(খণ্ড: ১) আত-তাফসীরুল মাওদুয়ী লিল কুরআনিল কারীম ওয়া নামাযিজ মিনহু (পৃষ্ঠা: -)
التفسير الموضوعي للقرآن الكريم ونماذج منه   (أحمد بن عبد الله الزهراني)

القسم: علوم القرآن وأصول التفسير


الكتاب: التفسير الموضوعي للقرآن الكريم ونماذج منه

المؤلف: أحمد بن عبد الله الزهراني

الناشر: الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة

الطبعة: الأعداد 85 - 100 السنوات 22 - 25 المحرم 1410 - ذو الحجة 1413 هـ

عدد الصفحات: 170

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-কুরআনুল কারীমের বিষয়ভিত্তিক তাফসির (التفسير الموضوعي) এবং এর কিছু নমুনা   (আহমদ ইবনে আবদুল্লাহ আল-যাহরানি)

বিভাগ: কুরআন সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানসমূহ এবং তাফসিরের মূলনীতি (أصول التفسير)


গ্রন্থ: আল-কুরআনুল কারীমের বিষয়ভিত্তিক তাফসির (التفسير الموضوعي) এবং এর কিছু নমুনা

লেখক: আহমদ ইবনে আবদুল্লাহ আল-যাহরানি

প্রকাশক: মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়

সংস্করণ: সংখ্যা ৮৫ - ১০০, বর্ষ ২২ - ২৫, মহররম ১৪১০ - জিলহজ ১৪১৩ হিজরি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৭০

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আত-তাফসীরুল মাওদুয়ী লিল কুরআনিল কারীম ওয়া নামাযিজ মিনহু (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌مقدمة

…

التفسير الموضوعي للقرآن الكريم

ونماذج منه

للدكتور/ أحمد بن عبد الله الزهراني

أولا: معنى التفسير لغة:

يطلق التفسير في اللغة على الكشف والبيان والإيضاح والتفصيل ومن ذلك قوله تعالى: {وَلا يَأْتُونَكَ بِمَثَلٍ إِلا جِئْنَاكَ بِالْحَقِّ وَأَحْسَنَ تَفْسِيراً} الفرقان 33.

كما يطلق ويراد به التأويل ومنه قوله تعالى: {نَبِّئْنَا بِتَأْوِيلِه} يوسف 36. يقول ابن كثير في معنى قوله تعالى: {وَأَحْسَنَ تَفْسِيراً} .

أي ولا يقولون قولا يعارضون به الحق، إلا جئناك بما هو الحق في نفس الأمر، وأبين وأوضح وأفصح من مقالتهم 1.

قال ابن فارس: "فسر" الفاء والسين والراء كلمة واحدة تدل على بيان شيء وإيضاحه. من ذلك فسر، يقاله: فسرت الشيء وفسرته2" اهـ.

وجاء في القاموس: الفسر: الإبانة وكشف المغطى كالتفسير3.

--------------------------------------------

1تفسير القرآن العظيم6/118 ط الشعب.

2معجم مقاييس اللغة 4/ 504.

3القاموس المحيط 2/ 110.
ভূমিকা

...

আল-কুরআনের বিষয়ভিত্তিক তাফসির (التفسير الموضوعي)

এবং এর কিছু নমুনা

ডক্টর আহমদ বিন আবদুল্লাহ আল-যাহরানি কর্তৃক

প্রথমত: আভিধানিক অর্থে তাফসির (تفسير):

আভিধানিক দৃষ্টিকোণ থেকে তাফসির (تفسير) শব্দটি উন্মোচন (كشف), বর্ণনা (بيان), স্পষ্টীকরণ (إيضاح) এবং বিস্তারিত আলোচনা (تفصيل) অর্থে ব্যবহৃত হয়। এর প্রমাণ মহান আল্লাহর বাণী: "তারা আপনার কাছে এমন কোনো সমস্যাই নিয়ে আসে না যার সঠিক সমাধান এবং সুন্দরতম ব্যাখ্যা (تفسير) আমি আপনাকে দান করি না।" (সূরা আল-ফুরকান: ৩৩)।

একইভাবে এটি ব্যাখ্যা বা মর্মার্থ (تأويل) অর্থেও ব্যবহৃত হয়। এর প্রমাণ মহান আল্লাহর বাণী: "আমাদেরকে এর ব্যাখ্যা (تأويل) জানিয়ে দিন।" (সূরা ইউসুফ: ৩৬)। ইবনে কাসির মহান আল্লাহর বাণী "এবং সুন্দরতম ব্যাখ্যা (تفسير)"-এর অর্থ প্রসঙ্গে বলেন:

অর্থাৎ তারা সত্যের বিরোধিতায় এমন কোনো কথা বলে না, যার বিপরীতে আমি আপনার নিকট প্রকৃত সত্য এবং তাদের বক্তব্যের চেয়েও অধিকতর বিশদ, স্পষ্ট ও প্রাঞ্জল বর্ণনা নিয়ে আসি না। ১

ইবনে ফারিস বলেন: "ফাসারা (فسر)" - ফা, সিন এবং রা বর্ণত্রয় এমন একটি মূলশব্দ যা কোনো বিষয়ের বর্ণনা (بيان) এবং স্পষ্টীকরণকে (إيضاح) নির্দেশ করে। এ থেকেই 'ফাসারা' শব্দটি এসেছে; বলা হয়ে থাকে: "আমি বিষয়টি স্পষ্ট করেছি" এবং "আমি বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছি।" ২ (সমাপ্ত)।

আল-কামুস গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে: ফাসর (الفسر) হলো স্পষ্ট করা (إبانة) এবং তাফসিরের (تفسير) ন্যায় আবৃত বিষয়কে উন্মোচন করা। ৩

--------------------------------------------

১ তাফসিরুল কুরআনিল আজিম ৬/১১৮, আশ-শা'ব সংস্করণ।

২ মু'জাম মাকায়িস আল-লুগাহ ৪/৫০৪।

৩ আল-কামুস আল-মুহিত ২/১১০।
(খণ্ড: ১) আত-তাফসীরুল মাওদুয়ী লিল কুরআনিল কারীম ওয়া নামাযিজ মিনহু (পৃষ্ঠা: ১২)
ثانيا: معنى التفسير في الاصطلاح:

تنوعت عبارة المفسرين وكثرت أقوالهم في بيان حدّه وتعريفه والذي ظهر لي منها "أن التفسير علم جليل يفهم به كتاب الله سبحانه المنزل على نبيه محمد صلي الله عليه وسلم.

وهذا التعريف ذكره الزركشي 1 ويندرج تحته التعاريف المتعددة في حدّ التفسير.

ثالثا: معنى موضوعي:

هذه نسبة إلى موضوع: الذي هو المادة التِي يؤخذ أو يتركب أو يبنى منها جزئيات البحث ويضم بعضها إلى بعض ليصير موضوعا.

يقول الدكتور محمد أحمد القاسم: "وموضوعي" نسبة إلى موضوع وإضافة "تفسير" إلى "موضوعي" لما صارت علما على هذا الفن بعد أن ركبت معها وصارت كلمة واحدة كتركيب "معد يكرب "لما فتنوسيت تلك الإضافة " 2.

رابعا: تعريف التفسير الموضوعي:

هو إفراد الآيات القرآنية التي تعالج موضوعا واحدا وهدفا واحدا، بالدراسة والتفصيل، بعد ضم بعضها إلى بعض، مهما تنوعت ألفاظها، وتعددت مواطنها - دراسة متكاملة مع مراعاة المتقدم والمتأخر منها، والاستعانة بأسباب النزول، والسنة النبوية، وأقوال السلف الصالح المتعلقة بالموضوع3.

فوائد التفسير الموضوعي:

1- أنه تفسير للقرآن بالقرآن، فما أطلق في مكان منه قيد في مكان آخر وما ذكر موجزا في موطن منه ذكر مفصلا في آخر.

2- الوقوف على عظمة القرآن الكريم من خلال مواضيعه المتنوعة والتعرف على تشريعاته النيرة والمتعددة.

--------------------------------------------

1 البرهان في علوم القرآن1/13.

2 التفسير الموضوعي للقران الكريم ص 7.

3 انظر التفسير الموضوعي للقرآن الكريم ص 7 د/ محمد أحمد القاسم والبداية في التفسير الموضوعي ص52 د/ عبد الحي الفرماوي.
দ্বিতীয়ত: পারিভাষিক অর্থে তাফসিরের সংজ্ঞা:

মুফাসসিরদের বর্ণনাশৈলী ভিন্ন ভিন্ন হয়েছে এবং এর সীমারেখা ও সংজ্ঞা বর্ণনায় তাদের অনেক বক্তব্য রয়েছে। তাদের মধ্য থেকে আমার কাছে যা প্রতিভাত হয়েছে তা হলো, "তাফসির এমন এক মহান জ্ঞান, যার মাধ্যমে আল্লাহর মহান কিতাব অনুধাবন করা যায়, যা তাঁর নবি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর অবতীর্ণ হয়েছে।"

এই সংজ্ঞাটি ইমাম যারকাশী ১ উল্লেখ করেছেন এবং তাফসিরের সীমানা নির্ধারণে বর্ণিত বিবিধ সংজ্ঞাসমূহও এর অন্তর্ভুক্ত হয়।

তৃতীয়ত: মাউদুয়ি (বিষয়ভিত্তিক) শব্দের অর্থ:

এটি ‘মাউদু’ (موضوع) বা বিষয় শব্দের দিকে সম্বন্ধযুক্ত: যা মূলত এমন কিছু উপাদান যেখান থেকে গবেষণার ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশ গ্রহণ করা হয় অথবা গঠন করা হয় কিংবা যার ওপর ভিত্তি করে গবেষণার উপাদানসমূহ তৈরি করা হয় এবং সেগুলোকে একে অপরের সাথে মিলিয়ে একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে রূপদান করা হয়।

ডক্টর মুহাম্মাদ আহমাদ আল-কাসিম বলেন: "মাউদুয়ি" শব্দটি "মাউদু" (موضوع) বা বিষয়ের দিকে সম্বন্ধযুক্ত এবং "মাউদুয়ি" শব্দের সাথে "তাফসির" শব্দের সংযোজন মূলত এই শাস্ত্রের একটি পরিভাষা হিসেবে পরিচিতি পাওয়ার পর হয়েছে। এটি এখন একটি পূর্ণাঙ্গ শব্দে পরিণত হয়েছে, যেমন 'মাদি কারিব' শব্দটি যখন যৌগিক শব্দ হিসেবে ব্যবহৃত হয় তখন এর সেই পৃথক সম্বন্ধের বিষয়টি ভুলে যাওয়া হয়েছে ২।

চতুর্থত: বিষয়ভিত্তিক তাফসিরের সংজ্ঞা:

এটি হলো একটি একক বিষয় ও একক উদ্দেশ্যকে কেন্দ্র করে কুরআনের আয়াতগুলোকে পৃথক করে সেগুলোর শব্দ ভিন্ন ভিন্ন হওয়া এবং বিভিন্ন স্থানে থাকা সত্ত্বেও সেগুলোকে একত্রিত করে বিস্তারিতভাবে অধ্যয়ন ও পর্যালোচনা করা—এটি এমন এক পূর্ণাঙ্গ অধ্যয়ন যাতে আয়াতগুলোর অগ্র-পশ্চাৎ (المتقدم والمتأخر) বিবেচনা করা হয় এবং শানে নুযুল (أسباب النزول), সুন্নাহ এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সালাফে সালেহিনের বক্তব্যের সহায়তা নেওয়া হয় ৩।

বিষয়ভিত্তিক তাফসিরের উপকারিতা:

১- এটি কুরআন দ্বারা কুরআনেরই তাফসির; ফলে কুরআনের কোনো এক স্থানে যা অনির্ধারিত (مطلق) রাখা হয়েছে, অন্য স্থানে তা নির্ধারিত (مقيد) করা হয়েছে এবং এক স্থানে যা সংক্ষিপ্তভাবে (موجز) উল্লেখ করা হয়েছে, অন্য স্থানে তা বিস্তারিতভাবে (مفصل) বর্ণনা করা হয়েছে।

২- বিভিন্ন বিষয়ের মাধ্যমে কুরআনুল কারিমের মাহাত্ম্য উপলব্ধি করা এবং এর উজ্জ্বল ও বহুমুখী বিধানসমূহ সম্পর্কে পরিচিতি লাভ করা।

--------------------------------------------

১ আল-বুরহান ফি উলূমিল কুরআন ১/১৩।

২ আত-তাফসিরুল মাউদুয়ি লিল কুরআনিল কারিম, পৃষ্ঠা: ৭।

৩ দেখুন: আত-তাফসিরুল মাউদুয়ি লিল কুরআনিল কারিম, পৃষ্ঠা: ৭, ডক্টর মুহাম্মাদ আহমাদ আল-কাসিম এবং আল-বিদায়া ফিত তাফসিরিল মাউদুয়ি, পৃষ্ঠা: ৫২, ডক্টর আব্দুল হাই আল-ফারমাওয়ি।
(খণ্ড: ১) আত-তাফসীরুল মাওদুয়ী লিল কুরআনিল কারীম ওয়া নামাযিজ মিনহু (পৃষ্ঠা: ১৩)
3- بيان ما تضمنه القرآن الكريم من أنواع الهداية الربانية من خلال تلك المواضيع المتنوعة.

4- التخلق بأخلاق القرآن والانتفاع به من حيث زيادة الإيمان.

5- التمكن من فهم القرآن الكريم فهما جيدا.

6- الاطلاع على أساليب القرآن الكريم المتنوعة.

7- جمع الآيات المتناثرة في القرآن ذات الموضوع والهدف الواحد في مكان واحد ثم دراستها دراسة متكاملة.

8- الرد على أهل الأهواء والشُّبه قديما وحديثا لكون دراسة مثل هذا النوع من التفسير يجمع شتات الموضوع الواحد ويحيط بجميع أطرافه فيمكن دراسته والرد على الآخرين.

9- إزالة ما يوهم التعارض بين آيات القرآن الكريم وتوجيه ذلك توجيها سليما 1.

نشأة التفسير الموضوعي:

قد يخيل للقارئ أو الباحث أن هذا العلم أو الاصطلاح "التفسير الموضوعي" لا يعرف لدى علمائنا الأقدمين، وإنما الكتاب المعاصرون هم الذين اعتنوا به وقدموا فيه جهودا قيمة بل صرح بعض الكتاب المعاصرين بهذا الرأي فقال: "هذا النوع لم نجد من عنى به من الأقدمين وإنما جهود متأخرة في الرسائل العلمية تقدم طرفا منه مثل الجهاد في القرآن، المشركون في القرآن، الآيات الكونية في القرآن إلا أننا ما نزال في أمسّ الحاجة إلى المزيد من ذلك"2 اهـ.

وهذا القول مجانب للصواب، بعيد عن الحقيقة. وهو من فضول الكلام الذي ألقي على عواهنه بدون دراسة ولا بحث ولا رؤية.

وبعضهم يذهب إلى عدم تحديد بداية لهذا الاصطلاح "التفسير الموضوعي" لما عند الأقدمين، كما في عصرنا الحاضر حيث يقول: "إذ إِنه حتى لو وجد هذا اللون من

--------------------------------------------

1 انطر البداية في التفسير الموضوعي ص68-70 د/ عبد الحي الفرماويَ.

2 دراسات في القرآن الكريم- من التفسير الموضوعي ص 6 للدكتور: محمد عبد السلام محمد. ط الأولى.
৩- সেই বিচিত্র বিষয়াবলির আলোকে পবিত্র কুরআনে বর্ণিত খোদায়ী হিদায়াতের প্রকারভেদগুলো স্পষ্ট করা।

৪- কুরআনের নৈতিকতায় চরিত্রবান হওয়া এবং ঈমান বৃদ্ধির ক্ষেত্রে তা থেকে উপকৃত হওয়া।

৫- পবিত্র কুরআন উত্তমরূপে অনুধাবনে সক্ষম হওয়া।

৬- পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন রচনাশৈলী সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা।

৭- কুরআনের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা একই বিষয় ও লক্ষ্য সম্বলিত আয়াতগুলোকে একস্থানে একত্রিত করা এবং অতঃপর সেগুলোকে সমন্বিতভাবে অধ্যয়ন করা।

৮- প্রাচীন ও আধুনিক যুগের প্রবৃত্তি পূজারি ও সংশয়বাদীদের আপত্তির খণ্ডন করা; কারণ এই ধরনের তাফসির (ব্যাখ্যা) অধ্যয়নের মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের বিক্ষিপ্ত আলোচনাগুলো একীভূত হয় এবং এর সকল দিক পরিবেষ্টন করা সম্ভব হয়, ফলে তা নিবিড়ভাবে অধ্যয়ন করে অন্যদের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া যায়।

৯- পবিত্র কুরআনের আয়াতসমূহের মধ্যে আপাত বৈপরীত্যের (التعارض) ভ্রান্তি দূর করা এবং সেগুলোর সঠিক ব্যাখ্যা প্রদান করা ১।

বিষয়ভিত্তিক তাফসিরের (التفسير الموضوعي) উদ্ভব:

কোনো পাঠক বা গবেষকের মনে এমন ধারণা হতে পারে যে, এই শাস্ত্র বা "বিষয়ভিত্তিক তাফসির" (التفسير الموضوعي) পরিভাষাটি আমাদের প্রাচীন আলেমদের নিকট পরিচিত ছিল না, বরং সমকালীন লেখকরাই কেবল এর প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন এবং এতে মূল্যবান অবদান রেখেছেন। এমনকি কোনো কোনো সমকালীন লেখক স্পষ্ট করে এই মত ব্যক্ত করেছেন যে: "এই প্রকারটি নিয়ে প্রাচীনদের মধ্য থেকে কাউকে কাজ করতে দেখিনি; বরং এটি আধুনিক যুগের প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণাপত্রগুলোর প্রচেষ্টা, যেখানে এর কিছু নমুনা উপস্থাপিত হয়েছে। যেমন: কুরআনে জিহাদ, কুরআনে মুশরিক সম্প্রদায়, কুরআনে মহাজাগতিক আয়াতসমূহ। তবে আমরা এখনও এই বিষয়ে আরও অধিক গবেষণার মুখাপেক্ষী" ২।

এই বক্তব্যটি সঠিকতা থেকে বিচ্যুত এবং বাস্তবতা থেকে অনেক দূরে। এটি এমন এক অসার কথা যা কোনো প্রকার পড়াশোনা, গবেষণা বা গভীর পর্যবেক্ষণ ছাড়াই বলা হয়েছে।

আবার কেউ কেউ প্রাচীনদের নিকট এই "বিষয়ভিত্তিক তাফসির" (التفسير الموضوعي) পরিভাষাটির সূচনাকাল নির্দিষ্ট না করার দিকে মত দিয়েছেন, যেমনটি বর্তমান যুগে দেখা যায়; তিনি বলেন: "এমনকি যদি এই প্রকারের...

--------------------------------------------

১ দেখুন: আল-বিদায়া ফি আত-তাফসির আল-মাওদুয়ি, পৃষ্ঠা ৬৮-৭০, ড. আব্দুল হাই আল-ফারমাউয়ি।

২ দিরাসাত ফিল কুরআনিল কারিম - মিনাত তাফসির আল-মাওদুয়ি, পৃষ্ঠা ৬, ডক্টর মুহাম্মদ আব্দুস সালাম মুহাম্মদ, প্রথম সংস্করণ।
(খণ্ড: ১) আত-তাফসীরুল মাওদুয়ী লিল কুরআনিল কারীম ওয়া নামাযিজ মিনহু (পৃষ্ঠা: ১৪)
التفسير لدى بعض المتقدمين فإنه لم يكن معروفا وشائعا بينهم بهذا الاسم فيما أعلم"اهـ.

والذي يجدر التنبيه عليه حول هذا الرأي. أن لا مشاحة في الاصطلاح فكون هذا الاصطلاح "التفسير الموضوعي" ما عرف إلا في العصر الحاضر لا ينفي عدم وجود هذا العلم لدى الأقدمين، ولأن قوله "إذ إِنه حتى لو وجد" الخ يثير التشكيك في عدم وجوده وهذا غير وارد بل هو موجود كما سأبين ذلك- إن شاء الله تعالى-.

إن هذا الفن من التفسير اعتنى به العلماء الأقدمون جمعا وترتيبا ودراسة واستنباطا وجالوا فيه وصالوا. وكان من فرسان ميدانه العلم العالم مقاتل بن سليمان الأزدي ت 150 هـ حيث ألف فيه كتابا قيما سماه "تفسير الخمسمائة آية في الأمر والنهي والحلال والحرام " جعل ترتيبه على طريقة الفقهاء- رحمهم الله في تأليفهم، بدأه بتفسير الإيمان، ثم ذكر أبواب الصلاة، ثم الزكاة، ثم الصيام، ثم الحج، ثم المظالم، ثم المواريث، ثم الربا، ثم الخمر، ثم النكاح، ثم الطلاق، ثم الزنا، ثم ذكر بعض الآداب والمعاملات في دخول البيوت، ثم ذكر أبواب الجهاد.

ومقاتل رحمه الله وإن لم يستقص ذكر الآيات ذات الموضوع الواحد في مكان واحد، فهو بحق من أوائل العلماء الذين كتبوا فيما نحن بصدده من التفسير الموضوعي 1.

والمتتبع لجهود علمائنا الأقدمين في هذا الفن التخصصي يجد لهم جهودا قيمة، وأيادي علمية مشرقة وقد تعددت المواضيع القرآنية التي ألفوا فيها فمنها ما وصل إلينا، ومنها الذي لازال حبيسا بين جدران المكتبات وظلامها الدامس ومنها الذي فقد ولم نعلم عنه إلا من خلاله الكتب العلمية أو الثبت العلمي لصاحبها، ومن تلك المواضيع.

كتاب الوجوه والنظائر في القرآن الكريم. للحافظ مقاتل بن سليمان رحمه الله.

وهذا العلم الجليل علاقته بالتفسير الموضوعي واضحة وقد اعتنى به علماؤنا الأقدمون والمتأخر ون وألفوا فيه كتبا قيمة.

--------------------------------------------

1 وكتابه حقق رسالة ماجستير وقام بتحقيقه عبيد الله لعلى السلمي بالجامعة الإسلامية وانظر ص 60 منه.
যতদূর আমি জানি, পূর্বসূরীদের (متقدمين) কারো কারো নিকট এই নামে তাফসির পরিচিত এবং প্রচলিত ছিল না।" - সমাপ্ত।

এই মতামতের বিষয়ে যে বিষয়টি সতর্ক করা প্রয়োজন তা হলো পরিভাষার ক্ষেত্রে কোনো বিবাদ নেই; সুতরাং 'বিষয়ভিত্তিক তাফসির' (التفسير الموضوعي) পরিভাষাটি কেবল বর্তমান যুগে পরিচিত হওয়ার অর্থ এই নয় যে, পূর্ববর্তীদের (أقدمين) নিকট এই শাস্ত্রটির অস্তিত্ব ছিল না। কারণ তাঁর বক্তব্য "যদি এটি বিদ্যমান থাকতোও" ইত্যাদি এর অনস্তিত্ব সম্পর্কে সংশয় সৃষ্টি করে, যা সঠিক নয়; বরং এটি বিদ্যমান ছিল, যেমনটি আমি ইনশাআল্লাহ শীঘ্রই স্পষ্ট করব।

তাফসিরের এই শিল্পটি নিয়ে প্রাচীন আলেমগণ সংগ্রহ, বিন্যাস, অধ্যায়ন এবং গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্ত (استنباط) গ্রহণের মাধ্যমে বিশেষ যত্ন নিয়েছেন এবং এতে তাঁরা প্রজ্ঞার স্বাক্ষর রেখেছেন। এই শাস্ত্রীয় ময়দানের অন্যতম অশ্বারোহী ছিলেন প্রাজ্ঞ আলেম মুকাতিল বিন সুলাইমান আল-আজদি (মৃত্যু ১৫০ হিজরি)। তিনি এ বিষয়ে একটি মূল্যবান গ্রন্থ রচনা করেন যার নাম দিয়েছেন 'তাফসিরুল খামসি মিআতি আয়াহ ফিল আমরি ওয়ান নাহয়ি ওয়াল হালালি ওয়াল হারাম'। তিনি এর বিন্যাস করেছেন ফকিহদের (فقهاء) রচনাশৈলী অনুযায়ী—আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন। তিনি ঈমানের তাফসির দিয়ে শুরু করেছেন, তারপর নামাজের অধ্যায়সমূহ, তারপর জাকাত, তারপর রোজা, তারপর হজ, তারপর জুলুম-অবিচার, তারপর উত্তরাধিকার, তারপর সুদ, তারপর মদ, তারপর বিবাহ, তারপর তালাক, তারপর ব্যভিচার উল্লেখ করেছেন। এরপর ঘরে প্রবেশের ক্ষেত্রে কিছু শিষ্টাচার ও লেনদেনের কথা উল্লেখ করেছেন এবং সবশেষে জিহাদের অধ্যায়সমূহ বর্ণনা করেছেন।

মুকাতিল (রহ.) যদিও এক বিষয়ের সকল আয়াত এক স্থানে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে জমা করেননি, তবুও তিনি যথার্থই সেই সব শুরুর দিকের আলেমদের অন্তর্ভুক্ত যারা আমাদের আলোচ্য বিষয়ভিত্তিক তাফসির (التفسير الموضوعي) নিয়ে লিখেছেন।

এই বিশেষায়িত শাস্ত্রে আমাদের প্রাচীন আলেমদের প্রচেষ্টাসমূহ যিনি অনুসন্ধান করবেন, তিনি তাঁদের মূল্যবান অবদান এবং উজ্জ্বল ইলমি কর্মতৎপরতা খুঁজে পাবেন। কুরআনের বিভিন্ন বিষয়ের ওপর তাঁরা গ্রন্থ রচনা করেছেন, যার কিছু আমাদের কাছে পৌঁছেছে, কিছু এখনো লাইব্রেরিগুলোর দেয়ালের মাঝে ঘুটঘুটে অন্ধকারে বন্দি হয়ে আছে, আবার কিছু হারিয়ে গেছে যা সম্পর্কে আমরা কেবল বিভিন্ন ইলমি কিতাব বা লেখকের ইলমি নথিপত্র (ثبت) থেকে জানতে পেরেছি। আর সেই সব বিষয়ের মধ্যে রয়েছে—

হাফেজ (الحافظ) মুকাতিল বিন সুলাইমান (রহ.)-এর গ্রন্থ 'আল-উজুহ ওয়ান নাযায়ির ফিল কুরআনিল কারিম'।

এই মহান শাস্ত্রের সাথে বিষয়ভিত্তিক তাফসিরের (التفسير الموضوعي) সম্পর্ক সুস্পষ্ট। আমাদের পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী আলেমগণ এর প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন এবং এ বিষয়ে মূল্যবান কিতাবাদি রচনা করেছেন।

--------------------------------------------

১. তাঁর কিতাবটি একটি মাস্টার্স থিসিস হিসেবে সম্পাদিত (حقق) হয়েছে এবং এটি মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে ওবায়দুল্লাহ লা'আলি আস-সুলামি সম্পাদনা (تحقيق) করেছেন। এর ৬০ নম্বর পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য।
(খণ্ড: ১) আত-তাফসীরুল মাওদুয়ী লিল কুরআনিল কারীম ওয়া নামাযিজ মিনহু (পৃষ্ঠা: ১৫)
يقول الحافظ ابن الجوزي:

"وقد نسب كتاب في الوجوه والنظائر إلى عكرمة، وكتاب آخر إلى علي بن أبي طلحة عن ابن عباس، وممن ألف في الوجوه والنظائر الكلبي، ومقاتل بن سليمان، وأبو الفضل العباسي بن الفضل الأنصاري، وروى مطروح بن محمد بن شاكر عن عبد الله بن هارون الحجازي عن أبيه كتابا في الوجوه والنظائر، وأبو بكر محمد بن الحسن النقاش، وأبو عبد الله الحسن بن محمد الدامغاني، وأبو علي بن البناء من أصحابنا، وشيخنا أبو الحسن علي بن عبيد الله ابن الزاغوني، ولا أعلم أحدا جمع الوجوه والنظائر سوى هؤلاء"1 انتهى.

زاد الزركشي: "وأبو الحسن بن فارس وسمى كتابه "الأفراد"2 وزاد السيوطي: "ومحمد بن عبد الصمد المصري، ثم قالا وقد أفردت في هذا الفن كتابا سميته "معترك الأقران في مشترك القرآن "3.

قلت: وقد سبق السيوطي في التأليف ابن العماد بن الحنبلي المتوفى سنة 887 هـ وعنوان كتابه "كشف السرائر في معنى الوجوه والأشباه والنظائر" مطبوع وقد بين أهل العلم معنى أو المقصد بالوجوه والنظائر.

فقال ابن الجوزي: "واعلم أن معنى الوجوه والنظائر أن تكون الكلمة الواحدة ذكرت في مواضع من القرآن على لفظ واحد، وحركة واحدة وأريد بكل مكان معنى غير الآخر، فلفظ كل كلمة ذكرت في موضع نظير للفظ الكلمة المذكورة في الموضوع الآخر. وتفسير كل كلمة بمعنى غير معنى الآخر هو الوجوه.

فإذا النظائر اسم للألفاظ، والوجوه اسم للمعاني، فهذا الأصل في وضع كتب الوجوه والنظائر.

والذي أراده العلماء بوضع كتب الوجوه والنظائر أن يعرفوا السامع لهذه النظائر أن معانيها تختلف، وأنه ليس المراد بهذه اللفظة ما أريد بالأخرى"4 انتهى.

--------------------------------------------

1 نزهة الأعين النواظر1/2.

2 البرهان في علوم القرآن1/102.

3 الإتقان في علوم القران 2/121.

4 نزهة الأعين النواظر 1/ 302.
হাফেজ ইবনুল জাওজি বলেন:

"ইকরিমা-র প্রতি 'শাব্দিক ও অর্থগত বৈচিত্র্য' (الوجوه والنظائر) বিষয়ক একটি গ্রন্থ সম্বন্ধ করা হয়েছে। অনুরূপভাবে আলী ইবনে আবি তালহা-র সূত্রে ইবনে আব্বাস-এর প্রতিও আরেকটি গ্রন্থ সম্বন্ধ করা হয়েছে। আর যারা 'শাব্দিক ও অর্থগত বৈচিত্র্য' (الوجوه والنظائر) বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন কালবি, মুকাতিল ইবনে সুলাইমান, আবুল ফজল আল-আব্বাসি ইবনুল ফজল আল-আনসারি। আর মাত্রুহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে শাকির তার পিতা থেকে আব্দুল্লাহ ইবনে হারুন আল-হিজাজির সূত্রে 'শাব্দিক ও অর্থগত বৈচিত্র্য' (الوجوه والنظائر) বিষয়ক একটি গ্রন্থ বর্ণনা করেছেন। আরও (লিখেছেন) আবু বকর মুহাম্মদ ইবনুল হাসান আন-নাক্কাশ, আবু আব্দুল্লাহ আল-হাসান ইবনে মুহাম্মদ আদ-দামিগানি, আমাদের (মাযহাবের) অনুসারীদের মধ্যে আবু আলী ইবনুল বান্না এবং আমাদের শায়খ আবুল হাসান আলী ইবনে উবায়দুল্লাহ ইবনুল যাগুনি। আমি এদের ব্যতীত আর কাউকে 'শাব্দিক ও অর্থগত বৈচিত্র্য' (الوجوه والنظائر) বিষয়ে (তথ্য) একত্রিত করতে দেখিনি।"১ সমাপ্ত।

যারকাশি আরও যুক্ত করেছেন: "এবং আবুল হাসান ইবনে ফারিস, তিনি তার গ্রন্থের নাম রেখেছেন আল-আফরাদ।"২ আর সুয়ূতি যুক্ত করেছেন: "এবং মুহাম্মদ ইবনে আব্দুস সামাদ আল-মিসরি। অতঃপর তারা উভয়েই বলেছেন যে, আমি এই শিল্পে (فن) একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেছি যার নাম রেখেছি মুতরাকুল আকরান ফি মুশতরাকিল কুরআন।"৩

আমি (লেখক) বলছি: গ্রন্থ রচনার ক্ষেত্রে সুয়ূতির পূর্বে ইবনুল ইমাদ ইবনুল হাম্বলি (মৃত্যু ৮৮৭ হিজরি) অগ্রগামী ছিলেন এবং তার গ্রন্থের শিরোনাম হলো কাশফুস সারাইর ফি মা'নাল উজহ ওয়াল আশবাহ ওয়ান নাযাইর; এটি মুদ্রিত হয়েছে। আর আলেমগণ 'শাব্দিক ও অর্থগত বৈচিত্র্য' (الوجوه والنظائر)-এর অর্থ বা উদ্দেশ্য বর্ণনা করেছেন।

ইবনুল জাওজি বলেন: "জেনে রেখো যে, 'শাব্দিক ও অর্থগত বৈচিত্র্য' (الوجوه والنظائر)-এর অর্থ হলো—একটি শব্দ কুরআনের বিভিন্ন স্থানে একই শব্দ (لفظ) ও একই হরকত (حركة) হিসেবে উল্লেখ হবে, কিন্তু প্রতিটি স্থানে ভিন্ন ভিন্ন অর্থ (معنى) উদ্দেশ্য হবে। সুতরাং প্রতিটি স্থানে উল্লিখিত শব্দের উচ্চারণ অন্য স্থানে উল্লিখিত শব্দের উচ্চারণের সমরূপ (نظير)। আর প্রতিটি শব্দকে ভিন্ন ভিন্ন অর্থে ব্যাখ্যা করাকে বলা হয় বহুমুখী অর্থ (الوجوه)।

অতএব, সমরূপ শব্দ (النظائر) হলো শব্দসমূহের (الألفاظ) নাম এবং বহুমুখী অর্থ (الوجوه) হলো অর্থসমূহের (المعاني) নাম। এটিই 'শাব্দিক ও অর্থগত বৈচিত্র্য' (الوجوه والنظائر) বিষয়ক গ্রন্থসমূহ রচনার মূল ভিত্তি।

আর 'শাব্দিক ও অর্থগত বৈচিত্র্য' (الوجوه والنظائر) বিষয়ক গ্রন্থসমূহ রচনার মাধ্যমে আলেমদের উদ্দেশ্য ছিল শ্রোতাকে এই সমরূপ শব্দসমূহ (النظائر) সম্পর্কে জানানো যে এদের অর্থসমূহ ভিন্ন ভিন্ন হয় এবং এক স্থানে যা উদ্দেশ্য নেওয়া হয়েছে অন্য স্থানে সেই একই শব্দ দ্বারা তা উদ্দেশ্য নয়।"৪ সমাপ্ত।

--------------------------------------------

১ নুজহাতুল আইয়ুন আন-নাওয়াযির ১/২।

২ আল-বুরহান ফি উলূমিল কুরআন ১/১০২।

৩ আল-ইতকান ফি উলূমিল কুরআন ২/১২১।

৪ নুজহাতুল আইয়ুন আন-নাওয়াযির ১/৩০২।
(খণ্ড: ১) আত-তাফসীরুল মাওদুয়ী লিল কুরআনিল কারীম ওয়া নামাযিজ মিনহু (পৃষ্ঠা: ১৬)
وعلى هذا المنوال مشى الزركشي في البرهان فقال: "فالوجوه: اللفظ المشترك الذي يستعمل في عدة معان كلفظ "الأمة". والنظائر كالألفاظ المتواطئة " وذكر غير هذا وتبعه السيوطي في الإتقان1.

طريقة البحث في التفسير الموضوعي:

يرى الدارسون للتفسير الموضوعي أن الكتابة والبحث فيه له طريقان، وأن للدراسة أو البحث فيه منهجا محددا.

أما الطريق الأول لكيفية البحث فيه فهي أن ينظر الباحث إلى السورة القرآنية من أولها إلى آخرها على أنها وحدة متكاملة الفكرة والمنهج والموضوع وقد عالجت ذلك الموضوع العام من خلاله موضوعاتها المتعددة مثال ذلك: سورة المنافقين: موضوعها: فضح المنافقين والتحذير منهم.

وقد عالجت السورة هذا الموضوع من خلال موضوعاتها المتعددة نحو:

1- بيان كذب المنافقين وأنهم يقولون مالا يعتقدون.

2- جرأتهم على الأيمان الكاذبة تسترا على نفاقهم وخوفا على دمائهم.

3- صدهم عن سبيل الله بأساليبهم الخبيثة الماكرة.

4- سيطرة الجبن والخوف عليهم مع أن الناظر لهم يراهم أصحاب أجسام ضخام.

5- إعراضهم عن الهدى وعدم الاستجابة لهم وصد الناس عنه.

6- فضح دسائسهم ومناوراتهم وما تحمله نفوسهم اللئيمة من الخبث والغدر والخيانة للإسلام والمسلمين.

7- تحذير المؤمنين من أن يقعوا في أدنى صفة من صفات المنافقين "وأدنى درجات النفاق عدم التجرد لله والغفلة عن ذكره اشتغالا بالأموال والأولاد، والتقاعس عن البذل في سبيل الله حتى يأتي اليوم الذي لا ينفع فيه البذل والصدقات"2.

--------------------------------------------

1 البرهان في علوم القرآن1/102.

2 الإتقان في علوم القرآن 2/121.

3 في ظلال القران 8/104 وانظر التحرير والتنوير 28/ 233 وتفسير المراغي28/106.
এই ধারাতেই আল-যারকাশি আল-বুরহান গ্রন্থে চলেছেন এবং বলেছেন: "উজুহ (الوجوه) হলো: সেই মুশতারাক শব্দ (اللفظ المشترك) যা একাধিক অর্থে ব্যবহৃত হয়, যেমন ‘উম্মাহ’ শব্দটি। আর নাজাইর (النظائر) হলো মুতাওয়াত্বি শব্দগুলোর (الألفاظ المتواطئة) মতো।" তিনি এর বাইরে আরও কিছু উল্লেখ করেছেন এবং আল-ইতকান গ্রন্থে আস-সুয়ূতী তাঁর অনুসরণ করেছেন।১

বিষয়ভিত্তিক তাফসির (التفسير الموضوعي) গবেষণার পদ্ধতি:

বিষয়ভিত্তিক তাফসিরের (التفسير الموضوعي) গবেষকগণ মনে করেন যে, এতে লেখালেখি ও গবেষণার দুটি পথ রয়েছে এবং এতে অধ্যয়ন বা গবেষণার একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতি রয়েছে।

এতে গবেষণার প্রথম পদ্ধতিটি হলো—গবেষক কুরআনের একটি সূরার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এমনভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন যেন তা চিন্তা, পদ্ধতি ও বিষয়ের একটি পূর্ণাঙ্গ একক। সূরাটি তার বিভিন্ন উপ-বিষয়ের মাধ্যমে সেই সাধারণ বিষয়টি আলোচনা করেছে। উদাহরণস্বরূপ: সূরা আল-মুনাফিকুন: এর মূল বিষয় হলো: মুনাফিকদের (المنافقين) স্বরূপ উন্মোচন এবং তাদের ব্যাপারে সতর্কীকরণ।

সূরাটি তার বহুবিধ উপ-বিষয়ের মাধ্যমে এই বিষয়টি আলোচনা করেছে, যেমন:

১- মুনাফিকদের (المنافقين) মিথ্যার বর্ণনা এবং তারা যা বিশ্বাস করে না তা মুখে বলার বিষয়টি।

২- তাদের নিফাক (نفاق) গোপন করতে এবং নিজেদের জীবন বাঁচাতে মিথ্যা কসম খাওয়ার ধৃষ্টতা।

৩- তাদের জঘন্য ও ধূর্ত কৌশলের মাধ্যমে আল্লাহর পথ থেকে মানুষকে বাধা প্রদান করা।

৪- তাদের ওপর কাপুরুষতা ও ভীতি ছেয়ে থাকা, যদিও বাহ্যিকভাবে তাদের বিশাল দেহধারী দেখা যায়।

৫- হেদায়েত থেকে তাদের বিমুখতা, তাতে সাড়া না দেওয়া এবং মানুষকে তা থেকে বিরত রাখা।

৬- তাদের ষড়যন্ত্র ও কূটচালগুলো উন্মোচন করা এবং তাদের নীচ অন্তরে ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে যে বিদ্বেষ, বিশ্বাসঘাতকতা ও খিয়ানত রয়েছে তা প্রকাশ করা।

৭- মুমিনদের সতর্ক করা যেন তারা মুনাফিকদের (المنافقين) কোনো ক্ষুদ্রতম বৈশিষ্ট্যেও লিপ্ত না হয়; "আর নিফাকের (نفاق) সর্বনিম্ন স্তর হলো আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠ না হওয়া এবং ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি নিয়ে ব্যস্ত হয়ে তাঁর জিকির থেকে গাফেল থাকা, সেই সাথে আল্লাহর পথে ব্যয়ের ক্ষেত্রে অলসতা করা, যতক্ষণ না এমন দিন আসে যেদিন দান-সদকা আর কোনো কাজে আসবে না।"২

--------------------------------------------

১ আল-বুরহান ফি উলুমিল কুরআন ১/১০২।

২ আল-ইতকান ফি উলুমিল কুরআন ২/১২১।

৩ ফি জিলালিল কুরআন ৮/১০৪ এবং দেখুন আত-তাহরির ওয়াত-তানভির ২৮/২৩৩ এবং তাফসির আল-মারগি ২৮/১০৬।
(খণ্ড: ১) আত-তাফসীরুল মাওদুয়ী লিল কুরআনিল কারীম ওয়া নামাযিজ মিনহু (পৃষ্ঠা: ১৭)
والطريقة الثانية: هي أن ينظر الباحث إلى الآيات القرآنية المتنوعة في القرآن كله، بجمع تلك الآيات ذات الموضوع الواحد والهدف المشترك في موضوع واحد، ويقوم بدراستها دراسة متكاملة مراعيا ترتيبها حسب أسباب النزول لكي يعرف المتقدم منها من المتأخر مستعينا في ذلك بالسنة الصحيحة وفهم السلف لذلك. ومحاولا قدر جهده وطاقته الإحاطة بجوانب الموضوع كله.

وهذه "الطريقة الثانية هي المعمول بها في مجال البحوث العلمية الموضوعية، وإذا ما أطلقت كلمة "تفسير موضوعي" فلا يفهم منها إلا بحث موضوع من موضوعات القرآن الكريم على مستوى القرآن جميعه"1.

أهمية منهج الدراسة في التفسير الموضوعي.

وبناء على هذه الطريقة فلابد من تحديد منهج لدراسة الموضوع المختار، من أجل الإلمام بأطراف الموضوع، والربط بين أجزائه وإظهاره في صورة متكاملة تكشف للقارئ عظمة القرآن الكريم وأهدافه السامية. وتقضي على الدراسات المبتورة والدعاوى المضللة من المستشرقين وأتباعهم 2.

تحديد المنهج:

أولا: اختيار الموضوع المراد دراسته.

ثانيا: جمع الآيات القرآنية المتعلقة به.

ثالثا: ترتيبها وفق أسباب النزول لمعرفة المتقدم من المتأخر منها.

رابعا: شرحها شرحا وافيا يجلي مضمونها ويكشف عن مكنونها ويربط بين أجزائها. وإزالة ما يتوهم أنه اختلاف وتناقض بينها أو ناسخ ومنسوخ أو خاص وعام أو مطلق ومقيد أو مجمل ومفسر.

خامسا: الاستعانة في الموضوع بما صح عن النبي صلى الله عليه وسلم قاله من السنة الصحيحة المبينة

--------------------------------------------

1 التفسير الموضوعي للقران الكريم ص 17 للدكتور محمد أحمد يوسف القاسم.

2 انظر البدايةَ في التفسير الموضوعي ص 57- 61.
দ্বিতীয় পদ্ধতিটি হলো: গবেষক সমগ্র কুরআনের বিভিন্ন আয়াতের প্রতি দৃষ্টিপাত করবেন, একই বিষয়বস্তু ও সাধারণ লক্ষ্য সম্বলিত আয়াতগুলোকে একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের অধীনে একত্রিত করবেন এবং সেগুলোর একটি পূর্ণাঙ্গ অধ্যয়ন করবেন। এক্ষেত্রে তিনি অবতরণের প্রেক্ষাপট (أسباب النزول) অনুযায়ী আয়াতগুলোর ক্রমধারা বিবেচনা করবেন যাতে পূর্ববর্তী ও পরবর্তী আয়াতসমূহ চিহ্নিত করা যায়। এক্ষেত্রে তিনি সহিহ (صحيحة) সুন্নাহ এবং এ বিষয়ে সালাফদের (السلف) বুঝের সহায়তা নেবেন এবং নিজ সাধ্যানুযায়ী বিষয়টির সকল দিক আয়ত্ত করার চেষ্টা করবেন।

আর এই "দ্বিতীয় পদ্ধতিটিই বিষয়ভিত্তিক বৈজ্ঞানিক গবেষণার ক্ষেত্রে অনুসৃত। যখন 'বিষয়ভিত্তিক তাফসির' শব্দসমষ্টি ব্যবহার করা হয়, তখন এর দ্বারা সমগ্র কুরআনের আলোকে পবিত্র কুরআনের কোনো একটি বিষয়ের ওপর গবেষণা করাকেই বোঝানো হয়"১।

বিষয়ভিত্তিক তাফসিরের ক্ষেত্রে অধ্যয়ন পদ্ধতির গুরুত্ব।

এই পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে নির্বাচিত বিষয়টি অধ্যয়নের জন্য একটি কর্মপন্থা নির্ধারণ করা আবশ্যক, যাতে বিষয়টির সকল দিক পরিবেষ্টন করা যায়, এর বিভিন্ন অংশের মধ্যে যোগসূত্র স্থাপন করা যায় এবং একে একটি পূর্ণাঙ্গ রূপে উপস্থাপন করা যায় যা পাঠকের নিকট পবিত্র কুরআনের মহিমা ও এর সুউচ্চ লক্ষ্যসমূহ উন্মোচিত করবে। এটি প্রাচ্যবিদ ও তাদের অনুসারীদের খণ্ডিত গবেষণা ও বিভ্রান্তিকর দাবিগুলো নিরসন করবে ২।

কর্মপন্থা নির্ধারণ:

প্রথমত: গবেষণার জন্য উদ্দিষ্ট বিষয়টি নির্বাচন করা।

দ্বিতীয়ত: সংশ্লিষ্ট কুরআনিক আয়াতসমূহ সংগ্রহ করা।

তৃতীয়ত: অবতরণের প্রেক্ষাপট (أسباب النزول) অনুযায়ী আয়াতগুলো বিন্যস্ত করা যাতে পূর্ববর্তী ও পরবর্তী আয়াতসমূহ জানা যায়।

চতুর্থত: আয়াতগুলোর এমন বিশদ ব্যাখ্যা প্রদান করা যা এর মূল ভাবার্থ ফুটিয়ে তুলবে, অন্তর্নিহিত রহস্য উন্মোচন করবে এবং এর বিভিন্ন অংশের মধ্যে সমন্বয় করবে। এছাড়াও আয়াতসমূহের মধ্যে আপাত বৈপরীত্য ও বিরোধ নিরসন করা, কিংবা রহিতকারী ও রহিত (ناسخ ومنسوخ) বা বিশেষ ও সাধারণ (خاص وعام) বা নিঃশর্ত ও শর্তযুক্ত (مطلق ومقيد) অথবা সংক্ষিপ্ত ও ব্যাখ্যাত (مجمل ومفسر) বিষয়সমূহ স্পষ্ট করা।

পঞ্চমত: এ বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা সহিহ (صح) হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে, সেই ব্যাখ্যামূলক সহিহ (صحيحة) সুন্নাহর সহায়তা গ্রহণ করা।

--------------------------------------------

১. ড. মুহাম্মাদ আহমাদ ইউসুফ আল-কাসিম রচিত ‘আত-তাফসির আল-মাউদুয়ি লিল কুরআনিল কারিম’, পৃষ্ঠা ১৭।

২. দেখুন ‘আল-বিদায়া ফিত তাফসিরিল মাউদুয়ি’, পৃষ্ঠা ৫৭-৬১।
(খণ্ড: ১) আত-তাফসীরুল মাওদুয়ী লিল কুরআনিল কারীম ওয়া নামাযিজ মিনহু (পৃষ্ঠা: ১৮)
لما أجمل، والمفسرة لما أشكل والمقيدة لما أطلق. والمخصصة لما جاء عاماً 1.

سادسا: الاستعانة في هذا كله بفهم السلف الصالح لنصوص الوحيين. وعدم الاتكال على العقل أو الاجتهاد الشخصي إلا بعد استكمال أسباب الأهلية.

--------------------------------------------

1 انظر البداية في التفسير الموضوعي ص 61 للفرماوي والتفسير الموضوعي ص 17، 18 للدكتور محمد القاسم. والتفسير الموضوعي ص 23/ 24 للدكتور أحمد الكومي ومحمد القاسم.
যা সংক্ষিপ্ত (مجمل) বিষয়কে বিশদকারী, অস্পষ্ট (مشكل) বিষয়কে ব্যাখ্যাকারী এবং নিঃশর্ত (مطلق) বিষয়কে সীমাবদ্ধকারী (مقيد); আর যা সাধারণভাবে (عام) এসেছে তাকে সুনির্দিষ্টকারী (مخصص) ১।

ষষ্ঠত: এই সবকিছুর ক্ষেত্রে ওহীদ্বয়ের ভাষ্য অনুধাবনে সলফে সালেহীন বা পুণ্যবান পূর্বসূরিদের বুঝের সহায়তা গ্রহণ করা। এবং যোগ্যতার প্রয়োজনীয় শর্তাবলি পূর্ণ করার আগে কেবল বিবেক বা ব্যক্তিগত গবেষণার (اجتهاد) ওপর নির্ভর না করা।

--------------------------------------------

১ দ্রষ্টব্য: আল-বিদায়া ফি আত-তাফসির আল-মাওদুয়ি, পৃষ্ঠা ৬১, আল-ফারমাওয়ি; এবং আত-তাফসির আল-মাওদুয়ি, পৃষ্ঠা ১৭, ১৮, ড. মুহাম্মদ আল-কাসিম; এবং আত-তাফসির আল-মাওদুয়ি, পৃষ্ঠা ২৩/২৪, ড. আহমদ আল-কুমি ও মুহাম্মদ আল-কাসিম।
(খণ্ড: ১) আত-তাফসীরুল মাওদুয়ী লিল কুরআনিল কারীম ওয়া নামাযিজ মিনহু (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌أولا: العقائد في القرآن الكريم

الإسلام هو دين الأنبياء والرسل جميعاً لا يقبل الله سبحانه من أحد ديناً سواه قال تعالى: {إِنَّ الدِّينَ عِنْدَ الله الإسْلامُ} آل عمران 19. وقال تعالى: {وَمَنْ يَبْتَغِ غَيْرَ الإسْلامِ دِيناً فَلَنْ يُقْبَلَ مِنْهُ وَهُوَ فِي الآخِرَةِ مِنَ الْخَاسِرِينَ} آل عمران 85.

والله سبحانه أكمل هذا الدين وأتم به على الأمة النعمة ورضيه لهم ديناً فقال سبحانه: {الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الإسْلامَ دِيناً} المائدة 3.

واختار سبحانه محمداً صلي الله عليه وسلّم أن يكون خاتما لجميع الأنبياء وأن تكون رسالته خاتمة كذلك لجميع الأديان وناسخة لها. فقال تعالى: "مَا كَانَ مُحَمَّدٌ أَبَا أَحَدٍ مِنْ رِجَالِكُمْ وَلَكِنْ رَسُولَ الله وَخَاتَمَ النَّبِيِّينَ" الأحزاب 40.

وأمر الله سبحانه الناس جميعاً أن يؤمنوا بالله ورسوله وأن يتبعوه فقال تعالى: {قُلْ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنِّي رَسُولُ الله إِلَيْكُمْ جَمِيعاً الَّذِي لَهُ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ لا إِلَهَ إِلا هُوَ يُحْيِي وَيُمِيتُ فَآمِنُوا بِالله وَرَسُولِهِ النَّبِيِّ الأُمِّيِّ الَّذِي يُؤْمِنُ بِالله وَكَلِمَاتِهِ وَاتَّبِعُوهُ لَعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَ} الأعراف 158.

ووصف الله سبحانه دينه بأنه الحق وأن من تمسك به أظهره الله ومن قال به صدق، ومن حكم به عدل، ومن دعا إليه هدى إلى صراط مستقيم قال تعالى: {هُوَ الَّذِي أَرْسَلَ رَسُولَهُ بِالْهُدَى وَدِينِ الْحَقِّ لِيُظْهِرَهُ عَلَى الدِّينِ كُلِّهِ وَلَوْ كَرِهَ الْمُشْرِكُونَ} الصف 9.

وجعل الله سبحانه لهذا الدين الهيمنة على من سبقه من الكتب والتصديق بها. قال
প্রথমত: পবিত্র কুরআনে আকাইদ (বিশ্বাসসমূহ)

ইসলাম হলো সমস্ত নবী ও রাসূলগণের দ্বীন। মহান আল্লাহ কোনো ব্যক্তির পক্ষ থেকে ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো দ্বীন কবুল করবেন না। মহান আল্লাহ বলেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট একমাত্র মনোনীত দ্বীন হলো ইসলাম" (আলে ইমরান: ১৯)। তিনি আরও বলেন: "আর যে ব্যক্তি ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো দ্বীন তালাশ করবে, তবে তা কখনই তার পক্ষ থেকে কবুল করা হবে না এবং সে আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে" (আলে ইমরান: ৮৫)।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা এই দ্বীনকে পূর্ণতা দান করেছেন এবং এর মাধ্যমে উম্মতের ওপর তাঁর নিয়ামতকে সম্পন্ন করেছেন এবং ইসলামকে তাদের জন্য দ্বীন হিসেবে মনোনীত করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: "আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করলাম এবং তোমাদের ওপর আমার নিয়ামতকে সম্পূর্ণ করলাম এবং তোমাদের জন্য ইসলামকে দ্বীন হিসেবে পছন্দ করলাম" (আল-মায়িদাহ: ৩)।

আল্লাহ তায়ালা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সকল নবীর শেষ নবী হিসেবে মনোনীত করেছেন এবং তাঁর রিসালাতকে একইভাবে সকল দ্বীনের সমাপ্তি ও রহিতকারী (ناسخة) হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: "মুহাম্মাদ তোমাদের কোনো পুরুষের পিতা নন; বরং তিনি আল্লাহর রাসূল এবং শেষ নবী" (আল-আহজাব: ৪০)।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা সকল মানুষকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ওপর ঈমান আনার এবং তাঁকে অনুসরণ করার নির্দেশ দিয়েছেন। মহান আল্লাহ বলেন: "বলুন, হে মানুষ! আমি তোমাদের সবার জন্য আল্লাহর রাসূল, যাঁর রয়েছে আসমান ও জমিনের রাজত্ব। তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনিই জীবিত করেন ও মৃত্যু দান করেন। সুতরাং তোমরা ঈমান আনো আল্লাহর ওপর এবং তাঁর প্রেরিত নিরক্ষর নবী রাসূলের ওপর, যিনি আল্লাহ ও তাঁর বাণীসমূহের ওপর ঈমান আনেন। আর তোমরা তাঁর অনুসরণ করো, যাতে তোমরা সঠিক পথ পাও" (আল-আরাফ: ১৫৮)।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তাঁর দ্বীনকে সত্য হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং উল্লেখ করেছেন যে, যে ব্যক্তি একে আঁকড়ে ধরবে আল্লাহ তাকে বিজয়ী করবেন, যে এর ভিত্তিতে কথা বলবে সে সত্য বলবে, যে এর মাধ্যমে বিচার করবে সে ন্যায়বিচার করবে এবং যে এর দিকে আহ্বান জানাবে সে সরল সঠিক পথের দিশা পাবে। মহান আল্লাহ বলেন: "তিনিই তাঁর রাসূলকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ পাঠিয়েছেন, যাতে তিনি একে সব দ্বীনের ওপর বিজয়ী করে দেন, যদিও মুশরিকরা তা অপছন্দ করে" (আস-সাফ: ৯)।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা এই দ্বীনকে পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের ওপর প্রামাণ্য ও নিয়ন্ত্রণকারী এবং সেগুলোর সত্যতা প্রত্যায়নকারী হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন। তিনি বলেন...
(খণ্ড: ১) আত-তাফসীরুল মাওদুয়ী লিল কুরআনিল কারীম ওয়া নামাযিজ মিনহু (পৃষ্ঠা: ১৯)
تعالى: {وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ مُصَدِّقاً لِمَا بَيْنَ يَدَيْهِ مِنَ الْكِتَابِ وَمُهَيْمِناً عَلَيْهِ} المائدة 48.

وأول واجب على المكلف فرضه الله عليه هو معرفة ربه الذي خلقه من العدم وهو ليس بحاجة إليه، تكفل سبحانه برزقه لعبده مع عصيان المخلوق لخالقه قال تعالى: {وَمَا مِنْ دَابَّةٍ فِي الأَرْضِ إِلا عَلَى الله رِزْقُهَا} هود 65.

ومعرفة الرب سبحانه لا تكون إلا بتوحيده، الذي خلقهم سبحانه من أجله وفطرهم عليه، وأخذ الميثاق عليهم وهم في الأصلاب، وشهدوا بذلك وأقروا.

قال تعالى: {وَإِذْ أَخَذَ رَبُّكَ مِنْ بَنِي آدَمَ مِنْ ظُهُورِهِمْ ذُرِّيَّتَهُمْ وَأَشْهَدَهُمْ عَلَى أَنْفُسِهِمْ أَلَسْتُ بِرَبِّكُمْ قَالُوا بَلَى شَهِدْنَا أَنْ تَقُولُوا يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِنَّا كُنَّا عَنْ هَذَا غَافِلِينَ أَوْ تَقُولُوا إِنَّمَا أَشْرَكَ آبَاؤُنَا مِنْ قَبْلُ وَكُنَّا ذُرِّيَّةً مِنْ بَعْدِهِمْ أَفَتُهْلِكُنَا بِمَا فَعَلَ الْمُبْطِلُونَ وَكَذَلِكَ نُفَصِّلُ الآياتِ وَلَعَلَّهُمْ يَرْجِعُونَ} الأعراف (172-174) . فهذا إخبار منه سبحانه في استخراج ذرية بني آدم من ظهور آبائهم وأصلابهم وأنه أخذ عليهم الإِقرار والشهادة بأنه ربهم غير غافلين، ولا مقلدين لمن أشرك من آبائهم وأنهم أقروا بذلك. وقال تعالى: {فَأَقِمْ وَجْهَكَ لِلدِّينِ حَنِيفاً فِطْرَتَ الله الَّتِي فَطَرَ النَّاسَ عَلَيْهَا لا تَبْدِيلَ لِخَلْقِ الله ذَلِكَ الدِّينُ الْقَيِّمُ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لا يَعْلَمُونَ} الروم.3. وإقامة الوجه هنا بمعنى الاستمرار على الدين الذي شرعه الله سبحانه لخلقه والعزم على الثبات عليه.

قال ابن كثير رحمه الله: "يقول تعالى فسدد وجهك، واستمر على الدين الذي شرعه الله من الحنيفيّة ملة إبراهيم، الذي هداك الله لها، وكمّلها لك غاية الكمال، وأنت مع ذلك لازم فطرتك السليمة التي فطر الله الخلق عليها، فإنه تعالى فطر خلقه على معرفته وتوحيده وأنه لا إله غيره"1.

عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلي الله عليه وسلم: "ما من مولود إلا يولد على الفطرة".

وفي رواية لمسلم "ما من مولود يولد إلا وهو على الملة".

--------------------------------------------

1 تفسير القرآن العظيم 5/358 دار الفكر.
মহান আল্লাহ বলেন: {আর আমি আপনার প্রতি সত্যসহ কিতাব অবতীর্ণ করেছি, যা তার পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের সত্যায়নকারী এবং সেগুলোর রক্ষক} আল-মায়িদাহ ৪৮।

একজন মুকাল্লাফের (শরয়ি বিধান পালনে দায়বদ্ধ ব্যক্তি) ওপর আল্লাহ তাআলা সর্বপ্রথম যে বিষয়টি ওয়াজিব করেছেন, তা হলো তাঁর প্রতিপালক সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা, যিনি তাকে অনস্তিত্ব থেকে সৃষ্টি করেছেন অথচ তিনি তার মুখাপেক্ষী নন। সৃষ্টি তার স্রষ্টার অবাধ্য হওয়া সত্ত্বেও মহান আল্লাহ স্বয়ং তাঁর বান্দার রিজিকের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: {আর পৃথিবীতে বিচরণকারী এমন কোনো প্রাণী নেই যার রিজিকের দায়িত্ব আল্লাহর ওপর নেই} হুদ ৬৫।

আর প্রতিপালক সম্পর্কে জ্ঞান লাভ কেবলমাত্র তাঁর তাওহিদের মাধ্যমেই সম্ভব, যার উদ্দেশ্যেই মহান আল্লাহ তাদের সৃষ্টি করেছেন এবং যার ওপর তাদের প্রকৃতিজাত করেছেন। আর তিনি তাদের নিকট থেকে প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করেছেন যখন তারা পিতৃপুরুষদের পৃষ্ঠদেশে ছিল এবং তারা সে বিষয়ে সাক্ষ্য দিয়েছে ও স্বীকৃতি প্রদান করেছে।

মহান আল্লাহ বলেন: {আর স্মরণ করুন, যখন আপনার প্রতিপালক বনী আদমের পৃষ্ঠদেশ থেকে তাদের বংশধরদের বের করে আনলেন এবং তাদেরকে তাদের নিজেদের ওপর সাক্ষী করে বললেন, ‘আমি কি তোমাদের প্রতিপালক নই?’ তারা বলল, ‘অবশ্যই, আমরা সাক্ষ্য দিলাম।’ এটি এ জন্য যে, যেন তোমরা কিয়ামতের দিন বলতে না পার যে, ‘আমরা তো এ বিষয়ে অসতর্ক ছিলাম।’ অথবা তোমরা বলতে পার যে, ‘আমাদের পূর্বপুরুষরাই তো আগে শিরক করেছে, আর আমরা তো তাদের পরবর্তী বংশধর ছিলাম; তবে কি আপনি পথভ্রষ্টদের কৃতকর্মের কারণে আমাদের ধ্বংস করবেন?’ আর এভাবেই আমি আয়াতসমূহ বিস্তারিত বর্ণনা করি যাতে তারা ফিরে আসে} আল-আরাফ (১৭২-১৭৪)। এটি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে বনী আদমের বংশধরদের তাদের পিতৃপুরুষদের পৃষ্ঠদেশ থেকে বের করে আনার বিষয়ে একটি সংবাদ, এবং তিনি তাদের নিকট থেকে এই মর্মে স্বীকৃতি ও সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন যে তিনি তাদের প্রতিপালক; যেন তারা অসতর্ক না থাকে এবং তাদের মুশরিক পিতৃপুরুষদের অন্ধ অনুকরণ না করে। আর তারা তাতে স্বীকৃতি প্রদান করেছে। মহান আল্লাহ আরও বলেন: {সুতরাং আপনি একনিষ্ঠ হয়ে নিজেকে দ্বীনে প্রতিষ্ঠিত রাখুন। এটিই আল্লাহর ফিতরাত, যার ওপর তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহর সৃষ্টির কোনো পরিবর্তন নেই। এটিই সুপ্রতিষ্ঠিত দ্বীন, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা জানে না} আর-রূম ৩। আর এখানে ‘চেহারা প্রতিষ্ঠিত রাখা’র অর্থ হলো আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর সৃষ্টির জন্য যে দ্বীন বিধিবদ্ধ করেছেন তার ওপর অবিচল থাকা এবং তাতে অটল থাকার দৃঢ় সংকল্প করা।

ইবনে কাসির (রহ.) বলেন: "মহান আল্লাহ বলছেন, আপনি আপনার লক্ষ্য স্থির করুন এবং আল্লাহ ইব্রাহিম (আ.)-এর যে একনিষ্ঠ আদর্শ (হানিফিয়্যাহ) আপনার জন্য বিধিবদ্ধ করেছেন তার ওপর অবিচল থাকুন, যার প্রতি আল্লাহ আপনাকে হেদায়েত দান করেছেন এবং যাকে আপনার জন্য পূর্ণতা দান করেছেন। এর পাশাপাশি আপনি আপনার সেই সুস্থ স্বভাবজাত প্রকৃতির ওপর অটল থাকুন যার ওপর আল্লাহ সৃষ্টিজগতকে সৃষ্টি করেছেন। কেননা মহান আল্লাহ তাঁর সৃষ্টিকে তাঁর পরিচয় এবং তাওহিদের ওপর সৃষ্টি করেছেন যে, তিনি ছাড়া আর কোনো সত্য ইলাহ নেই"১।

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: "প্রত্যেক নবজাতকই ফিতরাতের ওপর জন্মগ্রহণ করে।"

এবং মুসলিম-এর এক বর্ণনায় (رواية) রয়েছে: "প্রত্যেক নবজাতকই মিল্লাতের ওপর জন্মগ্রহণ করে।"

--------------------------------------------

১ তাফসিরুল কুরআনিল আজিম ৫/৩৫৮, দারুল ফিকর।
(খণ্ড: ১) আত-তাফসীরুল মাওদুয়ী লিল কুরআনিল কারীম ওয়া নামাযিজ মিনহু (পৃষ্ঠা: ২০)
وفي رواية له أيضا "إلا على هذه الملة حتى يبين عنه لسانه ".

وفي رواية "ليس من مولود يولد إلا على هذه الفطرة، حتى يعبر عنه لسانه فأبواه يهودانه أو ينصرانه أو يمجسانه. كما تنتج البهيمة بهيمة جمعاء، هل تحسون فيها من جدعاء؟ ثم يقول أبو هريرة رضي الله عنه: {فِطْرَتَ الله الَّتِي فَطَرَ النَّاسَ عَلَيْهَا لا تَبْدِيلَ لِخَلْقِ الله ذَلِكَ الدِّينُ الْقَيِّمُ} 1.

وفي رواية لمسلم "كل إنسان تلده أمه على الفطرة وأبواه بعد يهودانه وينصرانه ويمجسانه فإن كانا مسلمين فمسلم، كل إنسان تلده أمه يلكزه الشيطان في حضنيه إلا مريم وابنها" 2.

وعن عياض بن حمار المجاشعي رضي الله عنه: أن رسول الله صلي الله عليه وسلم قال ذات يوم في خطبته:

"ألا إن ربي أمرني أن أعلمكم ما جهلتم مما علمني يومي هذا. كل مال نحلته عبداً حلال، وإني خلقت عبادي حنفاء كلهم، وإنهم أتتهم الشياطين فاجتالتهم عن دينهم، وحرّمت عليهم ما أحللت لهم وأمرتهم أن يشركوا بي ما لم أنزل به سلطانا، وإن الله نظر إلى أهل الأرض فمقتهم عربهم وعجمهم، إلا بقايا من أهل الكتاب، وقال إنما بعثتك لأبتليك، وأبتلي بك، وأنزلت عليك كتاباً لا يغسله الماء تقرؤه نائماً ويقظان وإن الله أمرني أن أحرق قريشاً فقلت ربي إذاً يثلغوا رأسي فيدعوه خبزة قال: استخرجهم كما استخرجوك واغزهم نغزك، وأنفق فسننفق عليك، وابعث جيشاً نبعث خمسة مثله، وقاتل بمن أطاعك من عصاك 3..الخ.

ومن أجل التوحيد وتحقيقه أرسل الله الرسل، وأنزل الكتب وشرع الجهاد تحقيقاً للحق وإزهاقا للباطل فبالتوحيد يسعد الإنسان ويدخل الإسلام، وتكون له النجاة في الأولى والآخرة وببعده يشقى ويخرج من الإِسلام، وتكون عاقبته الخزى والعار.

--------------------------------------------

1 رواه البخاري في الجنائز باب إذا أسلم الصبي فمات1/417 وباب ما قيل في أولاد المشركين 1/424 وفي التفسير باب لا تبديل لخلق الله3/275 وفي كتاب القدر باب الله أعلم بما كانوا عاملين 4/209 ورواه مسلم في كتاب القدر باب معني كل مولود يولد على الفطرة 4/2047 رقم 22، 23،24،25.

2رواه مسلم في القدر4/2048رقم 25.

3 رواه مسلم في كتاب الجنة وصفة نعيمها وأهلها 4/3197رقم 63.
এবং তাঁর থেকে অন্য একটি বর্ণনায় (رواية) এটিও রয়েছে: "কেবল এই দ্বীনের ওপর, যতক্ষণ না তার জিহ্বা তা স্পষ্টভাবে প্রকাশ করে।"

এবং অন্য একটি বর্ণনায় (رواية) আছে: "এমন কোনো নবজাতক নেই যে এই স্বভাবজাত প্রকৃতির (الفطرة) ওপর জন্মগ্রহণ করে না, যতক্ষণ না তার জিহ্বা তা প্রকাশ করে। অতঃপর তার পিতামাতা তাকে ইহুদি বানায়, নাসারা বানায় অথবা অগ্নিপূজক বানায়। যেমন চতুষ্পদ জন্তু একটি পূর্ণাঙ্গ বাচ্চা প্রসব করে, তোমরা কি সেখানে কোনো কানকাটা প্রাণী দেখতে পাও?" অতঃপর আবু হুরায়রা (রা.) পাঠ করেন: {আল্লাহর দেওয়া সেই স্বভাবজাত প্রকৃতি (فطرة), যার ওপর তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহর সৃষ্টির কোনো পরিবর্তন নেই। এটাই সুপ্রতিষ্ঠিত দ্বীন।} ১।

এবং সহিহ মুসলিমের একটি বর্ণনায় (رواية) আছে: "প্রত্যেক মানুষ যাকে তার মা জন্ম দেয়, সে স্বভাবজাত প্রকৃতির (الفطرة) ওপর জন্ম নেয়। এরপর তার পিতামাতা তাকে ইহুদি, নাসারা বা অগ্নিপূজক বানায়। যদি তারা মুসলিম হয় তবে সন্তানটিও মুসলিম হয়। প্রত্যেক মানুষ যাকে তার মা জন্ম দেয়, শয়তান তার পাজরে আঘাত করে, কেবল মারইয়াম ও তাঁর পুত্র ব্যতীত।" ২।

এবং ইয়াজ বিন হিমার আল-মুজাশিঈ (রা.) থেকে বর্ণিত: আল্লাহর রাসূল (সা.) একদিন তাঁর খুতবায় বললেন:

"জেনে রেখো, আমার প্রতিপালক আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন আমি তোমাদের এমন সব বিষয় শিক্ষা দিই যা তোমরা জানো না এবং যা তিনি আমাকে আজ শিক্ষা দিয়েছেন। (আল্লাহ বলেন:) 'আমি আমার বান্দাকে যে সম্পদ দান করেছি তা হালাল। আমি আমার সকল বান্দাকে একনিষ্ঠ (حنفاء) হিসেবে সৃষ্টি করেছি। কিন্তু শয়তানরা তাদের কাছে এসে তাদের দ্বীন থেকে বিচ্যুত করে দিয়েছে এবং আমি যা তাদের জন্য হালাল করেছিলাম তা তাদের ওপর হারাম করে দিয়েছে। আর তাদের নির্দেশ দিয়েছে যেন তারা আমার সাথে এমন কিছুকে শরিক করে যার স্বপক্ষে আমি কোনো দলিল অবতীর্ণ করিনি।' নিশ্চয়ই আল্লাহ পৃথিবীবাসীর প্রতি দৃষ্টিপাত করেছেন এবং আহলে কিতাবদের কিছু অবশিষ্ট লোক ছাড়া আরব-অনারব সকলের প্রতি অসন্তুষ্ট হয়েছেন। আল্লাহ বলেছেন: 'আমি আপনাকে কেবল এজন্যই পাঠিয়েছি যেন আপনাকে পরীক্ষা করি এবং আপনার মাধ্যমে অন্যদের পরীক্ষা করি। আমি আপনার ওপর এমন এক কিতাব অবতীর্ণ করেছি যা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলা যায় না, যা আপনি নিদ্রিত ও জাগ্রত উভয় অবস্থায় পাঠ করবেন।' আল্লাহ আমাকে কুরাইশদের ভস্মীভূত করার নির্দেশ দিয়েছেন। আমি বললাম, হে আমার প্রতিপালক! তবে তো তারা আমার মাথা পিষে ফেলবে এবং তাকে রুটির মতো চূর্ণ করে ফেলবে। তিনি বললেন: 'তাদের বহিষ্কার করুন যেমন তারা আপনাকে বহিষ্কার করেছিল। তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করুন, আমরা আপনাকে সাহায্য করব। আপনি ব্যয় করুন, আমরাও আপনার ওপর ব্যয় করব। আপনি একটি সৈন্যদল পাঠান, আমি তার বিপরীতে পাঁচগুণ সৈন্যদল পাঠাব। আপনার অনুগতদের নিয়ে অবাধ্যদের বিরুদ্ধে লড়াই করুন' ৩.. ইত্যাদি।

তাওহিদ এবং তার বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই আল্লাহ রাসূলগণকে পাঠিয়েছেন, কিতাবসমূহ অবতীর্ণ করেছেন এবং সত্য প্রতিষ্ঠা ও মিথ্যার বিনাশের জন্য জিহাদ বিধিবদ্ধ করেছেন। তাওহিদের মাধ্যমেই মানুষ সৌভাগ্যবান হয় এবং ইসলামে প্রবেশ করে, আর দুনিয়া ও আখেরাতে মুক্তি লাভ করে। এর থেকে দূরে থাকার কারণেই মানুষ হতভাগা হয় এবং ইসলাম থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়ে, আর তার পরিণতি হয় লাঞ্ছনা ও অপমান।

--------------------------------------------

১ এটি সহিহ বুখারি জানাজা অধ্যায়ে বর্ণনা (رواه) করা হয়েছে, অনুচ্ছেদ: যখন কোনো শিশু ইসলাম গ্রহণ করে এবং মারা যায় ১/৪১৭; অনুচ্ছেদ: মুশরিকদের সন্তানদের সম্পর্কে যা বলা হয়েছে ১/৪২৪; তাফসির অধ্যায়ে, অনুচ্ছেদ: আল্লাহর সৃষ্টির কোনো পরিবর্তন নেই ৩/২৭৫; এবং কিতাবুল কদর-এ, অনুচ্ছেদ: তারা যা করত সে সম্পর্কে আল্লাহ অধিক অবগত ৪/২০৯। এটি সহিহ মুসলিমের কিতাবুল কদর-এ বর্ণিত হয়েছে, অনুচ্ছেদ: প্রতিটি নবজাতক স্বভাবজাত প্রকৃতির ওপর জন্মগ্রহণ করার অর্থ ৪/২০৪৭, নম্বর ২২, ২৩, ২৪, ২৫।

২ এটি সহিহ মুসলিমের কদর অধ্যায়ে বর্ণনা (رواه) করা হয়েছে ৪/২০৪৮, নম্বর ২৫।

৩ এটি সহিহ মুসলিমের কিতাবুল জান্নাত ও জান্নাতের নেয়ামত ও জান্নাতবাসীদের বর্ণনায় বর্ণনা (رواه) করা হয়েছে ৪/৩১৯৭, নম্বর ৬৩।
(খণ্ড: ১) আত-তাফসীরুল মাওদুয়ী লিল কুরআনিল কারীম ওয়া নামাযিজ মিনহু (পৃষ্ঠা: ২১)
والإسلام له جانبان متلازمان ومترابطان لا ينفك أحدهما عن الآخر الأول العقائد والثاني التشريع. إذاً الإسلام عقيدة وشريعة والترابط بين العقيدة والشريعة ترابط قوي لا ينفصل أحدهما عن الآخر فلا شريعة بلا عقيدة، ولا عقيدة بلا شريعة فالفصل بينهما فصل لوجهين لعلمة واحدة.

أصول العقيدة:

أما أصول العقيدة فهي المعروفة والمشهورة بأركان الإيمان وهي: الإيمان بالله، وملائكته، وكتبه، ورسله، واليوم الآخر، وبالقدر خيره وشره:

والدليل على هذه الأركان قوله تعالى: {لَيْسَ الْبِرَّ أَنْ تُوَلُّوا وُجُوهَكُمْ قِبَلَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ وَلَكِنَّ الْبِرَّ مَنْ آمَنَ بِالله وَالْيَوْمِ الآخِرِ وَالْمَلائِكَةِ وَالْكِتَابِ وَالنَّبِيِّينَ} الآية177 البقرة.

ودليل القدر قوله تعالى: {إِنَّا كُلَّ شَيْءٍ خَلَقْنَاهُ بِقَدَرٍ وَمَا أَمْرُنَا إِلا وَاحِدَةٌ كَلَمْحٍ بِالْبَصَرِ} القمر (49-50) وقوله تعالى: {وَخَلَقَ كُلَّ شَيْءٍ فَقَدَّرَهُ تَقْدِيراً} الفرقان 2 وقوله تعالى: {وَالَّذِي قَدَّرَ فَهَدَى} الإنسان 3.

قال الثوري في تفسير آية البقرة {لَيْسَ الْبِرَّ} "هذه أنواع البر كلها". قال ابن كثير معلقا على قوله هذا: "وصدق رحمه الله فإن من اتصف بهذه الآية، فقد دخل في عرى الإسلام كلها، وأخذ بمجامع الخير كله، وهو الإيمان بالله وأنه لا إله إلا هو، وصدق بوجود الملائكة الذين هم سفرة بين الله ورسوله، والكتاب وهو إسم جنس يشمل الكتب المنزلة من السماء على الأنبياء حتى ختمت بأشرافها وهو القرىن المهيمن على ما قبله من الكتب، الذي إنتهى إليه كل خير واشتمل على كل سعادة في الدنيا والآخرة، ونسخ به كل ما سواه من الكتب قبله، وآمن بأنبياء الله كلهم من أولهم إلى خاتمهم محمد صلوات الله وسلامه عليه وعليهم أجمعين"1.

وقال ابن كثير في تفسير آية القمر: "ولهذا يستدل بهذة الآية الكريمة أئمة السنة على قدر الله السابق لخلقه وهو علمه الأشياء قبل كونها وكتابته لها قبل برئها2الخ".

--------------------------------------------

1 تفسير القرآن العظيم 1/365-366.ط دار الفكر.

2 تفسير ابن كثير 6/479.ط دار الفكر.
ইসলামের দুটি অবিচ্ছেদ্য ও পরস্পর সম্পর্কযুক্ত দিক রয়েছে, যার একটি অন্যটি থেকে পৃথক করা যায় না। প্রথমটি হলো আকিদা এবং দ্বিতীয়টি হলো বিধান প্রণয়ন (تشريع)। সুতরাং ইসলাম হলো আকিদা ও শরিয়ত; আর আকিদা ও শরিয়তের মধ্যকার এই সম্পর্ক অত্যন্ত সুদৃঢ় যা একে অপর থেকে বিচ্ছিন্ন করা সম্ভব নয়। ফলে আকিদা ছাড়া কোনো শরিয়ত নেই এবং শরিয়ত ছাড়া কোনো আকিদা নেই। উভয়ের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটানো মানে এক সত্তারই দুটি দিককে বিচ্ছিন্ন করা।

আকিদার মূলনীতিসমূহ (أصول العقيدة):

আর আকিদার মূলনীতিসমূহ ঈমানের রুকন হিসেবে সুপরিচিত ও প্রসিদ্ধ। সেগুলো হলো: আল্লাহর প্রতি ঈমান, তাঁর ফেরেশতাগণের প্রতি, তাঁর কিতাবসমূহের প্রতি, তাঁর রাসুলগণের প্রতি, পরকালের প্রতি এবং ভাগ্যের ভালো-মন্দের প্রতি ঈমান আনা।

এই রুকনগুলোর দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী: {সততা কেবল পূর্ব কিংবা পশ্চিম দিকে তোমাদের মুখ ফেরানোর নাম নয়; বরং পুণ্যবান তো সেই ব্যক্তি যে আল্লাহ, পরকাল, ফেরেশতামণ্ডলী, কিতাব এবং নবীগণের ওপর ঈমান আনয়ন করল...} (সুরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৭৭)।

তকদিরের দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই আমি প্রত্যেক বস্তুকে সৃষ্টি করেছি নির্ধারিত পরিমাপে (তকদির অনুযায়ী)। আর আমার নির্দেশ তো একটিই, যা চোখের পলকের মতো।} (সুরা আল-কামার, ৪৯-৫০) এবং মহান আল্লাহর বাণী: {তিনি সবকিছু সৃষ্টি করেছেন এবং সেগুলোকে যথাযথ অনুপাতে বিন্যস্ত করেছেন।} (সুরা আল-ফুরকান, ২) এবং মহান আল্লাহর বাণী: {যিনি তকদির নির্ধারণ করেছেন এবং পথ প্রদর্শন করেছেন।} (সুরা আল-ইনসান, ৩)।

ইমাম সাওরি (রহ.) সুরা বাকারার {لَيْسَ الْبِرَّ} আয়াতের তাফসির প্রসঙ্গে বলেন: "এটি পুণ্যের সকল প্রকারকে অন্তর্ভুক্ত করে।" ইবনে কাসির (রহ.) এই মন্তব্যের ওপর আলোকপাত করে বলেন: "তিনি সত্য বলেছেন—আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন—কেননা যে ব্যক্তি এই আয়াতের গুণে গুণান্বিত হবে, সে ইসলামের সকল মজবুত হাতল আঁকড়ে ধরল এবং কল্যাণের সকল মূল বিষয় গ্রহণ করল। আর তা হলো আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা যে, তিনি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই; ফেরেশতাদের অস্তিত্বকে সত্য বলে বিশ্বাস করা যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলদের মাঝে দূত হিসেবে নিয়োজিত; এবং 'কিতাব' যা একটি জাতিবাচক শব্দ যা নবীদের ওপর আসমান থেকে অবতীর্ণ সকল কিতাবকে অন্তর্ভুক্ত করে, এমনকি তা এই কিতাবসমূহের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম কিতাব কুরআনের মাধ্যমে সমাপ্ত হয়েছে, যা পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের রক্ষণাবেক্ষণকারী। এই কুরআন সকল কল্যাণের আধার এবং ইহকাল ও পরকালের যাবতীয় সৌভাগ্য ধারণকারী, যা এর পূর্ববর্তী সকল কিতাবকে রহিত (نسخ) করেছে। আরও ঈমান আনল আল্লাহর সকল নবীদের প্রতি—তাদের প্রথমজন থেকে শুরু করে সর্বশেষ জন মুহাম্মদ (তাঁর ওপর এবং তাঁদের সকলের ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক) পর্যন্ত।"১।

সুরা আল-কামারের আয়াতের তাফসিরে ইবনে কাসির (রহ.) বলেন: "এ কারণেই সুন্নাহর ইমামগণ এই মহান আয়াতের মাধ্যমে সৃষ্টির ব্যাপারে আল্লাহর পূর্বনির্ধারিত তকদিরের ওপর দলিল পেশ করেন; আর তা হলো কোনো বিষয় সংঘটিত হওয়ার পূর্বেই সে সম্পর্কে তাঁর অনাদি জ্ঞান এবং তা সৃষ্টি করার পূর্বেই লওহে মাহফুজে লিখে রাখা ইত্যাদি।"২।

--------------------------------------------

১ তাফসিরুল কুরআনিল আজিম ১/৩৬৫-৩৬৬, দারুল ফিকর সংস্করণ।

২ তাফসির ইবনে কাসির ৬/৪৭৯, দারুল ফিকর সংস্করণ।
(খণ্ড: ১) আত-তাফসীরুল মাওদুয়ী লিল কুরআনিল কারীম ওয়া নামাযিজ মিনহু (পৃষ্ঠা: ২২)
وفي الحديث الصحيح أن جبريل عليه السلام سأل النبي له عن الإيمان فقال: "الإيمان: أن تؤمن بالله وملائكته وكتبه ورسله واليوم الآخر، وتؤمن بالقدر خيره وشره قال صدقت 1 فهذه ستة أصول للعقيدة الإسلامية نص عليها كتاب الله وسنة رسوله صلي الله عليه وسلم. وكل أصل من هذه الأصول يندرج تحته أمران.

الأول: ماذا يتضمن كل أصل.

الثاني: ما هي ثمرة الإيمان بهذا الأصل.

الإيمان بالملائكة:

الإيمان بهذا الأصل يتضمن أربعة أمور:2

ا- الإيمان بوجودهم جملة أو إجمالا.

2- الإيمان ببعضهم تفصيلا.

3- الإيمان بصفاتهم التي وردت فيهم.

4- الإيمان بأعمالهم التي يقومون بها.

وثمرة الإيمان بهذا الأصل يتلخص في الآتي:

1- زيادة الإِيمان بالله سبحانه.

2- العلم بعظمة الله سبحانه فإن عظمة المخلوق من عظمة الخالق.

3- شكر الله على آلائه ونعمه الذي أوكل ببني آدم من يحفظهم بالليل والنهار ويكتب أعمالهم ويحفظون لهم.

4- محبة الملائكة واحترامهم وتقديرهم لما يقومون به من العبادة لله رب العالمين.

5- الاطمئنان النفسي على حفظ أعمال الإنسان وعدمِ ضياعها.

6- الخوف من الله سبحانه مادام يعلم أن عليه كراماَ كاتبين.

7- أن من آمن بأحدهم يلزمه الإِيمان بكلهم وأن من كفر بأحدهم كفر بجميعهم.

تفصيل القول في هذا الأصل:

1- تعريف الملائكة: هم عالم غيبي، خلقهم الله من نور وهم عباد مكرمون

--------------------------------------------

1 رواه مسلم في الإيمان 1/37 رقم 1.

2 انظر رسالة نبذة في العقيدة الإسلامية ص19/20 لابن عثيمين.
এবং সহিহ (صحيح) হাদিসে বর্ণিত আছে যে, জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে ইমান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তখন তিনি বললেন: "ইমান হলো: আপনি আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাকুল, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসুলগণ ও পরকাল এবং ভাগ্যের ভালো-মন্দের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করবেন। তিনি (জিবরাঈল) বললেন, আপনি সত্য বলেছেন।" ১ এগুলো হলো ইসলামি আকীদার ছয়টি মূলনীতি, যা আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসুলের সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত। এই মূলনীতিগুলোর প্রত্যেকটির অধীনে দুটি বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

প্রথমত: প্রতিটি মূলনীতি কী কী বিষয়কে শামিল করে।

দ্বিতীয়ত: এই মূলনীতির প্রতি ইমানের ফল কী।

ফেরেশতাদের প্রতি ইমান:

এই মূলনীতির প্রতি ইমান চারটি বিষয়কে শামিল করে: ২

১- সামগ্রিকভাবে বা সংক্ষেপে তাদের অস্তিত্বের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করা।

২- বিস্তারিতভাবে তাদের মধ্য হতে কয়েকজনের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করা।

৩- তাদের সেসব গুণাবলির ওপর বিশ্বাস স্থাপন করা যা বর্ণিত হয়েছে।

৪- তারা যেসব কাজ সম্পাদন করেন সেগুলোর ওপর বিশ্বাস স্থাপন করা।

এই মূলনীতির প্রতি ইমানের ফল নিম্নোক্ত বিষয়গুলোতে সংক্ষেপে বলা যায়:

১- আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার প্রতি ইমান বৃদ্ধি পাওয়া।

২- আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার মহত্ত্ব সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা; কারণ সৃষ্টির মহত্ত্ব মূলত স্রষ্টার মহত্ত্বেরই পরিচায়ক।

৩- আল্লাহর দান ও নেয়ামতের জন্য তাঁর শুকরিয়া আদায় করা, যিনি আদম সন্তানদের জন্য এমন কিছু ফেরেশতা নিয়োজিত করেছেন যারা দিন-রাত তাদের রক্ষণাবেক্ষণ করে এবং তাদের আমলসমূহ লিপিবদ্ধ করে।

৪- ফেরেশতাদের প্রতি ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও সম্মান পোষণ করা; যেহেতু তারা রাব্বুল আলামিন আল্লাহর ইবাদত নিরলসভাবে পালন করে যাচ্ছেন।

৫- মানুষের আমলসমূহ সংরক্ষিত হওয়া এবং তা বিনষ্ট না হওয়ার ব্যাপারে মানসিক প্রশান্তি লাভ করা।

৬- আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার প্রতি ভয় জাগ্রত হওয়া, যেহেতু বান্দা জানে যে তার ওপর সম্মানিত লেখকবৃন্দ (ফেরেশতা) নিযুক্ত রয়েছেন।

৭- এটি নিশ্চিত করা যে, যে ব্যক্তি ফেরেশতাদের কোনো একজনের ওপর বিশ্বাস আনল, তার জন্য সকলের ওপর বিশ্বাস আনা আবশ্যক; আর যে একজনকে অস্বীকার করল, সে মূলত সকলকেই অস্বীকার করল।

এই মূলনীতির বিস্তারিত আলোচনা:

১- ফেরেশতাদের পরিচয়: তারা অদৃশ্য জগতের সত্তা, আল্লাহ তাদের নূর থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তারা তাঁর সম্মানিত বান্দা।

--------------------------------------------

১ মুসলিম এটি ইমান অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন, ১/৩৭, নম্বর ১।

২ দেখুন: ইবনে উসাইমীন রচিত 'নুবযাতুন ফিল আকীদাতিল ইসলামিয়্যাহ' পুস্তিকা, পৃষ্ঠা ১৯/২০।
(খণ্ড: ১) আত-তাফসীরুল মাওদুয়ী লিল কুরআনিল কারীম ওয়া নামাযিজ মিনহু (পৃষ্ঠা: ২৩)
يسبحون الله بالليل والنهار لا يفترون ولا يسأمون ولا يستكبرون بريئون مما وصفهم به الظالمون، لهم أوصاف وأعمال متنوعة وعددهم لا يعلمه إلا الله سبحانه1.

2- الإِيمان بهم: الإِيمان بهم ركن من أركان الإِيمان، ومن أنكرهم كفر. قال تعالى: {لَيْسَ الْبِرَّ أَنْ تُوَلُّوا وُجُوهَكُمْ قِبَلَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ وَلَكِنَّ الْبِرَّ مَنْ آمَنَ بِالله وَالْيَوْمِ الآخِرِ وَالْمَلائِكَةِ وَالْكِتَابِ وَالنَّبِيِّينَ} الآية 177 البقرة.

وقال تعالى: {آمَنَ الرَّسُولُ بِمَا أُنْزِلَ إِلَيْهِ مِنْ رَبِّهِ وَالْمُؤْمِنُونَ كُلٌّ آمَنَ بِالله وَمَلائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ} الآية 285 البقرة.

وفي صحيح مسلم من حديث عمر بن الخطاب رضي الله عنه قال: بينما نحن جلوس عند رسول الله صلى الله عليه وسلم ذات يوم إذ طلع علينا رجل شديد بياض الثياب، شديد سواد الشعر، لايرى عليه أثر السفر، ولا يعرفه منا أحد، حتى جلس إلى النبي فيها فأسند ركبتيه إلى ركبتيه، ووضع كفيه على فخذيه وقال: يا محمد أخبرني عن الإِسلام؟ فقال رسول الله صلي الله عليه وسلم: "أن تشهد أن لا إله إلا الله، وأن محمدا رسول الله، وتقيم الصلاة، وتؤتي الزكاة، وتصوم رمضان، وتحج البيت إن استطعث إليه سبيلا. قال صدقت. فعجبنا له يسأله ويصدقه قال أخبرني عن الإيمان؟ قال: أن تؤمن بالله وملائكته وكتبه ورسله، واليوم الآخر، وتؤمن بالقدر خيره وشره. قال: صدقت. الحديث 2.

يقول ابن كثير رحمه الله في تفسير الآية الأولى: "اشتملت هذه الآية الكريمة على جمل عظيمة، وقواعد عميقة، وعقيدة مستقيمة … فإن من اتصف بهذه الآية فقد دخل فما عرى الإِسلام كلها، وأخذ بمجامع الخير كله، وهو الإِيمان بالله، وأنه لا إله إلا هو، وصدق بوجود الملائكة الذين هم سفرة بين الله ورسله"3.

3- أسمائهم: ورد في القرآن الكريم ذكر الملائكة عليهم السلام مجملا في مواطن

--------------------------------------------

1 أنظر معارج القبول 1/63 ونبذة في العقيدة الإِسلامية ص 19 لابن عثيمين.

2 رواه مسلم في كتاب الإيمان باب بيان الإيمان والإسلام والإحسان 1/36 رقم 1.

3 تفسير القرآن العظيم 1/ 364، 365. ط دار الفكر.
তারা দিবা-রাত্রি আল্লাহর তাসবিহ পাঠ করে, তারা ক্লান্ত হয় না, অলসতা বোধ করে না এবং অহংকারও করে না। জালিমরা তাদের প্রতি যে বিশেষণ আরোপ করে তা থেকে তারা পবিত্র; তাদের নানাবিধ গুণাবলি ও কার্যাবলি রয়েছে এবং তাদের সংখ্যা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা ছাড়া আর কেউ জানে না১।

২- তাদের প্রতি ঈমান আনা: তাদের প্রতি ঈমান আনা ঈমানের স্তম্ভ (ركن) সমূহের অন্যতম একটি স্তম্ভ; আর যে তাদের অস্বীকার করবে সে কুফরি (كفر) করল। মহান আল্লাহ বলেন: {সততা কেবল পূর্ব কিংবা পশ্চিম দিকে তোমাদের মুখ ফেরানোর মধ্যে নিহিত নয়; কিন্তু সততা হলো সেই ব্যক্তির, যে আল্লাহ, পরকাল, ফেরেশতামণ্ডলী, কিতাবসমূহ এবং নবিগণের প্রতি ঈমান এনেছে...} আয়াত ১৭৭, আল-বাকারাহ।

মহান আল্লাহ আরও বলেন: {রাসূল তাঁর প্রতি তাঁর রবের পক্ষ থেকে যা অবতীর্ণ হয়েছে তাতে ঈমান এনেছেন এবং মুমিনগণও। তারা প্রত্যেকেই আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ এবং তাঁর রাসূলগণের প্রতি ঈমান এনেছে} আয়াত ২৮৫, আল-বাকারাহ।

সহীহ মুসলিম-এ উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) বর্ণিত হাদিসে রয়েছে, তিনি বলেন: "একদিন আমরা যখন রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট উপবিষ্ট ছিলাম, হঠাৎ আমাদের সামনে অত্যন্ত সাদা পোশাক ও অত্যন্ত কালো চুল বিশিষ্ট এক ব্যক্তির উদয় হলো। তাঁর মধ্যে সফরের কোনো চিহ্ন দেখা যাচ্ছিল না এবং আমাদের মধ্য থেকে কেউ তাঁকে চিনত না। অবশেষে তিনি নবি (সা.)-এর নিকট গিয়ে বসলেন এবং নিজের দুই হাঁটু তাঁর দুই হাঁটুর সঙ্গে মিলিয়ে দিলেন এবং দুই হাতের তালু নিজের দুই উরুর ওপর রাখলেন এবং বললেন: হে মুহাম্মদ! আমাকে ইসলাম সম্পর্কে বলুন। রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন: 'তুমি সাক্ষ্য দেবে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল; সালাত কায়েম করবে, জাকাত প্রদান করবে, রমজানের রোজা রাখবে এবং সামর্থ্য থাকলে বাইতুল্লাহর হজ পালন করবে।' তিনি বললেন: 'আপনি সত্য বলেছেন।' আমরা তাঁর বিষয়ে আশ্চর্য হলাম যে, তিনি নিজেই তাঁকে প্রশ্ন করছেন আবার নিজেই তাঁর সত্যতা নিশ্চিত করছেন। এরপর তিনি বললেন: আমাকে ঈমান সম্পর্কে বলুন। তিনি বললেন: 'তুমি বিশ্বাস করবে আল্লাহকে, তাঁর ফেরেশতাগণকে, তাঁর কিতাবসমূহকে, তাঁর রাসূলগণকে, পরকালকে এবং ভাগ্যের ভালো-মন্দের প্রতি ঈমান রাখবে।' তিনি বললেন: 'আপনি সত্য বলেছেন।'" হাদিস ২।

ইবনে কাসীর (রহ.) প্রথম আয়াতের তাফসিরে বলেন: "এই সম্মানিত আয়াতটি মহান কিছু বাক্য, গভীর মূলনীতি এবং সঠিক আকিদাহ (عقيدة)-কে অন্তর্ভুক্ত করেছে... কারণ যে ব্যক্তি এই আয়াতের গুণাবলি অর্জন করবে, সে ইসলামের যাবতীয় রজ্জুর মধ্যে প্রবেশ করল এবং সমস্ত কল্যাণের আধারকে গ্রহণ করল; আর তা হলো আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা এবং এই সাক্ষ্য দেওয়া যে তিনি ছাড়া কোনো সত্য মাবুদ নেই এবং ফেরেশতাদের অস্তিত্বকে সত্য বলে বিশ্বাস করা, যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলগণের মধ্যে দূত (سفرة) হিসেবে নিয়োজিত"৩।

৩- তাদের নামসমূহ: পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন স্থানে ফেরেশতাগণের (আ.) উল্লেখ সংক্ষিপ্তভাবে (مجملا) এসেছে।

--------------------------------------------

১ দেখুন: মাআরিজুল কবুল ১/৬৩ এবং ইবনে উসাইমীনের নুবজাতুন ফিল আকিদাতিল ইসলামিয়্যাহ পৃষ্ঠা ১৯।

২ এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন ঈমান অধ্যায়, ঈমান, ইসলাম ও ইহসান বর্ণনা পরিচ্ছেদ ১/৩৬, হাদিস নম্বর ১।

৩ তাফসীরুল কুরআনিল আজিম ১/ ৩৬৪, ৩৬৫। দারুল ফিকর সংস্করণ।
(খণ্ড: ১) আত-তাফসীরুল মাওদুয়ী লিল কুরআনিল কারীম ওয়া নামাযিজ মিনহু (পৃষ্ঠা: ২৪)
عديدة كثيرة، وورد في بعض المواطن منها ذكر بعض أسماء الملائكة خصوصاً. فمن ذلك.

أ- جبريل عليه السلام:

قال تعالى: {قُلْ مَنْ كَانَ عَدُوّاً لِجِبْرِيلَ فَإِنَّهُ نَزَّلَهُ عَلَى قَلْبِكَ بِإِذْنِ الله مُصَدِّقاً لِمَا بَيْنَ يَدَيْهِ وَهُدىً وَبُشْرَى لِلْمُؤْمِنِينَ مَنْ كَانَ عَدُوّاً لِلَّهِ وَمَلائِكَتِهِ وَرُسُلِهِ وَجِبْرِيلَ وَمِيكَالَ فَإِنَّ الله عَدُوٌّ لِلْكَافِرِينَ} البقرة/97،98. ومن أسمائه عليه السلام.

أ- الروح الأمين:

قال تعالى: {وَإِنَّهُ لَتَنْزِيلُ رَبِّ الْعَالَمِينَ. نَزَلَ بِهِ الرُّوحُ الأَمِينُ. عَلَى قَلْبِكَ لِتَكُونَ مِنَ الْمُنْذِرِينَ} . الشعراء192-194.

قال ابن كثير رحمه الله في تفسير هذه الآية (نزل به الروح الأمين) : "وهو جبريل عليه السلام قاله غير واحد من السلف: ابن عباس ومحمد بن كعب وقتادة وعطية العوفي والسدي والضحاك والزهري وابن جريح وهذا مما لا نزاع فيه. قال الزهري: وهذه كقوله: {قُلْ مَنْ كَانَ عَدُوّاً لِجِبْرِيلَ فَإِنَّهُ نَزَّلَهُ عَلَى قَلْبِكَ بِإِذْنِ الله مُصَدِّقاً لِمَا بَيْنَ يَدَيْهِ} 1.

ب- روح القدس:

قال تعالى: {وَلَقَدْ آتَيْنَا مُوسَى الْكِتَابَ وَقَفَّيْنَا مِنْ بَعْدِهِ بِالرُّسُلِ وَآتَيْنَا عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ الْبَيِّنَاتِ وَأَيَّدْنَاهُ بِرُوحِ الْقُدُسِ..} الآية 87 البقرة.

وقال تعالى: {تِلْكَ الرُّسُلُ فَضَّلْنَا بَعْضَهُمْ عَلَى بَعْضٍ مِنْهُمْ مَنْ كَلَّمَ الله وَرَفَعَ بَعْضَهُمْ دَرَجَاتٍ وَآتَيْنَا عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ الْبَيِّنَاتِ وَأَيَّدْنَاهُ بِرُوحِ الْقُدُسِ..} الآية 253 البقرة.

وقال تعالى: {قُلْ نَزَّلَهُ رُوحُ الْقُدُسِ مِنْ رَبِّكَ بِالْحَقِّ لِيُثَبِّتَ الَّذِينَ آمَنُوا وَهُدىً وَبُشْرَى لِلْمُسْلِمِينَ} الآية 102 النحل.

والدليل على أن روح القدس هو جبريل عليه السلام ما ثبت في الحديث الصحيح

--------------------------------------------

1 تفسير الَقرآن العظيم 5/205 دار الفكر.
অনেক অনেক, এবং এর কিছু কিছু স্থানে বিশেষভাবে ফেরেশতাদের কিছু নামের উল্লেখ এসেছে। তার মধ্যে রয়েছে:

ক- জিবরাঈল আলাইহিস সালাম:

আল্লাহ তাআলা বলেন: {বলুন, যে ব্যক্তি জিবরাঈলের শত্রু হয়—তবে নিশ্চয় তিনি আল্লাহর অনুমতিতে আপনার অন্তরে এটি (কুরআন) অবতীর্ণ করেছেন, যা তার পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের সত্যায়নকারী এবং মুমিনদের জন্য পথপ্রদর্শক ও সুসংবাদ। যে ব্যক্তি আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর রাসূলগণ এবং জিবরাঈল ও মিকাইলের শত্রু হয়, তবে নিশ্চয় আল্লাহ কাফিরদের শত্রু।} আল-বাকারা/৯৭, ৯৮। আর তাঁর (আলাইহিস সালাম) নামসমূহের মধ্যে রয়েছে:

ক- আর-রূহুল আমীন (বিশ্বস্ত আত্মা):

আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর নিশ্চয় এটি বিশ্বজগতের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। তা নিয়ে অবতরণ করেছেন বিশ্বস্ত আত্মা (আর-রূহুল আমীন)। আপনার অন্তরে, যাতে আপনি সতর্ককারীদের অন্তর্ভুক্ত হন।} আশ-শুআরা ১৯২-১৯৪।

ইবনে কাসীর রহিমাহুল্লাহ এই আয়াতের {তা নিয়ে অবতরণ করেছেন বিশ্বস্ত আত্মা} তাফসীরে বলেন: "তিনি হলেন জিবরাঈল আলাইহিস সালাম। পূর্বসূরিদের (সালাফ) মধ্য থেকে একাধিক ব্যক্তি এ কথা বলেছেন: ইবনে আব্বাস, মুহাম্মদ বিন কাব, কাতাদা, আতিয়্যাহ আল-আউফি, সুদ্দী, দাহহাক, যুহরী এবং ইবনে জুরাইজ। আর এটি এমন একটি বিষয় যাতে কোনো মতভেদ নেই। যুহরী বলেন: এটি মহান আল্লাহর এই বাণীর মতো: {বলুন, যে ব্যক্তি জিবরাঈলের শত্রু হয়—তবে নিশ্চয় তিনি আল্লাহর অনুমতিতে আপনার অন্তরে এটি অবতীর্ণ করেছেন, যা তার পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের সত্যায়নকারী}।" ১।

খ- রুহুল কুদুস (পবিত্র আত্মা):

আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর আমি অবশ্যই মুসাকে কিতাব দিয়েছি এবং তার পরে একের পর এক রাসূল পাঠিয়েছি। আর আমি মারইয়াম তনয় ঈসাকে স্পষ্ট প্রমাণাদি দিয়েছি এবং তাঁকে পবিত্র আত্মা (রুহুল কুদুস) দ্বারা শক্তিশালী করেছি...} আল-বাকারা ৮৭ নং আয়াত।

আল্লাহ তাআলা বলেন: {এই রাসূলগণ, আমি তাঁদের কাউকে অন্যের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি। তাঁদের মধ্যে এমন কেউ রয়েছেন যার সঙ্গে আল্লাহ কথা বলেছেন এবং কাউকে উচ্চ মর্যাদায় উন্নীত করেছেন। আর আমি মারইয়াম তনয় ঈসাকে স্পষ্ট প্রমাণাদি দিয়েছি এবং তাঁকে পবিত্র আত্মা (রুহুল কুদুস) দ্বারা শক্তিশালী করেছি...} আল-বাকারা ২৫৩ নং আয়াত।

আল্লাহ তাআলা বলেন: {বলুন, আপনার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে পবিত্র আত্মা (রুহুল কুদুস) যথাযথভাবে এটি অবতীর্ণ করেছেন, যাতে তা মুমিনদেরকে সুদৃঢ় করে এবং মুসলিমদের জন্য পথনির্দেশ ও সুসংবাদ হয়।} আন-নাহল ১০২ নং আয়াত।

আর রুহুল কুদুস যে জিবরাঈল আলাইহিস সালাম, তার প্রমাণ হলো যা সহিহ (صحيح) হাদিসে সাব্যস্ত হয়েছে।

--------------------------------------------

১ তাফসীরুল কুরআনিল আজিম ৫/২০৫ দারুল ফিকর।
(খণ্ড: ১) আত-তাফসীরুল মাওদুয়ী লিল কুরআনিল কারীম ওয়া নামাযিজ মিনহু (পৃষ্ঠা: ২৫)
عن أبي هريرة رضي الله عنه أن عمر بن الخطاب رضي الله عنه مر بحسان بن ثابت رضي الله عنه وهو ينشد الشعر في المسجد فلحظ إليه فقال: كنت أنشد فيه، وفيه من هو خير منك، ثم التفت إلى أبي هريرة فقال: أنشدك بالله أسمعت رسول الله يقول: أجب عني، اللهم أيده بروح القدس؟ فقال: اللهم نعم 1.

وفي رواية: أن رسول الله صلي الله وسلم قال لحسان: "أهجهم أو هاجهم وجبريل معك" 2.

وعن عائشة رضي الله عنها أن رسول الله صلى الله عليه وسلم وضع لحسان بن ثابت منبراً في المسجد، فكان ينافح عن رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "اللهم أيد حسان بروح القدس كما نافح عن نبيك" 3.

قال ابن كثير رحمه الله:4.

"فهذا من البخاري تعليقاً، وقد رواه أبو داود في سننه عن ابن سيرين والترمذي عن علي بن حجر وإسماعيل بن موسى الفزارى ثلاثتهم عن أبي عبد الرحمن بن أبي الزناد عن أبيه عن هشام بن عروة كلاهما عن عروة عن عائشة به. قال الترمذي حسن صحيح وهو حديث أبي الزناد".

والقول بأن روح القدس هو جبريل عليه السلام نص عليه من السلف رحمهم الله عبد الله بن مسعود وعبد الله بن عباس رضي الله عنهم ومحمد بن كعب، وإسماعيل ابن خالد والسدى والربيع بن أنس وعطية العوفي وقتادة5. وجبريل عليه السلام موكل بالوحي الرباني من دون الملائكة إلى الرسل أجمعين عليهم السلام.

ج: وصفه:

"وقد ذكر الله سبحانه شأن جبريل عليه السلام في كتابه ووصفه بأنه قوى شديد.

قال تعالى: {إِنْ هُوَ إِلا وَحْيٌ يُوحَى عَلَّمَهُ شَدِيدُ الْقُوَى ذُو مِرَّةٍ فَاسْتَوَى وَهُو َ

--------------------------------------------

1 رواه البخاري في بدء الخلق باب ذكر الملائكة 4 /304، ومسلم في فصائل الصحابة4/1933رقم151، 153.

2 المصدر السابق.

3 رواه البخاري في المغازي باب حديت الإفك 7/436، ومسلم في فضائل الصحابة4/1933رقم155،154.

4 تفسير القرآن العظيم 1/ 214 ط دار الفكر.

5 تفسير القرآن العظيم 1/ 214 ط دار الفكر.
আবু হুরাইরাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হাসসান ইবনে সাবিত (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যখন তিনি মসজিদে কবিতা আবৃত্তি করছিলেন। তখন উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর দিকে (আপত্তির দৃষ্টিতে) তাকালেন। হাসসান বললেন: "আমি এই মসজিদে কবিতা আবৃত্তি করতাম যখন সেখানে আপনার চেয়েও উত্তম ব্যক্তি (রাসূলুল্লাহ ﷺ) উপস্থিত ছিলেন।" তারপর তিনি আবু হুরাইরাহ-এর দিকে ফিরে বললেন: "আমি আপনাকে আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি, আপনি কি আল্লাহর রাসূলকে বলতে শুনেছেন যে— 'আমার পক্ষ থেকে উত্তর দাও, হে আল্লাহ, তাকে পবিত্র আত্মা (রুহুল কুদুস) দ্বারা শক্তিশালী করুন'?" তিনি বললেন: "হে আল্লাহ, হ্যাঁ।" 1.

অন্য একটি বর্ণনায় রয়েছে: আল্লাহর রাসূল হাসসানকে বলেছিলেন: "তাদের নিন্দা করো বা তাদের বিরুদ্ধে জবাব দাও, জিবরাইল তোমার সাথে আছেন।" 2.

এবং আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল মসজিদে হাসসান ইবনে সাবিতের জন্য একটি মিম্বর স্থাপন করে দিতেন, যেখান থেকে তিনি আল্লাহর রাসূলের পক্ষ হয়ে প্রতিরক্ষা করতেন। তখন আল্লাহর রাসূল বলেছিলেন: "হে আল্লাহ, হাসসানকে পবিত্র আত্মা (রুহুল কুদুস) দ্বারা শক্তিশালী করুন যেভাবে তিনি আপনার নবীর পক্ষ হয়ে প্রতিরক্ষা করেছেন।" 3.

ইবনে কাসির (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: 4.

"এটি বুখারি কর্তৃক স্থগিত (تعليقاً) হিসেবে বর্ণিত। আবু দাউদ তাঁর সুনান-এ ইবনে সিরিন থেকে এবং তিরমিজি আলী ইবনে হাজার ও ইসমাইল ইবনে মুসা আল-ফাজারি থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। তাঁরা তিনজনই আবু আবদুর রহমান ইবনে আবিয যিনাদ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি হিশাম ইবনে উরওয়াহ থেকে, তাঁরা উভয়ে উরওয়াহ থেকে এবং তিনি আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে এই সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তিরমিজি বলেছেন এটি হাসান (حسن) সহিহ (صحيহ) এবং এটি আবুয যিনাদের হাদিস।"

পবিত্র আত্মা (রুহুল কুদুস) যে জিবরাইল (আলাইহিস সালাম)—এ বিষয়টি সালাফদের (রাহিমাহুল্লাহ) মধ্যে আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ, আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুম), মুহাম্মদ ইবনে কাব, ইসমাইল ইবনে খালিদ, সুদ্দি, রাবি ইবনে আনাস, আতিয়্যাহ আল-আউফি এবং কাতাদাহ সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। 5. আর জিবরাইল (আলাইহিস সালাম) ফেরেশতাদের মধ্য থেকে সকল রাসূলগণের (আলাইহিমুস সালাম) নিকট মহান রবের ওহি পৌঁছানোর জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত।

গ: তাঁর বর্ণনা:

"আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর কিতাবে জিবরাইল (আলাইহিস সালাম)-এর মাহাত্ম্য উল্লেখ করেছেন এবং তাঁকে অত্যন্ত শক্তিশালী ও কঠোর হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

মহান আল্লাহ বলেন: {এটি তো ওহি যা তাঁর প্রতি অবতীর্ণ হয়। তাকে শিক্ষা দিয়েছেন এক শক্তিশালী সত্তা। যিনি অত্যন্ত সামর্থ্যবান, অতঃপর তিনি স্থির হলেন...}

--------------------------------------------

1 সহিহ বুখারি, সৃষ্টিতত্ত্ব অধ্যায়, ফেরেশতাগণের আলোচনা পরিচ্ছেদ ৪/৩০৪; মুসলিম, সাহাবাগণের মর্যাদা অধ্যায় ৪/১৯৩৩, নম্বর ১৫১, ১৫৩।

2 পূর্বোক্ত উৎস।

3 সহিহ বুখারি, মাগাজি অধ্যায়, ইফকের হাদিস পরিচ্ছেদ ৭/৪৩৬; মুসলিম, সাহাবাগণের মর্যাদা ৪/১৯৩৩ নম্বর ১৫৪, ১৫৫।

4 তাফসিরুল কুরআনিল আজিম ১/২১৪, দারুল ফিকর সংস্করণ।

5 তাফসিরুল কুরআনিল আজিম ১/২১৪, দারুল ফিকর সংস্করণ।
(খণ্ড: ১) আত-তাফসীরুল মাওদুয়ী লিল কুরআনিল কারীম ওয়া নামাযিজ মিনহু (পৃষ্ঠা: ২৬)
بِالأُفُقِ الأَعْلَى ثُمَّ دَنَا فَتَدَلَّى فَكَانَ قَابَ قَوْسَيْنِ أَوْ أَدْنَى} النجم (4-9) . وقال تعالى: {إِنَّهُ لَقَوْلُ رَسُولٍ كَرِيمٍ. ذِي قُوَّةٍ عِنْدَ ذِي الْعَرْشِ مَكِينٍ. مُطَاعٍ ثَمَّ أَمِينٍ} . التكوير (19-21) .

وقد رآه النبي صلى الله عليه وسلم على صورته التي خلقه الله عليها مرتين. الأولى رآه في الدنيا على خلقته وله ستمائة جناح كما ورد في الحديث الصحيح عن عبد الله بن مسعود رضي الله عنه أن النبي علميه رأى جبريل له ستمائة جناح 1.

والمرة الثانية رآه عند سدرة المنتهى. كما قال تعالى: {وَلَقَدْ رَآهُ نَزْلَةً أُخْرَى عِنْدَ سِدْرَةِ الْمُنْتَهَى} .

وعن أبي هريرة رضي الله عنه: ولقد رآه نزلة أخرى: قال رأى جبريل 2

وسأل مسروق عائشة رضي الله عنها عن قول الله تعالى: {وَلَقَدْ رَآهُ بِالأُفُقِ الْمُبِينِ} {وَلَقَدْ رَآهُ نَزْلَةً أُخْرَى} فقالت أنا أول هذه الأمة سأل عن ذلك رسوله الله صلي الله عليه وسلم فقال: " إنما هو جبريل لم أره على صورته التي خلق عليها غير هاتين المرتين، رأيته منهبطاً من السماء سادا عظيم خلقه ما بين السماء إلى الأرض" 3.

أما بقية الأوقات الأخرى فكان يراه على صورة رجل كما ورد يا الحديث الصحيح عن عمر بن الخطاب رضي الله عنه قال بينما نحن جلوس عند رسول الله صلى الله عليه وسلم ذات يوم إذ طلع علينا رجل شديد بياض الثياب، شديد سواد الشعر لايرى عليه أثر السفر، لا يعرفه منا أحد حتى جلس إلى النبي صلي الله عليه وسلم فأسند ركبتيه إلى ركبتيه، ووضع كفيه على فخذيه 4 الحد يث.

2- ميكال:

قال تعالى: {مَنْ كَانَ عَدُوّاً لِلَّهِ وَمَلائِكَتِهِ وَرُسُلِهِ وَجِبْرِيلَ وَمِيكَالَ فَإِنَّ الله عَدُوٌّ لِلْكَافِرِينَ} الآية 98 البقرة.

--------------------------------------------

1 رواه مسلم في الإيمان1/158 رقم 0280، 282، 283، 287، وانظر صحيح البخاري كتاب التفسير8/606 مع الفتح، وانظر تفسير ابن كثير 6/ 444،451،450 ط الفكر ومعارج القبول 1/64.

2 المصدر السابق.

3 المصدر السابق.

4 انظر تخريجه ص 23.
"উচ্চ দিগন্তে। অতঃপর তিনি নিকটবর্তী হলেন, পরে ঝুলে পড়লেন। ফলে তাদের মধ্যে দুই ধনুকের ব্যবধান রইল অথবা তারও কম।" আন-নাজম (৪-৯)। এবং মহান আল্লাহ বলেন: "নিশ্চয় এটি একজন সম্মানিত রসূলের আনীত বাণী। যিনি শক্তিশালী, আরশের অধিপতির নিকট মর্যাদাশীল। সেখানে তিনি মান্যবর ও বিশ্বস্ত।" আত-তাকভির (১৯-২১)।

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে (জিবরাইলকে) তাঁর সেই আসল রূপে যাতে আল্লাহ তাঁকে সৃষ্টি করেছেন, দুইবার দেখেছেন। প্রথমবার তিনি তাঁকে দুনিয়াতে তাঁর নিজস্ব আকৃতিতে দেখেছেন এবং তাঁর ছয়শত ডানা ছিল, যেমনটি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত সহিহ (صحيح) হাদিসে এসেছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জিবরাইলকে দেখেছেন এমতাবস্থায় যে তাঁর ছয়শত ডানা ছিল। ১

আর দ্বিতীয়বার তিনি তাঁকে সিদরাতুল মুনতাহা-র নিকট দেখেছিলেন। যেমনটি মহান আল্লাহ বলেন: "নিশ্চয় তিনি তাঁকে আর একবার দেখেছিলেন, সিদরাতুল মুনতাহা-র নিকট।"

আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত: "নিশ্চয় তিনি তাঁকে আর একবার দেখেছিলেন"—এই আয়াতের ব্যাখ্যায় তিনি বলেন যে, তিনি জিবরাইলকে দেখেছিলেন। ২

মাসরুক আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-কে মহান আল্লাহর বাণী: "নিশ্চয় তিনি তাঁকে সুস্পষ্ট দিগন্তে দেখেছিলেন" এবং "নিশ্চয় তিনি তাঁকে আর একবার দেখেছিলেন" সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তখন তিনি বললেন, আমিই এই উম্মতের প্রথম ব্যক্তি যে এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি বলেছিলেন: "তিনি তো জিবরাইল। আমি তাঁকে তাঁর সেই আসল রূপে যাতে তিনি সৃষ্ট হয়েছেন, এই দুইবার ছাড়া আর কখনও দেখিনি। আমি তাঁকে আকাশ থেকে অবতরণরত অবস্থায় দেখেছি, তাঁর বিশাল দেহ অবয়ব আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী স্থান পূর্ণ করে রেখেছিল।" ৩

আর অন্যান্য সময়ে তিনি তাঁকে একজন মানুষের আকৃতিতে দেখতেন, যেমনটি ওমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত সহিহ (صحيح) হাদিসে এসেছে। তিনি বলেন, একদিন আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট বসা ছিলাম, হঠাৎ আমাদের সামনে একজন লোক উপস্থিত হলেন যার কাপড় ছিল ধবধবে সাদা এবং চুল ছিল কুচকুচে কালো। তাঁর মধ্যে সফরের কোনো চিহ্ন পরিলক্ষিত হচ্ছিল না এবং আমাদের মধ্যে কেউ তাঁকে চিনতও না। শেষ পর্যন্ত তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সামনে বসলেন এবং নিজের হাঁটু তাঁর হাঁটুর সাথে মেলালেন এবং নিজের দুই হাতের তালু তাঁর উরুর ওপর রাখলেন ৪... (হাদিসের শেষ পর্যন্ত)।

২- মিকাল:

মহান আল্লাহ বলেন: "যে ব্যক্তি আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর রাসূলগণ এবং জিবরাইল ও মিকালের শত্রু হবে, তবে নিশ্চয় আল্লাহ কাফিরদের শত্রু।" সূরা আল-বাকারা, আয়াত ৯৮।

--------------------------------------------

১ মুসলিম কর্তৃক বর্ণিত (رواه), ঈমান অধ্যায়, ১/১৫৮, নম্বর ০২৮০, ২৮২, ২৮৩, ২৮৭; এবং দেখুন সহিহ বুখারি, তাফসির অধ্যায়, ৮/৬০৬, ফাতহুল বারীসহ; এবং দেখুন তাফসির ইবনে কাসির ৬/৪৪৪, ৪৫১, ৪৫০, আল-ফিকর প্রকাশনী; এবং মাআরিজুল কবুল ১/৬৪।

২ পূর্বোক্ত উৎস।

৩ পূর্বোক্ত উৎস।

৪ এর উৎস অনুসন্ধান (تخريج) দেখুন ২৩ পৃষ্ঠায়।
(খণ্ড: ১) আত-তাফসীরুল মাওদুয়ী লিল কুরআনিল কারীম ওয়া নামাযিজ মিনহু (পৃষ্ঠা: ২৭)
وهو موكل بالقطر وتصاريفه إلى حيث أمره الله عز وجل وله أعوان يفعلون ما يأمرهم به بأمر ربه، ويصرفون الرياح، والسحاب، كما يشاء الله عز وجل. وقد جاء في بعض الآثار: ما من قطرة تنزل من السماء إلا ومعها ملك يقررها في موضعها من الأرض.

وفي حديث ابن عباس عند الطبراني أنه صلي الله عليه وسلم: "قال لجبريل: على أي شيء ميكائيل؟ قال على النبات والقطر".

ولأحمد عن أنس بن مالك رضي الله عنه عن النبي صلي الله عليه وسلم: "أنه قال لجبريل- عليه السلام مالي لم أر ميكائيل ضاحكاً قط؟ فقال عليه السلام ما ضحك ميكائيل منذ خلقت النار" 1.

3-مالك:

وهو خازن النار كما ذكر ابن كثير قال تعالى: {إِنَّ الْمُجْرِمِينَ فِي عَذَابِ جَهَنَّمَ خَالِدُونَا يُفَتَّرُ عَنْهُمْ وَهُمْ فِيهِ مُبْلِسُونَ وَمَا ظَلَمْنَاهُمْ وَلَكِنْ كَانُوا هُمُ الظَّالِمِينَ وَنَادَوْا يَا مَالِكُ لِيَقْضِ عَلَيْنَا رَبُّكَ قَالَ إِنَّكُمْ مَاكِثُونَ لَقَدْ جِئْنَاكُمْ بِالْحَقِّ وَلَكِنَّ أَكْثَرَكُمْ لِلْحَقِّ كَارِهُونَ} الزخرف (74- 78) . وفي الحديث الصحيح عن يعلي بن أمية رضي الله عنه قال سمعت رسول الله صلي الله وسلم يقرأ على المنبر {يَا مَالِكُ لِيَقْضِ عَلَيْنَا رَبُّكَ … } 2.

قال ابن كثير عقبه: "أي يقبض أرواحنا فيريحنا مما نحن فيه فإنهم كما قال تعالى: لا يقضى عليهم فيموتوا ولا يخفف عنهم من عذابها"3.

4- ملك الموت:

ورد في بعض الآثار اسمه عزرائيل. وأيا كان فإنه ورد في القرآن باسم ملك الموت. قال تعالى: {قُلْ يَتَوَفَّاكُمْ مَلَكُ الْمَوْتِ الَّذِي وُكِّلَ بِكُمْ ثُمَّ إِلَى رَبِّكُمْ تُرْجَعُونَ} السجدة 11.

--------------------------------------------

1 معارج القبول 1/ 65. وحديث أنس رواه أحمد في المسند 3/ 224.

2 رواه البخاري في كتاب التفسير تفسير سورة الزخرف 8/568.

3 تفسير ابن كثير 6/ 240. ط الفكر.
তিনি বৃষ্টি এবং তা মহান আল্লাহ তাআলার নির্দেশ অনুযায়ী যেখানে ইচ্ছা সেখানে পরিচালনা করার দায়িত্বে নিয়োজিত। তাঁর অনেক সহযোগী রয়েছেন যারা তাঁর রবের নির্দেশে তাঁর আদিষ্ট কার্যাবলি সম্পাদন করেন। তাঁরা বাতাস ও মেঘমালাকে সেভাবে পরিচালনা করেন যেভাবে মহান আল্লাহ তাআলা চান। কিছু হাদিস বা বর্ণনায় (الآثار) এসেছে: আকাশ থেকে এমন কোনো বৃষ্টিবিন্দু বর্ষিত হয় না যার সাথে একজন ফেরেশতা থাকে না, যে তাকে জমিনের নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছে দেয়।

তাবারানিতে বর্ণিত ইবনে আব্বাসের একটি হাদিসে এসেছে যে, তিনি (রাসূলুল্লাহ ﷺ) জিবরাইলকে জিজ্ঞাসা করলেন: "মিকাইল কিসের দায়িত্বে নিয়োজিত?" তিনি বললেন, "উদ্ভিদ ও বৃষ্টির দায়িত্বে।"

ইমাম আহমাদ কর্তৃক বর্ণিত আনাস বিন মালিক (রা.)-এর হাদিসে নবী (সা.) থেকে বর্ণিত যে: "তিনি জিবরাইল (আ.)-কে জিজ্ঞাসা করলেন—কী হলো যে আমি মিকাইলকে কখনও হাসতে দেখলাম না? তিনি (জিবরাইল) বললেন—জাহান্নাম সৃষ্টির পর থেকে মিকাইল কখনও হাসেননি।" ১।

৩-মালিক:

তিনি জাহান্নামের রক্ষক, যেমনটি ইবনে কাসির উল্লেখ করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: {নিশ্চয়ই অপরাধীরা জাহান্নামের আজাবে স্থায়ী হবে। তাদের থেকে আজাব শিথিল করা হবে না এবং তারা সেখানে হতাশ হয়ে পড়বে। আমি তাদের প্রতি জুলুম করিনি, বরং তারাই ছিল জালেম। তারা ডেকে বলবে, হে মালিক! তোমার রব যেন আমাদের মৃত্যু ঘটান। তিনি বলবেন, নিশ্চয়ই তোমরা এখানেই অবস্থান করবে। অবশ্যই আমি তোমাদের কাছে সত্য নিয়ে এসেছি, কিন্তু তোমাদের অধিকাংশ সত্যকে অপছন্দকারী।} জুখরুফ (৭৪-৭৮)। ইয়ালী ইবনে উমাইয়াহ (রা.) থেকে বর্ণিত সহিহ (صحيح) হাদিসে এসেছে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে মিম্বারের ওপর পড়তে শুনেছি: {হে মালিক! তোমার রব যেন আমাদের মৃত্যু ঘটান...} ২।

ইবনে কাসির এর ব্যাখ্যায় বলেছেন: "অর্থাৎ তিনি আমাদের রূহ কবজ করবেন যাতে আমরা বর্তমান অবস্থা থেকে মুক্তি পাই। কেননা তাদের অবস্থা সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেছেন: তাদের মৃত্যু ঘটানো হবে না যাতে তারা মরতে পারে, আর তাদের থেকে আজাবও লাঘব করা হবে না।" ৩।

৪- মালাকুল মাউত (মৃত্যুর ফেরেশতা):

কিছু হাদিস বা বর্ণনায় (الآثار) তাঁর নাম আজরাইল হিসেবে এসেছে। তবে যে নামেই হোক না কেন, কুরআনে তিনি 'মালাকুল মাউত' নামেই উল্লিখিত হয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: {বলো, তোমাদের মৃত্যু ঘটাবেন মৃত্যুর ফেরেশতা, যাকে তোমাদের জন্য নিযুক্ত করা হয়েছে, অতঃপর তোমাদের রবের কাছেই তোমরা ফিরে যাবে।} সাজদাহ ১১।

--------------------------------------------

১ মাআরিজুল কবুল ১/৬৫। আনাসের হাদিসটি আহমাদ মুসনাদে ৩/২২৪ বর্ণনা করেছেন।

২ বুখারি এটি কিতাবুত তাফসির, সূরা জুখরুফের তাফসির অংশে ৮/৫৬৮ বর্ণনা করেছেন।

৩ তাফসির ইবনে কাসির ৬/২৪০। আল-ফিকর সংস্করণ।
(খণ্ড: ১) আত-তাফসীরুল মাওদুয়ী লিল কুরআনিল কারীম ওয়া নামাযিজ মিনহু (পৃষ্ঠা: ২৮)
قال ابن كثير: "الظاهر من هذه الآية أن ملك الموت شخص معين من الملائكة كما هو المتبادر من حديث البراء المتقدم ذكره في سورة إبراهيم. وقد سمى في بعض الآثار بعزرائيل وهو المشهور، قال قتادة وغير واحد وله أعوان، وهكذا ورد في الحديث أن أعوانه ينتزعون الأرواح من سائر الجسد حتى إذا بلغت الحلقوم، تناولها ملك الموت " 1.

قلت: حديث البراء بن عازب حديث طويل والشاهد فيه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "استعيذوا بالله من عذاب القبر مرتين أو ثلاثا ثم قال: إن العبد المؤمن إذا كان في انقطاع من الدنيا وإقبال من الآخرة، نزل إليه ملائكة من السماء بيض الوجوه كأن وجوههم الشمس معهم كفن من أكفان الجنة، وحنوط من حنوط الجنة حتى يجلسوا منه مد لبصر، ثم يجيء ملك الموت حتى يجلس عند رأسه … الحديث" 2.

رابعا: صفاتهم:

للملائكة صفات متعددة ومتنوعة منها ما هو خاص بذواتهم. ومنها ما يشاركهم فيه غيرهم. وسأقتصر في هذا الموضوع على ما ورد به نص صحيح.

أ- أنهم يحملون الأشياء. قال تعالى: {وَقَالَ لَهُمْ نَبِيُّهُمْ إِنَّ آيَةَ مُلْكِهِ أَنْ يَأْتِيَكُمُ التَّابُوتُ فِيهِ سَكِينَةٌ مِنْ رَبِّكُمْ وَبَقِيَّةٌ مِمَّا تَرَكَ آلُ مُوسَى وَآلُ هَارُونَ تَحْمِلُهُ الْمَلائِكَةُ إِنَّ فِي ذَلِكَ لآيَةً لَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ} 248 البقرة.

وهذا فيه رد على الذين يقولون إن الملائكة ليسوا أجساما وإنما هم عبارة عن قوى الخير الكامنة في المخلوقات3.

2- أنهم يتكلمون مع البشر. ودليل هذا من الكتاب والسنة المطهرة. أما الكتاب فقوله تعالى في قصة زكريا عليه السلام:. {فَنَادَتْهُ الْمَلائِكَةُ وَهُوَ قَائِمٌ يُصَلِّي فِي الْمِحْرَابِ أَنَّ الله يُبَشِّرُكَ بِيَحْيَى مُصَدِّقاً بِكَلِمَةٍ مِنَ الله وَسَيِّداً وَحَصُوراً وَنَبِيّاً مِنَ الصَّالِحِينَ} آل عمران 39. وقال تعالى في شأن مريم عليها السلام: {وَإِذْ قَالَتِ الْمَلائِكَةُ يَا مَرْيَمُ

1 تفسير القرآن العظيم 5/407. ط دار الفكر.

2 رواه أحمد في المسند 4/287.

3 انظر رسالة في العقيدة الإسلامية ص 20 لابن عثيمين.
ইবনে কাসির বলেছেন: "এই আয়াত থেকে প্রতীয়মান হয় যে, মৃত্যুর ফেরেশতা ফেরেশতাদের মধ্য থেকে একজন নির্দিষ্ট ব্যক্তি, যেমনটি সূরা ইবরাহিমে ইতিপূর্বে উল্লিখিত বারা ইবনে আযিব-এর হাদিস থেকে স্পষ্টভাবে বোঝা যায়। কিছু বর্ণনায় (آثار) তাকে 'আজরাইল' নামে অভিহিত করা হয়েছে এবং এটাই প্রসিদ্ধ। কাতাদাহ এবং আরও অনেকে বলেছেন যে, তাঁর সাহায্যকারী রয়েছে। এভাবেই হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে, তাঁর সাহায্যকারীরা পুরো শরীর থেকে প্রাণ বের করে আনে, অবশেষে যখন তা কণ্ঠনালিতে পৌঁছে, তখন মৃত্যুর ফেরেশতা তা গ্রহণ করেন।" ১।

আমি বলছি: বারা ইবনে আযিব-এর হাদিসটি দীর্ঘ এবং এর প্রাসঙ্গিক অংশ হলো, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমরা কবরের আজাব থেকে আল্লাহর কাছে পানাহ চাও (এ কথা তিনি দুই বা তিনবার বললেন)। এরপর তিনি বললেন: মুমিন বান্দা যখন দুনিয়া থেকে বিদায় নেওয়ার এবং আখেরাতের অভিমুখী হওয়ার সময় উপনীত হয়, তখন আকাশ থেকে উজ্জ্বল মুখমণ্ডলবিশিষ্ট ফেরেশতারা তার কাছে অবতরণ করেন; তাদের চেহারা যেন সূর্যের মতো উজ্জ্বল। তাদের সাথে জান্নাতের কাফনসমূহের মধ্য হতে একটি কাফন এবং জান্নাতের সুগন্ধি থাকে। তারা তার দৃষ্টির সীমা পর্যন্ত বিস্তৃত হয়ে বসেন। এরপর মৃত্যুর ফেরেশতা আসেন এবং তার মাথার কাছে বসেন … হাদিস।" ২।

চতুর্থত: তাদের গুণাবলি:

ফেরেশতাদের বিবিধ ও বৈচিত্র্যময় গুণাবলি রয়েছে। এর মধ্যে কিছু তাদের সত্তার সাথে সুনির্দিষ্ট, আবার কিছু গুণ এমন যাতে অন্যরাও তাদের সাথে শরিক থাকে। আমি এই বিষয়ে কেবল সেই বর্ণনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকব যা সহিহ (صحيح) দলিল (نص) দ্বারা প্রমাণিত।

ক- তাঁরা বস্তু বহন করেন। মহান আল্লাহ বলেন: {আর তাদের নবী তাদের বললেন, তাঁর রাজত্বের নিদর্শন এই যে, তোমাদের কাছে সেই সিন্দুকটি আসবে যাতে তোমাদের রবের পক্ষ থেকে প্রশান্তি রয়েছে এবং মুসা ও হারুন পরিবারের পরিত্যক্ত কিছু সামগ্রী রয়েছে, যা ফেরেশতারা বহন করে আনবে। নিশ্চয়ই এতে তোমাদের জন্য নিদর্শন রয়েছে যদি তোমরা মুমিন হও।} ২৪৮, সূরা বাকারাহ।

এতে তাদের কথার খণ্ডন রয়েছে যারা বলে যে, ফেরেশতারা কোনো দেহধারী সত্তা নয়, বরং তারা সৃষ্টির মধ্যে সুপ্ত এক প্রকার শুভ শক্তির বহিঃপ্রকাশ মাত্র। ৩।

২- তাঁরা মানুষের সাথে কথা বলেন। কুরআন এবং পবিত্র সুন্নাহ (سنة) থেকে এর প্রমাণ পাওয়া যায়। কুরআনের দলিল হলো জাকারিয়া (আ.)-এর ঘটনায় মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর যখন তিনি মেহরাবে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করছিলেন, তখন ফেরেশতারা তাঁকে ডেকে বলল, আল্লাহ আপনাকে ইয়াহইয়া সম্পর্কে সুসংবাদ দিচ্ছেন, যিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি বাণীর সত্যায়নকারী হবেন এবং তিনি হবেন নেতা, নারী-সংস্রবহীন ও নেককারদের অন্তর্ভুক্ত একজন নবী।} সূরা আলে ইমরান: ৩৯। এবং মহান আল্লাহ মারইয়াম (আ.)-এর প্রসঙ্গে বলেন: {এবং যখন ফেরেশতারা বলেছিল, হে মারইয়াম...

১ তাফসীরুল কুরআনিল আজিম ৫/৪০৭। দারুল ফিকর সংস্করণ।

২ এটি আহমদ মুসনাদ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন ৪/২৮৭।

৩ ইবনে উসাইমীন রচিত ইসলামি আকিদা বিষয়ক পুস্তিকা, পৃষ্ঠা ২০ দ্রষ্টব্য।
(খণ্ড: ১) আত-তাফসীরুল মাওদুয়ী লিল কুরআনিল কারীম ওয়া নামাযিজ মিনহু (পৃষ্ঠা: ২৯)
إِنَّ الله اصْطَفَاكِ وَطَهَّرَكِ وَاصْطَفَاكِ عَلَى نِسَاءِ الْعَالَمِينَ، يَا مَرْيَمُ اقْنُتِي لِرَبِّكِ وَاسْجُدِي وَارْكَعِي مَعَ الرَّاكِعِينَ} آل عمران (42-43) . وقال تعالى: {قَالُوا لا تَخَفْ وَبَشَّرُوهُ بِغُلامٍ عَلِيمٍ} الذاريات 28. وقال تعالى: {إِذْ قَالَتِ الْمَلائِكَةُ يَا مَرْيَمُ إِنَّ الله يُبَشِّرُكِ بِكَلِمَةٍ مِنْهُ اسْمُهُ الْمَسِيحُ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ وَجِيهاً فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وَمِنَ الْمُقَرَّبِينَ. وَيُكَلِّمُ النَّاسَ فِي الْمَهْدِ وَكَهْلاً وَمِنَ الصَّالِحِينَ} آل عمران (45-46) . وقال تعالى: {قَالُوا يَا لُوطُ إِنَّا رُسُلُ رَبِّكَ لَنْ يَصِلُوا إِلَيْكَ فَأَسْرِ بِأَهْلِكَ بِقِطْعٍ مِنَ اللَّيْلِ وَلا يَلْتَفِتْ مِنْكُمْ أَحَدٌ إِلا امْرَأَتَكَ إِنَّهُ مُصِيبُهَا مَا أَصَابَهُمْ إِنَّ مَوْعِدَهُمُ الصُّبْحُ أَلَيْسَ الصُّبْحُ بِقَرِيبٍ} هود 81.

ومن السنة: مساءلة جبريل عليه السلام للنبي صلي الله عليه وسلم عن الإِيمان والإِسلام والإحسان1. ومخاطبته له بعد غزوة الأحزاب أن لا يضع السلاح …

3- أنهم يتمثلون أحياناً في صورة البشر وهذا ثابت بالقرآن والسنة. أما القرآن فقال تعالى في شأن مريم عليها السلام: {وَاذْكُرْ فِي الْكِتَابِ مَرْيَمَ إِذِ انْتَبَذَتْ مِنْ أَهْلِهَا مَكَاناً شَرْقِيّاً فَاتَّخَذَتْ مِنْ دُونِهِمْ حِجَاباً فَأَرْسَلْنَا إِلَيْهَا رُوحَنَا فَتَمَثَّلَ لَهَا بَشَراً سَوِيّاً قَالَتْ إِنِّي أَعُوذُ بِالرَّحْمَنِ مِنْكَ إِنْ كُنْتَ تَقِيّاً قَالَ إِنَّمَا أَنَا رَسُولُ رَبِّكِ لِأَهَبَ لَكِ غُلاماً زَكِيّاً قَالَتْ أَنَّى يَكُونُ لِي غُلامٌ وَلَمْ يَمْسَسْنِي بَشَرٌ وَلَمْ أَكُ بَغِيّاً قَالَ كَذَلِكِ قَالَ رَبُّكِ هُوَ عَلَيَّ هَيِّنٌ وَلِنَجْعَلَهُ آيَةً لِلنَّاسِ وَرَحْمَةً مِنَّا وَكَانَ أَمْراً مَقْضِيّاً} مريم16-21. وقال تعالى في قصة إبراهيم ولوط عليهما السلام: {وَلَقَدْ جَاءَتْ رُسُلُنَا إِبْرَاهِيمَ بِالْبُشْرَى قَالُوا سَلاماً قَالَ سَلامٌ فَمَا لَبِثَ أَنْ جَاءَ بِعِجْلٍ حَنِيذٍ فَلَمَّا رَأى أَيْدِيَهُمْ لا تَصِلُ إِلَيْهِ نَكِرَهُمْ وَأَوْجَسَ مِنْهُمْ خِيفَةً قَالُوا لا تَخَفْ إِنَّا أُرْسِلْنَا إِلَى قَوْمِ لُوطٍ وَامْرَأَتُهُ قَائِمَةٌ فَضَحِكَتْ فَبَشَّرْنَاهَا بِإِسْحَاقَ وَمِنْ وَرَاءِ إِسْحَاقَ يَعْقُوبَ} هود (69-71) .

وقال تعالى: {هَلْ أَتَاكَ حَدِيثُ ضَيْفِ إِبْرَاهِيمَ الْمُكْرَمِينَ إِذْ دَخَلُوا عَلَيْهِ فَقَالُوا سَلاماً قَالَ سَلامٌ قَوْمٌ مُنْكَرُونَ فَرَاغَ إِلَى أَهْلِهِ فَجَاءَ بِعِجْلٍ سَمِينٍ فَقَرَّبَهُ إِلَيْهِمْ قَالَ أَلا تَأْكُلُونَ فَأَوْجَسَ مِنْهُمْ خِيفَةً قَالُوا لا تَخَفْ وَبَشَّرُوهُ بِغُلامٍ عَلِيمٍ} الذاريات (24-28) .

--------------------------------------------

1 انظر تخريج الحديث ص 23.
{নিশ্চয়ই আল্লাহ আপনাকে মনোনীত করেছেন ও পবিত্র করেছেন এবং বিশ্বের নারীদের উপর আপনাকে মনোনীত করেছেন। হে মারইয়াম, আপনার রবের আনুগত্য করুন এবং সিজদা করুন ও রুকুকারীদের সাথে রুকু করুন} আলে ইমরান (৪২-৪৩)। এবং আল্লাহ তাআলা বলেন: {তারা বলল, ভয় পাবেন না এবং তারা তাঁকে এক মহাজ্ঞানী পুত্রের সুসংবাদ দিল} আয-যারিয়াত ২৮। এবং আল্লাহ তাআলা বলেন: {যখন ফেরেশতারা বলল, হে মারইয়াম, নিশ্চয়ই আল্লাহ আপনাকে তাঁর পক্ষ থেকে একটি কালিমার সুসংবাদ দিচ্ছেন, যার নাম হলো মসীহ ঈসা ইবনে মারইয়াম, তিনি ইহকাল ও পরকালে মর্যাদাবান এবং নৈকট্যপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হবেন। আর তিনি দোলনায় থাকা অবস্থায় ও পরিণত বয়সে মানুষের সাথে কথা বলবেন এবং তিনি সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত হবেন} আলে ইমরান (৪৫-৪৬)। এবং আল্লাহ তাআলা বলেন: {তারা বলল, হে লুত, আমরা আপনার রবের প্রেরিত রসূল, তারা কখনোই আপনার নিকট পৌঁছাতে পারবে না। সুতরাং আপনি রাতের কোনো এক অংশে আপনার পরিবারবর্গ নিয়ে বেরিয়ে পড়ুন এবং আপনাদের মধ্যে কেউ যেন পিছন ফিরে না তাকায়, আপনার স্ত্রী ছাড়া। নিশ্চয়ই তার উপর তা আপতিত হবে যা তাদের উপর আপতিত হবে। নিশ্চয়ই প্রভাত তাদের প্রতিশ্রুত সময়। প্রভাত কি খুব নিকটবর্তী নয়?} হুদ ৮১।

আর সুন্নাহ (سنة) থেকে: জিবরীল আলাইহিস সালামের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ঈমান, ইসলাম এবং ইহসান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা। এবং আহযাব যুদ্ধের পর তাঁকে অস্ত্র না রাখার নির্দেশ প্রদান করা …

৩- তারা কখনো কখনো মানুষের রূপ ধারণ করে এবং এটি কুরআন ও সুন্নাহ (سنة) দ্বারা প্রমাণিত। কুরআনের ক্ষেত্রে আল্লাহ তাআলা মারইয়াম আলাইহাস সালামের প্রসঙ্গে বলেছেন: {আর এই কিতাবে মারইয়ামের কথা স্মরণ করুন, যখন তিনি তাঁর পরিবারবর্গ থেকে পৃথক হয়ে পূর্বদিকের এক নির্জন স্থানে আশ্রয় নিলেন। অতঃপর তিনি তাদের থেকে নিজেকে আড়াল করার জন্য পর্দা গ্রহণ করলেন। তখন আমরা তাঁর নিকট আমাদের রূহকে পাঠালাম, সে তাঁর সামনে এক সুঠাম মানুষের রূপ ধারণ করল। তিনি বললেন, আমি তোমার থেকে দয়াময় (রহমান)-এর আশ্রয় প্রার্থনা করছি, যদি তুমি মুত্তাকী হও। সে বলল, আমি তো কেবল তোমার রবের প্রেরিত দূত, যাতে তোমাকে এক পবিত্র পুত্র দান করি। তিনি বললেন, আমার পুত্র হবে কীভাবে, অথচ কোনো মানুষ আমাকে স্পর্শ করেনি এবং আমি ব্যভিচারিণীও নই? সে বলল, এভাবেই হবে। তোমার রব বলেছেন, এটা আমার জন্য সহজ; আর যেন আমরা তাকে মানুষের জন্য এক নিদর্শন এবং আমাদের পক্ষ থেকে রহমত স্বরূপ করি। আর এটি ছিল এক স্থিরীকৃত বিষয়।} মারইয়াম ১৬-২১। এবং আল্লাহ তাআলা ইব্রাহিম ও লুত আলাইহিমাস সালামের কাহিনীতে বলেছেন: {আর অবশ্যই আমাদের প্রেরিত ফেরেশতারা ইব্রাহিমের কাছে সুসংবাদ নিয়ে এসেছিল। তারা বলল, সালাম। তিনিও বললেন, সালাম। এরপর তিনি শীঘ্রই একটি ভুনা করা বাছুর নিয়ে আসলেন। অতঃপর যখন তিনি দেখলেন যে তাদের হাত সেদিকে পৌঁছাচ্ছে না, তখন তিনি তাদের অপরিচিত মনে করলেন এবং মনে মনে তাদের থেকে কিছুটা আতঙ্ক বোধ করলেন। তারা বলল, ভয় পাবেন না, আমরা লুতের কওমের প্রতি প্রেরিত হয়েছি। আর তাঁর স্ত্রী দাঁড়িয়ে ছিল, সে হেসে ফেলল। অতঃপর আমরা তাকে ইসহাকের এবং ইসহাকের পর ইয়াকুবের সুসংবাদ দিলাম।} হুদ (৬৯-৭১)।

এবং আল্লাহ তাআলা বলেন: {আপনার কাছে কি ইব্রাহিমের সম্মানিত মেহমানদের কাহিনী পৌঁছেছে? যখন তারা তাঁর কাছে প্রবেশ করে বলল, সালাম। তিনি বললেন, সালাম। এরা তো অপরিচিত লোক। এরপর তিনি দ্রুত তাঁর পরিবারের কাছে গেলেন এবং একটি হৃষ্টপুষ্ট বাছুর নিয়ে আসলেন। অতঃপর তিনি তা তাদের সামনে রাখলেন। তিনি বললেন, তোমরা কি খাবে না? এরপর তিনি মনে মনে তাদের থেকে কিছুটা ভীত হলেন। তারা বলল, ভয় পাবেন না। এবং তারা তাঁকে এক মহাজ্ঞানী পুত্রের সুসংবাদ দিল।} আয-যারিয়াত (২৪-২৮)।

--------------------------------------------

১ হাদিসের তখরীজ (تخريج) দেখুন পৃষ্ঠা ২৩।
(খণ্ড: ১) আত-তাফসীরুল মাওদুয়ী লিল কুরআনিল কারীম ওয়া নামাযিজ মিনহু (পৃষ্ঠা: ৩০)
4- الله سبحانه يصطفي منهم رسلا: قال الله تعالى: {الله يَصْطَفِي مِنَ الْمَلائِكَةِ رُسُلاً وَمِنَ النَّاسِ إِنَّ الله سَمِيعٌ بَصِيرٌ} الحج 75. قال ابن كثير: "يخبر الله تعالى أنه يختار من الملائكة رسلا فيما يشاء من شرعه وقدره ومن الناس لإبلاغ رسالته"1 واصطفاء الله من الملائكة رسلا المراد منه أن يكونوا رسلا بينه سبحانه وبين أنبيائه من عباده، ليبلغوا ماكلفوا به.

قال تعالى: {الْحَمْدُ لِلَّهِ فَاطِرِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ جَاعِلِ الْمَلائِكَةِ رُسُلاً} فاطر آية (1) . قال ابن كثير: "وقوله تعالى: {جَاعِلِ الْمَلائِكَةِ رُسُلاً} أي بينه وبين أنبيائه"2.

وقوله تعالى في حق جبريل عليه السلام: {إِنَّهُ لَقَوْلُ رَسُولٍ كَرِيمٍ} التكوير 19.

وقال تعالى: {وَهُوَ الْقَاهِرُ فَوْقَ عِبَادِهِ وَيُرْسِلُ عَلَيْكُمْ حَفَظَةً حَتَّى إِذَا جَاءَ أَحَدَكُمُ الْمَوْتُ تَوَفَّتْهُ رُسُلُنَا وَهُمْ لا يُفَرِّطُونَ} الأنعام 61.

5- أن الرسل من الملائكة لهم أجنحة. ذكر الله سبحانه في سورة الفرقان أنه سبحانه يصطفي من الملائكة رسلاً. وذكر سبحانه في هذه الآية أن أولئك الرسل من الملائكة لهم أجنحة وتلك الأجنحة متعددة منهم. قال تعالى: {الْحَمْدُ لِلَّهِ فَاطِرِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ جَاعِلِ الْمَلائِكَةِ رُسُلاً أُولِي أَجْنِحَةٍ مَثْنَى وَثُلاثَ وَرُبَاعَ يَزِيدُ فِي الْخَلْقِ مَا يَشَاءُ إِنَّ الله عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ} فاطر آية (1) .

قال ابن كثير رحمه الله: "وأولي أجنحة أي يطيرون بها ليبلّغوا ما أمروا به مثنى وثلاث ورباع أي منهم من له جناحان، ومنهم من له ثلاثة ومنهم من له أربعة، ومنهم من له أكثر من ذلك، كما جاء في الحديث أن رسول الله صلي الله عليه وسلم رأى جبريل عليه السلام ليلة الإسراء وله ستمائة جناح3، بين كل جناحين كما بين المشرق والمغرب ولهذا قال جل وعلا: {يَزِيدُ فِي الْخَلْقِ مَا يَشَاءُ إِنَّ الله عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ} 4.

--------------------------------------------

1 تفسير القرآن العظيم 4/567 دار الفكر.

2 تفسير القرآن العظيم5/567. ط دار الفكر.

3 صح ذلك من حديث ابن مسعود عند مسلم في كتاب الإيمان باب في ذكر سدرة المنتهى1/158.

4 تفسير القرآن العظيم5/567. ط دار الفكر.
4- মহান আল্লাহ তাঁদের মধ্য থেকে রাসূল মনোনীত করেন: মহান আল্লাহ বলেন: {আল্লাহ ফেরেশতাদের মধ্য থেকে রাসূল মনোনীত করেন এবং মানুষের মধ্য থেকেও; নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা} আল-হাজ্জ: ৭৫। ইবনে কাসীর বলেন: "মহান আল্লাহ সংবাদ দিচ্ছেন যে, তিনি ফেরেশতাদের মধ্য থেকে তাঁর শরিয়ত ও তাকদিরের যা ইচ্ছা তা পালনের জন্য রাসূল হিসেবে বেছে নেন এবং মানুষের মধ্য থেকেও তাঁর রিসালাত পৌঁছানোর জন্য মনোনীত করেন।"১ আর ফেরেশতাদের মধ্য থেকে আল্লাহর রাসূল মনোনীত করার অর্থ হলো—তাঁরা যেন মহান আল্লাহ এবং তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে প্রেরিত নবীদের মাঝে সংবাদবাহক হিসেবে কাজ করেন, যাতে তাঁরা তাঁদের অর্পিত দায়িত্ব পৌঁছে দিতে পারেন।

মহান আল্লাহ বলেন: {সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আসমান ও জমিনের স্রষ্টা এবং ফেরেশতাদের রাসূল হিসেবে নিযুক্তকারী} ফাতির: ১। ইবনে কাসীর বলেন: "মহান আল্লাহর বাণী: {ফেরেশতাদের রাসূল হিসেবে নিযুক্তকারী} অর্থাৎ তাঁর এবং তাঁর নবীদের মাঝে মাধ্যম হিসেবে।"২।

জিবরাঈল আলাইহিস সালাম-এর শানে মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই এটি এক সম্মানিত রাসূলের আনীত বাণী} আত-তাকওয়ীর: ১৯।

মহান আল্লাহ আরও বলেন: {তিনিই তাঁর বান্দাদের ওপর প্রবল পরাক্রমশালী এবং তিনি তোমাদের ওপর রক্ষক প্রেরণ করেন। এমনকি যখন তোমাদের কারো মৃত্যু উপস্থিত হয়, তখন আমার প্রেরিত রাসূলগণ তার প্রাণ হরণ করে এবং তারা কোনো ত্রুটি করে না} আল-আনআম: ৬১।

5- ফেরেশতাদের মধ্য থেকে যারা রাসূল, তাঁদের ডানা রয়েছে। মহান আল্লাহ সূরা আল-ফুরকানে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি ফেরেশতাদের মধ্য থেকে রাসূল মনোনীত করেন। এবং মহান আল্লাহ এই আয়াতে উল্লেখ করেছেন যে, ফেরেশতাদের মধ্য থেকে সেই সব রাসূলের ডানা রয়েছে এবং তাঁদের সেই ডানাগুলো একাধিক। মহান আল্লাহ বলেন: {সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আসমান ও জমিনের স্রষ্টা এবং ফেরেশতাদের রাসূল হিসেবে নিযুক্তকারী—যারা দুই দুই, তিন তিন এবং চার চার ডানা বিশিষ্ট। তিনি সৃষ্টিতে যা ইচ্ছা বৃদ্ধি করেন; নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান} ফাতির: ১।

ইবনে কাসীর রহিমাহুল্লাহ বলেন: "{ডানা বিশিষ্ট} অর্থাৎ তাঁরা এগুলোর সাহায্যে উড়ে গিয়ে অর্পিত নির্দেশাবলী পৌঁছে দেন। {দুই দুই, তিন তিন এবং চার চার} অর্থাৎ তাঁদের মধ্যে কারো দুটি ডানা রয়েছে, কারো তিনটি, কারো চারটি এবং কারো তার চেয়েও বেশি। যেমনটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মিরাজের রাতে জিবরাঈল আলাইহিস সালাম-কে দেখেছেন এমতাবস্থায় যে তাঁর ছয়শত ডানা ছিল৩, যার প্রতি দুটি ডানার মাঝখানের দূরত্ব পূর্ব ও পশ্চিমের দূরত্বের সমান। এই কারণেই মহান আল্লাহ বলেছেন: {তিনি সৃষ্টিতে যা ইচ্ছা বৃদ্ধি করেন; নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান}।"৪।

--------------------------------------------

১ তাফসীরুল কুরআনিল আযীম ৪/৫৬৭, দারুল ফিকর।

২ তাফসীরুল কুরআনিল আযীম ৫/৫৬৭, দারুল ফিকর।

৩ এটি ইবনে মাসউদের হাদিস থেকে সহিহ (صح) হিসেবে প্রমাণিত যা মুসলিমের কিতাবুল ঈমান-এর সিদরাতুল মুনতাহা সংক্রান্ত পরিচ্ছেদে (১/১৫৮) বর্ণিত হয়েছে।

৪ তাফসীরুল কুরআনিল আযীম ৫/৫৬৭, দারুল ফিকর।
(খণ্ড: ১) আত-তাফসীরুল মাওদুয়ী লিল কুরআনিল কারীম ওয়া নামাযিজ মিনহু (পৃষ্ঠা: ৩১)
6- إنهم غلاظ شداد. وهذا وصف لنوعيّة منهمِ وهم القائمون على جهنم قال تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قُوا أَنْفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَاراً وَقُودُهَا النَّاسُ وَالْحِجَارَةُ عَلَيْهَا مَلائِكَةٌ غِلاظٌ شِدَادٌ لا يَعْصُونَ الله مَا أَمَرَهُمْ وَيَفْعَلُونَ مَا يُؤْمَرُونَ} التحريم 6.

قال ابن كثير:"أي طباعهم غليظة قد نزعت من قلوبهم الرحمة بالكافرين بالله شداد أي تركيبهم في غاية الشدة والكثافة والمنظر المزعج "1.

7- تنفيذهم لأمر الله وعدم عصيانه. قال تعالى: {عَلَيْهَا مَلائِكَةٌ غِلاظٌ شِدَادٌ لا يَعْصُونَ الله مَا أَمَرَهُمْ وَيَفْعَلُونَ مَا يُؤْمَرُونَ} التحريم آية 6.

قال ابن كثير "مهما أمرهم به تعالى يبادروا إليه لا يتأخرون عنه طرفة عين وهم قادرون على فعله ليس بهم عجز عنه وهؤلاء الزبانية- عياذاً بالله منهم-2".

وقال تعالى: {لا يَسْبِقُونَهُ بِالْقَوْلِ وَهُمْ بِأَمْرِهِ يَعْمَلُونَ} الأنبياء آية 27.

قال ابن كثير: "أي لا يتقدمون بين يديه بأمر ولا يخالفونه فيما أمرهم به بل يبادرون إلى فعله، وهو تعالى علمه محيط بهم لا يخفى عليه منهم خافية ويعلم ما بين أيديهم وما خلفهم"3.

8- النزول والمعراج: قال تعالى: {تَنَزَّلُ الْمَلائِكَةُ وَالرُّوحُ فِيهَا بِإِذْنِ رَبِّهِمْ مِنْ كُلِّ أَمْرٍ سَلامٌ هِيَ حَتَّى مَطْلَعِ الْفَجْرِ} القدر (4،5) . وقال تعالى: {تَعْرُجُ الْمَلائِكَةُ وَالرُّوحُ إِلَيْهِ فِي يَوْمٍ كَانَ مِقْدَارُهُ خَمْسِينَ أَلْفَ سَنَةٍ} المعارج آية 4. ونزولهم وعرجهم بمهمات متنوعة فبعضهم ينزل بالوحي والآخر يصعد بالأرواح والثالث بلا عمل وغير ذلك مما نقل إلينا ومما لم ينقل وربك يخلق ما يشاء ويفعل. وله الحمد في الأولى والآخرة.

9- الاصطفاف بين يدي الرحمن يوم القيامة: قال تعالى: {وَجَاءَ رَبُّكَ وَالْمَلَكُ صَفّاً صَفّاً} يقول ابن كثر: "فيجيء الرب تبارك وتعالى لفصل القضاء كما يشاء والملائكة يجيئون بين يديه صفاً صفا4. وقال تعالى: {يَوْمَ يَقُومُ الرُّوحُ وَالْمَلائِكَةُ صَفّاً لا يَتَكَلَّمُونَ إِلا مَنْ أَذِنَ لَهُ الرَّحْمَنُ وَقَالَ صَوَاباً} النبأ آية 38.

1 تفسير القرآن العظيم 7/ 59. ط دار الفكر.

2 تفسير القرآن العظيم 7/ 60. ط دار الفكر.

3 تفسير القرآن العظيم4/558 ط دار الفكر.

4 تفسير القرآن العظيم 7/ 289.
৬- তারা কঠোর ও শক্তিশালী। এটি তাদের একটি বিশেষ শ্রেণির বর্ণনা, যারা জাহান্নামের দায়িত্বে নিয়োজিত। মহান আল্লাহ বলেন: {হে মুমিনগণ, তোমরা নিজেদের এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে রক্ষা করো সেই আগুন থেকে, যার জ্বালানি হবে মানুষ ও পাথর; যেখানে নিয়োজিত আছে কঠোর স্বভাবের শক্তিশালী ফেরেশতারা, যারা আল্লাহর নির্দেশের অবাধ্য হয় না এবং তাদের যা আদেশ করা হয় তা-ই পালন করে।} আত-তাহরীম ৬।

ইবনে কাসীর বলেন: "অর্থাৎ তাদের প্রকৃতি কঠোর, আল্লাহর প্রতি অস্বীকারকারীদের জন্য তাদের অন্তর থেকে দয়া ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে; তারা শক্তিশালী অর্থাৎ তাদের শারীরিক গঠন অত্যন্ত মজবুত ও সুদৃঢ় এবং তাদের অবয়ব অত্যন্ত আতঙ্কজনক।" ১।

৭- আল্লাহর নির্দেশ বাস্তবায়ন করা এবং তাঁর অবাধ্য না হওয়া। মহান আল্লাহ বলেন: {সেখানে নিয়োজিত আছে কঠোর স্বভাবের শক্তিশালী ফেরেশতারা, যারা আল্লাহর নির্দেশের অবাধ্য হয় না এবং তাদের যা আদেশ করা হয় তা-ই পালন করে।} আত-তাহরীম আয়াত ৬।

ইবনে কাসীর বলেন: "মহান আল্লাহ তাদের যা কিছুই নির্দেশ দেন, তারা কালবিলম্ব না করে তৎক্ষণাৎ তা পালনের জন্য দ্রুত অগ্রসর হন; এবং তারা তা পালনে সক্ষম, কোনো প্রকার অক্ষমতা তাদের নেই। আর এরাই হলেন জাহান্নামের প্রহরী ফেরেশতা (যাবানিয়াহ)—আল্লাহর কাছে তাদের থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।" ২।

মহান আল্লাহ আরও বলেন: {তারা তাঁর আগে বেড়ে কথা বলে না এবং তারা তো তাঁর নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করে।} আল-আম্বিয়া আয়াত ২৭।

ইবনে কাসীর বলেন: "অর্থাৎ তারা কোনো বিষয়ে তাঁর আগে বেড়ে কিছু বলে না এবং তাঁর আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে না; বরং তাঁর আদেশ পালনে ক্ষিপ্রতা প্রদর্শন করে। মহান আল্লাহর জ্ঞান তাদের পরিবেষ্টন করে আছে, তাদের কোনো কিছুই তাঁর নিকট গোপন নেই; তিনি তাদের অগ্র-পশ্চাৎ সব কিছুই অবগত আছেন।" ৩।

৮- অবতরণ এবং উর্ধ্বগমন: মহান আল্লাহ বলেন: {সে রাতে ফেরেশতারা ও রূহ অবতীর্ণ হয় তাদের রবের নির্দেশক্রমে সকল বিষয় নিয়ে। শান্তিই শান্তি, ফজর উদয় হওয়া পর্যন্ত।} আল-কদর (৪, ৫)। মহান আল্লাহ আরও বলেন: {ফেরেশতারা ও রূহ তাঁর দিকে উর্ধ্বগামী হয় এমন এক দিনে, যার পরিমাণ পঞ্চাশ হাজার বছর।} আল-মাআরিজ আয়াত ৪। তাদের এই অবতরণ ও উর্ধ্বগমন বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্যে হয়ে থাকে; তাদের কেউ ওহী নিয়ে অবতীর্ণ হন, কেউ রূহ নিয়ে উর্ধ্বে গমন করেন, আবার কেউ কোনো নির্দিষ্ট কাজ ছাড়া (উত্থিত হন), এ ছাড়াও এমন অনেক বিষয় রয়েছে যা আমাদের নিকট বর্ণিত হয়েছে এবং যা বর্ণিত হয়নি। আপনার রব যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন এবং যা ইচ্ছা করেন। ইহকাল ও পরকালে সকল প্রশংসা তাঁরই জন্য।

৯- কিয়ামতের দিন দয়াময় আল্লাহর সামনে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ানো: মহান আল্লাহ বলেন: {এবং আপনার রব যখন আগমন করবেন এবং ফেরেশতারা সারিবদ্ধভাবে উপস্থিত হবে।} ইবনে কাসীর বলেন: "অতঃপর বরকতময় ও সুউচ্চ প্রতিপালক তাঁর ইচ্ছা অনুযায়ী চূড়ান্ত বিচারের জন্য আগমন করবেন এবং ফেরেশতারা তাঁর সামনে সারিবদ্ধ হয়ে আসবে।" ৪। মহান আল্লাহ বলেন: {যেদিন রূহ ও ফেরেশতারা সারিবদ্ধভাবে দাঁড়াবে; পরম দয়াময় যাকে অনুমতি দেবেন সে ছাড়া কেউ কথা বলতে পারবে না এবং সে সঠিক কথা বলবে।} আন-নাবা আয়াত ৩৮।

১ তাফসীরুল কুরআনিল আযীম ৭/ ৫৯। দারুল ফিকর প্রকাশনী।

২ তাফসীরুল কুরআনিল আযীম ৭/ ৬০। দারুল ফিকর প্রকাশনী।

৩ তাফসীরুল কুরআনিল আযীম ৪/৫৫৮ দারুল ফিকর প্রকাশনী।

৪ তাফসীরুল কুরআনিল আযীম ৭/ ২৮৯।
(খণ্ড: ১) আত-তাফসীরুল মাওদুয়ী লিল কুরআনিল কারীম ওয়া নামাযিজ মিনহু (পৃষ্ঠা: ৩২)
10- لا يتكلمون إلا بعد الاستئذان: قال تعالى: {يَوْمَ يَقُومُ الرُّوحُ وَالْمَلائِكَةُ صَفّاً لا يَتَكَلَّمُونَ إِلا مَنْ أَذِنَ لَهُ الرَّحْمَنُ وَقَالَ صَوَاباً} النبأ آية 38. وقال تعالى: {لا يَسْبِقُونَهُ بِالْقَوْلِ وَهُمْ بِأَمْرِهِ يَعْمَلُونَ} الأنبياء آية 27.

11- إنهم عباد مكرمون: ووصفهم بالعبودية من الله سبحانه فيه تشريف وتكريم لهم، ثم فيه تنزيه لهم عمن اتخذهم آلهة تعبد من دون الله. قال تعالى: {وَقَالُوا اتَّخَذَ الرَّحْمَنُ وَلَداً سُبْحَانَهُ بَلْ عِبَادٌ مُكْرَمُونَ لا يَسْبِقُونَهُ بِالْقَوْلِ وَهُمْ بِأَمْرِهِ يَعْمَلُونَ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلا يَشْفَعُونَ إِلَّا لِمَنِ ارْتَضَى وَهُمْ مِنْ خَشْيَتِهِ مُشْفِقُونَ وَمَنْ يَقُلْ مِنْهُمْ إِنِّي إِلَهٌ مِنْ دُونِهِ فَذَلِكَ نَجْزِيهِ جَهَنَّمَ كَذَلِكَ نَجْزِي الظَّالِمِينَ} الأنبياء27-29.

12- إن لهم أيادي: قال الله تعالى: {إِذِ الظَّالِمُونَ فِي غَمَرَاتِ الْمَوْتِ وَالْمَلائِكَةُ بَاسِطُو أَيْدِيهِمْ أَخْرِجُوا أَنْفُسَكُمُ الْيَوْمَ تُجْزَوْنَ عَذَابَ الْهُونِ بِمَا كُنْتُمْ تَقُولُونَ عَلَى الله غَيْرَ الْحَقِّ وَكُنْتُمْ عَنْ آيَاتِهِ تَسْتَكْبِرُونَ} الأنعام آية 93. وقال تعالى: {وَلَوْ تَرَى إِذْ يَتَوَفَّى الَّذِينَ كَفَرُوا الْمَلائِكَةُ يَضْرِبُونَ وُجُوهَهُمْ وَأَدْبَارَهُمْ} الأنفال آية50. وقد ورد في معنى الآية الأولى أن الملائكة تضرب العصاة الفجار وذلك أن الكافر إذا احتضر بشرته الملائكة بالعذاب والنكال والأغلال! والسلاسل والجحيم، وغضب الرحمن الرحيم، فتتفرق روحه لا جسده، وتعصي وتأبى الخروج فتضربهم الملائكة حتى تخرج أرواحهم من أجسادهم قائلين لهم {أَخْرِجُوا أَنْفُسَكُمُ الْيَوْمَ تُجْزَوْنَ عَذَابَ الْهُونِ بِمَا كُنْتُمْ تَقُولُونَ عَلَى الله غَيْرَ الْحَقِّ} الآية.

خامسا:أعمالهم:

هذا الخلق من خلق الله والذين وصفهم الله بأنهم عباد مكرمون يسبحون له بالليل والنهار ولا يفترون لهم أعمال يقومون بها طاعة لله سبحانه وتنفيذاً لأمره. لا يسبقونه بالقول وهم يعملون. فمن ذلك:

1- العبادة

أ- التسبيح: والتسبيح هو تنزيه الله سبحانه وتقديسه عن العيوب والنقائص.
১০- অনুমতি গ্রহণের পর ব্যতীত তারা কথা বলেন না: মহান আল্লাহ বলেন: {যেদিন রূহ ও ফেরেশতারা সারিবদ্ধভাবে দাঁড়াবে, সেদিন দয়াময় (আল্লাহ) যাকে অনুমতি দেবেন সে ব্যতীত তারা কথা বলবে না এবং সে সঠিক কথা বলবে} (আন-নাবা, আয়াত ৩৮)। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {তারা তাঁর আগে বেড়ে কথা বলে না এবং তারা তাঁর আদেশ অনুযায়ী কাজ করে} (আল-আম্বিয়া, আয়াত ২৭)।

১১- নিশ্চয়ই তারা সম্মানিত বান্দা: মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের দাসত্বের (বান্দা হিসেবে) গুণে গুণান্বিত করার মধ্যে তাদের জন্য বিশেষ সম্মান ও মর্যাদা নিহিত রয়েছে। তদুপরি, এতে তাদের ঐসব ব্যক্তিদের ধারণা থেকে পবিত্র ঘোষণা করা হয়েছে যারা আল্লাহর পরিবর্তে তাদের ইলাহ (উপাস্য) হিসেবে গ্রহণ করেছে। আল্লাহ তাআলা বলেন: {তারা বলে, দয়াময় (আল্লাহ) সন্তান গ্রহণ করেছেন; তিনি অতি পবিত্র! বরং তারা তো সম্মানিত বান্দা। তারা তাঁর আগে বেড়ে কথা বলে না এবং তারা তাঁর আদেশ অনুযায়ী কাজ করে। তাদের সামনে ও পেছনে যা আছে তা তিনি জানেন এবং তারা সুপারিশ করে না কেবল তাদের জন্য যাদের প্রতি তিনি সন্তুষ্ট এবং তারা তাঁর ভয়ে তটস্থ থাকে। তাদের মধ্যে যে ব্যক্তি বলবে, ‘আমি আল্লাহ ব্যতীত একজন ইলাহ’, তাকে আমি জাহান্নাম দিয়ে প্রতিফল দেব; এভাবেই আমি জালিমদের প্রতিফল দিয়ে থাকি} (আল-আম্বিয়া, ২৬-২৯)।

১২- নিশ্চয়ই তাদের হাত রয়েছে: আল্লাহ তাআলা বলেন: {হায়, আপনি যদি দেখতেন যখন জালিমরা মৃত্যু যন্ত্রণায় থাকে এবং ফেরেশতারা তাদের হাত প্রসারিত করে বলে, ‘তোমাদের প্রাণ বের করো, আজ তোমাদের অবমাননাকর শাস্তি দেওয়া হবে, যেহেতু তোমরা আল্লাহর ওপর অসত্য বলতে এবং তোমরা তাঁর আয়াতসমূহ সম্পর্কে অহংকার করতে’} (আল-আনআম, আয়াত ৯৩)। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {আর আপনি যদি দেখতেন যখন ফেরেশতারা কাফিরদের মৃত্যু ঘটায়, তারা তাদের মুখমণ্ডলে ও পিঠে আঘাত করে} (আল-আনফাল, আয়াত ৫০)। প্রথম আয়াতের অর্থের বর্ণনায় এসেছে যে, ফেরেশতারা পাপাচারী অবাধ্যদের প্রহার করে; আর তা এই জন্য যে, কাফির যখন মৃত্যুমুখে পতিত হয়, ফেরেশতারা তাকে আজাব, কঠোর শাস্তি, হাতকড়া, শিকল ও প্রজ্বলিত অগ্নি এবং দয়াময় আল্লাহর ক্রোধের সুসংবাদ (উপহাসচ্ছলে) দেয়! ফলে তার প্রাণ দেহের ভেতরে ছড়িয়ে পড়ে এবং অবাধ্যতা প্রদর্শন করে বের হতে অস্বীকার করে। তখন ফেরেশতারা তাদের আঘাত করতে থাকে যতক্ষণ না তাদের দেহ থেকে প্রাণ বের হয় এবং তাদের বলতে থাকে {তোমাদের প্রাণ বের করো, আজ তোমাদের অবমাননাকর শাস্তি দেওয়া হবে, যেহেতু তোমরা আল্লাহর ওপর অসত্য বলতে...} আয়াতের শেষ পর্যন্ত।

পঞ্চম: তাদের কার্যাবলী:

আল্লাহর সৃষ্টির মধ্য হতে এই সৃষ্টি (ফেরেশতাগণ), যাদের আল্লাহ সম্মানিত বান্দা হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যারা দিনরাত তাঁর তাসবিহ পাঠ করে এবং ক্লান্ত হয় না, আল্লাহর আনুগত্যে এবং তাঁর নির্দেশ বাস্তবায়নে তাদের সুনির্দিষ্ট কিছু কাজ রয়েছে। তারা তাঁর আগে বেড়ে কথা বলে না এবং তারা তাঁর আদেশ অনুযায়ী কাজ করে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

১- ইবাদত

ক- তাসবিহ: আর তাসবিহ হলো আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলাকে যাবতীয় দোষ-ত্রুটি ও অসম্পূর্ণতা থেকে পবিত্র ও মহিমান্বিত ঘোষণা করা।
(খণ্ড: ১) আত-তাফসীরুল মাওদুয়ী লিল কুরআনিল কারীম ওয়া নামাযিজ মিনহু (পৃষ্ঠা: ৩৩)
قال تعالى: {وَإِذْ قَالَ رَبُّكَ لِلْمَلائِكَةِ إِنِّي جَاعِلٌ فِي الأَرْضِ خَلِيفَةً قَالُوا أَتَجْعَلُ فِيهَا مَنْ يُفْسِدُ فِيهَا وَيَسْفِكُ الدِّمَاءَ وَنَحْنُ نُسَبِّحُ بِحَمْدِكَ وَنُقَدِّسُ لَكَ} البقرة آية 35.

وهذا السؤال الصادر من الملائكة لربهم سؤال استكشاف واستعلام عن الحكمة من خلق بني آدم كما قرر هذا ابن كثير: "فإن كان المراد عبادتك فنحن نسبح بحمدك ونقدس لك أي نصلي لك … الخ"1.

وقال تعالى: {وَعَلَّمَ آدَمَ الأَسْمَاءَ كُلَّهَا ثُمَّ عَرَضَهُمْ عَلَى الْمَلائِكَةِ فَقَالَ أَنْبِئُونِي بِأَسْمَاءِ هَؤُلاءِ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ قَالُوا سُبْحَانَكَ لا عِلْمَ لَنَا إِلا مَا عَلَّمْتَنَا إِنَّكَ أَنْتَ الْعَلِيمُ الْحَكِيمُ} البقرة 31. قال ابن كثير: "هذا تقديس وتنزيه من الملائكة لله تعالى أن يحيط أحد بشيء من علمه إلا بما شاء، وأن يعلموا شيئاً إلا ما علمهم الله تعالى ولهذا قالوا: {سُبْحَانَكَ لا عِلْمَ لَنَا إِلا مَا عَلَّمْتَنَا إِنَّكَ أَنْتَ الْعَلِيمُ الْحَكِيمُ} وهو أي العليم بكل شيء الحكيم في خلقك وأمرك وفي تعليمك ما تشاء ومنعك ما تشاء لك الحكمة في ذلك والعدل التام2 وقال تعالى: {وَيُسَبِّحُ الرَّعْدُ بِحَمْدِهِ وَالْمَلائِكَةُ مِنْ خِيفَتِهِ وَيُرْسِلُ الصَّوَاعِقَ فَيُصِيبُ بِهَا مَنْ يَشَاءُ وَهُمْ يُجَادِلُونَ فِي الله وَهُوَ شَدِيدُ الْمِحَالِ} الرعد آية 13. وقال تعالى: {وَلَهُ مَنْ فِي السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ وَمَنْ عِنْدَهُ لا يَسْتَكْبِرُونَ عَنْ عِبَادَتِهِ وَلا يَسْتَحْسِرُونَ يُسَبِّحُونَ اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ لا يَفْتُرُونَ} الأنبياء آية.20. وهذا إخبار من الله سبحانه عن حال الملائكة وعبوديتهم له سبحانه وأن دأبهم طاعته ليلا ونهارا دون تعب ولا ملل 3 وقال تعالى: {وَيَوْمَ يَحْشُرُهُمْ جَمِيعاً ثُمَّ يَقُولُ لِلْمَلائِكَةِ أَهَؤُلاءِ إِيَّاكُمْ كَانُوا يَعْبُدُونَ قَالُوا سُبْحَانَكَ أَنْتَ وَلِيُّنَا مِنْ دُونِهِمْ بَلْ كَانُوا يَعْبُدُونَ الْجِنَّ أَكْثَرُهُمْ بِهِمْ مُؤْمِنُونَ} سبأ (40، 41) .

وهذا موقف من الملائكة يوم يقوم الأشهاد وتقف الخلائق بين يديه سبحانه وتكون الخصومة والمسألة فلما تسأل الملائكة عن صنيع البشر في عبادتهم إياهم يهرعون إلى الله بالتنزيه والتقديس والتعالي والتوحيد أن يكون معه إله يعبد بل العبادة لك وحدك ونحن

--------------------------------------------

1 تفسير القرآن العظيم 1/ 121. ط دار الفكر.

2 تفسير القرآن العظيم 1/128دار الفكر.

3 تفسير القرآن العظيم4/556. ط دار الفكر.
মহান আল্লাহ বলেন: {আর যখন আপনার প্রতিপালক ফেরেশতাদের বললেন, ‘নিশ্চয়ই আমি পৃথিবীতে একজন প্রতিনিধি সৃষ্টি করতে যাচ্ছি’, তারা বলল, ‘আপনি কি সেখানে এমন কাউকে সৃষ্টি করবেন যে সেখানে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে ও রক্তপাত ঘটাবে? অথচ আমরাই আপনার প্রশংসাসহ পবিত্রতা ঘোষণা করি এবং আপনার মহিমা কীর্তন করি’} আল-বাকারা, আয়াত ৩৫।

ফেরেশতাদের পক্ষ থেকে তাদের প্রতিপালকের প্রতি এই প্রশ্নটি ছিল আদম সন্তানদের সৃষ্টির রহস্য উদ্ঘাটন এবং হিকমত সম্পর্কে জানার জন্য, যেমনটি ইবনে কাসীর সাব্যস্ত করেছেন: "যদি এর উদ্দেশ্য হয় আপনার ইবাদত করা, তবে আমরাই আপনার প্রশংসাসহ পবিত্রতা ঘোষণা করি এবং আপনার মহিমা কীর্তন করি অর্থাৎ আপনার জন্য সালাত আদায় করি... ইত্যাদি" ১।

এবং মহান আল্লাহ বলেন: {এবং তিনি আদমকে সমস্ত নাম শিক্ষা দিলেন, তারপর সেগুলোকে ফেরেশতাদের সামনে উপস্থাপন করলেন এবং বললেন, ‘তোমরা যদি সত্যবাদী হও তবে আমাকে এগুলোর নাম বলে দাও’। তারা বলল, ‘আপনি অত্যন্ত পবিত্র! আপনি আমাদের যা শিখিয়েছেন তা ছাড়া আমাদের কোনো জ্ঞান নেই; নিশ্চয়ই আপনি সর্বজ্ঞ ও প্রজ্ঞাময়’} আল-বাকারা ৩১। ইবনে কাসীর বলেন: "এটি ফেরেশতাদের পক্ষ থেকে মহান আল্লাহর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা যে, আল্লাহর ইচ্ছা ব্যতীত কেউ তাঁর জ্ঞানের কোনো কিছু পরিবেষ্টন করতে পারে না এবং আল্লাহ যা শিক্ষা দিয়েছেন তা ছাড়া তারা আর কিছুই জানে না। এ কারণেই তারা বলেছিল: {আপনি অত্যন্ত পবিত্র! আপনি আমাদের যা শিখিয়েছেন তা ছাড়া আমাদের কোনো জ্ঞান নেই; নিশ্চয়ই আপনি সর্বজ্ঞ ও প্রজ্ঞাময়}। আর তিনি অর্থাৎ সবকিছুর বিষয়ে সম্যক পরিজ্ঞাত, আপনার সৃষ্টি ও নির্দেশে প্রজ্ঞাময় এবং আপনার যাকে ইচ্ছা শিক্ষা দান ও যাকে ইচ্ছা বঞ্চিত করার ক্ষেত্রে আপনার জন্য রয়েছে হিকমত এবং পূর্ণ ন্যায়বিচার ২। এবং মহান আল্লাহ বলেন: {মেঘের গর্জন তাঁর প্রশংসাসহ পবিত্রতা ঘোষণা করে এবং ফেরেশতারাও তাঁর ভয়ে (পবিত্রতা ঘোষণা করে)। তিনি বজ্রপাত পাঠান এবং যাকে ইচ্ছা তা দিয়ে আঘাত করেন; তবুও তারা আল্লাহ সম্পর্কে বিতণ্ডা করে, অথচ তিনি মহাশক্তিশালী} আর-রাদ, আয়াত ১৩। এবং মহান আল্লাহ বলেন: {আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যারা আছে তারা তাঁরই। আর যারা তাঁর সান্নিধ্যে রয়েছে তারা তাঁর ইবাদতে অহংকার করে না এবং ক্লান্তও হয় না। তারা দিন-রাত তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করে এবং তারা শিথিলতা করে না} আল-আম্বিয়া, আয়াত ২০। এটি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে ফেরেশতাদের অবস্থা ও তাঁর প্রতি তাদের দাসত্ব সম্পর্কে সংবাদ যে, তারা কোনো ক্লান্তি বা অবসাদ ছাড়াই দিবা-রাত্র তাঁর আনুগত্যে নিরন্তর লিপ্ত থাকে ৩। এবং মহান আল্লাহ বলেন: {আর যেদিন তিনি তাদের সকলকে একত্রিত করবেন, তারপর ফেরেশতাদের বলবেন, ‘এরা কি তোমাদেরই পূজা করত?’ তারা বলবে, ‘আপনি অত্যন্ত পবিত্র! তাদের পরিবর্তে আপনিই আমাদের অভিভাবক; বরং তারা তো জিনের পূজা করত, তাদের অধিকাংশেই ছিল তাদের প্রতি বিশ্বাসী’} সাবা (৪০, ৪১)।

এটি কিয়ামতের দিন ফেরেশতাদের একটি অবস্থান, যেদিন সাক্ষীরা দণ্ডায়মান হবে এবং সৃষ্টিজগত মহান আল্লাহর সম্মুখে উপস্থিত হবে এবং যখন বিতর্ক ও জিজ্ঞাসাবাদ চলবে। তখন ফেরেশতারা যখন মানুষের ইবাদত সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে, তারা মহান আল্লাহর দিকে তাঁর মহিমা, পবিত্রতা, শ্রেষ্ঠত্ব এবং একত্ববাদ বর্ণনায় ধাবিত হবে যে, তাঁর সাথে অন্য কোনো উপাস্য নেই যাকে ইবাদত করা যেতে পারে, বরং ইবাদত শুধুমাত্র আপনারই জন্য এবং আমরা

--------------------------------------------

১ তাফসীরুল কুরআনিল আযীম ১/১২১। দারুল ফিকর সংস্করণ।

২ তাফসীরুল কুরআনিল আযীম ১/১২৮, দারুল ফিকর।

৩ তাফসীরুল কুরআনিল আযীম ৪/৫৫৬। দারুল ফিকর সংস্করণ।
(খণ্ড: ১) আত-তাফসীরুল মাওদুয়ী লিল কুরআনিল কারীম ওয়া নামাযিজ মিনহু (পৃষ্ঠা: ৩৪)
عبيدك الطائعون نبرأ إليك مما ألصق بنا واتهمنا به ونتبرأ من كل من أشرك مع الله غيره 1 وقال تعالى: {وَمَا مِنَّا إِلا لَهُ مَقَامٌ مَعْلُومٌ وَإِنَّا لَنَحْنُ الصَّافُّونَ وَإِنَّا لَنَحْنُ الْمُسَبِّحُونَ} الصافات (164-166) . إجمال ثم تفصيل. هذا الخلق له مقام معلوم يقوم بما كلف به دون إخلال به أو التجاوز والتعدي فيه بل هم يقفون صفوفاً في طاعتهم وفي هذه الهيئة من الجمال في أداء الطاعة ما لا يستطيع الوصف بيانه. ولذا شبهت صفوف المسلمين في الصلاة في الحياة الدنيا كصفوف الملائكة.

عن حذيفة رضي الله عنه قال: قال صلي الله عليه وسلم: "فضلنا عن الناس بثلاث: جعلت صفوفنا كصفوف الملائكة، وجعلت لنا الأرض كلها مسجدا وجعلت تربتها لنا طهورا إذا لم نجد الماء" 2.

واصطفاف الملائكة هنا من أجل تسبيح الله سبحانه وتعظيمه وتنزيه عن العيوب والنقائص.

يقول ابن كثير في معنى قوله {وَإِنَّا لَنَحْنُ الْمُسَبِّحُونَ} أي نصطف فنسبح الرب ونمجده ونقدسه وننزهه عن النقائص فنحن عبيد له فقراء إليه خاضعون لديه 3.

وقد أخبر الله سبحانه وتعالى أن الملائكة يوم القيامة يحفون بالعرش مسبحين لله وحامدين ومنزهين لله تعالى من الجور والنقائص.

قال تعالى: {وَتَرَى الْمَلائِكَةَ حَافِّينَ مِنْ حَوْلِ الْعَرْشِ يُسَبِّحُونَ بِحَمْدِ رَبِّهِمْ وَقُضِيَ بَيْنَهُمْ بِالْحَقِّ وَقِيلَ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ} الزمر 75.

قال ابن كثير: "أخبر عن ملائكته أنهم محدقون من حول العرش المجيد يسبحون بحمد ربهم ويمجدونه ويعظمونه ويقدسونه وينزهونه عن النقائص والجور وقد فصل القضية وقضي الأمر وحكم بالعدل"4.

وفصل القول سبحانه فيمن يحمل العرش ومن حوله في آية غافر فقال سبحانه

--------------------------------------------

1تفسير القرآن العظيم 5/559 ط دار الفكر

2رواه مسلم في كتاب المساجد 1/371 رقم 4

3تفسير القرآن العظيم 6/ 40 ط دار الفكر

4تفسير القرآن العظيم 6/118.ط دار الفكر.
আপনার অনুগত বান্দারা আমরা; আমাদের ওপর যা আরোপ করা হয়েছে এবং যে অপবাদ আমাদের বিরুদ্ধে দেওয়া হয়েছে তা থেকে আমরা আপনার কাছে দায়মুক্তি প্রার্থনা করছি। আর আমরা তাদের থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করছি যারা আল্লাহর সাথে অন্যকে শরিক করে ১। আর মহান আল্লাহ বলেন: “আমাদের প্রত্যেকেরই একটি নির্দিষ্ট স্থান রয়েছে। আর আমরা অবশ্যই কাতারবদ্ধ হয়ে অবস্থানকারী এবং আমরা অবশ্যই পবিত্রতা ঘোষণাকারী (তাসবিহ পাঠকারী)।” আস-সাফফাত (১৬৪-১৬৬)। এটি একটি সংক্ষিপ্ত সার, যার পর বিস্তারিত বিবরণ আসবে। এই সৃষ্টির (ফেরেশতাদের) একটি নির্দিষ্ট স্থান রয়েছে যেখানে তারা কোনো বিচ্যুতি বা সীমালঙ্ঘন ছাড়াই অর্পিত দায়িত্ব পালন করে। বরং তারা তাদের আনুগত্য পালনে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকে। আনুগত্য প্রকাশের এই সুন্দর রূপটি বর্ণনার অতীত। এই কারণেই পার্থিব জীবনে সালাতে মুসলিমদের কাতারকে ফেরেশতাদের কাতারের সাথে তুলনা করা হয়েছে।

হুজাইফা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত (عن), তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তিনটি বিষয়ে আমাদের অন্য মানুষের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দেওয়া হয়েছে: আমাদের কাতারগুলোকে ফেরেশতাদের কাতারের ন্যায় করা হয়েছে, পুরো জমিনকে আমাদের জন্য সিজদাহর স্থান (মসজিদ) করা হয়েছে এবং পানি না পাওয়া গেলে এর মাটিকে আমাদের জন্য পবিত্রতা অর্জনের মাধ্যম করা হয়েছে" ২।

এখানে ফেরেশতাদের সারিবদ্ধ হওয়া মূলত আল্লাহর তাসবিহ পাঠ, তাঁর মহিমা বর্ণনা এবং সমস্ত ত্রুটি ও অসম্পূর্ণতা থেকে তাঁর পবিত্রতা ঘোষণার উদ্দেশ্যে।

ইবনে কাসীর “আর আমরা অবশ্যই পবিত্রতা ঘোষণাকারী” আয়াতাংশের অর্থ প্রসঙ্গে বলেন: অর্থাৎ আমরা কাতারবদ্ধ হই, অতঃপর রবের তাসবিহ পাঠ করি, তাঁর মহিমা ও পবিত্রতা বর্ণনা করি এবং তাঁকে সকল প্রকার ত্রুটি থেকে মুক্ত ঘোষণা করি। আমরা তো তাঁরই বান্দা, তাঁর প্রতি মুখাপেক্ষী এবং তাঁর সামনে বিনীত ৩।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সংবাদ দিয়েছেন যে, কিয়ামতের দিন ফেরেশতারা আরশের চারপাশ ঘিরে থাকবে, তারা আল্লাহর সপ্রংশস পবিত্রতা ঘোষণা করবে এবং মহান আল্লাহকে অবিচার ও সকল ত্রুটি থেকে পবিত্র ঘোষণা করবে।

আল্লাহ তাআলা বলেন: “আর আপনি ফেরেশতাদের দেখতে পাবেন যে, তারা আরশের চারপাশ ঘিরে তাদের রবের সপ্রশংস পবিত্রতা ঘোষণা করছে। তাদের মধ্যে ন্যায়বিচারের সাথে ফয়সালা করা হয়েছে এবং বলা হয়েছে, সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের রব আল্লাহর জন্য।” আজ-জুমার ৭৫।

ইবনে কাসীর বলেন: “তিনি তাঁর ফেরেশতাদের সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন যে, তারা মহান আরশের চারপাশ ঘিরে রয়েছে, তাদের রবের সপ্রশংস পবিত্রতা ঘোষণা করছে, তাঁর মহিমা ও পবিত্রতা বর্ণনা করছে এবং তাঁকে সকল প্রকার ত্রুটি ও অবিচার থেকে পবিত্র ঘোষণা করছে। ইতিমধ্যে বিচারকার্য শেষ হয়েছে, ফয়সালা সম্পন্ন হয়েছে এবং ন্যায়ের সাথে বিচার করা হয়েছে” ৪।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সুরা গাফিরের আয়াতে আরশ বহনকারী এবং যারা এর চারপাশে আছে তাদের সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন—

--------------------------------------------

১ তাফসীরুল কুরআনিল আজিম ৫/৫৫৯, দারুল ফিকর প্রকাশনী।

২ এটি বর্ণনা করেছেন (رواه) মুসলিম, কিতাবুল মাসাজিদ ১/৩৭১, নং ৪।

৩ তাফসীরুল কুরআনিল আজিম ৬/৪০, দারুল ফিকর প্রকাশনী।

৪ তাফসীরুল কুরআনিল আজিম ৬/১১৮, দারুল ফিকর প্রকাশনী।
(খণ্ড: ১) আত-তাফসীরুল মাওদুয়ী লিল কুরআনিল কারীম ওয়া নামাযিজ মিনহু (পৃষ্ঠা: ৩৫)
{الَّذِينَ يَحْمِلُونَ الْعَرْشَ وَمَنْ حَوْلَهُ يُسَبِّحُونَ بِحَمْدِ رَبِّهِمْ وَيُؤْمِنُونَ بِهِ وَيَسْتَغْفِرُونَ لِلَّذِينَ آمَنُوا رَبَّنَا وَسِعْتَ كُلَّ شَيْءٍ رَحْمَةً وَعِلْماً فَاغْفِرْ لِلَّذِينَ تَابُوا وَاتَّبَعُوا سَبِيلَكَ وَقِهِمْ عَذَابَ الْجَحِيمِ} الآيات 7-9.

وفي هذه الآية وآية الزمر جمعت أو قرنت الملائكة بين التسبيح والتحميد.

وحكمة ذلك أن التسبيح يتضمن تنزيه الباري عن العيوب والنقائص.

والتحميد يتضمن إثبات صفة المدح والثناء عليه 1. وهذا النص في سورة غافر يتضمن عدة أعمال تقوم بها الملائكة غير التسبيح وهي الحمد لله سبحانه والإيمان به والاستغفار للمؤمنين ودعاء الرب سبحانه بالمغفرة لمن تاب واتبع سبيله والشهادة لله سبحانه أن رحمته وسعت كل شيء وأن علمه محيط بكل شيء كما أنه سبحانه عزيز فيما يفعل وحكيم فيما يفعل وحكيم فيما يصنع.

وقال تعالى: {تَكَادُ السَّمَاوَاتُ يَتَفَطَّرْنَ مِنْ فَوْقِهِنَّ وَالْمَلائِكَةُ يُسَبِّحُونَ بِحَمْدِ رَبِّهِمْ وَيَسْتَغْفِرُونَ لِمَنْ فِي الأَرْضِ أَلا إِنَّ الله هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ} الشورى 5.

وقد امتدح الله سبحانه الملائكة في أداء عملهم وأنهم يقومون بأدائه دون سآمة أو ملل وعاب على الذين يستكبرون عن عبادته. قال تعالى: {إِنَّ الَّذِينَ عِنْدَ رَبِّكَ لا يَسْتَكْبِرُونَ عَنْ عِبَادَتِهِ وَيُسَبِّحُونَهُ وَلَهُ يَسْجُدُونَ} الأعراف 206.

وقال تعالى: {فَإِنِ اسْتَكْبَرُوا فَالَّذِينَ عِنْدَ رَبِّكَ يُسَبِّحُونَ لَهُ بِاللَّيْلِ وَالنَّهَارِ وَهُمْ لا يَسْأَمُونَ} فصلت 38.

قال ابن كثير: "وإنما ذكرهم بهذا ليقتدى بهم في كثرة طاعتهم وعبادتهم"2.

وقال ابن العربي: "هذه الآية مرتبطة بما قبلها ومنتظمة مع ما سبقها وهي إخبار من الله تعالى عن الملائكة بأنهم في عبادتهم التي أمروا بها دائمون وعليها قائمون وبها عاملون فلا تكن من الغافلين فيما أمرت به وكلفته وهذا خطابه والمراد جميع الأمة"3.

--------------------------------------------

1انظر تفسير القرآن العظيم 6/1241

2تفسير القرآن العظيم 3/272

3أحكام القرآن العظيم 2/829.
{যারা আরশ বহন করে এবং যারা তার চারপাশে রয়েছে, তারা তাদের রবের সপ্রশংস পবিত্রতা ঘোষণা করে এবং তাঁর প্রতি ঈমান রাখে, আর মুমিনদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে (এই বলে)— হে আমাদের রব! আপনার রহমত ও জ্ঞান প্রতিটি বস্তুকে পরিব্যাপ্ত করে আছে; সুতরাং যারা তওবা করেছে এবং আপনার পথ অনুসরণ করেছে তাদের আপনি ক্ষমা করে দিন এবং তাদের জাহান্নামের আজাব থেকে রক্ষা করুন।} আয়াত ৭-৯।

এবং এই আয়াতে ও সূরা আয-যুমারের আয়াতে ফেরেশতাগণ পবিত্রতা ঘোষণা ও প্রশংসাকে একত্রে বা পাশাপাশি উল্লেখ করেছেন।

এর নিহিত রহস্য হলো, পবিত্রতা ঘোষণা মহান স্রষ্টাকে সকল প্রকার ত্রুটি ও অপূর্ণতা থেকে মুক্ত রাখার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করে।

আর প্রশংসা তাঁর জন্য গুণগান ও প্রশংসামূলক গুণাবলি সাব্যস্ত করাকে অন্তর্ভুক্ত করে। সূরা গাফিরের এই পাঠ্যাংশটিতে পবিত্রতা ঘোষণা ছাড়াও ফেরেশতাদের দ্বারা সম্পাদিত বেশ কিছু আমল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা হলো— মহান আল্লাহর প্রশংসা করা, তাঁর প্রতি ঈমান আনা, মুমিনদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা, যারা তওবা করেছে ও তাঁর পথ অনুসরণ করেছে তাদের ক্ষমার জন্য মহান রবের নিকট দোয়া করা এবং মহান আল্লাহর অনুকূলে এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, তাঁর রহমত প্রতিটি বস্তুকে পরিব্যাপ্ত করেছে এবং তাঁর জ্ঞান প্রতিটি বিষয়কে বেষ্টন করে আছে। যেমন তিনি তাঁর প্রতিটি কাজে পরাক্রমশালী এবং তিনি যা করেন ও যা নির্মাণ করেন তাতে প্রজ্ঞাময়।

আল্লাহ তাআলা বলেন: {আকাশসমূহ তাদের উপরিভাগ থেকে বিদীর্ণ হওয়ার উপক্রম হয়, আর ফেরেশতাগণ তাদের রবের সপ্রশংস পবিত্রতা ঘোষণা করে এবং যারা পৃথিবীতে আছে তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। জেনে রেখো, নিশ্চয়ই আল্লাহ অতীব ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।} সূরা আশ-শূরা ৫।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ফেরেশতাদের ইবাদত পালনের প্রশংসা করেছেন যে, তারা কোনো প্রকার ক্লান্তি বা বিরক্তি ছাড়াই তা সম্পাদন করে এবং যারা তাঁর ইবাদতে অহংকার করে তাদের নিন্দা করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: {নিশ্চয় যারা তোমার রবের সান্নিধ্যে রয়েছে, তারা তাঁর ইবাদতে অহংকার করে না এবং তারা তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করে এবং তাঁরই সিজদা করে।} সূরা আল-আরাফ ২০৬।

আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {যদি তারা অহংকার করে, তবে যারা তোমার রবের সান্নিধ্যে রয়েছে তারা দিন-রাত তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করে এবং তারা ক্লান্ত হয় না।} সূরা ফুসসিলাত ৩৮।

ইবনে কাসীর বলেন: “তিনি (আল্লাহ) তাদের কথা এই জন্যই উল্লেখ করেছেন যেন তাদের অধিক আনুগত্য ও ইবাদতের অনুসরণ করা হয়।”

ইবনুল আরাবি বলেন: “এই আয়াতটি তার পূর্ববর্তী প্রসঙ্গের সাথে যুক্ত এবং আগের আলোচনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এটি আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে ফেরেশতাদের সম্পর্কে সংবাদ যে, তারা তাঁদের আদিষ্ট ইবাদতে সদাতৎপর, অটল এবং আমলকারী। সুতরাং তোমাকে যা আদেশ করা হয়েছে এবং যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সে বিষয়ে তুমি উদাসীন হয়ো না। এটি যদিও তাঁকে (রাসূলকে) সম্বোধন করে বলা হয়েছে, তবে এর উদ্দেশ্য হলো সমগ্র উম্মত।”

--------------------------------------------

১. দেখুন: তাফসীরুল কুরআনিল আযীম ৬/১২৪১

২. তাফসীরুল কুরআনিল আযীম ৩/২৭২

৩. আহকামুল কুরআনিল আযীম ২/৮২৯।
(খণ্ড: ১) আত-তাফসীরুল মাওদুয়ী লিল কুরআনিল কারীম ওয়া নামাযিজ মিনহু (পৃষ্ঠা: ৩৬)
ب- الحمد: والحمد هو إثبات صفة المدح لله تعالى والثناء عليه سبحانه وقد سبق ذكر الآيات التي تنص على حمد الملائكة عليهم السلام لربهم في الفقرة السابقة.

ج- السجود: ورد السجود في القرآن بالنسبة للملائكة على صورتين:

الأولى: أن من عمل الملائكة عليهم السلام السجود - لله سبحانه - المستمر الدائم فهم به قائمون وعاملون دون فتور أو ملل.

قال تعالى: {إِنَّ الَّذِينَ عِنْدَ رَبِّكَ لا يَسْتَكْبِرُونَ عَنْ عِبَادَتِهِ وَيُسَبِّحُونَهُ وَلَهُ يَسْجُدُونَ} الأعراف 206.

الثانية: أنهم مأمورون بالسجود لغير الله سبحانه وهو السجود لآدم عليه وعليهم السلام.

قال تعالى: {ثُمَّ قُلْنَا لِلْمَلائِكَةِ اسْجُدُوا لآدَمَ فَسَجَدُوا إِلا إِبْلِيسَ لَمْ يَكُنْ مِنَ السَّاجِدِينَ} الأعراف 11.

وقال تعالى: {وَإِذْ قَالَ رَبُّكَ لِلْمَلائِكَةِ إِنِّي خَالِقٌ بَشَراً مِنْ صَلْصَالٍ مِنْ حَمَأٍ مَسْنُونٍ فَإِذَا سَوَّيْتُهُ وَنَفَخْتُ فِيهِ مِنْ رُوحِي فَقَعُوا لَهُ سَاجِدِينَ فَسَجَدَ الْمَلائِكَةُ كُلُّهُمْ أَجْمَعُونَ إِلا إِبْلِيسَ أَبَى أَنْ يَكُونَ مَعَ السَّاجِدِينَ} الحجر (28- 31) .

وقال تعالى: {وَإِذْ قُلْنَا لِلْمَلائِكَةِ اسْجُدُوا لآدَمَ فَسَجَدُوا إِلا إِبْلِيسَ قَالَ أَأَسْجُدُ لِمَنْ خَلَقْتَ طِيناً} الإسراء 61. وقال تعالى: {وَإِذْ قُلْنَا لِلْمَلائِكَةِ اسْجُدُوا لآدَمَ فَسَجَدُوا إِلا إِبْلِيسَ كَانَ مِنَ الْجِنِّ فَفَسَقَ عَنْ أَمْرِ رَبِّهِ أَفَتَتَّخِذُونَهُ وَذُرِّيَّتَهُ أَوْلِيَاءَ مِنْ دُونِي وَهُمْ لَكُمْ عَدُوٌّ بِئْسَ لِلظَّالِمِينَ بَدَلاً} الكهف 50.

وقال تعالى: {وَلَقَدْ عَهِدْنَا إِلَى آدَمَ مِنْ قَبْلُ فَنَسِيَ وَلَمْ نَجِدْ لَهُ عَزْماً وَإِذْ قُلْنَا لِلْمَلائِكَةِ اسْجُدُوا لآدَمَ فَسَجَدُوا إِلا إِبْلِيسَ أَبَى فَقُلْنَا يَا آدَمُ إِنَّ هَذَا عَدُوٌّ لَكَ وَلِزَوْجِكَ فَلا يُخْرِجَنَّكُمَا مِنَ الْجَنَّةِ فَتَشْقَى} طه (115-117) .

وقال تعالى: {إِذْ قَالَ رَبُّكَ لِلْمَلائِكَةِ إِنِّي خَالِقٌ بَشَراً مِنْ طِينٍ فَإِذَا سَوَّيْتُهُ وَنَفَخْتُ فِيهِ مِنْ رُوحِي فَقَعُوا لَهُ سَاجِدِين فَسَجَدَ الْمَلائِكَةُ كُلُّهُمْ أَجْمَعُونَ. إِلا إِبْلِيسَ اسْتَكْبَرَ وَكَانَ مِنَ الْكَافِرِين} ص (71-74) .
খ- আল-হামদ (প্রশংসা): আল-হামদ হলো মহান আল্লাহর জন্য প্রশংসার গুণাবলি সাব্যস্ত করা এবং তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করা। পূর্ববর্তী অনুচ্ছেদে ফেরেশতাদের (আলাইহিমুস সালাম) পক্ষ থেকে তাদের রবের প্রশংসামূলক আয়াতগুলো উল্লেখ করা হয়েছে।

গ- আস-সুজুদ (সিজদা): কুরআনে ফেরেশতাদের সিজদা করার বিষয়টি দুটি পদ্ধতিতে বর্ণিত হয়েছে:

প্রথমত: ফেরেশতাদের (আলাইহিমুস সালাম) অন্যতম কাজ হলো মহান আল্লাহর প্রতি নিরবচ্ছিন্ন ও স্থায়ী সিজদা করা। তাঁরা কোনো প্রকার ক্লান্তি বা অলসতা ছাড়াই এই কাজে সদা লিপ্ত ও তৎপর।

মহান আল্লাহ বলেন: "নিশ্চয় যারা তোমার রবের সান্নিধ্যে রয়েছে, তারা তাঁর ইবাদত করতে অহংকার করে না, তারা তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করে এবং তাঁরই উদ্দেশ্যে তারা সিজদা করে।" (আল-আরাফ ২০৬)।

দ্বিতীয়ত: তাঁদেরকে মহান আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো প্রতি সিজদা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, আর তা ছিল আদম (আলাইহিস সালাম)-এর প্রতি সিজদা।

মহান আল্লাহ বলেন: "অতঃপর আমি ফেরেশতাদের বললাম, আদমকে সিজদা করো; তখন ইবলিস ছাড়া সবাই সিজদা করল। সে সিজদাকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিল না।" (আল-আরাফ ১১)।

মহান আল্লাহ আরও বলেন: "আর যখন তোমার রব ফেরেশতাদের বললেন, ‘নিশ্চয় আমি পচা কাদা হতে তৈরি শুষ্ক মাটি দিয়ে একজন মানুষ সৃষ্টি করছি। সুতরাং যখন আমি তাকে সুঠাম করব এবং তাতে আমার পক্ষ থেকে রুহ ফুঁকে দেব, তখন তোমরা তার প্রতি সিজদাবনত হইও।’ ফলে ফেরেশতারা সবাই মিলে সিজদা করল। কিন্তু ইবলিস ছাড়া; সে সিজদাকারীদের সাথে শামিল হতে অস্বীকার করল।" (আল-হিজর ২৮-৩১)।

মহান আল্লাহ আরও বলেন: "স্মরণ করো যখন আমি ফেরেশতাদের বলেছিলাম, ‘আদমকে সিজদা করো’, তখন ইবলিস ছাড়া তারা সবাই সিজদা করল; সে বলল, ‘আমি কি তাকে সিজদা করব যাকে আপনি মাটি দিয়ে সৃষ্টি করেছেন?’" (আল-ইসরা ৬১)। আল্লাহ আরও বলেন: "স্মরণ করো যখন আমি ফেরেশতাদের বলেছিলাম, ‘আদমকে সিজদা করো’, তখন ইবলিস ছাড়া তারা সবাই সিজদা করল; সে ছিল জিনদের অন্তর্ভুক্ত, ফলে সে তার রবের আদেশ অমান্য করল। তবে কি তোমরা আমার পরিবর্তে তাকে ও তার বংশধরকে অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করছ, অথচ তারা তোমাদের শত্রু? জালিমদের জন্য এই বিনিময় কতই না মন্দ!" (আল-কাহফ ৫০)।

মহান আল্লাহ আরও বলেন: "আমি তো ইতিপূর্বে আদমের প্রতি নির্দেশ দিয়েছিলাম, কিন্তু সে ভুলে গিয়েছিল এবং আমি তার মধ্যে সংকল্পের দৃঢ়তা পাইনি। আর স্মরণ করো যখন আমি ফেরেশতাদের বলেছিলাম, ‘আদমকে সিজদা করো’, তখন ইবলিস ছাড়া সবাই সিজদা করল, সে অস্বীকার করল। অতঃপর আমি বললাম, ‘হে আদম! নিশ্চয় এ তোমার ও তোমার স্ত্রীর শত্রু, সুতরাং সে যেন তোমাদের জান্নাত থেকে বের করে না দেয়, দিলে তোমরা কষ্টে পতিত হবে’।" (ত্বহা ১১৫-১১৭)।

মহান আল্লাহ আরও বলেন: "স্মরণ করো যখন তোমার রব ফেরেশতাদের বলেছিলেন, ‘আমি মাটি দিয়ে মানুষ সৃষ্টি করছি। যখন আমি তাকে সুঠাম করব এবং তাতে আমার পক্ষ থেকে রুহ ফুঁকে দেব, তখন তোমরা তার প্রতি সিজদাবনত হইও।’ ফলে ফেরেশতারা সবাই মিলে সিজদা করল। কিন্তু ইবলিস ছাড়া; সে অহংকার করল এবং সে কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত হলো।" (সোয়াদ ৭১-৭৪)।
(খণ্ড: ১) আত-তাফসীরুল মাওদুয়ী লিল কুরআনিল কারীম ওয়া নামাযিজ মিনহু (পৃষ্ঠা: ৩৭)
وتنفيذ الملائكة لهذا السجود لآدم عليه السلام هو تنفيذ لأمر الله وامتثالا له وتعظيماً واحتراماً لما أمر به سبحانه وهو في الوقت نفسه كرامة من الله سبحانه امتن بها على أبينا آدم حيث أسجد له ملائكته. كما ورد في الحديث الصحيح عن أنس بن مالك رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم ِ قال: "يجتمع المؤمنون يوم القيامة فيقولون لو استشفعنا إلى ربنا فيأتون آدم فيقولون أنت أبو الناس خلقك الله بيده وأسجد لك ملائكته وعلمك أسماء كل شيء فاشفع لنا إلى ربك … " 1 الحديث.

قال قتادة "فكانت الطاعة لله والسجدة لآدم، أكرم الله آدم أن أسجد له ملائكته"2.

د- قبض الأرواح:

قال تعالى: {إِنَّ الَّذِينَ تَوَفَّاهُمُ الْمَلائِكَةُ ظَالِمِي أَنْفُسِهِمْ قَالُوا فِيمَ كُنْتُمْ قَالُوا كُنَّا مُسْتَضْعَفِينَ فِي الأَرْضِ قَالُوا أَلَمْ تَكُنْ أَرْضُ الله وَاسِعَةً فَتُهَاجِرُوا فِيهَا فَأُولَئِكَ مَأْوَاهُمْ جَهَنَّمُ وَسَاءَتْ مَصِيراً إِلَّا الْمُسْتَضْعَفِينَ مِنَ الرِّجَالِ وَالنِّسَاءِ وَالْوِلْدَانِ لا يَسْتَطِيعُونَ حِيلَةً وَلا يَهْتَدُونَ سَبِيلاً فَأُولَئِكَ عَسَى الله أَنْ يَعْفُوَ عَنْهُمْ وَكَانَ الله عَفُوّاً غَفُوراً} النساء (97-99) .

وقال تعالى: {وَهُوَ الْقَاهِرُ فَوْقَ عِبَادِهِ وَيُرْسِلُ عَلَيْكُمْ حَفَظَةً حَتَّى إِذَا جَاءَ أَحَدَكُمُ الْمَوْتُ تَوَفَّتْهُ رُسُلُنَا وَهُمْ لا يُفَرِّطُونَ} الأنعام 61.

والمراد بالرسل هنا الملائكة الموكّلون بقبض الأرواح.

قال ابن عباس: "لملك الموت أعوان من الملائكة يخرجون الروح من الجسد فيقبضها ملك الموت إذا انتهت إلى الحلقوم"3.

قال ابن كثير: "وقوله (لا يفرطون) أي في حفظ روح المتوفى بل يحفظونها وينزلونها حيث شاء الله عز وجل، إن كان من الأبرار ففي عليين، وإن كان من الفجار ففي سجين عياذاً بالله من ذلك "4

--------------------------------------------

1رواه مسلم في كتاب اليمان باب أدنى أهل الجنة منزلة رقم 327.

2تفسير القرآن العظيم 1/135.

3تفسير القرآن العظيم 1/135. دار الفكر.

4تفسير القرآن العظيم 3/33.
আদম (আলাইহিস সালাম)-এর প্রতি ফেরেশতাদের এই সিজদা পালন ছিল আল্লাহর আদেশের বাস্তবায়ন, তাঁর প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন এবং মহান আল্লাহ যা আদেশ করেছেন তার প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধার বহিঃপ্রকাশ। একইসাথে এটি ছিল মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে এক বিশেষ মর্যাদা যা তিনি আমাদের পিতা আদমকে দান করেছেন, যেহেতু তিনি তাঁর ফেরেশতাদেরকে তাঁর প্রতি সিজদা করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। যেমনটি আনাস ইবনে মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত সহীহ (صحيح) হাদিসে এসেছে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "কিয়ামতের দিন মুমিনগণ একত্রিত হবে এবং বলবে, 'যদি আমরা আমাদের রবের নিকট সুপারিশ প্রার্থনা করতাম!' অতপর তারা আদমের নিকট আসবে এবং বলবে, 'আপনি মানবজাতির পিতা, আল্লাহ আপনাকে স্বহস্তে সৃষ্টি করেছেন, আপনার প্রতি তাঁর ফেরেশতাদের দিয়ে সিজদা করিয়েছেন এবং আপনাকে সকল বস্তুর নাম শিক্ষা দিয়েছেন; সুতরাং আপনি আমাদের জন্য আপনার রবের নিকট সুপারিশ করুন...'" ১ হাদিস।

কাতাদাহ বলেন, "আনুগত্য ছিল আল্লাহর জন্য আর সিজদা ছিল আদমের প্রতি; আল্লাহ তাঁর ফেরেশতাদেরকে দিয়ে আদমের প্রতি সিজদা করিয়ে তাঁকে সম্মানিত করেছেন" ২।

ঘ- প্রাণ হরণ করা:

মহান আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয়ই ফেরেশতারা যাদের প্রাণ হরণ করে তারা নিজেদের প্রতি জুলুমকারী ছিল, ফেরেশতারা বলে, 'তোমরা কী অবস্থায় ছিলে?' তারা বলে, 'দুনিয়ায় আমরা অসহায় ছিলাম।' তারা বলে, 'আল্লাহর জমিন কি প্রশস্ত ছিল না যে তোমরা সেখানে হিজরত করতে?' সুতরাং তাদের আশ্রয়স্থল হলো জাহান্নাম, আর তা অত্যন্ত মন্দ প্রত্যাবর্তনস্থল। তবে সেই সব অসহায় পুরুষ, নারী ও শিশু ছাড়া যাদের কোনো উপায় ছিল না এবং যারা পথ চিনত না। আশা করা যায় আল্লাহ তাদের ক্ষমা করবেন। আর আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।} আন-নিসা (৯৭-৯৯)।

মহান আল্লাহ আরও বলেন: {তিনিই তাঁর বান্দাদের ওপর পরাক্রমশালী এবং তিনি তোমাদের ওপর রক্ষক (ফেরেশতা) পাঠান। অবশেষে যখন তোমাদের কারো মৃত্যু উপস্থিত হয়, তখন আমার প্রেরিত ফেরেশতারা তার প্রাণ হরণ করে এবং তারা কোনো ত্রুটি করে না।} আল-আনআম ৬১।

আর এখানে 'রাসূল' (প্রেরিত) বলতে প্রাণ হরণের দায়িত্বে নিয়োজিত ফেরেশতাদের বোঝানো হয়েছে।

ইবনে আব্বাস বলেন: "মৃত্যুর ফেরেশতার (মালাকুল মউত) কিছু ফেরেশতা সহযোগী রয়েছে যারা শরীর থেকে প্রাণ বের করে আনে, অতপর যখন তা কণ্ঠনালীতে পৌঁছে তখন মৃত্যুর ফেরেশতা তা কবজ করেন" ৩।

ইবনে কাসীর বলেন: "আর তাঁর বাণী (তারা কোনো ত্রুটি করে না) অর্থাৎ মৃত ব্যক্তির রূহ সংরক্ষণে কোনো অবহেলা করে না, বরং তারা তা অত্যন্ত যত্নসহকারে রক্ষা করে এবং মহান আল্লাহ যেখানে চান সেখানে তা পৌঁছিয়ে দেয়; যদি সে পুণ্যবানদের অন্তর্ভুক্ত হয় তবে 'ইল্লিয়্যিন'-এ, আর যদি সে পাপাচারীদের অন্তর্ভুক্ত হয় তবে 'সিজ্জিন'-এ। আল্লাহ আমাদের তা থেকে রক্ষা করুন" ৪

--------------------------------------------

১. মুসলিম কর্তৃক কিতাবুল ঈমান, জান্নাতবাসীদের নিম্নতম মর্যাদার অধ্যায়, নং ৩২৭-এ বর্ণিত।

২. তাফসীরুল কুরআনিল আযীম ১/১৩৫।

৩. তাফসীরুল কুরআনিল আযীম ১/১৩৫। দারুল ফিকর।

৪. তাফসীরুল কুরআনিল আযীম ৩/৩৩।
(খণ্ড: ১) আত-তাফসীরুল মাওদুয়ী লিল কুরআনিল কারীম ওয়া নামাযিজ মিনহু (পৃষ্ঠা: ৩৮)
وقال تعالى: {وَلَوْ تَرَى إِذِ الظَّالِمُونَ فِي غَمَرَاتِ الْمَوْتِ وَالْمَلائِكَةُ بَاسِطُو أَيْدِيهِمْ أَخْرِجُوا َنْفُسَكُمُ الْيَوْمَ تُجْزَوْنَ عَذَابَ الْهُونِ بِمَا كُنْتُمْ تَقُولُونَ عَلَى الله غَيْرَ الْحَقِّ وَكُنْتُمْ عَنْ آيَاتِهِ تَسْتَكْبِرُونَ} الأنعام 93.

وقال تعالى: {وَلَوْ تَرَى إِذْ يَتَوَفَّى الَّذِينَ كَفَرُوا الْمَلائِكَةُ يَضْرِبُونَ وُجُوهَهُمْ وَأَدْبَارَهُمْ وَذُوقُوا عَذَابَ الْحَرِيقِ. ذَلِكَ بِمَا قَدَّمَتْ أَيْدِيكُمْ وَأَنَّ الله لَيْسَ بِظَلامٍ لِلْعَبِيدِ} الأنفال 51.

وقال تعالى: {الَّذِينَ تَتَوَفَّاهُمُ الْمَلائِكَةُ ظَالِمِي أَنْفُسِهِمْ فَأَلْقَوُا السَّلَمَ مَا كُنَّا نَعْمَلُ مِنْ سُوءٍ … } الآية28 النحل.

وقال تعالى: {الَّذِينَ تَتَوَفَّاهُمُ الْمَلائِكَةُ طَيِّبِينَ يَقُولُونَ سَلامٌ عَلَيْكُمُ ادْخُلُوا الْجَنَّةَ بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُونَ. هَلْ يَنْظُرُونَ إِلا أَنْ تَأْتِيَهُمُ الْمَلائِكَةُ أَوْ يَأْتِيَ أَمْرُ رَبِّكَ … } الآية النحل (31-33) وقال تعالى: {قُلْ يَتَوَفَّاكُمْ مَلَكُ الْمَوْتِ الَّذِي وُكِّلَ بِكُمْ ثُمَّ إِلَى رَبِّكُمْ تُرْجَعُونَ} السجدة آية 11.

يقول ابن كثير في تفسير هذه الآية. "الظاهر من هذه الآية أن ملك الموت شخص معين من الملائكة كما هو المتبادر من حديث البراء … وقد سُمّي في بعض الآثار بعزرائيل وهو المشهور قاله قتادة. وغير واحد وله أعوان وهكذا ورد في الحديث أن أعوانه ينتزعون الأرواح من سائر الجسد حتى إذا بلغت الحلقوم تناولها ملك الموت1 اهـ وقد ذكر بعض الآثار عن ملك الموت فتراجع.

وقال تعالى: {فَكَيْفَ إِذَا تَوَفَّتْهُمُ الْمَلائِكَةُ يَضْرِبُونَ وُجُوهَهُمْ وَأَدْبَارَهُمْ} محمد آية 27. وقال ابن كثير في تفسير هذه الآية. "أي كيف حالهم إذا جاءتهم الملائكة لقبض أرواحهم وتعاصت الأرواح في أجسادهم واستخرجتها الملائكة بالعنف والقهر والضرب"2.

هـ- الحفظ:

وهذا العمل من الملائكة نوعان:

--------------------------------------------

1تفسير القرآن العظيم 5/407 ط دار الفكر

2تفسير القرآن العظيم 6/322 ط دار الفكر
আর মহান আল্লাহ বলেন: {আর তুমি যদি দেখতে পেতে যখন জালিমরা মৃত্যু যন্ত্রণার ঘোরের মধ্যে থাকে এবং ফেরেশতারা তাদের হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলে, ‘তোমাদের প্রাণ বের করো; আজ তোমাদেরকে অবমাননাকর শাস্তি দেওয়া হবে, কারণ তোমরা আল্লাহর নামে সত্যহীন কথা বলতে এবং তাঁর আয়াতসমূহ সম্পর্কে অহংকার করতে’} আল-আনআম ৯৩।

আর মহান আল্লাহ বলেন: {আর তুমি যদি দেখতে পেতে যখন ফেরেশতারা কাফিরদের প্রাণ হরণ করে, তারা তাদের মুখে ও পিঠে আঘাত করে এবং বলে, ‘তোমরা দহন যন্ত্রণা আস্বাদন করো। এটা তোমাদের কৃতকর্মের ফল এবং আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি মোটেও জুলুমকারী নন’} আল-আনফাল ৫০-৫১।

আর মহান আল্লাহ বলেন: {যাদের মৃত্যু ফেরেশতারা এমন অবস্থায় ঘটায় যে তারা নিজেদের ওপর জুলুম করছিল; তখন তারা আত্মসমর্পণ করে বলবে, ‘আমরা তো কোনো মন্দ কাজ করতাম না’ … } আয়াত ২৮ আন-নাহল।

আর মহান আল্লাহ বলেন: {যাদের মৃত্যু ফেরেশতারা পবিত্র অবস্থায় ঘটায়, ফেরেশতারা বলে, ‘তোমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক, তোমরা যা করতে তার বিনিময়ে জান্নাতে প্রবেশ করো।’ তারা কি শুধু এ অপেক্ষায় আছে যে তাদের কাছে ফেরেশতারা আসবে অথবা তোমার রবের নির্দেশ আসবে … } আয়াত আন-নাহল (৩১-৩৩) এবং মহান আল্লাহ বলেন: {বলো, মৃত্যুর ফেরেশতা যাকে তোমাদের জন্য নিযুক্ত করা হয়েছে সে তোমাদের প্রাণ হরণ করবে, তারপর তোমাদেরকে তোমাদের রবের কাছে ফিরিয়ে আনা হবে} আস-সাজদাহ আয়াত ১১।

ইবনে কাসির এই আয়াতের তাফসিরে বলেন: "এই আয়াত থেকে এটি স্পষ্ট যে, মৃত্যুর ফেরেশতা ফেরেশতাদের মধ্যে একজন নির্দিষ্ট ব্যক্তি, যেমনটি বারা (রা.)-এর হাদিস থেকে প্রতীয়মান হয় … কোনো কোনো বর্ণনা (أثر) অনুযায়ী তার নাম আজরাঈল বলা হয়েছে এবং এটিই প্রসিদ্ধ, যা কাতাদাহ ও আরও অনেকে বলেছেন। তাঁর অনেক সাহায্যকারী রয়েছে; হাদিসে এভাবেই বর্ণিত হয়েছে যে, তাঁর সাহায্যকারীরা শরীরের সমস্ত অংশ থেকে প্রাণ বের করে আনে এবং যখন তা কণ্ঠনালীতে পৌঁছে যায়, তখন মৃত্যুর ফেরেশতা তা গ্রহণ করেন।"১ ই.হা.। মৃত্যুর ফেরেশতা সম্পর্কে কিছু বর্ণনা (أثر) বর্ণিত হয়েছে, যা দেখে নেওয়া যেতে পারে।

আর মহান আল্লাহ বলেন: {তবে তাদের অবস্থা কেমন হবে যখন ফেরেশতারা তাদের মুখে ও পিঠে আঘাত করতে করতে প্রাণ হরণ করবে?} মুহাম্মদ আয়াত ২৭। ইবনে কাসির এই আয়াতের তাফসিরে বলেন: "অর্থাৎ তাদের অবস্থা কেমন হবে যখন ফেরেশতারা তাদের জান কবজ করতে আসবে এবং দেহ থেকে প্রাণ বের হতে অস্বীকৃতি জানাবে, তখন ফেরেশতারা অত্যন্ত কঠোরতা, বলপ্রয়োগ ও প্রহারের মাধ্যমে তা বের করে আনবে।"২।

ঙ- সংরক্ষণ:

ফেরেশতাদের এই কাজ দুই প্রকার:

--------------------------------------------

১ তাফসিরুল কুরআনিল আজিম ৫/৪০৭, দারুল ফিকর সংস্করণ

২ তাফসিরুল কুরআনিল আজিম ৬/৩২২, দারুল ফিকর সংস্করণ