওয়া যায়নি, আর সংখ্যাগরিষ্ঠ (الجمهور) আলিমগণ তাঁদেরই অনুসরণ করেছেন।
* * * *
(খণ্ড: ১৬)
হাল ইয়ুদরিকুল মামুমুর রাকাআতা বি ইদরাকিহির রুকুআ মাআল ইমাম - জিমনা আসারুল মুআল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ১০৭)
النظر في هذه الأمور
أما الحديث الأول: فتفرَّد به يحيى بن أبي سليمان، رواه عن زيد بن أبي عتّاب وسعيد المقبري عن أبي هريرة. ويحيى هذا قال فيه البخاري
(1): "منكر الحديث، روى عنه أبو سعيد [عبد الرحمن بن عبد الله بن عبيد] مولى بني هاشم وعبدُ الله بن رجاء البصري مناكير، [يعني: وهما ثقتان، فالحمل في تلك المناكير على يحيى]، ولم يتبينْ سماعه من زيدٍ ولا من ابن المقبري به".
ومذهب البخاري وشيخِه ابن المديني أن ذلك في حكم المنقطع، وجرى المتأخرون على هذا المذهب ونسبوه إلى المحققين، وخالفهم مسلم، فذكر في مقدمة "صحيحه"
(2) أنه يكتفي بثبوت المعاصرة وإمكانِ اللقاء والسماع، لكن في سياق كلامه وفحواه ما يدلُّ أن مراده الإمكان البيِّن، وقد شرحتُ ذلك في موضع آخر
(3).
وقال أبو حاتم
(4) في يحيى هذا: "مضطرب الحديث ليس بالقوي، يكتب حديثه"، وقال البيهقي في "المعرفة"
(5) في هذا الحديث: "تفرد به
--------------------------------------------
এই বিষয়গুলোর পর্যালোচনা
প্রথম হাদিসটির ক্ষেত্রে: এটি যাহইয়া ইবনে আবি সুলাইমান এককভাবে বর্ণনা করেছেন (تفرد); তিনি এটি জায়েদ ইবনে আবি আত্তাব এবং সাঈদ আল-মাকবুরি থেকে, তারা আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন। এই যাহইয়া সম্পর্কে ইমাম বুখারি
(১) বলেছেন: "তিনি বর্জনীয় হাদিস বর্ণনাকারী (منكر الحديث)। আবু সাঈদ [আবদুর রহমান বিন আবদুল্লাহ বিন উবাইদ] মাওলা বনী হাশিম এবং আবদুল্লাহ ইবনে রাজা আল-বসরি তার থেকে অগ্রহণযোগ্য হাদিসসমূহ (مناكير) বর্ণনা করেছেন। [অর্থাৎ: তারা উভয়েই নির্ভরযোগ্য (ثقة), ফলে ঐ অগ্রহণযোগ্য হাদিসগুলোর দায়ভার যাহইয়ার ওপরই বর্তায়]। আর জায়েদ কিংবা ইবনুল মাকবুরির থেকে তার সরাসরি শ্রবণ (سماع) বিষয়টি স্পষ্ট নয়।"
ইমাম বুখারি এবং তার শিক্ষক ইবনুল মাদিনীর মাযহাব বা মত হলো—এটি বিচ্ছিন্ন (منقطع) হওয়ার বিধানের অন্তর্ভুক্ত। পরবর্তী যুগের আলিমগণ (المتأخرون) এই মতের ওপরই চলেছেন এবং একে গবেষকগণের (المحققين) অভিমত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে ইমাম মুসলিম তাদের বিরোধিতা করেছেন; তিনি তার "সহিহ" গ্রন্থের মুকাদ্দিমায়
(২) উল্লেখ করেছেন যে, তিনি কেবল সমসাময়িকতা (المعاصرة) এবং সাক্ষাত ও শ্রবণের (سماع) সম্ভাবনা থাকাকেই যথেষ্ট মনে করেন। তবে তার আলোচনার প্রেক্ষাপট ও মর্মার্থ নির্দেশ করে যে, তার উদ্দেশ্য হলো সুস্পষ্ট সম্ভাবনা। আমি অন্য স্থানে
(৩) এ বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছি।
আবু হাতিম
(৪) এই যাহইয়া সম্পর্কে বলেছেন: "তিনি অসংলগ্ন হাদিস বর্ণনাকারী (مضطرب الحديث), তিনি শক্তিশালী নন, তবে তার হাদিস লেখা যায়"। ইমাম বায়হাকি "আল-মা’রিফাহ" গ্রন্থে
(৫) এই হাদিসটি সম্পর্কে বলেছেন: "এটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন (تفرد)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৬)
হাল ইয়ুদরিকুল মামুমুর রাকাআতা বি ইদরাকিহির রুকুআ মাআল ইমাম - জিমনা আসারুল মুআল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ১০৮)
يحيى بن أبي سليمان هذا، وليس بالقوي". كذا في "التعليق على الدارقطني" (ص 132)
(1).
وذكر البيهقي هذا الحديث في "السنن" (ج 2 ص 89) ثم قال: "تفرد به يحيى بن أبي سليمان المدني، وقد رُوِي بإسنادٍ آخر أضعف من ذلك عن أبي هريرة"، ثم ساق الحديث الآتي.
وذكر الذهبي يحيى هذا في "ميزانه"
(2)، وذكر له حديثًا آخر، كأنه استنكره.
وقال ابن خزيمة بعد أن أخرج في "صحيحه"
(3) هذا الحديث: "في القلب شيء من هذا الإسناد، فإني لا أعرف يحيى بن أبي سليمان بعدالة ولا جرح، وإنما أخرجتُ خبره لأنه لم يختلف فيه العلماء". كذا في "تهذيب التهذيب"
(4).
وظاهر هذا أن ابن خزيمة لم يكن حين كتب هذا يعرف اختلافًا في إدراك الركعة بإدراك الركوع، ثم كأنه اطلع بعدُ على الخلاف، فرجع إلى القول بعدم الإدراك، فقد نقلوا ذلك عنه. والله أعلم.
ويعارض ما تقدم أن أبا داود أخرج الحديث في "سننه"
(5) وسكت
--------------------------------------------
এই ইয়াহইয়া ইবনে আবি সুলাইমান শক্তিশালী নয় (ليس بالقوي)"। এরূপই রয়েছে "আত-তালিক আলা আদ-দারাকুতনি" (পৃ. ১৩২) গ্রন্থে
(১)।
আল-বায়হাকি এই হাদিসটি "আস-সুনান" (২য় খণ্ড, পৃ. ৮৯) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং এরপর বলেছেন: "ইয়াহইয়া ইবনে আবি সুলাইমান আল-মাদানি এটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন (تفرد), আর এটি আবু হুরায়রা থেকে এই সনদের চেয়েও অধিকতর দুর্বল (أضعফ) অন্য একটি সনদসহ (بإسناد) বর্ণিত হয়েছে", এরপর তিনি পরবর্তী হাদিসটি উপস্থাপন করেছেন।
আজ-জাহাবি তার "মিযান" গ্রন্থে
(২) এই ইয়াহইয়াকে উল্লেখ করেছেন এবং তার একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন, যেন তিনি সেটিকে আপত্তিকর (استنكره) বলে গণ্য করেছেন।
ইবনে খুজায়মাহ তার "সহিহ" গ্রন্থে
(৩) এই হাদিসটি বর্ণনা করার পর বলেছেন: "এই সনদ (الإسناد) নিয়ে অন্তরে কিছুটা সংশয় রয়েছে, কারণ আমি ইয়াহইয়া ইবনে আবি সুলাইমানকে ন্যায়পরায়ণতা (بعدالة) বা সমালোচনা (جرح) কোনোটি দিয়েই চিনি না; আমি তার এই বর্ণনাটি (خبره) কেবল এজন্যই এনেছি কারণ উলামাগণ এ ব্যাপারে কোনো দ্বিমত পোষণ করেননি।" এরূপই বর্ণিত হয়েছে "তাহজিবুত তাহজিব" গ্রন্থে
(৪)।
এর প্রকাশ্য অর্থ হলো, ইবনে খুজায়মাহ যখন এটি লিখেছিলেন তখন রুকু পাওয়ার মাধ্যমে রাকাত পাওয়ার ব্যাপারে কোনো মতপার্থক্য জানতেন না, এরপর সম্ভবত তিনি পরবর্তীতে মতভেদ সম্পর্কে অবগত হন এবং রাকাত না পাওয়ার মতের দিকে ফিরে যান; কেননা তারা তার থেকে এরূপই বর্ণনা করেছেন। আল্লাহই ভালো জানেন।
পূর্বের আলোচনার বিপরীতে এটি দেখা যায় যে, আবু দাউদ তার "সুনান" গ্রন্থে
(৫) হাদিসটি বর্ণনা করেছেন এবং এ ব্যাপারে মৌনতা অবলম্বন করেছেন (سكت)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৬)
হাল ইয়ুদরিকুল মামুমুর রাকাআতা বি ইদরাকিহির রুকুআ মাআল ইমাম - জিমনা আসারুল মুআল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ১০৯)
عليه، وقد قال في "رسالته إلى أهل مكة"
(1): "ما كان في كتابي من حديثٍ فيه وهنٌ شديد فقد بينتُه، ومنه ما لا يصلح سنده، وما لم أذكر فيه شيئًا فهو صالح". وأن المنذري سكت عنه كما ذكر الشيخ، وأن ابن حبان ذكر هذا في "ثقاته"
(2)، وأن شعبة روى عنه، كما في ترجمة يحيى من "التهذيب"
(3)، وقد ذكروا شعبة فيمن لا يروي إلا عن ثقة، وأن الحاكم أخرج هذا الحديث في "المستدرك" (ج 1 ص 216)، وقال: "صحيح الإسناد ولم يخرجاه، ويحيى بن أبي سليمان من ثقات المصريين".
فأما سكوت أبي داود فإنما يدلُّ أنه يرى أن هذا الحديث ليس فيه وهن شديد، وهذا هو مراده بقوله "صالح"، على أنه إنما ذكره
(4) في "باب الرجل يُدرِك الإمام ساجدًا كيف يصنع"، فلعل مراده أنه ليس فيه وهنٌ شديد بالنسبة إلى ذلك الباب، لأن ذاك الحكم متفق عليه، فلا يلزم من هذا أنه ليس فيه وهن شديد مطلقًا.
وقد عُرِف من تصرفات البخاري في "صحيحه" ما يُشبِه هذا، فإنه ربما يذكر الحديث في غير مظنته، ويُعرِض عنه في مظنته حيث يترجَّح له في تلك المظنّة خلافُ ذلك الحديث، كأنه يرى أنه صحيح حيث ذكره لا في مظنته.
وأما ابن حبان فإنه يذكر في "الثقات" كل من رَوى عن ثقة وروى عنه
--------------------------------------------
তদুপরি, তিনি তাঁর "রিসালাহ ইলা আহলে মক্কা"
(১)-এ বলেছেন: "আমার কিতাবে এমন কোনো হাদিস নেই যাতে অতিশয় দুর্বলতা (وهن شديد) রয়েছে অথচ আমি তা স্পষ্ট করে বর্ণনা করিনি। এর মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যার সনদ (سند) ব্যবহারের উপযোগী নয়; আর যে সম্পর্কে আমি কিছুই উল্লেখ করিনি, তা গ্রহণযোগ্য (صالح)।" আর শায়খ যেমনটি উল্লেখ করেছেন যে, মুনযিরি এ সম্পর্কে মৌনতা অবলম্বন করেছেন (سكت عنه)। ইবনে হিব্বান তাঁর "থিকাত" গ্রন্থে এর উল্লেখ করেছেন। শু'বাহ তাঁর থেকে বর্ণনা (روى) করেছেন, যেমনটি "তাজহিব"-এ ইয়াহইয়ার জীবনীতে (ترجمة) বর্ণিত হয়েছে। তাঁরা শু'বাহ সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة) ব্যক্তি ছাড়া অন্য কারো থেকে বর্ণনা করেন না। আর হাকেম তাঁর মুস্তাদরাক (১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ২১৬)-এ এই হাদিসটি সংকলন করেছেন (أخرج) এবং বলেছেন: "এর সনদ সহিহ (صحيح الإسناد), কিন্তু তাঁরা (বুখারি ও মুসলিম) এটি সংকলন করেননি; আর ইয়াহইয়া ইবনে আবি সুলাইমান মিশরের নির্ভরযোগ্যদের (ثقات) অন্তর্ভুক্ত।"
আবু দাউদের মৌনতা (سكوت) কেবল একথাই প্রমাণ করে যে, তিনি মনে করেন এই হাদিসটিতে অতিশয় দুর্বলতা (وهن شديد) নেই। আর তাঁর "গ্রহণযোগ্য (صالح)" কথাটি দ্বারা এটাই উদ্দেশ্য। অধিকন্তু, তিনি এটি
(৪) "জনৈক ব্যক্তি ইমামকে সিজদারত অবস্থায় পেলে কী করবে" শীর্ষক অধ্যায়ে উল্লেখ করেছেন। সম্ভবত তাঁর উদ্দেশ্য এই যে, উক্ত অধ্যায়ের সাপেক্ষে এতে অতিশয় দুর্বলতা (وهن شديد) নেই। কারণ সেই বিধানটি সর্বসম্মত (متفق عليه)। সুতরাং এর দ্বারা এটি আবশ্যক হয় না যে, এতে নিঃশর্তভাবে কোনো অতিশয় দুর্বলতা নেই।
বুখারির তাঁর সহিহ-এর মধ্যে কর্মপদ্ধতি থেকেও এর সদৃশ বিষয় জানা যায়। কেননা তিনি কখনও হাদিস এমন স্থানে উল্লেখ করেন যেখানে তা সচরাচর পাওয়ার কথা নয়, আবার যেখানে পাওয়ার কথা সেখানে তা এড়িয়ে যান; যখন তাঁর কাছে সেই ক্ষেত্রে উক্ত হাদিসের বিপরীত কোনো বিষয় অগ্রগণ্য হয়। যেন তিনি মনে করেন যেখানে তিনি এটি উল্লেখ করেছেন সেখানে এটি সহিহ (صحيح), যদিও তা মূল প্রাসঙ্গিক স্থানে নয়।
আর ইবনে হিব্বান তাঁর "থিকাত" গ্রন্থে এমন প্রত্যেক ব্যক্তিকে উল্লেখ করেন, যিনি কোনো নির্ভরযোগ্য (ثقة) ব্যক্তি থেকে বর্ণনা (روى) করেছেন এবং তাঁর থেকেও বর্ণনা করা হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৬)
হাল ইয়ুদরিকুল মামুমুর রাকাআতা বি ইদরাকিহির রুকুআ মাআল ইমাম - জিমনা আসারুল মুআল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ১১০)
ثقة، ولم يجد له منكرًا خرج هو بذلك من
(1) الثقات
… ، فتوسَّع، كما شرحتُه في ترجمته من "التنكيل"
(2)، وأوضحتُ هناك ما يُوثَق به من توثيق ابن حبان مما لا يُوثَق به
… من الثاني
(3)، كما يُعلم مما شرحتُه هناك.
وأما ما
(4) في ترجمة يحيى هذا من "التهذيب": أن شعبة روى عنه
… ثقة"، فإن ابن حجر التزم أن يذكر في ترجمة شعبة جميعَ شيوخه
(5)، ولم يذكر فيهم يحيى هذا، وإنما ذكر أبا بَلْج يحيى بن أبي سُليم، وهو رجل آخر، فأخشى أن يكون وقع اشتباه.
ومع ذلك ففي "فتح المغيث" للسخاوي (ص 134)
(6): "من
(7) كان لا يروي إلا عن ثقة إلا في النادر: الإمام أحمد، وشعبة
… وذلك في شعبة على المشهور
… ، وإلا فقد قال عاصم بن علي: سمعتُ شعبة يقول: لو لم أحدِّثْكم إلا عن ثقةٍ لم أحدِّثْكم عن ثلاثة
(8) وفي نسخة ثلاثين
(9) … ، وعلى كل حال فهو لا يروي عن متروك ولا عمن أُجمِع على ضعفه".
--------------------------------------------
নির্ভরযোগ্য (ثقة), এবং তার মাঝে কোনো অস্বীকৃত (منكر) বর্ণনা না পাওয়া গেলে তিনি তাকে নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের
(১) (الثقات) অন্তর্ভুক্ত করেন ... ফলে তিনি প্রশস্ততা অবলম্বন করেছেন, যেমনটি আমি 'আল-তানকিল'
(২) গ্রন্থে তার জীবনীতে ব্যাখ্যা করেছি। সেখানে আমি ইবনে হিব্বানের নির্ভরযোগ্য হিসেবে গ্রহণ করার (توثيق) ক্ষেত্রে কোনটি নির্ভরযোগ্য আর কোনটি নির্ভরযোগ্য নয় তা স্পষ্ট করেছি ... দ্বিতীয় প্রকার থেকে
(৩), যেমনটি সেখানে আমার প্রদত্ত ব্যাখ্যা হতে জানা যায়।
আর এই ইয়াহইয়ার জীবনীতে 'তাহজিব' গ্রন্থে যা রয়েছে
(৪): শু’বাহ তার থেকে বর্ণনা করেছেন … নির্ভরযোগ্য (ثقة)", তবে ইবনে হাজার শু’বাহর জীবনীতে তার সকল শায়খদের
(৫) উল্লেখ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, কিন্তু তিনি তাদের মধ্যে এই ইয়াহইয়ার নাম উল্লেখ করেননি। বরং তিনি আবু বালজ ইয়াহইয়া ইবনে আবি সুলাইমের কথা উল্লেখ করেছেন, যিনি অন্য এক ব্যক্তি। তাই আমি আশঙ্কা করছি যে এখানে কোনো বিভ্রান্তি ঘটে থাকতে পারে।
তবুও সাখাভী রচিত 'ফাতহুল মুগিস' (পৃ. ১৩৪)
(৬) গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে: "যারা
(৭) বিরল ক্ষেত্র ব্যতীত কেবল নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারী থেকেই বর্ণনা করতেন: ইমাম আহমাদ এবং শু’বাহ … আর শু’বাহর ক্ষেত্রে এটিই প্রসিদ্ধ মত … অন্যথায় আসিম ইবনে আলী বলেছেন: আমি শু’বাহকে বলতে শুনেছি: 'আমি যদি আপনাদের নিকট কেবল নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারী থেকেই বর্ণনা করতাম, তবে আমি তিন জন
(৮) (এক সংস্করণে ত্রিশ জন)
(৯) ব্যতীত আর কারো থেকে হাদিস বর্ণনা করতাম না' … যাই হোক, তিনি কোনো বর্জনীয় (متروك) বর্ণনাকারী কিংবা যার দুর্বলতার (ضعفه) ওপর ঐকমত্য হয়েছে এমন কারো থেকে বর্ণনা করেন না।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৬)
হাল ইয়ুদরিকুল মামুমুর রাকাআতা বি ইদরাকিহির রুকুআ মাআল ইমাম - জিমনা আসারুল মুআল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ১১১)
وأما "مستدرك" الحاكم فقد عُرِف أن فيه تخليطًا كثيرًا، وتساهلاً في التصحيح وفيما يقع فيه من التوثيق، وقد شرحتُ ذلك في ترجمة الحاكم من "التنكيل"
(1).
وقد ذكر هو يحيى هذا في موضع آخر، واقتصر على قوله: "يحيى مدني سكنَ مصر، لم يُذكَر بجرح"، ذكر ذلك ابن حجر في "التهذيب"
(2)، وقال: "كأنه جعله مصريًّا لرواية أهل مصر عنه"، يعني: والمعروف أنه مدني سكن البصرة، فأما رواية بعض المصريين عنه فكأنهم لَقُوه بالمدينة أو بالموسم أو نحو ذلك، وكفى بكلمة البخاري جرحًا، وقد جاء عنه أنه قال: "كل من قلتُ فيه منكر الحديث لا تحلُّ الرواية عنه". انظر "فتح المغيث" طبع الهند (ص 162)
(3).
ومما يُوضِّح وهنَ هذا الحديث أن يحيى هذا تفرَّد به عن رجلين معروفين، أحدهما ــ وهو سعيد المقبري ــ مشهور جدًّا، فكيف يُقبَل من مثل يحيى مثلُ هذا التفرد؟
وأما الحديث الثاني: فتفرَّد به يحيى بن حُميد بن أبي سفيان المعافري المصري، رواه عن قُرَّة بن عبد الرحمن بن حَيْوِيل
(4) عن الزهري عن أبي
--------------------------------------------
পক্ষান্তরে হাকিম-এর "মুস্তাদরাক" সম্পর্কে এটি সুপরিচিত যে, এতে প্রচুর বিশৃঙ্খলা (تخليط) রয়েছে এবং এতে (হাদিস) সহিহ সাব্যস্তকরণ (تصحيح) ও বর্ণনাকারীদের নির্ভরযোগ্য সাব্যস্তকরণ (توثيق)-এর ক্ষেত্রে শিথিলতা (تساهل) পরিলক্ষিত হয়। আমি এটি "আত-তানকীল" গ্রন্থে হাকিম-এর জীবনী আলোচনায় ব্যাখ্যা করেছি
(1).
তিনি (হাকিম) এই ইয়াহিয়া সম্পর্কে অন্য স্থানে উল্লেখ করেছেন এবং কেবল এই কথাটুকুর ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছেন: "ইয়াহিয়া মাদানি, মিশরে বসবাস করতেন, তার ব্যাপারে কোনো সমালোচনা (جرح) উল্লেখ করা হয়নি"। ইবনে হাজার "আত-তাহজীব" গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন
(2) এবং বলেছেন: "মনে হচ্ছে তিনি তাকে মিশরীয় সাব্যস্ত করেছেন কারণ মিশরবাসীরা তার থেকে বর্ণনা করেছেন।" অর্থাৎ: সুপরিচিত বিষয় হলো তিনি মাদানি ছিলেন এবং বসরায় বসবাস করতেন। আর কিছু মিশরীয়র তার থেকে বর্ণনা করার বিষয়টি এমন হতে পারে যে, তারা তার সাথে মদিনায় অথবা হজের মৌসুমে বা এই জাতীয় কোনো স্থানে সাক্ষাৎ করেছিলেন। ইমাম বুখারির মন্তব্যটিই সমালোচনা (جرح) হিসেবে যথেষ্ট। তার (বুখারি) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "আমি যার সম্পর্কে 'মুনকারুল হাদিস' (منكر الحديث) বলি, তার থেকে (হাদিস) বর্ণনা করা বৈধ নয়।" দেখুন: "ফাতহুল মুগীস", ভারত মুদ্রণ (পৃ. ১৬২)
(3).
এই হাদিসের দুর্বলতা (وهن) স্পষ্টকারী বিষয়গুলোর মধ্যে একটি হলো, এই ইয়াহিয়া এটি দুইজন সুপরিচিত ব্যক্তি থেকে একাকী বর্ণনা (تفرد) করেছেন, যাদের একজন—সাঈদ আল-মাকবুরি—অত্যন্ত প্রসিদ্ধ। এমতাবস্থায় ইয়াহিয়ার মতো ব্যক্তির পক্ষ থেকে এ ধরনের একক বর্ণনা (تفرد) কীভাবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে?
আর দ্বিতীয় হাদিসটি: এটি ইয়াহিয়া ইবনে হুমাইদ ইবনে আবি সুফইয়ান আল-মুআফিরি আল-মিসরি একাকী বর্ণনা (تفرد) করেছেন। তিনি এটি বর্ণনা করেছেন কুররাহ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে হাইউইল
(4) থেকে, তিনি যুহরি থেকে, তিনি তার পিতা থেকে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৬)
হাল ইয়ুদরিকুল মামুমুর রাকাআতা বি ইদরাকিহির রুকুআ মাআল ইমাম - জিমনা আসারুল মুআল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ১১২)
سلمة عن أبي هريرة. ويحيى بن حميد هذا قال فيه البخاري
(1): "مجهول لا يُعتَمد على حديثه"، وضعفه الدارقطني
(2)، وذكره "العقيلي"
(3) في الضعفاء، وتقدم عن البيهقي أن هذا الحديث أضعفُ من سابقه. وقال ابن يونس في "تاريخ مصر"
(4): "أسند حديثًا واحدًا، وله مقطعات". وقال ابن عدي
(5): "تفرد بهذه الزيادة، ولا أعرف له غيره".
أقول: وإذا لم يكن له غير هذا الحديث، وقد تفرد به، فكيف يُقبَل؟
فإن قيل: فقد ذكره ابن حبان في "الثقات"
(6)، وأخرج ابن خزيمة حديثه هذا في "صحيحه".
قلت: أما "ثقات" ابن حبان فقد تقدم ما فيها، وأما ابن خزيمة فإنه يُخرج في "صحيحه" للمجهول إذا لم يَستنكِرْ حديثَه، وكأنه لم يَستنكر هذا لأنه عند كتابة الصحيح كان يرى الإدراك متفقًا عليه بين أهل العلم، كما تقدم في الكلام على الحديث الأول.
ومع هذا فقُرَّة بن عبد الرحمن فيه كلام
(7)، قال الإمام أحمد: "منكر الحديث" وقال ابن معين: "ضعيف الحديث"، وقال أبو زرعة: "الأحاديث التي
--------------------------------------------
সালামাহ্, আবু হুরায়রা থেকে। আর এই ইয়াহইয়া ইবনে হুমাইদ সম্পর্কে বুখারি
(1) বলেছেন: "তিনি অজ্ঞাতপরিচয় (مجهول), তার হাদিসের ওপর নির্ভর করা যায় না", এবং দারা কুতনি তাকে দুর্বল (ضعيف) বলেছেন
(2), আর উকাইলি তাকে 'আদ-দুয়াফা'
(3) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। বায়হাকি থেকে পূর্বে বর্ণিত হয়েছে যে, এই হাদিসটি তার পূর্ববর্তিটির চেয়েও অধিক দুর্বল (أضعف)। ইবনে ইউনুস 'তারিখু মিসর'
(4) গ্রন্থে বলেছেন: "তিনি মাত্র একটি হাদিস সূত্রসহ বর্ণনা (أسند) করেছেন এবং তার কিছু বিচ্ছিন্ন বর্ণনা (مقطعات) রয়েছে।" ইবনে আদি
(5) বলেছেন: "তিনি এই অতিরিক্ত অংশটুকু একাকী বর্ণনা (تفرد) করেছেন, আমি এটি ছাড়া তার অন্য কোনো হাদিস জানি না।"
আমি বলছি: যদি এই একটি হাদিস ছাড়া তার অন্য কোনো হাদিস না থাকে এবং তিনি সেটি একাকী বর্ণনা (تفرد) করে থাকেন, তবে তা কীভাবে গ্রহণযোগ্য হবে?
যদি বলা হয়: ইবনে হিব্বান তাকে 'আদ-থিকাত'
(6) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং ইবনে খুজাইমা তার এই হাদিসটি নিজের 'সহিহ' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।
আমি উত্তরে বলব: ইবনে হিব্বানের 'থিকাত' গ্রন্থের মানদণ্ড সম্পর্কে যা বলার তা আগেই অতিক্রান্ত হয়েছে। আর ইবনে খুজাইমার বিষয় হলো, তিনি তার 'সহিহ' গ্রন্থে অজ্ঞাতপরিচয় (مجهول) রাবির হাদিস বর্ণনা করেন যখন তিনি তার হাদিসকে আপত্তিকর বা প্রত্যাখ্যাত (يستنكر) মনে না করেন। সম্ভবত তিনি এটিকে প্রত্যাখ্যাত (يستنكر) মনে করেননি কারণ 'সহিহ' রচনার সময় তিনি সমসাময়িকদের মধ্যে সাক্ষাত ও শ্রুতির বিষয়টি সর্বসম্মত বলে মনে করতেন, যেমনটি প্রথম হাদিসের আলোচনায় অতিক্রান্ত হয়েছে।
তা সত্ত্বেও কুররাহ ইবনে আবদুর রহমান সম্পর্কে সমালোচনা (كلام) রয়েছে
(7); ইমাম আহমাদ বলেছেন: "তিনি প্রত্যাখ্যাত হাদিস বর্ণনাকারী (منكر الحديث)", ইবনে মাঈন বলেছেন: "তিনি দুর্বল হাদিস বর্ণনাকারী (ضعيف الحديث)", আর আবু জুরআ বলেছেন: "যেসব হাদিস..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৬)
হাল ইয়ুদরিকুল মামুমুর রাকাআতা বি ইদরাকিহির রুকুআ মাআল ইমাম - জিমনা আসারুল মুআল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ১১৩)
يرويها مناكير"، وأخرج له مسلم في "صحيحه"
(1) مقرونًا بآخر، ولعل اعتماده كان على ذاك الآخر، وذكره ابن حبان في "الثقات"
(2) وأشار إلى لينٍ فيه.
نعم، قوله أولَ الحديث: "من أدرك ركعةً من الصلاة فقد أدركها" معروفٌ صحيحٌ، كما يأتي في الحديث الثالث، وإنما المنكر زيادته: "قبل أن يُقيمَ الإمام صُلبه". وقد دفع البخاري في "جزء القراءة"
(3) هذه الزيادة بأن مالكًا وجماعة من الأئمة رووا الحديث عن الزهري بسنده ولم يذكروا هذه الزيادة، قال
(4): "وقوله: قبل أن يُقيمَ الإمامُ صلبه، لا معنى له ولا وجهَ لزيادته".
يعني أن معنى الحديث في رواية مالك والأئمة: من أدرك من الصلاة في وقتها ركعةً أي واحدة من الثنتين اللتين هما الصبح، أو الثلاث التي هي المغرب، أو الأربع التي هي الظهر أو العصر أو العشاء للمقيم= فقد أدركها، أي أدرك الصلاة أداءً، أي أنها لم تَفُتْه.
وإذا كان كذلك فلا معنى ولا وجهَ لزيادة "قبل أن يقيم الإمام صلبه"، غاية الأمر أن يكون أحد الرواة توهَّم أن معنى الحديث: من أدرك الركوع مع الإمام فقد أدرك الركعة؛ فزاد هذه الزيادة تفسيرًا في زعمه؛ وقد جوَّز بعضهم أن تكون من زيادة الزهري، لأنه قد عُرِف عنه أنه كان كثيرًا ما يَصِلُ الحديثَ بكلامٍ من عنده على وجه التفسير أو نحوه، فربما التبس ذلك على بعض الضعفاء كقُرَّة.
--------------------------------------------
"তিনি বর্জনীয় (منكر) হাদিসসমূহ বর্ণনা করেন।" ইমাম মুসলিম তাঁর "সহিহ" গ্রন্থে অপর একজনের সাথে তাঁকে যুক্ত করে বর্ণনা করেছেন; সম্ভবত তাঁর নির্ভরতা ছিল সেই অপর ব্যক্তির ওপর। ইবনে হিব্বান তাঁকে "আত-সিকাত" গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং তাঁর মাঝে কিছুটা শিথিলতা (لين) থাকার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন।
হ্যাঁ, হাদিসের শুরুর অংশ: "যে ব্যক্তি সালাতের এক রাকাত পেল, সে সালাত পেল"—এটি একটি পরিচিত (معروف) ও বিশুদ্ধ (صحيح) বর্ণনা, যা সামনে তৃতীয় হাদিসে আসবে। তবে বর্জনীয় (منكر) হলো তাঁর অতিরিক্ত অংশ (زيادة): "ইমাম তাঁর পিঠ সোজা করার আগে"। ইমাম বুখারি "জুযউল কিরাত" গ্রন্থে এই অতিরিক্ত অংশটি (زيادة) এই যুক্তিতে প্রত্যাখ্যান করেছেন যে, ইমাম মালিক এবং একদল ইমাম যুহরি থেকে তাঁর সনদে (سند) হাদিসটি বর্ণনা করেছেন এবং তাঁরা এই অতিরিক্ত অংশটি উল্লেখ করেননি। তিনি বলেছেন: "আর তাঁর কথা: 'ইমাম তাঁর পিঠ সোজা করার আগে'—এর কোনো অর্থ নেই এবং এই অতিরিক্ত সংযোজনের (زيادة) কোনো ভিত্তি নেই।"
অর্থাৎ ইমাম মালিক ও অন্যান্য ইমামগণের বর্ণনায় হাদিসের অর্থ হলো: যে ব্যক্তি সালাতের ওয়াক্তের মধ্যে এক রাকাত পেল—অর্থাৎ ফজরের দুই রাকাতের এক রাকাত, অথবা মাগরিবের তিন রাকাতের এক রাকাত, কিংবা মুকিম অবস্থায় জোহর, আসর বা এশার চার রাকাতের এক রাকাত—সে সালাতটি পেল, অর্থাৎ সে সালাতটি যথাসময়ে (أداء) আদায় করল, অর্থাৎ তা তার থেকে ছুটে যায়নি।
আর বিষয়টি যদি এমনই হয়, তবে "ইমাম তাঁর পিঠ সোজা করার আগে"—এই অতিরিক্ত অংশের (زيادة) কোনো অর্থ বা ভিত্তি থাকে না। বড়জোর এমন হতে পারে যে, কোনো একজন বর্ণনাকারী ভুল ধারণা (توهُّم) করেছেন যে হাদিসের অর্থ হলো: যে ব্যক্তি ইমামের সাথে রুকু (ركوع) পেল, সে রাকাত পেল; ফলে তিনি নিজ ধারণা অনুযায়ী এটি ব্যাখ্যা হিসেবে যোগ করেছেন। কেউ কেউ অভিমত দিয়েছেন যে এটি যুহরির সংযোজন (زيادة) হতে পারে; কারণ তাঁর সম্পর্কে জানা যায় যে, তিনি প্রায়ই ব্যাখ্যার ছলে বা অনুরূপ কারণে হাদিসের সাথে নিজ পক্ষ থেকে কথা যুক্ত করতেন। ফলে সম্ভবত কুররা-র মতো কিছু দুর্বল (ضعيف) বর্ণনাকারীর কাছে বিষয়টি অস্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৬)
হাল ইয়ুদরিকুল মামুমুর রাকাআতা বি ইদরাকিহির রুকুআ মাআল ইমাম - জিমনা আসারুল মুআল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ১১৪)
قال البخاري في موضع آخر من "جزء القراءة"
(1): "قال مالك: قال ربيعة للزهري: إذا حدثتَ فبيِّنْ كلامَك من كلام النبي صلى الله عليه وسلم ".
لكن سيأتي في الكلام على الحديث الثالث ما يدفع هذا التجويز، فالظاهر أن الزيادة من قرة بن عبد الرحمن أو يحيى بن حُمَيد.
وأما الحديث الثالث: فلا خلافَ في صحته، وهو في "الموطأ" و"الصحيحين"
(2) وغيرهما، والتشبُّثُ به في هذه المسألة مبنيٌّ على زعم أن معناه: من أدرك من الصلاة مع الإمام ركوعًا فقد أدرك الركعة، وقد يُستأنس لهذا بالزيادة المتقدمة، وبما في "صحيح مسلم"
(3) عن حرملة عن ابن وهب عن يونس عن الزهري عن أبي سلمة عن أبي هريرة مرفوعًا: "من أدرك ركعة من الصلاة مع الإمام فقد أدرك الصلاة".
فأما الزيادة السابقة فقد فُسِّر ما فيها، وأما زيادة "مع الإمام" فقد ردَّها مسلم نفسُه، فرواه [عن يونس] وعن جماعة عن الزهري، قال
(4): "وليس في حديث أحدٍ منهم "مع الإمام".
وله في "صحيح البخاري"
(5) و"جزء القراءة"
(6) و"سنن [النسائي] "
(7)--------------------------------------------
ইমাম বুখারি 'জুযউল কিরাত' এর অন্য এক স্থানে
(১) বলেছেন: "মালিক বলেছেন: রাবিআহ যুহরিকে বলেছেন: আপনি যখন হাদিস বর্ণনা করবেন, তখন আপনার কথাকে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথা থেকে পৃথক করে স্পষ্ট করবেন"।
তবে তৃতীয় হাদিসটি আলোচনার সময় এমন কিছু আসবে যা এই সম্ভাবনাকে (تجويز) নাকচ করে দেয়; সুতরাং প্রতীয়মান হয় যে, এই অতিরিক্ত অংশটি (زيادة) কুররাহ বিন আবদুর রহমান অথবা ইয়াহইয়া বিন হুমাইদ-এর পক্ষ থেকে।
আর তৃতীয় হাদিসটির ব্যাপারে কথা হলো: এর বিশুদ্ধতা (صحة) নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই। এটি 'মুয়াত্তা', 'সহিহাইন' এবং অন্যান্য কিতাবে রয়েছে
(২)। এই মাসআলায় এই হাদিসটিকে আঁকড়ে ধরার ভিত্তি হলো এই ধারণা যে এর অর্থ হলো: যে ব্যক্তি ইমামের সাথে সালাতের রুকু পেল, সে ওই রাকাতটি পেল। এর সমর্থনে পূর্বে উল্লিখিত অতিরিক্ত অংশটি (زيادة) এবং 'সহিহ মুসলিম'-এ
(৩) হারমালা, তিনি ইবনে ওয়াহাব থেকে, তিনি ইউনুস থেকে, তিনি যুহরি থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে মারফু (مرفوع) সূত্রে যা বর্ণিত হয়েছে তা প্রমাণ হিসেবে পেশ করা যেতে পারে: "যে ব্যক্তি ইমামের সাথে সালাতের এক রাকাত পেল, সে সালাত পেল"।
পূর্বোক্ত অতিরিক্ত অংশটির (زيادة) বিষয়বস্তু ব্যাখ্যা করা হয়েছে; আর 'ইমামের সাথে' এই অতিরিক্ত অংশটিকে (زيادة) ইমাম মুসলিম নিজেই প্রত্যাখ্যান (رد) করেছেন। তিনি এটি [ইউনুস থেকে] এবং একদল বর্ণনাকারীর সূত্রে যুহরি থেকে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন
(৪): "তাদের কারো হাদিসেই 'ইমামের সাথে' কথাটি নেই"।
এটি 'সহিহ বুখারি'
(৫), 'জুযউল কিরাত'
(৬) এবং 'সুনানে [নাসায়ি]'
(৭)-তেও তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৬)
হাল ইয়ুদরিকুল মামুমুর রাকাআতা বি ইদরাকিহির রুকুআ মাআল ইমাম - জিমনা আসারুল মুআল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ১১৫)
وغيرها طرق كثيرة عن يونس وغيره بدون هذه الزيادة، والظاهر أن الوهم في زيادتها من حرملة، وهو الذي روى عن ابن وهب عن يحيى بن حميد الحديث، فكأنه جاءه الوهم من هناك.
وقد أخرج البخاري في "جزء القراءة"
(1) من طريق سليمان بن بلال أخبرني عبيد الله بن عمر ويحيى بن سعيد ويونس عن ابن شهاب [الزهري] عن أبي سلمة عن أبي هريرة أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "من أدرك من الصلاة ركعةً فقد أدرك الصلاة إلا أن يقضي ما فاته". وهو ذاك الحديث عينُه، وزيادة "إلا أن يقضي ما فاته" تدفع زيادةَ يحيى بن حميد وزيادة حرملة.
وفي روايةٍ في "صحيح مسلم"
(2) وغيره من طريق الزهري عن أبي سلمة عن أبي هريرة مرفوعًا: "من أدرك ركعةً من الصبح قبل أن تطلعَ الشمسُ فقد أدرك الصبحَ، ومن أدرك ركعةً من العصر قبل أن تغربَ الشمس فقد أدرك العصر".
والحديث بهذا اللفظ ونحوِه أشهر، فقد صحَّ هكذا كما ترى عن الزهري عن أبي سلمة عن أبي هريرة، وهو سند الأول، وأخرجه البخاري في "الصحيح"
(3) بنحوه من طريق يحيى بن أبي كثير عن أبي سلمة، وأخرجه مسلم
(4) من طريق عطاء بن يسار وبُسر بن سعيد والأعرج عن أبي هريرة،
--------------------------------------------
ইউনুস ও অন্যদের সূত্রে এই অতিরিক্ত অংশ (زيادة) ব্যতিরেকে আরও অনেকগুলো পথ বা সূত্র (طرق) বর্ণিত হয়েছে। দৃশ্যত প্রতীয়মান হয় যে, এই অতিরিক্ত অংশ বর্ণনার ক্ষেত্রে ভুলটি (الوهم) হারমালার পক্ষ থেকে হয়েছে; তিনি ইবনে ওয়াহাব থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে হুমাইদ থেকে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। ফলে মনে হচ্ছে ভুলটি (الوهم) সেখান থেকেই সূত্রপাত হয়েছে।
ইমাম বুখারি তাঁর "জুযউল কিরাআহ"
(১) গ্রন্থে সুলাইমান ইবনে বিলাল-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাকে উবায়দুল্লাহ ইবনে উমর, ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ ও ইউনুস—ইবনে শিহাব [যুহরি] থেকে, তিনি আবু সালামা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে সংবাদ দিয়েছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি সালাতের এক রাকাত পেল, সে পুরো সালাতই পেল, তবে তাকে ছুটে যাওয়া অংশটুকু পূরণ করতে হবে।" এটি মূলত সেই একই হাদিস। আর "তবে তাকে ছুটে যাওয়া অংশটুকু পূরণ করতে হবে" এই অতিরিক্ত অংশটি (زيادة) ইয়াহইয়া ইবনে হুমাইদ ও হারমালার বর্ণিত অতিরিক্ত অংশকে (زيادة) খণ্ডন করে।
"সহিহ মুসলিম"
(২) ও অন্যান্য গ্রন্থে যুহরি থেকে, আবু সালামা থেকে, আবু হুরায়রা (রা.) থেকে মারফু (مرفوع) সূত্রে বর্ণিত এক বর্ণনায় (رواية) এসেছে: "যে ব্যক্তি সূর্যোদয়ের আগে ফজরের এক রাকাত পেল, সে ফজর পেল। আর যে ব্যক্তি সূর্যাস্তের আগে আসরের এক রাকাত পেল, সে আসর পেল।"
এই শব্দে বা অনুরূপ শব্দে হাদিসটি অধিক প্রসিদ্ধ। আপনি দেখতে পাচ্ছেন যে, যুহরি থেকে, আবু সালামা থেকে, আবু হুরায়রা-এর সূত্রে এটি এভাবেই সহিহ (صح) সাব্যস্ত হয়েছে। এটিই প্রথম হাদিসটির সনদ (سند)। ইমাম বুখারি "সহিহ"
(৩) গ্রন্থে ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসির থেকে, তিনি আবু সালামা থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আর ইমাম মুসলিম
(৪) আতা ইবনে ইয়াসার, বুসর ইবনে সাঈদ ও আরাহ-এর সূত্রে আবু হুরায়রা থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৬)
হাল ইয়ুদরিকুল মামুমুর রাকাআতা বি ইদরাকিহির রুকুআ মাআল ইমাম - জিমনা আসারুল মুআল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ১১৬)
ومن حديث عائشة
(1).
ووقع في بعض الروايات بلفظ: "سجدة"
(2)، ولفظ حديث عائشة: "من أدركَ من الصلاة سجدةً
… " وفي آخره: "والسجدة إنما هي الركعة"
(3).
وفي "الفتح"
(4) في شرح قوله: "فقد أدرك الصبح": " .. يُحمَل على أنه أدرك
(5) الوقت، فإذا صلَّى ركعةً أخرى فقد كملتْ صلاته .. وقد صرَّح بذلك في رواية الدراوردي عن زيد بن أسلم، أخرجه البيهقي
(6) من وجهين، ولفظه: "من أدرك من الصبح ركعة
(7) قبل أن تطلع الشمس، وركعةً بعدما تطلع الشمس، فقد أدرك الصلاة". وأصرحُ منه رواية أبي غسَّان محمد بن مُطرِّف عن زيد بن أسلم عن عطاء ــ وهو ابن يسار ــ عن أبي هريرة بلفظ: "من صلَّى ركعةً من العصر قبل أن تغرب الشمس ثم صلَّى ما بقي بعد غروب الشمس فلم تَفُتْه العصر"، وقال مثل ذلك في الصبح. وقد تقدمتْ رواية المصنِّف
(8) من طريق أبي سلمة عن أبي هريرة، وقال فيها: "فليُتِمَّ
--------------------------------------------
এবং আয়িশা (রা.)-এর হাদিস থেকে বর্ণিত
(1)।
কিছু বর্ণনা (رواية)
(2)-এ "সিজদাহ" শব্দে (لفظ) এসেছে, এবং আয়িশা (রা.)-এর হাদিসের শব্দ (لفظ) হলো: "যে ব্যক্তি সালাতের এক সিজদাহ পেল …" এবং এর শেষে রয়েছে: "আর এখানে সিজদাহ অর্থ হলো রাকাত"
(3)।
"ফাতহুল বারি"
(4) গ্রন্থে তাঁর এই উক্তির ব্যাখ্যায়— "তবে সে সুব্হ (এর ওয়াক্ত) পেল"—বলা হয়েছে: ".. একে এভাবে ধরা হবে যে সে ওয়াক্ত পেয়েছে
(5), সুতরাং সে যখন অন্য আরেকটি রাকাত পড়বে তখন তার সালাত পূর্ণ হয়ে যাবে... এবং দারাওয়ার্দি কর্তৃক যায়েদ ইবনে আসলামের সূত্রে বর্ণিত বর্ণনা (رواية)-এ বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। বায়হাকি এটি দুটি সূত্র (وجه) থেকে বর্ণনা করেছেন
(6), যার শব্দ (لفظ): "যে ব্যক্তি সূর্য উদিত হওয়ার পূর্বে সুব্হ-এর এক রাকাত পেল এবং সূর্য উদিত হওয়ার পর এক রাকাত পেল, সে সালাত (ওয়াক্তমতো) পেল।" এর চেয়েও স্পষ্ট হলো আবু গাসসান মুহাম্মদ ইবনে মুতাররিফ-এর বর্ণনা (رواية), যা তিনি যায়েদ ইবনে আসলাম থেকে, তিনি আতা—যিনি ইবনে ইয়াসার—থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে এই শব্দে (لفظ) বর্ণনা করেছেন: "যে ব্যক্তি সূর্য ডোবার আগে আসরের এক রাকাত সালাত আদায় করল, অতঃপর সূর্য ডোবার পর অবশিষ্ট অংশ আদায় করল, তার আসর সালাত ছুটে যায়নি।" সুব্হ-এর ক্ষেত্রেও তিনি অনুরূপ বলেছেন। আর গ্রন্থকারের বর্ণনা (رواية)
(8) আবু সালামার সূত্র (طريق) হয়ে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে ইতোপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে, যাতে তিনি বলেছেন: "সে যেন পূর্ণ করে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৬)
হাল ইয়ুদরিকুল মামুমুর রাকাআতা বি ইদরাকিহির রুকুআ মাআল ইমাম - জিমনা আসারুল মুআল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ১১৭)
صلاتَه". وللنسائي
(1) من وجه آخر: "من أدرك ركعةً من الصلاة فقد أدرك الصلاة كلها إلا أنه يقضي ما فاته". وللبيهقي
(2) من وجه آخر: "من أدرك ركعةً من الصبح قبل أن تطلع الشمسُ فلْيُصَل إليها أخرى".
وهذا كله يُبيِّن أنه لا وجهَ لزيادة "مع الإمام"، ولا لزيادة "قبل أن يُقِيمَ الإمامُ صُلْبَه"، كما يُبيِّن أنه لا وجهَ للتشبُّث بهذا الحديث في قضية إدراك الركعة بإدراك الركوع.
ويُوضِّح هذا أن أبا هريرة نفسه لم يفهم هذا من الحديث، فقد صحّ عنه كما يأتي: "لا يُجزِئك إلا أن تُدرِكَ الإمامَ قائمًا"
(3). وهكذا الزهري، صحّ عنه أنه ذكر الحديث عن أبي سلمة مرفوعًا بلفظ: "من أدرك من الصلاة ركعةً واحدة فقد أدركها"، ثم قال الزهري
(4): "ونرى لما بلغنا عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أنه من أدرك من الجمعة ركعة واحدة فقد أدرك"
(5)، يعني أن كون الجمعة مع الإمام هو في معنى الوقت للصلاة في أن كلًّا منهما إذا فات فاتت الصلاة، فإن
(6) كانت السنة بأنه يكفي لإدراك الوقت إدراكُ ركعةٍ، فكذلك ينبغي أن يكفي لإدراك الجمعة مع الإمام إدراكُ ركعة.
--------------------------------------------
তার সালাত।" এবং নাসায়ির
(১) নিকট অন্য সূত্রে বর্ণিত হয়েছে: "যে ব্যক্তি সালাতের এক রাকাত পেল, সে সম্পূর্ণ সালাত পেল; তবে সে যা হারিয়েছে তা কাজা করবে।" এবং বায়হাকির
(২) নিকট অন্য সূত্রে বর্ণিত হয়েছে: "যে ব্যক্তি সূর্যোদয়ের পূর্বে ফজরের এক রাকাত পেল, সে যেন তার সাথে আরেকটি (রাকাত) মিলিয়ে নেয়।"
এই সবকিছুই স্পষ্ট করে যে, 'ইমামের সাথে' শব্দগুলো বৃদ্ধি করার কোনো ভিত্তি নেই, এবং 'ইমাম পিঠ সোজা করার পূর্বে' শব্দগুলো বৃদ্ধি করারও কোনো অবকাশ নেই। ঠিক তেমনিভাবে এটিও স্পষ্ট করে যে, রুকু পাওয়ার মাধ্যমে রাকাত পাওয়ার মাসআলায় এই হাদিসটিকে আঁকড়ে ধরার কোনো সুযোগ নেই।
এটি আরও স্পষ্ট করে যে, আবু হুরায়রা (রা.) নিজেও এই হাদিস থেকে এমনটি বোঝেননি; কারণ তাঁর থেকে বিশুদ্ধভাবে (صحيح) প্রমাণিত হয়েছে যেমনটি সামনে আসছে: "ইমামকে দণ্ডায়মান অবস্থায় না পাওয়া পর্যন্ত তা তোমার জন্য যথেষ্ট হবে না"
(৩)। অনুরূপভাবে যুহরি (রহ.) থেকেও বিশুদ্ধভাবে (صحيح) বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি আবু সালামাহ থেকে মারফু (مرفوع) হিসেবে এই শব্দে হাদিসটি উল্লেখ করেছেন: "যে ব্যক্তি সালাতের এক রাকাত পেল, সে তা পেল।" এরপর যুহরি
(৪) বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সা.) থেকে আমাদের নিকট যা পৌঁছেছে তার আলোকে আমরা মনে করি যে, যে ব্যক্তি জুমার এক রাকাত পেল, সে জুমা পেল"
(৫)। অর্থাৎ, ইমামের সাথে জুমা পাওয়ার বিষয়টি সালাতের ওয়াক্তের অর্থের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ যে, এ দুটির কোনো একটি ছুটে গেলে সালাতও ছুটে যায়। সুতরাং
(৬) সুন্নাহ যদি এই হয় যে, ওয়াক্ত পাওয়ার জন্য এক রাকাত পাওয়াই যথেষ্ট, তবে ইমামের সাথে জুমা পাওয়ার জন্যও এক রাকাত পাওয়াই যথেষ্ট হওয়া উচিত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৬)
হাল ইয়ুদরিকুল মামুমুর রাকাআতা বি ইদরাকিহির রুকুআ মাআল ইমাম - জিমনা আসারুল মুআল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ১১৮)
ويوضِّحه أيضًا أن الركعة في عرف الشرع حقيقةٌ في واحدة من الاثنتين اللتين هما الصبح، أو من الثلاثِ التي هي المغرب، أو من الأربعِ التي هي الظهر أو العصر أو العشاء في حقِّ المقيم ونحو ذلك.
وقد دفع الشيخ ــ عافاه الله ــ هذا، فقال: "بل الركعة حقيقة في الركوع لغةً وشرعًا كالسجدة في السجود، وإطلاقُها على ما يشمل القيامَ والقراءةَ والركوعَ والسجودَ من باب إطلاق الجزء على الكلّ، كإطلاق السجدة على ذلك، وكإطلاق العين على الجاسوس، والرقبة على العبد أو الجارية. ومما جاء في إطلاقها على الركوع أحاديث
… ".
فذكر حديث يحيى بن أبي سليمان وحديث يحيى بن حُميد المتقدمَين، وحديث البراء في وصف صلاة النبي صلى الله عليه وسلم، وفيه: "فوجدت قيامه كركعتِه وسجدتِه، واعتدالَه في الركعة كسجدتِه"
(1). وستة أحاديث في وصف الكسوف.
ثم قال: "فأنت ترى في هذه الأحاديث إطلاق الركعة على الركوع بدون قرينة، لأنها حقيقة، وإن كانت اشتهرتْ في عرف المتأخرين فيما هو أعمُّ من الركوع، فذلك لا ينافي حقيقتها اللغوية والشرعية في الركوع".
أقول: في هذا كلِّه نظر، نعم إطلاق "ركعة" على المرَّة من الركوع موافق للحقيقة اللغوية، لكن لا يلزم أن يكون هكذا في الشرع. وقوله: "من باب إطلاق الجزء على الكل" حقٌّ، فيكون مجازًا لغةً، لكن لا يلزم من ذلك أن
--------------------------------------------
এটি আরও স্পষ্ট করে যে, শরিয়তের পরিভাষায় রাকআত (ركعة) শব্দটি মূলত ফজরের দুই রাকআতের একটির ক্ষেত্রে, অথবা মাগরিবের তিন রাকআতের একটির ক্ষেত্রে, অথবা মুকিম ব্যক্তির ক্ষেত্রে জোহর, আসর বা এশার চার রাকআতের একটির ক্ষেত্রে প্রকৃত অর্থে (حقيقة) ব্যবহৃত হয় এবং অনুরূপ বিষয়গুলো।
শায়খ —আল্লাহ তাঁকে নিরাপদ রাখুন— এটি খণ্ডন করেছেন এবং বলেছেন: "বরং আভিধানিক ও শরয়ি উভয় দিক থেকেই রুকু (ركوع) করা অর্থে রাকআত (ركعة) শব্দটি প্রকৃত অর্থে (حقيقة) ব্যবহৃত হয়, যেমন সিজদাহ (سجدة) শব্দটি সিজদাহ করার অর্থে ব্যবহৃত হয়। আর কিয়াম (قيام), কিরাআত (قراءة), রুকু (ركوع) ও সিজদাহ (سجود)-র সমষ্টির ওপর এই শব্দের প্রয়োগ হলো মূলত অংশের শব্দ দিয়ে পূর্ণাঙ্গকে বুঝানো (إطلاق الجزء على الكل) পর্যায়ের, ঠিক যেমন সিজদাহ (سجدة) শব্দটির প্রয়োগ এবং গোয়েন্দার ক্ষেত্রে 'চোখ' বা দাস-দাসীর ক্ষেত্রে 'ঘাড়' শব্দের প্রয়োগ হয়ে থাকে। রুকু (ركوع) অর্থে এর ব্যবহারের ক্ষেত্রে এমন কিছু হাদিস রয়েছে যেগুলোতে
… "।
অতঃপর তিনি পূর্বে উল্লেখিত ইয়াহইয়া ইবনে আবি সুলাইমান ও ইয়াহইয়া ইবনে হুমাইদ-এর হাদিস দুটি এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সালাতের বর্ণনায় বারা (রা.)-এর হাদিসটি উল্লেখ করেছেন। যাতে রয়েছে: "আমি তাঁর কিয়াম (قيام)-কে তাঁর রুকু (ركعة) ও সিজদাহর (سجدة) মতো পেয়েছি এবং রুকু পরবর্তী সোজা হয়ে দাঁড়ানোকে (اعتدال) তাঁর সিজদাহর (سجدة) সমতুল্য পেয়েছি"
(১)। এবং সূর্যগ্রহণের সালাতের বর্ণনায় আরও ছয়টি হাদিস উল্লেখ করেছেন।
এরপর তিনি বললেন: "সুতরাং আপনি এই হাদিসগুলোতে কোনো সূত্র (قرينة) ছাড়াই রুকু (ركوع) অর্থে রাকআত (ركعة) শব্দের প্রয়োগ দেখছেন, কারণ এটিই প্রকৃত অর্থ (حقيقة)। যদিও পরবর্তী যুগের আলিমদের পরিভাষায় রুকুর (ركوع) চেয়ে ব্যাপকতর অর্থে এটি প্রসিদ্ধি লাভ করেছে, তবুও তা রুকু (ركوع) অর্থে এর আভিধানিক ও শরয়ি প্রকৃত অর্থ (حقيقة) হওয়ার পরিপন্থী নয়।"
আমি বলি: এ সবগুলোর মধ্যেই পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে। হ্যাঁ, একবার রুকু (ركوع) করা অর্থে রাকআত (ركعة) শব্দের প্রয়োগ আভিধানিক প্রকৃত অর্থের (حقيقة) সাথে সংগতিপূর্ণ, কিন্তু শরয়ি ক্ষেত্রেও বিষয়টি এমন হওয়া আবশ্যক নয়। আর তাঁর কথা 'অংশের শব্দ দিয়ে পূর্ণাঙ্গকে বুঝানো'র (إطلاق الجزء على الكل) অন্তর্ভুক্ত হওয়াটি সঠিক, সেক্ষেত্রে এটি আভিধানিক দিক থেকে রূপক (مجاز) হবে, কিন্তু তা থেকে এটি আবশ্যক হয় না যে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৬)
হাল ইয়ুদরিকুল মামুমুর রাকাআতা বি ইদরাকিহির রুকুআ মাআল ইমাম - জিমনা আসারুল মুআল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ১১৯)
يكون مجازًا في الشرع. وكافَّة الحقائق الشرعية ــ أعني الألفاظ التي نقلها الشارع عن معانيها اللغوية إلى معانٍ شرعية ــ بين معانيها الشرعية ومعانيها اللغوية علاقات مجازية، كالإيمان والصلاة والزكاة والصيام وغيرها.
وأما تلك الأحاديث التي ذكرها الشيخ فالأولانِ لم يثبتا كما مرَّ، ومع ذلك فالقرينة فيهما قائمة، وهي في الأول قوله: "إذا جئتم إلى الصلاة ونحن سجودٌ فاسجدوا ولا تعدُّوها شيئَا"، وفي الثاني قوله: ""قبل أن يُقيمَ الإمامُ صُلْبه"، فكلٌّ من هاتين العبارتين تقتضي أن تكون كلمة "ركعة" في بقية الحديث مرادًا بها الركوعُ، فلولا هذا الاقتضاء لما سلَّمنا أن الركعة في الحديثين عبارة عن الركوع، على أننا إنما نُسلِّم ذلك على فرض صحة الزيادة المقتضية، فأما إذا أبطلناها فلا، كما تقدم.
والقرينة في حديث البراء في قوله "قيامه كركعتِه
(1) ": أنه من الممتنع أن يكون القيامُ وحدَه مساويًا لما يَشملُه ويشمَلُ الركوعَ والاعتدالَ والسجدتينِ والجلسةَ بينهما، ضرورةَ أن الجزء لا يساوي الكل. وأما قوله فيه: "واعتداله في الركعة كسجدته"، فالقرينة فيه أن يظهر أن تعريف الركعة للعهد الذكري، وبذلك تكون الثانية عينَ الأولى، ويساعد ذلك قولُه: "واعتداله".
ومع هذا فليس هذا اللفظ في "الصحيح"، والذي في البخاري
(2): "كان ركوعُ النبي صلى الله عليه وسلم وسجودُه وإذا رفعَ رأسَه من الركوع وبين السجدتينِ
--------------------------------------------
এটি শরিয়তে রূপক (مجازًا) হিসেবে গণ্য হবে। আর সমস্ত শরয়ী বাস্তবতা (الحقائق الشرعية) — অর্থাৎ ঐসব শব্দ যা শরিয়ত প্রবর্তক তার আভিধানিক অর্থ (معانيها اللغوية) থেকে শরয়ী অর্থের (معانٍ شرعية) দিকে পরিবর্তন করেছেন — সেগুলোর শরয়ী অর্থ ও আভিধানিক অর্থের মধ্যে রূপক সম্পর্ক (علاقات مجازية) বিদ্যমান, যেমন: ঈমান, সালাত, জাকাত, সিয়াম এবং অন্যান্য।
আর শায়খ যে হাদিসগুলো উল্লেখ করেছেন, সেগুলোর মধ্যে প্রথম দুটি সাব্যস্ত (لم يثبتا) হয়নি যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। তা সত্ত্বেও, এ দুটিতে প্রাসঙ্গিক ইঙ্গিত (القرينة) বিদ্যমান। প্রথমটিতে তাঁর বাণী হলো: "যখন তোমরা সালাতে আসবে এবং আমরা সিজদাবনত থাকব, তখন তোমরাও সিজদা করবে কিন্তু সেটাকে কোনো কিছু হিসেবে গণ্য করো না।" আর দ্বিতীয়টিতে তাঁর বাণী হলো: "ইমাম তাঁর পিঠ সোজা করার পূর্বে।" সুতরাং এই দুটি ইবারতের প্রত্যেকটিই দাবি করে যে, হাদিসের অবশিষ্টাংশে "রাকাত" (ركعة) শব্দটি দ্বারা রুকু (الركوع) উদ্দেশ্য। যদি এই দাবি না থাকত, তবে আমরা এই দুটি হাদিসে রাকাত বলতে রুকু বোঝায় তা মেনে নিতাম না। অধিকন্তু, আমরা তা কেবল তখনই মেনে নিব যদি সেই দাবিযুক্ত অতিরিক্ত অংশটির বিশুদ্ধতা (صحة) ধরে নেওয়া হয়। কিন্তু যদি আমরা সেটিকে বাতিল সাব্যস্ত করি, তবে আর তা হবে না, যেমনটি আগে বলা হয়েছে।
আর বারা (রা.)-এর হাদিসে তাঁর বাণী "তাঁর দণ্ডায়মান হওয়া তাঁর রাকাতের
(1) মতো" এর মধ্যে ইঙ্গিত (القرينة) হলো: এটি অসম্ভব যে কেবল কিয়াম একা এমন কিছুর সমান হবে যা একে (কিয়াম) এবং রুকু, ই’তিদাল (الاعتدال), দুই সিজদা ও তাদের মধ্যবর্তী বৈঠককে অন্তর্ভুক্ত করে; কারণ এটি স্বতঃসিদ্ধ যে অংশ পূর্ণের সমান হয় না। আর তাতে তাঁর বাণী: "এবং রাকাতের মধ্যে তাঁর ই’তিদাল তাঁর সিজদার মতো", এর মধ্যে ইঙ্গিত (القرينة) হলো এটি স্পষ্ট হওয়া যে রাকাতের সংজ্ঞাটি পূর্বে আলোচিত বিষয়ের (العهد الذكري) জন্য, আর এর মাধ্যমে দ্বিতীয়টি প্রথমটিরই অনুরূপ হবে এবং তাঁর বাণী "এবং তাঁর ই’তিদাল" একে সমর্থন করে।
তা সত্ত্বেও এই পাঠটি সহিহ গ্রন্থে নেই। আর যা বুখারিতে
(2) রয়েছে তা হলো: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রুকু, সিজদা, রুকু থেকে মাথা তোলার পর এবং দুই সিজদার মধ্যবর্তী সময়..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৬)
হাল ইয়ুদরিকুল মামুমুর রাকাআতা বি ইদরাকিহির রুকুআ মাআল ইমাম - জিমনা আসারুল মুআল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ১২০)
قريبًا من السواء"، ونحوه في "صحيح مسلم" في رواية
(1)، وفي أخرى
(2): "فوجدتُ قيامَه فركعتَه فاعتدالَه بعد ركوعِه فسجدتَه [فجلستَه]
(3) بين السجدتين
… ".
وأصل هذا الحديث من لفظ الصحابي لا من لفظ النبي صلى الله عليه وسلم ، ومع ذلك فقد اختلفت رواياتها وألفاظها، فيمكن أن يكون ما وقع في بعض الروايات من التعبير عن الركوع بالركعة إنما هو ممن بعد الصحابي.
وأما الأحاديث في صلاة الكسوف فأصلها من لفظ الصحابي أيضًا، ومع ذلك اختلفت رواياتها وألفاظها، فيمكن أن يكون ما وقع في بعض الروايات من التعبير عن الركوع بالركعة إنما هو ممن بعد الصحابي. ومع ذلك فالقرينة قائمة، وهي ما يُعلَم من السياق والروايات الأخرى، وأرى الأمر في ذلك أوضح من أن يُحتاج إلى الإطالة.
على أن ورود الكلمة في النصوص الشرعية مع دلالة القرينة على أن المراد منها معناها اللغوي، لا يَدفعُ أن يكون الشرع نقلَها إلى معنى آخر تكون فيه حقيقةً شرعية. هذه كلمة "صلاة" نقلها الشارع إلى معنى غير معناها لغةً، ومع ذلك وردت في عدة نصوص بحسب معناها اللغوي، كقوله تعالى: {وَصَلِّ عَلَيْهِمْ إِنَّ صَلَاتَكَ سَكَنٌ لَهُمْ} [التوبة: 103]، وقوله: {وَصَلَوَاتِ الرَّسُولِ} [التوبة: 99]، وقوله: {صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيمًا} [الأحزاب: 56].
--------------------------------------------
"প্রায় সমপর্যায়ের", এবং এর অনুরূপ বর্ণনা রয়েছে সহিহ মুসলিম-এর একটি বর্ণনা (رواية)
(১)-এ, এবং অন্য একটি বর্ণনা (رواية)
(২)-এ আছে: "আমি তাঁর দণ্ডায়মান থাকা, তাঁর রুকু করা, রুকুর পর তাঁর সোজা হয়ে দাঁড়ানো, তাঁর সিজদা করা [এবং তাঁর বসা]
(৩) দুই সিজদার মাঝখানে... পেলাম।"
আর এই হাদিসের মূল হলো সাহাবীর শব্দ থেকে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শব্দ থেকে নয়। তা সত্ত্বেও এর বিভিন্ন বর্ণনা (رواية) ও শব্দাবলীতে ভিন্নতা রয়েছে। সুতরাং এটি সম্ভব যে, কিছু বর্ণনা (رواية)-তে রুকু বুঝাতে রাকাআত (ركعة) শব্দের যে প্রয়োগ ঘটেছে, তা মূলত সাহাবীর পরবর্তী কোনো বর্ণনাকারীর পক্ষ থেকে হয়েছে।
আর সূর্যগ্রহণের সালাত (صلاة) সংক্রান্ত হাদিসগুলোর মূলও সাহাবীর শব্দ থেকে। তা সত্ত্বেও সেগুলোর বর্ণনা (رواية) ও শব্দাবলীতে ভিন্নতা রয়েছে। সুতরাং এটি সম্ভব যে, কিছু বর্ণনা (رواية)-তে রুকু বুঝাতে রাকাআত (ركعة) শব্দের যে প্রয়োগ ঘটেছে, তা মূলত সাহাবীর পরবর্তী কোনো বর্ণনাকারীর পক্ষ থেকে হয়েছে। তবে এক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক প্রমাণ (قرينة) বিদ্যমান রয়েছে, যা প্রসঙ্গের ধারা (سياق) এবং অন্যান্য বর্ণনা (رواية) থেকে জানা যায়। আর আমি মনে করি বিষয়টি দীর্ঘ আলোচনার প্রয়োজন হওয়ার চেয়েও অনেক বেশি স্পষ্ট।
তাছাড়া শরয়ি মূলপাঠসমূহে (نصوص شرعية) কোনো শব্দের আসা—যেখানে প্রাসঙ্গিক প্রমাণ (قرينة) নির্দেশ করে যে এর দ্বারা এর আভিধানিক অর্থই উদ্দেশ্য—তা এই সম্ভাবনাকে নাকচ করে না যে, শরিয়ত একে অন্য কোনো অর্থে স্থানান্তর করেছে যেখানে তা শরয়ি পরিভাষা (حقيقة شرعية) হিসেবে গণ্য হবে। এই যেমন 'সালাত' (صلاة) শব্দটি; শরিয়ত প্রণেতা একে তার আভিধানিক অর্থ থেকে ভিন্ন অর্থে স্থানান্তর করেছেন। তা সত্ত্বেও এটি বেশ কিছু মূলপাঠে (نص) তার আভিধানিক অর্থ অনুযায়ী ব্যবহৃত হয়েছে, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "আর আপনি তাদের জন্য দুআ করুন। নিশ্চয় আপনার দুআ তাদের জন্য প্রশান্তিকর" [আত-তাওবাহ: ১০৩], এবং তাঁর বাণী: "এবং রাসূলের দুআসমূহ" [আত-তাওবাহ: ৯৯], এবং তাঁর বাণী: "তোমরা তাঁর প্রতি দরুদ পাঠ কর এবং যথাযথভাবে সালাম পেশ কর" [আল-আহজাব: ৫৬]।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৬)
হাল ইয়ুদরিকুল মামুমুর রাকাআতা বি ইদরাকিহির রুকুআ মাআল ইমাম - জিমনা আসারুল মুআল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ১২১)
فإن قيل: فإنه يكفي القائلَ بأن لفظ "ركعة" حقيقة شرعية في المرَّة من الركوع أن يقول: قد ثبت أنها حقيقة لغوية في ذلك، والأصلُ موافقة الشرع للّغة.
قلت: فعلينا البيان، في الصلاة الشرعية أمران يحتاج كلٌّ منهما إلى لفظ يدل عليه:
الأول: المرة من الركوع.
والثاني: الواحدة التي تتألف صلاة المغرب من ثلاثٍ منها، والصبح والجمعة من اثنتين، وكذا بقية الفرائض في حقّ المسافر. أما المقيم فمن أربع، وهكذا يختلف حال سائر الصلوات كالعيدين والاستسقاء والنوافل.
والحاجة في الشرع إلى ذكر الثاني أكثر منها
(1) إلى ذكر الأول، وبتتبُّعِ النصوص الشرعية يتضح أنها [تُعبِّر]
(2) عن الأول غالبَا بالركوع، وتُعبِّر عن الثاني بالركعة، وكثُر هذا جدًّا من لفظ النبي صلى الله عليه وسلم ولفظ أصحابه في حياته وبعد وفاته، وبتدبُّرِ ذلك يتبينُ أن الذي كان يتبادر في عهده صلى الله عليه وسلم من كلمة "ركعة" في الكلام الشرعي هو الأمر الثاني، فهي حقيقة شرعية.
فمما ورد من لفظ النبي صلى الله عليه وسلم خاصةً مما ورد في "الصحيحين" أو أحدِهما:
حديثُ أبي هريرة
(3) مرفوعًا: "من أدرك من الصبح ركعةً قبل أن تطلع الشمس .. ومن أدرك من العصر ركعة قبل أن تغرب الشمس
… ".
--------------------------------------------
যদি বলা হয়: যার অভিমত হলো 'রাকাআত' (ركعة) শব্দটি একবার রুকু করার ক্ষেত্রে একটি শরয়ী পরিভাষা (حقيقة شرعية), তার জন্য এতটুকু বলাই যথেষ্ট যে, এটি ভাষাগত পরিভাষা (حقيقة لغوية) হিসেবেও সেই অর্থেই সাব্যস্ত হয়েছে; আর মূলনীতি হলো শরীয়ত ভাষাগত অর্থের সাথে সংগতিপূর্ণ হওয়া।
আমি বলি: আমাদের ব্যাখ্যা হলো, শরয়ী সালাতে এমন দুটি বিষয় রয়েছে যার প্রত্যেকটির জন্যই নির্দেশক শব্দের প্রয়োজন:
প্রথমটি: একবার রুকু (ركوع) করা।
দ্বিতীয়টি: সেই একক ইউনিট যা দ্বারা মাগরিবের সালাত তিনটি রাকাআত দ্বারা, ফজর ও জুমুআর সালাত দুটি রাকাআত দ্বারা গঠিত হয় এবং মুসাফিরের ক্ষেত্রে বাকি ফরয সালাতগুলোও অনুরূপ। আর মুকীমের জন্য তা চার রাকাআত নিয়ে গঠিত, একইভাবে অন্যান্য সালাত যেমন দুই ঈদ, ইস্তিসকা এবং নফল সালাতসমূহের ক্ষেত্রেও বিধানের ভিন্নতা দেখা যায়।
আর শরীয়তের বিধানে প্রথমটির চেয়ে দ্বিতীয়টি উল্লেখ করার প্রয়োজনীয়তা অনেক বেশি
(১)। শরয়ী উৎসসমূহ (نصوص) পর্যালোচনার মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয় যে, তা [ব্যক্ত করে]
(২) প্রথম বিষয়টিকে সাধারণত রুকু (ركوع) শব্দ দ্বারা এবং দ্বিতীয় বিষয়টিকে রাকাআত (ركعة) শব্দ দ্বারা। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর জীবদ্দশায় ও ইন্তেকালের পর তাঁর সাহাবীদের বক্তব্যে এটি অত্যন্ত ব্যাপকভাবে প্রচলিত ছিল। এটি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করলে প্রতীয়মান হয় যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে শরয়ী কথোপকথনে 'রাকাআত' (ركعة) শব্দ থেকে যা তাৎক্ষণিকভাবে বুঝে আসত, তা হলো এই দ্বিতীয় বিষয়টি; সুতরাং এটি একটি শরয়ী পরিভাষা (حقيقة شرعية)।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীতে যা বর্ণিত হয়েছে, বিশেষত সহীহাইন অথবা তার যেকোনো একটিতে যা এসেছে, তার মধ্য থেকে একটি হলো:
আবু হুরায়রা
(৩) থেকে বর্ণিত মারফু (مرفوع) হাদিস: "যে ব্যক্তি সূর্যোদয়ের পূর্বে ফজরের এক রাকাআত (ركعة) পেল... এবং যে ব্যক্তি সূর্যাস্তের পূর্বে আসরের এক রাকাআত (ركعة) পেল... "।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৬)
হাল ইয়ুদরিকুল মামুমুর রাকাআতা বি ইদরাকিহির রুকুআ মাআল ইমাম - জিমনা আসারুল মুআল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ১২২)
وحديث عائشة
(1) مرفوعًا نحوه.
وحديثها
(2) مرفوعًا: "ركعتا الفجر خيرٌ من الدنيا وما فيها".
وحديث عثمان
(3) مرفوعًا: "من توضأ نحوَ وضوئي هذا ثم صلَّى ركعتين
… ".
وحديث أبي قتادة
(4) مرفوعًا: "إذا دخل أحدُكم المسجدَ فلْيُصلِّ ركعتين".
وحديث جابر
(5) في القدوم من سفر مرفوعًا: "صلِّ ركعتينِ".
وحديثه
(6) في الداخل يوم الجمعة وقت الخطبة مرفوعًا: "قُمْ فصَلِّ الركعتين".
وحديثه
(7) أيضًا مرفوعًا: "إذا جاء أحدكم يومَ الجمعة وقد خرج الإمام فلْيُصَلِّ ركعتين".
وحديثه في الاستخارة
(8) مرفوعًا: "
… فليركَعْ ركعتين من غيرِ الفريضة
… ".
--------------------------------------------
এবং আয়েশা (রা.) বর্ণিত হাদিস
(১) যা রাসূলুল্লাহ (সা.) পর্যন্ত উন্নীত (مرفوع), এর অনুরূপ।
এবং তাঁর বর্ণিত হাদিস
(২) যা রাসূলুল্লাহ (সা.) পর্যন্ত উন্নীত (مرفوع): "ফজরের দুই রাকাত (সুন্নত) নামাজ দুনিয়া ও তার মধ্যে যা কিছু আছে তার চেয়ে উত্তম"।
এবং উসমান (রা.) বর্ণিত হাদিস
(৩) যা রাসূলুল্লাহ (সা.) পর্যন্ত উন্নীত (مرفوع): "যে ব্যক্তি আমার এই ওজুর ন্যায় ওজু করবে, অতঃপর দুই রাকাত নামাজ পড়বে
… "।
এবং আবু কাতাদা (রা.) বর্ণিত হাদিস
(৪) যা রাসূলুল্লাহ (সা.) পর্যন্ত উন্নীত (مرفوع): "তোমাদের কেউ যখন মসজিদে প্রবেশ করবে, তখন সে যেন দুই রাকাত নামাজ পড়ে"।
এবং সফর থেকে ফিরে আসা প্রসঙ্গে জাবির (রা.) বর্ণিত হাদিস
(৫) যা রাসূলুল্লাহ (সা.) পর্যন্ত উন্নীত (مرفوع): "দুই রাকাত নামাজ পড়ো"।
এবং জুমার দিন খুতবা চলাকালীন প্রবেশকারী সম্পর্কে তাঁর বর্ণিত হাদিস
(৬) যা রাসূলুল্লাহ (সা.) পর্যন্ত উন্নীত (مرفوع): "দাঁড়াও এবং দুই রাকাত নামাজ পড়ে নাও"।
এবং তাঁর বর্ণিত আরও একটি হাদিস
(৭) যা রাসূলুল্লাহ (সা.) পর্যন্ত উন্নীত (مرفوع): "তোমাদের কেউ যখন জুমার দিন আসবে এবং ইমাম (খুতবার জন্য) বের হয়ে গেছেন, তখন সে যেন দুই রাকাত নামাজ পড়ে"।
এবং ইস্তিখারা প্রসঙ্গে তাঁর বর্ণিত হাদিস
(৮) যা রাসূলুল্লাহ (সা.) পর্যন্ত উন্নীত (مرفوع): "
… সে যেন ফরজ নামাজ ব্যতীত দুই রাকাত নামাজ পড়ে
… "।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৬)
হাল ইয়ুদরিকুল মামুমুর রাকাআতা বি ইদরাকিহির রুকুআ মাআল ইমাম - জিমনা আসারুল মুআল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ১২৩)
وحديث أبي ذر
(1) مرفوعًا: "
… ويُجزِئ من ذلك كلِّه ركعتانِ يركعهما في الضحى".
وحديث أم حبيبة
(2) مرفوعًا: "من صلَّى اثنتي عشرةَ ركعةً
… ".
وحديث ابن عمر
(3) مرفوعًا: "الوتر ركعةٌ من آخرِ الليل".
وحديثه
(4) أيضًا مرفوعًا: "فإذا خشي أحدُكم الصبحَ صلَّى ركعةً واحدة".
إلى غير ذلك من الأحاديث في "الصحيحين"، وأما في غيرهما فكثير.
ومما في "الصحيحين" أو أحدِهما: الأحاديثُ التي يُنَصُّ فيها على العدد فقط، كحديث أبي سعيد
(5) مرفوعًا: "إذا شكَّ أحدُكم فلم يَدْرِ كم صلَّى؟ ثلاثًا أم أربعًا؟ فليَطْرَح [الشَّكَّ]
(6) ولْيَبْنِ
(7) على ما استيقَنَ، ثم يسجد
… فإن كان صلَّى خمسًا شَفعْنَ له صلاتَه، وإن كان صلَّى إتمامًا لأربعٍ كانتا ترغيمًا للشيطان".
فإن المتبادر الواضح أن المراد ثلاث ركعات
… وهكذا، ومثل هذا في الأحاديث كثير، ويدخل فيه تسميةُ صلاة الوتر وترًا، وقول الله تبارك وتعالى:
--------------------------------------------
আবু যার
(১) হতে বর্ণিত হাদিস যা রাসুলুল্লাহ (সা.) পর্যন্ত উন্নীত (مرفوع): "
… আর এই সমস্ত কিছুর বদলে চাশতের দুই রাকাত সালাত আদায় করাই যথেষ্ট হবে।"
উম্মে হাবিবা
(২) হতে বর্ণিত হাদিস যা রাসুলুল্লাহ (সা.) পর্যন্ত উন্নীত (مرفوع): "যে ব্যক্তি বারো রাকাত সালাত আদায় করল
… "।
ইবনে উমর
(৩) হতে বর্ণিত হাদিস যা রাসুলুল্লাহ (সা.) পর্যন্ত উন্নীত (مرفوع): "বিতর হলো রাতের শেষ ভাগের এক রাকাত।"
তাঁর
(৪) থেকে বর্ণিত আরও একটি হাদিস যা রাসুলুল্লাহ (সা.) পর্যন্ত উন্নীত (مرفوع): "যখন তোমাদের কেউ সুবহে সাদিক হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করবে, তখন সে যেন এক রাকাত সালাত পড়ে নেয়।"
"সহিহাইন"-এ এ জাতীয় আরও বহু হাদিস রয়েছে, আর এই দুই কিতাব ছাড়া অন্যগুলোতে তো আরও অনেক বেশি আছে।
"সহিহাইন" বা তাদের যেকোনো একটিতে বর্ণিত হাদিসগুলোর মধ্যে এমন সব হাদিস রয়েছে যাতে কেবল সংখ্যার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। যেমন আবু সাঈদ
(٥) হতে বর্ণিত হাদিস যা রাসুলুল্লাহ (সা.) পর্যন্ত উন্নীত (مرفوع): "যখন তোমাদের কেউ সালাতে সন্দেহে পতিত হয় এবং বুঝতে পারে না যে সে কত রাকাত পড়েছে? তিন নাকি চার? তবে সে যেন [সন্দেহ]
(৬) বর্জন করে এবং যা নিশ্চিত তার ওপর ভিত্তি করে সালাত পূর্ণ করে
(৭)। এরপর সে সিজদা করবে
… যদি সে পাঁচ রাকাত পড়ে থাকে তবে সেই সিজদা দুটি তার সালাতকে জোড় করে দেবে, আর যদি সে পূর্ণ চার রাকাত পড়ে থাকে তবে সেই সিজদা দুটি শয়তানের জন্য লাঞ্ছনাকর হবে।"
এক্ষেত্রে অত্যন্ত সুস্পষ্ট বিষয় হলো যে, এখানে উদ্দেশ্য হলো তিন রাকাত
… এবং একইভাবে। হাদিসে এ জাতীয় উদাহরণ অনেক রয়েছে। আর বিতর সালাতকে 'বিতর' নামকরণ করা এবং মহান আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার এই বাণীও এর অন্তর্ভুক্ত:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৬)
হাল ইয়ুদরিকুল মামুমুর রাকাআতা বি ইদরাকিহির রুকুআ মাআল ইমাম - জিমনা আসারুল মুআল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ১২৪)
{وَالشَّفْعِ وَالْوَتْرِ} [الفجر: 3] على ما رواه الإمام أحمد وغيره
(1) عن عمران بن حُصين أن النبي صلى الله عليه وسلم سُئل عن ذلك، فقال: " [هي]
(2) الصلاةُ، بعضها شَفْعٌ وبعضها وِتْر".
وأما الحديث الرابع: وهو حديث الحسن عن أبي بَكْرة، ففي "الفتح"
(3): "أعلَّه بعضُهم بأن الحسن عنعنه، وقيل: إنه لم يسمع من أبي بكرة، وإنما يروي عن الأحنف عنه، ورُدَّ هذا الإعلال برواية سعيد بن أبي عروبة عن الأعلم قال: حدثني الحسن أنّ أبا بكرة حدَّثه. أخرجه أبو داود والنسائي".
أقول: وهكذا رأيتُه في عدة نسخ من "المجتبى" من سنن النسائي
(4)، لكنه في نسخ "سنن" أبي داود
(5): "أن أبا بكرةَ حدَّثَ"، وهذا في حكم العنعنة، وبين سياق أبي داود والنسائي اختلافٌ مع أن السند واحد، روياه عن حُميد بن مَسْعَدة عن يزيد بن زُريع ممن سمع منه قديمًا.
والحسن معروف بالرواية عمن لم يَلْقَه، بل وُصِفَ بالتدليس، كما في "طبقات المدلِّسين"
(6) لابن حجر، وروايتُه عن الأحنف عن أبي بكرة
--------------------------------------------
{জোড় ও বেজোড়} [ফজর: ৩] সংক্রান্ত বিষয়ে ইমাম আহমদ ও অন্যান্যরা
(১) ইমরান ইবনে হুসাইন থেকে যা বর্ণনা করেছেন (رواه), তাতে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তিনি বললেন: "[তা হলো] সালাত; যার কিছু জোড় এবং কিছু বেজোড়।"
আর চতুর্থ হাদিসটি হলো: হাসান থেকে আবু বাকরা-র হাদিস। 'ফাতহুল বারি'
(৩)-তে এসেছে: "কেউ কেউ এটিকে ত্রুটিযুক্ত (أعلَّه) বলেছেন এই কারণে যে, হাসান এটি 'আন' শব্দযোগে বর্ণনা (عنعنه) করেছেন। আরও বলা হয়েছে যে, তিনি আবু বাকরা থেকে সরাসরি শ্রবণ (سمع) করেননি; বরং তিনি তাঁর থেকে আহনাফের মাধ্যমে বর্ণনা (يروي) করেছেন। তবে সাঈদ ইবনে আবি আরুবা-র আল-আলাম থেকে বর্ণিত বর্ণনার মাধ্যমে এই ত্রুটি চিহ্নিতকরণের (الإعلال) বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে, যেখানে তিনি বলেছেন: হাসান আমাকে বর্ণনা করেছেন যে, আবু বাকরা তাঁকে বর্ণনা করেছেন। এটি আবু দাউদ ও নাসায়ি বর্ণনা (أخرجه) করেছেন।"
আমি (গ্রন্থকার) বলছি: আমি সুনান নাসায়ি-র 'আল-মুজতাবা'-র একাধিক পাণ্ডুলিপিতে
(৪) এভাবেই দেখেছি। তবে আবু দাউদ-এর 'সুনান'
(৫)-এর পাণ্ডুলিপিগুলোতে রয়েছে: "আবু বাকরা বর্ণনা করেছেন"; আর এটি 'আন' শব্দযোগে বর্ণনার (العنعنة) হুকুমের অন্তর্ভুক্ত। আবু দাউদ ও নাসায়ি-র পাঠশৈলীর মধ্যে ভিন্নতা থাকলেও সনদ (السند) এক; তাঁরা উভয়েই এটি হুমাইদ ইবনে মাসআদা থেকে এবং তিনি ইয়াজিদ ইবনে জুরাই' থেকে বর্ণনা করেছেন, যিনি তাঁর থেকে অনেক আগে শ্রবণ (سمع) করেছিলেন।
আর হাসান এমন ব্যক্তিদের থেকে বর্ণনা করার (بالرواية) জন্য পরিচিত যাদের সাথে তাঁর সাক্ষাৎ হয়নি। এমনকি তাঁকে তাদলিস (بالتدليس)-এর মাধ্যমেও বিশেষিত করা হয়েছে, যেমনটি ইবনে হাজার-এর 'তাবাকাতুল মুদাল্লিসিন'
(৬)-এ রয়েছে। আর আহনাফের মাধ্যমে আবু বাকরা থেকে তাঁর বর্ণনা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৬)
হাল ইয়ুদরিকুল মামুমুর রাকাআতা বি ইদরাকিহির রুকুআ মাআল ইমাম - জিমনা আসারুল মুআল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ১২৫)
مشهورة في حديث: "إذا التقى المسلمانِ بسيفَيْهما
… "
(1)، لكن لا يلزم من ذلك أن لا يسمع من رجلٍ غيرِ الأحنف عن أبي بكرة. وقد يَشُدُّ الاتصالَ أن البخاري أخرج الحديث في "صحيحه"، ومذهبه اشتراط ثبوت اللقاء حتى فيمن لم يُعرف بالتدليس ولا بالرواية عمن لم يَلْقَه، فما بالك بهذا؟ وفي "مراسيل" ابن أبي حاتم
(2) عن بَهْز بن أسد في شأن الحسن: "وسمع من أبي بكرة شيئًا". وعلى كلّ حالٍ فلم تَسْلَمْ صحةُ هذا الحديث من مقالٍ.
ولننظر فيما ذكر من الدلالتين:
فأما الأولى وهي قولهم: "لولا أن أبا بكرةَ كان يرى أنه بإدراكه الركوعَ يُدرِك الركعة لما بادر إلى الركوع قبل أن يبلغ الصفَّ"= ففيها نظر، لماذا لا يُبادِر لإدراك فضلِ
(3) الركوع مع النبي صلى الله عليه وسلم وإن عَلِمَ أنه لا تُحْسَبُ له ركعة؟ بل قد يقال: إن هذا هو الذي ينبغي أن يُظَنَّ بالصحابي، لا أن يُظَنَّ به أنه حَرَصَ على إدراك الركعة وإن فاته الخيرُ الكثير فيها تفاديًا من أن يكون عليه ركعةٌ أخرى بعد سلام الإمام، فإن هذا يدلُّ على الكسلِ والتبرُّمِ بالتعب اليسير في العبادة والرغبةِ عن زيادة الأجر، فإنه إذا أدرك بعض الركعة ولم تُحْسَبْ له ثم صلّاها بعد سلام الإمام كُتِبَ له أجرُ الصلاة كاملةً وزيادةُ أجرِ ما أدركه من تلك الركعة، فأما من لم يُدرِك إلا بعض الركعة وحُسِبَتْ له ركعة فإنه يفوته بعضُ أجر الصلاة كما لا يخفى.
--------------------------------------------
এটি একটি প্রসিদ্ধ (مشهورة) বর্ণনা এই হাদিসের ক্ষেত্রে: "যখন দুইজন মুসলিম তাদের তরবারি নিয়ে একে অপরের মুখোমুখি হয়..."
(১), তবে এর অর্থ এই নয় যে, তিনি আহনাফ ব্যতীত অন্য কোনো ব্যক্তির মাধ্যমে আবু বাকরা থেকে শ্রবণ করেননি। আর বর্ণনাসূত্রের নিরবচ্ছিন্নতা (اتصال) এই বিষয়টি আরও জোরালো করে যে, ইমাম বুখারি হাদিসটি তাঁর "সহিহ" গ্রন্থে সংকলন করেছেন; এবং তাঁর মাযহাব হলো সাক্ষাত সাব্যস্ত হওয়া শর্ত করা, এমনকি ঐ ব্যক্তির ক্ষেত্রেও যে তাদলিস (تدليس) বা যার সাথে সাক্ষাত হয়নি তার থেকে বর্ণনা (رواية) করার জন্য পরিচিত নয়—তাহলে এই বর্ণনাকারীর ক্ষেত্রে কী বলা যায়? আর ইবনে আবি হাতিমের "মারাসিল" গ্রন্থে
(২) হাসান সম্পর্কে বাহজ ইবনে আসাদ থেকে বর্ণিত হয়েছে: "তিনি আবু বাকরা থেকে কিছু শুনেছেন।" যাহোক, এই হাদিসের বিশুদ্ধতা (صحة) পর্যালোচনার (مقال) ঊর্ধ্বে নয়।
আসুন আমরা উল্লেখিত দুটি প্রমাণের দিকে লক্ষ্য করি:
প্রথমটি হলো তাদের বক্তব্য: "আবু বাকরা যদি মনে না করতেন যে রুকু পাওয়ার মাধ্যমে রাকাত পাওয়া যায়, তবে তিনি কাতারে পৌঁছানোর পূর্বেই রুকু করার জন্য দ্রুত অগ্রসর হতেন না"—এই যুক্তিতে পর্যবেক্ষণ (نظر) রয়েছে। কেন তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে রুকুর ফজিলত
(৩) লাভের জন্য দ্রুত অগ্রসর হবেন না, যদিও তিনি জানতেন যে এটি তাঁর জন্য রাকাত হিসেবে গণ্য হবে না? বরং বলা যেতে পারে: সাহাবি সম্পর্কে এমনটিই ধারণা করা উচিত, এমন ধারণা নয় যে তিনি কেবল রাকাত পাওয়ার জন্য লালায়িত ছিলেন যদিও তাতে অনেক কল্যাণ ছুটে যায়, শুধুমাত্র ইমামের সালামের পর তাঁর ওপর অতিরিক্ত এক রাকাত পড়ার কষ্ট এড়ানোর জন্য। কারণ, এটি ইবাদতে অলসতা, সামান্য পরিশ্রমে অনীহা এবং সওয়াব বৃদ্ধির ব্যাপারে বিমুখতা নির্দেশ করে। কেননা, তিনি যদি রাকাতের একাংশ পান এবং তা তাঁর জন্য রাকাত হিসেবে গণ্য না হয়, অতঃপর ইমামের সালামের পর তিনি তা আদায় করেন, তবে তাঁর জন্য পূর্ণ নামাজের সওয়াব এবং ঐ রাকাতের যতটুকু অংশ তিনি পেয়েছেন তার অতিরিক্ত সওয়াব লিখিত হবে। পক্ষান্তরে, যে ব্যক্তি রাকাতের সামান্য অংশ পেল এবং তা তার জন্য একটি রাকাত হিসেবে গণ্য হলো, তবে তার থেকে নামাজের কিছু সওয়াব ফুটে যায়, যা স্পষ্ট।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৬)
হাল ইয়ুদরিকুল মামুমুর রাকাআতা বি ইদরাকিহির রুকুআ মাআল ইমাম - জিমনা আসারুল মুআল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ১২৬)
وقول النبي صلى الله عليه وسلم : "زادك الله حِرْصًا، ولا تَعُدْ" يُشْعِر بما ذكرنا، فإنه يدل أن ذاك الحرص محمود، فلذلك دعا بالزيادة منه، وإنما نهى عن العود إلى الإخلال بالمشروع
(1) من السكينة والوقار ونظم الصلاة، والحرصُ المحمود هو
(2) الحرص على زيادة الأجر، لا على التخلُّص من زيادة العمل غيرَ مُبالٍ بما فيها من زيادة الأجر.
فإن قيل: فإن في "جزء القراءة"
(3) للبخاري من طريق عبد الله بن عيسى الخزَّاز عن يونس عن الحسن عن أبي بكرة:
… فلما قضى رسول الله صلى الله عليه وسلم الصلاةَ قال لأبي بكرة: "أنت صاحب النَّفَسِ؟ " قال: نعم، جعلني الله فداءك، خَشِيتُ أن تفوتني ركعةٌ معك، فأسرعتُ المشيَ. فقال له رسول الله صلى الله عليه وسلم : "زادك الله حرصًا، ولا تَعُدْ، صَلِّ ما أدركتَ، واقْضِ ما سبقَ".
وفي مسند أحمد (ج 5 ص 42)
(4): "
… بشَّار الخيَّاط
(5) قال سمعتُ عبد العزيز بن أبي بكرةَ يُحدِّث: أن أبا بكرة جاء والنبي صلى الله عليه وسلم راكع
… فسمع النبي صلى الله عليه وسلم صوتَ نعلِ أبي بكرةَ وهو يُحْضِرُ، يريد أن يُدرِك الركعةَ
… ".
قلت: عبد الله بن عيسى الخزَّاز مُجمَعٌ على ضعفه
(6). وبشار الخياط
--------------------------------------------
এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "আল্লাহ তোমার আগ্রহ বৃদ্ধি করুন, তবে পুনরায় এমন করো না" আমাদের উল্লিখিত বিষয়টিই নির্দেশ করে। কারণ এটি প্রমাণ করে যে, সেই আগ্রহ প্রশংসনীয় (محمود); আর এই কারণেই তিনি তা বৃদ্ধির দোয়া করেছেন। তিনি কেবল ধীরস্থিরতা, গাম্ভীর্য এবং নামাজের সুশৃঙ্খল পদ্ধতির জন্য শরয়ি বিধানের
(১) পরিপন্থী কাজ থেকে নিষেধ করেছেন। আর প্রশংসনীয় আগ্রহ হলো সওয়াব বৃদ্ধির আকাঙ্ক্ষা করা, সওয়াব বৃদ্ধির প্রতি ভ্রুক্ষেপ না করে অতিরিক্ত আমল থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা নয়।
যদি বলা হয়: বুখারির জুযউল কিরাআত-এ আব্দুল্লাহ ইবনে ঈসা আল-খাজ্জাজ-এর সূত্রে ইউনুস থেকে, তিনি হাসান থেকে এবং তিনি আবু বাকরা থেকে বর্ণনা করেছেন:
… যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাজ শেষ করলেন, তিনি আবু বাকরাকে বললেন: "জোরে শ্বাস নেওয়া ব্যক্তিটি কি তুমি?" তিনি বললেন: হ্যাঁ, আল্লাহ আমাকে আপনার জন্য উৎসর্গ করুন, আমি আপনার সাথে এক রাকাত ছুটে যাওয়ার আশঙ্কা করেছিলাম, তাই দ্রুত হেঁটে এসেছি। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন: "আল্লাহ তোমার আগ্রহ বৃদ্ধি করুন, তবে পুনরায় এমন করো না। যতটুকু (নামাজ) পেয়েছ তা আদায় করো, আর যা ছুটে গেছে তা পূর্ণ করো।"
এবং মুসনাদ আহমদ-এ (খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ৪২) বর্ণিত হয়েছে: "
… বাশশার আল-খাইয়াত
(৫) বলেছেন, আমি আব্দুল আজিজ ইবনে আবু বাকরাকে বর্ণনা করতে শুনেছি যে, আবু বাকরা আসলেন যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রুকুতে ছিলেন
… তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু বকরার জুতার শব্দ শুনতে পেলেন যখন তিনি দ্রুত দৌড়ে আসছিলেন রাকাত ধরার উদ্দেশ্যে
… "।
আমি বলছি: আব্দুল্লাহ ইবনে ঈসা আল-খাজ্জাজ-এর দুর্বলতার (ضعفه) ব্যাপারে ঐকমত্য রয়েছে
(৬)। আর বাশশার আল-খাইয়াত
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৬)
হাল ইয়ুদরিকুল মামুমুর রাকাআতা বি ইদরাকিহির রুকুআ মাআল ইমাম - জিমনা আসারুল মুআল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ১২৭)
هو ابن عبد الملك ضعفه ابن معين
(1)، فلا ينفعه ذكر ابن حبان له في "ثقاته"
(2)؛ لما عُرِفَ من توسُّعه. وشيخه عبد العزيز فيه مقال
(3)، وروايته مرسلة، لأنه لم يُدرِك القصة، ولعل قوله: "يريد أن يُدرك الركعةَ" من ظنِّ عبد العزيز، ومع ذلك فوَقْعُ كلمة "ركعة" في هاتين الروايتين في سياق بيان أنه جاء والنبي صلى الله عليه وسلم راكع ربما يُسوِّغ في حملها على معنى الركوع، والله أعلم.
وأما الدلالة الثانية وهي قولهم: "إن النبي صلى الله عليه وسلم أقرَّ أبا بكرةَ على السلام معه، ولم يأمره بإتمامٍ ولا إعادةٍ"= ففي هذه الدعوى نظرٌ، ولفظ البخاري في "الصحيح"
(4) من طريق همَّام عن زياد الأعلم عن الحسن عن أبي بكرة:
… فذَكَر ذلك للنبي صلى الله عليه وسلم ، فقال: "زادك الله حرصًا ولا تَعُدْ"، كما تقدم أولَ الرسالة، وليس فيه ما يُثبِت هذه الدعوى. ونحو ذلك من "سنن" أبي داود والنسائي
(5) من طريقي سعيد بن أبي عَروبة عن زياد الأعلم. ونحوه في "مسند أحمد" (ج 5 ص 39)
(6) من طريق أشعث عن زياد الأعلم. ونحوه في "المسند" أيضًا (ج 5 ص 46)
(7) من طريق قتادة وهشام عن الحسن البصري.
--------------------------------------------
তিনি হলেন ইবনুল আব্দুল মালিক; ইবনে মাঈন তাঁকে দুর্বল (ضعيف) সাব্যস্ত করেছেন
(1), ফলে ইবনে হিব্বানের তাঁর "সিকাত" গ্রন্থে তাঁকে উল্লেখ করা তাঁর কোনো উপকারে আসবে না
(2); কারণ তাঁর শিথিলতার বিষয়টি সুবিদিত। আর তাঁর উস্তাদ আব্দুল আজিজের ব্যাপারে সমালোচনা (فيه مقال) রয়েছে
(3) এবং তাঁর বর্ণনাটি বিচ্ছিন্ন (مرسل), কারণ তিনি মূল ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেননি। সম্ভবত তাঁর উক্তি: "তিনি রাকাতটি পেতে চেয়েছিলেন" আব্দুল আজিজের ধারণাপ্রসূত; তা সত্ত্বেও এই দুই বর্ণনায় "রাকাত" শব্দের প্রয়োগ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রুকু অবস্থায় থাকাকালীন তাঁর আগমনের বর্ণনার প্রেক্ষাপটে এসেছে, যা হয়তো একে রুকু করার অর্থে গ্রহণ করার অবকাশ দেয়, আর আল্লাহই ভালো জানেন।
আর দ্বিতীয় দলিল তথা তাঁদের এই বক্তব্য: "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আবু বাকরাহকে তাঁর সাথে সালাম ফেরানোর ওপর বহাল রেখেছেন এবং তাঁকে [নামাজ] পূর্ণ করার বা পুনরায় পড়ার নির্দেশ দেননি"—তবে এই দাবির ব্যাপারে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে। সহীহ বুখারীতে
(4) হাম্মামের সূত্রে যিয়াদ আল-আ’লাম থেকে, তিনি হাসান থেকে, তিনি আবু বাকরাহ থেকে বর্ণিত শব্দ হলো:
… তিনি বিষয়টি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট উল্লেখ করলে তিনি বললেন: "আল্লাহ তোমার আগ্রহ বৃদ্ধি করুন, তবে পুনরায় এমনটি করো না", যেমনটি রিসালার শুরুতে অতিবাহিত হয়েছে; আর এতে এই দাবি প্রমাণ করার মতো কিছু নেই। আবু দাউদ ও নাসায়ীর সুনানেও
(5) সাঈদ ইবনে আবি আরুবাহর দুই সূত্রে যিয়াদ আল-আ’লাম থেকে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তদ্রূপ মুসনাদ আহমাদে (৫ম খণ্ড, ৩৯ পৃষ্ঠা)
(6) আশ’আসের সূত্রে যিয়াদ আল-আ’লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে। অনুরূপভাবে মুসনাদেও (৫ম খণ্ড, ৪৬ পৃষ্ঠা)
(7) কাতাদা ও হিশামের সূত্রে হাসান বসরী থেকে বর্ণিত হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৬)
হাল ইয়ুদরিকুল মামুমুর রাকাআতা বি ইদরাকিহির রুকুআ মাআল ইমাম - জিমনা আসারুল মুআল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ১২৮)
ورواه حماد بن سلمة عن زياد الأعلم بسنده، واختُلِفَ على حماد: ، ففي "المسند" (ج 5 ص 45)
(1) عن عفّان عن حمّاد بنحو رواية الجماعة، وفي "سنن" أبي داود
(2) عن موسى بن إسماعيل عن حمّاد، وفيه: "فلما قضى النبي صلى الله عليه وسلم صلاتَه قال: أيُّكم الذي ركع دون الصف، ثم مشى إلى الصفّ؟ فقال أبو بكرة: أنا
… ".
وأرى رواية عفّان أرجحَ لمزيد إتقان عفان، ولموافقته روايةَ الجماعة كما تقدم، وحماد بن سلمة على إمامته كان يخطئ، وقد رَوى بهذا الإسناد عينهِ حديثًا آخر في تقدُّم النبي صلى الله عليه وسلم ليؤُمَّهم، وتذكُّرِه أن عليه غسلاً، وفي آخره: "فلما قضى الصلاة قال: إنما أنا بشرٌ"
(3).
وقد لا يبعد أن يكون ذهن حماد انتقل من أحد الحديثين إلى الآخر، ثم أتمَّ التفسير بما يناسب، وجاء نحو هذه الزيادة في رواية عبد الله بن عيسى الخزّاز، وفي رواية بشار الخياط عن عبد العزيز بن أبي بكرة، وفي روايةٍ نقلَها الشيخ أول رسالته عن "تلخيص الحبير"
(4) عن ابن السكن، فلا أدري ما سندها؟ وعسى أن تكون راجعةً إلى ما ذكر.
وعلى كل حال، فالروايات الصحيحة المتينة لا أثرَ فيها لقوله: "فلما قضى
… " ولا ما في معناها، على أنها لو صحَّتْ لما كانت صريحةً في
--------------------------------------------
হাম্মাদ ইবনে সালামাহ তাঁর সনদ (سند) সহ যিয়াদ আল-আ'লাম থেকে এটি বর্ণনা করেছেন, তবে হাম্মাদের বর্ণনার ক্ষেত্রে মতভেদ (اختلاف) হয়েছে: "মুসনাদ" (খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ৪৫)
(১)-এ আফফান থেকে, তিনি হাম্মাদ থেকে জামাআত (جماعة)-এর বর্ণনার অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আর "সুনান" আবু দাউদে
(২) মুসা ইবনে ইসমাইল থেকে, তিনি হাম্মাদ থেকে বর্ণনা করেছেন, যাতে রয়েছে: "যখন নবী (সা.) তাঁর সালাত শেষ করলেন তখন বললেন: তোমাদের মধ্যে কে সেই ব্যক্তি যে কাতারের পেছনে রুকু করেছে, তারপর হেঁটে কাতারে শামিল হয়েছে? আবু বাকরাহ বললেন: আমি
… "।
আমি আফফানের বর্ণনাটিকে অধিক অগ্রগণ্য (أرجح) মনে করি কারণ আফফানের অধিকতর নির্ভুলতা (إتقان) এবং পূর্বে উল্লিখিত জামাআত (جماعة)-এর বর্ণনার সাথে এর মিল রয়েছে। আর হাম্মাদ ইবনে সালামাহ ইমাম হওয়া সত্ত্বেও ভুল (خطأ) করতেন। তিনি এই একই সনদ (إسناد)-এর মাধ্যমে নবী (সা.)-এর ইমামতি করার জন্য সামনে এগিয়ে যাওয়া এবং তাঁর গোসল করার কথা মনে পড়ার বিষয়ে আরেকটি হাদিস বর্ণনা করেছেন, যার শেষে আছে: "যখন তিনি সালাত শেষ করলেন তখন বললেন: আমি তো কেবল একজন মানুষ"
(৩)।
এবং এটি অসম্ভব নয় যে, হাম্মাদের মস্তিষ্ক এক হাদিস থেকে অন্য হাদিসের দিকে চলে গিয়েছে, এরপর তিনি প্রাসঙ্গিকভাবে ব্যাখ্যাটি সম্পন্ন করেছেন। এই অতিরিক্ত অংশটুকু (زيادة) আব্দুল্লাহ ইবনে ঈসা আল-খাজ্জাজের বর্ণনায়, আব্দুল আজিজ ইবনে আবি বাকরাহ থেকে বাশশার আল-খাইয়াতের বর্ণনায় এবং শায়খ তাঁর রিসালার শুরুতে "তালখিস আল-হাবীর"
(৪) থেকে ইবনুস সাকান-এর বরাতে যে বর্ণনাটি উদ্ধৃত করেছেন তাতে এসেছে। তবে আমি জানি না এর সনদ (سند) কী? হতে পারে এটি উপরে উল্লিখিত বিষয়ের দিকেই প্রত্যাবর্তন করছে।
যা-ই হোক, সহিহ (صحيح) ও শক্তিশালী বর্ণনাগুলোতে "যখন তিনি শেষ করলেন
… " বা এই জাতীয় কোনো বাক্যের চিহ্ন নেই। তাছাড়া এটি যদি সহিহ (صحيح) হতোও, তবে তা কোনো বিষয়ে স্পষ্ট (صريح) হতো না...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৬)
হাল ইয়ুদরিকুল মামুমুর রাকাআতা বি ইদরাকিহির রুকুআ মাআল ইমাম - জিমনা আসারুল মুআল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ১২৯)
الفورية، وقد قال الله تعالى: {فَلَمَّا قَضَى زَيْدٌ مِنْهَا وَطَرًا زَوَّجْنَاكَهَا} [الأحزاب: 37]، ومعلوم أن بين القضاء والتزويج مهلةٌ، وقال تعالى: {فَلَمَّا قَضَى مُوسَى الْأَجَلَ وَسَارَ بِأَهْلِهِ آنَسَ مِنْ جَانِبِ الطُّورِ نَارًا} [القصص: 29]، وبين قضائه الأجلَ وشروعِه في السير وبين الإيناس مهلة.
وعلى فرض صحة تلك الزيادة وأن الظاهر في مثلها الفورية، فقد يكون أبو بكرة ممن يرى أن الركعة لا تُدرَك بالركوع، فرأى أن السياق قرينة على عدم الفورية، فيكون النبي صلى الله عليه وسلم قد علم أن الذي
(1) لم يدرك إلا الركوع سيقوم لإتمام صلاته، فلما سلَّم وقام بعضهم يُتِمُّ اشتغلَ النبي صلى الله عليه وسلم بالذكر، حتى سلَّم من سُبِقَ، وحينئذٍ سأل النبي صلى الله عليه وسلم .
وأرى أن من تدبَّر وأنعمَ النظر [أقرَّ]
(2) بأن هذا احتمالٌ غير بعيد، بل يتبين له أنه ليس هناك ما يدل دلالةً تقوم بها الحجة على أن ركوع النبي صلى الله عليه وسلم الذي أدركه أبو بكرة كان هو الركوع في الركعة الأولى، بل من المحتمل أن يكون هو الركوع في الثانية.
وهَبْ أنه يَقوَى عندك أنه الركوع في الركعة الأولى، وأن النبي صلى الله عليه وسلم سأل عقب السلام، فأجابه أبو بكرة فورًا، فهل تجد تلك القوة كافيةً لتخصيص هذه القضية من النصوص العامة الموجبة للقيام، ولقراءة الفاتحة، ولقضاء المسبوق ما قد فاته، إلى غير ذلك مما مر ويأتي؟
--------------------------------------------
তাতক্ষণিকতা (الفورية), এবং মহান আল্লাহ তায়ালা বলেছেন: {অতঃপর জায়েদ যখন তার (যয়নাব) সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করল, তখন আমি তাকে আপনার সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ করলাম} [আল-আহযাব: ৩৭]। এবং এটি সর্বজনবিদিত যে, সম্পর্ক ছিন্ন করা এবং বিবাহের মধ্যবর্তী সময়ে একটি নির্দিষ্ট বিরতি ছিল। মহান আল্লাহ আরও বলেছেন: {অতঃপর মূসা যখন মেয়াদ পূর্ণ করল এবং তার পরিবারসহ যাত্রা করল, তখন সে তূর পাহাড়ের পার্শ্বে আগুন দেখতে পেল} [আল-কাসাস: ২৯]। এখানে মেয়াদ পূর্ণ করা ও যাত্রা শুরু করার মাঝখানে এবং আগুন দেখার মাঝে সময়ের ব্যবধান বা বিরতি ছিল।
আর যদি ধরে নেওয়া হয় যে উক্ত অতিরিক্ত বর্ণনা (الزيادة) অংশটি সহিহ (صحيح) এবং এর প্রকাশ্য অর্থ অনুরূপ ক্ষেত্রে তাতক্ষণিকতা (الفورية) নির্দেশ করে, তবে হতে পারে আবু বাকরাহ সেই সকল ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যারা মনে করতেন যে রুকুর মাধ্যমে রাকাত পাওয়া যায় না। ফলে তিনি মনে করেছিলেন যে প্রেক্ষাপট বা প্রাসঙ্গিকতা (السياق) হলো তাতক্ষণিকতা না হওয়ার একটি আলামত (قرينة)। এমতাবস্থায় হতে পারে নবী (সা.) অবগত হয়েছিলেন যে, যিনি কেবল রুকু পেয়েছেন তিনি তার সালাত পূর্ণ করার জন্য দাঁড়াবেন। অতঃপর যখন তিনি (নবী সা.) সালাম ফেরালেন এবং তাদের কেউ কেউ সালাত পূর্ণ করতে দাঁড়ালেন, তখন নবী (সা.) জিকিরে মশগুল হলেন, এমনকি যে ব্যক্তি পিছনে পড়ে গিয়েছিলেন (المسبوق) তিনি সালাম ফেরানো পর্যন্ত। আর তখনই নবী (সা.) তাকে জিজ্ঞাসা করলেন।
আমি মনে করি, যে ব্যক্তি চিন্তা-গবেষণা করবে এবং গভীরভাবে দৃষ্টিপাত করবে সে [স্বীকার করবে] যে এটি একটি দূরবর্তী সম্ভাবনা নয়। বরং তার নিকট এটি স্পষ্ট হয়ে যাবে যে, এমন কোনো বিষয় নেই যা অকাট্য দলিল (الحجة) হিসেবে সাব্যস্ত হতে পারে যে আবু বাকরাহ নবী (সা.)-এর যে রুকু পেয়েছিলেন তা প্রথম রাকাতের রুকু ছিল; বরং এটিও সম্ভব যে তা দ্বিতীয় রাকাতের রুকু ছিল।
আর ধরুন আপনার নিকট এটিই জোরালো মনে হলো যে তা প্রথম রাকাতের রুকু ছিল এবং নবী (সা.) সালামের পরপরই জিজ্ঞাসা করেছিলেন এবং আবু বাকরাহ তৎক্ষণাৎ উত্তর দিয়েছিলেন। তবে কি আপনি এই বিষয়টিকে নসসমূহের (النصوص) সাধারণ বিধান—যা দণ্ডায়মান হওয়া, সূরা ফাতিহা পাঠ করা এবং মাসবুকের (المسبوق) ছুটে যাওয়া অংশ আদায় করাকে আবশ্যক করে—তা থেকে সুনির্দিষ্টকরণ (تخصيص) করার জন্য যথেষ্ট শক্তিশালী মনে করেন? এছাড়া ইতিপূর্বে যা অতিক্রান্ত হয়েছে এবং সামনে যা আসবে সেই সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয় তো রয়েছেই।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৬)
হাল ইয়ুদরিকুল মামুমুর রাকাআতা বি ইদরাকিহির রুকুআ মাআল ইমাম - জিমনা আসারুল মুআল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ১৩০)
وأما الأمر الخامس: فقد أجاب عنه البخاري في "جزء القراءة"
(1) بقوله: ثنا عُبيد بن يَعيش، قال: حدثنا يونس، [قال: حدثنا ابن إسحاق]
(2) قال: أخبرني الأعرج، قال: سمعتُ أبا هريرة يقول: "لا يُجزِئك إلا أن تُدرِكَ الإمامَ قائمًا قبلَ أن يركع".
حدثنا
(3) عبد الله بن صالح، قال: حدثني الليث، قال: حدثني جعفر بن ربيعة
(4) عن عبد الرحمن بن هرمز قال: قال أبو سعيد رضي الله عنه: "لا يَركعْ أحدُكم حتى يقرأَ أمَّ القرآن".
قال البخاري: وكانت عائشة تقول ذلك.
وقال علي بن عبد الله
(5) (ابن المديني): إنما أجاز إدراكَ الركوع من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم الذين لم يروا القراءةَ خلف الإمام، منهم: ابن مسعود وزيد بن ثابت وابن عمر، فأما من رأى القراءة فإن أبا هريرة قال: "اقرأْ بها في نفسِك يا فارسيُّ"، وقال: "لا تعتدَّ بها حتى تُدرِكَ الإمام قائمًا".
وقال البخاري في موضع آخر
(6): حدثني مَعْقِل بن مالك، ثنا أبو عوانة، عن محمد بن إسحاق، عن عبد الرحمن بن هرمز الأعرج، عن أبي هريرة قال: "إذا أدركتَ القومَ ركوعًا لم تعتدَّ بتلك الركعة".
--------------------------------------------
আর পঞ্চম বিষয়টি সম্পর্কে ইমাম বুখারি "জুযউল কিরাআত"
(১) গ্রন্থে তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে উত্তর দিয়েছেন: উবাইদ ইবনে ইয়াইশ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (ثنا), তিনি বলেন: ইউনুস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), [তিনি বলেন: ইবনে ইসহাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا)]
(২) তিনি বলেন: আল-আ'রাজ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন (أخبرني), তিনি বলেন: আমি আবু হুরায়রা (রা.)-কে বলতে শুনেছি (سمعتُ): "তোমার জন্য এটি পর্যাপ্ত হবে না (لا يجزئك) যতক্ষণ না তুমি ইমামকে রুকুতে যাওয়ার পূর্বে দণ্ডায়মান অবস্থায় পাও।"
আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا)
(৩) আবদুল্লাহ ইবনে সালিহ, তিনি বলেন: লাইস আমার নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثني), তিনি বলেন: জাফর ইবনে রাবিয়া আমার নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثني)
(৪) আবদুর রহমান ইবনে হুরমুজ থেকে (عن), তিনি বলেন: আবু সাঈদ (রা.) বলেছেন: "তোমাদের কেউ যেন রুকু না করে যতক্ষণ না সে উম্মুল কুরআন (সুরা ফাতিহা) পাঠ করে।"
ইমাম বুখারি বলেন: আয়েশা (রা.)-ও অনুরূপ বলতেন।
আলী ইবনে আবদুল্লাহ
(৫) (ইবনুল মাদিনি) বলেন: নবী (সা.)-এর সাহাবীদের মধ্যে যারা ইমামের পিছনে কিরাআত পাঠের আবশ্যকতা দেখতেন না, মূলত তারাই রুকু পাওয়ার মাধ্যমে (রাকাত প্রাপ্তির) অনুমতি (أجاز) দিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: ইবনে মাসউদ, যায়েদ ইবনে সাবিত এবং ইবনে ওমর। পক্ষান্তরে যারা কিরাআত পাঠের পক্ষপাতী ছিলেন, তাদের ক্ষেত্রে আবু হুরায়রা (রা.) বলেছেন: "হে পারস্যবাসী! তুমি তা মনে মনে পাঠ করো।" তিনি আরও বলেছেন: "তুমি সেটি (রাকাত হিসেবে) গণনা করবে না (لا تعتد) যতক্ষণ না ইমামকে দণ্ডায়মান অবস্থায় পাও।"
ইমাম বুখারি অন্য স্থানে
(৬) বলেছেন: মাকিল ইবনে মালিক আমার নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثني), আবু আওয়ানাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (ثنا), মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক থেকে (عن), আবদুর রহমান ইবনে হুরমুজ আল-আ'রাজ থেকে (عن), আবু হুরায়রা (রা.) থেকে (عن) বর্ণিত, তিনি বলেন: "যখন তুমি লোকজনকে রুকু অবস্থায় পাবে, তখন সেই রাকাতটি গণনা করবে না (لم تعتد)।"
--------------------------------------------