(খণ্ড: ১)
নুখবাতুল ফিকার - দিরাসাতুন আনহা ওয়া আন মানহাজিহা
(পৃষ্ঠা: -)
نخبة الفكر - دراسة عنها وعن منهجها القسم: علوم الحديث
الكتاب: نخبة الفكر (دراسة عنها وعن منهجها)
المؤلف: إبراهيم بن محمد نور سيف
الناشر: الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
عدد الصفحات: 193
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
নুখবাতুল ফিকার - এর ওপর একটি গবেষণা এবং এর পদ্ধতি বিশ্লেষণ বিভাগ: হাদিস বিজ্ঞান (علوم الحديث)
গ্রন্থ: নুখবাতুল ফিকার (এর ওপর একটি গবেষণা এবং এর পদ্ধতি বিশ্লেষণ)
লেখক: ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ নূর সাইফ
প্রকাশক: মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৯৩
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১ হিজরি
(খণ্ড: ১)
নুখবাতুল ফিকার - দিরাসাতুন আনহা ওয়া আন মানহাজিহা
(পৃষ্ঠা: ১২৩)
ال
تمهيدأ- إن (من أهم أنواع العلوم: تحقيق معرفة الأحاديث النبويات
…، ومعرفة علم الأسانيد
…، ومعرفة حكم اختلاف الرواة في الأسانيد والمتون
…، ومعرفة الصحابة والتابعين وأتباعهم
…) (1)
هذا العلم العظيم - أعني علم مصطلح الحديث؛ بمسائله المذكور طرف منها- يُعنى بمعالجة طريقة للتعلم؛ هي غاية في الأهمية، يأتي منشأ بنائها على الكيفية التي يحصل بها العلم للإنسان، التي إما أن تكون مباشرة أو بواسطة.
ولقد قال الله جل ذكره: {وَاللَّهُ أَخْرَجَكُمْ مِنْ بُطُونِ أُمَّهَاتِكُمْ لا تَعْلَمُونَ شَيْئاً وَجَعَلَ لَكُمُ السَّمْعَ وَالْأَبْصَارَ وَالْأَفْئِدَةَ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ} [النحل: 78]
فقد هيأ سبحانه وتعالى في هذا البشر الذي خلقه سويا - أدوات التعلم ووسائل التلقي؛ لكي يعلم ويعقل ويتدبر المدركات، ويميز بين الأشياء.
ولئن كان الحصول على العلم بالأسماع والأبصار عن طريق إدراك الوقائع بالحواس؛ بإدراك مباشر لها في حين وقوعها، وهو أحد طريقي العلم بها، فإن الطريق الثاني هو إدراكها بطريق غير مباشر، وهو طريق الخبر، وهو أوسعُ دائرةً وأرحبُ مجالاً، وهو منفصل عن وقوعها بفاصل زمني أو فاصل مكاني، أو بالفاصلين كليهما.
ب - ومن هنا وجدنا علماء الحديث رحمهم الله يُعْنَوْنَ في علم مصطلح الحديث بقضية (الخبر) عناية فائقة، كي يُحافظوا عن طريق ذلك على الميراث النبوي العظيم الذي تتناقله الأجيال المُتعاقبة، فتكون سنة رسول الله
--------------------------------------------
আল-
উপক্রমণিকা (التمهيد)ক- নিশ্চয়ই (সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞান বা ইলমসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো: নববী হাদিসসমূহের পরিচয় যথাযথভাবে যাচাই (تحقيق) করা
…, সনদ শাস্ত্র (علم الأسانيد) সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা
…, সনদ (الأسانيد) ও মতন (المتون) এর ক্ষেত্রে বর্ণনাকারীদের (الرواة) মতভেদের বিধান (حكم) অবগত হওয়া
…, এবং সাহাবী (الصحابة), তাবেয়ী (التابعين) ও তাঁদের অনুসারী (أتباع التابعين) সম্পর্কে জ্ঞান রাখা
…) (১)
এই মহান জ্ঞান—অর্থাৎ হাদিসের পরিভাষা (مصطلح الحديث) শাস্ত্র; যার কিছু বিষয়ের কথা এখানে উল্লেখ করা হয়েছে—তা শিক্ষা গ্রহণের একটি পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করে; যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মূল ভিত্তি হলো সেই প্রক্রিয়ার ওপর যার মাধ্যমে মানুষ জ্ঞান লাভ করে, যা সরাসরি অথবা কোনো মাধ্যমের সাহায্যে হয়ে থাকে।
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {আর আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের মায়েদের উদর হতে এমন অবস্থায় বের করেছেন যে, তোমরা কিছুই জানতে না। আর তিনি তোমাদের জন্য শ্রবণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি ও অন্তঃকরণসমূহ দিয়েছেন যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো।} [আন-নাহল: ৭৮]
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা এই মানুষ—যাকে তিনি সুঠামভাবে সৃষ্টি করেছেন—তার মাঝে জ্ঞান অর্জনের সরঞ্জাম এবং জ্ঞান গ্রহণের (التلقي) মাধ্যমসমূহ তৈরি করে দিয়েছেন; যাতে সে জানতে পারে, বুঝতে পারে এবং ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়গুলো নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করতে পারে এবং বিভিন্ন বিষয়ের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করতে পারে।
যদি শ্রবণ ও দর্শনের সাহায্যে কোনো ঘটনা ঘটার সময় ইন্দ্রিয় (الحواس) দ্বারা সরাসরি তা অনুভব করার মাধ্যমে জ্ঞান অর্জন করা হয়, তবে এটি হলো জ্ঞান লাভের দুটি পদ্ধতির একটি। আর দ্বিতীয় পদ্ধতিটি হলো পরোক্ষভাবে তা উপলব্ধি করা, যা হলো সংবাদের (الخبر) মাধ্যম। এর পরিধি অনেক বিস্তৃত ও বিশাল। এটি ঘটনার সময়কাল থেকে সময়ের ব্যবধানে কিংবা স্থানের দূরত্বে অথবা উভয় ব্যবধানেই পৃথক হতে পারে।
খ- আর এ কারণেই আমরা দেখতে পাই যে হাদিস বিশারদগণ (علماء الحديث) রহমাতুল্লাহি আলাইহিম হাদিসের পরিভাষা (مصطلح الحديث) শাস্ত্রে সংবাদের (الخبر) বিষয়টিতে অত্যন্ত গুরুত্ব প্রদান করেছেন, যাতে এর মাধ্যমে তাঁরা সেই মহান নববী উত্তরাধিকারকে সংরক্ষণ করতে পারেন যা বংশপরম্পরায় ধারাবাহিকভাবে স্থানান্তরিত হয়ে আসছে। ফলে রাসুলুল্লাহর সুন্নাহ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নুখবাতুল ফিকার - দিরাসাতুন আনহা ওয়া আন মানহাজিহা
(পৃষ্ঠা: ১২৪)
صلى الله عليه وسلم بينها حيّة ماثلة شاخصة، تهيئةً وَّتحقيقاً لِّلأمر الإلهي الكريم المُوجّه لهذه الأمة في جميع عصورها وأحوالها: {فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ} [النساء 95]
وكان الردّ إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم في حياته، وبمُباشرة شخصه الكريم لذلك، مُبلّغا عن ربه عز وجل، حاكما بأمره.
وصار الردّ بعد وفاته عليه الصلاة والسلام إنما هو لِسُنّته وما جاء عنه من بيان للكتاب العزيز، وتفصيل لأمور التشريع، وتبليغ لمبعوثات الرسالة.
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের মাঝে এক জীবন্ত ও জাগ্রত আদর্শ হিসেবে বিদ্যমান ছিলেন; যা মূলত সকল যুগে ও সকল পরিস্থিতিতে এই উম্মতের প্রতি নির্দেশিত মহান ঐশী নির্দেশ পালনের প্রস্তুতি ও বাস্তবায়নের স্বরূপ: {অতঃপর তোমরা যদি কোনো বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হও, তবে তা আল্লাহ ও রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও।} [আন-নিসা ৯৫]
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবদ্দশায় এই প্রত্যাবর্তন ছিল সরাসরি তাঁর পবিত্র সত্তার উপস্থিতিতে, যিনি তাঁর রবের পক্ষ থেকে বিধান পৌঁছে দিতেন এবং তাঁর নির্দেশ অনুযায়ী ফয়সালা করতেন।
আর তাঁর ইন্তেকালের পর, প্রত্যাবর্তন কেবল তাঁর সুন্নাহ (سنة) এবং তাঁর থেকে বর্ণিত সেই সকল বিষয়ের দিকেই নির্দিষ্ট হয়ে যায়, যা মহাগ্রন্থ আল-কুরআনের ব্যাখ্যা, শরিয়তের বিধি-বিধানের বিস্তারিত বিবরণ এবং রিসালাতের বার্তার প্রচার হিসেবে উপনীত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
নুখবাতুল ফিকার - দিরাসাতুন আনহা ওয়া আন মানহাজিহা
(পৃষ্ঠা: ১২৫)
الفصل الأول: المنهج المُبتكر في (نخبة الفكر)كان علم (مصطلح الحديث) -كما هو مُقرّر في مُقدّمات كتبه - لم يأخذ في أوّل أمره طابع العلم المُستقلّ؛ المُدوّنة مسائله على حدة، بل كانت مسائله منثورة في كتب الحديث، ومذكورة في بعض مقدماتها، ومبثوثة في كتب العلوم الأخرى. (1)
إلى أن شاء الله له أن يلبس ثوب الشخصية المُستقلّة، التي ذكروا من أوائل من صنعها: القاضي أبا محمد الرامهرمزي؛ رحمه الله تعالى.
وكان الرامهرمزي رائدا في هذا المضمار، وتلاه من تلاه من المحدثين؛ الذين كانوا لا يزالون يتتبّعون المسائل، ويُدوّنون ما يقفون عليه منها، ويُودعونها مُؤلّفات لهم تفاوتت طولا وقِصرا، ومنهم الخطيب البغدادي الذي أوسع مسائله سبرا وجمعا، وتتبُّعا وتحريرا، حتى جاء الله على يديه بالخير الكثير، ونفع بعلمه من جاء بعده بنفع كبير.
أما الرامهرمزي الأوّل، فإنه وإن كان ما طوّل، إلا أنّ رِيادته في هذا المجال تجعل عذره واضحا، ويكفيه شرفُ شقِّ طريقٍ لم يُسلَك قبله، وتمهيدُ مسالِكِهِ لمن يأتي من بعده.
--------------------------------------------
প্রথম অধ্যায়: 'নুখবাতুল ফিকার'-এ উদ্ভাবিত পদ্ধতিহাদিস পরিভাষা বিজ্ঞান (مصطلح الحديث) - যেমনটি এর গ্রন্থসমূহের ভূমিকায় প্রতিষ্ঠিত রয়েছে - তার সূচনাকালে কোনো স্বতন্ত্র বিজ্ঞান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেনি; যার বিষয়াবলী পৃথকভাবে সংকলিত হবে। বরং এর বিষয়াবলী হাদিসের গ্রন্থসমূহে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল, এর কিছু ভূমিকাগুলোতে উল্লিখিত ছিল এবং অন্যান্য শাস্ত্রের কিতাবসমূহেও বিস্তৃত ছিল। (১)
পরিশেষে আল্লাহ চাইলেন যে, এটি একটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের রূপ পরিগ্রহ করুক। একে রূপদানকারীদের মধ্যে তারা সর্বপ্রথম যার নাম উল্লেখ করেন তিনি হলেন: কাজী আবু মুহাম্মদ আর-রামাহুরমুজি; আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন।
আর-রামাহুরমুজি এই ক্ষেত্রে অগ্রগামী ছিলেন এবং তাঁর পরে পরবর্তী মুহাদ্দিসগণ (المحدثين) তাঁর অনুসরণ করেন; যারা বিষয়গুলো অন্বেষণ করতে থাকেন এবং যা কিছু তারা প্রত্যক্ষ করতেন তা লিপিবদ্ধ করতে থাকেন। তারা সেগুলোকে নিজ নিজ গ্রন্থে স্থান দেন যা দৈর্ঘ্য ও সংক্ষিপ্ততায় ভিন্ন ভিন্ন ছিল। তাঁদের মধ্যে আল-খতিব আল-বাগদাদি অন্যতম, যিনি এর মাসআলাসমূহকে গভীর পর্যবেক্ষণ, সংগ্রহ, অন্বেষণ ও সম্পাদনার মাধ্যমে ব্যাপকতা দান করেছেন। এমনকি আল্লাহ তাঁর হাতে প্রভূত কল্যাণ দান করেছেন এবং তাঁর জ্ঞান দ্বারা পরবর্তী প্রজন্মকে ব্যাপকভাবে উপকৃত করেছেন।
তবে প্রথম ব্যক্তিত্ব আর-রামাহুরমুজি সম্পর্কে কথা হলো, তিনি যদিও বিষয়টি দীর্ঘায়িত করেননি, তবে এই ক্ষেত্রে তাঁর অগ্রগামিতা তাঁর ওজরকে স্পষ্ট করে দেয়। তাঁর জন্য এটাই সম্মানের যে, তিনি এমন এক পথ উন্মোচন করেছেন যা ইতিপূর্বে আর কেউ অবলম্বন করেনি এবং পরবর্তী আগন্তুকদের জন্য তিনি এর পথ সুগম করে দিয়েছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নুখবাতুল ফিকার - দিরাসাতুন আনহা ওয়া আন মানহাজিহা
(পৃষ্ঠা: ১২৬)
ثم الخطيب البغدادي؛ ومَن بعده، وقد (جاء بعض من تأخّر عن الخطيب، فأخذ من هذا العلم بنصيب) على حدّ ما قاله الحافظ ابن حجر العسقلاني، بعد أن أشاد بكثرة ما فُتِح به على الخطيب.
والحافظ ابن حجر نفسه رحمه الله له مَوقعٌ مُهمٌّ جدا في حلقات هذا التسلسل الذي يُعنى بقضية (الخبر) ، وهو الذي أفصح عن القضية، فجاء بشيء مُبتكر، كما تحدّث به هو وقرّر، وقد صدق فيما قاله وبرَّ.
وقد نبّه - قبل أن يقول ذلك- إلى جزالة ما جاء به الإمام ابن الصلاح في مقدمته المشهورة العظيمة، ونوّه بجهوده في أماليه الجليلة التي عُرفت فيما بعد باسم (مقدمة ابن الصلاح) ، فجاءت وقد بارك الله له فيها، قال الحافظ ابن حجر: (اعتنى بتصانيف الخطيب المُفرّقة فجمع شتات مقاصدها، وضمّ إليها من غيرها نُخَب فوائدها، فاجتمع في كتابه ما تفرّق في غيره، فلهذا عَكَف الناس عليه وساروا بسيره
…) إلى آخر ما ذكره رحمه الله من أنّ المُعتنين بكتاب ابن الصلاح -بشتى وجوه العناية- أصبحوا لا يُحصَوْنَ كثرةً.
ومع هذا نجد الحافظ ابن حجر يذكر بعد ذلك عن كتابه (نخبة الفكر) بأنه لخصه على منهج قال عنه: (على ترتيب ابتكرته، وسبيل انتهجته
…) (1) ،
--------------------------------------------
এরপর আসলেন খতিব আল-বাগদাদি এবং তাঁর পরবর্তীগণ। আল-হাফিজ ইবনে হাজার আসকালানি, খতিবের ওপর ইলমের যে দ্বারসমূহ উন্মোচিত হয়েছিল তার ভূয়সী প্রশংসা করার পর বলেন, "খতিবের পরবর্তী কিছু উত্তরসূরি এসেছিলেন যারা এই ইলম থেকে যথাযথ অংশ গ্রহণ করেছেন।"
আল-হাফিজ ইবনে হাজার (রহ.)-এর নিজেরও এই ধারাক্রমের বলয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান রয়েছে যা সংবাদ (الخبر) সংক্রান্ত বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট। তিনিই এই বিষয়টি স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন এবং একটি উদ্ভাবনী বিষয় নিয়ে এসেছেন, যা তিনি নিজেই আলোচনা ও সাব্যস্ত করেছেন। এ বিষয়ে তিনি যা বলেছেন তাতে তিনি সত্যনিষ্ঠ ও যথাযথ ছিলেন।
তিনি এ কথা বলার আগে ইমাম ইবনুল সালাহ তাঁর প্রসিদ্ধ ও মহান মুকাদ্দিমায় যা উপস্থাপন করেছেন তার শ্রেষ্ঠত্বের কথা উল্লেখ করেছেন। এছাড়া তিনি তাঁর মহান 'আমালি' (বক্তৃতামালা)-তে যে প্রচেষ্টা চালিয়েছেন তারও প্রশংসা করেছেন, যা পরবর্তীতে মুকাদ্দিমা ইবনুল সালাহ নামে পরিচিতি পায়। আল্লাহ এতে বরকত দান করেছেন। হাফিজ ইবনে হাজার বলেন: "(ইবনুল সালাহ) খতিবের বিক্ষিপ্ত রচনাগুলোর প্রতি যত্নশীল হন এবং সেগুলোর মৌলিক উদ্দেশ্যসমূহ একত্রিত করেন। এছাড়া অন্যান্য উৎস থেকে বাছাইকৃত সারসংক্ষেপসমূহ এর সাথে যুক্ত করেন। ফলে তাঁর কিতাবে এমন সব বিষয় একত্রিত হয়েছে যা অন্য কিতাবসমূহে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল। একারণে মানুষ এর ওপর গুরুত্বারোপ করেছে এবং তাঁর পথ অনুসরণ করেছে
…"। হাফিজ (রহ.) আরও উল্লেখ করেছেন যে, যারা ইবনুল সালাহ-এর কিতাব নিয়ে বিভিন্নভাবে গবেষণা ও চর্চা করেছেন তাদের সংখ্যা গণনা করে শেষ করা যাবে না।
তা সত্ত্বেও আমরা দেখি হাফিজ ইবনে হাজার পরবর্তীতে তাঁর নুখবাতুল ফিকার কিতাব সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি এটি এমন একটি পদ্ধতি (منهج) অনুযায়ী সংক্ষেপ করেছেন যার সম্পর্কে তিনি বলেন: "এমন এক বিন্যাস অনুযায়ী যা আমি উদ্ভাবন করেছি এবং এমন এক পথ যা আমি অবলম্বন করেছি
…" (১) ,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নুখবাতুল ফিকার - দিরাসাতুন আনহা ওয়া আন মানহাজিহা
(পৃষ্ঠা: ১২৭)
كما صرّح به في شرحه: (نزهة النظر) (1) .
لقد جاءنا حديث نبوي شريف عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، تكلّم به عليه الصلاة والسلام، ومحتواه مُسَلَّمٌ به، مُدْرَكٌ لّكلّ أحد، وهو قوله عليه الصلاة والسلام: "ليس الخبر كالمعاينة"، رواه من الصحابة الأجلاء عنه عليه الصلاة والسلام: ابنُ عباس (2) ،
--------------------------------------------
যেমনটি তিনি তাঁর ব্যাখ্যাগ্রন্থ নুজহাতুন নাযার-এ (১) স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আমাদের কাছে একটি সুমহান নববী হাদিস পৌঁছেছে, যা তিনি আলাইহিস সালাতু ওয়াসসালাম ব্যক্ত করেছেন। এর বিষয়বস্তু সর্বজনস্বীকৃত এবং প্রত্যেকের নিকট বোধগম্য। তা হলো তাঁর আলাইহিস সালাতু ওয়াসসালাম বাণী: "সংবাদ চাক্ষুষ প্রত্যক্ষ করার মতো নয়।" মর্যাদাবান সাহাবীদের মধ্য থেকে ইবনে আব্বাস (রা.) এটি তাঁর আলাইহিস সালাতু ওয়াসসালাম থেকে বর্ণনা করেছেন (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নুখবাতুল ফিকার - দিরাসাতুন আনহা ওয়া আন মানহাজিহা
(পৃষ্ঠা: ১২৮)
وأنسٌ (1) .
--------------------------------------------
এবং আনাস (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নুখবাতুল ফিকার - দিরাসাতুন আনহা ওয়া আন মানহাজিহা
(পৃষ্ঠা: ১২৯)
ورُوي عن أبي هريرة (1) ، رضي الله عنهم جميعا.
ولما سبق ذِكرُهُ فقد جرَى مجرى المثل (2) .
--------------------------------------------
আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত হয়েছে (১), আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন।
আর যা পূর্বে বর্ণিত হয়েছে, তা প্রবাদের মতো প্রচলিত হয়েছে (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নুখবাতুল ফিকার - দিরাসাতুন আনহা ওয়া আন মানহাজিহা
(পৃষ্ঠা: ১৩০)
قال المناوي رحمه الله: (عُدَّ من جوامع الكَلِمِ والحِكَمِ) (1) .
وقد تأمّلت مضمون هذا الحديث، ثم نظرت في الفائدة التي أفادها منه المحدثون رحمهم الله تعالى؛ فوجدتهم يَبنون كلامهم في علم (مصطلح الحديث) -المُسَمَّى (علوم الحديث) - على مُفَادِهِ، ويُقرّرون مسائل علمهم فيه؛ على ضوئه.
--------------------------------------------
আল-মুনাউয়ি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: (এটি সংক্ষিপ্ত অথচ ব্যাপক অর্থবোধক বাণী (جوامع الكلم) ও হিকমতের অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য) (১)।
আমি এই হাদিসের বিষয়বস্তু নিয়ে গভীর চিন্তা করেছি, তারপর মুহাদ্দিসগণ (রহিমাহুমুল্লাহ তায়ালা) এটি থেকে যে উপকার লাভ করেছেন তা নিয়ে লক্ষ্য করেছি; আমি দেখতে পেয়েছি যে, তারা হাদিস শাস্ত্রের পরিভাষা (مصطلح الحديث) —যা হাদিস বিজ্ঞান (علوم الحديث) নামে পরিচিত— সংক্রান্ত তাদের আলোচনা এর মর্মার্থের ওপর ভিত্তি করে নির্মাণ করেছেন এবং এর আলোকেই তারা এই শাস্ত্রের মাসয়ালাসমূহ নির্ধারণ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নুখবাতুল ফিকার - দিরাসাতুন আনহা ওয়া আন মানহাজিহা
(পৃষ্ঠা: ১৩১)
ذلك أن الحديث يُفيد أنّ للعلم الحاصل للإنسان طريقين؛ منصوصاً عليهما فيه:
- أولهما: المُعاينة، وهو أن يُبصر الإنسان أمامه حَدَثاً واقعاً فيَعلم بوقوعه؛ علماً مُباشراً دون واسطة، وقال الله عز وجل في مثل ذلك مِمّا لا ينكره منكِر: {قَدْ كَانَ لَكُمْ آيَةٌ فِي فِئَتَيْنِ الْتَقَتَا فِئَةٌ تُقَاتِلُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَأُخْرَى كَافِرَةٌ يَرَوْنَهُمْ مِثْلَيْهِمْ رَأْيَ الْعَيْنِ} (1) [آل عمران 13]
فمرأى العين لا سبيل إلى إنكار وقوعه، ولا مجال لردّه، إلا أن يُدّعى في ذلك تخييل وتمويه؛ فذلك طارئ، وعلى خلاف الأصل، وهو مُحتاج إلى إثبات يُقرّر حصوله:
وليس يصحّ في الأذهان شيءٌ إذا احتاج النهار إلى دليلِ (2)
- ثانيهما: الخبر (3) ، وهو وسيلة العلم لمن لم يحصل له العلم المباشر
--------------------------------------------
এর কারণ হলো, হাদিস নির্দেশ করে যে, মানুষের অর্জিত জ্ঞানের জন্য দুটি পথ রয়েছে; যা এতে সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে:
- প্রথমটি হলো: প্রত্যক্ষ পর্যবেক্ষণ (المعاينة), আর তা হলো মানুষ তার সামনে কোনো বাস্তব ঘটনা প্রত্যক্ষ করবে, ফলে সে তার সংঘটন সম্পর্কে জানবে; কোনো মাধ্যম ছাড়াই সরাসরি জ্ঞান। আল্লাহ তাআলা এই প্রসঙ্গে এমন বিষয় সম্পর্কে বলেছেন যা কোনো অস্বীকারকারী অস্বীকার করতে পারে না: {তোমাদের জন্য নিদর্শন ছিল সেই দুই দলের মধ্যে যারা পরস্পরের মোকাবিলা করেছিল। এক দল আল্লাহর পথে যুদ্ধ করছিল এবং অপর দল ছিল কাফের, তারা তাদের (মুসলিমদের) চোখের দেখায় নিজেদের দ্বিগুণ দেখছিল} (১) [আলে ইমরান: ১৩]
সুতরাং চোখের দেখার সংঘটনকে অস্বীকার করার কোনো পথ নেই এবং তা প্রত্যাখ্যান করারও কোনো সুযোগ নেই, যদি না এতে কাল্পনিক বা বিভ্রমের দাবি করা হয়; তবে তা হবে একটি আকস্মিক বিষয় এবং মূল নীতির পরিপন্থী, আর তা সাব্যস্ত করার জন্য প্রমাণের প্রয়োজন হবে:
যদি দিনের অস্তিত্ব প্রমাণের জন্য দলিলের প্রয়োজন হয়, তবে মস্তিষ্কে কোনো কিছুই সঠিক বলে গণ্য হবে না (২)
- দ্বিতীয়টি হলো: সংবাদ (الخبر) (৩), আর এটি হলো সেই ব্যক্তির জন্য জ্ঞানের মাধ্যম যার সরাসরি জ্ঞান অর্জিত হয়নি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নুখবাতুল ফিকার - দিরাসাতুন আনহা ওয়া আন মানহাজিহা
(পৃষ্ঠা: ১৩২)
بالمعاينة، ولم يُبصر الحدث الواقع ولم يحضره، وحال بينه وبينه حائل المكان أو الزمان.
من ذلك أنّه لم تعلم هذه الأمة الإسلامية بأهمّ خبر فيها، على مدى أجيالها المُتتابعة- بعد جيل الصدر الأوّل جيل الصحابة رضي الله عنهم، شهود الرسالة، وحضور الوحي، وأهل العلم المباشر برسول الله صلى الله عليه وسلم وبجميع ما جاء به-؛ لم تعلم هذه الأمّة المباركة بأجيالها المذكورة: عنه صلى الله عليه وسلم إلا بعلم جاء من طريق الخبر، فالتابعون هم الذين لم يروا رسول الله صلى الله عليه وسلم، وإنما رأوا الصحابة فأخبروهم به، بخلاف الصحابة ذوي العلم المباشر بشؤون رسول الله صلى الله عليه وسلم، وهم شُهداؤه العدول، البررة المُزكَّون في جميع ما صحّ عنهم من النقول (1) ، وقد كانوا جمعا غفيرا
--------------------------------------------
...সাক্ষাৎ দর্শনের মাধ্যমে, আর তিনি সংঘটিত ঘটনাটি দেখেননি এবং তাতে উপস্থিতও ছিলেন না, বরং তাঁর ও সেই ঘটনার মাঝে স্থান বা কালের ব্যবধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এর অন্তর্ভুক্ত হলো এই যে, এই মুসলিম উম্মাহ তাদের ধারাবাহিক প্রজন্মগুলোতে—প্রথম সোনালী প্রজন্ম অর্থাৎ সাহাবীদের (الصحابة) প্রজন্মের পরে, যাঁরা ছিলেন রিসালাতের প্রত্যক্ষদর্শী, ওহীর উপস্থিতির সাক্ষী এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও তাঁর আনীত যাবতীয় বিষয় সম্পর্কে প্রত্যক্ষ জ্ঞানের অধিকারী—এই বরকতময় উম্মাহর উল্লিখিত প্রজন্মগুলো তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সম্পর্কে কেবল সংবাদের (الخبر) মাধ্যমে আগত জ্ঞানের দ্বারাই জানতে পেরেছে। সুতরাং তাবিঈগণ (التابعون) হলেন তাঁরা, যাঁরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে দেখেননি, বরং তাঁরা সাহাবীদের (الصحابة) দেখেছিলেন এবং তাঁরাই তাঁদেরকে এ বিষয়ে সংবাদ দিয়েছিলেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বিষয়াবলীতে প্রত্যক্ষ জ্ঞানের অধিকারী সাহাবীদের (الصحابة) বিষয়টি এর বিপরীত; তাঁরা ছিলেন তাঁর ন্যায়পরায়ণ (العدول) সাক্ষী, পুণ্যবান এবং তাঁদের থেকে যা কিছু বিশুদ্ধ (صح) সূত্রে বর্ণিত হয়েছে সেই সকল বর্ণনার (النقول) (১) ক্ষেত্রে তাঁরা ছিলেন প্রশংসিত ও পবিত্র। আর তাঁরা সংখ্যায় ছিলেন বিশাল এক জামাত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নুখবাতুল ফিকার - দিরাসাতুন আনহা ওয়া আন মানহাজিহা
(পৃষ্ঠা: ১৩৩)
–رضي الله عنهم وأرضاهم- حفظت لنا أسماءهم الكريمة: دواوين عُنيت بهم وبأخبارهم وبسيرتهم العطرة.
أقول: إن التابعين آمنوا برسول الله صلى الله عليه وسلم وبما جاء به، وإنما كان الذي وَصَلَ إليهم عنه: خبراً متواتراً، عن جمعٍ كبير هم جَمْعُ التواتر، الذين يحصل بخبرهم العلم الضروري الذي لا مناص من تصديقه، ثم انتقل ذلك إلى تبع الأتباع، فمن بعدهم، فالأجيال التالية إلى جيلنا هذا، وإلى أن يرث الله الأرض ومن عليها (1) .
ولقد استوقفني كون الحافظ رحمه الله اختار لكتابه هذا: أن يّفْتَتِحَهُ -بعد خطبته ومقدمته - بالكلام عن (الخبر) ، فصدّق ذلك عندي قولَهُ: (على ترتيب ابتكرته) ، ولو لم يكن فيه من الابتكار إلا ما قدّمتُ بَيَانَهُ: لكان ابتكارا رائعاً حَقِيقاً بالإشادة به.
والذي يظهر به هذا المعنى بجلاء: ما ذكرته من أن مبنى (علم المصطلح) على (قضية الخبر) .
هذا مع أن كلام أهل العلم وتقريرهم في ذلك واضح لا يخفى، وإنما به استنرت، وبضيائه استرشدت، وذلك بعد توفيق الله تعالى، وأذكر من أهم ذلك اقتراح العلامة الشيخ محمد عبد الرزاق حمزة بأن يسمى علم المصلح: ((منطق
--------------------------------------------
–আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন এবং তাঁদের সন্তুষ্ট করুন– তাঁদের সম্মানিত নামসমূহ আমাদের জন্য সংরক্ষিত রয়েছে: এমন সব সংকলন (ديوان) যা তাঁদের অবস্থা, সংবাদ এবং সুগন্ধময় জীবনী নিয়ে গুরুত্বের সাথে কাজ করেছে।
আমি বলি: নিশ্চয়ই তাবেয়ীগণ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং তিনি যা নিয়ে এসেছেন তার ওপর ঈমান এনেছেন। আর তাঁর পক্ষ থেকে তাঁদের কাছে যা পৌঁছেছে তা ছিল: মুতাওয়াতির সংবাদ (خبر متواتر), এক বিশাল জনগোষ্ঠীর মাধ্যমে যারা মুতাওয়াতির হওয়ার মতো সংখ্যা (جمع التواتر); যাদের সংবাদের মাধ্যমে এমন এক অকাট্য জ্ঞান (العلم الضروري) অর্জিত হয় যা বিশ্বাস করা ছাড়া কোনো উপায় নেই। অতঃপর তা তাবা-তাবেয়ীদের কাছে পৌঁছেছে, তারপর তাঁদের পরবর্তীদের কাছে, এভাবে পরবর্তী প্রজন্মের পর প্রজন্ম হয়ে আমাদের এই প্রজন্ম পর্যন্ত এবং আল্লাহ যতক্ষণ পর্যন্ত না পৃথিবী ও এর ওপর যা কিছু আছে তার উত্তরাধিকারী হন (১)।
হাফিজ (الحافظ) (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) তাঁর এই কিতাবের জন্য যে পদ্ধতি বেছে নিয়েছেন তা আমাকে ভাবিয়ে তুলেছে: যে তিনি তাঁর খুতবা ও ভূমিকার পরে একে সংবাদ (الخبر) বিষয়ক আলোচনার মাধ্যমে শুরু করেছেন। এটি আমার কাছে তাঁর সেই বক্তব্যকে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে যে: "আমি এটি একটি নতুন উদ্ভাবিত বিন্যাসে সাজিয়েছি"। যদি এতে এই নতুনত্ব ছাড়া আর কিছু না থাকতো যা আমি ইতিপূর্বে বর্ণনা করেছি, তবেই এটি প্রশংসার যোগ্য এক চমৎকার উদ্ভাবন হতো।
এই বিষয়টি যা দিয়ে স্পষ্টভাবে প্রকাশিত হয় তা হলো: আমি যা উল্লেখ করেছি যে, পরিভাষা বিজ্ঞানের (علم المصطلح) ভিত্তি হলো সংবাদ সংক্রান্ত বিষয় (قضية الخبر)।
যদিও এই বিষয়ে আলেমদের বক্তব্য ও সুনিশ্চিত বর্ণনা অত্যন্ত স্পষ্ট ও লুকায়িত নয়। বরং এরই আলোতে আমি আলোকিত হয়েছি এবং এরই জ্যোতিতে আমি নির্দেশনা লাভ করেছি, আর তা মহান আল্লাহর তাওফিকের পর। আমি এ ক্ষেত্রে আল্লামা শায়খ মুহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক হামজার প্রস্তাবটি উল্লেখ করছি যে, তিনি পরিভাষা বিজ্ঞানের (علم المصطلح) নাম রাখার প্রস্তাব করেছিলেন: "মানতিক (যুক্তিবিদ্যা)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নুখবাতুল ফিকার - দিরাসাতুন আনহা ওয়া আন মানহাজিহা
(পৃষ্ঠা: ১৩৪)
المنقول، وميزان تصحيح الأخبار)) (1) ؛ وعلل ذلك بأن هذا العلم بالنسبة للرواية كقواعد النحو لمعرفة صحة التراكيب العربية، وأنه لو سُمِّيَ بذلك لكان اسما على مُسَمًّى.
ولم أقف - لِقُصوري - على كلام لأهل العلم يذكر ما ذكرته، عن استفتاح الحافظ هذا وعن وجه ابتكاره فيه، وكفى به وجها وجيهاً يُّشادُ به، ويعرف طالب العلم - بواسطته- الموقع العلمي الذي هو فيه؛ حين يتوجه لدراسة هذا العلم فيدخل بابَهُ؛ وقد تصوَّرَ أيَّ بابٍ –من العلم- هو فيه.
ولهذا السبب قلتُ ما قلتُ، وتطاولتُ وتطفّلتُ، فإن أصبتُ فبتوفيق الله تعالى؛ والخيرَ أردتُ، وإن كانت الأخرى فأسال الله الكريم مغفرة الزلة وإقالة العثرة إنه سميع مجيب، وصلواته وسلامه على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه.
--------------------------------------------
বর্ণিত বিষয়সমূহ (المنقول) এবং সংবাদসমূহের বিশুদ্ধকরণের (تصحيح) মানদণ্ড (১); তিনি এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন যে, বর্ণনার (الرواية) ক্ষেত্রে এই শাস্ত্রের অবস্থান ঠিক তেমন, যেমনটি আরবি বাক্য কাঠামোর বিশুদ্ধতা (صحة) নির্ণয়ে নাহু বা ব্যাকরণের নিয়মাবলির অবস্থান। আর যদি এই শাস্ত্রকে উক্ত নামে অভিহিত করা হতো, তবে তা হতো বস্তুর সাথে নামের এক সার্থক সমন্বয়।
আমার সীমাবদ্ধতার কারণে আলেমদের এমন কোনো বক্তব্যের সন্ধান আমি পাইনি যেখানে হাফিজের (الحافظ) এই প্রারম্ভিক উপস্থাপনা এবং এ বিষয়ে তাঁর উদ্ভাবনী দিকের কথা আলোচিত হয়েছে যা আমি উল্লেখ করেছি। প্রশংসার যোগ্য একটি জোরালো দিক হিসেবে এটিই যথেষ্ট। এর মাধ্যমেই একজন জ্ঞান অন্বেষী তার ইলমি অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারেন; যখন তিনি এই শাস্ত্র অধ্যয়নের সংকল্প করেন এবং এর প্রবেশদ্বারে পা রাখেন, তখন তিনি উপলব্ধি করতে পারেন যে তিনি ইলমের কোন দুয়ারে অবস্থান করছেন।
আর এই কারণেই আমি যা বলার বলেছি এবং কিঞ্চিৎ ধৃষ্টতা ও অনধিকার চর্চা করেছি। যদি আমি সঠিক হয়ে থাকি, তবে তা মহান আল্লাহর তাওফিকেই হয়েছে এবং আমি কেবল কল্যাণই চেয়েছি। আর যদি অন্য কিছু হয়ে থাকে, তবে আমি মহান আল্লাহর কাছে পদস্খলনের ক্ষমা ও ত্রুটি মার্জনা প্রার্থনা করছি; নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও দুআ কবুলকারী। আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সঙ্গীদের ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নুখবাতুল ফিকার - দিরাসাতুন আনহা ওয়া আন মানহাজিহা
(পৃষ্ঠা: ১৩৫)
الفصل الثاني: رضا الحافظ عن كتابه هذا، وثناء العلماء عليه، وتاريخ تأليفهلقد ذكر السخاوي أنه لم يكن راضيا عن شيء من تصانيفه سوى الفتح، ومقدمته، والمشتبه، والتهذيب، واللسان، ثم ذكر السخاوي أنه رأى الحافظ –في موضع آخر - أثنى على شرح البخاري، والتغليق، والنخبة (1) .
يُضاف إلى هذا –مما يُبيّن مكانتَها- كونُها قُرئت عليه في حياته (2) ، وبعضهم قرأها عليه قراءة بحث (3) ، وقراءةُ البحث - عند العُلماء المُحقّقين- منَ الأهمّيّةِ بمكانٍ؛ حيث نجد الحافظ نفسه، رحمه الله نوّه بها، في مُناسبة تكلّم فيها على شرحها (4) ، فكتب على نُسخةٍ لأحد طُلاّبه أنه قرأ عليه كذلك؛ ووصفها بقوله: (قراءةً حرّرها وأجاد، وقرّرها فأفاد؛ كما استفاد، وقد أَذِنْتُ له أن يَرويها عني ويُفيدها
… لمن أراد منه تَقريبَ معانِيها مِمّن يُعانيها؛ يُوضّحُها، حتى يدري - من لم يَطَّلعْ على مُرادي - ما الذي أعني) .
وهذا المتن مع كونه احتوتْهُ - لاختصاره - كراسةٌ، إلا أنه جمع فيه مقاصدَ الأنواع التى عند ابن الصلاح، وزاد عليها أنواعاً لم يذكرها، فاحتوى
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: এই গ্রন্থের প্রতি হাফিজের সন্তুষ্টি, আলেমগণের প্রশংসা এবং এর রচনার ইতিহাসসাখাবি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি (হাফিজ ইবনে হাজার) ‘আল-ফাতহ’ (ফাতহুল বারি), এর ভূমিকা, ‘আল-মুশতাবিহ’, ‘আত-তাহজিব’ এবং ‘আল-লিসান’ ব্যতীত তাঁর অন্য কোনো রচনার ব্যাপারে সন্তুষ্ট ছিলেন না। অতঃপর সাখাবি উল্লেখ করেন যে, তিনি অন্য এক স্থানে হাফিজকে—শারহুল বুখারি, ‘আত-তাগলীক’ এবং ‘আন-নুখবাহ’ (১)-এর প্রশংসা করতে দেখেছেন।
এর সাথে আরও যুক্ত করা যায়—যা এই গ্রন্থের উচ্চ মর্যাদা স্পষ্ট করে—তা হলো এটি তাঁর জীবদ্দশায় তাঁর নিকট পাঠ করা হয়েছে (২), এবং তাদের মধ্যে কেউ কেউ এটি তাঁর নিকট গবেষণা-মূলক পাঠ (قراءة بحث) (৩) হিসেবে পাঠ করেছেন। আর বিজ্ঞ ও অনুসন্ধানী আলেমগণের (المحققين) নিকট গবেষণা-মূলক পাঠ অত্যন্ত গুরুত্ববহ; যেখানে আমরা খোদ হাফিজ (রাহিমাহুল্লাহ)-কে একটি বিশেষ প্রেক্ষাপটে এর প্রশংসা করতে দেখি যেখানে তিনি এর ব্যাখ্যা (শারহ) নিয়ে আলোচনা করছিলেন (৪)। তিনি তাঁর জনৈক ছাত্রের পাণ্ডুলিপিতে লিখেছিলেন যে, সে তাঁর নিকট একইভাবে পাঠ করেছে; এবং তিনি এর গুণগান করে বলেন: “(এটি এমন এক) পাঠ যা সে অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও নিপুণভাবে সম্পাদন করেছে, এবং তা যথাযথভাবে ব্যক্ত করে নিজে যেমন উপকৃত হয়েছে তেমনি অন্যকেও উপকৃত করেছে; আমি তাকে আমার পক্ষ থেকে এটি বর্ণনা করার এবং যারা এর নিগূঢ় অর্থ অন্বেষণ করে তাদের নিকট এর মর্মার্থ সহজবোধ্য করার অনুমতি (إجازة) প্রদান করলাম... যাতে সে তা স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করতে পারে, এমনকি যে ব্যক্তি আমার উদ্দেশ্য সম্পর্কে অবগত নয় সেও যেন বুঝতে পারে আমি কী বোঝাতে চেয়েছি)।”
এই মূল পাঠটি (متن) সংক্ষিপ্ত হওয়ার কারণে একটি ক্ষুদ্র পুস্তিকার অবয়ব নিলেও, এতে তিনি ইবনুস সালাহ বর্ণিত ইলমে হাদিসের প্রকারসমূহের (أنواع) সারসংক্ষেপ একত্রিত করেছেন এবং এমন কিছু প্রকার (أنواع) এতে যুক্ত করেছেন যা তিনি (ইবনুস সালাহ) উল্লেখ করেননি। ফলে এটি ধারণ করেছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নুখবাতুল ফিকার - দিরাসাতুন আনহা ওয়া আন মানহাজিহা
(পৃষ্ঠা: ১৩৬)
على أكثر من مائة نوع من أنواع علوم الحديث، كما قال السخاوي (1) .
وقد أثنى عليها العلامة ابن الوزير نثرا ونظما - ونقله عنه الصنعاني (2) - مُتمثّلا بالبيتين القائلين:
أَبْلَغُ العِلْمِ وأَشْفَاهُ (م) لأَدْوَاءِ الْفُؤَادْ
اِخْتِصَارٌ في جِلاءٍ وَّبُلُوغٌ في مُرَادْ (3)
ومن ذلك قول الصنعاني في منظومته للنخبة (4) :
وَبَعْدُ: فَـ (النُّخْبَةُ) في عِلْمِ (الأَثَرْ)
… مُخْتَصَرٌ يَّا حَبَّذَا مِن مُّخْتَصَرْ
وللعلامة شمس الدين أبي عبد الله محمد الشُّحروري؛ الشهير بـ (ابن
--------------------------------------------
হাদিস শাস্ত্রের একশরও বেশি প্রকারের ওপর ভিত্তি করে এটি রচিত, যেমনটি সাখাভী (১) বলেছেন।
আল্লামা ইবনুল উজির গদ্য ও পদ্য উভয় মাধ্যমেই এর প্রশংসা করেছেন - এবং সানআনী (২) তা তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন - নিম্নোক্ত দুটি পংক্তির মাধ্যমে:
জ্ঞানের সবচেয়ে প্রাঞ্জল ও অন্তরের ব্যাধির জন্য সবচেয়ে নিরাময়কারী হলো-
স্বচ্ছতার সাথে সংক্ষিপ্তসার (مختصر) এবং উদ্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানোর সার্থকতা (৩)।
এরই অংশ হিসেবে নুখবাহ-এর ওপর রচিত সানআনীর কাব্যগ্রন্থে (৪) তাঁর উক্তিটি হলো:
অতঃপর: ইলমে আসারের (علم الأثر) ক্ষেত্রে 'নুখবাহ' হলো এক সংক্ষিপ্তসার (مختصر); কতই না চমৎকার এক সংক্ষিপ্তসার (مختصر)!
এবং আল্লামা শামসুদ্দিন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ আশ-শুহরুরী; যিনি ইবনে (নামে পরিচিত)...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নুখবাতুল ফিকার - দিরাসাতুন আনহা ওয়া আন মানহাজিহা
(পৃষ্ঠা: ১৩৭)
الشُّحرور) (1) أبيات أربعة في الثناء على (النخبة) وعلى (النّزهة) (2) ، وقد خَتَمْتُ بها عِدّةَ عشرةِ أبياتٍ قلتها للثناء على مُصنّفها - ورحمهم الله جميعا- وعلى مؤلفاته، وهي:
مَا أَطْيَبَ الْعِلْمَ في وِرْدٍ وَّمُصْتَدَر (3)
… يَغْدُو، يَرُوحُ، يُعَاني خِدْمَةَ (الأَثَرِ)
فَانْظُرْ لآثَارِهِ
… كَمْ شُرِّفَتْ قَدَمٌ
… سَعَتْ لَهُ.. فَأَفَادَتْ خَيْرَ مُدَّخَرِ
عِلْمُ الْكِتَابِ - لَهُ- تَاجٌ يُّكَلِّلُهُ
… وَسُنَّةُ المُصْطَفَى المُخْتَارِ مِن مُّضَرِ
كَمْ عَالِمٍ فِيهِ؛ أَعْلَى اللهُ مَنْزلَهُ
… فَوْقَ السُّهَا (4) وَالثُّرَيَّا طَاهِرَ السِّيَرِ
وَالعَسْقَلانِيُّ نَجْمٌ.. في تَأَلُّقِهِ
… (فَتْحٌ) لَّهُ قَدْ أَتَى مِنْ (بَارِئِ) الصُّوَرِ
كَم مِّنْ تَوَالِيفَ أبْدَى في الْعُلُومِ لَهَا
… نَفْعٌ جَلِيلٌ يُّحلِّي الجِيدَ بالدُّررِ
إن رُّمْتَ تَبْغِي سَبِيلَ الرُّشْدِ في الأَثَرِ
… فَاشْفِ الْغَلِيلَ بما في (نخبة الْفِكَر)
(واكْحُلْ بِـ"تَوْضِيحِهَا" عَيْنَ الْبَصِيرَةِ كَيْ
… تَحظَى بما رُمْتَهُ مِن "نزهَةِ النَّظَرِ")
--------------------------------------------
(আশ-শুহরুর) (১) 'নুখবাহ' এবং 'নুজহাহ' (২)-এর প্রশংসায় চারটি পঙক্তি, যার মাধ্যমে আমি এর রচয়িতার—আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি রহম করুন—এবং তাঁর রচনাবলির প্রশংসায় আমার বলা দশটি কবিতার সমাপ্তি টেনেছি, সেগুলো হলো:
জ্ঞানের আগমন ও নির্গমনের উৎসসমূহ কতই না মনোরম!
… যে ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যা বর্ণনা (الأثر)-এর খিদমতে আত্মনিয়োগ করে।
অতএব তাঁর রচনাবলির প্রতি দৃষ্টি দিন
… কত পদযুগলই না ধন্য হয়েছে
… যা এর অন্বেষণে ছুটেছে.. এবং সর্বোত্তম পাথেয় লাভে ধন্য হয়েছে।
কিতাবুল্লাহর ইলম—তাঁর জন্য—একটি সুশোভিত মুকুট
… আর মুদার গোত্রীয় মনোনীত মুস্তফা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহ।
এতে কত আলিম রয়েছেন; আল্লাহ যাঁদের সুউচ্চ মর্যাদা দান করেছেন
… সুহা ও সুরাইয়া নক্ষত্রের ঊর্ধ্বে, যাঁরা পবিত্র জীবনচরিত (السير)-এর অধিকারী।
আর আল-আসকালানি এক উজ্জ্বল নক্ষত্র.. তাঁর দীপ্তিতে
… তাঁর জন্য 'ফাতহ' (বিজয়) এসেছে রূপকার মহান স্রষ্টার পক্ষ থেকে।
তিনি ইলমসমূহের মাঝে কতই না চমৎকার সংকলন প্রকাশ করেছেন
… যার সুমহান উপকারিতা যেন গ্রীবাকে মুক্তার মালায় অলংকৃত করে।
আপনি যদি বর্ণনা (الأثر)-এর মাঝে সঠিক পথের সন্ধান চান
… তবে নুখবাতুল ফিকার-এ যা আছে তার মাধ্যমে আপনার তৃষ্ণা নিবারণ করুন।
(আর এর "তাওদীহ" (ব্যাখ্যা) দিয়ে আপনার অন্তর্দৃষ্টির চোখ সুরমা মণ্ডিত করুন, যাতে
… আপনি যা চেয়েছেন তা নুজহাতুন নাজার থেকে অর্জন করতে পারেন।)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নুখবাতুল ফিকার - দিরাসাতুন আনহা ওয়া আন মানহাজিহা
(পৃষ্ঠা: ১৩৮)
(للهِ دَرُّ الَّذِي أَنْشَا حَدَائِقَها
… فَكَمْ رَأَتْ مِن شَذَاهَا الْعُمْيُ بِالْبَصَرِ)
(لا زَالَ يُبْلي ثِيَابَ المجْدِ (1) مَا طَلَعَتْ
… شمْسٌ وَّغرَّدَ شُحْرُورٌ (2) عَلَى الشَّجَرِ)
أما تاريخ تأليفها: فإن الحافظ رحمه الله ألف (نخبة الفكر) وهو مقيم في بلاده بمصر، وذلك في عام 812 ? كما أرّخ تلميذه السخاوي (3) .
وهذا القول يُعكّر عليه ما اشتهر من أنه ألفها وهو مُسافر، وسبب الشهرة مُستند إلى بيت جاء في نظم النخبة للأمير الصنعاني هو:
أَلَّفَهَا الحَافِظُ في حَالِ السَّفَرْ وَهْوَ الشِّهَابُ بْنُ عَلِيِّ بْنُ حَجَرْ
وفي نسخة: (ألّفها الحافظ ثاقب النظر) (4) وهي أصوب، ولو كان الشأن راجعا لاختلاف النسخ لهان الأمر، إلا أن الإمام الصنعاني رحمه الله لما شرح هذه المنظومة التي سمّاها (قصب السكر) بشرحه الذي سمّاه (إسبال المطر) ، نقل عن العلامة ابن الوزير رحمه الله، وكان عصري الحافظ- خبرا لم أقف على من وافقه عليه، وبدا لي فيه نظر على ضوء ما جاء عند المترجمين للحافظ ولحياته
--------------------------------------------
(আল্লাহর জন্যই সেই সত্তার সকল প্রশংসা, যিনি এর উদ্যানসমূহ সৃষ্টি করেছেন
… এর সুগন্ধে অন্ধরাও কতই না দৃষ্টিশক্তি লাভ করেছে!)
(যুগ যুগ ধরে গৌরবের ভূষণ দীর্ঘস্থায়ী হোক (১) যতদিন উদিত হবে
… সূর্য এবং গাছে শুহরুর (২) পাখি গান গাইবে)
এটি রচনার ইতিহাস সম্পর্কে বলা যায় যে: হাফিজ (الحافظ) (রাহিমাহুল্লাহ) 'নুখবাতুল ফিকার' রচনা করেন যখন তিনি নিজ দেশ মিশরে অবস্থান করছিলেন, আর তা ছিল ৮১২ হিজরিতে; যেমনটি তাঁর ছাত্র সাখাওয়ী (৩) উল্লেখ করেছেন।
তবে এই বক্তব্যটি সেই প্রসিদ্ধ মতের পরিপন্থী যে, তিনি এটি সফরের অবস্থায় রচনা করেছিলেন। এই প্রসিদ্ধির কারণ হলো আমির সানআনী কর্তৃক নুখবার কাব্যরূপে রূপান্তরিত কাব্যগ্রন্থের একটি পংক্তি, যা হলো:
হাফিজ (الحافظ) এটি সফরের অবস্থায় রচনা করেছেন, তিনি হলেন শিহাব বিন আলী বিন হাজার।
অন্য এক কপিতে রয়েছে: (এটি রচনা করেছেন তীক্ষ্ণ দৃষ্টিসম্পন্ন হাফিজ (الحافظ)) (৪), আর এটিই অধিক শুদ্ধ। বিষয়টি যদি কেবল পাণ্ডুলিপির পার্থক্যের কারণে হতো, তবে বিষয়টি সহজ হতো। কিন্তু ইমাম সানআনী (রাহিমাহুল্লাহ) যখন এই কাব্যগ্রন্থটি—যাকে তিনি 'কাসবাস সুক্কার' নামকরণ করেছেন—তাঁর 'ইসবালুল মাতার' নামক ব্যাখ্যাগ্রন্থে ব্যাখ্যা করেন, তখন তিনি আল্লামা ইবনুল উজির (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে—যিনি হাফিজ (الحافظ)-এর সমসাময়িক ছিলেন—এমন একটি সংবাদ উদ্ধৃত করেছেন যার সাথে একমত পোষণকারী অন্য কাউকে আমি পাইনি। হাফিজ (الحافظ)-এর জীবনীকারদের বর্ণনা এবং তাঁর জীবনের প্রেক্ষাপটে এই বিষয়টি আমার নিকট পর্যালোচনার দাবি রাখে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নুখবাতুল ফিকার - দিরাসাতুন আনহা ওয়া আন মানহাজিহা
(পৃষ্ঠা: ১৩৯)
العلمية، ولتواريخ رحلاته؛ اللاتي وجدتها شغلت ثلاث فترات من حياته –أولى ووسطى وأخيرة - ولمؤلفاته.
والخبر هو ما جاء في قول ابن الوزير عن الحافظ: (كتب - في سفره إلى مكة، سنة سبع عشرة وثمانمائة- مختصرا بديعا في علوم الحديث) (1) ، ففي السفر المذكور، وفي هذا التاريخ نظر من وجهين:
أولهما: أن الحافظ كان في الفترة من عام (807 هـ) إلى عام (814هـ) مُستقرًّا بمصر غير مُرتحل، والتاريخ الصحيح لتأليف (النخبة) واقع ضمن هذه الفترة كما سبق نقله عن السخاوي، وأكّده السخاوي بقوله - أكثر من مرة - بأنها قُرئت على الحافظ قبل التاريخ الذي ذكره ابن الوزير، وذلك سنة (815هـ) (2) ، ثم إن الحافظ شرح (النخبة) بكتابه (نزهة النظر) شرحا مُدمَجا فيه متنُ النخبة، لكنّ شرحه لها كان في أواخر عام (818 هـ) وفرغ منه في مُستهلّ ذي الحجة من هذا العام (3) ، فلو قُدّر أن ابن الوزير يقصد هذا الشرح فالتاريخ الذي عنده لا ينطبق على هذا، وقد نقل عن كتاب (نزهة النظر) في (العواصم والقواصم) ؛ (ويُسمّيه: علوم الحديث) (4) .
ثانيهما: أنّ رحلات الحافظ في فِئاتها الثلاثِ كما يلي (5) :
--------------------------------------------
বৈজ্ঞানিক কর্মকাণ্ড, তাঁর সফরগুলোর তারিখসমূহ—যা আমি তাঁর জীবনের তিনটি পর্যায়ে (প্রথম, মধ্য ও শেষ) বিস্তৃত পেয়েছি—এবং তাঁর রচনাবলি।
সংবাদটি হলো যা হাফিজ সম্পর্কে ইবনুল ইয়াযিরের উক্তিতে এসেছে: (তিনি ৮১৭ হিজরিতে মক্কা সফরের সময় হাদিস শাস্ত্র (علوم الحديث) বিষয়ে একটি চমৎকার সংক্ষিপ্তসার (مختصر) রচনা করেন) (১)। তবে উল্লিখিত সফর ও এই তারিখটির ব্যাপারে দুটি দিক থেকে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে:
প্রথমটি: হাফিজ ৮০৭ হিজরি থেকে ৮১৪ হিজরি পর্যন্ত মিশরে স্থায়ীভাবে অবস্থান করছিলেন এবং কোথাও সফর করেননি। আর নুখবাহ রচনার সঠিক তারিখ এই সময়ের মধ্যেই পড়ে, যেমনটি ইতিপূর্বে সাখাভি থেকে উদ্ধৃত হয়েছে। সাখাভি একাধিকবার এটি নিশ্চিত করে বলেছেন যে, ইবনুল ইয়াযিরের উল্লিখিত তারিখের আগেই এটি হাফিজের নিকট পাঠ করা হয়েছিল, আর তা ছিল ৮১৫ হিজরিতে (২)। এরপর হাফিজ তাঁর গ্রন্থ নুজহাতুন নাযার এর মাধ্যমে নুখবাহ-র একটি ব্যাখ্যা প্রদান করেন, যা মূল পাঠের (متن) সাথে সংমিশ্রিত। তবে এর ব্যাখ্যা রচনার কাজ হয়েছিল ৮১৮ হিজরির শেষভাগে এবং তিনি এই বছরের জিলহজ মাসের শুরুতে তা সমাপ্ত করেন (৩)। যদি ধরে নেওয়া হয় যে, ইবনুল ইয়াযির এই ব্যাখ্যাটিকেই বুঝিয়েছেন, তবে তাঁর দেওয়া তারিখটি এর সাথে সংগতিপূর্ণ নয়। তিনি আল-আওয়াসিম ওয়াল কাওয়াসিম গ্রন্থে নুজহাতুন নাযার থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন এবং তিনি একে হাদিস শাস্ত্র (علوم الحديث) নামে অভিহিত করেছেন (৪)।
দ্বিতীয়টি: হাফিজের তিন পর্যায়ের সফরসমূহ নিম্নরূপ (৫):
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নুখবাতুল ফিকার - দিরাসাতুন আনহা ওয়া আন মানহাজিহা
(পৃষ্ঠা: ১৪০)
أ- الأولى: الفترة الواقعة مدتها ما بين عام (775هـ) إلى عام (799هـ) :
فقد زار بيت المقدس سنة (775هـ) بصحبة والده (1) ، كما ذكر سماعه لصحيح البخاري بمكة سنة (785هـ) (2) ؛ وذلك حين جاور في هذا العام في صُحبة وصيّه وحجّ معه (3) ، وذكر السخاوي أنه حج وجاور مع وصيه عام (786هـ) ؛ (وهو مُراهق، وقبلها وهو طفل مع والده) (4) ، وتعلّم الخط بمكة في السنة المذكورة (5) .
أما رحلاته العلمية -التي أنشأ سفرها- فكانت أوّلها عام (793هـ) ، وكان نطاقها - إلى الغاية المذكورة: عام (799هـ) - في بلدان مصر: قوص (6) وبعض بلدان الصعيد عام (793هـ، ثم الإسكندرية في أواخر عام 797هـ، ولم يَعُدْ منها إلا بعد أشهُر من عام 798هـ (7) .
--------------------------------------------
ক- প্রথমত: ৭৭৫ হিজরি থেকে ৭৯৯ হিজরি পর্যন্ত সময়কাল:
তিনি ৭৭৫ হিজরিতে তাঁর পিতার সান্নিধ্যে বাইতুল মুকাদ্দাস সফর করেন (১), যেমনটি তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি ৭৮৫ হিজরিতে মক্কায় সহীহ বুখারী শ্রবণ (سماع) করেছিলেন (২); এটি ছিল সেই বছর যখন তিনি তাঁর অভিভাবকের সাথে সেখানে অবস্থান করেন এবং তাঁর সাথে হজ সম্পাদন করেন (৩)। সাখাভী উল্লেখ করেছেন যে, তিনি ৭৮৬ হিজরিতে তাঁর অভিভাবকের সাথে হজ করেন এবং সেখানে অবস্থান করেন; (তখন তিনি ছিলেন কিশোর, আর এর আগে শিশু অবস্থায় পিতার সাথে হজ করেন) (৪), এবং উল্লিখিত বছরেই তিনি মক্কায় হস্তলিপি বিদ্যা শিক্ষা করেন (৫)।
তাঁর জ্ঞানার্জনের সফরসমূহ (رحلة علمية) —যা তিনি নিজেই শুরু করেছিলেন— সেগুলোর প্রথমটি ছিল ৭৯৩ হিজরিতে, আর এগুলোর পরিধি ছিল —উল্লিখিত লক্ষ্যমাত্রা ৭৯৯ হিজরি পর্যন্ত— মিসরের বিভিন্ন শহরে: ৭৯৩ হিজরিতে কূস (৬) এবং উচ্চ মিসরের (সাঈদ) কিছু এলাকা; অতঃপর ৭৯৭ হিজরির শেষদিকে আলেকজান্দ্রিয়া সফর করেন এবং ৭৯৮ হিজরির কয়েক মাস অতিবাহিত হওয়ার আগে সেখান থেকে ফিরে আসেননি (৭)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নুখবাতুল ফিকার - দিরাসাতুন আনহা ওয়া আন মানহাজিহা
(পৃষ্ঠা: ১৪১)
ب- الثانية: من الفترة الواقعة ما بين أواخر عام (799 هـ) إلى عام (815هـ) ، فبعد عودته من الإسكندرية أقام حتى توجّه في شهر شوال من عام (799 هـ) قاصدا للحجاز عن طريق البحر، ووافق جمعا من الفضلاء بالطور قاصدين اليمن، فرافقهم في رحلتهم مرورا بينبع ثم جدة (1) ، وكانت تلك أولى رحلتيه إلى اليمن حيث وصلها في ربيع الأول من عام (800 هـ) (2) ، وتنقّل عامه ذاك بين بلدانها (3) ، ثم في أواخر عامه ذاك خرج قاصدا للحج، ليؤدّي حجة الإسلام، بصحبة موكب للحج جهّزه الملك الأشرف (4) ، ثم إنه عاد بعد حجة الفريضة إلى مصر، وتنقّل بها تنقُّلاتٍ وَصَفَ السخاوي فيها ما كان من الحافظ بأنه: (أشرف على الاستيفاء وحصول الاستيعاب لما أمكن بالديار
--------------------------------------------
খ- দ্বিতীয়: ৭৯৯ হিজরির শেষভাগ থেকে ৮১৫ হিজরি পর্যন্ত সময়কাল। আলেকজান্দ্রিয়া থেকে ফিরে আসার পর তিনি অবস্থান করেন, অতঃপর ৭৯৯ হিজরির শাওয়াল মাসে সমুদ্রপথে হিজাজের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। পথিমধ্যে তূর নামক স্থানে একদল মহৎ ব্যক্তির দেখা পান যারা ইয়েমেনের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন। তিনি তাঁদের সফরসঙ্গী হয়ে ইয়ানবু ও জেদ্দা হয়ে যাত্রা করেন (১)। এটি ছিল ইয়েমেনে তাঁর দুই সফরের প্রথমটি, যেখানে তিনি ৮০০ হিজরির রবিউল আউয়াল মাসে পৌঁছান (২)। সেই বছরটি তিনি সেখানকার বিভিন্ন শহরে ভ্রমণ করে অতিবাহিত করেন (৩)। অতঃপর সেই বছরের শেষের দিকে তিনি ফরজ হজ আদায়ের উদ্দেশ্যে বের হন। তিনি বাদশাহ আল-আশরাফের প্রস্তুতকৃত একটি হজ কাফেলার সঙ্গী হয়েছিলেন (৪)। ফরজ হজ পালন শেষে তিনি পুনরায় মিশরে ফিরে আসেন এবং সেখানে বিভিন্ন স্থানে সফর করেন। আল-সাখাবি হাফেজ (الحافظ)-এর সেই সফরগুলো সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি: (দেশের যা কিছু সম্ভব ছিল তা পূর্ণরূপে আয়ত্ত ও অর্জনে সক্ষম হয়েছিলেন।)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নুখবাতুল ফিকার - দিরাসাতুন আনহা ওয়া আন মানহাজিহা
(পৃষ্ঠা: ১৪২)
المصرية) (1) ، حتى رحل منها إلى الشام، في شعبان من عام (802هـ) (2) .
وكان رَافَقَهُ تقيُّ الدين الفاسي في رحلته لدمشق (3) ، وما زال مُتَنَقِّلاً بين بلدان الشام، وأرّخ مروره بنابلس في سنة (803هـ) (4) ، وفيها رجع إلى مصر؛ وفي صُحبته تقي الدين الفاسي (5) .
وحجّ الحافظ في عام (805 هـ) وجاور بعض السنة التي تليها، ثم رحل من مكة إلى اليمن عن طريق البحر، وهي رحلته الثانية (6) ، وغرقت السفينة،
--------------------------------------------
মিশরীয়) (১), যতক্ষণ না তিনি সেখান থেকে ৮০২ হিজরীর শাবান মাসে শামের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন (২)।
দামেস্ক সফরের সময় তাকিউদ্দীন আল-ফাসি তাঁর সঙ্গী ছিলেন (৩), এবং তিনি শামের বিভিন্ন শহরগুলোর মাঝে ভ্রমণ অব্যাহত রাখেন। তিনি ৮০৩ হিজরীতে নাবলুস অতিক্রম করার কথা লিপিবদ্ধ করেছেন (৪), আর সেই বছরেই তিনি তাকিউদ্দীন আল-ফাসির সাহচর্যে মিশরে ফিরে আসেন (৫)।
হাফিজ ৮০৫ হিজরীতে হজ পালন করেন এবং পরবর্তী বছরের কিছু সময় সেখানে অবস্থান করেন। এরপর তিনি সমুদ্রপথে মক্কা থেকে ইয়েমেনে যাত্রা করেন, এটি ছিল তাঁর দ্বিতীয় সফর (৬), এবং নৌকাটি ডুবে গিয়েছিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নুখবাতুল ফিকার - দিরাসাতুন আনহা ওয়া আন মানহাজিহা
(পৃষ্ঠা: ১৪৩)
وأنقذه الله وأَكْثَرَ كُتُبِهِ التي اصطحبها وبعضها بخطه (1) ، ولم أقف على خبر يُحدّد تاريخ عودته من اليمن في هذه المرّة (2) ، وقد حج عام (806هـ) كما ذكر هو عن نفسه في ترجمة (أحمد بن إبراهيم القوصي) ؛ حيث قال: (حج معنا سنة ست وثمانمائة) (3) ، أما السخاوي فجزم بأن الحافظ كان في جدة في المحرم من عام (807 هـ) ، وأما الحج فلم يجزم به بل ظنّه، وكأنه لم يقف على قول شيخه هذا، ثم ذكر السخاوي أنه عاد من جدة إلى بلده (4) .
هذا ولم أقف بعدها على رحلة للحافظ بمصر ولا خارجها (5) ، حتى حجّ
--------------------------------------------
আল্লাহ তাঁকে এবং তাঁর সাথে থাকা অধিকাংশ কিতাবকে রক্ষা করেছেন, যার কিছু তাঁর স্বহস্তে লিখিত (১) ছিল। এই দফায় ইয়ামেন থেকে তাঁর প্রত্যাবর্তনের তারিখ নির্দিষ্ট করে এমন কোনো বর্ণনার সন্ধান আমি পাইনি (২)। তিনি ৮০৬ হিজরি সালে হজ সম্পাদন করেন, যেমনটি তিনি নিজে ‘আহমাদ বিন ইব্রাহিম আল-কুসি’-এর জীবনী (ترجمة) আলোচনায় উল্লেখ করেছেন; সেখানে তিনি বলেছেন: “তিনি আমাদের সাথে ৮০৬ হিজরিতে হজ করেছেন” (৩)। অন্যদিকে সাখাভী দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেছেন যে, হাফেজ (الحافظ) ৮০৭ হিজরির মহররম মাসে জেদ্দায় ছিলেন। তবে হজের ব্যাপারে তিনি নিশ্চিত ছিলেন না বরং ধারণা পোষণ করেছেন; সম্ভবত তিনি তাঁর শাইখের এই উক্তিটি সম্পর্কে অবগত ছিলেন না। এরপর সাখাভী উল্লেখ করেছেন যে, তিনি জেদ্দা থেকে নিজ দেশে ফিরে আসেন (৪)।
এরপর আমি মিসরের অভ্যন্তরে বা বাইরে হাফেজ (الحافظ)-এর আর কোনো সফরের সন্ধান পাইনি (৫), যতক্ষণ না তিনি হজ করেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নুখবাতুল ফিকার - দিরাসাতুন আনহা ওয়া আন মানহাজিহা
(পৃষ্ঠা: ১৪৪)
في سنة (815هـ) ، ولم يذكر السخاوي بعدها إلا خروجه من مصر لحجته الأخيرة (1) ، ورحلته الشامية، كما سيأتي.
ج- الثالثة: من سنة (824هـ) إلى أوائل سنة (837هـ) :
حجّ الحافظ حجته الأخيرة في عام (824هـ) (2) ، ورحل- في صحبة السلطان الأشرف (3) -إلى حلب، سنة (836هـ) (4) ؛ ومَرُّوا بدمشق (5) ، وصاموا رمضان وهم في بعض بلدان الشام، وذكر الحافظ توجُّهه - بعد استئذان السلطان، ثم أدائه صلاة عيد الفطر- إلى جهة حلب (6) ، ثم إنهم مكثوا إلى آخر ذلك العام، ثم عادوا إلى مصر فكان وصولهم إليها في المحرم من سنة (837هـ) (7) ، وبعدها لم أقف على رحلة للحافظ، على كثرة الأماكن التي رحل
--------------------------------------------
৮১৫ হিজরি সালে; সাখাভি এর পরে তার শেষ হজের (১) উদ্দেশ্যে মিশর ত্যাগ এবং তার সিরিয়া সফর ছাড়া আর কিছু উল্লেখ করেননি, যা সামনে আসবে।
গ- তৃতীয় পর্যায়: ৮২৪ হিজরি থেকে ৮৩৭ হিজরির শুরু পর্যন্ত:
হাফিজ (الحافظ) তার শেষ হজ পালন করেন ৮২৪ হিজরি সালে (২), এবং ৮৩৬ হিজরি সালে সুলতান আল-আশরাফের (৩) সফরসঙ্গী হয়ে আলেপ্পোর উদ্দেশ্যে রওনা হন (৪); তারা দামেস্ক (৫) অতিক্রম করেন এবং শামের কিছু শহরে থাকাকালীন রমজানের রোজা পালন করেন। হাফিজ (الحافظ) উল্লেখ করেছেন যে, সুলতানের অনুমতি গ্রহণ এবং ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায়ের পর তিনি আলেপ্পোর অভিমুখে যাত্রা করেন (৬)। অতঃপর তারা সেই বছরের শেষ পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করেন এবং তারপর মিশরে ফিরে আসেন। তাদের মিশরে পৌঁছানো ছিল ৮৩৭ হিজরির মহররম মাসে (৭)। এর পরে হাফিজ (الحافظ)-এর আর কোনো সফরের কথা আমার জানা নেই, যদিও তিনি বহু স্থানে সফর করেছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নুখবাতুল ফিকার - দিরাসাতুন আনহা ওয়া আন মানহাজিহা
(পৃষ্ঠা: ১৪৫)
إليها (1) ؛ إلى العام الذي توفي فيه رحمه الله بمصر عام (852هـ) (2) .
والخلاصة ممّا تقدم - مّما ذكره السخاوي من حجات الحافظ ورحلاته (3) ، ومّما ذكره غيره- لم أقف له رحلة في سنة اثنتي عشرة، ولا في سبع عشرة، ومن ذلك ما نجده عند تقي الدين الفاسي –وكان قد رافق الحافظ في بعض أسفاره وترجم له- فإنا لا نجده يذكر شيئا من هذا (4) .
فأخلص من هذا إلى ما سبق أن قرّرته أن الحافظ ألّف (نخبة الفكر) وهو مقيم في بلاده بمصر، في عام (812هـ) (5) ، والله أعلم.
--------------------------------------------
সেখানে (১); সেই বছর পর্যন্ত যে বছর তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) মিশরে ৮৫২ হিজরিতে (২) ইন্তেকাল করেন।
পূর্বোক্ত আলোচনার সারসংক্ষেপ—সাখাবি হাফিজের হজ্জ ও সফরসমূহ (৩) এবং অন্যান্যদের বর্ণনা হতে যা উল্লেখ করেছেন—তা থেকে আমি ৮১২ হিজরিতে কিংবা ৮১৭ হিজরিতে তাঁর কোনো সফরের কথা জানতে পারিনি। এর মধ্য থেকে আমরা যা তাকিউদ্দিন আল-ফাসির নিকট পাই—যিনি কোনো কোনো সফরে হাফিজের সঙ্গী ছিলেন এবং তাঁর জীবনী (ترجمة) বর্ণনা করেছেন—সেখানেও আমরা এ সম্পর্কিত কিছুই উল্লেখ দেখতে পাই না (৪)।
সুতরাং এ থেকে আমি পূর্বে যা নির্ধারণ করেছি সেই সিদ্ধান্তেই উপনীত হচ্ছি যে, হাফিজ নিজ দেশ মিশরে অবস্থানকালে ৮১২ হিজরিতে (৫) নুখবাতুল ফিকার রচনা করেছেন, আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নুখবাতুল ফিকার - দিরাসাতুন আনহা ওয়া আন মানহাজিহা
(পৃষ্ঠা: ১৪৬)
الفصل الثالث:الجهود المبذولة في خدمة كتاب (نخبة الفكر)لقد تبوّأتْ (نخبةُ الفكر) عند العلماء مكانةً عُليا بين كتب مصطلح الحديث، فمنذ أن صنّفها الحافظ ابن حجر وأهل العلم لا يزالون يتناولونها بالدرس، والشرح، ووضع الحواشي عليها، ونظمها، ومنهم من اختصرها أيضا، إلى غير ذلك من وجوه العناية والاهتمام بها، فأصبحت -على نطاق واسع- مدارَ اعتمادهم في هذا الفن البالغ الأهمّيّة.
ولقد تطلّعتُ إلى تتبُّع الأعمال التي خُدِمَتْ بها النخبة، إلا أني وجدت مِنَ الباحثين مَن اجتهد في تتبُّعها (1) ، فلذلك رأيت أن أتناول-بالتعريف المُوجز
--------------------------------------------
তৃতীয় অধ্যায়:(নুখবাতুল ফিকার) কিতাবের খিদমতে পরিচালিত প্রচেষ্টাসমূহআলেমদের নিকট হাদিসের পরিভাষা (مصطلح الحديث) বিষয়ক গ্রন্থসমূহের মধ্যে ‘নুখবাতুল ফিকার’ এক সুউচ্চ স্থান দখল করে আছে। হাফেজ ইবনে হাজার এটি সংকলন করার পর থেকে ইলমে দ্বীনের ধারকগণ নিরবচ্ছিন্নভাবে এটি অধ্যয়ন, ব্যাখ্যা (شرح), টীকা (حاشية) লিখন এবং কাব্যবদ্ধ রূপ (نظم) প্রদানের মাধ্যমে এর চর্চা করে আসছেন। এমনকি কেউ কেউ একে সংক্ষিপ্তও (مختصر) করেছেন। এভাবেই নানাভাবে এর প্রতি যত্ন ও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। ফলে এটি—ব্যাপক পরিসরে—অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই শিল্পে (ফন) তাঁদের নির্ভরতার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
আমি ‘নুখবাতুল ফিকার’-এর ওপর পরিচালিত কাজগুলো অনুসন্ধানের আকাঙ্ক্ষা করেছিলাম; কিন্তু আমি দেখলাম যে গবেষকদের মধ্যে কেউ কেউ এটি অনুসরণে ইতোমধ্যে যথেষ্ট শ্রম দিয়েছেন (১)। তাই আমি সংক্ষেপে এর পরিচয় তুলে ধরার সিদ্ধান্ত নিয়েছি—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নুখবাতুল ফিকার - দিরাসাতুন আনহা ওয়া আন মানহাজিহা
(পৃষ্ঠা: ১৪৭)
- ما أمكنني الوقوف عليه منها، إما مطبوعا (1) ، أو مخطوطا، أو موصوفا - بِذكر
--------------------------------------------
এর মধ্যে যতটুকু আমি অবগত হতে পেরেছি, তা মুদ্রিত (১), পাণ্ডুলিপি অথবা উল্লিখিত বর্ণনার মাধ্যমে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নুখবাতুল ফিকার - দিরাসাতুন আনহা ওয়া আন মানহাজিহা
(পৃষ্ঠা: ১৪৮)
ما يُفيد تصوُّراً عنه- في الفهارس (الببلوغرافية) ، دون ما تعسَّرَ عليّ من ذلك، فأُوردُ نُبذةً عنه، وعن أهمّيّته، مُراعيا في السرد: ترتيبه الزمني، حيث وجدت أن هذا هو الأنسب للمقام هنا، وهي كما يلي:
1- نتيجة النظر في نخبة الفكر، لكمال الدين محمد بن محمد بن حسن الشُمُنِّي، (ت:821هـ) .
وهو شرح لها؛ سيأتي التعريف به مُفصّلاً في المبحث الآتي إن شاء الله تعالى.
2- نظم نخبة الفكر، أو الرتبة في نظم النخبة، لمحمد كمال الدين بن محمد بن حسين الشمني (ت:821هـ) .
نُشِرَ بتحقيق محمد سماعي الجزائري، عن دار البخاري للنشر والتوزيع؛ ببريدة والمدينة المنورة، عام (1415هـ) .
যা এ সম্পর্কে একটি ধারণা প্রদান করে—গ্রন্থপঞ্জি সংক্রান্ত সূচিসমূহে, সেসব ব্যতীত যা আমার জন্য সংগ্রহ করা কষ্টসাধ্য হয়েছে। আমি এখানে তার একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ এবং এর গুরুত্ব উল্লেখ করছি, বর্ণনার ক্ষেত্রে কালানুক্রমিক বিন্যাস বজায় রেখে; যেহেতু আমি মনে করেছি যে বর্তমান প্রেক্ষাপটের জন্য এটিই সবচেয়ে উপযুক্ত। সেগুলো নিম্নরূপ:
১- নাতীজাতুন নাজার ফী নুখবাতিল ফিকার, কামালুদ্দীন মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হাসান আশ-শুমুন্নী (মৃত্যু: ৮২১ হিজরি) রচিত।
এটি সেটির একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ (شرح); ইনশাআল্লাহ পরবর্তী পরিচ্ছেদে এ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা আসবে।
২- নাজমুন নুখবাতিল ফিকার, অথবা আর-রুতবাতু ফী নাজমিত তুহফাহ, মুহাম্মদ কামালুদ্দীন ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হুসাইন আশ-শুমুন্নী (মৃত্যু: ৮২১ হিজরি) রচিত।
এটি মুহাম্মদ সামায়ি আল-জাজায়িরির সম্পাদনায় (تحقيق), দারুল বুখারি প্রকাশনী থেকে বুরাইদাহ ও মদিনা মুনাওয়ারা হতে ১৪১৫ হিজরি সনে প্রকাশিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
নুখবাতুল ফিকার - দিরাসাতুন আনহা ওয়া আন মানহাজিহা
(পৃষ্ঠা: ১৪৯)
ويتميّز هذا النظم بسلامته من عيوب النظم، مع وضوح العبارة، وجمال الأسلوب، وحسن العرض والترتيب؛ على حدّ قول مُحقّقها (1) ، ويصل عدد أبياته إلى (205) ، أولها:
الحَمْدُ للهِ الْعَلِيمِ الْقَادِرِ مُرْسِلِ سَيَّدِ الأَنَامِ الحَاشِرِ (2)
وآخرها:
وَأَفْضَلُ الصَّلاةِ وَالتَّحِيَّةِ
… عَلَى محَمَّدٍ نَبِيِّ الرَّحْمَةِِ
وَآلِهِ وَصَحْبِهِ الأَبْرَارِ
… مِنَ المُهَاجِرِينَ وَالأَنْصَارِ (3)
3- تنقيح لابن الوزير باسم: (مختصر في علم الحديث) ، أو (مختصر نخبة الفكر) (4) ، وهو العلاّمة محمد بن إبراهيم بن علي المُرتضى اليماني؛ المعروف بـ (ابن الوزير) ، (ت: 840هـ) .
اطّلعت على مُصوّرتين له عن نُسختين خطّيّتين؛ محفوظتين بقسم المخطوطات
--------------------------------------------
এই কাব্যটি কাব্যিক ত্রুটিসমূহ থেকে মুক্ত হওয়ার পাশাপাশি এর প্রাঞ্জল অভিব্যক্তি, শৈল্পিক শৈলী এবং চমৎকার উপস্থাপনা ও বিন্যাসের জন্য বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত; যেমনটি এর গবেষক (محقق) (১) উল্লেখ করেছেন। এর শ্লোক সংখ্যা ২০৫টি পর্যন্ত পৌঁছেছে, যার শুরু হলো:
সকল প্রশংসা মহাজ্ঞানী ও সর্বশক্তিমান আল্লাহর জন্য, যিনি মানবজাতির নেতা ও হাশরের প্রবর্তককে প্রেরণ করেছেন (২)
এবং এর শেষ হলো:
আর সর্বোত্তম দরুদ ও সালাম... দয়ার নবী মুহাম্মাদ (সা.)-এর ওপর
এবং তাঁর পুণ্যবান পরিবার ও সাহাবীগণের ওপর... যারা মুহাজির ও আনসারদের অন্তর্ভুক্ত (৩)
৩- ইবনে আল-ওয়াজিরের একটি পরিমার্জিত সংস্করণ (تنقيح) যার নাম: (মুখতাসার ফি ইলমিল হাদিস), অথবা (মুখতাসার নুখবাতুল ফিকার) (৪)। আর তিনি হলেন আল্লামা মুহাম্মাদ বিন ইবরাহিম বিন আলী আল-মুরতাদা আল-ইয়ামানি; যিনি (ইবনে আল-ওয়াজির) নামে পরিচিত (মৃত্যু: ৮৪০ হিজরি)।
আমি পাণ্ডুলিপি বিভাগে সংরক্ষিত এর দুটি হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপির (نسخة خطية) ফটো কপি দেখেছি
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নুখবাতুল ফিকার - দিরাসাতুন আনহা ওয়া আন মানহাজিহা
(পৃষ্ঠা: ১৫০)
بالمكتبة المركزية بالجامعة الإسلامية؛ أُولاهما: (ميكروفلمية) برقم (5936/3) ، تقع في أربع ورقات؛ ضِمن مجموع (من ورقة 120 إلى 123) ، وتاريخ نسخها في عام (868 ?) ، أي بعد وفاة مؤلّفها بـ (28) سنة، وأصلها محفوظ بمكتبة (برلين) بألمانيا، وثانيتهما: (ميكروفلمية) برقم (7671/5) ، في خمس ورقات، منسوخة بتاريخ عام (1050هـ) ، وأصلها بمكتبة الحرم المكي برقم (764/4) ، وله نسخ أخرى (1) .
وهو مختصر نافع، تناول فيه ابن الوزير جُمَلاً من (النخبة) بالتنقيح والتهذيب وتحرير عبارات، وقليل زيادات، مع ثناء مِدرار، وتبجيل مِكثار، قال رحمه الله في مقدمته: ((أما بعد: فإن الإمام العلامة الحافظ أحمد بن علي العسقلاني -الشهير بابن حجر، نفّس الله في مُدّته- كتب في سفره إلى مكة المكرمة - سنة سبع عشرة وثمانمائة (2) - مُختصرا بديعا في علوم الحديث، فوقفت عليه:
...... ................. وقوف شحيح ضاع في الترب خاتمه)) (3)
وتمثّل بالبيتين السابق ذكرهما (4) ، ثم قدّم بين يدي ملحوظاته اعتذاراً
--------------------------------------------
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে এর দুটি পাণ্ডুলিপি (نسخة) রয়েছে; প্রথমটি: (মাইক্রোফিল্ম) যার নম্বর (৫৯৩৬/৩), এটি চারটি পত্রে বিস্তৃত; একটি সংকলনের (مجموع) অন্তর্ভুক্ত (১২০ থেকে ১২৩ পৃষ্ঠা পর্যন্ত), এবং এর অনুলিপিকরণের তারিখ ৮৬৮ হিজরি (?), অর্থাৎ এর লেখকের মৃত্যুর ২৮ বছর পর, আর এর মূল কপি জার্মানির বার্লিন লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত আছে। দ্বিতীয়টি: (মাইক্রোফিল্ম) যার নম্বর (৭৬৭১/৫), পাঁচ পত্রে বিস্তৃত, যা ১০৫০ হিজরি সনে অনুলিপি করা হয়েছে এবং এর মূল কপি মক্কার হারাম লাইব্রেরিতে (৭৬৪/৪) নম্বরে সংরক্ষিত আছে। এর আরও অন্যান্য পাণ্ডুলিপি (نسخة) রয়েছে (১)।
এটি একটি উপকারী সংক্ষিপ্তসার (مختصر), যাতে ইবনুল উজির 'নুবখাতুল ফিকার' এর বেশ কিছু অংশকে পরিমার্জন, পরিশীলন, শব্দবিন্যাসের শুদ্ধিকরণ এবং সামান্য কিছু সংযোজনসহ আলোচনা করেছেন। সেইসাথে তিনি এতে অঢেল প্রশংসা ও অতিশয় সম্মান প্রদর্শন করেছেন। তিনি (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর ভূমিকার শুরুতে বলেছেন: "অতঃপর: ইমাম, প্রাজ্ঞ আলেম (العلامة), আল-হাফিজ (الحافظ) আহমদ বিন আলী আল-আসকালানি—যিনি ইবনে হাজার নামে পরিচিত, আল্লাহ তাঁর হায়াত বরকতময় করুন—তিনি মক্কা মুকাররমার সফরে—আটশত সতেরো হিজরি (২) সালে—হাদিস বিজ্ঞান (علوم الحديث) বিষয়ে একটি চমৎকার সংক্ষিপ্তসার (مختصر) লিখেছিলেন, যা আমি পর্যবেক্ষণ করেছি:
...... ................. সেই কৃপণের ন্যায় থমকে দাঁড়ানো, যে মাটিতে তার আংটি হারিয়ে ফেলেছে।" (৩)
তিনি উল্লিখিত দুটি পঙক্তি দ্বারা উপমা পেশ করেছেন (৪), অতঃপর তাঁর পর্যালোচনার প্রারম্ভে একটি ওজরখাহি (ক্ষমা প্রার্থনা) পেশ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নুখবাতুল ফিকার - দিরাসাতুন আনহা ওয়া আন মানহাজিহা
(পৃষ্ঠা: ১৫১)
رقيقاً؛ في غاية الأدب والتوقير للحافظ، مع مُحاولات كبيرة لبسط العُذر في ذلك للحافظ، بعبارات في قمّة التلطُّف، وأصدق التودُّد، وبأسلوب في أوج البلاغة؛ قال: ((لكنه بقي عليه - فيه- ما يَقيه من العين، ولا يُشْعَرُ بمثله إلا في سواد العين:
كَفُوفَةِ الظُّفْرِ لا يُدْرَى بموضعِها
… ومِثْلُها في سواد العين مشهورُ (1)
وذلك لكثرة اشتغاله في أوان ارتحاله، لا لِقصور في عرفانه، فهو إمام زمانه، فرأيت أن أُقلّل مِمّا وقع نقدي عليه، فأما الإحصاء (2) فلا سبيل إليه، إذ السهو والخطأ والنسيان مِن صفة كل إنسان، فأتدلّل عليه بِزيادة يسيرة، أو تحرير عبارة، عدْلاً لاّ عدْواً، لاعترافي أنّ الكتابَ كتابُهُ لفظاً ومعنىً
… )) إلى أن قال: ((
… إلا ما زدته فيه من الدلائل، غَيْرَةً على دعاويه العواطل؛ مِن مُّشابهتها للدعاوي البواطل
… )) (3) .
وقد نقل الصنعاني هذه الجملة في شرحه لمنظومته: (قصب السكر) الذي سمّاه: (إسبال المطر على قصب السكّر) عند شرحه للبيت الذي قال فيه:
ألّفها الحافظ في حال السفرْ
… وهو الشهاب بن علي بن حجرْ
--------------------------------------------
অত্যন্ত কোমল; হাফিজ (حافظ)-এর প্রতি চরম শিষ্টাচার ও শ্রদ্ধাবোধের সাথে এবং হাফিজের সেই কাজের পেছনে যথাসম্ভব ওজর পেশ করার প্রচেষ্টাসহ, অত্যন্ত মার্জিত শব্দ ও অকৃত্রিম আন্তরিকতাপূর্ণ সর্বোচ্চ অলঙ্কারপূর্ণ শৈলীতে তিনি বলেছেন: ((তবে তার ওপর —বা তাতে— এমন কিছু রয়ে গেছে যা তাকে বদনজর থেকে রক্ষা করে; আর এই জাতীয় বিষয়ের উপস্থিতি চোখের মণির কালো অংশ ছাড়া অন্য কোথাও অনুভূত হয় না:
নখের সাদা বিন্দুর মতো যার অবস্থান অগোচরে থাকে
… অথচ চোখের কালোর মাঝে তা সুপরিচিত (স্পষ্ট) (১)
আর এটি তার সফরের সময়কার অধিক ব্যস্ততার কারণে হয়েছে, তার জ্ঞানের কোনো অভাবের কারণে নয়। কারণ তিনি তার সময়ের ইমাম (إمام)। তাই আমি তার ওপর আমার করা সমালোচনা (نقد)-এর পরিমাণ কমিয়ে রাখা সমীচীন মনে করেছি। তবে ভুল-ভ্রান্তির পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধান (إحصاء) (২) করার তো কোনো অবকাশই নেই; কেননা ভুল (سهو), ত্রুটি (خطأ) এবং বিস্মৃতি (نسيان) প্রতিটি মানুষেরই স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য। তাই আমি তার প্রতি সম্মান প্রদর্শনপূর্বক সামান্য কিছু সংযোজন বা কোনো বাক্য পরিমার্জন (تحرير عبارة) করছি, যা কেবল ন্যায়বিচারের খাতিরে, শত্রুতার বশবর্তী হয়ে নয়। কারণ আমি স্বীকার করি যে, শব্দে ও অর্থে কিতাবটি তারই
… )) একপর্যায়ে তিনি বলেন: ((
… তবে আমি তাতে যে সকল প্রমাণাদি (دلائل) বৃদ্ধি করেছি, তা কেবল ভিত্তিহীন দাবিগুলোর প্রতি আত্মমর্যাদাবোধ থেকে; যেন সেগুলো বাতিল দাবিগুলোর সদৃশ না হয়ে যায়
… )) (৩)।
সানি এই উক্তিটি তার কাব্যগ্রন্থ (منظومة)-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ: (ইসবালুল মাতার আলা কাসাবিস সুক্কার)-এ উল্লেখ করেছেন, যখন তিনি তার সেই পঙ্ক্তিটি ব্যাখ্যা করছিলেন যেখানে তিনি বলেছেন:
হাফিজ এটি সফরের অবস্থায় সংকলন করেছেন
… আর তিনি হলেন শিহাব বিন আলী বিন হাজার।
--------------------------------------------