(খণ্ড: ১) আহাদীসু মুনতাখাবাতুন মিন কিতাবি আমারাতিন নুবুওয়াহ (পৃষ্ঠা: -)
أحاديث منتخبة من كتاب أمارات النبوة   (الجوزجاني)

القسم: كتب السنة


الكتاب: أمارات النبوة

المؤلف: إبراهيم بن يعقوب بن إسحاق السعدي الجوزجاني، أبو إسحاق (ت 259هـ)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

عدد الصفحات: 416

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আমারাতে নুবুওয়াত কিতাব হতে নির্বাচিত হাদিসসমূহ   (আল-জুযজানি)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব: আমারাতে নুবুওয়াত

লেখক: ইবরাহিম বিন ইয়াকুব বিন ইসহাক আস-সাদি আল-জুযজানি, আবু ইসহাক (মৃত্যু ২৫৯ হি.)

[কিতাবের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪১৬

শামিলা-তে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আহাদীসু মুনতাখাবাতুন মিন কিতাবি আমারাতিন নুবুওয়াহ (পৃষ্ঠা: ৩৯১)
جُزْءٌ مِنْ أَحَادِيثَ مُنْتَخَبَةِ مِنَ الْجُزْءِ السَّادِسِ كِتَابِ أَمَارَاتِ النُّبُوَّةِ.....

أَبِي إِسْحَاقَ إِبْرَاهِيمَ بْنِ يَعْقُوبَ الْجَوْزَجَانِيِّ ، رِوَايَةَ أَبِي الدَّحْدَاحِ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْمَاعِيلَ ، عَنْهُ رِوَايَةَ أَبِي الْقَاسِمِ عَلِيِّ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ طِعَانٍ ، عَنْهُ ، رِوَايَةَ أَبِي الْحَسَنِ عَلِيِّ بْنِ مُوسَى بْنِ السِّمْسَارِ ، عَنْهُ رِوَايَةَ أَبِي مُحَمَّدٍ الْحَسَنِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ مُطَهَّرٍ ، عَنْهُ رِوَايَةَ أَبِي مُحَمَّدٍ فِتْيَانِ بْنِ جَنْدَرَةَ بْنِ عَلِيٍّ الْبَجَلِيِّ ، عَنْهُ سَمَاعَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي الْقَاسِمِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ.....

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ الْعَلِيِّ الْعَظِيمِ أَخْبَرَنَا الْإِمَامُ أَبُو الْخَيْرِ سَلَامَةُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ سَلَامَةَ الْحَدَّادُ ، أَنَا الْإِمَامُ أَبُو الْمَجْدِ فِتْيَانُ بْنُ حَيْدَرِ بْنِ عَلِيِّ الْبَجَلِيُّ مِنْ شَرْقِيِّ دِمَشْقَ ، وَهُوَ يَسْمَعُ فَأَقَرَّ بِهِ وَذَلِكَ فِي الْعُشْرِ الْأَوْسَطِ مِنْ شَهْرِ رَمَضَانَ سَنَةَ سَبْعٍ وَسِتِّينَ وَخَمْسِ مِائَةٍ، قُلْتُ: أَخْبَرَكُمْ أَبُو مُحَمَّدٍ الْحَسَنُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْحُسَيْنِ بْنِ مُضَرِّبٍ التَّغْلِبِيُّ ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنْتَ تَسْمَعُ وَذَلِكَ فِي شُهُورِ سَنَةِ ثَمَانِينَ وَأَرْبَعِ مِائَةٍ فَأَقَرَّ بِهِ ، أَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ مُوسَى بْنُ الْحُسَيْنِ السِّمْسَاْرِ ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ ، أَنَا أَبُو الْقَاسِمِ عَلِيُّ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ رَجَاءِ بْنِ طَعَانٍ بِقِرَاءَتِي عَلَيْهِ فِي شَعْبَانَ سَنَةَ وَسَبْعِينَ وَثَلاثِ مِائَةٍ.

1 - أَنَا أَبُو الدَّحْدَاحِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْمَاعِيلَ القَسْمِيُّ ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ ، نَا أَبُو إِسْحَاقَ إِبْرَاهِيمُ بْنُ يَعْقُوبَ الْجَوْزَجَانِيُّ ، نَا أَبُو النُّعْمَانِ ، نَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ ، نَا أَيُّوبُ ،
নবুওয়াতের নিদর্শনসমূহ কিতাবের ষষ্ঠ খণ্ড থেকে নির্বাচিত হাদিসসমূহের একটি অংশ.....

আবু ইসহাক ইব্রাহিম ইবন ইয়াকুব আল-জাওযাজানি থেকে বর্ণিত, আবু আদ-দাহদাহ আহমদ ইবন মুহাম্মদ ইবন ইসমাঈল তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন, আবুল কাসিম আলী ইবন হাসান ইবন তিয়ান তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন, আবুল হাসান আলী ইবন মুসা ইবন আস-সিমসার তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন, আবু মুহাম্মদ হাসান ইবন আলী ইবন আহমদ ইবন মুতাহহার তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন, আবু মুহাম্মদ ফিতইয়ান ইবন জানদারাহ ইবন আলী আল-বাজালি তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন, আবদুর রহমান ইবন আবুল কাসিম ইবন আবদুর রহমানের শ্রবণ...

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। পরম উচ্চ ও মহান আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো শক্তি ও সামর্থ্য নেই। ইমাম আবু আল-খায়ের সালামাহ ইবন ইব্রাহিম ইবন সালামাহ আল-হাদ্দাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, দামেস্কের পূর্বাঞ্চলের ইমাম আবু আল-মাজদ ফিতইয়ান ইবন হাইদার ইবন আলী আল-বাজালি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন—তখন তিনি তা শুনছিলেন এবং এতে সম্মতি প্রদান করেছেন; আর এটি ছিল পাঁচশত সাতষট্টি হিজরি সালের রমজান মাসের মধ্য দশকে। আমি বললাম: আবু মুহাম্মদ আল-হাসান ইবন আলী ইবন আল-হুসাইন ইবন মুদাররিব আত-তাগলিবি আপনাদের সংবাদ দিয়েছেন—তাঁকে পড়ে শোনানো হয়েছে এবং আপনি তা শুনছিলেন; আর এটি ছিল চারশত আশি হিজরি সালের মাসসমূহের মধ্যে, তখন তিনি তাতে সম্মতি দেন। (তিনি বলেন): আবুল হাসান আলী ইবন মুসা ইবন আল-হুসাইন আস-সিমসার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন—তাঁকে পড়ে শোনানো হয়েছে। (তিনি বলেন): আবুল কাসিম আলী ইবন আল-হাসান ইবন রাজা ইবন তিয়ান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন—তিনশত সত্তর হিজরি সালের শাবান মাসে আমার তাঁকে পড়ে শোনানোর মাধ্যমে।

১ - আবু আদ-দাহদাহ আহমদ ইবন মুহাম্মদ ইবন ইসমাঈল আল-কাসমি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন—তাঁকে পড়ে শোনানো হয়েছে। তিনি বলেন: আবু ইসহাক ইব্রাহিম ইবন ইয়াকুব আল-জাওযাজানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন: আবু আন-নুমান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন: হাম্মাদ ইবন যায়েদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন: আইয়ুব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন,
(খণ্ড: ১) আহাদীসু মুনতাখাবাতুন মিন কিতাবি আমারাতিন নুবুওয়াহ (পৃষ্ঠা: ৩৯২)
عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ ، عَنْ جَابِرٍ قَالَ: أَتَى عَلَيَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمًا فَقَالَ: ‌‌«بِعْنِي بَعِيرَكَ يَا جَابِرُ» .

قُلْتُ: أَبِيعُكَ بِخَمْسِ أَوَاقٍ
".

فَنَقَدَنِي خَمْسَ أَوَاقٍ، وَزَادَنِي قِيرَاطًا، ثُمَّ وَهَبَهُ لِي بَعْدُ

2 - أَخْبَرَنَا أَبُو الدَّحْدَاحِ ، نَا إِبْرَاهِيمُ ، نَا أَبُو نُعَيْمٍ زَكَرِيَّا سَمِعْتُ عَامِرًا يَقُولُ:....

جَابِرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ أَنَّهُ كَانَ يَسِيرُ عَلَى جَمَلٍ لَهُ فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «بِعْنِيهِ» .
আবু যুবাইর থেকে বর্ণিত, তিনি জাবির (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: একদিন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমার নিকট আসলেন এবং বললেন: "হে জাবির, তোমার উটটি আমার কাছে বিক্রি করো।"

আমি বললাম: "আমি আপনার কাছে পাঁচ উকিয়ার বিনিময়ে এটি বিক্রি করব।"
.

অতঃপর তিনি আমাকে পাঁচ উকিয়া নগদে পরিশোধ করলেন এবং আমাকে এক কিরাত অতিরিক্ত দিলেন। এরপর তিনি তা আমাকে উপহার হিসেবে প্রদান করলেন।

২ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আদ-দাহদাহ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবরাহিম, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু নুয়াইম জাকারিয়া, আমি আমিরকে বলতে শুনেছি:....

জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত যে, তিনি তার একটি উটের ওপর আরোহণ করে চলছিলেন। এমতাবস্থায় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে বললেন: "এটি আমার কাছে বিক্রি করো।"
(খণ্ড: ১) আহাদীসু মুনতাখাবাতুন মিন কিতাবি আমারাতিন নুবুওয়াহ (পৃষ্ঠা: ৩৯৩)
فَلَمَّا قَدِمْنَا أَتَيْتُهُ بِالْجَمَلِ فَنَقَدَنِي ثَمَنَهُ، ثُمَّ انْصَرَفْتُ فَأَرْسَلَ عَلَى أَثَرِي، فَقَالَ: "‌‌ تَرَانِي إِنَّمَا مَاكَسْتُكَ خُذْ جَمَلَكَ وَدَراهِمَكَ فَهُمَا لَكَ

3 - أَخْبَرَنَا أَبُو الدَّحْدَاحِ ، نَا إِبْرَاهِيمُ ، نَا قَبِيصَةُ ، نَا سُفْيَانُ ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ ، عَنْ
অতঃপর যখন আমরা পৌঁছালাম, আমি তাঁর নিকট উটটি নিয়ে আসলাম এবং তিনি আমাকে সেটির মূল্য পরিশোধ করলেন। অতঃপর আমি প্রস্থান করলাম, তখন তিনি আমার পশ্চাতে লোক পাঠালেন এবং বললেন: "‌‌তুমি কি মনে করো যে আমি কেবল তোমার সাথে দরাদরিই করছিলাম? তোমার উট এবং তোমার দিরহামগুলো নিয়ে নাও, এ উভয়ই তোমার।

৩ - আবু আদ-দাহদাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইব্রাহিম আমাদের বর্ণনা করেছেন, ক্বাবিসাহ আমাদের বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান আমাদের বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনুল মুনকাদির থেকে, থেকে...
(খণ্ড: ১) আহাদীসু মুনতাখাবাতুন মিন কিতাবি আমারাতিন নুবুওয়াহ (পৃষ্ঠা: ৩৯৪)
جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: "‌‌ مَا سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم شَيْئًا قَطُّ فَقَالَ: لَا "

4 - أَخْبَرَنَا أَبُو الدَّحْدَاحِ ، حَدَّثَنِي إِبْرَاهِيمُ ، حَدَّثَنِي مُحَدِّثٌ، قَالَ: نَا عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْوَهَّابِ ، أَنَا عَامِرُ بْنُ صَالِحٍ
জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ বলেন: "‌‌ রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট কখনো কোনো কিছু চাওয়া হয়নি যার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি ‘না’ বলেছেন। "

৪ - আবু আদ-দাহদাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইবরাহিম আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, জনৈক বর্ণনাকারী আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: উমর ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমির ইবনে সালিহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১) আহাদীসু মুনতাখাবাতুন মিন কিতাবি আমারাতিন নুবুওয়াহ (পৃষ্ঠা: ৩৯৫)
الْخَزَّازُ ، عَنْ أَبِيهِ ، عَنْ عَامِرٍ ، عَنِ الْحَسَنِ ، عَنْ سَعْدٍ، قَالَ: نَزَلْنَا مَنْزِلًا فَقَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «يَا سَعْدُ‌‌ اذْهَبْ إِلَى ذَلِكَ الْعَنْزِ فَاحْلِبْهَا» .

قَالَ: وَعَهِدْتُ بِذَلِكَ الْمَكَانِ وَمَا فِيهِ عَنْزٌ، فَأَتَيْتُهُ فَإِذَا عَنْزٌ حَافِلٌ فَحَلِبْتُهَا قَالَ: لَا أَدْرِي كَمْ مَرَّةً وَوَكَّلْتُ بِهَا إِنْسَانًا وَشَغَلَنِي الرَّحْلُ وَذَهَبَتِ الْعَنْزُ، فَاسْتَبْطَأَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقُلْتُ: الرِّحْلَةُ شَغَلَتْنِي فَذَهَبَتِ الْعَنْزُ فَقَالَ: «ذَهَبَ بِهَا طَالِبُهَا»
আল-খায্যায হতে, তিনি তাঁর পিতা হতে, তিনি আমির হতে, তিনি হাসান হতে এবং তিনি সাদ (রা.) হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: আমরা এক স্থানে যাত্রাবিরতি করলাম। তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে বললেন: «হে সাদ!‌‌ ঐ ছাগীটির কাছে যাও এবং তার দুধ দোহন করো।» .

তিনি বলেন: আমি সেই স্থানটি সম্পর্কে জানতাম যে সেখানে কোনো ছাগী ছিল না। অতঃপর আমি সেখানে গেলাম এবং দেখলাম একটি ওলানভর্তি দুগ্ধবতী ছাগী রয়েছে, তখন আমি সেটির দুধ দোহন করলাম। তিনি বলেন: আমি জানি না কতবার (দোহন করেছি)। এরপর আমি এক ব্যক্তিকে সেটির জিম্মাদার নিযুক্ত করলাম, কিন্তু আসবাবপত্র গোছানো আমাকে ব্যস্ত করে ফেলল এবং ছাগীটি চলে গেল। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমার আসতে বিলম্ব দেখে কারণ জানতে চাইলেন। আমি বললাম: সফরের সরঞ্জাম গোছানো আমাকে ব্যস্ত করে ফেলেছিল, ফলে ছাগীটি চলে গেছে। তখন তিনি বললেন: «তার তালাশকারী সেটি নিয়ে গেছে।»
(খণ্ড: ১) আহাদীসু মুনতাখাবাতুন মিন কিতাবি আমারাতিন নুবুওয়াহ (পৃষ্ঠা: ৩৯৬)
5 - أَخْبَرَنَا أَبُو الدَّحْدَاحِ ، نَا إِبْرَاهِيمُ، نَا أَبُو تَوْبَةَ ، نَا مُعَاوِيَةُ بْنُ سَلَّامٍ ، حَدَّثَنِي عَبْدُ الله بْن سَلَّامٍ الْحَرَمِيُّ ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَنْطَلِقُ هُوَ وَأَبُو بَكْرٍ رضي الله عنه يَخْرُجَانِ إِلَى الْجَبَلِ فَيَتَدَارَسَانِ الْقُرْآنَ حَتَّى إِذَا أَمْسَيَا رَجَعَا فَطَافَا بِالْبَيْتِ وَصَلَّيَا مَا قُدِّرَ لَهُمَا حَتَّى إِذَا كَانَ ذَاتَ لَيْلَةٍ أَقْبَلا بَعْدَمَا هَدِئَ النَّاسُ فَطَافَا بِالْبَيْتِ وَصَلَّيَا مَا قُدِّرَ لَهُمَا ، فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ: يَا رَسُولَ اللَّهِ انْطَلِقْ بِنَا إِلَى أَهْلِنَا لَعَلَّنَا نَجِدَ شَيْئًا نَأْكُلُهُ فَأَخَذَ الْكَلَامَ عَبْدٌ لِأَبِي بَكْرٍ قَائِمًا فِي فَنَاءِ الْبَيْتِ فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ: يَا سَعْدُ عِنْدَكَ شَيْءٌ تُطْعِمُنَا؟ فَقَالَ: عِنْدِي حِفْنَةٌ مِنْ زَبِيبٍ فَجَلَسَا فَقَدَّمَ إِلَيْهِمَا فَجَعَلا يَقْضِمَانَهُ فَقَالَ سَعْدُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ مُرْ أَبَا بَكْرٍ فَلْيَعْتَقْنِي فَقَدْ طَالَ عَمَلِي فَبَادَرَ أَبُو بَكْرٍ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَهِ مَا لَنَا خَاِدمٌ يَخْدِمُنَا غَيْرُهُ ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «أَعْتِقْ سَعْدًا يَا أَبَا بَكْرٍ ، أَعْتِقْ سَعْدًا يَا أَبَا بَكْرٍ فَهَذَا خَيْرٌ فَتَحَ اللَّهُ لَكَ بَابَ الْعَبِيدِ وَإِنَّهُمَا إِنْ شَاءَ اللَّهُ» .

فَأَعْتَقَهُ أَبُو بَكْرٍ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «يَا سَعْدُ إِنْ كَانَ لَكَ شَيْءٌ فَالْحَقْ بِهِ ، وَإِنْ نَسِيتَ أَنْ
৫ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আদ-দাহদাহ, আমাদের বর্ণনা করেছেন ইব্রাহিম, আমাদের বর্ণনা করেছেন আবু তাওবাহ, আমাদের বর্ণনা করেছেন মুয়াবিয়া ইবনে সালাম, আমার কাছে বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে সালাম আল-হারামি যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু উভয়ে পাহাড়ের দিকে বের হতেন এবং সেখানে পরস্পর কুরআন অধ্যয়ন করতেন। যখন সন্ধ্যা হতো তারা ফিরে আসতেন এবং বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করতেন ও তাদের জন্য যতটুকু নির্ধারিত ততটুকু নামাজ আদায় করতেন। এক রাতে যখন মানুষজন শান্ত হয়ে গেল, তখন তারা আসলেন এবং বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করলেন ও তাদের জন্য যতটুকু নির্ধারিত ততটুকু নামাজ আদায় করলেন। তখন আবু বকর বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমাদের সাথে আমাদের পরিবারের কাছে চলুন, সম্ভবত আমরা খাওয়ার মতো কিছু পেয়ে যাব। তখন আবু বকরের এক গোলাম, যে ঘরের প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে ছিল, সে কথাটি শুনতে পেল। আবু বকর বললেন: হে সাদ, তোমার কাছে কি আমাদের খাওয়ানোর মতো কিছু আছে? সে বলল: আমার কাছে এক মুষ্টি কিসমিস আছে। অতঃপর তারা দুজনে বসলেন এবং সে তাদের সামনে তা পেশ করল, আর তারা তা খেতে লাগলেন। তখন সাদ বলল: হে আল্লাহর রাসূল, আপনি আবু বকরকে আদেশ করুন যেন তিনি আমাকে মুক্ত করে দেন, কারণ আমার সেবার মেয়াদ দীর্ঘ হয়েছে। তখন আবু বকর দ্রুত বলে উঠলেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমাদের সেবার জন্য সে ছাড়া আর কোনো খাদেম নেই। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "হে আবু বকর, সাদকে মুক্ত করে দাও; হে আবু বকর, সাদকে মুক্ত করে দাও। এটিই উত্তম, আল্লাহ তোমার জন্য দাসদের দরজা উন্মুক্ত করে দেবেন, আর তারা দুজনেই (মুক্ত হবে) ইনশাআল্লাহ।"

অতঃপর আবু বকর তাকে মুক্ত করে দিলেন। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন: "হে সাদ, তোমার যদি কোনো সহায়-সম্বল থাকে তবে তার সাথে গিয়ে যুক্ত হও, আর যদি তুমি ভুলে যাও যে...
(খণ্ড: ১) আহাদীসু মুনতাখাবাতুন মিন কিতাবি আমারাতিন নুবুওয়াহ (পৃষ্ঠা: ৩৯৭)
تَلْحَقَ بِنَا إِذَا خَرَجْنَا فَإِنَّا لَنْ نَأْلُوكَ خَيْرًا» .

قَالَ: مَالِي مِنْ وَلَدٍ وَلَا وَالِدٍ أَلْحَقُ بِهِ غَيْرَكُمَا ، فَلَمَّا خَرَجَا إِلَى الْمَدِينَةِ لَحِقَ بِهِمَا ، فَكَانَ سَعْدُ يَرْحَلُ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، وَلِأبِي بَكْرٍ إِذَا سَافَرَا ، فَغَزَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم غَزْوَةً فَنَزَلَ الْجَيْشُ ذَاتَ يَوْمٍ وَلَيْسَ مَعَهُمْ طَعَامٌ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «يَا سَعْدُ هَلْ مَعَكَ شَيْءٌ» .

قَالَ: نَعَمْ مَعِي صَاعٌ مِنْ تَمْرٍ خَبَّأَتُهُ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، وَلِأَبِي بَكْرٍ فَقَالَ: " ائْتِ بِهِ ، فَأَدْخَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَدَهُ فَدَعَا بِالْبَرَكَةِ ، ثُمَّ قَالَ: "‌‌ ائْتِ بِالأَنْطَاعِ مِنْ جُلُودِ ، فَبَسَطَ الأَنْطَاعَ بَعْضَهَا إِلَى بَعْضٍ ، وَبَسَطَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ذَلِكَ التَّمْرَ عَلَى الأَنْطَاعِ ، ثُمَّ قَالَ: " يَا سَعْدُ أَذِّنْ فِي النَّاسِ هَلُمُّوا إِلَى الْغَدَاءِ ، فَأَقْبَلَ النَّاسُ فَجَعَلُوا يَزْدَحِمُونَ ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «كُلُوا وَلَا تَعْجَلُوا» .

ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " خُذِ الْحَلَّابَ فَانْظُرْ إِلَى الشَّاةِ وَرَاءَ الشَّجْرَةِ فَاحْلِبْهَا ، فَإِذَا هُوَ بِعَنْزٍ سَوْدَاءَ ضَخْمَةِ الضَّرْعِ، فَجَعَلَ يَحْلِبُ فِي قَدَحِهِ ، ثُمَّ يَأْتِي بِهِ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَيَقُولُ: «اسْقِي الْقَوْمَ» .

فَجَعَلَ يَسْقِيهِمْ ثُمَّ يَرْجِعُ يَمْلَأُهُ فَيَسْقِيهِمْ فَلَمْ يَزَلْ يَرْجِعُ يَمْلَأُهُ فَيَسْقِيهِمْ حَتَّى صَدَرَ الْجَيْشُ عَنْ شَبَعٍ وَرَيٍّ وَلَبَنٍ فَلَمَّا أَنْ شَبِعُوا قَالَ: " اقْبض إِلَيْكَ سَائِرَ تَمْرِكَ فَجَمَعَ بَعْضَهُ إِلَى بَعْضٍ فَإِذَا صَاعُهُ كَمَا كَانَ فَجَعَلَهُ فِي وِعَائِهِ ، ثُمَّ أَذَّنَ فِي الرَّحِيلِ ، فَدَعَا سَعْدٌ صَاحِبًا لَهُ فَأَعْطَاهُ الْعَنْزَ ، فَقَالَ: اجْعَلْ يَدَكَ مِنْ وَرَاءِ عُنُقِهَا وَضُمَّهَا إِلَيْكَ حَتَّى أَرْحَلَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، وَأَبِي بَكْرٍ فَإِذَا صَاحِبُهُ يَدْعُوهُ: يَا سَعْدُ حَيْنَ....

مِنَ الرَّحِيلِ جَاءَ يَسْعَى فَقَالَ: إِنَّ الْعَنْزَ قَدْ ذَهَبَتْ ، قَالَ: أَضَعْتَهَا؟ قَالَ: مَا فَارَقَتْ يَدَاي عُنُقَهَا وَمَا أَدْرِي كَيْفَ انْسَلَّتْ ، فَدَعَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سَعْدًا فَقَالَ: إِنِّي قَدْ أَعْطَيْتُ صَاحِبًا لِي الْعَنْزَ يُمْسِكُهَا فَمَا أَدْرِي كَيْفَ انْسَلَّتْ فَذَهَبَتْ ، قَالَ: «ارْكَبْ عَنْكَ وَدَعْهَا»
আমরা যখন বের হব তখন তুমি আমাদের সাথে যোগ দিয়ো, কারণ আমরা তোমার কল্যাণে কোনো ত্রুটি করব না।"

তিনি বললেন: "তোমরা দু'জন ছাড়া আমার এমন কোনো সন্তান বা পিতা নেই যার সাথে আমি গিয়ে মিলিত হতে পারি।" অতঃপর তারা যখন মদিনার উদ্দেশ্যে বের হলেন, তিনি তাদের সাথে যোগ দিলেন। সাদ আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং আবু বকর (রা.)-এর সফরের সময় তাঁদের সওয়ারি প্রস্তুত করে দিতেন। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একটি যুদ্ধে বের হলেন এবং একদিন সেনাবাহিনী এমন এক স্থানে অবতরণ করল যেখানে তাদের কাছে কোনো খাবার ছিল না। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "হে সাদ, তোমার কাছে কি কিছু আছে?"

তিনি বললেন: "হ্যাঁ, আমার কাছে এক সা' খেজুর আছে যা আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং আবু বকরের জন্য জমিয়ে রেখেছিলাম।" তিনি বললেন: "তা নিয়ে এসো।" আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর হাত (তার ভেতর) প্রবেশ করালেন এবং বরকতের দোয়া করলেন। এরপর তিনি বললেন: "‌‌চামড়ার দস্তরখানগুলো নিয়ে এসো।" অতঃপর দস্তরখানগুলো একটির সাথে অন্যটি বিছিয়ে দেওয়া হলো। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেই খেজুরগুলো দস্তরখানের ওপর বিছিয়ে দিলেন। এরপর তিনি বললেন: "হে সাদ, লোকদের মাঝে ঘোষণা করে দাও যে, তারা যেন দুপুরের খাবারের জন্য আসে।" লোকজন আসতে লাগল এবং ভিড় করতে লাগল। তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "তোমরা খাও এবং তাড়াহুড়ো করো না।"

এরপর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "দুধ দোয়ানোর পাত্রটি নাও এবং গাছের পেছনের বকরিটির দিকে তাকাও এবং তার দুধ দোয়াও।" তিনি গিয়ে দেখলেন সেটি একটি কালো বকরি যার ওলান ছিল বিশাল। তিনি তাঁর পেয়ালায় দুধ দোয়াতে লাগলেন, অতঃপর তা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে নিয়ে আসলেন। তিনি বললেন: "লোকদের পান করাও।"

তিনি তাদেরকে পান করাতে লাগলেন, এরপর পুনরায় গিয়ে পাত্রটি পূর্ণ করে এনে পান করাতে লাগলেন। এভাবে তিনি বারবার গিয়ে পাত্রটি পূর্ণ করে এনে পান করাতে থাকলেন যতক্ষণ না পুরো বাহিনী তৃপ্তিসহকারে খেয়ে ও দুধ পান করে পরিতৃপ্ত হলো। যখন তারা তৃপ্ত হলো, তিনি বললেন: "তোমার অবশিষ্ট খেজুরগুলো তুলে নাও।" তিনি সেগুলো একত্রিত করলেন এবং দেখলেন যে, তাঁর সেই এক সা' খেজুর আগের মতোই রয়ে গেছে। তিনি সেগুলো তাঁর পাত্রে রেখে দিলেন। অতঃপর যাত্রার ঘোষণা দেওয়া হলো। সাদ তাঁর এক সাথীকে ডাকলেন এবং তাকে বকরিটি দিলেন। তিনি বললেন: "তোমার হাত বকরিটির ঘাড়ের পেছন দিক দিয়ে ধরো এবং তাকে তোমার সাথে চেপে রাখো যতক্ষণ না আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং আবু বকরের সওয়ারি প্রস্তুত করি।" হঠাৎ তাঁর সাথী তাঁকে ডাকতে লাগল: "হে সাদ! যখন....

যাত্রার সময় তিনি দৌড়ে আসলেন এবং বললেন: "বকরিটি চলে গেছে।" তিনি বললেন: "তুমি কি ওটা হারিয়ে ফেলেছ?" সে বলল: "আমার হাত দু'টি ওর ঘাড় থেকে আলাদা হয়নি, এবং আমি জানি না কীভাবে সেটি ফসকে গেল।" অতঃপর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাদকে ডাকলেন। তিনি বললেন: "আমি আমার এক সাথীকে বকরিটি ধরতে দিয়েছিলাম, আমি জানি না কীভাবে সেটি ফসকে চলে গেল।" তিনি বললেন: "তুমি সওয়ার হও এবং ওটা ছেড়ে দাও।"
(খণ্ড: ১) আহাদীসু মুনতাখাবাতুন মিন কিতাবি আমারাতিন নুবুওয়াহ (পৃষ্ঠা: ৩৯৮)
6 - أَخْبَرَنَا أَبُو الدَّحْدَاحِ ، نَا إِبْرَاهِيمُ ، نَا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ عَبْدِ الرَّحِيمِ الْأَشْجَعِيُّ ، مِنْ أَهْلِ حَوْبَرَ ، نَا مَرَوَانُ بْنُ مُعَاوِيَةَ ، عَنْ وَاِئلِ بْنِ دَاوُدَ ، نَا عَبْدُ اللَّهِ الْبَهِيُّ، قَالَ: ‌‌«أَطْعَمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَدِيجَةَ مِنْ عِنَبِ الْجَنَّةِ»
৬ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আদ-দাহদাহ, আমাদের বর্ণনা করেছেন ইবরাহিম, আমাদের বর্ণনা করেছেন হাওবার নিবাসী আব্দুল ওয়াহহাব বিন আব্দুর রাহিম আল-আশজা‘ঈ, আমাদের বর্ণনা করেছেন মারওয়ান বিন মু‘আবিয়া, ওয়াইল বিন দাউদ থেকে, আব্দুল্লাহ আল-বাহী আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাদিজাকে জান্নাতের আঙুর খাইয়েছিলেন»
(খণ্ড: ১) আহাদীসু মুনতাখাবাতুন মিন কিতাবি আমারাতিন নুবুওয়াহ (পৃষ্ঠা: ৩৯৯)
7 - أَخْبَرَنَا أَبُو الدَّحْدَاحِ ، نَا إِبْرَاهِيمُ ، نَا أَبُو نُعَيْمٍ ، نَا كَامِلُ بْنُ الْعَلَاءِ ، سَمِعْتُ
৭ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আদ-দাহদাহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইব্রাহীম, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু নুয়াইম, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন কামিল ইবনুল আলা, আমি শুনেছি...
(খণ্ড: ১) আহাদীসু মুনতাখাবাতুন মিন কিতাবি আমারাতিন নুবুওয়াহ (পৃষ্ঠা: ৪০০)
أَبَا صَالِحٍ ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: صَلَّيْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْعِشَاءَ‌‌ فَإِذَا سَجَدَ وَثَبَ الْحَسَنُ وَالْحُسَيْنُ عليهما السلام عَلَى ظَهْرِهِ فَإِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ رَفَعَهُمَا رَفْعًا رَقِيقًا فَيَضَعُهُمَا ، ثُمَّ إِذَا سَجَدَ عَادَ حَتَّى قَضَى صَلَوَاتِهِ ، ثُمَّ أَقْعَدَهُمَا عَلَى فَخِذِهِ، أَحَدُهُمَا عَلَى الْيُمْنَى ، وَالْآخَرُ عَلَى الْيُسْرَى.

قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ: فَقُمْتُ إِلَيْهِ فَقُلْتُ: أَلَا أَبْلِغَهُمَا؟ قَالَ: «لَا» .

فَبَرَقَتْ بَرْقَةٌ فَلَمْ يُرَيا إِلَّا فِي ضَوْءِهَا حَتَّى دَخَلا عَلَى أُمِّهِمَا رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ
আবু সালিহ হতে বর্ণিত, তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমরা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে ইশার সালাত আদায় করলাম। অতঃপর যখন তিনি সাজদাহ করলেন, হাসান ও হুসাইন (আলাইহিমাস সালাম) তাঁর পিঠের ওপর লাফিয়ে উঠলেন। যখন তিনি তাঁর মাথা উঠালেন, তখন তিনি তাঁদের অত্যন্ত কোমলভাবে তুলে নিচে নামিয়ে রাখলেন। এরপর যখন তিনি পুনরায় সাজদাহ করলেন, তাঁরাও পুনরায় অনুরূপ করলেন, এভাবে তিনি তাঁর সালাত সম্পন্ন করলেন। অতঃপর তিনি তাঁদের উভয়কে তাঁর ঊরুর ওপর বসালেন; একজনকে ডান দিকে এবং অন্যজনকে বাম দিকে।

আবু হুরায়রা বলেন: আমি তাঁর নিকট উঠে দাঁড়ালাম এবং বললাম: আমি কি তাঁদের পৌঁছে দেব না? তিনি বললেন: "না"।

অতঃপর একটি বিজলি চমকালো এবং সেই বিজলির আলোতেই তাঁদের দেখা যাচ্ছিল যতক্ষণ না তাঁরা তাঁদের মায়ের কাছে প্রবেশ করলেন (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন)।
(খণ্ড: ১) আহাদীসু মুনতাখাবাতুন মিন কিতাবি আমারাতিন নুবুওয়াহ (পৃষ্ঠা: ৪০২)
8 - أَخْبَرَنَا أَبُو الدَّحْدَاحِ ، نَا إِبْرَاهِيمُ ، أَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ ، حَدَّثَنِي سَعْدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ كَعْبِ بْنِ عُجْرَةَ ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ عُمَرَ بْنِ قَتَادَةَ، عَنْ قَتَادَةَ بْنِ النُّعْمَانِ، أَنَّهُ قَالَ:
৮ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আদ-দাহদাহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবরাহিম, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন জাফর, আমার নিকট বর্ণনা করেছেন সাদ বিন ইসহাক বিন কাব বিন উজরাহ, তিনি আসিম বিন উমর বিন কাতাদাহ থেকে, তিনি কাতাদাহ বিন নুমান থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন:
(খণ্ড: ১) আহাদীসু মুনতাখাবাতুন মিন কিতাবি আমারাতিন নুবুওয়াহ (পৃষ্ঠা: ৪০৩)
كَانَتْ لَيْلَةٌ شَدِيدَةُ الظُّلْمَةِ وَالْمَطَرِ فَقُلْتُ: لَوِ اغْتَنَمْتُ اللَّيْلَةَ شُهُودَ الْعَتَمَةِ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَفَعَلْتُ فَلَمَّا انْصَرَفَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أبْصَرَنِي وَمَعَهُ عُرْجُونٌ يَمْشِي عَلَيْهِ فَقَالَ: «مَا لَكَ يَا قَتَادَةُ هَهُنَا هَذِهِ السَّاعَةَ؟» فَقُلْتُ: اغْتَنَمْتُ شُهُودَ الصَّلاةِ مَعَكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَأَعْطَانِي الْعُرْجُونَ فَقَالَ: " إِنَّ‌‌ الشَّيْطَانَ قَدْ خَلَفَكَ فِي أَهْلِك فَاذْهَبْ بِهَذَا الْعُرْجُونِ فَاسْتَضرِبْهُ حَتَّى تَأْتَيَ بَيْتَكَ فَتَجِدَهُ فِي زَاوِيَةِ الْبَيْتِ فَاضْرِبْهُ بِالْعُرْجُونِ فَخَرَجْتُ مِنَ الْمَسْجِدِ فَأَضَاءَ الْعُرْجُونُ بِمِثْلِ الشَّمْعَةِ نُوَرًا فَاسْتَضَأْتُ بِهِ فَأَتَيْتُ أَهْلِي فَوَجَدْتُهُمْ رُقُودًا، فَنَظَرْتُ فِي الزَّاوِيَةِ فَإِذَا فِيهَا قُنْفُذٌ فَلَمْ أَزَلْ أَضْرِبُهُ بِالْعُرْجُونِ حَتَّى خَرَجَ
রাতটি ছিল প্রচণ্ড অন্ধকার ও বৃষ্টির। আমি বললাম: আমি যদি আজ রাতে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ইশার সালাতে উপস্থিত হওয়ার সুযোগটি গ্রহণ করতে পারতাম! অতঃপর আমি তা-ই করলাম। যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফিরে যাচ্ছিলেন, তখন তিনি আমাকে দেখতে পেলেন। তাঁর কাছে একটি খেজুরের ডাল ছিল যার ওপর ভর দিয়ে তিনি হাঁটছিলেন। তিনি বললেন: “হে কাতাদা, এই সময়ে তুমি এখানে কেন?” আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনার সাথে সালাতে উপস্থিত হওয়ার সুযোগটি গ্রহণ করেছি। তখন তিনি আমাকে ডালটি দিলেন এবং বললেন: “নিশ্চয় শয়তান তোমার অবর্তমানে তোমার পরিবারে প্রবেশ করেছে। সুতরাং এই ডালটি নিয়ে যাও এবং এটি থেকে আলো গ্রহণ করো যতক্ষণ না তুমি তোমার ঘরে পৌঁছাও এবং তাকে ঘরের কোণে দেখতে পাও। অতঃপর তাকে এই ডালটি দিয়ে প্রহার করো।” আমি মসজিদ থেকে বের হলাম এবং ডালটি মোমবাতির মতো উজ্জ্বল আলো দিতে লাগল। আমি সেই আলোতে পথ চলে আমার পরিবারে পৌঁছালাম এবং তাদের ঘুমন্ত অবস্থায় পেলাম। আমি ঘরের কোণে তাকালাম এবং সেখানে একটি শজারু দেখতে পেলাম। আমি তাকে এই ডালটি দিয়ে প্রহার করতে থাকলাম যতক্ষণ না সে বেরিয়ে গেল।
(খণ্ড: ১) আহাদীসু মুনতাখাবাতুন মিন কিতাবি আমারাতিন নুবুওয়াহ (পৃষ্ঠা: ৪০৬)
9 - أَخْبَرَنَا أَبُو الدَّحْدَاحِ ، نَا إِبْرَاهِيمُ ، نَا حَجَّاجُ بْنُ الْمِنْهَالِ ، وَعَمْرُو بْنُ عَاصِمٍ، قَالَا: نَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ ، عَنْ ثَابِتٍ ، عَنْ أَنَسٍ ، أَنْ أُسَيْدَ بْنُ حُضَيْرٍ ، وَعَبَّادَ بْنَ بِشْرٍ ، كَانَا
৯ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আদ-দাহদাহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইব্রাহিম, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাজ্জাজ ইবনুল মিনহাল এবং আমর ইবনে আসিম, তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ ইবনে সালামাহ, সাবিত থেকে, তিনি আনাস থেকে বর্ণনা করেন যে, উসাইদ ইবনে হুদাইর এবং আব্বাদ ইবনে বিশর ছিলেন...
(খণ্ড: ১) আহাদীসু মুনতাখাবাতুন মিন কিতাবি আমারাতিন নুবুওয়াহ (পৃষ্ঠা: ৪০৭)
عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي لَيْلَةٍ ظَلْمَاءَ حِنْدِسٍ فَخَرَجَا مِنْ عِنْدِهِ فَأَصَابَ عَصَا أَحَدِهِمَا فَتِيلُ السِّرَاجِ فَكَانَا يَمْشِيَانِ فِي ضَوْئِهَا ، فَلَمَّا أَرَادَا أَنْ يَتَفَرَّقَا إِلَى مَنَازِلِهِمَا أَضَاءَتْ عَصَا هَذَا وَعَصَا هَذَا
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এক নিঝুম অন্ধকার রাতে (সাহাবীদ্বয় অবস্থান করছিলেন)। অতঃপর তারা তাঁর নিকট হতে বের হলেন। তখন তাদের একজনের লাঠি প্রদীপের সলতের ন্যায় প্রজ্বলিত হয়ে উঠল এবং তারা সেই আলোতে পথ চলতে লাগলেন। অতঃপর যখন তারা নিজ নিজ গৃহের অভিমুখে যাওয়ার জন্য একে অপরের থেকে পৃথক হতে চাইলেন, তখন এর লাঠি এবং ওর লাঠি—উভয়ই আলোকিত হয়ে উঠল।
(খণ্ড: ১) আহাদীসু মুনতাখাবাতুন মিন কিতাবি আমারাতিন নুবুওয়াহ (পৃষ্ঠা: ৪০৮)
10 - أَخْبَرَنَا أَبُو الدَّحْدَاحِ ، نَا إِبْرَاهِيمُ ، حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ أَبُو مُحَمَّدٍ ، أَخْبَرَنِي جناح ، نَا سُفْيَانُ بْنُ حَمْزَةَ ، عَنْ كَثِيرِ بْنِ زَيْدٍ ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ حَمْزَةَ الْأَسْلَمِيِّ ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ:
১০ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আদ-দাহদাহ, আমাদের বর্ণনা করেছেন ইবরাহীম, আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন আব্দুল্লাহ আবু মুহাম্মদ, আমাকে সংবাদ দিয়েছেন জুনাহ, আমাদের বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান ইবনে হামযাহ, কাসীর ইবনে যায়িদ থেকে বর্ণিত, তিনি মুহাম্মদ ইবনে হামযাহ আল-আসলামী থেকে এবং তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:
(খণ্ড: ১) আহাদীসু মুনতাখাবাতুন মিন কিতাবি আমারাতিন নুবুওয়াহ (পৃষ্ঠা: ৪০৯)
أُنْفِرَ بِنَا ونحن في سَفَرٍ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي لَيْلَةٍ ظَلْمَاءَ فَأَضَاءَتْ أَصَابِعِي حَتَّى جَمَعُوا عَلَيْهَا طُهْرَهُمْ وَمَا هَلَكَ مِنْهُمْ وَإِنَّ أَصَابِعِي لَتُنِيرُ

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে এক সফরে থাকা অবস্থায় এক ঘোর অন্ধকার রাতে আমাদের চালিত করা হয়েছিল। তখন আমার আঙুলগুলো উজ্জ্বল হয়ে আলো দিতে লাগল, এমনকি লোকেরা সেই আলোতে তাদের পবিত্রতা অর্জনের পাথেয় ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় বস্তুসমূহ সংগ্রহ করতে সক্ষম হলো এবং তাদের কোনো কিছুই বিনষ্ট হলো না। আর নিশ্চয়ই আমার আঙুলগুলো তখন আলো বিচ্ছুরিত করছিল।

(খণ্ড: ১) আহাদীসু মুনতাখাবাতুন মিন কিতাবি আমারাতিন নুবুওয়াহ (পৃষ্ঠা: ৪১০)
11 - أَخْبَرَنَا أَبُو الدَّحْدَاحِ ، نَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ يَعْقُوبَ ، نَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ ، نَا طَلْحَةُ ، عَنْ عَطَاءٍ، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي حِرَاءٍ فَجَاءَهُ جِبْرِيلُ فَقَالَ: يَا مُحَمَّدُ، هَذِهِ خَدِيجَةُ تَحْمِلُ حَيْسًا فِي حَلَّابٍ ، وَقَدْ أَرْسَلَنِي اللَّهُ إِلَيْهَا بِالسَّلَامِ ، فَجَاءَتْ خَدِيجَةُ، فَقَالَ: "‌‌ مَعَكِ حَيْسٌ، قَاَلَتْ: نَعمْ يَا رَسُولَ اللَّهِ ، قَالَ: «إِنَّ جِبْرِيلَ أَخْبَرَنِي ذَاكَ وَأَخْبَرَنِي أَنَّ اللَّهَ أَرْسَلَهُ إِلَيْكِ بِالسَّلَامِ» .

فَقَالَتْ خَدِيجَةُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ ، اللَّهُ السَّلَامُ وَمِنْهُ السَّلَامُ وَعَلَى جِبْرِيلَ السَّلَامُ
১১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আদ-দাহদাহ, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইব্রাহিম ইবনে ইয়াকুব, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে উবাইদ, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন তালহা, আতা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হেরা গুহায় ছিলেন। তখন জিবরাঈল তাঁর নিকট আসলেন এবং বললেন: হে মুহাম্মদ, এই যে খাদিজা একটি পাত্রে হাইস (খেজুর ও পনির মিশ্রিত খাবার) নিয়ে আসছেন। আর আল্লাহ আমাকে তাঁর কাছে সালাম নিয়ে পাঠিয়েছেন। অতঃপর খাদিজা আসলেন, তখন তিনি (রাসূলুল্লাহ) বললেন: "‌‌তোমার সাথে কি হাইস আছে? তিনি বললেন: হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল। তিনি বললেন: জিবরাঈল আমাকে এ সংবাদ দিয়েছেন এবং আমাকে জানিয়েছেন যে আল্লাহ তাঁকে তোমার নিকট সালাম সহকারে পাঠিয়েছেন।"

তখন খাদিজা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আল্লাহ নিজেই সালাম, তাঁর থেকেই সালাম আসে এবং জিবরাঈলের ওপর সালাম বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১) আহাদীসু মুনতাখাবাতুন মিন কিতাবি আমারাতিন নুবুওয়াহ (পৃষ্ঠা: ৪১২)
12 - أَخْبَرَنَا أَبُو الدَّحْدَاحِ ، نَا إِبْرَاهِيمُ ، نَا أَبُو النُّعْمَانِ ، نَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ ، عَنْ أَبِي مَخْلَدٍ مَوْلَى أَبِي بَكْرٍ ، عَنْ أَبِي الْعَالِيَةِ ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: أَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم بِثَمَرَاتٍ فَصَفَّهُنَّ وَدَعَا فِيهِنَّ بِالْبَرَكَةِ وَقَالَ: ‌‌«اجْعَلْهُنَّ فِي مِزْوَدِكَ، فَإِذَا أَرَدْتَ أَنْ تَأْخُذَ مِنْهُ شَيْئًا فَأَدْخِلْ يَدَكَ فَخُذْهُ وَلَا تَنْثُرْهُ» .

قَالَ: فَجَعَلْتُهُ فِي مِزْوَدِي ، قَالَ: فَوَّجْهُتُ مِنْهُ رَوَاحِلَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَكُنْتُ آكُلُ مِنْهُ وَأُطْعِمُ فَكَانَ فِي حَقْوِي حَتَّى وَقَعَ يَوْمُ قَتْلِ عُثْمَانَ رضي الله عنه فَذَهَبَ
১২ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আদ-দাহদাহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবরাহিম, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আন-নু'মান, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ ইবনে যাইদ, তিনি আবু বকরের মুক্তদাস আবু মাখলাদ থেকে, তিনি আবুল আলিয়া থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট কিছু খেজুর নিয়ে আসলাম। তিনি সেগুলো সারিবদ্ধ করলেন এবং তাতে বরকতের জন্য দোয়া করলেন। এরপর তিনি বললেন: “এগুলো তোমার থলিতে রাখো। যখন তুমি তা থেকে কিছু নিতে চাইবে, তখন তোমার হাত প্রবেশ করিয়ে তা নেবে, কিন্তু তা উপুড় করে ঢেলে দেবে না।”

তিনি বলেন: অতঃপর আমি তা আমার থলিতে রাখলাম। তিনি বলেন: আমি তা থেকে আল্লাহর রাস্তায় বহু আরোহী দল প্রস্তুত করে পাঠিয়েছি। আমি নিজে তা থেকে আহার করতাম এবং অন্যদেরও আহার করাতাম। সেটি সর্বদা আমার কোমরের সাথে লটকানো থাকত। অবশেষে যেদিন উসমান (রা.)-কে হত্যা করার ঘটনা ঘটল, সেদিন সেটি হারিয়ে গেল।
(খণ্ড: ১) আহাদীসু মুনতাখাবাতুন মিন কিতাবি আমারাতিন নুবুওয়াহ (পৃষ্ঠা: ৪১৫)
13 - أَخْبَرَنَا أَبُو الدَّحْدَاحِ ، نَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ يَعْقُوبَ ، نَا عَلِيُّ بْنُ الْحَسَنِ ، نَا الْحُسَيْنُ بْنُ وَاقِدٍ ، نَا أَبُو غَالِبٍ ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ قَالَ:‌‌ أَرْسَلَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى بَاهِلَةَ فَأَتَيْتُهُمْ وَهُمْ عَلَي طَعَامٍ فَرَحَّبُوا بِي وَأَكْرَمُونِي وَقَالُوا: كُلْ ، قُلْتُ: جِئْتُ لِأَنْهَاكُمْ عَنْ هَذَا الطَّعَامِ إِنِّي رَسُولُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَيْكُمْ لِتُؤْمِنُوا بِهِ فَكَذَّبُونِي وَزَبَرُونِي فَانْطَلَقْتُ وَأَنَا جَائِعٌ ظَمْآنُ وَقَدْ نَزَلَ بِي جَهْدٌ شَدِيدٌ فَأُتِيتُ فِي مَنَامِي بِشَرْبَةٍ
১৩ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আদ-দাহদাহ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবরাহীম ইবনু ইয়াকুব, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আলী ইবনুল হাসান, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-হুসাইন ইবনু ওয়াকিদ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু গালিব, তিনি আবু উমামাহ (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:‌‌ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বাহিলাহ গোত্রের নিকট পাঠালেন। আমি তাদের নিকট আসলাম এমতাবস্থায় যখন তারা খাবার খাচ্ছিল। তারা আমাকে স্বাগত জানাল এবং সম্মান প্রদর্শন করল এবং বলল: আহার করুন। আমি বললাম: আমি তোমাদেরকে এই খাবার থেকে নিষেধ করতে এসেছি। নিশ্চয়ই আমি তোমাদের নিকট আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রেরিত দূত হিসেবে এসেছি যাতে তোমরা তাঁর প্রতি ঈমান আনো। কিন্তু তারা আমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করল এবং আমাকে ধমক দিল। অতঃপর আমি চলে গেলাম এমতাবস্থায় যে আমি ছিলাম ক্ষুধার্ত ও তৃষ্ণার্থ এবং আমার ওপর তীব্র কষ্ট ও ক্লান্তি নেমে এসেছিল। এমতাবস্থায় ঘুমের মধ্যে আমার নিকট পানীয় নিয়ে আসা হলো।
(খণ্ড: ১) আহাদীসু মুনতাখাবাতুন মিন কিতাবি আমারাতিন নুবুওয়াহ (পৃষ্ঠা: ৪১৬)
مِنْ لَبَنٍ فَشَبِعْتُ وَرَوَيتُ وَعَظُمَ بَطْنِي فَقَالَ الْقَوْمُ: أَتَاكُمْ رَجُلٌ مِنْ خِيَارِكُمْ وَأَشْرَافِكُمْ فَزَبَرْتُمُوهُ اذْهَبُوا فَأَطْعِمُوهُ مِنَ الطَّعَامِ وَالشَّرَابِ مَا يَشْتَهِي فَأَتَوْنِي بِطَعَامٍ فَقُلْتُ: لَا حَاجَةَ لِي بِطَعَامِكُمْ وَشَرَابِكُمْ ، إِنَّ اللَّهَ قَدْ أَطْعَمَنِي وَسَقَانِي فَانْظُرُوا إِلَى حَالَتِي الَّتِي أَنَا عَلَيْهَا قَالَ: فَآَمَنُوا بِي وَبِمَا جِئْتُهُمْ بِهِ مِنْ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم.

آَخِرُ الْأَحَادِيثِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَحْدَهُ.
দুধ পান করার ফলে আমার পেট ভরে গেল এবং তৃষ্ণা নিবারণ হলো, আর আমার উদর স্ফীত হয়ে উঠল। তখন লোকেরা বলল: তোমাদের নিকট তোমাদের মধ্যকার এক সর্বোত্তম ও সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি এসেছিলেন, কিন্তু তোমরা তাকে ধমক দিয়ে তাড়িয়ে দিয়েছিলে। তোমরা যাও এবং তাকে তার চাহিদানুযায়ী খাদ্য ও পানীয় প্রদান করো। অতঃপর তারা আমার নিকট খাদ্য নিয়ে এল, তখন আমি বললাম: তোমাদের খাদ্য ও পানীয়ের প্রতি আমার কোনো প্রয়োজন নেই; নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাকে আহার করিয়েছেন ও পান করিয়েছেন। সুতরাং তোমরা আমার বর্তমান অবস্থার দিকে লক্ষ্য করো। তিনি বললেন: অতঃপর তারা আমার প্রতি এবং আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পক্ষ থেকে যা নিয়ে এসেছি তার প্রতি ঈমান আনল।

হাদীসসমূহের সমাপ্তি এবং সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য।