(খণ্ড: ১)
যাহিরাতুত তাকাস ফিল নাহওয়িল আরাবী
(পৃষ্ঠা: -)
ظاهرة التقاص في النحو العربي القسم: النحو والصرف
الكتاب: ظاهرة التقاص في النحو العربي
المؤلف: دردير محمد أبو السعود
الناشر: الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
عدد الصفحات: 166
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আরবি ব্যাকরণে ‘তাকাস’ (পরস্পর ভারসাম্য বিধান) এর প্রপঞ্চ বিভাগ: ব্যাকরণ ও শব্দতত্ত্ব
গ্রন্থ: আরবি ব্যাকরণে ‘তাকাস’ (পরস্পর ভারসাম্য বিধান) এর প্রপঞ্চ
লেখক: দারদির মুহাম্মদ আবু আল-সুউদ
প্রকাশক: মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়
[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৬৬
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
যাহিরাতুত তাকাস ফিল নাহওয়িল আরাবী
(পৃষ্ঠা: ১৫৮)
مدْخل…ظاَهِرة التقاَصّ فِي النَّحو العرَبيَّ
للدكتور دردير مُحَمَّد أَبُو السُّعُود أستاذ مشارك بكلية اللُّغَة الْعَرَبيَّة بالجامعة
التَّقاص أسلوب من أساليب الْعَرَب، وطرفة من طرفهم، وملحة من ملح كَلَامهم، فَهُوَ يكْسب التراكيب طلاوة وتبادلاً، وَالْقَوَاعِد دقة، وَالْقِيَاس شمولا، واتساعاً، واللغة مرونة وتداخلاً، وَالْكَلَام إِحَالَة وتبدلاً وَقد أَشَارَ إِلَيْهِ بعض النُّحَاة1 فِي مصنفاتهم، وَلم يتناولوه تنَاول شُمُول وإحاطة، وَلَكِن تعرضوا لَهُ تعرض إِيمَاء وَإِشَارَة.
لذَلِك رَأَيْت أَن أعرض هَذِه الظَّاهِرَة عرضا يوقفنا عَلَيْهَا، ويجليها ويطلعنا على دورها فِي الأساليب، ويجدر بِنَا أَن نعرفها لُغَة وَاصْطِلَاحا ونستعين بِاللَّه تَعَالَى فَنَقُول:
التَّقَاصّ لُغَة: مَأْخُوذ من القص، وَالْقصاص لُغَة فِيهِ، وَهُوَ الْقَتْل بِالْقَتْلِ، أَو الْجرْح بِالْجرْحِ، أَو الْقطع بِالْقطعِ. وفى الْقَامُوس2 قاصصته مقاصة وقصاصا إِذا كَانَ لَك عَلَيْهِ دين مثل مَا لَهُ عَلَيْك، فَجعلت الدّين فِي مُقَابلَة الدّين، مَأْخُوذ من اقتصاص الْأَثر، وَمثل ذَلِك الْمَعْنى فِي الْمِصْبَاح وَالْمُخْتَار.
وَفِي اللِّسَان والتاج والمحكم3: التَّقَاصّ: هُوَ التناصف فِي الْقصاص.
قَالَ الشَّاعِر:
فرمنا الْقصاص وَكَانَ التَّقَاصّ
… حكما وعدلا على المسلمينا
فالمادة تَدور حول معنى الْقطع والتتبع.
--------------------------------------------
ভূমিকা…আরবি ব্যাকরণে তাকাস (تقاص - ভারসাম্য বিধান) এর প্রবণতা
বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি ভাষা অনুষদের সহযোগী অধ্যাপক ড. দারদির মুহাম্মদ আবু আল-সুউদ-এর পক্ষ থেকে
তাকাস (تقاص) আরবদের বাকপদ্ধতির অন্যতম একটি পদ্ধতি, তাদের এক চমৎকার কৌশল এবং তাদের ভাষার এক মাধুর্যমণ্ডিত শৈলী। এটি বাক্য গঠনকে লাবণ্য ও বিনিময় প্রদান করে, নিয়মাবলিকে সূক্ষ্মতা প্রদান করে, কিয়াস (قياس) বা তাত্ত্বিক অনুমানকে ব্যাপকতা ও সম্প্রসারণ দান করে, ভাষাকে নমনীয়তা ও আন্তঃপ্রবেশযোগ্যতা দান করে এবং বক্তব্যকে রূপান্তর ও পরিবর্তনের সক্ষমতা জোগায়। কিছু ব্যাকরণবিদ ১ তাঁদের কিতাবসমূহে এর প্রতি ইঙ্গিত করেছেন, তবে তাঁরা এটিকে বিস্তারিত ও ব্যাপক পরিসরে আলোচনা করেননি, বরং কেবল ইশারা ও ইঙ্গিতের মাধ্যমে বিষয়টি তুলে ধরেছেন।
এ কারণে আমি এই প্রবণতাটিকে এমনভাবে উপস্থাপন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি যা আমাদের এই বিষয় সম্পর্কে অবগত করবে, একে স্পষ্ট করবে এবং ভাষার শৈলী গঠনে এর ভূমিকা তুলে ধরবে। আমাদের জন্য এর শাব্দিক ও পারিভাষিক সংজ্ঞা জানা সমীচীন। আমরা মহান আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করে বলছি:
আভিধানিক দৃষ্টিতে তাকাস (تقاص): এটি ‘কাস’ (القص) শব্দ থেকে গৃহীত, আর ‘কিসাস’ (القصاص) শব্দটিও এরই একটি আভিধানিক রূপ। এর অর্থ হলো হত্যার বদলে হত্যা, ক্ষতের বদলে ক্ষত অথবা অঙ্গচ্ছেদের বদলে অঙ্গচ্ছেদ। আল-কামুস ২ গ্রন্থে বলা হয়েছে: ‘আমি তার সাথে মুকাসসাহ (مقاصة) ও কিসাস (قصاص) করেছি’ যখন তোমার কাছে তার পাওনা থাকে ঠিক যেমনটি তোমার কাছে তার পাওনা রয়েছে। ফলে তুমি এক ঋণের বিপরীতে অন্য ঋণকে সাব্যস্ত করলে। এটি ‘ইকতিসাসুল আসার’ বা পদাঙ্ক অনুসরণ থেকে গৃহীত। আল-মিসবাহ এবং আল-মুখতার গ্রন্থেও অনুরূপ অর্থ বর্ণিত হয়েছে।
লিসানুল আরব, তাজুল আরুস এবং আল-মুহকাম ৩ গ্রন্থে বলা হয়েছে: তাকাস (تقاص) হলো কিসাসের (القصاص) ক্ষেত্রে ইনসাফ বা সমতা বিধান করা।
কবি বলেন:
“আমরা কিসাস কামনা করেছি, আর তাকাস (تقاص) ছিল মুসলমানদের জন্য একটি ফয়সালা ও ন্যায়বিচার।”
সুতরাং এই শব্দমূলটি মূলত কর্তন করা এবং অনুসরণ করা—এই অর্থকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যাহিরাতুত তাকাস ফিল নাহওয়িল আরাবী
(পৃষ্ঠা: ১৫৯)
وَاصْطِلَاحا: هُوَ أَن تَأْخُذ الْكَلِمَة حكما من أُخْرَى أخذت مثله مِنْهَا تِلْكَ الْكَلِمَة الْأُخْرَى.
وَبِعِبَارَة أُخْرَى: أَن تتبادل الكلمتان حكما خَاصّا بهما. بِمَعْنى أَن تُعْطِي كل مِنْهُمَا الْأُخْرَى حكما مُسَاوِيا لما أَخَذته مِنْهَا.
وَقد تتأتى هَذِه الظَّاهِرَة بَين ألقاب الْإِعْرَاب، وفى إِبْدَال بعض الْحُرُوف من بعض، وَفِي زِيَادَة بعض الْحُرُوف.
পরিভাষায় (اصطلاحا): এটি হলো একটি শব্দ কর্তৃক অন্য একটি শব্দ থেকে এমন একটি বিধান (حكم) গ্রহণ করা, যেটির অনুরূপ বিধান সেই দ্বিতীয় শব্দটি প্রথমটি হতে গ্রহণ করেছে।
অন্য কথায়: শব্দদ্বয় তাদের মধ্যকার বিশেষ কোনো বিধানের (حكم) পারস্পরিক বিনিময় ঘটাবে। এর অর্থ হলো, তাদের প্রত্যেকটি শব্দ অপরটিকে এমন সমমানের বিধান প্রদান করবে যা সে তার নিকট থেকে ইতিপূর্বে গ্রহণ করেছে।
এই বিষয়টি ব্যাকরণিক বিশ্লেষণের (إعراب) বিভিন্ন সংজ্ঞার ক্ষেত্রে, এক বর্ণের পরিবর্তে অন্য বর্ণের বিনিময় (إبدال) এবং কিছু বর্ণের বৃদ্ধির (زيادة) ক্ষেত্রেও পরিলক্ষিত হতে পারে।
(খণ্ড: ১)
যাহিরাতুত তাকাস ফিল নাহওয়িল আরাবী
(পৃষ্ঠা: ১৫৯)
أَولا: تحقيقها بَين ألقاب الإِعراب:أما وُرُودهَا بَين ألقاب الْإِعْرَاب فقد تحقق بَين الْجَرّ وَالنّصب حَيْثُ جَاءَ الْجَرّ مَحْمُولا على النصب فِيمَا لَا ينْصَرف لشبهه بِالْفِعْلِ فِي وجود العلتين الفرعيتين أَو عِلّة تقوم مقامهما.
كَمَا حمل النصب على الْجَرّ فِي جمع الْمُؤَنَّث السَّالِم، وفى التَّثْنِيَة، وَجمع الْمُذكر السَّالِم طلبا للمقاصة1.
أما نصب جمع الْمُؤَنَّث بالكسرة فَهُوَ تَابع للجر إِجْرَاء للفرع على وتيرة الأَصْل الَّذِي هُوَ جمع الْمُذكر السَّالِم، فَإِن النصب فِيهِ تَابع للجر، لِأَنَّهُ لولم يحمل نَصبه على جَرّه للَزِمَ مزية الْفَرْع على الأَصْل2.
وَأما نصب الْمثنى فقد جَاءَ بِالْيَاءِ حملا على الْجَرّ، لِأَنَّهُ يجر بِالْيَاءِ.
وَأما حمل النصب على الْجَرّ فِي جمع الْمُذكر السَّالِم كَمَا فِي التَّثْنِيَة فلأنك لَو قلبت الْوَاو ألفا فِي النصب لأفضى ذَلِك إِلَى الالتباس بالمثنى الْمَرْفُوع3.
وَإِنَّمَا حمل النصب على الْجَرّ دون الرّفْع، لوُجُود مُنَاسبَة بَينهمَا فِي وُقُوع كل مِنْهُمَا فضلَة فِي الْكَلَام4، وَلِأَنَّهُ يُشبههُ فِي الافتقار إِلَى الْعَامِل اللَّفْظِيّ5، وَلِأَن الفتحة إِلَى الكسرة أقرب من الضمة إِلَيْهَا فَحمل على الْأَقْرَب مِنْهُ6.
وَقد علل أبوعلي الْفَارِسِي لهَذِهِ الظَّاهِرَة فِي هَذَا الْمقَام تعليلا حسنا حَيْثُ بَين أَن
--------------------------------------------
প্রথমত: ইরাবের (الإعراب) পরিভাষাগুলোর মধ্যে এগুলোর বিশ্লেষণ:ইরাবের (الإعراب) পরিভাষাগুলোর মধ্যে এগুলোর ব্যবহারের ক্ষেত্রে তা জার (الجر) ও নসবের (النصب) মধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে। সেখানে গইরে মুনসারিফ (ما لا ينصرف) শব্দগুলোর ক্ষেত্রে জারকে (الجر) নসবের (النصب) অনুগামী করা হয়েছে; কারণ এই শব্দগুলো ক্রিয়ার (الفعل) সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ, যেহেতু এতে দুটি গৌণ কারণ (العلتين الفرعيتين) অথবা এমন একটি কারণ বিদ্যমান থাকে যা দুই কারণের স্থলাভিষিক্ত হয়।
যেমনটি জমে মুয়ান্নাস সালেম (جمع المؤنث السالم), তাসনিয়া (التثنية) এবং জমে মুজাক্কার সালেমের (جمع المذكر السالم) ক্ষেত্রে সমতা (المقاصة) রক্ষার উদ্দেশ্যে নসবকে (النصب) জারের (الجر) অনুগামী করা হয়েছে ১।
জমে মুয়ান্নাস সালেমের (جمع المؤنث السالم) কাসরাহ (الكسرة) দ্বারা নসব (النصب) হওয়া মূলত জারের (الجر) অনুসারী। এটি মূলত শাখাকে (الفرع) মূলের (الأصل) তথা জমে মুজাক্কার সালেমের (جمع المذكر السالم) ধারায় পরিচালিত করার জন্য করা হয়েছে। কেননা সেখানে নসব (النصب) জারের (الجر) অনুসারী হয়। কারণ যদি সেখানে নসবকে (النصب) জারের (الجر) অনুগামী করা না হতো, তবে মূলের ওপর শাখার শ্রেষ্ঠত্ব সাব্যস্ত হতো ২।
আর মুসান্না বা দ্বিবচনের (المثنى) নসব (النصب) জারের (الجر) অনুগামী হয়ে 'ইয়া' (الياء) দ্বারা হয়েছে, কারণ এটি 'ইয়া' দ্বারা জার (الجر) প্রাপ্ত হয়।
আর তাসনিয়ার (التثنية) মতো জমে মুজাক্কার সালেমের (جمع المذكر السالم) ক্ষেত্রে নসবকে (النصب) জারের (الجر) অনুগামী করার কারণ হলো, আপনি যদি নসবের (النصب) অবস্থায় 'ওয়াও'কে (الواو) 'আলিফ' (ألفا) দ্বারা পরিবর্তন করতেন, তবে তা মারফু (المرفوع) তাসনিয়ার (المثنى) সাথে বিভ্রান্তি তৈরি করত ৩।
নসবকে (النصب) রফ' (الرفع) এর পরিবর্তে জারের (الجر) অনুগামী করা হয়েছে তাদের উভয়ের মধ্যে সামঞ্জস্য থাকার কারণে। কারণ বাক্যে তারা উভয়ই অতিরিক্ত অংশ বা ফাদলাহ (فضلة) হিসেবে ব্যবহৃত হয় ৪। এ ছাড়া শাব্দিক আমেলের (العامل اللفظي) মুখাপেক্ষী হওয়ার ক্ষেত্রেও এটি জারের সদৃশ ৫। তদুপরি, যম্মার (الضمة) তুলনায় ফাতহাহ (الفتحة) কাসরার (الكسرة) অধিক নিকটবর্তী, তাই একে নিকটবর্তীর অনুগামী করা হয়েছে ৬।
আবু আলী আল-ফারিসি এই বিষয়টি এই স্থানে চমৎকারভাবে ব্যাখ্যা করেছেন, যেখানে তিনি বর্ণনা করেছেন যে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যাহিরাতুত তাকাস ফিল নাহওয়িল আরাবী
(পৃষ্ঠা: ১৬০)
مُوَافقَة الْجَرّ النصب فِيمَا لَا ينْصَرف، كموافقة النصب الْجَرّ فِي التَّثْنِيَة وَالْجمع فَلَيْسَ الِاتِّفَاق للْبِنَاء، وَإِنَّمَا هُوَ لِاجْتِمَاع النصب والجر فِي كَونهمَا فضلتين، وَفِي كَونهمَا كاملتين بعد اسْتِعْمَال الْجُمْلَة المتضمنة للْفِعْل، أَو معنى الْفِعْل بجزئيها اللَّذين هما الْحَدث والمحدث عَنهُ، وَمن ثمَّ اتفقَا أَيْضا فِي بَاب الضَّمِير1.
وَمِمَّا يُقَوي هَذِه الظَّاهِرَة ويؤكد تحقيقها فِي هَذَا الْموضع وجود شبه بذهن عَلامَة كل من النصب والجر. فالفتحة تشبه الكسرة وَإِن اخْتلف موضعهَا. كَمَا أَن الْيَاء لَا يتَغَيَّر وَضعهَا سَوَاء أَكَانَت عَلامَة للجر، أم عَلامَة للنصب، وَإِن اخْتلفت حَرَكَة مَا قبلهَا وَمَا بعْدهَا فِي التَّثْنِيَة وَالْجمع.
--------------------------------------------
গায়র মুনসারিফ শব্দের ক্ষেত্রে নাসব-এর সাথে জার-এর সামঞ্জস্য হওয়া মূলত দ্বিবচন ও বহুবচনের ক্ষেত্রে জার-এর সাথে নাসব-এর সামঞ্জস্য হওয়ার সদৃশ। সুতরাং এই ঐক্য মূলত শব্দের অপরিবর্তনীয়তা বা গঠনগত কারণে নয়; বরং এটি নাসব ও জার উভয়টিই বাক্যের অতিরিক্ত অংশ হওয়ার কারণে এবং ক্রিয়া অথবা ক্রিয়ার অর্থ সম্বলিত বাক্যের দুটি মৌলিক অংশ—অর্থাৎ ক্রিয়া-ঘটনা এবং যার সম্পর্কে সংবাদ প্রদান করা হচ্ছে—ব্যবহারের পর তারা পূর্ণতা দানকারী হিসেবে আসার কারণে এই সামঞ্জস্য। আর একারণেই সর্বনামের পরিচ্ছেদেও তারা উভয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে।১
এই প্রবণতাকে যা শক্তিশালী করে এবং এই ক্ষেত্রে তার যথার্থতাকে নিশ্চিত করে তা হলো, নাসব ও জার—উভয় চিহ্নের মাঝেই একটি মানসিক সাদৃশ্য বিদ্যমান। কেননা ফাতহাহ মূলত কাসরাহ-এর সদৃশ, যদিও তাদের অবস্থান ভিন্ন। তদ্রূপ ‘ইয়া’ বর্ণের রূপও পরিবর্তিত হয় না, চাই তা জার-এর চিহ্ন হোক কিংবা নাসব-এর চিহ্ন, যদিও দ্বিবচন ও বহুবচনের ক্ষেত্রে এর পূর্ববর্তী ও পরবর্তী স্বরচিহ্নের পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যাহিরাতুত তাকাস ফিল নাহওয়িল আরাবী
(পৃষ্ঠা: ১৬০)
ثَانِيًا: فِي إِبْدَال بعض الْحُرُوف من بعض
إِبْدَال الْهمزَة من الْهَاء…ثَانِيًا: فِي إِبْدَال بعض الْحُرُوف من بعض:
1- إِبْدَال الْهمزَة من الْهَاء:
من حُرُوف الْإِبْدَال القياسي الْهمزَة وَالْهَاء، لِأَنَّهُمَا من حُرُوف "هدأت موطيا" وهما يتبادلان الْإِبْدَال، بِمَعْنى أَن الْهَاء قد تبدل همزَة، كَمَا أَن الْهمزَة قد تبدل هَاء.
فإبدال الْهمزَة من الْهَاء يكون فِي الِاسْم والحرف.
فإبدالها من الْهَاء فِي الِاسْم جَاءَ فِي قَوْلهم: مَاء وَشاء2. وَالْأَصْل موه وشوه. قلبت الْوَاو ألفا، وأبدلت الْهمزَة هَاء.
وَكَذَلِكَ جَاءَ فِي الْجمع. قَالُوا فِي جمع مَاء: أمواء، وَالْأَصْل أمواه، وَإِذا ثَبت أَن أَصْلهَا هَاء، ثَبت أَن الْهمزَة مبدلة عَنْهَا قَالَ الشَّاعِر:
وبلدة قالصة أمواؤها
… مَا صِحَة رأد الضُّحَى أفياؤها3
وَالدَّلِيل على أَن هَذِه الْهمزَة مبدلة من الْهَاء، رُجُوعهَا فِي التصغير والتكثير، قَالُوا فِي تَصْغِير مَاء مُوَيه، وَفِي جمعه مياه وأمواه. والتصغير والتكثير يردان الْأَشْيَاء إِلَى أُصُولهَا.
وَقد أكد ابْن عُصْفُور إِبْدَال الْهمزَة من الْهَاء بقوله: "وَإِنَّمَا جعلت الْهَاء هِيَ الأَصْل،
--------------------------------------------
দ্বিতীয়ত: এক বর্ণের পরিবর্তে অন্য বর্ণের রূপান্তর (إبدال) প্রসঙ্গে
'হা' (هـ) এর পরিবর্তে 'হামজা' (أ) এর রূপান্তর (إبدال)…দ্বিতীয়ত: এক বর্ণের পরিবর্তে অন্য বর্ণের রূপান্তর (إبدال) প্রসঙ্গে:
1- 'হা' (هـ) এর পরিবর্তে 'হামজা' (أ) এর রূপান্তর (إبدال):
নিয়মতান্ত্রিক রূপান্তরের (الإبدال القياسي) বর্ণসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো 'হামজা' ও 'হা', কারণ এই উভয় বর্ণ "هدأت موطيا" বাক্যটির অন্তর্গত। এই বর্ণ দুটি একে অপরের স্থলাভিষিক্ত হয়, অর্থাৎ 'হা' বর্ণটি যেমন 'হামজা' দ্বারা রূপান্তরিত (إبدال) হতে পারে, তেমনি 'হামজা' বর্ণটিও 'হা' বর্ণে রূপান্তরিত হতে পারে।
'হা' এর পরিবর্তে 'হামজা'র এই রূপান্তর (إبدال) বিশেষ্য (اسم) এবং অব্যয় (حرف) উভয় ক্ষেত্রেই ঘটে থাকে।
বিশেষ্যের ক্ষেত্রে 'হা' থেকে 'হামজা'র রূপান্তরের উদাহরণ তাদের (আরবদের) এই উক্তিতে পাওয়া যায়: মা-উন (ماء) এবং শা-উন (شاء)। এর মূল রূপ ছিল 'মাওয়াহ্' (موه) এবং 'শাওয়াহ্' (شوه)। (এখানে) 'ওয়াও' বর্ণটি 'আলিফ'-এ পরিবর্তিত হয়েছে এবং 'হা' বর্ণটি 'হামজা' দ্বারা রূপান্তরিত (إبدال) হয়েছে।
অনুরূপভাবে এটি বহুবচনের (جمع) ক্ষেত্রেও পরিলক্ষিত হয়। তারা 'মা-উন' এর বহুবচন হিসেবে 'আমওয়া' (أمواء) ব্যবহার করেন, যার মূল ছিল 'আমওয়াহ' (أمواه)। আর যখন এটি প্রমাণিত হলো যে এর মূল রূপটি 'হা' (هـ) সংবলিত, তখন এটিও প্রমাণিত হয় যে (বর্তমান) 'হামজা'টি তারই একটি রূপান্তরিত (مبدلة) রূপ। কবি বলেছেন:
এমন এক জনপদ যার জলাশয়গুলো (أمواؤها) সংকুচিত হয়ে গেছে... পূর্বাহ্ণের প্রখরতায় যার ছায়াগুলো কেমন (স্থির থাকে না)?
…এই 'হামজা'টি যে 'হা' থেকে রূপান্তরিত (مبدلة) হয়েছে তার প্রমাণ হলো ক্ষুদ্রার্থবোধক শব্দ (تصغير) এবং বহুবচন (تكثير) গঠনে এর আদি রূপে ফিরে যাওয়া। তারা 'মা-উন' এর ক্ষুদ্রার্থবোধক শব্দে 'মুওয়াইহ' (مُوَيه) এবং এর বহুবচনে 'মিয়াহ' (مياه) ও 'আমওয়াহ' (أمواه) ব্যবহার করেন। আর ক্ষুদ্রার্থবোধক শব্দ (تصغير) ও বহুবচন (تكثير) কোনো বিষয়কে তার মূলের (أصول) দিকেই ফিরিয়ে নিয়ে যায়।
ইবনে উসফুর 'হা' এর পরিবর্তে 'হামজা'র রূপান্তরকে (إبدال) এই বলে জোরালোভাবে সমর্থন করেছেন: "মূলত 'হা' বর্ণটিকেই মূল (أصل) হিসেবে গণ্য করা হয়েছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যাহিরাতুত তাকাস ফিল নাহওয়িল আরাবী
(পৃষ্ঠা: ১৬১)
لِأَن أَكثر تصاريف الْكَلِمَة عَلَيْهَا، قَالُوا: أمواه ومياه وماهت الرَّكية1. إِلَى غير ذَلِك من تصاريفها"2
وَكَذَلِكَ ورد إِبْدَال الْهمزَة من الْهَاء فِي قَوْلك: (آل) 3، وأصل آل: أهل فأبدلت الْهَاء همزَة فَقيل: أَأْل، ثمَّ أبدلت الثَّانِيَة ألفا لسكونها إِثْر فتح فَقيل: آل، كَمَا قَالُوا آدم وَآخر فِي الِاسْم، وآمن وآثر فِي الْفِعْل، وَالْأَصْل: أأْدم وأَأخر، وأَأمن وأَأَْثر.
وَالدَّلِيل على أَن أصل آل: أهل قَول الْجَمَاعَة فِي التصغير: أُهَيْل، وَلَو كَانَت الْألف منقلبة عَن غير هَاء- أَي عَن وَاو- لقيل فِي تصغيره (أُوَيل) . وَقد اخْتَار هَذَا الرَّأْي يُونُس4.
وَمِمَّا يُؤَكد أَن الْهمزَة فِي (آل) أَصْلهَا هَاء الْإِضَافَة إِلَى الضَّمِير، فقد قَالُوا أهلك وَأَهله كثيرا، لِأَن الضَّمِير يرد الْأَشْيَاء إِلَى أُصُولهَا. ولَا يُقَال: آلك وَآله إِلَّا قَلِيلا، وَذَلِكَ مثل قَول عبد الْمطلب جد النَّبِي صلى الله عليه وسلم:
وانصر على دين الصليـ
… ـب وعابديه الْيَوْم آلَكْ5
وَقَول الآخر:
أَنا الرجل الحامي حَقِيقَة وَالِدي
… آلي كَمَا تَحْمِي حَقِيقَة آلكا6
وَنَحْو قَول الْكِنَانِي: "رجل من آلك وَلَيْسَ مِنْك "7.
وَجَاء إِبْدَال الْهمزَة من الْهَاء- أَيْضا- فِي اسْم الْإِشَارَة حَيْثُ إِنَّهُم قَالُوا فِي هَذَا آذا. وَجَاء على ذَلِك قَول الشَّاعِر:
فَقَالَ فريق: آأذا إِذْ نحوتهم
… نعم وفريق لَا يمُنُ الله مَا نَدْرِي8
أَرَادَ: أَهَذا، فقلبت الْهَاء همزَة، ثمَّ فصل بَين الهمزتين بِأَلف، وأبدلت كَذَلِك فِي غير اسْم الْإِشَارَة، مثل قَوْلهم: الْأَزَل والهزل، وَهُوَ مأزول ومهزول9.
وَأما إبدالها فِي الْحَرْف فقد ورد فِي: هَلْ وهَلَاّ. فَقَالُوا: ألْ فعلت كَذَا؟ يُرِيدُونَ هَل
--------------------------------------------
কারণ শব্দের অধিকাংশ রূপান্তর এর ওপর ভিত্তি করেই হয়ে থাকে। ভাষাবিদগণ বলেন: আমওয়াহ, মিয়াহ এবং মাহাত আল-রাকিয়্যাহ (অর্থাৎ কুয়ার পানি প্রকাশিত ও বৃদ্ধি পেয়েছে)। এ ছাড়াও এর আরও বিভিন্ন রূপান্তর রয়েছে।"২
একইভাবে 'আ-ল' শব্দের ক্ষেত্রে 'হা' বর্ণের পরিবর্তে 'হামজা' এর স্থলাভিস্থিক্ত হওয়ার প্রয়োগ বর্ণিত হয়েছে। 'আ-ল' এর মূল রূপ হলো 'আহল'; ফলে 'হা' বর্ণটিকে 'হামজা' দ্বারা পরিবর্তন করে 'আ-আল' বলা হয়েছে। অতঃপর দ্বিতীয় 'হামজা' টি সাকিন এবং তার পূর্ববর্তী বর্ণ জবরযুক্ত হওয়ায় সেটিকে 'আলিফ' দ্বারা পরিবর্তন করা হয়েছে, ফলে তা 'আ-ল' এ পরিণত হয়েছে। যেমনটি বিশেষ্যের ক্ষেত্রে তারা 'আদম' ও 'আখর' এবং ক্রিয়ার ক্ষেত্রে 'আমানা' ও 'আছারা' বলে থাকেন। এগুলোর মূল রূপ ছিল যথাক্রমে: 'আঅদাম', 'আঅখার', 'আঅমানা' এবং 'আঅছারা'।
'আ-ল' শব্দের মূল যে 'আহল', তার প্রমাণ হলো ক্ষুদ্রার্থবোধক শব্দ গঠনের ক্ষেত্রে ভাষাবিদদের ঐক্যবদ্ধ অভিমত; তারা একে 'উহায়ল' বলেন। যদি 'আলিফ' বর্ণটি 'হা' ব্যতীত অন্য কোনো বর্ণ—যেমন 'ওয়াও'—থেকে পরিবর্তিত হতো, তবে এর ক্ষুদ্রার্থবোধক রূপ হতো 'উওয়ায়ল'। ইউনুস এই মতটিই গ্রহণ করেছেন।৪
'আ-ল' শব্দের 'হামজা' টি যে মূলত 'হা' ছিল, তা সর্বনামের দিকে সম্বন্ধযুক্ত হওয়ার প্রয়োগের মাধ্যমেও সুনিশ্চিত হয়। তারা সচরাচর 'আহলুকা' এবং 'আহলুহু' প্রচুর ব্যবহার করে থাকেন, কারণ সর্বনাম কোনো শব্দকে তার মূল রূপের দিকে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। পক্ষান্তরে 'আলুকা' বা 'আলুহু' খুব কমই বলা হয়। যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দাদা আব্দুল মুত্তালিবের উক্তিতে পাওয়া যায়:
আজ ক্রুশের অনুসারী ও তার পূজারীদের বিরুদ্ধে আপনার পরিবারকে
… সাহায্য করুন।৫
এবং অন্য কবির উক্তি:
আমি সেই ব্যক্তি যে তার পিতার সম্মান রক্ষা করে
… আমি আমার পরিবারকে রক্ষা করি যেমনটি তুমি তোমার পরিবারকে রক্ষা করো।৬
এবং কিনানি এর উক্তির ন্যায়: "এক ব্যক্তি তোমার পরিবারভুক্ত, কিন্তু সে তোমার আদর্শের অনুসারী নয়।"৭
নির্দেশক বিশেষ্যের ক্ষেত্রেও 'হা' এর পরিবর্তে 'হামজা' এর স্থলাভিষিক্ত হওয়ার উদাহরণ পাওয়া যায়; তারা 'হাযা' এর স্থলে 'আ-যা' বলে থাকে। এ বিষয়ে কবির উক্তি হলো:
একদল লোক বলল: 'এটিই কি সেই?' যখন আমি তাদের অভিমুখে গেলাম
… তারা বলল: 'হ্যাঁ', আর অন্য একদল বলল: 'আল্লাহর কসম, আমরা জানি না'।৮
এখানে তিনি 'আ-হাযা' বুঝিয়েছেন, যেখানে 'হা' বর্ণটি 'হামজা' তে রূপান্তরিত হয়েছে। অতঃপর দুই 'হামজা' এর মাঝখানে একটি 'আলিফ' দ্বারা ব্যবধান করা হয়েছে। নির্দেশক বিশেষ্য ছাড়াও অন্য ক্ষেত্রে এমন পরিবর্তন দেখা যায়, যেমন তাদের উক্তি: 'আল-আযাল' ও 'আল-হাযাল', এবং 'মা'যুল' ও 'মাহযুল'।৯
আর অব্যয়ের ক্ষেত্রে এর পরিবর্তন 'হাল' এবং 'হাল্লা' শব্দে পাওয়া যায়। তারা বলেন: 'আল' (অর্থাৎ হাল) তুমি কি এমনটি করেছো? এখানে তারা 'হাল' শব্দটিকে বুঝিয়েছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যাহিরাতুত তাকাস ফিল নাহওয়িল আরাবী
(পৃষ্ঠা: ১৬২)
فعلت كَذَا؟ حكى ذَلِك قطرب1 عَن أبي عُبَيْدَة. وَقَالُوا: ألَاّ فعلت يُرِيدُونَ هلَاّ فعلت.
والإبقاء على الأَصْل فِي (هَل) هُوَ الْأَكْثَر، بيد أَن الْهمزَة وَالْهَاء فِي ألَاّ وهلا سَوَاء.
وَقد عدهما بعض النَّحْوِيين2 من حُرُوف التحضيض، كَمَا ذهب غَيرهمَا إِلَى أَنَّهُمَا مادتان مستقلتان3. فالهمزة أَصْلِيَّة فِي (ألَاّ) كَمَا أَن الْهَاء أَصْلِيَّة فِي (هلَاّ) بِخِلَاف (هَل وأل) فَإِن الِاسْتِفْهَام بهما لَيْسَ على دَرَجَة وَاحِدَة، لِكَثْرَة الِاسْتِفْهَام ووضوحه بهل، وندرته بألْ.
وَجَاء إِبْدَال الْهمزَة من الْهَاء- فِي غير مَا تقدم- على قلَّة فِي اسْم الْفِعْل4. قَالُوا فِي هَيْهَات: أيهات.
فإبدال الْهمزَة من الْهَاء إِبْدَال قياسي، وهما من مخرج وَاحِد. وكونهما من مخرج وَاحِد جدير بِأَن يُقَوي هَذَا الْإِبْدَال ويؤكده.
قَالَ الصَّيْمَرِيّ: "قلبت الْهَاء همزَة، لِأَنَّهَا من مخرج الْهَاء، وَهِي أقوى مِنْهَا فِي الصَّوْت "5.
وَلَكِن ابْن يعِيش6 ذهب إِلَى أَن هَذَا الْإِبْدَال إِنَّمَا تمّ لضرب من التَّقَاصّ. وَذَلِكَ لِكَثْرَة إِبْدَال الْهَاء من الْهمزَة على الْعَكْس.
وَذَلِكَ أَمر يقتضينا الْإِشَارَة إِلَى إِبْدَال الْهَاء من الْهمزَة- عكس مَا تقدم- حَتَّى نلم بأطراف الْمَسْأَلَة. ونؤكد الظَّاهِرَة الَّتِي ارتضاها ابْن يعِيش.
--------------------------------------------
তুমি কি এরূপ করেছ? কুতরুব এটি আবু উবায়দাহ থেকে বর্ণনা করেছেন। তারা বলেন: "আলা (ألَاّ) কি তুমি করলে?" বলতে তারা "হালা (هلَاّ) কি তুমি করলে?" বুঝিয়েছেন।
'হাল' (هَل)-এর ক্ষেত্রে মূল রূপটি বজায় রাখাই অধিক প্রচলিত, তবে 'আলা' (ألَاّ) ও 'হালা' (هلَاّ) এর মধ্যে হামজা এবং হা উভয়ই সমান।
কোনো কোনো ব্যাকরণবিদ এদেরকে উৎসাহব্যঞ্জক অব্যয় (حروف التحضيض) হিসেবে গণ্য করেছেন, যেমনটি অন্যান্যের অভিমত হলো যে তারা দুটি স্বতন্ত্র মূল শব্দ। 'আলা' (ألَاّ)-তে হামজা বর্ণটি মৌলিক, যেমনটি 'হালা' (هلَاّ)-তে হা বর্ণটি মৌলিক; যা 'হাল' ও 'আল'-এর বিপরীত। কেননা এই দুটির মাধ্যমে প্রশ্নবোধক হওয়ার বিষয়টি একই পর্যায়ের নয়; 'হাল' দ্বারা প্রশ্ন করা বহুল প্রচলিত ও স্পষ্ট, যেখানে 'আল' দ্বারা এর ব্যবহার বিরল।
উপরোক্ত ক্ষেত্রসমূহ ব্যতীত ক্রিয়া-বিশেষ্যের (اسم الفعل) ক্ষেত্রেও অল্প পরিমানে 'হা' বর্ণের স্থলে 'হামজা' দ্বারা স্থলাভিষিক্তকরণ (إبدال) পরিলক্ষিত হয়। যেমন 'হায়হাতা' (هَيْهَات)-এর পরিবর্তে তারা 'আয়হাতা' (أيهات) বলেন।
সুতরাং 'হা' বর্ণের স্থলে 'হামজা'-এর স্থলাভিষিক্তকরণ একটি বিধিসম্মত পরিবর্তন (إبدال قياسي), এবং এ দুটি বর্ণ একই মাখরাজ (مخرج) থেকে উৎপন্ন। এদের উভয়ের মাখরাজ এক হওয়া এই পরিবর্তনকে শক্তিশালী ও সুদৃঢ় করতে সহায়তা করে।
আস-সাইমারি বলেন: "'হা' বর্ণটি হামজাতে রূপান্তরিত হয়েছে, কারণ এটি 'হা'-এর মাখরাজ (مخرج) থেকেই উচ্চারিত হয় এবং এটি শব্দের দিক থেকে সেটির চেয়েও অধিক শক্তিশালী।"
তবে ইবনে ইয়াইশ মনে করেন যে, এই স্থলাভিষিক্তকরণ (إبدال) মূলত এক প্রকার ভারসাম্য রক্ষার জন্য হয়েছে। কারণ এর বিপরীতে হামজার স্থলে হা-এর স্থলাভিষিক্তকরণের (إبدال) আধিক্য পরিলক্ষিত হয়।
বিষয়টি আমাদের এই প্রসঙ্গের বিপরীত দিকটি অর্থাৎ হামজার স্থলে হা-এর স্থলাভিষিক্তকরণের (إبدال) প্রতি নির্দেশ করতে উদ্বুদ্ধ করে, যাতে আমরা মাসআলাটির (مسألة) সকল দিক অবগত হতে পারি এবং ইবনে ইয়াইশ যে বিষয়টিকে সমর্থন করেছেন তা সুদৃঢ় করতে পারি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যাহিরাতুত তাকাস ফিল নাহওয়িল আরাবী
(পৃষ্ঠা: ১৬২)
2-
إِبْدَال الْهَاء من الْهمزَة:ذهب ابْن الْأَنْبَارِي وَابْن عُصْفُور وَابْن يعِيش إِلَى أَن الْهَاء تبدل من الْهمزَة فِي مَوَاضِع كَثِيرَة من كَلَام الْعَرَب7. وَهَذَا الْإِبْدَال وَارِد فِي الِاسْم وَالْفِعْل والحرف.
(أ) إبدالها فِي الِاسْم:
أما إبدالها فِي الِاسْم فقد ورد فِي: إياك. قَالُوا: هياك. قَالَ الشَّاعِر:
فهياك وَالْأَمر الَّذِي إِن توسعت
… موارده ضَاقَتْ عَلَيْك مصادره8
--------------------------------------------
২-
হামজা (الهمزة)-র পরিবর্তে হা (الهاء)-এর প্রতিস্থাপন (إبدال):ইবনুল আনবারি, ইবনে উসফুর এবং ইবনে ইয়ায়িশ এই মত পোষণ করেছেন যে, আরবদের বক্তব্যে অনেক স্থানে হামজা (الهمزة)-র পরিবর্তে হা (الهاء) প্রতিস্থাপিত (إبدال) হয়। আর এই প্রতিস্থাপন (إبدال) বিশেষ্য (اسم), ক্রিয়া (فعل) এবং অব্যয় (حرف)-এর ক্ষেত্রে পরিলক্ষিত হয়।
(ক) বিশেষ্যের ক্ষেত্রে এর প্রতিস্থাপন (إبدال):
বিশেষ্যের ক্ষেত্রে এর প্রতিস্থাপন (إبدال) 'ইইয়াকা' (إياك) শব্দের মধ্যে বর্ণিত হয়েছে। তারা বলেন: 'হিয়্যাকা' (هياك)। কবি বলেছেন:
সুতরাং তুমি সেই বিষয় থেকে সতর্ক থাকো (হিয়্যাকা) যার প্রবেশপথগুলো প্রশস্ত হলেও
… নির্গমনপথগুলো তোমার জন্য সংকীর্ণ হয়ে পড়ে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যাহিরাতুত তাকাস ফিল নাহওয়িল আরাবী
(পৃষ্ঠা: ১৬৩)
وَقَالَ الآخر:1
يَا خَال هلا قلت إِذْ أَعْطَيْتنِي
… هياك هياك وحنواء الْعُنُق2
كَمَا ورد قَوْلهم: هِبْرِيَّة، وَالْأَصْل فِيهِ: إبرية، وَهُوَ الحزاز فِي الرَّأْس.
وَقَالُوا فِي مهيمن، أَصله: مؤيمن فأبدلت الْهمزَة هَاء3.
(ب) إبدالها فِي الْفِعْل:
وَأما إبدالها فِي الْفِعْل فقد ورد فِي قَوْلهم: أنرت الثَّوْب، وأرحت الْمَاشِيَة وأرقت المَاء، وَأَرَدْت الشَّيْء، فأبدلوا فِي الْجَمِيع الْهَاء من الْهمزَة فَقَالُوا: هنرت الثَّوْب، وهرحت الْمَاشِيَة، وهرقت المَاء، وهردت الشَّيْء. وَذَلِكَ لاتِّفَاقهمَا مخرجا لِأَنَّهُمَا من أقْصَى الْحلق4.
(جـ) إبدالها فِي الْحَرْف:
وَأما إبدالها فِي الْحَرْف فقد ورد فِي همزَة إِنَّ الْمُؤَكّدَة، وإنْ الشّرطِيَّة، وأيَا فِي النداء، وَفِي همزَة الِاسْتِفْهَام، وَإِلَيْك بَيَان ذَلِك.
جَاءَ إِبْدَال الْهَاء من همزَة إِنَّ الْمُشَدّدَة الْمَكْسُورَة مَعَ اللَّام. وَذَلِكَ على طَرِيق اللُّزُوم حَيْثُ قَالُوا: يهَنَّكَ قَائِم، قَالَ الشَّاعِر:
أَلا يَا سنا برق على قُلَل الْحِمْيَ
… لَهِنَّك من برق عَلَيَّ كريم5
وَكَذَلِكَ أبدلت من همزَة (إِنْ) الشّرطِيَّة6 مثل قَوْلهم: هِنْ فعلت. تُرِيدُ: إِنْ فعلت. وَهِي لُغَة
طَيء7.
وَأما إبدالها من همزَة (أَيَا) فِي النداء فَفِي قَوْلهم: هيا وأيا، وَإِن كَانَ أيا أَكثر من هيا. قَالَ الشَّاعِر:
وانصرفت وَهِي حَصَان مُغضبة
… وَرفعت بصوتها هَيَا أَبه8
--------------------------------------------
যথা অন্য এক কবি বলেছেন:১
হে মামা, আপনি যখন আমাকে (দান) দিয়েছিলেন তখন কেন বললেন না
… হিয়াক হিয়াক (হেই হেই) এবং বক্র ঘাড়বিশিষ্ট উট।২
যেমন তাদের একটি উক্তি বর্ণিত হয়েছে: ‘হিবরিয়্যাহ’ (هبرية), যার মূল (أصل) হলো: ‘ইবরিয়্যাহ’ (إبرية), আর তা হলো মাথার খুশকি (الحزاز في الرأس)।
এবং তারা ‘মুহাইমিন’ (مهيمن) শব্দের ক্ষেত্রে বলেছেন যে, এর মূল (أصل) হলো: ‘মুআইমিন’ (مؤيمن), ফলে হামযাহ-কে ‘হা’ দ্বারা পরিবর্তন (إبدال) করা হয়েছে।৩
(খ) ক্রিয়ার ক্ষেত্রে এর পরিবর্তন (إبدال):
আর ক্রিয়ার ক্ষেত্রে এর পরিবর্তনের (إبدال) বিষয়টি তাদের এই উক্তিগুলোতে বর্ণিত হয়েছে: ‘অনারতুস সাওবা’ (আমি কাপড়টি আলোকিত করলাম), ‘অরাহতুল মাশিয়াতা’ (আমি গবাদিপশুকে বিশ্রাম দিলাম), ‘অরকতুল মা-আ’ (আমি পানি ঢাললাম) এবং ‘অরদতুশ শাইআ’ (আমি বিষয়টি ইচ্ছা করলাম)। তারা এই সবগুলোতে হামযাহ-এর পরিবর্তে ‘হা’ ব্যবহার করে বলেছেন: ‘হনারতুস সাওবা’, ‘হরাহতুল মাশিয়াতা’, ‘হরিকতুল মা-আ’ এবং ‘হরাদতুশ শাইআ’। আর তা করা হয়েছে তাদের উভয়ের উচ্চারণস্থল (مخرج) এক হওয়ার কারণে, কারণ তারা উভয়েই কণ্ঠনালীর শেষ প্রান্ত (أقصى الحلق) থেকে উচ্চারিত হয়।৪
(গ) অব্যয়ের (حرف) ক্ষেত্রে এর পরিবর্তন (إبدال):
আর অব্যয়ের (حرف) ক্ষেত্রে এর পরিবর্তনের (إبدال) বিষয়টি তাকিদবোধক ‘ইন্না’ (إنَّ), শর্তবোধক (شرط) ‘ইন’ (إنْ), আহ্বানের (نداء) ক্ষেত্রে ‘আয়া’ (أيا) এবং প্রশ্নবোধক হামযাহ-এর ক্ষেত্রে বর্ণিত হয়েছে; নিচে এর বিবরণ দেওয়া হলো:
লাম-সহ কাসরাযুক্ত তাশদীদবিশিষ্ট ‘ইন্না’ (إنَّ)-এর হামযাহ থেকে ‘হা’-এর পরিবর্তন (إبدال) এসেছে। আর এটি একটি অপরিহার্য পদ্ধতি হিসেবে ব্যবহৃত হয় যখন তারা বলে: ‘লহিন্নাকা কায়িমুন’ (নিশ্চয়ই তুমি দণ্ডায়মান)। কবি বলেছেন:
ওহে হিমইয়ার পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত বিদ্যুতের আভা
… নিশ্চয়ই তুমি আমার কাছে এক সম্মানিত বিদ্যুৎ।৫
অনুরূপভাবে শর্তবোধক (شرط) ‘ইন’ (إنْ) এর হামযাহ থেকেও এটি পরিবর্তিত হয়েছে৬ যেমন তাদের উক্তি: ‘হিন ফআলতা’ (হিন فعلت)। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: ‘ইন ফআলতা’ (যদি তুমি করো)। আর এটি ত্বাই (طيء) গোত্রের উপভাষা।৭
আর আহ্বানের (نداء) শব্দ ‘আয়া’ (أيا)-এর হামযাহ থেকে ‘হা’-তে পরিবর্তনের বিষয়টি তাদের উক্তি ‘হায়া’ (هيا) এবং ‘আয়া’ (أيا)-তে পাওয়া যায়, যদিও ‘আয়া’ শব্দটি ‘হায়া’ অপেক্ষা অধিক ব্যবহৃত। কবি বলেছেন:
এবং সে সতী-সাধ্বী ও রাগান্বিত অবস্থায় ফিরে গেল
… এবং উচ্চস্বরে ডাকল, হে আমার পিতা (হায়া আাবাহ)।৮
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যাহিরাতুত তাকাস ফিল নাহওয়িল আরাবী
(পৃষ্ঠা: ১৬৪)
وإبدالها من همزَة الِاسْتِفْهَام فِي مثل قَوْلهم: هَزَيْدُ منطلقٌ. يُرِيدُونَ: أَزِيد منطلق. وَأنْشد الْفراء:
وأتى صواحبها فَقُلْنَ: هَذَا الَّذِي
… منح الْمَوَدَّة غَيرنَا وجفانا1
يُرِيدُونَ: أذا الَّذِي. بإبدال الْهَاء من الْهمزَة. فإبدال الْهَاء من الْهمزَة مَقْصُور على السماع- كَمَا بَينا- غير أَن ابْن يعِيش2جعله كثيرا، وقاس عَلَيْهِ إِبْدَال الْهمزَة من الْهَاء، وَجعله ضربا من التَّقَاصّ. أَي أَن كل وَاحِد مِنْهُمَا أَخذ حكما أَخذه مِنْهُ الآخر. فإبدال الْهمزَة من الْهَاء، تمّ لِأَن الْهَاء أبدلت من الْهمزَة. فَكل مِنْهُمَا فعل بِالْآخرِ مثل مَا فعل الآخر بِهِ، وَهَذَا الضَّرْب هُوَ الَّذِي عرف لَدَى النُّحَاة بالتقاص، وارتضوه سمة لهَذِهِ الظَّاهِرَة، ومصطلحا لهَذِهِ الْقَاعِدَة.
--------------------------------------------
এবং প্রশ্নবোধক হামযাহ (همزة الاستفهام)-এর পরিবর্তে এর স্থলাভিষিক্ত হওয়া, যেমন তাদের কথা: "হাযাইদুন মুনতালিকুন" (হাযাইদ কি প্রস্থানকারী?)। তারা মূলত "আ-যাইদুন মুনতালিকুন" বুঝিয়েছেন। আল-ফাররা আবৃত্তি করেছেন:
তার সঙ্গীরা এল এবং বলল: "হাযাল্লাযী (এই কি সেই যে)...
... আমাদের পরিবর্তে অন্যদের প্রতি ভালোবাসা উজাড় করে দিয়েছে এবং আমাদের প্রতি রূঢ়তা দেখিয়েছে।"১
তারা মূলত "আ-যাল্লাযী" বুঝিয়েছেন, যেখানে হামযাহ-এর পরিবর্তে 'হা' (هاء) বর্ণটির স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে। সুতরাং হামযাহ-এর পরিবর্তে 'হা'-এর এই ব্যবহার কেবল শ্রুতি-নির্ভর (سماع)-এর ওপর সীমাবদ্ধ—যেমনটি আমরা ইতিপূর্বে স্পষ্ট করেছি—তবে ইবনে ইয়ায়িশ২ একে ব্যাপক (كثير) হিসেবে গণ্য করেছেন এবং এর ওপর ভিত্তি করে 'হা'-এর পরিবর্তে হামযাহ-এর ব্যবহারকে অনুমান বা তুলনা (قياس) করেছেন এবং একে 'তাকাস' বা পারস্পরিক সমতা (تقاص)-এর একটি প্রকার হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন। অর্থাৎ, তাদের প্রত্যেকটি অন্যটির কাছ থেকে বিধান গ্রহণ করেছে। সুতরাং 'হা'-এর পরিবর্তে হামযাহ-এর স্থলাভিষিক্ত হওয়াটি সম্ভব হয়েছে কারণ হামযাহ-এর পরিবর্তে 'হা' স্থলাভিষিক্ত হয়েছিল। ফলে প্রত্যেকেই অপরের সাথে ঠিক তেমনই আচরণ করেছে যেমনটি অপরটি তার সাথে করেছিল। আর এই প্রকারটিই বৈয়াকরণদের (نحاة) নিকট 'তাকাস' (تقاص) নামে পরিচিত, এবং তারা এই বিষয়টিকে এই বৈশিষ্ট্যের নিদর্শন এবং এই নিয়মের জন্য পারিভাষিক শব্দ (مصطلح) হিসেবে গ্রহণ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যাহিরাতুত তাকাস ফিল নাহওয়িল আরাবী
(পৃষ্ঠা: ১৬৪)
3-
قلب الْهمزَة واواً:تبين لنا مِمَّا تقدم أَن ظَاهِرَة التَّقَاصّ تتأتى فِي إِبْدَال الْهمزَة من الْهَاء، وإبدال الْهَاء من الْهمزَة. ونبين الْآن وُرُودهَا بَين الْوَاو والهمزة، ويتحقق ذَلِك فِي إِبْدَال كل مِنْهُمَا من الآخر. فالهمزة تقلب واواً، كَمَا أَن الْوَاو تقلب همزَة، ويتضح ذَلِك على النَّحْو التَّالِي:
(أ) قلب الْهمزَة واواً:
تبدل الْهمزَة واواً فِي عدَّة مَوَاضِع هِيَ3:
ا- أَن تكون الْهمزَة للتأنيث، فَإِنَّهَا تبدل واواً باطراد على سَبِيل اللُّزُوم فِي التَّثْنِيَة وَالْجمع بِالْألف وَالتَّاء وَالنّسب. فَتَقول فِي صحراء وعشراء ونفساء: صحراوين وعشراوين ونفساوين، وصحراوات وعشراوات ونفساوات، وصحراويّ وعشراويّ ونفساوي.
2- أَن تكون الْهمزَة قبل الْألف فِي الْجمع الَّذِي لَا نَظِير لَهُ فِي الْآحَاد، بِشَرْط أَن يكتنف ألف الْجمع همزتان، وَذَلِكَ نَحْو: ذوائب فِي جمع ذؤابة. أَصله ذآئب، فأبدلت الْهمزَة واواً هروباً من ثقل اجْتِمَاع الهمزتين وَالْألف، وَهَذَا الْإِبْدَال اطرادي لَازم.
3- أَن تقع الْهمزَة لاماً لجمع على مفاعل وَقد سلمت فِي الْمُفْرد، وَذَلِكَ مثل: هِراوة، قَالُوا فِي جمعه هراوي، بإبدال الْهمزَة واوا ليشكل الْجمع مفرده.
4- أَن تلتقي همزتان فِي كلمة وتسكن الثَّانِيَة بعد ضم. فَإِنَّهَا يجب إبدالها واواً. وَذَلِكَ
--------------------------------------------
৩-
হামজাকে ওয়াও-এ রূপান্তর (قلب الهمزة واواً):পূর্বালোচনায় আমাদের নিকট এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, পারস্পরিক বিনিময়ের বৈশিষ্ট্য (ظاهرة التقاص) হামজাকে হা-এর পরিবর্তে এবং হা-কে হামজার পরিবর্তে পরিবর্তন (إبدال) করার ক্ষেত্রে পরিলক্ষিত হয়। এখন আমরা ওয়াও এবং হামজার মধ্যবর্তী সম্পর্কের বিষয়টি বর্ণনা করব; যা একে অপরের পরিবর্তে পরিবর্তনের (إبدال) মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়। এক্ষেত্রে হামজাকে ওয়াও-এ রূপান্তর (قلب) করা হয়, ঠিক যেমন ওয়াও-কে হামজায় রূপান্তর (قلب) করা হয়। বিষয়টি নিম্নোক্ত পদ্ধতিতে স্পষ্ট হবে:
(ক) হামজাকে ওয়াও-এ রূপান্তর (قلب الهمزة واواً):
কয়েকটি স্থানে হামজাকে ওয়াও দ্বারা পরিবর্তন (تبدل) করা হয়, সেগুলো হলো:
১- হামজাটি যদি স্ত্রীলিঙ্গবাচক (للتأنيث) হয়, তবে দ্বিবচন (تثنية), আলিফ ও তা যোগে বহুবচন (الجمع بالألف والتاء) এবং সম্বন্ধসূচক বিশেষ্য (نسب) গঠনের ক্ষেত্রে নিয়মিতভাবে (باطراد) ও আবশ্যিকভাবে (على سبيل اللزوم) তা ওয়াও দ্বারা পরিবর্তিত হয়। যেমন আপনি সাহরা, উশারা এবং নুফাসা-এর ক্ষেত্রে বলবেন: সাহরাওয়াইন, উশারাওয়াইন ও নুফাসাওয়াইন; এবং সাহরাওয়াত, উশারাওয়াত ও নুফাসাওয়াত; আর সাহরাওয়ি, উশারাওয়ি ও নুফাসাওয়ি।
২- হামজাটি যদি এমন বহুবচনের (جمع) আলিফের পূর্বে থাকে যার একবচনে (آحاد) কোনো সমরূপ নেই, তবে শর্ত হলো বহুবচনের আলিফটি দুটি হামজা দ্বারা পরিবেষ্টিত হতে হবে। যেমন: 'জুয়াবাহ' এর বহুবচনে 'জাওয়াইবে'। এর মূল রূপ ছিল 'জাআইবে', অতঃপর দুটি হামজা এবং আলিফের একত্র হওয়ার ফলে সৃষ্ট উচ্চারণগত গুরুভার (ثقل) থেকে বাঁচার জন্য হামজাটিকে ওয়াও দ্বারা পরিবর্তন (إبدাল) করা হয়েছে। আর এই পরিবর্তনটি (إبدাল) নিয়মিত ও আবশ্যক (اطرادي لازم)।
৩- হামজাটি যখন 'মাফাইল' ওজনের বহুবচনের লাম অক্ষর (لام) হিসেবে আপতিত হয় এবং তা একবচনে (مفرد) অক্ষত (سلمت) থাকে। যেমন: 'হিরাওয়াহ'; এর বহুবচনে তারা 'হিরাওয়ি' বলে থাকে, যেখানে হামজাকে ওয়াও দ্বারা পরিবর্তন (إبدাল) করা হয়েছে যাতে বহুবচনটি তার একবচনের রূপের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।
৪- যখন এক শব্দে দুটি হামজা একত্রিত হয় এবং পেশের (ضم) পর দ্বিতীয়টি সাকিন (تسكن) হয়, তখন সেটিকে অবশ্যই ওয়াও দ্বারা পরিবর্তন (إبدال) করতে হবে। আর তা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যাহিরাতুত তাকাস ফিল নাহওয়িল আরাবী
(পৃষ্ঠা: ১৬৫)
نَحْو: أومن وأوثر. وَالْأَصْل: أُؤْمِن وأؤثر. إِلَّا أَنه رفض الأَصْل هروبا1 من اجْتِمَاع همزتين.
5- أَن تكون الثَّانِيَة مَضْمُومَة مُطلقًا. أَي سَوَاء انْضَمَّ مَا قبلهَا أَو انْفَتح أوِ انْكَسَرَ، أَو تكون مَفْتُوحَة بعد فتح أَو ضم. وَذَلِكَ مثل: أُوُمٌ، وأوُمّ وإِوُمّ. وَالْأَصْل: أُؤم، وأؤُم، وإِؤُم. وَمثل أُُويدم تَصْغِير آدم. وأَوادم جمع آدم. وَالْأَصْل: أُؤيدم وأَأًدم. فأبدلت الثَّانِيَة فِي الْجَمِيع واواً. وَهَذَا الْإِبْدَال قياسي مطرد لَازم.
(ب) قلب الْوَاو همزَة:
تقدّمت مَوَاضِع قبل الْهمزَة واواً، وَأمر هَذِه الْمَسْأَلَة يحتم علينا ذكر الْمَوَاضِع الَّتِي تبدل فِيهَا الْوَاو همزَة حَتَّى ينْكَشف وَجه هَذِه الظَّاهِرَة، ونصل إِلَى النتيجة الَّتِي نرجوها.
وَمن الْمُقَرّر فِي هَذَا الْبَاب2 أَن الْوَاو تقلب همزَة فِي خَمْسَة مَوَاضِع:
1- أَن تتطرف إِثْر ألف زَائِدَة مثل: كسَاء وسماء وَدُعَاء. وَالْأَصْل: كساو وسماو ودعاو.
2- أَن تقع عينا لاسم فَاعل فعل ثلاثي أعلت عين فعله نَحْو: صَائِم وقائم، وَالْأَصْل: صاوم وقاوم.
3- أَن تقع مُدَّة ثلاثية زَائِدَة فِي الْمُفْرد إِذا كَانَ جمعه على مِثَال مفاعل. نَحْو: عَجَائِز ورعائف جمعي عَجُوز ورعوفة، وَالْأَصْل عجاوز ورعاوف.
4- أَن تقع ثَانِي لينين اكتنفهما ألف مفاعل مثل: أَوَائِل وسيائد. وَالْأَصْل: أواول وسياود فِي جمع أول وَسيد.
5- أَن تتصدر فِي الْكَلِمَة واوان. فَإِن الأولى مِنْهُمَا تقلب همزَة بِشَرْط أَن لَا تكون الثَّانِيَة مِنْهُمَا مُدَّة غير أَصْلِيَّة، أَي: أَن تكون الثَّانِيَة غير مُدَّة وَذَلِكَ نَحْو قَوْلك فِي جمع الأولى أُنْثَى الأول أُوَل. وَالْأَصْل: وُوَل وَنَحْو ذَلِك فِي جمع واصلة وواقية تَقول: أواصل وأواق، وَالْأَصْل: وواصل، ووواق.
أَو تكون الثَّانِيَة مُدَّة أَصْلِيَّة نَحْو: الأولى أُنْثَى الأول. أَصْلهَا وَولى بواوين أولاهما فَاء، وَالثَّانيَِة عين سَاكِنة.
--------------------------------------------
যেমন: 'উমিনু' এবং 'উসিরু'। এর মূল রূপ ছিল: 'উ’মিনু' এবং 'উ’সিরু'। তবে দুটি হামযা একত্রিত হওয়ার কাঠিন্য থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য মূল রূপটি পরিহার করা হয়েছে। ১
৫- দ্বিতীয় হামযাটি সাধারণভাবে পেশযুক্ত (مضمومة) হওয়া; অর্থাৎ তার পূর্বের অক্ষরটি পেশযুক্ত, জবরযুক্ত বা যেরযুক্ত যাই হোক না কেন, অথবা জবর বা পেশের পরে হামযাটি জবরযুক্ত হওয়া। যেমন: 'উউমুন', 'উউম্মুন' এবং 'ইউউম্মুন'। এগুলোর মূল ছিল: 'উ’উম', 'উ’উম' এবং 'ই’উম'। অনুরূপভাবে 'আদম' এর ক্ষুদ্রার্থবোধক শব্দ 'উয়াইদিম'। এবং 'আদম' এর বহুবচন 'আওয়াদিম'। এগুলোর মূল ছিল: 'উ’আইদিম' এবং 'আ’আদাম'। ফলে সবগুলোতে দ্বিতীয় হামযাটিকে 'ওয়াও' (واواً) দ্বারা পরিবর্তন করা হয়েছে। আর এই পরিবর্তনটি হচ্ছে নিয়মসিদ্ধ (قياسي), নিয়মিত (مطرد) ও অপরিহার্য (لازم)।
(খ) 'ওয়াও'-কে হামযায় রূপান্তর করা:
হামযার পূর্বে 'ওয়াও' আসার স্থানগুলো আগে অতিক্রান্ত হয়েছে। এই বিষয়ের গুরুত্বের দাবি হলো 'ওয়াও' থেকে হামযায় রূপান্তরের স্থানগুলো উল্লেখ করা, যাতে এই বিষয়টি স্পষ্ট হয় এবং আমরা কাঙ্ক্ষিত ফলাফলে পৌঁছাতে পারি।
এই পরিচ্ছেদে এটি সুনির্ধারিত যে, পাঁচটি স্থানে 'ওয়াও' হামযায় রূপান্তরিত হয়:
১- অতিরিক্ত আলিফের পরে শব্দের শেষে আসা। যেমন: 'কিসাউ', 'সামাউ' এবং 'দুআউ'। এগুলোর মূল ছিল: 'কিসাউয়ুন', 'সামাউয়ুন' এবং 'দুআউয়ুন' ।
২- এমন ত্রি-অক্ষরবিশিষ্ট ক্রিয়ার (فعل ثلاثي) 'কর্তৃবাচক বিশেষ্য' (اسم فاعل) এর 'মধ্যবর্ণ' (عيناً) হিসেবে আসা, যার ক্রিয়ামূলের মধ্যবর্ণে পরিবর্তন (أعلت) ঘটেছে। যেমন: 'সায়িম' এবং 'কায়িম'। এগুলোর মূল ছিল: 'সাওয়িম' এবং 'কাওয়িম' ।
৩- একবচন শব্দে অতিরিক্ত তিনটি স্বরবর্ণ (مد) হিসেবে আসা, যখন তার বহুবচন 'মাফায়িল' (مفاعل) এর ওজনে হয়। যেমন: 'আজুয' এবং 'রাউফাহ' এর বহুবচন 'আজায়িয' এবং 'রাআইফ'। এগুলোর মূল ছিল: 'আজাউয়িয' এবং 'রাআউয়িফ' ।
৪- 'মাফায়িল' (مفاعل) এর আলিফের দুই পাশে অবস্থিত দুটি কোমল বর্ণের (لينين) মধ্যে দ্বিতীয়টি হওয়া। যেমন: 'আওয়াইল' এবং 'সাইয়াইদ'। এগুলো 'আউয়াল' ও 'সাইয়িদ' এর বহুবচনের (جمع) ক্ষেত্রে মূল ছিল: 'আওয়াবিল' এবং 'সাইয়াবিদ' ।
৫- শব্দের শুরুতে দুটি 'ওয়াও' একত্রিত হওয়া। সেক্ষেত্রে প্রথমটিকে হামযায় রূপান্তর করা হয়, শর্ত হলো দ্বিতীয় 'ওয়াও'টি যেন অনৈসর্গিক দীর্ঘ স্বরবর্ণ (مد) না হয়। অর্থাৎ দ্বিতীয়টি দীর্ঘ স্বরবর্ণ ব্যতিরেকে অন্য কিছু হওয়া। যেমন: 'আউয়াল' এর স্ত্রীলিঙ্গ 'উলা' এর বহুবচন (جمع) হিসেবে যখন 'উওয়াল' বলা হয়। এর মূল ছিল: 'উওয়াল' । অনুরূপভাবে 'ওয়াসিলাহ' এবং 'ওয়াকিয়াহ' এর বহুবচনে আপনি বলেন: 'আওয়াসিল' এবং 'আওয়াক'। এগুলোর মূল ছিল: 'ওয়াহওয়াসিল' এবং 'ওয়াহওয়াক' ।
অথবা দ্বিতীয়টি মৌলিক দীর্ঘ স্বরবর্ণ হওয়া। যেমন: 'আউয়াল' এর স্ত্রীলিঙ্গ 'উলা'। এর মূল রূপ ছিল 'উওলা', যেখানে দুটি 'ওয়াও' ছিল। প্রথমটি 'ফা' (فاء) বর্ণ এবং দ্বিতীয়টি সুকুনযুক্ত 'আইন' (عين) বর্ণ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যাহিরাতুত তাকাস ফিল নাহওয়িল আরাবী
(পৃষ্ঠা: ১৬৬)
هَذِه هِيَ مَوَاضِع قلب الْوَاو همزَة، وَقد تقدّمت مَوَاضِع قلب الْهمزَة واواً.
وَقد تمّ هَذَا الْقلب المتبادل بَين الْوَاو والهمزة على طَرِيق الْمُقَاصَّة. لِأَن الْهمزَة وَإِن لم تكن من حُرُوف الْعلَّة، فَهِيَ شَبيهَة بِالْألف، وَلِهَذَا عدهَا بعض الصرفيين1 من حُرُوف الْعلَّة.
وأيا مَا كَانَ فَإِن الْألف أخف حُرُوف الْعلَّة، وَكَذَلِكَ مَا أشبههَا وَهُوَ الْهمزَة بِخِلَاف الْوَاو فَإِنَّهَا أثقلها.
فاللجوء- حِينَئِذٍ- إِلَى قلب الْوَاو همزَة لجوء إِلَى التَّخْفِيف، لِأَنَّهُ انْتِقَال من الثّقل إِلَى الخفة. بِخِلَاف الْعَكْس، وَهُوَ قلب الْهمزَة واواً. لِأَنَّهُ انْتِقَال من الْخَفِيف إِلَى الثقيل.
لهَذَا كَانَ قلب الْهمزَة واواً فِي نَحْو صحراء وعشراء ونفساء فِي التَّثْنِيَة وَالْجمع بِالْألف وَالتَّاء، وَالنّسب2، انْتِقَال من الخفة إِلَى الثّقل، لِأَن الْهمزَة أخف من الْوَاو- كَمَا علمنَا- وَلَكِن ذَلِك تمّ على سَبِيل التَّقَاصّ.
فَكَمَا أَن الْوَاو قلبت همزَة. كَذَلِك أبدلت الْهمزَة واواً على طَرِيق الْمُبَادلَة والمقاصة، نظرا لتحقيق الشّبَه بَينهمَا، بِسَبَب أَن الْهمزَة شَبيهَة بِالْألف وهى حرف عِلّة.
بيد أَن ابْن "فلاح " جعل هَذِه الظَّاهِرَة3 متحققة بإبدال الْهمزَة واواً فِي الْجمع بِالْألف وَالتَّاء فَقَط. فِي مثل صحراء وصحراوات. أَي أَنه قصر الْمُقَاصَّة على جمع الْمُؤَنَّث السَّالِم، اقتصاصا من قلب الْوَاو همزَة.
وَنحن إِذْ نقدر لِابْنِ فلاح جهده فِي الْإِشَارَة إِلَى هَذِه الظَّاهِرَة، وَفِيمَا ذهب إِلَيْهِ. نرى أَنه لَا ضير من جعل الْمُقَاصَّة شَامِلَة لكل الْمسَائِل الَّتِي تقلب فِيهَا الْهمزَة واواً، اطرادا للقاعدة، وشمولا للظاهرة، وتثبيتا للْقِيَاس، وتعميما للمصطلح، وتوسعاً فِي أساليب اللُّغَة، لِأَنَّهَا- بِلَا شكّ- تقبل ذَلِك وَلَا تضيق بِهِ.
--------------------------------------------
এগুলো হলো 'ওয়াও'-কে 'হামযা'তে রূপান্তরের (قلب) ক্ষেত্রসমূহ, আর 'হামযা'-কে 'ওয়াও'-তে রূপান্তরের (قلب) ক্ষেত্রগুলো ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।
'ওয়াও' ও 'হামযা'-র মধ্যে এই পারস্পরিক রূপান্তরটি ভারসাম্য বিধানের (المقاصة) পদ্ধতিতে সম্পন্ন হয়েছে। কারণ 'হামযা' যদিও রুগ্ন বর্ণগুলোর (حروف العلة) অন্তর্ভুক্ত নয়, তবুও এটি 'আলিফ'-এর সদৃশ। আর একারণেই কোনো কোনো রূপতত্ত্ববিদ১ একে রুগ্ন বর্ণগুলোর (حروف العلة) অন্তর্ভুক্ত গণ্য করেছেন।
যা-ই হোক না কেন, 'আলিফ' হলো রুগ্ন বর্ণগুলোর (حروف العلة) মধ্যে সবচেয়ে হালকা, আর এর সদৃশ 'হামযা'-র বিষয়টিও তদ্রূপ; পক্ষান্তরে 'ওয়াও'-এর বিষয়টি ভিন্ন, কেননা এটি তাদের মধ্যে সবচেয়ে ভারী।
সুতরাং এমতাবস্থায় 'ওয়াও'-কে 'হামযা'তে রূপান্তরের (قلب) আশ্রয় গ্রহণ মূলত সহজীকরণেরই (تخفيف) নামান্তর; কারণ এটি ভারী অবস্থা থেকে হালকা অবস্থার দিকে উত্তরণ। এর বিপরীত বিষয়টি তথা 'হামযা'-কে 'ওয়াও'-তে রূপান্তর এমনটি নয়, কারণ তা হালকা থেকে ভারী অবস্থার দিকে উত্তরণ।
একারণেই 'সাহরা' (صحراء), 'উশারা' (عشراء) ও 'নুফাসা' (نفساء) জাতীয় শব্দের দ্বিবচন, 'আলিফ' ও 'তা' যোগে বহুবচন এবং সম্বন্ধসূচক রূপান্তরের২ (النسب) ক্ষেত্রে 'হামযা'-কে 'ওয়াও'-তে রূপান্তর (قلب) মূলত হালকা থেকে ভারী অবস্থার দিকে উত্তরণ; কারণ আমরা যেমনটি জেনেছি, 'হামযা' হলো 'ওয়াও' অপেক্ষা হালকা। তবে এটি ভারসাম্য বিধানের (التقاص) মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়েছে।
সুতরাং যেভাবে 'ওয়াও'কে 'হামযা'তে রূপান্তর (قلبت) করা হয়েছে, তেমনিভাবে পারস্পরিক বিনিময় ও ভারসাম্য বিধানের (المقاصة) পদ্ধতিতে 'হামযা'কেও 'ওয়াও' দ্বারা স্থলাভিষিক্ত (أبدلت) করা হয়েছে। এটি করা হয়েছে মূলত উভয়ের মধ্যকার সাদৃশ্য বজায় রাখার নিমিত্তে; কারণ 'হামযা' হলো 'আলিফ'-এর সদৃশ এবং এটি একটি রুগ্ন বর্ণ (حرف علة)।
তবে ইবনুল ফাল্লাহ এই বিষয়টি৩ শুধুমাত্র 'আলিফ' ও 'তা' যোগে গঠিত বহুবচনের ক্ষেত্রে 'হামযা'কে 'ওয়াও' দ্বারা স্থলাভিষিক্ত করার মাধ্যমে বাস্তবায়িত করেছেন; যেমন—'সাহরা' (صحراء) থেকে 'সাহরাওয়াত' (صحراوات)। অর্থাৎ, তিনি এই ভারসাম্য বিধানের (المقاصة) বিষয়টি 'ওয়াও'কে 'হামযা'তে রূপান্তরের (قلب) বিপরীতে কেবল নিয়মিত স্ত্রীলিঙ্গবাচক বহুবচনের (الجمع المؤنث السالم) মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখেছেন।
ইবনুল ফাল্লাহ এই বিষয়ের প্রতি যে ইঙ্গিত প্রদান করেছেন এবং তিনি যে মত পোষণ করেছেন, তার জন্য আমরা তাঁর প্রচেষ্টাকে মূল্যায়ন করি। তবে আমরা মনে করি, ভারসাম্য বিধানের (المقاصة) এই বিষয়টি এমন সকল মাসআলায় বা ক্ষেত্রে ব্যাপক হিসেবে গণ্য করাতে কোনো অসুবিধা নেই যেখানে 'হামযা'কে 'ওয়াও'তে রূপান্তর (تقلب) করা হয়; যাতে নিয়মের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে, বিষয়টির ব্যাপকতা অর্জিত হয়, পদ্ধতিগত কিয়াস (القياس) সুদৃঢ় হয়, পরিভাষার (المصطلح) সাধারণ প্রয়োগ ঘটে এবং ভাষার প্রকাশভঙ্গিতে প্রশস্ততা আসে। কারণ ভাষা নিঃসন্দেহে এটি গ্রহণ করে এবং এতে সংকুচিত হয় না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যাহিরাতুত তাকাস ফিল নাহওয়িল আরাবী
(পৃষ্ঠা: ১৬৬)
ثَالِثا: فِي زِيَادَة بعض الْحُرُوف:من الْمُقَرّر أَن- اللَّام ألف- أَصْلهَا الْألف الَّتِي هِيَ مَدَّةَ سَاكِنة، وَلكنهَا دُعِمت بِاللَّامِ قَبْلها متحركة ليمكن الِابْتِدَاء1 بهَا، وليصح النُّطْق كَمَا صَحَّ بِسَائِر الْحُرُوف غَيرهَا. لِأَن السَّاكِن لَا يُمكن الِابْتِدَاء بِهِ.
وَإِنَّمَا دُعمت بِاللَّامِ قبلهَا وَلم تُدعَم بِهَمْزَة الْوَصْل الَّتِي يُؤْتى بهَا توصلا إِلَى النُّطْق بالساكن، لِأَنَّهُ لَا يُمكن الْإِتْيَان بهَا قبل الْألف، وَلِأَن ذَلِك يُؤَدِّي إِلَى نقض الْغَرَض الَّذِي قصدُوا لَهُ، لِأَن همزَة الوصَل قد تَأتي مَكْسُورَة، وَلَو كسرت لانقلبت الْألف يَاء مَكْسُورَة لانكسار مَا قبلهَا.
فَيُقَال: (إِي) فَلَا تصل إِلَى الْألف الَّتِي اعتمدت2عَلَيْهَا، فَلَمَّا لم يجز ذَلِك، عَدَلوا إِلَى اللَّام دون غَيرهَا، لِأَن الْعَرَب توصلوا إِلَى النُّطْق بلام التَّعْرِيف بِزِيَادَة الْألف قبلهَا، توصلا إِلَى النُّطْق بهَا، فحركوا الْألف فَصَارَت همزَة، وجعلوها همزَة3وصل نَحْو: الْغُلَام وَالْفرس وَالْجَارِيَة. فَلَمَّا افْتَقَرت الْألف إِلَى حرف جِيءَ بِاللَّامِ قبلهَا فِي (لَا) توصلا إِلَى النُّطْق بِالْألف الساكنة ليَكُون ذَلِك ضربا من التَّقَاصّ والتعويض بَين الحرفين فَصَارَ لَا.
وَبِاللَّهِ التَّوْفِيق
…--------------------------------------------
তৃতীয়ত: কিছু অক্ষর বৃদ্ধি প্রসঙ্গে:এটি স্বীকৃত যে, ‘লাম-আলিফ’-এর মূল হলো আলিফ, যা একটি স্থির (ساكنة) দীর্ঘস্বর (মদ্দাহ)। কিন্তু এর শুরুতে একটি সচল ‘লাম’ যুক্ত করে একে সমর্থন দেওয়া হয়েছে যাতে এর মাধ্যমে শব্দ শুরু (ابتداء) করা সম্ভব হয় এবং অন্যান্য অক্ষরের ন্যায় এর সঠিক উচ্চারণ করা যায়। কারণ, সাকিন বা স্থির (ساكن) বর্ণ দিয়ে শব্দ শুরু করা সম্ভব নয়।
একে ‘লাম’ দিয়ে সমর্থন দেওয়া হয়েছে এবং ‘সংযোজক হামজা’ (همزة الوصل) দিয়ে নয়—যা সাধারণত সাকিন বা স্থির বর্ণের উচ্চারণে সক্ষম হওয়ার জন্য আনা হয়। কারণ আলিফের আগে এটি নিয়ে আসা সম্ভব নয় এবং তা সেই উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করে যা তারা লক্ষ্য করেছিলেন। কেননা ‘সংযোজক হামজা’ (همزة الوصل) অনেক সময় কাসরা বা যের যুক্ত (مكسورة) হয়ে আসে; আর যদি তা যের যুক্ত হয়, তবে পূর্ববর্তী বর্ণের কাসরার কারণে আলিফটি সচল ‘ইয়া’ তে রূপান্তরিত হয়ে যাবে।
ফলে বলা হবে: (ইঈ), তখন সেই আলিফ পর্যন্ত পৌঁছানো যাবে না যার ওপর ভিত্তি (اعتماد) করা হয়েছিল। যখন এটি জায়েয বা বৈধ হলো না, তখন তারা অন্য অক্ষরের পরিবর্তে ‘লাম’-এর দিকে ফিরে আসলেন। কারণ আরবরা ‘নির্দিষ্টতাবোধক লাম’ (لام التعريف) উচ্চারণের জন্য তার পূর্বে আলিফ বৃদ্ধি করে উচ্চারণে সক্ষম হতো। তারা আলিফকে হরকত প্রদান করে হামজায় রূপান্তর করেছিল এবং একে ‘সংযোজক হামজা’ (همزة وصل) হিসেবে নির্ধারণ করেছিল, যেমন: আল-গুলাম, আল-ফারাস এবং আল-জারিয়া। সুতরাং আলিফ যখন একটি বর্ণের মুখাপেক্ষী হলো, তখন ‘লা’ (لا) এর ক্ষেত্রে স্থির আলিফ উচ্চারণে সক্ষম হওয়ার জন্য তার পূর্বে ‘লাম’ নিয়ে আসা হলো, যাতে তা দুই বর্ণের মধ্যে এক প্রকার বিনিময় ও ক্ষতিপূরণ হিসেবে কাজ করে। ফলে তা ‘লা’ (لا) এ পরিণত হলো।
আল্লাহর কাছেই তাওফিক বা সাহায্য প্রার্থনা করছি...
…--------------------------------------------