(খণ্ড: ১) আকিদাতু আহলিস সুন্নাহ ওয়াল আসার ফিল মাহদিয়্যিল মুনতাযার (পৃষ্ঠা: -)
عقيدة أهل السنة والأثر في المهدي المنتظر   (عبد المحسن العباد)

القسم: العقيدة


الكتاب: عقيدة أهل السنة والأثر في المهدي المنتظر

المؤلف: عبد المحسن بن حمد بن عبد المحسن بن عبد الله بن حمد العباد البدر

الناشر: مجلة الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة

العدد: السنة الأولى، العدد الثالث، ذو القعدة 1388هـ/شباط 1969م

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

عدد الصفحات: 164

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আহলুস সুন্নাহ ওয়াল আছারের আকিদা প্রতীক্ষিত মাহদী সম্পর্কে   (আব্দুল মুহসিন আল-আব্বাদ)

বিভাগ: আকিদা


বই: আহলুস সুন্নাহ ওয়াল আছারের আকিদা প্রতীক্ষিত মাহদী সম্পর্কে

লেখক: আব্দুল মুহসিন বিন হামাদ বিন আব্দুল মুহসিন বিন আব্দুল্লাহ বিন হামাদ আল-আব্বাদ আল-বাদর

প্রকাশক: মদিনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাময়িকী

সংখ্যা: প্রথম বর্ষ, তৃতীয় সংখ্যা, যুল-কাদাহ ১৩৮৮ হিজরি/ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ খ্রিস্টাব্দ

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৬৪

শামেলার প্রকাশনার তারিখ: ৮ যুল-হিজ্জাহ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আকিদাতু আহলিস সুন্নাহ ওয়াল আসার ফিল মাহদিয়্যিল মুনতাযার (পৃষ্ঠা: ১২৬)
عقيدة أهل السنة والأثر في المهدي المنتظر

 

للشيخ عبد المحسن العباد المدرس في الجامعة

 

الحمد لله الذي هدانا للإسلام وما كنا لنهتدي لولا أن هدانا الله، نحمد الله على نعمه ونسأله المزيد من فضله وكرمه ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعملنا، من يهده الله فلا مضل له ومن يضلل فلا هادي له وأشهد أن لا اله إلا الله وحده لا شريك له أرسل رسوله محمد صلى الله عليه وسلم بالهدى ودين الحق ليظهره على الدين كله، وقال مخاطبا له: {وَإِنَّكَ لَتَهْدِي إلى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ} ، وأشهد أن محمدا عبده ورسوله وخليله وخيرته من خلقه، بعثه الله إلى الناس كافة بين يدي الساعة بشير ونذيرا وداعيا إلى الله بإذنه وسراجا منيرا، أتم الله به خبرا وأمرا، فأحكامه عدل وأخباره صدق، لا ينطق عن الهوى إن هو إلا وحي يوحى. .

أخبر أمته عن الأمم الماضية بأخبار لا بد في الإيمان من التصديق بها وإنها وقعت وفق خبره صلى الله عليه وسلم وبذلك كانوا شهداء على الناس كما أخبر عن أمور مستقبلة لا بد من التصديق بها واعتقاد أنها ستقع على وفق ما جاء عنه صلى الله عليه وسلم، وما من شيء يقرب إلى الله إلا وقد دل الأمة عليه ورغبها فيه، وما من شر إلا حذرها منه، فصلوات الله وسلامه الأتمان الأكملان عليه وعلى آله وأصحابه الذين شرفهم الله بصحبته وإكرام أبصارهم في هذه الحياة الدنيا بالنظر إلى طلعته وأتم عليهم النعمة بأن جعلهم حملة سنته وعلى من حذا حذوهم وسار على نهجهم إلى يوم الدين.

أما بعد: فلما كان من بين الأمور المستقبلة التي تجرى في آخر الزمان عند نزول عيسى بن مريم عليه الصلاة والسلام من السماء خروج رجل من أهل بيت النبوة من ولد الحسن بي علي بن أبي طالب رضي الله عنه يوافق اسمه اسم الرسول صلى الله عليه
প্রতীক্ষিত মাহদী সম্পর্কে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল আসার-এর আকীদা

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শাইখ আব্দুল মুহসিন আল-আব্বাদ বিরচিত

 

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের ইসলামের দিকে পরিচালিত করেছেন এবং আল্লাহ যদি আমাদের পথ না দেখাতেন তবে আমরা পথ পেতাম না। আমরা তাঁর নিআমতসমূহের জন্য আল্লাহর প্রশংসা করছি এবং তাঁর অনুগ্রহ ও করুণার আধিক্য প্রার্থনা করছি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শন করার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক এবং তাঁর কোনো শরীক নেই। তিনি তাঁর রাসূল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে হেদায়াত ও সত্য দীনসহ পাঠিয়েছেন যাতে তাঁকে সকল দীনের ওপর বিজয়ী করেন। এবং তিনি তাঁকে সম্বোধন করে বলেছেন: "আর নিশ্চয়ই আপনি সরল পথের দিকে দিশা প্রদান করছেন।" আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা, তাঁর রাসূল, তাঁর অন্তরঙ্গ বন্ধু এবং তাঁর সৃষ্টির মধ্যে মনোনীত শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি। কিয়ামতের প্রাক্কালে আল্লাহ তাঁকে সকল মানুষের প্রতি সুসংবাদদাতা, সতর্ককারী, তাঁর অনুমতিক্রমে আল্লাহর দিকে আহ্বানকারী এবং উজ্জ্বল প্রদীপ হিসেবে পাঠিয়েছেন। আল্লাহ তাঁর মাধ্যমে সংবাদ ও বিধানকে পূর্ণতা দান করেছেন; সুতরাং তাঁর বিধানসমূহ ইনসাফপূর্ণ এবং তাঁর সংবাদসমূহ সত্য। তিনি প্রবৃত্তি থেকে কথা বলেন না, এটি তো ওহী যা তাঁর প্রতি অবতীর্ণ করা হয়।

তিনি তাঁর উম্মতকে পূর্ববর্তী জাতিসমূহ সম্পর্কে এমন সব সংবাদ দিয়েছেন যা সত্য বলে বিশ্বাস করা ঈমানের অন্তর্ভুক্ত এবং সেই ঘটনাগুলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সংবাদ অনুযায়ীই সংঘটিত হয়েছে; আর এর মাধ্যমে তারা মানুষের ওপর সাক্ষী হিসেবে গণ্য হয়েছে। অনুরূপভাবে তিনি ভবিষ্যতের বিষয়াদি সম্পর্কেও সংবাদ দিয়েছেন যেগুলোর প্রতি সত্যারোপ করা এবং বিশ্বাস রাখা অপরিহার্য যে, সেগুলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত সংবাদ অনুযায়ীই সংঘটিত হবে। এমন কোনো কল্যাণকর বিষয় নেই যা আল্লাহর নিকটবর্তী করে দেয় অথচ তিনি উম্মতকে সেদিকে দিকনির্দেশনা দেননি এবং সে বিষয়ে উৎসাহিত করেননি; আর এমন কোনো মন্দ নেই যা থেকে তিনি তাদের সতর্ক করেননি। অতএব আল্লাহর পরিপূর্ণ ও সুনিপুণ সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার ও তাঁর সাহাবীগণের ওপর, যাঁদেরকে আল্লাহ তাঁর সাহচর্যের মাধ্যমে সম্মানিত করেছেন এবং এই পার্থিব জীবনে তাঁর পবিত্র চেহারা দর্শনের মাধ্যমে তাঁদের দৃষ্টিকে ধন্য করেছেন, আর তাঁদেরকে তাঁর সুন্নতের বাহক বানিয়ে তাঁদের ওপর নিআমত পূর্ণ করেছেন; আরও বর্ষিত হোক তাঁদের ওপর যারা কিয়ামত পর্যন্ত তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করবে এবং তাঁদের আদর্শ অনুযায়ী চলবে।

অতঃপর: শেষ যামানায় ঈসা ইবনে মারিয়াম আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের আকাশ থেকে অবতরণের সময় ভবিষ্যতে সংঘটিতব্য বিষয়গুলোর মধ্যে অন্যতম হলো নবুওয়াতের পরিবার থেকে এবং হাসান বিন আলী ইবনে আবু তালিব রাযিয়াল্লাহু আনহুর বংশধরদের থেকে এক ব্যক্তির আবির্ভাব, যাঁর নাম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নামের সাথে...
(খণ্ড: ১) আকিদাতু আহলিস সুন্নাহ ওয়াল আসার ফিল মাহদিয়্যিল মুনতাযার (পৃষ্ঠা: ১২৭)
وسلم واسم أبيه اسم أبيه ويقال له المهدي يتولى أمرة المسلمين ويصلي عيسى بن مريم صلى الله عليه وسلم خلفه وذلك لدلالة الأحاديث الكثيرة المستفيضة عن رسول الله صلى الله عليه وسلم التي تلقتها الأمة بالقبول واعتقدت موجبها إلا من شذ رأيت أن يكون الكلام حول هذا الأمر موضوع محاضرتي وذلك لأمرين:

 

الأول: - أن الأحاديث الواردة في المهدي لم ترد في الصحيحين على وجه التفصيل بل جاءت مجملة، وقد وردت في غيرهما مفسرة لما فيهما فقد يظن ظان أن ذلك يقلل من شأنها وذلك خطأ واضح فالصحيح بل والحسن في غير الصحيحين مقبول معتمد عند أهل الحديث.

الثاني: - أن بعض الكتاب في هذا العصر أقدم على الطعن في الأحاديث الواردة في المهدي بغير علم بل بجهل أو بالتقليد لأحد لم يكن من أهل العناية بالحديث وقد اطلعت على تعليق لعبد الرحمن محمد عثمان على كتاب تحفة الأحوذي الذي طبع أخيرا في مصر قال في الجزء السادس في باب ما جاء في الخلفاء، قال في تعليقه: "يرى الكثيرون من العلماء أن كل ما ورد من أحاديث عن المهدي إنما هي موضع شك وأنها لا تصح عن رسول الله صلى الله عليه وسلم بل إنها من وضع الشيعة"، انتهى. وقال معلقا بشأن المهدي في باب ما جاء في تقارب الزمن وقصر الأمل في الجزء المذكور: "ويرى الكثيرون من العلماء الثقاة الأثبات أن ما ورد من أحاديث خاصة بالمهدي ليست إلا من وضع الباطنية والشيعة وأضرابهم وأنها لا تصح نسبتها إلى الرسول صلى الله عليه وسلم"، انتهى بل لقد تجرأ بعضهم إلى ما هو أكثر من ذلك فنجد محي الدين عبد الحميد يقول في تعليقه على الحاوي للفتاوى للسيوطي، يقول في آخر جزء في العرف الوردي في أخبار المهدي ص 166من الجزء الثاني: "يرى بعض الباحثين أن كل ما ورد عن المهدي وعن الدجال من الاسرائيليات"، انتهى. وأخطر من ذلك وأطم تعليق أبو رية رئيس بعثة الأزهر في لبنان في العام الماضي على كتاب النهاية لابن كثير بما معناه أن ما جاء من الأحاديث في شأن المهدي ونزول عيسى بن مريم والدجال إنما هو رمز لانتصار الحق على الباطل.

لهذين الأمرين ولكون الواجب على كل مسلم ناصح لنفسه أن لا يتردد في تصديق الرسول صلى الله عليه وسلم فيما يخبر به رأيت أن يكون الكلام حول هذا الأمر موضوع محاضرتي كما قلت وقد جعلت عنوانها عقيدة أهل السنة والأثر في المهدي المنتظر. .

ولكي تكون أيها المستمع على علم مقدما بعناصر المحاضرة أسوقها لك فيما يلي:
...এবং তাঁর পিতার নাম তাঁর (রাসূলুল্লাহর) পিতার নামের অনুরূপ হবে। তাঁকে মাহদী বলা হবে, তিনি মুসলিমদের শাসনের দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন এবং ঈসা ইবনে মারইয়াম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর পিছনে সালাত আদায় করবেন। এটি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত অসংখ্য ও সুপ্রসিদ্ধ হাদীসের দালীলিক প্রমাণের ভিত্তিতে, যা উম্মত কবুল করে নিয়েছে এবং এর বিষয়বস্তুর ওপর বিশ্বাস স্থাপন করেছে—ব্যতিক্রমী কিছু লোক ছাড়া। আমি এ বিষয়টিকেই আমার আলোচনার বিষয়বস্তু হিসেবে নির্ধারণ করা সমীচীন মনে করেছি, আর তা দুটি কারণে:

 

প্রথমত: - মাহদী সংক্রান্ত হাদীসগুলো সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এ বিস্তারিতভাবে আসেনি, বরং সংক্ষিপ্তভাবে এসেছে। তবে এই দুই কিতাবের বাইরে অন্য কিতাবগুলোতে সেগুলোর ব্যাখ্যা সংবলিত বর্ণনা এসেছে। ফলে কেউ ধারণা করতে পারে যে, এটি এগুলোর গুরুত্ব কমিয়ে দেয়; অথচ এটি একটি স্পষ্ট ভুল। কারণ, সহীহাইন ব্যতীত অন্য কিতাবসমূহে বর্ণিত সহীহ, এমনকি হাসান হাদীসও মুহাদ্দিসগণের নিকট গ্রহণযোগ্য ও নির্ভরযোগ্য।

দ্বিতীয়ত: - বর্তমান যুগের কিছু লেখক জ্ঞানহীনভাবে, বরং মূর্খতাবশত অথবা হাদীস শাস্ত্রে অভিজ্ঞ নন এমন কারো অন্ধ অনুকরণের মাধ্যমে মাহদী সংক্রান্ত হাদীসগুলোর ওপর অপবাদ ও সমালোচনা করতে উদ্যত হয়েছেন। আমি তোহফাতুল আহওয়াযী কিতাবের ওপর আব্দুর রহমান মুহাম্মাদ উসমানের একটি টীকা দেখেছি, যা সম্প্রতি মিশরে মুদ্রিত হয়েছে। ষষ্ঠ খণ্ডে 'খলীফাদের সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে' অধ্যায়ে তার টীকায় তিনি বলেছেন: "অনেক আলেম মনে করেন যে, মাহদী সম্পর্কে বর্ণিত সকল হাদীসই সন্দেহের অবকাশ রাখে এবং সেগুলো রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে সহীহভাবে প্রমাণিত নয়, বরং সেগুলো শিয়াদের উদ্ভাবিত।" (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)। তিনি উক্ত খণ্ডের 'সময়ের নিকটবর্তী হওয়া এবং আশা সংক্ষিপ্ত হওয়া' সংক্রান্ত অধ্যায়ে মাহদী প্রসঙ্গে টীকা দিতে গিয়ে বলেন: "অনেক নির্ভরযোগ্য ও সুপ্রতিষ্ঠিত আলেম মনে করেন যে, মাহদী সংক্রান্ত বিশেষ হাদীসগুলো বাতেনী, শিয়া ও তাদের সমমনাদের উদ্ভাবন ছাড়া আর কিছুই নয় এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দিকে এগুলোর সম্বন্ধ করা সঠিক নয়।" (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)। এমনকি তাদের কেউ কেউ এর চেয়েও ধৃষ্টতাপূর্ণ কথা বলেছেন। আমরা দেখি যে, মুহিউদ্দীন আব্দুল হামীদ সুয়ূতী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর 'আল-হাভী লিল ফাতাওয়া' কিতাবের টীকায় দ্বিতীয় খণ্ডের ১৬৬ পৃষ্ঠায় 'আল-উরাফুল ওয়ার্দী ফী আখবারিল মাহদী' অংশের শেষে বলেন: "কোনো কোনো গবেষক মনে করেন যে, মাহদী ও দাজ্জাল সম্পর্কে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে তা ইসরাঈলী বর্ণনা।" (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)। এর চেয়েও ভয়াবহ ও বিপদজনক হলো গত বছর লেবাননে আযহার মিশনের প্রধান আবু রাইয়্যাহ-এর ইবনে কাসীরের 'আন-নিহায়া' কিতাবের ওপর করা মন্তব্য, যার সারকথা হলো: মাহদী, ঈসা ইবনে মারইয়ামের অবতরণ এবং দাজ্জাল সংক্রান্ত হাদীসগুলো কেবল বাতিলের ওপর হকের বিজয়ের রূপক মাত্র।

এই দুটি কারণে এবং যেহেতু নিজের কল্যাণকামী প্রত্যেক মুসলিমের জন্য আবশ্যক হলো রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যা কিছু সংবাদ দিয়েছেন তা সত্য বলে মেনে নিতে দ্বিধা না করা, তাই আমি এই বিষয়টিকেই আমার আলোচনার বিষয়বস্তু হিসেবে নির্ধারণ করেছি—যেমনটি আমি বলেছি। আর আমি এর শিরোনাম দিয়েছি: 'প্রতীক্ষিত মাহদী সম্পর্কে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল আসারের আকিদা'।

হে শ্রোতা, আলোচনার মূল বিষয়গুলো সম্পর্কে আপনার পূর্বজ্ঞান থাকার জন্য আমি সেগুলো নিম্নে পেশ করছি:
(খণ্ড: ১) আকিদাতু আহলিস সুন্নাহ ওয়াল আসার ফিল মাহদিয়্যিল মুনতাযার (পৃষ্ঠা: ১২৮)
‌‌الأول: - ذكر اسماء الصحابة الذين رووا أحاديث المهدي عن رسول الله صلى الله عليه وسلم.

الثاني: - ذكر اسماء الأئمة الذين خرجوا الأحاديث والآثار الواردة في المهدي في كتبهم.

الثالث: - ذكر الذين أفردوا مسألة المهدي بالتأليف من العلماء.

الرابع: - ذكر الذين حكوا تواتر أحاديث المهدي وحكاية كلامهم في ذلك.

الخامس: - ذكر بعض ما ورد في الصحيحين من الأحاديث التي لها تعلق بشأن المهدي.

السادس: - ذكر بعض الأحاديث في شأن المهدي الواردة في غير الصحيحين مع الكلام عن أسانيد بعضها.

السابع: - ذكر بعض العلماء الذين احتجوا بأحاديث المهدي واعتقدوا موجبها وحكاية كلامهم في ذلك.

الثامن: - ذكر من وقفت عليه ممن حكى عنه إنكارأحاديث المهدي أو التردد فيها مع مناقشة كلامه باختصار.

التاسع: - ذكر بعض ما يظن تعارضه مع الأحاديث الواردة في المهدي والجواب عن ذلك.

العاشر: -كلمة ختامية.

 

[الأول: - ذكر اسماء الصحابة الذين رووا أحاديث المهدي عن رسول الله صلى الله عليه وسلم]

أسماء الصحابة الذين رووا عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أحاديث المهدي:

جملة ما وقفت عليه من اسماء الصحابة الذين رووا أحاديث المهدي عن رسول صلى الله عليه وسلم ستة وعشرون هم: -

1- عثمان بن عفان رضي الله عنه.

2- علي بن أبي طالب رضي الله عنه.

3- طلحة بن عبيد الله رضي الله عنه.

4- عبد الرحمن بن عوف رضي الله عنه.

5- الحسين بن علي رضي الله عنه.

6- أم سلمة رضي الله عنها.

7- أم حبيبة رضي الله عنها.

8- عبد الله بن عباس رضي الله عنه.

9- عبد الله بن مسعود رضي الله عنه.

10- عبد الله بن عمر رضي الله عنه.

11- عبد الله بن عمرو رضي الله عنه.

12- أبو سعيد الخدري رضي الله عنه.

13- جابر بن عبد الله رضي الله عنه.

14- أبو هريرة رضي الله عنه.

15- أنس بن مالك رضي الله عنه.

16- عمار بن ياسر رضي الله عنه.

17- عوف بن مالك رضي الله عنه.

18- ثوبان مولى رسول الله رضي الله عنه.

19- قرة بن إياس رضي الله عنه.

20- علي الهلالي رضي الله عنه.

21- حذيفة بن اليمان رضي الله عنه.

22- عبد الله بن الحارث بن حمزة رضي الله عنه.

23- عوف بن مالك رضي الله عنه.

24- عمران بن حصين رضي الله عنه.

25- أبو الطفيل رضي الله عنه.

26- جابر الصدفي رضي الله عنه.
‌‌প্রথম: - সেই সকল সাহাবীদের নামের উল্লেখ যারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে মাহদী সংক্রান্ত হাদীসসমূহ বর্ণনা করেছেন.

দ্বিতীয়: - সেই সকল ইমামদের নামের উল্লেখ যারা তাঁদের কিতাবসমূহে মাহদী সম্পর্কে বর্ণিত হাদীস ও আছারসমূহ সংকলন করেছেন।

তৃতীয়: - সেই সকল ওলামায়ে কেরামের উল্লেখ যারা মাহদীর বিষয়টি নিয়ে স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেছেন।

চতুর্থ: - সেই সকল ব্যক্তিবর্গের উল্লেখ যারা মাহদী সংক্রান্ত হাদীসসমূহ মুতাওয়াতির হওয়ার কথা বর্ণনা করেছেন এবং এ বিষয়ে তাঁদের বক্তব্যের উদ্ধৃতি।

পঞ্চম: - সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এ বর্ণিত মাহদী সংক্রান্ত হাদীসগুলোর মধ্য থেকে কিছু হাদীসের উল্লেখ।

ষষ্ঠ: - সহীহাইন ব্যতীত অন্যান্য গ্রন্থে বর্ণিত মাহদী সংক্রান্ত কিছু হাদীসের উল্লেখ এবং সেগুলোর মধ্য থেকে কয়েকটির সনদ বা সূত্র সম্পর্কে আলোচনা।

সপ্তম: - সেই সকল আলেমদের উল্লেখ যারা মাহদী সংক্রান্ত হাদীসসমূহ দ্বারা দলিল গ্রহণ করেছেন এবং এর দাবি অনুযায়ী বিশ্বাস স্থাপন করেছেন এবং এ বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য।

অষ্টম: - যাঁদের সম্পর্কে আমি জানতে পেরেছি যে তাঁরা মাহদী সংক্রান্ত হাদীসসমূহ অস্বীকার করেছেন অথবা এ ব্যাপারে দ্বিধা পোষণ করেছেন, তাঁদের উল্লেখ এবং সংক্ষেপে তাঁদের বক্তব্যের পর্যালোচনা।

নবম: - মাহদী সংক্রান্ত হাদীসসমূহের সাথে বাহ্যত বিরোধী বলে মনে হতে পারে এমন কিছু বিষয়ের উল্লেখ এবং সেগুলোর উত্তর।

দশম: - উপসংহার।

 

[প্রথম: - সেই সকল সাহাবীদের নামের উল্লেখ যারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে মাহদী সংক্রান্ত হাদীসসমূহ বর্ণনা করেছেন]

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে মাহদী সংক্রান্ত হাদীস বর্ণনাকারী সাহাবীদের নামসমূহ:<

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে মাহদী সংক্রান্ত হাদীস বর্ণনাকারী সাহাবীদের মধ্য থেকে আমি মোট ২৬ জনের নাম জানতে পেরেছি, তাঁরা হলেন: -

১- উসমান বিন আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহু।

২- আলী বিন আবী তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু।

৩- তালহা বিন উবাইদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু।

৪- আবদুর রহমান বিন আউফ রাদিয়াল্লাহু আনহু।

৫- হুসাইন বিন আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু।

৬- উম্মে সালামাহ রাদিয়াল্লাহু আনহা।

৭- উম্মে হাবীবা রাদিয়াল্লাহু আনহা।

৮- আবদুল্লাহ বিন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু।

৯- আবদুল্লাহ বিন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু।

১০- আবদুল্লাহ বিন উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু।

১১- আবদুল্লাহ বিন আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু।

১২- আবু সাঈদ আল-খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু।

১৩- জাবির বিন আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু।

১৪- আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু।

১৫- আনাস বিন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু।

১৬- আম্মার বিন ইয়াসির রাদিয়াল্লাহু আনহু।

১৭- আউফ বিন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু।

১৮- সাওবান, রাসুলুল্লাহর মুক্তদাস, রাদিয়াল্লাহু আনহু।

১৯- কুররাহ বিন ইয়াস রাদিয়াল্লাহু আনহু।

২০- আলী আল-হিলালী রাদিয়াল্লাহু আনহু।

২১- হুযাইফা বিন ইয়ামান রাদিয়াল্লাহু আনহু।

২২- আবদুল্লাহ বিন হারিস বিন হামযাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু।

২৩- আউফ বিন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু।

২৪- ইমরান বিন হুসাইন রাদিয়াল্লাহu আনহু।

২৫- আবু তুফাইল রাদিয়াল্লাহু আনহু।

২৬- জাবির আস-সাদাফী রাদিয়াল্লাহু আনহু।
(খণ্ড: ১) আকিদাতু আহলিস সুন্নাহ ওয়াল আসার ফিল মাহদিয়্যিল মুনতাযার (পৃষ্ঠা: ১২৯)
‌‌[الثاني: - ذكر اسماء الأئمة الذين خرجوا الأحاديث والآثار الواردة في المهدي في كتبهم]

 

أسماء الأئمة الذين خرجوا الأحاديث والآثار الواردة في المهدي في كتبهم:

وأحاديث المهدي خرجها جماعة كثيرون من الأئمة في الصحاح والسنن والمعاجم والمسانيد وغيرها قد بلغ عدد الذين وقفت على كتبهم أو اطلعت على ذكر تخريجهم لها ثمانية وثلاثين هم:

1- أبو داود في سننه.

2- الترمذي في جامعه.

3- ابن ماجه في سننه.

4- النسائي ذكره السفاريني في لوامع الأنوار البهية والمناوي في فيض القدير وما رأيته في الصغرى ولعله في الكبرى.

5- أحمد في مسنده.

6- ابن حبان في صحيحه.

7- الحاكم في المستدرك.

8- أبو بكر بن أبي شيبة في المصنف.

9- نعيم بن حماد في كتاب الفتن.

10- الحافظ أبو نعيم في كتاب المهدي وفي الحلية.

11- الطبراني في الكبير والأوسط والصغير.

12- الدارقطني في الأفراد.

13- البارودي في معرفة الصحابة.

14- أبو يعلى الموصلي في مسنده.

15- البزار في مسنده.

16-الحارث بن أبي أسامة في مسنده.

17- الخطيب في تلخيص المتشابه وفي المتفق والمفترق.

18- ابن عساكر في تاريخه.

19- ابن منده في تاريخ أصبهان.

20- أبو الحسن الحربي في الأول من الحربيات.

21- تمام الرازي في فوائده.

22- ابن جرير في تهذيب الآثار.

23- أبو بكر بن المقري في معجمه.

24- أبو عمرو الداني في سننه.

25- أبو غنم الكوفي في كتاب الفتن.

26- الديلمي في مسند الفردوس.

27- أبو بكر الإسكاف في فوائد الأخبار.

28-أبو الحسين بن المناوي في كتاب الملاحم.

29- البيهقي في دلائل النبوة.

30- أبو عمرو المقري في سننه.

31- ابن الجوزي في تاريخه.

32- يحيى بن عبد الحميد الحماني في مسنده.

33-الروياني في مسنده.

34- ابن سعد في الطبقات.

35- ابن خزيمة.

36- الحسن بن سفيان.

37- عمر بن شبه.

38- أبو عوانة.

وهؤلاء الأربعة ذكر السيوطي في العرف الوردي كونهم ممن خرج أحاديث المهدي دون عزو التخريج إلى كتاب معين.

 

‌‌[الثالث: - ذكر الذين أفردوا مسألة المهدي بالتأليف من العلماء]

ذكر لبعض الذين ألفوا كتبا في شأن المهدي:

وكما اعتنى علماء هذه الأمة بجميع الأحاديث الواردة عن نبيهم صلى الله عليه وسلم تأليفا وشرحا كان للأحاديث المتعلقة بأمر المهدي
‌[দ্বিতীয়: - সেই সকল ইমামগণের নামের বর্ণনা, যারা তাদের কিতাবসমূহে মাহদী সম্পর্কিত হাদীস ও আছারসমূহ বর্ণনা করেছেন]

 

সেই সকল ইমামগণের নাম, যারা তাদের কিতাবসমূহে মাহদী সম্পর্কিত হাদীস ও আছারসমূহ বর্ণনা করেছেন:

আর মাহদী সংক্রান্ত হাদীসসমূহ বহু সংখ্যক ইমাম তাদের সহীহ, সুনান, মু'জাম, মাসানীদ এবং অন্যান্য কিতাবসমূহে বর্ণনা করেছেন। আমি যাদের কিতাবের সন্ধান পেয়েছি অথবা যাদের বর্ণনা সম্পর্কে অবহিত হয়েছি, তাদের সংখ্যা আটত্রিশ জনে পৌঁছেছে, তারা হলেন:

১- আবু দাউদ তাঁর সুনানে।

২- তিরমিযী তাঁর জামে'তে।

৩- ইবনে মাজাহ তাঁর সুনানে।

৪- নাসাঈ; তাঁর কথা সাফ্ফারিনী 'লাওয়ামেউল আনওয়ার আল-বাহিয়্যাহ' তে এবং মুনাওয়ী 'ফায়দুল কদীরে' উল্লেখ করেছেন, তবে আমি এটি (সুনানে) সুগরাতে দেখিনি, সম্ভবত এটি (সুনানে) কুবরাতে রয়েছে।

৫- আহমদ তাঁর মুসনাদে।

৬- ইবনে হিব্বান তাঁর সহীহে।

৭- হাকেম আল-মুস্তাদরাকে।

৮- আবু বকর ইবনে আবী শায়বাহ আল-মুসান্নাফে।

৯- নুআইম ইবনে হাম্মাদ কিতাবুল ফিতানে।

১০- হাফেজ আবু নুআইম 'কিতাবুল মাহদী' ও 'আল-হিলইয়্যাহ' তে।

১১- তাবারানী আল-কাবীর, আল-আওসাত ও আস-সাগীরে।

১২- দারাকুতনী আল-আফরাদে।

১৩- বারুদী মা'রিফাতুস সাহাবাতে।

১৪- আবু ইয়ালা আল-মাওসিলী তাঁর মুসনাদে।

১৫- বাযযার তাঁর মুসনাদে।

১৬- হারিস ইবনে আবী উসামাহ তাঁর মুসনাদে।

১৭- খতীব তালখীসুল মুতাশাবিহ এবং আল-মুত্তাফাক ওয়াল মুফতারাকে।

১৮- ইবনে আসাকির তাঁর ইতিহাসে।

১৯- ইবনে মানদাহ তারীখে আসবাহানে।

২০- আবু হাসান আল-হারবী 'আল-হারবিয়্যাত' এর প্রথম খণ্ডে।

২১- তাম্মাম আর-রাযী তাঁর ফাওয়াইদে।

২২- ইবনে জারীর তাহযীবুল আছারে।

২৩- আবু বকর ইবনুল মুকরী তাঁর মু'জামে।

২৪- আবু আমর আদ-দানী তাঁর সুনানে।

২৫- আবু গানাম আল-কুফী কিতাবুল ফিতানে।

২৬- দাইলামী মুসনাদুল ফিরদাউসে।

২৭- আবু বকর আল-ইসকাফ ফাওয়াইদুল আখবারে।

২৮- আবু হুসাইন ইবনুল মুনাওয়ী কিতাবুল মালাহিমে।

২৯- বাইহাকী দালায়েলুন নুবুওয়াহতে।

৩০- আবু আমর আল-মুকরী তাঁর সুনানে।

৩১- ইবনে জাওযী তাঁর ইতিহাসে।

৩২- ইয়াহইয়া ইবনে আব্দুল হামীদ আল-হিমানী তাঁর মুসনাদে।

৩৩- রুয়ানী তাঁর মুসনাদে।

৩৪- ইবনে সা'দ আত-তাবাকাত-এ।

৩৫- ইবনে খুযাইমাহ।

৩৬- হাসান ইবনে সুফিয়ান।

৩৭- ওমর ইবনে শাব্বাহ।

৩৮- আবু আওয়ানাহ।

সুয়ূতী 'আল-আরফুল ওয়ারদী' তে এই শেষোক্ত চারজন সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন যে, তারা মাহদী সংক্রান্ত হাদীস বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত, তবে কোনো নির্দিষ্ট কিতাবের দিকে সেই বর্ণনাকে সম্বন্ধিত করেননি।

 

‌‌[তৃতীয়: - সেই সকল আলেমগণের বর্ণনা, যারা মাহদীর বিষয়টি নিয়ে স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেছেন]

মাহদীর ব্যাপারে যারা কিতাব রচনা করেছেন তাদের কয়েকজনের বর্ণনা:

আর এই উম্মতের আলেমগণ যেভাবে তাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত সকল হাদীসের প্রতি সংকলন ও ব্যাখ্যার মাধ্যমে যত্নবান হয়েছেন, তেমনি মাহদীর বিষয়টি সংশ্লিষ্ট হাদীসসমূহের ক্ষেত্রেও...
(খণ্ড: ১) আকিদাতু আহলিস সুন্নাহ ওয়াল আসার ফিল মাহদিয়্যিল মুনতাযার (পৃষ্ঠা: ১৩০)
قسطها الكبير من هذه العناية فمنهم من أدرجها ضمن المؤلفات العامة كما في السنن والمسانيد وغيرها ومنهم من أفردها بالتأليف. . كل ذلك حصل منهم-رحمهم الله وجزاهم خيرا- حماية لهذا الدين وقياما بما يجب من النصح للمسلمين فمن الذين أفردوها بالتأليف:

1- أبو بكر ابن خيثمة زهير بن حرب قال ابن خلدون في مقدمة تاريخه ولقد توغل أبو بكر ابن أبي خيثمة على ما نقل السهيلي عنه في جمعة للأحاديث الواردة في المهدي:

2- ومنهم الحافظ أبو نعيم ذكره السيوطي في الجامع الصغير وذكره في العرف الوردي بل قد لخص السيوطي الأحاديث التي جمعها أبو نعيم في المهدي وجعلها ضمن كتابه العرف الوردي وزاد عليها فيه أحاديث وآثارا كثيره جدا.

3- ومن الذين أفردوا أحاديث المهدي بالتأليف السيوطي فقد جمع فيه جزاء سماه العرف الوردي في أخبار المهدي وهو مطبوع ضمن كتابه الحاوى للفتاوى في الجزء الثاني منه قال في أوله "الحمد لله وسلام على عباده الذين اصطفى هذا جزء جمعت فيه الأحاديث والآثار الواردة في المهدي لخصت فيه الأربعين التي جمعها الحافظ أبو نعيم وزدت عليه ما فاته ورمزت عليه صورة"ك".

والأحاديث والآثار التي أوردها السيوطي في شأن المهدي تزيد على المائتين تلك الأحاديث والآثار فيها الصحيح والحسن والضعيف والموضوع وإذا أورد الحديث الواحد أضافه إلى كل من الذين خرجوه فيقول مثلا في الحديث الواحد أخرج أبو داوود وابن ماجة والطبراني والحاكم عن أم سلمة سمعت رسول الله سلى الله عليه وسلم يقول: "المهدي من عترتي من ولد فاطمة".

4- ومنهم الحافظ عماد الدين ابن كثير قال رحمه الله في كتابه الفتن والملاحم "وقد أفردت في ذكر المهدي جزءا على حدة ولله الحمد والمنة".

5- ومنهم الفقيه بن حجر المكي وقد سمى مؤلفه ""القول المختصر في علامات المهدي المنتظر"" ذكر ذلك البرزنجي في الإشاعة ونقل منه وكذلك السفاريني في لوامع الأنوار البهية وغيرهما.

6- ومنهم علي المتقي الهندي صاحب كنز العمال فقد ألف في شأن المهدي رسالة ذكرها البرزنجي في الإشاعة وذكر ذلك قبله أيضا ملا علي قاري الحنفي في المرقاة شرح المشكاة، وذكره شارح راموز الحديث.

7- ومن الذين ألفوا في شأن المهدي ملا علي قاري وسمىمؤلفه ""المشرب الوردي في مذهب المهدي"" ذكره في الإشاعة ونقل جملة كبيرة منه.

8- ومنهم مرعي بن يوسف الحنبلي المتوفى سنة ثلاث وثلاثين بعد الألف، وسمىمؤلفه ""فوائد
তারা এই বিশেষ গুরুত্বের একটি বড় অংশ প্রদান করেছেন; তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ বিষয়টিকে সাধারণ গ্রন্থসমূহের অন্তর্ভুক্ত করেছেন যেমন সুনান, মুসনাদ ও অন্যান্য কিতাব। আবার তাঁদের কেউ কেউ এ বিষয়ে স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেছেন। এ সব কিছুই তাঁদের পক্ষ থেকে—আল্লাহ তাঁদের ওপর দয়া করুন এবং তাঁদের উত্তম প্রতিদান দিন—এই দ্বীনের সুরক্ষা এবং মুসলিমদের প্রতি আবশ্যিক নসিহত প্রদানের তাগিদে সম্পন্ন হয়েছে। যারা এ বিষয়ে স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেছেন তাঁদের মধ্যে রয়েছেন:

১- আবু বকর ইবনে খাইসামাহ যুহাইর ইবনে হারব। ইবনে খালদুন তাঁর ইতিহাসের মুকাদ্দিমায় বলেছেন, সুহাইলী তাঁর থেকে যা বর্ণনা করেছেন সেই অনুযায়ী আবু বকর ইবনে আবি খাইসামাহ মাহদী সম্পর্কে বর্ণিত হাদিসগুলো সংগ্রহ করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গভীরভাবে নিবিষ্ট হয়েছিলেন:

২- তাঁদের মধ্যে রয়েছেন হাফেজ আবু নুআইম। সুয়ূতী 'আল-জামি' আস-সাগীর' গ্রন্থে তাঁর উল্লেখ করেছেন এবং 'আল-আরফ আল-ওয়ারদী' গ্রন্থেও তাঁর কথা উল্লেখ করেছেন। বরং সুয়ূতী মাহদী সম্পর্কে আবু নুআইম কর্তৃক সংগৃহীত হাদিসগুলোর সারসংক্ষেপ করেছেন এবং সেগুলোকে তাঁর 'আল-আরফ আল-ওয়ারদী' কিতাবের অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং তাতে অনেক বেশি হাদিস ও আসার (সাহাবীদের বাণী) সংযোজন করেছেন।

৩- আর যারা মাহদী সংক্রান্ত হাদিসগুলো নিয়ে স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেছেন তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সুয়ূতী। তিনি এ বিষয়ে একটি পুস্তিকা সংকলন করেছেন যার নাম দিয়েছেন 'আল-আরফ আল-ওয়ারদী ফি আখবারিল মাহদী'। এটি তাঁর 'আল-হাউয়ি লিল ফাতাউয়া' কিতাবের দ্বিতীয় খণ্ডে মুদ্রিত রয়েছে। তিনি এর শুরুতে বলেছেন: "সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর এবং শান্তি বর্ষিত হোক তাঁর মনোনীত বান্দাদের ওপর। এটি একটি পুস্তিকা যাতে আমি মাহদী সম্পর্কে বর্ণিত হাদিস ও আসারসমূহ একত্রিত করেছি। এতে আমি হাফেজ আবু নুআইম সংকলিত চল্লিশটি হাদিসের সারসংক্ষেপ করেছি এবং তাঁর থেকে যা ছুটে গিয়েছিল তা সংযোজন করেছি এবং সেখানে 'ক' চিহ্ন ব্যবহার করেছি।"

সুয়ূতী মাহদীর বিষয়ে যে সকল হাদিস ও আসার উল্লেখ করেছেন তার সংখ্যা দুইশরও বেশি। সেই হাদিস ও আসারগুলোর মধ্যে সহিহ, হাসান, জয়িফ এবং মাউজু (জাল) হাদিসও রয়েছে। তিনি যখন কোনো একটি হাদিস উল্লেখ করেন, তখন সেটি যারা যারা বর্ণনা করেছেন তাঁদের সবার উদ্ধৃতি দেন। যেমন তিনি একটি হাদিসের ক্ষেত্রে বলেন: আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, তাবারানি এবং হাকেম উম্মে সালামাহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন: "মাহদী আমার বংশের ফাতেমার সন্তানদের মধ্য থেকে হবে।"

৪- তাঁদের মধ্যে রয়েছেন হাফেজ ইমাদুদ্দীন ইবনে কাসির। তিনি রহমাতুল্লাহি আলাইহি তাঁর 'আল-ফিতান ওয়াল মালাহিম' কিতাবে বলেছেন: "আমি মাহদীর বর্ণনায় স্বতন্ত্র একটি পুস্তিকা রচনা করেছি এবং সমস্ত প্রশংসা ও অনুগ্রহ আল্লাহর।"

৫- তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ফকিহ ইবনে হাজার মক্কি। তিনি তাঁর রচনার নাম দিয়েছেন "আল-কাউলুল মুখতাসার ফি আলামাতিল মাহদিল মুনতাজার"। বারজানজি 'আল-ইশাআহ' কিতাবে এর উল্লেখ করেছেন এবং তা থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন। একইভাবে সাফারিনি 'লাওয়ামিইল আনওয়ার আল-বাহিয়্যাহ' ও অন্যান্যরা এর উল্লেখ করেছেন।

৬- তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আলী আল-মুত্তাকি আল-হিন্দি, যিনি 'কানজুল উম্মাল'-এর লেখক। তিনি মাহদীর বিষয়ে একটি পুস্তিকা রচনা করেছেন যা বারজানজি 'আল-ইশাআহ' কিতাবে উল্লেখ করেছেন। এর আগে মোল্লা আলী কারী হানাফিও 'আল-মিরকাত শারহুল মিশকাত'-এ এর উল্লেখ করেছেন এবং 'রামূজ আল-হাদিস'-এর ব্যাখ্যাকারও এর উল্লেখ করেছেন।

৭- মাহদীর বিষয়ে যারা গ্রন্থ রচনা করেছেন তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মোল্লা আলী কারী এবং তিনি তাঁর রচনার নাম দিয়েছেন "আল-মাশরাব আল-ওয়ারদী ফি মাজহাবিল মাহদী"। এটি 'আল-ইশাআহ' কিতাবে উল্লিখিত হয়েছে এবং সেখান থেকে একটি বড় অংশ উদ্ধৃত করা হয়েছে।

৮- তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মারঈ ইবনে ইউসুফ আল-হাম্বলি, যিনি এক হাজার তেত্রিশ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেছেন। তিনি তাঁর রচনার নাম দিয়েছেন "ফাওয়াইদ"
(খণ্ড: ১) আকিদাতু আহলিস সুন্নাহ ওয়াল আসার ফিল মাহদিয়্যিল মুনতাযার (পৃষ্ঠা: ১৩১)
الفكر في ظهور المهدي المنتظر"" ذكره السفاريني في لوامع الأنوار البهية وذكره صديق حسن في الإذاعة وغيرها.

9- ومن الذين ألفوا في شأن المهدي بالإضافة إلى مسألتي نزول عيسى عليه الصلاة والسلام وخروج المسيح الدجال القاضي محمد بن علي الشوكاني وسمى مؤلفه ""التوضيح في تواتر ما جاء في المهدي المنتظر والدجال والمسيح"" ذكر ذلك صديق حسن في الإذاعة ونقل جملة منه والشوكاني ممن ألف بشأنه، وحكى تواتر الأحاديث الواردة فيه.

10- ومنهم الأمير محمد بن اسماعيل الصنعاني صاحب سبل السلام المتوفى سنة 1182هـ قال صديق حسن في الإذاعة:

وقد جمع السيد العلامة بدر الملة المنير محمد بن اسماعيل الأمير اليماني الأحاديث القاضية بخروج المهدي وأنه من آل محمد صلى الله عليه وسلم وأنه يظهر في آخر الزمان ثم قال: "ولم يأت تعيين زمنه إلا أنه يخرج قبل خروج الدجال" انتهى.

 

‌‌[الرابع: - ذكر الذين حكوا تواتر أحاديث المهدي وحكاية كلامهم في ذلك]

ذكر بعض الذين حكوا تواتر أحاديث المهدي ونقل كلامهم في ذلك

1 - من الذين حكوا على أحاديث المهدي بأنها متواترة الحافظ أبو الحسن محمد ابن الحسين الآبري السجزي صاحب كتاب مناقب الشافعي المتوفى سنة ثلاث وستين وثلاثمائة من الهجرة قال رحمه الله في محمد بن خالد الجندي راوي حديث "لا مهدي إلا عيسى ابن مريم" " محمد بن خالد هذا غير معروف عند أهل الصناعة من أهل العلم والنقل وقد تواترت الأخبار واستفاضت عن رسول الله صلى الله عليه وسلم بذكر المهدي وأنه من أهل بيته وأنه يملك سبع سنين وأنه يملأ الأرض عدلا وأن عيسى عليه السلام يخرج فيساعده على قتل الدجال وأنه يؤم هذه الأمة ويصلي عيسى خلفه" نقل ذلك عنه ابن القيم في كتابه المنار المنيف وسكت عليه ونقل عنه أيضا الحافظ بن حجر في تهذيب التهذيب في ترجمة محمد بن خالد الجندي وسكت عليه ونقل عنه ذلك وسكت عليه أيضا في فتح الباري في باب نزول عيسى بن مريم عليه الصلاة والسلام ونقل ذلك عنه أيضا السيوطي في آخر جزء العرف الوردي في أخبار المهدي وسكت عليه ونقل ذلك عنه مرعي بن يوسف في كتابه ""فوائد الفكر في ظهور المهدي المنتظر"" كما ذكر ذلك صديق حسن في كتابه ""الإذاعة لما كان وما يكون بين يدي الساعة""0

2- ومنهم محمد البر زنجي المتوفى سنة ثلاث بعد المائة والألف في كتابه الإشاعة لأشراط الساعة قال: "الباب الثالث في الأشراط العظام والأمارات القريبة التي تعقبها الساعة وهي أيضا كثيرة فمنها المهدي
"আল-ফিকরু ফী যুহুরিল মাহদিয়্যিল মুন্তাযার", সাফফারিনী এটি তাঁর 'লাওয়ামিউল আনওয়ারিল বাহিয়্যাহ' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং সিদ্দিক হাসান এটি 'আল-ইযাআহ' ও অন্যান্য গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।

৯- মাহদীর বিষয়ে এবং এর সাথে ঈসা আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের অবতরণ ও মাসীহ দাজ্জালের আত্মপ্রকাশের মাসআলা নিয়ে যারা গ্রন্থ রচনা করেছেন, তাদের মধ্যে কাজী মুহাম্মদ বিন আলী আশ-শাওকানী অন্যতম। তিনি তাঁর গ্রন্থের নাম রেখেছেন "আত-তাওযীহু ফী তাওয়াতুরি মা জাআ ফিল মাহদিয়্যিল মুন্তাযারি ওয়াদ-দাজ্জালি ওয়াল মাসীহ"। সিদ্দিক হাসান 'আল-ইযাআহ' গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন এবং এর একটি অংশ উদ্ধৃত করেছেন। শাওকানী সেই ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত যারা মাহদীর বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন এবং এ বিষয়ে বর্ণিত হাদীসগুলোর তাওয়াতুর বা নিরবচ্ছিন্নতা বর্ণনা করেছেন।

১০- তাদের মধ্যে রয়েছেন 'সুবুলুস সালাম' গ্রন্থের লেখক আমীর মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আস-সানআনী, যিনি ১১৮২ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেছেন। সিদ্দিক হাসান 'আল-ইযাআহ' গ্রন্থে বলেছেন:

উস্তাদ আল্লামা, মিল্লাতের উজ্জ্বল পূর্ণিমার চাঁদ মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-আমীর ইয়ামানী সেই হাদীসগুলো একত্রিত করেছেন যা মাহদীর আত্মপ্রকাশ অবধারিত হওয়ার প্রমাণ দেয় এবং তিনি যে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বংশধর হবেন এবং শেষ যামানায় আবির্ভূত হবেন তা সাব্যস্ত করে। অতঃপর তিনি বলেছেন: "তাঁর নির্দিষ্ট সময় সম্পর্কে কোনো বর্ণনা আসেনি, তবে এতটুকু যে, তিনি দাজ্জালের বের হওয়ার আগে আবির্ভূত হবেন।" সমাপ্ত।

 

‌‌[চতুর্থ: যারা মাহদী সংক্রান্ত হাদীসগুলোর তাওয়াতুর বর্ণনা করেছেন তাদের উল্লেখ এবং এ বিষয়ে তাদের বক্তব্যের বিবরণ]

মাহদী সংক্রান্ত হাদীসসমূহের তাওয়াতুর বর্ণনাকারী কয়েকজনের উল্লেখ এবং এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য উদ্ধৃত করা হলো:

১ - যারা মাহদী সম্পর্কিত হাদীসগুলোকে মুতাওয়াতির বলে বর্ণনা করেছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন হাফেজ আবুল হাসান মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন আল-আবরী আস-সিজযী, যিনি 'মানাকিবুশ শাফিঈ' কিতাবের লেখক এবং ৩৬৩ হিজরি সালে মৃত্যুবরণ করেছেন। তিনি রহিমাহুল্লাহ "ঈসা ইবনে মরিয়ম ছাড়া কোনো মাহদী নেই" হাদীসের বর্ণনাকারী মুহাম্মদ বিন খালিদ আল-জুন্দী সম্পর্কে বলেছেন: "এই মুহাম্মদ বিন খালিদ হাদীস বিশারদ ও শাস্ত্রীয় পণ্ডিতদের নিকট পরিচিত নন। অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে মাহদীর বর্ণনায় খবরসমূহ মুতাওয়াতির ও সুপ্রসিদ্ধভাবে বর্ণিত হয়েছে। তাতে উল্লেখ আছে যে, তিনি তাঁর আহলে বাইত বা পরিবারবর্গ থেকে হবেন, সাত বছর রাজত্ব করবেন এবং পৃথিবীকে ইনসাফে পূর্ণ করে দেবেন। আর ঈসা আলাইহিস সালাম আবির্ভূত হয়ে দাজ্জালকে হত্যা করতে তাঁকে সাহায্য করবেন এবং তিনি এই উম্মতের ইমামতি করবেন আর ঈসা তাঁর পিছনে সালাত আদায় করবেন।" ইবনুল কায়্যিম তাঁর 'আল-মানারুল মুনিফ' কিতাবে তাঁর থেকে এটি উদ্ধৃত করেছেন এবং এর ওপর নীরব থেকেছেন। হাফেজ ইবনে হাজারও 'তাহযীবুত তাহযীব'-এ মুহাম্মদ বিন খালিদ আল-জুন্দীর জীবনীতে এটি বর্ণনা করে নীরব থেকেছেন। 'ফাতহুল বারী'তে ঈসা ইবনে মরিয়ম আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের অবতরণ অধ্যায়েও তাঁর থেকে এটি উদ্ধৃত করে নীরবতা অবলম্বন করা হয়েছে। আস-সুয়ূতীও তাঁর 'আল-উরফুল ওয়ারদী ফী আখবারিল মাহদী' রিসালার শেষে এটি বর্ণনা করে নীরব থেকেছেন। মারঈ বিন ইউসুফ তাঁর 'ফাওয়াইদুল ফিকর ফী যুহুরিল মাহদিয়্যিল মুন্তাযার' কিতাবেও এটি তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন, যেমনটি সিদ্দিক হাসান তাঁর 'আল-ইযা'আতু লিমা কানা ওয়ামা ইয়াকুনু বাইনা ইয়াদায়িস সাআ' কিতাবে উল্লেখ করেছেন।

২- তাদের মধ্যে রয়েছেন মুহাম্মদ আল-বারযাঞ্জী (মৃত্যু ১১০৩ হিজরি), তিনি তাঁর 'আল-ইশা'আতু লি আশরাতিস সাআ' কিতাবে বলেছেন: "তৃতীয় পরিচ্ছেদ: কেয়ামতের বড় বড় আলামত এবং নিকটবর্তী নিদর্শনসমূহ প্রসঙ্গে যার পরপরই কেয়ামত সংঘটিত হবে। এগুলো অনেক, তার মধ্যে একটি হলো মাহদী..."
(খণ্ড: ১) আকিদাতু আহলিস সুন্নাহ ওয়াল আসার ফিল মাহদিয়্যিল মুনতাযার (পৃষ্ঠা: ১৩২)
وهو أولها واعلم أن الأحاديث الواردة فيه على اختلاف رواياتها لا تكاد تنحصر-إلى أن قال: ثم الذي في الروايات الكثيرة الصحيحة الشهيرة أنه من ولد فاطمة-إلى أن قال: تنبيه قد علمت أن أحاديث وجود المهدي وخروجه آخر الزمان وأنه من عترة رسول الله صلى الله عليه وسلم من ولد فاطمة بلغت حد التواتر المعنوي فلا معنى لإنكارها وقال في ختام كتابه المذكور- بعد الإشارة إلى بعض أمور تجري في آخر الزمان-: وغاية ماثبت بالأخبار الصحيحة الكثيرة الشهيرة التي بلغت التواتر المعنوي وجود الآيات العظام التي منها بل أولها خروج المهدي وأنه يأتي في آخر الزمان من ولد فاطمة يملأ الأرض عدلا كما ملئت ظلما".

3- ومن الذين حكوا تواتر أحاديث المهدي الشيخ محمد السفاريني المتوفى سنة ثمان وثمانين بعد المائة والألف، في كتابه ""لوامع الأنوار البهية"" قال: "وقد كثرت بخروجه-يعني المهدي-الروايات حتى بلغت حد التواتر المعنوي وشاع ذلك بين علماء السنة حتى عد من معتقداتهم -ثم ذكر بعض الآثار والأحاديث في خروج المهدي واسماء بعض الصحابة الذين رووها- ثم قال: وقد روي عمن ذكر من الصحابة وغير من ذكر منهم رضي الله عنهم بروايات متعددة وعن التابعين من بعدهم ما يفيد مجموعه العلم القطعي فالإيمان بخروج المهدي واجب كما هو مقرر عند أهل العلم ومدون في عقائد أهل السنة والجماعة".

4- ومنهم القاضي محمد بن علي الشوكاني المتوفى سنة خمسين بعد المائتين والألف وهو صاحب التفسير المشهور ومؤلف نيل الأوطار قال في كتابه ""التوضيح في تواتر ما جاء في المهدي المنتظر والدجال والمسيح"" "والأحاديث الواردة في المهدي التي أمكن الوقوف عليها منها خمسون حديثا فيها الصحيح والحسن والضعيف المنجبر وهي متواترة بلا شك ولا شبهة بل يصدق وصف المتواتر على ما هو دونها في جميع الاصطلاحات المحررة في الأصول وأما الآثار عن الصحابة المصرحة بالمهدي فهي كثيرة جدا لها حكم الرفع إذ لا مجال للإجتهاد في مثل ذلك"، انتهى. وقال في مسألة نزول المسيح صلى الله عليه وسلم: "فتقرر أن الأحاديث الواردة في المهدي المنتظر متواترة والأحاديث الواردة في نزول عيسى عليه الصلاة والسلام متواترة"0

5- ومنهم الشيخ صديق حسن القنوجي المتوفى سنة سبع بعد الثلاثمائة والألف قال في كتابه الإذاعة لما كان وما يكون بين يدي الساعة "والأحاديث الواردة في المهدي على اختلاف رواياتها كثيرة جدا تبلغ حد التواتر المعنوي وهي في السنن وغيرها من دواوين الإسلام من المعاجم والمسانيد-إلى إن قال- لاشك
এবং এটি তাদের মধ্যে প্রথম। জেনে রাখুন যে, এ বিষয়ে বর্ণিত হাদিসসমূহ সেগুলোর বর্ণনার ভিন্নতা সত্ত্বেও প্রায় অগণিত। -পরবর্তীতে তিনি বলেন: এরপর অনেকগুলো সহিহ ও প্রসিদ্ধ বর্ণনায় যা এসেছে তা হলো, তিনি ফাতিমার বংশধর। -তিনি আরও বলেন: সতর্কবার্তা, আপনি জেনেছেন যে মাহদির অস্তিত্ব এবং শেষ জামানায় তাঁর আগমনের হাদিসসমূহ, এবং তিনি যে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বংশধর তথা ফাতিমার সন্তানদের অন্তর্ভুক্ত, তা তাওয়াতুরে মানাভি (মর্মগত ধারাবাহিকতা)-এর পর্যায়ে পৌঁছেছে। সুতরাং এগুলো অস্বীকার করার কোনো অর্থ হয় না। তিনি তাঁর উল্লিখিত কিতাবের শেষে - শেষ জামানায় ঘটবে এমন কিছু বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করার পর - বলেন: 'বিপুল সংখ্যক সহিহ ও প্রসিদ্ধ সংবাদ যা তাওয়াতুরে মানাভি-এর পর্যায়ে পৌঁছেছে, তার মাধ্যমে যা অকাট্যভাবে প্রমাণিত তা হলো মহান নিদর্শনাবলির প্রকাশ; যার মধ্যে অন্যতম বরং সর্বপ্রথম হলো মাহদির আবির্ভাব। তিনি শেষ জামানায় ফাতিমার বংশধর হিসেবে আসবেন এবং পৃথিবীকে ন্যায়বিচার দিয়ে পূর্ণ করে দেবেন যেমনিভাবে তা অন্যায় ও জুলুমে পরিপূর্ণ হয়েছিল।'

3- এবং যারা মাহদি সংক্রান্ত হাদিসসমূহের তাওয়াতুর হওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন শায়খ মুহাম্মদ আল-সাফফারিনি (মৃত্যু ১১৮৮ হিজরি)। তিনি তাঁর "লাওয়ামি আল-আনওয়ার আল-বাহিয়্যাহ" কিতাবে বলেন: 'মাহদির - অর্থাৎ মাহদি - আগমনের ব্যাপারে বর্ণনাসমূহ এতো অধিক হয়েছে যে তা তাওয়াতুরে মানাভি-এর পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং এটি আহলুস সুন্নাহর আলেমদের মাঝে এতোটাই ছড়িয়ে পড়েছে যে এটি তাদের আকিদাগত বিশ্বাসের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।' -এরপর তিনি মাহদির আগমনের বিষয়ে কিছু আসসার (সাহাবিদের উক্তি) ও হাদিস এবং যে সকল সাহাবি এগুলো বর্ণনা করেছেন তাদের নাম উল্লেখ করেছেন- এরপর তিনি বলেন: 'উল্লিখিত সাহাবিগণ এবং তাঁদের ব্যতীত অন্যদের থেকেও (আল্লাহ তাঁদের ওপর সন্তুষ্ট হোন) বহু বর্ণনায় এবং তাঁদের পরবর্তী তাবেয়িদের থেকেও এমন সব বর্ণনা এসেছে যা সমষ্টিগতভাবে অকাট্য জ্ঞান প্রদান করে। সুতরাং মাহদির আগমনের ওপর ঈমান আনা ওয়াজিব, যেমনটি ইলম অর্জনকারী ব্যক্তিবর্গের নিকট সুপ্রতিষ্ঠিত এবং আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের আকিদার কিতাবসমূহে লিপিবদ্ধ রয়েছে।'

4- তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আল-কাজি মুহাম্মদ বিন আলি আল-শাওকানি (মৃত্যু ১২৫০ হিজরি), যিনি প্রসিদ্ধ তাফসিরের রচয়িতা এবং 'নাইলুল আওতার' গ্রন্থের লেখক। তিনি তাঁর "আত-তাওজিহ ফি তাওয়াতুর মা জাআ ফিল মাহদিল মুন্তাজার ওয়াদ দাজ্জাল ওয়াল মাসিহ" কিতাবে বলেছেন: 'মাহদি সম্পর্কে বর্ণিত যে হাদিসগুলো সম্পর্কে অবগত হওয়া সম্ভব হয়েছে তার সংখ্যা ৫০টি। যার মধ্যে রয়েছে সহিহ, হাসান এবং এমন জয়িফ (দুর্বল) হাদিস যা অন্য বর্ণনার মাধ্যমে শক্তিশালী হয়েছে। এগুলো কোনো সন্দেহ ও সংশয় ছাড়াই মুতাওয়াতির। বরং উসুল শাস্ত্রের সকল প্রতিষ্ঠিত পরিভাষা অনুযায়ী এর চেয়ে কম সংখ্যক হাদিসের ক্ষেত্রেও মুতাওয়াতির হওয়ার গুণটি প্রযোজ্য হয়। আর সাহাবিদের থেকে বর্ণিত আসসারসমূহ যাতে স্পষ্টভাবে মাহদির কথা উল্লেখ আছে, তা অত্যন্ত অধিক। এগুলোর মর্যাদা মারফু হাদিসের সমতুল্য, কারণ এ জাতীয় বিষয়ে ব্যক্তিগত মতামতের (ইজতিহাদের) কোনো সুযোগ নেই।' সমাপ্ত। এবং তিনি মাসিহ (ঈসা) আলাইহিস সালামের অবতরণের বিষয়ে বলেন: 'সুতরাং এটি সাব্যস্ত হলো যে, প্রতীক্ষিত মাহদি সম্পর্কে বর্ণিত হাদিসসমূহ মুতাওয়াতির এবং ঈসা আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের অবতরণ সম্পর্কে বর্ণিত হাদিসসমূহও মুতাওয়াতির।'

5- তাঁদের মধ্যে রয়েছেন শায়খ সিদ্দিক হাসান কান্নৌজি (মৃত্যু ১৩০৭ হিজরি)। তিনি কিয়ামতের নিকটবর্তী সময়ে যা ঘটেছে এবং যা ঘটবে সে বিষয়ে রচিত তাঁর "আল-ইজাআ" কিতাবে বলেছেন: 'মাহদি সম্পর্কে বর্ণিত হাদিসসমূহ সেগুলোর বর্ণনার ভিন্নতা সত্ত্বেও অত্যন্ত অধিক, যা তাওয়াতুরে মানাভি-এর পর্যায়ে পৌঁছেছে। এগুলো সুনান গ্রন্থসমূহ এবং ইসলামের অন্যান্য হাদিস সংকলন যেমন মুজাম ও মুসনাদ গ্রন্থসমূহে বিদ্যমান। -পরবর্তীতে তিনি বলেন- এতে কোনো সন্দেহ নেই।'
(খণ্ড: ১) আকিদাতু আহলিস সুন্নাহ ওয়াল আসার ফিল মাহদিয়্যিল মুনতাযার (পৃষ্ঠা: ১৩৩)
أن المهدي يخرج آخر الزمان من غير تعيين لشهر وعام لما تواتر من الأخبار في الباب واتفق عليه جمهور الأمة خلفا عن سلف إلا من لا يعتد بخلافه-إلى أن قال-فلا معنى للريب في أمر ذلك الفاطمي الموعود المنتظر المدلول عليه بالأدلة بل إنكار ذلك جرأة عظيمة في مقابلة النصوص المستفيضة المشهورة البالغة إلى حد التواتر".

6- وممن حكى تواتر أحاديث المهدي من المتأخرين الشيخ محمد بن جعفر الكتاني المتوفى سنة خمس وأربعين بعد الثلاثمائة والألف قال في كتابه ""نظم المتناثر من الحديث المتواتر"" "وقد ذكروا أن نزول سيدنا عيسى بن مريم عليه الصلاة والسلام ثابت بالكتاب والسنة والإجماع ثم قال: والحاصل أن الأحاديث الواردة في المهدي المنتظر متواترة وكذا الواردة في الدجال وفي نزول سيدنا عيسى بن مريم عليه الصلاة والسلام".

 

‌‌[الخامس: - ذكر بعض ما ورد في الصحيحين من الأحاديث التي لها تعلق بشأن المهدي]

ذكر بعض ما ورد في الصحيحين من الأحاديث مما له تعلق بشأن المهدي.

1- روى البخاري في صحيحه في باب نزول عيسى بن مريم عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى عليه وسلم: "كيف أنتم إذا نزل عيسى بن مريم فيكم وإمامكم منكم".

2- وروى مسلم في كتاب الإيمان من صحيحه عن أبي هريرة رضي الله عنه بمثل حديثه عن البخاري، ورواه أيضا عن أبي هريرة بلفظ: "كيف أنتم إذا نزل بن مريم فيكم فأمكم" ورواه أيضا عن أبي هريرة بلفظ: "كيف أنتم إذا نزل ابن مريم فيكم فأمكم منكم" وفيه تفسير ابن أبي ذئب راوي الحديث لقوله "وأمكم منكم" بقوله فأمكم بكتاب ربكم تبارك وتعالى وسنة نبيكم صلى الله عليه وسلم.

3- وروى مسلم في صحيحه عن جابر رضي الله عنه أنه سمع النبي صلى الله عليه وسلم يقول: "لا تزال طائفة من أمتي يقاتلون على الحق ظاهرين إلى يوم القيامة قال فينزل عيسى بن مريم صلى الله عليه وسلم فيقول أميرهم تعال صل لنا فيقول لا إن بعضكم على بعض أمراء تكرمة الله هذه الامة".

فهذه الأحاديث التي وردت في الصحيحين تدل على أمرين:

أحدهما: أنه عند نزول عيسى بن مريم عليه الصلاة والسلام من السماء يكون المتولي لأمرة المسلمين رجل منهم،

والثاني: أن حضور أميرهم للصلاة وصلاته بالمسلمين وطلبه من عيسى عليه الصلاة والسلام عند نزوله أن يتقدم ليصلي لهم يدل على صلاح في هذا الأمير وهدى، وهي وإن لم يكن فيها التصريح بلفظ المهدي إلا أنها تدل على صفات رجل صالح يؤم المسلمين في ذلك الوقت وقد جاءت الأحاديث في السنن والمسانيد وغيرها مفسرة لهذه الأحاديث التي في الصحيحين ودالة على أن ذلك الرجل الصالح يسمى محمد ابن عبد الله من ولد الحسن بن علي ويقال له
নিশ্চয়ই শেষ যামানায় কোনো মাস বা বছর নির্দিষ্ট করা ছাড়াই মাহদীর আগমন ঘটবে। এ বিষয়ে বর্ণিত সংবাদসমূহ মুতাওয়াতির (সুসংবাদিত) পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং পূর্বসূরি থেকে উত্তরসূরি পর্যন্ত উম্মাহর জমহুর (সংখ্যাগরিষ্ঠ) আলেম এ ব্যাপারে একমত পোষণ করেছেন—সেই ব্যক্তিদের বাদে যাদের বিরোধিতা গ্রহণযোগ্য নয়। লেখক আরও বলেন—সুতরাং সেই প্রতিশ্রুত ও প্রতীক্ষিত ফাতিমী মাহদীর ব্যাপারে সন্দেহ পোষণের কোনো অবকাশ নেই, যার ব্যাপারে দলীলসমূহ প্রমাণ পেশ করে। বরং একে অস্বীকার করা হলো সেই প্রসিদ্ধ ও বহুল বর্ণিত নাস (নصوص) বা দলীলসমূহের মোকাবিলায় এক চরম ধৃষ্টতা, যা মুতাওয়াতির পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে।

৬- পরবর্তী যুগের আলেমদের মধ্যে যারা মাহদী সংক্রান্ত হাদীসগুলোর মুতাওয়াতির হওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন শাইখ মুহাম্মদ বিন জাফর আল-কাত্তানী (মৃত্যু: ১৩৪৫ হিজরী)। তিনি তাঁর "নাযমুল মুতানাছির মিনাল হাদীসিল মুতাওয়াতির" গ্রন্থে বলেছেন, "তারা উল্লেখ করেছেন যে, আমাদের নেতা ঈসা ইবনে মারইয়াম আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের অবতরণ কুরআন, সুন্নাহ এবং ইজমা (ঐক্যমত) দ্বারা প্রমাণিত। অতঃপর তিনি বলেন: সারকথা হলো, প্রতীক্ষিত মাহদী সম্পর্কে বর্ণিত হাদীসগুলো মুতাওয়াতির, একইভাবে দাজ্জাল এবং আমাদের নেতা ঈসা ইবনে মারইয়াম আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের অবতরণ সংক্রান্ত হাদীসগুলোও মুতাওয়াতির।"

 

‌‌[পঞ্চম: সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এ বর্ণিত মাহদী সংক্রান্ত কিছু হাদীসের উল্লেখ]

সহীহাইন বা বুখারী ও মুসলিমে বর্ণিত মাহদী সংশ্লিষ্ট কিছু হাদীসের বর্ণনা।

১- ইমাম বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে 'ঈসা ইবনে মারইয়ামের অবতরণ' অধ্যায়ে আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: "তোমাদের অবস্থা তখন কেমন হবে, যখন তোমাদের মাঝে ঈসা ইবনে মারইয়াম অবতরণ করবেন এবং তোমাদের ইমাম হবে তোমাদেরই মধ্য থেকে কেউ?"

২- ইমাম মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থের 'ঈমান' অধ্যায়ে আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বুখারীর অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি আবু হুরায়রা থেকে এই শব্দেও বর্ণনা করেছেন: "তোমাদের অবস্থা তখন কেমন হবে যখন তোমাদের মাঝে ইবনে মারইয়াম অবতরণ করবেন এবং তোমাদের ইমামতি করবেন?" তিনি আবু হুরায়রা থেকে আরও একটি শব্দে বর্ণনা করেছেন: "তোমাদের অবস্থা তখন কেমন হবে যখন তোমাদের মাঝে ইবনে মারইয়াম অবতরণ করবেন এবং তোমাদের মধ্য থেকে একজন তোমাদের ইমামতি করবেন?" এই হাদীসের বর্ণনাকারী ইবনে আবু যিব "তোমাদের মধ্য থেকে ইমামতি করবেন" কথাটির ব্যাখ্যায় বলেন: অর্থাৎ তোমাদের পালনকর্তা তাবারাকা ওয়া তা'আলার কিতাব এবং তোমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ অনুযায়ী তোমাদের ইমামতি করবেন।

৩- ইমাম মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে জাবির রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন: "আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা হকের ওপর বিজয়ীরূপে যুদ্ধ করতে থাকবে কিয়ামত পর্যন্ত। অতঃপর ঈসা ইবনে মারইয়াম আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম অবতরণ করবেন এবং তাদের আমীর (নেতা) বলবেন: আসুন, আমাদের সালাতে ইমামতি করুন। তখন তিনি বলবেন: না, এই উম্মতের প্রতি আল্লাহর বিশেষ সম্মানস্বরূপ তোমাদের একেকজন অন্যজনের ওপর আমীর।"

সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এ বর্ণিত এই হাদীসগুলো দুটি বিষয় প্রমাণ করে:

প্রথমত: আকাশ থেকে ঈসা ইবনে মারইয়াম আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের অবতরণের সময় মুসলমানদের নেতৃত্বের দায়িত্বে থাকবে তাদেরই মধ্য থেকে একজন ব্যক্তি।

দ্বিতীয়ত: তাদের আমীরের সালাতে উপস্থিতি, মুসলমানদের নিয়ে তাঁর সালাত আদায় এবং ঈসা আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম অবতরণের সময় তাঁর কাছে এগিয়ে গিয়ে ইমামতি করার অনুরোধ জানানো—ঐ আমীরের নেককার হওয়া এবং সঠিক পথে থাকার প্রমাণ বহন করে। যদিও এই হাদীসগুলোতে 'মাহদী' শব্দটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি, তবুও এগুলো সেই সময়ের মুসলমানদের ইমামতি কারী একজন সৎ ও যোগ্য ব্যক্তির গুণাবলী নির্দেশ করে। সুনান, মুসনাদ এবং অন্যান্য হাদীস গ্রন্থগুলোতে বর্ণিত হাদীসসমূহ সহীহাইনের এই হাদীসগুলোর ব্যাখ্যা প্রদান করে এবং প্রমাণ করে যে, সেই নেককার ব্যক্তির নাম হবে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ, যিনি হাসান ইবনে আলীর বংশধর হবেন এবং তাঁকে বলা হয়...
(খণ্ড: ১) আকিদাতু আহলিস সুন্নাহ ওয়াল আসার ফিল মাহদিয়্যিল মুনতাযার (পৃষ্ঠা: ১৩৪)
المهدي والسنة يفسر بعضها بعضا ومن الأحاديث الدالة على ذلك الحديث الذي رواه الحارث ابن أبي أسامة الذي في مسنده بسنده عن جابر رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "ينزل عيسى ابن مريم فيقول أميرهم المهدي: تعال صل بنا فيقول: لا إن بعضهم أمير بعض تكرمة الله لهذه الأمة" وهذا الحديث قال فيه ابن القيم في المنار المنيف إسناده جيد. انتهى. وهو دال على أن ذلك الأمير المذكور في صحيح مسلم الذي طلب من عيسى بن مريم عليه الصلاة والسلام أن يتقدم للصلاة يقال له المهدي، وقد أورد الشيخ صديق حسن في كتابه الإذاعة جملة كبيرة من أحاديث المهدي جعل آخرها حديث جابر المذكور عند مسلم ثم قال عقبه: "وليس فيه ذكر المهدي ولكن لا محمل له ولأمثاله من الأحاديث إلا المهدي المنتظر كما دلت على ذلك الأخبار المتقدمة والآثار الكثيرة، ولما كان المقام لا يتسع لإيراد الكثير من الأحاديث الواردة في غير الصحيحين في شأن المهدي والكلام عليها رأيت الاقتصار هنا على إيراد بعضها مع الكلام على بعض أسانيدها:

 

‌‌[السادس: - ذكر بعض الأحاديث في شأن المهدي الواردة في غير الصحيحين مع الكلام عن أسانيد بعضها]

ذكر بعض الأحاديث في المهدي الواردة في غير الصحيحين

1- عن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم "أبشركم بالمهدي يبعث على اختلاف من الناس وزلازل فيملأ الأرض قسطا وعدلا كما ملئت ظلما وجورا يرضى عنه ساكن السماء وساكن الأرض يقسم المال صحاحا" قال له رجل ما صحاحا قال "بالسوية ويملأ الله قلوب أمة محمد صلى الله عليه وسلم غناء ويسعهم عدله" إلى آخر الحديث قال الهيثمي في مجمع الزوائد رواه أحمد بأسانيد أبو يعلى باختصار كثير ورجالهما ثقات.

2- عن أبي هريرة رضي الله عنه قال ذكر إلى النبي صلى الله عليه وسلم المهدي فقال: "إن قصر فسبع وإلا فثمان وإلا فتسع وليملأن الأرض عدلاً وقسطاً كما ملئت جوراً وظلما" قال الهيثمي رواه البزار ورجاله ثقات وفي بعضهم بعض الضعف.

3- عن أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "يكون في أمتي المهدي إن قصر فسبع وإلا فثمان وإلا فتسع تنعم أمتي فيها نعمة لم ينعموا مثلها يرسل السماء عليهم مدرارا ولا تدخر الأرض شيئا من النبات والمال كدوس يقوم الرجل فيقول يا مهدي أعطني فيقول خذ" قال الهيثمي رواه الطبراني في الأوسط ورجاله ثقات.

4- عقد أبو داود في سننه كتابا قال في أوله: أول كتاب المهدي وقال في آخره آخر كتاب المهدي جعل تحته بابا واحدا أورد فيه ثلاثة عشر حديثا وصدر هذا الكتاب بحديث جابر ابن سمرة قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: "لا يزال هذا
মাহদী এবং সুন্নাহর একটি অংশ অপরটির ব্যাখ্যা প্রদান করে। এর প্রমাণস্বরূপ সেই হাদিসগুলোর একটি হলো যা হারিস ইবনে আবু উসামাহ তাঁর মুসনাদে তাঁর সনদে জাবির (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "ঈসা ইবনে মারিয়াম অবতরণ করবেন, তখন তাদের আমির মাহদী বলবেন: আসুন, আমাদের সালাতে ইমামতি করুন। তিনি বলবেন: না, নিশ্চয়ই আপনাদের একজন অপরজনের আমির; এটি এই উম্মতের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি সম্মান।" এই হাদিস সম্পর্কে ইবনুল কাইয়্যিম 'আল-মানার আল-মুনিফ' গ্রন্থে বলেছেন যে, এর সনদ উত্তম। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)। এটি প্রমাণ করে যে সহীহ মুসলিমে বর্ণিত সেই আমির, যিনি ঈসা ইবনে মারিয়াম (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-কে সালাতে ইমামতি করার অনুরোধ করবেন, তাকে মাহদী বলা হয়। শায়খ সিদ্দিক হাসান তাঁর 'আল-ইযাআহ' গ্রন্থে মাহদী সম্পর্কিত বিপুল সংখ্যক হাদিস উল্লেখ করেছেন এবং এর শেষে মুসলিমে বর্ণিত জাবির (রা.)-এর হাদিসটি উল্লেখ করেছেন। অতঃপর তিনি এর পরবর্তী অংশে বলেন: "যদিও এতে মাহদীর নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ নেই, তবে এই হাদিস এবং এর সমজাতীয় হাদিসগুলোর প্রয়োগ ইমাম মাহদী আল-মুনতাযার ছাড়া অন্য কোনো সত্তার ওপর হওয়ার অবকাশ নেই, যেমনটি পূর্ববর্তী বর্ণনা এবং অসংখ্য আসার (সাহাবী ও তাবিঈদের বাণী) দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে।" যেহেতু সহীহাইন (বুখারি ও মুসলিম) ব্যতীত অন্যান্য গ্রন্থে মাহদী সম্পর্কে বর্ণিত অসংখ্য হাদিস এবং সেগুলোর ওপর আলোচনা এখানে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করার মতো পর্যাপ্ত সুযোগ নেই, তাই আমি এখানে সেগুলোর মধ্য থেকে কিছু হাদিস তাদের সনদের ওপর সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনাসহ উল্লেখ করা সমীচীন মনে করছি:

 

‌‌[ষষ্ঠ: সহীহাইন ব্যতীত অন্যান্য গ্রন্থে মাহদী সম্পর্কিত কিছু হাদিসের উল্লেখ এবং সেগুলোর কোনো কোনোটির সনদের ওপর আলোচনা]

সহীহাইন ব্যতীত অন্যান্য গ্রন্থে মাহদী সম্পর্কিত কিছু হাদিসের উল্লেখ

১- আবু সাঈদ খুদরী (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমি তোমাদেরকে মাহদীর সুসংবাদ দিচ্ছি, যাকে মানুষের মতভেদ ও ভূমিকম্পের সময়ে পাঠানো হবে। তিনি পৃথিবীকে ইনসাফ ও ন্যায়ে পরিপূর্ণ করে দেবেন, যেভাবে তা জুলুম ও অত্যাচারে পরিপূর্ণ হয়েছিল। আকাশের অধিবাসী এবং পৃথিবীর অধিবাসী তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট থাকবে। তিনি সম্পদ 'সিহাহ' (সঠিকভাবে) বণ্টন করবেন।" এক ব্যক্তি তাঁকে জিজ্ঞাসা করল: 'সিহাহ' কী? তিনি বললেন: "সমতার ভিত্তিতে। আর আল্লাহ তাআলা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর উম্মতের অন্তরগুলোকে সচ্ছলতা বা অভাবহীনতায় পূর্ণ করে দেবেন এবং তাঁর ইনসাফ তাদের সবাইকে পরিবেষ্টন করবে।" — হাদিসের শেষ পর্যন্ত। আল-হাইসামি 'মাজমাউয যাওয়াইদ' গ্রন্থে বলেছেন: এটি আহমাদ একাধিক সনদে এবং আবু ইয়ালা অত্যন্ত সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন এবং তাদের উভয়ের বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।

২- আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে মাহদীর কথা আলোচনা করা হলো। তখন তিনি বললেন: "যদি তাঁর সময়কাল সংক্ষিপ্ত হয় তবে সাত বছর, অন্যথায় আট বছর, অন্যথায় নয় বছর। তিনি পৃথিবীকে ন্যায় ও ইনসাফে এমনভাবে পূর্ণ করে দেবেন যেভাবে তা অবিচার ও জুলুমে পূর্ণ ছিল।" আল-হাইসামি বলেন: আল-বাযযার এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর বর্ণনাকারীরা নির্ভরযোগ্য, তবে তাদের কারো কারো মধ্যে কিছুটা দুর্বলতা রয়েছে।

৩- আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: "আমার উম্মতের মধ্যে মাহদীর আগমন ঘটবে। যদি সংক্ষিপ্ত হয় তবে সাত বছর, অন্যথায় আট বছর, অন্যথায় নয় বছর। আমার উম্মত সে সময় এমন নেয়ামত বা সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য ভোগ করবে যা ইতিপূর্বে কখনোই করেনি। আকাশ তাদের ওপর অঝোর ধারায় বৃষ্টি বর্ষণ করবে এবং মাটি তার উৎপাদিত কোনো কিছুই সঞ্চিত বা গোপন রাখবে না। সম্পদ স্তূপীকৃত থাকবে। এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলবে: হে মাহদী, আমাকে দান করুন! তখন তিনি বলবেন: নিয়ে নাও।" আল-হাইসামি বলেন: তাবারানি এটি 'আল-আওসাত' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং এর বর্ণনাকারীরা নির্ভরযোগ্য।

৪- আবু দাউদ তাঁর সুনানে একটি কিতাব বা অধ্যায় রচনা করেছেন, যার শুরুতে তিনি লিখেছেন: 'মাহদী সম্পর্কিত কিতাবের সূচনা' এবং শেষে লিখেছেন: 'মাহদী সম্পর্কিত কিতাবের সমাপ্তি'। এর অধীনে তিনি একটি মাত্র পরিচ্ছেদ রেখেছেন যেখানে তেরোটি হাদিস উল্লেখ করেছেন। তিনি এই কিতাবটি জাবির ইবনে সামুরাহ-এর হাদিস দ্বারা শুরু করেছেন, যিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "এই দীন সর্বদা..."
(খণ্ড: ১) আকিদাতু আহলিস সুন্নাহ ওয়াল আসার ফিল মাহদিয়্যিল মুনতাযার (পৃষ্ঠা: ১৩৫)
الدين قائما حتى يكون عليكم إثنا عشر خليفة" الحديث قال السيوطي في آخر جزء العرف الوردي في أخبار المهدي إن في ذلك إشارة إلى ما قاله العلماء أن المهدي أحد الإثنى عشر وقد ذكر ذلك أيضا ابن كثير في تفسيره لقوله تعإلى: {وَلَقَدْ أَخَذَ اللَّهُ مِيثَاقَ بَنِي إِسْرائيلَ} في سورة المائدة كما يجيء ذكر كلامه، ويرى جماعة من العلماء ومنهم شارح الطحاوية أن الإثني عشر هم الخلفاء الراشدون وثمانية انتهى.

5- ما رواه أبو داود في سننه من طريق عاصم بن أبي النجود عن أبي زرعة عن عبد الله بن مسعود عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "لو لم يبق من الدنيا إلا يوم لطول الله ذلك اليوم حتى يبعث فيه رجلا مني أو من أهل بيتي يواطئ اسمه اسمي واسم أبيه اسم أبي يملأ الأرض قسطا وعدلا كما ملئت ظلما وجورا". وهذا الحديث سكت عليه أبو داود والمنذري وكذا ابن القيم في التهذيب السنن وقد أشار إلى صحته في المنار المنيف وصححه ابن تيميه في منهاج السنة النبوية وقد أورده في مصابيح السنة في فصل الحسان وقال عنه الألباني في تخريج أحاديث المشكاة "وإسناده حسن"، انتهى.

والحديث مداره على عاصم بن أبي النجود وقد لخص في عون المعبود شرح مسند سنن أبي داود الأقوال التي قيلت فيه فقال: "وعاصم هذا هو ابن أبي النجود واسم أبي النجود بهدلة أحد القراء السبعة" قال: "أحمد بن حنبل كان رجلا صالحا وأنا اختار قراءته" وقال أحمد وأبو زرعة أيضا: "ثقة" وقال أبو حاتم: "محله عندي محل الصدق صالح الحديث ولم يكن بذلك الحافظ" وقال أبو جعفر العقيلي: "لم يكن فيه إلا سوء الحفظ" وقال الدارقطني: "في حفظه شيء" وأخرج له البخاري في صحيحه مقرونا وأخرج له مسلم قال الذهبي: "ثبت في القراءة وهو في الحديث دون التثبت صدوق يهم وهو حسن الحديث" والحاصل أن عاصم بن بهدلة ثقة على رأي أحمد وأبي زرعة وحسن الحديث صالح الإحتجاج على رأي غيرهما ولم يكن فيه إلا سوء الحفظ فرد الحديث بعاصم ليس من دأب المنصفين على أن الحديث قد جاء من غير طريق عاصم أيضا فارتفعت عن عاصم مظنة الوهم والله أعلم. انتهى.

والحديث ذكره ابن خلدون في مقدمة تاريخه وقدح فيه من جهة عاصم ابن أبي النجود ملاحظا ما قيل فيه من سوء الحفظ وقال إن الجرح مقدم على التعديل وقد أنكر عليه ذلك، قال الشيخ أحمد شاكر في تخريج أحاديث المسند: "إن ابن خلدون لم يحسن قول المحدثين إن الجرح مقدم على التعديل ولو اطلع على أقوالهم وفقهها ما قال شيئا مما قال وقال أيضا إن عاصم ابن أبي النجود من أئمة القراء المعروفين ثقة في
"দ্বীন প্রতিষ্ঠিত থাকবে যতক্ষণ না তোমাদের ওপর বারোজন খলিফা অতিবাহিত হবেন" - এই হাদিস প্রসঙ্গে সুয়ূতী 'আল-আরফ আল-ওয়ারদী ফি আখবার আল-মাহদি' গ্রন্থের শেষ অংশে বলেছেন যে, এতে আলেমদের সেই বক্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে যে মাহদি হলেন এই বারোজনের একজন। ইবনে কাসীরও তাঁর তাফসীরে সূরা আল-মায়িদাহর আল্লাহর এই বাণীর: {আর অবশ্যই আল্লাহ বনী ইসরাঈলের থেকে অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলেন} ব্যাখ্যায় এটি উল্লেখ করেছেন, যেমনটি সামনে তাঁর বক্তব্যের আলোচনা আসবে। একদল আলেম, যাদের মধ্যে তাহাবীয়ার ব্যাখ্যাকারও রয়েছেন, মনে করেন যে বারোজন হলেন চার খলিফায়ে রাশেদীন এবং অন্য আটজন। ইতি।

৫- আবু দাউদ তাঁর সুনান গ্রন্থে আসেম বিন আবি আল-নুজুদ সূত্রে আবু জুরাহ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে এবং তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: "যদি দুনিয়ার অবশিষ্ট আয়ু মাত্র একদিনও থাকে, তবুও আল্লাহ সেই দিনটিকে দীর্ঘ করবেন যতক্ষণ না তিনি আমার থেকে অথবা আমার আহলে বাইত থেকে এমন একজন ব্যক্তিকে প্রেরণ করবেন যার নাম হবে আমার নামের অনুরূপ এবং তার পিতার নাম হবে আমার পিতার নামের অনুরূপ। সে পৃথিবীকে ন্যায় ও ইনসাফ দিয়ে পূর্ণ করে দেবে, যেমন তা জুলুম ও অত্যাচারে পূর্ণ হয়েছিল।" এই হাদিসটি সম্পর্কে আবু দাউদ ও মুনযিরী মৌনতা অবলম্বন করেছেন এবং ইবনুল কাইয়্যিমও 'তাহযীবুস সুনান'-এ অনুরূপ করেছেন। 'আল-মানার আল-মুনিফ' গ্রন্থে এর সহীহ হওয়ার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে এবং ইবনে তাইমিয়্যাহ 'মিনহাজুস সুন্নাহ আন-নববীয়্যাহ' গ্রন্থে একে সহীহ বলেছেন। এটি 'মাসাবিহুস সুন্নাহ'র হাসান পরিচ্ছেদে আনা হয়েছে এবং আলবানী 'মিশকাত'-এর হাদিস তাহকীক করতে গিয়ে একে "হাসান" বলেছেন। ইতি।

হাদিসটির মূল বর্ণনাকারী হলেন আসেম বিন আবি আল-নুজুদ। 'আউনুল মাবুদ শারহু মুসনাদে সুনানে আবি দাউদ'-এ তাঁর সম্পর্কে বলা বক্তব্যগুলো সারসংক্ষেপ করা হয়েছে, সেখানে বলা হয়েছে: "এই আসেম হলেন ইবনে আবি আল-নুজুদ, আর আবু আল-নুজুদের নাম হলো বাহদালা, যিনি সাতজন প্রসিদ্ধ কারীর (কুরআন পাঠকারী) অন্যতম।" তিনি বলেন: "আহমদ বিন হাম্বল বলেছেন: তিনি একজন নেককার লোক ছিলেন এবং আমি তাঁর কিরাত পছন্দ করি।" আহমদ ও আবু জুরাহ আরও বলেছেন: "নির্ভরযোগ্য (সিকাহ)"। আবু হাতিম বলেছেন: "আমার নিকট তাঁর স্থান সত্যবাদিতার, তিনি হাদিসের ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য (সালেহুল হাদিস), তবে তিনি খুব বড় হাফেজ ছিলেন না।" আবু জাফর আল-উকাইলী বলেছেন: "তাঁর মাঝে কেবল স্মৃতিশক্তির দুর্বলতা ছিল।" দারা কুতনী বলেছেন: "তাঁর স্মৃতিশক্তিতে কিছুটা সমস্যা ছিল।" বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে অন্যান্য বর্ণনাকারীর সাথে মিলিয়ে তাঁর হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম মুসলিমও তাঁর হাদিস বর্ণনা করেছেন। যাহাবী বলেছেন: "তিনি কিরাতের ক্ষেত্রে সুদৃঢ় (সাবত), কিন্তু হাদিসের ক্ষেত্রে তিনি পূর্ণ সুদৃঢ়তার স্তরের নিচে, তিনি সত্যবাদী কিন্তু সংশয়ে পতিত হন এবং তিনি হাসান পর্যায়ের হাদিস বর্ণনাকারী।" সারকথা হলো, আসেম বিন বাহদালা ইমাম আহমদ ও আবু জুরাহ-এর মতে নির্ভরযোগ্য (সিকাহ) এবং অন্যদের মতে তিনি হাসান হাদিস বর্ণনাকারী ও দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য; তাঁর মাঝে কেবল স্মৃতিশক্তির কিছুটা দুর্বলতা ছিল। সুতরাং কেবল আসেমের কারণে হাদিসটিকে প্রত্যাখ্যান করা ইনসাফপূর্ণ আচরণ নয়, বিশেষ করে যখন হাদিসটি আসেমের পথ ছাড়াও অন্যান্য সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, ফলে আসেমের ভুল করার সংশয় দূর হয়ে গেছে। আল্লাহই ভালো জানেন। ইতি।

ইবনে খলদুন তাঁর ইতিহাসের মুকাদ্দিমায় এই হাদিসটি উল্লেখ করেছেন এবং আসেম বিন আবি আল-নুজুদের স্মৃতিশক্তির দুর্বলতার অজুহাতে এর সমালোচনা করেছেন। তিনি এও লক্ষ্য করেছেন যে, জরাহ (দোষারোপ) তাদীল (প্রশংসা)-এর ওপর প্রাধান্য পায়। কিন্তু তাঁর এই বক্তব্যকে অস্বীকার করা হয়েছে। শেখ আহমদ শাকির 'মুসনাদ'-এর হাদিস তাহকীক করতে গিয়ে বলেন: "ইবনে খলদুন মুহাদ্দিসদের এই নীতিটি সঠিকভাবে বোঝেননি যে 'জরাহ তাদীল-এর ওপর প্রাধান্য পায়'। যদি তিনি তাঁদের বক্তব্যসমূহ দেখতেন এবং তা অনুধাবন করতেন, তবে তিনি যা বলেছেন তা বলতেন না। তিনি আরও বলেন যে, আসেম বিন আবি আল-নুজুদ প্রসিদ্ধ কিরাত ইমামদের অন্যতম এবং তিনি নির্ভরযোগ্য (সিকাহ)..."
(খণ্ড: ১) আকিদাতু আহলিস সুন্নাহ ওয়াল আসার ফিল মাহদিয়্যিল মুনতাযার (পৃষ্ঠা: ১৩৬)
الحديث أخطأ في بعض حديثه ولم يغلب خطؤه على روايته حتى ترد" قال ابن أبي حاتم في الجرح والتعديل: "أخبرنا عبد الله بن أحمد بن محمد بن حنبل فيما كتب إلي قال سألت أبي عن عاصم ابن بهدلة فقال ثقة رجل صالح خير ثقة والأعمش أحفظ منه وكان شعبة يختار الأعمش عليه في تثبيت الحديث وقال ابن أبي حاتم سألت أبي عن عاصم بن بهدلة فقال هو صالح هو أكثر حديثا من أبي قيس الأودي وأشهر منه وأحب إلي من أبي قيس وقال سئل إلي عن عاصم بن أبي النجود وعبد الملك بن عمير فقال قدم عاصما على عبد الملك عاصم أقل اختلافاً عندي من عبد الملك، وقال سألت أبا زرعة عن عاصم بن بهدلة فقال ثقة قال فذكرته لأبي فقال ليس محله هذا أن يقال ثقة وقد تكلم فيه ابن علية فقال كأن كل من كان اسمه عاصما سيء الحفظ" قال الشيخ أحمد شاكر: "وهذا أكثر ما قيل فيه من الجرح، أفمثل هذا يطرح حديثه ويجعل سبيلا لإنكار شيء ثبت بالسنة الصحيحة من طرق متعددة من حديث كثير من الصحابة حتى لا يكاد يشك في صحته أحد كما ورد في روايته من عدل وصدق لهجة ولارتفاع احتمال الخطأ فمن كان في حفظ شيء بما ثبت عن غيره ممن هو مثله في العدل والصدق وقد يكون أحفظ منه ما هكذا تعلل الأحاديث" انتهى.

6- وقال أبو داود في سننه حدثنا سهل بن تمام بن بديع حدثنا عمران القطان عن قتادة عن أبي نضرة عن أبي سعيد الخدري قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم "المهدي مني أجلى الجبهة أقنى الأنف يملأ الأرض قسطا وعدلا كما ملئت جورا وظلما ويملك سبع سنين"، قال ابن القيم في المنار المنيف رواه أبو داود بإسناد جيد وأورده في مصابيح السنة في فصل الحسان وقال الألباني في تخريج أحاديث المشكاة وإسناده حسن ورمز لصحته السيوطي في الجامع الصغير.

7- وقال ابن ماجه في سننه: حدثنا محمد بن يحيى وأحمد بن يوسف قالا: حدثنا عبد الرزاق عن سفيان الثوري عن خالد الحذاء عن أبي قلابة عن أبي اسماء الرحبي عن ثوبان قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "يقتتل عند كنزكم ثلاثة كلهم ابن خليفة ثم لا يصير إلى واحد منهم ثم تطلع الرايات السود من قبل المشرق فيقتلونكم قتلا لم يقتله قوم-ثم ذكر شيئا لا أحفظه- فقال فإذا رأيتموه فبايعوه ولو حبوا على الثلج فإنه خليفة الله المهدي"، قال الشيخ محمد فؤاد عبد الباقي في تعليقه على سنن ابن ماجه: في الزوائد: "هذا إسناد صحيح رجاله ثقات، ورواه الحاكم في المستدرك وقال صحيح على شرط الشيخين"، انتهى. وقد أورد هذا الحديث بسنده الحافظ ابن كثير في كتاب الفتن والملاحم وقال: "وهذا إسناد قوي صحيح، ثم أورد
হাদীসের রাবী তার কিছু বর্ণনায় ভুল করেছেন, তবে তার ভুল তার বর্ণনার ওপর এমনভাবে প্রবল হয়নি যে তা বর্জন করতে হবে।" ইবনে আবি হাতিম 'আল-জারহ ওয়াত তাদীল'-এ বলেছেন: "আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হাম্বল আমাকে যা লিখেছেন তাতে বলেছেন যে, আমি আমার পিতাকে আসিম ইবনে বাহদালাহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: তিনি নির্ভরযোগ্য, একজন নেককার মানুষ, অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য। তবে আল-আ'মাশ তার চেয়েও বেশি স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন ছিলেন। শু'বাহ হাদীস সুদৃঢ়ভাবে বর্ণনার ক্ষেত্রে আসিমের ওপর আল-আ'মাশকে অগ্রাধিকার দিতেন।" ইবনে আবি হাতিম বলেন, "আমি আমার পিতাকে আসিম ইবনে বাহদালাহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: তিনি সৎ, তিনি আবু কায়েস আল-আওদীর তুলনায় অধিক হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং তার চেয়েও বেশি প্রসিদ্ধ; তিনি আমার কাছে আবু কায়েসের চেয়ে অধিক প্রিয়।" তিনি আরও বলেন যে, "আসিম ইবনে আবি নাজুদ এবং আবদুল মালিক ইবনে উমাইর সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: আমি আবদুল মালিকের ওপর আসিমকে প্রধান্য দেই; আমার কাছে আবদুল মালিকের তুলনায় আসিমের বর্ণনার ভিন্নতা কম।" তিনি বলেন, "আমি আবু যুরআহকে আসিম ইবনে বাহদালাহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: তিনি নির্ভরযোগ্য। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর আমি আমার পিতার কাছে বিষয়টি উল্লেখ করলে তিনি বললেন: তিনি এই পর্যায়ের নন যে তাকে 'নির্ভরযোগ্য' বলা যাবে; তার সম্পর্কে ইবনে উলাইয়্যাহ সমালোচনা করে বলেছেন: মনে হয় যেন যার নামই আসিম, তারই স্মৃতিশক্তি দুর্বল।" শেখ আহমাদ শাকির বলেছেন: "এটিই তার সম্পর্কে বলা সবচেয়ে বড় সমালোচনা। তবে কি এমন ব্যক্তির হাদীস বর্জন করা হবে এবং একে এমন একটি বিষয় অস্বীকার করার মাধ্যম বানানো হবে যা বহু সাহাবীর সূত্রে একাধিক পথে বর্ণিত সহীহ সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে, যার বিশুদ্ধতা নিয়ে কারো কোনো সন্দেহ থাকার অবকাশ নেই? বিশেষ করে তার বর্ণনায় যখন ন্যায়পরায়ণতা ও সত্যবাদিতা প্রকাশ পেয়েছে এবং ভুলের সম্ভাবনা দূর হয়েছে। যার স্মৃতিশক্তি তার মতো অন্য কোনো ন্যায়পরায়ণ ও সত্যবাদী বর্ণনাকারীর দ্বারা সমর্থিত হয়েছে (যিনি তার চেয়েও অধিক স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন হতে পারেন), তবে এ ধরনের হাদীসকে ত্রুটিযুক্ত বলা যায় না।" সমাপ্ত।

৬- এবং আবু দাউদ তাঁর সুনানে বলেছেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন সাহল ইবনে তামাম ইবনে বাদি, তিনি ইমরান আল-কাত্তান থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে, তিনি আবু নাদরাহ থেকে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "মাহদী আমার বংশোদ্ভূত, তিনি উজ্জ্বল প্রশস্ত ললাট এবং উচ্চ নাসা বিশিষ্ট হবেন। তিনি পৃথিবীকে ন্যায় ও ইনসাফ দিয়ে পূর্ণ করে দেবেন যেমনিভাবে তা জুলুম ও অত্যাচারে পরিপূর্ণ হয়েছিল। তিনি সাত বছর রাজত্ব করবেন।" ইবনুল কায়্যিম 'আল-মানারুল মুনিফ'-এ বলেছেন যে, আবু দাউদ এটি একটি উত্তম সনদে বর্ণনা করেছেন এবং এটি 'মাসাবীহুস সুন্নাহ'র হাসান পরিচ্ছেদে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আলবানী 'তাখরীজু আহাদীতিল মিশকাত'-এ বলেছেন এর সনদ হাসান এবং সুয়ূতী 'আল-জামি আস-সাগীর'-এ এর বিশুদ্ধতার দিকে ইঙ্গিত করেছেন।

৭- এবং ইবনে মাজাহ তাঁর সুনানে বলেছেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া এবং আহমাদ ইবনে ইউসুফ, তাঁরা বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবদুর রাজ্জাক, তিনি সুফিয়ান আস-সাওরী থেকে, তিনি খালিদ আল-হাজ্জা থেকে, তিনি আবু কিলাবাহ থেকে, তিনি আবু আসমা আল-রাহবী থেকে, তিনি সাওবান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমাদের গুপ্তধনের কাছে তিনজন লড়াই করবে, যাদের প্রত্যেকেই খলীফার সন্তান। এরপর তাদের একজনের কাছেও তা পৌঁছাবে না। তারপর পূর্ব দিক থেকে কালো পতাকাবাহীরা আত্মপ্রকাশ করবে এবং তারা তোমাদের এমনভাবে হত্যা করবে যা অন্য কোনো জাতি করেনি—এরপর তিনি এমন কিছু উল্লেখ করলেন যা আমার মুখস্থ নেই—অতঃপর তিনি বললেন: যখন তোমরা তাকে দেখবে, তখন তার কাছে গিয়ে বাইয়াত গ্রহণ করবে, এমনকি বরফের ওপর হামাগুড়ি দিয়ে হলেও। কেননা তিনি আল্লাহর খলীফা মাহদী।" শেখ মুহাম্মদ ফুয়াদ আব্দুল বাকী সুনানে ইবনে মাজাহ-র টীকায় 'আল-জাওয়াইদ' থেকে উদ্ধৃত করে বলেছেন: "এই সনদটি সহীহ এবং এর বর্ণনাকারীরা নির্ভরযোগ্য। হাকেম এটি 'আল-মুস্তাদরাক'-এ বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন এটি শায়খায়নের শর্তানুযায়ী সহীহ।" সমাপ্ত। হাফেজ ইবনে কাসীর 'কিতাবুল ফিতান ওয়াল মালাহিম'-এ এই হাদীসটি তার সনদসহ উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: "এই সনদটি শক্তিশালী ও সহীহ, এরপর তিনি উল্লেখ করেছেন...
(খণ্ড: ১) আকিদাতু আহলিস সুন্নাহ ওয়াল আসার ফিল মাহদিয়্যিল মুনতাযার (পৃষ্ঠা: ১৩৭)
حديثا عن الترمذي فيه ذكر الرايات السود أيضا ثم قال وهذه الرايات ليست هي الرايات التي أقبل بها أبو مسلم الخرساني فاستلب بها دولة بني أمية في سنة اثنتين وثلاثين ومائة بل رايات سود أخر تأتي بصحبة المهدي وهو محمد بن عبد الله العلوي الفاطمي الحسني رضي الله عنه" انتهى.

8- قال أبو داود في سننه: حدثنا حمد بن إبراهيم حدثنا عبد الله جعفر الرقي حديثا أبو المليح الحسن بن عمر عن زياد بن بيان عن علي بن نفيل عن سعيد بن المسيب عن أم سلمة قالت سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: "المهدي من عترتي من ولد فاطمة. ." وأخرجه ابن ماجه عن سعيد ابن المسيب قال كنا عند أم سلمة فتذاكرنا المهدي فقالت سمعت رسول الله صلى عليه وسلم يقول: "المهدي من ولد فاطمة" وقد أورد هذا الحديث السيوطي في الجامع الصغير ورمز لصحته وأورده في مصابيح السنن في فصل الحسان وقال الألباني في تخريج أحاديث المشكاة وإسناده جيد.

9- قال ابن القيم في المنار المنيف وقال الحارث بن أبي أسامة في مسنده: حدثنا اسماعيل بن عبد الكريم حدثنا إبراهيم بن عقيل عن أبيه عن وهب بن منبه عن جابر قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "ينزل عيسى بن مريم فيقول أميرهم المهدي تعال صل بنا فيقول لا إن بعضهم أمير بعض تكرمة الله لهذه الأمة" قال ابن القيم وهذا إسناد جيد، انتهى.

وبالرجوع إلى ما قاله أهل هذا الفن في سند الحديث وجدت أن السند متصل من أوله إلى آخره لا نقطاع فيه أما ما قيل عن كل راو من رواته:

فاسماعيل بن عبد الكريم قال عنه الحافظ في التقريب: "اسماعيل بن عبد الكريم ابن معقل بن منبه صدوق من التسعة" وذكر في تهذيب التهذيب أنه روى عن ابن عمه إبراهيم بن عقيل وعن غير إبراهيم بن عقيل هذا هو الذي روى عنه اسماعيل هذا الحديث في المهدي وذكر أنه روى عن اسماعيل المذكور جماعة منهم أحمد بن حنبل والحارث ابن أبي أسامة وقال ابن حجر في تهذيب التهذيب أيضا قال النسائي: "ليس به بأس" وذكره ابن حبان في الثقات وقال ابن معين: "ثقة رجل صدق" وقال الحافظ ابن حجر: "وأما قول ابن القطان الفاسي لا يعرف فمردود عليه" وقال مسلمة بن قاسم: "جائز الحديث ولم يزد في خلاصة تهذيب الكمال عن قول ابن معين فيه ثقة صدوق وقال قال ابن سعد توفي سنة عشر ومائتين" انتهى. وهو من رجال أبي داود في سننه وابن ماجه في التفسير كما رمز لذلك الحافظ في تقريب التهذيب.

والثاني من رجال سند الحديث إبراهيم بن عقيل بن معقل الصنعاني ابن عم اسماعيل المتقدم ذكره قال الحافظ في التقريب: "صدوق من الثامنة" ورمز لكونه من رجال أبي داود وقال
তিরমিযী থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে কালো পতাকারও উল্লেখ রয়েছে। অতঃপর তিনি বলেন, এই পতাকাগুলো সেই পতাকা নয় যা নিয়ে আবু মুসলিম খুরাসানী অগ্রসর হয়েছিলেন এবং যার মাধ্যমে তিনি একশ বত্রিশ হিজরি সালে উমাইয়া রাজবংশের ক্ষমতা ছিনিয়ে নিয়েছিলেন। বরং এগুলো অন্য কিছু কালো পতাকা যা মাহদির সাথে আসবে; আর তিনি হলেন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-আলাওয়ী আল-ফাতিমি আল-হাসানী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)।" সমাপ্ত।

৮- আবু দাউদ তার সুনানে বলেন: আমাদের কাছে হামদ বিন ইব্রাহিম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের কাছে আব্দুল্লাহ জাফর আল-রাক্কী হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি আবুল মালিহ আল-হাসান বিন উমর থেকে, তিনি যিয়াদ বিন বায়ান থেকে, তিনি আলী বিন নুফাইল থেকে, তিনি সাঈদ বিন আল-মুসায়্যিব থেকে, তিনি উম্মে সালামাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি: "মাহদি আমার বংশোদ্ভূত, ফাতিমার সন্তানদের অন্তর্ভুক্ত।" এবং ইবনে মাজাহ এটি সাঈদ বিন আল-মুসায়্যিব থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমরা উম্মে সালামাহর কাছে ছিলাম, তখন আমরা মাহদি সম্পর্কে আলোচনা করছিলাম। তিনি বললেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি: "মাহদি ফাতিমার সন্তানদের অন্তর্ভুক্ত।" সুয়ূতী 'আল-জামি' আস-সাগীর'-এ এই হাদিসটি উল্লেখ করেছেন এবং এর বিশুদ্ধতার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। তিনি এটি 'মাসাবীহ আস-সুনান'-এর হাসান অধ্যায়েও উল্লেখ করেছেন। আলবানী 'মিশকাত'-এর হাদিসসমূহের তখরীজে বলেছেন, এর সনদ উত্তম (জায়্যিদ)।

৯- ইবনুল কাইয়্যিম 'আল-মানার আল-মুনিফ'-এ বলেছেন এবং হারিস বিন আবু উসামা তার মুসনাদে বলেছেন: আমাদের কাছে ইসমাইল বিন আব্দুল কারীম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের কাছে ইব্রাহিম বিন আকীল বর্ণনা করেছেন, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি ওয়াহাব বিন মুনাব্বিহ থেকে, তিনি জাবির থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "ঈসা ইবনে মারিয়াম অবতরণ করবেন, তখন তাদের আমির মাহদি বলবেন: আসুন, আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করুন। তিনি বলবেন: না, এই উম্মতের প্রতি আল্লাহর সম্মানের বহিঃপ্রকাশ স্বরূপ তোমাদের একেকজন অন্যজনের উপর আমির।" ইবনুল কাইয়্যিম বলেন, এই সনদটি উত্তম (জায়্যিদ)। সমাপ্ত।

এই শাস্ত্রের পণ্ডিতগণ হাদিসটির সনদের বিষয়ে যা বলেছেন তা পর্যালোচনা করে আমি দেখেছি যে, সনদের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন, এতে কোনো বিচ্ছিন্নতা নেই। এর প্রত্যেক বর্ণনাকারী সম্পর্কে যা বলা হয়েছে তা হলো:

ইসমাইল বিন আব্দুল কারীম সম্পর্কে আল-হাফিয 'আত-তাকরীব'-এ বলেছেন: "ইসমাইল বিন আব্দুল কারীম ইবনে মাকিল বিন মুনাব্বিহ নবম স্তরের একজন সত্যবাদী বর্ণনাকারী।" এবং 'তাহযীবুত তাহযীব'-এ উল্লেখ করা হয়েছে যে, তিনি তার চাচাতো ভাই ইব্রাহিম বিন আকীল এবং ইব্রাহিম বিন আকীল ছাড়া অন্যদের থেকেও বর্ণনা করেছেন। এই ইব্রাহিম বিন আকীলই হলেন তিনি, যার থেকে ইসমাইল মাহদি বিষয়ক এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, উক্ত ইসমাইল থেকে একদল বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন আহমদ বিন হাম্বল এবং হারিস বিন আবু উসামা। ইবনে হাজার 'তাহযীবুত তাহযীব'-এ আরও উল্লেখ করেছেন যে, নাসাঈ বলেছেন: "তার মধ্যে কোনো সমস্যা নেই।" ইবনে হিব্বান তাকে নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের (সিকাহ) তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছেন। ইবনে মাঈন বলেছেন: "নির্ভরযোগ্য এবং অত্যন্ত সত্যবাদী ব্যক্তি।" হাফিয ইবনে হাজার বলেন: "আর ইবনুল কাত্তান আল-ফাসীর এই উক্তি যে, 'তাকে চেনা যায় না (মাজহুল)', তা প্রত্যাখ্যাত।" মাসলামাহ বিন কাসিম বলেছেন: "তার হাদিস গ্রহণযোগ্য।" এবং 'খুলাসাতু তাহযীবিল কামাল'-এ ইবনে মাঈনের উদ্ধৃতি ছাড়া আর বাড়তি কিছু বলা হয়নি যে, তিনি "নির্ভরযোগ্য ও সত্যবাদী"। তিনি আরও বলেন যে, ইবনে সাদ বলেছেন, তিনি ২১০ হিজরি সালে ইন্তেকাল করেন। সমাপ্ত। তিনি সুনানে আবু দাউদ এবং ইবনে মাজার তাফসীরের বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত, যেমনটি হাফিয 'তাকরীবুত তাহযীব'-এ ইঙ্গিত করেছেন।

আর হাদিসের সনদের দ্বিতীয় ব্যক্তি হলেন ইব্রাহিম বিন আকীল বিন মাকিল আস-সানআনী, যিনি পূর্বোক্ত ইসমাইলের চাচাতো ভাই। আল-হাফিয 'আত-তাকরীব'-এ তার সম্পর্কে বলেছেন: "অষ্টম স্তরের সত্যবাদী বর্ণনাকারী।" এবং তিনি আবু দাউদের বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন এবং বলেছেন-
(খণ্ড: ১) আকিদাতু আহলিস সুন্নাহ ওয়াল আসার ফিল মাহদিয়্যিল মুনতাযার (পৃষ্ঠা: ১৩৮)
في تهذيب التهذيب: "روى عن أبيه وعنه أحمد بن حنبل وابن عمه اسماعيل بن عبد الكريم وغيرهم قال ابن معين لم يكن به بأس وقال المعجلي ثقة وقال الحافظ قلت وأخرج له ابن خزيمة في صحيحه وكذا ابن حبان والحاكم وذكر ابن أبي خيثمة عن يحيى بن معين قال إبراهيم ثقة وأبوه ثقة وقال ابن أبيه وهب بن منبه" انتهى.

الثالث من رجال سند الحديث عقيل بن معقل قال الحافظ في التقريب: "هو ابن أخي وهب بن منبه وقال صدوق من السابعة" ورمز لكونه من رجال أبي داود ذكر في تهذيب التهذيب أنه روى عن عميه همام ووهب وعنه إبنه إبراهيم وأناس آخرون سماهم وذكر أنه وثقة أحمد بن حنبل وابن معين وقال وذكره ابن حبان في الثقات وعلق له البخاري عن جابر في تفسير سورة النساء أثرا في الكهان وقد جاء موصولا من رواية عقيل هذا عن وهب وعنه إبنه إبراهيم وعبد الرزاق قال أحمد ثقة قرأ التوراة والإنجيل" انتهى.

الرابع من رجال سند الحديث وهب بن منبه بن كامل اليماني قال في التقريب: "ثقة من الثالثة" ورمز لكونه من رجال الصحيحين وأبي داود والترمذي والنسائي وابن ماجه في التفسير.

وقال في تهذيب التهذيب روى عن أبي هريرة وأبي سعيد وابن عباس وابن عمرو ابن شعيب وأبي خلفية البصري وأخيه همام ابن منبه وغيرهم وذكر أنه روى عنه ابناه عبد الله وعبد الرحمن وابناء أخيه عبد الصمد وعقيل بن معقل بن منبه وقال قال: "عبد الله ابن أحمد بن حنبل عن أبيه كان من ابناء فارس" وقال العجلي: "تابعي ثقة وكان على قضاء صنعاء" وقال أبو زرعة والنسائي: "ثقة" وذكره ابن حبان في الثقات، انتهى. وقال أحمد ابن حنبل "وكان يهتم بشيء من القدر ثم رجع عنه" وقال الحافظ في تهذيب التهذيب ايضا روى له البخارى حديثا واحدا من روايته عن أخيه عن أبي هريرة "ليس أحد أكثر حديثا مني إلا عبد الله بن عمرو بن العاص فإنه كان يكتب ولا أكتب" وقال قلت: "وقال عمرو بن علي الغلاس كان ضعيفا" انتهى. أقول وذكر شارح الطحاوية عن وهب ابن منبه أنه قال: "نظرت في القدر فتحيرت ثم نظرت فيه فتحيرت ووجدت أن أعلم الناس بالقدر أكفهم عنه وأجهل الناس بالقدر أنطقهم به"

أما الحارث ابن أبي أسامة صاحب المسند فقد ترجم له الذهبي في الميزان وقال فيه: "وكان حافظا عارفا بالحديث عالي الإسناد بالمرة تكلم فيه بلا حجة"، قال الدارقطني: "قد اختلف فيه وهو عندي صدوق" وقال ابن حزم: "ضعيف ولينه بعض البغاددة لكونه يأخذ على
তাহযীবুত তাহযীব-এ বর্ণিত হয়েছে: "তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর থেকে আহমদ বিন হাম্বল, তাঁর চাচাতো ভাই ইসমাইল বিন আব্দুল কারীম এবং অন্যরা বর্ণনা করেছেন। ইবনে মাঈন বলেছেন, তাঁর মাঝে কোনো সমস্যা ছিল না। আজলী তাঁকে নির্ভরযোগ্য (সিক্বাহ) বলেছেন। হাফেজ (ইবনে হাজার) বলেছেন, আমি বলছি, ইবনে খুযাইমা তাঁর সহীহ গ্রন্থে তাঁর হাদিস গ্রহণ করেছেন এবং একইভাবে ইবনে হিব্বান ও হাকেমও। ইবনে আবি খাইসামা ইয়াহইয়া বিন মাঈন থেকে উল্লেখ করেছেন যে, ইব্রাহিম নির্ভরযোগ্য এবং তাঁর পিতাও নির্ভরযোগ্য। আর তিনি তাঁর পিতার পিতা ওহাব বিন মুনাব্বিহ-এর কথা উল্লেখ করেছেন।" সমাপ্ত।

হাদিসের সনদের তৃতীয় ব্যক্তি হলেন আকীল বিন মাকীল। হাফেজ (ইবনে হাজার) তাকরীবুত তাহযীব-এ বলেছেন: "তিনি ওহাব বিন মুনাব্বিহ-এর ভ্রাতুষ্পুত্র এবং তিনি সত্যবাদী (সাদূক), সপ্তম স্তরের অন্তর্ভুক্ত।" তিনি আবু দাউদের বর্ণনাকারী হওয়ার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। তাহযীবুত তাহযীব-এ উল্লেখ করা হয়েছে যে, তিনি তাঁর দুই চাচা হাম্মাম ও ওহাব থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর থেকে তাঁর পুত্র ইব্রাহিম ও অন্যান্য ব্যক্তিরা বর্ণনা করেছেন যাদের নাম তিনি উল্লেখ করেছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, আহমদ বিন হাম্বল ও ইবনে মাঈন তাঁকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন। ইবনে হিব্বান তাঁকে আস-সিক্বাত (নির্ভরযোগ্যদের তালিকা) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। ইমাম বুখারী সূরা নিসার তাফসীরে গণকদের বিষয়ে জাবির (রা.) থেকে একটি আসার (বর্ণনা) মুয়াল্লাক হিসেবে তাঁর থেকে উদ্ধৃত করেছেন। এই বর্ণনাটি আকীল-এর সূত্রে ওহাব থেকে এবং ওহাবের সূত্রে তাঁর পুত্র ইব্রাহিম ও আব্দুর রাজ্জাক থেকে মুত্তাসিল (সংযুক্ত) হিসেবে বর্ণিত হয়েছে। আহমদ বলেছেন, "তিনি নির্ভরযোগ্য, তিনি তাওরাত ও ইঞ্জিল পাঠ করেছিলেন।" সমাপ্ত।

হাদিসের সনদের চতুর্থ ব্যক্তি হলেন ওহাব বিন মুনাব্বিহ বিন কামিল আল-ইয়ামানি। তাকরীবুত তাহযীব-এ বলা হয়েছে: "তৃতীয় স্তরের নির্ভরযোগ্য (সিক্বাহ) বর্ণনাকারী।" তিনি বুখারী-মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ এবং ইবনে মাজাহ-এর তাফসীর অধ্যায়ের বর্ণনাকারী হওয়ার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন।

তাহযীবুত তাহযীব-এ বলা হয়েছে যে, তিনি আবু হুরায়রা, আবু সাঈদ, ইবনে আব্বাস, ইবনে আমর ইবনুল আস, ইবনে শুআইব, আবু খলিফা আল-বাসরি এবং তাঁর ভাই হাম্মাম বিন মুনাব্বিহ ও অন্যান্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁর থেকে তাঁর দুই পুত্র আব্দুল্লাহ ও আব্দুর রহমান এবং তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্র আব্দুস সামাদ ও আকীল বিন মাকীল বিন মুনাব্বিহ বর্ণনা করেছেন। আব্দুল্লাহ বিন আহমদ বিন হাম্বল তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, "তিনি পারস্য বংশোদ্ভূত ছিলেন।" আজলী বলেছেন: "তিনি নির্ভরযোগ্য তাবেয়ী এবং সানআর বিচারক ছিলেন।" আবু যুরআ ও নাসাঈ বলেছেন: "তিনি নির্ভরযোগ্য।" ইবনে হিব্বান তাঁকে আস-সিক্বাত গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। সমাপ্ত। আহমদ বিন হাম্বল বলেছেন, "তিনি তকদীর (কদর) সংক্রান্ত কিছু বিষয়ে আগ্রহী ছিলেন, পরে তা থেকে ফিরে আসেন।" হাফেজ ইবনে হাজার তাহযীবুত তাহযীব-এ আরও উল্লেখ করেছেন যে, ইমাম বুখারী তাঁর থেকে মাত্র একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন, যা তিনি তাঁর ভাইয়ের সূত্রে আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন: "আব্দুল্লাহ বিন আমর ইবনুল আস ব্যতীত আর কেউ আমার চেয়ে বেশি হাদিস বর্ণনা করেনি, কারণ তিনি লিখতেন আর আমি লিখতাম না।" তিনি (হাফেজ) বলেন, আমি বলছি: "আমর বিন আলী আল-ফাল্লাস বলেছেন তিনি দুর্বল ছিলেন।" সমাপ্ত। আমি (লেখক) বলছি, শারহুত তাহাবিয়্যাহ-এর ব্যাখ্যাকার ওহাব বিন মুনাব্বিহ থেকে উল্লেখ করেছেন যে তিনি বলেছেন: "আমি তকদীর নিয়ে চিন্তা করলাম এবং বিভ্রান্ত হলাম, পুনরায় তা নিয়ে চিন্তা করলাম এবং আবার বিভ্রান্ত হলাম। আমি দেখলাম যে তকদীর সম্পর্কে সবচেয়ে বড় জ্ঞানী সেই ব্যক্তি যে এ থেকে বিরত থাকে, আর তকদীর সম্পর্কে সবচেয়ে অজ্ঞ সেই ব্যক্তি যে এ নিয়ে সবচেয়ে বেশি কথা বলে।"

আর মুসনাদ গ্রন্থের রচয়িতা হারিস বিন আবি উসামাহ সম্পর্কে যাহাবী মীযানুল ইতিদাল গ্রন্থে জীবনী উল্লেখ করেছেন এবং সেখানে তাঁর বিষয়ে বলেছেন: "তিনি হাফেজ ছিলেন, হাদিস শাস্ত্রে অভিজ্ঞ ছিলেন এবং তাঁর সনদের মান ছিল অত্যন্ত উঁচু। কোনো প্রমাণ ছাড়াই তাঁর সমালোচনা করা হয়েছে।" দারাকুতনী বলেছেন: "তাঁকে নিয়ে মতভেদ আছে, তবে আমার কাছে তিনি সত্যবাদী (সাদূক)।" ইবনে হাযম বলেছেন: "তিনি দুর্বল।" বাগদাদের কেউ কেউ তাঁকে শিথিল মনে করতেন কারণ তিনি হাদিস বর্ণনার বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণ করতেন।
(খণ্ড: ১) আকিদাতু আহলিস সুন্নাহ ওয়াল আসার ফিল মাহদিয়্যিল মুনতাযার (পৃষ্ঠা: ১৩৯)
الرواية" انتهى. وترجم له الذهبي أيضا في تذكرة الحفاظ وسمى جماعة روى عنهم وجماعة رووا عنه ثم قال: "وثقة إبراهيم الحربي مع علمه بأنه يأخذ الدراهم وأبو حاتم وابن حبان وقال الدارقطني صدوق وأما أخذ الدراهم على الرواية فقد كان فقيرا كثير البنات وقال أبو الفتح الأزدي وأبي حزم ضعيف" انتهى.

"وقال ابن العماد في شذرات الذهب وفيها أي في سنة 282هـ توفي الحافظ أبو محمد الأحرث أبي أسامة التهمي البغدادي صاحب المسند يوم عرفة وله 96سنة سمع عن ابن عاصم وعبد الرحمن بن عطاء وطبقتهما قال الدارقطني صدوق وقيل فيه لين كان لفقره يأخذ على الحديث أجرا"

هؤلاء سند الحديث من أوله إلى جابر رضي الله عنه وهو متصل ولفظ حديث جابر هذا قريب من لفظ حديثه عند مسلم في صحيحه حيث قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: " لا تزال طائفة من أمتي يقاتلون على الحق ظاهرين إلى يوم القيامة قال فينزل عيسى بن مريم فيقول أميرهم تعال صلى لنا فيقول لا إن بعضكم على بعض أمراء تكرمة الله هذه الامة"، فهذا الحديث الذي أورده ابن القيم من مسند الحارث ابن أبي أسامة بالسند الذي قال عنه إنه جيد وقد سمعتم حاصل ما ذكر عن رجاله أقول هذا الحديث فيه وصف الأمير المذكور بأنه المهدي فيكون هذا الحديث وغيره من الأحاديث الكثيرة الدالة على خروج المهدي آخر الزمان مفسرة للمراد بهذا الحديث الذي أورده مسلم وللأحاديث الأخرى التي في معناه عند البخاري ومسلم كما تقدمت الإشارة إلى ذلك.

 

‌‌[السابع: - ذكر بعض العلماء الذين احتجوا بأحاديث المهدي واعتقدوا موجبها وحكاية كلامهم في ذلك]

قال الحافظ أبو جعفر العقيلى المتوفى سنة اثنتين وعشرين وثلاثمائة "إن في المهدي أحاديث جياد" قال الحافظ ابن حجر في تهذيب التهذيب في ترجمة على بن نفيل بن زارع النهدي قلت "ذكره العقيلي في كتابه وقال لا يتابع على حديثة في المهدي ولا يعرف إلا به قال وفي المهدي أحاديث جياد من غير هذا الوجه" انتهى.

ويرى الإمام ابن حبان البستي المتوفى سنة354 أن الأحاديث الواردة في المهدي مخصصة لحديث لا يأتي عليكم زمان إلا والذي بعده شر منه قال الحافظ بن حجر في فتح الباري في الكلام على الحديث الذي رواه البخاري في صحيحه في كتاب الفتن وهو حديث أنس رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "لا يأتي عليكم زمان إلا والذي بعده شر منه حتى تلقوا ربكم" "قال واستدل ابن حبان في صحيحه بأن حديث أنس ليس على عمومه بالأحاديث الواردة في المهدي وأنه يملأ الأرض عدلا بعد أن ملئت ظلما" انتهى.
বর্ণনা।" শেষ। আয-যাহাবীও তাঁর জীবনী 'তাযকিরাতুল হুফফায'-এ বর্ণনা করেছেন এবং যাদের থেকে তিনি বর্ণনা করেছেন ও যারা তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন এমন একটি দলের নাম উল্লেখ করেছেন। এরপর তিনি বলেন: "ইব্রাহিম আল-হারবি তাকে বিশ্বস্ত বলেছেন, যদিও তিনি জানতেন যে তিনি দিরহাম (পারিশ্রমিক) গ্রহণ করতেন। আবু হাতিম এবং ইবনে হিব্বানও তাকে বিশ্বস্ত বলেছেন। আদ-দারাকুতনি বলেছেন তিনি সত্যবাদী (সদুক)। আর বর্ণনা করার বিনিময়ে দিরহাম গ্রহণের বিষয়টি ছিল এই কারণে যে, তিনি অত্যন্ত দরিদ্র ছিলেন এবং তাঁর অনেক কন্যা ছিল। আবু আল-ফাতহ আল-আযদি এবং আবু হাযম বলেছেন তিনি দুর্বল (যঈফ)।" শেষ।

"ইবনুল ইমাদ 'শাযারাতুয যাহাব'-এ বলেছেন যে, এই বছর অর্থাৎ ২৮২ হিজরিতে হাফেজ আবু মুহাম্মদ আল-হারিস ইবনে আবি উসামা আত-তামিমি আল-বাগদাদি, যিনি 'মুসনাদ'-এর সংকলক, আরাফাতের দিনে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর বয়স ছিল ৯৬ বছর। তিনি ইবনে আসিম, আবদুর রহমান ইবনে আতা এবং তাঁদের সমসাময়িকদের থেকে হাদিস শুনেছেন। আদ-দারাকুতনি তাকে সত্যবাদী (সদুক) বলেছেন। কারো মতে তাঁর মধ্যে কিছুটা শিথিলতা ছিল। তিনি দারিদ্র্যের কারণে হাদিস বর্ণনার বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণ করতেন।"

হাদিসের শুরু থেকে জাবির (রাযিয়াল্লাহু আনহু) পর্যন্ত এরা হলেন এই হাদিসের সনদ এবং এটি একটি নিরবচ্ছিন্ন সনদ। জাবির (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর এই হাদিসের শব্দাবলি সহিহ মুসলিমে বর্ণিত তাঁর হাদিসের কাছাকাছি, যেখানে তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "আমার উম্মতের একটি দল কিয়ামত পর্যন্ত সত্যের ওপর বিজয়ী হয়ে লড়াই করতে থাকবে। তিনি বলেন, এরপর ঈসা ইবনে মারিয়াম অবতরণ করবেন, তখন তাদের আমির তাকে বলবেন: আসুন, আমাদের সালাতে ইমামতি করুন। তিনি বলবেন: না, এই উম্মতের প্রতি আল্লাহর সম্মানের খাতিরে তোমাদের একে অপরের ওপর আমির নিযুক্ত।" সুতরাং এই হাদিসটি যা ইবনুল কাইয়্যিম আল-হারিস ইবনে আবি উসামার মুসনাদ থেকে এমন একটি সনদে উল্লেখ করেছেন যা তিনি উত্তম (জায়্যিদ) বলেছেন। আপনারা তাঁর বর্ণনাকারীদের সম্পর্কে যা বলা হয়েছে তার সারসংক্ষেপ শুনলেন। আমি বলি, এই হাদিসে উল্লিখিত আমিরের বর্ণনা মাহদি হিসেবে করা হয়েছে। তাই শেষ জামানায় মাহদির আগমনের ব্যাপারে এই হাদিস এবং অন্যান্য অনেক হাদিস ইমাম মুসলিমের বর্ণিত হাদিস এবং বুখারি ও মুসলিমের একই অর্থের অন্যান্য হাদিসগুলোর মর্মার্থের ব্যাখ্যা স্বরূপ হবে, যেমনটি পূর্বে ইঙ্গিত করা হয়েছে।

 

‌‌[সপ্তম: সেই সকল আলেমদের আলোচনা যারা মাহদি সংক্রান্ত হাদিসসমূহকে দলিল হিসেবে গ্রহণ করেছেন, তার ওপর বিশ্বাস রেখেছেন এবং এ বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য উদ্ধৃত করা হয়েছে]

হাফেজ আবু জাফর আল-উকাইলি (মৃত্যু: ৩২২ হিজরি) বলেছেন, "নিশ্চয়ই মাহদি সম্পর্কে অনেক উত্তম হাদিস রয়েছে।" হাফেজ ইবনে হাজার 'তাহযীবুত তাহযীব'-এ আলী ইবনে নুফাইল ইবনে যারে আল-নাহদির জীবনীতে বলেছেন: আমি বলি, "উকাইলি তাকে তাঁর গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন যে মাহদি সম্পর্কে তাঁর হাদিস অনুসরণযোগ্য নয় এবং তিনি ছাড়া এটি আর কেউ জানে না। তিনি আরো বলেন যে, মাহদি সম্পর্কে এই সূত্র ছাড়াও অন্যান্য উত্তম হাদিস রয়েছে।" শেষ।

ইমাম ইবনে হিব্বান আল-বুস্তি (মৃত্যু: ৩৫৪ হিজরি) মনে করেন যে, মাহদি সম্পর্কিত হাদিসগুলো "তোমাদের ওপর এমন কোনো সময় আসবে না যার পরের সময়টি তার চেয়ে মন্দ হবে না" - এই হাদিসটিকে নির্দিষ্ট বা সীমাবদ্ধ করে দিয়েছে। হাফেজ ইবনে হাজার 'ফাতহুল বারি'-তে সহিহ বুখারির ফিতনা অধ্যায়ে বর্ণিত হাদিসের আলোচনায় বলেছেন, এটি আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিস যেখানে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের ওপর এমন কোনো সময় আসবে না যার পরের সময়টি তার চেয়েও খারাপ হবে না, যতক্ষণ না তোমরা তোমাদের রবের সাথে সাক্ষাৎ করবে।" তিনি বলেন, "ইবনে হিব্বান তাঁর সহিহ গ্রন্থে দলিল দিয়েছেন যে, আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিসটি তার ব্যাপক অর্থের ওপর নেই, বরং মাহদি সংক্রান্ত হাদিসগুলো দ্বারা তা বিশেষিত; কেননা মাহদি পৃথিবীকে ন্যায়বিচারে পূর্ণ করে দেবেন যেমনভাবে তা অন্যায়ে ভরে গিয়েছিল।" শেষ।
(খণ্ড: ১) আকিদাতু আহলিস সুন্নাহ ওয়াল আসার ফিল মাহদিয়্যিল মুনতাযার (পৃষ্ঠা: ১৪০)
وقال الخطابي 388هـ رحمه الله في الكلام على حديث أنس بن مالك رضي الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "لا تقوم الساعة حتى يتقارب الزمان وتكون السنة كالشهر والشهر كالجمعة الخ. ." قال "ويكون ذلك في زمن المهدي أو عيسى عليهما الصلاة والسلام أو كليهما" ذكر ذلك ملا علي قاري في المرقاة شرح المشكاة وقال" والأخير هو الأظهر لظهور هذا الأمر في خروج الدجال وهو في زمنهما" وذكر ذلك المبارك فوري صاحب تحفة الاحوذى في الكلام على شرح هذا الحديث.

وقال الإمام البيهقي المتوفى سنة 458هـ بعد كلامه على تضعيف حديث "لا مهدي إلا عيسى بن مريم" قال والأحاديث في التنصيص على خروج المهدي أصح البتة إسنادا نقل ذلك عنه الحافظ بن حجر في تهذيب التهذيب في ترجمة محمد بن خالد الجندي راوي حديث "لا مهدي إلا عيسى بن مريم" ونقله عنه أيضا ابن القيم في المنار المنيف في الحديث الصحيح والضعيف.

وقد عقد القاضي عياض المتوفى 544 هـ في كتابه الشفاء بابا لمعجزاته صلى الله عليه وسلم يشتمل على ثلاثين فصلا قال في القسم الأول من كتابه المذكور: "الباب الرابع فيما أظهره الله على يديه صلى الله عليه وسلم من المعجزات وشرفه به من الخصائص والكرامات قال في أوائل الكلام في هذا الباب: أمنيتنا أن نثبت في هذا الباب أمهات معجزاته ومشاهير آياته لتدل على عظيم قدره عند ربه وأتينا منها بالمحقق والصحيح الإسناد أكثره مما بلغ القطع أو كاد وأضفنا إليه بعض ما وقع في كتب مشاهير الأئمة ثم قال في الفصل الثالث والعشرين فصل ومن ذلك ما اطلع عليه من الغيوب ومايكون. . قال في أوله: والأحاديث في هذا الباب بحر لا يدرك قعره ولا ينزف غمره، أورد في هذا الفصل جملة كبيرة من الأمور المستقبلة التي أخبر بها الذي لا ينطق عن الهوى صلى الله عليه وسلم وذكر من بينها خروج المهدي".

وقال الإمام محمد بن أحمد بن أبي بكر القرطبي صاحب التفسير المشهور المتوفى سنة 671هـ في كتابه التذكرة في أمور الآخرة بعد ذكر حديث "ولا مهدي إلا عيسى ابن مريم" "قال إسناده ضعيف والأحاديث عن النبي صلى الله عليه وسلم في التنصيص على خروج المهدي من عترته من ولد فاطمة ثابتة أصح من هذا الحديث فالحكم بها دونه وقال يحتمل أن يكون قوله صلى الله عليه وسلم "ولا مهدي إلا عيسى بن مريم" أي لا مهدي كاملا معصوما إلا عيسى قال وعلى هذا تجتمع الأحاديث ويرتفع التعارض، نقل ذلك عنه السيوطي في آخر جزء العرف الوردي في أخبار المهدي" وقال شيخ الإسلام ابن تيميه 728 هـ في كتابه منهاج السنة النبوية في نقض كلام الشيعة والقدرية"ج4-211".
খাত্তাবী (৩৮৮ হিজরী), আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন, আনাস ইবনে মালিক (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) বর্ণিত হাদীসের আলোচনায় বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "কিয়ামত ততক্ষণ পর্যন্ত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ না সময় সংকুচিত হবে; তখন একটি বছর হবে এক মাসের সমান এবং এক মাস হবে এক সপ্তাহের সমান... ইত্যাদি।" তিনি বলেন: "এটি ইমাম মাহদী অথবা ঈসা (আলাইহিমাস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর যুগে অথবা তাঁদের উভয়ের যুগেই ঘটবে।" মোল্লা আলী কারী 'মিরকাত শরহে মিশকাত'-এ এটি উল্লেখ করে বলেন: "শেষোক্ত মতটিই অধিকতর স্পষ্ট, কারণ দাজ্জালের আত্মপ্রকাশের সময় এই বিষয়টি প্রকাশ পাবে, আর তা হবে তাঁদের উভয়ের সময়কালে।" 'তুহফাতুল আহওয়াযী'র লেখক মুবারকপুরীও এই হাদীসের ব্যাখ্যার আলোচনায় বিষয়টি উল্লেখ করেছেন।

ইমাম বায়হাকী (মৃত্যু ৪৫৮ হিজরী) 'ঈসা ইবনে মারইয়াম ব্যতীত কোনো মাহদী নেই' এই হাদীসটিকে দুর্বল প্রমাণের আলোচনার পর বলেন: মাহদীর আগমনের ব্যাপারে সুস্পষ্ট বর্ণনাসংবলিত হাদীসগুলোর সনদ নিশ্চিতভাবেই অধিকতর বিশুদ্ধ। হাফেজ ইবনে হাজার তাঁর 'তাহযীবুত তাহযীব' গ্রন্থে উক্ত হাদীসের বর্ণনাকারী মুহাম্মদ ইবনে খালিদ আল-জুন্দীর জীবনীতে এটি তাঁর (বায়হাকীর) উদ্ধৃতিতে উল্লেখ করেছেন এবং ইবনুল কাইয়্যিমও তাঁর 'আল-মানারুল মুনিফ ফিস সহীহ ওয়াদ যঈফ' গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন।

কাজী আইয়ায (মৃত্যু ৫৪৪ হিজরী) তাঁর 'আশ-শিফা' গ্রন্থে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মুজিযা সম্পর্কে একটি অধ্যায় বিন্যস্ত করেছেন যা ত্রিশটি পরিচ্ছেদ সংবলিত। তিনি তাঁর উক্ত কিতাবের প্রথম অংশে বলেন: "চতুর্থ অধ্যায়: আল্লাহ তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাধ্যমে যেসব মুজিযা প্রকাশ করেছেন এবং যেসব বৈশিষ্ট্য ও কারামতের মাধ্যমে তাঁকে সম্মানিত করেছেন।" তিনি এই অধ্যায়ের আলোচনার শুরুতে বলেন: "আমাদের লক্ষ্য হলো এই অধ্যায়ে তাঁর প্রধান মুজিযা এবং সুপ্রসিদ্ধ নিদর্শনাবলী প্রমাণ করা, যাতে তাঁর রবের নিকট তাঁর মহান মর্যাদার বিষয়টি প্রকাশ পায়। আমরা এখানে সে সকল বর্ণনা এনেছি যা সুনিশ্চিতভাবে যাচাইকৃত এবং যার অধিকাংশের সনদ সহীহ যা নিশ্চিত জ্ঞানের পর্যায়ে পৌঁছেছে বা তার কাছাকাছি; এবং প্রসিদ্ধ ইমামদের কিতাবে যা বর্ণিত হয়েছে তার কিছু অংশ আমরা এতে যুক্ত করেছি।" অতঃপর তিনি তেইশতম পরিচ্ছেদে বলেন: "পরিচ্ছেদ: অদৃশ্য বিষয় এবং ভবিষ্যতে যা ঘটবে সে সম্পর্কে তিনি যা অবগত হয়েছিলেন।" এর শুরুতে তিনি বলেন: "এই অধ্যায়ের হাদীসগুলো এক অতল সমুদ্রের ন্যায় যার তলদেশ খুঁজে পাওয়া যায় না এবং যার প্রাচুর্য নিঃশেষ হয় না।" তিনি এই পরিচ্ছেদে ভবিষ্যতে ঘটবে এমন অনেক বিষয় উল্লেখ করেছেন যেগুলোর সংবাদ তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দিয়েছিলেন, যিনি নিজের খেয়ালখুশি মতো কথা বলেন না। আর সেগুলোর মধ্যেই তিনি মাহদীর আগমনের কথা উল্লেখ করেছেন।

বিখ্যাত তাফসীর গ্রন্থের লেখক ইমাম মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে আবু বকর আল-কুরতুবী (মৃত্যু ৬৭১ হিজরী) তাঁর 'আত-তাযকিরাহ ফী উমুরিল আখিরাহ' গ্রন্থে 'ঈসা ইবনে মারইয়াম ব্যতীত কোনো মাহদী নেই' এই হাদীসটি উল্লেখ করার পর বলেন: "এর সনদ দুর্বল। আর মাহদী যে তাঁর বংশধর ও ফাতিমার সন্তানদের অন্তর্ভুক্ত হবেন—সে সম্পর্কে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত হাদীসসমূহ প্রমাণিত এবং এই হাদীসের তুলনায় অধিকতর সহীহ; সুতরাং সেই হাদীসগুলোই অনুসরণীয় হবে।" তিনি আরও বলেন, "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী—ঈসা ইবনে মারইয়াম ব্যতীত কোনো মাহদী নেই—এর সম্ভাব্য অর্থ হতে পারে যে, ঈসা (আলাইহিস সালাম) ব্যতীত আর কোনো মাহদী পূর্ণাঙ্গভাবে মাসুম বা নিষ্পাপ নন।" তিনি বলেন, "এর মাধ্যমেই হাদীসসমূহের মধ্যে সমন্বয় সাধিত হয় এবং বৈপরীত্য দূর হয়।" সুয়ূতী তাঁর 'আল-উরফুল ওয়ারদী ফী আখবারিল মাহদী'র শেষাংশে এটি বর্ণনা করেছেন। এবং শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (৭২৮ হিজরী) শিয়া ও কাদারিয়াদের বক্তব্যের প্রতিবাদে রচিত তাঁর 'মিনহাজুস সুন্নাহ আন-নববিয়্যাহ' গ্রন্থে (৪র্থ খণ্ড, ২১১ পৃষ্ঠা) বলেন—
(খণ্ড: ১) আকিদাতু আহলিস সুন্নাহ ওয়াল আসার ফিল মাহদিয়্যিল মুনতাযার (পৃষ্ঠা: ১৪১)
"فصل وأما الحديث الذي رواه-أي الرافضي الذي ألف كتابه للرد عليه عن ابن عمر عن النبي صلى الله عليه وسلم "يخرج في آخر الزمان رجل من ولدي اسمه كاسمي وكنيته كنيتي يملأ الأرض عدلا كما ملئت جورا" وذلك هو المهدي، في الجواب أن الأحاديث التي يحتج بها على الخروج المهدي أحاديث صحيحة رواها أبو داود والترمذي وأحمد وغيرهم من حديث ابن مسعود وغيره كقوله صلى الله عليه وسلم في الحديث الذي رواه ابن مسعود "لو لم يبق من الدنيا إلا يوم لطول الله ذلك اليوم حتى يخرج فيه رجل مني أو من أهل بيتي يواطئ اسمه اسمي واسم أبيه اسم أبي يملأ الأرض قسطا وعدلا كما ملئت ظلما وجورا" ورواه الترمذي وأبو داود من رواية أم سلمة وفيه المهدي من عترتي من ولد فاطمة ورواه أبو داود من طريق أبي سعيد وفيه "يملك الأرض سبع سنين" ورواه عن علي رضي الله عنه أنه نظر إلى الحسن وقال إن أبني هذا سيد كما سماه رسول الله صلى الله عليه وسلم وسيخرج من صلبه رجل يسمى باسم نبيكم يشبهه في الخلق ولا يشبهه في الخلق يملأ الأرض قسطا وهذه الأحاديث غلط فيها طوائف طائفة أنكروها واحتجوا بحديث ابن ماجه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "لا مهدي إلا عيسى ابن مريم" وهذا الحديث ضعيف وقد اعتمد أبو محمد بن الوليد البغدادي وغيره عليه وليس مما يعتمد عليه، ورواه ابن ماجه عن يونس عن الشافعي والشافعي رواه عن رجل من أهل اليمن يقال له محمد بن خالد الجندي وهو ممن لا يحتج به وليس في مسند الشافعي وقد قيل إن الشافعي لم يسمعه من الجندي وإن يونس لم يسمعه من الشافعي، الثاني أن الإثنى عشرية الذين ادعوا إن هذا مهديهم اسمه محمد بن الحسن والمهدي المنعوت الذي وصفه النبي صلى الله عليه وسلم اسمه محمد بن عبد الله ولهذا حذفت طائفة لفظ الأب حتى لا يناقض ما كتبت وطائفة حرفته وقالت جده الحسين وكنيته أبو عبد الله فمعناه محمد ابن أبي عبد الله وجعلت الكنية اسما وممن سلك هذا ابن طلحة في كتابه الذي سماه غاية السول في مناقب الرسول ومن له أدنى نظر يعرف أن هذا تحريف صميم وكذب على رسول الله صلى الله عليه وسلم فهل يفهم أحد من قوله يواطئ اسمه اسمي واسم أبيه اسم أبي إلا أن اسم أبيه عبد الله وهل يدل هذا اللفظ على أن جده كنيته أبو عبد الله ثم أي تمييز يحصل له بهذا فكم من ولد الحسين من اسمه محمد وكل هؤلاء يقال في أجدادهم محمد بن أبي عبد الله كما قيل في هذا وكيف يعدل من يريد البيان إلى من اسمه محمد بن الحسين فيقول اسمه محمد بن عبد الله ويعني بذلك أن جده أبو عبد الله وهذا كان تعريفه بأنه محمد بن الحسن أو ابن

পরিচ্ছেদ: আর সেই হাদিসটি যা তিনি—অর্থাৎ সেই রাফেযী যিনি তার কিতাবটি তাকে খণ্ডন করার জন্য লিখেছেন—ইবনে ওমর থেকে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, "শেষ জমানায় আমার সন্তানদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি বের হবে, যার নাম হবে আমার নামের মতো এবং যার উপনাম হবে আমার উপনামের মতো। সে পৃথিবীকে ন্যায়বিচার দিয়ে পূর্ণ করে দেবে যেমনভাবে তা জুলুম দিয়ে পূর্ণ ছিল।" আর তিনি হলেন মাহদী। এর জবাবে বলা হবে যে, মাহদীর আগমনের ব্যাপারে যে হাদিসগুলো দ্বারা দলিল পেশ করা হয়, সেগুলো সহিহ হাদিস। আবু দাউদ, তিরমিযী, আহমদ এবং অন্যরা ইবনে মাসউদ ও অন্যদের সূত্রে এগুলো বর্ণনা করেছেন। যেমন ইবনে মাসউদ বর্ণিত হাদিসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "দুনিয়ার আয়ু যদি আর মাত্র একদিনও বাকি থাকে, তবুও আল্লাহ সেই দিনটিকে দীর্ঘ করবেন যতক্ষণ না আমার বংশের বা আমার আহলে বাইতের এক ব্যক্তিকে প্রেরণ করেন, যার নাম হবে আমার নামের অনুরূপ এবং তার পিতার নাম হবে আমার পিতার নামের অনুরূপ। সে পৃথিবীকে ইনসাফ ও ন্যায়বিচার দিয়ে পূর্ণ করে দেবে যেমনভাবে তা অবিচার ও জুলুম দিয়ে পূর্ণ ছিল।" তিরমিযী ও আবু দাউদ উম্মে সালামার বর্ণনা থেকে এটি বর্ণনা করেছেন, যেখানে রয়েছে: "মাহদী আমার বংশের এবং ফাতেমার সন্তানদের অন্তর্ভুক্ত।" আবু দাউদ আবু সাঈদের সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন এবং তাতে আছে: "তিনি সাত বছর পৃথিবী শাসন করবেন।" আর আলী (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি হাসানের দিকে তাকালেন এবং বললেন, "আমার এই পুত্র একজন সরদার, যেমনটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে নামকরণ করেছেন। শীঘ্রই তার বংশধর থেকে এক ব্যক্তির আগমন ঘটবে যার নাম তোমাদের নবীর নামের মতো হবে। স্বভাবে সে তাঁর সদৃশ হবে কিন্তু আকৃতিতে নয়। সে পৃথিবীকে ইনসাফ দিয়ে পূর্ণ করে দেবে।" এই হাদিসগুলোর ব্যাপারে কতিপয় দল ভুল করেছে। এক দল এগুলোকে অস্বীকার করেছে এবং ইবনে মাজাহ-র সেই হাদিসটি দিয়ে দলিল দিয়েছে যেখানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "ঈসা ইবনে মারয়াম ব্যতীত কোনো মাহদী নেই।" অথচ এই হাদিসটি দুর্বল। আবু মুহাম্মদ বিন আল-ওয়ালিদ আল-বাগদাদী এবং অন্যরা এর ওপর নির্ভর করেছেন, কিন্তু এটি নির্ভরযোগ্য নয়। ইবনে মাজাহ এটি ইউনুস থেকে এবং তিনি শাফেয়ী থেকে বর্ণনা করেছেন। শাফেয়ী এটি ইয়ামেনের এক ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেছেন যাকে মুহাম্মদ বিন খালিদ আল-জুন্দী বলা হয়। তিনি এমন একজন ব্যক্তি যার বর্ণনা দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয় এবং এটি মুসনাদে শাফেয়ীতেও নেই। আরও বলা হয়েছে যে, শাফেয়ী তা জুন্দী থেকে শোনেননি এবং ইউনুস তা শাফেয়ী থেকে শোনেননি। দ্বিতীয়ত, ইসনা আশারিয়া (বারো ইমামী) যারা দাবি করে যে তাদের মাহদীর নাম মুহাম্মদ বিন হাসান। অথচ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাহদীর যে বিবরণ দিয়েছেন তাতে তার নাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ। একারণেই একদল বর্ণনাকারী 'পিতার নাম' শব্দটি বাদ দিয়ে দিয়েছে যাতে তাদের লিখিত বর্ণনার সাথে বৈপরীত্য সৃষ্টি না হয়। আর একদল একে বিকৃত করে বলেছে যে, তার দাদা হলেন হুসাইন এবং তার উপনাম ছিল আবু আব্দুল্লাহ, তাই এর অর্থ হলো মুহাম্মদ ইবনে আবি আব্দুল্লাহ। তারা উপনামকে নামে পরিণত করেছে। যারা এই পথ অবলম্বন করেছেন তাদের মধ্যে ইবনে তালহা তার 'গায়াতুস সূল ফি মানাকিবির রাসূল' নামক কিতাবে এটি উল্লেখ করেছেন। যার সামান্যতম বিচারবুদ্ধি আছে সেও বুঝবে যে এটি একটি জঘন্য বিকৃতি এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর মিথ্যাচার। "তার নাম আমার নামের অনুরূপ এবং তার পিতার নাম হবে আমার পিতার নামের অনুরূপ"—এই কথা থেকে কি কেউ একথাই বোঝে না যে তার পিতার নাম আব্দুল্লাহ? এই শব্দ কি একথার প্রমাণ দেয় যে তার দাদার উপনাম ছিল আবু আব্দুল্লাহ? তাছাড়া এর মাধ্যমে তার কী স্বতন্ত্র পরিচয় ফুটে ওঠে? হুসাইনের বংশধরদের মধ্যে কতজনের নামই তো মুহাম্মদ, এবং তাদের সবার দাদার ক্ষেত্রে 'মুহাম্মদ ইবনে আবি আব্দুল্লাহ' বলা যেতে পারে যেমনটি এখানে বলা হয়েছে। যে ব্যক্তি স্পষ্ট বর্ণনা দিতে চায়, সে কীভাবে মুহাম্মদ বিন হাসানের পরিবর্তে মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বলবে এই উদ্দেশ্যে যে তার দাদার উপনাম আবু আব্দুল্লাহ? অথচ তার পরিচিতি হওয়ার কথা ছিল মুহাম্মদ বিন হাসান অথবা ইবনে...

(খণ্ড: ১) আকিদাতু আহলিস সুন্নাহ ওয়াল আসার ফিল মাহদিয়্যিল মুনতাযার (পৃষ্ঠা: ১৪২)
أبي الحسن لأن جده على كنيته أبو الحسن أحسن من هذا وأبين لمن يريد الهدى والبيان وأيضا فإن المهدي المنعوت من ولد الحسن بن علي لا من ولد الحسين كما تقدم لفظ حديث علي رضي الله عنه".

وقد عقد ابن القيم رحمه الله في آخر كتابه المنار المنيف في الحديث الصحيح والضعيف فصلا في الكلام على أحاديث المهدي وخروجه والجمع بينها وبين حديث لا مهدي إلا عيسى ابن مريم، قال فيه:

"فأما حديث لا مهدي إلا عيسى ابن مريم فرواه ابن ماجه في سننه عن يوسف ابن عبد الأعلى عن الشافعي عن محمد بن خالد الجندي عن إبان بن صاح عن الحسن عن أنس بن مالك عن النبي صلى الله عليه وسلم وهو مما تفرد به محمد بن خالد قال أبو الحسين محمد بن الحسين الآبري في كتاب مناقب الشافعي: محمد بن خالد هذا غير معروف عند أهل الصناعة من أهل العلم والنقل وقد تواترت الأخبار واستفاضت عن رسول الله صلى الله عليه وسلم بذكر المهدي وأنه من أهل بيته وأنه يملك سبع سنين وأنه يملأ الأرض عدلا وأن عيسى يخرج فيساعده على قتل الدجال وأنه يؤم هذه الأمة ويصلي عيسى خلفه، وقال البيهقي تفرد به محمد بن خالد هذا وقد قال الحاكم أبو عبد الله هو مجهول وقد اختلف عليه في إسناده فروي عنه عن إبان ابن أبي عياش عن الحسن مرسلا عن النبي صلى الله عليه وسلم قال فرجع الحديث إلى رواية محمد بن خالد وهو مجهول-عن إبان بن أبي عياش-وهو متروك-عن الحسين عن النبي صلى الله عليه وسلم-وهو منقطع-والأحاديث على خروج المهدي أصح إسنادا، قال ابن القيم قلت كحديث عبد الله بن مسعود عن النبي صلى الله عليه وسلم: "لو لم يبق من الدنيا إلا يوم لطول الله ذلك اليوم حتى يبعث رجل مني أو من أهل بيتي يواطئ اسمه اسمي واسم أبيه اسم أبي يملأ الأرض قسطا وعدلا كما ملئت ظلما وجورا" رواه أبو داود والترمذي وقال حديث حسن صحيح قال-يعني الترمذي-وفي الباب عن علي وأبي سعيد وأم سلمة وأبي هريرة وقال حسن صحيح انتهى ثم قال ابن القيم وفي الباب عن حذيفة ابن اليمان وأبي أمامة الباهلي وعبد الرحمن بن عوف وعبد الله بن عمرو بن العاص وثوبان وأنس بن مالك وجابر وابن عباس وغيرهم ثم أورد عدة أحاديث رواها بنص أهل السنن والمسانيد وغيرها منها ما هو صحيح ومنها ما هو ضعيف أورده للإستئناس به.

ثم قال: وهذه الأحاديث أربعة أقسام صحاح وحسان وغرائب وموضوعة وقد اختلف الناس في المهدي على أربعة أقوال:

أحدها: أنه المسيح ابن مريم-وهو المهدي على
আবুল হাসান, কারণ তার দাদার কুনিয়াত (উপনাম) ছিল আবুল হাসান—এটি সেই ব্যক্তির জন্য অধিক উত্তম ও স্পষ্ট যে হিদায়াত এবং বিশদ বর্ণনা কামনা করে। আর বর্ণিত মাহদি হলেন হাসান বিন আলীর বংশধর, হুসাইনের বংশধর নন, যেমনটি আলী রাদিআল্লাহু আনহুর হাদীসের শব্দে পূর্বে বর্ণিত হয়েছে।

ইবনুল কাইয়্যিম রাহিমাহুল্লাহ তার 'আল-মানারুল মুনিফ ফিস সহিহি ওয়াদ দয়িফ' কিতাবের শেষে মাহদির হাদীসসমূহ, তার আগমন এবং 'ঈসা ইবনে মারইয়াম ব্যতীত কোনো মাহদি নেই' হাদীসটির সাথে সেগুলোর সমন্বয় সাধনের বিষয়ে একটি অধ্যায় রচনা করেছেন। তিনি সেখানে বলেছেন:

"ঈসা ইবনে মারইয়াম ব্যতীত কোনো মাহদি নেই" হাদীসটি সম্পর্কে কথা হলো—ইবনে মাজাহ তার সুনান গ্রন্থে ইউসুফ ইবনে আব্দুল আ'লা থেকে, তিনি শাফেয়ী থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন খালিদ আল-জুন্দি থেকে, তিনি আবান বিন সালেহ থেকে, তিনি হাসান থেকে, তিনি আনাস বিন মালিক থেকে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। এটি সেই সব হাদীসের অন্তর্ভুক্ত যা কেবল মুহাম্মদ বিন খালিদ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। আবুল হুসাইন মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন আল-আবি 'মানাকিবুশ শাফেয়ী' কিতাবে বলেছেন: এই মুহাম্মদ বিন খালিদ ইলম ও বর্ণনা শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞগণের নিকট পরিচিত নন। অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে মাহদির উল্লেখ সম্পর্কে অসংখ্য ও বহুল বর্ণিত হাদীস রয়েছে যে, তিনি তাঁর আহলে বাইতের অন্তর্ভুক্ত হবেন, তিনি সাত বছর রাজত্ব করবেন, তিনি পৃথিবীকে ন্যায়ে পরিপূর্ণ করবেন এবং ঈসা আলাইহিস সালাম বের হয়ে তাঁকে দাজ্জালকে হত্যা করতে সাহায্য করবেন। আর তিনি এই উম্মতের ইমামতি করবেন এবং ঈসা আলাইহিস সালাম তাঁর পিছনে সালাত আদায় করবেন। বায়হাকী বলেছেন, এই মুহাম্মদ বিন খালিদ এটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন। হাকেম আবু আব্দুল্লাহ বলেছেন, তিনি অপরিচিত (মাজহুল)। তার সনদের ব্যাপারেও মতভেদ রয়েছে; তার থেকে আবান ইবনে আবি আইয়াশ থেকে, তিনি হাসান থেকে মুরসাল হিসেবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, শেষ পর্যন্ত হাদীসটি মুহাম্মদ বিন খালিদ—যিনি মাজহুল—তার বর্ণনার দিকেই ফিরে যায়, যা তিনি আবান ইবনে আবি আইয়াশ—যিনি বর্জনীয় (মাতরুক)—তার থেকে, তিনি হাসান থেকে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। এটি একটি বিচ্ছিন্ন (মুনকাতি) সনদ। অথচ মাহদির আগমনের হাদীসসমূহ সনদের দিক থেকে অধিকতর সহিহ। ইবনুল কাইয়্যিম বলেন, আমি বলছি, যেমন আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিআল্লাহু আনহু থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীস: "যদি দুনিয়ার মাত্র একদিনও অবশিষ্ট থাকে, তবে আল্লাহ সেই দিনটিকে দীর্ঘ করবেন যতক্ষণ না তিনি আমার থেকে অথবা আমার আহলে বাইত থেকে এমন একজন ব্যক্তিকে প্রেরণ করবেন যার নাম আমার নামের সাথে এবং তার পিতার নাম আমার পিতার নামের সাথে মিলে যাবে। তিনি পৃথিবীকে ইনসাফ ও ন্যায়ে পূর্ণ করবেন যেমনটি তা অন্যায় ও জুলুমে পূর্ণ ছিল।" এটি আবু দাউদ ও তিরমিজি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি একে হাসান সহিহ হাদীস বলেছেন। তিনি অর্থাৎ তিরমিজি বলেছেন, এ বিষয়ে আলী, আবু সাঈদ, উম্মে সালামাহ এবং আবু হুরায়রা থেকেও বর্ণনা রয়েছে এবং তিনি একে হাসান সহিহ বলেছেন। সমাপ্ত। অতঃপর ইবনুল কাইয়্যিম বলেন, এ বিষয়ে হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান, আবু উমামা আল-বাহিলি, আব্দুর রহমান বিন আউফ, আব্দুল্লাহ বিন আমর ইবনুল আস, সাওবান, আনাস বিন মালিক, জাবির, ইবনে আব্বাস এবং আরও অনেকের থেকে বর্ণনা রয়েছে। এরপর তিনি বেশ কিছু হাদীস উল্লেখ করেছেন যা সুনান ও মুসনাদ গ্রন্থকারগণ হুবহু শব্দে বর্ণনা করেছেন। এগুলোর মধ্যে কোনোটি সহিহ এবং কোনোটি দয়িফ (দুর্বল), যা তিনি সমর্থক হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

অতঃপর তিনি বলেন: এই হাদীসগুলো চার প্রকার: সহিহ, হাসান, গরিব এবং জাল। আর মাহদির ব্যাপারে মানুষের মাঝে চারটি মতভেদ রয়েছে:

প্রথমটি হলো: তিনি হলেন মাসিহ ইবনে মারইয়াম—আর তিনিই সেই মাহদি যার ভিত্তিতে...
(খণ্ড: ১) আকিদাতু আহলিস সুন্নাহ ওয়াল আসার ফিল মাহদিয়্যিল মুনতাযার (পৃষ্ঠা: ১৪৩)
الحقيقة-واحتج أصحاب هذا تحديث محمد بن خالد الجندي المتقدم وقد بينا حاله وأنه لا يصح ولو صح لم يكن به حجة لأن عيسى أعظم مهدي بين يدي رسول الله صلى الله عليه وسلم وبين الساعة وقد دلت السنة الصحيحة عن النبي صلى الله عليه وسلم على نزوله على المنارة البيضاء شرقي دمشق وحكمه بكتاب الله وقتله اليهود والنصارى ووضعه الجزية وإهلاك أهل الملل في زمانه فيصح أن يقال لا مهدي في الحقيقة سواه وإن كان غيره مهديا كما يقال لا علم إلا ما نفع ولا مال إلا ما وفى وجه صاحبه كما يصح أن يقال إنما المهدي عيسى بن مريم يعني المهدي بالكامل المعصوم.

القول الثاني: أنه المهدي الذي ولي من بني العباس وقد انتهى زمانه ثم ذكر حديثين منهما ذكر مجيء الرايات السود من قبل المشرق من جهة خراسان وأشار إلى ضعفهما ثم قال مشيرا إلى أولها وثانيها وهذا والذي قبله لو صح لم يكن فيه دليل على المهدي الذي تولىمن بني العباس هو المهدي الذي يخرج في آخر الزمان بل هو مهدي من جملة المهديين وعمر بن عبد العزيز كان مهديا بل هو أولى باسم المهدي منه وقد قال صلى الله عليه وسلم: "عليكم بسنتي وسنة الخلفاء الراشدين المهديين من بعدي" وقد ذهب الإمام أحمد في إحدى الروايتين عنه إلى أن عمر بن عبد العزيز منهم ولا ريب أنه كان راشدا مهديا ولكن ليس بالمهدي الذي يخرج في آخر الزمان فالمهدي في جانب الخير والرشد كالدجال في جانب الشر والضلال وكما أن بين يدي الدجال الأكبر صاحب الخوارق دجالون كذابون فكذلك بين يدي المهدي الأكبر مهديون راشدون.

القول الثالث: أنه رجل من أهل بيت النبي صلى الله عليه وسلم من ولد الحسن ابن علي يخرج في آخر الزمان وقد امتلأت الأرض جورا وظلما فيملأها قسطا وعدلا وأكثر الأحاديث على هذا تدل وفي كونه من ولد الحسن سر لطيف وهو أن الحسن رضي الله عنه ترك الخلافة لله فجعل الله من ولده من يقوم بالخلافة الحق المتضمن للعدل الذي يملأ الأرض وهذه سنة الله في عباده أنه من ترك شيئا لأجله أعطاه الله وأعطى ذريته أفضل منه وهذا بخلاف الحسين رضي الله عنه فإنه حرص عليها وقاتل عليها فلم يظفر بها والله أعلم ثم أورد بعض الأحاديث في خروج المهدي ثم قال وأما الرافضة الإمامية فلهم قول رابع وهو أن المهدي هو محمد بن الحسن العسكري المنتظر من ولد الحسين بن علي لا من ولد الحسن الحاضر في الأمصار الغائب عن الأبصار الذي يورث العصا ويختم الغضا دخل سرداب سامرا طفلا صغيرا من أكثر من خمسمائة
প্রকৃত সত্য হলো—এই মতের অনুসারীরা ইতিপূর্বে উল্লিখিত মুহাম্মদ বিন খালিদ আল-জুন্দির হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেছেন। আমরা ইতিপূর্বে তার অবস্থা বর্ণনা করেছি এবং এটি যে সহিহ নয় তাও স্পষ্ট করেছি। যদি এটি সহিহ হতোও, তবুও তাতে কোনো দলিল থাকত না; কারণ ঈসা (আলাইহিস সালাম) হলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং কিয়ামতের মধ্যবর্তী সময়ের সবচেয়ে মহান মাহদি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত সহিহ সুন্নাহ দামেস্কের পূর্ব প্রান্তের সাদা মিনারে তাঁর অবতরণ, আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী তাঁর শাসন পরিচালনা, ইহুদি ও নাসারাদের হত্যা, জিজয়া রহিতকরণ এবং তাঁর সময়ে সকল ভ্রান্ত মতাদর্শের বিলোপ ঘটার ব্যাপারে প্রমাণ প্রদান করে। সুতরাং এটি বলা সঠিক হতে পারে যে, প্রকৃতপক্ষে তিনি ছাড়া অন্য কোনো মাহদি নেই, যদিও তিনি ছাড়া অন্য কেউ মাহদি হতে পারেন; যেমন বলা হয়, 'উপকারী জ্ঞান ছাড়া কোনো জ্ঞান নেই' অথবা 'মালিকের সম্মান রক্ষাকারী সম্পদ ছাড়া কোনো সম্পদ নেই'। ঠিক তেমনিভাবে এটি বলাও শুদ্ধ যে, মাহদি কেবল ঈসা ইবনে মারইয়ামই, অর্থাৎ যিনি হিদায়াতের ক্ষেত্রে পরিপূর্ণ ও নিষ্পাপ মাহদি।

দ্বিতীয় অভিমত: তিনি হলেন বনু আব্বাসের সেই মাহদি যার শাসনকাল অতিবাহিত হয়ে গেছে। এরপর তিনি দুটি হাদিস উল্লেখ করেছেন যাতে পূর্ব দিক তথা খুরাসান থেকে কালো পতাকাবাহীদের আগমনের কথা বর্ণিত হয়েছে এবং তিনি হাদিস দুটির দুর্বলতার দিকে ইঙ্গিত করেছেন। অতঃপর তিনি প্রথম ও দ্বিতীয় হাদিসের প্রতি নির্দেশ করে বলেছেন—এটি এবং এর আগের হাদিসটি যদি সহিহও হতো, তবে তাতে বনু আব্বাসের সেই মাহদিই শেষ জমানায় আত্মপ্রকাশকারী মাহদি হওয়ার কোনো দলিল নেই। বরং তিনি ছিলেন মাহদিদের মধ্য থেকে একজন মাহদি মাত্র। উমর ইবনে আব্দুল আজিজও মাহদি ছিলেন, বরং তিনি সেই শাসকের তুলনায় মাহদি নামের অধিক যোগ্য ছিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমাদের ওপর আমার সুন্নাহ এবং আমার পরবর্তী হিদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশিদীনের সুন্নাহ অনুসরণ করা আবশ্যক।" ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত দুটি বর্ণনার একটি মতে উমর ইবনে আব্দুল আজিজ তাঁদেরই অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে তিনি ছিলেন একজন সত্যপথগামী মাহদি, কিন্তু তিনি সেই মাহদি নন যিনি শেষ জমানায় আবির্ভূত হবেন। কেননা কল্যাণ ও হিদায়াতের পথে মাহদির বিষয়টি অকল্যাণ ও গোমরাহির পথে দাজ্জালের বিষয়ের মতো। অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী মহাদাজ্জালের আগে যেমন অনেক মিথ্যাবাদী দাজ্জাল আসবে, তেমনি মহামাহদির আগেও অনেক হিদায়াতপ্রাপ্ত মাহদি আসবেন।

তৃতীয় অভিমত: তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আহলে বাইতের অন্তর্ভুক্ত এবং হাসান ইবনে আলীর বংশের এক ব্যক্তি, যিনি শেষ জমানায় আত্মপ্রকাশ করবেন। যখন পৃথিবী অন্যায় ও অত্যাচারে পরিপূর্ণ থাকবে, তখন তিনি তা ন্যায় ও ইনসাফে ভরিয়ে দেবেন। অধিকাংশ হাদিস একথাই প্রমাণ করে। তাঁর হাসান (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর বংশধর হওয়ার পেছনে এক সূক্ষ্ম রহস্য রয়েছে; আর তা হলো হাসান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য খিলাফত ত্যাগ করেছিলেন। তাই আল্লাহ তাঁর বংশ থেকে এমন একজনকে সৃষ্টি করবেন যিনি সত্য খিলাফত কায়েম করবেন এবং পৃথিবীকে ন্যায়ে পরিপূর্ণ করবেন। বান্দাদের ব্যাপারে আল্লাহর নিয়ম হলো—যে ব্যক্তি তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কোনো কিছু ত্যাগ করে, আল্লাহ তাকে অথবা তার বংশধরকে তার চেয়েও শ্রেষ্ঠ কিছু দান করেন। এটি হুসাইন (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর বিষয়ের বিপরীত; কারণ তিনি খিলাফত লাভের চেষ্টা করেছিলেন এবং এর জন্য যুদ্ধ করেছিলেন, কিন্তু তা অর্জন করতে পারেননি। আল্লাহই ভালো জানেন। এরপর তিনি মাহদির আবির্ভাব সম্পর্কে কিছু হাদিস উল্লেখ করেন। অতঃপর বলেন—আর রাফেজি ইমামিয়াদের চতুর্থ একটি মত রয়েছে। তা হলো, মাহদি হলেন মুহাম্মদ বিন হাসান আল-আসকারি, যিনি প্রতীক্ষিত; তিনি হুসাইন ইবনে আলীর বংশধর, হাসান (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর বংশধর নন। তিনি জনপদে উপস্থিত কিন্তু মানুষের দৃষ্টির আড়ালে থাকেন, যিনি লাঠির উত্তরাধিকারী হবেন এবং অন্ধকার দূর করবেন। তিনি পাঁচশ বছরেরও বেশি সময় আগে শিশু অবস্থায় সামাররার সুড়ঙ্গে প্রবেশ করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) আকিদাতু আহলিস সুন্নাহ ওয়াল আসার ফিল মাহদিয়্যিল মুনতাযার (পৃষ্ঠা: ১৪৪)
سنة-بالنسبة لزمان ابن القيم المتوفى عام752هـ-فلم تره بعد ذلك عين ولم يحس فيه بخبر ولا أمر وهم ينتظرونه كل يوم يقفون بالخيل على باب السرداب ويصيحون به أن يخرج إليهم أخرج يا مولانا، ثم يرجعون بالخيبة والحرمان فهذا دأبهم ودأبه ولقد أحسن من قال:

ما آن للسرداب أن يلد الذي … كلمتموه بجهلكم ما آنا

فعلى عقولكم العفاء فإنكم … كلمتم العنقاء والغيلانا

ولقد أصبح هؤلاء عارا على بني آدم وضحكة ليسخر منهم كل عاقل" انتهى كلام ابن القيم رحمه الله.

وقال ابن القيم أيضا في كتابه إغاثة اللهفان من مصائد الشيطان: "ومن تلاعبه-يعني الشيطان بهم-يعني اليهود-أنهم ينتظرون قائما من ولد داود النبي إذا حرك شفتيه بالدعاء مات جميع الأمم وأن هذا المنتظر بزعمهم هو المسيح الذي وعدوا به وهم في الحقيقة إنما ينتظرون مسيح الظلالة الدجال فهم أكثر اتباعه وإلا فمسيح الهدى عيسى بن مريم عليه الصلاة والسلام يقتلهم ولا يبقي منهم أحدا ثم قال والمسلمون ينتظرون نزول المسيح عيسى بن مريم من السماء، لكسر الصليب وقتل الخنزير وقتل أعدائه من اليهود وعباده من النصارى وينتظرون خروج المهدي من أهل بيت النبوة يملا الأرض عدلا كما ملئت جورا" انتهى.

وقال أبو الحسن السمهودي المتوفى سنة 911هـ "ويتحصل مما ثبت في الأخبار عنه-أي المهدي- أنه من ولد فاطمة وفي أبي داود أنه من ولد الحسن والسر فيه ترك الحسن الخلافة لله شفقة على الأمة فجعل القائم بالخلافة-الحق-عند شدة الحاجة وامتلاء الأرض ظلما-من ولده، وهذه سنة الله في عباده أنه يعطي لمن ترك شيئا من أجله أفضل مما ترك أو ذريته وقد بالغ الحسن في ترك الخلافة ونهى أخاه عنها وتذكر ذلك ليلة مقتله فترحم على أخيه وما روي من كونه من ولد الحسين فواه جدا" انتهى. بواسطة نقل المناوي في فيض القدير شرح الجامع الصغير للسيوطي.

وقال ابن حجر المكي المتوفى سنة 974هـ في كتابه القول المختصر في علامات المهدي المنتظر، "الذي يتعين اعتقاده ما دلت عليه الأحاديث الصحيحة من وجود المهدي المنتظر الذي يخرج الدجال وعيسى في زمانه ويصلي عيسى خلفه وأنه المراد حيث أطلق المهدي" انتهى. بواسطة نقل البرزنجي في الإشاعة لأشراط الساعة.

وقال الحافظ عماد الدين ابن كثير رحمه الله في كتاب الفتن والملاحم "فصل في ذكر المهدي الذي يكون في آخر الزمان وهو أحد الخلفاء الراشدين الأئمة المهديين وليس هو
৭৫২ হিজরিতে ইন্তেকাল করা ইবনুল কাইয়্যিমের সময় পর্যন্ত দীর্ঘ বছর অতিবাহিত হয়েছে, কিন্তু এরপর কোনো চোখ তাকে দেখেনি এবং তার কোনো খবর বা আদেশের কথা অনুভূত হয়নি। অথচ তারা প্রতিদিন তার অপেক্ষায় ঘোড়া নিয়ে সেই সুড়ঙ্গের (সারদাব) দরজায় দাঁড়িয়ে থাকে এবং চিৎকার করে তাকে বের হয়ে আসার জন্য ডাকতে থাকে যে, 'হে আমাদের নেতা, আমাদের নিকট বের হয়ে আসুন'। এরপর তারা ব্যর্থতা ও নিরাশা নিয়ে ফিরে যায়। এটাই তাদের এবং তার (সেই ব্যক্তির) নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। আর যে ব্যক্তি এই পঙক্তিগুলো বলেছেন, তিনি কতই না চমৎকার বলেছেন:

সেই সুড়ঙ্গের কি এখনও সময় হয়নি তাকে প্রসব করার, যাকে … তোমাদের মূর্খতাবশত তোমরা এতদিন ধরে সম্বোধন করছ?

তোমাদের বুদ্ধিবৃত্তির ওপর ধ্বংস নেমে আসুক, কেননা তোমরা তো … কাল্পনিক আনকা পাখি এবং প্রেতাত্মাদের সাথে কথা বলছ।

নিশ্চয়ই এরা আদম সন্তানের জন্য কলঙ্ক এবং এক হাস্যস্পদ পাত্রে পরিণত হয়েছে, যাতে প্রত্যেক বুদ্ধিমান ব্যক্তি তাদের নিয়ে উপহাস করে।" ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ)-এর বক্তব্য এখানে শেষ হলো।

ইবনুল কাইয়্যিম তার 'ইগাসাতুল লাহফান মিন মাসায়িদিশ শয়তান' কিতাবে আরও বলেছেন: "শয়তানের তাদের (অর্থাৎ ইহুদিদের) সাথে খেলা করার একটি বিষয় হলো—তারা দাউদ নবীর বংশ থেকে এমন একজন নেতার অপেক্ষা করছে যে যখন তার ঠোঁট নাড়িয়ে দোয়া করবে, তখন সমস্ত জাতি মৃত্যুবরণ করবে। আর তাদের দাবি অনুযায়ী এই প্রতীক্ষিত ব্যক্তিটিই হলো সেই মসীহ যার প্রতিশ্রুতি তাদের দেওয়া হয়েছে। অথচ তারা প্রকৃতপক্ষে ভ্রষ্টতার মসীহ দাজ্জালেরই অপেক্ষা করছে, কেননা তারাই হবে তার অধিকাংশ অনুসারী। অন্যথায় হিদায়াতের মসীহ ঈসা ইবনে মারিয়াম (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) তো তাদের হত্যা করবেন এবং তাদের একজনকেও অবশিষ্ট রাখবেন না।" অতঃপর তিনি বলেন, "আর মুসলমানরা আসমান থেকে মসীহ ঈসা ইবনে মারিয়ামের অবতরণের অপেক্ষা করছে, যাতে তিনি ক্রুশ ভেঙে ফেলেন, শূকর নিধন করেন এবং ইহুদিদের মধ্য হতে তার শত্রুদের ও খ্রিস্টানদের মধ্য হতে তার উপাসনাকারীদের হত্যা করেন। তারা নবুওয়াতের পরিবার (আহলুল বাইত) থেকে মাহদীর আগমনেরও অপেক্ষা করছে, যিনি পৃথিবীকে ন্যায়বিচারে পূর্ণ করে দেবেন যেমনটি তা অন্যায়-অবিচারে পূর্ণ হয়েছিল।" সমাপ্ত।

৯১১ হিজরিতে ইন্তেকাল করা আবুল হাসান সামহুদী বলেছেন, "মাহদী সম্পর্কে বর্ণিত সংবাদসমূহ থেকে যা প্রমাণিত হয় তা হলো—তিনি ফাতিমা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর বংশধর হবেন। আবু দাউদে বর্ণিত আছে যে তিনি হাসান (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর বংশধর হবেন। এর রহস্য হলো—হাসান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) উম্মতের প্রতি দয়াপরবশ হয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টির নিমিত্তে খিলাফত ত্যাগ করেছিলেন। তাই মহান আল্লাহ তাঁরই বংশধরদের মধ্য থেকে এমন একজনকে চরম প্রয়োজনের মুহূর্তে এবং পৃথিবী জুলুমে ভরে যাওয়ার সময় সত্য খিলাফত পরিচালনার জন্য নির্ধারণ করেছেন। এটি বান্দাদের ক্ষেত্রে আল্লাহর একটি নীতি যে, যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কোনো কিছু ত্যাগ করে, আল্লাহ তাকে বা তার সন্তানদেরকে যা ত্যাগ করা হয়েছে তার চেয়েও শ্রেষ্ঠ কিছু দান করেন। হাসান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) খিলাফত ত্যাগের ব্যাপারে চূড়ান্ত ত্যাগ স্বীকার করেছিলেন এবং তাঁর ভাইকে এ ব্যাপারে নিষেধ করেছিলেন এবং তাঁর শাহাদাতের রাতেও তা স্মরণ করিয়ে দিয়েছিলেন, ফলে তিনি তাঁর ভাইয়ের জন্য রহমতের দোয়া করেছিলেন। আর তিনি হুসাইন (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর বংশধর হওয়ার ব্যাপারে যা বর্ণিত হয়েছে তা অত্যন্ত দুর্বল।" সমাপ্ত। যা সুয়ূতির 'জামি আস-সগির'-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ মুনাওয়ি কৃত 'ফয়জুল কাদির'-এর উদ্ধৃতিতে এসেছে।

৯৭৪ হিজরিতে ইন্তেকাল করা ইবনে হাজার মাক্কি তার 'আল-কাওলুল মুখতাসার ফি আলামাতিল মাহদিল মুনতাজার' কিতাবে বলেছেন, "যে বিষয়টি বিশ্বাস করা অপরিহার্য তা হলো সহিহ হাদিসসমূহ যা নির্দেশ করে, আর তা হলো প্রতীক্ষিত মাহদীর অস্তিত্ব। যার সময়ে দাজ্জাল এবং ঈসা (আলাইহিস সালাম) আবির্ভূত হবেন এবং ঈসা (আলাইহিস সালাম) তাঁর পিছনে সালাত আদায় করবেন। মাহদী শব্দটি যখন সাধারণভাবে ব্যবহৃত হয়, তখন তিনিই উদ্দেশ্য।" সমাপ্ত। যা বারজানজি কৃত 'আল-ইশাআহ লি আশরাতিস সাআহ' কিতাবের উদ্ধৃতিতে এসেছে।

হাফেজ ইমাদুদ্দীন ইবনে কাসির (রহিমাহুল্লাহ) 'আল-ফিতান ওয়াল মালাহিম' কিতাবে বলেছেন: "শেষ যামানায় আবির্ভূত মাহদীর বর্ণনাসংক্রান্ত অনুচ্ছেদ: তিনি হলেন হিদায়াতপ্রাপ্ত ইমামদের মধ্য হতে একজন খোলাফায়ে রাশেদিন, তবে তিনি..."
(খণ্ড: ১) আকিদাতু আহলিস সুন্নাহ ওয়াল আসার ফিল মাহদিয়্যিল মুনতাযার (পৃষ্ঠা: ১৪৫)
بالمنتظر الذي تزعم الرافضة وترتجي ظهوره من سرداب سامراء فإن ذلك مالا حقيقة له ولا عين ولا أثر ويزعمون أنه محمد بن الحسن العسكري وأنه دخل السرداب وعمره خمس سنين، وأما ما سنذكره فقد نطقت به الأحاديث المروية عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أنه يكون في آخر الدهر وأظن ظهوره يكون قبل نزول عيسى بن مريم كما دلت على ذلك الأحاديث ثم ساق عدة أحاديث من السنن وغيرها منها بعض أحاديث الرايات السود وحديث علي رضي الله عنه في ابنه الحسن وأنه يخرج من صلبه رجل يسمى باسم النبي صلى الله عليه وسلم ثم قال: ففي هذا السياق إشارة إلى ملك بني العباس كما تقدم التنبيه على ذكر ذلك عند ابتداء ذكر ولايتهم في سنة اثنين وثلاثين ومائة وفيه دلالة على أنه يكونها لمهدي بعد دولة بني العباس وأنه يكون من أهل البيت من ذرية فاطمة بنت رسول الله صلى الله عليه وسلم من ولد الحسن لا الحسين كما تقدم النص على ذلك في الحديث المروي عن علي بن أبي طالب رضي الله عنه وإنه أعلم ثم قال وقال ابن ماجه حدثنا محمد بن يحي وأحمد بن يوسف قالا حدثنا عبد الرزاق عن سفيان الثوري عن خالد الحذاء عن أبي قلابة عن أبي أسماء الرحبي عن ثوبان قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "يقتتل عند كنزكم ثلاثة كلهم ابن خليفة ثم لا يصير إلى واحد منهم ثم تطلع الرايات السود من قبل المشرق فيقتلونهم قتلا لم يقتله أحدا ثم ذكر شيئا لا أحفظه فقال فإذا رأيتموه فبايعوه ولو حبوا على الثلج فإنه خليفة الله المهدي" تفرد به ابن ماجه وهذا إسناد قوي صحيح والمراد به بالكنز المذكور في هذا السياق كنز الكعبة يقتتل عنده ليأخذوه ثلاثة من أولاد الخلفاء حتى يكون آخر الزمان فيخرج المهدي ويكون ظهوره من بلاد المشرق لا من سرداب سامراء كما يزعمه جهلة الرافضة من أنه موجود فيه الآن وهم ينتظرون خروجه في آخر الزمان فإن هذا نوع من الهذيان وقسط كبير من الخذلان شديد من الشيطان إذ لا دليل على ذلك ولا برهان لامن كتاب ولا سنة ولا معقول صحيح ولا استحسان، وقال الترمذي حدثنا قتيبة حدثنا رشيد بن سعد عن يونس عن ابن شهاب الزهري عن قتيبة بن ذؤيب عن أبي هريرة رضي الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "يخرج من خراسان رايات سود فلا يردها شيء حتى تنصب بايليا" هذا الحديث غريب وهذه الرايات ليست هي التي أقبل بها أبو مسلم الخراساني فاستلب بها دولة بني أمية في سنة اثنين وثلاثين ومائة بل رايات سود أخر تأتي صحبة المهدي وهو محمد بن عبد الله العلوي الفاطمي الحسني رضي الله عنه يصلحه الله في ليلة واحدة أي

সেই প্রতীক্ষিত ব্যক্তি সম্পর্কে যা রাফেযীরা দাবি করে এবং সামাররার ভূগর্ভস্থ কক্ষ থেকে যার আত্মপ্রকাশের প্রতীক্ষায় থাকে, তার কোনো বাস্তবতা নেই এবং এর কোনো চিহ্ন বা অস্তিত্বও নেই। তারা দাবি করে যে, তিনি হলেন মুহাম্মদ ইবনুল হাসান আল-আসকারি এবং তিনি পাঁচ বছর বয়সে সেই কক্ষটিতে প্রবেশ করেছিলেন। তবে আমরা যা উল্লেখ করব, সে সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হাদিসসমূহ স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছে যে, তিনি শেষ জামানায় আবির্ভূত হবেন। আমার ধারণা তাঁর আত্মপ্রকাশ ঈসা ইবনে মারইয়াম আলাইহিস সালামের অবতরণের পূর্বে হবে, যেমনটি হাদিসসমূহ ইঙ্গিত প্রদান করে। এরপর তিনি সুনান গ্রন্থসমূহ ও অন্যান্য উৎস থেকে বেশ কিছু হাদিস উপস্থাপন করেন, যার মধ্যে কালো পতাকাসমূহ সংক্রান্ত কিছু হাদিস এবং তাঁর পুত্র হাসান সম্পর্কে আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদিসটিও রয়েছে যে, তাঁর বংশধারা থেকে এমন এক ব্যক্তির আবির্ভাব ঘটবে যার নাম হবে নবীর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নামে। এরপর তিনি বলেন: এই প্রসঙ্গের মধ্যে বনু আব্বাসের শাসনের প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে, যেমনটি ইতিপূর্বে ১৩২ হিজরিতে তাদের শাসন শুরুর বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়েছে। এতে এও প্রমাণ রয়েছে যে, মাহদীর আগমন হবে বনু আব্বাসীয় শাসনের পরে এবং তিনি হবেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কন্যা ফাতিমা রাদিয়াল্লাহু আনহার বংশধর আহলুল বায়তের অন্তর্ভুক্ত, হাসান রাদিয়াল্লাহু আনহুর সন্তানদের মধ্য থেকে, হুসাইনের বংশ থেকে নয়; যেমনটি আলী ইবনে আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ। এরপর তিনি বলেন, ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া এবং আহমদ ইবনে ইউসুফ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন আমাদের নিকট আবদুর রাজ্জাক বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান সাওরি থেকে, তিনি খালিদ আল-হাদ্ধা থেকে, তিনি আবু কিলাবা থেকে, তিনি আবু আসমা আর-রাহবি থেকে এবং তিনি সাওবান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমাদের গুপ্তধনের নিকট তিনজন লড়াই করবে, যাদের প্রত্যেকেই খলিফার পুত্র। তবে তাদের মধ্যে কেউই এটি লাভ করতে পারবে না। এরপর পূর্ব দিগন্ত থেকে কালো পতাকাবাহীরা বের হবে এবং তারা তোমাদেরকে এমনভাবে হত্যা করবে যা ইতিপূর্বে কেউ করেনি।" এরপর তিনি এমন কিছু উল্লেখ করেছিলেন যা আমার স্মরণে নেই, অতঃপর বললেন: "যখন তোমরা তাঁকে দেখবে, তখন তাঁর হাতে আনুগত্যের শপথ (বয়াত) গ্রহণ করবে, যদি বরফের উপর হামাগুড়ি দিয়ে আসতে হয় তবুও; কারণ তিনি হলেন আল্লাহর খলিফা মাহদী।" ইবনে মাজাহ এককভাবে এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদ শক্তিশালী ও সহিহ। এখানে বর্ণিত গুপ্তধন বলতে কাবার গুপ্তধনকে বোঝানো হয়েছে, যা অধিকার করার জন্য তিনজন খলিফার পুত্র যুদ্ধ করবে। পরিশেষে শেষ জামানায় মাহদী আবির্ভূত হবেন এবং তাঁর আত্মপ্রকাশ হবে প্রাচ্যের দেশসমূহ থেকে, সামাররার সেই ভূগর্ভস্থ কক্ষ থেকে নয়—যেমনটি অজ্ঞ রাফেযীরা দাবি করে যে তিনি বর্তমানে সেখানে অবস্থান করছেন এবং তারা শেষ জামানায় তাঁর বের হওয়ার প্রতীক্ষায় থাকে। এটি এক ধরণের প্রলাপ এবং শয়তানের পক্ষ থেকে একটি বড় মাপের বিভ্রান্তি ও লাঞ্ছনা। কারণ এর স্বপক্ষে কিতাব, সুন্নাহ, সঠিক যুক্তি বা গ্রহণযোগ্য কোনো প্রমাণ নেই। তিরমিজি বলেন, কুতাইবা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি রুশাইদ ইবনে সাদ থেকে, তিনি ইউনুস থেকে, তিনি ইবনে শিহাব আজ-জুহরি থেকে, তিনি কুতাইবা ইবনে জুআইব থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "খুরাসান থেকে কালো পতাকাসমূহ বের হবে, কোনো কিছুই সেগুলোকে রুখতে পারবে না যতক্ষণ না সেগুলো ইলিয়াতে (জেরুজালেমে) স্থাপন করা হয়।" এই হাদিসটি গরিব। আর এই পতাকাসমূহ সেগুলো নয় যা নিয়ে আবু মুসলিম খুরাসানি আগমন করেছিলেন এবং যার মাধ্যমে ১৩২ হিজরিতে বনু উমাইয়াদের থেকে ক্ষমতা ছিনিয়ে নিয়েছিলেন। বরং এগুলো হলো অন্য কালো পতাকা যা মাহদীর সাথে আসবে। আর তিনি হলেন মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-আলাভি আল-ফাতিমি আল-হাসানি রাদিয়াল্লাহু আনহু। আল্লাহ তাকে এক রাতের মধ্যেই যোগ্য করে তুলবেন। অর্থাৎ...

(খণ্ড: ১) আকিদাতু আহলিস সুন্নাহ ওয়াল আসার ফিল মাহদিয়্যিল মুনতাযার (পৃষ্ঠা: ১৪৬)
يتوب عليه ويوفقه ويلهمه ويرشده بعد أن لم يكن كذلك ويؤيده بناس من أهل الشرق ينصرونه ويقيمون سلطانه وتكون راياتهم سودا أيضا وهو زين عليه الوقار لأن راية الرسول صلى الله عليه وسلم سوداء يقال لها العقاب وقد ركزها خالد بن الوليد رضي الله عنه على الثنية التي شرقي دمشق حتى أقبل من العراق فعرفت بها الثنية فهي إلى الآن يقال لها ثنية العقاب.

وقد كانت عقابا على الكفار من نصارى الروم ولمن كان معهم وبعدهم إلى يوم الدين ولله الحمد، وكذلك دخل رسول الله صلى الله عليه وسلم يوم الفتح إلى مكة وعلى رأسه المغفر وكان أسود وجاء في الحديث أنه كان متعمما بعمامة سوداء فوق البياض صلوات الله وسلامه عليه، والمقصود أن المهدي الممدوح الموعود بوجوده في آخر الزمان يكون أصل ظهوره وخروجه من ناحية المشرق ويبايع له عند البيت كما دل على ذلك بعض الأحاديث وقد أفردت في ذكر المهدي جزءا على حدة ولله الحمد والمنة، وقال ابن ماجه أيضا حدثنا نصر بن علي الجهضمي حدثنا محمد بن مروان العقيلي حدثنا عمارة ابن أبي حفصة عن زيد العمي عن أبي الصديق الناجي عن أبي سعيد الخدري أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "يكون في أمتي المهدي إن قصر فسبع والا فتسع تنعم فيه أمتي نعمة لم يسمعوا مثلها تؤتي الأرض أكلها ولا تدخر منه شيئا والمال يومئذ كدوس يقوم الرجل فيقول يا مهدي أعطني فيقول خذ".

وقال الترمذي حدثنا محمد جعفر حدثنا شعبة سمعت زيد العمي سمعت الصديق الناجي يحدث عن أبي سعيد الخدري قال خشينا أن يكون بعد نبينا حدث فسألنا نبي الله صلى الله عليه وسلم فقال: "إن في أمتي المهدي يخرج فيعيش خمسا أو سبعا أو تسعا-زيد الشاك-قال قلنا وما ذاك قال سنين قال يجيء إليه الرجل فيقول يا مهدي أعطني قال فيجيء له في ثوبه ما استطاع أن يحمله" هذا حديث حسن، وقد روي من غير وجه عن أبي سعيد عن النبي صلى الله عليه وسلم وأبو الصديق الناجي اسمه بكر بن عمرو ويقال بكر بن قيس وهذا دليل على أن أكثر مدته تسع وأقلها خمس أو سبع ولعله هو الخليفة الذي يحثي المال حثيا والله أعلم.

وفي زمانه تكون الثمار كثيرة والزروع غزيرة والمال وافر والسلطان قاهر والدين قائم والعدو راغم والخير في أيامه دائم ثم أورد حديثين أحدهما عن الإمام محمد الثاني عن ابن ماجه ثم قال فأما الحديث الذي رواه ابن ماجه في سننه حيث قال رحمه الله تعإلى حدثنا يونس بن عبد الأعلى حدثنا محمد ابن إدريس الشافعي حدثني محمد بن خالد الجندي عن إبان بن
আল্লাহ তাঁর তাওবা কবুল করবেন, তাঁকে তাওফিক দান করবেন, তাঁকে ইলহাম করবেন এবং তাঁকে সঠিক পথ প্রদর্শন করবেন, অথচ এর আগে তিনি এমন ছিলেন না। তিনি তাঁকে পূর্বদেশের একদল লোকের মাধ্যমে শক্তিশালী করবেন যারা তাঁকে সাহায্য করবে এবং তাঁর শাসন প্রতিষ্ঠা করবে। তাদের পতাকাসমূহ কালো রঙের হবে, যা তাঁর জন্য গাম্ভীর্যের শোভা হবে। কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পতাকা কালো ছিল, যাকে 'আল-উক্বাব' বলা হতো। খালিদ বিন ওয়ালিদ রাযিয়াল্লাহু আনহু দামেস্কের পূর্বদিকের সেই গিরিপথে এটি স্থাপন করেছিলেন যখন তিনি ইরাক থেকে আসছিলেন, ফলে সেই গিরিপথটি এর নামেই পরিচিত হয়। আজও সেটিকে 'সানিয়্যাতুল উক্বাব' বলা হয়।

এটি রোমান খ্রিষ্টান কাফিরদের জন্য এবং কিয়ামত পর্যন্ত তাদের সাথে ও তাদের পরে যারা থাকবে তাদের জন্য শাস্তিস্বরূপ ছিল, আর সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর। একইভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের দিন মক্কায় প্রবেশ করেছিলেন এমতাবস্থায় যে তাঁর মাথায় লৌহবর্ম ছিল এবং সেটি কালো রঙের ছিল। হাদীসে এসেছে যে, তিনি সাদা কাপড়ের ওপর কালো পাগড়ি পরিহিত ছিলেন, তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক। মূল কথা হলো, আখেরী যামানায় আগমনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া প্রশংসিত মাহদীর আবির্ভাব ও আত্মপ্রকাশের মূল ক্ষেত্র হবে প্রাচ্যের দিক থেকে এবং বাইতুল্লাহর নিকট তাঁর হাতে বায়আত গ্রহণ করা হবে, যেমনটি কিছু হাদীসে নির্দেশ করা হয়েছে। আমি মাহদীর আলোচনা নিয়ে একটি পৃথক অধ্যায় রচনা করেছি, আল্লাহর জন্যই সকল প্রশংসা ও অনুগ্রহ। ইবনে মাজাহ আরও বলেন, আমাদের নিকট নাসর বিন আলী আল-জাহযামী বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট মুহাম্মদ বিন মারওয়ান আল-উকাইলী বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট উমারা ইবনে আবী হাফসা বর্ণনা করেছেন যায়েদ আল-আম্মী থেকে, তিনি আবুস সিদ্দিক আন-নাজী থেকে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরী থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমার উম্মতের মধ্যে মাহদীর আগমন ঘটবে। তাঁর সময়কাল সংক্ষিপ্ত হলে সাত বছর, নতুবা নয় বছর হবে। আমার উম্মত তাঁর সময়ে এমন নিয়ামত ভোগ করবে যার দৃষ্টান্ত তারা ইতিপূর্বে কখনও শোনেনি। যমিন তার সকল খাদ্যশস্য উৎপন্ন করবে এবং কোনো কিছুই জমা করে রাখবে না। সেদিন ধন-সম্পদ স্তূপাকার হয়ে থাকবে। কোনো ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলবে, 'হে মাহদী! আমাকে দান করুন'। তিনি বলবেন, 'নিয়ে যাও'।"

তিরমিযী বলেন, আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে জাফর বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট শু’বা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি যায়েদ আল-আম্মীকে বলতে শুনেছি, আমি আবুস সিদ্দিক আন-নাজীকে আবু সাঈদ আল-খুদরী থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি যে, তিনি বলেন: আমরা আশঙ্কা করেছিলাম যে আমাদের নবীর পরে কোনো দুর্ঘটনা ঘটবে, তাই আমরা আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই আমার উম্মতের মধ্যে মাহদী রয়েছে, সে আত্মপ্রকাশ করবে এবং পাঁচ, সাত বা নয় বছর বেঁচে থাকবে - বর্ণনাকারী যায়েদ এখানে সন্দেহ পোষণ করেছেন।" তিনি বলেন, আমরা জিজ্ঞেস করলাম, "তা কী?" তিনি বললেন, "বছর।" তিনি আরও বললেন, "তাঁর কাছে কোনো লোক এসে বলবে, 'হে মাহদী! আমাকে দিন'। তখন তিনি তার কাপড়ে এতটা ঢেলে দেবেন যা সে বহন করতে সক্ষম হবে।" এটি একটি হাসান হাদীস। এটি আবু সাঈদ থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সূত্রে আরও বিভিন্ন পথে বর্ণিত হয়েছে। আবুস সিদ্দিক আন-নাজীর নাম হলো বকর বিন আমর, কারো মতে বকর বিন কাইস। এটি এই কথার দলীল যে তাঁর অবস্থানের সর্বোচ্চ সময়সীমা নয় বছর এবং সর্বনিম্ন পাঁচ বা সাত বছর। সম্ভবতঃ তিনিই সেই খলীফা যিনি দু’হাতে অকাতরে সম্পদ বিলিয়ে দেবেন। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

তাঁর সময়ে ফলমূল প্রচুর হবে, শস্য-ফসল হবে অফুরন্ত, ধন-সম্পদ হবে পর্যাপ্ত, শাসনব্যবস্থা হবে পরাক্রমশালী, দ্বীন হবে প্রতিষ্ঠিত, শত্রু হবে অপদস্থ এবং তাঁর দিনগুলোতে কল্যাণ হবে নিরবচ্ছিন্ন। এরপর তিনি দুটি হাদীস উল্লেখ করেন, যার একটি ইমাম মুহাম্মদ সানী ইবনে মাজাহ থেকে বর্ণনা করেছেন। অতঃপর তিনি বলেন, ইবনে মাজাহ তাঁর 'সুনান' গ্রন্থে যে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন যেখানে তিনি (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা) বলেছেন: আমাদের নিকট ইউনুস বিন আবদুল আ’লা বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে ইদরীস আশ-শাফিঈ বর্ণনা করেছেন, আমার নিকট মুহাম্মদ বিন খালিদ আল-জুন্দী বর্ণনা করেছেন আবান বিন... থেকে।
(খণ্ড: ১) আকিদাতু আহলিস সুন্নাহ ওয়াল আসার ফিল মাহদিয়্যিল মুনতাযার (পৃষ্ঠা: ১৪৭)
صالح عن الحسن عن أنس بن مالك أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "لا يزداد الأمر إلا شدة ولا الدنيا إلا إدبارا ولا الناس إلا شحا ولا تقوم الساعة إلا على شرار الناس ولا المهدي إلا عيسى بن مريم" فإنه حديث مشهور عن ابن خالد الجندي الصنعاني المؤذن شيخ الشافعي وروى عنه غير واحد أيضا وليس هو بمجهول كما زعمه الحاكم بل قد روي عن ابن معين أنه وثقه ولكن من الرواة من حدث به عنه عن إبان بن أبي عياش عن الحسن البصري مرسلا وذكر ذلك شيخنا في التهذيب عن بعضهم أنه رأى الشافعي في المنام وهو يقول كذب علي يونس بن عبد الأعلى ليس هذا من حديثي قلت: يونس بن عبد الأعلى الصدفي من الثقات لا يطعن فيه بمجرد منام، وهذا الحديث فيما يظهر بادي الرأي مخالف للأحاديث التي أوردناها في إثبات مهدي غير عيسى بن مريم أما قبل نزوله كما هو الأظهر والله أعلم، وأما بعده وعند التأمل لا ينافيها بل يكون المراد من ذلك أن المهدي حق المهدي هو عيسى بن مريم ولا ينفي ذلك أن يكون غيره مهديا أيضا والله أعلم" انتهى ما نقلته من كتاب الفتن والملاحم لابن كثير رحمه الله.

وقال في تفسيره عند تفسير قوله تعالى في سورة المائدة: {وَلَقَدْ أَخَذَ اللَّهُ مِيثَاقَ بَنِي إِسْرائيلَ وَبَعَثْنَا مِنْهُمُ اثْنَيْ عَشَرَ نَقِيباً} بعد ذكره الكلام عن هؤلاء النقباء قال: "وهكذا لما بايع رسول الله صلى الله عليه وسلم الأنصار ليلة العقبة كان منهم اثنا عشر نقيبا ثلاثة من الأوس وهم أسيد بن الحضير وسعد بن خيثمة ورفاعة بن عبد المنذر ويقال بدله أبو الهيثم ابن التيهان رضي الله عنه وتسعة من الخزرج وهم أمامة أسعد بن زرارة وسعد بن الربيع وعبد الله بن رواحة ورافع بن مالك بن العجلان والبراء بن معرور وعبادة بن الصامت وعبد الله بن عمرو بن حرام والمنذر بن عمر بن حنيش رضي الله عنهم وقد ذكرهم كعب ابن مالك في شعر له كما أورد ابن اسحاق رحمه الله والمقصود أن هؤلاء كانوا عرفاء على قومهم ليلتئذ عن أمر النبي صلى الله عليه وسلم لهم بذلك وهم الذين ولوا المعاقدة والمبايعة عن قومهم للنبي صلى الله عليه وسلم على السمع والطاعة.

قال الإمام أحمد حدثنا حسن بن موسى حدثنا حماد بن زيد عن مجالد عن الشعبي عن مسروق قال كنا جلوسا عند عبد الله بن مسعود وهو يقرئنا القرآن فقال له رجل يا أبا عبد الرحمن هل سألتم رسول الله صلى الله عليه وسلم كم يملك هذه الأمة من خليفة قال عبد الله ما سألني عنها أحد منذ قدمت العراق قبلك ثم قال: نعم ولقد سألنا رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: "اثنا عشر كعدة نقباء بني اسرائيل" هذا حديث غريب
সালেহ হাসান থেকে এবং তিনি আনাস ইবনে মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "পরিস্থিতি কেবল কঠোরতর হবে, দুনিয়া কেবল বিমুখ হবে, মানুষের মধ্যে কেবল কৃপণতা বৃদ্ধি পাবে এবং কিয়ামত কেবল নিকৃষ্টতম মানুষের ওপর কায়েম হবে। আর ঈসা ইবনে মরিয়ম ছাড়া কোনো মাহদী নেই।" এটি শাফিঈর শায়খ ইবনে খালিদ আল-জুন্দি আস-সানআনি আল-মুয়াজ্জিন থেকে বর্ণিত একটি মশহুর (প্রসিদ্ধ) হাদিস। তার থেকে আরও অনেকে বর্ণনা করেছেন এবং হাকীম যেমনটি ধারণা করেছেন তিনি অজ্ঞাত (মাজহুল) নন; বরং বর্ণিত হয়েছে যে ইবনে মাঈন তাকে নির্ভরযোগ্য (সিকাহ) বলেছেন। তবে বর্ণনাকারীদের মধ্যে কেউ কেউ তার সূত্রে আবান ইবনে আবি আইয়াশ থেকে এবং তিনি হাসান বসরী থেকে মুরসাল হিসেবে এটি বর্ণনা করেছেন। আমাদের শায়খ 'আত-তাহজিব' গ্রন্থে কয়েকজনের সূত্রে উল্লেখ করেছেন যে, তারা স্বপ্নে শাফিঈকে দেখেছেন এবং তিনি বলছিলেন: ইউনুস ইবনে আবদিল আলা আমার নামে মিথ্যা বলেছে, এটি আমার হাদিস নয়। আমি (ইবনে কাসির) বলছি: ইউনুস ইবনে আবদিল আলা আস-সাদাফি নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত, কেবল স্বপ্নের ভিত্তিতে তার সমালোচনা করা যায় না। আর এই হাদিসটি আপাতদৃষ্টিতে ঈসা ইবনে মরিয়ম ব্যতীত অন্য মাহদী সাব্যস্তকারী হাদিসগুলোর পরিপন্থী—বিশেষ করে ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর অবতরণের আগের মাহদী সম্পর্কে যা অধিক স্পষ্ট, আর আল্লাহই ভালো জানেন। তবে গভীরভাবে চিন্তা করলে দেখা যায় যে এটি ঐ হাদিসগুলোর পরিপন্থী নয়; বরং এর অর্থ হতে পারে যে, প্রকৃত ও পূর্ণাঙ্গ মাহদী হলেন ঈসা ইবনে মরিয়ম। এটি অন্য কেউ মাহদী হওয়াকে নাকচ করে না। আর আল্লাহই ভালো জানেন। হাফেজ ইবনে কাসির (রাহিমাহুল্লাহ)-এর কিতাব 'আল-ফিতান ওয়াল মালাহিম' থেকে যা আমি উদ্ধৃত করেছি তা এখানেই শেষ।

তিনি তার তাফসীর গ্রন্থে সূরা আল-মায়িদার এই আয়াতের তাফসীরে বলেন: "আর আল্লাহ বনী ইসরাঈলের অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলেন এবং আমি তাদের মধ্য থেকে বারোজন নেতা নিযুক্ত করেছিলাম।" এই নেতাদের সম্পর্কে আলোচনা করার পর তিনি বলেন: "অনুরূপভাবে যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আকাবার রাতে আনসারদের থেকে বায়আত গ্রহণ করেছিলেন তখন তাদের মধ্যে বারোজন নেতা (নাকিব) ছিলেন। তাদের তিনজন ছিলেন আউস গোত্র থেকে: আসইদ ইবনে হুদাইর, সাদ ইবনে খাইসামা এবং রিফাআ ইবনে আবদিল মুনজির; মতান্তরে আবু হাইসাম ইবনে তাইয়িহান (রাদিয়াল্লাহু আনহু)। আর নয়জন ছিলেন খাজরাজ গোত্র থেকে: আসআদ ইবনে যুরারা, সাদ ইবনে রাবী, আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা, রাফে ইবনে মালিক ইবনে আজলান, বারা ইবনে মা’রুর, উবাদাহ ইবনে সামিত, আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে হারাম এবং মুনজির ইবনে উমর ইবনে হুনিশ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)। কাব ইবনে মালিক তার কবিতায় তাদের উল্লেখ করেছেন, যেমনটি ইবনে ইসহাক (রাহিমাহুল্লাহ) বর্ণনা করেছেন। মূল উদ্দেশ্য হলো যে, তারা ঐ রাতে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নির্দেশে তাদের নিজ নিজ কওমের তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন এবং তারাই তাদের কওমের পক্ষ থেকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে শ্রবণ ও আনুগত্যের ওপর বায়আত ও চুক্তির দায়িত্ব পালন করেছিলেন।"

ইমাম আহমদ বলেন, হাসান ইবনে মুসা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, হাম্মাদ ইবনে যায়েদ আমাদের কাছে মুজালিদ থেকে, তিনি শাবি থেকে এবং তিনি মাসরুক থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমরা আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদের নিকট বসা ছিলাম এবং তিনি আমাদের কুরআন পড়াচ্ছিলেন। তখন এক ব্যক্তি তাকে বলল, হে আবু আবদুর রহমান, আপনারা কি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে এই উম্মতের কতজন খলিফা রাজত্ব করবেন? আবদুল্লাহ বললেন: আমি ইরাকে আসার পর তোমার আগে আমাকে আর কেউ এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেনি। এরপর তিনি বললেন: হ্যাঁ, আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম এবং তিনি বলেছিলেন: "বনী ইসরাঈলের নেতাদের সংখ্যার মতো বারোজন।" এটি একটি গারিব (বিরল) হাদিস।
(খণ্ড: ১) আকিদাতু আহলিস সুন্নাহ ওয়াল আসার ফিল মাহদিয়্যিল মুনতাযার (পৃষ্ঠা: ১৪৮)
من هذا الوجه وأصل الحديث ثابت في الصحيحين من حديث جابر بن سمرة قال سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول: "لا يزال أمر الناس ماضيا ما وليهم اثنا عشر رجلا" ثم تكلم النبي صلى الله عليه وسلم بكلمة خفيت علي فسألت أبي ماذا قال النبي صلى الله عليه وسلم قال: "كلهم من قريش" وهذا وهذا لفظ مسلم ومعنى هذا الحديث البشارة بوجود اثني عشر خليفة صالحا يقيم الحق ويعدل فيهم ولا يلزم من هذا تواليهم وتتابع أيامهم بل قد وجد منهم أربعة على نسق وهم الخلفاء الأربعة أبو بكر وعمر وعثمان وعلي رضي الله عنهم ومنهم عمر بن عبد العزيز بلا شك عند الأئمة وبعض بني العباس ولا تقوم الساعة حتى تكون ولايتهم لا محالة والظاهر أن منهم المهدي المبشر به في الأحاديث الواردة بذكره فذكر أنه يواطئ اسمه اسم النبي صلى الله عليه وسلم واسم أبيه اسم أبيه فيملأ الأرض عدلا وقسطا كما ملئت جورا وظلما وليس هذا بالمنتظر الذي تتوهم الرافضة وجوده ثم ظهوره من سرداب سامر فإن ذلك ليس له حقيقة ولا وجود بالكلية بل هو من هوس العقول السخفية وتوهم الخيالات الضعيفة وليس المراد بهؤلاء الخلفاء الاثني عشر الأئمة الاثني عشر الذين يعتقد فيهم الاثنا عشرية من الروافض لجهلهم وقلة عقلهم وفي التوراة البشارة باسماعيل عليه الصلاة والسلام وأن يقيم من صلبه اثني عشر عظيما وهم هؤلاء الخلفاء الاثنا عشر المذكورون في حديث ابن مسعود وجابر بن سمرة وببعض الجهلة ممن أسلم من اليهود إذا اقترن بهم بعض الشيعة يوهمونهم أنهم الأئمة الاثنا عشر فيتشيع كثير منهم جهلا وسفها لقلة علمهم وعلم من لقنهم ذلك بالسنن الثابتة عن النبي صلى الله عليه وسلم" انتهى.

وقال الشيخ ملا علي قاري الحسيني المتوفى سنة 1014في شرحه للفقه الأكبر. . للإمام أبي حنيفة عند قول أبي حنيفة رحمه الله، وخروج الدجال ويأجوج ومأجوج وطلوع الشمس من مغربها ونزول عيسى عليه الصلاة والسلام قال: "وفي نسخة قدم طلوع الشمس على البقية وعلى كل تقرير فالواو لمطلق الجمع وإلا فترتيب القضية أن المهدي عليه السلام يظهر أولا في أرض الحرمين ثم يأتي بيت المقدس فيأتي الدجال ويحصره في ذلك الحال فينزل عيسى عليه الصلاة والسلام من المنارة الشرقية في دمشق الشام ويجيء إلى قتال الدجال فيقتله بضربة في الحال فإنه يذوب كالملح عند نزول عيسى عليه الصلاة والسلام من السماء فيجتمع عيسى عليه الصلاة والسلام بالمهدي رضي الله عنه وقد أقيمت الصلاة فيشير المهدي لعيسى بالتقدم فيمتنع معللا

এই দিক থেকে এবং হাদিসটির মূল ভিত্তি সহীহায়নে (বুখারি ও মুসলিম) জাবির ইবনে সামুরা বর্ণিত হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "মানুষের শাসন ব্যবস্থা ততক্ষণ পর্যন্ত সঠিকভাবে চলতে থাকবে যতক্ষণ পর্যন্ত বারোজন ব্যক্তি তাদের পরিচালনা করবেন।" এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি কথা বললেন যা আমার কাছে অস্পষ্ট থেকে গেল। আমি আমার পিতাকে জিজ্ঞাসা করলাম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কী বলেছেন? তিনি বললেন: "তারা সকলেই কুরাইশ বংশের হবেন।" এটি ইমাম মুসলিমের শব্দ। এই হাদিসের মর্মার্থ হলো বারোজন যোগ্য ও সৎ খলিফার উপস্থিতির সুসংবাদ, যারা সত্য প্রতিষ্ঠা করবেন এবং জনগণের মধ্যে ন্যায়বিচার কায়েম করবেন। এর দ্বারা তাদের শাসনকাল ধারাবাহিক হওয়া বা একের পর এক আসা আবশ্যক নয়, বরং তাদের মধ্যে চারজনকে ক্রমান্বয়ে পাওয়া গেছে—তারা হলেন চার খলিফা: আবু বকর, উমর, উসমান এবং আলী (আল্লাহ তাদের সকলের ওপর সন্তুষ্ট হন)। উলামায়ে কিরামের নিকট নিঃসন্দেহে উমর ইবনে আবদুল আজিজ তাদের অন্তর্ভুক্ত, এবং বনু আব্বাসের কেউ কেউ। কিয়ামত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ না তাদের শাসন অনিবার্যভাবে সম্পন্ন হয়। বাহ্যত প্রতীয়মান হয় যে, তাদের মধ্যে মাহদী অন্তর্ভুক্ত, যার সুসংবাদ হাদিসসমূহে প্রদান করা হয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তার নাম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নামের সাথে এবং তার পিতার নাম নবীর পিতার নামের সাথে মিলে যাবে। তিনি পৃথিবীকে ন্যায় ও ইনসাফ দ্বারা পূর্ণ করে দেবেন ঠিক যেমন তা অন্যায় ও জুলুমে ভরে গিয়েছিল। তিনি সেই 'প্রতীক্ষিত' ব্যক্তি নন যাকে রাফেজীরা কল্পনা করে যে তিনি বিদ্যমান আছেন এবং সামেরার সুড়ঙ্গ থেকে প্রকাশ পাবেন। কেননা এর কোনো বাস্তবতা বা অস্তিত্ব মোটেও নেই, বরং এটি নির্বোধদের আচ্ছন্ন মস্তিষ্ক এবং দুর্বল কল্পনার বিভ্রম মাত্র। এই বারোজন খলিফা দ্বারা সেই বারোজন ইমামকে বোঝানো হয়নি যাদের ওপর রাফেজী শিয়ারা তাদের মূর্খতা ও বুদ্ধির স্বল্পতার কারণে বিশ্বাস রাখে। তাওরাতে ইসমাইল আলাইহিস সালামের ব্যাপারে সুসংবাদ রয়েছে যে, তার বংশধারা থেকে বারোজন মহান ব্যক্তি আবির্ভূত হবেন। তারা হলেন সেই বারোজন খলিফা যাদের কথা ইবনে মাসউদ এবং জাবির ইবনে সামুরার হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে। ইসলাম গ্রহণকারী ইহুদিদের মধ্যে কিছু মূর্খ যখন শিয়াদের সংস্পর্শে আসে, তখন শিয়ারা তাদের বিভ্রান্ত করে যে এরাই সেই বারোজন ইমাম। ফলে তাদের অনেকে মূর্খতা ও নির্বুদ্ধিতার কারণে শিয়া মতাদর্শ গ্রহণ করে। এর কারণ হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত প্রমাণিত সুন্নাহ সম্পর্কে তাদের এবং যারা তাদের এই শিক্ষা দিয়েছে তাদের জ্ঞানের স্বল্পতা।" সমাপ্ত।

শেখ মোল্লা আলী কারী আল-হুসাইনি (মৃত্যু ১০১৪ হিজরি) ইমাম আবু হানিফা রহ.-এর 'আল-ফিকহুল আকবর'-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থে ইমাম আবু হানিফার এই বক্তব্যের আলোচনায়—অর্থাৎ দাজ্জালের আত্মপ্রকাশ, ইয়াজুজ-মাজুজ, পশ্চিম দিক থেকে সূর্যোদয় এবং ঈসা আলাইহিস সালামের অবতরণ প্রসঙ্গে—বলেছেন: "একটি পাণ্ডুলিপিতে সূর্যোদয়কে অন্যদের আগে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে যে কোনো বর্ণনা অনুযায়ীই হোক না কেন, এখানে 'ওয়াও' (এবং) শব্দটি কেবল একত্রে সমাবেশের অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। অন্যথায় ঘটনার ক্রম হলো—প্রথমে হারামাইন ভূখণ্ডে মাহদী আলাইহিস সালামের প্রকাশ ঘটবে, তারপর তিনি বায়তুল মাকদিসে আসবেন। সেই পরিস্থিতিতে দাজ্জাল আসবে এবং তাকে সেখানে অবরুদ্ধ করবে। তখন ঈসা আলাইহিস সালাম সিরিয়ার দামেস্কের পূর্ব প্রান্তের মিনার থেকে অবতরণ করবেন এবং দাজ্জালের সাথে যুদ্ধের জন্য অগ্রসর হবেন। তিনি এক আঘাতেই তাকে তৎক্ষণাৎ হত্যা করবেন। কেননা আকাশ থেকে ঈসা আলাইহিস সালামের অবতরণের সময় সে লবণের মতো গলতে শুরু করবে। এরপর ঈসা আলাইহিস সালাম মাহদী রাদিয়াল্লাহু আনহুর সাথে মিলিত হবেন। তখন নামাজের জামাত প্রস্তুত থাকবে এবং মাহদী ঈসা আলাইহিস সালামকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার (ইমামতি করার) জন্য ইঙ্গিত করবেন, কিন্তু তিনি কারণ দর্শিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করবেন..."

(খণ্ড: ১) আকিদাতু আহলিস সুন্নাহ ওয়াল আসার ফিল মাহদিয়্যিল মুনতাযার (পৃষ্ঠা: ১৪৯)
بأن هذه الصلاة أتيحت لك فأنت أولى بأن تكون الإمام في هذا المقام ويقتدي به ليظهر متابعة لنبينا صلى الله عليه وسلم-إلى أن قال وفي شرح العقائد الأصح أن عيسى عليه الصلاة والسلام يصلي بالناس ويؤمهم ويقتدي به المهدي لأنه أفضل وإمامته أولى" انتهى قال علي قاري: "ولا ينافي ما قدمناه كما لا يخفى ثم ذكر الأمور الأخرى مرتبة وهي خروج يأجوج ومأجوج وموت المؤمنين وطلوع الشمس من مغربها ورفع القرآن".

وقال الشيخ عبد الرؤوف المناوي صاحب فيض القدير شرح الجامع الصغير المتوفى سنة 1032هـ قال في كتابه المذكور "وأخبار المهدي كثيرة شهيرة أفردها غير واحد في التأليف-إلى أن قال-تنبيه: أخبار المهدي لا يعارضها خبر"لا مهدي إلا عيسى ابن مريم" لأن المراد به كما قال القرطبي لا مهدي كاملا معصوما إلا عيسى بن مريم وقال المناوي عند حديث: "لن تهلك أمة أنا في أولها وعيسى بن مريم في آخرها والمهدي في وسطها" أراد بالوسط ما قبل الآخر لأن نزوله عليه السلام لقتل الدجال يكون في زمن المهدي ويصلي عيسى خلفه كما جاءت به الأخبار، وجزم به جمع من الأخيار وذكر عند حديث "منا الذي يصلي عيسى بن مريم خلفه" أنه بعد نزوله يجيء فيجد الإمام المهدي يريد الصلاة فيتأخر ليتقدم فيقدمه عيسى عليه الصلاة والسلام ويصلي خلفه قال فأعظم به فضلا وشرفا لهذه الأمة ثم قال ولا ينافي ما ذكر في هذا الحديث ما اقتضاه بعض الآثار من أن عيسى هو الإمام بالمهدي وجزم به السعد التفتازاني وعلله بأفضليته لإمكان الجمع بأن عيسى يقتدي بالمهدي أولا ليظهر أنه نزل تابعا لنبينا حاكما بشرعه ثم بعد ذلك يقتدي المهدي به على أصل القاعدة من اقتداء المفضول بالفاضل" انتهى وقال الشيخ محمد السفاريني في كتابه: لوامع الأنوار البهية وسواطع الأسرار الأثرية الذي شرح فيه نظمه في العقيدة المسمى "الدرة المعنية في عقد الفرقة المرضية":

وما أتى بالنص من أشراط … فكله حق بلا شطاط

منها الإمام الخاتم النصيح … محمد المهدي والمسيح

منها أي من أشراط الساعة التي وردت بها الأخبار وتواترت في مضمونها الآثار أي من العلامات العظمى وهي أولها أن يظهر الإمام المقتدى بأقواله وأفعاله الخاتم للأئمة فلا إمام بعده كما أن النبي صلى الله عليه وسلم هو الخاتم للنبوة والرسالة فلا نبي ولا رسول بعده، الفصيح اللسان لأنه من صحيح العرب أهل الفصاحة والبلاغة. -ثم قال- وقوله محمد المهدي، هذا اسمه وأشهر أوصافه فأما اسمه فمحمد جاء ذلك في عدة أخبار وفي بعضها أن اسمه واسم
যেহেতু এই সালাতের সুযোগ আপনাকে দেওয়া হয়েছে, তাই এই স্থানে ইমাম হওয়ার জন্য আপনিই অধিক হকদার। এবং তিনি (ঈসা আ.) তাকে (মাহদীকে) অনুসরণ করবেন যাতে আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুসরণের বিষয়টি প্রকাশ পায়—পরবর্তীতে তিনি বলেন, আর 'শারহুল আকাইদ'-এ রয়েছে যে, সঠিক মত হলো ঈসা আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম মানুষকে নিয়ে সালাত আদায় করবেন এবং তাদের ইমামতি করবেন, আর মাহদী তাঁকে অনুসরণ করবেন; কেননা তিনি শ্রেষ্ঠ এবং তাঁর ইমামতিই অধিক শ্রেয়।

(উদ্ধৃতি) সমাপ্ত। আলী কারী বলেন: "এটি আমাদের পূর্বে উল্লেখ করা বক্তব্যের সাথে সাংঘর্ষিক নয়, যেমনটি স্পষ্ট। এরপর তিনি অন্যান্য বিষয়গুলো ক্রমানুসারে উল্লেখ করেছেন, আর সেগুলো হলো ইয়াজুজ ও মাজুজের বের হওয়া, মুমিনদের মৃত্যু, পশ্চিম দিগন্ত থেকে সূর্যোদয় এবং কুরআন তুলে নেওয়া।"

এবং ১০৩২ হিজরিতে ইন্তেকালকারী ‘ফয়জুল কাদির শারহু জামিউস সাগির’-এর লেখক শায়খ আব্দুর রউফ আল-মুনাবি তাঁর উল্লিখিত কিতাবে বলেন: "মাহদী সংক্রান্ত বর্ণনাগুলো অনেক এবং সুপ্রসিদ্ধ, যা একাধিক ব্যক্তি স্বতন্ত্র গ্রন্থে সংকলন করেছেন—পরবর্তীতে তিনি বলেন—সতর্কবার্তা: মাহদী সংক্রান্ত বর্ণনাগুলোর সাথে 'ঈসা ইবনে মারিয়াম ব্যতীত কোনো মাহদী নেই' এই বর্ণনাটি সাংঘর্ষিক নয়; কারণ এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, যেমনটি কুরতুবি বলেছেন, ঈসা ইবনে মারিয়াম ব্যতীত আর কেউ পূর্ণাঙ্গ নিষ্পাপ মাহদী নেই।" এবং মুনাবি এই হাদিস প্রসঙ্গে বলেন: "সেই উম্মত ধ্বংস হবে না যার শুরুতে আমি, শেষে ঈসা ইবনে মারিয়াম এবং মাঝে মাহদী রয়েছে।" এখানে 'মাঝে' বলতে শেষের পূর্ববর্তী সময়কে বুঝিয়েছেন; কারণ দাজ্জালকে হত্যার জন্য ঈসা আলাইহিস সালামের অবতরণ মাহদীর সময়েই হবে এবং ঈসা তাঁর পেছনে সালাত আদায় করবেন যেমনটি বর্ণনাগুলোতে এসেছে এবং একদল নেককার আলেম এ ব্যাপারে সুনিশ্চিত মত দিয়েছেন। "আমাদের মধ্য থেকেই তিনি হবেন যাঁর পেছনে ঈসা ইবনে মারিয়াম সালাত আদায় করবেন"—এই হাদিসের আলোচনায় তিনি উল্লেখ করেন যে, অবতরণের পর তিনি এসে ইমাম মাহদীকে সালাত আদায়ের প্রস্তুতি নিতে দেখবেন, তখন মাহদী পেছনে সরে আসবেন যাতে ঈসা (আ.) সামনে এগিয়ে যান, কিন্তু ঈসা আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম তাঁকে (মাহদীকে) সামনে এগিয়ে দেবেন এবং তাঁর পেছনে সালাত আদায় করবেন। তিনি বলেন, এই উম্মতের জন্য এটি কতই না মহান মর্যাদা ও সম্মানের বিষয়! অতঃপর তিনি বলেন, এই হাদিসে যা উল্লেখ করা হয়েছে তা কিছু বর্ণনার সাথে সাংঘর্ষিক নয় যা ইঙ্গিত দেয় যে ঈসা-ই হবেন মাহদীর ইমাম, যাঁর ব্যাপারে সাদ তাফতাজানি সুনিশ্চিত মত দিয়েছেন এবং তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের কারণে এটি যুক্তিযুক্ত করেছেন। কেননা এই দুই মতের মধ্যে সমন্বয় সম্ভব এভাবে যে—ঈসা (আ.) প্রথমে মাহদীকে অনুসরণ করবেন যাতে এটি প্রকাশ পায় যে তিনি আমাদের নবীর অনুসারী এবং তাঁর শরিয়ত অনুযায়ী বিচারক হিসেবে অবতীর্ণ হয়েছেন; অতঃপর এর পরে মাহদী তাঁকে অনুসরণ করবেন সেই মূলনীতির ভিত্তিতে যে, উত্তম ব্যক্তির পেছনেই কম উত্তম ব্যক্তি অনুসরণ করে। (উদ্ধৃতি) সমাপ্ত। এবং শায়খ মুহাম্মদ আস-সাফারিনি তাঁর 'লাওয়ামিউল আনওয়ারিল বাহিয়্যাহ ওয়া সাওয়াতিউল আসরারিল আসারিয়্যাহ' গ্রন্থে বলেন, যাতে তিনি তাঁর 'আদ-দুররাতুল মুদিয়্যাহ ফি আকদিল ফিরকাতিল মারদিয়্যাহ' নামক আকীদার কবিতার ব্যাখ্যা করেছেন:

অকাট্য দলিলের মাধ্যমে কেয়ামতের যেসব আলামত এসেছে … তার সবই সত্য, তাতে কোনো সীমালঙ্ঘন নেই

তার মধ্যে রয়েছে উপদেশদানকারী শেষ ইমাম … মুহাম্মদ মাহদী এবং মসীহ (ঈসা)

এর অর্থ হলো কিয়ামতের সেইসব আলামত থেকে যা হাদিসসমূহে এসেছে এবং যার মর্মার্থের বর্ণনাসমূহ মুতাওয়াতির পর্যায়ে পৌঁছেছে; অর্থাৎ বড় আলামতসমূহের অন্তর্ভুক্ত, আর তার প্রথমটি হলো এমন একজন ইমামের আবির্ভাব হওয়া যাঁর কথা ও কাজ অনুসরণ করা হবে এবং যিনি হবেন ইমামদের সমাপ্তি ঘটানো ব্যক্তিত্ব, তাঁর পরে আর কোনো ইমাম নেই—যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নবুওয়াত ও রিসালাতের সমাপ্তি ঘটিয়েছেন, ফলে তাঁর পরে আর কোনো নবী বা রাসূল নেই। তিনি হবেন সুপষ্টভাষী, যেহেতু তিনি বিশুদ্ধ আরবী ও অলঙ্কার শাস্ত্রের অধিকারী আরবদের বংশোদ্ভূত হবেন। অতঃপর তিনি বলেন—তাঁর (কবির) কথা "মুহাম্মদ মাহদী", এটি তাঁর নাম ও তাঁর সর্বাধিক প্রসিদ্ধ বৈশিষ্ট্য। তাঁর নাম হলো মুহাম্মদ, যা একাধিক হাদিসে এসেছে এবং কোনো কোনো বর্ণনায় এসেছে যে তাঁর নাম এবং তাঁর পিতার নাম...
(খণ্ড: ১) আকিদাতু আহলিস সুন্নাহ ওয়াল আসার ফিল মাহদিয়্যিল মুনতাযার (পৃষ্ঠা: ১৫০)
أبيه عبد الله فقد صح عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: "يواطئ اسمه اسمي واسم أبيه اسم أبي" رواه أبو نعيم من حديث أبي هريرة ولفظه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "لو لم يبق من النهار إلا يوم لطول الله ذلك اليوم حتى يلي رجل من أهل بيتي يواطئ اسمه اسمي واسم أبيه اسم أبي يملأها قسطا وعدلا كما ملئت ظلما وجورا" وروى نحوه الترمذي وأبو داود والنسائي والبيهقي وغيرهم من حديث ابن مسعود رضي الله عنه وفي رواية من حديث ابن مسعود أيضا "لا تذهب الدنيا حتى يملك رجل من أهل بيتي يواطئ اسمه اسمي يملأ الأرض عدلا وقسطا كما ملئت جورا وظلما" أخرجه الطبراني في معجمه الصغير وأخرجه الترمذي ولفظه: "حتى يملك العرب رجل من أهل بيتي" وقال حديث حسن صحيح، وكذلك أخرجه أبو داود في سننه وروى ابن مسعود أيضا رضي الله عنه رفعه اسم المهدي محمد، وفي مرفوع حذيفة محمد بن عبد الله ويكنى أبا عبد الله ومن اسمائه أحمد بن عبد الله كما في بعض الروايات-إلى أن قال: وأما تسميته ووصفه في عدة أخبار-إلى أن قال- وأما كنيته فأبو عبد الله وأما نسبة فإنه من أهل بيت رسول الله صلى الله عليه وسلم ثم إن الروايات الكثيرة والأخبار الغزيرة ناطقة أنه ولد فاطمة البتول ابنة النبي الرسول صلى الله عليه وسلم ورضي عنها وعن أولادها الطاهرين وجاء في بعض الأحاديث أنه من ولد العباس والأول أصح قال ابن حجر في كتابه القول المختصر: "وأما ماروي "أن المهدي من ولد العباس عمي" فقال الدارقطني حديث غريب تفرد به محمد بن الوليد مولى بني هاشم قال ولا ينافيه خبر الرافعي عن ابن عباس رضي الله عنهما مرفوعا "ألا أبشرك يا عم إن من ذريتك الأصفياء ومن عترتك الخلفاء ومنك المهدي في آخر الزمان به ينشر الله الهدى ويطفي نيران الضلالة إن الله فتح بنا هذا الأمر وبذريتك يختم"- ثم أورد ابن حجر عدة أخبار في هذا المعنى-ثم قال "فهذه الأخبار كلها لا تنافي أن المهدي من ذرية رسول الله سلى الله عليه وسلم من ولد فاطمة الزهراء لأن الأحاديث التي فيها أن المهدي من ولدها أكثر وأصح بل قال بعض حفاظ الأمة وأعيان الأئمة أن كون المهدي من ذريته صلى الله عليه وسلم مما تواتر عنه ذلك فلا يسوغ العدول ولا الإلتفات إلى غيره وقال ابن حجر يمكن الجمع بأن يكون من ذريته صلى الله عليه وسلم وللعباس فيه ولادة من جهة أن في أمهاتها عباسية".

তাঁর পিতা আব্দুল্লাহ; কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সহীহভাবে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "তাঁর নাম আমার নামের সাথে এবং তাঁর পিতার নাম আমার পিতার নামের সাথে মিলে যাবে।" এটি আবু নুআইম আবু হুরাইরা রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদীসে রিওয়ায়াত করেছেন, যার শব্দমালা হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যদি পৃথিবীর মেয়াদের আর মাত্র একদিনও বাকি থাকে, তবে আল্লাহ সেই দিনটিকে দীর্ঘায়িত করবেন যতক্ষণ না আমার আহলে বাইতের এক ব্যক্তি দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়, যার নাম হবে আমার নামের সাথে এবং তার পিতার নাম হবে আমার পিতার নামের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সে পৃথিবীকে ইনসাফ ও ন্যায়ে পরিপূর্ণ করে দেবে ঠিক যেমন এটি আগে জুলুম ও অন্যায়-অবিচারে পূর্ণ ছিল।" অনুরূপ বর্ণনা তিরমিযী, আবু দাউদ, নাসাঈ, বায়হাকী এবং অন্যান্যরা ইবনে মাসউদ রাদিআল্লাহু আনহু-এর হাদীস থেকে রিওয়ায়াত করেছেন। ইবনে মাসউদ রাদিআল্লাহু আনহু থেকে অন্য একটি বর্ণনায় রয়েছে: "দুনিয়া ততক্ষণ নিঃশেষ হবে না যতক্ষণ না আমার পরিবারের এমন এক ব্যক্তি রাজত্ব করবে যার নাম হবে আমার নামের অনুরূপ; সে পৃথিবীকে ন্যায় ও ইনসাফ দিয়ে পূর্ণ করবে যেভাবে তা অন্যায় ও জুলুমে পূর্ণ ছিল।" এটি তাবারানি তাঁর 'আল-মু'জাম আস-সাগীর'-এ এবং তিরমিযী বর্ণনা করেছেন এবং এর শব্দমালা হলো: "যতক্ষণ না আরবের রাজত্ব করবেন আমার আহলে বাইতের এক ব্যক্তি" এবং তিনি বলেছেন এটি একটি হাসান সহীহ হাদীস। তেমনিভাবে আবু দাউদ তাঁর সুনান গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন এবং ইবনে মাসউদ রাদিআল্লাহু আনহু মারফূ' হিসেবে বর্ণনা করেছেন যে মাহদীর নাম হবে মুহাম্মদ। আর হুযাইফা রাদিআল্লাহু আনহু-এর মারফূ' বর্ণনায় রয়েছে মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ এবং তাঁর কুনিয়াত (উপনাম) হবে আবু আব্দুল্লাহ। কিছু বর্ণনায় তাঁর অন্যতম নাম হিসেবে আহমদ বিন আব্দুল্লাহ-ও এসেছে।—পরবর্তীতে তিনি বলেন: বিভিন্ন বর্ণনায় তাঁর নামকরণ ও বৈশিষ্ট্যের ব্যাপারে—অতঃপর তিনি বলেন—তাঁর উপনাম হলো আবু আব্দুল্লাহ এবং তাঁর বংশপরিচয় হলো তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আহলে বাইতের অন্তর্ভুক্ত। অতঃপর অসংখ্য রিওয়ায়াত ও প্রচুর বর্ণনা সাক্ষ্য দেয় যে তিনি রাসূল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কন্যা ফাতিমা আল-বাতুল রাদিআল্লাহু আনহা-এর বংশধর, আল্লাহ তাঁর এবং তাঁর পবিত্র সন্তানদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন। কিছু হাদীসে এসেছে যে তিনি আল-আব্বাস রাদিআল্লাহু আনহু-এর বংশধর, তবে প্রথমটিই অধিকতর সঠিক। ইবনে হাজার তাঁর 'আল-কাওলুল মুখতাসার' কিতাবে বলেছেন: "আর যা বর্ণিত হয়েছে যে, মাহদী আমার চাচা আব্বাসের বংশ থেকে হবে, এ সম্পর্কে দারা কুতনী বলেছেন: এটি একটি গারীব হাদীস, যা বনু হাশেমের মুক্তদাস মুহাম্মদ বিন ওয়ালিদ এককভাবে বর্ণনা করেছেন।" তিনি বলেন: এটি ইবনে আব্বাস রাদিআল্লাহু আনহুমা থেকে মারফূ' হিসেবে রাফেয়ী কর্তৃক বর্ণিত সংবাদটির সাথে সাংঘর্ষিক নয় যেখানে বলা হয়েছে: "হে চাচা! আমি কি আপনাকে সুসংবাদ দেব না? আপনার বংশধরের মধ্যে একদল মনোনীত ব্যক্তি থাকবে, আপনার বংশ থেকেই খলিফাগণ হবেন এবং শেষ জামানায় মাহদী আপনার থেকেই হবে, যার মাধ্যমে আল্লাহ হিদায়াত প্রচার করবেন এবং পথভ্রষ্টতার আগুন নির্বাপিত করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ এই দ্বীনী বিষয় আমাদের মাধ্যমে শুরু করেছেন এবং আপনার বংশধরের মাধ্যমেই এর সমাপ্তি ঘটাবেন।" অতঃপর ইবনে হাজার এই অর্থে আরও বেশ কিছু বর্ণনা উল্লেখ করেন এবং এরপর বলেন: "এই সব সংবাদের কোনটিই মাহদী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বংশধর এবং ফাতিমা যাহরার সন্তান হওয়ার সত্যতার সাথে সাংঘর্ষিক নয়। কারণ মাহদী তাঁর সন্তান হওয়ার ব্যাপারে বর্ণিত হাদীসগুলো সংখ্যায় অনেক বেশি এবং অধিকতর সহীহ। বরং উম্মতের কিছু হাফেজ এবং শ্রেষ্ঠ ইমামগণ বলেছেন যে, মাহদী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বংশধর হওয়াটি তাঁর থেকে মুতাওয়াতির পর্যায়ে পৌঁছেছে। সুতরাং এটি থেকে বিচ্যুত হওয়া বা অন্য কিছুর দিকে ভ্রূক্ষেপ করা সংগত নয়।" ইবনে হাজার আরও বলেন: দুটির মধ্যে এভাবে সমন্বয় করা সম্ভব যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বংশধর হবেন, আর আব্বাস রাদিআল্লাহু আনহু-এর পক্ষ থেকেও তাঁর জন্মসূত্র থাকবে এভাবে যে তাঁর পূর্বপুরুষ মায়েদের কেউ আব্বাসী বংশের হতে পারেন।

(খণ্ড: ১) আকিদাতু আহলিস সুন্নাহ ওয়াল আসার ফিল মাহদিয়্যিল মুনতাযার (পৃষ্ঠা: ১৫১)
والحاصل أن للحسن في المهدي الولادة العظمى لأن أحاديث كونه من ذريته أكثر وللحسين فيه ولادة أيضا وللعباس فيه ولادة أيضا ولا مانع من اجتماع ولادات وتعددات في شخص واحد من جهات مختلفة وبالله التوفيق. ثم ذكر الشيخ السفاريني رحمه الله أن خمس فوائد تكلم على كل واحدة منها الأولى في حليته وصفته والثانية في سيرته والثالثة في علامات ظهوره والرابعة في الإشارة إلى بعض الفتن الواقعة قبل خروجه والخامسة في مولده وبيعته ومدة ملكه ومتعلقات ذلك ثم قال بعد الإنتهاء من الكلام على الفوائد الخمس: "تنبيه قد كثرت الأقوال في المهدي حتى قيل لا مهدي إلا عيسى والصواب الذي عليه أهل الحق أن المهدي غير عيسى وأنه يخرج قبل نزول عيسى عليه سلام وقد كثرت بخروجه الروايات حتى بلغت حد التواتر المعنوي وشاع ذلك بين علماء السنة حتى عد من معتقداتهم ثم ذكر بعض الآثار والأحاديث في خروج المهدي واسماء بعض الصحابة الذين رووها ثم قال وقد روي عما ذكر من الصحابة وغير من ذكر منهم رضي الله عنهم روايات متعددة وعن التابعين من بعدهم ما يفيد مجموعة العلم القطعي فالإيمان بخروج المهدي واجب كما هو مقرر عند أهل العلم ومدون في عقائد أهل السنة والجماعة".

وقال الشيخ محمد بشير السهسواني الهندي المتوفى سنة ست وعشرين وثلاثمائة وألف في كتابه صيانة الإنسان عن وسوسة الشيخ دحلان قال: "وبعد انقراض قرن الصحابة أتى أمته ما يوعدون من الحوادث والبدع وكلما أحدثت بدعة رفع مثلها من السنة ولكن في قرن التابعين واتباع التابعين لم تظهر البدع ظهورا فاشيا وأما بعد قرن اتباع التابعين فقد تغيرت الأحوال تغيرا فاحشا وغلبت البدع وصارت السنة غريبة واتخذ الناس البدعة سنة والسنة بدعة ولا تزال السنة في المستقبل غريبة إلا ما استثني من زمان المهدي رضي الله عنه وعيسى عليه السلام إلى أن تقوم الساعة على شرار الناس" انتهى.

وقال الشيخ شمس الحق العظيم أبادي المتوفى سنة1329 في حاشيته المسماة عون المعبود على سنن أبي داود قال:

"وخرج أحاديث المهدي جماعة من الأئمة منهم أبو داود والترمذي وابن ماجه والبزار والحاكم والطبراني وأبو يعلى الموصلي وأسندوها إلى جماعة من الصحابة مثل علي وابن عباس وابن عمر وطلحة وعبد الله بن مسعود وأبي هريرة وأنس وأبي سعيد الخدري وأم حبيبة وأم سلمة وثوبان وقرة بن إياس وعلي الهلالي وعبد الله بن الحارث ابن جزء، رضي الله عنهم وإسناد أحاديث هؤلاء بين صحيح وحسن وضعيف وقد بالغ
মোদ্দাকথা হলো, মাহদীর ক্ষেত্রে হাসানের প্রধান বংশীয় ধারা বিদ্যমান, কেননা তিনি হাসানের বংশধর হওয়ার ব্যাপারে বর্ণিত হাদিসসমূহ অধিক। মাহদীর সাথে হুসাইনেরও বংশীয় ধারা রয়েছে এবং আব্বাসেরও বংশীয় ধারা রয়েছে। বিভিন্ন দিক থেকে একই ব্যক্তির মাঝে একাধিক বংশীয় সূত্রের সমাবেশ ঘটার ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই। আর আল্লাহর তাওফীকই কাম্য। অতঃপর শাইখ সাফফারিনী (রহিমাহুল্লাহ) পাঁচটি বিষয়ের অবতারণা করেছেন এবং তার প্রতিটির ওপর আলোচনা করেছেন; প্রথমটি তাঁর অবয়ব ও বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে, দ্বিতীয়টি তাঁর জীবনচরিত সম্পর্কে, তৃতীয়টি তাঁর আবির্ভাবের আলামতসমূহ সম্পর্কে, চতুর্থটি তাঁর আগমনের পূর্বে সংঘটিত কিছু ফিতনার ইঙ্গিত প্রসঙ্গে এবং পঞ্চমটি তাঁর জন্ম, বাইয়াত, রাজত্বকাল ও তৎসংশ্লিষ্ট বিষয়াদি সম্পর্কে। এরপর উক্ত পাঁচটি বিষয়ের আলোচনা শেষ করে তিনি বলেন: "সতর্কবার্তা: মাহদী সম্পর্কে মতভেদ বহুগুণ বেড়েছে, এমনকি এও বলা হয়েছে যে, ঈসা ব্যতীত কোনো মাহদী নেই। তবে সঠিক কথা—যার ওপর সত্যপন্থীরা রয়েছেন—তাহলো মাহদী ঈসা থেকে ভিন্ন এবং তিনি ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর অবতরণের পূর্বেই আত্মপ্রকাশ করবেন। তাঁর আবির্ভাবের ব্যাপারে বর্ণনাগুলো এত বেশি যে তা 'তাওয়াতুরে মানবী' (অর্থগত ধারাবাহিকতা)-এর পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং সুন্নী আলেমদের মধ্যে এটি এমনভাবে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে যে একে তাঁদের আকিদার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।" এরপর তিনি মাহদীর আবির্ভাবের ব্যাপারে কিছু আসার ও হাদিস এবং সেসব বর্ণনাকারী সাহাবীদের নাম উল্লেখ করেন। অতঃপর বলেন: "উল্লেখিত সাহাবীগণ এবং তাঁদের ছাড়াও অন্যান্যদের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) পক্ষ থেকে এ বিষয়ে একাধিক বর্ণনা এসেছে, আর তাবিঈনদের থেকেও এমন বর্ণনা এসেছে যা সমষ্টিগতভাবে অকাট্য জ্ঞান প্রদান করে। সুতরাং মাহদীর আবির্ভাবের ওপর ঈমান আনা ওয়াজিব বা আবশ্যক, যেমনটি বিজ্ঞ আলেমদের নিকট সাব্যস্ত এবং আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদাহগ্রন্থে লিপিবদ্ধ।"

১৩২৬ হিজরিতে ইন্তেকালকারী শাইখ মুহাম্মদ বশীর সাহসাওয়ানি হিন্দি তাঁর 'সিয়ানাতুল ইনসান আন ওয়াসওয়াসাতিল শাইখ দাহলান' গ্রন্থে বলেন: "সাহাবীদের যুগের অবসানের পর এই উম্মতের ওপর সেসব বিপদ ও বিদআত আপতিত হয়েছে যার প্রতিশ্রুতি তাদের দেওয়া হয়েছিল। যখনই কোনো বিদআতের উদ্ভব হয়েছে, তখনই তার সমপরিমাণ সুন্নাহ বিলুপ্ত হয়েছে। তবে তাবিঈন ও তাবে-তাবিঈনদের যুগে বিদআত ব্যাপকভাবে প্রকাশ পায়নি। কিন্তু তাবে-তাবিঈনদের যুগের পর পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটে, বিদআত জয়যুক্ত হয় এবং সুন্নাহ অপরিচিত হয়ে পড়ে। মানুষ বিদআতকে সুন্নাহ আর সুন্নাহকে বিদআত হিসেবে গ্রহণ করে নেয়। ভবিষ্যতেও সুন্নাহ এভাবেই অপরিচিত থেকে যাবে, তবে মাহদী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ও ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর সময়কাল এর ব্যতিক্রম, যতক্ষণ না সবচেয়ে নিকৃষ্ট লোকদের ওপর কিয়ামত কায়েম হয়।" সমাপ্ত।

১৩২৯ হিজরিতে ইন্তেকালকারী শাইখ শামসুল হক আজিমাবাদি সুনানে আবু দাউদ-এর ওপর তাঁর রচিত 'আউনুল মাবুদ' নামক টিকায় বলেন:

"ইমামদের একটি দল মাহদী বিষয়ক হাদিসসমূহ সংকলন করেছেন, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন আবু দাউদ, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ, বাজ্জার, হাকেম, তাবারানি এবং আবু ইয়ালা আল-মাওসিলি। তাঁরা এ সকল হাদিস একদল সাহাবীর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেছেন, যেমন আলী, ইবনে আব্বাস, ইবনে উমর, তালহা, আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ, আবু হুরায়রা, আনাস, আবু সাঈদ আল-خুদরি, উম্মে হাবিবা, উম্মে সালামা, সাওবান, কুররা বিন ইয়াস, আলী আল-হিলালি এবং আব্দুল্লাহ বিন হারিস ইবনে জায (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)। এসকল সাহাবীদের থেকে বর্ণিত হাদিসসমূহের সনদ সহীহ, হাসান ও যয়ীফের মধ্যে বিন্যস্ত। আর তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন..."
(খণ্ড: ১) আকিদাতু আহলিস সুন্নাহ ওয়াল আসার ফিল মাহদিয়্যিল মুনতাযার (পৃষ্ঠা: ১৫২)
الإمام المؤرخ عبد الرحمن بن خلدون المغربي في تاريخه في تضعيف أحاديث المهدي كلها ولم يصب بل أخطأ" انتهى. وقال الشيخ محمد أنور شاه الكشميري 1352هـ في كتابه عقيدة الإسلام "فائدة" "أخرج مسلم في نزول عيسى عليه السلام عن جابر يقول سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: "لاتزال طائفة من أمتي يقاتلون على الحق الظاهرين إلى يوم القيامة قال فينزل عيسى بن مريم صلى الله عليه وسلم فيقول أميرهم تعال صل لنا فيقول لا إن بعضكم على بعض أمراء تكرمة الله هذه الأمة" قال الكشميري المراد به أنه لا يؤم في تلك الصلاة حتى لا يتوهم أن الأمة المحمدية سلبت الولاية فبعد تقرير ذلك في أول مرة يكون الإمام هو عيسى عليه الصلاة والسلام لكونه أفضل من المهدي فالجواب الأصلي لأمير المسلمين هو قوله: "لا فإنها لك أقيمت" كما عند ابن ماجه وغيره عن أبي أمامة وبعد إن كانت أقيمت له لو تقدم عيسى صلى الله عليه وسلم أوهم عزل الأمير بخلاف ما بعد ذلك وهذا كإشارة نبينا صلى الله عليه وسلم لأبي بكر رضي الله عنه بعد ما كان شرع في الصلاة أن لا يتأخر يعني أؤم في هذه الصلاة لأنها لك أقيمت ثم ذكر قوله "تكرمة الله هذه الأمة" لفائدة زائدة وهي أن الأمة على ولايتها وعيسى عليه السلام أيضا حينئذ منهم لا التعليل لعدم إمامته حتى يتوهم استمرار عدمها" انتهى.

وقال الشيخ عبد الرحمن المباركفوري 1353في تحفة الأحوذي شرح جامع الترمذي في باب ما جاء في المهدي:

قلت: الأحاديث الواردة في خروج المهدي كثيرة جدا ولكن أكثرها ضعاف ولا شك في أن حديث عبد الله بن مسعود الذي في هذا الباب لا ينحط عن درجة الحسن وله شواهد كثيرة من بين حسان وضعاف فحديث عبد الله بن مسعود هذا مع شواهده وتوابعه صالح الإحتجاج بلا مريه فالقول بخروج المهدي وظهوره هو الحق والصواب والله أعلم.

هذه بعض الكلمات التي وفقت عليها لبعض أهل السنة والأثر في شأن المهدي والإحتجاج بالأحاديث الواردة فيه، وأعني بأهل السنة والأثر أهل الحديث ومن سار على منوالهم ممن جعل مستنده في الإعتقاد كتاب الله وما ثبت عن رسوله صلى الله عليه وسلم دون الاعتراض على ذلك بخيال يسميه صاحبه معقولا، وليس كل الذين نقلت كلامهم فيما تقدم بهذه المثابة بل منهم من هو على المعتقد الذي رجع عنه أبو الحسن الأشعري رحمه الله وبعض هؤلاء ممن له عناية بالآثار وتمييز صحيحها من ضعيفها وذلك أن الحق يقبل من كل من جاء به وليعلم أن الأحاديث في المهدي قد تلقتها الأمة من أهل السنة والأشاعرة بالقبول إلا من شذ.
"ইতিহাসবিদ ইমাম আবদুর রহমান বিন খালদুন আল-মাগরিবী তাঁর ইতিহাসে মাহদী সম্পর্কিত সকল হাদিসকে দুর্বল করার চেষ্টা করেছেন, কিন্তু তিনি সঠিক ছিলেন না বরং ভুল করেছেন।" ইতি। এবং শেখ মুহাম্মদ আনোয়ার শাহ কাশ্মীরি (১৩৫২ হিজরি) তাঁর 'আকীদাতুল ইসলাম' কিতাবে একটি 'ফায়েদা' (উপকারিতা) হিসেবে বলেছেন: "ঈসা আলাইহিস সালামের অবতরণ প্রসঙ্গে মুসলিম জাবির থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: 'আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা হকের ওপর বিজয়ী হয়ে কিয়ামত পর্যন্ত লড়াই করতে থাকবে।' তিনি বলেন, এরপর ঈসা ইবনে মারইয়াম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অবতরণ করবেন, তখন তাদের আমীর বলবেন, 'আসুন, আমাদের সালাতে ইমামতি করুন।' তিনি বলবেন, 'না, এই উম্মতের প্রতি আল্লাহর সম্মানের কারণে তোমাদের একজন অন্যজনের আমীর।' কাশ্মীরি বলেন, এর অর্থ হলো তিনি সেই সালাতে ইমামতি করবেন না যাতে কেউ এমন ধারণা না করে যে মুহাম্মাদী উম্মত থেকে তাদের নেতৃত্ব ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। প্রথমবার এটি সুপ্রতিষ্ঠিত করার পর ইমাম হবেন ঈসা আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম, কারণ তিনি মাহদীর চেয়ে শ্রেষ্ঠ। তাই মুসলিমদের আমীরের প্রতি তাঁর মূল উত্তর হলো: 'না, বরং এটি আপনার জন্য ইকামত দেওয়া হয়েছে', যেমনটি ইবনে মাজাহ এবং অন্যান্যরা আবু উমামা থেকে বর্ণনা করেছেন। আর যখন সালাত তাঁর (আমীরের) জন্য ইকামত দেওয়া হয়েছিল, তখন যদি ঈসা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এগিয়ে যেতেন, তবে তা আমীরকে অপসারিত করার বিভ্রান্তি সৃষ্টি করত, কিন্তু পরবর্তী সময়ের জন্য বিষয়টি এমন নয়। আর এটি আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে সালাত শুরু করার পর পিছিয়ে না যাওয়ার ইশারার মতো। অর্থাৎ আমি এই সালাতে ইমামতি করব কারণ এটি আপনার জন্য ইকামত দেওয়া হয়েছে। অতঃপর তিনি অতিরিক্ত ফায়েদা হিসেবে তাঁর এই উক্তিটি উল্লেখ করেছেন: 'এই উম্মতের প্রতি আল্লাহর সম্মান'। আর তা হলো উম্মত তাদের নেতৃত্বের ওপরই বহাল থাকবে এবং ঈসা আলাইহিস সালামও তখন তাদেরই অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। এটি তাঁর ইমামতি না করার এমন কোনো কারণ নয় যার দ্বারা ইমামতি না থাকার বিষয়টি সর্বদা স্থায়ী বলে ভ্রম হতে পারে।" ইতি।

এবং শেখ আবদুর রহমান মুবারকপুরী (১৩৫৩ হিজরি) তিরমিযী শরীফের ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'তুহফাতুল আহওয়াযী'-তে মাহদী সম্পর্কিত অধ্যায়ে বলেছেন:

আমি বলি: মাহদীর আগমনের বিষয়ে বর্ণিত হাদিসগুলো সংখ্যায় অনেক, তবে তার অধিকাংশই দুর্বল। কিন্তু এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এই অধ্যায়ে বর্ণিত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদের হাদিসটি 'হাসান' স্তরের নিচে নয় এবং এর অনেক হাসান ও যঈফ সমর্থক হাদিস রয়েছে। ফলে আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদের এই হাদিসটি এর সমর্থক ও অনুগামী বর্ণনাগুলোসহ কোনো সংশয় ছাড়াই দলিল হিসেবে গ্রহণের যোগ্য। অতএব মাহদীর আগমন ও আত্মপ্রকাশের কথাটিই সত্য ও সঠিক, আর আল্লাহই ভালো জানেন।

এগুলো আহলে সুন্নাহ ওয়াল আসার-এর কিছু আলিমের বক্তব্য যা মাহদী এবং এ সংক্রান্ত হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করার বিষয়ে আমি সংগ্রহ করতে পেরেছি। আর আহলে সুন্নাহ ওয়াল আসার বলতে আমি আহলে হাদিস এবং যারা তাদের পথ অনুসরণ করেন তাদের বুঝিয়েছি—যারা আকিদার ক্ষেত্রে আল্লাহর কিতাব এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত সুন্নাহকে ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেন এবং স্বীয় কল্পিত যুক্তির মাধ্যমে তার বিরোধিতা করেন না। তবে যাদের বক্তব্য উপরে উল্লেখ করা হয়েছে তারা সবাই এই মর্যাদার অধিকারী নন, বরং তাদের মধ্যে কেউ কেউ এমন আকিদার ওপর ছিলেন যা থেকে আবু হাসান আশআরী রহমাতুল্লাহি আলাইহি পরবর্তীতে ফিরে এসেছিলেন। তাদের মধ্যে এমন কিছু ব্যক্তি রয়েছেন যারা আসার বা বর্ণনাসমূহের প্রতি যত্নবান এবং সহীহ-যঈফের পার্থক্য করতে পারদর্শী। কারণ সত্য যার মাধ্যমেই আসুক না কেন তা গ্রহণীয়। আর এটি জেনে রাখা উচিত যে, মাহদী সম্পর্কিত হাদিসগুলো আহলে সুন্নাহ এবং আশআরীগণের নিকট উম্মতের গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে, কেবল তারা ব্যতীত যারা বিচ্ছিন্ন মত পোষণ করে।
(খণ্ড: ১) আকিদাতু আহলিস সুন্নাহ ওয়াল আসার ফিল মাহদিয়্যিল মুনতাযার (পৃষ্ঠা: ১৫৩)
‌‌[الثامن: - ذكر من وقفت عليه ممن حكى عنه إنكارأحاديث المهدي أو التردد فيها مع مناقشة كلامه باختصار]

 

فإن قال قائل: قد أكثرت من النقل عن أهل العلم في إثبات خروج المهدي في آخر الزمان فلماذا؟ وهل وقفت على ذكر إنكار أحد لخروج المهدي أو التردد في شأنه على الأقل؟.

والجواب عن السؤال الأول هو: أنني أوردت بعض ما وقفت عليه من كلام أهل العلم بشأن خروج المهدي في آخر الزمان لتزداد أيها المستمع ثباتا ويقينا بأن اعتقاد خروجه آخر الزمان هو الجادة المسلوكة ولتعلم أنه الحق الذي لا يسوغ العدول عنه والإلتفات إلى غيره وعمدة أهل العلم في ذلك الأحاديث الواردة عن الرسول صلى الله عليه وسلم في ذلك إذ لا مجال للرأي في مثل هذا الأمر بل سبيله الوحيد هو الوحي لأنه من الأمور الغيبية.

أما الجواب عن السؤال الثاني فهو أني لم أقف على تسمية أحد في الماضين أنكر أحاديث المهدي أو تردد فيها سوى رجلين اثنين أما أحدهما فهو أبو محمد بن الوليد البغدادي الذي ذكره شيخ الإسلام ابن تيمية في منهاج السنة وقد مضى حكاية كلام شيخ الإسلام ابن تيمية في منهاج السنة وقد مضى حكاية كلام شيخ الإسلام عنه وأنه قد اعتمد على حديث "لا مهدي إلا عيسى بن مريم" وقال ابن تيميه "وليس مما يعتمد عليه لضعفه" انتهى وسبق في أثناء كلام الذين نقلت عنهم أنه لو صح هذا الحديث فالجمع بينه وبين أحاديث المهدي ممكن، ولم أقف على ترجمة لأبي محمد المذكور.

وأما الثاني فهو عبد الرحمن بن خلدون المغربي المؤرخ المشهور وهو الذي اشتهر بين الناس عنه تضعيف لأحاديث المهدي وقد رجعت إلى كلامه في مقدمة تاريخه فظهر لي منه التردد لا الجزم بالإنكار، وعلى كل حال فإنكارها أو التردد في التصديق بما دلت عليه شذوذ عن الحق ونكوب عن الجادة المطروقة وقد تعقبه الشيخ صديق حسن في كتابه الإذاعة حيث قال: "لا شك أن المهدي يخرج في آخر الزمان من غير تعيين لشهر وعام لما تواتر من الأخبار في الباب واتفق عليه جمهور الأمة خلفا عن سلف إلا من لا يعتد بخلافه-وقال: لا معنى للريب في أمر ذلك الفاطمي الموعود والمنتظر المدلول عليه بالأدلة بل إنكار ذلك جرأة عظيمة في مقابلة النصوص المستفيضة المشهورة البالغة إلى حد التواتر" انتهى.

ولي ملاحظات على كلام ابن خلدون أرى أن أشير إليها هنا:

الأولى: أنه لو حصل التردد في أمر المهدي من رجل له خبرة بالحديث لاعتبر ذلك زللا منه فكيف إذا كان من الإخباريين الذين هم ليسوا من أهل الاختصاص وقد أحسن الشيخ أحمد شاكر في تخريجه لأحاديث المسند حيث قال: "أما ابن خلدون فقد قفا ما ليس له به علم واقتحم قحما لم يكن من رجالها وقال إنه تهافت في الفصل الذي عقده في مقدمة للمهدي تهافتا
‌[অষ্টম: - যাদের সম্পর্কে আমি জানতে পেরেছি যে তারা মাহদীর হাদিসসমূহ অস্বীকার করেছেন অথবা এ বিষয়ে দ্বিধা প্রকাশ করেছেন, তাদের উল্লেখ এবং তাদের বক্তব্যের সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা]

 

যদি কেউ প্রশ্ন করেন: আপনি শেষ জামানায় মাহদীর আগমনের প্রমাণের ব্যাপারে আলেমদের থেকে অনেক উদ্ধৃতি দিয়েছেন, কিন্তু কেন? আর আপনি কি মাহদীর আগমনের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন বা অন্তত এ বিষয়ে দ্বিধা প্রকাশ করেছেন এমন কারও কথা জানতে পেরেছেন?

প্রথম প্রশ্নের উত্তর হলো: শেষ জামানায় মাহদীর আগমন সম্পর্কে আলেমদের বক্তব্যের যা কিছু আমি পেয়েছি তার কিছু অংশ এখানে উল্লেখ করেছি, যাতে হে শ্রোতা, আপনার এই বিশ্বাস ও দৃঢ়তা বৃদ্ধি পায় যে, শেষ জামানায় তাঁর আগমনের আকিদাই হলো সঠিক ও অনুসৃত পথ। আর আপনি যেন জানতে পারেন যে, এটিই সত্য যা থেকে বিচ্যুত হওয়া বা অন্য কিছুর দিকে দৃষ্টি দেওয়া বৈধ নয়। এ বিষয়ে আলেমদের মূল ভিত্তি হলো রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত হাদিসসমূহ। কারণ এ জাতীয় বিষয়ে ব্যক্তিগত মতামতের কোনো সুযোগ নেই, বরং এর একমাত্র পথ হলো ওহী, যেহেতু এটি গায়েবি বা অদৃশ্য বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত।

দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর হলো, আমি পূর্ববর্তীগণের মধ্যে মাহদীর হাদিসসমূহ অস্বীকার করেছেন বা এ বিষয়ে দ্বিধা প্রকাশ করেছেন এমন নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির নাম পাইনি, কেবল দুইজন ব্যক্তি ছাড়া। তাদের একজন হলেন আবু মুহাম্মদ বিন আল-ওয়ালিদ আল-বাগদাদী, যাঁর কথা শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া 'মিনহাজুস সুন্নাহ' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া তাঁর সম্পর্কে যা বলেছেন তা আগেই বর্ণিত হয়েছে। তিনি "ঈসা ইবনে মারিয়াম ব্যতীত কোনো মাহদী নেই" - এই হাদিসের ওপর নির্ভর করেছেন। ইবনে তাইমিয়া বলেন: "এটি দুর্বল হওয়ার কারণে নির্ভর করার মতো কিছু নয়।" (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)। যাদের কথা আমি আগে উল্লেখ করেছি তাদের বক্তব্যের মাঝেও এটি এসেছে যে, যদি এই হাদিসটি সহীহও হয়, তবে এর এবং মাহদী সংক্রান্ত অন্যান্য হাদিসের মধ্যে সমন্বয় করা সম্ভব। উল্লিখিত আবু মুহাম্মদের কোনো জীবনী আমার নজরে পড়েনি।

আর দ্বিতীয় ব্যক্তি হলেন বিখ্যাত ঐতিহাসিক আবদুর রহমান বিন খালদুন আল-মাগরিবি। মানুষের মাঝে তাঁর পক্ষ থেকে মাহদীর হাদিসসমূহকে দুর্বল বলার বিষয়টি প্রসিদ্ধ। আমি তাঁর ইতিহাসের মুকাদ্দিমায় (ভূমিকা) তাঁর বক্তব্যের পর্যালোচনা করেছি এবং আমার কাছে এটি অস্বীকারের চেয়ে দ্বিধা হিসেবেই প্রকাশ পেয়েছে। যাই হোক, মাহদীর হাদিসসমূহ অস্বীকার করা বা এগুলোর নির্দেশিত বিষয়ের ওপর বিশ্বাস স্থাপনে দ্বিধা করা সত্য থেকে বিচ্যুতি এবং সঠিক পথ থেকে সরে যাওয়ার নামান্তর। শেখ সিদ্দিক হাসান তাঁর 'আল-ইযাআহ' গ্রন্থে তাঁর সমালোচনা করে বলেছেন: "নিঃসন্দেহে মাহদী শেষ জামানায় আত্মপ্রকাশ করবেন, যদিও কোনো নির্দিষ্ট মাস বা বছর নির্ধারিত নয়। কারণ এ বিষয়ে প্রচুর বর্ণনা (তাওয়াতুর) রয়েছে এবং পূর্বসূরি থেকে উত্তরসূরি পর্যন্ত উম্মতের জমহুর বা সংখ্যাগুরু অংশ এর ওপর একমত হয়েছেন, কেবল তাদের কথা ভিন্ন যাদের বিরোধিতা ধর্তব্য নয়।" তিনি আরও বলেন: "সেই প্রতিশ্রুত ও প্রতীক্ষিত ফাতেমী (বংশীয়) ব্যক্তির ব্যাপারে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই যার ওপর দলীলসমূহ প্রমাণ বহন করে। বরং মুস্তাফিয (প্রসিদ্ধ) ও মশহুর নসুস (দলীল), যা তাওয়াতুর তথা অকাট্যতার পর্যায়ে পৌঁছেছে, তার বিপরীতে এগুলো অস্বীকার করা এক চরম ধৃষ্টতা।" (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)।

ইবনে খালদুনের বক্তব্যের ওপর আমার কিছু পর্যবেক্ষণ রয়েছে যা আমি এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন মনে করছি:

প্রথমত: মাহদীর বিষয়ে দ্বিধা যদি এমন কোনো ব্যক্তি থেকে আসত যার হাদিস শাস্ত্রে গভীর জ্ঞান রয়েছে, তবে সেটিও তাঁর এক বড় বিচ্যুতি হিসেবে গণ্য হতো। তাহলে এমন একজন ঐতিহাসিক বা সংবাদ বর্ণনাকারীর ক্ষেত্রে কী বলা যায় যিনি এই শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞ নন? শেখ আহমদ শাকির মুসনাদ (আহমদ)-এর হাদিসগুলোর তাহকীক করতে গিয়ে চমৎকার বলেছেন: "ইবনে খালদুনের ক্ষেত্রে বলা যায় যে, তিনি এমন বিষয়ের অনুসরণ করেছেন যে সম্পর্কে তাঁর জ্ঞান ছিল না এবং তিনি এমন এক কঠিন পথে ঢুকে পড়েছেন যার উপযুক্ত লোক তিনি ছিলেন না।" তিনি আরও বলেছেন যে, ইবনে খালদুন তাঁর মুকাদ্দিমায় মাহদীর জন্য নির্ধারিত অধ্যায়টিতে চরম অসংলগ্নতা প্রকাশ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আকিদাতু আহলিস সুন্নাহ ওয়াল আসার ফিল মাহদিয়্যিল মুনতাযার (পৃষ্ঠা: ১৫৪)
عجيبا وغلط أغلاطا واضحة وقال إن ابن خلدون لم يحسن قول المحدثين. "الجرح مقدم على التعديل" ولو اطلع على أقوالهم وفقهها ما قال شيئا مما قال"

الثانية: صدر ابن خلدون الفصل الذي عقده في مقدمته للمهدي بقوله: "اعلم أن في المشهور بين الكافة من أهل الإسلام على ممر الأعصار أنه لا بد في آخر الزمان من ظهور رجل من أهل البيت يؤيد الدين ويظهر العدل ويتبعه المسلمون ويستولي على الممالك الإسلامية ويسمى بالمهدي ويكون خروج الدجال وما بعده من أشراط الساعة الثابتة في الصحيح على أثره أن عيسى ينزل من بعده فيقتل الدجال أو ينزل معه فيساعده على قتل ويأتم بالمهدي في صلاته ويحتجون في الشأن بأحاديث خرجها الأئمة وتكلم فيها المنكرون لذلك وربما عارضوها ببعض الأخبار".

أقول: هذه الشهادة التي شهدها ابن خلدون هي أن اعتقاد خروج المهدي هو المشهور بين الكافة من أهل الإسلام على ممر الأعصار، ألا يسعه في ذلك ما وسع الناس على ممر الأعصار كما ذكر ابن خلدون نفسه، وهل ذلك الشذوذ بعد معرفة أن الكافة على خلافه وهل هؤلاء الكافة اتفقوا على الخطأ والأمر ليس اجتهاديا وإنما هو غيبي لا يسوغ لأحد إثباته إلا بدليل من كتاب الله أو سنه نبيه صلى الله عليه وسلم والدليل معهم وهم أهل الإختصاص.

الثالثة: أنه قال قبل إيراد الأحاديث: "ونحن الآن نذكر هنا الأحاديث الواردة في هذا الشأن وقال في نهايتها: فهذه جملة الأحاديث التي خرجها الأئمة في شأن المهدي وخروجه آخر الزمان وقال في موضع آخر بعد ذلك وما أورده أهل الحديث من أخبار المهدي قد استوفينا جميعه بمبلغ طاقتنا". وأقول إنه قد خانه الشيء الكثير كما يتضح ذلك بالرجوع إلى ما أثبته السيوطي في العرف الوردي في أخبار المهدي عن الأئمة، بل إن مما فاته الحديث الذي ذكره ابن القيم في المنار المنيف عن الحارث ابن أبي أسامة وقال إسناده جيد وتقدم ذكره بسنده وحاصل ما قيل في رجاله.

الرابعة: وقال "إن جماعة من الأئمة خرجوا أحاديث المهدي فذكرهم وذكر الصحابة الذين أسندوها إليهم ثم قال ربما يعرض لأسانيدها المنكرون كما نذكره إلا أن المعروف عند أهل الحديث أن الجرح مقدم على التعديل فإذا وجدنا طعنا ببعض رجال الأسانيد بغفلة أو سوء حفظ أو ضعف أوسوء رأي تطرق ذلك إلى صحة الحديث وأوهن منها ولا تقولن مثل ذلك ربما يتطرق إلى رجال الصحيحين، فإن الإجماع قد اتصل في الأمة على تلقيهما بالقبول والعمل بما فيهما وفي الإجماع أعظم حماية وأحسن دفعا وليس غير الصحيحين بمثابتهما في ذلك فقد نجد مجالا للكلام في أسانيدها بما تقل عن أئمة الحديث في ذلك" انتهى.

أقول: إن ابن خلدون أورد بعض الأحاديث
অদ্ভুত এবং তিনি স্পষ্ট ভুল করেছেন। তিনি বলেছেন যে ইবনে খালদুন মুহাদ্দিসদের এই কথাটি ভালোভাবে বোঝেননি যে, 'জারহ (সমালোচনা) তাদীল (প্রশংসা)-এর ওপর অগ্রাধিকার পায়'। তিনি যদি তাদের বক্তব্যগুলো দেখতেন এবং তা বুঝতে পারতেন, তবে তিনি যা বলেছেন তার কিছুই বলতেন না।

দ্বিতীয়ত: ইবনে খালদুন তার মুকাদ্দিমায় মাহদী সম্পর্কে যে অধ্যায়টি রচনা করেছেন তার সূচনা করেছেন এই বলে: "জেনে রাখুন যে, যুগ যুগ ধরে সমস্ত মুসলিমদের মাঝে এটিই প্রসিদ্ধ যে, শেষ যামানায় আহলে বাইত থেকে অবশ্যই একজন ব্যক্তির আবির্ভাব ঘটবে, যিনি দ্বীনকে শক্তিশালী করবেন, ন্যায়বিচার প্রকাশ করবেন, মুসলিমরা তাকে অনুসরণ করবে এবং তিনি ইসলামী রাজ্যগুলো জয় করবেন। তাকে মাহদী বলা হবে। দাজ্জালের আত্মপ্রকাশ এবং সহীহ বর্ণনায় প্রমাণিত কিয়ামতের পরবর্তী আলামতসমূহ তার পরপরই ঘটবে। ঈসা তার পরে অবতরণ করবেন এবং দাজ্জালকে হত্যা করবেন, অথবা তার সাথেই অবতরণ করবেন এবং তাকে দাজ্জাল হত্যায় সহযোগিতা করবেন এবং তিনি মাহদীর পেছনে সালাত আদায় করবেন। এই বিষয়ে তারা ইমামদের সংকলিত হাদিসসমূহ দ্বারা দলীল পেশ করেন, যেগুলোর ব্যাপারে অস্বীকারকারীরা সমালোচনা করেছেন এবং সম্ভবত কিছু বর্ণনার মাধ্যমে সেগুলোর বিরোধিতা করেছেন।"

আমি বলছি: ইবনে খালদুনের এই সাক্ষ্য এটাই প্রমাণ করে যে, মাহদীর আবির্ভাবের বিশ্বাসটি যুগ যুগ ধরে সমস্ত মুসলিমদের মাঝে প্রসিদ্ধ। যুগ যুগ ধরে যা মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করেছে তা কি তাকে অন্তর্ভুক্ত করে না, যা ইবনে খালদুন নিজেই উল্লেখ করেছেন? সাধারণ মানুষের বিপরীতে অবস্থান করা কি বিচ্যুতি নয়? সমস্ত মুসলিম কি ভুলের ওপর একমত হতে পারেন? অথচ বিষয়টি ইজতিহাদী নয় বরং তা গায়েবী বিষয়, যা আল্লাহর কিতাব বা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর দলীল ছাড়া সাব্যস্ত করা কারো জন্য বৈধ নয়। আর দলীল তাদের সাথেই রয়েছে এবং তারাই বিশেষজ্ঞ।

তৃতীয়ত: হাদিসগুলো উল্লেখ করার আগে তিনি বলেছিলেন: "আমরা এখন এখানে এই বিষয়ে বর্ণিত হাদিসগুলো উল্লেখ করব।" তিনি এর শেষে বলেছিলেন: "এগুলোই হলো সেই সব হাদিস যা ইমামগণ মাহদী এবং শেষ যামানায় তার আবির্ভাব সম্পর্কে সংকলন করেছেন।" তিনি এর পরে অন্য জায়গায় বলেছেন: "আহলুল হাদিসগণ মাহদী সম্পর্কে যে বর্ণনাগুলো এনেছেন, আমরা আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী তার সবই গ্রহণ করেছি।" আমি বলছি: তিনি অনেক কিছুই এড়িয়ে গেছেন, যা ইমামদের পক্ষ থেকে সুয়ূতী রচিত 'আল-উরফুল ওয়ারদী ফী আখবারিল মাহদী'র দিকে লক্ষ্য করলে স্পষ্ট হয়। এমনকি তার কাছ থেকে সেই হাদিসটিও বাদ পড়েছে যা ইবনুল কায়্যিম 'আল-মানারুল মুনীফ'-এ হারিস ইবনে আবু উসামা থেকে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন এর সনদ জায়্যিদ (উত্তম)। এটি ইতিপূর্বে এর সনদসহ এবং বর্ণনাকারীদের সম্পর্কে যা বলা হয়েছে তার সারসংক্ষেপসহ বর্ণিত হয়েছে।

চতুর্থত: তিনি বলেছেন, "ইমামদের একটি দল মাহদীর হাদিসসমূহ সংকলন করেছেন।" অতঃপর তিনি তাদের নাম এবং সেই সাহাবীদের নাম উল্লেখ করেছেন যারা এগুলো বর্ণনা করেছেন। এরপর তিনি বলেছেন, "হয়তো অস্বীকারকারীরা এগুলোর সনদের ব্যাপারে আপত্তি তুলবেন যেমনটি আমরা উল্লেখ করব। তবে আহলুল হাদিসদের নিকট এটি সুপরিচিত যে, 'জারহ' (সমালোচনা) 'তাদীল' (প্রশংসা)-এর ওপর অগ্রাধিকার পায়। সুতরাং যদি আমরা সনদের কোনো বর্ণনাকারীর মধ্যে অসতর্কতা, মুখস্থ শক্তির দুর্বলতা, দুর্বলতা কিংবা ভ্রান্ত মতাদর্শের কারণে কোনো ত্রুটি খুঁজে পাই, তবে তা হাদিসের বিশুদ্ধতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে এবং একে দুর্বল করে দেয়। আর এমনটি বলবেন না যে, হয়তো সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এর বর্ণনাকারীদের ক্ষেত্রেও এমনটি হতে পারে। কারণ উম্মাহর মাঝে এই দুই কিতাব গ্রহণ করা এবং সে অনুযায়ী আমল করার ব্যাপারে ইজমা (ঐক্যমত্য) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আর ইজমার মধ্যে রয়েছে সর্বশ্রেষ্ঠ সুরক্ষা ও সর্বোত্তম প্রতিরক্ষা। সহীহাইন ব্যতীত অন্য কোনো কিতাব এই পর্যায়ে নেই, তাই সেগুলোর সনদের ব্যাপারে কথা বলার অবকাশ রয়েছে যা হাদিসের ইমামদের থেকে বর্ণিত হয়েছে।" সমাপ্ত।

আমি বলছি: ইবনে খালদুন কিছু হাদিস উল্লেখ করেছেন