(খণ্ড: ১) তালীকাতুন আলা শারহি লুমআতিল ইতিকাদ লির রাজেহী (পৃষ্ঠা: -)
تعليقات على شرح لمعة الاعتقاد للراجحي   (عبد العزيز بن عبد الله الراجحي)

القسم: العقيدة


الكتاب: تعليقات على (شرح لمعة الاعتقاد للعثيمين)

المؤلف: عبد العزيز بن عبد الله بن عبد الرحمن الراجحي

[الكتاب مرقم آليا]

عدد الصفحات: 43

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

রাজেহী কর্তৃক শরহু লুমআতুল ইতিকাদ-এর ওপর টীকা   (আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ আল-রাজেহী)

বিভাগ: আকীদা


বই: (উসাইমীনের শরহু লুমআতুল ইতিকাদ)-এর ওপর টীকা

লেখক: আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল রহমান আল-রাজেহী

[বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত]

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৩

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যুল হিজ্জাহ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) তালীকাতুন আলা শারহি লুমআতিল ইতিকাদ লির রাজেহী (পৃষ্ঠা: ১)
‌‌تعليقات على شرح

لمعة الاعتقاد

الشيخ

عبد العزيز بن عبد الله الراجحي

المقدمة

بسم الله الرحمن الرحيم

شرح لمعة الاعتقاد لابن قدامة المقدسي رحمه الله

الحمد لله، والصلاة والسلام على رسول الله وعلى آله وصحبه ومن والاه.

أما بعد:

لمعة الاعتقاد: اللمعة معناها في الأصل هي البُلغة، البلغة من العيش سمي لمعة الاعتقاد أي: بلغة من الاعتقاد الصحيح الموافق لعقيدة السلف الصالح؛ ولهذا سماها لمعة الاعتقاد يعني: شيء من الاعتقاد الصحيح الذي يوافق الكتاب والسنة.

من القواعد:

أن أسماء الله وصفاته يجب إجراؤها على ظاهرها، هذه قاعدة عظيمة يجب إجراء النصوص على ظاهرها من كتاب الله وسنة نبيه، نصوص الصفات وأسماء الله تُجرى على ظاهرها لا تؤول إلا بدليل.

ومنها: أن أسماء الله لا تنحصر بعدد وأما حديث: " إن لله تسعة وتسعين اسمًا من أحصاها دخل الجنة " فالمراد تسعة وتسعون اسمًا موصوفة بأن من أحصاها دخل الجنة.

ومنها: أن أسماء الله لا تثبت إلا بالنص لا تثبت بالعقل، أسماء الله وصفاته توقيفية لا تثبت إلا بالنص، ومن القواعد في صفات الله أن أسماء الله كلها حسنى كلها كمال ليس فيها نقص.

ومنها: أن أسماء الله تنقسم إلى قسمين: صفات ثبوتية، وصفات سلبية.

صفات ثبوتية: مثل إثبات صفات العلم والسمع والبصر.

وصفات سلبية: مثل نفي الظلم، نفي النوم، نفي الموت هذه صفات سلبية لكن تتضمن إثبات ضدها من الكمال، فالله تبارك وتعالى نفى عن نفسه الظلم لكمال عدله، نفى عن نفسه النوم لكمال حياته، نفى عن نفسه العجز لكمال قوته واقتداره.

‌‌قواعد في الأسماء والصفات

القاعدة الأولى في الواجب نحو نصوص الكتاب والسنة في أسماء الله وصفاته

قواعد في الأسماء والصفات -ذكرها الشيخ محمد-:
‌‌লুমা’তুল ই’তিকাদের ব্যাখ্যার ওপর টীকা

শাইখ

আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ আল-রাজহি

ভূমিকা

পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি

ইবনে কুদামা আল-মাকদিসি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) রচিত লুমা’তুল ই’তিকাদের ব্যাখ্যা

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সঙ্গী-সাথী ও যারা তাঁকে অনুসরণ করেছে তাদের ওপর।

অতঃপর:

লুমা’তুল ই’তিকাদ: ‘লুমআহ’ শব্দের মূল অর্থ হলো জীবনধারণের পাথেয়। একে লুমা’তুল ই’তিকাদ বলা হয়েছে যার অর্থ: সঠিক আকিদার পাথেয় যা সালাফে সালেহীনের আকিদার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ; এই কারণেই তিনি এর নামকরণ করেছেন লুমা’তুল ই’তিকাদ অর্থাৎ: সঠিক আকিদার এমন কিছু অংশ যা কুরআন ও সুন্নাহর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

নীতিমালাসমূহের মধ্য হতে:

আল্লাহর নাম ও গুণাবলিকে তাদের প্রকাশ্য অর্থের ওপর প্রয়োগ করা ওয়াজিব। এটি একটি মহান মূলনীতি যে, আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর নবীর সুন্নাহর পাঠ্যসমূহকে (নসুস) তাদের প্রকাশ্য অর্থের ওপর প্রয়োগ করা ওয়াজিব। গুণাবলি এবং আল্লাহর নাম সংক্রান্ত পাঠ্যসমূহ তাদের প্রকাশ্য অর্থের ওপর পরিচালিত হবে, কোনো দলিল ব্যতীত সেগুলোর অপব্যাখ্যা করা যাবে না।

তার মধ্য হতে: আল্লাহর নামসমূহ কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আর "নিশ্চয়ই আল্লাহর নিরানব্বইটি নাম রয়েছে, যে ব্যক্তি সেগুলো আয়ত্ত করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে" - এই হাদিসের অর্থ হলো এমন নিরানব্বইটি নাম যার বৈশিষ্ট্য হলো এই যে, যে ব্যক্তি সেগুলো আয়ত্ত করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।

তার মধ্য হতে: আল্লাহর নামসমূহ কেবল দলিলের মাধ্যমেই সাব্যস্ত হয়, যুক্তির দ্বারা নয়। আল্লাহর নাম ও গুণাবলি হলো দলিলনির্ভর, যা কেবল দলিলের মাধ্যমেই সাব্যস্ত হয়। আল্লাহর গুণাবলি সংক্রান্ত নীতিমালাসমূহের মধ্যে অন্যতম হলো, আল্লাহর সকল নামই অত্যন্ত সুন্দর; সেগুলো সবই পরিপূর্ণতা নির্দেশক, সেগুলোতে কোনো ত্রুটি নেই।

তার মধ্য হতে: আল্লাহর নামসমূহ (গুণাবলি) দুই ভাগে বিভক্ত: ইতিবাচক গুণাবলি এবং নেতিবাচক গুণাবলি।

ইতিবাচক গুণাবলি: যেমন জ্ঞান, শ্রবণ ও দর্শনের গুণাবলি সাব্যস্ত করা।

নেতিবাচক গুণাবলি: যেমন জুলুমের অস্বীকৃতি, ঘুমের অস্বীকৃতি, মৃত্যুর অস্বীকৃতি; এগুলো নেতিবাচক গুণাবলি তবে এগুলো তার বিপরীত গুণ তথা পরিপূর্ণতা সাব্যস্ত করাকে অন্তর্ভুক্ত করে। সুতরাং আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা’আলা তাঁর পরিপূর্ণ ন্যায়ের কারণে নিজের থেকে জুলুমকে নাকচ করেছেন, তাঁর পরিপূর্ণ জীবনের কারণে নিজের থেকে ঘুমকে নাকচ করেছেন এবং তাঁর পরিপূর্ণ শক্তি ও ক্ষমতার কারণে নিজের থেকে অক্ষমতাকে নাকচ করেছেন।

‌নাম ও গুণাবলি সংক্রান্ত নীতিমালা

প্রথম নীতিমালা: আল্লাহর নাম ও গুণাবলি সংক্রান্ত কিতাব ও সুন্নাহর পাঠ্যসমূহের প্রতি যা করণীয় সে বিষয়ে

নাম ও গুণাবলি সংক্রান্ত নীতিমালা -যা শাইখ মুহাম্মদ উল্লেখ করেছেন-:
(খণ্ড: ১) তালীকাতুন আলা শারহি লুমআতিল ইতিকাদ লির রাজেহী (পৃষ্ঠা: ২)
القاعدة الأولى: في الواجب نحو نصوص الكتاب والسنة في أسماء الله وصفاته: الواجب نحو الكتاب والسنة إبقاؤها على ظاهرها من غير تغيير؛ لأن الله أنزل القرآن بلسان عربي مبين، والنبي صلى الله عليه وسلم يتكلم باللسان العربي، فوجب إبقاء دلالة كلام الله وكلام رسوله على ما هي عليه في ذلك اللسان؛ ولأن تغييرها عن ظاهرها قول على الله بلا علم وهو حرام؛ لقوله تعالى: {قُلْ إِنَّمَا حَرَّمَ رَبِّيَ الْفَوَاحِشَ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ وَالْإِثْمَ وَالْبَغْيَ بِغَيْرِ الْحَقِّ وَأَنْ تُشْرِكُوا بِاللَّهِ مَا لَمْ يُنَزِّلْ بِهِ سُلْطَانًا وَأَنْ تَقُولُوا عَلَى اللَّهِ مَا لَا تَعْلَمُونَ (33) } (1) .

--------------------------------------------

(1) - سورة الأعراف آية: 33.
প্রথম নীতি: আল্লাহর নাম ও গুণাবলি সংক্রান্ত কিতাব ও সুন্নাহর ভাষ্যসমূহের ক্ষেত্রে যা আবশ্যক: কিতাব ও সুন্নাহর প্রতি আবশ্যকীয় কর্তব্য হলো সেগুলোকে কোনো রূপ পরিবর্তন ছাড়াই তাদের প্রকাশ্য অর্থের ওপর বহাল রাখা; কারণ আল্লাহ কুরআন অবতীর্ণ করেছেন সুস্পষ্ট আরবি ভাষায় এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরবি ভাষায় কথা বলতেন। ফলে আল্লাহর বাণী ও তাঁর রাসূলের বাণীর অর্থকে উক্ত ভাষায় যেভাবে আছে সেভাবেই বহাল রাখা ওয়াজিব; আর একারণে যে, এগুলোকে এদের প্রকাশ্য অর্থ থেকে বিচ্যুত করা হলো জ্ঞান ছাড়াই আল্লাহ সম্পর্কে কথা বলা, যা হারাম; মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: "বলুন, আমার রব কেবল অশ্লীল কাজসমূহ হারাম করেছেন—তা প্রকাশ্য হোক কিংবা গোপন—আর গুনাহ ও অন্যায়ভাবে বিদ্রোহ করা এবং আল্লাহর সাথে তোমাদের এমন কিছু শরিক করা যার কোনো প্রমাণ তিনি অবতীর্ণ করেননি এবং আল্লাহ সম্পর্কে এমন কিছু বলা যা তোমরা জানো না (৩৩)।" (১)।

--------------------------------------------

(১) - সূরা আল-আ'রাফ, আয়াত: ৩৩।
(খণ্ড: ১) তালীকাতুন আলা শারহি লুমআতিল ইতিকাদ লির রাজেহী (পৃষ্ঠা: ৩)
هذه القاعدة معروفة وهي إجراء دلالة النصوص على ظاهرها: {ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ} (1) ظاهر النص إثبات الاستواء نثبت الاستواء {وَهُوَ الْعَلِيمُ الْحَكِيمُ (2) } (2) ظاهر النص إثبات العلم والحكمة، وإثبات اسم الله العليم والحكيم نثبتها على ظاهرها؛ لأن دلالة الألفاظ تقتضي هذا وإلا فما الفائدة من الألفاظ إذا كانت دلالتها لا تعتبر؟ ثم تحريفها والقول أن الاستواء معناه الاستيلاء، والنزول معناه نزول الرحمة هذا قول على الله بلا علم، تقول على الله وهو من الكبائر العظيمة التي جعلها الله تعالى فوق الشرك قال تعالى: {قُلْ إِنَّمَا حَرَّمَ رَبِّيَ الْفَوَاحِشَ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ وَالْإِثْمَ وَالْبَغْيَ بِغَيْرِ الْحَقِّ وَأَنْ تُشْرِكُوا بِاللَّهِ مَا لَمْ يُنَزِّلْ بِهِ سُلْطَانًا وَأَنْ تَقُولُوا عَلَى اللَّهِ مَا لَا تَعْلَمُونَ (33) } (3) جعل القول على الله فوق الشرك، وذلك لأنه يشمل الشرك وغيره، فالشرك قول على الله بلا علم، فالقول بأن النصوص يجب تأويلها، أو أن لها معاني غير التي يُفهم من ظاهرها قول على الله بلا علم لا شك، فالواجب إجراء النصوص على ظاهرها نصوص الصفات على ظاهرها على ما دلت عليه وهذه هي طريقة السلف.

مثال ذلك قوله تعالى: {بَلْ يَدَاهُ مَبْسُوطَتَانِ يُنْفِقُ كَيْفَ يَشَاءُ} (4) فإن ظاهر الآية أن لله يدين حقيقيتين.

--------------------------------------------

(1) - سورة الأعراف آية: 54.

(2) - سورة التحريم آية: 2.

(3) - سورة الأعراف آية: 33.

(4) - سورة المائدة آية: 64.
এই নীতিটি সুপরিচিত, আর তা হলো দলিলসমূহের অর্থকে তাদের জাহির (প্রকাশ্য) অর্থের ওপর রাখা: {অতঃপর তিনি আরশের উপর উঠেছেন} (১)। দলিলের জাহির অর্থ হলো ইস্তিওয়া (উপরে উঠা) সাব্যস্ত করা, সুতরাং আমরা ইস্তিওয়া সাব্যস্ত করি। {আর তিনি সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময় (২)} (২) দলিলের জাহির অর্থ হলো ইলম (জ্ঞান) ও হিকমত (প্রজ্ঞা) সাব্যস্ত করা, এবং আল্লাহর নাম 'আল-আলিম' ও 'আল-হাকিম' সাব্যস্ত করা। আমরা এগুলোকে এদের জাহির অর্থের ওপর সাব্যস্ত করি; কারণ শব্দের অর্থ এটাই দাবি করে। অন্যথায় শব্দের কী ফায়দা যদি তার অর্থই গণ্য করা না হয়? অতঃপর এগুলোকে বিকৃত করা এবং এ কথা বলা যে, ইস্তিওয়ার অর্থ হলো 'ইস্তিলা' (কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা), এবং নুযুল (নেমে আসা)-এর অর্থ হলো রহমত নাজিল হওয়া—এটি আল্লাহ সম্পর্কে ইলম ছাড়াই কথা বলা। আপনি আল্লাহ সম্পর্কে এমন কথা বলছেন যা অত্যন্ত বড় গুনাহসমূহের অন্তর্ভুক্ত, যাকে আল্লাহ তাআলা শিরকের উপরে স্থান দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: {বলুন, আমার রব কেবল হারাম করেছেন অশ্লীল কাজ—যা প্রকাশ্য ও যা গোপন—আর গুনাহ ও অন্যায়ভাবে বিদ্রোহ করা, আর আল্লাহর সাথে তোমাদের এমন কিছু শরিক করা যার কোনো প্রমাণ তিনি অবতীর্ণ করেননি, এবং আল্লাহ সম্পর্কে এমন কিছু বলা যা তোমরা জানো না। (৩৩)} (৩) এখানে আল্লাহ সম্পর্কে না জেনে কথা বলাকে শিরকের উপরে রাখা হয়েছে, কারণ এর মধ্যে শিরক ও অন্যান্য বিষয় অন্তর্ভুক্ত। কেননা শিরকও আল্লাহ সম্পর্কে ইলম ছাড়া কথা বলারই অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং এ কথা বলা যে, দলিলসমূহের অবশ্যই তাবিল (ব্যাখ্যা) করতে হবে, অথবা এগুলোর এমন অর্থ রয়েছে যা তাদের জাহির বা প্রকাশ্য রূপ থেকে যা বোঝা যায় তার পরিপন্থী—তা নিঃসন্দেহে আল্লাহ সম্পর্কে ইলম ছাড়া কথা বলা। অতএব ওয়াজিব হলো দলিলসমূহকে তাদের জাহির অর্থের ওপর রাখা; সিফাত (গুণাবলি) সংক্রান্ত দলিলসমূহকে তাদের জাহির অর্থের ওপর রাখা যা তারা নির্দেশ করে, আর এটিই হলো সালাফদের পদ্ধতি।

এর উদাহরণ হলো আল্লাহ তাআলার বাণী: {বরং তাঁর হাত দুটি প্রসারিত, তিনি যেভাবে ইচ্ছা ব্যয় করেন} (৪)। কারণ আয়াতের জাহির অর্থ হলো আল্লাহর দুটি প্রকৃত হাত রয়েছে।

--------------------------------------------

(১) - সূরা আল-আরাফ, আয়াত: ৫৪।

(২) - সূরা আত-তাহরীম, আয়াত: ২।

(৩) - সূরা আল-আরাফ, আয়াত: ৩৩।

(৪) - সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত: ৬৪।
(খণ্ড: ১) তালীকাতুন আলা শারহি লুমআতিল ইতিকাদ লির রাজেহী (পৃষ্ঠা: ৪)
يعني: فيجب إثبات أن لله يدين حقيقيتين على ما يليق بجلاله وعظمته، التمثيل منفي في قوله تعالى: {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ} (1) {هَلْ تَعْلَمُ لَهُ سَمِيًّا (65) } (2) {فَلَا تَضْرِبُوا لِلَّهِ الْأَمْثَالَ} (3) هذا ظاهر اللفظ القول بأن معنى اليدين النعمتين، اليد معناها النعمة، أو معناها القدرة هذا تحريف وقول على الله بلا علم وإخراج للفظ عن ظاهره من أبطل الباطل، إجراء اللفظ على ظاهره أن نقول نثبت لله يدين حقيقيتين لا يماثل الله تبارك وتعالى أحد من خلقه في شيء من صفاته.

فيجب إثبات ذلك له فإذا قال قائل: المراد هنا القوة. قلنا له: هذا صرف للكلام عن ظاهره فلا يجوز القول به؛ لأنه قول على الله بلا علم.

تحريف للفظ عما دل عليه.

القاعدة الثانية في أسماء الله

الفرع الأول أسماء الله كلها حسنى

القاعدة الثانية: في أسماء الله: وتحت هذه القاعدة فروع:

الفرع الأول: أسماء الله كلها حسنى أي: بالغة في الحسن غايته؛ لأنها متضمنة لصفات كاملة لا نقص فيها بوجه من الوجوه.

وهذا مأخوذ من قوله تعالى: {وَلِلَّهِ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى فَادْعُوهُ بِهَا} (4) أسماء الله كلها حسنى، وهي دالة على صفات ليست جامدة بل هي مشتقة.

أسماء الله مشتقة كل اسم يدل على صفة مثلا: اسم الله الرحمن يدل على إثبات الذات لله عز وجل ويدل على إثبات هذا الاسم لله عز وجل ويدل على إثبات صفة الرحمة لله عز وجل ويدل على الأثر وهو تعلقها بالمرحوم. يعني: الصفات قد تكون متعدية، وقد تكون قاصرة، قد تكون متعدية فتؤمن بالاسم والصفة والأثر، وقد تكون قاصرة مثل الاستواء والنزول فلا يكون لها أثر.

--------------------------------------------

(1) - سورة الشورى آية: 11.

(2) - سورة مريم آية: 65.

(3) - سورة النحل آية: 74.

(4) - سورة الأعراف آية: 180.
অর্থাৎ: আল্লাহর জন্য তাঁর মহিমা ও গাম্ভীর্যের সাথে মানানসই দুটি প্রকৃত হাত সাব্যস্ত করা আবশ্যক। মহান আল্লাহর এই বাণীতে সদৃশ হওয়াকে নাকচ করা হয়েছে: "তাঁর সদৃশ কিছুই নেই" (১) "তুমি কি তাঁর সমগুণসম্পন্ন কাউকে জানো?" (২) "অতএব তোমরা আল্লাহর জন্য কোনো দৃষ্টান্ত পেশ করো না" (৩) এটিই শব্দের বাহ্যিক অর্থ। এই কথা বলা যে, দুই হাত অর্থ হলো দুই নেয়ামত, হাতের অর্থ নেয়ামত বা হাতের অর্থ ক্ষমতা—এটি হলো বিকৃতি (তাহরিফ) এবং আল্লাহ সম্পর্কে জ্ঞানহীন কথা এবং শব্দকে তার বাহ্যিক অর্থ থেকে সরিয়ে দেওয়া, যা চরম বাতিল কাজের অন্তর্ভুক্ত। শব্দের বাহ্যিক অর্থের ওপর প্রয়োগ হলো আমরা বলব যে, আমরা আল্লাহর জন্য দুটি প্রকৃত হাত সাব্যস্ত করি; মহান ও বরকতময় আল্লাহর সিফাতসমূহের কোনো কিছুতে তাঁর সৃষ্টির কেউ তাঁর সদৃশ নয়।

সুতরাং আল্লাহর জন্য এটি সাব্যস্ত করা আবশ্যক। যদি কেউ বলে: এখানে উদ্দেশ্য হলো শক্তি। আমরা তাকে বলব: এটি শব্দকে তার বাহ্যিক অর্থ থেকে সরিয়ে দেওয়া, তাই এমন কথা বলা বৈধ নয়; কারণ এটি আল্লাহ সম্পর্কে জ্ঞানহীন কথা।

এটি শব্দের অর্থকে তার নির্দেশিত বিষয় থেকে বিকৃত করা।

আল্লাহর নামসমূহ সম্পর্কে দ্বিতীয় নীতি

প্রথম অনুচ্ছেদ: আল্লাহর সকল নামই ‘হুসনা’ (সর্বোত্তম)

দ্বিতীয় নীতি: আল্লাহর নামসমূহ সম্পর্কে: এই নীতির অধীনে কয়েকটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: আল্লাহর সকল নামই ‘হুসনা’ অর্থাৎ: সৌন্দর্যের দিক থেকে তা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছানো; কারণ এই নামগুলো এমন পূর্ণাঙ্গ গুণাবলি ধারণ করে যাতে কোনো দিক থেকেই কোনো ত্রুটি নেই।

এটি মহান আল্লাহর এই বাণী থেকে গৃহীত: "আর আল্লাহর জন্যই রয়েছে সুন্দরতম নামসমূহ, সুতরাং তোমরা তাঁকে সেসব নামেই ডাকো" (৪) আল্লাহর সকল নামই সুন্দরতম, এবং এগুলো গুণাবলির ওপর নির্দেশক; এগুলো স্থবির নয় বরং ব্যুৎপত্তিগত অর্থবোধক।

আল্লাহর নামসমূহ ব্যুৎপত্তিগত অর্থবোধক, প্রতিটি নাম একটি গুণের ওপর নির্দেশ করে। উদাহরণস্বরূপ: আল্লাহর নাম ‘আর-রাহমান’ মহান আল্লাহর সত্তা সাব্যস্ত করার ওপর নির্দেশ করে, মহান আল্লাহর জন্য এই নাম সাব্যস্ত করার ওপর নির্দেশ করে, মহান আল্লাহর জন্য রহমত (দয়া) গুণ সাব্যস্ত করার ওপর নির্দেশ করে এবং এর প্রভাবের ওপর নির্দেশ করে, যা হলো দয়াপ্রাপ্ত ব্যক্তির সাথে রহমতের সংশ্লিষ্টতা। অর্থাৎ: গুণাবলি কখনো ‘মুতাআদ্দি’ (সকর্মক) হয়, আবার কখনো ‘কাসির’ (অকর্মক) হয়। যখন মুতাআদ্দি হয় তখন নাম, গুণ ও প্রভাবের ওপর ঈমান আনতে হয়। আর যখন কাসির হয়, যেমন—উঠা (ইস্তিওয়া) এবং নেমে আসা (নুজুল), তখন সেগুলোর (সৃষ্টির ওপর) কোনো প্রভাব থাকে না।

--------------------------------------------

(১) - সূরা আশ-শুরা, আয়াত: ১১।

(২) - সূরা মারইয়াম, আয়াত: ৬৫।

(৩) - সূরা আন-নাহল, আয়াত: ৭৪।

(৪) - সূরা আল-আরাফ, আয়াত: ১৮০।
(খণ্ড: ১) তালীকাতুন আলা শারহি লুমআতিল ইতিকাদ লির রাজেহী (পৃষ্ঠা: ৫)
قال الله تعالى: {وَلِلَّهِ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى} (1) مثال ذلك الرحمن فهو اسم من أسماء الله تعالى دال على صفة عظيمة هي الرحمة الواسعة، ومن ثم نعرف أنه ليس من أسماء الله الدهر؛ لأنه لا يتضمن معنى غاية الحسن.

وهذا فيه الرد على ابن حزم الذي قال: إن من أسماء الله الدهر، واستدل بقوله صلى الله عليه وسلم " لا تسبوا الدهر فالله هو الدهر " قال: فهذا دليل على أن من أسماء الله الدهر غلَّطه العلماء، وبينوا أن الحديث لا يدل على أن الدهر من أسماء الله بدليل الروايات الأخرى يُضم بعضها إلى بعض فإنه جاء في الرواية: " فإني أنا الدهر أُقلب ليله ونهاره " معنى أن الله هو الدهر أي: يقلب الليل والنهار، يصرف الليل والنهار، الدهر هو الليل والنهار هو الزمان فالله -جل وعلا- هو مقلبه ومصرفه، في الرواية الأخرى: " إني أنا الدهر أقلب ليله ونهاره " الروايات يُفسر بعضها بعضًا، فليس من أسماء الله الدهر كما يقول ابن حزم هذا من أغلاطه رحمه الله.

فأما قوله صلى الله عليه وسلم " لا تسبوا الدهر فالله هو الدهر ".

فمعناه مالك الدهر المتصرف فيه، مالك الدهر، ومصرف الدهر ومقلب الدهر يعني: الليل والنهار والزمان. بدليل قوله في الرواية الثانية عن الله تعالى: " بيدي الأمر أُقلب الليل والنهار ".

وفي لفظ: " أقلب ليله ونهاره ".

الفرع الثاني أسماء الله غير محصورة بعدد معين

الفرع الثاني: أسماء الله غير محصورة بعدد معين؛ لقوله صلى الله عليه وسلم في الحديث المشهور: " أسألك اللهم بكل اسم هو لك سميت به نفسك، أو أنزلته في كتابك، أو علمته أحدًا من خلقك، أو استأثرت به في علم الغيب عندك ".

--------------------------------------------

(1) - سورة الأعراف آية: 180.
মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর আল্লাহর জন্যই রয়েছে অতি সুন্দর নামসমূহ} (১) এর উদাহরণ হলো 'আর-রাহমান', এটি মহান আল্লাহর নামসমূহের একটি যা একটি মহান গুণকে নির্দেশ করে আর তা হলো সুপ্রশস্ত রহমত বা দয়া। এর থেকে আমরা জানতে পারি যে, 'আদ-দাহর' (কাল বা সময়) আল্লাহর নামসমূহের অন্তর্ভুক্ত নয়; কারণ এটি সৌন্দর্যের চূড়ান্ত অর্থ ধারণ করে না।

এতে ইবনে হাজমের মতের খণ্ডন রয়েছে যিনি বলেছিলেন যে, 'আদ-দাহর' আল্লাহর নামসমূহের একটি। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণীর মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন: "তোমরা কালকে গালি দিও না, কেননা আল্লাহই হলেন কাল।" তিনি বলেছেন: এটি একটি দলিল যে 'আদ-দাহর' আল্লাহর নামসমূহের একটি। আলেমগণ তাঁকে ভুল সাব্যস্ত করেছেন এবং স্পষ্ট করেছেন যে, অন্যান্য বর্ণনাসমূহকে যখন একে অপরের সাথে যুক্ত করা হয়, তখন প্রমাণিত হয় যে এই হাদিসটি 'আদ-দাহর' আল্লাহর নাম হওয়ার ওপর দলিল নয়। কারণ একটি বর্ণনায় এসেছে: "নিশ্চয়ই আমিই কাল, আমি এর রাত ও দিনকে পরিবর্তিত করি।" আল্লাহই কাল হওয়ার অর্থ হলো: তিনি রাত ও দিনকে পরিবর্তিত করেন, রাত ও দিনকে পরিচালিত করেন। কাল হলো রাত ও দিন অর্থাৎ সময়, আর আল্লাহ -যিনি মহান ও মহিমান্বিত- তিনিই এর পরিবর্তনকারী ও পরিচালক। অন্য বর্ণনায় আছে: "নিশ্চয়ই আমিই কাল, আমি এর রাত ও দিনকে আবর্তিত করি।" এক বর্ণনা অন্য বর্ণনার ব্যাখ্যা প্রদান করে। সুতরাং ইবনে হাজম যেমনটি বলেছেন 'আদ-দাহর' আল্লাহর নামসমূহের অন্তর্ভুক্ত নয়, এটি তাঁর ভুলগুলোর একটি, আল্লাহ তাঁকে রহম করুন।

আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "তোমরা কালকে গালি দিও না, কেননা আল্লাহই হলেন কাল" প্রসঙ্গে বলা হবে:

এর অর্থ হলো কালের মালিক ও এতে কর্তৃত্বকারী, কালের মালিক, কালের পরিচালক এবং কালের পরিবর্তনকারী অর্থাৎ: রাত, দিন এবং সময়। এর দলিল হলো আল্লাহ তাআলা থেকে বর্ণিত দ্বিতীয় বর্ণনার এই বাণী: "আমার হাতেই সকল বিষয়, আমি রাত ও দিনকে আবর্তিত করি।"

অন্য শব্দে এসেছে: "আমি এর রাত ও দিনকে আবর্তিত করি।"

দ্বিতীয় শাখা: আল্লাহর নামসমূহ নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যায় সীমাবদ্ধ নয়

দ্বিতীয় শাখা: আল্লাহর নামসমূহ নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যায় সীমাবদ্ধ নয়; কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রসিদ্ধ হাদিসে বলেছেন: "হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট আপনার সেই প্রতিটি নামের উসিলায় প্রার্থনা করছি যা আপনি নিজের জন্য নামকরণ করেছেন, অথবা আপনার কিতাবে নাজিল করেছেন, অথবা আপনার সৃষ্টির কাউকে শিক্ষা দিয়েছেন, অথবা আপনার নিকট অদৃশ্য জ্ঞানের ভাণ্ডারে নিজের কাছেই সংরক্ষিত রেখেছেন।"

--------------------------------------------

(১) - সূরা আল-আরাফ, আয়াত: ১৮০।
(খণ্ড: ১) তালীকাতুন আলা শারহি লুমআতিল ইতিকাদ লির রাজেহী (পৃষ্ঠা: ৬)
أسماء الله ليست محددة، ما يقول الإنسان أسماء الله مائة أو مائتين أو ثلاثمائة أو ألف ما فيه دليل على الحصر، وأما قوله صلى الله عليه وسلم " إن لله تسعة وتسعين اسما من أحصاها دخل الجنة " ليس المراد الحصر بل المراد تسعة وتسعين اسما موصوفة بأن من أحصاها دخل الجنة، موصوفة بهذا الوصف "من أحصاها" يعني: حفظها وعمل بمقتضاها بما يمكن العمل بها، وهي غير محددة الآن، والحكمة في ذلك -والله أعلم- حتى يجتهد العلماء في البحث عنها في نصوص الكتاب والسنة ويعدوها ويحفظوها ويعملوا بها فهي موصوفة بهذا الوصف: " إن لله تسعة وتسعين اسما من أحصاها دخل الجنة " ولله أسماء أخرى غير موصوفة بهذا الوصف كما في الحديث الذي ذكره المؤلف: " أو استأثرت به في علم الغيب عندك " فيه أسماء استأثر بها الله بها لم يطلع عليها أحدًا.

وما استأثر الله به فلا يمكن حصره ولا الإحاطة به، والجميع بين هذا وبين قوله في الحديث الصحيح: " إن لله تسعة وتسعين اسما من أحصاها دخل الجنة " إن معنى هذا الحديث إن من أسماء الله تسعة وتسعين اسما من أحصاها دخل الجنة، وليس المراد حصر أسماء الله تعالى بهذا العدد.

المراد وصفها بهذا الوصف من أحصاها دخل الجنة.

الفرع الثالث أسماء الله لا تثبت بالعقل بل بالشرع

ونظير هذا أن تقول عندي مائة درهم أعدتها للصدقة فلا ينافي أن يكون عندك دراهم أخرى أعدتها لغير الصدقة.

الفرع الثالث: أسماء الله لا تثبت بالعقل، وإنما تثبت بالشرع فهي توقيفية.

هذه قاعدة معروفة أن أسماء الله توقيفية، ومعنى توقيفية يعني: يُوقف على ما جاء به الشرع يعني: مأخوذة من الشرع من النصوص من الكتاب والسنة، العقل ليس له مجال ما نخترع لله أسماء من عند أنفسنا، بل الأسماء توقيفية ما جاء في الكتاب والسنة من أسماء الله نُثبتها لله، وما جاء نفيه ننفيها عن الله، وما لم يرد في الكتاب والسنة نتوقف فيه، فالأسماء والصفات توقيفية.
আল্লাহর নামসমূহ সুনির্দিষ্ট নয়; মানুষ যদি আল্লাহর নাম একশ, দুইশ, তিনশ কিংবা এক হাজারও বলে, তবে তা সীমাবদ্ধ করার কোনো দলিল নেই। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী—"নিশ্চয়ই আল্লাহর নিরানব্বইটি নাম রয়েছে, যে ব্যক্তি সেগুলো সংরক্ষণ করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে"—এর অর্থ সংখ্যা সীমাবদ্ধ করা নয়। বরং এর অর্থ হলো এমন নিরানব্বইটি নাম যা এই বৈশিষ্ট্যে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত যে, যে ব্যক্তি সেগুলো সংরক্ষণ করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। "যে ব্যক্তি সেগুলো সংরক্ষণ করবে" এর অর্থ হলো: সেগুলো মুখস্থ করা এবং সেগুলোর দাবি অনুযায়ী আমল করা যেগুলোতে আমল করা সম্ভব। এই নামগুলো বর্তমানে সুনির্দিষ্ট নয় এবং এর হিকমত হলো—আল্লাহই ভালো জানেন—যাতে আলেমগণ কুরআন ও সুন্নাহর মূল পাঠসমূহ (নস) থেকে সেগুলো খুঁজে বের করার চেষ্টা করেন, সেগুলো গণনা করেন, মুখস্থ করেন এবং সে অনুযায়ী আমল করেন। এগুলো এই বিশেষ গুণ দ্বারা বর্ণিত: "নিশ্চয়ই আল্লাহর নিরানব্বইটি নাম রয়েছে, যে ব্যক্তি সেগুলো সংরক্ষণ করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।" আল্লাহর আরও এমন নাম রয়েছে যা এই গুণে গুণান্বিত নয়, যেমনটি লেখক উল্লিখিত হাদিসে বর্ণনা করেছেন: "অথবা আপনি আপনার নিকট অদৃশ্য জ্ঞানের ভাণ্ডারে নিজের জন্য যা নির্দিষ্ট করে রেখেছেন।" এতে এমন কিছু নামের কথা বলা হয়েছে যা আল্লাহ নিজের জন্য নির্দিষ্ট রেখেছেন এবং যা সম্পর্কে কাউকে অবগত করেননি।

যা আল্লাহ নিজের জন্য নির্দিষ্ট রেখেছেন তা সীমাবদ্ধ করা বা আয়ত্ত করা সম্ভব নয়। এই কথা এবং সহিহ হাদিসে বর্ণিত—"নিশ্চয়ই আল্লাহর নিরানব্বইটি নাম রয়েছে, যে ব্যক্তি সেগুলো সংরক্ষণ করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে"—এই কথার মধ্যে সমন্বয় হলো এই যে, এই হাদিসের অর্থ হলো—আল্লাহর নামসমূহের মধ্য থেকে এমন নিরানব্বইটি নাম রয়েছে যা যে ব্যক্তি সংরক্ষণ করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে; এর অর্থ এই নয় যে আল্লাহ তাআলার নামসমূহ কেবল এই সংখ্যার মধ্যেই সীমাবদ্ধ।

উদ্দেশ্য হলো সেগুলোকে এই গুণে গুণান্বিত করা যে, যে ব্যক্তি সেগুলো সংরক্ষণ করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।

তৃতীয় শাখা: আল্লাহর নামসমূহ বিবেক দিয়ে সাব্যস্ত হয় না, বরং শরিয়ত দ্বারা সাব্যস্ত হয়।

এর দৃষ্টান্ত হলো যেমন তোমার বলা—"আমার কাছে একশ দিরহাম আছে যা আমি সদকার জন্য প্রস্তুত রেখেছি।" এটি তোমার কাছে অন্য আরও দিরহাম থাকার বিষয়টিকে নাকচ করে না যা তুমি সদকা ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্যে রেখেছ।

তৃতীয় শাখা: আল্লাহর নামসমূহ বিবেক দিয়ে সাব্যস্ত হয় না, বরং তা কেবল শরিয়ত দ্বারাই সাব্যস্ত হয়; সুতরাং সেগুলো ভাষ্যনির্ভর (তাওকিফিয়্যাহ)।

এটি একটি সুপরিচিত মূলনীতি যে আল্লাহর নামসমূহ ভাষ্যনির্ভর। আর ভাষ্যনির্ভর হওয়ার অর্থ হলো: শরিয়তে যা এসেছে তার ওপরই সীমাবদ্ধ থাকা; অর্থাৎ তা শরিয়তের ভাষ্যসমূহ তথা কুরআন ও সুন্নাহ থেকে গৃহীত। এখানে বিবেকের কোনো অবকাশ নেই; আমরা নিজেদের পক্ষ থেকে আল্লাহর জন্য কোনো নাম উদ্ভাবন করব না। বরং নামসমূহ হলো ভাষ্যনির্ভর; কুরআন ও সুন্নাহতে আল্লাহর যে সকল নাম এসেছে আমরা সেগুলো আল্লাহর জন্য সাব্যস্ত করব, আর যেগুলোর অস্বীকৃতি এসেছে সেগুলো আমরা আল্লাহর ক্ষেত্রে অস্বীকার করব। আর কুরআন ও সুন্নাহতে যা উল্লেখ করা হয়নি সে বিষয়ে আমরা বিরত থাকব। সুতরাং আল্লাহর নাম ও গুণাবলি ভাষ্যনির্ভর।
(খণ্ড: ১) তালীকাতুন আলা শারহি লুমআতিল ইতিকাদ লির রাজেহী (পৃষ্ঠা: ৭)
الفرع الرابع كل اسم من أسماء الله يدل على ذات الله وعلى الصفة التي تضمنها

يتوقف في إثباتها على ما جاء عن الشرع فلا يُزاد فيها ولا ينقص؛ لأن العقل لا يمكنه إدراك ما يستحقه تعالى من الأسماء، فوجب الوقوف في ذلك على الشرع؛ ولأن تسميته بما لم يسم به نفسه، أو إنكار ما سمى به نفسه جناية في حقه تعالى فوجب سلوك الأدب في ذلك.

الفرع الرابع: كل اسم من أسماء الله فإنه يدل على ذات الله وعلى الصفة التي تضمنها وعلى الأثر المترتب عليه إن كان متعديًّا، ولا يتم الإيمان بالاسم إلا بإثبات ذلك كله.

مثل الرحمن يدل على إثبات الذات، ويدل على إثبات هذا الاسم لله، ويدل على صفة الرحمة، ويدل على الأثر وهو رحمة الله لعباده.

القاعدة الثالثة في صفات الله

الفرع الأول صفات الله كلها عليا

مثل ذلك في غير المتعدي العظيم فلا يتم الإيمان به حتى نؤمن بإثباته اسمًا من أسماء الله دالا على ذاته تعالى، وعلى ما تضمنه من الصفة وهي العظمة، ومثال ذلك في المتعدي "الرحمن" فلا يتم الإيمان به حتى نؤمن بإثباته اسمًا من أسماء الله دالا على ذاته تعالى، وعلى ما تضمنه من الصفة وهي الرحمة، وعلى ما ترتب عليه أثر وهو أنه يرحم من يشاء.

القاعدة الثالثة في صفات الله: وتحتها فروع أيضًا:

الفرع الأول: صفات الله كلها عليا، صفات كمال ومدح ليس فيها نقص بوجه من الوجوه كالحياة والعلم والقدرة والسمع والبصر والحكمة والرحمة والعلو وغير ذلك؛ لقوله تعالى: {وَلِلَّهِ الْمَثَلُ الْأَعْلَى} (1) ؛ ولأن الرب كامل فوجب كمال صفاته.

--------------------------------------------

(1) - سورة النحل آية: 60.
চতুর্থ শাখা: আল্লাহর নামসমূহের প্রতিটি আল্লাহর সত্তা এবং তাতে অন্তর্ভুক্ত গুণের (সিফাত) প্রমাণ বহন করে।

এগুলো সাব্যস্ত করার বিষয়টি শরিয়তের বর্ণনার ওপর নির্ভরশীল, সুতরাং এতে কোনো কিছু বাড়ানো যাবে না এবং কমানোও যাবে না; কারণ বুদ্ধি আল্লাহর প্রাপ্য নামসমূহ উপলব্ধি করতে সক্ষম নয়। তাই এক্ষেত্রে শরিয়তের ওপর নির্ভর করা আবশ্যক; আর আল্লাহ নিজেকে যে নামে ভূষিত করেননি সে নামে তাঁকে অভিহিত করা অথবা তিনি নিজেকে যে নামে অভিহিত করেছেন তা অস্বীকার করা মহান আল্লাহর প্রতি অন্যায়। সুতরাং এক্ষেত্রে শিষ্টাচার অবলম্বন করা আবশ্যক।

চতুর্থ শাখা: আল্লাহর নামসমূহের প্রতিটি আল্লাহর সত্তা এবং তাতে অন্তর্ভুক্ত গুণের প্রমাণ বহন করে, আর যদি তা অন্যের ওপর প্রভাব বিস্তারকারী (মুতাআদ্দি) হয় তবে তার সাথে সংশ্লিষ্ট প্রভাবকেও নির্দেশ করে। আর এই সকল বিষয় সাব্যস্ত করা ব্যতীত ওই নামের ওপর ঈমান পূর্ণ হয় না।

যেমন ‘আর-রাহমান’ আল্লাহর সত্তার প্রমাণ বহন করে, আল্লাহর জন্য এই নামটি সাব্যস্ত করার প্রমাণ দেয়, দয়া (রহমত) গুণের প্রমাণ দেয় এবং এর প্রভাব তথা বান্দাদের প্রতি আল্লাহর দয়া করার বিষয়টি প্রমাণ করে।

আল্লাহর গুণাবলি (সিফাত) সংক্রান্ত তৃতীয় নীতি

প্রথম শাখা: আল্লাহর সকল গুণাবলিই সর্বোচ্চ

অ-প্রভাব বিস্তারকারী (গায়রে মুতাআদ্দি) নামের ক্ষেত্রে উদাহরণ হলো ‘আল-আজিম’; সুতরাং এর প্রতি ঈমান পূর্ণ হবে না যতক্ষণ না আমরা আল্লাহর নামসমূহের একটি নাম হিসেবে একে সাব্যস্ত করব যা তাঁর মহান সত্তাকে নির্দেশ করে এবং তাতে অন্তর্ভুক্ত গুণকে নির্দেশ করে আর তা হলো মহত্ব (আজমত)। আর প্রভাব বিস্তারকারী (মুতাআদ্দি) নামের উদাহরণ হলো ‘আর-রাহমান’; সুতরাং এর প্রতি ঈমান পূর্ণ হবে না যতক্ষণ না আমরা আল্লাহর নামসমূহের একটি নাম হিসেবে একে সাব্যস্ত করব যা তাঁর মহান সত্তাকে নির্দেশ করে এবং তাতে অন্তর্ভুক্ত গুণকে নির্দেশ করে আর তা হলো দয়া (রহমত), এবং তার ফলে উদ্ভূত প্রভাবকে নির্দেশ করে আর তা হলো এই যে, তিনি যাকে ইচ্ছা দয়া করেন।

আল্লাহর গুণাবলি সংক্রান্ত তৃতীয় নীতি: এর অধীনেও কয়েকটি শাখা রয়েছে:

প্রথম শাখা: আল্লাহর সকল গুণাবলিই সর্বোচ্চ, এগুলো পূর্ণতা ও প্রশংসার গুণ যাতে কোনো দিক থেকেই কোনো ঘাটতি নেই। যেমন— জীবন (হায়াত), জ্ঞান (ইলম), ক্ষমতা (কুদরত), শ্রবণ (সাম’), দৃষ্টি (বাসার), প্রজ্ঞা (হিকমত), দয়া (রহমত), উচ্চতা (উলুউ) এবং অন্যান্য; কারণ মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর আল্লাহর জন্যই রয়েছে সর্বোচ্চ উদাহরণ} (১); আর যেহেতু রব পূর্ণাঙ্গ, তাই তাঁর গুণাবলি পূর্ণাঙ্গ হওয়া অনিবার্য।

--------------------------------------------

(১) - সূরা আন-নাহল, আয়াত: ৬০।
(খণ্ড: ১) তালীকাতুন আলা শারহি লুমআতিল ইতিকাদ লির রাজেহী (পৃষ্ঠা: ৮)
هذه قاعدة معلومة صفات الله كلها عليا وكلها كمال كما في قوله تعالى: {وَلِلَّهِ الْمَثَلُ الْأَعْلَى} (1) أي: الوصف الكامل كما أن أسماء الله حسنى: {وَلِلَّهِ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى فَادْعُوهُ بِهَا} (2) وكلها كمال والعلم والقدرة والحياة والسمع والبصر؛ ولهذا إذا كانت الصفة تحتمل الكمال وتحتمل النقص ما يوصف الله بها إذا كانت تحتمل هذا وهذا فلا يوصف الله بها، من ذلك ما أحدثه بعض المبتدعة مثل: الجسم والحيز والعرض والجهة فهذه كلها تحتمل حقًّا وباطلا؛ فلذلك ما جاء الشرع بإثباتها. أما صفات الله فكلها كاملة، وأسماء الله كلها حسنى؛ فلذلك أطلقها الله سبحانه وتعالى على نفسه.

وإذا كانت الصفة نقصًا لا كمال فيها فهي ممتنعة في حقه كالموت والجهل والعجز والصمم والعمى ونحو ذلك؛ لأنه سبحانه عاقب الواصفين له بالنقص، ونزه نفسه عما يصفونه به من النقائص.

{سُبْحَانَ اللَّهِ عَمَّا يَصِفُونَ (91) } (3) سبح نفسه ونزه نفسه عما يصفه به المشركون من النقائص والعيوب.

لأن الرب لا يمكن أن يكون ناقصًا؛ لمنافاة النقص للربوبية.

لأن الرب كامل سبحانه وتعالى، الربوبية تقتضي الكمال فلا يمكن أن يكون الرب إلا كاملا.

وإذا كانت الصفة كمالا من وجه ونقصًا من وجه لم تكن ثابتة لله ولا ممتنعة عليه على سبيل الإطلاق، بل لا بد من التفصيل، تثبت لله في الحال التي تكون كمالا، وتمتنع في الحال التي تكون نقصًا كالمكر والكيد والخداع ونحوها فهذه الصفات تكون كمالا إذا كانت في مقابلة مثلها؛ لأنها تدل على أن فاعلها ليس بعاجز عن مقابلة عدوه بمثل فعله، وتكون نقصًا في غير هذه الحال فتثبت لله في الحال الأولى دون الثانية.

--------------------------------------------

(1) - سورة النحل آية: 60.

(2) - سورة الأعراف آية: 180.

(3) - سورة المؤمنون آية: 91.
এটি একটি সুপরিচিত মূলনীতি যে, আল্লাহর সকল গুণাবলিই সুউচ্চ এবং সবই পূর্ণাঙ্গ, যেমনটি আল্লাহ তাআলার এই বাণীতে রয়েছে: {আর আল্লাহর জন্যই রয়েছে সর্বোচ্চ উদাহরণ} (১) অর্থাৎ: পূর্ণাঙ্গ গুণাবলি, যেমন আল্লাহর নামসমূহ অতি সুন্দর: {আর আল্লাহর জন্যই রয়েছে সুন্দরতম নামসমূহ, সুতরাং তোমরা তাঁকে সেসব নামেই ডাকো} (২) এবং এর প্রতিটিই পূর্ণাঙ্গ; যেমন: জ্ঞান, ক্ষমতা, জীবন, শ্রবণ এবং দর্শন। এই কারণেই, যদি কোনো গুণ পূর্ণতা এবং অপূর্ণতা উভয়টির সম্ভাবনা রাখে, তবে আল্লাহকে সেই গুণের মাধ্যমে বিশেষিত করা যাবে না; যদি তা এই ও ঐ (উভয়টির) সম্ভাবনা রাখে, তবে আল্লাহকে তা দ্বারা বিশেষিত করা হয় না। এর মধ্যে রয়েছে কতিপয় বিদআতিদের উদ্ভাবিত পরিভাষা যেমন: শরীর, স্থান, আকস্মিক গুণ এবং দিক; কারণ এগুলো সত্য এবং মিথ্যা উভয় অর্থই বহন করে। তাই শরীয়ত এগুলো সাব্যস্ত করার জন্য আসেনি। পক্ষান্তরে আল্লাহর গুণাবলি সবই পূর্ণাঙ্গ এবং আল্লাহর নামসমূহ সবই অতি সুন্দর; তাই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা এগুলো নিজের জন্য প্রয়োগ করেছেন।

আর যদি কোনো গুণ কেবল অপূর্ণতা নির্দেশক হয় যাতে কোনো পূর্ণতা নেই, তবে তা আল্লাহর ক্ষেত্রে অসম্ভব; যেমন: মৃত্যু, অজ্ঞতা, অক্ষমতা, বধিরতা, অন্ধত্ব এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো। কারণ তিনি সুবহানাহু ওয়া তাআলা যারা তাঁকে অপূর্ণতা দিয়ে বিশেষিত করে তাদের শাস্তি দিয়েছেন এবং তারা তাঁকে যেসব অপূর্ণতার মাধ্যমে বর্ণনা করে তা থেকে তিনি নিজেকে পবিত্র ঘোষণা করেছেন।

{তারা যা বর্ণনা করে তা থেকে আল্লাহ অতি পবিত্র (৯১)} (৩) তিনি নিজেকে মহিমান্বিত করেছেন এবং মুশরিকরা তাঁকে যেসব অপূর্ণতা ও দোষের মাধ্যমে বর্ণনা করে তা থেকে নিজেকে পবিত্র ঘোষণা করেছেন।

কারণ রবের পক্ষে অপূর্ণ হওয়া অসম্ভব; যেহেতু অপূর্ণতা রুবুবিয়্যাত বা প্রভুত্বের পরিপন্থী।

কারণ রব হলেন পূর্ণাঙ্গ, তিনি সুবহানাহু ওয়া তাআলা; রুবুবিয়্যাত পূর্ণতা দাবি করে, তাই রব পূর্ণাঙ্গ হওয়া ব্যতীত অন্য কিছু হওয়া সম্ভব নয়।

আর যদি কোনো গুণ একদিক থেকে পূর্ণতা এবং অন্য দিক থেকে অপূর্ণতা বুঝায়, তবে তা আল্লাহর জন্য নিরঙ্কুশভাবে সাব্যস্তও নয় এবং তাঁর ক্ষেত্রে নিরঙ্কুশভাবে অসম্ভবও নয়; বরং এক্ষেত্রে বিস্তারিত ব্যাখ্যার প্রয়োজন। এটি আল্লাহর জন্য সেই অবস্থায় সাব্যস্ত হবে যখন তা পূর্ণতা প্রকাশ করে, আর সেই অবস্থায় অসম্ভব হবে যখন তা অপূর্ণতা প্রকাশ করে। যেমন: কৌশল, ষড়যন্ত্র, প্রতারণা এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো। এই গুণগুলো তখনই পূর্ণতা হিসেবে গণ্য হয় যখন তা অনুরূপ আচরণের বিপরীতে (প্রতিবিধান হিসেবে) করা হয়; কারণ এটি প্রমাণ করে যে, এর কর্তা তাঁর শত্রুর অনুরূপ আচরণের বিপরীতে জবাব দিতে অক্ষম নন। আর এই অবস্থা ব্যতীত অন্য সময় তা অপূর্ণতা হিসেবে গণ্য হয়। সুতরাং এগুলো প্রথম অবস্থায় আল্লাহর জন্য সাব্যস্ত হবে, দ্বিতীয় অবস্থায় নয়।

--------------------------------------------

(১) - সূরা আন-নাহল, আয়াত: ৬০।

(২) - সূরা আল-আরাফ, আয়াত: ১৮০।

(৩) - সূরা আল-মুমিনুন, আয়াত: ৯১।
(খণ্ড: ১) তালীকাতুন আলা শারহি লুমআতিল ইতিকাদ লির রাজেহী (পৃষ্ঠা: ৯)
ولا تطلق على الله إلا باللفظ التي وردت مثل لفظ المكر جاء بلفظ الفعل {وَيَمْكُرُونَ وَيَمْكُرُ اللَّهُ وَاللَّهُ خَيْرُ الْمَاكِرِينَ (30) } (1) نقول: يمكر الله بمن مكر به، الله خير الماكرين، أما أن يُشتق وصف لله فيقال من وصف الله الماكر لا هذا نقص، ما يقال من وصف الله الماكر ولا من صفات الله المكر لكن بأنه يمكر بمن يمكر به: {وَيَمْكُرُونَ وَيَمْكُرُ اللَّهُ} (2) ولا يكيد الله من كاده، ولا يشتق صفة لله فلا يقال من أوصاف الله الكائد لا {اللَّهُ يَسْتَهْزِئُ بِهِمْ} (3) يستهزئ الله بالمنافقين على لفظ الفعل، ولا يقال من أوصاف الله المستهزئ، بخلاف الصفات التي جاء إطلاقها مثل العلم والحياة والسمع والبصر تطلق على الله.

فالصفات لها أحوال ثلاثة:

الحالة الأولى: أن تأتي الصفة مطلقة على الله مثل العلم والحياة نُطلقها على الله.

الحالة الثانية: تأتي على لفظ الفعل فلا تطلق على الله إلا على لفظ الفعل {يَكِيدُونَ كَيْدًا (15) } (4) ، {اللَّهُ يَسْتَهْزِئُ بِهِمْ} (5) ما يقال من أوصاف الله المستهزئ، يقال الله مستهزئ بالمنافقين.

الحالة الثالثة: تأتي على لفظ الفعل، وتأتي أيضًا مضافة مثل {يُخَادِعُونَ اللَّهَ وَهُوَ خَادِعُهُمْ} (6) نقول: إن الله خادع للمنافقين ، يخدع الله المنافقين {يُخَادِعُونَ اللَّهَ وَهُوَ خَادِعُهُمْ} (7) الله خادع للمنافقين، فإذا جاءت على لفظ الفعل تبقى على لفظ الفعل، وإذا جاءت مضافة مع لفظ الفعل تُثبت لله على الإضافة، وإذا جاءت مطلقة تُثبت مطلقة مثل الحياة والسمع والبصر هذه مطلقة بدون قيد.

--------------------------------------------

(1) - سورة الأنفال آية: 30.

(2) - سورة الأنفال آية: 30.

(3) - سورة البقرة آية: 15.

(4) - سورة الطارق آية: 15.

(5) - سورة البقرة آية: 15.

(6) - سورة النساء آية: 142.

(7) - سورة النساء آية: 142.
আল্লাহর ক্ষেত্রে কেবল সেই শব্দগুলোই প্রয়োগ করা যাবে যা বর্ণিত হয়েছে। যেমন কৌশল (মাকর) শব্দটি ক্রিয়াবাচক শব্দে এসেছে: {তারা কৌশল করে এবং আল্লাহও কৌশল করেন, আর আল্লাহই শ্রেষ্ঠ কৌশলী (৩০)} (১)। আমরা বলি: আল্লাহ তার সাথে কৌশল করেন যে তাঁর সাথে কৌশল করে, আল্লাহ শ্রেষ্ঠ কৌশলী। তবে আল্লাহর জন্য কোনো গুণ উদ্ভূত করে এমন বলা যাবে না যে 'আল্লাহর একটি গুণ হলো কৌশলী'—না, এটি একটি ত্রুটি। আল্লাহর বর্ণনায় 'কৌশলী' বলা যাবে না এবং আল্লাহর গুণাবলির মধ্যেও (সাধারণভাবে) 'কৌশল' বলা যাবে না; বরং তিনি তার সাথে কৌশল করেন যে তাঁর সাথে কৌশল করে: {তারা কৌশল করে এবং আল্লাহও কৌশল করেন} (২)। আর আল্লাহ তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেন না যে তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে [অর্থাৎ কেবল প্রতিক্রিয়াস্বরূপ করেন], এবং আল্লাহর জন্য (এর থেকে) কোনো গুণ উদ্ভূত করা যাবে না, তাই আল্লাহর গুণাবলির মধ্যে 'ষড়যন্ত্রকারী' বলা যাবে না। {আল্লাহ তাদের সাথে উপহাস করেন} (৩); আল্লাহ মুনাফিকদের সাথে উপহাস করেন—ক্রিয়াবাচক শব্দের ভিত্তিতে। তবে আল্লাহর গুণাবলির মধ্যে 'উপহাসকারী' বলা যাবে না। এটি ঐ সকল গুণের বিপরীত যা নিঃশর্তভাবে বর্ণিত হয়েছে যেমন জ্ঞান, জীবন, শ্রবণ ও দর্শন—এগুলো আল্লাহর ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়।

সুতরাং গুণাবলির তিনটি অবস্থা রয়েছে:

প্রথম অবস্থা: গুণটি আল্লাহর ক্ষেত্রে নিঃশর্তভাবে আসা, যেমন জ্ঞান ও জীবন; এগুলো আমরা আল্লাহর জন্য প্রয়োগ করি।

দ্বিতীয় অবস্থা: ক্রিয়াবাচক শব্দে আসা। সেক্ষেত্রে কেবল ক্রিয়াবাচক শব্দেই তা আল্লাহর জন্য প্রয়োগ করা যাবে। যেমন: {তারা ভীষণ কৌশল করে (১৫)} (৪), {আল্লাহ তাদের সাথে উপহাস করেন} (৫)। আল্লাহর গুণাবলির ক্ষেত্রে 'উপহাসকারী' বলা যাবে না, বরং বলা হবে 'আল্লাহ মুনাফিকদের সাথে উপহাসকারী'।

তৃতীয় অবস্থা: ক্রিয়াবাচক শব্দে আসা এবং সম্বন্ধযুক্ত অবস্থায়ও আসা। যেমন: {তারা আল্লাহর সাথে প্রতারণা করে অথচ তিনি তাদের সাথে প্রতারণাকারী} (৬)। আমরা বলি: নিশ্চয়ই আল্লাহ মুনাফিকদের সাথে প্রতারণাকারী, আল্লাহ মুনাফিকদের ধোঁকায় ফেলেন {তারা আল্লাহর সাথে প্রতারণা করে এবং তিনি তাদের সাথে প্রতারণাকারী} (৭)। আল্লাহ মুনাফিকদের সাথে প্রতারণাকারী। সুতরাং যদি ক্রিয়াবাচক শব্দে আসে তবে তা ক্রিয়াবাচক শব্দেই থাকবে, আর যদি ক্রিয়াবাচক শব্দের সাথে সম্বন্ধযুক্ত অবস্থায় আসে তবে তা সম্বন্ধযুক্ত হিসেবেই আল্লাহর জন্য সাব্যস্ত হবে। আর যদি নিঃশর্তভাবে আসে তবে তা নিঃশর্তভাবেই সাব্যস্ত হবে, যেমন জীবন, শ্রবণ ও দর্শন—এগুলো কোনো সীমাবদ্ধতা ছাড়াই নিঃশর্ত।

--------------------------------------------

(১) - সূরা আল-আনফাল, আয়াত: ৩০।

(২) - সূরা আল-আনফাল, আয়াত: ৩০।

(৩) - সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৫।

(৪) - সূরা আত-তারিক, আয়াত: ১৫।

(٥) - সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৫।

(৬) - সূরা আন-নিসা, আয়াত: ১৪২।

(৭) - সূরা আন-নিসা, আয়াত: ১৪২।
(খণ্ড: ১) তালীকাতুন আলা শারহি লুমআতিল ইতিকাদ লির রাজেহী (পৃষ্ঠা: ১০)
قال الله تعالى: {وَيَمْكُرُونَ وَيَمْكُرُ اللَّهُ وَاللَّهُ خَيْرُ الْمَاكِرِينَ (30) } (1) {إِنَّهُمْ يَكِيدُونَ كَيْدًا (15) وَأَكِيدُ كَيْدًا (16) } (2) .

ومن ذلك قوله تعالى: {كَذَلِكَ كِدْنَا لِيُوسُفَ مَا كَانَ لِيَأْخُذَ أَخَاهُ فِي دِينِ الْمَلِكِ إِلَّا أَنْ يَشَاءَ اللَّهُ} (3) الله تعالى كاد ليوسف في مقابل كيد إخوته له، إخوة يوسف كادوا له قال الله تعالى في أول سورة يوسف لما رأى يوسف الرؤية، وأخبر أباه: {قَالَ يَا بُنَيَّ لَا تَقْصُصْ رُؤْيَاكَ عَلَى إِخْوَتِكَ فَيَكِيدُوا لَكَ كَيْدًا} (4) كادوا له كيف؟ القرآن الكريم دبروا حيلة ليأخذوه من أبيهم، وجاءوا لأبيهم وقالوا: {يَا أَبَانَا مَا لَكَ لَا تَأْمَنَّا عَلَى يُوسُفَ وَإِنَّا لَهُ لَنَاصِحُونَ (11) أَرْسِلْهُ مَعَنَا غَدًا يَرْتَعْ وَيَلْعَبْ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ (12) قَالَ إِنِّي لَيَحْزُنُنِي أَنْ تَذْهَبُوا بِهِ} (5) .

--------------------------------------------

(1) - سورة الأنفال آية: 30.

(2) - سورة الطارق آية: 15-16.

(3) - سورة يوسف آية: 76.

(4) - سورة يوسف آية: 5.

(5) - سورة يوسف آية: 11-13.
আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর তারা কৌশল করছিল এবং আল্লাহও কৌশল করছিলেন, আর আল্লাহ শ্রেষ্ঠ কৌশলী (৩০)} (১) {নিশ্চয়ই তারা গভীর কৌশল অবলম্বন করছে (১৫) এবং আমিও এক বিশেষ কৌশল করছি (১৬)} (২)।

আর তারই অন্তর্ভুক্ত হলো আল্লাহ তাআলার এই বাণী: {এভাবে আমি ইউসুফের জন্য কৌশল করেছিলাম; সে রাজার আইনে তার ভাইকে গ্রহণ করতে পারত না, যদি না আল্লাহ ইচ্ছা করতেন} (৩)। আল্লাহ তাআলা ইউসুফের ভাইদের ষড়যন্ত্রের বিপরীতে ইউসুফের জন্য কৌশল করেছিলেন। ইউসুফের ভাইয়েরা তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছিল। আল্লাহ তাআলা সূরা ইউসুফের শুরুতে বলেছেন যখন ইউসুফ স্বপ্ন দেখলেন এবং তার পিতাকে তা জানালেন: {তিনি বললেন: হে বৎস! তোমার স্বপ্নের কথা তোমার ভাইদের নিকট বর্ণনা করো না, নতুবা তারা তোমার বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র করবে} (৪)। তারা কীভাবে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছিল? পবিত্র কুরআন অনুসারে, তারা তাকে তার পিতার নিকট থেকে নিয়ে যাওয়ার জন্য একটি কৌশল অবলম্বন করেছিল এবং তারা তাদের পিতার নিকট এসে বলল: {হে আমাদের পিতা! আপনার কী হয়েছে যে, আপনি ইউসুফের ব্যাপারে আমাদের নিরাপদ মনে করছেন না? অথচ আমরা অবশ্যই তার হিতাকাঙ্ক্ষী (১১)। আগামীকাল তাকে আমাদের সাথে পাঠান যাতে সে তৃপ্তিভরে খেতে পারে ও খেলাধুলা করতে পারে, আর অবশ্যই আমরা তার রক্ষণাবেক্ষণকারী (১২)। তিনি বললেন: নিশ্চয়ই এটা আমাকে ব্যথিত করে যে তোমরা তাকে নিয়ে যাবে (১৩)} (৫)।

--------------------------------------------

(১) - সূরা আল-আনফাল, আয়াত: ৩০।

(২) - সূরা আত-তারিক, আয়াত: ১৫-১৬।

(৩) - সূরা ইউসুফ, আয়াত: ৭৬।

(৪) - সূরা ইউসুফ, আয়াত: ৫।

(৫) - সূরা ইউসুফ, আয়াত: ১১-১৩।
(খণ্ড: ১) তালীকাতুন আলা শারহি লুমআতিল ইতিকাদ লির রাজেহী (পৃষ্ঠা: ১১)
فما زالوا حتى دفعه إليهم، فكادوا وألقوه في غيابة الجب كما قال الله في القرآن الكريم، ثم بعد ذلك بعد مدة طويلة لما صارت العاقبة الحميدة له، وصار على خزائن مصر وجاء إخوته إليه صار الناس كلهم يجيئون من كل مكان يكتالون بعدما جاءت السنين الجدب -كما هو معروف- يوسف عليه السلام، وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته قال: {ائْتُونِي بِأَخٍ لَكُمْ مِنْ أَبِيكُمْ} (1) وإلا فلا كيل فعرفهم وهم لم يعرفوه قالوا: {سَنُرَاوِدُ عَنْهُ أَبَاهُ وَإِنَّا لَفَاعِلُونَ (61) } (2) لنا أخ لكن متمسك به أبونا، فما زالوا بأبيهم حتى جاءوا به، بعد ذلك كاد الله ليوسف، يوسف قال لفتيانه: اجعلوا الصواع في رحل أخيه يعني: يُوهم أنه أخذه.

ثم بعد ذلك كال لهم، وذهبوا ثم جاءهم المنادي: {أَذَّنَ مُؤَذِّنٌ أَيَّتُهَا الْعِيرُ إِنَّكُمْ لَسَارِقُونَ (70) قَالُوا وَأَقْبَلُوا عَلَيْهِمْ مَاذَا تَفْقِدُونَ (71) قَالُوا نَفْقِدُ صُوَاعَ الْمَلِكِ وَلِمَنْ جَاءَ بِهِ حِمْلُ بَعِيرٍ وَأَنَا بِهِ زَعِيمٌ (72) قَالُوا تَاللَّهِ لَقَدْ عَلِمْتُمْ مَا جِئْنَا لِنُفْسِدَ فِي الْأَرْضِ وَمَا كُنَّا سَارِقِينَ (73) } (3) ما جئنا لنفسد وما جئنا لنسرق، نحن الآن نريد أن نكتال ونذهب إلى أهلنا: {قَالُوا فَمَا جَزَاؤُهُ إِنْ كُنْتُمْ كَاذِبِينَ (74) قَالُوا جَزَاؤُهُ مَنْ وُجِدَ فِي رَحْلِهِ فَهُوَ جَزَاؤُهُ} (4) الذي يوجد في رحله يؤخذ -هذا من الكيد- قال تعالى: {كَذَلِكَ كِدْنَا لِيُوسُفَ} (5) كاد الله ليوسف: {قَالُوا جَزَاؤُهُ مَنْ وُجِدَ فِي رَحْلِهِ فَهُوَ جَزَاؤُهُ كَذَلِكَ نَجْزِي الظَّالِمِينَ (75) } (6) .

--------------------------------------------

(1) - سورة يوسف آية: 59.

(2) - سورة يوسف آية: 61.

(3) - سورة يوسف آية: 70-73.

(4) - سورة يوسف آية: 74-75.

(5) - سورة يوسف آية: 76.

(6) - سورة يوسف آية: 75.
তারা অনবরত পিড়াপিড়ি করতে থাকল যতক্ষণ না তিনি তাকে তাদের কাছে সোপর্দ করলেন। অতঃপর তারা ষড়যন্ত্র করল এবং তাকে কূয়োর গভীর অন্ধকারে নিক্ষেপ করল যেমনটি আল্লাহ পবিত্র কুরআনে বলেছেন। এরপর দীর্ঘ সময় পর যখন তার জন্য শুভ পরিণাম নির্ধারিত হলো এবং তিনি মিশরের অর্থভাণ্ডারের দায়িত্বে অধিষ্ঠিত হলেন এবং তার ভাইয়েরা তার কাছে এল, তখন সব মানুষ দুর্ভিক্ষ শুরু হওয়ার পর - যেমনটি জানা আছে - খাদ্যশস্য সংগ্রহের জন্য সব স্থান থেকে আসতে লাগল। ইউসুফ আলাইহিস সালাম, ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। তিনি বললেন: "তোমাদের পিতার পক্ষ থেকে তোমাদের যে এক ভাই আছে তাকে আমার কাছে নিয়ে এসো।" নতুবা তোমাদের জন্য কোনো শস্যের বরাদ্দ থাকবে না। অতঃপর তিনি তাদের চিনতে পারলেন কিন্তু তারা তাকে চিনতে পারল না। তারা বলল: "আমরা তার ব্যাপারে তার পিতার মন জয় করার চেষ্টা করব এবং আমরা অবশ্যই এটা করব।" আমাদের এক ভাই আছে কিন্তু আমাদের পিতা তাকে আঁকড়ে ধরে আছেন। অতঃপর তারা তাদের পিতার সাথে অনবরত পিড়াপিড়ি করতে থাকল যতক্ষণ না তারা তাকে নিয়ে এল। এরপর আল্লাহ ইউসুফের জন্য কৌশল করলেন। ইউসুফ তার সেবকদের বললেন: তোমরা তার ভাইয়ের মালপত্রের ভেতরে পরিমাপ পাত্রটি রেখে দাও। অর্থাৎ, তিনি এটা বোঝাতে চাইলেন যেন তিনি এটি নিয়েছেন।

অতঃপর তিনি তাদের শস্য মেপে দিলেন এবং তারা চলে গেল। এরপর একজন ঘোষণাকারী তাদের উদ্দেশ্যে ডেকে বলল: "হে কাফেলার লোকেরা! তোমরা তো চোর।" তারা তাদের দিকে এগিয়ে এসে বলল: "তোমাদের কী হারিয়েছে?" তারা বলল: "আমরা বাদশাহর পরিমাপ পাত্রটি হারিয়েছি; আর যে ব্যক্তি তা এনে দেবে তার জন্য এক উটের বোঝাই পুরস্কার রয়েছে এবং আমি এর জামিনদার।" তারা বলল: "আল্লাহর কসম! তোমরা তো জানো যে আমরা এ দেশে ফাসাদ সৃষ্টি করতে আসিনি এবং আমরা চোরও নই।" আমরা ফাসাদ করতে আসিনি এবং চুরি করতেও আসিনি, আমরা এখন খাদ্যশস্য সংগ্রহ করে আমাদের পরিবারের কাছে ফিরে যেতে চাই। তারা বলল: "যদি তোমরা মিথ্যাবাদী হও তবে তার শাস্তি কী হবে?" তারা বলল: "যার মালপত্রের ভেতর এটি পাওয়া যাবে, সেই তার বিনিময় হবে (অর্থাৎ তাকেই দাস হিসেবে রাখা হবে)।" যার মালপত্রের ভেতর এটি পাওয়া যাবে তাকেই নেওয়া হবে—এটি ছিল কৌশলের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ তাআলা বলেন: "এভাবেই আমি ইউসুফের জন্য কৌশল করেছিলাম।" আল্লাহ ইউসুফের জন্য কৌশল করেছিলেন। "তারা বলল: যার মালপত্রের মধ্যে এটি পাওয়া যাবে, সেই তার বিনিময়। এভাবেই আমরা জালেমদের শাস্তি দিয়ে থাকি।"

--------------------------------------------

(১) - সূরা ইউসুফ আয়াত: ৫৯।

(২) - সূরা ইউসুফ আয়াত: ৬১।

(৩) - সূরা ইউসুফ আয়াত: ৭০-৭৩।

(৪) - সূরা ইউসুফ আয়াত: ৭৪-৭৫।

(৫) - সূরা ইউসুফ আয়াত: ৭৬।

(৬) - সূরা ইউসুফ আয়াত: ৭৫।
(খণ্ড: ১) তালীকাতুন আলা শারহি লুমআতিল ইতিকাদ লির রাজেহী (পৃষ্ঠা: ১২)
بعد ذلك قال: {كَذَلِكَ كِدْنَا لِيُوسُفَ مَا كَانَ لِيَأْخُذَ أَخَاهُ فِي دِينِ الْمَلِكِ} (1) يعني: لو لم يقولوا هذا القول استطاعوا أن يأخذوه؛ لأنه في دين الملك وفي شريعة الملك ما يؤخذ بالصواع يكون له عقوبة أخرى غير هذه، لكن لما هم حكموا على أنفسهم قالوا: {مَنْ وُجِدَ فِي رَحْلِهِ فَهُوَ جَزَاؤُهُ} (2) خلاص بعد ذلك قالوا: خذ أحدنا مكانه، قال: لا نحن لسنا ظالمين {مَعَاذَ اللَّهِ أَنْ نَأْخُذَ إِلَّا مَنْ وَجَدْنَا مَتَاعَنَا عِنْدَهُ إِنَّا إِذًا لَظَالِمُونَ (79) } (3) أنتم حكمتم خلاص وجدناه، نأخذ من وجدناه عنده، هذا من الكيد الذي كاده الله ليوسف مقابل كيدهم السابق، كيد في مقابل كيد: {كَذَلِكَ كِدْنَا لِيُوسُفَ مَا كَانَ لِيَأْخُذَ أَخَاهُ فِي دِينِ الْمَلِكِ إِلَّا أَنْ يَشَاءَ اللَّهُ} (4) ما كان في شريعة الملك إلا أن يأخذوا إلا بهذا الكيد.

الفرع الثاني صفات الله تنقسم إلى ثبوتية وسلبية

{إِنَّ الْمُنَافِقِينَ يُخَادِعُونَ اللَّهَ وَهُوَ خَادِعُهُمْ} (5) إلى غير ذلك، فإذا قيل: هل يوصف الله بالمكر مثلا؟ فلا تقل نعم، ولا تقل لا، ولكن قل هو ماكر بمن يستحق ذلك والله أعلم.

الفرع الثاني: صفات الله تنقسم إلى قسمين: ثبوتية وسلبية، فالثبوتية: ما أثبتها الله لنفسه كالحياة والعلم والقدرة، ويجب إثباتها لله على الوجه اللائق به؛ لأن الله أثبتها لنفسه، وهو أعلم بصفاته، والسلبية: هي التي نفاها الله عن نفسه كالظلم فيجب نفيها عن الله.

--------------------------------------------

(1) - سورة يوسف آية: 76.

(2) - سورة يوسف آية: 75.

(3) - سورة يوسف آية: 79.

(4) - سورة يوسف آية: 76.

(5) - سورة النساء آية: 142.
এর পর তিনি বললেন: "এভাবে আমি ইউসুফের জন্য কৌশল করেছিলাম। রাজার আইনে তার পক্ষে স্বীয় ভাইকে পাকড়াও করা সম্ভব ছিল না।" অর্থাৎ: তারা যদি এই কথা না বলত তবে তারা তাকে নিতে পারত; কারণ রাজার আইনে এবং রাজার শরিয়তে পানপাত্র চুরির জন্য এই শাস্তির পরিবর্তে অন্য কোনো শাস্তি নির্ধারিত ছিল। কিন্তু যখন তারা নিজেরাই নিজেদের বিরুদ্ধে ফয়সালা করল এবং বলল: "যার মালপত্রের মধ্যে ওটা পাওয়া যাবে, সে-ই হবে এর বিনিময়।" এরপর তারা বলল: আমাদের একজনকে তার পরিবর্তে গ্রহণ করুন। তিনি বললেন: না, আমরা জালিম নই; "আল্লাহর পানাহ! যার কাছে আমরা আমাদের পণ্য পেয়েছি তাকে ছাড়া অন্য কাউকে পাকড়াও করা থেকে। তবে তো আমরা অবশ্যই জালিম হয়ে যাব।" তোমরা ফয়সালা করেছ আর আমরা ওটা পেয়ে গেছি, সুতরাং যার কাছে ওটা পাওয়া গেছে তাকেই আমরা গ্রহণ করব। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে ইউসুফের জন্য সেই কৌশল ছিল যা তাদের পূর্ববর্তী কৌশলের বিপরীতে করা হয়েছে; কৌশলের বিপরীতে কৌশল: "এভাবে আমি ইউসুফের জন্য কৌশল করেছিলাম। রাজার আইনে তার পক্ষে স্বীয় ভাইকে পাকড়াও করা সম্ভব ছিল না আল্লাহ যা চেয়েছেন তা ছাড়া।" রাজার শরিয়তে এই কৌশল ছাড়া তাদের গ্রহণ করার কোনো উপায় ছিল না।

দ্বিতীয় শাখা: আল্লাহর গুণাবলী ইতিবাচক এবং নেতিবাচক—এই দুই ভাগে বিভক্ত।

"নিশ্চয়ই মুনাফিকরা আল্লাহর সাথে প্রতারণা করে, আর তিনিও তাদের সাথে প্রতারণা করেন।" এ জাতীয় অন্যান্য আয়াত। সুতরাং যদি বলা হয়: আল্লাহকে কি কৌশলকারী বা 'মাকর' গুণে গুণান্বিত করা যাবে? তবে 'হ্যাঁ' বোলো না এবং 'না'-ও বোলো না; বরং বলো: যারা এর যোগ্য তাদের সাথে তিনি কৌশলকারী। আর আল্লাহই ভালো জানেন।

দ্বিতীয় শাখা: আল্লাহর গুণাবলী দুই ভাগে বিভক্ত: ইতিবাচক এবং নেতিবাচক। ইতিবাচক গুণাবলী হলো: যেগুলো আল্লাহ নিজের জন্য সাব্যস্ত করেছেন, যেমন—জীবন, জ্ঞান এবং ক্ষমতা। আল্লাহর শানের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ পন্থায় এগুলো তাঁর জন্য সাব্যস্ত করা ওয়াজিব; কারণ আল্লাহ এগুলো নিজের জন্য সাব্যস্ত করেছেন এবং তিনি তাঁর গুণাবলী সম্পর্কে সম্যক অবগত। আর নেতিবাচক গুণাবলী হলো: যেগুলো আল্লাহ নিজের থেকে নাকচ করেছেন, যেমন—অবিচার বা জুলুম; সুতরাং এগুলো আল্লাহর ক্ষেত্রে অস্বীকার করা ওয়াজিব।

--------------------------------------------

(১) - সূরা ইউসুফ আয়াত: ৭৬।

(২) - সূরা ইউসুফ আয়াত: ৭৫।

(৩) - সূরা ইউসুফ আয়াত: ৭৯।

(৪) - সূরা ইউসুফ আয়াত: ৭৬।

(৫) - সূরা আন-নিসা আয়াত: ১৪২।
(খণ্ড: ১) তালীকাতুন আলা শারহি লুমআতিল ইতিকাদ লির রাজেহী (পৃষ্ঠা: ১৩)
لكنها تستلزم إثبات ضدها من الكمال، كما ذكر ابن القيم رحمه الله في الكافية الشافية: الصفات تنقسم إلى قسمين: ثبوتية وسلبية، ثبوتية: مثل السمع والحياة والبصر، سلبية النفي لكنها تستلزم إثبات ضدها من الكمال ليس نفيا صرفا؛ لأن النفي الصرف المحض لا كمال فيه مثل نفي الظلم، نفى الله عن نفسه الظلم إثبات كمال العدل {وَلَا يَظْلِمُ رَبُّكَ أَحَدًا (49) } (1) ؛ لكمال عدله، نفى أن يعزب عنه مثقال ذرة في السماوات ولا في الأرض؛ لكمال علمه: {وَمَا يَعْزُبُ عَنْ رَبِّكَ مِنْ مِثْقَالِ ذَرَّةٍ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ} (2) ؛ لكمال علمه.

نفى الموت {لَا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ} (3) السنة والنوم؛ لكمال حياته وقيوميته {وَلَا يَئُودُهُ حِفْظُهُمَا} (4) ؛ لكمال قوته وقدرته، وهكذا فالنفي ليس نفيا صرفا وإنما هو نفي يستلزم إثبات ضده من الكمال.

والسلبية هي التي نفاها الله عن نفسه كالظلم فيجب نفيها عن الله؛ لأن الله نفاها عن نفسه لكن يجب اعتقاد ضدها لله على الوجه الأكمل، لأن النفي لا يكون كمالا حتى يضمن ثبوتا، مثال ذلك قول الله تعالى: {وَلَا يَظْلِمُ رَبُّكَ أَحَدًا (49) } (5) فيجب نفي الظلم عن الله مع اعتقاد ثبوت العدل على الوجه الأكمل.

ومثال النفي الصرف الذي لا كمال فيه مثل قول الشاعر يذم قبيلة:

قُبَيِّلة لا يغدرون بذمة

ولا يظلمون الناس حبة خردل

نفى عنهم الغدر، ونفى عنهم الظلم، لكن كمال عجزهم لا يغدرن لعجزهم، وهذا نفي صرف. متى يكون كمالا إذا كان لا يغدر وهو قادر؟، أما إذا كان عاجزا ما صار كمالا؛ ولهذا صغرهم فقال:

قُبَيِّلة لا يغدرون بذمة

ولا يظلمون الناس حبة خردل

--------------------------------------------

(1) - سورة الكهف آية: 49.

(2) - سورة يونس آية: 61.

(3) - سورة البقرة آية: 255.

(4) - سورة البقرة آية: 255.

(5) - سورة الكهف آية: 49.
কিন্তু তা বিপরীত গুণের পূর্ণতা সাব্যস্ত করাকে অপরিহার্য করে, যেমন ইবনুল কাইয়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর 'আল-কাফিয়া আশ-শাফিয়া' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন: গুণাবলি দুই ভাগে বিভক্ত: ইতিবাচক (সুুবুতিয়্যাহ) এবং নেতিবাচক (সালবিয়্যাহ)। ইতিবাচক: যেমন শ্রবণ, জীবন এবং দৃষ্টি। নেতিবাচক হলো নাকচ করা, তবে তা বিপরীত গুণের পূর্ণতা সাব্যস্ত করাকে অপরিহার্য করে; এটি নিছক নাকচ করা নয়। কারণ নিছক বা কেবল নাকচ করার মধ্যে কোনো পূর্ণতা নেই। যেমন জুলুম বা অন্যায়ের অস্বীকৃতি। আল্লাহ নিজের সত্তা থেকে জুলুমকে নাকচ করেছেন তাঁর পূর্ণ ইনসাফ সাব্যস্ত করার জন্য—{আর আপনার রব কারও প্রতি জুলুম করেন না (৪৯)} (১); তাঁর পূর্ণ ইনসাফের কারণে। তিনি নাকচ করেছেন যে আসমান বা জমিনে একটি অণু পরিমাণ জিনিসও তাঁর অগোচরে থাকে—{আপনার রবের অগোচরে থাকে না জমিন বা আসমানের অণু পরিমাণ কোনো কিছুও} (২); তাঁর পূর্ণ জ্ঞানের কারণে।

তিনি মৃত্যুকে নাকচ করেছেন—{তাঁকে তন্দ্রা বা নিদ্রা স্পর্শ করে না} (৩)—তন্দ্রা এবং নিদ্রাকে (নাকচ করেছেন); তাঁর পূর্ণ জীবন এবং চিরস্থায়িত্বের (কাইয়্যুমিয়্যাহ) কারণে—{আর এ দুটির রক্ষণাবেক্ষণ তাঁকে ক্লান্ত করে না} (৪); তাঁর পূর্ণ শক্তি ও ক্ষমতার কারণে। এভাবেই (সাব্যস্ত হয় যে), নাকচ করা কেবল নিছক নাকচ নয়, বরং এটি এমন নাকচ যা তার বিপরীত গুণের পূর্ণতা সাব্যস্ত করাকে অপরিহার্য করে।

আর নেতিবাচক গুণাবলি হলো সেগুলো যা আল্লাহ নিজের সত্তা থেকে নাকচ করেছেন, যেমন জুলুম; তাই আল্লাহর শানে তা নাকচ করা আবশ্যক। কারণ আল্লাহ তা নিজের সত্তা থেকে নাকচ করেছেন। তবে এর বিপরীতে আল্লাহর জন্য পূর্ণাঙ্গরূপে বিপরীত গুণটি বিশ্বাস করা আবশ্যক। কারণ কোনো কিছু নাকচ করা ততক্ষণ পূর্ণতা হয় না যতক্ষণ না তা কোনো ইতিবাচক বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে। এর উদাহরণ হলো আল্লাহ তাআলার বাণী: {আর আপনার রব কারও প্রতি জুলুম করেন না (৪৯)} (৫)। অতএব আল্লাহর শানে জুলুমকে নাকচ করা আবশ্যক এবং সাথে সাথে পূর্ণাঙ্গরূপে ইনসাফ সাব্যস্ত হওয়ার বিশ্বাস রাখাও আবশ্যক।

আর নিছক নাকচ করার উদাহরণ যাতে কোনো পূর্ণতা নেই, তা হলো এক কবির কবিতা যেখানে তিনি একটি গোত্রের নিন্দা করেছেন:

একটি ক্ষুদ্র গোত্র, যারা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে না

আর মানুষের প্রতি সরিষা দানা পরিমাণ জুলুমও করে না

কবি তাদের থেকে বিশ্বাসঘাতকতা এবং জুলুম নাকচ করেছেন, কিন্তু তাদের চরম অক্ষমতার কারণে তারা বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারে না; এটি হলো নিছক নাকচ করা। এটি কখন পূর্ণতা হতো? যখন কেউ সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও বিশ্বাসঘাতকতা করে না। কিন্তু যখন সে অক্ষম হয়, তখন তা আর পূর্ণতা থাকে না। এই কারণেই কবি তাদের তুচ্ছার্থে বলেছেন:

একটি ক্ষুদ্র গোত্র, যারা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে না

আর মানুষের প্রতি সরিষা দানা পরিমাণ জুলুমও করে না

--------------------------------------------

(১) - সূরা আল-কাহফ, আয়াত: ৪৯।

(২) - সূরা ইউনুস, আয়াত: ৬১।

(৩) - সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ২৫৫।

(৪) - সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ২৫৫।

(৫) - সূরা আল-কাহফ, আয়াত: ৪৯।
(খণ্ড: ১) তালীকাতুন আলা শারহি লুমআতিল ইতিকাদ লির রাজেহী (পৃষ্ঠা: ১৪)
هذا كمال لا يغدرون ولا يظلمون لكن لعجزهم لو قدروا لظلموا وغدروا لكنهم لا يغدرون ولا يظلمون لعجزهم هذا نفي صرف لا يأتي في صفات الله عز وجل.

الفرع الثالث الصفات الثبوتية تنقسم إلى ذاتية وفعلية

الفرع الثالث: الصفات الثبوتية تنقسم إلى قسمين: ذاتية وفعلية، فالذاتية: هي التي لم يزل ولا يزال متصفا بها كالسمع والبصر، والفعلية: هي التي تتعلق بمشيئته إن شاء فعلها وإن شاء لم يفعلها كالاستواء على العرش والمجيء، وربما تكون الصفة ذاتية فعلية باعتبارين كالكلام فإنه باعتبار أصل الصفة صفة ذاتية؛ لأن الله لم يزل ولا يزال متكلما، وباعتبار آحاد الكلام صفة فعلية؛ لأن الكلام متعلق بمشيئته يتكلم بما شاء متى شاء.

الصفات كما سبق تنقسم إلى: سلبية وثبوتية، والسلبية كما تقدم متضمنة لإثبات ضدها من الكمال كنفي السنة والنوم لإثبات كمال الحياة والقيومية، نفي عزوب شيء عنه لإثبات كمال علمه {وَمَا يَعْزُبُ عَنْ رَبِّكَ مِنْ مِثْقَالِ ذَرَّةٍ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ} (1) وهكذا نفي الظلم لإثبات كمال عدله.

هذه إثبات الصفات السلبية، لا ترد في جناب الرب سبحانه وتعالى لا ترد صفة سلبية إلا لإثبات ضدها من الكمال.

--------------------------------------------

(1) - سورة يونس آية: 61.
এটি এমন এক পূর্ণতা যে তারা বিশ্বাসঘাতকতা করে না এবং জুলুম করে না, তবে তা তাদের অক্ষমতার কারণে; যদি তারা সক্ষম হতো তবে তারা জুলুম ও বিশ্বাসঘাতকতা করত। কিন্তু তারা তাদের অক্ষমতার কারণেই বিশ্বাসঘাতকতা ও জুলুম করে না। এটি নিছক নেতিবাচকতা (নফিয়ে সরফ), যা মহান আল্লাহর গুণাবলির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

তৃতীয় শাখা: ইতিবাচক গুণাবলি সত্তাগত ও কর্মগত—এই দুই ভাগে বিভক্ত।

তৃতীয় শাখা: ইতিবাচক গুণাবলি (সিফাতে সুবূতিয়্যাহ) দুই ভাগে বিভক্ত: সত্তাগত (জাতীয়্যাহ) ও কর্মগত (ফেলিয়্যাহ)। সত্তাগত গুণাবলি হলো সেগুলো, যেগুলোর মাধ্যমে তিনি অনাদিকাল থেকে বিশেষিত এবং অনন্তকাল বিশেষিত থাকবেন, যেমন: শ্রবণ ও দর্শন। আর কর্মগত গুণাবলি হলো সেগুলো, যা তাঁর ইচ্ছার সাথে সংশ্লিষ্ট; তিনি চাইলে তা করেন আর না চাইলে করেন না, যেমন: আরশের উপর উঠা এবং আগমন করা। আবার কখনও কখনও কোনো গুণ দুই বিবেচনায় সত্তাগত ও কর্মগত উভয়ই হতে পারে, যেমন: কথা বলা। গুণটির মূল বা উৎসের দিক থেকে এটি একটি সত্তাগত গুণ; কারণ আল্লাহ অনাদিকাল থেকে কথা বলেন এবং অনন্তকাল কথা বলবেন। আর কথার প্রতিটি এককের দিক থেকে এটি একটি কর্মগত গুণ; কারণ কথা বলা তাঁর ইচ্ছার সাথে সংশ্লিষ্ট, তিনি যখন যা ইচ্ছা বলেন।

গুণাবলি ইতিপূর্বে যেমন অতিক্রান্ত হয়েছে—নেতিবাচক (সালবিয়্যাহ) ও ইতিবাচক (সুবূতিয়্যাহ)—এই দুই ভাগে বিভক্ত। আর নেতিবাচক গুণাবলি পূর্বে যেমন বর্ণিত হয়েছে, তার বিপরীত পূর্ণতাকে সাব্যস্ত করা অন্তর্ভুক্ত করে; যেমন: পূর্ণ জীবন ও কাইয়ুমিয়্যাহ (অবিনশ্বরতা) সাব্যস্ত করার জন্য তন্দ্রা ও নিদ্রাকে অস্বীকার করা হয়েছে। তাঁর জ্ঞানের পূর্ণতা সাব্যস্ত করার জন্য কোনো কিছু তাঁর অগোচরে থাকাকে অস্বীকার করা হয়েছে: {আপনার রবের নিকট থেকে আসমান ও জমিনের অণু পরিমাণ কোনো কিছুই গোপন থাকে না} (১)। একইভাবে তাঁর ইনসাফের পূর্ণতা সাব্যস্ত করার জন্য জুলুমকে অস্বীকার করা হয়েছে।

এটি নেতিবাচক গুণাবলির সাব্যস্তকরণ; মহান রবের শানে কোনো নেতিবাচক গুণ উল্লেখ করা হয় না কেবল তার বিপরীত পূর্ণতাকে সাব্যস্ত করার উদ্দেশ্য ছাড়া।

--------------------------------------------

(১) - সূরা ইউনুস, আয়াত: ৬১।
(খণ্ড: ১) তালীকাতুন আলা শারহি লুমআতিল ইতিকাদ লির রাজেহী (পৃষ্ঠা: ১৫)
{لَا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ} (1) لكمال حياته وقيوميته، {لَا يَعْزُبُ عَنْهُ مِثْقَالُ ذَرَّةٍ فِي السَّمَاوَاتِ وَلَا فِي الْأَرْضِ} (2) لإثبات كمال علمه، {وَلَا يَئُودُهُ حِفْظُهُمَا} (3) لإثبات كمال قوته واقتداره {وَلَا يَظْلِمُ رَبُّكَ أَحَدًا (49) } (4) ؛ لكمال عدله، وهكذا لأن النفي الذي لا يتضمن إثبات ضده من الكمال نفي محض، والنفي المحض لا كمال فيه، يوصف به الجماد كالجدار وغيره، يوصف بالصفات السلبية التي لا تتضمن كمالا ومن ذلك المخلوق الذي يوصف بصفة لا تتضمن إثبات ضدها من الكمال مثل الشاعر كما سبق يذم القبيلة:

قُبَيِّلَة لا يغدرون بذمة

ولا يظلمون الناس حبة خردل

نفى عنهم الغدر، ونفى عنهم الظلم مع عجزهم لا يسمى كمالا لا يغدرون لأنهم عاجزون، هم لو قدروا لغدروا، ولا يظلمون لكونهم عاجزين، ولا تكون كمالا إلا إذا كانت مع القدرة، الذي لا يغدر مع القدرة على الغدر هذا هو الكمال، والذي لا يظلم مع القدرة على الظلم هذا هو الكمال، أما إذا كان عاجزا فلا يكون كاملا.

ثم الصفات الثبوتية تنقسم إلى قسمين: صفات ذاتية وصفات فعلية.

صفات ذاتية: ضابطها أنها لا تنفك عن الباري في وقت من الأوقات كالسمع والبصر والعلم والقدرة والحياة والعلو والعظمة والكبرياء والعزة هذه ملازمة لله ما يقال في وقت عالي وفي وقت ليس بعالي. ثبوتية ذاتية لا تنفك عن الباري.

--------------------------------------------

(1) - سورة البقرة آية: 255.

(2) - سورة سبأ آية: 3.

(3) - سورة البقرة آية: 255.

(4) - سورة الكهف آية: 49.
{তাঁকে তন্দ্রা এবং নিদ্রা স্পর্শ করে না} (১) তাঁর জীবন ও চিরস্থায়িত্বের পূর্ণতার কারণে, {আসমানসমূহ ও যমীনে অণু পরিমাণ কোনো কিছুই তাঁর অগোচরে থাকে না} (২) তাঁর জ্ঞানের পূর্ণতা প্রমাণের জন্য, {আর সে দুটির রক্ষণাবেক্ষণ তাঁর জন্য ক্লান্তিকর নয়} (৩) তাঁর শক্তি ও সক্ষমতার পূর্ণতা প্রমাণের জন্য {আর আপনার রব কারও প্রতি জুলুম করেন না (৪৯)} (৪); তাঁর ন্যায়ের পূর্ণতার কারণে। আর বিষয়টি এভাবেই, কারণ যে নেতিবাচকতা তার বিপরীত কোনো পূর্ণতার গুণকে অন্তর্ভুক্ত করে না, তা নিছক নেতিবাচকতা; আর নিছক নেতিবাচকতায় কোনো পূর্ণতা নেই। জড়বস্তু যেমন দেওয়াল বা অন্য কিছুকে এমন নেতিবাচক গুণ দ্বারা বিশেষিত করা যায় যাতে কোনো পূর্ণতা নেই। একইভাবে সেই সৃষ্টিকেও এমন গুণের অধিকারী বলা যায় যাতে তার বিপরীত কোনো পূর্ণতা প্রমাণিত হয় না, যেমনটি কবি কর্তৃক একটি গোত্রের নিন্দা করার ক্ষেত্রে পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে:

এক ক্ষুদ্র গোত্র যারা অঙ্গীকার ভঙ্গ করে না

আর মানুষের প্রতি সরিষার দানা পরিমাণও জুলুম করে না

এখানে তাদের থেকে অঙ্গীকার ভঙ্গ এবং জুলুমকে নাকচ করা হয়েছে তাদের অক্ষমতার কারণে, একে পূর্ণতা বলা যায় না। তারা অঙ্গীকার ভঙ্গ করে না কারণ তারা অক্ষম; তারা সক্ষম হলে অবশ্যই অঙ্গীকার ভঙ্গ করত। আর তারা জুলুম করে না কারণ তারা দুর্বল। এগুলো ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণতা হবে না যতক্ষণ না তা সক্ষমতার সাথে হয়। যে ব্যক্তি সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও অঙ্গীকার ভঙ্গ করে না, সেটাই হলো পূর্ণতা। আর যে ব্যক্তি সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও জুলুম করে না, সেটাই হলো পূর্ণতা। কিন্তু যদি সে অক্ষম হয়, তবে সে পূর্ণাঙ্গ হবে না।

অতঃপর ইতিবাচক গুণাবলী দুই ভাগে বিভক্ত: সত্তাগত গুণাবলী এবং কর্মগত গুণাবলী।

সত্তাগত গুণাবলী: এর মূলনীতি হলো এগুলো কোনো সময়েই স্রষ্টা থেকে বিচ্ছিন্ন হয় না, যেমন শ্রবণ, দর্শন, জ্ঞান, ক্ষমতা, জীবন, উচ্চতা, মহিমা, শ্রেষ্ঠত্ব এবং মর্যাদা। এগুলো আল্লাহর সত্তার সাথে সর্বদা অবিচ্ছেদ্য। এমন বলা যাবে না যে কোনো এক সময় তিনি উচ্চ ছিলেন আর কোনো এক সময় উচ্চ ছিলেন না। এগুলো ইতিবাচক সত্তাগত গুণ যা স্রষ্টা থেকে বিচ্ছিন্ন হয় না।

--------------------------------------------

(১) - সূরা আল-বাকারাহ আয়াত: ২৫৫।

(২) - সূরা সাবা আয়াত: ৩।

(৩) - সূরা আল-বাকারাহ আয়াত: ২৫৫।

(৪) - সূরা আল-কাহাফ আয়াত: ৪৯।
(খণ্ড: ১) তালীকাতুন আলা শারহি লুমআতিল ইতিকাদ লির রাজেহী (পৃষ্ঠা: ১৬)
أما الصفات الفعلية: فهي التي تتعلق بالمشيئة والاختيار مثل الكلام والخلق والرزق والإماتة والإحياء والاستواء والنزول هذه صفات فعلية ينزل إذا شاء، استوى على العرش كان بعد خلق السماوات والأرض دل على أنه في وقت كان مستويًا، وفي وقت لم يكن مستويًا، والكلام يقال إنه صفة ذاتية وصفة فعلية باعتبار ذات أصل الكلام هو ذاتي؛ لأن نوع الكلام قديم، أما أفراد الكلام فهي حادثة يتكلم إذا شاء لكن أصل الكلام قديم لم يزل ولا يزال خلافًا للكرامية الذين يقولون: إن الرب كان معطلا عن الكلام، هناك فترة كان الكلام ممتنعا على الرب ثم انقلب فجأة فصار متكلما هذا من أبطل الباطل -كلام الكرامية-، وشبهتهم في هذا أنهم يقولون: إذا قلنا إن الرب يتكلم لزم من ذلك تسلسل الحوادث؛ لأن الله يخلق بالكلام فتكون الحوادث متسلسلة، فإذا تسلسلت انسد علينا طريق إثبات الصانع فلا نستطيع أن نثبت أن الله هو الأول إلا بإثبات فترة فنقول هذا من أبطل الباطل إثبات ما عليها دليل.

ثانيًا: أنه يلزم منها خلو الرب من الكمال من الخلق والكلام صفة الكمال والخلق والفعل كمال {إِنَّ رَبَّكَ هُوَ الْخَلَّاقُ الْعَلِيمُ (86) } (1) {فَعَّالٌ لِمَا يُرِيدُ (107) } (2) ما دليلكم على هذه الفترة؟

أما هذه الشبهة فإنها تزول فإننا نقول أن كل فرد من الأفراد المخلوقات المتسلسلة مسبوق بالعدم أوجده الله بعد أن لم يكن خلقه الله بعد أن لم يكن خلقه الله مسبوق بالعدم أوجده الله ويكفي هذا، أما إيجاد فترة وإثبات فترة فهذا باطل وليس عليه دليل، ويلزم منه تنقص الرب سبحانه وتعالى وتعطيله من صفات الكمال الخلق والفعل.

الفرع الرابع كل صفة من صفات الله فإنه يتوجه عليها ثلاثة أسئلة

الفرع الرابع: كل صفة من صفات الله فإنه يتوجه عليها ثلاثة أسئلة:

السؤال الأول: هل هي حقيقة ولماذا؟

السؤال الثاني: هل يجوز تكييفها ولماذا؟

--------------------------------------------

(1) - سورة الحجر آية: 86.

(2) - سورة هود آية: 107.
ক্রিয়ামূলক গুণাবলী (সিফাত ফি’লিয়্যাহ) প্রসঙ্গে: এগুলো হলো সেই গুণাবলী যা ইচ্ছা ও নির্বাচনের সাথে সম্পৃক্ত, যেমন কথা বলা, সৃষ্টি করা, রিজিক দান, মৃত্যু ঘটানো, জীবন দান, উঠা এবং অবতরণ। এগুলো ক্রিয়ামূলক গুণাবলী; তিনি যখন চান অবতরণ করেন। তিনি আরশের উপর উঠেছেন আসমান ও জমিন সৃষ্টির পরে, যা নির্দেশ করে যে তিনি এক সময়ে আরশের উপর উঠেছেন এবং এক সময়ে তিনি উঠা অবস্থায় ছিলেন না। আর কথা বলা (কালাম) সম্পর্কে বলা হয় যে এটি সত্তাগত গুণ (সিফাত যাতিয়্যাহ) এবং ক্রিয়ামূলক গুণ (সিফাত ফি’লিয়্যাহ) উভয়ই; মূল কালামের সত্তার বিবেচনায় এটি সত্তাগত, কারণ কালামের ধরন অনাদি। আর কালামের একক অংশগুলো হলো আপতিত, তিনি যখন চান কথা বলেন। কিন্তু কালামের মূল অনাদি, তা সর্বদা ছিল এবং থাকবে। এটি কাররামিয়াদের মতের বিপরীত, যারা বলে: রব কথা বলা থেকে রিক্ত ছিলেন, একটি সময় ছিল যখন রবের জন্য কথা বলা অসম্ভব ছিল, তারপর হঠাৎ পরিবর্তন ঘটে এবং তিনি কথা বলা শুরু করেন। কাররামিয়াদের এই বক্তব্য চরম ভ্রান্ত। তাদের সংশয় হলো তারা বলে: যদি আমরা বলি রব কথা বলেন, তবে এর মাধ্যমে কার্যাবলীর পরম্পরা আবশ্যক হয়ে পড়ে; কারণ আল্লাহ কথার মাধ্যমে সৃষ্টি করেন, ফলে সৃষ্টিজগত পরম্পরাযুক্ত হয়ে যাবে। আর যদি পরম্পরা সাব্যস্ত হয়, তবে আমাদের জন্য স্রষ্টাকে প্রমাণ করার পথ রুদ্ধ হয়ে যাবে। ফলে আমরা আল্লাহকে ‘প্রথম’ হিসেবে প্রমাণ করতে পারব না একটি সুনির্দিষ্ট সময়কাল সাব্যস্ত করা ব্যতীত। আমরা বলব যে, দলিলহীন এই দাবি সাব্যস্ত করা চরম ভ্রান্ত।

দ্বিতীয়ত: এর দ্বারা আবশ্যক হয়ে পড়ে যে রব পূর্ণতা থেকে অর্থাৎ সৃষ্টি করা ও কথা বলা থেকে রিক্ত ছিলেন, অথচ সৃষ্টি করা ও কর্ম সম্পাদন করা পূর্ণতার গুণ। "নিশ্চয় আপনার রবই হচ্ছেন মহাস্রষ্টা, মহাজ্ঞানী (৮৬)" (১) "তিনি যা চান তা-ই সম্পাদনকারী (১০৭)" (২) এই মধ্যবর্তী সময়কালের সপক্ষে তোমাদের দলিল কী?

আর এই সংশয় দূরীভূত হয়ে যায় এভাবে যে, আমরা বলি—পরম্পরাযুক্ত প্রতিটি সৃষ্টি এককভাবে অস্তিত্বহীনতা দ্বারা পূর্ববর্তী। আল্লাহ সেগুলোকে অস্তিত্বে এনেছেন যখন সেগুলো ছিল না। আল্লাহ সেগুলোকে সৃষ্টি করেছেন অস্তিত্বহীনতার পর। আল্লাহ সেগুলোকে অস্তিত্ব দান করেছেন এবং এটিই যথেষ্ট। কিন্তু একটি নির্দিষ্ট সময়কাল উদ্ভাবন করা এবং তা সাব্যস্ত করা বাতিল, এর কোনো দলিল নেই। আর এর দ্বারা মহান রবকে ত্রুটিযুক্ত সাব্যস্ত করা এবং তাঁর পূর্ণতার গুণাবলী—সৃষ্টি ও কর্ম থেকে তাঁকে রিক্ত রাখা আবশ্যক হয়ে পড়ে।

চতুর্থ শাখা: আল্লাহর প্রতিটি গুণের ক্ষেত্রে তিনটি প্রশ্ন উত্থাপিত হয়।

চতুর্থ শাখা: আল্লাহর প্রতিটি গুণের ক্ষেত্রে তিনটি প্রশ্ন উত্থাপিত হয়:

প্রথম প্রশ্ন: এটি কি প্রকৃত এবং কেন?

দ্বিতীয় প্রশ্ন: এর ধরন নির্ধারণ করা কি জায়েয এবং কেন?

--------------------------------------------

(১) - সূরা আল-হিজর, আয়াত: ৮৬।

(২) - সূরা হুদ, আয়াত: ১০৭।
(খণ্ড: ১) তালীকাতুন আলা শারহি লুমআতিল ইতিকাদ লির রাজেহী (পৃষ্ঠা: ১৭)
السؤال الثالث: هل تماثل صفات المخلوقين ولماذا؟

فجواب السؤال الأول: نعم حقيقة لأن الأصل في الكلام الحقيقة فلا يعدل عنها إلا بدليل صحيح يمنع منها.

وجواب الثاني: لا يجوز تكييفها؛ لقوله تعالى: {وَلَا يُحِيطُونَ بِهِ عِلْمًا (110) } (1) ، ولأن العقل لا يمكنه إدراك صفات الله.

وجواب الثالث: لا تماثل صفات المخلوقين لقوله تعالى: {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ} (2) ولأن الله مستحق للكمال الذي لا غاية فوقه فلا يمكن أن يماثل المخلوق؛ لأنه ناقص والخلق بين التمثيل والتكييف أن التمثيل ذكر كيفية الصفة مقيدة بمماثل، والتكييف ذكر كيفية الصفة غير مقيدة بمماثل.

التمثيل يعني يقول مثل كذا الصفة مثل صفة المخلوق هذا التمثيل والتكييف يقول لها كيفية كذا وكذا لها كيفية ولا يحددها، التكييف منفي والتمثيل منفي فصفات الله لها كيفية لا يعلمها إلا هو سبحانه، لا يعلم البشر شيئا فلا يجوز للمخلوق أن يمثل ولا يكيف.

القاعدة الرابعة في الرد على المعطلة

مثال التمثيل أن يقول قائل يد الله كيد الإنسان ومثال التكييف أن يتخيل ليد الله كيفية معينة لا مثيل لها في أيدي المخلوقين فلا يجوز هذا التخيل.

القاعدة الرابعة فيما نرد على المعطلة، المعطلة هم الذين ينكرون شيئا من أسماء الله أو صفاته، ويحرفون النصوص عن ظاهرها ويقال لهم المؤولة.

--------------------------------------------

(1) - سورة طه آية: 110.

(2) - سورة الشورى آية: 11.
তৃতীয় প্রশ্ন: (আল্লাহর গুণাবলি কি) সৃষ্টিজগতের গুণাবলির সদৃশ এবং কেন?

প্রথম প্রশ্নের উত্তর: হ্যাঁ, এগুলো প্রকৃতপক্ষে সত্য। কারণ কথার ক্ষেত্রে মূল নীতি হলো তা প্রকৃত অর্থেই গ্রহণ করা, যতক্ষণ না তা থেকে বিরত রাখার মতো কোনো সঠিক প্রমাণ পাওয়া যায়।

দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর: সেগুলোর ধরণ বা প্রকৃতি (তাকয়িফ) বর্ণনা করা বৈধ নয়; মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {আর তারা জ্ঞান দ্বারা তাঁকে বেষ্টন করতে পারে না (১১০)} (১), এবং এ কারণে যে, মানুষের বুদ্ধি আল্লাহর গুণাবলি উপলব্ধি করতে সক্ষম নয়।

তৃতীয় প্রশ্নের উত্তর: আল্লাহর গুণাবলি সৃষ্টিজগতের গুণাবলির সদৃশ নয়; মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়} (২)। কারণ আল্লাহ এমন পূর্ণতার অধিকারী যার ঊর্ধ্বে কোনো চূড়ান্ত সীমা নেই, তাই তিনি সৃষ্টির সদৃশ হওয়া অসম্ভব; যেহেতু সৃষ্টি ত্রুটিপূর্ণ। আর 'তামসিল' (সদৃশ করা) ও 'তাকয়িফ' (ধরণ নির্ধারণ)-এর মধ্যে পার্থক্য হলো: তামসিল হলো কোনো গুণের ধরণকে অন্য কোনো সদৃশ বস্তুর সাথে সম্পৃক্ত করে উল্লেখ করা, আর তাকয়িফ হলো কোনো গুণের ধরণকে অন্য কোনো সদৃশ বস্তুর সাথে সম্পৃক্ত না করেই উল্লেখ করা।

তামসিল মানে হলো এ কথা বলা যে, এই গুণটি অমুকের মতো, অর্থাৎ গুণটি সৃষ্টির গুণের মতো—এটিই হলো তামসিল। আর তাকয়িফ হলো এ কথা বলা যে, এর ধরণ এমন ও তেমন, অর্থাৎ এর একটি ধরণ রয়েছে কিন্তু তা নির্দিষ্ট করা হয় না। তাকয়িফ ও তামসিল উভয়ই প্রত্যাখ্যাত। সুতরাং আল্লাহর গুণাবলির অবশ্যই প্রকৃত ধরণ রয়েছে যা তিনি সুবহানাহু ব্যতীত আর কেউ জানে না। মানুষ এ বিষয়ে কিছুই জানে না, তাই সৃষ্টির জন্য (আল্লাহর গুণাবলিকে) সদৃশ করা বা ধরণ নির্ধারণ করা বৈধ নয়।

মুয়াত্তিলাদের (গুণাবলি অস্বীকারকারী) খণ্ডনে চতুর্থ মূলনীতি

তামসিলের উদাহরণ হলো কারো এ কথা বলা যে, "আল্লাহর হাত মানুষের হাতের মতো"। আর তাকয়িফের উদাহরণ হলো আল্লাহর হাতের জন্য এমন একটি বিশেষ ধরণ কল্পনা করা যার কোনো সদৃশ সৃষ্টিজগতের হাতসমূহের মধ্যে নেই; এ জাতীয় কল্পনা করাও বৈধ নয়।

মুয়াত্তিলাদের খণ্ডনে চতুর্থ মূলনীতি: মুয়াত্তিলা হলো তারা যারা আল্লাহর নামসমূহ বা গুণাবলির কোনো কিছুকে অস্বীকার করে এবং (কুরআন-সুন্নাহর) ভাষ্যসমূহকে সেগুলোর প্রকাশ্য অর্থ থেকে বিকৃত করে; তাদের 'মুয়াউয়িলা' (অপব্যাখ্যাকারী)-ও বলা হয়।

--------------------------------------------

(১) - সূরা ত্বা-হা, আয়াত: ১১০।

(২) - সূরা আশ-শূরা, আয়াত: ১১।
(খণ্ড: ১) তালীকাতুন আলা শারহি লুমআতিল ইতিকাদ লির রাজেহী (পৃষ্ঠা: ১৮)
المعطلة من التعطيل وهو خلو وفراغ الترك، ومنه قولهم: {وَبِئْرٍ مُعَطَّلَةٍ} (1) وهي التي عطلت من الدلاء فلا ينزح منها الماء: {وَبِئْرٍ مُعَطَّلَةٍ وَقَصْرٍ مَشِيدٍ (45) } (2) ويقال امرأ ة عطل إذا لم يكن عليها حلي وعطل الإبل عن رعيها والدار عن ساكنها فالدار إذا لم يكن فيها ساكن يقال معطلة، والمرأة إذا لم يكن عليها حلي يقال معطلة في مادة (ع ط ل) تدل على الخلو والفراغ والترك، وكذلك من عطل هذا العالم المخلوقات عن صانعه خلقه وأوجده يقال: معطل الجاحد الملحد الذي يعطل المخلوقات من خالقها يقال معطل، وكذلك من أنكر الأسماء والصفات يقال له معطل؛ لأنه عطل الخالق من كماله وهم ثلاثة طبقات -المعطلة-:

الطبقة الأولى: الذين ينكرون وهم الجهمية وهؤلاء أشدهم تعطيلا.

الطبقة الثانية: الذين يعطلون الصفات ويثبتون الأسماء، ينكرون الصفات ويثبتون الأسماء هؤلاء يقال لهم معتزلة.

الطائفة الثالثة: الذين يثبتون الأسماء وسبع صفات وينكرون بقية الصفات، يثبتون سبع وهي: الحياة والكلام والسمع والبصر والإرادة والقدرة والعلم:

له الحياة والكلام والبصر

سمع وإرادة وعلم واقتدر

وينكرون بقية الصفات وهم الأشاعرة، بعضهم يثبت عشرين، وبعضهم يثبت أربعين، وهؤلاء أقلهم تعقيدا، وأقربهم إلى أهل السنة وهم الأشاعرة.

بيان معنى لمعة الاعتقاد

ويقال لهم المؤولة والقاعدة العامة فيما نرد به عليهم أن نقول قولهم خلاف ظاهر النصوص وخلاف طريقة السلف، وليس عليه دليل صحيح، وربما يكون في بعض الصفات وجه رابع أو أكثر.

لمعة الاعتقاد:

اللمعة تطلق في اللغة العربية على معان: منها البلغة من العيش وهذا المعنى أنسب معنى لموضوع هذا الكتاب، فمعنى لمعة الاعتقاد هنا: البلغة من الاعتقاد الصحيح المطابق لمذهب السلف -رضوان الله عليهم-.

والاعتقاد: الحكم الذهني الجازم فإن طابق الواقع فصحيح وإلا ففاسد.

--------------------------------------------

(1) - سورة الحج آية: 45.

(2) - سورة الحج آية: 45.

هذا الاعتقاد الحكم الذهني الجازم ولكن قد يكون حقا وقد يكون باطلا، فأهل السنة عندهم اعتقاد صحيح وأهل البدع عندهم اعتقاد جازم لكنه باطل يكون غير موافق للحق، المعتزلة يعتقدون أن الله لا يتصف بالصفات لكن هذا باطل وإن كانوا يعتقدون ذلك. لمعة الاعتقاد يعني: شيء من الاعتقاد الصحيح الذي يوافق الكتاب والسنة.
মুয়াত্তিলা শব্দটি তাতিল থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ হলো খালি হওয়া, শূন্য হওয়া এবং পরিত্যাগ করা। এ থেকেই এসেছে তাদের বক্তব্য: {এবং একটি পরিত্যক্ত কূপ} (১), আর এটি এমন এক কূপ যা বালতি হতে শূন্য হয়ে পড়েছে, ফলে সেখান থেকে আর পানি উত্তোলন করা হয়না: {এবং পরিত্যক্ত কূপ ও সুউচ্চ প্রাসাদ (৪৫)} (২)। বলা হয়ে থাকে যে, অলঙ্কারহীন নারীকে 'আতল' বলা হয় যখন তার কোনো গয়না থাকে না। চারণভূমি থেকে উটকে সরিয়ে দেওয়া কিংবা জনবসতি থেকে বাড়িকে শূন্য করাকেও তাতিল বলা হয়। সুতরাং বাড়িতে যখন কোনো বাসিন্দা থাকে না তখন তাকে মুয়াত্তিলা বলা হয় এবং নারীর অঙ্গে যখন কোনো অলঙ্কার থাকে না তাকেও মুয়াত্তিলা বলা হয়। আইন-ত-লাম (ع ط ل) মূলবর্ণটি খালি হওয়া, শূন্য হওয়া এবং পরিত্যক্ত হওয়া নির্দেশ করে। ঠিক তেমনিভাবে, যারা এই সৃষ্টজগতকে এর স্রষ্টা ও অস্তিত্বদানকারী থেকে বিচ্ছিন্ন বা শূন্য মনে করে, তাদেরও মুয়াত্তিল বলা হয়। সেই অস্বীকারকারী নাস্তিক যে সৃষ্টিজগতকে তার স্রষ্টা থেকে বিচ্ছিন্ন মনে করে তাকে মুয়াত্তিল বলা হয়। একইভাবে যারা আল্লাহর নাম ও গুণাবলীকে অস্বীকার করে তাদেরও মুয়াত্তিল বলা হয়; কারণ সে স্রষ্টাকে তাঁর পূর্ণতা থেকে শূন্য করে দিয়েছে। এই মুয়াত্তিলারা তিন স্তরের:

প্রথম স্তর: যারা আল্লাহর নাম ও গুণাবলী উভয়ই অস্বীকার করে এবং তারা হলো জাহমিয়াহ। এরা অস্বীকারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে চরমপন্থী।

দ্বিতীয় স্তর: যারা গুণাবলী অস্বীকার করে কিন্তু নামসমূহ সাব্যস্ত করে। তারা গুণাবলী অস্বীকার করে এবং নামসমূহ মেনে নেয়; এদেরকে মুতাজিলা বলা হয়।

তৃতীয় স্তর: যারা আল্লাহর নামসমূহ এবং সাতটি গুণ সাব্যস্ত করে কিন্তু অবশিষ্ট গুণাবলী অস্বীকার করে। তারা যে সাতটি গুণ সাব্যস্ত করে তা হলো: জীবন, কালাম (কথা), শ্রবণ, দৃষ্টি, ইচ্ছা, ক্ষমতা ও জ্ঞান:

তাঁর রয়েছে জীবন, কালাম ও দৃষ্টি

শ্রবণ, ইচ্ছা, জ্ঞান ও ক্ষমতা

এবং তারা অবশিষ্ট গুণাবলী অস্বীকার করে, তারা হলো আশআরিয়া। তাদের কেউ কেউ বিশটি গুণ সাব্যস্ত করে, আবার কেউ কেউ চল্লিশটি। এরা বিভ্রান্তির ক্ষেত্রে সবচেয়ে কম এবং আহলুস সুন্নাহর সবচেয়ে নিকটবর্তী, আর তারা হলো আশআরিয়া।

লুমআত আল-ইতিকাদের অর্থের বর্ণনা

তাদেরকে মুআউয়িলা (ব্যাখ্যাকারী) বলা হয়। আমরা তাদের যে মূলনীতির ভিত্তিতে উত্তর দেই তা হলো— তাদের বক্তব্য দলীলসমূহের বাহ্যিক অর্থের পরিপন্থী এবং সালাফদের পদ্ধতির বিরোধী, আর এর পক্ষে কোনো সঠিক প্রমাণ নেই। বরং কোনো কোনো গুণের ক্ষেত্রে হয়তো চতুর্থ কোনো দিক বা তার চেয়ে বেশি কিছু থাকতে পারে।

লুমআত আল-ইতিকাদ:

আরবি ভাষায় 'লুমআ' শব্দটি কয়েকটি অর্থে ব্যবহৃত হয়: এর মধ্যে একটি হলো জীবনধারণের জন্য পর্যাপ্ত পাথেয়। এই অর্থটিই এই কিতাবের বিষয়ের সাথে সবচেয়ে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সুতরাং এখানে 'লুমআত আল-ইতিকাদ' অর্থ হলো: সালাফদের (আল্লাহ তাঁদের ওপর সন্তুষ্ট হোন) মতাদর্শের সাথে সংগতিপূর্ণ সঠিক বিশ্বাসের পর্যাপ্ত পাথেয়।

আর ইতিকাদ বা বিশ্বাস হলো: মনের অটল সিদ্ধান্ত; তা যদি বাস্তবের সাথে মিলে যায় তবে তা সঠিক, অন্যথায় তা ভ্রান্ত।

--------------------------------------------

(১) - সূরা আল-হাজ্জ, আয়াত: ৪৫।

(২) - সূরা আল-হাজ্জ, আয়াত: ৪৫।

এই ইতিকাদ বা বিশ্বাস হলো মনের অটল সিদ্ধান্ত, তবে তা সত্যও হতে পারে আবার মিথ্যাও হতে পারে। আহলুস সুন্নাহর নিকট রয়েছে সঠিক বিশ্বাস, আর বিদআতিদের নিকট রয়েছে অটল বিশ্বাস কিন্তু তা ভ্রান্ত ও সত্যের পরিপন্থী। মুতাজিলারা বিশ্বাস করে যে আল্লাহ গুণাবলীতে গুণান্বিত নন, তবে তাদের এই বিশ্বাস যদিও দৃঢ় কিন্তু তা ভ্রান্ত। লুমআত আল-ইতিকাদ অর্থ হলো: সঠিক বিশ্বাসের কিয়দাংশ যা কুরআন ও সুন্নাহর অনুসারী।
(খণ্ড: ১) তালীকাতুন আলা শারহি লুমআতিল ইতিকাদ লির রাজেহী (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌مقدمة صاحب المتن (ابن قدامة) .

قال الشيخ الإمام العالم موفق الدين عبد الله بن أحمد بن قدامة المقدسي -عليه رحمة الله-: بسم الله الرحمن الرحيم الحمد لله المحمود بكل لسان، المعبود في كل زمان، الذي لا يخلو من علمه مكان، ولا يشغله شأن عن شأن جل عن الأشباه والأنداد، وتنزه عن الأصحاب والأولاد، ونفذ حكمه في جميع العباد لا تمثله العقول بالتفكير ولا تتوهمه القلوب بالتصوير {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ (11) } (1) له الأسماء الحسنى والصفات العلى {الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى (5) لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا وَمَا تَحْتَ الثَّرَى (6) وَإِنْ تَجْهَرْ بِالْقَوْلِ فَإِنَّهُ يَعْلَمُ السِّرَّ وَأَخْفَى (7) } (2) أحاط بكل شيء علما، وقهر كل مخلوق عزة وحكما، ووسع كل شيء رحمة وعلما، يعلم ما بين أيديهم وما خلفهم ولا يحيطون به علما، موصوف بما وصف به نفسه في كتابه العظيم وعلى لسان نبيه الكريم.

--------------------------------------------

(1) - سورة الشورى آية: 11.

(2) - سورة طه آية: 5-7.
মূলগ্রন্থ প্রণেতার (ইবনে কুদামা) ভূমিকা.

শাইখ, ইমাম, বিজ্ঞ আলেম মুয়াফফাকুদ্দীন আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে কুদামা আল-মাকদিসি -তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক- বলেছেন: পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি প্রতিটি ভাষায় প্রশংসিত, সর্বকালে উপাসিত; যাঁর জ্ঞান থেকে কোনো স্থানই মুক্ত নয় এবং যাঁর কোনো এক কাজ অন্য কাজ থেকে তাঁকে ব্যাপৃত রাখে না। তিনি সদৃশ ও সমকক্ষ থেকে মহান এবং সঙ্গী ও সন্তান থেকে পবিত্র। সমস্ত বান্দার ওপর তাঁর হুকুম কার্যকর। চিন্তা-ভাবনার মাধ্যমে বুদ্ধি তাঁর কোনো সাদৃশ্য দিতে পারে না এবং কল্পনাপ্রসূত কোনো ছবির মাধ্যমে অন্তর তাঁকে ধারণা করতে পারে না। {কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয় এবং তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা। (১১)} (১) তাঁরই জন্য রয়েছে সুন্দরতম নামসমূহ এবং সুউচ্চ গুণাবলি। {পরম করুণাময় আরশের ওপর উঠেছেন। (৫) আসমানসমূহে যা আছে, জমিনে যা আছে, এ দুইয়ের মাঝে যা আছে এবং মাটির নিচে যা আছে—সবই তাঁর। (৬) আর যদি তুমি উচ্চৈঃস্বরে কথা বলো, তবে তিনি গোপন ও অতি গোপন বিষয়ও জানেন। (৭)} (২) তিনি প্রতিটি বিষয়কে তাঁর জ্ঞান দ্বারা পরিবেষ্টন করে রেখেছেন, প্রতিটি সৃষ্টিকে নিজ মর্যাদা ও হুকুম দ্বারা পরাভূত করেছেন এবং তাঁর রহমত ও জ্ঞান প্রতিটি বস্তুকে ব্যাপ্ত করে আছে। তিনি জানেন তাদের সামনে ও পেছনে যা আছে, কিন্তু তারা জ্ঞান দিয়ে তাঁকে আয়ত্ত করতে পারে না। তিনি তাঁর মহান কিতাবে নিজেকে যেভাবে বিশেষিত করেছেন এবং তাঁর সম্মানিত নবীর জবানীতে যেভাবে বর্ণিত হয়েছেন, তিনি সেই সব গুণাবলির অধিকারী।

--------------------------------------------

(১) - সূরা আশ-শূরা, আয়াত: ১১।

(২) - সূরা ত্ব-হা, আয়াত: ৫-৭।
(খণ্ড: ১) তালীকাতুন আলা শারহি লুমআতিল ইতিকাদ লির রাজেহী (পৃষ্ঠা: ২০)
هذا كله حق مأخوذ من النصوص فالله سبحانه هو المحمود. المحمود من الحمد، والحمد ذكر أوصاف المحمود مع حبه وإجلاله وتعظيمه، وهو أبلغ من المدح، المدح هو أن تثني على الشخص بصفاته ولا يلزم من ذلك أن تحبه. تثني على الشيء سواء كان إنسانا أو حيوانا أو غيره بأوصاف ولا يلزم من ذلك المحبة، كما تثني على الأسد تقول: إنه قوي مفتول العضلات، هذا ثناء ولا يقال إنه حب بخلاف الحب فإنه ذكر أوصاف المحبوب مع حبه وإجلاله وتعظيمه؛ ولهذا جاء في جناب الرب الحمد دون المدح: {الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ (2) } (1) ولم يقل أمدح الله رب العالمين، الحمد هو ذكر أوصاف المحمود مع حبه وإجلاله وتعظيمه، الله تعالى هو المحمود له الصفات الكاملة وله الحب والإجلال والتعظيم سبحانه وتعالى، وفيه إثبات قضاء الله وقدره إثبات أسمائه وصفاته، وأنه سبحانه وتعالى يعلم كل شيء، وأنه مستحق للعبادة، وأنه سبحانه لا يحيط به أحد من خلقه، ولا تمثله العقول، ولا تصوره القلوب سبحانه وتعالى فهو لا يماثله شيء من خلقه: {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ (11) } (2) وقد أحاط بكل شيء علما، ووسع كل شيء رحمة وعلما كل هذا من صفاته سبحانه وتعالى.

 

‌‌ما تضمنته خطبة الكتاب

أولا البداءة بالبسملة

قال المؤلف رحمه الله:

ما تضمنته خطبة الكتاب: تضمنت خطبة المؤلف في هذا الكتاب ما يأتي:

أولا: البداءة بالبسملة، اقتداء بكتاب الله العظيم، واتباعا لسنة رسول الله صلى الله عليه وسلم ومعنى بسم الله الرحمن الرحيم أي: أفعل الشيء مستعينا ومتبركا بكل اسم من أسماء الله تعالى الموصوف بالرحمة الواسعة، ومعنى الله المألوه أي: المعبود حبا وتعظيما وتألها وشوقا.

--------------------------------------------

(1) - سورة الفاتحة آية: 2.

(2) - سورة الشورى آية: 11.
এই সবকিছুই সত্য যা দলিলসমূহ থেকে গৃহীত। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালাই প্রশংসিত (আল-মাহমুদ)। মাহমুদ শব্দটি হামদ থেকে এসেছে। আর হামদ হলো ভালোবাসা, মর্যাদা এবং মহিমার সাথে প্রশংসিত সত্তার গুণাবলি বর্ণনা করা। এটি মাদহ (স্তুতি) অপেক্ষা অধিক অর্থবহ। মাদহ হলো কোনো ব্যক্তির গুণাবলি বর্ণনা করা, যাতে তাকে ভালোবাসা অত্যাবশ্যক নয়। আপনি কোনো বস্তু, মানুষ বা পশু কিংবা অন্য কিছুর গুণাবলি বর্ণনা করলেন কিন্তু তাতে ভালোবাসা থাকা জরুরি নয়। যেমন আপনি সিংহের প্রশংসা করে বলেন: এটি শক্তিশালী ও সুগঠিত মাংসপেশি সম্পন্ন। এটি একটি স্তুতি (মাদহ), কিন্তু একে ভালোবাসা বলা হয় না। পক্ষান্তরে হামদ হলো ভালোবাসার সাথে এবং সম্মান ও মহিমার সাথে প্রিয় সত্তার গুণাবলি বর্ণনা করা। এই কারণেই মহান রবের ক্ষেত্রে হামদ শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে, মাদহ নয়: {সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সকল জগতের প্রতিপালক (২)} (১)। এখানে 'আমি আল্লাহর স্তুতি (মাদহ) করছি' বলা হয়নি। হামদ হলো ভালোবাসার সাথে এবং সম্মান ও মহিমার সাথে প্রশংসিত সত্তার গুণাবলি বর্ণনা করা। আল্লাহ তায়ালাই পরম প্রশংসিত, তাঁর জন্যই সকল পূর্ণাঙ্গ গুণাবলি এবং তাঁর জন্যই রয়েছে ভালোবাসা, মহিমা ও সম্মান। এতে আল্লাহর ফয়সালা ও তাকদিরের স্বীকৃতি এবং তাঁর নাম ও গুণাবলির সাব্যস্তকরণ রয়েছে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা প্রতিটি বিষয় জানেন এবং তিনি ইবাদতের যোগ্য। তাঁর সৃষ্টির কেউই তাঁকে পরিবেষ্টন করতে পারে না, বুদ্ধি তাঁর স্বরূপ কল্পনা করতে পারে না এবং অন্তর তাঁকে চিত্রিত করতে পারে না। তাঁর সৃষ্টির কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়: {কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়; তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা (১১)} (২)। তাঁর জ্ঞান সবকিছুকে পরিবেষ্টন করে আছে এবং তাঁর রহমত ও জ্ঞান সবকিছুতে ব্যাপ্ত। এই সবই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার গুণাবলি।

 

‌‌গ্রন্থের ভূমিকার বিষয়বস্তু

প্রথমত: বিসমিল্লাহর মাধ্যমে শুরু করা

লেখক (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) বলেছেন:

গ্রন্থের ভূমিকার বিষয়বস্তু: এই গ্রন্থে লেখকের ভূমিকা নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করেছে:

প্রথমত: আল্লাহর মহান কিতাবের অনুসরণ করে এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহর ইত্তিবা করে বিসমিল্লাহর মাধ্যমে শুরু করা। আর 'বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম' এর অর্থ হলো: আমি আল্লাহর প্রতিটি নামের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করে এবং বরকত অন্বেষণ করে কোনো কাজ করছি, যিনি প্রশস্ত দয়ার গুণে গুণান্বিত। আর 'আল্লাহ' শব্দের অর্থ হলো 'আল-মালুহ', অর্থাৎ ভালোবাসা, সম্মান, দাসত্ব ও ব্যাকুলতার সাথে যাঁর ইবাদত করা হয়।

--------------------------------------------

(১) - সূরা আল-ফাতিহা আয়াত: ২।

(২) - সূরা আশ-শূরা আয়াত: ১১।
(খণ্ড: ১) তালীকাতুন আলা শারহি লুমআতিল ইতিকাদ লির রাজেহী (পৃষ্ঠা: ২১)
بدأ بالبسملة اقتداء بالكتاب العزيز وعملا بحديث " كل أمر ذي بال لا يبدأ فيه ببسم الله فهو أبتر أو أقطع " والحديث وإن كان فيه ضعف لكن له طرق.

الله: لفظ الجلالة أعرف المعارف، وهو علم على الرب سبحانه وتعالى، ومتضمن لصفة الألوهية فالله ذو الألوهية والعبودية على خلقه أجمعين، كما قال ابن عباس، وأصل الله: الإله ثم حذفت الهمزة فاجتمعت لامين إحداهما ساكنة وأدغمت إحداهما في الأخرى فصارت الله. الله اسم مشتق مشتمل على صفة الألوهية، وهو أعرف المعارف، علم على الرب لا يطلق على غيره، وكل الأسماء راجعة إليه.

والرحمن ذو الرحمة الواسعة.

وكذلك الرحمن من الأسماء المختصة بالله عز وجل لا تطلق على غيره، وهو اسم مشتمل على صفة الرحمة كل أسماء الله مشتقة، الاسم يدل على الذات وعلى الصفة، والرحمن لا يطلق على غير الله؛ ولهذا لما تسمى مسيلمة الكذاب الذي ادعى النبوة تسمى بالرحمن لزمه وصف الكذب فلا يطلق مسيلمة إلا ويلصق به الكذب فيقال مسيلمة الكذاب؛ لأنه تسمى باسم من أسماء الله مع أنه ادعى النبوة غيره الأسود العنسي في اليمن ادعى النبوة ولا يقال له الأسود العنسي الكذاب -وهو كذاب- لكن مسيلمة اختص بلزوم الوصف لما تسمى بالرحمن فلزمه وصف الكذب لا ينفك عنه -نسأل الله السلامة والعافية-.

والرحيم الموصل رحمته من يشاء من خلقه.

الرحيم من أسماء الله وليست مختصة تطلق على المخلوق، تطلق عليه وعلى غيره، ولهذا وصف النبي صلى الله عليه وسلم بأنه رحيم كما قال تعالى: {لَقَدْ جَاءَكُمْ رَسُولٌ مِنْ أَنْفُسِكُمْ عَزِيزٌ عَلَيْهِ مَا عَنِتُّمْ حَرِيصٌ عَلَيْكُمْ بِالْمُؤْمِنِينَ رَءُوفٌ رَحِيمٌ (128) } (1) هذا من الأسماء المشتركة الرحيم والعزيز والحي والعلي هذه من الأسماء المشتركة.

الثناء على الله بالحمد

--------------------------------------------

(1) - سورة التوبة آية: 128.
পবিত্র কিতাবের (কুরআন) অনুসরণ করে এবং "প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ যা বিসমিল্লাহ দ্বারা শুরু করা হয় না, তা অসম্পূর্ণ বা বিচ্ছিন্ন" - এই হাদীসের ওপর আমল করে বিসমিল্লাহর মাধ্যমে শুরু করা হয়েছে। হাদীসটি যদিও দুর্বল, তবে এর একাধিক সূত্র রয়েছে।

আল্লাহ: এই মহান শব্দটি সমস্ত পরিচিত বিশেষ্যের মধ্যে সর্বাধিক পরিচিত। এটি মহান রবের একটি নাম (আলম), যা উলুহিয়্যাত বা উপাস্য হওয়ার গুণকে অন্তর্ভুক্ত করে। আল্লাহ হলেন তাঁর সমস্ত সৃষ্টির ওপর উলুহিয়্যাত এবং ইবাদত পাওয়ার প্রকৃত অধিকারী, যেমনটি ইবনে আব্বাস বলেছেন। 'আল্লাহ' শব্দের মূল হলো 'আল-ইলাহ', এরপর হামযাহ বিলুপ্ত করা হয়েছে, ফলে দুটি 'লাম' একত্রিত হয়েছে যার একটি সাকিন (স্বরবর্ণহীন), এরপর একটিকে অন্যটির মধ্যে প্রবিষ্ট করানো হয়েছে এবং তা 'আল্লাহ' শব্দে পরিণত হয়েছে। আল্লাহ একটি ব্যুৎপন্ন শব্দ যা উলুহিয়্যাত গুণকে ধারণ করে এবং এটি সর্বাধিক পরিচিত শব্দ। এটি রবের এমন এক নাম যা অন্য কারও জন্য ব্যবহার করা বৈধ নয় এবং সমস্ত নাম এই নামের দিকেই প্রত্যাবর্তন করে।

আর-রাহমান হলেন প্রশস্ত রহমত বা দয়ার অধিকারী।

অনুরূপভাবে 'আর-রাহমান' মহান আল্লাহর জন্য নির্ধারিত নামগুলোর অন্তর্ভুক্ত যা অন্য কারও জন্য ব্যবহার করা যায় না। এটি এমন একটি নাম যা রহমত বা দয়ার গুণকে অন্তর্ভুক্ত করে। আল্লাহর সমস্ত নামই ব্যুৎপন্ন; এই নামগুলো আল্লাহর সত্তা ও গুণের ওপর প্রমাণ দেয়। 'আর-রাহমান' নাম আল্লাহর সত্তা ব্যতীত অন্য কারও জন্য প্রযোজ্য নয়। এ কারণেই যখন নবুওয়াতের মিথ্যা দাবিদার মুসায়লামাহ আল-কাযযাব নিজেকে 'রাহমান' নামে অভিহিত করেছিল, তখন 'কাযযাব' (চরম মিথ্যাবাদী) উপাধিটি তার সাথে অবিচ্ছেদ্য হয়ে পড়ে। এখন মুসায়লামার নাম নিলেই তার সাথে মিথ্যাবাদী শব্দটি জুড়ে যায় এবং তাকে 'মুসায়লামাহ আল-কাযযাব' বলা হয়। কারণ সে আল্লাহর একটি বিশেষ নাম নিজের জন্য ব্যবহার করেছিল। যদিও ইয়ামেনের আসওয়াদ আনসিও নবুওয়াত দাবি করেছিল, কিন্তু তাকে সচরাচর 'আসওয়াদ আনসি আল-কাযযাব' বলা হয় না—যদিও সে একজন মিথ্যাবাদী। তবে মুসায়লামাহ এই বিশেষ উপাধির সাথে স্থায়ীভাবে যুক্ত হয়ে পড়েছে কারণ সে নিজেকে 'রাহমান' নামে ডেকেছিল, ফলে মিথ্যার এই গুণটি তার থেকে আর বিচ্ছিন্ন হয় না—আমরা আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা ও সুস্থতা কামনা করি।

আর-রাহীম হলেন তিনি, যিনি তাঁর সৃষ্টির মধ্য থেকে যার জন্য ইচ্ছা করেন তার কাছে রহমত পৌঁছে দেন।

আর-রাহীম আল্লাহর নামসমূহের অন্তর্ভুক্ত কিন্তু এটি কেবল তাঁর জন্যই নির্ধারিত নয়, বরং সৃষ্টির ক্ষেত্রেও এটি ব্যবহৃত হতে পারে। এটি আল্লাহর জন্য এবং আল্লাহ ব্যতীত অন্যের জন্যও প্রয়োগ করা যায়। এ কারণেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে 'রাহীম' (দয়ালু) হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: "অবশ্যই তোমাদের কাছে তোমাদের মধ্য থেকেই একজন রাসূল এসেছেন, তোমাদের যা কষ্ট দেয় তা তাঁর জন্য দুঃসহ, তিনি তোমাদের হিতাকাঙ্ক্ষী, মুমিনদের প্রতি তিনি পরম স্নেহশীল ও দয়ালু (রাহীম)।" (১) এটি সাধারণ বা অংশীদারিত্বমূলক নামগুলোর অন্তর্ভুক্ত। আর-রাহীম, আল-আযীয, আল-হায় এবং আল-আলী—এগুলো হলো সাধারণ বা অংশীদারিত্বমূলক নাম।

আল-হামদ বা প্রশংসার মাধ্যমে আল্লাহর গুণগান

--------------------------------------------

(১) - সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত: ১২৮।
(খণ্ড: ১) তালীকাতুন আলা শারহি লুমআতিল ইতিকাদ লির রাজেহী (পৃষ্ঠা: ২২)
فالفرق بين الرحمن والرحيم أن الأول باعتبار كون الرحمة وصفا له، والثاني باعتبارها فعلا له يوصلها من يشاء من خلقه.

ثانيا: الثناء على الله بالحمد، والحمد ذكر أوصاف المحمود الكاملة وأفعاله الحميدة مع المحبة له والتعظيم.

وهذا هو الفرق بينه وبين المدح، المدح يذكر فيها أوصاف الممدوح لكن ما يلزم من ذلك المحبة، أما الحمد فهو ذكر أوصاف المحمود والثناء عليه بها مع حبه وإجلاله وتعظيمه، فأنت قد تمدح الأسد ولكن لا يلزم من ذلك أن تحب الأسد، قد تمدح الجبار أو الظالم في بعض الصفات وأنت لا تحبه، فالمدح لا يلزم منه المحبة بخلاف الحمد؛ ولهذا جاء في حق الرب الحمد ولم يأت المدح: {الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ (2) } (1) ولم يأت أمدح الله.

سعة علم الله وكمال قدرته

ثالثا: أن الله محمود بكل لسان، ومعبود بكل مكان أي: مستحق وجائز أن يحمد بكل لغة، ويعبد بكل بقعة.

رابعا: سعة علم الله بكونه لا يخلو من علمه مكان وكمال قدرته وإحاطته حيث لا يلهيه أمر عن أمر.

لكماله سبحانه وتعالى فهو الكامل في ذاته وأسمائه وصفاته وأفعاله لا يخلو علمه منه مكان، ولا يشغله شأن عن شأن بخلاف المخلوق الضعيف الناقص فعلمه ناقص مسبوق بالجهل، وينتهي أيضا بالموت فلا يعلم إذا مات، وكذلك المخلوق ضعيف يلهيه شأن عن شأن.

أما الرب سبحانه وتعالى فلا يلهيه شأن عن شأن، ولا يتضرر بسؤال السائلين ولا بإلحاح الملحين، من يحصي الخلائق؟ لا يحصيهم إلا الله في البراري والبحار وفي الجو والسماوات والأرضين كلهم يسألون الله في وقت واحد يلهجون بذكره وثنائه فيثيبهم ويجيب سؤالهم ويرزقهم ويعافيهم في وقت واحد لا يلهيه شأن عن شأن، خلقهم وأوجدهم {أَلَا يَعْلَمُ مَنْ خَلَقَ وَهُوَ اللَّطِيفُ الْخَبِيرُ (14) } (2) .

--------------------------------------------

(1) - سورة الفاتحة آية: 2.

(2) - سورة الملك آية: 14.
আর-রাহমান ও আর-রাহীম-এর মধ্যে পার্থক্য হলো, প্রথমটি তাঁর একটি গুণ হিসেবে করুণার বিবেচনায়, এবং দ্বিতীয়টি তাঁর একটি কাজ হিসেবে করুণার বিবেচনায়, যার মাধ্যমে তিনি তাঁর সৃষ্টির মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা করুণা পৌঁছে দেন।

দ্বিতীয়ত: 'হামদ'-এর মাধ্যমে আল্লাহর প্রশংসা করা। আর 'হামদ' হলো প্রশংসিত সত্তার পূর্ণাঙ্গ গুণাবলি এবং তাঁর প্রশংসনীয় কার্যাবলি ভালোবাসা ও মহত্ত্বের সাথে উল্লেখ করা।

আর এটিই হলো 'হামদ' ও 'মাদহ্'-এর মধ্যে পার্থক্য। 'মাদহ্'-এর মধ্যে প্রশংসিত ব্যক্তির গুণাবলি উল্লেখ করা হয়, কিন্তু তাতে ভালোবাসা থাকা আবশ্যক নয়। পক্ষান্তরে 'হামদ' হলো প্রশংসিত সত্তার গুণাবলি উল্লেখ করা এবং তাঁর প্রতি ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও মহত্ত্বের সাথে তাঁর প্রশংসা করা। যেমন, আপনি হয়তো সিংহের প্রশংসা (মাদহ্) করতে পারেন, কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে আপনি সিংহকে ভালোবাসেন। আপনি হয়তো কোনো স্বৈরাচারী বা জালেমের কিছু গুণের প্রশংসা করতে পারেন অথচ আপনি তাকে ভালোবাসেন না। সুতরাং 'মাদহ্'-এর ক্ষেত্রে ভালোবাসা আবশ্যক নয়, যা 'হামদ'-এর বিপরীত। এই কারণেই রবের ক্ষেত্রে 'হামদ' শব্দটি এসেছে, 'মাদহ্' আসেনি: {সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সকল জগতের রব (২)} (১) এবং 'আমি আল্লাহর মাদহ্ করছি' এমনটি আসেনি।

আল্লাহর ইলমের প্রশস্ততা এবং তাঁর কুদরতের পূর্ণতা

তৃতীয়ত: নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বপ্রকার ভাষায় প্রশংসিত এবং সর্বস্থানে উপাসিত। অর্থাৎ: তিনি সর্বভাষায় প্রশংসিত হওয়ার এবং সর্বস্থানে ইবাদত লাভ করার হকদার ও যোগ্য।

চতুর্থত: আল্লাহর ইলমের প্রশস্ততা এই অর্থে যে, কোনো স্থানই তাঁর জ্ঞানের বাইরে নয় এবং তাঁর কুদরতের পূর্ণতা ও পরিব্যাপ্তি এমন যে, একটি বিষয় তাঁকে অন্য বিষয় থেকে বিমুখ বা ব্যস্ত করে না।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার পূর্ণতার কারণে; তিনি তাঁর সত্তা, নামসমূহ, গুণাবলি ও কার্যাবলিতে পূর্ণ। কোনো স্থানই তাঁর জ্ঞানের বাইরে নয় এবং কোনো কাজই তাঁকে অন্য কাজ থেকে বিমুখ বা ব্যস্ত করে না। এটি দুর্বল ও অপূর্ণ সৃষ্টির বিপরীত, যার জ্ঞান অপূর্ণ এবং যা পূর্বে অজ্ঞতা দ্বারা সীমাবদ্ধ ছিল, আর যা মৃত্যুর মাধ্যমে শেষ হয়ে যায়—ফলে মৃত্যুর পর সে আর কিছু জানে না। অনুরূপভাবে সৃষ্টি হলো দুর্বল, একটি কাজ তাকে অন্য কাজ থেকে বিমুখ করে দেয়।

কিন্তু রব সুবহানাহু ওয়া তাআলা এমন যে, কোনো কাজই তাঁকে অন্য কাজ থেকে বিমুখ করে না। যাচনাকারীদের প্রার্থনা বা পীড়াপীড়িকারীদের কাকুতি তাঁকে ক্লান্ত বা ক্ষতিগ্রস্ত করে না। কে সৃষ্টিজগতকে গণনা করতে পারে? মরুভূমি, সমুদ্র, আকাশ এবং আসমান ও জমিনসমূহে আল্লাহ ছাড়া কেউ তাদের সংখ্যা জানে না। তারা সবাই একই সময়ে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে, তাঁর জিকির ও প্রশংসায় রত থাকে। তিনি একই সময়ে তাদের সওয়াব দান করেন, তাদের ডাকে সাড়া দেন, তাদের রিজিক প্রদান করেন এবং তাদের সুস্থতা দান করেন। কোনো কাজই তাঁকে অন্য কাজ থেকে বিমুখ করে না। তিনি তাদের সৃষ্টি করেছেন এবং অস্তিত্ব দান করেছেন: {যিনি সৃষ্টি করেছেন তিনি কি জানেন না? অথচ তিনি অতি সূক্ষ্মদর্শী, সর্ববিষয়ে অবহিত। (১৪)} (২)।

--------------------------------------------

(১) - সূরা আল-ফাতিহা আয়াত: ২।

(২) - সূরা আল-মুলক আয়াত: ১৪।
(খণ্ড: ১) তালীকাতুন আলা শারহি লুমআতিল ইতিকাদ লির রাজেহী (পৃষ্ঠা: ২৩)
وفي يوم القيامة يحاسب الله الخلائق في يوم واحد فلا يلهيه شأن عن شأن سبحانه وتعالى، ويفرغ من حسابهم في قدر منتصف النهار، ويقيل أهل الجنة في الجنة. القيلولة تكون في الجنة قال الله تعالى: {أَصْحَابُ الْجَنَّةِ يَوْمَئِذٍ خَيْرٌ مُسْتَقَرًّا وَأَحْسَنُ مَقِيلًا (24) } (1) ، لكماله سبحانه وتعالى، أما المخلوق الضعيف الناقص ما يستطيع يكلم اثنين، ولا يستطيع يسمع كلام ثلاثة أو أربعة؛ لضعفه ونقصه، أما الله فهو كامل سبحانه وتعالى لا يلهيه شأن عن شأن، ولا يشغله شيء عن شيء سبحانه لا إله إلا هو.

عظمته وكبرياؤه وترفعه عن كل شبيه وند

وتنزهه وتقدسه عن كل زوجة وولد

الخامس: عظمته وكبرياؤه وترفعه عن كل شبيه وند مماثل لكمال صفاته من جميع الوجوه.

السادس: تنزهه وتقدسه عن كل زوجة وولد وذلك لكمال غناه.

--------------------------------------------

(1) - سورة الفرقان آية: 24.
আর কিয়ামতের দিন আল্লাহ একদিনের মধ্যেই সকল সৃষ্টির হিসাব গ্রহণ করবেন, ফলে কোনো বিষয় তাঁকে অন্য কোনো বিষয় থেকে বিমুখ করবে না, তিনি মহাপবিত্র ও সুউচ্চ। তিনি দিনের মধ্যভাগের মধ্যেই তাদের হিসাব সমাপ্ত করবেন এবং জান্নাতবাসীরা জান্নাতে দ্বিপ্রহরের বিশ্রাম গ্রহণ করবেন। জান্নাতে এই বিশ্রাম সংঘটিত হবে। মহান আল্লাহ বলেন: {সেদিন জান্নাতবাসীরা হবে সর্বোত্তম আবাসে এবং সর্বোৎকৃষ্ট বিশ্রামস্থলে (২৪)} (১), যা মহান আল্লাহর পূর্ণত্বের প্রমাণ। পক্ষান্তরে দুর্বল ও অপূর্ণ সৃষ্টি তার দুর্বলতা ও সীমাবদ্ধতার কারণে একসাথে দুইজনের সাথে কথা বলতে পারে না, কিংবা তিন-চারজনের কথা একসাথে শুনতে পারে না। কিন্তু আল্লাহ তো পরিপূর্ণ, তিনি মহাপবিত্র ও সুউচ্চ; কোনো কাজ তাঁকে অন্য কোনো কাজ থেকে বিমুখ করে না এবং কোনো কিছুই তাঁকে অন্য কিছু থেকে ব্যস্ত রাখতে পারে না। তিনি পবিত্র, তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই।

তাঁর মহিমা, গরিমা এবং সকল সদৃশ ও সমকক্ষ থেকে তাঁর ঊর্ধ্বে অবস্থান

স্ত্রী ও সন্তান থেকে তাঁর পবিত্রতা ও মাহাত্ম্য

পঞ্চম: সকল দিক থেকে তাঁর গুণাবলীর পূর্ণতার কারণে তাঁর মহিমা, গরিমা এবং সকল সদৃশ ও সমরূপ সমকক্ষ থেকে তাঁর ঊর্ধ্বে অবস্থান।

ষষ্ঠ: স্ত্রী ও সন্তান থেকে তাঁর পবিত্রতা ও মাহাত্ম্য, আর তা হলো তাঁর অমুখাপেক্ষিতার পূর্ণতার কারণে।

--------------------------------------------

(১) - সূরা আল-ফুরকান, আয়াত: ২৪।
(খণ্ড: ১) তালীকাতুন আলা শারহি লুমআতিল ইতিকাদ লির রাজেহী (পৃষ্ঠা: ২৪)
سبحانه وتعالى لأنه لا يحتاج لأحد بخلاف المخلوق الناقص، كماله أن يكون له زوجة وولد، المخلوق الذي له زوجة وولد أكمل من الذي ليس له زوجة ولا ولد؛ لضعفه ونقصه يحتاج لزوجة وولد؛ ولذلك لا زوجة له ولا ولد، ومن نسب الزوجة إلى الله أو الولد فهو كافر {مَا اتَّخَذَ صَاحِبَةً وَلَا وَلَدًا (3) } (1) بل إن نسبة الولد إلى الله أمر عظيم عظمه الله؛ ليبين أن هذا الأمر العظيم تكاد السماوات أن تنفطر منه وتنشق الأرض وتخر الجبال هدا {وَقَالُوا اتَّخَذَ الرَّحْمَنُ وَلَدًا (88) لَقَدْ جِئْتُمْ شَيْئًا إِدًّا (89) تَكَادُ السَّمَوَاتُ يَتَفَطَّرْنَ مِنْهُ وَتَنْشَقُّ الْأَرْضُ وَتَخِرُّ الْجِبَالُ هَدًّا (90) أَنْ دَعَوْا لِلرَّحْمَنِ وَلَدًا (91) وَمَا يَنْبَغِي لِلرَّحْمَنِ أَنْ يَتَّخِذَ وَلَدًا (92) إِنْ كُلُّ مَنْ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ إِلَّا آَتِي الرَّحْمَنِ عَبْدًا (93) } (2) كل من في السماوات والأرض يأتي معبدا مقهورا مصرفا مدينا مغلوبا تنفذ فيه قدرة الله ومشيئته، ليس له من نفسه حول ولا طول ولا قوة.

--------------------------------------------

(1) - سورة الجن آية: 3.

(2) - سورة مريم آية: 88-93.
তিনি মহান ও পবিত্র, কারণ অসম্পূর্ণ সৃষ্টির বিপরীত তাঁর কারোর প্রয়োজন নেই। সৃষ্টির ক্ষেত্রে তার পূর্ণতা হলো স্ত্রী ও সন্তান থাকা; যে সৃষ্টির স্ত্রী ও সন্তান আছে, সে ওই সৃষ্টি অপেক্ষা অধিকতর পূর্ণ যার স্ত্রী ও সন্তান নেই; তার দুর্বলতা ও অপূর্ণতার কারণেই তার স্ত্রী ও সন্তানের প্রয়োজন হয়। এজন্য আল্লাহর কোনো স্ত্রী নেই এবং কোনো সন্তানও নেই। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি স্ত্রী বা সন্তানের সম্বন্ধ জুড়ে দেয়, সে কাফির। {তিনি কোনো সঙ্গিনী গ্রহণ করেননি এবং কোনো সন্তানও গ্রহণ করেননি। (৩)} (১) বরং আল্লাহর প্রতি সন্তান আরোপ করা একটি গুরুতর বিষয় যা আল্লাহ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করেছেন; যাতে তিনি স্পষ্ট করেন যে, এই ভয়াবহ বিষয়ের কারণে আকাশমণ্ডলী বিদীর্ণ হওয়ার, পৃথিবী বিখণ্ড হওয়ার এবং পাহাড়সমূহ চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়। {আর তারা বলে: 'দয়াময় সন্তান গ্রহণ করেছেন।' (৮৮) অবশ্যই তোমরা এক ভয়াবহ বিষয়ের অবতারণা করেছ। (৮৯) এতে আকাশমণ্ডলী বিদীর্ণ হওয়ার, পৃথিবী বিদীর্ণ হওয়ার এবং পাহাড়সমূহ চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়— (৯০) যেহেতু তারা দয়াময়ের প্রতি সন্তান আরোপ করে। (৯১) অথচ সন্তান গ্রহণ করা দয়াময়ের শানে শোভনীয় নয়। (৯২) আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে এমন কেউ নেই, যে দয়াময়ের নিকট বান্দা হিসেবে উপস্থিত হবে না। (৯৩)} (২) আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে বিদ্যমান সকলেই অনুগত, বিজিত, নিয়ন্ত্রিত, বাধ্য ও পরাভূত দাস হিসেবে উপস্থিত হবে, যাদের ওপর আল্লাহর ক্ষমতা ও ইচ্ছা কার্যকর হয়; তাদের নিজেদের কোনো উপায়, সামর্থ্য বা শক্তি নেই।

--------------------------------------------

(১) - সুরা আল-জিন, আয়াত: ৩।

(২) - সুরা মারইয়াম, আয়াত: ৮৮-৯৩।
(খণ্ড: ১) তালীকাতুন আলা শারহি লুমআতিল ইতিকাদ লির রাজেহী (পৃষ্ঠা: ২৫)
كل من في السماوات والأرض يأتون عبيدا لله، ينتظرون أمره، وتنفذ فيهم قدرته ومشيئته، ولا يخرجون عن إرادته، كل من في السماوات والأرض من الملائكة والآدميين والطيور والوحوش والحيوانات، والطيور والوحوش والحيوانات تبعث يوم القيامة ويقتص بعضها من بعض، ثم يقول الله لها كوني ترابا؛ لذلك يقول الكافر: {يَا لَيْتَنِي كُنْتُ تُرَابًا (40) } (1) فجميع من في السماوات والأرض يأتون عبيدا لله، والله سبحانه هو الواحد الذي لا شبيه له ولا نظير له، وليس له أحد يعينه من عباده ولا زوجة له ولا ولد ولا أحد يشفع عنده إلا بإذنه، ولا أحد يعينه يساعده لكماله، وهو الحي القيوم القائم بنفسه المقيم لغيره له ملك السماوات والأرض، لا يخفى عليه شيء، ولا يعجزه شيء في الأرض ولا السماء.

تمام إرادته وسلطانه بنفوذ قضائه في جميع العباد

وعظمة الله فوق ما تتصور العقول والقلوب

السابع: تمام إرادته وسلطانه بنفوذ قضائه في جميع العباد فلا يمنعه قوة ملك ولا كثرة عدد ومال.

الثامن: عظمة الله فوق ما يتصور بحيث لا تستطيع العقول له تمثيلا، ولا تتوهم له القلوب صورة؛ لأن الله {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ (11) } (2)) كما قال عن نفسه: {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ (11) } (3) .

{هَلْ تَعْلَمُ لَهُ سَمِيًّا (65) } (4) لا سمي له ولا مثيل {فَلَا تَضْرِبُوا لِلَّهِ الْأَمْثَالَ} (5) .

اختصاص الله بالأسماء الحسنى والصفات العلى

التاسع: اختصاص الله بالأسماء الحسنى والصفات العلى.

أسماء الله كلها حسنى بالغة الكمال في الحسن، وصفاته كلها عليا بخلاف المخلوقين قد يكون له أسماء غير حسنى وصفات غير عليا.

--------------------------------------------

(1) - سورة النبأ آية: 40.

(2) - سورة الشورى آية: 11.

(3) - سورة الشورى آية: 11.

(4) - سورة مريم آية: 65.

(5) - سورة النحل آية: 74.
আসমান ও জমিনে যারা আছে তারা সবাই আল্লাহর দাস হিসেবে আসবে, তারা তাঁর আদেশের অপেক্ষায় থাকে এবং তাদের ওপর তাঁর ক্ষমতা ও ইচ্ছা কার্যকর হয়। তারা তাঁর ইচ্ছার বাইরে যেতে পারে না। আসমান ও জমিনের ফেরেশতা, মানুষ, পাখি, বন্যপ্রাণী ও গবাদিপশু—সবই কিয়ামতের দিন পুনরুত্থিত হবে এবং তাদের একে অপরের থেকে প্রতিশোধ নেওয়া হবে। অতঃপর আল্লাহ তাদের বলবেন: তোমরা মাটি হয়ে যাও। একারণেই কাফের বলবে: "হায়, আমি যদি মাটি হতাম!" (৪০) (১)। সুতরাং আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে সবই আল্লাহর দাস হিসেবে আসবে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা হলেন একক সত্তা, যাঁর কোনো সদৃশ নেই, কোনো সমকক্ষ নেই। তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে এমন কেউ নেই যে তাঁকে সাহায্য করে, তাঁর কোনো স্ত্রী নেই, কোনো সন্তান নেই। তাঁর অনুমতি ব্যতীত তাঁর নিকট কেউ সুপারিশ করতে পারে না। তাঁর পরিপূর্ণতার কারণে তাঁকে সাহায্য করার মতো কেউ নেই। তিনি চিরঞ্জীব, সর্বসত্তার ধারক, যিনি স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং অন্যদের পরিচালক। আসমান ও জমিনের রাজত্ব তাঁরই। তাঁর কাছে কোনো কিছু গোপন থাকে না এবং আসমান বা জমিনের কোনো কিছুই তাঁকে অক্ষম করতে পারে না।

সকল বান্দার ওপর তাঁর ফয়সালা কার্যকর হওয়ার মাধ্যমে তাঁর ইচ্ছা ও কর্তৃত্বের পূর্ণতা

আল্লাহর মহানুভবতা বিবেক ও হৃদয়ের কল্পনার ঊর্ধ্বে

সপ্তম: সকল বান্দার ওপর তাঁর ফয়সালা কার্যকর হওয়ার মাধ্যমে তাঁর ইচ্ছা ও কর্তৃত্বের পূর্ণতা। কোনো রাজশক্তি কিংবা লোকবল ও সম্পদের আধিক্য তাঁকে বাধা দিতে পারে না।

অষ্টম: আল্লাহর মহানুভবতা কল্পনাতীত, যার ফলে বিবেক তাঁর কোনো উদাহরণ দিতে পারে না এবং অন্তর তাঁর কোনো অবয়ব কল্পনা করতে পারে না। কারণ আল্লাহ বলেছেন: "কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয় এবং তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা" (১১) (২)। যেমন তিনি নিজের সম্পর্কে বলেছেন: "কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয় এবং তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা" (১১) (৩)।

"তুমি কি তাঁর সমনামের কাউকে জানো?" (৬৫) (৪)। তাঁর কোনো সমনাম বা সদৃশ নেই। "অতএব তোমরা আল্লাহর জন্য কোনো দৃষ্টান্ত পেশ করো না" (৫)।

আল্লাহর জন্য সুন্দরতম নামসমূহ ও সর্বোচ্চ গুণাবলি সুনির্দিষ্ট হওয়া

নবম: আল্লাহর জন্য সুন্দরতম নামসমূহ ও সর্বোচ্চ গুণাবলি সুনির্দিষ্ট হওয়া।

আল্লাহর সকল নামই সুন্দরতম যা সৌন্দর্যের চূড়ান্ত শিখরে পৌঁছেছে এবং তাঁর সকল গুণাবলিই সর্বোচ্চ। পক্ষান্তরে সৃষ্টির ক্ষেত্রে এমন হতে পারে যে, তার নাম সুন্দর নয় এবং তার গুণাবলিও উচ্চপর্যায়ের নয়।

--------------------------------------------

(১) - সূরা আন-নাবা আয়াত: ৪০।

(২) - সূরা আশ-শূরা আয়াত: ১১।

(৩) - সূরা আশ-শূরা আয়াত: ১১।

(৪) - সূরা মারইয়াম আয়াত: ৬৫।

(৫) - সূরা আন-নাহল আয়াত: ৭৪।
(খণ্ড: ১) তালীকাতুন আলা শারহি লুমআতিল ইতিকাদ লির রাজেহী (পৃষ্ঠা: ২৬)
المخلوق قد يكون له أسماء غير حسنى وصفات غير عليا المخلوق قد يكون له صفات ذميمة، وقد يكون له أسماء غير حسنة، أما الله فأسماؤه كلها حسنة، وصفاته كلها عليا، كما قال سبحانه {وَلِلَّهِ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى فَادْعُوهُ بِهَا وَذَرُوا الَّذِينَ يُلْحِدُونَ فِي أَسْمَائِهِ سَيُجْزَوْنَ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ (180) } (1) وقال سبحانه: {وَلَهُ الْمَثَلُ الْأَعْلَى فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ (27) } (2) له الوصف الكامل.

استواء الله على عرشه على الوجه اللائق به

العاشر: استواء الله على عرشه هو علوه واستقراره عليه على الوجه اللائق به.

والاستواء علو خاص، فالعلو من الصفات الذاتية التي لا تنفك عن الباري، فالله تعالى علي على المخلوقات فوق المخلوقات ولا يكون في وقت ليس عاليا، أما الاستواء فهذا من الصفات الفعلية، وهو علو خاص استواؤه على العرش وكان بعد خلق السماوات والأرض.

فالله تعالى خلق العرش ثم قدر المقادير، مقادير الخلائق قبل أن يخلق السماوات والأرض بخمسين ألف سنة، ثم خلق السماوات والأرض، ثم استوى على العرش بعد ذلك، فهو علو خاص الله أعلم بكيفيته، فعل يفعله سبحانه وتعالى كما يليق بجلالته وعظمته وكان بعد خلق السماوات والأرض، الاستواء والنزول من الصفات الفعلية، أما العلو فهذا من الصفات الذاتية.

عموم ملكه للسماوات والأرض وما بينهما وما تحت الثرى

الحادي عشر: عموم ملكه للسماوات والأرض وما بينهما وما تحت الثرى.

--------------------------------------------

(1) - سورة الأعراف آية: 180.

(2) - سورة الروم آية: 27.
সৃষ্টির জন্য এমন নাম থাকতে পারে যা সুন্দর নয় এবং এমন গুণ থাকতে পারে যা উচ্চমর্যাদার নয়। সৃষ্টির নিন্দনীয় গুণাবলি থাকতে পারে এবং তাদের নাম অসুন্দর হতে পারে। কিন্তু আল্লাহর ক্ষেত্রে তাঁর সকল নামই সুন্দর এবং তাঁর সকল গুণাবলিই সুউচ্চ; যেমন তিনি সুবহানাহু বলেছেন: "আর আল্লাহর জন্যই রয়েছে সুন্দরতম নামসমূহ। সুতরাং তোমরা তাঁকে সেসব নামেই ডাকো এবং তাদেরকে বর্জন করো যারা তাঁর নামসমূহের বিকৃতি ঘটায়। তারা যা করত অচিরেই তাদেরকে তার প্রতিফল দেওয়া হবে (১৮০)।" (১) এবং তিনি আরও বলেছেন: "আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে সর্বোচ্চ গুণ তাঁরই এবং তিনি মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময় (২৭)।" (২) তাঁর জন্য রয়েছে পূর্ণাঙ্গ বর্ণনা।

আল্লাহর আরশের উপর উঠা তাঁর শানের উপযোগী পন্থায়

দশম: আল্লাহর আরশের উপর উঠা হলো তাঁর শানের উপযোগী পন্থায় এর ওপর তাঁর সমুন্নত হওয়া ও স্থির হওয়া।

আর আরশের উপর উঠা (ইস্তিওয়া) হলো এক বিশেষ ধরনের উচ্চতা। উচ্চতা (আল-উলু) হলো এমন সত্তাগত গুণাবলির অন্তর্ভুক্ত যা স্রষ্টা থেকে কখনো পৃথক হয় না। সুতরাং আল্লাহ তাআলা সৃষ্টির ঊর্ধ্বে এবং সৃষ্টির উপরে সমুন্নত, আর এমন কোনো সময় নেই যখন তিনি সমুন্নত নন। পক্ষান্তরে আরশের ওপর উঠা (ইস্তিওয়া) হলো কর্মগত গুণাবলির অন্তর্ভুক্ত; আর এটি হলো এক বিশেষ ধরনের উচ্চতা যা আরশের ওপর তাঁর উঠার মাধ্যমে প্রকাশ পায় এবং তা আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টির পরে হয়েছে।

আল্লাহ তাআলা আরশ সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টির পঞ্চাশ হাজার বছর আগে মাখলুকের তকদিরসমূহ নির্ধারণ করেছেন। তারপর তিনি আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন এবং এরপর তিনি আরশের ওপর উঠেছেন। সুতরাং এটি এক বিশেষ ধরনের উচ্চতা যার ধরন সম্পর্কে আল্লাহই ভালো জানেন। এটি এমন এক কাজ যা তিনি সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর মহিমা ও শ্রেষ্ঠত্বের উপযোগী পন্থায় সম্পাদন করেন এবং তা আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টির পর হয়েছে। আরশের ওপর উঠা (ইস্তিওয়া) এবং নিচে নামা (নুযুল) হলো কর্মগত গুণাবলির অন্তর্ভুক্ত, আর উচ্চতা (আল-উলু) হলো সত্তাগত গুণাবলির অন্তর্ভুক্ত।

আকাশমন্ডলী, পৃথিবী, এ দুয়ের মধ্যবর্তী স্থান এবং ভূগর্ভের সবকিছুর ওপর তাঁর রাজত্বের ব্যাপকতা

--------------------------------------------

(১) - সূরা আল-আরাফ আয়াত: ১৮০।

(২) - সূরা আর-রুম আয়াত: ২৭।
(খণ্ড: ১) তালীকাতুন আলা শারহি লুমআতিল ইতিকাদ লির রাজেহী (পৃষ্ঠা: ২৭)
لا شك أن كل شيء داخل تحت ملك الله ليس هناك شيء يخرج عن ملك الله وعن إرادته ومشيئته. وهو سبحانه يعطي الملك لمن يشاء، وينزع الملك ممن يشاء، ويعز من يشاء، ويذل من يشاء كما قال الله سبحانه: {قُلِ اللَّهُمَّ مَالِكَ الْمُلْكِ تُؤْتِي الْمُلْكَ مَنْ تَشَاءُ وَتَنْزِعُ الْمُلْكَ مِمَّنْ تَشَاءُ وَتُعِزُّ مَنْ تَشَاءُ وَتُذِلُّ مَنْ تَشَاءُ بِيَدِكَ الْخَيْرُ إِنَّكَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ (26) تُولِجُ اللَّيْلَ فِي النَّهَارِ وَتُولِجُ النَّهَارَ فِي اللَّيْلِ وَتُخْرِجُ الْحَيَّ مِنَ الْمَيِّتِ وَتُخْرِجُ الْمَيِّتَ مِنَ الْحَيِّ وَتَرْزُقُ مَنْ تَشَاءُ بِغَيْرِ حِسَابٍ (27) } (1) هذه صفاته سبحانه وتعالى.

سعة علمه وقوة قهره وحكمه

الثاني عشر: سعة علمه وقوة قهره وحكمه، وأن الخلق لا يحيطون به علما؛ لقصور إدراكهم عما يستحقه الرب العظيم من صفات الكمال والعظمة.

الخلق لا يحيطون به علما؛ لكمال علمه وقصورهم كما أنهم لا يحيطون بعظمته ولا يحيطون بعلمه، كما أنهم يرون ربهم يوم القيامة ولا يحيطون به رؤية، لكمال عظمته سبحانه وتعالى، والخلق أضعف من أن يحيطوا به رؤية، بل إن الإنسان يرى شيئا من المخلوقات في الدنيا ولا يحيط بها رؤية.

فالإنسان يرى الجبل العظيم ولا يحيط به رؤية ما يستطيع يحيط به من جميع الجهات، ويرى البستان الواسع ولا يحيط به رؤية، ويرى البلد ولا يحيط به رؤية، فالرب -تعالى- أعظم وأكمل، فالعباد المؤمنون يرون ربهم يوم القيامة، وهو أعظم نعيم يعطاه أهل الجنة لكنهم لا يحيطوا به رؤية؛ لكمال عظمته -سبحانه-.

تقسيم نصوص الصفات وطريقة الناس فيها

--------------------------------------------

(1) - سورة آل عمران آية: 26-27.
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে সবকিছুই আল্লাহর রাজত্বের অধীনে; আল্লাহর রাজত্ব, তাঁর ইচ্ছা ও অভিপ্রায়ের বাইরে কিছুই নেই। তিনি পবিত্র, যাকে ইচ্ছা রাজত্ব দান করেন, যার থেকে ইচ্ছা রাজত্ব ছিনিয়ে নেন, যাকে ইচ্ছা সম্মানিত করেন এবং যাকে ইচ্ছা লাঞ্ছিত করেন, যেমন আল্লাহ সুবহানাহু বলেছেন: {বলুন, ‘হে আল্লাহ, রাজত্বের মালিক! আপনি যাকে চান রাজত্ব দান করেন এবং যার থেকে চান রাজত্ব ছিনিয়ে নেন; যাকে চান আপনি সম্মানিত করেন আর যাকে চান আপনি লাঞ্ছিত করেন। আপনার হাতেই কল্যাণ। নিশ্চয় আপনি সব কিছুর ওপর পূর্ণ ক্ষমতাবান। আপনি রাতকে দিনের মধ্যে প্রবেশ করান এবং দিনকে রাতের মধ্যে প্রবেশ করান। আপনি মৃত থেকে জীবিতকে বের করেন এবং জীবিত থেকে মৃতকে বের করেন। আর আপনি যাকে চান অপরিমিত রিযিক দান করেন।’} (১) এগুলো তাঁর (সুবহানাহু ওয়া তায়ালা) গুণাবলি।

তাঁর জ্ঞানের প্রশস্ততা এবং তাঁর পরাক্রম ও শাসনের শক্তি

দ্বাদশ: তাঁর জ্ঞানের প্রশস্ততা এবং তাঁর পরাক্রম ও শাসনের শক্তি, এবং সৃষ্টিজগত তাঁকে তাদের জ্ঞান দ্বারা পরিবেষ্টন করতে পারে না; মহান রব পূর্ণতা ও মহত্ত্বের যে সকল গুণের অধিকারী, তা উপলব্ধি করতে তাদের বোধশক্তির সীমাবদ্ধতার কারণে।

সৃষ্টিজগত তাঁকে জ্ঞান দ্বারা পরিবেষ্টন করতে পারে না; তাঁর জ্ঞানের পূর্ণতা এবং তাদের অসম্পূর্ণতার কারণে, যেমন তারা তাঁর মহত্ত্বকে পরিবেষ্টন করতে পারে না এবং তাঁর জ্ঞানকেও পরিবেষ্টন করতে পারে না। অনুরূপভাবে তারা কিয়ামতের দিন তাদের রবকে দেখবে কিন্তু দেখার মাধ্যমে তাঁকে পরিবেষ্টন করতে পারবে না, তাঁর (সুবহানাহু ওয়া তায়ালা) মহত্ত্বের পূর্ণতার কারণে। আর সৃষ্টিজগত এতটাই দুর্বল যে তারা তাঁকে দেখার মাধ্যমে পরিবেষ্টন করতে পারবে না; বরং মানুষ দুনিয়াতে কোনো সৃষ্টিকে দেখে কিন্তু দেখার মাধ্যমে তা পূর্ণরূপে পরিবেষ্টন করতে পারে না।

কারণ মানুষ বিশাল পাহাড় দেখে কিন্তু দেখার মাধ্যমে তা পরিবেষ্টন করতে পারে না, সকল দিক থেকে তা পরিবেষ্টন করতে সক্ষম হয় না। সে বিশাল বাগান দেখে কিন্তু দেখার মাধ্যমে তা পরিবেষ্টন করতে পারে না। সে শহর দেখে কিন্তু দেখার মাধ্যমে তা পরিবেষ্টন করতে পারে না। সুতরাং রব তায়ালা আরও মহান ও আরও পরিপূর্ণ। মুমিন বান্দারা কিয়ামতের দিন তাদের রবকে দেখবে, আর তা হবে জান্নাতবাসীদের প্রদানকৃত সর্বশ্রেষ্ঠ নেয়ামত, কিন্তু তারা তাঁকে দেখার মাধ্যমে পরিবেষ্টন করতে পারবে না; তাঁর (সুবহানাহু) মহত্ত্বের পূর্ণতার কারণে।

গুণাবলি সংক্রান্ত দলীলসমূহের শ্রেণিবিভাগ এবং এ বিষয়ে মানুষের কর্মপন্থা

--------------------------------------------

(১) - সূরা আল-ইমরান আয়াত: ২৬-২৭।
(খণ্ড: ১) তালীকাতুন আলা শারহি লুমআতিল ইতিকাদ লির রাজেহী (পৃষ্ঠা: ২৮)
تنقسم نصوص الصفات الواردة في الكتاب والسنة إلى قسمين: واضح جلي، ومشكل خفي، فالواضح ما اتضح لفظه ومعناه، فيجب الإيمان به لفظا، وإثبات معناه حقا بلا رد ولا تأويل ولا تشبيه ولا تمثيل؛ لأن الشرع ورد به فوجب الإيمان به، وتلقيه بالقبول والتسليم.

وأما المشكل فهو ما لم يتضح معناه؛ لإجمال في دلالته، أو قصر في فهم قارئه فيجب إثبات لفظه؛ لورود الشرع به، والتوقف في معناه، وترك التعرض له؛ لأنه مشكل لا يمكن الحكم عليه، فنرد علمه إلى الله ورسوله.

وقد انقسم طريق الناس في هذا المشكل إلى طريقين: الطريق الأول: طريقة الراسخين في العلم الذين آمنوا بالمحكم والمتشابه وقالوا: {كُلٌّ مِنْ عِنْدِ رَبِّنَا} (1) وتركوا التعرض لما لا يمكنهم الوصول إلى معرفته والإحاطة به؛ تعظيما لله ورسوله، وتأدبا مع النصوص الشرعية، وهم الذين أثنى الله عليهم بقوله: {وَالرَّاسِخُونَ فِي الْعِلْمِ يَقُولُونَ آَمَنَّا بِهِ كُلٌّ مِنْ عِنْدِ رَبِّنَا} (2) .

الطريقة الثانية: طريقة الزائغين الذين اتبعوا المتشابه؛ طلبا للفتنة، وصدا للناس عن دينهم وعن طريقة السلف الصالح، فحاولوا تأويل هذا المتشابه إلى ما يريدون لا إلى ما يريده الله ورسوله، وضربوا نصوص الكتاب والسنة بعضها ببعض، وحاولوا الطعن في دلالتها بالمعارضة والنقض؛ ليشككوا المسلمين في دلالتها، ويعموهم عن هدايتها، وهؤلاء الذين ذمهم الله بقوله: {فَأَمَّا الَّذِينَ فِي قُلُوبِهِمْ زَيْغٌ فَيَتَّبِعُونَ مَا تَشَابَهَ مِنْهُ ابْتِغَاءَ الْفِتْنَةِ وَابْتِغَاءَ تَأْوِيلِهِ وَمَا يَعْلَمُ تَأْوِيلَهُ إِلَّا اللَّهُ} (3) .

--------------------------------------------

(1) - سورة آل عمران آية: 7.

(2) - سورة آل عمران آية: 7.

(3) - سورة آل عمران آية: 7.
কুরআন ও সুন্নাহতে বর্ণিত গুণাবলির (সিফাত) বর্ণনাগুলো দুই ভাগে বিভক্ত: স্পষ্ট-প্রকাশ্য এবং জটিল-অস্পষ্ট। স্পষ্ট হলো সেটিই যার শব্দ ও অর্থ উভয়ই পরিষ্কার; তাই এর শব্দের প্রতি ঈমান আনা এবং কোনো প্রকার প্রত্যাখ্যান, অপব্যাখ্যা (তাবিল), সাদৃশ্য প্রদান (তাশবিহ) কিংবা উদাহরণ (তামসিল) ছাড়াই এর প্রকৃত অর্থ সাব্যস্ত করা ওয়াজিব। যেহেতু শরীয়তে এটি এসেছে, তাই এর প্রতি ঈমান আনা এবং তা গ্রহণ ও আত্মসমর্পণের সাথে গ্রহণ করা আবশ্যক।

আর জটিল হলো সেটি যার অর্থ স্পষ্ট নয়; তার নির্দেশের অস্পষ্টতার কারণে অথবা পাঠকের বোধশক্তির সীমাবদ্ধতার কারণে। এমতাবস্থায় এর শব্দের প্রতি ঈমান রাখা ওয়াজিব যেহেতু শরীয়তে এটি বর্ণিত হয়েছে, আর এর অর্থের বিষয়ে বিরত থাকতে হবে এবং এতে হস্তক্ষেপ করা বর্জন করতে হবে। কারণ এটি জটিল বিধায় এর ওপর কোনো সিদ্ধান্ত দেয়া সম্ভব নয়, ফলে আমরা এর জ্ঞান আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকেই ফিরিয়ে দেব।

এই জটিলের ক্ষেত্রে মানুষের কর্মপন্থা দুই ভাগে বিভক্ত হয়েছে: প্রথম পন্থা: জ্ঞানে সুগভীর বা রাসিখুন ফিল ইলমদের পন্থা, যাঁরা মুহকাম এবং মুতাশাবিহ (অস্পষ্ট) উভয়ের প্রতি ঈমান এনেছেন এবং বলেছেন: {সবই আমাদের রবের পক্ষ থেকে} (১)। আর তাঁরা যে বিষয়ের জ্ঞান অর্জন ও পরিবেষ্টন করা তাঁদের পক্ষে সম্ভব নয়, সে বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা ছেড়ে দিয়েছেন; আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে এবং শরয়ি দলীলসমূহের সাথে আদব বজায় রেখে। তাঁরাই সেই ব্যক্তি যাঁদের প্রশংসা আল্লাহ এই বলে করেছেন: {আর যারা জ্ঞানে সুগভীর তারা বলে, আমরা এতে ঈমান এনেছি, সবই আমাদের রবের পক্ষ থেকে} (২)।

দ্বিতীয় পন্থা: বিভ্রান্তদের পন্থা, যারা ফিতনা অন্বেষণে এবং মানুষকে তাদের দীন ও সালাফে সালেহীনের পথ থেকে বিচ্যুত করতে মুতাশাবিহ বা অস্পষ্ট বিষয়গুলোর অনুসরণ করেছে। তারা এই মুতাশাবিহকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্য অনুযায়ী নয় বরং নিজেদের খেয়ালখুশি অনুযায়ী অপব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছে। তারা কুরআন ও সুন্নাহর বর্ণনাগুলোকে একে অপরের বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়েছে এবং বিরোধিতা ও খণ্ডনের মাধ্যমে সেগুলোর প্রামাণিকতার ওপর আঘাত করার চেষ্টা করেছে; যাতে তারা মুসলিমদের মনে সংশয় তৈরি করতে পারে এবং তাদের হিদায়াত থেকে বিমুখ করতে পারে। এদের নিন্দা জানিয়েই আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {যাদের অন্তরে বক্রতা রয়েছে, তারা ফিতনা সৃষ্টি ও তার অপব্যাখ্যার উদ্দেশ্যে মুতাশাবিহের অনুসরণ করে। অথচ আল্লাহ ছাড়া এর ব্যাখ্যা আর কেউ জানে না} (৩)।

--------------------------------------------

(১) - সূরা আল-ইমরান, আয়াত: ৭।

(২) - সূরা আল-ইমরান, আয়াত: ৭।

(৩) - সূরা আল-ইমরান, আয়াত: ৭।
(খণ্ড: ১) তালীকাতুন আলা শারহি লুমআতিল ইতিকাদ লির রাজেহী (পৃষ্ঠা: ২৯)
تنقسم نصوص الصفات إلى قسمين: قسم واضح بمعنى أنه واضح المعنى جلي لا إشكال فيه مثل إثبات القدرة والعلم والسمع والبصر: {وَكَانَ اللَّهُ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمًا (40) } (1) {وَكَانَ اللَّهُ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرًا (27) } (2) إثبات الإرادة إثبات أن الله بكل شيء عليم، وأنه على كل شيء قدير، وسائر الصفات إثبات العلو للرب والاستواء على العرش هذه كلها نصوص محكمة واضحة.

والقسم الثاني: ما فيه اشتباه وهذا الاشتباه يشتبه على بعض الناس دون البعض، وهو الذي لم يظهر معناه للإنسان، وهذه الطريقة الطريقة في أن الشيء المتشابه لا يعلمه الإنسان يرده إلى المحكم الواضح، ويفسره به حتى يزول الإشكال هذه طريقة الراسخين في العلم، طريقة أهل الحق، كل شيء يشكل عليك رده إلى الواضح حتى تفسره به، الطريقة الثانية هي طريقة أهل الزيغ وهم الذين يتعلقون بالمتشابه، ويردون المحكم إليه، فيكون كله متشابها مثلا جاء في الحديث: " إذا صلى أحدكم فلا يبصق قبل وجهه فإن الله قبل وجهه ".

--------------------------------------------

(1) - سورة الأحزاب آية: 40.

(2) - سورة الأحزاب آية: 27.
সিফাত বা গুণাবলি সংক্রান্ত পাঠসমূহ দুই ভাগে বিভক্ত: এক প্রকার হলো সুস্পষ্ট, যার অর্থ পরিষ্কার ও উজ্জ্বল এবং যাতে কোনো জটিলতা নেই; যেমন কুদরত (ক্ষমতা), ইলম (জ্ঞান), শ্রবণ ও দৃষ্টি সাব্যস্ত করা: {আর আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বজ্ঞ (৪০)} (১) {আর আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান (২৭)} (২) ইচ্ছা সাব্যস্ত করা, আল্লাহ সব বিষয়ে অবগত এবং তিনি সব কিছুর ওপর ক্ষমতাবান হওয়ার বিষয়টি সাব্যস্ত করা, এবং অন্যান্য সকল গুণাবলি, রবের জন্য উচ্চতা এবং আরশের উপর উঠা সাব্যস্ত করা—এসবই হলো সুপ্রতিষ্ঠিত ও সুস্পষ্ট পাঠ।

আর দ্বিতীয় প্রকার হলো: যাতে অস্পষ্টতা রয়েছে; এই অস্পষ্টতা কিছু মানুষের নিকট তৈরি হয়, সবার নিকট নয়। এটি এমন বিষয় যার অর্থ মানুষের নিকট প্রকাশ পায়নি। আর এই পদ্ধতি—অর্থাৎ কোনো অস্পষ্ট বিষয় যা মানুষ জানে না, সেটিকে সুস্পষ্ট ও সুপ্রতিষ্ঠিত বিষয়ের দিকে ফিরিয়ে নেওয়া এবং তার মাধ্যমে সেটিকে ব্যাখ্যা করা যাতে অস্পষ্টতা দূর হয়ে যায়—এটিই হলো জ্ঞানে সুগভীর ব্যক্তিবর্গের পদ্ধতি, সত্যপন্থীদের পদ্ধতি। আপনার নিকট যা কিছু অস্পষ্ট মনে হয়, সেটিকে স্পষ্ট বিষয়ের দিকে ফিরিয়ে দিন যাতে আপনি তার মাধ্যমে সেটির ব্যাখ্যা করতে পারেন। দ্বিতীয় পদ্ধতিটি হলো পথভ্রষ্টদের পদ্ধতি; তারা হলো ঐ সমস্ত লোক যারা অস্পষ্ট বিষয়সমূহকে আঁকড়ে ধরে এবং সুপ্রতিষ্ঠিত বিষয়গুলোকে অস্পষ্টতার দিকে ঠেলে দেয়, ফলে সবকিছুই অস্পষ্ট হয়ে যায়। উদাহরণস্বরূপ হাদিসে এসেছে: "তোমাদের কেউ যখন সালাত আদায় করে, তখন সে যেন তার সামনের দিকে থুতু না ফেলে; কারণ আল্লাহ তার চেহারার সামনে থাকেন।"

--------------------------------------------

(১) - সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ৪০।

(২) - সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ২৭।