(খণ্ড: ১)
আল-মুরাহু ফিল মুজাহ
(পৃষ্ঠা: -)
المراح في المزاح القسم: مسائل فقهية
الكتاب: المراح في المزاح
المؤلف: محمد بن محمد بن محمد الغزي العامري الدمشقي، أبو البركات، بدر الدين ابن رضي الدين (ت 984 هـ)
المحقق: بسام عبد الوهاب الجابي [ت 1438 هـ]
الناشر: دار ابن حزم - بيروت
الطبعة: الأولى، 1418 هـ 1977 م
عدد الصفحات: 117
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-মারাহ ফিল মিজাহ (রসালাপে আনন্দ) বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ
কিতাব: আল-মারাহ ফিল মিজাহ (রসালাপে আনন্দ)
লেখক: মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ আল-গাজ্জী আল-আমিরী আদ-দিমাশকী, আবু আল-বারাকাত, বদরুদ্দিন ইবন রাদি উদ্দিন (ওফাত ৯৮৪ হি.)
সম্পাদক: বাসসাম আব্দুল ওয়াহহাব আল-জাবী [ওফাত ১৪৩৮ হি.]
প্রকাশক: দার ইবন হাযম - বৈরুত
সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৮ হি. ১৯৭৭ খ্রি.
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১১৭
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১ হি.
(খণ্ড: ১)
আল-মুরাহু ফিল মুজাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم المراح فِي المزاح الْحَمد لله على جميل أفضاله، وجزيل بره ونواله، وَالصَّلَاة وَالسَّلَام على أشرف الْخلق سيدنَا مُحَمَّد وَصَحبه وَآله. وَبعد فقد سُئِلت قَدِيما عَن المزاح، وَمَا يكره مِنْهُ وَمَا يُبَاح، فأجبت بِأَنَّهُ مَنْدُوب إِلَيْهِ بَين الإخوان، والأصدقاء والخلان. لما فِيهِ من ترويح الْقُلُوب، والاستئناس الْمَطْلُوب، بِشَرْط أَن لَا يكون فِيهِ قذف وَلَا غيبَة، وَلَا يُحَرك الحقود الكمينة ثمَّ طلب مني بعد مُدَّة السَّائِل، بسط الْكَلَام فِي ذَلِك وإيضاح الدَّلَائِل، فَقلت مستعينا بِاللَّه ومتوكلا عَلَيْهِ، ومفوضا جَمِيع أموري إِلَيْهِ:
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। আল-মিরাহ ফীল মিজাহ সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, তাঁর সুন্দর অনুগ্রহ এবং প্রচুর দান ও অনুগ্রহের ওপর। আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ আমাদের নেতা মুহাম্মাদ, তাঁর সঙ্গী-সাথী ও পরিজনদের ওপর। এরপর, অনেক আগে আমাকে কৌতুক সম্পর্কে এবং এর মধ্যে কোনটি অপছন্দনীয় আর কোনটি বৈধ (مباح), সে বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। আমি উত্তর দিয়েছিলাম যে, এটি ভাই-বন্ধু ও সুহৃদদের মধ্যে পছন্দনীয় (مندوب)। কারণ এতে হৃদয়ের প্রশান্তি এবং কাঙ্ক্ষিত হৃদ্যতা রয়েছে; তবে শর্ত হলো এতে কোনো অপবাদ (قذف) বা পরনিন্দা (غيبة) থাকবে না এবং তা যেন সুপ্ত বিদ্বেষকে জাগ্রত না করে। এরপর দীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর প্রশ্নকারী ব্যক্তি আমার কাছে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও প্রমাণাদি স্পষ্ট করার অনুরোধ জানালেন। তাই আমি আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করে, তাঁর ওপর ভরসা রেখে এবং আমার যাবতীয় বিষয় তাঁর ওপর ন্যস্ত করে বলছি:
(খণ্ড: ১)
আল-মুরাহু ফিল মুজাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
قد ورد فِي ذمّ المزاح ومدحه أَخْبَار، فحملنا مَا ورد فِي ذمه على مَا إِذا وصل إِلَى حد المثابرة والاكثار. فَإِنَّهُ إزاحة عَن الْحُقُوق، ومخرج إِلَى القطيعة والعقوق. يصم المازح، ويضيم الممازح. فوصمة المازح أَن يذهب عَنهُ الهيبة والبهاء، ويجريء عَلَيْهِ الغوغاء والسفهاء، وَيُورث الغل فِي قُلُوب الأكابر والبنهاء. وَأما إضامة الممازح فَلِأَنَّهُ إِذا قوبل بِفعل ممض وَقَول مستكره وَسكت عَلَيْهِ أَحْزَن قلبه وأشغل فكره، أَو قَابل عَلَيْهِ جَانب مَعَ صَاحبه حشمة وأدبا، وَرُبمَا كَانَ للعداوة والتباغض سَببا، فَإِن الشَّرّ، إِذا فتح لَا يستد، وَسَهْم الْأَذَى إِذا أرسل لَا يرْتَد. وَقد يعرض الْعرض للهتك، والدماء للسفك. فَحق الْعَاقِل يتقيه، وينزه نَفسه عَن وصمة مساويه. وعَلى ذَلِك يحمل مَا رُوِيَ عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم أَنه قَالَ: المزَاحُ استِدرَاجٌ مِنَ الشَّيطَانِ وَاختِدَاعٌ مِنَ الهوَى وَقَوله صلى الله عليه وسلم: لَا تُمَارِ أَخَاكَ وَلَا تُمَازِحهُ
কৌতুক বা রসিকতার নিন্দা ও প্রশংসা উভয় বিষয়েই বর্ণনা (أخبار) এসেছে; তাই এর নিন্দা সম্পর্কিত বর্ণনাগুলোকে আমরা সেই পরিস্থিতির ওপর প্রয়োগ করেছি যখন তা সীমালঙ্ঘন ও বাড়াবাড়ির পর্যায়ে পৌঁছে যায়। কারণ এটি হক বা অধিকার আদায়ে বাধা সৃষ্টি করে এবং সম্পর্কচ্ছেদ ও অবাধ্যতার দিকে নিয়ে যায়। এটি কৌতুককারীকে কলঙ্কিত করে এবং যার সাথে কৌতুক করা হয় তাকে অপমানিত করে। কৌতুককারীর কলঙ্ক হলো, এর ফলে তার গাম্ভীর্য ও মর্যাদা বিলীন হয়ে যায়, ইতর ও নির্বোধেরা তার ওপর দুঃসাহস দেখানোর সুযোগ পায় এবং এটি উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন ও বুদ্ধিমান ব্যক্তিদের অন্তরে বিদ্বেষ সৃষ্টি করে। আর যার সাথে কৌতুক করা হয় তার অপমানের বিষয়টি হলো এই যে, যখন তার সাথে কোনো কষ্টদায়ক আচরণ বা অপছন্দনীয় কথা বলা হয় এবং সে তাতে ধৈর্য ধরে চুপ থাকে, তখন তা তার অন্তরকে ব্যথিত করে এবং তার চিন্তাকে আচ্ছন্ন করে ফেলে; অথবা সে তার সঙ্গীর সাথে সৌজন্য ও আদব বজায় রেখে এর মোকাবিলা করে, যা অনেক সময় শত্রুতা ও পারস্পরিক বিদ্বেষের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কেননা মন্দের দ্বার একবার উন্মোচিত হলে তা আর রুদ্ধ হয় না, আর কষ্টের তীর একবার নিক্ষিপ্ত হলে তা আর ফিরে আসে না। এমনকি এর ফলে কখনও সম্মান লুণ্ঠিত হয় এবং রক্তপাত পর্যন্ত ঘটে। অতএব, বুদ্ধিমান ব্যক্তির উচিত একে পরিহার করা এবং নিজের আত্মাকে এর মন্দ দিকগুলোর কলঙ্ক থেকে পবিত্র রাখা। আর এই প্রেক্ষাপটেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত (روي) এই বাণীটি প্রযোজ্য হবে, যেখানে তিনি বলেছেন: "কৌতুক হলো শয়তানের পক্ষ থেকে প্ররোচনা এবং কুপ্রবৃত্তির একটি প্রতারণা।" এবং তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্য একটি বাণী: "তুমি তোমার ভাইয়ের সাথে ঝগড়া করো না এবং তার সাথে কৌতুক করো না।"
(খণ্ড: ১)
আল-মুরাহু ফিল মুজাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
وَلَا تَعِدهُ مَوعِداً فَتُخِلفُهُ. وَقَالَ عمر بن عبد الْعَزِيز: اتَّقوا المزاح فَإِنَّهَا حمقة تورث ضغينة. وَقَالَ: إِنَّمَا المزاح سباب إِلَّا أَن صَاحبه يضْحك وَقيل: إِنَّمَا سمي مزاحا لِأَنَّهُ مزيح عَن الْحق. وَقَالَ إِبْرَاهِيم النَّخعِيّ: المزاح من سخف أَو بطر. وَقيل فِي منثور الحكم: المزاح يَأْكُل الهيبة كَمَا تَأْكُل النَّار الْحَطب. وَقَالَ بعض الْحُكَمَاء: من كثر مزاحه زَالَت هيبته، وَمن كثر خِلَافه طابت غيبته.
এবং তুমি তাকে এমন কোনো প্রতিশ্রুতি দিও না যা তুমি ভঙ্গ করবে। উমর ইবনে আবদুল আজিজ (রহ.) বলেছেন: তোমরা কৌতুক পরিহার করো, কেননা তা এমন এক নির্বুদ্ধিতা যা বিদ্বেষের জন্ম দেয়। তিনি আরও বলেন: কৌতুক তো মূলত গালিগালাজই, তবে এতে লিপ্ত ব্যক্তি হাসতে থাকে। আরও বলা হয়েছে: একে ‘মিজাহ’ নামকরণ করা হয়েছে কারণ তা সত্য থেকে বিচ্যুতকারী। ইব্রাহিম নাখয়ি (রহ.) বলেন: কৌতুক নির্বুদ্ধিতা অথবা অহমিকা থেকে সৃষ্টি হয়। প্রজ্ঞাপূর্ণ উক্তিসমূহে বলা হয়েছে: কৌতুক মানুষের গাম্ভীর্যকে তেমনি গ্রাস করে যেমন আগুন কাঠকে গ্রাস করে। জনৈক প্রজ্ঞাবান ব্যক্তি বলেছেন: যার কৌতুক বৃদ্ধি পায় তার গাম্ভীর্য বিলুপ্ত হয়, আর যার বিরোধপূর্ণ আচরণ বৃদ্ধি পায় তার পরনিন্দা করা (অন্যদের নিকট) তৃপ্তিদায়ক হয়ে ওঠে।
(খণ্ড: ১)
আল-মুরাহু ফিল মুজাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
وَقَالَ بعض البلغاء: من قل عقله. كثر هزله. وَذكر خَالِد بن صَفْوَان المزاح فَقَالَ: يصك أحدكُم صَاحبه بأشد من الجندل، وينشقه أحرق من الْخَرْدَل، ويفرغ عَلَيْهِ أحر من الْمرجل، ثمَّ يَقُول: إِنَّمَا كنت أمازحك. وَقَالَ بعض الْحُكَمَاء: خير المزاح لَا ينَال، وشره لَا يُقَال، فنظمه السابوري فِي قصيدته الجامعة للآداب فَقَالَ وَزَاد: شرُّ مُزاح المرءِ لَا يقاُل … وخيرُه يَا صاحِ لَا ينُاُل وَقد يُقال كَثْرَة المزاحِ … من الْفَتى تَدْعُو إِلى التَّلاحي إِن المزاحَ بدؤه حلاوه … لكنّما آخرُه عَداوَه يَحقِد مِنْهُ الرجلُ الشريفُ … ويجتري بسُخفه السَّخيفُ وَفِي معنى هَذِه الْجُمْلَة الْأَخِيرَة قَول شيخ
জনৈক বাগ্মী বলেছেন: যার বুদ্ধি কমে যায়, তার পরিহাস বৃদ্ধি পায়। খালিদ ইবনে সাফওয়ান রসিকতা প্রসঙ্গে আলোচনা করতে গিয়ে বলেছেন: তোমাদের কেউ তার সঙ্গীকে পাথরের চাইতেও শক্ত আঘাত করে, সরিষার চেয়েও দহনকারী ঝাঁজ শুঁকিয়ে দেয় এবং তার ওপর তপ্ত কড়াইয়ের চেয়েও উত্তপ্ত কিছু ঢেলে দেয়, এরপর বলে: আমি তো কেবল তোমার সাথে রসিকতা করছিলাম। জনৈক প্রাজ্ঞ ব্যক্তি বলেছেন: শ্রেষ্ঠ রসিকতা সেটিই যা কাউকে স্পর্শ করে না, আর নিকৃষ্ট রসিকতা সেটিই যা মুখে উচ্চারণ করা যায় না। অতঃপর সাবুরি তার শিষ্টাচার বিষয়ক পূর্ণাঙ্গ কবিতায় এটি ছন্দোবদ্ধ করেছেন এবং আরও বৃদ্ধি করে বলেছেন: মানুষের নিকৃষ্ট রসিকতা মুখে উচ্চারণ করা যায় না … আর হে বন্ধু! শ্রেষ্ঠ রসিকতা কাউকে স্পর্শ করে না। কখনো বলা হয়ে থাকে যে, যুবকের অত্যধিক রসিকতা … কলহ-বিবাদের দিকে নিয়ে যায়। নিশ্চয়ই রসিকতার প্রারম্ভ হলো মিষ্টতা … কিন্তু এর শেষ পরিণতি হলো শত্রুতা। এর ফলে সম্মানিত ব্যক্তি অন্তরে বিদ্বেষ পোষণ করেন … আর নির্বোধ ব্যক্তি তার হীনতা নিয়ে দুঃসাহস প্রদর্শন করে। আর এই শেষোক্ত বাক্যটির অর্থে জনৈক শায়খ (شيخ)-এর উক্তি রয়েছে
(খণ্ড: ১)
আল-মুরাহু ফিল মুজাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
الْإِسْلَام الْوَالِد فِي منظومته فِي التصوف: وَلَا تمازحِ الشريفَ يحقِد … وَلَا الدنّي يجتري وَيفْسد وَمَا أحسن مَا قَالَ أَبُو نواس: مُت بدآء الصمت خيرٌ … لَك من دآءِ الْكَلَام إِنما السَّالم من أَل … جم فَاه بلجام رُبمَا يستفتح المز … حُ مغاليق الْحمام والمنايا آكلاتٌ … شارباتٌ للأَنام وحملنا مَا ورد فِي مدح المزح على مَا سلم مِمَّا ذكر، فَإِنَّهُ قل مَا يعرى من المزاح من كَانَ سهلا، فالعاقل يتوخى بمزحه إِحْدَى حالتين: إِمَّا إيناس المصاحبين، والتودد إِلَى المخاطبين، وَهَذَا يكون بِمَا أنس من جميل القَوْل، وَبسط من مستحسن الْفِعْل كَمَا قَالَ سعيد بن الْعَاصِ لِابْنِهِ: اقتصد فِي مزحك فَإِن الإفراط فِيهِ يذهب الْبَهَاء، ويجرئ السُّفَهَاء، وَإِن التَّقْصِير فِيهِ يغض عَنْك المؤانسين، ويوحش مِنْك المصاحبين.
শেখুল ইসলাম আল-ওয়ালিদ তাঁর তাসাউফ বিষয়ক কাব্যগ্রন্থে বলেছেন: কোনো সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির সাথে উপহাস করো না, নতুবা সে তোমার প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করবে … আর নিচ ব্যক্তির সাথেও করো না, নতুবা সে তোমার ওপর দুঃসাহস দেখাবে এবং সবকিছু কলুষিত করবে। আবু নুওয়াস কতই না চমৎকার বলেছেন: নীরবতার রোগে মৃত্যুবরণ করা তোমার জন্য উত্তম … কথা বলার বাচালতার রোগে আক্রান্ত হওয়ার চেয়ে। বস্তুত সেই ব্যক্তিই নিরাপদ থাকে, যে নিজের মুখে … লাগাম পরিয়ে দিয়েছে। কখনো কখনো উপহাস … মৃত্যুর রুদ্ধ কপাট উন্মোচন করে দেয়। আর মৃত্যু হলো সৃষ্টিজগতকে … ভক্ষণ ও পানকারী। আর উপহাসের প্রশংসায় যা কিছু বর্ণিত হয়েছে, আমরা সেগুলোকে ঐ সকল বিষয়ের ওপর প্রয়োগ করেছি যা উপরে বর্ণিত ত্রুটিসমূহ থেকে মুক্ত। কারণ যে ব্যক্তি নম্র স্বভাবের হয়, সে খুব কমই উপহাস বর্জন করতে পারে। সুতরাং বুদ্ধিমান ব্যক্তি তার রসিকতার মাধ্যমে দুটি বিষয়ের কোনো একটি লক্ষ্য রাখে: হয় সঙ্গীদের চিত্তবিনোদন, অথবা সম্বোধনকৃত ব্যক্তিদের সাথে হৃদ্যতা তৈরি করা। আর এটি অর্জিত হয় সুন্দর বাণীর মাধুর্য এবং উত্তম কর্মের প্রসারের মাধ্যমে। যেমনটি সাঈদ ইবনুল আস তাঁর পুত্রকে বলেছিলেন: তোমার রসিকতায় মধ্যপন্থা অবলম্বন করো; কেননা এতে বাড়াবাড়ি করা মর্যাদা হরণ করে এবং নির্বোধদের দুঃসাহসী করে তোলে, আর এতে অতিসংক্ষিপ্ততা তোমার প্রতি অনুরক্তদের বিমুখ করে এবং সঙ্গীদের মনে তোমার প্রতি একাকিত্ব বা বিস্বাদের সৃষ্টি করে।
(খণ্ড: ১)
আল-মুরাহু ফিল মুজাহ
(পৃষ্ঠা: ৪০)
وَإِمَّا أَن يَنْفِي بالمزاح مَا طَرَأَ عَلَيْهِ من سأم، أَو حدث من سأم، أَو حدث بِهِ من هم وغم. فقد قيل: لابد للمصدور أَن ينفث وَأنْشد أَبُو نواس: أُروّح الْقلب بِبَعْض الهزلِ … تجاهلاً منّي بِغَيْر جهلِ أَمزح فِيهِ مزحَ أَهل الفَضل … والمزحُ أَحياناً جِلاء العقلِ وَأنْشد أَبُو الْفَتْح البستي أفِد طبعَك المكدودَ بالجِدّ رَاحَة … يَجِمَّ وَعلله بِشَيْء من المزحِ وَلَكِن إِذا أَعطيتَه المزح فَلْيَكُن … بِمِقْدَار مَا تُعْطِي الطَّعامَ من الملحِ قَالَ الابيرد: إِذا جدّ عِنْد الجِد أَرضاك جدُّه … وَذُو باطلٍ إِن شِئْت أَلهاك باطله
অথবা সে কৌতুকের মাধ্যমে তার উপর আপতিত অবসাদ কিংবা নবসৃষ্ট ক্লান্তি অথবা দুশ্চিন্তা ও বিষাদ দূর করবে। বলা হয়ে থাকে: বক্ষব্যাধিতে আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য শ্বাস নিঃসরণ করা অপরিহার্য। আবু নুওয়াস আবৃত্তি করেছেন: আমি হৃদয়ে প্রশান্তি আনি কিঞ্চিৎ পরিহাসের মাধ্যমে … যা আমার কোনো অজ্ঞতা ছাড়াই এক প্রকার ছদ্ম-উপেক্ষা। আমি এতে মহৎ ব্যক্তিদের ন্যায় কৌতুক করি … আর কৌতুক মাঝেমধ্যে বুদ্ধিকে শানিত করে। আবু আল-ফাতাহ আল-বুস্তি আবৃত্তি করেছেন: তোমার নিরন্তর প্রচেষ্টায় ক্লান্ত স্বভাবকে গাম্ভীর্যের মাঝে কিছুটা বিশ্রাম দাও … যাতে তা সজীব হয় এবং সামান্য রসিকতা দ্বারা একে বিনোদিত করো। কিন্তু যখন তুমি তাকে কৌতুক দিবে, তখন তা যেন হয় … খাবারের লবণের পরিমাণের ন্যায়। আল-উবাইরিদ বলেছেন: গাম্ভীর্যের মুহূর্তে তার একাগ্রতা তোমাকে সন্তুষ্ট করবে … আবার সে প্রমোদপ্রিয়ও বটে, তুমি চাইলে তার আমোদ তোমাকে আনন্দিত করবে।
(খণ্ড: ১)
আল-মুরাহু ফিল মুজাহ
(পৃষ্ঠা: ৪১)
وَقَالَ أَبُو تَمام: الجِدُّ شيمتُه وَفِيه فكاهةٌ … طوراً وَلَا جِدُّ لمن لم يلْعَب وعَلى هَاتين الْحَالَتَيْنِ كَانَ مزح رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَأَصْحَابه وتابعيه وَالْعُلَمَاء وَالْأَئِمَّة. روى بكر بن عبد الله الْمُزنِيّ أَنه صلى الله عليه وسلم قَالَ: إِنّي لأَمزَحُ وَلَا أَقُولُ إِلَاّ الحَقّ. وَفِي روايةٍ إِلَاّ حَقًّا. وَعَن أبي هُرَيْرَة قَالَ: قَالُوا: يَا رَسُول الله إِنَّك تداعبنا قَالَ: إِنّي لَا أَقُولُ إِلَاّ حَقًّا. وَقد سُئِلَ سُفْيَان: المزاحُ هُجنَة؟ فَقَالَ: بل سنة لقَوْله عليه السلام إِنِّي لأمزح وَلَا أَقُول إِلَّا الْحق
আবু তামাম বলেন: গাম্ভীর্যই তাঁর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য এবং তাতে পর্যায়ক্রমে কৌতুক বিদ্যমান … আর যার মাঝে ক্রীড়া-রসিকতা নেই তার মাঝে প্রকৃত গাম্ভীর্যও নেই। আর এই দুই অবস্থার উপরেই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), তাঁর সাহাবীগণ, তাবেয়ীগণ, উলামায়ে কেরাম এবং ইমামগণের কৌতুক ও রসিকতা পরিচালিত হতো। বকর ইবনে আব্দুল্লাহ আল-মুজানি বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আমি কৌতুক করি, তবে আমি সত্য (حق) ব্যতীত কিছুই বলি না।" অন্য একটি বর্ণনায় (رواية) এসেছে: "সত্য (حقا) ব্যতীত নয়।" আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: তারা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমাদের সাথে কৌতুক করেন? তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই আমি সত্য (حق) ব্যতীত কিছুই বলি না।" সুফিয়ান (রহ.)-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: রসিকতা কি অশোভন কাজ? তিনি বললেন: "বরং এটি সুন্নাহ (سنة), যেহেতু নবী (আলাইহিস সালাম)-এর বাণী রয়েছে: 'নিশ্চয়ই আমি রসিকতা করি এবং সত্য (حق) ছাড়া আর কিছু বলি না'।"
(খণ্ড: ১)
আল-মুরাহু ফিল মুজাহ
(পৃষ্ঠা: ৪২)
وَقَالَ أنس بن مَالك: كَانَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم من أفكه النَّاس. وَقَالَ صلى الله عليه وسلم: رَوّحِوُا القُلُوبَ ساعَةً بَعدَ ساعَةٍ. وَمن مزاحه صلى الله عليه وسلم مَا رَوَاهُ أنس قَالَ: إِن كَانَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم ليخالطنا حَتَّى يَقُول لأخ لي صَغِير: يَا أَبَا عُمَيْر مَا فعل النغير؟ كَانَ لَهُ نغير يلْعَب بِهِ فَمَاتَ. وَمَا رَوَاهُ الْحسن قَالَ: أَتَت عَجُوز من
আনাস ইবনে মালিক (রা.) বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) ছিলেন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রসিক ও সদালাপী। তিনি (সা.) আরও বলেছেন: তোমরা অন্তরসমূহকে সময়ের ব্যবধানে প্রফুল্লতা ও বিরাম প্রদান করো। তাঁর হাস্যরসের অন্তর্ভুক্ত হলো যা আনাস (রা.) বর্ণনা (روى) করেছেন; তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাদের সাথে এমনভাবে মেলামেশা করতেন যে, এমনকি তিনি আমার এক ছোট ভাইকে বলতেন: "হে আবু উমাইর! নুগাইর পাখিটি কী করল?" তার একটি নুগাইর পাখি ছিল যা নিয়ে সে খেলা করত, সেটি মারা গিয়েছিল। এবং হাসান (রহ.) যা বর্ণনা (روى) করেছেন; তিনি বলেন: এক বৃদ্ধা মহিলা এলেন...
(খণ্ড: ১)
আল-মুরাহু ফিল মুজাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
الْأَنْصَار إِلَى النَّبِي صلى الله عليه وسلم فَقَالَت: يَا رَسُول الله ادْع لي بالمغفرة فَقَالَ لَهَا: أَمَا عَلِمتِ أَنَّ الجَنَّةَ لَا يَدخلُهُاَ العَجَاَئِزُ وَفِي روايةٍ العجوزَ وَفِي رِوَايَة لَا تَدخُلُ الجَنَّةَ عَجُوزٌ فَبَكَتْ وَفِي رِوَايَة فصرخت فَتَبَسَّمَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَقَالَ لَهَا: لَستِ يَومَئذٍ يِعَجُوزٍ أَمَا قَرَأتِ قَولَهُ تَعَالَى: (إِنَّا أَنشَأنَاهُنَّ إِنشَاءَ فَجَعَلنَاهُنَّ أَبكاَراً عُرُباً أَتَراباً) . وروى زيد بن أسلم أَن امْرَأَة يُقَال لَهَا أم أَيمن جَاءَت النَّبِي صلى الله عليه وسلم فِي حَاجَة لزَوجهَا فَقَالَ لَهَا: مَن زَوجُكِ؟ فَقَالَت فلَان فَقَالَ: الذِي فِي عَينِهِ بَيَاضٌ؟ فَقَالَت أَي رسولَ اُلله مَا بِعَيْنِه بَيَاض قَالَ: بلَى إِنَّ بِعَينِه بَيَاضاً فَقَالَت: لَا واللهِ فَقَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم: وَمَا مِن أَحَدٍ إِلَاّ بِعَينِهِ بَياَضٌ وَفِي رِوَايَة فَانْصَرَفت عَجلى إِلى زَوجهَا وَجعلت تتأَمّل عَيْنَيْهِ فَقَالَ لَهَا: مَا شأنكِ؟ فَقَالَت: أَخبرني
আনসারদের মধ্য হতে এক নারী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলেন এবং বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমার জন্য মাগফিরাতের দুআ করুন। তিনি তাঁকে বললেন: তুমি কি জানো না যে জান্নাতে বৃদ্ধারা প্রবেশ করবে না? অন্য এক বর্ণনায় (رواية) এসেছে 'বৃদ্ধা' শব্দটি এবং অন্য বর্ণনায় (رواية) এসেছে কোনো বৃদ্ধা জান্নাতে প্রবেশ করবে না। তখন তিনি কাঁদতে লাগলেন। অন্য এক বর্ণনায় (رواية) এসেছে তিনি উচ্চস্বরে কেঁদে উঠলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুচকি হাসলেন এবং তাঁকে বললেন: সেদিন তুমি আর বৃদ্ধা থাকবে না। তুমি কি মহান আল্লাহর বাণী পাঠ করোনি: "নিশ্চয় আমি তাদের বিশেষভাবে সৃষ্টি করেছি। অতঃপর তাদের করেছি কুমারী, সোহাগিনী ও সমবয়স্কা।" যায়দ ইবনে আসলাম বর্ণনা (روى) করেছেন যে, উম্মে আয়মান নামে পরিচিত এক নারী তাঁর স্বামীর একটি প্রয়োজনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলেন। তিনি তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন: তোমার স্বামী কে? তিনি বললেন: অমুক। তিনি বললেন: যাঁর চোখে সাদা অংশ আছে? তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, তাঁর চোখে তো কোনো সাদা অংশ নেই। তিনি বললেন: বরং অবশ্যই তাঁর চোখে সাদা অংশ আছে। তিনি বললেন: আল্লাহর শপথ, না। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: এমন কেউ নেই যার চোখে সাদা অংশ নেই। অন্য এক বর্ণনায় (رواية) আছে, তিনি দ্রুত তাঁর স্বামীর নিকট ফিরে গেলেন এবং তাঁর চোখের দিকে গভীরভাবে তাকাতে লাগলেন। তাঁর স্বামী তাঁকে বললেন: তোমার কী হয়েছে? তিনি বললেন: আমাকে জানানো হয়েছে...
(খণ্ড: ১)
আল-মুরাহু ফিল মুজাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৪)
رسولُ الله صلى الله عليه وسلم أَن فِي عَيْنَيْك بَيَاضًا فَقَالَ لَهَا: أَما تَرين بياضَ عَيْني أَكثَر من سوادها؟ . وجآءته امْرَأَة أُخْرَى فَقَالَت: يَا رَسُول الله احملني على بعير فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم: احمِلُوهَا عَلَى ابنِ البَعِير فَقَالَت: مَا أَصنع بِهِ؟ مَا يحملني فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم: وهَلِ مِن بِعَيرٍ إِلَاّ اُبنُ بَعِيرٍ؟ فَكَانَ يمزح مَعهَا. وَعَن أنس أَن رجلا استحمل فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: إِنّي حَامِلُكَ عَلَى وَلَدِ نَاقَةٍ فَقَالَ: مَا أَصنع بِولد الناقةِ؟ فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم: وهَل تَلِدُ الأبِلَ إِلَاّ النُّوقُ؟ . وَعَن جَابر قَالَ: دخلت على النَّبِي صلّى الله عَلَيْهِ وسلّم
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) [এক নারীকে বললেন] যে, "তোমার চোখে তো সাদা অংশ রয়েছে।" তখন তিনি তাকে বললেন, "তুমি কি দেখছ না যে, আমার চোখের সাদা অংশ তার কালো অংশের চেয়ে বেশি?" এরপর অন্য এক নারী তাঁর কাছে এসে বললেন, "হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে একটি উটের ওপর আরোহণ করান।" তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, "তাকে একটি উটের বাচ্চার ওপর আরোহণ করাও।" তিনি বললেন, "আমি তাকে দিয়ে কী করব? সে তো আমাকে বহন করতে পারবে না।" তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, "প্রত্যেক উটই কি কোনো উটের বাচ্চা নয়?" তিনি এভাবে তাঁর সাথে রসিকতা করছিলেন। আনাস (রাদিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত (عن) যে, এক ব্যক্তি বাহন চাইলে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, "নিশ্চয়ই আমি তোমাকে উটনীর বাচ্চার ওপর আরোহণ করাব।" সে বলল, "আমি উটনীর বাচ্চা দিয়ে কী করব?" তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, "উষ্ট্রীরা কি উট ছাড়া অন্য কিছু প্রসব করে?" জাবির (রাদিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত (عن), তিনি বলেন, "আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে প্রবেশ করলাম..."
(খণ্ড: ১)
আল-মুরাহু ফিল মুজাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৫)
وَالْحسن وَالْحُسَيْن على ظَهره وَهُوَ يمشي بهما على أَربع وَيَقُول: نِعمَ الجمَلُ جَملُكُمَا وَنِعمَ العِدلَانِ أَنتُمَا. وَعَن زَيْنَب بنت أبي سَلمَة قَالَت: دخلت على النَّبِي صلى الله عليه وسلم وَهُوَ يغْتَسل، فَأخذ حفْنَة من مَاء فَضرب بهَا وَجههَا وَقَالَ يالَكَاِع. وَعَن أنس أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ لَهُ: يَاذَا الاُذُنينِ. وَعَن بِلَال أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم رَآهُ وَقد خرج بَطْنه فَقَالَ: أمّ حُبَينِ تَشْبِيها لَهُ بهَا وأُمّ حُبَين دُوَيبةَ عَلَى خلقِة الحربآء عَظِيمَة الْبَطن وَيُقَال: هِيَ أُنْثَى الحرابي وَقد تكلم الفقهآءُ فِي حِلّها.
হাসান ও হুসাইন তাঁর পিঠের ওপর ছিলেন এবং তিনি তাঁদের নিয়ে চার হাত-পায়ে ভর দিয়ে হাঁটছিলেন আর বলছিলেন: "তোমাদের উটটি কতই না চমৎকার এবং তোমরা দুজন আরোহী কতই না শ্রেষ্ঠ!" জয়নব বিনত আবি সালামাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট প্রবেশ করলাম যখন তিনি গোসল করছিলেন। তখন তিনি এক আঁজলা পানি নিয়ে তাঁর মুখে ছিটিয়ে দিলেন এবং বললেন: "হে চঞ্চলা!" আনাস থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেছিলেন: "হে দুই কানবিশিষ্ট!" বিলাল থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে তাঁর পেট বের হওয়া অবস্থায় (স্থূলকায়) দেখে বললেন: "উম্মে হুবাইন"। তাঁকে এই প্রাণীর সাথে সাদৃশ্য দেওয়ার জন্য তিনি এটি বলেছিলেন। উম্মে হুবাইন হলো গিরগিটির ন্যায় অবয়ববিশিষ্ট একটি ক্ষুদ্র প্রাণী যার পেট অনেক বড়। বলা হয় যে, এটি স্ত্রী-গিরগিটি এবং ফকিহগণ এর হালাল হওয়ার বিষয়ে আলোচনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মুরাহু ফিল মুজাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৬)
وَعَن عَائِشَة رضى الله عَنْهَا قَالَت: سابقني رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فسبقته، فَلَمَّا حملت اللَّحْم سابقني فَسَبَقَنِي فَقَالَ: هذِهِ بِتِلْكَ. وَقَالَ صلى الله عليه وسلم للشفآء بنت عبد الله: عَلّمِيِ حَفصَةَ رُقيَةَ النَّملِة كَمَا عَلَّمتها الكِتَابَة والنملةُ قروحٌ تَخرج فِي الْجنب ورُقيَتُها شيءٌ كَانَت تستعمله النِّسَاء يعلم كلُّ من يسمعهُ أَنهُ كلامٌ لَا يضّر وَلَا ينفع وَهُوَ أَن يُقَال: العرسُ تحتفل، وتختضب وتكتحل، وكلَّ شَيْء تفتعل، غير أَن لَا تَعْصِي الرّجُل، أَرَادَ عليه السلام بِهَذَا الْمقَال تأنيبَ حَفْصَة لِأَنَّهُ ألْقى إِليها سِرًّا فأفشته فَكَانَ هَذَا من المُزاح ولغز الْكَلَام. وَعَن النُّعْمَان بن بشير قَالَ اسْتَأْذن أَبُو
আয়েশা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমার সাথে দৌড় প্রতিযোগিতা করলেন এবং আমি তাঁর অগ্রবর্তী হলাম। অতঃপর যখন আমি স্থূলকায় হলাম, তিনি পুনরায় আমার সাথে দৌড় প্রতিযোগিতা করলেন এবং এবার তিনি আমাকে হারিয়ে অগ্রবর্তী হলেন। তখন তিনি বললেন: "এই বিজয় সেই পরাজয়ের বদলে।" এবং তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) শিফা বিনতে আব্দুল্লাহকে বললেন: "তুমি হাফসাকে পিঁপড়ার ক্ষতের ঝাড়ফুঁক (رقية) শিক্ষা দাও, যেভাবে তুমি তাকে লিখন পদ্ধতি শিক্ষা দিয়েছ।" 'নামলাহ' হলো এক প্রকার ক্ষত যা পাঁজরে প্রকাশ পায় এবং এর ঝাড়ফুঁক (رقية) ছিল এমন বিষয় যা মহিলারা ব্যবহার করত; যা শ্রবণকারী মাত্রই বুঝতে পারত যে এটি এমন কথা যা কোনো ক্ষতিও করে না এবং কোনো উপকারও দেয় না। আর তা হলো এই উক্তি: "বধূ উৎসব করে, মেহেদি লাগায়, চোখে সুরমা দেয় এবং সবকিছুই করে, তবে সে স্বামীর অবাধ্য হয় না।" তিনি (আলাইহিস সালাম) এই বক্তব্যের মাধ্যমে হাফসাকে মূলত মৃদু তিরস্কার করতে চেয়েছিলেন; কারণ তিনি তাঁর নিকট একটি গোপন কথা গচ্ছিত রেখেছিলেন যা তিনি প্রকাশ করে দিয়েছিলেন। এটি ছিল মূলত কৌতুক (المزاح) এবং হেয়ালিপূর্ণ বাক্যের (لغز الكلام) অন্তর্ভুক্ত। নুমান বিন বশির (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আবু [বকর] অনুমতি চাইলেন...
(খণ্ড: ১)
আল-মুরাহু ফিল মুজাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৭)
بكر رضي الله عنه على النَّبِي صلى الله عليه وسلم فَسمع صَوت عَائِشَة عَالِيا، فَلَمَّا دخل تنَاولهَا ليلطمها وَقَالَ: لَا أَراكِ ترفعين صوتَك عَلَى رَسُول الله صلى الله عليه وسلم، فَجعل رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَحجُزُهُ وَخرج أَبو بكر مغضبا فَقَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم حِين خرج أَبُو بكر: كَيف رَأيتِني أَنقَذتُكِ مِنَ الرَّجُلِ؟ قَالَ: فَمَكثَ أَبُو بكر اياماً ثمَّ اسْتَأْذن فوجدهما قد اصطلحا فَقَالَ لَهما: أدخلاني فِي سِلمِكما كَمَا أدخلتماني فِي حربكما فَقَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم: قَد فَعَلنا. وَعَن أنس أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم كَانَ فِي بَيت عَائِشَة فَبعث إِلَيْهِ بعض نسآئه بقصعة فدفعتها عَائِشَة فألقتها وكسرتها، فَجعل النَّبِي عليه السلام يضم الطَّعَام وَيَقُول: غَارَت أُمُّكُم فَلَمَّا جآءت قَصْعَة عائشةَ بعث بهَا إِلَى صَاحِبَة الْقَصعَة الَّتِي كسرتها وأَعطى عائشةَ الْقَصعَة الْمَكْسُورَة.
আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট আসলেন এবং আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর উচ্চস্বর শুনতে পেলেন। অতঃপর তিনি যখন প্রবেশ করলেন, তাঁকে প্রহার করতে উদ্যত হলেন এবং বললেন: "আমি যেন তোমাকে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সামনে কণ্ঠস্বর উঁচু করতে না দেখি।" তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে বাধা দিতে লাগলেন এবং আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) রাগান্বিত অবস্থায় বেরিয়ে গেলেন। আবু বকর বেরিয়ে যাওয়ার পর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "দেখলে তো, লোকটির হাত থেকে আমি তোমাকে কীভাবে রক্ষা করলাম?" বর্ণনাকারী বলেন: আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) কয়েক দিন অবস্থান করার পর পুনরায় প্রবেশের অনুমতি চাইলেন এবং তাদের উভয়কে আপস-মীমাংসা করে নেওয়া অবস্থায় পেলেন। তিনি তাঁদের বললেন: "তোমাদের বিবাদের মধ্যে যেভাবে আমাকে শামিল করেছিলে, তোমাদের এই শান্তির মধ্যেও আমাকে সেভাবে শামিল করো।" তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "আমরা তা-ই করলাম।" আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর ঘরে ছিলেন। এমতাবস্থায় তাঁর কোনো এক সহধর্মিণী একটি খাদ্যের পাত্র পাঠালেন, আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) সেটি ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলেন এবং পাত্রটি ভেঙে গেল। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) খাবারগুলো একত্র করতে লাগলেন এবং বললেন: "তোমাদের মা ঈর্ষান্বিত হয়েছেন।" অতঃপর যখন আয়েশার পাত্রটি আনা হলো, তিনি সেটি যার পাত্র ভেঙে গিয়েছিল তাঁর নিকট পাঠিয়ে দিলেন এবং আয়েশাকে ভাঙা পাত্রটি দিয়ে দিলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মুরাহু ফিল মুজাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৮)
وَعَن يحيى بن عبد الرَّحْمَن بن حَاطِب قَالَ: قَالَت عَائِشَة: كَانَ عِنْدِي رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَسَوْدَة فصنعت خزيرا فَجئْت بِهِ فَقلت لسودة: كُلِي فَقَالَت: لَا أُحبّه فَقلت: وَالله لَتأكلين أَو لَالُطخنّ وَجهك فَقَالَت: مَا أَنا يباغية، فأَخذت شَيْئا من الصحَّفة فلطختُ بِهِ وَجههَا ورسولُ الله صلى الله عليه وسلم مَا بيني وَبَينهَا فخفض لَهَا رَسُول الله صلى الله عليه وسلم رُكْبَتَيْهِ لِتَستقِيدَ مني فتناولت من الصحَّفة شَيْئا فمسحت بِهِ وَجْهي وَجعل رسولُ الله صلى الله عليه وسلم يضْحك فِي حديثٍ أَكبِر من هَذَا.
ইয়াহইয়া ইবনে আবদুর রহমান ইবনে হাতিব (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আয়েশা (রা.) বলেছেন: আমার নিকট রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও সওদাহ (রা.) উপস্থিত ছিলেন। আমি 'খাজিরা' (মাংস ও আটা দিয়ে তৈরি বিশেষ খাবার) প্রস্তুত করে তা নিয়ে এলাম। এরপর আমি সওদাহকে বললাম: 'আহার করুন'। তিনি বললেন: 'আমি এটি পছন্দ করি না'। আমি বললাম: 'আল্লাহর কসম, হয় আপনি এটি আহার করবেন নতুবা আমি আপনার চেহারায় এটি মাখিয়ে দেব'। তিনি বললেন: 'আমি এটি গ্রহণ করব না'। তখন আমি পাত্র থেকে কিছু অংশ নিয়ে তাঁর চেহারায় মাখিয়ে দিলাম। এমতাবস্থায় রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমার এবং তাঁর মাঝখানে উপবিষ্ট ছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিজের হাঁটুদ্বয় নিচু করলেন যাতে তিনি (সওদাহ) আমার থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করতে পারেন। অতঃপর তিনি পাত্র থেকে কিছু অংশ নিলেন এবং তা দিয়ে আমার চেহারা মুছে দিলেন (মাখিয়ে দিলেন)। আর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হাসছিলেন—এরূপ একটি দীর্ঘ হাদিসে বিষয়টি বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-মুরাহু ফিল মুজাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৯)
وَعَن عَائِشَة قَالَت: لما قدم النبُّي عليه السلام الْمَدِينَة عرس بصفية فَأَخْبرنِي قَالَت: فتنكّرتُ وتنقّبتُ فَذَهَبت أَنظرُ، فنظَر رَسُول الله صلى الله عليه وسلم إِلى عَيْني فعرفني فأَقبل إِلَّي فَانْقَلَبت رَاجِعَة فأَسرع المشَي فأَدركني فاحتضنني فَقَالَ: كَيفَ رأَيتِ؟ قلتُ: يَهُودِيَّة بَين يهوديات. وَعَن عَائِشَة أَنه ذكر عِنْدهَا مَا يقطع الصَّلَاة الْكَلْب وَالْحمار وَالْمَرْأَة فَقَالَت: عَائِشَة قد شبّهتمونا بالحمير وَالْكلاب؟ وَالله لقد رأَيتُ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يصلّىِّ وإِني عَلَى السرير بَينه وَبَين القِبلة مُضْطَجِعَة الحَدِيث. وَعَن عُرْوَة بن الزبير قَالَ: قَالَت عَائِشَة: مَا يقطع الصَّلَاة؟ قَالَ: فَقُلْنَا: المرأَةُ واُلحمار فَقَالَت: إِنَّ المرأةَ لدابة سَوء، لقد رأَيتُني بَين يدَي رَسُول الله صلى الله عليه وسلم مُعْتَرضَة كاعتراض الجَنِازة وَهُوَ يصلى.
আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী (সা.) যখন মদিনায় আগমন করলেন, তখন তিনি সাফিয়্যাহর সাথে বাসর করলেন। আমাকে এ বিষয়ে জানানো হলো। তিনি (আয়েশা) বললেন: তখন আমি ছদ্মবেশ ধারণ করলাম এবং নিকাব পরলাম, এরপর দেখতে গেলাম। রাসূলুল্লাহ (সা.) আমার চোখের দিকে তাকালেন এবং আমাকে চিনে ফেললেন। তিনি আমার দিকে এগিয়ে এলেন, তখন আমি ফিরে যেতে লাগলাম। তিনি দ্রুত হেঁটে আমাকে ধরে ফেললেন এবং আমাকে জড়িয়ে ধরলেন। এরপর তিনি জিজ্ঞেস করলেন: তুমি তাকে কেমন দেখলে? আমি বললাম: একদল ইহুদি নারীর মাঝে একজন ইহুদি নারী। আয়েশা (রা.) থেকে আরও বর্ণিত যে, তাঁর নিকট সেই বিষয়গুলো উল্লেখ করা হলো যা নামাজ বিচ্ছিন্ন (قطع) করে—কুকুর, গাধা ও নারী। তখন আয়েশা (রা.) বললেন: তোমরা কি আমাদের গাধা ও কুকুরের সাথে তুলনা করলে? আল্লাহর কসম! আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে নামাজ পড়তে দেখেছি এমতাবস্থায় যে, আমি খাটের ওপর তাঁর এবং কিবলার মাঝখানে শোয়া অবস্থায় থাকতাম—হাদিস। উরওয়াহ ইবনুল জুবাইর (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আয়েশা (রা.) জিজ্ঞেস করলেন: নামাজ কীসে বিচ্ছিন্ন (قطع) হয়? বর্ণনাকারী বলেন: আমরা বললাম: নারী ও গাধার কারণে। তিনি বললেন: নারী তো তাহলে এক মন্দ প্রাণী হয়ে গেল! আমি নিজেকে দেখেছি যে, রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সামনে জানাজার লাশের ন্যায় আড়াআড়িভাবে শুয়ে থাকতাম, আর তিনি নামাজ পড়তেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মুরাহু ফিল মুজাহ
(পৃষ্ঠা: ৫০)
عَن ابْن أبي عَتيق قَالَ: تحدثت أَنا وَالقَاسِم (يَعْنِي ابْن مُحَمَّد) عِنْد عآئشة حَدِيثا وَكَانَ الْقَاسِم رجلا لحانة وَكَانَ لامّ ولد فَقَالَت لَهُ عَائِشَة: مَالك لَا تَحَدَّثُ كَمَا يتحدّث ابنُ أَخي هَذَا؟ (يَعْنِي ابْن أبي عَتيق) أَما إِني قد علمت من أَين أَتِيتَ، هَذَا أَدَّبته أمّه، وأَنت أَدّبتك أَمُّك قَالَ: فَغَضب الْقَاسِم وأَضبَّ عَلَيْهَا (يَعْنِي حَقِد) ، فَلَمَّا رأَى مائدة عائشةَ قد أَتي بهَا قَامَ، قَالَت: أَيْن؟ قَالَ: أُصلي قَالَت: اجْلِسْ قَالَ: إِني أُصلي قَالَت: اجْلِسْ غُدَر إِني سمعتُ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَقُول: لَا صَلَاة بَحَضرَةِ الطَّعَامِ وَلَا هُوَ يُدَافِعُهُ الأَخبَثَانِ (روى الثَّلَاثَة مُسلم) . وَعَن أنس أَن رجلا من أهل الْبَادِيَة اسْمه زَاهِر بن حرَام وَكَانَ يهدي للنَّبِي صلى الله عليه وسلم من الْبَادِيَة فيجهزه رَسُول الله صلى الله عليه وسلم إِذا أَرَادَ أَن يخرج فَقَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم إِن زَاهَراً بَاديَتُنا وَنَحنُ حَاضِرُوه، وَكَانَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم يُحِبهُ وَكَانَ دميماً فأَتى النَّبِي صلى الله عليه وسلم يَوْمًا وَهُوَ يَبِيع متاعة فَاحْتَضَنَهُ من خَلفه وَهُوَ لَا يبصر
ইবনে আবি আতীক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি এবং আল-কাসিম (অর্থাৎ ইবনে মুহাম্মদ) আয়েশা (রা.)-এর নিকট কথা বলছিলাম। আল-কাসিম ছিলেন ব্যাকরণগত ভুলকারী (لحانة) ব্যক্তি এবং তিনি ছিলেন উম্মে ওয়ালাদ-এর সন্তান। আয়েশা (রা.) তাকে বললেন: “তোমার কী হয়েছে যে তুমি আমার এই ভ্রাতুষ্পুত্রের (অর্থাৎ ইবনে আবি আতীক) মতো কথা বলো না? আমি অবশ্যই জানি তোমার এই অবস্থা কোথা থেকে হয়েছে; একে তার মা আদব বা শিষ্টাচার শিক্ষা দিয়েছে, আর তোমাকে তোমার মা আদব শিক্ষা দিয়েছে।” বর্ণনাকারী বলেন: এতে আল-কাসিম রাগান্বিত হলেন এবং তাঁর প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করলেন। অতঃপর যখন তিনি দেখলেন যে আয়েশা (রা.)-এর দস্তরখান নিয়ে আসা হয়েছে, তখন তিনি দাঁড়িয়ে গেলেন। আয়েশা (রা.) বললেন: “কোথায় যাচ্ছ?” তিনি বললেন: “আমি নামাজ পড়ব।” আয়েশা (রা.) বললেন: “বসো।” তিনি বললেন: “আমি নামাজ পড়ব।” আয়েশা (রা.) বললেন: “বসো হে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গকারী, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: খাবারের উপস্থিতিতে কোনো নামাজ নেই, আর এমন অবস্থায়ও নয় যখন কেউ দুই মল-মূত্রের (الأخبثان) চাপ অনুভব করে।” (তিন জন (الثلاثة) ইমাম এবং ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন)।
আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত যে, মরুঅঞ্চলের এক ব্যক্তি যার নাম ছিল জাহের ইবনে হারাম, তিনি মরুভূমি থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য উপহার নিয়ে আসতেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও তিনি যখন ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা করতেন তখন তাঁকে প্রয়োজনীয় পাথেয় গুছিয়ে দিতেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন: “জাহের হলো আমাদের মরুভূমি আর আমরা হলাম তাঁর শহর।” নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে ভালোবাসতেন, যদিও তিনি কুশ্রী (دميماً) ছিলেন। একদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর নিকট আসলেন যখন তিনি তাঁর পণ্য বিক্রয় করছিলেন এবং তিনি তাঁকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরলেন অথচ জাহের তাঁকে দেখতে পাচ্ছিলেন না।
(খণ্ড: ১)
আল-মুরাহু ফিল মুজাহ
(পৃষ্ঠা: ৫১)
قَالَ: أَرسِلني، من هَذَا؟ فَالْتَفت النَّبِي صلى الله عليه وسلم فَجعل لَا يألوما أَلزق ظَهره رَسُول الله صلى الله عليه وسلم حِين عرفه وَجعل النَّبِي صلى الله عليه وسلم يَقُول: مَن يَشتَري العَبدَ؟ فَقَالَ: يَا رَسُول الله إِذاً وَالله تجدني كاسداً، فَقَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم: لَكِن عندَ الله لَستَ بَكاَسِدٍ. قصَّة دات النحيين.
তিনি বললেন: "আমাকে ছেড়ে দিন, কে এটি?" অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ফিরে তাকালেন। যখন তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে চিনতে পারলেন, তখন তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বক্ষের সাথে নিজের পিঠ লেপ্টে দিতে কোনো ত্রুটি করলেন না। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলতে লাগলেন: "কে এই দাসটিকে ক্রয় করবে?" তখন তিনি বললেন: "হে আল্লাহর রাসূল! তবে তো আল্লাহর কসম, আপনি আমাকে অচল (বিক্রয় অযোগ্য) হিসেবে পাবেন।" তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "কিন্তু আল্লাহর নিকট তুমি অচল নও।" 'দাতুন নিহয়াইন'-এর ঘটনা।
(খণ্ড: ১)
আল-মুরাহু ফিল মুজাহ
(পৃষ্ঠা: ৫২)
وَعَن ربيعَة بن عُثْمَان أَنه بلغه أَن خوّات بن جُبَير كَانَ جَالِسا إِلَى نسْوَة من بني كَعْب بطرِيق مَكَّة فطلع عَلَيْهِ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: يَا أَبَا عَبدِ اللهِ مَالَكَ مَعَ أُولآء النِسوَةِ؟ قَالَ: يَفتِلنَ ضفُيَراً لجملٍ لي شَرُودٍ قَالَ: فَمضى رَسُول الله صلى الله عليه وسلم لِحَاجَتِهِ ثمَّ طلع علّي فَقَالَ: أَبَا عَبدِ اللهِ مَا تَرَك ذلِكَ الشّرِاَدَ بَعدُ؟ قَالَ: فَسكت واُستحيَيتُ فَكنت بعد ذَلِك أَتفرد مِنْهُ كلما رأَيته حَيَاء مِنْهُ حَتَّى قدمت الْمَدِينَة وَبعد مَا قدمت الْمَدِينَة حَتَّى طلع علَّي وأَنا أُصلي فِي الْمَسْجِد إِلَّي فطولت
রাবিয়া ইবনে উসমান হতে বর্ণিত যে, তাঁর নিকট সংবাদ পৌঁছেছে যে, খাওওয়াত ইবনে জুবায়ের মক্কার পথে বনু কাব গোত্রের একদল মহিলার নিকট উপবিষ্ট ছিলেন। এমতাবস্থায় রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর নিকট উপস্থিত হলেন এবং বললেন: "হে আবু আব্দুল্লাহ! এই মহিলাদের সাথে তোমার কী বিষয়?" তিনি উত্তর দিলেন: "তারা আমার একটি পলায়নপর উটের জন্য রশি পাকিয়ে দিচ্ছে।" তিনি বলেন: অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর প্রয়োজনে প্রস্থান করলেন। পুনরায় তিনি আমার নিকট আসলেন এবং বললেন: "হে আবু আব্দুল্লাহ! সেই পলায়নপর স্বভাব কি এখনো দূর হয়নি?" তিনি বলেন: আমি নিরুত্তর থাকলাম এবং অত্যন্ত লজ্জিত হলাম। এরপর থেকে লজ্জাবশত যখনই আমি তাঁকে দেখতাম, তাঁকে এড়িয়ে চলতাম; অবশেষে আমি মদিনায় উপস্থিত হলাম। মদিনায় আগমনের পর একদিন আমি মসজিদে নামাজরত ছিলাম, এমতাবস্থায় তিনি আমার নিকট আসলেন, তখন আমি নামাজ দীর্ঘ করলাম।
(খণ্ড: ১)
আল-মুরাহু ফিল মুজাহ
(পৃষ্ঠা: ৫৩)
فَقَالَ: لَا تُطَوّل فَإِنّي أَنتظركَ فَلَمَّا فرغت قَالَ: يَا أَبَا عَبدِ اللهِ مَا تَرَك ذلِك الجَمَلَ الشّرِاَدَ بَعدُ؟ قَالَ: فَسكت واستحيَيتُ، فَقَامَ فَكنت أتفرد مِنْهُ حَتَّى لَحِقَنِي يَوْمًا وَهُوَ على حمَار وَأَنا أُرِيد قُباَ، وَقد جعل رجلَيْهِ فِي شقّ وَاحِد فَقَالَ: أَبَا عَبدِ اللهِ مَا تَرَك ذلِكَ الجَمَل الشّرِاَدَ بَعدُ؟ قلت: وَالَّذِي بَعثك بالحقّ مَا شَردَ مُنْذُ أَسلمتُ قَالَ: اللهُ اكبر اللَّهُمَّ اهد أَبَا عبد الله قَالَ الرَّاوِي: فَحسن إِسْلَامه وهداه الله وَله الْحَمد. وَذكر غير وَاحِد أَنه صلى الله عليه وسلم لما قَالَ لَهُ: مَا فعل جملك الشرود قَالَ: عقله الْإِسْلَام يَا رَسُول الله. وَهُوَ خوّات بن جُبَير بن النُّعْمَان بن أُميَّة بن امرىء الْقَيْس وَهُوَ البرك بن ثَعْلَبَة بن عَمْرو بن عَوْف بن مَالك بن الْأَوْس، كسر أونهش فِي غَزْوَة بدر فَرده النَّبِي صلى الله عليه وسلم وَضرب لَهُ بِسَهْم وَشهد الْمشَاهد كلهَا بعد وعاش حَتَّى كف بَصَره
অতঃপর তিনি বললেন: "দীর্ঘায়িত করো না, কারণ আমি তোমার জন্য অপেক্ষা করছি।" যখন আমি (সালাত) সমাপ্ত করলাম, তিনি বললেন: "হে আবু আবদুল্লাহ! সেই অবাধ্য উটটি কি এখনো তার অবাধ্যতা ত্যাগ করেনি?" তিনি বলেন: আমি চুপ থাকলাম এবং লজ্জিত হলাম। অতঃপর তিনি উঠে দাঁড়ালেন। আমি তাঁর থেকে পৃথক থাকার চেষ্টা করতাম, অবশেষে একদিন তিনি আমার দেখা পেলেন যখন তিনি একটি গাধার ওপর আরোহী ছিলেন এবং আমি কুবার দিকে যাচ্ছিলাম। তিনি তাঁর দুই পা একপাশে ঝুলিয়ে রেখেছিলেন। তিনি বললেন: "হে আবু আবদুল্লাহ! সেই অবাধ্য উটটি কি এখনো তার অবাধ্যতা ত্যাগ করেনি?" আমি বললাম: "যিনি আপনাকে সত্যসহ পাঠিয়েছেন তাঁর শপথ, আমি ইসলাম গ্রহণ করার পর থেকে সেটি আর কখনো অবাধ্যতা করেনি।" তিনি বললেন: "আল্লাহু আকবার! হে আল্লাহ, আবু আবদুল্লাহকে হেদায়েত দান করুন।" বর্ণনাকারী (الراوي) বললেন: অতঃপর তাঁর ইসলাম পালন সুন্দর হলো এবং আল্লাহ তাঁকে হিদায়াত দান করলেন, আর সমস্ত প্রশংসা আল্লাহরই প্রাপ্য। একাধিক ব্যক্তি উল্লেখ করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন তাকে বলেছিলেন: "তোমার অবাধ্য উটটি কী করল?" তখন তিনি উত্তর দিয়েছিলেন: "হে আল্লাহর রাসুল! ইসলাম তাকে বেঁধে ফেলেছে (নিয়ন্ত্রণ করেছে)।" তিনি হলেন খাওয়াত ইবনে জুবায়ের ইবনে আন-নুমান ইবনে উমাইয়া ইবনে ইমরাউল কায়েস, যিনি আউস গোত্রের আমর ইবনে আউফ ইবনে মালিক বংশের বরক ইবনে সালাবা। বদর যুদ্ধে তিনি আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছিলেন অথবা তাঁর হাড় ভেঙে গিয়েছিল, তাই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে ফেরত পাঠিয়েছিলেন এবং তাঁর জন্য যুদ্ধের মালের অংশ বরাদ্দ করেছিলেন। তিনি এরপর পরবর্তী সকল যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন এবং দৃষ্টিশক্তি হারানো পর্যন্ত জীবিত ছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মুরাহু ফিল মুজাহ
(পৃষ্ঠা: ৫৪)
وَمَات فِي سنة اثْنَتَيْنِ وَأَرْبَعين فِي أول ولَايَة مُعَاوِيَة وَله عقب. وَكَانَ مُعَاوِيَة عَنهُ منحرفاً. عَن الْوَاقِدِيّ قَالَ: قَالَ خوّات بن جُبَير: فعلت ثَلَاثَة أشيآء لم يفعلهن أحد قطّ: ضحِكت فِي مَوضِع لم يضْحك فِيهِ أحد قطّ، ونمت فِي مَوضِع لم ينم فِيهِ أحد قطّ، وبخلت فِي مَوضِع لم يبخل فِيهِ أحد قطّ. انْتَهَيْت يَوْم أحدٍ إِلَى أخي وَهُوَ مقتول وَقد شقّ بَطْنه وَقد خرجت حشوته، فاستعنت بِصَاحِب لى عَلَيْهِ فحملناه وختل الْمُشْركين حوالينا فأدخلت حشوته فِي جَوْفه وشددت بَطْنه بعمامتي وَحَمَلته بيني وَبَين الرجل، سَمِعت صَوت حشوته رجعت فِي بَطْنه فَفَزعَ صَاحِبي فطرحه فَضَحكت، ثمَّ مشينا فحفرت لَهُ بِسِيَةِ قوسيى وَكَانَ عَلَيْهَا الْوتر فحللته وبخلت بِهِ مَخَافَة أَن يَنْقَطِع فحفرت لَهُ فدفنته، فَإِذا أَنا بِفَارِس قد سدد رمحه نحوي يُرِيد أَن يقتلني فَوَقع عَليّ النعاس فَنمت فِي مَوضِع مَا نَام فِيهِ أحد قطّ، فانتبهت فَلم أر فَارِسًا وَلَا غَيره وَلَا أَدْرِي أَي شيىء كَانَ ذَلِك.
তিনি ৪২ হিজরি সনে মুয়াবিয়া (রা.)-এর শাসনের শুরুতে মৃত্যুবরণ করেন এবং তাঁর বংশধর ছিল। মুয়াবিয়া (রা.) তাঁর প্রতি বিমুখ ছিলেন। আল-ওয়াকিদি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, খাওয়াত ইবনে জুবায়ের (রা.) বলেছেন: আমি এমন তিনটি কাজ করেছি যা অন্য কেউ কখনো করেনি— আমি এমন এক স্থানে হেসেছিলাম যেখানে কেউ কখনো হাসেনি, আমি এমন এক স্থানে ঘুমিয়েছিলাম যেখানে কেউ কখনো ঘুমায়নি এবং আমি এমন এক ক্ষেত্রে কার্পণ্য করেছিলাম যেখানে কেউ কখনো কার্পণ্য করেনি। উহুদ যুদ্ধের দিন আমি আমার ভাইয়ের কাছে পৌঁছালাম, এমতাবস্থায় যে তিনি শহীদ হয়েছিলেন এবং তাঁর পেট চিরে ফেলা হয়েছিল ও তাঁর নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে এসেছিল। আমি তাঁকে বহন করার জন্য আমার এক সঙ্গীর সাহায্য নিলাম। আমরা তাঁকে বহন করলাম এবং আমাদের চারপাশের মুশরিকদের নজর এড়িয়ে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলাম। তখন আমি তাঁর নাড়িভুঁড়ি পেটের ভেতরে ঢুকিয়ে দিলাম এবং আমার পাগড়ি দিয়ে তাঁর পেট বেঁধে দিলাম। এরপর আমি ও সেই ব্যক্তি মিলে তাঁকে বহন করলাম। হঠাৎ আমি তাঁর পেটের ভেতর নাড়িভুঁড়ি ফিরে যাওয়ার শব্দ শুনতে পেলাম। এতে আমার সঙ্গী ভীত হয়ে তাঁকে ছেড়ে দিল, আর আমি হেসে ফেললাম। এরপর আমরা অগ্রসর হলাম এবং আমি আমার ধনুকের অগ্রভাগ দিয়ে তাঁর জন্য কবর খনন করলাম। ধনুকে রশি লাগানো ছিল, আমি সেটি খুলে নিলাম এবং রশিটি ছিঁড়ে যাওয়ার ভয়ে তা নিয়ে কার্পণ্য করলাম (অর্থাৎ কবরে না দিয়ে বাঁচিয়ে রাখলাম)। এরপর কবর খুঁড়ে আমি তাঁকে দাফন করলাম। হঠাৎ আমি এক অশ্বারোহীকে দেখতে পেলাম যে আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে আমার দিকে তার বর্শা তাক করেছে। ঠিক তখনই আমার ওপর তন্দ্রাচ্ছন্নতা ছেয়ে এল এবং আমি এমন এক স্থানে ঘুমিয়ে পড়লাম যেখানে কেউ কখনো ঘুমায়নি। এরপর যখন আমি জাগ্রত হলাম, তখন সেই অশ্বারোহী বা অন্য কাউকেই আর দেখতে পেলাম না। আমি জানি না সেটি আসলে কী ছিল।
(খণ্ড: ১)
আল-মুরাহু ফিল মুজাহ
(পৃষ্ঠা: ৫৫)
وَعَن يُوسُف بن مُحَمَّد الصُّهَيْبِيُّ عَن أَبِيه قَالَ: قدم صُهَيْب من مَكَّة فَنزل على النَّبِي صلى الله عليه وسلم وَأبي بكر رضي الله عنه، فَدخل النَّبِي صلى الله عليه وسلم وَهُوَ يشتكى عَيْنَيْهِ وَهُوَ يَأْكُل تَمرا فَقَالَ: أيا صُهَيبُ تَأكُلُ التَّمرَ عَلَى عِلَّةِ عَينَيكَ؟ فَقَالَ: إِنَّمَا آكُلُ مِنَ الِشّقِ الصحيحِ فَضَحِك رَسُول الله صلى الله عليه وسلم حَتَّى بَدَت نَوَاجِذه، وَإِنَّمَا استجاز صُهَيْب أَن يعرض لرَسُول الله صلى الله عليه وسلم بالمزح فِي جَوَابه لِأَن استخباره قد كَانَ يتَضَمَّن المزح، فَأَجَابَهُ عَنهُ بِمَا وَافقه من المزح مساعدة لغرضه وتقربا من قلبه، وَإِلَّا فَلَيْسَ لَاحَدَّ أَن يَجْعَل جَوَاب رَسُول الله صلى الله عليه وسلم مزحا، لاّن المزح هزل وَمن جعل جَوَاب رَسُول الله صلى الله عليه وسلم الْمُبين عَن الله عز وجل أَحْكَامه الْمُؤَدِّي إِلَى خلقه أوامره هزلا ومزحا فقد عصى الله تَعَالَى وَرَسُوله، وصهيب كَانَ أطوع لله سُبْحَانَهُ وَلِرَسُولِهِ صلى الله عليه وسلم أَن يكون بِهَذِهِ الْمنزلَة، وَقد
ইউসুফ ইবনে মুহাম্মদ আল-সুহাইবি তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: সুহাইব (রা.) মক্কা থেকে আগমন করলেন এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট অবস্থান নিলেন। অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর নিকট প্রবেশ করলেন এমতাবস্থায় যে, তিনি (সুহাইব) চোখের ব্যথায় ভুগছিলেন এবং খেজুর খাচ্ছিলেন। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "হে সুহাইব! তুমি চোখের অসুস্থতা সত্ত্বেও খেজুর খাচ্ছ?" তিনি উত্তরে বললেন: "আমি তো কেবল (মুখের) সুস্থ অংশ দিয়ে খাচ্ছি।" এতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এমনভাবে হাসলেন যে তাঁর মাড়ির দাঁত দৃশ্যমান হলো। মূলত সুহাইব (রা.) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি উত্তরে কৌতুক করার যে অবকাশ পেয়েছিলেন, তার কারণ হলো রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জিজ্ঞাসার মধ্যেই কৌতুকের অভিপ্রায় নিহিত ছিল। ফলে তিনি তাঁর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে এবং তাঁর মনতুষ্টির নিমিত্তে কৌতুকের সাথে সামঞ্জস্য রেখেই উত্তর প্রদান করেছেন। অন্যথা, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কোনো জবাবকে কৌতুক হিসেবে গ্রহণ করা কারো পক্ষে বৈধ নয়। কারণ কৌতুক হলো এক প্রকার তামাশা; আর যে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জবাবকে তামাশা ও কৌতুক হিসেবে গণ্য করবে—যিনি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর বিধানসমূহ স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন এবং তাঁর সৃষ্টির নিকট তাঁর আদেশসমূহ পৌঁছে দেন—সে মূলত আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসূলের অবাধ্যতা করল। আর সুহাইব (রা.) আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ও তাঁর রাসূলের প্রতি এতটাই অনুগত ছিলেন যে, তাঁর এমন স্তরে থাকা (অবাধ্য হওয়া) অসম্ভব ছিল। এবং...
(খণ্ড: ১)
আল-মুরাহু ফিল মুজাহ
(পৃষ্ঠা: ৫৬)
قَالَ صلى الله عليه وسلم: أَنا سَابق الْعَرَب وصهيب سَابق الرّوم وَسليمَان سَابق الْفرس وبلال سَابق الْحَبَشَة وَقَالَ: نعم العَبْد صُهَيْب لَو لم يخف الله لم يَعْصِهِ. وَقد كَانَ أَصْحَاب رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يمزحون حَتَّى بِحَضْرَتِهِ، وَكَذَلِكَ من بعدهمْ من التَّابِعين والعلمآء والائمة. وَنحن ذاكرون من مزحهم نبذة: روى البخارى عَن بكر بن عبد الله الْمُزنِيّ: كَانَ أَصْحَاب رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يتبادحون بالبطيخ، فَإِذا كَانَت الْحَقَائِق كَانُوا هم الرِّجَال. وَسُئِلَ النَّخعِيّ: هَل كَانَ أَصْحَاب
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: "আমি আরবদের অগ্রগামী, সুহাইব রোমীয়দের অগ্রগামী, সুলাইমান পারস্যবাসীদের অগ্রগামী এবং বিলাল হাবশীদের অগ্রগামী।" তিনি আরও বলেছেন: "সুহাইব কতই না চমৎকার বান্দা; সে যদি আল্লাহকে ভয় নাও করত, তবুও সে তাঁর অবাধ্য হতো না।" রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ (أصحاب) এমনকি তাঁর উপস্থিতিতেও হাস্যরসে লিপ্ত হতেন। একইভাবে তাঁদের পরবর্তী তাবেয়ীগণ (التابعين), উলামা এবং ইমামগণও তা-ই করতেন। আমরা তাঁদের হাস্যরসের কিঞ্চিৎ অংশ এখানে উল্লেখ করছি: বুখারি বকর ইবনে আব্দুল্লাহ আল-মুজানি হতে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ (أصحاب) একে অপরের প্রতি তরমুজ নিক্ষেপ করে ক্রীড়া করতেন; কিন্তু যখন কোনো গুরুত্বপূর্ণ বা বাস্তব পরিস্থিতির সম্মুখীন হতেন, তখন তাঁরাই ছিলেন প্রকৃত পুরুষ। নাখয়ীকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: "সাহাবীগণ (أصحاب) কি..."
(খণ্ড: ১)
আল-মুরাহু ফিল মুজাহ
(পৃষ্ঠা: ৫৭)
رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَضْحَكُونَ؟ قَالَ: نعم والايمان فِي قُلُوبهم مثل الْجبَال الرواسِي. وَعَن يحيى ابْن أبي كثير قَالَ: كَانَ رجل من أَصْحَاب رَسُول الله صلى الله عليه وسلم ضحاكا، فَذكر ذَلِك النَّبِي صلى الله عليه وسلم كَأَنَّهُمْ يعيبون ذَلِك، فَقَالَ النَّبِي عليه السلام: أَنَّى تَعجَبُونَ إِنَّهُ لَيَدخُلُ الجَنَّةَ وَهُوَ يَضحكُ. وَعَن عبد الرَّحْمَن بن أبي ليلى عَن أَبِيه قَالَ: كَانَ أسيد بن حضير رجلا ضحاكا مليحا، فَبينا هُوَ عِنْد رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يحدث الْقَوْم ويضحكهم فطعن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم بِأُصْبُعِهِ فِي خاصرته فَقَالَ: أَوجعتني قَالَ: اقتَصَّ قَالَ: يَا رَسُول الله إِنَّ عَلَيْك قَمِيصًا وَلم يكن عليَّ قَمِيص، فَرفع رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَمِيصه فَاحْتَضَنَهُ ثمَّ جعل يقبّل كَشحَه فَقَالَ: بأَبي وأُمي يَا رَسُول الله أَردت هَذَا.
রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীগণ (صحابة) কি হাসতেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ, অথচ তাঁদের অন্তরে ঈমান ছিল সুদৃঢ় পাহাড়ের ন্যায়। ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসির থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীদের (صحابة) মধ্য থেকে এক ব্যক্তি ছিলেন অত্যন্ত হাস্যোজ্জ্বল। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট বিষয়টি এমনভাবে উল্লেখ করা হলো যেন তারা বিষয়টিকে ত্রুটিপূর্ণ মনে করছেন। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: তোমরা কেন বিস্মিত হচ্ছো? নিশ্চয়ই তিনি হাসতে হাসতেই জান্নাতে প্রবেশ করবেন। আবদুর রহমান ইবনে আবি লায়লা তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: উসাইদ ইবনুল হুদাইর ছিলেন একজন মিষ্টভাষী ও হাস্যোজ্জ্বল ব্যক্তি। একদা তিনি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মজলিসে লোকজনের সাথে কথা বলছিলেন এবং তাদের হাসাচ্ছিলেন। এমতাবস্থায় রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর পাঁজরে আঙুল দিয়ে একটি খোঁচা দিলেন। তিনি বললেন: আপনি আমাকে ব্যথা দিয়েছেন। রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: তবে তুমি এর প্রতিশোধ (قصاص) গ্রহণ করো। তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসুল! আপনার অঙ্গে তো কামিজ রয়েছে, অথচ আমার অঙ্গে কোনো কামিজ ছিল না। তখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর কামিজটি তুলে ধরলেন। তৎক্ষণাৎ তিনি তাঁকে জড়িয়ে ধরলেন এবং তাঁর পার্শ্বদেশে চুম্বন করতে লাগলেন। অতঃপর বললেন: হে আল্লাহর রাসুল! আপনার জন্য আমার পিতা-মাতা উৎসর্গিত হোক, আমি তো এটাই চেয়েছিলাম।
(খণ্ড: ১)
আল-মুরাহু ফিল মুজাহ
(পৃষ্ঠা: ৫৮)
وَفِي ذكري أَنه الْقَائِل لما رأى رَسُول الله صلى الله عليه وسلم متغير الْوَجْه ومنحرفا أَو مغضبا: لأضحكنه ثمَّ قَالَ: يَا رَسُول الله إِن الدَّجال يَأْتِي النَّاس فِي حَال قَحطٍ وضيقٍ وَمَعَهُ جبالٌ من ثَريد أَفرأَيتَ إِن أَدركتُ زَمَانه أَن أَضرب عَلَى ثريده حَتَّى إِذا تبطّنت مِنْهُ آمَنت بِاللَّه وكفرت بِهِ أَم أَتنزَّه عَن طَعَامه؟ فَضَحِك رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَكَانَ ضحكه التبسم - وَقَالَ: بَل يُغنِيكَ الله تَعَالى يَومَئِذٍ بِمَا يُغنِي المُؤمِنيِنَ. وروى عبد الله بن وهب قَالَ: قَالَ اللَّيْث فِي حَدِيث عبد الله بن حذافة صَاحب رَسُول الله صلى الله عليه وسلم إِنَّه كَانَت فِيهِ دعابة قَالَ: بَلغنِي أَنه حل حزَام رَاحِلَة النَّبِي فِي بعض أَسْفَاره حَتَّى كَاد رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أَن يَقع قلت لليث: ليضحكه ذَلِك؟ قَالَ: نعم. وَعَن عُثْمَان بن نائل مولى عُثْمَان بن
আমার স্মৃতিতে আছে যে, তিনি সেই ব্যক্তি যিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বিমর্ষ বদন, বিমুখ অথবা রাগান্বিত অবস্থায় দেখে বলেছিলেন: "আমি অবশ্যই তাঁকে হাসাবো।" অতঃপর তিনি বললেন: "হে আল্লাহর রাসূল! দাজ্জাল মানুষের নিকট আকাল ও সংকটের সময় আসবে এবং তার নিকট সারিদ-এর পাহাড় থাকবে। আপনার কী অভিমত, যদি আমি তার সময়কাল পাই, তবে আমি কি তার সারিদ ভক্ষণ করব এবং যখন উদরপূর্তি হবে তখন আল্লাহর প্রতি ঈমান আনব ও তাকে অস্বীকার করব? নাকি আমি তার খাদ্য গ্রহণ থেকে বিরত থাকব?" তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হাসলেন—আর তাঁর হাসি ছিল মৃদু হাস্য—এবং তিনি বললেন: "বরং আল্লাহ তাআলা সেদিন তোমাকে তা দিয়েই অমুখাপেক্ষী করবেন যা দিয়ে তিনি মুমিনদের অমুখাপেক্ষী করবেন।" আবদুল্লাহ ইবনে ওয়াহাব বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: লাইস রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবী (صاحب) আবদুল্লাহ ইবনে হুজাফা সম্পর্কিত একটি হাদিস বর্ণনায় বলেছেন যে, তাঁর মধ্যে রসবোধ ছিল। তিনি বলেন: "আমার নিকট সংবাদ পৌঁছেছে যে, কোনো এক সফরে তিনি নবীজির বাহনের জিনের ফিতা আলগা করে দিয়েছিলেন, এমনকি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রায় পড়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিলেন।" আমি লাইসকে জিজ্ঞেস করলাম: "তাঁকে হাসানোর জন্যই কি তিনি এটি করেছিলেন?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ।" আর উসমান ইবনে নায়েল থেকে বর্ণিত, যিনি উসমান ইবনে... এর মুক্তদাস (مولى)...
(খণ্ড: ১)
আল-মুরাহু ফিল মুজাহ
(পৃষ্ঠা: ৫৯)
عَفَّان عَن أَبِيه قَالَ: خرجت مَعَ مولَايَ عُثْمَان فِي سفرة سافرناها مَعَ عمر فِي حج أَو عمْرَة، وَكَانَ عمر وَعُثْمَان وَابْن عمر أَيْضا، وَكنت وَابْن عَبَّاس وَابْن الزبير فِي شُبَّان مَعنا أَيْضا، ومعنا رَباح بن الْمُعْتَرف الفِهري، فَكُنَّا نترامى بالحنظل وَكَانَ عمر يَقُول لنا: لَا تُنفّروا علينا رِكابَنا قَالَ: فَقُلْنَا ذَاتَ ليلةٍ: احدُ لنا قَالَ: مَعَ عمر؟ قُلْنَا: احدُ فإِن نهاك فانتَهِ قَالَ: حَتَّى إِذا كَانَ السَّحَر قَالَ لَهُ عمر: كُفَّ فإِن هَذِه ساعةُ ذكرٍ، فَلَمَّا كَانَت اللَّيْلَة الثَّانِيَة قُلْنَا: يَا رَباح انصب لنا نَصب الْعَرَب قَالَ: مَعَ عمر؟ قُلْنَا انصِب فإِن نهاك فانتَهِ، فنصب لنا نَصبَ الْعَرَب حَتَّى إِذا كَانَ السَّحَرُ قَالَ لَهُ عمر: كُفَّ فإِنّ هَذِه سَاعَة ذكر، فَلَمَّا كَانَت اللَّيْلَة الثَّالِثَة قُلْنَا: يَا رَباح غَنّنِا غِنآء القِيَان قَالَ: مَعَ عمر؟ قُلْنَا غَنّهِ فإِن نهاك فانتِهِ قَالَ: فغني، فوَاللَّه تَركه أَن قَالَ لَهُ: كُفَّ فإِن هَذَا يُنَفِرّ الْقُلُوب. وَعَن ابْن أبي نجيح عَن أَبِيه قَالَ: قَالَ
আফফান তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আমার মনিব উসমানের সাথে এমন এক সফরে বের হলাম যা আমরা উমরের সাথে হজ অথবা উমরার উদ্দেশ্যে করেছিলাম। সেখানে উমর, উসমান এবং ইবনে উমরও উপস্থিত ছিলেন। আমি, ইবনে আব্বাস এবং ইবনে আল-জুবায়ের আমাদের সাথে থাকা যুবকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম। আমাদের সাথে রাবাহ ইবনুল মু'তারিফ আল-ফিহরিও ছিলেন। আমরা একে অপরের দিকে হুনজাল (বুনো তরমুজ) ছুড়ে মারতাম এবং উমর আমাদের বলতেন: "তোমরা আমাদের সওয়ারিগুলোকে আতঙ্কিত করো না।" তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন: এক রাতে আমরা বললাম, "আমাদের জন্য হুদা (উট চালনার গান) গাও।" তিনি বললেন, "উমরের উপস্থিতিতে?" আমরা বললাম, "গাও, যদি তিনি তোমাকে নিষেধ করেন তবে থেমে যেয়ো।" তিনি বলেন: শেষে যখন শেষ রাত হলো, উমর তাকে বললেন: "থামো, কেননা এটি জিকিরের সময়।" যখন দ্বিতীয় রাত এলো, আমরা বললাম: "হে রাবাহ! আমাদের জন্য আরবের নাসব (এক প্রকার পল্লীগীতি) ধরো।" তিনি বললেন: "উমরের উপস্থিতিতে?" আমরা বললাম: "ধরো, যদি তিনি তোমাকে নিষেধ করেন তবে থেমে যেয়ো।" এরপর তিনি আমাদের জন্য আরবের নাসব পাঠ করলেন। শেষে যখন শেষ রাত হলো, উমর তাকে বললেন: "থামো, কেননা এটি জিকিরের সময়।" এরপর যখন তৃতীয় রাত এলো, আমরা বললাম: "হে রাবাহ! আমাদের জন্য গায়িকাদের গানের মতো গান গাও।" তিনি বললেন: "উমরের উপস্থিতিতে?" আমরা বললাম: "গাও, যদি তিনি তোমাকে নিষেধ করেন তবে থেমে যেয়ো।" তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন: এরপর তিনি গান গাইলেন। আল্লাহর কসম, উমর তাকে বাধা দেননি যতক্ষণ না তাকে বললেন: "থামো, কেননা এটি অন্তরকে বিমুখ করে দেয়।" আর ইবনে আবি নাজিহ তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন...
(খণ্ড: ১)
আল-মুরাহু ফিল মুজাহ
(পৃষ্ঠা: ৬০)
عمر بن الْخطاب إِني لَيعجبني أَن يكون الرّجل فِي أَهله مثلَ الصَّبِي فإِذا بُغي مِنْهُ حَاجَة وُجد رجلا. وَنظر عمر بن الْخطاب إِلَى أَعْرَابِي يُصَلِّي صَلَاة خَفِيفَة فَلَمَّا قَضَاهَا قل: اللَّهُمَّ زَوجنِي بالحور الْعين فَقَالَ عمر: أَسأت النَّقْد وأعظمت الْخطْبَة. وَعَن أبي بكرَة أَن أَعْرَابِيًا وقف على عمر بن الْخطاب فَقَالَ: يَا عمرَ الْخَيْر جُزيت الجنه … أُكسُ بُنياتي وأُمَّهُنَّه وَكن لنا من الزّمان جُنَّه … أُقسم بِاللَّه لَتفعلنَّه فَقَالَ عمر: وإِن لم أَفعل يكون مَاذَا؟ فَقَالَ: إِذاً أَبا حفصٍ لامضينَّه قَالَ: فإِن مضيتَ يكون مَاذَا؟ فَقَالَ:
উমর ইবনুল খাত্তাব বলেন: আমি পছন্দ করি যে, একজন ব্যক্তি তার পরিবারের মধ্যে শিশুর ন্যায় থাকবে; কিন্তু যখন তার কাছে কোনো বিষয়ের আবশ্যকতা দেখা দেবে, তখন তাকে একজন পুরুষ হিসেবে পাওয়া যাবে। উমর ইবনুল খাত্তাব এক বেদুইনকে সংক্ষেপে সালাত আদায় করতে দেখলেন। সালাত শেষ করে সে প্রার্থনা করল: হে আল্লাহ! আমাকে হুরুল আইনের সাথে বিবাহ দিন। তখন উমর বললেন: তুমি বিনিময় মূল্যটি মন্দ দিলে, অথচ বিবাহের প্রস্তাবটি করলে অতি মহান বস্তুর। আবু বকরাহ থেকে বর্ণিত যে, জনৈক বেদুইন উমর ইবনুল খাত্তাবের সামনে দাঁড়িয়ে বলল: হে কল্যাণের উমর! আপনি জান্নাতে পুরস্কৃত হোন … আমার ছোট ছোট মেয়েদের এবং তাদের মাকে পোশাক দিন এবং আমাদের জন্য যামানার কষ্ট থেকে ঢাল হয়ে থাকুন … আল্লাহর কসম! আপনি অবশ্যই তা করবেন। তখন উমর বললেন: আর যদি আমি তা না করি, তবে কী হবে? সে বলল: হে আবু হাফস! তবে আমি অবশ্যই প্রস্থান করব। তিনি বললেন: তুমি প্রস্থান করলে কী হবে? তখন সে বলল:
(খণ্ড: ১)
আল-মুরাহু ফিল মুজাহ
(পৃষ্ঠা: ৬১)
وَالله عنهنَّ لتُسأَلنه … يَوْم تكون الاعطيِات منَّه وموقفُ المسؤول بينهنّه … إِما إِلى نارِ وإِمَّا جَنَّه فَبكى عمر حَتَّى اخضَلَّت لحيتُه ثمَّ قَالَ لغلامه: يَا غُلَام أَعطِه قميصى هَذَا لذَلِك الْيَوْم لَا لشعره ثمَّ قَالَ: وَالله لَا أَملك غَيره. وَعَن ربيعَة بن عُثْمَان قَالَ: دخل أَعرابي عَلَى رَسُول الله عَلَيْهِ وأَناخ نَاقَته بِفنائه، فَقَالَ بعض أَصحاب النَّبِي صلى الله عليه وسلم للنعيمان الانصاري: لَو عقرتّها فأَكلناها فإِنا قد قَرِمنا إِلى اللَّحْم ويغرَم رسولُ الله صلى الله عليه وسلم قَالَ: فعقره النعيمان فَخرج الأَعرابي فرأَى رَاحِلَته فصاح: واعُقراه يَا مُحَمَّد، فَخرج رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: مَن فَعَلَ هَذَا؟ فَقيل: النُّعيمان فَاتبعهُ يسأَل عَنهُ حَتَّى وجده فِي دَار ضبُاعَة ابْنة الزُّبير بن عبد الْمطلب وَقد حفرت خنادق وَعَلَيْهَا جريد، فَدخل النُّعيمان فِي بَعْضهَا، فَمر رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يسْأَل عَنهُ فَأَشَارَ إِلَيْهِ رجلٌ وَرفع صَوته يَقُول: مَا رأَيته يَا رَسُول الله وَأَشَارَ بِأُصْبُعِهِ حَيْثُ هُوَ قَالَ: فأَخرجه رسولُ الله صلى الله عليه وسلم وَقد سقط
আল্লাহর কসম! তাদের সম্পর্কে তোমাদের অবশ্যই জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে … সেদিন যখন তাঁর পক্ষ থেকে দানসমূহ প্রদান করা হবে এবং জিজ্ঞাসিত ব্যক্তির অবস্থান হবে তাদের মাঝখানে … হয় সে আগুনের দিকে যাবে, নয়তো জান্নাতের দিকে। তখন উমর (রা.) কাঁদলেন এমনকি তাঁর দাড়ি সিক্ত হয়ে গেল। অতঃপর তিনি তাঁর গোলামকে বললেন: হে গোলাম! তাকে আমার এই জামাটি দাও সেই দিনের (ভয়াবহতার) জন্য, তার কবিতার জন্য নয়। এরপর তিনি বললেন: আল্লাহর কসম! আমার কাছে এটি ছাড়া আর কিছুই নেই। এবং রাবিয়া ইবনে উসমান থেকে বর্ণিত (عن), তিনি বলেন: জনৈক গ্রাম্য ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট এলেন এবং তাঁর আঙিনায় উটটি বসালেন। তখন নবী (সা.)-এর কিছু সাহাবী নুয়াইমান আনসারীকে বললেন: তুমি যদি এটি জবাই করতে তবে আমরা তা খেতে পারতাম, কারণ আমাদের গোশত খাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা হয়েছে, আর রাসূলুল্লাহ (সা.) এর জরিমানা পরিশোধ করে দেবেন। তিনি বলেন: অতঃপর নুয়াইমান সেটি জবাই করলেন। এরপর সেই গ্রাম্য ব্যক্তি বের হয়ে তার বাহনটিকে দেখে চিৎকার করে উঠলেন: হায় আমার উট! হে মুহাম্মদ! তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বের হয়ে বললেন: কে এটি করেছে? বলা হলো: নুয়াইমান। অতঃপর তিনি তাকে খুঁজতে লাগলেন এবং তাঁর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে লাগলেন, যতক্ষণ না তাকে যুবাইর ইবনে আব্দুল মুত্তালিবের কন্যা দুবাআহর ঘরে পেলেন। সেখানে গর্ত খনন করা হয়েছিল এবং তার ওপর খেজুরের ডাল রাখা ছিল। নুয়াইমান সেগুলোর কোনো একটির ভেতরে ঢুকে পড়েছিলেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর খোঁজ করতে করতে সেখান দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন এক ব্যক্তি উচ্চৈঃস্বরে বলল: হে আল্লাহর রাসূল! আমি তাকে দেখিনি; অথচ সে আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করছিল সে যেখানে ছিল। বর্ণনাকারী বলেন: তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) তাকে বের করলেন এমতাবস্থায় যে (তাঁর ওপর ডালপালা ও ধুলোবালি) পড়ে ছিল।
(খণ্ড: ১)
আল-মুরাহু ফিল মুজাহ
(পৃষ্ঠা: ৬২)
على وَجهه السعف وَتغَير وَجهه فَقَالَ: مَا حَمَلَكَ عَلَى مَا صَنَعتَ؟ قَالَ: الَّذين دلُّوك علَّي يَا رَسُول الله هم الَّذين أَمروني قَالَ: فَجعل رسولُ الله صلى الله عليه وسلم يمسح وَجهه ويضحك قَالَ: ثمَّ غَرِمها رسولُ الله صلى الله عليه وسلم للأَعرابي. قَالَ عبد الله بن مُصعب: كَانَ مخرمَة بن نَوْفَل بن أهيب الزُّهْرِيّ بِالْمَدِينَةِ وَهُوَ شيخ كَبِير أعمى، وَكَانَ قد بلغ مائَة وَخمْس عشرَة سنة، فَقَامَ يَوْمًا فِي الْمَسْجِد يُرِيد أَن يَبُول فصاح بِهِ النَّاس فَأَتَاهُ نعيمان ابْن عَمْرو ابْن رباعة بن الْحَارِث بن سَواد بن مَالك بن غنم بن مَالك بن النجار فَتنحّى بِهِ نَاحيَة من الْمَسْجِد ثمَّ قَالَ لَهُ: اجْلِسْ هَا هُنَا، فأجلسه يَبُول ثمَّ تَركه، فصاح بِهِ النَّاس، فَلَمَّا فرغ قَالَ: من جآءَ بِي إِلى هَذَا الْمجْلس؟ قَالُوا: نعيمان بن عَمْرو قَالَ: فعل الله بِهِ وَفعل أَما إِنَّ الله علَّي إِن ظَفرت بِهِ أَن أَضربه بعصاي هَذِه ضَرْبَة تبلغ مِنْهُ مَا
...তার মুখে খেজুরের ডাল লেগে ছিল এবং তার চেহারা বিবর্ণ হয়ে গিয়েছিল। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: "তোমাকে এই কাজে কিসে প্ররোচিত করল?" তিনি বললেন: "হে আল্লাহর রাসূল, যারা আপনাকে আমার সন্ধান দিয়েছিল, তারাই আমাকে এটি করতে নির্দেশ দিয়েছিল।" বর্ণনাকারী বলেন: এরপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার মুখ মুছতে লাগলেন এবং হাসলেন। তিনি আরও বলেন: অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেই মরুবাসীর পক্ষ থেকে জরিমানা পরিশোধ করে দিলেন। আবদুল্লাহ ইবনে মুসআব বলেন: মাখরামাহ ইবনে নাওফাল ইবনে উহাইব আল-জুহরি মদিনায় ছিলেন; তিনি ছিলেন একজন বয়োবৃদ্ধ (شيخ) ও অন্ধ ব্যক্তি। তখন তার বয়স একশ পনেরো বছর হয়েছিল। একদিন তিনি মসজিদে প্রস্রাব করার উদ্দেশ্যে দাঁড়ালেন, তখন লোকেরা তাকে দেখে চিৎকার করতে লাগল। তখন নুয়াইমান ইবনে আমর ইবনে রাবাআহ ইবনে আল-হারিস ইবনে সাওয়াদ ইবনে মালিক ইবনে গানম ইবনে মালিক ইবনে আল-নাজ্জার তার কাছে এলেন এবং তাকে মসজিদের এক কোণে নিয়ে গেলেন। এরপর তিনি তাকে বললেন: "আপনি এখানে বসুন।" তিনি তাকে সেখানে প্রস্রাব করতে বসিয়ে রেখে চলে গেলেন। তখন লোকেরা পুনরায় চিৎকার করতে লাগল। যখন তিনি প্রস্রাব শেষ করলেন, তখন জিজ্ঞেস করলেন: "কে আমাকে এই বসার জায়গায় নিয়ে এল?" তারা উত্তর দিল: "নুয়াইমান ইবনে আমর।" তিনি বললেন: "আল্লাহ তার এই দশা করুক আর সেই দশা করুক! আল্লাহর কসম, আমি যদি তাকে বাগে পাই, তবে আমার এই লাঠি দিয়ে তাকে এমন এক আঘাত করব যা তার শরীর পর্যন্ত পৌঁছাবে..."
(খণ্ড: ১)
আল-মুরাহু ফিল মুজাহ
(পৃষ্ঠা: ৬৩)
بلغت، فَمَكثَ مَا شآء الله حَتَّى نسيى ذَلِك مخرمَة ثمَّ أَتَاهُ يَوْمًا وَعُثْمَان قَائِم يُصَلِّي فِي نَاحيَة من الْمَسْجِد، وَكَانَ عُثْمَان إِذا صلى لَا يلْتَفت فَقَالَ لَهُ: هَل لَك فِي نُعَيمان؟ فَقَالَ: نعم أَين هُوَ؟ دُلَّني عَلَيْهِ، فأَتى بِهِ حَتَّى أوقفهُ على عُثْمَان فَقَالَ: دُونك هَذَا هُوَ، فَجمع مخرمَة يَدَيْهِ بعصاه فَضرب عُثْمَان فشَّجه فَقيل لَهُ: إِنما ضَربتَ أَمير الْمُؤمنِينَ عُثْمَان قَالَ: فَسمِعت بذلك بَنو زهرَة فَاجْتمعُوا فِي ذَلِك فَقَالَ عُثْمَان: دعوا نُعيمان، لعن الله نُعيمان: وَرُوِيَ أَن مخرمَة قَالَ: من قادني؟ قيل نعيمان قَالَ: لَا جَرَمَ لَا عَرَضتُ لَهُ بشّرٍ أَبداً. وَقد شهد نعيمان بن عَمْرو بَدْرًا. وَعَن أبي بكر بن مُحَمَّد بن عَمْرو بن حزم عَن أَبِيه قَالَ: كَانَ بِالْمَدِينَةِ رجل يُقَال لَهُ نعيمان يُصِيب الشَّرَاب فَكَانَ يُؤْتِي بِهِ إِلَى النَّبِي صلى الله عليه وسلم فيضربه بنعليه وَيَأْمُر أَصْحَابه فَيَضْرِبُونَهُ بنعالهم ويحثون عَلَيْهِ التُّرَاب، فَلَمَّا كثر ذَلِك مِنْهُ قَالَ لَهُ رجل من أَصْحَاب رَسُول الله صلى الله عليه وسلم: لعنك الله
সময় অতিবাহিত হলো এবং আল্লাহ যতদিন চাইলেন তিনি অপেক্ষা করলেন, এমনকি মাখরামাহ সেই বিষয়টি ভুলে গেলেন। অতঃপর একদিন তিনি (নুআইমান) তাঁর নিকট আসলেন, এমতাবস্থায় উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু মসজিদের এক কোণে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করছিলেন। উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু যখন সালাত আদায় করতেন, তখন তিনি অন্য কোনো দিকে ভ্রুক্ষেপ করতেন না। তিনি তাঁকে বললেন: "আপনি কি নুআইমানকে খুঁজছেন?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ, সে কোথায়? আমাকে তাঁর কাছে নিয়ে চলো।" অতঃপর তিনি তাঁকে নিয়ে আসলেন এবং উসমানের সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়ে বললেন: "এই যে তিনি, তাঁকে ধরুন।" তখন মাখরামাহ তাঁর লাঠিটি দুই হাত দিয়ে শক্ত করে ধরলেন এবং উসমানকে আঘাত করে তাঁর শির জখম করে দিলেন। তখন তাঁকে বলা হলো: "আপনি তো আমিরুল মুমিনীন উসমানকে আঘাত করেছেন!" বর্ণনাকারী বলেন: বনু জুহরা গোত্র এই সংবাদ শুনতে পেয়ে সেখানে সমবেত হলো। তখন উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন: "নুআইমানকে ছেড়ে দাও, আল্লাহ নুআইমানকে লানত করুন।"
আর বর্ণিত হয়েছে (روي) যে, মাখরামাহ বলেছিলেন: "কে আমাকে পথ দেখিয়ে নিয়ে এসেছিল?" বলা হলো: "নুআইমান।" তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই, আমি আর কখনো তাঁর কোনো অনিষ্ট করব না।" নুআইমান ইবনে আমর বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। আবু বকর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আমর ইবনে হাযম থেকে (عن) তাঁর পিতা থেকে (عن) বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: মদিনায় নুআইমান নামে এক ব্যক্তি ছিল যে মদ্যপান করত। তাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট নিয়ে আসা হতো এবং তিনি তাকে জুতো দিয়ে আঘাত করতেন এবং তাঁর সাহাবীদের নির্দেশ দিতেন, ফলে তাঁরাও তাকে জুতো দিয়ে আঘাত করতেন এবং তার ওপর মাটি ছিটিয়ে দিতেন। যখন তাঁর পক্ষ থেকে এই কাজের পুনরাবৃত্তি হতে লাগল, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি তাকে বললেন: "আল্লাহ তোমাকে লানত করুন"।"