(খণ্ড: ১) সালাতুত তাওবা ওয়াল আহকামুল মুতাআল্লিকা বিহা ফিল ফিকহিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: -)
صلاة التوبة والأحكام المتعلقة بها في الفقه الإسلامي   (عبد الله بن عبد العزيز الجبرين)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: صلاة التوبة والأحكام المتعلقة بها في الفقه الإسلامي

المؤلف: عبد الله بن عبد العزيز بن حمادة الجبرين

الناشر: الجامعة الاسلامية بالمدينة المنورة

الطبعة: السنة 27 - العددان 103 و 104 -- 1416/1417هـ/1996-1997م

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

عدد الصفحات: 179

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

তাওবার নামাজ এবং ইসলামি ফিকহশাস্ত্রে এর সাথে সংশ্লিষ্ট আহকামসমূহ   (আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজিজ আল-জাবরিন)

বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ


বই: তাওবার নামাজ এবং ইসলামি ফিকহশাস্ত্রে এর সাথে সংশ্লিষ্ট আহকামসমূহ

লেখক: আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজিজ বিন হামাদ আল-জাবরিন

প্রকাশক: মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়

সংস্করণ: ২৭তম বর্ষ - সংখ্যা ১০৩ ও ১০৪ -- ১৪১৬/১৪১৭ হিজরি/১৯৯৬-১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দ

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৭৯

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) সালাতুত তাওবা ওয়াল আহকামুল মুতাআল্লিকা বিহা ফিল ফিকহিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ১৫৫)
‌‌مُقَدّمَة

…

صَلَاة التَّوْبَة وَالْأَحْكَام الْمُتَعَلّقَة بهَا

فِي الْفِقْه الإسلامي

تأليف

الدكتور عبد الله بن عبد الْعَزِيز الجبرين

الْأُسْتَاذ المشارك بكلية المعلمين بالرياض
‌‌ভূমিকা

…

সালাতুত তাওবা এবং তৎসংশ্লিষ্ট বিধিবিধান

ইসলামি ফিকহ শাস্ত্রে

রচনায়

ডক্টর আবদুল্লাহ বিন আব্দুল আজিজ আল-জিবরীন

রিয়াদস্থ টিচার্স কলেজের সহযোগী অধ্যাপক
(খণ্ড: ১) সালাতুত তাওবা ওয়াল আহকামুল মুতাআল্লিকা বিহা ফিল ফিকহিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ১৫৭)
بسم الله الرحمن الرحيم

تمهيد

إِن الْحَمد لله نحمده، ونستعينه وَنَسْتَغْفِرهُ، ونستهديه، ونعوذ بِاللَّه من شرور أَنْفُسنَا وَمن سيئات أَعمالنَا، من يهده الله فَلَا مضل لَهُ، وَمن يضلل فَلَا هادي لَهُ، وَأشْهد أَن لَا اله إِلَّا الله وَحده لَا شريك لَهُ، وَأشْهد أَن مُحَمَّدًا عَبده وَرَسُوله.

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلَاّ وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} 1.

{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالاً كَثِيراً وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيباً} 2.

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلاً سَدِيداً يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزاً عَظِيماً} 3.

أما بعد:

فإنّ من رَحْمَة الله تَعَالَى بِهَذِهِ الْأمة أَن فتح لَهَا بَاب التَّوْبَة، فَلَا تَنْقَطِع حَتَّى تبلغ الرّوح الْحُلْقُوم أَو ينزل الْعَذَاب أَو تطلع الشَّمْس من مغْرِبهَا4، وَلم يُوجب عَلَيْهَا سبحانه وتعالى لقبُول هَذِه التَّوْبَة مَا أوجبه على بعض من سبقها من الْأُمَم، فقد كَانَ من الآصار الَّتِي حملت على من قبلنَا اشْتِرَاط قتل النَّفس فِي

--------------------------------------------

1 سُورَة آل عمرَان: 102.

2سُورَة النِّسَاء: 1.

3 سُورَة الْأَحْزَاب: (70، 71) .

4 سَيَأْتِي الْكَلَام على هَذِه الْمسَائِل بِشَيْء من التَّفْصِيل فِي المبحث الثَّانِي، وَسَيَأْتِي الْكَلَام على شُرُوط التَّوْبَة الْعَامَّة فِي المبحث الثَّالِث.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

ভূমিকা

নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি, তাঁর নিকট ক্ষমা ভিক্ষা করি এবং তাঁর নিকট হেদায়েত কামনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক এবং তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর বান্দা ও রাসূল।

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং আত্মসমর্পণকারী (মুসলিম) না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।} ১।

{হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের রবের তাকওয়া অবলম্বন করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তা থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের উভয় থেকে বহু পুরুষ ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো, যাঁর দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের নিকট যাঞ্চা করো এবং রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয়তার ব্যাপারে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখেন।} ২।

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তবেই তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করল।} ৩।

অতঃপর:

নিশ্চয়ই এই উম্মতের প্রতি আল্লাহ তাআলার রহমতসমূহের অন্যতম হলো এই যে, তিনি তাদের জন্য তওবার দরজা উন্মুক্ত করে দিয়েছেন। এটি ততক্ষণ পর্যন্ত বন্ধ হবে না যতক্ষণ না প্রাণ কণ্ঠাগত হয় অথবা আজাব নেমে আসে কিংবা পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উদিত হয় ৪। এই তওবা কবুল করার জন্য মহান আল্লাহ তাদের ওপর এমন কঠিন শর্তারোপ করেননি যা তিনি তাদের পূর্ববর্তী কোনো কোনো উম্মতের ওপর করেছিলেন। আমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর যে কঠিন বোঝা ও কঠোর বিধিবিধান চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল, তার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল তওবা কবুলের ক্ষেত্রে নিজেদের নফসকে হত্যা করার শর্তারোপ...

--------------------------------------------

১ সূরা আল-ইমরান: ১০২।

২ সূরা আন-নিসা: ১।

৩ সূরা আল-অাহজাব: (৭০, ৭১)।

৪ দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে এই বিষয়গুলো নিয়ে কিছুটা বিস্তারিত আলোচনা আসবে এবং তৃতীয় পরিচ্ছেদে তওবার সাধারণ শর্তসমূহ নিয়ে আলোচনা আসবে।
(খণ্ড: ১) সালাতুত তাওবা ওয়াল আহকামুল মুতাআল্লিকা বিহা ফিল ফিকহিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ১৫৮)
قبُول التَّوْبَة قَالَ الله تَعَالَى: {وَإِذْ قَالَ مُوسَى لِقَوْمِهِ يَا قَوْمِ إِنَّكُمْ ظَلَمْتُمْ أَنْفُسَكُمْ بِاتِّخَاذِكُمُ الْعِجْلَ فَتُوبُوا إِلَى بَارِئِكُمْ فَاقْتُلُوا أَنْفُسَكُمْ ذَلِكُمْ خَيْرٌ لَكُمْ عِنْدَ بَارِئِكُمْ فَتَابَ عَلَيْكُمْ إِنَّهُ هُوَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ} 1.

وَمن رَحمته تَعَالَى بِهَذِهِ الْأمة كَذَلِك أَن شرع لَهُم عبَادَة من أفضل الْعِبَادَات، يتوسل بهَا العَبْد المذنب إِلَى ربه 2، رَجَاء قبُول تَوْبَته، وَهِي "صَلَاة التَّوْبَة "3 4.

ونظراً إِلَى أَن هَذِه الْعِبَادَة الْعَظِيمَة وَالسّنة الثَّابِتَة قد هجرها أَكثر الْمُسلمين، حَتَّى كَادَت تندثر بَينهم، وَرُبمَا استعاضوا عَنْهَا بِأُمُور لم ترد فِي الشَّرْع، ونظراً إِلَى أَن مسَائِل هَذِه الْمَوْضُوع لم تنتظم فِي رِسَالَة مُسْتَقلَّة، أَحْبَبْت أَن أجمع هَذِه الْمسَائِل فِي بحث مُسْتَقل.

وَقد اشْتَمَل هَذَا الْبَحْث على أَرْبَعَة مبَاحث، وخاتمة:

المبحث الأول: مَشْرُوعِيَّة صَلَاة التَّوْبَة وسببها:

وَفِيه مَسْأَلَتَانِ:

الْمَسْأَلَة الأولى: مشروعيتها.

الْمَسْأَلَة الثَّانِيَة: سَببهَا.

المبحث الثَّانِي: وَقت صَلَاة التَّوْبَة.

المبحث الثَّالِث: مَحل صَلَاة التَّوْبَة.

المبحث الرَّابِع: صفة صَلَاة التَّوْبَة.

أما الخاتمة فتشتمل على خُلَاصَة مَا انْتهى إِلَيْهِ هَذَا الْبَحْث.

وَصلى الله على نَبينَا مُحَمَّد وعَلى آله وَصَحبه أَجْمَعِينَ.

--------------------------------------------

1 سُورَة الْبَقَرَة: 54. وَينظر تَفْسِير ابْن كثير 1/130-132، وأضواء الْبَيَان 1/327.

2 ينظر شرح الطَّيِّبِيّ لمشكاة المصابيح 3/180.

3 قَالَ الشَّيْخ عبد الرَّحْمَن بن قَاسم فِي الإحكام 1/321 عِنْد شَرحه لحَدِيث أبي بكر الصّديق فِي صَلَاة التَّوْبَة، قَالَ: "وَفِيه اسْتِيفَاء وُجُوه الطَّاعَة فِي التَّوْبَة، لِأَنَّهُ نَدم، فَتطهر، ثمَّ صلى، تمّ اسْتغْفر، وَإِذا أَتَى بذلك على أكمل الْوُجُوه غفر الله لَهُ بوعده الصَّادِق". وَسَيَأْتِي تَخْرِيج حَدِيث أبي بكر رضي الله عنه قَرِيبا.
তওবা কবুল হওয়া। মহান আল্লাহ বলেন: {আর যখন মুসা তাঁর সম্প্রদায়কে বললেন, হে আমার সম্প্রদায়! গোবৎসকে উপাস্যরূপে গ্রহণ করে তোমরা নিজেদের ওপর জুলুম করেছ। সুতরাং তোমরা তোমাদের স্রষ্টার নিকট তওবা করো এবং নিজেদের প্রাণ উৎসর্গ করো; তোমাদের স্রষ্টার নিকট এটাই তোমাদের জন্য কল্যাণকর। অতঃপর তিনি তোমাদের তওবা কবুল করলেন; নিশ্চয়ই তিনি তওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু।} ১।

এই উম্মতের প্রতি মহান আল্লাহর দয়া ও করুণার এটিও একটি দিক যে, তিনি তাদের জন্য অন্যতম শ্রেষ্ঠ একটি ইবাদত বিধিবদ্ধ করেছেন, যার মাধ্যমে একজন পাপী বান্দা তার রবের নিকট ওসিলা তালাশ করে ২, তার তওবা কবুল হওয়ার আশায়; আর তা হলো "তওবার নামাজ" ৩ ৪।

এই মহান ইবাদত এবং সুপ্রতিষ্ঠিত (ثابتة) সুন্নাহটি অধিকাংশ মুসলিম বর্জন করার কারণে এটি তাদের মধ্য থেকে প্রায় বিলুপ্ত হওয়ার উপক্রম হয়েছে এবং এর পরিবর্তে সম্ভবত তারা এমন সব বিষয় গ্রহণ করেছে যা শরিয়তে বর্ণিত হয়নি। যেহেতু এই বিষয়ের মাসআলাগুলো কোনো স্বতন্ত্র পুস্তিকায় সুবিন্যস্ত ছিল না, তাই আমি এই মাসআলাগুলোকে একটি পৃথক গবেষণাপত্রে সংকলন করতে চেয়েছি।

এই গবেষণাটি চারটি পরিচ্ছেদ ও একটি উপসংহারের ওপর বিন্যস্ত:

প্রথম পরিচ্ছেদ: তওবার নামাজের বিধান ও এর কারণ:

এতে দুটি মাসআলা রয়েছে:

প্রথম মাসআলা: এর বিধান।

দ্বিতীয় মাসআলা: এর কারণ।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তওবার নামাজের সময়।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তওবার নামাজের স্থান।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: তওবার নামাজের পদ্ধতি।

উপসংহার: এটি এই গবেষণার সারসংক্ষেপের ওপর مشتمل (পরিবেষ্টিত)।

আল্লাহ তাআলা আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন।

--------------------------------------------

১ সূরা আল-বাকারাহ: ৫৪। আরও দ্রষ্টব্য: তাফসির ইবনে কাসির ১/১৩০-১৩২ এবং আদওয়াউল বায়ান ১/৩২৭।

২ দ্রষ্টব্য: মিশকাতুল মাসাবিহ-এর শারহুত তিবি ৩/১৮০।

৩ শেখ আব্দুর রহমান বিন কাসিম 'আল-ইহকাম' ১/৩২১-এ তওবার নামাজ সম্পর্কিত আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদিস ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেছেন: "এতে তওবার ক্ষেত্রে আনুগত্যের সকল দিক পরিপূর্ণ করা হয়েছে। কারণ তিনি অনুতপ্ত হয়েছেন, অতঃপর পবিত্রতা অর্জন করেছেন, এরপর নামাজ পড়েছেন, তারপর ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। আর যখন কেউ পূর্ণাঙ্গভাবে এগুলো সম্পাদন করবে, আল্লাহ তাঁর সত্য ওয়াদা অনুযায়ী তাকে ক্ষমা করে দেবেন।" শীঘ্রই আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদিসের উৎস নির্দেশ (تخريج) করা হবে।
(খণ্ড: ১) সালাতুত তাওবা ওয়াল আহকামুল মুতাআল্লিকা বিহা ফিল ফিকহিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ১৫৯)
‌‌المبحث الأول: مَشْرُوعِيَّة صَلَاة التَّوْبَة وسببها

‌‌الْمَسْأَلَة الأولى: مَشْرُوعِيَّة صَلَاة التَّوْبَة

…

المبحث الأول

مَشْرُوعِيَّة صَلَاة التَّوْبَة وسببها

وَفِيه مَسْأَلَتَانِ:

الْمَسْأَلَة الأولى: مَشْرُوعِيَّة صَلَاة التَّوْبَة:

أجمع أهل الْعلم على مَشْرُوعِيَّة صَلَاة التَّوْبَة1، لما ثَبت عَن أَمِير الْمُؤمنِينَ عَليّ ابْن أبي طَالب رضي الله عنه قَالَ: "كنت إِذا سَمِعت من رَسُول الله صلى الله عليه وسلم حَدِيثا نَفَعَنِي الله مِنْهُ بِمَا شَاءَ أَن يَنْفَعنِي، وَإِذا حَدثنِي أحد من الصَّحَابَة اسْتَحْلَفته فَإِذا حلف لي صدقته، قَالَ: وحَدثني أَبُو بكر وَصدق أَبُو بكر- رضي الله عنه أَنه قَالَ: "سَمِعت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَقُول: " مَا من عبد يُذنب ذَنبا فيُحسِنُ الطّهُور ثمَّ يقوم فَيصَلي رَكْعَتَيْنِ ثمَّ يسْتَغْفر الله إِلَّا غفر الله لَهُ " ثمَّ قَرَأَ هَذِه الْآيَة

--------------------------------------------

1 لم أَقف على من حكى إِجْمَاع الْعلمَاء على هَذِه الْمَسْأَلَة، لَكِن بعد الْبَحْث ومراجعة كتب أهل الْعلم لم أَقف على من قَالَ بِعَدَمِ مشروعيتها وَهَذِه بعض المصادر فِي هَذِه الْمَسْأَلَة:

1- عارضة الأحوذي (2/196، 197) . 2- الْمُغنِي (2/553) . 3- مَجْمُوع فتاوىَ ابْن تَيْمِية (23/215) . 4- التَّرْغِيب والترهيب (1/214) . 5- الْفُرُوع (1/567) . 6- الْمُبْدع (2/25، 26) . 7- إحْيَاء عُلُوم الدّين (5/49) . 8- نِهَايَة الْمُحْتَاج (2/142) . 9- فتح الْبَارِي (11/98) . 10- تَفْسِير ابْن كثير (2/104، 105) . 11- مُغنِي الْمُحْتَاج (1/225) . 12- كشاف القناع (1/443) . 13- مُخْتَصر منهاج القاصدين (ص 327) . 14- شرح الطَّيِّبِيّ لمشكاة المصابيح (3/180) . 15- تحفة الْمُحْتَاج (2/26) . 16- دَلَائِل الْأَحْكَام (2/360) . 17- الرَّوْض الندي (ص 95) . 18- غَايَة الْمُنْتَهى (1/171) . 19- الإحكام شرح أصُول الْأَحْكَام (1/321) . 20- الْإِقْنَاع للشربيني (1/101) . 21- مرقاة المفاتيح (2/187) . 22- رد الْمُحْتَار على الدّرّ الْمُخْتَار (1/462) . 23- شرح السندي لسنن ابْن مَاجَه (1/424) . 24- بُلُوغ الْأَمَانِي (19/239،240) . 25 - حَاشِيَة قليوبي (1/6 21) . 26- شرح مُنْتَهى الإرادات (1/236) . 27- بذل المجهود (7/378) . 28- عون المعبود (5/573، 574) . 29- حَاشِيَة الرَّوْض المربع للشَّيْخ عبد الرَّحْمَن بن قَاسم (2/231) . 30- حَاشِيَة الشرواني (2/238) . 31- الدُّرَر السّنيَّة فِي الْأَجْوِبَة النجدية 4/242.

وَينظر أيضاًَ كتب السّنة وَغَيرهَا الَّتِي رُوِيَ فِيهَا حَدِيث أبي بكر- رَضِي الله عه- فِي صَلَاة التَّوْبَة، وَسَيَأْتِي تَخْرِيج هَذَا الحَدِيث قَرِيبا.
‌প্রথম পরিচ্ছেদ: তওবার নামাজের বিধান এবং এর কারণ

‌‌প্রথম অনুচ্ছেদ: তওবার নামাজের বিধান

…

প্রথম পরিচ্ছেদ

তওবার নামাজের বিধান এবং এর কারণ

এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: তওবার নামাজের বিধান:

আলেমগণ তওবার নামাজের বিধানের ওপর ঐক্যমত (إجماع) পোষণ করেছেন, কারণ আমিরুল মুমিনিন আলি ইবনে আবি তালিব (রা.) হতে প্রমাণিত (ثبت) হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "আমি যখন রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট থেকে কোনো হাদিস শুনতাম, আল্লাহ তা থেকে আমাকে যতটুকু ইচ্ছা উপকার দান করতেন। আর যখন সাহাবিদের কেউ আমাকে কোনো হাদিস শোনাতেন, আমি তাকে কসম করাতাম। তিনি যখন কসম করতেন, তখন আমি তাকে সত্য বলে গ্রহণ করতাম। তিনি বলেন: আবু বকর (রা.) আমার নিকট বর্ণনা করেছেন—আর আবু বকর সত্যই বলেছেন—তিনি বলেন: 'আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি: "কোনো বান্দা যখন কোনো গুনাহ করে ফেলে, অতঃপর সে উত্তমরূপে পবিত্রতা অর্জন করে এবং দাঁড়িয়ে দুই রাকাত নামাজ আদায় করে, এরপর আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করে, তবে আল্লাহ তাকে অবশ্যই ক্ষমা করে দেন।"' এরপর তিনি এই আয়াতটি পাঠ করলেন...

--------------------------------------------

১. এই বিষয়ে আলেমদের ঐক্যমত (إجماع) উদ্ধৃত করেছেন এমন কাউকে আমি পাইনি; তবে আলেমদের কিতাবসমূহ অনুসন্ধান ও পর্যালোচনার পর, এর বিধানকে অস্বীকার করেছেন এমন কাউকে আমি খুঁজে পাইনি। এই মাসআলার কিছু উৎস নিম্নরূপ:

১- আরিদাতুল আহওয়াজি (২/১৯৬, ১৯৭)। ২- আল-মুগনি (২/৫৫৩)। ৩- মাজমুউ ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়্যাহ (২৩/২১৫)। ৪- আত-তারগিব ওয়াত-তারহিব (১/২১৪)। ৫- আল-ফুরু (১/৫৬৭)। ৬- আল-মুবদি (২/২৫, ২৬)। ৭- এহিয়া উলুমিদ্দীন (৫/৪৯)। ৮- নিহায়াতুল মুহতাজ (২/১৪২)। ৯- ফাতহুল বারী (১১/৯৮)। ১০- তাফসিরে ইবনে কাসির (২/১০৪, ১০৫)। ১১- মুগনি আল-মুহতাজ (১/২২৫)। ১২- কাশশাফুল কিনা (১/৪৪৩)। ১৩- মুখতাসার মিনহাজুল কাসিদিন (পৃষ্ঠা ৩২৭)। ১৪- মিশকাতুল মাসাবিহ-এর শারহে তিবি (৩/১৮০)। ১৫- তুহফাতুল মুহতাজ (২/২৬)। ১৬- দালায়েলুল আহকাম (২/৩৬০)। ১৭- আর-রওদুন নাদি (পৃষ্ঠা ৯৫)। ১৮- গায়াতুল মুনতাহা (১/১৭১)। ১৯- আল-ইহকাম শারহু উসুলিল আহকাম (১/৩২১)। ২০- আল-ইকনা লিশ-শারবিনি (১/১০১)। ২১- মিরকাতুল মাফাতিহ (২/১৮৭)। ২২- আদ-দুররুল মুখতারের ওপর রদ্দুল মুহতার (১/৪৬২)। ২৩- সুনানে ইবনে মাজাহ-এর শারহে সিন্দি (১/৪২৪)। ২৪- বুলুগুল আমানি (১৯/২৩৯, ২৪০)। ২৫- হাশিয়া কলিউবি (১/৬২১)। ২৬- শারহু মুনতাহাল ইরাদাত (১/২৩৬)। ২৭- বাজলুল মাজহুদ (৭/৩৭৮)। ২৮- আউনুল মাবুদ (৫/৫৭৩, ৫৭৪)। ২৯- শায়খ আব্দুর রহমান বিন কাসিম রচিত হাশিয়া আর-রওদুল মুরব্বি (২/২৩১)। ৩০- হাশিয়া আশ-শারওয়ানি (২/২৩৮)। ৩১- আদ-দুরারুস সানিয়্যাহ ফিল আজউইবাতিন নাজদিয়্যাহ ৪/২৪২।

তওবার নামাজ সম্পর্কে আবু বকর (রা.) বর্ণিত হাদিসটি যে সকল সুন্নাহর কিতাব ও অন্যান্য গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে তাও দেখা যেতে পারে। অচিরেই এই হাদিসের তাখরিজ (تخريج) আলোচনা করা হবে।
(খণ্ড: ১) সালাতুত তাওবা ওয়াল আহকামুল মুতাআল্লিকা বিহা ফিল ফিকহিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ১৬০)
{وَالَّذِينَ إِذَا فَعَلُوا فَاحِشَةً أَوْ ظَلَمُوا أَنْفُسَهُمْ ذَكَرُوا اللَّهَ} (آل عمرَان: من الْآيَة135) إِلَى آخر الْآيَة1.

وَلِهَذَا الحَدِيث شَوَاهِد مِنْهَا:

1- مَا رَوَاهُ يُوسُف بن عبد الله بن سَلام- رضي الله عنهما قَالَ: "أتيت أَبَا الدَّرْدَاء- رضي الله عنه فِي مَرضه الَّذِي مَاتَ فِيهِ، فَقَالَ: يَا ابْن أخي، مَا عناك إِلَى هَذَا الْبَلَد، وَمَا أعملك إِلَيْهِ؟ قلت: مَا عناني وَمَا أعملني إِلَّا مَا كَانَ بَيْنك وَبَين أبي. فَقَالَ: أقعدوني. فَأخذت بِيَدِهِ فأقعدته، وَقَعَدت خلف ظَهره، وتساند إليّ، ثمَّ قَالَ: بئس سَاعَة الْكَذِب هَذِه. ثمَّ قَالَ: سَمِعت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَقُول: "من تَوَضَّأ فَأحْسن الْوضُوء، ثمَّ قَامَ فصلى رَكْعَتَيْنِ، أَو أَرْبعا يحسن فِيهَا

--------------------------------------------

1 رَوَاهُ الإِمَام أَحْمد فِي مُسْنده 1/153، 154، 174، 175، 178، رقم (2، 48، 56) وفِي فَضَائِل الصَّحَابَة 9/159، 413، رقم (142، 642) ، وَابْن أبي شيبَة فِي مُصَنفه فِي الصَّلَاة فِيمَا يكفر بِهِ الذُّنُوب 2 /387، 388، والْحميدِي فِي مُسْنده 1/2،4 رقم (1، 4) ، وَأَبُو دَاوُد الطَّيَالِسِيّ فِي مُسْنده ص (2، 3) ، وَأَبُو دَاوُد السجسْتانِي فِي سنَنه فِي كتاب الصَّلَاة بَاب فِي الاسْتِغْفَار 2/86، رقم (1521) ، وَالتِّرْمِذِيّ فِي سنَنه فِي الصَّلَاة بَاب مَا جَاءَ فِي الصَّلَاة عِنْد التَّوْبَة 7/257، رقم (406) ، وَفِي تَفْسِير الْقُرْآن 5/228، رقم (3006) ، وَالنَّسَائِيّ فِي تَفْسِيره 1/330، رقم (98) ، وَفِي سنَنه الْكُبْرَى، وَفِي عمل الْيَوْم وَاللَّيْلَة (كَمَا فِي تحفة الْأَشْرَاف 5/300، حَدِيث6610) ، وَابْن مَاجَه فِي إِقَامَة الصَّلَاة وَالسّنة فِيهَا بَاب مَا جَاءَ فِي أَن الصَّلَاة كَفَّارَة 1/446، حَدِيث (1295) ، والمروزي فِي مُسْند أبي بكر ص (42 - 44) ، رقم (9 - 11) ، وَابْن أبي حَاتِم فِي تَفْسِيره 2/553، حَدِيث (1455) ، والطبري فِي تَفْسِيره 7/220، 222، حَدِيث (7853 - 855) ، وَأَبُو يعلي فِي مُسْنده 1/11، 23، 24، رقم (1، 12، 13) ، وَالْبَزَّار فِي مُسْنده 1/61- 64، رقم (9- 11) ، وَابْن حبَان فِي صَحِيحه (موارد الظمآن كتاب التَّوْبَة بَاب فِيمَن أذْنب ثمَّ صلى واستغفر ص 608، رقم 2454) ، (والإِحسان بَاب التَّوْبَة: ذكر مغْفرَة الله جلّ وَعلا للتائب المستغفر لذنبه إِذا عَقِب استغفاره صَلَاة 2/10، رقم 622) ، وَالطَّبَرَانِيّ فِي كتاب الدُّعَاء بَاب فضل الاسْتِغْفَار فِي أدبار الصَّلَوَات 3/1623 –1626، رقم (1841 – 1844) ، وَابْن السّني فِي عمل الْيَوْم وَاللَّيْلَة بَاب مَا يَقُول إِذا أذْنب ذَنبا ص 109، رقم (361) ، وَابْن عدي فِي الْكَامِل 1/420، 421، والعقيلي فِي الضُّعَفَاء 1/106، وَالْبَيْهَقِيّ فِي الدَّعْوَات الْكَبِير رقم 149، وَالْبَغوِيّ فِي تَفْسِيره 1/353، وَفِي شرح السّنة بَاب الصَّلَاة عِنْد التَّوْبَة (4/151، 152) ، رقم (1105) ، وَأَبُو نعيم فِي أَخْبَار أَصْبَهَان 1/142
{এবং যারা কোনো অশ্লীল কাজ করলে অথবা নিজেদের প্রতি জুলুম করলে আল্লাহকে স্মরণ করে} (আল ইমরান: আয়াত ১৩৫-এর অংশবিশেষ) আয়াতের শেষ পর্যন্ত।১

এবং এই হাদিসের কিছু সমর্থক বর্ণনা (شواهد) রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:

১- ইউসুফ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমি আবু দারদা (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট তাঁর অন্তিম অসুস্থতার সময় আসলাম। তিনি বললেন: হে ভ্রাতুষ্পুত্র, কোন উদ্দেশ্য তোমাকে এই শহরে নিয়ে এসেছে এবং কী তোমাকে এখানে আসার পরিশ্রম করাল? আমি বললাম: আপনার এবং আমার পিতার মধ্যকার সুসম্পর্ক ছাড়া অন্য কোনো বিষয় আমাকে এখানে আনেনি। তখন তিনি বললেন: আমাকে বসিয়ে দাও। আমি তাঁর হাত ধরলাম এবং তাঁকে বসিয়ে দিলাম, আর আমি তাঁর পেছনে বসলাম। তিনি আমার ওপর হেলান দিলেন, অতঃপর বললেন: মিথ্যা বলার জন্য এটি কতই না মন্দ সময়। তারপর তিনি বললেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: 'যে ব্যক্তি উত্তমরূপে অজু করল, অতঃপর দাঁড়িয়ে দুই বা চার রাকাত সালাত আদায় করল এবং তাতে সে নিষ্ঠা বজায় রাখল...'

--------------------------------------------

১ ইমাম আহমদ তাঁর মুসনাদে (১/১৫৩, ১৫৪, ১৭৪, ১৭৫, ১৭৮, নম্বর ২, ৪৮, ৫৬), ফাদায়িলুস সাহাবায় (৯/১৫৯, ৪১৩, নম্বর ১৪২, ৬৪২), ইবনে আবি শায়বা তাঁর মুসান্নাফে সালাত অধ্যায়ে পাপ মোচনকারী আমল পরিচ্ছেদে (২/৩৮৭, ৩৮৮), হুমাইদি তাঁর মুসনাদে (১/২, ৪, নম্বর ১, ৪), আবু দাউদ তায়ালিসি তাঁর মুসনাদে (পৃষ্ঠা ২, ৩), আবু দাউদ সিজিস্তানি তাঁর সুনানে সালাত অধ্যায়ের ইস্তিগফার পরিচ্ছেদে (২/৮৬, নম্বর ১৫২১), তিরমিজি তাঁর সুনানে সালাত অধ্যায়ের তওবার সময় সালাত পরিচ্ছেদে (৭/২৫৭, নম্বর ৪০৬) ও কুরআনের তাফসির পরিচ্ছেদে (৫/২২৮, নম্বর ৩০০৬), নাসায়ি তাঁর তাফসিরে (১/৩৩০, নম্বর ৯৮), তাঁর সুনানুল কুবরায় এবং আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলায় (যেমনটি তুহফাতুল আশরাফ-এ বর্ণিত হয়েছে ৫/৩০০, হাদিস ৬৬১০), ইবনে মাজাহ সালাত কায়েম ও এর সুন্নাহ অধ্যায়ের সালাত গুনাহের কাফফারা হওয়া পরিচ্ছেদে (১/৪৪৬, হাদিস ১২৯৫), মারওয়াজি মুসনাদে আবু বকর-এ (পৃষ্ঠা ৪২-৪৪, নম্বর ৯-১১), ইবনে আবি হাতিম তাঁর তাফসিরে (২/৫৫৩, হাদিস ১৪৫৫), তাবারি তাঁর তাফসিরে (৭/২২০, ২২২, হাদিস ৭৮৫৩-৮৫৫), আবু ইয়ালা তাঁর মুসনাদে (১/১১, ২৩, ২৪, নম্বর ১, ১২, ১৩), বাজজার তাঁর মুসনাদে (১/৬১-৬৪, নম্বর ৯-১১), ইবনে হিব্বান তাঁর সাহিহে (মাওয়ারিদুজ জামআন, তওবা অধ্যায়, যে ব্যক্তি পাপ করার পর সালাত আদায় ও ইস্তিগফার করে সেই পরিচ্ছেদ, পৃষ্ঠা ৬০৮, নম্বর ২৪٥৪; এবং আল-ইহসান, তওবা অধ্যায়, তওবাকারীর ক্ষমা প্রার্থনা ও সালাত আদায় করলে মহান আল্লাহর ক্ষমা করার বিবরণ, ২/১০, নম্বর ৬২২), তাবারানি তাঁর কিতাবুদ দুয়ায় সালাত পরবর্তী ইস্তিগফারের ফজিলত পরিচ্ছেদে (৩/১৬২৩-১৬২৬, নম্বর ১৮৪১-১৮৪৪), ইবনে সুন্নি আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলায় পাপ করলে যা বলতে হয় সেই পরিচ্ছেদে (পৃষ্ঠা ১০৯, নম্বর ৩৬১), ইবনে আদি আল-কামিলে (১/৪২০, ৪২১), উকাইলি আদ-দুয়াফায় (১/১০৬), বায়হাকি আদ-দাওয়াতুল কুবরায় (নম্বর ১৪৯), বাগাওয়ি তাঁর তাফসিরে (১/৩৫৩) ও শারহুস সুন্নাহ-এর তওবার সময় সালাত পরিচ্ছেদে (৪/১৫১, ১৫২, নম্বর ১১০৫) এবং আবু নুয়াইম আখবারু আসবাহানে (১/১৪২) বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) সালাতুত তাওবা ওয়াল আহকামুল মুতাআল্লিকা বিহা ফিল ফিকহিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ১৬১)
من طرق عَن عُثْمَان ابْن الْمُغيرَة الثَّقَفِيّ عَن عَليّ بن ربيعَة الْوَالِي عَن أَسمَاء ابْن الحكم الْفَزارِيّ عَن عَليّ- رضي الله عنه فَذكره. وَإِسْنَاده حسن، رِجَاله ثِقَات رجال البُخَارِيّ، عدا أَسمَاء ابْن الحكم فقد وَثَّقَهُ الْعجلِيّ فِي تَارِيخ الثِّقَات ص 63، وَابْن حبَان فِي ثقاته 4/59 وَقَالَ: "يُخطئ"، وَقَالَ الْحَافِظ فِي التَّقْرِيب: "صَدُوق"، وَقد أَطَالَ الْحَافِظ الْكَلَام حول هَذَا الحَدِيث فِي تَهْذِيب التَّهْذِيب1/267 فِي تَرْجَمَة أَسمَاء هَذَا، وَقَالَ: "وَهَذَا الحَدِيث جيد الْإِسْنَاد". وَحسنه فِي الْفَتْح 11/98، وَقَالَ ابْن عدي فِي تَرْجَمَة أَسمَاء أَيْضا بعده رِوَايَته لهَذَا الحَدِيث: "وَهَذَا الحَدِيث طَرِيقه حسن وَأَرْجُو أَن يكون صَحِيحا" وينظر التَّارِيخ الْكَبِير للْبُخَارِيّ 2/554. والعلل للدارقطني 1/176 – 180، وتهذيب الْكَمَال لوحة (93) .

وَقد صحّح هدا الحَدِيث غير من ذكر النَّسَائِيّ كَمَا فِي فتح الْقَدِير للشوكانيِ 1/382، والحافظ ابْن كثير فِي تَفْسِيره 1/104، وَابْن مُفْلِح فِي الْفُرُوع 1/567، وَأحمد شَاكر فِي عُمْدَة التَّفْسِير 1/42، والشيح مُحَمَّد نَاصِر الدّين فِي تَعْلِيقه على مشكاة المصابيح 1/416، وَشُعَيْب الأرنؤوط فِي تَعْلِيقه على مُسْند أبي بكر، وحسين سليم أَسد فِي تَعْلِيقه على مُسْند أبي يعلي، والدكتور مُحَمَّد سعيد البُخَارِيّ فِي تَعْلِيقه على كتاب الدُّعَاء للطبراني، والدكتور حكمت ياسين فِي تَعْلِيقه على تَفْسِير ابْن أبي حَاتِم.

وَقد روى هَذَا الحَدِيث الطَّبَرَانِيّ فِي الدُّعَاء 3/1645، 1626، رقم (1844) وابْن عدي فِي الْكَامِل 1/421، والخطيب الْبَغْدَادِيّ فِي موضح أَوْهَام الْجمع والتفريق 2/434 من طَرِيق مُعَاوِيَة بن أبي الْعَبَّاس عَن عَليّ بن ربيعَة بِهِ، وَإِسْنَاده ضَعِيف جدا، مُعَاوِيَة بن أبي الْعَبَّاس مُتَّهم بِسَرِقَة الحَدِيث. ينظر الموضح 2/423 – 426.

وَرَوَاهُ أَيْضا الْحميدِي فِي مُسْنده 1/4 ،5 رقم (5) ، والطبري فِي تَفْسِيره 7/222، رقم (7855) ، وَالطَّبَرَانِيّ فِي الدُّعَاء 3/1626، رقم (1846) ، وَابْن عدي فِي الْكَامِل 3/1190 من طَرِيق عبد الله بن سعيد المَقْبُري عَن جده أبي سعيد عَن عَليّ بِهِ. وَإِسْنَاده ضَعِيف جدا، عبد الله بن سعيد المَقْبُري مَتْرُوك كَمَا فِي التَّقْرِيب.

وَقد ذكر الدَّارَقُطْنِيّ فِي الْعِلَل 1/176 –180 طرقاً أُخْرَى كَثِيرَة لهَذَا الحَدِيث، وَبَعضهَا عِنْد الطَّبَرَانِيّ فِي الدُّعَاء 3/1625، 1626، رقم (1843، 1845، 1847) ثمَّ قَالَ الدَّارَقُطْنِيّ بعد ذكره لما فِيهِ من الِاخْتِلَاف وَمَا فِي بَعْضهَا من الضعْف الشَّديد، قَالَ: "وأحسنها إِسْنَادًا وأصحها مَا رَوَاهُ الثَّوْريّ ومسعر وَمن تابعها عَن عُثْمَان بن الْمُغيرَة". وَهِي الرِّوَايَة الأولى.

وَذكر الْمزي فِي تحفة الْأَشْرَاف 5/300، وَفِي تَهْذِيب الْكَمَال لوحة (93) متابعات كَثِيرَة لرِوَايَة أَسمَاء بن الحكم، وَتعقبه الْحَافِظ فِي التَّهْذِيب 1/268 بقوله: "والمتابعات الَّتِي ذكرهَا لَا تشد هَذَا الحَدِيث شَيْئا، لِأَنَّهَا ضَعِيفَة جدا ".

উসমান ইবনে মুগিরাহ আস-সাকাফি থেকে বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত, তিনি আলী বিন রাবিয়াহ আল-ওয়ালি থেকে, তিনি আসমা ইবনে হাকাম আল-ফাজারি থেকে, তিনি আলী (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন; অতঃপর তিনি তা উল্লেখ করেছেন। এর সনদ (إسناد) হাসান (حسن), এর বর্ণনাকারীগণ (رجال) ইমাম বুখারির নির্ভরযোগ্য (ثقات) বর্ণনাকারীগণের অন্তর্ভুক্ত, শুধু আসমা ইবনে হাকাম ছাড়া; তবে আল-ইজলি 'তারিখুস সিকাত' (পৃ. ৬৩) গ্রন্থে তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন (وثقه) এবং ইবনে হিব্বান তার 'আস-সিকাত' (৪/৫৯) গ্রন্থে তাকে উল্লেখ করে বলেছেন: "তিনি ভুল করেন (يخطئ)"। হাফিজ (ইবনে হাজার) 'তাকরিব' গ্রন্থে বলেছেন: "তিনি সত্যবাদী (صدوق)"। হাফিজ এই হাদিস সম্পর্কে 'তাজিবুত তাহজিব' (১/২৬৭) গ্রন্থে এই আসমার জীবনীর আলোচনায় দীর্ঘ আলোচনা করেছেন এবং বলেছেন: "এই হাদিসটির সনদ উত্তম (جيد الإسناد)"। তিনি 'ফাতহুল বারি' (১১/৯৮) গ্রন্থে একে হাসান বলেছেন (حسنه)। ইবনে আদিও আসমার জীবনীতে এই হাদিসটি তার বর্ণনার পর বলেছেন: "এই হাদিসটির সূত্র (طريق) হাসান (حسن) এবং আমি আশা করি এটি সহিহ (صحيح) হবে।" বিস্তারিত দেখুন: বুখারির 'তারিখুল কাবির' ২/৫৫৪, দারাকুমনির 'আল-ইলাল' ১/১৭৬-১৮০ এবং 'তাজিবুল কামাল' (পৃষ্ঠা ৯৩)।

ইমাম নাসায়ি যাদের কথা উল্লেখ করেছেন তারা ছাড়াও অনেকে এই হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন (صحح), যেমন শাওকানির 'ফাতহুল কাদির' (১/৩৮২), হাফিজ ইবনে কাসিরের 'তাফসির' (১/১০৪), ইবনে মুফলিহের 'আল-ফুরু' (১/৫৬৭), আহমাদ শাকিরের 'উমদাতুত তাফসির' (১/৪২), শেখ মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিনের 'মিশকাতুল মাসাবিহ'-এর টিকা (১/৪১৬), শুআইব আরনাউতের 'মুসনাদে আবু বকর'-এর টিকা, হুসাইন সালিম আসাদের 'মুসনাদে আবু ইয়ালা'-এর টিকা, ড. মুহাম্মদ সাঈদ বুখারির তাবারানির 'কিতাবুদ দুআ'-এর টিকা এবং ড. হিকমত ইয়াসিনের 'তাফসির ইবনে আবি হাতিম'-এর টিকা।

এই হাদিসটি তাবারানি 'আদ-দুআ' (৩/১৬৪৫, ১৬২৬, নং ১৮৪৪), ইবনে আদি 'আল-কামিল' (১/৪২১) এবং খাতিব আল-বাগদাদি 'মুদিহু আওহামিল জাময়ি ওয়াত তাফরিক' (২/৪৩৪) গ্রন্থে মুয়াবিয়া ইবনে আবিল আব্বাস থেকে, তিনি আলী বিন রাবিয়াহ থেকে এই সূত্রে বর্ণনা করেছেন; তবে এর সনদ (إسناد) অত্যন্ত দুর্বল (ضعيف جدا)। মুয়াবিয়া ইবনে আবিল আব্বাস হাদিস চুরির (سرقة الحديث) দায়ে অভিযুক্ত (متهم)। বিস্তারিত দেখুন 'আল-মুদিহ' ২/৪২৩-৪২৬।

হুমাইদি তার 'মুসনাদ' (১/৪, ৫, নং ৫), তাবারি তার 'তাফসির' (৭/২২২, নং ৭৮৫৫), তাবারানি 'আদ-দুআ' (৩/১৬২৬, নং ১৮৪৬) এবং ইবনে আদি 'আল-কামিল' (৩/১১৯০) গ্রন্থে আব্দুল্লাহ ইবনে সাঈদ আল-মাকবুরি থেকে, তিনি তার দাদা আবু সাঈদ থেকে, তিনি আলী (রা.) থেকে এই সূত্রে বর্ণনা করেছেন। এই সনদটিও (إسناد) অত্যন্ত দুর্বল (ضعيف جدا); আব্দুল্লাহ ইবনে সাঈদ আল-মাকবুরি হলেন পরিত্যক্ত (متروك), যেমনটি 'তাকরিব' গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে।

দারাকুতনি 'আল-ইলাল' (১/১৭৬-১৮০) গ্রন্থে এই হাদিসের আরও অনেকগুলো সূত্র (طرقا) উল্লেখ করেছেন, যার কিছু তাবারানি 'আদ-দুআ' (৩/১৬২৫, ১৬২৬, নং ১৮৪৩, ১৮৪৫, ১৮৪৭) গ্রন্থে এনেছেন। দারাকুতনি এতে বিদ্যমান মতপার্থক্য এবং কোনো কোনোটির চরম দুর্বলতা উল্লেখ করার পর বলেছেন: "এগুলোর মধ্যে সনদের বিচারে অধিক উত্তম (أحسنها إسنادا) এবং অধিক সহিহ (أصحها) হলো সেটি, যা সাওরি, মিসআর এবং তাদের অনুসারীগণ উসমান ইবনুল মুগিরাহ থেকে বর্ণনা করেছেন।" আর এটিই হলো প্রথম বর্ণনা (الرواية)।

আল-মিজ্জি 'তুহফাতুল আশরাফ' (৫/৩০০) এবং 'তাজিবুল কামাল' (পৃষ্ঠা ৯৩) গ্রন্থে আসমা ইবনে হাকামের বর্ণনার জন্য অনেকগুলো সমর্থক বর্ণনা (متابعات) উল্লেখ করেছেন। তবে হাফিজ (ইবনে হাজার) 'আত-তাজিব' (১/২৬৮) গ্রন্থে এর সমালোচনা করে বলেছেন: "তিনি যে সমর্থক বর্ণনাগুলো (متابعات) উল্লেখ করেছেন তা এই হাদিসকে কোনোভাবেই শক্তিশালী করে না, কারণ সেগুলো অত্যন্ত দুর্বল (ضعيفة جدا)।"

(খণ্ড: ১) সালাতুত তাওবা ওয়াল আহকামুল মুতাআল্লিকা বিহা ফিল ফিকহিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ১৬২)
الرُّكُوع وَالسُّجُود، ثمَّ يسْتَغْفر الله، إِلَّا غفر الله لَهُ " 1.

2- مَا رَوَاهُ الْبَيْهَقِيّ فِي شعب الْإِيمَان عَن الْحسن- رحمه الله مُرْسلا قَالَ: قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم: "مَا أذْنب عبد ذَنبا ثمَّ تَوَضَّأ فَأحْسن الْوضُوء، ثمَّ خرج إِلَى برَاز من الأَرْض فصلى فِيهِ رَكْعَتَيْنِ، واستغفر الله من ذَلِك الذَّنب إِلَّا غفر الله لَهُ " 2.

3- مَا رَوَاهُ عبد الله بن بُرَيْدَة عَن أَبِيه- رضي الله عنه قَالَ: أصبح رَسُول الله يَوْمًا فَدَعَا بِلَالًا، فَقَالَ: "يابلال بِمَ سبقتني إِلَى الْجنَّة؟ إِنِّي دخلت البارحة الْجنَّة فَسمِعت خشخشتك أَمَامِي" فَقَالَ بِلَال: "يَا رَسُول الله مَا أذنبت قطّ إِلَّا صليت رَكْعَتَيْنِ، وَمَا أصابني حدث قطّ إِلَّا تَوَضَّأت عِنْدهَا. فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم: "بِهَذَا" 3.

--------------------------------------------

1 رَوَاهُ الإِمَام أَحْمد فِي مُسْنده 6/450 وَاللَّفْظ لَهُ، وَالطَّبَرَانِيّ فِي الْأَوْسَط (كَمَا فِي مجمع الْبَحْرين 1/419،420، حَيْثُ 546) ، وَفِي كتاب الدُّعَاء بَاب فضل الاسْتِغْفَار فِي أدبار الصَّلَوَات 3/2626، 1627، رقم (1848) من طرق عَن صدقه بن أبي سهل ثَنَا كثير أَبُو الْفضل الطوفاوي حَدثنِي يُوسُف ابْن عبد الله بن سَلام فَذكره. وَذكر الإِمَام أَحْمد فِي رِوَايَته أَن لَفْظَة " أَو أَرْبعا ً" شكّ من أحد الروَاة، وَلَفظ الطَّبَرَانِيّ: "فصلى رَكْعَتَيْنِ أَو أَربع رَكْعَات مَكْتُوبَة أَو غير مَكْتُوبَة"، وَقَالَ الطَّبَرَانِيّ فِي الْأَوْسَط- كَمَا فِي مجمع الْبَحْرين-: "لَا يرْوى عَن أبي الدَّرْدَاء إِلَّا بِهَذَا الْإِسْنَاد، تفرد بِهِ صَدَقَة". وَقد اخْتلف فِي صدقه هَذَا، فَقيل: هُوَ صَدَقَة أَبُو سهل الْهنائِي، وَقيل: هُوَ صدقه بن أبي سهل، وَقد وثق ابْن معِين صدقه أَبَا سهل الْهنائِي، وَذكره ابْن حبَان فِي الثِّقَات، أما صَدَقَة بِهِ أبي سهل فَلم يوثقه سوى ابْن حبَان، وروى عَنهُ جمَاعَة من الثِّقَات، فالإسناد حسن إِن كَانَ صدقه هُوَ أَبَا سهل الْهنائِي، وَإِن كَانَ ابْن أبي لسهل فَهُوَ الشواهد.

ينظر التَّارِيخ الْكَبِير 4/297، الْجرْح وَالتَّعْدِيل 4/434، الثِّقَات 4/468، الْإِكْمَال للحسيني ص 183، 184، تَعْجِيل الْمَنْفَعَة ص 185، 186،. 305، وَقد حسن هَذَا الْإِسْنَاد الشَّيْخ عبد القدوس نَذِير فِي تَعْلِيقه على مجمع الْبَحْرين، والدكتور مُحَمَّد سعيد البُخَارِيّ فِي تَعْلِيقه على كتاب الدُّعَاء.

2 ينظر التَّرْغِيب والترهيب لِلْمُنْذِرِيِّ 1/241، والدر المنثور 2/327، وَفتح الْقَدِير للشوكاني 1/382.

3 رَوَاهُ ابْن خُزَيْمَة فِي صَحِيحه فِي بَاب اسْتِحْبَاب الصَّلَاة عِنْد الذَّنب يحدثه الْمَرْء لتَكون تِلْكَ الصَّلَاة كَفَّارَة لما أحدث من الذَّنب 2/213، 214، حَدِيث (1209) عَن يَعْقُوب بن إِبْرَاهِيم الدَّوْرَقِي ثَنَا عَليّ بن الْحسن بن شَقِيق أخبرنَا الْحُسَيْن بن وَاقد عَن عبد الله بن بُرَيْدَة بِهِ. وَرِجَاله ثِقَات، لَكِن فِي رِوَايَة عبد الله بن بُرَيْدَة عَن أَبِيه ضعف، وَقيل: لم يسمع مِنْهُ. ينظر تَهْذِيب التَّهْذِيب 5/158. ومَعَ ذَلِك فقد صحّح هَذِه الرِّوَايَة الدكتور مُحَمَّد مصطفى الأعظمي فِي تَعْلِيقه على صَحِيح ابْن خُزَيْمَة. وَقَالَ الشَّيْخ مُحَمَّد نَاصِر الدّين فِي تَعْلِيقه على هَذَا الحَدِيث فِي صَحِيح ابْن خُزَيْمَة عِنْد قَوْله: "مَا أذنبت" قَالَ: " كَذَا وَقع للْمُصَنف- رحمه الله وَترْجم لَهُ بِمَا سبق، وَوَقع فِي الْمسند وَغَيره: "أَذِنت". من التأذين، وَهُوَ الصَّوَاب ". وَالرِّوَايَة الَّتِي أَشَارَ إِلَيْهَا هِيَ فِي الْمسند 5/460، وَسنَن التِّرْمِذِيّ 5/620، والمستدرك 3/385 من طَرِيق الْحُسَيْن بن وَاقد بِهِ كَمَا فِي الرِّوَايَة السَّابِقَة غير هَذِه اللَّفْظَة الَّتِي هِيَ مَوضِع الشَّاهِد من الحَدِيث.
রুকু ও সিজদাহ (সঠিকভাবে আদায় করে), তারপর আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে, তবে আল্লাহ তাকে অবশ্যই ক্ষমা করে দেন।" 1.

2- ইমাম বায়হাকী 'শুআবুল ঈমান' গ্রন্থে হাসান (রহিমাহুল্লাহ) থেকে বিচ্ছিন্ন (مرسل) সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "কোনো বান্দা যখন কোনো গুনাহ করে, অতঃপর উত্তমরূপে অজু করে জমিনের কোনো নির্জন স্থানে গিয়ে দুই রাকাত নামাজ আদায় করে এবং সেই গুনাহের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে, আল্লাহ তাকে অবশ্যই ক্ষমা করে দেন।" 2.

3- আবদুল্লাহ ইবনে বুরাইদাহ তাঁর পিতা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: একদিন সকালে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিলালকে ডাকলেন এবং বললেন: "হে বিলাল! কোন আমলের কারণে তুমি জান্নাতে আমার আগে পৌঁছে গেলে? আমি গত রাতে জান্নাতে প্রবেশ করে আমার সামনে তোমার পদধ্বনি শুনতে পেলাম।" বিলাল বললেন: "হে আল্লাহর রাসূল! আমি যখনই কোনো গুনাহ করেছি তখনই দুই রাকাত নামাজ পড়েছি, আর যখনই আমার অজু নষ্ট হয়েছে তখনই আমি অজু করে নিয়েছি।" তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "এই কারণেই।" 3.

--------------------------------------------

1 এটি ইমাম আহমদ তাঁর মুসনাদ (৬/৪৫০) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং শব্দগুলো তাঁরই। এছাড়া তাবারানি তাঁর আল-আওসাত (মাজমাউল বাহরাইন ১/৪১৯, ৪২০, হাদিস নং ৫৪৬ অনুযায়ী) এবং কিতাবুদ দুআ-র 'নামাজের শেষে ক্ষমা প্রার্থনার ফজিলত' পরিচ্ছেদে (৩/১৬২৬, ১৬২৭, নং ১৮৪৮) সাদাকাহ ইবনে আবি সাহল সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন কাসীর আবুল ফজল আল-তুফাওয়ী, তিনি ইউসুফ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে সালাম থেকে বর্ণনা করেছেন। ইমাম আহমদ তাঁর বর্ণনায় উল্লেখ করেছেন যে, "অথবা চার (রাকাত)" শব্দটি জনৈক বর্ণনাকারীর সন্দেহ। তাবারানির শব্দগুলো হলো: "সে দুই রাকাত অথবা চার রাকাত ফরজ বা নফল নামাজ আদায় করল"। তাবারানি আল-আওসাত গ্রন্থে বলেছেন: "এটি আবু দারদা থেকে কেবল এই সনদেই বর্ণিত হয়েছে, সাদাকাহ এতে একক (تفرد) হয়ে গেছেন।" এই সাদাকাহ নামক বর্ণনাকারীর ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে; বলা হয়েছে তিনি সাদাকাহ আবু সাহল আল-হুনাই, আবার বলা হয়েছে তিনি সাদাকাহ ইবনে আবি সাহল। ইবনে মাইন সাদাকাহ আবু সাহল আল-হুনাইকে নির্ভরযোগ্য (وثق) বলেছেন এবং ইবনে হিব্বান তাঁকে নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের (الثقات) তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছেন। অন্যদিকে, সাদাকাহ ইবনে আবি সাহলকে ইবনে হিব্বান ছাড়া অন্য কেউ নির্ভরযোগ্য (وثق) বলেননি, তবে তাঁর থেকে একদল নির্ভরযোগ্য (الثقات) বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন। সুতরাং যদি সাদাকাহ আবু সাহল আল-হুনাই হন তবে সনদটি হাসান (حسن), আর যদি তিনি ইবনে আবি সাহল হন তবে এটি সমর্থক বর্ণনার (الشواهد) অন্তর্ভুক্ত হবে।

দ্রষ্টব্য: আল-তারিখুল কাবীর ৪/২৯৭, আল-জারহ ওয়াত তাদীল ৪/৪৩৪, আল-সিকাত ৪/৪৬৮, আল-ইকমাল লিল হুসাইনী পৃ. ১৮৩-১৮৪, তাজিলুল মানফায়াহ পৃ. ১৮৫-১৮৬, ৩০৫। শেখ আব্দুল কুদ্দুস নাযীর মাজমাউল বাহরাইন-এর টীকায় এবং ড. মুহাম্মদ সাঈদ বুখারী কিতাবুদ দুআ-র টীকায় এই সনদটিকে হাসান (حسن) সাব্যস্ত করেছেন।

2 দ্রষ্টব্য: মুনযিরীর আল-তারগীব ওয়াত তারহীব ১/২৪১, আদ-দুররুল মানসুর ২/৩২৭, শাওকানির ফাতহুল কাদীর ১/৩৮২।

3 এটি ইবনে খুজাইমা তাঁর সহিহ গ্রন্থে 'গুনাহ করার পর নামাজ পড়ার মুস্তাহাব হওয়া যাতে সেই নামাজ গুনাহের কাফফারা হয়' পরিচ্ছেদে (২/২১৩, ২১৪, হাদিস নং ১২০৯) ইয়াকুব ইবনে ইবরাহিম আল-দাওরাকি থেকে, তিনি আলী ইবনে হাসান ইবনে শাকিক থেকে, তিনি হুসাইন ইবনে ওয়াকিদ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে বুরাইদাহ থেকে বর্ণনা করেছেন। এর বর্ণনাকারীরা নির্ভরযোগ্য (ثقات), কিন্তু আবদুল্লাহ ইবনে বুরাইদাহর তাঁর পিতা থেকে বর্ণনার ক্ষেত্রে দুর্বলতা (ضعف) রয়েছে, বলা হয়ে থাকে তিনি তাঁর পিতা থেকে শুনেননি। দ্রষ্টব্য: তাহযীবুত তাহযীব ৫/১৫৮। তা সত্ত্বেও ড. মুহাম্মদ মুস্তফা আল-আযমী সহিহ ইবনে খুজাইমার টীকায় এই বর্ণনাটিকে সহিহ (صحيح) সাব্যস্ত করেছেন। শেখ মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন সহিহ ইবনে খুজাইমায় এই হাদিসের টীকায় "আমি যখনই কোনো গুনাহ করেছি" কথাটির প্রেক্ষাপটে বলেছেন: "গ্রন্থকারের (রহিমাহুল্লাহ) কাছে এভাবেই এসেছে এবং তিনি এর ওপর ভিত্তি করেই শিরোনাম দিয়েছেন; তবে মুসনাদ ও অন্যান্য গ্রন্থে এটি 'আমি যখনই আজান দিয়েছি' (أذنت) শব্দে এসেছে, যা আজান দেওয়া থেকে উদ্ভূত এবং এটাই সঠিক।" তিনি যে বর্ণনার দিকে ইশারা করেছেন সেটি মুসনাদ (৫/৪৬০), সুনানে তিরমিজি (৫/৬২০) এবং আল-মুস্তাদরাক (৩/৩৮৫) গ্রন্থে হুসাইন ইবনে ওয়াকিদ সূত্রে পূর্বোক্ত সনদে বর্ণিত হয়েছে, কেবল এই শব্দটি ছাড়া যা হাদিসের মূল আলোচ্য বিষয়।
(খণ্ড: ১) সালাতুত তাওবা ওয়াল আহকামুল মুতাআল্লিকা বিহা ফিল ফিকহিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ১৬৩)
وَقَالَ الْحَافِظ ابْن كثير- رَحمَه الله تَعَالَى-: " ويتأكد الْوضُوء وَصَلَاة رَكْعَتَيْنِ عِنْد التَّوْبَة، لما رَوَاهُ الإِمَام أَحْمد بن حَنْبَل … " ثمَّ ذكر حَدِيث أبي بكر السَّابِق، ثمَّ قَالَ: "وَقد ذكرنَا طرقه وَالْكَلَام عَلَيْهِ مستقصى فِي مُسْند أبي بكر الصّديق، وَبِالْجُمْلَةِ فَهُوَ حَدِيث حسن، وَهُوَ من رِوَايَة أَمِير الْمُؤمنِينَ عَليّ بن أبي طَالب عَن خَليفَة النَّبِي صلى الله عليه وسلم أبي بكر الصّديق- رضي الله عنهما، وَمِمَّا يشْهد لصِحَّة هَذَا الحَدِيث مَا رَوَاهُ مُسلم فِي صَحِيحه1 عَن أَمِير الْمُؤمنِينَ عمر بن الْخطاب- رضي الله عنه عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ: "مَا مِنْكُم من أحد يتَوَضَّأ فَيبلغ- أَو فيسبغ- الْوضُوء، ثمَّ يَقُول: أشهد أَن لَا إِلَه إِلَّا الله وَحده لَا شريك لَهُ، وَأشْهد أنّ مُحَمَّدًا عَبده وَرَسُوله، إِلَّا فتحت لَهُ أَبْوَاب الْجنَّة الثَّمَانِية، يدْخل من أَيهَا شَاءَ". وَفِي الصَّحِيحَيْنِ 2 عَن أَمِير الْمُؤمنِينَ عُثْمَان بن عَفَّان- رضي الله عنه أَنه تَوَضَّأ لَهُم وضوء النَّبِي صلى الله عليه وسلم ثمَّ قَالَ: سَمِعت رَسُول الله يَقُول: " من تَوَضَّأ نَحْو وضوئي هَذَا ثمَّ صلى رَكْعَتَيْنِ لَا يحدث فيهمَا نَفسه غفر لَهُ مَا تقدم من ذَنبه ". فقد ثَبت هَذَا الحَدِيث من رِوَايَة الْأَئِمَّة الْأَرْبَعَة الْخُلَفَاء الرَّاشِدين عَن سيد الْأَوَّلين والآخرين وَرَسُول رب الْعَالمين كَمَا دلّ عَلَيْهِ الْكتاب الْمُبين من أَن الاسْتِغْفَار من الذَّنب ينفع العاصيين ". انْتهى كَلَام الْحَافِظ ابْن كثير رَحمَه الله تَعَالَى 3.

--------------------------------------------

1 صَحِيح مُسلم كتاب الطَّهَارَة بَاب الذّكر الْمُسْتَحبّ عقب الْوضُوء 1/209، 210، حَدِيث (234) .

2 صَحِيح البُخَارِيّ كتاب الْوَضع بَاب الْمَضْمَضَة فِي الْوضُوء (فتح الْبَارِي 1/266، حَدِيث 164، وصحيح مُسلم كتاب الطَّهَارَة بَاب صفة الْوضُوء وكماله 1/204، 205، حَدِيث (226) .

3 ينظر تَفْسِيره 2 /104، 105.

হাফিজ ইবনে কাসীর (রহ.) বলেছেন: "তওবার সময় অজু করা এবং দুই রাকাত নামাজ আদায় করার বিষয়টি সুনিশ্চিত হয়, কারণ ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল বর্ণনা করেছেন … " অতঃপর তিনি আবু বকরের পূর্ববর্তী হাদিসটি উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: "আমরা আবু বকর সিদ্দিকের মুসনাদে এর সূত্রসমূহ (طرق) এবং এ সংক্রান্ত আলোচনা বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছি। পরিশেষে, এটি একটি হাসান (حسن) হাদিস। এটি আমিরুল মুমিনীন আলী ইবনে আবি তালিব কর্তৃক নবী (সা.)-এর খলিফা আবু বকর সিদ্দিক (রা.) থেকে বর্ণিত। এই হাদিসের বিশুদ্ধতার (صحة) সাক্ষ্য দেয় যা ইমাম মুসলিম তাঁর সহিহ-এ (সহিহ মুসলিম)১ আমিরুল মুমিনীন উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি নবী (সা.) থেকে বর্ণনা করেন যে তিনি বলেছেন: "তোমাদের মধ্যে যে কেউ অজু করে এবং পূর্ণাঙ্গভাবে অজু সম্পন্ন করে, অতঃপর বলে: ‘আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসুল’, তবে তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজা খুলে দেওয়া হয়, সে যে কোনোটি দিয়ে ইচ্ছা প্রবেশ করতে পারবে।" এবং সহিহাইনে (সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম)২ আমিরুল মুমিনীন উসমান ইবনে আফফান (রা.) থেকে বর্ণিত যে, তিনি তাদেরকে নবী (সা.)-এর অজুর ন্যায় অজু করে দেখালেন এবং বললেন: আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি: "যে ব্যক্তি আমার এই অজুর মতো অজু করবে, অতঃপর দুই রাকাত নামাজ পড়বে এবং তাতে মনে মনে কোনো পার্থিব কথা বলবে না, তার পূর্ববর্তী সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।" সুতরাং এই হাদিসটি আদি-অন্তের সরদার ও বিশ্বজগতের প্রতিপালকের রাসুলের পক্ষ থেকে চার ইমাম তথা খুলাফায়ে রাশিদীনের বর্ণনার মাধ্যমে প্রমাণিত (ثبت) হয়েছে, যেমনটি সুস্পষ্ট কিতাব (কুরআন) নির্দেশ করে যে, গুনাহ থেকে ক্ষমা প্রার্থনা পাপাচারীদের উপকারে আসে।" হাফিজ ইবনে কাসীর (রহ.)-এর বক্তব্য এখানেই সমাপ্ত৩।

--------------------------------------------

১ সহিহ মুসলিম, পবিত্রতা অধ্যায়, অজুর পরবর্তী জিকির পরিচ্ছেদ ১/২০৯, ২১০, হাদিস (২৩৪)।

২ সহিহ বুখারি, অজু অধ্যায়, অজুতে কুলি করা পরিচ্ছেদ (ফাতহুল বারী ১/২৬৬, হাদিস ১৬৪); এবং সহিহ মুসলিম, পবিত্রতা অধ্যায়, অজুর পদ্ধতি ও পূর্ণতা পরিচ্ছেদ ১/২০৪, ২০৫, হাদিস (২২৬)।

৩ দেখুন তাঁর তাফসীর ২/১০৪, ১০৫।
(খণ্ড: ১) সালাতুত তাওবা ওয়াল আহকামুল মুতাআল্লিকা বিহা ফিল ফিকহিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ১৬৪)
‌‌الْمَسْأَلَة الثَّانِيَة: سَبَب صَلَاة التَّوْبَة:

سَبَب صَلَاة التَّوْبَة هُوَ وُقُوع المسلمِ فِي مَعْصِيّة سَوَاء كَانَت كَبِيرَة أَو صَغِيرَة 1، فَيجب عَلَيْهِ أَن يَتُوب مِنْهَا فَوْرًا 2، وَينْدب لَهُ أَن يُصَلِّي هَاتين الرَّكْعَتَيْنِ، فَيعْمل عِنْد تَوْبَته عملا صَالحا من أجل القربات وأفضلها، وَهُوَ هَذِه الصَّلَاة، فيتوسل بهَا إِلَى الله تَعَالَى رَجَاء أَن تقبل تَوْبَته، وَأَن يغْفر ذَنبه3.

قَالَ ابْن الْعَرَبِيّ عِنْد كَلَامه على حَدِيث أبي بكر فِي صَلَاة التَّوْبَة، قَالَ:"وَفِيه اسْتِيفَاء وُجُوه الطَّاعَة فِي التَّوْبَة، لِأَنَّهُ نَدم فطهر بَاطِنه، ثمَّ تَوَضَّأ، ثمَّ صلى، ثمَّ اسْتغْفر"4.

وَقَالَ الشَّيْخ عبد الرَّحْمَن بن قَاسم رحمه الله عِنْد شَرحه لحَدِيث أبي بكر أَيْضا، قَالَ:"وَفِيه اسْتِيفَاء، وُجُوه الطَّاعَة فِي التَّوْبَة، لِأَنَّهُ نَدم، فَتطهر، ثمَّ صلى، ثمَّ اسْتغْفر، وَإِذا أَتَى بذلك على أكمل الْوُجُوه غفر الله لَهُ بوعده الصَّادِق"5.

--------------------------------------------

1 نِهَايَة الْمُحْتَاج 2/122، حَاشِيَة قليوبي 1/216، حَاشِيَة الشرواني 2/238، بذل المجهود 7/378، مرقاة المفاتيح 2/187.

2 مَجْمُوع فَتَاوَى ابْن تَيْمِية 23/215، مدارج السالكين 1/297، شرح صَحِيح مُسلم 17/59.

3 شرح الطَّيِّبِيّ على الْمشكاة 3/180.

4 عارضة الأحوذي 2/197.

5 الإحكام شرح أصُول الْأَحْكَام 1/221.
‌দ্বিতীয় মাসআলা: তাওবার নামাজের কারণ:

তাওবার নামাজের কারণ হলো কোনো মুসলিম ব্যক্তির পাপে লিপ্ত হওয়া, চাই তা কবিরা গুনাহ হোক কিংবা সগিরা ১। এমতাবস্থায় তার ওপর তাৎক্ষণিকভাবে তা থেকে তাওবা করা ওয়াজিব ২ এবং তার জন্য এই দুই রাকাত নামাজ আদায় করা মুস্তাহাব। সে তার তাওবার সময় আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের শ্রেষ্ঠ ও উত্তম আমলগুলোর মধ্য হতে এই নামাজটি আদায় করবে। এর মাধ্যমে সে আল্লাহ তাআলার নিকট এই প্রত্যাশায় উসিলা গ্রহণ করবে যেন তার তাওবা কবুল করা হয় এবং তার গুনাহ ক্ষমা করা হয় ৩।

ইবনুল আরাবি তাওবার নামাজ সম্পর্কিত আবু বকরের হাদিস বিষয়ে আলোচনার সময় বলেন: "এতে তাওবার ক্ষেত্রে আনুগত্যের সকল দিক পূর্ণতা পেয়েছে। কারণ তিনি অনুতপ্ত হয়েছেন ফলে তার অভ্যন্তর পবিত্র হয়েছে, এরপর অজু করেছেন, এরপর নামাজ পড়েছেন এবং এরপর ইস্তিগফার করেছেন" ৪।

শায়খ আবদুর রহমান বিন কাসিম (রহিমাহুল্লাহ) আবু বকরের হাদিসের ব্যাখ্যায় আরও বলেন: "এতে তাওবার আনুগত্যের সকল দিক পূর্ণতা পেয়েছে। কারণ তিনি অনুতপ্ত হয়েছেন, পবিত্রতা অর্জন করেছেন, এরপর নামাজ পড়েছেন এবং এরপর ইস্তিগফার করেছেন। যখন কেউ এভাবে পূর্ণাঙ্গরূপে এগুলো পালন করে, তবে আল্লাহ তাআলা তাঁর সত্য প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তাকে ক্ষমা করে দেবেন" ৫।

--------------------------------------------

১ নিহায়াতুল মুহতাজ ২/১২২, হাশিয়া কুলয়ুবি ১/২১৬, হাশিয়া শারওয়ানি ২/২৩৮, বাযলুল মাজহুদ ৭/৩৭৮, মিরকাতুল মাফাতিহ ২/১৮৭।

২ মাজমুউ ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়্যাহ ২৩/২১৫, মাদারিজুস সালিকিন ১/২৯৭, শারহু সহিহ মুসলিম ১৭/৫৯।

৩ মিশকাতের ওপর শারহুত তীবী ৩/১৮০।

৪ আরিদাতুল আহওয়াযী ২/১৯৭।

৫ আল-ইহকাম শারহু উসুলিল আহকাম ১/২২১।
(খণ্ড: ১) সালাতুত তাওবা ওয়াল আহকামুল মুতাআল্লিকা বিহা ফিল ফিকহিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ১৬৫)
‌‌المبحث الثَّانِي

وَقت صَلَاة التَّوْبَة

يسْتَحبّ أَدَاء هَذِه الصَّلَاة عِنْد عزم الْمُسلم على التَّوْبَة من الذَّنب الَّذِي اقترفه، سَوَاء كَانَت هَذِه التَّوْبَة بعد فعله للمعصية مُبَاشرَة، أَو مُتَأَخِّرَة عَنهُ، فَالْوَاجِب على المذنب الْمُبَادرَة إِلَى التَّوْبَة - كَمَا سبق بَيَانه قَرِيبا- لَكِن إِن سوّف وأخّرها قبلت، لِأَن التَّوْبَة تقبل مَا لم يحدث أحد الْمَوَانِع الْآتِيَة:

1- إِذا وَقع الإِياس من الْحَيَاة، وَحضر الْمَوْت، وَبَلغت الرّوح الْحُلْقُوم. قَالَ الله تَعَالَى: {وَلَيْسَتِ التَّوْبَةُ لِلَّذِينَ يَعْمَلُونَ السَّيِّئَاتِ حَتَّى إِذَا حَضَرَ أَحَدَهُمُ الْمَوْتُ قَالَ إِنِّي تُبْتُ الآنَ} 1.

وَقَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم: " إِن الله يقبل تَوْبَة العَبْد مَا لم يُغَرْغر" 2.

--------------------------------------------

1 سُورَة النِّسَاء. (18) .

2 رَوَاهُ الإِمَام أَحْمد فِي مُسْنده (9/17، 18، حَدِيث 6160 ، و9/161 ط حَدِيث 6408 تَحْقِيق شَاكر) ، وَالتِّرْمِذِيّ فِي الدَّعْوَات بَاب فِي فضل التَّوْبَة والاسْتِغْفَار 5/546، حَدِيث (3537) ، وَابْن مَاجَه فِي الزّهْد بَاب ذكر التَّوْبَة 2/1420، حَدِيث (4253) ، وَابْن حبَان (موارد الظمآن ص 607، حَدِيث 2449) ، وَالْحَاكِم فِي الْمُسْتَدْرك فِي كتاب التَّوْبَة والإنابة 4/257، وَصَححهُ وَوَافَقَهُ الذَّهَبِيّ، وَأَبُو يعلي فِي مُسْنده 9/462، حَدِيث (5609) ، وَالْبَغوِيّ فِي شرح السّنة فِي بَاب التَّوْبَة 5/90، 91، حَدِيث (1306) من طرق عَن ابْن ثَوْبَان عَن أَبِيه عَن مَكْحُول عَن جُبَير بن نفير عَن ابْن عمر بِهِ. وَرِجَاله ثِقَات، عدا ابْن ثَوْبَان - واسْمه عبد الرَّحْمَن - فَهُوَ صَدُوق يُخطئ، وَتغَير بِأخرَة كَمَا فِي التَّقْرِيب. وَوَقع فِي سنَن ابْن مَاجَه " عبد الله بن عَمْرو" وَهُوَ وهم كَمَا قَالَ ابْن كثير فِي تَفْسِيره 2/206. وَقد صحّح هَذِه الرِّوَايَة أَو حسنها أَحْمد شَاكر فِي تَعْلِيقه على الْمسند، وَالشَّيْخ مُحَمَّد بن نَاصِر الدّين فِي صَحِيح الْجَامِع 1/386، وَشُعَيْب الأرنؤوط فِي تَعْلِيقه على شرح السّنة، وحسين أَسد فِي تَعْلِيقه على مُسْند أبي يعلى.

وَرَوَاهُ الإِمَام أَحْمد 3/425، و5/362 (طبع الْمكتب الإسلامي) وَسَعِيد بن مَنْصُور فِي سنَنه 3/1201، 1202، حَدِيث (597) . وَالْحَاكِم فِي الْموضع السَّابِق من طرق عَن زيد بن أسلم عَن عبد الرَّحْمَن بن الْبَيْلَمَانِي عَن رجل من أَصْحَاب النَّبِي صلى الله عليه وسلم. وَإِسْنَاده ضَعِيف، ابْن الْبَيْلَمَانِي ضعفه غير وَاحِد، وَلم يوثقه سوى ابْن حبَان فِي الثِّقَات. ينظر الثِّقَات 5/91، تَهْذِيب التَّهْذِيب 6/150.

وَرَوَاهُ ابْن مرْدَوَيْه - كَمَا فِي تَفْسِير ابْن كثير 2/207- من طَرِيق عُثْمَان عَن الْهَيْثَم حَدثنَا عَوْف عَن مُحَمَّد بن سِيرِين عَن أبي هُرَيْرَة بِهِ وَإِسْنَاده ضَعِيف، عُثْمَان بن الْهَيْثَم تغير بِأخرَة، فَكَانَ يَتَلَقَّن. ينظر الْجرْح وَالتَّعْدِيل 3/172.

وَرَوَاهُ ابْن جرير فِي تَفْسِيره 8/96، رقم (8859) عَن الْحسن الْبَصْرِيّ مُرْسلا. وَقَالَ ابْن كثير فِي تَفْسِيره: 2 /207: "مُرْسل حسن ".

وَرَوَاهُ ابْن جرير فِي الْموضع السَّابِق، رقم (8857) من طَرِيق الْعَلَاء بِهِ زِيَاد عَن بشير بن كَعْب مُرْسلا.

وَرَوَاهُ أَيْضا ابْن جرير فِي الْموضع السَّابِق، رقم (8858) من طَرِيق قَتَادَة عَن عبَادَة بن الصَّامِت. وَإِسْنَاده مُنْقَطع، قَتَادَة لم يدْرك عبَادَة بن الصَّامِت.

وَرَوَاهُ الإِمَام أَحْمد فِي مُسْنده (تَحْقِيق شَاكر 11/133، 134، حَدِيث 6920) ، وَالطَّيَالِسِي فِي مُسْنده ص 301، حَدِيث (2284) ، وَالْبُخَارِيّ فِي تَارِيخه الْكَبِير 1/427، والطبري فِي تَفْسِيره 8/99، 100، حَدِيث (8863) من طَرِيق إِبْرَاهِيم بن مَيْمُون قَالَ: سَمِعت رجلا من بني الْحَارِث قَالَ: سَمِعت رجلا منا يُقَال لَهُ أَيُّوب قَالَ: سَمِعت عبد الله بن عَمْرو فَذكره. وَإِسْنَاده ضَعِيف. لَا يهام شيخ إِبْرَاهِيم بن مَيْمُون. وَقد سقط بعض السَّنَد من مُسْند الطَّيَالِسِيّ المطبوع. وَقد أوردهُ ابْن كثير فِي تَفْسِيره 2/206 نقلا عَن الطَّيَالِسِيّ، فَذكر السَّنَد كَامِلا، غير أَنه قَالَ: "عبد الله بن عمر" بدل "عبد الله بن عَمْرو".

وَفِي الْجُمْلَة فَإِن هَذَا الحَدِيث صَحِيح بِمَجْمُوع هَذِه الطّرق، الطَّرِيق الأولى ضعفها لَيْسَ قَوِيا، فتتقوى بالطرق الْأُخْرَى.
‌‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

তাওবার সালাতের সময়

একজন মুসলিম যখন তার কৃত পাপ থেকে তাওবা করার সংকল্প করে, তখন এই সালাত আদায় করা মুস্তাহাব। চাই এই তাওবা গুনাহ করার পরপরই হোক বা বিলম্বে হোক। তবে গুনাহগারের জন্য দ্রুত তাওবার দিকে ধাবিত হওয়া ওয়াজিব—যেমনটি ইতিপূর্বে বর্ণনা করা হয়েছে—কিন্তু যদি কেউ গড়িমসি করে তাওবা পিছিয়ে দেয়, তবুও তা কবুল হবে; কেননা নির্দিষ্ট কিছু প্রতিবন্ধকতা উপস্থিত না হওয়া পর্যন্ত তাওবা কবুল করা হয়। প্রতিবন্ধকতাগুলো নিম্নরূপ:

১- যখন জীবন থেকে নিরাশ হয়ে যায়, মৃত্যু উপস্থিত হয় এবং প্রাণ কণ্ঠনালীতে পৌঁছে যায়। আল্লাহ তাআলা বলেন: "আর তাওবা তাদের জন্য নয় যারা মন্দ কাজ করতে থাকে, পরিশেষে যখন তাদের কারো নিকট মৃত্যু উপস্থিত হয় তখন সে বলে: আমি এখন তাওবা করছি।" ১।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ বান্দার তাওবা কবুল করেন যতক্ষণ না তার প্রাণ কণ্ঠনালীতে এসে পৌঁছে।" ২।

--------------------------------------------

১ সূরা আন-নিসা: ১৮।

২ ইমাম আহমাদ এটি তার মুসনাদ (৯/১৭, ১৮, হাদিস ৬১৬০, এবং ৯/১৬১ তাহকিক শাকের) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন; তিরমিজি দাওয়াত অধ্যায়ে, তাওবা ও ইস্তিগফারের ফযীলত পরিচ্ছেদ ৫/৫৪৬, হাদিস (৩৫৩৭); ইবনে মাজাহ যুহদ অধ্যায়ে, তাওবার বর্ণনা পরিচ্ছেদ ২/১৪২০, হাদিস (৪২৫৩); ইবনে হিব্বান (মাওয়ারিদুজ জামআন পৃ. ৬০৭, হাদিস ২৪৪৯); হাকিম আল-মুস্তাদরাক গ্রন্থে তাওবা ও ইনাবাহ অধ্যায়ে ৪/২৫৭, তিনি একে সহিহ (صححه) বলেছেন এবং যাহাবি তার সাথে একমত হয়েছেন; আবু ইয়ালা তার মুসনাদ গ্রন্থে ৯/৪৬২, হাদিস (৫৬০৯); বাগাউয়ি শারহুস সুন্নাহ-এর তাওবা পরিচ্ছেদে ৫/৯০, ৯১, হাদিস (১৩০৬) ইবনে সাওবান থেকে তার পিতার সূত্রে মাকহুল থেকে জুবায়ের ইবনে নুফায়ের থেকে ইবনে উমর কর্তৃক বর্ণিত। এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য (ثقات), ইবনে সাওবান — যার নাম আবদুর রহমান — ব্যতীত; তিনি সত্যবাদী তবে ভুল করেন (صدوق يخطئ), এবং শেষ বয়সে তার স্মৃতিবিভ্রম ঘটেছিল যেমনটি আত-তাকরিব গ্রন্থে উল্লেখ আছে। সুনান ইবনে মাজাহ-তে "আবদুল্লাহ ইবনে আমর" এসেছে, যা একটি ভ্রম (وهم), যেমনটি ইবনে কাসির তার তাফসিরে ২/২০৬-এ উল্লেখ করেছেন। আহমাদ শাকের মুসনাদের টিকায় এই বর্ণনাটিকে সহিহ (صحح) বা হাসান (حسن) বলেছেন, আর শেখ মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন সহিহুল জামি' ১/৩৮৬ গ্রন্থে, শুআইব আরনাউত শারহুস সুন্নাহ-এর টিকায় এবং হুসাইন আসাদ মুসনাদ আবু ইয়ালার টিকায় একে সহিহ (صحح) বলেছেন।

ইমাম আহমাদ ৩/৪২৫ এবং ৫/৩৬২ (আল-মাকতাবুল ইসলামী সংস্করণ), সাঈদ ইবনে মানসুর তার সুনানে ৩/১২০১, ১২০২, হাদিস (৫৯৭) বর্ণনা করেছেন। হাকিম পূর্বোক্ত স্থানে যায়েদ ইবনে আসলাম থেকে আবদুর রহমান ইবনুল বাইলামানি থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জনৈক সাহাবির সূত্রে বর্ণনা করেছেন। এর সনদ দুর্বল (ضعيف); একাধিক ইমাম ইবনুল বাইলামানিকে দুর্বল (ضعفه) বলেছেন এবং ইবনে হিব্বান ছাড়া কেউ তাকে নির্ভরযোগ্য (الثقات) বলেননি। দ্রষ্টব্য: আস-সিকাত ৫/৯১, তাহযিবুত তাহযিব ৬/১৫০।

ইবনে মারদুওয়াইহ — যেমনটি ইবনে কাসিরের তাফসিরে ২/২০৭ বর্ণিত — উসমান ইবনে হাইসাম সূত্রে আওফ থেকে মুহাম্মদ ইবনে সিরিন থেকে আবু হুরায়রা কর্তৃক বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদ দুর্বল (ضعيف); উসমান ইবনে হাইসাম শেষ বয়সে স্মৃতিবিভ্রমগ্রস্ত হন এবং তিনি তালকিন (تلقن) গ্রহণ করতেন। দ্রষ্টব্য: আল-জারহ ওয়াত তাদিল (الجرح والتعديل) ৩/১৭২।

ইবনে জারির তার তাফসিরে ৮/৯৬, নং (৮৮৫৯) হাসান বসরী থেকে মুরসাল (مرسلا) হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ইবনে কাসির তার তাফসিরে ২/২০৭ বলেন: "হাসান মুরসাল (مرسل حسن)"।

ইবনে জারির পূর্বোক্ত স্থানে নং (৮৮৫৭) আলা ইবনে যিয়াদ সূত্রে বশির ইবনে কাব থেকে মুরসাল (مرسلا) হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

ইবনে জারির পূর্বোক্ত স্থানে নং (৮৮৫৮) কাতাদা থেকে উবাদাহ ইবনুস সামিত সূত্রে বর্ণনা করেছেন। এর সনদ বিচ্ছিন্ন (منقطع), কাতাদা উবাদাহ ইবনুস সামিতকে পাননি।

ইমাম আহমাদ তার মুসনাদ গ্রন্থে (তাহকিক শাকের ১১/১৩৩, ১৩৪, হাদিস ৬৯২০), তায়ালিসি তার মুসনাদ পৃ. ৩০১, হাদিস (২২৮৪), বুখারি তার তারিখুল কবির ১/৪২৭, তাবারি তার তাফসিরে ৮/৯৯, ১০০, হাদিস (৮৮۶৩) ইব্রাহিম ইবনে মাইমুন সূত্রে বর্ণনা করেছেন: আমি বনী হারিসের এক ব্যক্তিকে বলতে শুনেছি যে, আমি আমাদের আইয়ুব নামক এক ব্যক্তিকে বলতে শুনেছি যে, আমি আবদুল্লাহ ইবনে আমর থেকে শুনেছি... তিনি হাদিসটি উল্লেখ করেন। এর সনদ দুর্বল (ضعيف); ইব্রাহিম ইবনে মাইমুনের শাইখ অস্পষ্ট (إبهام)। তায়ালিসির মুদ্রিত মুসনাদ থেকে সনদের কিছু অংশ বাদ পড়েছে। ইবনে কাসির তার তাফসিরে ২/২০৬ তায়ালিসির বরাতে পূর্ণ সনদ উল্লেখ করেছেন, তবে সেখানে "আবদুল্লাহ ইবনে আমর"-এর পরিবর্তে "আবদুল্লাহ ইবনে উমর" এসেছে।

সারসংক্ষেপে, এই হাদিসটি এই সকল সূত্রের সমন্বয়ে সহিহ (صحيح); প্রথম সূত্রের দুর্বলতা (ضعفها) প্রবল নয়, তাই এটি অন্যান্য সূত্রের মাধ্যমে শক্তিশালী হয়।
(খণ্ড: ১) সালাতুত তাওবা ওয়াল আহকামুল মুতাআল্লিকা বিহা ফিল ফিকহিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ১৬৬)
2- إِذا نزل الْعَذَاب، قَالَ الله تَعَالَى: {فَلَمْ يَكُ يَنْفَعُهُمْ إِيمَانُهُمْ لَمَّا رَأَوْا بَأْسَنَا سُنَّتَ اللَّهِ الَّتِي قَدْ خَلَتْ فِي عِبَادِهِ وَخَسِرَ هُنَالِكَ الْكَافِرُونَ} 1.

--------------------------------------------

1- سُورَة غَافِر (85) . وَلِهَذَا لم تقبل تَوْبَة فِرْعَوْن لما أدْركهُ الْغَرق، حِين قَالَ: {آمَنْتُ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلا الَّذِي آمَنَتْ بِهِ بَنُو إِسْرائيلَ وَأَنَا مِنَ الْمُسْلِمِينَ} قَالَ الله تَعَالَى: {الآنَ وَقَدْ عَصَيْتَ قَبْلُ وَكُنْتَ مِنَ الْمُفْسِدِينَ} سُورَة يُونُس (90، 91) ، وَينظر تَفْسِير الْقُرْطُبِيّ 15/336.
২- যখন আযাব অবতীর্ণ হয়, তখন আল্লাহ তাআলা বলেন: {অতঃপর যখন তারা আমার শাস্তি প্রত্যক্ষ করল, তখন তাদের ঈমান তাদের কোনো উপকারে আসল না। আল্লাহর এই বিধান তাঁর বান্দাদের মধ্যে পূর্ব থেকেই চলে আসছে; আর সেখানে কাফিররা ক্ষতিগ্রস্ত হলো।} ১।

--------------------------------------------

১- সূরা গাফির (৮৫)। আর এই কারণেই ফেরাউনের তাওবা কবুল করা হয়নি যখন তাকে নিমজ্জন গ্রাস করেছিল, সেই মুহূর্তে সে বলেছিল: {আমি ঈমান আনলাম যে, তিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই যাঁর প্রতি বনী ইসরাঈল ঈমান এনেছে এবং আমি আত্মসমর্পণকারীদের অন্তর্ভুক্ত।} আল্লাহ তাআলা বললেন: {এখন? অথচ এর আগে তুমি নাফরমানি করেছিলে এবং তুমি ছিলে বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের অন্তর্ভুক্ত।} সূরা ইউনুস (৯০, ৯১), এবং দ্রষ্টব্য তাফসীরে কুরতুবী ১৫/৩৩৬।
(খণ্ড: ১) সালাতুত তাওবা ওয়াল আহকামুল মুতাআল্লিকা বিহা ফিল ফিকহিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ১৬৭)
3- إِذا طلعت الشَّمْس من مغْرِبهَا، قَالَ الله تَعَالَى: {يَوْمَ يَأْتِي بَعْضُ آيَاتِ رَبِّكَ لَا يَنْفَعُ نَفْساً إِيمَانُهَا لَمْ تَكُنْ آمَنَتْ مِنْ قَبْلُ أَوْ كَسَبَتْ فِي إِيمَانِهَا خَيْراً} 1. وَقَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم: "من تَابَ من قبل أَن تطلع الشَّمْس من مغْرِبهَا تَابَ الله عَلَيْهِ " رَوَاهُ مُسلم من حَدِيث أبي هُرَيْرَة 2.

وَهَذِه صَلَاة تشرع فِي جَمِيع الْأَوْقَات بِمَا فِي ذَلِك أَوْقَات النَّهْي، لِأَنَّهَا من ذَوَات الْأَسْبَاب الَّتِي تشرع عِنْد وجود سَببهَا 3.

قَالَ شيخ الْإِسْلَام ابْن تَيْمِية: "ذَوَات الْأَسْبَاب كلهَا تفوت إِذا أخرت عَن وَقت النَّهْي، مثل سُجُود التِّلَاوَة، وتحية الْمَسْجِد، وَصَلَاة الْكُسُوف، وَمثل الصَّلَاة عقب الطَّهَارَة، كَمَا فِي حَدِيث بِلَال، وَكَذَلِكَ صَلَاة الاستخارة، إِذا كَانَ الَّذِي يستخير لَهُ يفوت إِذا أخرت الصَّلَاة، وَكَذَلِكَ صَلَاة التَّوْبَة، فَإِذا أذْنب فالتوبة وَاجِبَة على الْفَوْر، وَهُوَ مَنْدُوب إِلَى أَن يُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ، ثمَّ يَتُوب، كَمَا فِي حَدِيث أبي بكر الصّديق"4.

--------------------------------------------

1 سُورَة الْأَنْعَام: (158) .

وروى البُخَارِيّ فِي كتاب الرقَاق (فتح الْبَارِي 11/352) ، حَدِيث (5606) ، وَمُسلم فِي الإِيمان بَاب بَيَان الزَّمن الَّذِي لَا يقبل فِيهِ الْإِيمَان 1/137، حَدِيث (157) عَن أبي هُرَيْرَة- رضي الله عنه قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم: "لَا تقوم السَّاعَة حَتَّى تطلع الشَّمْس من مغْرِبهَا، فَإِذا طلعت من مغْرِبهَا آمن النَّاس كلهم أَجْمَعُونَ، فَيَوْمئِذٍ لَا ينفع نفسا إيمَانهَا لم تكن آمَنت من قبل، أَو كسبت فِي إيمَانهَا خيرا ".

2 صَحِيح مُسلم كتاب الذّكر وَالدُّعَاء وَالتَّوْبَة وَالِاسْتِغْفَار بَاب اسْتِحْبَاب الاسْتِغْفَار والاستكثار مِنْهُ 4/2076، حَدِيث 2073.

3 وَقد ذكرت أَقْوَال أهل الْعلم فِي حكم أَدَاء الصَّلَاة ذَات السَّبَب فِي وَقت النَّهْي فِي بحث مُسْتَقل بعنوان "حكم أَدَاء الصَّلَوَات فَوَات الْأَسْبَاب فِي أَوْقَات النَّهْي" وَقد ظهر لي بعد استعراض أَدِلَّة الْأَقْوَال فِي هَذِه الْمَسْأَلَة وَمَا ورد على بَعْضهَا من مناقشة أَن الصَّحِيح جَوَاز أَدَاء الصَّلَاة ذَات السَّبَب فِي وَقت النَّهْي إِذا وجد سَببهَا فِيهِ.

4 مَجْمُوع فَتَاوَى ابْن تَيْمِية 23/215.
3- যখন সূর্য পশ্চিম দিক থেকে উদিত হবে, তখন আল্লাহ তাআলা বলেন: {যেদিন আপনার রবের কোনো নিদর্শন আসবে, সেদিন এমন কোনো ব্যক্তির ঈমান কাজে আসবে না যে আগে ঈমান আনেনি অথবা তার ঈমানের মাধ্যমে কোনো কল্যাণ অর্জন করেনি} 1। এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি সূর্য পশ্চিম দিক থেকে উদিত হওয়ার পূর্বে তওবা করবে, আল্লাহ তার তওবা কবুল করবেন।" এটি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত হাদিস থেকে মুসলিম বর্ণনা করেছেন 2।

আর এটি এমন একটি নামাজ যা নিষিদ্ধ সময়সমূহসহ (أوقات النهي) সকল সময়ে বিধিবদ্ধ, কারণ এটি কারণ-সংশ্লিষ্ট নামাজের (ذوات الأسباب) অন্তর্ভুক্ত যা তার কারণ বিদ্যমান থাকলে বিধিবদ্ধ হয় 3।

শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেছেন: "সকল কারণ-সংশ্লিষ্ট নামাজই (ذوات الأسباب) হাতছাড়া হয়ে যায় যদি নিষিদ্ধ সময় (وقت النهي) পার হওয়া পর্যন্ত তা বিলম্ব করা হয়; যেমন তিলাওয়াতের সিজদাহ (سجود التلاوة), তাহিয়্যাতুল মাসজিদ (تحية المسجد), গ্রহণের নামাজ (صلاة الكسوف) এবং পবিত্রতা অর্জনের পরবর্তী নামাজ, যেমনটি বেলালের হাদিসে এসেছে। একইভাবে ইস্তিখারার নামাজ (صلاة الاستخارة), যদি ইস্তিখারা করার বিষয়টি নামাজ বিলম্ব করলে হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তদ্রূপ তওবার নামাজ (صلاة التوبة); যখন কেউ গুনাহ করে তখন অবিলম্বে তওবা করা আবশ্যক (واجب), আর তওবা করার পূর্বে দুই রাকাত নামাজ আদায় করা তার জন্য পছন্দনীয় (مندوب), যেমনটি আবু বকর সিদ্দিকের হাদিসে এসেছে" 4।

--------------------------------------------

1 সূরা আল-আন'আম: (158)।

এবং বুখারি এটি 'রিকাাক' অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন (ফাতহুল বারী 11/352), হাদিস নং (5606), এবং মুসলিম 'ঈমান' অধ্যায়ে, 'যে সময়ে ঈমান কবুল হবে না তার বর্ণনা' পরিচ্ছেদে 1/137, হাদিস নং (157), আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ না সূর্য পশ্চিম দিক থেকে উদিত হয়। যখন তা পশ্চিম দিক থেকে উদিত হবে, তখন সকল মানুষ ঈমান আনবে। কিন্তু সেদিন এমন কোনো ব্যক্তির ঈমান কাজে আসবে না যে আগে ঈমান আনেনি অথবা তার ঈমানের মাধ্যমে কোনো কল্যাণ অর্জন করেনি।"

2 সহিহ মুসলিম, জিকির, দোয়া, তওবা ও ইস্তিগফার অধ্যায়, ইস্তিগফার পছন্দনীয় হওয়া ও তা অধিক পরিমাণে করার পরিচ্ছেদ 4/2076, হাদিস 2073।

3 নিষিদ্ধ সময়ে (وقت النهي) কারণ-সংশ্লিষ্ট নামাজ আদায়ের বিধান (حكم) সম্পর্কে আমি ওলামায়ে কেরামের মতামতসমূহ 'নিষিদ্ধ সময়ে কারণ-সংশ্লিষ্ট নামাজ আদায়ের বিধান' শীর্ষক একটি স্বতন্ত্র গবেষণায় উল্লেখ করেছি। এই বিষয়ের দলীলসমূহ পর্যালোচনা এবং সেগুলোর ওপর উত্থাপিত আলোচনা থেকে আমার কাছে এটিই সঠিক (صحيح) প্রতীয়মান হয়েছে যে, নিষিদ্ধ সময়ে কারণ-সংশ্লিষ্ট নামাজ আদায় করা বৈধ (جائز) যখনই তার কারণ পাওয়া যাবে।

4 মাজমু' ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়্যাহ 23/215।
(খণ্ড: ১) সালাতুত তাওবা ওয়াল আহকামুল মুতাআল্লিকা বিহা ফিল ফিকহিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ১৬৮)
‌‌المبحث الثَّالِث

مَحل صَلَاة التَّوْبَة

اخْتلف أهل الْعلم فِي صَلَاة التَّوْبَة هَل تُؤَدّى قبل التَّوْبَة أَو بعْدهَا، على ثَلَاثَة أَقْوَال:

القَوْل الأول:

أَن الْمَشْرُوع أَن يُصَلِّي قبل التَّوْبَة، لَا بعْدهَا، لحَدِيث أبي بكر الصّديق رضي الله عنه 1.

القَوْل الثَّانِي:

أَنَّهَا تصلى بعد التَّوْبَة 2.

القَوْل الثَّالِث:

أَنَّهَا تصلى قبل التَّوْبَة أَو بعْدهَا 3، فَإِن شَاءَ صلاهَا قبل التَّوْبَة وَإِن شَاءَ صلاهَا بعْدهَا 4.

--------------------------------------------

1عارضة الأحوذي 2/197، كشاف القناع 1/443، الرَّوْض الندي ص 59، غَايَة الْمُنْتَهى 1/171، الإحكام شرح أصُول الْأَحْكَام 1/321. وَينظر كَلَام شيخ الْإِسْلَام ابْن تَيْمِية الَّذِي سبق نَقله قَرِيبا. وَقد سبق تَخْرِيج حَدِيث أبي بكر ص (5،6) .

2 الْإِحْسَان بترتيب صَحِيح ابْن حبَان 2/10.

3 نِهَايَة الْمُحْتَاج 2/122، حَاشِيَة قليوبي 1/216، حَاشِيَة الشرواني 2/238.

4 ينظر هوامش الْإِقْنَاع للشربيني 1/101.
তৃতীয় পরিচ্ছেদ

তওবার সালাত আদায়ের সময়

আলেমগণ তওবার সালাত তওবার আগে আদায় করা হবে না কি পরে, সে বিষয়ে তিনটি মতে বিভক্ত হয়েছেন:

প্রথম মত:

বিধানসম্মত হলো তওবার আগে সালাত আদায় করা, পরে নয়; আবু বকর আল-সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর বর্ণিত হাদিসের ভিত্তিতে। ১

দ্বিতীয় মত:

এই সালাত তওবার পরে আদায় করতে হবে। ২

তৃতীয় মত:

তওবার আগে বা পরে—উভয় সময়েই সালাত আদায় করা যায়; ৩ সুতরাং কেউ চাইলে তওবার আগে সালাত আদায় করবে, আর চাইলে তওবার পরেও আদায় করতে পারবে। ৪

--------------------------------------------

১ আরিদাতুল আহওয়াজি ২/১৯৭, কাশশাফুল কিনা ১/৪৪৩, আর-রাওদুন নাদি পৃ. ৫৯, গায়াতুল মুনতাহা ১/১৭১, আল-ইহকাম শারহু উসুলিল আহকাম ১/৩২১। শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়ার বক্তব্যটিও দ্রষ্টব্য যা ইতিপূর্বে উদ্ধৃত হয়েছে। আবু বকরের হাদিসের সূত্রায়ন (تخريج) ৫ ও ৬ পৃষ্ঠায় গত হয়েছে।

২ আল-ইহসান বি তারতিবি সহিহ ইবনে হিব্বান ২/১০।

৩ নিহায়াতুল মুহতাজ ২/১২২, হাশিয়াতু কলইউবি ১/২১৬, হাশিয়াতুশ শিরওয়ানি ২/২৩৮।

৪ আল-ইকনা লিশ শিরবিনি-এর টীকা ১/১০১ দ্রষ্টব্য।
(খণ্ড: ১) সালাতুত তাওবা ওয়াল আহকামুল মুতাআল্লিকা বিহা ফিল ফিকহিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ১৬৯)
التَّرْجِيح:

وَالرَّاجِح من هَذِه الْأَقْوَال هُوَ القَوْل الأول، لقُوَّة دَلِيله، وَلِأَن الْقَوْلَيْنِ الآخرين لَا يعضدهما دَلِيل من كتاب وَلَا سنة، فَحَدِيث أبي بكر الصّديق رضي الله عنه صَرِيح فِي أَن هَذِه الصَّلَاة تُؤَدّى قبل التَّوْبَة، لَا بعْدهَا، حَيْثُ ذكرت فِيهِ الصَّلَاة ثمَّ عطف عَلَيْهَا الاسْتِغْفَار، الَّذِي هُوَ تَوْبَة1، أَو جُزْء من التَّوْبَة2 بِحرف "ثمَّ " الَّذِي يدل على التَّرْتِيب 3.

--------------------------------------------

1مدارج السالكين 1/334،335، وَقَالَ الملا عَليّ الْقَارِي فِي الرقاة 2/187 عِنْد شَرحه لحَدِيث أبي بكر "وَالْمرَاد بالاستغفار التَّوْبَة بالندامة والإقلاع والعزم على أَن لَا يعود إِلَيْهِ أبدا، وأَن يتدارك الْحُقُوق، إِن كَانَت هُنَاكَ"

2 ذكر الشَّوْكَانِيّ فِي فتح الْقَدِير 1/381 أَنه يمْتَنع لُغَة إِطْلَاق التَّوْبَة على الاسْتِغْفَار.

وَقَالَ شيخ الْإِسْلَام ابْن تَيْمِية: " الاسْتِغْفَار هُوَ طلب الْمَغْفِرَة، وَهُوَ من جنس الدُّعَاء وَالسُّؤَال، وَهُوَ مقرون بِالتَّوْبَةِ فِي الْغَالِب، ومأمور بِهِ، لَكِن قد يَتُوب الْإِنْسَان وَلَا يَدْعُو، وَقد يَدْعُو وَلَا يَتُوب". ينظر كتاب " ذُو النورين" لشيخ الْإِسْلَام ابْن تَيْمِية ص 76 جمع وَتَعْلِيق مُحَمَّد مَال الله.

فَيمكن أَن يُقَال: إِن التَّوْبَة تطلق على الاسْتِغْفَار وَمَا يَصْحَبهُ من النَّدَم على فعل الْمعْصِيَة والعزم على عدم الرُّجُوع إِلَى فعلهَا، لما روى الإِمَام أَحْمد فِي مُسْنده 6/264: ثَنَا مُحَمَّد بن يزِيد – يَعْنِي الوَاسِطِيّ – عَن سُفْيَان بن عُيَيْنَة عَن الزُّهْرِيّ عَن عُرْوَة عَن عَائِشَة – رضي الله عنها – قَالَت: قَالَ لي رَسُول الله صلى الله عليه وسلم: "يَا عَائِشَة إِن كنت أَلممْت بذنب فاستغفري الله، فَإِن التَّوْبَة من الذَّنب النَّدَم وَالِاسْتِغْفَار". وَإِسْنَاده صَحِيح، وَرِجَاله رجال الصَّحِيحَيْنِ، عدا مُحَمَّد بن يزِيد، وَهُوَ ثِقَة ثَبت كَمَا فِي التَّقْرِيب. وَصَححهُ الأرنؤوط فِي تَعْلِيقه على الْإِحْسَان 2/378.

3 قَالَ الملا عَليّ قاري فِي مرقاة المفاتيح 2/187 عِنْد شَرحه لحَدِيث أبي بكر: " ثمَّ" فِي الْمَوْضِعَيْنِ لمُجَرّد الْعَطف التعقيبي. أ. هـ.

وَقَالَ ابْن مَالك فِي ألفيته:

وَالْفَاء للتَّرْتِيب باتصال وَثمّ للتَّرْتِيب بانفصال

تنظر الألفية مَعَ شرحها لِابْنِ النَّاظِم ص 205، وَشرح شذور الذَّهَب ص 576، وأوضح المسالك ص 318.
অগ্রাধিকার প্রদান (الترجيح):

এই মতগুলোর মধ্যে অগ্রাধিকারযোগ্য (الراجح) মত হলো প্রথমটি, কারণ এর দলিল শক্তিশালী। এছাড়া অন্য দুটি মতের স্বপক্ষে কিতাব (কুরআন) বা সুন্নাহর কোনো দলিল নেই। আবু বকর সিদ্দিক (রা.) বর্ণিত হাদিসটি এ বিষয়ে সুস্পষ্ট যে, এই সালাত তাওবার পূর্বে আদায় করতে হয়, পরে নয়। কেননা হাদিসটিতে প্রথমে সালাতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে এবং এরপর "সুম্মা" (ثم) অব্যয় যোগে ক্ষমা প্রার্থনাকে (ইস্তিগফার) তার সাথে সংযুক্ত করা হয়েছে, যা মূলত তাওবা 1 অথবা তাওবার একটি অংশ 2। আর এখানে "সুম্মা" শব্দটি ক্রমবিন্যাস (الترتيب) 3 নির্দেশ করে।

--------------------------------------------

1. মাদারিজেস সালিকীন ১/৩৩৪, ৩৩৫; এবং মোল্লা আলী কারী রুকাহ-এ (২/১৮৭) আবু বকরের হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেন: "ইস্তিগফার বা ক্ষমা প্রার্থনা দ্বারা উদ্দেশ্য হলো অনুশোচনা, পাপ বর্জন এবং পুনরায় কখনো তা না করার দৃঢ় সংকল্পের মাধ্যমে তাওবা করা, এবং যদি সেখানে কোনো দায়বদ্ধতা বা হক থাকে তবে তা পূরণ করা।"

2. শাওকানী ফাতহুল কাদীরে (১/৩৮১) উল্লেখ করেছেন যে, ভাষাগত দিক থেকে তাওবা শব্দটিকে কেবল ইস্তিগফারের ওপর প্রয়োগ করা অসম্ভব।

শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেন: "ইস্তিগফার হলো ক্ষমা প্রার্থনা করা, যা দুআ ও চাওয়ার অন্তর্ভুক্ত। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটি তাওবার সাথে যুক্ত থাকে এবং এর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে কখনো মানুষ তাওবা করে কিন্তু দুআ করে না, আবার কখনো দুআ করে কিন্তু তাওবা করে না।" শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর কিতাব "জুন্নুরাইন" পৃষ্ঠা ৭৬, সংকলন ও টীকা: মুহাম্মাদ মালুল্লাহ দ্রষ্টব্য।

সুতরাং এটি বলা যেতে পারে যে: তাওবা শব্দটি ইস্তিগফার এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট পাপের জন্য অনুশোচনা ও পুনরায় তা না করার সংকল্পের ওপরও প্রয়োগ করা হয়। কারণ ইমাম আহমদ তাঁর মুসনাদে (৬/২৬৪) বর্ণনা করেছেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াজিদ—অর্থাৎ আল-ওয়াসিতি—সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ থেকে, তিনি জুহরী থেকে, তিনি উরওয়াহ থেকে, তিনি আয়েশা (রা.) থেকে; তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেছেন: "হে আয়েশা! যদি তুমি কোনো পাপে লিপ্ত হও তবে আল্লাহর কাছে ইস্তিগফার করো, কেননা পাপ থেকে তাওবা হলো অনুশোচনা ও ইস্তিগফার।" এর সনদ (إسناد) সহিহ (صحيح), এবং এর বর্ণনাকারীগণ বুখারি ও মুসলিম-এর বর্ণনাকারী, কেবল মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াজিদ ব্যতীত; তবে তিনি তাকরীব-এ বর্ণিত তথ্য অনুযায়ী নির্ভরযোগ্য (ثقة) ও সুদৃঢ় (ثبت)। এবং আরনাউত আল-ইহসান-এর ওপর তাঁর টীকায় (২/৩৭৮) একে সহিহ (صحيহ) বলেছেন।

3. মোল্লা আলী কারী মিরকাতুল মাফাতিহ-এ (২/১৮৭) আবু বকরের হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেন: "উভয় স্থানে 'সুম্মা' (ثم) কেবল অনুক্রমিক অন্বয়ের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে।" সমাপ্ত।

ইবনে মালিক তাঁর আলফিয়্যাহ-তে বলেন:

অবিচ্ছিন্ন ক্রমবিন্যাসের জন্য 'ফা' এবং বিরতিযুক্ত বা বিচ্ছিন্ন ক্রমবিন্যাসের জন্য 'সুম্মা' ব্যবহৃত হয়।

ইবনে নাজিমের ব্যাখ্যাসহ আলফিয়্যাহ পৃষ্ঠা ২০৫, শারহু শুযুরিজ যাহাব পৃষ্ঠা ৫৭৬ এবং আওদাহুল মাসালিক পৃষ্ঠা ৩১৮ দ্রষ্টব্য।
(খণ্ড: ১) সালাতুত তাওবা ওয়াল আহকামুল মুতাআল্লিকা বিহা ফিল ফিকহিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ১৭০)
هَذَا كُله فِيمَا يتَعَلَّق بِالتَّوْبَةِ بِاللِّسَانِ، وَهِي المرادة هُنَا عِنْد الْإِطْلَاق، وَالَّتِي هِيَ مُنَاجَاة العَبْد ربه بإعلان النَّدَم على فعل الْمعْصِيَة، والعزم على عدم العودة إِلَيْهَا، وَطلب مغْفرَة الذَّنب الَّذِي ارْتَكَبهُ. أما النَّدَم بِالْقَلْبِ وَالَّذِي هُوَ فِي حد ذَاته تَوْبَة1، أَو ركنها الْأَعْظَم 2، لحَدِيث: "النَّدَم تَوْبَة" 3، فَإِنَّهُ يكون قبل

--------------------------------------------

1 مدارج السالكين 1/311، طرح التثريب 8/238.

2 فتح الْبَارِي 11/103، 104.

3 رَوَاهُ الإِمَام أَحْمد فِي مُسْنده 5/194، 195، رقم (3568) ، و6/46، رقم (4014، 4016) ، و6/83، رقم (4124) ، وَابْن الْمُبَارك فِي الزّهْد ص 368، حَدِيث (1044) ، والْحميدِي فِي مُسْنده 1/58، 59، حَدِيث (105) ، وَابْن أبي شيبَة فِي مُصَنفه فِي كتاب الدِّيات: من قَالَ: الْقَاتِل تَوْبَة 9/361، 362، وَابْن مَاجَه فِي سنَنه فِي كتاب الزّهْد بَاب ذكر التَّوْبَة 2/1420، حَدِيث (4252) ، والشاشي فِي مُسْنده 1/309، رقم (269) ، وَالطَّبَرَانِيّ فِي الصَّغِير 1/33، وَأَبُو يعلي فِي مُسْند 85/380، حَدِيث (4969) ، وَالْحَاكِم فِي الْمُسْتَدْرك فِي كتاب التَّوْبَة والإنابة 4/243 وَصَححهُ وَوَافَقَهُ الذَّهَبِيّ، والقضاعي فِي مُسْند الشهَاب 1/42، 43، رقم (13، 14) ، وَأَبُو نعيم فِي الْحِلْية 8/312، وَابْن عدي فِي الْكَامِل 4/1464، وَالْبَيْهَقِيّ فِي كِتَابه: الْآدَاب بَاب من عَاجل كل ذَنْب بِالتَّوْبَةِ مِنْهُ وَسَأَلَ الله الْمَغْفِرَة ص 443. رقم (1190) من طرق عَن عبد الْكَرِيم بن مَالك الْجَزرِي عَن زِيَاد بن أبي مَرْيَم عَن عبد الله بن معقل عَن عبد الله بن مَسْعُود مَرْفُوعا، وَإِسْنَاده جيد، وَقد اخْتلف فِي زِيَاد بن أبي مَرْيَم فَقيل: هُوَ زِيَاد بن الْجراح، وَقيل: هما اثْنَان، وَكِلَاهُمَا ثِقَة. ينظر التَّارِيخ الْكَبِير للْبُخَارِيّ 1/347، الْعِلَل للدارقطني 3 /190 -193، تَهْذِيب التَّهْذِيب 3/384، 385.

وَرَوَاهُ الإِمَام أَحْمد فِي مُسْنده 6/45، حَدِيث (4012 تَحْقِيق شَاكر) ، والشاشي فِي مُسْنده 1/311، 312، حَدِيث (272) وَابْن حَاتِم فِي الْعِلَل 2/101، 102، حَدِيث (1797) ، وَالْبَغوِيّ فِي شرح السّنة كتاب الدَّعْوَات بَاب التَّوْبَة 5/91، حَدِيث (1307) وَأَبُو يعلي فِي مُسْنده 9/13، حَدِيث (5080) ، 9/64، حَدِيث (5129) من طرق عَن عبد الْكَرِيم الْجَزرِي عَن زِيَاد بن الْجراح عَن عبد الله بن معقل بِهِ.

وَرَوَاهُ ابْن حبَان (كَمَا فِي الْإِحْسَان كتاب الرَّقَائِق بَاب التَّوْبَة 2/379، حَدِيث 614) ، وَأَبُو نعيم فِي الْحِلْية 8/251 عَن الْمسيب بن وَاضح حَدثنَا يُوسُف بِهِ أَسْبَاط عَن مَالك بن مغول عَن مَنْصُور عَن خَيْثَمَة عَن ابْن مَسْعُود بِهِ. وَقَالَ أَبُو نعيم: "رَوَاهُ عَن مَالك جمَاعَة". وَإِسْنَاده ضَعِيف، الْمسيب بن وَاضح صَدُوق يُخطئ كثيرا كَمَا قَالَ أَبُو حَاتِم، ويوسف بن أَسْبَاط ضَعِيف، وخيثمة لم يسمع من ابْن مَسْعُود. ينظر لِسَان الْمِيزَان 6/40، 317، تَهْذِيب التَّهْذِيب 3/179.

وَرَوَاهُ الْخَطِيب فِي تَارِيخ بَغْدَاد 9/405 من طَرِيق حسام بن مصك عَن مَنْصُور بِهِ، وحسام ضَعِيف يكَاد أَن يتْرك كَمَا فِي التَّقْرِيب.

وَرَوَاهُ أَبُو يعلي فِي مُسْنده 9/171 من طَرِيق خَالِد بن الْحَارِث حَدثنَا مَالك بن مغول عَن مَنْصُور عَن خَيْثَمَة عَن رجل عَن عبد الله بن مَسْعُود، وَإِسْنَاده ضَعِيف لجَهَالَة الرَّاوِي عَن ابْن مَسْعُود.

وَرَوَاهُ ابْن حبَان كَمَا فِي الْإِحْسَان الْموضع السَّابِق، حَدِيث (613) ، وَالْحَاكِم فِي الْموضع السَّابِق من طَرِيق يحي بن أَيُّوب عَن حميد الطَّوِيل عَن أنس بن مَالك مَرْفُوعا. وَصَححهُ الْحَاكِم، وَتعقبه الذَّهَبِيّ فِي التخليص بقوله: "هَذَا من مَنَاكِير يحي". وَقَالَ ابْن حجر فِي التَّقْرِيب فِي تَرْجَمَة يحي بن أَيُّوب - وَهُوَ أَبُو الْعَبَّاس الغافقي-: "صَدُوق رُبمَا أَخطَأ ".

وَرَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ فِي الْكَبِير 22/306، حَدِيث (775) ، وَأَبُو نعيمِ فِي الْحِلْية 10/398 من طَرِيق يحيى ابْن أبي خَالِد عَن ابْن أبي سعيد الْأنْصَارِيّ عَن أَبِيه مَرْفُوعا. ويحي بن أبي خَالِد وَشَيْخه مَجْهُولَانِ. ينظر اللِّسَان 6/252، وَقَالَ السخاوي فِي الْمَقَاصِد الْحَسَنَة ص 152. "سَنَده ضَعِيف " وَينظر السلسلة الضعيفة 2/83.

رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ فِي الصَّغِير 1/69، والعقيلي فِي الضُّعَفَاء 4/259 عَن طَرِيق مُورق بن سخيت حَدثنَا أَبُو هِلَال عَن مُحَمَّد بن سِيرِين عَن أبي هُرَيْرَة مَرْفُوعا، وَقَالَ الْعقيلِيّ: "مُورق بن سخيت عَن أبي هِلَال الرَّاسِبِي وَلَا يُتَابع عَلَيْهِ بِهَذَا الْإِسْنَاد"، و"مُورق " لم يوثقه سوى ابْن حبَان، وَقَالَ الذَّهَبِيّ: "فِيهِ جَهَالَة" شَيْخه أَبُو هِلَال صَدُوق فِيهِ لين كَمَا فِي التَّقْرِيب. ينظر الثِّقَات 9/198، وَالْمِيزَان 4/198، والتقريب ص481، وَاللِّسَان 1/111.

وَفِي الْجُمْلَة فَإِن هَذَا الحَدِيث صَحِيح، لاشك فِي صِحَّته، وَقد صَححهُ الْعقيلِيّ فِي الضُّعَفَاء 4/259، والبوصيري فِي مِصْبَاح الزجاجة 4/248، 2/464، وَالشَّيْخ أَحْمد شَاكر فِي تَعْلِيقه على الْمسند، وَالشَّيْخ مُحَمَّد نَاصِر الدّين فِي صَحِيح سنَن ابْن مَاجَه 2/418، والأرنؤوط فِي تَعْلِيقه على شرح السّنة، وحسين أَسد فِي تَعْلِيقه على مُسْند أبي يعلي.
এই সবকিছু মৌখিক তাওবার সাথে সংশ্লিষ্ট, এবং সাধারণভাবে এখানে এটিই উদ্দেশ্য, যা হলো কোনো বান্দা কর্তৃক অবাধ্যতার কাজের জন্য অনুশোচনা প্রকাশ, পুনরায় তাতে ফিরে না যাওয়ার সংকল্প এবং কৃত পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনার মাধ্যমে আপন রবের সাথে নিভৃত আলাপ করা। পক্ষান্তরে অন্তরের অনুশোচনা, যা কি না স্বয়ং তাওবা১ অথবা এর সর্বশ্রেষ্ঠ রুকন বা স্তম্ভ২, কারণ হাদিসে এসেছে: "অনুশোচনাই হলো তাওবা"৩, আর তা হয়ে থাকে এর আগে।

--------------------------------------------

১ মাদারিজুস সালিকিন ১/৩১১, ত্বরাহুত তাসরিব ৮/২৩৮।

২ ফাতহুল বারী ১১/১০৩, ১০৪।

৩ ইমাম আহমদ তাঁর মুসনাদ ৫/১৯৪, ১৯৫, নম্বর (৩৫৬৮), এবং ৬/৪৬, নম্বর (৪০১৪, ৪০১৬), এবং ৬/৮৩, নম্বর (৪১২৪) গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন। এছাড়া ইবনুল মুবারক আল-জুহদ পৃষ্ঠ ৩২-এ, হাদিস (১০৪৪); আল-হুমাইদি তাঁর মুসনাদ ১/৫৮, ৫৯, হাদিস (১০৫); ইবন আবি শাইবাহ তাঁর মুসান্নাফ-এর কিতাবুদ দিয়াত অনুচ্ছেদে (৯/৩৬১, ৩৬২); ইবন মাজাহ তাঁর সুনান-এর কিতাবুজ জুহদ, তাওবা পরিচ্ছেদে ২/১৪২০, হাদিস (৪২৫২); আশ-শাশি তাঁর মুসনাদ ১/৩০৯, নম্বর (২৬৯); তাবারানি আস-সগির ১/৩৩; আবু ইয়ালা মুসনাদ ৮৫/৩৮০, হাদিস (৪৯৬৯); হাকিম আল-মুসতাদরাক-এর কিতাবুত তাওবা ওয়াল ইনাবাহ ৪/২৪৩ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন এবং একে সহিহ (صحيح) বলেছেন এবং আজ-জাহাবি তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন। এছাড়া আল-কুদ্বায়ি মুসনাদুশ শিহাব ১/৪২, ৪৩, নম্বর (১৩, ১৪); আবু নুয়াইম আল-হিলয়াহ ৮/৩১২; ইবন আদি আল-কামিল ৪/১৪৬৪ এবং বায়হাকি তাঁর কিতাবুল আদাব-এর 'যে ব্যক্তি প্রতিটি পাপের পর দ্রুত তাওবা করে ও আল্লাহর কাছে ক্ষমা চায়' পরিচ্ছেদে পৃষ্ঠা ৪৪৩, নম্বর (১১৯০)-এ বর্ণনা করেছেন। এসব বর্ণনা আব্দুল কারীম ইবন মালিক আল-জাজারি হতে, তিনি যিয়াদ ইবন আবি মারইয়াম হতে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবন মাকিল হতে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ হতে মারফু (مرفوع) সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। এর সনদ উত্তম (جيد)। যিয়াদ ইবন আবি মারইয়ামের ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে; বলা হয়েছে তিনি যিয়াদ ইবনুল জাররাহ, আবার বলা হয়েছে তারা দুজন আলাদা ব্যক্তি, তবে তারা উভয়েই নির্ভরযোগ্য (ثقة)। দ্রষ্টব্য: বুখারির আত-তারিখুল কাবির ১/৩৪৭, দারা কুতনির আল-ইলাল ৩/১৯০-১৯৩, তাহজিবুত তাহজিব ৩/৩৮৪, ৩৮৫।

ইমাম আহমদ এটি তাঁর মুসনাদ ৬/৪৫, হাদিস (৪০১২ শাকের তাহকিক); আশ-শাশি মুসনাদ ১/৩১১, ৩১২, হাদিস (২৭২); ইবন আবি হাতিম আল-ইলাল ২/১০১, ১০২, হাদিস (১৭৯৭); বাগাওয়ী শারহুস সুন্নাহ-র কিতাবুদ দাওয়াত, তাওবা পরিচ্ছেদে ৫/৯১, হাদিস (১৩০৭) এবং আবু ইয়ালা তাঁর মুসনাদ ৯/১৩, হাদিস (৫০৮০), ৯/৬৪, হাদিস (৫১২৯) গ্রন্থে আব্দুল কারীম আল-জাজারি হতে, তিনি যিয়াদ ইবনুল জাররাহ হতে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবন মাকিল সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

এটি ইবন হিব্বান (আল-ইহসান-এর কিতাবুর রিকাক, তাওবা পরিচ্ছেদে ২/৩৭৯, হাদিস ৬১৪ অনুযায়ী) এবং আবু নুয়াইম আল-হিলয়াহ ৮/২৫১ গ্রন্থে মুসাইয়্যেব ইবন ওয়াদিহ হতে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইউসুফ ইবন আসবাত বর্ণনা করেছেন মালিক ইবন মিগওয়াল হতে, তিনি মানসুর হতে, তিনি খাইসামাহ হতে, তিনি ইবন মাসউদ সূত্রে বর্ণনা করেছেন। আবু নুয়াইম বলেন: "মালিক হতে একদল রাবি এটি বর্ণনা করেছেন।" এর সনদ দুর্বল (ضعيف); মুসাইয়্যেব ইবন ওয়াদিহ সত্যবাদী (صدوق), তবে তিনি অধিক ভুল করেন যেমনটি আবু হাতিম বলেছেন। ইউসুফ ইবন আসবাত দুর্বল (ضعيف), আর খাইসামাহ ইবন মাসউদ থেকে সরাসরি শোনেননি। দ্রষ্টব্য: লিসানুল মিজান ৬/৪০, ৩১৭, তাহজিবুত তাহজিব ৩/১৭৯।

খতিব এটি তারিখে বাগদাদ ৯/৪০৫ গ্রন্থে হুসাম ইবন মিসাক-এর সূত্র ধরে মানসুর থেকে বর্ণনা করেছেন; হুসাম দুর্বল (ضعيف) এবং প্রায় পরিত্যক্ত (متروك) হওয়ার উপক্রম, যেমনটি আত-তাকরিব গ্রন্থে বলা হয়েছে।

আবু ইয়ালা এটি তাঁর মুসনাদ ৯/১৭১ গ্রন্থে খালিদ ইবনুল হারিস-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: আমাদের নিকট মালিক ইবন মিগওয়াল বর্ণনা করেছেন মানসুর হতে, তিনি খাইসামাহ হতে, তিনি এক ব্যক্তি হতে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ সূত্রে বর্ণনা করেছেন। এই সনদটি দুর্বল (ضعيف), কারণ ইবন মাসউদ থেকে বর্ণনাকারী ব্যক্তিটি অজ্ঞাত (مجهول)।

ইবন হিব্বান পূর্বোক্ত কিতাব আল-ইহসান-এ হাদিস (৬১৩) এবং হাকিম পূর্বোক্ত স্থানে ইয়াহইয়া ইবন আইয়ুব-এর সূত্রে হুমাইদ আত-তবিল হতে, তিনি আনাস ইবন মালিক হতে মারফু (مرفوع) সূত্রে বর্ণনা করেছেন। হাকিম একে সহিহ (صحيح) বলেছেন, তবে আজ-জাহাবি আত-তালখিস গ্রন্থে তার সমালোচনা করে বলেছেন: "এটি ইয়াহইয়ার মনকার (منكر) বর্ণনাগুলোর অন্তর্ভুক্ত।" ইবন হাজার আত-তাকরিব গ্রন্থে ইয়াহইয়া ইবন আইয়ুব (যিনি আবু আব্বাস আল-গাফেকি) এর জীবনীতে বলেছেন: "তিনি সত্যবাদী (صدوق), তবে সম্ভবত ভুল করতেন।"

তাবারানি আল-কাবির ২২/৩০৬, হাদিস (৭৭৫) এবং আবু নুয়াইম আল-হিলয়াহ ১০/৩৯৮ গ্রন্থে ইয়াহইয়া ইবন আবি খালিদ-এর সূত্রে ইবন আবি সাঈদ আল-আনসারি হতে, তিনি তাঁর পিতা হতে মারফু (مرفوع) সূত্রে বর্ণনা করেছেন। ইয়াহইয়া ইবন আবি খালিদ এবং তাঁর শায়খ—উভয়েই অজ্ঞাত (مجهول)। দ্রষ্টব্য: আল-লিসান ৬/২৫২। সাখাভি আল-মাকাসিদুল হাসানাহ পৃষ্ঠা ১৫২-তে বলেছেন: "এর সনদ দুর্বল (ضعيف)"। আরও দ্রষ্টব্য: আস-সিলসিলাতুদ দয়িফাহ ২/৮৩।

তাবারানি আস-সগির ১/৬৯ এবং উকাইলি আদ-দুয়াফা ৪/২৫৯ গ্রন্থে মুয়াররিক ইবন সাখিত-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু হিলাল বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবন সিরিন হতে, তিনি আবু হুরায়রা হতে মারফু (مرفوع) সূত্রে বর্ণনা করেছেন। উকাইলি বলেন: "মুয়াররিক ইবন সাখিত আবু হিলাল আর-রাসিবির সূত্রে বর্ণিত এই সনদে একক, যার কোনো অনুসরণ বা সমর্থন (متابعة) পাওয়া যায় না।" ইবন হিব্বান ছাড়া অন্য কেউ মুয়াররিক-কে নির্ভরযোগ্য বলেননি। আজ-জাহাবি বলেছেন: "তার মাঝে অজ্ঞতা (جهالة) রয়েছে।" তাঁর শায়খ আবু হিলাল সত্যবাদী (صدوق), তবে তাঁর মাঝে শিথিলতা (لين) রয়েছে যেমনটি আত-তাকরিব গ্রন্থে উল্লেখ আছে। দ্রষ্টব্য: আস-সিকাত ৯/১৯৮, আল-মিজান ৪/১৯৮, আত-তাকরিব পৃষ্ঠা ৪৮১, আল-লিসান ১/১১১।

সামগ্রিকভাবে এই হাদিসটি সহিহ (صحيح), এর বিশুদ্ধতায় কোনো সন্দেহ নেই। উকাইলি আদ-দুয়াফা ৪/২৫৯ গ্রন্থে, বুসিরি মিসবাহুজ জুজাজাহ ৪/২৪৮, ২/৪৬৪ গ্রন্থে, শায়খ আহমদ শাকির মুসনাদ-এর টীকায়, শায়খ মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন সহিহ সুনান ইবন মাজাহ ২/৪১৮ গ্রন্থে, আরনাউত শারহুস সুন্নাহ-র টীকায় এবং হুসাইন আসাদ মুসনাদে আবু ইয়ালার টীকায় একে সহিহ (صحيح) বলেছেন।
(খণ্ড: ১) সালাতুত তাওবা ওয়াল আহকামুল মুতাআল্লিকা বিহা ফিল ফিকহিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ১৭১)
الصَّلَاة وَبعدهَا، لِأَن الْمُسلم لن يعزم على صَلَاة التَّوْبَة إِلَّا وَقد نَدم قلبه على فعل الْمعْصِيَة، وعزم على الإقلاع عَنْهَا، وَلَا يعْتَبر استغفاره بعد هَذِه الصَّلَاة تَوْبَة إِلَّا إِذا صَحبه نَدم الْقلب، وَإِلَّا كَانَت تَوْبَته غير صَادِقَة 1.

--------------------------------------------

1وَذَلِكَ أَن للتَّوْبَة ثَلَاثَة شُرُوط عَامَّة هِيَ:

1 – الإقلاع عَن الذَّنب.

2 – النَّدَم على مَا فَاتَ.

3 – الْعَزْم على أَلا يعود إِلَى الذَّنب الَّذِي تَابَ مِنْهُ، فَمن لم ينْدَم على فعل الْمعْصِيَة فَذَلِك دَلِيل على رِضَاهُ بِهِ، وإصراره عَلَيْهِ.

ينظر تَفْسِير الْقُرْطُبِيّ 4/40، 210، 211، و5/90، 280، شرح صَحِيح مُسلم 17/59، مَجْمُوع فَتَاوَى ابْن تَيْمِية 7/488، و10/318، 319، و11/319، الْآدَاب الشَّرْعِيَّة 1/84، طرح التثريب 8/238، مدارج السالكين 1/202.

وَينظر فتح الْبَارِي 11/103، 104 فَفِيهِ تَفْصِيل فِي شُرُوط التَّوْبَة.
সালাত এবং এর পরবর্তীতে; কেননা একজন মুসলিম তাওবার সালাতের দৃঢ় সংকল্প (عزم) তখনই করে যখন তার অন্তর সংঘটিত পাপের জন্য অনুতপ্ত হয় এবং তা বর্জনের (إقلاع) সিদ্ধান্ত নেয়। এই সালাতের পর তার ক্ষমা প্রার্থনা তাওবা হিসেবে গণ্য হবে না যতক্ষণ না তার সাথে অন্তরের অনুশোচনা (ندم) যুক্ত থাকে; অন্যথায় তার তাওবা সত্য (صادقة) হবে না ১।

--------------------------------------------

১. আর তা এই যে, তাওবার তিনটি সাধারণ শর্ত (شروط عامة) রয়েছে, সেগুলো হলো:

১ – গুনাহ বর্জন করা (إقلاع)।

২ – যা ঘটে গেছে তার জন্য অনুতপ্ত হওয়া (ندم)।

৩ – যে গুনাহ থেকে তাওবা করা হয়েছে তাতে পুনরায় ফিরে না আসার দৃঢ় সংকল্প (عزم) করা। সুতরাং যে ব্যক্তি পাপ কাজের জন্য অনুতপ্ত হয় না, তা তার ওই পাপের প্রতি সন্তুষ্টি এবং তাতে অটল থাকার (إصرار) প্রমাণ।

দেখুন তাফসির আল-কুরতুবি ৪/৪০, ২১০, ২১১ এবং ৫/৯০, ২৮০; শারহু সহিহ মুসলিম ১৭/৫৯; মাজমুউ ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়্যাহ ৭/৪৮৮, ১০/৩১৮, ৩১৯ এবং ১১/৩১৯; আল-আদাবুশ শারইয়্যাহ ১/৮৪; তরহুত তাসরিব ৮/২৩৮; মাদারিজুস সালিকিন ১/২০২।

আরও দেখুন ফাতহুল বারি ১১/১০৩, ১০৪; কেননা এতে তাওবার শর্তাবলির বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে।
(খণ্ড: ১) সালাতুত তাওবা ওয়াল আহকামুল মুতাআল্লিকা বিহা ফিল ফিকহিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ১৭২)
‌‌المبحث الرَّابِع

صفة صَلَاة التَّوْبَة

صَلَاة التَّوْبَة صَلَاة نَافِلَة1 يتَعَيَّن لَهَا جَمِيع الشُّرُوط اللَّازِمَة لصَلَاة النَّافِلَة، وَيجب فِيهَا من الْأَركان والواجبات مَا يجب فِي صَلَاة النَّافِلَة.

وَهِي رَكْعَتَانِ، كَمَا فِي حَدِيث أبي بكر الصّديق- رضي الله عنه 2.

ويشرع للتائب أَن يُصليهَا مُنْفَردا، لِأَنَّهَا من النَّوَافِل الَّتِي لَا تشرع لَهَا صَلَاة الْجَمَاعَة3، وَينْدب لَهَا بعْدهَا أَن يسْتَغْفر الله تَعَالَى، لحَدِيث أبي بكر- رضي الله عنه-4.

وَقَالَ الْغَزالِيّ عِنْد كَلَامه على الْأُمُور الَّتِي إِذا أتبع بهَا الذَّنب كَانَ الْعَفو عَنهُ مرجوا، قَالَ: " أَن تصلي عقيب الذَّنب رَكْعَتَيْنِ ثمَّ تستغفر الله تَعَالَى بعدهمَا سبعين مرّة، وَتقول: سُبْحَانَ الله الْعَظِيم وَبِحَمْدِهِ مائَة مرّة، ثمَّ تَتَصَدَّق بِصَدقَة، ثمَّ تَصُوم يَوْمًا"5.

--------------------------------------------

1 ينظر مَجْمُوع فتاواي ابْن تَيْمِية 23/215، نِهَايَة الْمُحْتَاج 2/122، مُغنِي الْمُحْتَاج 1/225، رد الْمُحْتَار 1/462، الْإِقْنَاع للشربيني 1/101، حَاشِيَة قليوبي 1/216.

2 سبق تَخْرِيجه ص (5،6) .

3 الْمُغنِي 2/529، 553، تحفة الْمُحْتَاج (مطبوع مَعَ حاشيتيه للشربيني وَابْن قَاسم 2/238) ، نِهَايَة الْمُحْتَاج 2/122، الْإِقْنَاع للشربيني 1/101، حَاشِيَة قليوبي 1/216، الدُّرَر السّنيَّة 4/242.

4 وَقد سبق الْكَلَام على مَحل الاسْتِغْفَار بِشَيْء من التَّفْصِيل فِي المبحث الثَّالِث.

5 الْإِحْيَاء:4/49.

وَقَالَ الملا عَليّ الْقَارِي فِي مرقاة المفاتيح 2/188: " وَقَالَ الْغَزالِيّ فِي الْمِنْهَاج: إِذا أردْت التَّوْبَة تغسل، واغسل ثِيَابك، وصل مَا كتب الله لَك، ثمَّ ضع وَجهك على الأَرْض فِي مَكَان خَال لَا يراك إِلَّا الله سبحانه وتعالى، ثمَّ اجْعَل التُّرَاب على رَأسك، ومرغ وَجهك الَّذِي هُوَ أعز أعضائك فِي التُّرَاب، بدمع حَار، وقلب حَزِين، وَصَوت عَال، وَاذْكُر ذنوبك وَاحِدًا وَاحِدًا مَا أمكنك، وَلم نَفسك العاصية عَلَيْهَا، ووبخها، وَقل: أما تستحين يَا نفس، أما أَن لَك أَن تتوبي وترجعي، أَلَك طَاقَة بِعَذَاب الله، أَلَك حاجز عَن سخط الله … " إِلَخ. وغالب مَا ذكره هُنَا لَا دَلِيل عَلَيْهِ، بل هُوَ من الْبدع الْمُحرمَة.
চতুর্থ পরিচ্ছেদ

তওবার নামাজের পদ্ধতি

তওবার নামাজ একটি নফল (نافلة) নামাজ১। নফল (نافلة) নামাজের জন্য প্রয়োজনীয় সকল শর্ত এর জন্যও অবধারিত এবং নফল (نافلة) নামাজে যেসকল রোকন (أركان) ও ওয়াজিব (واجبات) পালন করা আবশ্যক, এই নামাজেও তা আবশ্যক।

এটি দুই রাকাত, যেমনটি আবু বকর সিদ্দিক (রা.)-এর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে২।

তওবাকারীর জন্য এই নামাজ একাকী আদায় করা বিধেয়, কারণ এটি এমন নফল (نوافل) ইবাদতসমূহের অন্তর্ভুক্ত যার জন্য জামাতে (جماعة) নামাজ পড়ার বিধান নেই৩। এই নামাজের পর আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করা মুস্তাহাব (يندب), আবু বকর (রা.)-এর হাদিসের কারণে৪।

ইমাম গাজালি (রহ.) সেই বিষয়গুলোর বর্ণনায় বলেন যা পাপের পর করলে ক্ষমা পাওয়ার আশা রাখা যায়: "পাপের পর দুই রাকাত নামাজ আদায় করবে, অতপর নামাজের পর সত্তর বার আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে এবং একশ বার 'সুবহানাল্লাহিল আজিমি ওয়া বিহামদিহি' বলবে। এরপর কিছু দান-সদকা করবে এবং একদিন রোজা রাখবে"৫।

--------------------------------------------

১ দেখুন: মাজমু ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়্যাহ ২৩/২১৫, নিহায়াতুল মুহতাজ ২/১২২, মুগনিল মুহতাজ ১/২২৫, রদ্দুল মুহতার ১/৪৬২, আল-ইকনা লিশ-শারবিনি ১/১০১, হাশিয়াতু কলিউবি ১/২১৬।

২ এর তখরিজ (تخريج) পূর্বে ৫ ও ৬ পৃষ্ঠায় অতিক্রান্ত হয়েছে।

৩ আল-মুগনি ২/৫২৯, ৫৫৩, তুহফাতুল মুহতাজ (শারবিনি ও ইবনে কাসিমের টিকাসহ মুদ্রিত ২/২৩৮), নিহায়াতুল মুহতাজ ২/১২২, আল-ইকনা লিশ-শারবিনি ১/১০১, হাশিয়াতু কলিউবি ১/২১৬, আদ-দুরারুস সানিয়্যাহ ৪/২৪২।

৪ ক্ষমা প্রার্থনার স্থান সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা তৃতীয় পরিচ্ছেদে করা হয়েছে।

৫ এহিয়াউ উলুমিদ্দীন: ৪/৪৯।

মোল্লা আলী কারী মিরকাতুল মাফাতিহ ২/১৮৮ গ্রন্থে বলেন: "গাজালি আল-মিনহাজ গ্রন্থে বলেছেন: যখন তুমি তওবা করার ইচ্ছা করবে তখন গোসল করো, তোমার কাপড় ধৌত করো এবং আল্লাহ তোমার জন্য যা লিখে রেখেছেন তা নামাজ পড়ো। অতপর নির্জনে যেখানে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা ছাড়া কেউ তোমাকে দেখছে না, সেখানে তোমার চেহারা জমিনে রাখো, তোমার মাথায় মাটি মাখো এবং তোমার শরীরের সবচেয়ে সম্মানিত অঙ্গ চেহারাটিকে অশ্রুসিক্ত চোখে, ব্যথিত হৃদয়ে ও উচ্চস্বরে মাটির সাথে ধূসরিত করো। সম্ভব হলে তোমার পাপগুলো একে একে স্মরণ করো এবং তোমার অবাধ্য নফসকে তিরস্কার ও ভর্ৎসনা করো এবং বলো: হে নফস! তোমার কি লজ্জা হয় না? তোমার কি তওবা করার ও ফিরে আসার সময় হয়নি? আল্লাহর আজাব সহ্য করার ক্ষমতা কি তোমার আছে? আল্লাহর অসন্তুষ্টি থেকে বাঁচার কি কোনো উপায় তোমার আছে … " ইত্যাদি। এখানে তিনি যা উল্লেখ করেছেন তার অধিকাংশেরই কোনো দলিল নেই, বরং এগুলো নিষিদ্ধ বিদআত (بدع) সমূহের অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ১) সালাতুত তাওবা ওয়াল আহকামুল মুতাআল্লিকা বিহা ফিল ফিকহিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ১৭৩)
وَهَذَا القَوْل فِيهِ نظر، فَأصل مَشْرُوعِيَّة الاسْتِغْفَار، وَذكر الله تَعَالَى وَالَّذِي يَشْمَل التَّسْبِيح والتحميد ثَابت فِي هَذَا الْموضع بقوله تَعَالَى: {وَالَّذِينَ إِذَا فَعَلُوا فَاحِشَةً أَوْ ظَلَمُوا أَنْفُسَهُمْ ذَكَرُوا اللَّهَ فَاسْتَغْفَرُوا لِذُنُوبِهِمْ} 1، وَإِن كَانَ قد اخْتلف فِي المُرَاد بقوله تَعَالَى فِي هَذِه الْآيَة {ذَكَرُوا اللَّهَ} ، فَقيل: المُرَاد ذكرُوا وَعِيد الله على مَا فعلوا من معصيتهم إِيَّاه، وتذكروا عِقَابه، وَقيل: المُرَاد ذكرُوا الله بِاللِّسَانِ2، وَقيل: المُرَاد: الصَّلَاة3.

وَقد يُقَال: إِن لفظ الْآيَة يعم هَذِه الْأُمُور كلهَا 4.

وَكَذَلِكَ الصَّدَقَة يدل على مشروعيتها فِي هَذَا الْموضع عُمُوم قَول الله

--------------------------------------------

1 سُورَة آل عمرَان: 135.

2 تَفْسِير ابْن أبىِ حَاتِم 2/552، 553، تَفْسِير الطَّبَرِيّ 7/217، 222، 223، زَاد الْمسير /463، 464، تَفْسِير الْبَغَوِيّ 1/353، تَفْسِير الْقُرْطُبِيّ 4/210، فتح الْقَدِير للشوكاني1/381.

3 قَالَ الطَّيِّبِيّ فِي شرح الْمشكاة 3/180: أَقُول: {وذَكَرُوا اللَّهَ} يجب أَن يحمل على الصَّلَاة.كَمَا فِي قَوْله تَعَالَى: {فَاسَعَوْا إِلَى ذِكْرِ اللَّه} ليطابق لفظ الحَدِيث، وَهُوَ قَوْله: " ثمَّ يُصَلِّي ثمَّ يسْتَغْفر الله".أ. هـ.

4 ذكر بعض الْعلمَاء أَن المُرَاد أَن النَّص القرآني إِذا جَاءَ بِلَفْظ عَام يحمل على جَمِيع مَا يَشْمَلهُ هَذَا اللَّفْظ من الْمعَانِي، وَقد سَمِعت شَيخنَا مُحَمَّد بن صَالح بن عثيمين يُقرر هَذِه الْقَاعِدَة فِي مَجْلِسه أَو أَكثر من مجالسه العلمية الْمُبَارَكَة. وَينظر مُقَدّمَة التَّفْسِير لِابْنِ تيميه ص 49، 50، أضواء الْبَيَان 3/124، التَّحْرِير والتنوير 1/93 – 100، الإكسير فِي قَوَاعِد علم التَّفْسِير للطوفي ص 13، مُقَدّمَة جَامع التفاسير للراغب ص 98، وَقَالَ الملا عَليّ الْقَارِي فِي الْمرقاة 2/187، 188: " أَي ذكرُوا عِقَابه. قَالَ الطَّيِّبِيّ: أَو وعيده. وَظَاهر الحَدِيث أَن مَعْنَاهُ: صلوا. لَكِن الْعبْرَة بِعُمُوم اللَّفْظ، لَا بِخُصُوص السَّبَب، فَالْمَعْنى ذكر الله بِنَوْع من أَنْوَاع الذّكر، من ذكر الْعقَاب … أَو تَعْظِيم رب الأرباب، أَو بالتسبيح، والتهليل أَو قِرَاءَة الْقُرْآن أَو بِالصَّلَاةِ الَّتِي تجمعها ".
এবং এই বক্তব্যে পর্যালোচনার অবকাশ (نظر) রয়েছে। কেননা ইস্তিগফারের বৈধতার মূল ভিত্তি এবং মহান আল্লাহর যিকির—যা তাসবিহ ও তাহমিদকে অন্তর্ভুক্ত করে—তা এই প্রসঙ্গে মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে প্রমাণিত: {আর যারা কোনো অশ্লীল কাজ করলে অথবা নিজেদের প্রতি জুলুম করলে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং তাদের পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে} ১। যদিও এই আয়াতে মহান আল্লাহর বাণী {তারা আল্লাহকে স্মরণ করে} এর উদ্দেশ্য সম্পর্কে মতভেদ রয়েছে। বলা হয়েছে: এর উদ্দেশ্য হলো তারা তাদের কৃত নাফরমানির ব্যাপারে আল্লাহর হুঁশিয়ারির কথা স্মরণ করে এবং তাঁর শাস্তির কথা মনে করে। আবার বলা হয়েছে: এর উদ্দেশ্য হলো মুখে আল্লাহর যিকির করা ২। আর বলা হয়েছে: এর উদ্দেশ্য হলো সালাত ৩।

এবং বলা যেতে পারে যে, আয়াতের শব্দসমূহ এই সবকটি বিষয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে ৪।

অনুরূপভাবে, সদাকাহর বৈধতার ওপর এই ক্ষেত্রে মহান আল্লাহর বাণীর ব্যাপকতা (عموم) প্রমাণ করে

--------------------------------------------

১ সূরা আল-ইমরান: ১৩৫।

২ তাফসিরে ইবনে আবি হাতিম ২/৫৫২, ৫৫৩; তাফসিরে তবারি ৭/২১৭, ২২২, ২২৩; যাদুল মাসির ৪৬৩, ৪৬৪; তাফসিরে বাগাওয়ী ১/৩৫৩; তাফসিরে কুরতুবি ৪/২১০; শাওকানি রচিত ফাতহুল কাদির ১/৩৮১।

৩ 'শরহুল মিশকাত'-এ তিবী (৩/১৮০) বলেন: আমি বলি: {তারা আল্লাহকে স্মরণ করে} কথাটিকে সালাতের ওপর প্রয়োগ করা আবশ্যক, যেমনটি মহান আল্লাহর এই বাণীতে রয়েছে: {তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হও}। যাতে এটি হাদিসের শব্দের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, আর তা হলো: "অতঃপর সালাত আদায় করে, তারপর আল্লাহর নিকট ক্ষমা চায়।" সমাপ্ত।

৪ কোনো কোনো আলেম উল্লেখ করেছেন যে, কুরআনের নস (نص) যখন কোনো আম (عام) শব্দে আসে, তখন সেই শব্দের অন্তর্ভুক্ত সকল অর্থের ওপর তা প্রয়োগ করা হয়। আমি আমাদের শায়খ মুহাম্মদ বিন সালিহ আল-উসাইমিনকে তাঁর ইলমি মজলিসে একাধিকবার এই মূলনীতি (قاعدة) নির্ধারণ করতে শুনেছি। দেখুন: ইবনে তাইমিয়াহর মুকাদ্দিমাতুত তাফসির পৃ. ৪৯, ৫০; আদওয়াউল বায়ান ৩/১২৪; আত-তাহরির ওয়াত-তানভির ১/৯৩-১০০; তুফি রচিত আল-ইকসির ফি কাওয়ায়িদ ইলমিত তাফসির পৃ. ১৩; রাগিবের মুকাদ্দিমা জামিউত তাফাসির পৃ. ৯৮। মোল্লা আলী কারী 'মিরকাত' (২/১৮৭, ১৮৮) গ্রন্থে বলেন: "অর্থাৎ তারা তাঁর শাস্তির কথা স্মরণ করে। তিবী বলেন: অথবা তাঁর হুঁশিয়ারি। আর হাদিসের বাহ্যিক অর্থ হলো: এর অর্থ সালাত। তবে ধর্তব্য হলো শব্দের ব্যাপকতা (عموم), প্রেক্ষাপটের বিশিষ্টতা (خصوص السبب) নয়। সুতরাং অর্থ হলো যেকোনো প্রকার যিকিরের মাধ্যমে আল্লাহকে স্মরণ করা; সেটা শাস্তির স্মরণের মাধ্যমে হোক... অথবা রব্বুল আরবাবের মহিমা বর্ণনার মাধ্যমে, অথবা তাসবিহ, তাহলিল, কুরআন তিলাওয়াত কিংবা সালাতের মাধ্যমে হোক যা এই সবকটিকে অন্তর্ভুক্ত করে।"
(খণ্ড: ১) সালাতুত তাওবা ওয়াল আহকামুল মুতাআল্লিকা বিহা ফিল ফিকহিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ১৭৪)
تَعَالَى: {إِنْ تُبْدُوا الصَّدَقَاتِ فَنِعِمَّا هِيَ وَإِنْ تُخْفُوهَا وَتُؤْتُوهَا الْفُقَرَاءَ فَهُوَ خَيْرٌ لَكُمْ وَيُكَفِّرُ عَنْكُمْ مِنْ سَيِّئَاتِكُمْ} 1.

وَثَبت عَن كَعْب بن مَالك رضي الله عنه أَنه قَالَ لما تَابَ الله عَلَيْهِ: "يَا رَسُول الله إنّ من تَوْبَتِي أَن أَنْخَلِع من مَالِي صَدَقَة إِلَى الله وَإِلَى رَسُوله، قَالَ رَسُول الله: " أمسك عَلَيْك بعض مَالك فَهُوَ خير لَك "، قَالَ: فَإِنِّي أمسك سهمي الَّذِي بِخَيْبَر". مُتَّفق عَلَيْهِ2.

وَثَبت عَن أبي هُرَيْرَة رضي الله عنه عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ: "من حلف، فَقَالَ فِي حلفه: "وَاللات والعزّى" فَلْيقل: "لَا إِلَه إِلَّا الله "، وَمن قَالَ لصَاحبه: "تعال أقامرك"3 فليتصدق " مُتَّفق عَلَيْهِ4. وَفِي رِوَايَة لمُسلم: "فليتصدق بِشَيْء" 5.

--------------------------------------------

1 سُورَة الْبَقَرَة: 271.

2 صَحِيح البُخَارِيّ مَعَ الْفَتْح كتاب الْوَصَايَا بَاب إِذا تصدق أَو وقف بعض رَقِيقه أَو دوابه فَهُوَ جَائِز 5/386، حَدِيث (2757) ، وَكتاب الْمَغَازِي بَاب حَدِيث كَعْب ابْن مَالك 8/11-116، حَدِيث (4418) ، وَكتاب التَّفْسِير بَاب {لَقَدْ تَابَ اللَّهُ عَلَى النَّبِيِّ وَالْمُهَاجِرِينَ وَالأَنْصَارِ} 8/341، 342، حَدِيث (4676) ، وصحيح مُسلم مَعَ شَرحه للنووي كتاب التَّوْبَة:17/96، 97.

3 قَالَ شمس الدّين البعلي فِي المطلع على أَبْوَاب الْمقنع ص 256، 257 "الْقمَار مصدر قامر إِذا لعب مَعَه على مَال يَأْخُذهُ الْغَالِب من المغلوب، كَائِنا مَا كَانَ، إِلَّا مَا اسْتثْنِي فِي بَاب السَّبق، يُقَال: قمره يقمره ويقمره، بِضَم الْمِيم وَكسرهَا، عَن صَاحب الْمُحِيط وأقمره، عَن ابْن القطاع وَغَيره".

4 فتح الْبَارِي كتاب التَّفْسِير بَاب: {أَفَرَأَيْتُمُ اللاّتَ وَالْعُزَّى} 8/611، حَدِيث (4860) وَكتاب الاسْتِئْذَان بَاب كل لَهو بَاطِل إِذا شغل عَن طَاعَة الله 11/91، حَدِيث (6301) ، وَكتاب الْأَدَب بَاب من لم ير إكفار من قَالَ ذَلِك متأولاً أَو جَاهِلا 10/516، وَكتاب الْأَيْمَان وَالنُّذُور بَاب لَا يحلف بِاللات والعزى وَلَا بالطواغييت 11/536، حَدِيث (6650) .

وصحيح مُسلم كتاب الْأَيْمَان بَاب من حلف بِاللات والعزى فَلْيقل: لَا إِلَه إِلَّا الله 2/1267، حَدِيث (1647) .

5 صَحِيح مُسلم الْموضع السَّابِق 2/1268. وَقَالَ النَّوَوِيّ فِي شرح مُسلم 11/107: "قَالَ الْعلمَاء: "أَمر بِالصَّدَقَةِ تكفيراً لخطيئته فِي كَلَامه بِهَذِهِ الْمعْصِيَة". قَالَ الْخطابِيّ: "مَعْنَاهُ فليتصدق بِقدر مَا أَمر أَن يقامر بِهِ". وَالصَّوَاب الَّذِي عَلَيْهِ الْمُحَقِّقُونَ، وَهُوَ ظَاهر الحَدِيث أَنه لَا يخْتَص بذلك الْمِقْدَار، بل يتَصَدَّق بِمَا تيَسّر، مِمَّا ينطبق عَلَيْهِ اسْم الصَّدَقَة، وَيُؤَيِّدهُ رِوَايَة معمر الَّتِي ذكرهَا مُسلم: "فليتصدق بِشَيْء" أ. هـ.
আল্লাহ তাআলা বলেন: {যদি তোমরা প্রকাশ্যে দান করো তবে তা কতই না চমৎকার; আর যদি তোমরা তা গোপনে করো এবং অভাবগ্রস্তদের তা প্রদান করো, তবে তা তোমাদের জন্য আরও বেশি কল্যাণকর এবং তিনি তোমাদের কিছু পাপ মোচন করবেন} ১।

কাব ইবনে মালিক (রা.) থেকে সাব্যস্ত (ثبت) হয়েছে যে, যখন আল্লাহ তাঁর তাওবা কবুল করলেন তখন তিনি বললেন: "হে আল্লাহর রাসুল! আমার তাওবার অংশ হিসেবে আমি আমার সমস্ত সম্পদ থেকে বিমুক্ত হয়ে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের উদ্দেশ্যে সদকা করতে চাই।" আল্লাহর রাসুল বললেন: "তোমার কিছু সম্পদ নিজের কাছে রাখো, তা তোমার জন্য কল্যাণকর।" তিনি বললেন: "তবে আমি খায়বারে প্রাপ্ত আমার অংশটি রেখে দিচ্ছি।" ঐকমত্যপূর্ণ (متفق عليه) ২।

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে নবী কারীম (সা.) সূত্রে সাব্যস্ত (ثبت) যে, তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি শপথ করে এবং শপথের মাঝে বলে: 'লাত ও উযযার শপথ', সে যেন বলে: 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'। আর যে ব্যক্তি তার সঙ্গীকে বলে: 'এসো জুয়া খেলি'৩, সে যেন সদকা করে।" ঐকমত্যপূর্ণ (متفق عليه) ৪। মুসলিম-এর এক বর্ণনায় (رواية): "সে যেন কিছু একটা সদকা করে" ৫।

--------------------------------------------

১. সূরা আল-বাকারা: ২৭১।

২. ফাতহুল বারীসহ সহীহ বুখারী, কিতাবুল ওয়াসায়া, অনুচ্ছেদ: যখন কেউ তার কিছু দাস বা গবাদি পশু সদকা বা ওয়াকফ করে তবে তা বৈধ, ৫/৩৮৬, হাদিস (২৭৫৭); এবং কিতাবুল মাগাজি, অনুচ্ছেদ: কাব ইবনে মালিকের হাদিস, ৮/১১-১১৬, হাদিস (৪৪১৮); এবং কিতাবুত তাফসির, অনুচ্ছেদ: {অবশ্যই আল্লাহ ক্ষমা করেছেন নবীকে এবং মুহাজির ও আনসারদেরকে}, ৮/৩৪১, ৩৪২, হাদিস (৪৬৭৬); এবং ইমাম নববীর ব্যাখ্যাসহ সহীহ মুসলিম, কিতাবুত তাওবা: ১৭/৯৬, ৯৭।

৩. শামসুদ্দিন আল-বালি 'আল-মুতলি আলা আবওয়াবিল মুকনি' (পৃষ্ঠা ২৫৬, ২৫৭) গ্রন্থে বলেন: "জুয়া (কিমার) হলো 'ক্বামারা' এর মাসদার (ক্রিয়ামূল), যখন কেউ অন্যের সাথে কোনো মালের বিনিময়ে খেলে যা বিজয়ী ব্যক্তি পরাজিত ব্যক্তির থেকে গ্রহণ করে, তা যা-ই হোক না কেন; তবে প্রতিযোগিতার অধ্যায়ে যা ব্যতিক্রম ধরা হয়েছে তা ব্যতীত। আল-মুহিত এর রচয়িতার সূত্রে 'ক্বামারা ইয়াক্বমুরুহু' বা 'ইয়াক্বমিরুহু' (মীমে পেশ বা যের যোগে) বলা হয় এবং ইবনুল কাত্তায় ও অন্যদের সূত্রে 'আক্বমারাহু' বলা হয়েছে।"

৪. ফাতহুল বারী, কিতাবুত তাফসির, অনুচ্ছেদ: {তোমরা কি ভেবে দেখেছ লাত ও উযযা সম্পর্কে?}, ৮/৬১১, হাদিস (৪৮৬০); এবং কিতাবুল ইসতিযান, অনুচ্ছেদ: আল্লাহর আনুগত্য থেকে বিমুখকারী প্রতিটি খেলতামাশা বাতিল, ১১/৯১, হাদিস (৬৩০১); এবং কিতাবুল আদব, অনুচ্ছেদ: যে ব্যক্তি ব্যাখ্যা বা অজ্ঞতাবশত এমন কথা বলে তাকে কাফির না বলা প্রসঙ্গে, ১০/৫১৬; এবং কিতাবুল আইমান ওয়ান নুযুর, অনুচ্ছেদ: লাত, উযযা বা মূর্তিদের নামে শপথ না করা, ১১/৫৩৬, হাদিস (৬৬৫০)। এবং সহীহ মুসলিম, কিতাবুল আইমান, অনুচ্ছেদ: যে ব্যক্তি লাত ও উযযার নামে শপথ করে সে যেন বলে: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, ২/১২৬৭, হাদিস (১৬৪৭)।

৫. সহীহ মুসলিম, পূর্বোক্ত স্থান, ২/১২৬৮। ইমাম নববী শারহ মুসলিমে (১১/১০৭) বলেছেন: "উলামায়ে কিরাম বলেছেন: 'এই পাপের কথা বলার কারণে তার গুনাহের কাফফারা হিসেবে তাকে সদকা করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।' আল-খাত্তাবি বলেন: 'এর অর্থ হলো—সে যেন সমপরিমাণ সদকা করে যা দিয়ে সে জুয়া খেলার প্রস্তাব দিয়েছিল।' তবে গবেষক আলিমদের নিকট সঠিক মত হলো—যা হাদিসের বাহ্যিক অর্থ থেকেও স্পষ্ট—এটি কোনো নির্দিষ্ট পরিমাণের সাথে সীমাবদ্ধ নয়, বরং সে যেন সামর্থ্য অনুযায়ী এমন কিছু সদকা করে যার ওপর সদকা শব্দটি প্রযোজ্য হয়। ইমাম মুসলিম কর্তৃক বর্ণিত মা'মারের বর্ণনা (رواية) একে সমর্থন করে: 'সে যেন কিছু একটা সদকা করে'।"
(খণ্ড: ১) সালাতুত তাওবা ওয়াল আহকামুল মুতাআল্লিকা বিহা ফিল ফিকহিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ১৭৫)
وَثَبت عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم أَنه قَالَ: " الصَّدَقَة تُطْفِئ الْخَطِيئَة، كَمَا يُطْفِئ المَاء النَّار" 1.

وَكَذَلِكَ عدد الاسْتِغْفَار ورد فِيهِ حَدِيث أبي هُرَيْرَة رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ

--------------------------------------------

1روى عبد الرَّزَّاق فِي مُصَنفه بَاب الْأُمَرَاء 11/345، رقم (20719) ، وَأحمد فِي مُسْنده 3/321، 399، (طبع الْمكتب الإسلامي) ، وَالْبَزَّار (كثف الأستار كتاب الْإِمَارَة بَاب الدُّخُول على أهل الظُّلم 2/241، رقم 1609) ، وَابْن حبَان فِي صَحِيحه (تَرْتِيب ابْن بلبان كتاب الصَّلَاة بَاب فضل الصَّلَوَات الْخمس 5/9، رقم 1723) ، وَالْحَاكِم فِي الْمُسْتَدْرك فِي معرفَة الصَّحَابَة 3/379، 380، وَفِي الْفِتَن والملاحم 4/422 من طَرِيق عَن عبد الله بن عُثْمَان بن خثيم عَن عبد الرَّحْمَن بن سابط عَن جَابر بن عبد الله رضي الله عنهما أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ لكعب بن عجْرَة: " أَعَاذَك الله يَا كَعْب بن عجْرَة من إِمَارَة السُّفَهَاء"، قَالَ: وَمَا إِمَارَة السُّفَهَاء؟ قَالَ: " أُمَرَاء يكونُونَ بعدِي لَا يهْدُونَ بِهَدي، وَلَا يستثنون بِسنتي، فَمن صدقهم بكذبهم، أَو أعانهم على ظلمهم، فَأُولَئِك لَيْسُوا مني وَلست مِنْهُم، وَلَا يردون عليّ حَوْضِي، وَمن لم يُصدقهُمْ على كذبهمْ، وَلم يُعِنْهُمْ على ظلمهم، فَأُولَئِك مني وَأَنا مِنْهُم، وسيردون عَليّ حَوْضِي، يَا كَعْب بن عجْرَة الصَّوْم جنَّة، وَالصَّدَََقَة تُطْفِئ الْخَطِيئَة، وَالصَّلَاة قرْبَان- أَو قَالَ: برهَان- يَا كَعْب بن عجْرَة إِنَّه لَا يدْخل الْجنَّة لحم نبت من سحت أبدا، النَّار أولى بِهِ، يَا كَعْب بن عجْرَة النَّاس غاديان، فمبتاع نَفسه فمعتقها، أَو بَائِعهَا فموبقها ". وَإِسْنَاده حسن، عبد الله بن عُثْمَان صَدُوق، من رجال مُسلم، وَعبد الرَّحْمَن بن سابط ثِقَة من رجال مُسلم أَيْضا، وَصَححهُ الْحَاكِم، وَوَافَقَهُ الذَّهَبِيّ، وَصَححهُ أَحْمد شَاكر فِي تَعْلِيقه على سنَن التِّرْمِذِيّ 2/514، 515، وَقَالَ الأرنؤوط فِي تَعْلِيقه على صَحِيح ابْن حبَان: "صَحِيح على شَرط مُسلم ".

وَله شَاهد بِنَحْوِهِ من حَدِيث كَعْب بن عجْرَة، رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ فِي الصَّلَاة بَاب مَا ذكر فِي فضل الصَّلَاة 2/512، 513، حَدِيث (614) ، وَالطَّبَرَانِيّ فِي مُعْجَمه الْكَبِير 19/105، 106، حَدِيث (212) من طَرِيقين عَن عبيد الله بن مُوسَى حَدثنَا غَالب أَبُو بشر عَن أَيُّوب بن عَائِذ الطَّائِي عَن قيس بن مُسلم عَن طَارق بن شهَاب عَن كَعْب بِهِ. وَإِسْنَاده ضَعِيف. رِجَاله ثِقَات رجال الصَّحِيحَيْنِ، عدا أبي بشر فَهُوَ مَقْبُول، كَمَا فِي التَّقْرِيب، وَقد صَححهُ أَحْمد شَاكر فِي تَعْلِيقه على سنَن التِّرْمِذِيّ وَذكره الشَّيْخ مُحَمَّد نَاصِر الدّين فِي صَحِيح سنَن التِّرْمِذِيّ 1/189.

وروى عبد الرَّزَّاق فِي مُصَنفه فِي بَاب الْمَفْرُوض من الْأَعْمَال والنوافل 11/194، رقم (20303) ، والإِمام أَحْمد 5/231 (طبع الْمكتب الإسلامي) ، وَالتِّرْمِذِيّ فِي الْإِيمَان بَاب مَا جَاءَ فِي حُرْمَة الصَّلَاة 5/11، 12، حَدِيث (2616) ، وَابْن مَاجَه فِي الْفِتَن بَاب كف اللِّسَان فِي الْفِتْنَة 2/1314، 1315، حَدِيث (3973) ، وَالنَّسَائِيّ فِي الْكُبْرَى كَمَا فِي تحفة الْأَشْرَاف 8/399، حَدِيث (11311) وَعبد بن حميد فِي الْمُنْتَخب من الْمسند ص 68، 69، رقم (112) من طَرِيق عَاصِم بن أبي النجُود عَن أبي وَائِل عَن معَاذ قَالَ: كنت مَعَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم فِي سفر- ذكر الحَدِيث بِطُولِهِ – وَفِيه: قَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم: " أَلا أدلك على أَبْوَاب الْخَيْر؟ الصَّوْم جنَّة وَالصَّدَََقَة تُطْفِئ الْخَطِيئَة كَمَا يُطْفِئ المَاء النَّار … ". وَقد أعل الْحَافِظ ابْن رَجَب هَذَا الْإِسْنَاد بالانقطاع بَين أبي وَائِل ومعاذ، وَأعله بعلة أُخْرَى. ينظر جَامع الْعُلُوم وَالْحكم 2/135.

وَلِهَذَا الحَدِيث – حَدِيث معَاذ رضي الله عنه – طرق أُخْرَى يطول الْكَلَام بذكرها. وَقد صَححهُ بِمَجْمُوع طرقه الشَّيْخ مُحَمَّد نَاصِر الدّين فِي السلسلة الصَّحِيحَة 3/114، 115، حَدِيث (1122) ، وَشُعَيْب الأرنؤوط فِي تَعْلِيقه على جَامع الْعُلُوم وَالْحكم 2/134، وَينظر الزّهْد لوكيع، رقم (30، 286، 109) ، وصحيح سنَن ابْن مَاجَه 2/359.
নবী (সা.) থেকে এটি প্রমাণিত যে তিনি বলেছেন: "দান-সদকা পাপকে মিটিয়ে দেয়, যেমন পানি আগুনকে নিভিয়ে দেয়।" ১।

অনুরূপভাবে ইস্তিগফারের সংখ্যার বিষয়ে আবু হুরায়রা (রা.)-এর হাদিস বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন:

--------------------------------------------

১. আবদুর রাজ্জাক তার মুসান্নাফ-এ ‘উমারা’ অধ্যায়ে ১১/৩৪৫, হাদিস নং (২০৭১৯); আহমদ তার মুসনাদ-এ ৩/৩২১, ৩৯৯ (আল-মাকতাব আল-ইসলামি সংস্করণ); আল-বাজার (কাশফুল আসতার, কিতাবুল ইমারাহ, ‘জালেমদের নিকট প্রবেশ’ অনুচ্ছেদ ২/২৪১, হাদিস নং ১৬০৯); ইবনে হিব্বান তার সহিহ-তে (তারতিব ইবনে বিলবান, কিতাবুস সালাত, ‘পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের ফজিলত’ অনুচ্ছেদ ৫/৯, হাদিস নং ১৭২৩); এবং হাকেম আল-মুস্তাদরাক-এ ‘সাহাবিদের পরিচিতি’ অংশে ৩/৩৭৯, ৩৮০ এবং ‘ফিতনা ও মহাযুদ্ধ’ অংশে ৪/৪২২-এ আব্দুল্লাহ বিন উসমান বিন খায়সাম-এর সূত্র ধরে আব্দুর রহমান বিন সাবিত থেকে, তিনি জাবির বিন আব্দুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সা.) কাব বিন উজরাহ-কে বলেছেন: "হে কাব বিন উজরাহ! আল্লাহ তোমাকে অর্বাচীনদের নেতৃত্ব থেকে রক্ষা করুন।" তিনি জিজ্ঞেস করলেন: অর্বাচীনদের নেতৃত্ব কী? তিনি বললেন: "আমার পরে এমন কিছু নেতার আবির্ভাব ঘটবে যারা আমার হেদায়েত অনুযায়ী চলবে না এবং আমার সুন্নাহ অনুসরণ করবে না। যে ব্যক্তি তাদের মিথ্যাকে সত্য বলে বিশ্বাস করবে অথবা তাদের জুলুমের কাজে সহযোগিতা করবে, তারা আমার দলের অন্তর্ভুক্ত নয় এবং আমিও তাদের দলের নই; তারা হাউজে কাওসারে আমার নিকট আসতে পারবে না। আর যে ব্যক্তি তাদের মিথ্যাকে সত্য বলে বিশ্বাস করবে না এবং তাদের জুলুমে সহযোগিতা করবে না, তারা আমার এবং আমি তাদের; তারা হাউজে কাওসারে আমার নিকট উপস্থিত হবে। হে কাব বিন উজরাহ! রোজা হচ্ছে ঢালস্বরূপ, আর দান-সদকা পাপকে মিটিয়ে দেয় এবং সালাত হলো নৈকট্য লাভের মাধ্যম—অথবা তিনি বলেছেন: প্রমাণস্বরূপ। হে কাব বিন উজরাহ! হারাম উপায়ে অর্জিত সম্পদে বৃদ্ধি পাওয়া গোশত কখনো জান্নাতে প্রবেশ করবে না, জাহান্নামই তার জন্য অধিকতর উপযুক্ত। হে কাব বিন উজরাহ! মানুষ দুইভাবে সকাল অতিবাহিত করে; একজন নিজেকে মুক্ত করার জন্য তাকে আল্লাহর নিকট বিক্রয় করে, আর অন্যজন নিজেকে ধ্বংস করার জন্য তাকে বিক্রয় করে।" এর সনদটি (إسناد) হাসান (حسن); আব্দুল্লাহ বিন উসমান সত্যবাদী (صدوق) এবং মুসলিম-এর বর্ণনাকারী, আর আব্দুর রহমান বিন সাবিতও নির্ভরযোগ্য (ثقة) ও মুসলিম-এর বর্ণনাকারী। হাকেম একে সহিহ (صحيح) বলেছেন এবং যাহাবি তার সাথে একমত পোষণ করেছেন। আহমদ শাকিরও তিরমিজি-র টিকায় একে সহিহ (صحيح) বলেছেন ২/৫১৪, ৫১৫। আর আরনাউত সহিহ ইবনে হিব্বান-এর টিকায় বলেছেন: "এটি মুসলিম-এর শর্তানুযায়ী সহিহ (صحيح)"।

কাব বিন উজরাহ-এর হাদিস থেকে এর একটি সমার্থক বর্ণনা বা শাহিদ (شاهد) রয়েছে, যা তিরমিজি সালাত অধ্যায়ে ‘সালাতের ফজিলত’ অনুচ্ছেদে ২/৫১২, ৫১৩, হাদিস নং (৬১৪) এবং তাবারানি তার মুজামুল কাবির-এ ১৯/১০৫, ১০৬, হাদিস নং (২১২) গ্রন্থে দুটি সূত্রে ওবায়দুল্লাহ বিন মুসা হতে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেছেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন গালিব আবু বিশর, তিনি আইয়ুব বিন আয়িজ আল-তাঈ থেকে, তিনি কায়েস বিন মুসলিম থেকে, তিনি তারিক বিন শিহাব থেকে এবং তিনি কাব থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। তবে এর সনদটি (إسناد) দুর্বল (ضعيف)। এর বর্ণনাকারীবৃন্দ বুখারি ও মুসলিম-এর বর্ণনাকারী হওয়ার কারণে নির্ভরযোগ্য (ثقات), তবে আবু বিশর ব্যতীত; কেননা তিনি গ্রহণযোগ্য (مقبول), যেমনটি তাকরিব-এ উল্লেখ রয়েছে। অবশ্য আহমদ শাকির তিরমিজি-র টিকায় একে সহিহ (صحيح) বলেছেন এবং শেখ মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন একে সহিহ সুনান তিরমিজি-তে ১/১৮৯ উল্লেখ করেছেন।

আবদুর রাজ্জাক তার মুসান্নাফ-এ ‘ফরজ ও নফল আমল’ অনুচ্ছেদে ১১/১৯৪, হাদিস নং (২০৩০৩); ইমাম আহমদ ৫/২৩১ (আল-মাকতাব আল-ইসলামি সংস্করণ); তিরমিজি ঈমান অধ্যায়ে ‘সালাতের মর্যাদা’ অনুচ্ছেদে ৫/১১, ১২, হাদিস নং (২৬১৬); ইবনে মাজাহ ফিতনা অধ্যায়ে ‘ফিতনার সময় জিহ্বা সংযত রাখা’ অনুচ্ছেদে ২/১৩১৪, ১৩১৫, হাদিস নং (৩৯৭৩); নাসায়ি তার সুনানুল কুবরা-তে, যেমনটি তুহফাতুল আশরাফ-এ ৮/৩৯৯, হাদিস নং (১১৩১১) বর্ণিত হয়েছে; এবং আব্দ বিন হুমাইদ আল-মুন্তাখাব মিনাল মুসনাদ-এ পৃ. ৬৮, ৬৯, হাদিস নং (১১২)-এ আসিম বিন আবিুন নজুদ-এর সূত্রে আবু ওয়াইল থেকে, তিনি মুআজ (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমি এক সফরে নবী (সা.)-এর সাথে ছিলাম—এরপর তিনি দীর্ঘ হাদিসটি উল্লেখ করেছেন—তাতে রয়েছে: নবী (সা.) বলেছেন: "আমি কি তোমাকে কল্যাণের দরজাসমূহ সম্পর্কে অবহিত করব না? রোজা হলো ঢাল এবং দান-সদকা পাপকে মিটিয়ে দেয় যেমন পানি আগুনকে নিভিয়ে দেয়..."। হাফেজ ইবনে রজব এই সনদটিকে (إسناد) আবু ওয়াইল ও মুআজ-এর মধ্যবর্তী বিচ্ছিন্নতার (انقطاع) কারণে ত্রুটিযুক্ত (أعل) বলেছেন এবং একে অন্য একটি ত্রুটির (علة) কারণেও ত্রুটিযুক্ত (أعل) সাব্যস্ত করেছেন। দ্রষ্টব্য: জামিউল উলুম ওয়াল হিকাম ২/১৩৫।

মুআজ (রা.)-এর এই হাদিসটির অন্যান্য আরও অনেক সূত্র রয়েছে যা বর্ণনা করা দীর্ঘসাপেক্ষ। শেখ মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন তার সিলসিলাহ সহিহাহ ৩/১১৪, ১১৫, হাদিস নং (১১২২) গ্রন্থে এবং শুয়াইব আরনাউত জামিউল উলুম ওয়াল হিকাম-এর টিকায় ২/১৩৪ সকল সূত্রের সমষ্টির ভিত্তিতে একে সহিহ (صحيح) বলেছেন। আরও দেখুন: ওয়াকি-র কিতাবুয যুহদ, নং (৩০, ২৮৬, ১০৯) এবং সহিহ সুনান ইবনে মাজাহ ২/৩৫৯।
(খণ্ড: ১) সালাতুত তাওবা ওয়াল আহকামুল মুতাআল্লিকা বিহা ফিল ফিকহিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ১৭৬)
رَسُول الله صلى الله عليه وسلم: "وَالله إِنِّي لأستغفر الله وَأَتُوب إِلَيْهِ فِي الْيَوْم أَكثر من سبعين مرّة" 1.

وَثَبت عَن الْأَغَر الْمُزنِيّ رضي الله عنه أَنه قَالَ: قَالَ رَسُول الله:"إِنَّه ليغان 2 على قلبِي، وَإِنِّي لأستغفر الله فِي الْيَوْم مائَة مرّة" رَوَاهُ مُسلم 3.

وَأَيْضًا فعموم قَوْله تَعَالَى: {وَأَقِمِ الصَّلاةَ طَرَفَيِ النَّهَارِ وَزُلَفاً مِنَ اللَّيْلِ إِنَّ

--------------------------------------------

1 صَحِيح البُخَارِيّ مَعَ الْفَتْح كتاب الدَّعْوَات بَاب اسْتِغْفَار النَّبِي صلى الله عليه وسلم وَاللَّيْلَة11/101،حَدِيث (6307) .

وروى أَبُو نعيم فِي حلية الْأَوْلِيَاء فِي تَرْجَمَة الْحجَّاج بن فرافصه 3/109: حَدثنَا أَبُو عَمْرو بن حمدَان، قَالَ: ثَنَا الْحسن بن سُفْيَان، قَالَ: ثَنَا سعيد بن أَشْعَث السمان، قَالَ: ثَنَا الْحَارِث بن عبيد، قَالَ: ثَنَا الْحجَّاج بن فرافصه، عَن أنس قَالَ: قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم: "اسْتَغْفرُوا" قَالَ: "فاستغفرنا". قَالَ: " أكملوا سبعين مرّة " قَالَ: "فأكملنا". قَالَ: "إِنَّه من اسْتغْفر سبعين مرّة غفر لَهُ سَبْعمِائة ذَنْب، وَقد خَابَ وخسر من عمل فِي يَوْم وَلَيْلَة أَكثر من سَبْعمِائة ذَنْب" وَإِسْنَاده ضَعِيف، الْحَارِث بن عبيد مَجْهُول كَمَا فِي التَّقْرِيب، وَالْحجاج صَدُوق يهم كَمَا فِي التَّقْرِيب أَيْضا، وَسَعِيد السمان قَالَ الإِمَام أَحْمد كَمَا فِي الْجرْح وَالتَّعْدِيل 4/5: " مَا أرَاهُ إِلَّا صَدُوقًا "، وَبَاقِي رِجَاله ثِقَات. وَذكر هَذَا الحَدِيث السُّيُوطِيّ فِي الْجَامِع الصَّغِير ص 151 ورمز لضَعْفه، وَتَبعهُ فِي ذَلِك الْمَنَاوِيّ فِي التَّيْسِير 2/364، وَذكره الشَّيْخ مُحَمَّد نَاصِر الدّين فِي ضَعِيف الْجَامِع 5/121.

2 قَالَ الْحَافِظ فِي الْفَتْح 11/101: "قَالَ عِيَاض المُرَاد بـ (الْغَيْن) فترات عَن الذّكر الَّذِي شَأْنه أَن يداوم عَلَيْهِ، فَإِذا فتر عَنهُ لأمر مَا عدّ ذَلِك ذَنبا، فَاسْتَغْفر عَنهُ. وَقيل هُوَ شَيْء يعتري الْقلب مِمَّا يَقع من حَدِيث النَّفس، وَقيل: هُوَ السكينَة الَّتِي تغشى قلبه، وَالِاسْتِغْفَار لإِظْهَار الْعُبُودِيَّة لله وَالشُّكْر لما أولاه. وَقيل: هِيَ حَالَة خشيَة وإعظام، وَالِاسْتِغْفَار شكرها " أ. هـ.

3 صَحِيح مُسلم كتاب الذّكر والدُّعَاء وَالتَّوْبَة وَالِاسْتِغْفَار بَاب اسْتِحْبَاب الاسْتِغْفَار والاستكثار مِنْهُ 4/2075، 2076، حَدِيث (2702) .
আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আল্লাহর কসম! নিশ্চয়ই আমি প্রতিদিন সত্তর বারেরও বেশি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট তওবা করি।" ১.

আল-আগার আল-মুজানি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে প্রমাণিত যে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "কখনো কখনো আমার অন্তরের ওপর আবরণ (পর্দা) পড়ে যায় এবং নিশ্চয়ই আমি প্রতিদিন একশ বার আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি।" এটি ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেছেন ৩।

পাশাপাশি মহান আল্লাহর বাণীর ব্যাপকতা: {আর দিনের দুই প্রান্তেই নামায কায়েম করো এবং রাতের একাংশেও; নিশ্চয়ই নেক আমলসমূহ...

--------------------------------------------

১ ফাতহুল বারীসহ সহীহ বুখারী, কিতাবুদ দাওয়াত, অধ্যায়: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ইস্তিগফার করা, ১১/১০১, হাদিস (৬৩০৭)।

আবু নুয়াইম 'হিলয়াতুল আউলিয়া'-তে হাজ্জাজ ইবনে ফারাফিসার জীবনীতে (৩/১০৯) বর্ণনা করেছেন: আবু আমর ইবনে হামদান আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাসান ইবনে সুফিয়ান আমাদের বলেছেন, তিনি বলেন: সাঈদ ইবনে আশ'আস আস-সাম্মান আমাদের বলেছেন, তিনি বলেন: আল-হারিস ইবনে উবাইদ আমাদের বলেছেন, তিনি বলেন: হাজ্জাজ ইবনে ফারাফিসা আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা ক্ষমা প্রার্থনা করো।" তিনি (আনাস) বলেন: "অতঃপর আমরা ক্ষমা প্রার্থনা করলাম।" তিনি বললেন: "সত্তর বার পূর্ণ করো।" তিনি বলেন: "অতঃপর আমরা পূর্ণ করলাম।" তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি সত্তর বার ক্ষমা প্রার্থনা করবে, তার সাতশত গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে। আর সে ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত ও ধ্বংস হলো, যে একদিন ও এক রাতে সাতশত এর বেশি গুনাহ করে।" এর বর্ণনাপরম্পরা দুর্বল (ضعيف); আল-হারিস ইবনে উবাইদ হলেন অপরিচিত (مجهول), যেমনটি তাকরীব গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। আর হাজ্জাজ হলেন সত্যবাদী তবে ভুল করেন (صدوق يهم), যেমনটি তাকরীব গ্রন্থেও এসেছে। সাঈদ আস-সাম্মান সম্পর্কে ইমাম আহমাদ যেমনটি আল-জারহ ওয়াত তা'দীল গ্রন্থে (৪/৫) বলেছেন: "আমি তাকে সত্যবাদী (صدوق) ছাড়া অন্য কিছু মনে করি না।" আর তার বাকি বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য (ثقات)। এই হাদিসটি সুয়ূতী 'আল-জামি আস-সাগীর'-এ (পৃ. ১৫১) উল্লেখ করেছেন এবং এর দুর্বলতার (ضعف) প্রতি ইঙ্গিত করেছেন; আল-মানাবি 'আত-তাইসীর' গ্রন্থে (২/৩৬৪) তাঁর অনুসরণ করেছেন এবং শায়খ মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দিন এটি 'যঈফ আল-জামি' গ্রন্থে (৫/১২১) উল্লেখ করেছেন।

২ হাফেজ (ইবনে হাজার) আল-ফাতহ গ্রন্থে (১১/১০১) বলেন: "আইয়ায বলেছেন, 'গাইন' (আবরণ) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো জিকির থেকে বিরতি বা শিথিলতা আসা, যা তাঁর নিয়মিত করার বিষয় ছিল। সুতরাং যখন কোনো কারণে এতে শিথিলতা ঘটে, তখন তিনি সেটিকে গুনাহ হিসেবে গণ্য করেন এবং তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন। কেউ কেউ বলেছেন, এটি এমন কিছু যা নফসের খেয়ালের কারণে অন্তরে উদিত হয়। আবার কেউ বলেছেন, এটি এমন প্রশান্তি যা তাঁর অন্তরকে আচ্ছন্ন করে রাখে, আর ইস্তিগফার করা হয় আল্লাহর প্রতি দাসত্ব প্রকাশ এবং তাঁর প্রদত্ত নেয়ামতের কৃতজ্ঞতা আদায়ের জন্য। আবার কেউ বলেছেন, এটি একটি ভীতি ও মহত্ত্বের অবস্থা, আর ইস্তিগফার হলো তার শুকরিয়া স্বরূপ।" সমাপ্ত।

৩ সহীহ মুসলিম, কিতাবুজ জিকর ওয়াদ দু'আ ওয়াত তাওবা ওয়াল ইস্তিগফার, অধ্যায়: ইস্তিগফার করা মুস্তাহাব হওয়া এবং অধিক পরিমাণে ইস্তিগফার করা, ৪/২০৭৫, ২০৭৬, হাদিস (২৭০২)।
(খণ্ড: ১) সালাতুত তাওবা ওয়াল আহকামুল মুতাআল্লিকা বিহা ফিল ফিকহিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ১৭৭)
الْحَسَنَاتِ يُذْهِبْنَ السَّيِّئَاتِ ذَلِكَ ذِكْرَى لِلذَّاكِرِينَ} 1 يدل على أَن فعل الْأَعْمَال الصَّالِحَة بعد السَّيئَة يكفرهَا 2.

لَكِن تَقْيِيد التَّسْبِيح والتحميد وَالصِّيَام بِهَذِهِ الْأَعْدَاد لَا دَلِيل عَلَيْهِ، وَهُوَ من الْبدع الْمُحرمَة، لما ثَبت فِي الصَّحِيحَيْنِ عَن عَائِشَة رضي الله عنها قَالَت: قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم: "من أحدث فِي أمرنَا هَذَا مَا لَيْسَ مِنْهُ فَهُوَ رد" 3. وَفِي رِوَايَة لمُسلم: "من عمل عملا لَيْسَ عَلَيْهِ أمرنَا فَهُوَ رد " 4، وَلما ثَبت فِي صَحِيح مُسلم من حَدِيث جَابر بن عبد الله رضي الله عنهما قَالَ: كَانَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم إِذا خطب احْمَرَّتْ عَيناهُ وَعلا صَوته وَاشْتَدَّ غَضَبه حَتَّى كَأَنَّهُ مُنْذر جَيش يَقُول: صبّحكم ومسّاكم، وَيَقُول: "بعثت أَنا والساعة كهاتين" ويقرن بَين إصبعيه السبابَة وَالْوُسْطَى، وَيَقُول:" أما بعد فَإِن خير الحَدِيث كتاب الله، وَخير الْهَدْي

--------------------------------------------

1 سُورَة هود 114.

2 وَيدل على ذَلِك أَيْضا مَا رَوَاهُ مُسلم فِي صَحِيحه 1/209، حَدِيث (233) عَن أبي هُرَيْرَة مَرْفُوعا: "الصَّلَوَات الْخمس وَالْجُمُعَة إِلَى الْجُمُعَة ورمضان إِلَى رَمَضَان مكفّرات مَا بَينهُنَّ إِذا اجْتنبت الْكَبَائِر".

وَفِي الْبَاب أَحَادِيث أُخْرَى يطول الْكَلَام بذكرها، تنظر فِي تَفْسِير الطَّبَرِيّ 15/511 – 526، جَامع الْأُصُول 9/388 – 395، تَفْسِير ابْن كثير 4/285، 289، تَخْرِيج الْأَحَادِيث الْوَاقِعَة فِي تَفْسِير الْكَشَّاف 2/152 – 154، الْكَافِي الشافي ص 87، 88.

وَقَالَ الْحَافِظ فِي الْفَتْح 12/134 بعد ذكره القَوْل بِأَن الَّذِي تكفره الصَّلَاة من الذُّنُوب الصَّغَائِر لَا الْكَبَائِر، قَالَ: " هَذَا هُوَ الْأَكْثَر الْأَغْلَب، وَقد تكفر الصَّلَاة بعض الْكَبَائِر، كمن كثر تطوعه مثلا، بِحَيْثُ صلح لِأَن يكفر عددا كثيرا من الصَّغَائِر، وَلم يكن عَلَيْهِ من الصَّغَائِر شَيْء أصلا أَو شَيْء يسير، وَعَلِيهِ كَبِيرَة وَاحِدَة، فَإِنَّهَا تكفر عَنهُ، لِأَن الله لَا يضيع أجر من أحسن عملا ".

3 صَحِيح البُخَارِيّ مَعَ الْفَتْح كتاب الصُّلْح بَاب إِذا اصْطَلحُوا على صلح جور فَالصُّلْح مَرْدُود 5/301، حَدِيث (2697) .

وصحيح مُسلم مَعَ شَرحه للنووي كتاب الْأَقْضِيَة بَاب نقض الْأَحْكَام الْبَاطِلَة 12/16.

4 صَحِيح مُسلم الْموضع السَّابِق.
{নিশ্চয়ই নেক আমলসমূহ গুনাহসমূহকে মিটিয়ে দেয়; যারা উপদেশ গ্রহণ করে এটি তাদের জন্য উপদেশ} ১। এটি প্রমাণ করে যে, মন্দ কাজের পর নেক আমল করা তাকে (মন্দ কাজকে) মোচন করে দেয় ২।

কিন্তু তসবিহ, তাহমিদ এবং রোজা পালনকে এই নির্দিষ্ট সংখ্যার সাথে সীমাবদ্ধ করার সপক্ষে কোনো দলিল নেই। আর এটি হারাম বিদআতের অন্তর্ভুক্ত; যেহেতু সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমে আয়েশা (রা.) থেকে সাব্যস্ত হয়েছে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বীনের মধ্যে এমন কোনো নতুনের উদ্ভব ঘটালো যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তবে তা প্রত্যাখ্যানযোগ্য (رد)" ৩। আর মুসলিমের এক বর্ণনায় আছে: "যে ব্যক্তি এমন কোনো কাজ করল যা আমাদের দ্বীনের আদর্শভুক্ত নয়, তবে তা প্রত্যাখ্যানযোগ্য (رد)" ৪। আরও যেহেতু সহিহ মুসলিমে জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে সাব্যস্ত হয়েছে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন খুতবা দিতেন, তখন তাঁর চোখ দুটি লাল হয়ে যেত, তাঁর আওয়াজ উচ্চ হতো এবং তাঁর ক্রোধ তীব্র হতো, যেন তিনি কোনো সেনাবাহিনীর সতর্ককারী, তিনি বলতেন: "শত্রুরা সকাল-সন্ধ্যায় তোমাদের আক্রমণ করতে প্রস্তুত।" তিনি আরও বলতেন: "আমি এবং কিয়ামত এই দুটির ন্যায় প্রেরিত হয়েছি" এবং তিনি তাঁর তর্জনী ও মধ্যমা অঙ্গুলি দুটিকে একত্রে মেলাতেন। তিনি বলতেন: "অতঃপর জেনে রেখ, নিশ্চয়ই সর্বোত্তম বাণী হলো আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশ হলো...

--------------------------------------------

১ সূরা হুদ ১১৪।

২ এর সপক্ষে আরও প্রমাণ দেয় যা মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে ১/২০৯, হাদিস (২৩৩) এ আবু হুরায়রা (রা.) থেকে মারফু (مرفوع) হিসেবে বর্ণনা করেছেন: "পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, এক জুমা হতে অন্য জুমা এবং এক রমজান হতে অন্য রমজান—এগুলো তাদের মধ্যবর্তী গুনাহসমূহের কাফফারা স্বরূপ, যদি কবিরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা হয়।"

এই প্রসঙ্গে আরও অনেক হাদিস রয়েছে যা বর্ণনা করতে গেলে আলোচনা দীর্ঘ হবে; সেগুলো তাফসির আল-তাবারী ১৫/৫১১–৫২৬, জামিউল উসুল ৯/৩৮৮–৩৯৫, তাফসির ইবনে কাসির ৪/২৮৫, ২৮৯, তাখরিজুল আহাদিসিল ওয়াকিআতি ফি তাফসিরিল কাশশাফ ২/১৫২–১৫৪ এবং আল-কাফিশ শাফি পৃষ্ঠা ৮৭, ৮৮-এ দ্রষ্টব্য।

হাফিজ (ইবনে হাজার) আল-ফাতহ গ্রন্থে ১২/১৩৪-এ নামাজের মাধ্যমে কবিরা গুনাহ নয় বরং সগিরা গুনাহ মোচন হওয়ার মতটি উল্লেখ করার পর বলেন: "এটিই অধিকাংশ ক্ষেত্রে এবং সাধারণভাবে হয়ে থাকে। তবে কখনও কখনও নামাজের মাধ্যমে কিছু কবিরা গুনাহও মোচন হতে পারে; যেমন যার নফল ইবাদতের আধিক্য রয়েছে, যা অনেক সগিরা গুনাহ মোচনের জন্য যথেষ্ট ছিল, কিন্তু তার কোনো সগিরা গুনাহই নেই অথবা সামান্য আছে, আর তার বিপরীতে একটি কবিরা গুনাহ রয়েছে, তবে তা তার পক্ষ থেকে মোচন করে দেওয়া হবে। কেননা আল্লাহ কোনো সৎকর্মশীলের নেক আমল বিনষ্ট করেন না।"

৩ সহিহ বুখারি মাআল ফাতহ, সন্ধি অধ্যায়, 'অবিচারমূলক সন্ধি হলে তা প্রত্যাখ্যানযোগ্য' পরিচ্ছেদ ৫/৩০১, হাদিস (২৬৯৭)।

এবং সহিহ মুসলিম মাআ শারহিন নববী, বিচার বিভাগ অধ্যায়, 'বাতিল হুকুম বাতিলকরণ' পরিচ্ছেদ ১২/১৬।

৪ সহিহ মুসলিম, পূর্বোক্ত স্থান।
(খণ্ড: ১) সালাতুত তাওবা ওয়াল আহকামুল মুতাআল্লিকা বিহা ফিল ফিকহিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ১৭৮)
هدي مُحَمَّد، وَشر الْأُمُور محدثاتها، وكل بِدعَة ضَلَالَة " 1.

وَذكر الملا عَليّ الْقَارِي2 رحمه الله أَنه يقْرَأ فِي هَذِه الصَّلَاة سورتي الْإِخْلَاص، {قُلْ يَا أَيُّهَا الْكَافِرُونَ} ، و {قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ} ، أَو يقْرَأ قَوْله تَعَالَى: {وَالَّذِينَ إِذَا فَعَلُوا فَاحِشَةً أَوْ ظَلَمُوا أَنْفُسَهُمْ ذَكَرُوا اللَّهَ فَاسْتَغْفَرُوا لِذُنُوبِهِمْ وَمَنْ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلاّ اللَّهُ وَلَمْ يُصِرُّوا عَلَى مَا فَعَلُوا وَهُمْ يَعْلَمُونَ} 3، وَقَوله تَعَالَى: {وَمَنْ يَعْمَلْ سُوءاً أَوْ يَظْلِمْ نَفْسَهُ ثُمَّ يَسْتَغْفِرِ اللَّهَ يَجِدِ اللَّهَ غَفُوراً رَحِيماً} 4.

وَالصَّحِيح أَنه لَا يشرع تَخْصِيص هَذِه الصَّلَاة بسور أَو آيَات بِعَينهَا، لِأَنَّهُ لم يرد فِي ذَلِك شَيْء عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم.

--------------------------------------------

1 صَحِيح مُسلم كتاب الْجُمُعَة بَاب تَخْفيف الصَّلَاة وَالْخطْبَة 2/592، حَدِيث (867) .

2 مرقاة المفاتيح 2/187.

3 سُورَة آل عمرَان: 135.

4 سُورَة النِّسَاء: 110.
"...মুহাম্মাদের হিদায়াত, আর সর্বনিকৃষ্ট বিষয় হলো (দ্বীনের মধ্যে) নবউদ্ভুদ বিষয়সমূহ (محدثات), এবং প্রত্যেক বিদআত (بدعة) হলো পথভ্রষ্টতা (ضلالة)।" ১.

মোল্লা আলী আল-ক্বারী ২ (রহিমাহুল্লাহ) উল্লেখ করেছেন যে, এই নামাজে ইখলাস সূতাদ্বয় অর্থাৎ: {কুল ইয়া আইয়্যুহাল কাফিরুন} এবং {কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ} তিলাওয়াত করা হবে, অথবা মহান আল্লাহর এই বাণী পাঠ করা হবে: {আর যারা কোনো অশ্লীল কাজ করলে অথবা নিজেদের প্রতি জুলুম করলে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং নিজেদের পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। আর আল্লাহ ছাড়া কে পাপ ক্ষমা করবেন? এবং তারা যা করেছে, জেনে-বুঝে তাতে অটল থাকে না।} ৩ এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আর কেউ মন্দ কাজ করলে অথবা নিজের প্রতি জুলুম করলে অতঃপর আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করলে, সে আল্লাহকে অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু হিসেবে পাবে।} ৪।

আর বিশুদ্ধ (الصحيح) মত হলো যে, এই নামাজের জন্য নির্দিষ্ট কোনো সূরা বা আয়াত নির্ধারণ করা শরীয়তসম্মত নয়, কারণ এ বিষয়ে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে কোনো কিছু বর্ণিত হয়নি।

--------------------------------------------

১ সহিহ মুসলিম, জুমুআ অধ্যায়, নামাজ ও খুতবা সংক্ষিপ্তকরণ পরিচ্ছেদ ২/৫৯২, হাদিস (৮৬৭)।

২ মিরকাতুল মাফাতিহ ২/১৮৭।

৩ সূরা আল-ইমরান: ১৩৫।

৪ সূরা আন-নিসা: ১১০।
(খণ্ড: ১) সালাতুত তাওবা ওয়াল আহকামুল মুতাআল্লিকা বিহা ফিল ফিকহিল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ১৭৯)
‌‌الخاتمة

الْحَمد لله وَحده، وَبعد: فَمن خلال بحث الْأَحْكَام الْمُتَعَلّقَة بِصَلَاة التَّوْبَة ظهر لي الْأُمُور الْآتِيَة:

الْأَمر الأول:

ثُبُوت هَذِه الصَّلَاة عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم.

الْأَمر الثَّانِي:

أَنَّهَا تشرع عِنْد تَوْبَة الْمُسلم من أَي ذَنْب، سَوَاء كَانَ من الْكَبَائِر أم من الصَّغَائِر، وَسَوَاء كَانَت هَذِه التَّوْبَة بعد اقتراف الْمعْصِيَة مُبَاشرَة، أم بعد مُضِيّ زمن.

الْأَمر الثَّالِث:

أَن هَذِه الصَّلَاة تُؤَدّى فِي جَمِيع الْأَوْقَات، بِمَا فِي ذَلِك أَوْقَات النَّهْي.

الْأَمر الرَّابِع:

أَن الصَّحِيح من أَقْوَال أهل الْعلم أَن هَذِه الصَّلَاة قبل التَّوْبَة لَا بعْدهَا.

الْأَمر الْخَامِس.

أَن هَذِه الصَّلَاة فِي أَرْكَانهَا وواجباتها وَمَا يشْتَرط لَهَا كَصَلَاة النَّافِلَة، وَهِي رَكْعَتَانِ.

الْأَمر السَّادِس:

أَنه يسْتَحبّ مَعَ هَذِه الصَّلَاة فعل بعض القربات، كالصدقة وَالذكر وَالصِّيَام وَغَيرهَا.

وَفِي الختام أسأَل الله أَن ينفع بِهَذَا الْعَمَل كَاتبه وَجَمِيع الْمُسلمين. وَصلى الله وَسلم على نَبينَا مُحَمَّد وعَلى آله وَصَحبه أَجْمَعِينَ.
উপসংহার

প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য। অতঃপর: তাওবার নামাজ সংক্রান্ত বিধিবিধান পর্যালোচনার মাধ্যমে আমার নিকট নিম্নোক্ত বিষয়গুলো প্রতিভাত হয়েছে:

প্রথম বিষয়:

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এই নামাজের প্রামাণিকতা (ثبوت) সাব্যস্ত হওয়া।

দ্বিতীয় বিষয়:

যেকোনো পাপ থেকে কোনো মুসলিম যখন তাওবা করে, তখন এই নামাজ পড়া বিধেয়; চাই তা কবিরা গুনাহ হোক কিংবা সগিরা। আর এই তাওবা অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পরপরই হোক কিংবা দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পর হোক।

তৃতীয় বিষয়:

এই নামাজ নিষিদ্ধ সময়সমূহসহ সকল সময়েই আদায় করা যায়।

চতুর্থ বিষয়:

বিদ্বানগণের মতামতের মধ্যে বিশুদ্ধ (الصحيح) মত হলো, এই নামাজ তাওবা করার পূর্বে পড়তে হয়, পরে নয়।

পঞ্চম বিষয়:

এই নামাজ তার রুকন, ওয়াজিব এবং শর্তাবলির ক্ষেত্রে নফল নামাজের মতো; আর এটি দুই রাকাত।

ষষ্ঠ বিষয়:

এই নামাজের পাশাপাশি কিছু নেক আমল করা মুস্তাহাব, যেমন: দান-সদকা, জিকির ও রোজা ইত্যাদি।

পরিশেষে, আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন এই আমলের মাধ্যমে এর লেখক এবং সকল মুসলিমকে উপকৃত করেন। আর আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং সকল সঙ্গীর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।