(খণ্ড: ১) মাকালাতুল ইসলামিয়্যীন ত. যারযুর (পৃষ্ঠা: -)
مقالات الإسلاميين ت زرزور   (أبو الحسن الأشعري)

القسم: الفرق والردود


الكتاب: مقالات الإسلاميين واختلاف المصلين

المؤلف: أبو الحسن علي بن إسماعيل بن إسحاق بن سالم بن إسماعيل بن عبد الله بن موسى بن أبي بردة بن أبي موسى الأشعري (ت 324هـ)

المحقق: نعيم زرزور

الناشر: المكتبة العصرية

الطبعة: الأولى، 1426هـ - 2005م

عدد الأجزاء: 2

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 13 محرم 1433

মাকালাতুল ইসলামিয়্যিন তাহকীক: যুরযুর   (আবুল হাসান আল-আশআরী)

বিভাগ: ফিরকা ও খণ্ডনমূলক গ্রন্থাবলী


গ্রন্থ: মাকালাতুল ইসলামিয়্যিন ওয়া ইখতিলাফুল মুসল্লিন

লেখক: আবুল হাসান আলী বিন ইসমাঈল বিন ইসহাক বিন সালিম বিন ইসমাঈল বিন আব্দুল্লাহ বিন মুসা বিন আবি বুরদাহ বিন আবি মুসা আল-আশআরী (মৃত্যু ৩২৪ হি.)

সম্পাদক: নাঈম যুরযুর

প্রকাশক: আল-মাকতাবাতুল আশরিয়্যাহ

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৬ হি. - ২০০৫ খ্রি.

খণ্ড সংখ্যা: ২

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৩ মুহররম ১৪৩৩

(খণ্ড: ١) মাকালাতুল ইসলামিয়্যীন ত. যারযুর (পৃষ্ঠা: -)
ـ[مقالات الإسلاميين واختلاف المصلين]ـ

المؤلف: أبو الحسن علي بن إسماعيل بن إسحاق بن سالم بن إسماعيل بن عبد الله بن موسى بن أبي بردة بن أبي موسى الأشعري (المتوفى: 324هـ)

المحقق: نعيم زرزور

الناشر: المكتبة العصرية

الطبعة: الأولى، 1426هـ - 2005م

عدد الأجزاء: 2

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع وهو مذيل بالحواشي]
[ইসলামপন্থীদের মতবাদ এবং নামাজীদের মতভেদ]

লেখক: আবুল হাসান আলী বিন ইসমাইল বিন ইসহাক বিন সালিম বিন ইসমাইল বিন আব্দুল্লাহ বিন মুসা বিন আবি বুরদাহ বিন আবি মুসা আল-আশআরী (মৃত্যু: ৩২৪ হিজরি)

গবেষক: নাঈম জারজুর

প্রকাশক: আল-মাকতাবাতুল আশরিয়্যাহ

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৬ হিজরি - ২০০৫ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ২

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ এবং এটি টীকা সমৃদ্ধ]
(খণ্ড: ١) মাকালাতুল ইসলামিয়্যীন ত. যারযুর (পৃষ্ঠা: ٢١)
المجلد الأول

 

‌‌مقدمة

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله ذي العزة والإفضال والجود والنوال أحمده على ما خص وعم من نعمه وأستعينه على أداء فرائضه وأسأله الصلاة على خاتم رسله.

أما بعد فإنه لا بد لمن أراد معرفة الديانات والتمييز بينها من معرفة المذاهب والمقالات ورأيت الناس في حكاية ما يحكون من ذكر المقالات ويصنفون في النحل والديانات من بين مقصر فيما يحكيه وغالط فيما يذكره من قول مخالفيه ومن بين معتمد للكذب في الحكاية إرادة التشنيع على من يخالفه ومن بين تارك للتقصي في روايته لما يرويه من اختلاف المختلفين ومن بين من يضيف إلى قول مخالفيه ما يظن أن الحجة تلزمهم به وليس هذا سبيل الربانيين ولا سبيل الفطناء المميزين فحداني ما رأيت من ذلك على شرح ما التمست شرحه من أمر المقالات واختصار ذلك وترك الإطالة والإكثار وأنا مبتدئ شرح ذلك بعون الله وقوته.

اختلف الناس بعد نبيهم صلى الله عليه وسلم في أشياء كثيرة ضلل فيها بعضهم بعضاً وبرئ بعضهم من بعض فصاروا فرقاً متباينين وأحزاباً متشتتين إلا أن الإسلام يجمعهم ويشتمل عليهم1.

وأول ما حدث من الإختلاف بين المسلمين بعد نبيهم صلى الله عليه وسلم اختلافهم في الإمامة وذلك أن رسول الله صلى الله عليه وسلم لما قبضه الله عز وجل ونقله إلى جنته ودار كرامته اجتمعت الأنصار في سقيفة بني ساعدة بمدينة الرسول وأرادوا عقد الإمامة لسعد بن عبادة وبلغ ذلك أبا بكر وعمر رضوان الله عليهما فقصدا نحو مجتمع الأنصار في رجال من المهاجرين فأعلمهم أبو بكر أن الإمامة لا تكون إلا في قريش واحتج عليهم بقول النبي صلى الله عليه وسلم: "الإمامة في قريش" فأذعنوا لذلك منقادين ورجعوا إلى الحق طائعين بعد أن قالت الأنصار: منا أمير ومنكم

--------------------------------------------

1 يشير المؤلف إلى ما وقع من اختلاف في الرأي في مسائل فرعية لم ينزل فيها نص صريح وكذلك إلى الاضطراب الذي حدث بعد وفاة الرسول صلى الله عليه وسلم وهذا كله وارد في كتب السيرة والتاريخ فلا ضرورة إلى التوسع في شرحه لأنه يخرج عن الغرض من الكتاب وبالتالي التعليق على موضوعه.
প্রথম খণ্ড

 

‌‌ভূমিকা

পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি মর্যাদা, অনুগ্রহ, দান ও বদান্যতার অধিকারী। তাঁর বিশেষ ও সাধারণ সকল নিআমতের জন্য আমি তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর ফরজসমূহ আদায়ের জন্য তাঁর সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর শেষ রাসূলের ওপর দরুদ কামনা করি।

অতঃপর, যে ব্যক্তি বিভিন্ন ধর্ম সম্পর্কে জানতে চায় এবং তাদের মধ্যে পার্থক্য করতে চায়, তার জন্য বিভিন্ন মাযহাব ও মতবাদ সম্পর্কে জানা আবশ্যক। আমি লক্ষ্য করেছি যে, বিভিন্ন মতবাদ বর্ণনা করতে গিয়ে এবং ধর্ম ও ফিরকা সম্পর্কে গ্রন্থ রচনা করতে গিয়ে মানুষ বিভিন্ন পন্থাবলম্বী হয়েছে; কেউ তার বর্ণনায় ঘাটতি রেখেছে, কেউ বিরোধীদের মত বর্ণনা করতে গিয়ে ভুল করেছে, কেউ আবার বিরোধীদের কুৎসা রটানোর উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছে, কেউ ভিন্নমতাবলম্বীদের মতভেদ বর্ণনায় পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধানে অবহেলা করেছে, আবার কেউ বিরোধীদের মতের সাথে এমন কিছু জুড়ে দিয়েছে যা সে মনে করেছে তাদের বিরুদ্ধে দলিল হিসেবে কাজ করবে। এটি আল্লাহওয়ালা (রব্বানী) কিংবা প্রজ্ঞাবান ও বিচক্ষণ ব্যক্তিদের পথ নয়। আমি এসব দেখে যা ব্যাখ্যা করতে চেয়েছি, অর্থাৎ বিভিন্ন মতবাদের বর্ণনা, তা সংক্ষেপে বর্ণনা করতে উৎসাহিত হয়েছি—যাতে দীর্ঘসূত্রতা ও বাহুল্য ত্যাগ করা হয়েছে। আমি আল্লাহর সাহায্য ও শক্তির ওপর ভরসা করে এর ব্যাখ্যা শুরু করছি।

নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পর মানুষ বহু বিষয়ে লিপ্ত হয়েছে যেখানে একে অপরকে পথভ্রষ্ট বলেছে এবং একে অপরের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে। ফলে তারা বিভিন্ন দলে ও বিচ্ছিন্ন গোষ্ঠীতে বিভক্ত হয়ে পড়েছে, যদিও ইসলাম তাদের একত্রিত করে এবং তাদের শামিল রাখে ১।

নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পর মুসলিমদের মধ্যে প্রথম যে মতভেদ দেখা দেয় তা হলো ইমামত বা নেতৃত্বের প্রশ্নে। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যখন ইন্তেকাল হলো এবং মহান আল্লাহ তাঁকে তাঁর জান্নাত ও মর্যাদার আবাসে স্থানান্তরিত করলেন, তখন আনসাররা রাসূলের শহর (মদিনার) সাকিফাহ বনি সায়েদাতে সমবেত হলেন। তারা সাদ ইবনে উবাদাহর হাতে ইমামতের বায়আত দিতে চেয়েছিলেন। এই খবর আবু বকর ও উমর (আল্লাহ তাঁদের ওপর সন্তুষ্ট হোন) এর কাছে পৌঁছালে তাঁরা মুহাজিরদের কয়েকজনকে নিয়ে আনসারদের মিলনস্থলে উপস্থিত হলেন। আবু বকর তাঁদের জানালেন যে, ইমামত কেবল কুরাইশদের মধ্যেই থাকবে। তিনি নাবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বাণী দ্বারা দলিল পেশ করলেন যে: "ইমামত কুরাইশদের মধ্যে।" তখন তাঁরা আনুগত্যের সাথে তা মেনে নিলেন এবং স্বেচ্ছায় সত্যের দিকে ফিরে আসলেন, যদিও এর আগে আনসাররা বলেছিলেন: "একজন আমির আমাদের থেকে হবে এবং একজন তোমাদের থেকে..."

--------------------------------------------

১. লেখক এখানে সেই সব বিষয়ের মতভেদের দিকে ইঙ্গিত করেছেন যা ইজতিহাদমূলক বা শাখা-প্রশাখাগত বিষয়ে ছিল যেখানে কোনো স্পষ্ট দলিল ছিল না। একইভাবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মৃত্যুর পর যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল সেদিকেও ইঙ্গিত করেছেন। এই সব বিষয় সীরাত ও ইতিহাসের কিতাবসমূহে বর্ণিত হয়েছে, তাই এখানে এর বিস্তারিত ব্যাখ্যার প্রয়োজন নেই, কারণ তা গ্রন্থের মূল উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুত করবে এবং মূল বিষয়ের ওপর অতিরিক্ত আলোচনা হবে।
(খণ্ড: ١) মাকালাতুল ইসলামিয়্যীন ত. যারযুর (পৃষ্ঠা: ٢٢)
أمير وبعد أن جرد الحباب ابن المنذر سيفه وقال أنا جذيلها المحكك وعديقها المرجب من يبارزني1 بعد أن قام قيس بن سعد بنصرة أبيه سعد بن عبادة حتى قال عمر بن الخطاب في شأنه ما قال ثم بايعوا أبا بكر -رضوان الله عليه- واجتمعوا على إمامته واتفقوا على خلافته وانقادوا لطاعته فقاتل أهل الردة على ارتدادهم كما قاتلهم رسول الله على كفرهم فأظهره الله عز وجل عليهم أجمعين ونصره على جملة المرتدين وعاد الناس إلى الإسلام أجمعين وأوضح الله به الحق المبين2.

وكان الإختلاف بعد الرسول في الإمامة.

ولم يحدث خلاف غيره في حياة أبي بكر -رضوان الله عليه- وأيام عمر إلى أن ولى عثمان بن عفان -رضوان الله عليه- وأنكر قوم عليه في آخر أيامه أفعالا كانوا فيما نقموا عليه من ذلك مخطئين وعن سنن المحجة خارجين فصار ما أنكروه عليه اختلافا إلى اليوم ثم قتل -رضوان الله عليه-! - وكانوا في قتله مختلفين فأما أهل السنة والاستقامة فأنهم قالوا كان -رضوان الله عليه- مصيبا في أفعاله قتله قاتلوه ظلما وعدوانا وقال قائلون بخلاف ذلك وهذا اختلاف بين الناس إلى اليوم3.

ثم بويع علي بن أبي طالب -رضوان الله عليه- فاختلف الناس في أمره فمن عنه ومن بين قائل بإمامته معتقد لخلافته وهذا اختلاف بين الناس إلى اليوم4.

ثم حدث الإختلاف في أيام علي في أمر طلحة والزبير - رضوان الله

--------------------------------------------

1 حديث سقيفة بني ساعدة تواتر في معظم الكتب التاريخية إن لم يكن كلها إضافة إلى الكتب التي تحدثت في السيرة والفرق بالتالي لا محال لتعدادها.

2 الردة في الإسلام مفصل تاريخي ثبت به أبو بكر دعائم الإسلام وقضى على الفتنة وكان هذا الموضوع مادة للبحث الذي تقدمت فيه لنيل درجة الدبلوم درست فيه: ظاهرة الردة وأسبابها المختلفة وجمعت فيه ما قيل فيها من شعر والتداعيات بعده أسميته: "شعر الردة في الإسلام" وهو لا يزال مخطوطا أرجو أن تتاح له الفرصة في النشر.

3 كتب الكثير من الأبحاث والدراسات حول سيرة عثمان رضي الله عنه وكلها تشير أن الخلاف الذي نشأ لم يكن في مسائل الأصول ولكن حول الرأي والاجتهاد في مسائل الحكم وتولية الأشخاص.

4 ما كتب حول خلافة الإمام علي رضي الله عنه يعصى على الإحصاء لأنه مستمر في التدفق حتى أيامنا هذه وقد يستمر بعدنا ولا ندري إلى أين سيصل بنا لكن ما نحس به أنه يسهم في تفريق شمل الأمة الإسلامية وتوهين قوتها سيما وأن الخلاف في النظرة إلى الخلافة وليس أصل العقيدة.
আমীর, এবং হুবাব ইবনে মুনযির তাঁর তলোয়ার উন্মুক্ত করার পর বললেন: "আমি হলাম সেই অভিজ্ঞ ও নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি যার কাছে পরামর্শ চাওয়া হয় এবং আমি সেই শক্তিশালী স্তম্ভ যাকে ঠেস দিয়ে বিপদ মোকাবিলা করা হয়। কে আমার সাথে লড়াই করবে?"১। কায়স বিন সাদ তাঁর পিতা সাদ বিন উবাদাহকে সাহায্য করার জন্য দাঁড়ানোর পর এবং এমনকি ওমর ইবনুল খাত্তাব তাঁর সম্পর্কে যা বলার ছিল তা বলার পর, তাঁরা আবু বকর (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর হাতে বায়আত গ্রহণ করলেন। তাঁরা তাঁর ইমামতের ওপর ঐক্যবদ্ধ হলেন, তাঁর খিলাফতের ব্যাপারে একমত হলেন এবং তাঁর আনুগত্যের বশ্যতা স্বীকার করলেন। এরপর তিনি মুরতাদ বা ধর্মত্যাগীদের বিরুদ্ধে তাদের ধর্মত্যাগের কারণে যুদ্ধ করলেন, যেভাবে আল্লাহর রাসূল তাদের কুফরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলেন। ফলে আল্লাহ মহান ও পরাক্রমশালী তাঁদের সকলের ওপর তাঁকে বিজয়ী করলেন এবং সকল ধর্মত্যাগীদের বিরুদ্ধে তাঁকে সাহায্য করলেন। মানুষ পুনরায় সকলে ইসলামে ফিরে এল এবং আল্লাহ তাঁর মাধ্যমে সুস্পষ্ট সত্যকে উদ্ভাসিত করলেন।২。

রাসূলুল্লাহর পর মতপার্থক্যটি ছিল ইমামত বা নেতৃত্বের বিষয়ে।

আবু বকর (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর জীবদ্দশায় এবং ওমরের দিনগুলোতে এটি ছাড়া অন্য কোনো মতপার্থক্য ঘটেনি, যতক্ষণ না উসমান ইবনে আফফান (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) দায়িত্বপ্রাপ্ত হলেন। তাঁর শাসনের শেষ দিনগুলোতে একদল লোক তাঁর কিছু কাজের বিরোধিতা করল; তারা তাঁর ওপর যে বিষয়গুলোর কারণে ক্ষুব্ধ হয়েছিল তাতে তারা ভুলের ওপর ছিল এবং সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছিল। ফলে তারা তাঁর যে বিষয়গুলোর বিরোধিতা করেছিল, তা আজ অবধি একটি মতপার্থক্য হয়ে রয়ে গেছে। অতঃপর তিনি শহীদ হলেন (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)! তাঁর হত্যার বিষয়েও মানুষ ভিন্ন ভিন্ন মত পোষণ করত। তবে আহলুস সুন্নাহ ও সঠিক পথের অনুসারীরা বলেন যে, তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) তাঁর কার্যাবলিতে সঠিক ছিলেন এবং তাঁর হত্যাকারীরা তাঁকে জুলুম ও শত্রুতার বশবর্তী হয়ে হত্যা করেছে। অন্যরা এর বিপরীতে মত পোষণ করেছেন, যা আজ অবধি মানুষের মাঝে একটি মতভেদ হিসেবে বিদ্যমান।৩।

এরপর আলী ইবনে আবু তালিব (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর হাতে বায়আত করা হলো। তাঁর বিষয়েও মানুষের মধ্যে মতভেদ দেখা দিল; কেউ তাঁর থেকে বিমুখ হলো, আবার কেউ তাঁর ইমামতের প্রবক্তা ও খিলাফতের বিশ্বাসী হলো। এটিও আজ অবধি মানুষের মাঝে একটি মতপার্থক্য।৪।

অতঃপর আলীর যুগে তালহা ও যুবাইর (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর বিষয়ে মতপার্থক্য দেখা দিল...

--------------------------------------------

১. বনু সায়িদার সাকীফার হাদীসটি প্রায় সকল ঐতিহাসিক গ্রন্থে মুতাওয়াতির বা অবিচ্ছিন্নভাবে বর্ণিত হয়েছে, সীরাত ও ফিরকাহ সম্পর্কিত গ্রন্থগুলো তো বটেই। ফলে সেগুলোর তালিকা করা অসম্ভব।

২. ইসলামে রিদদাহ বা ধর্মত্যাগ একটি ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ, যার মাধ্যমে আবু বকর ইসলামের স্তম্ভগুলোকে সুদৃঢ় করেছিলেন এবং ফিতনার অবসান ঘটিয়েছিলেন। এই বিষয়টিই ছিল আমার ডিপ্লোমা ডিগ্রির গবেষণার বিষয়বস্তু। সেখানে আমি ধর্মত্যাগের প্রপঞ্চ এবং এর বিভিন্ন কারণ নিয়ে আলোচনা করেছি এবং এ বিষয়ে রচিত কবিতা ও এর পরবর্তী প্রভাবগুলো সংকলন করেছি। আমি এর নামকরণ করেছি: "ইসলামে ধর্মত্যাগের কবিতা", এটি এখনও পাণ্ডুলিপি আকারে আছে; আশা করি এটি প্রকাশের সুযোগ হবে।

৩. উসমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর সীরাত নিয়ে প্রচুর গবেষণা ও অধ্যয়ন সম্পন্ন হয়েছে। এগুলোর সবকটিই ইঙ্গিত করে যে, উদ্ভূত মতপার্থক্যটি মূল আকিদাগত বিষয়ে ছিল না, বরং তা ছিল শাসনতান্ত্রিক বিষয় এবং লোক নিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত অভিমত ও ইজতিহাদ সংক্রান্ত।

৪. ইমাম আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর খিলাফত নিয়ে যা কিছু লেখা হয়েছে তা গণনা করা অসম্ভব, কারণ এটি আজ অবধি নিরবচ্ছিন্নভাবে চলছে এবং আমাদের পরেও চলতে পারে। আমরা জানি না এটি আমাদের কোথায় নিয়ে যাবে, তবে আমরা অনুভব করি যে এটি মুসলিম উম্মাহর ঐক্য বিনষ্ট করতে এবং শক্তি হ্রাস করতে ভূমিকা রাখছে; বিশেষ করে যেহেতু এই মতভেদটি খিলাফতের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে, মূল আকিদা বা বিশ্বাসের বিষয়ে নয়।
(খণ্ড: ١) মাকালাতুল ইসলামিয়্যীন ত. যারযুর (পৃষ্ঠা: ٢٣)
عليهما! - وحربهما إياه وفي قتال معاوية إياه وصار علي ومعاوية إلى صفين1 وقاتله علي حتى انكسرت سيوف الفريقين ونصلت رماحهم وذهبت قواهم وجثوا على الركب فوهم بعضهم على بعض فقال معاوية لعمرو بن العاص: يا عمرو ألم تزعم أنك لم تقع في أمر فظيع فأردت الخروج منه إلا خرجت قال: بلى قال: فما المخرج مما نزل قال له عمرو بن العاص: فلي عليك أن لا تخرج مصر من يدي ما بقيت قال: لك ذلك ولك به عهد الله وميثاقه، قال: فأمر بالمصاحف فترفع ثم يقول أهل الشام لأهل العراق: يا أهل العراق كتاب الله بيننا وبينكم البقية البقية فإنه إن أجابك إلى ما تريده خالفه أصحابه وإن خالفك خالفه أصحابه وكان عمرو بن العاص في رأيه الذي أشار به كأنه ينظر إلى الغيب من وراء حجاب رقيق فأمر معاوية أصحابه برفع المصاحف وبما أشار به عليه عمرو بن العاص ففعلوا ذلك فاضطرب أهل العراق على علي -رضوان الله عليه- وأبوا عليه إلا التحكيم وأن يبعث علي حكماً ويبعث معاوية حكماُ فأجابهم علي إلى ذلك بعد امتناع أهل العراق عليه أن لا يجيبهم إليه فلما أجاب علي إلى ذلك وبعث معاوية وأهل الشام عمرو بن العاص حكماً وبعث علي وأهل العراق أبا موسى حكماً وأخذ بعضهم على بعض العهود والمواثيق اختلف أصحاب علي عليه وقالوا: قال الله تعالى: {فَقَاتِلُوا الَّتِي تَبْغِي حَتَّى تَفِيءَ إِلَى أَمْرِ اللَّهِ} [الحجرات: 9] ولم يقل حاكموهم وهم البغاة فإن عدت إلى قتالهم وأقررت على نفسك بالكفر إذ أجبتهم إلى التحكيم وإلا نابذناك وقاتلناك فقال علي -رضوان الله عليه-: قد أبيت عليكم في أول الأمر فأبيتم إلا إجابتهم إلى ما سألوا فأجبناهم وأعطيناهم العهود والمواثيق وليس يسوغ لنا الغدر فأبوا إلا خلعه وإكفاره بالتحكيم وخرجوا عليه فسموا خوارج لأنهم خرجوا على علي بن أبي طالب -رضوان الله عليه- وصار اختلافاً إلى اليوم وسنذكر أقاويل الخوارج بعد هذا الموضع من كتابنا

--------------------------------------------

1 صفين: بكسر الصاد وكسر الفاء المشددة- موقع في شمال سورية بالقرب من الرقة على شاطئ الفرات من جهة الغرب وفيه وقعة معركة بين الإمام علي ومعاوية سنة سبع وثلاثين من الهجرة النبوية بدأت من غرة صفر ودامت مئة وعشرة أيام تقابل فيها الفريقان في تسعين وقعة. وعن هذه الوقعة كتب العديد من القصائد في رثاء قتلى صفين لعل أبرزها مرثية كعب بن جعيل في عبيد الله بن عمر بن الخطاب ومنها:

ألا إنما تبكي العيون لفارس … بصفين أجلت خيوله وهو واقف

والعديد من الدراسات لعل أبرزها كتاب: "وقعة صفين" لنصر بن مزاحم المنقري المتوفى سنة 212هـ.
তাদের উপর! - এবং তাদের যুদ্ধ তার সাথে। আর মুয়াবিয়ার সাথে তার যুদ্ধের সময় আলী ও মুয়াবিয়া সিফফিন১ অভিমুখে যাত্রা করলেন। আলী তার সাথে যুদ্ধ করলেন যতক্ষণ না উভয় দলের তরবারি ভেঙে গেল, তাদের বর্শার অগ্রভাগ খসে পড়ল, তাদের শক্তি ফুরিয়ে গেল এবং তারা হাঁটু গেড়ে বসে পড়ল, ফলে একে অপরের উপর হেলে পড়ল। তখন মুয়াবিয়া আমর ইবনুল আসকে বললেন: হে আমর! আপনি কি দাবি করেননি যে, আপনি কোনো ভয়াবহ বিপদে পড়েননি যেখান থেকে বের হতে চেয়েছেন অথচ বের হতে পারেননি? তিনি বললেন: হ্যাঁ। তিনি বললেন: তাহলে যা অবতীর্ণ হয়েছে তা থেকে উত্তরণের পথ কী? আমর ইবনুল আস তাকে বললেন: তবে আমার শর্ত হলো, আমি যতদিন বেঁচে থাকব আপনি মিশরকে আমার হাত থেকে ছিনিয়ে নেবেন না। তিনি বললেন: আপনার জন্য তাই হবে এবং এর জন্য আল্লাহর অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি রইল। তিনি বলেন: অতঃপর তিনি কুরআনসমূহ উপরে তুলে ধরার নির্দেশ দিলেন। এরপর সিরিয়াবাসী ইরাকবাসীদের বলতে লাগল: হে ইরাকবাসী! আমাদের ও তোমাদের মধ্যে আল্লাহর কিতাবই ফয়সালাকারী; রক্ষা করুন, রক্ষা করুন! কেননা তিনি যদি আপনার চাওয়া মেনে নেন, তবে তার সাথীরা তার বিরোধিতা করবে, আর যদি আপনার বিরোধিতা করেন, তবে তার সাথীরা তার বিরুদ্ধাচরণ করবে। আর আমর ইবনুল আস তার দেওয়া পরামর্শে এমন ছিলেন যেন তিনি একটি পাতলা পর্দার আড়াল থেকে অদৃশ্যের দিকে তাকাচ্ছেন। অতঃপর মুয়াবিয়া তার সাথীদের কুরআনসমূহ তুলে ধরার এবং আমর ইবনুল আস তাকে যে পরামর্শ দিয়েছিলেন তা পালনের নির্দেশ দিলেন। তারা তা-ই করল। তখন ইরাকবাসীরা আলীর -রাযিয়াল্লাহু আনহু- বিরুদ্ধে উত্তেজিত হয়ে উঠল এবং সালিশি ব্যবস্থা মেনে নেওয়া ছাড়া অন্য কিছু অস্বীকার করল; অর্থাৎ আলী একজন সালিশ নিযুক্ত করবেন এবং মুয়াবিয়া একজন সালিশ নিযুক্ত করবেন। ইরাকবাসীদের পক্ষ থেকে এটি না মানার অনুরোধ সত্ত্বেও আলী তাদের আহবানে সাড়া দিলেন। যখন আলী তাতে সম্মত হলেন এবং মুয়াবিয়া ও সিরিয়াবাসী আমর ইবনুল আসকে সালিশ হিসেবে পাঠালেন আর আলী ও ইরাকবাসী আবু মুসাকে সালিশ হিসেবে পাঠালেন এবং একে অপরের থেকে অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করলেন, তখন আলীর সাথীরা তাঁর বিরুদ্ধে মতভেদ করল এবং তারা বলল: আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {তবে তোমরা সেই দলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো যারা বিদ্রোহ করে, যতক্ষণ না তারা আল্লাহর আদেশের দিকে ফিরে আসে} [হুজুরাত: ৯]। তিনি বলেননি যে তাদের সাথে সালিশ করো, অথচ তারা বিদ্রোহী। সুতরাং যদি আপনি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ফিরে যান এবং সালিশি মেনে নেওয়ার কারণে নিজের ওপর কুফরির স্বীকৃতি দেন, অন্যথায় আমরা আপনাকে বর্জন করব এবং আপনার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব। আলী -রাযিয়াল্লাহু আনহু- বললেন: আমি তো প্রথমবারেই তোমাদের নিষেধ করেছিলাম, কিন্তু তোমরা তাদের আহবানে সাড়া দেওয়া ছাড়া অন্য কিছু মানতে অস্বীকার করলে। তাই আমি তাদের আহবানে সাড়া দিয়েছি এবং তাদের অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি দিয়েছি; আর বিশ্বাসঘাতকতা করা আমাদের জন্য বৈধ নয়। কিন্তু তারা তাকে পদচ্যুত করা এবং সালিশির কারণে তাকে কাফির সাব্যস্ত করা ছাড়া অন্য কিছু মানতে অস্বীকার করল এবং তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করল। তাই তাদের খাওয়ারিজ নামকরণ করা হয়েছে কারণ তারা আলী ইবনে আবি তালিবের -রাযিয়াল্লাহু আনহু- বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিল এবং এই মতভেদ আজ পর্যন্ত বিদ্যমান। আমরা আমাদের এই কিতাবের পরবর্তী অংশে খাওয়ারিজদের বক্তব্যসমূহ উল্লেখ করব।

--------------------------------------------

১ সিফফিন: সদ এবং ফা বর্ণে কাসরা ও তাসদিদ যোগে- সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে রাক্কার নিকটবর্তী ফোরাত নদীর পশ্চিম তীরে অবস্থিত একটি স্থান। সেখানে ইমাম আলী ও মুয়াবিয়ার মধ্যে হিজরি ৩৭ সালে এক যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল যা পহেলা সফর থেকে শুরু হয়ে ১১০ দিন স্থায়ী হয়েছিল, যেখানে উভয় পক্ষ ৯০টি খণ্ডযুদ্ধে লিপ্ত হয়েছিল। এই যুদ্ধ নিয়ে সিফফিনে নিহতদের স্মরণে অনেক কবিতা লেখা হয়েছে, যার মধ্যে সম্ভবত উবাইদুল্লাহ ইবনে উমর ইবনুল খাত্তাবের স্মরণে কাব ইবনে জুআইল-এর শোকগাথাটি অন্যতম, যার অংশবিশেষ হলো:

হায়! চোখ তো কেবল সেই অশ্বারোহীর জন্যই কাঁদে … সিফফিনে যার ঘোড়াগুলো ধাবিত হয়েছিল যখন সে স্থির দাঁড়িয়ে ছিল।

এবং অনেক গবেষণা গ্রন্থও রচিত হয়েছে, যার মধ্যে সম্ভবত ২১২ হিজরিতে মৃত্যুবরণকারী নাসর ইবনে মুযাহিম আল-মিনকারি রচিত "ওয়াকআত সিফফিন" কিতাবটি উল্লেখযোগ্য।
(খণ্ড: ١) মাকালাতুল ইসলামিয়্যীন ত. যারযুর (পৃষ্ঠা: ٢٥)
هذا‌‌ ذكر الاختلاف

أمهات الفرق:

اختلف المسلمون عشرة أصناف الشيع والخوارج والمرجئة والمعتزلة والجهمية والضرارية والحسينية والبكرية والعامة وأصحاب الحديث عبد الله بن كلاب القطان.

الشيع ثلاثة أصناف:

فالشيع ثلاثة أصناف وإنما قيل لهم الشيعة لأنهم شيعوا علياً -رضوان الله عليه- ويقدمونه على سائر أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم فمنهم.

غالية الشيع خمسة عشرة فرقة:

فمنهم الغالية وإنما سموا الغالية لأنهم غلوا في علي وقالوا فيه قولاً عظيماً وهم خمس عشرة فرقة:

البيانية: 1

1 - فالفرقة الأولى منهم "البيانية" أصحاب "بيان بن سمعان التميمي" يقولون: إن الله عز وجل على صورة الإنسان وأنه يهلك كله إلا وجهه وادعى "بيان" أنه يدعو الزهرة فتجيبه وأنه يفعل ذلك بالإسم الأعظم فقتله خالد بن عبد الله القسري وحكي عنهم أن كثيراُ منهم يثبت لبيان بن سمعان النبوة.

ويزعم كثير من البيانية أن أبا هاشم عبد الله بن محمد بن الحنفية نص على إمامة بيان بن سمعان ونصبه إماماً.

--------------------------------------------

1 البيانية: انظر: المقالات والفرق: 34، 37 و 56 التنبيه: 156 الفرق بين الفرق: 165 - 167 التبصير في الدين: 34، 109 الملل والنحل: 1/ 122 الحور العين: 161 و 261 الفرق الإسلامية: 35 - 36 منهاج السنة النبوية 1/ 238 اعتقادات فرق المسلمين: 57 وقد ذكرها تحت اسم البننية وكذلك الجرجاني في التعريفات: 47 الخطط المقريزية: 2/ 349 و 352 الكامل أحداث 189 هـ الفهرس الكيسانية في التاريخ والأدب: انظر الفهرس / الفرق.
এটি মতভেদের বর্ণনা

মূল উপদলসমূহ:

মুসলিমগণ দশটি শ্রেণিতে বিভক্ত হয়েছেন: শিয়া, খারেজি, মুরজিয়া, মুতাজিলা, জাহমিয়া, দ্বিরারিয়া, হুসাইনিয়া, বাকরিয়া, সাধারণ জনতা এবং আব্দুল্লাহ ইবনে কুল্লাব আল-কাত্তানের অনুসারী হাদিসপন্থীগণ।

শিয়াগণ তিন প্রকার:

শিয়াগণ তিন প্রকার; মূলত তাদের শিয়া বলা হয় কারণ তারা আলীর—আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন—অনুসরণ করত এবং তাঁকে আল্লাহর রাসূল—তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক—এর অন্যান্য সমস্ত সাহাবীর ওপর প্রাধান্য দিত। তাদের মধ্যে রয়েছে:

শিয়াদের চরমপন্থীগণ পনেরটি উপদল:

তাদের মধ্যে চরমপন্থী বা গালিয়া রয়েছে; মূলত তাদের গালিয়া বা চরমপন্থী নামকরণ করা হয়েছে কারণ তারা আলীর ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করেছে এবং তাঁর সম্পর্কে অত্যন্ত গুরুতর কথা বলেছে। তারা পনেরটি উপদল:

বায়ানিয়া: ১

১ - তাদের মধ্যে প্রথম উপদল হলো "বায়ানিয়া", যারা "বায়ান বিন সামআন আত-তামিমি" এর অনুসারী। তারা বলে: আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা মানুষের আকৃতিতে এবং তাঁর চেহারা ব্যতীত তাঁর সবটুকুই ধ্বংস হয়ে যাবে। বায়ান দাবি করত যে, সে শুক্র গ্রহকে ডাকলে সেটি সাড়া দেয় এবং সে মহান নামের (ইসমে আযম) মাধ্যমে এটি করে থাকে। খালিদ বিন আব্দুল্লাহ আল-কাসরি তাকে হত্যা করেন। তাদের সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে, তাদের অনেকেই বায়ান বিন সামআনের নবুওয়াত স্বীকার করে।

বায়ানিয়াদের অনেকেই দাবি করে যে, আবু হাশিম আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আল-হানাফিয়্যাহ বায়ান বিন সামআনের ইমামতের ব্যাপারে সুস্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন এবং তাকে ইমাম হিসেবে নিযুক্ত করেছেন।

--------------------------------------------

১ বায়ানিয়া: দেখুন: আল-মাকালাত ওয়াল ফিরাক: ৩৪, ৩৭ ও ৫৬; আত-তানবিহ: ১৫৬; আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক: ১৬৫ - ১৬৭; আত-তাবসির ফিদ দ্বীন: ৩৪, ১০৯; আল-মিলাল ওয়ান নিহাল: ১/১২২; আল-হুরুল ইন: ১৬১ ও ২৬১; আল-ফিরাকুল ইসলামিয়্যাহ: ৩৫ - ৩৬; মিনহাজুস সুন্নাহ আন-নববিয়্যাহ ১/২৩৮; ইতিকাদাতু ফিরাকিল মুসলিমিন: ৫৭, সেখানে তিনি এটি বানানিয়া নামে উল্লেখ করেছেন; একইভাবে আল-জুরজানি ‘আত-তারিফাত’-এ: ৪৭; আল-খুতাত আল-মাকরিজিয়্যাহ: ২/৩৪৯ ও ৩৫২; আল-কামিল (১৮৯ হিজরির ঘটনাবলি); আল-ফিহরাস আল-কাইসানিয়্যাহ ফিত তারিখ ওয়াল আদাব: দেখুন সূচি / উপদলসমূহ।
(খণ্ড: ١) মাকালাতুল ইসলামিয়্যীন ত. যারযুর (পৃষ্ঠা: ٢٦)
الجناحية 1:

2 - والفرقة الثانية منهم أصحاب "عبد الله بن معاوية بن عبد الله بن جعفر ذي الجناحين".

يزعمون أن عبد الله بن معاوية كان يدعي أن العلم ينبت في قلبه كما ينبت الكمأة والعشب وأن الأرواح تناسخت وأن روح الله جل اسمه كانت في آدم ثم تناسخت حتى صارت فيه.

قال: وزعم أنه رب وأنه نبي فعبده شيعته وهم يكفرون بالقيامة ويدعون أن الدنيا لا تفنى ويستحلون الميتة والخمر وغيرهما من المحارم ويتأولون قول الله عز وجل: {لَيْسَ عَلَى الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ جُنَاحٌ فِيمَا طَعِمُوا إِذَا مَا اتَّقَوْا وَآمَنُوا} [المائدة: 93].

الحربية 2:

3 - والفرقة الثالثة منهم أصحاب عبد الله بن عمرو بن حرب وهم يسمون "الحربية".

يزعمون أن روح أبي هاشم عبد الله بن محمد بن الحنفية تحولت فيه وأن أبا هاشم نص على إمامته.

المغيرية 3:

4 - والفرقة الرابعة منهم المغيرية أصحاب المغيرة بن سعيد.

يزعمون أنه كان يقول" أنه نبي وأنه يعلم اسم الله الأكبر وأن معبودهم رجل من نور على رأسه تاج وله من الأعضاء والخلق مثل ما للرجل وله جوف

--------------------------------------------

1 الجناحية: الفرق بني الفرق: 172 - 173 تلبيس إبليس: 94 الفرق الإسلامية: 38 اعتقادات فرق المسلمين: 59 التعريفات: 79 الخطط المقريزية: 2/ 353 الكيسانية في التاريخ والأدب انظر الفهرس / الفرق ويسميها: المعاوية أيضا.

2 الحربية: المقالات والفرق: 26، 39، 40، 56، 60، 170 الفرق بين الفرق: 170 - 171 التبصير في الدين: 110 الحور العين: 160 و 251 الكيسانية في التاريخ والأدب انظر فهرس / الفرق ويسميها: الحرثية أيضا.

3 المغيرية: المقالات والفرق: 50 و 74 التنبيه: 160 الفرق بين الفرق 167 - 170التبصير: 105، 109 الملل والنحل: 1/ 124 الحور العين: 168، 253، 259 الفرق الإسلامية: 36 - 38 اعتقادات فرق المسلمين: 58 منهاج السنة النبوية 1/ 238 التعريفات: 223 الخطط المقريزية: 2/ 349 و 353 الكامل أحداث 119 هـ الكيسانية في التاريخ والأدب: 244، 245، 255، 256، 262، 364.
জানাহিয়্যাহ ১:

২ - তাদের মধ্যে দ্বিতীয় দলটি হলো "আবদুল্লাহ বিন মুআবিয়া বিন আবদুল্লাহ বিন জাফর যিল-জানাহাইন"-এর অনুসারীরা।

তারা দাবি করে যে, আবদুল্লাহ বিন মুআবিয়া দাবি করতেন যে, তার অন্তরে ইলম বা জ্ঞান ঠিক সেভাবেই গজায় যেভাবে ব্যাঙের ছাতা (ছত্রাক) ও ঘাস গজায়। তারা আরও দাবি করে যে, আত্মার পুনর্জন্ম ঘটে এবং আল্লাহর রুহ (তাঁর নাম মহিমান্বিত হোক) আদমের মধ্যে ছিল, তারপর তা পুনর্জন্মের মাধ্যমে স্থানান্তরিত হতে হতে অবশেষে তার (আবদুল্লাহর) মধ্যে এসেছে।

তিনি বলেন: সে (আবদুল্লাহ) দাবি করেছিল যে সে রব এবং সে একজন নবী; ফলে তার শিয়ারা তার ইবাদত করত। তারা কিয়ামতকে অস্বীকার করে এবং দাবি করে যে পৃথিবী ধ্বংস হবে না। তারা মৃত প্রাণী, মদ এবং অন্যান্য হারাম বস্তুকে হালাল মনে করে এবং মহান আল্লাহর এই বাণীর অপব্যাখ্যা করে: {যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে, তারা যা আহার করেছে সে জন্য তাদের কোনো গুনাহ নেই যদি তারা তাকওয়া অবলম্বন করে ও ঈমান আনে} [মায়েদাহ: ৯৩]।

হারবিয়্যাহ ২:

৩ - তাদের মধ্যে তৃতীয় দলটি হলো আবদুল্লাহ বিন আমর বিন হারবের অনুসারীরা এবং তাদের "হারবিয়্যাহ" বলা হয়।

তারা দাবি করে যে, আবু হাশিম আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আল-হানাফিয়ার রুহ তার মধ্যে স্থানান্তরিত হয়েছে এবং আবু হাশিম তার ইমামতের ব্যাপারে সুস্পষ্ট নির্দেশ দিয়ে গেছেন।

মুগিরিয়্যাহ ৩:

৪ - তাদের মধ্যে চতুর্থ দলটি হলো মুগিরিয়্যাহ, যারা মুগিরা বিন সাঈদের অনুসারী।

তারা দাবি করে যে সে (মুগিরা) বলত, সে একজন নবী এবং সে আল্লাহর ইসমে আজম (সর্বশ্রেষ্ঠ নাম) জানে। তারা আরও দাবি করত যে, তাদের উপাস্য হলো নূর বা আলোর তৈরি একজন পুরুষ, যার মাথায় মুকুট আছে এবং তার শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও গঠন মানুষের মতোই, আর তার শরীরের অভ্যন্তরে গহ্বর রয়েছে।

--------------------------------------------

১ জানাহিয়্যাহ: আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক: ১৭২ - ১৭৩; তালবিসু ইবলিস: ৯৪; আল-ফিরাকুল ইসলামিয়্যাহ: ৩৮; ইতিলাদাতু ফিরাকিল মুসলিমিন: ৫৯; আত-তারিফাত: ৭৯; আল-খিতাতুল মাকরিজিয়্যাহ: ২/৩৫৩; আল-কাইসানিয়্যাহ ফিত তারিখি ওয়াল আদাব, ইনডেক্স / আল-ফিরাক দেখুন; একে "মুআবিয়্যাহ"ও বলা হয়।

২ হারবিয়্যাহ: আল-মাকালাতু ওয়াল ফিরাক: ২৬, ৩৯, ৪০, ৫৬, ৬০, ১৭০; আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক: ১৭০ - ১৭১; আত-তাবসিরু ফিদ দিন: ১১০; আল-হুরুল আইন: ১৬০ ও ২৫১; আল-কাইসানিয়্যাহ ফিত তারিখি ওয়াল আদাব, ইনডেক্স / আল-ফিরাক দেখুন; একে "হারিছিয়্যাহ"ও বলা হয়।

৩ মুগিরিয়্যাহ: আল-মাকালাতু ওয়াল ফিরাক: ৫০ ও ৭৪; আত-তানবিহ: ১৬০; আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক: ১৬৭ - ১৭০; আত-তাবসির: ১০৫, ১০৯; আল-মিলালু ওয়ান নিহাল: ১/১২৪; আল-হুরুল আইন: ১৬৮, ২৫৩, ২৫৯; আল-ফিরাকুল ইসলামিয়্যাহ: ৩৬ - ৩৮; ইতিলাদাতু ফিরাকিল মুসলিমিন: ৫৮; মিনহাজুস সুন্নাহ আন-নববিয়্যাহ: ১/২৩৮; আত-তারিফাত: ২২৩; আল-খিতাতুল মাকরিজিয়্যাহ: ২/৩৪৯ ও ৩৫৩; আল-কামিল, ১১৯ হিজরির ঘটনাবলি; আল-কাইসানিয়্যাহ ফিত তারিখি ওয়াল আদাব: ২৪৪, ২৪৫, ২৫৫, ২৫৬, ২৬২, ৩৬৪।
(খণ্ড: ١) মাকালাতুল ইসলামিয়্যীন ত. যারযুর (পৃষ্ঠা: ٢٧)
وقلب تنبع منه الحكمة وأن حروف "أبي جاد" على عدد أعضائه.

قالوا: والألف موضع قدمه لاعوجاجها وذكر الهاء1 فقال: لو رأيتم موضعها منه لرأيتم أمراً عظيماً يعرض لهم بالعورة وبأنه قد رآه لعنه الله.

وزعم أنه يحيي الموتى بالاسم الأعظم وأراهم أشياء من النيرنجات والمخاريق.

وذكر لهم كيف ابتدأ الله الخلق فزعم أن الله جل اسمه كان وحده لا شيء معه فلما أراد أن يخلق الأشياء تكلم باسمه الأعظم فطار فوقع فوق رأسه التاج قال: وذلك قوله: {سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الْأَعْلَى} [الأعلى: 1] قال: ثم كتب بإصبعه على كفه أعمال العباد من المعاصي والطاعات فغضب من المعاصي فعرق فاجتمع من عرقه بحران أحدهما مالح مظلم والآخر نير عذب ثم اطلع في البحر فأبصر ظله فذهب ليأخذه فطار فانتزع عين ظله فخلق منها شمساً ومحق ذلك الظل وقال: لا ينبغي أن يكون معي إله غيري ثم خلق الخلق كله من البحرين فخلق الكفار من البحر المالح المظلم وخلق المؤمنين من النير العذب وخلق ظلال الناس فكان أول من خلق منها محمداً صلى الله عليه وسلم قال: وذلك قوله: {قُلْ إِنْ كَانَ لِلرَّحْمَنِ وَلَدٌ فَأَنَا أَوَّلُ الْعَابِدِينَ فأنا أول العابدين} [الزخرف: 81] ثم أرسل محمداً إلى الناس كافة وهو ظل ثم عرض على السموات أن يمنعن علي بن أبي طالب -رضوان الله عليه- فأبين ثم على الأرض والجبال فأبين ثم على الناس كلهم فقام عمر بن الخطاب إلى أبي بكر فأمره أن يتحمل منعه وأن يغدر به ففعل ذلك أبو بكر وذلك قوله: {إِنَّا عَرَضْنَا الْأَمَانَةَ عَلَى السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَالْجِبَالِ} [الأحزاب: 72] قال: وقال عمر: أنا أعينك على علي لتجعل لي الخلافة بعدك وذلك قوله: {كَمَثَلِ الشَّيْطَانِ إِذْ قَالَ لِلْإِنْسَانِ اكْفُرْ} [الحشر: 16] والشيطان عنده عمر وزعم أن الأرض تنشق عن الموتى فيرجعون إلى الدنيا فبلغ خبره خالد بن عبد الله فقتله.

قال: وكان "جابر الجعفي" من أصحابه وأنزله أصحاب المغيرة بمنزلة المغيرة ومات جابر وادعى وصيته بكر الأعور الهجري القتات فصيروه إماماً وقالوا إنه لا يموت فأكل أموالهم.

وكان المغيرة يأمرهم بانتظار محمد بن عبد الله بن الحسن بن الحسن بن علي بن أبي طالب وذكر لهم أن جبريل وميكائيل عليهما السلام يبايعانه بين الركن والمقام ويحيي له سبعة عشر رجلاً يعطى كل رجل منهم كذا وكذا حرفاً

--------------------------------------------

1 انظر الرواية في الحور العين: 168.
এবং একটি অন্তর যেখান থেকে প্রজ্ঞা প্রবাহিত হয়, এবং "আবি জাদ" (আবজাদ)-এর অক্ষরগুলো তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সংখ্যার সমান।

তারা বলেছিল: আলিফ হলো আল্লাহর পায়ের অবস্থান এর বক্রতার কারণে। আর সে 'হা' অক্ষরের কথা উল্লেখ করে বলল: যদি তোমরা আল্লাহর দেহে এর অবস্থান দেখতে, তবে এক মহান বিষয় দেখতে পেতে। এর মাধ্যমে সে তাদের সামনে গুপ্তাঙ্গের ইঙ্গিত দিচ্ছিল এবং দাবি করছিল যে সে তাঁকে দেখেছে—আল্লাহর লানত তার ওপর বর্ষিত হোক।

সে দাবি করেছিল যে সে 'ইসমে আজম'-এর মাধ্যমে মৃতদের জীবিত করতে পারে, এবং সে তাদের কিছু জাদুকরী কৌশল ও ভেলকিবাজি দেখিয়েছিল।

সে তাদের নিকট বর্ণনা করেছিল কীভাবে আল্লাহ সৃষ্টিজগত শুরু করেছিলেন। সে দাবি করল যে, আল্লাহ—তাঁর নাম মহিমান্বিত হোক—একাই ছিলেন, তাঁর সাথে কিছুই ছিল না। যখন তিনি বস্তুসমূহ সৃষ্টি করতে চাইলেন, তখন তিনি তাঁর 'ইসমে আজম' উচ্চারণ করলেন, ফলে তা উড়ে গিয়ে তাঁর মাথার ওপর মুকুট হিসেবে স্থাপিত হলো। সে বলল: এটিই হলো তাঁর বাণী: "আপনার সুমহান রবের নামের পবিত্রতা ঘোষণা করুন।" [আল-আলা: ১] সে বলল: অতঃপর তিনি তাঁর আঙ্গুল দিয়ে আল্লাহর হাতের তালুর ওপর বান্দাদের আমলসমূহ—পাপ ও পুণ্য—লিখলেন। পাপাচারের কারণে তিনি ক্রোধান্বিত হলেন এবং ঘামলেন। ফলে আল্লাহর ঘাম থেকে দুটি সমুদ্রের সৃষ্টি হলো; যার একটি লোনা ও অন্ধকারাচ্ছন্ন এবং অন্যটি উজ্জ্বল ও সুপেয়। অতঃপর তিনি সমুদ্রের দিকে তাকালেন এবং তাঁর ছায়া দেখতে পেলেন। তিনি সেটি ধরার জন্য গেলেন, কিন্তু সেটি উড়ে গেল। তখন তিনি তাঁর ছায়ার চোখ উপড়ে নিলেন এবং তা থেকে সূর্য সৃষ্টি করলেন এবং সেই ছায়াটিকে মিটিয়ে দিলেন। তিনি বললেন: আমার সাথে অন্য কোনো ইলাহ থাকা সমীচীন নয়। অতঃপর তিনি দুই সমুদ্র থেকে সমগ্র সৃষ্টিজগত সৃষ্টি করলেন। লোনা ও অন্ধকার সমুদ্র থেকে কাফিরদের সৃষ্টি করলেন এবং উজ্জ্বল ও সুপেয় সমুদ্র থেকে মুমিনদের সৃষ্টি করলেন। আর মানুষের ছায়াগুলো সৃষ্টি করলেন, যাদের মধ্যে সর্বপ্রথম সৃষ্টি করলেন মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে। সে বলল: এটিই হলো তাঁর বাণী: "বলুন, যদি দয়াময় (আল্লাহর) কোনো সন্তান থাকত, তবে আমিই হতাম ইবাদতকারীদের মধ্যে প্রথম।" [আজ-জুখরুফ: ৮১] অতঃপর তিনি মুহাম্মদকে সমস্ত মানুষের নিকট প্রেরণ করলেন যখন তিনি ছায়া ছিলেন। এরপর আসমানসমূহের নিকট প্রস্তাব দেওয়া হলো যে তারা যেন আলি ইবনে আবি তালিবকে—আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন—প্রতিহত করে, কিন্তু তারা অস্বীকার করল। তারপর জমিন ও পাহাড়গুলোর নিকট প্রস্তাব দেওয়া হলো, তারাও অস্বীকার করল। অতঃপর সমস্ত মানুষের নিকট প্রস্তাব দেওয়া হলো। তখন উমর ইবনুল খাত্তাব আবু বকরের নিকট গিয়ে তাকে নির্দেশ দিলেন যেন তিনি তাকে প্রতিহত করার দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং তাঁর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেন। আবু বকর তা-ই করলেন। আর এটিই হলো তাঁর বাণী: "আমি আসমানসমূহ, জমিন ও পাহাড়গুলোর নিকট আমানত পেশ করেছিলাম..." [আল-আহজাব: ৭২] সে বলল: উমর বলেছিলেন: আমি তোমাকে আলির বিরুদ্ধে সাহায্য করব এই শর্তে যে তুমি তোমার পরে খিলাফত আমার জন্য নির্ধারণ করবে। আর এটিই হলো তাঁর বাণী: "শয়তানের ন্যায়, যখন সে মানুষকে বলে: কুফরি করো।" [আল-হাশর: ১৬]। তার মতে শয়তান হলো উমর। সে আরও দাবি করেছিল যে, জমিন বিদীর্ণ হয়ে মৃতরা বেরিয়ে আসবে এবং তারা দুনিয়ায় ফিরে আসবে। যখন খালিদ বিন আব্দুল্লাহর নিকট এই খবর পৌঁছাল, তখন তিনি তাকে হত্যা করলেন।

সে বলল: "জাবির আল-জুফি" তার অনুসারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিল। মুগিরার অনুসারীরা তাকে মুগিরার মর্যাদায় স্থলাভিষিক্ত করেছিল। জাবির মারা গেলে বকর আল-আওয়ার আল-হিজরি আল-কাত্তাত তার অসিয়ত দাবি করল, ফলে তারা তাকে ইমাম বানিয়ে নিল এবং বলল যে সে কখনো মরবে না। এভাবে সে তাদের ধন-সম্পদ আত্মসাৎ করল।

আর মুগিরা তাদের নির্দেশ দিত মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন হাসান বিন হাসান বিন আলি ইবনে আবি তালিবের প্রতীক্ষা করতে। সে তাদের নিকট উল্লেখ করেছিল যে, জিবরাঈল ও মিকাঈল আলাইহিমাস সালাম রুকন ও মাকামের মধ্যবর্তী স্থানে তার নিকট বায়আত গ্রহণ করবেন এবং তার জন্য সতেরো জন ব্যক্তিকে জীবিত করবেন, যাদের প্রত্যেককে নির্দিষ্ট সংখ্যক অক্ষর দান করা হবে।

--------------------------------------------

১ আল-হুরুল আইন: ১৬৮-এ বর্ণনাটি দেখুন।
(খণ্ড: ١) মাকালাতুল ইসলামিয়্যীন ত. যারযুর (পৃষ্ঠা: ٢٨)
من الاسم الأعظم فيهزمون الجيوش ويملكون الأرض فلما خرج محمد وقتل قال بعض أصحاب المغيرة: لم يكن الخارج محمد بن عبد الله وإنما كان شيطاناً تمثل في صورته وأن محمداً سيخرج ويملك على ما قال المغيرة وبرئ بعضهم من المغيرة.

المنصورية 1:

5 - والفرقة الخامسة منهم "المنصورية" أصحاب "أبي منصور".

يزعمون أن الإمام بعد أبي جعفر محمد بن علي بن الحسين بن علي أبو منصور وأن أبا منصور قال: آل محمد هم السماء والشيعة هم الأرض وأنه هو الكسف الساقط من بني هاشم وأبو منصور هذا رجل من بني عجل وزعم أبو منصور أنه عرج به إلى السماء فمسح معبوده رأسه بيده ثم قال له: أي بني اذهب فبلغ عني ثم نزل به إلى الأرض ويمين أصحابه إذا حلفوا أن يقولوا: ألا والكلمة وزعم أن عيسى أول من خلق الله من خلقه ثم علي وأن رسل الله - سبحانه - لا تنقطع أبداً وكفر بالجنة والنار وزعم أن الجنة رجل وأن النار رجل واستحل النساء والمحارم وأحل ذلك لأصحابه وزعم أن الميتة والدم ولحم الخنزير والخمر والميسر وغير ذلك من المحارم حلال وقال: لم يحرم الله ذلك علينا ولا حرم شيئاً تقوى به أنفسنا وإنما هذه الأشياء أسماء رجال حرم الله - سبحانه - ولا يتهم وتأول في ذلك قوله تعالى: {لَيْسَ عَلَى الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ جُنَاحٌ فِيمَا طَعِمُوا} [المائدة: 93] وأسقط الفرائض وقال: هي أسماء رجال أوجب الله ولا يتهم واستحل خنق المنافقين وأخذ أموالهم فأخذه.

الخطابية 2:

6 - والفرقة السادسة منهم: "الخطابية" أصحاب "أبي الخطاب بن أبي زينب".

--------------------------------------------

1 المنصورية: المقالات والفرق: 46 - 47، 187 التنبيه: 158 الفرق بين الفرق: 171 التبصير: 105، 110 الملل والنحل: 168 - 169، 253، 259 الفرق الإسلامية: 39 - 40 اعتقادات فرق المسلمين: 58 منهاج السنة النبوية: 1/ 238 - 239 التعريفات: 235 الخطط المقريزية: 2/ 353 الكيسانية في التاريخ والأدب: 167، 262.

2 الخطابية: المقالات والفرق: 111 و 112 الملل والنحل: 1/ 144 - 146 الحور العين: 166، 167، 199، 253، 258 الفرق الإسلامية: 40 - 42 واعتقادات فرق المسلمين: 58 التعريفات: 99.
ইসমে আজমের মাধ্যমে, ফলে তারা বাহিনীকে পরাজিত করবে এবং পৃথিবী জয় করবে। যখন মুহাম্মদ বের হলেন এবং নিহত হলেন, মুগীরার কিছু অনুসারী বলল: যে বের হয়েছিল সে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন একজন শয়তান যে তার রূপ ধরে এসেছিল। আর মুহাম্মদ অবশ্যই বের হবেন এবং মুগীরা যা বলেছিল সে অনুযায়ী পৃথিবী জয় করবেন। তাদের কেউ কেউ মুগীরার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করল।

মানসুরিয়া ১:

৫ - তাদের মধ্যে পঞ্চম উপদল হলো "মানসুরিয়া", যারা "আবু মানসুর"-এর অনুসারী।

তারা দাবি করে যে, আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে আলি ইবনে হুসাইন ইবনে আলির পর ইমাম হলেন আবু মানসুর। আবু মানসুর বলেছিল: মুহাম্মদের পরিবার হলো আকাশ এবং শিয়াগণ হলো পৃথিবী, আর সে নিজে হলো বনী হাশেম থেকে খসে পড়া এক খণ্ড। এই আবু মানসুর ছিল বনী আিজল গোত্রের এক ব্যক্তি। আবু মানসুর দাবি করেছিল যে, তাকে আসমানে উঠিয়ে নেওয়া হয়েছিল, অতঃপর তার মাবুদ তাঁর হাত দিয়ে তার মাথা মাসাহ করে দিয়েছিলেন (মুছে দিয়েছিলেন)। এরপর তাকে বলেছিলেন: হে বৎস, যাও এবং আমার পক্ষ থেকে প্রচার করো। অতঃপর তিনি তাকে পৃথিবীতে নামিয়ে দেন। তার অনুসারীদের শপথ হলো, যখন তারা কসম করে তখন বলে: "সাবধান, সেই শব্দের (কালিমা) শপথ"। সে দাবি করত যে, আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে ঈসা হলেন প্রথম সৃষ্টি, তারপর আলি। আর আল্লাহর—তিনি মহাপবিত্র—রাসূলগণ কখনও শেষ হবেন না। সে জান্নাত ও জাহান্নামকে অস্বীকার করত এবং দাবি করত যে, জান্নাত হলো একজন ব্যক্তি এবং জাহান্নামও একজন ব্যক্তি। সে নারী ও মাহরামদের (যাদের সাথে বিবাহ হারাম) সাথে সম্পর্ককে বৈধ মনে করত এবং তার অনুসারীদের জন্য তা হালাল করে দিয়েছিল। সে দাবি করত যে, মৃত জন্তু, রক্ত, শুকরের মাংস, মদ, জুয়া এবং অন্যান্য হারাম বিষয়গুলো হালাল। সে বলত: আল্লাহ এগুলো আমাদের জন্য হারাম করেননি এবং এমন কিছুই হারাম করেননি যা দ্বারা আমাদের আত্মা শক্তিশালী হয়। বরং এই জিনিসগুলো হলো কিছু ব্যক্তির নাম যাদের ভালোবাসা আল্লাহ—তিনি মহাপবিত্র—হারাম করেছেন। এই বিষয়ে সে আল্লাহর এই বাণীর অপব্যাখ্যা করত: {যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে, তারা যা আহার করেছে সে জন্য তাদের কোনো গুনাহ নেই} [আল-মায়িদাহ: ৯৩]। সে ফরজ ইবাদতসমূহ বিলুপ্ত করে দিয়েছিল এবং বলত: এগুলো কিছু ব্যক্তির নাম যাদের অনুসরণ আল্লাহ আবশ্যক করেছেন। সে মুনাফিকদের শ্বাসরোধ করে হত্যা করা এবং তাদের সম্পদ কেড়ে নেওয়া বৈধ মনে করত, যার ফলে তাকে পাকড়াও করা হয়েছিল।

খাত্তাবিয়া ২:

৬ - তাদের মধ্যে ষষ্ঠ উপদল হলো: "খাত্তাবিয়া", যারা "আবু খাত্তাব ইবনে আবি জাইনাব"-এর অনুসারী।

--------------------------------------------

১ মানসুরিয়া: আল-মাকালাত ওয়াল ফিরাক: ৪৬-৪৭, ১৮৭; আত-তানবিহ: ১৫৮; আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক: ১৭১; আত-তাবসির: ১০৫, ১১০; আল-মিলাল ওয়ান নিহাল: ১৬৮-১৬৯, ২৫৩, ২৫৯; আল-ফিরাক আল-ইসলামিয়া: ৩৯-৪০; ইতিকাদাতু ফিরাকিল মুসলিমিন: ৫৮; মিনহাজুস সুন্নাহ আন-নাবাউইয়াহ: ১/২৩৮-২৩৯; আত-তারিফাত: ২৩৫; আল-খুতাত আল-মাকরিজিয়াহ: ২/৩৫৩; আল-কাইসানিয়াহ ফিত তারিখ ওয়াল আদাব: ১৬৭, ২৬২।

২ খাত্তাবিয়া: আল-মাকালাত ওয়াল ফিরাক: ১১১ ও ১১২; আল-মিলাল ওয়ান নিহাল: ১/১৪৪-১৪৬; আল-হুরুল ইন: ১৬৬, ১৬৭, ১৯৯, ২৫৩, ২৫৮; আল-ফিরাক আল-ইসলামিয়া: ৪০-৪২; এবং ইতিকাদাতু ফিরাকিল মুসলিমিন: ৫৮; আত-তারিফাত: ৯৯।
(খণ্ড: ١) মাকালাতুল ইসলামিয়্যীন ত. যারযুর (পৃষ্ঠা: ٢٩)
وهم خمس فرق كلهم يزعمون أن الأئمة أنبياء محدثون ورسل الله وحججه على خلقه لا يزال منهم رسولان واحد ناطق والآخر صامت فالناطق محمد صلى الله عليه وسلم والصامت علي بن أبي طالب فهم في الأرض اليوم طاعتهم مفترضة على جميع الخلق يعلمون ما كان وما هو كائن وزعموا أن أبا الخطاب نبي وأن أولئك الرسل فرضوا عليهم طاعة أبي الخطاب وقالوا: الأئمة آلهة وقالوا: ولد الحسين أبناء الله وأحباؤه ثم قالوا ذلك في أنفسهم وتأولوا قول الله تعالى: {فَإِذَا سَوَّيْتُهُ وَنَفَخْتُ فِيهِ مِنْ رُوحِي فَقَعُوا لَهُ سَاجِدِينَ} [ص: 72] قالوا: فهم آدم ونحن ولده وعبدوا أبا الخطاب وزعموا أنه إله وزعموا أن جعفر بن محمد إلههم أيضاً إلا أن أبا الخطاب أعظم منه وأعظم من علي وخرج أبو الخطاب على أبي جعفر فقتله عيسى بن موسى في سبخة الكوفة وهم يتدينون بشهادة الزور لموافقيهم.

المعمرية 1:

7 - والفرقة الثانية من "الخطابية" وهي الفرقة السابعة من "الغالية".

يزعمون أن الإمام بعد أبي الخطاب رجل يقال له "معمر" وعبدوه كما عبدوا أبا الخطاب وزعموا أن الدنيا لا تفنى وأن الجنة ما يصيب الناس من الخير والنعمة والعافية وأن النار ما يصيب الناس من خلاف ذلك وقالوا بالتناسخ وأنهم لا يموتون ولكن يرفعون بأبدانهم إلى الملكوت وتوضع للناس أجساد شبه أجسادهم واستحلوا الخمر والزنا واستحلوا سائر المحرمات ودانوا بترك الصلاة وهم يسمون "المعمرية" ويقال أنهم يسمون "العمومية".

البيزغية 2:

8 - والفرقة الثالثة من "الخطابية" وهي الثامنة من "الغالية" يقال لهم البزيغية أصحاب بزيغ بن موسى:

يزعمون أن جعفر بن محمد هو الله وأنه ليس بالذي يرون وأنه تشبه للناس بهذه الصورة وزعموا أن كل ما يحدث في قلوبهم وحي وأن كل مؤمن

--------------------------------------------

1 المعمرية: المقالات والفرق: 54 الفرق بين الفرق: 173 - 174 التبصير: 67 و 111 الملل والنحل: 1/ 145 الحور العين: 167، 253، 259 التعريفات: 222 الخطط المقريزية: 2/ 347 و 352.

2 البزيغية = المقالات والفرق: 54، الفرق بين الفرق: 174 الملل والنحل: 1/ 145 منهاج السنة النبوية 1/ 239 الخطط المقريزية: 2/ 253.
তারা পাঁচটি উপদল, তারা সবাই দাবি করে যে ইমামগণ হলেন নবী, মুহাদ্দাসগণ (যাদের সাথে ফেরেশতারা কথা বলেন), আল্লাহর রাসূল এবং তাঁর সৃষ্টির ওপর তাঁর প্রমাণস্বরূপ। তাদের মধ্য থেকে সর্বদা দুইজন রাসূল বিদ্যমান থাকেন—একজন 'নাতিিক' (বক্তা) এবং অন্যজন 'সামিত' (নীরব)। বক্তা হলেন মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং নীরব হলেন আলী ইবনে আবি তালিব। বর্তমানে পৃথিবীতে তাদের আনুগত্য সমস্ত সৃষ্টির ওপর ফরজ করা হয়েছে। তারা জানেন যা ঘটেছিল এবং যা ঘটবে। তারা আরও দাবি করে যে, আবু আল-খাত্তাব একজন নবী এবং ঐ রাসূলগণ মানুষের ওপর আবু আল-খাত্তাবের আনুগত্য ফরজ করেছেন। তারা বলে: ইমামগণ হলেন উপাস্য। তারা আরও বলে: হোসাইনের সন্তানরা আল্লাহর পুত্র ও তাঁর প্রিয়জন। অতঃপর তারা নিজেদের সম্পর্কেও একই কথা বলে এবং মহান আল্লাহর এই বাণীর অপব্যাখ্যা করে: {অতঃপর আমি যখন তাকে সুষম করব এবং তাতে আমার রুহ থেকে ফুঁকে দেব, তখন তোমরা তার প্রতি সিজদাবনত হয়ো} [সোয়াদ: ৭২]। তারা বলে: তারাই হলো আদম এবং আমরা তাঁর সন্তান। তারা আবু আল-খাত্তাবের ইবাদত করত এবং দাবি করত যে সে একজন উপাস্য। তারা আরও দাবি করত যে, জাফর ইবনে মুহাম্মদও তাদের উপাস্য, তবে আবু আল-খাত্তাব তার চেয়েও মহান এবং আলীর চেয়েও মহান। আবু আল-খাত্তাব আবু জাফরের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিল, অতঃপর ঈসা ইবনে মুসা তাকে কুফার লবণাক্ত ভূমিতে হত্যা করেন। তারা তাদের অনুসারীদের পক্ষে মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদানকে ধর্মীয় ইবাদত মনে করে।

মুআম্মারিয়াহ ১:

৭ - এবং "খাত্তাবিয়াহ" এর দ্বিতীয় উপদল এবং এটি "গালিয়াহ" (চরমপন্থী)-দের সপ্তম উপদল।

তারা দাবি করে যে, আবু আল-খাত্তাবের পরে ইমাম হলেন "মুআম্মার" নামক এক ব্যক্তি। তারা তার ইবাদত করত যেভাবে তারা আবু আল-খাত্তাবের ইবাদত করত। তারা দাবি করত যে পৃথিবী ধ্বংস হবে না। জান্নাত হলো মানুষের প্রাপ্ত কল্যাণ, নিয়ামত ও সুস্থতা, আর জাহান্নাম হলো এর বিপরীত যা মানুষের ওপর আপতিত হয়। তারা জন্মান্তরবাদে বিশ্বাস করত এবং বলত যে তারা মারা যায় না, বরং তাদের সশরীরে ঊর্ধ্বজগতে তুলে নেওয়া হয় এবং মানুষের জন্য তাদের দেহের সদৃশ কিছু দেহ রেখে দেওয়া হয়। তারা মদ ও ব্যভিচারকে হালাল মনে করত এবং অন্যান্য সমস্ত হারামকেও বৈধ করত। তারা সালাত বর্জন করাকে দ্বীন হিসেবে গ্রহণ করেছিল। তাদের "মুআম্মারিয়াহ" বলা হয় এবং এটাও বলা হয় যে তাদের "উমুমিয়াহ" বলা হয়।

বাজীগিয়াহ ২:

৮ - এবং "খাত্তাবিয়াহ" এর তৃতীয় উপদল এবং এটি "গালিয়াহ" (চরমপন্থী)-দের অষ্টম উপদল। তাদের বাজীগিয়াহ বলা হয়, যারা বাজীগ ইবনে মুসার অনুসারী:

তারা দাবি করে যে জাফর ইবনে মুহাম্মদ হলেন আল্লাহ এবং মানুষ যা দেখে তিনি তা নন, বরং তিনি এই সুরতে মানুষের সামনে আত্মপ্রকাশ করেছেন। তারা দাবি করে যে তাদের অন্তরে যা কিছু উদিত হয় তা-ই ওহী এবং প্রত্যেক মুমিন...

--------------------------------------------

১ মুআম্মারিয়াহ: আল-মাকালাত ওয়াল-ফিরাক: ৫৪; আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক: ১৭৩-১৭৪; আত-তাবসির: ৬৭ ও ১১১; আল-মিলাল ওয়ান-নিহাল: ১/১৪৫; আল-হুরুল ইন: ১৬৭, ২৫৩, ২৫৯; আত-তারিফাত: ২২২; আল-খুতাত আল-মাকরিজিয়া: ২/৩৪৭ ও ৩৫২।

২ বাজীগিয়াহ = আল-মাকালাত ওয়াল-ফিরাক: ৫৪; আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক: ১৭৪; আল-মিলাল ওয়ান-নিহাল: ১/১৪৫; মিনহাজুস সুন্নাহ আন-নববিয়্যাহ ১/২৩৯; আল-খুতাত আল-মাকরিজিয়া: ২/২৫৩।
(খণ্ড: ١) মাকালাতুল ইসলামিয়্যীন ত. যারযুর (পৃষ্ঠা: ٣٠)
يوحى إليه وتأولوا في ذلك قول الله تعالى: {وَمَا كَانَ لِنَفْسٍ أَنْ تَمُوتَ إِلَّا بِإِذْنِ اللَّهِ} [آل عمران: 145] أي بوحي من الله وقوله: {وَأَوْحَى رَبُّكَ إِلَى النَّحْلِ} [النحل: 68] و: {وَإِذْ أَوْحَيْتُ إِلَى الْحَوَارِيِّينَ} [المائدة: 111] وزعموا أن منهم من هو خير من جبريل وميكائيل ومحمد وزعموا أنه لا يموت منهم أحد وأن أحدهم إذا بلغت عبادته رفع إلى الملكوت وادعوا معاينة أمواتهم وزعموا أنهم يرونهم بكرة وعشية.

العميرية 1:

9 - والفرقة الرابعة من الخطابية وهي التاسعة من الغالية يقال لهم العميرية أصحاب عمير بن بيان العجلي

وهذه الفرقة تكذب من قال منهم أنهم لا يموتون ويزعمون أنهم يموتون ولا يزال خلف منهم في الأرض أئمة أنبياء وعبدوا جعفراً كما عبده اليعمريون وزعموا أنه ربهم وقد كانوا ضربوا خيمة في كناسة2 الكوفة ثم اجتمعوا إلى عبادة جعفر فأخذ يزيد بن عمر بن هبيرة عمير بن البيان فقتله في الكناسة وحبس بعضهم.

المفضلية 3:

10 - والفرقة الخامسة من الخطابية وهي العاشرة من الغالية يقال لهم المفضلية

لأن رئيسهم كان صيرفياً يقال له المفضل.

يقولون بربوبية جعفر كما قال غيرهم من أصناف الخطابية وانتحلوا النبوة والرسالة وإنما خالفوا في البراءة من أبي الخطاب لأن جعفراً أظهر البراءة منه فجميع من أخرج الأمر من بني هاشم من الإمامية الذين يقولون بالنص على علي وادعى الأمر لنفسه ستة: عبد الله بن عمرو بن حرب الكندي وبيان بن سمعان التميمي والمغيرة بن سعيد وأبو منصور والحسن بن أبي منصور وأبو الخطاب الأسدي وزعم أبو الخطاب أنه أفضل من بني هاشم.

--------------------------------------------

1 الفرق بين الفرق: 174 التبصير: 111 وقد ذكرت باسم العمروية الملل والنحل: 1/ 145 الحور العين: 167 الخطط المقريزية: 2/ 352.

2 الكناسة: بضم الكاف وفتح النون المخففة - من محلات الكوفة بالعراق وفيها أوقع يوسف بن عمر الثقفي بزيد بن علي بن الحسين بن علي بن أبي طالب -كرم الله وجهه.

3 المفضلية: الفرق بين الفرق: 174التبصير: 11 الملل والنحل: 1/ 145 الحور العين: 167، 168، 253، 259 الخطط المقريزية: 2/ 352.
তাঁর নিকট ওহী আসে। তারা এ বিষয়ে মহান আল্লাহর এই বাণীর অপব্যাখ্যা করে: {আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত কোনো প্রাণের মৃত্যু হওয়া সম্ভব নয়} [আল-ইমরান: ১৪৫] অর্থাৎ আল্লাহর ওহীর মাধ্যমে। এবং তাঁর বাণী: {আপনার রব মৌমাছিকে ওহী পাঠিয়েছেন} [আন-নাহল: ৬৮] এবং: {যখন আমি হাওয়ারীদের প্রতি ওহী পাঠিয়েছিলাম} [আল-মায়িদাহ: ১১১]। তারা দাবি করে যে, তাদের মধ্যে এমন ব্যক্তি রয়েছে যে জিবরাঈল, মিকাঈল ও মুহাম্মদের চেয়েও উত্তম। তারা আরও দাবি করে যে, তাদের কেউ মৃত্যুবরণ করে না এবং তাদের কারো ইবাদত যখন নির্দিষ্ট স্তরে পৌঁছে তখন তাকে মালাকুত বা ঊর্ধ্বজগতে তুলে নেওয়া হয়। তারা তাদের মৃতদের সচক্ষে দেখার দাবি করে এবং ধারণা করে যে তারা তাদের সকাল ও সন্ধ্যায় দেখতে পায়।

উমাইরিয়্যাহ ১:

৯ - খাত্তাবিয়্যাহদের চতুর্থ উপদল এবং গালিয়াদের নবম উপদলকে উমাইরিয়্যাহ বলা হয়; এরা উমাইর ইবনে বায়ান আল-ইজলি-এর অনুসারী।

এই উপদলটি তাদের মধ্য থেকে যারা দাবি করে যে তারা মরে না, তাদের মিথ্যা প্রতিপন্ন করে। তারা বিশ্বাস করে যে তারা মৃত্যুবরণ করে, তবে পৃথিবীতে সর্বদা তাদের মধ্য থেকে একের পর এক ইমাম ও নবীগণ স্থলাভিষিক্ত হতে থাকেন। তারা জাফরের ইবাদত করত যেভাবে ইয়ামুরিরা করত এবং দাবি করত যে তিনিই তাদের প্রভু। তারা কুফার কুনাসাহ ২ নামক স্থানে একটি তাবু গেড়েছিল, এরপর তারা জাফরের ইবাদতের জন্য সমবেত হয়েছিল। তখন ইয়াযিদ ইবনে উমর ইবনে হুবাইরা উমাইর ইবনে বায়ানকে ধরে কুনাসাহ-তে হত্যা করেন এবং তাদের কয়েকজনকে বন্দি করেন।

মুফাদ্দালিয়্যাহ ৩:

১০ - খাত্তাবিয়্যাহদের পঞ্চম উপদল এবং গালিয়াদের দশম উপদলকে মুফাদ্দালিয়্যাহ বলা হয়।

কারণ তাদের নেতা ছিলেন একজন মুদ্রা বিনিময়কারী যাকে মুফাযযাল বলা হতো।

তারা জাফরের রুবুবিয়্যাত বা প্রভুত্বের কথা বলত যেমন খাত্তাবিয়্যাহদের অন্যান্য উপদলগুলো বলত। তারা নবুওয়াত ও রিসালাতের দাবি করত। তারা কেবল আবু আল-খাত্তাবের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করার বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করত, কারণ জাফর তার সাথে জনসমক্ষে সম্পর্ক ছিন্ন করার কথা প্রকাশ করেছিলেন। ইমামিয়্যাহদের (যারা আলীর ব্যাপারে সুস্পষ্ট নির্দেশের কথা বলে) মধ্য থেকে বনু হাশিমের নেতৃত্ব থেকে বের হয়ে গিয়ে যারা নিজেদের জন্য নেতৃত্বের দাবি করেছিল তারা মোট ছয়জন: আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে হারব আল-কিন্দি, বায়ান ইবনে সামআন আত-তামিমি, আল-মুগিরা ইবনে সাঈদ, আবু মানসুর, আল-হাসান ইবনে আবি মানসুর এবং আবু আল-খাত্তাব আল-আসাদি। আবু আল-খাত্তাব দাবি করত যে সে বনু হাশিমের চেয়েও উত্তম।

--------------------------------------------

১ আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক: ১৭৪; আত-তাবসির: ১১১; এবং একে আমরুবিয়্যাহ নামেও উল্লেখ করা হয়েছে, আল-মিলাল ওয়ান নিহাল: ১/১৪৫; আল-হুরুল ইন: ১৬৭; আল-খুতাত আল-মাকরিজিয়্যাহ: ২/৩৫২।

২ কুনাসাহ: কাফ অক্ষরে পেশ এবং নুন অক্ষরে জবরসহ—ইরাকের কুফার একটি এলাকা। এখানেই ইউসুফ ইবনে উমর আস-সাকাফি যায়িদ ইবনে আলী ইবনুল হুসাইন ইবনে আলী ইবনে আবি তালিবের (আল্লাহ তাঁর চেহারাকে সম্মানিত করুন) ওপর আক্রমণ চালিয়েছিলেন।

৩ মুফাদ্দালিয়্যাহ: আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক: ১৭৪; আত-তাবসির: ১১; আল-মিলাল ওয়ান নিহাল: ১/১৪৫; আল-হুরুল ইন: ১৬৭, ১৬৮, ২৫৩, ২৫৯; আল-খুতাত আল-মাকরিজিয়্যাহ: ২/৩৫২।
(খণ্ড: ١) মাকালাতুল ইসলামিয়্যীন ত. যারযুর (পৃষ্ঠা: ٣١)
وقد قال في عصرنا هذا قائلون بالبهية سلمان الفارسي1.

وفي النساك من الصوفية من يقول بالحلول2 وأن البارئ يحل في الأشخاص وأنه جائز أن يحل في إنسان وسبع وغير ذلك من الأشخاص.

وأصحاب هذه المقالة إذا أرادوا شيئاً يستحسنونه قالوا: لا ندري لعل الله حال فيه ومالوا إلى اطراح الشرائع وزعموا أن الإنسان ليس عليه فرض ولا يلزمه عبادة إذا وصل إلى معبوده.

11 - والصنف الحادي عشر من أصناف الغالية يزعمون أن روح القدس هو الله عز وجل كانت في النبي صلى الله عليه وسلم ثم في علي ثم في الحسن ثم في الحسين ثم في علي بن الحسين ثم في محمد بن علي ثم في جعفر بن محمد بن علي ثم في موسى بن جعفر ثم في علي بن موسى بن جعفر ثم في محمد بن علي بن موسى ثم في علي بن محمد بن علي بن موسى ثم في الحسن بن علي بن محمد بن علي بن موسى ثم في محمد بن الحسن بن علي بن محمد بن علي وهؤلاء آلهة عندهم كل واحد منهم إله على التناسخ والإله عندهم يدخل في الهياكل.

12 - والصنف الثاني عشر من أصناف الغالية يزعمون أن علياً هو الله

ويكذبون النبي صلى الله عليه وسلم ويشتمونه ويقولون: أن علياً وجه به ليبين أمره فادعى الأمر لنفسه.

الشريعية 3:

13 - والصنف الثالث عشر من أصناف الغالية هم أصحاب الشريعي.

--------------------------------------------

1 سلمان الفارسي: هو أبو عبد الله أصله من رامهرمز ويقال: أصبهان قصة وقعته إسلامه مشهورة فيكتب السيرة والتاريخ الإسلامي وله ترجمة في جل هذه المؤلفات منها على سبيل المثال لا الحصر: الإصابة في تمييز الصحابة سيرة ابن هشام والكامل لابن الأثير وسواها.

2 الحلاج: هو أبو المغيث الحسين بن منصور الزاهد الصوفي المشهور كان بقول بالحلول ولذلك رمي بالكفر من علماء البصرة وغيرهم ومن ألفاظه في الحلول: أنا الحق ما في الجنة إلا الله. اتهم بالاشتراك مع أبي طاهر سليمان بن أبي سعيد الحسن بن بهرام القرمطي بالانقلاب على الدولة الإسلامية وافترقا على التواصي بالعمل الدؤوب على تقويض الدولة فذهب القرمطي إلى أكناف الأحساء فيما توجه الحلاج إلى بغداد واختلف بعض الفقهاء في تفسير حاله فمنهم من رماه بالكفر وأفتى بقتله وبهذه الفتوى قضى نحبه ومنهم من حمل ألفاظة على محامل حسنة. مثل الغزالي في كتابه: مشكاة الأنوار الذي قصره على الدفاع عنه له ترجمة في وفيات الأعيان برقم 181 وعنه الكثير من الدراسات وللحلاج بيت شعر مشهور:

ألقاه في اليم مكتوفا وقال له … إياك إياك أن تبتل في الماء

3 الشريعية: الفرق بين الفرق: 177 التبصير: 113.
বর্তমান যুগে বাহিয়্যাহ সম্প্রদায়ের কিছু লোক সালমান আল-ফারসি১ সম্পর্কে (চরমপন্থী) কথা বলেছে।

সুফি ইবাদতগুজারদের মধ্যে এমন কিছু লোক আছে যারা 'হুলুল' (অনুপ্রবেশ)বাদে বিশ্বাস করে২। তাদের মতে, স্রষ্টা বিভিন্ন ব্যক্তির মধ্যে অবস্থান গ্রহণ করেন এবং মানুষের মধ্যে, হিংস্র পশুর মধ্যে বা অন্য কোনো সত্তার মধ্যে তাঁর অনুপ্রবেশ করা জায়েজ।

এই মতবাদের অনুসারীরা যখন কোনো চমৎকার কিছু দেখে, তখন তারা বলে: "আমরা জানি না, হয়তো আল্লাহ এতে অবস্থান নিয়েছেন।" তারা শরিয়ত বর্জনের দিকে ঝুঁকে পড়ে এবং দাবি করে যে, মানুষ যখন তার মা'বুদ (উপাস্য) পর্যন্ত পৌঁছে যায়, তখন তার ওপর আর কোনো ফরজ দায়িত্ব থাকে না এবং ইবাদত করাও তার জন্য আবশ্যক থাকে না।

১১ - গালিয়া (চরমপন্থী) সম্প্রদায়ের একাদশ গোষ্ঠী দাবি করে যে, রুহুল কুদুস (পবিত্র আত্মা) স্বয়ং আল্লাহ মহান ও পরাক্রমশালী। এই আত্মা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মধ্যে ছিল, অতঃপর আলীর মধ্যে, তারপর হাসানের মধ্যে, তারপর হুসাইনের মধ্যে, তারপর আলী বিন হুসাইনের মধ্যে, তারপর মুহাম্মদ বিন আলীর মধ্যে, তারপর জাফর বিন মুহাম্মদ বিন আলীর মধ্যে, তারপর মুসা বিন জাফরের মধ্যে, তারপর আলী বিন মুসা বিন জাফরের মধ্যে, তারপর মুহাম্মদ বিন আলী বিন মুসার মধ্যে, তারপর আলী বিন মুহাম্মদ বিন আলী বিন মুসার মধ্যে, তারপর হাসান বিন আলী বিন মুহাম্মদ বিন আলী বিন মুসার মধ্যে, অতঃপর মুহাম্মদ বিন হাসান বিন আলীর মধ্যে প্রবেশ করেছে। এদের প্রত্যেকেই তাদের নিকট ইলাহ (উপাস্য); আর এই উপাসত্ব আত্মার স্থানান্তরের (তানাসুখ) মাধ্যমে ঘটে। তাদের মতে ইলাহ বিভিন্ন দৈহিক কাঠামোতে প্রবেশ করেন।

১২ - গালিয়াদের দ্বাদশ গোষ্ঠী দাবি করে যে, আলী-ই হলেন আল্লাহ।

তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে অস্বীকার করে এবং তাঁকে গালি দেয়। তারা বলে: আলী তাঁকে (নবীকে) পাঠিয়েছিলেন তাঁর বিষয়টি স্পষ্ট করার জন্য, কিন্তু তিনি (নবী) নিজের জন্য সেই দাবি করে বসেন।

আশ-শারইয়্যাহ ৩:

১৩ - গালিয়াদের ত্রয়োদশ গোষ্ঠী হলো আশ-শারয়ির অনুসারী।

--------------------------------------------

১ সালমান আল-ফারসি: তিনি হলেন আবু আব্দুল্লাহ। তাঁর আদি নিবাস রামহুরমুজ, মতান্তরে আসবাহান। তাঁর ইসলাম গ্রহণের ঘটনাটি সিরাত ও ইসলামি ইতিহাসের গ্রন্থগুলোতে সুপ্রসিদ্ধ। তাঁর জীবনী নিয়ে অসংখ্য গ্রন্থ রচিত হয়েছে, যেমন উদাহরণস্বরূপ: আল-ইসাবাহ ফি তাময়িযিস সাহাবাহ, সিরাতে ইবনে হিশাম, আল-কামিল ফিত তারিখ (ইবনুল আসির) ইত্যাদি।

২ আল-হাল্লাজ: তিনি হলেন আবু মুগিস আল-হুসাইন বিন মানসুর, একজন প্রসিদ্ধ সুফি যাহিদ। তিনি 'হুলুল'বাদে (স্রষ্টা সৃষ্টিতে বিলীন হওয়া) বিশ্বাস করতেন। একারণে বসরার উলামাগণসহ অন্যান্যরা তাঁকে কাফির বলে ফতোয়া দেন। হুলুল সম্পর্কে তাঁর একটি উক্তি হলো: "আমিই পরম সত্য, জান্নাতে আল্লাহ ছাড়া আর কেউ নেই।" তাঁর বিরুদ্ধে আবু তাহির সুলাইমান বিন আবি সাঈদ হাসান বিন বাহরাম আল-কারমাতির সাথে যোগসাজশে ইসলামি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের অভিযোগ আনা হয়েছিল। তারা দুজনে রাষ্ট্রকে ধ্বংস করার জন্য কঠোর পরিশ্রমের অঙ্গীকার করে বিচ্ছিন্ন হন। কারমাতি আল-আহসা অঞ্চলের দিকে চলে যান আর হাল্লাজ বাগদাদের দিকে রওনা হন। কিছু ফকিহ তাঁর অবস্থা ব্যাখ্যায় ভিন্নমত পোষণ করেছেন; কেউ তাঁকে কাফির বলেছেন এবং তাঁর মৃত্যুদণ্ডের ফতোয়া দিয়েছেন, আর সেই ফতোয়া অনুযায়ীই তাঁর মৃত্যু হয়। আবার কেউ কেউ তাঁর কথাগুলোকে ইতিবাচক অর্থে ব্যাখ্যা করেছেন, যেমন ইমাম গাজালি তাঁর 'মিশকাতুল আনওয়ার' কিতাবে তাঁর পক্ষ সমর্থনে লিখেছেন। ওফায়াতুল আ’য়ান-এর ১৮১ নম্বরে তাঁর জীবনী পাওয়া যায় এবং তাঁকে নিয়ে অনেক গবেষণা হয়েছে। হাল্লাজের একটি বিখ্যাত কাব্য রয়েছে:

তিনি তাকে হাত-পা বেঁধে সমুদ্রে নিক্ষেপ করলেন এবং বললেন … সাবধান! সাবধান! যেন তোমার শরীরে পানি না লাগে।

৩ আশ-শারইয়্যাহ: আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক: ১৭৭, আত-তাবসির: ১১৩।
(খণ্ড: ١) মাকালাতুল ইসলামিয়্যীন ত. যারযুর (পৃষ্ঠা: ٣٢)
يزعمون أن الله حل في خمسة أشخاص: في النبي وفي علي وفي الحسن وفي الحسين وفي فاطمة فهؤلاء آلهة عندهم.

وليس يطعن أصحاب الشريعي على النبي صلى الله عليه وسلم ولا يقولون عنه ما حكيناه عن الصنف الذي ذكرناه قبلهم.

وقالوا: لهذه الأشخاص الخمسة التي حل فيها الإله خمسة أضداد فالأضداد أبو بكر وعمر عثمان ومعاوية وعمرو بن العاص وافترقوا في الأضداد على مقالتين: فزعم بعضهم أن الأضداد محمودة لأنه لا يعرف فضل الأشخاص الخمسة إلا بأضدادها فهي محمودة من هذا الوجه وزعم بعضهم أن الأضداد مذمومة وأنها لا تحمد بحال من الأحوال.

وحكي أن الشريعي كان يزعم أن البارئ جل جلاله يحل فيه.

النميرية 1:

وحكي أن فرقة من الرافضة يقال لهم النميرية أصحاب النميري يقولون أن البارئ كان حالاً في النميري.

السبئية2:

14 - والصنف الرابع عشر من أصناف الغالية وهم السبائية أصحاب عبد الله بن سبأ.

يزعمون أن علياً لم يمت وأنه يرجع إلى الدنيا قبل يوم القيامة فيملأ الأرض عدلاً كما ملئت جوراً وذكروا عنه أنه قال لعلي عليه السلام: أنت أنت.

والسبئية يقولون بالرجعة وأن الأموات يرجعون إلى الدنيا وكان السيد الحميري3 يقول برجعة الأموات وفي ذلك يقول:

إلى يوم يؤب الناس فيه … إلى دنياهم قبل الحساب

--------------------------------------------

1 النميرية: الفرق بين الفرق: 177 التبصير: 113.

2 السبئية: المقالات والفرق: 20، 55، 161 التنبيه: 118، 19، 158 الفرق بين الفرق: 162 - 165 التبصير: 34، 105، 109 الملل والنحل: 1/ 140 الحور العين: 154، 184 و 251 الفرق الإسلامية: 33 - 34 اعتقادات فرق المسلمين: 57 منهاج السنة النبوية: 1/ 239 - 240 التعريفات: 117 الخطط المقريزية: 2/ 352 وانظر عن عبد الله بن سبأ: الكيسانية في التاريخ والأدب: ص 119.

3 السيد الحميري: هو إسماعيل بن محمد بن يزيد بن ربيعة بن مفرغ يكنى أبا هاشم له ديوان شعر تقلب في مذهبه في بعض الروايات وللقدماء من نقاد الشعر فيه آراء له ترجمة في الجزء السابع من الأغاني.
তারা দাবি করে যে আল্লাহ পাঁচজন ব্যক্তির মধ্যে প্রবিষ্ট হয়েছেন: নবী, আলী, হাসান, হুসাইন এবং ফাতিমা; তাই তাদের নিকট এরা ইলাহ (উপাস্য)।

শুরাইয়ি-এর অনুসারীরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে নিয়ে কটূক্তি করে না এবং তাঁর সম্পর্কে এমন কথা বলে না যা আমরা তাদের পূর্বের দল সম্পর্কে উল্লেখ করেছি।

তারা বলে: এই পাঁচজন ব্যক্তি যাদের মধ্যে ইলাহ প্রবিষ্ট হয়েছেন, তাদের বিপরীতে পাঁচজন বিরোধী (অদদাদ) রয়েছে। সেই বিরোধীরা হলেন আবু বকর, উমর, উসমান, মুয়াবিয়া এবং আমর ইবনুল আস। বিরোধীদের ব্যাপারে তারা দুই মতে বিভক্ত হয়েছে: তাদের কেউ কেউ দাবি করে যে এই বিরোধীরা প্রশংসিত, কারণ এই পাঁচজন ব্যক্তির শ্রেষ্ঠত্ব তাদের বিরোধীদের মাধ্যমেই জানা যায়, তাই এই দিক থেকে তারা প্রশংসিত। আবার কেউ কেউ দাবি করে যে বিরোধীরা নিন্দিত এবং কোনো অবস্থাতেই তাদের প্রশংসা করা যায় না।

বর্ণিত আছে যে, শুরাইয়ি দাবি করত মহান আল্লাহ তার মধ্যে প্রবিষ্ট হন।

নুমাইরিয়া ১:

বর্ণিত আছে যে, রাফেজিদের একটি দল যাদের 'নুমাইরিয়া' বলা হয়—যারা নুমাইরির অনুসারী—তারা বলে যে স্রষ্টা নুমাইরির মধ্যে প্রবিষ্ট ছিলেন।

সাবায়িয়া ২:

১৪ - চরমপন্থী (গালিয়া) দলগুলোর মধ্যে চতুর্দশ দল হলো সাবায়িয়া, যারা আব্দুল্লাহ ইবনে সাবার অনুসারী।

তারা দাবি করে যে আলী মৃত্যুবরণ করেননি এবং তিনি কিয়ামতের আগে দুনিয়ায় ফিরে আসবেন, অতঃপর পৃথিবীকে ন্যায়বিচারে পূর্ণ করবেন যেমনটি তা অন্যায়-অবিচারে ভরে গিয়েছিল। তারা তাঁর (ইবনে সাবা) সম্পর্কে উল্লেখ করে যে, সে আলীকে (আলাইহিস সালাম) বলেছিল: "আপনিই তিনি (অর্থাৎ আপনিই ইলাহ)।"

সাবায়িয়ারা 'রাজআহ' বা প্রত্যাবর্তনে বিশ্বাস করে এবং তারা মনে করে যে মৃতরা দুনিয়ায় ফিরে আসবে। সাইয়্যেদ হিময়ারি ৩ মৃতদের প্রত্যাবর্তনে বিশ্বাসী ছিলেন এবং সেই বিষয়ে তিনি বলেন:

সেই দিন পর্যন্ত যখন মানুষ ফিরে আসবে... হিসাবের আগে তাদের এই দুনিয়ায়।

--------------------------------------------

১. নুমাইরিয়া: আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক: ১৭৭; আত-তাবসির: ১১৩।

২. সাবায়িয়া: আল-মাকালাতু ওয়াল ফিরাক: ২০, ৫৫, ১৬১; আত-তানবিহ: ১১৮, ১৯, ১৫৮; আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক: ১৬২ - ১৬৫; আত-তাবসির: ৩৪, ১০৫, ১০৯; আল-মিলালু ওয়ান নিহাল: ১/১৪০; আল-হুরুল ইন: ১৫৪, ১৮৪ ও ২৫১; আল-ফিরাকুল ইসলামিয়া: ৩৩ - ৩৪; ইতিকাদাতু ফিরাকিল মুসলিমিন: ৫৭; মিনহাজুস সুন্নাহ আন-নাবাবিয়া: ১/২৩৯ - ২৪০; আত-তারিফাত: ১১৭; আল-খুতাত আল-মাকরিজিয়া: ২/৩৫২; এবং আব্দুল্লাহ ইবনে সাবা সম্পর্কে দেখুন: আল-কাইসানিয়া ফিত তারিখি ওয়াল আদাব: পৃ. ১১৯।

৩. সাইয়্যেদ হিময়ারি: তিনি হলেন ইসমাইল ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইয়াজিদ ইবনে রাবিআ ইবনে মুফাররিগ, তাঁর উপনাম আবু হাশিম। তাঁর একটি কাব্যগ্রন্থ (দিওয়ান) রয়েছে। কিছু বর্ণনা অনুযায়ী তিনি তাঁর মতাদর্শ পরিবর্তন করেছিলেন এবং প্রাচীন কাব্য সমালোচকদের নিকট তাঁকে নিয়ে বিভিন্ন মতামত রয়েছে। আল-আগানি গ্রন্থের সপ্তম খণ্ডে তাঁর জীবনী রয়েছে।
(খণ্ড: ١) মাকালাতুল ইসলামিয়্যীন ত. যারযুর (পৃষ্ঠা: ٣٣)
15 - والصنف الخامس عشر من أصناف الغالية يزعمون أن الله عز وجل وكل الأمور وفوضها إلى محمد صلى الله عليه وسلم وأنه أقدره على خلق الدنيا فخلقها ودبرها وأن الله - سبحانه - لم يخلق من ذلك شيئاً ويقول ذلك كثير منهم في علي ويزعمون أن الأئمة ينسخون الشرائع ويهبط عليهم الملائكة وتظهر عليهم الأعلام والمعجزات ويوحى إليهم.

ومنهم من يسلم على السحاب ويقول إذا مرت سحابة به أن علياً -رضوان الله عليه- فيها وفيهم يقول بعض الشعراء:

برئت من الخوارج لست منهم … من الغزال منهم وابن باب1

ومن قوم إذا ذكروا علياً … يردون السلام على السحاب

الرافضة الإمامية أربع وعشرون فرقة:

والصنف الثاني من الأصناف الثلاثة التي ذكرنا بأن الشيعة يجمعها ثلاثة أصناف وهم الرافضة2.

وإنما سموا رافضة لرفضهم إمامة أبي بكر وعمر.

وهم مجمعون على أن النبي صلى الله عليه وسلم نص على استخلاف علي بن أبي طالب باسمه وأظهر ذلك وأعلنه وأن أكثر الصحابة ضلوا بتركهم الاقتداء به بعد وفاة النبي صلى الله عليه وسلم وأن الإمامة لا تكون إلا بنص وتوقيف وأنها قرابة وأنه جائز للإمام في حال التقية3 أن يقول: أنه ليس بإمام وأبطلوا جميعاً الاجتهاد في

--------------------------------------------

1 الغزال: يقصد به واصل بن عطاء أحد شيوخ المعتزلة كانت وفاته سنة 281هـ. انظر ترجمته في وفيات الأعيان برقم: 739.

ابن باب: هو عمرو بن عبيد بن باب أبو عثمان زاهد. توفي 144هـ. له ترجمة في وفيات الأعيان برقم: 476.

2 الرافضة: المقالات والفرق: 77، 78، 163 و 209 التنبيه: 4، 7، 17، 24، 37، 91، 164 الفرق بين الفرق: 184 - 185، 257، 261 - 262 الفرق الإسلامية: 33 - 61 اعتقادات فرق المسلمين: 52 - 64 و 75 منهاج السنة النبوية: 2/ 105 - 108 الخطط المقريزية: 2/ 351 - 354.

3 التقية: وصف ابن تيمية الرافضة بالزنادقة والمنافقين في منهاج السنة النبوية 1/ 159 بقوله:

والنفاق والزندقة في الرافضة أكثر منه في سائر الطوائف بل لابد لكل منهم من شعبة نفاق فإن أساس النفاق الذي بني عليه الكذب وأن يقول الإنسان بلسانه ما ليس في قلبه كما أخبر الله تعالى عن المنافقين أنهم: {يَقُولُونَ بِأَلْسِنَتِهِمْ مَا لَيْسَ فِي قُلُوبِهِمْ} والرافضة تجعل هذا من أصول دينها وتسميه: التقية. ثم يشير إلى ابن تيمية إلى منشأ هذه البدعة وكيف أن الرافضة الملاعين يفسرون النصوص القرآنية مخالفين الأصول والأسباب التي نزلت فيها.
১৫ - চরমপন্থীদের (গালিয়া) পনেরতম শ্রেণি দাবি করে যে, আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা সমস্ত বিষয় মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে সোপর্দ ও ন্যস্ত করেছেন এবং তিনি তাকে দুনিয়া সৃষ্টি করার ক্ষমতা দিয়েছেন, ফলে তিনি এটি সৃষ্টি করেছেন ও পরিচালনা করেছেন। আর আল্লাহ -সুবহানাহু- এর কিছুই সৃষ্টি করেননি। তাদের অনেকে আলীর ব্যাপারেও অনুরূপ কথা বলে। তারা দাবি করে যে, ইমামগণ শরিয়ত রহিত করেন, তাদের ওপর ফেরেশতা অবতীর্ণ হয়, তাদের মাধ্যমে নিদর্শন ও মুজিযা প্রকাশিত হয় এবং তাদের কাছে ওহি পাঠানো হয়।

তাদের মধ্যে কেউ কেউ মেঘমালাকে সালাম দেয় এবং বলে যে, যখন কোনো মেঘখণ্ড তার পাশ দিয়ে অতিক্রম করে, তখন আলী -রাদিয়াল্লাহু আনহু- তার মধ্যে রয়েছেন। তাদের সম্পর্কে জনৈক কবি বলেন:

আমি খারেজীদের থেকে মুক্ত, আমি তাদের অন্তর্ভুক্ত নই … না গাজ্জাল থেকে, না ইবন বাব থেকে১

এবং এমন কওম থেকে যারা আলীর কথা স্মরণ করলে … মেঘমালার ওপর সালাম ফেরত দেয়।

রাফেজি ইমামিয়্যাহ চব্বিশটি উপদল:

আমরা যে তিনটি শ্রেণির কথা উল্লেখ করেছিলাম যেগুলোর অধীনে শিয়াদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়, তার দ্বিতীয় শ্রেণি হলো রাফেজি২।

তাদেরকে রাফেজি বলা হয় কারণ তারা আবু বকর ও উমরের ইমামতকে প্রত্যাখ্যান করেছে।

তারা এ বিষয়ে একমত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আলী ইবন আবি তালিবের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার ব্যাপারে তার নাম উল্লেখ করে সুস্পষ্ট নির্দেশ প্রদান করেছেন এবং তা প্রকাশ ও ঘোষণা করেছেন। আর অধিকাংশ সাহাবী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মৃত্যুর পর তার অনুসরণ ত্যাগ করে পথভ্রষ্ট হয়েছেন। তারা মনে করে যে, ইমামত কেবল সুস্পষ্ট নির্দেশ (নস) ও ঐশী নির্ধারণ (তাওকিফ) ছাড়া হয় না এবং এটি বংশীয় নিকটাত্মীয়তার ভিত্তিতে নির্ধারিত। আর ইমামের জন্য তাকিয়াহর৩ অবস্থায় এটি বলা বৈধ যে: তিনি ইমাম নন। তারা সবাই ইজতিহাদকে বাতিল ঘোষণা করেছে...

--------------------------------------------

১. গাজ্জাল: এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো মুতাজিলাদের অন্যতম শায়খ ওয়াসিল ইবন আতা, তার মৃত্যু ২৮১ হিজরি। ওয়াফায়াতুল আইয়ানে তার জীবনী দেখুন নং ৭৩৯।

ইবন বাব: তিনি হলেন আমর ইবন উবায়েদ ইবন বাব আবু উসমান, একজন জাহেদ। মৃত্যু ১৪৪ হিজরি। ওয়াফায়াতুল আইয়ানে তার জীবনী রয়েছে নং ৪৭৬।

২. রাফেজি: আল-মাকালাত ওয়াল ফিরাক: ৭৭, ৭৮, ১৬৩ ও ২০৯; আত-তানবিহ: ৪, ৭, ১৭, ২৪, ৩৭, ৯১, ১৬৪; আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক: ১৮৪-১৮৫, ২৫৭, ২৬১-২৬২; আল-ফিরাকুল ইসলামিয়্যাহ: ৩৩-৬১; ইতিকাদাতু ফিরাকিল মুসলিমিন: ৫২-৬৪ ও ৭৫; মিনহাজুস সুন্নাহ আন-নাবাবিয়্যাহ: ২/১০৫-১০৮; আল-খুতাত আল-মাকরিজিয়্যাহ: ২/৩৫১-৩৫৪।

৩. তাকিয়াহ: ইবন তাইমিয়াহ মিনহাজুস সুন্নাহ আন-নাবাবিয়্যাহ ১/১৫৯-এ রাফেজিদের জিন্দিক ও মুনাফিক হিসেবে বর্ণনা করে বলেছেন:

অন্যান্য সকল দলের চেয়ে রাফেজিদের মধ্যে নিফাক ও জিনদিকপনা বেশি। বরং তাদের প্রত্যেকের মধ্যেই নিফাকের কোনো না কোনো শাখা অবশ্যই রয়েছে। কেননা নিফাকের ভিত্তি হলো মিথ্যা এবং মানুষের মুখে তা বলা যা তার অন্তরে নেই, যেমন আল্লাহ তাআলা মুনাফিকদের সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন যে: {তারা তাদের মুখে তা বলে যা তাদের অন্তরে নেই}। আর রাফেজিরা একে তাদের দ্বীনের অন্যতম মূলনীতি বানিয়ে নিয়েছে এবং এর নাম দিয়েছে: তাকিয়াহ। অতঃপর ইবন তাইমিয়াহ এই বিদআতের উৎপত্তির দিকে ইঙ্গিত করেছেন এবং বর্ণনা করেছেন যে কীভাবে অভিশপ্ত রাফেজিরা কুরআনের পাঠসমূহের এমন ব্যাখ্যা করে যা সেই মূলনীতি ও প্রেক্ষাপট বিরোধী যার ওপর ভিত্তি করে সেগুলো নাজিল হয়েছে।
(খণ্ড: ١) মাকালাতুল ইসলামিয়্যীন ত. যারযুর (পৃষ্ঠা: ٣٤)
الأحكام وزعموا أن الإمام لا يكون إلا أفضل الناس وزعموا أن علياً -رضوان الله عليه- كان مصيباً في جميع أحواله وأنه لم يخطئ في شيء من أمور الدين إلا الكاملية أصحاب أبي كامل فإنهم أكفروا الناس بترك الاقتداء به وأكفروا علياً بترك الطلب وأنكروا الخروج على أئمة الجور وقالوا: ليس يجوز ذلك دون الإمام المنصوص على إمامته وهم سوى الكاملية أربع وعشرون فرقة وهم يدعون الإمامية لقولهم بالنص على إمامة علي بن أبي طالب.

القطيعة 1:

1 - فالفرقة الأولى منهم وهم القطعية وإنما سموا قطعية لأنهم قطعوا على موت موسى بن جعفر بن محمد بن علي وهم جمهور الشيعة.

يزعمون أن النبي صلى الله عليه وسلم نص على إمامة علي بن أبي طالب واستخلفه بعده بعينه واسمه وأن علياً نص على إمامة ابنه الحسن بن علي وأن الحسن بن علي نص على إمامة أخيه الحسين بن علي وأن الحسين بن علي نص على إمامة ابنه علي بن الحسين وأن علي بن الحسين نص على إمامة ابنه محمد بن علي وأن محمد بن علي نص على إمامة ابنه جعفر بن محمد وأن جعفر بن محمد نص على إمامة ابنه موسى بن جعفر وأن موسى بن جعفر نص على إمامة ابنه علي بن موسى وأن علي بن موسى نص على إمامة ابنه محمد بن علي بن موسى وأن محمد بن علي نص على إمامة ابنه علي بن محمد بن علي بن موسى وأن علي بن محمد بن علي بن موسى نص على إمامة ابنه الحسن بن علي بن محمد بن علي بن موسى وهو الذي كان بسامرا2 وأن الحسن بن علي نص على إمامة ابنه محمد بن الحسن بن علي وهو الغائب المنتظر عندهم الذي يدعون أنه يظهر فيملأ الأرض عدلاً بعد أن ملئت ظلماً وجوراً.

--------------------------------------------

1 القطعية: المقالات والفرق: 89، 236 التنبيه: 33 الفرق بين الفرق: 84 التبصير: 42 الملل والنحل: 1/ 136 - 140 تحت اسم: الاثني عشرية الحور العين: 148، 164 - 166 و 251 اعتقادات فرق المسلمين: 54.

2 سامراء: مدينة في العراق مابين بغداد وتكريت شرقي دجلة ذكر صاحب معجم البلدان: أنها خربة وفي اسمها لغات. سامراء بالمد وسامرا بالقصر وسر من رأى بالهمز وسر من را. انظر معجم البلدان.
বিধানাবলি এবং তারা দাবি করে যে ইমাম কেবল মানুষের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তিই হবেন। তারা আরও দাবি করে যে আলী -আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন- তাঁর সকল অবস্থায় সঠিক পথে ছিলেন এবং দ্বীনি কোনো বিষয়ে তিনি কোনো ভুল করেননি; কেবল কামিলিয়্যাহ তথা আবু কামিলের অনুসারীরা ব্যতীত। কেননা তারা তাঁর অনুসরণ ত্যাগ করার কারণে মানুষকে কাফির সাব্যস্ত করেছে এবং (ইমামত) দাবি না করার কারণে আলীকেও কাফির সাব্যস্ত করেছে। তারা জালেম শাসকদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করাকে অস্বীকার করেছে এবং বলেছে যে, যার ইমামতের ব্যাপারে সুস্পষ্ট নস (নির্দেশনা) প্রদান করা হয়েছে এমন ইমাম ব্যতীত বিদ্রোহ করা বৈধ নয়। কামিলিয়্যাহ ব্যতীত তারা চব্বিশটি উপদল এবং আলী ইবনে আবি তালিবের ইমামতের ব্যাপারে নসের (সুস্পষ্ট নির্দেশনার) প্রবক্তা হওয়ার কারণে তাদেরকে ইমামিয়্যাহ বলা হয়।

আল-কাতিয়্যাহ ১:

১ - তাদের মধ্যে প্রথম উপদল হলো কাতিয়্যাহ। তাদেরকে কাতিয়্যাহ বলা হয় কারণ তারা মুসা বিন জাফর বিন মুহাম্মদ বিন আলীর মৃত্যুর ব্যাপারে নিশ্চিত (কাতি‘) বিশ্বাস পোষণ করে এবং তারাই শিয়াদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ।

তারা দাবি করে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আলী ইবনে আবি তালিবের ইমামতের ব্যাপারে সুস্পষ্ট নস দিয়েছেন এবং তাঁর নাম ও ব্যক্তিসত্তা উল্লেখ করে তাঁর পরে তাঁকে স্থলাভিষিক্ত করেছেন। আর আলী তাঁর পুত্র হাসান বিন আলীর ইমামতের ব্যাপারে নস দিয়েছেন, হাসান বিন আলী তাঁর ভাই হুসাইন বিন আলীর ইমামতের ব্যাপারে নস দিয়েছেন, হুসাইন বিন আলী তাঁর পুত্র আলী বিন হুসাইনের ইমামতের ব্যাপারে নস দিয়েছেন, আলী বিন হুসাইন তাঁর পুত্র মুহাম্মদ বিন আলীর ইমামতের ব্যাপারে নস দিয়েছেন, মুহাম্মদ বিন আলী তাঁর পুত্র জাফর বিন মুহাম্মদের ইমামতের ব্যাপারে নস দিয়েছেন, জাফর বিন মুহাম্মদ তাঁর পুত্র মুসা বিন জাফরের ইমামতের ব্যাপারে নস দিয়েছেন, মুসা বিন জাফর তাঁর পুত্র আলী বিন মুসার ইমামতের ব্যাপারে নস দিয়েছেন, আলী বিন মুসা তাঁর পুত্র মুহাম্মদ বিন আলী বিন মুসার ইমামতের ব্যাপারে নস দিয়েছেন, মুহাম্মদ বিন আলী তাঁর পুত্র আলী বিন মুহাম্মদ বিন আলী বিন মুসার ইমামতের ব্যাপারে নস দিয়েছেন, আলী বিন মুহাম্মদ বিন আলী বিন মুসা তাঁর পুত্র হাসান বিন আলী বিন মুহাম্মদ বিন আলী বিন মুসার ইমামতের ব্যাপারে নস দিয়েছেন—যিনি সামাররায় ছিলেন২—এবং হাসান বিন আলী তাঁর পুত্র মুহাম্মদ বিন হাসান বিন আলীর ইমামতের ব্যাপারে নস দিয়েছেন; আর তিনিই তাদের নিকট সেই অদৃশ্য প্রতীক্ষিত (ইমাম), যাঁর সম্পর্কে তারা দাবি করে যে তিনি আবির্ভূত হবেন এবং পৃথিবীকে ন্যায়বিচারে পরিপূর্ণ করে দেবেন, যেমন তা জুলুম ও অত্যাচারে পরিপূর্ণ হয়ে গিয়েছিল।

--------------------------------------------

১ আল-কাতিয়্যাহ: আল-মাকালাত ওয়াল ফিরাক: ৮৯, ২৩৬; আত-তানবিহ: ৩৩; আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক: ৮৪; আত-তাবসির: ৪২; আল-মিলাল ওয়ান নিহাল: ১/১৩৬-১৪০, 'ইসনা আশারিয়্যাহ' শিরোনামে; আল-হুরুল ইন: ১৪৮, ১৬৪-১৬৬ ও ২৫১; ইতিকাদাতু ফিরাকিল মুসলিমিন: ৫৪।

২ সামাররা: ইরাকের একটি শহর যা বাগদাদ ও তিকরিতের মাঝে দজলা নদীর পূর্ব তীরে অবস্থিত। মুজামুল বুলদান গ্রন্থের লেখক উল্লেখ করেছেন যে: এটি বর্তমানে ধ্বংসপ্রাপ্ত এবং এর নামের একাধিক রূপ রয়েছে। যেমন— সামাররা, সামরা, সুররা মান রাআ ইত্যাদি। দেখুন: মুজামুল বুলদান।
(খণ্ড: ١) মাকালাতুল ইসলামিয়্যীন ত. যারযুর (পৃষ্ঠা: ٣٥)
الكيسانية 1:

2 - والفرقة الثانية منهم وهم الكيسانية وهي إحدى عشرة فرقة وإنما سموا كيسانية لأن المختار الذي خرج وطلب بدم الحسين بن علي ودعا إلى محمد بن الحنفية كان يقال له كيسان ويقال إنه مولى لعلي بن أبي طالب -رضوان الله عليه-.

والفرقة الأولى من الكيسانية وهي الثانية من الرافضة يزعمون أن علي بن أبي طالب نص على إمامة ابنه محمد بن الحنفية لأنه دفع إليه الراية بالبصرة.

3 - والفرقة الثالثة من الرافضة وهي الثانية من الكيسانية يزعمون أن علي بن أبي طالب نص على إمامة ابنه الحسن بن علي وأن الحسن بن علي نص على إمامة أخيه الحسين بن علي وأن الحسين بن علي نص على إمامة أخيه محمد بن علي وهو محمد بن الحنفية.

الكربية 2:

4 - والفرقة الرابعة من الرافضة وهي الثالثة من الكيسانية وهي الكربية أصحاب أبي كرب الضرير. يزعمون أن محمد بن الحنفية حي بجبال رضوى3 أسد عن يمينه ونمر عن شماله يحفظانه يأتيه رزقه غدوة وعشية إلى وقت خروجه وزعموا أن السبب الذي من أجله صبر على هذا الحال أن يكون مغيباً عن الخلق أن لله

--------------------------------------------

1 الكيسانية: المقالات والفرق: 21، 26 - 27، 39، 50، 56، 60، 65 و 163 مروج الذهب 3/ 87 الفرق بين الفرق: 31 - 41 التبصير: 32 الملل والنحل: 1/ 117 - 123 الحور العين: 157 - 159 182، 251 اعتقادات فرق المسلمين: 52 و 62. الخطط المقريزية: 2/ 351 - 352. وانظر كذلك كتاب: الكيسانية في التاريخ والأدب فهو كتاب قيم يحاول أن يستوفي كل ما قيل حول هذه الفرقة.

2 الكربية: المقالات والفرق: 26 - 27 و 170 الفرق بين الفرق: 32 التبصير: 34 الحور العين: 157 - 158 و 251 الخطط المقريزية: 2/ 354. وقد أوردها باسم: الكريبية.

3 رضوى: بفتح أوله وسكون ثانيه - جبل بالمدينة قال عرام بن الأصبغ: رضوى جبل من ينبع على مسيرة يوم ومن المدينة على سبع مراحل ميامنه طريق مكة ومياسره طريق البريراء لمن كان مصعدا من مكة … وهذا الجبل يزعم الكيسانية أن ابن محمد بن الحنفية به مفيم حي يرزق. انظر معجم البلدان.
কায়সানিয়া ১:

২ - তাদের মধ্যে দ্বিতীয় দলটি হলো কায়সানিয়া, যারা এগারোটি উপদলে বিভক্ত। তাদের কায়সানিয়া নামকরণের কারণ হলো মুখতার, যিনি বের হয়েছিলেন এবং হুসাইন বিন আলীর রক্তের বদলা চেয়েছিলেন এবং মুহাম্মাদ ইবনুল হানাফিয়্যাহর (ইমামতের) দিকে আহ্বান জানিয়েছিলেন; তাকে কায়সান বলা হতো। বলা হয়ে থাকে যে, তিনি আলী বিন আবু তালিব (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন)-এর আযাদকৃত দাস ছিলেন।

কায়সানিয়াদের প্রথম উপদল—যারা রাফেযীদের দ্বিতীয় দল—দাবি করে যে, আলী বিন আবু তালিব তাঁর পুত্র মুহাম্মাদ ইবনুল হানাফিয়্যাহর ইমামতের ব্যাপারে সুস্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিলেন, কারণ তিনি বসরার যুদ্ধে তাঁর হাতেই পতাকা তুলে দিয়েছিলেন।

৩ - রাফেযীদের তৃতীয় দল এবং কায়সানিয়াদের দ্বিতীয় উপদলটি দাবি করে যে, আলী বিন আবু তালিব তাঁর পুত্র হাসান বিন আলীর ইমামতের ব্যাপারে সুস্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিলেন; হাসান বিন আলী তাঁর ভাই হুসাইন বিন আলীর ইমামতের ব্যাপারে এবং হুসাইন বিন আলী তাঁর ভাই মুহাম্মাদ বিন আলীর ইমামতের ব্যাপারে নির্দেশ দিয়েছিলেন, আর তিনিই হলেন মুহাম্মাদ ইবনুল হানাফিয়্যাহ।

কারবিয়্যাহ ২:

৪ - রাফেযীদের চতুর্থ দল এবং কায়সানিয়াদের তৃতীয় উপদলটি হলো কারবিয়্যাহ, যারা আবু কারব আদ-দারীর-এর অনুসারী। তারা দাবি করে যে, মুহাম্মাদ ইবনুল হানাফিয়্যাহ রাযওয়া ৩ পাহাড়সমূহে জীবিত আছেন; তাঁর ডানে একটি সিংহ এবং বামে একটি চিতাবাঘ রয়েছে যারা তাঁকে পাহারা দেয়। তাঁর বের হওয়ার সময় না হওয়া পর্যন্ত সকাল-সন্ধ্যা তাঁর নিকট রিযিক পৌঁছে দেওয়া হয়। তারা আরও দাবি করে যে, তাঁর এই অবস্থায় ধৈর্য ধারণ করার এবং সৃষ্টিজগত থেকে অদৃশ্য থাকার কারণ হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত...

--------------------------------------------

১ কায়সানিয়া: আল-মাকালাত ওয়াল ফিরাক: ২১, ২৬-২৭, ৩৯, ৫০, ৫৬, ৬০, ৬৫ এবং ১৬৩; মুরুজুয যাহাব: ৩/৮৭; আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক: ৩১-৪১; আত-তাবসীর: ৩২; আল-মিলাল ওয়ান নিহাল: ১/১১৭-১২৩; আল-হুরুল ইন: ১৫৭-১৫৯, ১৮২, ২৫১; ইতিকাদাতু ফিরাকিল মুসলিমীন: ৫২ ও ৬২; আল-খিতাত আল-মাকরিজিয়্যাহ: ২/৩৫১-৩৫২। আরও দেখুন: আল-কায়সানিয়্যা ফিল তারিখ ওয়াল আদাব; এটি একটি মূল্যবান গ্রন্থ যাতে এই দল সম্পর্কে যা বলা হয়েছে তার সবকিছুই সংকলন করার চেষ্টা করা হয়েছে।

২ কারবিয়্যাহ: আল-মাকালাত ওয়াল ফিরাক: ২৬-২৭ ও ১৭০; আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক: ৩২; আত-তাবসীর: ৩৪; আল-হুরুল ইন: ১৫৭-১৫৮ ও ২৫১; আল-খিতাত আল-মাকরিজিয়্যাহ: ২/৩৫৪। সেখানে এটি আল-কুরাইবিয়্যাহ নামে উল্লেখ করা হয়েছে।

৩ রাযওয়া: মদীনার একটি পাহাড়। আররাম বিন আল-আসবাহ বলেন: রাযওয়া হলো ইয়ানবু থেকে একদিনের দূরত্বে এবং মদীনা থেকে সাত মনযিল দূরে অবস্থিত একটি পাহাড়। মক্কার দিকে যাওয়ার সময় পাহাড়টি ডানে এবং যারা মক্কা থেকে আরোহণ করে তাদের জন্য বুরাইরা যাওয়ার পথটি বামে পড়ে... কায়সানিয়ারা দাবি করে যে, ইবনে মুহাম্মাদ ইবনুল হানাফিয়্যাহ সেখানে অবস্থান করছেন এবং জীবিত অবস্থায় রিযিক পাচ্ছেন। দেখুন: মু'জামুল বুলদান।
(খণ্ড: ١) মাকালাতুল ইসলামিয়্যীন ত. যারযুর (পৃষ্ঠা: ٣٦)
تعالى فيه تدبيراً لا يعلمه غيره ومن القائلين بهذا القول كثير الشاعر وفي ذلك يقول1:

ألا إن الأئمة من قريش … ولاة الحق أربعة سواء

علي والثلاثة من بنيه … هم الأسباط ليس بهم خفاء

فسبط سبط إيمان وبر … وسبط غيبته كربلاء

وسبط لا يذوق الموت حتى … يقود الخيل يقدمها اللواء

تغيب لا يرى فيهم زماناً … برضوى عنده عسل وماء

5 - والفرقة الخامسة من الرافضة وهي الرابعة من الكيسانية يزعمون أن محمد بن الحنفية إنما جعل بجبال رضوى عقوبة لركونه إلى عبد الملك بن مران وبيعته إياه.

6 - والفرقة السادسة من الرافضة وهي الخامسة من الكيسانية يزعمون أن محمد بن الحنفية مات وأن الإمام بعده ابنه أبو هاشم عبد الله بن محمد بن الحنفية.

7 - .............. 2

8 - والفرقة الثامنة من الرافضة وهي السابعة من الكيسانية يزعمون أن الإمام بعد أبي هاشم عبد الله بن محمد بن الحنفية ابن أخيه الحسن بن محمد بن الحنفية وأن أبا هاشم أوصى إليه ثم أوصى الحسن إلى ابنه علي بن الحسن وهلك علي ولم يعقب فهم ينتظرون رجعة محمد بن الحنفية ويقولون أنه يرجع ويملك فهم اليوم في التيه لا إمام لهم إلى أن يرجع إليهم محمد بن الحنفية في زعمهم.

9 - والفرقة التاسعة من الرافضة وهي الثامنة من الكيسانية يزعمون أن الإمام بعد أبي هاشم محمد بن علي بن عبد الله بن العباس.

قالوا: وذلك أن أبا هاشم مات بأرض الشراة3 منصرفه من الشام فأوصى هناك إلى محمد بن علي بن عبد الله بن العباس وأوصى محمد بن علي إلى

--------------------------------------------

1 سيرة كثير عزة في: الشعر والشعراء: 524 مروج الذهب: 3/ 87 - 88 الفرق بين الفرق: 34 والملل والنحل: 120.

2 هنا بياض في الأصل المخطوط يتعلق بالفقرة السابعة.

3 الشراة: بشين مفتوحة موضع في بلاد الشام بين دمشق والمدينة المنورة من نواحيه: الحميمة قرية معروفة كان يسكنها أحفاد العباس بن عبد المطلب أيام حكم بني مروان معجم البلدان.
মহান আল্লাহ এতে এমন এক কৌশল অবলম্বন করেছেন যা তিনি ব্যতীত আর কেউ জানে না। এই মত পোষণকারীদের মধ্যে কবি কুসাইয়ির অন্যতম এবং এ সম্পর্কে তিনি বলেন:

সাবধান! নিশ্চয়ই ইমামগণ কুরাইশ বংশ থেকে … সত্যের চারজন অভিভাবক সমানভাবে।

আলী এবং তাঁর তিন পুত্র … তাঁরাই হলেন আসবাত (পৌত্রগণ), তাঁদের ব্যাপারে কোনো অস্পষ্টতা নেই।

একজন আসবাত হলেন ঈমান ও নেক আমলের অধিকারী … এবং অন্য আসবাতের অন্তর্ধান ঘটেছে কারবালায়।

আর একজন আসবাত মৃত্যু আস্বাদন করবেন না যতক্ষণ না … তিনি অশ্বারোহী বাহিনীর নেতৃত্ব দেবেন এবং তাঁর সামনে থাকবে পতাকা।

তিনি দীর্ঘকাল তাদের মধ্যে অদৃশ্য থাকবেন এবং দেখা দেবেন না … রাদওয়া পাহাড়ে তাঁর নিকট মধু ও পানি রয়েছে।

৫ - রাফেযীদের পঞ্চম দল এবং কায়সানিয়াদের চতুর্থ দল দাবি করে যে, মুহাম্মদ ইবনুল হানাফিয়াকে রাদওয়া পাহাড়ে রাখা হয়েছে শাস্তি হিসেবে, কারণ তিনি আবদুল মালিক ইবনে মারওয়ানের প্রতি ঝুঁকেছিলেন এবং তাঁর নিকট বায়আত গ্রহণ করেছিলেন।

৬ - রাফেযীদের ষষ্ঠ দল এবং কায়সানিয়াদের পঞ্চম দল দাবি করে যে, মুহাম্মদ ইবনুল হানাফিয়া মৃত্যুবরণ করেছেন এবং তাঁর পরবর্তী ইমাম হলেন তাঁর পুত্র আবু হাশিম আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল হানাফিয়া।

৭ - .............. ২

৮ - রাফেযীদের অষ্টম দল এবং কায়সানিয়াদের সপ্তম দল দাবি করে যে, আবু হাশিম আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল হানাফিয়ার পর ইমাম হলেন তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্র হাসান ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল হানাফিয়া। আবু হাশিম তাঁর নিকট অসিয়ত করে গিয়েছিলেন, অতঃপর হাসান তাঁর পুত্র আলী ইবনে হাসানের নিকট অসিয়ত করেন। আলী কোনো উত্তরসূরি না রেখেই মৃত্যুবরণ করেন। তাই তারা মুহাম্মদ ইবনুল হানাফিয়ার প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষা করছে এবং দাবি করছে যে, তিনি ফিরে আসবেন ও রাজত্ব করবেন। ফলে তারা বর্তমানে বিভ্রান্তিতে নিমজ্জিত এবং তাদের কোনো ইমাম নেই যতক্ষণ না তাদের দাবি অনুযায়ী মুহাম্মদ ইবনুল হানাফিয়া তাদের নিকট ফিরে আসেন।

৯ - রাফেযীদের নবম দল এবং কায়সানিয়াদের অষ্টম দল দাবি করে যে, আবু হাশিমের পরবর্তী ইমাম হলেন মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস।

তারা বলে: এর কারণ হলো আবু হাশিম সিরিয়া থেকে ফেরার পথে শারাত ৩ নামক স্থানে মৃত্যুবরণ করেন এবং সেখানে তিনি মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাসের নিকট অসিয়ত করেন এবং মুহাম্মদ ইবনে আলী অসিয়ত করেন...

--------------------------------------------

১ কুসাইয়ির আযযার জীবনী: আশ-শি'রু ওয়াশ-শুআরা: ৫২৪; মুরুজুয যাহাব: ৩/ ৮৭-৮৮; আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক: ৩৪ এবং আল-মিলাল ওয়ান নিহাল: ১২০।

২ এখানে মূল পাণ্ডুলিপিতে সপ্তম অনুচ্ছেদ সংক্রান্ত একটি শূন্যস্থান রয়েছে।

৩ শারাত: শীনের উপরে ফাতহা সহ, এটি সিরিয়ার একটি স্থান যা দামেস্ক ও মদীনার মাঝখানে অবস্থিত। এর পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে: আল-হুমাইমাহ নামক একটি সুপরিচিত গ্রাম, যেখানে বনু মারওয়ানের শাসনামলে আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিবের বংশধররা বাস করতেন। মু'জামুল বুলদান।
(খণ্ড: ١) মাকালাতুল ইসলামিয়্যীন ত. যারযুর (পৃষ্ঠা: ٣٧)
ابنه إبراهيم بن محمد ثم أوصى إبراهيم بن محمد إلى أبي العباس ثم أفضت الخلافة إلى أبي جعفر المنصور بوصية بعضهم إلى بعض.

الرواندية 1:

ثم رجع بعض هؤلاء عن هذا القول وزعموا أن النبي صلى الله عليه وسلم نص على العباس بن عبد المطلب ونصبه إماماً ثم نص العباس على إمامة ابنه عبد الله ونص عبد الله على إمامة ابنه علي بن عبد الله ثم ساقوا الإمامة إلى أن انتهوا بها إلى أبي جعفر المنصور وهؤلاء هم الراوندية.

الرزامية والأبو مسلمية 2:

وافترقت هذه الفرقة في أمر أبي مسلم على مقالتين: فزعمت فرقة منهم تدعى الرزامية أصحاب رجل يقال له رزام أن أبا مسلم قتل وقالت فرقة أخرى يقال لها أبو مسلمية: إن أبا مسلم حي لم يمت ويحكى عنهم استحلال لمالم يحلل لهم أسلافهم.

الحربية 3:

10 - والفرقة العاشرة من الرافضة وهي الحربية أصحاب عبد الله بن عمرو بن حرب وهي التاسعة من الكيسانية.

يزعمون أن أبا هاشم عبد الله بن محمد بن الحنفية نصب عبد الله بن عمرو بن حرب إماماً وتحولت روح أبي هاشم فيه ثم وقفوا على كذب عبد الله بن عمرو بن حرب فصاروا إلى المدينة يلتمسون إماماً فلقوا عبد الله بن معاوية بن عبد الله بن جعفر بن أبي طالب فدعاهم إلى أن يأتموا به فاستجابوا له ودانوا بإمامته وادعوا له الوصية وافترقوا في أمر عبد الله بم معاوية ثلاث فرق:

فزعمت فرقة منهم أنه قد مات.

وزعمت فرقة منهم أخرى أنه بجبال أصبهان وأنه لم يمت ولا يموت حتى يقود بنواصي الخيل إلى رجال من بني هاشم.

--------------------------------------------

1 الرواندية: المقالات والفرق: 40، 64، 69، 180 الفرق بين الفرق: 33 و 49 الحور العين: 153 و 260 اعتقادات فرق المسلمين: 63.

وانظر في الرد على ابن الرواندي كتاب: الانتصار لابن عثمان الخياط المعتزلي.

2 الرازمية: المقالات والفرق: 65 و 195 الملل والنحل: 1/ 123 الفرق الإسلامية: 46 - 47 التعريفات: 110 الخطط المقريزية: 2/ 253.

3 وردت سابقا انظر ص 26.
তাঁর পুত্র ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ, এরপর ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ আবুল আব্বাসের প্রতি ওসিয়ত করেন, অতঃপর একে অপরের ওসিয়তের মাধ্যমে খিলাফত আবু জাফর আল-মানসুরের নিকট পৌঁছে যায়।

রওয়ান্দিয়া ১:

অতঃপর তাদের মধ্য থেকে কেউ কেউ এই মত থেকে ফিরে আসেন এবং দাবি করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিবের ব্যাপারে সুস্পষ্ট নির্দেশ (নস) দিয়েছেন এবং তাঁকে ইমাম হিসেবে নিযুক্ত করেছেন। এরপর আব্বাস তাঁর পুত্র আব্দুল্লাহর ইমামতের ব্যাপারে নস দিয়েছেন, এবং আব্দুল্লাহ তাঁর পুত্র আলী ইবনে আব্দুল্লাহর ইমামতের ব্যাপারে নস দিয়েছেন। এরপর তারা ইমামতের এই ধারা অব্যাহত রাখে যতক্ষণ না তা আবু জাফর আল-মানসুর পর্যন্ত পৌঁছায়; এরাই হলো রওয়ান্দিয়া।

রিজামিয়া ও আবু মুসলিমিয়া ২:

আবু মুসলিমের বিষয়ে এই দলটি দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে: তাদের মধ্য থেকে রিজামিয়া নামক একটি দল—যারা রিজাম নামক জনৈক ব্যক্তির অনুসারী—দাবি করে যে আবু মুসলিম নিহত হয়েছেন। আর আবু মুসলিমিয়া নামক অপর একটি দল বলে: আবু মুসলিম জীবিত আছেন, তিনি মারা যাননি। আর তাদের সম্পর্কে এমন সব বিষয় হালাল করার কথা বর্ণনা করা হয় যা তাদের পূর্বপুরুষদের জন্য হালাল ছিল না।

হারবিয়া ৩:

১০ - রাফেজিদের দশম দলটি হলো হারবিয়া, যারা আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে হারবের অনুসারী এবং এটি কায়সানিয়াদের নবম উপদল।

তারা দাবি করে যে, আবু হাশিম আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল হানাফিয়্যাহ আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে হারবকে ইমাম হিসেবে নিযুক্ত করেছেন এবং আবু হাশিমের আত্মা তাঁর মধ্যে স্থানান্তরিত হয়েছে। পরবর্তীতে যখন তারা আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে হারবের মিথ্যাচার সম্পর্কে জানতে পারে, তখন তারা একজন ইমামের সন্ধানে মদিনায় যায়। সেখানে তারা আব্দুল্লাহ ইবনে মুয়াবিয়া ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর ইবনে আবি তালিবের সাক্ষাৎ পায়। তিনি তাদের তাঁর আনুগত্য করার আহ্বান জানান, ফলে তারা তাঁর আহ্বানে সাড়া দেয় এবং তাঁর ইমামতকে দ্বীন হিসেবে গ্রহণ করে। তারা তাঁর জন্য ওসিয়তের দাবি করে এবং আব্দুল্লাহ ইবনে মুয়াবিয়ার ব্যাপারে তারা তিন দলে বিভক্ত হয়ে পড়ে:

তাদের মধ্য থেকে এক দল দাবি করে যে তিনি মারা গেছেন।

তাদের অন্য একটি দল দাবি করে যে তিনি ইসফাহানের পাহাড়ে অবস্থান করছেন এবং তিনি মারা যাননি ও মরবেন না যতক্ষণ না তিনি বনী হাশিমের পুরুষদের বিরুদ্ধে অশ্বারোহী বাহিনীকে নেতৃত্ব দেবেন।

--------------------------------------------

১. রওয়ান্দিয়া: আল-মাক্বালাত ওয়াল ফিরাক্ব: ৪০, ৬৪, ৬৯, ১৮০; আল-ফারক্ব বাইনাল ফিরাক্ব: ৩৩ ও ৪৯; আল-হুরুল ইন: ১৫৩ ও ২৬০; ইতিক্বদাতু ফিরাকিল মুসলিমিন: ৬৩।

ইবনুর রওয়ান্দির খণ্ডনে মুতাজিলা আলেম ইবনে উসমান আল-খাইয়্যাত রচিত 'আল-ইনতিসার' বইটি দেখুন।

২. রিজামিয়া: আল-মাক্বালাত ওয়াল ফিরাক্ব: ৬৫ ও ১৯৫; আল-মিলাল ওয়ান নিহাল: ১/১২৩; আল-ফিরাকুল ইসলামিয়্যাহ: ৪৬-৪৭; আত-তা'রিফাত: ১১০; আল-খিতাত আল-মাক্বরিজিয়্যাহ: ২/২৫৩।

৩. এটি পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে, দেখুন পৃষ্ঠা ২৬।
(খণ্ড: ١) মাকালাতুল ইসলামিয়্যীন ত. যারযুর (পৃষ্ঠা: ٣٨)
وزعمت فرقة أخرى أنه حي بجبال أصبهان لم يمت ولا يموت حتى يلي أمور الناس وهو المهدي الذي

بشر به النبي صلى الله عليه وسلم.

البيانية 1:

11 - والصنف الحادي عشر من الرافضة وهي البيانية أصحاب بيان بن سمعان التميمي وهو الصنف العاشر من الكيسانية.

يزعمون أن أبا هاشم أوصى إلى بيان بن سمعان التميمي وأنه لم يكن له أن يوصي بها إلى عقبه.

12 - والصنف الثاني عشر من الرافضة وهو الحادي عشر من الكيسانية.

يزعمون أن الإمام بعد أبي هاشم عبد الله بن محمد بن الحنفية علي بن الحسين بن علي بن أبي طالب.

المغيرية 2:

13 - والصنف الثالث عشر من الرافضة وهم الذين يسوقون النص من النبي صلى الله عليه وسلم على إمامة علي حتى ينتهوا بها إلى علي بن الحسين وهم المغيرية أصحاب المغيرة بن سعيد.

يزعمون أن الإمام بعد علي بن الحسين ابنه محمد بن علي بن الحسين أبو جعفر وأن أبا جعفر أوصى إلى المغيرة بن سعيد فهم يأتمون به إلى أن يخرج المهدي والمهدي فيما زعموا هو محمد بن عبد الله بن الحسن ابن الحسن بن علي بن أبي طالب رضوان الله عليهم وزعموا أنه حي مقيم بجبال ناحية الحاجر3 وأنه لا يزال مقيماً هناك إلى أوان خروجه.

وإذا قلنا عن صنف أنهم يسوقون الإمامة إلى علي بن الحسين فإنما نعني الذين يقولون أن النبي صلى الله عليه وسلم نص على إمامة علي وأن علياً نص على إمامة الحسن وأن الحسن نص على إمامة الحسين وأن الحسين نص على إمامة علي بن الحسين.

14 - والصنف الرابع عشر من الرافضة يسوقون الإمامة من علي بن أبي طالب حتى ينتهوا بها إلى علي بن الحسين ثم يزعمون أن الإمام بعد علي بن الحسين

--------------------------------------------

1 وردت سابقا انظر ص 25.

2 وردت سابقا انظر ص 26.

3 الحاجر: بالجيم والراء وفي لغة العرب ما يمسك الماء من شفة الوادي وكذلك الحاجور وهو موضع قبل معدن النقرة.
অন্য একটি দল দাবি করে যে, তিনি ইসফাহানের পাহাড়ে জীবিত আছেন, তিনি মারা যাননি এবং মানুষের বিষয়াবলি পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার আগ পর্যন্ত মরবেন না। তিনি সেই মাহদি, যাঁর সুসংবাদ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দিয়েছেন।

আল-বায়ানিয়্যাহ ১:

১১ - রাফেজিদের একাদশ উপদল হলো বায়ানিয়্যাহ, যারা বায়ান ইবনে সামআন আত-তামিমির অনুসারী। এটি কায়সানিয়্যাহদের দশম উপদল।

তারা দাবি করে যে, আবু হাশিম বায়ান ইবনে সামআন আত-তামিমির প্রতি অসিয়ত করেছিলেন এবং তাঁর নিজের পরবর্তী বংশধরদের প্রতি তা অসিয়ত করার সুযোগ ছিল না।

১২ - রাফেজিদের দ্বাদশ উপদল, যারা কায়সানিয়্যাহদের একাদশ উপদল।

তারা দাবি করে যে, আবু হাশিম আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনুল হানাফিয়্যাহর পরে ইমাম হলেন আলি ইবনুল হুসাইন ইবনে আলি ইবনে আবি তালিব।

আল-মুগিরিয়্যাহ ২:

১৩ - রাফেজিদের ত্রয়োদশ উপদল হলো তারা, যারা আলি (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর ইমামতের বিষয়ে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর থেকে স্পষ্ট বর্ণনা উল্লেখ করে একে আলি ইবনুল হুসাইন পর্যন্ত নিয়ে পৌঁছে দেয়। তারা হলো মুগিরিয়্যাহ, যারা মুগিরা ইবনে সাঈদের অনুসারী।

তারা দাবি করে যে, আলি ইবনুল হুসাইনের পরে ইমাম হলেন তাঁর পুত্র মুহাম্মাদ ইবনে আলি ইবনুল হুসাইন আবু জাফর। আর আবু জাফর মুগিরা ইবনে সাঈদের প্রতি অসিয়ত করেছেন। তাই তারা মাহদির আবির্ভাব পর্যন্ত তাকে ইমাম মেনে অনুসরণ করে। তাদের দাবি মতে মাহদি হলেন মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনুল হাসান ইবনুল হাসান ইবনে আলি ইবনে আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)। তারা আরও দাবি করে যে, তিনি হাজের অঞ্চলের পাহাড়ে জীবিত ও অবস্থানরত আছেন এবং তাঁর আবির্ভাবের সময় পর্যন্ত তিনি সেখানেই অবস্থান করবেন।

আমরা যখন কোনো উপদল সম্পর্কে বলি যে তারা ইমামতের ধারাবাহিকতা আলি ইবনুল হুসাইন পর্যন্ত নিয়ে যায়, তখন আমাদের উদ্দেশ্য হলো তারা বলে যে—নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আলির ইমামতের বিষয়ে স্পষ্টভাবে বলে গেছেন, আলি হাসানের ইমামতের বিষয়ে বলে গেছেন, হাসান হুসাইনের ইমামতের বিষয়ে বলে গেছেন এবং হুসাইন আলি ইবনুল হুসাইনের ইমামতের বিষয়ে স্পষ্টভাবে বলে গেছেন।

১৪ - রাফেজিদের চতুর্দশ উপদল আলি ইবনে আবি তালিব থেকে ইমামতের ধারাবাহিকতা আলি ইবনুল হুসাইন পর্যন্ত নিয়ে আসে, তারপর তারা দাবি করে যে, আলি ইবনুল হুসাইনের পরে ইমাম হলেন...

--------------------------------------------

১ এটি আগে গত হয়েছে, দেখুন পৃষ্ঠা ২৫।

২ এটি আগে গত হয়েছে, দেখুন পৃষ্ঠা ২৬।

৩ হাজের: জিম ও রা বর্ণযোগে। আরবি ভাষায় এর অর্থ হলো যা উপত্যকার কিনারার পানি ধরে রাখে। একইভাবে হাজুর-ও একই অর্থ বহন করে; এটি মা'দান আন-নুকরাহ নামক স্থানের পূর্ববর্তী একটি স্থান।
(খণ্ড: ١) মাকালাতুল ইসলামিয়্যীন ত. যারযুর (পৃষ্ঠা: ٣٩)
أبو جعفر محمد بن علي وأن الإمام بعد أبي جعفر محمد بن عبد الله بن الحسن الخارج بالمدينة وزعموا أنه المهدي وأنكروا إمامة المغيرة بن سعد.

15 - والصنف الخامس عشر من الرافضة يسوقون الإمامة من علي حتى ينتهوا بها إلى علي بن الحسين ويزعمون أن علي بن الحسين نص على إمامة أبي جعفر محمد بن علي وأن أبا جعفر محمد بن علي أوصى إلى أبي منصور ثم اختلفوا فرقتين:

الحسينية 1:

فرقة يقال لها الحسينية يزعمون أن أبا منصور أوصى إلى ابنه الحسين بن أبي منصور وهو الإمام بعده.

المحمدية 2:

وفرقة أخرى يقال لها المحمدية مالت إلى تثبيت أمر محمد بن عبد الله بن الحسن وإلى القول بإمامته وقالوا: إنما أوصى أبو جعفر إلى أبي منصور دون بني هاشم كما أوصى موسى صلى الله عليه إلى يوشع بن نون3 دون ولده ودون ولد هارون ثم إن الأمر بعد أبي منصور راجع إلى ولد علي كما رجع الأمر بعد يوشع بن نون إلى ولد هارون.

قالوا: وإنما أوصى موسى عليه السلام إلى يوشع بن نون دون ولده ودون ولد هارون لئلا يكون بين البطنين اختلاف فيكون يوشع هو الذي يدل على صاحب الأمر فكذلك أبو جعفر أوصى إلى أبي منصور وزعموا أن أبا منصور قال: إنما أنا مستودع وليس لي أن أضعها في غيري ولكن القائم هو محمد بن عبد الله.

الناوسية 4:

16 - والصنف السادس عشر من الرافضة يسوقون الإمامة إلى أبي جعفر

--------------------------------------------

1 الحسينية: المقالات والفرق: 74 الحور العين: 156 - 157، 169، 252 و 259. اعتقادات فرق المسلمين: 45.

2 المحمدية: المقالات والفرق: 59، 61، 192 الفرق بين الفرق: 43 - 45 التبصير: 39 و 109 - 110.

3 يوشع بن نون: هو صاحب موسى عليه السلام وفتاه الذي ردت له الشمس. تاج العروس مادة: وش ع.

4 الناوسية: المقالات والفرق: 80، 212 الفرق بين الفرق: 46 التبصير: 40 الملل والنحل: 1/ 134 الحور العين: 162 و 251.
আবু জাফর মুহাম্মদ বিন আলী এবং (তারা দাবি করে যে) আবু জাফর মুহাম্মদ বিন আলীর পরে ইমাম হলেন মদীনায় বিদ্রোহকারী মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন হাসান। তারা দাবি করে যে তিনিই হলেন মাহদী এবং তারা মুগীরাহ বিন সা'দের ইমামতকে অস্বীকার করে।

১৫ - রাফেজীদের পঞ্চদশ দলটি আলীর মাধ্যমে ইমামতের ধারা বর্ণনা করে আলী বিন হুসাইন পর্যন্ত পৌঁছায়। তারা দাবি করে যে, আলী বিন হুসাইন আবু জাফর মুহাম্মদ বিন আলীর ইমামতের ব্যাপারে সুস্পষ্ট নির্দেশ প্রদান করেছেন এবং আবু জাফর মুহাম্মদ বিন আলী আবু মনসুরের প্রতি ওসিয়ত করেছেন। এরপর তারা দুই উপদলে বিভক্ত হয়ে যায়:

হুসাইনিইয়াহ ১:

একটি উপদলকে হুসাইনিইয়াহ বলা হয়। তারা দাবি করে যে, আবু মনসুর তার পুত্র হুসাইন বিন আবু মনসুরের প্রতি ওসিয়ত করেছিলেন এবং তিনিই তার পরবর্তী ইমাম।

মুহাম্মাদিয়াহ ২:

অন্য আরেকটি উপদলকে মুহাম্মাদিয়াহ বলা হয়। তারা মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন হাসানের বিষয়টি প্রতিষ্ঠিত করার এবং তার ইমামতের মতের দিকে ঝুঁকে পড়ে। তারা বলে: আবু জাফর বনু হাশেমের কাউকে ছেড়ে আবু মনসুরের প্রতি ওসিয়ত করেছিলেন, ঠিক যেমন মূসা (সা.) ইউশা বিন নুন ৩-এর প্রতি ওসিয়ত করেছিলেন নিজের সন্তান ও হারুনের সন্তানদের বাদ দিয়ে। অতঃপর আবু মনসুরের পর বিষয়টি আলীর বংশধরদের কাছে ফিরে যাবে, যেমন ইউশা বিন নুনের পর বিষয়টি হারুনের বংশধরদের কাছে ফিরে গিয়েছিল।

তারা বলে: মূসা (আ.) তার নিজের সন্তান ও হারুনের সন্তানদের বাদ দিয়ে ইউশা বিন নুনের প্রতি ওসিয়ত করেছিলেন যেন দুই বংশের মধ্যে কোনো মতভেদ সৃষ্টি না হয়; ফলে ইউশা-ই হবেন সেই ব্যক্তি যিনি পরবর্তী নেতার সন্ধান দেবেন। ঠিক তেমনি আবু জাফর আবু মনসুরের প্রতি ওসিয়ত করেছিলেন। তারা দাবি করে যে, আবু মনসুর বলেছিলেন: "আমি কেবল আমানত রক্ষাকারী মাত্র, অন্য কারো কাছে এটি অর্পণ করার অধিকার আমার নেই, বরং কায়েম (নেতা) হলেন মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ।"

নাওসিয়াহ ৪:

১৬ - রাফেজীদের ষোড়শ দলটি ইমামতের ধারাকে আবু জাফর পর্যন্ত নিয়ে যায়।

--------------------------------------------

১ হুসাইনিইয়াহ: আল-মাকালাত ওয়াল ফিরাক: ৭৪; আল-হুরুল ইন: ১৫৬ - ১৫৭, ১৬৯, ২৫২ ও ২৫৯; ইতিকাদাতু ফিরাকিল মুসলিমিন: ৪৫।

২ মুহাম্মাদিয়াহ: আল-মাকালাত ওয়াল ফিরাক: ৫৯, ৬১, ১৯২; আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক: ৪৩ - ৪৫; আত-তাবসির: ৩৯ ও ১০৯ - ১১০।

৩ ইউশা বিন নুন: তিনি মূসা আলাইহিস সালামের সঙ্গী এবং তার সেই যুবক ভৃত্য যার জন্য সূর্যকে থামিয়ে দেয়া হয়েছিল। তাজুল আরুস, মূলশব্দ: ওয়া-শিন-আইন।

৪ নাওসিয়াহ: আল-মাকালাত ওয়াল ফিরাক: ৮০, ২১২; আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক: ৪৬; আত-তাবসির: ৪০; আল-মিলাল ওয়ান নিহাল: ১/১৩৪; আল-হুরুল ইন: ১৬২ ও ২৫১।
(খণ্ড: ١) মাকালাতুল ইসলামিয়্যীন ত. যারযুর (পৃষ্ঠা: ٤٠)
محمد بن علي وأن أبا جعفر نص على إمامة جعفر بن محمد وأن جعفر بن محمد حي لم يمت ولا يموت حتى يظهر أمره وهو القائم المهدي.

وهذه الفرقة تسمى الناوسية لقبوا برئيس لهم يقال له عجلان بن ناوس من أهل البصرة.

17 - والصنف السابع عشر من الرافضة يزعمون أن جعفر بن محمد مات وأن الإمام بعد جعفر ابنه إسماعيل وأنكروا أن يكون إسماعيل مات في حياة أبيه وقالوا: لا يموت حتى يملك لأن أباه قد كان يخبر أنه وصيه والإمام بعده.

القرامطة 1:

18 - والصنف الثامن عشر من الرافضة وهم القرامطة.

يزعمون أن النبي صلى الله عليه وسلم نص على علي بن أبي طالب وأن علياً نص على إمامة ابنه الحسن وأن الحسن بن علي نص على إمامة أخيه الحسين بن علي وأن الحسين بن علي نص على إمامة ابنه علي بن الحسين وأن علي بن الحسين نص على إمامة ابنه محمد بن علي ونص محمد بن علي على إمامة ابنه جعفر ونص جعفر على إمامة ابن ابنه محمد بن إسماعيل وزعموا أن محمد بن إسماعيل حي إلى اليوم لم يمت ولا يموت حتى يملك الأرض وأنه هو المهدي الذي تقدمت البشارة به واحتجوا في ذلك بأخبار رووها عن أسلافهم يخبرون فيها أن سابع الأئمة قائمهم.

المباركية 2:

19 - والصنف التاسع عشر من الرافضة يسوقون الإمامة من علي بن أبي طالب على سبيل ما حكينا عن القرامطة حتى ينتهوا بها إلى جعفر بن محمد ويزعمون أن جعفر بن محمد جعلها لإسماعيل ابنه دون سائر ولده فلما مات إسماعيل في حياة أبيه صارت في ابنه محمد بن إسماعيل.

وهذا الصنف يدعون المباركية نسبوا إلى رئيس لهم يقال له المبارك وزعموا أن محمد بن إسماعيل قد مات وأنها في ولده من بعده.

--------------------------------------------

1 القرامطة: المقالات والفرق: 83، 86، 218 التنبيه: 19 الحور العين: 200 اعتقادات فرق المسلمين: 79.

2 المباركية: المقالات والفرق: 81، 83، 217 الفرق بين الفرق: 48 التبصير: 24 الحور العين: 162 - 163، 252 اعتقادات فرق المسلمين: 54.
মুহাম্মদ বিন আলি; আর আবু জাফর, জাফর বিন মুহাম্মদের ইমামতের বিষয়ে সুনিশ্চিত নির্দেশ প্রদান করেছেন। জাফর বিন মুহাম্মদ জীবিত, তিনি মৃত্যুবরণ করেননি এবং তাঁর মিশন প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত তিনি মৃত্যুবরণ করবেন না; তিনিই হলেন কায়েম মাহদী।

এই দলটিকে নাউসিয়্যাহ বলা হয়; বসরার অধিবাসী আজলান বিন নাউস নামক তাদের এক নেতার নামে তাদের এই নামকরণ করা হয়েছে।

১৭ - রাফেজীদের সতেরোতম শ্রেণিটি দাবি করে যে, জাফর বিন মুহাম্মদ মৃত্যুবরণ করেছেন এবং জাফরের পর তাঁর পুত্র ইসমাইল ইমাম হয়েছেন। তারা ইসমাইল তাঁর পিতার জীবদ্দশায় মারা গেছেন বলে অস্বীকার করে এবং তারা বলে: তিনি রাজত্ব লাভ না করা পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করবেন না, কারণ তাঁর পিতা সংবাদ দিয়েছিলেন যে তিনিই তাঁর স্থলাভিষিক্ত এবং তাঁর পরবর্তী ইমাম।

কারামিতা ১:

১৮ - রাফেজীদের আঠারোতম শ্রেণি হলো কারামিতা।

তারা দাবি করে যে, নবী (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) আলি বিন আবি তালিবের ইমামতের বিষয়ে সুনিশ্চিত নির্দেশ প্রদান করেছেন। আর আলি তাঁর পুত্র হাসানের ইমামতের বিষয়ে, হাসান বিন আলি তাঁর ভাই হুসাইন বিন আলির ইমামতের বিষয়ে, হুসাইন বিন আলি তাঁর পুত্র আলি বিন হুসাইনের ইমামতের বিষয়ে, আলি বিন হুসাইন তাঁর পুত্র মুহাম্মদ বিন আলির ইমামতের বিষয়ে, মুহাম্মদ বিন আলি তাঁর পুত্র জাফরের ইমামতের বিষয়ে এবং জাফর তাঁর পৌত্র মুহাম্মদ বিন ইসমাইলের ইমামতের বিষয়ে সুনিশ্চিত নির্দেশ প্রদান করেছিলেন। তারা আরও দাবি করে যে, মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আজ অবধি জীবিত আছেন, তিনি মৃত্যুবরণ করেননি এবং পৃথিবী শাসন না করা পর্যন্ত তিনি মৃত্যুবরণ করবেন না। তিনিই সেই মাহদী যার সুসংবাদ পূর্বে প্রদান করা হয়েছে। তারা এই বিষয়ে তাদের পূর্বসূরিদের থেকে বর্ণিত কিছু সংবাদের মাধ্যমে দলিল পেশ করে, যেখানে তারা বর্ণনা করে যে ইমামগণের মধ্যে সপ্তম ইমামই হবেন তাদের 'কায়েম'।

মুবারকিয়্যাহ ২:

১৯ - রাফেজীদের উনিশতম শ্রেণিটি ইমামতের ধারাকে আলি বিন আবি তালিব থেকে শুরু করে কারামিতাদের অনুরূপ বর্ণনায় জাফর বিন মুহাম্মদ পর্যন্ত নিয়ে পৌঁছায়। তারা দাবি করে যে, জাফর বিন মুহাম্মদ তাঁর অন্য সকল সন্তানদের বাদ দিয়ে শুধু তাঁর পুত্র ইসমাইলের জন্য ইমামত নির্দিষ্ট করেছিলেন। অতঃপর যখন ইসমাইল তাঁর পিতার জীবদ্দশায় মারা যান, তখন ইমামত তাঁর পুত্র মুহাম্মদ বিন ইসমাইলের ওপর বর্তায়।

এই শ্রেণিটিকে মুবারকিয়্যাহ বলা হয়; মুবারক নামক তাদের এক নেতার দিকে সম্বন্ধ করে তাদের এই নামকরণ করা হয়েছে। তারা দাবি করে যে, মুহাম্মদ বিন ইসমাইল মারা গেছেন এবং ইমামত তাঁর পরবর্তী বংশধরদের মাঝে বিদ্যমান।

--------------------------------------------

১ কারামিতা: আল-মাকালাত ওয়াল-ফিরাক: ৮৩, ৮৬, ২১৮; আত-তানবিহ: ১৯; আল-হুরুল ইন: ২০০; ইতিকাদাতু ফিরাকিল মুসলিমিন: ৭৯।

২ মুবারকিয়্যাহ: আল-মাকালাত ওয়াল-ফিরাক: ৮১, ৮৩, ২১৭; আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক: ৪৮; আত-তাবসির: ২৪; আল-হুরুল ইন: ১৬২-১৬৩, ২৫২; ইতিকাদাতু ফিরাকিল মুসলিমিন: ৫৪।
(খণ্ড: ١) মাকালাতুল ইসলামিয়্যীন ত. যারযুর (পৃষ্ঠা: ٤١)
السميطية 1:

20 - والصنف العشرون من الرافضة يسوقون الإمامة من علي على ما حكينا عمن تقدمهم حتى ينتهوا بها إلى جعفر بن محمد ويزعمون أن الإمام بعد جعفر محمد بن جعفر ثم هي في ولده من بعده. وهم السميطية نسبوا إلى رئيس لهم يقال له يحيى بن أبي سميط.

العمارية "الفطحية" 2:

21 - والصنف الحادي والعشرون من الرافضة يسوقون الإمامة من علي إلى جعفر بن محمد على ما حكينا عمن تقدم شرحنا لقوله آنفاً ويزعمون أن الإمام بعد جعفر ابنه عبد الله بن جعفر وكان أكبر من خلف من ولده وهي في ولده.

وأصحاب هذه المقالة يدعون العمارية نسبوا إلى رئيس لهم يعرف بعمار ويدعون الفطحية3 لأن عبد الله بن جعفر كان أفطح الرجلين وأهل هذه المقالة يرجعون إلى عدد كثير.

الزرارية التيمية 4:

فأما زرارة فإن جماعة من العمارية تدعي أنه كان على مقالتها وأنه لم يرجع عنها وزعم بعضهم أنه رجع عن ذلك حين سأل عبد الله بن جعفر عن مسائل لم يجد عنده جوابها وصار إلى الائتمام بموسى بن جعفر بن محمد.

وأصحاب زرارة يدعون الزرارية ويدعون التميمية.

--------------------------------------------

1 السميطية: المقالات والفرق: 87، 224 الفرق بين الفرق: 46 وذكرها تحت اسم الشميطية وكذلك في التبصير: 40 وفي الملل والنحل: 1/ 134 وفي الحور العين: 163 وفي اعتقادات فرق المسلمين: 54 الشمطية.

2 العمارية: الفرق بين الفرقك 47 التبصير 40 - 41 الملل والنحل: 1/ 134 وذكرها تحت اسم: الأفطحية اعتقادات فرق المسلمين: 54 تحت اسم العمادية.

3 الأفطح: يقال: رجل أفطح الرجل وأفدع الرجل إذا اعوجت رجله حتى ينقلب قدمها إلى أنسيها. وقيل: هو أن يكون سيره على ظهر قدمه وقيل: هو أن يرتفع أخمص قدمه حتى لو وطئ عصفورا ما آذاه. وقيل: هو من تعوج مفاصله حتى كأنها زالت عن مواضعها.

4 الزرارية: الفرق بين الفرق: 52 الملل والنحل: 1/ 135 في الحديث عن الموسوية الحور العين: 164، منهاج السنة النبوية: 1/ 207، التعريفات: 114، الخطط المقريزية: 2/ 353.
সুমাইতিয়্যাহ ১:

২০ - রাফেযীদের বিংশতম দলটি আলীর মাধ্যমে ইমামতের সিলসিলা বর্ণনা করে যেভাবে আমরা তাদের পূর্ববর্তীদের থেকে বর্ণনা করেছি, শেষ পর্যন্ত তারা তা জাফর বিন মুহাম্মাদ পর্যন্ত নিয়ে যায় এবং দাবি করে যে, জাফরের পরে ইমাম হলেন মুহাম্মাদ বিন জাফর, অতঃপর তার পরবর্তী বংশধরদের মধ্যে তা ইমামত অব্যাহত থাকবে। তারা হলো সুমাইতিয়্যাহ, তাদের একজন নেতার দিকে সম্বন্ধ করে তাদের এই নামকরণ করা হয়েছে যাকে ইয়াহইয়া বিন আবু সুমাইত বলা হয়।

আম্মারিয়্যাহ "ফাতহিয়্যাহ" ২:

২১ - রাফেযীদের একুশতম দলটি আলীর মাধ্যমে জাফর বিন মুহাম্মাদ পর্যন্ত ইমামতের সিলসিলা নিয়ে যায়, যেভাবে আমরা ইতিপূর্বে তাদের বক্তব্য ব্যাখ্যা করে বর্ণনা করেছি। তারা দাবি করে যে, জাফরের পরে ইমাম হলেন তার পুত্র আবদুল্লাহ বিন জাফর, যিনি তার রেখে যাওয়া সন্তানদের মধ্যে জ্যেষ্ঠ ছিলেন এবং ইমামত তার সন্তানদের মধ্যেই থাকবে।

এই মতবাদের অনুসারীদের আম্মারিয়্যাহ বলা হয়, কারণ তাদের আম্মার নামক একজন নেতার দিকে সম্বন্ধ করা হয়। তাদের ফাতহিয়্যাহ-ও বলা হয়৩ কারণ আবদুল্লাহ বিন জাফরের দুই পা চ্যাপ্টা (আফতাহ) ছিল। এই মতবাদের অনুসারীদের সংখ্যা অনেক বেশি।

যুরারিয়্যাহ তায়মিয়্যাহ ৪:

যুরারার ব্যাপারে আম্মারিয়্যাহদের একটি দল দাবি করে যে, তিনি তাদের মতবাদের ওপরই ছিলেন এবং তা থেকে ফিরে আসেননি। তবে তাদের মধ্যে কেউ কেউ দাবি করেন যে, তিনি সেই মতবাদ থেকে ফিরে এসেছিলেন যখন তিনি আবদুল্লাহ বিন জাফরকে এমন কিছু বিষয়ে প্রশ্ন করেছিলেন যার উত্তর তিনি তার কাছে পাননি। তখন তিনি মুসা বিন জাফর বিন মুহাম্মাদের ইমামতের অনুসারী হয়ে যান।

যুরারার অনুসারীদের যুরারিয়্যাহ বলা হয় এবং তাদের তামিমিয়্যাহ-ও বলা হয়।

--------------------------------------------

১ সুমাইতিয়্যাহ: আল-মাকালাত ওয়াল ফিরাক: ৮৭, ২২৪; আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক: ৪৬, সেখানে এটি শুমাইতিয়্যাহ নামে উল্লেখ করা হয়েছে; একইভাবে আত-তাবসির: ৪০; আল-মিলাল ওয়ান নিহাল: ১/১৩৪; আল-হুরুল ইন: ১৬৩; এবং ইতিকাদাতু ফিরাকিল মুসলিমিন: ৫৪-তে শামতিয়্যাহ হিসেবে উল্লেখ আছে।

২ আম্মারিয়্যাহ: আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক: ৪৭; আত-তাবসির: ৪০-৪১; আল-মিলাল ওয়ান নিহাল: ১/১৩৪, যেখানে এটি আল-ফাতহিয়্যাহ নামে উল্লেখ আছে; ইতিকাদাতু ফিরাকিল মুসলিমিন: ৫৪-তে আল-আমাদিয়্যাহ নামে উল্লেখ আছে।

৩ আল-আফতাহ: বলা হয়, কোনো ব্যক্তি 'আফতাহুর রিজল' বা 'আফদাউর রিজল' তখন হয় যখন তার পা বেঁকে যায় এবং পায়ের পাতা ভেতরের দিকে উল্টে থাকে। বলা হয় যে, এটি হলো পায়ের পিঠের ওপর ভর দিয়ে হাঁটা। আবার বলা হয় যে, এটি হলো পায়ের তালুর মাঝখানের অংশ এতোটা উঁচুতে থাকা যে যদি সে কোনো চড়ুই পাখির ওপরও পা রাখে তবে তার কোনো ক্ষতি হবে না। আবার কেউ বলেন, এটি হলো হাড়ের জোড়াগুলো এমনভাবে বেঁকে যাওয়া যেন মনে হয় সেগুলো নিজ স্থান থেকে বিচ্যুত হয়ে গেছে।

৪ যুরারিয়্যাহ: আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক: ৫২; আল-মিলাল ওয়ান নিহাল: ১/১৩৫, আল-মুসাবিয়্যাহ প্রসঙ্গে আলোচনার অধীনে; আল-হুরুল ইন: ১৬৪; মিনহাজুস সুন্নাহ আন-নাবাউইয়্যাহ: ১/২০৭; আত-তারিফাত: ১১৪; আল-খিতাতুল মাকরিজিয়্যাহ: ২/৩৫৩।
(খণ্ড: ١) মাকালাতুল ইসলামিয়্যীন ত. যারযুর (পৃষ্ঠা: ٤٢)
الواقفة "الممطورة" 1:

22 - والصنف الثاني والعشرون من الرافضة يسوقون الإمامة حتى ينتهوا بها إلى جعفر بن محمد ويزعمون أن جعفر بن محمد نص على إمامة ابنه موسى بن جعفر وأن موسى بن جعفر حي لم يمت ولا يموت حتى يملك شرق الأرض وغربها حتى يملأ الأرض عدلاً وقسطاً كما ملئت ظلماً وجوراً.

وهذا الصنف يدعون الواقفة لأنهم وقفوا على موسى بن جعفر ولم يجاوزوه إلى غيره.

وبعض مخالفي هذه الفرقة يدعوهم الممطورة وذلك أن رجلاً منهم ناظر يونس بن عبد الرحمن ويونس من القطعية الذين قطعوا على موت موسى بن جعفر فقال له يونس: أنتم أهون علي من الكلاب الممطورة فلزمهم هذا النبز.

الموسائية "المفضلية" 2:

والقائلون بإمامة موسى بن جعفر يدعون الموسائية لقولهم بإمامة موسى بن جعفر ويدعون المفضلية لأنهم نسبوا إلى رئيس لهم يقال له المفضل بن عمر وكان ذا قدر فيهم.

وفرقة من الموسائية وقفوا في أمر موسى بن جعفر فقالوا: لا ندري أمات أم لم يمت إلا أنا مقيمون على إمامته حتى يضح لنا أمر غيره وإن وضحت لنا إمامة غيره كما وضحت لنا إمامته قلنا بذلك وأنقدنا له.

وقد ذكرنا قول القطعية الذين قطعوا على موت موسى بن جعفر في أول ذكرنا لأقاويل الرافضة وشرحنا ذلك وتبيناه.

23 - والصنف الثالث والعشرون من الرافضة: يسوقون الإمامة من علي إلى موسى بن جعفر كما حكينا من قول المتقدمين غير أنهم يقولون أن موسى بن جعفر نص على إمامة ابنه أحمد بن موسى بن جعفر.

والصنف الرابع والعشرون من الرافضة: يزعمون أن النبي صلى الله عليه وسلم نص على

--------------------------------------------

1 الواقفة: المقالات والفرق: 62، 90، 93، 106 و 236، التبصير: 57 تحت اسم الواقفية، الملل والنحل: 1/ 135 الحور العين: 164، 175، 251.

2 الموسائية: الفرق بين الفرق: 47 وقد ذكرها تحت اسم الموسوية كذلك في التبصير: 41 والملل والنحل 1/ 135 أما في الحور العين فقد ذكرها باسم المفضلية في ص: 167 - 168، 253، 259 اعتقادات فرق المسلمين: 55 الموسوية.
আল-ওয়াকিফাহ "আল-মামতুরাহ" ১:

২২ - রাফেজীদের বাইশতম দলটি ইমামতের ধারাকে জাফর ইবনে মুহাম্মদ পর্যন্ত নিয়ে যান এবং তারা দাবি করেন যে, জাফর ইবনে মুহাম্মদ তাঁর পুত্র মুসা ইবনে জাফরের ইমামতের ব্যাপারে সুস্পষ্ট নির্দেশ প্রদান করেছেন। তারা আরও দাবি করে যে, মুসা ইবনে জাফর জীবিত আছেন, তিনি মৃত্যুবরণ করেননি এবং পৃথিবীর পূর্ব ও পশ্চিমের অধিপতি হওয়ার আগে তিনি মৃত্যুবরণ করবেন না। তিনি পৃথিবীকে ন্যায় ও ইনসাফ দ্বারা পূর্ণ করে দেবেন, যেভাবে তা ইতিপূর্বে অন্যায় ও জুলুমে পূর্ণ হয়েছিল।

এই দলটিকে 'ওয়াকিফাহ' (স্থির থাকা দল) বলা হয়, কারণ তারা মুসা ইবনে জাফরের ইমামতের ওপর এসে স্থির হয়ে গেছেন এবং তাঁকে অতিক্রম করে অন্য কারোর দিকে ধাবিত হননি।

এই ফেরকার বিরোধীদের কেউ কেউ তাদের 'মামতুরাহ' (বৃষ্টিভেজা) বলে অভিহিত করে। এর কারণ হলো, তাদের এক ব্যক্তি ইউনুস ইবনে আবদুর রহমানের সাথে বিতর্ক করেছিলেন। ইউনুস ছিলেন 'কাতইয়্যাহ' (নিশ্চিতকারী) দলের অন্তর্ভুক্ত, যারা মুসা ইবনে জাফরের মৃত্যুর ব্যাপারে নিশ্চিত ছিলেন। তখন ইউনুস তাকে বলেছিলেন: "তোমরা আমার কাছে বৃষ্টিভেজা কুকুরের চেয়েও তুচ্ছ।" এরপর থেকেই এই উপনামটি তাদের সাথে যুক্ত হয়ে যায়।

আল-মুসাইয়্যাহ "আল-মুফাদ্দালিয়্যাহ" ২:

মুসা ইবনে জাফরের ইমামতের প্রবক্তাদের 'মুসাইয়্যাহ' বলা হয় মুসা ইবনে জাফরের ইমামতের কথা বলার কারণে। আর তাদের 'মুফাদ্দালিয়্যাহ' বলা হয় কারণ তারা তাদের জনৈক নেতার দিকে নিজেদের সম্বন্ধ করে, যার নাম ছিল মুফাদদাল ইবনে উমর; তিনি তাদের মাঝে অত্যন্ত মর্যাদাবান ছিলেন।

মুসাইয়্যাহদের একটি দল মুসা ইবনে জাফরের ব্যাপারে সংশয়ে পড়েছিলেন; তারা বলেছিলেন: "আমরা জানি না তিনি মারা গেছেন কি না, তবে আমরা তাঁর ইমামতের ওপরই অটল থাকব যতক্ষণ না আমাদের কাছে অন্য কারো ইমামত স্পষ্ট হয়। আর যদি আমাদের কাছে অন্য কারো ইমামত স্পষ্ট হয় যেমনটি তাঁর ইমামত আমাদের কাছে স্পষ্ট হয়েছিল, তবে আমরা তা মেনে নেব এবং তাঁর আনুগত্য স্বীকার করব।"

আমরা রাফেজীদের মতবাদ বর্ণনার শুরুতে সেই 'কাতইয়্যাহ'দের কথা উল্লেখ করেছি যারা মুসা ইবনে জাফরের মৃত্যুর ব্যাপারে নিশ্চিত ছিলেন এবং আমরা তা বিস্তারিত ব্যাখ্যা ও স্পষ্ট করেছি।

২৩ - রাফেজীদের তেইশতম দল: তারা পূর্ববর্তীদের বর্ণনার ন্যায় আলী থেকে মুসা ইবনে জাফর পর্যন্ত ইমামতের ধারা বর্ণনা করেন। তবে তারা বলেন যে, মুসা ইবনে জাফর তাঁর পুত্র আহমদ ইবনে মুসা ইবনে জাফরের ইমামতের ব্যাপারে সুস্পষ্ট নির্দেশ দিয়ে গেছেন।

রাফেজীদের চব্বিশতম দল: তারা দাবি করে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নির্দেশ দিয়েছেন...

--------------------------------------------

১ আল-ওয়াকিফাহ: আল-মাকালাত ওয়াল-ফিরাক: ৬২, ৯০, ৯৩, ১০৬ এবং ২৩৬; আত-তাবসির: ৫৭ (আল-ওয়াকিফিয়্যাহ নামে), আল-মিলাল ওয়ান-নিহাল: ১/১৩৫; আল-হুরুল ইন: ১৬৪, ১৭৫, ২৫১।

২ আল-মুসাইয়্যাহ: আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক: ৪৭; এবং এটি আত-তাবসির: ৪১ ও আল-মিলাল ওয়ান-নিহাল ১/১৩৫-এ 'আল-মুসাওইয়্যাহ' নামেও উল্লিখিত হয়েছে। তবে আল-হুরুল ইন-এ ১৬৭-১৬৮, ২৫৩, ২৫৯ পৃষ্ঠায় একে 'আল-মুফাদ্দালিয়্যাহ' নামে উল্লেখ করা হয়েছে। ইতিকাদাতু ফিরাকিল মুসলিমিন: ৫৫, আল-মুসাওইয়্যাহ।
(খণ্ড: ١) মাকালাতুল ইসলামিয়্যীন ত. যারযুর (পৃষ্ঠা: ٤٣)
علي وأن علياً نص على الحسن بن علي ثم انتهت الإمامة إلى محمد بن الحسن بن علي بن محمد بن علي بن موسى بن جعفر كما حكينا عن أول فرقة من الرافضة ويزعمون أن محمد بن الحسن بعده إمام هو القائم الذي يظهر فيملأ الدنيا عدلاً ويقمع الظلم والأولون قالوا أن محمد بن الحسن هو القائم الذي يظهر فيملأ الدنيا عدلاً كما ملئت ظلماً وجوراً.

واختلفت الروافض القائلون بإمامة محمد بن علي بن موسى بن جعفر لتقارب سنه ضرباً من الإختلاف آخر وذلك أن أباه توفي وهو ابن ثماني سنين - وقال بعضهم: بل توفي وله أربع سنين - هل كان في تلك الحال إماماً واجب الطاعة على مقالتين: فزعم بعضهم أنه كان في تلك الحال إماماً واجب الطاعة عالماً بما يعلمه الأئمة من الأحكام وجميع أمور الدنيا يجب الائتمام والاقتداء به كما وجب الائتمام والاقتداء بسائر الأئمة من قبله.

وزعم بعضهم أنه كان في تلك الحال إماماً على معنى أن الأمر كان فيه وله دون الناس وعلى أنه لا يصلح لذلك الموضع في ذلك الوقت أحد غيره وأما أن يكون اجتمع فيه في تلك الحال ما اجتمع في غيره من الأئمة المتقدمين فلا وزعموا أنه لم يكن يجوز في تلك الحال أن يؤمهم ولكن الذي يتولى الصلاة لهم وينفذ أحكامهم في ذلك الوقت غيره من أهل الفقه والدين والصلاح إلى أن يبلغ المبلغ الذي يصلح هذا فيه.

تم الكلام في الغلاة والإمامية.
আলী এবং আলী হাসান বিন আলীকে স্থলাভিষিক্ত করার নির্দেশ দিয়েছিলেন, অতঃপর ইমামত মুহাম্মদ বিন হাসান বিন আলী বিন মুহাম্মদ বিন আলী বিন মুসা বিন জাফরের কাছে গিয়ে পৌঁছেছে, যেমনটি আমরা রাফেজিদের প্রথম ফেরকার বর্ণনায় উল্লেখ করেছি। তারা দাবি করে যে, মুহাম্মদ বিন হাসান তার পরে ইমাম এবং তিনিই সেই কায়েম যিনি আবির্ভূত হবেন এবং পৃথিবী ইনসাফ দিয়ে পূর্ণ করে দেবেন ও জুলুম দমন করবেন। পূর্ববর্তীরা বলেছিল যে, মুহাম্মদ বিন হাসানই সেই কায়েম যিনি আবির্ভূত হবেন এবং পৃথিবীকে তেমনিভাবে ইনসাফ দ্বারা পূর্ণ করে দেবেন যেমনটি তা জুলুম ও অত্যাচারে পরিপূর্ণ হয়ে গিয়েছিল।

মুহাম্মদ বিন আলী বিন মুসা বিন জাফরের ইমামতের প্রবক্তা রাফেজিরা তার অল্প বয়সের কারণে অন্য এক ধরনের মতভেদ করেছে। আর তা এই যে, যখন তার পিতা মারা যান তখন তার বয়স ছিল মাত্র আট বছর—কেউ কেউ বলেছেন বরং চার বছর—এমতাবস্থায় তিনি আনুগত্য করা ওয়াজিব এমন ইমাম ছিলেন কি না, সে বিষয়ে দুটি মত রয়েছে: তাদের কেউ কেউ দাবি করেছেন যে, তিনি সেই অবস্থায় আনুগত্য করা ওয়াজিব এমন ইমাম ছিলেন এবং বিধিবিধান ও দুনিয়াবি যাবতীয় বিষয়ে ইমামগণ যা জানেন সে সম্পর্কে তিনি অবগত ছিলেন; তার অনুসরণ ও অনুকরণ করা তেমনি ওয়াজিব ছিল যেমনটি তার পূর্ববর্তী অন্যান্য ইমামদের অনুসরণ ও অনুকরণ ওয়াজিব ছিল।

আর তাদের কেউ কেউ দাবি করেছে যে, তিনি সেই অবস্থায় এই অর্থে ইমাম ছিলেন যে কর্তৃত্ব মানুষ বাদ দিয়ে কেবল তার মধ্যেই নিহিত ছিল এবং সেই সময়ে সেই পদের জন্য তিনি ছাড়া অন্য কেউ উপযুক্ত ছিল না। তবে পূর্ববর্তী অন্যান্য ইমামদের মধ্যে যে গুণাবলি বিদ্যমান ছিল, সেই অবস্থায় তার মধ্যেও তা বিদ্যমান ছিল—এমনটি নয়। তারা দাবি করত যে, সেই অবস্থায় তার জন্য তাদের ইমামতি করা বৈধ ছিল না, বরং সেই সময়ে ফিকহ, দীনদারী ও সততার অধিকারী অন্য ব্যক্তি তাদের সালাত পরিচালনা করতেন এবং তাদের বিধিবিধান কার্যকর করতেন, যতক্ষণ না তিনি সেই বয়সে পৌঁছান যা এই কাজের জন্য উপযুক্ত।

চরমপন্থী এবং ইমামিয়াদের আলোচনা সমাপ্ত হলো।
(খণ্ড: ١) মাকালাতুল ইসলামিয়্যীন ত. যারযুর (পৃষ্ঠা: ٤٤)
‌‌مقالات الروافض

1 -‌‌ قول الروافض في التجسيم

واختلفت الروافض أصحاب الإمامة في التجسيم وهم ست فرق:

الهشامية 1:

1 - فالفرقة الأولى الهشامية أصحاب هشام بن الحكم الرافضي.

يزعمون أن معبودهم جسم وله نهاية وحد طويل عريض عميق طوله مثل عرضه وعرضه مثل عمقه لا يوفي بعضه على بعض ولم يعينوا طولاً غير الطويل وإنما قالوا: "طوله مثل عرضه" على المجاز دون التحقيق وزعموا أنه نور ساطع له قدر من الأقدار في مكان دون مكان كالسبيكة الصافية يتلألأ كاللؤلؤة المستديرة من جميع جوانبها ذو لون وطعم ورائحة ومجسة لونه هو طعمه وطعمه هو رائحته ورائحته هي مجسته وهو نفسه لون ولم يعينوا لوناً ولا طعماً هو غيره وزعموا أنه هو اللون وهو الطعم وأنه قد كان لا في مكان ثم حدث المكان بأن تحرك البارئ فحدث المكان بحركته فكان فيه وزعم أن المكان هو العرش.

وذكر أبو الهذيل2 في بعض كتبه إن هشام بن الحكم قال له: إن ربه جسم ذاهب جاء فيتحرك تارة ويسكن أخرى ويقعد مرة ويقوم أخرى وأنه

--------------------------------------------

1 الهشامية: التنبيه: 26 الفرق بين الفرق: 22 و 49 - 52، 157 التبصير: 42 الملل والنحل: 1/ 149 - 151 منهاج السنة النبوية: 1/ 203 اعتقادات فرق المسلمين: 43، 63 الفرق الإسلامية: 44 - 45 الخطط المقريزية: 2/ 253 وعن اختلاف الروافض انظر منهاج السنة النبوية: 1/ 207 - 208.

2 أبو الهذيل: اسمه محمد بن الهذيل بن عبد الله بن مكحول العبدي كان شيخ المعتزلة في البصرة كان يحسن الجدال وصاحب حجة قوية يكثر من استعمال الأدلة والإلزامات اختلف في ميلاده فمن قائل: سنة 131هـ وسنة 134هـ و136هـ وكان الاختلاف في سنة وفاته أيضا فمن قائل: 226هـ أو 227هـ أو 235هـ و 239هـ انظر وفيات الأعيان برقم 578 العبر طبقات المعتزلة والفرق بين الفرق 92 شذرات الذهب ونكت الهمين في نكت العميان للصفدي: 227 - 279.
‌রাফেজিদের মতবাদসমূহ

১ -‌‌ দেহবাদ সম্পর্কে রাফেজিদের বক্তব্য

ইমামিয়া মতবাদের অনুসারী রাফেজিরা দেহবাদ (তাজসিম) নিয়ে মতভেদ করেছে এবং তারা ছয়টি দল:

হিশামিয়া ১:

১ - প্রথম দলটি হলো হিশামিয়া, যারা রাফেজি হিশাম ইবনুল হাকামের অনুসারী।

তারা দাবি করে যে, তাদের উপাস্য একজন দেহধারী এবং তাঁর সমাপ্তি ও সীমা রয়েছে; তিনি দীর্ঘ, প্রশস্ত ও গভীর; তাঁর দৈর্ঘ্য তাঁর প্রস্থের সমান এবং তাঁর প্রস্থ তাঁর গভীরতার সমান; তাঁর একটি অংশ অন্য অংশের চেয়ে বড় নয়। তারা 'দীর্ঘ' শব্দ ছাড়া সুনির্দিষ্ট কোনো দৈর্ঘ্যের কথা উল্লেখ করেনি, বরং তারা কেবল বলেছে: "তাঁর দৈর্ঘ্য তাঁর প্রস্থের সমান", যা আক্ষরিক অর্থে নয় বরং রূপক অর্থে। তারা দাবি করেছে যে, তিনি এক উজ্জ্বল আলো, যাঁর একটি নির্দিষ্ট পরিমাপ রয়েছে এবং তিনি এক স্থানে অবস্থান করেন অন্য স্থানে নয়, যেমন একটি খাঁটি পিণ্ড, যা গোলাকার মুক্তার মতো চারপাশ থেকে ঝিকমিক করে। তাঁর রং, স্বাদ, ঘ্রাণ এবং স্পর্শানুভুতি রয়েছে; তাঁর রং-ই তাঁর স্বাদ, স্বাদ-ই তাঁর ঘ্রাণ এবং ঘ্রাণ-ই তাঁর স্পর্শানুভুতি। তিনি নিজেই রং; তবে তারা নির্দিষ্ট কোনো রং বা স্বাদের কথা উল্লেখ করেনি যা তাঁর সত্তা থেকে ভিন্ন। তারা দাবি করেছে যে, তিনিই রং এবং তিনিই স্বাদ। আরও দাবি করেছে যে, তিনি পূর্বে কোনো স্থানে ছিলেন না, অতঃপর স্রষ্টা নড়াচড়া করার মাধ্যমে স্থানের উৎপত্তি হয়েছে; ফলে তাঁর নড়াচড়ার মাধ্যমে স্থানের সৃষ্টি হয়েছে এবং তিনি তাতে অবস্থান করেন। তিনি দাবি করেছেন যে, সেই স্থানটি হলো আরশ।

আবু আল-হুযাইল ২ তার কোনো কোনো গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, হিশাম ইবনুল হাকাম তাকে বলেছিলেন: তাঁর রব একজন দেহধারী, যিনি যান এবং আসেন, ফলে তিনি কখনো নড়াচড়া করেন এবং কখনো স্থির থাকেন, একবার বসেন এবং অন্যবার দাঁড়ান এবং তিনি...

--------------------------------------------

১ হিশামিয়া: আত-তানবিহ: ২৬; আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক: ২২ এবং ৪৯-৫২, ১৫৭; আত-তাবসির: ৪২; আল-মিলাল ওয়ান নিহাল: ১/১৪৯-১৫১; মিনহাজুস সুন্নাহ আন-নাবাবিয়্যাহ: ১/২০৩; ইতিকাদাতু ফিরাকিল মুসলিমিন: ৪৩, ৬৩; আল-ফিরাকুল ইসলামিয়্যাহ: ৪৪-৪৫; আল-খিতাত আল-মাকরিজিয়্যাহ: ২/২৫৩; এবং রাফেজিদের মতভেদ সম্পর্কে দেখুন মিনহাজুস সুন্নাহ আন-নাবাবিয়্যাহ: ১/২০৭-২০৮।

২ আবু আল-হুযাইল: তাঁর নাম মুহাম্মাদ ইবনুল হুযাইল ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু মাকহুল আল-আবদি; তিনি বসরায় মুতাজিলাদের শায়খ ছিলেন। তিনি বিতর্ক বা বিতণ্ডায় পটু ছিলেন এবং শক্তিশালী প্রমাণের অধিকারী ছিলেন। তিনি প্রচুর পরিমাণে দলিল ও বাধ্যবাধকতামূলক যুক্তি ব্যবহার করতেন। তাঁর জন্ম নিয়ে মতভেদ আছে; কেউ বলেন: ১৩১ হিজরি, ১৩৪ হিজরি অথবা ১৩৬ হিজরি। তাঁর মৃত্যু সাল নিয়েও মতভেদ রয়েছে; কেউ বলেন: ২২৬ হিজরি অথবা ২২৭ হিজরি অথবা ২৩৫ হিজরি অথবা ২৩৯ হিজরি। দেখুন: ওয়াফায়াতুল আ’য়ান, ক্রমিক ৫৭৮; আল-ইবার; তাবাকাতুল মুতাজিলা; আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক: ৯২; শাযারাতুয যাহাব এবং সাফাদির নুকাতুল হিমইয়ান ফি নুকাতিল উমইয়ান: ২২৭-২৭৯।
(খণ্ড: ١) মাকালাতুল ইসলামিয়্যীন ত. যারযুর (পৃষ্ঠা: ٤٥)
طويل عريض عميق لأن ما لم يكن كذلك دخل في حد التلاشي قال فقلت له: فأيما أعظم إلهك أم هذا الجبل وأومأت إلى أبي قبيس1 قال: فقال: هذا الجبل يوفي عليه أي هو أعظم منه.

وذكر أيضاً "ابن الراوندي" أن هشام بن الحكم كان يقول: إن بين إلهه وبين الأجسام المشاهدة تشابهاً من جهة من الجهات لولا ذلك ما دلت عليه.

وحكي عنه خلاف هذا أنه كان يقول إن جسم ذو أبعاض [ … ] 2 لا يشبهها ولا تشبهه.

وحكى الجاحظ3 عن هشام بن الحكم في بعض كتبه أنه كان يزعم أن الله جل وعز إنما يعلم ما تحت الثرى بالشعاع المتصل منه الذاهب في عمق الأرض ولولا ملابسته لما وراء ما هناك لما دري ما هناك وزعم أن بعضه يشوب وهو شعاعه وأن الشوب محال على بعضه ولو زعم هشام أن الله تعالى يعلم ما تحت الثرى بغير اتصال ولا خبر ولا قياس كان قد ترك تعلقه بالمشاهدة وقال بالحق.

وذكر عن هشام انه قال في ربه في عام واحد خمسة أقاويل زعم مرة انه كالبلورة وزعم مرة انه كالسبيكة وزعم مرة انه بشبر نفسه سبعة أشبار ثم رجع عن ذلك وقال: هو جسم لا كالأجسام.

وزعم الوراق أن بعض أصحاب هشام أجابه مرة إلى أن الله عز وجل على العرش مماس له وأنه لا يفضل عن العرش ولا يفضل العرش عنه.

2 - والفرقة الثانية من الرافضة: يزعمون أن ربهم ليس بصورة ولا كالأجسام وإنما يذهبون في قولهم أنه جسم إلى أنه موجود ولا يثبتون البارئ ذا أجزاء مؤتلفة وأبعاض متلاصقة ويزعمون أن الله عز وجل على العرش مستو بلا مماسة ولا كيف.

--------------------------------------------

1 أبو قبيس: بالتصغير جبل مشرف على مكة كناه آدم عليه السلام بذلك حين اقتبس منه هذه النار التي بأيدي الناس إلى اليوم من فرختين نزلتا من السماء على أبي قبيس فاحتكتا فأورتا نارا اقتبس منها آدم.

2 هنا بياض في الأصل ولكن الشهرستاني ذكر في الملل والنحل: 1/ 149 ما يلي: وحكى الكعبي انه قال: هو جسم ذو أبعاض له قدر من الأقدار ولكن لا يشبه شيئا من المخلوقات ولا يشبهه شيء.

3 الجاحظ: عمرو بن بحر بن محبوب الكناني البصري أبو عثمان الجاحظ كاتب فحل إلى جانب كونه بحرا من بحور العلم كان متكلما وشيخا من شيوخ المعتزلة له التصانيف المشهورة وكتبت حوله العديد من الدراسات والبحوث توفي سنة 250هـ في قول وفي آخر سنة 255هـ.
লম্বা, প্রশস্ত ও গভীর; কারণ যা এমন নয় তা বিলুপ্তির সীমায় প্রবেশ করে। তিনি (বর্ণনাকারী) বললেন: আমি তাকে বললাম, আপনার উপাস্য বড় নাকি এই পাহাড়? আমি আবু কুবাইস পাহাড়ের দিকে ইশারা করলাম। তিনি বললেন: এই পাহাড়টি তাঁর চেয়ে বড় অর্থাৎ এটি তাঁর চেয়ে অধিক বিশাল।

ইবনে রাওয়ান্দি আরও উল্লেখ করেছেন যে, হিশাম ইবনুল হাকাম বলতেন: তাঁর উপাস্য এবং দৃশ্যমান দেহসমূহের মধ্যে কোনো না কোনো দিক থেকে সাদৃশ্য রয়েছে; যদি তা না থাকতো তবে সেগুলো তাঁর অস্তিত্বের প্রমাণ দিত না।

তাঁর থেকে এর বিপরীত কথাও বর্ণিত আছে যে, তিনি বলতেন: তিনি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিশিষ্ট একটি দেহ [ … ] যা অন্য কোনো কিছুর সদৃশ নয় এবং অন্য কোনো কিছুও তাঁর সদৃশ নয়।

জাহিয তাঁর কোনো কোনো কিতাবে হিশাম ইবনুল হাকাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি দাবি করতেন, আল্লাহ জাল্লা ওয়া আযযা মাটির নিচে যা আছে তা কেবল তাঁর থেকে বিচ্ছুরিত একটি অবিচ্ছিন্ন রশ্মির মাধ্যমে জানেন যা জমিনের গভীরে প্রবেশ করে। যদি সেই রশ্মি সেখানকার বিষয়ের সাথে সংযুক্ত না হতো, তবে সেখানে কী আছে তা জানা যেত না। তিনি আরও দাবি করতেন যে, তাঁর (আল্লাহর) কিছু অংশ মিশ্রিত হয় আর তা হলো তাঁর রশ্মি, অথচ তাঁর অন্য অংশের ক্ষেত্রে মিশ্রণ অসম্ভব। হিশাম যদি দাবি করতেন যে, আল্লাহ তাআলা কোনো সংযোগ, সংবাদ বা অনুমান ছাড়াই মাটির নিচের বিষয় সম্পর্কে জানেন, তবে তিনি দৃশ্যমান বস্তুর ওপর নির্ভরতা ত্যাগ করতেন এবং সত্য কথা বলতেন।

হিশাম সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে, তিনি এক বছরেই তাঁর রব সম্পর্কে পাঁচটি কথা বলেছিলেন। একবার তিনি দাবি করেন যে তিনি স্ফটিকের মতো, একবার দাবি করেন যে তিনি ধাতব পিণ্ডের মতো, আবার একবার দাবি করেন যে তিনি তাঁর নিজের হাতের বিঘাত অনুযায়ী সাত বিঘাত লম্বা। এরপর তিনি তা থেকে ফিরে আসেন এবং বলেন: তিনি একটি দেহ, তবে অন্যান্য দেহের মতো নন।

আল-ওয়াররাক দাবি করেছেন যে, হিশামের কোনো কোনো সাথী একদা তাঁর এই কথায় সায় দিয়েছিল যে, আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা আরশের উপরে এবং তা স্পর্শ করে আছেন; তিনি আরশের চেয়ে বড় নন এবং আরশও তাঁর চেয়ে বড় নয়।

২ - রাফিযাদের দ্বিতীয় দল: তারা দাবি করে যে, তাদের রব কোনো আকৃতি নন এবং দেহের মতোও নন। তারা যখন তাঁকে দেহ বলেন, তখন এর দ্বারা কেবল তাঁর অস্তিত্ববান হওয়াকেই বুঝান। তারা স্রষ্টাকে সংমিশ্রিত অংশ বা পরস্পর সংযুক্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিশিষ্ট হিসেবে সাব্যস্ত করেন না। তারা দাবি করেন যে, আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা কোনো স্পর্শ বা ধরণ ছাড়াই আরশের উপরে উঠেছেন।

--------------------------------------------

১ আবু কুবাইস: এটি মক্কার ওপর অবস্থিত একটি পাহাড়। আদম আলাইহিস সালাম এর এই নামকরণ করেছিলেন যখন তিনি এর থেকে সেই আগুন গ্রহণ করেছিলেন যা আজ অবধি মানুষের হাতে রয়েছে; আকাশ থেকে দুটি চিল আবু কুবাইস পাহাড়ের ওপর নেমে এসেছিল, এরপর তারা একে অপরের সাথে ঘষা খেয়ে আগুন উৎপন্ন করেছিল যা থেকে আদম আলাইহিস সালাম আগুন গ্রহণ করেন।

২ মূল কপিতে এখানে শূন্যস্থান রয়েছে, তবে শাহরাস্তানি 'আল-মিলাল ওয়ান নিহাল' (১/১৪৯) গ্রন্থে নিম্নোক্ত তথ্য উল্লেখ করেছেন: আল-কা'বি বর্ণনা করেছেন যে তিনি (হিশাম) বলতেন: তিনি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিশিষ্ট একটি দেহ যার একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ রয়েছে, কিন্তু তিনি সৃষ্টি জগতের কোনো কিছুর সদৃশ নন এবং কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়।

৩ জাহিয: আমর ইবনে বাহর ইবনে মাহবূব আল-কিনানী আল-বসরী আবু উসমান আল-জাহিয। তিনি জ্ঞানের সমুদ্র হওয়ার পাশাপাশি একজন অত্যন্ত দক্ষ লেখক ছিলেন। তিনি একজন মুতাকাল্লিম এবং মুতাজিলাদের অন্যতম শাইখ ছিলেন। তাঁর বিখ্যাত অনেক রচনা রয়েছে এবং তাঁর সম্পর্কে অনেক গবেষণা ও প্রবন্ধ লেখা হয়েছে। তিনি ২৫০ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন, মতান্তরে ২৫৫ হিজরিতে।
(খণ্ড: ١) মাকালাতুল ইসলামিয়্যীন ত. যারযুর (পৃষ্ঠা: ٤٦)
3 - والفرقة الثالثة من الرافضة: يزعمون أن ربهم على صورة الإنسان ويمنعون أن يكون جسما.

الهشامية أيضا:

4 - والفرقة الرابعة من الرافضة: الهشامية أصحاب هشام بن سالم الجواليقي.

يزعمون أن ربهم على صورة الإنسان وينكرون أن يكون لحماً ودماً ويقولون هو نور ساطع يتلألأ بياضاً وأنه ذو حواس خمس كحواس الإنسان له يد ورجل وأنف وأذن وعين وفم وأنه يسمع بغير ما يبصر به وكذلك سائر حواسه متغايرة عندهم.

وحكى أبو عيسى الوراق أن هشام بن سالم كان يزعم أن لربه وفرة سوداء1 وأن ذلك نور أسود.

5 - والفرقة الخامسة من الرافضة: يزعمون أن رب العالمين ضياء خالص ونور بحت وهو كالمصباح الذي من حيث ما جئته يلقاك بأمر واحد وليس بذي صورة ولا أعضاء ولا اختلاف في الأجزاء وأنكروا أن يكون على صورة الإنسان أو على صورة شيء من الحيوان.

6 - والفرقة السادسة من الرافضة: يزعمون أن ربهم ليس بجسم ولا بصورة ولا يشبه الأشياء ولا يتحرك ولا يسكن ولا يماس.

وقالوا في التوحيد بقول المعتزلة والخوارج.

وهؤلاء قوم من متأخريهم فأما أوائلهم فإنهم كانوا يقولون ما حكينا عنهم من التشبيه.

--------------------------------------------

1 الوفرة: -بفتح أوله وسكون ثانيه- الشعر الذي يجتمع على الرأس للإنسان وغيره أو ما تدلى على الأذنين منه وقد يتجاوز شحمة الأذن.
৩ - রাফেজিদের তৃতীয় দল: তারা দাবি করে যে তাদের রব মানুষের আকৃতিতে, তবে তারা তাঁকে দেহ হতে অস্বীকার করে।

হিশামিয়াও (একইভাবে):

৪ - রাফেজিদের চতুর্থ দল: হিশামিয়া, যারা হিশাম ইবনে সালিম আল-জাওয়ালিকির অনুসারী।

তারা দাবি করে যে তাদের রব মানুষের আকৃতিতে, তবে তারা তিনি গোশত ও রক্ত হওয়াকে অস্বীকার করে। তারা বলে তিনি এক উজ্জ্বল নূর যা সাদা আভায় চকচক করে এবং তাঁর মানুষের ইন্দ্রিয়ের মতো পাঁচটি ইন্দ্রিয় রয়েছে; তাঁর হাত, পা, নাক, কান, চোখ ও মুখ রয়েছে। তিনি যা দিয়ে শোনেন তা দিয়ে দেখেন না, এভাবে তাদের মতে তাঁর বাকি সমস্ত ইন্দ্রিয়গুলোও একে অপরের থেকে ভিন্ন।

আবু ঈসা আল-ওয়াররাক বর্ণনা করেছেন যে, হিশাম ইবনে সালিম দাবি করতেন যে তাঁর রবের কালো ঘন চুল১ রয়েছে এবং তা একটি কালো নূর।

৫ - রাফেজিদের পঞ্চম দল: তারা দাবি করে যে জগতসমূহের রব নিছক প্রখর আলো এবং বিশুদ্ধ নূর। তিনি প্রদীপের মতো, যে দিক থেকেই আপনি তাঁর কাছে আসবেন তিনি আপনার সাথে একইভাবে মিলিত হবেন। তাঁর কোনো আকৃতি নেই, কোনো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নেই এবং তাঁর অংশসমূহের মধ্যে কোনো ভিন্নতা নেই। তারা তিনি মানুষের আকৃতিতে হওয়া বা কোনো প্রাণীর আকৃতিতে হওয়াকে অস্বীকার করেছে।

৬ - রাফেজিদের ষষ্ঠ দল: তারা দাবি করে যে তাদের রব দেহ নন, তাঁর কোনো আকৃতি নেই, তিনি কোনো জিনিসের সদৃশ নন, তিনি নড়াচড়া করেন না, স্থির থাকেন না এবং স্পর্শ করেন না।

তারা তাওহিদের ক্ষেত্রে মুতাজিলা ও খারেজিদের মত পোষণ করেছে।

এরা হলো তাদের পরবর্তী যুগের লোক, কিন্তু তাদের পূর্ববর্তীরা আল্লাহর সাদৃশ্য (তাশবিহ) সম্পর্কে তাই বলত যা আমরা তাদের থেকে বর্ণনা করেছি।

--------------------------------------------

১ আল-ওয়াফরাহ: মানুষের বা অন্যদের মাথার যে চুল একত্রিত হয়ে থাকে অথবা যা কান পর্যন্ত ঝুলে থাকে এবং যা কানের লতি অতিক্রম করতে পারে।
(খণ্ড: ١) মাকালাতুল ইসলামিয়্যীন ত. যারযুর (পৃষ্ঠা: ٤٦)
2 -‌‌ قول الرافضة في حملة العرش

واختلفت الرافضة في حملة العرش هل يحملون العرش أم يحملون البارئ عز وجل وهم فرقتان1:

--------------------------------------------

1 عن اختلاف الروافض في حملة العرش انظر منهاج السنة النبوية 1/ 207.
২ -‌‌ আরশের বাহকগণের ব্যাপারে রাফিযীদের বক্তব্য

আরশের বাহকগণের বিষয়ে রাফিযীরা মতভেদ করেছে যে, তারা কি আরশ বহন করে নাকি তারা বারী (স্রষ্টা) আয্যা ওয়া জাল্লা-কে বহন করে? তারা দুই দলে বিভক্ত ১:

--------------------------------------------

১ আরশের বাহকগণের বিষয়ে রাওয়াফিযদের মতভেদ সম্পর্কে দেখুন: মিনহাজুস সুন্নাহ আন-নাবাবিয়্যাহ ১/২০৭।
(খণ্ড: ١) মাকালাতুল ইসলামিয়্যীন ত. যারযুর (পৃষ্ঠা: ٤٧)
اليونسية 1:

فرقة يقال لها: اليونسية أصحاب يونس بن عبد الرحمن القمي مولى آل يقطين يزعمون أن الحملة يحملون البارئ واحتج يونس في أن الحملة تطيق حمله وشبههم بالكركي2 وأن رجليه تحملانه وهما دقيقتان. وقالت فرقة أخرى أن الحملة تحمل العرش والبارئ يستحيل أن يكون محمولاً.

واختلفت الروافض هل يوصف البارئ بالقدرة على أن يظلم أم لا: فأبى ذلك قوم وأجازه آخرون.

--------------------------------------------

1 اليونسية: الفرق بين الفرق: 22 - ، 52 - 53، 158 التبصير: 43 الملل والنحل: 1/ 152 اعتقادات فرق المسلمين: 65 الفرق الإسلامية: 46، 81 - 82 الخطط المقريزية ك 2/ 253.

2 الكركي: بضم الكاف الأولى وتشديد الياء طائر بحجم الأوز بتر الذنب رمادي اللون في خده لمعات سود قليل اللحم صلب العظم دقيق الرجلين وطويلهما جمعه كراكي.

وراجع الملل والنحل: 1/ 158 منهاج السنة النبوية: 1/ 207 - 208 بشأن الخلاف حول حملة العرش.
ইউনুসিয়্যাহ ১:

একটি দল যাদের বলা হয়: ইউনুসিয়্যাহ। তারা আল-ইয়াকতীন পরিবারের মুক্তদাস ইউনুস ইবনে আবদুর রহমান আল-কুম্মীর অনুসারী। তারা দাবি করে যে, (আরশ) বহনকারীরা স্রষ্টাকে বহন করে। ইউনুস এই যুক্তি পেশ করেছে যে, বহনকারীরা তাঁকে বহন করার সক্ষমতা রাখে এবং সে তাদের কুরুকি পাখির সাথে তুলনা করেছে, যার পা দুটি তাকে বহন করে অথচ তা অত্যন্ত চিকন। অন্য একটি দল বলেছে যে, বহনকারীরা আরশ বহন করে এবং স্রষ্টাকে বহন করা অসম্ভব।

আর রাফেজিরা এই বিষয়ে মতভেদ করেছে যে, স্রষ্টাকে কি জুলুম করার ক্ষমতার গুণে গুণান্বিত করা যাবে কি না: একদল তা অস্বীকার করেছে এবং অন্যদল তা জায়েজ বলেছে।

--------------------------------------------

১ ইউনুসিয়্যাহ: আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক: ২২ -, ৫২ - ৫৩, ১৫৮; আত-তাবসীর: ৪৩; আল-মিলাল ওয়ান নিহাল: ১/ ১৫২; ইতিকাদাতু ফিরাকিল মুসলিমিন: ৬৫; আল-ফিরাকুল ইসলামিয়্যাহ: ৪৬, ৮১ - ৮২; আল-খুতাত আল-মাকরিজিয়্যাহ: ২/ ২৫৩।

২ আল-কুরুকি: প্রথম কাফ বর্ণে পেশ এবং ইয়া বর্ণে তাশদীদ যুক্ত; এটি রাজহাঁসের আকারের একটি পাখি, যার লেজ ছোট, ধূসর বর্ণের, গাল বরাবর কালো আভা বিশিষ্ট, মাংস কম, হাড় শক্ত এবং পা দুটি চিকন ও লম্বা। এর বহুবচন হলো 'কারাকি'।

আর আরশ বহনকারীদের বিষয়ে মতভেদের জন্য দেখুন আল-মিলাল ওয়ান নিহাল: ১/ ১৫৮; মিনহাজুস সুন্নাহ আন-নববিয়্যাহ: ১/ ২০৭ - ২০৮।
(খণ্ড: ١) মাকালাতুল ইসলামিয়্যীন ত. যারযুর (পৃষ্ঠা: ٤٧)
3 -‌‌ القول بأن الله عالم حي قادر 1

واختلفت الروافض في القول إن الله - سبحانه - عالم حي قادر سميع بصير إله وهم تسع فرق:

الزرارية "التيمية":

1 - فالفرقة الأولى منهم الزرارية أصحاب زرارة بن أعين الرافضي.

يزعمون أن الله لم يزل غير سميع ولا عليم ولا بصير حتى خلق ذلك لنفسه وهم يسمون التيمية ورئيسهم زرارة بن أعين.

السبابية:

2 - والفرقة الثانية منهم السبابية أصحاب عبد الرحمن بن سبابة.

يقفون في هذه المعاني ويزعمون أن القول فيها ما يقول جعفر كائناً قوله ما كان ولا يصوبون في هذه الأشياء قولاً.

--------------------------------------------

1 انظر الانتصار: 20، 21 و 108، 126 ومنهاج السنة النبوية: 1/ 207 - 208.
৩ -‌‌ আল্লাহ জ্ঞানী, চিরঞ্জীব ও ক্ষমতাবান - এই বিষয়ক বক্তব্য ১

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা জ্ঞানী, চিরঞ্জীব, ক্ষমতাবান, শ্রবণকারী, দ্রষ্টা ও ইলাহ হওয়া প্রসঙ্গে রাফেজিরা মতবিরোধ করেছে এবং তারা নয়টি উপদলে বিভক্ত:

আল-জুরারিয়্যাহ "আত-তাইমিয়্যাহ":

১ - তাদের প্রথম দলটি হলো আল-জুরারিয়্যাহ, যারা রাফেজি জুরারাহ ইবনে আ'ইয়ান-এর অনুসারী।

তারা দাবি করে যে, আল্লাহ সর্বদা শ্রবণকারী, জ্ঞানী বা দ্রষ্টা ছিলেন না, যতক্ষণ না তিনি নিজের জন্য তা সৃষ্টি করেছেন; তাদের 'আত-তাইমিয়্যাহ' বলা হয় এবং তাদের প্রধান হলো জুরারাহ ইবনে আ'ইয়ান।

আস-সাবাবিয়্যাহ:

২ - দ্বিতীয় দলটি হলো আস-সাবাবিয়্যাহ, যারা আবদুর রহমান ইবনে সাবাবাহ-এর অনুসারী।

তারা এই অর্থগুলোর বিষয়ে মৌনতা অবলম্বন করে এবং দাবি করে যে, এই বিষয়ে বক্তব্য সেটিই যা জাফর বলবেন—তাঁর বক্তব্য যা-ই হোক না কেন; তারা এই বিষয়গুলোতে কোনো নির্দিষ্ট বক্তব্যকে সঠিক বলে নির্ধারণ করে না।

--------------------------------------------

১ দেখুন আল-ইনতিসার: ২০, ২১ এবং ১০৮, ১২৬ এবং মিনহাজুস সুন্নাহ আন-নাবাবিয়্যাহ: ১/ ২০৭ - ২০৮।