(খণ্ড: ১)
মুতাম্মিমাতুল আজরুমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
متممة الأجرومية (الحطاب)
القسم: النحو والصرف
الكتاب: متممة الأجرومية
المؤلف: شمس الدين أبو عبد الله محمد بن محمد بن عبد الرحمن الطرابلسي المغربي، المعروف بالحطاب الرُّعيني (ت 954هـ)
[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]
عدد الصفحات: 54
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
মুতাম্মিমাত আল-আজরুমিয়্যাহ (আল-হাততাব)
বিভাগ: নাহু ও সরফ
বই: মুতাম্মিমাত আল-আজরুমিয়্যাহ
লেখক: শামস আদ-দীন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান আত-তারাবুলসি আল-মাগরিবী, যিনি আল-হাততাব আল-রুআইনি (মৃত্যু ৯৫৪ হিজরি) হিসেবে পরিচিত
[বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত এবং এটি মুদ্রিত সংস্করণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৪
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
মুতাম্মিমাতুল আজরুমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১)
بسم الله الرحمن الرحيماللهم صل وسلم وببارك على نبينا محمد وآله وصحبه*******متممة الأجرومية*********لأبي عبد الله محمد بن محمد بن عبد الرحمن الحطاب الرُّعينينبده عن الكتاب:المتممة الأجرومية من أكثر المختصرات فائدة في النحو اختصر فيه الرعيني أكثر أبواب الألفية وجعله مقدمة للمطولات في النحو، وفي نظري فإن من أحب أن يحيط بأغلب أبواب النحو في أقل وقت ممكن فعليه بهذا المختصر فهو الشافي الكافي.يتميز الحطاب رحمه الله بدقة العبارة، يبتعد في الغالب عن القضايا الخلافية، ويأخذ في أجملها برأي بن مالك. يستشهد كثيراً بالقرآن ونادراً بالحديث النبوي الشريف، وقليلا بالشعر وغالبا ما يذكر الصدر أو العجز ولا يكمل إلا ناذراً البيت كاملا؛ وعموما فإن المتممة الأجرومية برأي من عيون الكتب العربية في النحو العربينبدة عن صاحب الكتاب:هو محمد بن محمد بن عبد الرحمن بن حسين المعروف بالحطاب الرعيني؛ فقيه، أصولي، أصله من المغرب وولد بمكة عام 902 وتوفي بطرابلس الغرب سنة 954 للهجرةمن أهم كتبه، مواهب الجليل في شرح الشيخ خليل؛ وقرة العين بشرح الورقات إمام الحرمين في الأصول وكتبنا هذا
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।হে আল্লাহ! আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সঙ্গীদের প্রতি রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন এবং তাঁদের বরকত দান করুন।*******মুতাম্মিমাতুল আজরুমিয়াহ*********আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুর রহমান আল-হাত্তাব আর-রুয়াইনি এর রচিতগ্রন্থ পরিচিতি:মুতাম্মিমাতুল আজরুমিয়াহ হলো নাহু শাস্ত্রের সর্বাধিক উপকারী সংক্ষিপ্ত গ্রন্থগুলোর অন্যতম। এতে আর-রুয়াইনি 'আলফিয়া'র অধিকাংশ অধ্যায়কে সংক্ষেপিত করেছেন এবং একে নাহু শাস্ত্রের উচ্চতর ও বিস্তারিত গ্রন্থগুলোর ভূমিকা হিসেবে প্রস্তুত করেছেন। আমার দৃষ্টিতে, যে ব্যক্তি স্বল্পতম সময়ে নাহু শাস্ত্রের অধিকাংশ অধ্যায় আয়ত্ত করতে ইচ্ছুক, তার জন্য এই সংক্ষিপ্তসারটিই পর্যাপ্ত এবং স্বয়ংসম্পূর্ণ।আল-হাত্তাব (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর ভাষার সূক্ষ্ম ও সুনির্দিষ্ট প্রয়োগের জন্য বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। তিনি সাধারণত মতপার্থক্যপূর্ণ বিষয়গুলো এড়িয়ে চলেন এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে ইবনে মালিকের মতকে গ্রহণ করেন। তিনি কুরআনের আয়াত দ্বারা প্রচুর দলিল পেশ করেন, তবে নবিজির হাদিস থেকে উদ্ধৃতি প্রদান করেন খুব সামান্য। কবিতার ব্যবহারও সীমিত, যেখানে তিনি চরণের প্রথমাংশ বা শেষাংশ উল্লেখ করেন এবং খুব কমই পূর্ণ চরণ উল্লেখ করেন। সামগ্রিকভাবে, আমার মতে 'মুতাম্মিমাতুল আজরুমিয়াহ' আরবি নাহু শাস্ত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও মৌলিক গ্রন্থ।গ্রন্থকার পরিচিতি:তিনি হলেন মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে হুসাইন, যিনি আল-হাত্তাব আর-রুয়াইনি নামে সমধিক পরিচিত। তিনি ছিলেন একজন ফকিহ ও উসুলবিদ। তাঁর মূল আবাস ছিল মরক্কো; তিনি ৯০২ হিজরি সনে মক্কায় জন্মগ্রহণ করেন এবং ৯৫৪ হিজরি সনে ত্রিপোলিতে ইন্তেকাল করেন।তাঁর গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে: 'মাওয়াহিবুল জলিল ফি শারহি শাইখ খলিল', উসুল শাস্ত্রের ওপর ইমামুল হারামাইনের 'ওয়ারাকাত'-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'কুররাতুল আইন' এবং আমাদের এই বর্তমান বইটি।
(খণ্ড: ১)
মুতাম্মিমাতুল আজরুমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২)
بسم الله الرحمن الرحيمالحمد لله والصلاة والسلام على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين وبعد، فهذه مقدمة في علم العربية متممة لمسائل الأجرومية، تكون واسطةً بينها وبين غيرها من المطولات؛ نفع الله بها كما نفع بأصلها في الحياة وبعد الممات.الكلام وما يتألف منه:الكلام هو اللفظ المفيد بالوضع واقل ما يتألف من اسمين نحو: زيد قائم او من فعل واسم نحو قام زيد، والكلمة قول مفرد وهي اسم وفعل وحرف.فالاسم يعرف بالإسناد إليه، وبالخفض وبالتنوين وبدخول الألف واللام وحروف الجر الخفض؛ والفعل يعرف بقد والسين وسوف وتاء التأنيث وهو ثلاثة أنواع: ماضٍ ويعرف بتاء التأنيث الساكنة نحو: قامت وقعدت ومنه نعم وبئس وليس وعسى على الأصح؛ ومضارع يعرف بدخول لم عليه نحو لم يقمْن ولابد في أوله من إحدى الزوائد الأربع وهي: الهمزة والنون والياء والتاء، يجمعها قولك: نأيت؛ ويضم أوله إذا كان ماضيه على أربعة أحرف؛ دحرج يُدحرج، أكرم يُكرم وفرّح ُيفرح، وقاتل يُقاتل؛ ويفتح في ما سوى ذلك، نحو نصر يَنصر، وانطلق ينطلق، واستخرج يستخرج؛ وأمر يعرف بدلالته على الطلب وقبوله ياء المخاطبة المؤنثة نحو: قومي واضربي، ومنه هات وتعال على الأصح؛ والحرف ما لا يصلح معه دليل الاسم ولا دليل الفعل ك"هل" و"في" و"لم". باب الإعراب والبناء:الإعراب تغيير أواخر الكلم لاختلاف العوامل الداخلة عليها لفضا أو تقديراً، وأقسامه أربعة: رفع ونصب وخفض وجزم، فللأسماء من ذلك الرفع والنصب والخفض ولا جزم فيهان وللأفعال من ذلك الرفع والنصب والجزم ولا خفض فيها.والبناء لزوم أواخر الكلم حركة أو سكوناً، وأنواعه أربعة ضم وفتح وكسر وسكون.والاسم ضربان: معرب وهو الأصل، وهو ما تغير آخره بسبب العوامل الداخلة عليه إما لفضا كزيدٍ عمروٍ، وإما تقديراً نحو: موسى والفتى، ومبني وهو الفرع وهو ما لا يتغير آخره بسبب العوامل الداخلة عليه كالمضمرات وأسماء الشرط والإشارة وأسماء الموصولات، فمنه ما يبنى على الفتح كأينَ، ومنه ما يبنى على الكسر كأمسِ، ومنه ما يبنى على الضم كحيثُ، والأصل في المبني أن يبنى على السكون.والفعل ضربان: مبنى وهو الأصل ومعرب وهو الفرع، والمبني نوعان أحدهما: الفعل الماضي وبناؤه على الفتح إلا إذا اتصلت به واو الجماعة فيضم نحو: ضربوا، أو اتصل به ضمير رفع متحرك فيسكن نحو: ضربْتُ وضربْنا، والثاني: فعل الأمر وبناؤه على السكون نحو: اضرب واضربن إلا إذا اتصل به ضمير تثنية أو ضمير جمع أو ضمير المؤنثة المخاطبة فعلى حذف النون نحو: اضربا واضربوا واضربي، إلا المعتل فعلى حذف حرف العلة نحوك اخشَ واغزُ وارم ِ.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সা.), তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সঙ্গীদের ওপর শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক। অতঃপর, এটি আরবি ভাষা বিজ্ঞানের একটি ভূমিকা, যা আজরুমিয়্যাহ-এর মাসআলাসমূহের পরিপূরক। এটি এই ক্ষুদ্র গ্রন্থ এবং অন্যান্য বিশদ গ্রন্থসমূহের মধ্যে একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে। আল্লাহ এর মাধ্যমে উপকার দান করুন, যেমন তিনি এর মূল গ্রন্থের মাধ্যমে ইহকাল ও পরকালে দান করেছেন।বাক্য এবং তা যা দ্বারা গঠিত হয়:বাক্য (الكلام) হলো উদ্দেশ্যমূলক অর্থপূর্ণ উচ্চারণ। এটি অন্তত দুটি বিশেষ্য (اسم) নিয়ে গঠিত হয়, যেমন: 'যায়েদ দণ্ডায়মান'; অথবা একটি ক্রিয়া (فعل) ও একটি বিশেষ্য (اسم) নিয়ে গঠিত হয়, যেমন: 'যায়েদ দাঁড়ালো'। শব্দ (الكلمة) হলো একটি একক উক্তি এবং তা হলো বিশেষ্য (اسم), ক্রিয়া (فعل) এবং অব্যয় (حرف)।বিশেষ্যকে (الاسم) চেনা যায় তার দিকে কোনো কিছুকে সম্পর্কিত করা (الإسناد إليه) দ্বারা, শব্দের শেষে পতন বা জের (الخفض) দ্বারা, তানভীন (التنوين) দ্বারা এবং আলিফ ও লাম (الألف واللام) তথা নির্দিষ্টতা জ্ঞাপক অব্যয় এবং কাসরা দানকারী অব্যয় (حروف الجر) যুক্ত হওয়া দ্বারা। ক্রিয়াকে (الفعل) চেনা যায় ‘ক্বদ’ (قد), ‘সীন’ (السين), ‘সাওফা’ (سوف) এবং স্ত্রীলিঙ্গজ্ঞাপক ‘তা’ (تاء التأنيث) দ্বারা। ক্রিয়া তিন প্রকার: অতীতকালীন ক্রিয়া (ماضٍ), যা স্থির স্ত্রীলিঙ্গজ্ঞাপক ‘তা’ (تاء التأنيث الساكنة) দ্বারা চেনা যায়। যেমন: 'সে দাঁড়ালো' ও 'সে বসলো'। এর অন্তর্ভুক্ত হলো ‘নি’মা’ (نعم), ‘বি’সা’ (بئس), ‘লাইসা’ (ليس) এবং বিশুদ্ধ অভিমত অনুযায়ী ‘আসা’ (عسى)। বর্তমান ও ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া (مضارع), যা এর ওপর ‘লাম’ (لم) প্রবেশ করার মাধ্যমে চেনা যায়। যেমন: ‘সে দাঁড়ায়নি’। এর শুরুতে অতিরিক্ত চারটি অক্ষরের একটি থাকা আবশ্যক, আর সেগুলো হলো: হামজা, নূন, ইয়া এবং তা। তোমার বলা ‘নাআইতু’ (نأيت) শব্দে এগুলো একত্রিত হয়েছে। এর প্রথম অক্ষর পেশযুক্ত (ضم) হবে যদি এর অতীতকাল চার অক্ষর বিশিষ্ট হয়। যেমন: ‘দাহরাজা-ইউদাহরিজু’, ‘আকরামা-ইউকরিমু’, ‘ফাররাহা-ইউফাররিহু’ এবং ‘ক্বতালা-ইউক্বাতিলু’। এ ছাড়া বাকি সব ক্ষেত্রে প্রথম অক্ষর জবরযুক্ত (فتح) হবে। যেমন: ‘নাসারা-ইয়ানসুরু’, ‘ইনতালাক্বা-ইয়ানতালিক্বু’, ‘ইস্তাকরাজা-ইয়াসতাখরিজু’। আর আদেশসূচক ক্রিয়া (أمر) চেনা যায় নির্দেশনার প্রতি এর অর্থ এবং স্ত্রীলিঙ্গ সম্বোধনকারী ‘ইয়া’ (ياء المخاطبة المؤنثة) গ্রহণ করার মাধ্যমে। যেমন: 'তুমি দাঁড়াও' এবং 'তুমি প্রহার করো'। বিশুদ্ধ অভিমত অনুযায়ী ‘হাত’ (هات) এবং ‘তা’আলা’ (تعال) এর অন্তর্ভুক্ত। আর অব্যয় (الحرف) হলো তা, যার সাথে বিশেষ্য বা ক্রিয়ার কোনো আলামত কার্যকর হয় না। যেমন: ‘হাল’ (هل), ‘ফী’ (في) এবং ‘লাম’ (لم)। শব্দরূপের পরিবর্তন (ই’রাব) ও অপরিবর্তনীয়তা (বিনা) অধ্যায়:ই’রাব (الإعراب) হলো বিভিন্ন প্রভাবক (العوامل) প্রবেশের কারণে শব্দের শেষের অবস্থার উচ্চারণগত (لفظا) বা উহ্য (تقديراً) পরিবর্তন। এর প্রকার চারটি: রফ’ (رفع), নসব (نصب), খফয (خفض) এবং জজম (جزم)। এর মধ্যে বিশেষ্যের (الأسماء) জন্য রয়েছে রফ’, নসব ও খফয, তাতে কোনো জজম নেই। আর ক্রিয়ার (الأفعال) জন্য রয়েছে রফ’, নসব ও জজম, তাতে কোনো খফয নেই।অপরিবর্তনীয়তা (البناء) হলো শব্দের শেষাংশ কোনো হরকত বা সুকুন (স্থিরতা) এর ওপর অপরিহার্যভাবে অপরিবর্তিত থাকা। এর প্রকার চারটি: যম্ম (ضم), ফাতহ (فتح), কাসর (كسر) এবং সুকুন (سكون)।বিশেষ্য (الاسم) দুই প্রকার: পরিবর্তনশীল (معرب) এবং এটিই মূল। এটি এমন শব্দ যার শেষাংশ প্রভাবক প্রবেশের কারণে পরিবর্তিত হয়, তা উচ্চারণগত (لفظا) হতে পারে যেমন: যায়েদুন, আমরুন; অথবা উহ্য (تقديراً) হতে পারে যেমন: মূসা ও যুবক। দ্বিতীয় প্রকার হলো অপরিবর্তনীয় (مبني) এবং এটি গৌণ। এটি এমন শব্দ যার শেষাংশ প্রভাবক প্রবেশের কারণে পরিবর্তিত হয় না। যেমন: সর্বনাম (المضمرات), শর্তবাচক শব্দ (أسماء الشرط), ইঙ্গিতবাচক শব্দ (أسماء الإشارة) এবং সংযোগবাচক শব্দ (أسماء الموصولات)। এর মধ্যে কোনটি ফাতহ (الفتح)-এর ওপর ভিত্তি করে গঠিত যেমন: ‘আয়না’ (أينَ); কোনটি কাসর (الكسر)-এর ওপর ভিত্তি করে গঠিত যেমন: ‘আমসি’ (أمسِ); কোনটি যম্ম (الضم)-এর ওপর ভিত্তি করে গঠিত যেমন: ‘হাইসু’ (حيثُ)। আর অপরিবর্তনীয় শব্দের মূল হলো তা সুকুন (السكون)-এর ওপর ভিত্তি করে গঠিত হওয়া।ক্রিয়া (الفعل) দুই প্রকার: অপরিবর্তনীয় (مبنى), যা মূল; এবং পরিবর্তনশীল (معرب), যা গৌণ। অপরিবর্তনীয় ক্রিয়া দুই প্রকার: প্রথমটি হলো অতীতকালীন ক্রিয়া (الفعل الماضي)। এর ভিত্তি হলো ফাতহ (الفتح) এর ওপর, যদি না এর সাথে বহুবচন সূচক ‘ওয়াও’ (واو الجماعة) যুক্ত হয়, তবে তা যম্ম (ضم) হবে যেমন: ‘দারাবূ’। অথবা যদি এর সাথে হরকতযুক্ত রফ’ বিশিষ্ট সর্বনাম (ضمير رفع متحرك) যুক্ত হয় তবে তা সুকুন (سكون) হবে যেমন: ‘দারাবতু’ এবং ‘দারাবনা’। দ্বিতীয়টি হলো আদেশসূচক ক্রিয়া (فعل الأمر)। এর ভিত্তি হলো সুকুন (السكون)-এর ওপর যেমন: ‘ইদরিব’ ও ‘ইদরিবান্না’। তবে যদি এর সাথে দ্বিবচন সূচক সর্বনাম, বহুবচন সূচক সর্বনাম অথবা স্ত্রীলিঙ্গ সম্বোধনকারী সর্বনাম যুক্ত হয়, তবে তা নূন বিলোপ (حذف النون) হওয়ার ওপর ভিত্তি করে গঠিত হবে। যেমন: ‘ইদরিবা’, ‘ইদরিবু’ এবং ‘ইদরিবি’। তবে দুর্বল বর্ণযুক্ত ক্রিয়া (المعتل) হলে তা দুর্বল বর্ণ বিলোপ (حذف حرف العلة) হওয়ার ওপর ভিত্তি করে গঠিত হবে। যেমন: ‘ইখশা’, ‘ইগজু’ এবং ‘ইরমি’।
(খণ্ড: ১)
মুতাম্মিমাতুল আজরুমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
والعرب من الأفعال الفعل المضارع بشرط ألا يتصل به نون الإناث ولا نون التوكيد المباشرة نحو: يضربُ ويخشَى، فإن اتصلت به نون الإناث بني على السكون نحو: {وَالْوَالِدَاتُ يُرْضِعْنَ} (233) سورة البقرة؛ وإن اتصل به نون التوكيد المباشرة بني على الفتح نحو: ليسجن وليكونن، وإنما أعرب المضارع لمشابهته الاسم. وأما الحروف فمبنية كلها.باب علامات الإعراب:للرفع أربع علامات: الضمة وهي الأصل والواو واللف والنون وهي نائبة عن الضمة، فاما الضمة فتكون علامة الرفع في أربعة مواضع:في الإسم المفرد منصرفا كان او غير منصرفٍنحو: { {وَإِذْ قَالَ إِبْرَاهِيمُ} (126) سورة البقرة؛ {وَإِذْ قَالَ مُوسَى} (54) سورة البقرة، وفي جمع التكسير منصرفاكان اوغير منصرف نحو: {قَالَ أَصْحَابُ مُوسَى} (61) سورة الشعراء؛ {وَمَسَاكِنُ تَرْضَوْنَهَا} (24) سورة التوبة؛ {وَمِنْ آيَاتِهِ الْجَوَارِ} (32) سورة الشورى؛ وفي جمع المؤنث السالم وما حمل عليه نحو: {إِذَا جَاءكَ الْمُؤْمِنَاتُ} (12) سورة الممتحنة؛ {وَأُوْلَاتُ الْأَحْمَالِ} (4) سورة الطلاق؛ وفي الفعل المضارع الذي لم يتصل بآخره شيء نحو: {وَاللهُ يَدْعُو إِلَى دَارِ السَّلَامِ} (25) سورة يونس.أما الواو فتكون علامة الرفع في موضعين: في جمع المذكر السالم وما حمل عليه نحو: {فِي وَيَوْمَئِذٍ يَفْرَحُ الْمُؤْمِنُونَ} (4) سورة الروم؛ {إِن يَكُن مِّنكُمْ عِشْرُونَ صَابِرُونَ} (65) سورة الأنفال؛ وفي الأسماء الستة وهي: أبوك، وأخوك، وحموك، وفوك، وهنوك، وذو مال نحو: {قَالَ أَبُوهُمْ} (94) سورة يوسف؛ {إِذْ قَالُواْ لَيُوسُفُ وَأَخُوهُ أَحَبُّ إِلَى أَبِينَا مِنَّا} (8) سورة يوسف؛ وجاء حموك وهذا فوك وهنوك؛ {وَإِنَّهُ لَذُو عِلْمٍ} (68) سورة يوسف.
ক্রিয়াগুলোর মধ্যে মুদারে (বর্তমান ও ভবিষ্যৎকালীন) ক্রিয়াটি পরিবর্তনশীল, যদি না তার সাথে স্ত্রীবাচক নুন বা সরাসরি তাকিদবাচক নুন যুক্ত হয়; যেমন: 'সে প্রহার করছে' এবং 'সে ভয় পাচ্ছে'। তবে যদি তার সাথে স্ত্রীবাচক নুন যুক্ত হয়, তখন তা সুকুন-এর ওপর ভিত্তি করে অপরিবর্তনশীল হয়; যেমন: {আর মায়েরা তাদের সন্তানদের স্তন্যদান করবে} (২৩৩) সূরা আল-বাকারাহ। আর যদি তার সাথে সরাসরি তাকিদবাচক নুন যুক্ত হয়, তখন তা ফাতহাহ-এর ওপর ভিত্তি করে অপরিবর্তনশীল হয়; যেমন: 'সে অবশ্যই কারারুদ্ধ হবে' এবং 'সে অবশ্যই লাঞ্ছিত হবে'। মুদারে ক্রিয়াকে বিশেষ্যের সাথে সাদৃশ্য থাকার কারণেই মূলত পরিবর্তনশীল করা হয়েছে। আর সকল অব্যয়ই অপরিবর্তনশীল।ই'রাব বা অবস্থান্তরের চিহ্নসমূহের অধ্যায়:রাফা (পেশবাচক অবস্থা)-এর জন্য চারটি চিহ্ন রয়েছে: দাম্মাহ—যা মূল চিহ্ন—এবং ওয়াও, আলিফ ও নুন, যা দাম্মাহ-এর প্রতিনিধি হিসেবে বসে। দাম্মাহ চারটি স্থানে রাফা-এর চিহ্ন হয়:একবচন বিশেষ্যের ক্ষেত্রে, তা রূপান্তরযোগ্য হোক বা অ-রূপান্তরযোগ্য; যেমন: {যখন ইব্রাহিম বললেন} (১২৬) সূরা আল-বাকারাহ; {যখন মুসা বললেন} (৫৪) সূরা আল-বাকারাহ। ভঙ্গুর বহুবচনের ক্ষেত্রে, তা রূপান্তরযোগ্য হোক বা অ-রূপান্তরযোগ্য; যেমন: {মুসার সাথীরা বলল} (৬১) সূরা আশ-শুয়ারা; {এবং সেই বাসগৃহ যা তোমরা পছন্দ করো} (২৪) সূরা আত-তাওবাহ; {এবং সমুদ্রগামী জাহাজসমূহ তাঁর নিদর্শনাবলির অন্তর্ভুক্ত} (৩২) সূরা আশ-শূরা। জমা মুয়ান্নাস সালেম (পরিপূর্ণ স্ত্রীবাচক বহুবচন) এবং তার সাথে সংশ্লিষ্ট শব্দগুলোর ক্ষেত্রে; যেমন: {যখন আপনার নিকট মুমিন নারীরা আসবে} (১২) সূরা আল-মুমতাহিনা; {আর গর্ভবতী নারীরা} (৪) সূরা আত-তালাক। আর সেই মুদারে ক্রিয়ার ক্ষেত্রে যার শেষে কোনো কিছু যুক্ত হয়নি; যেমন: {আর আল্লাহ শান্তির আবাসের দিকে আহ্বান করেন} (২৫) সূরা ইউনুস।আর ওয়াও দুটি স্থানে রাফা-এর চিহ্ন হয়: জমা মুজাক্কার সালেম (পরিপূর্ণ পুরুষবাচক বহুবচন) এবং তার সাথে সংশ্লিষ্ট শব্দগুলোর ক্ষেত্রে; যেমন: {সেদিন মুমিনগণ আনন্দিত হবে} (৪) সূরা আর-রূম; {যদি তোমাদের মধ্যে বিশ জন ধৈর্যশীল ব্যক্তি থাকে} (৬৫) সূরা আল-আনফাল। আর ছয়টি বিশেষ বিশেষ্য (আসমায়ে সিত্তাহ)-এর ক্ষেত্রে, যেগুলো হলো: তোমার পিতা, তোমার ভাই, তোমার শ্বশুর, তোমার মুখ, তোমার লজ্জাস্থান এবং সম্পদের অধিকারী; যেমন: {তাদের পিতা বললেন} (৯৪) সূরা ইউসুফ; {যখন তারা বলল, ইউসুফ ও তার ভাই আমাদের পিতার কাছে আমাদের চেয়েও বেশি প্রিয়} (৮) সূরা ইউসুফ; এবং 'তোমার শ্বশুর এসেছে', 'এটি তোমার মুখ' এবং 'তোমার লজ্জাস্থান'; {আর নিশ্চয়ই তিনি ছিলেন জ্ঞানের অধিকারী} (৬৮) সূরা ইউসুফ।
(খণ্ড: ১)
মুতাম্মিমাতুল আজরুমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
وأما الألف فتكون علامة للرفع في الفعل المضارع إذا اتصل به ضمير تثنية نحو: {وَالنَّجْمُ وَالشَّجَرُ يَسْجُدَانِ} (6) سورة الرحمن؛ {إِنَّ عِدَّةَ الشُّهُورِ عِندَ اللهِ اثْنَا عشَر شهرًا} (36) سورة التوبة؛ {فَانفَجَرَتْ مِنْهُ اثْنَتَا عَشْرَةَ عَيْناً} (60) سورة البقرة.وأما النون فتكون علامة لرفع الفعل المضار إذا اتصل به ضمير تثنية نحو {وَالنَّجْمُ وَالشَّجَرُ يَسْجُدَانِ} ، أو ضمير جمع المذكر نحو: {الَّذِينَ} (3) سورة البقرة، أو ضمير المخاطبة نحو: {قَالُواْ أَتَعْجَبِينَ مِنْ أَمْرِ ٌ} (73) سورة هود.وللنصب خمس علامات الفتحة وهي الأصل والألف والكسرة والياء وحذف النون وهي نائبة عن الفتحة؛ فأما الفتحة فتكون علامة للنصب في ثلاثة مواضع:في الاسم المفرد منصرفا كلن أو غير منصرف نحو: {وَاتَّقُواْ اللهَ} (189) سورة البقرة؛ {وَوَهَبْنَا لَهُ إِسْحَقَ وَيَعْقُوبَ} (84) سورة الأنعام؛ {وَإِذْ وَاعَدْنَا مُوسَى} (51) سورة البقرة؛ وفي جمع التكسير منصرفا كان أو عير منصرف نحو: {وَتَرَى الْجِبَالَ} (88) سورة النمل؛ {وَعَدَكُمُ اللَّهُ مَغَانِمَ كَثِيرَةً} (20) سورة الفتح؛ {وَأَنكِحُوا الْأَيَامَى} (32) سورة النور؛ وفي المضارع إذا دخل عليه ناصب ولم يتصل بآخره شيء نحو: {لَن يَنَالَ اللَّهَ لُحُومُهَا} (37) سورة الحج.أما الألف فتكون علامة النصب في السماء الستة نحو: {مَّا كَانَ مُحَمَّدٌ أَبَا أَحَدٍ مِّن رِّجَالِكُمْ} (40) سورة الأحزاب؛ {وَنَحْفَظُ أَخَانَا} (65) سورة يوسف؛ وقول رأيت حماك وهناك؛ {أَن كَانَ ذَا مَالٍ} (14) سورة القلم.وأما الكسرة فتكون علامة النصب نيابة عن الفتحة في جمع المؤنث السالم وما حمل عليه نحو: {خَلَقَ السَّمَاوَاتِ} (1) سورة الأنعام؛ {وَإِن كُنَّ أُولَاتِ حَمْلٍ} (6) سورة الطلاق؛
আর আলিফ (الألف) রফ (الرفع)-এর আলামত হবে মুদারে ক্রিয়া (الفعل المضارع)-তে যখন তার সাথে দ্বিবচন সর্বনাম (ضمير تثنية) যুক্ত হয়; যেমন: {আর নক্ষত্র ও বৃক্ষরাজি সিজদা করছে} (সূরা আর-রহমান: ৬); {নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট মাসের সংখ্যা বারোটি} (সূরা আত-তাওবাহ: ৩৬); {ফলে তা থেকে বারোটি ঝর্ণা প্রবাহিত হলো} (সূরা আল-বাক্বারাহ: ৬০)।আর নুন (النون) মুদারে ক্রিয়া (الفعل المضارع)-এর রফ (الرفع)-এর আলামত হয় যখন তার সাথে দ্বিবচন সর্বনাম (ضمير تثنية) যুক্ত হয় যেমন: {আর নক্ষত্র ও বৃক্ষরাজি সিজদা করছে}, অথবা পুরুষবাচক বহুবচন সর্বনাম (ضمير جمع المذكر) যুক্ত হয় যেমন: {যারা} (সূরা আল-বাক্বারাহ: ৩), অথবা মধ্যম পুরুষ স্ত্রীবাচক সর্বনাম (ضمير المخاطبة) যুক্ত হয় যেমন: {তারা বলল, আপনি কি আল্লাহর কাজে বিস্ময় বোধ করছেন?} (সূরা হুদ: ৭৩)।নাসব (النصب)-এর জন্য পাঁচটি আলামত রয়েছে: ফাতহাহ (الفتحة)—যা মূল আলামত, আলিফ (الألف), কাসরাহ (الكسرة), ইয়া (الياء) এবং নুন বিলুপ্ত হওয়া (حذف النون), যা ফাতহাহ (الفتحة)-এর স্থলাভিষিক্ত হয়। ফাতহাহ (الفتحة) তিনটি স্থানে নাসব (النصب)-এর আলামত হিসেবে ব্যবহৃত হয়:একবচন বিশেষ্য (الاسم المفرد)-এর ক্ষেত্রে, চাই তা পূর্ণ রূপান্তরশীল (منصرف) হোক বা অপূর্ণ রূপান্তরশীল (غير منصرف) হোক, যেমন: {এবং তোমরা আল্লাহকে ভয় করো} (সূরা আল-বাক্বারাহ: ১৮৯); {এবং আমি তাকে ইসহাক ও ইয়াকুব দান করেছি} (সূরা আল-আনআম: ৮৪); {এবং যখন আমি মুসার সাথে অঙ্গীকার করেছিলাম} (সূরা আল-বাক্বারাহ: ৫১); এবং ভগ্ন বহুবচন (جمع التكسير)-এর ক্ষেত্রে, চাই তা পূর্ণ রূপান্তরশীল (منصرف) হোক বা অপূর্ণ রূপান্তরশীল (غير منصرف) হোক, যেমন: {এবং আপনি পাহাড়গুলোকে দেখতে পাবেন} (সূরা আন-নামল: ৮৮); {আল্লাহ তোমাদেরকে বিপুল পরিমাণ যুদ্ধলব্ধ সম্পদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন} (সূরা আল-ফাতহ: ২০); {এবং তোমরা তোমাদের মধ্যকার অবিবাহিতদের বিবাহ দাও} (সূরা আন-নূর: ৩২); এবং মুদারে ক্রিয়া (المضارع)-তে যখন তার পূর্বে নাসব দানকারী অব্যয় (ناصب) আসে এবং তার শেষে কোনো কিছু যুক্ত না হয়, যেমন: {আল্লাহর কাছে কখনোই সেগুলোর গোশত পৌঁছায় না} (সূরা আল-হাজ্জ: ৩৭)।আর আলিফ (الألف) ছয়টি বিশেষ্য (الأسماء الستة)-এর ক্ষেত্রে নাসব (النصب)-এর আলামত হয়, যেমন: {মুহাম্মাদ তোমাদের পুরুষদের মধ্যে কারো পিতা নন} (সূরা আল-আহযাব: ৪০); {এবং আমরা আমাদের ভাইয়ের হিফাযত করব} (সূরা ইউসুফ: ৬৫); এবং এই কথা: ‘আমি তোমার শ্বশুরকে এবং তাকে দেখেছি’; {যেহেতু সে ছিল ধন-সম্পদের অধিকারী} (সূরা আল-কালাম: ১৪)।আর কাসরাহ (الكسرة) ফাতহাহ (الفتحة)-এর স্থলাভিষিক্ত হয়ে নাসব (النصب)-এর আলামত হয় সঠিক স্ত্রীবাচক বহুবচন (جمع المؤنث السالم) এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট শব্দগুলোর ক্ষেত্রে, যেমন: {তিনি আসমানসমূহ সৃষ্টি করেছেন} (সূরা আল-আনআম: ১); {আর তারা যদি গর্ভবতী হয়} (সূরা আত-তালাক: ৬);
(খণ্ড: ১)
মুতাম্মিমাতুল আজরুমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
وأما الياء فتكون علامة للنصب في موضعين: في المثنى وما حمل عليه نحو: {رَبَّنَا وَاجْعَلْنَا مُسْلِمَيْنِ لَكَ} (128) سورة البقرة؛ {إِذْ أَرْسَلْنَا إِلَيْهِمُ اثْنَيْنِ} (14) سورة يس؛ {رَبَّنَا أَمَتَّنَا اثْنَتَيْنِ} (11) سورة غافر؛ وفي جمع المذكر السالم وما حمل عليه نحو: {نُنجِي الْمُؤْمِنِينَ} (88) سورة الأنبياء؛ {وَوَاعَدْنَا مُوسَى ثَلَاثِينَ لَيْلَةً} (142) سورة الأعراف.وأما حذف النون فيكون علامة للنصب في الأفعال التي َرْفعُها بثبات النون نحو: {إِلَاّ أَن تَكُونَا مَلَكَيْنِ} (20) سورة الأعراف؛ {وَأَن تَصُومُواْ خَيْرٌ لَّكُمْ} (184) سورة البقرة؛ ولن تقومي.وللخفض ثلاث علامات الكسرة وهي الأصل والياء والفتحة وهما فرعان نائبتان عن الكسرة؛ فأما الكسرة فتكون علامة للخفض في ثلاث مواضع: في الاسم المفرد نحو: {بسمِ اللهِ الرحمنِ الرحيم ِ} ؛ {أُوْلَئِكَ عَلَى هُدًى} (5) سورة البقرة؛ وفي جمع التكسير المنصرف نحو: {لِّلرِّجَالِ نَصيِبٌ} (7) سورة النساء؛ وفي جمع المؤنث السالم وما حمل عليه نحو: {وَقُل لِّلْمُؤْمِنَاتِ} (31) سورة النور؛ ومررت بأولات الأحمال.أما الياء فتكون علامة للخفض في ثلاثة مواضع: في الأسماء الستة نحو: {ارْجِعُواْ إِلَى أَبِيكُمْ} (81) سورة يوسف؛ {َ كَمَا أَمِنتُكُمْ عَلَى أَخِيهِ مِن قَبْلُ} (64) سورة يوسف؛ ومررت بحميك وفيك وهنيك؛ {وَالْجَارِ ذِي الْقُرْبَى} (36) سورة النساء؛ وفي المثنى وما حمل عليه نحو: {حَتَّى أَبْلُغَ مَجْمَعَ الْبَحْرَيْنِ} (60) سورة الكهف؛ ومررت باثنين واثنتين وفي جمع المذكر السالم وما حمل عليه نحو {وَقُل لِّلْمُؤْمِنَاتِ} (31) سورة النور؛ ونحو: {فَإِطْعَامُ سِتِّينَ مِسْكِينًا} (4) سورة المجادلة
আর 'ইয়া' (ياء) দুটি ক্ষেত্রে নসবের (نصب) আলামত বা চিহ্ন হয়: দ্বিবচন (مثنى) এবং যা এর হুকুমের অন্তর্ভুক্ত, যেমন: {হে আমাদের রব! আমাদের উভয়কে আপনার একান্ত অনুগত করুন} (সূরা আল-বাকারা: ১২৮); {যখন আমি তাদের নিকট দুজনকে পাঠিয়েছিলাম} (সূরা ইয়াসিন: ১৪); {হে আমাদের রব! আপনি আমাদের দুবার মৃত্যু দিয়েছেন} (সূরা গাফির: ১১); এবং সুস্থ পুংলিঙ্গ বহুবচন (جمع المذكر السالم) ও যা এর হুকুমের অন্তর্ভুক্ত, যেমন: {আমি মুমিনদের নাজাত দান করি} (সূরা আল-আম্বিয়া: ৮৮); {এবং আমি মূসার সাথে ত্রিশ রাতের ওয়াদা করেছিলাম} (সূরা আল-আরাফ: ১৪২)।আর 'নুন' বিলুপ্ত হওয়া (حذف النون) নসবের (نصب) আলামত হয় সেই সকল ক্রিয়ার ক্ষেত্রে যেগুলোর রফ (رفع) নুন বহাল থাকার মাধ্যমে হয়। যেমন: {তবে যদি তোমরা ফেরেশতা হয়ে যাও} (সূরা আল-আরাফ: ২০); {এবং রোজা রাখা তোমাদের জন্য কল্যাণকর} (সূরা আল-বাকারা: ১৮৪); এবং 'তুমি কখনোই দাঁড়াবে না' (لن تقومي)।খাফদ (خفض) বা জারের জন্য তিনটি আলামত রয়েছে: কাসরা (كسرة) - যা মূল চিহ্ন, এবং ইয়া (ياء) ও ফাতহা (فتحة) - যা কাসরার স্থলাভিষিক্ত দুটি শাখা চিহ্ন। কাসরা (كسرة) তিনটি ক্ষেত্রে খাফদের (خفض) আলামত হয়: একবচন বিশেষ্যের (الاسم المفرد) ক্ষেত্রে, যেমন: {পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে}; {তারা হিদায়াতের ওপর প্রতিষ্ঠিত} (সূরা আল-বাকারা: ৫); রূপান্তরযোগ্য ভগ্ন বহুবচনের (جمع التكسير المنصرف) ক্ষেত্রে, যেমন: {পুরুষদের জন্য অংশ রয়েছে} (সূরা আন-নিসা: ৭); এবং সুস্থ স্ত্রীলিঙ্গ বহুবচন (جمع المؤنث السالم) ও যা এর হুকুমের অন্তর্ভুক্ত, যেমন: {আর মুমিন নারীদের বলুন} (সূরা আন-নূর: ৩১); এবং 'আমি গর্ভবতী নারীদের নিকট দিয়ে অতিক্রম করলাম'।আর 'ইয়া' (ياء) তিনটি ক্ষেত্রে খাফদের (خفض) আলামত হয়: ছয়টি বিশেষ্য পদের (الأسماء الستة) ক্ষেত্রে, যেমন: {তোমরা তোমাদের পিতার নিকট ফিরে যাও} (সূরা ইউসুফ: ৮১); {যেভাবে ইতিপূর্বে আমি তোমাদেরকে তার ভাইয়ের ব্যাপারে বিশ্বাস করেছিলাম} (সূরা ইউসুফ: ৬৪); এবং 'আমি তোমার শ্বশুরের নিকট দিয়ে, তোমার মুখের নিকট দিয়ে এবং তোমার ছোট্ট জিনিসের নিকট দিয়ে অতিক্রম করলাম'; {এবং নিকটবর্তী প্রতিবেশী} (সূরা আন-নিসা: ৩৬); এবং দ্বিবচনের (مثنى) ক্ষেত্রে ও যা তার হুকুমের অন্তর্ভুক্ত, যেমন: {যতক্ষণ না আমি দুই সমুদ্রের সঙ্গমস্থলে পৌঁছাই} (সূরা আল-কাহাফ: ৬০); এবং 'আমি দুইজন পুরুষ ও দুইজন মহিলার নিকট দিয়ে অতিক্রম করলাম'; এবং সুস্থ পুংলিঙ্গ বহুবচন (جمع المذكر السالم) ও যা এর হুকুমের অন্তর্ভুক্ত, যেমন: {আর মুমিন নারীদের বলুন} (সূরা আন-নূর: ৩১); এবং যেমন: {অতঃপর ষাট জন মিসকিনকে অন্নদান} (সূরা আল-মুজাদালা: ৪)।
(খণ্ড: ১)
মুতাম্মিমাতুল আজরুমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
وأما الفتحة فتكون علامة للخفض في الاسم الذي لا ينصرف مفردا كان نحو: {وَأَوْحَيْنَا إِلَى إِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَاعِيلَ وَإْسْحَقَ وَيَعْقُوبَ} (163) سورة النساء؛ {فَحَيُّواْ بِأَحْسَنَ مِنْهَا أَوْ} (86) سورة النساء؛ أو جمع تكسير نحو: {مِن مَّحَارِيبَ وَتَمَاثِيلَ} (13) سورة سبأ؛ إلا إذا أضيف نحو: في أحسنِ تقويمٍ؛ أو أدخلت عليه أل نحو: {وَأَنتُمْ عَاكِفُونَ فِي الْمَسَاجِدِ} (187) سورة البقرة.وللجزم علامتان: السكون وهو الأصل، والحذف وهو نائب عنه؛ فأما السكون فيكون علامة لجزم في الفعل المضارع الصحيح الآخر الذي لم يتصل بآخره شيء نحو: {لم يلدْ ولم يولدْ* ولم يكنْ له كفؤا أحد}وأما الحذف فيكون علامة للجزم في الفعل المضارع المعتل الآخر وهو ما آخره حرف علة؛ وحروف العلة: الألف والواو والياء نحو: {وَلَمْ يَخْشَ إِلَاّ اللهَ} (18) سورة التوبة؛ {وَمَن يَدْعُ مَعَ اللَّهِ} (117) سورة المؤمنون؛ {مَن يَهْدِ اللهُ} (178) سورة الأعراف؛ وفي الأفعال التي رفعها بثبات النون نحو: {إِن تَتُوبَا إِلَى اللَّهِ} (4) سورة التحريم؛ {وَإِن تَصْبِرُواْ وَتَتَّقُواْ} (120) سورة آل عمران؛ ولا {وَلَا تَخَافِي وَلَا تَحْزَنِي} (7) سورة القصص. فصل:جميع ما تقدم من المعربات قسمان: قسم يعرب بالحركات، وقسم يعرب بالحروفالذي يعرب بالحركات أربعة أنواع: الاسم المفرد، وجمع التكسير، وجمع المؤنث السالم، والفعل المضارع الذي لم يتصل بآخره شيء؛ وكلها ترفع بالضمة، وتنصب بالفتحة، وتخفض بالكسرة، وتجزم بالسكون؛ خرج من ذلك ثلاثة أشياء: الاسم الذي لا ينصرف مفردا كان أو جمع تكسير، فإنه يخفض بالفتحة ما لم يضف أو تدخل عليه أل؛ وجمع المؤنث السالم فإنه ينصب بالكسرة؛ والفعل المضارع المعتل الآخر فإنه يجزم بحذف آخره وقد تقدمت أمثلة ذلك.
পক্ষান্তরে ফাতহা সেই রূপান্তরহীন বিশেষ্যের (ইসমে গায়রে মুনসারিফ) ক্ষেত্রে খাফদ-এর আলামত বা চিহ্ন হয়, তা একবচন হোক; যেমন: {আমি ইবরাহিম, ইসমাইল, ইসহাক ও ইয়াকুবের প্রতি ওহি পাঠিয়েছি} (১৬৩) সূরা আন-নিসা; {তোমরা তার চেয়ে উত্তম অভিবাদন জানাও অথবা...} (৮৬) সূরা আন-নিসা; অথবা যা ভগ্ন বহুবচন (জমা তাকসির) হোক; যেমন: {সুউচ্চ প্রাসাদ ও ভাস্কর্যসমূহ থেকে} (১৩) সূরা সাবা; তবে যদি শব্দটি মুদাফ (সম্বন্ধযুক্ত) হয়; যেমন: উত্তম অবয়বে; অথবা যদি তার শুরুতে আলিফ-লাম যুক্ত হয়; যেমন: {যখন তোমরা মসজিদে ইতিকাফকারী} (১৮৭) সূরা আল-বাকারাহ।জাজম-এর আলামত বা চিহ্ন দুটি: সুকুন—যা মূল চিহ্ন, এবং হজফ (বিলোপ)—যা তার স্থলাভিষিক্ত। সুকুন সঠিক (صحيح) শেষাক্ষর বিশিষ্ট সেই বর্তমান-ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়ার (ফেয়েলে মুদারে) ক্ষেত্রে জাজম-এর আলামত হয় যার শেষে অন্য কিছু যুক্ত হয়নি; যেমন: {তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাঁকেও জন্ম দেয়া হয়নি, আর তাঁর সমকক্ষ কেউ নেই}আর হজফ সেই শেষাক্ষরে হরফে ইল্লত (ব্যাধিযুক্ত বর্ণ) বিশিষ্ট ফেয়েলে মুদারে-র জাজম-এর আলামত হয় যার শেষে হরফে ইল্লত থাকে। আর হরফে ইল্লতগুলো হলো: আলিফ, ওয়াও এবং ইয়া; যেমন: {এবং তিনি আল্লাহ ব্যতীত আর কাউকে ভয় করেননি} (১৮) সূরা আত-তাওবাহ; {এবং যে আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে ডাকে} (১১৭) সূরা আল-মুমিনুন; {যাকে আল্লাহ হিদায়াত দান করেন} (১৭৮) সূরা আল-আ'রাফ; এছাড়া ঐ সকল ক্রিয়ার ক্ষেত্রেও হজফ আলামত হিসেবে ব্যবহৃত হয় যেগুলোর রাফা-র অবস্থা নুন বর্ণটি বহাল থাকার মাধ্যমে হয়; যেমন: {যদি তোমরা উভয়ে আল্লাহর কাছে তাওবাহ করো} (৪) সূরা আত-তাহরীম; {আর যদি তোমরা ধৈর্য ধারণ করো ও তাকওয়া অবলম্বন করো} (১২০) সূরা আল-ইমরান; এবং {তুমি ভয় পেয়ো না এবং দুশ্চিন্তা করো না} (৭) সূরা আল-কাসাস। পরিচ্ছেদ:ইতিপূর্বে আলোচিত সকল মু'রাব (রূপান্তরশীল শব্দ) দুই প্রকার: এক প্রকার হারাকাত (স্বরচিহ্ন) দ্বারা রূপান্তর লাভ করে এবং অন্য প্রকার হুরুফ (বর্ণ) দ্বারা রূপান্তর লাভ করে।হারাকাত দ্বারা রূপান্তর লাভকারী শব্দগুলো চার প্রকার: একবচন বিশেষ্য (ইসম মুফরাদ), ভগ্ন বহুবচন (জমা তাকসির), নিয়মিত স্ত্রীবাচক বহুবচন (জমা মুয়ান্নাস সালেম) এবং সেই ফেয়েলে মুদারে যার শেষে কিছু যুক্ত হয়নি। এগুলোর সবকটিই দম্মা দ্বারা রাফা, ফাতহা দ্বারা নাসাব, কাসরা দ্বারা খাফদ এবং সুকুন দ্বারা জাজম প্রাপ্ত হয়। তবে তিনটি বিষয় এর ব্যতিক্রম: রূপান্তরহীন বিশেষ্য (ইসমে গায়রে মুনসারিফ)—তা একবচন হোক বা ভগ্ন বহুবচন—তা ফাতহা দ্বারা খাফদ প্রাপ্ত হয় যতক্ষণ না তা মুদাফ হয় অথবা তাতে আলিফ-লাম যুক্ত হয়; নিয়মিত স্ত্রীবাচক বহুবচন যা কাসরা দ্বারা নাসাব প্রাপ্ত হয়; এবং শেষাক্ষরে হরফে ইল্লত বিশিষ্ট ফেয়েলে মুদারে যা তার শেষাক্ষরটি হজফ হওয়ার মাধ্যমে জাজম প্রাপ্ত হয়। এগুলোর উদাহরণ ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
মুতাম্মিমাতুল আজরুমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
والذي يعرب بالحروف أربعة أنواع: المثنى وما حمل عليه، وجمع المذكر السالم وما حمل عليه، والأسماء الستة، والأمثلة الخمسة.فأما المثنى: فيرفع باللف وينصب ويجر بالياء المفتوح ما قبلها، المكسور ما بعدها، والحق به اثنان واثنتان مطلقا، وكلا وكلتا بشرط إضافتهما إلى المضمر نحو: جاءني كلهما وكلتاهما، ورأيت كليهما وكلتيهما، ومررت بكليهما وكلتيهما.فإن أضيفا إلى الظاهر كانا باللف في الأحوال الثلاثة وكان إعرابهما حركات مقدرة في تلك الألف نحو: جاءني كلا الرجلين وكلتا المرأتين، ومررت بكلا الرجلين وكلتا المرأتين.أما جمع المذكر السالم، فيرفع بالواو وينصب ويجر بالياء المكسور ما قبلها المفتوح ما بعدها، وألحق به: ألوا وعالمون وعشرون وما بعده من العقود إلى تسعين وأرضون وسنون وبابه؛ وأهلون وعليون، نحو: {وَلَا يَأْتَلِ أُوْلُوا الْفَضْلِ مِنكُمْ وَالسَّعَةِ} (22) سورة النور؛ {إِنَّ فِي ذَلِكَ لَذِكْرَى لِأُوْلِي الْأَلْبَابِ} (21) سورة الزمر؛ {ْ وَالْحَمْدُ لِلّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ} (45) سورة الأنعام؛ {ثَلَاثَ مِائَةٍ سِنِينَ} (25) سورة الكهف؛ {الَّذِينَ جَعَلُوا الْقُرْآنَ عِضِينَ} (91) سورة الحجر؛ { {شَغَلَتْنَا أَمْوَالُنَا وَأَهْلُونَا} (11) سورة الفتح} (11) سورة الفتح؛ {أَوْسَطِ مَا تُطْعِمُونَ أَهْلِيكُمْ} (89) سورة المائدة؛ {إِلَى أَهْلِيهِمْ} (12) سورة الفتح؛ {لَفِي عِلِّيِّينَ (18 * وَمَا أَدْرَاكَ مَا عِلِّيُّونَ} (19) سورة المطففين.
আর যেসব শব্দ অক্ষর বা হরফের মাধ্যমে ই'রাব (إعراب) গ্রহণ করে তা চার প্রকার: দ্বিবচন (المثنى) ও এর অনুগামী শব্দসমূহ, বহুবচন পুরুষবাচক সঠিক শব্দ (جمع المذكر السالم) ও এর অনুগামী শব্দসমূহ, ছয়টি বিশেষ্য (الأسماء الستة) এবং পাঁচটি উদাহরণ (الأمثلة الخمسة)।দ্বিবচনের (المثنى) ক্ষেত্রে নিয়ম হলো: এটি আলিফ (ألف) দ্বারা রাফা (رفع) প্রাপ্ত হয় এবং ইয়া (ياء) দ্বারা নাসব (نصب) ও যার (جر) প্রাপ্ত হয়, যার পূর্বের অক্ষরে ফাতহা (مفتوح) এবং পরের অক্ষরে কাসরা (مكسুর) থাকে। ‘ইছনানি’ (اثنان) এবং ‘ইছনাতানি’ (اثنتان) শব্দ দুটিকে নিঃশর্তভাবে এর অন্তর্ভুক্ত (ألحق به) করা হয়েছে। আর ‘কিলা’ (كلا) ও ‘কিলতা’ (كلتا) শব্দ দুটিকে এর অন্তর্ভুক্ত করার শর্ত হলো সেগুলোকে সর্বনামের (المضمر) দিকে সম্বন্ধযুক্ত (إضافة) হতে হবে। যেমন: ‘আমার নিকট তাদের দুজন পুরুষ ও দুজন নারী এসেছে’ (جاءني كلهما وكلتاهما), ‘আমি তাদের দুজন পুরুষ ও দুজন নারীকে দেখেছি’ (رأيت كليهমা وكلتيهما), এবং ‘আমি তাদের দুজন পুরুষ ও দুজন নারীর নিকট দিয়ে অতিক্রম করেছি’ (مررت بكليهমা وكلتيهমা)।কিন্তু যদি শব্দ দুটি স্পষ্ট বিশেষ্যের (الظاهر) দিকে সম্বন্ধযুক্ত (أضيفا) হয়, তবে তিন অবস্থাতেই তা আলিফ (ألف) যোগে থাকবে এবং তাদের ই'রাব (إعراب) হবে সেই আলিফের মধ্যে প্রচ্ছন্ন (مقدرة) থাকা হরকতের মাধ্যমে। যেমন: ‘আমার নিকট পুরুষ দুজন ও নারী দুজন এসেছে’ (جاءনি كلا الرجلين وكلتا المرأتين), এবং ‘আমি পুরুষ দুজন ও নারী দুজনের নিকট দিয়ে অতিক্রম করেছি’ (مررت بكلا الرجلين وكلتا المرأتين)।আর বহুবচন পুরুষবাচক সঠিক শব্দের (جمع المذكر السالم) ক্ষেত্রে নিয়ম হলো: এটি ওয়াও (واو) দ্বারা রাফা (رفع) প্রাপ্ত হয় এবং ইয়া (ياء) দ্বারা নাসব (نصب) ও যার (جر) প্রাপ্ত হয়, যার পূর্বের অক্ষরে কাসরা (مكسুর) এবং পরের অক্ষরে ফাতহা (مفتوح) থাকে। এর অন্তর্ভুক্ত (ألحق به) করা হয়েছে: ‘উলু’ (أولو), ‘আলামুন’ (عالمون), ‘ইশরুন’ (عشرون) এবং এর পরবর্তী সংখ্যাসমূহ ‘তিসউন’ (تسعين) পর্যন্ত, ‘আরদুন’ (أرضون), ‘সিনুন’ (سنون) ও এর সমপর্যায়ের শব্দসমূহ, এবং ‘আহলুন’ (أهلون) ও ‘ইল্লিউন’ (عليون)। যেমন: {তোমাদের মধ্যে যারা অনুগ্রহ ও প্রাচুর্যের অধিকারী (أولوا) তারা যেন শপথ না করে} (সুরা আন-নূর: ২২); {নিশ্চয় এতে বুদ্ধিমানদের (أولي الألباب) জন্য উপদেশ রয়েছে} (সুরা আয-জুমার: ২১); {আর সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি জগতসমূহের (العالمين) প্রতিপালক} (সুরা আল-আনআম: ৪৫); {তিনশত বছর (سنين)} (সুরা আল-কাহাফ: ২৫); {যারা কুরআনকে খণ্ড-বিখণ্ড (عضين) করেছে} (সুরা আল-হিজর: ৯১); {আমাদের ধন-সম্পদ ও আমাদের পরিবার-পরিজন (أهلونا) আমাদের ব্যস্ত রেখেছিল} (সুরা আল-ফাতহ: ১১); {তোমরা তোমাদের পরিবার-পরিজনকে (أهليكم) যা খাইয়ে থাক তার মধ্যম মানের খাবার হতে} (সুরা আল-মায়িদাহ: ৮৯); {তাদের পরিবার-পরিজনের (أهليهم) নিকট} (সুরা আল-ফাতহ: ১২); {নিশ্চয় তা ইল্লিউন (عليين)-এ সংরক্ষিত, আর কিসে তোমাকে জানাবে ইল্লিউন (عليون) কী?} (সুরা আল-মুতাফফিফীন: ১৮-১৯)।
(খণ্ড: ১)
মুতাম্মিমাতুল আজরুমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
أما الأسماء الستة فترفع بالواو وتنصب باللف وتجر بالياء بشرط ان تكون مضافة؛ فإن أفردت عن الإضافة أعربت بالحركات الظاهرة نحو: له أخ؛ إن له أبا؛ وبنات الأخ؛ وأن تكون إضافتها لغير ياء المتكلم؛ فإن أضيفت للياء أعربت بحكات مقدرة على ما قبل الياء نحو: إن هذا أخي؛ وأن تكون مكبرة، فإن صغرت، أعربت بالحركات الظاهرة نحو: هذا أُبَيِّك، وأن تكون مفردة، فإن ثنية أو جمعت، أعربت إعراب المثنى والمجموع؛ والأفصح في الهن النقص أي حذف آخره، والإعراب بالحركات على النون نحو هذا هنك، ورأيت هنك، ومررت بهنك، ولهذا لم يعده صاحب الأجرومية ولا غيره في هذه السماء وجعلوها خمسة.أما الأمثلة الخمسة فهي كل فعل اتصل به ضمير تثنية نحو يفعلان وتفعلان، أو ضمير جمع نحو يفعلون وتفعلون، أو ضمير المؤنثة نحو: تفعلين فإنها ترفع بثبوت النون وتنصب وتجزم بحذف النون.تنبيه:علم مما تقدم ان علامات الإعراب أربعة عشرة منها أربعة أصول: الضمة للرفع، والفتحة للنصب، والكسرة للجر، والسكون للجزم.وعشرة فروع نائبة عن هذه الأصول: ثلاثة تتوب عن الضمة، وأربع عن الفتحة واثنان عن الكسرة وواحد عن السكون، وأن النيابة واقعة في سبعة أبواب:الأول: باب ما لا ينصرف؛الثاني: باب جمع المؤنث السالم؛الثالث: باب الفعل المضارع المعتل الآخر؛الرابع: باب المثنى؛الخامس: باب جمع المذكر السالم؛السادس: باب الأسماء الستة؛السابع: باب الأمثلة الخمسة.
ছয়টি বিশেষ্যর (আল-আসমাউস সিত্তা) ক্ষেত্রে নিয়ম হলো, এগুলো 'ওয়াও' দ্বারা রফ, 'আলিফ' দ্বারা নসব এবং 'ইয়া' দ্বারা জর প্রাপ্ত হয় এই শর্তে যে, এগুলো মুদাফ বা সম্বন্ধযুক্ত অবস্থায় থাকবে। যদি এগুলো সম্বন্ধহীন তথা এককভাবে ব্যবহৃত হয়, তবে প্রকাশ্য স্বরচিহ্ন (হারাকাত) দ্বারা শব্দরূপান্তর (ইরাব) সম্পন্ন হবে; যেমন: 'তার একজন ভাই আছে', 'নিশ্চয়ই তার একজন পিতা আছেন' এবং 'ভাইয়ের কন্যারা'। আরও শর্ত হলো, এগুলোর সম্বন্ধ যেন 'ইয়ায়ে মুতাকাল্লিম' (বক্তাবাচক ইয়া)-এর দিকে না হয়। যদি এগুলো 'ইয়া'-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত হয়, তবে তা 'ইয়া'-এর পূর্ববর্তী বর্ণের ওপর উহ্য স্বরচিহ্ন দ্বারা রূপান্তর লাভ করবে; যেমন: 'নিশ্চয়ই ইনি আমার ভাই'। আরও শর্ত হলো এগুলোকে মুকাব্বার (মূল রূপ) হতে হবে; যদি তা তাসগির (ক্ষুদ্রার্থবোধক) করা হয়, তবে তা প্রকাশ্য স্বরচিহ্ন দ্বারা রূপান্তর লাভ করবে; যেমন: 'এটি তোমার ছোট আব্বা'। আরও শর্ত হলো এগুলোকে একবচন হতে হবে; যদি তা দ্বিবচন বা বহুবচন হয়, তবে তা দ্বিবচন ও বহুবচনের নিয়মে শব্দরূপান্তর লাভ করবে। আর 'হান' শব্দটির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বিশুদ্ধ ও প্রাঞ্জল অভিমত হলো 'নাকস' তথা এর শেষাংশ বিলুপ্ত করা এবং 'নুন'-এর ওপর স্বরচিহ্ন দিয়ে রূপান্তর প্রদান করা; যেমন: 'এটি তোমার বস্তু', 'আমি তোমার বস্তুটিকে দেখেছি' এবং 'আমি তোমার বস্তুটির পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছি'। এই কারণেই আল-আজরুমিয়্যাহ-এর লেখক বা অন্য কেউ একে এই বিশেষ্যগুলোর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেননি, বরং তারা এগুলোকে পাঁচটি হিসেবে গণ্য করেছেন।আর পাঁচটি উদাহরণ (আল-আমসিলাতুল খামসাহ) হলো সেই প্রতিটি ক্রিয়া, যার সাথে দ্বিবচনের সর্বনাম যুক্ত হয়, যেমন: 'তারা দুইজন করছে' ও 'তোমরা দুইজন করছ'; অথবা বহুবচনের সর্বনাম যুক্ত হয়, যেমন: 'তারা সকলে করছে' ও 'তোমরা সকলে করছ'; অথবা স্ত্রীবাচক একবচনের সর্বনাম যুক্ত হয়, যেমন: 'তুমি একজন নারী করছ'। এগুলো 'নুন' বহাল থাকার মাধ্যমে রফ এবং 'নুন' বিলুপ্ত হওয়ার মাধ্যমে নসব ও জজম প্রাপ্ত হয়।সতর্কীকরণ:পূর্বোক্ত আলোচনা থেকে জানা গেল যে, শব্দরূপান্তরের চিহ্নসমূহ মোট চৌদ্দটি। এর মধ্যে চারটি হলো মূল চিহ্ন: রফ-এর জন্য দম্মা (পেশ), নসব-এর জন্য ফাতহা (জবর), জর-এর জন্য কাসরা (জের) এবং জজম-এর জন্য সুকুন।আর দশটি হলো শাখা বা আনুষঙ্গিক চিহ্ন যা এই মূল চিহ্নগুলোর স্থলাভিষিক্ত হয়: তিনটি চিহ্ন দম্মার স্থলাভিষিক্ত হয়, চারটি ফাতহার স্থলাভিষিক্ত হয়, দুইটি কাসরার স্থলাভিষিক্ত হয় এবং একটি সুকুনের স্থলাভিষিক্ত হয়। আর এই স্থলাভিষিক্ত হওয়ার বিষয়টি সাতটি অধ্যায়ে সংঘটিত হয়:প্রথম: গায়রে মুনসারিফ (যে বিশেষ্যর তানভীন ও কাসরা গ্রহণ নিষিদ্ধ) অধ্যায়;দ্বিতীয়: জমায়ে মুয়ান্নাস সালেম (পরিপূর্ণ স্ত্রীবাচক বহুবচন) অধ্যায়;তৃতীয়: শেষ বর্ণে ইল্লত বা ত্রুটিযুক্ত (মু’তাল) মুজারে ক্রিয়ার অধ্যায়;চতুর্থ: দ্বিবচন অধ্যায়;পঞ্চম: জমায়ে মুজাক্কার সালেম (পরিপূর্ণ পুরুষবাচক বহুবচন) অধ্যায়;ষষ্ঠ: ছয়টি বিশেষ্যর (আল-আসমাউস সিত্তা) অধ্যায়;সপ্তম: পাঁচটি উদাহরণের (আল-আমসিলাতুল খামসাহ) অধ্যায়।
(খণ্ড: ১)
মুতাম্মিমাতুল আজরুমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
فصل في المقصور والمنقوص:تقدر الحركات الثلاث في الاسم المضاف على ياء المتكلم نحو: غلامي وابني؛ وفي الاسم المعرب الذي آخره ألف لازمة نحوك الفتى، والمصطفى، وموسى، وحبلى، ويسمى مقصوراً؛ وتقدر الضمة والكسرة في الاسم المعرب الذي آخره ياء لازمة مكسور ما قبلها نحو القاضي والداعي والمرتقي؛ ويسمى منقوصاً نحو: {يَوْمَ يَدْعُ الدَّاعِ} (6) سورة القمر؛ {مُّهْطِعِينَ إِلَى الدَّاعِ} (8) سورة القمر، وتظهر فيه الفتحة لخفتها نحو: {أَجِيبُوا دَاعِيَ اللَّهِ} (31) سورة الأحقاف؛ وتقدر الضمة والفتحة في الفعل المعتل باللف نحو: زيد يخشى، لن يخشى؛ وتقدر الضمة فقط في الفعل المعتل بالواو وبالياء نحو: يدعو ويرمي، وتظهر الفتحة نحو: لن يدعوَ ولن يرميَ؛ والجزم في الثلاثة بالحذف كما تقدمفصل في موانع الصرف:الاسم الذي لا ينصرف فيه علتان من علل تسع او واحدة تقوم مقام العلتين، والعلل التسع هي:الجمعووزن الفعلوالعدلوالتأنيثوالتعريفوالتركيبواللف والنون الزائدتانوالعجمةوالصفةيجمعها قول الشاعر:اجمع وزن عادلا أنث بمعرفة ****ركب وزد عجمةً فالوصفَ قد كملافالجمع شرطه ان يكون على صيغة منتهى الجموع، وهي صيغة مفاعل نحو: مساجدَ، ودراهمَ، وغنائم؛ ومفاعيل نحو: مصابيح ومحاريب ودنانير، وهذه العلة الأولى من العلتين التي تمنع الصرف وحدها وتقوم مقام العلتين؛ وأما وزن الفعل فالمراد به ان يكون الاسم على وزن خاصٍ كشمَّرَ
মাকসুর এবং মানকুস সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ:ইয়ায়ে মুতাকাল্লিম-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত বিশেষ্যের ক্ষেত্রে তিনটি হরকতই (পেশ, জবর ও জের) উহ্য থাকে, যেমন: গোলামী (আমার গোলাম) এবং ইবনী (আমার পুত্র)। আর সেই মো’রাব বিশেষ্য যার শেষে আলিফে লাজিমা (অপরিহার্য আলিফ) রয়েছে, যেমন: আল-ফাতা, আল-মুস্তফা, মুসা এবং হুবলা; একে মাকসুর বলা হয়। আর সেই মো’রাব বিশেষ্য যার শেষে ইয়ায়ে লাজিমা রয়েছে এবং তার পূর্ববর্ণটি জেরযুক্ত, তাতে পেশ এবং জের উহ্য থাকে; যেমন: আল-ক্বাজী, আদ-দা’য়ী এবং আল-মুরতাক্বী; একে মানকুস বলা হয়। যেমন: {যেদিন আহ্বানকারী আহ্বান করবে} (সুরা আল-ক্বামার: ৬); {আহ্বানকারীর দিকে ক্ষিপ্রগতিতে ধাবমান হয়ে} (সুরা আল-ক্বামার: ৮)। তবে উচ্চারণে হালকা হওয়ার কারণে এতে জবর প্রকাশ পায়, যেমন: {তোমরা আল্লাহর আহ্বানকারীর প্রতি সাড়া দাও} (সুরা আল-আহক্বাফ: ৩১)। আর আলিফ বিশিষ্ট মো’তাল ফেল-এর মধ্যে পেশ এবং জবর উহ্য থাকে; যেমন: যায়েদ ইয়াখশা, লান ইয়াখশা। আর ওয়াও এবং ইয়া বিশিষ্ট মো’তাল ফেল-এ শুধুমাত্র পেশ উহ্য থাকে; যেমন: ইয়াদ’উ এবং ইয়ারমী। আর জবর প্রকাশ পায়; যেমন: লান ইয়াদ’উওয়া এবং লান ইয়ারমিয়া। আর এই তিন প্রকারের মধ্যেই জজম হয় শেষ বর্ণ বিলুপ্তির মাধ্যমে, যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।সরফ রোধকারী বিষয়সমূহ (গয়রে মুনসারিফ) সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ:যে বিশেষ্য ‘মুনসারিফ’ (পূর্ণ নমনীয়) নয়, তাতে নয়টি কারণের মধ্যে দুটি কারণ থাকে অথবা এমন একটি কারণ থাকে যা দুটি কারণের স্থলাভিষিক্ত হয়। আর নয়টি কারণ হলো:বহুবচনক্রিয়ার ওজনআদল (শব্দের রূপান্তর)স্ত্রীলিঙ্গমা’রিফাহ (সুনির্দিষ্টকরণ)তারকীব (যৌগিকতা)অতিরিক্ত আলিফ ও নুনআজামাহ (অনারব শব্দ)সিফাত (গুণবাচক বৈশিষ্ট্য)কবি তাঁর পঙক্তিতে এগুলোকে একত্র করেছেন:একত্র করো (বহুবচন), ওজন করো, আদল করো, মা’রিফাহ দ্বারা স্ত্রীলিঙ্গ করো, তারকীব করো এবং আজামাহ বৃদ্ধি করো; তবেই সিফাত পূর্ণতা লাভ করবে।বহুবচনের শর্ত হলো এটি ‘সিগাহ মুনতাহাল জুমু’ (সর্বোচ্চ বহুবচনের রূপ) হতে হবে। আর তা হলো ‘মাফায়িল’ এর ওজন; যেমন: মাসাজিদ, দরাহিম এবং গনাঈম; অথবা ‘মাফায়ীল’ এর ওজন; যেমন: মাসাবীহ, মাহারীব এবং দানানীর। এটিই হলো সেই দুটি কারণের প্রথমটি যা একাই সরফ রোধ করে এবং দুটি কারণের স্থলাভিষিক্ত হয়। আর ক্রিয়ার ওজনের উদ্দেশ্য হলো বিশেষ্যটি এমন কোনো নির্দিষ্ট ওজনে হওয়া যা ক্রিয়ার জন্য নির্দিষ্ট, যেমন: শাম্মারা।
(খণ্ড: ১)
মুতাম্মিমাতুল আজরুমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
بتشديد الميم، وضُرب بالبناء للمفعول، وانطلق ونحوه من الفعال الماضية المبدوءة بهمزة الوصل إذا سمي بشئ من ذلك، أو يكون في أوله زيادة كزيادة الفعل وهو مشارك للفعل في وزنه ك: أحمد وغلب ويزيد ونرجس؛ وأما العدل فهو خروج الاسم عن صيغته الأصلية إما تحقيقا كآحاد وموحد وثناء ومثنى وثلاث ومثلث ورباع ومربع وهكذا إلى العشرة فغنها معدولة عن ألفاظ العدد الأصول؛ فأصل جاء القوم آحاداً، جاءوا واحداً واحداً؛ وكذا أصل موحد، وأصل جاء القوم مثنى، جاءوا اثنين اثنين، وكذا الباقي، إما تقديراً كالأعلام التي على وزن فُعَل كعمر وزفر وزحل فغنها لما سمعت ممنوعة من الصرف وليس فيها علة ظاهرةً غير العلمية قدروا فيها العدل، وأنها معدولة عن عامر وزافر وزاحل.أما التأنيث فو على ثلاثة أقسام تأنيث بالألف، وتأنيث بالتاء، وتأنيث بالمعنى؛ فالتأنيث باللف يمنع الصرف مطلقاً سواء كانت مقصورة ك: حبلى ومرضى وذكرى؛ أو كانت ممدودة ك: صحراء وحمراء وزكرياء وأشياء، وهذه العلة الثانية من العلتين اللتين كل واحدة منهما تمنع الصرف وحدها وتقوم مقام العلتين؛ وأما التأنيث بالتاء فيمنع الصرف مع العلمية سواء كان علم مذكر كطلحة، أو مؤنث كفاطمة؛ وأما التأنيث المعنوي فهو كالتأنيث بالتاء فيمنع مع العلمية لكن بشرط ان يكون الاسم زائداً على ثلاثة أحرف كسعاد، أو ثلاثيا محرك الوسط كسقر، أو ساكن الوسط أعجمياً كجور أو منقولا من المذكر إلى المؤنث كما إذا سميت امرأة بزيد، فإن لم يكن شيء من ذلك كهند، ودعد، جاز الصرف وتركه وهو الأحسن.أما التعريف فالمراد به العلمية وتمنع الصرف مع وزن الفعل، ومع العدل، ومع التأنيث كما تقدم ومع التركيب المزجي، ومع الألف والنون، ومع العجمة كما سيأتي.
মীম বর্ণের তাশদীদসহ, এবং 'দুরিবা' শব্দটি কর্মবাচ্য (البناء للمفعول) হিসেবে গঠিত হয়েছে। 'ইনতালাকা' এবং এর অনুরূপ অতীতকালীন ক্রিয়া যা হামজাতুল ওয়াসল (همزة الوصل) দ্বারা শুরু হয়েছে, যদি তা দিয়ে কোনো কিছুর নামকরণ করা হয়, অথবা যদি তার শুরুতে এমন অতিরিক্ত বর্ণ থাকে যা ক্রিয়ার আধিক্যের (زيادة الفعل) ন্যায় এবং তা ওজনে (وزنه) ক্রিয়ার সদৃশ হয়; যেমন: আহমদ, গালাবা, ইয়াজিদ এবং নারজিস। আর রূপান্তর (العدل) হলো নামের তার মূল রূপ (صيغته الأصلية) থেকে বের হওয়া। এটি হয় নিশ্চিতভাবে (تحقيقا); যেমন: এক এক করে (آحاد), একক (موحد), দুই দুই করে (ثناء), দ্বৈত (مثنى), তিন তিন করে (ثلاث), ত্রৈত (مثلث), চার চার করে (رباع) এবং চতুষ্টয় (مربع) - এভাবে দশ পর্যন্ত; কেননা এগুলো মূল সংখ্যাবাচক শব্দ থেকে রূপান্তরিত হয়েছে। মূলত ‘লোকেরা এক এক করে এসেছে’ এর আদি রূপ ছিল ‘তারা একজন একজন করে এসেছে’। অনুরূপভাবে ‘মুওয়াহহাদ’ এর মূল রূপও তাই। আবার ‘লোকেরা দুই দুই করে এসেছে’ এর মূল ছিল ‘তারা দুইজন দুইজন করে এসেছে’। বাকিগুলোও অনুরূপ। অথবা রূপান্তরটি হয় অনুমিতভাবে (تقديراً); যেমন সেই সমস্ত বিশেষ্য বা নাম (الأعلام) যা ‘ফু'আল’ (فُعَل) ওজনে গঠিত, যেমন: উমর, যুফার এবং জুহাল। এগুলোকে যখন আরবদের থেকে শব্দ রূপান্তরহীন (ممنوعة من الصرف) হিসেবে শোনা গেছে, অথচ সেগুলোতে নামবাচকতা (العلمية) ব্যতীত অন্য কোনো দৃশ্যমান কারণ (علة) বিদ্যমান ছিল না, তখন সেগুলোতে রূপান্তর (العدل) অনুমান করে নেওয়া হয়েছে যে, এগুলো যথাক্রমে আমির (عامر), জাফির (زافر) এবং জাহিল (زاحل) থেকে রূপান্তরিত হয়েছে।আর স্ত্রীলিঙ্গ (التأنيث) হওয়া তিন প্রকার: আলিফ দ্বারা স্ত্রীলিঙ্গ, ‘তা’ দ্বারা স্ত্রীলিঙ্গ এবং অর্থগত স্ত্রীলিঙ্গ। আলিফ দ্বারা স্ত্রীলিঙ্গ হওয়া শব্দটি নিঃশর্তভাবে শব্দ রূপান্তরকে বাধা প্রদান করে (يمنع الصرف), চাই সেটি আলিফে মাকসুরাহ (مقصورة) হোক; যেমন: হুবলা, মারদা ও যিকরা; অথবা আলিফে মামদুদাহ (ممدودة) হোক; যেমন: সাহরা, হামরা, যাকারিয়া এবং আশইয়া। এটি সেই দুটি কারণের (علة) দ্বিতীয়টি, যার প্রতিটি এককভাবে শব্দ রূপান্তরকে বাধা দেয় এবং দুটি কারণের স্থলাভিষিক্ত হয়। আর ‘তা’ যুক্ত স্ত্রীলিঙ্গ শব্দটি নামবাচকতা (العلمية) সহ থাকলে শব্দ রূপান্তরকে বাধা দেয়, চাই সেটি পুরুষবাচক নাম হোক যেমন তালহা, অথবা স্ত্রীবাচক নাম হোক যেমন ফাতিমা। আর অর্থগত স্ত্রীলিঙ্গ (التأنيث المعنوي) ‘তা’ যুক্ত স্ত্রীলিঙ্গের মতোই নামবাচকতা (العلمية) সহ থাকলে রূপান্তরকে বাধা দেয়; তবে শর্ত হলো নামটি তিন অক্ষরের অধিক হতে হবে যেমন সু'আদ, অথবা তিন অক্ষরবিশিষ্ট হয়ে মধ্যাক্ষরটি হরকতযুক্ত হতে হবে যেমন সাকার, অথবা মধ্যাক্ষর সাকিনযুক্ত অনারবীয় (أعجمياً) নাম হতে হবে যেমন জাওর, অথবা পুরুষবাচক থেকে স্ত্রীবাচকের দিকে স্থানান্তরিত হতে হবে যেমন কোনো মহিলার নাম রাখা হলো যায়েদ। যদি এর কোনোটিই না পাওয়া যায় যেমন হিন্দ ও দ'দ, তবে সেক্ষেত্রে রূপান্তর করা বা না করা উভয়ই বৈধ, তবে রূপান্তর না করাই উত্তম।আর পরিচিতি (التعريف) বলতে এখানে নামবাচকতা (العلمية) উদ্দেশ্য, যা শব্দ রূপান্তরকে বাধা দেয় যখন তার সাথে ক্রিয়ার ওজন (وزن الفعل), রূপান্তর (العدল) এবং স্ত্রীলিঙ্গ (التأنيث) থাকে—যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে; এছাড়া যখন তার সাথে মিশ্র যৌগিক (التركيب المزجي), অতিরিক্ত আলিফ ও নুন (الألف والنون) এবং অনারবীয়তা (العجمة) যুক্ত হয়—যেমনটি সামনে আলোচিত হবে।
(খণ্ড: ১)
মুতাম্মিমাতুল আজরুমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
وأما التركيب فالمراد به التركيب المزجي المختوم بغير ويه كبعلبك وحضر موت فلا يمنع الصرف إلا مع العلمية، وأما الألف والنون الزائدتان فيمنعان الصرف مع العلمية كعمران وعثمان، ومع الصفة بشرط ألا تقبل التاء كسكران.وأما العجمة فالمراد بها أن تكون الكلمة من أوضاع العجمية كإبراهيم وإسماعيل وإسحاق، وجميع الأنبياء أعجمية إلا أربعة: محمد وصالح، وشعيب، وهود صلى اله عليهم أجمعين؛ يشترط فيها أن يكون علما في العجمية، ولدالك صرف لجام ونحوه، وأن يكون زائداً على الثلاثة فلذلك صرف نوح ولط؛ أما الصفة فتمنع مع ثلاثة أشياء: مع العدل كما تقدم في مثنى وثلاث، ومع الألف والنون بشرط أن تكون الصفة على وزن فَعلان بفتح الفاء ولا يكون مؤنثه على وزن فعلانة نحو: سكران فإن مؤنثه سكرى، ونحو ندمان منصرف لأن مؤنثه ندمانة إذا كان من المنادمة؛ ومع وزن الفعل بشرط أن يكون على وزن أفعل والا يكون مؤنثه بالتاء نحو أحمر فغن مؤنثه حمراء ونحو أرمل منصرف لأن مؤنثه أرملة.تنبيه يجوز صرف غير المنصرف للتناسب كقراءة نافع: {سَلَاسِلَا} (4) سورة الإنسان، {قَوَارِيرَا} (15) سورة الإنسان؛ ولضرورة الشعر.باب النكرة والمعرفة:السم ضربان: أحدهما: النكرة وهي الأصل وهي كل اسم شائع في جنسه لا يختص به واحد دون الآخر كرجل، وفرس، وكتاب؛ وتقريبها إلى الفهم أن يقال: النكرة كل ما صح دخول الألف واللام عليه كرجل، وامرأة، وثوب، أو وع موقع ما يصلح دخول الألف واللام عليه كذي بمعنى صاحب، والضرب الثاني: المعرفة وهي ستة أنواع: المضمر وهو اعرفها، ثم العلم، ثم اسم الإشارة، ثم الموصول، ثم المعرف بالأداة، والسادس ما أضيف إلى واحد منها، وهو في رتبة ما أضيف إليه إلا المضاف إلى الضمير فإنه في رتبة العلم، ويستثنى من مما ذكر: اسم الله تعالى وهو أعرف المعارف بالإجماع.
আর 'তারকিব' (التركيب) বা যৌগিককরণ বলতে বুঝায় এমন 'সংমিশ্রিত যৌগিক শব্দ' (التركيب المزجي) যা 'ওয়াইহি' শব্দ দ্বারা শেষ হয়নি, যেমন: বা'লাবাক এবং হাজরামাউত। এটি 'সংজ্ঞাবাচকতা' (العلمية) বিদ্যমান থাকা ছাড়া রূপান্তরহীন (غير المنصرف) হয় না। আর অতিরিক্ত 'আলিফ' এবং 'নুন' থাকলে তা 'সংজ্ঞাবাচকতা' (العلمية)-র সাথে শব্দকে রূপান্তরহীন (غير المنصرف) করে, যেমন: ইমরান এবং উসমান। আর 'গুণবাচকতা' (الصفة)-র সাথে শর্ত হলো যেন তা 'তা' (গোল তা) গ্রহণ না করে, যেমন: সাকরান (মাতাল)।আর অনারবীয় উৎস (العجمة) বলতে বুঝায় শব্দটি অনারবীয় ভাষা থেকে আগত হওয়া, যেমন: ইবরাহিম, ইসমাইল এবং ইসহাক। সকল নবীর নামই অনারবীয়, তবে চারজন ব্যতীত: মুহাম্মাদ, সালেহ, শুআইব এবং হুদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। এতে শর্ত হলো অনারবীয় ভাষায় তা 'সংজ্ঞাবাচক নাম' (علم) হতে হবে, আর এই কারণেই 'লিজাম' এবং অনুরূপ শব্দগুলো রূপান্তরযোগ্য (منصرف)। আরও শর্ত হলো এটি তিন অক্ষরের বেশি হতে হবে, একারণে 'নুহ' এবং 'লুত' রূপান্তরযোগ্য (منصرف)। আর 'গুণবাচকতা' (الصفة) তিনটি বিষয়ের উপস্থিতিতে রূপান্তরহীন করে: ১. 'শব্দের রূপ পরিবর্তন' (العدل)-এর সাথে, যেমনটি মাসনা ও সুলাসা শব্দদ্বয়ের ক্ষেত্রে গত হয়েছে। ২. অতিরিক্ত 'আলিফ' ও 'নুন' এর সাথে, তবে শর্ত হলো গুণবাচক শব্দটি 'ফাউলান' (فعلان) ছন্দে হতে হবে এবং এর স্ত্রীলিঙ্গ 'ফাউলানাহ' (فعلانة) ছন্দে হবে না। যেমন: সাকরান, এর স্ত্রীলিঙ্গ হলো সাকরা। তবে 'নাদমান' শব্দটি রূপান্তরযোগ্য (منصرف), কারণ এর স্ত্রীলিঙ্গ হলো 'নাদমানাহ' যদি তা সহচর বা সঙ্গী অর্থে ব্যবহৃত হয়। ৩. 'ক্রিয়ার ছন্দ' (وزن الفعل)-এর সাথে, তবে শর্ত হলো এটি 'আফআলু' (أفعل) ছন্দে হতে হবে এবং এর স্ত্রীলিঙ্গ 'তা' যুক্ত হবে না। যেমন: 'আহমার' (লাল), কারণ এর স্ত্রীলিঙ্গ হলো 'হামরা'। আর 'আরমাল' (বিপত্নীক) শব্দটি রূপান্তরযোগ্য (منصرف), কারণ এর স্ত্রীলিঙ্গ হলো 'আরমালাহ'।সতর্কীকরণ: ছন্দের মিল বা শ্রুতিমাধুর্যের খাতিরে রূপান্তরহীন (غير المنصرف) শব্দকেও রূপান্তরযোগ্য (منصرف) করা জায়েজ, যেমন ইমাম নাফে'-এর কিরাত: {সালাসিলা} (সুরা ইনসান: ৪), {কাওয়ারিরা} (সুরা ইনসান: ১৫); এবং কবিতার ছন্দের প্রয়োজনেও এটি হতে পারে।অনির্দিষ্টবাচক (النكرة) ও নির্দিষ্টবাচক (المعرفة) বিশেষ্যের অধ্যায়:বিশেষ্য বা ইসম দুই প্রকার: প্রথমটি হলো 'অনির্দিষ্টবাচক বিশেষ্য' (النكرة), যা মূল ভিত্তি। এটি এমন প্রত্যেক নাম যা নিজ শ্রেণির সবার ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য, কোনো একজনকে অন্যের থেকে পৃথক করে না। যেমন: পুরুষ (রাজুল), ঘোড়া (ফারাস) এবং বই (কিতাব)। এটি সহজে বোঝার উপায় হলো: 'অনির্দিষ্টবাচক বিশেষ্য' (النكرة) হলো সেই শব্দ যার শুরুতে 'আলিফ-লাম' যুক্ত হওয়া সঠিক, যেমন: পুরুষ, নারী ও কাপড়; অথবা যা এমন শব্দের স্থলাভিষিক্ত হয় যার শুরুতে 'আলিফ-লাম' যুক্ত হওয়া বৈধ, যেমন: 'যু' (মালিক অর্থে)। দ্বিতীয় প্রকার হলো 'নির্দিষ্টবাচক বিশেষ্য' (المعرفة), যা ছয় প্রকার: 'সর্বনাম' (المضمر), এটি সবচাইতে বেশি নির্দিষ্ট; অতঃপর 'সংজ্ঞাবাচক নাম' (العلم); এরপর 'নির্দেশক বিশেষ্য' (اسم الإشارة); তারপর 'সংযোজক বিশেষ্য' (الموصول); এরপর 'পদাশ্রিত নির্দেশক দ্বারা নির্দিষ্ট' (المعرف بالأداة); এবং ষষ্ঠটি হলো যা এই পাঁচটির কোনো একটির দিকে সম্বন্ধযুক্ত (ইযাফত) হয়েছে। সম্বন্ধযুক্ত শব্দটি যার দিকে সম্বন্ধ করা হয়েছে তার সমপর্যায়ের মর্যাদা পায়, তবে 'সর্বনাম' (الضمير)-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত শব্দ 'সংজ্ঞাবাচক নাম' (العلم)-এর মর্যাদা পায়। আর উল্লিখিত বিষয়াবলি থেকে মহান আল্লাহর নাম ব্যতিক্রম, যা সর্বসম্মতভাবে (إجماع) সকল নির্দিষ্টবাচক শব্দের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সুনির্দিষ্ট।
(খণ্ড: ১)
মুতাম্মিমাতুল আজরুমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
بيان المضمر وأقسامهالمضمر والضمير لما وضع لمتكلم كأنا او مخاطب كأنت او غاءب كهو؛ وينقسم إلى مستتر وبارزن فالمستتير ما ليس له صورة في اللفظ ن وهو إما مستتر وجوباً كالمقدر في فعل امر الواحد المذكر كاضرب، وقمح وفي المضارع المبدوء بتاء خطاب الواحد المذكر كتقوم، وتضرب؛ وفي المضارع المبدوء بالهمزة كأقوم، وأضرب؛ أو بالنون كنقوم، ونضرب؛ وإما مستتر جوازاً كالمقدر في نحو: زيد يقوم، وهند تقوم، ولا يكون المستتر إلا ضمير رفع إما فاعلا أو نابً لفاعل.والبارز ما له صورة في اللفظ وينقسم إلى متصل ومنفصل، فالمتصل: هو الذي لا يفتتح به النطق لا يقع بعد إلا كتاء قمتُ، وكاف أكرمك؛ والمنفصل، هو ما يفتتح به النطق ويقع بعد إلا نحو أن تقول: أنا مؤمن، وما قام إلا أنا؛ وينقسم إلى المتصل على مرفوع ومنصوب ومجرور؛ فالمرفوع نحو: ضربت وضربنا وضربتَ وضربتِ وضربتما وضربتم وضربتن وضرب وضربا وضربوا وضربت وضربتا وضربن؛ والمصوب نحو: أكرمني وأكرمنا وأكرمك وأكرمكِ وأكرمكما وأكرمكم وأكرمكن وأكرمه وأكرمها وأكرمهما وأكرمهم وأكرمهن؛ والمجرور كالمنصوب إلا أنه إذا دخل عليه عامل الجر، تميز به نحو: مررت بي ومررت بناوينقم المنفصل إلى مرفوع ومنصوب؛ فالمرفوع اثنتا عشرة كلمة وهي ان ونحن وأنتَ وأنتِ وأنتما وأنتم وأنتن وهو وهي وهما وهم وهن، فكل واحد من هذه الضمائر إذا وقع في ابتداء الكلام فهو مبتدأ نحو: {وَأَنَا رَبُّكُمْ} (92) سورة الأنبياء؛ {وَنَحْنُ الْوَارِثُونَ} (23) سورة الحجر؛ و {أَنتَ مَوْلَانَا} (286) سورة البقرة؛ {وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ} (120) سورة المائدة؛ والمنصوب اثنتا عشرة كلمة وهي: إياي وإيانا وإياك وإياكِ وإياكما وإياكم وإياكن وإياه وإياها وإياهما وإياهن؛ فهذه الضمائر لا تكون إلا مفعولاً به نحو: {إِيَّاكَ نَعْبُدُ} (5) سورة الفاتحة؛ {إِيَّاكُمْ كَانُوا يَعْبُدُونَ} (40) سورة سبأ.
মুদমার (مضمر) এর বর্ণনা এবং এর প্রকারভেদমুদমার (مضمر) এবং দমির (ضمير) হলো ঐ সকল শব্দ যা উত্তম পুরুষ (متكلم) যেমন ‘আনা’ (আমি), অথবা মধ্যম পুরুষ (مخاطب) যেমন ‘আন্তা’ (তুমি), অথবা নাম পুরুষ (غائب) যেমন ‘হুয়া’ (সে) এর জন্য গঠন করা হয়েছে। এটি গোপন (مستتر) এবং প্রকাশ্য (بارز) এই দুই ভাগে বিভক্ত। গোপন (مستتر) হলো সেই সর্বনাম যার উচ্চারণে কোনো বাহ্যিক রূপ নেই। এটি হয় আবশ্যিকভাবে গোপন (مستتر وجوبا) হবে—যেমন একবচন পুরুষবাচক অনুজ্ঞাসূচক ক্রিয়ার মধ্যে উহ্য থাকা সর্বনাম, যথা: ‘ইদ্বরিব’ (তুমি প্রহার করো) এবং ‘কুম’ (তুমি দাঁড়াও); এবং একবচন পুরুষবাচক মধ্যম পুরুষের বর্তমান ও ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া যা ‘তা’ অক্ষর দ্বারা শুরু হয়, যথা: ‘তাকুমু’ এবং ‘তাদ্বরিবু’; এবং ঐ বর্তমান ও ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া যা আলিফ (همزة) দ্বারা শুরু হয়, যথা: ‘আকুমু’ এবং ‘আদ্বরিবু’; অথবা যা নুন দ্বারা শুরু হয়, যথা: ‘নাকুমু’ এবং ‘নাদ্বরিবু’। অথবা এটি বৈধভাবে গোপন (مستتر جوازا) হতে পারে—যেমন: ‘যায়েদুন ইয়াকুমু’ এবং ‘হিন্দুন তাকুমু’ এর ন্যায় উদাহরণে। আর গোপন (مستتر) সর্বনাম কেবল কর্তৃকারক (رفع) হিসেবেই থাকে, হয় তা কর্তা (فاعل) হবে নতুবা কর্তার স্থলাভিষিক্ত (نائب لفاعل) হবে।প্রকাশ্য (بارز) হলো যার উচ্চারণে বাহ্যিক রূপ বিদ্যমান। এটি সংযুক্ত (متصل) এবং বিচ্ছিন্ন (منفصل) এই দুই ভাগে বিভক্ত। সংযুক্ত (متصل) হলো তা, যা দিয়ে বাক্য শুরু করা যায় না এবং ‘ইল্লা’ (إلا) এর পরে আসে না। যেমন: ‘কুমতু’ শব্দের ‘তা’ এবং ‘আকরামাকা’ শব্দের ‘কাফ’। আর বিচ্ছিন্ন (منفصل) হলো তা, যা দিয়ে বাক্য শুরু করা যায় এবং ‘ইল্লা’ (إلا) এর পরে আসতে পারে। যেমন আপনি বলবেন: ‘আনা মু’মিনুন’ (আমি একজন মুমিন) এবং ‘মা ক্বামা ইল্লা আনা’ (আমি ব্যতীত কেউ দাঁড়ায়নি)। আর সংযুক্ত (متصل) সর্বনাম কর্তৃকারক (مرفوع), কর্মকারক (منصوب) এবং সম্বন্ধসূচক (مجرুর) এই তিন অবস্থায় বিভক্ত। কর্তৃকারক (مرفوع) হলো যেমন: দ্বরবতু, দ্বরবনা, দ্বরবতা, দ্বরবতি, দ্বরবতুমা, দ্বরবতুম, দ্বরবতুন্না, দ্বরবা, দ্বরবা (দ্বিবচন), দ্বরবু, দ্বরবাত, দ্বরবাতা, দ্বরবনা। কর্মকারক (منصوب) হলো যেমন: আকরামানি, আকরামানা, আকরামাকা, আকরামাকি, আকরামাকুমা, আকরামাকুম, আকরামাকুন্না, আকরামাহু, আকরামাহা, আকরামাহুমা, আকরামাহুম, আকরামাহুন্না। আর সম্বন্ধসূচক (مجرুর) সর্বনামগুলো রূপের দিক থেকে কর্মকারকের মতোই, তবে পার্থক্য হলো যখন এর শুরুতে কোনো সম্বন্ধসূচক অব্যয় (عامل الجر) যুক্ত হয় তখন তা এর মাধ্যমে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়। যেমন: ‘মারারতু বি’ এবং ‘মারারতু বিনা’।বিচ্ছিন্ন (منفصل) সর্বনাম কর্তৃকারক (مرفوع) এবং কর্মকারক (منصوب) এই দুই ভাগে বিভক্ত। কর্তৃকারক (مرفوع) হলো বারোটি শব্দ, যথা: আনা, নাহনু, আন্তা, আন্তি, আন্তুমা, আন্তুম, আন্তুন্না, হুয়া, হিয়া, হুমা, হুম, হুন্না। এই সর্বনামগুলোর (ضمائر) প্রতিটি যখন বাক্যের শুরুতে বসে তখন তা উদ্দেশ্য (مبتدأ) হিসেবে গণ্য হয়। যেমন: {আর আমিই তোমাদের প্রতিপালক} (সুরা আল-আম্বিয়া: ৯২); {আমরাই হব চূড়ান্ত মালিকানাপ্রাপ্ত} (সুরা আল-হিজর: ২৩); {আপনিই আমাদের অভিভাবক} (সুরা আল-বাকারাহ: ২৮৬); {এবং তিনি সকল কিছুর উপর ক্ষমতাশীল} (সুরা আল-মায়িদাহ: ১২০)। আর কর্মকারক (منصوب) হলো বারোটি শব্দ, যথা: ইয়্যায়া, ইয়্যানা, ইয়্যাকা, ইয়্যাকি, ইয়্যাকুমা, ইয়্যাকুম, ইয়্যাকুন্না, ইয়্যাহু, ইয়্যাহা, ইয়্যাহুমা, ইয়্যাহুম, ইয়্যাহুন্না। এই সর্বনামগুলো (ضمائر) কেবল কর্ম (مفعول به) হিসেবেই ব্যবহৃত হয়। যেমন: {আমরা কেবল আপনারই ইবাদত করি} (সুরা আল-ফাতিহা: ৫); {তারা কেবল তোমাদেরই ইবাদত করত} (সুরা সাবা: ৪০)।
(খণ্ড: ১)
মুতাম্মিমাতুল আজরুমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
تنبيه:متى أمكن ان يؤتى بالضمير متصلا فلا يجوز أن يؤتى به منفصلاً، فلا يقال في فمت، قام أنا، ولا في أكرمك أكرم إياك؛ إلا نحو َسلَنيه وكنته، فيجوز الفصل أيضا نحو: سلني إياه وكنت إياه، والفاظ الضمائر كلها مبنية لا يظهر فيها إعراب.فصل: أسماء الإشارة:اسم الإشارة ما وضع لمشار إليه وهو: ذا للمفرد المذكر وذي وتي وته وتا للمفرد المؤنث، ذان للمثنى المذكر في حالة الرفع وذين في حالة النصب والجر وتان للمثنى المؤنث في حالة الرفع وتين في حالة النصب والجر، والجمع مذكراً كان أو مؤنثاً أولاء بالمد عند الحجازيين وبالقصر عند التميميين ويجوز دخول هاء التنبيه على أسماء الإشارة نحو: هذا وهذه وهذان وهذين وهاتان وهاتين وهؤلاء، وإذا كان المشار إليه بعيداً لحقت اسم الإشارة كاف حرفية تتصرف تصرف الكاف الاسمية نحسب المخاطب نحو: ذاكَ وذاكِ وذاكما وذاكم وذاكن؛ ويجوز أن تزيد لاماً نحو: ذلكَ وذلكِ وذلكما وذلكم وذلكن؛ ولا تدخل اللام في المثنى وفي الجمع في لغة من مده، وإنما تدخل فيهما حالة البعد الكاف نحو ذانكما وتانكما وأولئك، وكذلك على المفرد إذا تقدمته هاء التنبيه نحو هذا؛ فيقال في حالة البعد هذاك ويشار إلى المكان القريب بهنا أو ههنا نحو: {إنا ههنا قاعدون} (1) ؛ وإلى المكان البعيد بهناك او هنالك أو هَنَّا أو هِنَّا أو ثَمَّ نحو: {وَإِذَا رَأَيْتَ ثَمَّ} (20) سورة الإنسان
--------------------------------------------
(1) {قَالُواْ يَا مُوسَى إِنَّا لَن نَّدْخُلَهَا أَبَدًا مَّا دَامُواْ فِيهَا فَاذْهَبْ أَنتَ وَرَبُّكَ فَقَاتِلا إِنَّا هَاهُنَا قَاعِدُونَ} (24) سورة المائدة
সতর্কবার্তা (تنبيه):যতক্ষণ পর্যন্ত সর্বনাম (الضمير) সংযুক্ত (متصلا) অবস্থায় আনা সম্ভব হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত তা বিচ্ছিন্ন (منفصلاً) অবস্থায় আনা বৈধ নয়। সুতরাং 'কামতু' এর স্থলে 'কামা আনা' বলা যাবে না, এবং 'আকরা মাকা' এর স্থলে 'আকরামা ইয়্যাকা' বলা যাবে না; তবে 'সালানিহি' এবং 'কুনতুহু' এর ন্যায় উদাহরণগুলো এর ব্যতিক্রম। এ ক্ষেত্রে বিচ্ছিন্ন (منفصلاً) ভাবে আনাও বৈধ, যেমন: 'সালানি ইয়্যাহু' এবং 'কুনতু ইয়্যাহু'। সর্বনামের (الضمائر) সকল শব্দই অপরিবর্তনীয় (مبنية), এগুলোতে কোনো শব্দরূপান্তর (إعراب) প্রকাশ পায় না।অনুচ্ছেদ (فصل): ইঙ্গিতজ্ঞাপক বিশেষ্য (أسماء الإشارة):ইঙ্গিতজ্ঞাপক বিশেষ্য (اسم الإشارة) হলো এমন শব্দ যা কোনো উদ্দিষ্ট ব্যক্তি বা বস্তুর (مشار إليه) দিকে ইশারা করার জন্য গঠন করা হয়েছে। সেগুলো হলো: একবচন পুংলিঙ্গের (المفرد المذكر) জন্য 'যা'; একবচন স্ত্রীলিঙ্গের (المفرد المؤنث) জন্য 'যি', 'তি', 'তিহি' এবং 'তা'; দ্বিবচন পুংলিঙ্গের (المثنى المذكر) জন্য রফা (الرفع) অবস্থায় 'যানি' এবং নসব (النصب) ও জার (الجر) অবস্থায় 'যাইনি'; দ্বিবচন স্ত্রীলিঙ্গের (المثنى المؤنث) জন্য রফা (الرفع) অবস্থায় 'তানি' এবং নসব (النصب) ও জার (الجر) অবস্থায় 'তাইন'। আর বহুবচনের (الجمع) ক্ষেত্রে, তা পুংলিঙ্গ হোক বা স্ত্রীলিঙ্গ, হিজাজীদের নিকট দীর্ঘস্বরে (بالمد) 'উলাই' এবং তামীমীদের নিকট হ্রস্বস্বরে (بالقصر) 'উলাই' ব্যবহৃত হয়। ইঙ্গিতজ্ঞাপক বিশেষ্যগুলোর (أسماء الإشارة) শুরুতে সতর্কতামূলক 'হা' (هاء التنبيه) যুক্ত করা বৈধ, যেমন: 'হাযা', 'হাযিহি', 'হাযানি', 'হাযাইনি', 'হাতানি', 'হাতাইনি' এবং 'হাউলাই'। যদি উদ্দিষ্ট ব্যক্তি বা বস্তু দূরে হয়, তবে ইঙ্গিতজ্ঞাপক বিশেষ্যের (اسم الإشارة) শেষে একটি বর্ণমালাসম্বন্ধীয় কাফ (كاف حرفية) যুক্ত হয় যা সম্বোধনকৃত ব্যক্তির অবস্থাভেদে নামবাচক কাফ-এর (الكاف الاسمية) ন্যায় রূপান্তর গ্রহণ করে; যেমন: 'যাকা', 'যাকি', 'যাকুমা', 'যাকুম' এবং 'যাকুন্না'। এতে একটি লাম (لاماً) বৃদ্ধি করাও বৈধ; যেমন: 'যালিকা', 'যালিকি', 'যালিকুমা', 'যালিকুম' এবং 'যালিকুন্না'। যারা বহুবচনকে দীর্ঘস্বরে পাঠ করেন তাদের ভাষায় দ্বিবচন (المثنى) ও বহুবচনে (الجمع) লাম (لاماً) প্রবেশ করে না। বরং দূরবর্তী নির্দেশের ক্ষেত্রে এ দুটির শেষে কেবল কাফ (الكاف) যুক্ত হয়, যেমন: 'যানিকুমা', 'তানিকুমা' এবং 'উলাইকা'। একইভাবে সেই একবচনের ওপরও লাম (لاماً) যুক্ত হয় না যার শুরুতে সতর্কতামূলক হা (هاء التنبيه) এসেছে, যেমন: 'হাযা'; এমতাবস্থায় দূরবর্তী নির্দেশের জন্য 'হাযাকা' বলা হয়। নিকটবর্তী স্থানের জন্য 'হুনা' বা 'হাহুনা' দ্বারা ইশারা করা হয়, যেমন: "নিশ্চয়ই আমরা এখানে বসে থাকব" (১); আর দূরবর্তী স্থানের জন্য 'হুনাকা', 'হুনালিকা', 'হান্না', 'হিন্না' বা 'সাম্মা' দ্বারা ইশারা করা হয়, যেমন: "আর যখন আপনি সেখানে দেখবেন" (সূরা আল-ইনসান: ২০)।
--------------------------------------------
(১) "তারা বলল, হে মুসা! তারা যতক্ষণ সেখানে থাকবে, ততক্ষণ আমরা সেখানে কখনও প্রবেশ করব না। সুতরাং আপনি ও আপনার প্রতিপালক যান এবং যুদ্ধ করুন, আমরা এখানেই বসে থাকব।" (সূরা আল-মায়িদাহ: ২৪)
(খণ্ড: ১)
মুতাম্মিমাতুল আজরুমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
فصل في الاسم الموصول:الاسم الموصول هو ما افتقر إلى صلة وعائد وهو ضربان: نص ومشترك، فالنص ثمانية ألفاظ: الذي للمفرد المذكر والتي للمؤنث واللذان للمثنى المذكر واللتان للمثنى المؤنث في حالة الرفع، واللذين واللتين في حالة النصب والجر، والأولى واللذين بالياء مطلقاً لجمع المذكر، وقد يقال اللذون بالواو في حالة الرفع واللائي واللاتي، ويقال اللواتي لجمع المؤنث وقد تحذف ياؤها نحو: {وَقَالُوا الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي صَدَقَنَا وَعْدَهُ} (74) سورة الزمر؛ {قَدْ سَمِعَ اللَّهُ قَوْلَ الَّتِي تُجَادِلُكَ فِي زَوْجِهَا} (1) سورة المجادلة؛ {وَاللَّذَانَ يَأْتِيَانِهَا مِنكُمْ} (16) سورة النساء؛ {رَبَّنَا أَرِنَا الَّذَيْنِ أَضَلَّانَا} (29) سورة فصلت؛ {وَالَّذِينَ جَاؤُوا مِن بَعْدِهِمٌْ} (10) سورة الحشر؛ {وَاللَّائِي يَئِسْنَ مِنَ الْمَحِيضِ} (4) سورة الطلاق؛
সম্বন্ধবাচক বিশেষ্য সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ:সম্বন্ধবাচক বিশেষ্য হলো সেই শব্দ যা একটি সম্বন্ধ-বাক্য এবং একটি প্রত্যাবর্তনকারী সর্বনামের মুখাপেক্ষী হয়। এটি দুই প্রকার: সুনির্দিষ্ট (نص) এবং সাধারণ (مشترك)। সুনির্দিষ্ট (نص) প্রকারের শব্দ আটটি: একবচন পুংলিঙ্গের জন্য 'আল্লাযি', একবচন স্ত্রীলিঙ্গের জন্য 'আল্লাতি', দ্বিবচন পুংলিঙ্গের ক্ষেত্রে রফ অবস্থায় 'আল্লাযানি' এবং দ্বিবচন স্ত্রীলিঙ্গের ক্ষেত্রে রফ অবস্থায় 'আল্লাতানি'। আর নসব ও জর অবস্থায় 'আল্লাযাইনি' ও 'আল্লাতাইনি' ব্যবহৃত হয়। বহুবচন পুংলিঙ্গের ক্ষেত্রে সকল অবস্থায় 'আল-উলা' এবং 'আল্লাযিনা' (ইয়া যোগে) ব্যবহৃত হয়। তবে কখনও কখনও রফ অবস্থায় ওয়াও যোগে 'আল্লাযূনা'ও বলা হয়ে থাকে। আর বহুবচন স্ত্রীলিঙ্গের জন্য 'আল-লায়ী' এবং 'আল-লাতী' ব্যবহৃত হয়। এছাড়া বহুবচন স্ত্রীলিঙ্গের জন্য 'আল-লাওয়াতী'ও বলা হয়, কখনও এর শেষে থাকা 'ইয়া' বিলুপ্ত করা হয়। যেমন: {তারা বলবে, সকল প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদের প্রতি তাঁর প্রতিশ্রুতি সত্য করেছেন} (সূরা যুমার: ৭৪); {আল্লাহ অবশ্যই সেই নারীর কথা শুনেছেন যে তার স্বামীর বিষয়ে আপনার সাথে বাদানুবাদ করছে} (সূরা মুজাদালা: ১); {তোমাদের মধ্যে যে দুজন সেই অপকর্মে লিপ্ত হয়} (সূরা নিসা: ১৬); {হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদের সেই দুজনকে দেখিয়ে দিন যারা আমাদের পথভ্রষ্ট করেছিল} (সূরা ফুসসিলাত: ২৯); {এবং যারা তাদের পরে এসেছে} (সূরা হাশর: ১০); {তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে যাদের ঋতুবতী হওয়ার আশা নেই} (সূরা তালাক: ৪)।
(খণ্ড: ১)
মুতাম্মিমাতুল আজরুমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
{وَاللَاّتِي يَأْتِينَ الْفَاحِشَةَ} (15) سورة النساء؛ والمشترك ستة ألفاظ: من وما وأي وأل وذو وذان فهذه الستة تطلق على المفرد والمثنى وللمجموع المذكر من ذلك والمؤنث؛ وتستعمل من للعاقل وما لغير العاقل، تقول في من: يعجبني من جاءك ومن جاءتك ومن جاءاك ومن جاءتاك ومن جاءوك ومن جئنك؛ وتقول في ما جوابا لمن قال: اشتريت حماراً ًأو آتانا أو حمارين أو أتانين أو حُمرا أو ُأتناً؛ يعجبن ما اشتريته وما اشتريتها وما اشتريتهما وما اشتريتم وما اشترين، وقد يعكس ذلك فتستعمل من لغير العاقل نحو: {فَمِنْهُم مَّن يَمْشِي عَلَى بَطْنِهِ} (45) سورة النور؛ وتستعمل ما لغير العاقل نحو: {مَا مَنَعَكَ أَن تَسْجُدَ لِمَا خَلَقْتُ بِيَدَيَّ} (75) سورة ص؛ والربعة الباقية تستعمل للعاقل وغيره، تقول في أي: يعجبني أي قام وأي قامت وأي قاما وأي قاموا واي قمنا سواء كان القائم عاقلا او حيوانا؛ وأما أل فإنما تكون اسما موصولا إذا دخلت على اسم الفاعل أو اسم المفعول كضارب والمضروب أي الذي َضرَب َوالذي ضُرِبَ نحو: {إِنَّ الْمُصَّدِّقِينَ وَالْمُصَّدِّقَاتِ} (18) سورة الحديد؛ {وَالسَّقْفِ الْمَرْفُوعِ (5) وَالْبَحْرِ الْمَسْجُورِ (6) } سورة الطور؛ وأما ذو فخاصة بلغة طيئ تقول جاءني ذو قام وذو قامت وذو قامتا وذو قاموا وذو قمن؛ وأما ذا فشرط كونها موصولا أن تتقدم عليها ما الاستفهامية نحو: ماذا ينفقون؛ أو من الاستفهامية نحو من ذا جاءك، وأن لا تكون ملغاة بأن يقدر تركيبها مع ما نحو: ماذا صنعت؟ إذا قدرت ماذا اسما واحدا مركباً.
{এবং যারা ব্যভিচার করে} (১৫) সূরা আন-নিসা; এবং সাধারণ (المشترك) শব্দগুলো ছয়টি: মান (من), মা (ما), আইয়্যু (أي), আল (أل), যু (ذو) এবং যানি (ذان)। এই ছয়টি শব্দ একবচন (المفرد), দ্বিবচন (المثنى) এবং পুংলিঙ্গ ও স্ত্রীলিঙ্গ নির্বিশেষে বহুবচনের (المجموع) ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। ‘মান’ (من) বিবেকবান (العاقل) সত্তার জন্য এবং ‘মা’ (ما) বিবেকহীন (لغير العاقل) সত্তার জন্য ব্যবহৃত হয়। আপনি ‘মান’ (من) এর ক্ষেত্রে বলবেন: “আমার কাছে সে পছন্দনীয় যে তোমার কাছে এসেছে (একবচন পুরুষ), যে তোমার কাছে এসেছে (একবচন নারী), যারা দুইজন তোমার কাছে এসেছে (দ্বিবচন পুরুষ), যারা দুইজন তোমার কাছে এসেছে (দ্বিবচন নারী), যারা তোমার কাছে এসেছে (বহুবচন পুরুষ), এবং যারা তোমার কাছে এসেছে (বহুবচন নারী)।” আর আপনি ‘মা’ (ما) এর ক্ষেত্রে উত্তর হিসেবে বলবেন তার জন্য যে বলেছে: “আমি একটি গাধা বা একটি গাধী কিনেছি, অথবা দুটি গাধা বা দুটি গাধী কিনেছি, অথবা অনেকগুলো গাধা বা অনেকগুলো গাধী কিনেছি”; (তখন আপনি বলবেন): “আমার কাছে তা পছন্দনীয় যা তুমি কিনেছ (একবচন পুংলিঙ্গ), যা তুমি কিনেছ (একবচন স্ত্রীলিঙ্গ), যা তুমি কিনেছ (দ্বিবচন), যা তোমরা কিনেছ (বহুবচন পুংলিঙ্গ), এবং যা তোমরা কিনেছ (বহুবচন স্ত্রীলিঙ্গ)।” কখনও কখনও এর বিপরীতও হয়, ফলে বিবেকহীন (لغير العاقل) সত্তার জন্য ‘মান’ (من) ব্যবহৃত হয়, যেমন: {তাদের মধ্যে কেউ কেউ পেটে ভর দিয়ে চলে} (৪৫) সূরা আন-নূর। আবার বিবেকবানের ক্ষেত্রে ‘মা’ (ما) ব্যবহৃত হয়, যেমন: {আমি যাকে আমার নিজ হাতে সৃষ্টি করেছি, তাকে সিজদাহ করতে কিসে তোমাকে বাধা দিল?} (৭৫) সূরা সদ। আর অবশিষ্ট চারটি শব্দ বিবেকবান ও বিবেকহীন উভয় সত্তার জন্য ব্যবহৃত হয়। আপনি ‘আইয়্যু’ (أي) এর ক্ষেত্রে বলবেন: “আমার কাছে সে পছন্দনীয় যে দাঁড়িয়েছে (একবচন পুরুষ), যে দাঁড়িয়েছে (একবচন নারী), যারা দুইজন দাঁড়িয়েছে, যারা দাঁড়িয়েছে (বহুবচন পুরুষ), যারা দাঁড়িয়েছে (বহুবচন নারী)”; দাঁড়ানো সত্তাটি মানুষ হোক কিংবা অন্য কোনো প্রাণী। আর ‘আল’ (أل) তখনই সম্বন্ধবাচক বিশেষ্য (اسم الموصول) হবে যখন তা কর্তৃবাচক বিশেষ্য (اسم الفاعل) অথবা কর্মবাচক বিশেষ্য (اسم المفعول) এর শুরুতে আসবে, যেমন: ‘দারিব’ (প্রহারকারী) এবং ‘মাদরুব’ (প্রহৃত), অর্থাৎ—যিনি প্রহার করেছেন এবং যাকে প্রহার করা হয়েছে। যেমন: {নিশ্চয়ই দানশীল পুরুষ ও দানশীল নারীগণ} (১৮) সূরা আল-হাদিদ; {উন্নত ছাদ (৫) এবং উত্তাল সমুদ্র (৬)} সূরা আত-তুর। আর ‘যু’ (ذو) শব্দটি কেবল তায়ি (طيئ) গোত্রের উপভাষার জন্য বিশেষিত; আপনি বলবেন: “আমার কাছে এসেছে যে দাঁড়িয়েছে (একবচন পুরুষ), যে দাঁড়িয়েছে (একবচন নারী), যারা দুইজন দাঁড়িয়েছে (দ্বিবচন নারী), যারা দাঁড়িয়েছে (বহুবচন পুরুষ) এবং যারা দাঁড়িয়েছে (বহুবচন নারী)।” আর ‘যা’ (ذا) সম্বন্ধবাচক বিশেষ্য হওয়ার শর্ত হলো এর পূর্বে প্রশ্নবোধক ‘মা’ (ما الاستفهامية) আসা, যেমন: {তারা কী ব্যয় করবে?}; অথবা প্রশ্নবোধক ‘মান’ (من الاستفهامية) এর পরে আসা, যেমন: “কে তোমার কাছে এসেছে?”। এছাড়া শর্ত হলো এটি যেন অব্যবহৃত (ملغاة) না হয়, অর্থাৎ এটি যেন ‘মা’ এর সাথে মিলে একটি যৌগিক (مركباً) শব্দ হিসেবে গণ্য না হয়; যেমন: “তুমি কী করেছ?”—যখন আপনি ‘মাযা’ (ماذا) শব্দটিকে একটি একক যৌগিক বিশেষ্য হিসেবে গণ্য করবেন।
(খণ্ড: ১)
মুতাম্মিমাতুল আজরুমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وتفتقر الموصولات كلها إلى صلة متأخرة عنها وعائد، والصلة لإما جملة أو شبهها، الجملة ما تركب من فعل وفاعل نحو: جاء الذي قام أبوه؛ وقوله تعالى: {وَقَالُوا الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي صَدَقَنَا وَعْدَهُ} (74) سورة الزمر؛ من مبتدأ وخبر نحو: جاء الذي ابوه عندك؛ ما عندكم ينفد؛ وثانيها: الجار والمجرور، نحو: جاء الذي في الدار؛ {وَأَلْقَتْ مَا فِيهَا وَتَخَلَّتْ} (4) سورة الانشقاق؛ ويتعلق الظرف والجار والمجرور إذا وقع صلة بفعل محذوف وجوباُ تقديره استقر؛ والثالث: الصفة الصريحة، والمراد بها اسم الفاعل واسم المفعول، وتختص بالألف واللام كما تقدم؛ والعائد ضمير مطابق للموصول في الإفراد والتثنية والجمع والتذكير والتأنيث كما تقدم في الأمثلة المذكورة، وقد يحذف نحو: {ثُمَّ لَنَنزِعَنَّ مِن كُلِّ شِيعَةٍ أَيُّهُمْ أَشَدُّ عَلَى الرَّحْمَنِ عِتِيًّا} (69) سورة مريم؛ أي: الذي هو أشد نحو: {وَاللهُ يَعْلَمُ مَا تُسِرُّونَ وَمَا تُعْلِنُونَ} (19) سورة النحل؛ أي الذي تسرونه والذي تعلنونه؛ ونحو: {وَيَشْرَبُ مِمَّا تَشْرَبُونَ} (33) سورة المؤمنون.فصل في المعرف بالأداة:وأما المعرف بالأداة فهو المعرف بالألف واللام، وهي قسمان: عهدية وجنسية؛ والعهدية إما للعهد الذكري نحو: {فِي زُجَاجَةٍ الزُّجَاجَةُ} (35) سورة النور؛ والعهد الذهني نحو: {إِذْ هُمَا فِي الْغَارِ} (40) سورة التوبة؛ وللعهد الحضوري نحو: {الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ} (3) سورة المائدة.والجنسية إما لتعريف الماهية نحو: {وَجَعَلْنَا مِنَ الْمَاء كُلَّ شَيْءٍ حَيٍّ} (30) سورة الأنبياء؛ وإما لاستغراق الأفراد نحو وخلق الإنسان ضعيفاً؛ أو لاستغراق خصائص الأفراد نحو: أنت الرجل علماً؛ وتبدل لام أل ميما في لغة حمير.
সকল সংযোগকারী বিশেষ্যসমূহ (الموصولات) একটি পরবর্তী বাক্যপ্রসারক অংশ (صلة) এবং একটি প্রত্যাবর্তনকারী সর্বনামের (عائد) প্রয়োজন বোধ করে। এই বাক্যপ্রসারক অংশ (الصلة) হয় একটি বাক্য (جملة) হবে অথবা বাক্যের অনুরূপ (شبه الجملة) কোনো অংশ হবে। বাক্য (الجملة) হলো যা একটি ক্রিয়া (فعل) এবং একটি কর্তা (فاعل) দ্বারা গঠিত হয়, যেমন: 'সেই ব্যক্তি এসেছে যার পিতা দাঁড়িয়েছে'; এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আর তারা বলল, সকল প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদের প্রতি তাঁর ওয়াদা সত্য করেছেন} (সূরা যুমার: ৭৪); অথবা যা উদ্দেশ্য (مبتدأ) এবং বিধেয় (خبر) দ্বারা গঠিত হয়, যেমন: 'সেই ব্যক্তি এসেছে যার পিতা তোমার নিকট আছে'; 'তোমাদের কাছে যা আছে তা শেষ হয়ে যাবে'। দ্বিতীয় প্রকার (বাক্যসদৃশ) হলো: অব্যয় ও বিশেষ্য পদ (الجار والمجرور), যেমন: 'সেই ব্যক্তি এসেছে যে ঘরের মধ্যে আছে'; {এবং পৃথিবী তার অভ্যন্তরে যা আছে তা বাইরে নিক্ষেপ করবে ও শূন্য হয়ে যাবে} (সূরা ইনশিক্বাক: ৪)। আর স্থানকালবাচক অব্যয় (الظرف) এবং অব্যয় ও বিশেষ্য পদ (الجار والمجرور) যখন বাক্যপ্রসারক অংশ (صلة) হিসেবে আসে, তখন তা আবশ্যিকভাবে একটি উহ্য ক্রিয়ার (فعل محذوف) সাথে সম্পৃক্ত হয়, যার সম্ভাব্য রূপ হলো 'স্থির হয়েছে' (استقر)। তৃতীয় প্রকার হলো: স্পষ্ট গুণবাচক বিশেষ্য (الصفة الصريحة), যা দ্বারা উদ্দেশ্য হলো কর্তৃবাচক বিশেষ্য (اسم الفاعل) এবং কর্মবাচক বিশেষ্য (اسم المفعول); আর এটি আলিফ এবং লাম (الألف واللام) এর জন্য নির্দিষ্ট যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। প্রত্যাবর্তনকারী সর্বনামটি (العائد) একবচন (الإفراد), দ্বিবচন (التثنية), বহুবচন (الجمع), পুংলিঙ্গ (التذكير) এবং স্ত্রীলিঙ্গ (التأنيث) হওয়ার ক্ষেত্রে সংযোগকারী বিশেষ্যের (الموصول) সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, যেমনটি পূর্বোল্লিখিত উদাহরণগুলোতে অতিক্রান্ত হয়েছে। কখনও কখনও এটি উহ্য থাকে, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর প্রত্যেক দল থেকে আমি অবশ্যই তাদেরকে টেনে বের করব যারা দয়াময় আল্লাহর প্রতি সবচেয়ে বেশি অবাধ্য} (সূরা মারইয়াম: ৬৯); অর্থাৎ: 'যে ব্যক্তি সবচেয়ে বেশি অবাধ্য' (الذي هو أشد)। অনুরূপভাবে আল্লাহর বাণী: {এবং আল্লাহ জানেন যা তোমরা গোপন করো এবং যা তোমরা প্রকাশ করো} (সূরা নাহল: ১৯); অর্থাৎ 'যা তোমরা গোপন করো' (تسرونه) এবং 'যা তোমরা প্রকাশ করো' (تعلنونه)। এবং অনুরূপভাবে: {এবং সে তা থেকেই পান করে যা থেকে তোমরা পান করো} (সূরা আল-মুমিনুন: ৩৩)।পদাশ্রিত নির্দেশক দ্বারা নির্দিষ্টকরণ সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ:পদাশ্রিত নির্দেশক দ্বারা নির্দিষ্ট (المعرف بالأداة) শব্দ বলতে আলিফ এবং লাম (الألف واللام) যোগে নির্দিষ্টকৃত শব্দকে বোঝায়। এটি দুই প্রকার: পরিচিতিজ্ঞাপক (عهدية) এবং জাতিবাচক (جنسية)। পরিচিতিজ্ঞাপক (العهدية) হয় হয় ইতিপূর্বে উল্লিখিত হওয়ার কারণে (العهد الذكري), যেমন আল্লাহর বাণী: {একটি কাঁচপাত্রের মধ্যে, কাঁচপাত্রটি (الزجاجة) নক্ষত্রতুল্য উজ্জ্বল} (সূরা নূর: ৩৫); অথবা মানসপটে উপস্থিত থাকার কারণে (العهد الذهني), যেমন: {যখন তারা উভয়ে গুহার মধ্যে (الغار) ছিল} (সূরা তাওবা: ৪০); অথবা বর্তমানে উপস্থিত থাকার কারণে (العهد الحضوري), যেমন: {আজ (اليوم) আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করলাম} (সূরা মায়িদা: ৩)।আর জাতিবাচক (الجنسية) হয় হয় প্রকৃত সত্তার (الماهية) পরিচয় প্রদানের জন্য, যেমন: {এবং আমি পানি (الماء) থেকে প্রত্যেক জীবন্ত বস্তু সৃষ্টি করেছি} (সূরা আম্বিয়া: ৩০); অথবা ব্যক্তি সমষ্টির ব্যাপকতা (استغراق الأفراد) বুঝানোর জন্য, যেমন: {এবং মানুষকে (الإنسان) দুর্বল করে সৃষ্টি করা হয়েছে}; অথবা গুণাবলীর ব্যাপকতা (استغراق خصائص الأفراد) বুঝানোর জন্য, যেমন: 'জ্ঞানের দিক থেকে তুমিই প্রকৃত ব্যক্তি' (أنت الرجل علماً)। আর হিমইয়ার গোত্রের ভাষায় 'আল' (أل) এর লাম বর্ণটি মীম বর্ণ দ্বারা পরিবর্তিত হয়।
(খণ্ড: ১)
মুতাম্মিমাতুল আজরুমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
فصل التعريف بالإضافة إلى المعرفة:وأما المضاف إلى واحد من هذه الخمسة فنحو: غلامي، وغلامك، وغلامه، وغلام زيد، وغلام هذا، وغلام الذي قام أبوه، وغلام الرجل.باب المرفوعات:المرفوعات عشرة وهي: الفاعل والمفعول الذي لم يسم فاعله والمبتدأ وخبره واسم كان أخواتها واسم أفعال المقاربة واسم الحروف المشبهة بليس وخبر إن وأخواتها وخبر لا التي لنفي الجنس والتابع للمرفوع وهو أربعة أشياء: النعت والعطف والتوكيد والبدل.باب الفاعل:هو الاسم المرفوع قبله فعل او ما في تأويا الفعل وهو على قسمين ظاهر ومضمر، فالظاهر نحو: {إِذْ قَالَ اللهُ} (55) سورة آل عمران؛ {قَالَ رَجُلَانِ} (23) سورة المائدة؛ {وَجَاء الْمُعَذِّرُونَ} (90) سورة التوبة؛ {يَوْمَ يَقُومُ النَّاسُ لِرَبِّ الْعَالَمِينَ} (6) سورة المطففين؛ {وَيَوْمَئِذٍ يَفْرَحُ الْمُؤْمِنُونَ} (4) سورة الروم؛ قال أبوهم؛ والمضمر نحو قولك ضربت وضربنا إلى آخره، كما تقدم في فصل المضمر.والذي في تأويل الفعل نحو: أقائم الزيدان؛ ومختلف ألوانه؛ وللفاعل أحكام منها أنه لا يجوز حذفه لأنه عمدة فإن ظهر في اللفظ نحو: قام زيد والزيدان قاما فذاك وإلا فهو مستتر نحو زيد قام.ومنها أنه تقدمه على الفعل فإن وجد ما ظاهره أنه فاعل مقدم وجب تقدير الفاعل ضميراً مستتراً ويكون المقدم إما مبتدأً نحو زيد قام وإما فاعلا لفعلٍ محذوف نحو: {وَإِنْ أَحَدٌ مِّنَ الْمُشْرِكِينَ اسْتَجَارَكَ فَأَجِرْهُ} (6) سورة التوبة؛ لأن أداة الشرط لا تدخل على المبتدأ.ومنها أن فعله يوحد على تثنيته وجمعه كما يوحد مع إفراده فتقول قام الزيدان وقام الزيدون كما تقول قام زيد؛ قال الله تعالى: ل {قَالَ رَجُلَانِ} ؛ {وَجَاء الْمُعَذِّرُونَ} (90) سورة التوبة؛ {وَقَالَ الظَّالِمُونَ} (8) سورة الفرقان؛ {وَقَالَ نِسْوَةٌ} (30) سورة يوسف.
মারিফাহ বা নির্দিষ্ট বিশেষ্যের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করার মাধ্যমে নির্দিষ্টকরণ সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ:আর এই পাঁচটি প্রকারের (মারিফাহর) যেকোনো একটির দিকে যা সম্বন্ধযুক্ত হয়, তা হলো যেমন: আমার গোলাম, তোমার গোলাম, তার গোলাম, জায়েদের গোলাম, এর গোলাম, ওই ব্যক্তির গোলাম যার পিতা দাঁড়িয়েছে এবং লোকটির গোলাম।মরফু (مرفوع) পদসমূহের অধ্যায়:মরফু (مرفوع) পদসমূহ দশটি এবং সেগুলো হলো: কর্তা (ফায়েল), ওই কর্ম যার কর্তার নাম উল্লেখ করা হয়নি (নায়েবে ফায়েল), মুক্তাদা (উদ্দেশ্য) ও তার খবর (বিধেয়), ‘কানা’ ও তার সমজাতীয় শব্দগুলোর বিশেষ্য (ইসিম), ‘আসন্নতা জ্ঞাপক ক্রিয়া’ (আফআলুল মুকারাবাহ)-এর বিশেষ্য, ‘লাইসা’-এর সদৃশ অব্যয়গুলোর বিশেষ্য, ‘ইন্না’ ও তার সমজাতীয় শব্দগুলোর খবর, ‘লা’ (যা জাতীয়তা অস্বীকারের জন্য আসে)-এর খবর এবং মরফু (مرفوع) পদের অনুগামী। আর অনুগামী পদ চারটি: বিশেষণ (না’ত), সংযোজক অব্যয় (আত্বফ), তাকিদ (দৃঢ়তা) এবং বদল (পরিবর্ত)।কর্তা (ফায়েল) অধ্যায়:কর্তা হলো এমন একটি মরফু (مرفوع) বিশেষ্য যার পূর্বে একটি ক্রিয়া অথবা ক্রিয়ার অর্থ প্রদানকারী শব্দ অতিবাহিত হয়েছে। এটি দুই প্রকার: প্রকাশ্য ও উহ্য। প্রকাশ্য কর্তার উদাহরণ যেমন আল্লাহর বাণী: {যখন আল্লাহ বললেন} (৫৫) সূরা আল-ইমরান; {দুইজন লোক বলল} (২৩) সূরা আল-মায়িদাহ; {এবং ওজর পেশকারীরা আসল} (৯০) সূরা আত-তাওবাহ; {যেদিন মানুষ বিশ্বজগতের প্রতিপালকের সামনে দাঁড়াবে} (৬) সূরা আল-মুতাফফিফিন; {এবং সেদিন মুমিনরা আনন্দিত হবে} (৪) সূরা আর-রুম; ‘তাদের পিতা বললেন’। আর উহ্য বা সর্বনামের উদাহরণ যেমন তোমার কথা: ‘আমি প্রহার করেছি’ এবং ‘আমরা প্রহার করেছি’ শেষ পর্যন্ত, যেমনটি উহ্যর পরিচ্ছেদে গত হয়েছে।আর যা ক্রিয়ার অর্থ প্রদান করে (ক্রিয়ার স্থলাভিষিক্ত) তার উদাহরণ: ‘দুই জায়েদ কি দণ্ডায়মান?’; ‘তার বর্ণসমূহ বিভিন্ন’; এবং কর্তার কিছু বিধান রয়েছে, তার মধ্যে একটি হলো—কর্তাকে বিলোপ করা জায়েজ নয়, কারণ এটি বাক্যের প্রধান স্তম্ভ। সুতরাং যদি তা শব্দে প্রকাশ পায় তবে তো ভালো, যেমন: ‘জায়েদ দাঁড়িয়েছে’ এবং ‘দুই জায়েদ দাঁড়িয়েছে’ (এখানে ‘আলিফ’ কর্তা); অন্যথায় তা উহ্য থাকবে, যেমন: ‘জায়েদ দাঁড়িয়েছে’ (এখানে ‘সে’ উহ্য কর্তা)।বিধানসমূহের মধ্যে আরেকটি হলো—ক্রিয়ার আগে কর্তার অবস্থান না করা। যদি এমন কিছু পাওয়া যায় যা বাহ্যিকভাবে অগ্রবর্তী কর্তা মনে হয়, তবে সেখানে কর্তাকে উহ্য সর্বনাম হিসেবে ধরে নেওয়া ওয়াজিব এবং অগ্রবর্তী পদটি হয় মুক্তাদা হবে, যেমন: ‘জায়েদ দাঁড়িয়েছে’, অথবা বিলুপ্ত কোনো ক্রিয়ার কর্তা হবে, যেমন আল্লাহর বাণী: {আর যদি মুশরিকদের কোনো ব্যক্তি তোমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে, তবে তাকে আশ্রয় দাও} (৬) সূরা আত-তাওবাহ; কারণ শর্তের অব্যয় মুক্তাদার ওপর দাখিল হয় না।বিধানসমূহের মধ্যে আরও একটি হলো—কর্তা দ্বিবচন বা বহুবচন যাই হোক না কেন, তার ক্রিয়াটি একবচনই থাকে, যেমনটি একবচন কর্তার ক্ষেত্রে একবচন থাকে। অতএব তুমি বলবে: ‘দুই জায়েদ দাঁড়িয়েছে’ এবং ‘সকল জায়েদ দাঁড়িয়েছে’, যেমন তুমি বলো: ‘জায়েদ দাঁড়িয়েছে’। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {দুইজন লোক বলল}; {এবং ওজর পেশকারীরা আসল} (৯০) সূরা আত-তাওবাহ; {এবং যালিমরা বলল} (৮) সূরা আল-ফুরকান; {এবং মহিলারা বলল} (৩০) সূরা ইউসুফ।
(খণ্ড: ১)
মুতাম্মিমাতুল আজরুমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
ومن العرب من يلحق الفعل علامة التثنية والجمع إذا كان الفاعل مثنى أو مجموعاً فتقول: قاما الزيدان، وقاموا الزيدون، وقمن الهندات، وتسمى لغة أكلوني البراغيث لأن هذا اللفظ سمع من بعضهم ومنه الحديث " يتعاقبون فيكم ملائكة بالليل والنهار" والصحيح أن الألف والواو والنون أحرف دالة على التثنية والجمع وأن الفاعل ما بعدها.ومنها انه يجب تأنيث الفعل بتاء ساكنة في آخر الماضي وبتاء المضارعة في أول المضارع إذا كان الفاعل مؤنثا حقيقي التأنيث نحو: قامت هند وتقوم هند، ويجوز ترك التاء إذا كان الفاعل مجازي التأنيث نحو: طلع الشمس،؛ {وَمَا كَانَ صَلَاتُهُمْ عِندَ الْبَيْتِ إِلَاّ مُكَاء وَتَصْدِيَةً} (35) سورة الأنفال، وحكم المثنى والمجموع جمع تصحيح حكم المفرد فتقول: قام الزيان وقام الزيدون وقامت المسلمتان وقامت المسلمات، وأما جمع التكسير فحكمه حكم المجازي التأنيث تقول: قام الرجال وقامت الرجال وقام الهنود وقامت الهنود.ومنها أن الأصل فيه أن يلي فعله ثم يذكر المفعول نحو: {وَوَرِثَ سُلَيْمَانُ دَاوُودَ} (16) سورة النمل؛ قد يتأخر الفاعل ويتقدم المفعول على الفاعل جوازاً نحو: {وَلَقَدْ جَاء آلَ فِرْعَوْنَ النُّذُرُ} (41) سورة القمر؛ ووجوبا نحو {شَغَلَتْنَا أَمْوَالُنَا} (11) سورة الفتح؛ {وَإِذِ ابْتَلَى إِبْرَاهِيمَ رَبُّهُ} (124) سورة البقرة؛ وقد يتقدم المفعول على الفعل والفاعل جوازاً نحو: {فَرِيقًا كَذَّبُواْ وَفَرِيقًا يَقْتُلُونَ} (70) سورة المائدة؛ ووجوبا نحو: {فَأَيَّ آيَاتِ اللَّهِ تُنكِرُونَ} (81) سورة غافر؛ لأن اسم الاستفهام له صدر الكلام.
আরবদের মধ্যে এমনও কেউ আছেন যারা ক্রিয়ার সাথে দ্বিবচন ও বহুবচনের চিহ্ন যুক্ত করেন যখন কর্তা দ্বিবচন বা বহুবচন হয়। এমতাবস্থায় তারা বলে: দুই জায়েদ দাঁড়িয়েছে, জায়েদগণ দাঁড়িয়েছে এবং হিন্দগণ দাঁড়িয়েছে। একে 'আকালুনি আল-বারাগিস' (মাছিরা আমাকে খেয়ে ফেলেছে) উপভাষা বলা হয়, কারণ এই বাচনভঙ্গি তাদের কারো কারো থেকে শোনা গেছে। এরই অন্তর্ভুক্ত হলো হাদিস: "তোমাদের মাঝে রাতে ও দিনে ফেরেশতারা পর্যায়ক্রমে আগমন করেন।" এক্ষেত্রে সঠিক (صحيح) মত হলো এই যে, আলিফ, ওয়াও এবং নুন বর্ণগুলো হলো দ্বিবচন ও বহুবচনের পরিচায়ক মাত্র এবং পরবর্তী শব্দটিই হলো কর্তা।এর মধ্যে আরেকটি নিয়ম হলো, কর্তা যদি প্রকৃত স্ত্রীলিঙ্গ হয়, তবে অতীতকালীন ক্রিয়ার শেষে সাকিনযুক্ত 'তা' এবং বর্তমানকালীন ক্রিয়ার শুরুতে 'তা' যুক্ত করে ক্রিয়াটিকে স্ত্রীলিঙ্গ করা আবশ্যক। যেমন: হিন্দ দাঁড়িয়েছে এবং হিন্দ দাঁড়াচ্ছে। আর যদি কর্তা রূপক স্ত্রীলিঙ্গ হয়, তবে 'তা' বর্জন করা বৈধ। যেমন: সূর্য উদিত হয়েছে; "আর বাইতুল্লাহর নিকট তাদের সালাত শিস দেওয়া ও হাত তালি দেওয়া ছাড়া অন্য কিছু ছিল না" (সূরা আল-আনফাল: ৩৫)। দ্বিবচন এবং সঠিক বহুবচনের বিধান একবচনের বিধানের মতোই; ফলে আপনি বলবেন: দুই জায়েদ দাঁড়িয়েছে, জায়েদগণ দাঁড়িয়েছে, দুই মুসলিম নারী দাঁড়িয়েছে এবং মুসলিম নারীরা দাঁড়িয়েছে। তবে ভগ্ন বহুবচনের বিধান হলো রূপক স্ত্রীলিঙ্গের বিধানের মতো। আপনি বলবেন: পুরুষেরা দাঁড়িয়েছে (পুরুষবাচক ক্রিয়াসহ) অথবা পুরুষেরা দাঁড়িয়েছে (স্ত্রীলিঙ্গবাচক ক্রিয়াসহ), এবং হিন্দগণ দাঁড়িয়েছে (পুরুষবাচক ক্রিয়াসহ) অথবা হিন্দগণ দাঁড়িয়েছে (স্ত্রীলিঙ্গবাচক ক্রিয়াসহ)।এর মধ্যে আরেকটি নিয়ম হলো, মূল বিধান অনুযায়ী কর্তা ক্রিয়ার পরপরই বসবে এবং এরপর কর্ম উল্লিখিত হবে। যেমন: "সুলাইমান দাউদের উত্তরাধিকারী হয়েছিলেন" (সূরা আন-নামল: ১৬)। কখনো কখনো বৈধভাবে কর্তা পরে এবং কর্ম কর্তার আগে আসতে পারে। যেমন: "ফেরাউন বংশীয়দের নিকট সতর্ককারীগণ এসেছিল" (সূরা আল-কামার: ৪১)। আবার কখনো এটি আবশ্যক হয়। যেমন: "আমাদের ধন-সম্পদ আমাদের ব্যস্ত করে রেখেছিল" (সূরা আল-ফাতহ: ১১); "যখন ইব্রাহিমকে তাঁর রব পরীক্ষা করেছিলেন" (সূরা আল-বাকারা: ১২৪)। কখনো কখনো কর্ম ক্রিয়া ও কর্তা উভয়ের আগে আসা বৈধ। যেমন: "এক দলকে তারা মিথ্যাবাদী বলেছিল এবং এক দলকে তারা হত্যা করছিল" (সূরা আল-মায়েদা: ৭০)। আর কখনো এটি আবশ্যক হয়। যেমন: "তোমরা আল্লাহর কোন নিদর্শনকে অস্বীকার করবে?" (সূরা গাফির: ৮১); কারণ প্রশ্নবোধক বিশেষ্যের বাক্যের শুরুতে আসার অধিকার রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
মুতাম্মিমাতুল আজরুমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
باب نائب الفاعل:باب المفعول الذي لم يسم فاعله هو الاسم المرفوع الذي لم يذكر فاعله وأقيم هو مقامه فصار مرفوعاً بعد أن كان منصوباً وعمدةً بعد أن كان فضلة فلا يجوز حذفه ولا تقديمه على الفعل ويجب تأنيث الفعل إن كان مؤنثا نحو: {إِذَا زُلْزِلَتِ الْأَرْضُ زِلْزَالَهَا} (1) سورة الزلزلة؛ ويجب ألا يلحق الفعل علامة تثنية أو جمع إن كان مثنى أو مجموعا نحو: ضُرِبَ الزيدان وضُرِبَ الزيدون، ويسمى أيضا النائب عن الفعل وهذه العبارة أحسن أخصر؛ ويسمى فعله الفعل المبني للمفعول والفعل المبني للمجهول والفعل الذي لم يسم فاعله؛ فإن كان الفعل ماضياً ضم أوله وكسر ما قبل آخره، وإن كان مضارعاً ضُم أوله وفتح ما قبل آخره نحو: ُضِربَ زيدُ، ويُضَرب زيد؛ فإن كان الماضي مبدوءا بتاء زائدة ضم أوله وثانيه نحو: تُعُلِمَ، وتُضُورِبَ، وإن كان مبدوءاً بهمزة وصل ضم أوله ثالثه نحو: اُنْطُلِقَ واُستُخرِجَ؛ وإن كان الماضي معتل العين فلك كسر فائه فتصير عينه ياءً نحو: قيل وبيع، ولك إشمام الكسرة الضمة وهو خلط الكسرة بشيء من صوت الضمة، ولك ضم الفاء فتصير عينه واواً ساكنة نحو: ُقول وُبوع.والنائب عن الفاعل على قسمين: ظاهر ومضمر؛ فالظاهر نحو: {وَإِذَا قَرَأْتَ الْقُرآنَ} (45) سورة الإسراء؛ ضرب مثل؛ {وَقُضِيَ الأَمْرُ} (210) سورة البقرة؛ {قُتِلَ الْخَرَّاصُونَ} (10) سورة الذاريات؛ {يُعْرَفُ الْمُجْرِمُونَ} (41) سورة الرحمن؛
নায়েবে ফায়েল (কর্তৃস্থানীয় কর্ম) পরিচ্ছেদ:সেই মাফউল (কর্ম) যার ফায়েল (কর্তা)-এর নাম উল্লেখ করা হয়নি, তা হলো এমন মারফু (مرفوع) বিশেষ্য যার ফায়েলকে উল্লেখ করা হয়নি এবং তাকে তার (ফায়েলের) স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে। ফলে ইতিপূর্বে মানসুব (যবরযুক্ত) থাকা সত্ত্বেও সেটি মারফু (مرفوع) হয়ে যায় এবং উমদাহ (عمدة - বাক্যের অপরিহার্য অংশ) হিসেবে গণ্য হয়, অথচ আগে সেটি ফাদলাহ (فضلة - অতিরিক্ত অংশ) ছিল। সুতরাং একে বিলুপ্ত করা যেমন জায়েজ নেই, তেমনি ক্রিয়ার আগে আনাও সম্ভব নয়। যদি নায়েবে ফায়েলটি স্ত্রীলিঙ্গ হয়, তবে ক্রিয়াকে স্ত্রীলিঙ্গ করা ওয়াজিব; যেমন: {যখন পৃথিবীকে তার প্রবল কম্পনে প্রকম্পিত করা হবে} (১) সূরা আল-যিলযাল; আর নায়েবে ফায়েল দ্বিবচন বা বহুবচন হলেও ক্রিয়ার সাথে দ্বিবচন বা বহুবচনের কোনো চিহ্ন যুক্ত করা যাবে না; যেমন: 'যাইদদ্বয় প্রহৃত হয়েছে' এবং 'যাইদগণ প্রহৃত হয়েছে'। একে 'নায়েবে ফায়েল' বা ক্রিয়ার স্থলাভিষিক্তও বলা হয় এবং এই পরিভাষাটি অধিকতর উত্তম ও সংক্ষিপ্ত। এর ক্রিয়াকে কর্মবাচ্যের ক্রিয়া, অজ্ঞাতকর্তৃক ক্রিয়া এবং এমন ক্রিয়া যার কর্তার নাম নেওয়া হয়নি বলা হয়। যদি ক্রিয়াটি মাজি (অতীতকাল) হয়, তবে তার প্রথম বর্ণে পেশ এবং শেষ বর্ণের পূর্বের বর্ণে যের প্রদান করা হবে। আর যদি মুযারি (বর্তমান বা ভবিষ্যৎকাল) হয়, তবে তার প্রথম বর্ণে পেশ এবং শেষ বর্ণের পূর্বের বর্ণে যবর প্রদান করা হবে; যেমন: 'যাইদ প্রহৃত হয়েছে' এবং 'যাইদ প্রহৃত হচ্ছে/হবে'। যদি মাজি ক্রিয়াটি অতিরিক্ত 'তা' বর্ণ দ্বারা শুরু হয়, তবে তার প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ণে পেশ হবে; যেমন: 'শিক্ষা করা হয়েছে' এবং 'পরস্পরকে প্রহার করা হয়েছে'। আর যদি তা হামজাতুল ওয়াসল দ্বারা শুরু হয়, তবে তার প্রথম ও তৃতীয় বর্ণে পেশ হবে; যেমন: 'প্রস্থান করা হয়েছে' এবং 'নিষ্কাশন করা হয়েছে'। আর যদি মাজি ক্রিয়াটি মু'তালুল আইন (মধ্যবর্ণ অসুস্থ) হয়, তবে তার ফা-কালিমায় (প্রথম মূল বর্ণে) যের প্রদান করা জায়েজ, যার ফলে তার আইন-কালিমা (মধ্যবর্ণ) 'ইয়া' বর্ণে রূপান্তরিত হবে; যেমন: 'বলা হয়েছে' এবং 'বিক্রি করা হয়েছে'। আবার কাসরাকে (যের) যম্মার (পেশ) ইশমাম করাও বৈধ, যা হলো যেরের সাথে পেশের শব্দের কিছুটা মিশ্রণ। এছাড়াও ফা-কালিমায় পেশ প্রদান করাও জায়েজ, যার ফলে আইন-কালিমাটি সাকিনযুক্ত 'ওয়াও' বর্ণে রূপান্তরিত হবে; যেমন: 'বলা হয়েছে' এবং 'বিক্রি করা হয়েছে'।নায়েবে ফায়েল দুই প্রকার: প্রকাশ্য (যাহির) এবং অপ্রকাশ্য (মুযমার); প্রকাশ্য-এর উদাহরণ যেমন: {এবং যখন আপনি কুরআন পাঠ করেন} (৪৫) সূরা আল-ইসরা; একটি উদাহরণ পেশ করা হলো; {এবং ফয়সালা সম্পন্ন হলো} (২১০) সূরা আল-বাকারাহ; {অনুমানকারীরা ধ্বংস হোক} (১০) সূরা আয-যারিয়াত; {অপরাধীদের তাদের লক্ষণ দেখে চেনা যাবে} (৪১) সূরা আর-রাহমান।
(খণ্ড: ১)
মুতাম্মিমাতুল আজরুমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
والمضمر نحو: ُضرِبْتُ، وضربنا وضُرَِبتْ إلى أخر ما تقدم؛ لكن يبنى الفعل للمفعول وينوب عن الفاعل واحد من أربعة، الأول: المفعول به كما تقدم، الثاني: الظرف نحو: جُلس أمامك، وِصيم رمضان؛ والثالث: الجار والمجرور نحو: {وَلَمَّا سُقِطَ فَي أَيْدِيهِمْ} (149) سورة الأعراف؛ والرابع: المصدر نحو: فإذا نفخ في الصور نفخة واحدة، ولا ينوب غير المفعول به مع وجوده غالباً؛ وإذا كان الفعل متعدياً لأثنين جعل أحدهما نائباً عن الفعل وينصب الثاني نحو: أُعْطِيَ زيدٌ درهماً.باب المبتدأ والخبر:المبتدأ هو: الاسم المرفوع العاري عن العوامل اللفظية وهو قسمان: ظاهر ومضمر؛ فالمضمر أنا وأخواته التي تقدمت في فصل المضمر؛ والظاهر قسمان: مبتدأ له خبر، ومبتدأ له مرفوع سد مسد الخبر؛ فالأول: نحو: {اللَّهُ رَبُّنَا} (15) سورة الشورى؛ و {مُّحَمَّدٌ رَّسُولُ اللَّهِ} (29) سورة الفتح؛ والثاني هو اسم الفاعل واسم المفعول إذا تقدم عليهما نفي أو استفهام نحو: أقائم زيد؟ وما قائم الزيدان، وهل مضروب العمران؟ وما مضروب العمران؛ ولا يكون المبتدأ نكرةً إلا بمسوغ، والمسوغات كثيرة منها: أن يتقدم على النكرة نفي، أو استفهام نحو: ما رجل قائم، وهل رجل جالس؟ {أَإِلَهٌ مَّعَ اللَّهِ} (60) سورة النمل؛ ومنها أن تكون موصوفة نحو: {وَلَعَبْدٌ مُّؤْمِنٌ خَيْرٌ مِّن مُّشْرِكٍ} (221) سورة البقرة؛ ومنها أن تكون مضافة نحو: "خمسُ صلواتٍ كتبهن الله"؛ ومنها أن يكون الخبر ظرفاً أو جارا ومجروراً مقدمين على النكرة نحو: عندك رجل، وفي الدار امرأة، ونحو: {وَلَدَيْنَا مَزِيدٌ} (35) سورة ق؛ {عَلَى أَبْصَارِهِمْ غِشَاوَةٌ} (7) سورة البقرة؛ وقد يكون المبتدأ مصدراً مؤولا من أن والفعل نحو: {وَأَن تَصُومُواْ خَيْرٌ لَّكُمْ} (184) سورة البقرة؛ أي: صوموا خير لكم.
এবং সর্বনাম (مضمر) যেমন: ‘আমি প্রহৃত হয়েছি’, ‘আমরা প্রহৃত হয়েছি’, এবং ‘সে (স্ত্রী) প্রহৃত হয়েছে’—পূর্বের আলোচনার শেষ পর্যন্ত; তবে ক্রিয়াটি কর্মবাচ্যে (مبنى للمفعول) গঠিত হয় এবং চারটির মধ্য থেকে কোনো একটি কর্তার স্থলাভিষিক্ত (نائب الفاعل) হয়। প্রথমত: কর্ম (مفعول به) যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। দ্বিতীয়ত: ক্রিয়ার আধার বা সময়/স্থান (الظرف) যেমন: ‘তোমার সামনে বসা হয়েছে’ এবং ‘রমজানে রোজা রাখা হয়েছে’। তৃতীয়ত: অব্যয় ও তার পরবর্তী শব্দ (الجار والمجرور) যেমন: “আর যখন তারা অনুতপ্ত হলো” (সূরা আল-আ'রাফ: ১৪৯)। চতুর্থত: ক্রিয়ামূল (المصدر) যেমন: “অতঃপর যখন শিংগায় একটি মাত্র ফুৎকার দেওয়া হবে”। সাধারণত কর্ম (مفعول به)-এর উপস্থিতিতে অন্য কিছু স্থলাভিষিক্ত হয় না। আর যদি ক্রিয়াটি দ্বিকর্মক (متعدياً لأثنين) হয়, তবে একটিকে ক্রিয়ার স্থলাভিষিক্ত করা হয় এবং দ্বিতীয়টিকে নসব (ينصب) প্রদান করা হয়, যেমন: ‘জায়েদকে একটি দিরহাম দেওয়া হয়েছে’।মুক্তাদা ও খবরের পরিচ্ছেদ:মুক্তাদা (المبتدأ) হলো: সেই মারফু (مرفوع) বিশেষ্য যা শাব্দিক আমলসমূহ (العوامل اللفظية) থেকে মুক্ত। এটি দুই প্রকার: প্রকাশ্য (ظاهر) এবং সর্বনাম (مضمر)। সর্বনাম হলো ‘আমি’ (أنا) এবং তার সমগোত্রীয় শব্দসমূহ যা সর্বনামের আলোচনায় পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। প্রকাশ্য দুই প্রকার: এমন মুক্তাদা যার খবর (خبر) আছে এবং এমন মুক্তাদা যার মারফু (مرفوع) পদটি খবরের স্থলাভিষিক্ত (سد مسد الخبر) হয়েছে। প্রথম প্রকারের উদাহরণ: “আল্লাহ আমাদের পালনকর্তা” (সূরা আশ-শূরা: ১৫); এবং “মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল” (সূরা আল-ফাতহ: ২৯)। দ্বিতীয় প্রকারটি হলো কর্তৃবাচক বিশেষ্য (اسم الفاعل) এবং কর্মবাচক বিশেষ্য (اسم المفعول) যখন তাদের পূর্বে নাবাচক (نفي) বা প্রশ্নবোধক (استفهام) শব্দ আসে, যেমন: ‘জায়েদ কি দণ্ডায়মান?’, ‘উভয় জায়েদ দণ্ডায়মান নয়’, ‘উভয় আমর কি প্রহৃত হয়েছে?’, এবং ‘উভয় আমর প্রহৃত হয়নি’। মুক্তাদা সাধারণত অনির্দিষ্ট (نكرة) হয় না, বৈধকারী কারণ (مسوغ) ব্যতীত। আর বৈধকারী কারণসমূহ অনেক, তন্মধ্যে রয়েছে: অনির্দিষ্ট বিশেষ্যের পূর্বে নাবাচক বা প্রশ্নবোধক শব্দ আসা, যেমন: ‘কোনো ব্যক্তি দণ্ডায়মান নেই’, ‘কোনো ব্যক্তি কি উপবিষ্ট আছে?’, “আল্লাহর সাথে কি অন্য কোনো ইলাহ আছে?” (সূরা আন-নামল: ৬০)। তন্মধ্যে আরও আছে বিশেষ্যটি গুণান্বিত (موصوفة) হওয়া, যেমন: “আর মুশরিক পুরুষের চেয়ে মুমিন ক্রীতদাস উত্তম” (সূরা আল-বাকারা: ২২১)। আরও একটি কারণ হলো সম্বন্ধযুক্ত (مضافة) হওয়া, যেমন: “পাঁচটি সালাত যা আল্লাহ নির্ধারিত করেছেন”। আরও একটি কারণ হলো খবরটি ক্রিয়ার আধার (ظرف) বা অব্যয় ও তার পরবর্তী পদ (جار ومجرور) হওয়া যা অনির্দিষ্ট মুক্তাদার পূর্বে আসবে, যেমন: ‘তোমার কাছে এক ব্যক্তি আছে’, ‘ঘরে একজন নারী আছে’, এবং যেমন: “আর আমাদের কাছে আছে অতিরিক্ত” (সূরা ক্বাফ: ৩৫); “তাদের চোখের উপর পর্দা রয়েছে” (সূরা আল-বাকারা: ৭)। কখনও মুক্তাদাটি ‘আন’ (أن) এবং ক্রিয়া হতে গঠিত ব্যাখ্যাকৃত ক্রিয়ামূল (مصدر مؤول) হয়ে থাকে, যেমন: “আর রোজা রাখা তোমাদের জন্য কল্যাণকর” (সূরা আল-বাকারা: ১৮৪); অর্থাৎ: তোমাদের রোজা পালন তোমাদের জন্য কল্যাণকর।
(খণ্ড: ১)
মুতাম্মিমাতুল আজরুমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
والخبر هو الجزء الذي يتمم به الفائدة مع مبتدأ وهو قسمان: مفرد وغير مفرد؛ فالمفرد نحو زيد قائم، والزيدان قائمان، والزيدون قائمون، وزيد أخوك؛ وغير المفرد: إما جملة فعلية نحو: زيد قام أبوه؛ {وَرَبُّكَ يَخْلُقُ مَا يَشَاء وَيَخْتَارُ} (68) سورة القصص؛ {وَاللهُ يَقْبِضُ وَيَبْسُطُ} (245) سورة البقرة؛ {اللَّهُ يَتَوَفَّى الْأَنفُسَ} (42) سورة الزمر؛ وأما شبه الجملة وهو الظرف والجار والمجرور؛ فالظرف نحو زيد عندك، والسفر غداً؛ {وَالرَّكْبُ أَسْفَلَ مِنكُمْ} (42) سورة الأنفال؛ والجار والمجرور نحو: زيد في الدار؛ {وَالْحَمْدُ لِلّهِ} (45) سورة الأنعام.ويتعلق الظرف والجار والمجرور إذا وقعا خبراً بمحذوف وجوباً تقديره كائن أو مستقر؛ ولا يخبر بظرف الزمان عن الذات فلا يقال زيد اليوم؛ وإنما يخبر به عن المعاني نحو: الصوم اليوم، والسفر غداً وقولهم الليلة الهلال مؤول.ويجوز تعدد الخبر نحو: زيد كاتب وشاعر؛ {وَهُوَ الْغَفُورُ الْوَدُودُ (14) ذُو الْعَرْشِ الْمَجِيدُ (15) فَعَّالٌ لِّمَا يُرِيدُ (16) } سورة البروج.وقد يتقدم على المبتدأ جوازاً نحو: في الدار زيد ووجوباً نحو: أين زيد؟ وإنما عندك زيد؛ {أَمْ عَلَى قُلُوبٍ أَقْفَالُهَا} (24) سورة محمد؛ وفي الدار رجل؛ وقد يحذف كل من المبتدأ والخبر جوازاً نحو: {سَلَامٌ قَوْمٌ مُّنكَرُونَ} (25) سورة الذاريات؛ أي: سلام عليكم أنم قوم منكرون؛ ويجب حذف الخبر بعد لولا نحو: {لَوْلَا أَنتُمْ لَكُنَّا مُؤْمِنِينَ} (31) سورة سبأ؛ أي لولا أنتم موجودون؛ وبعد القسم الصريح نحو: {لَعَمْرُكَ إِنَّهُمْ لَفِي سَكْرَتِهِمْ يَعْمَهُونَ} (72) سورة الحجر؛ أي لعمرك قسمي؛ وبعد واو المعية نحو: كل صانع وما صنع أي: مقرونان؛ وقبل الحال التي لا تصلح أن تكون خبراً نحو: َضْربي زيداً قائماً أي إذا كان قائما.
সংবাদ (الخبر) হলো এমন একটি অংশ যা উদ্দেশ্য (مبتدأ)-এর সাথে মিলে বাক্যকে পূর্ণতা দান করে। এটি দুই প্রকার: একপদী (مفرد) এবং একপদী নয় এমন (غير مفرد)। একপদী (مفرد)-এর উদাহরণ যেমন: যায়েদ দণ্ডায়মান, দুই যায়েদ দণ্ডায়মান, সকল যায়েদ দণ্ডায়মান এবং যায়েদ তোমার ভাই। আর একপদী নয় এমন (غير مفرد) হলো: হয় সেটি ক্রিয়াবাচক বাক্য (جملة فعلية) হবে, যেমন: যায়েদের পিতা দাঁড়িয়েছেন; {আর আপনার পালনকর্তা যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন এবং মনোনীত করেন} (সূরা আল-কাসাস: ৬৮); {আর আল্লাহই সংকুচিত ও প্রশস্ত করেন} (সূরা আল-বাকারা: ২৪৫); {আল্লাহই প্রাণসমূহ কবজ করেন} (সূরা আয-যুমার: ৪২); অথবা সেটি বাক্যসদৃশ (شبه الجملة) হবে, যা হলো কাল-স্থানবাচক বিশেষ্য (الظرف) এবং অব্যয় ও অন্বয় পদ (الجار والمجرور)। কাল-স্থানবাচক বিশেষ্য (الظرف)-এর উদাহরণ যেমন: যায়েদ তোমার নিকট এবং সফর আগামীকাল; {আর কাফেলা তোমাদের চেয়ে নিচু অবস্থানে ছিল} (সূরা আল-আনফাল: ৪২)। আর অব্যয় ও অন্বয় পদ (الجار والمجرور)-এর উদাহরণ যেমন: যায়েদ ঘরের মধ্যে; {আর সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য} (সূরা আল-আনআম: ৪৫)।যদি কাল-স্থানবাচক বিশেষ্য (الظرف) এবং অব্যয় ও অন্বয় পদ (الجار والمجرور) সংবাদ (الخبر) হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তবে তারা আবশ্যিকভাবে (وجوباً) একটি উহ্য (محذوف) পদের সাথে সংশ্লিষ্ট থাকে, যার সম্ভাব্য রূপ (تقديره) হলো ‘বিদ্যমান’ বা ‘স্থির’। কোনো সত্তা (الذات) সম্পর্কে কালবাচক বিশেষ্য (ظرف الزمان) দ্বারা সংবাদ দেওয়া যায় না, তাই ‘যায়েদ আজ’ বলা যাবে না। তবে এটি দিয়ে ভাববাচক বিষয়ের (المعاني) সংবাদ দেওয়া যায়, যেমন: ‘রোজা আজ’ এবং ‘সফর আগামীকাল’। আর আরবদের উক্তি ‘আজ রাতে নতুন চাঁদ’ বাক্যটি ব্যাখ্যাসাপেক্ষ (مؤول)।সংবাদ (الخبر) একাধিক হওয়া বৈধ (جوازاً), যেমন: যায়েদ একজন লেখক ও কবি; {আর তিনি পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু (১৪) আরশের অধিপতি, সম্মানিত (১৫) তিনি যা ইচ্ছা করেন, তা-ই করেন (১৬)} (সূরা আল-বুরুজ)।কখনো কখনো সংবাদ (الخبر) উদ্দেশ্য (مبتدأ)-এর পূর্বে আসা বৈধ (جوازاً), যেমন: ‘ঘরে যায়েদ আছে’; এবং কখনো আগে আসা আবশ্যক (وجوباً), যেমন: ‘যায়েদ কোথায়?’, ‘যায়েদ তো কেবল তোমার কাছেই’; {নাকি তাদের অন্তরের ওপর তালা লেগে আছে?} (সূরা মুহাম্মদ: ২৪); এবং ‘ঘরে একজন লোক আছে’। কখনো কখনো উদ্দেশ্য (مبتدأ) এবং সংবাদ (الخبر)-এর প্রত্যেকটিই বৈধভাবে (جوازاً) উহ্য (حذف) হতে পারে, যেমন: {সালাম, আপনারা তো অপরিচিত লোক} (সূরা আয-যারিয়াত: ২৫); অর্থাৎ: আপনাদের ওপর সালাম হোক (سلام عليكم), আপনারা অপরিচিত লোক (أنتم قوم منكرون)। আর ‘লাওলা’ (لولا)-এর পর সংবাদ (الخبر) উহ্য (حذف) থাকা আবশ্যক (وجوباً), যেমন: {তোমরা না থাকলে আমরা অবশ্যই মুমিন হতাম} (সূরা সাবা: ৩১); অর্থাৎ যদি তোমরা বিদ্যমান না থাকতে। আর সুস্পষ্ট শপথের (القسم الصريح) পর সংবাদ উহ্য থাকা আবশ্যক (وجوباً), যেমন: {আপনার প্রাণের শপথ, নিশ্চয়ই তারা তাদের নেশায় দিকভ্রান্ত হয়ে আছে} (সূরা আল-হিজর: ৭২); অর্থাৎ আপনার প্রাণের শপথ হলো আমার কসম। আর সাথে থাকার অর্থবোধক ‘ওয়াও’ (واو المعية) এর পর সংবাদ উহ্য থাকা আবশ্যক (وجوباً), যেমন: ‘প্রত্যেক কারিগর ও তার কাজ’, অর্থাৎ তারা পরস্পর সংযুক্ত। আর এমন অবস্থার (الحال) পূর্বে সংবাদ উহ্য থাকা আবশ্যক (وجوباً) যা সংবাদ হওয়ার যোগ্য নয়, যেমন: ‘যায়েদকে আমার প্রহার করা দণ্ডায়মান অবস্থায়’, অর্থাৎ যখন সে দণ্ডায়মান থাকে।
(খণ্ড: ১)
মুতাম্মিমাতুল আজরুমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
باب العوامل التي تدخل على المبتدأ والخبر:باب العوامل الداخلة على المبتدا والخبر وتسمى النواسخ؛ ونواسخ الإبتداء هي ثلاثة أنواع: الأول: مايرفع المبتدأ وينصب الخبر وهو كان وأخواتها والحروف المشبهة بليس، وأفعال المقاربة؛ والثاني: ما ينصب المبتدأ ويرفع الخبر وهو إن وأخواتها ولا التي تنفي الجنس؛ والثالث ما ينصب المبتدأ والخبر جميعاً وهو ظن وأخواتها.فصل كان وأخواتها:فأما كان وأخواتها فإنها ترفع المبتدأ تشبيهاً بالفاعل ويسمى اسمها تنصب الخبر تشبيها بالمفعول ويسمى خبرها؛ وهذه الأفعال على ثلاثة أقسام: أحدها ما يعمل هذا العمل من غير شرط وهو: كان، أمسى، وأصبح، وظل، وبات، وصار، وليس، نحو: {وَكَانَ اللهُ غَفُورًا رَّحِيمًا} (96) سورة النساء؛ {فَأَصْبَحْتُم بِنِعْمَتِهِ إِخْوَانًا} (103) سورة آل عمران؛ {لَيْسُواْ سَوَاء} (113) سورة آل عمران؛ {ظَلَّ وَجْهُهُ مُسْوَدًّا} (58) سورة النحل؛ والثاني: ما يعمل هذا العمل بشرط أن يتقدمه نفي أو نهي أو دعاء وهو أربعة: زال، وفتئ، وبرح، وانفك، نحو: {وَلَا يَزَالُونَ مُخْتَلِفِينَ} (118) سورة هود؛ {لَن نَّبْرَحَ عَلَيْهِ عَاكِفِينَ} (91) سورة طه؛ وقول الشاعر:صاح َشِّمرْ ولا تزال ذاكراً الموت فنسيانه ضلال مبينوقوله:[ألا يا اسلمى يا دار مي على البلى] ولا زال منهلا بِجَرْعَاِئكِ القَطْرُوالثالث: ما يعمل هذا العمل بشرط أن تتقدمه ما المصدرية الظرفية وهو: دام نحو: ما دمت حياً؛ وسميت ما هذه مصدرية لأنها تقدر بالمصدر وهو الدوام، وسميت ظرفية لنيابتها عن الظرف وهو المدة.ويجوز في خبر هذه الأفعال أن يتوسط بينها وبين اسمها، نحو: {وَكَانَ حَقًّا عَلَيْنَا نَصْرُ الْمُؤْمِنِينَ} (47) سورة الروم؛ وقول الشاعر:[سلي إن جهلت الناس عنا وعنهم] فليس سواء عالم وجهول
মুক্তাদা ও খবরের ওপর প্রভাব বিস্তারকারী আমলসমূহ সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ:মুক্তাদা ও খবরের ওপর প্রবেশকারী আমলসমূহ সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ, যেগুলোকে ‘নওয়াসিখ’ (পরিবর্তনকারী) বলা হয়; আর ইবতিদার (প্রারম্ভিক অবস্থার) পরিবর্তনকারীসমূহ তিন প্রকার: প্রথমত: যা মুক্তাদাকে রফ্ (পেশ) প্রদান করে এবং খবরকে নাসব (যবর) প্রদান করে; আর তা হলো কান ও তার সমগোত্রীয় শব্দাবলি, ‘লাইসা’ এর সদৃশ হরফসমূহ এবং আফয়ালুল মুকারাবাহ (নৈকট্যজ্ঞাপক ক্রিয়া)। দ্বিতীয়ত: যা মুক্তাদাকে নাসব প্রদান করে এবং খবরকে রফ্ প্রদান করে; আর তা হলো ইন্না ও তার সমগোত্রীয় শব্দাবলি এবং ‘লা’ যা কোনো জাতীয় সত্তাকে ঢালাওভাবে অস্বীকার করার জন্য ব্যবহৃত হয়। তৃতীয়ত: যা মুক্তাদা ও খবর উভয়কে একই সাথে নাসব প্রদান করে; আর তা হলো ঝান্না ও তার সমগোত্রীয় শব্দাবলি।কান ও তার সমগোত্রীয় ক্রিয়াপদসমূহের অনুচ্ছেদ:কান ও তার সমগোত্রীয় ক্রিয়াগুলো মূলত ফায়েল বা কর্তার সাথে সাদৃশ্য রেখে মুক্তাদাকে রফ্ প্রদান করে এবং তখন তাকে এর ‘ইসম’ বলা হয়; আর মাফউল বা কর্মের সাথে সাদৃশ্য রেখে খবরকে নাসব প্রদান করে এবং তখন তাকে এর ‘খবর’ বলা হয়। এই ক্রিয়াপদগুলো তিন ভাগে বিভক্ত: প্রথমটি হলো যা কোনো শর্ত ছাড়াই এই আমল করে; সেগুলো হলো: কান, আমসা, আসবাহা, জাল্লা, বাতা, সারা এবং লাইসা। যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: "আর আল্লাহ ছিলেন পরম ক্ষমাশীল ও অত্যন্ত দয়ালু" (৯৬) সুরা আন-নিসা; "অতঃপর তোমরা তাঁর অনুগ্রহে ভাই ভাই হয়ে গেলে" (১০৩) সুরা আলে ইমরান; "তারা সবাই সমান নয়" (১১৩) সুরা আলে ইমরান; "তার মুখমণ্ডল কালো হয়ে গেল" (৫৮) সুরা আন-নাহল। দ্বিতীয়টি হলো যা আমল করার জন্য পূর্বে নফী (না-বোধক), নাহি (নিষেধাজ্ঞা) অথবা দুআ (প্রার্থনা) থাকা শর্ত; আর সেগুলো সংখ্যায় চারটি: জালা, ফতিয়া, বারিহা এবং ইনফাক্কা। যেমন: "তারা সর্বদা মতভেদ করতেই থাকবে" (১১৮) সুরা হুদ; "আমরা এর উপাসনায় নিবিষ্ট থাকবই" (৯১) সুরা ত্বহা; এবং কবির উক্তি:হে বন্ধু! কোমর বাঁধো এবং মৃত্যুকে সর্বদা স্মরণে রাখো, কেননা মৃত্যুবিস্মৃতি সুস্পষ্ট গোমরাহি।এবং কবির উক্তি:[হে মিয়্যার আবাসস্থল, জীর্ণ হওয়া সত্ত্বেও শান্তিতে থাকো] আর তোমার তৃষ্ণার্ত প্রান্তরে বারিধারা যেন সর্বদা বর্ষিত হয়ে সিক্ত করতে থাকে।তৃতীয়টি হলো যা আমল করার জন্য তার পূর্বে ‘মা মাসদারিয়্যাহ যারফিয়্যাহ’ থাকা শর্ত; আর তা হলো: দামা। যেমন: "যতক্ষণ আমি জীবিত থাকি"; এখানে এই ‘মা’-কে মাসদারিয়্যাহ নামকরণ করা হয়েছে কারণ এটি মাসদার বা ক্রিয়ামূলের (অর্থাৎ স্থায়িত্ব) অর্থে ব্যবহৃত হয়, আর একে যারফিয়্যাহ বলা হয়েছে কারণ এটি যারফ বা সময়ের স্থলাভিষিক্ত হয়।এই ক্রিয়াপদগুলোর খবর তার ইসম এবং ক্রিয়াপদটির মাঝখানে আসাও জায়েজ বা বৈধ। যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: "মুমিনদের সাহায্য করা আমার দায়িত্ব ছিল" (৪৭) সুরা আর-রুম; এবং কবির উক্তি:[যদি লোকদের সম্পর্কে তোমার জ্ঞান না থাকে তবে আমাদের ও তাদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করো] কারণ জ্ঞানী ও মূর্খ কখনোই সমান নয়।
(খণ্ড: ১)
মুতাম্মিমাতুল আজরুমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
ويجوز أن يتقدم أخبارهن عليهن إلا ليس، ودام كقولك: عالماً كان زيد؛ ولتصاريف هذه الفعال من المضارع والأمر والمصدر واسم الفاعل ما للماضي من العمل، نحو: {حَتَّى يَكُونُواْ مُؤْمِنِينَ} (99) سورة يونس؛ وقل كونوا حجارةً؛ وتستعمل هذه الفعال تامة أي مستغنية عن الخبر نحو: وإن كان ذو عسرة؛ أي وإن حصل؛ فسبحان الله حين تمسون وحين تصبحون؛ أي: حين تدخلون في الصباح، وحين تدخلون في المساء؛ إلا زال وفتئ وليس فإنها ملازمة للنقص؛ وتختص كان بجواز زيادتها بشرط أن تكون بلفظ الماضي وأن تكون في حشو الكلام، نحو: ما كان أحسن زيداً؛ وتختص أيضاً بجواز حذفها مع اسمها وإبقاء خبرها وذلك كثير بعد لو، وإن الشرطيتين كقوله صلى الله عليه وسلم" التمس ولو خاتما من حديد" وقولهم" الناس مجزيون بأعمالهم إن خيراً فخير وإن شراً فشر"؛ وتختص أيضا بجواز حذف نون مضارعها المجزوم إن لم يلقها ساكن ولا ضمير نصب، نحو: {وَلَمْ أَكُ بَغِيًّا} (20) سورة مريم؛ {وَلَا تَكُ فِي ضَيْقٍ} (127) سورة النحل؛ {وَإِن تَكُ حَسَنَةً} (40) سورة النساء.فصل في الحروف المشبهة بليس:وأما الحروف المشبهة بليس فأربعة: ما، ولا، وإن، ولات؛ فأما ما فتعمل عمل ليس عند الحجازيين بشرط:ألا تقترن بأن،ولا يقترن خبرها بإلا،وألا يتقدم خبرها على اسمها،ولا معمول خبرها على اسمها، إلا إذا كان المعمول ظرفاً او جاراً ومجروراً.
আর 'লাইসা' (ليس) এবং 'দামা' (دام) ব্যতীত এগুলোর খবর (خبر) তাদের পূর্বে আসা বৈধ; যেমন তোমার উক্তি: 'আলিমান কানা জাইদুন' (বিদ্বান ছিল জায়েদ)। আর এই ক্রিয়াসমূহ থেকে যা কিছু রূপান্তরিত হয়—যেমন বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া (مضارع), আদেশবাচক ক্রিয়া (أمر), ক্রিয়ামূল (مصدر) এবং কর্তাবাচক বিশেষ্য (اسم الفاعل)—সেগুলোর আমল (عمل) অতীতকালীন ক্রিয়ার (ماضي) অনুরূপ। যেমন: {যাতে তারা বিশ্বাসী (مؤمنين) না হওয়া পর্যন্ত} সূরা ইউনুস: ৯৯; এবং {বলুন, তোমরা পাথর হয়ে যাও}। এবং এই ক্রিয়াসমূহ পূর্ণাঙ্গ (تامة) হিসেবে ব্যবহৃত হয়, অর্থাৎ যা খবর (خبر) থেকে অমুখাপেক্ষী; যেমন: {আর যদি অভাবগ্রস্ত হয়}; অর্থাৎ যদি ঘটে। {সুতরাং আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা কর যখন তোমরা সন্ধ্যায় উপনীত হও এবং সকালে উপনীত হও}; অর্থাৎ: যখন তোমরা সকালে প্রবেশ কর এবং যখন তোমরা সন্ধ্যায় প্রবেশ কর। তবে 'যালা' (زال), 'ফাতিয়া' (فتئ) এবং 'লাইসা' (ليس) ব্যতীত; কেননা এগুলো সর্বদা অপূর্ণাঙ্গ (ناقصة) হিসেবেই থাকে। এবং 'কানা' (كان)-এর একটি বিশেষত্ব হলো এটি অতিরিক্ত (زيادة) হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে, শর্ত হলো এটি অতীতকালীন (ماضي) শব্দরূপে হতে হবে এবং বাক্যের মধ্যবর্তী স্থানে (حشو الكلام) হতে হবে; যেমন: 'মা কানা আহসানা জাইদান' (জায়েদ কতই না সুন্দর ছিল)। এটি (কানা) তার ইসম (اسم) সহ বিলুপ্ত (حذف) হওয়া এবং তার খবর (خبر) অবশিষ্ট থাকার বৈধতার মাধ্যমেও বিশিষ্ট হয়। এটি 'লাও' (لو) এবং 'ইন' (إن) শর্তবাচক (شرطية) অব্যয়দ্বয়ের পরে অধিকহারে ঘটে। যেমন নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী: "অনুসন্ধান কর, যদিও তা লোহার একটি আংটিও হয়" এবং তাদের কথা: "মানুষ তাদের আমল অনুযায়ী প্রতিদান প্রাপ্ত হবে, যদি উত্তম হয় তবে উত্তম প্রতিদান, আর যদি মন্দ হয় তবে মন্দ প্রতিদান।" এটি আরও বিশিষ্ট হয় এর জযমযুক্ত (مجزوم) মুদারি (مضارع) থেকে 'নুন' বিলুপ্ত (حذف) করার বৈধতার মাধ্যমে, যদি সেটির পরে কোনো সাকিন (ساكن) বা নসবের সর্বনাম (ضمير نصب) না আসে। যেমন: {এবং আমি ব্যভিচারিণী ছিলাম না} সূরা মারইয়াম: ২০; {এবং তুমি সংকীর্ণতায় থেকো না} সূরা আন-নাহল: ১২৭; {আর যদি তা নেকি (حسنة) হয়} সূরা আন-নিসা: ৪০।'লাইসা' (ليس)-এর সদৃশ অব্যয়সমূহের পরিচ্ছেদ:আর 'লাইসা' (ليس)-এর সদৃশ অব্যয়সমূহ চারটি: মা (ما), লা (لا), ইন (إن) এবং লাতা (لات)। তবে 'মা' (ما) হিজাজিদের নিকট 'লাইসা' (ليس)-এর মতো আমল (عمل) করে কয়েকটি শর্তে:এটি যেন 'আন' (أن) এর সাথে যুক্ত না হয়,এর খবর (خبر) যেন 'ইল্লা' (إلا) এর সাথে যুক্ত না হয়,এর খবর (خبر) যেন এর ইসম (اسم)-এর আগে না আসে,এবং খবরের আমলকৃত শব্দ (معمول) যেন ইসমের আগে না আসে—যদি না সেই আমলকৃত শব্দটি যরফ (ظرف) বা যার-মাজরুর (جار ومجرور) হয়।
(খণ্ড: ১)
মুতাম্মিমাতুল আজরুমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
فالمستوفية هذه الشروط نحو: مازيدٌ ذاهباً؛ {مَا هَذَا بَشَرًا} (31) سورة يوسف؛ {مَّا هُنَّ أُمَّهَاتِهِمْ} (2) سورة المجادلة؛ فإن اقترنت بان الزائدة بطل عملها نحو: ما إنَّ زيد قائم، وكذلك إذا اقترن خبرها بإلا نحو: {وَمَا مُحَمَّدٌ إِلَاّ رَسُولٌ} (144) سورة آل عمران؛ وكذا إن تقدم خبرها على اسمها نحو: ما قائم زيد أو تقدم معمول الخبر وليس ظرفاً نحو: ما طعامك زيد آكل؛ فإن كان ظرفاً نحو: ما عندك زيد جالساً، لم يبطل عملها؛ وبنو تميم لا يعملونها وإن استوفت الشروط المذكورة.وأما لا فتعمل عمل ليس أيضاً عند الحجازيين فقط بالشروط المتقدمة، وتزيد بشرط آخر وهو أن يكون اسمها وخبرها نكرتين نحو: لا رجلٌ أفضلَ منك؛ وأكثر عملها في الشعر.وأما إن فتعمل عمل ليس في لغة أهل العالية بالشروط المذكورة في ما سواء كان اسمها معرفة أو نكرة نحو: إنْ زيد قائماً، وسمع من كلامهم إن أحد خيرا من أحد إلا بالعافية.وأما لات فتعمل عمل ليس بشرط ان يكون اسمها وخبرها بلفظ الحين وبأن يحذف اسمها أو خبرها؛ والغالب حذف الاسم نحو: {فَنَادَوْا وَلَاتَ حِينَ مَنَاصٍ} (3) سورة ص؛ أي: ليس الحين حين فرار وقرأ:" فنادوا ولات حينُ مناص" على ان الخبر محذوف، أي: ليس حين فرار حينا لهم.
সুতরাং এই শর্তাবলি (شروط) পূরণকারী উদাহরণ যেমন (نحو): "মা যায়দুন জাহিবান" (যায়দ যাচ্ছে না); {এটি কোনো মানুষ নয়} (সূরা ইউসুফ: ৩১); {তারা তাদের মা নয়} (সূরা আল-মুজাদালাহ: ২)। যদি এর সাথে অতিরিক্ত (زائدة) 'ইন' যুক্ত হয়, তবে তার আমল (عمل) বাতিল হয়ে যায়, যেমন (نحو): "মা ইন যায়দুন কায়িমুন"। একইভাবে যদি এর খবর (خبر) 'ইল্লা' এর সাথে যুক্ত হয়, যেমন (نحو): {মুহাম্মাদ একজন রাসূল ছাড়া আর কিছু নন} (সূরা আলে ইমরান: ১৪৪)। তদ্রূপ যদি তার খবর (خبر) তার ইসম (اسم) এর আগে চলে আসে, যেমন (نحو): "মা কায়িমুন যায়দুন"; অথবা যদি খবরের মামুল (معمول) আগে চলে আসে এবং তা জরফ (ظرف) না হয়, যেমন (نحو): "মা তয়ামাকা যায়দুন আকিলুন"। তবে তা যদি জরফ (ظرف) হয়, যেমন (نحو): "মা ইনদাকা যায়দুন জালিসান", তবে তার আমল (عمل) বাতিল হবে না। আর বনু তামীম গোত্র একে আমল (عمل) করায় না, যদিও উল্লিখিত শর্তাবলি (شروط) পূর্ণ হয়।আর 'লা' (لا) এর ক্ষেত্রেও তা হিজাজীদের নিকট কেবল পূর্বোক্ত শর্তাবলি (شروط) সাপেক্ষে 'লাইসা' এর ন্যায় আমল (عمل) করে। তবে এখানে আরও একটি অতিরিক্ত শর্ত এই যে, তার ইসম (اسم) ও খবর (خبر) উভয়টিই নাকেরা (نكرة) হতে হবে, যেমন (نحو): "লা রাজুলুন আফদ্বলা মিনকা" (তোমার চেয়ে শ্রেষ্ঠ কোনো ব্যক্তি নেই)। কবিতায় এর আমল (عمل) অধিক দেখা যায়।আর 'ইন' (إن) এর ক্ষেত্রে তা 'আহলে আলিয়া' এর ভাষায় 'মা' (ما) এর জন্য উল্লিখিত শর্তাবলি (شروط) অনুযায়ী 'লাইসা' এর আমল (عمل) করে, চাই তার ইসম (اسم) মারেফা (معرفة) হোক বা নাকেরা (نكرة), যেমন (نحو): "ইন যায়দুন কায়িমান"। তাদের ভাষা থেকে আরও বর্ণিত আছে: "সুস্বাস্থ্য ব্যতীত কেউ কারো চেয়ে শ্রেষ্ঠ নয়"।আর 'লাত' (لات) এর ক্ষেত্রে তা 'লাইসা' এর আমল (عمل) করার শর্ত হলো তার ইসম (اسم) ও খবর (خبر) 'হীন' (حين) শব্দ দ্বারা হতে হবে এবং তার ইসম (اسم) অথবা খবর (خبر) বিলুপ্ত থাকতে হবে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ইসম (اسم) বিলুপ্ত থাকে, যেমন (نحو): {অতঃপর তারা আর্তনাদ করেছিল, কিন্তু তখন পলায়নের কোনো সময় ছিল না} (সূরা সাদ: ৩); অর্থাৎ: 'লাইসা আল-হীনু হীনা ফিরারিন'। আবার কেউ "লাত হীনু মানাসিন" (পেশ দিয়ে) পড়েছেন, এই ভিত্তিতে যে খবর (خبر) এখানে বিলুপ্ত, অর্থাৎ: 'লাইসা হীনু ফিরারিন হীনান লাহুম' (পলায়নের সময়টি তাদের জন্য কোনো সময় ছিল না)।
(খণ্ড: ১)
মুতাম্মিমাতুল আজরুমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
فصل في أفعال المقاربة:وأما أفعال المقاربة فهي ثلاثة أقسام: ما وضع للدلالة على قرب الخبر وهو كاد وكَرَبَ؛ وما وضع على رجاء الخبر وهو عسى وحرى واخلولق؛ وما وضع لدلالة على الشروع وهو كثير نحو: طفق وعلق وأنشأ وأخذ وجعل، وهذه الأفعال تعمل عمل كان؛ فترفع المبتدأ وتنصب الخبر؛ إلا أن خبرها يجب ان يكون فعلا مضارعا مؤخراً عنها رافعا لضمير اسمها غالباً؛ ويجب اقترانه بأن إن كان الفعل حرى واخلولق نحو: حرى زيد أن يقوم؛ واخلولقت السماء أن تمطر؛ ويجب تجرده من أن بعد أفعال الشروع نحو: {وَطَفِقَا يَخْصِفَانِ عَلَيْهِمَا مِن وَرَقِ الْجَنَّةِ} (22) سورة الأعراف؛ والأكثر في عسى وأوشك الاقتران بأن نحو: {فَعَسَى اللهُ أَن يَأْتِيَ بِالْفَتْحِ} (52) سورة المائدة؛ وقله عليه الصلاة والسلام:"يوشك أن يقع فيه"؛ والأكثر في كاد وكرب تجرده من أمره نحو: {فَذَبَحُوهَا وَمَا كَادُواْ يَفْعَلُونَ} (71) سورة البقرة؛ وقول الشاعر:كرب القلب من جواه يذوب حين قال الوشاة هند غضوبالنوع الثاني من النواسخ:
আসন্নতা জ্ঞাপক ক্রিয়া সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ:পক্ষান্তরে আসন্নতা জ্ঞাপক ক্রিয়াগুলো তিন প্রকার: প্রথমত, যা খবরের নিকটবর্তী হওয়া বুঝানোর জন্য নির্ধারিত হয়েছে, আর তা হলো— 'কাদা' এবং 'কারাবা'; দ্বিতীয়ত, যা খবরের আশা ব্যক্ত করার জন্য নির্ধারিত হয়েছে, আর তা হলো— 'আসা', 'হারা' এবং 'ইখলাওলাকা'; তৃতীয়ত, যা কাজ শুরু করা বুঝানোর জন্য নির্ধারিত হয়েছে এবং এর সংখ্যা অনেক, যেমন— 'তাফিকা', 'আলাকা', 'আনশাআ', 'আখাযা' এবং 'জাআলা'। এই ক্রিয়াগুলো 'কানা'-এর ন্যায় আমল করে; অর্থাৎ এগুলো মুবতাদা-কে রফা এবং খবর-কে নাসাব প্রদান করে। তবে শর্ত হলো, এগুলোর খবরকে অবশ্যই একটি পরবর্তী ফে’লে মুজারে হতে হবে যা সাধারণত এগুলোর ইসিমের জমির-কে রফা প্রদান করে। যদি ক্রিয়াটি 'হারা' অথবা 'ইখলাওলাকা' হয়, তবে খবরের সাথে 'আন' যুক্ত হওয়া আবশ্যক; যেমন: "সম্ভবত জায়েদ দণ্ডায়মান হবে" এবং "সম্ভবত আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষিত হবে।" আর প্রারম্ভিক ক্রিয়াগুলোর ক্ষেত্রে খবর থেকে 'আন' মুক্ত থাকা আবশ্যক; যেমন আল্লাহর বাণী: "তারা জান্নাতের পাতা দিয়ে নিজেদের আবৃত করতে শুরু করল" (সূরা আল-আরাফ: ২২)। 'আসা' এবং 'আওশাকা' এর ক্ষেত্রে অধিকাংশ সময়ে খবরের সাথে 'আন' যুক্ত হওয়া প্রচলিত; যেমন আল্লাহর বাণী: "অতঃপর আশা করা যায় যে আল্লাহ বিজয় দান করবেন" (সূরা আল-মায়িদা: ৫২); এবং নবীজির (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) বাণী: "অচিরেই সে এতে লিপ্ত হবে।" আর 'কাদা' ও 'কারাবা' এর ক্ষেত্রে অধিকাংশ সময় খবর 'আন' মুক্ত থাকা প্রচলিত; যেমন আল্লাহর বাণী: "অতঃপর তারা তাকে জবাই করল, অথচ তারা তা করার কাছাকাছি ছিল না" (সূরা আল-বাকারা: ৭১); এবং কবির উক্তি:তীব্র ব্যথায় হৃদয় বিগলিত হওয়ার উপক্রম হলো, যখন কুৎসা রটনাকারীরা বলল যে হিন্দ রাগান্বিত।রহিতকারী (نواسخ) বিষয়সমূহের দ্বিতীয় প্রকার:
(খণ্ড: ১)
মুতাম্মিমাতুল আজরুমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وأما إن وأخواتها فتنصب المبتدأ ويسمى اسمها وترفع الخبر ويسمى خبرها وهي ستة أحرف: إنَّ وأنَّ وهما لتوكيد النسبة ونفي الشك عنها نحو: فإن الله غفور رحيم؛ ذلك بأن الله هو الحق؛ وكأن للتشبيه المؤكد نحو: كأن زيدا أسد، لكن للاستدراك نحو: زيد شجاع ولكنه بخيل، ليت للتمني نحو ليت الشباب عائد، لعل للترجي نحو لعل زيداً قادم وللتوقع نحو لعل عمرَ هالك، ولا يتقدم خبر هذه الحرف عليها ولا يتوسط بينها وبين اسمها إلا إذا كان ظرفاً أو جاراً ومجروراً نحو: {إِنَّ لَدَيْنَا أَنكَالًا} (12) سورة المزمل؛ إن في ذلك لعبرة؛ وتتعين إن المكسورة في الابتداء نحو إنا أنزلناه؛ وبعد ألا التي يستفتح بها الكلام نحو: ألا إن أولياء الله {أَلا إِنَّ أَوْلِيَاء اللهِ لَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ} (62) سورة يونس؛ وبعد حيث نحو: جلست حيث إن زيداً جالس؛ وبعد القسم نحو: {وَالْكِتَابِ الْمُبِينِ (2) إِنَّا أَنزَلْنَاهُ (3) } سورة الدخان} ؛ وبعد القول نحو: {قَالَ إِنِّي عَبْدُ اللَّهِ} (30) سورة مريم؛ وإذا دخلت اللام في خبرها نحو: {وَاللَّهُ يَعْلَمُ إِنَّكَ لَرَسُولُهُ وَاللَّهُ يَشْهَدُ إِنَّ الْمُنَافِقِينَ لَكَاذِبُونَ} (1) سورة المنافقون؛ وتتعين أن المفتوحة إذا حلت محل الفاعل نحو: {أَوَلَمْ يَكْفِهِمْ أَنَّا أَنزَلْنَا} (51) سورة العنكبوت؛ أو محل المفعول نحو: {وَلَا تَخَافُونَ أَنَّكُمْ أَشْرَكْتُم بِاللهِ} (81) سورة الأنعام؛ أو محل المبتدا نحو: {وَمِنْ آيَاتِهِ أَنَّكَ تَرَى الْأَرْضَ خَاشِعَةً} (39) سورة فصلت؛ أو دخل عليها حرف الجر نحو: {ذَلِكَ بِأَنَّ اللَّهَ هُوَ الْحَقُّ} (6) سورة الحج؛ ويجوز الأمران بعد فاء الجزاء نحو: {مَن عَمِلَ مِنكُمْ سُوءًا بِجَهَالَةٍ ثُمَّ تَابَ مِن بَعْدِهِ وَأَصْلَحَ فَأَنَّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ} (54) سورة الأنعام؛ وبعد إذا الفجائية نحو: خرجت فإذا أَنَّ زيداً قائم؛ وكذلك إذا
আর 'ইন্না' এবং এর সমগোত্রীয় শব্দাবলি প্রসঙ্গে বলা যায় যে, এগুলো মুবতাদাকে নসব প্রদান করে এবং তাকে এর ইসম বলা হয় এবং খবরকে রফ প্রদান করে এবং তাকে এর খবর বলা হয়। এগুলো ছয়টি হরফ: ইন্না এবং আন্না—এ উভয়টি সম্পর্কের দৃঢ়তা এবং তা থেকে সন্দেহ নিরসনের জন্য ব্যবহৃত হয়। যেমন: {নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু}; {তা এ কারণে যে আল্লাহ-ই সত্য}; এবং কান্না ব্যবহৃত হয় দৃঢ়তাসূচক উপমার জন্য, যেমন: "যায়েদ যেন একটি সিংহ"; লাকিন্না সংশয় নিরসনের জন্য ব্যবহৃত হয়, যেমন: "যায়েদ সাহসী কিন্তু সে কৃপণ"; লাইতা আকাঙ্ক্ষার জন্য, যেমন: "হায়! যৌবন যদি ফিরে আসত"; লাআল্লা প্রত্যাশার জন্য, যেমন: "সম্ভবত যায়েদ আসছে" এবং আশঙ্কার জন্য, যেমন: "সম্ভবত উমর ধ্বংসপ্রাপ্ত"। এই হরফগুলোর খবর এদের পূর্বে আসতে পারে না এবং এদের ও এদের ইসমের মাঝেও আসতে পারে না, তবে সেটি যদি যরফ অথবা জার ও মাজরুর হয় তবে ভিন্ন কথা। যেমন: {নিশ্চয়ই আমাদের নিকট রয়েছে শিকলসমূহ} (১২) সূরা আল-মুজ্জাম্মিল; {নিশ্চয়ই এতে রয়েছে শিক্ষা}; আর কাসরাযুক্ত ইন্না ব্যবহার করা আবশ্যক বাক্যের শুরুতে, যেমন: {নিশ্চয়ই আমরা এটি অবতীর্ণ করেছি}; এবং 'আলা'-র পরে যার মাধ্যমে কথা শুরু করা হয়, যেমন: {জেনে রেখো! নিশ্চয়ই আল্লাহর বন্ধুদের কোনো ভয় নেই} (৬২) সূরা ইউনুস; এবং 'হাইসু'-র পরে, যেমন: "আমি বসলাম যেখানে যায়েদ বসে আছে"; এবং শপথের পরে, যেমন: {সুস্পষ্ট কিতাবের শপথ (২) নিশ্চয়ই আমরা এটি অবতীর্ণ করেছি (৩)} সূরা আদ-দুখান; এবং উক্তির পরে, যেমন: {সে বলল, নিশ্চয়ই আমি আল্লাহর বান্দা} (৩০) সূরা মারইয়াম; এবং যখন এর খবরের শুরুতে 'লাম' যুক্ত হয়, যেমন: {আল্লাহ জানেন যে আপনি অবশ্যই তাঁর রাসূল এবং আল্লাহ সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে মুনাফিকরা অবশ্যই মিথ্যাবাদী (كاذبون)} (১) সূরা আল-মুনাফিকুন; আর ফাতহাযুক্ত আন্না ব্যবহার করা আবশ্যক যখন তা ফায়েলের স্থলাভিষিক্ত হয়, যেমন: {তাদের জন্য কি এটা যথেষ্ট নয় যে আমরা অবতীর্ণ করেছি} (৫১) সূরা আল-আনকাবুত; অথবা মাফউলের স্থলাভিষিক্ত হয়, যেমন: {এবং তোমরা ভয় পাও না যে তোমরা আল্লাহর সাথে শরিক করেছ} (৮১) সূরা আল-আনআম; অথবা মুবতাদার স্থলাভিষিক্ত হয়, যেমন: {তাঁর নিদর্শনাবলির মধ্যে একটি এই যে, তুমি ভূমিকে শুষ্ক-ধূসর দেখতে পাও} (৩৯) সূরা ফুসসিলাত; অথবা যখন তার পূর্বে হরফে জর প্রবেশ করে, যেমন: {তা এ কারণে যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ-ই সত্য} (৬) সূরা আল-হজ্জ; আর 'ফা'-এ জাযা-র পরে উভয়টিই জায়েজ, যেমন: {তোমাদের মধ্যে কেউ অজ্ঞতাবশত মন্দ কাজ করলে, অতঃপর তাওবা করলে এবং নিজেকে সংশোধন করলে, তবে নিশ্চয়ই তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু} (৫৪) সূরা আল-আনআম; এবং হঠাত অর্থবোধক 'ইযা'-র পরে, যেমন: "আমি বের হলাম, অমনি দেখি যায়েদ দাঁড়িয়ে আছে"; এবং অনুরূপভাবে যখন...
(খণ্ড: ১)
মুতাম্মিমাতুল আজরুমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
وقعت موقع التعليل نحو: {نَدْعُوهُ إِنَّهُ هُوَ الْبَرُّ الرَّحِيمُ} (28) سورة الطور؛ ولبيك أن الحمد والنعمة لك.وتدخل لام الابتداء بعد إن المكسورة على أربعة أشياء: على خبرها بشرط كونه مؤخراً مثبتاً نحو: {إِنَّ رَبَّكَ لَسَرِيعُ الْعِقَابِ وَإِنَّهُ لَغَفُورٌ رَّحِيمٌ} (167) سورة الأعراف؛ وعلى اسمها بشرط أن يتأخر عن الخبر نحو: {إِنَّ فِي ذَلِكَ لَعِبْرَةً لَّأُوْلِي الأَبْصَارِ} (13) سورة آل عمران؛ وعلى ضمير الفصل نحو: {إِنَّ هَذَا لَهُوَ الْقَصَصُ الْحَقُّ} (62) سورة آل عمران؛ وعلى معمول الخبر بشرط تقدمه على الخبر نحو: إن زيداً لعمر ضارب؛ وتنفصل ما الزائدة بهذه الأحرف فيبطل عملها نحو: {إِنَّمَا اللهُ إِلَهٌ وَاحِدٌ} (171) سورة النساء؛ {قُلْ إِنَّمَا يُوحَى إِلَيَّ أَنَّمَا إِلَهُكُمْ إِلَهٌ وَاحِدٌ} (108) سورة الأنبياء؛ كأنما زيد قائم؛ ولكنما، ولعلما زيد قائم؛ إلا ليت فيجوز فيها الإعمال والإهمال نحو: ليتما زيد قائم بنصب زيد ورفعه.وتخفف إن المكسورة فيكثر إهمالها نحو: {إِن كُلُّ نَفْسٍ لَّمَّا عَلَيْهَا حَافِظٌ} (4) سورة الطارق؛ ويقل إعمالها نحو: {وَإِنَّ كُلاًّ لَّمَّا لَيُوَفِّيَنَّهُمْ} (111) سورة هود؛ في قراءة من خفف إن ولما في الآيتين وتلزم واللام في خبرها إذا أهملت؛ وإن خففت المفتوحة بقي إعمالها ولكن يجب ان يكون اسمها ضمير الشأن وان يكون محذوفاً؛ ويجب أن يكون خبرها جملة نحو: {عَلِمَ أَن سَيَكُونُ ٌ} (20) سورة المزمل، وإذا خففت كأن بقي إعمالها ويجوز حذف اسمها وذكره كقوله:[ويوم توافينا بوجه مقسم] كأن ظبية تعطو إلى وارق السلموإن خففت لكن وجب إهمالها.
এটি কারণ দর্শানোর (تعليل) স্থলে ব্যবহৃত হয়েছে; যেমন: "আমরা তাঁর কাছে প্রার্থনা করি; নিশ্চয়ই তিনি সদাশয়, পরম দয়ালু" (সূরা আত-তূর: ২৮); এবং "লাব্বাইক, নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা ও নেয়ামত আপনারই জন্য"।এবং কাসরা-যুক্ত ইন্না (إن المكسورة)-এর পরে প্রারম্ভিক লাম (لام الابتداء) চারটি বিষয়ের ওপর যুক্ত হয়: খবরের (خبر) ওপর, যদি খবরটি শেষে আসে এবং ইতিবাচক হয়; যেমন: "নিশ্চয়ই আপনার প্রতিপালক দ্রুত শাস্তিদানকারী এবং নিশ্চয়ই তিনি পরম ক্ষমাশীল, দয়ালু" (সূরা আল-আরাফ: ১৬৭); ইসমের (اسم) ওপর, শর্ত হলো তা খবরের পরে আসতে হবে; যেমন: "নিশ্চয়ই এতে অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্নদের জন্য শিক্ষা রয়েছে" (সূরা আল-ইমরান: ১৩); পৃথককারী সর্বনামের (ضمير الفصل) ওপর; যেমন: "নিশ্চয়ই এটিই সত্য কাহিনী" (সূরা আল-ইমরান: ৬২); এবং খবরের আমলকৃত পদের (معمول الخبر) ওপর, শর্ত হলো তা খবরের আগে আসতে হবে; যেমন: ‘নিশ্চয়ই যায়েদ আমরকে প্রহারকারী’। অতিরিক্ত মা (ما الزائدة) এই হরফগুলোর সাথে যুক্ত হলে এদের আমল রহিত (إهمال) হয়ে যায়; যেমন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ একমাত্র ইলাহ" (সূরা আন-নিসা: ১৭১); "বলুন, আমার নিকট ওহি পাঠানো হয় যে, নিশ্চয়ই তোমাদের ইলাহ কেবল একমাত্র ইলাহ" (সূরা আল-আম্বিয়া: ১০৮); ‘যেন যায়েদ দণ্ডায়মান’; এবং ‘লাকিন্নামা’ ও ‘লাআল্লামা যায়েদুন কায়িমুন’। তবে ‘লাইতা’ (ليت) এর ব্যতিক্রম, এর ক্ষেত্রে আমল কার্যকর (إعمال) রাখা এবং আমল রহিত (إهمال) করা উভয়ই বৈধ; যেমন: ‘লাইতামা যায়েদান কায়িমুন’—এখানে যায়েদ শব্দকে নসব (نصب) এবং রফ (رفع) উভয়ই প্রদান করা যায়।কাসরা-যুক্ত ইন্না যখন লঘুকরণ (تخفيف) করা হয়, তখন এর আমল রহিত (إهمال) হওয়াই অধিক প্রচলিত; যেমন: "প্রত্যেক জীবনের ওপর একজন হিফাযতকারী রয়েছে" (সূরা আত-তারিক: ৪); এবং এর আমল কার্যকর (إعمال) হওয়া বিরল; যেমন: "আর নিশ্চয়ই তাদের প্রত্যেককে আপনার প্রতিপালক তাদের কর্মের পূর্ণ প্রতিফল দেবেন" (সূরা হুদ: ১১১)—ঐ পাঠরীতি অনুযায়ী যারা উভয় আয়াতে ‘ইন’ এবং ‘লাম্মা’ শব্দকে লঘুকরণ (تخفيف) করে পড়েছেন। আমল রহিত (إهمال) করা হলে খবরের সাথে ‘লাম’ যুক্ত হওয়া আবশ্যক। আর যদি ফাতহা-যুক্ত আন্না (المفتوحة) লঘুকরণ (تخفيف) করা হয়, তবে তার আমল কার্যকর (إعمال) থাকে, কিন্তু শর্ত হলো তার ইসমটি অবশ্যই বিষয়সূচক সর্বনাম (ضمير الشأن) হতে হবে এবং তা উহ্য (محذوف) থাকতে হবে; আর তার খবরটি অবশ্যই একটি বাক্য (جملة) হতে হবে; যেমন: "তিনি জানেন যে শীঘ্রই তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ অসুস্থ হবে..." (সূরা আল-মুজ্জাম্মিল: ২০)। আর যখন কাআন্না (كأنّ) লঘুকরণ (تخفيف) করা হয়, তখন তার আমল কার্যকর (إعمال) থাকে এবং তার ইসম উহ্য (محذوف) রাখা বা উল্লেখ করা উভয়ই বৈধ, যেমন কবির উক্তি:[এবং যেদিন তিনি সুন্দর মুখাবয়ব নিয়ে আমাদের নিকট আসলেন] যেন এক হরিণী, যা সালাম গাছের সবুজ পাতার দিকে মাথা তুলছে।আর যদি লাকিন্না (لكن) লঘুকরণ (تخفيف) করা হয়, তবে তার আমল রহিত (إهمال) করা আবশ্যক।
(খণ্ড: ১)
মুতাম্মিমাতুল আজরুমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
فصل في الكلام على لا العاملة عمَل إن:وأما لا التي لنفي الجنس فهي التي يراد بها نفي جميع الجنس على سبيل التنصيص وتعمل عمل إن فتنصب الاسم وترفع الخبر بشرط أن يكون اسمها وخبرها نكرتين؛ فإن كان اسمها مضافاً أو مشبهاً بالمضاف فهو معرب منصوب نحو: لا صاحب علم ممقوت؛ ولا طالعا جبلا حاضر؛ والمشبه بالمضاف هو ما اتصل به شيء من تمام معناه؛ وإن كان اسمها مفرداً بني على ما ينصب به لو كان معربا ونعني بالمفرد هنا وفي باب النداء ما ليس مضافاً ولا شبيها بالمضاف؛ وإن كان مفرداً أو جمع تكسير بني على الفتح نحو: لا رجل حاضر، وولا رجال حاضرون وغن كان مثنى أو جمع مذكر سالماً بني على الياء نحو: لا رجلين في الدار، ولا قائمين في السوق، وإن كان جمع مؤنث سالما بني على الكسرة نحو: لا مسلماتِ حاضرات وقد يبنى على الفتح؛ وإذا تكررت لا نحو: لا حول ولا قوة جاز في النكرة الأولى الفتح والرفع فغن فتحتها جاز في الثانية ثلاثة أوجه الفتح والنصب والرفع؛ وإن رفعت الأولى جاز لك في الثانية وجهان الرفع والفتح؛ وإن عطفت ولم تكرر وجب فتح النكرة الأولى وجاز في الثانية الرفع والنصب نحو: لا حول ولا قوة.وإن نعت اسم لا مفرداً بنعت مفرد لم يفصل بين النعت والمنعوت فاصل نحو: لا رجل ظريف جالس، جاز في النعت الفتح والنصب والرفع، فإن فصل أو كان النعت غير مفرد جاز الرفع والنصب فقط نحو: لا رجل جالس ظريفٌ وظريفاً، ولا رجل طالعا وطلع جبلا حاضر؛ وإذا جهل خبر لا وجب ذكره كما مثلنا وكقوله عليه الصلاة السلام" لا أحدَ أغيرُ من الله"؛ وإذا علم فالكثر حذفه نحو: فلا فوت؛ أي: لهم، ولا ضير؛ أي: علينا؛ ونحو لا حول ولا قوة أي لنا؛ فإن دخلت لا على معرفة أو فصل بينها وبين اسمها وجب إهمالها ورفع ما بعدها على أنه مبتدأ وخبرن ووجب تكرارها نحو لا زيد في الدار ول عمرو، ولا في الدار رجل ولا امرأةالنوع الثالث من النواسخ.
ইন্না (إن)-এর ন্যায় আমলকারী 'লা' (لا) সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ:আর যে 'লা' (لا) জাতে অস্বীকৃতি (نفي الجنس) জ্ঞাপনের জন্য ব্যবহৃত হয়, তা দ্বারা সুনির্দিষ্টভাবে (تنصيص) সেই জাতের সামগ্রিক অস্বীকৃতি বোঝানো উদ্দেশ্য হয়। এটি ইন্না (إن)-এর ন্যায় আমল করে; ফলে এটি তার ইসম বা বিশেষ্যকে (اسم) নসব (نصب) প্রদান করে এবং খবর বা বিধেয়কে (خبر) রাফ’ (رفع) প্রদান করে। তবে শর্ত হলো—এর ইসম এবং খবর উভয়কেই অনির্দিষ্ট (نكرة) হতে হবে। যদি এর ইসমটি মুদাফ বা সম্বন্ধযুক্ত (مضاف) হয় অথবা মুদাফের সদৃশ (مشبه بالمضاف) হয়, তবে তা মু'রাব বা পরিবর্তনশীল (معرب) এবং মানসুব (منصوب) হবে। যেমন: "لا صاحب علم ممقوت" (কোনো জ্ঞানবান ব্যক্তিই ঘৃণিত নয়); "لا طالعا جبلا حاضر" (কোনো পাহাড় আরোহণকারীই উপস্থিত নেই)। মুদাফের সদৃশ (مشبه بالمضاف) বলতে এমন শব্দকে বোঝায়, যার পূর্ণাঙ্গ অর্থ প্রকাশের জন্য পরবর্তী কোনো বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়া প্রয়োজন। আর যদি এর ইসমটি মুফরাদ বা একক (مفرد) হয়, তবে তা ঐ বিষয়ের ওপর মাবনি বা অপরিবর্তনীয় (مبني) হবে, যার মাধ্যমে তা মু'রাব (معرب) হওয়ার অবস্থায় মানসুব (منصوب) হতো। এখানে এবং মুনাদা (নিদাহ) পরিচ্ছেদে মুফরাদ (مفرد) বলতে আমরা যা মুদাফ (مضاف) বা মুদাফের সদৃশ (مشبه بالمضاف) নয় তাকেই বোঝাচ্ছি। যদি ইসমটি মুফরাদ (مفرد) বা জাম’ তাকসির বা ভগ্ন বহুবচন (جمع تكسير) হয়, তবে তা ফাতহাহ (فتح)-এর ওপর মাবনি (مبني) হবে; যেমন: "لا رجل حاضر" এবং "ولا رجال حاضرون"। আর যদি তা মুসান্না বা দ্বিবচন (مثنى) হয় অথবা জাম’ মুযাক্কার সালিম বা সঠিক পুরুষবাচক বহুবচন (جمع مذكر سالم) হয়, তবে তা ইয়া (ياء)-এর ওপর মাবনি (مبني) হবে; যেমন: "لا رجلين في الدার" এবং "لا قائمين في السوق"। যদি তা জাম’ মুয়ান্নাস সালিম বা সঠিক স্ত্রীবাচক বহুবচন (جمع مؤنث سالم) হয়, তবে তা কাসরাহ (كسرة)-এর ওপর মাবনি (مبني) হবে; যেমন: "لا مسلماتِ حاضرات", তবে কখনো কখনো তা ফাতহাহ (فتح)-এর ওপরও মাবনি (مبني) হতে পারে। যখন 'লা' (لا) এর পুনরাবৃত্তি ঘটে, যেমন: "لا حول ولا قوة", তখন প্রথম অনির্দিষ্ট (نكرة) শব্দটিতে ফাতহাহ (فتح) এবং রাফ’ (رفع) উভয়ই বৈধ। যদি আপনি প্রথমটিতে ফাতহাহ (فتح) প্রদান করেন, তবে দ্বিতীয়টিতে তিনটি পদ্ধতি বৈধ: ফাতহাহ (فتح), নসব (نصب) এবং রাফ’ (رفع)। আর যদি আপনি প্রথমটিতে রাফ’ (رفع) প্রদান করেন, তবে দ্বিতীয়টিতে দুটি পদ্ধতি বৈধ: রাফ’ (رفع) এবং ফাতহাহ (فتح)। আর যদি আতাফ বা সংযোজন করা হয় কিন্তু 'লা' (لا) এর পুনরাবৃত্তি না ঘটে, তবে প্রথম অনির্দিষ্ট (نكرة) শব্দটিতে ফাতহাহ (فتح) প্রদান করা আবশ্যক (واجب) এবং দ্বিতীয়টিতে রাফ’ (رفع) ও নসব (نصب) উভয়ই বৈধ; যেমন: "لا حول ولا قوة"৷যদি 'লা'-এর ইসমটি মুফরাদ (مفرد) হয় এবং এর নাত বা বিশেষণটিও (نعت) মুফরাদ (مفرد) হয় এবং বিশেষণ (نعت) ও বিশেষিত (منعوت) শব্দের মাঝে কোনো আড়াল না থাকে, যেমন: "لا رجل ظريف جالس", তবে বিশেষণের (نعت) ক্ষেত্রে ফাতহাহ (فتح), নসব (نصب) এবং রাফ’ (رفع) তিনটিই বৈধ। কিন্তু যদি মাঝে ব্যবধান থাকে অথবা বিশেষণটি (نعت) মুফরাদ (مفرد) না হয়, তবে কেবল রাফ’ (رفع) এবং নসব (نصب) বৈধ; যেমন: "لا رجل جالس ظريفٌ" এবং "ظريفاً", এবং "لا رجل طالعا" ও "طلع جبلا حاضر"। যখন 'লা'-এর খবর (خبر) অজানা থাকে, তখন তা উল্লেখ করা আবশ্যক (واجب); যেমনটি আমরা উদাহরণ দিয়েছি এবং যেমনটি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসে এসেছে: "আল্লাহর চেয়ে অধিক আত্মমর্যাদাবান আর কেউ নেই"। আর যদি খবরটি (خبر) জানা থাকে, তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা বিলুপ্ত রাখা হয়; যেমন: "فلا فوت" অর্থাৎ "لهم" (তাদের জন্য কোনো পালানোর পথ নেই), এবং "لا ضير" অর্থাৎ "علينا" (আমাদের কোনো ক্ষতি নেই); এবং "لا حول ولا قوة" অর্থাৎ "لنا" (আমাদের কোনো সামর্থ্য ও শক্তি নেই)। কিন্তু যদি 'লা' কোনো নির্দিষ্ট বা মারেফা (معرفة) শব্দের ওপর আসে অথবা 'লা' এবং তার ইসমের (اسم) মাঝে ব্যবধান সৃষ্টি হয়, তবে তার আমল বাতিল বা ইজমাল (إهمال) করা আবশ্যক (واجب) এবং পরবর্তী শব্দটিকে মুবতাদা বা উদ্দেশ্য (مبتدأ) ও খবর বা বিধেয় (خبر) হিসেবে রাফ’ (رفع) প্রদান করতে হবে। এমতাবস্থায় 'লা' (لا)-এর পুনরাবৃত্তি করাও আবশ্যক (واجب); যেমন: "لا زيد في الدار ولا عمرو" এবং "لا في الدار رجل ولا امرأة"৷নাসিখ বা রহিতকারী সমূহের (نواسخ) তৃতীয় প্রকার।
(খণ্ড: ১)
মুতাম্মিমাতুল আজরুমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
وأما ظن وأخواتها فإنها تدخل بعد استيفاء فاعلها على المبتدأ والخبر فتنصبهما على أنهما مفعولان لها وهي نوعان: احدهما: أفعال القلوب وهي: ظننت وحسبت ووخلت ورأيت وعلمت وزعمت ووجدت وحجوت وعددت وهبَّ ووجدت وألفيت ودريت وتعلم بمعنى أعلم نحو: ظننت زداً قائماً؛ وقول الشاعر:حسبت التقى والجود خير تجارة [رياحا وإذا ما المرء أصبح ثاقلا]وخلت عمراص شاخصاص؛ وقوله تعالى: {إِنَّهُمْ يَرَوْنَهُ بَعِيدًا (6) وَنَرَاهُ قَرِيبًا (7) } سورة المعارج؛ وقول الشاعر:زعمتني شيخاً ولست بشيخ [إنما الشيخ من يدب دبيباً]قوله تعالى: {وَجَعَلُوا الْمَلَائِكَةَ الَّذِينَ هُمْ عِبَادُ الرَّحْمَنِ إِنَاثًا} (19) سورة الزخرف؛ وقول الشاعر:وقد كنت أحجو أبا عمرو أخا ثقه [حتى ألمت بنا يوم ملمات]وقول الآخر:فلا تعدد المولى شريكك في الغنى [ولكنما المولى شريكك في العدم]وقوله:[فقلت أجرني أبا خالد] وإلا فهبني امرأً هالكاَوقوله تعالى: {تَجِدُوهُ عِندَ اللَّهِ هُوَ خَيْرًا} (20) سورة المزمل؛ {إِنَّهُمْ أَلْفَوْا آبَاءهُمْ ضَالِّينَ} (69) سورة الصافات؛وقولك: دريت زيداً قائماً؛ وقول الشاعرتعلم شفاء النفس قهر عدوها [فبالغ بلطف في التحيل والمكر]وإذا كنت ظن بمعنى اتهم، ورأى بمعنى أبصر، وعلم بمعنى عرف؛ لم تتعدد إلا إلى مفعول واحد نحو: ظننت زيداً؛ بمعنى اتهمته؛ ورأيت زيداً بمعنى أبصرته؛ وعلمت المسألةَ بمعنى عرفتها.
আর 'জান্না' (ظن) এবং তার সমগোত্রীয় ক্রিয়াসমূহ (أخواتها) তাদের কর্তার (فاعل) চাহিদা পূরণ করার পর মুক্তাদা (مبتدأ) ও খবর (خبر)-এর ওপর প্রবেশ করে এবং উভয়কে তাদের কর্ম (مفعول) হিসেবে নসব (نصب) প্রদান করে। এগুলো দুই প্রকার: তার একটি হলো অন্তরের ক্রিয়া (أفعال القلوب); আর সেগুলো হলো: ظننت, حسبت, خلت, رأيت, علمت, زعمت, وجدت, حجوت, عددت, هب, وجدت, ألفيت, دريت এবং تعلم যা أعلم (জানো) অর্থে ব্যবহৃত হয়। যেমন: 'আমি জায়েদকে দণ্ডায়মান মনে করলাম' (ظننت زيداً قائماً); এবং কবির উক্তি:আমি তাকওয়া ও দানশীলতাকে সর্বোত্তম ব্যবসা মনে করেছি [এমনকি যখন মানুষ নিঃস্ব বা ভারাক্রান্ত হয়ে পড়ে]আমি আমরকে দণ্ডায়মান কল্পনা করলাম; এবং আল্লাহ তাআলার বাণী: {নিশ্চয় তারা একে সুদূর মনে করে (৬) আর আমি একে নিকটবর্তী দেখছি (৭)} সূরা আল-মা'আরিজ; এবং কবির উক্তি:সে আমাকে বৃদ্ধ মনে করেছে অথচ আমি বৃদ্ধ নই [প্রকৃতপক্ষে বৃদ্ধ তো সেই যে অতি ধীরে পদচারণা করে]আল্লাহ তাআলার বাণী: {আর তারা ফেরেশতাদেরকে—যারা দয়াময়ের বান্দা—নারী সাব্যস্ত করেছে} (১৯) সূরা আয-যুখরুফ; এবং কবির উক্তি:আমি আবু আমরকে একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) ভাই মনে করতাম [যতক্ষণ না আমাদের ওপর বিপদ নেমে এল]এবং অন্য এক কবির উক্তি:সচ্ছলতার সময় বন্ধুকে তোমার অংশীদার মনে করো না [বরং প্রকৃত বন্ধু তো সে-ই যে অভাবের সময় তোমার অংশীদার হয়]এবং তাঁর উক্তি:[আমি বললাম, হে আবু খালিদ! আমাকে আশ্রয় দিন] নতুবা আমাকে একজন ধ্বংসপ্রাপ্ত ব্যক্তি মনে করুনআল্লাহ তাআলার বাণী: {তোমরা আল্লাহর নিকট যা কিছু পাবে তা-ই উত্তম} (২০) সূরা আল-মুযযাম্মিল; {নিশ্চয় তারা তাদের পিতৃপুরুষদেরকে পথভ্রষ্ট পেয়েছিল} (৬৯) সূরা আস-সাফফাত;এবং আপনার উক্তি: 'আমি জায়েদকে দণ্ডায়মান জানলাম' (دريت زيداً قائماً); এবং কবির উক্তি:জেনে রাখো, আত্মার প্রশান্তি হলো শত্রুকে পরাভূত করা [সুতরাং কৌশল ও পরিকল্পনায় বিচক্ষণতার পরিচয় দাও]আর যখন 'জান্না' (ظن) শব্দটি 'অভিযুক্ত করা' (اتهم) অর্থে, 'রাআ' (رأى) শব্দটি 'চোখে দেখা' (أبصر) অর্থে এবং 'আলিমা' (علم) শব্দটি 'পরিচয় লাভ করা' (عرف) অর্থে ব্যবহৃত হয়, তখন এগুলো কেবল একটি কর্ম (مفعول) গ্রহণ করে। যেমন: 'আমি জায়েদকে অভিযুক্ত করলাম' (ظننت زيداً); 'আমি জায়েদকে দেখলাম' (رأيت زيداً); এবং 'আমি বিষয়টি জানলাম' (علمت المسألة) অর্থাৎ আমি তা অবগত হলাম বা চিনলাম।