(খণ্ড: ১)
রাফউল মালাম আনিল আইম্মাতিল আলাম
(পৃষ্ঠা: -)
رفع الملام عن الأئمة الأعلام القسم: أصول الفقه
الكتاب: رفع الملام عن الأئمة الأعلام
المؤلف: تقي الدين أبو العَباس أحمد بن عبد الحليم بن عبد السلام بن عبد الله بن أبي القاسم بن محمد ابن تيمية الحراني الحنبلي الدمشقي (ت 728هـ)
طبع ونشر: الرئاسة العامة لإدارات البحوث العلمية والإفتاء والدعوة والإرشاد، الرياض - المملكة العربية السعودية
عام النشر: 1403 هـ - 1983 م
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
عدد الصفحات: 89
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
বিখ্যাত ইমামগণের উপর থেকে অপবাদ অপসারণ বিভাগ: উসুলুল ফিকহ (ফিকহশাস্ত্রের মূলনীতি)
গ্রন্থ: বিখ্যাত ইমামগণের উপর থেকে অপবাদ অপসারণ
লেখক: তাক্বীউদ্দিন আবুল আব্বাস আহমাদ বিন আব্দুল হালীম বিন আব্দুস সালাম বিন আব্দুল্লাহ বিন আবিল কাসিম বিন মুহাম্মদ ইবনে তাইমিয়া আল-হাররানী আল-হাম্বলী আদ-দিমাশকী (মৃত্যু ৭২৮ হিজরি)
মুদ্রণ ও প্রকাশনা: বৈজ্ঞানিক গবেষণা, ফতোয়া, দাওয়াত ও দিকনির্দেশনা প্রশাসন অধিদপ্তর, রিয়াদ - সৌদি আরব সাম্রাজ্য
প্রকাশকাল: ১৪০৩ হিজরি - ১৯৮৩ খ্রিস্টাব্দ
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৮৯
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
রাফউল মালাম আনিল আইম্মাতিল আলাম
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة الناشر إن الحمد لله نحمده ونستعينه، ونستغفره، ونعوذبه من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدا عبده ورسوله.
أما بعد: فلما كان من شأن المسلم أن يتعبد الله تعالى طبق ما شرعه تعالى في كتابه وبما جاء في سنة رسوله محمد صلى الله عليه وسلم الصحيحة، وما تفرع عنهما من أحكام، وكان الوصول لمعرفة تلك الأحكام غير متيسر لكل إنسان فقد امتن الله تعالى على هذه الأمة بعلماء أجلاء من الصحابة والتابعين ومن بعدهم، تفقهوا في دين الله وتعمقوا في فهم النصوص الواردة في كتاب الله وسنة رسوله، وأظهروا ما فيها من أحكام، حتى أوضحوا للناس معالم الطريق على هدى وبصيرة، فرضي الله عنهم أجمعين بقدر ما اجتهدوا وبذلوا.
ولقد كان من الطبيعي أن تختلف بعض أقوالهم، وتتعدد فتاواهم في المسألة الواحدة لأسباب بينها المؤلف في هذه الرسالة، فلم يوجد ما يوجب أو يبيح طعن بعضهم
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
প্রকাশকের ভূমিকা নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা ভিক্ষা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করেন, তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই; আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তাকে পথপ্রদর্শন করার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই; আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।
অতঃপর: যেহেতু একজন মুসলিমের কর্তব্য হলো মহান আল্লাহর ইবাদত করা তাঁর কিতাবে বিধিবদ্ধ বিধান অনুযায়ী এবং তাঁর রাসূল মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সহীহ সুন্নাহে যা বর্ণিত হয়েছে সে মোতাবেক, এবং এই দুই উৎস থেকে উৎসারিত বিধিবিধান অনুসারে; আর যেহেতু সেই বিধানসমূহ সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা প্রত্যেক মানুষের পক্ষে সহজসাধ্য ছিল না, তাই মহান আল্লাহ এই উম্মতের ওপর অনুগ্রহ করেছেন এমন কতিপয় মর্যাদাবান আলেম প্রদানের মাধ্যমে, যারা সাহাবী, তাবেয়ী এবং তাঁদের পরবর্তী প্রজন্মের অন্তর্ভুক্ত। তাঁরা আল্লাহর দ্বীন সম্পর্কে প্রজ্ঞা ও ব্যুৎপত্তি অর্জন করেছেন এবং আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের সুন্নাহে বর্ণিত দলীলাদির মর্ম উপলব্ধিতে গভীরতা অর্জন করেছেন। তাঁরা এগুলোর অন্তর্নিহিত বিধানসমূহকে সুস্পষ্ট করেছেন, এমনকি মানুষের জন্য হেদায়েত ও দূরদর্শিতার আলোকে পথের দিশা স্পষ্ট করে তুলে ধরেছেন। অতএব, তাঁরা যতটুকু ইজতিহাদ করেছেন এবং শ্রম ব্যয় করেছেন, তার বিনিময়ে আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন।
আর এটি অত্যন্ত স্বাভাবিক ছিল যে, তাঁদের কোনো কোনো বক্তব্যে মতপার্থক্য দেখা দেবে এবং নির্দিষ্ট কোনো বিষয়ে তাঁদের ফতোয়া একাধিক হবে—এমন সব কারণে যা লেখক এই পুস্তিকায় ব্যাখ্যা করেছেন। সুতরাং এমন কোনো কারণ নেই যা তাঁদের একে অপরকে অভিযুক্ত করা কিংবা তাঁদের সমালোচনা করাকে আবশ্যক অথবা বৈধ করে তোলে।
(খণ্ড: ১)
রাফউল মালাম আনিল আইম্মাতিল আলাম
(পৃষ্ঠা: ৪)
ببعض، وإنما أخذ كل مسلم القول الذي رآه مع الدليل وعمل به. ومن جهل الدليل استفتى من يثق به في علمه وتقواه، فأخذ بقوله وعمل بمقتضاه، ثم جاء من بعد ذلك من تعصب لبعض الأقوال ووالى أصحابها، ونسب لهم من صفات المدح ونعوت الكمال ماهم - بفضلهم وتقواهم وعملهم- بغنى عنه، ونسب لغيرهم من النقائص ماهم - بما أكرمهم الله - منزهون عنه وقد استغل هذا الخلاف أعداء هذا الدين، فراحوا يثيرون الخلاف بغية مآربهم الخبيثة، ويضاعفون الشقة بين المسلمين لأغراضهم الدفينة فكان من نتيجة ذلك أن تفرقت الأمة شيعا وأحزابا، وفرقا ومذاهب، فكثر الجدال، وتنوعت الأقوال، وقل العمل، فعند ذلك طمع فينا من كان يهابنا، فنكبت البلاد الإسلامية بالصليبين زمنا، وبالتتار ومن بعدهم ثم أخيرا التحالف الشيوعي، والصليبي، والصهيوني كما هو حال المسلمين اليوم.!
وقد تنبه إلى هذه الأخطاء عدد من العلماء المفكرين، فقام كل في مكانه وزمانه يبذل الجهد في جمع الشتات، وإعادة الناس إلى الأصل الذي ينبغي أن يفتخر بالانتساب إليه، والاعتماد عليه كل مسلم. ألا وهو كتاب الله وسنة رسوله محمد صلى الله عليه وسلم فبهما تتوحد
একে অপরের সাথে; বরং প্রত্যেক মুসলিম কেবল সেই মতটিই গ্রহণ করতেন যা দলীলের ভিত্তিতে সাব্যস্ত হতো এবং সেই অনুযায়ী আমল করতেন। আর যারা দলীল সম্পর্কে অবগত ছিলেন না, তারা এমন ব্যক্তির নিকট ফতোয়া চাইতেন যার জ্ঞান ও তাকওয়ার ওপর তাদের আস্থা ছিল। অতঃপর তারা তাঁর কথা গ্রহণ করতেন এবং সেই নির্দেশ অনুযায়ী আমল করতেন। এরপর এমন এক সময়ের উদ্ভব হলো যখন নির্দিষ্ট কিছু মতের প্রতি অন্ধভক্তি দেখা দিল এবং লোকেরা সেই মতের প্রবক্তাদের পক্ষাবলম্বন করতে শুরু করল। তারা তাঁদের জন্য এমন সব প্রশংসা ও পূর্ণতার গুণাবলি বর্ণনা করল যা তাঁদের মর্যাদা, তাকওয়া ও আমলের কারণে আদতে নিষ্প্রয়োজন ছিল। আবার অন্যদের প্রতি এমন সব ত্রুটি আরোপ করল যা থেকে—আল্লাহ তাঁদের যে বিশেষ সম্মান দান করেছেন তার কারণে—তাঁরা সম্পূর্ণ পবিত্র ছিলেন। এই দ্বীনের শত্রুরা এই মতপার্থক্যকে পুঁজি করল। তারা তাদের হীন উদ্দেশ্য হাসিলের লক্ষ্যে বিবাদ উস্কে দিতে লাগল এবং তাদের গোপন স্বার্থে মুসলিমদের মধ্যকার দূরত্বকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিল। এর ফলে উম্মাহ বিভিন্ন দল, উপদল, ফিরকা ও মাযহাবে বিভক্ত হয়ে পড়ল। ফলশ্রুতিতে বিতর্ক বেড়ে গেল, মতের আধিক্য দেখা দিল এবং আমল কমে গেল। তখন তারাই আমাদের ওপর লোলুপ দৃষ্টি দিল যারা একসময় আমাদের ভয় পেত। ফলে মুসলিম ভূখণ্ডগুলো দীর্ঘকাল ক্রুসেডারদের দ্বারা, অতঃপর তাতারদের দ্বারা এবং সবশেষে কমিউনিস্ট, ক্রুসেডার ও যায়নবাদী জোটের দ্বারা বিপর্যয়ের সম্মুখীন হলো, যেমনটি আজ মুসলিমদের অবস্থা।!
বেশ কিছু চিন্তাশীল আলিম এই ভুলগুলো সম্পর্কে সচেতন হলেন। ফলে প্রত্যেকে নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে ও সময়ে এই অনৈক্য দূর করতে এবং মানুষকে সেই মূল উৎসের দিকে ফিরিয়ে নিতে প্রচেষ্টা চালাতে লাগলেন, যার সাথে সম্পৃক্ত হওয়া প্রত্যেক মুসলিমের জন্য গৌরবের এবং যার ওপর নির্ভর করা অপরিহার্য। আর তা হলো আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ; কেননা এই দুটির মাধ্যমেই ঐক্য সুপ্রতিষ্ঠিত হয়।
(খণ্ড: ১)
রাফউল মালাম আনিল আইম্মাতিল আলাম
(পৃষ্ঠা: ৫)
صفوفهم، وتزول خلافاتهم، وتذهب أحقادهم، ولقد كان من أعظم هؤلاء الذين ساهموا في تنقية الفكر الإسلامي من الفرق والاختلاف شيخ الإسلام ابن تيمية (1) رحمه الله. فقد فند رحمه اللهفي مؤلفاته القيمة جميع المحاولات التي كان يثيرها الأعداء حول الإسلام، وكان مع هذا من أبرز القواد الذين شاركوا في تطهير ديار المسلمين من الغزاة" التتر"
ومن أبرز أعماله في جمع الناس على الكتاب والسنة قيامه بتأليف هذه الرسالة القيمة في بابها، العظيمة في موضوعها،! فإنه-رحمه الله بين فيها ما يجب على كل مسلم. من موالاة المسلمين، وخاصة العلماء الذين هم قدوة السلف الصالح، وخلفاء الرسل. فذكر رحمه الله أنه ليس أحد من الأئمة المقبولين عند الأمة يتعمد مخالفة الرسول
--------------------------------------------
তাদের কাতারসমূহ সংহত হয়, তাদের মতভেদসমূহ দূর হয় এবং তাদের বিদ্বেষ অপসারিত হয়। যারা ইসলামি চিন্তাধারাকে বিভিন্ন দল ও উপদলীয় অনৈক্য থেকে পরিশুদ্ধ করতে অবদান রেখেছেন, তাঁদের মধ্যে শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহ (১) (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব। তিনি তাঁর মূল্যবান গ্রন্থসমূহে ইসলামের বিরুদ্ধে শত্রুদের উত্থাপিত সকল অপচেষ্টাকে খণ্ডন করেছেন। এর পাশাপাশি তিনি ছিলেন সেই সকল উল্লেখযোগ্য সেনাপতিদের একজন, যারা মুসলিম ভূখণ্ডকে "তাতারী" আক্রমণকারীদের কবল থেকে মুক্ত করতে অংশগ্রহণ করেছিলেন।
মানুষকে কুরআন ও সুন্নাহর ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ করার ক্ষেত্রে তাঁর অন্যতম উল্লেখযোগ্য কাজ হলো এই রিসালাহ বা পুস্তিকাটি রচনা করা, যা এর অধ্যায়ের বিচারে অত্যন্ত মূল্যবান এবং বিষয়ের বিচারে অত্যন্ত মহৎ! তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) এতে প্রত্যেক মুসলিমের জন্য যা আবশ্যক তা বর্ণনা করেছেন; আর তা হলো মুসলিমদের প্রতি ভ্রাতৃত্ব ও আনুগত্য পোষণ করা, বিশেষ করে সেই সকল উলামায়ে কিরামের প্রতি যারা সালাফে সালেহীনের আদর্শ এবং রাসুলদের উত্তরসূরি। তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) উল্লেখ করেছেন যে, উম্মাহর নিকট গ্রহণযোগ্য ইমামগণের মধ্যে এমন কেউই নেই যিনি ইচ্ছাকৃতভাবে রাসুলুল্লাহর (সা.) বিরোধিতা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রাফউল মালাম আনিল আইম্মাতিল আলাম
(পৃষ্ঠা: ৬)
صلى الله عليه وسلم في شيء من سنته، وأنه لا يسوغ لمسلم أن يطغى في واحد منهم، أو ينقص من قدره، وأنهم جميعا متفقون إتفاقا يقينياعلى وجوب إتباع ما صح من النصوص وسلم من المعارضة، وأنه لا يجوز تقديم قول أحدهم على حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم.
وقد بسط الأسباب التي دعت المجتهد إلى عدم الأخذ بالنص، وإلتمس له العذر. ثم ذكر أن عذر الإمام ليس عذرا للمقلد إن تبين له الحق. كما ذكر حال العامي الجاهل الذي لايستطيع، وأن مذهبه مذهب مفتيه، وأن عليه التقليد ما دام جاهلا وهذا كله للجاهل الذي لا يفرق، وأما من أدلرك من العلم شيئا فعليه العمل به، ولا يجوز لأحد التعصب مهما كانت دواعيه.
وهذه الرسالة على صغر حجمها تدل على ورع هذا الإمام، وكمال فقهه في إحترام أقوال العلماء السابقين، وأئمة المذاهب الأربعة. فرحم الله إمرءا عرف قدر هذا الإمام وغيره من أئمة الإسلام، وأنزلهم في المنزلة التي يليقون بها.
وقد سبق لهذه الرسالة أن طبعت عدة مرات، وكان أخرها الطبع البيروتية في الشام بتحقيق الشيخ زهير الشاويش، إلا أن هذه الطبعة مع ما تتميز به من
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর কোনো বিষয়ে। আর কোনো মুসলিমের জন্য এটা সংগত নয় যে, সে তাঁদের (আইম্মায়ে কিরামের) কারো ব্যাপারে সীমা লঙ্ঘন করবে কিংবা তাঁর মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করবে। তাঁরা সকলে এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে একমত যে, যেসব নস বা দলিল বিশুদ্ধ এবং বিরোধমুক্ত, তা অনুসরণ করা ওয়াজিব। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীসের ওপর অন্য কারো কথাকে প্রাধান্য দেওয়া জায়েয নয়।
তিনি সেই কারণগুলো বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন যা মুজতাহিদকে কোনো নস গ্রহণ না করতে উদ্বুদ্ধ করে এবং তাঁর জন্য গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা তালাশ করেছেন। অতঃপর তিনি উল্লেখ করেছেন যে, সত্য সুস্পষ্ট হওয়ার পর ইমামের অপারগতা কোনো মুকাল্লিদ বা অনুসারীর জন্য ওজর হতে পারে না। তিনি সেই অজ্ঞ সাধারণ ব্যক্তির অবস্থাও বর্ণনা করেছেন যার নিজস্ব কোনো সামর্থ্য নেই; তার মাযহাব হলো তার মুফতির মাযহাব এবং যতক্ষণ সে অজ্ঞ থাকবে ততক্ষণ তার ওপর তাকলীদ করা আবশ্যক। এই সবকিছুই সেই অজ্ঞ ব্যক্তির জন্য যে পার্থক্য করার জ্ঞান রাখে না। তবে যে ব্যক্তি কিছুটা জ্ঞান অর্জন করেছে, তার জন্য সেই অনুযায়ী আমল করা আবশ্যক। আর কারো জন্যই গোঁড়ামি বা অন্ধ অনুসরণ বৈধ নয়, তার কারণ বা প্রেক্ষাপট যাই হোক না কেন।
এই রিসালাটি আকারে ছোট হওয়া সত্ত্বেও তা এই ইমামের পরহেজগারি এবং পূর্ববর্তী উলামায়ে কিরাম ও চার মাযহাবের ইমামগণের মতামতের প্রতি তাঁর গভীর শ্রদ্ধাবোধ ও প্রজ্ঞার পরিচয় বহন করে। আল্লাহ সেই ব্যক্তির ওপর রহমত নাযিল করুন, যে এই ইমাম এবং ইসলামের অন্যান্য ইমামগণের মর্যাদা উপলব্ধি করে এবং তাঁদেরকে সেই আসনে *ইস্তিওয়া* করে যা তাঁদের জন্য উপযুক্ত।
এই রিসালাটি ইতিপূর্বে কয়েকবার মুদ্রিত হয়েছে, যার সর্বশেষটি ছিল শামে বৈরুত প্রকাশনী থেকে শায়খ যুহাইর আশ-শাওয়ীশের সম্পাদনায়। তবে এই সংস্করণটি যেসব বৈশিষ্ট্যে অনন্য হওয়া সত্ত্বেও...
(খণ্ড: ১)
রাফউল মালাম আনিল আইম্মাতিল আলাম
(পৃষ্ঠা: ৭)
الزيادات كتخريج بعض الأحاديث- كثرت فيها الأخطاء الإملائية، والمطبعية، لهذا رأينا إعادة طبعها من جديد، بعد أن قمنا بمراجعتها، وتصحيح الإخطاء الإملائية، إضافة إلى ترجمة المؤلف.
هذا ورئاسة إدارات البحوث العلمية- وهي حاملة لواء الدعوة في هذا البلاد تامقدسة- إذ تقدم هذه الرسالة القيمة في طبعتها الجديدة ليسرها أن توزعها مجانا على طلبة العلم، مساهمة منها في نشر العلم النافع، وأثار السلف الصالح، راجية من الله تعالى أن ينفع بعا المسلمين في كل مكان إنه نعم المولى ونعم النصير.
وصلى الله على نبينا محمد وعلى آله وصحبه وسلم.
الناشر
কিছু হাদীসের তাখরীজের মতো সংযোজনগুলোতে বানান ও মুদ্রণজনিত ত্রুটি অধিক ছিল; একারণে আমরা এটি পুনঃপর্যালোচনার পর বানান সংশোধন এবং লেখকের জীবনী সংযুক্ত করে নতুনভাবে মুদ্রণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি।
বৈজ্ঞানিক গবেষণা বিভাগসমূহের প্রেসিডেন্সি—যা এই পবিত্র ভূমিতে দাওয়াতের ঝাণ্ডাবাহী—এই মূল্যবান রিসালাটি তার নতুন সংস্করণে পেশ করার সাথে সাথে জ্ঞানপিপাসু শিক্ষার্থীদের মাঝে এটি বিনামূল্যে বিতরণ করতে পেরে আনন্দিত। এটি মূলত উপকারী জ্ঞান এবং সালাফে সালেহীনের নিদর্শনসমূহ প্রচারের ক্ষেত্রে একটি অবদান। আল্লাহ তাআলার নিকট প্রার্থনা এই যে, তিনি যেন এর মাধ্যমে সর্বত্র মুসলিমদের উপকৃত করেন; নিশ্চয়ই তিনি পরম অভিভাবক ও শ্রেষ্ঠ সাহায্যকারী।
আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সঙ্গীদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
প্রকাশক
(খণ্ড: ১)
রাফউল মালাম আনিল আইম্মাতিল আলাম
(পৃষ্ঠা: ৮)
الْحَمْدُ لِلَّهِ عَلَى آلَائِهِ، وَأَشْهَدُ أَنْ لَا إلَهَ إلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ فِي أَرْضِهِ وَسَمَائِهِ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ وَخَاتَمُ أَنْبِيَائِهِ. صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَأَصْحَابِهِ صَلَاةً دَائِمَةً إلَى يَوْمِ لِقَائِهِ، وَسَلَّمَ تَسْلِيمًا.
وَبَعْدُ: فَيَجِبُ عَلَى الْمُسْلِمِينَ -بَعْدَ مُوَالَاةِ اللَّهِ تعالى وَرَسُولِهِ صلى الله عليه وسلم مُوَالَاةُ الْمُؤْمِنِينَ كَمَا نَطَقَ بِهِ الْقُرْآنُ. خُصُوصًا الْعُلَمَاءُ، الَّذِينَ هُمْ وَرَثَةُ الْأَنْبِيَاءِ الَّذِينَ جَعَلَهُمْ اللَّهُ بِمَنْزِلَةِ النُّجُومِ، يُهْتَدَى بِهِمْ فِي ظُلُمَاتِ الْبَرِّ وَالْبَحْرِ (1) . وَقَدْ أَجْمَعَ الْمُسْلِمُونَ عَلَى هِدَايَتِهِمْ وَدِرَايَتِهِمْ.
إذْ كَلُّ أُمَّةٍ -قَبْلَ مَبْعَثِ نبيِّنا مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم فَعُلَمَاؤُهَا شِرَارُهَا، إلَّا الْمُسْلِمِينَ فَإِنَّ عُلَمَاءَهُمْ خِيَارُهُمْ؛ فَإِنَّهُمْ خُلَفَاءُ الرَّسُولِ صلى الله عليه وسلم فِي أُمَّتِهِ، والمحيون لِمَا مَاتَ مِنْ سُنَّتِهِ. بِهِمْ قَامَ الْكِتَابُ، وَبِهِ قَامُوا، وَبِهِمْ نَطَقَ الْكِتَابُ وَبِهِ نَطَقُوا.
وَلِيُعْلَمَ أَنَّهُ لَيْسَ أَحَدٌ مِنْ الْأَئِمَّةِ -الْمَقْبُولِينَ عِنْدَ الْأُمَّةِ قَبُولًا عَامًّا- يَتَعَمَّدُ مُخَالَفَةَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي شَيْءٍ مِنْ سُنَّتِهِ؛ دَقِيقٍ وَلَا جَلِيلٍ.
--------------------------------------------
আল্লাহ তাআলার সমস্ত অনুগ্রহের জন্য তাঁরই প্রশংসা করছি। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই; তিনি একক, তাঁর আসমান ও জমিনে তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর বান্দা, রাসূল এবং সর্বশেষ নবী। তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর অবিরত রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক কিয়ামত দিবস পর্যন্ত।
অতঃপর: মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রতি আনুগত্যের পর মুমিনদের সাথে সুসম্পর্ক ও আনুগত্য বজায় রাখা মুসলিমদের জন্য আবশ্যক, যেমনটি কুরআনে বর্ণিত হয়েছে। বিশেষ করে সেই আলেমদের প্রতি, যারা নবীদের উত্তরাধিকারী এবং যাদের আল্লাহ তাআলা নক্ষত্ররাজির ন্যায় মর্যাদা দান করেছেন, যাদের মাধ্যমে স্থল ও সমুদ্রের অন্ধকারে পথ চেনা যায় (১)। মুসলিম উম্মাহ তাঁদের সঠিক পথনির্দেশনা ও গভীর পাণ্ডিত্যের বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছে।
কেননা আমাদের নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আগমনের পূর্ববর্তী উম্মতসমূহের আলেমরাই ছিল তাদের মধ্যে নিকৃষ্টতম, কিন্তু মুসলিমদের অবস্থা এর বিপরীত; তাদের আলেমরা হলেন তাদের মধ্যে সর্বোত্তম। কারণ তাঁরা উম্মতের মাঝে রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) স্থলাভিষিক্ত এবং তাঁর সুন্নাহর বিলুপ্তপ্রায় বিষয়সমূহের পুনর্জীবনদানকারী। তাঁদের মাধ্যমেই কিতাব (কুরআন) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং তাঁরাও কিতাবের ওপর সুপ্রতিষ্ঠিত আছেন; তাঁদের মাধ্যমে কিতাবের মর্মবাণী ব্যক্ত হয় এবং তাঁরাও কিতাবের আলোকেই কথা বলেন।
এটা জেনে রাখা উচিত যে, উম্মতের নিকট সর্বজনগৃহীত ইমামদের কেউই ইচ্ছাকৃতভাবে রাসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুন্নাহর কোনো ক্ষুদ্র কিংবা বৃহৎ বিষয়ের বিরোধিতা করেননি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রাফউল মালাম আনিল আইম্মাতিল আলাম
(পৃষ্ঠা: ৯)
فَإِنَّهُمْ مُتَّفِقُونَ اتِّفَاقًا يَقِينِيًّا عَلَى وُجُوبِ اتِّبَاعِ الرَّسُولِ صلى الله عليه وسلم. وَعَلَى أَنَّ كُلَّ أَحَدٍ مِنْ النَّاسِ يُؤْخَذُ مِنْ قَوْلِهِ وَيُتْرَكُ، إلَّا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم. وَلَكِنْ إذَا وُجِدَ لِوَاحِدِ مِنْهُمْ قَوْلٌ قَدْ جَاءَ حَدِيثٌ صَحِيحٌ بِخِلَافِهِ، فَلَا بُدَّ لَهُ مِنْ عُذْرٍ فِي تَرْكِهِ. وَجَمِيعُ الْأَعْذَارِ ثَلَاثَةُ أَصْنَافٍ:
أَحَدُهَا: عَدَمُ اعْتِقَادِهِ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَهُ.
وَالثَّانِي: عَدَمُ اعْتِقَادِهِ إرَادَةَ تِلْكَ الْمَسْأَلَةِ بِذَلِكَ الْقَوْلِ.
وَالثَّالِثُ: اعْتِقَادُهُ أَنَّ ذَلِكَ الْحُكْمَ مَنْسُوخٌ.
وَهَذِهِ الْأَصْنَافُ الثَّلَاثَةُ تَتَفَرَّعُ إلَى أَسْبَابٍ مُتَعَدِّدَةٍ:
السَّبَبُ الْأَوَّلُ:
أَن لا يَكُونَ الْحَدِيثُ قَدْ بَلَغَهُ، وَمَنْ لَمْ يَبْلُغْهُ الْحَدِيثُ لَمْ يُكَلَّفْ أَنْ يَكُونَ عَالِمًا بِمُوجَبِهِ، وَإِذَا لَمْ يَكُنْ قَدْ بَلَغَهُ -وَقَدْ قَالَ فِي تِلْكَ الْقَضِيَّةِ بِمُوجَبِ ظَاهِرِ آيَةٍ أَوْ حَدِيثٍ آخَرَ؛ أَوْ بِمُوجَبِ قِيَاسٍ؛ أَوْ مُوجَبِ اسْتِصْحَابٍ- فَقَدْ يُوَافِقُ ذَلِكَ الْحَدِيثَ تَارَةً، وَيُخَالِفُهُ أُخْرَى.
وَهَذَا السَّبَبُ: هُوَ الْغَالِبُ عَلَى أَكْثَرِ مَا يُوجَدُ مِنْ أَقْوَالِ السَّلَفِ مُخَالِفًا لِبَعْضِ الْأَحَادِيثِ.
فَإِنَّ الْإِحَاطَةَ بِحَدِيثِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَمْ تَكُنْ لِأَحَدِ مِنْ الْأُمَّةِ. وَقَدْ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يُحَدِّثُ؛ أَوْ يُفْتِي؛ أَوْ يَقْضِي؛ أَوْ يَفْعَلُ الشَّيْءَ؛
নিশ্চয়ই তাঁরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণের আবশ্যকতা সম্পর্কে দৃঢ়ভাবে এবং নিশ্চিতরূপে একমত। এবং তাঁরা এ বিষয়েও একমত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যতীত যে কোনো মানুষের কথা গ্রহণ করা যেতে পারে অথবা বর্জন করা যেতে পারে। কিন্তু যদি তাঁদের মধ্য থেকে কারো এমন কোনো বক্তব্য পাওয়া যায় যার বিপরীতে কোনো সহীহ হাদীস বিদ্যমান রয়েছে, তবে অবশ্যই সেই হাদীসটি বর্জন করার ক্ষেত্রে তাঁর কোনো না কোনো ওজর বা যুক্তিসঙ্গত কারণ ছিল। আর সকল ওজর মূলত তিন প্রকার:
প্রথমত: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কথাটি বলেছেন বলে তাঁর নিকট প্রতীয়মান না হওয়া।
দ্বিতীয়ত: উক্ত কথা দ্বারা সংশ্লিষ্ট বিষয়টিই উদ্দেশ্য—তা তাঁর নিকট প্রমাণিত না হওয়া।
তৃতীয়ত: উক্ত বিধানটি মানসুখ বা রহিত হয়ে গেছে বলে তাঁর বিশ্বাস থাকা।
আর এই তিন প্রকার ওজর আবার বহুবিধ কারণে বিভক্ত হয়:
প্রথম কারণ:
হাদীসটি তাঁর নিকট না পৌঁছানো। আর যাঁর নিকট হাদীস পৌঁছেনি, সেই হাদীসের দাবি অনুযায়ী আমল করার দায়িত্ব তাঁর ওপর অর্পিত হয় না। এমতাবস্থায় যদি হাদীসটি তাঁর নিকট না পৌঁছে থাকে—এবং তিনি উক্ত বিষয়ে কোনো আয়াতের প্রকাশ্য অর্থ, অন্য কোনো হাদীস, কিয়াস (যৌক্তিক তুলনা) কিংবা ইসতিসহাব (পূর্বাবস্থা বজায় রাখা)-এর ভিত্তিতে কোনো মত ব্যক্ত করে থাকেন—তবে তা কখনও উক্ত হাদীসের অনুকূলে হতে পারে, আবার কখনও তার প্রতিকূলেও হতে পারে।
আর সালাফদের যেসব বক্তব্য কোনো কোনো হাদীসের পরিপন্থী পাওয়া যায়, তার অধিকাংশের ক্ষেত্রে এই কারণটিই প্রধান।
কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সকল হাদীসকে পূর্ণাঙ্গভাবে আয়ত্ত করা এই উম্মতের কারোর পক্ষেই সম্ভব হয়নি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো কথা বলতেন, ফতোয়া দিতেন, বিচার ফয়সালা করতেন কিংবা কোনো কাজ সম্পাদন করতেন;
(খণ্ড: ১)
রাফউল মালাম আনিল আইম্মাতিল আলাম
(পৃষ্ঠা: ১০)
فَيَسْمَعُهُ أَوْ يَرَاهُ مَنْ يَكُونُ حَاضِرًا، وَيُبَلِّغُهُ أُولَئِكَ -أَوْ بَعْضُهُمْ- لِمَنْ يُبَلِّغُونَهُ، فَيَنْتَهِي عِلْمُ ذَلِكَ إلَى مَنْ شَاءُ اللَّهُ تعالى مِنْ الْعُلَمَاءِ، مِنْ الصَّحَابَةِ وَالتَّابِعِينَ وَمَنْ بَعْدَهُمْ. ثُمَّ فِي مَجْلِسٍ آخَرَ: قَدْ يُحَدِّثُ، أَوْ يُفْتِي، أَوْ يَقْضِي، أَوْ يَفْعَلُ شَيْئًا، وَيَشْهَدُهُ بَعْضُ مَنْ كَانَ غَائِبًا عَنْ ذَلِكَ الْمَجْلِسِ، وَيُبَلِّغُونَهُ لِمَنْ أَمْكَنَهُمْ. فَيَكُونُ عِنْدَ هَؤُلَاءِ مِنْ الْعِلْمِ مَا لَيْسَ عِنْدَ هَؤُلَاءِ، وَعِنْدَ هَؤُلَاءِ مَا لَيْسَ عِنْدَ هَؤُلَاءِ.
وَإِنَّمَا يَتَفَاضَلُ الْعُلَمَاءُ مِنْ الصَّحَابَةِ وَمَنْ بَعْدَهُمْ بِكَثْرَةِ الْعِلْمِ أَوْ جَوْدَتِهِ.
وَأَمَّا إحَاطَةُ وَاحِدٍ بِجَمِيعِ حَدِيثِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَهَذَا لَا يُمْكِنُ ادِّعَاؤُهُ قَطُّ.
وَاعْتُبِرَ ذَلِكَ بِالْخُلَفَاءِ الرَّاشِدِينَ رضي الله عنهم الَّذِينَ هُمْ أَعْلَمُ الْأُمَّةِ بِأُمُورِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَسُنَّتِهِ وَأَحْوَالِهِ، خُصُوصًا الصِّدِّيقُ رضي الله عنه الَّذِي لَمْ يَكُنْ يُفَارِقُ رسول الله صلى الله عليه وسلم حَضَرًا وَلَا سَفَرًا، بَلْ كَانَ يَكُونُ مَعَهُ فِي غَالِبِ الْأَوْقَاتِ، حَتَّى إنَّهُ يَسْمَرُ عِنْدَهُ بِاللَّيْلِ فِي أُمُورِ الْمُسْلِمِينَ. وَكَذَلِكَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رضي الله عنه، فَإِنَّ رسول الله صلى الله عليه وسلم كَثِيرًا مَا كان يَقُولُ: (دَخَلْت أَنَا وَأَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ) وَ (خَرَجْت أَنَا وَأَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ) .
ফলে যারা সেখানে উপস্থিত থাকতেন তারা তা শুনতে পেতেন বা দেখতে পেতেন এবং তারা—অথবা তাদের কেউ কেউ—তা অন্যদের নিকট পৌঁছে দিতেন। ফলে সেই জ্ঞান মহান আল্লাহর ইচ্ছানুযায়ী সাহাবী, তাবিঈ এবং পরবর্তী স্তরের আলেমদের মধ্য থেকে নির্দিষ্ট ব্যক্তিবর্গের কাছে পৌঁছে যেত। অতঃপর অন্য কোনো মজলিসে হয়তো তিনি কোনো হাদীস বর্ণনা করতেন, ফতোয়া দিতেন, বিচারকার্য পরিচালনা করতেন কিংবা কোনো কাজ সম্পাদন করতেন, যা এমন ব্যক্তিরা প্রত্যক্ষ করতেন যারা আগের মজলিসে উপস্থিত ছিলেন না। অতঃপর তারাও তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী তা অন্যদের নিকট পৌঁছে দিতেন। ফলে এক দলের কাছে এমন জ্ঞান থাকত যা অন্য দলের কাছে থাকত না, আবার অন্য দলের কাছে এমন ইলম থাকত যা এদের কাছে থাকত না।
বস্তুত সাহাবীগণ এবং তাদের পরবর্তী আলেমগণের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্বের মানদণ্ড হলো ইলমের আধিক্য অথবা এর গুণগত মান ও বিশুদ্ধতা।
আর কোনো একক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সকল হাদীসকে পূর্ণরূপে আয়ত্ত করে নিয়েছেন—এমন দাবি করা কখনোই সম্ভব নয়।
এর প্রমাণ হিসেবে খুলাফায়ে রাশেদীন রাদিয়াল্লাহু আনহুমের দৃষ্টান্ত গ্রহণ করা যেতে পারে, যারা ছিলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কার্যাবলি, সুন্নাহ এবং তাঁর অবস্থা সম্পর্কে উম্মতের মধ্যে সর্বাধিক জ্ঞানী। বিশেষ করে সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু আনহু, যিনি আবাসে কিংবা সফরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গ ত্যাগ করতেন না, বরং অধিকাংশ সময় তাঁর সাথে থাকতেন। এমনকি তিনি মুসলিমদের জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনার জন্য গভীর রাত পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট অবস্থান করতেন। অনুরূপভাবে উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর বিষয়টিও উল্লেখযোগ্য; কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রায়শই বলতেন: "আমি, আবু বকর ও উমর প্রবেশ করলাম" এবং "আমি, আবু বকর ও উমর বের হলাম"।
(খণ্ড: ১)
রাফউল মালাম আনিল আইম্মাতিল আলাম
(পৃষ্ঠা: ১১)
ثُمَّ إنه -مَعَ ذَلِكَ- لَمَّا سُئِلَ أَبُو بَكْرٍ رضي الله عنه عَنْ مِيرَاثِ الْجَدَّةِ قَالَ: {مَالَكِ فِي كِتَابِ اللَّهِ مِنْ شَيْءٍ، وَمَا عَلِمْت لَكِ فِي سُنَّةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ شَيْءٍ، وَلَكِنْ اسْأَلْ النَّاسَ} فَسَأَلَهُمْ. فَقَامَ الْمُغِيرَةُ بْنُ شُعْبَةَ وَمُحَمَّدُ بْنُ مسلمة رضي الله عنهما فَشَهِدَا {أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَعْطَاهَا السُّدُسَ} (1) وَقَدْ بَلَّغَ هَذِهِ السُّنَّةَ عِمْرَانُ بْنُ حُصَيْنٍ رضي الله عنه أَيْضًا.
وَلَيْسَ هَؤُلَاءِ الثَّلَاثَةُ مِثْلَ أَبِي بَكْرٍ وَغَيْرِهِ مِنْ الْخُلَفَاءِ رضي الله عنهم ثُمَّ قَدْ اخْتَصُّوا بِعِلْمِ هَذِهِ السُّنَّةِ الَّتِي قَدْ اتَّفَقَتْ الْأُمَّةُ عَلَى الْعَمَلِ بِهَا.
وَكَذَلِكَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رضي الله عنه لَمْ يَكُنْ يَعْلَمُ سُنَّةَ الِاسْتِئْذَانِ حَتَّى أَخْبَرَهُ بِهَا أَبُو مُوسَى الأَشْعريُّ رضي الله عنه وَاسْتَشْهَدَ بِالْأَنْصَارِ (2) . وَعُمَرُ أَعْلَمُ مِمَّنْ حَدَّثَهُ بِهَذِهِ السُّنَّةِ.
وَلَمْ يَكُنْ عُمَرُ رضي الله عنه أَيْضًا يَعْلَمُ أَنَّ الْمَرْأَةَ تَرِثُ مِنْ دِيَةِ زَوْجِهَا، بَلْ يَرَى: أَنَّ الدِّيَةَ لِلْعَاقِلَةِ، حَتَّى
--------------------------------------------
তদুপরি, এতদসত্ত্বেও যখন আবু বকর (রা.)-কে দাদির উত্তরাধিকার (মীরাস) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তিনি বলেছিলেন: {আল্লাহর কিতাবে তোমার জন্য কোনো অংশ নেই এবং আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর সুন্নাহতেও তোমার জন্য কোনো বিধান আমার জানা নেই। তবে আমি লোকজনকে জিজ্ঞাসা করব।} অতঃপর তিনি তাদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন। তখন মুগীরা ইবনে শু'বাহ এবং মুহাম্মদ ইবনে মাসলামাহ (রা.) উঠে দাঁড়ালেন এবং সাক্ষ্য দিলেন যে, {নবী (সা.) তাকে এক-ষষ্ঠাংশ প্রদান করেছিলেন} (১)। ইমরান ইবনে হুসাইন (রা.)-ও এই সুন্নাহটি পৌঁছে দিয়েছেন।
আর এই তিনজন আবু বকর এবং অন্যান্য খলীফাদের (রা.) সমমর্যাদার ছিলেন না, অথচ তাঁরা এমন একটি সুন্নাহর জ্ঞানে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়েছিলেন যার ওপর আমল করার ব্যাপারে উম্মাহ ঐকমত্য পোষণ করেছে।
অনুরূপভাবে উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-ও অনুমতি প্রার্থনার সুন্নাহ সম্পর্কে জানতেন না, যতক্ষণ না আবু মুসা আল-আশআরী (রা.) তাঁকে তা অবহিত করেন এবং আনসারদের মধ্য থেকে সাক্ষ্য পেশ করেন (২)। অথচ উমর এই সুন্নাহ বর্ণনাকারীর চেয়েও অধিক জ্ঞানসম্পন্ন ছিলেন।
উমর (রা.) এটিও জানতেন না যে স্ত্রী তাঁর স্বামীর দিয়ত (রক্তপণ) থেকে মীরাস লাভ করেন। বরং তিনি মনে করতেন যে, দিয়ত হচ্ছে 'আকিলা'র (পিতার বংশীয় আত্মীয়দের) জন্য, যতক্ষণ না...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রাফউল মালাম আনিল আইম্মাতিল আলাম
(পৃষ্ঠা: ১২)
كَتَبَ إلَيْهِ الضَّحَّاكُ بْنُ سُفْيَانَ رضي الله عنه -وَهُوَ أَمِيرٌ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى بَعْضِ الْبَوَادِي- يُخْبِرُهُ {أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَرَّثَ امْرَأَةَ أَشْيَمَ الضَّبَابِيِّ- رضي الله عنه مِنْ دِيَةِ زَوْجِهَا} (1) فَتَرَكَ رَأْيَهُ لِذَلِكَ، وَقَالَ: {لَوْ لَمْ نَسْمَعْ بِهَذَا لَقَضَيْنَا بِخِلَافِهِ} . وَلَمْ يَكُنْ يَعْلَمُ حُكْمَ الْمَجُوسِ فِي الْجِزْيَةِ، حَتَّى أَخْبَرَهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْفٍ رضي الله عنه أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: سَنُّوا بِهِمْ سُنَّةَ أَهْلِ الْكِتَابِ} (2) .
وَلَمَّا قَدِمَ سَرْغ (3) وَبَلَغَهُ أَنَّ الطَّاعُونَ بِالشَّامِ، اسْتَشَارَ الْمُهَاجِرِينَ الْأَوَّلِينَ الَّذِينَ مَعَهُ، ثُمَّ الْأَنْصَارَ، ثُمَّ مُسْلِمَةَ الْفَتْحِ، فَأَشَارَ كُلٌّ عَلَيْهِ بِمَا رَأَى، وَلَمْ يُخْبِرْهُ أَحَدٌ بِسُنَّةٍ، حَتَّى قَدِمَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْفٍ رضي الله عنه فَأَخْبَرَهُ بِسُنَّةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي الطَّاعُونِ، وَأَنَّهُ قَالَ: {إذَا وَقَعَ بِأَرْضِ وَأَنْتُمْ بِهَا، فَلَا تَخْرُجُوا
--------------------------------------------
দাহহাক ইবনে সুফিয়ান (রাযিয়াল্লাহু আনহু)—যিনি মরু অঞ্চলের জনপদে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিযুক্ত আমির ছিলেন—তাঁকে (উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুকে) লিখে জানালেন যে, {রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আশয়াম আদ-দাবাবি (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর স্ত্রীকে তাঁর স্বামীর রক্তপণ (দিয়াত) থেকে উত্তরাধিকার প্রদান করেছিলেন} (১)। ফলে তিনি এই কারণে নিজের অভিমত পরিত্যাগ করলেন এবং বললেন: {যদি আমরা এটি না শুনতাম, তবে আমরা এর বিপরীতে ফয়সালা দিতাম}। তিনি অগ্নিপূজকদের ক্ষেত্রে জিযয়া গ্রহণের বিধান জানতেন না, যতক্ষণ না আবদুর রহমান ইবনে আওফ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাঁকে অবহিত করলেন যে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: {তাদের সাথে আহলে কিতাবদের মতো আচরণ করো} (২)।
আর যখন তিনি সারগ (৩) নামক স্থানে পৌঁছালেন এবং তাঁর নিকট সংবাদ পৌঁছাল যে সিরিয়ায় মহামারি দেখা দিয়েছে, তখন তিনি তাঁর সাথে থাকা অগ্রবর্তী মুহাজিরদের সাথে পরামর্শ করলেন, এরপর আনসারদের সাথে এবং তারপর মক্কা বিজয়ের সময় ইসলাম গ্রহণকারীদের সাথে। তাদের প্রত্যেকেই নিজ নিজ অভিমত ব্যক্ত করলেন, কিন্তু কেউ তাঁকে কোনো সুন্নাহর সংবাদ দিতে পারলেন না। অবশেষে আবদুর রহমান ইবনে আওফ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) আগমন করলেন এবং মহামারি সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহর কথা জানালেন যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছিলেন: {যখন কোনো ভূখণ্ডে মহামারি দেখা দেয় এবং তোমরা সেখানে অবস্থান করো, তখন সেখান থেকে বের হয়ো না...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রাফউল মালাম আনিল আইম্মাতিল আলাম
(পৃষ্ঠা: ১৩)
فِرَارًا مِنْهُ، وَإِذَا سَمِعْتُمْ بِهِ بِأَرْضِ فَلَا تَقْدَمُوا عَلَيْهِ} (1) .
وَتَذَاكَرَ هُوَ وَابْنُ عَبَّاسٍ رضي الله عنهم أَمْرَ الَّذِي يَشُكُّ فِي صَلَاتِهِ، فَلَمْ يَكُنْ قَدْ بَلَغَتْهُ السُّنَّةُ فِي ذَلِكَ، حَتَّى قَالَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْفٍ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم: {أنَّهُ يَطْرَحُ الشَّكَّ، وَيَبْنِي عَلَى مَا اسْتَيْقَنَ} (2) .
وَكَانَ مَرَّةً فِي السَّفَرِ، فَهَاجَتْ رِيحٌ فَجَعَلَ يَقُولُ: {مَنْ يُحَدِّثُنَا عَنْ الرِّيحِ؟} قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ: فَبَلَغَنِي وَأَنَا فِي أُخْرَيَاتِ النَّاسِ، فَحَثَثْت رَاحِلَتِي حَتَّى أَدْرَكْته، فَحَدَّثْته بِمَا أَمَرَ بِهِ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عِنْدَ هُبُوبِ الرِّيحِ (3) .
فَهَذِهِ مَوَاضِعُ لَمْ يَكُنْ يَعْلَمُهَا عمر رضي الله عنه حَتَّى بَلَّغَهُ إيَّاهَا مَنْ لَيْسَ مِثْلَهُ، وَمَوَاضِعُ أُخَرَ لَمْ يَبْلُغْهُ مَا فِيهَا مِنْ السُّنَّةِ فَقَضَى فِيهَا أَوْ أَفْتَى فِيهَا بِغَيْرِ ذَلِكَ.
--------------------------------------------
...তা থেকে পলায়ন করার উদ্দেশ্যে; আর যখন তোমরা কোনো ভূখণ্ডে এর (প্রাদুর্ভাবের) কথা শুনবে, তখন সেখানে প্রবেশ করো না।} (১) ।
তিনি এবং ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) সালাতে সন্দেহ পোষণকারীর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছিলেন, কিন্তু এ বিষয়ে তাঁর কাছে সুন্নাহর জ্ঞান পৌঁছেনি। অবশেষে আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করলেন যে: {সে যেন সন্দেহ বর্জন করে এবং যা নিশ্চিত তার ওপর ভিত্তি করে} (২) ।
একবার তিনি সফরে ছিলেন, তখন তীব্র বাতাস বইতে শুরু করল। তিনি বলতে লাগলেন: {বাতাস সম্পর্কে আমাদের কে কিছু শোনাবে?} আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: এ কথা আমার কানে পৌঁছল যখন আমি কাফেলার পেছনের দিকে ছিলাম। তখন আমি আমার বাহনকে দ্রুত চালিয়ে তাঁর নাগাল পেলাম এবং বাতাস প্রবাহিত হওয়ার সময় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যা নির্দেশ দিয়েছেন, তা তাঁকে শোনালাম (৩) ।
এগুলো এমন কিছু ক্ষেত্র যা উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) জানতেন না, যতক্ষণ না তাঁর চেয়ে নিম্নমর্যাদার কেউ তা তাঁকে অবহিত করেছেন। এ ছাড়া আরও এমন অনেক বিষয় রয়েছে যেখানে তাঁর কাছে সুন্নাহর সংবাদ পৌঁছেনি, ফলে তিনি সে অনুযায়ী বিচার করেননি বা তার বিপরীতে ফতোয়া প্রদান করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রাফউল মালাম আনিল আইম্মাতিল আলাম
(পৃষ্ঠা: ১৪)
مِثْلَ مَا قَضَى فِي دِيَةِ الْأَصَابِعِ: أَنَّهَا مُخْتَلِفَةٌ بِحَسَبِ مَنَافِعِهَا، وَقَدْ كَانَ عِنْد أَبِي مُوسَى وَابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنهم -وَهُمَا دُونَهُ بِكَثِيرِ فِي الْعِلْمِ- عِلْمٌ بِأَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: {هَذِهِ وَهَذِهِ سَوَاءٌ يَعْنِي الْإِبْهَامَ وَالْخِنْصَرَ} (1) فَبَلَغَتْ هَذِهِ السُّنَّةُ معاويةَ رضي الله عنه فِي إمَارَتِهِ فَقَضَى بِهَا، وَلَمْ يَجِدْ الْمُسْلِمُونَ بُدًّا مِنْ اتِّبَاعِ ذَلِكَ، وَلَمْ يَكُنْ عَيْبًا فِي حق عُمَرَ رضي الله عنه حَيْثُ لَمْ يَبْلُغْهُ الْحَدِيثُ.
وَكَذَلِكَ كَانَ ينْهى الْمُحْرِمَ عَنْ التَّطَيُّبِ قَبْلَ الْإِحْرَامِ؛ وَقَبْلَ الْإِفَاضَةِ إلَى مَكَّةَ بَعْدَ رَمْيِ جَمْرَةِ الْعَقَبَة، ِ هُوَ وَابْنُهُ عَبْدُ اللَّهِ- رضي الله عنهما وَغَيْرُهُمَا مِنْ أَهْلِ الْفَضْلِ، وَلَمْ يَبْلُغْهُمْ حَدِيثُ عَائِشَةَ رضي الله عنها: {طَيَّبْت رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِإِحْرَامِهِ قَبْلَ أَنْ يُحْرِمَ وَلِحِلِّهِ قَبْلَ أَنْ يَطُوفَ} (2) .
--------------------------------------------
যেমন তিনি আঙ্গুলের দিয়ত (রক্তপণ) সম্পর্কে ফয়সালা দিয়েছিলেন: এগুলোর উপকারিতা ও কার্যকারিতার ভিন্নতা অনুযায়ী এগুলোর রক্তপণও ভিন্ন ভিন্ন হবে। অথচ আবু মুসা এবং ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)—যাঁরা ইলমের দিক থেকে তাঁর (উমরের) চেয়ে অনেক নিচের স্তরে ছিলেন—তাঁদের কাছে এ বিষয়ে ইলম ছিল যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "এই এবং এই (আঙ্গুল) সমান, অর্থাৎ বৃদ্ধাঙ্গুলি এবং কনিষ্ঠ আঙ্গুল।" (১) অতঃপর মুয়াবিয়া (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর শাসনামলে যখন এই সুন্নাহ তাঁর কাছে পৌঁছাল, তখন তিনি সেই অনুযায়ী ফয়সালা প্রদান করেন এবং মুসলমানদের জন্য এটি অনুসরণ করা ছাড়া গত্যন্তর ছিল না। আর এটি উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর জন্য কোনো ত্রুটি ছিল না যে, তাঁর কাছে এই হাদিসটি পৌঁছেনি।
অনুরূপভাবে তিনি (উমর) ও তাঁর পুত্র আবদুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) এবং অন্যান্য মর্যাদাবান ব্যক্তিবর্গ ইহরাম বাঁধার আগে এবং জামরাতুল আকাবায় কঙ্কর নিক্ষেপের পর মক্কায় তাওয়াফে ইফাযার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার আগে মুহরিম ব্যক্তিকে সুগন্ধি ব্যবহার করতে নিষেধ করতেন। তাঁদের কাছে আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর এই হাদিসটি পৌঁছেনি যে: "আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে তাঁর ইহরামের প্রাক্কালে ইহরাম বাঁধার আগে এবং তিনি ইহরাম থেকে হালাল হওয়ার পর তাওয়াফের আগে সুগন্ধি মাখিয়ে দিয়েছি।" (২) ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রাফউল মালাম আনিল আইম্মাতিল আলাম
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وَكَانَ يَأْمُرُ لَابِسَ الْخُفِّ أَنْ يَمْسَحَ عَلَيْهِ إلَى أَنْ يَخْلَعَهُ مِنْ غَيْرِ تَوْقِيتٍ، وَاتَّبَعَهُ عَلَى ذَلِكَ طَائِفَةٌ مِنْ السَّلَفِ، وَلَمْ تَبْلُغْهُمْ أَحَادِيثُ التَّوْقِيتِ الَّتِي صَحَّتْ عِنْدَ بَعْضِ مَنْ لَيْسَ مِثْلُهُمْ فِي الْعِلْمِ، وَقَدْ رُوِيَ ذَلِكَ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِنْ وُجُوهٍ مُتَعَدِّدَةٍ صَحِيحَةٍ (1) .
وَكَذَلِكَ عُثْمَانُ رضي الله عنه لَمْ يَكُنْ عِنْدَهُ عِلْمٌ بِأَنَّ الْمُتَوَفَّى عَنْهَا زَوْجُهَا تَعْتَدُّ فِي بَيْتِ الْمَوْتِ، حَتَّى حَدَّثَتْهُ الْفُرَيْعَةُ بِنْتُ مَالِكٍ أُخْتُ أَبِي سَعِيدٍ الخدري رضي الله عنهما بِقَضِيَّتِهَا لَمَّا تُوُفِّيَ عنها زَوْجُهَا، وَأَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ لَهَا: {اُمْكُثِي فِي بَيْتِك حَتَّى يَبْلُغَ الْكِتَابُ أَجَلَهُ} (2) فَأَخَذَ بِهِ عُثْمَانُ. وَأُهْدِيَ لَهُ مَرَّةً صَيْدٌ كَانَ قَدْ صِيدَ لِأَجْلِهِ، فَهَمَّ بِأَكْلِهِ حَتَّى أَخْبَرَهُ عَلِيٌّ رضي الله عنه أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم
--------------------------------------------
তিনি মোজা পরিধানকারীকে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ ছাড়াই তা খোলা পর্যন্ত তার ওপর মাসাহ করার নির্দেশ দিতেন। সালাফগণের একটি দল এই মত অনুসরণ করেছিলেন। তাদের কাছে সময়সীমা নির্ধারণ সংক্রান্ত সেই হাদিসগুলো পৌঁছেনি যা ইলমের দিক থেকে তাদের সমতুল্য নন এমন অনেক ব্যক্তির কাছেও সহীহ বলে প্রমাণিত হয়েছিল। অথচ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বিষয়টি বিভিন্ন সহীহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে (১)।
অনুরূপভাবে উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুরও এটি জানা ছিল না যে, বিধবা নারী তার স্বামীর মৃত্যুর ঘরেই ইদ্দত পালন করবে। অবশেষে আবু সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহুমা-এর বোন ফুরাইআ বিনতে মালিক যখন তার নিজের ঘটনার কথা বর্ণনা করলেন যে, তার স্বামীর মৃত্যুর পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বলেছিলেন: {তুমি তোমার ঘরেই অবস্থান করো যতক্ষণ না নির্ধারিত সময় পূর্ণ হয়} (২), তখন উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু তা গ্রহণ করলেন। একবার তাঁকে এমন এক শিকারের গোশত উপহার দেওয়া হয়েছিল যা মূলত তাঁর জন্যই শিকার করা হয়েছিল। তিনি তা খেতে উদ্যত হলেন, এমন সময় আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁকে জানালেন যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রাফউল মালাম আনিল আইম্মাতিল আলাম
(পৃষ্ঠা: ১৬)
رَدَّ لَحْمًا أُهْدِيَ لَهُ (1) .
وَكَذَلِكَ عَلِيٌّ رضي الله عنه قَالَ: كُنْت إذَا سَمِعْت مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَدِيثًا نَفَعَنِي اللَّهُ بِمَا شَاءَ أَنْ يَنْفَعَنِي مِنْهُ، وَإِذَا حَدَّثَنِي غَيْرُهُ اسْتَحْلَفْته، فَإِذَا حَلَفَ لِي صَدَّقْته، وَحَدَّثَنِي أَبُو بَكْرٍ -وَصَدَقَ أَبُو بَكْرٍ- وَذَكَرَ حَدِيثَ صَلَاةِ التَّوْبَةِ الْمَشْهُورَ (2) . وَأَفْتَى هُوَ وَابْنُ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما وَغَيْرُهُمَا بِأَنَّ: الْمُتَوَفَّى عَنْهَا إذَا كَانَتْ حَامِلًا تَعْتَدُّ أَبْعَدَ الْأَجَلَيْنِ وَلَمْ تَكُنْ قَدْ بَلَغَتْهُمْ سُنَّةُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي سبيعة الأسلمية رضي الله عنها وقد توفي عنها زوجها سعد بن خولة، حَيْثُ أَفْتَاهَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِأَنَّ عِدَّتَهَا وَضْعُ حَمْلِهَا (3) .
--------------------------------------------
তিনি তাঁকে উপহার হিসেবে দেওয়া গোশত ফিরিয়ে দিয়েছিলেন (১)।
অনুরূপভাবে আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: "যখন আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট থেকে কোনো হাদিস শুনতাম, আল্লাহ তাআলা তাঁর ইচ্ছানুযায়ী আমাকে তা থেকে উপকৃত করতেন। আর যখন অন্য কেউ আমাকে হাদিস শোনাতেন, আমি তাঁর নিকট শপথ দাবি করতাম; যখন তিনি শপথ করতেন, আমি তাঁকে সত্য বলে বিশ্বাস করতাম। আবু বকর আমার নিকট একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন—আর আবু বকর সত্যই বলেছেন—অতঃপর তিনি তাওবার সালাতের প্রসিদ্ধ হাদিসটি উল্লেখ করেন (২)।" তিনি (আলী) এবং ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) সহ অন্যান্যগণ এই ফতোয়া দিয়েছিলেন যে: কোনো অন্তঃসত্ত্বা মহিলার স্বামী মারা গেলে তাঁর ইদ্দত হবে দীর্ঘতর মেয়াদটি (দুই মেয়াদের মধ্যে যা পরে শেষ হবে)। তাঁদের কাছে সুবাইয়াহ আল-আসলামিয়্যাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহা) সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহ পৌঁছায়নি; তাঁর স্বামী সাদ ইবনে খাওলা মারা গিয়েছিলেন এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে এই ফতোয়া দিয়েছিলেন যে, তাঁর ইদ্দত হলো সন্তান প্রসব হওয়া পর্যন্ত (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রাফউল মালাম আনিল আইম্মাতিল আলাম
(পৃষ্ঠা: ১৭)
وَأَفْتَى هُوَ وَزَيْدٌ وَابْنُ عُمَرَ وَغَيْرُهُمْ رضي الله عنهم بِأَنَّ الْمُفَوَّضَةَ {إذَا مَاتَ عَنْهَا زَوْجُهَا فَلَا مَهْرَ لَهَا} وَلَمْ تَكُنْ بَلَغَتْهُمْ سُنَّةُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي بَرْوَع بِنْتِ وَاشِقٍ رضي الله عنها (1) .
وَهَذَا بَابٌ وَاسِعٌ يَبْلُغُ الْمَنْقُولُ مِنْهُ عَنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَدَدًا كَثِيرًا جِدًّا.
وَأَمَّا الْمَنْقُولُ مِنْهُ عَنْ غَيْرِهِمْ فَلَا يُمْكِنُ الْإِحَاطَةُ بِهِ؛ فَإِنَّهُ أُلُوفٌ.
فَهَؤُلَاءِ كَانُوا أَعْلَمَ الْأُمَّةِ وَأَفْقَهَهَا، وَأَتْقَاهَا وَأَفْضَلَهَا، فَمَنْ بَعْدَهُمْ أَنْقَصُ؛ فَخَفَاءُ بَعْضِ السُّنَّةِ عَلَيْهِم أَوْلَى فَلَا يَحْتَاجُ إلَى بَيَانٍ.
فَمَنْ اعْتَقَدَ أَنَّ كُلَّ حَدِيثٍ صَحِيحٍ قَدْ بَلَغَ كُلَّ وَاحِدٍ مِنْ الْأَئِمَّةِ، أَوْ إمَامًا مُعَيَّنًا فَهُوَ مُخْطِئٌ خَطَأً فَاحِشًا قَبِيحًا.
وَلَا يَقُولَن قَائِلٌ: إن الْأَحَادِيثَ قَدْ دُوِّنَتْ وَجُمِعَتْ؛ فَخَفَاؤُهَا وَالْحَالُ هَذِهِ بَعِيدٌ، لِأَنَّ هَذِهِ الدَّوَاوِينَ الْمَشْهُورَةَ فِي السُّنَنِ إنَّمَا جُمِعَتْ بَعْدَ انْقِرَاضِ الْأَئِمَّةِ الْمَتْبُوعِينَ، وَمَعَ هَذَا فَلَا يَجُوزُ أَنْ يَدَّعِيَ انْحِصَارَ حَدِيثِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي دَوَاوِينَ مُعَيَّنَةٍ.
ثُمَّ لَوْ فُرِضَ انْحِصَارُ حَدِيثِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم
--------------------------------------------
তিনি, যায়িদ, ইবনে উমর এবং অন্যান্যেরা (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) এই মর্মে ফতোয়া দিয়েছিলেন যে, 'মুফাওওয়িদাহ্' (যার মোহর নির্ধারিত হয়নি) মহিলার স্বামী যদি তাকে স্পর্শ করার পূর্বেই মারা যায়, তবে সে কোনো মোহর পাবে না। অথচ বারওয়া বিনতে ওয়াশিক (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ বা ফয়সালাটি তাঁদের কাছে পৌঁছায়নি (১)।
এটি একটি বিস্তৃত বিষয়; রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে যা বর্ণিত হয়েছে তার সংখ্যা অত্যন্ত বিশাল।
আর সাহাবীগণ ব্যতীত অন্যদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে যা বর্ণিত হয়েছে, তা আয়ত্ত করা সম্ভব নয়; কারণ তা সংখ্যায় হাজার হাজার।
তাঁরা ছিলেন এই উম্মতের মধ্যে সর্বাধিক জ্ঞানী, ফিকহশাস্ত্রে সবচেয়ে গভীর ব্যুৎপন্ন, অধিকতর মুত্তাকী এবং সর্বোত্তম মর্যাদার অধিকারী। সুতরাং তাঁদের পরবর্তী প্রজন্মের কাছে সুন্নাহর কিছু অংশ অজানা থাকা আরও বেশি স্বাভাবিক, যা নতুন করে ব্যাখ্যার অপেক্ষা রাখে না।
অতএব, যে ব্যক্তি বিশ্বাস করে যে প্রতিটি সহীহ হাদীস সকল ইমামের কাছে পৌঁছেছে, অথবা কোনো নির্দিষ্ট ইমামের কাছে পৌঁছেছে, সে এক জঘন্য ও চরম ভুল করেছে।
আর কেউ যেন এমন কথা না বলে যে—হাদীসসমূহ তো লিপিবদ্ধ ও সংকলিত হয়েছে; সুতরাং এমতাবস্থায় কোনো হাদীস অজানা থাকা অসম্ভব। কারণ, সুনান শাস্ত্রের এই প্রসিদ্ধ গ্রন্থসমূহ মূলত অনুসরণীয় ইমামগণের (মাযহাবের ইমাম) যুগের পর সংকলিত হয়েছে। তা সত্ত্বেও, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সমস্ত হাদীস নির্দিষ্ট কিছু সংকলনের মধ্যে সীমাবদ্ধ—এমন দাবি করাও বৈধ নয়।
অতঃপর, যদি ধরেও নেওয়া হয় যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীসসমূহ সীমাবদ্ধ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রাফউল মালাম আনিল আইম্মাতিল আলাম
(পৃষ্ঠা: ১৮)
فيها، فَلَيْسَ كُلُّ مَا فِي الْكُتُبِ يَعْلَمُهُ الْعَالِمُ، وَلَا يَكَادُ ذَلِكَ يَحْصُلُ لِأَحَدِ، بَلْ قَدْ يَكُونُ عِنْدَ الرَّجُلِ الدَّوَاوِينُ الْكَثِيرَةُ وَهُوَ لَا يُحِيطُ بِمَا فِيهَا.
بَلْ الَّذِينَ كَانُوا قَبْلَ جَمْعِ هَذِهِ الدَّوَاوِينِ كانوا أَعْلَمَ بِالسُّنَّةِ مِنْ الْمُتَأَخِّرِينَ بِكَثِيرِ؛ لِأَنَّ كَثِيرًا مِمَّا بَلَغَهُمْ وَصَحَّ عِنْدَهُمْ قَدْ لَا يَبْلُغُنَا إلَّا عَنْ مَجْهُولٍ؛ أَوْ بِإِسْنَادِ مُنْقَطِعٍ؛ أَوْ لَا يَبْلُغُنَا بِالْكُلِّيَّةِ، فَكَانَتْ دَوَاوِينُهُمْ صُدُورَهُمْ الَّتِي تَحْوِي أَضْعَافَ مَا فِي الدَّوَاوِينِ، وَهَذَا أَمْرٌ لَا يَشُكُّ فِيهِ مَنْ عَلِمَ الْقَضِيَّةَ.
وَلَا يَقُولَنَّ قَائِلٌ: مَنْ لَمْ يَعْرِفْ الْأَحَادِيثَ كُلَّهَا لَمْ يَكُنْ مُجْتَهِدًا. لِأَنَّهُ إنِ اشْتُرِطَ فِي الْمُجْتَهِدِ عِلْمُهُ بِجَمِيعِ مَا قَالَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَفَعَلَهُ فِيمَا يَتَعَلَّقُ بِالْأَحْكَامِ: فَلَيْسَ فِي الْأُمَّةِ على هذا مُجْتَهِدٌ، وَإِنَّمَا غَايَةُ الْعَالِمِ: أَنْ يَعْلَمَ جُمْهُورَ ذَلِكَ وَمُعْظَمَهُ، بِحَيْثُ لَا يَخْفَى عَلَيْهِ إلَّا الْقَلِيلُ مِنْ التَّفْصِيلِ، ثُمَّ إنَّهُ قَدْ يُخَالِفُ ذَلِكَ الْقَلِيلَ مِنْ التَّفْصِيلِ الَّذِي يَبْلُغُهُ.
السَّبَبُ الثَّانِي:
أَنْ يَكُونَ الْحَدِيثُ قَدْ بَلَغَهُ، لَكِنَّهُ لَمْ يَثْبُتْ عِنْدَهُ.
إمَّا لِأَنَّ مُحَدِّثَهُ، أَوْ مُحَدِّثَ مُحَدِّثِهِ، أَوْ غَيْرَهُ مِنْ رِجَالِ الْإِسْنَادِ مَجْهُولٌ عِنْدَهُ أَوْ مُتَّهَمٌ أَوْ سَيِّئُ الْحِفْظِ.
এর মধ্যে, কিতাবসমূহে যা কিছু আছে তার সবকিছুই একজন আলেম জানবেন এমন নয়, আর কারো পক্ষে তা অর্জন করা প্রায় অসম্ভব। বরং কোনো ব্যক্তির কাছে বহু কিতাব থাকতে পারে, কিন্তু তিনি তাতে যা রয়েছে তার সবকিছু আয়ত্ত করতে পারেন না।
বরং এই সকল সংকলনগ্রন্থ সংকলনের পূর্বে যারা ছিলেন, তারা পরবর্তীগণের তুলনায় সুন্নাহ সম্পর্কে অনেক বেশি প্রাজ্ঞ ছিলেন; কারণ তাদের কাছে এমন অনেক কিছু পৌঁছেছে এবং তাদের নিকট সহীহ বলে প্রমাণিত হয়েছে, যা আমাদের কাছে হয়তো কোনো অজ্ঞাত ব্যক্তির মাধ্যমে পৌঁছেছে, অথবা বিচ্ছিন্ন সনদে পৌঁছেছে, অথবা আমাদের কাছে একেবারেই পৌঁছায়নি। সুতরাং তাদের অন্তরসমূহ ছিল তাদের সংকলনগ্রন্থ, যা এই লিখিত গ্রন্থসমূহের তুলনায় বহুগুণ বেশি জ্ঞান ধারণ করত। বিষয়টি সম্পর্কে সম্যক অবগত কোনো ব্যক্তির এ নিয়ে কোনো সংশয় থাকতে পারে না।
আর কেউ যেন এ কথা না বলে যে: "যিনি সকল হাদীস জানেন না তিনি মুজতাহিদ নন।" কারণ যদি আহকাম বা বিধান সম্পর্কিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সমস্ত কথা ও কাজ সম্পর্কে জ্ঞান থাকাকে মুজতাহিদের শর্ত হিসেবে নির্ধারণ করা হয়, তবে এই নীতি অনুযায়ী উম্মাহর মধ্যে কোনো মুজতাহিদ অবশিষ্ট থাকবে না। বরং একজন আলেমের সর্বোচ্চ সীমা হলো: এর অধিকাংশ ও প্রধান অংশগুলো জেনে নেওয়া, যেন তাঁর কাছে কেবল খুটিনাটি বিষয়ের সামান্য অংশই অগোচরে থাকে। অতঃপর তিনি হয়তো তাঁর নিকট পৌঁছেছে এমন সামান্য কিছু খুটিনাটি বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করতে পারেন।
দ্বিতীয় কারণ:
হাদীসটি তাঁর কাছে পৌঁছেছে, কিন্তু তা তাঁর নিকট প্রমাণিত হয়নি।
হয়তো এই কারণে যে, তাঁর বর্ণনাকারী, কিংবা তাঁর বর্ণনাকারীর বর্ণনাকারী, অথবা সনদের অন্য কোনো ব্যক্তি তাঁর নিকট অজ্ঞাত, কিংবা অভিযুক্ত, অথবা মন্দ স্মৃতিশক্তির অধিকারী।
(খণ্ড: ১)
রাফউল মালাম আনিল আইম্মাতিল আলাম
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وَإِمَّا لِأَنَّهُ لَمْ يَبْلُغْهُ مُسْنَدًا بَلْ مُنْقَطِعًا؛ أَوْ لَمْ يَضْبُطْ لَفْظَ الْحَدِيثِ مَعَ أَنَّ ذَلِكَ الْحَدِيثَ قَدْ رَوَاهُ الثِّقَاتُ لِغَيْرِهِ بِإِسْنَادِ مُتَّصِلٍ، بِأَنْ يَكُونَ غَيْرُهُ يَعْلَمُ مِنْ الْمَجْهُولِ عِنْدَهُ الثِّقَةَ، أَوْ يَكُونُ قَدْ رَوَاهُ غَيْرُ أُولَئِكَ الْمَجْرُوحِينَ عِنْدَهُ؛ أَوْ قَدْ اتَّصَلَ مِنْ غَيْرِ الْجِهَةِ الْمُنْقَطِعَةِ، وَقَدْ ضَبَطَ أَلْفَاظَ الْحَدِيثِ بَعْضُ الْمُحَدِّثِينَ الْحُفَّاظِ؛ أَوْ لِتِلْكَ الرِّوَايَةِ مِنْ الشَّوَاهِدِ وَالْمُتَابَعَاتِ مَا يُبَيِّنُ صِحَّتَهَا. وَهَذَا أَيْضًا كَثِيرٌ جِدًّا، وَهُوَ فِي التَّابِعِينَ وَتَابِعِيهِمْ إلَى الْأَئِمَّةِ الْمَشْهُورِينَ مِنْ بَعْدِهِمْ أَكْثَرُ مِنْ الْعَصْرِ الْأَوَّلِ، أَوْ كَثِيرٌ مِنْ الْقِسْمِ الْأَوَّلِ.
فَإِنَّ الْأَحَادِيثَ كَانَتْ قَدْ انْتَشَرَتْ وَاشْتَهَرَتْ، لَكِنْ كَانَتْ تَبْلُغُ كَثِيرًا مِنْ الْعُلَمَاءِ مِنْ طُرُقٍ ضَعِيفَةٍ، وَقَدْ بَلَغَتْ غَيْرَهُمْ مِنْ طُرُقٍ صَحِيحَةٍ غَيْرِ تِلْكَ الطُّرُقِ، فَتَكُونُ حُجَّةً مِنْ هَذَا الْوَجْهِ، مَعَ أَنَّهَا لَمْ تَبْلُغْ مَنْ خَالَفَهَا مِنَ الْوَجْهِ الآخر.
وَلِهَذَا وُجِدَ فِي كَلَامِ غَيْرِ وَاحِدٍ مِنْ الْأَئِمَّةِ تَعْلِيقُ الْقَوْلِ بِمُوجِبِ الْحَدِيثِ عَلَى صِحَّتِهِ، فَيَقُولُ: {قَوْلِي فِي هَذِهِ الْمَسْأَلَةِ كَذَا وَقَدْ رُوِيَ فِيهَا حَدِيثٌ بِكَذَا؛ فَإِنْ كَانَ صَحِيحًا فَهُوَ قَوْلِي} .
السَّبَبُ الثَّالِثُ:اعْتِقَادُ ضَعْفِ الْحَدِيثِ بِاجْتِهَادِ قَدْ خَالَفَهُ فِيهِ غَيْرُهُ، مَع
অথবা এ কারণে যে, হাদিসটি তাঁর নিকট মুসনাদ (নিরবচ্ছিন্ন সনদ) হিসেবে পৌঁছেনি বরং বিচ্ছিন্ন (মুনকাতি‘) হিসেবে পৌঁছেছে; অথবা তিনি হাদিসের শব্দাবলি সঠিকভাবে হেফজ বা সংরক্ষণ করতে পারেননি, অথচ সেই হাদিসটিই অন্যান্য নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীরা (সিকাহ) সংযুক্ত (মুত্তাসিল) সনদে বর্ণনা করেছেন। এর প্রেক্ষিত এমন হতে পারে যে, তাঁর নিকট যিনি অজ্ঞাত (মাজহুল), অন্য আলেম তাঁর নির্ভরযোগ্যতা সম্পর্কে অবগত। অথবা তাঁর নিকট যারা ত্রুটিপূর্ণ বা বিতর্কিত (মাজরুহ), তারা ব্যতীত অন্য বর্ণনাকারীরা হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। অথবা হাদিসটির সনদ বিচ্ছিন্ন সূত্রের বাইরে অন্য কোনো দিক দিয়ে সংযুক্ত হয়েছে এবং কোনো হাফেজ মুহাদ্দিস হাদিসটির শব্দাবলি সঠিকভাবে সংরক্ষণ করেছেন। অথবা সেই বর্ণনার এমন কিছু সাক্ষ্য (শাওয়াহিদ) ও সহায়ক বর্ণনা (মুতাবিআত) রয়েছে যা তার বিশুদ্ধতাকে স্পষ্ট করে। আর এটিও অত্যন্ত ব্যাপক; সাহাবিদের যুগের তুলনায় তাবেয়ি, তাবে-তাবেয়ি এবং তাঁদের পরবর্তী প্রসিদ্ধ ইমামগণের যুগে এটি অধিক পরিলক্ষিত হয়, অথবা এটি প্রথম প্রকারের একটি বড় অংশ।
নিশ্চয়ই হাদিসসমূহ চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়েছিল এবং প্রসিদ্ধি লাভ করেছিল, কিন্তু অনেক আলেমের নিকট তা কেবল দুর্বল সূত্রের মাধ্যমেই পৌঁছেছিল; অথচ অন্যদের নিকট তা ওই সূত্রগুলো ছাড়াও ভিন্ন সহিহ (বিশুদ্ধ) সূত্রের মাধ্যমে পৌঁছেছে। ফলে সেই দিক থেকে তা দলিল হিসেবে গণ্য হয়, যদিও যে আলেম এর বিরোধিতা করেছেন তাঁর নিকট সেই ভিন্ন সূত্রটি পৌঁছায়নি।
এ কারণেই একাধিক ইমামের বক্তব্যে দেখা যায় যে, তাঁরা কোনো হাদিসের দাবি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত প্রদানকে সেই হাদিসটি সহিহ হওয়ার শর্তের ওপর ঝুলিয়ে রেখেছেন। তাঁরা বলতেন: "এই মাসআলায় আমার মত হলো এই, আর এ বিষয়ে অমুক হাদিসটি বর্ণিত হয়েছে; যদি সেটি সহিহ হয়, তবে সেটিই আমার অভিমত।"
তৃতীয় কারণ:হাদিসটি দুর্বল হওয়ার বিশ্বাস পোষণ করা এমন এক ইজতিহাদের মাধ্যমে যাতে অন্য আলেমগণ তাঁর সাথে ভিন্নমত পোষণ করেছেন, সেই সাথে...
(খণ্ড: ১)
রাফউল মালাম আনিল আইম্মাতিল আলাম
(পৃষ্ঠা: ২০)
قَطْعِ النَّظَرِ عَنْ طَرِيقٍ آخَرَ، سَوَاءٌ كَانَ الصَّوَابُ مَعَهُ، أَوْ مَعَ غَيْرِهِ، أَوْ مَعَهُمَا عِنْدَ مَنْ يَقُولُ: {كُلُّ مُجْتَهِدٍ مُصِيبٌ} .
وَلِذَلِكَ أَسْبَابٌ:
مِنْهَا: أَنْ يَكُونَ الْمُحَدِّثُ بِالْحَدِيثِ يَعْتَقِدُهُ أَحَدُهُمَا ضَعِيفًا؛ وَيَعْتَقِدُهُ الْآخَرُ ثِقَةً. وَمَعْرِفَةُ الرِّجَالِ عِلْمٌ وَاسِعٌ.
ثُمَّ قَدْ يَكُونُ الْمُصِيبُ مَنْ يَعْتَقِدُ ضَعْفَهُ؛ لِاطِّلَاعِهِ عَلَى سَبَبٍ جَارِحٍ، وَقَدْ يَكُونُ الصَّوَابُ مَعَ الْآخَرِ لِمَعْرِفَتِهِ أَنَّ ذَلِكَ السَّبَبَ غَيْرُ جَارِحٍ؛ إمَّا لِأَنَّ جِنْسَهُ غَيْرُ جَارِحٍ؛ أَوْ لِأَنَّهُ كَانَ لَهُ فِيهِ عُذْرٌ يَمْنَعُ الْجَرْحَ. وَهَذَا بَابٌ وَاسِعٌ.
وَلِلْعُلَمَاءِ بِالرِّجَالِ وَأَحْوَالِهِمْ فِي ذَلِكَ مِنْ الْإِجْمَاعِ وَالِاخْتِلَافِ، مِثْلُ مَا لِغَيْرِهِمْ مِنْ سَائِر أَهْلِ الْعِلْمِ فِي عُلُومِهِمْ.
وَمِنْهَا: أن لا يَعْتَقِدَ أَنَّ الْمُحَدِّثَ سَمِعَ الْحَدِيثَ مِمَّنْ حَدَّثَ عَنْهُ، وَغَيْرُهُ يَعْتَقِدُ أَنَّهُ سَمِعَهُ لِأَسْبَابِ تُوجِبُ ذَلِكَ مَعْرُوفَةٍ.
وَمِنْهَا: أَنْ يَكُونَ لِلْمُحَدِّثِ حَالَانِ: حَالُ اسْتِقَامَةٍ، وَحَالُ اضْطِرَابٍ. مِثْلَ أَنْ يَخْتَلِطَ، أَوْ تَحْتَرِقَ كُتُبُهُ، فَمَا حَدَّثَ بِهِ فِي حَالِ الِاسْتِقَامَةِ صَحِيحٌ، وَمَا حَدَّثَ بِهِ فِي حَالِ الِاضْطِرَابِ ضَعِيفٌ، فَلَا يُدْرَى ذَلِكَ الْحَدِيثُ مِن
অন্য কোনো পথের কথা বিবেচনা না করেই, চাই সত্যটি তাঁর সাথে থাকুক, কিংবা অন্যের সাথে, অথবা উভয়ের সাথেই—তাদের মতে যারা বলেন: "প্রত্যেক মুজতাহিদই সঠিক।"
আর এর পেছনে কিছু কারণ রয়েছে:
তার মধ্যে একটি হলো: কোনো হাদিস বর্ণনাকারীকে একজন দুর্বল বলে মনে করেন, আবার অন্যজন তাকে নির্ভরযোগ্য বলে মনে করেন। আর রিজাল শাস্ত্র (বর্ণনাকারীদের পরিচয় ও অবস্থা জানার জ্ঞান) অত্যন্ত বিস্তৃত একটি বিজ্ঞান।
অতঃপর যিনি বর্ণনাকারীকে দুর্বল মনে করেন তিনিই সঠিক হতে পারেন; কেননা তিনি বর্ণনাকারীর দোষের কোনো কারণ সম্পর্কে অবগত হয়েছেন। আবার অন্যজনও সঠিক হতে পারেন, কারণ তিনি জানেন যে উক্ত কারণটি দোষারোপযোগ্য নয়; হয় সেই কারণটির ধরনই এমন যে তা বর্ণনাকারীকে দুর্বল করে না, অথবা বর্ণনাকারীর কাছে এমন কোনো ওজর ছিল যা দোষারোপকে নাকচ করে দেয়। এটি একটি সুবিস্তৃত অধ্যায়।
আর বর্ণনাকারী ও তাঁদের অবস্থা সম্পর্কে অভিজ্ঞ আলিমগণের মধ্যে এক্ষেত্রে ঐক্যমত্য ও মতপার্থক্য রয়েছে, যেমনটি অন্যান্য শাস্ত্রের পণ্ডিতগণের নিজ নিজ শাস্ত্রে পরিলক্ষিত হয়।
আরেকটি কারণ হলো: কোনো একজন আলেম হয়তো মনে করেন যে হাদিস বর্ণনাকারী তাঁর উস্তাদ থেকে সরাসরি হাদিসটি শোনেননি, অথচ অন্যজন সুপরিচিত ও অকাট্য প্রমাণের ভিত্তিতে মনে করেন যে তিনি তাঁর থেকে হাদিসটি শুনেছেন।
অন্যতম একটি কারণ হলো: বর্ণনাকারীর দুটি ভিন্ন অবস্থা থাকতে পারে—একটি সুস্থ ও সঠিক অবস্থা এবং অন্যটি বিভ্রান্তি বা গোলযোগের অবস্থা। যেমন, বার্ধক্যে স্মৃতিভ্রম ঘটা অথবা তাঁর কিতাবসমূহ পুড়ে যাওয়া। ফলে তাঁর সুস্থ অবস্থার বর্ণিত হাদিসগুলো সহিহ এবং বিভ্রান্ত অবস্থার বর্ণনাগুলো দুর্বল হিসেবে বিবেচিত হয়। এমতাবস্থায় যদি জানা না যায় যে নির্দিষ্ট হাদিসটি কোন সময়ের...
(খণ্ড: ১)
রাফউল মালাম আনিল আইম্মাতিল আলাম
(পৃষ্ঠা: ২১)
أَيِّ النَّوْعَيْنِ؟ وَقَدْ عَلِمَ غَيْرُهُ أَنَّهُ مِمَّا حَدَّثَ بِهِ فِي حَالِ الِاسْتِقَامَةِ.
وَمِنْهَا: أَنْ يَكُونَ الْمُحَدِّثُ قَدْ نَسِيَ ذَلِكَ الْحَدِيثَ فَلَمْ يَذْكُرْهُ فِيمَا بَعْدُ، أَوْ أَنْكَرَ أَنْ يَكُونَ حَدَّثَ به، مُعْتَقِدًا أَنَّ هَذَا عِلَّةٌ تُوجِبُ تَرْكَ الْحَدِيثِ. وَيَرَى غَيْرُهُ أَنَّ هَذَا مِمَّا يَصِحُّ الِاسْتِدْلَالُ بِهِ، وَالْمَسْأَلَةُ مَعْرُوفَةٌ.
وَمِنْهَا: أَنَّ كَثِيرًا مِنْ الْحِجَازِيِّينَ يَرَوْنَ أَلَّا يُحْتَجَّ بِحَدِيثِ عِرَاقِيٍّ أَوْ شَامِيٍّ إنْ لَمْ يَكُنْ لَهُ أَصْلٌ بِالْحِجَازِ، حَتَّى قَالَ قَائِلُهُمْ: {نَزِّلُوا أَحَادِيثَ أَهْلِ الْعِرَاقِ بِمَنْزِلَةِ أَحَادِيثِ أَهْلِ الْكِتَابِ، لَا تُصَدِّقُوهُمْ وَلَا تُكَذِّبُوهُمْ} .
وَقِيلَ لِآخَرَ: سُفْيَانُ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ إبْرَاهِيمَ عَنْ عَلْقَمَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ حُجَّةٌ؟ قَالَ: إنْ لَمْ يَكُنْ لَهُ أَصْلٌ بِالْحِجَازِ فَلَا.
وَهَذَا لِاعْتِقَادِهِمْ أَنَّ أَهْلَ الْحِجَازِ ضَبَطُوا السُّنَّةَ، فَلَمْ يَشِذَّ عَنْهُمْ مِنْهَا شَيْءٌ، وَأَنَّ أَحَادِيثَ الْعِرَاقِيِّينَ وَقَعَ فِيهَا اضْطِرَابٌ أَوْجَبَ التَّوَقُّفَ فِيهَا.
وَبَعْضُ الْعِرَاقِيِّينَ يَرَى أَلَّا يُحْتَجَّ بِحَدِيثِ الشَّامِيِّينَ، وَإِنْ كَانَ أَكْثَرُ النَّاسِ عَلَى تَرْكِ التَّضْعِيفِ بِهَذَا.
فَمَتَى كَانَ الْإِسْنَادُ جَيِّدًا كَانَ الْحَدِيثُ حُجَّةً، سَوَاءٌ كَانَ الْحَدِيثُ حِجَازِيًّا، أَوْ عِرَاقِيًّا، أَوْ شَامِيًّا، أَوْ غَيْرَ ذَلِكَ.
সেটি কোন প্রকারের? অথচ অন্য কেউ জানেন যে, তিনি এটি তাঁর সুস্থ ও ভারসাম্যপূর্ণ (ইস্তিকামাত) অবস্থায় বর্ণনা করেছেন।
এর মধ্যে অন্যতম কারণ হলো: হাদীস বর্ণনাকারী হয়তো সেই হাদীসটি ভুলে গিয়েছেন এবং পরবর্তীতে আর তা উল্লেখ করেননি, অথবা তিনি তা বর্ণনা করার বিষয়টিই অস্বীকার করেছেন—এই বিশ্বাসে যে এটি এমন একটি ত্রুটি যা হাদীসটি বর্জন করা অপরিহার্য করে দেয়। অথচ অন্য কেউ মনে করেন যে, এটি এমন একটি বিষয় যার দ্বারা দলিল গ্রহণ করা শুদ্ধ; আর এই মাসআলাটি বিদ্বানদের নিকট সুপরিচিত।
আরেকটি কারণ হলো: হিজাজবাসীদের অনেকেই মনে করেন যে, ইরাক বা শামের অধিবাসীদের বর্ণিত হাদীস দ্বারা ততক্ষণ পর্যন্ত দলিল গ্রহণ করা যাবে না, যতক্ষণ না হিজাজে সেটির কোনো মূল ভিত্তি পাওয়া যায়। এমনকি তাদের মধ্য থেকে কেউ কেউ বলেছেন: "ইরাকবাসীর হাদীসকে আহলে কিতাবদের হাদীসের সমপর্যায়ে গণ্য করো; তাদের কথা সত্য বলেও গ্রহণ করো না, আবার মিথ্যা বলেও প্রত্যাখ্যান করো না।"
অন্য একজনকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: সুফিয়ান, মানসুর থেকে, তিনি ইবরাহীম থেকে, তিনি আলকামা থেকে এবং তিনি আব্দুল্লাহ থেকে—এই সূত্রে বর্ণিত হাদীস কি দলিল হওয়ার যোগ্য? তিনি উত্তর দিলেন: যদি হিজাজে এর কোনো ভিত্তি না থাকে, তবে নয়।
আর এটি ছিল তাদের এই বিশ্বাসের কারণে যে, হিজাজবাসী সুন্নাহকে যথাযথভাবে আয়ত্ত করেছেন এবং এর কোনো কিছুই তাদের অগোচরে থাকেনি; পক্ষান্তরে ইরাকবাসীদের বর্ণিত হাদীসসমূহে এমন অস্থিরতা বা অসঙ্গতি পরিলক্ষিত হয়েছে যা সেগুলোর ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে বিরত থাকা আবশ্যক করে দিয়েছে।
আবার কোনো কোনো ইরাকবাসী মনে করেন যে, শামবাসীদের হাদীস দ্বারা দলিল গ্রহণ করা যাবে না; যদিও অধিকাংশ বিশেষজ্ঞ এই কারণে হাদীসকে দুর্বল সাব্যস্ত করার নীতি পরিহার করেছেন।
বস্তুত যখনই সনদ বা সূত্রটি নির্ভরযোগ্য ও উত্তম হবে, তখনই সেই হাদীসটি দলিল হিসেবে গণ্য হবে; চাই সেই হাদীসটি হিজাজি হোক, ইরাকি হোক, শামি হোক কিংবা অন্য যেকোনো স্থানের হোক।
(খণ্ড: ১)
রাফউল মালাম আনিল আইম্মাতিল আলাম
(পৃষ্ঠা: ২২)
وَقَدْ صَنَّفَ أَبُو داود السجستاني رحمه الله كِتَابًا فِي مفاريد أَهْلِ الْأَمْصَارِ مِنْ السُّنَنِ، بَيَّنَ مَا اخْتَصَّ بِهِ أَهْلُ كُلِّ مِصْرٍ مِنْ الْأَمْصَارِ مِنْ السُّنَنِ الَّتِي لَا تُوجَدُ مُسْنَدَةً عِنْدَ غَيْرِهِمْ، مِثْلَ الْمَدِينَةِ؛ وَمَكَّةَ؛ وَالطَّائِفِ؛ وَدِمَشْقَ، وَحِمْصَ؛ وَالْكُوفَةِ؛ وَالْبَصْرَةِ؛ وَغَيْرِهَا. إلَى أَسْبَابٍ أُخَرَ غَيْرِ هَذِهِ.
السَّبَبُ الرَّابِعُ:
اشْتِرَاطُهُ فِي خَبَرِ الْوَاحِدِ الْعَدْلِ الْحَافِظِ شُرُوطًا يُخَالِفُهُ فِيهَا غَيْرُهُ. مِثْلَ اشْتِرَاطِ بَعْضِهِمْ عَرْضَ الْحَدِيثِ عَلَى الْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ، وَاشْتِرَاطِ بَعْضِهِمْ أَنْ يَكُونَ الْمُحَدِّثُ فَقِيهًا إذَا خَالَفَ قِيَاسَ الْأُصُولِ، وَاشْتِرَاطِ بَعْضِهِمْ انْتِشَارَ الْحَدِيثِ وَظُهُورَهُ إذَا كَانَ فِيمَا تَعُمُّ بِهِ الْبَلْوَى، إلَى غَيْرِ ذَلِكَ مِمَّا هُوَ مَعْرُوفٌ فِي مَوَاضِعِهِ.
السَّبَبُ الْخَامِسُ:
أَنْ يَكُونَ الْحَدِيثُ قَدْ بَلَغَهُ وَثَبَتَ عِنْدَهُ لَكِنْ نَسِيَهُ.
وَهَذَا يَرِدُ فِي الْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ، مِثْلَ الْحَدِيثِ الْمَشْهُورِ عَنْ عُمَرَ رضي الله عنه أَنَّهُ {سُئِلَ عَنْ الرَّجُلِ يُجْنِبُ فِي السَّفَرِ فَلَا يَجِدُ الْمَاءَ؟ فَقَالَ:
আবু দাউদ আস-সিজিস্তানি (রাহিমাহুল্লাহ) বিভিন্ন জনপদের অধিবাসীদের এককভাবে বর্ণিত সুন্নাহসমূহের বিষয়ে একটি কিতাব রচনা করেছেন। এতে তিনি নির্দিষ্ট করে বর্ণনা করেছেন যে, প্রতিটি জনপদের অধিবাসীরা সুন্নাহর মধ্য থেকে কোন বিষয়গুলোতে একক বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত ছিল, যা অন্যদের নিকট মুসনাদ হিসেবে পাওয়া যায় না; যেমন মদিনা, মক্কা, তায়েফ, দামেস্ক, হিমস, কুফা, বসরা এবং অন্যান্য শহর। এ ছাড়াও আরও অনেক কারণ রয়েছে।
চতুর্থ কারণ:
একজন ন্যায়পরায়ণ ও স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন বর্ণনাকারীর একক বর্ণনার (খবর-ই-ওয়াহিদ) ক্ষেত্রে এমন সব শর্তারোপ করা যাতে অন্যরা তাঁর সাথে ভিন্নমত পোষণ করেন। যেমন কোনো কোনো ইমামের শর্ত হলো হাদিসটিকে কুরআন ও সুন্নাহর সাথে মিলিয়ে পেশ করা, আবার কারও শর্ত হলো যদি হাদিসটি মূলনীতিগত কিয়াসের পরিপন্থী হয় তবে বর্ণনাকারীকে অবশ্যই ফকিহ হতে হবে। আবার কেউ কেউ শর্তারোপ করেছেন যে, হাদিসটি যদি সর্বসাধারণের সংশ্লিষ্ট কোনো বিষয় (আম্মুন বিল-বালওয়া) হয় তবে সেটিকে অবশ্যই বহুল প্রচারিত ও প্রকাশ্য হতে হবে। এ জাতীয় আরও অনেক শর্ত রয়েছে যা সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রসমূহে সুপরিচিত।
পঞ্চম কারণ:
হাদিসটি তাঁর কাছে পৌঁছেছে এবং তাঁর নিকট তা প্রমাণিত হয়েছে, কিন্তু তিনি তা ভুলে গিয়েছেন।
আর এটি কুরআন ও সুন্নাহর ক্ষেত্রে ঘটে থাকে। যেমন উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত প্রসিদ্ধ হাদিসটি, যেখানে তাঁকে সফররত অবস্থায় অপবিত্র হয়ে পড়া ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে পানি খুঁজে পায় না। তখন তিনি বললেন:
(খণ্ড: ১)
রাফউল মালাম আনিল আইম্মাতিল আলাম
(পৃষ্ঠা: ২৩)
لَا يُصَلِّي حَتَّى يَجِدَ الْمَاءَ، فَقَالَ لَهُ عَمَّارُ بنُ ياسر رضي الله عنه: يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ أَمَا تَذْكُرُ إذْ كُنْت أَنَا وَأَنْتَ فِي الْإِبِلِ، فَأَجْنَبْنَا، فَأَمَّا أَنَا فَتَمَرَّغْت كَمَا تَمَرَّغُ الدَّابَّةُ، وَأَمَّا أَنْتَ فَلَمْ تُصَلِّ، فَذَكَرْت ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: {إنَّمَا يَكْفِيَك هَكَذَا} وَضَرَبَ بِيَدَيْهِ الْأَرْضَ، فَمَسَحَ بِهِمَا وَجْهَهُ وَكَفَّيْهِ. فَقَالَ لَهُ عُمَرُ: اتَّقِ اللَّهَ يَا عَمَّارُ، فَقَالَ: إنْ
شِئْت لَمْ أُحَدِّثْ بِهِ. فَقَالَ: {بَلْ نُوَلِّيك مِنْ ذَلِكَ مَا تَوَلَّيْت} (1) . فَهَذِهِ سُنَّةٌ شَهِدَهَا عُمَرُ رضي الله عنه ثُمَّ نَسِيَهَا، حَتَّى أَفْتَى بِخِلَافِهَا وَذَكَّرَهُ عَمَّارُ رضي الله عنه فَلَمْ يَذْكُرْ. وَهُوَ لَمْ يُكَذِّبْ عَمَّارًا، بَلْ أَمَرَهُ أَنْ يُحَدِّثَ بِهِ.
وَأَبْلَغُ مِنْ هَذَا أَنَّهُ خَطَبَ النَّاسَ فَقَالَ: {لَا يَزِيدُ رَجُلٌ عَلَى صَدَاقِ أَزْوَاجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَبَنَاتِهِ إلَّا رَدَدْته} . فَقَالَتْ له امْرَأَةٌ: {يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ لِمَ تَحْرِمُنَا شَيْئًا أَعْطَانَا اللَّهُ إيَّاهُ؟} ثُمَّ قَرَأَتْ: {وَآتَيْتُمْ إحْدَاهُنَّ قِنْطَارًا} النساء: 20 (2)
--------------------------------------------
তিনি পানি না পাওয়া পর্যন্ত সালাত আদায় করতেন না। এমতাবস্থায় আম্মার বিন ইয়াসির (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাঁকে বললেন: হে আমিরুল মুমিনিন! আপনার কি মনে নেই, যখন আমি এবং আপনি উটের পালের সাথে ছিলাম এবং আমাদের অপবিত্রতা (জানাবাত) অর্জিত হয়েছিল? তখন আমি পশুর মতো মাটিতে গড়াগড়ি দিয়েছিলাম, আর আপনি সালাত আদায় করেননি। পরবর্তীতে আমি বিষয়টি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে উল্লেখ করলে তিনি বললেন: "তোমার জন্য তো এটিই যথেষ্ট ছিল", অতঃপর তিনি তাঁর দুই হাত মাটিতে আঘাত করলেন এবং তা দিয়ে তাঁর মুখমণ্ডল ও দুই কবজি পর্যন্ত মাসেহ করলেন। তখন উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাঁকে বললেন: হে আম্মার, আল্লাহকে ভয় করুন। আম্মার বললেন: আপনি চাইলে আমি এ হাদিস বর্ণনা করব না। তখন তিনি (উমর) বললেন: "না, বরং এর যে দায়িত্ব আপনি গ্রহণ করেছেন, তা আমি আপনার ওপরই ন্যস্ত করলাম।" (১)। এটি এমন একটি সুন্নাহ যার প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু), কিন্তু পরবর্তীকালে তিনি তা ভুলে গিয়েছিলেন। এমনকি তিনি এর বিপরীতে ফতোয়াও দিয়েছিলেন। আম্মার (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাঁকে তা স্মরণ করিয়ে দিলেও তিনি তা মনে করতে পারেননি। তবে তিনি আম্মারকে মিথ্যাবাদী বলেননি, বরং তাঁকে এটি বর্ণনা করার নির্দেশ দিয়েছেন।
এর চেয়েও বড় দৃষ্টান্ত হলো যে, তিনি জনগণের উদ্দেশে ভাষণ দিলেন এবং বললেন: "কোনো ব্যক্তি যদি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর স্ত্রীবর্গ ও কন্যাদের মোহরানার অতিরিক্ত মোহর ধার্য করে, তবে আমি তা অবশ্যই ফেরত দেব।" তখন জনৈক নারী তাঁকে বললেন: "হে আমিরুল মুমিনিন! আল্লাহ যা আমাদের দান করেছেন, তা থেকে কেন আপনি আমাদের বঞ্চিত করছেন?" অতঃপর তিনি তিলাওয়াত করলেন: "এবং তোমরা তাদের একজনকে বিপুল সম্পদ (কিনতার) প্রদান করেছ..." সূরা আন-নিসা: ২০ (২)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রাফউল মালাম আনিল আইম্মাতিল আলাম
(পৃষ্ঠা: ২৪)
_________
=وبناته. وثانيهما: اعتراض المرأة على عمر، وردها عليه، واستشهادها بقوله تعالى: (وأتيتم إحداهن قنطارا
… ) .
أما نهيه رضي الله عنه عن الزيادة في الصداق، فقد رواه أحمد في "المسند" وأصحاب "السنن" من طرق عن محمد بن سيرين عن أبي العجفاء السلمي قال: سمعت عمر بن الخطاب رضي الله عنه يقول: ألا لا تغالوا في صداق النساء، فإنها لو كانت مكرمة في الدنيا، أو تقوى عند الله، كان أولاكم بها النبي صلى الله عليه وسلم، ما أصدق رسول الله صلى الله عليه وسلم امرأة من نسائه، ولا أصدقت امرأة من بناته أكثر من اثنتي عشرة أوقية
… ) وقال الترمذي: هذا حديث صحيح. وزيادة الصداق ونقصانه تابع إلى يسر الزوج وإعساره، وقد روى مسلم "صحيحه" عن أبي سلمة عبد الرحمن أنه قال: سألت عائشة زوج النبي صلى الله عليه وسلم: كم كان صداق رسول الله صلى الله عليه وسلم؟ قالت: كان صداقه لأزواجه ثنتي عشرة أوقية ونشاً، قالت: أتدري ما النش؟ قال: قالت: نصف أوقية، فتلك خمسمائة درهم، فهذا صداق رسول الله صلى الله صلى الله عليه وسلم لأزواجه. وقد روى مسلم في "صحيحه" أيضا عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: جاء رجل إلى النبي صلى الله عليه وسلم فقال: إني تزوجت امرأة من الأنصار. فقال له النبي صلى الله عليه وسلم: (على كم تزوجتها؟) قال: على أربع أواق -أي من فضة-
فقال له النبي صلى الله عليه وسلم: (على أربع أواق؟! كأنما تنحتون الفضة من عرض هذا الجبل) وذلك لضعف حاله وعدم استطاعته، فيؤخذ من هذا أن عمر رضي الله عنه كره التغالي في الصداق عموماً، وهذا لا خلاف فيه. وأما قصة رد المرأة على عمر واستشهادها بالآ ية، فقد رواها أبو يعلى وفي سندها مجالد بن سعبد، وهو ضعيف، قال الحافظ ابن حجر عنه في "التقريب" ليس بالقوي، وقد تغير في آخر عمره، ولها طرق أخرى منقطعة، واستشهاد المرأة بالآية ليس في محله، لأن الآية في المختلعة. ومعنى الآية: إذا أردتم استبدال زوج جديدة ترغبون عنها لكراهتكم لها، وعدم طاقتكم الصبر على معاشرتها بالمعروف،، وهي لم تأت بفاحشة مبينة، وقد آتيتم من قبل إحداهن قنطارا من المال، أي مالا كثيرا، سواء أخذنه وحزنه في أيديهن، أو التزمتموه لهن، فصار ديناً في ذمتكم، فلا تأخذوا منه شيئاً، بل يجب أن يكون كله لصاحبته، لأنكم إنما تستبدلون غيرها بها لأجل هواكم وتمتعكم بغير ذنب شرعي منها يبيح لكم أخذ شيء منه، كأن تكون هي الطالبة لفراقكم المسيئة =
=এবং তাঁর কন্যাগণ। দ্বিতীয় বিষয়টি হলো: উমরের (রা.) ওপর জনৈকা নারীর আপত্তি, তাঁর বক্তব্যের খণ্ডন এবং আল্লাহর বাণী: (এবং তোমরা তাদের একজনকে বিপুল পরিমাণ ধন-সম্পদ প্রদান করেছ
… ) দ্বারা দলিল পেশ করা।
মোহরানার ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ির ব্যাপারে তাঁর (রা.) যে নিষেধ, তা ইমাম আহমাদ "মুসনাদ"-এ এবং "সুনান" গ্রন্থকারগণ মুহাম্মদ ইবনে সিরিন থেকে, তিনি আবু আল-আজফা আস-সুলামী থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমি উমর ইবনুল খাত্তাবকে (রা.) বলতে শুনেছি: সাবধান, তোমরা নারীদের মোহরানার ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি করো না। কারণ এটি যদি দুনিয়াতে সম্মানের বিষয় হতো কিংবা আল্লাহর নিকট তাকওয়ার বিষয় হতো, তবে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তোমাদের মধ্যে এর জন্য সর্বাধিক যোগ্য হতেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর স্ত্রীদের কাউকে বারো উকিয়ার বেশি মোহর প্রদান করেননি এবং তাঁর কন্যাদের কারও মোহরও বারো উকিয়ার বেশি ছিল না
… ) ইমাম তিরমিজি বলেন: এটি একটি সহিহ হাদিস। মোহরানা বৃদ্ধি বা হ্রাস পাওয়া স্বামীর সচ্ছলতা ও অসচ্ছলতার ওপর নির্ভরশীল। ইমাম মুসলিম তাঁর "সহিহ"-তে আবু সালামাহ ইবনে আবদুর রহমান থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: আমি নবীপত্নী আয়েশাকে (রা.) জিজ্ঞাসা করলাম: রাসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মোহরানা কত ছিল? তিনি বললেন: তাঁর স্ত্রীদের মোহরানা ছিল বারো উকিয়া ও এক 'নাশ'। আয়েশা (রা.) বললেন: তুমি কি জানো 'নাশ' কী? তিনি বললেন: আয়েশা (রা.) বললেন: আধা উকিয়া। সুতরাং তা হলো মোট পাঁচশত দিরহাম। এটিই ছিল তাঁর স্ত্রীদের জন্য রাসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নির্ধারিত মোহরানা। ইমাম মুসলিম তাঁর "সহিহ"-তে আবু হুরায়রা (রা.) থেকেও বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জনৈক ব্যক্তি নবীজির (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিকট এসে বললেন: আমি আনসারদের এক নারীকে বিয়ে করেছি। নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে জিজ্ঞাসা করলেন: (কত মোহরানায় তাকে বিয়ে করেছ?) সে বলল: চার উকিয়া—অর্থাৎ রুপা—
তখন নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে বললেন: (চার উকিয়া?! মনে হচ্ছে তোমরা এই পাহাড়ের পার্শ্বদেশ থেকে রুপা খোদাই করে বের করো!) এটি ছিল ওই ব্যক্তির অসচ্ছলতা এবং সামর্থ্য না থাকার কারণে। সুতরাং এ থেকে প্রতীয়মান হয় যে, উমর (রা.) সাধারণভাবে মোহরানার ক্ষেত্রে আতিশয্য অপছন্দ করতেন এবং এ ব্যাপারে কোনো দ্বিমত নেই। আর উমরের (রা.) ওপর ওই নারীর প্রতিবাদ এবং আয়াত দ্বারা দলিল পেশ করার যে ঘটনা, তা আবু ইয়ালা বর্ণনা করেছেন; তবে এর সনদে মুজালিদ ইবনে সাঈদ রয়েছেন, যিনি একজন দুর্বল রাবি। হাফেজ ইবনে হাজার "আত-তাক্বরিব" গ্রন্থে তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: তিনি শক্তিশালী নন, জীবনের শেষভাগে তাঁর স্মৃতি বিভ্রাট ঘটেছিল। এর আরও কিছু বিচ্ছিন্ন সূত্র রয়েছে। তাছাড়া ওই নারীর আয়াত দ্বারা দলিল পেশ করা যথাযথ হয়নি, কারণ আয়াতটি খুল' বা বিচ্ছেদপ্রার্থিনী নারী প্রসঙ্গে। আয়াতের মর্মার্থ হলো: যদি তোমরা এক স্ত্রীর পরিবর্তে অন্য স্ত্রী গ্রহণ করতে চাও—যাকে তোমরা অপছন্দ করার কারণে অথবা তার সাথে সদয়ভাবে জীবন অতিবাহিত করতে না পারার কারণে বর্জন করতে চাইছ—অথচ সে কোনো প্রকাশ্য অশ্লীলতায় লিপ্ত হয়নি, এবং ইতিপূর্বে তোমরা তাদের একজনকে 'কিনতার' অর্থাৎ বিপুল পরিমাণ সম্পদ প্রদান করেছ, চাই তারা তা হস্তগত করে থাকুক অথবা তোমরা তা প্রদানের অঙ্গীকার করেছ ফলে তা তোমাদের জিম্মায় ঋণ হিসেবে রয়েছে, তবে তোমরা তা থেকে কিছুই গ্রহণ করো না। বরং সেই সম্পদের পূর্ণ অংশ তার প্রাপিকারই হওয়া আবশ্যক। কেননা তোমরা তো কেবল নিজেদের প্রবৃত্তি চরিতার্থ করতে এবং উপভোগের উদ্দেশ্যে তাকে পরিবর্তন করছ, অথচ তার পক্ষ থেকে কোনো শরিয়তসম্মত অপরাধ সংঘটিত হয়নি যা তোমাদের জন্য সেই সম্পদ থেকে কিছু গ্রহণ করা বৈধ করে দেয়; যেমন—সে নিজেই যদি বিচ্ছেদকামী কিংবা অবজ্ঞা প্রদর্শনকারী হতো। =
(খণ্ড: ১)
রাফউল মালাম আনিল আইম্মাতিল আলাম
(পৃষ্ঠা: ২৫)
فَرَجَعَ عُمَرُ إلَى قَوْلِهَا، وَقَدْ كَانَ حَافِظًا لِلْآيَةِ وَلَكِنْ نَسِيَهَا.
وَكَذَلِكَ مَا رُوِيَ أَنَّ عَلِيًّا ذَكَّرَ الزُّبَيْرَ يَوْمَ الْجَمَلِ شَيْئًا عَهِدَهُ إلَيْهِمَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَذَكَرَهُ حَتَّى انْصَرَفَ عَنْ الْقِتَالِ (1) . وَهَذَا كَثِيرٌ فِي السَّلَفِ وَالْخَلَفِ
السَّبَبُ السَّادِسُ:
عَدَمُ مَعْرِفَتِهِ بِدَلَالَةِ الْحَدِيثِ.
تَارَةً لِكَوْنِ اللَّفْظِ الَّذِي فِي الْحَدِيثِ غَرِيبًا عِنْدَهُ، مِثْلَ لَفْظِ "الْمُزَابَنَةِ" (2) وَ "الْمُخَابَرَةِ" (3) وَ "الْمُحَاقَلَةِ" (4)
--------------------------------------------
উমর (রা.) তাঁর কথায় ফিরে আসলেন, যদিও তিনি আয়াতটি মুখস্থ জানতেন কিন্তু তখন ভুলে গিয়েছিলেন।
একইভাবে বর্ণিত হয়েছে যে, আলী (রা.) জাবালে জামালের (উটের যুদ্ধ) দিনে যুবাইর (রা.)-কে এমন একটি বিষয় স্মরণ করিয়ে দিয়েছিলেন যা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁদের উভয়ের প্রতি নির্দেশ করেছিলেন। অতঃপর তিনি তা স্মরণ করলেন এবং যুদ্ধ থেকে বিরত হলেন (১)। আর এটি পূর্ববর্তী ও পরবর্তী আলেমদের মাঝে অনেক দেখা যায়।
ষষ্ঠ কারণ:
হাদিসের ভাষ্য বা তাৎপর্য সম্পর্কে জ্ঞান না থাকা।
কখনো কখনো হাদিসে ব্যবহৃত শব্দটি তাঁর কাছে অপরিচিত হওয়ার কারণে, যেমন: "আল-মুযাবানাহ" (২), "আল-মুখাবারাহ" (৩) এবং "আল-মুহাকালাহ" (৪) শব্দসমূহ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রাফউল মালাম আনিল আইম্মাতিল আলাম
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وَ "الْمُلَامَسَةِ" (1) وَ"الْمُنَابَذَةِ" (2) وَ "الْغَرَرِ" (3) ؛ إلَى غَيْرِ ذَلِكَ مِنْ الْكَلِمَاتِ الْغَرِيبَةِ الَّتِي قَدْ يَخْتَلِفُ الْعُلَمَاءُ فِي تَفْسِيرِهَا.
وَكَالْحَدِيثِ الْمَرْفُوعِ: {لَا طَلَاقَ وَلَا عَتَاقَ فِي إغْلَاقٍ} (4) فَإِنَّهُمْ قَدْ فَسَّرُوا "لْإِغْلَاقَ"بِالْإِكْرَاهِ، وَمَنْ يُخَالِفُهُ لَا يَعْرِفُ هَذَا التَّفْسِيرَ.
وَتَارَةً لِكَوْنِ مَعْنَاهُ فِي لُغَتِهِ وَعُرْفِهِ، غَيْرَ مَعْنَاهُ فِي لُغَةِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، وَهُوَ يَحْمِلُهُ عَلَى مَا يَفْهَمُهُ فِي
--------------------------------------------
এবং "মুলামাসাহ" (১) ও "মুনাবাদাহ" (২) এবং "গারার" (৩); এই ধরনের আরও অনেক বিরল শব্দাবলি রয়েছে যেগুলোর ব্যাখ্যায় আলেমগণের মাঝে ভিন্নতা পরিলক্ষিত হতে পারে।
যেমন মারফু হাদিস: {ইগলাক বা রুদ্ধাবস্থায় কোনো তালাক এবং দাসমুক্তি নেই} (৪)। কারণ তাঁরা "ইগলাক" এর ব্যাখ্যা করেছেন "ইকরাহ" বা জবরদস্তি দ্বারা; আর যারা এর বিরোধিতা করেন, তারা এই ব্যাখ্যাটি জানেন না।
আবার কখনো কখনো এমনটি হয় যে, তার নিজস্ব ভাষা ও প্রথায় শব্দটির অর্থ মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ভাষার অর্থের চেয়ে ভিন্ন হয়, ফলে সে শব্দটিকে তার নিজস্ব বুঝ অনুযায়ী গ্রহণ করে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রাফউল মালাম আনিল আইম্মাতিল আলাম
(পৃষ্ঠা: ২৭)
لُغَتِهِ، بِنَاءً عَلَى أَنَّ الْأَصْلَ بَقَاءُ اللُّغَةِ.
كمَا سَمِعَ بَعْضُهُمْ آثَارًا فِي الرُّخْصَةِ فِي "النَّبِيذِ" فَظَنُّوهُ بَعْضَ أَنْوَاعِ الْمُسْكِرِ؛ لِأَنَّهُ لُغَتُهُمْ، وَإِنَّمَا هُوَ مَا يُنْبَذُ لِتَحْلِيَةِ الْمَاءِ قَبْلَ أَنْ يَشْتَدَّ؛ فَإِنَّهُ جَاءَ مُفَسَّرًا فِي أَحَادِيثَ كَثِيرَةٍ صَحِيحَةٍ.
وَسَمِعُوا لَفْظَ "الْخَمْرِ" فِي الْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ، فَاعْتَقَدُوهُ عَصِيرَ الْعِنَبِ الْمُشْتَدِّ خَاصَّةً، بِنَاءً عَلَى أَنَّهُ كَذَلِكَ فِي اللُّغَةِ، وَإِنْ كَانَ قَدْ جَاءَ مِنْ الْأَحَادِيثِ أَحَادِيثُ صَحِيحَةٌ تُبَيِّنُ أَنَّ "الْخَمْرَ" اسْمٌ لِكُلِّ شَرَابٍ مُسْكِرٍ (1) .
--------------------------------------------
তাঁর ভাষা অনুযায়ী, এই নীতির ভিত্তিতে যে ভাষার মূল রূপ অপরিবর্তিত থাকাই মূলনীতি।
যেমন তাদের কেউ কেউ 'নাবিয' (পানীয়) ব্যবহারের বৈধতা সংক্রান্ত কিছু বর্ণনা শুনেছিলেন এবং তারা মনে করেছিলেন যে এটি কোনো প্রকার মাদকদ্রব্য; কারণ তাদের ভাষায় এর অর্থ তা-ই ছিল। অথচ এটি মূলত তা-ই যা পানি মিষ্টি করার জন্য তাতে ভিজিয়ে রাখা হয় তীব্র (মাদকযুক্ত) হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত; আর এটি অনেক সহীহ হাদীসে স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
তারা কিতাব ও সুন্নাহতে 'খামর' (মদ) শব্দটি শুনেছিলেন এবং একে বিশেষভাবে কেবল তীব্র আঙ্গুর রস বলে বিশ্বাস করেছিলেন, এই যুক্তিতে যে আভিধানিকভাবে এর অর্থ তা-ই ছিল। যদিও এমন অনেক সহীহ হাদীস বর্ণিত হয়েছে যা স্পষ্ট করে দেয় যে, 'খামর' হলো প্রতিটি মাদকদ্রব্যের সাধারণ নাম (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রাফউল মালাম আনিল আইম্মাতিল আলাম
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وَتَارَةً لِكَوْنِ اللَّفْظِ مُشْتَرِكًا، أَوْ مُجْمَلًا؛ أَوْ مُتَرَدِّدًا بَيْنَ حَقِيقَةٍ وَمَجَازٍ؛ فَيَحْمِلُهُ عَلَى الْأَقْرَبِ عِنْدَهُ، وَإِنْ كَانَ الْمُرَادُ هُوَ الْآخَرَ.
كَمَا حَمَلَ جَمَاعَةٌ مِنْ الصَّحَابَةِ فِي أَوَّلِ الْأَمْرِ "الْخَيْطَ الْأَبْيَضَ وَالْخَيْطَ الْأَسْوَدَ" عَلَى الْحَبْلِ (1) .
وَكَمَا حَمَلَ آخَرُونَ قَوْلَهُ: {فَامْسَحُوا بِوُجُوهِكُمْ وَأَيْدِيكُمْ} عَلَى الْيَدِ إلَى الْإِبِطِ (2) .
--------------------------------------------
আবার কখনো শব্দটি দ্ব্যর্থক, অথবা অস্পষ্ট, কিংবা প্রকৃত ও রূপক অর্থের মধ্যে দোলাচলপূর্ণ হওয়ার কারণে (ভুল বোঝাবুঝি ঘটে); ফলে তিনি শব্দটিকে তাঁর নিকট যেটি অধিকতর স্পষ্ট বা নিকটবর্তী মনে হয় সে অর্থেই গ্রহণ করেন, যদিও প্রকৃত উদ্দেশ্য অন্যটি হয়ে থাকে।
যেমন সাহাবীগণের একটি দল সূচনালগ্নে "সাদা সুতা ও কালো সুতা" বলতে আক্ষরিক রশিই বুঝেছিলেন (১)।
আবার অন্য কেউ কেউ আল্লাহর বাণী: {তোমাদের মুখমণ্ডল ও হস্তদ্বয় মাসেহ করো}-এর ক্ষেত্রে হাত বলতে বগল পর্যন্ত বুঝেছিলেন (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রাফউল মালাম আনিল আইম্মাতিল আলাম
(পৃষ্ঠা: ২৯)
وَتَارَةً لِكَوْنِ الدَّلَالَةِ مِنْ النَّصِّ خَفِيَّةً.
فَإِنَّ جِهَاتِ دَلَالَاتِ الْأَقْوَالِ مُتَّسِعَةٌ جِدًّا يَتَفَاوَتُ النَّاسُ فِي إدْرَاكِهَا، وَفَهْمِ وُجُوهِ الْكَلَامِ بِحَسَبِ مِنَحِ الْحَقِّ سُبْحَانَهُ وَمَوَاهِبِهِ،
ثُمَّ قَدْ يَعْرِفُهَا الرَّجُلُ مِنْ حَيْثُ الْعُمُومُ، وَلَا يَتَفَطَّنُ لِكَوْنِ هَذَا الْمَعْنَى دَاخِلًا فِي ذَلِكَ الْعَامِّ.
ثُمَّ قَدْ يَتَفَطَّنُ لَهُ تَارَةً ثُمَّ يَنْسَاهُ بَعْدَ ذَلِكَ. وَهَذَا بَابٌ وَاسِعٌ جِدًّا لَا يُحِيطُ بِهِ إلَّا اللَّهُ.
وَقَدْ يَغْلَطُ الرَّجُلُ، فَيَفْهَمُ مِنْ الْكَلَامِ مَا لَا تَحْتَمِلُهُ اللُّغَةُ الْعَرَبِيَّةُ الَّتِي بُعِثَ الرَّسُولُ صلى الله عليه وسلم بِهَا.
السَّبَبُ السَّابِعُ:
اعْتِقَادُهُ أَنْ لَا دَلَالَةَ فِي الْحَدِيثِ.
وَالْفَرْقُ بَيْنَ هَذَا وَبَيْنَ الَّذِي قَبْلَهُ، أَنَّ الْأَوَّلَ لَمْ يَعْرِفْ جِهَةَ الدَّلَالَةِ.
وَالثَّانِي عَرَفَ جِهَةَ الدَّلَالَةِ، لَكِنْ اعْتَقَدَ أَنَّهَا لَيْسَتْ دَلَالَةً صَحِيحَةً، بِأَنْ يَكُونَ لَهُ مِنْ الْأُصُولِ مَا يَرُدُّ تِلْكَ الدَّلَالَةَ، سَوَاءٌ كَانَتْ فِي نَفْسِ الْأَمْرِ صَوَابًا أَوْ خَطَأً، مِثْلَ أَنْ يَعْتَقِدَ أَنَّ الْعَامَّ الْمَخْصُوصَ لَيْسَ بِحُجَّةٍ. أو أَنَّ الْمَفْهُومَ لَيْسَ بِحُجَّةِ، أو أَنَّ الْعُمُومَ الْوَارِدَ عَلَى سَبَبٍ مَقْصُورٍ عَلَى سَبَبِهِ، أَوْ أَنَّ الْأَمْرَ الْمُجَرَّدَ لَا يَقْتَضِي الْوُجُوبَ؛ أَوْ لَا يَقْتَضِي الْفَوْرَ، أَوْ أَنَّ الْمُعَرَّفَ بِاللَّامِ لَا عُمُومَ لَهُ، أَوْ
কখনও কখনও টেক্সট থেকে দলিলের নির্দেশিকা অস্পষ্ট হওয়ার কারণে।
নিশ্চয়ই বাণীর নির্দেশিকাসমূহের দিকগুলো অত্যন্ত প্রশস্ত, যা উপলব্ধিতে মানুষের মধ্যে তারতম্য ঘটে। মহান আল্লাহর দান ও অনুগ্রহ অনুযায়ী কথার বিভিন্ন দিক বোঝার ক্ষেত্রে এই ভিন্নতা তৈরি হয়।
আবার কখনও কোনো ব্যক্তি ব্যাপকতার দিক থেকে বিষয়টি বুঝতে পারেন, কিন্তু নির্দিষ্ট কোনো অর্থ যে সেই ব্যাপক প্রসঙ্গের অন্তর্ভুক্ত, তা তিনি লক্ষ্য করেন না।
কখনও তিনি সেটি লক্ষ্য করলেও পরবর্তীতে তা ভুলে যান। এটি একটি অত্যন্ত বিশাল ক্ষেত্র, যা আল্লাহ ছাড়া আর কেউ পূর্ণরূপে পরিবেষ্টন করতে পারে না।
অনেক সময় কোনো ব্যক্তি ভুল করেন এবং কথা থেকে এমন কিছু অর্থ গ্রহণ করেন যা সেই আরবি ভাষা সমর্থন করে না, যে ভাষা নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রেরিত হয়েছেন।
সপ্তম কারণ:
হাদিসে কোনো নির্দেশিকা নেই বলে বিশ্বাস করা।
এটি এবং পূর্ববর্তী কারণটির মধ্যে পার্থক্য হলো, প্রথম ক্ষেত্রে ব্যক্তি নির্দেশিকার দিকটিই অনুধাবন করতে পারেননি।
আর দ্বিতীয় ক্ষেত্রে তিনি নির্দেশিকার দিকটি বুঝতে পেরেছেন, কিন্তু বিশ্বাস করেছেন যে এটি সঠিক দলিল নয়। কারণ তার কাছে এমন কিছু মূলনীতি রয়েছে যা ওই নির্দেশিকাকে প্রত্যাখ্যান করে, বাস্তবে সেটি সঠিক হোক বা ভুল। যেমন: এই বিশ্বাস করা যে, বিশেষায়িত সাধারণ শব্দ দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়; কিংবা পরোক্ষ অর্থ (মাফহুম) প্রমাণ হিসেবে গণ্য নয়; অথবা কোনো বিশেষ কারণে অবতীর্ণ সাধারণ বিধান শুধু ওই কারণটির মধ্যেই সীমাবদ্ধ; অথবা কেবল আদেশসূচক শব্দ ওয়াজিব হওয়াকে কিংবা অবিলম্বে পালন করাকে আবশ্যক করে না; অথবা 'আলিফ-লাম' যুক্ত শব্দের কোনো ব্যাপকতা নেই; অথবা...
(খণ্ড: ১)
রাফউল মালাম আনিল আইম্মাতিল আলাম
(পৃষ্ঠা: ৩০)
أَنَّ الْأَفْعَالَ الْمَنْفِيَّةَ لَا تَنْفِي ذَوَاتِهَا وَلَا جَمِيعَ أَحْكَامِهَا، أَوْ أَنَّ الْمُقْتَضِي لَا عُمُومَ لَهُ؛ فَلَا يَدَّعِي الْعُمُومَ فِي الْمُضْمَرَاتِ وَالْمَعَانِي، إلَى غَيْرِ ذَلِكَ مِمَّا يَتَّسِعُ الْقَوْلُ فِيهِ. فَإِنَّ شَطْرَ أُصُولِ الْفِقْهِ تَدْخُلُ مَسَائِلُ الْخِلَافِ مِنْهُ فِي هَذَا الْقِسْمِ، وَإِنْ كَانَتْ الْأُصُولُ الْمُجَرَّدَةُ لَمْ تُحِطْ بِجَمِيعِ الدَّلَالَاتِ الْمُخْتَلَفِ فِيهَا، وَتُدْخِلْ فِيهِ أَفْرَادَ أَجْنَاسِ الدَّلَالَاتِ: هَلْ هِيَ مِنْ ذَلِكَ الْجِنْسِ أَمْ لَا؟ مِثْلَ أَنْ يَعْتَقِدَ أَنَّ هَذَا اللَّفْظَ الْمُعَيَّنَ مُجْمَلٌ، بِأَنْ يَكُونَ مُشْتَرَكًا لَا دَلَالَةَ تُعَيِّنُ أَحَدَ مَعْنَيَيْهِ، أَوْ غَيْرَ ذَلِكَ.
السَّبَبُ الثَّامِنُ:
اعْتِقَادُهُ أَنَّ تِلْكَ الدَّلَالَةَ قَدْ عَارَضَهَا مَا دَلَّ عَلَى أَنَّهَا لَيْسَتْ مُرَادَةً. مِثْلَ مُعَارَضَةِ الْعَامِّ بِخَاصِّ، أَوْ الْمُطْلَقِ بِمُقَيَّدِ، أَوْ الْأَمْرِ الْمُطْلَقِ بِمَا يَنْفِي الْوُجُوبَ، أَوْ الْحَقِيقَةَ بِمَا يَدُلُّ عَلَى الْمَجَازِ. إلَى أَنْوَاعِ الْمُعَارَضَاتِ. وَهُوَ بَابٌ وَاسِعٌ أَيْضًا؛ فَإِنَّ تَعَارُضَ دَلَالَاتِ الْأَقْوَالِ وَتَرْجِيحَ بَعْضِهَا عَلَى بَعْضٍ بَحْرٌ خِضَمٌّ.
অস্বীকারসূচক ক্রিয়াসমূহ তাদের মূল অস্তিত্ব কিংবা তাদের সকল বিধানকে নাকচ করে না, অথবা প্রয়োজনীয় উহ্য বিষয় (মুকতাদী) কোনো ব্যাপকতা রাখে না; সুতরাং উহ্য বিষয় এবং অর্থের ক্ষেত্রে ব্যাপকতা দাবি করা হয় না—এরূপ আরও অনেক বিষয় রয়েছে যা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনার অবকাশ রয়েছে। উসূলুল ফিকহের অর্ধেক মতপার্থক্যপূর্ণ মাসআলাই এই প্রকারের অন্তর্ভুক্ত, যদিও বিমূর্ত মূলনীতিসমূহ বিতর্কিত সকল প্রকার নির্দেশক পদ্ধতিকে (দালালাত) সম্পূর্ণ আয়ত্ত করতে পারেনি। এছাড়া বিভিন্ন প্রকার নির্দেশক পদ্ধতির অন্তর্ভুক্ত বিশেষ ক্ষেত্রগুলোও এর অন্তর্ভুক্ত হয়: যেমন এগুলো কি সেই প্রকারের অন্তর্ভুক্ত নাকি নয়? যেমন কোনো নির্দিষ্ট শব্দকে 'মুজমাল' (অস্পষ্ট) মনে করা—এই হিসেবে যে সেটি 'মুশতারাক' (বহু অর্থবোধক), যেখানে কোনো এক অর্থকে নির্দিষ্ট করার মতো কোনো প্রমাণ নেই, অথবা এই জাতীয় অন্য কোনো কারণ।
অষ্টম কারণ:
এই বিশ্বাস পোষণ করা যে, উক্ত নির্দেশনা বা দালালাতের বিপরীতে এমন কিছু রয়েছে যা প্রমাণ করে যে এটিই শরীয়তের উদ্দেশ্য নয়। যেমন: সাধারণকে (আম) বিশেষ (খাস) দ্বারা প্রতিহত করা, কিংবা শর্তহীনকে (মুতলাক) শর্তযুক্ত (মুকাইয়্যাদ) দ্বারা, অথবা নিঃশর্ত আদেশকে আবশ্যকতা নাকচকারী কোনো প্রমাণ দ্বারা, কিংবা প্রকৃত অর্থকে (হাকিকত) রূপক অর্থের (মাজায) দিকে নির্দেশকারী কোনো বিষয়ের দ্বারা প্রতিহত করা। এভাবে বিভিন্ন প্রকারের বিরোধপূর্ণ দালালাত পর্যন্ত বিষয়টি বিস্তৃত। এটিও একটি অত্যন্ত প্রশস্ত অধ্যায়; কেননা বক্তব্যের বিভিন্ন নির্দেশনার মধ্যে বৈপরীত্য এবং একটির ওপর অন্যটিকে প্রাধান্য দেওয়ার বিষয়টি এক বিশাল সমুদ্রের ন্যায়।
(খণ্ড: ১)
রাফউল মালাম আনিল আইম্মাতিল আলাম
(পৃষ্ঠা: ৩১)
السَّبَبُ التَّاسِعُ:
اعْتِقَادُهُ أَنَّ الْحَدِيثَ مُعَارَضٌ بِمَا يَدُلُّ عَلَى ضَعْفِهِ؛ أَوْ نَسْخِهِ؛ أَوْ تَأْوِيلِهِ إنْ كَانَ قَابِلًا لِلتَّأْوِيلِ، بِمَا يَصْلُحُ أَنْ يَكُونَ مُعَارَضًا بِالِاتِّفَاقِ مِثْلَ آيَةٍ، أَوْ حَدِيثٍ آخَرَ، أَوْ مِثْلَ إجْمَاعٍ. وَهَذَا نَوْعَانِ: أَحَدُهُمَا: أَنْ يَعْتَقِدَ أَنَّ هَذَا الْمُعَارِضَ رَاجِحٌ فِي الْجُمْلَةِ، فَيَتَعَيَّنُ أَحَدُ الثَّلَاثَةِ مِنْ غَيْرِ تَعْيِينِ وَاحِدٍ مِنْهَا. وَتَارَةً يُعَيِّنُ أَحَدَهَا، بِأَنْ يَعْتَقِدَ أَنَّهُ مَنْسُوخٌ؛ أَوْ أَنَّهُ مُؤَوَّلٌ. ثُمَّ قَدْ يَغْلَطُ فِي النَّسْخِ فَيَعْتَقِدُ الْمُتَأَخِّرَ مُتَقَدِّمًا، وَقَدْ يَغْلَطُ فِي التَّأْوِيلِ بِأَنْ يَحْمِلَ الْحَدِيثَ عَلَى مَا لَا يَحْتَمِلُهُ لَفْظُهُ، أَوْ هُنَاكَ مَا يَدْفَعُهُ، وَإِذَا عَارَضَهُ مِنْ حَيْثُ الْجُمْلَةُ، فَقَدْ لَا يَكُونُ ذَلِكَ الْمُعَارِضُ دَالًّا، وَقَدْ لَا يَكُونُ الْحَدِيثُ الْمُعَارِضُ فِي قُوَّةِ الْأَوَّلِ إسْنَادًا أَوْ مَتْنًا.
وَتَجِيءُ هُنَا الْأَسْبَابُ الْمُتَقَدِّمَةُ وَغَيْرُهَا فِي الْحَدِيثِ الْأَوَّلِ.
وَالْإِجْمَاعُ الْمُدَّعى فِي الْغَالِبِ إنَّمَا هُوَ عَدَمُ الْعِلْمِ بِالْمُخَالِفِ.
নবম কারণ:
মুজতাহিদের এই ধারণা পোষণ করা যে, সংশ্লিষ্ট হাদিসটি এমন কোনো প্রমাণের সাথে সাংঘর্ষিক যা এর দুর্বলতা, রহিতকরণ (নাসখ) কিংবা ব্যাখ্যার (তাউইল)—যদি তা ব্যাখ্যার উপযুক্ত হয়—দাবি রাখে। আর এই বৈপরীত্য এমন দলিলের মাধ্যমে হওয়া যা সর্বসম্মতিক্রমে বিরোধী দলিল হিসেবে গৃহীত হওয়ার যোগ্য, যেমন কুরআন মাজীদের কোনো আয়াত, অন্য কোনো হাদিস অথবা ইজমা। এটি দুই প্রকার: প্রথমত, তিনি বিশ্বাস করেন যে এই প্রতিপক্ষ দলিলটি সামগ্রিকভাবে প্রাধান্যযোগ্য (রাজীহ), ফলে পূর্বোক্ত তিনটি অবস্থার (দুর্বলতা, নাসখ বা তাউইল) যেকোনো একটি হওয়া অনিবার্য হয়ে পড়ে, যদিও তিনি নির্দিষ্টভাবে কোনো একটিকে চিহ্নিত করেন না। দ্বিতীয়ত, কখনও তিনি নির্দিষ্ট কোনো একটি কারণকে নির্ধারণ করেন, যেমন তিনি মনে করেন যে হাদিসটি রহিত (মানসুখ) হয়ে গেছে অথবা এটি ব্যাখ্যাসাপেক্ষ (মুয়াউওয়াল)। অতঃপর কখনও তিনি নাসখ বা রহিতকরণের ক্ষেত্রে ভুল করেন, যেমন পরবর্তী বিষয়কে পূর্ববর্তী মনে করা। আবার কখনও তিনি ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে ভুল করেন, অর্থাৎ হাদিসটিকে এমন অর্থে প্রয়োগ করেন যা এর শব্দগত দিক থেকে সম্ভব নয়, অথবা সেখানে এমন কোনো বাধা থাকে যা সেই ব্যাখ্যাকে নাকচ করে দেয়। আর যখন তিনি সামগ্রিকভাবে এর বিরোধিতা করেন, তখন দেখা যেতে পারে যে সেই বিরোধী দলিলটি প্রকৃতপক্ষে সুনির্দিষ্ট কোনো ইঙ্গিত দিচ্ছে না, কিংবা বিরোধী হাদিসটি সনদ বা মতনের বলিষ্ঠতার দিক থেকে প্রথম হাদিসটির সমকক্ষ নয়।
এখানে প্রথম হাদিসটির ক্ষেত্রে ইতিপূর্বে আলোচিত কারণসমূহ এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয়াবলিও চলে আসে।
আর অধিকাংশ ক্ষেত্রে যে ইজমার দাবি করা হয়, তা মূলত কোনো ভিন্নমত পোষণকারী সম্পর্কে অবগত না থাকারই নামান্তর।