(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ ফী বায়ানি আসবাবিল ইখতিলাফ লিদ-দেহলভী
(পৃষ্ঠা: -)
الإنصاف في بيان أسباب الاختلاف للدهلوي القسم: أصول الفقه
الكتاب: الإنصاف في بيان أسباب الاختلاف
المؤلف: أحمد بن عبد الرحيم بن الشهيد وجيه الدين بن معظم بن منصور المعروف بـ «الشاه ولي الله الدهلوي» (ت 1176هـ)
المحقق: عبد الفتاح أبو غدة
الناشر: دار النفائس - بيروت
الطبعة: الثانية، 1404
عدد الصفحات: 111
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
দেহলভী প্রণীত আল-ইনসাফ ফি বায়ানি আসবাবিল ইখতিলাফ বিভাগ: ফিকহ শাস্ত্রের মূলনীতি (أصول الفقه)
গ্রন্থ: আল-ইনসাফ ফি বায়ানি আসবাবিল ইখতিলাফ
লেখক: আহমদ ইবনে আবদুর রহিম ইবনে আশ-শহীদ ওয়াজিহুদ্দিন ইবনে মুয়াজ্জাম ইবনে মনসুর, যিনি «শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভী» নামে পরিচিত (মৃ. ১১৭৬ হিজরি)
সম্পাদক: আবদুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ
প্রকাশক: দারুন নাফায়েস - বৈরুত
সংস্করণ: দ্বিতীয়، ১৪০৪
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১১১
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ ফী বায়ানি আসবাবিল ইখতিলাফ লিদ-দেহলভী
(পৃষ্ঠা: ১৩)
مُقَدّمَة الْحَمد لله الَّذِي بعث سيدنَا مُحَمَّدًا صلوَات الله عَلَيْهِ إِلَى النَّاس ليَكُون هاديا إِلَى الله بِإِذْنِهِ وسراجا منيرا ثمَّ ألهم الصَّحَابَة وَالتَّابِعِينَ وَالْفُقَهَاء الْمُجْتَهدين أَن يحفظوا سير نَبِيّهم طبقَة بعد طبقَة إِلَى أَن تؤذن الدُّنْيَا بِانْقِضَاء ليتم النعم وَكَانَ على مَا يَشَاء قَدِيرًا وَأشْهد أَن لَا إِلَه إِلَّا الله وَحده لَا شريك لَهُ وَأشْهد أَن سيدنَا مُحَمَّدًا عَبده وَرَسُوله الَّذِي لَا نَبِي بعده صلى الله عَلَيْهِ وَآله وَصَحبه أَجْمَعِينَ
ভূমিকা (مقدمة) সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে মানুষের প্রতি প্রেরণ করেছেন তাঁর অনুমতিক্রমে আল্লাহর দিকে হেদায়াতকারী এবং এক আলোকোজ্জ্বল প্রদীপ হিসেবে। অতঃপর তিনি সাহাবী (صحابة), তাবেয়ী (تابعين) এবং মুজতাহিদ (مجتهدين) ফকিহগণকে অনুপ্রাণিত করেছেন যেন তাঁরা তাঁদের নবীর সীরাত বা জীবনচরিত এক স্তর (طبقة) থেকে পরবর্তী স্তরে সংরক্ষণ করেন, যাবৎ না পৃথিবী ধ্বংসের চূড়ান্ত ঘোষণা আসে, যাতে তাঁর নেয়ামতসমূহ পূর্ণতা পায়; আর তিনি যা ইচ্ছা করেন তার ওপর পূর্ণ ক্ষমতাবান। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক ও অদ্বিতীয়; এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল, যাঁর পরে আর কোনো নবী নেই। আল্লাহ তাঁর ওপর, তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ ফী বায়ানি আসবাবিল ইখতিলাফ লিদ-দেহলভী
(পৃষ্ঠা: ১৪)
أما بعد فَيَقُول الْفَقِير إِلَى رَحْمَة الله الْكَرِيم ولي الله بن عبد الرَّحِيم أتم الله تَعَالَى عَلَيْهِمَا نعمه فِي الأولى وَالْأُخْرَى إِن الله تَعَالَى ألْقى فِي قلبِي وقتا من الْأَوْقَات ميزانا أعرف بِهِ سَبَب كل اخْتِلَاف وَقع فِي الْملَّة المحمدية على صَاحبهَا الصَّلَوَات والتسليمات وَأعرف بِهِ مَا هُوَ الْحق عِنْد الله وَعند رَسُوله ومكنني من أَن أبين ذَلِك بَيَانا لَا يبْقى مَعَه شُبْهَة وَلَا إِشْكَال
ثمَّ سُئِلت عَن سَبَب اخْتِلَاف الصَّحَابَة وَمن بعدهمْ فِي الْأَحْكَام الْفِقْهِيَّة خَاصَّة فانتدبت لبَيَان بعض مَا فتح عَليّ بِهِ ساعتئذ بِقدر مَا يَسعهُ الْوَقْت ويحيط بِهِ السَّائِل فَجَاءَت رِسَالَة مفيدة فِي بَابهَا وسميتها الانصاف فِي بَيَان أَسبَاب الِاخْتِلَاف
وحسبي الله وَنعم الْوَكِيل وَلَا حول وَلَا قُوَّة إِلَّا بِاللَّه الْعلي الْعَظِيم
অতঃপর, পরম দয়ালু আল্লাহর রহমতের মুখাপেক্ষী দরিদ্র বান্দা ওয়ালিউল্লাহ বিন আবদুর রহীম—আল্লাহ তাআলা ইহকাল ও পরকালে তাঁদের উভয়ের ওপর স্বীয় নেয়ামত পূর্ণ করুন—বলছেন যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা কোনো এক সময়ে আমার অন্তরে এমন এক মানদণ্ড (ميزان) দান করেছেন যার মাধ্যমে আমি মিল্লাতে মুহাম্মাদিয়াতে—তার অধিকারীর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক—সংঘটিত প্রতিটি মতবিরোধের (اختلاف) কারণ উপলব্ধি করতে পারি। এর মাধ্যমে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নিকট যা সত্য (الحق) তা আমি জানতে পারি এবং তিনি আমাকে তা এমনভাবে ব্যক্ত করার সামর্থ্য দিয়েছেন যার ফলে কোনো সংশয় (شبهة) বা জটিলতা (إشكال) অবশিষ্ট থাকে না।
অতঃপর বিশেষ করে ফিকহী বিধানসমূহের (الأحكام الفقهية) ক্ষেত্রে সাহাবী ও তাঁদের পরবর্তীগণের মতবিরোধের (اختلاف) কারণ সম্পর্কে আমাকে জিজ্ঞাসা করা হলো। তখন সেই মুহূর্তে আমার প্রতি যা উন্মোচিত হয়েছিল, সময় ও প্রশ্নকর্তার ধারণক্ষমতা অনুযায়ী তার কিয়দাংশ বর্ণনা করার নিমিত্তে আমি অগ্রসর হই। ফলে এই বিষয়টি তার নিজ অধ্যায়ে একটি অত্যন্ত উপকারী পুস্তিকায় রূপ লাভ করেছে এবং আমি এর নামকরণ করেছি আল-ইনসাফ ফি বায়ান আসবাবিল ইখতিলাফ।
আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট এবং তিনি কতই না চমৎকার কর্মবিধায়ক; আর সুউচ্চ মহান আল্লাহ ব্যতীত কোনো ক্ষমতা ও শক্তি নেই।
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ ফী বায়ানি আসবাবিল ইখতিলাফ লিদ-দেহলভী
(পৃষ্ঠা: ১৫)
بَاب أَسبَاب اخْتِلَاف الصَّحَابَة وَالتَّابِعِينَ فِي الْفُرُوع إعلم أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم لم يكن الْفِقْه فِي زَمَانه الشريف مدونا وَلم يكن الْبَحْث فِي الْأَحْكَام يَوْمئِذٍ مثل بحث هَؤُلَاءِ الْفُقَهَاء حَيْثُ يبينون بأقصى جهدهمْ الْأَركان والشروط والآداب كل شَيْء ممتازا عَن الآخر بدليله ويفرضون الصُّور من صنائعهم ويتكلمون على تِلْكَ الصُّور الْمَفْرُوضَة ويحدون مَا يقبل الْحَد ويحصرون مَا يقبل الْحصْر إِلَى غير ذَلِك
أما رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَكَانَ يتَوَضَّأ فَيرى أَصْحَابه وضوءه
সাহাবী ও তাবিঈগণের মাঝে শাখাগত মাসয়ালায় মতভেদের কারণসমূহ সংক্রান্ত অধ্যায় জেনে রাখুন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সম্মানিত যুগে ফিকহ সংকলিত ছিল না এবং সে সময় শরয়ি বিধানসমূহ নিয়ে গবেষণা বর্তমান সময়ের ফকিহদের গবেষণার মতো ছিল না। বর্তমানের ফকিহগণ তাঁদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টায় রুকন, শর্ত ও আদবসমূহ এমনভাবে বর্ণনা করেন যেখানে দলিলের ভিত্তিতে প্রতিটি বিষয় একে অপর থেকে সুস্পষ্টভাবে পৃথক থাকে। তাঁরা নিজস্ব প্রজ্ঞা থেকে বিভিন্ন মাসয়ালা অনুমান করেন এবং সেই অনুমিত মাসয়ালাগুলোর ওপর তাত্ত্বিক আলোচনা করেন। এছাড়া তাঁরা সংজ্ঞায়নযোগ্য বিষয়ের সংজ্ঞা প্রদান করেন এবং যা কিছু সীমাবদ্ধ করা সম্ভব তা সীমাবদ্ধ করেন, ইত্যাদি।
পক্ষান্তরে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন অযু করতেন, তখন তাঁর সাহাবীগণ কেবল তাঁর অযু করার পদ্ধতি প্রত্যক্ষ করতেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ ফী বায়ানি আসবাবিল ইখতিলাফ লিদ-দেহলভী
(পৃষ্ঠা: ১৬)
فَيَأْخُذُونَ بِهِ من غير أَن يبين أَن هَذَا ركن وَذَلِكَ أدب وَكَانَ يُصَلِّي فيرون صلَاته فيصلون كَمَا رَأَوْهُ يُصَلِّي وَحج فرمق النَّاس حجه فَفَعَلُوا كَمَا فعل وَهَذَا كَانَ غَالب حَاله صلى الله عليه وسلم وَلم يبين أَن فروض الْوضُوء سِتَّة أَو أَرْبَعَة وَلم يفْرض أَنه يحْتَمل أَن يتَوَضَّأ إِنْسَان بِغَيْر مُوالَاة حَتَّى يحكم عَلَيْهِ بِالصِّحَّةِ أَو الْفساد إِلَّا مَا شَاءَ الله وقلما كَانُوا يسألونه عَن هَذِه الْأَشْيَاء
عَن ابْن عَبَّاس رضي الله عنهما قَالَ مَا رَأَيْت قوما كَانُوا خيرا من أَصْحَاب رَسُول الله صلى الله عليه وسلم مَا سَأَلُوهُ إِلَّا عَن ثَلَاث عشرَة مَسْأَلَة حَتَّى قبض كُلهنَّ فِي الْقُرْآن مِنْهُنَّ {يَسْأَلُونَك عَن الشَّهْر الْحَرَام قتال فِيهِ} {ويسألونك عَن الْمَحِيض} قَالَ مَا كَانُوا يسْأَلُون إِلَّا عَمَّا يَنْفَعهُمْ
তারা তাঁর (রাসূলুল্লাহ ﷺ) থেকে তা গ্রহণ করতেন কোনটি রুকন (ركن) এবং কোনটি আদব (أدب) তা বিস্তারিত বর্ণনা ছাড়াই। তিনি নামাজ আদায় করতেন আর তাঁরা তাঁর নামাজ প্রত্যক্ষ করতেন, ফলে তাঁরা সেভাবেই নামাজ পড়তেন যেভাবে তাঁকে নামাজ পড়তে দেখতেন। তিনি হজ পালন করেছেন, ফলে মানুষ তাঁর হজের পদ্ধতির প্রতি গভীর দৃষ্টি রেখেছে এবং তিনি যেভাবে করেছেন তাঁরাও সেভাবেই পালন করেছেন। এটিই ছিল রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর অধিকাংশ সময়ের অবস্থা। তিনি এটি বর্ণনা করেননি যে ওযুর ফরজসমূহ (فروض) ছয়টি নাকি চারটি। আর এমন পরিস্থিতিরও অবতারণা করেননি যেখানে কোনো ব্যক্তি ধারাবাহিকতা বা মুওয়ালাত (موالاة) রক্ষা না করে ওযু করতে পারে যাতে সেই ওযুর শুদ্ধতা (صحة) বা অশুদ্ধতা (فساد) সম্পর্কে বিধান প্রদান করা যায়, কেবল আল্লাহর ইচ্ছাধীন বিষয়গুলো ব্যতীত। আর তাঁরা এসব বিষয়ে খুব অল্পই তাঁকে প্রশ্ন করতেন।
ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সাহাবীদের চেয়ে উত্তম কোনো জাতি দেখিনি। তাঁর ইন্তেকাল পর্যন্ত তাঁরা তাঁকে কেবল তেরটি মাসআলা (مسألة) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, যার সবকটিই কুরআনে বর্ণিত হয়েছে। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে: "তারা আপনাকে পবিত্র মাস এবং তাতে যুদ্ধ করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে" এবং "তারা আপনাকে ঋতুস্রাব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে"। তিনি বলেন: তাঁরা কেবল সেসব বিষয়েই প্রশ্ন করতেন যা তাঁদের উপকারে আসত।
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ ফী বায়ানি আসবাবিল ইখতিলাফ লিদ-দেহলভী
(পৃষ্ঠা: ১৭)
قَالَ ابْن عمر رضي الله عنه لَا تسْأَل عَمَّا لم يكن فَانِي سَمِعت عمر بن الْخطاب رضي الله عنه يلعن من سَأَلَ عَمَّا لم يكن
قَالَ الْقَاسِم
إِنَّكُم تسْأَلُون عَن أَشْيَاء مَا كُنَّا نسْأَل عَنْهَا وتنقرون
ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন, যা এখনো ঘটেনি সে সম্পর্কে তোমরা প্রশ্ন করো না; কারণ আমি উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে ঐ ব্যক্তিকে অভিশাপ দিতে শুনেছি যে যা এখনো সংঘটিত হয়নি সে সম্পর্কে প্রশ্ন করে।
আল-কাসিম বলেছেন
নিশ্চয়ই তোমরা এমন সব বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছ যা সম্পর্কে আমরা কখনো জিজ্ঞাসা করতাম না এবং তোমরা তা নিয়ে অতি-সূক্ষ্ম খুঁটিনাটি অনুসন্ধান করছ।
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ ফী বায়ানি আসবাবিল ইখতিলাফ লিদ-দেহলভী
(পৃষ্ঠা: ১৮)
عَن أَشْيَاء مَا كُنَّا ننقر عَنْهَا وتسألون عَن أَشْيَاء مَا أَدْرِي مَا هِيَ وَلَو علمناها مَا حل لنا أَن نكتمها
وَعَن عَمْرو بن إِسْحَاق قَالَ لمن أدْركْت من أَصْحَاب رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أَكثر مِمَّن سبقني مِنْهُم فَمَا رَأَيْت قوما أيسر سيرة وَلَا أقل تشديدا مِنْهُم
وَعَن عبَادَة بن نسي الْكِنْدِيّ سُئِلَ عَن امْرَأَة مَاتَت مَعَ قوم لَيْسَ لَهَا ولي فَقَالَ أدْركْت أَقْوَامًا مَا كَانُوا يشددون تشديدكم وَلَا يسْأَلُون مسائلكم أخرج هَذِه الْآثَار الدَّارمِيّ
وَكَانَ صلى الله عليه وسلم يستفتيه النَّاس فِي الوقائع فيفتيهم وترفع إِلَيْهِ القضايا فَيَقْضِي فِيهَا وَيرى النَّاس يَفْعَلُونَ مَعْرُوفا فيمدحه أَو مُنْكرا فينكر عَلَيْهِ وَمَا كل مَا أفتى بِهِ مستفتيا عَنهُ أَو قضى بِهِ فِي قَضِيَّة أَو أنكرهُ على فَاعله كَانَ فِي الاجتماعات
وَلذَلِك كَانَ الشَّيْخَانِ أَبُو بكر وَعمر إِذا لم يكن لَهما علم فِي الْمَسْأَلَة يسألان النَّاس عَن حَدِيث رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَقَالَ أَبُو بكر رضي الله عنه مَا سَمِعت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ فِيهَا شَيْئا يَعْنِي الْجدّة وَسَأَلَ النَّاس فَلَمَّا صلى الظّهْر
...এমন সব বিষয় সম্পর্কে যা আমরা সূক্ষ্মভাবে অনুসন্ধান (نقر) করতাম না, অথচ আপনারা এমন সব বিষয় সম্পর্কে প্রশ্ন করছেন যা আমি জানি না সেগুলো কী। যদি আমরা সেগুলো জানতাম, তবে তা গোপন করা আমাদের জন্য বৈধ হতো না।
এবং আমর ইবনে ইসহাক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যতজন সাহাবীকে পেয়েছি, তারা আমার পূর্ববর্তীদের চেয়ে সংখ্যায় অধিক ছিলেন। আমি তাঁদের মতো সহজ জীবনাচার সম্পন্ন এবং কঠোরতা বর্জনকারী অন্য কোনো সম্প্রদায় দেখিনি।
এবং উবাদাহ ইবনে নুসাই আল-কিন্দি থেকে বর্ণিত, তাঁকে এমন এক মহিলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে এমন এক সম্প্রদায়ের মাঝে মৃত্যুবরণ করেছে যার কোনো অভিভাবক (ولي) ছিল না। তখন তিনি বললেন, আমি এমন সব সম্প্রদায়কে পেয়েছি যারা আপনাদের মতো কঠোরতা অবলম্বন করতেন না এবং আপনাদের মতো মাসআলা (مسألة) নিয়ে প্রশ্ন করতেন না। দারেমি এই আছার (آثار) গুলো বর্ণনা করেছেন।
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট মানুষ বিভিন্ন ঘটনার প্রেক্ষিতে ফতোয়া (فتوى) জানতে চাইতেন এবং তিনি তাদের ফতোয়া প্রদান করতেন। তাঁর কাছে বিচার্য বিষয়গুলো উত্থাপিত হতো এবং তিনি সেগুলোর ফয়সালা করতেন। তিনি মানুষকে কোনো সৎকাজ করতে দেখলে তার প্রশংসা করতেন অথবা কোনো মন্দ কাজ (منكر) দেখলে তা প্রত্যাখ্যান করতেন। তিনি কোনো প্রশ্নকারীর প্রশ্নের জবাবে যে ফতোয়া (فتوى) দিয়েছেন বা কোনো বিষয়ে যে ফয়সালা করেছেন অথবা কোনো ব্যক্তিকে যা করতে নিষেধ করেছেন, তার সবই যে জনসমাবেশে বা মজলিসে হয়েছে এমন নয়।
এই কারণেই শায়খাইন (দুই শায়খ)—আবু বকর ও উমর, যখন কোনো মাসআলা (مسألة) সম্পর্কে তাঁদের জ্ঞান থাকতো না, তখন তাঁরা লোকজনকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেন। আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) দাদীর মিরাস সংক্রান্ত মাসআলা (مسألة) সম্পর্কে বলেছিলেন, ‘আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে এ বিষয়ে কিছু বলতে শুনিনি।’ অতঃপর তিনি লোকজনকে জিজ্ঞাসা করলেন। যখন তিনি জোহরের সালাত আদায় করলেন...
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ ফী বায়ানি আসবাবিল ইখতিলাফ লিদ-দেহলভী
(পৃষ্ঠা: ১৯)
قَالَ أَيّكُم سمع رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ فِي الْجدّة شَيْئا فَقَالَ الْمُغيرَة بن شُعْبَة أَنا قَالَ مَاذَا قَالَ أَعْطَاهَا رَسُول الله صلى الله عليه وسلم سدسا قَالَ أيعلم ذَلِك أحد غَيْرك فَقَالَ مُحَمَّد بن مسلمة صدق فَأَعْطَاهَا أَبُو بكر السُّدس
وقصة سُؤال عمر النَّاس فِي الْغرَّة ثمَّ رُجُوعه إِلَى خبر الْمُغيرَة وسؤاله إيَّاهُم فِي الوباء ثمَّ رُجُوعه إِلَى خبر عبد
তিনি জিজ্ঞেস করলেন, "আপনাদের মধ্যে কে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে পিতামহীর (উত্তরাধিকার) বিষয়ে কিছু বলতে শুনেছেন?" তখন মুগীরা ইবনে শু'বাহ বললেন, "আমি শুনেছি।" তিনি জিজ্ঞেস করলেন, "তিনি কী বলেছেন?" মুগীরা বললেন, "আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে এক-ষষ্ঠাংশ প্রদান করেছিলেন।" তিনি জিজ্ঞেস করলেন, "আপনার ব্যতীত অন্য কেউ কি এ বিষয়ে অবগত আছেন?" তখন মুহাম্মদ ইবনে মাসলামাহ বললেন, "তিনি সত্য বলেছেন।" ফলে আবু বকর তাঁকে এক-ষষ্ঠাংশ প্রদান করলেন।
এবং ভ্রূণের রক্তপণ (গুররাহ) বিষয়ে মানুষের নিকট উমরের জিজ্ঞাসার ঘটনা, অতঃপর মুগীরার সংবাদ (خبر)-এর দিকে তাঁর প্রত্যাবর্তন; এবং মহামারী প্রসঙ্গে তাঁদের নিকট তাঁর জিজ্ঞাসা, অতঃপর আবদ-এর সংবাদ (خبر)-এর দিকে তাঁর প্রত্যাবর্তন...
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ ফী বায়ানি আসবাবিল ইখতিলাফ লিদ-দেহলভী
(পৃষ্ঠা: ২০)
الرَّحْمَن بن عَوْف وَكَذَا رُجُوعه فِي قصَّة الْمَجُوس إِلَى خَبره وسرور عبد الله بن مَسْعُود بِخَبَر معقل بن يسَار
আব্দুর রহমান ইবনে আউফ; এবং একইভাবে অগ্নিপূজকদের ঘটনায় তাঁর সংবাদের (خبر) প্রতি প্রত্যাবর্তন এবং মা'কিল ইবনে ইয়াসারের সংবাদের (خبر) প্রেক্ষিতে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদের আনন্দিত হওয়া।
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ ফী বায়ানি আসবাবিল ইখতিলাফ লিদ-দেহলভী
(পৃষ্ঠা: ২১)
لما وَافق رَأْيه وقصة رُجُوع أبي مُوسَى عَن بَاب عمر وسؤاله عَن الحَدِيث وَشَهَادَة أبي سعيد لَهُ وأمثال ذَلِك كَثِيرَة مَعْلُومَة مروية فِي الصَّحِيحَيْنِ وَالسّنَن
যেহেতু তা তাঁর মতের অনুকূলে ছিল এবং উমরের দরজার নিকট হতে আবু মুসার ফিরে যাওয়া, হাদিস সম্পর্কে তাঁর জিজ্ঞাসাবাদ এবং তাঁর স্বপক্ষে আবু সাঈদের সাক্ষ্য প্রদানের ঘটনা; এই জাতীয় উদাহরণ অনেক ও সুবিদিত, যা সহীহাইন ও সুনান গ্রন্থসমূহে বর্ণিত (مروي) হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ ফী বায়ানি আসবাবিল ইখতিলাফ লিদ-দেহলভী
(পৃষ্ঠা: ২২)
وَبِالْجُمْلَةِ فَهَذِهِ كَانَت عَادَته الْكَرِيمَة صلى الله عليه وسلم فَرَأى كل صَحَابِيّ مَا يسره الله لَهُ من عباداته وفتاواه وأقضيته فحفظها وعقلها وَعرف لكل شَيْء وَجها من قبل حفوف الْقَرَائِن بِهِ فَحمل بَعْضهَا على الْإِبَاحَة وَبَعضهَا على الِاسْتِحْبَاب وَبَعضهَا على النّسخ لأمارات وقرائن كَانَت كَافِيَة عِنْده وَلم يكن الْعُمْدَة عِنْدهم إِلَّا وجدان الاطمئنان والثلج من غير الْتِفَات إِلَى طرق الِاسْتِدْلَال كَمَا ترى الْأَعْرَاب يفهمون مَقْصُود الْكَلَام فِيمَا بَينهم وتثلج صُدُورهمْ بالتصريح والتلويح والإيماء من حَيْثُ لَا يَشْعُرُونَ
فانقضى عصره الْكَرِيم وهم على ذَلِك ثمَّ إِنَّهُم تفَرقُوا فِي الْبِلَاد وَصَارَ كل وَاحِد مقتدى نَاحيَة من النواحي فكثرت الوقائع ودارت الْمسَائِل فاستفتوا فِيهَا فَأجَاب كل وَاحِد حسب مَا حفظه أَو استنبطه وَإِن لم يجد فِيمَا حفظه
মোটের উপর, এটিই ছিল তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মহান আদর্শ। ফলে প্রত্যেক সাহাবী তাঁর ইবাদত, ফতোয়া এবং বিচারিক কার্যাবলীর মধ্যে আল্লাহ যা তাঁর জন্য সহজ করেছেন তা প্রত্যক্ষ করেছেন; অতঃপর তা সংরক্ষণ ও অনুধাবন করেছেন। তাঁরা প্রতিটি বিষয়ের প্রেক্ষাপট সংশ্লিষ্ট পারিপার্শ্বিক আলামত (قرائن) দ্বারা নিরূপণ করেছেন। ফলে তাঁরা কোনোটিকে বৈধতা (إباحة), কোনোটিকে মুস্তাহাব (استحباب) এবং কোনোটিকে রহিতকরণ (نسخ) হিসেবে গ্রহণ করেছেন এমন সব চিহ্ন ও আলামতের (قرائن) ভিত্তিতে যা তাঁদের নিকট পর্যাপ্ত ছিল। তাঁদের নিকট মূল ভিত্তি ছিল কেবল হৃদয়ের প্রশান্তি ও তৃপ্তি অর্জন, দলিল গ্রহণের পদ্ধতির (طرق الاستدلال) প্রতি লক্ষ্য করা ছাড়াই; যেমনটি দেখা যায় যে, আরবের মরুবাসীরা নিজেদের মধ্যে কথাবার্তার উদ্দেশ্য বুঝতে পারে এবং সুস্পষ্ট বক্তব্য, ইশারা ও ইঙ্গিতের মাধ্যমে তাদের অন্তর তৃপ্ত হয় অথচ তারা তা টেরও পায় না।
অতঃপর তাঁর সেই মহান যুগ সমাপ্ত হলো এবং তাঁরা এই অবস্থার ওপরই অটল ছিলেন। পরবর্তীতে তাঁরা বিভিন্ন জনপদে ছড়িয়ে পড়লেন এবং তাঁদের প্রত্যেকে একেক অঞ্চলের অনুসরণীয় ব্যক্তিত্বে পরিণত হলেন। তখন নিত্যনতুন ঘটনার উদ্ভব হলো এবং বিভিন্ন মাসআলা দেখা দিতে লাগল। ফলে তাঁদের নিকট ফতোয়া চাওয়া হতে লাগল এবং প্রত্যেকেই তাঁদের মুখস্থ রাখা বিষয় অথবা ইস্তিম্বাত বা মাসআলা উদ্ঘাটন (استنبطه) করা বিষয় অনুযায়ী উত্তর প্রদান করলেন, এমনকি যদি তিনি যা মুখস্থ করেছিলেন তার মধ্যে সরাসরি সমাধান খুঁজে না পেতেন (তবুও ইস্তিম্বাতের মাধ্যমে উত্তর দিতেন)।
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ ফী বায়ানি আসবাবিল ইখতিলাফ লিদ-দেহলভী
(পৃষ্ঠা: ২৩)
أَو استنبطه مَا يصلح للجواب اجْتهد بِرَأْيهِ وَعرف الْعلَّة الَّتِي أدَار رَسُول الله صلى الله عليه وسلم عَلَيْهَا الحكم فِي منصوصاته فطرد الحكم حَيْثُمَا وجدهَا لَا يألو جهدا فِي مُوَافقَة غَرَضه عليه الصلاة والسلام فَعِنْدَ ذَلِك وَقع الِاخْتِلَاف بَينهم على ضروب
1 - مِنْهَا أَن صحابيا سمع حكما فِي قَضِيَّة أَو فَتْوَى وَلم يسمعهُ الآخر فاجتهد بِرَأْيهِ فِي ذَلِك وَهَذَا على وُجُوه
أَحدهَا أَن يَقع اجْتِهَاده مُوَافق الحَدِيث مِثَاله مَا رَوَاهُ النَّسَائِيّ وَغَيره أَن ابْن مَسْعُود رضي الله عنه سُئِلَ عَن امْرَأَة مَاتَ عَنْهَا زَوجهَا وَلم يفْرض لَهَا فَقَالَ لم أر رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يقْضِي فِي ذَلِك فَاخْتَلَفُوا عَلَيْهِ شهرا وألحوا فاجتهد بِرَأْيهِ وَقضى بِأَن لَهَا مهر نسائها لَا وكس وَلَا شطط وَعَلَيْهَا الْعدة وَلها الْمِيرَاث فَقَالَ معقل بن يسَار فَشهد بِأَنَّهُ صلى الله عليه وسلم قضى بِمثل ذَلِك فِي امْرَأَة مِنْهُم ففرح بذلك ابْن مَسْعُود فرحة لم يفرح مثلهَا قطّ بعد الْإِسْلَام
وَثَانِيها أَن يَقع بَينهمَا المناظرة وَيظْهر الحَدِيث بِالْوَجْهِ الَّذِي يَقع بِهِ غَالب الظَّن فَيرجع عَن اجْتِهَاده إِلَى المسموع
مِثَاله مَا رَوَاهُ الْأَئِمَّة من أَن أَبَا هُرَيْرَة رضي الله عنه كَانَ
অথবা তিনি এমন কিছু উদ্ঘাটন করতেন যা উত্তরের জন্য উপযোগী হয়। তখন তিনি স্বীয় মতানুসারে ইজতিহাদ (اجتهاد) করতেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সুনির্দিষ্ট বর্ণনাগুলোতে (منصوصاته) যে ইল্লত (علة) এর ওপর ভিত্তি করে বিধান আবর্তিত করেছেন তা অনুধাবন করতেন। অতঃপর যেখানেই তিনি সেই কারণ খুঁজে পেতেন সেখানেই সেই বিধান প্রয়োগ করতেন; তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উদ্দেশ্য অনুসরণে কোনো ত্রুটি করতেন না। আর তখনই তাঁদের মধ্যে বিভিন্ন প্রকারে মতভেদ দেখা দেয়।
১ - তন্মধ্যে একটি হলো, কোনো এক সাহাবী কোনো বিষয় বা ফতোয়ার ক্ষেত্রে একটি বিধান শুনেছেন কিন্তু অন্যজন তা শোনেননি, ফলে তিনি সে বিষয়ে স্বীয় মতানুসারে ইজতিহাদ (اجتهاد) করেছেন। আর এটি কয়েকটি উপায়ে হতে পারে।
প্রথমটি হলো, তাঁর ইজতিহাদ (اجتهاد) হাদিসের অনুকূল হওয়া। উদাহরণস্বরূপ নাসায়ি এবং অন্যান্য গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে যে, ইবনে মাসউদ রাযিয়াল্লাহু আনহুকে এমন এক নারী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো যার স্বামী ইন্তেকাল করেছেন অথচ তার জন্য মোহরানা নির্ধারণ করেননি। তিনি বললেন, ‘আমি এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কোনো ফয়সালা করতে দেখিনি।’ তখন লোকেরা এক মাস পর্যন্ত তাঁর কাছে বিষয়টি নিয়ে বারবার আসতে লাগল এবং পিড়াপিড়ি করল। অতঃপর তিনি স্বীয় মতানুসারে ইজতিহাদ (اجتهاد) করলেন এবং ফয়সালা দিলেন যে, সেই নারী তার সমপর্যায়ের নারীদের ন্যায় মোহরানা পাবে, যাতে কোনো ঘাটতি বা অতিরিক্ত হবে না; তাকে ইদ্দত পালন করতে হবে এবং সে মিরাস লাভ করবে। তখন মা’কাল ইবনে ইয়াসার রাযিয়াল্লাহু আনহু দাঁড়িয়ে সাক্ষ্য দিলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদের জনৈক নারীর ব্যাপারে ঠিক অনুরূপ ফয়সালাই দিয়েছিলেন। এতে ইবনে মাসউদ রাযিয়াল্লাহু আনহু এতটাই আনন্দিত হলেন যে, ইসলাম গ্রহণের পর আর কখনো তেমন আনন্দিত হননি।
দ্বিতীয়টি হলো, তাঁদের উভয়ের মধ্যে মুনাজারা (مناظرة) হওয়া এবং এমনভাবে হাদিসটি প্রকাশ পাওয়া যাতে প্রবল ধারণা (غالب الظن) জন্মে, ফলে তিনি স্বীয় ইজতিহাদ (اجتهاد) থেকে শ্রুত বিষয়ের (المسموع) দিকে ফিরে আসেন।
উদাহরণস্বরূপ ইমামগণ বর্ণনা করেছেন যে, আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু ছিলেন...
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ ফী বায়ানি আসবাবিল ইখতিলাফ লিদ-দেহলভী
(পৃষ্ঠা: ২৪)
من مذْهبه أَنه من أصبح جنبا فَلَا صَوْم لَهُ حَتَّى أخْبرته بعض أَزوَاج النَّبِي صلى الله عليه وسلم بِخِلَاف مذْهبه فَرجع
وَثَالِثهَا أَن يبلغهُ الحَدِيث وَلَكِن لَا على الْوَجْه الَّذِي يَقع بِهِ غَالب الظَّن فَلم يتْرك اجْتِهَاده بل طعن فِي الحَدِيث
مِثَاله مَا رَوَاهُ أَصْحَاب الْأُصُول من أَن فَاطِمَة بنت قيس شهِدت عِنْد عمر بن الْخطاب بِأَنَّهَا كَانَت مُطلقَة الثَّلَاث فَلم يَجْعَل لَهَا رَسُول الله صلى الله عليه وسلم نَفَقَة وَلَا سُكْنى فَرد عمر شهادتها وَقَالَ لَا نَتْرُك كتاب الله بقول امْرَأَة لَا نَدْرِي أصدقت أم كذبت لَهَا النَّفَقَة وَالسُّكْنَى
তার মাযহাব ছিল এই যে, যে ব্যক্তি অপবিত্র অবস্থায় ভোরে উপনীত হয়, তার রোজা হবে না। অবশেষে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জনৈক স্ত্রী তাকে তার মাযহাবের বিপরীত সংবাদ দেওয়ার পর তিনি তা থেকে ফিরে আসেন।
তৃতীয় কারণ হলো, তার নিকট হাদিসটি পৌঁছেছে কিন্তু এমনভাবে পৌঁছায়নি যার মাধ্যমে প্রবল ধারণা (غالب الظن) অর্জিত হয়। ফলে তিনি তার গবেষণা বা ইজতিহাদ (اجتهاد) বর্জন করেননি, বরং হাদিসটির ওপর আপত্তি (طعن) করেছেন।
এর উদাহরণ হলো উসুলবিদগণ যা বর্ণনা করেছেন যে, ফাতিমা বিনতে কায়স ওমর ইবনুল খাত্তাবের নিকট সাক্ষ্য দিলেন যে তিনি তিন তালাকপ্রাপ্তা ছিলেন এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার জন্য কোনো ভরণপোষণ বা বাসস্থানের ব্যবস্থা করেননি। তখন ওমর তার সাক্ষ্য প্রত্যাখ্যান (رد) করলেন এবং বললেন, "আমরা একজন মহিলার কথার কারণে আল্লাহর কিতাব বর্জন করতে পারি না, যার সম্পর্কে আমরা জানি না যে সে সত্য বলেছে (صدقت) নাকি মিথ্যা বলেছে (كذبت); তার জন্য ভরণপোষণ ও বাসস্থান প্রযোজ্য হবে।"
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ ফী বায়ানি আসবাবিল ইখতিলাফ লিদ-দেহলভী
(পৃষ্ঠা: ২৫)
وَقَالَت عَائِشَة رضي الله عنها يَا فَاطِمَة أَلا تتقي الله يَعْنِي فِي قَوْلهَا لَا سُكْنى وَلَا نَفَقَة
আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, "হে ফাতিমা! তুমি কি আল্লাহকে ভয় করবে না?" অর্থাৎ, তার এই উক্তির বিষয়ে যে, (তালাকপ্রাপ্তা মহিলার জন্য) কোনো আবাসন বা ভরণপোষণ নেই।
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ ফী বায়ানি আসবাবিল ইখতিলাফ লিদ-দেহলভী
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وَمِثَال آخر روى الشَّيْخَانِ أَنه كَانَ من مَذْهَب عمر ابْن الْخطاب أَن التَّيَمُّم لَا يجزىء الْجنب الَّذِي لَا يجد المَاء فروى عِنْده عمار أَنه كَانَ مَعَه فِي سفر فأصابته جَنَابَة وَلم يجد مَاء فتمعك فِي التُّرَاب فَذكر ذَلِك عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَقَالَ إِنَّمَا كَانَ يَكْفِيك أَن تفعل هَكَذَا وَضرب بيدَيْهِ الأَرْض فَمسح بهما وَجهه وَيَديه فَلم يقبل عمر وَلم ينْهض عِنْده حجَّة تقاوم مَا رَآهُ فِيهِ حَتَّى استفاض الحَدِيث فِي الطَّبَقَة الثَّانِيَة من طرق كَثِيرَة واضمحل وهم القادح فَأخذُوا بِهِ
وَرَابِعهَا أَن لَا يصل إِلَيْهِ الحَدِيث أصلا
مِثَاله مَا أخرج مُسلم أَن ابْن عمر كَانَ يَأْمر النِّسَاء إِذا اغْتَسَلْنَ أَن يَنْقُضْنَ رؤوسهن فَسمِعت عَائِشَة رضي الله عنها بذلك فَقَالَت يَا عجبا لِابْنِ عمر هَذَا يَأْمر النِّسَاء أَن يَنْقُضْنَ رؤوسهن أَفلا يَأْمُرهُنَّ أَن يَحْلِقن رؤوسهن
لقد كنت أَغْتَسِل أَنا وَرَسُول الله صلى الله عليه وسلم من إِنَاء وَاحِد وَمَا أَزِيد على أَن افرغ على رَأْسِي ثَلَاث افراغات
مِثَال آخر مَا ذكره الزُّهْرِيّ من أَن هندا لم تبلغها رخصَة
অন্য একটি উদাহরণ হলো, শাইখাইন বর্ণনা করেছেন যে, উমর ইবনুল খাত্তাবের মাযহাব ছিল এই যে, যে ব্যক্তি পানি পায় না সেই জানাবাতপ্রাপ্ত ব্যক্তির জন্য তায়াম্মুম যথেষ্ট নয়। তখন আম্মার তাঁর নিকট বর্ণনা করলেন যে, তিনি এক সফরে তাঁর সাথে ছিলেন এবং জানাবাতপ্রাপ্ত হলেন কিন্তু পানি পাননি, ফলে তিনি মাটিতে গড়াগড়ি করলেন। এরপর তিনি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট তা উল্লেখ করলে তিনি বললেন: "তোমার জন্য কেবল এটুকু করাই যথেষ্ট ছিল" এবং তিনি তাঁর দুই হাত মাটিতে আঘাত করলেন ও তা দিয়ে তাঁর মুখমণ্ডল ও দুই হাত মাসেহ করলেন। কিন্তু উমর তা গ্রহণ করেননি এবং তাঁর নিকট তাঁর মতের বিপরীতে কোনো শক্তিশালী প্রমাণ (حجة) প্রতিষ্ঠিত হয়নি, যতক্ষণ না দ্বিতীয় স্তরে (الطبقة الثانية) বহু সূত্রের মাধ্যমে হাদিসটি সুপ্রসিদ্ধ (مستفيض) হলো এবং বিরোধিতাকারীর সংশয় বিলুপ্ত হলো, তখন তারা তা গ্রহণ করে নিলেন।
চতুর্থ কারণ হলো, তাঁর নিকট হাদিসটি মোটেও না পৌঁছানো।
এর উদাহরণ হলো যা মুসলিম বর্ণনা করেছেন যে, ইবনে উমর নারীদের গোসলের সময় তাদের চুলের বিনুনি খোলার নির্দেশ দিতেন। আয়েশা (রা.) তা শুনতে পেয়ে বললেন, "ইবনে উমরের জন্য আশ্চর্যের বিষয়! তিনি নারীদের চুলের বিনুনি খোলার নির্দেশ দিচ্ছেন? তিনি তাদের মাথা মুণ্ডন করার নির্দেশ কেন দিচ্ছেন না?"
"নিশ্চয়ই আমি এবং রাসূলুল্লাহ (সা.) একই পাত্র থেকে গোসল করতাম এবং আমি আমার মাথায় তিনবার পানি ঢালার অতিরিক্ত কিছু করতাম না।"
অন্য একটি উদাহরণ হলো যা জুহরি উল্লেখ করেছেন যে, হিন্দের নিকট শিথিলতার বিধান (رخصة) পৌঁছেনি।
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ ফী বায়ানি আসবাবিল ইখতিলাফ লিদ-দেহলভী
(পৃষ্ঠা: ২৭)
رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فِي الْمُسْتَحَاضَة فَكَانَت تبْكي لِأَنَّهَا كَانَت لَا تصلي
2 - وَمن تِلْكَ الضروب ان يرَوا رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فعل فعلا فَحَمله بَعضهم على الْقرْبَة وَبَعْضهمْ على الْإِبَاحَة
مِثَاله مَا رَوَاهُ أَصْحَاب الْأُصُول فِي قصَّة التحصيب أَي النُّزُول بِالْأَبْطح عِنْد النَّفر من عَرَفَات نزل رَسُول الله صلى الله عليه وسلم بِهِ فَذهب أَبُو هُرَيْرَة وَابْن عمر إِلَى أَنه على وَجه الْقرْبَة فجعلوه من سنَن الْحَج وَذَهَبت عَائِشَة رضي الله عنها وَابْن عَبَّاس إِلَى أَنه كَانَ على وَجه الِاتِّفَاق وَلَيْسَ من السّنَن
وَمِثَال آخر ذهب الْجُمْهُور إِلَى أَن الرمل فِي الطّواف سنة وَذهب ابْن عَبَّاس رضي الله عنه إِلَى أَنه إِنَّمَا فعله النَّبِي صلى الله عليه وسلم على سَبِيل الِاتِّفَاق لعَارض عرض وَهُوَ قَول الْمُشْركين
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইস্তিহাযাগ্রস্ত নারী সম্পর্কে [বলেছেন]; এমতাবস্থায় তিনি কাঁদছিলেন কারণ তিনি সালাত আদায় করতে পারছিলেন না।
২ - আর সেই প্রকারগুলোর মধ্যে একটি হলো এই যে, তাঁরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে কোনো কাজ করতে দেখতেন, অতঃপর তাঁদের কেউ কেউ সেটিকে ইবাদত (قربة) হিসেবে গণ্য করতেন এবং কেউ কেউ সেটিকে বৈধতা (إباحة) হিসেবে গণ্য করতেন।
এর উদাহরণ হলো যা উসুলশাস্ত্রবিদগণ 'তাহসীব' এর ঘটনায় বর্ণনা করেছেন, অর্থাৎ আরাফাত থেকে প্রস্থানকালে 'আবতহ' নামক স্থানে অবতরণ করা। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেখানে অবতরণ করেছিলেন। আবু হুরায়রা ও ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) এই মত পোষণ করেছেন যে, এটি ইবাদত (قربة) হিসেবে ছিল; ফলে তাঁরা একে হজের সুন্নাহসমূহের (سنن) অন্তর্ভুক্ত করেছেন। পক্ষান্তরে আয়িশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) ও ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) এই মত পোষণ করেছেন যে, এটি ছিল কাকতালীয় (اتفاق) বিষয় এবং এটি সুন্নাহসমূহের (سنن) অন্তর্ভুক্ত নয়।
আরেকটি উদাহরণ হলো, জমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠ (جمهور) আলেমগণের মতে তাওয়াফে 'রমল' করা সুন্নাহ (سنة)। তবে ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) মনে করতেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এটি কেবল আকস্মিক (اتفاق) কোনো কারণে করেছিলেন যা একটি বিশেষ পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে উদ্ভূত হয়েছিল, আর তা হলো মুশরিকদের উক্তি।
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ ফী বায়ানি আসবাবিল ইখতিলাফ লিদ-দেহলভী
(পৃষ্ঠা: ২৮)
حطمتهم حمى يثرب وَلَيْسَ بِسنة
3 - وَمِنْهَا اخْتِلَاف الْوَهم
مِثَاله أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم حج فَرَآهُ النَّاس فَذهب بَعضهم إِلَى أَنه كَانَ مُتَمَتِّعا وَبَعْضهمْ إِلَى أَنه كَانَ قَارنا وَبَعْضهمْ إِلَى أَنه كَانَ مُفردا
مِثَال آخر أخرج أَبُو دَاوُد عَن سعيد بن جُبَير أَنه قَالَ قلت لعبد الله بن عَبَّاس يَا أَبَا الْعَبَّاس عجبت لاخْتِلَاف أَصْحَاب رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فِي إهلال رَسُول الله صلى الله عليه وسلم حِين أوجب فَقَالَ إِنِّي لأعْلم النَّاس بذلك إِنَّهَا إِنَّمَا كَانَت من رَسُول الله صلى الله عليه وسلم حجَّة وَاحِدَة فَمن هُنَاكَ اخْتلفُوا خرج رَسُول الله صلى الله عليه وسلم حَاجا فَلَمَّا صلى فِي مَسْجده بِذِي الحليفة رَكْعَتَيْنِ أوجب فِي مَجْلِسه وَأهل بِالْحَجِّ حِين فرغ من ركعتيه فَسمع ذَلِك مِنْهُ أَقوام فحفظوه عَنهُ
ثمَّ ركب فَلَمَّا اسْتَقَلت بِهِ نَاقَته أهل وَأدْركَ ذَلِك مِنْهُ أَقوام وَذَلِكَ أَن النَّاس إِنَّمَا كَانُوا يأْتونَ أَرْسَالًا فسمعوه حِين اسْتَقَلت بِهِ نَاقَته يهل فَقَالُوا إِنَّمَا أهل رَسُول الله صلى الله عليه وسلم حِين اسْتَقَلت بِهِ نَاقَته
ثمَّ مضى رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَلَمَّا علا على شرف الْبَيْدَاء أهل
ইয়াছরিবের জ্বর তাদের দুর্বল করে দিয়েছিল এবং এটি সুন্নাহ (سنة) নয়।
৩ - আর এর অন্তর্ভুক্ত হলো ভ্রান্তির (وهم) কারণে সৃষ্ট মতভেদ।
এর উদাহরণ হলো, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজ সম্পাদন করলেন এবং মানুষ তাঁকে দেখল। তখন তাদের কেউ কেউ এই অভিমত পোষণ করলেন যে তিনি মুতামাত্তি (متمتعا) ছিলেন, কেউ কেউ বললেন তিনি কারিন (قارنا) ছিলেন এবং কেউ কেউ বললেন তিনি মুফরিদ (مفردا) ছিলেন।
অন্য একটি উদাহরণ হলো, আবু দাউদ সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: আমি আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাসকে বললাম, হে আবুল আব্বাস! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন হজ ওয়াজিব (أوجب) করলেন, তখন তাঁর ইহলাল (إهلال) বা উচ্চস্বরে তালবিয়াহ পাঠ নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের মধ্যকার মতভেদ দেখে আমি বিস্মিত হয়েছি। তখন তিনি বললেন, আমি এ বিষয়ে মানুষের মধ্যে সর্বাধিক অবগত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেবল একটিই হজ করেছিলেন এবং সেখান থেকেই তাদের মধ্যে মতভেদের সৃষ্টি হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজ পালনকারী হিসেবে বের হলেন। যখন তিনি যুল-হুলাইফায় তাঁর মসজিদে দুই রাকাত নামাজ পড়লেন, তখন তাঁর মজলিসেই তিনি হজ ওয়াজিব (أوجب) করলেন এবং দুই রাকাত নামাজ শেষ করে হজের ইহলাল (أهل) করলেন। তখন একদল লোক তাঁর থেকে তা শুনতে পেল এবং তারা তা হিফজ (حفظوه) করে নিল।
অতঃপর তিনি সওয়ার হলেন। যখন তাঁর উষ্ট্রী তাঁকে নিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়াল, তখন তিনি ইহলাল (أهل) করলেন এবং কিছু লোক তা অবগত হলো। এটি এ কারণে হয়েছিল যে, মানুষ দলে দলে আসছিল; ফলে যখন উষ্ট্রী তাঁকে নিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়াল, তখন তারা তাঁকে ইহলাল (يهل) করতে শুনল। তাই তারা বলল যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেবল তখনই ইহলাল (أهل) করেছেন যখন তাঁর উষ্ট্রী তাঁকে নিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পথ চললেন এবং যখন তিনি বায়দা প্রান্তরের উচ্চভূমিতে আরোহণ করলেন, তখন তিনি ইহলাল (أهل) করলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ ফী বায়ানি আসবাবিল ইখতিলাফ লিদ-দেহলভী
(পৃষ্ঠা: ২৯)
وَأدْركَ ذَلِك مِنْهُ أَقوام فَقَالُوا إِنَّمَا أهل حِين علا على شرف الْبَيْدَاء وأيم الله لقد أوجب فِي مصلاة وَأهل حِين اسْتَقَلت بِهِ نَاقَته وَأهل حِين علا على شرف الْبَيْدَاء
4 - وَمِنْهَا اخْتِلَاف السَّهْو وَالنِّسْيَان
مِثَاله مَا رُوِيَ أَن ابْن عمر كَانَ يَقُول اعْتَمر رَسُول الله صلى الله عليه وسلم عمْرَة فِي رَجَب فَسمِعت بذلك عَائِشَة فقضت عَلَيْهِ بالسهو
5 - وَمِنْهَا اخْتِلَاف الضَّبْط
مِثَاله مَا روى ابْن عمر عَنهُ صلى الله عليه وسلم من أَن الْمَيِّت يعذب ببكاء أَهله عَلَيْهِ فقضت عَائِشَة عَلَيْهِ بِأَنَّهُ وهم بِأخذ الحَدِيث على هَذَا مر رَسُول الله صلى الله عليه وسلم على يَهُودِيَّة يبكي عَلَيْهَا أَهلهَا فَقَالَ إِنَّهُم يَبْكُونَ عَلَيْهَا وَإِنَّهَا تعذب فِي قبرها فَظن أَن الْعَذَاب مَعْلُول للبكاء وَظن الحكم عَاما على كل ميت
وَمِنْهَا اخْتلَافهمْ فِي عِلّة الحكم
مِثَاله الْقيام للجنازة فَقَالَ قَائِل لتعظيم الْمَلَائِكَة فَيعم
এবং অনেক লোক তাঁর থেকে তা লক্ষ্য করেছেন এবং তাঁরা বলেছেন যে, তিনি যখন বাইদার উচ্চভূমিতে আরোহণ করলেন তখনই ইহরামের তালবিয়া পাঠ (أهل) করেছেন। আল্লাহর কসম! তিনি তাঁর সালাতের স্থানেই ইহরাম ওয়াজিব (أوجب) করেছেন, আবার যখন তাঁর উটনী তাঁকে নিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়াল তখনও তালবিয়া পাঠ (أهل) করেছেন এবং যখন তিনি বাইদার উচ্চভূমিতে আরোহণ করলেন তখনও তালবিয়া পাঠ (أهل) করেছেন।
4 - এর মধ্যে রয়েছে ভুল (سهو) ও বিস্মৃতিজনিত (نسيان) পার্থক্য।
এর উদাহরণ হলো যা বর্ণিত (روي) হয়েছে যে, ইবনে উমর (রা.) বলতেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) রজব মাসে উমরাহ পালন করেছেন। আয়েশা (রা.) তা শুনে তাঁর ক্ষেত্রে ভুল (سهو) হয়েছে বলে সিদ্ধান্ত দিলেন।
5 - এর মধ্যে রয়েছে মুখস্থ রাখা বা সংরক্ষণের নির্ভুলতার (ضبط) পার্থক্য।
এর উদাহরণ হলো যা ইবনে উমর (রা.) তাঁর (সা.) থেকে বর্ণনা (روى) করেছেন যে, মৃত ব্যক্তিকে তার পরিবারের কান্নাকাটির কারণে আযাব দেওয়া হয়। আয়েশা (রা.) তাঁর ওপর এই সিদ্ধান্ত দিলেন যে, হাদিসটি গ্রহণের ক্ষেত্রে তাঁর ভ্রম (وهم) হয়েছে। (প্রকৃতপক্ষে) রাসূলুল্লাহ (সা.) জনৈক ইহুদি নারীর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যার ওপর তার পরিবার কাঁদছিল। তখন তিনি বললেন, 'তারা তার ওপর কাঁদছে, অথচ তাকে তার কবরে আযাব দেওয়া হচ্ছে।' ফলে তিনি (ইবনে উমর) ধারণা করলেন যে, আযাবটি কান্নাকাটির কারণে (معلول) হচ্ছে এবং তিনি বিধানটিকে (حكم) প্রত্যেক মৃত ব্যক্তির জন্য সাধারণ (عاما) হিসেবে মনে করলেন।
এবং এর মধ্যে রয়েছে বিধানের কারণ বা ইল্লত (علة الحكم) সংক্রান্ত তাঁদের মতপার্থক্য।
এর উদাহরণ হলো জানাযার জন্য দাঁড়ানো। জনৈক ব্যক্তি বললেন, এটি ফেরেশতাদের সম্মানের জন্য, ফলে এটি একটি সাধারণ (يعم) বিষয়।
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ ফী বায়ানি আসবাবিল ইখতিলাফ লিদ-দেহলভী
(পৃষ্ঠা: ৩০)
الْمُؤمن وَالْكَافِر وَقَالَ قَائِل لهول الْمَوْت فيعمهما وَقَالَ قَائِل مر على رَسُول الله صلى الله عليه وسلم بِجنَازَة يَهُودِيّ فَقَامَ لَهَا كَرَاهَة أَن تعلو فَوق رَأسه فيخص الْكَافِر
7 - وَمِنْهَا اخْتلَافهمْ فِي الْجمع بَين الْمُخْتَلِفين
مِثَاله رخص رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فِي الْمُتْعَة عَام خَيْبَر ثمَّ نهى عَنْهَا ثمَّ رخص فِيهَا عَام أَوْطَاس ثمَّ نهى عَنْهَا فَقَالَ ابْن عَبَّاس كَانَت الرُّخْصَة للضَّرُورَة وَالنَّهْي لانقضاء الضَّرُورَة وَالْحكم بَاقٍ على ذَلِك وَقَالَ الْجُمْهُور كَانَت الرُّخْصَة اباحة وَالنَّهْي نسخا لَهَا
مِثَال آخر نهى رَسُول الله صلى الله عليه وسلم عَن اسْتِقْبَال الْقبْلَة فِي الِاسْتِنْجَاء فَذهب قوم إِلَى عُمُوم هَذَا الحكم وَكَونه غير مَنْسُوخ وَرَآهُ جَابر يَبُول قبل أَن يتوفى بعام مُسْتَقْبل الْقبْلَة فَذهب إِلَى أَنه نسخ للنَّهْي الْمُتَقَدّم وَرَآهُ ابْن عمر قضى حَاجته مستدبر الْقبْلَة مُسْتَقْبل الشَّام فَرد بِهِ قَوْلهم وَجمع قوم بَين الرِّوَايَتَيْنِ فَذهب الشّعبِيّ وَغَيره إِلَى أَن النَّهْي مُخْتَصّ بالصحراء فاذا كَانَ فِي المراحيض فَلَا بَأْس بالاستقبال والاستدبار وَذهب قوم إِلَى أَن القَوْل عَام مُحكم وَالْفِعْل يحْتَمل كَونه خَاصّا بِالنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَلَا ينتهض نَاسِخا وَلَا مُخَصّصا
وَبِالْجُمْلَةِ فاختلفت مَذَاهِب أَصْحَاب النَّبِي صلى الله عليه وسلم وَأخذ عَنْهُم التابعون كل وَاحِد مَا تيَسّر لَهُ فحفظ مَا سمع من حَدِيث رَسُول الله صلى الله عليه وسلم ومذاهب الصَّحَابَة وعقلها وَجمع
মুমিন ও কাফির। জনৈক প্রবক্তা বলেছেন যে, এটি মৃত্যুর ভয়াবহতার কারণে, ফলে তা উভয়কেই শামিল করে। অন্য একজন বলেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পাশ দিয়ে এক ইহুদীর জানাযা অতিক্রান্ত হওয়ার সময় তিনি সেটি তাঁর মাথার উপরে চলে আসাকে অপছন্দ করে দাঁড়িয়েছিলেন; ফলে এটি কাফিরের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট (خاص)।
৭ - আর তন্মধ্যে রয়েছে পরস্পর বিরোধী (দলিলসমূহের) মধ্যে সমন্বয় সাধনের ক্ষেত্রে তাঁদের মতভেদ।
এর উদাহরণ হলো: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বার যুদ্ধের বছর মুতআ (সাময়িক বিবাহ) এর অনুমতি দিয়েছিলেন, অতঃপর তা নিষেধ করেন। এরপর আউতাস যুদ্ধের বছর পুনরায় অনুমতি প্রদান করেন এবং পরবর্তীতে পুনরায় নিষেধ করেন। তখন ইবনে আব্বাস (রা.) বলেছিলেন যে, অনুমতি ছিল প্রয়োজনের কারণে এবং নিষেধ ছিল প্রয়োজন ফুরিয়ে যাওয়ার দরুন, আর বিধানটি সেভাবেই বহাল রয়েছে। পক্ষান্তরে জমহুর উলামাগণ বলেছেন যে, অনুমতিটি ছিল বৈধতা এবং নিষেধটি ছিল তার জন্য রহিতকরণ (نسخ)।
অন্য একটি উদাহরণ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইস্তিঞ্জা বা শৌচকার্যের সময় কিবলার সম্মুখীন হতে নিষেধ করেছেন। ফলে একদল এই বিধানের সাধারণ (عام) হুকুম এবং তা রহিত (منسوخ) না হওয়ার প্রবক্তা হয়েছেন। জাবির (রা.) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাঁর ইন্তেকালের এক বছর আগে কিবলার দিকে মুখ করে প্রস্রাব করতে দেখেছিলেন, ফলে তিনি একে পূর্ববর্তী নিষেধের জন্য রহিতকরণ (نسخ) হিসেবে গ্রহণ করেছেন। আবার ইবনে উমর (রা.) তাঁকে কিবলার দিকে পিঠ দিয়ে এবং শামের দিকে মুখ করে প্রয়োজন পূরণ করতে দেখেছিলেন, ফলে তিনি এর মাধ্যমে তাঁদের বক্তব্য খণ্ডন করেছেন। অপর একদল উভয় বর্ণনার মধ্যে সমন্বয় সাধন করেছেন; ফলে ইমাম শাবী ও অন্যান্যরা এই মত পোষণ করেছেন যে, এই নিষেধ কেবল মরুভূমি বা খোলা প্রান্তরের জন্য নির্দিষ্ট (خاص), সুতরাং শৌচাগারের অভ্যন্তরে হলে কিবলার দিকে মুখ করা বা পিঠ দেওয়াতে কোনো অসুবিধা নেই। আবার অন্য একদল এই মত পোষণ করেছেন যে, (রাসূলের) মৌখিক উক্তিটি সাধারণ (عام) ও সুনিশ্চিত (محكم), আর তাঁর কর্মটি সম্ভবত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য বিশেষ (خاص) ছিল; ফলে তা রহিতকারী (ناسخ) কিংবা নির্দিষ্টকারী (مخصص) হিসেবে গণ্য হবে না।
সারকথা হলো, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণের মাযহাব বা কর্মপন্থা বিভিন্ন প্রকারের ছিল এবং তাবিঈগণ তাঁদের নিকট থেকে যার নিকট যা সহজসাধ্য হয়েছে তা গ্রহণ করেছেন। সুতরাং প্রত্যেকেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিস এবং সাহাবীগণের মাযহাব থেকে যা শুনেছেন তা সংরক্ষণ করেছেন, অনুধাবন করেছেন এবং সংকলন করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ ফী বায়ানি আসবাবিল ইখতিলাফ লিদ-দেহলভী
(পৃষ্ঠা: ৩১)
الْمُخْتَلف على مَا تيَسّر لَهُ وَرجح بعض الْأَقْوَال على بعض واضمحل فِي نظرهم بعض الْأَقْوَال وان كَانَ مأثورا عَن كبار الصَّحَابَة كالمذهب الْمَأْثُور عَن عمر وَابْن مَسْعُود فِي تيَمّم الْجنب اضمحل عِنْدهم لما استفاض من الْأَحَادِيث عَن عمار وَعمْرَان بن حُصَيْن وَغَيرهمَا فَعِنْدَ ذَلِك صَار لكل عَالم من عُلَمَاء التَّابِعين مَذْهَب على حياله وانتصب فِي كل بلد إِمَام مثل
سعيد بن الْمسيب وَسَالم بن عبد الله بن عمر فِي الْمَدِينَة وبعدهما الزُّهْرِيّ وَالْقَاضِي يحيى بن سعيد وَرَبِيعَة بن عبد الرَّحْمَن فِيهَا
وَعَطَاء بن أبي رَبَاح بِمَكَّة
وَإِبْرَاهِيم النَّخعِيّ وَالشعْبِيّ بِالْكُوفَةِ
وَالْحسن الْبَصْرِيّ بِالْبَصْرَةِ
وَطَاوُس بن كيسَان بِالْيمن
وَمَكْحُول بِالشَّام
فأظمأ الله أكبادا إِلَى علومهم فرغبوا فِيهَا وَأخذُوا عَنْهُم الحَدِيث وفتاوى الصَّحَابَة وأقاويلهم ومذاهب هَؤُلَاءِ الْعلمَاء وتحقيقاتهم من عِنْد أنفسهم واستفتى مِنْهُم المستفتون ودارت الْمسَائِل بَينهم وَرفعت إِلَيْهِم الْأَقْضِيَة
وَكَانَ سعيد بن الْمسيب وَإِبْرَاهِيم النَّخعِيّ وأمثالهما جمعُوا
মতপার্থক্যপূর্ণ বিষয়গুলো তাদের নিকট যা সহজলভ্য ছিল সে অনুযায়ী মীমাংসিত হতো এবং তারা কিছু মতকে অন্যগুলোর ওপর প্রাধান্য দিতেন। ফলে তাদের দৃষ্টিতে কিছু বক্তব্য বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল, যদিও তা বড় বড় সাহাবী (الصحابة) থেকে বর্ণিত (مأثور) ছিল। যেমন জুনুব ব্যক্তির তায়াম্মুমের ক্ষেত্রে উমর ও ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত (مأثور) মাযহাবটি (مذهب); আম্মার ও ইমরান বিন হুসাইন (রা.) এবং অন্যদের থেকে বর্ণিত সুপ্রসিদ্ধ (مستفيض) হাদিসসমূহের প্রাচুর্যের কারণে তা তাদের নিকট বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল। এমতাবস্থায় তাবিঈ (التابعين) উলামাদের প্রত্যেকের জন্য স্বতন্ত্র মাযহাব (مذهب) গড়ে ওঠে এবং প্রতিটি শহরে একজন করে ইমাম (إمام) প্রতিষ্ঠিত হন, যেমন:
মদিনায় সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব ও সালিম ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উমর, এবং তাঁদের পরবর্তীকালে সেখানে যুহরি, কাজী ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ ও রাবিআ ইবনে আবদুর রহমান।
মক্কায় আতা ইবনে আবি রাবাহ।
কুফায় ইব্রাহিম নাখয়ি ও শাবি।
বসরায় হাসান বসরি।
ইয়েমেনে তাউস ইবনে কায়সান।
সিরিয়ায় মাকহুল।
অতঃপর আল্লাহ মানুষের অন্তরকে তাঁদের ইলমের প্রতি তৃষ্ণার্ত করে দিলেন। ফলে মানুষ সেদিকে আগ্রহী হয়ে উঠল এবং তাঁদের নিকট থেকে হাদিস, সাহাবীদের (الصحابة) ফতোয়া (فتاوى) ও তাঁদের বক্তব্যসমূহ এবং এই সকল আলেমদের নিজস্ব মাযহাব (مذاهب) ও তাহকীকসমূহ (تحقيقات) গ্রহণ করল। ফতোয়া অন্বেষণকারীরা তাঁদের নিকট ফতোয়া চাইত, তাঁদের মাঝে বিভিন্ন মাসআলা আবর্তিত হতো এবং তাঁদের নিকট বিচারকার্য পেশ করা হতো।
সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব, ইব্রাহিম নাখয়ি এবং তাঁদের সমপর্যায়ের ব্যক্তিগণ সংগ্রহ করেছিলেন...
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ ফী বায়ানি আসবাবিল ইখতিলাফ লিদ-দেহলভী
(পৃষ্ঠা: ৩২)
أَبْوَاب الْفِقْه أجمعها وَكَانَ لَهُم فِي كل بَاب أصُول تلقوها من السّلف
وَكَانَ سعيد وَأَصْحَابه يذهبون إِلَى أَن أهل الْحَرَمَيْنِ أثبت النَّاس فِي الْفِقْه وأصل مَذْهَبهم فَتَاوَى عمر وَعُثْمَان وقضاياهما وفتاوى عبد الله بن عمر وَعَائِشَة وَابْن عَبَّاس وقضايا قُضَاة الْمَدِينَة فَجمعُوا من ذَلِك مَا يسره الله لَهُم ثمَّ نظرُوا فِيهَا نظر اعْتِبَار وتفتيش فَمَا كَانَ مِنْهَا مجمعا عَلَيْهِ بَين عُلَمَاء الْمَدِينَة فانهم يَأْخُذُونَ عَلَيْهِ بنواجذهم وَمَا كَانَ فِيهِ اخْتِلَاف عِنْدهم فانهم يَأْخُذُونَ بأقواها وأرجحها إِمَّا لِكَثْرَة من ذهب إِلَيْهِ مِنْهُم أَو لموافقته لقياس قوي أَو تَخْرِيج صَرِيح من الْكتاب وَالسّنة أَو نَحْو ذَلِك وَإِذا لم يَجدوا فِيمَا حفظوا مِنْهُم جَوَاب الْمَسْأَلَة خَرجُوا من كَلَامهم وتتبعوا الْإِيمَاء والاقتضاء فَحصل لَهُم مسَائِل كَثِيرَة فِي كل بَاب بَاب وَكَانَ إِبْرَاهِيم وَأَصْحَابه يرَوْنَ أَن عبد الله بن مَسْعُود وَأَصْحَابه أثبت النَّاس فِي الْفِقْه كَمَا قَالَ عَلْقَمَة لمسروق هَل أحد مِنْهُم أثبت من عبد الله وَقَول أى حنيفَة رَضِي الله 2 عَنهُ للأوزاعي إِبْرَاهِيم أفقه من سَالم وَلَوْلَا فضل الصُّحْبَة لَقلت إِن عَلْقَمَة أفقه من عبد الله بن عمر وَعبد الله هُوَ عبد الله وأصل مذْهبه فَتَاوَى عبد الله بن مَسْعُود وقضايا على رضي الله عنه وفتاواه وقضايا شُرَيْح وَغَيره من قُضَاة الْكُوفَة فَجمع من ذَلِك مَا يسره الله ثمَّ صنع فِي آثَارهم كَمَا صنع أهل الْمَدِينَة فِي آثَار أهل الْمَدِينَة وَخرج كَمَا خَرجُوا فتلخص لَهُ مسَائِل الْفِقْه فِي كل بَاب بَاب
ফিকহ শাস্ত্রের সকল অধ্যায় তারা সংকলিত করেছেন এবং প্রতিটি অধ্যায়ে তাদের নিকট এমন মূলনীতি (أصول) ছিল যা তারা পূর্বসূরিদের (سلف) থেকে লাভ করেছিলেন।
সাঈদ এবং তাঁর সাথীবর্গ এই মত পোষণ করতেন যে, হারামাইন (মক্কা ও মদিনা)-এর অধিবাসীগণ ফিকহ শাস্ত্রে সবচেয়ে সুদৃঢ় (أثبت)। এবং তাদের মাযহাবের (مذهب) মূল ভিত্তি ছিল ওমর ও ওসমানের ফতোয়া ও বিচারকার্য এবং আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর, আয়েশা ও ইবনে আব্বাসের ফতোয়া এবং মদিনার বিচারকদের বিচারকার্য। আল্লাহ তাদের জন্য যা সহজ করে দিয়েছেন তা তারা সংকলিত করেছেন, অতঃপর তারা সেগুলোর ওপর পর্যালোচনামূলক ও অনুসন্ধানী দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছেন। মদিনার ওলামায়ে কেরামের মধ্যে যে সব বিষয়ে সর্বসম্মত (مجمع عليه) সিদ্ধান্ত ছিল, তারা তা অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরতেন। আর যেসব বিষয়ে তাদের মধ্যে মতপার্থক্য (اختلاف) ছিল, সেক্ষেত্রে তারা অধিক শক্তিশালী ও অগ্রগণ্য (أرجح) মতটি গ্রহণ করতেন; হয় সেই মতের সমর্থকদের আধিক্যের কারণে, অথবা তা কোনো শক্তিশালী কিয়াসের (قياس) অনুকূলে হওয়ার কারণে, কিংবা কিতাব ও সুন্নাহ থেকে কোনো সুস্পষ্ট নির্দেশ উদ্ভাবনের (تخريج) ভিত্তিতে অথবা এই জাতীয় কোনো কারণে। যখন তারা তাদের মুখস্থকৃত জ্ঞানের মাঝে কোনো মাসআলার (مسألة) সমাধান পেতেন না, তখন তারা তাদের (পূর্বসূরিদের) বক্তব্য থেকে মাসআলা উদ্ভাবন (تخريج) করতেন এবং ইঙ্গিত (إيماء) ও দাবি (اقتضاء) অনুসরণ করতেন। এর ফলে প্রতিটি অধ্যায়ে তাদের নিকট অসংখ্য মাসআলা (مسائل) অর্জিত হয়েছিল। ইবরাহিম এবং তাঁর সাথীবর্গ মনে করতেন যে, আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ এবং তাঁর সাথীগণ ফিকহ শাস্ত্রে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে সুদৃঢ় (أثبت); যেমন আলকামা মাসরুককে বলেছিলেন, "তাদের মধ্যে আব্দুল্লাহর চেয়েও অধিক সুদৃঢ় (أثبت) কেউ কি আছে?" এবং আবু হানিফা (রা.) আওযাঈকে বলেছিলেন, "ইবরাহিম সালেমের চেয়ে বড় ফকিহ (أفقه)। আর সাহাবি হওয়ার মর্যাদা (صحبة) না থাকলে আমি বলতাম যে, আলকামা আব্দুল্লাহ ইবনে ওমরের চেয়েও বড় ফকিহ (أفقه)।" আর আব্দুল্লাহ তো আব্দুল্লাহ-ই। তাঁর মাযহাবের (مذهب) মূল ভিত্তি ছিল আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদের ফতোয়া, আলী (রা.)-এর বিচারকার্য ও ফতোয়া এবং শুরাইহ ও কুফার অন্যান্য বিচারকদের বিচারকার্য। আল্লাহ যা সহজ করেছেন তিনি তা সংকলন করেছেন এবং তাদের বর্ণিত আছার (آثار)-এর ক্ষেত্রে তেমনটিই করেছেন যেমনটি মদিনার অধিবাসীগণ মদিনার মনীষীদের আছারের ক্ষেত্রে করেছিলেন। তারা যেভাবে মাসআলা উদ্ভাবন (تخريج) করেছিলেন তিনিও সেভাবে উদ্ভাবন করেছিলেন, যার ফলে প্রতিটি অধ্যায়ে তাঁর নিকট ফিকহি মাসআলা (مسائل) সুবিন্যস্ত হয়েছিল।
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ ফী বায়ানি আসবাবিল ইখতিলাফ লিদ-দেহলভী
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
وَكَانَ سعيد بن الْمسيب لِسَان فُقَهَاء الْمَدِينَة وَكَانَ أحفظهم لقضايا عمر وَلِحَدِيث أبي هُرَيْرَة وَإِبْرَاهِيم لِسَان فُقَهَاء الْكُوفَة فَإِذا تكلما بِشَيْء وَلم ينسباه إِلَى أحد فانه فِي الْأَكْثَر مَنْسُوب إِلَى أحد من السّلف صَرِيحًا أَو إِيمَاء وَنَحْو ذَلِك فَاجْتمع عَلَيْهِمَا فُقَهَاء بلدهما وَأخذُوا عَنْهُمَا وعقلوه وَخَرجُوا عَلَيْهِ وَالله أعلم
সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব ছিলেন মদিনার ফকিহগণের মুখপাত্র এবং তিনি উমর (রা.)-এর বিচার বিভাগীয় সিদ্ধান্তসমূহ ও আবু হুরায়রা (রা.)-এর হাদিস সম্পর্কে তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন (أحفظهم) ছিলেন। আর ইব্রাহিম (আন-নাখায়ি) ছিলেন কুফার ফকিহগণের মুখপাত্র। তারা যখন কোনো বিষয়ে কথা বলতেন এবং তা কারো দিকে সম্বন্ধ করতেন না, তখন তা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই স্পষ্টভাবে (صريحا) অথবা ইঙ্গিতস্বরূপ (إيماء) সালাফদের (السلف) কারো পক্ষ থেকে সম্পর্কিত (منسوب) হতো। এমতাবস্থায় তাদের উভয় শহরের ফকিহগণ তাদের নিকট সমবেত হতেন এবং তাদের থেকে জ্ঞান আহরণ করতেন ও তা অনুধাবন করতেন এবং তার ভিত্তিতে মাসআলা উদ্ভাবন করতেন। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ ফী বায়ানি আসবাবিল ইখতিলাফ লিদ-দেহলভী
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
بَاب أَسبَاب اخْتِلَاف مَذَاهِب الْفُقَهَاء إعلم أَن الله تَعَالَى أنشأ بعد عصر التَّابِعين نشئا من حَملَة الْعلم إنجازا لما وعده صلى الله عليه وسلم حَيْثُ قَالَ يحمل هَذَا الْعلم من كل خلف عدوله فَأخذُوا عَمَّن اجْتَمعُوا مَعَه مِنْهُم صفة الْوضُوء وَالْغسْل وَالصَّلَاة وَالْحج وَالنِّكَاح والبيوع وَسَائِر مَا يكثر وُقُوعه وَرووا حَدِيث النَّبِي صلى الله عليه وسلم وسمعوا قضايا قُضَاة الْبلدَانِ وفتاوى مفتيها وسألوا عَن الْمسَائِل واجتهدوا فِي ذَلِك كُله ثمَّ صَارُوا كبراء قوم ووسد اليهم الْأَمر فنسجوا على منوال شيوخهم وَلم يألوا فِي تتبع الإيماءات والاقتضاءات فقضوا وأفتوا وَرووا وَعَلمُوا
ফকিহগণের মাজহাবসমূহের (مذاهب) মতপার্থক্যের (اختلاف) কারণসমূহ সম্পর্কিত অধ্যায় জেনে রাখুন যে, আল্লাহ তাআলা তাবেয়িদের (التابعين) যুগের পরে ইলম বহনকারী এমন এক প্রজন্মের উদ্ভব ঘটিয়েছেন, যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সেই বাণীরই বাস্তবায়ন যেখানে তিনি বলেছিলেন, "প্রত্যেক প্রজন্মের নির্ভরযোগ্য (عدول) ব্যক্তিরাই এই ইলম ধারণ করবে।" তারা যাদের সান্নিধ্য পেয়েছেন তাদের কাছ থেকে অজু, গোসল, নামাজ, হজ, বিবাহ, ক্রয়-বিক্রয় এবং সচরাচর ঘটে এমন সব বিষয়ের পদ্ধতি গ্রহণ করেছেন। তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস বর্ণনা (رووا) করেছেন এবং বিভিন্ন জনপদের বিচারকদের ফয়সালা ও মুফতিদের ফতোয়া (فتاوى) শুনেছেন। তারা বিভিন্ন মাসআলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছেন এবং এ সব বিষয়ে ইজতিহাদ (اجتهاد) করেছেন। অতঃপর তারা জাতির শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্বে পরিণত হলেন এবং তাদের ওপর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব অর্পিত হলো। ফলে তারা তাদের শায়খদের (شيوخ) পদাঙ্ক অনুসরণ করলেন এবং ভাষ্যের ইঙ্গিত (إيماءات) ও দাবি (اقتضاءات) অনুসন্ধানে কোনো ত্রুটি করেননি। পরিশেষে তারা বিচারকার্য পরিচালনা করেছেন, ফতোয়া (أفتوا) প্রদান করেছেন, বর্ণনা (رووا) করেছেন এবং শিক্ষা দান করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ ফী বায়ানি আসবাবিল ইখতিলাফ লিদ-দেহলভী
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
وَكَانَ صَنِيع الْعلمَاء فِي هَذِه الطَّبَقَة متشابها وَحَاصِل صنيعهم
أَن يتَمَسَّك بالمسند من حَدِيث رَسُول الله صلى الله عليه وسلم والمرسل جَمِيعًا ويستدل بأقوال الصَّحَابَة وَالتَّابِعِينَ علما مِنْهُم أَنَّهَا إِمَّا أَحَادِيث منقولة عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم اختصروها فجعلوها مَوْقُوفَة كَمَا قَالَ إِبْرَاهِيم وَقد روى حَدِيث نهى رَسُول الله عَن المحاقلة والمزابنة فَقيل لَهُ أما تحفظ عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم حَدِيثا غير هَذَا قَالَ بلَى وَلَكِن أَقُول قَالَ عبد الله قَالَ عَلْقَمَة أحب إِلَيّ
وكما قَالَ الشّعبِيّ وَقد سُئِلَ عَن حَدِيث وَقيل إِنَّه يرفع إِلَى النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ لَا على من دون النَّبِي صلى الله عليه وسلم أحب إِلَيْنَا فان كَانَ فِيهِ زِيَادَة أَو نُقْصَان كَانَ على من دون النَّبِي صلى الله عليه وسلم أَو يكون استنباطا مِنْهُم من النُّصُوص أَو اجْتِهَادًا مِنْهُم بآرائهم وهم أحسن صنيعا فِي كل ذَلِك مِمَّن يَجِيء بعدهمْ وَأكْثر إِصَابَة وأقدم زَمَانا وأوعى علما فَتعين الْعَمَل بهَا
এই স্তরের (طبقة) আলেমদের কর্মপদ্ধতি সদৃশ ছিল এবং তাদের কর্মপদ্ধতির সারসংক্ষেপ হলো:
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিসসমূহের মধ্য থেকে মুসনাদ এবং মুরসাল (مرسل) উভয়টিকেই দৃঢ়ভাবে গ্রহণ করা এবং সাহাবী ও তাবেয়ীদের বাণীর মাধ্যমে দলিল পেশ করা। তারা জানতেন যে, এগুলো হয় রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকে বর্ণিত হাদিস যা তারা সংক্ষেপ করার কারণে মাওকুফ (موقوفة) হিসেবে বর্ণনা করেছেন। যেমনটি ইব্রাহিম নাখয়ী বলেছেন; তিনি যখন রাসুলুল্লাহ (সা.) কর্তৃক মুহাকালা ও মুজাবানা নিষিদ্ধ হওয়ার হাদিস বর্ণনা করলেন, তখন তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো, 'আপনি কি রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকে এটি ছাড়া অন্য কোনো হাদিস সংরক্ষণ করেননি?' তিনি বললেন, 'হ্যাঁ, তবে আবদুল্লাহ (ইবনে মাসউদ) বলেছেন বা আলকামা বলেছেন—বলা আমার নিকট অধিক পছন্দনীয়।'
তেমনিভাবে আমের আশ-শাবি থেকে বর্ণিত; তাকে একটি হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে এবং বলা হলে যে এটি নবী (সা.) পর্যন্ত মারফু (يرفع) করা হয়েছে, তখন তিনি বললেন, 'না, নবী (সা.)-এর পরবর্তী কারও দিকে নিসবত করা আমাদের নিকট অধিক প্রিয়। কারণ যদি এতে কোনো কম-বেশি হয়, তবে তার দায় নবী (সা.)-এর পরবর্তী কারও ওপর বর্তাবে।' অথবা তা ছিল নসুস (النصوص) থেকে তাদের কৃত উদ্ভাবন (استنباطا) কিংবা তাদের নিজস্ব মতামতের ভিত্তিতে করা গবেষণা (اجتهادا)। আর এই সবকিছুর ক্ষেত্রেই তারা তাদের পরবর্তী প্রজন্মের তুলনায় উত্তম কর্মপদ্ধতির অধিকারী ছিলেন এবং সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে অধিক নির্ভুল, সময়ের দিক থেকে অগ্রবর্তী এবং ইলম সংরক্ষণে অধিক প্রজ্ঞাবান ছিলেন; ফলে সেই অনুযায়ী আমল করা আবশ্যক হয়ে পড়ে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ ফী বায়ানি আসবাবিল ইখতিলাফ লিদ-দেহলভী
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
إِلَّا إِذا اخْتلفُوا وَكَانَ حَدِيث رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يُخَالف قَوْلهم مُخَالفَة ظَاهِرَة
وَأَنه إِذا اخْتلفت أَحَادِيث رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فِي مَسْأَلَة رجعُوا إِلَى أَقْوَال الصَّحَابَة فان قَالُوا بنسخ بَعْضهَا أَو بصرفه عَن ظَاهره أَو لم يصرحوا بذلك وَلَكِن اتَّفقُوا على تَركه وَعدم القَوْل بِمُوجبِه فَإِنَّهُ كإبداء عِلّة فِيهِ أَو الحكم بنسخه أَو تَأْوِيله اتَّبَعُوهُمْ فِي كل ذَلِك وَهُوَ قَول مَالك فِي حَدِيث ولوغ الْكَلْب جَاءَ هَذَا الحَدِيث وَلَكِن لَا أَدْرِي مَا حَقِيقَته حَكَاهُ ابْن الْحَاجِب فِي مُخْتَصر الْأُصُول يَعْنِي لم أر الْفُقَهَاء يعْملُونَ بِهِ
وَإنَّهُ إِذا اخْتلفت مَذَاهِب الصَّحَابَة وَالتَّابِعِينَ فِي مَسْأَلَة فالمختار عِنْد كل عَالم مَذْهَب أهل بَلَده وشيوخه لِأَنَّهُ أعرف بِصَحِيح أقاويلهم من السقيم وأوعى لِلْأُصُولِ الْمُنَاسبَة لَهَا وَقَلبه أميل إِلَى فَضلهمْ وتبحرهم فمذهب عمر وَعُثْمَان وَعَائِشَة وَابْن عمر وَابْن عَبَّاس وَزيد بن ثَابت وأصحابهم مثل سعيد بن الْمسيب فانه كَانَ أحفظهم لقضايا عمر وَحَدِيث أبي هُرَيْرَة وَمثل عُرْوَة وَسَالم وَعِكْرِمَة وَعَطَاء
ব্যতিক্রম হলো যখন তারা মতভেদ করেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিস তাদের বক্তব্যের প্রকাশ্য বিরোধী হয়।
আর যখন কোনো মাসআলায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিসসমূহের মধ্যে বৈচিত্র্য বা বিরোধ দেখা দেয়, তখন তারা সাহাবীগণের বক্তব্যের দিকে প্রত্যাবর্তন করেন। যদি তারা কোনো হাদিস রহিতকরণ (نسخ)-এর কথা বলেন অথবা এর প্রকাশ্য অর্থ থেকে পরিবর্তনের কথা বলেন, কিংবা তারা তা স্পষ্টভাবে না বললেও ঐক্যবদ্ধভাবে হাদিসটি বর্জন করেন এবং এর দাবি অনুযায়ী আমল না করেন, তবে এটি হাদিসের মধ্যে কোনো ত্রুটি (علة) প্রকাশ করা অথবা এর রহিতকরণ (نسخ) বা ভিন্ন ব্যাখ্যা (تأويل)-এর নির্দেশ প্রদানের শামিল বলে গণ্য হয়; এমতাবস্থায় তারা এই সকল বিষয়ে সাহাবীগণেরই অনুসরণ করেন। কুকুরের পাত্র চাটা সংক্রান্ত হাদিস সম্পর্কে ইমাম মালিকের বক্তব্যও অনুরূপ। তিনি বলেছিলেন: "এই হাদিসটি বর্ণিত হয়েছে, তবে আমি এর প্রকৃত স্বরূপ জানি না।" ইবনুল হাজিব তার মুখতাসারুল উসুল গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন, যার অর্থ হলো—আমি ফকীহগণকে এই হাদিসের ওপর আমল করতে দেখিনি।
আর যখন কোনো মাসআলায় সাহাবী ও তাবিঈদের মাযহাব বা মতাদর্শের মধ্যে ভিন্নতা দেখা দেয়, তখন প্রত্যেক আলিমের নিকট তার নিজ শহর ও উস্তাদগণের মাযহাবই পছন্দনীয় হয়। কারণ, তিনি তাদের বক্তব্যসমূহের মধ্যে সঠিক (صحيح) এবং দুর্বল (سقيم) সম্পর্কে অধিক অবগত থাকেন এবং তাদের সাথে সংশ্লিষ্ট মূলনীতিসমূহ অধিক অনুধাবন করতে পারেন। এছাড়া তাদের মর্যাদা ও পাণ্ডিত্যের প্রতি তার অন্তরে অধিক ঝোঁক থাকে। যেমন উমর, উসমান, আয়েশা, ইবনে উমর, ইবনে আব্বাস, যায়েদ বিন সাবিত এবং তাদের অনুসারীদের মাযহাব; যেমন সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব—যিনি উমরের বিচারিক ফয়সালা এবং আবু হুরায়রা বর্ণিত হাদিস সম্পর্কে সর্বাধিক হিফযকারী ছিলেন। তদ্রূপ উরওয়াহ, সালেম, ইকরিমা ও আতা (এর মাযহাব)।
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ ফী বায়ানি আসবাবিল ইখতিলাফ লিদ-দেহলভী
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
ابْن يسَار وقاسم وَعبيد الله بن عبد الله وَالزهْرِيّ وَيحيى بن سعيد وَزيد بن أسلم وَرَبِيعَة وأمثالهم أَحَق بِالْأَخْذِ من غَيره عِنْد أهل الْمَدِينَة لما بَينه النَّبِي صلى الله عليه وسلم فِي فَضَائِل الْمَدِينَة وَلِأَنَّهَا مأوى الْفُقَهَاء وَمجمع الْعلمَاء فِي كل عصر وَلذَلِك ترى مَالِكًا يلازم محجتهم وَقد اشْتهر عَن مَالك أَنه متمسك بِإِجْمَاع أهل الْمَدِينَة وَعقد البُخَارِيّ بَابا فِي الْأَخْذ بِمَا اتّفق عَلَيْهِ الحرمان
وَمذهب عبد الله بن مَسْعُود وَأَصْحَابه وقضايا عَليّ وَشُرَيْح وَالشعْبِيّ وفتاوى إِبْرَاهِيم أَحَق بِالْأَخْذِ عِنْد أهل الْكُوفَة من غَيره وَهُوَ قَول عَلْقَمَة حِين مَال مَسْرُوق إِلَى قَول زيد بن ثَابت فِي التَّشْرِيك قَالَ هَل أحد مِنْهُم أثبت من عبد الله فَقَالَ لَا وَلَكِن رَأَيْت زيد بن ثَابت وَأهل الْمَدِينَة يشركُونَ
فان اتّفق أهل الْبَلَد على شَيْء أخذُوا عَلَيْهِ بالنواجذ وَهُوَ الَّذِي يَقُول فِي مثله مَالك السّنة الَّتِي لَا اخْتِلَاف فِيهَا عندنَا كَذَا وَكَذَا وَإِن اخْتلفُوا أخذُوا بأقواها وأرجحها إِمَّا لِكَثْرَة الْقَائِلين بِهِ أَو لموافقته لقياس قوي أَو تَخْرِيج من الْكتاب وَالسّنة وَهُوَ الَّذِي يَقُول فِي مثله مَالك هَذَا أحسن مَا سَمِعت
فاذا لم يَجدوا فِيمَا حفظوا مِنْهُم جَوَاب الْمَسْأَلَة خَرجُوا من
ইবনে ইয়াসার, কাসিম, উবাইদুল্লাহ বিন আব্দুল্লাহ, যুহরি, ইয়াহইয়া বিন সাঈদ, যায়েদ বিন আসলাম, রাবিআহ এবং তাঁদের সমপর্যায়ীয় ব্যক্তিবর্গ মদীনার অধিবাসীদের নিকট অন্যদের তুলনায় অনুসরণের ক্ষেত্রে অধিক যোগ্য। এর কারণ হলো, মদীনার ফযীলত সম্পর্কে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যা বর্ণনা করেছেন এবং তা প্রতিটি যুগে ফকিহদের আশ্রয়স্থল ও আলেমদের মিলনস্থল হওয়ার কারণে। এই কারণেই আপনি মালিককে তাঁদের পথকে আঁকড়ে থাকতে দেখবেন। ইমাম মালিক সম্পর্কে এটি প্রসিদ্ধ যে, তিনি মদীনার অধিবাসীদের ঐক্যমত্য (إجماع)-এর প্রতি দৃঢ়ভাবে সংলগ্ন থাকতেন। বুখারী দুই পবিত্র হারাম যে বিষয়ে একমত হয়েছে, তা গ্রহণ করা সম্পর্কে একটি অধ্যায় রচনা করেছেন।
আর আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ ও তাঁর সাথীদের মাযহাব এবং আলী, শুরাইহ ও শাবী’র বিচারসমূহ এবং ইব্রাহীমের ফতোয়াসমূহ কূফাবাসীদের নিকট অন্যদের তুলনায় গ্রহণের ক্ষেত্রে অধিক উপযুক্ত। এটিই আলকামার উক্তি যখন মাসরূক মীরাসের অংশীদারিত্বের বিষয়ে যায়েদ বিন সাবিতের মতের দিকে ঝুঁকেছিলেন; তিনি (আলকামা) বললেন: "তাঁদের মধ্যে কেউ কি আব্দুল্লাহর চেয়ে অধিক সুপ্রতিষ্ঠিত (أثبت)?" তিনি উত্তর দিলেন: "না, কিন্তু আমি যায়েদ বিন সাবিত এবং মদীনার অধিবাসীদের অংশীদার করতে দেখেছি।"
যদি কোনো শহরের অধিবাসীরা কোনো বিষয়ে একমত হতো, তবে তারা তা অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে গ্রহণ করত। এই জাতীয় বিষয়ের ক্ষেত্রেই মালিক বলতেন: "সুন্নাহ (السنة), যার ব্যাপারে আমাদের নিকট কোনো মতভেদ নেই, তা হলো এই এই।" আর যদি তারা মতভেদ করত, তবে তারা সবচেয়ে শক্তিশালী এবং অগ্রগণ্য (أرجح) মতটি গ্রহণ করত; হয় তা গ্রহণকারীর আধিক্যের কারণে, অথবা কোনো শক্তিশালী অনুমান (قياس)-এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ার কারণে, অথবা কুরআন ও সুন্নাহ থেকে আহরণ (تخريজ) করার কারণে। ইমাম মালিক এই ধরণের মাসআলাতেই বলেন: "এটিই আমার শোনা সবচেয়ে উত্তম মত।"
অতঃপর তাঁরা তাঁদের মুখস্থকৃত বর্ণনাগুলোর মধ্যে যখন কোনো মাসআলার উত্তর খুঁজে পেতেন না, তখন তাঁরা সেখান থেকে...
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ ফী বায়ানি আসবাবিল ইখতিলাফ লিদ-দেহলভী
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
كَلَامهم وتتبعوا الايماء والاقضاء
وألهموا فِي هَذِه الطَّبَقَة التدوين فدون مَالك وَمُحَمّد بن عبد الرَّحْمَن بن أبي ذِئْب بِالْمَدِينَةِ وَابْن جريج وَابْن عُيَيْنَة بِمَكَّة وَالثَّوْري بِالْكُوفَةِ وَالربيع بن صبيح بِالْبَصْرَةِ وَكلهمْ مَشوا على هَذَا النهج الَّذِي ذكرته
وَلما حج الْمَنْصُور قَالَ لمَالِك قد عزمت أَن آمُر بكتبك هَذِه الَّتِي وَضَعتهَا فتنسخ ثمَّ أبْعث فِي كل مصر من أَمْصَار الْمُسلمين مِنْهَا نُسْخَة وَآمرهُمْ بِأَن يعملوا بِمَا فِيهَا وَلَا يتعدوه إِلَى غَيره فَقَالَ يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ لَا تفعل هَذَا فان النَّاس قد سبقت اليهم أقاويل وسمعوا أَحَادِيث وَرووا رِوَايَات وَأخذ كل قوم بِمَا سبق اليهم ودانوا بِهِ من اخْتِلَاف النَّاس فدع النَّاس وَمَا اخْتَار أهل كل بلد مِنْهُم لأَنْفُسِهِمْ
وتحكى نِسْبَة هَذِه الْقِصَّة إِلَى هَارُون الرشيد وَأَنه شاور مَالِكًا فِي أَن يعلق الْمُوَطَّأ فِي الْكَعْبَة وَيحمل النَّاس على مَا فِيهِ فَقَالَ لَا تفعل فان أَصْحَاب رَسُول الله صلى الله عليه وسلم اخْتلفُوا فِي الْفُرُوع وَتَفَرَّقُوا فِي الْبلدَانِ وكل سنة مَضَت قَالَ وفقك الله يَا أَبَا عبد الله حَكَاهُ السُّيُوطِيّ رَحمَه الله تَعَالَى
وَكَانَ مَالك رضي الله عنه أثبتهم فِي حَدِيث الْمَدَنِيين عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وأوثقهم إِسْنَادًا وأعلمهم بقضايا عمر وأقاويل عبد الله بن عمر وَعَائِشَة وأصحابهم من الْفُقَهَاء السَّبْعَة وَبِه وبأمثاله قَامَ علم الرِّوَايَة وَالْفَتْوَى فَلَمَّا وسد إِلَيْهِ الْأَمر
তাদের কথাবার্তা এবং তারা ইঙ্গিত ও ফয়সালাসমূহ অনুসরণ করেছেন।
তাদেরকে এই স্তরে (الطبقة) সংকলনের প্রেরণা দান করা হয়। ফলে মদিনায় মালিক ও মুহাম্মদ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আবু জিব, মক্কায় ইবনে জুরাইজ ও ইবনে উইয়াইনাহ, কুফায় সাওরি এবং বসরায় রাবি ইবনে সাবিহ সংকলন করেন। তারা সবাই আমার বর্ণিত এই পথ অনুসরণ করেই চলেছেন।
মনসুর যখন হজ পালন করলেন, তখন তিনি মালিককে বললেন, "আমি সংকল্প করেছি যে আপনার সংকলিত এই কিতাবগুলো অনুলিপি করার নির্দেশ দেব। অতঃপর মুসলিমদের প্রতিটি জনপদে এর একটি করে অনুলিপি পাঠাব এবং তাদেরকে নির্দেশ দেব যেন তারা এর বিষয়বস্তু অনুযায়ী আমল করে এবং তা ব্যতিরেকে অন্য কিছুর দিকে না যায়।" তখন তিনি বললেন, "হে আমিরুল মুমিনীন! এমনটি করবেন না। কেননা মানুষের কাছে ইতোমধ্যেই নানা বক্তব্য পৌঁছেছে, তারা হাদিস শুনেছে এবং বর্ণনা (روايات) বর্ণনা করেছে। প্রতিটি জাতি তাদের কাছে যা আগে পৌঁছেছে তা গ্রহণ করেছে এবং মানুষের মতপার্থক্যের মধ্য থেকে তারা যা পেয়েছে সে অনুযায়ী দ্বীন পালন করেছে। সুতরাং আপনি মানুষকে এবং প্রতিটি জনপদের অধিবাসীরা নিজেদের জন্য যা পছন্দ করে নিয়েছে তা সেভাবেই থাকতে দিন।"
এই ঘটনাটি হারুনুর রশিদের সাথেও সম্পর্কিত বলে বর্ণিত হয় যে, তিনি মুয়াত্তা কাবাঘরে ঝুলিয়ে রাখার এবং মানুষকে এর বিষয়বস্তু অনুসরণে বাধ্য করার ব্যাপারে মালিকের সাথে পরামর্শ করেছিলেন। তখন তিনি বলেছিলেন, "এমনটি করবেন না। কেননা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ শাখা-প্রশাখা সংক্রান্ত মাসয়ালায় (الفروع) মতভেদ করেছেন এবং তারা বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়েছেন। আর প্রতিটি সুন্নাহ (سنة) অতিবাহিত হয়েছে।" তিনি বললেন, "হে আবু আব্দুল্লাহ, আল্লাহ আপনাকে তাওফিক দান করুন।" সুয়ূতি (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা) এটি বর্ণনা করেছেন।
মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত মদিনাবাসীদের হাদিসের ক্ষেত্রে তাদের মধ্যে সবচেয়ে সুদৃঢ় (أثبت), সনদ (إسناد)-এর বিচারে তাদের মধ্যে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য (أوثق) এবং উমরের ফয়সালাসমূহ ও আব্দুল্লাহ ইবনে উমর, আয়েশা এবং তাদের সাথী সাত ফকিহগণের বক্তব্য সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী ছিলেন। তাঁর এবং তাঁর ন্যায় ব্যক্তিদের মাধ্যমেই বর্ণনা (الرواية) ও ফতোয়ার জ্ঞান প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। অতঃপর যখন তাঁর ওপর এই বিষয়ের ভার ন্যস্ত হলো...
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ ফী বায়ানি আসবাবিল ইখতিলাফ লিদ-দেহলভী
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
حدث وَأفْتى وَأفَاد وأجاد وَعَلِيهِ انطبق قَول النَّبِي صلى الله عليه وسلم يُوشك أَن يضْرب النَّاس أكباد الابل يطْلبُونَ الْعلم فَلَا يَجدونَ أحدا أعلم من عَالم الْمَدِينَة على مَا قَالَه ابْن عُيَيْنَة وَعبد الرَّزَّاق وناهيك بهما فَجمع أَصْحَابه رواياته ومختاراته ولخصوها وحرروها وشرحوها وَخَرجُوا عَلَيْهَا وَتَكَلَّمُوا فِي أُصُولهَا ودلائلها وَتَفَرَّقُوا إِلَى الْمغرب ونواحي الأَرْض فنفع الله بهم كثيرا من خلقه وَإِن شِئْت أَن تعرف حَقِيقَة مَا قُلْنَاهُ من أصل مذْهبه فَانْظُر فِي كتاب الْمُوَطَّأ تَجدهُ كَمَا ذكرنَا
وَكَانَ أَبُو حنيفَة رضي الله عنه ألزمهم بِمذهب إِبْرَاهِيم وأقرانه لَا يُجَاوِزهُ إِلَّا مَا شَاءَ الله وَكَانَ عَظِيم الشَّأْن فِي التَّخْرِيج على مذْهبه دَقِيق النّظر فِي وُجُوه التخريجات مُقبلا على الْفُرُوع أتم اقبال وان شِئْت أَن تعلم حَقِيقَة مَا قُلْنَاهُ فلخص أَقْوَال إِبْرَاهِيم من كتاب الْآثَار لمُحَمد رحمه الله وجامع عبد الرَّزَّاق ومصنف أبي بكر بن أبي شيبَة ثمَّ قايسه بمذهبه تَجدهُ لَا يُفَارق تِلْكَ المحجة إِلَّا فِي مَوَاضِع يسيرَة وَهُوَ فِي تِلْكَ الْيَسِيرَة أَيْضا لَا يخرج عَمَّا ذهب إِلَيْهِ فُقَهَاء الْكُوفَة
وَكَانَ أشهر أَصْحَابه ذكرا أَبُو يُوسُف تولى قَضَاء الْقُضَاة أَيَّام هَارُون الرشيد فَكَانَ سَببا لظُهُور مذْهبه وَالْقَضَاء بِهِ فِي أقطار الْعرَاق وخراسان وَمَا وَرَاء النَّهر وَكَانَ أحْسنهم تصنيفا وألزمهم درسا مُحَمَّد بن الْحسن فَكَانَ من خَبره أَنه تفقه على أبي حنيفَة وَأبي يُوسُف ثمَّ خرج إِلَى الْمَدِينَة فَقَرَأَ
তিনি হাদিস বর্ণনা করেছেন, ফতোয়া প্রদান করেছেন, জ্ঞান বিতরণ করেছেন এবং শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন। তাঁর ওপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণীটি প্রযোজ্য হয়: "অচিরেই মানুষ ইলম অন্বেষণে উটের কলিজায় আঘাত করবে (দীর্ঘ পথ পাড়ি দিবে), তখন তারা মদীনার আলেমের চেয়ে অধিক জ্ঞানী কাউকে পাবে না।" যেমনটি ইবনে উয়াইনাহ এবং আবদুর রাজ্জাক বলেছেন—আর তাঁদের মর্যাদা ও প্রামাণিকতাই যথেষ্ট। অতঃপর তাঁর সঙ্গীরা তাঁর বর্ণনা (روايات) ও সংকলিত নির্বাচিত অংশসমূহ (مختارات) সংগ্রহ করেছেন, সেগুলোকে সংক্ষিপ্ত করেছেন, পরিমার্জিত করেছেন, ব্যাখ্যা করেছেন এবং সেগুলোর ওপর ভিত্তি করে মাসয়ালা উদ্ভাবন (تخريج) করেছেন। তাঁরা এগুলোর মূলনীতি (أصول) ও প্রমাণসমূহ (دلائل) নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং মাগরিব ও পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছেন। ফলে আল্লাহ তাঁদের মাধ্যমে তাঁর সৃষ্টির অনেককে উপকৃত করেছেন। আমরা তাঁর মাযহাবের মূল ভিত্তি সম্পর্কে যা বলেছি, তার প্রকৃত স্বরূপ যদি আপনি জানতে চান, তবে মুওয়াত্ত্তা কিতাবটি দেখুন, আমরা যেমন উল্লেখ করেছি ঠিক তেমনই তা পাবেন।
ইমাম আবু হানিফা রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁদের মধ্যে ইব্রাহিম নাখয়ী ও তাঁর সমসাময়িকদের মাযহাবের প্রতি সবচেয়ে বেশি অনুগত ছিলেন, আল্লাহর ইচ্ছা ব্যতীত তিনি তা অতিক্রম করতেন না। তাঁর মাযহাবের ওপর ভিত্তি করে মাসয়ালা উদ্ভাবন (تخريج) করার ক্ষেত্রে তিনি অত্যন্ত উচ্চ মর্যাদার অধিকারী ছিলেন এবং মাসয়ালা উদ্ভাবনের বিভিন্ন পদ্ধতির (وجوه التخريجات) সূক্ষ্ম পর্যালোচনায় পারদর্শী ছিলেন। তিনি ফিকহী শাখা-প্রশাখা (فروع) সংক্রান্ত মাসয়ালার প্রতি পূর্ণ মনোনিবেশ করেছিলেন। আমরা যা বলেছি তার সত্যতা যদি আপনি জানতে চান, তবে মুহাম্মদ রাহিমাহুল্লাহ-এর কিতাবুল আসার, জামি' আবদুর রাজ্জাক এবং মুসান্নাফ আবি বকর ইবনে আবি শাইবা থেকে ইব্রাহিমের উক্তিগুলো সংক্ষেপ করুন, এরপর তা তাঁর মাযহাবের সাথে তুলনা করুন; তাহলে দেখবেন যে সামান্য কিছু বিষয় ছাড়া তিনি সেই পথ থেকে বিচ্যুত হননি। আর সেই সামান্য বিষয়গুলোতেও তিনি কুফার ফকিহগণ যা গ্রহণ করেছেন তার বাইরে যাননি।
তাঁর সঙ্গীদের মধ্যে প্রসিদ্ধতম ছিলেন আবু ইউসুফ, যিনি হারুন আল-রশিদের আমলে প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন। এটি ইরাক, খোরাসান এবং মা-ওয়ারাউন নাহার অঞ্চলে তাঁর মাযহাবের প্রসার ও এর ভিত্তিতে বিচারকার্য পরিচালনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাঁদের মধ্যে গ্রন্থ রচনায় সবচেয়ে নিপুণ এবং পাঠদানে সবচেয়ে নিয়মিত ছিলেন মুহাম্মদ বিন আল-হাসান। তাঁর সম্পর্কে বিবরণ এই যে, তিনি আবু হানিফা ও আবু ইউসুফের কাছে ফিকহ শিক্ষা করেন, অতঃপর মদীনার অভিমুখে যাত্রা করেন এবং সেখানে পাঠ গ্রহণ করেন...
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ ফী বায়ানি আসবাবিল ইখতিলাফ লিদ-দেহলভী
(পৃষ্ঠা: ৪০)
الْمُوَطَّأ على مَالك ثمَّ رَجَعَ إِلَى بَلَده فطبق مَذْهَب أَصْحَابه على الْمُوَطَّأ مَسْأَلَة مَسْأَلَة فان وَافق مِنْهَا وَإِلَّا فان رأى طَائِفَة من الصَّحَابَة وَالتَّابِعِينَ ذَاهِبين إِلَى مَذْهَب أَصْحَابه فَكَذَلِك وَإِن وجد قِيَاسا ضَعِيفا أَو تخريجا لينًا يُخَالِفهُ حَدِيث صَحِيح مِمَّا عمل بِهِ الْفُقَهَاء أَو يُخَالِفهُ عمل أَكثر الْعلمَاء تَركه إِلَى مَذْهَب من مَذَاهِب السّلف مِمَّا يرَاهُ أرجح مَا هُنَاكَ وهما أَي أَبُو يُوسُف وَمُحَمّد لَا يزَالَانِ على محجة إِبْرَاهِيم مَا أمكن لَهما كَمَا كَانَ أَبُو حنيفَة رحمه الله يفعل ذَلِك وَإِنَّمَا كَانَ اخْتلَافهمْ فِي أحد شَيْئَيْنِ
إِمَّا أَن يكون لشيخهما تَخْرِيج على مَذْهَب إِبْرَاهِيم يزاحمانه فِيهِ أَو يكون هُنَاكَ لابراهيم ونظرائه أَقْوَال مُخْتَلفَة يخالفان شيخهما فِي تَرْجِيح بعضهما على بعض فصنف مُحَمَّد رحمه الله وَجمع رَأْي هَؤُلَاءِ الثَّلَاثَة ونفع كثيرا من النَّاس فَتوجه أَصْحَاب أبي حنيفَة رضي الله عنه إِلَى تِلْكَ التصانيف تلخيصا وتقريبا أَو شرحا أَو تخريجا أَو تأسيسا أَو اسْتِدْلَالا ثمَّ تفَرقُوا إِلَى خُرَاسَان وَمَا وَرَاء النَّهر فَسُمي ذَلِك مَذْهَب أبي حنيفَة
وَإِنَّمَا عد مَذْهَب أبي حنيفَة مَعَ مَذْهَب أبي يُوسُف وَمُحَمّد رَحِمهم الله تَعَالَى وَاحِدًا مَعَ أَنَّهُمَا مجتهدان مطلقان مخالفتهما غير قَليلَة فِي الْأُصُول وَالْفُرُوع لتوافقهم فِي هَذَا الأَصْل
মালিকের নিকট মুয়াত্তা অধ্যয়ন করলেন, অতঃপর তিনি নিজ দেশে ফিরে এসে তাঁর সঙ্গীদের মাযহাবকে মুয়াত্তার প্রতিটি মাসআলার ওপর প্রয়োগ করলেন। যদি তা মুয়াত্তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতো তবে ভালো, অন্যথায় যদি দেখতেন যে সাহাবী ও তাবিঈদের একটি দল তাঁর সঙ্গীদের মাযহাবের অনুরূপ মত পোষণ করছেন, তবে সেটিই গ্রহণ করতেন। আর যদি তিনি এমন কোনো দুর্বল (ضعيف) কিয়াস বা শিথিল (لين) উদ্ভাবন পেতেন যা ফুকাহায়ে কেরামের আমলকৃত কোনো সহিহ (صحيহ) হাদিসের পরিপন্থী হতো, অথবা অধিকাংশ আলিমের আমলের পরিপন্থী হতো, তবে তিনি সেটি বর্জন করে সালাফদের এমন কোনো মতের দিকে ফিরে যেতেন যা তাঁর নিকট অধিক অগ্রগণ্য মনে হতো। তাঁরা দুজন—অর্থাৎ আবু ইউসুফ ও মুহাম্মদ—যথাসম্ভব ইবরাহিম (নাখয়ী)-এর প্রদর্শিত পথের ওপর অটল থাকতেন, যেমনটি আবু হানিফা (রাহিমাহুল্লাহ) করতেন। তাঁদের পারস্পরিক মতবিরোধ মূলত দুটি বিষয়ের কোনো একটিতে হতো।
হয়ত তাঁদের শিক্ষকের ইবরাহিমের মাযহাবের ওপর এমন কোনো উদ্ভাবন (তাকরিজ) থাকত যে বিষয়ে তাঁরা তাঁর সাথে দ্বিমত পোষণ করতেন, অথবা সেখানে ইবরাহিম ও তাঁর সমসাময়িকদের বিভিন্ন মত থাকত যেখানে তাঁরা কোনো একটিকে অন্যটির ওপর প্রাধান্য দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁদের শিক্ষকের বিরোধিতা করতেন। অতঃপর ইমাম মুহাম্মদ (রাহিমাহুল্লাহ) এই তিনজনের অভিমত সংকলন ও একত্রিত করেন এবং এর মাধ্যমে বহু মানুষ উপকৃত হয়। এরপর আবু হানিফা (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর অনুসারীরা সেই সংকলনগুলোর সারসংক্ষেপ তৈরি, সহজীকরণ, ব্যাখ্যা প্রদান, মূলনীতি নির্ধারণ কিংবা দলিল উপস্থাপনের দিকে মনোনিবেশ করেন। পরবর্তীতে তাঁরা খোরাসান ও মা-ওয়ারাউন নাহর অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েন এবং এটিই 'আবু হানিফার মাযহাব' হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।
আবু হানিফার মাযহাবকে আবু ইউসুফ ও মুহাম্মদের (রাহিমাহুমুল্লাহ) মাযহাবের সাথে অভিন্ন গণ্য করার কারণ হলো—যদিও তাঁরা দুজনেই স্বতন্ত্র মুজতাহিদ (مجتهدان مطلقان) ছিলেন এবং উসুল ও ফুরু উভয় ক্ষেত্রেই তাঁদের মতবিরোধের সংখ্যা কম ছিল না—তথাপি এই মূলনীতির ক্ষেত্রে তাঁদের ঐকমত্য ছিল।
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ ফী বায়ানি আসবাবিল ইখতিলাফ লিদ-দেহলভী
(পৃষ্ঠা: ৪১)
ولتدوين مذاهبهم جَمِيعًا فِي الْمَبْسُوط وَالْجَامِع الْكَبِير
وَنَشَأ الشَّافِعِي رضي الله عنه فِي أَوَائِل ظُهُور المذهبين وترتيب أصولهما وفروعهما فَنظر فِي صَنِيع الْأَوَائِل فَوجدَ فِيهِ أمورا كبحت عنانه عَن الجريان فِي طريقهم وَقد ذكرهَا فِي أَوَائِل كِتَابه الْأُم
1 - مِنْهَا أَنه وجدهم يَأْخُذُونَ بالمرسل والمنقطع فَيدْخل فيهمَا الْخلَل فانه إِذا جمع طرق الحَدِيث يظْهر أَنه كم من مُرْسل لَا أصل لَهُ وَكم من مُرْسل يُخَالف مُسْندًا فقرر أَلا يَأْخُذ بالمرسل إِلَّا عِنْد وجود شُرُوط وَهِي مَذْكُورَة فِي كتب الْأُصُول
2 - وَمِنْهَا أَنه لم تكن قَوَاعِد الْجمع بَين المختلفات مضبوطة عِنْدهم فَكَانَ يتَطَرَّق بذلك خلل فِي مجتهداتهم فَوضع لَهَا أصولا ودونها فِي كتاب وَهَذَا أول تدوين كَانَ فِي أصُول الْفِقْه
مِثَاله مَا بلغنَا أَنه دخل على مُحَمَّد بن الْحسن وَهُوَ يطعن على أهل الْمَدِينَة فِي قضائهم بِالشَّاهِدِ الْوَاحِد مَعَ الْيَمين وَيَقُول هَذَا زِيَادَة على كتاب الله فَقَالَ الشَّافِعِي أثبت عنْدك أَنه لَا
এবং আল-মাবসুত ও আল-জামি আল-কাবির-এ তাদের সকল মাযহাব সংকলন করার জন্য।
ইমাম শাফিঈ (রা.) এই দুই মাযহাবের আত্মপ্রকাশ এবং তাদের মূলনীতি (উসুল) ও শাখাগত মাসআলা (ফুরু) বিন্যস্ত হওয়ার প্রাক্কালে বেড়ে ওঠেন। তিনি পূর্ববর্তীদের কর্মপদ্ধতি পর্যবেক্ষণ করে তাতে এমন কিছু বিষয় দেখতে পান যা তাকে তাদের পথে চলতে বাধা প্রদান করে। তিনি তাঁর কিতাব আল-উম্ম-এর শুরুর দিকে এ বিষয়গুলো উল্লেখ করেছেন।
1 - এর মধ্যে একটি হলো, তিনি দেখলেন যে তারা মুরসাল (مرسل) এবং মুনকাতি (منقطع) বর্ণনার মাধ্যমে দলিল গ্রহণ করছেন, যার ফলে তাতে বিভ্রান্তি বা ত্রুটি প্রবেশ করছে। কেননা যখন হাদিসের বিভিন্ন সূত্র একত্রিত করা হয়, তখন স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, এমন অনেক মুরসাল (مرسل) রয়েছে যার কোনো ভিত্তি নেই এবং অনেক মুরসাল (مرسل) রয়েছে যা মুসনাদ (مسند) বর্ণনার বিপরীত। তাই তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন যে, বিশেষ কিছু শর্ত বিদ্যমান না থাকলে তিনি মুরসাল (مرسل) গ্রহণ করবেন না, যা উসুল (أصول) শাস্ত্রের কিতাবসমূহে বর্ণিত হয়েছে।
2 - অন্যটি হলো, পরস্পর বিরোধী বর্ণনাগুলোর মধ্যে সামঞ্জস্য বিধানের নিয়মাবলী তাদের নিকট সুসংবদ্ধ ছিল না, ফলে তাদের ইজতিহাদলব্ধ বিষয়ে ত্রুটি দেখা দিত। তাই তিনি এর জন্য কিছু মূলনীতি (উসুল) প্রণয়ন করেন এবং তা একটি কিতাবে সংকলন করেন। এটিই ছিল উসুলুল ফিকহ (أصول الفقه) শাস্ত্রের প্রথম সংকলন।
এর উদাহরণ হিসেবে আমাদের নিকট পৌঁছেছে যে, তিনি মুহাম্মদ ইবনুল হাসানের নিকট প্রবেশ করলেন, তখন তিনি (মুহাম্মদ) মদিনাবাসীদের একজন সাক্ষী ও শপথের ভিত্তিতে ফয়সালা করার পদ্ধতির সমালোচনা করছিলেন এবং বলছিলেন যে, এটি আল্লাহর কিতাবের বিধানের ওপর অতিরিক্ত সংযোজন। তখন শাফিঈ বললেন: আপনার নিকট কি এটি সাব্যস্ত হয়নি যে...