(খণ্ড: ১)
ফায়িদাতুন ফিস সিওয়াক - জিমনা আসারুল মুআল্লিমী
(পৃষ্ঠা: -)
فائدة في السواك - ضمن «آثار المعلمي» القسم: مسائل فقهية
الكتاب: فائدة في السواك
[آثار عبد الرحمن بن يحيى المعلمي اليماني (16)]
المؤلف: عبد الرحمن بن يحيى المُعَلِّمي اليماني (1313 - 1386 هـ)
المحقق: محمد عزير شمس
راجعه: محمد أجمل الإصلاحي - سليمان بن عبد الله العمير
الناشر: دار عالم الفوائد للنشر والتوزيع
الطبعة: الأولى، 1434 هـ
قدمه للشاملة: مؤسسة «عطاءات العلم»، جزاهم الله خيرا
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 10 شوّال 1442
মিসওয়াক সম্পর্কিত একটি বিশেষ আলোচনা - «আসারুল মুয়াল্লিমি» এর অন্তর্ভুক্ত বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ
গ্রন্থ: মিসওয়াক সম্পর্কিত একটি বিশেষ আলোচনা
[আসারু আব্দুর রহমান বিন ইয়াহইয়া আল-মুয়াল্লিমি আল-ইয়ামানি (১৬)]
লেখক: আব্দুর রহমান বিন ইয়াহইয়া আল-মুয়াল্লিমি আল-ইয়ামানি (১৩১৩ - ১৩৮৬ হিজরি)
গবেষক/সম্পাদনা: মুহাম্মদ উজাইর শামস
নিরীক্ষণ করেছেন: মুহাম্মদ আজমল আল-ইসলাহি - সুলাইমান বিন আব্দুল্লাহ আল-উমাইর
প্রকাশক: দার আলম আল-ফাওয়ায়িদ লিন-নাশর ওয়াত-তাউজি
সংস্করণ: প্রথম، ১৪৩৪ হিজরি
শামিলা লাইব্রেরির জন্য পেশ করেছে: «আতাআত আল-ইলম» সংস্থা، আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দিন
[গ্রন্থের পৃষ্ঠাসংখ্যা মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ১০ শাওয়াল ১৪৪২
(খণ্ড: ১৬)
ফায়িদাতুন ফিস সিওয়াক - জিমনা আসারুল মুআল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ৭৫)
الرسالة الثانية
فائدة في السِّواك
দ্বিতীয় রিসালাহ
মেসওয়াক সম্পর্কে একটি ফায়দা
(খণ্ড: ১৬)
ফায়িদাতুন ফিস সিওয়াক - জিমনা আসারুল মুআল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ৭৭)
فائدة في السِّواك
قال ــ عليه أفضل الصلاة والسلام ــ: «لولا أن أَشُقَّ على أمّتي لأمرتُهم بتأخير العشاء وبالسِّواك عند كل صلاة». متفق عليه
(1).
وقال صلى الله عليه وسلم: «السِّواك مَطْهرةٌ للفم مَرْضاة للربّ» رواه الشافعي وأحمد والدارمي والنسائي، ورواه البخاري في صحيحه بلا إسناد
(2).
وقال صلى الله عليه وسلم: «ما جاءني جبريلُ ــ عليه السلام ــ قطُّ إلا أمرني بالسِّواك، لقد خَشِيتُ أن أُحْفِيَ مُقدَّمَ فيَّ». رواه أحمد
(3).
وقال صلى الله عليه وسلم: «تَفضُل الصلاة التي يُستاك لها على الصلاة التي لا يُستاكُ لها سبعين ضعفًا». رواه البيهقي في «شعب الإيمان»
(4).
--------------------------------------------
মেসওয়াক সম্পর্কিত একটি ফায়দা
রাসুলুল্লাহ — তাঁর ওপর সর্বোত্তম সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক — বলেছেন: «যদি না আমার উম্মতের জন্য কষ্টদায়ক হতো, তবে আমি তাদের এশার সালাত বিলম্বিত করার এবং প্রত্যেক সালাতের সময় মেসওয়াক করার নির্দেশ দিতাম।» এটি সর্বসম্মত (متفق عليه)
(১)।
তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরও বলেছেন: «মেসওয়াক হলো মুখের পবিত্রতা ও রবের সন্তুষ্টির মাধ্যম।» এটি ইমাম শাফেঈ, আহমাদ, দারেমি এবং নাসায়ি বর্ণনা করেছেন এবং বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে এটি সনদবিহীন (بلا إسناد) বর্ণনা করেছেন
(২)।
তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরও বলেছেন: «জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) যখনই আমার নিকট এসেছেন, তখনই আমাকে মেসওয়াক করার নির্দেশ দিয়েছেন; এমনকি আমি আশঙ্কা করছিলাম যে, আমি আমার মুখের অগ্রভাগ ঘষে চামড়া তুলে ফেলব।» এটি ইমাম আহমাদ বর্ণনা করেছেন
(৩)।
তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরও বলেছেন: «মেসওয়াক করে আদায় করা সালাত, মেসওয়াক না করে আদায় করা সালাতের তুলনায় সত্তর গুণ বেশি মর্যাদাপূর্ণ।» এটি বায়হাকি তাঁর ‘শুয়াবুল ঈমান’ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন
(৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৬)
ফায়িদাতুন ফিস সিওয়াক - জিমনা আসারুল মুআল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ৭৮)
وقال صلى الله عليه وسلم : «لولا أن أَشُقَّ على أمتي لأمرتُهم بالسّواك عند كل صلاة، ولأخَّرتُ العشاءَ إلى ثلث الليل». رواه الترمذي
(1)، وقال: هذا حديث حسن صحيح.
وعنه صلى الله عليه وسلم أنه قال: «إنّ أفواهكم طُرُقُ القرآن، فطَيِّبوها بالسِّواك». قال السيد المرتضى في «شرح الإحياء»
(2): «قال العراقي
(3): أخرجه أبو نعيم
(4) من حديث علي، ورواه ابن ماجه
(5) موقوفًا على عليٍّ، وكلاهما ضعيف. ورواه البزار
(6) مرفوعاً وإسناده جيّد. قلتُ: وكذا أخرجه السِّجْزي في «الإبانة» من حديث عليٍّ مرفوعاً، ورواه أبو مسلم الكَجِّي في «السنن»، وأبو نعيم من حديث الوضِيْن، وفي إسناده مَنْدَل وهو ضعيف».
وقوله: «رواه البزار
… » إلخ صرَّح به في «شرح التقريب»
(7) بلفظ: «إن العبد إذا تسوَّك ثم قام يُصلِّي قام الملَكُ خلفه، فيستمع لقراءته، فيدنُو منه أو كلمة نحوها، حتى يضع فاه على فِيه، فما يخرجُ مِن فيه شيءٌ إلا صار في
--------------------------------------------
এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «যদি আমার উম্মতের জন্য কষ্টকর হওয়ার আশঙ্কা না থাকত, তবে আমি তাদের প্রত্যেক নামাজের সময় মিসওয়াক করার আদেশ দিতাম এবং এশার নামাজ রাতের এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত বিলম্বিত করতাম।» এটি তিরমিজি বর্ণনা করেছেন
(1) এবং তিনি বলেছেন: এই হাদিসটি হাসান (حسن) ও সহিহ (صحيহ)।
তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পক্ষ থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: «নিশ্চয়ই তোমাদের মুখসমূহ কুরআনের পথ, অতএব তোমরা মিসওয়াকের মাধ্যমে একে সুগন্ধময় করো।» সাইয়্যেদ মুরতাজা 'শারহুল ইহইয়া'
(2)-তে বলেছেন: «ইরাকি
(3) বলেছেন: আবু নুআইম
(4) এটি আলীর হাদিস থেকে উদ্ধৃত করেছেন এবং ইবনে মাজাহ
(5) এটি আলীর ওপর মাওকুফ (موقوف) হিসেবে বর্ণনা করেছেন, আর উভয়টিই জয়িফ (ضعيف)। বাজ্জার
(6) এটি মারফু (مرفوع) হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদ জায়্যিদ (جيد)। আমি বলছি: অনুরূপভাবে সিজজি 'আল-ইবানাহ'-তে আলীর হাদিস থেকে এটি মারফু (مرفوع) হিসেবে বর্ণনা করেছেন; আবু মুসলিম আল-কাজজি 'সুনান'-এ এবং আবু নুআইম ওয়াদিনের হাদিস থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। আর এর সনদে মানদাল রয়েছে, যে জয়িফ (ضعيف)»।
এবং তাঁর কথা: «বাজ্জার বর্ণনা করেছেন … » ইত্যাদি; এটি 'শারহুত তাকরিব'
(7)-এ এই শব্দে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে: «নিশ্চয়ই বান্দা যখন মিসওয়াক করে এবং সালাতে দাঁড়ায়, তখন একজন ফেরেশতা তার পেছনে দাঁড়ান এবং তার তিলাওয়াত মনোযোগ দিয়ে শোনেন। এরপর তিনি তার অত্যন্ত নিকটে চলে আসেন—অথবা এই জাতীয় কোনো শব্দ—এমনকি তিনি তাঁর মুখ সেই ব্যক্তির মুখের ওপর রাখেন। তখন তার মুখ থেকে যা কিছুই বের হয়, তা ছাড়া আর কিছুই নয় যা গিয়ে পৌঁছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৬)
ফায়িদাতুন ফিস সিওয়াক - জিমনা আসারুল মুআল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ৭৯)
جَوْف الملَك، فطَهِّروا أفواهَكم للقرآن». قال: ورجاله رجال الصحيح، إلاّ أنّ فيه فُضَيل بن سليمان النميري وهو وإن أخرج له البخار ي ووثَّقه ابن حبّان فقد ضعَّفه الجمهور
(1)، فتأمّل.
إذا تأمّلتَ ما مرَّ من الأحاديث علمتَ أنّ أمر السواك أمر مهمٌّ، وقد بيَّن الحديثُ الآخر أقوى علله، وهو أنّه مَطْهرة للفم، وهو طريق القرآن؛ لأن الإنسان لا يخلو من التلفظ بقرآنٍ أو ذكرٍ أو اسمٍ من أسماء الله أو اسمٍ من أسماءِ أنبيائه، وكما أن مسَّ المصحف مع الحدث حرام، وتلطيخه بالنجس المستقذَر حتى الرِّيق إنْ قارنَه استهزاءٌ فكفرٌ وإلاّ فحرامٌ، وكذا تلطيخ الذكر أو اسمٍ من أسماء الله أو اسمٍ من أسماء أنبيائه أو ملائكته ونحوه يَحرُم ذلك في الأماكن النجسة، وعند فعل المحرَّمات ومباشرة النجاسات، ويُكْرَه في الأماكن المستكْرَهةِ، وعند فعل المكروهات ومباشرة سائر المستقذرات، فكان القياس أنّه يحرم القراءة والذكر ونحوها عند تغيُّرِ الفم، لأنّ التلفظ بالقرآن بمنزلة كتابتها بل هو أبلغ، وأمّا مجرّد الرِّيق وما عَسُرَ إزالته من التغيُّر فيُعفَى عنه للضرورة.
--------------------------------------------
"...ফেরেশতার অভ্যন্তর; সুতরাং তোমরা কুরআনের জন্য তোমাদের মুখগুলো পবিত্র করো।" তিনি বলেন: "এর বর্ণনাকারীগণ সহিহ-এর বর্ণনাকারী (رجال الصحيح), তবে এতে ফুযাইল বিন সুলায়মান আল-নুমাইরি রয়েছেন। যদিও বুখারি তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং ইবনে হিব্বান তাঁকে নির্ভরযোগ্য (ثقة) বলে অভিহিত করেছেন, তবুও জমহুর বা সংখ্যাগুরু ওলামাগণ তাঁকে দুর্বল (ضعيف) বলে গণ্য করেছেন
(১); সুতরাং বিষয়টি অনুধাবন করুন।"
যদি আপনি ইতিপূর্বে বর্ণিত হাদিসসমূহ নিয়ে চিন্তা করেন, তবে জানতে পারবেন যে মেসওয়াকের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্য একটি হাদিসে এর অন্যতম প্রধান কারণ (علة) বর্ণিত হয়েছে, আর তা হলো এটি মুখের পবিত্রতা এবং কুরআনের পথ। কারণ মানুষ কুরআন তিলাওয়াত, যিকির, আল্লাহর কোনো নাম অথবা তাঁর কোনো নবীর নাম উচ্চারণ করা থেকে মুক্ত থাকে না। যেভাবে অপবিত্র (حدث) অবস্থায় মাসহাফ স্পর্শ করা হারাম (حরাম), এবং একে ঘৃণ্য অপবিত্রতা (نجس) দ্বারা অপবিত্র করা—এমনকি থুথু দ্বারাও—যদি উপহাসের উদ্দেশ্যে হয় তবে তা কুফর (كفر), অন্যথায় হারাম (حرام)। তদ্রূপ যিকির, আল্লাহর কোনো নাম, তাঁর কোনো নবী বা ফেরেশতার নাম অপবিত্র স্থানে উচ্চারণ করা হারাম (حرام), এবং হারাম কাজ সংঘটনকালে বা অপবিত্রতা স্পর্শের সময়ও এটি নিষিদ্ধ। এছাড়া অপছন্দনীয় স্থানে এবং মাকরুহ কাজ করার সময় কিংবা অন্যান্য ঘৃণ্য বস্তু ব্যবহারের সময় এটি অপছন্দনীয় (مكروه)। সুতরাং কিয়াস বা যৌক্তিক অনুমান (قياس) হলো—মুখের গন্ধ পরিবর্তন হওয়ার সময় তিলাওয়াত, যিকির ইত্যাদি হারাম (حرام) হওয়া উচিত, কারণ কুরআন উচ্চারণ করা তা লেখার সমতুল্য বরং তার চেয়েও প্রভাববিস্তারী। তবে কেবল থুথু এবং মুখের গন্ধের যে পরিবর্তন দূর করা দুঃসাধ্য, তা প্রয়োজনের খাতিরে ক্ষমার যোগ্য (معفو عنه)।
--------------------------------------------