القسم: الأنساب
الكتاب: الدرر المفاخر في أخبار العرب الأواخر
المؤلف: محمد بن حمد البسام التميمي النجدي (ت 1246هـ)
[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]
عدد الصفحات: 18
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
বিভাগ: বংশতালিকা
গ্রন্থ: পরবর্তীকালের আরবদের সংবাদে গৌরবময় মুক্তাসমূহ
লেখক: মুহাম্মদ বিন হামাদ আল-বাসসাম আত-তামিমি আন-নাজদি (মৃত্যু ১২৪৬ হিজরি)
[গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, যা মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৮
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
তাদের মধ্যে রয়েছে "তায়্য" (Tayy); তারা হাতেম তায়ীর বংশধর, যিনি আকাশের নিচে আরবের এমন এক প্রবাদপ্রতিম ব্যক্তিত্ব যাকে আল্লাহ তাআলার সৃষ্টি জগতের আরব কিংবা অনারব কেউ দানশীলতায় টেক্কা দিতে পারেনি। তাঁর কাহিনীসমূহ অজ্ঞাত নয় এবং মিথ্যাও নয়, বরং এর বর্ণনাসূত্রসমূহ সুসংরক্ষিত। আমি তাদের সম্পর্কে কী আর বলব যেখানে তারা কোনো বক্তার জন্য কিছু বলার অবকাশই রাখেনি। তাদের সম্পর্কে সারকথা হলো, তারা গোত্রসমূহের মাঝে মুক্তাসম। প্রশংসাকারী তাদের গুণের সীমা পরিসংখ্যানে আনতে পারে না এবং দয়ার সাগরের সাতারুরা তাদের উপকূলে পৌঁছাতে পারে না। তারা চারিত্রিক উৎকর্ষ অর্জনে জাতিসমূহকে ছাড়িয়ে গেছে এবং জনপদে মেহমানদারির আগুনকে উচ্চকিত করেছে, ফলে তাদের সংবাদ পাহাড়ের শিখরে প্রজ্বলিত আগুনের মতো প্রসিদ্ধ। যুদ্ধক্ষেত্রে তারা অত্যন্ত সাহসী, সমসাময়িকদের মধ্যে সুউচ্চ মর্যাদার অধিকারী এবং উচ্চতা অন্বেষণে তাদের হাত অনেক দীর্ঘ। তাদের আবাসস্থল মসুল ও মার্দিনের মধ্যবর্তী স্থানে। তারা বন্দুক ব্যবহার করে না। আর তাদের অশ্বারোহী বাহিনীর সংখ্যা দুই হাজার।
তাদের মধ্যে রয়েছে "শাম্মার" (Shammar); তারা উল্লিখিত হাতেমের বংশধর এবং জাযিরা অঞ্চলের অধিবাসী। তারা গোত্রসমূহের মধ্যে অত্যন্ত সম্মানিত, সুউচ্চ স্তম্ভের অধিকারী এবং মাতুল ও পিতৃপুরুষের দিক থেকে শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী। মহত্ত্ব বর্ণনার বর্ণনাসূত্র বা সনদের দিক থেকে তারা সবচেয়ে বিশুদ্ধ। যুদ্ধের ময়দান যখন ক্রোধের বশবর্তী হয়ে বল্লমসমূহ উন্মুক্ত করে, তখনও তারা সেখানে অগ্রগামী। আমি যদি তাদের ভাষা সম্পর্কে আমার কলমসমূহকে নিঃশেষ করে দিতাম এবং আমার সময় যদি আমাকে সাহায্য করত যেমন আমি তাদের প্রত্যক্ষ করেছি (তবে তাও যথেষ্ট হতো না); কিন্তু অল্পের ওপর অধিকের বোঝা চাপানো যায় না এবং বুদ্ধিমানের জন্য সংক্ষিপ্ত বিবরণই বিস্তারিতের পরিবর্তে যথেষ্ট। সন্ধি ও বিগ্রহে এই প্রখ্যাত ব্যক্তিবর্গের শায়খকে "আল-জারবা" বলা হয়। তাদের পদাতিক সৈন্য দুই হাজার এবং অশ্বارোহী সৈন্য এক হাজার দুইশত।
শাম্মারদের মধ্যে একটি শাখা গোত্র রয়েছে যাদেরকে "আস-সালিহ" বলা হয়। এই সম্মানীয় ব্যক্তিদের শেষ অংশ তাদের প্রথম অংশের মতোই। প্রকৃতপক্ষে কল্যাণ অর্জনের প্রতিযোগিতায় তাদের শ্রেষ্ঠত্ব অনন্য। তারা নিজেদের ধন-সম্পদ দানে অত্যন্ত দানশীল এবং বীরত্ব প্রদর্শনে সিংহের মতো। তারা বিপদসংকুল পথে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ থেকে দূরে থাকে। তাদের নিকট আশাবাদীদের প্রত্যাশা কখনো ব্যর্থ হয় না। এই পদ্ধতিতে বিচরণকারীদের কোনো আমল তারা বিনষ্ট হতে দেয় না। তাদের পদাতিক সংখ্যা এক হাজার এবং অশ্বারোহী সংখ্যা ছয়শত। তারা আইয়ুব বিন তামার পাশার অনুসারী। তাদের মধ্যে রয়েছে "আল-মালিয়াহ" (Al-Maliyah); তারা তৈমুর পাশার শাসনাধীন ছিল এবং বর্তমানে তাঁর পিতা আইয়ুবের শাসনাধীন। তাদের আবাসস্থল রুহা (উর্ফা) ভূমি। তাদের সম্পর্কে মন্তব্য হলো, তারা প্রজ্ঞাবান, উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন এবং অতি উচ্চাকাঙ্ক্ষী। তারা উজ্জ্বল দান-দক্ষিণা, দ্রুতগামী অশ্ব এবং আত্মমর্যাদাবোধ সম্পন্ন হৃদয়ের অধিকারী। মহাকাল তাদের মতো খুব কমই সৃষ্টি করেছে এবং কল্যাণ সাধনে তাদের মতো আর কেউ বিচরণ করেনি। তাদের কাজ তাদের কথার চেয়ে অগ্রগামী থাকে এবং তাদের অশ্বারোহীরা অন্যের বিজয়কে ম্লান করে দেয়। তারা ধৈর্যশীলদের আদর্শ এবং বিপদগ্রস্তদের জন্য আশ্রয়স্থল।
তাদের সংখ্যা চার হাজার পদাতিক এবং এক হাজার পাঁচশত অশ্বারোহী।
তাদের মধ্যে রয়েছে "আল-খিদর" (Al-Khidr); যারা সচ্ছল জীবন এবং অপ্রতিরোধ্য বাহিনীর অধিকারী যারা শত্রুদের দমনকারী। তাদের আবাসস্থল নুসাইবিন ও মার্দিনের মধ্যবর্তী স্থানে। অন্যের জন্য তাদের কল্যাণ ব্যতীত কোনো ভোগের সুযোগ অবশিষ্ট নেই। মেঘমালা কেবল তাদের স্তুতি ও প্রশংসা পুনরাবৃত্তির মাধ্যমেই তাদের মোকাবিলা করতে পারে। তারা পূর্ববর্তীদের ছাড়িয়ে গেছে, ফলে সমসাময়িকরা তাদের কিছু অনুগ্রহের প্রত্যাশা করে। তাদের কোনো সীমানা খুঁজে পাওয়া যায় না। যুদ্ধের ময়দানে তারা যেন যুদ্ধেরই সন্তান, যখন তারা পূর্ণ শক্তিতে পৌঁছায় তখন শাণিত তলোয়ার ও দ্রুতগামী ঘোড়ার মাধ্যমে মেহমানদারিতে দ্রুততা দেখায়।
আর তাদের ঘোড়াসমূহ এমন যে, বাতাসও তাদের সাথে পাল্লা দিতে পারে না এবং বিদ্যুতের ঝলকানিও তাদের গতির সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে না। তাদের সংখ্যা সাতশত অগ্রগামী এবং এক হাজার দক্ষ ধনুর্বন্ধনী।
তাদের মধ্যে জাযিরা অঞ্চলের ফোরাত তীরের খাবুর থেকে বিরাহ পর্যন্ত "আল-জুবুর" (Al-Jubur) গোত্রের বাস; যাদের সুনাম প্রবাদপ্রতিম এবং যাদের গৌরব সুপ্রতিষ্ঠিত। তারা তাদের পূর্ববর্তীদের মতোই এবং অন্যের শ্রেষ্ঠত্ব তারা অর্জন করতে পারে, কিন্তু তাদের শ্রেষ্ঠত্ব কেউ ছুঁতে পারে না। তাদের পদাতিক সংখ্যা দুই হাজার এবং অশ্বারোহী সংখ্যা এক হাজার।
তাদের মধ্যে শামীয়া অঞ্চলে "আল-উকাইদাত" (Al-Uqaydat) বাস করে। তাদের সম্পর্কে সারকথা হলো, তারা বিপদ দূরকারী এবং শহরসমূহের অধিপতি। তারা রাতের অন্ধকার ঘনীভূত হলেও পূর্ণিমার চাঁদের মতো। তাদের প্রথাসমূহ চমৎকার এবং তাদের দানসমূহ মহান। তাদের পদাতিক সংখ্যা দুই হাজার এবং অশ্বারোহী সংখ্যা আটশত।
তাদের মধ্যে রয়েছে "আল-বাক্কারা" (Al-Baqqara); যারা আনন্দদায়ক দান এবং বিচরণকারী সেনাদলের অধিকারী। তারা নাজাতের আশ্রয়স্থল, আশার সঞ্চারকারী, ভীতদের জন্য শামিয়ানা এবং বিচ্যুতদের জন্য অবলম্বন। তাদের তলোয়ারসমূহ বল্লমের ছায়ার চেয়ে দীর্ঘ এবং তাদের হাতের তালু ভোরের আলোর চেয়েও শুভ্র। যদি তাদের জন্য মেহমানদারির গৌরব ছাড়া আর কিছুই না থাকত, তবে এই অনন্য মর্যাদাটুকুই তাদের জন্য যথেষ্ট হতো।
তাদের অশ্বারোহী সংখ্যা পাঁচশত এবং পদাতিক সংখ্যা এক হাজার।
তাদের মধ্যে রয়েছে "আলবু শাবান" (Albu Sha'ban); যারা নিজেদের কর্মকাণ্ডে অত্যন্ত সম্মানিত আরবদের পথ অনুসরণ করে। তাদের সম্পর্কে মন্তব্য হলো তাদের পদাঙ্ক অনুসরণকারীদের মতো যারা তাদের রহস্য সম্পর্কে অবগত। তারা হলো মহানুভবতার স্তম্ভ এবং স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবনের উৎস, যুদ্ধক্ষেত্রের কেন্দ্রবিন্দু এবং উজ্জ্বল নক্ষত্রসম। তারা দুঃখকষ্ট দূর করার জন্য অত্যন্ত উত্তম গোত্র। তাদের দ্বারা কেউ ভূপাতিত হলে কিয়ামত পর্যন্ত তার পুনরুত্থানের আশা করা যায় না।
তারা বিদ্রোহীদের জন্য কঠোর ও শাস্তিস্বরূপ এবং অনুগতদের জন্য অত্যন্ত সম্মানীয়। তাদের পদাতিক পাঁচশত এবং অশ্বারোহী দুইশত। তাদের মধ্য হতে শামীয়া অঞ্চলে রয়েছে "আল-আফাদিলাহ" (Al-Afadilah) এবং "আল-ওয়ালদাহ" (Al-Waldah); যারা সাহসিকতা, কঠোরতা এবং বীরত্বের অধিকারী। তারা মর্যাদার শিখর এবং সজীব উদ্যানসদৃশ। তারা মেহমানদের জন্য নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী সর্বোচ্চ উজাড় করে দেয় এবং অন্যের জন্য কল্যাণের কোনো পথই বাকি রাখে না।
তাদের সংখ্যা পদাতিক দুই হাজার এবং অশ্বারোহী এক হাজার দুইশত।
তাদের মধ্যে রয়েছে "আল বু মুহাম্মদ" (Aal Bu Muhammad); তারা মহত্ত্ব অর্জন এবং রাতের ভয়ংকর প্রাণঘাতী সাগরে ঝাঁপ দেওয়ার ক্ষেত্রে পূর্বসূরিদের মতো। তাদের সুখ্যাতিই তাদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দেয়। তাদের অশ্বারোহী দুইশত এবং পদাতিক পাঁচশত।
তাদের মধ্যে রয়েছে "বনু সাঈদ" (Banu Sa'id); যারা প্রচণ্ড সাহস ও লৌহকঠিন বর্শার অধিকারী। তারা গৌরবের পথে অগ্রগামী এবং হাসি-তামাশা কিংবা গুরুত্বের সাথে প্রশংসার অধিকারী।