(খণ্ড: ১)
সিফাতুল ইরতিবাত বাইনাল উলামা ফিল কাদীম - জিমনা আসারুল মুআল্লিমী
(পৃষ্ঠা: -)
صفة الارتباط بين العلماء في القديم - ضمن «آثار المعلمي» القسم: علوم الحديث
الكتاب: صفة الارتباط بين العلماء في القديم
[آثار عبد الرحمن بن يحيى المعلمي اليماني (15)]
المؤلف: عبد الرحمن بن يحيى المُعَلِّمي اليماني (1313 - 1386 هـ)
المحقق: علي بن محمد العمران
راجعه: محمد أجمل الإصلاحي - عادل بن عبد الشكور الزرقي
الناشر: دار عالم الفوائد للنشر والتوزيع
الطبعة: الأولى، 1434 هـ
قدمه للشاملة: مؤسسة «عطاءات العلم»، جزاهم الله خيرا
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 10 شوّال 1442
অতীতকালে আলেমগণের পারস্পরিক সম্পর্কের স্বরূপ - «আসারুল মুয়াল্লিমি»-এর অন্তর্ভুক্ত বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র (علوم الحديث)
গ্রন্থ: অতীতকালে আলেমগণের পারস্পরিক সম্পর্কের স্বরূপ
[আব্দুর রহমান বিন ইয়াহইয়া আল-মুয়াল্লিমি আল-ইয়ামানির রচনাবলি (১৫)]
লেখক: আব্দুর রহমান বিন ইয়াহইয়া আল-মুয়াল্লিমি আল-ইয়ামানি (১৩১৩ - ১৩৮৬ হিজরি)
সম্পাদক (محقق): আলি বিন মুহাম্মদ আল-উমরান
নিরীক্ষণ করেছেন: মুহাম্মদ আজমল আল-ইসলাহি - আদিল বিন আব্দুশ শাকুর আল-জুরকি
প্রকাশক: দারু আলামিল ফাওয়ায়িদ প্রকাশনা ও বিতরণ
সংস্করণ: প্রথম، ১৪৩৪ হিজরি
শামেলার জন্য পেশ করেছে: ‘আতাআত আল-ইলম’ «প্রতিষ্ঠান», আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দান করুন
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১০ শাওয়াল ১৪৪২
(খণ্ড: ১৫)
সিফাতুল ইরতিবাত বাইনাল উলামা ফিল কাদীম - জিমনা আসারুল মুআল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ৪১৫)
الرسالة الرابعة عشرة
صفة الارتباط بين العلماء في القديم
চতুর্দশ রিসালাহ
প্রাচীনকালে আলেমদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্কের ধরন
(খণ্ড: ১৫)
সিফাতুল ইরতিবাত বাইনাল উলামা ফিল কাদীম - জিমনা আসারুল মুআল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ৪১৭)
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله الذي أرانا بأعيننا ما كنا نتمنّى أن نراه من مظاهر الارتباط والتعاون العلمي بين العلماء، فأصبح علماء الهند يستقبلون وفدًا كريمًا من خيرة إخوانهم علماء مصر، تكلّفوا المشاقَّ والمتاعب حُبًّا في تعرّف أحوال إخوانهم في الهند، وتوثيق عُرى التواصل معهم، تمهيدًا للتعاون معهم فيما يرفع شأن الإسلام والعلم.
كان العلماء في العصور الأولى متواصلين على بُعْد الأقطار وصعوبة الأسفار، فلا تكاد تطّلع على ترجمة رجل منهم إلا وجدت فيها ذِكْرَ ارتحاله في أوان الطلب إلى الأقطار النائية للقاء العلماء والأخذ عنهم، وسياحته بعد التحصيل، وكلما دخل بلدةً سأل عمن بها من العلماء، واجتمع بهم، واستفاد منهم وأفادهم، وبقي يواصلهم طول عمره بالمكاتبة والمراسلة، وكانت المكاتبات لا تنقطع بين علماء الأقطار لتبادل الأفكار في المسائل العلمية.
وفي الجزء الأول من "إعلام الموقعين" (ص 28 وما بعدها) ذَكَر رسالةً من الليث بن سعد إلى مالك تشتمل على عدة مسائل، وفيها ما يدل أنّ المكاتبة بينهما في المسائل العلمية كانت متواصلة.
وهكذا كانت المكاتبة بين الشافعي وأحمد بن حنبل.
في "توالي التأسيس"
(1) لابن حجر العسقلاني: "قال أبو ثور: كتب عبدالرحمن بن مهدي إلى الشافعي وهو شاب أن يضع له كتابًا، فوضع له
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের স্বচক্ষে সেই তাত্ত্বিক যোগাযোগ ও সহযোগিতার নিদর্শনগুলো দেখিয়েছেন যা আমরা আলেমদের মাঝে দেখার প্রত্যাশা করতাম। ফলে ভারতের আলেমগণ এখন মিশরের শ্রেষ্ঠ আলেমদের মধ্য থেকে আগত এক সম্মানিত প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানাচ্ছেন, যারা ভারতের ভাইদের অবস্থা সম্পর্কে অবগত হওয়া এবং তাঁদের সাথে সম্পর্কের বন্ধন সুদৃঢ় করার ভালোবাসায় নানাবিধ কষ্ট ও ক্লান্তি সহ্য করেছেন; যেন পরবর্তীতে ইসলাম ও ইলমের মর্যাদা বৃদ্ধিতে তাঁদের সাথে সহযোগিতার পথ সুগম হয়।
প্রথম যুগের আলেমগণ দূরবর্তী দেশসমূহ এবং সফরের কষ্ট সত্ত্বেও একে অপরের সাথে যোগাযোগ বজায় রাখতেন। তাঁদের মধ্য থেকে কোনো ব্যক্তির জীবনী (ترجمة) আপনার দৃষ্টিগোচর হবে না যাতে ইলম অন্বেষণ (طلب) কালে আলেমদের সাথে সাক্ষাৎ ও তাঁদের নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণের জন্য সুদূর দেশসমূহে তাঁর সফর (ارتحال) করার কথা উল্লেখ নেই; এবং শিক্ষা অর্জনের পর তাঁর পর্যটনের বর্ণনা নেই। তিনি যখনই কোনো শহরে প্রবেশ করতেন, সেখানকার আলেমদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেন, তাঁদের সাথে একত্রিত হতেন এবং তাঁদের থেকে উপকৃত হতেন ও তাঁদের উপকৃত করতেন। তিনি সারাজীবন তাঁদের সাথে পত্রালাপ ও যোগাযোগের (مراسلة) ধারা অব্যাহত রাখতেন। বিভিন্ন ইলমি মাসআলা (مسائل علمية) নিয়ে চিন্তাভাবনা বিনিময়ের লক্ষ্যে বিভিন্ন অঞ্চলের আলেমদের মধ্যে পত্র যোগাযোগ কখনো বিচ্ছিন্ন হতো না।
"ইলামুল মুওয়াক্কিঈন" এর প্রথম খণ্ডে (পৃষ্ঠা ২৮ ও পরবর্তী) তিনি লাইস ইবনে সাদ থেকে ইমাম মালিকের প্রতি প্রেরিত একটি পত্রের কথা উল্লেখ করেছেন যা কয়েকটি মাসআলা (مسائل) সমৃদ্ধ, এবং তাতে এমন ইঙ্গিত রয়েছে যে তাঁদের উভয়ের মধ্যে ইলমি মাসআলাসমূহ (مسائل علمية) নিয়ে পত্রালাপ নিয়মিত ছিল।
অনুরূপভাবে ইমাম শাফিঈ ও ইমাম আহমদ বিন হাম্বলের মধ্যেও পত্র যোগাযোগ ছিল।
ইবনে হাজার আসকালানি রচিত "তাওয়ালিত তأسিস"
(১) গ্রন্থে রয়েছে: "আবু সাওর বলেন: আবদুর রহমান ইবনে মাহদি ইমাম শাফিঈর নিকট তিনি যখন তরুণ ছিলেন তখন লিখেছিলেন যেন তিনি তাঁর জন্য একটি কিতাব রচনা করেন, অতঃপর তিনি তাঁর জন্য তা রচনা করেন।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৫)
সিফাতুল ইরতিবাত বাইনাল উলামা ফিল কাদীম - জিমনা আসারুল মুআল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ৪১৮)
كتاب الرسالة".
وفيه
(1): "عن عبدوس العطار: سمعت علي ابن المديني يقول للشافعي: اكتب كتاب خبر الواحد إلى عبدالرحمن بن مهدي، فإنه يُسَرّ بذلك".
وأمثلة هذا كثيرة.
وكثير من المؤلفات العلمية كان سببها المكاتبة بين العلماء، وكثير من الفتاوى المطولة صادر عن ذلك كما يعلم بمراجعتها كـ "فتاوى السبكي الكبير" وغيره.
كما أنّ كثيرًا من التواريخ استفاد مؤلفوها كثيرًا مما فيها أو أكثره بمكاتبة العلماء، كـ "تاريخ ابن خلكان" و"إنباء الغمر" و"الدرر الكامنة" لابن حجر العسقلاني، و"الضوء اللامع" للسخاوي، وغير ذلك مما تقدم أو تأخر.
وقد كان هذا العمل ــ أعني المكاتبة بين العلماء في المسائل العلمية ــ جاريًا في اليمن إلى مدّة غير بعيدة، وقد رأيتُ في المخطوطات اليمنية كثيرًا من ذلك.
فأصبح العلماء في هذا العصر متقاطعين، لا صِلَة بين علماء هذا القُطْر وعلماء القطر الآخر، بل ولا بين علماء القطر الواحد! بل ولا علماء البلد الواحد!!
فقد كان علماء البلد الواحد في العصور السابقة لا يكاد يمرّ عليهم يوم إلا وهم يجتمعون فيه ويتذاكرون.
--------------------------------------------
কিতাবুর রিসালাহ।
এবং তাতে রয়েছে
(১): "আব্দুস আল-আত্তার থেকে বর্ণিত: আমি আলী ইবনুল মাদিনীকে শাফিয়ী-কে বলতে শুনেছি: আপনি আব্দুর রহমান বিন মাহদীর নিকট একক বর্ণনাকারীর সংবাদ (خبر الواحد) সংক্রান্ত একটি কিতাব লিখে পাঠান, কেননা তিনি এতে সন্তুষ্ট হবেন।"
এরকম উদাহরণ অনেক রয়েছে।
অনেক ইলমি রচনাবলির নেপথ্য কারণ ছিল আলেমদের মধ্যকার পারস্পরিক পত্রালাপ, এবং অনেক বিস্তারিত ফতোয়া এর মাধ্যমেই সম্পাদিত হয়েছে যা সেগুলো পর্যালোচনা করলে জানা যায়; যেমন: "ফাতাওয়া আস-সুবকি আল-কাবীর" এবং অন্যান্য গ্রন্থ।
তেমনিভাবে অনেক ইতিহাস গ্রন্থের রচয়িতাগণ আলেমদের সাথে পত্রবিনিময়ের মাধ্যমে সেগুলোর অনেক বিষয় বা অধিকাংশ তথ্য সংগ্রহ করেছেন। যেমন: "তারিখ ইবনে খাল্লিকান", "ইনবাউল গুমর", ইবনে হাজার আসকালানীর "আদ-দুরারুল কামিনাহ", সাখাবীর "আদ-দাওউল লামি" এবং পূর্ববর্তী ও পরবর্তীকালের অন্যান্য গ্রন্থসমূহ।
এই ধারাটি—অর্থাৎ ইলমি মাসআলাসমূহে আলেমদের মধ্যে পত্রবিনিময়—ইয়েমেনে কিছুকাল পূর্ব পর্যন্ত প্রচলিত ছিল। আমি ইয়েমেনের পাণ্ডুলিপিগুলোতে এর অনেক নিদর্শন দেখেছি।
কিন্তু বর্তমান যুগের আলেমগণ একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন; এক অঞ্চলের আলেমদের সাথে অন্য অঞ্চলের আলেমদের কোনো যোগাযোগ নেই, এমনকি একই অঞ্চলের আলেমদের মাঝেও নেই! বরং একই শহরের আলেমদের মাঝেও নেই!!
অথচ পূর্ববর্তী যুগে একই শহরের আলেমদের এমন কোনো দিন অতিবাহিত হতো না বললেই চলে, যেদিন তারা একত্রিত হয়ে ইলমি আলোচনা ও পর্যালোচনা করতেন না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৫)
সিফাতুল ইরতিবাত বাইনাল উলামা ফিল কাদীম - জিমনা আসারুল মুআল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ৪১৯)
أمّا الآن فقد تمر على العالم شهور، بل سنون، لا يجتمع بعالم آخر قد يكون معدودًا من جيرانه! وإذا جمعتهما الجماعة أو الجمعة أو العيد فقد يرجعان عن المصلى ولم يلتقيا! وإذا التقيا تجنَّب كلٌّ منهما فتح باب المذاكرة، إمّا رغبة عن العلم، وإمّا استحقارًا لصاحبه، وإمّا أَنَفَة أن يظن الناس أنّ صاحبه أعلم منه، وإمّا خوفًا من أن تجرّ المذاكرةُ إلى المنازعة أو غير ذلك! !
وهكذا يحج كل سنة جماعةٌ من العلماء، ويرجع كل منهم ولم يجتمع بأحد من علماء الحرمين، أو العلماء الذين حجوا في ذلك العام.
وقد كان العلماء في العصور السابقة على خلاف هذه الحال، فكان من أعظم ما يهتمّ به العالم إذا حجّ: الاجتماع بالعلماء والاستفادة منهم وإفادتهم.
ولقد كان بعض العلماء يحجّ وأعظم البواعث له على الحج الاجتماع بالعلماء، مع أنّ هذه العبادات أعني الجماعة والجمعة والعيد والحج مِن أعظم الحِكَم في شَرْعِها: الاجتماع والتعارف، وتبادل الفوائد العلمية وغيرها.
وهكذا قد يتفق لأحد علماء هذا العصر سفر إلى بلد من البلدان فيَرِدُه، ويمكث فيه مدّةً لا يسأل عمن به من العلماء، ولا يجتمع بهم، وإذا اجتمع بهم تجنَّب المذاكرة العلمية، فلا يكاد يفيد ولا يستفيد، وإذا كان يصنع هذا مع جيرانه من العلماء، فكيف يُرْجَى منه خلافُه مع علماء البلدان البعيدة عنه؟ !
وكم من عالم تُشْكِل عليه مسألة، أو يخشى أن يكون مخطئًا فيها، فلا
বর্তমানে একজন আলেমের ওপর দিয়ে কয়েক মাস, এমনকি কয়েক বছর পার হয়ে যায়, অথচ তার প্রতিবেশী হিসেবে গণ্য হতে পারেন এমন অন্য কোনো আলেমের সাথেও তার সাক্ষাৎ হয় না! আর যদি কোনো জামাত বা জুমুআ কিংবা ঈদ তাদের উভয়কে একত্রিত করে, তবে তারা হয়তো ঈদগাহ বা সালাতের স্থান থেকে ফিরে আসেন কিন্তু একে অপরের সাথে দেখা করেন না! আর যদি সাক্ষাৎ ঘটেও, তবে তাদের প্রত্যেকেই ইলমি আলোচনার (مذاكرة) দ্বার উন্মোচন করা এড়িয়ে চলেন; হয় ইলমের প্রতি অনাগ্রহের কারণে, নয়তো তার সঙ্গীকে তুচ্ছ জ্ঞান করার ফলে, অথবা এই অহমিকা থেকে যে মানুষ হয়তো মনে করবে তার সঙ্গী তার চেয়ে বেশি জ্ঞানী, কিংবা এই ভয়ে যে এই আলোচনা হয়তো বিবাদ বা অন্য কিছুর দিকে মোড় নিতে পারে!
এভাবেই প্রতি বছর একদল আলেম হজ পালন করেন, অথচ তাদের প্রত্যেকেই মক্কা-মদীনার দুই পবিত্র হারামের (الحرمين) কোনো আলেম কিংবা সেই বছর হজ পালন করতে আসা আলেমদের সাথে সাক্ষাৎ না করেই ফিরে যান।
পূর্ববর্তী যুগের আলেমগণ বর্তমান অবস্থার সম্পূর্ণ বিপরীতে ছিলেন; একজন আলেমের কাছে হজের সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি ছিল আলেমদের সাথে একত্রিত হওয়া এবং তাদের নিকট থেকে উপকৃত হওয়া (استفادة) ও তাদেরকে উপকৃত করা (إفادة)।
এমনকি কোনো কোনো আলেম হজ পালন করতেন এবং তার হজের প্রধানতম প্রেরণা থাকতো আলেমদের সাথে সাক্ষাৎ করা; যদিও এসব ইবাদত—অর্থাৎ জামাত, জুমুআ, ঈদ ও হজ—শরয়ি বিধানে প্রবর্তনের অন্যতম মহৎ হিকমত বা রহস্য হলো: পারস্পরিক মিলন ও পরিচিতি লাভ এবং ইলমি ও অন্যান্য উপকার বিনিময় করা।
একইভাবে বর্তমান যুগের কোনো আলেমের কোনো দেশে সফরের সুযোগ হলে তিনি সেখানে প্রবেশ করেন এবং দীর্ঘকাল অবস্থান করেন, অথচ সেখানে অবস্থানরত আলেমদের সম্পর্কে কোনো খোঁজ নেন না এবং তাদের সাথে সাক্ষাৎও করেন না। আর যদি সাক্ষাৎ ঘটেও, তবে তিনি ইলমি আলোচনা (مذاكرة) এড়িয়ে চলেন; ফলে তিনি প্রায় কাউকেই উপকৃত করেন না এবং নিজেও উপকৃত হন না। যদি তিনি তার প্রতিবেশী আলেমদের সাথেই এমন আচরণ করেন, তবে তার থেকে দূরবর্তী দেশগুলোর আলেমদের সাথে এর ব্যতিক্রম কিছু করার আশা কীভাবে করা যায়?
কত আলেম আছেন যাদের কাছে কোনো মাসআলা জটিল মনে হয় কিংবা তাতে ভুল করার আশঙ্কা করেন, অথচ...
(খণ্ড: ১৫)
সিফাতুল ইরতিবাত বাইনাল উলামা ফিল কাদীম - জিমনা আসারুল মুআল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ৪২০)
يدعوه التوفيق إلى الاجتماع بغيره من العلماء والبحث معهم فيها، أو إلى مكاتبتهم في ذلك.
هذا مع تيسر طرق المواصلات في هذه الأعصار، فأصبحت المسافة التي كانت لا تُقْطَع إلا في أشهر أو سنين، مع المشاق والمخاوف والعوائق والقواطع تُقْطَع الآن في أيام، مع الأمن والراحة، وكذلك حال المكاتبات.
ولقد كان العالم يبيع ضنائنه لكي يتزوَّد لسفر بعيد ليجتمع بعالم آخر، وكثيرًا ما كانت تعرض لهم المشاق الشديدة في البر والبحر، ويُعرّضون أنفسهم للمهالك، كلُّ ذلك رغبةً في العلم.
حتى لقد كان بعض الصحابة ــ رضي الله عنهم ــ يسافر من المدينة إلى مصر ليجتمع بصحابي آخر هنالك ليستثبته في حديث واحد سمعاه معًا من النبي صلى الله عليه وسلم!!
ففي "مسند الإمام أحمد" (ج 4، ص 62) و (ج 5، ص 375)
(1) من طريق عبدالملك بن عُمير عن مُنيب
(2) عن عمه قال: بلغ رجلاً من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم عن رجل من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم أنه يحدث
… فرحل إليه وهو بمصر، فسأله عن الحديث، فقال: نعم سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول: "من ستر أخاه المسلم في الدنيا ستره الله يوم القيامة". قال: وأنا سمعته من النبي صلى الله عليه وآله وسلم.
--------------------------------------------
তাওফিক (আল্লাহর অনুগ্রহ) তাকে অন্য আলেমদের সাথে একত্রিত হতে এবং তাদের সাথে গবেষণামূলক আলোচনা করতে অথবা তাদের কাছে পত্রালাপ করতে উদ্বুদ্ধ করে।
অথচ বর্তমান যুগে যাতায়াত ব্যবস্থা অত্যন্ত সহজতর হয়েছে; ফলে যে দূরত্ব অতিক্রম করতে পূর্বে কষ্ট, ভয়ভীতি, নানা বাধা-বিপত্তি ও প্রতিবন্ধকতার কারণে মাস কিংবা বছর লেগে যেত, তা এখন নিরাপত্তা ও আরামের সাথে মাত্র কয়েক দিনেই পাড়ি দেওয়া সম্ভব। চিঠিপত্রের আদান-প্রদানের অবস্থাও অনুরূপ সহজ হয়েছে।
এমন একটা সময় ছিল যখন একজন আলেম তার অতি প্রিয় সম্পদ বিক্রি করে দিতেন যাতে সুদূর সফরের পাথেয় সংগ্রহ করে অন্য একজন আলেমের সাথে সাক্ষাৎ করতে পারেন। স্থলে এবং জলে তাদের প্রায়ই চরম কষ্টের সম্মুখীন হতে হতো এবং তারা নিজেদের জীবনকেও ঝুঁকির মুখে ফেলতেন; এ সব কিছুর মূলে ছিল কেবল জ্ঞানের প্রতি গভীর অনুরাগ।
এমনকি কোনো কোনো সাহাবী —রাদিয়াল্লাহু আনহুম— মদিনা থেকে মিশরে সফর করতেন কেবল অন্য একজন সাহাবীর সাথে সাক্ষাৎ করে একটি মাত্র হাদিস যাচাই (ليستثبته) করার জন্য, যা তারা উভয়েই একসাথে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছিলেন!!
যেমন মুসনাদ ইমাম আহমাদ (৪র্থ খণ্ড, ৬২ পৃষ্ঠা) এবং (৫ম খণ্ড, ৩৭৫ পৃষ্ঠা)
(১)-এ আব্দুল মালিক ইবনে উমাইর থেকে মুনীব
(২) থেকে তার চাচার সূত্রে (طريق) বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এক সাহাবীর কাছে সংবাদ পৌঁছালো যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অন্য একজন সাহাবী কোনো একটি বিষয় বর্ণনা (يحدث) করছেন … তখন তিনি তার কাছে সফর করে গেলেন যখন তিনি মিশরে অবস্থান করছিলেন। এরপর তিনি তাকে উক্ত হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: হ্যাঁ, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "যে ব্যক্তি দুনিয়াতে তার মুসলিম ভাইয়ের দোষ গোপন রাখবে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার দোষ গোপন রাখবেন।" তিনি বললেন: আমিও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এটি শুনেছি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৫)
সিফাতুল ইরতিবাত বাইনাল উলামা ফিল কাদীম - জিমনা আসারুল মুআল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ৪২১)
وفي "المسند" أيضًا (جلد 4، ص 153)
(1) عن ابن جريج قال: سمعت أبا سعيد
(2) يحدث عن عطاء قال: رحل أبو أيوب إلى عقبة بن عامر
… فأتى عقبة، قال: حدِّثْنا ما سمعتَ من النبي صلى الله عليه وسلم لم يبق أحدٌ سمعه. قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: "مَنْ سَتَر على مؤمن في الدنيا ستره الله يوم القيامة". فأتى راحلته فركب ورجع. وعقبةُ بن عامر كان بمصر.
لمّا بلغتُ إلى هنا انتبهت لاتفاق عجيب، وهو أنّ الآثار التي استشهدت بها تدور على مصر، فالليث بن سعد مصري، والشافعي استوطن مصر، والأثران اللذان نقلتهما عن "المسند" كانت الرحلة فيهما إلى مصر، و"المسند" طبع مصر، وكتابا "تهذيب التهذيب" و"تعجيل المنفعة" كلاهما من تأليف الحافظ ابن حجر المصري! !
وفي "سنن أبي داود"
(3) وغيرها عن كثير بن قيس قال: كنت جالسًا مع أبي الدرداء في مسجد دمشق، فجاءه رجل فقال: يا أبا الدرداء، إنّي جئتك من مدينة رسول الله عليه الصلاة والسلام؛ لحديث بلغني أنّك تحدّثه عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، ما جئت لحاجة ــ يعني غير ذلك ــ.
هكذا كان القوم، فأصبح أحدنا يتثاقل عن بضع خطوات يمشيها إلى عالم، أو يضنّ ببضعة أَفْلُس يبتاع بها طوابع للبريد ليكتب بها إلى عالم.
--------------------------------------------
এবং "মুসনাদ"-এও (৪র্থ খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৫৩)
(১) ইবনে জুরাইজ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আবু সাঈদকে
(২) আতা থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেন: আবু আইয়ুব উকবা ইবনে আমিরের উদ্দেশ্যে সফর করলেন... অতঃপর তিনি উবকার নিকট আসলেন এবং বললেন: আপনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে যা শুনেছেন তা আমাদের নিকট বর্ণনা করুন, যা শোনার মতো বর্তমানে আর কেউ অবশিষ্ট নেই। তিনি বললেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "যে ব্যক্তি দুনিয়াতে কোনো মুমিনের দোষ গোপন রাখবে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার দোষ গোপন রাখবেন।" অতঃপর তিনি তাঁর সওয়ারির কাছে আসলেন এবং আরোহণ করে ফিরে গেলেন। আর উকবা ইবনে আমির মিসরে অবস্থান করছিলেন।
যখন আমি এখানে পৌঁছালাম, তখন এক বিস্ময়কর মিলের প্রতি আমার মনোযোগ আকৃষ্ট হলো। তা হলো, আমি যেসব বর্ণনা (آثار) প্রমাণ হিসেবে পেশ করেছি সেগুলো মিসরকে কেন্দ্র করে আবর্তিত। লাইস ইবনে সাদ ছিলেন মিসরীয়, শাফিঈ মিসরে বসবাস করতেন এবং "মুসনাদ" থেকে আমি যে দুটি বর্ণনা (أثر) উদ্ধৃত করেছি, সে দুটিতে সফর ছিল মিসরের দিকে। আর "মুসনাদ" মিসরে মুদ্রিত, এবং "তহজীবুত তহজীব" ও "তা'জিলুল মানফাআহ" গ্রন্থ দুটিও হাফেজ (الحافظ) ইবনে হাজার মিসরীয়-র রচনা!!
এবং "সুনানে আবু দাউদ"
(৩) ও অন্যান্য গ্রন্থে কাসীর ইবনে কায়স থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি দামেস্কের মসজিদে আবু দারদার সাথে বসা ছিলাম। তখন এক ব্যক্তি তাঁর কাছে এসে বলল: হে আবু দারদা, আমি রাসূলুল্লাহ (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর শহর থেকে আপনার কাছে এসেছি একটি হাদিসের জন্য যা আমার কাছে পৌঁছেছে যে আপনি তা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন; আমি অন্য কোনো প্রয়োজনে—অর্থাৎ এছাড়া—আসিনি।
সেই পুণ্যবান সম্প্রদায় এমনই ছিলেন। অথচ আজ আমাদের কেউ কোনো আলেমের কাছে কয়েক কদম হেঁটে যেতে অলসতা বোধ করে, অথবা কোনো আলেমের কাছে চিঠি লেখার জন্য ডাকটিকিট কেনার সামান্য অর্থ ব্যয় করতেও কার্পণ্য করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৫)
সিফাতুল ইরতিবাত বাইনাল উলামা ফিল কাদীম - জিমনা আসারুল মুআল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ৪২২)
وكم من عالم أخطأ في مسألة فلم يهتم إخوانه من العلماء بأن يزوروه ويذاكروه فيها، أو يكاتبوه في شأنها، بل غاية ما يصنع أحدهم أن ينشر اعتراضه في مجلة أو رسالة يُشنِّع على ذلك العالم ويُجَهّله، أو يبدّعه ويكفّره، فتكون النتيجة عكس المطلوب.
وكم من مسائل يُفْتَى فيها بمصر بشيء، وبالشام بخلافه، وفي الهند بخلاف ذلك، ولو كانت المواصلات جارية بين العلماء لما وقع هذا الخبط الشديد الذي يوسع خَرْقَ الافتراق ويؤول إلى النزاع والشقاق.
وعلماء الدين أحوج الناس إلى التواصل والتعاون خصوصًا في العصر الذي تفشّى فيه وباء الإلحاد، وقلَّت الرغبة في العلوم الدينية، بل كادت تعم النُّفْرة عنها، واستغنى كلّ أحد برأيه.
فعلماء الدين مفتقرون إلى التعاون لإيجاد طرقٍ تقرِّب المسافة بينهم وبين المتعلّمين العلومَ الحديثة، وتُجْلى فيها المسائل الدينية في معارض تتفق وطريقَ التفكير العصري، فيُسْتطاع بذلك إيقاف الوباء عن زيادة الانتشار ومعالجة المرضى، بل والدعاية المثمرة إن شاء الله.
فأمّا الدواء المعروف الآن، وهو التكفير والتضليل، فإنه لا يزيد الداء إلا إعضالًا، ومثله مثل رجل ظهر ببعض أصابعه برص فقطعه! فظهر البرص بأخرى فقطعها!! فقيل له: حنانيك قبل أن تقطع جميع أعضائك!
وهذا موضوع واسع، أكتفي بالإلماع إليه. وأهم من ذلك حال الجوامع والمدارس والدوائر العلمية، فإن احتياجها إلى التواصل والتعاون أشد؛ لأنّ النقص في بعضها يضر الأمة جمعاء، خصوصًا في هذا العصر الذي
কতশত আলেম কোনো একটি বিষয়ে ভুল করেছেন, কিন্তু তাদের আলেম ভাইয়েরা তাদের সাথে সাক্ষাৎ করে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে অথবা এ বিষয়ে তাদের কাছে চিঠিপত্র লিখতে ভ্রুক্ষেপ করেননি। বরং তাদের কেউ যা করেন তার শেষ সীমা হলো— কোনো সাময়িকী বা পুস্তিকায় তার আপত্তি প্রকাশ করা, যেখানে সেই আলেমকে নিয়ে কুৎসা রটনা করা হয়, তাকে অজ্ঞ প্রতিপন্ন করা হয় অথবা তাকে বিদআতি (مبتدع) ও কাফির (كافر) আখ্যা দেওয়া হয়। ফলে ফলাফল হয় হিতে বিপরীত।
কত এমন মাসআলা রয়েছে যে বিষয়ে মিশরে একরকম ফতোয়া দেওয়া হয়, সিরিয়ায় তার বিপরীতে অন্যরকম এবং হিন্দুস্তানে আবার অন্যরকম। যদি আলেমদের মাঝে যোগাযোগ ও সংযোগ অব্যাহত থাকত, তবে এই ভয়াবহ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতো না যা বিভেদের ফাটলকে আরও প্রশস্ত করে এবং বিবাদ ও কলহের দিকে ধাবিত করে।
দ্বীনি আলেমরাই পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি মুখাপেক্ষী, বিশেষ করে বর্তমান যুগে যখন নাস্তিকতার মহামারি ছড়িয়ে পড়েছে এবং দ্বীনি ইলমের প্রতি আগ্রহ কমে গেছে; বরং অবস্থা এমন যে এর প্রতি সাধারণ অনীহা তৈরি হয়েছে এবং প্রত্যেকেই নিজ নিজ মতে সন্তুষ্ট হয়ে পড়েছে।
তাই দ্বীনি আলেমদের এমন পথ খুঁজে বের করার জন্য পারস্পরিক সহযোগিতা প্রয়োজন যা তাদের এবং আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিতদের মাঝখানের দূরত্ব কমিয়ে আনবে এবং যেখানে দ্বীনি বিষয়গুলোকে আধুনিক চিন্তা-চেতনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ পন্থায় উপস্থাপন করা হবে। এর মাধ্যমেই মহামারির বিস্তার রোধ করা এবং রোগীদের চিকিৎসা করা সম্ভব হবে, এমনকি ইনশাআল্লাহ ফলপ্রসূ প্রচার-প্রসারও সম্ভব হবে।
বর্তমানে প্রচলিত যে চিকিৎসা— তথা কাফির আখ্যা দেওয়া (تكفير) ও গোমরাহ সাব্যস্ত করা (تضليل)— তা কেবল ব্যাধিকে আরও দুরারোগ্যই করে তোলে। এর উদাহরণ সেই ব্যক্তির মতো যার কোনো এক আঙুলে কুষ্ঠরোগ দেখা দেওয়ায় সে তা কেটে ফেলল! এরপর অন্য আঙুলে কুষ্ঠরোগ দেখা দিলে সেটিও সে কেটে ফেলল!! তখন তাকে বলা হলো: তোমার প্রতি দয়া হয়, নিজের সব অঙ্গ কেটে ফেলার আগে একটু থামো!
এটি একটি বিশাল বিষয়, আমি কেবল এর প্রতি ইঙ্গিত করেই ক্ষান্ত হচ্ছি। এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো জামে মসজিদ, মাদরাসা এবং ইলমি প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থা; কারণ এগুলোর পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা আরও বেশি। কেননা এগুলোর কোনো একটির ত্রুটি সমগ্র উম্মতের ক্ষতি করে, বিশেষ করে বর্তমান এই যুগে যখন
(খণ্ড: ১৫)
সিফাতুল ইরতিবাত বাইনাল উলামা ফিল কাদীম - জিমনা আসারুল মুআল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ৪২৩)
اضطربت فيه نُظُم التعليم، واحتاج الناس إلى التغيير فيها والتبديل بحسب ما تقتضيه المصلحة.
فمن الواجب أن تكون المدارس الإسلامية والمعاهد العلمية في العالم كله على صلة بالأزهر المعمور وتَوَاصلٍ بينها لتوحيد نظام التعليم على حسب ما تقتضيه الدواعي العصرية، فمن المؤسف أن نرى بعض المدارس لا تزال تشغل طلبتها بعلم الكلام والطبيعة على ما كان مألوفًا منذ ألف سنة، وتشغلهم في النحو والصرف بالكتب التي ألفت قبل مئات من السنين، فربما مكث الطالب سنين في المدرسة ثم خرج منها كيوم ولدته أمه!
ولو وُثِّقت الروابط بين الجوامع والمدارس لاستفاد بعضها من بعض، وانتفع جميعها بما يهتدي إليه بعضها، فتكون يدًا واحدة على ترقية العلم ونشره، واختيار الطرق الصحيحة القريبة الفائدة.
وحال المطابع وخزائن الكتب على هذا القياس، فكم من مطبعة تظفر بنسخة ناقصة من كتاب تريد طبعه، وقد يكون ذلك الكتاب في بعض المكاتب في قُطر آخر، أو في ملك أحد العلماء، ولكن عدم التواصل يحول بين المطبعة وبين العلم بذلك، فإما أن تطبعه ناقصًا، فيكون في ذلك مضرّة عظيمة؛ لأنّ المطابع الأخرى تُعرض عن طبعه مرة أخرى، مخافة الخسارة المالية، وإمّا أن تهمل طبعه، وقد يؤدي ذلك إلى تلفه، وعلى الأقلّ إلى تأخير الفائدة المرجوّة من نشره.
إنّنا بهذه المناسبة نعلن شكرنا للحكومة المصرية الجليلة والخزانة الخديوية، فإنّنا بالمواصلة معها استطعنا أن نستفيد ونفيد العلم وأهله فوائد عظيمة، فمن ذلك:
এখানে শিক্ষাব্যবস্থা বিশৃঙ্খল হয়ে পড়েছে এবং জনস্বার্থের প্রয়োজনে এতে পরিবর্তন ও পরিমার্জন করা মানুষের জন্য আবশ্যক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তাই এটি অপরিহার্য যে, বিশ্বের সকল ইসলামি মাদরাসা এবং ইলমি প্রতিষ্ঠানসমূহ আবাদি আল-আযহারের সাথে সম্পৃক্ত থাকবে এবং আধুনিক যুগের চাহিদার প্রেক্ষিতে শিক্ষাব্যবস্থাকে একীভূত করার লক্ষ্যে নিজেদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বজায় রাখবে। এটি অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, আমরা দেখি কিছু মাদরাসা আজও তাদের শিক্ষার্থীদের ইলমুল কালাম এবং প্রাকৃতিক বিজ্ঞান শাস্ত্রের এমন সব বিষয়ে ব্যাপৃত রাখছে যা এক হাজার বছর আগে প্রচলিত ছিল। এছাড়া তারা নাহু ও সরফ শাস্ত্রের ক্ষেত্রে এমন সব কিতাব নিয়ে ব্যস্ত আছে যা শত শত বছর আগে রচিত। ফলে অনেক সময় একজন ছাত্র মাদরাসায় বছরের পর বছর অতিবাহিত করার পরও সেখান থেকে এমন অবস্থায় বের হয়, যেন আজই তার জন্ম হয়েছে!
যদি জামে মসজিদ ও মাদরাসাগুলোর মধ্যকার সম্পর্ক সুদৃঢ় করা হতো, তবে তারা একে অপরের দ্বারা উপকৃত হতো এবং তাদের কোনো অংশ যে সঠিক পথের দিশা পায় তা দ্বারা সকলে লাভবান হতে পারত। ফলে ইলমের উন্নতি ও প্রসারে এবং নিকটতম ফায়দা সম্পন্ন সঠিক (صحيح) পদ্ধতি নির্বাচনে তারা একতাবদ্ধ হয়ে কাজ করতে পারত।
ছাপাখানা এবং গ্রন্থাগারগুলোর অবস্থাও ঠিক একই পর্যায়ের। কত ছাপাখানা এমন আছে যারা কোনো কিতাব ছাপানোর উদ্দেশ্যে তার একটি অপূর্ণাঙ্গ পাণ্ডুলিপি লাভ করে, অথচ সেই কিতাবটি হয়তো অন্য কোনো ভূখণ্ডের লাইব্রেরিতে বা কোনো বিজ্ঞ আলেমের মালিকানায় সংরক্ষিত রয়েছে। কিন্তু পারস্পরিক যোগাযোগের অভাব ছাপাখানাকে সে তথ্য জানতে বাধা দেয়। ফলে তারা হয় সেটি অপূর্ণাঙ্গ অবস্থায় ছেপে ফেলে, যা এক বিরাট ক্ষতির কারণ হয়; কারণ আর্থিক লোকসানের ভয়ে অন্য কোনো ছাপাখানা সেটি পুনরায় মুদ্রণে বিমুখ থাকে। অথবা তারা এটি ছাপানোই বর্জন করে, যার ফলে পাণ্ডুলিপিটি নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়, অথবা অন্ততপক্ষে এর প্রকাশনা থেকে প্রত্যাশিত উপকার লাভ বিলম্বিত হয়।
আমরা এই সুযোগে মিশরের মহান সরকার এবং খেদিভীয় লাইব্রেরির প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। কেননা তাদের সাথে নিরন্তর যোগাযোগের মাধ্যমেই আমরা ইলম ও ইলম অন্বেষীদের প্রভূত কল্যাণ সাধন করতে এবং নিজেরাও উপকৃত হতে পেরেছি। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
(খণ্ড: ১৫)
সিফাতুল ইরতিবাত বাইনাল উলামা ফিল কাদীম - জিমনা আসারুল মুআল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ৪২৪)
ــ أنّها أفضلت علينا بإرسال نسخة من "السنن الكبرى" للبيهقي أخذَتْها من النسخة المحفوظة فيها بالتصوير الشمسي.
ــ وكذلك بنسخة من "التاريخ الكبير" للبخاري.
ــ ونسخة من "الأربعين في أصول الدين" للفخر الرازي.
ــ وتكفلت لنا بطبع "علوم الحديث" للحاكم، و"إعراب ثلاثين سورة" لابن خالويه، وغير ذلك.
ولا نزال نستفيد منها، وسوف تبقى مواصلتنا معها مستمرة إن شاء الله.
وكذلك حاولنا أن نستفيد من الأزهر المعمور، وبعض أكابر العلماء بمصر، فكاتبناهم لاقتباس رأيهم في الكتب التي ينبغي طبعها، فتفضلوا علينا بآرائهم في ذلك كما أثبتناه في "برنامج الجمعية".
بل وكاتبنا في ذلك أكثر مشاهير علماء العالم، ووردت الأجوبة من بعضهم كما أثبت في البرنامج.
وبالجملة فجمعيتنا هذه مَدِينة للحكومة المصرية وعلماء مصر أعظم الدَّين، ولن يزال اتصالنا بهم مستمرًّا ــ إن شاء الله تعالى ــ، ونسأل الله تبارك وتعالى أن يجزيهم عنّا وعن العلم وأهله أفضل الجزاء.
هذا مثالٌ مِن أمثلة التواصل العلمي بين الدوائر العلمية وما ينطوي عليه من الفوائد العظيمة. والحاجة داعية إلى توسيع نطاق التواصل، ولاسيما بتبادل بعض الوفود من قُطْر إلى قُطْر، ومن بلد إلى بلد، ومن مدرسة إلى مدرسة.
ــ তারা বায়হাক্বীর 'সুনানুল কুবরা'-এর একটি অনুলিপি পাঠিয়ে আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন, যা তারা সেখানে সংরক্ষিত পাণ্ডুলিপি থেকে আলোকচিত্রের মাধ্যমে সংগ্রহ করেছিলেন।
ــ এবং একইভাবে বুখারীর 'আত-তারীখুল কাবীর'-এর একটি অনুলিপি প্রদানের মাধ্যমে।
ــ এবং ফখর রাযীর 'আল-আরবাঈন ফী উসুলিদ দ্বীন'-এর একটি অনুলিপি প্রদানের মাধ্যমে।
ــ এবং তারা আমাদের জন্য হাকিমের 'উলূমুল হাদীস', ইবনে খালওয়াইহ-এর 'ই’রাবু সালাসীনা সূরাহ' এবং অন্যান্য গ্রন্থ মুদ্রণের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
আমরা এখনও তাদের দ্বারা উপকৃত হচ্ছি এবং ইনশাআল্লাহ তাদের সাথে আমাদের এই যোগাযোগ নিরবচ্ছিন্ন থাকবে।
একইভাবে আমরা প্রদীপ্ত আল-আযহার এবং মিশরের কতিপয় বরেণ্য আলেমদের থেকে উপকৃত হওয়ার চেষ্টা করেছি। তাই আমরা কোন কোন বই ছাপানো উচিত সে বিষয়ে তাদের মতামত গ্রহণের জন্য পত্রালাপ করেছি। তারা এ বিষয়ে তাদের অভিমত দিয়ে আমাদের ধন্য করেছেন, যা আমরা 'মাজলিসের কর্মসূচী'-তে লিপিবদ্ধ করেছি।
বরং আমরা এ বিষয়ে বিশ্বের অধিকাংশ প্রখ্যাত আলেমদের কাছেও লিখেছি এবং তাদের কারো কারো পক্ষ থেকে উত্তর এসেছে, যা কর্মসূচীতে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।
মোদ্দাকথা হলো, আমাদের এই মজলিস মিশরীয় সরকার এবং মিশরের আলেমদের কাছে অত্যন্ত ঋণী। ইনশাআল্লাহ তাআলা তাদের সাথে আমাদের যোগাযোগ সর্বদা অব্যাহত থাকবে। আমরা আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের পক্ষ থেকে এবং ইলম ও আহলে ইলমের পক্ষ থেকে তাদেরকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন।
এটি জ্ঞানতাত্ত্বিক বিভিন্ন মহলের মধ্যকার জ্ঞানীয় যোগাযোগের এবং এর অন্তর্ভুক্ত মহান উপকারিতাগুলোর একটি উদাহরণ। বর্তমান সময়ে এই যোগাযোগের পরিধি আরও বিস্তৃত করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে, বিশেষ করে এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে, এক দেশ থেকে অন্য দেশে এবং এক প্রতিষ্ঠান থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন প্রতিনিধি দল বিনিময়ের মাধ্যমে।
(খণ্ড: ১৫)
সিফাতুল ইরতিবাত বাইনাল উলামা ফিল কাদীম - জিমনা আসারুল মুআল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ৪২৫)
وقد أخذت مصر بفضيلة السبق إلى هذا الأمر ببَعْثها هذا الوفد المحترم، وعسى أن تكون قدوة صالحة لغيرها من الأقطار، وسوف يكون لهذا التزاور ثمرةٌ عظيمة إن شاء الله تعالى.
وإنّي وإخواني الأفاضل رفقاء الدائرة نشكر لأعضاء الوفد الأجلة تفضلهم علينا، وعنايتهم بنا، وستبقى أشخاصُهم الكريمة ماثلةً في قلوبنا وكلماتهم التشجيعية رنانة على أسماعنا، ولن تزال الروح التي نفخوها فينا بلطفهم وحنانهم باعثةً لنا على دوام الجد في العمل بنفوس لا تعرف الكسل ولا الملل ــ إن شاء الله تعالى ــ.
وحبذا لو كان من الممكن طول إقامة الوفد هاهنا مدة طويلة، ليتكرر اجتماع العلماء بهم، وشفاء الصدور بالاستفادة والمذاكرة، فإنّ قلوب علماء هذه العاصمة وفضلائها حرّى متعطشة إلى الارتشاف من علم علماء الوفد، والتشفي بمذاكرتهم.
ولكن إذا كان طول إقامة الوفد متعذرًا، فإنّنا نعلل أنفسنا بعودة أخرى ــ والعود أحمد ــ وبالمواصلة بالمكاتبة التي ستبقى ــ إن شاء الله تعالى ــ مستمرة.
ونرجو من حضرات الأساتذة الأجلة أعضاء الوفد أن يفسحوا لنا جانبًا من صدورهم، ويربطونا بصلة من عنايتهم، فإنّه لا غنى بنا عن ألطافهم بالإرشاد والإمداد العلمي والدعوات المقبولة إن شاء الله.
نسأل الله تبارك وتعالى أن يوفقنا جميعًا لدوام الاجتهاد في خدمة العلم والدين، وأن ينجح مقاصد الوفد، ويثمر أعماله.
মিশর এই সম্মানিত প্রতিনিধি দল প্রেরণের মাধ্যমে এই মহৎ কাজে অগ্রগামী হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেছে। আশা করা যায় এটি অন্যান্য দেশের জন্য একটি উত্তম আদর্শ (قدوة صالحة) হিসেবে পরিগণিত হবে। ইনশাআল্লাহ, এই পারস্পরিক সফরের এক মহান ফল অর্জিত হবে।
আমি এবং আমার বিভাগীয় সহকর্মী ফাজেল ভাইয়েরা প্রতিনিধি দলের সম্মানিত সদস্যদের প্রতি আমাদের ওপর তাঁদের কৃপা ও যত্নের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। তাঁদের মহৎ ব্যক্তিত্ব আমাদের হৃদয়ে অমলিন হয়ে থাকবে এবং তাঁদের উৎসাহব্যঞ্জক কথাগুলো আমাদের কানে প্রতিধ্বনিত হতে থাকবে। তাঁদের দয়া ও মমতা আমাদের মধ্যে যে প্রাণশক্তির সঞ্চার করেছে, তা ইনশাআল্লাহ আমাদের অলসতা ও বিরক্তিহীন চিত্তে নিরবচ্ছিন্ন কর্মতৎপরতায় উদ্বুদ্ধ করবে।
যদি এই প্রতিনিধি দলের এখানে দীর্ঘকাল অবস্থান করা সম্ভব হতো, তবে কতই না ভালো হতো! এর ফলে আলেমদের সাথে তাঁদের বারবার সাক্ষাৎ হতো এবং জ্ঞান আহরণ ও ইলমি আলোচনার (مذاكرة) মাধ্যমে মনের প্রশান্তি লাভ হতো। কারণ এই রাজধানীর আলেম ও গুণীজনদের হৃদয় প্রতিনিধি দলের আলেমদের জ্ঞান থেকে উপকৃত হতে এবং তাঁদের সাথে ইলমি আলোচনার (مذاكرة) মাধ্যমে তৃষ্ণা মেটাতে ব্যাকুল হয়ে আছে।
তবে যদি প্রতিনিধি দলের দীর্ঘ অবস্থান অসম্ভব হয়, তবে আমরা পুনরায় তাঁদের আগমনের প্রতীক্ষায় নিজেদের সান্ত্বনা দেব—আর পুনরায় আগমনই অধিক প্রশংসনীয়—এবং চিঠিপত্রের মাধ্যমে যোগাযোগ রক্ষা করব, যা ইনশাআল্লাহ অব্যাহত থাকবে।
আমরা প্রতিনিধি দলের সম্মানিত উস্তাদদের নিকট আবেদন জানাই যেন তাঁরা আমাদের প্রতি সদয় হন এবং তাঁদের বিশেষ অনুগ্রহের বন্ধনে আমাদের আবদ্ধ রাখেন। কারণ তাঁদের দিকনির্দেশনা, ইলমি সহযোগিতা এবং কবুল হওয়া দুআ থেকে আমরা বিমুখ হতে পারি না, ইনশাআল্লাহ।
আমরা আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালার নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের সকলকে ইলম ও দ্বীনের খিদমতে নিরন্তর পরিশ্রম (اجتهاد) করার তৌফিক দান করেন এবং প্রতিনিধি দলের উদ্দেশ্যগুলোকে সফল ও তাঁদের কার্যাবলিকে ফলপ্রসূ করেন।
(খণ্ড: ১৫)
সিফাতুল ইরতিবাত বাইনাল উলামা ফিল কাদীম - জিমনা আসারুল মুআল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ৪২৬)
وفي الختام نُحمِّل الوفد تحيتنا إلى رجال الأزهر المعمور، وسائر إخواننا المصريين، فليحيى الأزهر! ولتحيى مصر!
পরিশেষে, আমরা এই প্রতিনিধিদলের মাধ্যমে পুণ্যময় আল-আজহারের ব্যক্তিবর্গ এবং আমাদের সকল মিশরীয় ভাইদের প্রতি আমাদের শুভেচ্ছা পৌঁছে দিচ্ছি। আল-আজহার দীর্ঘজীবী হোক! মিশর দীর্ঘজীবী হোক!