(খণ্ড: ১) নুখবাতুল ফিকার - দিরাসাতুন আনহা ওয়া আন মানহাজিহা (পৃষ্ঠা: -)
نخبة الفكر - دراسة عنها وعن منهجها   (إبراهيم بن محمد نور سيف)

القسم: علوم الحديث


الكتاب: نخبة الفكر (دراسة عنها وعن منهجها)

المؤلف: إبراهيم بن محمد نور سيف

الناشر: الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

عدد الصفحات: 193

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

নুখবাতুল ফিকার - এর ওপর একটি গবেষণা এবং এর পদ্ধতি বিশ্লেষণ   (ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ নূর সাইফ)

বিভাগ: হাদিস বিজ্ঞান (علوم الحديث)


গ্রন্থ: নুখবাতুল ফিকার (এর ওপর একটি গবেষণা এবং এর পদ্ধতি বিশ্লেষণ)

লেখক: ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ নূর সাইফ

প্রকাশক: মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৯৩

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১ হিজরি

(খণ্ড: ১) নুখবাতুল ফিকার - দিরাসাতুন আনহা ওয়া আন মানহাজিহা (পৃষ্ঠা: ১২৩)
ال‌‌تمهيد

أ- إن (من أهم أنواع العلوم: تحقيق معرفة الأحاديث النبويات …، ومعرفة علم الأسانيد …، ومعرفة حكم اختلاف الرواة في الأسانيد والمتون …، ومعرفة الصحابة والتابعين وأتباعهم …) (1)

هذا العلم العظيم - أعني علم مصطلح الحديث؛ بمسائله المذكور طرف منها- يُعنى بمعالجة طريقة للتعلم؛ هي غاية في الأهمية، يأتي منشأ بنائها على الكيفية التي يحصل بها العلم للإنسان، التي إما أن تكون مباشرة أو بواسطة.

ولقد قال الله جل ذكره: {وَاللَّهُ أَخْرَجَكُمْ مِنْ بُطُونِ أُمَّهَاتِكُمْ لا تَعْلَمُونَ شَيْئاً وَجَعَلَ لَكُمُ السَّمْعَ وَالْأَبْصَارَ وَالْأَفْئِدَةَ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ} [النحل: 78]

فقد هيأ سبحانه وتعالى في هذا البشر الذي خلقه سويا - أدوات التعلم ووسائل التلقي؛ لكي يعلم ويعقل ويتدبر المدركات، ويميز بين الأشياء.

ولئن كان الحصول على العلم بالأسماع والأبصار عن طريق إدراك الوقائع بالحواس؛ بإدراك مباشر لها في حين وقوعها، وهو أحد طريقي العلم بها، فإن الطريق الثاني هو إدراكها بطريق غير مباشر، وهو طريق الخبر، وهو أوسعُ دائرةً وأرحبُ مجالاً، وهو منفصل عن وقوعها بفاصل زمني أو فاصل مكاني، أو بالفاصلين كليهما.

ب - ومن هنا وجدنا علماء الحديث رحمهم الله يُعْنَوْنَ في علم مصطلح الحديث بقضية (الخبر) عناية فائقة، كي يُحافظوا عن طريق ذلك على الميراث النبوي العظيم الذي تتناقله الأجيال المُتعاقبة، فتكون سنة رسول الله

--------------------------------------------

(1) تلخيص من كلام الإمام النووي رحمه الله في خطبة مقدمته لشرح صحيح مسلم 1/3.
আল-উপক্রমণিকা (التمهيد)

ক- নিশ্চয়ই (সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞান বা ইলমসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো: নববী হাদিসসমূহের পরিচয় যথাযথভাবে যাচাই (تحقيق) করা …, সনদ শাস্ত্র (علم الأسانيد) সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা …, সনদ (الأسانيد) ও মতন (المتون) এর ক্ষেত্রে বর্ণনাকারীদের (الرواة) মতভেদের বিধান (حكم) অবগত হওয়া …, এবং সাহাবী (الصحابة), তাবেয়ী (التابعين) ও তাঁদের অনুসারী (أتباع التابعين) সম্পর্কে জ্ঞান রাখা …) (১)

এই মহান জ্ঞান—অর্থাৎ হাদিসের পরিভাষা (مصطلح الحديث) শাস্ত্র; যার কিছু বিষয়ের কথা এখানে উল্লেখ করা হয়েছে—তা শিক্ষা গ্রহণের একটি পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করে; যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মূল ভিত্তি হলো সেই প্রক্রিয়ার ওপর যার মাধ্যমে মানুষ জ্ঞান লাভ করে, যা সরাসরি অথবা কোনো মাধ্যমের সাহায্যে হয়ে থাকে।

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {আর আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের মায়েদের উদর হতে এমন অবস্থায় বের করেছেন যে, তোমরা কিছুই জানতে না। আর তিনি তোমাদের জন্য শ্রবণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি ও অন্তঃকরণসমূহ দিয়েছেন যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো।} [আন-নাহল: ৭৮]

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা এই মানুষ—যাকে তিনি সুঠামভাবে সৃষ্টি করেছেন—তার মাঝে জ্ঞান অর্জনের সরঞ্জাম এবং জ্ঞান গ্রহণের (التلقي) মাধ্যমসমূহ তৈরি করে দিয়েছেন; যাতে সে জানতে পারে, বুঝতে পারে এবং ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়গুলো নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করতে পারে এবং বিভিন্ন বিষয়ের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করতে পারে।

যদি শ্রবণ ও দর্শনের সাহায্যে কোনো ঘটনা ঘটার সময় ইন্দ্রিয় (الحواس) দ্বারা সরাসরি তা অনুভব করার মাধ্যমে জ্ঞান অর্জন করা হয়, তবে এটি হলো জ্ঞান লাভের দুটি পদ্ধতির একটি। আর দ্বিতীয় পদ্ধতিটি হলো পরোক্ষভাবে তা উপলব্ধি করা, যা হলো সংবাদের (الخبر) মাধ্যম। এর পরিধি অনেক বিস্তৃত ও বিশাল। এটি ঘটনার সময়কাল থেকে সময়ের ব্যবধানে কিংবা স্থানের দূরত্বে অথবা উভয় ব্যবধানেই পৃথক হতে পারে।

খ- আর এ কারণেই আমরা দেখতে পাই যে হাদিস বিশারদগণ (علماء الحديث) রহমাতুল্লাহি আলাইহিম হাদিসের পরিভাষা (مصطلح الحديث) শাস্ত্রে সংবাদের (الخبر) বিষয়টিতে অত্যন্ত গুরুত্ব প্রদান করেছেন, যাতে এর মাধ্যমে তাঁরা সেই মহান নববী উত্তরাধিকারকে সংরক্ষণ করতে পারেন যা বংশপরম্পরায় ধারাবাহিকভাবে স্থানান্তরিত হয়ে আসছে। ফলে রাসুলুল্লাহর সুন্নাহ...

--------------------------------------------

(১) ইমাম নববী রহমাতুল্লাহি আলাইহি-এর শারহু সহীহ মুসলিম-এর মুখবন্ধের আলোচনার সারসংক্ষেপ, ১/৩।
(খণ্ড: ১) নুখবাতুল ফিকার - দিরাসাতুন আনহা ওয়া আন মানহাজিহা (পৃষ্ঠা: ১২৪)
صلى الله عليه وسلم بينها حيّة ماثلة شاخصة، تهيئةً وَّتحقيقاً لِّلأمر الإلهي الكريم المُوجّه لهذه الأمة في جميع عصورها وأحوالها: {فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ} [النساء 95]

وكان الردّ إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم في حياته، وبمُباشرة شخصه الكريم لذلك، مُبلّغا عن ربه عز وجل، حاكما بأمره.

وصار الردّ بعد وفاته عليه الصلاة والسلام إنما هو لِسُنّته وما جاء عنه من بيان للكتاب العزيز، وتفصيل لأمور التشريع، وتبليغ لمبعوثات الرسالة.
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের মাঝে এক জীবন্ত ও জাগ্রত আদর্শ হিসেবে বিদ্যমান ছিলেন; যা মূলত সকল যুগে ও সকল পরিস্থিতিতে এই উম্মতের প্রতি নির্দেশিত মহান ঐশী নির্দেশ পালনের প্রস্তুতি ও বাস্তবায়নের স্বরূপ: {অতঃপর তোমরা যদি কোনো বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হও, তবে তা আল্লাহ ও রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও।} [আন-নিসা ৯৫]

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবদ্দশায় এই প্রত্যাবর্তন ছিল সরাসরি তাঁর পবিত্র সত্তার উপস্থিতিতে, যিনি তাঁর রবের পক্ষ থেকে বিধান পৌঁছে দিতেন এবং তাঁর নির্দেশ অনুযায়ী ফয়সালা করতেন।

আর তাঁর ইন্তেকালের পর, প্রত্যাবর্তন কেবল তাঁর সুন্নাহ (سنة) এবং তাঁর থেকে বর্ণিত সেই সকল বিষয়ের দিকেই নির্দিষ্ট হয়ে যায়, যা মহাগ্রন্থ আল-কুরআনের ব্যাখ্যা, শরিয়তের বিধি-বিধানের বিস্তারিত বিবরণ এবং রিসালাতের বার্তার প্রচার হিসেবে উপনীত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) নুখবাতুল ফিকার - দিরাসাতুন আনহা ওয়া আন মানহাজিহা (পৃষ্ঠা: ১২৫)
‌‌الفصل الأول: المنهج المُبتكر في (نخبة الفكر)

كان علم (مصطلح الحديث) -كما هو مُقرّر في مُقدّمات كتبه - لم يأخذ في أوّل أمره طابع العلم المُستقلّ؛ المُدوّنة مسائله على حدة، بل كانت مسائله منثورة في كتب الحديث، ومذكورة في بعض مقدماتها، ومبثوثة في كتب العلوم الأخرى. (1)

إلى أن شاء الله له أن يلبس ثوب الشخصية المُستقلّة، التي ذكروا من أوائل من صنعها: القاضي أبا محمد الرامهرمزي؛ رحمه الله تعالى.

وكان الرامهرمزي رائدا في هذا المضمار، وتلاه من تلاه من المحدثين؛ الذين كانوا لا يزالون يتتبّعون المسائل، ويُدوّنون ما يقفون عليه منها، ويُودعونها مُؤلّفات لهم تفاوتت طولا وقِصرا، ومنهم الخطيب البغدادي الذي أوسع مسائله سبرا وجمعا، وتتبُّعا وتحريرا، حتى جاء الله على يديه بالخير الكثير، ونفع بعلمه من جاء بعده بنفع كبير.

أما الرامهرمزي الأوّل، فإنه وإن كان ما طوّل، إلا أنّ رِيادته في هذا المجال تجعل عذره واضحا، ويكفيه شرفُ شقِّ طريقٍ لم يُسلَك قبله، وتمهيدُ مسالِكِهِ لمن يأتي من بعده.

--------------------------------------------

(1) انظر: تقديم الشيخ محمد عبد الرزاق حمزة لاختصار علوم الحديث؛ لابن كثير، مع شرحه الباعث الحثيث، للشيخ أحمد محمد شاكر؛ رحمهم الله جميعا ص (9) ، والوسيط للشيخ الدكتور/محمد محمد أبو شهبة رحمه الله ص (28-32) ، ولمحات في أصول الحديث للدكتور/محمد أديب الصالح ص (18-23) ، وما كتبه د. مصطفى الخن في مقدمة تحقيقه لتقريب النواوي الذي سمّاه المنهل الراوي ص (22-25) .
‌‌প্রথম অধ্যায়: 'নুখবাতুল ফিকার'-এ উদ্ভাবিত পদ্ধতি

হাদিস পরিভাষা বিজ্ঞান (مصطلح الحديث) - যেমনটি এর গ্রন্থসমূহের ভূমিকায় প্রতিষ্ঠিত রয়েছে - তার সূচনাকালে কোনো স্বতন্ত্র বিজ্ঞান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেনি; যার বিষয়াবলী পৃথকভাবে সংকলিত হবে। বরং এর বিষয়াবলী হাদিসের গ্রন্থসমূহে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল, এর কিছু ভূমিকাগুলোতে উল্লিখিত ছিল এবং অন্যান্য শাস্ত্রের কিতাবসমূহেও বিস্তৃত ছিল। (১)

পরিশেষে আল্লাহ চাইলেন যে, এটি একটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের রূপ পরিগ্রহ করুক। একে রূপদানকারীদের মধ্যে তারা সর্বপ্রথম যার নাম উল্লেখ করেন তিনি হলেন: কাজী আবু মুহাম্মদ আর-রামাহুরমুজি; আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন।

আর-রামাহুরমুজি এই ক্ষেত্রে অগ্রগামী ছিলেন এবং তাঁর পরে পরবর্তী মুহাদ্দিসগণ (المحدثين) তাঁর অনুসরণ করেন; যারা বিষয়গুলো অন্বেষণ করতে থাকেন এবং যা কিছু তারা প্রত্যক্ষ করতেন তা লিপিবদ্ধ করতে থাকেন। তারা সেগুলোকে নিজ নিজ গ্রন্থে স্থান দেন যা দৈর্ঘ্য ও সংক্ষিপ্ততায় ভিন্ন ভিন্ন ছিল। তাঁদের মধ্যে আল-খতিব আল-বাগদাদি অন্যতম, যিনি এর মাসআলাসমূহকে গভীর পর্যবেক্ষণ, সংগ্রহ, অন্বেষণ ও সম্পাদনার মাধ্যমে ব্যাপকতা দান করেছেন। এমনকি আল্লাহ তাঁর হাতে প্রভূত কল্যাণ দান করেছেন এবং তাঁর জ্ঞান দ্বারা পরবর্তী প্রজন্মকে ব্যাপকভাবে উপকৃত করেছেন।

তবে প্রথম ব্যক্তিত্ব আর-রামাহুরমুজি সম্পর্কে কথা হলো, তিনি যদিও বিষয়টি দীর্ঘায়িত করেননি, তবে এই ক্ষেত্রে তাঁর অগ্রগামিতা তাঁর ওজরকে স্পষ্ট করে দেয়। তাঁর জন্য এটাই সম্মানের যে, তিনি এমন এক পথ উন্মোচন করেছেন যা ইতিপূর্বে আর কেউ অবলম্বন করেনি এবং পরবর্তী আগন্তুকদের জন্য তিনি এর পথ সুগম করে দিয়েছেন।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ইবনে কাসীর রচিত ইকতিসার উলুমিল হাদিস গ্রন্থে শেখ মুহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক হামজার ভূমিকা, সাথে শেখ আহমদ মুহাম্মদ শাকির রচিত এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ আল-বাইসুল হাসিস; আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি রহম করুন, পৃষ্ঠা (৯); এবং শেখ ড. মুহাম্মদ মুহাম্মদ আবু শাহবা রচিত আল-ওয়াসিত, আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন, পৃষ্ঠা (২৮-৩২); এবং ড. মুহাম্মদ আদীব আস-সালিহ রচিত লামহাত ফি উসুলিল হাদিস (أصول الحديث), পৃষ্ঠা (১৮-২৩); এবং ড. মুস্তফা আল-খিন নববীর তাকরীব-এর তাহকিকের ভূমিকায় যা লিখেছেন, যার নামকরণ তিনি করেছেন আল-মানহালুর রাওয়ি, পৃষ্ঠা (২২-২৫)।
(খণ্ড: ১) নুখবাতুল ফিকার - দিরাসাতুন আনহা ওয়া আন মানহাজিহা (পৃষ্ঠা: ১২৬)
ثم الخطيب البغدادي؛ ومَن بعده، وقد (جاء بعض من تأخّر عن الخطيب، فأخذ من هذا العلم بنصيب) على حدّ ما قاله الحافظ ابن حجر العسقلاني، بعد أن أشاد بكثرة ما فُتِح به على الخطيب.

والحافظ ابن حجر نفسه رحمه الله له مَوقعٌ مُهمٌّ جدا في حلقات هذا التسلسل الذي يُعنى بقضية (الخبر) ، وهو الذي أفصح عن القضية، فجاء بشيء مُبتكر، كما تحدّث به هو وقرّر، وقد صدق فيما قاله وبرَّ.

وقد نبّه - قبل أن يقول ذلك- إلى جزالة ما جاء به الإمام ابن الصلاح في مقدمته المشهورة العظيمة، ونوّه بجهوده في أماليه الجليلة التي عُرفت فيما بعد باسم (مقدمة ابن الصلاح) ، فجاءت وقد بارك الله له فيها، قال الحافظ ابن حجر: (اعتنى بتصانيف الخطيب المُفرّقة فجمع شتات مقاصدها، وضمّ إليها من غيرها نُخَب فوائدها، فاجتمع في كتابه ما تفرّق في غيره، فلهذا عَكَف الناس عليه وساروا بسيره …) إلى آخر ما ذكره رحمه الله من أنّ المُعتنين بكتاب ابن الصلاح -بشتى وجوه العناية- أصبحوا لا يُحصَوْنَ كثرةً.

ومع هذا نجد الحافظ ابن حجر يذكر بعد ذلك عن كتابه (نخبة الفكر) بأنه لخصه على منهج قال عنه: (على ترتيب ابتكرته، وسبيل انتهجته…) (1) ،

--------------------------------------------

(1) قال فضيلة شيخي الدكتور/محمد محمد السماحي رحمه الله في كتابه المنهج الحديث، الذي ذكر فيه تاريخ الحديث -ص (15) ضمن جدول سرد فيه مؤلفات في المصطلح ومؤلفيها- عن الحافظ في النخبة بأنه: (رتّبها ترتيبا لم يُسبق إليه) ، وقد قابل فضيلة شيخي الدكتور/محمد محمد أبو شهبة رحمه الله في مقدمة كتابه (الوسيط) ص (8) بين منهجي كل من ابن الصلاح وابن حجر فجعل كلا منهما منهجا مُّستقلاً، كما شرح الدكتور/نور الدين عتر منهج الحافظ في النخبة وفي النّزهة شرحاً جيّداً في مقدمة تحقيقه للنّزهة ص (21-22) .
এরপর আসলেন খতিব আল-বাগদাদি এবং তাঁর পরবর্তীগণ। আল-হাফিজ ইবনে হাজার আসকালানি, খতিবের ওপর ইলমের যে দ্বারসমূহ উন্মোচিত হয়েছিল তার ভূয়সী প্রশংসা করার পর বলেন, "খতিবের পরবর্তী কিছু উত্তরসূরি এসেছিলেন যারা এই ইলম থেকে যথাযথ অংশ গ্রহণ করেছেন।"

আল-হাফিজ ইবনে হাজার (রহ.)-এর নিজেরও এই ধারাক্রমের বলয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান রয়েছে যা সংবাদ (الخبر) সংক্রান্ত বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট। তিনিই এই বিষয়টি স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন এবং একটি উদ্ভাবনী বিষয় নিয়ে এসেছেন, যা তিনি নিজেই আলোচনা ও সাব্যস্ত করেছেন। এ বিষয়ে তিনি যা বলেছেন তাতে তিনি সত্যনিষ্ঠ ও যথাযথ ছিলেন।

তিনি এ কথা বলার আগে ইমাম ইবনুল সালাহ তাঁর প্রসিদ্ধ ও মহান মুকাদ্দিমায় যা উপস্থাপন করেছেন তার শ্রেষ্ঠত্বের কথা উল্লেখ করেছেন। এছাড়া তিনি তাঁর মহান 'আমালি' (বক্তৃতামালা)-তে যে প্রচেষ্টা চালিয়েছেন তারও প্রশংসা করেছেন, যা পরবর্তীতে মুকাদ্দিমা ইবনুল সালাহ নামে পরিচিতি পায়। আল্লাহ এতে বরকত দান করেছেন। হাফিজ ইবনে হাজার বলেন: "(ইবনুল সালাহ) খতিবের বিক্ষিপ্ত রচনাগুলোর প্রতি যত্নশীল হন এবং সেগুলোর মৌলিক উদ্দেশ্যসমূহ একত্রিত করেন। এছাড়া অন্যান্য উৎস থেকে বাছাইকৃত সারসংক্ষেপসমূহ এর সাথে যুক্ত করেন। ফলে তাঁর কিতাবে এমন সব বিষয় একত্রিত হয়েছে যা অন্য কিতাবসমূহে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল। একারণে মানুষ এর ওপর গুরুত্বারোপ করেছে এবং তাঁর পথ অনুসরণ করেছে …"। হাফিজ (রহ.) আরও উল্লেখ করেছেন যে, যারা ইবনুল সালাহ-এর কিতাব নিয়ে বিভিন্নভাবে গবেষণা ও চর্চা করেছেন তাদের সংখ্যা গণনা করে শেষ করা যাবে না।

তা সত্ত্বেও আমরা দেখি হাফিজ ইবনে হাজার পরবর্তীতে তাঁর নুখবাতুল ফিকার কিতাব সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি এটি এমন একটি পদ্ধতি (منهج) অনুযায়ী সংক্ষেপ করেছেন যার সম্পর্কে তিনি বলেন: "এমন এক বিন্যাস অনুযায়ী যা আমি উদ্ভাবন করেছি এবং এমন এক পথ যা আমি অবলম্বন করেছি …" (১) ,

--------------------------------------------

(১) আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষক ড. মুহাম্মদ মুহাম্মদ আস-সামাহি (রহ.) তাঁর আল-মানহাজ আল-হাদিস কিতাবে (যেখানে তিনি হাদিসের ইতিহাস আলোচনা করেছেন—পৃষ্ঠা ১৫, হাদিস পরিভাষা (المصطلح) ও এর লেখকদের তালিকায়) নুখবা সম্পর্কে হাফিজ সম্পর্কে বলেন: "তিনি এটি এমনভাবে বিন্যস্ত করেছেন যার পূর্বে কোনো দৃষ্টান্ত নেই।" আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষক ড. মুহাম্মদ মুহাম্মদ আবু শাহবা (রহ.) তাঁর আল-ওয়াসিত কিতাবের ভূমিকায় (পৃষ্ঠা ৮) ইবনুল সালাহ এবং ইবনে হাজার—উভয়ের পদ্ধতি (منهج)-এর তুলনা করেছেন এবং প্রত্যেকটিকে স্বতন্ত্র পদ্ধতি (منهج) হিসেবে গণ্য করেছেন। ড. নুরউদ্দিন আতর তাঁর নুঝহাতুন নাজার এর তাহকিকের ভূমিকায় (পৃষ্ঠা ২১-২২) নুখবা এবং নুঝহাতে হাফিজের পদ্ধতি (منهج)-এর চমৎকার ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন।
(খণ্ড: ১) নুখবাতুল ফিকার - দিরাসাতুন আনহা ওয়া আন মানহাজিহা (পৃষ্ঠা: ১২৭)
كما صرّح به في شرحه: (نزهة النظر) (1) .

لقد جاءنا حديث نبوي شريف عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، تكلّم به عليه الصلاة والسلام، ومحتواه مُسَلَّمٌ به، مُدْرَكٌ لّكلّ أحد، وهو قوله عليه الصلاة والسلام: "ليس الخبر كالمعاينة"، رواه من الصحابة الأجلاء عنه عليه الصلاة والسلام: ابنُ عباس (2) ،

--------------------------------------------

(1) نزهة النظر ص (40) .

(2) حديث ابن عباس (أخرجه:

- الإمام أحمد في مسنده (1842 – 2447) عن هشيم عن أبي بشر، عن سعيد بن جبير، عنه - (- مرفوعا؛ بلفظ فيه هذه الجملة فقط، ثم عن سريج بن النعمان، عن هشيم … به؛ بلفظ أتمّ: «ليس الخبر كالمعاينة، إن الله عز وجل أخبر موسى بما صنع قومه في العجل فلم يُلق الألواح، فلما عايَنَ ما صنعوا ألقى الألواح فانكسرت» .

- وبهذين الإسنادين أخرجه الضياء في المختارة 10/81-82 بإسناده من طريق الإمام أحمد … بهما؛ كما تقدم.

- وابن حبان كما في الإحسان 8/32 (1658) ،

- والطبراني في الأوسط (25) ،

- وابن عدي في الكامل 7/2596،

- وأبو الشيخ في الأمثال (5) ،

- والحاكم في المستدرك 2/321؛ وصحّحه على شرطهما ولم يتعقّبه الذهبي،

- والقضاعي في مسند الشهاب (1182 و1183 و1184) ،

- والخطيب في تاريخ بغداد: 6/56،

- والضياء في المختارة 10/80-81 من طرق - غير الطريقين المتقدمين-،

… وكلهم من طرق عن هشيم عن أبي بشر.. به.

- والبزار في مسنده، كما في كشف الأستار (200) ،

- وابن حبان كما في الإحسان 8/33 (1681) ،

- والطبراني في الكبير (12451) ،

- وابن عدي في الكامل 7/2596،

… كلهم من طرق عن أبي عوانة عن أبي بشر.. به.

هذا وأخرجه الحاكم في المستدرك 2/380 من طريق أبي عوانة وهشيم - وتصحّف إلى هشام- كلاهما عن أبي بشر … به؛ ولفظه «ليس المعاين كالمخبر … » بطوله، وعلّق عليه الذهبي بقوله: (سمعه من أبي بشر ثقتان) يعني أبا عوانة وهشيما، فنص على سماع هشيم له من أبي بشر.

قال الشيخ شعيب الأرناؤوط ورفيقه -في تعليقه على المسند 4/260-261: (حديث صحيح رجاله رجال الشيخين؛ غير سُريج بن النعمان فمن رجال البخاري، وهُشيم مُدلّس وقد رواه بالعنعنة، وقال ابن عدي: يُقال إن هذا لم يسمعه هشيم من أبي بشر، إنما سمعه من أبي عوانة عن بشر، فدلّسه، أبو بشر: هو جعفر بن أبي وحشية) ، وجاءت جملة نفي سماعه: (يُقال … ) عند ابن عدي، والضياء في (المختارة) ، والقضاعي في مسند الشهاب؛ معزوّة ليحي بن حسان؛ أحد رواته عن هشيم، وقد نقل الترمذي -في العلل الكبير:2/965 بترتيب أبي طالب القاضي- عن الإمام أحمد أنه قاله؛، ولم أقف على تصريح هشيم بالسماع في سائر طرقه، وابن حبان ينفي تفرّده به، ولعله يعني أنه تابعه أبو عوانة، والكلام في كونه أخذه هشيم عن أبي عوانة فأسقطه؛ ليعلو بالسند، وعلى الحالين فأبو عوانة ثقة، فلا يضرّه؛ لو كان هو واسطته؛ كما في كلام ابن عدي.
যেমনটি তিনি তাঁর ব্যাখ্যাগ্রন্থ নুজহাতুন নাযার-এ (১) স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আমাদের কাছে একটি সুমহান নববী হাদিস পৌঁছেছে, যা তিনি আলাইহিস সালাতু ওয়াসসালাম ব্যক্ত করেছেন। এর বিষয়বস্তু সর্বজনস্বীকৃত এবং প্রত্যেকের নিকট বোধগম্য। তা হলো তাঁর আলাইহিস সালাতু ওয়াসসালাম বাণী: "সংবাদ চাক্ষুষ প্রত্যক্ষ করার মতো নয়।" মর্যাদাবান সাহাবীদের মধ্য থেকে ইবনে আব্বাস (রা.) এটি তাঁর আলাইহিস সালাতু ওয়াসসালাম থেকে বর্ণনা করেছেন (২)।

--------------------------------------------

(১) নুজহাতুন নাযার, পৃষ্ঠা (৪০)।

(২) ইবনে আব্বাসের হাদিস (এটি বর্ণনা করেছেন:

- ইমাম আহমদ তাঁর মুসনাদে (১৮৪২ – ২৪৪৭) হুশাইম থেকে, তিনি আবু বিশর থেকে, তিনি সাঈদ ইবন জুবায়ের থেকে, তিনি তাঁর (ইবনে আব্বাস) থেকে—

- মারফু বা রাসূল পর্যন্ত উন্নীত (مرفوعا) হিসেবে; এর শব্দে কেবল এই বাক্যটি রয়েছে। পুনরায় সুরাইজ ইবনুন নুমান থেকে, তিনি হুশাইম থেকে... একই সূত্রে; তবে আরও পূর্ণাঙ্গ শব্দে: «সংবাদ চাক্ষুষ প্রত্যক্ষ করার মতো নয়; আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা মূসাকে তাঁর কওম বাছুর নিয়ে যা করেছিল সে সংবাদ দিয়েছিলেন, তখন তিনি তখতি বা ফলকসমূহ ছুঁড়ে ফেলেননি। অতঃপর যখন তিনি তাদের কাণ্ড চাক্ষুষ প্রত্যক্ষ করলেন, তখন তখতিগুলো ছুঁড়ে মারলেন এবং সেগুলো ভেঙে গেল»।

- এই দুই সনদ (إسناد) এর মাধ্যমে দিয়া আল-মাকদিসি আল-মুখতারা গ্রন্থে ১০/৮১-৮২ তে ইমাম আহমদের সূত্র ধরে... উক্ত দুই পথেই বর্ণনা করেছেন; যেমনটি পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।

- ইবনু হিব্বান আল-ইহসান গ্রন্থে ৮/৩২ (১৬৫৮),

- তাবারানি আল-আওসাত গ্রন্থে (২৫),

- ইবনু আদি আল-কামিল গ্রন্থে ৭/২৫৯৬,

- আবুশ শায়খ আল-আমসাল গ্রন্থে (৫),

- হাকেম আল-মুসতাদরাক গ্রন্থে ২/৩২১; তিনি একে শাইখাইনের (বুখারি ও মুসলিম) শর্তানুযায়ী সহিহ (صحيح) বলেছেন এবং যাহাবি এর বিরোধিতা করেননি,

- কুদায়ী মুসনাদুশ শিহাব গ্রন্থে (১১৮২, ১১৮৩ ও ১১৮৪),

- খতিব বাগদাদি তারিখু বাগদাদ গ্রন্থে ৬/৫৬,

- দিয়া আল-মাকদিসি আল-মুখতারা গ্রন্থে ১০/৮০-৮১ তে—পূর্ববর্তী দুই পথ ছাড়াও অন্যান্য সূত্রে—

… তাঁরা সকলেই হুশাইম থেকে, তিনি আবু বিশর থেকে... এই সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

- বাজজার তাঁর মুসনাদে, যেমনটি কাশফুল আসতার গ্রন্থে (২০০) বর্ণিত হয়েছে,

- ইবনু হিব্বান আল-ইহসান গ্রন্থে ৮/৩৩ (১৬৮১),

- তাবারানি আল-কাবীর গ্রন্থে (১২৪৫১),

- ইবনু আদি আল-কামিল গ্রন্থে ৭/২৫৯৬,

… তাঁরা সকলেই আবু আওয়ানা থেকে, তিনি আবু বিশর থেকে... এই সূত্রে।

উল্লেখ্য যে, হাকেম আল-মুসতাদরাক গ্রন্থে ২/৩৮০ তে আবু আওয়ানা ও হুশাইমের সূত্রে—সেখানে 'হিশাম' শব্দে ভুল পাঠ হয়েছে—উভয়েই আবু বিশর থেকে... পূর্ণাঙ্গরূপে বর্ণনা করেছেন। এর শব্দ হলো: «চাক্ষুষ প্রত্যক্ষকারী সংবাদদাতার মতো নয়...»। ইমাম যাহাবি এর ওপর মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছেন: (আবু বিশর থেকে এটি দুইজন নির্ভরযোগ্য (ثقتان) বর্ণনাকারী শুনেছেন) অর্থাৎ আবু আওয়ানা ও হুশাইম। এর মাধ্যমে তিনি আবু বিশর থেকে হুশাইমের সরাসরি শ্রবণের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন।

শাইখ শুআইব আল-আরনাউত ও তাঁর সহযোগী—মুসনাদে আহমদের টীকায় ৪/২৬০-২৬১ তে—বলেছেন: (এটি একটি সহিহ (صحيح) হাদিস, এর বর্ণনাকারীগণ শাইখাইনের বর্ণনাকারী; কেবল সুরাইজ ইবনুন নুমান ছাড়া, যিনি বুখারির বর্ণনাকারী। তবে হুশাইম একজন মুদাল্লিস বা বর্ণনালোপকারী (مدلس) এবং তিনি এটি 'আন' শব্দযোগে বর্ণনার (بالعنعنة) মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন। ইবনু আদি বলেছেন: বলা হয়ে থাকে যে, হুশাইম এটি আবু বিশর থেকে সরাসরি শুনেননি, বরং তিনি এটি আবু আওয়ানা থেকে এবং আবু আওয়ানা আবু বিশর থেকে শুনেছেন; ফলে হুশাইম এতে তাদলীস (دلسه) করেছেন। আবু বিশর হলেন জাফর ইবনু আবি ওয়াহশিয়া)। তাঁর সরাসরি না শোনার বিষয়ে এই বাক্যটি (বলা হয়ে থাকে...) ইবনু আদি, দিয়া আল-মাকদিসি (আল-মুখতারা গ্রন্থে) এবং কুদায়ী (মুসনাদুশ শিহাব গ্রন্থে) ইয়াহইয়া ইবন হাসসানের বরাতে উল্লেখ করেছেন, যিনি হুশাইম থেকে হাদিসটির একজন বর্ণনাকারী। ইমাম তিরমিজি 'আল-ইলালুল কাবীর' গ্রন্থে (২/৯৬৫ - আবু তালিব আল-কাদির বিন্যাস অনুযায়ী) ইমাম আহমদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনিও কথাটি বলেছেন। আমি হুশাইমের অন্যান্য কোনো সূত্রে সরাসরি শ্রবণের সুস্পষ্ট বর্ণনা পাইনি। তবে ইবনু হিব্বান হুশাইমের এককভাবে বর্ণনা করার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন; সম্ভবত তিনি বুঝিয়েছেন যে আবু আওয়ানা তাঁর অনুসরণ করেছেন। মূল বিতর্ক হলো হুশাইম এটি আবু আওয়ানা থেকে গ্রহণ করে তাঁকে বাদ দিয়ে দিয়েছেন কি না—যাতে সনদ (إسناد) উচ্চ পর্যায়ের হয়; তবে উভয় অবস্থাতেই আবু আওয়ানা নির্ভরযোগ্য (ثقة), ফলে তিনি মধ্যবর্তী বর্ণনাকারী হলেও তাতে কোনো সমস্যা নেই; যেমনটি ইবনু আদির বক্তব্যে এসেছে।
(খণ্ড: ১) নুখবাতুল ফিকার - দিরাসাতুন আনহা ওয়া আন মানহাজিহা (পৃষ্ঠা: ১২৮)
وأنسٌ (1) .

--------------------------------------------

(1) حديث أنس (أخرجه:

- الطبراني في الأوسط (6943) ،

- وابن عدي في الكامل 6/2239،

- والخطيب في تاريخ بغداد 3/200، ثم 3/359-360،

- والضياء في المختارة 5/200 رقم (1827) و (1828) ؛

… من طريق محمد بن عبد الله - هو: ابن المثنى بن عبد الله بن أنس بن مالك - الأنصاري، عن أبيه عبد الله يرويه عن عمه ثمامة بن عبد الله، عنه (، ما عدا الموضع الثاني عند الخطيب؛ وسيأتي.

قال د. خلدون الأحدب - في زوائد تاريخ بغداد2/526 رقم (348) ، و2/535 رقم (349) : (إسناده حسن، والحديث صحيح من طرق أخرى) ، وقد ذكر سبب تحسين إسناده للكلام في (عبد الله بن المثنى) ؛ والحافظ يقول فيه: (صدوق كثير الغلط) ؛ كما في التقريب رقم (3571) ، وهنا تَبيّن عدم غلطه بموافقة الثقات، وعند البخاري في صحيحه أحاديث من روايته عن عمه ثمامة، كما نبه عليه الحافظ في هدي الساري.

هذا وقد التبس أمر راويه (محمد بن عبد الله الأنصاري) على الشيخ حسين أسد في تعليقه على مجمع الزوائد 2/436؛ فتركّب له فيه ثلاثة أوهام: فالذي جده (زياد) هو الذي (كذبوه) ، وقد جاء عنده باسم (زيد) ؛ والذي جده (زيد) ثقة، كما في تقريب التهذيب في ترجمتهما، وليس هو في الواقع أحدَهما؛ بل هذا: جدُّهُ المثنى كما ذكر د. خلدون، وصحّحه الشيخ الألباني في صحيح الجامع برقم (5249) ؛ وذلك بمجموع رواياته.

أما الموضع الثاني عند الخطيب - 3/359-360 - ففيه الحديث من طريق ثابت البناني عن أنس، لكن قال عنه الخطيب: (لا أعلم رواه إلا محمد بن هارون هذا - يعني أبا بكر البغدادي- بإسناده، وأُراه غلِطَ فيه، وأرجو أن لا يكون تَعمَّدَهُ) ؛ ولهذا استغربه، قال د. خلدون -3/196-: (إسناده ضعيف، والحديث صحيح من طرق أخرى) .
এবং আনাস (১)।

--------------------------------------------

(১) আনাস-এর হাদিস (এটি বর্ণনা করেছেন:

- তাবরানি আল-আওসাত (৬৯৪৩) গ্রন্থে,

- ইবনে আদি আল-কামিল (৬/২২৩৯) গ্রন্থে,

- খতিব তারিখ বাগদাদ (৩/২০০, এরপর ৩/৩৫৯-৩৬০) গ্রন্থে,

- এবং দিয়া আল-মাকদিসি আল-মুখতারা (৫/২০০, নম্বর ১৮২৭ ও ১৮২৮) গ্রন্থে;

… মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ - তিনি হলেন: ইবনুল মুসান্না ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আনাস ইবনে মালিক - আল-আনসারির সূত্রে, তিনি তাঁর পিতা আবদুল্লাহ থেকে, তিনি তাঁর চাচা সুমামাহ ইবনে আবদুল্লাহ থেকে, তিনি তাঁর (আনাস) থেকে বর্ণনা করেছেন (খতিবের নিকট উল্লেখিত দ্বিতীয় স্থানটি ব্যতীত; যা সামনে আসছে।

ড. খালদুন আল-আহদাব তারিখ বাগদাদের যাওয়াইদ গ্রন্থে (২/৫২৬, নম্বর ৩৪৮ এবং ২/৫৩৫, নম্বর ৩৪৯) বলেছেন: (এর সনদ (إسناد) হাসান (حسن), এবং হাদিসটি অন্যান্য সূত্রে সহিহ (صحيح)), আর তিনি এর সনদ (إسناد)-কে হাসান (حسن) করার কারণ হিসেবে (আবদুল্লাহ ইবনুল মুসান্না)-এর ব্যাপারে কিছু সমালোচনা উল্লেখ করেছেন; হাফেজ (ইবনে হাজার) তাঁর সম্পর্কে তাকরিব (নম্বর ৩৫৭১)-এ বলেছেন: (তিনি সত্যবাদী (صدوق), তবে অধিক ভুলকারী (كثير الغلط)); আর এখানে নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারীদের সাথে ঐকমত্যের কারণে তাঁর ভুল না হওয়াটি স্পষ্ট হয়েছে। ইমাম বুখারি তাঁর সহিহ-তে তাঁর চাচা সুমামাহ থেকে তাঁর বর্ণিত কিছু হাদিস এনেছেন, যেমনটি হাফেজ হাদিউস সারিতে ইঙ্গিত করেছেন।

উল্লেখ্য যে, এর বর্ণনাকারী (মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ আল-আনসারি)-এর বিষয়টি মাজমাউয যাওয়াইদ-এর টীকায় (২/৪৩৬) শেখ হুসাইন আসাদের নিকট অস্পষ্ট হয়ে গেছে; ফলে তাঁর ক্ষেত্রে তিনটি বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে: যার দাদা (যিয়াদ), তাঁকে মুহাদ্দিসগণ মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করেছেন (كذبوه), যা তাঁর নিকট 'যায়েদ' নামে এসেছে; আর যার দাদা (যায়েদ), তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة), যেমনটি তাঁদের উভয়ের জীবনীতে তাকরিবুত তাহযিব-এ এসেছে। অথচ বাস্তবে তিনি তাঁদের কেউ নন; বরং তিনি হলেন সেই ব্যক্তি যার দাদা মুসান্না, যেমনটি ড. খালদুন উল্লেখ করেছেন। শেখ আলবানি সহিহুল জামে-তে ৫২৪৯ নম্বরে একে সহিহ (صحيح) বলেছেন; আর তা এর সকল বর্ণনাসূত্রের সমষ্টির ভিত্তিতে।

আর খতিবের নিকট বর্ণিত দ্বিতীয় স্থানটি (৩/৩৫৯-৩৬০) সম্পর্কে কথা হলো, সেখানে সাবিত আল-বুনানির সূত্রে আনাস থেকে হাদিসটি বর্ণিত হয়েছে, কিন্তু খতিব তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: (আমি জানি না এটি এই মুহাম্মদ ইবনে হারুন - অর্থাৎ আবু বকর আল-বাগদাদি - ব্যতীত তাঁর সনদ (إسناد)-এ আর কেউ বর্ণনা করেছেন কি না; আর আমি মনে করি তিনি এতে ভুল করেছেন, তবে আশা করি তিনি তা ইচ্ছা করে করেননি); এই কারণে তিনি একে অদ্ভুত (غريب) হিসেবে গণ্য করেছেন। ড. খালদুন (৩/১৯৬) বলেছেন: (এর সনদ (إسناد) দুর্বল (ضعيف), এবং হাদিসটি অন্যান্য সূত্রে সহিহ (صحيح))।
(খণ্ড: ১) নুখবাতুল ফিকার - দিরাসাতুন আনহা ওয়া আন মানহাজিহা (পৃষ্ঠা: ১২৯)
ورُوي عن أبي هريرة (1) ، رضي الله عنهم جميعا.

ولما سبق ذِكرُهُ فقد جرَى مجرى المثل (2) .

--------------------------------------------

(1) قال د. خلدون: (إسناده ضعيف جدا، والحديث صحيح من طرق أخرى) ، ولهذا جاء في صحيح الجامع رقم (5250) ؛ فتصحيحه بالنظر إلى متنه، وذكر د. خلدون أنه لم يقف عليه عند غير الخطيب، ووقفت عليه في لسان الميزان –8/143- في ترجمة (مقاتل بن محمد) يرويه عن سعيد الزبيري عن مالك عن الزهري عن سعيد عن أبي هريرة (، وبعده قول الدارقطني: (مجهول، والحديث منكر) ؛ يعني بهذا الإسناد.

(2) أورده الإمام أبو عبيد القاسم بن سلام في كتابه الأمثال برقم (600) ص (201) ؛ قائلا: (وفي بعض الحديث: «ليس الخبر كالعيان» ) ، وهو في مجمع الأمثال 1/182 رقم (3270) بلفظ: (ليس الخبر كالمعاينة) ، وجاء في (الفاخر) - للمفضل ص (268) رقم (403) -: (رُوي عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أنه أول من قال ذلك) ، وقد راجعت خمسةً من كتب الأوائل فلم أجد فيها ذِكر هذه الأوّليّة؛ لابن قتيبة، وابن أبي عاصم، والطبراني، والعسكري، والجراعي، والسيوطي، وعَنْوَنَ الشيخ الساعاتي للحديث في (الفتح الرباني) : 19/207 بعنوان: (أحاديث جرت مجرى الأمثال) ، ولم يُعلّق عليه بشيء، وفي (المستقصى) 2/303 رقم (1074) بلفظ: (ليس الخَبَر كالعِيَان) ، والخبر مضبوط في كتب الأمثال المذكورة بفتحتين، وورد في معجم الأمثال العربية 2/14 بضمة فسكون: (الخُبْرُ) ، وسيأتي في تعريف الخبر، ومعناه وإن كان سائغاً في الجملة لكنه ليس مُراداً في هذا المثل؛ لأنه بمعنى أن الخبرة الباطنة بالشيء ليس كالمُعاينة الظاهرة، وإنما قلت إن ذاك المعنى ليس مرادا في المثل: لأجل ما اتّصل بذكره في الحديث من قصة نبي الله موسى - على نبيّنا وعليه الصلاة والسلام- فالذي فيها مشاهدة ظاهرة بعد خبر منقول، قال المناوي - في فيض القدير 5/357 في شرحه للقصة-: (أفاد هذا أنه ليس حال الإنسان عند مُعاينة الشيء كحاله عند الخبر عنه؛ في السكون والحركة، لأن الإنسان لعلّه يسكن إلى ما يرى أكثر من الخبر عنه؛ وإن كان صادقا) ، هذا مع أني لم أقف على من ضبطه هكذا في كتب الرواية، ووقفت للحافظ على موضع تمثّل به -في مناسبة ذِكْرهِ لما كان يشعر به شيخه العراقي من سعادة غامرة برفيقه الهيثمي وأنها تفوق الوصف- فقال: (وليس العِيَانُ في ذلك كالخبر) ، (المجمع المؤسس) 2/188، وكأنّ الحافظ رحمه الله يقول: يا مَن أُخْبِرُكَ بهذا: لن تكون مِثلي قيما شاهدتُه مِن ذلك، لأنّ الذي بلغك مِن ذلك إنما هو خبر.
আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত হয়েছে (১), আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন।

আর যা পূর্বে বর্ণিত হয়েছে, তা প্রবাদের মতো প্রচলিত হয়েছে (২)।

--------------------------------------------

(১) ড. খালদুন বলেন: (এর সনদ (إسناد) অত্যন্ত দুর্বল (ضعيف جدا), তবে হাদিসটি অন্যান্য সূত্রের কারণে সহিহ (صحيح))। আর একারণেই এটি সহিহ আল-জামি এর ৫২৫০ নং ক্রমিকে এসেছে; সুতরাং এর সহিহ (صحيح) হওয়া মূলত এর মূল পাঠ বা মতন (متن)-এর বিচারে। ড. খালদুন উল্লেখ করেছেন যে, তিনি আল-খতিব ব্যতীত অন্য কারো নিকট এটি পাননি, তবে আমি এটি লিসানুল মিজান (৮/১৪৩)-এ 'মুকাতিল বিন মুহাম্মাদ'-এর জীবনীতে (ترجمة) পেয়েছি; যা তিনি সাঈদ আল-জুবাইরি থেকে, তিনি মালিক থেকে, তিনি জুহরি থেকে, তিনি সাঈদ থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন। এর পরে আদ-দারাকুতনির উক্তি হলো: (সে অজ্ঞাত (مجهول), আর হাদিসটি মুনকার (منكر)); অর্থাৎ এই সনদ (إسناد) অনুযায়ী।

(২) ইমাম আবু উবায়েদ আল-কাসিম বিন সাল্লাম তাঁর আল-আমসাল গ্রন্থে ৬০০ নং ক্রমিকে ২০১ পৃষ্ঠায় এটি উল্লেখ করেছেন; তিনি বলেন: (কিছু হাদিসে এসেছে: «সংবাদ চাক্ষুষ দর্শনের মতো নয়»)। এটি মাজমাউল আমসাল (১/১৮২, নং ৩২৭০)-এ এই শব্দে রয়েছে: (সংবাদ চাক্ষুষ দেখার মতো নয়)। আল-মুফাদদালের আল-ফাখির (পৃষ্ঠা ২৬৮, নং ৪০৩)-এ এসেছে: (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি এটি বলেছিলেন)। আমি প্রথম বিষয় সম্পর্কিত (আওয়াইল) পাঁচটি গ্রন্থ যাচাই করেছি কিন্তু সেগুলোতে এই 'প্রথম হওয়া'র বিষয়টি উল্লেখ পাইনি; ইবনে কুতাইবা, ইবনে আবি আসিম, তাবারানি, আসকারি, জারায়ি এবং সুয়ুতির গ্রন্থে। শায়খ আস-সাআতি ফাতহুর রব্বানি-তে (১৯/২০৭) হাদিসটির শিরোনাম দিয়েছেন: (প্রবাদের ন্যায় প্রচলিত হাদিসসমূহ), এবং তিনি এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করেননি। আল-মুস্তাকসা-তে (২/৩০৩, নং ১০৭৪) এই শব্দে এসেছে: (সংবাদ চাক্ষুষ দেখার মতো নয়)। উল্লিখিত প্রবাদ বিষয়ক গ্রন্থগুলোতে 'আল-খবার' (সংবাদ) শব্দটি দুটি ফাতহা (যবর) সহকারে সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে, তবে মুজামুল আমসালিল আরাবিয়্যাহ (২/১৪)-তে এটি পেশ ও সাকিন যোগে (আল-খুবরু) এসেছে। সামনে সংবাদ (الخبر)-এর সংজ্ঞায় এটি আসবে; এর অর্থ যদিও সাধারণভাবে গ্রহণযোগ্য, কিন্তু এই প্রবাদে তা উদ্দেশ্য নয়। কারণ এর অর্থ এই যে, কোনো বিষয়ে অভ্যন্তরীণ অভিজ্ঞতা বাহ্যিক চাক্ষুষ দর্শনের মতো নয়। আমি একারণেই বলেছি যে, সেই অর্থটি এই প্রবাদে উদ্দেশ্য নয়: কারণ হাদিসে এর বর্ণনার সাথে আল্লাহর নবী মুসা (আ.)-এর কাহিনী যুক্ত রয়েছে। সেখানে বর্ণিত বিষয়টি হলো প্রাপ্ত সংবাদ পৌঁছানোর পর বাহ্যিক প্রত্যক্ষ দর্শন। আল-মুনাউয়ি ফায়দুল কাদির-এ (৫/৩৫৭) এই কাহিনীর ব্যাখ্যায় বলেছেন: (এটি প্রকাশ করে যে, কোনো বস্তু প্রত্যক্ষ দেখার সময় মানুষের অবস্থা সেই বস্তু সম্পর্কে সংবাদ (الخبر) শোনার অবস্থার মতো নয়; স্থিরতা ও অস্থিরতার ক্ষেত্রে। কারণ মানুষ যা দেখে তার ওপর হয়তো প্রাপ্ত সংবাদের চেয়ে বেশি আশ্বস্ত হয়; যদিও সংবাদ দাতা সত্য (صادق) হয়)। অথচ আমি হাদিস বর্ণনার গ্রন্থগুলোতে কাউকে এটি এভাবে সুনির্দিষ্ট করতে দেখিনি। তবে আমি হাফিজ (ইবনে হাজার)-এর একটি উক্তি পেয়েছি যেখানে তিনি এটি উদাহরণ হিসেবে ব্যবহার করেছেন—তাঁর উস্তাদ আল-ইরাকি তাঁর সঙ্গী আল-হাইসামির ব্যাপারে যে অত্যন্ত আনন্দ অনুভব করতেন এবং যা বর্ণনাতীত ছিল, তা উল্লেখ করার প্রেক্ষিতে তিনি বলেছিলেন: (আর এ ক্ষেত্রে চাক্ষুষ দেখা সংবাদের মতো নয়), (আল-মাজমাউল মুআসসাস ২/১৮৮)। হাফিজ (রাহিমাহুল্লাহ) যেন বলছেন: হে ব্যক্তি যাকে আমি এই সংবাদ দিচ্ছি! আমি যা প্রত্যক্ষ করেছি তার বিচারে তুমি আমার মতো হবে না, কারণ তোমার কাছে যা পৌঁছেছে তা কেবল একটি সংবাদ (خبر)।
(খণ্ড: ১) নুখবাতুল ফিকার - দিরাসাতুন আনহা ওয়া আন মানহাজিহা (পৃষ্ঠা: ১৩০)
قال المناوي رحمه الله: (عُدَّ من جوامع الكَلِمِ والحِكَمِ) (1) .

وقد تأمّلت مضمون هذا الحديث، ثم نظرت في الفائدة التي أفادها منه المحدثون رحمهم الله تعالى؛ فوجدتهم يَبنون كلامهم في علم (مصطلح الحديث) -المُسَمَّى (علوم الحديث) - على مُفَادِهِ، ويُقرّرون مسائل علمهم فيه؛ على ضوئه.

--------------------------------------------

(1) فيض القدير 5/357.
আল-মুনাউয়ি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: (এটি সংক্ষিপ্ত অথচ ব্যাপক অর্থবোধক বাণী (جوامع الكلم) ও হিকমতের অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য) (১)।

আমি এই হাদিসের বিষয়বস্তু নিয়ে গভীর চিন্তা করেছি, তারপর মুহাদ্দিসগণ (রহিমাহুমুল্লাহ তায়ালা) এটি থেকে যে উপকার লাভ করেছেন তা নিয়ে লক্ষ্য করেছি; আমি দেখতে পেয়েছি যে, তারা হাদিস শাস্ত্রের পরিভাষা (مصطلح الحديث) —যা হাদিস বিজ্ঞান (علوم الحديث) নামে পরিচিত— সংক্রান্ত তাদের আলোচনা এর মর্মার্থের ওপর ভিত্তি করে নির্মাণ করেছেন এবং এর আলোকেই তারা এই শাস্ত্রের মাসয়ালাসমূহ নির্ধারণ করেছেন।

--------------------------------------------

(১) ফয়জুল কাদির ৫/৩৫৭।
(খণ্ড: ১) নুখবাতুল ফিকার - দিরাসাতুন আনহা ওয়া আন মানহাজিহা (পৃষ্ঠা: ১৩১)
ذلك أن الحديث يُفيد أنّ للعلم الحاصل للإنسان طريقين؛ منصوصاً عليهما فيه:

- أولهما: المُعاينة، وهو أن يُبصر الإنسان أمامه حَدَثاً واقعاً فيَعلم بوقوعه؛ علماً مُباشراً دون واسطة، وقال الله عز وجل في مثل ذلك مِمّا لا ينكره منكِر: {قَدْ كَانَ لَكُمْ آيَةٌ فِي فِئَتَيْنِ الْتَقَتَا فِئَةٌ تُقَاتِلُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَأُخْرَى كَافِرَةٌ يَرَوْنَهُمْ مِثْلَيْهِمْ رَأْيَ الْعَيْنِ} (1) [آل عمران 13]

فمرأى العين لا سبيل إلى إنكار وقوعه، ولا مجال لردّه، إلا أن يُدّعى في ذلك تخييل وتمويه؛ فذلك طارئ، وعلى خلاف الأصل، وهو مُحتاج إلى إثبات يُقرّر حصوله:

وليس يصحّ في الأذهان شيءٌ إذا احتاج النهار إلى دليلِ (2)

- ثانيهما: الخبر (3) ، وهو وسيلة العلم لمن لم يحصل له العلم المباشر

--------------------------------------------

(1) ذكر ابن كثير رحمه الله في تفسير هذه الآية أنها في وقعة بدر؛ (عندما عاين كل من الفريقين الآخر؛ رأى المسلمون المشركين مثليهم -أي: أكثر منهم بالضعف- ليتوكلوا ويتوجهوا ويطلبوا الإعانة من ربهم عز وجل، ورأى المشركون المؤمنين كذلك ليحصل لهم الرعب والخوف والجزع والهلع، ثم لما حصل التصافّ والتقى الفريقان قلّل الله هؤلاء في أعين هؤلاء وهؤلاء في أعين هؤلاء ليُقدم كل منهما على الآخر) ، وهذا من باب الكرامة للمسلمين الذين انتهت بهم المعركة إلى النصر المُؤزّر كما قال تعالى: {وَمَا النَّصْرُ إِلَّا مِنْ عِنْدِ اللَّهِ الْعَزِيزِ الْحَكِيمِ} .

(2) ديوان المتنبي 3/92، مع شرح العكبري، وفيه: (في الأفهام شيء) .

(3) قال العلامة الشوكاني-رحمه الله: (الأَوْلَى أن يُقال في حدّ الخبر: هو ما يصحّ أن يدخله الصدق والكذب؛ لذاته) ، وقرّر هذا بعد مُناقشاتٍ لِّتعاريفَ لم تَسْلمْ من الاعتراض، في كتابه إرشاد الفحول إلى تحقيق الحق من علم الأصول ص (44) ، وانظر قبله: ص (42، 43) ، وعند الزبيدي –رحمه الله في تاج العروس – مادة (خ ب ر) 3/166-167: نحوه؛ وهو ما قرّره بقوله: (إن أعلام اللغة والاصطلاح قالوا: الخبر –عُرفاً ولغةً- ما يُنقَل عن الغير، وزاد فيه أهل العربية: واحتملَ الصدقَ والكذب لذاته) ، وذكر ابن فارس –رحمه الله في كتابه معجم مقاييس اللغة 2/239-: (الخُبْرَ) أحدَ أصلين في هذه الحروف الثلاثة، وجعل المعنى –على هذا الأصل: (العلمَ بالشيء، تقول: لي بفلان خِبْرةٌ وخُبْرٌ) ، زاد الزبيدي: (يُقال صدَّقَ الخُبْرُ الخَبَرَ) كأنه بمعنى صدّق العلمُ بالشيء -بعد رؤيتهِ المباشرة- ما نُقِلَ عنه من خَبَر؛ وطابَقَهُ، ومن هذا المعنى أخذ الحافظ ابن حجر تسمية كتابه: (مُوافقة الخُبْرِ الخَبَرَ في تخريج المنهاج والمختصر) ، على أنّ الزبيدي نقل عن بعضهم التفريقَ بين الخُبْر والخِبرة.
এর কারণ হলো, হাদিস নির্দেশ করে যে, মানুষের অর্জিত জ্ঞানের জন্য দুটি পথ রয়েছে; যা এতে সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে:

- প্রথমটি হলো: প্রত্যক্ষ পর্যবেক্ষণ (المعاينة), আর তা হলো মানুষ তার সামনে কোনো বাস্তব ঘটনা প্রত্যক্ষ করবে, ফলে সে তার সংঘটন সম্পর্কে জানবে; কোনো মাধ্যম ছাড়াই সরাসরি জ্ঞান। আল্লাহ তাআলা এই প্রসঙ্গে এমন বিষয় সম্পর্কে বলেছেন যা কোনো অস্বীকারকারী অস্বীকার করতে পারে না: {তোমাদের জন্য নিদর্শন ছিল সেই দুই দলের মধ্যে যারা পরস্পরের মোকাবিলা করেছিল। এক দল আল্লাহর পথে যুদ্ধ করছিল এবং অপর দল ছিল কাফের, তারা তাদের (মুসলিমদের) চোখের দেখায় নিজেদের দ্বিগুণ দেখছিল} (১) [আলে ইমরান: ১৩]

সুতরাং চোখের দেখার সংঘটনকে অস্বীকার করার কোনো পথ নেই এবং তা প্রত্যাখ্যান করারও কোনো সুযোগ নেই, যদি না এতে কাল্পনিক বা বিভ্রমের দাবি করা হয়; তবে তা হবে একটি আকস্মিক বিষয় এবং মূল নীতির পরিপন্থী, আর তা সাব্যস্ত করার জন্য প্রমাণের প্রয়োজন হবে:

যদি দিনের অস্তিত্ব প্রমাণের জন্য দলিলের প্রয়োজন হয়, তবে মস্তিষ্কে কোনো কিছুই সঠিক বলে গণ্য হবে না (২)

- দ্বিতীয়টি হলো: সংবাদ (الخبر) (৩), আর এটি হলো সেই ব্যক্তির জন্য জ্ঞানের মাধ্যম যার সরাসরি জ্ঞান অর্জিত হয়নি।

--------------------------------------------

(১) ইবনে কাসীর (রাহিমাহুল্লাহ) এই আয়াতের তাফসিরে উল্লেখ করেছেন যে, এটি বদরের যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে; (যখন উভয় দল একে অপরকে প্রত্যক্ষ করেছিল; মুসলিমরা মুশরিকদের তাদের দ্বিগুণ দেখেছিল—অর্থাৎ তাদের চেয়ে দ্বিগুণ বেশি—যাতে তারা তাওয়াক্কুল করে এবং তাদের মহান রবের দিকে মনোনিবেশ করে তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করে। আর মুশরিকরা মুমিনদের অনুরূপ দেখেছিল যাতে তাদের মধ্যে ত্রাস, ভয়, উদ্বেগ ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। এরপর যখন সারিবদ্ধ হওয়া সম্পন্ন হলো এবং উভয় দল মুখোমুখি হলো, তখন আল্লাহ এদের চোখে ওদের এবং ওদের চোখে এদের সংখ্যা কমিয়ে দেখালেন যাতে উভয় দল একে অপরের ওপর আক্রমণ করতে অগ্রসর হয়)। এটি ছিল মুসলিমদের জন্য একটি অলৌকিক সম্মান স্বরূপ, যাদের যুদ্ধ এক চূড়ান্ত বিজয়ের মাধ্যমে শেষ হয়েছিল, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর সাহায্য কেবল মহাপরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময় আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে}।

(২) দিওয়ানে মুতানাব্বি ৩/৯২, শরহে আল-উকবারীসহ; এবং তাতে রয়েছে: (বোধশক্তিতে কোনো কিছু)।

(৩) আল্লামা শাওকানী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: (সংবাদ (الخبر)-এর সংজ্ঞায় এটি বলাই অধিক উত্তম যে: যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সত্য বা মিথ্যা হওয়ার সম্ভাবনা রাখে)। তিনি তার কিতাব 'ইরশাদুল ফুহুল ইলা তাহকিকিল হাক্কি মিন ইলমিল উসুল' পৃষ্ঠা (৪৪)-এ এমন কিছু সংজ্ঞার আলোচনার পর এটি স্থির করেছেন যা আপত্তি থেকে মুক্ত ছিল না। এর পূর্বে দেখুন: পৃষ্ঠা (৪২, ৪৩)। জাবিদী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর নিকট 'তাজুল আরুস'-এ—'খ-ব-র' (خ ب ر) ধাতু—৩/১৬৬-১৬৭: অনুরূপ রয়েছে; যা তিনি এই বলে স্থির করেছেন: (নিশ্চয়ই ভাষা ও পরিভাষার ইমামগণ বলেছেন: সংবাদ (الخبر)—পরিভাষায় ও আভিধানিক অর্থে—তা-ই যা অন্যের পক্ষ থেকে বর্ণিত হয়। আর আরবি ভাষাবিদগণ এতে যোগ করেছেন: এবং যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সত্য ও মিথ্যা হওয়ার সম্ভাবনা রাখে)। ইবনে ফারিস (রাহিমাহুল্লাহ) তার কিতাব 'মুজাম মাকায়িসুল লুগাহ' ২/২৩৯-এ উল্লেখ করেছেন যে: 'খুবর' (الخُبْر) হলো এই তিনটি অক্ষরের মূল দুটি অর্থের একটি। আর তিনি এই মূল অর্থের ভিত্তিতে এর অর্থ করেছেন: (কোনো কিছু সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা, যেমন আপনি বলেন: অমুক ব্যক্তি সম্পর্কে আমার অভিজ্ঞতা (خِبْرة) ও জ্ঞান (خُبْر) রয়েছে)। জাবিদী আরও যোগ করেছেন: (বলা হয় 'সাদদাকাল খুবরু খবারা') যেন এর অর্থ হলো—সরাসরি দেখার পর অর্জিত জ্ঞান সেই সংবাদকে সত্য সাব্যস্ত করেছে যা তার পক্ষ থেকে বর্ণিত হয়েছে; এবং তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়েছে। এই অর্থ থেকেই হাফেজ ইবনে হাজার তার কিতাবের নামকরণ করেছেন: (মুয়াফাকাতুল খুবরি খবারা ফি তাখরিজিল মিনহাজি ওয়াল মুখতাসার)। তবে জাবিদী কারো কারো কাছ থেকে 'খুবর' (الخُبْر) এবং 'খিবরাহ' (الخِبرة)-এর মধ্যে পার্থক্যের বিষয়টিও বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) নুখবাতুল ফিকার - দিরাসাতুন আনহা ওয়া আন মানহাজিহা (পৃষ্ঠা: ১৩২)
بالمعاينة، ولم يُبصر الحدث الواقع ولم يحضره، وحال بينه وبينه حائل المكان أو الزمان.

من ذلك أنّه لم تعلم هذه الأمة الإسلامية بأهمّ خبر فيها، على مدى أجيالها المُتتابعة- بعد جيل الصدر الأوّل جيل الصحابة رضي الله عنهم، شهود الرسالة، وحضور الوحي، وأهل العلم المباشر برسول الله صلى الله عليه وسلم وبجميع ما جاء به-؛ لم تعلم هذه الأمّة المباركة بأجيالها المذكورة: عنه صلى الله عليه وسلم إلا بعلم جاء من طريق الخبر، فالتابعون هم الذين لم يروا رسول الله صلى الله عليه وسلم، وإنما رأوا الصحابة فأخبروهم به، بخلاف الصحابة ذوي العلم المباشر بشؤون رسول الله صلى الله عليه وسلم، وهم شُهداؤه العدول، البررة المُزكَّون في جميع ما صحّ عنهم من النقول (1) ، وقد كانوا جمعا غفيرا

--------------------------------------------

(1) من كلام الأئمة في ذلك قول أبي زرعة الرازي: ((إذا رأيت الرجل ينتقص أحدا من أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم فاعلم أنه زنديق، وذلك أن الرسول صلى الله عليه وسلم عندنا حق والقرآن حق، وإنما أدّى إلينا هذا القرآنَ والسننَ: أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم، وإنما يريدون أن يجرحوا شهودنا ليبطلوا الكتاب والسنة، والجرح بهم أولى وهم زنادقة)) رواه الخطيب في الكفاية ص (97) .
...সাক্ষাৎ দর্শনের মাধ্যমে, আর তিনি সংঘটিত ঘটনাটি দেখেননি এবং তাতে উপস্থিতও ছিলেন না, বরং তাঁর ও সেই ঘটনার মাঝে স্থান বা কালের ব্যবধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এর অন্তর্ভুক্ত হলো এই যে, এই মুসলিম উম্মাহ তাদের ধারাবাহিক প্রজন্মগুলোতে—প্রথম সোনালী প্রজন্ম অর্থাৎ সাহাবীদের (الصحابة) প্রজন্মের পরে, যাঁরা ছিলেন রিসালাতের প্রত্যক্ষদর্শী, ওহীর উপস্থিতির সাক্ষী এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও তাঁর আনীত যাবতীয় বিষয় সম্পর্কে প্রত্যক্ষ জ্ঞানের অধিকারী—এই বরকতময় উম্মাহর উল্লিখিত প্রজন্মগুলো তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সম্পর্কে কেবল সংবাদের (الخبر) মাধ্যমে আগত জ্ঞানের দ্বারাই জানতে পেরেছে। সুতরাং তাবিঈগণ (التابعون) হলেন তাঁরা, যাঁরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে দেখেননি, বরং তাঁরা সাহাবীদের (الصحابة) দেখেছিলেন এবং তাঁরাই তাঁদেরকে এ বিষয়ে সংবাদ দিয়েছিলেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বিষয়াবলীতে প্রত্যক্ষ জ্ঞানের অধিকারী সাহাবীদের (الصحابة) বিষয়টি এর বিপরীত; তাঁরা ছিলেন তাঁর ন্যায়পরায়ণ (العدول) সাক্ষী, পুণ্যবান এবং তাঁদের থেকে যা কিছু বিশুদ্ধ (صح) সূত্রে বর্ণিত হয়েছে সেই সকল বর্ণনার (النقول) (১) ক্ষেত্রে তাঁরা ছিলেন প্রশংসিত ও পবিত্র। আর তাঁরা সংখ্যায় ছিলেন বিশাল এক জামাত।

--------------------------------------------

(১) এ বিষয়ে ইমামগণের বক্তব্যের মধ্যে আবু জুরআ আর-রাজি-এর উক্তি হলো: "যখন তুমি কোনো ব্যক্তিকে দেখবে যে সে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কোনো সাহাবীর (الصحابة) মানহানি করছে, তখন জেনে রেখো যে সে একজন জিন্দিক (زنديق)। এর কারণ হলো, আমাদের নিকট রাসূল সত্য এবং কুরআন সত্য। আর আমাদের নিকট এই কুরআন ও সুন্নাহসমূহ পৌঁছে দিয়েছেন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীগণ (الصحابة)। মূলত তারা আমাদের সাক্ষীদের প্রতি ত্রুটিারোপ (يجرحوا) করতে চায় যাতে কুরআন ও সুন্নাহকে বাতিল করে দিতে পারে। অথচ তাদের ওপরই ত্রুটিারোপ (الجرح) করা অধিকতর সমীচীন এবং তারাই হলো জিন্দিক (زنادقة)।" এটি খতিব আল-বাগদাদি আল-কিফায়া গ্রন্থের ৯৭ পৃষ্ঠায় বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) নুখবাতুল ফিকার - দিরাসাতুন আনহা ওয়া আন মানহাজিহা (পৃষ্ঠা: ১৩৩)
–رضي الله عنهم وأرضاهم- حفظت لنا أسماءهم الكريمة: دواوين عُنيت بهم وبأخبارهم وبسيرتهم العطرة.

أقول: إن التابعين آمنوا برسول الله صلى الله عليه وسلم وبما جاء به، وإنما كان الذي وَصَلَ إليهم عنه: خبراً متواتراً، عن جمعٍ كبير هم جَمْعُ التواتر، الذين يحصل بخبرهم العلم الضروري الذي لا مناص من تصديقه، ثم انتقل ذلك إلى تبع الأتباع، فمن بعدهم، فالأجيال التالية إلى جيلنا هذا، وإلى أن يرث الله الأرض ومن عليها (1) .

ولقد استوقفني كون الحافظ رحمه الله اختار لكتابه هذا: أن يّفْتَتِحَهُ -بعد خطبته ومقدمته - بالكلام عن (الخبر) ، فصدّق ذلك عندي قولَهُ: (على ترتيب ابتكرته) ، ولو لم يكن فيه من الابتكار إلا ما قدّمتُ بَيَانَهُ: لكان ابتكارا رائعاً حَقِيقاً بالإشادة به.

والذي يظهر به هذا المعنى بجلاء: ما ذكرته من أن مبنى (علم المصطلح) على (قضية الخبر) .

هذا مع أن كلام أهل العلم وتقريرهم في ذلك واضح لا يخفى، وإنما به استنرت، وبضيائه استرشدت، وذلك بعد توفيق الله تعالى، وأذكر من أهم ذلك اقتراح العلامة الشيخ محمد عبد الرزاق حمزة بأن يسمى علم المصلح: ((منطق

--------------------------------------------

(1) كما في الحديث المتفق عليه - عند البخاري: 61كتاب المناقب 28 باب رقم 3640- ومسلم - 33 كتاب الإمارة، 53باب قوله صلى الله عليه وسلم: "لا تزال طائفة … "، رقم 1921 ص 1523- من حديث المغيرة بن شعبة (: "لا يزال ناس من أمتي ظاهرين؛ حتى يأتي أمر الله وهم ظاهرون"؛ وهذا لفظ البخاري، ورواه عدد من الصحابة رضي الله عنهم عن النبيصلى الله عليه وسلم، قال شيخ الإسلام ابن تيمية-رحمه الله: (تواتر عنه) ، كما في اقتضاء الصراط المستقيم 1/69، وانظر لقط اللآلئ المتناثرة في الأحاديث المتواترة، الحديث رقم (20) .
–আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন এবং তাঁদের সন্তুষ্ট করুন– তাঁদের সম্মানিত নামসমূহ আমাদের জন্য সংরক্ষিত রয়েছে: এমন সব সংকলন (ديوان) যা তাঁদের অবস্থা, সংবাদ এবং সুগন্ধময় জীবনী নিয়ে গুরুত্বের সাথে কাজ করেছে।

আমি বলি: নিশ্চয়ই তাবেয়ীগণ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং তিনি যা নিয়ে এসেছেন তার ওপর ঈমান এনেছেন। আর তাঁর পক্ষ থেকে তাঁদের কাছে যা পৌঁছেছে তা ছিল: মুতাওয়াতির সংবাদ (خبر متواتر), এক বিশাল জনগোষ্ঠীর মাধ্যমে যারা মুতাওয়াতির হওয়ার মতো সংখ্যা (جمع التواتر); যাদের সংবাদের মাধ্যমে এমন এক অকাট্য জ্ঞান (العلم الضروري) অর্জিত হয় যা বিশ্বাস করা ছাড়া কোনো উপায় নেই। অতঃপর তা তাবা-তাবেয়ীদের কাছে পৌঁছেছে, তারপর তাঁদের পরবর্তীদের কাছে, এভাবে পরবর্তী প্রজন্মের পর প্রজন্ম হয়ে আমাদের এই প্রজন্ম পর্যন্ত এবং আল্লাহ যতক্ষণ পর্যন্ত না পৃথিবী ও এর ওপর যা কিছু আছে তার উত্তরাধিকারী হন (১)।

হাফিজ (الحافظ) (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) তাঁর এই কিতাবের জন্য যে পদ্ধতি বেছে নিয়েছেন তা আমাকে ভাবিয়ে তুলেছে: যে তিনি তাঁর খুতবা ও ভূমিকার পরে একে সংবাদ (الخبر) বিষয়ক আলোচনার মাধ্যমে শুরু করেছেন। এটি আমার কাছে তাঁর সেই বক্তব্যকে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে যে: "আমি এটি একটি নতুন উদ্ভাবিত বিন্যাসে সাজিয়েছি"। যদি এতে এই নতুনত্ব ছাড়া আর কিছু না থাকতো যা আমি ইতিপূর্বে বর্ণনা করেছি, তবেই এটি প্রশংসার যোগ্য এক চমৎকার উদ্ভাবন হতো।

এই বিষয়টি যা দিয়ে স্পষ্টভাবে প্রকাশিত হয় তা হলো: আমি যা উল্লেখ করেছি যে, পরিভাষা বিজ্ঞানের (علم المصطلح) ভিত্তি হলো সংবাদ সংক্রান্ত বিষয় (قضية الخبر)।

যদিও এই বিষয়ে আলেমদের বক্তব্য ও সুনিশ্চিত বর্ণনা অত্যন্ত স্পষ্ট ও লুকায়িত নয়। বরং এরই আলোতে আমি আলোকিত হয়েছি এবং এরই জ্যোতিতে আমি নির্দেশনা লাভ করেছি, আর তা মহান আল্লাহর তাওফিকের পর। আমি এ ক্ষেত্রে আল্লামা শায়খ মুহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক হামজার প্রস্তাবটি উল্লেখ করছি যে, তিনি পরিভাষা বিজ্ঞানের (علم المصطلح) নাম রাখার প্রস্তাব করেছিলেন: "মানতিক (যুক্তিবিদ্যা)

--------------------------------------------

(১) যেমনটি মুত্তাফাকুন আলাইহি (الحديث المتفق عليه) হাদিসে এসেছে - সহিহ বুখারিতে: ৬১ কিতাবুল মানাকিব, ২৮ অধ্যায় নং ৩৬৪০ - এবং মুসলিমে - ৩৩ কিতাবুল ইমারাহ, ৫৩ অধ্যায়, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী: "একটি দল সর্বদা … ", হাদিস নং ১৯২১, পৃষ্ঠা ১৫২৩ - মুগিরা ইবনে শু'বাহ-এর হাদিস থেকে: "আমার উম্মতের মধ্য থেকে একদল মানুষ সর্বদা বিজয়ী থাকবে; যতক্ষণ না আল্লাহর নির্দেশ আসে আর তারা বিজয়ীরূপেই থাকবে।" এটি বুখারির শব্দ। সাহাবিদের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) এক বিশাল জামাত এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন। শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহ.) বলেছেন: "(এটি) তাঁর থেকে মুতাওয়াতির সূত্রে বর্ণিত (تواتر عنه)", যেমনটি ইগতিদাউস সিরাতিল মুস্তাকিম ১/৬৯-এ রয়েছে। আরও দেখুন লাকতুল লাআলিল মুতানাসিরা ফিল আহাদিসিল মুতাওয়াতিরা, হাদিস নং (২০)।
(খণ্ড: ১) নুখবাতুল ফিকার - দিরাসাতুন আনহা ওয়া আন মানহাজিহা (পৃষ্ঠা: ১৩৪)
المنقول، وميزان تصحيح الأخبار)) (1) ؛ وعلل ذلك بأن هذا العلم بالنسبة للرواية كقواعد النحو لمعرفة صحة التراكيب العربية، وأنه لو سُمِّيَ بذلك لكان اسما على مُسَمًّى.

ولم أقف - لِقُصوري - على كلام لأهل العلم يذكر ما ذكرته، عن استفتاح الحافظ هذا وعن وجه ابتكاره فيه، وكفى به وجها وجيهاً يُّشادُ به، ويعرف طالب العلم - بواسطته- الموقع العلمي الذي هو فيه؛ حين يتوجه لدراسة هذا العلم فيدخل بابَهُ؛ وقد تصوَّرَ أيَّ بابٍ –من العلم- هو فيه.

ولهذا السبب قلتُ ما قلتُ، وتطاولتُ وتطفّلتُ، فإن أصبتُ فبتوفيق الله تعالى؛ والخيرَ أردتُ، وإن كانت الأخرى فأسال الله الكريم مغفرة الزلة وإقالة العثرة إنه سميع مجيب، وصلواته وسلامه على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه.

--------------------------------------------

(1) اختصار علوم الحديث لابن كثير مع شرحه الباعث الحثيث للشيخ أحمد محمد شاكر، تقديم الكتاب للشيخ محمد عبد الرزاق حمزة، رحمهم الله جميعا ص (9) .
বর্ণিত বিষয়সমূহ (المنقول) এবং সংবাদসমূহের বিশুদ্ধকরণের (تصحيح) মানদণ্ড (১); তিনি এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন যে, বর্ণনার (الرواية) ক্ষেত্রে এই শাস্ত্রের অবস্থান ঠিক তেমন, যেমনটি আরবি বাক্য কাঠামোর বিশুদ্ধতা (صحة) নির্ণয়ে নাহু বা ব্যাকরণের নিয়মাবলির অবস্থান। আর যদি এই শাস্ত্রকে উক্ত নামে অভিহিত করা হতো, তবে তা হতো বস্তুর সাথে নামের এক সার্থক সমন্বয়।

আমার সীমাবদ্ধতার কারণে আলেমদের এমন কোনো বক্তব্যের সন্ধান আমি পাইনি যেখানে হাফিজের (الحافظ) এই প্রারম্ভিক উপস্থাপনা এবং এ বিষয়ে তাঁর উদ্ভাবনী দিকের কথা আলোচিত হয়েছে যা আমি উল্লেখ করেছি। প্রশংসার যোগ্য একটি জোরালো দিক হিসেবে এটিই যথেষ্ট। এর মাধ্যমেই একজন জ্ঞান অন্বেষী তার ইলমি অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারেন; যখন তিনি এই শাস্ত্র অধ্যয়নের সংকল্প করেন এবং এর প্রবেশদ্বারে পা রাখেন, তখন তিনি উপলব্ধি করতে পারেন যে তিনি ইলমের কোন দুয়ারে অবস্থান করছেন।

আর এই কারণেই আমি যা বলার বলেছি এবং কিঞ্চিৎ ধৃষ্টতা ও অনধিকার চর্চা করেছি। যদি আমি সঠিক হয়ে থাকি, তবে তা মহান আল্লাহর তাওফিকেই হয়েছে এবং আমি কেবল কল্যাণই চেয়েছি। আর যদি অন্য কিছু হয়ে থাকে, তবে আমি মহান আল্লাহর কাছে পদস্খলনের ক্ষমা ও ত্রুটি মার্জনা প্রার্থনা করছি; নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও দুআ কবুলকারী। আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সঙ্গীদের ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।

--------------------------------------------

(১) ইবনে কাসীর প্রণীত ইখতিসার উলূমিল হাদিস এবং শায়খ আহমদ মুহাম্মদ শাকির কর্তৃক এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ আল-বায়িসুল হাসিস, কিতাবটির ভূমিকা: শায়খ মুহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক হামজা, আল্লাহ তাঁদের সবার ওপর রহম করুন, পৃষ্ঠা: ৯।
(খণ্ড: ১) নুখবাতুল ফিকার - দিরাসাতুন আনহা ওয়া আন মানহাজিহা (পৃষ্ঠা: ১৩৫)
‌‌الفصل الثاني: رضا الحافظ عن كتابه هذا، وثناء العلماء عليه، وتاريخ تأليفه

لقد ذكر السخاوي أنه لم يكن راضيا عن شيء من تصانيفه سوى الفتح، ومقدمته، والمشتبه، والتهذيب، واللسان، ثم ذكر السخاوي أنه رأى الحافظ –في موضع آخر - أثنى على شرح البخاري، والتغليق، والنخبة (1) .

يُضاف إلى هذا –مما يُبيّن مكانتَها- كونُها قُرئت عليه في حياته (2) ، وبعضهم قرأها عليه قراءة بحث (3) ، وقراءةُ البحث - عند العُلماء المُحقّقين- منَ الأهمّيّةِ بمكانٍ؛ حيث نجد الحافظ نفسه، رحمه الله نوّه بها، في مُناسبة تكلّم فيها على شرحها (4) ، فكتب على نُسخةٍ لأحد طُلاّبه أنه قرأ عليه كذلك؛ ووصفها بقوله: (قراءةً حرّرها وأجاد، وقرّرها فأفاد؛ كما استفاد، وقد أَذِنْتُ له أن يَرويها عني ويُفيدها … لمن أراد منه تَقريبَ معانِيها مِمّن يُعانيها؛ يُوضّحُها، حتى يدري - من لم يَطَّلعْ على مُرادي - ما الذي أعني) .

وهذا المتن مع كونه احتوتْهُ - لاختصاره - كراسةٌ، إلا أنه جمع فيه مقاصدَ الأنواع التى عند ابن الصلاح، وزاد عليها أنواعاً لم يذكرها، فاحتوى

--------------------------------------------

(1) الجواهر والدرر 2/659.

(2) الجواهر والدرر 1/312، وانظر ما يأتي في ص (20) .

(3) المجمع المؤسس 3/663، ويُضاف لما سبقت أن أحلت عليه في كتاب الجواهر والدرر: 3/1174 وانظر فيه: 1/477 و 1213.

(4) الجواهر والدرر 3/195-1096، وانظر 3/1136.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: এই গ্রন্থের প্রতি হাফিজের সন্তুষ্টি, আলেমগণের প্রশংসা এবং এর রচনার ইতিহাস

সাখাবি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি (হাফিজ ইবনে হাজার) ‘আল-ফাতহ’ (ফাতহুল বারি), এর ভূমিকা, ‘আল-মুশতাবিহ’, ‘আত-তাহজিব’ এবং ‘আল-লিসান’ ব্যতীত তাঁর অন্য কোনো রচনার ব্যাপারে সন্তুষ্ট ছিলেন না। অতঃপর সাখাবি উল্লেখ করেন যে, তিনি অন্য এক স্থানে হাফিজকে—শারহুল বুখারি, ‘আত-তাগলীক’ এবং ‘আন-নুখবাহ’ (১)-এর প্রশংসা করতে দেখেছেন।

এর সাথে আরও যুক্ত করা যায়—যা এই গ্রন্থের উচ্চ মর্যাদা স্পষ্ট করে—তা হলো এটি তাঁর জীবদ্দশায় তাঁর নিকট পাঠ করা হয়েছে (২), এবং তাদের মধ্যে কেউ কেউ এটি তাঁর নিকট গবেষণা-মূলক পাঠ (قراءة بحث) (৩) হিসেবে পাঠ করেছেন। আর বিজ্ঞ ও অনুসন্ধানী আলেমগণের (المحققين) নিকট গবেষণা-মূলক পাঠ অত্যন্ত গুরুত্ববহ; যেখানে আমরা খোদ হাফিজ (রাহিমাহুল্লাহ)-কে একটি বিশেষ প্রেক্ষাপটে এর প্রশংসা করতে দেখি যেখানে তিনি এর ব্যাখ্যা (শারহ) নিয়ে আলোচনা করছিলেন (৪)। তিনি তাঁর জনৈক ছাত্রের পাণ্ডুলিপিতে লিখেছিলেন যে, সে তাঁর নিকট একইভাবে পাঠ করেছে; এবং তিনি এর গুণগান করে বলেন: “(এটি এমন এক) পাঠ যা সে অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও নিপুণভাবে সম্পাদন করেছে, এবং তা যথাযথভাবে ব্যক্ত করে নিজে যেমন উপকৃত হয়েছে তেমনি অন্যকেও উপকৃত করেছে; আমি তাকে আমার পক্ষ থেকে এটি বর্ণনা করার এবং যারা এর নিগূঢ় অর্থ অন্বেষণ করে তাদের নিকট এর মর্মার্থ সহজবোধ্য করার অনুমতি (إجازة) প্রদান করলাম... যাতে সে তা স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করতে পারে, এমনকি যে ব্যক্তি আমার উদ্দেশ্য সম্পর্কে অবগত নয় সেও যেন বুঝতে পারে আমি কী বোঝাতে চেয়েছি)।”

এই মূল পাঠটি (متن) সংক্ষিপ্ত হওয়ার কারণে একটি ক্ষুদ্র পুস্তিকার অবয়ব নিলেও, এতে তিনি ইবনুস সালাহ বর্ণিত ইলমে হাদিসের প্রকারসমূহের (أنواع) সারসংক্ষেপ একত্রিত করেছেন এবং এমন কিছু প্রকার (أنواع) এতে যুক্ত করেছেন যা তিনি (ইবনুস সালাহ) উল্লেখ করেননি। ফলে এটি ধারণ করেছে...

--------------------------------------------

(১) আল-জাওয়াহির ওয়াদ-দুরার ২/৬৫৯।

(২) আল-জাওয়াহির ওয়াদ-দুরার ১/৩১২, এবং সামনে ২০ পৃষ্ঠায় যা আসছে তা দেখুন।

(৩) আল-মুজাম আল-মুয়াসসিস ৩/৬৬৩, এবং এর সাথে পূর্বে আল-জাওয়াহির ওয়াদ-দুরার কিতাবের ৩/১১৭৪ পৃষ্ঠার যে তথ্য উল্লেখ করেছি তা যুক্ত করুন, আরও দেখুন: ১/৪৭৭ এবং ১২১৩।

(৪) আল-জাওয়াহির ওয়াদ-দুরার ৩/১০৯৫-১০৯৬, এবং দেখুন ৩/১১৩৬।
(খণ্ড: ১) নুখবাতুল ফিকার - দিরাসাতুন আনহা ওয়া আন মানহাজিহা (পৃষ্ঠা: ১৩৬)
على أكثر من مائة نوع من أنواع علوم الحديث، كما قال السخاوي (1) .

وقد أثنى عليها العلامة ابن الوزير نثرا ونظما - ونقله عنه الصنعاني (2) - مُتمثّلا بالبيتين القائلين:

أَبْلَغُ العِلْمِ وأَشْفَاهُ (م) لأَدْوَاءِ الْفُؤَادْ

اِخْتِصَارٌ في جِلاءٍ وَّبُلُوغٌ في مُرَادْ (3)

ومن ذلك قول الصنعاني في منظومته للنخبة (4) :

وَبَعْدُ: فَـ (النُّخْبَةُ) في عِلْمِ (الأَثَرْ) … مُخْتَصَرٌ يَّا حَبَّذَا مِن مُّخْتَصَرْ

وللعلامة شمس الدين أبي عبد الله محمد الشُّحروري؛ الشهير بـ (ابن

--------------------------------------------

(1) الجواهر والدرر 2/677، ونبّه السخاوي على سبق ابن واصل لنحو هذه التسمية؛ لكن اسم كتابه (نخبة الفكر في علم النظر) ، واعتذر للحافظ بأنه لعلّه: ما استحضره حين التسمية به، وابنُ واصل هو: محمد بن سالم بن نصر الله بن سالم ابن واصل المازني، وانظر الأعلام 6/133 فقد ذكر أنه صنف رسالته الأنبرورية في المنطق في جزيرة صقلية، وأنها تُسمى (نخبة الفكر) .

(2) مختصر في علم الحديث، ل (121 أ)) ضمن مجموع، وإسبال المطر ص (19و20) .

(3) وقد تمثّل ابن الوزير بهذين البيتين - أيضا- مُقتبسا لهما في شعر أثنى به على كتاب العلامة تقي الدين الفاسي: العقد الثمين في تاريخ البلد الأمين؛ ونقلها الفاسي فيه في أثناء ترجمته لنفسه -1/358- وأوّلها:

يا تقي الدين أحسنتَ (م) قِرَى أُمِّ البلادْ

في اثني عشر بيتا ختمها بالبيتين المذكورين، وللعلامة ابن الوزير ترجمة أفردها من المعاصرين: القاضي إسماعيل بن علي الأكوع؛ بعنوان: (الإمام محمد بن إبراهيم بن الوزير وكتابه العواصم والقواصم) ، (ت:840 ?) ، والترجمة مكتوبة في الأصل: لتكون مقدمةً للكتاب المذكور.

(4) إسبال المطر ص (17) .
হাদিস শাস্ত্রের একশরও বেশি প্রকারের ওপর ভিত্তি করে এটি রচিত, যেমনটি সাখাভী (১) বলেছেন।

আল্লামা ইবনুল উজির গদ্য ও পদ্য উভয় মাধ্যমেই এর প্রশংসা করেছেন - এবং সানআনী (২) তা তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন - নিম্নোক্ত দুটি পংক্তির মাধ্যমে:

জ্ঞানের সবচেয়ে প্রাঞ্জল ও অন্তরের ব্যাধির জন্য সবচেয়ে নিরাময়কারী হলো-

স্বচ্ছতার সাথে সংক্ষিপ্তসার (مختصر) এবং উদ্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানোর সার্থকতা (৩)।

এরই অংশ হিসেবে নুখবাহ-এর ওপর রচিত সানআনীর কাব্যগ্রন্থে (৪) তাঁর উক্তিটি হলো:

অতঃপর: ইলমে আসারের (علم الأثر) ক্ষেত্রে 'নুখবাহ' হলো এক সংক্ষিপ্তসার (مختصر); কতই না চমৎকার এক সংক্ষিপ্তসার (مختصر)!

এবং আল্লামা শামসুদ্দিন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ আশ-শুহরুরী; যিনি ইবনে (নামে পরিচিত)...

--------------------------------------------

(১) আল-জাওয়াহির ওয়াদ-দুরার ২/৬৭৭; সাখাভী সতর্ক করেছেন যে ইবনে ওয়াসিল এই জাতীয় নামকরণে অগ্রগামী ছিলেন; তবে তাঁর বইয়ের নাম ছিল 'নুখবাতুল ফিকার ফি ইলমিন নাজার'। তিনি হাফিজের (ইবনে হাজার) পক্ষ থেকে ওজর পেশ করেছেন যে, সম্ভবত নামকরণের সময় বিষয়টি তাঁর স্মরণে ছিল না। আর ইবনে ওয়াসিল হলেন: মুহাম্মদ ইবনে সালিম ইবনে নাসরুল্লাহ ইবনে সালিম ইবনে ওয়াসিল আল-মাজিনী। দেখুন আল-আ'লাম ৬/১৩৩; সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে তিনি সিসিলি দ্বীপে যুক্তিবিদ্যার ওপর তাঁর আল-আনবারুরিয়্যাহ রিসালাটি রচনা করেছিলেন এবং সেটির নামও 'নুখবাতুল ফিকার'।

(২) মুখতাসার (مختصر) ফি ইলমিল হাদিস, (১২১ ক) একটি সংকলনের অন্তর্ভুক্ত, এবং ইসবালুল মাতার, পৃষ্ঠা (১৯ ও ২০)।

(৩) ইবনুল উজির এই দুটি পংক্তিকে উদ্ধৃতি হিসেবে ব্যবহার করেছেন এমন একটি কবিতার মধ্যে যেখানে তিনি আল্লামা তাকিউদ্দিন আল-ফাসির গ্রন্থ 'আল-ইকদুত সামীন ফি তারিখিল বালাদিল আমীন'-এর প্রশংসা করেছেন; আল-ফাসি তাঁর নিজের জীবনী (ترجمة) আলোচনা করার সময় সেটি (১/৩৫৮) উদ্ধৃত করেছেন। কবিতাটি শুরু হয়েছে এভাবে:

হে তাকিউদ্দিন! আপনি উম্মুল বিলাদের চমৎকার আতিথেয়তা করেছেন

মোট বারোটি পংক্তির এই কবিতাটি তিনি উল্লেখিত দুটি পংক্তির মাধ্যমে শেষ করেছেন। সমসাময়িকদের মধ্যে আল্লামা ইবনুল উজিরের একটি পৃথক জীবনী (ترجمة) রচনা করেছেন বিচারক ইসমাইল ইবনে আলী আল-আকওয়া; যার শিরোনাম: 'আল-ইমাম মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম ইবনুল উজির ওয়া কিতাবুহু আল-আওয়াসিম ওয়াল কাওয়াসিম' (মৃত্যু: ৮৪০ হি.)। এই জীবনীটি (ترجمة) মূলত উক্ত গ্রন্থের ভূমিকা হিসেবে লিখিত হয়েছে।

(৪) ইসবালুল মাতার, পৃষ্ঠা (১৭)।
(খণ্ড: ১) নুখবাতুল ফিকার - দিরাসাতুন আনহা ওয়া আন মানহাজিহা (পৃষ্ঠা: ১৩৭)
الشُّحرور) (1) أبيات أربعة في الثناء على (النخبة) وعلى (النّزهة) (2) ، وقد خَتَمْتُ بها عِدّةَ عشرةِ أبياتٍ قلتها للثناء على مُصنّفها - ورحمهم الله جميعا- وعلى مؤلفاته، وهي:

مَا أَطْيَبَ الْعِلْمَ في وِرْدٍ وَّمُصْتَدَر (3) … يَغْدُو، يَرُوحُ، يُعَاني خِدْمَةَ (الأَثَرِ)

فَانْظُرْ لآثَارِهِ … كَمْ شُرِّفَتْ قَدَمٌ … سَعَتْ لَهُ.. فَأَفَادَتْ خَيْرَ مُدَّخَرِ

عِلْمُ الْكِتَابِ - لَهُ- تَاجٌ يُّكَلِّلُهُ … وَسُنَّةُ المُصْطَفَى المُخْتَارِ مِن مُّضَرِ

كَمْ عَالِمٍ فِيهِ؛ أَعْلَى اللهُ مَنْزلَهُ … فَوْقَ السُّهَا (4) وَالثُّرَيَّا طَاهِرَ السِّيَرِ

وَالعَسْقَلانِيُّ نَجْمٌ.. في تَأَلُّقِهِ … (فَتْحٌ) لَّهُ قَدْ أَتَى مِنْ (بَارِئِ) الصُّوَرِ

كَم مِّنْ تَوَالِيفَ أبْدَى في الْعُلُومِ لَهَا … نَفْعٌ جَلِيلٌ يُّحلِّي الجِيدَ بالدُّررِ

إن رُّمْتَ تَبْغِي سَبِيلَ الرُّشْدِ في الأَثَرِ … فَاشْفِ الْغَلِيلَ بما في (نخبة الْفِكَر)

(واكْحُلْ بِـ"تَوْضِيحِهَا" عَيْنَ الْبَصِيرَةِ كَيْ … تَحظَى بما رُمْتَهُ مِن "نزهَةِ النَّظَرِ")

--------------------------------------------

(1) محمد بن عمر بن عثمان، الشمس المصري الحنفي، نزيل حلب، ويُعرف بابن الشحرور، ولد بعد (760 ?) ، ومات بدمشق سنة (858 ?) ، وله نظم، هكذا ترجم له السخاوي في طبقات الحنفية (ل: 271) بترجمة مختصرة، ولم أقف على غيرها.

(2) أوردها الشيخ إبراهيم الّلقاني في (قضاء الوطر) ل (3) مصورة عن مكتبة الشيخ حماد الأنصاري رحمه الله، ووردت على طُرّة مخطوطة أصلية لنزهة النظر؛ محفوظة بمكتبة الحرم المكي برقم (777) نُسخت في عام 1263? بالطائف.

(3) مصدر ميمي منقول لباب الافتعال.

(4) السُّهَا: كُويكب صغير خفيّ الضوء … والناس يمتحنون به أبصارهم، كما في لسان العرب (س ? ا) 14/408.
(আশ-শুহরুর) (১) 'নুখবাহ' এবং 'নুজহাহ' (২)-এর প্রশংসায় চারটি পঙক্তি, যার মাধ্যমে আমি এর রচয়িতার—আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি রহম করুন—এবং তাঁর রচনাবলির প্রশংসায় আমার বলা দশটি কবিতার সমাপ্তি টেনেছি, সেগুলো হলো:

জ্ঞানের আগমন ও নির্গমনের উৎসসমূহ কতই না মনোরম! … যে ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যা বর্ণনা (الأثر)-এর খিদমতে আত্মনিয়োগ করে।

অতএব তাঁর রচনাবলির প্রতি দৃষ্টি দিন … কত পদযুগলই না ধন্য হয়েছে … যা এর অন্বেষণে ছুটেছে.. এবং সর্বোত্তম পাথেয় লাভে ধন্য হয়েছে।

কিতাবুল্লাহর ইলম—তাঁর জন্য—একটি সুশোভিত মুকুট … আর মুদার গোত্রীয় মনোনীত মুস্তফা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহ।

এতে কত আলিম রয়েছেন; আল্লাহ যাঁদের সুউচ্চ মর্যাদা দান করেছেন … সুহা ও সুরাইয়া নক্ষত্রের ঊর্ধ্বে, যাঁরা পবিত্র জীবনচরিত (السير)-এর অধিকারী।

আর আল-আসকালানি এক উজ্জ্বল নক্ষত্র.. তাঁর দীপ্তিতে … তাঁর জন্য 'ফাতহ' (বিজয়) এসেছে রূপকার মহান স্রষ্টার পক্ষ থেকে।

তিনি ইলমসমূহের মাঝে কতই না চমৎকার সংকলন প্রকাশ করেছেন … যার সুমহান উপকারিতা যেন গ্রীবাকে মুক্তার মালায় অলংকৃত করে।

আপনি যদি বর্ণনা (الأثر)-এর মাঝে সঠিক পথের সন্ধান চান … তবে নুখবাতুল ফিকার-এ যা আছে তার মাধ্যমে আপনার তৃষ্ণা নিবারণ করুন।

(আর এর "তাওদীহ" (ব্যাখ্যা) দিয়ে আপনার অন্তর্দৃষ্টির চোখ সুরমা মণ্ডিত করুন, যাতে … আপনি যা চেয়েছেন তা নুজহাতুন নাজার থেকে অর্জন করতে পারেন।)

--------------------------------------------

(১) মুহাম্মদ বিন উমর বিন উসমান, শামস আল-মিসরি আল-হানাফি, হালবের বাসিন্দা, এবং ইবনে আশ-শুহরুর নামে পরিচিত। তিনি ৭৬০ হিজরীর পর জন্মগ্রহণ করেন এবং ৮৫৮ হিজরীতে দামেস্কে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর রচিত পদ্য রয়েছে। আল-সাখাভি তবাকাতুল হানাফিয়্যাহ-তে (পৃষ্ঠা: ২৭১) তাঁর এমন একটি সংক্ষিপ্ত জীবনী বর্ণনা করেছেন, আমি এ ছাড়া অন্য কোনো তথ্যের সন্ধান পাইনি।

(২) শেখ ইব্রাহিম আল-লাকানি এটি 'কদাউল ওয়াতার'-এ (৩) উল্লেখ করেছেন যা শেখ হাম্মাদ আল-আনসারি (রাহিমাহুল্লাহ)-এর লাইব্রেরি থেকে অনুলিপি করা হয়েছে। এটি নুজহাতুন নাজার-এর একটি মূল পাণ্ডুলিপির প্রচ্ছদেও পাওয়া গেছে; যা মক্কার হারাম লাইব্রেরিতে ৭৭৭ নম্বরে সংরক্ষিত আছে এবং ১২৬৩ হিজরীতে তায়েফে এটি নকল করা হয়েছিল।

(৩) এটি ইফতিয়াল পরিচ্ছেদ (باب الافتعال) থেকে রূপান্তরিত মাসদারে মিমি (مصدر ميمي)।

(৪) আল-সুহা: এটি একটি ছোট এবং ক্ষীণ আলোবিশিষ্ট নক্ষত্র … মানুষ এর মাধ্যমে তাদের দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা করত, যেমনটি লিসানুল আরব-এ (স-হ-আ) ১৪/৪০৮-এ বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) নুখবাতুল ফিকার - দিরাসাতুন আনহা ওয়া আন মানহাজিহা (পৃষ্ঠা: ১৩৮)
(للهِ دَرُّ الَّذِي أَنْشَا حَدَائِقَها … فَكَمْ رَأَتْ مِن شَذَاهَا الْعُمْيُ بِالْبَصَرِ)

(لا زَالَ يُبْلي ثِيَابَ المجْدِ (1) مَا طَلَعَتْ … شمْسٌ وَّغرَّدَ شُحْرُورٌ (2) عَلَى الشَّجَرِ)

أما تاريخ تأليفها: فإن الحافظ رحمه الله ألف (نخبة الفكر) وهو مقيم في بلاده بمصر، وذلك في عام 812 ? كما أرّخ تلميذه السخاوي (3) .

وهذا القول يُعكّر عليه ما اشتهر من أنه ألفها وهو مُسافر، وسبب الشهرة مُستند إلى بيت جاء في نظم النخبة للأمير الصنعاني هو:

أَلَّفَهَا الحَافِظُ في حَالِ السَّفَرْ وَهْوَ الشِّهَابُ بْنُ عَلِيِّ بْنُ حَجَرْ

وفي نسخة: (ألّفها الحافظ ثاقب النظر) (4) وهي أصوب، ولو كان الشأن راجعا لاختلاف النسخ لهان الأمر، إلا أن الإمام الصنعاني رحمه الله لما شرح هذه المنظومة التي سمّاها (قصب السكر) بشرحه الذي سمّاه (إسبال المطر) ، نقل عن العلامة ابن الوزير رحمه الله، وكان عصري الحافظ- خبرا لم أقف على من وافقه عليه، وبدا لي فيه نظر على ضوء ما جاء عند المترجمين للحافظ ولحياته

--------------------------------------------

(1) في فتح الباري 10/280 قول الحافظ رحمه الله: (العرب تُطلق ذلك وتُريد الدعاءَ بِطُولِ البقاء لِلمُخاطبِ بِذلك) ؛ وذلك في شرحه لدعائه صلى الله عليه وسلم للطفلة (أَمَة) المُكنّاة (أم خالد) : «أَبْلِي وَأَخْلِقِي» ؛ قال: (أي أنها تطول حياتها حتى يبلى الثوب ويخلَق) ، والشاعر يدعو للحافظ - والله يرحمهما- بدوام مجده وعزّه.

(2) الشُّحْرُور في الأصل: طائر أسود فُوَيق العصفور يُصوّت أصواتا، لسان العرب (ش ح ر) 4/398، وكأنّ ناظمها بدا له ربطُ أبياته هذه باسم شُهرته.

(3) الجواهر والدرر 2/677.

(4) كما في شرح المنظومة للشيخ عبد الكريم مراد ص (19) .
(আল্লাহর জন্যই সেই সত্তার সকল প্রশংসা, যিনি এর উদ্যানসমূহ সৃষ্টি করেছেন … এর সুগন্ধে অন্ধরাও কতই না দৃষ্টিশক্তি লাভ করেছে!)

(যুগ যুগ ধরে গৌরবের ভূষণ দীর্ঘস্থায়ী হোক (১) যতদিন উদিত হবে … সূর্য এবং গাছে শুহরুর (২) পাখি গান গাইবে)

এটি রচনার ইতিহাস সম্পর্কে বলা যায় যে: হাফিজ (الحافظ) (রাহিমাহুল্লাহ) 'নুখবাতুল ফিকার' রচনা করেন যখন তিনি নিজ দেশ মিশরে অবস্থান করছিলেন, আর তা ছিল ৮১২ হিজরিতে; যেমনটি তাঁর ছাত্র সাখাওয়ী (৩) উল্লেখ করেছেন।

তবে এই বক্তব্যটি সেই প্রসিদ্ধ মতের পরিপন্থী যে, তিনি এটি সফরের অবস্থায় রচনা করেছিলেন। এই প্রসিদ্ধির কারণ হলো আমির সানআনী কর্তৃক নুখবার কাব্যরূপে রূপান্তরিত কাব্যগ্রন্থের একটি পংক্তি, যা হলো:

হাফিজ (الحافظ) এটি সফরের অবস্থায় রচনা করেছেন, তিনি হলেন শিহাব বিন আলী বিন হাজার।

অন্য এক কপিতে রয়েছে: (এটি রচনা করেছেন তীক্ষ্ণ দৃষ্টিসম্পন্ন হাফিজ (الحافظ)) (৪), আর এটিই অধিক শুদ্ধ। বিষয়টি যদি কেবল পাণ্ডুলিপির পার্থক্যের কারণে হতো, তবে বিষয়টি সহজ হতো। কিন্তু ইমাম সানআনী (রাহিমাহুল্লাহ) যখন এই কাব্যগ্রন্থটি—যাকে তিনি 'কাসবাস সুক্কার' নামকরণ করেছেন—তাঁর 'ইসবালুল মাতার' নামক ব্যাখ্যাগ্রন্থে ব্যাখ্যা করেন, তখন তিনি আল্লামা ইবনুল উজির (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে—যিনি হাফিজ (الحافظ)-এর সমসাময়িক ছিলেন—এমন একটি সংবাদ উদ্ধৃত করেছেন যার সাথে একমত পোষণকারী অন্য কাউকে আমি পাইনি। হাফিজ (الحافظ)-এর জীবনীকারদের বর্ণনা এবং তাঁর জীবনের প্রেক্ষাপটে এই বিষয়টি আমার নিকট পর্যালোচনার দাবি রাখে।

--------------------------------------------

(১) ফাতহুল বারী ১০/২৮০-এ হাফিজ (الحافظ) (রাহিমাহুল্লাহ)-এর উক্তি: (আরবরা এটি উচ্চারণ করে এবং এর মাধ্যমে তারা সম্বোধিত ব্যক্তির দীর্ঘায়ু কামনা করে); আর এটি ছিল এক বালিকা (আমা), যার উপনাম (উম্মে খালিদ), তার জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দুআ: "পুরোনো করো এবং জীর্ণ করো"-এর ব্যাখ্যায়। তিনি বলেন: (অর্থাৎ তার জীবন দীর্ঘ হবে, এমনকি পোশাক পুরোনো ও জীর্ণ হয়ে যাবে)। কবি এখানে হাফিজ (الحافظ)-এর জন্য—আল্লাহ তাঁদের উভয়ের ওপর রহম করুন—তাঁর গৌরব ও সম্মানের স্থায়িত্বের দুআ করছেন।

(২) শুহরুর মূলত: চড়ুই পাখির চেয়ে কিছুটা বড় একটি কালো রঙের পাখি যা সুমধুর সুরে ডাকে, লিসানুল আরব (শ হ র) ৪/৩৯৮। মনে হয় এর রচয়িতা তাঁর এই পংক্তিগুলোকে তাঁর উপাধির নামের সাথে যুক্ত করতে চেয়েছেন।

(৩) আল-জাওয়াহির ওয়াদ-দুরার ২/৬৭৭।

(৪) যেমনটি শেখ আব্দুল কারীম মুরাদের কাব্যগ্রন্থের ব্যাখ্যায় ১৯ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) নুখবাতুল ফিকার - দিরাসাতুন আনহা ওয়া আন মানহাজিহা (পৃষ্ঠা: ১৩৯)
العلمية، ولتواريخ رحلاته؛ اللاتي وجدتها شغلت ثلاث فترات من حياته –أولى ووسطى وأخيرة - ولمؤلفاته.

والخبر هو ما جاء في قول ابن الوزير عن الحافظ: (كتب - في سفره إلى مكة، سنة سبع عشرة وثمانمائة- مختصرا بديعا في علوم الحديث) (1) ، ففي السفر المذكور، وفي هذا التاريخ نظر من وجهين:

أولهما: أن الحافظ كان في الفترة من عام (807 هـ) إلى عام (814هـ) مُستقرًّا بمصر غير مُرتحل، والتاريخ الصحيح لتأليف (النخبة) واقع ضمن هذه الفترة كما سبق نقله عن السخاوي، وأكّده السخاوي بقوله - أكثر من مرة - بأنها قُرئت على الحافظ قبل التاريخ الذي ذكره ابن الوزير، وذلك سنة (815هـ) (2) ، ثم إن الحافظ شرح (النخبة) بكتابه (نزهة النظر) شرحا مُدمَجا فيه متنُ النخبة، لكنّ شرحه لها كان في أواخر عام (818 هـ) وفرغ منه في مُستهلّ ذي الحجة من هذا العام (3) ، فلو قُدّر أن ابن الوزير يقصد هذا الشرح فالتاريخ الذي عنده لا ينطبق على هذا، وقد نقل عن كتاب (نزهة النظر) في (العواصم والقواصم) ؛ (ويُسمّيه: علوم الحديث) (4) .

ثانيهما: أنّ رحلات الحافظ في فِئاتها الثلاثِ كما يلي (5) :

--------------------------------------------

(1) مختصر في علم الحديث، لابن الوزير، ل (121أ) ضمن مجموع، وإسبال المطر ص (19) ، ونقل الشيخ عبد الكريم مراد هذا في شرحه للمنظومة ص (19) ، ولم يُنبّه على ما فيه.

(2) تكرّر ذكر هذا في الجواهر والدرر، انظر: 1/312 و 3/1107 و1109 و1128 و1131 و1165 و1157 و1165.

(3) الجواهر والدرر 2/677.

(4) مقدمة تحقيق (الروض الباسم) 1/59، وأحال على (العواصم والقواصم) 9/127، 260، وهو كما ذكر.

(5) تتبّعت- مؤخّرا- المواضع التي ذكر أرقام صفحاتها د. يوسف المرعشلي في مجلّد (الفهارس الفنّيّة) لكتاب (المجمع المؤسس) ص (441-442) ، واقتصرت في الإحالة على ما كان منها صريحا في ذِكر الموضع والسنة.
বৈজ্ঞানিক কর্মকাণ্ড, তাঁর সফরগুলোর তারিখসমূহ—যা আমি তাঁর জীবনের তিনটি পর্যায়ে (প্রথম, মধ্য ও শেষ) বিস্তৃত পেয়েছি—এবং তাঁর রচনাবলি।

সংবাদটি হলো যা হাফিজ সম্পর্কে ইবনুল ইয়াযিরের উক্তিতে এসেছে: (তিনি ৮১৭ হিজরিতে মক্কা সফরের সময় হাদিস শাস্ত্র (علوم الحديث) বিষয়ে একটি চমৎকার সংক্ষিপ্তসার (مختصر) রচনা করেন) (১)। তবে উল্লিখিত সফর ও এই তারিখটির ব্যাপারে দুটি দিক থেকে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে:

প্রথমটি: হাফিজ ৮০৭ হিজরি থেকে ৮১৪ হিজরি পর্যন্ত মিশরে স্থায়ীভাবে অবস্থান করছিলেন এবং কোথাও সফর করেননি। আর নুখবাহ রচনার সঠিক তারিখ এই সময়ের মধ্যেই পড়ে, যেমনটি ইতিপূর্বে সাখাভি থেকে উদ্ধৃত হয়েছে। সাখাভি একাধিকবার এটি নিশ্চিত করে বলেছেন যে, ইবনুল ইয়াযিরের উল্লিখিত তারিখের আগেই এটি হাফিজের নিকট পাঠ করা হয়েছিল, আর তা ছিল ৮১৫ হিজরিতে (২)। এরপর হাফিজ তাঁর গ্রন্থ নুজহাতুন নাযার এর মাধ্যমে নুখবাহ-র একটি ব্যাখ্যা প্রদান করেন, যা মূল পাঠের (متن) সাথে সংমিশ্রিত। তবে এর ব্যাখ্যা রচনার কাজ হয়েছিল ৮১৮ হিজরির শেষভাগে এবং তিনি এই বছরের জিলহজ মাসের শুরুতে তা সমাপ্ত করেন (৩)। যদি ধরে নেওয়া হয় যে, ইবনুল ইয়াযির এই ব্যাখ্যাটিকেই বুঝিয়েছেন, তবে তাঁর দেওয়া তারিখটি এর সাথে সংগতিপূর্ণ নয়। তিনি আল-আওয়াসিম ওয়াল কাওয়াসিম গ্রন্থে নুজহাতুন নাযার থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন এবং তিনি একে হাদিস শাস্ত্র (علوم الحديث) নামে অভিহিত করেছেন (৪)।

দ্বিতীয়টি: হাফিজের তিন পর্যায়ের সফরসমূহ নিম্নরূপ (৫):

--------------------------------------------

(১) ইবনুল ইয়াযিরের মুখতাসার ফি ইলমিল হাদিস, (১২১/ক) একটি পাণ্ডুলিপি সংগ্রহের অন্তর্ভুক্ত; এবং ইসবালুল মাতার, পৃ. ১৯। শেখ আব্দুল করিম মুরাদ তাঁর মানজুমার ব্যাখ্যায় (পৃ. ১৯) এটি উদ্ধৃত করেছেন, তবে এর ভেতরে যা রয়েছে সে ব্যাপারে কোনো সতর্কবার্তা প্রদান করেননি।

(২) আল-জাওয়াহির ওয়াদ-দুরার গ্রন্থে এটি বারবার উল্লেখ করা হয়েছে, দেখুন: ১/৩১২ এবং ৩/১১০৭, ১১০৯, ১১২৮, ১১৩১, ১১৬৫, ১১৫৭ এবং ১১৬৫।

(৩) আল-জাওয়াহির ওয়াদ-দুরার ২/৬৭৭।

(৪) আর-রাওদুল বাসিম-এর তাহকিকের ভূমিকা ১/৫৯; এবং তিনি আল-আওয়াসিম ওয়াল কাওয়াসিম ৯/১২৭, ২৬০-এর উদ্ধৃতি দিয়েছেন, আর বিষয়টি তেমনই যেমন তিনি উল্লেখ করেছেন।

(৫) আমি সম্প্রতি ড. ইউসুফ আল-মার'আশলি আল-মু'জামুল মুয়াসসিস গ্রন্থের শৈল্পিক নির্ঘণ্ট খণ্ডে (পৃ. ৪৪১-৪৪২) যেসব পৃষ্ঠার নম্বর উল্লেখ করেছেন তা অনুসন্ধান করেছি এবং উদ্ধৃতি প্রদানের ক্ষেত্রে কেবল সেই তথ্যগুলোই গ্রহণ করেছি যেখানে স্থান ও সালের সুস্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে।
(খণ্ড: ১) নুখবাতুল ফিকার - দিরাসাতুন আনহা ওয়া আন মানহাজিহা (পৃষ্ঠা: ১৪০)
أ- الأولى: الفترة الواقعة مدتها ما بين عام (775هـ) إلى عام (799هـ) :

فقد زار بيت المقدس سنة (775هـ) بصحبة والده (1) ، كما ذكر سماعه لصحيح البخاري بمكة سنة (785هـ) (2) ؛ وذلك حين جاور في هذا العام في صُحبة وصيّه وحجّ معه (3) ، وذكر السخاوي أنه حج وجاور مع وصيه عام (786هـ) ؛ (وهو مُراهق، وقبلها وهو طفل مع والده) (4) ، وتعلّم الخط بمكة في السنة المذكورة (5) .

أما رحلاته العلمية -التي أنشأ سفرها- فكانت أوّلها عام (793هـ) ، وكان نطاقها - إلى الغاية المذكورة: عام (799هـ) - في بلدان مصر: قوص (6) وبعض بلدان الصعيد عام (793هـ، ثم الإسكندرية في أواخر عام 797هـ، ولم يَعُدْ منها إلا بعد أشهُر من عام 798هـ (7) .

--------------------------------------------

(1) المجمع المؤسس 1/354.

(2) المجمع المؤسس 3/76.

(3) المجمع المؤسس 3/96، وانظر: 3/267 و269.

(4) الجواهر والدرر 1/150.

(5) المجمع المؤسس 3/185.

(6) قوص: من مدن جنوب مصر؛ تبعد عن القاهرة بنحو (650) كيلا، كما في (أطلس) طرق مصر، الخارطة ص (21) ، وفي معجم البلدان –4/413- أنها مدينة كبيرة؛ وهي قصبة صعيد مصر؛ وأنها كانت مركزا تجاريا مهماً، أما (الأطلس) المذكور آنفا فإن العلامات الإرشادية في خارطته تفيد أنها اليوم مدينة صغيرة لم يَعُدْ لها ما كان سابقا من أهمية، والطرق الموصلة إليها ثانوية.

(7) الجواهر والدرر 1/142و145-146.
ক- প্রথমত: ৭৭৫ হিজরি থেকে ৭৯৯ হিজরি পর্যন্ত সময়কাল:

তিনি ৭৭৫ হিজরিতে তাঁর পিতার সান্নিধ্যে বাইতুল মুকাদ্দাস সফর করেন (১), যেমনটি তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি ৭৮৫ হিজরিতে মক্কায় সহীহ বুখারী শ্রবণ (سماع) করেছিলেন (২); এটি ছিল সেই বছর যখন তিনি তাঁর অভিভাবকের সাথে সেখানে অবস্থান করেন এবং তাঁর সাথে হজ সম্পাদন করেন (৩)। সাখাভী উল্লেখ করেছেন যে, তিনি ৭৮৬ হিজরিতে তাঁর অভিভাবকের সাথে হজ করেন এবং সেখানে অবস্থান করেন; (তখন তিনি ছিলেন কিশোর, আর এর আগে শিশু অবস্থায় পিতার সাথে হজ করেন) (৪), এবং উল্লিখিত বছরেই তিনি মক্কায় হস্তলিপি বিদ্যা শিক্ষা করেন (৫)।

তাঁর জ্ঞানার্জনের সফরসমূহ (رحلة علمية) —যা তিনি নিজেই শুরু করেছিলেন— সেগুলোর প্রথমটি ছিল ৭৯৩ হিজরিতে, আর এগুলোর পরিধি ছিল —উল্লিখিত লক্ষ্যমাত্রা ৭৯৯ হিজরি পর্যন্ত— মিসরের বিভিন্ন শহরে: ৭৯৩ হিজরিতে কূস (৬) এবং উচ্চ মিসরের (সাঈদ) কিছু এলাকা; অতঃপর ৭৯৭ হিজরির শেষদিকে আলেকজান্দ্রিয়া সফর করেন এবং ৭৯৮ হিজরির কয়েক মাস অতিবাহিত হওয়ার আগে সেখান থেকে ফিরে আসেননি (৭)।

--------------------------------------------

(১) আল-মাজমাউল মুয়াসসিস ১/৩৫৪।

(২) আল-মাজমাউল মুয়াসসিস ৩/৭৬।

(৩) আল-মাজমাউল মুয়াসসিস ৩/৯৬, এবং দেখুন: ৩/২৬৭ ও ২৬৯।

(৪) আল-জাওয়াহির ওয়াদ-দুরার ১/১৫০।

(৫) আল-মাজমাউল মুয়াসসিস ৩/১৮৫।

(৬) কূস: দক্ষিণ মিসরের একটি শহর; যা কায়রো থেকে প্রায় (৬৫০) কিলোমিটার দূরে, যেমনটি মিসরের সড়ক মানচিত্রে (অ্যাটলাস) উল্লেখ করা হয়েছে, মানচিত্র পৃষ্ঠা (২১)। মু'জামুল বুলদান (৪/৪১৩)-এ বর্ণিত হয়েছে যে, এটি একটি বড় শহর; এটি উচ্চ মিসরের প্রধান কেন্দ্র এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র ছিল। তবে পূর্বোল্লিখিত মানচিত্রের (অ্যাটলাস) নির্দেশিকা অনুসারে বর্তমানে এটি একটি ছোট শহর এবং আগের মতো এর গুরুত্ব অবশিষ্ট নেই, আর সেখানে যাতায়াতের রাস্তাগুলোও এখন গৌণ।

(৭) আল-জাওয়াহির ওয়াদ-দুরার ১/১৪২ এবং ১৪৫-১৪৬।
(খণ্ড: ১) নুখবাতুল ফিকার - দিরাসাতুন আনহা ওয়া আন মানহাজিহা (পৃষ্ঠা: ১৪১)
ب- الثانية: من الفترة الواقعة ما بين أواخر عام (799 هـ) إلى عام (815هـ) ، فبعد عودته من الإسكندرية أقام حتى توجّه في شهر شوال من عام (799 هـ) قاصدا للحجاز عن طريق البحر، ووافق جمعا من الفضلاء بالطور قاصدين اليمن، فرافقهم في رحلتهم مرورا بينبع ثم جدة (1) ، وكانت تلك أولى رحلتيه إلى اليمن حيث وصلها في ربيع الأول من عام (800 هـ) (2) ، وتنقّل عامه ذاك بين بلدانها (3) ، ثم في أواخر عامه ذاك خرج قاصدا للحج، ليؤدّي حجة الإسلام، بصحبة موكب للحج جهّزه الملك الأشرف (4) ، ثم إنه عاد بعد حجة الفريضة إلى مصر، وتنقّل بها تنقُّلاتٍ وَصَفَ السخاوي فيها ما كان من الحافظ بأنه: (أشرف على الاستيفاء وحصول الاستيعاب لما أمكن بالديار

--------------------------------------------

(1) في المجمع المؤسس 3/111 تحت ترجمة (خليل بن محمد الأقفهسي) ذكر الحافظ مُرافقته له إلى مكة من البحر في سنة (799 هـ) وأنه طلع من جدة إلى مكة، وتوجّه الحافظ إلى اليمن، ثم جاور الأقفهسي سنة (800 هـ) ، وأن الحافظ لما قدم لحج هذا العام من اليمن لقيه بمكة، كذلك ذكر أن الأقفهسي رحل إلى دمشق ودخلها عام (802 هـ) ، وأن الحافظ نفسه رحل إليها في العام ذاته فلقيه بها، ثم قدم معه إلى القاهرة؛ فأقام الأقفهسي إلى أن سافر للحج عام (804هـ) ، وأن الحافظ حج عام (805هـ) فلقيه بمكة على ما كان عَهِدَهُ عليه سابقا، وذكرت هذا المقطع لما فيه من تفصيلات؛ بحسبما اشترطتُهُ.

(2) المجمع المؤسس 2/550 والجواهر والدرر 1/147.

(3) الجواهر والدرر 1/146-149.

(4) الملك الأشرف اسمه (إسماعيل الغساني) مؤلف كتاب (العسجد المسبوك في طبقات الخلفاء والملوك) ؛ (ت:803هـ) ، قدّم عنه د. شاكر محمود عبد المنعم دراسة مُستفيضة مع تحقيق قسم كبير من كتابه المذكور، انظر: الحافظ ابن حجر ودراسة مُصنفاته 1/119؛ حاشية (1) ، والخبر في الجواهر والدرر 1/150، وانظر الحافظ ابن حجر ودراسة مصنفاته: 1/124.
খ- দ্বিতীয়: ৭৯৯ হিজরির শেষভাগ থেকে ৮১৫ হিজরি পর্যন্ত সময়কাল। আলেকজান্দ্রিয়া থেকে ফিরে আসার পর তিনি অবস্থান করেন, অতঃপর ৭৯৯ হিজরির শাওয়াল মাসে সমুদ্রপথে হিজাজের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। পথিমধ্যে তূর নামক স্থানে একদল মহৎ ব্যক্তির দেখা পান যারা ইয়েমেনের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন। তিনি তাঁদের সফরসঙ্গী হয়ে ইয়ানবু ও জেদ্দা হয়ে যাত্রা করেন (১)। এটি ছিল ইয়েমেনে তাঁর দুই সফরের প্রথমটি, যেখানে তিনি ৮০০ হিজরির রবিউল আউয়াল মাসে পৌঁছান (২)। সেই বছরটি তিনি সেখানকার বিভিন্ন শহরে ভ্রমণ করে অতিবাহিত করেন (৩)। অতঃপর সেই বছরের শেষের দিকে তিনি ফরজ হজ আদায়ের উদ্দেশ্যে বের হন। তিনি বাদশাহ আল-আশরাফের প্রস্তুতকৃত একটি হজ কাফেলার সঙ্গী হয়েছিলেন (৪)। ফরজ হজ পালন শেষে তিনি পুনরায় মিশরে ফিরে আসেন এবং সেখানে বিভিন্ন স্থানে সফর করেন। আল-সাখাবি হাফেজ (الحافظ)-এর সেই সফরগুলো সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি: (দেশের যা কিছু সম্ভব ছিল তা পূর্ণরূপে আয়ত্ত ও অর্জনে সক্ষম হয়েছিলেন।)

--------------------------------------------

(১) আল-মাজমাউল মুআসসিস ৩/১১১-এ খলিল বিন মুহাম্মদ আল-আকফাহসি-এর জীবনী (ترجمة) অংশে হাফেজ (الحافظ) উল্লেখ করেছেন যে, ৭৯৯ হিজরিতে সমুদ্রপথে মক্কায় যাওয়ার সময় তিনি তাঁর সফরসঙ্গী ছিলেন এবং তিনি জেদ্দা থেকে মক্কায় গিয়েছিলেন। আর হাফেজ (الحافظ) ইয়েমেনের দিকে যাত্রা করেছিলেন। অতঃপর আল-আকফাহসি ৮০০ হিজরিতে মক্কায় অবস্থান (جاور) করেন। সেই বছর হাফেজ (الحافظ) যখন ইয়েমেন থেকে হজ করতে আসেন, তখন মক্কায় তাঁর সাথে দেখা হয়। একইভাবে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, আল-আকফাহসি ৮০২ হিজরিতে দামেশক সফর করেন এবং সেখানে প্রবেশ করেন; হাফেজ (الحافظ) নিজেও সেই বছর সেখানে সফর করেছিলেন এবং সেখানে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ হয়। অতঃপর তিনি তাঁর সাথে কায়রোতে ফিরে আসেন। আল-আকফাহসি ৮০৪ হিজরিতে হজের উদ্দেশ্যে সফর করা পর্যন্ত সেখানেই অবস্থান করেন। হাফেজ (الحافظ) ৮০৫ হিজরিতে হজ করেন এবং মক্কায় তাঁর সাথে দেখা হয় যেমনটি আগে নির্ধারিত ছিল। আমি এই অংশটি এর বিস্তারিত বিবরণের কারণে উল্লেখ করেছি, যা আমার শর্তানুযায়ী প্রয়োজনীয় ছিল।

(২) আল-মাজমাউল মুআসসিস ২/৫৫০ এবং আল-জাওয়াহির ওয়াদ দুরার ১/১৪৭।

(৩) আল-জাওয়াহির ওয়াদ দুরার ১/১৪৬-১৪৯।

(৪) বাদশাহ আল-আশরাফের নাম হলো (ইসমাইল আল-গাসসানি), তিনি 'আল-আসজাদুল মাসবুক ফি তাবাকাতিল খুলাফা ওয়াল মুলুক' গ্রন্থের রচয়িতা; (মৃত্যু: ৮০৩ হি.)। ড. শাকির মাহমুদ আব্দুল মুনিম তাঁর সম্পর্কে এবং তাঁর উক্ত গ্রন্থের একটি বড় অংশের তাহকিক (تحقيق) সহ বিস্তারিত গবেষণা উপস্থাপন করেছেন। দেখুন: হাফেজ ইবনে হাজার ও তাঁর রচনাবলি বিষয়ক গবেষণা ১/১১৯; টিকা (১), এবং আল-জাওয়াহির ওয়াদ দুরার ১/১৫০-এ বর্ণিত সংবাদ। আরও দেখুন হাফেজ ইবনে হাজার ও তাঁর রচনাবলি বিষয়ক গবেষণা ১/১২৪।
(খণ্ড: ১) নুখবাতুল ফিকার - দিরাসাতুন আনহা ওয়া আন মানহাজিহা (পৃষ্ঠা: ১৪২)
المصرية) (1) ، حتى رحل منها إلى الشام، في شعبان من عام (802هـ) (2) .

وكان رَافَقَهُ تقيُّ الدين الفاسي في رحلته لدمشق (3) ، وما زال مُتَنَقِّلاً بين بلدان الشام، وأرّخ مروره بنابلس في سنة (803هـ) (4) ، وفيها رجع إلى مصر؛ وفي صُحبته تقي الدين الفاسي (5) .

وحجّ الحافظ في عام (805 هـ) وجاور بعض السنة التي تليها، ثم رحل من مكة إلى اليمن عن طريق البحر، وهي رحلته الثانية (6) ، وغرقت السفينة،

--------------------------------------------

(1) الجواهر والدرر 1/156، وجاء فيها قبل صفحة: 1/155 قول السخاوي: (لما رجع من حجة الإسلام إلى بلده - في سنة إحدى وثمانمائة- جدّ في استكمال ما بقي عليه من مسموع القاهرة ومصر) ، وجاء معنى هذا عند د. شكر محمود عبد المنعم -في كتابه (الحافظ ابن حجر ودراسة مصنفاته) 1/127- إلا أنه أوهم أن ذلك كان بعد سنة (807هـ) ، وممّا يُفيده هذا الخبر: أن الحافظ رحمه الله توقف عن الأسفار في بلدان مصر عند هذا الحد؛ قبل سفره للشام في شعبان سنة (802هـ) لكونه استوفى ما فيها كما ذكر السخاوي هنا، أما وقت تأليف الحافظ للنخبة عام (812 هـ) فلم أقف على خبر يذكر سفره بداخل مصر ولا خارجها بعد عام (807 هـ) إلى أن خرج منها للحج في عام (815هـ) ؛ فمجموع هذا يُفيد ما ذكرته من كون الحافظ لم يُؤلّفها في حال السفر، بل في الحضر، وفي مصر؛ لا في سفر له إلى مكة، والله أعلم.

(2) المجمع المؤسس 1/354 وانظر: 1/380 و2/365 و499 و572 و581، والجواهر والدرر: 1/156.

(3) وهو مؤلف (العقد الثمين في تاريخ البلد الأمين) ، ذكر هذا في كتابه: (ذيل التقييد) 1/352-357.

(4) المجمع المؤسس 1/211.

(5) (ذيل التقييد) 1/454، و (العقد الثمين) 1/377.

(6) أشار الحافظ إلى رحلتيه لليمن سنة (800هـ) وسنة (806 هـ) : في كتابه المجمع المؤسس 3/85-86 في ترجمة إسماعيل بن إبراهيم الجحافي التعزّي.
মিশরীয়) (১), যতক্ষণ না তিনি সেখান থেকে ৮০২ হিজরীর শাবান মাসে শামের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন (২)।

দামেস্ক সফরের সময় তাকিউদ্দীন আল-ফাসি তাঁর সঙ্গী ছিলেন (৩), এবং তিনি শামের বিভিন্ন শহরগুলোর মাঝে ভ্রমণ অব্যাহত রাখেন। তিনি ৮০৩ হিজরীতে নাবলুস অতিক্রম করার কথা লিপিবদ্ধ করেছেন (৪), আর সেই বছরেই তিনি তাকিউদ্দীন আল-ফাসির সাহচর্যে মিশরে ফিরে আসেন (৫)।

হাফিজ ৮০৫ হিজরীতে হজ পালন করেন এবং পরবর্তী বছরের কিছু সময় সেখানে অবস্থান করেন। এরপর তিনি সমুদ্রপথে মক্কা থেকে ইয়েমেনে যাত্রা করেন, এটি ছিল তাঁর দ্বিতীয় সফর (৬), এবং নৌকাটি ডুবে গিয়েছিল।

--------------------------------------------

(১) আল-জাওয়াহির ওয়া আদ-দুরার ১/১৫৬, এর আগের পৃষ্ঠায় (১/১৫৫) সাখাওয়ীর বক্তব্য এসেছে: (যখন তিনি ৮০১ হিজরীতে হজ্জে ইসলাম থেকে নিজ শহরে ফিরে আসেন, তখন কায়রো ও মিশরের অবশিষ্ট শ্রবণকৃত (مسموع) অংশগুলো সম্পন্ন করার জন্য সচেষ্ট হন)। ড. শুখর মাহমুদ আবদুন মুনইম-এর কিতাবেও—তাঁর লিখিত গ্রন্থ ‘আল-হাফিজ ইবনে হাজার ওয়া দিরাসাতু মুসান্নাফাতিহি’ ১/১২৭-এ—এরকম অর্থ এসেছে। তবে তিনি এটা ৮০৭ হিজরীর পরবর্তী সময় বলে ভুল ধারণা দিয়েছেন। এই খবর থেকে যা বুঝা যায় তা হলো: হাফিজ (রহিমাহুল্লাহ) ৮০২ হিজরীর শাবান মাসে শাম ভ্রমণের আগ পর্যন্ত মিশরের শহরগুলোতে ভ্রমণ বন্ধ করেছিলেন, কারণ সাখাওয়ী এখানে যেমন উল্লেখ করেছেন যে তিনি সেখানকার কাজ সম্পন্ন করেছিলেন। আর হাফিজ যখন ৮১২ হিজরীতে ‘নুখবাতুল ফিকার’ রচনা করেন, তখন ৮০৭ হিজরীর পর থেকে ৮১৫ হিজরীর হজ্জের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার আগ পর্যন্ত তাঁর মিশরের ভেতরে বা বাইরে সফরের কোনো খবর আমি পাইনি। সুতরাং এই সব মিলিয়ে এটিই নির্দেশ করে যা আমি উল্লেখ করেছি যে, হাফিজ এটি সফরের অবস্থায় রচনা করেননি, বরং স্থায়ীভাবে অবস্থানকালে মিশরে থাকাকালীন রচনা করেছেন; মক্কা সফরের সময় নয়। আল্লাহ ভালো জানেন।

(২) আল-মুজাম আল-মুআসসিস ১/৩৫৪ এবং দেখুন: ১/৩৮০ এবং ২/৩৬৫, ৪৯৯, ৫৭২ ও ৫৮১; এবং আল-জাওয়াহির ওয়া আদ-দুরার: ১/১৫৬।

(৩) তিনি ‘আল-ইকদ আস-সামীন ফি তারিখিল বালাদিল আমীন’-এর লেখক, তিনি এটি তাঁর গ্রন্থ ‘জায়লুত তাকিয়্যিদ’ ১/৩৫২-৩৫৭-এ উল্লেখ করেছেন।

(৪) আল-মুজাম আল-মুআসসিস ১/২১১।

(৫) ‘জায়লুত তাকিয়্যিদ’ ১/৪৫৪, এবং ‘আল-ইকদ আস-সামীন’ ১/৩৭৭।

(৬) হাফিজ ৮০০ হিজরী এবং ৮০৬ হিজরীতে তাঁর ইয়েমেন সফরের কথা ইঙ্গিত করেছেন: তাঁর লিখিত গ্রন্থ আল-মুজাম আল-মুআসসিস ৩/৮৫-৮৬-তে ইসমাইল বিন ইব্রাহিম আল-জুহাফি আত-তা’যযির জীবনী (ترجمة) আলোচনায়।
(খণ্ড: ১) নুখবাতুল ফিকার - দিরাসাতুন আনহা ওয়া আন মানহাজিহা (পৃষ্ঠা: ১৪৩)
وأنقذه الله وأَكْثَرَ كُتُبِهِ التي اصطحبها وبعضها بخطه (1) ، ولم أقف على خبر يُحدّد تاريخ عودته من اليمن في هذه المرّة (2) ، وقد حج عام (806هـ) كما ذكر هو عن نفسه في ترجمة (أحمد بن إبراهيم القوصي) ؛ حيث قال: (حج معنا سنة ست وثمانمائة) (3) ، أما السخاوي فجزم بأن الحافظ كان في جدة في المحرم من عام (807 هـ) ، وأما الحج فلم يجزم به بل ظنّه، وكأنه لم يقف على قول شيخه هذا، ثم ذكر السخاوي أنه عاد من جدة إلى بلده (4) .

هذا ولم أقف بعدها على رحلة للحافظ بمصر ولا خارجها (5) ، حتى حجّ

--------------------------------------------

(1) (الجواهر والدرر) 1/151-152، ووصف الحافظ - بعض ما لاقاه في رحلته- للملك الأشرف باليمن؛ أحمد بن إسماعيل، في قصيدة نظمها له، انظر (الحافظ ابن حجر ودراسة مصنفاته) 1/125-127؛ وأحال على المطبوع من الديوان (47) .

(2) جاء في آخر (المعجم الأوّل) من المجمع المؤسس: قول الحافظ: (يتلوه المعجم الثاني، وكان الشروع في جمعه بمدينة عدن سنة ست وثمانمائة) ، فلعلّ الحافظ بقي مُتنقلاً بين بلدان اليمن في أثناء عام (806 هـ) ، ثم إنه رحل عنها في عامه نفسه إلى مكة المكرمة.

(3) المجمع المؤسس 3/21، وقال الحافظ في ترجمة شيخه العراقي - في المجمع المؤسس 2/188 -: (لازمته من شهر رمضان سنة ست وتسعين - يعني: 796هـ - إلى أن حججت في شوال سنة خمس وثمانمائة، سوى ما تخلّل ذلك من سفر إلى الشام وغيرها، ومات وهو في غيبتي في الحجاز) ، وأرّخ وفاته عام (806هـ) .

(4) الجواهر والدرر 1/152، وفي (العقد الثمين) 1/344 أن الحافظ وولي الدين أبي زرعة -ابن الحافظ العراقي- وقفا بالقاهرة عام (807هـ) على مختصر للفاسي في تاريخ مكة اختصره نفسه من كتاب له؛ وسبق اختصاره له مرتين، وكتب كل منهما ثناء عليه وعلى مؤلفه.

(5) في سنة (813هـ) - في شهر ربيع الآخر منه- كتب الحافظ تقريظا لكتاب الفاسي الذي سمّاه: (تحفة الكرام بأخبار البلد الحرام) ، وفي التاريخ نفسه قرّظه الحافظ أبو زرعة أحمد بن الحافظ العراقي، ولم يُذكر الموضع الذي كتبا فيه، والظاهر أنه بالقاهرة التي صُرّح بها في التقريظ التالي لتقريظيهما، وفي الجواهر والدرر 1/162 أنه ختم صحيح مسلم بمصر في أواخر هذا العام.
আল্লাহ তাঁকে এবং তাঁর সাথে থাকা অধিকাংশ কিতাবকে রক্ষা করেছেন, যার কিছু তাঁর স্বহস্তে লিখিত (১) ছিল। এই দফায় ইয়ামেন থেকে তাঁর প্রত্যাবর্তনের তারিখ নির্দিষ্ট করে এমন কোনো বর্ণনার সন্ধান আমি পাইনি (২)। তিনি ৮০৬ হিজরি সালে হজ সম্পাদন করেন, যেমনটি তিনি নিজে ‘আহমাদ বিন ইব্রাহিম আল-কুসি’-এর জীবনী (ترجمة) আলোচনায় উল্লেখ করেছেন; সেখানে তিনি বলেছেন: “তিনি আমাদের সাথে ৮০৬ হিজরিতে হজ করেছেন” (৩)। অন্যদিকে সাখাভী দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেছেন যে, হাফেজ (الحافظ) ৮০৭ হিজরির মহররম মাসে জেদ্দায় ছিলেন। তবে হজের ব্যাপারে তিনি নিশ্চিত ছিলেন না বরং ধারণা পোষণ করেছেন; সম্ভবত তিনি তাঁর শাইখের এই উক্তিটি সম্পর্কে অবগত ছিলেন না। এরপর সাখাভী উল্লেখ করেছেন যে, তিনি জেদ্দা থেকে নিজ দেশে ফিরে আসেন (৪)।

এরপর আমি মিসরের অভ্যন্তরে বা বাইরে হাফেজ (الحافظ)-এর আর কোনো সফরের সন্ধান পাইনি (৫), যতক্ষণ না তিনি হজ করেন...

--------------------------------------------

(১) (আল-জাওয়াহির ওয়াদ দুরার) ১/১৫১-১৫২; হাফেজ (الحافظ) তাঁর সফরে ইয়ামেনের বাদশাহ আল-আশরাফের সাথে তাঁর কিছু অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়েছেন; যা আহমাদ বিন ইসমাইল তাঁর উদ্দেশ্যে রচিত একটি কবিতায় ব্যক্ত করেছেন, দেখুন (আল-হাফেজ ইবনে হাজার ওয়া দিরাসাতু মুসান্নাফাতিহি) ১/১২৫-১২৭; এবং তিনি দিওয়ানের মুদ্রিত সংস্করণের (৪৭) দিকে ইঙ্গিত করেছেন।

(২) আল-মাজমা আল-মুয়াসসিস-এর অন্তর্ভুক্ত ‘আল-মুজাম আল-আউয়াল’-এর শেষে হাফেজ (الحافظ)-এর উক্তিটি এসেছে: “এর পরে দ্বিতীয় মুজামটি আসবে, আর এটি সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছিল ৮০৬ হিজরিতে আদন শহরে।” সম্ভবত হাফেজ (الحافظ) ৮০৬ হিজরি চলাকালীন ইয়ামেনের বিভিন্ন শহরে ভ্রমণরত ছিলেন, এরপর তিনি সেই বছরই সেখান থেকে মক্কা মুকাররমার উদ্দেশ্যে রওনা হন।

(৩) আল-মাজমা আল-মুয়াসসিস ৩/২১; এবং হাফেজ (الحافظ) তাঁর শাইখ ইরাকির জীবনী (ترجمة) আলোচনায়—আল-মাজমা আল-মুয়াসসিস ২/১৮৮-এ—বলেছেন: “আমি ৭৯৬ হিজরির রমজান মাস থেকে ৮০৫ হিজরির শাওয়াল মাসে হজ করা পর্যন্ত তাঁর সান্নিধ্যে ছিলাম, এর মাঝে সিরিয়া ও অন্যান্য স্থানে সফরের সময়টুকু ব্যতীত। তিনি ইন্তেকাল করেন যখন আমি হিজাজে অনুপস্থিত ছিলাম।” তিনি তাঁর মৃত্যুর তারিখ ৮০৬ হিজরি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

(৪) আল-জাওয়াহির ওয়াদ দুরার ১/১৫২; এবং আল-ইকদ আস-সামিন ১/৩৪৪-এ বর্ণিত হয়েছে যে, হাফেজ (الحافظ) এবং ওলিউদ্দিন আবি জুরআ—যিনি হাফেজ (الحافظ) ইরাকির পুত্র—৮০৭ হিজরিতে কায়রোতে ফাসীর লেখা মক্কার ইতিহাসের একটি সংক্ষিপ্তসার দেখেন, যা তিনি নিজেই তাঁর একটি কিতাব থেকে সংক্ষিপ্ত করেছিলেন; এটি ইতিপূর্বে দুইবার সংক্ষিপ্ত করা হয়েছিল এবং তাঁরা উভয়েই উক্ত কিতাব ও লেখকের প্রশংসা লিখেছিলেন।

(৫) ৮১৩ হিজরির রবিউস সানি মাসে হাফেজ (الحافظ) ফাসীর একটি কিতাবের ওপর একটি প্রশংসা (تقريظ) লিখেছিলেন যার নাম ছিল: ‘তুহফাতুল কিরাম বি-আখবারিল বালাদিল হারাম’। একই তারিখে হাফেজ (الحافظ) আবু জুরআ আহমাদ বিন হাফেজ (الحافظ) ইরাকিও এতে প্রশংসা (تقريظ) লিখেছিলেন। এটি কোথায় বসে লেখা হয়েছিল তা উল্লেখ করা হয়নি, তবে আপাতদৃষ্টিতে এটি কায়রোতে ছিল, যা তাদের পরবর্তী প্রশংসাবাণীতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। আল-জাওয়াহির ওয়াদ দুরার ১/১৬২-এ উল্লেখ আছে যে, তিনি এই বছরের শেষের দিকে মিসরে সহিহ মুসলিম খতম করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) নুখবাতুল ফিকার - দিরাসাতুন আনহা ওয়া আন মানহাজিহা (পৃষ্ঠা: ১৪৪)
في سنة (815هـ) ، ولم يذكر السخاوي بعدها إلا خروجه من مصر لحجته الأخيرة (1) ، ورحلته الشامية، كما سيأتي.

ج- الثالثة: من سنة (824هـ) إلى أوائل سنة (837هـ) :

حجّ الحافظ حجته الأخيرة في عام (824هـ) (2) ، ورحل- في صحبة السلطان الأشرف (3) -إلى حلب، سنة (836هـ) (4) ؛ ومَرُّوا بدمشق (5) ، وصاموا رمضان وهم في بعض بلدان الشام، وذكر الحافظ توجُّهه - بعد استئذان السلطان، ثم أدائه صلاة عيد الفطر- إلى جهة حلب (6) ، ثم إنهم مكثوا إلى آخر ذلك العام، ثم عادوا إلى مصر فكان وصولهم إليها في المحرم من سنة (837هـ) (7) ، وبعدها لم أقف على رحلة للحافظ، على كثرة الأماكن التي رحل

--------------------------------------------

(1) الجواهر والدرر 1/152-153.

(2) المجمع المؤسس 2/171، والجواهر والدرر 1/153.

(3) ذكر الحافظ صُحبته له في المجمع المؤسس 3/15، وذكر تفاصيل الرحلة في كتابه إنباء الغمر 3/492 في حوادث سنة (836هـ) ، وترجم للأشرف في: 4/78 وهو: الملك برسباي سلطان مصر؛ تولى عام (825 ?) وتوفي عام (841هـ) ، وانظر التعليق رقم (2) في المجمع المؤسس 3/15، وانظر: 2/317.

(4) يُضاف لما سبق: الجواهر والدرر 1/176.

(5) المجمع المؤسس 3/6 و15 و211.

(6) إنباء الغمر: 3/496-497.

(7) الجواهر والدرر 1/190.
৮১৫ হিজরি সালে; সাখাভি এর পরে তার শেষ হজের (১) উদ্দেশ্যে মিশর ত্যাগ এবং তার সিরিয়া সফর ছাড়া আর কিছু উল্লেখ করেননি, যা সামনে আসবে।

গ- তৃতীয় পর্যায়: ৮২৪ হিজরি থেকে ৮৩৭ হিজরির শুরু পর্যন্ত:

হাফিজ (الحافظ) তার শেষ হজ পালন করেন ৮২৪ হিজরি সালে (২), এবং ৮৩৬ হিজরি সালে সুলতান আল-আশরাফের (৩) সফরসঙ্গী হয়ে আলেপ্পোর উদ্দেশ্যে রওনা হন (৪); তারা দামেস্ক (৫) অতিক্রম করেন এবং শামের কিছু শহরে থাকাকালীন রমজানের রোজা পালন করেন। হাফিজ (الحافظ) উল্লেখ করেছেন যে, সুলতানের অনুমতি গ্রহণ এবং ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায়ের পর তিনি আলেপ্পোর অভিমুখে যাত্রা করেন (৬)। অতঃপর তারা সেই বছরের শেষ পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করেন এবং তারপর মিশরে ফিরে আসেন। তাদের মিশরে পৌঁছানো ছিল ৮৩৭ হিজরির মহররম মাসে (৭)। এর পরে হাফিজ (الحافظ)-এর আর কোনো সফরের কথা আমার জানা নেই, যদিও তিনি বহু স্থানে সফর করেছিলেন।

--------------------------------------------

(১) আল-জাওয়াহির ওয়াদ-দুরার ১/১৫২-১৫৩।

(২) আল-মুজামুল মুয়াসসিস ২/১৭১, এবং আল-জাওয়াহির ওয়াদ-দুরার ১/১৫৩।

(৩) হাফিজ (الحافظ) আল-মুজামুল মুয়াসসিস ৩/১৫-এ তার সাথে সফরসঙ্গী হওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন এবং তার গ্রন্থ ইনবাউল গুমুর ৩/৪৯২-এ ৮৩৬ হিজরির ঘটনাবলীতে সফরের বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। তিনি আল-আশরাফের জীবনী (ترجمة) আলোচনা করেছেন ৪/৭৮-এ, যিনি হলেন: মিশরের সুলতান মালিক বার্সবে; তিনি ৮২৫ হিজরিতে ক্ষমতা গ্রহণ করেন এবং ৮৪১ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন: আল-মুজামুল মুয়াসসিস ৩/১৫ এর ২ নং টীকা, এবং দেখুন: ২/৩১৭।

(৪) পূর্বোক্ত তথ্যের সাথে আরও যুক্ত হবে: আল-জাওয়াহির ওয়াদ-দুরার ১/১৭৬।

(৫) আল-মুজামুল মুয়াসসিস ৩/৬, ১৫ এবং ২১১।

(৬) ইনবাউল গুমুর: ৩/৪৯৬-৪৯৭।

(৭) আল-জাওয়াহির ওয়াদ-দুরার ১/১৯০।
(খণ্ড: ১) নুখবাতুল ফিকার - দিরাসাতুন আনহা ওয়া আন মানহাজিহা (পৃষ্ঠা: ১৪৫)
إليها (1) ؛ إلى العام الذي توفي فيه رحمه الله بمصر عام (852هـ) (2) .

والخلاصة ممّا تقدم - مّما ذكره السخاوي من حجات الحافظ ورحلاته (3) ، ومّما ذكره غيره- لم أقف له رحلة في سنة اثنتي عشرة، ولا في سبع عشرة، ومن ذلك ما نجده عند تقي الدين الفاسي –وكان قد رافق الحافظ في بعض أسفاره وترجم له- فإنا لا نجده يذكر شيئا من هذا (4) .

فأخلص من هذا إلى ما سبق أن قرّرته أن الحافظ ألّف (نخبة الفكر) وهو مقيم في بلاده بمصر، في عام (812هـ) (5) ، والله أعلم.

--------------------------------------------

(1) الجواهر والدرر 1/192-195 سرد فيها ما يُقارب خمسين موضعا.

(2) الجواهر والدرر 3/1185 وما بعدها.

(3) الجواهر والدرر 1/142- 192.

(4) ذيل التقييد 1/352- 357.

(5) وتاريخ شرحه لها في (نزهة النظر) هو عام (818هـ) - كما سبق - وقد ذكرت الباحثة الفاضلة / سُهيلة الحريري - في مقدمة تحقيقها لشرح (بهجة النظر) (ص 186-187) تاريخي تأليف النخبة والنّزهة، وأردفته بالتاريخ الذي ذكره ابن الوزير بأنّه (قيل غير ذلك … ) فذكرته معزوّاً إليه؛ مُكتفية بتمريضه.
সেখানে (১); সেই বছর পর্যন্ত যে বছর তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) মিশরে ৮৫২ হিজরিতে (২) ইন্তেকাল করেন।

পূর্বোক্ত আলোচনার সারসংক্ষেপ—সাখাবি হাফিজের হজ্জ ও সফরসমূহ (৩) এবং অন্যান্যদের বর্ণনা হতে যা উল্লেখ করেছেন—তা থেকে আমি ৮১২ হিজরিতে কিংবা ৮১৭ হিজরিতে তাঁর কোনো সফরের কথা জানতে পারিনি। এর মধ্য থেকে আমরা যা তাকিউদ্দিন আল-ফাসির নিকট পাই—যিনি কোনো কোনো সফরে হাফিজের সঙ্গী ছিলেন এবং তাঁর জীবনী (ترجمة) বর্ণনা করেছেন—সেখানেও আমরা এ সম্পর্কিত কিছুই উল্লেখ দেখতে পাই না (৪)।

সুতরাং এ থেকে আমি পূর্বে যা নির্ধারণ করেছি সেই সিদ্ধান্তেই উপনীত হচ্ছি যে, হাফিজ নিজ দেশ মিশরে অবস্থানকালে ৮১২ হিজরিতে (৫) নুখবাতুল ফিকার রচনা করেছেন, আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

--------------------------------------------

(১) আল-জাওয়াহির ওয়াদ-দুরার ১/১৯২-১৯৫, সেখানে তিনি প্রায় পঞ্চাশটি স্থানের তালিকা প্রদান করেছেন।

(২) আল-জাওয়াহির ওয়াদ-দুরার ৩/১১৮۵ এবং পরবর্তী অংশ।

(৩) আল-জাওয়াহির ওয়াদ-দুরার ১/১৪২-১৯২।

(৪) যাইলোত তাকিইদ ১/৩৫২-৩৫৭।

(৫) আর 'নুঝহাতুন নাজার'-এ এর ব্যাখ্যার তারিখ হলো ৮১৮ হিজরি—যেমনটি পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। বিদুষী গবেষক সুহাইলা আল-হারিরি 'বাহজাতুন নাজার'-এর ব্যাখ্যার সম্পাদনার (تحقيق) ভূমিকায় (পৃ. ১৮৬-১৮৭) 'নুখবা' ও 'নুঝহা' রচনার তারিখ দুটি উল্লেখ করেছেন। তিনি এর সাথে ইবনুল ওয়াজিরের বর্ণিত তারিখটিও যুক্ত করেছেন যে (বলা হয়েছে যে এটি ব্যতীত অন্য কিছু...), তিনি তা তাঁর দিকে সম্বন্ধ করে উল্লেখ করেছেন এবং এটিকে দুর্বলতা নির্দেশক ভঙ্গি (تمريض) হিসেবে উল্লেখ করার মাধ্যমেই ক্ষান্ত হয়েছেন।
(খণ্ড: ১) নুখবাতুল ফিকার - দিরাসাতুন আনহা ওয়া আন মানহাজিহা (পৃষ্ঠা: ১৪৬)
‌‌الفصل الثالث:

الجهود المبذولة في خدمة كتاب (نخبة الفكر)

لقد تبوّأتْ (نخبةُ الفكر) عند العلماء مكانةً عُليا بين كتب مصطلح الحديث، فمنذ أن صنّفها الحافظ ابن حجر وأهل العلم لا يزالون يتناولونها بالدرس، والشرح، ووضع الحواشي عليها، ونظمها، ومنهم من اختصرها أيضا، إلى غير ذلك من وجوه العناية والاهتمام بها، فأصبحت -على نطاق واسع- مدارَ اعتمادهم في هذا الفن البالغ الأهمّيّة.

ولقد تطلّعتُ إلى تتبُّع الأعمال التي خُدِمَتْ بها النخبة، إلا أني وجدت مِنَ الباحثين مَن اجتهد في تتبُّعها (1) ، فلذلك رأيت أن أتناول-بالتعريف المُوجز

--------------------------------------------

(1) عَدَدْتُ ما ذكره الشيخ علي بن حسن الأثري -في مقدمة تحقيقه لكتاب نزهة النظر الذي سماه النكت على (نزهة النظر) ص (15-26) ؛ فبلغ خمسةً وأربعين مُؤلَّفاً للعلماء حول متن (نخبة الفكر) وشرحه (نزهة النظر) ، ثم زاد عليه كثيراً فضيلة الدكتور/المرتضى الزين في مقدمة تحقيقه لليواقيت والدرر 1/34-46، فوصل بها ستة وستين مصنفا، وفي مقدمة تحقيق (شرح شرح نخبة الفكر) لملا علي قاري ص (111-116) : تسمية (38) مؤلَّفا خدمتْ النخبةَ وشرحَها؛ مُعنونة بفروعها؛ منها شروحٌ عددها (13) ، وحواشٍ عددها (13) ، ومنظوماتٌ عددها (12) ، ثم وجدتُ الباحثة الفاضلة/سهيلة الحريري بذلت جهدا مشكورا في هذا؛ فخصّصت - في مقدمة تحقيقها لكتاب (بهجة النظر على شرح نخبة الفكر) من ص (281) إلى ص (295) - عنوانا لذلك هو: (الفرع العاشر: الأعمال العلمية على الكتاب) -تعني (شرح النخبة) للحافظ- مِن منظوم؛ مع شرح للمنظومات، ومُختصرات، وشُروح لِكُلٍّ من (النخبة) و (النّزهة) ، وحواشٍ على كُلٍّ منهما، وختمتْ بمن ترجم عمل الحافظ هذا إلى اللغة التركية، واللغة الفارسية، وسأُحيل إلى بعض ما ذكرتْهُ، وأُنبّه على ما في بعضه، وهناك كتبٌ وقفتُ عليها ولم يَرِدْ عند هؤلاء وصفُها، فعرّفت بها بإيجاز.
তৃতীয় অধ্যায়:

(নুখবাতুল ফিকার) কিতাবের খিদমতে পরিচালিত প্রচেষ্টাসমূহ

আলেমদের নিকট হাদিসের পরিভাষা (مصطلح الحديث) বিষয়ক গ্রন্থসমূহের মধ্যে ‘নুখবাতুল ফিকার’ এক সুউচ্চ স্থান দখল করে আছে। হাফেজ ইবনে হাজার এটি সংকলন করার পর থেকে ইলমে দ্বীনের ধারকগণ নিরবচ্ছিন্নভাবে এটি অধ্যয়ন, ব্যাখ্যা (شرح), টীকা (حاشية) লিখন এবং কাব্যবদ্ধ রূপ (نظم) প্রদানের মাধ্যমে এর চর্চা করে আসছেন। এমনকি কেউ কেউ একে সংক্ষিপ্তও (مختصر) করেছেন। এভাবেই নানাভাবে এর প্রতি যত্ন ও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। ফলে এটি—ব্যাপক পরিসরে—অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই শিল্পে (ফন) তাঁদের নির্ভরতার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

আমি ‘নুখবাতুল ফিকার’-এর ওপর পরিচালিত কাজগুলো অনুসন্ধানের আকাঙ্ক্ষা করেছিলাম; কিন্তু আমি দেখলাম যে গবেষকদের মধ্যে কেউ কেউ এটি অনুসরণে ইতোমধ্যে যথেষ্ট শ্রম দিয়েছেন (১)। তাই আমি সংক্ষেপে এর পরিচয় তুলে ধরার সিদ্ধান্ত নিয়েছি—

--------------------------------------------

(১) শায়খ আলী বিন হাসান আল-আসারি ‘নুজহাতুন নাজার’ কিতাবের তাঁর তাহকিককৃত সংস্করণ—যার নাম তিনি রেখেছেন ‘আন-নুকাতু আলা নুজহাতুন নাজার’ (পৃ. ১৫-২৬)—এর ভূমিকায় যা উল্লেখ করেছেন আমি তা গণনা করেছি; সেখানে ‘নুখবাতুল ফিকার’-এর মূল পাঠ (متن) এবং এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ (شرح) ‘নুজহাতুন নাজার’ কেন্দ্রিক আলেমদের ৪৫টি রচনার কথা উল্লেখ রয়েছে। অতঃপর ডক্টর আল-মুরতাজা আজ-জাইন ‘আল-ইয়াওয়াকিত ওয়াদ দুরার’ (১/৩৪-৪৬) কিতাবের তাহকিকের ভূমিকায় এর ওপর আরও অনেক সংযোজন করেছেন, ফলে রচনার সংখ্যা ৬৬টিতে পৌঁছেছে। মোল্লা আলী কারী রচিত ‘শারহু শারহি নুখবাতিল ফিকার’-এর তাহকিকের ভূমিকায় (পৃ. ১১১-১১৬) ‘নুখবাহ’ ও এর ব্যাখ্যাগ্রন্থের খিদমতে রচিত ৩৮টি গ্রন্থের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যা বিভিন্ন শাখায় বিভক্ত; যার মধ্যে ব্যাখ্যাগ্রন্থ (شرح) ১৩টি, টীকা (حاشية) ১৩টি এবং কাব্যগ্রন্থ (منظومة) ১২টি। এরপর আমি দেখলাম বিদুষী গবেষক সুহায়লা আল-হারিরি এ বিষয়ে প্রশংসনীয় শ্রম দিয়েছেন। তিনি ‘বাহজাতুন নাজার আলা শারহি নুখবাতিল ফিকার’-এর তাহকিকের ভূমিকায় (পৃ. ২৮১ থেকে ২৯৫ পর্যন্ত) একটি শিরোনাম দিয়েছেন: (দশম শাখা: কিতাবটির ওপর পরিচালিত ইলমি কাজসমূহ)—এখানে তিনি হাফেজের ‘শারহুন নুখবাহ’ উদ্দেশ্য নিয়েছেন—যার মধ্যে রয়েছে কাব্যগ্রন্থ (منظومة), কাব্যগ্রন্থের ব্যাখ্যা (شرح), সংক্ষিপ্তসার (مختصر), নুখবাহ ও নুজাহ উভয়ের ব্যাখ্যাগ্রন্থ (شرح) এবং উভয়ের ওপর লিখিত টীকা (حاشية)। সবশেষে তিনি হাফেজ ইবনে হাজারের এই কর্মটি যারা তুর্কি ও ফার্সি ভাষায় অনুবাদ করেছেন তাদের কথা উল্লেখ করে শেষ করেছেন। তিনি যা উল্লেখ করেছেন আমি তার কিছু অংশের উদ্ধৃতি দেব এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সতর্কতা প্রদান করব। এ ছাড়াও এমন কিছু কিতাব রয়েছে যা আমি দেখেছি কিন্তু উপরোক্ত গবেষকগণ সেগুলোর বিবরণ দেননি, তাই আমি সেগুলোর সংক্ষিপ্ত পরিচয় তুলে ধরব।
(খণ্ড: ১) নুখবাতুল ফিকার - দিরাসাতুন আনহা ওয়া আন মানহাজিহা (পৃষ্ঠা: ১৪৭)
- ما أمكنني الوقوف عليه منها، إما مطبوعا (1) ، أو مخطوطا، أو موصوفا - بِذكر

--------------------------------------------

(1) ومن المطبوعات العتيقة ما يعزّ العثور عليه ويصعب البحث عنه، مثل: كتاب (شرح نزهة النظر في توضيح نخبة الفكر) لأحمد بن نصر الله الكجراتي (ت (998هـ) ، مطبوع قديما، واصلتُ البحث عنه فلم أصل إليه، ذكرتْهُ الباحثة الفاضلة/سُهيلة الحريري في مقدمة تحقيقها لبهجة النظر 1/287، وأحالت على فِهْرِسَيْ مخطوطات، كما ذكرتْ في ص (289) عنواناً هو (مُبتدأ الخبرفي مبادئ علم الأثر) لِمحمد سعيد عبد الغفّار (ت: 1329هـ) ،، وأنه شرْحٌ على نخبة الفكر، إلا أني وقفت لهذا المؤلف على كتاب باسم: (أحسن الحديث على متن توضيح مُصطلح الحديث) في فهرس مخطوطات الكتب الأزهرية 1/354، بينما وقفت - في الموضع نفسه- على العنوان الأوّل من تأليف الشيخ عبد العزيز بن محمد الأبهري؛ وأنّه شرح لمختصر نخبة الفكر الذي اختصره هو، وهناك مطبوع بالعنوان هذا - (مبتدأ الخبر في مبادئ علم الأثر) - من مُقتنيات (مركز جمعة الماجد للثقافة والتراث) ، في (دبي) ؛ منه نسختان إحداهما في مكتبة الشيخ عبد الغني عبد الخالق، والثانية في مكتبة الشيخ محمد بهجة البيطار - وكلاهما بالمركز- ومُفتتحه بغير مُفتتح كتاب الأبهري؛ المذكور في فهرست مخطوطات الأزهرية، ولم يُذكر مؤلِّفُه على غلافه، وأسلوبه أدبي عالٍ، ويميل إلى التورية، والنماذج التي وصلت إليّ منه رأيت فيها ابتداءه كتابه بمسائل عَنْونَها بمُقدّمات؛ وموضوعها في العقائد؛ استغرقت (39) صفحة، وفي مُفتتحه - بعد الخطبة- يقول: (اقترح عليّ راغب في علم الأثر، أن أُوضّح ما فيه من نخبة الفكر) ، وظاهره- والله أعلم- أنه لا يقصد الكتاب بل يقصد معنى المركب الإضافي (نخبة الفكر) ، قال - في ص (40) -: (وهذا أوان الشروع في المقصود؛ فنقول: الكلام إما خبر وإما إنشاء، فالخبر ما يحتمل الصدق والكذب لِذاته، والإنشاء … ، ثم إن الخبر –باعتبار وصوله إلينا- إما متواتر أو غير مُتواتر، فالمتواتر … ) ، وهكذا إلى أن ذكر الغريب وعرّفه، ثم عَنْونَ: (فوائد تتعلّق بمبادئ الخبر) ، فالأُولى: أنّ (الكلام قد يتضمّن الإخبار عن شيء ما نحو: كتب زيد) ، وهكذا سار مُبتدئا من الثلث الأخير لهذه الصفحة، وتابَعَ بحثه في تاليتها وختم ثلثها بتنبيه؛ في سِياق ذِكره للفائدة الأولى، وختم كتابه بالكلام على (مراتب الصحيح) وما تفيده أحاديث الصحيحين؛ لتلقّي الأمّة لهما بالقبول، ومناقشات حول ذلك، ثم ذكر فوائد شتّى جعلها في فقرات (أ، ب، ج، د) انتهى فيها إلى إشارة النووي -في شرحه لصحيح مسلم- لكتابه الذي اختصر به كتاب ابن الصلاح، ناقلا عن (التقريب) - له- قوله: (لا ينبغي أن يقتصر على سماعه وكَتْبِه … ) ، ثم قال: (تمّ تأليفه في أواسط سنة (1320هـ) بمدينة بيت المقدس المباركة - لا زالت عامرة- وهذه الرسالة هي أوّل النفحات القدسية، ويتلوها النفحة الثانية وهي: خبر المُبتدأ) ؛ يعني مِمّا فتح الله به عليه في (القدس) ، ويحتمل أنّ مؤلفها هو (محمد سعيد عبد الغفار) بحيث يكون مُؤلّفا آخر له في حال سفره، ولهذا جعله جامعا، ووصفه بأنه نفحات، وتاريخ وفاته آتٍ بعد تأليفه بتسع سنوات، فالله أعلم، وترجم له الزركلي في الأعلام 6/142 وذكر أنه (فقيهٌ حنفي مصري، كان مُدرّسا في الأزهر) ، ولم يذكر هذا مِن مُؤلفاته؛ ولأجل وجود هذه الملابسات بدا لي أن ألفتَ نظر الباحث؛ لعلّه يتحرّر له مُستقبلا فيه شيء، والله أعلم.
এর মধ্যে যতটুকু আমি অবগত হতে পেরেছি, তা মুদ্রিত (১), পাণ্ডুলিপি অথবা উল্লিখিত বর্ণনার মাধ্যমে।

--------------------------------------------

(১) মুদ্রিত বইগুলোর মধ্যে কিছু প্রাচীন বই রয়েছে যা খুঁজে পাওয়া দুষ্কর এবং সে সম্পর্কে অনুসন্ধান করাও কঠিন। যেমন: আহমদ ইবনে নাসরুল্লাহ আল-গুজরাতি (মৃত্যু: ৯৯৮ হিজরি) রচিত 'শরহু নুজহাতিন নাযার ফি তাওদিহি নুখবাতিল ফিকার' নামক গ্রন্থটি; এটি প্রাচীনকালে মুদ্রিত হয়েছিল। আমি এটি সংগ্রহের জন্য অনুসন্ধান অব্যাহত রাখলেও শেষ পর্যন্ত তা সংগ্রহ করতে পারিনি। বিদুষী গবেষিকা সুহাইলা আল-হারিরি তার সম্পাদিত 'বাহজাতুন নাযার' (১/২৮৭) গ্রন্থের ভূমিকায় এর কথা উল্লেখ করেছেন এবং দুটি পাণ্ডুলিপি তালিকার বরাত দিয়েছেন। একইভাবে তিনি ২৮৯ পৃষ্ঠায় মুহাম্মদ সাঈদ আব্দুল গাফফার (মৃত্যু: ১৩২৯ হিজরি) রচিত 'মুবতাদাউল খবর ফি মাবাদিউ ইলমিল আসার' নামক একটি শিরোনাম উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন যে এটি 'নুখবাতুল ফিকার'-এর একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ। তবে আমি এই লেখকের আজহারিয়া লাইব্রেরির পাণ্ডুলিপি তালিকায় (১/৩৫৪) 'আহসানুল হাদিস আলা মাতনি তাওদিহি মুসতালাহিল হাদিস' নামক একটি গ্রন্থ পেয়েছি। অন্যদিকে, একই স্থানে প্রথমোক্ত শিরোনামটি শায়খ আব্দুল আজিজ ইবনে মুহাম্মদ আল-আভহারির রচিত হিসেবে দেখতে পেয়েছি। এটি মূলত 'নুখবাতুল ফিকার'-এর একটি সংক্ষিপ্ত রূপের ব্যাখ্যা যা তিনি নিজেই সংক্ষেপ করেছিলেন। আবার এই একই শিরোনামে—(মুবতাদাউল খবর ফি মাবাদিউ ইলমিল আসার)—দুবাইয়ের 'জুমআ আল-মাজিদ সেন্টার ফর কালচার অ্যান্ড হেরিটেজ'-এর সংগ্রহে একটি মুদ্রিত কপি রয়েছে। সেখানে এর দুটি কপি রয়েছে: একটি শায়খ আব্দুল গনি আব্দুল খালিকের লাইব্রেরিতে এবং দ্বিতীয়টি শায়খ মুহাম্মদ বাহজাত আল-বিতার-এর লাইব্রেরিতে—উভয় লাইব্রেরিই উক্ত সেন্টারের অন্তর্ভুক্ত। এর ভূমিকা আল-আভহারির গ্রন্থের ভূমিকার সাথে মেলে না, যা আজহারিয়া পাণ্ডুলিপি তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে। বইটির প্রচ্ছদে লেখকের নাম উল্লেখ করা নেই। এর রচনাশৈলী উচ্চমার্গের সাহিত্যিক মানের এবং এটি শ্লেষাত্মক (তাওরিয়া) অলংকারের প্রতি ঝোঁকপূর্ণ। আমার নিকট এর যে অংশগুলো পৌঁছেছে, তাতে দেখেছি যে লেখক বইটির শুরুতে কিছু মাসআলা বা প্রসঙ্গের অবতারণা করেছেন যাকে তিনি 'মুকাদ্দামাত' (ভূমিকা) শিরোনাম দিয়েছেন। এর বিষয়বস্তু আকিদাহ সংক্রান্ত এবং এটি ৩৯ পৃষ্ঠা পর্যন্ত বিস্তৃত। খুতবার পর বইটির শুরুতে তিনি বলেছেন: (ইলমুল আসারের প্রতি আগ্রহী এক ব্যক্তি আমাকে প্রস্তাব করেন যেন আমি 'নুখবাতুল ফিকার'-এর বিষয়গুলো স্পষ্ট করি)। আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে—আল্লাহই ভালো জানেন—তিনি কিতাবটির নাম বুঝাতে চাননি, বরং 'নুখবাতুল ফিকার' শব্দদ্বয়ের পারিভাষিক অর্থ বুঝিয়েছেন। তিনি ৪০ পৃষ্ঠায় বলেছেন: (মূল বিষয়ে প্রবেশের এটাই উপযুক্ত সময়; আমরা বলছি: কালাম বা বক্তব্য হয় 'খবর' নতুবা 'ইনশা'। 'খবর' হলো যা স্বীয় সত্তাগতভাবে সত্য বা মিথ্যা হওয়ার সম্ভাবনা রাখে এবং 'ইনশা' … , অতঃপর খবর আমাদের কাছে পৌঁছানোর বিচারে হয় তা ধারাবাহিক ও বহু-সূত্রে বর্ণিত (متواتر) অথবা তা ধারাবাহিক নয়। সুতরাং ধারাবাহিক ও বহু-সূত্রে বর্ণিত (متواتر) সংবাদ হলো … )। এভাবে তিনি একক সূত্রে বর্ণিত (غريب) হাদিস পর্যন্ত বর্ণনা করে তার সংজ্ঞা দিয়েছেন। অতঃপর শিরোনাম দিয়েছেন: (খবরের প্রারম্ভিক বিষয়াওয়ালির সংশ্লিষ্ট কিছু ফায়দা)। প্রথম ফায়দাটি হলো: (কথাবার্তা কোনো বিষয়ে সংবাদ দেওয়াকে অন্তর্ভুক্ত করতে পারে, যেমন: যায়িদ লিখেছে)। এভাবে তিনি এই পৃষ্ঠার শেষ এক-তৃতীয়াংশ থেকে আলোচনা শুরু করেছেন এবং পরবর্তী পৃষ্ঠায় তার আলোচনা অব্যাহত রেখেছেন। প্রথম ফায়দাটি উল্লেখ করার সময় তিনি একটি সতর্কবার্তা দিয়ে তা শেষ করেছেন। তিনি তার বই শেষ করেছেন সঠিক (صحيح) হাদিসের স্তরসমূহ এবং সহিহাইন-এর হাদিসগুলো উম্মতের কাছে গ্রহণযোগ্য হওয়ার কারণে যে অর্থের ফায়দা দেয় তা আলোচনার মাধ্যমে এবং এ সংক্রান্ত নানাবিধ পর্যালোচনার মাধ্যমে। এরপর তিনি বিভিন্ন ফায়দা উল্লেখ করেছেন যেগুলোকে (ক, খ, গ, ঘ) ক্রমিকে বিন্যস্ত করেছেন। সেখানে তিনি ইমাম নববী কর্তৃক সহিহ মুসলিমের ব্যাখ্যাগ্রন্থে ইবনুস সালাহ-এর বইটির সংক্ষিপ্তসার রচনার প্রতি ইঙ্গিতের আলোচনা দিয়ে শেষ করেছেন। তিনি তার 'আত-তাকরীব' গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছেন: (শুধু এটি শোনা এবং লেখার ওপর সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয় … )। অতঃপর তিনি বলেছেন: (এর রচনা ১৩২০ হিজরির মাঝামাঝি সময়ে বরকতময় বায়তুল মাকদিস শহরে—যা আবাদ থাকুক—সম্পন্ন হয়েছে। এই রিসালাহটি হলো 'নাফহাতুল কুদসিয়য়াহ'-এর প্রথম অংশ এবং এর পরবর্তী দ্বিতীয় অংশটি হলো 'খবরুল মুবতাদা')। এর অর্থ হলো কুদস বা জেরুজালেমে অবস্থানকালে আল্লাহ তার ওপর যা উন্মুক্ত করেছেন। এটি সম্ভব যে এর লেখক মুহাম্মদ সাঈদ আব্দুল গাফফার, যার এটি তার সফরকালীন সময়ের অন্য একটি রচনা হতে পারে। একারণেই তিনি এটিকে একটি সংকলন হিসেবে তৈরি করেছেন এবং একে 'নাফহাত' হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আর তার মৃত্যুর তারিখটি এটি রচনার নয় বছর পরের। আল্লাহই ভালো জানেন। আল-যিরিকলি 'আল-আলাম' (৬/১৪২) গ্রন্থে তার জীবনী উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন যে তিনি (একজন মিশরীয় হানাফি ফকিহ ছিলেন, যিনি আল-আজহারে শিক্ষকতা করতেন)। তবে তিনি তার এই গ্রন্থটির কথা উল্লেখ করেননি। এ ধরনের বিভ্রান্তি বিদ্যমান থাকায় আমি বিষয়টি গবেষকদের নজরে আনা সমীচীন মনে করেছি; যাতে ভবিষ্যতে এ বিষয়ে আরও স্বচ্ছ ধারণা পাওয়া যেতে পারে। আল্লাহই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১) নুখবাতুল ফিকার - দিরাসাতুন আনহা ওয়া আন মানহাজিহা (পৃষ্ঠা: ১৪৮)
ما يُفيد تصوُّراً عنه- في الفهارس (الببلوغرافية) ، دون ما تعسَّرَ عليّ من ذلك، فأُوردُ نُبذةً عنه، وعن أهمّيّته، مُراعيا في السرد: ترتيبه الزمني، حيث وجدت أن هذا هو الأنسب للمقام هنا، وهي كما يلي:

1- نتيجة النظر في نخبة الفكر، لكمال الدين محمد بن محمد بن حسن الشُمُنِّي، (ت:821هـ) .

وهو شرح لها؛ سيأتي التعريف به مُفصّلاً في المبحث الآتي إن شاء الله تعالى.

2- نظم نخبة الفكر، أو الرتبة في نظم النخبة، لمحمد كمال الدين بن محمد بن حسين الشمني (ت:821هـ) .

نُشِرَ بتحقيق محمد سماعي الجزائري، عن دار البخاري للنشر والتوزيع؛ ببريدة والمدينة المنورة، عام (1415هـ) .
যা এ সম্পর্কে একটি ধারণা প্রদান করে—গ্রন্থপঞ্জি সংক্রান্ত সূচিসমূহে, সেসব ব্যতীত যা আমার জন্য সংগ্রহ করা কষ্টসাধ্য হয়েছে। আমি এখানে তার একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ এবং এর গুরুত্ব উল্লেখ করছি, বর্ণনার ক্ষেত্রে কালানুক্রমিক বিন্যাস বজায় রেখে; যেহেতু আমি মনে করেছি যে বর্তমান প্রেক্ষাপটের জন্য এটিই সবচেয়ে উপযুক্ত। সেগুলো নিম্নরূপ:

১- নাতীজাতুন নাজার ফী নুখবাতিল ফিকার, কামালুদ্দীন মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হাসান আশ-শুমুন্নী (মৃত্যু: ৮২১ হিজরি) রচিত।

এটি সেটির একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ (شرح); ইনশাআল্লাহ পরবর্তী পরিচ্ছেদে এ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা আসবে।

২- নাজমুন নুখবাতিল ফিকার, অথবা আর-রুতবাতু ফী নাজমিত তুহফাহ, মুহাম্মদ কামালুদ্দীন ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হুসাইন আশ-শুমুন্নী (মৃত্যু: ৮২১ হিজরি) রচিত।

এটি মুহাম্মদ সামায়ি আল-জাজায়িরির সম্পাদনায় (تحقيق), দারুল বুখারি প্রকাশনী থেকে বুরাইদাহ ও মদিনা মুনাওয়ারা হতে ১৪১৫ হিজরি সনে প্রকাশিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) নুখবাতুল ফিকার - দিরাসাতুন আনহা ওয়া আন মানহাজিহা (পৃষ্ঠা: ১৪৯)
ويتميّز هذا النظم بسلامته من عيوب النظم، مع وضوح العبارة، وجمال الأسلوب، وحسن العرض والترتيب؛ على حدّ قول مُحقّقها (1) ، ويصل عدد أبياته إلى (205) ، أولها:

الحَمْدُ للهِ الْعَلِيمِ الْقَادِرِ مُرْسِلِ سَيَّدِ الأَنَامِ الحَاشِرِ (2)

وآخرها:

وَأَفْضَلُ الصَّلاةِ وَالتَّحِيَّةِ … عَلَى محَمَّدٍ نَبِيِّ الرَّحْمَةِِ

وَآلِهِ وَصَحْبِهِ الأَبْرَارِ … مِنَ المُهَاجِرِينَ وَالأَنْصَارِ (3)

3- تنقيح لابن الوزير باسم: (مختصر في علم الحديث) ، أو (مختصر نخبة الفكر) (4) ، وهو العلاّمة محمد بن إبراهيم بن علي المُرتضى اليماني؛ المعروف بـ (ابن الوزير) ، (ت: 840هـ) .

اطّلعت على مُصوّرتين له عن نُسختين خطّيّتين؛ محفوظتين بقسم المخطوطات

--------------------------------------------

(1) انظر نظم نخبة الفكر للشمني: مقدمة المحقق (ص8) .

(2) انظر المصدر السابق (ص13) .

(3) انظر المصدر السابق (ص47) .

(4) وردت تسميته الأولى على طرة نسخة (برلين) وأكثر النسخ كذلك، وأما في النسخة المكّية فباسم (علوم الحديث) ، وأما التسمية الثانية ففيما ذكرته الباحثة الفاضلة/سهيلة الحريري في مقدمة تحقيقها لبهجة النظر ص (285) ؛ مُحيلة على فهرس جامعة الملك سعود، وفهرس مخطوطات دار الكتب المصرية، إلا أنها وقع لها وهم في قولها: (شرحه محمد بن إسماعيل الصنعاني … واسمه (توضيح الأفكار لمعاني تنقيح الأنظار) وهو مطبوع) -تعني الشرح- وقد طُبع المتن - مُؤخّرا- مُستقلا: (تنقيح الأنظار) ، وهو غير هذا المختصر بلا شك، ويُؤيّده قول الصنعاني - في (توضيح الأفكار) 1/127-: (قال المُصنف في مُختصره: … ) .
এই কাব্যটি কাব্যিক ত্রুটিসমূহ থেকে মুক্ত হওয়ার পাশাপাশি এর প্রাঞ্জল অভিব্যক্তি, শৈল্পিক শৈলী এবং চমৎকার উপস্থাপনা ও বিন্যাসের জন্য বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত; যেমনটি এর গবেষক (محقق) (১) উল্লেখ করেছেন। এর শ্লোক সংখ্যা ২০৫টি পর্যন্ত পৌঁছেছে, যার শুরু হলো:

সকল প্রশংসা মহাজ্ঞানী ও সর্বশক্তিমান আল্লাহর জন্য, যিনি মানবজাতির নেতা ও হাশরের প্রবর্তককে প্রেরণ করেছেন (২)

এবং এর শেষ হলো:

আর সর্বোত্তম দরুদ ও সালাম... দয়ার নবী মুহাম্মাদ (সা.)-এর ওপর

এবং তাঁর পুণ্যবান পরিবার ও সাহাবীগণের ওপর... যারা মুহাজির ও আনসারদের অন্তর্ভুক্ত (৩)

৩- ইবনে আল-ওয়াজিরের একটি পরিমার্জিত সংস্করণ (تنقيح) যার নাম: (মুখতাসার ফি ইলমিল হাদিস), অথবা (মুখতাসার নুখবাতুল ফিকার) (৪)। আর তিনি হলেন আল্লামা মুহাম্মাদ বিন ইবরাহিম বিন আলী আল-মুরতাদা আল-ইয়ামানি; যিনি (ইবনে আল-ওয়াজির) নামে পরিচিত (মৃত্যু: ৮৪০ হিজরি)।

আমি পাণ্ডুলিপি বিভাগে সংরক্ষিত এর দুটি হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপির (نسخة خطية) ফটো কপি দেখেছি

--------------------------------------------

(১) দেখুন, আশ-শুমুননি রচিত নজম নুখবাতুল ফিকার: গবেষকের (محقق) ভূমিকা (পৃষ্ঠা ৮)।

(২) পূর্বোক্ত উৎস (পৃষ্ঠা ১৩) দেখুন।

(৩) পূর্বোক্ত উৎস (পৃষ্ঠা ৪৭) দেখুন।

(৪) বার্লিন পাণ্ডুলিপির প্রচ্ছদে এবং অধিকাংশ পাণ্ডুলিপিতে প্রথম নামটির উল্লেখ পাওয়া যায়। তবে মক্কী পাণ্ডুলিপিতে এটি 'উলুমুল হাদিস' নামে বর্ণিত হয়েছে। আর দ্বিতীয় নামটির ক্ষেত্রে শ্রদ্ধেয় গবেষক সুহাইলা আল-হারীরি তার বাহজাতুন নাজার গ্রন্থের সম্পাদনার (تحقيق) ভূমিকার ২৮৫ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন; যেখানে তিনি কিং সাউদ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাটালগ এবং দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহ-এর পাণ্ডুলিপি ক্যাটালগের বরাতে এটি উল্লেখ করেছেন। তবে তার বক্তব্যে একটি ভ্রম (وهم) ঘটেছে যখন তিনি বলেছেন: (এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ (شرح) মুহাম্মাদ বিন ইসমাইল আস-সানআনী লিখেছেন... যার নাম 'তাওদিহুল আফকার লি-মাআনি তানকিহিল আনজার' এবং এটি মুদ্রিত) - এখানে তিনি ব্যাখ্যাগ্রন্থটিই (شرح) বুঝিয়েছেন - অথচ মূল পাঠ (متن) সম্প্রতি স্বতন্ত্রভাবে 'তানকিহুল আনজার' নামে মুদ্রিত হয়েছে। আর নিঃসন্দেহে এটি বর্তমান এই সংক্ষিপ্তসার (مختصر) থেকে ভিন্ন একটি গ্রন্থ। আস-সানআনী তার তাওদিহুল আফকার (১/১২৭) গ্রন্থে যা বলেছেন তা একে সমর্থন করে: (গ্রন্থকার তার সংক্ষিপ্তসারে (مختصر) বলেছেন: ...)।
(খণ্ড: ১) নুখবাতুল ফিকার - দিরাসাতুন আনহা ওয়া আন মানহাজিহা (পৃষ্ঠা: ১৫০)
بالمكتبة المركزية بالجامعة الإسلامية؛ أُولاهما: (ميكروفلمية) برقم (5936/3) ، تقع في أربع ورقات؛ ضِمن مجموع (من ورقة 120 إلى 123) ، وتاريخ نسخها في عام (868 ?) ، أي بعد وفاة مؤلّفها بـ (28) سنة، وأصلها محفوظ بمكتبة (برلين) بألمانيا، وثانيتهما: (ميكروفلمية) برقم (7671/5) ، في خمس ورقات، منسوخة بتاريخ عام (1050هـ) ، وأصلها بمكتبة الحرم المكي برقم (764/4) ، وله نسخ أخرى (1) .

وهو مختصر نافع، تناول فيه ابن الوزير جُمَلاً من (النخبة) بالتنقيح والتهذيب وتحرير عبارات، وقليل زيادات، مع ثناء مِدرار، وتبجيل مِكثار، قال رحمه الله في مقدمته: ((أما بعد: فإن الإمام العلامة الحافظ أحمد بن علي العسقلاني -الشهير بابن حجر، نفّس الله في مُدّته- كتب في سفره إلى مكة المكرمة - سنة سبع عشرة وثمانمائة (2) - مُختصرا بديعا في علوم الحديث، فوقفت عليه:

...... ................. وقوف شحيح ضاع في الترب خاتمه)) (3)

وتمثّل بالبيتين السابق ذكرهما (4) ، ثم قدّم بين يدي ملحوظاته اعتذاراً

--------------------------------------------

(1) وذكر له الشيخ علي بن محمد العمران ثلاث نسخ خطّيّة ضمن مجاميع –مُحدّدة بأرقامها- بمكتبة الجامع الكبير بصنعاء، كما في مقدمة تحقيقه للروض الباسم 1/39، باسم: ((مختصر في علم الحديث)) .

(2) تقدّم بيان ما في هذا؛ ومُناقشته.

(3) هذا عجز بيت للمتنبي؛ وصدره:

بَلِيتُ بِلَى الأطلالِ إن لَّمْ أقفْ بها

.............................

كما في شرح ديوانه، للعكبري 3/328.

(4) في ص (20) .
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে এর দুটি পাণ্ডুলিপি (نسخة) রয়েছে; প্রথমটি: (মাইক্রোফিল্ম) যার নম্বর (৫৯৩৬/৩), এটি চারটি পত্রে বিস্তৃত; একটি সংকলনের (مجموع) অন্তর্ভুক্ত (১২০ থেকে ১২৩ পৃষ্ঠা পর্যন্ত), এবং এর অনুলিপিকরণের তারিখ ৮৬৮ হিজরি (?), অর্থাৎ এর লেখকের মৃত্যুর ২৮ বছর পর, আর এর মূল কপি জার্মানির বার্লিন লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত আছে। দ্বিতীয়টি: (মাইক্রোফিল্ম) যার নম্বর (৭৬৭১/৫), পাঁচ পত্রে বিস্তৃত, যা ১০৫০ হিজরি সনে অনুলিপি করা হয়েছে এবং এর মূল কপি মক্কার হারাম লাইব্রেরিতে (৭৬৪/৪) নম্বরে সংরক্ষিত আছে। এর আরও অন্যান্য পাণ্ডুলিপি (نسخة) রয়েছে (১)।

এটি একটি উপকারী সংক্ষিপ্তসার (مختصر), যাতে ইবনুল উজির 'নুবখাতুল ফিকার' এর বেশ কিছু অংশকে পরিমার্জন, পরিশীলন, শব্দবিন্যাসের শুদ্ধিকরণ এবং সামান্য কিছু সংযোজনসহ আলোচনা করেছেন। সেইসাথে তিনি এতে অঢেল প্রশংসা ও অতিশয় সম্মান প্রদর্শন করেছেন। তিনি (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর ভূমিকার শুরুতে বলেছেন: "অতঃপর: ইমাম, প্রাজ্ঞ আলেম (العلامة), আল-হাফিজ (الحافظ) আহমদ বিন আলী আল-আসকালানি—যিনি ইবনে হাজার নামে পরিচিত, আল্লাহ তাঁর হায়াত বরকতময় করুন—তিনি মক্কা মুকাররমার সফরে—আটশত সতেরো হিজরি (২) সালে—হাদিস বিজ্ঞান (علوم الحديث) বিষয়ে একটি চমৎকার সংক্ষিপ্তসার (مختصر) লিখেছিলেন, যা আমি পর্যবেক্ষণ করেছি:

...... ................. সেই কৃপণের ন্যায় থমকে দাঁড়ানো, যে মাটিতে তার আংটি হারিয়ে ফেলেছে।" (৩)

তিনি উল্লিখিত দুটি পঙক্তি দ্বারা উপমা পেশ করেছেন (৪), অতঃপর তাঁর পর্যালোচনার প্রারম্ভে একটি ওজরখাহি (ক্ষমা প্রার্থনা) পেশ করেছেন।

--------------------------------------------

(১) শেখ আলী বিন মুহাম্মদ আল-উমরান সানার আল-জামি আল-কাবীর লাইব্রেরিতে বিভিন্ন সংকলনের অন্তর্ভুক্ত আরও তিনটি পাণ্ডুলিপির (نسخة) কথা উল্লেখ করেছেন—যা নির্দিষ্ট নম্বরসহ চিহ্নিত—যেমনটি তাঁর সম্পাদিত 'আর-রওদ আল-বাসিম' ১/৩৯-এর ভূমিকায় 'হাদিস বিজ্ঞান বিষয়ক সংক্ষিপ্তসার' (مختصر في علم الحديث) নামে বর্ণিত হয়েছে।

(২) এ বিষয়ে যা বর্ণিত হয়েছে তার ব্যাখ্যা ও পর্যালোচনা ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।

(৩) এটি মুতানাব্বির একটি কবিতার শেষাংশ; এর প্রথমাংশ হলো:

আমি ধ্বংসস্তূপের ন্যায় জরাজীর্ণ হয়ে যেতাম যদি আমি সেখানে না থামতাম

.............................

যেমনটি আল-উকবারী কর্তৃক তাঁর দীওয়ানের ব্যাখ্যাগ্রন্থ ৩/৩২৮-এ বর্ণিত হয়েছে।

(৪) ২০ পৃষ্ঠায়।
(খণ্ড: ১) নুখবাতুল ফিকার - দিরাসাতুন আনহা ওয়া আন মানহাজিহা (পৃষ্ঠা: ১৫১)
رقيقاً؛ في غاية الأدب والتوقير للحافظ، مع مُحاولات كبيرة لبسط العُذر في ذلك للحافظ، بعبارات في قمّة التلطُّف، وأصدق التودُّد، وبأسلوب في أوج البلاغة؛ قال: ((لكنه بقي عليه - فيه- ما يَقيه من العين، ولا يُشْعَرُ بمثله إلا في سواد العين:

كَفُوفَةِ الظُّفْرِ لا يُدْرَى بموضعِها … ومِثْلُها في سواد العين مشهورُ (1)

وذلك لكثرة اشتغاله في أوان ارتحاله، لا لِقصور في عرفانه، فهو إمام زمانه، فرأيت أن أُقلّل مِمّا وقع نقدي عليه، فأما الإحصاء (2) فلا سبيل إليه، إذ السهو والخطأ والنسيان مِن صفة كل إنسان، فأتدلّل عليه بِزيادة يسيرة، أو تحرير عبارة، عدْلاً لاّ عدْواً، لاعترافي أنّ الكتابَ كتابُهُ لفظاً ومعنىً … )) إلى أن قال: (( … إلا ما زدته فيه من الدلائل، غَيْرَةً على دعاويه العواطل؛ مِن مُّشابهتها للدعاوي البواطل … )) (3) .

وقد نقل الصنعاني هذه الجملة في شرحه لمنظومته: (قصب السكر) الذي سمّاه: (إسبال المطر على قصب السكّر) عند شرحه للبيت الذي قال فيه:

ألّفها الحافظ في حال السفرْ … وهو الشهاب بن علي بن حجرْ

--------------------------------------------

(1) فوفة الظُّفر: البياض الذي يكون في أظفار الأحداث، كما في لسان العرب (ف وف) 9/273، ويعني حديثي الولادة؛ والجامع بين فوفة الظُّفر وبياض العين شفافيّة البياض؛ إلا أن الفوفة مُلاحمة لِظُفر الوليد لا تتميّز عنه؛ فلذلك وُصفت بالخفاء، والله أعلم، ولم أقف على قائل هذا البيت.

(2) كأنه ضمّن الإحصاء معنى اللوم، والتضمين بابه واسع، أو استعمل الإحصاء هنا بلازم معناه، فأراد - بحسب السياق- معنى اللوم، وأصل الإحصاء: العدُّ، وذلك لأن اللوم يترتّب على تعديد المُؤاخذات، والله أعلم.

(3) ل 120 ب من نسخة (برلين) ، ول 20 أمن نسخة الحرم المكي.
অত্যন্ত কোমল; হাফিজ (حافظ)-এর প্রতি চরম শিষ্টাচার ও শ্রদ্ধাবোধের সাথে এবং হাফিজের সেই কাজের পেছনে যথাসম্ভব ওজর পেশ করার প্রচেষ্টাসহ, অত্যন্ত মার্জিত শব্দ ও অকৃত্রিম আন্তরিকতাপূর্ণ সর্বোচ্চ অলঙ্কারপূর্ণ শৈলীতে তিনি বলেছেন: ((তবে তার ওপর —বা তাতে— এমন কিছু রয়ে গেছে যা তাকে বদনজর থেকে রক্ষা করে; আর এই জাতীয় বিষয়ের উপস্থিতি চোখের মণির কালো অংশ ছাড়া অন্য কোথাও অনুভূত হয় না:

নখের সাদা বিন্দুর মতো যার অবস্থান অগোচরে থাকে … অথচ চোখের কালোর মাঝে তা সুপরিচিত (স্পষ্ট) (১)

আর এটি তার সফরের সময়কার অধিক ব্যস্ততার কারণে হয়েছে, তার জ্ঞানের কোনো অভাবের কারণে নয়। কারণ তিনি তার সময়ের ইমাম (إمام)। তাই আমি তার ওপর আমার করা সমালোচনা (نقد)-এর পরিমাণ কমিয়ে রাখা সমীচীন মনে করেছি। তবে ভুল-ভ্রান্তির পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধান (إحصاء) (২) করার তো কোনো অবকাশই নেই; কেননা ভুল (سهو), ত্রুটি (خطأ) এবং বিস্মৃতি (نسيان) প্রতিটি মানুষেরই স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য। তাই আমি তার প্রতি সম্মান প্রদর্শনপূর্বক সামান্য কিছু সংযোজন বা কোনো বাক্য পরিমার্জন (تحرير عبارة) করছি, যা কেবল ন্যায়বিচারের খাতিরে, শত্রুতার বশবর্তী হয়ে নয়। কারণ আমি স্বীকার করি যে, শব্দে ও অর্থে কিতাবটি তারই … )) একপর্যায়ে তিনি বলেন: (( … তবে আমি তাতে যে সকল প্রমাণাদি (دلائل) বৃদ্ধি করেছি, তা কেবল ভিত্তিহীন দাবিগুলোর প্রতি আত্মমর্যাদাবোধ থেকে; যেন সেগুলো বাতিল দাবিগুলোর সদৃশ না হয়ে যায় … )) (৩)।

সানি এই উক্তিটি তার কাব্যগ্রন্থ (منظومة)-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ: (ইসবালুল মাতার আলা কাসাবিস সুক্কার)-এ উল্লেখ করেছেন, যখন তিনি তার সেই পঙ্ক্তিটি ব্যাখ্যা করছিলেন যেখানে তিনি বলেছেন:

হাফিজ এটি সফরের অবস্থায় সংকলন করেছেন … আর তিনি হলেন শিহাব বিন আলী বিন হাজার।

--------------------------------------------

(১) ফুফাতুজ জুফর: নখের ওপর যে শুভ্রতা দেখা যায়, যেমনটি লিসানুল আরবে (ফ ও ফা) ৯/২৭৩ এসেছে। এর দ্বারা নবজাতক উদ্দেশ্য। নখের শুভ্রতা এবং চোখের কালোর মাঝে সাধারণ যোগসূত্র হলো শুভ্রতার স্বচ্ছতা; তবে এই সাদা দাগটি নবজাতকের নখের সাথে এমনভাবে মিশে থাকে যে একে আলাদা করা যায় না; এজন্যই একে অস্পষ্ট হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। আল্লাহই সর্বজ্ঞ। আমি এই পঙ্ক্তির কবির পরিচয় জানতে পারিনি।

(২) মনে হচ্ছে তিনি এখানে 'ইহসা' (إحصاء) শব্দটিকে তিরস্কারের অর্থে ব্যবহার করেছেন। আর কোনো শব্দের ভিন্ন অর্থ গ্রহণ করার ক্ষেত্রটি বেশ প্রশস্ত। অথবা তিনি এখানে 'ইহসা' শব্দটি এর আবশ্যিক অর্থে ব্যবহার করেছেন, তাই প্রসঙ্গের দাবি অনুযায়ী তিনি তিরস্কার উদ্দেশ্য করেছেন। 'ইহসা' শব্দের মূল অর্থ হলো গণনা করা। কেননা সাধারণত কারো ভুল-ত্রুটি গণনার মাধ্যমেই তিরস্কারের বিষয়টি সামনে আসে। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

(৩) বার্লিন পাণ্ডুলিপির ১২০ খ পৃষ্ঠা, এবং মক্কা হারম পাণ্ডুলিপির ২০ ক পৃষ্ঠা।