(খণ্ড: ১) আত-তালিক আলা আল-আরবাঈন ফিত-তাসাউউফ লিস-সুলামী - জিমনা আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: -)
التعليق على «الأربعين في التصوف» للسلمي - ضمن «آثار المعلمي»   (عبد الرحمن المعلمي اليماني)

القسم: التخريج والأطراف


الكتاب: التعليق على «الأربعين في التصوف» للسلمي

[آثار عبد الرحمن بن يحيى المعلمي اليماني (15)]

المؤلف: عبد الرحمن بن يحيى المُعَلِّمي اليماني (1313 - 1386 هـ)

المحقق: علي بن محمد العمران

راجعه: محمد أجمل الإصلاحي - عادل بن عبد الشكور الزرقي

الناشر: دار عالم الفوائد للنشر والتوزيع

الطبعة: الأولى، 1434 هـ

قدمه للشاملة: مؤسسة «عطاءات العلم»، جزاهم الله خيرا

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 10 شوّال 1442

সুলামির ‘আল-আরবাউন ফিত-তাসাউফ’-এর ওপর টীকা - ‘আসারুল মুয়াল্লিমি’-র অন্তর্ভুক্ত   (আব্দুর রহমান আল-মুয়াল্লিমি আল-ইয়ামানি)

বিভাগ: তাখরিজ ও আতরাফ


কিতাব: সুলামি রচিত ‘আল-আরবাউন ফিত-তাসাউফ’-এর ওপর টীকা

[আব্দুর রহমান বিন ইয়াহইয়া আল-মুয়াল্লিমি আল-ইয়ামানি-র রচনাবলি (১৫)]

লেখক: আব্দুর রহমান বিন ইয়াহইয়া আল-মুয়াল্লিমি আল-ইয়ামানি (১৩১৩ - ১৩৮৬ হিজরি)

মুহাক্কিক: আলি বিন মুহাম্মাদ আল-উমরান

নিরীক্ষণ করেছেন: মুহাম্মাদ আজমাল আল-ইসলাহি - আদিল বিন আব্দুশ শাকূর আল-জুরকি

প্রকাশক: দারু আলমিল ফাওয়ায়িদ লিন-নাশর ওয়াত-তাউযি

সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩৪ হিজরি

শামেলার জন্য পেশ করেছেন: ‘আতাআতুল ইলম’ ফাউন্ডেশন, আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দিন

[কিতাবের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১০ শাওয়াল ১৪৪২

(খণ্ড: ١٥) আত-তালিক আলা আল-আরবাঈন ফিত-তাসাউউফ লিস-সুলামী - জিমনা আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ৩৬১)
الرسالة الثالثة عشرة

التعليق على "الأربعين في التصوف" للسلمي
ত্রয়োদশ রিসালাহ

আস-সুলামী প্রণীত "আল-আরবাঈন ফিত তাসাউউফ"-এর ওপর ভাষ্য
(খণ্ড: ١٥) আত-তালিক আলা আল-আরবাঈন ফিত-তাসাউউফ লিস-সুলামী - জিমনা আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ৩৬৩)
الحمد لله حمدًا كثيرًا طيبًا مباركًا فيه، وأشهد ألا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أنّ محمدًا عبده ورسوله. اللهم صلّ على محمد وعلى آل محمد كما صليت على آل إبراهيم، وبارك على محمد وعلى آل محمد كما باركت على آل إبراهيم إنك حميد مجيد.

أما بعد، فإنه عَرَض عليَّ مجلسُ (دائرة المعارف العثمانية) كتاب (الأربعين في التصوّف) لأبي عبد الرحمن محمد بن الحسين السُّلَمي النيسابوري، وهو كتاب يشتمل على أربعين حديثًا تتعلق بالتصوّف، فقرَّر المجلس طَبْعه في مطبعة الدائرة، وأن يُرتّب ويُطبع معه تعليق يتضمّن النظرَ في حال تلك الأحاديث صحةً أو ضعفًا، فأُمِرتُ بترتيب ذاك التعليق، فحاولت أن أقوم بما تيسّر لي من ذلك، وأقدِّم قبل ذلك التنبيهَ على أمور:

الأول: رُوي عن النبي صلى الله عليه وآله وسلم حديثٌ لفظه: "مَن حفظ على أمتي أربعين حديثًا من السنة كنت له شفيعًا وشهيدًا يوم القيامة"(1). قال النووي(2): "اتفق الحفّاظ على أنه حديث ضعيف وإن كثرت طرقه". فعمل جماعةٌ بما فهموه من هذا الحديث، فجمع كل منهم أربعين حديثًا في مؤلَّف.

--------------------------------------------

(1) هذا الحديث له طرق كثيرة وألفاظ متعددة، خرّجه ابن الجوزي في "العلل المتناهية" (161 - 184) من طريق ثلاثة عشر صحابيًّا، وضعَّفه من جميع طرقه، واتفقت كلمة الحفاظ على تضعيفه. وانظر "المقاصد الحسنة" (ص 411)، و"البدر المنير": (7/ 278).

(2) في خطبة "الأربعين" (ص 5).
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, অনেক অনেক প্রশংসা, যা পবিত্র ও বরকতময়। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি এক, তাঁর কোনো অংশীদার নেই। আর আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মদের ওপর এবং তাঁর পরিবারের ওপর রহমত বর্ষণ করুন, যেমনটি আপনি ইব্রাহিমের পরিবারের ওপর রহমত বর্ষণ করেছেন। আর মুহাম্মদের ওপর এবং তাঁর পরিবারের ওপর বরকত দান করুন, যেমনটি আপনি ইব্রাহিমের পরিবারের ওপর বরকত দান করেছেন; নিশ্চয়ই আপনি অত্যন্ত প্রশংসিত ও মহিমান্বিত।

এরপর, 'দাইরাতুল মা'আরিফ আল-উসমানিয়া'র পরিচালনা পর্ষদ আবু আবদুর রহমান মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন আস-সুলামি আন-নিসাবুরির লেখা 'আল-আরবাউন ফিত তাসাউফ' বইটি আমার সামনে পেশ করেন। এটি তাসাউফ সংশ্লিষ্ট চল্লিশটি হাদিসের একটি সংকলন। পর্ষদ সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, এটি দাইরার ছাপাখানায় মুদ্রিত হবে এবং এর সাথে এমন একটি টীকা বিন্যাস ও মুদ্রণ করা হবে যা এই হাদিসগুলোর বিশুদ্ধতা বা দুর্বলতার অবস্থা পর্যালোচনামূলক হবে। আমাকে সেই টীকাটি বিন্যাস করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমি সাধ্যমতো তা সম্পন্ন করার চেষ্টা করেছি। তবে তার আগে আমি কয়েকটি বিষয়ে সতর্ক করতে চাই:

প্রথমত: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম থেকে একটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে যার শব্দগুলো হলো: "যে ব্যক্তি আমার উম্মতের জন্য সুন্নাহ থেকে চল্লিশটি হাদিস সংরক্ষণ করবে, কিয়ামতের দিন আমি তার জন্য সুপারিশকারী ও সাক্ষী হব"(১)। নববি(২) বলেছেন: "হাদিস বিশারদগণ একমত হয়েছেন যে, এটি একটি দুর্বল হাদিস, যদিও এর বর্ণনার সূত্রগুলো অনেক।" একদল আলিম এই হাদিসটি থেকে যা বুঝেছেন সে অনুযায়ী আমল করেছেন, ফলে তাঁদের প্রত্যেকেই একটি গ্রন্থে চল্লিশটি হাদিস সংকলন করেছেন।

--------------------------------------------

(১) এই হাদিসটির অনেকগুলো সূত্র এবং বিভিন্ন শব্দ রয়েছে। ইবনুল জাওযি 'আল-ইলালুল মুতানাহিয়াহ' (১৬১ - ১৮৪) গ্রন্থে এটি তেরোজন সাহাবীর সূত্রে বর্ণনা করেছেন এবং এর প্রতিটি সূত্রকেই তিনি দুর্বল সাব্যস্ত করেছেন। হাদিস বিশারদগণ এটি দুর্বল হওয়ার ব্যাপারে একমত। দেখুন: 'আল-মাকাসিদুল হাসানাহ' (পৃষ্ঠা ৪১১) এবং 'আল-বদরুল মুনীর' (৭/২৭৮)।

(২) 'আল-আরবাউন' এর ভূমিকা (পৃষ্ঠা ৫) থেকে।
(খণ্ড: ١٥) আত-তালিক আলা আল-আরবাঈন ফিত-তাসাউউফ লিস-সুলামী - জিমনা আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ৩৬৪)
وقد ذكر صاحب "كشف الظنون"(1) طائفة كثيرة من الأربعينات، وذكر عن النووي أنّ أول مَن عَلِمه عَمِل ذلك: عبد الله بن المبارك المتوفى سنة 188، ثم تعدّى الأمر إلى غير الحديث، فألّف فخر الدين الرازي المتوفى سنة [606](2) مؤلّفًا في علم الكلام يشتمل على أربعين مسألة، وسمَّاه "كتاب الأربعين في أصول الدين". وقد طُبع في دائرة المعارف سنة [1353](3).

الأمر الثاني: الأحاديث المرويّة على ثلاثة أقسام:

الأول: ما حقّه أن يُحكم بثبوته.

الثاني: ما حقّه أن يُحكم ببطلانه.

الثالث: ما هو على الاحتمال، لا يترجّح فيه جانب الثبوت ولا جانب البطلان.

وكان المتثبّتون من أئمة الحديث يحتاطون في الرواية، فيروون ما تبيّن لهم أنه من القسم الأول، ولا يروون ما تبيَّن أنه من القسم الثاني إلا إذا احتاجوا إلى بيان بطلانه أو جرح راويه، أو تعليل حديثٍ آخر به، أو نحو ذلك، فحينئذٍ يروونه ويبيّنون بطلانه.

وأما القسم الثالث، فإن كان فيه حُكم أو سُنَّة لم تثبت بغيره لم يرووه إلا مع بيان أنه لا يصلح للحجة وحده، وإن كان على خلاف ذلك تسهَّلوا في

--------------------------------------------

(1) (1/ 52 - 61).

(2) ترك المؤلف سنة وفاته بياضًا.

(3) ترك المؤلف سنة الطبع بياضًا.
'কাশফুয যুনুন'(১) এর লেখক আরবাঈন (চল্লিশটি বিষয়ের সংকলন) সমূহের একটি বড় দলের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি ইমাম নববী থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তাঁর জানামতে যিনি সর্বপ্রথম এটি (চল্লিশ হাদীসের সংকলন) করেছিলেন তিনি হলেন আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক, যিনি ১৮৮ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন। এরপর বিষয়টি হাদীসের গণ্ডি পেরিয়ে অন্য শাস্ত্রেও বিস্তার লাভ করে। ফলে ফখরুদ্দীন আর-রাযী (মৃত্যু [৬০৬](২) হিজরী) ইলমুল কালাম শাস্ত্রে একটি গ্রন্থ রচনা করেন যা চল্লিশটি মাসআলা সংবলিত এবং তিনি এর নামকরণ করেন "কিতাবুল আরবাঈন ফী উসূলিদ দীন"। এটি [১৩৫৩](৩) সালে দাইরাতুল মাআরিফ থেকে মুদ্রিত হয়েছে।

দ্বিতীয় বিষয়: বর্ণিত হাদীসসমূহ তিন প্রকার:

প্রথম প্রকার: যার ব্যাপারে সাব্যস্ত হওয়ার (সহীহ হওয়ার) হুকুম প্রদান করা বাঞ্ছনীয়।

দ্বিতীয় প্রকার: যার ব্যাপারে বাতিল হওয়ার হুকুম প্রদান করা বাঞ্ছনীয়।

তৃতীয় প্রকার: যা সম্ভাবনার পর্যায়ে রয়েছে, যার ব্যাপারে সাব্যস্ত হওয়া বা বাতিল হওয়ার কোনো দিকই প্রবল নয়।

হাদীস শাস্ত্রের নির্ভরযোগ্য ও সতর্ক ইমামগণ বর্ণনা করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বন করতেন। তাঁরা সেই হাদীসগুলোই বর্ণনা করতেন যা তাঁদের নিকট প্রথম প্রকারের অন্তর্ভুক্ত বলে স্পষ্ট হতো। আর যা দ্বিতীয় প্রকারের অন্তর্ভুক্ত বলে স্পষ্ট হতো তা তাঁরা বর্ণনা করতেন না; তবে যদি সেই হাদীসটির বাতিল হওয়া বর্ণনা করার প্রয়োজন হতো, কিংবা বর্ণনাকারীর দোষ-ত্রুটি (জারহ) বর্ণনা করার জন্য, অথবা অন্য কোনো হাদীসের ত্রুটি (ইল্লাত) বর্ণনায় এর ব্যবহারের প্রয়োজন হতো, কিংবা অনুরূপ কোনো কারণে, তখন তাঁরা সেটি বর্ণনা করতেন এবং এর অসারতা স্পষ্ট করে দিতেন।

আর তৃতীয় প্রকারের ক্ষেত্রে, যদি তাতে এমন কোনো বিধান বা সুন্নাহ থাকে যা অন্য কোনোভাবে সাব্যস্ত হয়নি, তবে তাঁরা তা বর্ণনা করতেন না; তবে যদি বর্ণনা করতেন তবে এটি যে এককভাবে দলিল হিসেবে যোগ্য নয় তা স্পষ্ট করে দিতেন। আর যদি বিষয়টি এর বিপরীত হতো (অর্থাৎ অন্যভাবে সাব্যস্ত থাকতো), তবে তাঁরা এ ক্ষেত্রে কিছুটা শিথিলতা প্রদর্শন করতেন...

--------------------------------------------

(১) (১/ ৫২ - ৬১)।

(২) লেখক তাঁর মৃত্যু সালের স্থানটি ফাঁকা রেখেছেন।

(৩) লেখক মুদ্রণ বর্ষের স্থানটি ফাঁকা রেখেছেন।
(খণ্ড: ١٥) আত-তালিক আলা আল-আরবাঈন ফিত-তাসাউউফ লিস-সুলামী - জিমনা আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ৩৬৫)
روايته، وذلك كأنْ يكون فيه حُكْم أو سُنَّة ثابتة بغيره، أو يكون فيه ترغيب في عمل ثابت، كالصلوات الخمس وقيام الليل وصيام رمضان، أو تنفير عما ثبتت حُرمته، كالزنا والربا وشرب الخمر. وقد عقد الخطيب البغداديّ لهذا المطلب بابًا في "الكفاية" ص 133.

وكان الأئمة كما يحتاطون في أنفسهم يبينون لمن دونهم من الرواة الذين لا يتمكّنون من التمييز، فيقولون: لا ترووا عن فلان، أو: لا ترووا عن فلان إلا ما كان في الرقائق، ويقولون للراوي: لا تروِ هذا الحديث. ثم كثُر التساهل من جهتين:

الأولى: قول بعض المتأخرين: إنه يجوز العمل بالحديث الضعيف، وزاد غيره فقال: بل يُستحبّ، وقد كشف غلط هؤلاء أبو إسحاق الشاطبي في "الاعتصام" ج 1 ص 303 - 308.

الجهة الثانية: تساهل الحُفَّاظ في رواية كل ما سمعوه بلا بيان، وإن كان من القسم الثاني فضلًا عن الثالث. وكانوا يعتذرون بأنهم لم يلتزموا الصحة، وقد بيَّنوا الأسانيد، فمَن أحبّ معرفة صحة الحديث أو بطلانه أو ضعْفه فعليه أن ينظر في إسناده ويسأل العلماء.

وأُلفت على هذه الطريقة كثير من المؤلفات، ثم جاء قوم فحذفوا الأسانيد واقتصروا على جمع الأحاديث منسوبةً إلى الكتب المسندة فيها، ثم جاء آخرون فأخذوا كثيرًا من تلك الأحاديث فضمّنوها مؤلفاتهم غير مسندة ولا منسوبة.

[ص 2] والسُّلمي أورد في "الأربعين" الأحاديث بأسانيدها، وفيها من الأقسام الثلاثة كما يأتي بيانه إن شاء الله تعالى.
তার বর্ণনা, আর এটি এমন হতে পারে যে তাতে অন্য কোনো দলিলের মাধ্যমে প্রমাণিত কোনো বিধান বা সুন্নাহ রয়েছে, অথবা কোনো প্রমাণিত আমলের প্রতি উৎসাহিত করা হয়েছে, যেমন: পাঁচ ওয়াক্ত সালাত, কিয়ামুল লাইল এবং রমজানের সিয়াম; অথবা এমন কোনো বিষয় থেকে ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে যার হারাম হওয়া প্রমাণিত, যেমন: যিনা, রিবা এবং মদ্যপান। আল-খাতীব আল-বাগদাদী তার 'আল-কিফায়া' গ্রন্থের ১৩৩ পৃষ্ঠায় এ বিষয়ে একটি পরিচ্ছেদ রচনা করেছেন।

ইমামগণ নিজেরা যেভাবে সতর্কতা অবলম্বন করতেন, তেমনি তাদের পরবর্তী পর্যায়ের রাবীদের জন্য যারা পার্থক্য করতে সক্ষম ছিল না, তাদের নিকট বিষয়টি স্পষ্ট করে দিতেন। তারা বলতেন: অমুক ব্যক্তির থেকে বর্ণনা করো না, অথবা: অমুক ব্যক্তির থেকে কেবল হৃদয়গলানো বিষয়গুলো ব্যতীত অন্য কিছু বর্ণনা করো না। তারা কোনো রাবীকে বলতেন: এই হাদীসটি বর্ণনা করো না। এরপর দুই দিক থেকে শিথিলতা বৃদ্ধি পায়:

প্রথমত: পরবর্তী সময়ের কিছু আলিমের বক্তব্য যে, যঈফ হাদীসের ওপর আমল করা জায়েয। আবার অন্য কেউ আরও এক ধাপ বেড়ে বলেছেন: বরং এটি মুস্তাহাব। ইমাম আবু ইসহাক আশ-শাতীবী 'আল-ইতিসাম' গ্রন্থের ১ম খণ্ডের ৩০৩-৩০৮ পৃষ্ঠায় তাদের এই ভুল উন্মোচিত করেছেন।

দ্বিতীয়ত: হাফিযগণের শোনা প্রতিটি বিষয় কোনো প্রকার ব্যাখ্যা ছাড়াই বর্ণনা করার ক্ষেত্রে শিথিলতা প্রদর্শন করা, যদিও তা দ্বিতীয় প্রকারের অন্তর্ভুক্ত হয়, তৃতীয় প্রকারের কথা তো বলাই বাহুল্য। তারা ওজর পেশ করতেন এই বলে যে, তারা সহীহ হওয়ার দায়ভার গ্রহণ করেননি এবং তারা সনদগুলো উল্লেখ করে দিয়েছেন। সুতরাং কেউ যদি কোনো হাদীসের বিশুদ্ধতা, অসারতা বা দুর্বলতা সম্পর্কে জানতে চায়, তবে তার উচিত এর সনদের প্রতি দৃষ্টিপাত করা এবং আলিমদের নিকট জিজ্ঞাসা করা।

এই পদ্ধতিতে অনেক কিতাব সংকলন করা হয়েছে। অতঃপর এমন এক দলের আগমন ঘটল যারা সনদসমূহ বিলুপ্ত করে দিলেন এবং মূল সূত্রগ্রন্থগুলোর উদ্ধৃতি দিয়ে হাদীসসমূহ সংগ্রহের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকলেন। পরবর্তীতে আরও একদল এলেন যারা সেই হাদীসগুলোর অনেকগুলোই গ্রহণ করলেন এবং সেগুলো সনদ বা উৎস ছাড়াই নিজেদের কিতাবসমূহে অন্তর্ভুক্ত করলেন।

[পৃষ্ঠা: ২] আস-সুলামী 'আল-আরবাঈন' গ্রন্থে হাদীসসমূহ সনদসহ উল্লেখ করেছেন। এতে উক্ত তিন প্রকারের হাদীসই রয়েছে, যা ইনশাআল্লাহ তাআলা সামনে বর্ণিত হবে।
(খণ্ড: ١٥) আত-তালিক আলা আল-আরবাঈন ফিত-তাসাউউফ লিস-সুলামী - জিমনা আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ৩৬৬)
‌‌الأمر الثالث: لا يلزم من ضعف السند ضعف الحديث لاحتمال أن يكون ثابتًا بإسنادٍ آخر، وقد لا يكون ثابتًا ولكن معناه ثابت بدليل آخر من الكتاب أو السنة أو الإجماع.

وكذلك لا يلزم من ثقة رجال الإسناد وثبوت أنَّ كلًّا منهم قد لقي شيخَه أن يكون الحديث صحيحًا، لاحتمال أن يكون هناك خطأ أو غلط لو فتَّش عنه العارفُ الماهرُ لوَجَده.

فلهذا كان الواجب على مَن يتكلّم في الأحاديث ولم يبلغ درجة التحقيق أو لم يعمل بِحَسَبها أن يحتاط فيقول في التضعيف: "لا يصح بهذا السند"، "في سنده فلان وهو ضعيف" أو نحو ذلك. ويقول في التصحيح: "رجاله ثقات" أو "رجاله رجال الصحيح" أو نحو ذلك، فإذا كان بعض الأئمة قد ضعَّف الحديث أو صحّحه أحال عليه.

 

‌‌الأمر الرابع: الإنسان مُولَعٌ بالحرص على التفوّق بأن يُظهر أن عنده ما ليس عند غيره، فرواة الحديث يحرصون على شيئين:

الأول: علوّ الإسناد، بأن يكون الحديث عند الرجل بوسائط أقل مما عند نُظرائه، كأن يكون بينه وبين النبي صلى الله عليه وآله وسلم أربعة، وبين نُظرائه وبين النبي صلى الله عليه وآله وسلم أكثر من ذلك.

الثاني: الغرابة، كأن يكون عنده أحاديث لا توجد عند غيره، أو تكون عنده وعندهم من وجوه مشهورة، وهي عنده من أوجهٍ أخرى ليست عندهم.

وكثيرًا ما جرّ الحرص على العلوّ والغرابة إلى تقديم الصحيح على الأصح، والضعيف على الصحيح، والغلط على الصواب، والباطل على
‌‌তৃতীয় বিষয়: সনদের (সূত্রের) দুর্বলতা থেকে হাদিসের দুর্বলতা সাব্যস্ত হওয়া আবশ্যক নয়, কারণ সম্ভাবনা থাকে যে হাদিসটি অন্য কোনো সূত্রের মাধ্যমে সাব্যস্ত। আবার কোনো কোনো সময় এটি সাব্যস্ত না-ও হতে পারে, কিন্তু তার অর্থ কুরআন, সুন্নাহ বা ইজমার অন্য কোনো দলীলের মাধ্যমে সাব্যস্ত থাকতে পারে।

অনুরূপভাবে সনদের বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য হওয়া এবং তাদের প্রত্যেকেই নিজ নিজ উস্তাদের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন বলে প্রমাণিত হওয়া থেকে হাদিসটি সহিহ হওয়া আবশ্যক নয়। কারণ সেখানে কোনো ত্রুটি বা ভুল থাকার সম্ভাবনা থাকে, যা কোনো বিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ অনুসন্ধান করলে খুঁজে পেতে পারেন।

এই কারণে যে ব্যক্তি হাদিস নিয়ে আলোচনা করেন কিন্তু অনুসন্ধানের (তাহকিক) স্তরে পৌঁছাননি অথবা সেই অনুযায়ী কাজ করেননি, তার জন্য কর্তব্য হলো সতর্কতা অবলম্বন করা। তাই তিনি কোনো হাদিসকে দুর্বল বলার সময় বলবেন: "এই সনদে হাদিসটি সহিহ নয়", "এর সনদে অমুক ব্যক্তি রয়েছেন এবং তিনি দুর্বল" অথবা এ জাতীয় কোনো কথা। আর হাদিসটিকে সহিহ বলার সময় বলবেন: "এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য" অথবা "এর বর্ণনাকারীগণ সহিহ হাদিসের বর্ণনাকারী" অথবা এ জাতীয় কিছু। আর যদি কোনো ইমাম হাদিসটিকে দুর্বল বা সহিহ বলে থাকেন, তবে তিনি তার দিকেই বিষয়টি ন্যস্ত করবেন।

 

‌‌চতুর্থ বিষয়: মানুষ শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের প্রতি আসক্ত, যেন সে প্রকাশ করতে পারে যে তার নিকট এমন কিছু আছে যা অন্যের নিকট নেই। তাই হাদিস বর্ণনাকারীগণ দুটি বিষয়ের প্রতি লালায়িত থাকেন:

প্রথমত: উলুউল ইসনাদ (সনদের উচ্চতা), অর্থাৎ কোনো ব্যক্তির নিকট হাদিসটি তার সমসাময়িকদের তুলনায় কম মধ্যবর্তী সূত্রের মাধ্যমে থাকা। যেমন, তার এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের মাঝে চারজন বর্ণনাকারী রয়েছেন, অথচ তার সমসাময়িকদের এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের মাঝে এর চেয়ে বেশি বর্ণনাকারী রয়েছেন।

দ্বিতীয়ত: গারাবাত (বিরলতা), যেমন তার কাছে এমন কিছু হাদিস থাকা যা অন্যের কাছে নেই, অথবা তার ও অন্যদের কাছে কোনো হাদিস প্রসিদ্ধ সূত্রে রয়েছে, কিন্তু তার কাছে তা অন্য কোনো সূত্রে রয়েছে যা অন্যদের কাছে নেই।

আর উচ্চতর সনদ ও বিরলতার এই লালসা প্রায়শই সহিহকে আসাহ (অধিকতর সহিহ)-এর ওপর, যয়িফকে (দুর্বল) সহিহর ওপর, ভুলকে সঠিকের ওপর এবং বাতিলকে...
(খণ্ড: ١٥) আত-তালিক আলা আল-আরবাঈন ফিত-তাসাউউফ লিস-সুলামী - জিমনা আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ৩৬৭)
الثابت، بل جرَّ بعضَ من لا خير فيه إلى الكذب، وأوقع بعضَ أهلَ الصدق في أن اتُّهم بالكذب، ومنهم السلميّ؛ فإن أكثر مطالبه التي ترجم بها في "الأربعين" استدلّ عليها بأحاديث واهية ــ كما ستراه ــ وقد كان يمكنه أن يستدلّ بما هو أثبت منها، كما سأنبّه على بعضه، ولكن الحرص على العلوّ والغرابة أوقعه في اختيار تلك الواهيات.

 

‌‌الأمر الخامس: إذا كان الحديث صحيحًا فلابدّ أن يكون مرويًّا في القرون الأولى كما هو واضح، لكن كانت الأحاديث أولًا منتشرة، فقد يكون الحديث مرويًّا معروفًا عند أهل الشام ولم يبلغ أهلَ اليمن مثلًا، وقِس على ذلك، فلم يزل أهل الحديث يرحلون ويجمعون، حتى كان في أوائل القرن الثالث أئمة لا يكاد يوجد حديث صحيح لا يعرفونه، كالإمام أحمد ويحيى بن معين ثم البخاري وأبو حاتم وأبو زُرعة، وحينئذٍ أُلّفت الكتب من مسانيد ومصنفات. فإذا وُجِد في كتب المتأخرين حديث لا يوجد في كتب المتقدمين فتلك علامة ظاهرة على وهنه، فإما أن يكون كذبًا خطأً أو عمدًا، وإما أن يكون مما تركه المتقدمون عمدًا لعلمهم ببطلانه.

‌‌الأمر السادس: الأحاديث التي لا توجد إلا في التواريخ وكتب الرجال عامتها ضعيفة جدًّا؛ لأن أهل التواريخ إنما يذكرونها غالبًا للطعن على الراوي الذي تفرَّد بها؛ ولهذا الأمر والذي قَبْله قال السيوطي في مقدمة "جمع الجوامع"(1) كما نقله علي المتقّي في مقدمة "كنز العمال"(2): أن ما نَسبَه إلى كتاب "الضعفاء" للعُقيلي، أو "الكامل" لابن عدي، أو "تاريخ

--------------------------------------------

(1) (1/ 44 ــ ط الأزهر).

(2) (1/ 10).
সুসাব্যস্ত বিষয়সমূহ; বরং এটি কল্যাণহীন কিছু মানুষকে মিথ্যার দিকে ধাবিত করেছে এবং কিছু সত্যবাদী মানুষকে মিথ্যাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত হওয়ার পরিস্থিতিতে ফেলেছে। তাদের মধ্যে সুলামী একজন। কেননা তিনি তার "আল-আরবাঈন" গ্রন্থে যেসব অধ্যায় বা শিরোনাম দিয়েছেন, সেগুলোর অধিকাংশের স্বপক্ষে অত্যন্ত দুর্বল হাদিস দিয়ে দলিল পেশ করেছেন—যেমনটি আপনি সামনে দেখতে পাবেন—অথচ তার পক্ষে সম্ভব ছিল এর চেয়ে অধিকতর নির্ভরযোগ্য দলিল পেশ করা, যার কয়েকটির দিকে আমি ইঙ্গিত করব। কিন্তু সনদের উচ্চতা এবং বিরলতার প্রতি অতি আগ্রহ তাকে এই দুর্বল হাদিসগুলো চয়ন করতে প্ররোচিত করেছে।

 

‌‌পঞ্চম বিষয়: কোনো হাদিস যদি সহিহ হয়, তবে এটি যে প্রাথমিক শতাব্দীগুলোতে বর্ণিত হয়েছে তা তো স্পষ্ট। তবে প্রথম দিকে হাদিসসমূহ বিক্ষিপ্ত ছিল। ফলে দেখা যেত কোনো হাদিস সিরিয়াবাসীদের নিকট বর্ণিত ও পরিচিত ছিল, কিন্তু তা হয়তো ইয়ামেনবাসীদের কাছে পৌঁছেনি; বিষয়টিকে এভাবেই অনুধাবন করতে হবে। এরপর হাদিস বিশারদগণ সফর করতে থাকেন এবং হাদিসসমূহ সংগ্রহ করতে থাকেন। অবশেষে তৃতীয় শতাব্দীর শুরুর দিকে এমন কিছু ইমামের আবির্ভাব ঘটে যাদের অজানা কোনো সহিহ হাদিস থাকা প্রায় অসম্ভব ছিল, যেমন ইমাম আহমাদ, ইয়াহইয়া ইবনে মাইন, অতঃপর বুখারি, আবু হাতিম এবং আবু যুরআ। তখনই মাসানিদ ও অন্যান্য সংকলনসমূহ রচিত হয়। সুতরাং যখন পরবর্তী যুগের কিতাবসমূহে এমন কোনো হাদিস পাওয়া যায় যা পূর্ববর্তী কিতাবগুলোতে নেই, তখন সেটি হাদিসটির দুর্বলতার একটি প্রকাশ্য নিদর্শন হিসেবে গণ্য হবে। এটি হয় ভুলবশত বা ইচ্ছাকৃত মিথ্যা হতে পারে, অথবা এমন হতে পারে যা পূর্ববর্তীরা বর্জন করেছেন কারণ তারা এটি বাতিল হওয়ার বিষয়ে অবহিত ছিলেন।

‌‌ষষ্ঠ বিষয়: যেসব হাদিস কেবল ইতিহাসের কিতাব এবং রিজাল শাস্ত্রের কিতাবসমূহে পাওয়া যায়, সেগুলোর অধিকাংশই অত্যন্ত দুর্বল। কেননা ইতিহাসবিদগণ সাধারণত এগুলো বর্ণনা করেন এমন বর্ণনাকারীর সমালোচনা করার জন্য যিনি একাকী তা বর্ণনা করেছেন। এ কারণেই এবং এর আগের বিষয়ের প্রেক্ষিতে সুয়ূতী "জামউল জাওয়ামি" গ্রন্থের ভূমিকায় বলেছেন(১) যা আলী আল-মুত্তাকী "কানযুল উম্মাল" গ্রন্থের ভূমিকায় উদ্ধৃত করেছেন(২): যা উকাইলীর "আদ-দুআফা", ইবনে আদীর "আল-কামিল" অথবা "তারিখ" গ্রন্থের দিকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে...

--------------------------------------------

(১) (১/ ৪৪ — আজহার মুদ্রণ)।

(২) (১/ ১০)।
(খণ্ড: ١٥) আত-তালিক আলা আল-আরবাঈন ফিত-তাসাউউফ লিস-সুলামী - জিমনা আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ৩৬৮)
بغداد" للخطيب، أو "تاريخ دمشق" لابن عساكر، أو "نوادر الأصول" للحكيم الترمذي، أو "تاريخ نيسابور" للحاكم، أو "تاريخ ابن الجارود" أو إلى "مسند الفردوس" للديلمي= "فهو ضعيف، فيُستغنَى بالعزو إليها أو إلى بعضها عن بيان ضعفه".

 

‌‌الأمر السابع: المؤلفون في استدلالهم بالأحاديث على قسمين:

الأول: مَن يكون اعتقاده مبنيًّا على دليل يريد أن يبيّنه، فيذكر المسألة ثم يذكر الدليل الذي لأجله اعتقد ما اعتقد.

الثاني: مَن يكون اعتقاده مبنيًّا [3] على أمر آخر، ويريد أن يستدلّ عليه بالحديث، وذلك كالمقلّد يعتقد المسألة تقليدًا ثم يحاول الاستدلال بالحديث. فالأول بمنزلة القاضي العادل، والثاني بمنزلة المدعي أو المحامي عنه؛ ولهذا يغلب في القسم الأول صحة الدليل وصحة دلالته، ويكثر في الثاني خلاف ذلك. والسلميّ من القسم الثاني كما سيتبيّن لك، والله المستعان.

وأَشْرعُ في الكلام على الأحاديث بحسب ترتيبها.
আল-খতিবের "তারিখে বাগদাদ", ইবনে আসাকিরের "তারিখে দামেশক", হাকিম তিরমিযীর "নাওয়াদিরুল উসুল", হাকিমের "তারিখে নাইসাপুর", ইবনুল জারুদের "তারিখ" অথবা দাইলামীর "মুসনাদুল ফিরদাউস"-এর দিকে [কোনো হাদীসকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়]= "তবে তা দুর্বল; সুতরাং এই গ্রন্থগুলোর দিকে বা এগুলোর কোনো একটির দিকে নিছক সম্বন্ধ করাই এর দুর্বলতা বর্ণনার জন্য যথেষ্ট বলে গণ্য হবে।"

 

‌‌সপ্তম বিষয়: হাদীসের মাধ্যমে দলীল পেশের ক্ষেত্রে লেখকগণ দুই প্রকার:

প্রথম প্রকার: যাদের আকিদা বা বিশ্বাস এমন কোনো দলীলের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে যা তারা বর্ণনা করতে চান; ফলে তারা প্রথমে মাসআলাটি উল্লেখ করেন এবং এরপর সেই দলীলটি উল্লেখ করেন যার কারণে তারা উক্ত বিশ্বাস পোষণ করেছেন।

দ্বিতীয় প্রকার: যাদের আকিদা [৩] অন্য কোনো বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে এবং তারা হাদীসের মাধ্যমে তার স্বপক্ষে দলীল পেশ করতে চান। এটি একজন মুকাল্লিদ বা অন্ধ অনুসারীর মতো, যিনি কোনো মাসআলাকে কেবল অনুসরণের (তাকলীদ) ভিত্তিতে বিশ্বাস করেন এবং পরবর্তীতে হাদীস দ্বারা দলীল সংগ্রহের চেষ্টা করেন। অতএব, প্রথমোক্ত ব্যক্তি একজন ন্যায়পরায়ণ বিচারকের সমতুল্য, আর দ্বিতীয় প্রকারের ব্যক্তি একজন দাবিদার অথবা তার পক্ষে নিয়োজিত উকিলের সমতুল্য। এই কারণেই প্রথম প্রকারের ক্ষেত্রে দলীলের বিশুদ্ধতা এবং তা থেকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সঠিকতা প্রবল থাকে, আর দ্বিতীয় প্রকারের ক্ষেত্রে এর বিপরীতটিই বেশি ঘটে। আস-সুলামী এই দ্বিতীয় প্রকারের অন্তর্ভুক্ত, যা আপনার কাছে স্পষ্ট হয়ে যাবে; আর আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি।

এখন আমি হাদীসগুলো নিয়ে সেগুলোর ধারাবাহিকতা অনুযায়ী আলোচনা শুরু করছি।
(খণ্ড: ١٥) আত-তালিক আলা আল-আরবাঈন ফিত-তাসাউউফ লিস-সুলামী - জিমনা আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ৩৬৯)
بسم الله الرحمن الرحيم

صلى الله على سيدنا محمد وسلم.

أخبرني شيخ الإسلام حافظ العصر أبو الفضل أحمد بن علي بن حجر رحمه الله، عن أبي الحسن علي بن محمد بن محمد بن أبي المجد قراءة قال: أنبأنا أبو الفتح محمد بن عبد الرحيم ابن النشو إجازة، أنا أبو محمد عبد الوهاب بن ظافر بن رواج، أنا الحافظ أبو طاهر أحمد بن محمد بن أحمد السلفي، أنا أبو الطيب طاهر بن المسدد الجنزي، أنا أبو الحسن علي بن عبد الرحمن النيسابوري، أنا أبو عبد الرحمن محمد بن الحسين السلمي رحمه الله قال (‌‌1).

 

[1] باب الدليل على أن الصوفية هم رُفقاء رسول الله صلى الله عليه وسلم
-

أخبرنا محمد بن محمد بن سعيد الأنماطي ثنا الحسن بن علي بن يحيى بن سلام ثنا محمد بن علي الترمذي ثنا سعيد بن حاتم البلخي ثنا سهل بن أسلم عن خلاد بن محمد عن أبي حمزة السكري عن يزيد النحوي عن عكرمة:

عن ابن عباس رضي الله عنهما قال: وقف رسول الله صلى الله عليه وسلم يومًا على أصحاب الصُّفّة فرأى فقرهم وجهدهم وطيب قلوبهم، فقال: "أبشروا يا أصحاب الصُّفة من بقي من أمتي على النعت الذي أنتم عليه راضيًا بما فيه فإنه من رُفقائي يوم القيامة".

قال المعلمي:

رجال السند بين المؤلف وبين أبي حمزة السُّكّري لم أعرفهم إلا محمد بن عليّ الترمذي، وهو الحكيم الترمذي المشهور، ترجمته في

--------------------------------------------

(1) بعدها في (ط): " [اتصل] هكذا بين معكوفين، ولم يتضح لي المراد منها.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

আমাদের নেতা মুহাম্মদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

যুগের হাফেজ শাইখুল ইসলাম আবুল ফজল আহমদ ইবনে আলী ইবনে হাজার (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) আমাকে জানিয়েছেন, আবুল হাসান আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবুল মাজদ-এর নিকট পাঠের মাধ্যমে; তিনি বলেন: আবুল ফাতহ মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহিম ইবনুন নাশু ইজাজতসূত্রে আমাদের খবর দিয়েছেন, আবু মুহাম্মদ আবদুল ওয়াহহাব ইবনে জাফির ইবনে রাওয়াজ আমাদের জানিয়েছেন, হাফেজ আবু তাহের আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আস-সালাফি আমাদের জানিয়েছেন, আবু তাইয়্যেব তাহের ইবনে আল-মুসাদ্দাদ আল-জানজি আমাদের জানিয়েছেন, আবুল হাসান আলী ইবনে আবদুর রহমান আন-নাইসাপুরি আমাদের জানিয়েছেন, আবু আবদুর রহমান মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন আস-সুলামি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) বলেছেন (‌‌১)।

 

[১] পরিচ্ছেদ: সূফীগণ যে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সঙ্গী, তার প্রমাণের অধ্যায়
-

মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সাঈদ আল-আনমাতি আমাদের খবর দিয়েছেন, আল-হাসান ইবনে আলী ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে সালাম আমাদের বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে আলী আত-তিরমিজি আমাদের বর্ণনা করেছেন, সাঈদ ইবনে হাতিম আল-বালখি আমাদের বর্ণনা করেছেন, সাহল ইবনে আসলাম খাল্লাদ ইবনে মুহাম্মদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু হামজা আস-সুক্কারি থেকে, তিনি ইয়াজিদ আন-নাহবি থেকে, তিনি ইকরিমা থেকে:

ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একদিন আহলে সুফফার নিকট দাঁড়ালেন এবং তাঁদের দারিদ্র্য, কঠোর পরিশ্রম ও হৃদয়ের পবিত্রতা প্রত্যক্ষ করলেন। তখন তিনি বললেন: "হে আহলে সুফফা, তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ করো। আমার উম্মতের মধ্যে যারা তোমাদের মতো গুণের ওপর অবশিষ্ট থাকবে এবং তাতে সন্তুষ্ট থাকবে, তারা কিয়ামতের দিন আমার সঙ্গী হবে।"

মুয়াল্লিমি বলেন:

গ্রন্থকার এবং আবু হামজা আস-সুক্কারির মধ্যবর্তী সনদের ব্যক্তিদের মধ্যে আমি মুহাম্মদ ইবনে আলী আত-তিরমিজি ছাড়া কাউকে চিনি না। তিনি হলেন প্রসিদ্ধ আল-হাকিম আত-তিরমিজি, তাঁর জীবনী রয়েছে

--------------------------------------------

(১) এরপর (ত্ব) পাণ্ডুলিপিতে: "[সংযুক্ত হয়েছে]" শব্দটি এভাবে তৃতীয় বন্ধনীর মধ্যে রয়েছে, এর দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে তা আমার কাছে স্পষ্ট নয়।
(খণ্ড: ١٥) আত-তালিক আলা আল-আরবাঈন ফিত-তাসাউউফ লিস-সুলামী - জিমনা আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ৩৭০)
"لسان الميزان" ج 5 ص 308(1)، والحديث في "كنز العمال" ج [16577](2) نَسبَه إلى "تاريخ بغداد"(3) فقط. وقد تقدّم في الأمر السادس من المقدمة(4) قول السيوطي: إن ما ينسبه إلى "تاريخ بغداد" أو إلى "نوادر الأصول" للحكيم الترمذي فهو ضعيف(5).

* * * *

 

‌‌[2] باب من صفة الفقراء

أخبرنا أبو القاسم عبد الرحمن بن أحمد بن متويه البلخي ثنا فهدي بن جَسْنَسْفَنَّة ثنا محمد بن إسماعيل الأحمسي ثنا عثمان بن عبد الرحمن الحراني ثنا الوازع بن نافع عن أبي سلمة:

عن ثوبان رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "حوضي ما بين عدن إلى عَمّان؛ شرابه أبيض من اللبن وأحلى من العسل، من شرب منه شربة لا يظمأ بعدها أبدًا، وأول مَن يَرِدُه صعاليك المهاجرين"، قلنا: ومَن هم يا رسول الله؟ قال: "الدُّنْس الثياب، الشُّعْث الرؤوس، الذين لا تُفْتَح لهم أبواب السُّدَد، ولا يزوَّجون المنعّمات، الذين يُعطُون ما عليهم ولا يُعطَون ما لهم، وليأتينَّ أقوام فيقولون: أنا فلان بن فلان ولأقولن: إنكم بدّلتم بعدي".

--------------------------------------------

(1) (7/ 386 - 389 - ط المحققة).

(2) ترك المؤلف بقية الإحالة غفلًا فأكلمته برقم الحديث فيه.

(3) (13/ 276) أخرجه من طريق السلمي.

(4) (ص 367).

(5) والحديث أخرجه الديلمي في "مسند الفردوس". وذكره الألباني في "السلسلة الضعيفة" (1589) وقال: ضعيف جدًّا مظلم …
"লিসানুল মিযান" ৫ম খণ্ড, ৩০৮ পৃষ্ঠা(১), এবং হাদিসটি "কানযুল উম্মাল" ১৬৫৭৭ নম্বর হাদিস(২)-এ পাওয়া যায়; তিনি একে কেবল "তারিখ বাগদাদ"(৩)-এর দিকে সম্বন্ধ করেছেন। আর ভূমিকার ষষ্ঠ পরিচ্ছেদে(৪) আস-সুয়ূতীর এই উক্তিটি গত হয়েছে যে: নিশ্চয়ই যা কিছু "তারিখ বাগদাদ" অথবা হাকীম তিরমিযীর "নাওয়াদিরুল উসূল"-এর দিকে সম্বন্ধ করা হয়, তা দুর্বল(৫)।

* * * *

 

‌‌[২] দরিদ্রদের বৈশিষ্ট্য বিষয়ক অধ্যায়

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু কাসিম আব্দুর রহমান বিন আহমদ বিন মুতওয়াইহ আল-বালখী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ফাহদী বিন জাসনাফন্নাহ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-আহমাসী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উসমান বিন আব্দুর রহমান আল-হাররানী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-ওয়াযি' বিন নাফি', তিনি আবু সালামাহ থেকে বর্ণনা করেন:

তিনি সাওবান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আমার হাউজের পরিধি আদন থেকে আম্মান পর্যন্ত; এর পানীয় দুধের চেয়ে সাদা এবং মধুর চেয়ে মিষ্টি। যে ব্যক্তি এখান থেকে একবার পান করবে, এরপর সে আর কখনও তৃষ্ণার্ত হবে না। আর যারা সেখানে প্রথম উপস্থিত হবে, তারা হলো নিঃস্ব মুহাজিরগণ।" আমরা বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! তারা কারা? তিনি বললেন: "যাদের পোশাক ময়লাযুক্ত, মাথার চুল উস্কোখুস্কো, যাদের জন্য অট্টালিকার দ্বার উন্মোচন করা হয় না এবং যারা ভোগ-বিলাসী নারীদের বিবাহ করতে পারে না। তারা তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করে, কিন্তু তাদের প্রাপ্য অধিকার তাদের দেওয়া হয় না। অচিরেই এমন কিছু কওম আসবে যারা বলবে: আমি অমুকের পুত্র অমুক। তখন আমি অবশ্যই বলব: তোমরা আমার পরে (দ্বীনের মাঝে) পরিবর্তন সাধন করেছিলে।"

--------------------------------------------

(১) (৭/ ৩৮৬ - ৩৮৯ - গবেষণাকৃত সংস্করণ)।

(২) লেখক রেফারেন্সের বাকি অংশ খালি রেখেছিলেন, আমি এতে হাদিস নম্বর যুক্ত করে তা পূর্ণ করেছি।

(৩) (১৩/ ২৭৬) তিনি এটি আস-সুলামীর সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

(৪) (৩৬৭ পৃষ্ঠা)।

(৫) হাদিসটি দায়লামী "মুসনাদুল ফিরদাউস"-এ বর্ণনা করেছেন। আলবানী একে "সিলসিলাতুদ দায়িফাহ" (১৫৮৯) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: এটি অত্যন্ত দুর্বল ও অন্ধকারচ্ছন্ন ...
(খণ্ড: ١٥) আত-তালিক আলা আল-আরবাঈন ফিত-তাসাউউফ লিস-সুলামী - জিমনা আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ৩৭১)
قال المعلمي:

في سنده الوازع بن نافع، ضعيف جدًّا. قال فيه الإمام أحمد ويحيى بن معين وأبو داود: "ليس بثقة". والكلام فيه كثير، راجع ترجمته في "لسان الميزان" ج 6 ص 213(1).

لكن قد جاء الحديث مع اختلاف غير كثير من غير طريقه. راجع "مسند أحمد" ج 5 ص 275(2)، و"المستدرك" ج 4 ص 184 (‌‌3).

* * * *

 

[3] باب استعمال الخُلُق ولو مع الكفار

أخبرنا زاهر بن أحمد الفقيه ثنا علي بن محمد بن الفرج الأهوازي ثنا سليمان بن الربيع الخزاز ثنا كادح بن رحمة عن أبي أمية بن يعلى عن سعيد بن أبي سعيد:

عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "أوحى الله سبحانه وتعالى إلى إبراهيم عليه السلام: إنك خليلي، حَسِّن خُلقك ولو مع الكفار تدخل

--------------------------------------------

(1) (8/ 367).

(2) رقم (6162) من حديث عبد الله بن عمر.

(3) راويه عن أبي سلمة ــ وهو الوازع ــ مُجمع على ضعفه، فقد روى أحاديث موضوعة. لكن أخرج هذا الحديث الترمذي (2444)، وأخرجه ابن ماجه (4303) وأحمد (22367)، والطيالسي في "مسنده" (1088) ومن طريقه البيهقي في "الشعب" (10003)، والحاكم في "المستدرك": (4/ 184) وغيرهم من طرقٍ عن محمد بن مهاجر عن العباس بن سالم عن أبي سلام ممطور الحبشي. قال الترمذي: غريب من هذا الوجه، ونحوه قال الطبراني في "الأوسط"، وحسَّن إسناده البزار، وقال الحاكم: "صحيح الإسناد".
আল-মুআল্লিমি বলেন:

এর সনদে ওয়াজে' ইবনে নাফে' আছে, সে অত্যন্ত দুর্বল। ইমাম আহমাদ, ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন এবং আবু দাউদ তার সম্পর্কে বলেছেন: "সে নির্ভরযোগ্য নয়"। তার ব্যাপারে অনেক সমালোচনা রয়েছে, 'লিসানুল মিজান' ৬ষ্ঠ খণ্ড, ২১৩ পৃষ্ঠায় তার জীবনী দেখুন।(১).

তবে হাদিসটি খুব সামান্য পার্থক্যসহ অন্য সূত্রেও এসেছে। 'মুসনাদে আহমাদ' ৫ম খণ্ড, ২৭৫ পৃষ্ঠা(২), এবং 'আল-মুসতাদরাক' ৪র্থ খণ্ড, ১৮৪ পৃষ্ঠা (‌‌৩) দেখুন।

* * * *

 

[৩] কাফেরদের সাথে হলেও সচ্চরিত্র ব্যবহারের অধ্যায়

জাহির ইবনে আহমাদ আল-ফকিহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আলী ইবনে মুহাম্মাদ ইবনুল ফারাজ আল-আহওয়াজি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুলায়মান ইবনুর রাবি' আল-খাজ্জায আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: কাদিহ ইবনে রাহমাহ আবু উমাইয়া ইবনে ইয়া'লা থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে আবি সাঈদ থেকে বর্ণনা করেছেন:

আবু হুরায়রা (রাদিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "মহান আল্লাহ ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম)-এর নিকট ওহি প্রেরণ করেছেন যে: 'নিশ্চয়ই আপনি আমার খলিল (বন্ধু), সুতরাং আপনার চরিত্রকে সুন্দর করুন, এমনকি যদি কাফেরদের সাথেও হয়, তবে আপনি প্রবেশ করবেন...

--------------------------------------------

(১) (৮/ ৩৬৭)।

(২) আবদুল্লাহ ইবনে ওমরের হাদিস থেকে নম্বর (৬১৬২)।

(৩) আবু সালামাহ থেকে এর বর্ণনাকারী—যিনি হলেন ওয়াজে'—তার দুর্বলতার বিষয়ে সকলে একমত, কেননা তিনি বানোয়াট হাদিস বর্ণনা করেছেন। তবে এই হাদিসটি তিরমিজি (২৪৪৪), ইবনে মাজাহ (৪৩০৩), আহমাদ (২২৩৬৭) এবং আত-তায়ালিসি তার 'মুসনাদ'-এ (১০৮৮) বর্ণনা করেছেন; আর তার সূত্রে বাইহাকি 'শুআবুল ঈমান'-এ (১০০০৩), আল-হাকিম 'আল-মুসতাদরাক'-এ (৪/ ১৮৪) এবং অন্যান্যরা মুহাম্মাদ ইবনে মুহাজির থেকে, তিনি আব্বাস ইবনে সালিম থেকে, তিনি আবু সালাম মামতুর আল-হাবাশি থেকে বিভিন্ন সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তিরমিজি বলেছেন: এই সূত্রে এটি গারিব; তাবারানিও 'আল-আওসাত'-এ একই রকম বলেছেন। আল-বাযযার এর সনদকে হাসান বলেছেন এবং আল-হাকিম বলেছেন: "সনদটি সহিহ"।
(খণ্ড: ١٥) আত-তালিক আলা আল-আরবাঈন ফিত-তাসাউউফ লিস-সুলামী - জিমনা আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ৩৭২)
مداخل الأبرار، فإن كلمتي سبقت لمن حَسُن خلقه، أظِلُّه تحت عرشي وأُسكنه حظيرة قدسي، وأُدْنيه من جواري".

قال المعلمي:

في سنده ثلاثة في نَسَق ضعفاء جدًّا.

الأول: أبو أمية إسماعيل بن يعلى الثقفي. قال فيه ابن معين: "متروك الحديث"، وقال البخاري: "سكتوا عنه". وراجع "لسان الميزان" ج 1 ص 445(1).

الثاني: سليمان بن(2) الربيع النهدي. تركه الدارقطني وقال: "ضعيف". راجع "لسان الميزان" ج 3 ص 91(3).

الثالث: كادح بن رحمة. قال فيه ابن عدي: "أحاديثه غير محفوظة ولا يُتابع في أسانيده ولا في متونه". وقال الحاكم وأبو نعيم: "روى عن مِسْعر والثوري أحاديث موضوعة". راجع "لسان الميزان" ج 4 ص 480(4)(5).

--------------------------------------------

(1) (2/ 186).

(2) وقع في الأصل: "بن أبي" سبق قلم.

(3) (4/ 152).

(4) (6/ 407).

(5) ذكر السخاوي في تخريجه (3) أن كادحًا ضعيف جدًّا لكن لم ينفرد به، فقد رواه الطبراني في "الأوسط" وعنه أبو نعيم في "الأربعين".

قال الطبراني: لا يروى عن النبي صلى الله عليه وسلم إلا بهذا الإسناد.

قال: ومداره على إسماعيل بن يعلى بن أُمية، وهو ضعيف عندهم.
নেককারদের প্রবেশপথ। নিশ্চয়ই আমার বাণী তার জন্য নির্ধারিত হয়েছে যার চরিত্র সুন্দর; আমি তাকে আমার আরশের নিচে ছায়া দেব এবং তাকে আমার পবিত্র বেষ্টনীতে (হাযিরাতুল কুদস) স্থান দেব এবং তাকে আমার সান্নিধ্যে নিয়ে আসব।"

মুয়াল্লিমী বলেছেন:

এর সনদে (বর্ণনাসূত্রে) ধারাবাহিকভাবে তিনজন অত্যন্ত দুর্বল বর্ণনাকারী রয়েছেন।

প্রথমজন: আবু উমাইয়্যা ইসমাঈল বিন ইয়ালা আস-সাকাফী। তার ব্যাপারে ইবনে মাঈন বলেছেন: "তিনি পরিত্যক্ত হাদিস বর্ণনাকারী (মাতরুকুল হাদিস)", এবং বুখারী বলেছেন: "মুহাদ্দিসগণ তার ব্যাপারে নিরব থেকেছেন"। দেখুন: "লিসানুল মিজান" ১ম খণ্ড, ৪৪৫ পৃষ্ঠা(১)।

দ্বিতীয়জন: সুলাইমান বিন(২) আর-রাবী আল-নাহদী। দারাকুতনী তাকে পরিত্যাগ করেছেন এবং বলেছেন: "তিনি দুর্বল"। দেখুন: "লিসানুল মিজান" ৩য় খণ্ড, ৯১ পৃষ্ঠা(৩)।

তৃতীয়জন: কাদিহ বিন রাহমাহ। তার ব্যাপারে ইবনে আদী বলেছেন: "তার বর্ণিত হাদিসগুলো সংরক্ষিত নয় এবং তার সনদ বা মতনের কোনো সমর্থন পাওয়া যায় না"। হাকেম ও আবু নুআইম বলেছেন: "তিনি মিসআর ও সাওরী থেকে জাল হাদিস বর্ণনা করেছেন"। দেখুন: "লিসানুল মিজান" ৪র্থ খণ্ড, ৪৮০ পৃষ্ঠা(৪)(৫)।

--------------------------------------------

(১) (২/ ১৮৬)।

(২) মূল পাণ্ডুলিপিতে "বিন আবি" এসেছে, যা অনবধানবশত কলমের ভুল ছিল।

(৩) (৪/ ১৫২)।

(৪) (৬/ ৪০৭)।

(৫) সাখাভী তার তাখরীজে (৩) উল্লেখ করেছেন যে, কাদিহ অত্যন্ত দুর্বল, তবে তিনি এই বর্ণনায় একক নন। তাবারানী এটি "আল-আওসাত" গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং তার থেকে আবু নুআইম এটি "আল-আরবাঈন" গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।

তাবারানী বলেছেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এই সনদ ছাড়া অন্য কোনোভাবে এটি বর্ণিত হয়নি।

তিনি বলেন: এই বর্ণনার পুরো ভিত্তি হলো ইসমাঈল বিন ইয়ালা বিন উমাইয়্যা, আর তিনি মুহাদ্দিসগণের নিকট দুর্বল।
(খণ্ড: ١٥) আত-তালিক আলা আল-আরবাঈন ফিত-তাসাউউফ লিস-সুলামী - জিমনা আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ৩৭৩)
‌‌[4] باب فيمن تخلّى من جميع ماله ثقةً بالله عز وجل

أخبرنا أبو الحسن محمد [بن محمد بن الحسن] بن الحارث الكارزي أنا علي بن عبد العزيز ثنا أبو نعيم الفضل بن دُكين ثنا هشام بن سعد عن زيد بن أسلم عن أبيه قال:

سمعت عمر يقول: أمرنا رسول الله صلى الله عليه وسلم أن نتصدق، فوافق ذلك مالًا كان عندي، فقلت: اليوم أسبق أبا بكر إن سبقته، فجئت بنصف مالي، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "ماذا أبقيتَ لأهلك؟ " قلت: مثله. وأتى أبو بكر بكل ما عنده فقال: "يا أبا بكر، ماذا أبقيتَ لأهلك؟ " قال: اللهَ ورسولَه، قلت: لا أسابقك إلى شيء أبدًا.

قال المعلمي:

الحديث في "سنن أبي داود" ج 4 ص 235(1) في كتاب الردة(2)، و"سنن الترمذي" ج 2 ص 292(3). وقال: "حديث حسن صحيح"، و"المستدرك" ج 1 ص 414 وقال: "صحيح على شرط مسلم" وأقرّه الذهبي(4)(5).

--------------------------------------------

(1) (1678). كتب المؤلف فوقها بقلم الرصاص: "الهند سنة 1371" يقصد تاريخ طبعة السنن التي يعزو إليها.

(2) "في كتاب الردة" ملحقة بقلم الرصاص بخط المؤلف.

(3) (3675). كتب المؤلف فوقها بقلم الرصاص: "مصر سنة 1393" يشير إلى سنة طبع نسخته من الترمذي.

(4) قال السخاوي: مسلم لم يخرج لهشام بن سعد أصلًا، إنما أخرج له متابعة. لكن قال البزّار (1/ 394): وهشام لم أر أحدًا يتوقّف في حديثه لعلّة توجب التوقّف. وكتب المؤلف بعده بقلم الرصاص: "قلت: لا أسابقك إلى شيء أبدًا".

(5) وأخرج الحديث الدارمي في "مسنده" (1701)، وابن أبي عاصم (1240)، والضياء في "المختارة"، وغيرهم.
[৪] আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার প্রতি পূর্ণ আস্থা রেখে নিজের সমস্ত সম্পদ উৎসর্গ করা বিষয়ক অধ্যায়

আবু হাসান মুহাম্মাদ [ইবন মুহাম্মাদ ইবন হাসান] ইবন আল-হারিস আল-কারিযী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আলী ইবন আব্দুল আযীয আমাদের জানিয়েছেন, আবু নুআইম আল-ফাদল ইবন দুকাইন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, হিশাম ইবন সা’দ যায়দ ইবন আসলাম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:

আমি উমরকে বলতে শুনেছি: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সদকা করার নির্দেশ দিলেন। তখন আমার কাছে কিছু সম্পদ ছিল। আমি মনে মনে বললাম, 'আমি যদি আবু বকরকে কোনোদিন ছাড়িয়ে যেতে পারি, তবে আজই ছাড়িয়ে যাব।' তাই আমি আমার অর্ধেক সম্পদ নিয়ে আসলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "তুমি তোমার পরিবারের জন্য কী অবশিষ্ট রেখেছ?" আমি বললাম: সমপরিমাণ। আর আবু বকর তাঁর কাছে থাকা সমস্ত সম্পদ নিয়ে আসলেন। তিনি বললেন: "হে আবু বকর, তুমি তোমার পরিবারের জন্য কী অবশিষ্ট রেখেছ?" তিনি বললেন: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে। আমি (উমর) বললাম: আমি কখনও কোনো বিষয়ে আপনার সাথে প্রতিযোগিতায় জিততে পারব না।

মুয়াল্লিমী বলেন:

হাদীসটি 'সুনান আবু দাউদ' খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ২৩৫(১) 'কিতাবুর রিদ্দাহ'-তে(২) এবং 'সুনান তিরমিযী' খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ২৯২(৩) এ রয়েছে। তিনি (তিরমিযী) বলেছেন: "হাদীসটি হাসান সহীহ", এবং 'আল-মুস্তাদরাক' খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৪১৪ এ রয়েছে এবং তিনি (হাকিম) বলেছেন: "এটি মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ" আর যাহাবী এটি সমর্থন করেছেন(৪)(৫)।

--------------------------------------------

(১) (১৬৭৮)। লেখক এর ওপর পেন্সিল দিয়ে লিখেছেন: "ভারত, ১৩৭১ সন"। এর মাধ্যমে তিনি যে সুনানের সংস্করণ থেকে উদ্ধৃত করেছেন তার মুদ্রণকাল বুঝিয়েছেন।

(২) "কিতাবুর রিদ্দাহ-তে" কথাটি লেখকের হস্তাক্ষরে পেন্সিল দিয়ে যুক্ত করা হয়েছে।

(৩) (৩৬৭৫)। লেখক এর ওপর পেন্সিল দিয়ে লিখেছেন: "মিসর, ১৩৯৩ সন"। এটি তাঁর নিকট থাকা তিরমিযীর কপির মুদ্রণকাল নির্দেশ করে।

(৪) সাখাভী বলেন: ইমাম মুসলিম মূলত হিশাম ইবন সা’দ থেকে কোনো বর্ণনা গ্রহণ করেননি, বরং কেবল মুতাবাহ (সমর্থনমূলক বর্ণনা) হিসেবে গ্রহণ করেছেন। কিন্তু বাযযার (১/ ৩৯৪) বলেন: হিশাম এমন ব্যক্তি যার হাদীসের ব্যাপারে সংশয় তৈরি করে এমন কোনো ত্রুটি আমি কাউকে উল্লেখ করতে দেখিনি। লেখক এরপর পেন্সিল দিয়ে লিখেছেন: "আমি (উমর) বললাম: আমি কখনও কোনো বিষয়ে আপনার সাথে প্রতিযোগিতায় পারব না।"

(৫) আর দারিমী তাঁর 'মুসনাদ' (১৭০১), ইবন আবি আসিম (১২৪০), যিয়া আল-মাকদিসী 'আল-মুখতারাহ' গ্রন্থে এবং অন্যান্যরা হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ١٥) আত-তালিক আলা আল-আরবাঈন ফিত-তাসাউউফ লিস-সুলামী - জিমনা আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ৩৭৪)
‌‌[5] باب في جواز الكرامات للأولياء

أخبرنا محمد بن محمد بن يعقوب الحافظ ثنا أحمد بن عبد الوارث بن جرير العسال بمصر أنا الحارث بن مسكين أنا ابن وهب أخبرني يحيى بن أيوب عن ابن عجلان عن نافع:

عن ابن عمر أن عمر رضي الله عنه بعث جيشًا فأمَّر عليهم رجلًا يدعى سارية، فبينما عمر يخطب فجعل يصيح: يا ساريةَ الجبل، يا ساريةَ الجبل. فقَدِم رسولٌ من الجيش، فقال: يا أمير المؤمنين لقينا عدونا فهزمونا، فإذا صائح يصيح: يا سارية الجبل، فأسندنا ظهورنا إلى الجبل فهزمهم الله تعالى، فقلنا لعمر: كنت تصيح بذلك.

قال ابن عجلان: وحدثني إياس بن معاوية بن قرة أنا عمر بن أحمد بن عثمان بن شاهين ثنا عبد الله بن سليمان بن الأشعث ثنا أيوب بن محمد الوزان ثنا خطاب بن سلمة الموصلي ثنا عمر(1) بن أبي الأزهر عن مالك بن أنس عن نافع:

عن ابن عمر أن عمر رضي الله عنه خطب يومًا بالمدينة فقال: يا سارية الجبل من استرعى الذئب فقد ظلمه، فقيل: يذكر السارية والسارية بالعراق فقال الناس لعلي رضي الله عنه: ما سمعت [عمر](2) يقول: يا سارية وهو يخطب على المنبر؟ فقال: ويحكم دعوا عمر فإنه ما دخل في شيء إلا خرج منه، فلم يلبث إلا يسيرًا حتى قدم سارية فقال: سمعت صوتَ عمرَ فصعدت الجبلَ.

--------------------------------------------

(1) في المصادر: "عمرو". وعمرو بن الأزهر ممن رُمي بالوضع.

(2) في المطبوعة "عمن" والتصحيح من هامشها.
[৫] অধ্যায়: ওলিদের কারামত বৈধ হওয়া প্রসঙ্গে

মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন ইয়াকুব আল-হাফিয আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন আহমদ বিন আব্দুল ওয়ারিস বিন জারীর আল-আসসাল মিশরে আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আল-হারিস বিন মিসকীন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন ইবনুল ওয়াহাব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন ইয়াহইয়া বিন আইয়ুব আমাকে ইবনে আজলান থেকে, তিনি নাফে থেকে সংবাদ দিয়েছেন:

ইবনে উমর থেকে বর্ণিত যে, উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) একটি সেনাবাহিনী পাঠালেন এবং সারিয়াহ নামক এক ব্যক্তিকে তাদের আমির নিযুক্ত করলেন। উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) যখন খুতবা দিচ্ছিলেন, তখন তিনি চিৎকার করে বলতে লাগলেন: হে সারিয়াহ, পাহাড়! হে সারিয়াহ, পাহাড়! এরপর সেনাবাহিনী থেকে একজন বার্তাবাহক আসলেন এবং বললেন: হে আমীরুল মুমিনীন, আমরা আমাদের শত্রুর মুখোমুখি হয়েছিলাম এবং তারা আমাদের পরাজিত করছিল, তখন হঠাৎ একজন আহ্বানকারীর আওয়াজ শোনা গেল: হে সারিয়াহ, পাহাড়! তখন আমরা পাহাড়ের দিকে আমাদের পিঠ দিয়ে অবস্থান নিলাম এবং আল্লাহ তাআলা তাদের পরাজিত করলেন। তখন আমরা উমরকে বললাম: আপনি এটি বলে চিৎকার করছিলেন।

ইবনে আজলান বলেন: আইয়াস বিন মুয়াবিয়া বিন কুররাহ আমাকে বর্ণনা করেছেন, উমর বিন আহমদ বিন উসমান বিন শাহীন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আব্দুল্লাহ বিন সুলাইমান বিন আল-আশআস আমাদের বর্ণনা করেছেন, আইয়ুব বিন মুহাম্মদ আল-ওয়াযান আমাদের বর্ণনা করেছেন, খাত্তাব বিন সালামাহ আল-মুসিলী আমাদের বর্ণনা করেছেন, উমর(১) বিন আবি আল-আজহার আমাদের মালেক বিন আনাস থেকে, তিনি নাফে থেকে বর্ণনা করেছেন:

ইবনে উমর থেকে বর্ণিত যে, উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) একদিন মদিনায় খুতবা দিচ্ছিলেন, তখন তিনি বললেন: হে সারিয়াহ, পাহাড়! যে ব্যক্তি নেকড়েকে রাখাল নিযুক্ত করে সে তার ওপর জুলুম করল। তখন বলা হলো: তিনি সারিয়াহর কথা বলছেন অথচ সারিয়াহ ইরাকে। লোকজন আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে বললেন: আপনি কি উমরকে মিম্বারে খুতবা দেওয়ার সময় ‘হে সারিয়াহ’ বলতে শুনেছেন? তিনি বললেন: তোমাদের দুর্ভোগ হোক! উমরকে ছেড়ে দাও, কারণ তিনি কোনো কিছুতে প্রবেশ করলে তা থেকে সফলভাবেই বের হয়ে আসেন। এরপর অল্প সময় অতিবাহিত হতেই সারিয়াহ আসলেন এবং বললেন: আমি উমরের কণ্ঠস্বর শুনেছিলাম, তাই আমি পাহাড়ের উপর উঠেছিলাম।

--------------------------------------------

(১) উৎসসমূহে রয়েছে: "আমর"। আর আমর বিন আল-আজহার তাদের অন্তর্ভুক্ত যাদের বিরুদ্ধে হাদীস জাল করার অভিযোগ রয়েছে।

(২) মুদ্রিত সংস্করণে "আম্মান" রয়েছে, সংশোধনটি এর পার্শ্বটিকা থেকে নেওয়া হয়েছে।
(খণ্ড: ١٥) আত-তালিক আলা আল-আরবাঈন ফিত-তাসাউউফ লিস-সুলামী - জিমনা আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ৩৭৫)
قال المعلمي:

القصة بالسند الأول أخرجها البيهقي في "الدلائل"(1) وجماعة، ذكر ذلك ابن حجر في ترجمة سارية من "الإصابة"(2) وقال: "وهذا إسناد حسن". وفي السند يحيى بن أيوب الغافقي صدوق يخطئ لا يحتجّ بما ينفرد به. راجع ترجمته في "الميزان" ج 3 ص 282(3)، و"تهذيب التهذيب" ج 11 ص 186.

ورويت القصة من وجوه أخرى ضعيفة كما في "الإصابة".

وأما السند الثاني(4) ففيه خطاب بن سلمة وشيخه لم أعرفهما(5).

* * * *

 

‌‌[6] باب استعمال مكارم الأخلاق والحث على الإنفاق كراهية الادخار والوقوف عند الشبهات

أخبرنا إبراهيم بن أحمد بن محمد بن رجاء ثنا أبو الطيب الزراد المنبجي، ثنا هلال بن العلاء ثنا عمر بن حفص ثنا حوشب ومطر عن الحسن:

عن عمران بن حصين قال: أخذ رسول الله صلى الله عليه وسلم بطرف عمامتي من ورائي ثم قال: يا عمران، إن الله يحب الإنفاق ويبغض الإقتار، فكُلْ وأطعم ولا تصره صرًّا

--------------------------------------------

(1) (6/ 370) من طريق السلمي. وذكر الحافظ معه اللالكائي في "شرح السنة" والديرعاقولي في "فوائده" وابن الأعرابي في "كرامات الأولياء".

(2) (3/ 6).

(3) (4/ 362).

(4) أخرجه اللالكائي في "كرامات الأولياء" (67)، والخطيب في "الرواة عن مالك".

(5) وللقصة شواهد أخرى. انظر "المقاصد الحسنة" (ص 474).
মুআল্লিমি বলেন:

প্রথম সনদের বর্ণনাটি বায়হাকি "দালাইল" গ্রন্থে(১) এবং একদল (মুহাদ্দিস) বর্ণনা করেছেন। ইবনে হাজার "আল-ইসাবাহ" গ্রন্থে সারিয়ার জীবনীতে এটি উল্লেখ করেছেন(২) এবং বলেছেন: "এই সনদটি হাসান (উত্তম)।" উক্ত সনদে ইয়াহইয়া ইবনে আইয়ুব আল-গাফেকি রয়েছেন; তিনি সত্যবাদী তবে ভুল করেন, তাই তিনি এককভাবে কোনো বর্ণনা করলে তা দলিল হিসেবে গ্রহণীয় নয়। তার জীবনীর জন্য দেখুন "মিজান" ৩য় খণ্ড ২৮২ পৃষ্ঠা(৩), এবং "তাহজিবুত তাহজিব" ১১তম খণ্ড ১৮৬ পৃষ্ঠা।

বর্ণনাটি অন্যান্য দুর্বল সূত্রেও বর্ণিত হয়েছে, যেমনটি "আল-ইসাবাহ" গ্রন্থে রয়েছে।

আর দ্বিতীয় সনদের(৪) ব্যাপারে কথা হলো, এতে খাত্তাব ইবনে সালামাহ এবং তার উস্তাদ রয়েছেন, যাদের আমি চিনতে পারিনি(৫)।

* * * *

 

‌‌[৬] অধ্যায়: উত্তম চারিত্রিক গুণাবলি অবলম্বন, ব্যয় করার প্রতি উৎসাহিতকরণ, সঞ্চয় করার প্রতি অনীহা এবং সন্দেহপূর্ণ বিষয়াবলির নিকট বিরত থাকা

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবরাহিম ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে রাজা, তিনি বলেন—আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবুুত তায়্যিব আজ-জাররাদ আল-মানবিজি, তিনি বলেন—আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন হিলাল ইবনে আল-আলা, তিনি বলেন—আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন উমর ইবনে হাফস, তিনি বলেন—আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন হাউশাব ও মাতার, তারা হাসান থেকে বর্ণনা করেছেন:

ইমরান ইবনে হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পেছন থেকে আমার পাগড়ির এক প্রান্ত ধরলেন, অতঃপর বললেন: হে ইমরান! নিশ্চয়ই আল্লাহ দান করাকে পছন্দ করেন এবং কৃপণতাকে ঘৃণা করেন। সুতরাং তুমি নিজে খাও এবং অন্যকে খাওয়াও, আর তা শক্তভাবে আটকে রেখো না (জমিয়ো না)।

--------------------------------------------

(১) (৬/ ৩৭০) সুলামির সূত্রে। হাফেজ (ইবনে হাজার) এর সাথে লালকায়ি "শারহুস সুন্নাহ" গ্রন্থে, দাইরাকুলী তার "ফাওয়াইদ" গ্রন্থে এবং ইবনুল আরাবি "কারামাতুল আউলিয়া" গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন।

(২) (৩/ ৬)।

(৩) (৪/ ৩৬২)।

(৪) এটি লালকায়ি "কারামাতুল আউলিয়া" (৬৭) এবং খাতিব "আর-রুওয়াত আন মালিক" গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।

(৫) এই ঘটনার আরও অন্যান্য সাক্ষ্যমূলক বর্ণনা (শাওয়াহিদ) রয়েছে। দেখুন "আল-মাকাসিদ আল-হাসানাহ" (পৃষ্ঠা ৪৭৪)।
(খণ্ড: ١٥) আত-তালিক আলা আল-আরবাঈন ফিত-তাসাউউফ লিস-সুলামী - জিমনা আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ৩৭৬)
فيعسر عليك الطلب، واعلم أن الله يحب البصر النافذ عند مجيء الشبهات، والعقل الكامل عند نزول الشهوات، ويحب السماحة ولو على تمرات، ويحب الشجاعة ولو على قتل حية.

قال المعلمي:

الحديث في "كنز العمال" ج 3 ص 313، نسَبه إلى "تاريخ ابن عساكر"(1) فقط، وقد تقدم في الأمر السادس من المقدمة(2) قول السيوطي: إن ما كان كذلك فهو ضعيف.

وفي السند عمر بن حفص لم أعرفه، وفي الضعفاء بهذا الاسم جماعة، والله أعلم(3).

* * * *

 

‌‌[7] باب في صفة المؤمنين وصفة العلماء

أخبرنا أحمد بن محمد القحطي التاجر ثنا محمد بن أحمد بن ثوبان ثنا محمد بن إسماعيل الصائغ ثنا أبو الصلت الهروي ثنا يوسف بن عطية عن قتادة عن الحسن:

--------------------------------------------

(1) (52/ 138).

(2) (ص 7).

(3) والحديث أخرجه البيهقي في "الزهد"، وأبو نعيم في "الأربعين".

 

قال البيهقي: تفرّد به عمر بن حفص. وقال السخاوي في "تخريجه": "لكن العلاء والد هلال قال فيه أبو حاتم: "منكر الحديث، ضعيف" وقال ابن حبان: "لا يجوز الاحتجاج به، وكذا ضعَّفوا شيخه عمر بن حفص. وأما رواية الحسن عن عمران فجزم ابن معين وابن المديني وأبو حاتم وآخرون بأنه لم يسمع منه وهو المعتمد".
যাতে আপনার জন্য অনুসন্ধান কঠিন হয়ে পড়ে। আর জেনে রাখুন যে, আল্লাহ তাআলা সংশয় উপস্থিত হওয়ার সময় তীক্ষ্ণ দৃষ্টি এবং প্রবৃত্তি জাগ্রত হওয়ার সময় পূর্ণ বুদ্ধি পছন্দ করেন; তিনি উদারতা পছন্দ করেন এমনকি তা সামান্য কয়েকটি খেজুরের বিনিময়ে হলেও এবং তিনি সাহসিকতা পছন্দ করেন এমনকি তা একটি সাপ মারার ক্ষেত্রে হলেও।

মুয়াল্লিমি (রহ.) বলেন:

হাদিসটি 'কানযুল উম্মাল'-এর ৩য় খণ্ড, ৩১৩ পৃষ্ঠায় রয়েছে। লেখক একে কেবল 'তারিখু ইবনি আসাকির'(১)-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেছেন। আর ভূমিকার ষষ্ঠ পরিচ্ছেদে(২) সুয়ূতী (রহ.)-এর বক্তব্য ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে যে: যা এমন হবে তা যঈফ (দুর্বল)।

আর বর্ণনাসূত্রে (সনদে) উমর ইবনুল হাফস রয়েছেন যাকে আমি চিনি না। দুর্বল বর্ণনাকারীদের মধ্যে এই নামে একদল লোক রয়েছে। আর আল্লাহই ভালো জানেন(৩)।

* * * *

 

‌‌[৭] মুমিনদের বৈশিষ্ট্য ও আলেমদের বৈশিষ্ট্য বিষয়ক অধ্যায়

আহমদ ইবনে মুহাম্মাদ আল-কাহতী আত-তাজির আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট মুহাম্মাদ ইবনে আহমদ ইবনে সাওবান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাইল আস-সায়িগ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আবুস সালত আল-হারাওয়ী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট ইউসুফ ইবনে আতিয়্যাহ বর্ণনা করেছেন কাতাদাহ থেকে, তিনি হাসান (বাসরী) থেকে বর্ণনা করেন:

--------------------------------------------

(১) (৫২/ ১৩৮)।

(২) (পৃষ্ঠা ৭)।

(৩) হাদিসটি বায়হাকী 'আয-যুহদ' গ্রন্থে এবং আবু নুআইম 'আল-আরবাঈন' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।

 

বায়হাকী বলেন: উমর ইবনুল হাফস এটি বর্ণনায় একক হয়ে গেছেন। সাখাবী তাঁর 'তাখরীজ' গ্রন্থে বলেন: "কিন্তু হিলাল-এর পিতা আল-আলা সম্পর্কে আবু হাতিম বলেছেন: 'মুনকারুল হাদিস, দুর্বল'। ইবনে হিব্বান বলেছেন: 'তার দ্বারা দলিল পেশ করা বৈধ নয়'। একইভাবে তারা তার উস্তাদ উমর ইবনুল হাফসকেও দুর্বল বলেছেন। আর ইমরান (রা.)-এর সূত্রে হাসান (বাসরী)-এর বর্ণনার ব্যাপারে ইবনে মাঈন, ইবনুল মাদীনী, আবু হাতিম এবং অন্যান্যরা দৃঢ়তার সাথে বলেছেন যে, তিনি তাঁর থেকে সরাসরি শোনেননি এবং এটিই নির্ভরযোগ্য মত।"
(খণ্ড: ١٥) আত-তালিক আলা আল-আরবাঈন ফিত-তাসাউউফ লিস-সুলামী - জিমনা আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ৩৭৭)
عن أنس رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ليس الإيمان بالتمنّي ولا بالتحلِّي ولكن ما وَقَر في القلب وصدَّقه العمل، والعلم علمان: علم باللسان وعلم بالقلب، فعلم القلب النافع وعلم اللسان حجة الله على ابن آدم.

قال المعلمي:

في سنده ضعيفان:

الأول: أبو الصلت الهروي، واسمه عبد السلام بن صالح، أثنى عليه ابن معين ووهّنه الأكثرون. قال النسائي: "ليس بثقة"، وقال أبو حاتم: "لم يكن بصدوق وهو ضعيف" وضرب أبو زرعة على حديثه وقال: لا أحدِّث عنه ولا أرضاه. راجع "الميزان" ج 2 ص 139(1)، و"تهذيب التهذيب" ج 6 ص 319، وفيه ج 7 ص 388 عدة مناكير الحَمْلُ فيها على أبي الصلت. وراجع كتاب ابن أبي حاتم ج 3 قسم 1 ص 48 رقم 357.

والثاني: يوسف بن عطية بن ثابت الصفّار. قال فيه ابن معين وأبو داود "ليس بشيء" وقال [ص 4] البخاري: "منكر الحديث" وقال أبو حاتم وأبو زرعة والعجلي والدارقطني: "ضعيف الحديث". وراجع ترجمته في "تهذيب التهذيب" ج 11 ص 418.

والحديث قطعتان:

الأولى: إلى قوله: "وصدّقه العمل" ذكرها السيوطي مفردة في "الجامع الصغير"(2) ونَسَبها إلى "تاريخ ابن النجّار" و"مسند الفردوس"، وقد مرّ في

--------------------------------------------

(1) (3/ 330).

(2) (5/ 355 ــ مع شرحه "فيض القدير").
আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ঈমান কেবল আকাঙ্ক্ষা বা বাহ্যিক সাজসজ্জার নাম নয়, বরং ঈমান হলো যা অন্তরে প্রোথিত হয় এবং আমল বা কর্ম যা একে সত্যয়ন করে। আর ইলম বা জ্ঞান দুই প্রকার: রসনার জ্ঞান এবং অন্তরের জ্ঞান। অন্তরের জ্ঞানই হলো উপকারী জ্ঞান, আর রসনার জ্ঞান হলো আদমসন্তানের বিরুদ্ধে আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রমাণ।

মুআল্লিমি বলেন:

এর সানাদে (বর্ণনাসূত্রে) দুইজন দুর্বল বর্ণনাকারী রয়েছেন:

প্রথমজন: আবুস সালত আল-হারাউয়ী, যার নাম হলো আবদুস সালাম বিন সালিহ। ইবনে মাঈন তার প্রশংসা করেছেন, তবে অধিকাংশ মুহাদ্দিস তাকে দুর্বল বলেছেন। আন-নাসায়ী বলেন: "সে নির্ভরযোগ্য নয়।" আবু হাতিম বলেন: "সে সত্যবাদী ছিল না এবং সে দুর্বল।" আবু যুরআহ তার হাদীসগুলো কেটে দিয়েছেন এবং বলেছেন: "আমি তার থেকে বর্ণনা করি না এবং তার প্রতি আমি সন্তুষ্ট নই।" দেখুন: "আল-মিজান" ২য় খণ্ড, ১৩৯ পৃষ্ঠা(১), এবং "তাহযীবুত তাহযীব" ৬ষ্ঠ খণ্ড, ৩১৯ পৃষ্ঠা; সেখানে ৭ম খণ্ডের ৩৮৮ পৃষ্ঠায় বেশ কিছু 'মুনকার' (অগ্রহণযোগ্য) বর্ণনা রয়েছে যেগুলোর দায়ভার আবুস সালতের ওপর বর্তায়। আরও দেখুন ইবনে আবু হাতিমের কিতাব ৩য় খণ্ড, ১ম অংশ, ৪৮ পৃষ্ঠা, নম্বর ৩৫৭।

দ্বিতীয়জন: ইউসুফ বিন আতিয়্যাহ বিন সাবিত আস-সাফফার। তার সম্পর্কে ইবনে মাঈন এবং আবু দাউদ বলেছেন "সে কিছুই নয়।" [৪ পৃষ্ঠা] বুখারী বলেছেন: "সে মুনকারুল হাদীস (প্রত্যাখ্যাত হাদীস বর্ণনাকারী)।" আবু হাতিম, আবু যুরআহ, ইজলী এবং দারা কুতনী বলেছেন: "সে হাদীসের ক্ষেত্রে দুর্বল।" "তাহযীবুত তাহযীব" ১১শ খণ্ড, ৪১৮ পৃষ্ঠায় তার জীবনী দেখুন।

হাদীসটি দুটি অংশে বিভক্ত:

প্রথম অংশ: "এবং আমল যা একে সত্যয়ন করে" পর্যন্ত; সুয়ূতী এটি "আল-জামি আস-সাগীর"-এ(২) পৃথকভাবে উল্লেখ করেছেন এবং একে "তারিখ ইবনুন নাজ্জার" ও "মুসনাদুল ফিরদাউস"-এর সাথে সম্বন্ধযুক্ত করেছেন। ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে

--------------------------------------------

(১) (৩/ ৩৩০)।

(২) (৫/ ৩৫৫ — এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ "ফয়দুল কদীর" সহ)।
(খণ্ড: ١٥) আত-তালিক আলা আল-আরবাঈন ফিত-তাসাউউফ লিস-সুলামী - জিমনা আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ৩৭৮)
الأمر السادس من المقدمة(1) ما يعلم منه أن مثل ذلك ضعيف.

القطعة الثانية: قوله: "العلم علمان … " إلخ نسبها في "الجامع الصغير"(2) إلى ابن أبي شيبة والحكيم الترمذي، وأنها عندهما عن الحسن البصري مرسلًا، ونسبَها أيضًا إلى "تاريخ بغداد"، وأنها فيه من حديث جابر. وفي شرح الجامع الصغير ج 2 ص 439: "قال المنذري: حديث صحيح" يعني القطعة الثانية، والله أعلم.

ثم رأيت القطعة الثانية في "تاريخ بغداد" ج 3 ص 346 من طريق يحيى بن يمان عن هشام عن الحسن عن جابر. والحديث في مصنّف ابن أبي شيبة رواه عن ابن نُمير عن هشام عن الحسن مرسلًا، وهذا أصحّ، يحيى بن يمان تغيّر حفظه وكثر خطاؤه، كما في ترجمته من "تهذيب التهذيب" ج 11 ص 306، وعبد الله بن نُمير أثبت منه بكثير، انظر ترجمته في "تهذيب التهذيب" ج 6 ص 57(3).

* * * *

 

‌‌[8] باب في الاكتفاء من الدنيا بأقلّ القليل وكراهية مخالطة الأغنياء

أخبرنا إبراهيم بن أحمد بن محمد البزاري أنا الحسن بن سفيان ثنا مخلد بن محمد ثنا سعيد بن محمد الوراق عن صالح بن حسان الأنصاري عن عروة:

عن عائشة رضي الله عنها قالت: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "إن أردْتِ اللحوق بي فليكْفِك من الدنيا بقدر زاد الراكب، وإياك ومخالطة الأغنياء".

--------------------------------------------

(1) (ص 367).

(2) (4/ 512 ــ مع شرحه).

(3) وانظر تخريج السخاوي (7).
ভূমিকার ষষ্ঠ বিষয়টি হলো(১) যা থেকে জানা যায় যে এই ধরণের বর্ণনা দুর্বল।

দ্বিতীয় অংশ: তাঁর বাণী: "ইলম দুই প্রকার..." ইত্যাদি। একে 'আল-জামি আস-সগির'(২) গ্রন্থে ইবনে আবি শায়বাহ এবং হাকিম তিরমিযির দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে এবং এটি তাঁদের নিকট হাসান বসরী থেকে মুরসাল হিসেবে বর্ণিত। তিনি একে 'তারিখে বাগদাদ'-এর দিকেও সম্বন্ধযুক্ত করেছেন এবং সেখানে এটি জাবির-এর হাদীস হিসেবে বর্ণিত। এবং জামি আস-সগিরের ব্যাখ্যাগ্রন্থে ২য় খণ্ড, ৪৩৯ পৃষ্ঠা: "মুনযিরি বলেছেন: হাদীসটি সহীহ" অর্থাৎ দ্বিতীয় অংশটি, আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

অতঃপর আমি দ্বিতীয় অংশটি 'তারিখে বাগদাদ'-এ ৩য় খণ্ড, ৩৪৬ পৃষ্ঠায় ইয়াহইয়া বিন ইয়ামান থেকে, তিনি হিশাম থেকে, তিনি হাসান থেকে, তিনি জাবির থেকে—এই সূত্রে দেখেছি। আর ইবনে আবি শায়বাহর মুসান্নাফ-এ হাদীসটি ইবনে নুমাইর থেকে, তিনি হিশাম থেকে, তিনি হাসান থেকে মুরসাল হিসেবে বর্ণিত হয়েছে, এবং এটিই অধিকতর বিশুদ্ধ। ইয়াহইয়া বিন ইয়ামানের মুখস্থশক্তি পরিবর্তিত হয়ে গিয়েছিল এবং তার ভুল বেড়ে গিয়েছিল, যেমনটি 'তাহযিবুত তাহযিব' গ্রন্থে ১১তম খণ্ড, ৩০৬ পৃষ্ঠায় তার জীবনীতে বর্ণিত হয়েছে। আর আবদুল্লাহ বিন নুমাইর তার চেয়ে অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য; তার জীবনী দেখুন 'তাহযিবুত তাহযিব'-এ ৬ষ্ঠ খণ্ড, ৫৭ পৃষ্ঠায়(৩)।

* * * *

 

‌‌[৮] পরিচ্ছেদ: দুনিয়া থেকে অতি সামান্যতে তুষ্ট থাকা এবং ধনীদের সাথে মেলামেশার অপছন্দনীয়তা

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবরাহীম বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-বাযারি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাসান বিন সুফিয়ান, তিনি বলেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মুখাল্লাদ বিন মুহাম্মদ, তিনি বলেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন সাঈদ বিন মুহাম্মদ আল-ওয়াররাক, তিনি সলিহ বিন হাসসান আল-আনসারি থেকে, তিনি উরওয়াহ থেকে:

আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "যদি তুমি আমার সাথে মিলিত হতে চাও, তবে দুনিয়া থেকে একজন আরোহীর পাথেয় পরিমাণ তোমার জন্য যথেষ্ট হওয়া উচিত। আর ধনীদের সাথে মেলামেশা থেকে বেঁচে থাকো।"

--------------------------------------------

(১) (৩৬৭ পৃষ্ঠা)।

(২) (৪/ ৫১২ — এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ সহ)।

(৩) এবং সাখাভির তাখরীজ দেখুন (৭)।
(খণ্ড: ١٥) আত-তালিক আলা আল-আরবাঈন ফিত-তাসাউউফ লিস-সুলামী - জিমনা আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ৩৭৯)
قال المعلمي:

في سنده صالح بن حسّان قال فيه الإمام أحمد وابن معين: "ليس بشيء"، وقال البخاري وأبو حاتم: "منكر الحديث". راجع "تهذيب التهذيب" ج 4 ص 384.

والحديث ذكره ابن الجوزي في "الموضوعات"(1) وأعلّه بصالح بن حسان. راجع "اللآلئ المصنوعة" ج 2 ص 173(2).

وأخرجه الحاكم في "المستدرك" ج 4 ص 312 من وجهٍ آخر عن سعيد بن محمد الورّاق عن صالح بن حسّان وقال: "صحيح الإسناد" تعقّبه الذهبي فقال: "قلت: الورّاق عدم" يعني أنه شديد الضَّعْف.

أقول: وصالح بن حسّان مثله أو أضعف.

أخرجه الترمذي في آخر كتاب اللباس(3) وقال: "هذا حديث غريب لا نعرفه إلا من حديث صالح بن حسّان، سمعت محمدًا يقول: صالح بن حسّان منكر الحديث، وصالح بن [أبي] حسّان الذي روى عنه ابنُ أبي ذئب ثقة … إلخ.

* * * *

--------------------------------------------

(1) (1618).

(2) (2/ 323).

(3) (1780).
মুআল্লিমি বলেন:

এর সনদে সালিহ ইবনু হাসান রয়েছেন। তাঁর সম্পর্কে ইমাম আহমাদ ও ইবনু মাঈন বলেছেন: "তিনি কিছুই নন", এবং বুখারি ও আবু হাতিম বলেছেন: "মুনকারুল হাদিস"। দেখুন "তাহযীবুত তাহযীব" ৪র্থ খণ্ড, ৩৮৪ পৃষ্ঠা।

আর হাদিসটি ইবনুল জাওযী "আল-মাওদুআত"(১) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং সালিহ ইবনু হাসানের কারণে একে ত্রুটিযুক্ত সাব্যস্ত করেছেন। দেখুন "আল-লাআলী আল-মাসনুআহ" ২য় খণ্ড, ১৭৩ পৃষ্ঠা(২)।

হাকিম একে "আল-মুসতাদরাক" গ্রন্থে (৪র্থ খণ্ড, ৩১২ পৃষ্ঠা) অন্য একটি সূত্রে সাঈদ ইবনু মুহাম্মাদ আল-ওয়াররাক হতে, তিনি সালিহ ইবনু হাসান থেকে—এই সনদে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: "সনদটি সহীহ"। আয-যাহাবী এর সমালোচনা করে বলেছেন: "আমি বলি: ওয়াররাক অস্তিত্বহীন (পরিত্যক্ত)", অর্থাৎ তিনি অত্যন্ত দুর্বল।

আমি বলছি: সালিহ ইবনু হাসানও তাঁর মতোই অথবা তাঁর চেয়েও বেশি দুর্বল।

তিরমিযী একে কিতাবুল লিবাসের (পোশাক অধ্যায়) শেষে বর্ণনা করেছেন(৩) এবং বলেছেন: "এটি একটি গরীব হাদিস, আমরা কেবল সালিহ ইবনু হাসানের সূত্রেই এটি চিনি। আমি মুহাম্মাদকে বলতে শুনেছি: সালিহ ইবনু হাসান মুনকারুল হাদিস, আর সালিহ ইবনু [আবি] হাসান যাঁর থেকে ইবনু আবি যিব বর্ণনা করেছেন, তিনি নির্ভরযোগ্য (সিকাহ) … ইত্যাদি।

* * * *

--------------------------------------------

(১) (১৬১৮)।

(২) (২/ ৩২৩)।

(৩) (১৭৮০)।
(খণ্ড: ١٥) আত-তালিক আলা আল-আরবাঈন ফিত-তাসাউউফ লিস-সুলামী - জিমনা আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ৩৮০)
‌‌[9] باب في القناعة

أخبرنا أبو العباس محمد بن يعقوب الأصم ثنا الربيع بن سليمان ثنا أسد بن موسى ثنا أبو بكر الداهري ثنا ثور(1) بن يزيد عن خالد بن مهاجر:

عن ابن عمر رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "ابنَ آدم عندك ما يكفيك وأنت تطلب ما يطغيك، ابنَ آدم لا بقليل تقنع ولا من كثير تشبع، إذا أصبحتَ معافًى في جسمك، آمنا في سِرْبك، عندك قوت يومك؛ فعلى الدنيا العفاء".

قال المعلمي:

في سنده أبو بكر الداهري، واسمه عبد الله بن حكيم، قال فيه الإمام أحمد وابن المديني: "ليس بشيء"، وقال ابن معين والنسائي: "ليس بثقة". وراجع ترجمته في "لسان الميزان" ج 3 ص 277(2)، والحديث في "كنز العمال" [7081](3) منسوبًا إلى "كامل ابن عديّ"(4) وغيره(5).

* * * *

 

‌‌[10] باب في طلب المدعين بصحة دعواهم

أخبرنا علي بن الفضل بن محمد بن عقيل ثنا محمد بن عبد الله بن سليمان

--------------------------------------------

(1) (ط): "سرير" والتصحيح من هامشها كما في نسخة من الأربعين.

(2) (4/ 464).

(3) تركه المؤلف بياضًا، فأضفنا الرقم.

(4) (4/ 140).

(5) والحديث أخرجه الطبراني في "الأوسط" (8875) والبيهقي في "الشعب" (9876) ولكنه عند الطبراني من حديث عمر، فإن كان كذلك فهو منقطع، وللحديث شواهد.
‌[৯] অল্পে তুষ্টির অধ্যায়

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-আব্বাস মুহাম্মদ বিন ইয়াকুব আল-আসিম, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন রাবি বিন সুলাইমান, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আসাদ বিন মুসা, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর আদ-দাহিরি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাওর(১) বিন ইয়াজিদ, খালিদ বিন মুহাজির থেকে বর্ণিত:

ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "হে আদম সন্তান! তোমার নিকট যা পর্যাপ্ত রয়েছে তা তোমার কাছে আছে, অথচ তুমি তা অনুসন্ধান করছ যা তোমাকে উদ্ধত করবে। হে আদম সন্তান! তুমি অল্পে তুষ্ট হও না এবং অধিক পেয়েও তৃপ্ত হও না। যখন তুমি সকালে সুস্থ শরীরে উপনীত হও, তোমার পরিবার-পরিজনের মধ্যে নিরাপদ থাকো এবং তোমার নিকট একদিনের খাদ্য থাকে; তবে দুনিয়ার (বাকি সব কিছুর) ওপর ধুলো পড়ুক।"

আল-মুআল্লিমি বলেছেন:

এর সনদে আবু বকর আদ-দাহিরি রয়েছেন, তার নাম আবদুল্লাহ বিন হাকিম। ইমাম আহমাদ ও ইবনুল মাদিনি তার সম্পর্কে বলেছেন: "তিনি কিছুই নন", এবং ইবনে মায়িন ও নাসায়ি বলেছেন: "তিনি নির্ভরযোগ্য নন"। লিসানুল মিজান ৩য় খণ্ড, ২৭৭ নং পৃষ্ঠায়(২) তার জীবনী দেখে নিন। হাদিসটি "কানজুল উম্মাল" [৭০৮১](৩) গ্রন্থে "কামিল ইবনে আদি"(৪) ও অন্যদের(৫) বরাতে উল্লেখ করা হয়েছে।

* * * *

 

‌‌[১০] দাবিদারদের নিকট তাদের দাবির সত্যতার প্রমাণ চাওয়ার অধ্যায়

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আলি বিন আল-ফদল বিন মুহাম্মদ বিন আকিল, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন সুলাইমান

--------------------------------------------

(১) (ত): "সারির" এবং সংশোধনটি এর পার্শ্বটিকা থেকে নেওয়া হয়েছে যেমনটি আরবাঈন-এর একটি পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে।

(২) (৪/ ৪৬৪)।

(৩) লেখক এটি খালি রেখেছিলেন, তাই আমরা সংখ্যাটি যোগ করেছি।

(৪) (৪/ ১৪০)।

(৫) হাদিসটি তাবারানি "আল-আওসাত" (৮৮৭৫) এবং বায়হাকি "আশ-শুআব" (৯৮৭৬) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, তবে তাবারানির বর্ণনায় এটি ওমরের হাদিস থেকে এসেছে, আর যদি তা-ই হয় তবে সেটি বিচ্ছিন্ন; হাদিসটির আরও অন্যান্য সমর্থক বর্ণনা রয়েছে।
(খণ্ড: ١٥) আত-তালিক আলা আল-আরবাঈন ফিত-তাসাউউফ লিস-সুলামী - জিমনা আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ৩৮১)
الحضرمي ثنا محمد بن العلاء ثنا زيد ثنا ابن لهيعة ثنا خالد بن يزيد السكسكي عن سعيد بن أبي هلال عن محمد بن أبي الجهم:

عن الحارث بن مالك رضي الله عنه أنه مرّ برسول الله صلى الله عليه وسلم فقال له: "كيف أصبحت يا حارثة"، فقال أصبحت مؤمنًا حقًّا، فقال: "انظر ما تقول إن لكل حق حقيقة، فما حقيقة إيمانك؟ " قال: عَزفَتْ نفسي عن الدنيا كأني أنظر إلى أهل الجنة يتزاورون، وكأني أنظر إلى أهل النار يتضاغون، فقال: "يا حارثة عرفت فالزم" قالها ثلاثًا.

قال المعلمي:

في سنده ابن لهيعة واسمه عبد الله مشهور بالضعف، راجع ترجمته في "تهذيب التهذيب" ج 5 ص 373.

وللحديث طُرق أخرى(1). راجع "الإصابة"(2) ترجمة الحارث بن مالك بن قيس، وفيها عن ابن صاعد: "هذا الحديث لا يثبت موصولًا".

* * * *

[11] باب المجاهدة في استواء السر مع الظاهر

أخبرنا أبو عمرو محمد بن محمد بن أحمد الرازي ثنا علي بن سعيد العسكري ثنا عباد بن الوليد ثنا أبو شيبان كثير بن شيبان ثنا الربيع بن بدر عن راشد بن محمد قال:

قال ابن عمر رضي الله عنهما: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "أشدّ الناس عذابًا يوم القيامة من يرى الناس فيه خيرًا ولا خير فيه".

--------------------------------------------

(1) فقد رُوي من حديث أنس بن مالك، ومن مرسل زيد السلمي وزبيد اليامي. راجع تخريج السخاوي (10).

(2) (1/ 596).
আল-হাদরামি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি মুহাম্মাদ বিন আল-আলা থেকে, তিনি যাইদ থেকে, তিনি ইবনে লাহিয়া থেকে, তিনি খালিদ বিন ইয়াজিদ আস-সাকসাকি থেকে, তিনি সাঈদ বিন আবি হিলাল থেকে, তিনি মুহাম্মাদ বিন আবু আল-জাহম থেকে বর্ণনা করেছেন:

হারিস বিন মালিক রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন তিনি তাঁকে বললেন: "হে হারিসা, তোমার সকাল কেমন হলো?" তিনি বললেন, "আমি সত্যকার মুমিন হিসেবে সকাল করেছি।" তিনি বললেন: "ভেবে দেখো তুমি কী বলছ, কারণ প্রতিটি সত্যের একটি হাকিকত বা বাস্তবতা থাকে। তোমার ঈমানের হাকিকত কী?" তিনি বললেন: "আমার নফস দুনিয়া থেকে বিমুখ হয়ে গেছে, এখন আমার কাছে মনে হয় যেন আমি জান্নাতবাসীদের দেখছি তারা একে অপরের সাথে সাক্ষাৎ করছে, আর যেন আমি জাহান্নামীদের দেখছি তারা আর্তনাদ করছে।" তখন তিনি বললেন: "হে হারিসা, তুমি চিনতে পেরেছ, অতএব এর ওপর অটল থাকো।" তিনি কথাটি তিনবার বললেন।

মুআল্লিমি বলেন:

এর সানাদে ইবনে লাহিয়া রয়েছেন, যাঁর নাম আবদুল্লাহ। তিনি যয়ীফ বা দুর্বল হিসেবে সুপরিচিত। তাঁর জীবনী দেখুন "তহজিবুত তহজিব", খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ৩৭৩-এ।

হাদীসটির অন্যান্য সূত্রও রয়েছে(১)। দেখুন "আল-ইসাবাহ"(২) হারিস বিন মালিক বিন কাইস-এর জীবনী, সেখানে ইবনে সায়েদ থেকে বর্ণিত হয়েছে: "এই হাদীসটি মুত্তাসিল বা অবিচ্ছিন্ন হিসেবে প্রমাণিত নয়।"

* * * *

[১১] পরিচ্ছেদ: গোপন ও প্রকাশ্য অবস্থার সমতা অর্জনে সাধনা করা

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আমর মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ আর-রাজি, তিনি আলী বিন সাঈদ আল-আসকারি থেকে, তিনি আব্বাদ বিন আল-ওয়ালিদ থেকে, তিনি আবু শায়বান কাসীর বিন শায়বান থেকে, তিনি রাবী বিন বদর থেকে, তিনি রাশিদ বিন মুহাম্মাদ থেকে বর্ণনা করেছেন:

ইবনে উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "কিয়ামতের দিন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে কঠিন শাস্তির সম্মুখীন হবে সেই ব্যক্তি, যাকে মানুষ কল্যাণবান মনে করত অথচ তার মধ্যে কোনো কল্যাণ ছিল না।"

--------------------------------------------

(১) এটি আনাস বিন মালিক-এর হাদীস থেকে এবং যাইদ আস-সুলামি ও জুবাইদ আল-ইয়ামির মুরসাল বর্ণনা থেকে বর্ণিত হয়েছে। দেখুন সাখাভী-এর তাখরিজ (১০)।

(২) (১/ ৫৯৬)।
(খণ্ড: ١٥) আত-তালিক আলা আল-আরবাঈন ফিত-তাসাউউফ লিস-সুলামী - জিমনা আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ৩৮২)
قال المعلمي:

الحديث في "الجامع الصغير" مع شرحه ج 1 ص 203 ونَسَبه إلى هذا الكتاب "الأربعين للسلمي" وإلى "مسند الفردوس". قال الشارح: "وهو حديث ضعيف. وصاحب الفرودس متأخر فلعلّه إنما أخذه من هذا الكتاب، فيكون مما انفرد به المؤلف.

وفي سند المؤلف: الربيع بن بدر، ضعيف جدًّا، راجع ترجمته في "تهذيب التهذيب" ج 3 ص 239.

* * * *

 

‌‌[12] باب المواظبة على الذكر والشكر والصبر

أخبرنا أبو عمرو محمد بن جعفر بن مطر ثنا آدم بن موسى الولاهنجي ثنا محمود بن غيلان ثنا المؤمل ثنا حماد بن سلمة عن طلق بن حبيب:

عن ابن عباس رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "أربع من أعطيهن فقد أُعْطي خيرَ الدنيا والآخرة: قلبًا شاكرًا، ولسانًا ذاكرًا، ونفسًا على البلاء صابرًا، وثقةً بما تكفّل الله".

قال المعلمي:

الحديث في "الجامع الصغير" مع الشرح ج 1 ص 178 بلفظ: " … والآخرة لسان ذاكر وقلب شاكر، وبَدَن على البلاء صابر، وزوجة لا تبغيه خونًا في نفسها". ونَسَبه إلى الطبراني في "الكبير"(1) والبيهقي في "الشعب"(2).

--------------------------------------------

(1) (11275)، وأخرجه أيضًا أبو نعيم في "الحلية": (3/ 65).

(2) (4115).
আল-মুয়াল্লিমি বলেছেন:

হাদীসটি "আল-জামি' আস-সাগীর" গ্রন্থে এর ব্যাখ্যাসহ ১ম খণ্ড, ২০৩ পৃষ্ঠায় রয়েছে এবং তিনি এটিকে এই কিতাব "আল-আরবাঈন লিস-সুলামি" এবং "মুসনাদুল ফিরদাউস"-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেছেন। ব্যাখ্যাকারী বলেছেন: "এটি একটি যঈফ (দুর্বল) হাদীস। আর 'ফিরদাউস' গ্রন্থের লেখক পরবর্তী প্রজন্মের, তাই সম্ভবত তিনি এটি এই কিতাব থেকেই গ্রহণ করেছেন, ফলে এটি লেখকের একক বর্ণনার অন্তর্ভুক্ত হবে।"

আর লেখকের সনদে রয়েছেন রাবি বিন বদর, তিনি অত্যন্ত দুর্বল (যঈফ জিদ্দান); "তাহযীবুত তাহযীব" গ্রন্থের ৩য় খণ্ড, ২৩৯ পৃষ্ঠায় তাঁর জীবনী দেখুন।

* * * *

 

‌‌[১২] যিকর, শোকর এবং ধৈর্যের ওপর অবিচল থাকার পরিচ্ছেদ

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আমর মুহাম্মদ বিন জাফর বিন মাতার, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আদম বিন মুসা আল-ওয়ালাহানজি, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মাহমুদ বিন গায়লান, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-মুআম্মিল, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ বিন সালামাহ্, তিনি তালক বিন হাবীব থেকে বর্ণনা করেন:

ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যাকে চারটি বস্তু প্রদান করা হয়েছে, তাকে দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ প্রদান করা হয়েছে: কৃতজ্ঞ অন্তর, যিকিরকারী জিহ্বা, বিপদে ধৈর্যশীল আত্মা এবং আল্লাহ যা জিম্মাদারী নিয়েছেন (রিযিক ও অন্যান্য বিষয়) তার ওপর দৃঢ় বিশ্বাস।"

আল-মুয়াল্লিমি বলেছেন:

হাদীসটি "আল-জামি' আস-সাগীর" গ্রন্থে ব্যাখ্যাসহ ১ম খণ্ড, ১৭৮ পৃষ্ঠায় এই শব্দে রয়েছে: " … এবং আখিরাত; যিকিরকারী জিহ্বা, কৃতজ্ঞ অন্তর, বিপদে ধৈর্যশীল শরীর, এবং এমন স্ত্রী যে নিজের ব্যাপারে তার সাথে খিয়ানত করতে চায় না।" তিনি একে তাবারানির "আল-কাবীর"(১) এবং বায়হাক্বির "আশ-শুআব"-এর(২) দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেছেন।

--------------------------------------------

(১) (১১২৭৫), এবং আবু নুআইম এটি "আল-হিলয়াহ" (৩/৬৫) গ্রন্থেও বর্ণনা করেছেন।

(২) (৪১১৫)।
(খণ্ড: ١٥) আত-তালিক আলা আল-আরবাঈন ফিত-তাসাউউফ লিস-সুলামী - জিমনা আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ৩৮৩)
وفي الشرح: "قال العلقمي: بجانبه علامة الحُسْن"(1).

وفي سنده المؤمّل بن إسماعيل، وثّقه ابنُ معين وضعَّفه الأكثرون لكثرة غلطه. راجع ترجمته في "تهذيب التهذيب" ج 1 ص 380.

* * * *

 

‌‌[13] باب في سبيل المنقطعين إلى الله تعالى

أخبرنا أبو الحسن محمد بن أبي الحسن بن منصور ثنا إسحاق ابن أبي حسان الأنماطي ثنا محمد بن علي بن الحسن بن شقيق ثنا إبراهيم بن الأشعث ثنا فضيل بن عياض عن هشام عن الحسن:

عن عمران بن حصين رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "من انقطع إلى الله كفاه الله كل مؤنة(2) ورزقه من حيث لا يحتسب، ومن انقطع إلى الدنيا وكلَه الله عز وجل إليها".

قال المعلمي:

الحديث في "كنز العمال" ج 2 ص 24 بلفظ: "من توكّل على الله كفاه مؤنته … " إلخ، ونَسَبه إلى الديلمي والشاشي وابن جرير(3).

وفي سند المؤلف: إبراهيم بن الأشعث خادم الفضيل غَمَزه أبو حاتم، وذكره ابن حبان في "الثقات"(4) وقال: "يغرب وينفرد فيخطئ ويخالف".

--------------------------------------------

(1) وحسَّنه السخاوي في "تخريجه" (12). وفي الباب أيضًا عن ثوبان وحذيفة.

(2) كذا في (ط) وأشار في هامشها إلى نسخة بـ"مؤونته".

(3) ليس في "مسند الشاشي" المطبوع، وليس في "تفسير الطبري" ولا "تهذيب الآثار" المطبوع.

(4) (8/ 66).
ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে: "আলকামি বলেছেন: এর পাশে হাসান বা উত্তম হওয়ার চিহ্ন রয়েছে"(১)।

এর সনদে মুআম্মাল বিন ইসমাইল রয়েছেন, ইবনে মাঈন তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন এবং অধিকাংশ মুহাদ্দিস তার ভুলত্রুটির আধিক্যের কারণে তাকে দুর্বল বলেছেন। তার জীবনী দেখুন "তাহযিবুত তাহযিব", ১ম খণ্ড, ৩৮০ পৃষ্ঠা।

* * * *

 

‌‌[১৩] পরিচ্ছেদ: যারা মহান আল্লাহর প্রতি পূর্ণ নিবিষ্ট হয় তাদের পথ

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান মুহাম্মাদ বিন আবুল হাসান বিন মানসুর, তিনি বর্ণনা করেছেন ইসহাক ইবনে আবি হাসসান আল-আনমাতি থেকে, তিনি মুহাম্মাদ বিন আলি বিন হাসান বিন শাকিক থেকে, তিনি ইব্রাহিম বিন আশআস থেকে, তিনি ফুদাইল বিন ইয়াদ থেকে, তিনি হিশাম থেকে, তিনি হাসান থেকে:

ইমরান বিন হুসাইন (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি পূর্ণ নিবিষ্ট হয়, আল্লাহ তার সকল ভার বহনের জন্য যথেষ্ট হয়ে যান এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিযিক দান করেন যা সে কল্পনাও করতে পারে না। আর যে ব্যক্তি দুনিয়ার প্রতি নিবিষ্ট হয়, আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা তাকে দুনিয়ার কাছেই সপে দেন।"

মুআল্লিমি বলেন:

হাদিসটি "কানযুল উম্মাল" গ্রন্থের ২য় খণ্ড, ২৪ পৃষ্ঠায় এই শব্দে রয়েছে: "যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করে, আল্লাহ তার ভার বহনের জন্য যথেষ্ট হন..." ইত্যাদি। তিনি একে দায়লামি, শাশী এবং ইবনে জারিরের দিকে সম্বন্ধ করেছেন(৩)।

আর লেখকের সনদে রয়েছেন: ফুদাইলের খাদেম ইব্রাহিম বিন আশআস, আবু হাতিম তার সমালোচনা করেছেন, এবং ইবনে হিব্বান তাকে "আস-সিকাত" গ্রন্থে উল্লেখ করে(৪) বলেছেন: "তিনি অদ্ভুত ও একক বর্ণনা উপস্থাপন করেন, ফলে ভুল করেন এবং (অন্যান্য বর্ণনার) বিরোধিতা করেন।"

--------------------------------------------

(১) সাখাবি তার "তাখরিজ" (১২) গ্রন্থে একে হাসান বলেছেন। এই পরিচ্ছেদে সাওবান এবং হুযাইফা থেকেও বর্ণনা রয়েছে।

(২) (ত্বা) পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই আছে, এবং এর পার্শ্বটীকায় "মুউনাতুহু" পাঠ সংবলিত একটি পাণ্ডুলিপির প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।

(৩) এটি মুদ্রিত "মুসনাদুশ শাশী"-তে নেই, এবং মুদ্রিত "তাফসিরে তবারি" বা "তাহযিবুল আসার"-এও নেই।

(৪) (৮/ ৬৬)।
(খণ্ড: ١٥) আত-তালিক আলা আল-আরবাঈন ফিত-তাসাউউফ লিস-সুলামী - জিমনা আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ৩৮৪)
راجع ترجمته في "لسان الميزان" ج 1 ص 36 (‌‌1).

* * * *

 

[14] باب في تركهم الدنيا وإعراضهم عنها

أخبرنا علي بن عبد الحميد الغضائري ثنا عبد الله بن معاوية الجمحي ثنا ثابت بن يزيد عن هلال بن خباب عن عكرمة:

عن ابن عباس رضي الله عنهما: أن عمر بن الخطاب رضي الله عنه دخل على رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو على حصير قد أثر في جنبه، فقال: يا رسول الله، لو اتخذت فراشًا ألين من هذا. فقال: "ما لي وللدنيا أو ما للدنيا ولي، إنما مثلي ومثل الدنيا كراكب سار في يوم صائف، حتى أتى شجرة، فاستظلّ في ظلها ساعة، ثم راح وتركها".

قال المعلمي:

الحديث في "مسند أحمد" ج 1 ص 301(2)، و"المستدرك" ج 4 ص 304 وقال: "صحيح على شرط البخاري" وأقرَّه الذهبيّ، وأصله في "الصحيحين"(3) من رواية ابن عباس عن عمر(4).

--------------------------------------------

(1) (1/ 245). والحديث أخرجه الطبراني في "الصغير" (321) و"الأوسط" (3359)، والبيهقي في "الشُّعَب" (1044). ومع ضعف إبراهيم فإن سماع الحسن من عمران قد تقدم ما فيه في الحديث السادس.

(2) (2744).

(3) البخاري (2468)، ومسلم (1479) في الحديث الطويل في قصة تطليق النبي صلى الله عليه وسلم لنسائه.

(4) والحديث أخرجه أيضًا ابن حبان (6352)، وله شاهد من حديث ابن مسعود عند الترمذي (2377)، والحاكم (4/ 310) قال الترمذي: "حسن صحيح".
তাঁর জীবনী দেখুন "লিসানুল মিজান" ১ম খণ্ড, ৩৬ নং পৃষ্ঠায় (‌‌১)।

* * * *

 

[১৪] তাঁদের দুনিয়া ত্যাগ এবং তা থেকে বিমুখ হওয়া সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আলী ইবনে আব্দুল হামিদ আল-গাজায়েরি, তিনি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবনে মুয়াবিয়া আল-জুমাহি থেকে, তিনি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন সাবিত ইবনে ইয়াজিদ থেকে, তিনি হেলাল ইবনে খাব্বাব থেকে, তিনি ইকরিমাহ থেকে:

ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত: উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট প্রবেশ করলেন যখন তিনি একটি মাদুরের ওপর ছিলেন যা তাঁর পার্শ্বদেশে চিহ্ন ফেলে দিয়েছিল। তখন তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আপনি যদি এর চেয়ে নরম কোনো বিছানা গ্রহণ করতেন। তিনি বললেন: "দুনিয়ার সাথে আমার কীসের সম্পর্ক অথবা দুনিয়ারই বা আমার সাথে কীসের সম্পর্ক? আমার এবং দুনিয়ার উদাহরণ তো সেই আরোহীর মতো যে গ্রীষ্মের দিনে পথ চলেছে, অতঃপর সে একটি গাছের নিচে পৌঁছাল এবং সেখানে কিছুক্ষণ ছায়ায় বিশ্রাম নিল, তারপর তা ছেড়ে চলে গেল।"

মুয়াল্লিমি বলেন:

হাদীসটি "মুসনাদে আহমাদ" ১ম খণ্ড, ৩০১ নং পৃষ্ঠায়(২) এবং "আল-মুস্তাদরাক" ৪র্থ খণ্ড, ৩০৪ নং পৃষ্ঠায় রয়েছে। তিনি (হাকিম) বলেছেন: "এটি বুখারীর শর্তানুযায়ী সহীহ" এবং যাহাবী তা সমর্থন করেছেন। আর এর মূল ভিত্তি "সহীহাইন"-এ(৩) ইবনে আব্বাস থেকে উমরের বর্ণনায়(৪) রয়েছে।

--------------------------------------------

(১) (১/ ২৪৫)। হাদীসটি তাবারানি "আস-সগির" (৩২১) ও "আল-অওসাত" (৩৩৫৯) গ্রন্থে এবং বায়হাকি "আশ-শুআব" (১০৪৪) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। ইব্রাহিম দুর্বল হওয়া সত্ত্বেও ইমরানের নিকট থেকে হাসানের শ্রবণের বিষয়টি ষষ্ঠ হাদীসে ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।

(২) (২৭৪৪)।

(৩) বুখারী (২৪৬৮) এবং মুসলিম (১৪৭৯), নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কর্তৃক তাঁর স্ত্রীদের পৃথক করে রাখার (ঈলা) ঘটনার দীর্ঘ হাদীসটির মধ্যে।

(৪) হাদীসটি ইবনে হিব্বান (৬৩৫২) বর্ণনা করেছেন। আর তিরমিযী (২৩৭৭) ও হাকিম (৪/ ৩১০)-এর নিকট ইবনে মাসউদের বর্ণিত হাদীস থেকে এর একটি সমর্থনকারী বর্ণনা (শাহিদ) রয়েছে। তিরমিযী বলেছেন: "হাসান সহীহ"।
(খণ্ড: ١٥) আত-তালিক আলা আল-আরবাঈন ফিত-তাসাউউফ লিস-সুলামী - জিমনা আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ৩৮৫)
‌‌[15] باب في حب الفقراء والفقر وسؤال رسول الله صلى الله عليه وسلم إياه

أخبرنا الحسين بن علي التميمي ثنا أبو قريش محمد بن جمعة ثنا أبو سعيد الأشج، ثنا أبو خالد الأحمر عن يزيد بن سنان عن ابن المبارك عن عطاء بن أبي رباح:

عن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه قال: أَحِبَّ المساكين؛ فإني سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: "اللهم أحيني مسكينًا وأمِتْني مسكينًا واحشرني في زمرة المساكين".

قال المعلمي:

الحديث في "المستدرك" ج 4 ص 322، قال الحاكم: "صحيح الإسناد" وأقرَّه الذهبي (‌‌1).

* * * *

 

[16] باب في ترك ما لا يعنيهم من الأمور

أخبرنا أبو الحسين العطار الحافظ ببغداد ثنا محمد بن محمد بن سليمان ثنا زياد بن بارويه القصري ثنا يحيى بن المتوكل البصري ثنا يحيى بن أبي أنيسة عن الزهري عن علي بن الحسين عن [الحارث بن هشام]:

عن علي بن أبي طالب رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "من حُسْن إسلام المرء تركه ما لا يعنيه".

قال المعلمي:

في سنده يحيى بن أبي أُنَيْسَة، وهو ضعيف جدًّا. راجع ترجمته في

--------------------------------------------

(1) والحديث أخرجه ابن ماجه (4126)، والطبراني في "الدعاء" (1425) وله شواهد من حديث أنس وعبادة بن الصامت.
‌[১৫] দরিদ্রদের ভালোবাসা, দারিদ্র্য এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দারিদ্র্য কামনার অধ্যায়

হুসাইন ইবনে আলী আত-তামিমী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু কুরাইশ মুহাম্মদ ইবনে জুমুআ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, আবু সাঈদ আল-আশাজ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, আবু খালিদ আল-আহমার ইয়াজিদ ইবনে সিনান থেকে, তিনি ইবনুল মুবারক থেকে, তিনি আতা ইবনে আবি রাবাহ থেকে বর্ণনা করেন:

আবু সাঈদ আল-খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: তোমরা মিসকিনদের (দরিদ্রদের) ভালোবাসো; কেননা আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি: "হে আল্লাহ! আমাকে মিসকিন হিসেবে জীবিত রাখুন, মিসকিন হিসেবে মৃত্যু দান করুন এবং মিসকিনদের দলের অন্তর্ভুক্ত করে আমার হাশর করুন।"

মুআল্লিমি বলেন:

হাদিসটি "আল-মুস্তাদরাক" খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ৩২২-এ রয়েছে, হাকিম বলেছেন: "সনদটি সহিহ" এবং দাহাবি তা সমর্থন করেছেন (‌‌১)।

* * * *

 

[১৬] অনর্থক বিষয়সমূহ ত্যাগ করার অধ্যায়

বাগদাদের হাফেজ আবু আল-হুসাইন আল-আত্তার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সুলাইমান আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, জিয়াদ ইবনে বারওয়াইহ আল-কাসরি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, ইয়াহইয়া ইবনে আল-মুতাওয়াক্কিল আল-বাসরি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, ইয়াহইয়া ইবনে আবি আনিসা যুহরি থেকে, তিনি আলী ইবনে আল-হুসাইন থেকে, তিনি [হারিস ইবনে হিশাম] থেকে বর্ণনা করেন:

আলী ইবনে আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "ব্যক্তির ইসলামের অন্যতম সৌন্দর্য হলো তার অনর্থক বিষয়সমূহ ত্যাগ করা।"

মুআল্লিমি বলেন:

এর সনদে ইয়াহইয়া ইবনে আবি আনিসা রয়েছেন, এবং তিনি অত্যন্ত দুর্বল। তার জীবনী দেখুন

--------------------------------------------

(১) হাদিসটি ইবনে মাজাহ (৪১২৬) এবং তাবারানি "আদ-দুয়া" (১৪২৫) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং আনাস ও উবাদাহ ইবনে সামিত বর্ণিত হাদিস থেকে এর স্বপক্ষীয় বর্ণনা রয়েছে।
(খণ্ড: ١٥) আত-তালিক আলা আল-আরবাঈন ফিত-তাসাউউফ লিস-সুলামী - জিমনা আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ৩৮৬)
"تهذيب التهذيب" ج 11 ص 183(1).

والحديث في "سنن الترمذي" ج 2 ص 52(2) من طريق أخرى عن الزهري عن علي بن الحسين عن النبي صلى الله عليه وآله وسلم. وهو مرسل ولا ذِكر فيه للحارث بن هشام. والترمذي(3) من طريق أخرى عن الزهري عن أبي سلمة عن أبي هريرة … قال: "لا نعرفه إلا من حديث أبي سلمة عن أبي هريرة مرفوعًا إلا من هذا الوجه"(4).

* * * *

 

‌‌[17] باب في كتمانهم المصائب

أخبرنا أبو علي حامد بن محمد الرفاء ثنا محمد بن صالح ثنا عبد الله بن عبد العزيز حدثني أبي عن نافع:

عن ابن عمر رضي الله عنهما، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "إن من كنوز البر كتمان المصائب".

--------------------------------------------

(1) أخرجه من طريق السلمي أبو الفضل بن طاهر في "صفة التصوّف" وذكر له طرقًا أخرى إلى علي بن أبي طالب. كما ذكر السخاوي. وليس في المطبوعة (ص 154 - 155) هذا الطريق.

(2) (2318).

(3) (2317). وأخرجه ابن ماجه (3976)، وابن حبان (229).

(4) من قوله: "والترمذي من طريق … " إلى هنا مكتوب بقلم الرصاص بخط المؤلف ومكان النقاط كلمة لم تتبين لي.

والحديث رُوي عن جماعة من الصحابة نحو العشرة، انظر "تخريج السخاوي" (16) و"جامع العلوم والحكم": (1/ 287)، وكل طرقه ضعيفة ولم يصح إلا من حديث عليّ مرسلًا كما قال البخاري.
"তাহজিবুত তাহজিব" খণ্ড ১১ পৃষ্ঠা ১৮৩(১)।

এবং হাদিসটি "সুনানে তিরমিজি" খণ্ড ২ পৃষ্ঠা ৫২(২)-এ অন্য একটি সূত্রে যুহরি থেকে আলি বিন আল-হুসাইন থেকে নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) হতে বর্ণিত হয়েছে। এটি মুরসাল এবং এতে হারিস বিন হিশামের কোনো উল্লেখ নেই। এবং তিরমিজি(৩) অন্য একটি সূত্রে যুহরি থেকে আবু সালামাহ থেকে আবু হুরায়রা ... হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমরা এটি আবু সালামাহ থেকে আবু হুরায়রার হাদিস হিসেবে মারফু সূত্রে এই পথ ব্যতীত চিনি না"(৪)।

* * * *

 

‌‌[১৭] অনুচ্ছেদ: তাদের বিপদ গোপন রাখা প্রসঙ্গে

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলি হামিদ বিন মুহাম্মদ আল-রাফফা, তিনি বলেন আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন মুহাম্মদ বিন সালিহ, তিনি বলেন আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজিজ, তিনি বলেন আমার পিতা আমাকে নাফে'র সূত্রে বর্ণনা করেছেন:

ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই নেক আমলের ভাণ্ডারসমূহের অন্যতম হলো বিপদ গোপন রাখা।"

--------------------------------------------

(১) আস-সুলামির সূত্রে আবু ফজল বিন তাহির এটি "সিফাতুত তাসাউফ"-এ বর্ণনা করেছেন এবং আলি বিন আবি তালিব পর্যন্ত এর অন্যান্য সনদও উল্লেখ করেছেন। যেমনটি সাখাবি উল্লেখ করেছেন। মুদ্রিত সংস্করণে (পৃষ্ঠা ১৫৪ - ১৫৫) এই সূত্রটি নেই।

(২) (২৩১৮)।

(৩) (২৩১৭)। এবং এটি ইবনে মাজাহ (৩৯৭৬) এবং ইবনে হিব্বান (২২৯) বর্ণনা করেছেন।

(৪) "এবং তিরমিজি... এর সূত্র থেকে" এই উক্তি থেকে এখান পর্যন্ত লেখকের হস্তাক্ষরে পেন্সিল দিয়ে লেখা ছিল এবং বিন্দুগুলোর স্থানে এমন একটি শব্দ ছিল যা আমার কাছে স্পষ্ট হয়নি।

হাদিসটি প্রায় দশজন সাহাবীর একটি দলের সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, দেখুন "তাখরিজুস সাখাবি" (১৬) এবং "জামি’উল উলুম ওয়াল হিকাম": (১/ ২৮৭)। এর সকল সূত্রই দুর্বল এবং ইমাম বুখারি যেমনটি বলেছেন যে, আলি (রা.)-এর মুরসাল হাদিসটি ব্যতীত আর কোনোটিই সহিহ নয়।
(খণ্ড: ١٥) আত-তালিক আলা আল-আরবাঈন ফিত-তাসাউউফ লিস-সুলামী - জিমনা আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ৩৮৭)
قال المعلمي:

في سنده رجلان فيهما نظر.

الأول: محمد بن صالح، وهو الأشجّ الهَمَذاني، ذكره ابنُ حبّان في "الثقات"(1) وقال: "يُخطئ". وترجمته في "لسان الميزان" ج 5 ص 203(2).

الثاني: عبد الله بن عبد العزيز وهو ــ فيما أرى ــ ابن أبي روّاد، قال فيه ابنُ الجُنيد: "لا يساوي شيئًا، حدّث بأحاديث كذب" راجع "لسان الميزان"(3) ج 3 ص 3‌‌10(4).

* * * *

 

[18] باب في أحوال الاستقامة

أخبرنا محمد بن عبد الله بن إبراهيم بن عبلة ثنا إبراهيم بن علي ثنا يحيى بن يحيى أنا عبد الرحمن بن أبي الزناد عن أبيه:

عن عروة رضي الله عنه قال: قال سفيان بن عبد الله الثقفي للنبي صلى الله عليه وسلم: قل لي في الإسلام قولًا لا أسأل أحدًا بعدك، قال: "قل: آمنتُ بالله ثم استقم".

--------------------------------------------

(1) (9/ 148).

(2) (7/ 202).

(3) (3/ 310).

(4) والحديث أخرجه البيهقي في "الشعب" (9574)، والروياني في "مسنده" (1472)، وأبو نعيم في "الحلية": (8/ 197) وغيرهم. وهو حديث ضعيف بل باطل قاله أبو زرعة في "العلل" (2518). وروي الحديث من طريق جماعة من الصحابة. وانظر تخريج السخاوي (17)، و"السلسلة الضعيفة" (693).
আল-মুয়াল্লিমি বলেছেন:

এর সনদে দুজন ব্যক্তি রয়েছেন যাদের ব্যাপারে আপত্তি রয়েছে।

প্রথমজন: মুহাম্মদ বিন সালেহ, তিনি হলেন আল-আশাজ আল-হামাদানি। ইবনে হিব্বান তাকে "আস-সিকাত"(১)-এ উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: "তিনি ভুল করেন।" তার জীবনী "লিসানুল মিজান" খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ২০৩(২)-এ রয়েছে।

দ্বিতীয়জন: আবদুল্লাহ বিন আব্দুল আজিজ, এবং তিনি—আমার মতে—ইবনে আবি রাওয়াদ। ইবনুল জুনায়েদ তার সম্পর্কে বলেছেন: "তিনি কিছুই নন, তিনি মিথ্যা হাদিস বর্ণনা করেছেন।" দেখুন "লিসানুল মিজান"(৩) খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৩‌‌১০(৪).

* * * *

 

[১৮] অধ্যায়: ইস্তিকামাহ বা অবিচলতার অবস্থা প্রসঙ্গে

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন ইব্রাহিম বিন আবলাহ, তিনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইব্রাহিম বিন আলী থেকে, তিনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া বিন ইয়াহইয়া থেকে, তিনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুর রহমান বিন আবিয যিনাদ থেকে, তিনি তার পিতা থেকে:

উরওয়াহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: সুফিয়ান বিন আব্দুল্লাহ আস-সাকাফী নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বললেন: আমাকে ইসলাম সম্পর্কে এমন একটি কথা বলুন যেন আপনার পরে আর কারো কাছে জিজ্ঞাসা করতে না হয়। তিনি বললেন: "বলো: আমি আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছি, অতঃপর অবিচল থাকো।"

--------------------------------------------

(১) (৯/ ১৪৮)।

(২) (৭/ ২০২)।

(৩) (৩/ ৩১০)।

(৪) হাদিসটি আল-বায়হাকি "আশ-শুআব" (৯৫৭৪), আর-রুয়ানি তার "মুসনাদ" (১৪৭২), আবু নুআইম "আল-হিলয়াহ" (৮/ ১৯৭) এবং অন্যরা বর্ণনা করেছেন। এটি একটি দুর্বল হাদিস, বরং বাতিল; যেমনটি আবু যুরআ "আল-ইলাল" (২৫১৮)-এ বলেছেন। হাদিসটি একদল সাহাবীর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। আরও দেখুন সাখাভির তাখরিজ (১৭) এবং "আস-সিলসিলাতুদ দয়িফাহ" (৬৯৩)।
(খণ্ড: ١٥) আত-তালিক আলা আল-আরবাঈন ফিত-তাসাউউফ লিস-সুলামী - জিমনা আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ৩৮৮)
قال المعلمي:

في السند مقال وظاهره أنه مرسل. لكن الحديث أخرجه مسلم في "صحيحه"(1) ــ كتاب الإيمان ــ باب جامع وصف الإسلام، من وجهٍ آخر متصلًا.

* * * *

 

‌‌[19] باب في لبس البِذْلة من الثياب

أخبرنا محمد بن أحمد بن حمدان وأبو بكر محمد بن عبد الله بن قريش وجماعة قالوا: أنا الحسن بن سفيان ثنا ابن أبي الحواري ثنا أبو الفقير عبد العزيز بن عمير من أهل خراسان نزيل دمشق ثنا زيد ابن أبي الزرقاء ثنا جعفر بن برقان عن ميمون بن مهران عن يزيد بن الأصم:

عن عمر رضي الله عنه قال: نظر النبي صلى الله عليه وسلم إلى مصعب بن عُمير مقبلًا، عليه إهاب كَبْش قد تنطَّق به، فقال النبي صلى الله عليه وسلم: "انظروا إلى هذا الذي نوَّر(2) الله قلبَه، رأيته بين أبوين يَغْذُوانه بأطيب الطعام والشراب ولقد رأيت عليه حلة اشتراها أو شريت بمائتي درهم، فدعاه حبُّ الله وحب رسوله إلى ما ترون".

قال المعلمي:

روى المؤلف هذا الحديث من طريق الحسن بن سفيان، ثنا ابن أبي الحواري، ثنا أبو الفقير بن عمير(3) … ، وقد رواه أبو نعيم في "الحلية"

--------------------------------------------

(1) (38).

(2) (ط): "نزل". والتصحيح من هامشها كما في نسخة من الأربعين.

(3) كذا في طبعة الأربعين وهو تحريف صوابه: "ثنا إبراهيم الحوارني، ثنا أبو الفقير عبد العزيز بن عمير"، كما هو عند أبي نعيم، وقد أخرجه من طريق السلمي البيهقيُّ في "الشعب" (5779) بهذا الإسناد على الصواب.
আল-মুয়াল্লিমী বলেছেন:

সনদে আপত্তি রয়েছে এবং বাহ্যত এটি মুরসাল। তবে হাদীসটি মুসলিম তাঁর "সহীহ"-এ(১) — ঈমান অধ্যায় — ইসলামের বর্ণনার সংকলন পরিচ্ছেদে, অন্য সূত্রে মুত্তাসিল (সংযুক্ত) হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

* * * *

 

‌‌[১৯] পরিচ্ছেদ: সাধারণ বা মলিন পোশাক পরিধান করা প্রসঙ্গে

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন আহমাদ বিন হামদান, আবু বকর মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন কুরাইশ এবং একদল বর্ণনাকারী। তাঁরা বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাসান বিন সুফিয়ান, তিনি বলেন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন ইবনুল হাওয়ারী, তিনি বলেন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন খোরাসানের অধিবাসী ও দামেস্কে বসবাসকারী আবুল ফাকীর আব্দুল আজিজ বিন উমাইর, তিনি বলেন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন যায়িদ ইবনে আবিল যারকা, তিনি বলেন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন জাফর বিন বুরকান, তিনি মাইমুন বিন মিহরান থেকে, তিনি ইয়াযিদ বিন আসম্ম থেকে:

ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সামনের দিক থেকে আসা মুসআব বিন উমাইরের দিকে তাকালেন, তখন তাঁর পরনে ছিল একটি ভেড়ার চামড়া যা তিনি কোমরবন্ধ হিসেবে পরিধান করেছিলেন। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: "তোমরা এই ব্যক্তির দিকে তাকাও যার অন্তরকে(২) আল্লাহ আলোকিত করেছেন। আমি তাকে তার পিতামাতার নিকট এমন অবস্থায় দেখেছি যখন তারা তাকে সর্বোত্তম খাদ্য ও পানীয় দিয়ে প্রতিপালন করতেন। আমি তাকে এমন এক জোড়া পোশাক পরিহিত অবস্থায় দেখেছি যা দুইশ দিরহাম দিয়ে কেনা হয়েছিল। অতঃপর আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ভালোবাসা তাকে এমন অবস্থায় নিয়ে এসেছে যা তোমরা দেখছো।"

আল-মুয়াল্লিমী বলেছেন:

লেখক এই হাদীসটি হাসান বিন সুফিয়ানের সূত্রে বর্ণনা করেছেন, (তিনি বলেন) আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন ইবনুল হাওয়ারী, (তিনি বলেন) আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবুল ফাকীর বিন উমাইর(৩) … , এবং আবু নুআইম এটি "আল-হিলয়াহ" গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

(১) (৩৮)।

(২) (ত্বা): "নাযালা" (অবতরণ করেছে)। এর সংশোধনী এর পার্শ্বটীকা থেকে নেওয়া হয়েছে যেমনটি 'আল-আরবাঈন'-এর একটি পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে।

(৩) 'আল-আরবাঈন' সংস্করণে এভাবেই রয়েছে, যা মূলত একটি মুদ্রণ প্রমাদ; এর সঠিক রূপ হলো: "আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন ইবরাহীম আল-হাওরানী, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবুল ফাকীর আব্দুল আজিজ বিন উমাইর", যেমনটি আবু নুআইমের বর্ণনায় রয়েছে। বায়হাকী 'আশ-শুআব' গ্রন্থে (৫৭৭৯) আস-সুলামীর সূত্রে এই সনদটি সঠিকভাবে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ١٥) আত-তালিক আলা আল-আরবাঈন ফিত-তাসাউউফ লিস-সুলামী - জিমনা আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ৩৮৯)
ج 1 ص 108 من طريق الحسن بن سفيان، ثنا إبراهيم الحوراني، ثنا عبد العزيز بن عمير.

وابن أبي الحواري معروف واسمه أحمد بن عبد الله بن ميمون، يروي عن عبد العزيز بن عمير كما في ترجمة عبد العزيز من كتاب ابن أبي حاتم، وصفة الصفوة ج 4 ص 208.

وإبراهيم الحَوْراني معروف أيضًا، وهو إبراهيم بن أيوب، له ترجمة في كتاب ابن أبي حاتم(1)، و"تهذيب تاريخ دمشق" ج 2 ص 99(2)، وذكره ابن السمعاني في "الأنساب"(3) 180 ب، وذكره ابنُ ماكولا في "الإكمال"(4)، وله ترجمة في "لسان الميزان" ج 1 ص 36(5). وفي النسخة تخليط آخر الترجمة قوله في السطر الذي قبل الأخير "بمصر" وبعد ذلك كلمة لا محلّ لها، والسطر الأخير ابتداء ترجمة رجلٍ آخر.

فأما ابن أبي الحواري فموثّق، وأما إبراهيم بن أيوب الحوراني ففيه كلام، كما تراه في "لسان الميزان". وأما عبد العزيز بن عمير فعابدٌ لم يذكروا حاله في الرواية.

والحديث منقطع؛ لأن يزيد بن الأصم لم يثبت إدراكه لعمر بل ذكر

--------------------------------------------

(1) (2/ 88).

(2) انظر أصله "تاريخ دمشق": (6/ 358).

(3) (4/ 303).

(4) (3/ 25).

(5) (1/ 246). ولا تخليط في الطبعة المحققة.
১ম খণ্ড, ১০৮ পৃষ্ঠা, হাসান ইবনে সুফিয়ানের সূত্রে; আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন ইবরাহীম আল-হাওরানী, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আব্দুল আজীজ ইবনে উমায়ের।

ইবনুল আবিল হাওয়ারী সুপরিচিত এবং তাঁর নাম হলো আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মাইমুন। তিনি আব্দুল আজীজ ইবনে উমায়ের থেকে বর্ণনা করেন, যেমনটি ইবনে আবী হাতিমের কিতাবে আব্দুল আজীজের জীবনীতে এবং সিফাতুস সাফওয়াহ-এর ৪র্থ খণ্ড, ২০৮ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে।

ইবরাহীম আল-হাওরানীও সুপরিচিত, তিনি হলেন ইবরাহীম ইবনে আইয়ুব। ইবনে আবী হাতিমের কিতাবে তাঁর জীবনী রয়েছে(১), এবং "তাহযীবু তারিখি দামিশক" ২য় খণ্ড, ৯৯ পৃষ্ঠা(২), এবং ইবনুস সামআনী তাঁকে "আল-আনসাব"(৩) ১৮০ খ-এ উল্লেখ করেছেন, এবং ইবনু মাকুলা তাঁকে "আল-ইকমাল"(৪)-এ উল্লেখ করেছেন, এবং "লিসানুল মীযান" ১ম খণ্ড, ৩৬ পৃষ্ঠা(৫)-এ তাঁর জীবনী রয়েছে। পাণ্ডুলিপিতে জীবনীর শেষে কিছুটা ওলটপালট রয়েছে; শেষ লাইনের আগের লাইনে তাঁর বক্তব্য "মিসরে" এবং এরপর এমন একটি শব্দ রয়েছে যার কোনো প্রাসঙ্গিকতা নেই এবং শেষ লাইনটি অন্য এক ব্যক্তির জীবনীর শুরু।

ইবনুল আবিল হাওয়ারী নির্ভরযোগ্য, তবে ইবরাহীম ইবনে আইয়ুব আল-হাওরানী সম্পর্কে সমালোচনা রয়েছে, যেমনটি আপনি "লিসানুল মীযান"-এ দেখতে পাবেন। আর আব্দুল আজীজ ইবনে উমায়ের একজন আবিদ (ইবাদতগুজার), বর্ণনার ক্ষেত্রে তাঁর অবস্থা সম্পর্কে তাঁরা কিছু উল্লেখ করেননি।

হাদীসটি মুনকাতি' (বিচ্ছিন্ন); কারণ ইয়াযীদ ইবনুল আসম উমরের সাক্ষাৎ পেয়েছেন বলে প্রমাণিত নয়, বরং উল্লেখ করা হয়েছে

--------------------------------------------

(১) (২/ ৮৮)।

(২) এর মূল দেখুন "তারিখু দামিশক": (৬/ ৩৫৮)।

(৩) (৪/ ৩০৩)।

(৪) (৩/ ২৫)।

(৫) (১/ ২৪৬)। সম্পাদিত সংস্করণে কোনো ওলটপালট নেই।
(খণ্ড: ١٥) আত-তালিক আলা আল-আরবাঈন ফিত-তাসাউউফ লিস-সুলামী - জিমনা আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ৩৯০)
الواقدي كما في "تهذيب التهذيب" ج 11 ص 314 أن يزيد مات سنة 103 وعمره 73 سنة، فيكون مولده بعد وفاة عمر بمدّة.

* * * *

 

‌‌[20] باب الدليل على أن لله في الأرض أولياء وبُدَلاء

حدثنا محمد بن جعفر بن مطر ثنا أحمد بن عيسى بن هارون ثنا عمرو(1) بن يحيى ثنا العلاء بن زيدل:

عن أنس رضي الله عنه، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "بُدلاء أمتي أربعون رجلًا: اثنان وعشرون بالشام، وثمانية عشر بالعراق، كلما مات منهم واحد أبدل الله مكانه آخر، إذا جاء الأمر قُبِضوا".

قال المعلمي:

في سنده العلاء بن زيدل نسبوه إلى وضع الحديث. راجع ترجمته في "تهذيب التهذيب" ج 8 ص 182(2).

لكن جاءت في معناه روايات أخرى، راجع "اللآلئ المصنوعة" ج 2 ص 178(3).

* * * *

--------------------------------------------

(1) كذا وهو تصحيف وصوابه "عُمر".

(2) والحديث أخرجه ابن عدي: (5/ 220 - 221)، ومن طريقه ابن الجوزي في "الموضوعات" (1640) وغيرهم. قال ابن حبان عن العلاء: روى عن أنسٍ نسخةً موضوعة لا يحلّ ذكره إلا تعجُّبًا. "المجروحين": (2/ 180).

(3) (2/ 330).
আল-ওয়াকিদি যেমন 'তাহজিবুত তাহজিব' খণ্ড ১১, পৃষ্ঠা ৩১৪-এ উল্লেখ করেছেন যে, ইয়াজিদ ১০৩ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন এবং তাঁর বয়স ছিল ৭৩ বছর, সুতরাং তাঁর জন্ম উমর (রা.)-এর ইনতিকালের কিছুকাল পরে।

* * * *

 

‌‌[২০] অনুচ্ছেদ: পৃথিবীতে আল্লাহর অলি ও আবদাল থাকার প্রমাণ

মুহাম্মদ ইবনে জাফর ইবনে মাতার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আহমদ ইবনে ঈসা ইবনে হারুন থেকে, তিনি আমর(১) ইবনে ইয়াহইয়া থেকে, তিনি আল-আলা ইবনে যাইদাল থেকে:

আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমার উম্মতের আবদালগণ হলেন চল্লিশ জন পুরুষ: বাইশ জন সিরিয়ায় এবং আঠারো জন ইরাকে। যখনই তাঁদের কেউ মারা যান, আল্লাহ তাঁর স্থলে অন্য একজনকে স্থলাভিষিক্ত করেন। যখন (কিয়ামতের) আদেশ আসবে, তখন তাঁদের জান কবজ করা হবে।"

মুয়াল্লিমি বলেন:

এর সনদে আল-আলা ইবনে যাইদাল রয়েছেন, যাঁর প্রতি হাদিস জাল করার সম্বন্ধ করা হয়েছে। 'তাহজিবুত তাহজিব' খণ্ড ৮, পৃষ্ঠা ১৮২-এ তাঁর জীবনী দেখুন(২)।

তবে একই অর্থে অন্যান্য বর্ণনাও এসেছে, দেখুন 'আল-লাআলি আল-মাসনুয়াহ' খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ১৭৮(৩)।

* * * *

--------------------------------------------

(১) মূল পাঠে এভাবেই আছে, তবে এটি একটি লিখনপ্রমাদ এবং সঠিক হলো "উমর"।

(২) হাদিসটি ইবনে আদি বর্ণনা করেছেন: (৫/ ২২০ - ২২১), এবং তাঁর সূত্রে ইবনে আল-জাওজি 'আল-মাওদুআত' (১৬৪০) গ্রন্থে এবং অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন। ইবনে হিব্বান আল-আলা সম্পর্কে বলেছেন: তিনি আনাস (রা.)-এর সূত্রে একটি জাল পাণ্ডুলিপি বর্ণনা করেছেন, বিস্ময় প্রকাশ করা ছাড়া যার উল্লেখ করা বৈধ নয়। 'আল-মাজরুহিন': (২/ ১৮০)।

(৩) (২/ ৩৩০)।