(খণ্ড: ১)
সালাতুত তাওবা ওয়াল আহকামুল মুতাআল্লিকা বিহা ফিল ফিকহিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: -)
صلاة التوبة والأحكام المتعلقة بها في الفقه الإسلامي القسم: مسائل فقهية
الكتاب: صلاة التوبة والأحكام المتعلقة بها في الفقه الإسلامي
المؤلف: عبد الله بن عبد العزيز بن حمادة الجبرين
الناشر: الجامعة الاسلامية بالمدينة المنورة
الطبعة: السنة 27 - العددان 103 و 104 -- 1416/1417هـ/1996-1997م
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
عدد الصفحات: 179
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
তাওবার নামাজ এবং ইসলামি ফিকহশাস্ত্রে এর সাথে সংশ্লিষ্ট আহকামসমূহ বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ
বই: তাওবার নামাজ এবং ইসলামি ফিকহশাস্ত্রে এর সাথে সংশ্লিষ্ট আহকামসমূহ
লেখক: আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজিজ বিন হামাদ আল-জাবরিন
প্রকাশক: মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়
সংস্করণ: ২৭তম বর্ষ - সংখ্যা ১০৩ ও ১০৪ -- ১৪১৬/১৪১৭ হিজরি/১৯৯৬-১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দ
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৭৯
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
সালাতুত তাওবা ওয়াল আহকামুল মুতাআল্লিকা বিহা ফিল ফিকহিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ১৫৫)
مُقَدّمَة…صَلَاة التَّوْبَة وَالْأَحْكَام الْمُتَعَلّقَة بهَا
فِي الْفِقْه الإسلامي
تأليف
الدكتور عبد الله بن عبد الْعَزِيز الجبرين
الْأُسْتَاذ المشارك بكلية المعلمين بالرياض
ভূমিকা…সালাতুত তাওবা এবং তৎসংশ্লিষ্ট বিধিবিধান
ইসলামি ফিকহ শাস্ত্রে
রচনায়
ডক্টর আবদুল্লাহ বিন আব্দুল আজিজ আল-জিবরীন
রিয়াদস্থ টিচার্স কলেজের সহযোগী অধ্যাপক
(খণ্ড: ১)
সালাতুত তাওবা ওয়াল আহকামুল মুতাআল্লিকা বিহা ফিল ফিকহিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ১৫৭)
بسم الله الرحمن الرحيم
تمهيد
إِن الْحَمد لله نحمده، ونستعينه وَنَسْتَغْفِرهُ، ونستهديه، ونعوذ بِاللَّه من شرور أَنْفُسنَا وَمن سيئات أَعمالنَا، من يهده الله فَلَا مضل لَهُ، وَمن يضلل فَلَا هادي لَهُ، وَأشْهد أَن لَا اله إِلَّا الله وَحده لَا شريك لَهُ، وَأشْهد أَن مُحَمَّدًا عَبده وَرَسُوله.
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلَاّ وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} 1.
{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالاً كَثِيراً وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيباً} 2.
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلاً سَدِيداً يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزاً عَظِيماً} 3.
أما بعد:
فإنّ من رَحْمَة الله تَعَالَى بِهَذِهِ الْأمة أَن فتح لَهَا بَاب التَّوْبَة، فَلَا تَنْقَطِع حَتَّى تبلغ الرّوح الْحُلْقُوم أَو ينزل الْعَذَاب أَو تطلع الشَّمْس من مغْرِبهَا4، وَلم يُوجب عَلَيْهَا سبحانه وتعالى لقبُول هَذِه التَّوْبَة مَا أوجبه على بعض من سبقها من الْأُمَم، فقد كَانَ من الآصار الَّتِي حملت على من قبلنَا اشْتِرَاط قتل النَّفس فِي
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ভূমিকা
নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি, তাঁর নিকট ক্ষমা ভিক্ষা করি এবং তাঁর নিকট হেদায়েত কামনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক এবং তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর বান্দা ও রাসূল।
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং আত্মসমর্পণকারী (মুসলিম) না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।} ১।
{হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের রবের তাকওয়া অবলম্বন করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তা থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের উভয় থেকে বহু পুরুষ ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো, যাঁর দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের নিকট যাঞ্চা করো এবং রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয়তার ব্যাপারে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখেন।} ২।
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তবেই তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করল।} ৩।
অতঃপর:
নিশ্চয়ই এই উম্মতের প্রতি আল্লাহ তাআলার রহমতসমূহের অন্যতম হলো এই যে, তিনি তাদের জন্য তওবার দরজা উন্মুক্ত করে দিয়েছেন। এটি ততক্ষণ পর্যন্ত বন্ধ হবে না যতক্ষণ না প্রাণ কণ্ঠাগত হয় অথবা আজাব নেমে আসে কিংবা পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উদিত হয় ৪। এই তওবা কবুল করার জন্য মহান আল্লাহ তাদের ওপর এমন কঠিন শর্তারোপ করেননি যা তিনি তাদের পূর্ববর্তী কোনো কোনো উম্মতের ওপর করেছিলেন। আমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর যে কঠিন বোঝা ও কঠোর বিধিবিধান চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল, তার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল তওবা কবুলের ক্ষেত্রে নিজেদের নফসকে হত্যা করার শর্তারোপ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুত তাওবা ওয়াল আহকামুল মুতাআল্লিকা বিহা ফিল ফিকহিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ১৫৮)
قبُول التَّوْبَة قَالَ الله تَعَالَى: {وَإِذْ قَالَ مُوسَى لِقَوْمِهِ يَا قَوْمِ إِنَّكُمْ ظَلَمْتُمْ أَنْفُسَكُمْ بِاتِّخَاذِكُمُ الْعِجْلَ فَتُوبُوا إِلَى بَارِئِكُمْ فَاقْتُلُوا أَنْفُسَكُمْ ذَلِكُمْ خَيْرٌ لَكُمْ عِنْدَ بَارِئِكُمْ فَتَابَ عَلَيْكُمْ إِنَّهُ هُوَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ} 1.
وَمن رَحمته تَعَالَى بِهَذِهِ الْأمة كَذَلِك أَن شرع لَهُم عبَادَة من أفضل الْعِبَادَات، يتوسل بهَا العَبْد المذنب إِلَى ربه 2، رَجَاء قبُول تَوْبَته، وَهِي "صَلَاة التَّوْبَة "3 4.
ونظراً إِلَى أَن هَذِه الْعِبَادَة الْعَظِيمَة وَالسّنة الثَّابِتَة قد هجرها أَكثر الْمُسلمين، حَتَّى كَادَت تندثر بَينهم، وَرُبمَا استعاضوا عَنْهَا بِأُمُور لم ترد فِي الشَّرْع، ونظراً إِلَى أَن مسَائِل هَذِه الْمَوْضُوع لم تنتظم فِي رِسَالَة مُسْتَقلَّة، أَحْبَبْت أَن أجمع هَذِه الْمسَائِل فِي بحث مُسْتَقل.
وَقد اشْتَمَل هَذَا الْبَحْث على أَرْبَعَة مبَاحث، وخاتمة:
المبحث الأول: مَشْرُوعِيَّة صَلَاة التَّوْبَة وسببها:
وَفِيه مَسْأَلَتَانِ:
الْمَسْأَلَة الأولى: مشروعيتها.
الْمَسْأَلَة الثَّانِيَة: سَببهَا.
المبحث الثَّانِي: وَقت صَلَاة التَّوْبَة.
المبحث الثَّالِث: مَحل صَلَاة التَّوْبَة.
المبحث الرَّابِع: صفة صَلَاة التَّوْبَة.
أما الخاتمة فتشتمل على خُلَاصَة مَا انْتهى إِلَيْهِ هَذَا الْبَحْث.
وَصلى الله على نَبينَا مُحَمَّد وعَلى آله وَصَحبه أَجْمَعِينَ.
--------------------------------------------
তওবা কবুল হওয়া। মহান আল্লাহ বলেন: {আর যখন মুসা তাঁর সম্প্রদায়কে বললেন, হে আমার সম্প্রদায়! গোবৎসকে উপাস্যরূপে গ্রহণ করে তোমরা নিজেদের ওপর জুলুম করেছ। সুতরাং তোমরা তোমাদের স্রষ্টার নিকট তওবা করো এবং নিজেদের প্রাণ উৎসর্গ করো; তোমাদের স্রষ্টার নিকট এটাই তোমাদের জন্য কল্যাণকর। অতঃপর তিনি তোমাদের তওবা কবুল করলেন; নিশ্চয়ই তিনি তওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু।} ১।
এই উম্মতের প্রতি মহান আল্লাহর দয়া ও করুণার এটিও একটি দিক যে, তিনি তাদের জন্য অন্যতম শ্রেষ্ঠ একটি ইবাদত বিধিবদ্ধ করেছেন, যার মাধ্যমে একজন পাপী বান্দা তার রবের নিকট ওসিলা তালাশ করে ২, তার তওবা কবুল হওয়ার আশায়; আর তা হলো "তওবার নামাজ" ৩ ৪।
এই মহান ইবাদত এবং সুপ্রতিষ্ঠিত (ثابتة) সুন্নাহটি অধিকাংশ মুসলিম বর্জন করার কারণে এটি তাদের মধ্য থেকে প্রায় বিলুপ্ত হওয়ার উপক্রম হয়েছে এবং এর পরিবর্তে সম্ভবত তারা এমন সব বিষয় গ্রহণ করেছে যা শরিয়তে বর্ণিত হয়নি। যেহেতু এই বিষয়ের মাসআলাগুলো কোনো স্বতন্ত্র পুস্তিকায় সুবিন্যস্ত ছিল না, তাই আমি এই মাসআলাগুলোকে একটি পৃথক গবেষণাপত্রে সংকলন করতে চেয়েছি।
এই গবেষণাটি চারটি পরিচ্ছেদ ও একটি উপসংহারের ওপর বিন্যস্ত:
প্রথম পরিচ্ছেদ: তওবার নামাজের বিধান ও এর কারণ:
এতে দুটি মাসআলা রয়েছে:
প্রথম মাসআলা: এর বিধান।
দ্বিতীয় মাসআলা: এর কারণ।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তওবার নামাজের সময়।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তওবার নামাজের স্থান।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: তওবার নামাজের পদ্ধতি।
উপসংহার: এটি এই গবেষণার সারসংক্ষেপের ওপর مشتمل (পরিবেষ্টিত)।
আল্লাহ তাআলা আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুত তাওবা ওয়াল আহকামুল মুতাআল্লিকা বিহা ফিল ফিকহিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ১৫৯)
المبحث الأول: مَشْرُوعِيَّة صَلَاة التَّوْبَة وسببها
الْمَسْأَلَة الأولى: مَشْرُوعِيَّة صَلَاة التَّوْبَة…المبحث الأول
مَشْرُوعِيَّة صَلَاة التَّوْبَة وسببها
وَفِيه مَسْأَلَتَانِ:
الْمَسْأَلَة الأولى: مَشْرُوعِيَّة صَلَاة التَّوْبَة:
أجمع أهل الْعلم على مَشْرُوعِيَّة صَلَاة التَّوْبَة1، لما ثَبت عَن أَمِير الْمُؤمنِينَ عَليّ ابْن أبي طَالب رضي الله عنه قَالَ: "كنت إِذا سَمِعت من رَسُول الله صلى الله عليه وسلم حَدِيثا نَفَعَنِي الله مِنْهُ بِمَا شَاءَ أَن يَنْفَعنِي، وَإِذا حَدثنِي أحد من الصَّحَابَة اسْتَحْلَفته فَإِذا حلف لي صدقته، قَالَ: وحَدثني أَبُو بكر وَصدق أَبُو بكر- رضي الله عنه أَنه قَالَ: "سَمِعت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَقُول: " مَا من عبد يُذنب ذَنبا فيُحسِنُ الطّهُور ثمَّ يقوم فَيصَلي رَكْعَتَيْنِ ثمَّ يسْتَغْفر الله إِلَّا غفر الله لَهُ " ثمَّ قَرَأَ هَذِه الْآيَة
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: তওবার নামাজের বিধান এবং এর কারণ
প্রথম অনুচ্ছেদ: তওবার নামাজের বিধান…প্রথম পরিচ্ছেদ
তওবার নামাজের বিধান এবং এর কারণ
এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: তওবার নামাজের বিধান:
আলেমগণ তওবার নামাজের বিধানের ওপর ঐক্যমত (إجماع) পোষণ করেছেন, কারণ আমিরুল মুমিনিন আলি ইবনে আবি তালিব (রা.) হতে প্রমাণিত (ثبت) হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "আমি যখন রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট থেকে কোনো হাদিস শুনতাম, আল্লাহ তা থেকে আমাকে যতটুকু ইচ্ছা উপকার দান করতেন। আর যখন সাহাবিদের কেউ আমাকে কোনো হাদিস শোনাতেন, আমি তাকে কসম করাতাম। তিনি যখন কসম করতেন, তখন আমি তাকে সত্য বলে গ্রহণ করতাম। তিনি বলেন: আবু বকর (রা.) আমার নিকট বর্ণনা করেছেন—আর আবু বকর সত্যই বলেছেন—তিনি বলেন: 'আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি: "কোনো বান্দা যখন কোনো গুনাহ করে ফেলে, অতঃপর সে উত্তমরূপে পবিত্রতা অর্জন করে এবং দাঁড়িয়ে দুই রাকাত নামাজ আদায় করে, এরপর আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করে, তবে আল্লাহ তাকে অবশ্যই ক্ষমা করে দেন।"' এরপর তিনি এই আয়াতটি পাঠ করলেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুত তাওবা ওয়াল আহকামুল মুতাআল্লিকা বিহা ফিল ফিকহিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ১৬০)
{وَالَّذِينَ إِذَا فَعَلُوا فَاحِشَةً أَوْ ظَلَمُوا أَنْفُسَهُمْ ذَكَرُوا اللَّهَ} (آل عمرَان: من الْآيَة135) إِلَى آخر الْآيَة1.
وَلِهَذَا الحَدِيث شَوَاهِد مِنْهَا:
1- مَا رَوَاهُ يُوسُف بن عبد الله بن سَلام- رضي الله عنهما قَالَ: "أتيت أَبَا الدَّرْدَاء- رضي الله عنه فِي مَرضه الَّذِي مَاتَ فِيهِ، فَقَالَ: يَا ابْن أخي، مَا عناك إِلَى هَذَا الْبَلَد، وَمَا أعملك إِلَيْهِ؟ قلت: مَا عناني وَمَا أعملني إِلَّا مَا كَانَ بَيْنك وَبَين أبي. فَقَالَ: أقعدوني. فَأخذت بِيَدِهِ فأقعدته، وَقَعَدت خلف ظَهره، وتساند إليّ، ثمَّ قَالَ: بئس سَاعَة الْكَذِب هَذِه. ثمَّ قَالَ: سَمِعت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَقُول: "من تَوَضَّأ فَأحْسن الْوضُوء، ثمَّ قَامَ فصلى رَكْعَتَيْنِ، أَو أَرْبعا يحسن فِيهَا
--------------------------------------------
{এবং যারা কোনো অশ্লীল কাজ করলে অথবা নিজেদের প্রতি জুলুম করলে আল্লাহকে স্মরণ করে} (আল ইমরান: আয়াত ১৩৫-এর অংশবিশেষ) আয়াতের শেষ পর্যন্ত।১
এবং এই হাদিসের কিছু সমর্থক বর্ণনা (شواهد) রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:
১- ইউসুফ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমি আবু দারদা (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট তাঁর অন্তিম অসুস্থতার সময় আসলাম। তিনি বললেন: হে ভ্রাতুষ্পুত্র, কোন উদ্দেশ্য তোমাকে এই শহরে নিয়ে এসেছে এবং কী তোমাকে এখানে আসার পরিশ্রম করাল? আমি বললাম: আপনার এবং আমার পিতার মধ্যকার সুসম্পর্ক ছাড়া অন্য কোনো বিষয় আমাকে এখানে আনেনি। তখন তিনি বললেন: আমাকে বসিয়ে দাও। আমি তাঁর হাত ধরলাম এবং তাঁকে বসিয়ে দিলাম, আর আমি তাঁর পেছনে বসলাম। তিনি আমার ওপর হেলান দিলেন, অতঃপর বললেন: মিথ্যা বলার জন্য এটি কতই না মন্দ সময়। তারপর তিনি বললেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: 'যে ব্যক্তি উত্তমরূপে অজু করল, অতঃপর দাঁড়িয়ে দুই বা চার রাকাত সালাত আদায় করল এবং তাতে সে নিষ্ঠা বজায় রাখল...'
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুত তাওবা ওয়াল আহকামুল মুতাআল্লিকা বিহা ফিল ফিকহিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ১৬১)
من طرق عَن عُثْمَان ابْن الْمُغيرَة الثَّقَفِيّ عَن عَليّ بن ربيعَة الْوَالِي عَن أَسمَاء ابْن الحكم الْفَزارِيّ عَن عَليّ- رضي الله عنه فَذكره. وَإِسْنَاده حسن، رِجَاله ثِقَات رجال البُخَارِيّ، عدا أَسمَاء ابْن الحكم فقد وَثَّقَهُ الْعجلِيّ فِي تَارِيخ الثِّقَات ص 63، وَابْن حبَان فِي ثقاته 4/59 وَقَالَ: "يُخطئ"، وَقَالَ الْحَافِظ فِي التَّقْرِيب: "صَدُوق"، وَقد أَطَالَ الْحَافِظ الْكَلَام حول هَذَا الحَدِيث فِي تَهْذِيب التَّهْذِيب1/267 فِي تَرْجَمَة أَسمَاء هَذَا، وَقَالَ: "وَهَذَا الحَدِيث جيد الْإِسْنَاد". وَحسنه فِي الْفَتْح 11/98، وَقَالَ ابْن عدي فِي تَرْجَمَة أَسمَاء أَيْضا بعده رِوَايَته لهَذَا الحَدِيث: "وَهَذَا الحَدِيث طَرِيقه حسن وَأَرْجُو أَن يكون صَحِيحا" وينظر التَّارِيخ الْكَبِير للْبُخَارِيّ 2/554. والعلل للدارقطني 1/176 – 180، وتهذيب الْكَمَال لوحة (93) .
وَقد صحّح هدا الحَدِيث غير من ذكر النَّسَائِيّ كَمَا فِي فتح الْقَدِير للشوكانيِ 1/382، والحافظ ابْن كثير فِي تَفْسِيره 1/104، وَابْن مُفْلِح فِي الْفُرُوع 1/567، وَأحمد شَاكر فِي عُمْدَة التَّفْسِير 1/42، والشيح مُحَمَّد نَاصِر الدّين فِي تَعْلِيقه على مشكاة المصابيح 1/416، وَشُعَيْب الأرنؤوط فِي تَعْلِيقه على مُسْند أبي بكر، وحسين سليم أَسد فِي تَعْلِيقه على مُسْند أبي يعلي، والدكتور مُحَمَّد سعيد البُخَارِيّ فِي تَعْلِيقه على كتاب الدُّعَاء للطبراني، والدكتور حكمت ياسين فِي تَعْلِيقه على تَفْسِير ابْن أبي حَاتِم.
وَقد روى هَذَا الحَدِيث الطَّبَرَانِيّ فِي الدُّعَاء 3/1645، 1626، رقم (1844) وابْن عدي فِي الْكَامِل 1/421، والخطيب الْبَغْدَادِيّ فِي موضح أَوْهَام الْجمع والتفريق 2/434 من طَرِيق مُعَاوِيَة بن أبي الْعَبَّاس عَن عَليّ بن ربيعَة بِهِ، وَإِسْنَاده ضَعِيف جدا، مُعَاوِيَة بن أبي الْعَبَّاس مُتَّهم بِسَرِقَة الحَدِيث. ينظر الموضح 2/423 – 426.
وَرَوَاهُ أَيْضا الْحميدِي فِي مُسْنده 1/4 ،5 رقم (5) ، والطبري فِي تَفْسِيره 7/222، رقم (7855) ، وَالطَّبَرَانِيّ فِي الدُّعَاء 3/1626، رقم (1846) ، وَابْن عدي فِي الْكَامِل 3/1190 من طَرِيق عبد الله بن سعيد المَقْبُري عَن جده أبي سعيد عَن عَليّ بِهِ. وَإِسْنَاده ضَعِيف جدا، عبد الله بن سعيد المَقْبُري مَتْرُوك كَمَا فِي التَّقْرِيب.
وَقد ذكر الدَّارَقُطْنِيّ فِي الْعِلَل 1/176 –180 طرقاً أُخْرَى كَثِيرَة لهَذَا الحَدِيث، وَبَعضهَا عِنْد الطَّبَرَانِيّ فِي الدُّعَاء 3/1625، 1626، رقم (1843، 1845، 1847) ثمَّ قَالَ الدَّارَقُطْنِيّ بعد ذكره لما فِيهِ من الِاخْتِلَاف وَمَا فِي بَعْضهَا من الضعْف الشَّديد، قَالَ: "وأحسنها إِسْنَادًا وأصحها مَا رَوَاهُ الثَّوْريّ ومسعر وَمن تابعها عَن عُثْمَان بن الْمُغيرَة". وَهِي الرِّوَايَة الأولى.
وَذكر الْمزي فِي تحفة الْأَشْرَاف 5/300، وَفِي تَهْذِيب الْكَمَال لوحة (93) متابعات كَثِيرَة لرِوَايَة أَسمَاء بن الحكم، وَتعقبه الْحَافِظ فِي التَّهْذِيب 1/268 بقوله: "والمتابعات الَّتِي ذكرهَا لَا تشد هَذَا الحَدِيث شَيْئا، لِأَنَّهَا ضَعِيفَة جدا ".
উসমান ইবনে মুগিরাহ আস-সাকাফি থেকে বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত, তিনি আলী বিন রাবিয়াহ আল-ওয়ালি থেকে, তিনি আসমা ইবনে হাকাম আল-ফাজারি থেকে, তিনি আলী (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন; অতঃপর তিনি তা উল্লেখ করেছেন। এর সনদ (إسناد) হাসান (حسن), এর বর্ণনাকারীগণ (رجال) ইমাম বুখারির নির্ভরযোগ্য (ثقات) বর্ণনাকারীগণের অন্তর্ভুক্ত, শুধু আসমা ইবনে হাকাম ছাড়া; তবে আল-ইজলি 'তারিখুস সিকাত' (পৃ. ৬৩) গ্রন্থে তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন (وثقه) এবং ইবনে হিব্বান তার 'আস-সিকাত' (৪/৫৯) গ্রন্থে তাকে উল্লেখ করে বলেছেন: "তিনি ভুল করেন (يخطئ)"। হাফিজ (ইবনে হাজার) 'তাকরিব' গ্রন্থে বলেছেন: "তিনি সত্যবাদী (صدوق)"। হাফিজ এই হাদিস সম্পর্কে 'তাজিবুত তাহজিব' (১/২৬৭) গ্রন্থে এই আসমার জীবনীর আলোচনায় দীর্ঘ আলোচনা করেছেন এবং বলেছেন: "এই হাদিসটির সনদ উত্তম (جيد الإسناد)"। তিনি 'ফাতহুল বারি' (১১/৯৮) গ্রন্থে একে হাসান বলেছেন (حسنه)। ইবনে আদিও আসমার জীবনীতে এই হাদিসটি তার বর্ণনার পর বলেছেন: "এই হাদিসটির সূত্র (طريق) হাসান (حسن) এবং আমি আশা করি এটি সহিহ (صحيح) হবে।" বিস্তারিত দেখুন: বুখারির 'তারিখুল কাবির' ২/৫৫৪, দারাকুমনির 'আল-ইলাল' ১/১৭৬-১৮০ এবং 'তাজিবুল কামাল' (পৃষ্ঠা ৯৩)।
ইমাম নাসায়ি যাদের কথা উল্লেখ করেছেন তারা ছাড়াও অনেকে এই হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন (صحح), যেমন শাওকানির 'ফাতহুল কাদির' (১/৩৮২), হাফিজ ইবনে কাসিরের 'তাফসির' (১/১০৪), ইবনে মুফলিহের 'আল-ফুরু' (১/৫৬৭), আহমাদ শাকিরের 'উমদাতুত তাফসির' (১/৪২), শেখ মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিনের 'মিশকাতুল মাসাবিহ'-এর টিকা (১/৪১৬), শুআইব আরনাউতের 'মুসনাদে আবু বকর'-এর টিকা, হুসাইন সালিম আসাদের 'মুসনাদে আবু ইয়ালা'-এর টিকা, ড. মুহাম্মদ সাঈদ বুখারির তাবারানির 'কিতাবুদ দুআ'-এর টিকা এবং ড. হিকমত ইয়াসিনের 'তাফসির ইবনে আবি হাতিম'-এর টিকা।
এই হাদিসটি তাবারানি 'আদ-দুআ' (৩/১৬৪৫, ১৬২৬, নং ১৮৪৪), ইবনে আদি 'আল-কামিল' (১/৪২১) এবং খাতিব আল-বাগদাদি 'মুদিহু আওহামিল জাময়ি ওয়াত তাফরিক' (২/৪৩৪) গ্রন্থে মুয়াবিয়া ইবনে আবিল আব্বাস থেকে, তিনি আলী বিন রাবিয়াহ থেকে এই সূত্রে বর্ণনা করেছেন; তবে এর সনদ (إسناد) অত্যন্ত দুর্বল (ضعيف جدا)। মুয়াবিয়া ইবনে আবিল আব্বাস হাদিস চুরির (سرقة الحديث) দায়ে অভিযুক্ত (متهم)। বিস্তারিত দেখুন 'আল-মুদিহ' ২/৪২৩-৪২৬।
হুমাইদি তার 'মুসনাদ' (১/৪, ৫, নং ৫), তাবারি তার 'তাফসির' (৭/২২২, নং ৭৮৫৫), তাবারানি 'আদ-দুআ' (৩/১৬২৬, নং ১৮৪৬) এবং ইবনে আদি 'আল-কামিল' (৩/১১৯০) গ্রন্থে আব্দুল্লাহ ইবনে সাঈদ আল-মাকবুরি থেকে, তিনি তার দাদা আবু সাঈদ থেকে, তিনি আলী (রা.) থেকে এই সূত্রে বর্ণনা করেছেন। এই সনদটিও (إسناد) অত্যন্ত দুর্বল (ضعيف جدا); আব্দুল্লাহ ইবনে সাঈদ আল-মাকবুরি হলেন পরিত্যক্ত (متروك), যেমনটি 'তাকরিব' গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে।
দারাকুতনি 'আল-ইলাল' (১/১৭৬-১৮০) গ্রন্থে এই হাদিসের আরও অনেকগুলো সূত্র (طرقا) উল্লেখ করেছেন, যার কিছু তাবারানি 'আদ-দুআ' (৩/১৬২৫, ১৬২৬, নং ১৮৪৩, ১৮৪৫, ১৮৪৭) গ্রন্থে এনেছেন। দারাকুতনি এতে বিদ্যমান মতপার্থক্য এবং কোনো কোনোটির চরম দুর্বলতা উল্লেখ করার পর বলেছেন: "এগুলোর মধ্যে সনদের বিচারে অধিক উত্তম (أحسنها إسنادا) এবং অধিক সহিহ (أصحها) হলো সেটি, যা সাওরি, মিসআর এবং তাদের অনুসারীগণ উসমান ইবনুল মুগিরাহ থেকে বর্ণনা করেছেন।" আর এটিই হলো প্রথম বর্ণনা (الرواية)।
আল-মিজ্জি 'তুহফাতুল আশরাফ' (৫/৩০০) এবং 'তাজিবুল কামাল' (পৃষ্ঠা ৯৩) গ্রন্থে আসমা ইবনে হাকামের বর্ণনার জন্য অনেকগুলো সমর্থক বর্ণনা (متابعات) উল্লেখ করেছেন। তবে হাফিজ (ইবনে হাজার) 'আত-তাজিব' (১/২৬৮) গ্রন্থে এর সমালোচনা করে বলেছেন: "তিনি যে সমর্থক বর্ণনাগুলো (متابعات) উল্লেখ করেছেন তা এই হাদিসকে কোনোভাবেই শক্তিশালী করে না, কারণ সেগুলো অত্যন্ত দুর্বল (ضعيفة جدا)।"
(খণ্ড: ১)
সালাতুত তাওবা ওয়াল আহকামুল মুতাআল্লিকা বিহা ফিল ফিকহিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ১৬২)
الرُّكُوع وَالسُّجُود، ثمَّ يسْتَغْفر الله، إِلَّا غفر الله لَهُ " 1.
2- مَا رَوَاهُ الْبَيْهَقِيّ فِي شعب الْإِيمَان عَن الْحسن- رحمه الله مُرْسلا قَالَ: قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم: "مَا أذْنب عبد ذَنبا ثمَّ تَوَضَّأ فَأحْسن الْوضُوء، ثمَّ خرج إِلَى برَاز من الأَرْض فصلى فِيهِ رَكْعَتَيْنِ، واستغفر الله من ذَلِك الذَّنب إِلَّا غفر الله لَهُ " 2.
3- مَا رَوَاهُ عبد الله بن بُرَيْدَة عَن أَبِيه- رضي الله عنه قَالَ: أصبح رَسُول الله يَوْمًا فَدَعَا بِلَالًا، فَقَالَ: "يابلال بِمَ سبقتني إِلَى الْجنَّة؟ إِنِّي دخلت البارحة الْجنَّة فَسمِعت خشخشتك أَمَامِي" فَقَالَ بِلَال: "يَا رَسُول الله مَا أذنبت قطّ إِلَّا صليت رَكْعَتَيْنِ، وَمَا أصابني حدث قطّ إِلَّا تَوَضَّأت عِنْدهَا. فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم: "بِهَذَا" 3.
--------------------------------------------
রুকু ও সিজদাহ (সঠিকভাবে আদায় করে), তারপর আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে, তবে আল্লাহ তাকে অবশ্যই ক্ষমা করে দেন।" 1.
2- ইমাম বায়হাকী 'শুআবুল ঈমান' গ্রন্থে হাসান (রহিমাহুল্লাহ) থেকে বিচ্ছিন্ন (مرسل) সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "কোনো বান্দা যখন কোনো গুনাহ করে, অতঃপর উত্তমরূপে অজু করে জমিনের কোনো নির্জন স্থানে গিয়ে দুই রাকাত নামাজ আদায় করে এবং সেই গুনাহের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে, আল্লাহ তাকে অবশ্যই ক্ষমা করে দেন।" 2.
3- আবদুল্লাহ ইবনে বুরাইদাহ তাঁর পিতা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: একদিন সকালে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিলালকে ডাকলেন এবং বললেন: "হে বিলাল! কোন আমলের কারণে তুমি জান্নাতে আমার আগে পৌঁছে গেলে? আমি গত রাতে জান্নাতে প্রবেশ করে আমার সামনে তোমার পদধ্বনি শুনতে পেলাম।" বিলাল বললেন: "হে আল্লাহর রাসূল! আমি যখনই কোনো গুনাহ করেছি তখনই দুই রাকাত নামাজ পড়েছি, আর যখনই আমার অজু নষ্ট হয়েছে তখনই আমি অজু করে নিয়েছি।" তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "এই কারণেই।" 3.
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুত তাওবা ওয়াল আহকামুল মুতাআল্লিকা বিহা ফিল ফিকহিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ১৬৩)
وَقَالَ الْحَافِظ ابْن كثير- رَحمَه الله تَعَالَى-: " ويتأكد الْوضُوء وَصَلَاة رَكْعَتَيْنِ عِنْد التَّوْبَة، لما رَوَاهُ الإِمَام أَحْمد بن حَنْبَل
… " ثمَّ ذكر حَدِيث أبي بكر السَّابِق، ثمَّ قَالَ: "وَقد ذكرنَا طرقه وَالْكَلَام عَلَيْهِ مستقصى فِي مُسْند أبي بكر الصّديق، وَبِالْجُمْلَةِ فَهُوَ حَدِيث حسن، وَهُوَ من رِوَايَة أَمِير الْمُؤمنِينَ عَليّ بن أبي طَالب عَن خَليفَة النَّبِي صلى الله عليه وسلم أبي بكر الصّديق- رضي الله عنهما، وَمِمَّا يشْهد لصِحَّة هَذَا الحَدِيث مَا رَوَاهُ مُسلم فِي صَحِيحه1 عَن أَمِير الْمُؤمنِينَ عمر بن الْخطاب- رضي الله عنه عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ: "مَا مِنْكُم من أحد يتَوَضَّأ فَيبلغ- أَو فيسبغ- الْوضُوء، ثمَّ يَقُول: أشهد أَن لَا إِلَه إِلَّا الله وَحده لَا شريك لَهُ، وَأشْهد أنّ مُحَمَّدًا عَبده وَرَسُوله، إِلَّا فتحت لَهُ أَبْوَاب الْجنَّة الثَّمَانِية، يدْخل من أَيهَا شَاءَ". وَفِي الصَّحِيحَيْنِ 2 عَن أَمِير الْمُؤمنِينَ عُثْمَان بن عَفَّان- رضي الله عنه أَنه تَوَضَّأ لَهُم وضوء النَّبِي صلى الله عليه وسلم ثمَّ قَالَ: سَمِعت رَسُول الله يَقُول: " من تَوَضَّأ نَحْو وضوئي هَذَا ثمَّ صلى رَكْعَتَيْنِ لَا يحدث فيهمَا نَفسه غفر لَهُ مَا تقدم من ذَنبه ". فقد ثَبت هَذَا الحَدِيث من رِوَايَة الْأَئِمَّة الْأَرْبَعَة الْخُلَفَاء الرَّاشِدين عَن سيد الْأَوَّلين والآخرين وَرَسُول رب الْعَالمين كَمَا دلّ عَلَيْهِ الْكتاب الْمُبين من أَن الاسْتِغْفَار من الذَّنب ينفع العاصيين ". انْتهى كَلَام الْحَافِظ ابْن كثير رَحمَه الله تَعَالَى 3.
--------------------------------------------
হাফিজ ইবনে কাসীর (রহ.) বলেছেন: "তওবার সময় অজু করা এবং দুই রাকাত নামাজ আদায় করার বিষয়টি সুনিশ্চিত হয়, কারণ ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল বর্ণনা করেছেন … " অতঃপর তিনি আবু বকরের পূর্ববর্তী হাদিসটি উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: "আমরা আবু বকর সিদ্দিকের মুসনাদে এর সূত্রসমূহ (طرق) এবং এ সংক্রান্ত আলোচনা বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছি। পরিশেষে, এটি একটি হাসান (حسن) হাদিস। এটি আমিরুল মুমিনীন আলী ইবনে আবি তালিব কর্তৃক নবী (সা.)-এর খলিফা আবু বকর সিদ্দিক (রা.) থেকে বর্ণিত। এই হাদিসের বিশুদ্ধতার (صحة) সাক্ষ্য দেয় যা ইমাম মুসলিম তাঁর সহিহ-এ (সহিহ মুসলিম)১ আমিরুল মুমিনীন উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি নবী (সা.) থেকে বর্ণনা করেন যে তিনি বলেছেন: "তোমাদের মধ্যে যে কেউ অজু করে এবং পূর্ণাঙ্গভাবে অজু সম্পন্ন করে, অতঃপর বলে: ‘আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসুল’, তবে তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজা খুলে দেওয়া হয়, সে যে কোনোটি দিয়ে ইচ্ছা প্রবেশ করতে পারবে।" এবং সহিহাইনে (সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম)২ আমিরুল মুমিনীন উসমান ইবনে আফফান (রা.) থেকে বর্ণিত যে, তিনি তাদেরকে নবী (সা.)-এর অজুর ন্যায় অজু করে দেখালেন এবং বললেন: আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি: "যে ব্যক্তি আমার এই অজুর মতো অজু করবে, অতঃপর দুই রাকাত নামাজ পড়বে এবং তাতে মনে মনে কোনো পার্থিব কথা বলবে না, তার পূর্ববর্তী সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।" সুতরাং এই হাদিসটি আদি-অন্তের সরদার ও বিশ্বজগতের প্রতিপালকের রাসুলের পক্ষ থেকে চার ইমাম তথা খুলাফায়ে রাশিদীনের বর্ণনার মাধ্যমে প্রমাণিত (ثبت) হয়েছে, যেমনটি সুস্পষ্ট কিতাব (কুরআন) নির্দেশ করে যে, গুনাহ থেকে ক্ষমা প্রার্থনা পাপাচারীদের উপকারে আসে।" হাফিজ ইবনে কাসীর (রহ.)-এর বক্তব্য এখানেই সমাপ্ত৩।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুত তাওবা ওয়াল আহকামুল মুতাআল্লিকা বিহা ফিল ফিকহিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ১৬৪)
الْمَسْأَلَة الثَّانِيَة: سَبَب صَلَاة التَّوْبَة:سَبَب صَلَاة التَّوْبَة هُوَ وُقُوع المسلمِ فِي مَعْصِيّة سَوَاء كَانَت كَبِيرَة أَو صَغِيرَة 1، فَيجب عَلَيْهِ أَن يَتُوب مِنْهَا فَوْرًا 2، وَينْدب لَهُ أَن يُصَلِّي هَاتين الرَّكْعَتَيْنِ، فَيعْمل عِنْد تَوْبَته عملا صَالحا من أجل القربات وأفضلها، وَهُوَ هَذِه الصَّلَاة، فيتوسل بهَا إِلَى الله تَعَالَى رَجَاء أَن تقبل تَوْبَته، وَأَن يغْفر ذَنبه3.
قَالَ ابْن الْعَرَبِيّ عِنْد كَلَامه على حَدِيث أبي بكر فِي صَلَاة التَّوْبَة، قَالَ:"وَفِيه اسْتِيفَاء وُجُوه الطَّاعَة فِي التَّوْبَة، لِأَنَّهُ نَدم فطهر بَاطِنه، ثمَّ تَوَضَّأ، ثمَّ صلى، ثمَّ اسْتغْفر"4.
وَقَالَ الشَّيْخ عبد الرَّحْمَن بن قَاسم رحمه الله عِنْد شَرحه لحَدِيث أبي بكر أَيْضا، قَالَ:"وَفِيه اسْتِيفَاء، وُجُوه الطَّاعَة فِي التَّوْبَة، لِأَنَّهُ نَدم، فَتطهر، ثمَّ صلى، ثمَّ اسْتغْفر، وَإِذا أَتَى بذلك على أكمل الْوُجُوه غفر الله لَهُ بوعده الصَّادِق"5.
--------------------------------------------
দ্বিতীয় মাসআলা: তাওবার নামাজের কারণ:তাওবার নামাজের কারণ হলো কোনো মুসলিম ব্যক্তির পাপে লিপ্ত হওয়া, চাই তা কবিরা গুনাহ হোক কিংবা সগিরা ১। এমতাবস্থায় তার ওপর তাৎক্ষণিকভাবে তা থেকে তাওবা করা ওয়াজিব ২ এবং তার জন্য এই দুই রাকাত নামাজ আদায় করা মুস্তাহাব। সে তার তাওবার সময় আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের শ্রেষ্ঠ ও উত্তম আমলগুলোর মধ্য হতে এই নামাজটি আদায় করবে। এর মাধ্যমে সে আল্লাহ তাআলার নিকট এই প্রত্যাশায় উসিলা গ্রহণ করবে যেন তার তাওবা কবুল করা হয় এবং তার গুনাহ ক্ষমা করা হয় ৩।
ইবনুল আরাবি তাওবার নামাজ সম্পর্কিত আবু বকরের হাদিস বিষয়ে আলোচনার সময় বলেন: "এতে তাওবার ক্ষেত্রে আনুগত্যের সকল দিক পূর্ণতা পেয়েছে। কারণ তিনি অনুতপ্ত হয়েছেন ফলে তার অভ্যন্তর পবিত্র হয়েছে, এরপর অজু করেছেন, এরপর নামাজ পড়েছেন এবং এরপর ইস্তিগফার করেছেন" ৪।
শায়খ আবদুর রহমান বিন কাসিম (রহিমাহুল্লাহ) আবু বকরের হাদিসের ব্যাখ্যায় আরও বলেন: "এতে তাওবার আনুগত্যের সকল দিক পূর্ণতা পেয়েছে। কারণ তিনি অনুতপ্ত হয়েছেন, পবিত্রতা অর্জন করেছেন, এরপর নামাজ পড়েছেন এবং এরপর ইস্তিগফার করেছেন। যখন কেউ এভাবে পূর্ণাঙ্গরূপে এগুলো পালন করে, তবে আল্লাহ তাআলা তাঁর সত্য প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তাকে ক্ষমা করে দেবেন" ৫।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুত তাওবা ওয়াল আহকামুল মুতাআল্লিকা বিহা ফিল ফিকহিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ১৬৫)
المبحث الثَّانِيوَقت صَلَاة التَّوْبَةيسْتَحبّ أَدَاء هَذِه الصَّلَاة عِنْد عزم الْمُسلم على التَّوْبَة من الذَّنب الَّذِي اقترفه، سَوَاء كَانَت هَذِه التَّوْبَة بعد فعله للمعصية مُبَاشرَة، أَو مُتَأَخِّرَة عَنهُ، فَالْوَاجِب على المذنب الْمُبَادرَة إِلَى التَّوْبَة - كَمَا سبق بَيَانه قَرِيبا- لَكِن إِن سوّف وأخّرها قبلت، لِأَن التَّوْبَة تقبل مَا لم يحدث أحد الْمَوَانِع الْآتِيَة:
1- إِذا وَقع الإِياس من الْحَيَاة، وَحضر الْمَوْت، وَبَلغت الرّوح الْحُلْقُوم. قَالَ الله تَعَالَى: {وَلَيْسَتِ التَّوْبَةُ لِلَّذِينَ يَعْمَلُونَ السَّيِّئَاتِ حَتَّى إِذَا حَضَرَ أَحَدَهُمُ الْمَوْتُ قَالَ إِنِّي تُبْتُ الآنَ} 1.
وَقَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم: " إِن الله يقبل تَوْبَة العَبْد مَا لم يُغَرْغر" 2.
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদতাওবার সালাতের সময়একজন মুসলিম যখন তার কৃত পাপ থেকে তাওবা করার সংকল্প করে, তখন এই সালাত আদায় করা মুস্তাহাব। চাই এই তাওবা গুনাহ করার পরপরই হোক বা বিলম্বে হোক। তবে গুনাহগারের জন্য দ্রুত তাওবার দিকে ধাবিত হওয়া ওয়াজিব—যেমনটি ইতিপূর্বে বর্ণনা করা হয়েছে—কিন্তু যদি কেউ গড়িমসি করে তাওবা পিছিয়ে দেয়, তবুও তা কবুল হবে; কেননা নির্দিষ্ট কিছু প্রতিবন্ধকতা উপস্থিত না হওয়া পর্যন্ত তাওবা কবুল করা হয়। প্রতিবন্ধকতাগুলো নিম্নরূপ:
১- যখন জীবন থেকে নিরাশ হয়ে যায়, মৃত্যু উপস্থিত হয় এবং প্রাণ কণ্ঠনালীতে পৌঁছে যায়। আল্লাহ তাআলা বলেন: "আর তাওবা তাদের জন্য নয় যারা মন্দ কাজ করতে থাকে, পরিশেষে যখন তাদের কারো নিকট মৃত্যু উপস্থিত হয় তখন সে বলে: আমি এখন তাওবা করছি।" ১।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ বান্দার তাওবা কবুল করেন যতক্ষণ না তার প্রাণ কণ্ঠনালীতে এসে পৌঁছে।" ২।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুত তাওবা ওয়াল আহকামুল মুতাআল্লিকা বিহা ফিল ফিকহিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ১৬৬)
2- إِذا نزل الْعَذَاب، قَالَ الله تَعَالَى: {فَلَمْ يَكُ يَنْفَعُهُمْ إِيمَانُهُمْ لَمَّا رَأَوْا بَأْسَنَا سُنَّتَ اللَّهِ الَّتِي قَدْ خَلَتْ فِي عِبَادِهِ وَخَسِرَ هُنَالِكَ الْكَافِرُونَ} 1.
--------------------------------------------
২- যখন আযাব অবতীর্ণ হয়, তখন আল্লাহ তাআলা বলেন: {অতঃপর যখন তারা আমার শাস্তি প্রত্যক্ষ করল, তখন তাদের ঈমান তাদের কোনো উপকারে আসল না। আল্লাহর এই বিধান তাঁর বান্দাদের মধ্যে পূর্ব থেকেই চলে আসছে; আর সেখানে কাফিররা ক্ষতিগ্রস্ত হলো।} ১।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুত তাওবা ওয়াল আহকামুল মুতাআল্লিকা বিহা ফিল ফিকহিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ১৬৭)
3- إِذا طلعت الشَّمْس من مغْرِبهَا، قَالَ الله تَعَالَى: {يَوْمَ يَأْتِي بَعْضُ آيَاتِ رَبِّكَ لَا يَنْفَعُ نَفْساً إِيمَانُهَا لَمْ تَكُنْ آمَنَتْ مِنْ قَبْلُ أَوْ كَسَبَتْ فِي إِيمَانِهَا خَيْراً} 1. وَقَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم: "من تَابَ من قبل أَن تطلع الشَّمْس من مغْرِبهَا تَابَ الله عَلَيْهِ " رَوَاهُ مُسلم من حَدِيث أبي هُرَيْرَة 2.
وَهَذِه صَلَاة تشرع فِي جَمِيع الْأَوْقَات بِمَا فِي ذَلِك أَوْقَات النَّهْي، لِأَنَّهَا من ذَوَات الْأَسْبَاب الَّتِي تشرع عِنْد وجود سَببهَا 3.
قَالَ شيخ الْإِسْلَام ابْن تَيْمِية: "ذَوَات الْأَسْبَاب كلهَا تفوت إِذا أخرت عَن وَقت النَّهْي، مثل سُجُود التِّلَاوَة، وتحية الْمَسْجِد، وَصَلَاة الْكُسُوف، وَمثل الصَّلَاة عقب الطَّهَارَة، كَمَا فِي حَدِيث بِلَال، وَكَذَلِكَ صَلَاة الاستخارة، إِذا كَانَ الَّذِي يستخير لَهُ يفوت إِذا أخرت الصَّلَاة، وَكَذَلِكَ صَلَاة التَّوْبَة، فَإِذا أذْنب فالتوبة وَاجِبَة على الْفَوْر، وَهُوَ مَنْدُوب إِلَى أَن يُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ، ثمَّ يَتُوب، كَمَا فِي حَدِيث أبي بكر الصّديق"4.
--------------------------------------------
3- যখন সূর্য পশ্চিম দিক থেকে উদিত হবে, তখন আল্লাহ তাআলা বলেন: {যেদিন আপনার রবের কোনো নিদর্শন আসবে, সেদিন এমন কোনো ব্যক্তির ঈমান কাজে আসবে না যে আগে ঈমান আনেনি অথবা তার ঈমানের মাধ্যমে কোনো কল্যাণ অর্জন করেনি} 1। এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি সূর্য পশ্চিম দিক থেকে উদিত হওয়ার পূর্বে তওবা করবে, আল্লাহ তার তওবা কবুল করবেন।" এটি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত হাদিস থেকে মুসলিম বর্ণনা করেছেন 2।
আর এটি এমন একটি নামাজ যা নিষিদ্ধ সময়সমূহসহ (أوقات النهي) সকল সময়ে বিধিবদ্ধ, কারণ এটি কারণ-সংশ্লিষ্ট নামাজের (ذوات الأسباب) অন্তর্ভুক্ত যা তার কারণ বিদ্যমান থাকলে বিধিবদ্ধ হয় 3।
শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেছেন: "সকল কারণ-সংশ্লিষ্ট নামাজই (ذوات الأسباب) হাতছাড়া হয়ে যায় যদি নিষিদ্ধ সময় (وقت النهي) পার হওয়া পর্যন্ত তা বিলম্ব করা হয়; যেমন তিলাওয়াতের সিজদাহ (سجود التلاوة), তাহিয়্যাতুল মাসজিদ (تحية المسجد), গ্রহণের নামাজ (صلاة الكسوف) এবং পবিত্রতা অর্জনের পরবর্তী নামাজ, যেমনটি বেলালের হাদিসে এসেছে। একইভাবে ইস্তিখারার নামাজ (صلاة الاستخارة), যদি ইস্তিখারা করার বিষয়টি নামাজ বিলম্ব করলে হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তদ্রূপ তওবার নামাজ (صلاة التوبة); যখন কেউ গুনাহ করে তখন অবিলম্বে তওবা করা আবশ্যক (واجب), আর তওবা করার পূর্বে দুই রাকাত নামাজ আদায় করা তার জন্য পছন্দনীয় (مندوب), যেমনটি আবু বকর সিদ্দিকের হাদিসে এসেছে" 4।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুত তাওবা ওয়াল আহকামুল মুতাআল্লিকা বিহা ফিল ফিকহিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ১৬৮)
المبحث الثَّالِثمَحل صَلَاة التَّوْبَةاخْتلف أهل الْعلم فِي صَلَاة التَّوْبَة هَل تُؤَدّى قبل التَّوْبَة أَو بعْدهَا، على ثَلَاثَة أَقْوَال:
القَوْل الأول:
أَن الْمَشْرُوع أَن يُصَلِّي قبل التَّوْبَة، لَا بعْدهَا، لحَدِيث أبي بكر الصّديق رضي الله عنه 1.
القَوْل الثَّانِي:
أَنَّهَا تصلى بعد التَّوْبَة 2.
القَوْل الثَّالِث:
أَنَّهَا تصلى قبل التَّوْبَة أَو بعْدهَا 3، فَإِن شَاءَ صلاهَا قبل التَّوْبَة وَإِن شَاءَ صلاهَا بعْدهَا 4.
--------------------------------------------
তৃতীয় পরিচ্ছেদতওবার সালাত আদায়ের সময়আলেমগণ তওবার সালাত তওবার আগে আদায় করা হবে না কি পরে, সে বিষয়ে তিনটি মতে বিভক্ত হয়েছেন:
প্রথম মত:
বিধানসম্মত হলো তওবার আগে সালাত আদায় করা, পরে নয়; আবু বকর আল-সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর বর্ণিত হাদিসের ভিত্তিতে। ১
দ্বিতীয় মত:
এই সালাত তওবার পরে আদায় করতে হবে। ২
তৃতীয় মত:
তওবার আগে বা পরে—উভয় সময়েই সালাত আদায় করা যায়; ৩ সুতরাং কেউ চাইলে তওবার আগে সালাত আদায় করবে, আর চাইলে তওবার পরেও আদায় করতে পারবে। ৪
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুত তাওবা ওয়াল আহকামুল মুতাআল্লিকা বিহা ফিল ফিকহিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ১৬৯)
التَّرْجِيح:
وَالرَّاجِح من هَذِه الْأَقْوَال هُوَ القَوْل الأول، لقُوَّة دَلِيله، وَلِأَن الْقَوْلَيْنِ الآخرين لَا يعضدهما دَلِيل من كتاب وَلَا سنة، فَحَدِيث أبي بكر الصّديق رضي الله عنه صَرِيح فِي أَن هَذِه الصَّلَاة تُؤَدّى قبل التَّوْبَة، لَا بعْدهَا، حَيْثُ ذكرت فِيهِ الصَّلَاة ثمَّ عطف عَلَيْهَا الاسْتِغْفَار، الَّذِي هُوَ تَوْبَة1، أَو جُزْء من التَّوْبَة2 بِحرف "ثمَّ " الَّذِي يدل على التَّرْتِيب 3.
--------------------------------------------
অগ্রাধিকার প্রদান (الترجيح):
এই মতগুলোর মধ্যে অগ্রাধিকারযোগ্য (الراجح) মত হলো প্রথমটি, কারণ এর দলিল শক্তিশালী। এছাড়া অন্য দুটি মতের স্বপক্ষে কিতাব (কুরআন) বা সুন্নাহর কোনো দলিল নেই। আবু বকর সিদ্দিক (রা.) বর্ণিত হাদিসটি এ বিষয়ে সুস্পষ্ট যে, এই সালাত তাওবার পূর্বে আদায় করতে হয়, পরে নয়। কেননা হাদিসটিতে প্রথমে সালাতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে এবং এরপর "সুম্মা" (ثم) অব্যয় যোগে ক্ষমা প্রার্থনাকে (ইস্তিগফার) তার সাথে সংযুক্ত করা হয়েছে, যা মূলত তাওবা 1 অথবা তাওবার একটি অংশ 2। আর এখানে "সুম্মা" শব্দটি ক্রমবিন্যাস (الترتيب) 3 নির্দেশ করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুত তাওবা ওয়াল আহকামুল মুতাআল্লিকা বিহা ফিল ফিকহিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ১৭০)
هَذَا كُله فِيمَا يتَعَلَّق بِالتَّوْبَةِ بِاللِّسَانِ، وَهِي المرادة هُنَا عِنْد الْإِطْلَاق، وَالَّتِي هِيَ مُنَاجَاة العَبْد ربه بإعلان النَّدَم على فعل الْمعْصِيَة، والعزم على عدم العودة إِلَيْهَا، وَطلب مغْفرَة الذَّنب الَّذِي ارْتَكَبهُ. أما النَّدَم بِالْقَلْبِ وَالَّذِي هُوَ فِي حد ذَاته تَوْبَة1، أَو ركنها الْأَعْظَم 2، لحَدِيث: "النَّدَم تَوْبَة" 3، فَإِنَّهُ يكون قبل
--------------------------------------------
এই সবকিছু মৌখিক তাওবার সাথে সংশ্লিষ্ট, এবং সাধারণভাবে এখানে এটিই উদ্দেশ্য, যা হলো কোনো বান্দা কর্তৃক অবাধ্যতার কাজের জন্য অনুশোচনা প্রকাশ, পুনরায় তাতে ফিরে না যাওয়ার সংকল্প এবং কৃত পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনার মাধ্যমে আপন রবের সাথে নিভৃত আলাপ করা। পক্ষান্তরে অন্তরের অনুশোচনা, যা কি না স্বয়ং তাওবা
১ অথবা এর সর্বশ্রেষ্ঠ রুকন বা স্তম্ভ
২, কারণ হাদিসে এসেছে: "অনুশোচনাই হলো তাওবা"
৩, আর তা হয়ে থাকে এর আগে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুত তাওবা ওয়াল আহকামুল মুতাআল্লিকা বিহা ফিল ফিকহিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ১৭১)
الصَّلَاة وَبعدهَا، لِأَن الْمُسلم لن يعزم على صَلَاة التَّوْبَة إِلَّا وَقد نَدم قلبه على فعل الْمعْصِيَة، وعزم على الإقلاع عَنْهَا، وَلَا يعْتَبر استغفاره بعد هَذِه الصَّلَاة تَوْبَة إِلَّا إِذا صَحبه نَدم الْقلب، وَإِلَّا كَانَت تَوْبَته غير صَادِقَة 1.
--------------------------------------------
সালাত এবং এর পরবর্তীতে; কেননা একজন মুসলিম তাওবার সালাতের দৃঢ় সংকল্প (عزم) তখনই করে যখন তার অন্তর সংঘটিত পাপের জন্য অনুতপ্ত হয় এবং তা বর্জনের (إقلاع) সিদ্ধান্ত নেয়। এই সালাতের পর তার ক্ষমা প্রার্থনা তাওবা হিসেবে গণ্য হবে না যতক্ষণ না তার সাথে অন্তরের অনুশোচনা (ندم) যুক্ত থাকে; অন্যথায় তার তাওবা সত্য (صادقة) হবে না ১।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুত তাওবা ওয়াল আহকামুল মুতাআল্লিকা বিহা ফিল ফিকহিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ১৭২)
المبحث الرَّابِعصفة صَلَاة التَّوْبَةصَلَاة التَّوْبَة صَلَاة نَافِلَة1 يتَعَيَّن لَهَا جَمِيع الشُّرُوط اللَّازِمَة لصَلَاة النَّافِلَة، وَيجب فِيهَا من الْأَركان والواجبات مَا يجب فِي صَلَاة النَّافِلَة.
وَهِي رَكْعَتَانِ، كَمَا فِي حَدِيث أبي بكر الصّديق- رضي الله عنه 2.
ويشرع للتائب أَن يُصليهَا مُنْفَردا، لِأَنَّهَا من النَّوَافِل الَّتِي لَا تشرع لَهَا صَلَاة الْجَمَاعَة3، وَينْدب لَهَا بعْدهَا أَن يسْتَغْفر الله تَعَالَى، لحَدِيث أبي بكر- رضي الله عنه-4.
وَقَالَ الْغَزالِيّ عِنْد كَلَامه على الْأُمُور الَّتِي إِذا أتبع بهَا الذَّنب كَانَ الْعَفو عَنهُ مرجوا، قَالَ: " أَن تصلي عقيب الذَّنب رَكْعَتَيْنِ ثمَّ تستغفر الله تَعَالَى بعدهمَا سبعين مرّة، وَتقول: سُبْحَانَ الله الْعَظِيم وَبِحَمْدِهِ مائَة مرّة، ثمَّ تَتَصَدَّق بِصَدقَة، ثمَّ تَصُوم يَوْمًا"5.
--------------------------------------------
চতুর্থ পরিচ্ছেদতওবার নামাজের পদ্ধতিতওবার নামাজ একটি নফল (نافلة) নামাজ১। নফল (نافلة) নামাজের জন্য প্রয়োজনীয় সকল শর্ত এর জন্যও অবধারিত এবং নফল (نافلة) নামাজে যেসকল রোকন (أركان) ও ওয়াজিব (واجبات) পালন করা আবশ্যক, এই নামাজেও তা আবশ্যক।
এটি দুই রাকাত, যেমনটি আবু বকর সিদ্দিক (রা.)-এর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে২।
তওবাকারীর জন্য এই নামাজ একাকী আদায় করা বিধেয়, কারণ এটি এমন নফল (نوافل) ইবাদতসমূহের অন্তর্ভুক্ত যার জন্য জামাতে (جماعة) নামাজ পড়ার বিধান নেই৩। এই নামাজের পর আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করা মুস্তাহাব (يندب), আবু বকর (রা.)-এর হাদিসের কারণে৪।
ইমাম গাজালি (রহ.) সেই বিষয়গুলোর বর্ণনায় বলেন যা পাপের পর করলে ক্ষমা পাওয়ার আশা রাখা যায়: "পাপের পর দুই রাকাত নামাজ আদায় করবে, অতপর নামাজের পর সত্তর বার আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে এবং একশ বার 'সুবহানাল্লাহিল আজিমি ওয়া বিহামদিহি' বলবে। এরপর কিছু দান-সদকা করবে এবং একদিন রোজা রাখবে"৫।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুত তাওবা ওয়াল আহকামুল মুতাআল্লিকা বিহা ফিল ফিকহিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ১৭৩)
وَهَذَا القَوْل فِيهِ نظر، فَأصل مَشْرُوعِيَّة الاسْتِغْفَار، وَذكر الله تَعَالَى وَالَّذِي يَشْمَل التَّسْبِيح والتحميد ثَابت فِي هَذَا الْموضع بقوله تَعَالَى: {وَالَّذِينَ إِذَا فَعَلُوا فَاحِشَةً أَوْ ظَلَمُوا أَنْفُسَهُمْ ذَكَرُوا اللَّهَ فَاسْتَغْفَرُوا لِذُنُوبِهِمْ} 1، وَإِن كَانَ قد اخْتلف فِي المُرَاد بقوله تَعَالَى فِي هَذِه الْآيَة {ذَكَرُوا اللَّهَ} ، فَقيل: المُرَاد ذكرُوا وَعِيد الله على مَا فعلوا من معصيتهم إِيَّاه، وتذكروا عِقَابه، وَقيل: المُرَاد ذكرُوا الله بِاللِّسَانِ2، وَقيل: المُرَاد: الصَّلَاة3.
وَقد يُقَال: إِن لفظ الْآيَة يعم هَذِه الْأُمُور كلهَا 4.
وَكَذَلِكَ الصَّدَقَة يدل على مشروعيتها فِي هَذَا الْموضع عُمُوم قَول الله
--------------------------------------------
এবং এই বক্তব্যে পর্যালোচনার অবকাশ (نظر) রয়েছে। কেননা ইস্তিগফারের বৈধতার মূল ভিত্তি এবং মহান আল্লাহর যিকির—যা তাসবিহ ও তাহমিদকে অন্তর্ভুক্ত করে—তা এই প্রসঙ্গে মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে প্রমাণিত: {আর যারা কোনো অশ্লীল কাজ করলে অথবা নিজেদের প্রতি জুলুম করলে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং তাদের পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে} ১। যদিও এই আয়াতে মহান আল্লাহর বাণী {তারা আল্লাহকে স্মরণ করে} এর উদ্দেশ্য সম্পর্কে মতভেদ রয়েছে। বলা হয়েছে: এর উদ্দেশ্য হলো তারা তাদের কৃত নাফরমানির ব্যাপারে আল্লাহর হুঁশিয়ারির কথা স্মরণ করে এবং তাঁর শাস্তির কথা মনে করে। আবার বলা হয়েছে: এর উদ্দেশ্য হলো মুখে আল্লাহর যিকির করা ২। আর বলা হয়েছে: এর উদ্দেশ্য হলো সালাত ৩।
এবং বলা যেতে পারে যে, আয়াতের শব্দসমূহ এই সবকটি বিষয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে ৪।
অনুরূপভাবে, সদাকাহর বৈধতার ওপর এই ক্ষেত্রে মহান আল্লাহর বাণীর ব্যাপকতা (عموم) প্রমাণ করে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুত তাওবা ওয়াল আহকামুল মুতাআল্লিকা বিহা ফিল ফিকহিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ১৭৪)
تَعَالَى: {إِنْ تُبْدُوا الصَّدَقَاتِ فَنِعِمَّا هِيَ وَإِنْ تُخْفُوهَا وَتُؤْتُوهَا الْفُقَرَاءَ فَهُوَ خَيْرٌ لَكُمْ وَيُكَفِّرُ عَنْكُمْ مِنْ سَيِّئَاتِكُمْ} 1.
وَثَبت عَن كَعْب بن مَالك رضي الله عنه أَنه قَالَ لما تَابَ الله عَلَيْهِ: "يَا رَسُول الله إنّ من تَوْبَتِي أَن أَنْخَلِع من مَالِي صَدَقَة إِلَى الله وَإِلَى رَسُوله، قَالَ رَسُول الله: " أمسك عَلَيْك بعض مَالك فَهُوَ خير لَك "، قَالَ: فَإِنِّي أمسك سهمي الَّذِي بِخَيْبَر". مُتَّفق عَلَيْهِ2.
وَثَبت عَن أبي هُرَيْرَة رضي الله عنه عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ: "من حلف، فَقَالَ فِي حلفه: "وَاللات والعزّى" فَلْيقل: "لَا إِلَه إِلَّا الله "، وَمن قَالَ لصَاحبه: "تعال أقامرك"3 فليتصدق " مُتَّفق عَلَيْهِ4. وَفِي رِوَايَة لمُسلم: "فليتصدق بِشَيْء" 5.
--------------------------------------------
আল্লাহ তাআলা বলেন: {যদি তোমরা প্রকাশ্যে দান করো তবে তা কতই না চমৎকার; আর যদি তোমরা তা গোপনে করো এবং অভাবগ্রস্তদের তা প্রদান করো, তবে তা তোমাদের জন্য আরও বেশি কল্যাণকর এবং তিনি তোমাদের কিছু পাপ মোচন করবেন} ১।
কাব ইবনে মালিক (রা.) থেকে সাব্যস্ত (ثبت) হয়েছে যে, যখন আল্লাহ তাঁর তাওবা কবুল করলেন তখন তিনি বললেন: "হে আল্লাহর রাসুল! আমার তাওবার অংশ হিসেবে আমি আমার সমস্ত সম্পদ থেকে বিমুক্ত হয়ে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের উদ্দেশ্যে সদকা করতে চাই।" আল্লাহর রাসুল বললেন: "তোমার কিছু সম্পদ নিজের কাছে রাখো, তা তোমার জন্য কল্যাণকর।" তিনি বললেন: "তবে আমি খায়বারে প্রাপ্ত আমার অংশটি রেখে দিচ্ছি।" ঐকমত্যপূর্ণ (متفق عليه) ২।
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে নবী কারীম (সা.) সূত্রে সাব্যস্ত (ثبت) যে, তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি শপথ করে এবং শপথের মাঝে বলে: 'লাত ও উযযার শপথ', সে যেন বলে: 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'। আর যে ব্যক্তি তার সঙ্গীকে বলে: 'এসো জুয়া খেলি'৩, সে যেন সদকা করে।" ঐকমত্যপূর্ণ (متفق عليه) ৪। মুসলিম-এর এক বর্ণনায় (رواية): "সে যেন কিছু একটা সদকা করে" ৫।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুত তাওবা ওয়াল আহকামুল মুতাআল্লিকা বিহা ফিল ফিকহিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ১৭৫)
وَثَبت عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم أَنه قَالَ: " الصَّدَقَة تُطْفِئ الْخَطِيئَة، كَمَا يُطْفِئ المَاء النَّار" 1.
وَكَذَلِكَ عدد الاسْتِغْفَار ورد فِيهِ حَدِيث أبي هُرَيْرَة رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ
--------------------------------------------
নবী (সা.) থেকে এটি প্রমাণিত যে তিনি বলেছেন: "দান-সদকা পাপকে মিটিয়ে দেয়, যেমন পানি আগুনকে নিভিয়ে দেয়।" ১।
অনুরূপভাবে ইস্তিগফারের সংখ্যার বিষয়ে আবু হুরায়রা (রা.)-এর হাদিস বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুত তাওবা ওয়াল আহকামুল মুতাআল্লিকা বিহা ফিল ফিকহিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ১৭৬)
رَسُول الله صلى الله عليه وسلم: "وَالله إِنِّي لأستغفر الله وَأَتُوب إِلَيْهِ فِي الْيَوْم أَكثر من سبعين مرّة" 1.
وَثَبت عَن الْأَغَر الْمُزنِيّ رضي الله عنه أَنه قَالَ: قَالَ رَسُول الله:"إِنَّه ليغان 2 على قلبِي، وَإِنِّي لأستغفر الله فِي الْيَوْم مائَة مرّة" رَوَاهُ مُسلم 3.
وَأَيْضًا فعموم قَوْله تَعَالَى: {وَأَقِمِ الصَّلاةَ طَرَفَيِ النَّهَارِ وَزُلَفاً مِنَ اللَّيْلِ إِنَّ
--------------------------------------------
আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আল্লাহর কসম! নিশ্চয়ই আমি প্রতিদিন সত্তর বারেরও বেশি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট তওবা করি।" ১.
আল-আগার আল-মুজানি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে প্রমাণিত যে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "কখনো কখনো আমার অন্তরের ওপর আবরণ (পর্দা) পড়ে যায় এবং নিশ্চয়ই আমি প্রতিদিন একশ বার আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি।" এটি ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেছেন ৩।
পাশাপাশি মহান আল্লাহর বাণীর ব্যাপকতা: {আর দিনের দুই প্রান্তেই নামায কায়েম করো এবং রাতের একাংশেও; নিশ্চয়ই নেক আমলসমূহ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুত তাওবা ওয়াল আহকামুল মুতাআল্লিকা বিহা ফিল ফিকহিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ১৭৭)
الْحَسَنَاتِ يُذْهِبْنَ السَّيِّئَاتِ ذَلِكَ ذِكْرَى لِلذَّاكِرِينَ} 1 يدل على أَن فعل الْأَعْمَال الصَّالِحَة بعد السَّيئَة يكفرهَا 2.
لَكِن تَقْيِيد التَّسْبِيح والتحميد وَالصِّيَام بِهَذِهِ الْأَعْدَاد لَا دَلِيل عَلَيْهِ، وَهُوَ من الْبدع الْمُحرمَة، لما ثَبت فِي الصَّحِيحَيْنِ عَن عَائِشَة رضي الله عنها قَالَت: قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم: "من أحدث فِي أمرنَا هَذَا مَا لَيْسَ مِنْهُ فَهُوَ رد" 3. وَفِي رِوَايَة لمُسلم: "من عمل عملا لَيْسَ عَلَيْهِ أمرنَا فَهُوَ رد " 4، وَلما ثَبت فِي صَحِيح مُسلم من حَدِيث جَابر بن عبد الله رضي الله عنهما قَالَ: كَانَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم إِذا خطب احْمَرَّتْ عَيناهُ وَعلا صَوته وَاشْتَدَّ غَضَبه حَتَّى كَأَنَّهُ مُنْذر جَيش يَقُول: صبّحكم ومسّاكم، وَيَقُول: "بعثت أَنا والساعة كهاتين" ويقرن بَين إصبعيه السبابَة وَالْوُسْطَى، وَيَقُول:" أما بعد فَإِن خير الحَدِيث كتاب الله، وَخير الْهَدْي
--------------------------------------------
{নিশ্চয়ই নেক আমলসমূহ গুনাহসমূহকে মিটিয়ে দেয়; যারা উপদেশ গ্রহণ করে এটি তাদের জন্য উপদেশ} ১। এটি প্রমাণ করে যে, মন্দ কাজের পর নেক আমল করা তাকে (মন্দ কাজকে) মোচন করে দেয় ২।
কিন্তু তসবিহ, তাহমিদ এবং রোজা পালনকে এই নির্দিষ্ট সংখ্যার সাথে সীমাবদ্ধ করার সপক্ষে কোনো দলিল নেই। আর এটি হারাম বিদআতের অন্তর্ভুক্ত; যেহেতু সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমে আয়েশা (রা.) থেকে সাব্যস্ত হয়েছে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বীনের মধ্যে এমন কোনো নতুনের উদ্ভব ঘটালো যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তবে তা প্রত্যাখ্যানযোগ্য (رد)" ৩। আর মুসলিমের এক বর্ণনায় আছে: "যে ব্যক্তি এমন কোনো কাজ করল যা আমাদের দ্বীনের আদর্শভুক্ত নয়, তবে তা প্রত্যাখ্যানযোগ্য (رد)" ৪। আরও যেহেতু সহিহ মুসলিমে জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে সাব্যস্ত হয়েছে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন খুতবা দিতেন, তখন তাঁর চোখ দুটি লাল হয়ে যেত, তাঁর আওয়াজ উচ্চ হতো এবং তাঁর ক্রোধ তীব্র হতো, যেন তিনি কোনো সেনাবাহিনীর সতর্ককারী, তিনি বলতেন: "শত্রুরা সকাল-সন্ধ্যায় তোমাদের আক্রমণ করতে প্রস্তুত।" তিনি আরও বলতেন: "আমি এবং কিয়ামত এই দুটির ন্যায় প্রেরিত হয়েছি" এবং তিনি তাঁর তর্জনী ও মধ্যমা অঙ্গুলি দুটিকে একত্রে মেলাতেন। তিনি বলতেন: "অতঃপর জেনে রেখ, নিশ্চয়ই সর্বোত্তম বাণী হলো আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশ হলো...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুত তাওবা ওয়াল আহকামুল মুতাআল্লিকা বিহা ফিল ফিকহিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ১৭৮)
هدي مُحَمَّد، وَشر الْأُمُور محدثاتها، وكل بِدعَة ضَلَالَة " 1.
وَذكر الملا عَليّ الْقَارِي2 رحمه الله أَنه يقْرَأ فِي هَذِه الصَّلَاة سورتي الْإِخْلَاص، {قُلْ يَا أَيُّهَا الْكَافِرُونَ} ، و {قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ} ، أَو يقْرَأ قَوْله تَعَالَى: {وَالَّذِينَ إِذَا فَعَلُوا فَاحِشَةً أَوْ ظَلَمُوا أَنْفُسَهُمْ ذَكَرُوا اللَّهَ فَاسْتَغْفَرُوا لِذُنُوبِهِمْ وَمَنْ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلاّ اللَّهُ وَلَمْ يُصِرُّوا عَلَى مَا فَعَلُوا وَهُمْ يَعْلَمُونَ} 3، وَقَوله تَعَالَى: {وَمَنْ يَعْمَلْ سُوءاً أَوْ يَظْلِمْ نَفْسَهُ ثُمَّ يَسْتَغْفِرِ اللَّهَ يَجِدِ اللَّهَ غَفُوراً رَحِيماً} 4.
وَالصَّحِيح أَنه لَا يشرع تَخْصِيص هَذِه الصَّلَاة بسور أَو آيَات بِعَينهَا، لِأَنَّهُ لم يرد فِي ذَلِك شَيْء عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم.
--------------------------------------------
"...মুহাম্মাদের হিদায়াত, আর সর্বনিকৃষ্ট বিষয় হলো (দ্বীনের মধ্যে) নবউদ্ভুদ বিষয়সমূহ (محدثات), এবং প্রত্যেক বিদআত (بدعة) হলো পথভ্রষ্টতা (ضلالة)।" ১.
মোল্লা আলী আল-ক্বারী ২ (রহিমাহুল্লাহ) উল্লেখ করেছেন যে, এই নামাজে ইখলাস সূতাদ্বয় অর্থাৎ: {কুল ইয়া আইয়্যুহাল কাফিরুন} এবং {কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ} তিলাওয়াত করা হবে, অথবা মহান আল্লাহর এই বাণী পাঠ করা হবে: {আর যারা কোনো অশ্লীল কাজ করলে অথবা নিজেদের প্রতি জুলুম করলে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং নিজেদের পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। আর আল্লাহ ছাড়া কে পাপ ক্ষমা করবেন? এবং তারা যা করেছে, জেনে-বুঝে তাতে অটল থাকে না।} ৩ এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আর কেউ মন্দ কাজ করলে অথবা নিজের প্রতি জুলুম করলে অতঃপর আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করলে, সে আল্লাহকে অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু হিসেবে পাবে।} ৪।
আর বিশুদ্ধ (الصحيح) মত হলো যে, এই নামাজের জন্য নির্দিষ্ট কোনো সূরা বা আয়াত নির্ধারণ করা শরীয়তসম্মত নয়, কারণ এ বিষয়ে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে কোনো কিছু বর্ণিত হয়নি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুত তাওবা ওয়াল আহকামুল মুতাআল্লিকা বিহা ফিল ফিকহিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ১৭৯)
الخاتمةالْحَمد لله وَحده، وَبعد: فَمن خلال بحث الْأَحْكَام الْمُتَعَلّقَة بِصَلَاة التَّوْبَة ظهر لي الْأُمُور الْآتِيَة:
الْأَمر الأول:
ثُبُوت هَذِه الصَّلَاة عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم.
الْأَمر الثَّانِي:
أَنَّهَا تشرع عِنْد تَوْبَة الْمُسلم من أَي ذَنْب، سَوَاء كَانَ من الْكَبَائِر أم من الصَّغَائِر، وَسَوَاء كَانَت هَذِه التَّوْبَة بعد اقتراف الْمعْصِيَة مُبَاشرَة، أم بعد مُضِيّ زمن.
الْأَمر الثَّالِث:
أَن هَذِه الصَّلَاة تُؤَدّى فِي جَمِيع الْأَوْقَات، بِمَا فِي ذَلِك أَوْقَات النَّهْي.
الْأَمر الرَّابِع:
أَن الصَّحِيح من أَقْوَال أهل الْعلم أَن هَذِه الصَّلَاة قبل التَّوْبَة لَا بعْدهَا.
الْأَمر الْخَامِس.
أَن هَذِه الصَّلَاة فِي أَرْكَانهَا وواجباتها وَمَا يشْتَرط لَهَا كَصَلَاة النَّافِلَة، وَهِي رَكْعَتَانِ.
الْأَمر السَّادِس:
أَنه يسْتَحبّ مَعَ هَذِه الصَّلَاة فعل بعض القربات، كالصدقة وَالذكر وَالصِّيَام وَغَيرهَا.
وَفِي الختام أسأَل الله أَن ينفع بِهَذَا الْعَمَل كَاتبه وَجَمِيع الْمُسلمين. وَصلى الله وَسلم على نَبينَا مُحَمَّد وعَلى آله وَصَحبه أَجْمَعِينَ.
উপসংহারপ্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য। অতঃপর: তাওবার নামাজ সংক্রান্ত বিধিবিধান পর্যালোচনার মাধ্যমে আমার নিকট নিম্নোক্ত বিষয়গুলো প্রতিভাত হয়েছে:
প্রথম বিষয়:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এই নামাজের প্রামাণিকতা (ثبوت) সাব্যস্ত হওয়া।
দ্বিতীয় বিষয়:
যেকোনো পাপ থেকে কোনো মুসলিম যখন তাওবা করে, তখন এই নামাজ পড়া বিধেয়; চাই তা কবিরা গুনাহ হোক কিংবা সগিরা। আর এই তাওবা অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পরপরই হোক কিংবা দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পর হোক।
তৃতীয় বিষয়:
এই নামাজ নিষিদ্ধ সময়সমূহসহ সকল সময়েই আদায় করা যায়।
চতুর্থ বিষয়:
বিদ্বানগণের মতামতের মধ্যে বিশুদ্ধ (الصحيح) মত হলো, এই নামাজ তাওবা করার পূর্বে পড়তে হয়, পরে নয়।
পঞ্চম বিষয়:
এই নামাজ তার রুকন, ওয়াজিব এবং শর্তাবলির ক্ষেত্রে নফল নামাজের মতো; আর এটি দুই রাকাত।
ষষ্ঠ বিষয়:
এই নামাজের পাশাপাশি কিছু নেক আমল করা মুস্তাহাব, যেমন: দান-সদকা, জিকির ও রোজা ইত্যাদি।
পরিশেষে, আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন এই আমলের মাধ্যমে এর লেখক এবং সকল মুসলিমকে উপকৃত করেন। আর আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং সকল সঙ্গীর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।