(খণ্ড: ১) আত-তিবরুল মাসবুকু ফী নাসিহাতিল মুলুক (পৃষ্ঠা: -)
التبر المسبوك في نصيحة الملوك   (أبو حامد الغزالي)

القسم: السياسة الشرعية والقضاء


الكتاب: التبر المسبوك في نصيحة الملوك

المؤلف: أبو حامد محمد بن محمد الغزالي الطوسي (ت 505هـ)

ضبطه وصححه: أحمد شمس الدين

الناشر: دار الكتب العلمية، بيروت - لبنان

الطبعة: الأولى، 1409 هـ - 1988 م

عدد الصفحات: 131

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আত-তিবরুল মাসবুক ফি নাসিহাতিল মুলুক   (আবু হামিদ আল-গাজালি)

বিভাগ: শরয়ি রাজনীতি ও বিচারব্যবস্থা


গ্রন্থ: আত-তিবরুল মাসবুক ফি নাসিহাতিল মুলুক

লেখক: আবু হামিদ মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আল-গাজালি আত-তুসি (মৃত্যু: ৫০৫ হিজরি)

সম্পাদনা ও সংশোধন: আহমদ শামসুদ্দিন

প্রকাশক: দার আল-কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ, বৈরুত - লেবানন

সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৯ হিজরি - ১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৩১

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণ অনুযায়ী]

শামেলা-তে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আত-তিবরুল মাসবুকু ফী নাসিহাতিল মুলুক (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌أصول الإيمان

‌‌ابتداء قاعدة الاعتقاد الذي هو أصل الإيمان

اعلم أيها السلطان أنك مخلوق ولك خالق وهو خالق العالم وجميع ما في العالم، وأنه لا شريك له، فرد لا مثل له، كان في الأزل وليس لكونه زوال، ويكون مع الأبد وليس لبقائه فناء، وجوده في الأبد والأزل وما للعدم إليه سبيل، وهو موجود بذاته، وكل أحد محتاج إليه وليس له إلى أحد احتياج، وجوده به ووجود كل شيء به.

 

‌‌الأصل الثاني في تنزيه الخالق تعالى

إعلم أن البارئ، تعالى ذكره، ليس له صورة ولا مثل، وأنه لا ينزل ولا يحل في قالب، وأنه تعالى منزّه عن الكيف والكم، وعن لماذا وكم، وأنه لا يشبه شيئاً ولا يشبه شيء، وكلما يخطر في الوهم والخيال والفكر من التخيل والتمثيل والتكيف فانه منزّه عن ذلك، لأن ذلك من صفات المخلوقين وهو خالقها فلا يوصف بها، وأنه تعالى جدّه ليس في مكان ولا على مكان، فإن المكان لا يحصره، وكل ما في العالم فإنه تحت عرشه، وعرشه تحت قدرته وتسخيره، وأنه قبل العرش كان فترها عن المكان وليس العرش بحامل له بل العرش وحملته يحملهم لطفه وقدرته، واستواؤه على العرش كما قال، وعلى الوجه الذي قال وبالمعنى الذي أراد، استواء منزهاً عن الاستقرار والمماسة والتمكن والحلول والانتقال، وهو سبحانه فوق العرش وفوق كل شيء إلى تخوم الثرى، وهو مع ذلك قريب من كل موجود، وهو أقرب الى البعيد
‌‌ঈমানের মূলনীতিসমূহ

‌‌আকিদা বা বিশ্বাসের সেই মূলনীতির সূচনা যা ঈমানের ভিত্তি

হে সুলতান! জেনে রাখুন যে, আপনি একজন সৃষ্টি এবং আপনার একজন স্রষ্টা রয়েছেন, আর তিনি সমগ্র জগতের ও জগতের অন্তর্গত সকল কিছুর স্রষ্টা। তাঁর কোনো শরিক নেই; তিনি একক এবং তাঁর কোনো সমকক্ষ নেই। তিনি অনাদিকাল থেকে আছেন এবং তাঁর অস্তিত্বের কোনো বিনাশ নেই। তিনি অনন্তকাল থাকবেন এবং তাঁর স্থায়িত্বের কোনো লয় নেই। তাঁর অস্তিত্ব অনাদি ও অনন্ত এবং অস্তিত্বহীনতার কোনো পথ তাঁর দিকে নেই। তিনি স্বয়ং বিদ্যমান; প্রত্যেকেই তাঁর মুখাপেক্ষী, কিন্তু তিনি কারো প্রতি মুখাপেক্ষী নন। তাঁর অস্তিত্ব তাঁর মাধ্যমেই এবং প্রতিটি জিনিসের অস্তিত্ব তাঁরই দ্বারা।

 

‌‌মহান স্রষ্টার পবিত্রতা বর্ণনায় দ্বিতীয় মূলনীতি

জেনে রাখুন যে, স্রষ্টা—যাঁর মহিমা সুউচ্চ—তাঁর কোনো রূপ বা প্রতিকৃতি নেই এবং কোনো উপমা নেই। তিনি কোনো অবয়বে অবতীর্ণ হন না এবং কোনো আধারে বিলীন হন না। তিনি ধরণ ও পরিমাণ থেকে এবং কেন ও কতটা থেকে পবিত্র। তিনি কোনো কিছুর সদৃশ নন এবং কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়। কল্পনা, খেয়াল ও চিন্তায় যে ধরনের চিত্রায়ন, উপমা বা ধরণ নির্ণয়ের উদ্রেক ঘটে, তিনি তা থেকে পবিত্র। কারণ সেগুলো সৃষ্টির বৈশিষ্ট্য আর তিনি এগুলোর স্রষ্টা; তাই তাঁকে এসব বৈশিষ্ট্যে বিশেষিত করা যায় না। মহান আল্লাহ কোনো স্থানে আবদ্ধ নন এবং কোনো স্থানের ওপর নির্ভরশীল নন, কারণ স্থান তাঁকে পরিবেষ্টন করতে পারে না। জগতের সবকিছুই তাঁর আরশের নিচে অবস্থিত, আর তাঁর আরশ তাঁর ক্ষমতা ও বশ্যতার অধীন। আরশ সৃষ্টির পূর্বেও তিনি বিদ্যমান ছিলেন, তাই তিনি স্থান থেকে বিমুক্ত ছিলেন। আরশ তাঁকে ধারণ করে নেই, বরং আরশ এবং আরশ বহনকারীদের তাঁরই অনুগ্রহ ও ক্ষমতা ধারণ করে আছে। আরশের ওপর তাঁর অধিষ্ঠান ঠিক তেমনই যেমনটি তিনি বলেছেন, সেই পদ্ধতিতেই যেমনটি তিনি ব্যক্ত করেছেন এবং সেই অর্থেই যা তিনি উদ্দেশ্য করেছেন—এমন এক অধিষ্ঠান যা স্থির হওয়া, স্পর্শ করা, জাঁকিয়ে বসা, অনুপ্রবেশ করা বা স্থানান্তরিত হওয়া থেকে পবিত্র। তিনি পবিত্র সত্তা, তিনি আরশের উপরে এবং মাটির গভীরতম স্তর পর্যন্ত প্রতিটি জিনিসের উপরে। এতৎসত্ত্বেও তিনি প্রতিটি বিদ্যমান বস্তুর নিকটবর্তী এবং তিনি দূরবর্তীদের নিকট অধিক নিকটতর।
(খণ্ড: ১) আত-তিবরুল মাসবুকু ফী নাসিহাতিল মুলুক (পৃষ্ঠা: ১০)
والقريب من حبل الوريد، وهوعلى كل شيء قدير وشهيد، فعّال لما يريد لا يزال في نعوت الجمال، وصفات الجلال، منزهاً عن الزوال والانتقال، مستعيناً عن زيادة الاستكمال، وأنه منزه عن الحاجة إلى المكان قبل خلقه العرش وبعد خلقه العرش، وأنه متّصف بالصفة التي كان عليها في الأزل، ولا سبيل إلى التغير والانقلاب إلى صفاته، وهو سبحانه مقدّس عن صفات المخلوقين ومنزّه عنهم، وهو في الدنيا معلوم وفي الآخرة مرئي كما نعلمه ي الدنيا بلا مثل ولا شبيه، لأن تلك الرؤية لا تشابه رؤية الدنيا، ليس كمثله شيء وهو السميع البصير.

 

‌‌الأصل الثالث في القدرة

وأنه تعالى على كل شيء قدير وملكه في نهاية الكمال، ولا سبيل إلى العجز والنقصان بل ما شاء وما يشاء يفعل، وأن السموات السبع والأرضين السبع والكرسي والعرش في قبضة قدرته وتحت قهره وتسخيره ومشيئته، وهو مالك لا ملك إلا ملكه، تعالى عما يقول الظالمون علواً كبيراً.

 

‌‌الأصل الرابع في العلم

وأنه تعالى عالم بكل معلوم وعلمه محيط بكل شيء، فليس شيء في العلا إلى الثرى إلا قد أحاط به علمه لأن الأشياء جميعها بعلمه ظهرت وبإرادته خلقها وبقدرته كونها، وأنه تعالى يعلم عدة رمال القفار، وقطرات الأمطار، وورق الأشجار، وغوامض الأفكار، وما دارت عليه الرياح والهواء في علمه ظاهر مثل عدد نجوم السماء. وأن جميع ما في العالم بإرادته ومشيئته وليس شيء من قليل أو كثير، صغير أو كبير، خير أو شر، نفع أو
এবং তিনি জীবন-ধমনী (حبل الوريد) অপেক্ষাও নিকটবর্তী, আর তিনি সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান (قدير) ও প্রত্যক্ষদর্শী (شهيد)। তিনি যা ইচ্ছা করেন তা-ই সম্পাদনকারী (فعّال لما يريد)। তিনি সর্বদা সৌন্দর্যের গুণাবলী (نعوت الجمال) ও মহিমার গুণাবলীতে (صفات الجلال) বিদ্যমান; অবক্ষয় ও স্থান পরিবর্তন থেকে তিনি পবিত্র; এবং পূর্ণতা বৃদ্ধির মুখাপেক্ষিতা থেকে তিনি অভাবমুক্ত। আর নিশ্চয়ই তিনি আরশ সৃষ্টির পূর্বে এবং আরশ সৃষ্টির পরেও কোনো স্থানের প্রয়োজনীয়তা থেকে পবিত্র। তিনি অনাদিকালেও (الأزل) যে গুণে গুণান্বিত ছিলেন, এখনও সেই গুণেই গুণান্বিত। তাঁর গুণাবলীতে পরিবর্তন বা রূপান্তরের কোনো অবকাশ নেই। তিনি সুবহানাহু ওয়া তায়ালা সৃষ্টির গুণাবলী থেকে পবিত্র ও মুক্ত। ইহকালে তিনি পরিচিত (معلوم) এবং পরকালে তিনি দৃশ্যমান (مرئي), যেমনটি আমরা তাঁকে ইহকালে কোনো উপমা বা সাদৃশ্য ছাড়াই জানি। কারণ সেই দর্শন দুনিয়ার দর্শনের মতো নয়; তাঁর সদৃশ কেউ নেই, তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা।

 

‌‌তৃতীয় মূলনীতি: ক্ষমতা (القدرة) প্রসঙ্গে

নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান (قدير) এবং তাঁর রাজত্ব পূর্ণতার চূড়ান্ত শিখরে। সেখানে অক্ষমতা (العجز) বা ত্রুটির (النقصان) কোনো অবকাশ নেই, বরং তিনি যা চেয়েছেন এবং যা চাইবেন তা-ই করেন। নিশ্চয়ই সপ্ত আকাশ ও সপ্ত জমিন, কুরসি ও আরশ তাঁর ক্ষমতার (قدرة) মুঠোয় এবং তাঁর আধিপত্য, নিয়ন্ত্রণ ও ইচ্ছার (مشيئة) অধীন। তিনি এমন এক মালিক যে, তাঁর রাজত্ব ব্যতীত আর কোনো রাজত্ব নেই। জালিমরা যা বলে তা থেকে তিনি বহু ঊর্ধ্বে এবং সুমহান।

 

‌‌চতুর্থ মূলনীতি: জ্ঞান (العلم) প্রসঙ্গে

নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা সকল জ্ঞাত বিষয় সম্পর্কে অবগত (عالم) এবং তাঁর জ্ঞান (علم) সব কিছুকে পরিবেষ্টন করে আছে। ঊর্ধ্বজগত থেকে শুরু করে পাতাল পর্যন্ত এমন কোনো বস্তু নেই যা তাঁর জ্ঞানের (علم) আওতাভুক্ত নয়। কারণ সকল বস্তু তাঁর জ্ঞান দ্বারাই প্রকাশিত হয়েছে, তাঁর ইচ্ছা (إرادة) দ্বারাই তিনি সেগুলো সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁর ক্ষমতা (قدرة) দ্বারাই অস্তিত্ব দান করেছেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা মরুভূমির বালুকণা, বৃষ্টির ফোঁটা, বৃক্ষের পত্ররাজি এবং চিন্তার নিগূঢ় রহস্য সম্পর্কে অবগত। বায়ু ও বাতাস যা কিছুকে আবর্তন করে, তা তাঁর জ্ঞানের নিকট আকাশের নক্ষত্ররাজির সংখ্যার মতোই সুস্পষ্ট। জগতের সবকিছুই তাঁর ইচ্ছা (إرادة) ও অভিপ্রায়ে (مشيئة) সংঘটিত হয়; সামান্য হোক বা অধিক, ছোট হোক বা বড়, কল্যাণ হোক বা অকল্যাণ, উপকার হোক বা...
(খণ্ড: ১) আত-তিবরুল মাসবুকু ফী নাসিহাতিল মুলুক (পৃষ্ঠা: ১১)
ضر، زيادة أو نقصان، راحة أو تعب، صحة أو صب، إلا بحكمه وتدبيره، ومشيئته وتقديره. لو اجتمع الأنس والجن والملائكة والشياطين على أن يحرَكوا في العالم ذرة أو يسكنوها أو ينقصوا منها أو يزيدوا فيها بغير إرادته وحوله وقوته لعجزوا عن ذلك ولم يقدروا، وما شاء الله كان وما لا يشاء لا يكون، ولا ترد مشيئته ومهما كان ويكون أو هو كائن فإنه بتدبيره وأمره وتسخيره.

 

‌‌الأصل الخامس والسادس في أنه سميع بصير

وكما أنه عالم بجميع المعلومات فإنه سميع لكل مسموع، بصير لكل مبصر، وأنه بسمع واحد وبصر واحد يرى دبيب النملة في الليلة المظلمة، ولا يخفى عن سمعه صوت الدود تحت أطباق الأرض، وأن سمعه ليس بأذن وبصره ليس بعين. وكما أن علمه لا يصدر عن فكرة ففعله بغير آلة وعدة يقول للشيء كن فيكون.

 

‌‌الأصل السابع في الكلام

وأن أمره تعالى على جميع الخلق نافذ واجب مهما أخبره من وعد ووعيد فانه حق وأمره كلامه. وكما أنه عالم مريد قدير سميع بصير فهو متكلم وكلامه بغير حلق ولا لسان، ولا فم ولا أسنان، والقرآن والتوراة والإنجيل والزبور والكتب المنزَلة على الأنبياء، عليهم السلام جميعها، كلامه. وكلامه صفته وكل صفاته قديمة، وكما أن الكلام عند الآدمي حرف وصوت فكلام الله منزَه عن الأصوات والحروف.
ক্ষতি, বৃদ্ধি কিংবা হ্রাস, স্বস্তি অথবা ক্লান্তি, সুস্থতা কিংবা ব্যাধি—সবই তাঁর হুকুম, পরিচালনা, ইচ্ছা ও নির্ধারণ অনুযায়ী সংঘটিত হয়। যদি মানুষ, জিন, ফেরেশতা এবং শয়তান এই মহাবিশ্বের কোনো একটি অণু পরিমাণ বস্তুকে গতিশীল করতে কিংবা স্থির করতে অথবা তাতে কোনো হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটাতে তাঁর ইচ্ছা, শক্তি ও সামর্থ্য ব্যতীত ঐক্যবদ্ধ হয়, তবে তারা তাতে সক্ষম হবে না এবং এর ওপর তাদের কোনো ক্ষমতা থাকবে না। আল্লাহ যা ইচ্ছা করেন তা-ই হয় এবং যা তিনি ইচ্ছা করেন না তা হয় না। তাঁর ইচ্ছাকে রদ করার কেউ নেই। যা কিছু অতীতে হয়েছে, বর্তমানে হচ্ছে কিংবা ভবিষ্যতে হবে—সবই তাঁর পরিচালনা, নির্দেশ ও নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।

 

‌‌পঞ্চম ও ষষ্ঠ মূলনীতি: তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা

যেমনিভাবে তিনি সমস্ত জ্ঞাত বিষয় সম্পর্কে সম্যক পরিজ্ঞাত, তেমনিভাবে তিনি প্রতিটি শ্রবণযোগ্য বিষয় শ্রবণ করেন এবং প্রতিটি দৃশ্যমান বিষয় দর্শন করেন। তিনি তাঁর একক শ্রবণ ও একক দর্শন গুণের মাধ্যমে ঘোর অন্ধকার রজনীতে ক্ষুদ্র পিঁপড়ার পদচারণাও দেখতে পান। মাটির গভীর স্তরের নিচে কীটের শব্দও তাঁর শ্রবণের অগোচর নয়। তাঁর শ্রবণ কোনো কর্ণের মাধ্যমে নয় এবং তাঁর দর্শন কোনো চোখের সাহায্যে নয়। যেমনিভাবে তাঁর জ্ঞান কোনো চিন্তা-প্রসূত নয়, তদ্রূপ তাঁর কর্মও কোনো উপকরণ বা সরঞ্জামের মুখাপেক্ষী নয়; তিনি কোনো বিষয়কে বলেন 'হও', অমনি তা হয়ে যায়।

 

‌‌সপ্তম মূলনীতি: আল্লাহর বাণী (কালাম) প্রসঙ্গে

সমগ্র সৃষ্টির ওপর মহান আল্লাহর নির্দেশ কার্যকর ও অনিবার্য। তিনি পুরস্কারের যে প্রতিশ্রুতি ও শাস্তির যে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, তা ধ্রুব সত্য এবং তাঁর নির্দেশই হলো তাঁর কালাম। যেমনিভাবে তিনি জ্ঞানময়, ইচ্ছাশক্তি সম্পন্ন, সর্বশক্তিমান, সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা, তদ্রূপ তিনি কথা বলেন। তাঁর কথা বলা কোনো কণ্ঠনালী, জিহ্বা, মুখ কিংবা দন্তপাটির সাহায্যে নয়। কুরআন, তাওরাত, ইঞ্জিল, যাবুর এবং আম্বিয়া আলাইহিমুস সালামগণের ওপর অবতীর্ণ যাবতীয় কিতাবসমূহ তাঁরই কালাম। কালাম তাঁর একটি গুণ এবং তাঁর সকল গুণই অনাদি। মানুষের কথা যেমন বর্ণ ও শব্দের সমন্বয়ে গঠিত হয়, আল্লাহর কালাম তদ্রূপ শব্দ ও বর্ণ থেকে পবিত্র ও মুক্ত।
(খণ্ড: ১) আত-তিবরুল মাসবুকু ফী নাসিহাতিল মুলুক (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌الأصل الثامن في أفعاله تعالى

وأن جميع ما في العالم مخلوق له تعالى وليس معه شريك ولا خالق بل هو الخالق الواحد، ومهما خلقه من تعب ومرض وفقر وعجز وجهل فعدل منه، ولا يمكن الظلم في أفعاله لأن الظالم هو الذي يتصرف في ملك غيره، والخالق تعالى لا يتصرف إلا في ملكه، وليس معه مالك سواء، وكل ما يكون وهو كائن فهو ملك له، وهو المالك بلا شبيه ولا شريك، وليس لأحد عليه اعتراض بلم وكيف، ولكن له الحكم والأمر في كل أفعاله وما لأحد غير التسليم والنظر إلى صنعه والرضا بقضائه.

 

‌‌الأصل التاسع في ذكر الآخرة

وأنه تعالى خلق العالم من نوعين جسد وروح، وجعل الجسد منزلاً للروح لتأخذ زاداً لآخرتها من هذا العالم، وجعل لكل روح مدة مقدّرة تكون في الجسد، فآخر تلك المدة هو أجل تلك الروح من غير زيادة ولا نقصان، فإذا جاء الأجل فرّق بين الروح والجسد، وإذا وضع الميت في قبره أعيدت روحه إلى جسده ليجيب سؤال منكر ونكير، وهما شخصان هائلان عظيمان فيسألانه من ربك ومن نبيك فإن استعجم ولم يجب عذّباه وملآ قبره حيات وعقارب. ويوم القيامة، يوم الحساب والمكافأة والمناقشة والمجازاة، تردّ الروح إلى الجسد وتنشر الصحف وتعرض الأعمال على الخلائق، فينظر كل إنسان في كتابه فيرى أعماله، ويشاهد أفعاله، ويعلم مقدار طاعته ومعصيته، وتوزن أعماله في ميزان الأعمال ثم يؤمر بالجواز على الصراط. والصراط أدق من الشعرة وأحدّ من الشفرة فكل من كان في هذا العالم على الطريقة المستقيمة الصالحة، وسلوك المحجة الواضحة، عبر على الصراط وجازه في راحة واستراحة، وإن لم يكن على السيرة المحمودة، والأعمال الصالحة
‌অষ্টম মূলনীতি: মহান আল্লাহর কার্যাবলি প্রসঙ্গে

নিশ্চয়ই জগতের যা কিছু আছে সবই মহান আল্লাহর সৃষ্টি এবং তাঁর সাথে কোনো অংশীদার বা অন্য কোনো স্রষ্টা নেই; বরং তিনিই একমাত্র অদ্বিতীয় স্রষ্টা। তিনি ক্লান্তি, ব্যাধি, দারিদ্র্য, অক্ষমতা ও অজ্ঞতা যা কিছুই সৃষ্টি করেন না কেন, তা তাঁর পক্ষ থেকে ন্যায়বিচার। তাঁর কার্যাবলিতে কোনো জুলুম বা অবিচার সম্ভব নয়; কারণ অবিচারকারী কেবল সেই ব্যক্তি, যে অন্যের মালিকানাধীন বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে। অথচ মহান স্রষ্টা কেবল তাঁর নিজ রাজত্বেই আধিপত্য বিস্তার করেন, তাঁর সাথে অন্য কোনো মালিক নেই। যা কিছু আছে এবং যা কিছু হবে—সবই তাঁর মালিকানাধীন। তিনিই অতুলনীয় ও অংশীদারহীন মালিক। ‘কেন’ এবং ‘কীভাবে’—এমন প্রশ্ন তুলে তাঁর ওপর আপত্তি করার অধিকার কারো নেই। বরং সকল কার্যাবলিতে আদেশ ও বিধান দেওয়ার অধিকার কেবল তাঁরই; আর মানুষের দায়িত্ব হলো কেবল আনুগত্য করা, তাঁর শিল্পনৈপুণ্যের প্রতি দৃষ্টিপাত করা এবং তাঁর ফয়সালার ওপর সন্তুষ্ট থাকা।

 

‌নবম মূলনীতি: পরকাল প্রসঙ্গে

নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ জগতকে দেহ ও আত্মা—এই দুই উপাদানের সমন্বয়ে সৃষ্টি করেছেন। তিনি দেহকে আত্মার আবাসস্থল বানিয়েছেন যাতে আত্মা এই জগত থেকে পরকালের জন্য পাথেয় সংগ্রহ করতে পারে। তিনি প্রতিটি আত্মার দেহে অবস্থানের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট মেয়াদ নির্ধারণ করেছেন। সেই মেয়াদের শেষ মুহূর্তটিই হলো ওই আত্মার নির্ধারিত সময় বা মৃত্যু, যার কোনো হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটে না। যখন সেই নির্ধারিত সময় উপস্থিত হয়, তখন দেহ ও আত্মার মাঝে বিচ্ছেদ ঘটানো হয়। যখন মৃত ব্যক্তিকে তার কবরে রাখা হয়, তখন মুনকার ও নাকিরের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য তার আত্মা পুনরায় দেহে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। তাঁরা অত্যন্ত ভয়ংকর ও বিশাল আকৃতির দুই সত্তা। তাঁরা তাকে জিজ্ঞেস করবেন, "তোমার প্রতিপালক কে? এবং তোমার নবী কে?" যদি সে উত্তর দিতে অক্ষম হয় এবং কোনো উত্তর না দেয়, তবে তাঁরা তাকে শাস্তি দেবেন এবং তার কবরকে সাপ ও বিচ্ছু দিয়ে পূর্ণ করে দেবেন। আর কিয়ামত হলো হিসাব-নিকাশ, প্রতিদান, পুঙ্খানুপুঙ্খ সওয়াল-জওয়াব ও প্রতিফল প্রদানের দিন। সেদিন আত্মা পুনরায় দেহে ফিরিয়ে দেওয়া হবে, আমলনামাগুলো উন্মুক্ত করা হবে এবং সমস্ত সৃষ্টিজীবের সামনে আমলসমূহ পেশ করা হবে। তখন প্রত্যেক মানুষ তার আমলনামায় নিজ নিজ কর্ম প্রত্যক্ষ করবে এবং তার আনুগত্য ও অবাধ্যতার পরিমাণ জানতে পারবে। এরপর আমলের পাল্লায় তার কাজসমূহ ওজন করা হবে এবং তাকে পুলসিরাত অতিক্রম করার নির্দেশ দেওয়া হবে। সেই পুলসিরাত চুলের চেয়েও সূক্ষ্ম এবং তলোয়ারের চেয়েও ধারালো। সুতরাং এই দুনিয়ায় যে ব্যক্তি সঠিক ও সরল পথে এবং সুস্পষ্ট আদর্শের ওপর অটল ছিল, সে অত্যন্ত স্বাচ্ছন্দ্যে ও শান্তিতে পুলসিরাত পার হয়ে যাবে। আর যদি সে প্রশংসনীয় জীবনধারা ও সৎকর্মের ওপর প্রতিষ্ঠিত না থাকে...
(খণ্ড: ১) আত-তিবরুল মাসবুকু ফী নাসিহাতিল মুলুক (পৃষ্ঠা: ১৩)
الرشيدة وعصي مولاه، واتَبع هواه، فأنه لا يجد الطريق على الصراط ولا يهتدي إلى الجواز ويقع في جهنم. والكل يوقفون على الصراط ويُسألون عن أفعالهم؛ فيُسأل الصادقون عن صدقهم ويمتحن المراؤون والمنافقون ويفضحون، فمن الناس قوم يدخلون الجنة بغير حساب وجماعة يحاسبون بالرفق والمسامحة، وجماعة يحاسبون بالصعوبة والمناقشة والمحاققة، ثم يسحب الكفار إلى نار جهنم بحيث لا يجدون خلاصاً، ويدخل أهل الجنة ويؤمر بالعصاة إلى النار، وكل من نالته شفاعة الأنبياء والعلماء والأكابر عُفي عنه، وكل من ليس له شفيع عوقب بمقدار إثمه وعُذب بقدر جرمه، ثم يدخل الجنة إن كان قد سلم معه أيمانه.

 

‌‌الأصل العاشر في ذكر رسول الله صلى الله عليه وسلم

ولما قدّر الله تعالى هذا التقدير وجعل الإنسان وأحواله، واكتسابه وأعماله، منها ما هو سبب لسعادته، ومنها ما هو سبب لشقاوته، والإنسان لا يقدر أن يعرف ذلك من تلقاء نفسه، خلق الله تعالى، بحكم فضله ورحمته، وطوله ومنته، ملائكة وبعثهم إلى أشخاص قد حكم لهم بالسعادة في الأزل وهم الأنبياء، عليهم الصلاة والسلام، فأرسلهم إلى الخلق ليوضحوا لهم طرق السعادة والشقاوة لئلا يكون للناس على الله حجة، وأرسل نبينا محمداً صلى الله عليه وسلم آخراً، وجعله بشيراً ونذيراً، فأوصل نبوّته إلى درجة الكمال، فلم يبقَ للزيادة فيه مجال، ولهذا جعله خاتم الأنبياء فلا نبي بعده، وأمر الخلائق من الأنس والجن بطاعته واتباعه وجعله سيد الأولين والآخرين، وجعل أصحابه خير أصحاب الأنبياء، صلوات الله عليهم أجمعين.
...সঠিক পথ (الرشيدة) বর্জন করল, স্বীয় মাওলার অবাধ্য হলো এবং কুপ্রবৃত্তির (هواه) অনুসরণ করল, সে পুলসিরাতের (الصراط) ওপর সঠিক পথ খুঁজে পাবে না এবং তা অতিক্রমের (الجواز) দিশা পাবে না, ফলে সে জাহান্নামে নিপতিত হবে। সকলকেই পুলসিরাতের (الصراط) ওপর থামানো হবে এবং তাদের আমল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। সত্যবাদীদের (الصادقون) তাদের সত্যবাদিতা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে এবং রিয়াকার (المراؤون) ও মুনাফিকদের (المنافقون) পরীক্ষা করা হবে ও লাঞ্ছিত করা হবে। মানুষের মধ্যে এমন এক দল থাকবে যারা হিসাব ছাড়াই জান্নাতে প্রবেশ করবে, একদলের হিসাব অত্যন্ত কোমলতা ও ক্ষমার (بالرفق والمسامحة) সাথে নেওয়া হবে এবং অন্য একদলের হিসাব অত্যন্ত কঠোরতা, পুঙ্খানুপুঙ্খ জিজ্ঞাসাবাদ ও চুলচেরা বিশ্লেষণের (بالصعوبة والمناقشة والمحاققة) মাধ্যমে হবে। অতঃপর কাফিরদের টেনে জাহান্নামের আগুনের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে যেখানে তারা কোনো নিষ্কৃতি পাবে না। জান্নাতবাসীরা জান্নাতে প্রবেশ করবেন এবং পাপাচারীদের (العصاة) আগুনের আদেশ দেওয়া হবে। আর যারা নবীগণ (الأنبياء), ওলামায়ে কেরাম (العلماء) এবং মহান ব্যক্তিদের সুপারিশ (شفاعة) লাভ করবে, তাদের ক্ষমা করে দেওয়া হবে। যার কোনো সুপারিশকারী (شفيع) থাকবে না, তাকে তার পাপের পরিমাণ অনুযায়ী শাস্তি দেওয়া হবে এবং অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী আযাব দেওয়া হবে। অতঃপর সে জান্নাতে প্রবেশ করবে যদি তার ঈমান (إيمان) সংরক্ষিত থাকে।

 

‌‌দশম মূলনীতি: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বর্ণনায়

যখন আল্লাহ তাআলা এই নির্ধারণ (التقدير) করলেন এবং মানুষকে তার অবস্থা, উপার্জন ও কর্মসহ সৃষ্টি করলেন—যার কিছু তার সৌভাগ্যের কারণ এবং কিছু তার দুর্ভাগ্যের কারণ—আর মানুষ নিজে থেকে তা জানতে সক্ষম নয়, তখন আল্লাহ তাআলা তাঁর অনুগ্রহ, রহমত ও অসীম দানে ফেরেশতা সৃষ্টি করলেন এবং তাঁদের এমন ব্যক্তিদের নিকট প্রেরণ করলেন যাদের জন্য অনাদিকালে সৌভাগ্য নির্ধারিত ছিল, তাঁরা হলেন নবীগণ (الأنبياء), তাঁদের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক। অতঃপর তিনি তাঁদের সৃষ্টির নিকট প্রেরণ করলেন যাতে তাঁরা তাদের জন্য সৌভাগ্য ও দুর্ভাগ্যের পথসমূহ স্পষ্ট করে দেন, যেন আল্লাহর বিরুদ্ধে মানুষের কোনো অজুহাত (حجة) অবশিষ্ট না থাকে। আর তিনি আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সর্বশেষ নবী হিসেবে প্রেরণ করেছেন এবং তাঁকে সুসংবাদদাতা (بشيراً) ও সতর্ককারী (نذيراً) করেছেন। তিনি তাঁর নবুওয়াতকে (نبوّته) পূর্ণতার স্তরে পৌঁছে দিয়েছেন, ফলে এতে বৃদ্ধির আর কোনো অবকাশ নেই। এই কারণেই তাঁকে শেষ নবী (خاتم الأنبياء) করেছেন, তাঁর পর আর কোনো নবী নেই। তিনি মানব ও জিন জাতিকে তাঁর আনুগত্য ও অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছেন এবং তাঁকে পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলের নেতা (سيد الأولين والآخرين) করেছেন। আর তাঁর সাহাবীগণকে (أصحابه) সকল নবীর সাহাবীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ করেছেন, তাঁদের সকলের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১) আত-তিবরুল মাসবুকু ফী নাসিহাতিল মুলুক (পৃষ্ঠা: ১৪)
ذكر فروع شجرة الإيمان إعلم أيها السلطان أن كل ما كان في قلب الإنسان من معرفة واعتقاد فذلك أصل الإيمان، وما كان جارياً على أعضائه السبعة من الطاعة والعدل فذلك فرع الإيمان. فإذا كان الفرع ذاوياً دلّ على ضعف الأصل فإنه لا يثبت عند الموت، وعمل البدن عنوان إيمان القلب.

والأعمال التي هي فروع الإيمان هي تجنب المحارم وأداء الفرائض، وهما قسمان: أحدهما بينك وبين الله تعالى مثل الصوم والصلاة والحج والزكاة واجتناب شرب الشراب والعفة عن الحرام.

والأخرى بينك وبين الخلق وهي العدل في الرعية والكف عن الظلم.

والأصل في ذلك أن تعمل فيما بينك وبين الخالق تعالى من طاعة أمره والازدجار بزجره، وما تختار أن تعتمده عبيدك في حقك، وأن تعمل فيما بينك وبين الناس ما تؤثر أن يعمل معك من سواك إذا كان غيرك السلطان وكنت من رعيته.

واعلم أنّ ما كان بينك وبين الخالق سبحانه فإن عفوه قريب، وأما ما يتعلق بمظالم الناس فإنه لا يتجاوز به عنك على كل حال يوم القيامة وخطره عظيم ولا يسلم من هذا الخطر أحد من الملوك إلا ملك عمل بالعدل والإنصاف ليعلم كيف يطلب العدل والإنصاف يوم القيامة.

 

‌‌وأصول العدل والإنصاف عشرة

‌‌الأصل الأول من ذلك هو أن تعرف أولاً قدر الولاية وتعلم خطرها

فإن الولاية نعمة من نعم الله عز وجل، من قام بحقّها نال من السعادة ما لا نهاية له ولا سعادة بعده، ومن قصّر عن النهوض بحقها حصل في شقاوة لا شقاوة بعدها إلا الكفر بالله تعالى. والدليل على عظم قدرها، وجلالة خطرها، ما روي عن رسول الله، صلى الله عليه وسلم، أنه
ঈমানরূপ বৃক্ষের শাখা-প্রশাখার বর্ণনা। হে সুলতান! জেনে রাখুন, মানুষের অন্তরে যে জ্ঞান ও বিশ্বাস থাকে, তা-ই হলো ঈমানের মূল; আর তার শরীরের সাতটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মাধ্যমে পরিচালিত আনুগত্য ও ন্যায়বিচার হলো ঈমানের শাখা। সুতরাং শাখা যদি শুষ্ক হয়ে যায়, তবে তা মূলের দুর্বলতাকেই নির্দেশ করে, কারণ তা মৃত্যুর সময় অটল থাকে না। বস্তুত শরীরের আমলই হলো অন্তরের ঈমানের বহিঃপ্রকাশ।

আর যেসব আমল ঈমানের শাখা হিসেবে গণ্য, তা হলো নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ বর্জন এবং ফরজসমূহ আদায় করা। এগুলো দুই প্রকার: তার একটি হলো আপনার এবং মহান আল্লাহর মধ্যবর্তী বিষয়, যেমন—রোজা, নামাজ, হজ, জাকাত, মদ্যপান বর্জন এবং হারাম থেকে পবিত্র থাকা।

আর দ্বিতীয়টি হলো আপনার এবং সৃষ্টির মধ্যবর্তী বিষয়, যা হলো প্রজাদের প্রতি ন্যায়বিচার করা এবং জুলুম থেকে বিরত থাকা।

আর এর মূলনীতি হলো, আপনার এবং মহান স্রষ্টার মধ্যবর্তী বিষয়ের ক্ষেত্রে তাঁর আদেশের আনুগত্য ও তাঁর নিষেধসমূহ থেকে বিরত থাকার বিষয়ে আপনি ঠিক তেমনটিই করবেন, যেমনটি আপনি আপনার অধিকারের ক্ষেত্রে আপনার নিজের দাসদের নিকট থেকে প্রত্যাশা করেন। আর আপনার ও মানুষের মধ্যবর্তী বিষয়ের ক্ষেত্রে আপনি অন্যের পক্ষ থেকে নিজের প্রতি তেমন আচরণই পছন্দ করবেন, যেমনটি আপনি পছন্দ করতেন যদি অন্য কেউ সুলতান হতো আর আপনি তার প্রজা হতেন।

জেনে রাখুন, আপনার এবং মহান স্রষ্টার মধ্যবর্তী বিষয়ের ক্ষেত্রে তাঁর ক্ষমা অত্যন্ত নিকটবর্তী। কিন্তু মানুষের প্রতি জুলুমের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো কিয়ামতের দিন কোনো অবস্থাতেই আপনার ওপর থেকে মার্জনা করা হবে না এবং এর ঝুঁকি অত্যন্ত ভয়াবহ। এই বিপদ থেকে রাজাদের মধ্যে কেবল তিনিই রক্ষা পাবেন, যিনি ন্যায় ও ইনসাফের সাথে কাজ করেছেন, যাতে তিনি জানতে পারেন কিয়ামতের দিন কীভাবে ন্যায় ও ইনসাফ প্রার্থনা করতে হয়।

 

‌‌ন্যায় ও ইনসাফের মূলনীতি দশটি

‌‌এর প্রথম মূলনীতি হলো—আপনি প্রথমেই শাসনের মর্যাদা এবং এর ঝুঁকি সম্পর্কে অবগত হবেন

কেননা শাসনক্ষমতা হলো মহান আল্লাহর নেয়ামতসমূহের একটি। যে ব্যক্তি এর হক যথাযথভাবে আদায় করবে, সে এমন এক অফুরন্ত সৌভাগ্য লাভ করবে যার পর আর কোনো সুখ নেই। আর যে ব্যক্তি এর হক আদায়ে অবহেলা করবে, সে এমন এক দুর্ভাগ্যের শিকার হবে যার পর মহান আল্লাহর সাথে কুফরি করা ছাড়া আর কোনো বড় দুর্ভাগ্য নেই। এর মর্যাদার মাহাত্ম্য এবং এর ঝুঁকির ভয়াবহতার প্রমাণ হলো আল্লাহর রাসুল (সা.) হতে যা বর্ণিত (روي) হয়েছে যে, তিনি
(খণ্ড: ১) আত-তিবরুল মাসবুকু ফী নাসিহাতিল মুলুক (পৃষ্ঠা: ১৫)
قال: (عدل السلطان يوماً واحداً أحب إلى الله من عبادة سبعين سنة.) وقال عليه الصلاة والسلام: (إذا كان يوم القيامة لا يبقى ظل ولا ملجأ إلا ظل الله ولا يستظل بظله ألا سبعة أناس: سلطان عادل ي رعيته، وشاب نشأ في عبادة ربه، ورجل يكون في السوق وقلبه في المسجد، ورجلان تحابا في الله، ورجل ذكر الله في خلوته فأذرى دمعه من مقلته، ورجل دعته امرأة ذات حسن وجمال ومال إلى نفسها فقال إني أخاف الله، وجل يتصدق سراً بيمينه ولم تشعر بها شماله) . وقال عليه الصلاة والسلام: (أحب الناس إلى الله تعالى وأقربهم إليه السلطان العادل، وأبغضهم إليه وأبعدهم منه السلطان الجائر) .وقال عليه الصلاة والسلام: (والذي نفس محمد بيده إنه ليرفع للسلطان العادل إلى السماء من العمل مثل عمل جملة الرعية، وكل صلاة يصلّيها تعدل سبعين ألف صلاة) .

فإذا كان كذلك فلا نعمة أجلّ من أن يعطى العبد درجة السلطنة ويجعل ساعة من عمره بجميع عمر غيره، ومن لم يعرف قدر هذه النعمة واشتغل بظلمه وهواه يخاف عليه أن يجعله الله من جملة أعدائه.

ومما يدلّ على خطر الولاية ما روي عن ابن عباس أن رسول الله، صلى الله عليه وسلم، أتى بعض الأيام فلزم حقه باب الكعبة، وكان في البيت نفر من قريش فقال: (يا سادات قريش عاملوا رعاياكم وأتباعكم بثلاثة أشياء: إذا سألوكم الرحمة فارحموهم، وإذا حكموكم فاعدلوا فيهم، واعملوا بما تقولون؛ فمن لم يعمل بهذا فعليه لعنة الله وملائكته لا يقبل الله منه فرضاً ولا نفلاً) .وقال عليه الصلاة والسلام: (من حكم بين إثنين بظلم فلعنة الله على الظالمين) ، وقال عليه الصلاة والسلام: (ثلاثة لا ينظر الله إليهم: سلطان كجائز كاذب، وشيخ زانٍ، وفقير متكبر، يعني أنه متكبر للطمع) . وقال عليه الصلاة والسلام يوماً للصحابة: (سيأتي عليكم يوم تفتحون فيه جانبي الشرق والغرب ويصير في أيديكم، وكل عمال تلك الأماكن في النار إلا من اتقى الله وسلك سبيل التقوى وأدّى الأمانة) . وقال عليه الصلاة والسلام: (ما من عبد ولاّه الله أمر رعية
তিনি বলেছেন: (এক দিনের শাসকের ন্যায়বিচার (عدل) সত্তর বছরের ইবাদতের চেয়ে আল্লাহর কাছে বেশি প্রিয়।) আর তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক, তিনি বলেছেন: (যখন কিয়ামত দিবস উপস্থিত হবে, তখন আল্লাহর আরশের ছায়া ব্যতীত আর কোনো ছায়া বা আশ্রয় থাকবে না এবং সাত প্রকারের মানুষ ব্যতীত আর কেউ সেই ছায়ায় স্থান পাবে না: এমন এক ন্যায়পরায়ণ (عادل) শাসক যে তার প্রজাদের মাঝে সুবিচার করে, সেই যুবক যে তার রবের ইবাদতের মধ্য দিয়ে বড় হয়েছে, সেই ব্যক্তি যার অন্তর বাজারে থাকা অবস্থায়ও মসজিদের সাথে লেগে থাকে, সেই দুই ব্যক্তি যারা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য একে অপরকে ভালোবেসেছে, সেই ব্যক্তি যে নির্জনে আল্লাহর জিকির করেছে এবং তার চক্ষুদ্বয় থেকে অশ্রু প্রবাহিত হয়েছে, সেই ব্যক্তি যাকে কোনো রূপবতী ও ধনবতী নারী তার নিজের প্রতি আহ্বান করেছে কিন্তু সে বলেছে 'নিশ্চয়ই আমি আল্লাহকে ভয় করি', এবং সেই ব্যক্তি যে এমন গোপনে দান করেছে যে তার ডান হাত কী দান করেছে তা তার বাম হাতও জানতে পারেনি।) আর তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক, তিনি বলেছেন: (আল্লাহ তাআলার কাছে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে প্রিয় এবং তাঁর সবচেয়ে নিকটবর্তী ব্যক্তি হলো ন্যায়পরায়ণ (عادل) শাসক, আর তাঁর কাছে সবচেয়ে ঘৃণিত এবং তাঁর থেকে সবচেয়ে দূরবর্তী ব্যক্তি হলো অত্যাচারী (جائر) শাসক।) আর তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক, তিনি বলেছেন: (সেই সত্তার শপথ যার হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ! নিশ্চয়ই ন্যায়পরায়ণ (عادل) শাসকের আমল আসমানে তার সমস্ত প্রজাকুলের আমলের সমপরিমাণ মর্যাদায় উন্নীত হয় এবং সে যে প্রতিটি সালাত আদায় করে তা সত্তর হাজার সালাতের সমতুল্য ধরা হয়।)

বিষয়টি যখন এইরূপ, তখন কোনো বান্দার জন্য শাসনক্ষমতার উচ্চ মর্যাদা লাভ করা এবং তার জীবনের একটি মুহূর্ত অন্যের পুরো জীবনের সমতুল্য হওয়া অপেক্ষা শ্রেষ্ঠতর নেয়ামত আর কিছু হতে পারে না। আর যে ব্যক্তি এই নেয়ামতের গুরুত্ব বুঝল না এবং জুলুম ও প্রবৃত্তির অনুসরণে লিপ্ত হলো, তার ব্যাপারে আশঙ্কা করা যায় যে, আল্লাহ তাকে তাঁর শত্রুদের অন্তর্ভুক্ত করবেন।

আর শাসনভারের ভয়াবহতার প্রমাণ বহন করে ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত (روي) সেই বর্ণনাটি যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) কোনো একদিন কাবার দরজায় এলেন এবং সেখানে কুরাইশদের একদল লোক উপস্থিত ছিল। তখন তিনি বললেন: (হে কুরাইশ নেতৃবৃন্দ! তোমরা তোমাদের প্রজাকুল ও অনুসারীদের সাথে তিনটি বিষয়ে আচরণ করবে: যখন তারা তোমাদের কাছে করুণা প্রার্থনা করবে তখন তাদের প্রতি দয়া করবে, যখন তোমরা বিচার করবে তখন তাদের মধ্যে ন্যায়বিচার (عدل) করবে এবং যা বলবে সে অনুযায়ী আমল করবে; যে ব্যক্তি এর ওপর আমল করবে না তার ওপর আল্লাহর ও তাঁর ফেরেশতাদের অভিশাপ, আল্লাহ তার কোনো ফরজ (فرض) বা নফল (نفل) ইবাদত কবুল করবেন না।) আর তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক, তিনি বলেছেন: (যে ব্যক্তি দুই জনের মধ্যে জুলুমের সাথে বিচার করল, সেই জালিমদের ওপর আল্লাহর লানত।) আর তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক, তিনি বলেছেন: (তিন প্রকারের মানুষের দিকে আল্লাহ রহমতের দৃষ্টি দেবেন না: মিথ্যাবাদী ও অত্যাচারী (جائر) শাসক, বৃদ্ধ ব্যভিচারী এবং অহংকারী দরিদ্র ব্যক্তি, অর্থাৎ যে ব্যক্তি লোভের কারণে অহংকার করে।) আর তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক, তিনি একদিন সাহাবীদের উদ্দেশ্যে বললেন: (শীঘ্রই তোমাদের ওপর এমন এক দিন আসবে যখন তোমরা পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্ত জয় করবে এবং তা তোমাদের হস্তগত হবে; তখন সেই সব অঞ্চলের সকল কর্মচারী বা কর্মকর্তা জাহান্নামী হবে, তবে তারা ব্যতীত যারা আল্লাহকে ভয় করেছে, তাকওয়ার পথ অবলম্বন করেছে এবং আমানত রক্ষা করেছে।) আর তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক, তিনি বলেছেন: (আল্লাহ যদি কোনো বান্দাকে প্রজাসাধারণের কোনো বিষয়ের দায়িত্বভার অর্পণ করেন...
(খণ্ড: ১) আত-তিবরুল মাসবুকু ফী নাসিহাতিল মুলুক (পৃষ্ঠা: ১৬)
فغشهم ولم ينصح لهم ولم يشفق عليهم الا حرَم الله عليه الجنة) . وقال عليه الصلاة والسلام: (من ولَي أمور المسلمين ولم يحفظهم كحفظة أهل بيته فقد تبوأ مقعده من النار) . وقال عليه الصلاة والسلام: (رجلان من أمتي يحرمان شفاعتي: ملك ظالم ومبتدع غال في الدين يتعدى الحدود) . وقال عليه الصلاة والسلام: (أشدّ الناس عذاباً يوم القيامة السلطان الظالم) . وقال عليه الصلاة والسلام: (خمسة قد غضب الله عليهم إن شاء أمضى غضبه ومقرهم النار: أمير قوم يطيعونه يأخذ حقه منهم ولا ينصفهم من نفسه ولا يرفع الظلم عنهم، ورئيس قوم يطيعونه ولا يساوي بين القوي والضعيف ويحكم بالميل والمحاباة، ورجل لا يأمر أهله وأولاده بطاعة الله ولا يعلمهم أمور الدين ولا يبالي من أين أطعمهم، ورجل استأجر أجيراً فتمم عمله ومنعه أجرته، ورجل ظلم زوجته في صداقها) .

ويروى أن عمر بن الخطاب رضي الله عنه تبع يوماً جنازة فتقدم رجل فصلى عن الجنازة فلما دفن الميت وضع ذلك الرجل يده على القبر وقال: اللهم إن عذبته فبحقك لأنه عصاك وأن رحمته فإنه فقير إلى رحمتك، وطوبي لك أيها الميت إن لم تكن أميراً أو عريفاً أو كابتاً أوعوانياً أو جابياً. فلما تكلم بهذه الكلمات غاب شخصه عن عيون الناس فأمر عمر بطلبه فلم يوجد، فقال عمر: هذا الخضر عليه السلام.

وقال النبي صلى الله عليه وسلم: (ويل للأمراء وويل للعرفاء وويل للعوانية فإنهم أقوام يعلقون من السماء بذوائبهم في القيامة، ويسحبون على وجوههم إلى النار، يودون لو لم يعلموا عملاً قط) . وقال عليه الصلاة والسلام: (ما من رجل ولي أمر عشرة من الناس إلا وجيء به يوم القيامة ويداه مغلولتان إلى عنقه، فإن كان عمله صالحاً فكّ الغل عنه، وإن كان عمله سيئاً زيد عليه غل آخره) . وقال علي بن أبي طالب رضي الله عنه: ويل لقاضي الأرض من قاضي السماء حين يلقاه إلا من عدل وقضى بالحق ولم يحكم بالهوى ولم يمل مع أقاربه ولم يبدل حكماً لخوف أو طمع، لكن يجعل كتاب الله مرآته ونصب عينيه ويحكم بما فيه. وقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (يؤتى بالولاة يوم القيامة
অতঃপর সে তাদের সাথে প্রতারণা করল, তাদের কল্যাণ কামনা করল না এবং তাদের প্রতি মমতা প্রদর্শন করল না, আল্লাহ তার ওপর জান্নাত হারাম করে দেবেন। এবং তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি মুসলিমদের কোনো বিষয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করল, অথচ নিজ পরিবারের সদস্যদের ন্যায় তাদের হেফাজত করল না, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নিল।" এবং তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমার উম্মতের দুই শ্রেণীর মানুষ আমার সুপারিশ থেকে বঞ্চিত হবে: জালিম শাসক এবং দ্বীনের ব্যাপারে সীমালঙ্ঘনকারী অতিরঞ্জনকারী (غال) বিদআতপ্রবর্তনকারী (مبتدع)।" এবং তিনি (সালล์ল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "কিয়ামতের দিন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে কঠোর আজাব হবে জালিম সুলতানের।" এবং তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "পাঁচ ব্যক্তির ওপর আল্লাহ রাগান্বিত হয়েছেন, তিনি চাইলে তাঁর ক্রোধ কার্যকর করবেন এবং তাদের ঠিকানা হবে জাহান্নাম: কোনো কওমের এমন আমির যার আনুগত্য করা হয় অথচ সে তাদের নিকট থেকে নিজের হক আদায় করে নেয় কিন্তু তাদের প্রতি ইনসাফ করে না এবং তাদের থেকে জুলুম দূর করে না; কোনো কওমের এমন নেতা যার আনুগত্য করা হয় অথচ সে শক্তিশালী ও দুর্বলের মাঝে সমতা রক্ষা করে না এবং ঝোঁক ও পক্ষপাতিত্বের ভিত্তিতে ফয়সালা করে; এমন ব্যক্তি যে তার পরিবার ও সন্তানদের আল্লাহর আনুগত্যের আদেশ দেয় না এবং তাদের দ্বীনের বিষয়সমূহ শিক্ষা দেয় না এবং তারা কোথা থেকে আহার করছে সে ব্যাপারে পরোয়া করে না; এমন ব্যক্তি যে কোনো শ্রমিককে নিয়োগ দিল এবং সে কাজ সম্পন্ন করল কিন্তু সে তার মজুরি প্রদান করল না; এবং এমন ব্যক্তি যে তার স্ত্রীর মোহরানার ব্যাপারে তার ওপর জুলুম করল।"

বর্ণিত আছে যে, ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) একদিন একটি জানাজার পিছু নিলেন। তখন এক ব্যক্তি সামনে এগিয়ে জানাজা পড়ালেন। যখন মৃত ব্যক্তিকে দাফন করা হলো, সেই ব্যক্তি কবরের ওপর হাত রেখে বললেন: "হে আল্লাহ! আপনি যদি তাকে শাস্তি দেন তবে তা আপনার অধিকার বলে গণ্য, কারণ সে আপনার অবাধ্য হয়েছিল; আর যদি আপনি তাকে দয়া করেন তবে সে আপনার দয়ার মুখাপেক্ষী। হে মৃত ব্যক্তি! তোমার জন্য সুসংবাদ যদি তুমি আমির, আরিফ, কাতিব, আওয়ানি অথবা জাবি না হয়ে থাকো।" যখন সে এই কথাগুলো বলল, তখন মানুষের চোখ থেকে তার সত্তা অদৃশ্য হয়ে গেল। ওমর (রা.) তাকে খোঁজার নির্দেশ দিলেন কিন্তু তাকে পাওয়া গেল না। তখন ওমর (রা.) বললেন: "ইনি ছিলেন খিজির (আ.)।"

এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "ধ্বংস আমিরদের জন্য, ধ্বংস আরিফদের জন্য এবং ধ্বংস সাহায্যকারীদের জন্য। কারণ তারা এমন এক জাতি যাদেরকে কিয়ামতের দিন আকাশের দিক থেকে তাদের চুলের ঝুঁটি ধরে লটকানো হবে এবং তাদের চেহারার ওপর টেনে-হিঁচড়ে জাহান্নামে নিয়ে যাওয়া হবে; তারা আকাঙ্ক্ষা করবে যদি তারা কখনো কোনো দায়িত্ব গ্রহণ না করত!" এবং তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে কোনো ব্যক্তি দশজন লোকেরও দায়িত্ব গ্রহণ করল, তাকে কিয়ামতের দিন এমন অবস্থায় উপস্থিত করা হবে যে তার উভয় হাত তার ঘাড়ের সাথে শৃংখলিত থাকবে। যদি তার কাজ সৎ হয় তবে সেই শৃংখল খুলে দেওয়া হবে, আর যদি তার কাজ মন্দ হয় তবে তার শিকল আরও বৃদ্ধি করা হবে।" এবং আলী ইবনে আবি তালিব (রা.) বলেছেন: "জমিনের বিচারকের জন্য আসমানের বিচারকের পক্ষ থেকে ধ্বংস রয়েছে যখন সে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করবে; তবে সেই ব্যক্তি ছাড়া যে ইনসাফ করেছে, সত্যের সাথে ফয়সালা করেছে, প্রবৃত্তির বশবর্তী হয়ে বিচার করেনি, আত্মীয়-স্বজনের প্রতি পক্ষপাতিত্ব করেনি এবং ভয় বা লালসার কারণে হুকুম পরিবর্তন করেনি। বরং আল্লাহর কিতাবকে নিজের দর্পণ ও চোখের সামনে রেখেছে এবং তাতে যা আছে সে অনুযায়ী ফয়সালা করেছে।" এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "কিয়ামতের দিন শাসকদের উপস্থিত করা হবে"
(খণ্ড: ১) আত-তিবরুল মাসবুকু ফী নাসিহাতিল মুলুক (পৃষ্ঠা: ১৭)
فيقول الله جلّ وعلا: (أنتم كنتم رعاة خليقتي وخزنة ملكي في أرضي) . ثم يقول لأحدهم: (لم ضربت عبادي فوق الحد الذي أمرت به) . فيقول: يا رب لأنهم عصوك وخالفوك. فيقول جل جلاله: (لا ينبغي أن يسبق غضبك غضبي) . ثم يقول للآخر: (لم ضربت عبادي أقل من الحد الذي أمرت به) ؟ فيقول: يا رب رحمتهم. فيقول تعالى: (كيف تكون أرحم مني خذوا الذي زاد والذي نقص فاحشوا بهما زوايا جهنم) .

قال حذيفة بن اليمان: أنا لا أثني على أحد من الولاة سواء كان صالحاً أو غير صالح، لأني سمعت رسول الله صلي الله عليه وسلم يقول: (يؤتي بالولاة العادلين والظالمين يوم القيامة فيوقفون على الصراط فيوحي الله إلى الصراط أن ينفضهم إلى النار مثل من جار في الحكم أو أخذ رشوة على القضاء أو أعار سمعه لأحد الخصمين دون الآخر، فيسقطون من الصراط فيهوون سبعين سنة في النار حتى يصلوا إلى قرارها) . وقد جاء في الخبر أن داود عليه السلام كان يخرج ليلاً متنكراً بحيث لا يعرفه أحد، وكان يسأل كل من يلقاه عن حال داود سراً، فجاءه جبريل في صورة رجل فقال له داود: ما تقول في داود؟ فقال: نعم العبد، إلا أنه يأكل من بيت المال ولا يأكل من كدّه وتعب يديه. فعاد داود إلى محرابه باكياً حزيناً وقال: إلهي علمني صنعة آكل بها من كدي وتعب يدي. فعلمه الله تعالى صنعة الزرد.

وكان عمر بن الخطاب يخرج كل ليلة يطوف مع العسس حتى يرى خللاً يتداركه وكان يقول: لوتركت عنزاً جرباء على جانب ساقية لم تدهن لخشيت أن أسئل عنها في القيامة. فانظر أيها السلطان إلى عمر مع احتياطه وعدله وما وصل أحد إلى تقواه وصلاته كيف يتفكر ويتخوف من أهوال يوم القيامة وأنت قد جلست لاهياً عن أحوال رعيتك غافلاً عم أهل ولايتك.
মহান আল্লাহ বলবেন: (তোমরা আমার জমিনে আমার সৃষ্টির রাখাল এবং আমার রাজত্বের কোষাধ্যক্ষ ছিলে)। অতঃপর তিনি তাদের একজনকে বলবেন: (আমি যা নির্দেশ দিয়েছি, কেন তুমি আমার বান্দাদের সেই সীমার বাইরে প্রহার করেছ?) সে বলবে: হে প্রতিপালক! যেহেতু তারা আপনার অবাধ্য হয়েছে এবং আপনার বিরোধিতা করেছে। তখন আল্লাহ জল্লা জালালুহু বলবেন: (তোমার ক্রোধ আমার ক্রোধকে ছাড়িয়ে যাওয়া সমীচীন নয়)। অতঃপর তিনি অন্যজনকে বলবেন: (আমি যা নির্দেশ দিয়েছি, কেন তুমি আমার বান্দাদের সেই সীমার চেয়ে কম প্রহার করেছ?) সে বলবে: হে প্রতিপালক! আমি তাদের প্রতি দয়া করেছি। তখন আল্লাহ তাআলা বলবেন: (তুমি কীভাবে আমার চেয়ে অধিক দয়ালু হতে পারো? যে বাড়িয়ে করেছে এবং যে কমিয়ে করেছে—উভয়কেই পাকড়াও করো এবং তাদের মাধ্যমে জাহান্নামের কোণগুলো পূর্ণ করো)।

হুজাইফা ইবনুল ইয়ামান (রা.) বলেন: আমি শাসকদের কারও প্রশংসা করি না, সে সৎ (صالح) হোক কিংবা অসৎ হোক। কারণ আমি আল্লাহর রাসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি: (কিয়ামতের দিন ন্যায়পরায়ণ (عادل) এবং জালিম শাসকদের উপস্থিত করা হবে। অতঃপর তাদের পুলসিরাতের ওপর দাঁড় করানো হবে। তখন আল্লাহ তাআলা পুলসিরাতকে নির্দেশ দেবেন যেন সে তাদের ঝেঁটে জাহান্নামে ফেলে দেয়; যেমন যারা বিচারে জুলুম করেছে অথবা বিচারকার্যে ঘুষ গ্রহণ করেছে কিংবা অন্য পক্ষের কথা না শুনে কেবল এক পক্ষের প্রতি কর্ণপাত করেছে। ফলে তারা পুলসিরাত থেকে ছিটকে পড়বে এবং সত্তর বছর জাহান্নামের অতল গহ্বরে নিক্ষিপ্ত হতে থাকবে যতক্ষণ না তার তলদেশে পৌঁছায়)। একটি বর্ণনায় এসেছে যে, দাউদ (আ.) রাতে ছদ্মবেশে বের হতেন যাতে কেউ তাঁকে চিনতে না পারে। তিনি যাকেই সামনে পেতেন, তাকে গোপনে দাউদ (আ.)-এর অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেন। একদা জিবরাঈল (আ.) একজন মানুষের অবয়বে তাঁর কাছে এলেন। দাউদ (আ.) তাঁকে বললেন: দাউদ সম্পর্কে তোমার মন্তব্য কী? তিনি বললেন: সে চমৎকার এক বান্দা, তবে সে বায়তুল মাল থেকে ভক্ষণ করে এবং নিজ হাতের শ্রম ও উপার্জিত অন্ন গ্রহণ করে না। তখন দাউদ (আ.) ক্রন্দনরত ও ব্যথিত চিত্তে তাঁর ইবাদতগাহে ফিরে গেলেন এবং বললেন: হে আমার ইলাহ! আমাকে এমন কোনো শিল্প শিখিয়ে দিন যার মাধ্যমে আমি নিজের শ্রম ও হাতের উপার্জিত রিজিক গ্রহণ করতে পারি। অতঃপর আল্লাহ তাআলা তাঁকে লৌহবর্ম তৈরির শিল্প শিক্ষা দিলেন।

ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) প্রতি রাতে প্রহরীদের সাথে টহল দিতেন যাতে কোনো বিচ্যুতি দেখলে তা সংশোধন করতে পারেন। তিনি বলতেন: যদি আমি কোনো খালের পাড়ে একটি চর্মরোগগ্রস্ত ছাগীকেও তেল মালিশ না করে অবহেলায় ফেলে রাখি, তবে আমি আশঙ্কা করি যে কিয়ামতের দিন এ সম্পর্কে আমাকে জিজ্ঞাসিত হতে হবে। অতএব হে সুলতান! ওমরের সতর্কতা ও ন্যায়পরায়ণতা (عدل) লক্ষ করুন। তাঁর তাকওয়া ও আধ্যাত্মিক স্তরে কেউ পৌঁছাতে পারেনি, তবুও তিনি কিয়ামতের ভয়াবহতা সম্পর্কে কতটা চিন্তিত ও শঙ্কিত ছিলেন! অথচ আপনি আপনার প্রজাদের অবস্থা সম্পর্কে উদাসীন এবং আপনার শাসনাধীন ব্যক্তিদের বিষয়ে গাফেল হয়ে বসে আছেন।
(খণ্ড: ১) আত-তিবরুল মাসবুকু ফী নাসিহাতিল মুলুক (পৃষ্ঠা: ১৮)
قال عبد الله بن عمر وجماعة من أهل بيته: كنا ندعو الله أن يرينا عمر في المنام، فرأيته بعد أثني عشر كأنه قد اغتسل وهو متلفع فقلت: يا أمير المؤمنين كيف وجدت ربك وبأي حسناتك جازاك؟ فقال: يا عبد الله كم لي منذ فارقتك؟ فقلت: إثنتا عشرة سنة. فقال: منذ فارقتكم في الحساب وخفت أن أهلك إلا أن الله غفور رحيم، جواد كريم. فهذا حال عمر ولم يكن له من دنياه شيء من أسباب الولاية سوى درة.

حكاية: أرسل قيصر ملك لروم رسولاً إلى عمر بن الخطاب لينظر أحواله ويشاهد فعاله، فلما دخل المدينة سأل أهلها وقال: أين ملككم؟ قالوا: ليس لنا ملك، بل لنا أمير قد خرج إلى ظاهر المدينة. فخرج الرسول في طلبه فوجده نائماً في الشمس على الأرض فوق الرمل الحار وقد وضع درته كالوسادة تحت رأسه والعرق يسقط منه إلى أن بل الأرض، فلما رآه على هذه الحالة وقع الخشوع في قلبه وقال: رجل تكون جميع ملوك الأرض لا يقر لهم قرار من هيبته، وتكون هذه حالة، ولكنك يا عمر عدلت فأمنت فنمت وملكنا يجور لا جرم أنه لا يزال ساهراً خائفاً. أشهد أن دينكم لدين الحق ولولا أني أتيت رسولاً لأسلمت، ولكن سأعود بعد هذا وأسلم.

أيها السلطان خطر الولاية عظيم، وخطبها جسيم، والشرح في ذلك طويل، ولا يسلم الوالي الا بمقارنة عملاء الدين ليعلموه طرق العدل ويسهلوا عليه خطر هذا الأمر.

 

‌‌الأصل الثاني

أن يشتاق أبداً إلى رؤية العلماء

ويحرص على استماع نصحهم، وأن يحذر من علماء السوء الذين يحرصون على الدنيا فإنهم يثنون عليك، ويغرونك ويطلبون رضاك طمعاً فيما في يديك من خبث الحطام ووبيل الحرام،
عبدুল্লাহ ইবনে উমর এবং তাঁর পরিবারের একদল সদস্য বর্ণনা করেছেন: আমরা আল্লাহর কাছে দুআ করতাম যেন তিনি আমাদের স্বপ্নে উমরকে দেখান। বারো বছর পর আমি তাঁকে স্বপ্নে দেখলাম, যেন তিনি গোসল করেছেন এবং চাদর আবৃত হয়ে আছেন। আমি বললাম: হে আমিরুল মুমিনিন, আপনি আপনার প্রতিপালককে কেমন পেলেন এবং আপনার কোন নেক আমলের কারণে তিনি আপনাকে প্রতিদান দিলেন? তিনি বললেন: হে আবদুল্লাহ, তোমার থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর কতদিন গত হয়েছে? আমি বললাম: বারো বছর। তিনি বললেন: তোমাদের থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর থেকে আমি হিসাব (الحساب) গ্রহণ প্রক্রিয়ার মধ্যে ছিলাম এবং আমার ধ্বংস হয়ে যাওয়ার ভয় হচ্ছিল, তবে আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, দয়াময়, পরম দাতা ও মহানুভব। এটিই ছিল উমরের অবস্থা, অথচ তাঁর পার্থিব জীবনে চাবুক ছাড়া শাসনকর্তৃত্ব (الولاية)-এর অন্য কোনো উপকরণ ছিল না।

কাহিনী: রোম সম্রাট কায়সার উমর ইবনুল খাত্তাবের অবস্থা পর্যবেক্ষণ এবং তাঁর কর্মকাণ্ড দেখার জন্য একজন দূত পাঠালেন। দূত যখন মদিনায় প্রবেশ করলেন, তখন অধিবাসীদের জিজ্ঞেস করলেন: তোমাদের রাজা কোথায়? তারা বলল: আমাদের কোনো রাজা নেই, বরং আমাদের একজন আমির আছেন যিনি মদিনার উপকণ্ঠে গিয়েছেন। দূত তাঁর সন্ধানে বের হয়ে তাঁকে তপ্ত বালুর ওপর রোদে ঘুমানো অবস্থায় পেলেন। তিনি তাঁর চাবুকটিকে মাথার নিচে বালিশ হিসেবে রেখেছিলেন এবং তাঁর শরীর থেকে ঘাম ঝরছিল, এমনকি মাটি ভিজে গিয়েছিল। যখন দূত তাঁকে এই অবস্থায় দেখলেন, তখন তাঁর অন্তরে বিনয় (الخشوع) জাগ্রত হলো এবং তিনি বললেন: এমন একজন ব্যক্তি যাঁর প্রতাপ (الهيبة)-এর কারণে পৃথিবীর কোনো রাজা স্থির থাকতে পারে না, অথচ তাঁর অবস্থা এমন! হে উমর, আপনি ন্যায়বিচার (العدল) করেছেন, তাই আপনি নিরাপদ হয়েছেন এবং শান্তিতে ঘুমাচ্ছেন; আর আমাদের রাজা জুলুম করে, তাই অনিবার্যভাবে সে সর্বদা বিনিদ্র ও ভীত থাকে। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনাদের দীনই সত্য দীন। আমি যদি দূত হিসেবে না আসতাম, তবে অবশ্যই ইসলাম গ্রহণ করতাম, তবে আমি এর পরে ফিরে আসব এবং ইসলাম কবুল করব।

হে সুলতান, শাসনকর্তৃত্ব (الولاية)-এর ঝুঁকি অত্যন্ত ব্যাপক এবং এর দায়ভার অত্যন্ত গুরুভার। এ বিষয়ে ব্যাখ্যা সুদীর্ঘ। একজন শাসক (الوالي) ততক্ষণ পর্যন্ত নিরাপদ হতে পারেন না, যতক্ষণ না তিনি দীনের আলিমগণের (العلماء) সাহচর্য গ্রহণ করেন, যাতে তাঁরা তাঁকে ন্যায়বিচার (العدল)-এর পথ শেখাতে পারেন এবং এই বিষয়ের ঝুঁকিগুলো তাঁর জন্য সহজ করে দিতে পারেন।

 

‌‌দ্বিতীয় মূলনীতি (الأصل الثاني)

সর্বদা আলিমগণের (العلماء) দর্শনের আকাঙ্ক্ষা পোষণ করা

এবং তাঁদের নসিহত শ্রবণে আগ্রহী হওয়া। আর সেই সকল অসৎ আলিম (علماء السوء) থেকে সতর্ক থাকা যারা দুনিয়ার প্রতি লালায়িত। কারণ তারা আপনার প্রশংসা করবে, আপনাকে প্রলুব্ধ করবে এবং আপনার হাতে থাকা তুচ্ছ পার্থিব বস্তু ও জঘন্য হারাম (الحرام) উপার্জনের লোভে আপনার সন্তুষ্টি তালাশ করবে।
(খণ্ড: ১) আত-তিবরুল মাসবুকু ফী নাসিহাতিল মুলুক (পৃষ্ঠা: ১৯)
ليحصلوا منه شيئاً بالمكر والحيل. والعالم هو الذي لا يطمع فيما عندك من المال، ومنصفك في الوعظ والمقال. كما يقال أن شقيقاً البلخي دخل على هارون الرشيد فقال له: أنت شقيق الزاهد؟ فقال: أنا شقيق ولست بزاهد. فقال له: أوصني. فقال: إن الله تعالى قد أجلسك مكان الصديق، وأنه يطلب منك مثل صدقة، وأنه أعطاك موضع عمر بن الخطاب الفاروق، وأنه يطلب منك الفرق بين الحق والباطل مثله، وأنه أقعدك موضع عثمان بن عفان ذي النورين وهو يطلب منك مثل حيائه وكرمه، وأعطاك موضع علي بن أبي طالب وهو يطلب منك مثل العلم والعدل كما يطلب منه. فقال له: زدني من وصيتك. فقال: نعم. اعلم أنا لله تعالى داراً تعرف بجهنم، وأنه قد جعلك بواب تلك الدار وأعطاك ثلاثة أشياء بيت المال والسوط والسيف، وأمرك أن تمنع الخلق من دخول النار بهذه الثلاثة فمن جاء محتاجاً فلا تمنعه من بيت المال، ومن خالف أخر ربه فأدبه بالسوط، ومن قتل نفساً بغير حق فاقتله بالسيف بإذن ولي المقتول، فإن لم تفعل ما أمرك فأنت الزعيم لأهل النار، والمتقدم إلى البوار. فقال له: زدني. فقال: إنما مثلك كمثل معين الماء، وسائر العلماء في العالم كمثل السواقي، فإذا كان المعين صافياً لا يضر كدر السواقي، وإذا كان المعين كدراً لا ينفع صفاء السواقي.

حكاية: خرج هارون الرشيد والعباس ليلاً زيارة الفضيل بن عياض، فلما وصلا إلى بابه وجداه يتلو هذه الآية: (أم حَسِبَ الذين إجتَرحوُا السيئَات أن نجَعلُهُم كالذِينَ آمنَوُا وعَمِلوُا الصَالِحاتِ) ومعناها: أيظن الذين اكتسبوا الخطايا ويعملون الأعمال المذمومة أن نسوي بينهم في الآخرة، وبين الذين يعملون الخيرات وهم مؤمنون. كلا ساء ما يحكمون. فقال هارون: إن كنا جئنا للموعظة فكفى بهذه موعظة. ثم أمر العباس أن يطرق عليه الباب فطرق بابه فقال: افتح الباب لأمير المؤمنين.

فقال الفضيل: ما يصنع عندي أمير المؤمنين؟ فقال: أطِع أمير المؤمنين وافتح الباب. وكان ليلاً والمصباح يتقد فأطفأه، وفتح الباب،
যাতে তারা চাতুর্য ও প্রতারণার মাধ্যমে তার থেকে কোনো কিছু হাসিল করতে পারে। আর আলেম (عالم) তিনিই, যিনি আপনার ধন-সম্পদের প্রতি লোভ পোষণ করেন না এবং নসিহত ও আলোচনার ক্ষেত্রে আপনার প্রতি ইনসাফ করেন। যেমনটি বর্ণিত আছে যে, শাকিক আল-বালখি হারুনুর রশিদের দরবারে প্রবেশ করলে হারুন তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন: আপনি কি সেই নির্লিপ্ত (زاهد) শাকিক? তিনি উত্তর দিলেন: আমি শাকিক, তবে আমি নির্লিপ্ত (زاهد) নই। হারুন তাঁকে বললেন: আমাকে অসিয়ত করুন। তিনি বললেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা আপনাকে সিদ্দিক (আবু বকর)-এর স্থলাভিষিক্ত করেছেন এবং তিনি আপনার নিকট তাঁর মতো দানশীলতা (صدقة) দাবি করেন; তিনি আপনাকে উমর ইবনুল খাত্তাব ফারুকের মর্যাদা দান করেছেন এবং আপনার নিকট তাঁর মতোই সত্য ও মিথ্যার মাঝে পার্থক্য নিরূপণ প্রত্যাশা করেন; তিনি আপনাকে যুন-নুরাইন উসমান ইবনে আফফানের আসনে বসিয়েছেন এবং আপনার নিকট তাঁর মতো লজ্জা ও বদান্যতা দাবি করেন; আর তিনি আপনাকে আলী ইবনে আবি তালিবের স্থানে সমাসীন করেছেন এবং আপনার নিকট তাঁর মতোই ইলম (علم) ও ন্যায়বিচার দাবি করেন, যেমনটি তাঁর নিকট দাবি করা হয়েছিল। হারুন বললেন: আমাকে আরও অসিয়ত করুন। তিনি বললেন: হ্যাঁ, জেনে রাখুন! আল্লাহ তাআলার একটি আবাসন রয়েছে যা জাহান্নাম নামে পরিচিত। তিনি আপনাকে সেই ঘরের দ্বাররক্ষী বানিয়েছেন এবং আপনাকে তিনটি বস্তু দান করেছেন: বায়তুল মাল, চাবুক ও তরবারি। তিনি আপনাকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন আপনি এই তিনটির মাধ্যমে সৃষ্টিজগতকে জাহান্নামে প্রবেশ করা থেকে বিরত রাখেন। সুতরাং যে অভাবগ্রস্ত হয়ে আপনার নিকট আসবে, তাকে বায়তুল মাল থেকে বঞ্চিত করবেন না; আর যে ব্যক্তি তার রবের অবাধ্য হবে, তাকে চাবুক দ্বারা শাসন করবেন; আর যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করবে, তাকে নিহতের অভিভাবকের অনুমতিক্রমে তরবারি দ্বারা মৃত্যুদণ্ড প্রদান করবেন। যদি আপনি তাঁর নির্দেশ পালন না করেন, তবে আপনিই হবেন জাহান্নামীদের নেতা এবং ধ্বংসের অতল গহ্বরে নিক্ষিপ্ত হওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রগামী। হারুন বললেন: আমাকে আরও উপদেশ দিন। তিনি বললেন: আপনার দৃষ্টান্ত হলো একটি পানির প্রস্রবণের মতো, আর জগতের অন্যান্য আলেমদের (علماء) দৃষ্টান্ত হলো ছোট ছোট নালা বা খালের মতো। যদি মূল উৎসটি স্বচ্ছ থাকে, তবে নালার পঙ্কিলতা কোনো ক্ষতি করে না; কিন্তু যদি উৎসই ঘোলাটে হয়ে যায়, তবে নালার স্বচ্ছতা কোনো উপকারে আসে না।

একটি ঘটনা: হারুনুর রশিদ ও আব্বাস এক রাতে ফুদাইল ইবনে আইয়াজকে দেখার উদ্দেশ্যে বের হলেন। যখন তারা তাঁর দরজায় পৌঁছালেন, তখন তাঁকে এই আয়াতটি পাঠ করতে শুনলেন: "যারা মন্দ কাজ উপার্জন করেছে, তারা কি মনে করে যে আমি তাদেরকে সেইসব লোকদের সমান গণ্য করব যারা ঈমান এনেছে ও সৎকাজ করেছে?" এর অর্থ হলো: যারা পাপ কাজে লিপ্ত হয় এবং নিন্দনীয় কর্ম সম্পাদন করে, তারা কি মনে করে যে আমি পরকালে তাদের এবং সেইসব মুমিনদের যারা সৎকাজ করে, সমান স্তরে রাখব? কখনোই নয়, তাদের এই ফয়সালা অত্যন্ত মন্দ। হারুন বললেন: যদি আমরা উপদেশের জন্য এসে থাকি, তবে এই আয়াতটুকুই উপদেশের জন্য যথেষ্ট। অতঃপর তিনি আব্বাসকে দরজায় করাঘাত করতে নির্দেশ দিলেন। আব্বাস করাঘাত করে বললেন: আমিরুল মুমিনীনের জন্য দরজা খুলে দিন।

ফুদাইল বললেন: আমার নিকট আমিরুল মুমিনীনের কী কাজ? আব্বাস বললেন: আমিরুল মুমিনীনের আনুগত্য করুন এবং দরজা খুলুন। তখন রাত ছিল এবং প্রদীপ জ্বলছিল; ফুদাইল প্রদীপটি নিভিয়ে দিলেন এবং দরজা খুললেন।
(খণ্ড: ১) আত-তিবরুল মাসবুকু ফী নাসিহাতিল মুলুক (পৃষ্ঠা: ২০)
فدخل الرشيد وجمل يَطوف بيده ليصافح بها الفضيل، فلما وقعت يده عليه قال: الويل لهذه اليد الناعمة، إن لم تنج من العذاب في القيامة. ثم قال له: يا أمير المؤمنين استعد لجواب الله تعالى، فانه يوقفك مع كل واحد مسلم على حدة يطلب منك إنصافك إياه. فبكى هارون الرشيد بكاء شديداً وضمه إلى صدره. فقال له العباس: مهلاً فقد قتلته. فقال الرشيد للعباس: ما جعلك هامان إلا وجعلني فرعون. ثم وضع الرشيد بين يديه ألف دينار وقال له: هذه من وجه حلال من صداق أمي وميراثها. فقال له الفضيل: أنا آمرك أن ترفع يديك عما فيها وتعود إلى خالقك وأنت تلقيه إليّ. فلم يقبلها وخرج من عنده.

نكتة: سأل عمر بن عبد العزيز محمد بن كعب القرظي فقال: صف لي العدل. فقال: كل مسلم أكبر منك سناً فكن له ولداً، ومن كان أصغر منك فكن له أباً، ومن كان مثلك فكن له أخاً، وعاقب كل مجرم على قدر جرمه، وإياك أن تضرب مسلماً سوطاً واحداً على حقد منك فإن ذلك يصيرك إلى النار.

نكتة: حضر بعض الزهاد بين يدي خليفة، فقال له: عظني فقال: يا أمير المؤمنين إني سافرت الصين وكان ملك الصين قد أصابه الصمم وذهب سمعه فسمعته يقول يوماً وهو يبكي: والله ما أبكي لزوال سمعي وإنما أبكي لمظلوم يقف ببابي يستغيث فلا أسمع استغاثته، ولكن الشكر لله إذ بصري سالم. وأمر منادياً ينادي ألا كل من كانت له ظلامة فليلبس ثوباً أحمر. فكان يركب الفيل فكل من رأى عليه ثوباً أحمر دعاه واستمع شكواه وأنصفه من خصمائه. فانظر يا أمير المؤمنين إلى شفقة ذلك الكافر على عباد الله وأنت مؤمن من أهل بيت النبوة فأنظر كيف تريد أن تكون شفقتك على رعيتك.

نكتة أخرى: حضر أبو قلابة مجلس عمر بن عبد العزيز فقال له: عظني قال: من عهد آدم إلى وقتنا هذا لم يبق خليفة سواك. فقال: زدني. فقال: أنت أول خليفة يموت. فقال: زدني. فقال: إن كان الله معك فممن تخاف وإن لم يكن معك فإلى من تلتجىء. قال: حسبي ما قلت.
হারুনুর রশীদ প্রবেশ করলেন এবং ফুযাইলের সাথে মুসাফাহা করার জন্য তাঁর হাত বাড়ালেন। যখন তাঁর হাত ফুযাইলের হাতের ওপর পড়ল, তখন তিনি (ফুযাইল) বললেন: "ধ্বংস এই কোমল হাতের জন্য, যদি এটি কিয়ামতের আযাব থেকে মুক্তি না পায়।" অতঃপর তিনি তাঁকে বললেন: "হে আমীরুল মুমিনীন (أمير المؤمنين), মহান আল্লাহর কাছে জবাবদিহিতার জন্য প্রস্তুত হোন। কেননা তিনি আপনাকে প্রত্যেক মুসলমানের সাথে আলাদাভাবে দাঁড় করাবেন এবং আপনার কাছে তাদের প্রতি আপনার ন্যায়বিচার দাবি করবেন।" এতে হারুনুর রশীদ অত্যন্ত ব্যাকুল হয়ে রোদন করলেন এবং তাঁকে নিজের বুকের সাথে জড়িয়ে ধরলেন। তখন আব্বাস তাঁকে বললেন: "থামুন, আপনি তো তাঁকে মেরেই ফেলবেন।" রশীদ আব্বাসকে বললেন: "সে তোমাকে হামান ছাড়া আর কিছু বানায়নি আর আমাকে বানিয়েছে ফেরাউন।" অতঃপর রশীদ তাঁর সামনে এক হাজার দিনার রাখলেন এবং বললেন: "এটি আমার মায়ের মোহরানা ও মিরাস থেকে প্রাপ্ত সম্পূর্ণ বৈধ (حلال) সম্পদ।" ফুযাইল তাঁকে বললেন: "আমি আপনাকে নির্দেশ দিচ্ছি যে, আপনি এর ওপর থেকে আপনার হাত সরিয়ে নিন এবং এটি তার প্রকৃত মালিকের কাছে ফিরিয়ে দিন, আর আপনি এটি আমার দিকে ঠেলে দিচ্ছেন!" তিনি তা গ্রহণ করলেন না এবং তাঁর নিকট থেকে বেরিয়ে গেলেন।

উপদেশমূলক বিষয় (نكتة): উমর ইবনে আব্দুল আজিজ মুহাম্মদ ইবনে কাব আল-কুরাযীকে জিজ্ঞেস করলেন: "আমার কাছে ন্যায়বিচারের (العدل) বর্ণনা দিন।" তিনি বললেন: "আপনার চেয়ে বয়সে বড় প্রত্যেক মুসলমানের কাছে আপনি সন্তানের মতো হয়ে যান, আপনার চেয়ে ছোটদের জন্য পিতা হয়ে যান এবং আপনার সমবয়সীদের জন্য ভাই হয়ে যান। প্রত্যেক অপরাধীকে তার অপরাধ অনুযায়ী শাস্তি প্রদান করুন। সাবধান! নিজের ব্যক্তিগত আক্রোশের বশবর্তী হয়ে কোনো মুসলমানকে একটি চাবুকও মারবেন না; অন্যথায় তা আপনাকে জাহান্নামের আগুনের দিকে নিয়ে যাবে।"

উপদেশমূলক বিষয় (نكتة): জনৈক সংসারবিরাগী (الزهاد) খলীফার সামনে উপস্থিত হলেন। খলীফা তাঁকে বললেন: "আমাকে নসিহত করুন।" তিনি বললেন: "হে আমীরুল মুমিনীন (أمير المؤمنين), আমি চীন দেশ ভ্রমণ করেছি। চীনের রাজা তখন বধির হয়ে গিয়েছিলেন এবং তাঁর শ্রবণশক্তি হারিয়েছিলেন। একদিন আমি তাঁকে কাঁদতে কাঁদতে বলতে শুনলাম: 'আল্লাহর কসম, আমি আমার শ্রবণশক্তি হারানোর জন্য কাঁদছি না; বরং আমি কাঁদছি সেই মজলুমের (مظلوم) জন্য যে আমার দরজায় দাঁড়িয়ে সাহায্য প্রার্থনা করছে কিন্তু আমি তার আর্তনাদ শুনতে পাচ্ছি না। তবে আল্লাহর শুকরিয়া যে আমার দৃষ্টিশক্তি এখনো অক্ষুণ্ণ আছে।' অতঃপর তিনি একজন ঘোষককে নির্দেশ দিলেন যেন ঘোষণা করা হয়—যারই কোনো অভিযোগ আছে সে যেন লাল পোশাক পরিধান করে। তিনি হাতির পিঠে আরোহণ করতেন এবং যাকে লাল পোশাকে দেখতেন তাকে ডেকে নিতেন, তার অভিযোগ শুনতেন এবং বিবাদীদের থেকে তাকে ন্যায়বিচার পাইয়ে দিতেন। হে আমীরুল মুমিনীন (أمير المؤمنين), আল্লাহর বান্দাদের প্রতি সেই কাফিরের মমতা লক্ষ করুন! আর আপনি তো নবী পরিবারের একজন বিশ্বাসী (مؤمن); সুতরাং ভেবে দেখুন আপনার প্রজাদের প্রতি আপনার মমতা কেমন হওয়া উচিত!"

অন্য একটি উপদেশমূলক বিষয় (نكتة): আবু কিলাবা উমর ইবনে আব্দুল আজিজের মজলিসে উপস্থিত হলেন। উমর তাঁকে বললেন: "আমাকে নসিহত করুন।" তিনি বললেন: "আদম (আ.) এর সময় থেকে আমাদের এই সময় পর্যন্ত আপনি ব্যতীত আর কোনো খলীফা অবশিষ্ট নেই।" তিনি বললেন: "আমাকে আরও বলুন।" তিনি বললেন: "আপনিই প্রথম খলীফা যিনি মৃত্যু বরণ করবেন।" তিনি বললেন: "আরও বলুন।" তিনি বললেন: "যদি আল্লাহ আপনার সাথে থাকেন তবে আপনি কাকে ভয় পান? আর যদি তিনি আপনার সাথে না থাকেন তবে আপনি কার কাছে আশ্রয় চাইবেন?" তিনি বললেন: "আপনি যা বলেছেন তা-ই আমার জন্য যথেষ্ট।"
(খণ্ড: ১) আত-তিবরুল মাসবুকু ফী নাসিহাতিল মুলুক (পৃষ্ঠা: ২১)
حكمة: كان سليمان بن عبد الملك خليفة فتفكر يوماً وقال: قد تنعمت في الدنيا طويلاً فكيف حالي في الآخرة؟ وأتى إلى أبي حازم، وكان عالم أهل زمانه وزاهد أوانه، وقال: أنفذ لي شيئاً من قوتك الذي تفطر عليه. فأنفذ له قليلاً من نخالة وقد شواها، فقال: هذا فطوري. فلما رأي سليمان ذلك أفطر الليلة الثالثة على تلك النخالة المشوية، فيقال إنه في تلك الليلة تغشى أهله فكان منها عبد العزيز وجاء منه عمر بن عبد العزيز. وكان واحد زمانه في عدله وإنصافه وزهده وإحسانه، وكان على طريقة عمر بن الخطاب رضي الله عنه، وقيل أن ذلك ببركة نيته وصيامه وأكله من ذلك الطعام.

نكتة: سئل عمر بن عبد العزيز: ما كان سبب توبتك؟ قال: كنت أضرب يوماً غلاماً فقال لي: اذكر الليلة التي تكون صبيحتها القيامة، فعمل ذلك الكلام في قلبي.

نكتة أخرى: رأى بعض الأكابر هارون الرشيد في عرفات وهو حافٍ حاسر قائم على الرمضاء الحارة، وقد رفع يديه وهو يقول: إلهي أنت أنت وأنا أنا الذي دأبي كل يوم أعود إلى عصيانك ودأبك أن تعود إليّ برحمتك. فقال بعض الكبراء: انظروا إلى تضرع جبار الأرض بين يديّ جبار السماء.

نكتة أخرى: سأل عمر بن عبد العزيز يوماً حازم الموعظة فقال له أبو حازم: إذا نمت فضع الموت تحت رأسك وكل ما أحببت أن يأتيك الموت وأنت عليه مصرّ فالزمه، وكل مالا تريد أن يأتيك الموت وأنت عليه فاجتنبه، فربما كان الموت منك قريباً. فينبغي لصاحب الولاية أن يجعل هذه الحكاية نصب عينيه، وأن يقبل المواعظ التي وعظ بها غيره فكلما رأى علماً سأله أن يعظه، وينبغي للعلماء أن يعظوا الملوك بمثل هذه المواعظ ولا يغرّوهم ولا يدّخروا عنهم كلمة الحق وكل من غرّهم فهو مشارك لهم، والله سبحانه وتعالى أعلم.
প্রজ্ঞা: সুলাইমান ইবন আবদ আল-মালিক খলিফা ছিলেন। একদিন তিনি চিন্তা করলেন এবং বললেন, "আমি দুনিয়াতে দীর্ঘকাল সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য ভোগ করেছি, পরকালে আমার কী অবস্থা হবে?" অতঃপর তিনি আবু হাজিমের নিকট আসলেন, যিনি ছিলেন স্বীয় যুগের শ্রেষ্ঠ আলিম এবং সমসাময়িক কালের অনন্য সংসারবিরাগী (زاهد)। তিনি বললেন, "আপনি ইফতারের জন্য যে খাদ্য গ্রহণ করেন, তা থেকে সামান্য কিছু আমার নিকট পাঠান।" তখন তিনি তাঁর নিকট সামান্য সেঁকা গমের ভুষি পাঠালেন এবং বললেন, "এটাই আমার ইফতার।" সুলাইমান যখন এটি দেখলেন, তিনি তৃতীয় রাতে সেই সেঁকা ভুষি দ্বারা ইফতার করলেন। বর্ণিত আছে যে, সেই রাতেই তিনি স্ত্রীর নিকট গমন করেন এবং তার ফলে আবদ আল-আজিজ জন্মগ্রহণ করেন এবং তাঁর থেকে উমর ইবন আবদ আল-আজিজ ভূমিষ্ঠ হন। তিনি তাঁর ন্যায়পরায়ণতা (عدل), ইনসাফ, বিরাগিতা (زهد) এবং ইহসানের ক্ষেত্রে নিজ সময়ের একক ব্যক্তিত্ব ছিলেন এবং উমর ইবন আল-খাত্তাব (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর অনুসৃত পথে চলতেন। বলা হয়ে থাকে যে, এটি ছিল তাঁর নিয়তের বরকত, সিয়াম এবং সেই খাদ্য গ্রহণের ফলাফল।

সূক্ষ্ম বিষয়: উমর ইবন আবদ আল-আজিজকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, "আপনার তওবার কারণ কী ছিল?" তিনি বললেন, "একদিন আমি এক ভৃত্যকে প্রহার করছিলাম, তখন সে আমাকে বলল: 'সেই রাতের কথা স্মরণ করুন যার প্রভাত হবে কিয়ামত।' এই কথাটি আমার হৃদয়ে গভীরভাবে রেখাপাত করল।"

অন্য একটি সূক্ষ্ম বিষয়: জনৈক বুজুর্গ ব্যক্তি হারুনুর রশীদকে আরাফাতের ময়দানে নগ্ন পদ ও খালি মাথায় উত্তপ্ত বালুর ওপর দণ্ডায়মান অবস্থায় দেখলেন। তিনি তাঁর উভয় হাত উত্তোলন করে বলছিলেন, "হে আমার ইলাহ! আপনি তো আপনিই, আর আমি হলাম আমি; যার অভ্যাস হলো প্রতিদিন আপনার অবাধ্যতায় লিপ্ত হওয়া, আর আপনার শান হলো স্বীয় রহমত নিয়ে পুনরায় আমার দিকে প্রত্যাবর্তন করা।" তখন সেই বিশিষ্ট ব্যক্তিদের একজন বললেন, "জমিনের মহাপরাক্রমশালীর রোনাজারি আসমানের মহাপরাক্রমশালীর দরবারে প্রত্যক্ষ করো।"

অন্য একটি সূক্ষ্ম বিষয়: উমর ইবন আবদ আল-আজিজ একদিন আবু হাজিমের নিকট উপদেশ প্রার্থনা করলেন। তখন আবু হাজিম তাঁকে বললেন, "যখন আপনি নিদ্রা যাবেন, তখন মৃত্যুকে আপনার শিয়রে রাখবেন। যে অবস্থায় মৃত্যু আপনার নিকট আসুক—তা আপনি পছন্দ করেন এবং যার ওপর আপনি অবিচল থাকতে চান, তা সর্বদা আঁকড়ে ধরুন। আর যে অবস্থায় মৃত্যু আসা আপনি অপছন্দ করেন, তা বর্জন করুন; কারণ সম্ভবত মৃত্যু আপনার অতি সন্নিকটে।" অতএব, কোনো শাসকের উচিত এই কাহিনীকে সর্বদা চোখের সামনে রাখা এবং অন্যকে দেওয়া উপদেশসমূহ গ্রহণ করা। যখনই তিনি কোনো আলিমের সাক্ষাৎ পাবেন, তাঁর কাছে নসিহত প্রার্থনা করবেন। আলিমদের জন্যও আবশ্যক হলো বাদশাহদের এই প্রকার সদুপদেশ প্রদান করা, তাঁদের প্রতারিত না করা এবং তাঁদের নিকট সত্য বাণী গোপন না করা। যে ব্যক্তি তাঁদেরকে প্রতারিত করবে, সে তাঁদের অপকর্মের অংশীদার হবে। আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা অধিক পরিজ্ঞাত।
(খণ্ড: ১) আত-তিবরুল মাসবুকু ফী নাসিহাতিল মুলুক (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌الأصل الثالث من ذلك

ينبغي أن لا تقنع برفع يدك عن الظلم

لكن تهذّب غلمانك وأصحابك وعمالك ونوابك، فلا ترضى لهم بالظلم فإنك تُسأل عن ظلمهم كما تُسأل عن ظلم نفسك.

نكتة: كتب عمر بن الخطاب، رضي الله عنه، إلى عامله أبي موسى الأشعري: (أما فإن أسعد الولاة من سعدت به رعيته، وإن أشقى الولاة من شقيت به رعيته. فإياك والتبسّط فإن عمالك يقتدون بك، وإنما مثلك كمثل دابة رأت مرعى مخضراً فأكلت كثيراً حتى سمنت فكان سمنها سبب هلاكها لأنها بذلك السمن تذبح وتؤكل) . وفي التوراة كل ظلم علمه السلطان من عماله فسكت عنه كان ذلك الظلم منسوباً إليه وأخذ به وعوقب عليه.

وينبغي للوالي أن يعلم أنه ليس أحدُ أشد غبناً ممن باع دينه وآخرته بدنيا غيره، وأكثر الناس في خدمة شهواتهم، فانهم يستنبطون الحيل ليصلوا إلى مرادهم من الشهوات. وكذلك العمال لأجل نصيبهم من الدنيا يغرون الوالي ويحسنون الظلم عنده فيلقونه في النار ليصلوا إلى أعراضهم، وأي عدو أشد عداوة ممن يسعى في هلاكك وهلاك نفسه لأجل درهم يكتسبه ويحصله. وفي الجملة ينبغي لمن أراد حفظ العدل على الرعية أن يرتّب غلمانه وعماله للعدل، ويحفظ أحوال العمار، وينظر فيها كما ينظر في أحوال أهله وأولاده ومنزله، ولا يتم له ذلك إلا بحفظ العدل أولاً من باطنه؛ وذلك أن لا يسلّط شهوته وغضبه على عقله ودينه، ولا يجعل عقله ودينه أسرى شهوته وغضبه بل يجعل شهوته وغضبه أسرى عقله ودينه.

ويجب أن يعلم أن العقل من جوهر الملائكة ومن جند البارئ، جلّت قدرته، وأن الشهوة والغضب من جند الشيطان. فمن يجعل جند الله وملائكته أسرى جند الشيطان كيف يعدل في غيرهم؟ وأول ما تظهر شمس العدل في الصدر ثم ينشر نورها في أهل البيت وخواص الملك فيصل شعاعها إلى
এ বিষয়ের তৃতীয় মূলনীতি

আপনার জন্য কেবল নিজের হাতকে জুলুম থেকে বিরত রাখার ওপর তুষ্ট হওয়া উচিত নয়;

বরং আপনার খাদেম, সঙ্গী, কর্মচারী ও প্রতিনিধিদের নৈতিক প্রশিক্ষণ প্রদান করা উচিত। তাদের পক্ষ থেকে সংগঠিত কোনো জুলুমে আপনি সন্তুষ্ট হবেন না; কারণ তাদের জুলুম সম্পর্কেও আপনাকে প্রশ্ন করা হবে, যেমনটি আপনার নিজের জুলুম সম্পর্কে প্রশ্ন করা হবে।

একটি সূক্ষ্ম বিষয়: ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) তাঁর আমিল আবু মুসা আল-আশআরীর নিকট লিখেছিলেন: "নিশ্চয়ই শাসকদের মধ্যে সবচেয়ে সুখী সেই, যার মাধ্যমে তার প্রজারা সুখী হয়। আর শাসকদের মধ্যে সবচেয়ে দুর্ভাগা সেই, যার কারণে তার প্রজারা দুর্ভোগ পোহায়। সুতরাং খবরদার! বিলাসিতা ও শিথিলতা থেকে বেঁচে থাকুন; কেননা আপনার কর্মচারীরা আপনাকে অনুসরণ করবে। আপনার উদাহরণ তো সেই পশুর ন্যায়, যে একটি শ্যামল চারণভূমি দেখে প্রচুর আহার করল এবং মোটা হয়ে গেল; পরিশেষে তার এই স্থূলতাই তার ধ্বংসের কারণ হলো, কারণ সেই মাংসল দেহের কারণেই তাকে জবেহ করা হয় এবং আহার করা হয়।" তওরাতে বর্ণিত হয়েছে—শাসক তার কর্মচারীদের পক্ষ থেকে কোনো জুলুমের কথা জেনেও যদি নীরব থাকে, তবে সেই জুলুম তারই বলে গণ্য হবে এবং সে জন্য তাকে পাকড়াও করা হবে ও শাস্তি দেওয়া হবে।

শাসকের জেনে রাখা উচিত যে, অন্যের দুনিয়ার বিনিময়ে যে ব্যক্তি নিজের দ্বীন ও আখেরাত বিক্রি করে দেয়, তার চেয়ে অধিক ক্ষতিগ্রস্ত আর কেউ নেই। অধিকাংশ মানুষ তাদের প্রবৃত্তির দাসত্বে লিপ্ত; তারা তাদের কামনাবাসনা চরিতার্থ করার জন্য বিভিন্ন কৌশলের আশ্রয় নেয়। তদ্রূপ কর্মচারীরা তাদের পার্থিব স্বার্থে শাসকের নিকট জুলুমকে সুশোভিত করে তুলে ধরে এবং তাকে ধোঁকা দেয়। এভাবে তারা নিজেদের উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করে—যাতে তারা তাদের পার্থিব লক্ষ্য অর্জন করতে পারে। সেই শত্রুর চেয়ে বড় শত্রু আর কে হতে পারে, যে নিজে এক দিরহাম উপার্জনের লোভে আপনার ও নিজের ধ্বংসের জন্য সচেষ্ট হয়? সারকথা হলো—যে ব্যক্তি প্রজাদের মধ্যে ন্যায়বিচার (عدل) বজায় রাখতে চায়, তাকে তার খাদেম ও কর্মচারীদের ন্যায়পরায়ণতার ওপর পরিচালিত করতে হবে এবং কর্মচারীদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে হবে। সে তাদের কর্মকাণ্ডের প্রতি সেভাবেই দৃষ্টি দেবে যেভাবে সে নিজের পরিবার, সন্তান ও গৃহের প্রতি দিয়ে থাকে। আর এটি ততক্ষণ পূর্ণ হবে না যতক্ষণ না সে প্রথমে নিজের অভ্যন্তরে ন্যায়বিচার (عدل) কায়েম করবে। আর তা হলো—সে যেন তার প্রবৃত্তি ও ক্রোধকে তার বিবেক ও দ্বীনের ওপর কর্তৃত্ব করতে না দেয়; বিবেক ও দ্বীনকে প্রবৃত্তি ও রাগের বন্দী না করে বরং প্রবৃত্তি ও রাগকে বিবেক ও দ্বীনের অনুগত দাসে পরিণত করে।

তার জেনে রাখা আবশ্যক যে, বিবেক হলো ফেরেশতাদের স্বভাবজাত উপাদান এবং মহান স্রষ্টার এক বিশেষ বাহিনী, আর প্রবৃত্তি ও ক্রোধ হলো শয়তানের বাহিনী। সুতরাং যে ব্যক্তি আল্লাহর বাহিনী ও ফেরেশতাদের শয়তানের বাহিনীর কাছে বন্দী করে ফেলে, সে অন্যদের প্রতি কীভাবে ন্যায়বিচার (عدل) করবে? ন্যায়বিচারের (عدل) সূর্য সর্বপ্রথম অন্তরে উদিত হয়, অতঃপর তার নূর বা আলো পরিবার-পরিজন ও রাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের মধ্যে বিকিরিত হয় এবং তার রশ্মি পৌঁছায়...
(খণ্ড: ১) আত-তিবরুল মাসবুকু ফী নাসিহাতিল মুলুক (পৃষ্ঠা: ২৩)
الرعية، ومن طلب الشعاع في غير الشمس فقد طلب المحال، وطمع فيما لا ينال.

واعلم أيها السلطان وتبيّن أن ظهور العدل من كمال العقل، وكمال العقل أن ترى الأشياء على ما هي، وتدرك حقائق باطنها ولا تغتر بظاهرها. مثلاً إذا كنت تجور على الناس لأجل الدنيا فينبغي أن تنظر أي شيء مقصودك من الدنيا، فإن كان مقصودك من الدنيا أكل الطعام الطيب فيجب أن تعلم أن هذه شهوة بهيمة في صورة آدمي، لأن الشهوة إلى الأكل من طباع البهائم، وإن كان مقصودك لبس التاج فإنك امرأة في صورة رجل لأن التزين والرعونة من أعمال النساء، وإن كان مقصودك أن تمضي غضبك على أعدائك فأنت أسد أو سبع في صورة آدمي لأن إحضار الغضب للقلب من طباع السباع، وإن كان مقصودك أن تخدمك الناس فأنت جاهل في صورة عاقل فإنك لو كنت عاقلاً لعلمت أن الذين يخدمونك إنما هم خدم وغلمان لبطونهم وفروجهم وشهواتهم وإن خدمتهم وسجودهم لأنفسهم لا لك وعلامة ذلك أنهم لو سمعوا إرجافاً بأن الولاية تؤخذ منك وتعطى لسواك أعرضوا بأجمعهم عنك وفي أي موضع علموا الدرهم خدموا وسجدوا لذلك الموضع، فعلى الحقيقة ليست هذه خدمة وإنما هي ضحكة.

والعاقل من نظر أرواح الأشياء وحقائقها ولا يغتر بصورها، وحقيقة هذه الأعمال ما ذكره وأوضحناه، فكل من لم يتيقن ذلك فليس بعاقل ومن لم يكن عاقلاً لم يكن عادلاً ومن لم يكن عادلاً مأواه جهنم، فلهذا السبب كان رأس مال السعادات كلها العقل.

 

‌‌الأصل الرابع

إن الوالي في الأغلب يكون متكبراً

ومن التكبر يحدث عليه السخط
প্রজাসাধারণ। আর যে ব্যক্তি সূর্য ব্যতীত অন্য কোথাও আলোর রশ্মি অনুসন্ধান করে, সে মূলত অসম্ভবকে খুঁজল এবং এমন কিছুর প্রত্যাশা করল যা অলভ্য।

হে সুলতান! জেনে রাখুন এবং বিষয়টি স্পষ্টরূপে অনুধাবন করুন যে, ন্যায়বিচারের বহিঃপ্রকাশ ঘটে বুদ্ধির পূর্ণতা থেকে। আর বুদ্ধির পূর্ণতা হলো বস্তুকে তার প্রকৃত অবস্থায় অবলোকন করা এবং তার অভ্যন্তরীণ হাকিকত বা গূঢ়তত্ত্ব উপলব্ধি করা; তার বাহ্যিক রূপ দেখে প্রলুব্ধ না হওয়া। উদাহরণস্বরূপ, আপনি যদি পার্থিব জগতের লোভে মানুষের ওপর জুলুম করেন, তবে আপনার লক্ষ্য করা উচিত যে দুনিয়া থেকে আপনার উদ্দেশ্য আসলে কী। যদি দুনিয়া থেকে আপনার উদ্দেশ্য হয় সুস্বাদু খাদ্য গ্রহণ করা, তবে জেনে রাখুন এটি মানুষের অবয়বে একটি পশুর লালসা মাত্র। কারণ আহারের প্রতি লালসা জন্তু-জানোয়ারের স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য। আর যদি আপনার উদ্দেশ্য হয় রাজমুকুট পরিধান করা, তবে আপনি পুরুষের আকৃতিতে একজন নারী; কারণ সাজসজ্জা এবং চাকচিক্যপ্রিয়তা নারীদের কাজ। আর যদি আপনার উদ্দেশ্য হয় আপনার শত্রুদের ওপর ক্রোধ চরিতার্থ করা, তবে আপনি মানুষের আকৃতিতে একটি সিংহ বা হিংস্র পশুতুল্য; কারণ হৃদয়ে ক্রোধের উদ্রেক করা হিংস্র পশুর স্বভাব। আর যদি আপনার উদ্দেশ্য হয় মানুষ আপনার সেবা করবে, তবে আপনি বুদ্ধিমানের অবয়বে একজন মূর্খ। কারণ আপনি যদি বুদ্ধিমান হতেন তবে জানতেন যে, যারা আপনার সেবা করছে তারা মূলত তাদের উদর, যৌনাঙ্গ এবং কামনা-বাসনারই সেবক ও গোলাম। তাদের এই সেবা ও প্রণতি মূলত তাদের নিজেদের স্বার্থে, আপনার জন্য নয়। এর নিদর্শন হলো, তারা যদি কোনো গুজব শোনে যে আপনার থেকে ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে অন্য কাউকে দেওয়া হচ্ছে, তবে তারা সবাই আপনার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে। আর তারা যেখানেই মুদ্রার সন্ধান পাবে, সেখানেই তারা সেবা করবে ও প্রণতি নিবেদন করবে। সুতরাং প্রকৃত প্রস্তাবে এটি কোনো সেবা নয়, বরং এটি একটি উপহাস মাত্র।

বুদ্ধিমান তো সেই যে বস্তুর রূহ এবং হাকিকতের দিকে তাকায় এবং তার বাহ্যিক অবয়ব দেখে প্রতারিত হয় না। এসব কর্মের প্রকৃত স্বরূপ তা-ই যা তিনি উল্লেখ করেছেন এবং যা আমরা স্পষ্ট করেছি। অতএব, যে ব্যক্তি এ বিষয়ে নিশ্চিত বিশ্বাস পোষণ করে না সে বুদ্ধিমান নয়। আর যে বুদ্ধিমান নয় সে ন্যায়পরায়ণ (عادل) নয়, আর যে ন্যায়পরায়ণ (عادل) নয় তার আশ্রয়স্থল হলো জাহান্নাম। এই কারণেই যাবতীয় সৌভাগ্যের মূল পুঁজি হলো বুদ্ধি।

 

চতুর্থ মূলনীতি

নিশ্চয়ই শাসক সাধারণত অহংকারী হয়ে থাকে

আর অহংকার থেকেই তার মাঝে অসন্তুষ্টির উদ্রেক হয়
(খণ্ড: ১) আত-তিবরুল মাসবুকু ফী নাসিহাতিল মুলুক (পৃষ্ঠা: ২৪)
الداعية إلى الانتقام، والغضب غول العقل وعدوه وآفته، وقد ذكرنا ذلك في كتاب الغضب في ربع المهلكات. وإذا كان الغضب غالباً فينبغي أن يميل في الأمور إلى جانب العفو ويتعود الكرم والتجاوز فإذا صار ذلك عادة لك ماثلت الأنبياء والأولياء، ومتى جعلت إمضاء الغضب عادة ماثلت السباع والدواب.

حكاية: يقال أن أبا جعفر المنصور أمر بقتل رجل، والمبارك بن الفضل حاضر فقال: يا أمير المؤمنين أسمع خبراً قبل أن تقتله: روى الحسن البصري عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أنه قال: (إذا كان يوم القيامة وجمع الخلائق في صعيد واحد، نادي منادٍ من كان له عند الله يد فليقم، فلا يقوم إلا من عفا عن الناس، فقال أطلقوه فأني قد عفوت عنه) . وأكثر ما يكون غضب الولاة على من ذكرهم وطوّل لسانه عليهم فيسعون في سفك دمه.

قال عيسى عليه السلام ليحيى بن زكريا عليهما السلام: إذا ذكرك أحد بشيء وقال فيك صحيحاً فاشكر الله، وإن قال فيك كذباً فازدد من ذكر الشكر، فإنه يزيد في ديوان أعمالك وأنت مستريح، يعني أن حسناته تكتب لك في ديوانك.

وذكر عند رسول الله صلى الله عليه وسلم رجل فقيل إن فلاناً رجل قوي شجاع فقال: كيف ذاك؟ فقالوا: يقوى بكل أحد وما صارع أحداً إلا صرعه فقال عليه الصلاة السلام: (القوي الشجاع من قهر نفسه لا من صرع غيره) .

وقال عليه الصلاة والسلام: (ثلاث من كانت فيه فقد كمل إيمانه من كظم غيظه وأنصف في حال رضاه وغضبه وعفا عند المقدرة) . وقال عمر ابن الخطاب: لا تعتمد على خلق رجل حتى تجربه عند الغضب.

حكاية: قيل عن الحسن بن علي رضي الله عنهما أنه بلغه عن رجل كلام يكرهه فأخذ طبقاً مملوأً من التمر الجني وحمله بنفسه إلى دار ذلك الرجل فطرق الباب فقام الرجل وفتح الباب فنظر إلى الحسين ومعه الطبق فقال: وما
যা প্রতিশোধ গ্রহণের দিকে প্ররোচিত করে; আর রাগ হচ্ছে বুদ্ধির রাক্ষস, তার শত্রু এবং তার বিপদ। আমরা এই বিষয়টি 'রুবউিল মুহলিকাত' এর 'কিতাবুল গদব' অধ্যায়ে আলোচনা করেছি। যখন রাগ প্রবল হয়, তখন সব বিষয়ে ক্ষমার দিকে ঝুঁকে পড়া এবং উদারতা ও মার্জনা করাকে অভ্যাসে পরিণত করা উচিত। যদি এটি তোমার অভ্যাসে পরিণত হয়, তবে তুমি নবি ও ওলিদের সদৃশ হবে। আর যখন রাগের বহিঃপ্রকাশকে অভ্যাসে পরিণত করবে, তখন তুমি হিংস্র পশু ও চতুষ্পদ জন্তুর সদৃশ হবে।

গল্প: বর্ণিত আছে যে, আবু জাফর আল-মনসুর এক ব্যক্তিকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন। মুবারক ইবনুল ফজল সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বললেন: হে আমিরুল মুমিনিন, তাকে হত্যা করার আগে একটি বর্ণনা শুনুন: হাসান বসরি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: (যখন কিয়ামতের দিন উপস্থিত হবে এবং সকল সৃষ্টিকে এক সমতল ময়দানে একত্রিত করা হবে, তখন একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা করবেন—আল্লাহর নিকট যার কোনো পাওনা রয়েছে সে যেন দাঁড়িয়ে যায়। তখন তারা ব্যতীত আর কেউ দাঁড়াবে না যারা মানুষকে ক্ষমা করে দিয়েছিল। তখন তিনি বললেন, তাকে ছেড়ে দাও, আমি তাকে ক্ষমা করে দিয়েছি)। শাসকদের রাগ সাধারণত তাদের ওপরই বেশি হয় যারা তাদের সমালোচনা করে এবং তাদের বিরুদ্ধে কটু কথা বলে, ফলে তারা তার রক্তপাতের চেষ্টা করে।

ঈসা (আলাইহিস সালাম) ইয়াহইয়া ইবনে জাকারিয়া (আলাইহিমাস সালাম)-কে বললেন: যদি কেউ তোমার সম্পর্কে কিছু উল্লেখ করে এবং তোমার বিষয়ে সঠিক (صحيح) কিছু বলে, তবে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করো। আর যদি তোমার সম্পর্কে মিথ্যা বলে, তবে শুকরিয়া আরও বাড়িয়ে দাও; কারণ এটি তোমার আমলনামায় পুণ্য বৃদ্ধি করবে অথচ তুমি শান্তিতে থাকবে; অর্থাৎ তার নেকিগুলো তোমার আমলনামায় লেখা হবে।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করা হলো এবং বলা হলো যে, অমুক ব্যক্তি অত্যন্ত শক্তিশালী ও সাহসী। তিনি বললেন: তা কীভাবে? তারা বলল: সে সবার ওপর প্রবল হয় এবং যার সাথেই কুস্তি লড়ে তাকেই আছাড় দেয়। তখন তিনি (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) বললেন: (প্রকৃত শক্তিশালী ও সাহসী সেই যে নিজের নফসকে দমন করে, সে নয় যে অন্যকে কুস্তিতে আছাড় দেয়)।

তিনি (আলাইحিস সালাতু ওয়াস সালাম) আরও বলেছেন: (তিনটি গুণ যার মধ্যে থাকবে তার ইমান পূর্ণতা লাভ করবে: যে নিজের রাগ সংবরণ করে, সন্তুষ্টি ও অসন্তুষ্টি উভয় অবস্থায় ন্যায়বিচার করে এবং সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও ক্ষমা করে দেয়)। ওমর ইবনুল খাত্তাব বলেছেন: কোনো ব্যক্তির চরিত্রের ওপর ভরসা করো না যতক্ষণ না তাকে রাগের সময় পরীক্ষা করো।

গল্প: হাসান বিন আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে, এক ব্যক্তির পক্ষ থেকে তার নিকট এমন কিছু কথা পৌঁছালো যা তিনি অপছন্দ করেন। তিনি এক থালা তাজা খেজুর নিলেন এবং নিজেই তা বহন করে সেই ব্যক্তির বাড়িতে নিয়ে গেলেন। তিনি দরজায় করাঘাত করলেন। লোকটি উঠে দরজা খুলল এবং হোসাইনের দিকে তাকাল যার সাথে থালাটি ছিল। তখন সে বলল: এবং কী...
(খণ্ড: ১) আত-তিবরুল মাসবুকু ফী নাসিহাতিল মুলুক (পৃষ্ঠা: ২৫)
هذا يا ابن بنت رسول الله؟ قال: خذه فأنه بلغني عنك إنك أهديت إليّ حسناتك فقابلت بهذا.

حكاية أخرى: خرج زين العابدين علي بن الحسين رضي الله عنه إلى المسجد فسبّه رجل فقصده غلمانه ليضربوه ويؤذنه فنهاهم زين العابدين وقال: كفوا أيديكم عنه، ثم التفت إلى ذلك الرجل وقال: يا هذا أنا أكثر مما تقول وما لا تعرفه مني أكثر مما قد عرفته فإن كان لك حاجة في ذكره ذكرته لك، فخجل واستحيى فخلع عليه زين العابدين قميصه وأمر له بألف درهم فمضي الرجل وهو يقول: أشهد أن هذا الشاب ولد رسول الله صلى الله عليه وسلم.

ويروى أن زين العابدين استدعى غلاماً له وناداه مرتين فلم يجبه فقال له زين العابدين: أما سمعت ندائي؟ فقال: بلى قد سمعت، قال: فما حملك على تركك إجابتي عليّ؟ قال: أمنت وعرفت طهارة أخلاقك فتكاسلت، فقال: الحمد لله الذي أمن مني عبدي. ويروى عنه أنه كان له غلام فعمد إلى شاة فكسر رجلها فقال له: لم فعلت هذا؟ قال: فعلته غمداً لأغيظك، قال: ما أنا أغيظ من الذي علمك وهو إبليس أذهب فأنت حر لوجه الله تعالى. ويروى أن رجلاً سبه فقال له زين العابدين: يا هذا بيني وبين جهنم عقبة إن أنا أجزتها فما أبالي وإن أنا لم أجزها فأنا أكثر مما تقول.

وقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (قد يبلغ الرجل بحلمه وعفوه درجة الصائم القائم، ويكون رجل يكتب في جريدة الجائرين ولا ولاية له ولا حكم إلا على أهل منزله) . ويروى أن إبليس رأى موسى عليه السلام فقال: يا موسى أعلمك ثلاثة أشياء وتطلب لي من الله حاجة واحدة، فقال: وما الثلاثة أشياء؟ فقال يا موسى أحذر من الغضب والحرد، فإن الحَردان يكون خفيف الرأس وأنا ألعب به كما يلعب الصبيان بالكرة، وأحذر من البخل فإني أفسد على البخيل دنياه ودينه، وأحذر من النساء فإني ما نصبت للخلق شركاً اعتمد عليه مثل النساء.
হে আল্লাহর রাসুলের কন্যার সন্তান, এটি কী? তিনি বললেন: এটি গ্রহণ করো। কেননা আমার নিকট এই মর্মে সংবাদ পৌঁছেছে যে, তুমি তোমার নেকিগুলো আমাকে উপহারস্বরূপ প্রদান করেছ; তাই আমি এর বিনিময়ে তোমাকে এটি প্রদান করলাম।

অন্য এক কাহিনী: যয়নুল আবেদিন আলী ইবনে আল-হুসাইন (রাযিয়াল্লাহু আনহু) মসজিদের উদ্দেশ্যে বের হলেন। এমতাবস্থায় এক ব্যক্তি তাকে গালি দিল। তখন তার ভৃত্যরা তাকে প্রহার করার এবং কষ্ট দেওয়ার উদ্দেশ্যে লোকটির দিকে উদ্যত হলো। কিন্তু যয়নুল আবেদিন তাদের বারণ করলেন এবং বললেন: 'তোমরা তার থেকে তোমাদের হাত গুটিয়ে নাও।' অতঃপর তিনি সেই লোকটির দিকে ফিরে বললেন: 'হে ব্যক্তি, আমি (ত্রুটির দিক থেকে) তুমি যা বলছ তার চেয়েও বেশি। আর আমার সম্পর্কে তুমি যা জান না, তা তুমি যা জেনেছ তার চেয়েও অনেক বেশি। যদি তোমার তা জানার প্রয়োজন থাকে, তবে আমি তা তোমার কাছে বর্ণনা করব।' এতে সে লজ্জিত ও সংকুচিত হয়ে পড়ল। তখন যয়নুল আবেদিন তাকে নিজের গায়ের জামাটি দান করলেন এবং তার জন্য এক হাজার দিরহাম প্রদানের নির্দেশ দিলেন। এরপর লোকটি এই বলতে বলতে প্রস্থান করল: 'আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, এই যুবক রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বংশধর।'

বর্ণিত (يروى) আছে যে, যয়নুল আবেদিন তার এক ভৃত্যকে ডাকলেন এবং তাকে দুবার আহ্বান করলেন, কিন্তু সে সাড়া দিল না। যয়নুল আবেদিন তাকে বললেন: 'তুমি কি আমার ডাক শোননি?' সে বলল: 'হ্যাঁ, শুনেছি।' তিনি বললেন: 'তবে আমার ডাকে সাড়া না দেওয়ার পেছনে কোন বিষয়টি তোমাকে উদ্বুদ্ধ করল?' সে বলল: 'আমি আপনার পক্ষ থেকে নিরাপদ বোধ করেছি এবং আপনার পবিত্র চরিত্রের মাধুর্য সম্পর্কে জেনেছি, তাই আমি অলসতা করেছি।' তিনি বললেন: 'সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমার দাসকে আমার পক্ষ থেকে নির্ভয় করেছেন।' তার সম্পর্কে আরও বর্ণিত (يروى) আছে যে, তার এক ভৃত্য ছিল, যে ইচ্ছাকৃতভাবে একটি ছাগলের পা ভেঙে ফেলল। তিনি তাকে বললেন: 'কেন তুমি এটি করলে?' সে বলল: 'আমি আপনাকে রাগান্বিত করার জন্য জানেশুনে এটি করেছি।' তিনি বললেন: 'যিনি তোমাকে এটি শিখিয়েছেন—অর্থাৎ ইবলিস—আমি তার চেয়ে বেশি ক্রোধান্বিত হব না। যাও, তুমি মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে মুক্ত।' আরও বর্ণিত (يروى) আছে যে, এক ব্যক্তি তাকে গালি দিল। যয়নুল আবেদিন তাকে বললেন: 'হে ব্যক্তি, আমার ও জাহান্নামের মাঝে একটি প্রতিবন্ধকতা রয়েছে; যদি আমি তা পার হতে পারি তবে আমি এসবের পরোয়া করি না, আর যদি আমি তা পার হতে না পারি তবে আমি তুমি যা বলছ তার চেয়েও অধম।'

রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: 'ব্যক্তি তার সহনশীলতা ও ক্ষমার মাধ্যমে রোজা পালনকারী ও সালাতে দণ্ডায়মান ব্যক্তির মর্যাদা লাভ করতে পারে। আবার এমন ব্যক্তিও থাকে যাকে জালেমদের তালিকায় লিখে রাখা হয়, অথচ তার নিজের পরিবার ছাড়া আর কারও ওপর কোনো কর্তৃত্ব বা শাসন ক্ষমতা নেই।' বর্ণিত (يروى) আছে যে, ইবলিস মুসা (আলাইহিস সালাম)-কে দেখে বলল: 'হে মুসা, আমি আপনাকে তিনটি বিষয় শিক্ষা দেব আর আপনি আমার জন্য আল্লাহর নিকট একটি আবেদন করবেন।' তিনি বললেন: 'সেই তিনটি বিষয় কী?' সে বলল: 'হে মুসা, রাগ ও ক্রোধ থেকে বেঁচে থাকুন; কারণ ক্রোধান্বিত ব্যক্তি লঘু মস্তিষ্কের হয়ে থাকে এবং আমি তাকে নিয়ে সেভাবেই খেলি যেভাবে বালকরা বল নিয়ে খেলে। আর কৃপণতা থেকে বেঁচে থাকুন, কারণ আমি কৃপণ ব্যক্তির দুনিয়া ও দ্বীন নষ্ট করে দিই। আর নারী থেকে সাবধান থাকুন, কারণ আমি সৃষ্টির জন্য এমন কোনো ফাঁদ পাতিনি যার ওপর আমি নারীর মতো দৃঢ়ভাবে নির্ভর করতে পারি।'
(খণ্ড: ১) আত-তিবরুল মাসবুকু ফী নাসিহাতিল মুলুক (পৃষ্ঠা: ২৬)
وقال عليه الصلاة والسلام: (من كظم غيظه وهو قادر على أن لايكظمه ملأ الله قلبه بالإيمان، ومن لم يلبس ثوباً طويلاً خوفاً من التكبر والخيلاء ألبسه الله تعالى حلل الكرامة) . وقال عليه الصلاة والسلام: (ويل لمن يغضب وينسى غضب الله) . جاء رجل إلى النبي صلى الله عليه وسلم فقال: علمني عملاً ادخل به الجنة، فقال: لا تغضب. قال: ثم ماذا؟ قال: استغفر الله قبل صلاة العصر سبعين مرة لتكفر عنك ذنوب سبعين سنة، فقال: ما لي ذنوب سبعين سنة، فقال: لأمك، قال: وما لأمي ذنوب سبعين سنة، قال: لأبيك، قال: وما لأبي ذنوب سبعين سنة قال: لأخوتك؟ قال: نعم.

وروى ابن مسعود أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يقسم يوماً مالاً فقال له رجل: ما هذه القسمة؟ يعني أنها ليست بإنصاف، فحكيت ذلك لرسول الله صلى الله عليه وسلم فغضب واحمرّ وجهه ولم يقل شيئاً سوى أن قال: رحم الله أخي موسى فإنه أوذي فصبر على الأذى.

فهذه الجملة من الحكايات والأخبار تقنع في نصيحة الولاة إذا كان أصل إيمانهم ثابتاً اثر فيه هذا القدر، فإن لم يؤثر ما ذكرناه فيهم فقد أخلوا قلوبهم من الإيمان، وإنه ما بقي من إيمانهم إلا الحديث باللسان. عامل يتناول من أموال المسلمين في كل سنة كذا وكذا ألف درهم ويبقى في ذمته، ويطالب بها في القيامة ويحصل بمنفوعها ويبؤ بالعقوبة والعذاب يوم المرجع والمآب كيف تؤثر عنده هذه الأسباب؟ وهذا نهاية الغفلة، وقلة الدين وضعف النحلة.

 

‌‌الأصل الخامس

إنك في كل واقعة تصل إليك وتعرض عليك تقدر

إنك واحد من جملة الرعية

وإن الوالي سواك فكل ما لا ترضاه لنفسك لا ترضى به لأحد من المسلمين، وإن رضيت لهم بما لا ترضاه لنفسك فقد خنت رعيتك وغششت أهل ولايتك.
এবং তিনি (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি নিজের ক্রোধ সংবরণ করে অথচ সে তা প্রকাশ করতে সক্ষম ছিল, আল্লাহ তার অন্তর ঈমান দ্বারা পূর্ণ করে দেন। আর যে ব্যক্তি অহংকার ও দম্ভের ভয়ে লম্বা পোশাক পরিধান করা থেকে বিরত থাকে, আল্লাহ তাআলা তাকে মর্যাদার পোশাক পরিধান করাবেন।" তিনি (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) আরও বলেছেন: "দুর্ভাগ্য় সেই ব্যক্তির জন্য, যে রাগান্বিত হয় অথচ আল্লাহর ক্রোধের কথা ভুলে যায়।" একজন ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে এসে বললেন: "আমাকে এমন একটি আমল শিখিয়ে দিন যার মাধ্যমে আমি জান্নাতে প্রবেশ করতে পারব।" তিনি বললেন: "রাগ করো না।" সে বলল: "তারপর কী?" তিনি বললেন: "আসর সালাতের আগে সত্তর বার আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো যেন তোমার সত্তর বছরের গুনাহ মোচন হয়ে যায়।" সে বলল: "আমার তো সত্তর বছরের গুনাহ নেই।" তিনি বললেন: "তবে তোমার মায়ের জন্য।" সে বলল: "আমার মায়েরও তো সত্তর বছরের গুনাহ নেই।" তিনি বললেন: "তবে তোমার পিতার জন্য।" সে বলল: "আমার পিতারও সত্তর বছরের গুনাহ নেই।" তিনি বললেন: "তবে তোমার ভাইদের জন্য?" সে বলল: "হ্যাঁ।"

এবং ইবনে মাসউদ বর্ণনা (روى) করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একদিন সম্পদ বণ্টন করছিলেন। তখন এক ব্যক্তি তাঁকে বলল: "এটি কেমন বণ্টন?" অর্থাৎ এটি ইনসাফপূর্ণ নয়। আমি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে বিষয়টি বর্ণনা করলে তিনি রাগান্বিত হলেন এবং তাঁর চেহারা মুবারক লাল হয়ে গেল। তিনি কেবল এটুকু বললেন: "আল্লাহ আমার ভাই মুসার ওপর রহম করুন, তাকে এর চেয়েও বেশি কষ্ট দেওয়া হয়েছিল, তবুও তিনি ধৈর্য ধারণ করেছিলেন।"

কাহিনী ও সংবাদসমূহের (الأخبار) এই সমষ্টি শাসকদের নসিহত করার জন্য যথেষ্ট যদি তাদের ঈমানের মূল ভিত্তি অটল থাকে, যা এই পরিমাণ দ্বারা প্রভাবিত হবে। আর যদি আমাদের উল্লেখিত বিষয়গুলো তাদের ওপর প্রভাব না ফেলে, তবে বুঝতে হবে তারা তাদের অন্তরকে ঈমান থেকে শূন্য করে ফেলেছে এবং তাদের ঈমানের কেবল মৌখিক উচ্চারণটুকুই অবশিষ্ট আছে। একজন কর্মকর্তা যে প্রতি বছর মুসলমানদের সম্পদ থেকে হাজার হাজার দিরহাম গ্রহণ করে এবং তা তার দায়বদ্ধতায় থেকে যায়, কিয়ামতের দিন যার জন্য তাকে জবাবদিহি করতে হবে; সে এর দ্বারা পার্থিব সুবিধা ভোগ করছে ঠিকই, কিন্তু পরকালে প্রত্যাবর্তনের দিনে তাকে শাস্তি ও আযাব ভোগ করতে হবে—এই কারণগুলো কীভাবে তাকে প্রভাবিত করে? এটি হলো চূড়ান্ত গাফিলতি, দ্বীনদারির স্বল্পতা এবং বিশ্বাসের (النحلة) দুর্বলতা।

 

‌‌পঞ্চম মূলনীতি

তোমার কাছে আগত ও উপস্থাপিত প্রতিটি বিষয়ের ক্ষেত্রে তুমি নিজেকে প্রজাসাধারণের একজন মনে করবে

এবং কল্পনা করবে যে শাসক তুমি নও বরং অন্য কেউ। সুতরাং তুমি নিজের জন্য যা পছন্দ করো না, মুসলমানদের কারো জন্যও তা পছন্দ করবে না। আর যদি তুমি তাদের জন্য এমন কিছু পছন্দ করো যা নিজের জন্য করো না, তবে তুমি তোমার প্রজাদের সাথে খেয়ানত করলে এবং তোমার শাসনভুক্ত লোকদের সাথে প্রতারণা করলে।
(খণ্ড: ১) আত-তিবরুল মাসবুকু ফী নাসিহাতিল মুলুক (পৃষ্ঠা: ২৭)
روي أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان قاعداً يوم بدر في ظل فهيط الأمين جبريل عليه السلام فقال: يا محمد أتقعد في الظل وأصحابك في الشمس. فعوتب بهذا القدر. وقال عليه الصلاة والسلام: (من أحب النجاة من النار والدخول إلى الجنة فينبغي أن يكون بحيث إذا جاءه الموت وجد كلمة الشهادة بلسانه، وكل ما لا يرضى به لنفسه لا يرضى به لأحد من المسلمين) . وقال عليه الصلاة والسلام: (من أصبح في قلبه همة سوى الله فليس من الله في شيء ومن لم يشفق على المسلمين فليس منهم) .

مس. فعوتب بهذا القدر. وقال عليه الصلاة والسلام: (من أحب النجاة من النار والدخول الى الجنة فينبغي أن يكون بحيث إذا جاءه الموت وجد كلمة الشهادة بلسانه، وكل ما لا يرضى به لنفسه لا يرضى به لأحد من المسلمين) . وقال عليه الصلاة والسلام: (من أصبح في قلبه همة سوى الله فليس من الله في شيء ومن لم يشفق على المسلمين فليس منهم) .

 

‌‌الأصل السادس

أن لا تحتقر انتظار أرباب الحوائج ووقوفهم ببابك

وأحذر من هذا الخطر، ومتى كان لأحد من المسلمين إليك حاجة فلا تشتغل عن قضائها بنوافل العبادات فإن قضاء حوائج المسلمين أفضل من نوافل العبادات.

نكتة: كان يوماً عمر بن عبد العزيز يقضي حوائج الناس فجلس إلى الظهر وتعب فدخل بيته ليستريح من تعبه فقال له ولده: وما الذي يؤمنك أن يأتيك الموت في هذه الساعة وعلى بابك منتظر حاجة وأنت مقصر في حقه؟ فقال: صدقت. ونهض فعاد إلى مجلسه.

 

الأصل السابع

أن لا تعود نفسك الاشتغال بالشهوات

من لبس الثياب الفاخرة وأكل الأطعمة الطيبة، لكن تستعمل القناعة في جميع الأشياء فلا عدل بلا قناعة.

نكتة: سأل عمر بن الخطاب، رضي الله عنه، بعض الصالحين فقال: هل رأيت من حلاي شيئاً تكرهه؟ قال: سمعت أنك وضعن على مائدتك رغيفين وأن لك قميصين أحدهما لليل والآخر للنهار، فقال: غير هذين شيء؟ فقال: لا. قال: والله إن هذين لا يكونان أبداً.
বর্ণিত (روي) আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বদরের দিন একটি ছায়ায় বসা ছিলেন, তখন বিশ্বস্ত (الأمين) জিবরাইল (আলাইহিস সালাম) অবতীর্ণ হলেন এবং বললেন: হে মুহাম্মদ! আপনি কি ছায়ায় বসে থাকবেন অথচ আপনার সাথীরা রোদে থাকবে? এই পরিমাণেই তাঁকে তিরস্কার করা হয়েছিল। এবং তিনি (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি জাহান্নাম থেকে মুক্তি এবং জান্নাতে প্রবেশ করতে পছন্দ করে, তার উচিত এমন হওয়া যেন মৃত্যু আসার সময় তার জিহ্বায় শাহাদাহ কালিমা বিদ্যমান থাকে, আর সে নিজের জন্য যা পছন্দ করে না, অন্য কোনো মুসলমানের জন্যও তা পছন্দ করবে না।" এবং তিনি (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি এমনভাবে সকাল অতিবাহিত করে যে তার হৃদয়ে আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো চিন্তা থাকে, আল্লাহর সাথে তার কোনো সম্পর্ক নেই। আর যে ব্যক্তি মুসলমানদের প্রতি মমতা প্রদর্শন করে না, সে তাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।"

মাস। এই পরিমাণেই তাঁকে তিরস্কার করা হয়েছিল। এবং তিনি (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি জাহান্নাম থেকে মুক্তি এবং জান্নাতে প্রবেশ করতে পছন্দ করে, তার উচিত এমন হওয়া যেন মৃত্যু আসার সময় তার জিহ্বায় শাহাদাহ কালিমা বিদ্যমান থাকে, আর সে নিজের জন্য যা পছন্দ করে না, অন্য কোনো মুসলমানের জন্যও তা পছন্দ করবে না।" এবং তিনি (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি এমনভাবে সকাল অতিবাহিত করে যে তার হৃদয়ে আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো চিন্তা থাকে, আল্লাহর সাথে তার কোনো সম্পর্ক নেই। আর যে ব্যক্তি মুসলমানদের প্রতি মমতা প্রদর্শন করে না, সে তাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।"

 

‌‌ষষ্ঠ মূলনীতি (الأصل السادس)

অভাবী লোকদের অপেক্ষা এবং তোমার দরজায় তাদের দাঁড়িয়ে থাকাকে তুচ্ছজ্ঞান না করা।

এই বিপদের ব্যাপারে সতর্ক থাকো। যখনই কোনো মুসলমানের তোমার কাছে কোনো প্রয়োজন দেখা দেয়, তখন তা পূরণ করা ছেড়ে নফল ইবাদতসমূহে লিপ্ত হয়ো না। কেননা মুসলমানদের প্রয়োজন পূরণ করা নফল ইবাদতের চেয়ে শ্রেষ্ঠ।

একটি সূক্ষ্ম বিষয় (نكتة): একদিন উমর ইবনে আব্দুল আজিজ মানুষের প্রয়োজন পূরণ করছিলেন। তিনি জোহর পর্যন্ত বসলেন এবং ক্লান্ত হয়ে পড়লেন। অতঃপর ক্লান্তি দূর করার জন্য বিশ্রামের উদ্দেশ্যে ঘরে প্রবেশ করলেন। তখন তাঁর পুত্র তাঁকে বললেন: "কোন বিষয়টি আপনাকে এ নিশ্চয়তা দিচ্ছে যে এই মুহূর্তে আপনার নিকট মৃত্যু আসবে না, অথচ আপনার দরজায় একজন অভাবী লোক অপেক্ষা করছে এবং আপনি তার হকের ব্যাপারে ত্রুটি করছেন?" তখন তিনি বললেন: "তুমি সত্য বলেছ।" অতঃপর তিনি উঠে পুনরায় তাঁর মজলিসে ফিরে গেলেন।

 

সপ্তম মূলনীতি (الأصل السابع)

প্রবৃত্তি (الشهوات) পূরণে লিপ্ত হতে নিজেকে অভ্যস্ত না করা।

যেমন বিলাসবহুল পোশাক পরিধান এবং সুস্বাদু খাবার ভক্ষণ; বরং সকল বিষয়ে অল্পেতুষ্টি (القناعة) অবলম্বন করবে, কারণ অল্পেতুষ্টি (القناعة) ব্যতীত ইনসাফ প্রতিষ্ঠিত হয় না।

একটি সূক্ষ্ম বিষয় (نكتة): উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) জনৈক নেককার ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করলেন: "আপনি কি আমার মাঝে এমন কিছু দেখেছেন যা আপনি অপছন্দ করেন?" তিনি বললেন: "আমি শুনেছি যে আপনি আপনার দস্তরখানে দুটি রুটি রাখেন এবং আপনার দুটি জামা আছে—একটি রাতের জন্য এবং অন্যটি দিনের জন্য।" উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বললেন: "এই দুটি ছাড়া আর কিছু আছে কি?" তিনি বললেন: "না।" তখন তিনি বললেন: "আল্লাহর কসম! এই দুটিও আর কখনো হবে না।"
(খণ্ড: ১) আত-তিবরুল মাসবুকু ফী নাসিহাতিল মুলুক (পৃষ্ঠা: ২৮)
‌‌الأصل الثامن

إنك متى أمكنك أن تعمل الأمور بالرفق واللطف

فلا تعملها بالشدة والعنف. قال صلى الله عليه وسلم: (كل والٍ لا يرفق برعيته لا يرفق الله به يوم القيامة) . ودعا عليه الصلاة والسلام يوماً: (اللهم الطف بكل والٍ يلطف برعيته واعنف على كل والٍ يعنف على رعيته) . وقال عليه الصلاة والسلام: (الولاية والإمرة حسنتان لمن قام بحقهما سيئتان لمن قصر فيهما) .

نكتة: كان هشام بن عبد الملك من خلفاء بني أمية فسأل يوماً أبا حازم وكان من العلماء: ما التدبير في النجاة من أمور الخلافة؟ قال: أن تأخذ الدرهم الذي تأخذه من وجه حلال، وان تضعه في موضع حق. قال: من يقدر عل هذا؟ قال: من يرغب في نعيم الجنان، ويرهب من عذاب النيران.

 

‌‌الأصل التاسع

أن تجتهد أن ترضى عنك رعيتك بموافقة الشرع

قال النبي صلى الله عليه وسلم لأصحابه: (خير أمتي الذين يحبونكم وتحبونهم، وشر أمتي الذين يبغضونكم وتبغضونهم ويلعنونكم وتلعنونهم، وينبغي للوالي أن لا يغتر بكل من وصل إليه وأثنى عليه، وأن لا يعتقد أن الرعية مثله راضون عنه، وأن الذي يثني عليه إنما يفعل ذلك من خوفه منه، بل ينبغي ترتيب معتمدين يسألون عن حاله من الرعية ليعلم عيبه من ألسنة الناس) .

 

‌‌الأصل العاشر

إن لا يطلب رضا أحد من الناس بمخالفة الشرع

فإن من سخط بخلاف الشرع لا يضر سخطه. كان عمر ابن الخطاب، رضي الله عنه، يقول: إني لأصبح ونصف الخلق علي ساخط، ولابد لكل من يؤخذ منه الحق أن
অষ্টম মূলনীতি

যখনি আপনার পক্ষে নম্রতা ও কোমলতার সাথে কাজ করা সম্ভব হবে

তখন কঠোরতা ও রুক্ষতার সাথে তা করবেন না। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: (যে কোনো শাসক তার প্রজাদের প্রতি নম্রতা প্রদর্শন করে না, আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন তার প্রতি নম্রতা প্রদর্শন করবেন না)। তিনি (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) একদিন দুআ করেছিলেন: (হে আল্লাহ! আপনি সেই শাসকের প্রতি সদয় হোন যে তার প্রজাদের প্রতি সদয় হয়, আর সেই শাসকের প্রতি কঠোর হোন যে তার প্রজাদের প্রতি কঠোরতা অবলম্বন করে)। তিনি (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) আরও বলেছেন: (কর্তৃত্ব ও নেতৃত্ব সেই ব্যক্তির জন্য কল্যাণকর যে তার হক আদায় করে, আর সেই ব্যক্তির জন্য অকল্যাণকর যে তাতে ত্রুটি করে)।

একটি বিশেষ বিষয়: উমাইয়া বংশের খলিফাদের মধ্যে হিশাম ইবনে আবদুল মালিক একদিন আলেমদের অন্তর্ভুক্ত আবু হাজিমকে জিজ্ঞাসা করলেন: খেলাফতের দায়-দায়িত্ব থেকে নাজাত পাওয়ার উপায় কী? তিনি বললেন: আপনি যে দিরহাম গ্রহণ করবেন তা হালাল পন্থায় গ্রহণ করবেন এবং তা সঠিক খাতে ব্যয় করবেন। তিনি বললেন: এর সামর্থ্য কার আছে? তিনি বললেন: যার জান্নাতের নেয়ামতের প্রতি আগ্রহ আছে এবং জাহান্নামের আজাবের ভয় আছে।

 

নবম মূলনীতি

শরিয়তের বিধানের অনুকূলে থেকে আপনার প্রজারা যেন আপনার ওপর সন্তুষ্ট থাকে সে বিষয়ে সচেষ্ট হওয়া

নবী কারীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর সাহাবীদের বলেছিলেন: (আমার উম্মতের মধ্যে সর্বোত্তম তারা যাদেরকে তোমরা ভালোবাসো এবং তারাও তোমাদের ভালোবাসে, আর আমার উম্মতের মধ্যে সর্বনিকৃষ্ট তারা যাদের তোমরা ঘৃণা করো এবং তারাও তোমাদের ঘৃণা করে, আর তোমরা তাদের অভিশাপ দাও এবং তারাও তোমাদের অভিশাপ দেয়)। শাসকের উচিত নয় তার নিকট আগত ও প্রশংসাকারীদের কথায় প্রলুব্ধ হওয়া, এবং এমনটা মনে করাও ঠিক নয় যে প্রজারা প্রশংসাকারীদের মতোই তার ওপর সন্তুষ্ট। কারণ যে প্রশংসা করছে সে মূলত ভয়ের কারণেই তা করছে। বরং শাসকের উচিত নির্ভরযোগ্য (معتمد) ব্যক্তিদের নিযুক্ত করা যারা প্রজাদের কাছ থেকে তার অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবে, যাতে মানুষের মুখ থেকে তিনি নিজের দোষ-ত্রুটি জানতে পারেন।

 

দশম মূলনীতি

শরিয়তের বিরুদ্ধাচরণ করে কোনো মানুষের সন্তুষ্টি অন্বেষণ না করা

কেননা শরিয়ত বিরোধী কাজে কেউ অসন্তুষ্ট হলে সেই অসন্তুষ্টি কোনো ক্ষতি করতে পারে না। উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলতেন: আমি এমন অবস্থায় সকাল করি যখন অর্ধেক সৃষ্টি আমার ওপর অসন্তুষ্ট থাকে। যার কাছ থেকে হক আদায় করা হয় তার তো অবশ্যই...
(খণ্ড: ১) আত-তিবরুল মাসবুকু ফী নাসিহাতিল মুলুক (পৃষ্ঠা: ২৯)
يسخط، ولا يمكن أن يرضى الخصمين، وأكثر الناس جهلاً من ترك الحق لأجل رضا الخلق.

كتب معاوية إلى عائشة، رضي الله عنهما، أن عظيني عظة مختصرة، فكتبت إليه تقول: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: (من طلب رضا الله تعالى في سخط الناس رضي الله عنه وأرضى عنه الناس، ومن طلب رضا الناس بسخط الله تعالى سخط الله عليه وأسخط الخلق عليه، مثل أن لا يأمرهم بالطاعة ولا يعلمهم أمور الدين ويطعمهم الحرام ويمنع الأجير أجرته والمرأة مهرها، سخط الله عليه وأسخط عليه الناس)
তিনি অসন্তুষ্ট হন এবং বিবাদমান উভয় পক্ষকে সন্তুষ্ট করা সম্ভব নয়; আর মানুষের মাঝে সেই ব্যক্তিই সর্বাপেক্ষা অজ্ঞ যে সৃষ্টির সন্তুষ্টির নিমিত্তে সত্যকে বর্জন করে।

মুয়াবিয়া (রা.) আয়েশা (রা.)-এর নিকট পত্র লিখলেন যে, আমাকে সংক্ষেপে কিছু উপদেশ প্রদান করুন। প্রত্যুত্তরে তিনি তাঁকে লিখে জানালেন: আমি আল্লাহর রাসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি: (যে ব্যক্তি মানুষের অসন্তুষ্টির বিনিময়ে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অন্বেষণ করে, আল্লাহ তার প্রতি সন্তুষ্ট হন এবং মানুষকেও তার প্রতি সন্তুষ্ট করে দেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর অসন্তুষ্টির মাধ্যমে মানুষের সন্তুষ্টি অন্বেষণ করে, আল্লাহ তার প্রতি অসন্তুষ্ট হন এবং সৃষ্টিজগতকেও তার প্রতি অসন্তুষ্ট করে দেন। যেমন—সে তাদের আনুগত্যের আদেশ দেয় না, তাদের দ্বীনের বিষয়াদি শিক্ষা দেয় না, তাদের হারাম খাদ্য দান করে এবং শ্রমিকের মজুরি ও নারীর মোহরানা প্রদানে বাধা সৃষ্টি করে; এমতাবস্থায় আল্লাহ তার প্রতি অসন্তুষ্ট হন এবং মানুষকেও তার প্রতি রাগান্বিত করে দেন।)
(খণ্ড: ১) আত-তিবরুল মাসবুকু ফী নাসিহাতিল মুলুক (পৃষ্ঠা: ৩০)
‌‌بيان العينين اللتين هما مشرب شجرة الإيمان

وإذ قد عرفت أصول شجرة الإيمان، وعرفت فروعها، فاعلم أن هناك عينين للعلم تستمد الشجرة منهما الماء.

 

‌‌العين الأولى في معرفة الدنيا ولم أوجد فيها الإنسان

إعلم يا سلطان العالم أن الدنيا منزلة وليست بدار قرار، والإنسان مسافر فأول منازله بطن أمه وآخر منازله لحد قبره، وإنما وطنه وقراره ومكثه واستقراره بعدها. فكل سنة تنقضي من الإنسان فكالمرحلة، وكل شهر ينقضي منه فكاستراحة المسافر في كريقه، وكل أسبوع فكقرية تلقاه، وكل يوم فكفر سوف يقطعه، وكل نفس كخطوة يخطوها، وبقدر كل نفس يتنفسه يقرب من الآخرة. وهذه الدنيا قنطرة فمن عمر القنطرة واستعجل بعمارتها فني فيها زمانه، ونسى المنزلة التي هي مصيره ومكانه، وكان جاهلاً غير عاقل، وإنما العاقل الذي لا يشتغل في دنياه إلا لاستعداده لمعاده، ويكتفي منها بقدر الحاجة ومهما جمعه فوق كفايته كان سماً ناقعاً، ويتمنى أن تكون جميع خزائنه وسائر ذخائره رماداً وتراباً لا فضة ولا ذهباً، ولو جمع مهما جمع فإن نصيبه ما يأكله ويلبسه لا سواه، وجميع ما يخلفه يكون عليه حسرة وندامة ويصعب عليه نزعه عند موته فحلالها حساب، وحرامها عذاب، أن كان قد جمع المال من حلال طلب منه الحساب، وإن كان قد جمع من حرام وجب عليه العذاب،
ঈমানরূপ বৃক্ষের পানীয় সরবরাহকারী দুই প্রস্রবণের বর্ণনা

যখন আপনি ঈমানরূপ বৃক্ষের মূলসমূহ এবং এর শাখা-প্রশাখা সম্পর্কে জানতে পেরেছেন, তখন জেনে রাখুন যে, জ্ঞানের এমন দুটি প্রস্রবণ রয়েছে যেখান থেকে এই বৃক্ষ পানি গ্রহণ করে থাকে।

 

‌প্রথম প্রস্রবণ: দুনিয়ার পরিচয় এবং মানুষকে কেন সেখানে সৃষ্টি করা হয়েছে

হে বিশ্বের সুলতান! জেনে রাখুন যে, দুনিয়া একটি যাত্রাবিরতির স্থান মাত্র, এটি চিরস্থায়ী আবাসস্থল (دار قرار) নয়। মানুষ একজন মুসাফির; তার প্রথম মনজিল হলো মায়ের গর্ভ আর শেষ মনজিল হলো কবরের গহ্বর। আর তার আসল স্বদেশ, চিরস্থায়ী ঠিকানা ও স্থিতি তো এর পরে। মানুষের জীবনের অতিবাহিত প্রতিটি বছর যেন একেকটি সফর-পর্যায় (مرحلة), প্রতিটি অতিবাহিত মাস যেন পথে মুসাফিরের বিশ্রামের বিরতি, প্রতিটি সপ্তাহ যেন যাত্রাপথে সামনে আসা একেকটি গ্রাম, প্রতিটি দিন যেন একেকটি প্রান্তর যা তাকে অতিক্রম করতে হবে এবং প্রতিটি নিঃশ্বাস হলো তার একেকটি পদক্ষেপ। প্রতিটি নিঃশ্বাসের সাথে সাথে সে পরকালের নিকটবর্তী হচ্ছে। এই দুনিয়া একটি সেতুর (قنطرة) মতো; যে ব্যক্তি এই সেতু নির্মাণ ও তা সুসজ্জিত করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ল এবং এর পেছনেই নিজের সময় ব্যয় করল, সে সেই গন্তব্যের কথা ভুলে গেল যা তার আসল ঠিকানা ও প্রত্যাবর্তনের স্থল। সে মূলত একজন বিবেকহীন মূর্খ। বুদ্ধিমান তো কেবল সেই ব্যক্তি যে তার পরকালের পাথেয় সংগ্রহের প্রয়োজন ছাড়া দুনিয়ার কাজে লিপ্ত হয় না এবং দুনিয়া থেকে কেবল প্রয়োজন মাফিক গ্রহণ করে। প্রয়োজনের অতিরিক্ত যা কিছু সে জমা করে তা প্রাণঘাতী বিষের ন্যায়। সে কামনা করে যেন তার সকল ধন-ভাণ্ডার ও সঞ্চিত সম্পদ রূপা বা সোনা না হয়ে ছাই ও মাটি হতো। সে যাই জমা করুক না কেন, তার প্রকৃত অংশ তো কেবল ততটুকুই যা সে আহার করে এবং পরিধান করে; এর বাইরে আর কিছুই নয়। সে যা কিছু পেছনে রেখে যাবে তা তার জন্য আফসোস ও অনুশোচনার কারণ হবে এবং মৃত্যুর সময় তা ত্যাগ করা তার জন্য অত্যন্ত কষ্টকর হবে। এর হালাল (حلال) উপার্জনের হিসাব (حساب) দিতে হবে এবং হারাম (حرام) উপার্জনের জন্য ভোগ করতে হবে শাস্তি (عذاب)। যদি সে হালাল উপায়ে সম্পদ জমা করে থাকে তবে তার কাছে হিসাব চাওয়া হবে, আর যদি হারাম উপায়ে জমা করে থাকে তবে তার ওপর শাস্তি অবধারিত হবে।
(খণ্ড: ১) আত-তিবরুল মাসবুকু ফী নাসিহাতিল মুলুক (পৃষ্ঠা: ৩১)
وكان إيمانه صحيحاً سالماً لحضرة الديان، فلا وجه ليأسه من الرحمة والرضوان، فإن الله جواد كريم، غفور رحيم.

واعلم أيها السلطان أن راحة الدنيا أيام قلائل وأكثرها منغص بالتعب، مشوب بالنصب، وبسببها تفوت راحة الآخرة التي هي الدائمة الباقية والملك الذي لا نهاية له ولا فناء، فيسهل على العاقل أن يصبر في هذه الأيام القلائل لينال راحة دائمة بلا انقضاء.

نكتة: لو كان للإنسان معشوقة وقيل له إن صبرت عنها هذه الليلة سلمت إليك ألف ليلة بلا تعب ولا نصب، وإن كنت تزورها فإنك لا تراها أبداً فإنه كان عشقه لها عظيماً وصبره عنها أليماً لكن يهون عليه صبره على البعد عنها ليلة واحدة لينال الآخرة، بل الدنيا ليست بشيء في جنب الآخرة، ولا شبه بينهما لأن الآخرة لا نهاية لها، ولا يُدرك بالوهم طولها.

وقد أفردنا في صفة الدنيا كتاباً لكنا نقتنع الآن بما نورده من حال الدنيا، وقد أوضحنا حالها على عشرة أمثلة.

المثال الأول في بيان سحر الدنيا: وقد قال صلى الله عليه وسلم: (أحذروا الدنيا فإنها أسحر من هاروت وماروت؛ وأول سحرها أنها تريك أنها ساكنة عندك مستقرة معك، وإذا تأملتها خلتها وهي هاربة منك نافرة عنك عل الدوام، وإنما تتسلسل عل التدريج ذرة ذرة ونفساً نفساً) . ومثل الدنيا مثل الظل إذا رأيته حسبته ساكناً وهو يمر دائماً، وكذلك عمر الإنسان يمر بالتدريج عل الدوام وينقص كل لحظة، وكذلك الدنيا تودعك وتهرب عنك وأنت غافل لا تخبر وذاهل لا تشعر، ولذلك قال بعض الشعراء في المعني.

وما الدُنيَا وإن كثُرت وطابَت … بها اللذاتُ إلا كالسَرابِ

يمُرُ نعيمُها بعدُ اِلتذاذِ … ويمضِي ذاهباً مرّ السحابِ

المثال الثاني من ذلك: ومن سحرها أنها تظهر لك محبة لتعشقها، وتريك أنها لك مساعدة وأنها لا تنتقل عنك إلى غيرك ثم تعود عدوة لك على
এবং তাঁর ঈমান মহান বিচারকের দরবারে সঠিক (صحيح) ও নিরাপদ ছিল, সুতরাং তাঁর পক্ষে রহমত ও সন্তুষ্টি হতে নিরাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। কেননা আল্লাহ পরম দাতা, মহানুভব, পরম ক্ষমাশীল ও দয়ালু।

হে সুলতান! জেনে রাখুন যে, দুনিয়ার আরাম-আয়েশ মাত্র কয়েক দিনের এবং এর অধিকাংশই দুঃখ-কষ্ট দ্বারা বিঘ্নিত ও পরিশ্রম দ্বারা কলুষিত। আর এর কারণে আখেরাতের সেই সুখ হাতছাড়া হয়ে যায় যা চিরস্থায়ী ও চিরন্তন এবং সেই রাজত্ব যা অনন্ত ও অক্ষয়। সুতরাং একজন বুদ্ধিমান ব্যক্তির জন্য এই নগণ্য দিনগুলোতে ধৈর্য ধারণ করা সহজ হওয়া উচিত, যাতে তিনি চিরন্তন ও অফুরন্ত সুখ লাভ করতে পারেন।

একটি সূক্ষ্ম রহস্য: যদি কোনো ব্যক্তির একজন প্রিয়া থাকে এবং তাকে বলা হয় যে, যদি তুমি এই এক রাত তার থেকে দূরে ধৈর্য ধারণ করো, তবে কোনো প্রকার ক্লান্তি ও পরিশ্রম ছাড়াই তাকে এক হাজার রাতের জন্য তোমার হাতে তুলে দেওয়া হবে; আর যদি তুমি এখনই তার সাথে সাক্ষাৎ করো, তবে তাকে আর কখনোই দেখতে পাবে না। এমতাবস্থায় যদি তার প্রতি ব্যক্তির প্রেম সুগভীর হয় এবং তার থেকে দূরে থাকা যন্ত্রণাদায়কও হয়, তবুও পরবর্তী দীর্ঘ সময় তাকে পাওয়ার আশায় মাত্র এক রাতের বিচ্ছেদ সহ্য করা তার জন্য সহজ মনে হবে। বরং আখেরাতের তুলনায় দুনিয়া তো কিছুই নয় এবং এ দুয়ের মধ্যে কোনো তুলনা হয় না। কারণ আখেরাতের কোনো সমাপ্তি নেই এবং এর দীর্ঘতা কল্পনা দিয়েও অনুধাবন করা যায় না।

দুনিয়ার গুণাগুণ সম্পর্কে আমরা একটি পৃথক কিতাব রচনা করেছি, তবে বর্তমানে আমরা দুনিয়ার অবস্থা সম্পর্কে যা বর্ণনা করছি তাতেই আমরা সন্তুষ্ট থাকব। আমরা দশটি উদাহরণের মাধ্যমে এর অবস্থা স্পষ্ট করেছি।

প্রথম উদাহরণ, দুনিয়ার জাদুকরী প্রভাব বর্ণনায়: এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: (তোমরা দুনিয়া সম্পর্কে সতর্ক থাকো, কারণ এটি হারুত ও মারুতের চেয়েও বড় জাদুকর। এর জাদুর প্রাথমিক রূপ হলো, এটি তোমাকে দেখাবে যে এটি তোমার নিকট স্থির ও স্থায়ীভাবে বিদ্যমান। কিন্তু যখনই তুমি এটি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করবে, দেখবে যে এটি তোমার থেকে পলায়নপর এবং সর্বদা তোমার থেকে বিমুখ। এটি কেবল ধাপে ধাপে অণু পরিমাণ এবং নিঃশ্বাসে নিঃশ্বাসে অতিবাহিত হয়ে যায়)। দুনিয়ার উদাহরণ হলো ছায়ার মতো; যখন তুমি তা দেখবে, তখন তোমার মনে হবে এটি স্থির, অথচ এটি সর্বদা প্রবহমান। তেমনিভাবে মানুষের আয়ুও প্রতিনিয়ত ক্রমান্বয়ে অতিক্রান্ত হচ্ছে এবং প্রতিটি মুহূর্তে হ্রাস পাচ্ছে। অনুরূপভাবে দুনিয়া তোমাকে বিদায় জানাচ্ছে এবং তোমার থেকে পালিয়ে যাচ্ছে, আর তুমি উদাসীন অবস্থায় তা জানতে পারছ না এবং অসতর্কতায় তা অনুভব করছ না। এ কারণেই জনৈক কবি এ প্রসঙ্গে বলেছেন:

দুনিয়া প্রাচুর্যময় ও সুখকর হলেও … এর স্বাদসমূহ মরীচিকা ছাড়া কিছুই নয়

উপভোগের পর এর নেয়ামত অতিক্রান্ত হয় … আর মেঘমালার মতো দ্রুত চলে যায়

দ্বিতীয় উদাহরণ: এর জাদুর আরেকটি দিক হলো, এটি তোমার নিকট মহব্বত প্রকাশ করে যাতে তুমি এর প্রেমে আসক্ত হও। এটি তোমাকে দেখাবে যে এটি তোমার সাহায্যকারী এবং তোমাকে ছেড়ে অন্য কারো কাছে যাবে না, অতঃপর এটি তোমার শত্রুতে পরিণত হয়...
(খণ্ড: ১) আত-তিবরুল মাসবুকু ফী নাসিহাতিল মুলুক (পৃষ্ঠা: ৩২)
غفلة. ومثلها مثل امرأة فاجرة خداعة للرجال حتى إذا رأوها عشقوها ودعتهم إلى بيتها فاغتالتهم وأهلكتهم.

نكتة: رأى عيسى عليه السلام الدنيا في بعض مكاشفاته وهي على صورة عجوز هرمة فقال لها: كم كان لك من زوج؟ فقالت: لا يحصون كثرة، فقال عيسى: ماتوا أم طلقوك؟ فقالت: بل أنا قتلتهم وأفنيتهم، فقال: يا عجباً ومن دواهيك هذا صنعك بأهلك وهم فيك راعبون، وعليك يقتتلون، وبمن مضى لا يعتبرون.

المثال الثالث من ذلك: ومن سحرها أنها تزين ظاهرها بمحاسنه، وتخفي محنتها وقواتلها في باطنها، لتغر الجاهل بما يرى من ظاهرها ومثلها كمثل عجوز قبيحة المنظر تخفي وجهها وتلبس حسن الثياب وتتزين وتتجمل لتفتن الخلق من بعد فإذا كشفوا عنها غطاءها وخمارها، والقوا عنها إزارها ندموا على محبتها لما شاهدوه من فضائح، وعاينوه من قبائحها. وقد جاء في الخبر أن الدنيا يؤتى بها يوم القيامة في صورة عجوز قبيحة مشوهة زرقاء العين وحشة الوجه قد كشّرت عن أنيابها، فإذا رآها الخلائق قالوا نعوذ بالله من هذه القبيحة المشوهة، فيقال لهم هذه الدنيا التي كنتم عليها تتحاسدون ولأجلها كنتم تتحاقدون وتسفكون الدماء بغير حق وتقطعون أرحامكم وتغترون زخرفها، ثم يؤمر بها إلى النار فتقول: إلهي أين أحبابي فيؤمر بهم فيلقون في نار جهنم.

المثال الرابع من ذلك: إن الإنسان يحسب كم كان في الأزل قبل أن يوجد في الدنيا وكم يكون مدة عدمه بالموت وكم قدر هذه المدة التي بين الأبد والأزل وهي مدة حياته في الدنيا، فيعلم أن مثال الدنيا كطريق المسافر أوله المهد، وآخره اللحد، وفيما بينهما منازل معدودة، وأن كل سنة كمنزل وكل شهر لفرسخ، وكل يوم كميل، وكل نفس كخطوة وهو يسير دائماً فيبقى لواحد من طريقه فرسخ ولآخر أكثر وهو قاعد ذاهل، وساكن غافل، كأنه
অসতর্কতা (غفلة)। এর উদাহরণ হলো এক পাপিষ্ঠা ও প্রতারক মহিলার ন্যায় যে পুরুষদের বিভ্রান্ত করে; এমনকি যখন তারা তাকে দেখে, তারা তার প্রেমে পড়ে যায় এবং সে তাদের নিজ গৃহে আমন্ত্রণ জানায়, অতঃপর তাদের গুপ্তহত্যা করে ও বিনাশ করে।

একটি সূক্ষ্ম বিষয়: ঈসা আলাইহিস সালাম তাঁর কোনো এক আধ্যাত্মিক দর্শনে দুনিয়াকে এক অতি বৃদ্ধা নারীরূপে দেখতে পেলেন। তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন: তোমার কতজন স্বামী ছিল? সে বলল: তাদের সংখ্যা অগণিত। ঈসা (আ.) বললেন: তারা কি মারা গিয়েছে নাকি তোমাকে তালাক দিয়েছে? সে বলল: বরং আমিই তাদের হত্যা করেছি এবং ধ্বংস করেছি। তিনি বললেন: আশ্চর্যের বিষয়! তোমার এই ভয়াবহতা সত্ত্বেও তোমার আপনজনদের সাথে তোমার আচরণ এমন, অথচ তারা তোমার প্রতি আসক্ত, তোমার জন্য মারামারি করে এবং যারা গত হয়েছে তাদের থেকে কোনো শিক্ষা গ্রহণ করে না।

তৃতীয় উদাহরণ: এর যাদুর অন্যতম দিক হলো এটি সৌন্দর্য দিয়ে তার বাহ্যিক রূপকে সুশোভিত করে এবং তার ভেতরের দুঃখ-কষ্ট ও প্রাণঘাতী বিষয়গুলোকে লুকিয়ে রাখে, যাতে অজ্ঞ ব্যক্তি তার বাহ্যিক রূপ দেখে প্রতারিত হয়। এর উদাহরণ হলো সেই কুৎসিত দর্শন বৃদ্ধার ন্যায় যে তার মুখমণ্ডল ঢেকে রাখে এবং সুন্দর পোশাক পরিধান করে সুসজ্জিত হয় যাতে দূর থেকে সৃষ্টিজগতকে মোহিত করতে পারে। কিন্তু যখন তারা তার ওপর থেকে আবরণ ও ওড়না সরিয়ে দেয় এবং তার পরিধেয় বস্ত্র ফেলে দেয়, তখন তার কেলেঙ্কারি ও কুৎসিত রূপ প্রত্যক্ষ করার পর তারা তার প্রতি ভালোবাসার কারণে লজ্জিত হয়। বর্ণনায় (خبر) এসেছে যে, কিয়ামতের দিন দুনিয়াকে একটি কুৎসিত, বিকৃত, নীল চক্ষু বিশিষ্ট ও ভয়াবহ চেহারা সম্পন্ন বৃদ্ধার আকৃতিতে উপস্থিত করা হবে যে তার দাঁত বের করে আছে। যখন সৃষ্টির সকল মানুষ তাকে দেখবে, তারা বলবে: আমরা এই কুৎসিত বিকৃত রূপ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। তখন তাদের বলা হবে, এটিই সেই দুনিয়া যার মোহে তোমরা একে অপরের প্রতি হিংসা করতে, যার কারণে একে অপরের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করতে, অন্যায়ভাবে রক্তপাত করতে, আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করতে এবং যার চাকচিক্যে তোমরা প্রলুব্ধ হতে। অতঃপর একে জাহান্নামে নিক্ষেপ করার নির্দেশ দেওয়া হবে। তখন সে বলবে: হে আমার ইলাহ! আমার প্রেমিকরা কোথায়? তখন তাদের সম্পর্কেও নির্দেশ দেওয়া হবে এবং তাদের জাহান্নামের আগুনে নিক্ষেপ করা হবে।

চতুর্থ উদাহরণ: মানুষ যদি হিসাব করে যে দুনিয়াতে আসার পূর্বে অনাদিকাল হতে সে কতকাল অস্তিত্বহীন ছিল এবং মৃত্যুর পর তার সেই অস্তিত্বহীনতার মেয়াদ কতকাল হবে, আর অনাদি ও অনন্তকালের মধ্যবর্তী এই সময়টুকুর—যা তার দুনিয়াবী জীবনের মেয়াদ—পরিমাণ কত; তবে সে জানতে পারবে যে দুনিয়ার উদাহরণ হলো একজন মুসাফিরের পথের মতো, যার শুরু হলো দোলনা আর শেষ হলো কবর। আর এই দুইয়ের মধ্যবর্তী সময়টুকু হলো কিছু সুনির্দিষ্ট মনজিল। প্রতিটি বছর একেকটি মনজিলের ন্যায়, প্রতিটি মাস একেকটি ফারসাখের ন্যায়, প্রতিটি দিন একেকটি মাইলের ন্যায় এবং প্রতিটি নিঃশ্বাস একেকটি কদমের ন্যায়। সে সর্বদা চলন্ত অবস্থায় আছে; কারও পথের হয়তো আর মাত্র এক ফারসাখ বাকি আছে, আবার কারও তার চেয়ে বেশি। অথচ সে উদাসীন ও অসচেতন (غافل) অবস্থায় স্থির হয়ে বসে আছে, যেন সে...
(খণ্ড: ১) আত-তিবরুল মাসবুকু ফী নাসিহাতিল মুলুক (পৃষ্ঠা: ৩৩)
مقيم لا يبرح وقد اشتغل بتدبير أعمال لا يحتاج إليها بعد عشر سنين وربما يحصل بعد عشرة أيام تحت التراب.

المثال الخامس من ذلك: إعلم أن مثل الدنيا تتحف أهلها فيها بشهواتهم ولذاتهم من الأمور الفضائح التي يشاهدونها في الآخرة كمثل إنسان أكل فوق حاجته من طعام حلو سمين إلى أن هاض هاضت معدته فرأى فضيحته من هلاك معدته ونتونة نفسه وكره برازه وحاجته فندم بعد ذهاب لذته وبقاء فضيحته من هلاك معدته. وكذلك كلّما ألف الإنسان لذات الدنيا وتبين له ذلك كانت عاقبته أصعب، ويبتلي بمثل ذلك عند نزعه خروج روحه كمن كان له نعم كثيرة وذهب وفضة وجوار وغلمان وكروم وبساتين وفارقه كان ألم فراق روحه عليه أصعب ممن ليس له إلا القليل فإن ذلك الألم والعذاب لا يزول بالموت بل يزيد لأن تلك المحبة صفة القلب والقلب بحاله لا يموت.

المثال السادس من ذلك: إعلم أيها السلطان أن أمور الدنيا أول ما تبدو يظنها الإنسان قريبة مختصرة وأن شغلها لا يدوم، وربما كان من بعض أشغالها وأحوالها أمر يتسلسل منه أمر وينفق فيه بضاعة العمر، فإن عيسى عليه السلام قال: طالب الدنيا كشارب ماء البحر كلما ازداد شرباً ازداد عطشاً ولهباً فلا يزال يشرب حتى يهلك ولا يروى. قال النبي صلى الله عليه وسلم: (كما لا يمكن من خاض البحر أن لا يناله البلل كذلك لا يمكن من دخل في أمور الدنيا أن لا يتدنس) .

المثال السابع من ذلك: مثل من حصل في الدنيا كمثل ضيف دُعي إلى مائدة ومن عادة المضيف أن يزين داره للأضياف ويدعو إليها قوماً بعد قوم، وفوجاً بعد فوج، ويضع بين يدي أضيافه طبقاً من ذهب مملوءاً بالجوهر ومجمرة من فضة من عود وبخور ليتطيبوا ويتبخروا وينالهم طيب رائحتها، ثم يعاودون الطبق والمجمرة بحالهما لمالكهما ليدعو غيرهم كما دعاهم. فمن كان عاقلاً عارفاً برسم الدعوات وضع من ذلك البخور على النار وتطيب وانصرف ولم يطمع أن يتناول الطبق والمجمرة وتركهما بطيبة من قلبه، وشكر لصاحب
তিনি এমন এক স্থায়ী বাসিন্দা যিনি প্রস্থান করেন না এবং এমন সব কাজ গুছিয়ে রাখাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন যা দশ বছর পর তাঁর আর প্রয়োজন হবে না, অথচ হয়তো দশ দিন পরেই তিনি মাটির নিচে সমাহিত হবেন।

এর পঞ্চম উদাহরণ: জেনে রাখুন যে, দুনিয়া নিজ অধিবাসীদেরকে তাদের কুপ্রবৃত্তি ও ভোগবিলাসের মাধ্যমে যে সব কলঙ্কজনক বিষয়ের উপহার দেয় যা তারা পরকালে প্রত্যক্ষ করবে, তার দৃষ্টান্ত ঐ ব্যক্তির মতো যে তার প্রয়োজনের অতিরিক্ত মিষ্ট ও চর্বিযুক্ত খাবার গ্রহণ করেছে, পরিশেষে তার পাকস্থলী ভারাক্রান্ত হয়ে পড়েছে। অতঃপর সে পাকস্থলীর বিপর্যয়, নিশ্বাসের দুর্গন্ধ এবং নিজ মলমূত্র ও প্রয়োজনাদির বীভৎসতার মাধ্যমে স্বীয় লাঞ্ছনা প্রত্যক্ষ করল। ফলে স্বাদ চলে যাওয়ার পর এবং পাকস্থলীর বিপর্যয়জনিত লাঞ্ছনা অবশিষ্ট থাকার দরুন সে লজ্জিত হলো। তদ্রূপ মানুষ যখনই দুনিয়ার ভোগবিলাসে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে এবং তা তার কাছে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, তখন তার শেষ পরিণাম আরও কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। জান কবজের সময় সে তদ্রূপ পরীক্ষার সম্মুখীন হয়; যেমন এমন এক ব্যক্তি যার প্রচুর নিয়ামত, সোনা-রূপা, দাস-দাসী, সেবক এবং আঙ্গুর বাগান ও উদ্যান ছিল, আর যখন সে এগুলোর বিচ্ছেদ ঘটাল, তখন তার নিকট রূহ নির্গমনের কষ্ট ঐ ব্যক্তির তুলনায় অনেক বেশি কঠিন মনে হলো যার কাছে সামান্য কিছু ছিল। কেননা সেই কষ্ট ও আযাব মৃত্যুর মাধ্যমে দূর হয় না, বরং বৃদ্ধি পায়; কারণ সেই ভালোবাসা হলো অন্তরের গুণ, আর অন্তর তার নিজ অবস্থায় মরে না।

এর ষষ্ঠ উদাহরণ: হে সুলতান, জেনে রাখুন যে, দুনিয়ার বিষয়সমূহ যখন প্রথম আত্মপ্রকাশ করে, তখন মানুষ সেগুলোকে নিকটবর্তী ও সংক্ষিপ্ত মনে করে এবং ভাবে যে এগুলোর ব্যস্ততা দীর্ঘস্থায়ী হবে না। অথচ হয়তো এর কোনো কোনো ব্যস্ততা ও অবস্থা থেকে এমন এক বিষয়ের সূত্রপাত ঘটে যা থেকে ধারাবাহিকভাবে অন্য বিষয়ের জন্ম হয় এবং তাতে জীবনের অর্জিত মূলধন ব্যয় হয়ে যায়। নিশ্চয়ই ঈসা আলাইহিস সালাম বলেছেন: দুনিয়া অন্বেষণকারী সমুদ্রের পানি পানকারীর মতো; সে যতই পান করে, তার তৃষ্ণা ও দাহ ততই বৃদ্ধি পায়। ফলে সে ধ্বংস হওয়া পর্যন্ত পান করতেই থাকে কিন্তু তৃপ্ত হয় না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যেমন সমুদ্রের গভীরে অবগাহনকারীর পক্ষে সিক্ত না হওয়া অসম্ভব, তেমনি দুনিয়ার কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ব্যক্তির পক্ষে কলুষিত না হওয়া অসম্ভব।”

এর সপ্তম উদাহরণ: দুনিয়া অর্জনকারীর দৃষ্টান্ত ঐ অতিথির মতো যাকে ভোজসভায় আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আর মেজবানের রীতি হলো অতিথিদের জন্য ঘর সুসজ্জিত করা এবং পর্যায়ক্রমে একের পর এক দল ও গোষ্ঠীকে আমন্ত্রণ জানানো। তিনি তাঁর মেহমানদের সামনে মণি-মুক্তায় পূর্ণ একটি সোনার থালা এবং সুগন্ধি ও ধূপযুক্ত একটি রূপার ধূপদানি রাখেন যাতে তারা সুবাস নিতে পারে এবং ধূপের সুগন্ধি উপভোগ করতে পারে। অতঃপর তারা থালা ও ধূপদানিকে মালিকের নিকট আগের অবস্থায় ফেরত দেয় যাতে তিনি অন্যদেরও দাওয়াত দিতে পারেন যেমন তাদেরকে দিয়েছিলেন। সুতরাং যে ব্যক্তি বুদ্ধিমান এবং দাওয়াতের শিষ্টাচার সম্পর্কে অবগত, সে আগুনের ওপর ধূপ রাখে, সুগন্ধি গ্রহণ করে এবং প্রস্থান করে। সে থালা ও ধূপদানি হস্তগত করার লোভ করে না বরং সানন্দে সেগুলো রেখে যায় এবং মালিকের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে...
(খণ্ড: ১) আত-তিবরুল মাসবুকু ফী নাসিহাতিল মুলুক (পৃষ্ঠা: ৩৪)
البيت وربه. ومن كان أبله أحمق توهم أن ذلك الطبق والمجمرة قد أعدا له وهم يريدون أن يهبوهما له فلما همّ بالخروج أخذ الطبق والمجمرة فلم يمكن من الخروج بهما واستعادوهما منه فضاق صدره وتعب قلبه، وطلب الأقالة إذ ظهر ذنبه، فالدنيا كمثل طريق المسافر ودار الضيافة ليتزودوا منها لطريقهم ولا يطمعوا في الدار.

المثال الثامن: مثل أهل الدنيا واشتغالهم بأشغالهم، واهتمامهم بأحوالها، ونسيان الآخرة وإهمالها كمثل قوم ركبوا مركباً في البحر فعدلوا إلى جزيرة لأجل الطهارة وقضاء الحاجة، فنزلوا إلى الجزيرة والملاّح يناديهم لا تطيلوا المكث لئلا يفوت الوقت ولا تشتغلوا بغير الوضوء والصلاة فإن المركب سائر، فمضوا وتفرّقوا في الجزيرة وانتشروا في نواحيها، فالعقلاء منهم لم يمكثوا وشرعوا في الطهارة وعادوا إلى المركب فأصابوا الأماكن خالية فجلسوا في أطهر الأماكن وأوفقها وأرفعها.

ومنهم قوم نظروا إلى عجائب تلك الجزيرة ووقفوا يتنزهون في زهرتها وثمارها، وروضاتها وأشجارها؛ ويسمعون طيب ترنّم أطيارها، ويتعجبون من حصبائها الملونة وأحجارها، فلما عادوا إلى المركب لم يجدوا موضعاً ولا رأوا متسعاً فقعدوا في أضيق مواضعه وأظلمها.

ومنهم قوم لم يقنعوا بالنزهة ولم يقتصروا على الفرجة لكنهم جمعوا من تلك الحصباء الملونة ثم حملوها معهم إلى المركب فلم يجدوا مكاناً ولا فرجة فقعدوا في أضيق المواضع وحملوا ما استصحبوا من تلك الأحجار على أعناقهم فلم يمض إلا يوم أو يومان حتي تغيرت ألوان تلك الأحجار واسودت وفاح منها أكره رائحة ولم يجدوا مخلصاً من الزحام ليلقوا ثقلها عن أعناقهم فندموا عل ما فعلوا، وحصلوا بثقل الأحجار عل أعناقهم إذ كانوا بتحصيلها اشتغلوا.

ومنهم قوم وقفوا مع عجائب تلك الجزيرة وتنزهوا، وفي الرجوع لم
ঘর এবং তার মালিক। আর যে নির্বোধ ও মূর্খ সে ধারণা করে যে, সেই থালা ও ধূপদানিটি তার জন্যই প্রস্তুত করা হয়েছে এবং তারা তাকে এগুলো দান করতে চায়। অতঃপর যখন সে বের হতে চাইল, সে থালা ও ধূপদানিটি গ্রহণ করল। কিন্তু তাকে ওগুলোসহ বের হতে দেওয়া হলো না এবং তারা তার নিকট থেকে ওগুলো ফিরিয়ে নিল। এতে তার মন সংকীর্ণ হয়ে গেল এবং অন্তর বিচলিত হলো। যখন তার অপরাধ প্রকাশ পেল, সে ক্ষমা প্রার্থনা করল। সুতরাং দুনিয়া হলো মুসাফিরের পথ ও অতিথিশালার ন্যায়, যেখান থেকে তারা তাদের সফরের পাথেয় সংগ্রহ করে এবং ঘরের প্রতি লালসা পোষণ করে না।

অষ্টম উদাহরণ: দুনিয়াদারদের দৃষ্টান্ত এবং তাদের পার্থিব কাজে নিমগ্ন থাকা, এর অবস্থাসমূহ নিয়ে ব্যতিব্যস্ত হওয়া এবং পরকালকে বিস্মৃত হওয়া ও তা অবহেলা করার বিষয়টি সেই দলের ন্যায় যারা সমুদ্রে একটি নৌযানে আরোহণ করেছিল। অতঃপর তারা পবিত্রতা অর্জন ও প্রয়োজন পূরণার্থে একটি দ্বীপের দিকে ভিড়ল। যখন তারা দ্বীপে অবতরণ করল, তখন নাবিক তাদের ডেকে বলল: তোমরা বেশিক্ষণ অবস্থান করো না পাছে সময় অতিবাহিত হয়ে যায়, আর পবিত্রতা অর্জন ও সালাত ব্যতীত অন্য কিছুতে মগ্ন হয়ো না, কারণ জাহাজটি চলমান। অতঃপর তারা চলে গেল এবং দ্বীপে বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে পড়ল। তাদের মধ্যে যারা প্রজ্ঞাবান ছিল তারা সেখানে দেরি করেনি, বরং পবিত্রতা অর্জনে লিপ্ত হলো এবং জাহাজে ফিরে এল। তারা স্থানসমূহ খালি দেখতে পেল, ফলে তারা পবিত্রতম, সর্বাপেক্ষা উপযুক্ত ও উচ্চতর স্থানসমূহে আসন গ্রহণ করল।

তাদের মধ্যে একদল লোক সেই দ্বীপের বিস্ময়কর বস্তুসমূহের দিকে দৃষ্টিপাত করল এবং এর ফুল ও ফল, উদ্যান ও বৃক্ষরাজির শোভা অবলোকনে দাঁড়িয়ে গেল। তারা পাখিদের সুমিষ্ট কলকাকলি শুনতে লাগল এবং দ্বীপের বিচিত্র বর্ণের কণা ও পাথর দেখে অভিভূত হলো। অতঃপর যখন তারা জাহাজে ফিরে এল, তারা কোনো স্থান পেল না এবং কোনো প্রশস্ত জায়গাও দেখতে পেল না। তাই তারা জাহাজের সর্বাপেক্ষা সংকীর্ণ ও অন্ধকারাচ্ছন্ন স্থানে বসে পড়ল।

তাদের মধ্যে অপর একদল লোক কেবল ভ্রমণে সন্তুষ্ট রইল না এবং শুধু দৃশ্য দেখাতেই সীমাবদ্ধ থাকল না, বরং তারা সেই বিচিত্র বর্ণের পাথরগুলো সংগ্রহ করল। অতঃপর তারা সেগুলো বহন করে জাহাজে নিয়ে এল। সেখানে তারা কোনো স্থান বা অবকাশ পেল না, ফলে তারা সংকীর্ণতম স্থানে বসল এবং সংগৃহীত সেই পাথরগুলো নিজেদের ঘাড়ে বহন করে রাখল। একদিন বা দুই দিন পার না হতেই সেই পাথরগুলোর রঙ বিবর্ণ হয়ে কালো হয়ে গেল এবং তা থেকে চরম দুর্গন্ধ বিচ্ছুরিত হতে লাগল। অধিক ভিড়ের কারণে তারা নিজেদের ঘাড় থেকে সেই ভারী বোঝা ফেলে দেওয়ারও কোনো সুযোগ পেল না। পরিশেষে তারা তাদের কৃতকর্মের জন্য লজ্জিত হলো এবং পাথর আহরণে মগ্ন থাকায় নিজেদের ঘাড়ে সেই ভারী বোঝা বহন করতে বাধ্য হলো।

তাদের মধ্যে এমন কিছু লোকও ছিল যারা সেই দ্বীপের বিস্ময়কর বস্তুর মোহে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে রইল এবং প্রমোদ ভ্রমণে লিপ্ত হলো, আর ফিরে আসার ব্যাপারে...
(খণ্ড: ১) আত-তিবরুল মাসবুকু ফী নাসিহাতিল মুলুক (পৃষ্ঠা: ৩৫)
يتفكروا حتى سار المركب فبعدوا عنه وانقطعوا في أماكنهم وتخلفوا إذ لم يصيحوا إلى المنادي ولم يسمعوا، فمنهم من أكلته السباع وتهشه الضباع.

فالقوم المتقدمون هم القوم المؤمنون المتقون، والقوم المتخلفون الهالكون هم الكفار المشركون، الذين نسوا الله ونسوا الآخرة سلموا كليتهم إلى الدنيا وركنوا إليها كما قال عز من قائل: (ذلك بِأنهم اِستحَبُوا الحَياة الدُنيا على الآخرةِ) أي ركنوا إليها. وأما الجماعة المتوسطون فهم العصاة الذين حفظوا أصل الإيمان لكنهم لم يكفوا أيديهم عن الدنيا فمنهم من تمتع بغناه ونعمته ومنهم من تمتع مع فقره وحاجته إلى أن غلبت أوزارهم، وكثرت أوساخهم وأوضارهم.

المثال التاسع: روى أبو هريرة أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: (يا أبا هريرة أتريد أن أريك الدنيا؟) قلت: نعم يا رسول الله. فأخذ بيدي وانطلق حتى وقف بي على مزبلة فيها رؤوس الآدميين وبقايا عظام نخرة وخرق قد تمزقت وتلوثت بنجاسات الآدميين فقال: (يا أبا هريرة هذه الرؤوس التي تراها كانت مثل رؤوسكم مملوءة من الحرص والاجتهاد على جمع الدنيا. كانوا يرجون من طول الأعمار ما ترجون، وكانوا يجدون في جمع المال وعمارة الدنيا كما تجدون، فاليوم قد تغيرت عظامهم وتلاشت أجسامهم كما ترى، وهذه الخرق كانت أثوابهم التي كانوا يتزينون بها وقت الرعونة والتجمل والتزين قد ألقتها الريح في النجاسات، وهذه النجاسات كانت أطعمتهم اللذيذة التي كانوا يحتالون في تحصيلها وينهبها بعضهم من بعض قد القوها عنهم بهذه الفضيحة التي لا يقربها أحد من نتنها؛ فهذه جملة أحوال الدنيا كما تشاهد وترى فمن أراد أن يبكي علي الدنيا فليبكِ فإنها موضع البكاء) . قال أبو هريرة: فبكى جملة الحاضرين.

المثال العاشر: كان في زمن عيسى عليه السلام ثلاثة سائرين في طريق
তারা চিন্তা করতে লাগল যতক্ষণ না নৌকাটি চলতে শুরু করল, ফলে তারা তা থেকে দূরে সরে গেল এবং নিজ নিজ স্থানে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ল ও পেছনে পড়ে রইল। যেহেতু তারা আহ্বানকারীর প্রতি সাড়া দিয়ে চিৎকার করেনি এবং কর্ণপাত করেনি। ফলে তাদের কাউকে হিংস্র প্রাণী খেয়ে ফেলেছে এবং হায়েনারা দংশন করেছে।

সুতরাং অগ্রগামী দলটি হলো মুমিন ও মুত্তাকি সম্প্রদায়। আর পেছনে পড়ে থাকা ধ্বংসপ্রাপ্ত দলটি হলো কাফির ও মুশরিক সম্প্রদায়, যারা আল্লাহকে ভুলে গেছে এবং পরকালকে ভুলে গেছে। তারা নিজেদেরকে সম্পূর্ণরূপে দুনিয়ার কাছে সপে দিয়েছে এবং এর প্রতি ঝুঁকে পড়েছে, যেমনটি মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ বলেছেন: (তা এই কারণে যে, তারা পার্থিব জীবনকে পরকালের চেয়ে বেশি ভালোবাসত) অর্থাৎ তারা এর প্রতি ঝুঁকে পড়েছিল। আর মধ্যবর্তী দলটি হলো সেই সকল পাপিষ্ঠ যারা ইমানের মূল ভিত্তি রক্ষা করেছে কিন্তু দুনিয়া থেকে নিজেদের হাত গুটিয়ে নেয়নি। তাদের মধ্যে কেউ তার প্রাচুর্য ও নিয়ামত নিয়ে মত্ত ছিল, আবার কেউ তার দারিদ্র্য ও অভাব নিয়ে মত্ত ছিল, যতক্ষণ না তাদের পাপরাশি প্রবল হয়ে উঠল এবং তাদের কলুষতা ও অপবিত্রতা বৃদ্ধি পেল।

নবম উদাহরণ: আবু হুরায়রা বর্ণনা (روى) করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (হে আবু হুরায়রা! তুমি কি চাও আমি তোমাকে দুনিয়া দেখাই?) আমি বললাম: হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল। অতঃপর তিনি আমার হাত ধরলেন এবং আমাকে নিয়ে চললেন যতক্ষণ না আমাকে একটি আবর্জনার স্তূপের সামনে দাঁড় করালেন, যেখানে ছিল মানুষের মাথা, জীর্ণ হাড়ের অবশিষ্টাংশ এবং ছিঁড়ে যাওয়া ন্যাকড়া যা মানুষের মলমূত্রে কলুষিত হয়ে গিয়েছিল। তিনি বললেন: (হে আবু হুরায়রা! এই যে মাথাগুলো দেখছ, এগুলো তোমাদের মাথার মতোই দুনিয়া সঞ্চয়ের লালসা ও প্রচেষ্টায় পূর্ণ ছিল। তারা দীর্ঘ জীবনের আশা পোষণ করত যেমনটি তোমরা করছ এবং দুনিয়া গড়ে তোলা ও অর্থ উপার্জনে পরিশ্রম করত যেমনটি তোমরা করছ। আজ তাদের হাড়গুলো পরিবর্তিত হয়ে গেছে এবং তাদের শরীরগুলো বিলীন হয়ে গেছে যেমনটি তুমি দেখছ। আর এই ন্যাকড়াগুলো ছিল তাদের পোশাক যা পরিধান করে তারা তাদের অহংকার ও সৌন্দর্যের সময়ে জৌলুস প্রদর্শন করত, যা আজ বাতাস ময়লা-আবর্জনার মধ্যে নিক্ষেপ করেছে। আর এই অপবিত্র বস্তুগুলো ছিল তাদের সেই সুস্বাদু খাবার যা সংগ্রহের জন্য তারা নানা কৌশল অবলম্বন করত এবং একে অপরের থেকে ছিনিয়ে নিত, যা আজ এই বীভৎস অবস্থায় তারা ফেলে গিয়েছে যার দুর্গন্ধের কারণে কেউ এর কাছে ঘেঁষতে পারে না। এই হলো দুনিয়ার সামগ্রিক অবস্থা যেমনটি তুমি প্রত্যক্ষ করছ ও দেখছ। সুতরাং যে দুনিয়ার জন্য কাঁদতে চায় সে যেন কাঁদে, কারণ এটিই কান্নার জায়গা)। আবু হুরায়রা বলেন: তখন উপস্থিত সকলে কেঁদে ফেলল।

দশম উদাহরণ: ঈসা আলাইহিস সালামের যুগে তিনজন লোক একটি পথ দিয়ে যাচ্ছিল।
(খণ্ড: ১) আত-তিবরুল মাসবুকু ফী নাসিহাতিল মুলুক (পৃষ্ঠা: ৩৬)
فوجدوا كنزاً فقالوا: قد جعنا فليمضِ واحد منا ويبتاع لنا طعاماً. فمضى أحدهم ليأتيهم بطعام فقال: الصواب أن أجعل لهما سماً قاتلاً في الطعام ليأكلا منه فيموتا وانفرد بالكنز دونهما، ففعل ذلك وسم الطعام. واتفق الرجلان الآخران أنه إذا وصل إليهما قتلاه وانفردا بالكنز دونه. فلما وصل ومعه الطعام المسموم قتلاه وأكلا من الطعام فماتا. فاجتاز عيسى عليه السلام بذلك الموضع فقال للحواريين: هذه الدنيا كيف قتلت هؤلاء الثلاثة وبقيت من بعدهم، ويل لطلاب الدنيا من الدنيا.

 

‌‌العين الثانية معرفة النفس الأخير

إعلم يا سلطان العالم أن بني آدم طائفتان: طائفة نظروا إلى شاهد حال الدنيا وتمسكوا بتأميل العمر الطويل، وطائفة عقلاء جعلوا النفس الأخير نصب أعينهم لينظروا إلى ماذا يكون مصيرهم وكيف يخرجون من الدنيا ويفارقونها وإيمانهم سالم وما الذي ينزل معهم من الدنيا في قبورهم وما الذي يتركونه لأعدائهم من بعدهم ويبقى عليهم وباله ونكاله؟ وهذه الفكرة واجبة على الخلق وهي على الملوك وأهل الدنيا أوجب لأنهم كثيراً أزعجوا قلوب الخلائق وأنفذوا إلى الناس الغلمان بالسيئات وأفزعوا الخليقة وأدخلوا في قلوبهم الرعب، فإن بحضرة الحق تعالى غلاماً اسمه عزرائيل لا مهرب لأحد من مطالبته وتشتيته وكل موكلي الملوك يأخذون جعلهم ذهباً وفضة وطعاماً وصاحب هذا التوكيل لا يأخذ سوى الروح جعلاً وسائر موكلي السلاطين تنفع عندهم الشفاعة وهذا الموكل لا تنفع عنده شفاعة شافع، وجميع الموكلين يمهلون من يوكلون إليه اليوم والليلة والساعة وهذا الموكل لا يمهل نفساً واحداً وعجائب أحواله كثيرة إلا أنّا نذكر من أحواله‌‌ خمس حكايات.

তারা একটি গুপ্তধন খুঁজে পেল এবং বলল: "আমরা ক্ষুধার্ত, তাই আমাদের মধ্য থেকে একজন গিয়ে আমাদের জন্য খাবার কিনে আনুক।" তখন তাদের একজন খাবার আনতে গেল এবং (মনে মনে) বলল: "উত্তম কাজ হবে যদি আমি খাবারে প্রাণঘাতী বিষ মিশিয়ে দিই যাতে তারা উভয়ে তা খেয়ে মারা যায় এবং আমি একাই তাদের ছাড়া এই গুপ্তধনের মালিক হতে পারি।" সে তাই করল এবং খাবারে বিষ মিশাল। এদিকে অন্য দুই ব্যক্তি একমত হলো যে, সে যখন ফিরে আসবে তখন তারা তাকে হত্যা করবে এবং তাকে বাদ দিয়ে গুপ্তধনটি নিজেরা দখল করে নেবে। সে যখন বিষাক্ত খাবার নিয়ে পৌঁছাল, তারা তাকে হত্যা করল এবং সেই খাবার খেল, ফলে তারাও মারা গেল। অতঃপর ঈসা আলাইহিস সালাম সেই স্থানটি অতিক্রম করার সময় তাঁর হাওয়ারিদের (শিষ্যদের) বললেন: "এই হলো দুনিয়া; দেখো, এটি কীভাবে এই তিনজনকে হত্যা করল অথচ তাদের পরেও এটি রয়ে গেল। দুনিয়ার অন্বেষণকারীদের জন্য দুনিয়ার অনিষ্ট হতে আফসোস!"

 

‌‌দ্বিতীয় বিষয়: শেষ নিশ্বাস সম্পর্কে জ্ঞান

হে বিশ্ব অধিপতি, জেনে রাখুন যে বনী আদম দুই ভাগে বিভক্ত: একদল যারা দুনিয়ার দৃশ্যমান অবস্থার দিকে দৃষ্টিপাত করে এবং দীর্ঘ আয়ুর আশায় মত্ত থাকে। আর অন্য দলটি হলো জ্ঞানী, যারা নিজেদের শেষ নিশ্বাসকে চোখের সামনে রাখে যাতে তারা দেখতে পায় যে তাদের শেষ পরিণতি কী হবে, কীভাবে তারা ঈমানকে অক্ষুণ্ণ রেখে দুনিয়া থেকে বিদায় নেবে এবং দুনিয়া থেকে তাদের কবরে তাদের সাথে কী যাবে, আর তাদের পরে তারা তাদের শত্রুদের জন্য কী রেখে যাচ্ছে যার দুর্ভোগ ও শাস্তি তাদের ওপরই আপতিত হবে? আর এই চিন্তা করা সৃষ্টির ওপর আবশ্যক এবং রাজা-বাদশাহ ও দুনিয়াদারদের জন্য এটি অধিকতর আবশ্যক; কারণ তারা অনেক সময় সৃষ্টির মনে কষ্টের উদ্রেক করে, মানুষের নিকট মন্দ উদ্দেশ্যে অনুচরদের পাঠায়, লোকালয়কে আতঙ্কিত করে এবং তাদের অন্তরে ভীতির সঞ্চার করে। অথচ সত্যের অধিপতি আল্লাহ তাআলার দরবারে এমন একজন খাদেম রয়েছেন যার নাম আজরাঈল; তাঁর তলব এবং বিচ্ছিন্নকরণ থেকে পলায়নের কোনো সুযোগ নেই। বাদশাহদের সকল প্রতিনিধি তাদের পারিশ্রমিক হিসেবে স্বর্ণ, রৌপ্য ও খাদ্য গ্রহণ করে, কিন্তু এই মহান কার্যের প্রতিনিধি পারিশ্রমিক হিসেবে জান বা রূহ ছাড়া আর কিছুই গ্রহণ করেন না। সুলতানদের অন্যান্য সকল প্রতিনিধির নিকট সুপারিশ ফলপ্রসূ হয়, কিন্তু এই প্রতিনিধির নিকট কোনো সুপারিশকারীর সুপারিশ কাজে আসে না। সকল প্রতিনিধি যাদের ওপর নিয়োজিত হয় তাদের দিন, রাত বা মুহূর্তকাল অবকাশ দেয়, কিন্তু এই প্রতিনিধি এক নিশ্বাসেরও অবকাশ দেন না। তাঁর অবস্থার বিস্ময়কর দিক অনেক, তবে আমরা তাঁর অবস্থা সম্পর্কে পাঁচটি কাহিনী বর্ণনা করব।
(খণ্ড: ১) আত-তিবরুল মাসবুকু ফী নাসিহাতিল মুলুক (পৃষ্ঠা: ৩৭)
‌‌الحكاية الأولى

وهو ما رواه وهب بن منبه وكان من علماء اليهود وأسلم، روى أنه كان ملك عظيم أراد أن يركب يوماً في جملة أهل مملكته ويري الخلق عجائبه وزينته فأمر أمراءه وحجابه وكبراء دولته رتبة بالركوب ليظهر للناس سلطنته، فأمر بإحضار فاخر الثياب وأمر بعرض خيوله المعروفة، وعتاقه الموصوفة، فاختار من جملتها جواداً يعرف السبق فركبه بالمركب والطوق المرصع بالجوهر وجعل يركض الحصان في عسكره، ويفتخر بتيهه وتجبره، فجاء إبليس فوضع فمه في منخره ونفخ هواء الكبر في أنف أنفته فقال في نفسه من في العالم مثلي؟ وجعل يركض بالكبرياء، ويزهو بالخيلاء، ولا ينظر إلى أحد من تيهه وكبره، وعجبه وفخره، فوقف بين يديه رجل عليه ثياب رثة فسلم عليه فلم يرد عليه سلامه فقبض على عنان فرسه فقال له الملك: إرفع يدك فإنك لا بدري بعنان من قد أمسكت؟ فقال: لي إليك حاجة، فقال: اذكر حاجتك، فقال: إنها سرُ ولا أقولها إلا في أذنك، فأصغي إليه بسمعه فقال: أنا ملك الموت أريد أن أقبض روحك، فقال: أمهلني بقدر ما أعود إلى بيتي وأودّع أولادي وزوجتي، فقال: كلا لا تعود تراهم أبداً فإنك قد فنيت مدة عمرك، وأخذ روحه وهو عل ظهر الفرس فخر ميتاً. وعاد ملك الموت من هناك فأتي رجلاً صالحاً قد رضي ربه عليه فسلم عليه فرد عليه السلام فقال: لي إليك حاجة وهي سر، فقال الصالح: قل حاجتك في أذني، فقال: أنا ملك الموت، فقال: مرحباً بك الحمد لله عل مجيئك فإني كنت كثير الترقّب لوصولك، ولقد طالت علي غيبتك وكنت مشتاقاً إلى قدومك، فقال له ملك الموت: إن كان لك شغل فاقضِه، فقال: ليس لي شغل أهم عندي من لقاء ربي عز وجل، فقال: كيف تحب أن أقبض روحك فإني أمرت أنا سجدت فخذ روحي وأنا ساجد، ففعل ملك الموت ما أمره به ونقله الى رحمة ربه جل وعلا.
প্রথম কাহিনি

এটি ওহাব ইবনে মুনাব্বিহ বর্ণনা করেছেন (رواه), যিনি ইয়াহুদি পণ্ডিতদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং পরবর্তীতে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। বর্ণিত আছে যে, এক প্রতাপশালী রাজা ছিলেন যিনি একদিন তার রাজ্যের পারিষদবর্গসহ বের হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করলেন এবং সৃষ্টিজগতকে তার ঐশ্বর্য ও অলঙ্কার প্রদর্শন করতে চাইলেন। তিনি তার আমির, দ্বাররক্ষী এবং রাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের পদমর্যাদা অনুযায়ী আরোহণের নির্দেশ দিলেন যাতে মানুষের নিকট তার রাজত্ব ও প্রতিপত্তি জাহির হয়। অতঃপর তিনি অতিমূল্যবান পোশাক হাজির করার নির্দেশ দিলেন এবং তার সুপরিচিত ও গুণসম্পন্ন উচ্চবংশীয় দ্রুতগামী ঘোড়াগুলো উপস্থাপনের আদেশ দিলেন। সেগুলোর মধ্য থেকে তিনি এমন একটি তেজী ঘোড়া পছন্দ করলেন যা দৌড় প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হওয়ার জন্য প্রসিদ্ধ ছিল। রত্নখচিত জিন ও মণি-মুক্তা খচিত হারসহ তিনি তাতে আরোহণ করলেন এবং নিজ সৈন্যবাহিনীর মাঝে ঘোড়া দৌড়াতে শুরু করলেন। তিনি নিজের দম্ভ ও প্রতাপে অত্যন্ত গর্ববোধ করছিলেন। এমতাবস্থায় ইবলিস এসে তার নাসারন্ধ্রে মুখ রাখল এবং তার অহংকারী নাকে দর্পের বাতাস ফুঁকে দিল। তখন সে মনে মনে বলল, "সারা বিশ্বে আমার মতো আর কে আছে?" সে দম্ভভরে ঘোড়া ছুটাতে লাগল এবং চরম অহংকারে মত্ত হলো। অহংকার, আত্মগৌরব ও ঔদ্ধত্যের আতিশয্যে সে কারো দিকে তাকাচ্ছিল না। হঠাৎ জীর্ণশীর্ণ পোশাক পরিহিত এক ব্যক্তি তার সামনে এসে দাঁড়াল এবং তাকে সালাম দিল, কিন্তু রাজা তার সালামের উত্তর দিল না। লোকটি ঘোড়ার লাগাম টেনে ধরল। রাজা তাকে বলল, "হাত সরাও! তুমি কি জানো না তুমি কার ঘোড়ার লাগাম ধরেছ?" সে বলল, "আপনার কাছে আমার একটি বিশেষ প্রয়োজন আছে।" রাজা বলল, "তোমার প্রয়োজনের কথা বলো।" সে বলল, "এটি অত্যন্ত গোপনীয়, আমি কেবল আপনার কানেই তা বলব।" রাজা তার কথা শোনার জন্য কান বাড়িয়ে দিলেন। সে বলল, "আমি মালাকুল মাউত, আমি তোমার প্রাণ কবজ করতে এসেছি।" রাজা বলল, "আমাকে অন্তত এইটুকু অবকাশ দিন যাতে আমি বাড়ি ফিরে গিয়ে আমার সন্তান ও স্ত্রীকে বিদায় জানাতে পারি।" সে বলল, "কস্মিনকালেও নয়! তুমি আর কখনোই তাদের দেখতে পাবে না, কেননা তোমার জীবনকাল নিঃশেষ হয়ে গেছে।" অতঃপর ঘোড়ার পিঠে থাকা অবস্থাতেই তার প্রাণ কেড়ে নেওয়া হলো এবং সে মৃত হয়ে মাটিতে আছড়ে পড়ল। এরপর মালাকুল মাউত সেখান থেকে ফিরে এমন এক পুণ্যবান ব্যক্তির নিকট আসলেন যার ওপর তার প্রতিপালক সন্তুষ্ট ছিলেন। তিনি তাকে সালাম দিলেন এবং পুণ্যবান ব্যক্তি সালামের উত্তর দিলেন। মালাকুল মাউত বললেন, "তোমার কাছে আমার একটি গোপন প্রয়োজন আছে।" পুণ্যবান ব্যক্তি বললেন, "আমার কানেই আপনার প্রয়োজনের কথা বলুন।" তিনি বললেন, "আমি মালাকুল মাউত।" তখন পুণ্যবান ব্যক্তি বললেন, "আপনাকে স্বাগতম! আপনার আগমনে মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছি। আমি অধীর আগ্রহে আপনার আগমনের প্রতীক্ষায় ছিলাম। আপনার অনুপস্থিতি আমার নিকট দীর্ঘ মনে হচ্ছিল এবং আমি আপনার সাক্ষাতের জন্য ব্যাকুল ছিলাম।" মালাকুল মাউত তাকে বললেন, "আপনার যদি কোনো কাজ বাকি থাকে তবে তা সম্পন্ন করে নিন।" তিনি বললেন, "আমার মহান রবের সাক্ষাতের চেয়ে অধিক গুরুত্বপূর্ণ কোনো কাজ আমার নেই।" মালাকুল মাউত জিজ্ঞাসা করলেন, "আপনি কীভাবে প্রাণ ত্যাগ করতে পছন্দ করেন? আমাকে সেভাবেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।" তিনি বললেন, "আমাকে অজু করে নামাজ আদায়ের সুযোগ দিন; অতঃপর আমি যখন সেজদাবনত হব, তখন সেজদারত অবস্থায় আমার প্রাণ কবজ করবেন।" মালাকুল মাউত তার নির্দেশানুযায়ী কাজ করলেন এবং তাকে তার সুমহান প্রতিপালকের রহমতের সান্নিধ্যে স্থানান্তরিত করলেন।