(খণ্ড: ১) মাসআলাতু বুতলানিস সালাহ বিতাগয়ীরিল আয়াত ফিল কিরাআহ - জিমনা আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: -)
مسألة بطلان الصلاة بتغيير الآيات في القراءة - ضمن «آثار المعلمي»   (عبد الرحمن المعلمي اليماني)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: مسألة بطلان الصلاة بتغيير الآيات في القراءة

[آثار عبد الرحمن بن يحيى المعلمي اليماني (16)]

المؤلف: عبد الرحمن بن يحيى المُعَلِّمي اليماني (1313 - 1386 هـ)

المحقق: محمد عزير شمس

راجعه: محمد أجمل الإصلاحي - سليمان بن عبد الله العمير

الناشر: دار عالم الفوائد للنشر والتوزيع

الطبعة: الأولى، 1434 هـ

قدمه للشاملة: مؤسسة «عطاءات العلم»، جزاهم الله خيرا

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 10 شوّال 1442

তিলাওয়াতের সময় আয়াত পরিবর্তনের মাধ্যমে সালাত বাতিল হওয়ার মাসআলা - ‘আসারুল মুয়াল্লিমি’-এর অন্তর্ভুক্ত   (আবদুর রহমান আল-মুয়াল্লিমি আল-ইয়ামানি)

বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ


গ্রন্থ: তিলাওয়াতের সময় আয়াত পরিবর্তনের মাধ্যমে সালাত বাতিল হওয়ার মাসআলা

[আসারু আবদির রহমান বিন ইয়াহইয়া আল-মুয়াল্লিমি আল-ইয়ামানি (১৬)]

লেখক: আবদুর রহমান বিন ইয়াহইয়া আল-মুয়াল্লিমি আল-ইয়ামানি (১৩১৩ - ১৩৮৬ হিজরি)

তাহকীক (সম্পাদনা): মুহাম্মদ উজাইর শামস

পুনঃনিরীক্ষণ: মুহাম্মদ আকমল আল-ইসলাহি - সুলাইমান বিন আব্দুল্লাহ আল-উমাইর

প্রকাশক: দারু আলামিল ফাওয়াইদ লিন-নাশর ওয়াত-তাওজি

সংস্করণ: প্রথম، ১৪৩৪ হিজরি

শামেলা সংস্করণের উপস্থাপনায়: মুয়াসসাসাতু «আতায়াতুল ইলম»، আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দিন

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণ কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ১০ শাওয়াল ১৪৪২

(খণ্ড: ১৬) মাসআলাতু বুতলানিস সালাহ বিতাগয়ীরিল আয়াত ফিল কিরাআহ - জিমনা আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ৮১)
الرسالة الثالثة

مسألة

بطلان الصلاة بتغيير الآيات في القراءة
তৃতীয় রিসালাহ

মাসআলা

কিরাতের মধ্যে আয়াত পরিবর্তনের কারণে সালাত বাতিল হওয়া
(খণ্ড: ১৬) মাসআলাতু বুতলানিস সালাহ বিতাগয়ীরিল আয়াত ফিল কিরাআহ - জিমনা আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ৮৩)
الحمد لله.

الحمد لله حمدًا لا انقطاعَ له أبدًا، فإن إحسانه علينا غير مقطوعٍ عنا، والصلاة والسلام على مولانا محمدٍ رسوله الأمين، وعلى آله وأصحابه والتابعين.

أما بعد، فإنه لمّا كان في يوم الجمعة لأربعٍ خلون من شوال 1339 قرأ إمامُ الصلاةِ في الجمعة بسورتَي الأعلى والغاشية؛ فأبدل لفظ الغاشية بالخاشعة، ففتح عليه الحقيرُ فلم يتنبّه، ثم فتح عليه السيّد الضياء صالح بن محسن الصَّيلمي، وكرّر مرارًا فلم يتنبّه، بل استمرّ على القراءة، فلمّا سلّم قال الصَّيلمي: «أعيدوا الصلاةَ»، فنازعه السيّد العربي محمد بن حيدر النعمي بأنّه لا يلزم في مذهبهما إعادةٌ في مثل ذلك، ثم قال له: «الإمامُ حاكمٌ وهو شافعيٌّ».

فسُئِلَ الحقيرُ عن الصلاة في مذهبنا، فقلتُ: صحيحة. فلما كان بعد ذلك قال لي الصَّيلمي: «ما دليل الشافعية على عدم بطلان الصلاة؟».

فقلتُ له: أمّا صلاتُك أنتَ فقد بطلتْ بمذهبك؛ لأنّ فيه أنّه ليس للمأموم الفتحُ على الإمام في ما زاد على الواجب، وهو منه الفاتحة وثلاث آياتٍ في جميع الصلاة لا في كلِّ ركعةٍ، هذا [مع](1) أنّه كرَّر الردَّ بعد أن تجاوز القارئ الآية بآياتٍ.

فقال: لستُ ملتزمًا للمذهب، يعني: بل مجتهد.

--------------------------------------------

(1) هنا كلمة غير واضحة. ولعلها ما أثبت أو نحوها.
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য।

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এমন এক প্রশংসা যার কোনো ছেদ নেই কখনো, কেননা আমাদের প্রতি তাঁর অনুগ্রহ আমাদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয় না। আর দরুদ ও সালাম আমাদের নেতা আল্লাহর আমানতদার রাসুল মুহাম্মাদের ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবী ও তাবেয়ীদের ওপর।

অতঃপর, ১৩৩৯ হিজরির ৪ঠা শাওয়াল জুমার দিন জুমার নামাজের ইমাম সূরা আল-আলা এবং সূরা আল-গাশিয়াহ পাঠ করেন; তখন তিনি ‘গাশিয়াহ’ শব্দটিকে ‘খাশিআহ’ দ্বারা পরিবর্তন করে ফেলেন। তখন এই অধম তাঁকে লোকমা (فتح) দিলে তিনি তা লক্ষ্য করেননি। এরপর সাইয়্যেদ আল-দ্বিয়া সালেহ বিন মুহসিন আল-সাইলামি তাঁকে লোকমা (فتح) প্রদান করেন এবং বারবার তা পুনরাবৃত্তি করেন, তবুও তিনি লক্ষ্য করেননি; বরং তিনি তিলাওয়াত চালিয়ে যান। যখন তিনি সালাম ফেরালেন, তখন আল-সাইলামি বললেন: “আপনারা নামাজ পুনরায় আদায় করুন।” তখন সাইয়্যেদ আল-আরাবি মুহাম্মদ বিন হায়দার আল-নামি তাঁর সাথে দ্বিমত পোষণ করে বললেন যে, তাঁদের মাযহাবে এমন পরিস্থিতিতে নামাজ পুনরায় আদায় করা আবশ্যক নয়। অতঃপর তিনি তাঁকে বললেন: “ইমাম হলেন বিচারক (حاكم) এবং তিনি শাফেয়ী।”

অতঃপর এই অধমের নিকট আমাদের মাযহাবে উক্ত নামাজ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে আমি বললাম: সঠিক (صحيحة)। এর কিছুকাল পর আল-সাইলামি আমাকে বললেন: “নামাজ বাতিল না হওয়ার পক্ষে শাফেয়ীদের দলিল কী?”

আমি তাকে বললাম: আপনার নিজের নামাজ তো আপনার মাযহাব অনুযায়ী বাতিল হয়ে গেছে; কারণ আপনার মাযহাবে ওয়াজিবের অতিরিক্ত অংশে ইমামকে লোকমা (فتح) দেওয়ার বিধান নেই। আর নামাজের ক্ষেত্রে ওয়াজিব হলো সূরা ফাতিহা এবং পুরো নামাজে তিনটি আয়াত, প্রতি রাকাতে নয়। এছাড়া তিনি (ইমাম) তিলাওয়াতকালে উক্ত আয়াতটি অতিক্রম করে কয়েক আয়াত সামনে চলে যাওয়ার পরও তিনি (সাইলামি) বারবার লোকমা (فتح) দিচ্ছিলেন।

তিনি বললেন: আমি মাযহাবের অনুসারী নই, অর্থাৎ: বরং আমি মুজতাহিদ (مجتهد)।

--------------------------------------------

(১) এখানে একটি শব্দ অস্পষ্ট। সম্ভবত এটি যা উল্লেখ করা হয়েছে (أثبت) তাই হবে অথবা এর অনুরূপ কিছু।
(খণ্ড: ১৬) মাসআলাতু বুতলানিস সালাহ বিতাগয়ীরিল আয়াত ফিল কিরাআহ - জিমনা আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ৮৪)
فقلتُ ــ وعلى تسليم دعواه ــ: إذًا ليس لك أن تناظرني؛ لأنّي مقلّدٌ آخُذُ قولَ إمامي، ولا يلزمني معرفة دليله. لكني أتنازل عن هذا فأقول: لا يلزم إمامي الحجةُ؛ لأنه متمسك بالأصل، وهو عدم البطلان، فالبيّنة عليك. ولكنّي أتنازل عن هذا فأقول: لا يخلو دعوى البطلان إمّا أن تكون لتغيير نظم القرآن، وإمّا للإتيان بكَلِمٍ ليست من القرآن.

أمّا الأول فيدلّ على استصحابِ الأصل فيه حديث عليٍّ عند أبي داود والترمذيّ والنسائي والحاكم(1) قال: «صنعَ لنا عبد الرحمن بن عوفٍ طعامًا، فدعانا وسقانا من الخمر، فأخذتِ الخمرُ منّا وحضرتِ الصلاةُ، فقدّموني، فقرأتُ: (قل يا أيها الكافرون، لا أعبد ما تعبدون، ونحن نعبد ما تعبدون). فأنزل الله: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَقْرَبُوا الصَّلَاةَ وَأَنْتُمْ سُكَارَى حَتَّى تَعْلَمُوا مَا تَقُولُونَ} [النساء: 43].

هكذا ذكره الجلال السيوطي في «أسباب النزول»(2). ولفظ أبي داود بعد السند إلى علي: عن عليٍّ ــ عليه السلام ــ: «أن رجلاً من الأنصار دعاه وعبد الرحمن بن عوفٍ، فسقاهما قبل أن تُحرَّم الخمر، فأمَّهم عليٌّ في المغرب، فقرأ: (قل يا أيها الكافرون) فخلّط فيها، فنزلت: {لَا تَقْرَبُوا الصَّلَاةَ وَأَنْتُمْ سُكَارَى حَتَّى تَعْلَمُوا مَا تَقُولُونَ}.

والاستدلال بهذا مِن حيثُ إنَّه لم يرد أنّهم أُمِروا بالإعادة، والأصل عدم

--------------------------------------------

(1) «سنن أبي داود» (3671) والترمذي (3026) و «السنن الكبرى» للنسائي (11041) و «المستدرك» (2/ 307).

(2) «لباب النقول» (ص 68، 69).
আমি বললাম—তাঁর দাবি মেনে নিলেও—তখন আপনার আমার সাথে বিতর্ক করার অধিকার থাকে না; কারণ আমি একজন অনুসারী (مقلد), আমি আমার ইমামের বক্তব্য গ্রহণ করি এবং তাঁর দলীল (دليل) জানা আমার জন্য অপরিহার্য নয়। তবে আমি এ থেকে সরে এসে বলছি: আমার ইমামের জন্য প্রমাণের প্রয়োজন নেই; কারণ তিনি মূলনীতির (الأصل) ওপর অবিচল রয়েছেন, আর তা হলো বাতিল না হওয়া, সুতরাং প্রমাণের দায়িত্ব আপনার ওপর। কিন্তু আমি এ থেকেও সরে এসে বলছি: বাতিলের দাবিটি হয় কুরআনের বিন্যাস পরিবর্তনের কারণে হতে পারে, অথবা কুরআনের অন্তর্ভুক্ত নয় এমন শব্দ ব্যবহারের কারণে হতে পারে।

প্রথমটির ক্ষেত্রে মূল হুকুম অব্যাহত রাখা (استصحاب الأصل) সম্পর্কে দলীল (دليل) হলো আবু দাউদ, তিরমিজি, নাসায়ি ও হাকেম-এ বর্ণিত আলীর হাদিস, তিনি বলেন: «আবদুর রহমান ইবনে আউফ আমাদের জন্য খাবার তৈরি করেছিলেন, তিনি আমাদের দাওয়াত দিলেন এবং মদ পান করালেন। অতঃপর মদ আমাদের প্রভাবিত করল এবং সালাতের সময় হলো, তারা আমাকে ইমামতি করতে এগিয়ে দিলেন, তখন আমি পাঠ করলাম: (হে কাফেররা, তোমরা যার উপাসনা করো আমি তার উপাসনা করি না, এবং আমরা তার উপাসনা করি যার উপাসনা তোমরা করো)। তখন আল্লাহ অবতীর্ণ করলেন: {হে মুমিনগণ, যখন তোমরা নেশাগ্রস্ত থাকো তখন সালাতের কাছে যেও না, যতক্ষণ না তোমরা কী বলছ তা বুঝতে পারো} [নিসা: ৪৩]।

এভাবেই জালাল সুয়ূতী ‘আসবাবুন নুজুল’-এ এটি উল্লেখ করেছেন। আর আলীর নিকট পর্যন্ত সনদ (السند) পৌঁছানোর পর আবু দাউদ-এর শব্দ হলো: আলী —আলাইহিস সালাম— থেকে বর্ণিত: «আনসারদের এক ব্যক্তি তাঁকে এবং আবদুর রহমান ইবনে আউফকে দাওয়াত দিলেন। মদ হারাম হওয়ার আগে তিনি তাঁদের মদ পান করালেন। এরপর আলী মাগরিবের সালাতে তাঁদের ইমামতি করলেন এবং পাঠ করলেন: (হে কাফেররা), তখন তিনি তাতে শব্দ গুলিয়ে ফেললেন। এরপর অবতীর্ণ হলো: {যখন তোমরা নেশাগ্রস্ত থাকো তখন সালাতের কাছে যেও না, যতক্ষণ না তোমরা কী বলছ তা বুঝতে পারো}।

এ থেকে দলীল (دليل) গ্রহণের দিকটি হলো যে, সেখানে এটি বর্ণিত হয়নি যে তাঁদের পুনরায় সালাত আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, আর মূলনীতি (الأصل) হলো না থাকা (عدم)...

--------------------------------------------

(১) সুনান আবু দাউদ (৩৬৭১), তিরমিজি (৩০২৬), নাসায়ি-এর আস-সুনানুল কুবরা (১১০৪১) এবং আল-মুস্তাদরাক (২/৩০৭)।

(২) লুবাবুন নকুল (পৃ. ৬৮, ৬৯)।
(খণ্ড: ১৬) মাসআলাতু বুতলানিস সালাহ বিতাগয়ীরিল আয়াত ফিল কিরাআহ - জিমনা আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ৮৫)
الأمر، بل والظاهر، إذ لو كان لنُقِل. وأمّا قولهم: «الدليل إذا تطرَّقَه الاحتمال سقط به الاستدلال» فليس هذا منه.

فإن قيل: هذا قبل تحريم الكلام في الصلاة.

قلنا: لسنا في الكلام، بل نحن في تغيير النظم، إذ قد يقال: إن تغيير النظم أشدُّ من الكلام الأجنبيّ. وسيأتي بحث الكلام إن شاء الله.

فإن قيل: قد نُسِخ جواز صلاة السكران.

قلنا: نعم، ولكن لم يُنسَخ جواز صلاة من غيَّر النظمَ غيرَ مُتعمِّدٍ، مع أنهم في تلك الصلاة كان التخليط بسببهم؛ إذ الشربُ باختيارهم؛ فصحّة صلاة من خلّط بغير سببٍ منه من باب أولى.

فإن قيل: فإنّما كان نسخ صلاة السكران بسبب التخليط.

قلنا: هذا لا يدل على بطلان الصلاة تلك ولا ما بعدها، فإنه إنما هو تحريم الصلاة مع وجود سبب التخليط، بل سبب ( … )(1) مُبطل، فإذا وقع سبب آخر للتخليط ليس باختيار المخلّط فهو معذور فيه، مع أنّ التخليط الذي في الحديث فظيعٌ في نفسه، وأمّا المخلِّط فمعذورٌ.

فإن قيل: لم يعد القارئ لتصحيح القراءة؟

قلتُ: ليست القراءة واجبةً حتى تبطل الصلاة لبطلانها، إذِ الواجبُ في مذهبه الفاتحة، وفي مذهب غيره هي وثلاث آياتٍ في عموم الصلاة، وقد قرأ سورة الأعلى في الركعة الأولى، مع أنَّ التخليط هنا لم يكدْ يغيِّر المعنى، ومع ذلك فالحديث لم يرد فيه إعادته القرآن.

--------------------------------------------

(1) كلمة غير واضحة.
বিষয়টি স্পষ্ট, বরং এটিই সুস্পষ্ট; কেননা যদি তেমন কিছু হতো তবে তা অবশ্যই বর্ণিত হতো। আর তাদের বক্তব্য: "দলিলে যখন কোনো সম্ভাব্যতার উদ্রেক হয়, তখন তা দ্বারা দলিল পেশ করা বাতিল হয়ে যায়"—এটি সেই পর্যায়ের বিষয় নয়।

যদি বলা হয়: এটি নামাজে কথা বলা হারাম করার পূর্বের ঘটনা।

আমরা বলব: আমরা কথা বলা নিয়ে আলোচনা করছি না, বরং আমাদের আলোচনা হলো শব্দের বিন্যাস পরিবর্তন (تغيير النظم) নিয়ে। কেননা কেউ হয়তো বলতে পারেন: শব্দের বিন্যাস পরিবর্তন করা বহিরাগত কথা বলার চেয়েও গুরুতর। আর নামাজে কথা বলা সংক্রান্ত আলোচনা ইনশাআল্লাহ সামনে আসবে।

যদি বলা হয়: নেশাগ্রস্ত অবস্থায় নামাজ বৈধ থাকার বিষয়টি রহিত (منسوخ) হয়ে গেছে।

আমরা বলব: হ্যাঁ, কিন্তু অনিচ্ছাকৃতভাবে শব্দের বিন্যাস পরিবর্তনকারীর নামাজের বৈধতা রহিত (منسوخ) হয়নি। অথচ সেই নামাজে শব্দের সংমিশ্রণ বা গোলমাল (تخليط) হওয়ার কারণ তারা নিজেরাই ছিলেন; যেহেতু মদ্যপান ছিল তাদের স্বেচ্ছাধীন। সুতরাং যার পক্ষ থেকে কোনো স্বেচ্ছাকৃত কারণ ছাড়াই গোলমাল হয়েছে, তার নামাজের শুদ্ধতা (صحّة) সাব্যস্ত হওয়া অধিকতর যুক্তিযুক্ত।

যদি বলা হয়: নেশাগ্রস্ত ব্যক্তির নামাজ রহিত (منسوخ) হওয়ার কারণই ছিল শব্দের গোলমাল (تخليط)।

আমরা বলব: এটি ওই নামাজ কিংবা পরবর্তী কোনো নামাজ বাতিল (بطلان) হওয়ার প্রমাণ বহন করে না। বরং এটি মূলত সংমিশ্রণের কারণ বিদ্যমান থাকা অবস্থায় নামাজ আদায় হারাম হওয়াকে বুঝায়। এমনকি (...) এর কারণ নামাজ ভঙ্গকারী (مبطل)। সুতরাং যদি গোলমাল বা সংমিশ্রণের (تخليط) এমন কোনো কারণ ঘটে যা নামাজির ইচ্ছাধীন নয়, তবে সেক্ষেত্রে তিনি ওজরসম্পন্ন বা অপারগ হিসেবে গণ্য হবেন। যদিও হাদিসে বর্ণিত গোলমাল বা সংমিশ্রণের বিষয়টি স্বয়ং অত্যন্ত ভয়াবহ, তবুও যে ব্যক্তি এই গোলমাল করেছেন তিনি ওজরসম্পন্ন।

যদি বলা হয়: তবে তিলাওয়াতকারী কিরাত শুদ্ধ করার জন্য কেন পুনরায় তিলাওয়াত করলেন না?

আমি বলব: কিরাত এমন কোনো ওয়াজিব (واجب) নয় যে, সেটি বাতিল হওয়ার কারণে নামাজ বাতিল (بطلان) হয়ে যাবে। কারণ তার মাযহাবে সূরা ফাতিহা ওয়াজিব (واجب), আর অন্যদের মাযহাবে সাধারণ নামাজের ক্ষেত্রে সূরা ফাতিহা ও তিন আয়াত পাঠ করা ওয়াজিব (واجب)। অথচ তিনি প্রথম রাকাতে সূরা আল-আ’লা পাঠ করেছিলেন। তাছাড়া এখানে শব্দের যে গোলমাল হয়েছে তা অর্থের পরিবর্তন ঘটায়নি বললেই চলে। তদুপরি হাদিসে তার পুনরায় কুরআন পাঠের কোনো বর্ণনা আসেনি।

--------------------------------------------

(1) শব্দটি অস্পষ্ট।
(খণ্ড: ১৬) মাসআলাতু বুতলানিস সালাহ বিতাগয়ীরিল আয়াত ফিল কিরাআহ - জিমনা আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ৮৬)
وأمّا الثاني وهو: أن يكون سبب البطلان هو الإتيان بكلمةٍ ليست من القرآن، فلفظُ الخاشعة قد جاءت في القرآن، مع أنَّ إتيانه بها خطأٌ، والكلام الأجنبيُّ لا يبطل صلاة المعذور فيه، سواءً كان جاهلاً أو ناسيًا أو مخطئًا، فقد قال تعالى: {رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَا إِنْ نَسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا} [البقرة: 286]، وهي دعوة مجابةٌ لجميع الأمة، وفي الحديث: «رُفِع عن أمّتي الخطأ والنسيان وما استُكْرِهوا عليه»(1).

فإن قيل: رُفِع الإثمُ لا الحكم.

قلنا: كلاّ، ففي مسلمٍ وغيره(2) عن معاوية بن الحكم السُّلَمي قال: «بينا أنا أصلّي مع رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم إذْ عطسَ رجلٌ من القوم؛ فقلتُ: يرحمك الله، فرماني القوم بأبصارهم، فقلتُ: وا ثُكْلَ أُمِّياه! ما شأنكم تنظرون إليَّ؟! فجعلوا يضربون أيديَهم على أفخاذهم، فلمّا رأيتُهم يُصمِّتونني لكنّي سكتُّ، فلمّا صلّى رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم فبأبي هو وأمّي ما رأيتُ معلِّمًا قبله ولا بعده أحسنَ تعليمًا منه، فوالله ما كَهَرني ولا ضربَني ولا شتمَني، ثم قال: «إنّ هذه الصلاة لا يصلُح فيها شيءٌ من كلام الناس، إنما هو التسبيح والتكبير وقراءة القرآن»، أو كما قال رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم فذكر الحديث.

--------------------------------------------

(1) أخرجه الطحاوي في «شرح معاني الآثار» (3/ 95) وابن حبان (7219) والدارقطني (4/ 170 ــ 171) والحاكم (2/ 198) والبيهقي في «السنن الكبرى» (7/ 356) من حديث ابن عباس بلفظ: «إن الله تجاوز عن أمتي … ». وإسناده صحيح. وأخرجه ابن ماجه (2045) أيضًا، ولكن في إسناده انقطاع بين الأوزاعي وابن عباس.

(2) مسلم (537) وأبو داود (930، 931) والنسائي (3/ 14 ــ 18).
আর দ্বিতীয় বিষয়টি হলো: (নামাজ) বাতিল হওয়ার কারণ হলো এমন কোনো শব্দ উচ্চারণ করা যা কুরআনের অন্তর্ভুক্ত নয়। তবে 'আল-খাশিয়া' শব্দটি কুরআনে এসেছে, যদিও তাঁর ক্ষেত্রে এটি পাঠ করা ছিল একটি ভুল। আর ওজরগ্রস্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে অপ্রাসঙ্গিক কথা নামাজকে বাতিল করে না, চাই সে অজ্ঞ হোক, বিস্মৃত হোক কিংবা ভুলকারী হোক। মহান আল্লাহ বলেন: "হে আমাদের রব! যদি আমরা বিস্মৃত হই কিংবা ভুল করি, তবে আমাদের পাকড়াও করবেন না" [আল-বাকারা: ২৮৬]। আর এটি পুরো উম্মতের জন্য একটি কবুল হওয়া দোয়া। হাদিসে এসেছে: "আমার উম্মতের ভুল, বিস্মৃতি এবং যে বিষয়ের ওপর তাদের বাধ্য করা হয়েছে, তা ক্ষমা করা হয়েছে।"(১).

যদি বলা হয়: (এক্ষেত্রে) কেবল গুনাহ মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে, হুকুম বা বিধান নয়।

আমরা বলবো: কক্ষনো নয়। কারণ মুসলিম ও অন্যান্য গ্রন্থে মুয়াবিয়া ইবনে আল-হাকাম আস-সুলামি থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: "একদা আমি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে নামাজ আদায় করছিলাম, এমতাবস্থায় আমাদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি হাঁচি দিল। আমি বললাম: 'ইয়ারহামুকাল্লাহ' (আল্লাহ আপনার ওপর দয়া করুন)। তখন লোকজন আমার দিকে কড়া নজরে তাকাতে লাগল। আমি বললাম: 'হায় আফসোস! তোমাদের কী হলো যে তোমরা আমার দিকে তাকিয়ে আছো?' তখন তারা তাদের উরুতে হাত চাপড়াতে লাগল। যখন আমি দেখলাম যে তারা আমাকে চুপ করাতে চাচ্ছে, তখন আমি চুপ হয়ে গেলাম। এরপর যখন আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) নামাজ শেষ করলেন—আমার পিতা-মাতা তাঁর ওপর উৎসর্গ হোক—আমি তাঁর আগে বা পরে তাঁর চেয়ে উত্তম কোনো শিক্ষক দেখিনি। আল্লাহর কসম! তিনি আমাকে ধমক দেননি, প্রহার করেননি এবং গালমন্দও করেননি। বরং তিনি বললেন: 'নিশ্চয়ই এই নামাজে মানুষের কোনো কথাবার্তা শোভা পায় না। নামাজ হলো কেবল তাসবিহ, তাকবির এবং কুরআন তিলাওয়াত'।" অথবা আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) যেমনটি বলেছিলেন। এরপর তিনি পূর্ণ হাদিসটি উল্লেখ করেন।

--------------------------------------------

(১) এটি ইমাম তহাবি 'শারহু মাআনিল আসার' (৩/৯৫), ইবনে হিব্বান (৭২১৯), দারাকুতনি (৪/১৭০-১৭১), হাকেম (২/১৯৮) এবং বায়হাকি 'আস-সুনানুল কুবরা' (৭/৩৫৬)-তে ইবনে আব্বাস থেকে এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার উম্মতকে ক্ষমা করেছেন..."। আর এর সনদ (إسناد) সহিহ (صحيح)। ইবনে মাজাহ-ও (২০৪৫) এটি বর্ণনা করেছেন, কিন্তু এর সনদে (إسناد) আওজায়ি ও ইবনে আব্বাসের মাঝে বিচ্ছিন্নতা (انقطاع) রয়েছে।

(২) মুসলিম (৫৩৭), আবু দাউদ (৯৩০, ৯৩১) এবং নাসায়ি (৩/১৪-১৮)।
(খণ্ড: ১৬) মাসআলাতু বুতলানিস সালাহ বিতাগয়ীরিল আয়াত ফিল কিরাআহ - জিমনা আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ৮৭)
والدليل منه أنه تكلّم جاهلاً فلم يأمرْهُ الرسول صلى الله عليه وآله وسلم بالإعادة، مع وضوح أنّ ذلك كان بعد تحريم الكلام، كما لا يخفى من إنكارِ الصحابة ثم كلامِ النبي صلى الله عليه وآله وسلم، وهذا حريٌّ أن يكون مجمعًا عليه؛ لأنّ الجاهل المعذور إذا أتى مبطلاً لا يلزمه الإعادةُ، ومنه أهل قُباء الذين كانوا يصلُّون مستقبلين بيتَ المقدس فأُخْبِروا بتحويل القبلة فداروا كما هم(1) فهم قد فعلوا بعضَ الصلاةِ إلى غير القبلة ولم يؤمروا بالإعادة، وأدلّة هذا كثيرةٌ، هذا في الجهل.

وأمّا السهو أو النسيانُ ففيه حديث ذي اليدين المشهور، ولفظ البخاريّ(2) فيه: عن أبي هريرة قال: صلّى بنا النبيُّ صلى الله عليه وآله وسلم فساقه. ولمسلمٍ وأحمدَ وغيرهما(3) عن أبي هريرة قال: بينما أنا أصلّي مع رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم.

وذو اليدين هذا غير ذي الشمالين الشهيد ببدرٍ، فإنّ هذا عاش بعد النبي صلى الله عليه وآله وسلم، وحدَّث بهذا الحديث كما عند الطبراني(4).

وإسلامُ أبي هريرة وعمران بن حصين ــ الراوي الآخر ــ متأخّر عن تحريم الكلام، وكذا إسلامُ معاوية بن حُدَيج قبل موته صلى الله عليه وآله وسلم بشهرين، وله حديث عند أبي داود(5) بسندٍ صحيحٍ، فيها السهو وخطاب طلحة للنّبي صلى الله عليه وآله وسلم والبناء.

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري (40، 399) ومسلم (525) من حديث البراء بن عازب.

(2) رقم (6051).

(3) مسلم (573) وأحمد (9444) والنسائي في الكبرى (567).

(4) في «المعجم الكبير» (4224).

(5) رقم (1023).
এর থেকে দলিল হলো যে, তিনি অজ্ঞতাবশত (جاهلاً) কথা বলেছিলেন, তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে সালাত পুনরায় আদায়ের নির্দেশ দেননি; অথচ এটি স্পষ্ট যে ঘটনাটি কথা বলা হারাম হওয়ার পরবর্তী সময়ের। যেমনটি সাহাবায়ে কেরামের অস্বীকৃতি এবং পরবর্তীতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথা থেকে অস্পষ্ট নয়। আর এ বিষয়টি ঐকমত্য (إجماع) হওয়ার যোগ্য; কারণ কোনো ওজরপ্রাপ্ত অজ্ঞ ব্যক্তি যদি সালাত নষ্টকারী কোনো কাজ করে ফেলে, তবে তার জন্য তা পুনরায় আদায় করা আবশ্যক নয়। এর একটি দৃষ্টান্ত হলো কুবা-বাসী, যারা বায়তুল মাকদিসের দিকে মুখ করে সালাত আদায় করছিলেন। এরপর যখন তাদের কিবলা পরিবর্তনের সংবাদ দেওয়া হলো, তখন তারা যে অবস্থায় ছিলেন সেভাবেই ঘুরে গেলেন(1)। তারা সালাতের কিছু অংশ কিবলা ব্যতীত অন্য দিকে মুখ করে আদায় করেছিলেন, কিন্তু তাদেরকে তা পুনরায় আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়নি। অজ্ঞতা (جهل) সম্পর্কে এই ধরণের প্রমাণ অনেক রয়েছে।

আর ভুল (سهو) বা বিস্মৃতি (نسيان) সম্পর্কে যুল ইয়াদায়নের প্রসিদ্ধ হাদিসটি রয়েছে। এ বিষয়ে বুখারির শব্দ হলো(2): আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন—অতঃপর তিনি হাদিসটি বর্ণনা করলেন। মুসলিম, আহমাদ এবং অন্যদের বর্ণনায়(3) আবু হুরায়রা থেকে এসেছে, তিনি বলেন: আমি যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে সালাত আদায় করছিলাম...।

এই যুল ইয়াদায়ন সেই যুল শিমলাইন নন যিনি বদরের যুদ্ধে শহীদ হয়েছিলেন। কারণ ইনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পরেও জীবিত ছিলেন এবং এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন, যেমনটি তাবারানিতে(4) রয়েছে।

আবু হুরায়রা এবং ইমরান বিন হুসাইন—যিনি অপর বর্ণনাকারী (راوي)—তাদের ইসলাম গ্রহণ কথা বলা হারাম হওয়ার বিধানের পরবর্তী সময়ের। অনুরূপভাবে মুয়াবিয়া বিন হুদাইজ-এর ইসলাম গ্রহণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইন্তেকালের দুই মাস আগে হয়েছিল। আবু দাউদে(5) তার একটি হাদিস রয়েছে যা একটি সহিহ (صحيح) সনদে (سند) বর্ণিত, যাতে ভুল (سهو), নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে তালহার কথা বলা এবং সালাতের অবশিষ্ট অংশ পূর্ণ করার (بناء) উল্লেখ রয়েছে।

--------------------------------------------

(1) বুখারি (৪০, ৩৯৯) এবং মুসলিম (৫২৫) আল-বারা বিন আযিব-এর হাদিস থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

(2) নম্বর (৬০৫১)।

(3) মুসলিম (৫৭৩), আহমাদ (৯৪৪৪) এবং নাসাঈ আল-কুবরা-তে (৫৬৭)।

(4) «আল-মুজামুল কাবীর»-এ (৪২২৪)।

(5) নম্বর (১০২৩)।
(খণ্ড: ১৬) মাসআলাতু বুতলানিস সালাহ বিতাগয়ীরিল আয়াত ফিল কিরাআহ - জিমনা আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ৮৮)
فهذه الأحاديثُ متأخرة عن تحريم الكلام بالإجماع، على قول من قال: إنّ النسخ بمكة، وعلى قول من قال: إن النسخ بالمدينة أوائلَ الهجرة، على أن الصحيح أنه كان بالمدينة، لحديث زيد بن أرقم عند البخاري(1) وغيره: «إنْ كنا لنتكلم في الصلاة على عهد النبي صلى الله عليه وآله وسلم، يُكلِّم أحدنا صاحبَه بحاجته، حتى نزلت: {حَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ … } الآية [البقرة: 238]، فأُمِرْنا بالسكوت». والآية مدنية باتفاقٍ.

ولا يعارضه حديث عبد الله عند البخاري(2) وغيره أيضًا أنَّه قال: «كنا نُسلِّم على النبي صلى الله عليه وآله وسلم وهو في الصلاة، فيردّ علينا، فلما رجعنا من عند النجاشي سلّمنا عليه، فلم يردَّ علينا، وقال: «إنّ في الصلاة لشُغلاً». فإنّ عبد الله رجع من الحبشة إلى مكة أولاً، ثم رجع إلى الحبشة، ثم رجع إلى مكة في ثلاثة وثلاثين رجلاً، فمات منهم رجلان بمكة وحُبِس منهم سبعة، وتوجّه إلى المدينة أربعةٌ وعشرون رجلاً، فشهدوا بدرًا، ومنهم عبد الله كما في سيرة ابن إسحاق(3)، وتضافرت عليه الأحاديث.

مع أن عبد الله وافق زيدًا على أنّ الناسخ: {وَقُومُوا لِلَّهِ قَانِتِينَ} كما في البخاري(4)، والآية مدنيةٌ باتفاق.

وقد حقّق الحافظ في «الفتح»(5) هذا المبحثَ بما لا مزيدَ عليه، وأكثرَ

--------------------------------------------

(1) رقم (1200).

(2) رقم (1199).

(3) انظر «سيرة ابن هشام» (1/ 681).

(4) رقم (1199، 1200).

(5) (3/ 74، 75).
সুতরাং এই হাদিসগুলো সর্বসম্মতভাবে (ইজমা (إجماع) অনুযায়ী) কথা বলা নিষিদ্ধ হওয়ার পরবর্তী সময়ের; সেই মতানুসারে যারা বলেন যে, রহিতকরণ (নাসখ (نسخ)) মক্কায় হয়েছিল, আর সেই মতানুসারেও যারা বলেন যে, রহিতকরণ (নাসখ (نسخ)) হিজরতের শুরুর দিকে মদীনায় হয়েছিল। তবে বিশুদ্ধ (صحيح) মত হলো এটি মদীনায় হয়েছিল; বুখারী (১) ও অন্যান্য গ্রন্থে বর্ণিত যায়েদ ইবনে আরকাম-এর হাদিসের কারণে: «আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লামের যুগে নামাজের মধ্যে কথা বলতাম, আমাদের কেউ তার প্রয়োজনে তার সঙ্গীর সাথে কথা বলত, যতক্ষণ না নাজিল হলো: {তোমরা নামাজসমূহের হিফাজত করো … } আয়াতটি [বাকারা: ২৩৮], অতঃপর আমাদের নীরব থাকার নির্দেশ দেওয়া হলো।» আর এই আয়াতটি সর্বসম্মতভাবে (ইত্তেফাক (اتفاق) অনুযায়ী) মাদানি।

বুখারী (২) ও অন্যান্য গ্রন্থে আব্দুল্লাহর বর্ণিত হাদিসটিও এর বৈপরীত্য সৃষ্টি করে না, যেখানে তিনি বলেছেন: «আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম নামাজে থাকা অবস্থায় তাঁকে সালাম দিতাম এবং তিনি আমাদের সালামের উত্তর দিতেন। অতঃপর আমরা যখন নাজ্জাশীর নিকট থেকে ফিরে এসে তাঁকে সালাম দিলাম, তখন তিনি আমাদের সালামের উত্তর দিলেন না এবং বললেন: 'নিশ্চয়ই নামাজের মধ্যে বিশেষ ব্যস্ততা রয়েছে'।' কারণ আব্দুল্লাহ প্রথমে হাবশা থেকে মক্কায় ফিরে আসেন, তারপর আবার হাবশায় ফিরে যান, তারপর তেত্রিশজন ব্যক্তির সাথে মক্কায় ফিরে আসেন। তাদের মধ্যে মক্কায় দুইজন মারা যান এবং সাতজন বন্দি হন, আর চব্বিশজন ব্যক্তি মদীনার দিকে রওনা হন এবং তারা বদর যুদ্ধে অংশ নেন। তাদের মধ্যে আব্দুল্লাহও ছিলেন, যেমনটি ইবনে ইসহাকের সিরাত গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে এবং হাদিসসমূহ এর সমর্থনে সুসংহত।

তাছাড়া আব্দুল্লাহ নিজেও যায়েদের সাথে একমত হয়েছেন যে, রহিতকারী (নাসিখ (ناسخ)) হলো: {এবং তোমরা আল্লাহর জন্য বিনীতভাবে দাঁড়াও}, যেমনটি বুখারীতে (৪) রয়েছে এবং আয়াতটি সর্বসম্মতভাবে (ইত্তেফাক (اتفاق) অনুযায়ী) মাদানি।

হাফিজ 'ফাতহুল বারী' (৫) গ্রন্থে এই বিষয়টি এমনভাবে বিশ্লেষণ করেছেন যার ওপর আর কোনো সংযোজন সম্ভব নয় এবং তিনি অধিক...

--------------------------------------------

(১) নং ১২০০।

(২) নং ১১৯৯।

(৩) দেখুন 'সিরাত ইবনে হিশাম' (১/ ৬৮১)।

(৪) নং (১১৯৯, ১২০০)।

(৫) (৩/ ৭৪, ৭৫)।
(খণ্ড: ১৬) মাসআলাতু বুতলানিস সালাহ বিতাগয়ীরিল আয়াত ফিল কিরাআহ - জিমনা আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ৮৯)
من الأدلة على أن تحريم الكلام إنّما كان بالمدينة، فراجعْه إن شئت، فإنّ أكثر ما ذكرناه هنا مأخوذٌ منه.

وفي هذا أوضح حجّةٍ على من قال: إنّ الكلامَ يُبطِل الصلاة ولو سهوًا.

ولا حجّة لهم في قولهم: «كيف يُعذَر الناسي وله حالةٌ تُذكِّره، وهي أقوالُ الصلاة وأفعالها». فإنَّ هذا لا يصدُقُ على من ظنَّ التمامَ مع أنّ النصّ قد ورد بضدِّ ما قالوه، فإنّ في حديث ذي اليدين أنَّ النَّبي صلى الله عليه وآله وسلم تكلّم، وذا اليدين تكلّم، والصحابة تكلّموا.

فإن قيل: في هذه سلّمنا، فكيف بالعقل حالَ مباشرة أفعال الصلاة وأقوالها، فإنّ العلّة موجودةٌ في ذلك ولا نصَّ؟

قلتُ: يُلْحَق ظنُّ التمام بمثله؛ لأنَّه وإن لم تكنِ العلّة المذكورة موجودةً فثَمَّ علّةٌ أخرى وهي عدم الضبط، بل هذه أشدُّ، وحيث لم يعتبر الشرعُ تلك فلا تُعتَبر هذه.

ولا دليل في الحديث لمن قال: «إنّ الكلام لمصلحة الصلاة لا يُبطلها ولو عمدًا»، ويستدلُّ له بأنّ ذا اليدين والصحابة تكلّموا بعد قول النبي صلى الله عليه وآله وسلم: «كلُّ ذلك لم يكن» أو نحو ذلك، فعلموا أن الصلاة لم تُقصَر مع أنّها لم تتمَّ.

فقد أجاب بعضُهم بأن الصحابة لم ينطقوا، وإنما أومَؤوا، كما صرّح به في «سنن أبي داود»(1)، ويحمل ما ذكره غيره من القول على المجاز. وهذا وجيهٌ في غير ذي اليدين. وأما هو فأجيبَ عنه وعن غيره بتقدير [ … ](2):

--------------------------------------------

(1) رقم (1008).

(2) هنا كلمة غير واضحة.
নামাযের মধ্যে কথা বলা হারাম হওয়া যে মদিনায় সংঘটিত হয়েছিল, এটি তার অন্যতম দলিল (حجة)। আপনি চাইলে বিষয়টি দেখে নিতে পারেন, কারণ আমরা এখানে যা উল্লেখ করেছি তার অধিকাংশ সেখান থেকেই সংগৃহীত।

যারা বলেন যে, ভুলবশত (سهوًا) হলেও কথা বলা নামায বাতিল করে দেয়, তাদের বিপক্ষে এটি সবচেয়ে স্পষ্ট দলিল (حجة)।

তাদের এ কথায় কোনো দলিল (حجة) নেই যে: «ভুলকারী ব্যক্তিকে কীভাবে ওজরপ্রাপ্ত গণ্য করা হবে অথচ তার সামনে এমন এক অবস্থা বিদ্যমান যা তাকে স্মরণ করিয়ে দেয়, আর তা হলো নামাযের তাসবিহ ও কার্যাবলি।’ কারণ, যারা নামায পূর্ণ হয়েছে বলে ধারণা করেন তাদের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য নয়, অথচ তাদের বক্তব্যের বিপরীতে অকাট্য পাঠ (نص) বর্ণিত হয়েছে। জুল-ইয়াদাইনের হাদিসে এসেছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম কথা বলেছিলেন, জুল-ইয়াদাইন কথা বলেছিলেন এবং সাহাবীগণও কথা বলেছিলেন।

যদি বলা হয়: এই ক্ষেত্রে আমরা মেনে নিলাম, কিন্তু নামাযের কাজ ও কথা পালনের সময় সাধারণ যুক্তির দাবি কী? কারণ সেক্ষেত্রে কারণ বা ইল্লত (علّة) বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও কোনো অকাট্য পাঠ (نص) নেই কেন?

আমি বলব: নামায পূর্ণ হওয়ার ধারণাকে অনুরূপ বিষয়ের সাথে অন্তর্ভুক্ত করা হবে; কারণ যদিও উল্লিখিত কারণটি (ইল্লত) সেখানে বিদ্যমান নেই, তবে সেখানে অন্য একটি কারণ রয়েছে আর তা হলো স্মৃতিশক্তির অসতর্কতা (عدم الضبط), বরং এটি আরও গুরুতর। আর যেহেতু শরিয়ত আগের বিষয়টিকে ধর্তব্যে নেয়নি, তাই এটিও ধর্তব্য হবে না।

যারা বলেন যে, «নামাযের সংশোধনের উদ্দেশ্যে কথা বললে নামায বাতিল হয় না, এমনকি তা ইচ্ছাকৃত (عمدًا) হলেও», এই হাদিসে তাদের সপক্ষে কোনো প্রমাণ নেই। তারা এই মর্মে দলিল পেশ করেন যে, জুল-ইয়াদাইন এবং সাহাবীগণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের এই উক্তির পর কথা বলেছিলেন যে: «এগুলোর কিছুই ঘটেনি» বা এই জাতীয় কিছু; ফলে তারা বুঝতে পেরেছিলেন যে নামায সংক্ষিপ্ত করা হয়নি অথচ তা পূর্ণও হয়নি।

এর উত্তরে কেউ কেউ বলেছেন যে, সাহাবীগণ কথা বলেননি, বরং তারা ইশারা করেছিলেন, যেমনটি সুনান আবু দাউদ(১) গ্রন্থে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে। আর অন্য বর্ণনায় যে কথা বলার উল্লেখ রয়েছে তাকে রূপক (مجاز) অর্থে গ্রহণ করা হবে। জুল-ইয়াদাইন ব্যতীত অন্যদের ক্ষেত্রে এটি যুক্তিযুক্ত। তবে তাঁর এবং অন্যদের ব্যাপারে নিম্নোক্ত অনুমানের ভিত্তিতে উত্তর দেওয়া হয়েছে [ … ](২):

--------------------------------------------

(১) নম্বর (১০০৮)।

(২) এখানে শব্দটি অস্পষ্ট।
(খণ্ড: ১৬) মাসআলাতু বুতলানিস সালাহ বিতাগয়ীরিল আয়াত ফিল কিরাআহ - জিমনা আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ৯০)
بأنّ إجابة النبي صلى الله عليه وآله وسلم بل ومخاطبته لا تُبطِل، لأنّهم قد كانوا يقولون في التشهد: «السلام عليك أيّها النبي ورحمة الله وبركاته» وهو حيٌّ حاضرٌ.

وأقول: ولو سُلِّم أن خطابه كغيره فلا نُسلِّم أنهم غير معذورين، فإنّهم قد يكونون يظنُّون أن السلام والتحوّل عن القبلة والكلام مُبطِل للصلاة، وأنّ النبي صلى الله عليه وآله وسلم سيستأنف لهم الصلاة، فهم يظنون أنّهم ليسوا حالَ الكلامِ باقين في حكم الصلاة. لكن حديث معاوية بن حُدَيج ــ المتقدم ذكره ــ فيه خطاب طلحة له صلى الله عليه وآله وسلم[ … ](1) من هذا الاحتمال بعض الضعف؛ لأنَّ إسلام معاوية قبل موت النبي صلى الله عليه وآله وسلم بشهرين، والراجح تأخُّر قضيّته عن قضيّة ذي اليدين، والظاهر أنَّ طلحة كان قد علم أن السهو لا يقطع الصلاة. وإن كان هذان الوجهان ضعيفين فيبقى الجواب الأول، وهو أنّ خطابه عليه الصلاة والسلام لا يُبطِل.

وأمّا الخطأ ــ ومنه واقعتنا الحاضرة ــ فهو بالجهل أشبهُ منه بالنسيان؛ لأنّ علّة من أبطل بالنسيان أن للمصلي حالةً تُذكّره من أفعال الصلاة وأقوالها، وهذا غير موجود في الجهل.

وقد قدَّر أصحابنا الكلام الذي لا يُبطِل سهوه بستِّ كلماتٍ أخذًا من حديث ذي اليدين، وحجّتهم أنّ ظاهر النصِّ والقياس إبطال الكلام مطلقًا كما هو مذهب الحنفية، وقد مرّ توجيهه وما فيه. فلمّا ورد النصُّ بخلاف ذلك لزِمَ قصْرُه حيث ورد. وهذا مثل قولهم في المدة التي لا يجوز للمسافر أن يقصر فيها إذا مكث بمنزلٍ ولم ينوِ إقامةَ أربعةِ أيام كواملَ، لأن ظاهر

--------------------------------------------

(1) هنا كلمة غير واضحة.
নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর ডাকে সাড়া দেওয়া এমনকি তাঁকে সম্বোধন করাও নামাজ বাতিল করে না, কারণ তারা তাশাহহুদে বলতেন: «আসসালামু আলাইকা আইয়্যুহান নাবিউ ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু» অথচ তিনি তখন জীবিত ও উপস্থিত ছিলেন।

আমি বলি: যদি এটি মেনেও নেওয়া হয় যে তাঁকে সম্বোধন করা অন্য কারো সাথে কথা বলার মতোই, তবুও আমরা এটি স্বীকার করি না যে তারা ওজরপ্রাপ্ত (معذور) নন। কারণ সম্ভবত তারা ধারণা করেছিলেন যে সালাম ফেরানো, কিবলা থেকে বিমুখ হওয়া এবং কথা বলা নামাজ বাতিলকারী (مبطل), এবং নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) তাদের জন্য নামাজ পুনরায় শুরু করবেন; ফলে তারা মনে করেছিলেন যে কথা বলার সময় তারা নামাজের হুকুমের অন্তর্ভুক্ত নেই। কিন্তু মুয়াবিয়া ইবনে হুদাইজ-এর হাদিস—যা পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে—তাতে তালহা কর্তৃক তাঁকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) সম্বোধন করার বিষয়টি রয়েছে [ … ](১) এই সম্ভাবনা কিছুটা দুর্বল (ضعيف); কারণ মুয়াবিয়ার ইসলাম গ্রহণ ছিল নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর ইন্তেকালের দুই মাস আগে, এবং অগ্রগণ্য (راجح) মত হলো তার ঘটনাটি যুল ইয়াদাইনের ঘটনার পরে ঘটেছে। আর দৃশ্যত এটিই স্পষ্ট যে, তালহা জানতেন যে ভুল (سهو) নামাজকে বিচ্ছিন্ন করে না। যদিও এই দুটি দিকই দুর্বল (ضعيف), তবুও প্রথম উত্তরটিই বহাল থাকে, আর তা হলো—তাঁকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) সম্বোধন করা নামাজ বাতিল করে না।

আর ত্রুটির বিষয়টি—যার অন্তর্ভুক্ত আমাদের বর্তমান আলোচিত বিষয়টিও—তা বিস্মৃতির (نسيان) তুলনায় অজ্ঞতার (جهل) সাথেই বেশি সাদৃশ্যপূর্ণ; কারণ যারা বিস্মৃতির (نسيان) কারণে নামাজ বাতিল হওয়ার কথা বলেন তাদের যুক্তি হলো নামাজির এমন একটি অবস্থা থাকে যা তাকে নামাজের কাজ ও কথাগুলোর মাধ্যমে স্মরণ করিয়ে দেয়, কিন্তু অজ্ঞতার (جهل) ক্ষেত্রে এটি বিদ্যমান নেই।

আমাদের (মাযহাবের) ফকিহগণ যুল ইয়াদাইনের হাদিস থেকে প্রমাণ গ্রহণ করে বিস্মৃতিবশত (سهো) যে কথা নামাজ বাতিল করে না, তাকে ছয়টি শব্দ দ্বারা নির্ধারণ করেছেন। তাদের দলিল (حجة) হলো নস (نص) ও কিয়াসের (قياس) বাহ্যিক দাবি হলো সাধারণভাবে কথা বলা নামাজ বাতিল করে দেয়, যেমনটি হানাফি মাযহাবের অভিমত; আর এর ব্যাখ্যা ও সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি অতিবাহিত হয়েছে। সুতরাং যখন এর বিপরীতে নস (نص) বর্ণিত হয়েছে, তখন একে বর্ণিত বিষয়ের মাঝেই সীমাবদ্ধ রাখা আবশ্যক। এটি ঠিক তাদের সেই কথার মতো, যা ওই মেয়াদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যেখানে মুসাফিরের জন্য নামাজ সংক্ষিপ্ত করা (قصر) জায়েজ নয়, যখন সে কোনো স্থানে অবস্থান করে কিন্তু পূর্ণ চার দিন অবস্থানের নিয়ত করে না। কারণ বাহ্যিক

--------------------------------------------

(১) এখানে একটি শব্দ অস্পষ্ট।
(খণ্ড: ১৬) মাসআলাতু বুতলানিস সালাহ বিতাগয়ীরিল আয়াত ফিল কিরাআহ - জিমনা আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ৯১)
حديث: «يقيم المهاجر [بمكة] بعد قضاء نسكه ثلاثًا» ــ متفق عليه ــ(1) على أن الثلاث لا تقطع السفر، وأفهمَ أنّ الأربعة تقطعه، ويلحق نيّةَ الإقامة الإقامةُ بالفعلِ. وحديث «الصحيحين»(2) عن أنس في القصر، وفيه: قال: «أقمنا بها عشرًا» أي بمكة، قالوا: العشر بمكة وضواحيها، والتي بمكة نفسها أربعة أيام.

فلما رُدَّ بإقامته صلى الله عليه وآله وسلم ثمانية عشر يومًا يقصُر، حملوه على أنه لم يَنْوِ ذلك، بل كان متردّدًا متى [ … ](3) داع الحاجة يرحل.

وقد يقال عليه: إن المسافر لا يسلب اسم السفر حتى يرجعَ إلى أهله، أو يستوطنَ بلدًا آخر، أو يقيمَ فيه مدةً تسلُبه اسمَ السفر عُرفًا، والأدلةُ علَّقتِ القصرَ باسم السفر، فما دام اسمُ السفر موجودًا فالقصر مشروع.

وأمّا دليلا الأربعة أيام فلم يدلاّ على سلب اسم السفر [ … ](4)، أنّ الأول يدلُّ على أنّ الأربعة أيام ترفع حكم السفر؛ لأنّ المهاجر حُرِّم عليه طولُ المكث بمكة لحكمةٍ أخرى.

وأمّا حديث أنس فلا دليلَ فيه، لأنّه من جملة وقائع الأحوال، ثم عثرت على كلام لابن القيم، وفي هذا خلافٌ طويل بين السلف، وكذا في مسافة القصر، والظاهر أنها ما يسمّى سفرًا للآية وهي على إطلاقها. ثم السفر ليس

--------------------------------------------

(1) البخاري (3933) ومسلم (1352) ــ واللفظ له ــ من حديث العلاء بن الحضرمي.

(2) البخاري (1081) ومسلم (693).

(3) هنا كلمة غير مقروءة.

(4) هنا كلمة غير واضحة ولعلها: سُلِّم.
হাদিস: «মুহাজির তার হজ্জের কার্যাদি সম্পাদন শেষে [মক্কায়] তিন দিন অবস্থান করবে» — সর্বসম্মত (متفق عليه) —(১) এই ভিত্তিতে যে, তিন দিন সফরকে (ভ্রমণ) বিচ্ছিন্ন করে না, এবং এ থেকে বোঝা যায় যে, চার দিন তা বিচ্ছিন্ন করে দেয়। আর অবস্থানের নিয়তকে প্রকৃত অবস্থানের সাথে যুক্ত করা হয়। আর 'সহীহাইন'(২)-এ বর্ণিত আনাস (রা.)-এর হাদিস কসর (সালাত সংক্ষিপ্তকরণ) প্রসঙ্গে; যাতে রয়েছে, তিনি বলেছেন: «আমরা সেখানে দশ দিন অবস্থান করেছি» অর্থাৎ মক্কায়। তারা বলেন: দশ দিন ছিল মক্কা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকা মিলিয়ে, আর খোদ মক্কায় অবস্থান ছিল চার দিন।

অতঃপর যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম-এর আঠারো দিন অবস্থানকালে কসর করার বিষয়টি দ্বারা এর বিরোধিতা করা হলো, তখন তারা এটাকে এই মর্মে ব্যাখ্যা করেছেন যে, তিনি সেই মেয়াদের নিয়ত করেননি; বরং তিনি দ্বিধাগ্রস্ত ছিলেন যে কখন [ … ](৩) প্রয়োজনে তিনি প্রস্থান করবেন।

এর বিপরীতে বলা যেতে পারে: একজন মুসাফির থেকে সফরের পরিচয় ততক্ষণ পর্যন্ত বিলুপ্ত হয় না, যতক্ষণ না সে তার পরিবারে ফিরে আসে, অথবা অন্য কোনো জনপদে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে, কিংবা সেখানে এমন দীর্ঘ সময় অবস্থান করে যা প্রথাগতভাবে (عُرفًا) তার থেকে সফরের পরিচয় ঘুচিয়ে দেয়। আর দলিলসমূহ কসরকে সফরের পরিচয়ের সাথে সম্পৃক্ত করেছে; সুতরাং যতক্ষণ সফরের পরিচয় বিদ্যমান থাকবে, ততক্ষণ কসর করা শরয়িভাবে বৈধ।

আর চার দিনের স্বপক্ষে যে দুটি দলিল রয়েছে, তা সফরের পরিচয় বিলুপ্ত হওয়ার ওপর প্রমাণ পেশ করে না [ … ](৪), কারণ প্রথম দলিলটি একথাই প্রমাণ করে যে, চার দিন সফরের হুকুমকে রহিত করে দেয়; কেননা মুহাজিরের জন্য অন্য কোনো হিকমতের কারণে মক্কায় দীর্ঘ সময় অবস্থান করা হারাম করা হয়েছিল।

আর আনাস (রা.)-এর হাদিসে কোনো দলিল নেই, কারণ এটি বিশেষ পরিস্থিতির (وقائع الأحوال) অন্তর্ভুক্ত। অতঃপর আমি ইবনুল কাইয়্যিমের একটি বক্তব্য পেলাম; আর এ বিষয়ে সালাফদের (السلف) মধ্যে দীর্ঘ মতভেদ রয়েছে, একইভাবে কসরের দূরত্বের বিষয়েও। প্রকাশ্য (الظاهر) মত হলো—যা কিছুকে সফর বলা যায় (তাতেই কসর করা যাবে), কেননা আয়াতটি তার সাধারণ (مطلق) অর্থের ওপর বহাল। আর সফর কেবল...

--------------------------------------------

(১) বুখারী (৩৯৩৩) ও মুসলিম (১৩৫২) — এবং শব্দসমূহ তার (মুসলিম) — আল-আলা ইবনুল হাদরামী থেকে বর্ণিত হাদিস হতে।

(২) বুখারী (১০৮১) ও মুসলিম (৬৯৩)।

(৩) এখানে একটি শব্দ অপঠনযোগ্য।

(৪) এখানে একটি শব্দ অস্পষ্ট, সম্ভবত এটি: কবুল করা হয়েছে (سُلِّم)।
(খণ্ড: ১৬) মাসআলাতু বুতলানিস সালাহ বিতাগয়ীরিল আয়াত ফিল কিরাআহ - জিমনা আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ৯২)
مجملاً حتى يُبيَّن بما يرد من الأحاديث، بل هو مطلق في كل سفر، ولا يُقيَّد بما ورد من فعله صلى الله عليه وآله وسلم، فإنّ الأفعال وقائعُ أحوال، ولا دليلَ على أنه لو وقعَ دونها في المسافة أو فوقَها في مُدّة اللبثِ لأتمّ، فتأمّلْ.

وهذا بعدما تصفحَّتُ الأحاديث المستدلَّ بها في ذلك؛ فلم أرَ فيها ما يصحُّ الاحتجاجُ به، ولكنّي تعظَّمتُ هذه العبارة حتى عثرتُ على قول ابن القيّم في «زاد المعاد»(1): «ولم يَحُدَّ صلى الله عليه وآله وسلم لأمته مسافةً محدودةً للقصر والفطر، بل أطلق لهم ذلك في مطلق السفر والضرب في الأرض، كما أطلق لهم التيمّم في كلِّ سفرٍ، وأمّا ما يُروى عنه [من التحديد باليوم أو](2) اليومين أو الثلاثة فلم يصحَّ عنه فيها شيءٌ البتة، والله أعلم».

وإن كان قوله: «كما أطلق لهم التيمُّم في كلِّ سفرٍ» لا حجَّة فيه؛ لأنَّ العلة في التيمُّم عدمُ الماء، وإنّما خرج السفر مخرجَ الغالب، وأمّا في القصر فالعلّةُ في نفس السفر.

وأمّا تحديد الكلام بالستِّ كلماتٍ فيقال: (التي دلَّ الحدُّ عليه)(3) السهو سهوان كما تقدّم، إمّا أن يكون في أثناء الصلاة فيغفل عنها، ويتكلّم بكلامٍ غير مُبطِلٍ وإن كثرُ ما دام معذورًا(4)، فيه للنصِّ.

فإن قيل: سلّمنا أنه قد خرج من الصلاة مثلاً، فله الكلام (على الأخير

--------------------------------------------

(1) (1/ 463).

(2) سقطت من الأصل، استدركناها من «الزاد».

(3) هكذا وجدت، وقبلها كلام قد خُط عليه.

(4) فوق هذه الكلمة كُتب: «وإما أن يكون بطل».
সংক্ষিপ্ত (مجمل) যাতে বর্ণিত হাদিসসমূহের মাধ্যমে এটি স্পষ্ট করা যায়, বরং এটি প্রতিটি সফরের ক্ষেত্রে নিঃশর্ত (مطلق), এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের আমল দ্বারা একে সীমাবদ্ধ (مقيد) করা যাবে না। কেননা কর্মসমূহ বিশেষ বিশেষ অবস্থার প্রেক্ষাপটে হয়ে থাকে, এবং এমন কোনো দলিল নেই যা প্রমাণ করে যে—যদি দূরত্বের দিক থেকে এর চেয়ে কম হতো অথবা অবস্থানের সময়ের দিক থেকে এর চেয়ে বেশি হতো, তবে তিনি পূর্ণ সালাত আদায় করতেন। সুতরাং বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করুন।

আর আমি এই বিষয়ে দলিল হিসেবে ব্যবহৃত হাদিসসমূহ পর্যালোচনার পর বলছি; আমি সেগুলোর মধ্যে এমন কিছু দেখিনি যা দলিল হিসেবে পেশ করার উপযুক্ত সহিহ (صحيح) হতে পারে। তবে আমি এই বক্তব্যটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছিলাম, যতক্ষণ না আমি 'জাদুল মাআদ'-এ ইবনুল কায়্যিমের উক্তিটি পেলাম(১): "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম তাঁর উম্মতের জন্য কসর ও ইফতারের কোনো নির্দিষ্ট দূরত্ব নির্ধারণ করে দেননি, বরং তিনি সাধারণভাবে সফর ও জমিনে ভ্রমণের ক্ষেত্রে বিষয়টিকে নিঃশর্ত (مطلق) রেখেছেন, যেমনটি তিনি প্রতিটি সফরে তায়াম্মুমকে নিঃশর্ত (مطلق) রেখেছেন। আর তাঁর থেকে [একদিন বা](২) দুই দিন অথবা তিন দিনের যে সীমাবদ্ধতা বর্ণিত হয়েছে, সে বিষয়ে তাঁর পক্ষ থেকে কোনো কিছুই সহিহ (صحيح) হিসেবে প্রমাণিত হয়নি। আল্লাহই ভালো জানেন।"

যদ্যপি তাঁর এই কথা: "যেমনটি তিনি প্রতিটি সফরে তায়াম্মুমকে নিঃশর্ত (مطلق) রেখেছেন" এর মাঝে কোনো দলিল (حجة) নেই; কারণ তায়াম্মুমের কারণ (علة) হলো পানির অনুপস্থিতি, আর এখানে সফরের বিষয়টি সাধারণত ঘটে থাকে এমন পরিস্থিতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে কসরের ক্ষেত্রে কারণ (علة) হলো স্বয়ং সফর।

আর কথাকে ছয়টি শব্দের দ্বারা সীমাবদ্ধ করার বিষয়ে বলা হয়: (সীমা যা নির্দেশ করে)(৩) ভুল দুই প্রকারের যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে; হয় তা সালাতের মধ্যে হবে যেখানে সে সালাত থেকে গাফেল হয়ে যায় এবং এমন কথা বলে যা সালাত বাতিলকারী (مبطل) নয়, যদিও তা অধিক হয় যতক্ষণ পর্যন্ত সে ওজরগ্রস্ত (معذور) থাকে(৪), সুনিশ্চিত বিধান (نص) বিদ্যমান থাকার কারণে।

যদি বলা হয়: আমরা মেনে নিলাম যে সে উদাহরণস্বরূপ সালাত থেকে বের হয়ে গেছে, তবে তার জন্য কথা বলা বৈধ (শেষোক্ত মতানুযায়ী)

--------------------------------------------

(১) (১/ ৪৬৩)।

(২) মূল পাণ্ডুলিপি থেকে বাদ পড়েছে, আমরা 'জাদ' থেকে তা সংযোজন করেছি।

(৩) এভাবেই পাওয়া গেছে, এবং এর পূর্বে এমন কিছু কথা ছিল যা কেটে দেওয়া হয়েছে।

(৪) এই শব্দটির উপরে লেখা হয়েছে: "অথবা এটি বাতিল হয়েছে"।
(খণ্ড: ১৬) মাসআলাতু বুতলানিস সালাহ বিতাগয়ীরিল আয়াত ফিল কিরাআহ - জিমনা আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ৯৩)
بقدر الحاجة)(1)، في الأخير للنصِّ، فكيف يُلحق الأول به مع أنّ فيه تقصيرًا ليس في الثاني، وهو أنَّ له حالةً تذكّره؟

قلنا: وقد يقال: وفي الثاني تقصير أيضًا، وهو عدم الضبط مع إمكانه لولا السهو، فلمّا لم يعتبر الشارع عدم العذر فلا نعتبره. وأمّا كونه ستَّ كلماتٍ أو أقلَّ أو أكثرَ فواقعةُ حالٍ لا يُقيَّد بها الحكمُ، ولا دليلَ على أنَّه يُبِطل ما فوقها، وهذا لا غبار عليه إن شاء الله تعالى.

فإن قيل: التقصير حاصلٌ لعدم الضبط.

قلنا: لا تقصيرَ في ذلك يوجب العقوبة؛ إذ قد وقع ذلك منه صلى الله عليه وآله وسلم وإن اختلف السبب.

وأمّا ما أشرنا إليه سابقًا أن مذهب الهدويّة(2) أنّ الفتح على الإمام إنّما جاز للضرورة، وهم بَنَوا قولهم على أنّ القراءة مع قراءة الإمام مُبطِلة، ولعمري إنّه لظاهر قوله تعالى: {وَإِذَا قُرِئَ الْقُرْآنُ فَاسْتَمِعُوا لَهُ وَأَنْصِتُوا لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ} [الأعراف: 204]، نزلت في القراءة خلف الإمام، وقيل: في الكلام والإمام يخطب، وأُطلِق القرآنُ على الخطبة مجازًا، وقيل: في الكلام في الصلاة؛ فعلى هذا تكون ناسخةً لجواز الكلام.

وفي حديث مسلمٍ(3) وغيره: «وإذا قرأ فأنصتوا» يعني الإمامَ، وأحاديث

--------------------------------------------

(1) هذه العبارة وجد عليها بعض الضرب.

(2) كذا في الأصل، والصواب: «الهادوية» نسبة إلى الهادي.

(3) رقم (404) من حديث أبي موسى الأشعري. وأخرجه أيضًا أحمد (19723) وأبو داود (973) والنسائي (2/ 242) وابن ماجه (847). قال أبو داود: قوله «فأنصتوا» ليس بمحفوظ، لم يجئ به إلا سليمان التيمي في هذا الحديث. وأعلَّه كذلك الدارقطني في «العلل» (7/ 254) وأبو علي النيسابوري كما في «السنن الكبرى» للبيهقي (2/ 156). وقد رُوي أيضًا من حديث أبي هريرة، أخرجه أبو داود (604) والنسائي (2/ 141، 142) وابن ماجه (846)، قال أبو داود: «وهذه الزيادة «وإذا قرأ فأنصتوا» ليست بمحفوظة، الوهم من أبي خالد». وتكلم فيه أيضًا ابن معين وأبو حاتم الرازي والدارقطني والبيهقي، انظر «سنن» الدارقطني (1/ 329) والبيهقي (2/ 156) ولكن صححه مسلم في صحيحه (1/ 304) دون أن يخرّجه.
(প্রয়োজনানুসারে)(১), নসের (মূল পাঠের) শেষে; সুতরাং কীভাবে প্রথমটিকে দ্বিতীয়টির সাথে সংযুক্ত করা যায়, যেখানে প্রথমটিতে এমন ত্রুটি বা অবহেলা রয়েছে যা দ্বিতীয়টিতে নেই? আর তা হলো, তার এমন একটি অবস্থা রয়েছে যা তাকে স্মরণ করিয়ে দেয়।

আমরা বলি: এবং বলা হয়ে থাকে যে, দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রেও অবহেলা রয়েছে, আর তা হলো সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও নির্ভুলভাবে স্মরণে রাখার অভাব (عدم الضبط), যদি বিস্মৃতি না ঘটত। সুতরাং যখন শরিয়ত প্রণেতা ওজর না থাকাকে ধর্তব্য ধরেননি, তখন আমরাও তাকে ধর্তব্য ধরব না। আর বিষয়টি ছয়টি শব্দ বা তার কম-বেশি হওয়া একটি তাৎক্ষণিক ঘটনা (واقعة حال), যার দ্বারা বিধান সীমাবদ্ধ হয় না। আর এর অতিরিক্ত হলে তা সালাত বাতিল করে দেবে—এরকম কোনো দলিল নেই। আর ইনশাআল্লাহ এতে কোনো অস্পষ্টতা নেই।

যদি বলা হয়: নির্ভুলভাবে স্মরণে রাখার অভাবের (عدم الضبط) কারণে অবহেলা সাব্যস্ত হয়।

আমরা বলি: এতে এমন কোনো অবহেলা নেই যা শাস্তিকে আবশ্যক করে; কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষ থেকেও অনুরূপ ঘটনা ঘটেছে, যদিও তার কারণ ভিন্ন ছিল।

আর আমরা পূর্বে যা ইশারা করেছি যে, হাদাউয়্যাহ(২) মাযহাব মতে ইমামকে লোকমা দেওয়া (الفتح على الإمام) কেবল প্রয়োজনেই জায়েয। তারা তাদের মতের ভিত্তি রেখেছেন এই কথার ওপর যে, ইমামের কিরাতের সাথে কিরাত পড়া সালাত বাতিলকারী। আর আমার জীবনের কসম! এটি আল্লাহ তাআলার এই বাণীর বাহ্যিক অর্থ প্রকাশ করে: {আর যখন কুরআন পাঠ করা হয়, তখন তোমরা মনোযোগ দিয়ে তা শোন এবং চুপ থাক যাতে তোমাদের ওপর রহমত বর্ষিত হয়} [আরাফ: ২০৪], যা ইমামের পেছনে কিরাত পড়ার বিষয়ে নাজিল হয়েছে। আর বলা হয়েছে: এটি খুতবা প্রদানরত অবস্থায় ইমামের কথা বলার বিষয়ে নাজিল হয়েছে, আর রূপক অর্থে খুতবাকে কুরআন বলা হয়েছে। আবার বলা হয়েছে: সালাতের মধ্যে কথা বলার বিষয়ে নাজিল হয়েছে; এই হিসেবে এটি কথা বলা জায়েয হওয়ার বিধানের জন্য রহিতকারী (ناسخة) হবে।

এবং মুসলিম-এর হাদিসে এবং অন্যান্য কিতাবে বর্ণিত হয়েছে: «আর যখন তিনি কিরাত পড়বেন, তখন তোমরা চুপ থাকো», অর্থাৎ ইমামের কথা বোঝানো হয়েছে। এবং হাদিসসমূহ...

--------------------------------------------

(১) এই ইবারতটির ওপর কিছু কাটাকাটির চিহ্ন পাওয়া গেছে।

(২) মূলে এভাবেই আছে, তবে সঠিক হলো: «হাদাউয়্যাহ» যা আল-হাদীর দিকে সম্বন্ধযুক্ত।

(৩) আবু মুসা আল-আশআরি বর্ণিত হাদিস নং ৪০৪। এটি আহমাদ (১৯৭২৩), আবু দাউদ (৯৭৩), নাসাঈ (২/২৪২) এবং ইবনে মাজাহ (৮৪৭) বর্ণনা করেছেন। আবু দাউদ বলেন: «চুপ থাকো» কথাটি সংরক্ষিত নয় (ليس بمحفوظ), সুলাইমান আত-তাইমি ছাড়া আর কেউ এই হাদিসে এটি নিয়ে আসেননি। অনুরূপভাবে দারা কুতনি 'আল-ইলাল' (৭/২৫৪)-এ এবং আবু আলি আল-নাইসাবুরি একে ত্রুটিযুক্ত সাব্যস্ত করেছেন (أعله), যেমনটি বাইহাকির 'আস-সুনান আল-কুবরা' (২/১৫৬)-তে রয়েছে। এটি আবু হুরায়রা থেকেও বর্ণিত হয়েছে, যা আবু দাউদ (৬০৪), নাসাঈ (২/১৪১, ১৪২) এবং ইবনে মাজাহ (৮৪৬) বর্ণনা করেছেন। আবু দাউদ বলেন: «আর যখন তিনি কিরাত পড়বেন তখন চুপ থাকো»—এই অতিরিক্ত অংশটি সংরক্ষিত নয় (ليس بمحفوظ), এটি আবু খালিদ-এর ভ্রম (الوهم)। ইবনে মাইন, আবু হাতিম আল-রাজি, দারা কুতনি এবং বাইহাকিও এটি নিয়ে সমালোচনা করেছেন (تكلم فيه), দেখুন: সুনান দারা কুতনি (১/৩২৯) এবং বাইহাকি (২/১৫৬)। কিন্তু মুসলিম এটি তার সহিহ-তে সহিহ সাব্যস্ত করেছেন (صححه) (১/৩০৪), যদিও তিনি এটি (এই শব্দে) বর্ণনা করেননি।
(খণ্ড: ১৬) মাসআলাতু বুতলানিস সালাহ বিতাগয়ীরিল আয়াত ফিল কিরাআহ - জিমনা আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ৯৪)
كثيرة يُخصِّصها حديث أبي داود والترمذي والنسائي(1) عن عبادة بن الصامت قال: كنّا خلفَ النبي صلى الله عليه وآله وسلم في صلاة الفجر، فقرأ فثقُلَتْ عليه القراءة، فلما فرغ قال: «لعلكم تقرأون خلف إمامكم؟ » قلنا: نعم يا رسول الله. قال: «لا تفعلوا إلا بفاتحة الكتاب، فإنه لا صلاةَ لمن لم يقرأ بها».

وفي روايةٍ لأبي داود(2): «وأنا أقول مالي ينازعني القرآن، فلا تقرأوا بشيء من القرآن إذا جهرتُ إلا بأمّ القرآن».

مع عموم الأدلة المُلزِمة بقراءة الفاتحة.

وفي «أسباب النزول»(3): «وأخرج ابن أبي حاتم(4) عن الزهري قال: نزلت هذه الآية يعني قوله تعالى: {وَإِذَا قُرِئَ الْقُرْآنُ … } الخ في فتًى من الأنصار كان رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم كلّما قرأ شيئًا قرأه».

--------------------------------------------

(1) أبو داود (823) والترمذي (311) والنسائي (2/ 141). وقال الترمذي: حديث حسن.

(2) رقم (824).

(3) «لباب النقول» (ص 105، 106). وانظر «الدر المنثور» (6/ 721).

(4) وأخرجه أيضًا الطبري في «تفسيره» (10/ 659).
অনেক বর্ণনা রয়েছে যেগুলোকে আবু দাউদ, তিরমিযী এবং নাসায়ীর(1) বর্ণিত একটি হাদিস সুনির্দিষ্ট (يُخصِّصها) করে। হাদিসটি উবাদাহ ইবনে সামিত থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা ফজরের সালাতে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের পেছনে ছিলাম। তিনি তিলাওয়াত করলেন এবং তাঁর ওপর তিলাওয়াত ভারী হয়ে গেল। তিনি যখন সালাত শেষ করলেন, তখন বললেন: «সম্ভবত তোমরা তোমাদের ইমামের পেছনে তিলাওয়াত করো?» আমরা বললাম: হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসুল। তিনি বললেন: «তোমরা সূরা ফাতিহা ছাড়া আর কিছুই পড়বে না, কারণ যে ব্যক্তি তা তিলাওয়াত করে না তার সালাত হয় না»।

আবু দাউদের(2) একটি বর্ণনায় রয়েছে: «আমি মনে মনে বলছিলাম, কী হলো যে কুরআনের তিলাওয়াতে আমার সাথে বিবাদ করা হচ্ছে? সুতরাং আমি যখন উচ্চৈঃস্বরে তিলাওয়াত করি, তখন তোমরা উম্মুল কুরআন (সূরা ফাতিহা) ছাড়া কুরআনের অন্য কিছু পড়বে না»।

এর সাথে সূরা ফাতিহা তিলাওয়াত করাকে আবশ্যককারী দলীলসমূহের ব্যাপকতা তো রয়েছেই।

«আসবাবুন নুযূল»(3) গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে: «ইবনে আবি হাতিম(4) যুহরী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: এই আয়াত অর্থাৎ মহান আল্লাহর বাণী: {আর যখন কুরআন পাঠ করা হয় …} ইত্যাদি আনসারদের এক যুবকের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে; আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম যখনই কিছু তিলাওয়াত করতেন, সেও তা তিলাওয়াত করত»।

--------------------------------------------

(1) আবু দাউদ (৮২৩), তিরমিযী (৩১১) এবং নাসায়ী (২/ ১৪১)। ইমাম তিরমিযী বলেছেন: হাদিসটি হাসান (حسن)।

(2) নম্বর (৮২৪)।

(3) «লুবাবুন নুকুল» (পৃ. ১০৫, ১০৬)। আরও দেখুন «আদ-দুররুল মানসুর» (৬/ ৭২১)।

(4) ইমাম তাবারীও তাঁর «তাফসীর» গ্রন্থে (১০/ ৬৫৯) এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১৬) মাসআলাতু বুতলানিস সালাহ বিতাগয়ীরিল আয়াত ফিল কিরাআহ - জিমনা আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ৯৫)
وقال سعيد بن منصور في «سننه»(1): حدثنا أبو معشر عن محمد بن كعب قال: «كانوا يتلقَّفون من رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم، إذا قرأ قرأوا معه، حتى نزلت هذه الآية التي في الأعراف: {وَإِذَا قُرِئَ الْقُرْآنُ فَاسْتَمِعُوا لَهُ وَأَنْصِتُوا}.

فهذا دليلٌ على أنّهم كانوا يقرأون غير الفاتحة.

وفي حديث أبي داود(2): «فجاء رجلٌ فقرأ خلفه بسبح اسم ربّك الأعلى».

وفي حديث أبي هريرة عند مالكٍ وأحمد وأبي داود والترمذي والنسائي، ولابن ماجه نحوه(3): «أنّ رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم انصرف من صلاةٍ جهرَ فيها بالقرآن، قال: «هل قرأ معي أحدٌ منكم؟ » فقال رجلٌ: نعم يا رسول الله، قال: «إني أقول مالي أُنازَع». قال: فانتهى الناس عن القراءة مع رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم».

قال بعضهم: لعلّ هذا هو الناسخ لما تقدّم، يعني حديثَ عبادة ونحوه؛ لأنّ أبا هريرة متأخر الإسلام.

قلتُ: هذا باطلٌ من وجوه:

أولاً: دعوى النسخ مع إمكان الجمع، بل الجمع هو الظاهر، فالقصة واحدةٌ، وإنّما زاد عبادة: «إلا بأمّ القرآن»، وهي زيادة ثقةٍ مخصِّصةٌ لعموم

--------------------------------------------

(1) رقم (978 ــ تفسير).

(2) رقم (828) من حديث عمران بن حصين.

(3) «الموطأ» (1/ 86) و «مسند» أحمد (7270) و «سنن» أبي داود (826) والترمذي (312) والنسائي (2/ 141) وابن ماجه (848).
সাঈদ ইবনে মানসুর তাঁর «সুনান»(১) গ্রন্থে বলেন: আবু মাশার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি মুহাম্মাদ ইবনে কাব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট থেকে (কুরআন) গ্রহণ করতেন; যখন তিনি পাঠ করতেন, তাঁরাও তাঁর সাথে সাথে পাঠ করতেন, যতক্ষণ না আল-আরাফ সূরার এই আয়াতটি নাজিল হলো: {আর যখন কুরআন পাঠ করা হয়, তখন তোমরা মনোযোগ দিয়ে তা শ্রবণ করো এবং নিশ্চুপ থাকো}।

এটি প্রমাণ করে যে, তাঁরা সূরা ফাতিহা ছাড়া অন্য কিরাতও পাঠ করতেন।

আবু দাউদের হাদিসে(২) রয়েছে: «এক ব্যক্তি আসলেন এবং তাঁর পিছনে 'সাব্বিহিসমা রাব্বিকাল আ'লা' পাঠ করলেন»।

মালিক, আহমাদ, আবু দাউদ, তিরমিজি ও নাসাঈর নিকট বর্ণিত এবং ইবনে মাজাহ-তেও অনুরূপ বর্ণিত আবু হুরাইরাহ-এর হাদিসে(৩) রয়েছে: «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম এমন একটি সালাত শেষ করলেন যাতে তিনি উচ্চস্বরে কিরাত পাঠ করেছিলেন। তিনি বললেন: «তোমাদের মধ্যে কি কেউ আমার সাথে পাঠ করেছ?» এক ব্যক্তি বললেন: হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল। তিনি বললেন: «আমি ভাবছিলাম, কেন আমার সাথে কিরাত নিয়ে টানাটানি করা হচ্ছে।» বর্ণনাকারী বলেন: এরপর থেকে লোকেরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম-এর সাথে কিরাত পাঠ করা থেকে বিরত হলেন।»

তাঁদের কেউ কেউ বলেন: সম্ভবত এটিই পূর্ববর্তী বর্ণনার রহিতকারী (ناسخ), অর্থাৎ উবাদাহ-এর হাদিস ও অনুরূপ বর্ণনাগুলোর ক্ষেত্রে; কারণ আবু হুরাইরাহ বিলম্বে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন।

আমি বলি: এটি কয়েক কারণে বাতিল (باطل):

প্রথমত: সমন্বয় করা সম্ভব হওয়া সত্ত্বেও রহিতকরণের (النسخ) দাবি করা; বরং সমন্বয় করাই স্পষ্ট। ঘটনাটি একই, তবে উবাদাহ অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন: «সূরা ফাতিহা ব্যতীত», আর এটি একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারীর অতিরিক্ত বর্ণনা (زيادة ثقة), যা সাধারণ (عام) হুকুমকে বিশিষ্টকারী (مخصصة) হিসেবে গণ্য।

--------------------------------------------

(1) নম্বর (৯৭৮ — তাফসির)।

(2) নম্বর (৮২৮), ইমরান ইবনে হুসাইন-এর হাদিস থেকে।

(3) «মুয়াত্তা» (১/ ৮৬), আহমাদ-এর «মুসনাদ» (৭২৭০), আবু দাউদ-এর «সুনান» (৮২৬), তিরমিজি (৩১২), নাসাঈ (২/ ১৪১) এবং ইবনে মাজাহ (৮৪৮)।
(খণ্ড: ১৬) মাসআলাতু বুতলানিস সালাহ বিতাগয়ীরিল আয়াত ফিল কিরাআহ - জিমনা আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ৯৬)
الحديث، أو مقيِّدةٌ لإطلاقه، مع أن حديث عبادة أصله في الصحيحين(1) بلفظ: إن رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم قال: «لا صلاة لمن لم يقرأ بفاتحة الكتاب».

وأمّا اختلاف العبارتين فهذا من الرواية بالمعنى، وهو واضحٌ، وممّا يدلُّك على ذلك حديث أبي هريرة عند مسلمٍ(2) وغيره قال: قال رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم: «من صلَّى صلاةً لم يقرأ فيها بأمّ القرآن فهي خِداجٌ، ثلاثًا، غير تمامٍ». فقيل لأبي هريرة: إنّا نكون وراء الإمام؟ قال: اقرأْها في نفسك، فإنّي سمعتُ رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم يقول: «قال الله تعالى: قسمتُ الصلاة بيني وبين عبدي نصفين ولعبدي ما سأل … » الحديث.

واستدلالُ أبي هريرة به من حيث إنّه قال: «قسمتُ الصلاة»، ثم فسَّرها بالفاتحة، فدلّ على أنّ الفاتحة هي الجزء الأهمُّ في الصلاة، كما في قوله: «الحجُّ عرفة»(3)، فكيف يخفى عليه أن الحديث الذي رواه ناسخٌ لغيره؟ مع أنّ الحديث الذي رواه وذكرناه آنفًا هو عين حديث عبادة، إلا أنّه في حديث عبادة تلك الزيادة.

وقوله: «لا صلاة … » إلخ، النفي واقع على الذات، لأن ألفاظ الشارع محمولة على عُرفه، ولا يسمّى عنده صلاة إلا الصحيح المجزئ، فغير الصحيح المجزئ لا يسمّى عنده صلاة، فنفيه حقيقةٌ، ولو سُلِّم امتناع انتفاء

--------------------------------------------

(1) البخاري (757) ومسلم (394).

(2) رقم (395). وأخرجه أيضًا أبو داود (821) والترمذي (2953) والنسائي (2/ 135).

(3) أخرجه أبو داود (1949) والترمذي (889) والنسائي (5/ 264) وابن ماجه (3015) من حديث عبد الرحمن بن يعمر الديلي. وإسناده صحيح.
এই হাদিসটি, অথবা এটি তার ব্যাপকতাকে (إطلاق) সীমাবদ্ধকারী (مقيِّدة); যদিও উবাদাহ-এর হাদিসের মূল ভিত্তি হচ্ছে সহীহাইন(১)-এ, যার শব্দাবলী হলো: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «সেই ব্যক্তির সালাত হবে না যে কিতাবের শুরু (সূরা ফাতিহা) পাঠ করে না।»

আর উভয় বর্ণনার শব্দগত ভিন্নতার বিষয়টি হলো অর্থের ভিত্তিতে বর্ণনা (الرواية بالمعنى)-এর অন্তর্ভুক্ত, যা অত্যন্ত স্পষ্ট। এই বিষয়ে আপনাকে যা পথ দেখাবে তা হলো মুসলিম(২) ও অন্যান্য কিতাবে বর্ণিত আবু হুরায়রা-এর হাদিস। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি এমন কোনো সালাত আদায় করল যাতে উম্মুল কুরআন (সূরা ফাতিহা) পাঠ করা হয়নি, তবে তা অসম্পূর্ণ (خداج)—তিনি কথাটি তিনবার বলেছেন—অসম্পূর্ণ।» আবু হুরায়রা-কে জিজ্ঞাসা করা হলো: আমরা যখন ইমামের পেছনে থাকি? তিনি বললেন: তুমি তা মনে মনে পাঠ করো, কেননা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে: «আল্লাহ তাআলা বলেছেন: আমি সালাতকে আমার ও আমার বান্দার মধ্যে দুই ভাগে ভাগ করেছি, আর আমার বান্দা যা প্রার্থনা করবে তা-ই পাবে...» হাদিস।

আবু হুরায়রা-এর এটি দিয়ে দলিল পেশ করার পদ্ধতি হলো এই যে, তিনি বলেছেন: «আমি সালাতকে ভাগ করেছি», এরপর তিনি এর ব্যাখ্যা দিয়েছেন সূরা ফাতিহা দ্বারা। এটি প্রমাণ করে যে, সূরা ফাতিহাই হলো সালাতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যেমনটি তাঁর এই বাণীতে রয়েছে: «আরাফাতই হলো হজ»(৩)। সুতরাং তাঁর কাছে কীভাবে এটি অস্পষ্ট থাকতে পারে যে, তিনি যে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন তা অন্যটির জন্য রহিতকারী (ناسخ)? অথচ তিনি যে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন এবং যা আমরা কিছুক্ষণ আগে উল্লেখ করেছি, তা উবাদাহ-এর বর্ণিত হাদিসেরই হুবহু অনুরূপ, কেবল উবাদাহ-এর হাদিসে সেই অতিরিক্ত (زيادة) অংশটুকু রয়েছে।

আর তাঁর বাণী: «সালাত হবে না...» ইত্যাদি; এখানে অস্বীকৃতিটি সত্তার ওপর আপতিত হয়েছে, কারণ শারী'আত প্রবর্তকের শব্দাবলী তাঁর নিজস্ব পরিভাষার ওপর প্রয়োগ করা হয়। আর তাঁর নিকট সঠিক (صحيح) ও পর্যাপ্ত (مجزئ) না হওয়া পর্যন্ত তাকে সালাত হিসেবে গণ্য করা হয় না। সুতরাং যা সঠিক (صحيح) ও পর্যাপ্ত (مجزئ) নয়, তা তাঁর নিকট সালাত হিসেবে অভিহিত হয় না। অতএব, এর নেতিবাচকতা হলো প্রকৃত। আর যদি অস্তিত্বের নেতিবাচকতা অসম্ভব বলে মেনে নেওয়া হয়...

--------------------------------------------

(১) বুখারী (৭৫৭) ও মুসলিম (৩৯৪)।

(২) নম্বর (৩৯৫)। এছাড়া আবু দাউদ (৮২১), তিরমিযী (২৯৫৩) এবং নাসাঈ (২/ ১৩৫) এটি বর্ণনা করেছেন।

(৩) আবু দাউদ (১৯৪৯), তিরমিযী (৮৮৯), নাসাঈ (৫/ ২৬৪) এবং ইবনে মাজাহ (৩০১৫) হাদিসটি আব্দুর রহমান ইবনে ইয়ামুর আদ-দাইলি থেকে বর্ণনা করেছেন। আর এর সনদ (إسناد) সঠিক (صحيح)।
(খণ্ড: ১৬) মাসআলাতু বুতলানিস সালাহ বিতাগয়ীরিল আয়াত ফিল কিরাআহ - জিমনা আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ৯৭)
الذات فأقرب المجازات الصحة والإجزاء، وهذا واضح لا غبار عليه، مع ورود أحاديث كثيرة تنصُّ على وجوبها وبطلان الصلاة عند عدمها.

وبهذا ــ ولله الحمد ــ تقرّر أن الفاتحة لا بدّ منها للإمام والمأموم في كل ركعة، لحديث المسيء صلاته(1)، وفيه: «ثم اقرأْ بما تيسَّر معك من القرآن»، فعلَّمه إلى تمام ركعة، وقال في آخره: «ثم افعلْ ذلك في صلاتك كلها». وفي رواية لأحمد وابن حبان(2): «ثم افعلْ ذلك في كل ركعة».

وقد تحقَّق من حديث عبادة أن الفاتحة لا تصحُّ الصلاة إلا بها، فتكون هي الذي تيسَّر، وإذا لم يُسلَّم هذا فلا أقلّ من ثبوت وجوب ما تيسَّر في كلّ ركعة، ثم عيَّن حديثُ عبادة وحديثُ أبي هريرة الفاتحةَ، فتكون هي بمكان ما تيسَّر، وذلك في كلّ ركعةٍ، كذا قالوه.

وبعدُ، فقد تقرّر أن الرجل المسيء صلاته هو خلاّد بن رافع الأنصاري، كما ذكره ابن حجر وبيَّن مستنده في ذلك في «الفتح»(3)، وخلاّد استشهد ببدرٍ، فدلّ على أنه كان أولَ الأمر يكفي في القراءة ما تيسر من القرآن: الفاتحةُ أو غيرها، ثم أوجبت الفاتحة، وعلى هذا يدلُّ حديث أبي داود(4) عن أبي سعيد قال: «أُمِرْنا أن نقرأ بفاتحة الكتاب وما تيسَّر»، وعن أبي هريرة(5) قال: قال لي رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم: «اُخرجْ فنادِ في المدينة أنّه لا صلاة

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري (757) ومسلم (397) من حديث أبي هريرة.

(2) «مسند أحمد» (18995) و «صحيح ابن حبان» (1787) من حديث رفاعة الزرقي.

(3) (2/ 277).

(4) رقم (818).

(5) عند أبي داود (819).
মূল সত্তার দিক থেকে সর্বাধিক নিকটবর্তী রূপক হলো বিশুদ্ধতা (صحة) ও পর্যাপ্ততা (إجزاء)। এটি সুস্পষ্ট এবং এতে কোনো সংশয় নেই। সাথে সাথে এমন অনেক হাদিস বর্ণিত হয়েছে যা এর আবশ্যকতা (وجوب) এবং এটি না থাকলে সালাত বাতিল (بطلان) হওয়ার ব্যাপারে সুস্পষ্ট বক্তব্য প্রদান করে।

এর মাধ্যমে—সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর—এটি সাব্যস্ত হলো যে, ইমাম ও মুক্তাদি উভয়ের জন্য প্রতি রাকাআতে সূরা ফাতিহা পাঠ করা অপরিহার্য। কারণ, সালাতে ভুলকারী ব্যক্তির হাদিসের কারণে(1), যাতে রয়েছে: «অতঃপর তোমার পক্ষে কুরআনের যতটুকু সহজ হয় তা পাঠ করো»; এভাবে তিনি তাকে এক রাকাআত পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত শিক্ষা দিলেন এবং এর শেষে বললেন: «অতঃপর তোমার পুরো সালাতে এভাবেই করো»। আহমদ ও ইবনে হিব্বানের এক বর্ণনায় (رواية)(2) রয়েছে: «অতঃপর প্রতিটি রাকাআতে এভাবেই করো»।

উবাদাহ (রা.) বর্ণিত হাদিস থেকে এটি সুনিশ্চিত হয়েছে যে, সূরা ফাতিহা ব্যতীত সালাত বিশুদ্ধ (صحة) হয় না; সুতরাং এটিই সেই অংশ যা সহজসাধ্য। যদি এটি মেনে নেওয়া না-ও হয়, তবে প্রতি রাকাআতে সহজসাধ্য অংশ পাঠ করার আবশ্যকতা (وجوب) সাব্যস্ত হওয়ার ব্যাপারে অন্তত কোনো দ্বিমত নেই। অতঃপর উবাদাহ ও আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদিসসমূহ সূরা ফাতিহাকে নির্দিষ্ট করে দিয়েছে; ফলে তা সহজসাধ্য অংশের স্থলাভিষিক্ত হবে, আর তা হবে প্রতি রাকাআতে। আলেমগণ এমনই বলেছেন।

অতঃপর, এটি সাব্যস্ত হয়েছে যে সালাতে ভুলকারী সেই ব্যক্তিটি হলেন খাল্লাদ ইবনে রাফি আল-আনসারি, যেমনটি ইবনে হাজার উল্লেখ করেছেন এবং ফাতহুল বারী গ্রন্থে এর স্বপক্ষে প্রমাণ বর্ণনা করেছেন(3)। খাল্লাদ বদর যুদ্ধে শাহাদাত বরণ করেছিলেন। এটি প্রমাণ করে যে, ইসলামের প্রাথমিক যুগে কিরাআত হিসেবে কুরআনের সহজসাধ্য অংশ—তা সূরা ফাতিহা হোক বা অন্য কিছু—পড়া যথেষ্ট ছিল। পরবর্তীতে সূরা ফাতিহাকে আবশ্যক (وجوب) করা হয়। আবু দাউদে বর্ণিত(4) আবু সাঈদ (রা.)-এর হাদিসটি এর ওপরই প্রমাণ পেশ করে, তিনি বলেন: «আমাদেরকে সূরা ফাতিহা ও কুরআনের সহজসাধ্য অংশ পাঠ করার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছিল»। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত(5), তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বললেন: «বের হও এবং মদিনায় ঘোষণা করে দাও যে, কোনো সালাত নেই...

--------------------------------------------

(1) বুখারি (৭৫৭) ও মুসলিম (৩৯৭) আবু হুরায়রা (রা.)-এর হাদিস থেকে এটি বের করেছেন।

(2) মুসনাদে আহমদ (১৮৯৯৫) ও সহিহ ইবনে হিব্বান (১৭৮৭) রিফায়া আল-জুরাকি-এর হাদিস থেকে।

(3) (২/ ২৭৭)।

(4) নম্বর (৮১৮)।

(5) আবু দাউদের নিকট (৮১৯)।
(খণ্ড: ১৬) মাসআলাতু বুতলানিস সালাহ বিতাগয়ীরিল আয়াত ফিল কিরাআহ - জিমনা আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ৯৮)
إلا بقرآنٍ، ولو بفاتحة الكتاب فما زاد». وفي روايةٍ(1): «أن أناديَ أنه لا صلاة إلا بقرآنٍ: فاتحة الكتاب فما زاد».

فهذا يشير إلى النسخ؛ لأنّ النداء لا يكون إلا في أمرٍ تجدّد، لأنَّ إسلام أبي هريرة متأخّر جدًّا، ويستحيل أن يكون مَضَت تلك المدّة الطويلة، والنبي صلى الله عليه وآله وسلم لم يُعلِمِ الناسَ بوجوب قراءة الفاتحة حتى يحتاج في إعلامهم حينئذٍ إلى نداءٍ إلا وهي لم تكن واجبةً، وهذا ــ إن شاء الله ــ مُتَّجهٌ.

وقد يقال: هذه الأحاديث دلّت على وجوب قدر زائدٍ على الفاتحة.

فنقول: قال الحافظ في «الفتح»(2): «وتُعقِّب بأنّه ــ أي قوله: «فصاعدًا» ــ ورد لدفع توهّم قصر الحكم على الفاتحة، قال البخاريّ في «جزء القراءة»(3): وهو نظير قوله: «تُقطَع اليدُ في رُبع دينارٍ فصاعدًا»(4)، وفي حديثٍ لأبي هريرة موقوفًا(5): «وإن لم تزِدْ على أمّ القرآن أجزأتَ»، ولابن خزيمة(6) من حديث ابن عبّاس أنّ النّبي صلى الله عليه وآله وسلم قام فصلّى ركعتين لم يقرأ فيهما إلا بأمّ الكتاب.

واعلم أنّ الأدلة تُعطِي أنّ القراءة إذا جهر الإمام حرامٌ إلا بالفاتحة،

--------------------------------------------

(1) عند أبي داود أيضًا (820).

(2) (2/ 243).

(3) (ص 48) بتخريجه «تحفة الأنام».

(4) أخرجه البخاري (6789) ومسلم (1684) من حديث عائشة.

(5) أخرجه البخاري (772).

(6) في «صحيحه» (513).
...কুরআন পাঠ ব্যতীত (সালাত হয় না), যদিও তা ফাতিহাতুল কিতাব এবং তদূর্ধ্ব হয়।" এবং অন্য একটি বর্ণনা (رواية)(১)-তে রয়েছে: "আমি যেন ঘোষণা করে দিই যে, কুরআন পাঠ ব্যতীত কোনো সালাত নেই: ফাতিহাতুল কিতাব এবং তদূর্ধ্ব।"

এটি রহিতকরণের (النسخ) দিকে ইঙ্গিত করে; কারণ ঘোষণা কেবল নতুন কোনো বিষয়ের ক্ষেত্রেই দেওয়া হয়। কেননা আবু হুরায়রা (রা.)-এর ইসলাম গ্রহণ অনেক পরের ঘটনা, আর এটি অসম্ভব যে এত দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হয়ে গেল অথচ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম) মানুষকে সূরা ফাতিহা পাঠের আবশ্যকতা (وجوب) সম্পর্কে অবগত করেননি, ফলে সেই সময়ে ঘোষণা করার প্রয়োজন পড়ল—বরং বিষয়টি এমন যে ইতিপূর্বে এটি আবশ্যক (واجبة) ছিল না। আর ইনশাআল্লাহ—এটিই যুক্তিযুক্ত মত।

বলা হয়ে থাকে: এই হাদিসগুলো ফাতিহার অতিরিক্ত অংশ পাঠের আবশ্যকতা (وجوب)-র ওপর দলিল হিসেবে কাজ করে।

আমরা বলি: হাফিজ (ইবনে হাজার) 'ফাতহ' গ্রন্থে(২) বলেছেন: "এর প্রতিউত্তর এভাবে দেওয়া হয়েছে যে—অর্থাৎ তাঁর উক্তি: 'তদূর্ধ্ব'—এটি সূরা ফাতিহার মধ্যেই বিধানটি সীমাবদ্ধ থাকার সংশয় দূর করার জন্য এসেছে। ইমাম বুখারি 'জুযউল কিরাআত' গ্রন্থে(৩) বলেছেন: এটি তাঁর এই বাণীর সদৃশ: 'এক চতুর্থাংশ দিনার বা তদূর্ধ্ব পরিমাণ চুরিতে হাত কাটা হবে'(৪)।" এবং আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি মওকুফ (موقوفًا)(৫) হাদিসে আছে: "যদি তুমি উম্মুল কুরআনের (সূরা ফাতিহা) অতিরিক্ত কিছু না পড়ো, তবে তা তোমার জন্য যথেষ্ট হবে।" আর ইবনে খুজাইমার নিকট(৬) ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম) দাঁড়িয়ে দুই রাকাত সালাত আদায় করলেন যাতে তিনি উম্মুল কিতাব ব্যতীত অন্য কিছু পড়েননি।

জেনে রাখুন, দলিলসমূহ এই ইঙ্গিত দেয় যে, ইমাম যখন উচ্চস্বরে পাঠ করেন তখন সূরা ফাতিহা ব্যতীত অন্য কিছু পাঠ করা হারাম।

--------------------------------------------

(১) আবু দাউদের নিকটও রয়েছে (৮২০)।

(২) (২/ ২৪৩)।

(৩) (পৃ. ৪৮) তাঁর 'তুহফাতুল আনাম' এর তাখরিজ (تخريج) সহ।

(৪) বুখারি (৬৭৮৯) ও মুসলিম (১৬৮৪) আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

(৫) বুখারি (৭৭২) এটি বর্ণনা করেছেন।

(৬) তাঁর 'সহিহ' গ্রন্থে (৫১৩)।
(খণ্ড: ১৬) মাসআলাতু বুতলানিস সালাহ বিতাগয়ীরিল আয়াত ফিল কিরাআহ - জিমনা আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ৯৯)
وكذا الدعاء، فإنّ ظاهر الآية الوجوب، وقد قال: «فأنصِتوا»، وظاهر النهيّ التحريم، وقد قال: «لا تفعلوا» و «فلا تقرأوا» وغير ذلك، لكنّه يجوز قول: «سبحان ربي الأعلى» عند قراءة الإمام: {سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الْأَعْلَى} لوروده(1).

فأمّا قول: «وأنا على ذلك من الشاهدين» بعدَ {أَلَيْسَ اللَّهُ بِأَحْكَمِ الْحَاكِمِينَ} [التين: 8]، وقول: «بلى» بعدَ {أَلَيْسَ ذَلِكَ بِقَادِرٍ عَلَى أَنْ يُحْيِيَ الْمَوْتَى} [القيامة: 40]، و «آمنا بالله» بعد {فَبِأَيِّ حَدِيثٍ بَعْدَهُ يُؤْمِنُونَ} [المرسلات: 50] فذلك بعد تمام القراءة، فهو بمنزلة التأمين.

نعم، أمّا الدعاء عند آيات الثواب والاستعاذة عند ذكر العذاب، فإن دعا الإمام فللمأموم الدعاء؛ لأنّ الإمام حينئذٍ ليس في قراءة.

وأمّا من قال: «إن الآية نزلت في الكلام في الخطبة» ــ وهو الذي يميل إليه المفسِّرون ــ فهو موافقٌ لحديث: «من قال لصاحبه يوم الجمعة والإمام يخطب «صَهْ» فقد لغا، ومن لغا فلا جمعة له»(2). وعليه فالظاهر وجوب الإنصات إلا إذا كان الكلام لمصلحة الخطبة، كما في حديث الذي سأل النبي صلى الله عليه وآله وسلم وهو يخطب بقوله: «متى الساعة؟ » فقال: «ما أعددتَ لها؟ »(3). فافهم.

--------------------------------------------

(1) أخرجه أحمد (2066) وأبو داود (883) من حديث ابن عباس.

(2) أخرجه أبو داود (1051) من حديث علي بن أبي طالب، وإسناده ضعيف.

(3) أخرجه البخاري (3688، 6167، 6171، 7153) ومسلم (2639) من حديث أنس بن مالك. وليس فيه أنه سأله وهو يخطب. بل في بعض طرقه أنه سأل والنبي صلى الله عليه وسلم كان خارجًا من المسجد.
অনুরূপভাবে দোয়ার ক্ষেত্রেও, আয়াতের বাহ্যিক দাবি হলো ওয়াজিব হওয়া। তিনি বলেছেন: 'তোমরা চুপ থাকো', এবং নিষেধাজ্ঞার বাহ্যিক অর্থ হলো হারাম হওয়া। তিনি আরও বলেছেন: 'তোমরা করো না' এবং 'তোমরা পাঠ করো না' ইত্যাদি। কিন্তু ইমাম যখন {سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الْأَعْلَى} পাঠ করবেন, তখন 'সুবহানা রাব্বিয়াল আ'লা' বলা বৈধ, কারণ এটি বর্ণিত হয়েছে।

আর {أَلَيْسَ اللَّهُ بِأَحْكَمِ الْحَاكِمِينَ} এর পর 'ওয়া আনা আলা যালিকা মিনাশ শাহিদীন' বলা এবং {أَلَيْسَ ذَلِكَ بِقَادِرٍ عَلَى أَنْ يُحْيِيَ الْمَوْتَى} এর পর 'বালা' বলা এবং {فَبِأَيِّ حَدِيثٍ بَعْدَهُ يُؤْمِنُونَ} এর পর 'আমান্না বিল্লাহ' বলার বিষয়টি কিরাআত সম্পন্ন হওয়ার পরের কাজ। সুতরাং এটি 'আমীন' বলার পর্যায়ভুক্ত।

হ্যাঁ, তবে সওয়াবের আয়াতসমূহের সময় দোয়া করা এবং আজাবের বর্ণনার সময় আশ্রয় প্রার্থনা করা প্রসঙ্গে কথা হলো—যদি ইমাম দোয়া করেন, তবে মুক্তাদির জন্যও দোয়া করা বৈধ; কারণ ইমাম তখন কিরাআতের অবস্থায় থাকেন না।

আর যারা বলেন: 'নিশ্চয়ই আয়াতটি খুতবার সময় কথা বলা প্রসঙ্গে নাজিল হয়েছে'—যা মুফাসসিরগণের অভিমত—তা এই হাদিসের সাথে সংগতিপূর্ণ: 'জুমার দিন ইমামের খুতবা চলাকালে যে ব্যক্তি তার সঙ্গীকে বলল "চুপ করো", সে অনর্থক কাজ করল; আর যে অনর্থক কাজ করল তার জুমার সওয়াব নেই'। এ অনুযায়ী বাহ্যিক সিদ্ধান্ত হলো নীরব থাকা ওয়াজিব হওয়া, তবে কথা যদি খুতবার কল্যাণের উদ্দেশ্যে হয় তবে ভিন্ন কথা। যেমন সেই হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যেখানে এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামকে খুতবা প্রদানরত অবস্থায় জিজ্ঞাসা করেছিলেন: 'কিয়ামত কবে?' তিনি উত্তরে বললেন: 'তুমি এর জন্য কী প্রস্তুতি নিয়েছ?' বিষয়টি অনুধাবন করুন।

--------------------------------------------

(1) এটি ইবন আব্বাস হতে বর্ণিত হাদিস থেকে আহমাদ (২০৬৬) এবং আবু দাউদ (৮৮৩) বর্ণনা করেছেন।

(2) এটি আলী ইবন আবি তালিব হতে বর্ণিত হাদিস থেকে আবু দাউদ (১০৫১) বর্ণনা করেছেন, এবং এর বর্ণনাধারা (إسناد) দুর্বল (ضعيف)।

(3) এটি আনাস ইবন মালিক হতে বর্ণিত হাদিস থেকে বুখারি (৩৬৮৮, ৬১৬৭, ৬১৭১, ৭১৫৩) এবং মুসলিম (২৬৩৯) বর্ণনা করেছেন। এতে এই কথা নেই যে তিনি খুতবা চলাকালীন তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। বরং এর কোনো কোনো সূত্রে (طرق) বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি তখন জিজ্ঞাসা করেছিলেন যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মসজিদ থেকে বের হচ্ছিলেন।
(খণ্ড: ১৬) মাসআলাতু বুতলানিস সালাহ বিতাগয়ীরিল আয়াত ফিল কিরাআহ - জিমনা আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ১০০)
وهل النفخُ والتنحنح ونحوه يُعدُّ كلامًا يُبطِل الصلاة؟ الأصحُّ عند أصحاب الشافعيّ: نعم، والصحيح هو الصحيح، والله أعلم.
আর ফুঁ দেওয়া, গলা খাঁকারি দেওয়া এবং অনুরূপ বিষয় কি এমন কথা হিসেবে গণ্য হবে যা সালাত বাতিল করে দেয়? শাফিঈ অনুসারীদের নিকট অধিকতর বিশুদ্ধ (الأصح) মত হলো: হ্যাঁ, এবং বিশুদ্ধ (الصحيح) মতটিই সঠিক, আর আল্লাহই ভালো জানেন।