(খণ্ড: ১) বিতাকাতুল ইতিমান (পৃষ্ঠা: -)
بطاقة الائتمان   (بكر أبو زيد)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: بطاقة الائتمان

المؤلف: بكر بن عبد الله أبو زيد بن محمد بن عبد الله بن بكر بن عثمان بن يحيى بن غيهب بن محمد (ت 1429هـ)

[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]

عدد الصفحات: 27

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ক্রেডিট কার্ড   (বকর আবু যায়িদ)

বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ


গ্রন্থ: ক্রেডিট কার্ড

লেখক: বকর বিন আবদুল্লাহ আবু যায়িদ বিন মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন বকর বিন উসমান বিন ইয়াহইয়া বিন গাইহাব বিন মুহাম্মদ (মৃত্যু ১৪২৯ হি.)

[গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, যা মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়]

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৭

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) বিতাকাতুল ইতিমান (পৃষ্ঠা: ১)
‌‌مقدمة الطبعة الثانية

 

الحمد لله، والصلاة والسلام على رسول الله وعلى صحبه ومن اهتدى بهداه.

 

أما بعد: فإن هذه الرسالة، كشفت - بحمد الله تعالى - عن حيلة جديدة للمرابين، لجر الناس إلى أكل الربا، وامتصاص أموالهم، ووقوعهم في المأثم والمغرم، تحت هذا الغطاء الجذاب: "بطاقة الائتمان" وهي في حقيقتها: "قرض ربوي بفوائد معجلة ومؤجلة" وقد أجمع المسلمون على تحريمه، وأنه عين الربا المحرم تحريم غاية لا وسيلة. وقد نفدت هذه الرسالة في طبعتها الأولى، فرأينا من الخير إعادة طباعتها، وتسويقها، بياناً للناس، وتحذيراً من التعامل بها، وبالله التوفيق.

 

المؤلف

بكر بن عبد الله أبو زيد

5/5/1417هـ

 

‌‌المقدمة

 

الحمد لله وحده، والصلاة والسلام على من لا نبي بعده.

أما بعد: ففي ظل تنامي السوق المالية، وتنافس المصارف بجلب أكبر عدد ممكن من العملاء؛ لتوفير قدر أعلى من الربح في دائرة سياسة البنوك التجارية التي قامت عليها: "القرض بالفائدة ": قامت بتقديم خدمات مصرفية، وتسهيلات لعملائها، فأنشأت في ساحة التعامل المصرفي مجموعة من: "عقود الائتمان" منها:

بيع المرابحة للآمر بالشراء.

بيع الأجل.

الاستصناع.

بطاقات تسديد المدفوعات، وأشهرها: "بطاقات الائتمان" وهي أوسعها انتشاراً، إذ يصدرها نحو: "200" مائتي بنك في العالم في أكثر من "163" دولة مستخدمة في أكثر من (000،000، 12) محل تجاري في العالم، وللسحب والتمويل فيما يقرب من: " 500،000" مؤسسة مالية، وجهاز صرف إلكتروني، من خلال شبكات الصرف الدولية.

ولما كانت هذه العقود تجري في اصطلاح المصرفيين تحت مصطلح تواضعوا عليه هو: "الائتمان"، كان لابد من بيان حقيقته:

الائتمان:

افتعال من الأمان، وهو أن كل طرف في هذه العقود مؤتمن. من قبل الطرف الآخر.
দ্বিতীয় সংস্করণের ভূমিকা

 

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসুলের ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন এবং যারা তাঁর প্রদর্শিত পথের অনুসারী হয়েছেন তাদের ওপর।

 

অতঃপর: এই পুস্তিকাটি—আল্লাহ তাআলার প্রশংসায়—সুদখোরদের একটি নতুন কৌশল উন্মোচন করেছে, যার মাধ্যমে তারা মানুষকে সুদ (ربا) ভক্ষণের দিকে টেনে নেয়, তাদের সম্পদ শোষণ করে এবং তাদের গুনাহ ও ঋণের জালে নিপতিত করে; আর এই সব কিছুই "ক্রেডিট কার্ড" নামক এই আকর্ষণীয় মোড়কের আড়ালে করা হয়। মূলত এটি হলো: "তাৎক্ষণিক ও বিলম্বিত মুনাফা ভিত্তিক একটি সুদী (ربوي) ঋণ।" মুসলিমগণ এর নিষিদ্ধতার ব্যাপারে ঐক্যমত (إجماع) পোষণ করেছেন এবং এটি সরাসরি সেই নিষিদ্ধ সুদের (ربا) অন্তর্ভুক্ত, যা কোনো মাধ্যম হিসেবে নয় বরং সরাসরি উদ্দেশ্য হিসেবেই হারাম করা হয়েছে। এই পুস্তিকাটির প্রথম সংস্করণ শেষ হয়ে যাওয়ায় আমরা এর পুনঃমুদ্রণ ও প্রচার করাকে কল্যাণকর মনে করেছি, যাতে মানুষের কাছে বিষয়টি স্পষ্ট হয় এবং তারা এই লেনদেন থেকে সতর্ক থাকতে পারে। আর আল্লাহর পক্ষ থেকেই তাওফিক আসে।

 

লেখক

বকর বিন আবদুল্লাহ আবু যাইদ

৫/৫/১৪১৭ হিজরি

 

‌ভূমিকা

 

সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর ওপর যার পরে আর কোনো নবী নেই।

অতঃপর: আর্থিক বাজারের উত্তরোত্তর প্রবৃদ্ধি এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জনের লক্ষ্যে অধিক সংখ্যক গ্রাহক আকর্ষণের প্রতিযোগিতার এই যুগে—যে ব্যাংকগুলো মূলত "সুদ ভিত্তিক ঋণ" প্রদানের নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত—তারা বিভিন্ন ব্যাংকিং সেবা ও সুযোগ-সুবিধা প্রদান করছে। লেনদেনের এই আঙিনায় তারা একগুচ্ছ "ঋণ চুক্তি" (عقود الائتمان) প্রবর্তন করেছে, যার মধ্যে রয়েছে:

ক্রয়ের আদেশদাতার নিকট মুরাবাহা (المرابحة للآمر بالشراء) পদ্ধতিতে বিক্রয়।

বাকি বিক্রয় (بيع الأجل)।

ইস্তিসনা (الاستصناع) বা ফরমায়েশি নির্মাণ।

পেমেন্ট কার্ড বা পরিশোধ কার্ডসমূহ, যার মধ্যে সর্বাধিক পরিচিত হলো: "ক্রেডিট কার্ড"। এটি বর্তমানে সবচেয়ে ব্যাপক হারে প্রচলিত, কারণ ১৬৩টিরও বেশি দেশে বিশ্বের প্রায় ২০০টি ব্যাংক এটি ইস্যু করে থাকে এবং এটি বিশ্বের ১ কোটি ২০ লক্ষাধিক (১২,০০০,০০০) ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে প্রায় ৫ লক্ষ (৫০০,০০০) আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ইলেকট্রনিক এটিএম বুথ থেকে অর্থ উত্তোলন ও অর্থায়নের কাজে এটি ব্যবহৃত হচ্ছে।

যেহেতু এই চুক্তিগুলো ব্যাংকারদের পরিভাষায় একটি নির্দিষ্ট পরিভাষার অধীনে পরিচালিত হয় যা তারা নির্ধারণ করেছেন—অর্থাৎ "ক্রেডিট" (الائتمان)—তাই এর স্বরূপ বর্ণনা করা আবশ্যক হয়ে পড়েছে:

ক্রেডিট বা ঋণ সুবিধা (الائتمান):

এটি 'আমান' (الأمان) শব্দ থেকে উদ্ভূত; অর্থাৎ এই চুক্তির প্রতিটি পক্ষ অপর পক্ষের নিকট বিশ্বস্ত (مؤتمن) হিসেবে গণ্য।
(খণ্ড: ১) বিতাকাতুল ইতিমান (পৃষ্ঠা: ২)
وفي بيان حقيقته لدى الاقتصاديين، جاء في كتاب: "موسوعة المصطلحات الاقتصادية": (ص3) ما نصه: (ائتمان: هذا الاصطلاح منح دائن لمدين مهلة من الوقت، يلتزم المدين بانتهائها دفع قيمة الدين.

وفي الشؤون المالية، يعني الائتمان عادة قرضاً، أو حساباً على المكشوف يمنحه البنك لشخص ما، كما يعني حجم الائتمان: "المقدار الكلي للقروض، والسلف التي يمنحها النظام المصرفي") . انتهى.

وعلى كل حال فهذه "العقود الائتمانية" قد تكون جارية على الأصل الشرعي: "الحل في المعاملات والشروط". وقد تتعدى دائرة الحل، إلى الحرمة لاشتمالها على ما حرمه الشرع المطهر من المعاملات الدائر تحريمها في ظلم الطرفين أو أحدهما، أكلاً لأموال الناس بالباطل، ومعلوم أن كل معاملة محرمة في الشريعة تعود إلى واحدة من قواعد التحريم الثلاث، وهي:

تحريم الربا.

تحريم التغرير.

تحريم الغرر إما لعجز عن تسليمه كالجمل الشارد، أو لعدمه حين العقد، كحبل الحبلة، أو لجهالته كلياً، أو جهالة الجنس، أو جهالة المقدار.

ولما كانت هذه العقود الائتمانية ناشئة في "البنوك الربوية" القائمة على الربا غير مراعية الشرعية الإسلامية، داخل بعضها من الأوصاف، والشروط، ما يعلم قطعاً بحرمة بعضها، أو دخول شائبة في البعض الآخر،، فكان إذاً متعيناً على فقهاء المسلمين النظر في هذه المعاملات، وتصورها، ثم تكييفها، والحكم عليها بما يصل إليه نظر الفقيه شرعاً حسب الدليل وقواعد الشريعة الكلية مع تحرير مآخذ التحريم، والبحث عن البديل، أو التعديل في صيغ العقود والشروط تصحيحاً لمعاملات المسلمين، وابتعاداً بهم عما حرمه الله ورسوله صلى الله عليه وسلم.

وقد قام مجمع الفقه الإسلامي بإصدار قراراته في عقود المرابحة، والأجل، والاستصناع، بعد إعداد البحوث اللازمة، والمناقشات المستفيضة، فصار الذي يعنينا هنا هو بحث مجموعة: "البطاقات الائتمانية"، ويمكن تقرير البحث فيها في الأبحاث الآتية:
অর্থনীতিবিদদের নিকট এর প্রকৃত স্বরূপ বর্ণনায় ‘মাওসুআতুল মুসতালাহাতিল ইক্কতিসাদিয়্যাহ’ গ্রন্থে (পৃষ্ঠা-৩) উল্লেখ করা হয়েছে: (ক্রেডিট/ঋণ (ائتمان): এই পরিভাষাটি হলো পাওনাদার কর্তৃক দেনাদারকে নির্দিষ্ট সময়ের অবকাশ প্রদান করা, যা শেষ হলে দেনাদার ঋণের অর্থ পরিশোধ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকে।

আর্থিক বিষয়ে ক্রেডিট (ائتمان) বলতে সাধারণত ঋণ অথবা ব্যাংক কর্তৃক কোনো ব্যক্তিকে প্রদানকৃত ‘ওভারড্রাফট’ বোঝায়। আর ক্রেডিট ভলিউম বলতে ব্যাংকিং ব্যবস্থা কর্তৃক প্রদানকৃত ঋণ ও অগ্রিমের মোট পরিমাণকে বোঝায়।) সমাপ্ত।

যাই হোক, এই ‘ক্রেডিট চুক্তিগুলো’ (العقود الائتمانية) শরয়ি মূলনীতি ‘লেনদেন ও শর্তাবলির ক্ষেত্রে বৈধতা’র ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হতে পারে। আবার এগুলোতে পবিত্র শরিয়ত কর্তৃক নিষিদ্ধ লেনদেন অন্তর্ভুক্ত থাকার কারণে এগুলো বৈধতার সীমা অতিক্রম করে হারামের পর্যায়েও পৌঁছাতে পারে; যেগুলোর নিষেধাজ্ঞার কারণ মূলত উভয় পক্ষ বা কোনো এক পক্ষের ওপর জুলুম করা এবং মানুষের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করা। এটি সুবিদিত যে, শরিয়তে নিষিদ্ধ প্রতিটি লেনদেন মূলত তিনটি নিষেধাজ্ঞার মূলনীতির যেকোনো একটির অন্তর্ভুক্ত। সেগুলো হলো:

সুদের (الربا) নিষেধাজ্ঞা।

প্রবঞ্চনার (التغرير) নিষেধাজ্ঞা।

অনিশ্চয়তার (الغرر) নিষেধাজ্ঞা; চাই তা পণ্য হস্তান্তরের অক্ষমতার কারণে হোক (যেমন পলাতক উট), অথবা চুক্তির সময় পণ্যটি বিদ্যমান না থাকার কারণে (যেমন পশুর পেটের বাচ্চার গর্ভস্থ বাচ্চা বিক্রয়), অথবা পণ্যটি সম্পূর্ণরূপে অজ্ঞাত হওয়ার কারণে, কিংবা তার শ্রেণি বা পরিমাণ অজ্ঞাত হওয়ার কারণে।

যেহেতু এই ক্রেডিট চুক্তিগুলোর উদ্ভব হয়েছে সুদি ব্যাংকগুলোতে—যা ইসলামি শরিয়তের তোয়াক্কা না করে সুদের ওপর প্রতিষ্ঠিত—তাই এগুলোর কোনো কোনোটির বৈশিষ্ট্য ও শর্তাবলির মধ্যে এমন কিছু বিষয় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে যা নিশ্চিতভাবে হারাম অথবা যাতে হারামের সংশয় রয়েছে। ফলত মুসলিম ফকিহগণের ওপর এটি আবশ্যক হয়ে পড়েছে যে, তারা এই লেনদেনগুলো পর্যালোচনা করবেন, এর স্বরূপ নির্ধারণ করবেন, এরপর তার শরয়ি আইনি বিশ্লেষণ করবেন এবং দলীল ও শরিয়তের সামগ্রিক মূলনীতি অনুযায়ী ফকিহগণের গবেষণালব্ধ শরয়ি সিদ্ধান্ত প্রদান করবেন। সেই সঙ্গে হারাম হওয়ার কারণগুলো বিশ্লেষণ করা এবং বিকল্প অনুসন্ধান করা অথবা চুক্তির রূপরেখা ও শর্তাবলিতে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনা জরুরি, যাতে মুসলিমদের লেনদেনসমূহ শুদ্ধ হয় এবং তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কর্তৃক নিষিদ্ধ বিষয়গুলো থেকে দূরে থাকতে পারে।

ইতোমধ্যে ইসলামি ফিকহ একাডেমি প্রয়োজনীয় গবেষণা ও বিস্তারিত আলোচনার পর মুরাবাহা, কিস্তি এবং ইসতিসনা (পণ্য তৈরির অর্ডার) চুক্তিসমূহ নিয়ে তাদের সিদ্ধান্তসমূহ প্রদান করেছে। তাই এখন আমাদের বিবেচ্য বিষয় হলো ‘ক্রেডিট কার্ড’ (البطاقات الائتمانية) সংক্রান্ত গবেষণা। এ সংক্রান্ত আলোচনা নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর অধীনে উপস্থাপন করা যেতে পারে:
(খণ্ড: ১) বিতাকাতুল ইতিমান (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌المبحث الأول: تسمية من كتب في هذه النازلة: (البطاقة الائتمانية) .

إذا جاوزنا الكتابات البنكية، التي تبين طبيعة هذه البطاقات، فإن من الغريب حقاً أن يتأخر موقف فقهاء الشريعة الإسلامية عن بيان حكمها، رغم مضي نحو من ثمانين عاماً على نشأة البطاقات المصرفية، وتطورها تدريجياً، فإنه لم يتم الوقوف بعد التتبع على بحوث فقهية فيها، سوى البحوث المقدمة للدورتين السابعة، والثامنة لمجمع الفقه الإسلامي الدولي لعام 1412 هـ. وعام 1415هـ. ولم يذكر واحد من الباحثين في مصادره من بحثها فقها من قبل، فلعلها تكون إذاً من مبادرات المجمع، وهذا بيان بأسماء البحوث ومؤلفيها:

بطاقات الائتمان. محمد علي القري بن عيد. وبحثه هذا عمدة في بحثها.

بطاقة الائتمان وتكييفها الشرعي. عبد الستار أبو غدة.

بحث عن بطاقات الائتمان. دراسة شرعية عملية موجزة. رفيق المصري.

بحث عن بطاقات الائتمان المعدنية. إعداد بيت التمويل الكويتي.

ندوة البحرين عن الأسواق المالية. وفيها بحث عن بطاقات الائتمان.

ورقة عمل عن السوق المالية. وفيها بحث عن بطاقات الائتمان.

مناقشات حول بطاقة الائتمان: 7 / 651 - 682. لعدد من أعضاء المجمع.

قرار المجمع رقم (65 / 1 / 7) .

الائتمان المولد على شكل بطاقة … محمد علي القري بن عيد: 8 / 576 - 601.

مناقشات المجمع حولها: 8 / 639 - 670.

قرار المجمع رقم (82 / 9 / 85) .

 

‌‌المبحث الثاني: تعريفها (1) :

هي بطاقة معدنية أو بلاستيكية ممغنطة، عليها اسم حاملها، وتاريخ إصدارها، وتاريخ نهاية صلاحيتها، ورقم سري لا يعرفه إلا حاملها. وقد انتهى مجمع الفقه بقراره رقم (65 / 1 /7) في 7 -12 /11 /1412هـ. إلى تعريفها بما يأتي:

--------------------------------------------

(1) - مجلة مجمع الفقه الإسلامي: 7 / 717، وانظر: 7 / 559، 653، 408.
‌‌প্রথম পরিচ্ছেদ: এই সমসাময়িক উদ্ভূত সমস্যা (ক্রেডিট কার্ড) সম্পর্কে যারা লিখেছেন তাদের নাম: .

ব্যাংকিং বিষয়ক রচনাবলি যা এই কার্ডগুলোর প্রকৃতি তুলে ধরে, সেগুলো বাদ দিলে এটি সত্যিই বিস্ময়কর যে, ব্যাংক কার্ডের সূচনা এবং এর ক্রমবিকাশের প্রায় আশি বছর পার হয়ে গেলেও ইসলামি শরীয়াহর ফকিহদের পক্ষ থেকে এর বিধান স্পষ্টীকরণে এত বিলম্ব হলো। অনুসন্ধান চালিয়ে ১৪১২ হিজরি এবং ১৪১৫ হিজরি সনে আন্তর্জাতিক ইসলামি ফিকহ একাডেমির সপ্তম ও অষ্টম অধিবেশনে উপস্থাপিত গবেষণাপত্রগুলো ছাড়া এ বিষয়ে আর কোনো ফিকহি গবেষণা পাওয়া যায়নি। গবেষকদের কেউই তাঁদের তথ্যসূত্রে ইতিপূর্বে কেউ এটি নিয়ে ফিকহি আলোচনা করেছেন বলে উল্লেখ করেননি; সুতরাং সম্ভবত এটি এই একাডেমিরই একটি উদ্যোগ। নিচে গবেষণাপত্র ও তাদের লেখকদের নামের তালিকা দেওয়া হলো:

ক্রেডিট কার্ড। মুহাম্মদ আলী আল-কুররি বিন ঈদ। তাঁর এই গবেষণাটি এ বিষয়ের আলোচনার মূল ভিত্তি স্বরূপ।

ক্রেডিট কার্ড এবং এর শরয়ী বিশ্লেষণ। আবদুস সাত্তার আবু গুদ্দাহ।

ক্রেডিট কার্ড বিষয়ক গবেষণা: একটি সংক্ষিপ্ত ব্যবহারিক ও শরয়ী অধ্যয়ন। রফিক আল-মাসরি।

মেটালিক ক্রেডিট কার্ড বিষয়ক গবেষণা। কুয়েত ফাইন্যান্স হাউস কর্তৃক প্রস্তুতকৃত।

আর্থিক বাজার বিষয়ক বাহরাইন সেমিনার। এতে ক্রেডিট কার্ড সম্পর্কে একটি গবেষণা রয়েছে।

আর্থিক বাজার বিষয়ক একটি কার্যপত্র। এতে ক্রেডিট কার্ড সম্পর্কে একটি গবেষণা রয়েছে।

ক্রেডিট কার্ড বিষয়ক আলোচনা: ৭ / ৬৫১ - ৬৮২। একাডেমির বেশ কয়েকজন সদস্যের।

একাডেমির সিদ্ধান্ত নং (৬৫ / ১ / ৭)।

কার্ড আকারে উদ্ভূত ক্রেডিট … মুহাম্মদ আলী আল-কুররি বিন ঈদ: ৮ / ৫৭৬ - ৬০১।

এ বিষয়ে একাডেমির আলোচনা: ৮ / ৬৩৯ - ৬৭০।

একাডেমির সিদ্ধান্ত নং (৮২ / ৯ / ৮৫) .

 

‌‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: এর সংজ্ঞা (১) :

এটি একটি ধাতব বা প্লাস্টিকের চুম্বকীয় কার্ড, যাতে কার্ডধারীর নাম, ইস্যুর তারিখ, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ এবং একটি গোপন নম্বর থাকে যা কেবল কার্ডধারীই জানেন। আন্তর্জাতিক ইসলামি ফিকহ একাডেমি তাদের ৬৫/১/৭ নম্বর সিদ্ধান্তে (তারিখ: ৭-১২/১১/১৪১২ হিজরি) কার্ডের নিম্নোক্ত সংজ্ঞা প্রদান করেছে:

--------------------------------------------

(১) - মাজাল্লাহ মাজমা আল-ফিকহ আল-ইসলামি: ৭ / ৭১৭, এবং দেখুন: ৭ / ৫৫৯, ৬৫৩, ৪০৮।
(খণ্ড: ১) বিতাকাতুল ইতিমান (পৃষ্ঠা: ৪)
"بطاقة الائتمان: هي مستند يعطيه مصدره، لشخص طبيعي أو اعتباري - بناء على عقد بينهما - يمكنه من شراء السلع، أو الخدمات ممن يعتمد المستند، دون دفع الثمن حالاً، لتضمنه التزام المصدر بالدفع.

ومن أنواع هذا المستند ما يمكن من سحب نقود من المصارف". انتهى.

إيضاح التعريف (1) :

من هذا التعريف يتبين أن عقد إصدارها مركب من عقدين متلازمين فيهما طرف من الإذعان، وهما:

أحدهما: عقد بين المصدر، وبين حاملها، يتضمن سقفاً - حداً أقصى - للائتمان، وشروط العلاقة.

ثانيهما: عقد بين المصدر، وبين من يعتمدها من مؤسسات، وشركات، ومصارف. ومن أهم محتويات هذا العقد، العمولة التي يأخذها المصدر من الذين يتعاملون بهذه البطاقة من أصحاب المحلات والخدمات.

هذا هو التعريف العام للبطاقة الائتمانية، ولكن لا ينطبق على كل بطاقة (2) ائتمانية، نظراً لاختلاف الشروط، والمواصفات، من مصدر إلى آخر، لهذا فإن الحكم لابد أن يلحق كل بطاقة بعينها، بمالها من شروط، ومواصفات، فضلاً عن الحكم على مجموعة الشروط.

 

‌‌المبحث الثالث: تاريخها (3) :

المتتبع لأحوال الناس في التعامل على مدى القرون، يجد وسائل التبادل والتعامل بينهم، تختلف من زمان إلى آخر، آخذة بأطوار من التطور، والارتقاء، والنقلة من حال إلى أخرى، لا سيما في هذه الأزمان المتأخرة، بعد نشأة المصارف، وتطور التقنية في الاختراع، واتصال العالم بعضه ببعض.

لقد كانت: "المقايضة" هي وسيلة التبادل بين الناس.

ثم تدرجت بهم الحال إلى اختراع: "النقود السلعية".

--------------------------------------------

(1) - المصدر السابق: 7 / 560، 655.

(2) - مجلة مجمع الفقه الإسلامي: 7 / 377 - 378.

(3) - مجلة المجمع: 7 / 375 - 377، 445 - 447، 655، 8/ 577 - 580، 639.
ক্রেডিট কার্ড: এটি এমন একটি দলিল যা এর ইস্যুকারী কোনো স্বাভাবিক বা আইনি ব্যক্তিকে—তাদের মধ্যে সম্পাদিত একটি চুক্তির ভিত্তিতে—প্রদান করে থাকে; যা তাকে সেই বিক্রেতার কাছ থেকে পণ্য বা সেবা ক্রয় করতে সক্ষম করে যে এই দলিলটি গ্রহণ করে, এবং তৎক্ষণাৎ মূল্য পরিশোধ করতে হয় না, কারণ এতে ইস্যুকারীর পক্ষ থেকে মূল্য পরিশোধের নিশ্চয়তা অন্তর্ভুক্ত থাকে।

"এবং এই দলিলের প্রকারভেদের মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যা ব্যাংক থেকে নগদ অর্থ উত্তোলনের সুযোগ দেয়।" সমাপ্ত।

সংজ্ঞার বিশদ ব্যাখ্যা (১):

এই সংজ্ঞা থেকে এটি স্পষ্ট হয় যে, কার্ড ইস্যু করার চুক্তিটি দুটি অবিচ্ছেদ্য চুক্তির সমন্বয়ে গঠিত, যাতে আনুগত্য বা সম্মতির একটি দিক রয়েছে। সেগুলো হলো:

এক: ইস্যুকারী এবং কার্ডধারীর মধ্যকার চুক্তি, যা ঋণের একটি সর্বোচ্চ সীমা (ক্রেডিট লিমিট) এবং সম্পর্কের শর্তাবলি অন্তর্ভুক্ত করে।

দুই: ইস্যুকারী এবং এটি গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান, কোম্পানি ও ব্যাংকগুলোর মধ্যকার চুক্তি। এই চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সেই কমিশন, যা ইস্যুকারী পক্ষ এই কার্ডের মাধ্যমে লেনদেনকারী দোকানদার এবং সেবাপ্রদানকারীদের কাছ থেকে গ্রহণ করে।

এটি হলো ক্রেডিট কার্ডের সাধারণ সংজ্ঞা, তবে এটি প্রতিটি ক্রেডিট কার্ডের (২) ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নাও হতে পারে। কারণ এক ইস্যুকারী থেকে অন্য ইস্যুকারীর শর্তাবলি ও বৈশিষ্ট্যের মধ্যে পার্থক্য থাকে। তাই ফিকহী বিধান (حكم) প্রতিটি নির্দিষ্ট কার্ডের শর্তাবলি ও বৈশিষ্ট্যের আলোকে হওয়া আবশ্যক, পাশাপাশি শর্তাবলির সামগ্রিক পর্যালোচনার ওপরও বিধান (حكم) নির্ভর করে।

 

‌‌তৃতীয় পরিচ্ছেদ: এর ইতিহাস (৩):

শতাব্দীকাল ধরে মানুষের লেনদেনের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায় যে, তাদের মধ্যে বিনিময় ও লেনদেনের মাধ্যমগুলো সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তিত হয়েছে, যা বিবর্তন, উন্নয়ন এবং এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় উত্তরণের বিভিন্ন পর্যায় অতিক্রম করেছে। বিশেষ করে এই শেষ যুগে, ব্যাংকিং ব্যবস্থার উদ্ভব, উদ্ভাবনী প্রযুক্তির বিকাশ এবং বিশ্বের একে অপরের সাথে নিবিড় যোগাযোগের ফলে এই পরিবর্তন আরও বেগবান হয়েছে।

অতীতে "পণ্য বিনিময় প্রথা" ছিল মানুষের মধ্যে বিনিময়ের মাধ্যম।

এরপর পর্যায়ক্রমে তারা "পণ্য-মুদ্রা" উদ্ভাবন করে।

--------------------------------------------

(১) - পূর্বোক্ত উৎস: ৭ / ৫৬০, ৬৫৫।

(২) - মাজাল্লাতু মাজমাউল ফিকহিল ইসলামি: ৭ / ৩৭৭ - ৩৭৮।

(৩) - মাজাল্লাতুল মাজমা: ৭ / ৩৭৫ - ৩৭৭, ৪৪৫ - ৪৪৭, ৬৫৫, ৮/ ৫৭৭ - ৫৮০, ৬৩৯।
(খণ্ড: ১) বিতাকাতুল ইতিমান (পৃষ্ঠা: ৫)
فكانت رقاعاً، وكانت ملحاً، وكانت طعاماً، ثم كانت في الجوهرين: الذهب، والفضة، ثم تدرجت إلى:"النقود الائتمانية" وأشهرها: "العملات الورقية" لكل حكومة مع صرف النظر عن كونها مغطاة بذهب أو فضة، أو غير مغطاة، والاعتماد على قوتها الاعتبارية، والثقة بالحكومة المصدرة لها. وصارت هي مرتكز الائتمان.

وفي دور نشأة:"المصارف" - البنوك - والتي من أهم مواردها: قبول الودائع، والقروض، اتخذت وسائل دفع جاهزة هي: "الشيكات" بدلاً من حمل:"النقود الائتمانية" العملة الورقية. فصارت خطوة ثانية.

وفي دور تنامي السوق المالي، والتطور المطرد لشؤون الحياة، جاءت النقلة والخطوة الثالثة، باختراع وسيلة دفع جاهزة، أسرع فعالية، وأكثر من "الشيك" هي: "البطاقة الائتمانية".

وهنا يأتي البحث عن تاريخ نشأة: "البطاقة" والتطورات التي مرت بها في مطلع القرن العشرين الميلادي، ويحدده بعضهم بعام 1914م. بادرت بعض الفنادق في المتميزين بالتعامل معهم في سكنى الفنادق، وذلك لتسهيل معاملاتهم، واختصار الوقت لهم، إضافة إلى ما فيها من تميز بمهلة زمنية لدفع الالتزامات المترتبة عليهم، وما فيها من مباهاة، فهي بمثابة "مرتبة الشرف" أيضاً.

ثم قامت بإصدارها بعض المحلات التجارية، وبعض محلات الوقود، واستمر العمل بها حتى خلال الحرب العالمية الثانية بسبب القيود التي ضربت على الائتمان.

ثم رفعت تلك القيود، فعاد مصدرو البطاقات إلى نشاطهم في إصدارها. وفي عام 1949م راجت سوق البطاقات فتكونت أول شركة متخصصة في إصدارها وهي: "شركة داينرز كلوب" واقتصرت في نشاطها على إصدار بطاقة لرواد المطاعم.

ثم ظهرت " بطاقة أمريكان إكسبريس" و " بطاقة كارد بلانش"، وفي عام 1951م. انتقلت فكرة البطاقات إلى: "البنوك التجارية" في أمريكا، حتى بلغت البنوك المصدرة للبطاقات: مائة بنك.
সেগুলো ছিল চামড়ার টুকরো, কখনো লবণ, আবার কখনো খাদ্যদ্রব্য; এরপর তা দুই মূল্যবান ধাতু: সোনা ও রুপায় রূপান্তরিত হয়। পরবর্তীতে তা পর্যায়ক্রমে "ঋণভিত্তিক মুদ্রায়" (نقود ائتمانية) রূপ নেয়, যার মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ হলো প্রতিটি সরকারের "কাগুজে মুদ্রা"। এক্ষেত্রে সেগুলো সোনা বা রুপা দ্বারা সমর্থিত কি না, তা বিবেচনা না করে বরং মুদ্রার আইনি শক্তি এবং ইস্যুকারী সরকারের ওপর আস্থার ওপর নির্ভর করা হয়। আর এটিই ঋণের মূলভিত্তিতে পরিণত হয়।

আর "মাসারিফ" (مصارف) তথা ব্যাংকসমূহের—যার অন্যতম প্রধান কাজ হলো আমানত গ্রহণ ও ঋণ প্রদান—উদ্ভবকালে কাগুজে মুদ্রা বা "ঋণভিত্তিক মুদ্রা" বহনের পরিবর্তে "চেক"-এর মতো তাৎক্ষণিক পেমেন্ট পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়। এটি ছিল দ্বিতীয় ধাপ।

আর্থিক বাজারের প্রবৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার ক্রমাগত বিবর্তনের ধারায় একটি তাৎক্ষণিক পেমেন্ট মাধ্যম আবিষ্কারের মাধ্যমে তৃতীয় ধাপটি আসে, যা "চেক"-এর চেয়েও দ্রুত এবং অধিক কার্যকর; আর তা হলো: "ক্রেডিট কার্ড" (بطاقة ائتمانية)।

এখানেই "কার্ড"-এর উৎপত্তির ইতিহাস এবং বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে এর বিবর্তনের বিষয়টি আসে। কেউ কেউ এই সময়কালকে ১৯১৪ সাল হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। কিছু হোটেল তাদের বিশিষ্ট গ্রাহকদের আবাসন সংক্রান্ত লেনদেন সহজ করতে এবং সময় সাশ্রয় করতে এই পদ্ধতি চালু করে। এর পাশাপাশি এতে বকেয়া পরিশোধের জন্য অতিরিক্ত সময় পাওয়া যেত এবং এটি একটি আভিজাত্যের প্রতীকও ছিল; যা অনেকটা "সম্মানসূচক পদমর্যাদার" (مرتبة الشرف) মতো বিবেচিত হতো।

পরবর্তীতে কিছু বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং জ্বালানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এটি ইস্যু করতে শুরু করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ঋণের ওপর নানাবিধ বিধিনিষেধ থাকা সত্ত্বেও এর ব্যবহার অব্যাহত ছিল।

এরপর সেই বিধিনিষেধগুলো তুলে নেওয়া হলে কার্ড ইস্যুকারীরা পুনরায় তাদের কার্যক্রম শুরু করে। ১৯৪৯ সালে কার্ডের বাজার বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং কার্ড ইস্যু করার জন্য প্রথম বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান হিসেবে "ডাইনার্স ক্লাব" গঠিত হয়। তাদের কার্যক্রম মূলত রেস্তোরাঁ গ্রাহকদের জন্য কার্ড ইস্যু করার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল।

এরপর "আমেরিকান এক্সপ্রেস" এবং "কার্টে ব্ল্যাঞ্চ" কার্ডের আত্মপ্রকাশ ঘটে। ১৯৫১ সালে কার্ডের এই ধারণাটি আমেরিকার "বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর" (بنوك تجارية) মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে এবং কার্ড ইস্যুকারী ব্যাংকের সংখ্যা একশতে পৌঁছায়।
(খণ্ড: ১) বিতাকাতুল ইতিমান (পৃষ্ঠা: ৬)
ثم أخذت البنوك في تطويرها، وتنويعها، لأنها صارت لها جواداً رابحاً، وكان من إصدارتها: "ضمان الشيك" بمعنى: أن البنك يضمن للمستفيد دفع المبلغ الذي يحمله الشيك المحرر من قبل حامل البطاقة.

ثم ظهرت فكرة "بطاقة الائتمان" في عشر السبعين (1970م) ونشطت نشاطاً كبيراً، لأنها تؤدي فكرة: "القرض بفائدة" الذي قامت عليه البنوك.

ثم تأسست جمعية بنكية بإصدار بطاقة منافسة لها، ثم تكونت جمعية تعاونية فأصدرت البنوك بواسطتها "بطاقة فيزا"، وهي مع سابقتها أكثر البطاقات انتشاراً.

وكلمة: "فيزا" منحوتة من الجمعية أو المنظمة المنشئة لخدمة الأنشطة المصرفية تضم في عضويتها البنوك الملتزمة بلوائحها وأنظمتها، وهي في أكثر من مائة وستين دولة في العالم، فتسعى هذه المنظمة لخدمة البنوك المصدرة لهذه البطاقة، مع عدم التعارض مع النظام الداخلي للبنك العضو المشترك، مقابل أجور عضوية، وأجور خدمات، وهذا التعريف ينطبق على المنظمات الأخرى مثل: "أمريكان إكسبريس"، والتي تصدر البطاقات الائتمانية من البنوك باسمها، وهكذا انتشرت البطاقات، وصارت عملاً أساساً لعمل البنوك القائمة على: "القرض بفائدة"، وتسابق الناس إلى الحصول عليها خاصة في الدول الصناعية: أمريكا، وأوربا، واليابان. حتى بلغ عدد البطاقات الصادرة في بريطانيا عام 1987م. نحو (31) مليون بطاقة، وفي اليابان عام 1985م. (85) مليون بطاقة، وعلى مستوى العالم نحو: (800) ثمانمائة مليون بطاقة كما تقدر أرباح البطاقات للبنوك المصدرة لها في أمريكا نحو (275) بليون دولار لعام 1986م.

وفي عام 1989م. حققت شركة بطاقة "أمريكان إكسبريس" ربحاً صافياً يقدر بملبلغ: (500) مليون دولار.

ثم كان زحفها إلى العالم الإسلامي، وانتشرت في السنوات الأخيرة خاصة بعد عام 1990م. انتشاراً رهيباً، حتى صارت محلات عرضها تنافس أي محل تجاري.
পরবর্তীকালে ব্যাংকসমূহ এগুলোকে আরও উন্নত ও বৈচিত্র্যময় করতে শুরু করে, কারণ এগুলো তাদের জন্য একটি লাভজনক বাহন হয়ে ওঠে। তাদের প্রবর্তিত সেবাসমূহের মধ্যে অন্যতম ছিল: "চেক গ্যারান্টি", যার অর্থ হলো: কার্ডধারী কর্তৃক ইস্যুকৃত চেকে উল্লিখিত অর্থ ব্যাংক সুবিধাভোগীকে প্রদানের নিশ্চয়তা প্রদান করে।

অতঃপর সত্তর দশকের দিকে (১৯৭০ খ্রি.) "ক্রেডিট কার্ড"-এর ধারণাটি আবির্ভূত হয় এবং এর ব্যাপক সক্রিয়তা দেখা যায়। কারণ এটি "সুদযুক্ত ঋণ"-এর ধারণাকেই বাস্তবায়ন করে, যার ওপর ভিত্তি করে ব্যাংকগুলো প্রতিষ্ঠিত।

এরপর এর প্রতিদ্বন্দ্বী কার্ড ইস্যু করার জন্য একটি ব্যাংকিং সমিতি প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে একটি সমবায় সমিতি গঠিত হলে ব্যাংকগুলো তার মাধ্যমে "ভিসা কার্ড" প্রবর্তন করে। এটি এবং এর পূর্ববর্তী কার্ডটিই বর্তমানে সর্বাধিক প্রচলিত কার্ড।

"ভিসা" শব্দটি এমন একটি সমিতি বা সংস্থা থেকে গৃহীত যা ব্যাংকিং কার্যক্রমের সেবা প্রদানের উদ্দেশ্যে গঠিত। এর সদস্যপদ লাভের জন্য ব্যাংকগুলোকে নির্দিষ্ট নীতিমালা ও নিয়মাবলি মেনে চলতে হয়। বর্তমানে বিশ্বের ১৬০টিরও বেশি দেশে এর কার্যক্রম বিস্তৃত। এই সংস্থাটি সদস্য ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিয়মের সাথে কোনো প্রকার সংঘর্ষ না ঘটিয়ে সদস্যপদ ফি এবং সেবা মূল্যের বিনিময়ে কার্ড ইস্যুকারী ব্যাংকগুলোকে সহায়তা প্রদান করে। এই সংজ্ঞাটি "আমেরিকান এক্সপ্রেস"-এর মতো অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য, যারা ব্যাংকের মাধ্যমে নিজস্ব নামে ক্রেডিট কার্ড ইস্যু করে। এভাবেই এই কার্ডগুলো সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে এবং "সুদযুক্ত ঋণ"-এর ভিত্তিতে পরিচালিত ব্যাংকগুলোর একটি মৌলিক কার্যে পরিণত হয়। মানুষ বিশেষ করে শিল্পোন্নত দেশসমূহ যেমন: আমেরিকা, ইউরোপ এবং জাপানে এগুলো সংগ্রহের জন্য প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়। এমনকি ১৯৮৭ সালে ব্রিটেনে ইস্যুকৃত কার্ডের সংখ্যা ছিল প্রায় ৩১ মিলিয়ন এবং ১৯৮৫ সালে জাপানে ছিল ৮৫ মিলিয়ন। বিশ্বজুড়ে এই কার্ডের সংখ্যা প্রায় ৮০০ মিলিয়ন। একইভাবে ১৯৮৬ সালে আমেরিকায় কার্ড ইস্যুকারী ব্যাংকগুলোর মুনাফা প্রায় ২৭৫ বিলিয়ন ডলার বলে প্রাক্কলন করা হয়।

১৯৮৯ সালে "আমেরিকান এক্সপ্রেস" কার্ড কোম্পানি প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার নিট মুনাফা অর্জন করে।

অতঃপর এটি মুসলিম বিশ্বের দিকে ধাবিত হয় এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে, বিশেষ করে ১৯৯০ সালের পর থেকে এর ব্যাপক বিস্তার ঘটে। এমনকি বর্তমানে এর কার্ড প্রদর্শনী কেন্দ্রগুলো যেকোনো বৃহৎ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সাথে পাল্লা দেওয়ার মতো অবস্থানে পৌঁছেছে।
(খণ্ড: ১) বিতাকাতুল ইতিমান (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌المبحث الرابع: معرفة من له حق إصدار البطاقة (1) :

البطاقة بأنواعها المتقدمة، سواء كانت: بطاقة صرف فوري، أم شهري، أم ائتماني بأنواعها أيضاً، لا يصدرها إلا بنك معتمد فقط، ويكون إصداره لها من طريقين:

مباشرة، أو من خلال عضويته في منظمة البنوك، وإن إصدار البنك لها يخضع لنظامه الداخلي، سواء كان إصداره لها مباشرة، أم بواسطة إحدى المنظمات، المهم أن إصدارها، وشروطها، ومواصفاتها، تعتمد سياسة البنك الراغب لإصدارها.

ولهذا كانت البطاقة تصدر بواسطة المنظمة - الفيزا مثلاً - فتختلف شروطها من بنك إلى آخر.

وإن البطاقة يصدرها البنك مباشرة، أو بواسطة المنظمة، وهي على درجات حسب حدودها الائتمانية المنخفضة، أو العالية المرتفعة، وقد جعل لهذا أوصاف مميزه، وهي على سبيل التعلي: الفضية، ثم الذهبية، ثم الماسية. وقد تأتي بوصف مميز آخر مثل: "الخضراء".

وهذه المنظمات البنكية متعددة منها:

"منظمة الأمريكان إكسبريس".

"منظمة الفيزا".

"منظمة الماستر كارد".

"منظمة اليورو كارد".

"منظمة الداينرز كلوب".

فهذه المنظمات تباشر الأنشطة المصرفية، ومن نشاطاتها العمل على خدمة البنك العضو في المنظمة، بإصدار البنك بطاقة من أي نوع يرغب، وعلى أي درجة ومستوى، وفي "المنظمة" التي ترعاها، فيقال مثلاً: "بطاقة الفيزا".

وهكذا.

 

‌‌المبحث الخامس: أنواعها وصورها:

أصبحت: "البطاقات" تشكل ظاهرة متنامية، متوسعة الانتشار، إصداراً من البنوك مباشرة، أو بواسطة المنظمات، والجمعيات، واستقبالاً وحملاً لها من الأفراد، حتى يمكن أن يطلق على عصرنا هذا: "عصر البطاقات".

وبالاستقراء يجد الناظر مجموعة كبيرة من البطاقات العادية، والائتمانية، يمكن تصنيفها في ثلاثة أنواع:

--------------------------------------------

(1) - مجلة المجمع: 7 / 394، 447، 452 - 455.
‌‌চতুর্থ পরিচ্ছেদ: কার্ড ইস্যু করার অধিকার কার আছে তা জানা (১) :

পূর্বোল্লিখিত কার্ডসমূহ তার সকল প্রকার সহ, চাই তা: তৎক্ষণাৎ পেমেন্ট কার্ড (ডেবিট কার্ড), বা মাসিক কার্ড, অথবা ক্রেডিট কার্ডের বিভিন্ন প্রকারই হোক না কেন—তা কেবল একটি অনুমোদিত ব্যাংকই ইস্যু করে থাকে। আর ব্যাংক কর্তৃক এটি ইস্যু করার পদ্ধতি দুটি:

সরাসরি, অথবা ব্যাংক সংগঠনের সদস্যপদ লাভের মাধ্যমে। ব্যাংকের পক্ষ থেকে কার্ড ইস্যু করা তার অভ্যন্তরীণ নীতিমালার ওপর নির্ভরশীল; চাই সেটি সরাসরি ইস্যু করা হোক বা কোনো সংগঠনের মাধ্যমে। মূল বিষয় হলো, এর ইস্যুকরণ, শর্তাবলি এবং বৈশিষ্ট্যসমূহ কার্ড ইস্যু করতে ইচ্ছুক ব্যাংকের গৃহীত নীতির ওপর নির্ভর করে।

এই কারণেই যখন কোনো সংগঠনের মাধ্যমে—যেমন ভিসা (Visa)—কার্ড ইস্যু করা হয়, তখন ব্যাংকভেদে এর শর্তাবলিতে ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়।

ব্যাংক সরাসরি বা সংগঠনের মাধ্যমে যে কার্ড ইস্যু করে, তার ক্রেডিট সীমার নিম্ন বা উচ্চ হারের ভিত্তিতে বিভিন্ন স্তর রয়েছে। এর জন্য কিছু স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যমন্ডিত নাম নির্ধারণ করা হয়েছে, যেগুলোর উচ্চক্রম নিম্নরূপ: সিলভার (রূপালি), এরপর গোল্ড (স্বর্ণালি), এরপর প্লাটিনাম (হীরাখচিত)। এছাড়াও অন্যান্য বিশেষ বৈশিষ্ট্যপূর্ণ নাম হতে পারে যেমন: "গ্রিন কার্ড" (সবুজ)।

এই ব্যাংকিং সংগঠনগুলো একাধিক, যেমন:

"আমেরিকান এক্সপ্রেস অর্গানাইজেশন" (American Express)।

"ভিসা অর্গানাইজেশন" (Visa)।

"মাস্টার কার্ড অর্গানাইজেশন" (MasterCard)।

"ইউরো কার্ড অর্গানাইজেশন" (Eurocard)।

"ডাইনার্স ক্লাব অর্গানাইজেশন" (Diners Club)।

এই সংগঠনগুলো ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করে। তাদের কর্মকাণ্ডের অন্তর্ভুক্ত হলো সংগঠনের সদস্য ব্যাংকগুলোকে সেবা প্রদান করা; যেন ব্যাংক তার পছন্দমতো যেকোনো ধরনের এবং যেকোনো মান ও স্তরের কার্ড সেই সংগঠনের অধীনে ইস্যু করতে পারে যা সেটি তদারকি করছে। উদাহরণস্বরূপ বলা হয়: "ভিসা কার্ড"।

এবং অনুরূপ অন্যান্য কার্ড।

 

‌‌পঞ্চম পরিচ্ছেদ: এর প্রকারভেদ ও স্বরূপ:

"কার্ড" বর্তমানে একটি ক্রমবর্ধমান ও ব্যাপক বিস্তৃত বিষয়ে পরিণত হয়েছে। ব্যাংকগুলো সরাসরি অথবা বিভিন্ন সংগঠন ও সমিতির মাধ্যমে এগুলো ইস্যু করছে এবং ব্যক্তিপর্যায়ে এগুলো গ্রহণ ও ব্যবহারের হার এত বৃদ্ধি পেয়েছে যে, বর্তমান যুগকে "কার্ডের যুগ" হিসেবে অভিহিত করা সম্ভব।

বিস্তারিত পর্যালোচনার মাধ্যমে লক্ষ্য করলে সাধারণ এবং ক্রেডিট কার্ডের একটি বড় ভাণ্ডার পাওয়া যায়, যেগুলোকে তিন প্রকারে বিন্যস্ত করা সম্ভব:

--------------------------------------------

(১) মাজাল্লাতুল মাজমা: ৭ / ৩৯৪, ৪৪৭, ৪৫২ - ৪৫৫।
(খণ্ড: ১) বিতাকাতুল ইতিমান (পৃষ্ঠা: ৮)
النوع الأول: البطاقة العادية.. ويقال: بطاقة الصرف، أو بطاقة الصرف الآلي، أو بطاقة الخصم الفوري. ويقال: البطاقة التقليدية (1) .

وهي بطاقة يمنحها البنك للعميل الذي له حساب لديه، وذلك للخصم الفوري من حسابه عند استخدامها بواسطة أجهزة الصرف الآلية، أو أنظمة التحويل الإلكتروني. وهي تتصف بما يلي:

لا تصدر إلا لمن له رصيد لدى البنك.

ولا تسمح بالصرف من غير رصيد حاملها.

وبدون مقابل.

ويتم الخصم فور استخدامها بالاستلام للمبلغ، أو بالتحويل عليه.

وهي محلية في محيط جغرافية الدولة، وقد تسع حسب ربط أجهزة الصرف بدولة أخرى.

ومن خدماتها الاستعلام عن مقدار الرصيد.

ومن خدماتها: أن لحاملها الصرف بها من "شبكة البنوك الأخرى" المشاركة في تأمين (أجهزة الصرف) على الطرقات، لكن هنا حسب نظام شبكات الصرف: إذا كان حامل البطاقة صرف بها من جهاز صرف لغير مصدرها فإن جهة الجهاز تأخذ من مصدر البطاقة عمولة خدمة السحب في حدود "أربعة ريالات" في الآلف.

حكمها:

وهذا النوع من البطاقات بهذا الوصف ليست محل بحث، لعدم وجود أي شائبة في حلها، وما لم يحصل لها شرط أو وصف إضافي ينقلها من الحل، ويحولها إلى التحريم، وهي في حال تحويل حاملها للتاجر تكون: "وكالة"، لأن له حساباً لدى المصرف، فوكله بالسداد عنه من حسابه.

النوع الثاني:

بطاقة الخصوم. ويقال: بطاقة الخصم، أو: البطاقة المدينة (2) .

وهي بطاقة مشروط إصدارها بوجود حساب للعميل لدى البنك، لكن ليس لها القدرة على توليد سيولة إضافية عن طريق البطاقة. وفائدتها تكمن فيما يلي:

إن العميل كلما استخدمها لدى محل تجاري، أو خطوط طيران، ونحوها يقوم البنك-مصدر البطاقة-بالسحب مباشرة من حسابه لسداد قيمة الفاتورة الواردة من التاجر.

حكمها:

--------------------------------------------

(1) - مجلة المجمع: 7 / 448 – 449، 656.

(2) - مجلة المجمع: 7 / 379.
প্রথম প্রকার: সাধারণ কার্ড। একে ক্যাশ কার্ড, বা এটিএম কার্ড, বা তাৎক্ষণিক ডেবিট কার্ড বলা হয়। একে প্রথাগত কার্ড (১) হিসেবেও অভিহিত করা হয়।

এটি এমন একটি কার্ড যা ব্যাংক সেই গ্রাহককে প্রদান করে যার ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট রয়েছে, যাতে এটিএম বুথ বা ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার সিস্টেমের মাধ্যমে ব্যবহারের সময় তার অ্যাকাউন্ট থেকে সরাসরি অর্থ কর্তন করা যায়। এর বৈশিষ্ট্যসমূহ নিম্নরূপ:

ব্যাংকে আমানত আছে এমন ব্যক্তি ছাড়া অন্য কারো অনুকূলে এটি ইস্যু করা হয় না।

কার্ডধারীর ব্যালেন্সের অতিরিক্ত অর্থ উত্তোলনের অনুমতি এটি দেয় না।

এবং (এটি ইস্যু করা হয়) কোনো বিনিময় বা ফি ছাড়াই।

অর্থ গ্রহণ বা স্থানান্তরের সাথে সাথেই এটি ব্যবহারের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক কর্তন সম্পন্ন হয়।

এটি দেশের ভৌগোলিক সীমানার মধ্যে স্থানীয়ভাবে ব্যবহৃত হয়, তবে অন্য দেশের এটিএম বুথের সাথে সংযোগ থাকা সাপেক্ষে এর পরিধি বিস্তৃত হতে পারে।

এর অন্যতম সেবা হলো ব্যালেন্সের পরিমাণ অনুসন্ধান করা।

এর আরও একটি সেবা হলো: কার্ডধারী রাস্তার পাশে স্থাপিত এটিএম বুথ সরবরাহকারী "অন্যান্য ব্যাংক নেটওয়ার্ক" থেকে অর্থ উত্তোলন করতে পারে। তবে এক্ষেত্রে এটিএম নেটওয়ার্কের নিয়ম অনুযায়ী: যদি কার্ডধারী কার্ড ইস্যুকারী ব্যাংক ছাড়া অন্য কোনো ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকে অর্থ উত্তোলন করে, তবে উক্ত বুথ কর্তৃপক্ষ কার্ড ইস্যুকারী ব্যাংকের কাছ থেকে সার্ভিস চার্জ হিসেবে প্রতি হাজারে প্রায় "চার রিয়াল" গ্রহণ করে।

এর বিধান:

এই বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে এ ধরণের কার্ড পর্যালোচনার বিষয় নয়, কারণ এর বৈধতায় কোনো সংশয় নেই। যতক্ষণ না এতে এমন কোনো শর্ত বা অতিরিক্ত বৈশিষ্ট্য যুক্ত হয় যা একে বৈধতার স্তর থেকে বিচ্যুত করে হারামের দিকে নিয়ে যায়। কার্ডধারী যখন এর মাধ্যমে কোনো ব্যবসায়ীর কাছে অর্থ স্থানান্তর করে, তখন এটি "প্রতিনিধিত্ব (وكالة)" হিসেবে গণ্য হয়; কারণ ব্যাংকে তার অ্যাকাউন্ট রয়েছে এবং সে তার পক্ষ থেকে উক্ত অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ পরিশোধ করার জন্য ব্যাংককে প্রতিনিধি নিযুক্ত করেছে।

দ্বিতীয় প্রকার:

খসুম কার্ড। একে ডেবিট কার্ড বা দেনাদার কার্ড (২) বলা হয়।

এটি এমন একটি কার্ড যা ইস্যু করার জন্য ব্যাংকে গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থাকা শর্ত, তবে এই কার্ডের মাধ্যমে অতিরিক্ত তারল্য বা নগদ অর্থ তৈরি করার সুযোগ নেই। এর উপকারিতা নিম্নরূপ:

গ্রাহক যখনই কোনো বাণিজ্যিক দোকান, এয়ারলাইনস বা অনুরূপ স্থানে এটি ব্যবহার করে, তখন কার্ড ইস্যুকারী ব্যাংক ব্যবসায়ীর পক্ষ থেকে আসা বিল পরিশোধের জন্য সরাসরি গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ কর্তন করে।

এর বিধান:

--------------------------------------------

(১) - মাজাল্লাতুল মাজমা: ৭ / ৪৪৮ – ৪৪৯, ৬৫৬।

(২) - মাজাল্লাতুল মাজমা: ৭ / ৩৭৯।
(খণ্ড: ১) বিতাকাতুল ইতিমান (পৃষ্ঠা: ৯)
هذا النوع بهذا الوصف جار على الحل، ولا يظهر فيه ما يمنع شرعاً؛ لأنه لا يدخل تحت مجموعة البطاقات الائتمانية، ما لم يحصل أي شرط، أو توصيف إضافي فينظر في حكمه شرعاً.

ولا أدري - حتى الآن - لماذا أفردها الاقتصاديون عن سابقتها في: النوع الأول.

تنبيه:

يرد على هذا النوع، والذي قبله: أن البنك الذي أصدرهما يستفيد من استثمار الرصيد مقابل إصدارهما – ألا يكون هذا من الربا؟ فليحرر.

النوع الثالث:

بطاقات الائتمان، ويقال: "بطاقات الاعتماد" أو:"بطاقات الملاءة" (1) .

يصدرها البنك العضو في مجموعة المنظمات، والمؤسسات صاحبة الترخيص، أو الراعية للبطاقات المصرفية ومن أشهر بطاقات هذا النوع:

"بطاقة الفيزا" (2) .

"بطاقة الماستر كارد" (3) .

"بطاقة الداينرز كلوب" (4) .

"بطاقة الأمريكان إكسبريس" (5) .

ثم كل منظمة، أو مؤسسة من المنظمات والمؤسسات المذكورة، تصدر عدداً من البطاقات، تختلف مواصفات وشروط وأغراض كل بطاقة عن الأخرى منها:

منظمة: "الفيزا" تمنح تراخيص إصدار ثلاثة أنواعه من بطاقات هي:

"بطاقة الفيزا الفضية".

"بطاقة الفيزا الذهبية".

"بطاقة فيزا إلكترون".

ومنظمة:"أمريكان إكسبريس" تمنح تراخيص إصدار ثلاثة أنواع من البطاقات هي:

"بطاقة أمريكان إكسبريس الخضراء".

"بطاقة أمريكان إكسبريس الذهبية".

"بطاقة أمريكان إكسبريس الماسية".

وبطاقات هذا النوع الائتمانية يمكن جعلها في قسمين:

بطاقات الائتمان العادية، ويقال: بطاقة الاعتماد الشهري، أو الخصم الشهري (6) .

--------------------------------------------

(1) - مجلة المجمع: 7 / 379 – 380، 445، 449، 451،656، 8 /580-593.

(2) - تقدم التعريف بها ص/34.

(3) - تقدم التعريف بها في ص/34.

(4) - تقدم التعريف بهاص/34.

(5) - "الأمريكان إكسبريس" هو بنك ومؤسسة مالية كبير تزاول الأنشطة المصرفية، وتشرف على إصدار البطاقات، وتنظم الصلة بين البنك وراغب حمل البطاقة.

(6) - مجلة المجمع: 7 / 379 – 380،449 – 450،656.
এই প্রকারটি এই বর্ণনা অনুযায়ী বৈধতার (الحل) ওপর প্রযোজ্য এবং এতে শরয়িভাবে (شرعاً) নিষিদ্ধ হওয়ার মতো কোনো কারণ পরিলক্ষিত হয় না; কারণ এটি ক্রেডিট কার্ডের (بطاقات الائتمان) অন্তর্ভুক্ত নয়, যতক্ষণ না এতে অতিরিক্ত কোনো শর্ত বা বৈশিষ্ট্যের উদ্ভব ঘটে; অন্যথায় শরয়ি (شرعاً) বিধানের ক্ষেত্রে তা পুনরায় বিবেচনা করতে হবে।

আর আমি এখন পর্যন্ত জানি না কেন অর্থনীতিবিদগণ একে প্রথম প্রকারের পূর্ববর্তী আলোচনা থেকে পৃথক করেছেন।

সতর্কীকরণ:

এই প্রকার এবং এর পূর্ববর্তী প্রকারের ক্ষেত্রে একটি প্রশ্ন উত্থাপিত হয় যে: ইস্যুকারী ব্যাংক এই কার্ড দুটি ইস্যু করার বিনিময়ে জমাকৃত ব্যালেন্স বিনিয়োগের মাধ্যমে যে সুবিধা ভোগ করে—তা কি সুদ (الربا) হিসেবে গণ্য হবে না? বিষয়টি গভীরভাবে পর্যালোচনা করা আবশ্যক।

তৃতীয় প্রকার:

ক্রেডিট কার্ড (بطاقات الائتمان), যাকে 'বিত্তাকাতুল ইতিমাদ' (بطاقات الاعتماد) বা 'বিত্তাকাতুল মালাআহ' (بطاقات الملاءة) (১) বলা হয়।

এটি ইস্যু করে সেই ব্যাংক যা লাইসেন্সধারী অথবা ব্যাংক কার্ডের পৃষ্ঠপোষক সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানসমূহের সদস্য। এই প্রকারের কার্ডগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ হলো:

"ভিসা কার্ড" (২)।

"মাস্টার কার্ড" (৩)।

"ডাইনার্স ক্লাব কার্ড" (৪)।

"আমেরিকান এক্সপ্রেস কার্ড" (৫)।

অতঃপর উল্লিখিত প্রতিটি সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান বেশ কিছু কার্ড ইস্যু করে, যেখানে প্রতিটি কার্ডের বৈশিষ্ট্য, শর্তাবলি এবং উদ্দেশ্য একে অপরের থেকে ভিন্ন। যেমন:

"ভিসা" সংস্থা তিন প্রকারের কার্ড ইস্যু করার অনুমতি প্রদান করে:

"ভিসা সিলভার কার্ড"।

"ভিসা গোল্ড কার্ড"।

"ভিসা ইলেকট্রন কার্ড"।

"আমেরিকান এক্সপ্রেস" সংস্থা তিন প্রকারের কার্ড ইস্যু করার অনুমতি প্রদান করে:

"আমেরিকান এক্সপ্রেস গ্রিন কার্ড"।

"আমেরিকান এক্সপ্রেস গোল্ড কার্ড"।

"আমেরিকান এক্সপ্রেস ডায়মন্ড কার্ড"।

এই প্রকারের ক্রেডিট কার্ডগুলোকে (الائتمانية) দুই ভাগে ভাগ করা সম্ভব:

সাধারণ ক্রেডিট কার্ড, যাকে মাসিক ক্রেডিট কার্ড বা মাসিক ডেবিট কার্ড (৬) বলা হয়।

--------------------------------------------

(১) - মাজাল্লাতুল মাজমা: ৭/৩৭৯–৩৮০, ৪৪৫, ৪৪৯, ৪৫১, ৬৫৬, ৮/৫৮০-৫৯৩।

(২) - এর পরিচয় ৩৪ পৃষ্ঠায় গত হয়েছে।

(৩) - এর পরিচয় ৩৪ পৃষ্ঠায় গত হয়েছে।

(৪) - এর পরিচয় ৩৪ পৃষ্ঠায় গত হয়েছে।

(৫) - "আমেরিকান এক্সপ্রেস" হলো একটি বড় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান যা ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করে, কার্ড ইস্যু করার বিষয়টি তত্ত্বাবধান করে এবং ব্যাংক ও কার্ড গ্রহণ করতে ইচ্ছুক ব্যক্তির মধ্যে সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণ করে।

(৬) - মাজাল্লাতুল মাজমা: ৭/৩৭৯–৩৮০, ৪৪৯–৪৫০, ৬৫৬।
(খণ্ড: ১) বিতাকাতুল ইতিমান (পৃষ্ঠা: ১০)
وحقيقتها بطاقة محلية، ودولية، تصدر برسوم اشتراك، ورسوم تجديد، تمكن حاملها من استخدامها في المحلات التجارية للشراء، أو تلقي الخدمات في مكاتب الطيران، أو الفنادق، أو المطاعم … ونحوها.

كما يمكن استخدامها على نحو بطاقة الصرف الآلي للسحب بواسطة الصرف الآلي، أو أنظمة التحويل الإلكتروني، ولا يلزم للحصول عليها وجود حساب لحاملها لدى البنك المصدر لها، بل البنك يقرضه مبلغاً له حد أعلى ويسمى في اصطلاحهم: "الخط الائتماني".

ويطالب البنك – المصدر لها – حاملها بتسديد مسحوباته خلال مدة لا تزيد عن شهر غالباً، وفي حال المماطلة يقوم بالبنك بمطالبته، ويلغي البنك البطاقة، ويرتب عليه فوائد التأخير.

فهذه البطاقة تعتمد العناصر الآتية:

لا يلزم لإصدارها وجود حساب للعميل في "بطاقة أمريكان إكسبريس" و"الداينرز كلوب". وقد تشترط بعض جهات الإصدار ذلك.

يقوم البنك بإقراض العميل – حامل البطاقة – مبلغاً له حد أعلى يسمى:"الخط الائتماني".

يلزم حاملها بالتسديد خلال شهر غالباً.

يلزم حاملها بدفوعات أربعة: رسم الاشتراك، ورسم التجديد، وفوائد الإقراض، والتأخير.

في حال عدم التسديد يطالب قضائياً، وتلغى عضوية حاملها أو تسحب منه البطاقة.

 

بطاقات الائتمان القرضية، ويقال: بطاقة الائتمان، أو بطاقة التسديد بالأقساط (1) .

وهذه أقوى البطاقات انتشاراً، وهي آخرها إصداراً، وأكثرها رواجاً، خاصة في الدول الصناعية، والمتحضرة. وينصرف إليها مصطلح: "بطاقة الائتمان" عند الإطلاق.

--------------------------------------------

(1) - مجلة المجمتع: 7 / 380، 451 – 452، 656 – 657.
এর প্রকৃত রূপ হলো এটি একটি স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক কার্ড, যা সদস্যপদ ফি এবং নবায়ন ফি প্রদানের মাধ্যমে ইস্যু করা হয়। এটি কার্ডধারীকে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান থেকে কেনাকাটা করার, অথবা এয়ারলাইন অফিস, হোটেল, রেস্তোরাঁ … এবং অনুরূপ স্থানে পরিষেবা গ্রহণ করার সুযোগ দেয়।

একইভাবে এটি এটিএম কার্ডের মতো এটিএম বুথের মাধ্যমে টাকা উত্তোলন বা ইলেকট্রনিক ট্রান্সফার সিস্টেমে ব্যবহার করা সম্ভব। এটি পাওয়ার জন্য ইস্যুকারী ব্যাংকে কার্ডধারীর অ্যাকাউন্ট থাকা আবশ্যক নয়; বরং ব্যাংক তাকে একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত অর্থ ঋণ প্রদান করে, যাকে তাদের পরিভাষায় "ক্রেডিট লাইন" বলা হয়।

ইস্যুকারী ব্যাংক কার্ডধারীকে তার উত্তোলিত অর্থ সাধারণত এক মাসের বেশি নয় এমন সময়ের মধ্যে পরিশোধ করার দাবি জানায়। বিলম্বে পরিশোধের ক্ষেত্রে ব্যাংক তা দাবি করে, কার্ডটি বাতিল করে এবং এর ওপর বিলম্ব সুদ আরোপ করে।

সুতরাং এই কার্ডটি নিম্নোক্ত উপাদানসমূহের ওপর ভিত্তি করে গঠিত:

"আমেরিকান এক্সপ্রেস" এবং "ডাইনার্স ক্লাব" কার্ড ইস্যু করার জন্য গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থাকা আবশ্যক নয়। তবে কোনো কোনো ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠান এটি শর্ত হিসেবে দিতে পারে।

ব্যাংক গ্রাহককে (কার্ডধারী) একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত অর্থ ঋণ প্রদান করে, যাকে বলা হয়: "ক্রেডিট লাইন"।

কার্ডধারীকে সাধারণত এক মাসের মধ্যে তা পরিশোধ করতে হয়।

কার্ডধারীকে চারটি খাতে অর্থ প্রদান করতে হয়: সদস্যপদ ফি, নবায়ন ফি, ঋণের সুদ এবং বিলম্ব ফি।

পরিশোধ না করার ক্ষেত্রে আইনিভাবে দাবি জানানো হয় এবং কার্ডধারীর সদস্যপদ বাতিল করা হয় অথবা তার থেকে কার্ডটি ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

 

ঋণভিত্তিক ক্রেডিট কার্ড; একে বলা হয়: ক্রেডিট কার্ড অথবা কিস্তিতে পরিশোধযোগ্য কার্ড (১)।

এটি সর্বাধিক বিস্তৃত কার্ড, যা সবশেষে উদ্ভাবিত হয়েছে এবং সবচেয়ে বেশি প্রচলিত, বিশেষ করে শিল্পোন্নত ও উন্নত দেশগুলোতে। সাধারণভাবে "ক্রেডিট কার্ড" বলতে এটিকেই বোঝানো হয়।

--------------------------------------------

(১) - মাজাল্লাতুল মুজতামিউ: ৭ / ৩৮০, ৪৫১ – ৪৫২, ৬৫৬ – ৬৫৭।
(খণ্ড: ১) বিতাকাতুল ইতিমান (পৃষ্ঠা: ১১)
وحقيقتها مثل: "بطاقة الخصم الشهري" كما تقدم. لكن تفترق عنها بأن هذه البطاقة يكون التسديد فيها غير محدد بشهر مثلاً، لكنه دين متجدد على شكل دفعات، بحيث تعطي العميل - حامل البطاقة - قدرة على استخدامها، ما دام منتتظماً بتسديد الفوائد المستحقة عليها شهريا، وهي أكثر" البطاقات" فرضاً للفوائد على حاملها، لهذا فهي تغل ربحاً مجزياً لمصدرها.

وهذه البطاقة تعتمد العناصر الآتية:

لا يلزم لإصدارها وجود حساب للعميل.

يقوم البنك - المصدر لها - بإقراض العميل - حامل البطاقة - مبلغاً له حد أعلى يسمى: "الخط الائتماني".

التسديد يكون بالتقسيط على شكل دفعات، وليس محدداً بشهر.

يلزم حاملها بدفوعات أربعة: رسم الاشتراك "العضوية"، ورسوم التجديد، وفوائد الإقراض. وفوائد التأخير.

 

المبحث السادس: أطرافها (1) والعلاقة التعاقدية بينهم (2) :

أطراف بطاقة الائتمان أربعة:

مصدرها: وهو البنك مباشرة، أو بواسطة المنظمة من البنوك، مثل: "فيزا" و " الداينرزكلوب "، " الأمريكان إكسبريس"، " الماستر كارد"، " اليورو كارد".

حاملها: وهو العميل.

الوسيط بينهما: وهو المؤسسة أو المنظمة.

التاجر: وهو صاحب السوق التجاري للمبيعات.

ثم العلاقة التعاقدية بين هذه الأطراف الأربعة من أهم المهمات لتصور طبيعة هذا العقد الائتماني للبطاقة، وهي كما يأتي:

العلاقة بين مصدر البطاقة وحاملها، علاقة تعاقد، هما طرفاه علي إصدار البطاقة، ومن أهم شروطه بينهما، وضع سقف أعلي الائتمان الممنوح لحاملها من مصدرها، ومن هنا كانت بعض البطاقات تتنوع، فبعضها عادي، وبعضها ذهبي، وهكذا.

--------------------------------------------

(1) - مجلة المجتمع: 7 / 378.

(2) - مجلة المجتمع: 7/ 389 -391، 655، 677، 8/ 656، 660 - 663
এর প্রকৃত রূপ হলো: "মাসিক ডেবিট কার্ড" এর মতো যেমনটি পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু এটি থেকে ভিন্ন হওয়ার কারণ হলো, এই কার্ডে অর্থ পরিশোধের বিষয়টি কোনো একটি নির্দিষ্ট মাসের জন্য নির্ধারিত নয়, বরং এটি কিস্তির আকারে একটি নবায়নযোগ্য ঋণ। এটি গ্রাহককে—তথা কার্ডধারীকে—তা ব্যবহারের সক্ষমতা প্রদান করে, যতক্ষণ পর্যন্ত তিনি এর ওপর মাসিক প্রদেয় সুদ নিয়মিত পরিশোধ করেন। এটি গ্রাহকের ওপর সবচেয়ে বেশি সুদ আরোপকারী কার্ড, যে কারণে এটি এর ইস্যুকারীর জন্য পর্যাপ্ত মুনাফা বয়ে আনে।

আর এই কার্ডটি নিম্নলিখিত উপাদানগুলোর ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়:

এটি ইস্যু করার জন্য গ্রাহকের কোনো অ্যাকাউন্ট থাকার আবশ্যকতা নেই।

ব্যাংক—যা এটি ইস্যুকারী—গ্রাহককে (কার্ডধারী) একটি নির্দিষ্ট সর্বোচ্চ সীমা পর্যন্ত ঋণ প্রদান করে, যাকে বলা হয়: "ক্রেডিট লিমিট"।

ঋণ পরিশোধ কিস্তির মাধ্যমে সম্পন্ন হয় এবং তা কোনো নির্দিষ্ট মাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।

কার্ডধারীকে চারটি খাতে অর্থ পরিশোধ করতে হয়: সদস্যপদ ফি, নবায়ন ফি, ঋণের সুদ এবং বিলম্বিত পরিশোধের সুদ।

 

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: এর পক্ষসমূহ (১) এবং তাদের মধ্যকার চুক্তিবদ্ধ সম্পর্ক (২):

ক্রেডিট কার্ডের পক্ষ মূলত চারটি:

ইস্যুকারী: এটি সরাসরি ব্যাংক হতে পারে, অথবা ব্যাংকগুলোর কোনো সংস্থার মাধ্যমে হতে পারে, যেমন: "ভিসা", "ডাইনার্স ক্লাব", "আমেরিকান এক্সপ্রেস", "মাস্টারকার্ড", "ইউরো কার্ড"।

কার্ডধারী: যিনি মূলত গ্রাহক।

উভয়ের মধ্যস্থতাকারী: যা মূলত কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা।

বিক্রেতা: যিনি বিক্রয় পণ্যের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের মালিক।

অতঃপর কার্ডের এই ক্রেডিট চুক্তির প্রকৃতি অনুধাবনের জন্য এই চারটি পক্ষের মধ্যকার চুক্তিবদ্ধ সম্পর্কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা নিম্নরূপ:

কার্ডের ইস্যুকারী এবং কার্ডধারীর মধ্যকার সম্পর্কটি মূলত একটি চুক্তিভিত্তিক সম্পর্ক; কার্ড ইস্যু করার ক্ষেত্রে তারা উভয়ই চুক্তিবদ্ধ পক্ষ। তাদের মধ্যকার অন্যতম প্রধান শর্ত হলো, ইস্যুকারীর পক্ষ থেকে কার্ডধারীকে প্রদত্ত ঋণের একটি সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া। এ কারণেই কার্ডের মধ্যে বিভিন্ন প্রকারভেদ দেখা যায়, যেমন: কোনোটি সাধারণ, কোনোটি গোল্ড কার্ড ইত্যাদি।

--------------------------------------------

(১) - মাজাল্লাতুল মুজতামা: ৭/৩৭৮।

(২) - মাজাল্লাতুল মুজতামা: ৭/ ৩৮৯-৩৯১, ৬৫৫, ৬৭৭, ৮/ ৬৫৬, ৬৬০-৬৬৩
(খণ্ড: ১) বিতাকাতুল ইতিমান (পৃষ্ঠা: ১২)
ولهذا كان: " الضمان " من مصدرها لحاملها أساساً فيها؛ لتحمله الديون المتعلقة بذمة حاملها أمام التجار الذين يتعامل معهم بواسطتها، وعليه فإن حاملها إذا أحال التاجر تحصيل حقه من البنك فلا يرجع إلي حاملها. وكذلك مصدر البطاقة إذا لم يتمكن من تحصيل حقه من حاملها لا يرجع علي التاجر.

ومن بيان طبيعة هذه العلاقة يتبين أن " رسوم الاشتراك " هي في حقيقتها: "أجور علي الضمان " فتؤول العملية إلي الوعد " قرض بزيادة " ولا وجه للقول بأنها علاقة " وكالة " لأنه ليس هناك مال لحاملها لدي البنك حتى يوكله، ويفوضه بالدفع عنة.

العلاقة بين مصدرها، والتاجر: علاقة تعاقد آخر، ينفذ فعلاً بعد صدور العقد الأول بين: مصدرها وحاملها، لكنه متقدم عقداً، أو لاحقاً بين المصدر والتاجر.

ومن أهم شروط هذا العقد " المدفوعات " التي يأخذها المصدر من التاجر فهو مثل: " خصم الكمبيالة " فإذا كانت المشتريات بمائة ريال علي حاملها، فإن التاجر يستوفي من البنك – مثلاً – خمسة وتسعين ريالاً، وخمسة ريالات - مثلاً - تكون للبنك، عمولة علي التسديد عن حاملها، وعمولة علي نشر الدعاية لمحله.

ولهذا كان التاجر في حال مماطلة البنك أو إفلاسه لا يستطيع قانوناً الرجوع علي حامل البطاقة، المشتري لأن البنك قد استحق في ذمة حاملها نسبة معينة للتسديد عنه وهي: " رسوم الاشتراك " وقد استحق نسبة معينة في ذمة التاجر للتسديد له.

العلاقة بين حاملها والتاجر: اتضح من بيان طبيعة العلاقة بين مصدرها وحاملها، وبين مصدرها والتاجر، أن حامل البطاقة سيحيل التاجر بثمن المشتريات منه علي مصدرها والتاجر، وأنه لا علاقة بعد بين حاملها والتاجر، فلا يستطيع التاجر عند عدم تحصيل حقه من البنك المصدر لها، أن يرجع علي حاملها، الذي أحاله علي البنك، ومعلوم أن طبيعة: " عقد الحوالة"
একারণেই এতে প্রদানকারী কর্তৃক গ্রাহকের জন্য "জামিনদারী (ضمان)" প্রদান করাই মূল ভিত্তি; যাতে গ্রাহক যাদের সাথে লেনদেন করেন সেই ব্যবসায়ীদের নিকট তার জিম্মায় থাকা দেনার দায় ব্যাংক গ্রহণ করে। এর ভিত্তিতে, কার্ডধারী ব্যক্তি যদি ব্যবসায়ীকে তার পাওনা আদায়ের জন্য ব্যাংকের নিকট অর্পণ করে, তবে ব্যবসায়ী আর কার্ডধারীর নিকট পুনরায় দাবি নিয়ে ফিরে আসতে পারবেন না। অনুরূপভাবে কার্ড প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ যদি কার্ডধারীর নিকট থেকে পাওনা আদায়ে সক্ষম না হয়, তবে তারাও ব্যবসায়ীর নিকট দায়ভার ফিরিয়ে দিতে পারবে না।

এই সম্পর্কের স্বরূপ বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট হয় যে, "সদস্যপদ ফি" মূলত "জামিনদারীর পারিশ্রমিক (أجور علي الضمان)"। এর ফলে পুরো প্রক্রিয়াটি "অতিরিক্তসহ ঋণ (قرض بزيادة)" প্রদানের প্রতিশ্রুতিতে পর্যবসিত হয়। এটিকে "প্রতিনিধিত্ব (وكالة)" সম্পর্ক বলার কোনো অবকাশ নেই; কারণ ব্যাংকের কাছে কার্ডধারীর কোনো অর্থ গচ্ছিত নেই যে সে তাকে প্রতিনিধিত্ব প্রদান করবে এবং তার পক্ষ থেকে অর্থ পরিশোধের ক্ষমতা অর্পণ করবে।

কার্ড প্রদানকারী এবং ব্যবসায়ীর মধ্যকার সম্পর্ক: এটি একটি ভিন্ন চুক্তিবদ্ধ সম্পর্ক, যা কার্ড প্রদানকারী ও কার্ডধারীর মধ্যকার প্রথম চুক্তির পর কার্যকর হয়। তবে চুক্তিটি প্রদানকারী ও ব্যবসায়ীর মাঝে আগে বা পরে সম্পাদিত হতে পারে।

এই চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো "পরিশোধিত অর্থ" যা প্রদানকারী ব্যবসায়ীর কাছ থেকে গ্রহণ করে। এটি অনেকটা "বিনিময় বিল বাট্টাকরণ (خصم الكمبيالة)" এর মতো। যদি কার্ডধারীর কেনাকাটার পরিমাণ একশ রিয়াল হয়, তবে ব্যবসায়ী ব্যাংক থেকে—উদাহরণস্বরূপ—পঁচানব্বই রিয়াল গ্রহণ করবেন এবং বাকি পাঁচ রিয়াল ব্যাংকের প্রাপ্য হবে, যা কার্ডধারীর পক্ষে অর্থ পরিশোধ এবং দোকানের প্রচারণার জন্য কমিশন হিসেবে গণ্য হবে।

একারণেই ব্যাংক যদি অর্থ পরিশোধে গড়িমসি করে বা দেউলিয়া হয়ে যায়, তবে ব্যবসায়ী আইনত কার্ডধারী ক্রেতার নিকট ফিরে যেতে পারবেন না। কারণ, ব্যাংক কার্ডধারীর পক্ষ থেকে অর্থ পরিশোধের বিনিময়ে একটি নির্দিষ্ট অংশ অর্থাৎ "সদস্যপদ ফি" পাওয়ার অধিকারী হয়েছে এবং ব্যবসায়ীর নিকট থেকেও পাওনা পরিশোধের বিনিময়ে একটি নির্দিষ্ট অংশ পাওয়ার হকদার হয়েছে।

কার্ডধারী এবং ব্যবসায়ীর মধ্যকার সম্পর্ক: কার্ড প্রদানকারী ও কার্ডধারীর সম্পর্ক এবং প্রদানকারী ও ব্যবসায়ীর সম্পর্কের ধরন থেকে এটি স্পষ্ট যে, কার্ডধারী পণ্যের মূল্য পরিশোধের জন্য ব্যবসায়ীকে কার্ড প্রদানকারীর নিকট প্রেরণ করেন। এরপর কার্ডধারী ও ব্যবসায়ীর মাঝে আর কোনো সম্পর্ক থাকে না। ফলে ব্যবসায়ী যদি কার্ড প্রদানকারী ব্যাংকের কাছ থেকে পাওনা আদায়ে ব্যর্থ হয়, তবে সে আর কার্ডধারীর নিকট ফিরে যেতে পারবে না, যে তাকে ব্যাংকের নিকট প্রেরণ করেছে। আর এটি সর্বজনবিদিত যে "দায় স্থানান্তর চুক্তি (عقد الحوالة)" এর প্রকৃতি এমনই।
(খণ্ড: ১) বিতাকাতুল ইতিমান (পৃষ্ঠা: ১৩)
شرعاً أن للمحال مطالبة المحيل إذا كان المحال عليه غير مليء، وفي عقد الكفالة فالمكفول له، له الخيار بمطالبة أيهما شاء.

لكن يلاحظ في البطاقات الائتمانية أن حامل البطاقة المحيل ليس له " حساب مستقر " لدي البنك، حتى يحيل عليه، مقابل عمولة هي باسم: "رسم الاشتراك"، وقبل المحل: " التاجر" مقابل عمولة يستوفيها من مجموع الثمن المحال، فيحسم العمولة منه قبل السداد.

لهذا فهذه العلاقة التي ظاهرها: " حوالة " لا تتحقق فيها صفة الحوالة شرعاً من جهتين:

من جهة أن الحوالة علي ذمة لا علي دين مستقر، ومن جهة أن المحال " التاجر " ليس له حق مطالبة حامل البطاقة " المشتري " والمحيل في نفس الوقت.

 

‌‌المبحث السابع: منافعها (1) :

هذا هو المبحث الأم، والأساس في تصوير هذه البطاقات أمام نظر الفقيه. وهي منافع وفوائد متعددة الجوانب، تعود إلي خمس جهات:

منافعها للجهة المصدرة لها: " البنك "

منافعها لحاملها: " العميل ".

منافعها للتاجر.

منافعها للمنظمة الوسيطة بين البنك المصدر وحامل البطاقة.

منافعها للعموم.

وقبل الدخول في بيانها يلاحظ أن جهة التحكم في هذه المنافع هي الجهة المصدرة للبطاقة: " البنك " ويلاحظ أنها تختلف من جهة مصدرة إلي أخرى، ومن بطاقة أخرى، ومن الجائز أن يتولد شروط، ومواصفات، ومنافع أخرى، يكشف عنها المستقبل، وأن الباب مفتوح أمام المصارف الإسلامية لتكييفها، وصياغتها بما لا يتعارض مع الشرع المطهر فإلي بيانها بالتفصيل علي هذا الترتيب:

المنافع لمصدر البطاقة: " البنك " (2) :

--------------------------------------------

(1) - مجلة المجتمع: 7 / 359، 375، 381، 386، 408، 410، 456، 458، 559، 560، 653، 652، 654، 655، 8/610، 641.

(2) - مجلة المجمع: 7/ 362 - 363، 381، 382، 408، 409 - 410، 457، 559- 560، 653. 8/611-612. 641.
শরীয়তের বিধানে, পাওনাদার (المحال)-এর জন্য ঋণ হস্তান্তরকারী (المحيل)-এর কাছে দাবি করার অধিকার থাকে যদি যার ওপর ঋণ হস্তান্তর করা হয়েছে (المحال عليه) সে সচ্ছল (مليء) না হয়। আর জামিনদারি (الكفالة) চুক্তির ক্ষেত্রে, যার পাওনা জামিন দেওয়া হয়েছে (المكفول له) তার জন্য অধিকার রয়েছে যে, সে এই দুই পক্ষের মধ্য থেকে যার কাছে ইচ্ছা দাবি করতে পারে।

কিন্তু ক্রেডিট কার্ডের ক্ষেত্রে লক্ষ্য করা যায় যে, কার্ডধারী তথা ঋণ হস্তান্তরকারী (المحيل)-এর ব্যাংকের কাছে কোনো "স্থিতিশীল হিসাব" থাকে না যে সে তার ওপর ঋণ হস্তান্তর করবে; বরং এটি একটি কমিশনের বিনিময়ে হয়ে থাকে যার নাম: "সাবস্ক্রিপশন ফি"। আর পাওনাদার (المحال) তথা "ব্যবসায়ী" একটি কমিশনের বিনিময়ে এটি গ্রহণ করেন যা তিনি হস্তান্তরিত মোট মূল্য থেকে কেটে নেন, ফলে পরিশোধের পূর্বেই তিনি তা থেকে কমিশন কর্তন করেন।

এই কারণে, এই সম্পর্কটি যার বাহ্যিক রূপ হলো: "ঋণ হস্তান্তর (حوالة)", তাতে শরীয়তের দৃষ্টিতে ঋণ হস্তান্তরের (الحوالة) বৈশিষ্ট্য দুটি দিক থেকে বাস্তবায়িত হয় না:

প্রথমত, এই ঋণ হস্তান্তর (الحوالة) একটি আর্থিক দায়বদ্ধতা (ذمة)-এর ওপর ভিত্তি করে, কোনো স্থিতিশীল ঋণ (دين مستقر)-এর ওপর নয়। দ্বিতীয়ত, পাওনাদার (المحال) তথা "ব্যবসায়ী"-এর জন্য একই সময়ে কার্ডধারী (ক্রেতা) এবং ঋণ হস্তান্তরকারী (المحيل) উভয়ের কাছে দাবি করার অধিকার থাকে না।

 

‌‌সপ্তম পরিচ্ছেদ: এর সুবিধাসমূহ (১) :

এটিই হলো মূল এবং মৌলিক আলোচনার বিষয় যা একজন ফকীহর সামনে এই কার্ডগুলোর স্বরূপ উন্মোচন করে। এর বহুমুখী সুবিধা ও কল্যাণ রয়েছে, যা পাঁচটি পক্ষের সাথে সংশ্লিষ্ট:

কার্ড ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য সুবিধা: "ব্যাংক"।

কার্ডধারীর জন্য সুবিধা: "গ্রাহক"।

ব্যবসায়ীর জন্য সুবিধা।

ইস্যুকারী ব্যাংক এবং কার্ডধারীর মধ্যবর্তী মধ্যস্থতাকারী সংস্থার জন্য সুবিধা।

সর্বসাধারণের জন্য সুবিধা।

এগুলো বিস্তারিত বর্ণনার পূর্বে লক্ষ্য করা প্রয়োজন যে, এই সুবিধাগুলো নিয়ন্ত্রণের মূল পক্ষ হলো কার্ড ইস্যুকারী কর্তৃপক্ষ: "ব্যাংক"। আরও লক্ষ্যণীয় যে, এই সুবিধাগুলো এক ইস্যুকারী থেকে অন্যটিতে এবং এক কার্ড থেকে অন্য কার্ডে ভিন্নতর হয়। ভবিষ্যতে আরও নতুন শর্তাবলি, বৈশিষ্ট্য এবং সুবিধাদি উদ্ভূত হওয়া সম্ভব। আর ইসলামী ব্যাংকগুলোর জন্য এর দ্বার উন্মুক্ত যাতে তারা একে এমনভাবে বিন্যস্ত ও রূপদান করতে পারে যা পবিত্র শরীয়তের সাথে সাংঘর্ষিক না হয়। নিচে সেই ক্রমবিন্যাস অনুযায়ী বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়া হলো:

কার্ড ইস্যুকারীর জন্য সুবিধাসমূহ: "ব্যাংক" (২) :

--------------------------------------------

(১) - মাজাল্লাতুল মুজতামা: ৭/৩৫৯, ৩৭৫, ৩৮১, ৩৮৬, ৪০৮, ৪১০, ৪৫৬, ৪৫৮, ৫৫৯, ৫৬০, ৬৫৩, ৬৫২, ৬৫৪, ৬৫৫, ৮/৬১০, ৬৪১।

(২) - মাজাল্লাতুল মাজমা: ৭/৩৬২-৩৬৩, ৩৮১, ৩৮২, ৪০৮, ৪০৯-৪১০, ৪৫৭, ৫৫৯-৫৬০, ৬৫৩। ৮/৬১১-৬১২, ৬৪১।
(খণ্ড: ১) বিতাকাতুল ইতিমান (পৃষ্ঠা: ১৪)
إن مئات البنوك التجارية تصدر البطاقة الائتمانية، ذلك أن البنوك التجارية التي قامت علي: " الربا " لا سيما: " القرض بفائدة "، سعت إلي توسيع حوض السيولة لديها، لاستقبال تدفق المدفوعات والإيرادات من خلال عمولات الرسوم، والمستحقات، والفوائد، الناجزة، والمتأخرة، وإن استحداثها "البطاقة الائتمانية" تجلب لها قدراً كبيراً من الأرباح، تمتصها – البنوك – من جيب حامل البطاقة من جهة ومن جيب التاجر من جهة أخري، فمثلاً تحصلت شركة: "أمريكان إكسبرس" من عمليات إصدار بطاقتها الائتمانية، أرباحاً صافية قدرت بمبلغ " 500 " مليون دولار لعام 1989م. وقد تجتمع هذه المدفوعات في إصدار واحد من البطاقات الائتمانية، وقد يحصل بعضها دون الآخر.

وهذه المنافع والعائدات المدفوعة للبنك هي:

أولاً: المدفوعات من حامل البطاقة (1) :

رسوم الإصدار من حاملها. ويقال: رسوم منح البطاقة، أو رسوم العضوية، أو رسوم الاشتراك السنوي، وهي في المملكة تتراوح من " 500 " ريال إلي " 1000 " ريال.

رسوم تجديدها عند انتهاء مدتها ويقال رسوم البطاقة السنوية.

رسوم تجديدها قبل انتهاء المدة، كأن يريد السفر قبل موعد انتهاء مدتها فيرغب بالتجديد.

رسوم استبدالها عند فقدها.

رسوم تكاليف تحصيل الشيكات المسدد بها أو التحويلات.

غرامة التأخير عن التسديد، ويقال: فوائد التأخير، وقد تصل الفوائد علي المتأخرات إلي ضعف الفائدة المعتادة علي القروض، وقد بلغت في الولايات المتحدة إلي 23%.

تحقيق دخل آخر من حامل البطاقة من خدمات مساندة، مثل بيع بعض السلع بالبريد لحاملي البطاقة، أو التأمين علي حياة حامل البطاقة، أو الخدمات المتعلقة بالسفر كقطع التذاكر، وعمل الحجوزات في الفنادق.

الحصول علي عائد من قروض سعر العملة الأجنبية عند تسديد بالعملة المحلية.

--------------------------------------------

(1) مجلة المجمع: 7/362، 381، 382، 457، 657، 8/611- 612.
শত শত বাণিজ্যিক ব্যাংক ক্রেডিট কার্ড ইস্যু করে থাকে। মূলত এই বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো সুদের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত, বিশেষ করে ‘সুদযুক্ত ঋণ’। এগুলো তাদের তারল্য তহবিল বৃদ্ধির চেষ্টা করে যাতে বিভিন্ন চার্জ, পাওনা এবং তাৎক্ষণিক ও বিলম্বিত সুদের কমিশন থেকে প্রাপ্ত আয় গ্রহণ করা যায়। তাদের এই ‘ক্রেডিট কার্ড’ প্রবর্তন ব্যাংকগুলোর জন্য বিপুল মুনাফা বয়ে আনে, যা তারা একদিকে কার্ডধারীর পকেট থেকে এবং অন্যদিকে ব্যবসায়ীর পকেট থেকে শোষণ করে। উদাহরণস্বরূপ, ‘আমেরিকান এক্সপ্রেস’ কোম্পানি ১৯৮৯ সালে তাদের ক্রেডিট কার্ড ইস্যু কার্যক্রম থেকে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার নিট মুনাফা অর্জন করেছে। ক্রেডিট কার্ডের একটি একক সংস্করণেই এই সকল পাওনা একত্রিত হতে পারে, আবার কখনো কখনো কিছু অর্জিত হয় এবং কিছু হয় না।

ব্যাংককে প্রদত্ত এই সকল সুবিধা ও আয়সমূহ হলো:

প্রথমত: কার্ডধারীর পক্ষ থেকে পরিশোধিত অর্থ (১):

কার্ডধারীর পক্ষ থেকে ইস্যু ফি। একে কার্ড মঞ্জুরি ফি, সদস্যপদ ফি বা বার্ষিক চাঁদা ফি বলা হয়। সৌদি আরবে এর পরিমাণ ৫০০ রিয়াল থেকে ১০০০ রিয়ালের মধ্যে হয়ে থাকে।

মেয়াদ শেষে কার্ড নবায়ন ফি, একে বার্ষিক কার্ড ফি বলা হয়।

মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নবায়ন করার ফি; যেমন মেয়াদের আগেই ভ্রমণে যাওয়ার ইচ্ছা করলে নবায়নের প্রয়োজন হয়।

কার্ড হারিয়ে গেলে তা প্রতিস্থাপনের ফি।

পরিশোধিত চেক বা অর্থ স্থানান্তরের কালেকশন চার্জ বা ফি।

বিলম্বে পরিশোধের জন্য জরিমানা, যাকে বিলম্ব সুদ বলা হয়। বকেয়া অর্থের ওপর এই সুদের হার সাধারণ ঋণের সুদের চেয়ে দ্বিগুণ হতে পারে, যা যুক্তরাষ্ট্রে ২৩% পর্যন্ত পৌঁছেছে।

সহায়ক সেবা প্রদানের মাধ্যমে কার্ডধারীর কাছ থেকে অতিরিক্ত আয় অর্জন; যেমন কার্ডধারীদের কাছে ডাকযোগে পণ্য বিক্রয়, কার্ডধারীর জীবন বীমা, অথবা ভ্রমণ সংক্রান্ত সেবা যেমন টিকিট ইস্যু ও হোটেল বুকিং।

স্থানীয় মুদ্রায় পরিশোধের সময় বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার থেকে মুনাফা লাভ।

--------------------------------------------

(১) মাজাল্লাতুল মাজমা: ৭/৩৬২, ৩৮১, ৩৮২, ৪৫৭, ৬৫৭, ৮/৬১১-৬১২।
(খণ্ড: ১) বিতাকাতুল ইতিমান (পৃষ্ঠা: ১৫)
ثانياً: المدفوعات من التاجر (1) :

وهي علي نوعين:

حسم نسبة من قيمة البضاعة هذا هو الدفع الأساسي والدخل الرئيسي لجهة الإصدار، وهو الذي تقوم عليه بطاقة الائتمان فإن الجهة المصدرة للبطاقة حينما يشتري حاملها بواسطتها بضاعة فإن جهة الإصدار لا تدفع للتاجر نفس المبلغ المستحق في الفواتير إلا بعد حسم نسبة منه، كفائدة يدفعها التاجر إلى مصدر البطاقة، وتختلف هذه النسبة من مصدر إلي آخر، ومن بطاقة إلي أخرى، وهي تتراوح من 1% إلي 8%.

وهو شبيه بما يسمي لدي البنوك باسم: "خصم الكمبيالات"، وهذا النوع من المدفوعات هو أهم إشكال يرد علي شرعية العملية.

هناك رسوم وعمولات يدفعها التاجر- صاحب البضاعة- لمصدر البطاقة لقاء اشتراكهم في الاستفادة من عملاء البطاقة، أو لقاء الأجهزة المقدمة للمحلات، وهي أيضاً خدمة تستحق الأجرة (2) .

هذه المدفوعات بأنواعها تحمل البنك – المصدر للبطاقة – علي توسعه حوض للسيولة، تتدفق علية من قنوات وجيوب متعددة كما تقدم.

يستفيد البنك المصدر لها: الانتشار العالمي، وسمعة البنك في الخارج (3) .

 

ثانياً: منافعها لحاملها: " العميل " (4) :

أصبحت البطاقة إحدى الخدمات المصرفية التي تقدمها للعميل، بجانب الشيكات، لكنها تتفوق علي الشيكات في عنصر: " الأمان والسهولة "، وأنها: "وسيلة دفع جاهزة مأمونة" واستخدام لها محلياً أو دولياً، دون الحاجة إلي حمل النقود، أو التحويل، لهذا انتشرت في العالم حتى قدر عدد حاملي البطاقة في العالم بنحو "800" مليون فرد.

فهذه من بطاقة تحقق لحاملها عدة منافع كلها معنوية، ثم هي تختلف من بطاقة إلي أخري منها:

الأمان علي أمواله من أي اعتداء وسطو.

--------------------------------------------

(1) - مجلة المجمع: 7/ 365، 381، 408، 657.

(2) - مجلة المجمع: 7/ 367.

(3) - مجلة المجمع: 7/457.

(4) - مجلة المجمع: 7/ 359، 383-384، 408، 456، 559-560، 653-655.
দ্বিতীয়ত: ব্যবসায়ীর পক্ষ থেকে পরিশোধিত অর্থ (১):

এবং এটি দুই প্রকার:

পণ্যের মূল্য থেকে একটি নির্দিষ্ট শতাংশ কর্তন করা; এটিই হলো কার্ড ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠানের মৌলিক পেমেন্ট এবং প্রধান আয়, যার ওপর ক্রেডিট কার্ডের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। কারণ কার্ড ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠান কার্ড বাহক কর্তৃক এর মাধ্যমে কোনো পণ্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে ইনভয়েসে প্রাপ্য পূর্ণ অর্থ ব্যবসায়ীকে প্রদান করে না, বরং সেখান থেকে একটি নির্দিষ্ট অংশ কর্তন করে। এটি একটি লভ্যাংশ যা ব্যবসায়ী কার্ড ইস্যুকারীকে প্রদান করেন। এই শতাংশের হার এক ইস্যুকারী থেকে অন্য ইস্যুকারী এবং এক কার্ড থেকে অন্য কার্ডে ভিন্ন হয়ে থাকে, যা সাধারণত ১% থেকে ৮% পর্যন্ত হয়ে থাকে।

এটি ব্যাংকগুলোর নিকট "বিনিময় বিল বাটা" নামে পরিচিত বিষয়ের সদৃশ। আর এই প্রকারের পরিশোধিত অর্থই এই লেনদেনের শরয়ি বৈধতার ক্ষেত্রে উত্থাপিত প্রধান আপত্তির বিষয়।

এখানে কিছু ফি এবং কমিশন রয়েছে যা ব্যবসায়ী—পণ্যের মালিক—কার্ড ইস্যুকারীকে প্রদান করেন। এটি কার্ডের গ্রাহকদের থেকে সুবিধা গ্রহণের বিনিময়ে অথবা দোকানগুলোতে সরবরাহকৃত যন্ত্রপাতির বিনিময়ে হয়ে থাকে। এটিও একটি সেবা যা পারিশ্রমিক পাওয়ার যোগ্য (২)।

বিভিন্ন প্রকারের এই পেমেন্টগুলো কার্ড ইস্যুকারী ব্যাংককে তার তারল্যের প্রবাহ বৃদ্ধিতে সহায়তা করে, যা ইতিপূর্বে বর্ণিত বিভিন্ন উৎস ও মাধ্যম থেকে ব্যাংকে জমা হয়।

ইস্যুকারী ব্যাংক এর মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী বিস্তৃতি এবং বিদেশে ব্যাংকের সুনাম অর্জনের সুবিধা লাভ করে (৩)।

 

দ্বিতীয়ত: কার্ড বাহক বা "গ্রাহক"-এর জন্য এর সুবিধাসমূহ (৪):

চেক বইয়ের পাশাপাশি কার্ড বর্তমানে গ্রাহকদের জন্য ব্যাংকিং সেবার অন্যতম একটি উপাদানে পরিণত হয়েছে। তবে "নিরাপত্তা ও সহজলভ্যতা"র ক্ষেত্রে এটি চেকের চেয়েও শ্রেষ্ঠ। এটি একটি "প্রস্তুত ও নিরাপদ পেমেন্ট মাধ্যম", যা নগদ টাকা বহন বা অর্থ স্থানান্তরের ঝামেলা ছাড়াই স্থানীয় বা আন্তর্জাতিকভাবে ব্যবহার করা যায়। একারণেই এটি বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে, এমনকি বিশ্বে কার্ড বাহকের সংখ্যা প্রায় ৮০ কোটি পর্যন্ত পৌঁছেছে বলে ধারণা করা হয়।

এই কার্ড তার বাহকের জন্য বেশ কিছু সুবিধা নিশ্চিত করে যার সবগুলোই মূলত গুণগত। তবে এই সুবিধাগুলো এক কার্ড থেকে অন্য কার্ডে ভিন্ন হয়ে থাকে, যার মধ্যে একটি হলো:

যেকোনো ধরনের হামলা বা ছিনতাই থেকে নিজের অর্থের নিরাপত্তা।

--------------------------------------------

(১) - মাজাল্লাতুল মাজমা: ৭/ ৩৬৫, ৩৮১, ৪০৮, ৬৫৭।

(২) - মাজাল্লাতুল মাজমা: ৭/ ৩৬৭।

(৩) - মাজাল্লাতুল মাজমা: ৭/ ৪৫৭।

(৪) - মাজাল্লাতুল মাজমা: ৭/ ৩৫৯, ৩৮৩-৩৮৪, ৪০৮, ৪৫৬, ৫৫৯-৫৬০, ৬৫৩-৬৫৫।
(খণ্ড: ১) বিতাকাতুল ইতিমান (পৃষ্ঠা: ১৬)
الأمان علي نفسه من الهجوم عليه لما معه من النقود.

التمكن من الشراء أمام أي رغبة للشراء سابقة أو طارئة.

التعامل مع الآخرين بأي عملة دون الحاجة إلي حمل العملات المتعددة.

هي وسيلة لضبط المصاريف والحسابات.

وهي وسيلة لتوثيق سداد المطالبات لأصحاب البضائع ونحوهم.

تعطي حاملها قسطاً من القيمة الأدبية، إذ أن غالباً لا يمنح إلا لذوي الدخل المرتفع، ولذا صارت رمزاً للمباهاة.

السحب الفوري للنقد من أجهزة الصرف الآلي للبنك، أي الحصول علي المال نقداً من مصدرها أي " قرضاً من البنك " كلما دعت الحاجة إليه، وفي أي مكان من العالم.

يستفيد حامل البطاقة في كثير من الأحيان، من الشراء بالتقسيط بموجبها، لأن البنك لا يلزمه بدفع سداد الفواتير جملة واحدة.

10- الحصول علي حماية من البنك في كون السلعة المشتراة مستوفية للمواصفات المطلوبة، ولهذا أعطي القانون في الولايات المتحدة مهلة ستين يوماً للاعتراض علي محتويات فواتير المطالبة.

11- " تخفيض في قيمة المشتروات " توفر البطاقة لحاملها- الحصول علي حطيطة وتخفيض – خصم من التاجر عن سعر السوق، بنسبة معينة تتراوح بين 5% إلي 30% حسب السلعة، والمنشأة التجارية وفي الخدمات الفندقية، والحجوزات.

حصول حاملها علي ميزة التأمين مجاناً علي الحياة حال سفره ضد مخاطر السفر، أو علي الحوادث عند شراء تذاكر السفر بتلك البطاقة.

حصوله علي خدمات الأولوية الدولية، مثل: الحجز للسفر، وفي الفنادق.

استخدام أجهزة الصرف الآلي الدولية، للحصول علي المبلغ نقداً.

التمكن من الشراء البريدي بضمان البنك المصدر.

وسيلة تعريف بشخص الحامل لها.

المشاركة في السحب علي جوائز يرصدها المصدر لها.

ضمان الجهة المصدرة لها- البنك – أن لا يخسر حاملها أكثر من مبلغ معين في حال صياغتها أو سرقتها، أو استعمالها من شخص آخر بشكل غير نظامي.
নগদ অর্থ সাথে রাখার কারণে আক্রান্ত হওয়ার ভয় থেকে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

পূর্বপরিকল্পিত বা আকস্মিক যেকোনো কেনাকাটার ইচ্ছা পূরণে সক্ষম হওয়া।

বিভিন্ন ধরনের মুদ্রা বহনের প্রয়োজনীয়তা ছাড়াই অন্যদের সাথে যেকোনো মুদ্রায় লেনদেন করার সুযোগ।

এটি ব্যয় এবং হিসাব নিয়ন্ত্রণের একটি মাধ্যম।

এটি পণ্য বিক্রেতা ও সংশ্লিষ্টদের পাওনা পরিশোধের একটি নির্ভরযোগ্য প্রমাণীকরণ (توثيق) পদ্ধতি।

এটি কার্ডধারীকে একটি মার্জিত সামাজিক মর্যাদা প্রদান করে, কারণ সাধারণত উচ্চ আয়ের ব্যক্তিদেরই এটি প্রদান করা হয়; ফলে এটি আভিজাত্যের প্রতীকে পরিণত হয়েছে।

ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে নগদ অর্থ উত্তোলন, অর্থাৎ প্রয়োজন অনুযায়ী বিশ্বের যেকোনো স্থান থেকে এর উৎস অর্থাৎ "ব্যাংক থেকে ঋণ" হিসেবে নগদ অর্থ গ্রহণ।

কার্ডধারী অনেক ক্ষেত্রে এর মাধ্যমে কিস্তিতে ক্রয়ের সুবিধা ভোগ করেন, কারণ ব্যাংক তাকে বিলের সম্পূর্ণ টাকা একবারে পরিশোধে বাধ্য করে না।

10- ক্রয়কৃত পণ্যটি কাঙ্ক্ষিত বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী কি না সে বিষয়ে ব্যাংক থেকে সুরক্ষা লাভ; একারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আইনে বিলের বিবরণের ওপর আপত্তি জানানোর জন্য ষাট দিনের সময় দেওয়া হয়েছে।

11- "ক্রয়কৃত পণ্যের মূল্যে ছাড়": এই কার্ড কার্ডধারীকে বাজারমূল্যের চেয়ে নির্দিষ্ট হারে—পণ্য, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, হোটেল সেবা ও বুকিং ভেদে ৫% থেকে ৩০% পর্যন্ত—মূল্যছাড় বা হ্রাস পাওয়ার সুবিধা প্রদান করে।

কার্ডধারী যখন এই কার্ড ব্যবহার করে সফরের টিকেট ক্রয় করেন, তখন তিনি ভ্রমণকালীন ঝুঁকির বিপরীতে বিনামূল্যে জীবন বিমা বা দুর্ঘটনা বিমার সুবিধা লাভ করেন।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অগ্রাধিকারমূলক সেবা লাভ, যেমন: সফরের টিকিট ও হোটেল বুকিং।

নগদ অর্থ সংগ্রহের জন্য আন্তর্জাতিক এটিএম বুথ ব্যবহার।

ইস্যুকারী ব্যাংকের গ্যারান্টিতে ডাকযোগে কেনাকাটা করতে সক্ষম হওয়া।

কার্ডধারীর পরিচয় শনাক্তকরণের একটি মাধ্যম।

ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে নির্ধারিত পুরস্কারের ড্র-তে অংশগ্রহণের সুযোগ।

ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠান—ব্যাংক—কর্তৃক এই নিশ্চয়তা প্রদান যে, কার্ডটি হারিয়ে গেলে, চুরি হলে বা অন্য কেউ অবৈধভাবে ব্যবহার করলে কার্ডধারী একটি নির্দিষ্ট সীমার বেশি আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হবেন না।
(খণ্ড: ১) বিতাকাতুল ইতিমান (পৃষ্ঠা: ১৭)
حصول حاملها علي جوائز وهدايا من مصدرها، أو من الطرف الآخر: التاجر.

التاجر إذا لم يستطع الحصول علي حقه من مصدر البطاقة، فأنه لا يستطيع الرجوع علي حاملها، فهو يطالب مصدرها، ومصدرها يطالب حاملها.

 

ثالثاً منافعها للتاجر (1) :

منها:

تكثير الزبائن: عن طريق الحوافز والمنافع التي توفرها جهة الإصدار لحاملها، لتعود بالمردود النافع للتاجر بكثرة المستهلكين، حتى من المفلسين الذين يحملون بطاقة يمكنهم الشراء بواسطتها.

تكثير الزبائن: عن طريق حملات الدعاية التي يقوم بها مصدر البطاقة، بذكر اسمه في حملة الدعاية للشراء منه، وبواسطة الدليل الذي يوزعه المصدر علي حاملي البطاقة، فيستقطب بهذا مزيداً من العملاء.

تكثير الزبائن بواسطة البيع بالبطاقة، فهي بمثابة البيع نسيئة، ولهذا صار البيع عنهن طريق البطاقة يتفوق علي التقسيط من التاجر مباشرة بسبب انخفاض التكاليف الإدارية، وضمان المدفوعات من قبل المصرف – مصدر البطاقة.

4- الزيادة في التسويق: بما أن البطاقة تمنح حاملها الشراء من المتجر، بضمان البنك، فإنها توجد عند حاملها شعورً بالغني، والقدرة علي الشراء، فيدفعه هذا الشعور، إلي إشباع رغبته بما تقع عليه يده، ويركز عليه نظره، ورغبته.

وهذا في حد ذاته تحريك لسوق التاجر المشارك بالتعامل لدي بطاقات الائتمان.

5- " توفير النسبة التي يتقاضاها منه البنك " إن التاجر، ربما أضاف النسبة التي يأخذها منه البنك إلي القيمة، علي أن هذه هي قيمة السلعة.

أسلم للتاجر من مخاطر الاحتفاظ بالنقود لديه في المحل، من السطو والاعتداء عليه.

أسلم لمحله من السطو والاعتداء لسرقة النقود إذ هي محفوظة لدي البنك.

استحقاق التاجر لأقيام السلع مضمون لدي البنك المصدر للبطاقة، فلا يرجع على حاملها، ومعلوم أن المصرف جهة مليئة.

--------------------------------------------

(1) - مجلة المجمع: 7/385، 386، 408، 410، 456،- 457.
কার্ডধারী ব্যক্তি কার্ড প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান বা অপর পক্ষ—ব্যবসায়ী—থেকে পুরস্কার ও উপহার লাভ করা।

ব্যবসায়ী যদি কার্ড প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের নিকট থেকে তার প্রাপ্য পাওনা আদায় করতে সক্ষম না হন, তবে তিনি কার্ডধারীর শরণাপন্ন হতে পারবেন না। বরং তিনি পাওনা দাবি করবেন প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের নিকট এবং প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান তা দাবি করবে কার্ডধারীর নিকট।

 

তৃতীয়ত: ব্যবসায়ীর জন্য এর সুবিধাসমূহ (১):

এর মধ্যে রয়েছে:

গ্রাহক সংখ্যা বৃদ্ধি: কার্ড প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ কার্ডধারীদের জন্য যেসব প্রণোদনা ও সুবিধার ব্যবস্থা করে, তার মাধ্যমে প্রচুর সংখ্যক ভোক্তা তৈরি হয় যা ব্যবসায়ীর জন্য ইতিবাচক ফলাফল বয়ে আনে। এমনকি কার্ডধারী নিঃস্ব ব্যক্তিরাও এর মাধ্যমে কেনাকাটা করতে সক্ষম হয়।

গ্রাহক সংখ্যা বৃদ্ধি: কার্ড প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান কর্তৃক পরিচালিত প্রচার অভিযানের মাধ্যমে গ্রাহক বৃদ্ধি পায়; যেখানে ব্যবসায়ীর কাছ থেকে পণ্য কেনার জন্য বিজ্ঞাপনে তার নাম উল্লেখ করা হয়। এছাড়া প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান কার্ডধারীদের মাঝে যে নির্দেশিকা বিতরণ করে, তার মাধ্যমেও অধিক সংখ্যক গ্রাহক আকৃষ্ট হয়।

কার্ডের মাধ্যমে বিক্রয়ের ফলে গ্রাহক সংখ্যা বৃদ্ধি পায়, যা মূলত বাকিতে বিক্রয়ের সমতুল্য। এই কারণেই কার্ডের মাধ্যমে বিক্রয় সরাসরি ব্যবসায়ীর পক্ষ থেকে কিস্তিতে বিক্রয়ের তুলনায় অধিক জনপ্রিয়তা পেয়েছে; কারণ এতে প্রশাসনিক খরচ কম এবং ব্যাংক—তথা কার্ড প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান—অর্থ পরিশোধের নিশ্চয়তা প্রদান করে।

৪- বাজারজাতকরণে প্রবৃদ্ধি: যেহেতু কার্ড কার্ডধারীকে ব্যাংকের গ্যারান্টিতে দোকান থেকে কেনাকাটার সুযোগ দেয়, তাই এটি কার্ডধারীর মধ্যে এক ধরণের সচ্ছলতা ও ক্রয়ক্ষমতার অনুভূতি জাগ্রত করে। এই অনুভূতি তাকে যা তার হস্তগত হয় বা যার ওপর তার দৃষ্টি ও আগ্রহ নিবদ্ধ হয়, তা ক্রয় করে নিজের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে উদ্বুদ্ধ করে।

এটি মূলত ক্রেডিট কার্ডের লেনদেনের সাথে সম্পৃক্ত ব্যবসায়ীর বাজারের গতিশীলতা বৃদ্ধির একটি মাধ্যম।

৫- "ব্যাংক কর্তৃক কর্তনকৃত কমিশনের সংকুলান": ব্যবসায়ী সম্ভবত ব্যাংককে যে কমিশন প্রদান করেন, তা পণ্যের মূল্যের সাথে যোগ করে দেন এই হিসেবে যে, এটিই পণ্যের প্রকৃত মূল্য।

দোকানে নগদ টাকা রাখার ফলে ডাকাতি বা ছিনতাইয়ের যে ঝুঁকি থাকে, তার চেয়ে ব্যবসায়ীর জন্য এই পদ্ধতি অধিক নিরাপদ।

দোকানে নগদ টাকা চুরি বা ছিনতাইয়ের ঝুঁকি থেকে এটি নিরাপদ, কারণ অর্থ ব্যাংকে সংরক্ষিত থাকে।

পণ্যের মূল্যের ওপর ব্যবসায়ীর অধিকার কার্ড প্রদানকারী ব্যাংকের নিকট সুনিশ্চিত থাকে, তাই তাকে কার্ডধারীর কাছে ফিরে যেতে হয় না। আর এটি সর্বজনবিদিত যে, ব্যাংক একটি আর্থিক সচ্ছলতাসম্পন্ন পক্ষ।

--------------------------------------------

(১) - মাজাল্লাতুল মাজমা: ৭/৩৮৫, ৩৮৬, ৪০৮, ৪১০, ৪৫৬, ৪৫৭।
(খণ্ড: ১) বিতাকাতুল ইতিমান (পৃষ্ঠা: ১৮)
تميز التاجر القابل للبطاقة علي أقرانه من التجار الذين لا يقبلونها. وهذه ميزة التنافس، والمباهاة.

 

رابعاً.. منافعها للمنظمة الوسيطة بين المصدر وحاملها (1) :

 

هذه وكالات محلية للشركات العالمية، أو فروع للبنك العالمي لإصدار البطاقات، تستخدم للوساطة بين الشركة العالمية أو البنك، وبين العملاء مثل: " شركة الفيزا الائتمانية " و " شركة أمريكان إكسبريس " منها:

رسوم يدفعها البنك- المصدر للبطاقة إلي المنظمة الوسيطة التي ترعي البطاقة، وذلك مقابل خدماتها المحدودة، كالقيام بدور الوساطة بين البنك والعميل حامل البطاقة.

رسوم يدفعها البنك للمنظمة مقابل عمليات المقاصة، والتفويض والخدمات الأخرى لرعاية البطاقة.

 

خامساً: منافعها للعموم (2) :

منها:

تحرك السوق بتوسع، مما يزيد في معدل النمو الاقتصادي، منسجماً مع العرض للسلع والخدمات.

تقليل التعامل بالنقود، وهذا يؤدي إلي توفير قدر أكبر من الآمان للأفراد.

 

‌‌المبحث الثامن: مضارها وسوالبها (3) :

يمكن إجمالها في الآتي:

وقوع المسلم في هتك ما حرمه الله ورسوله صلى الله عليه وسلم حال اشتمال البطاقة علي ما هو محرم كالمدفوعات الربوية، والمنافع القرضية، وهذا تلبس بالحرام عن قصد وتعمد، وكسب للاسم وتعاون مع آكلة الربا على الاسم والعدوان، بتكثيف نشاطاتهم في نشر الربا وأكله وقد نهوا عنه، والمسلم منهي عن ذلك أشد النهي.

اتساع الطلب الكاذب في الشراء للسلع، لأن الشراء ليس اعتماداً علي الدخل، ولا علي رصيده في البنك، ولكن علي توقع مستوي الدخل في المستقبل، بحيث يفاجأ الفرد حامل البطاقة لتقليل الادخار، وتراكم الديون عليه، وعلى ائتمان البنك، فيفاجأ في غد بالمطالبة بالتسديد عبر الفواتير.

--------------------------------------------

(1) - مجلة المجمع: 7/447، 657.

(2) - مجلة المجمع: 7/387،. 642.

(3) مجلة المجمع: 7/387- 388، 642.8/655 -656.
কার্ড গ্রহণকারী ব্যবসায়ী তার সমকক্ষ অন্যান্য ব্যবসায়ীদের তুলনায় বিশেষ মর্যাদা লাভ করেন যারা এটি গ্রহণ করেন না। আর এটি প্রতিযোগিতা ও শ্রেষ্ঠত্ব প্রদর্শনের একটি বৈশিষ্ট্য।

 

চতুর্থত: কার্ড ইস্যুকারী এবং কার্ডধারীর মধ্যবর্তী মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য এর উপকারিতা (১):

 

এগুলো হলো আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর স্থানীয় এজেন্সি অথবা কার্ড ইস্যুকারী আন্তর্জাতিক ব্যাংকের শাখা, যা আন্তর্জাতিক কোম্পানি বা ব্যাংক এবং গ্রাহকদের মধ্যে মধ্যস্থতার কাজ করে। যেমন: "ভিসা ক্রেডিট কোম্পানি" এবং "আমেরিকান এক্সপ্রেস কোম্পানি"। এর মধ্যে রয়েছে:

কার্ড ইস্যুকারী ব্যাংক সেই মধ্যস্থতাকারী সংস্থাকে নির্দিষ্ট ফি প্রদান করে যারা কার্ডটি পরিচালনা করে। এটি তাদের সীমিত সেবার বিনিময়ে প্রদান করা হয়, যেমন ব্যাংক এবং কার্ডধারী গ্রাহকের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করা।

লেনদেন নিষ্পত্তি (Clearing), অনুমোদন এবং কার্ড রক্ষণাবেক্ষণের অন্যান্য সেবার বিনিময়ে ব্যাংক উক্ত সংস্থাকে ফি প্রদান করে।

 

পঞ্চমত: জনসাধারণের জন্য এর উপকারিতা (২):

তার মধ্যে রয়েছে:

এটি বাজারের পরিধি বৃদ্ধি করে, যা পণ্য ও সেবার সরবরাহের সাথে সামঞ্জস্য রেখে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হারকে ত্বরান্বিত করে।

নগদ অর্থের লেনদেন হ্রাস করে এবং এর ফলে ব্যক্তিদের নিরাপত্তা অধিকতর নিশ্চিত হয়।

 

‌‌অষ্টম পরিচ্ছেদ: এর অপকারিতা ও নেতিবাচক দিকসমূহ (৩):

এগুলোকে নিম্নোক্তভাবে সংক্ষেপ করা যেতে পারে:

কোনো মুসলিমের পক্ষে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যা হারাম করেছেন তা লঙ্ঘনের আশঙ্কা তৈরি হয়, যখন কার্ডটি সুদী অর্থ প্রদান বা ঋণ সংক্রান্ত সুবিধার মতো নিষিদ্ধ বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত হয়। এটি ইচ্ছাকৃতভাবে হারামে লিপ্ত হওয়া, গুনাহ অর্জন করা এবং সুদখোরদের সাথে গুনাহ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে সহযোগিতা করা। এর মাধ্যমে সুদ প্রচার ও প্রসারে তাদের কার্যক্রম আরও জোরদার হয়, অথচ তাদের এ থেকে নিষেধ করা হয়েছে; আর একজন মুসলিমের জন্য এটি কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।

পণ্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে কৃত্রিম চাহিদার ব্যাপকতা বৃদ্ধি পায়; কারণ এই ক্রয় আয়ের ওপর বা ব্যাংকে থাকা জমার ওপর নির্ভর করে না, বরং ভবিষ্যতে আয়ের প্রত্যাশার ওপর ভিত্তি করে করা হয়। এর ফলে কার্ডধারী ব্যক্তি হঠাৎ সঞ্চয় হ্রাস এবং তার ওপর ঋণের বোঝা ও ব্যাংক ক্রেডিটের চাপ সৃষ্টি হওয়ায় অপ্রস্তুত অবস্থায় পড়ে এবং পরবর্তীতে বিলের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধের দাবির সম্মুখীন হয়।

--------------------------------------------

(১) - মজাল্লাতুল মাজমা: ৭/৪৪৭, ৬৫৭।

(২) - মজাল্লাতুল মাজমা: ৭/৩৮৭, ৬৪২।

(৩) মজাল্লাতুল মাজমা: ৭/৩৮৭- ৩৮৮, ৬৪২। ৮/৬৫৫ -৬৫৬।
(খণ্ড: ১) বিতাকাতুল ইতিমান (পৃষ্ঠা: ১৯)
تقليل معدل الادخار للفرد، وهذا مؤذن بعدم الاستقرار، باشغال الذمة بالديون.

زيادة حجم الديون علي الفرد كلما تأخر عن التسديد، لتضاعف غرامة التأخير: " الفوائد الربوية " للبنك مصدر البطاقة.

استغلال بعض أصحاب المتاجر للبطاقة، بتحميلها مبالغ لم يتم شراؤها.

من أعظم مخاطرها: احتمال سرقتها، ثم سوء استغلالها من لاقطها.

ومن أشد هذه المضار علي الدول النامية، كدول العالم الإسلامي، وهي دول استهلاكية، أن استخدام البطاقة الائتمانية، يجر علي مستخدميها سيلاً من الديون، لقاء الغرامات: " فوائد التأخير " المتضاعفة بتضاعف التأخير: "الربا المركب ". ففي وقت يسير يصبح العميل " حامل البطاقة " مثقلاً بالديون المتراكمة للبنوك، لانتهاء مديونية هذه البطاقة للبنك المصدر لها، وتضاعف غرامات التأخير عليه.

وأخيرا فهذا الاتجاه يستنفذ دعائم الاقتصاد الوطني، والقطاعات المنتجة فيه، مما ينعكس سلباً علي مستوي حياة الأفراد، والحياة الاقتصادية.

 

‌‌المبحث التاسع: حكمها (1)

قبل الدخول في بيان حكمها لابد من بيان الآتي:

أولاً: قبل بيان الحكم تفصيلاً ينبغي أن يصدر حكم إجمالي من واقع التصور لها، حلا أو حرمة، حسب مواصفات البطاقة العامة، وشروطها وجوداً أو عدماً.

ثانياً: ينبغي أن يصدر علي كل بطاقة حكم يخصها حسب شروط ومواصفات إصدارها بكليتها، ومجموعها.

ثالثاً: يلاحظ أن بعض الباحثين يفكك العقد إلي مراحل وإلي جزئيات، ويخرج في الآخر إلي تسليكه في المباح.

والمتعين إخراج الحكم علي هذه العملية: " بطاقة الائتمان " بجميع شروطها، ومواصفاتها، ومراحلها، وأنها مترابطة ترابط الروح بالبدن.

رابعاً: على الفقيه أن يأخذ في الاعتبار أموراً:

--------------------------------------------

(1) - مجلة المجمع: 7/365، 392- 395، 408-410، 659، 8/649، 652، 659.
ব্যক্তির সঞ্চয়ের হার হ্রাস পাওয়া, যা ঋণের মাধ্যমে দায়বদ্ধ হওয়ার ফলে অস্থিরতার ইঙ্গিত দেয়।

পরিশোধে বিলম্বের কারণে ব্যক্তির ওপর ঋণের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়া; কারণ কার্ড ইস্যুকারী ব্যাংকের বিলম্ব জরিমানা তথা "সুদভিত্তিক মুনাফা (الفوائد الربوية)" গুণিতক হারে বাড়তে থাকে।

কিছু দোকান মালিক কর্তৃক কার্ডের অপব্যবহার, যেখানে পণ্য ক্রয় করা না হলেও কার্ডে অর্থ চার্জ করা হয়।

এর অন্যতম বড় ঝুঁকি হলো: এটি চুরি হওয়ার সম্ভাবনা এবং পরবর্তীতে যে এটি কুড়িয়ে পাবে তার দ্বারা এর অপব্যবহার।

উন্নয়নশীল দেশসমূহ, যেমন মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোর জন্য—যেগুলো মূলত ভোগবাদী রাষ্ট্র—এর অন্যতম মারাত্মক ক্ষতি হলো ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার গ্রাহকদের ওপর ঋণের পাহাড় চাপিয়ে দেয়। এটি মূলত বিলম্ব জরিমানার কারণে হয়, যা পরিশোধে বিলম্বের সাথে সাথে গুণিতক হারে বাড়তে থাকে এবং এক পর্যায়ে "চক্রবৃদ্ধি সুদ (الربا المركب)"-এ পরিণত হয়। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই গ্রাহক তথা "কার্ডধারী" ব্যাংকের পুঞ্জীভূত ঋণের ভারে জর্জরিত হয়ে পড়েন; কারণ ইস্যুকারী ব্যাংকের কাছে কার্ডের ঋণসীমা শেষ হয়ে যায় এবং বিলম্ব জরিমানা দ্বিগুণ হতে থাকে।

পরিশোধে এই প্রবণতা জাতীয় অর্থনীতির ভিত্তি এবং এর উৎপাদনশীল খাতগুলোকে নিঃশেষ করে দেয়, যা ব্যক্তিজীবন ও অর্থনৈতিক জীবনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

 

‌‌নবম পরিচ্ছেদ: এর বিধান (حكم) (১)

এর বিধান (حكم) বর্ণনার পূর্বে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো স্পষ্ট করা প্রয়োজন:

প্রথমত: বিস্তারিত বিধান (حكم) বর্ণনার পূর্বে কার্ডের সাধারণ বৈশিষ্ট্য এবং শর্তাবলির উপস্থিতি বা অনুপস্থিতির ভিত্তিতে এর বৈধতা (حلال) বা অবৈধতা (حرام) সম্পর্কে একটি সামগ্রিক বিধান (حكم) প্রদান করা উচিত।

দ্বিতীয়ত: প্রতিটি কার্ডের ইস্যু করার শর্ত ও বৈশিষ্ট্যের সামগ্রিক পর্যালোচনার ভিত্তিতে এর জন্য একটি নির্দিষ্ট বিধান (حكم) প্রদান করা উচিত।

তৃতীয়ত: লক্ষ্য করা যায় যে, কিছু গবেষক এই চুক্তিটিকে বিভিন্ন পর্যায় ও অংশে বিভক্ত করেন এবং শেষ পর্যন্ত একে বৈধ (مباح) হিসেবে সাব্যস্ত করার চেষ্টা করেন।

তবে সঠিক পদ্ধতি হলো এই পুরো প্রক্রিয়াটি অর্থাৎ "ক্রেডিট কার্ড"-এর সমস্ত শর্ত, বৈশিষ্ট্য ও পর্যায়ের ওপর ভিত্তি করে একটি সামগ্রিক বিধান (حكم) প্রদান করা; কারণ এগুলো দেহের সাথে আত্মার সম্পর্কের মতো একে অপরের সাথে অবিচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত।

চতুর্থত: ফকিহ (الفقيه) বা আইনবিশারদকে কয়েকটি বিষয় বিবেচনায় নিতে হবে:

--------------------------------------------

(১) - মজাল্লাতুল মাজমা: ৭/৩৬৫, ৩৯২-৩৯৫, ৪০৮-৪১০, ৬৫৯, ৮/৬৪৯, ৬৫২, ৬৫৯।
(খণ্ড: ১) বিতাকাতুল ইতিমান (পৃষ্ঠা: ২০)
أ – أن " القرض الحسن " ليس من خلق البنوك التجارية الربوية، والمتعين علي من نور الله بصيرته أن يكف نفسه عن المغالطة حتى لا تجره إلي الغلط في الحكم.

ب – وأن البنوك التجارية الربوية، إنما قامت علي تسمين مواردها بالتعامل بالربا تحت شعار: " الفوائد، الغرامات، الرسوم " وأن البطاقة الائتمانية ولدتها البنوك، كوسيلة مغرية لفتح موارد ربوية جديدة تصب في جيب البنك.

ج – ليس المراد من بحث الفقيه لهذه النازلة، أن يبحث لها عن وجوه الاعتذار، ويخرجها علي الإباحة من أطراف الخلاف وإن كان شاذاً، فإن هذا أقرب إلى مواطن الإثم من الثواب، وإنما المراد أن ينزلها علي ما يصح فهمه من الشرع المطهر.

خامساً: لا يغيب عن نظر الفقيه: أن الأصل الشرعي هو: الحل في المعاملات والشروط. وهذا من محاسن الشريعة، وسعتها، ويسرها لعباد الله.

سادساً: أن أي معاملة أو شرط فيها لا تنتقل من هذا الأصل: " الحل " إلا إذا كان فيها ظلم للطرفين أو مضرة، أو لأحدهما، باشتمالها علي محرم شرعاً، أكلا لأموال الناس بالباطل، وأن كل معاملة تنقل عن هذا الأصل، وتحوله إلي قالب التحريم، لابد وأن تعود إلي واحدة من قواعد التحريم الثلاث، وهي:

تحريم الربا. ومنه: كل قرض جر نفعاً فهو رباً.

تحريم التغرير. ومنه النهي عن تلقي الركبان، والنجش، وبيع المصراة، والمعيب، والتدليس.

تحريم الغرر، إما بالعجز عن تسليمه، كالشارد، والآبق، أو لعدمه حين العقد كحبل الحبلة، أو لجهالته كلياً، أو جهالة جنس، أو جهالة مقدار. ومن عقود الغرر: التأمين التجاري بضروبه وأشكاله.

 

الحكم الكلي:

وهو في قواعد.

القاعدة الحكمية الأولي:

أن كل بطاقة لها غطاء كامل من مال حاملها فلا تسمح بالسحب الفوري، ولا التحويل الآلي إلا على حسابه، ورصيده لدى مصدرها، فهي بهذا الوصف جارية علي الأصل الشرعي: الحل والجواز.
ক – "করজে হাসানা (القرض الحسن)" সুদী বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর বৈশিষ্ট্য নয়; আর যাকে আল্লাহ অন্তর্দৃষ্টির আলো দান করেছেন, তার উচিত নিজেকে আত্মপ্রতারণা থেকে বিরত রাখা, যাতে এটি তাকে বিধান প্রদানের ক্ষেত্রে ভুলের দিকে ধাবিত না করে।

খ – আর সুদী বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো কেবল "সুদ, জরিমানা ও ফি" ইত্যাদি স্লোগানের আড়ালে সুদী কারবারের মাধ্যমে নিজেদের সম্পদ বৃদ্ধির লক্ষ্যেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আর ক্রেডিট কার্ড হচ্ছে ব্যাংকগুলোর উদ্ভাবিত একটি আকর্ষণীয় মাধ্যম, যাতে ব্যাংকের তহবিলে নতুন নতুন সুদী আয়ের উৎস তৈরি হয়।

গ – কোনো ফকিহ (فقيه) কর্তৃক এই উদ্ভূত সমস্যার গবেষণার উদ্দেশ্য এটি নয় যে, তিনি এর পক্ষে ওজর-আপত্তি খুঁজবেন এবং বিচ্ছিন্ন (شاذ) কোনো মতপার্থক্যকে আঁকড়ে ধরে একে বৈধতার রূপ দেবেন। কারণ, এটি সওয়াবের চেয়ে গুনাহের কাছাকাছি। বরং এর উদ্দেশ্য হলো, একে পবিত্র শরিয়তের সঠিক বুঝ অনুযায়ী প্রয়োগ করা।

পঞ্চম: ফকিহ (فقيه) এর দৃষ্টির আড়ালে থাকা উচিত নয় যে: লেনদেন ও শর্তাবলীর ক্ষেত্রে শরিয়তের মূলনীতি হলো—বৈধতা (الحل)। এটি শরিয়তের সৌন্দর্য, ব্যাপকতা এবং আল্লাহর বান্দাদের জন্য সহজতার বহিঃপ্রকাশ।

ষষ্ঠ: কোনো লেনদেন বা শর্ত এই মূলনীতি "বৈধতা (الحل)" থেকে বিচ্যুত হবে না, যতক্ষণ না তাতে উভয় পক্ষের প্রতি জুলুম বা ক্ষতি নিহিত থাকে, অথবা কোনো এক পক্ষের প্রতি শরিয়ত কর্তৃক হারাম পন্থায় অন্যের সম্পদ ভক্ষণ করার মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকে। আর প্রতিটি লেনদেন যা এই মূলনীতি থেকে বিচ্যুত হয়ে হারামের ছাঁচে রূপান্তরিত হয়, তা অবশ্যই হারাম হওয়ার তিনটি মূলনীতির কোনো একটির দিকে ফিরে যাবে, আর সেগুলো হলো:

সুদ (الربا) হারাম হওয়া। এর অন্তর্ভুক্ত হলো: প্রতিটি ঋণ যা কোনো মুনাফা টেনে আনে, তা-ই সুদ (الربا)।

বিভ্রান্তি (التغرير) হারাম হওয়া। এর অন্তর্ভুক্ত হলো পণ্যবাহী কাফেলা বাজারে পৌঁছানোর আগেই তা ক্রয় করা, দালালি (النجش), পশুর ওলানে দুধ জমিয়ে রেখে ধোঁকা দেওয়া, ত্রুটিযুক্ত পণ্য বিক্রয় এবং প্রতারণা (التدليس) নিষিদ্ধ হওয়া।

অনিশ্চয়তা (الغرر) হারাম হওয়া। এটি হয় পণ্য হস্তান্তরে অক্ষমতার কারণে হতে পারে—যেমন পলায়নপর পশু বা ক্রীতদাস; অথবা চুক্তির সময় পণ্য অবিদ্যমান থাকার কারণে হতে পারে—যেমন ভ্রূণের গর্ভস্থ ভ্রূণ বিক্রয়; অথবা পণ্যটি সম্পূর্ণ অজ্ঞাত হওয়ার কারণে, কিংবা এর ধরন বা পরিমাণ অজ্ঞাত হওয়ার কারণে। অনিশ্চয়তা (الغرر) ভিত্তিক চুক্তির একটি উদাহরণ হলো সকল প্রকার বাণিজ্যিক বীমা।

 

সামগ্রিক বিধান:

এটি কয়েকটি মূলনীতির আলোকে বর্ণিত হলো।

প্রথম ফিকহি মূলনীতি:

যে সকল কার্ডের বিপরীতে কার্ডধারীর পূর্ণ অর্থ গচ্ছিত থাকে, ফলে এটি কেবল তার নিজস্ব হিসাব এবং জমাকৃত ব্যালেন্স থেকেই তাৎক্ষণিক উত্তোলন বা ইলেকট্রনিক হস্তান্তরের সুযোগ দেয়; তবে এই বৈশিষ্ট্যের কারণে সেটি শরিয়তের মূলনীতি—বৈধতা (الحل) ও অনুমোদনের ওপর বহাল থাকবে।
(খণ্ড: ১) বিতাকাতুল ইতিমান (পৃষ্ঠা: ২১)
وهذا حكم النوع الأول من: " البطاقات ": " بطاقة الصرف الآلي " وهذا النوع من البطاقات بهذا الوصف، ليس محل بحث هنا، لعدم وجود أي شائبهة تعتري الأصل وهو " الحل " ما لم يحصل لها شرط، أو وصف إضافي ينقلها من الحل إلي المنع، ويحولها إليه، وقد تقدم بيانه مع التنبيه المتقدم في معرفة تأثير: أن البنك يستثمر الرصيد، ويستفيد منه الفوائد الربوية؟؟.

القاعدة الحكمية الثانية:

أن بطاقة الائتمان بوضعها العام المعروف عالمياً والمحتوية علي شروط ومواصفات قطعية التحريم، مثل: غرامات التأخير، والخصم الذي يقتصه البنك - المصدر لها - من فاتورة التاجر الموقعة من العميل، وتوفير قدر من المنافع لحاملها كالتخفيض، والخدمات الأخري، هذه " البطاقة الائتمانية ". محرمة شرعاً، لا يمكن قبولها، ولا تسويغها بالنظر الشرعي (1) .

وحقيقتها: وعد بعقد بيع مركب من ثلاثة أطراف فيه معني الإدغال يتضمن بيع دراهم بفوائد معجلة وفوائد حال التبادل، وفوائد أخرى للتأخير متضاعفة كلما تضاعف الأجل، فهو عقد ربوي منتهاه: السير علي السياسة المالية التي قامت عليها البنوك الربوية: " الإقراض بفوائد " ولا يسوغ فكه إلي عقدين، ولا تكييفه بوكالة، أو حوالة، أو كفالة، أو جعالة، إذ لا ينطبق عليه أي واحد من حدود هذه العقود.

القاعدة الحكمية الثالثة:

في حكم المدفوعات المالية في هذا العقد (2) .

وهي أحد عشر نوعاً، منها تصب في جيب البنك – المصدر للبطاقة – وواحد من البنك لوكيله- المؤسسة الوسيطة- في ترويج البطاقة، وإجراء عقدها مع العملاء.

--------------------------------------------

(1) مجلة المجمع: 7/670- 671. قول الشيخ / مصطفي الزرقاء: " لا شك أن بطاقة الائتمان بوضعها العام المعروف عالمياً، لا يمكن قبولها، وتسويغها بالنظر الشرعي في كل أحكامها المعروفة 000".

(2) - مجلة المجمع:/ 7/ 365-368، 389-394.
এটি হলো প্রথম প্রকারের 'কার্ড' তথা 'এ টি এম কার্ড' (بطاقة الصرف الآلي) সংক্রান্ত বিধান। এই বর্ণনার কার্ডটি এখানে আলোচনার বিষয় নয়, কারণ এর মূল ভিত্তি তথা 'বৈধতা' (الحل)-এর মাঝে এমন কোনো সংশয় নেই যা একে কলুষিত করে; যতক্ষণ না এর সাথে এমন কোনো শর্ত বা অতিরিক্ত বৈশিষ্ট্য যুক্ত হয় যা একে বৈধতা থেকে নিষিদ্ধতার (المنع) দিকে নিয়ে যায় এবং সেদিকেই পর্যবসিত করে। ইতিপূর্বে এ বিষয়ে ব্যাখ্যার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, ব্যাংক ব্যালেন্স বিনিয়োগ করে যে সুদভিত্তিক মুনাফা (الفوائد الربوية) গ্রহণ করে, তার প্রভাব কী হবে।

দ্বিতীয় ফিকহি মূলনীতি (القاعدة الحكمية):

বর্তমানে বিশ্বব্যাপী প্রচলিত 'ক্রেডিট কার্ড' (بطاقة الائتمان) যাতে এমন কিছু শর্ত ও বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা অকাট্যভাবে নিষিদ্ধ (قطعية التحريم); যেমন: বিলম্ব জরিমানা (غرامات التأخير), কার্ড প্রদানকারী ব্যাংক কর্তৃক গ্রাহক স্বাক্ষরিত ব্যবসায়ীর ইনভয়েস থেকে নির্দিষ্ট হারে কমিশন কর্তন এবং কার্ডধারীকে কিছু সুবিধা প্রদান করা, যেমন—মূল্যছাড় ও অন্যান্য সেবা। এই 'ক্রেডিট কার্ড' শরয়িভাবে নিষিদ্ধ (محرمة شرعاً), যা শরয়ি দৃষ্টিভঙ্গিতে গ্রহণ করা বা বৈধতা প্রদান (تسويغ) করা সম্ভব নয় (১)।

এর প্রকৃত স্বরূপ হলো: এটি তিন পক্ষের সমন্বয়ে গঠিত একটি জটিল বিক্রয় চুক্তির প্রতিশ্রুতি, যাতে প্রতারণার (الإدغال) উপাদান বিদ্যমান। এর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে অগ্রিম সুদ এবং লেনদেনের সময় তাৎক্ষণিক সুদের বিনিময়ে দিরহাম বিক্রয়, সেইসাথে পরিশোধে বিলম্বের কারণে বাড়তি সুদ যা সময় বৃদ্ধির সাথে সাথে চক্রবৃদ্ধি হারে বৃদ্ধি পেতে থাকে। সুতরাং এটি একটি সুদভিত্তিক চুক্তি (عقد ربوي), যার মূল উদ্দেশ্য হলো সুদখোর ব্যাংকগুলোর অনুসৃত আর্থিক নীতির ওপর চলা—অর্থাৎ 'সুদের বিনিময়ে ঋণ প্রদান' (الإقراض بفوائد)। এই চুক্তিকে আলাদা দুটি চুক্তিতে বিভক্ত করা সম্ভব নয় এবং একে প্রতিনিধিত্ব (وكالة), দায় স্থানান্তর (حوالة), জামিনদারী (كفالة) বা শ্রমের বিনিময়ে পুরস্কার (جعالة) হিসেবেও সংজ্ঞায়িত করা যায় না; কারণ এই চুক্তিগুলোর কোনোটির সংজ্ঞাই এর ওপর প্রযোজ্য নয়।

তৃতীয় ফিকহি মূলনীতি (القاعدة الحكمية):

এই চুক্তির অন্তর্ভুক্ত আর্থিক পরিশোধের বিধান (حكم) সম্পর্কে (২)।

এগুলো এগারো প্রকারের; যার কিছু অংশ কার্ড প্রদানকারী ব্যাংকের পকেটে যায় এবং একটি অংশ ব্যাংক তার প্রতিনিধিকে (وكيله)—অর্থাৎ মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানকে—প্রদান করে, যারা কার্ডের প্রচার এবং গ্রাহকদের সাথে চুক্তি সম্পাদন করে থাকে।

--------------------------------------------

(১) মাজাল্লাতুল মাজমা: ৭/৬৭০-৬৭১। শায়খ মুস্তফা আল-জারকা বলেন: "এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, ক্রেডিট কার্ড তার বিশ্বব্যাপী পরিচিত বর্তমান সাধারণ অবস্থায় শরয়ি দৃষ্টিভঙ্গিতে তার সকল পরিচিত বিধানসহ গ্রহণ করা বা বৈধতা প্রদান (تسويغ) করা সম্ভব নয়..."।

(২) - মাজাল্লাতুল মাজমা: ৭/৩৫-৩৬৮, ৩৮৯-৩৯৪।
(খণ্ড: ১) বিতাকাতুল ইতিমান (পৃষ্ঠা: ২২)
وهذه المدفوعات العشرة إلي البنك، منها ثمانية من حاملها، وهي: خمسة رسوم: رسوم إصدار، وتجديد بعد انتهاء المدة، وتجديد قبل انتهائها، واستبدال، وتكاليف تحصيل الشيكات المسدد بها.

والسادس: فوائد، وهي غرامة التأخير عن التسديد لمدة شهر مثلاً، ثم هي متضاعفة كلما تضاعف التأخير.

والسابع: تحقيق دخل آخر من خدمات مساندة لحاملي هذه البطاقة.

والثامن: فروق سعر العملات عند التسديد بالعملة المحلية عن العملة المسجلة.

ودفعان اثنان من التاجر إلى البنك، وهما: حسم نسبة من ثمن فواتير الشراء للبنك، ورسم اشتراك يدفعه التاجر للبنك لقاء تسجيلة في دليل خدمة عملاء البطاقة.

وإذا عرف مجمل المدفوعات هذه، وأن البنوك التجارية إنما قامت علي " القرض الربوي ": " القرض بفائدة " وأن البنوك التجارية، ليس من طبيعتها " القرض الحسن "، وأنه يستحيل أن تنصر أموالها على ملايين البشري مسخرة مجموعة من الأقسام الوظيفية، ومئات من أجهزة الصرف، والتحويل، ليحوز الواحد بطاقة ائتمان " ولا رصيد له " ويسحب بها من أموال البنوك، قاصداً مصلحة حاملها، مغفلاً نجاحاً في تدفق السيولة إليها، وأن حقيقة هذه البطاقة إنما هي: " عملية امتصاص " لما في جيب حاملها، بل وسيلة إغراء لسحب أمواله، وإثقال ذمته بديون مستقبليه تقضي علي مدخراته لسنين مقبله، ولهذا تجد التنبيه يتلوه التنبيه من اندفاع حاملها بالسحب، لا سيما في بلاد الغربة، إذا عرف هذا فاعلم أن " فوائد التأخير " هي محرمه من ربا الجاهليه: " إما أن تقضي وإما أن تربي " وهذا محل إجماع لا يجوز فيه الخلاف.

وأن " فوائد الحسم من فاتورة التاجر لصالح البنك مصدر الطاقة " هي في حقيقتها: " فوائد ربوية معجلة " مقابل إقراض البنك لحامل البطاقة، مأخوذة من التاجر، فهو: " إقراض ربوي مستتر ".
ব্যাংকের নিকট এই দশটি প্রদেয় অর্থের মধ্যে আটটি কার্ডধারী কর্তৃক প্রদান করা হয়। সেগুলো হলো পাঁচটি ফি: ইস্যুকরণ ফি, মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নবায়ন ফি, মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বেই নবায়ন ফি, কার্ড পরিবর্তন (রিপ্লেসমেন্ট) ফি এবং পরিশোধিত চেকের কালেকশন ফি।

ষষ্ঠটি হলো: সুদ (فوائد), যা উদাহরণস্বরূপ এক মাস পরিশোধে বিলম্বের কারণে জরিমানা হিসেবে ধার্য করা হয় এবং বিলম্ব যত বৃদ্ধি পায়, সুদের পরিমাণও তত গুণোত্তর হারে বৃদ্ধি পায়।

সপ্তমটি হলো: এই কার্ডধারীদের জন্য প্রদত্ত সহায়ক সেবাসমূহ থেকে অর্জিত অন্যান্য আয়।

অষ্টমটি হলো: নিবন্ধিত মুদ্রার বিপরীতে স্থানীয় মুদ্রায় পরিশোধের সময় মুদ্রার বিনিময় হারের পার্থক্য।

আর দুটি প্রদান বিক্রেতার পক্ষ থেকে ব্যাংকের নিকট করা হয়। সেগুলো হলো: ক্রয়কৃত রশিদের মূল্য থেকে ব্যাংকের অনুকূলে একটি নির্দিষ্ট শতাংশ কর্তন এবং কার্ডের গ্রাহক সেবা তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার বিনিময়ে বিক্রেতা কর্তৃক ব্যাংকে প্রদত্ত সাবস্ক্রিপশন ফি।

এই প্রদেয় অর্থসমূহের সামগ্রিক রূপ যখন জানা গেল এবং এটিও স্পষ্ট হলো যে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো মূলত "সুদি ঋণ (القرض الربوي)" তথা "সুদযুক্ত ঋণ (القرض بفائدة)" এর ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত, আর "উত্তম ঋণ (القرض الحسن)" প্রদান করা বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রকৃতিতে নেই; এবং এটি অসম্ভব যে তারা তাদের অর্থ লক্ষ লক্ষ মানুষের কল্যাণে বিলিয়ে দেবে এবং একদল কর্মীবাহিনী, শত শত এটিএম বুথ ও অর্থ স্থানান্তর পদ্ধতি নিয়োজিত করবে যাতে একজন ব্যক্তি কোনো "ব্যালেন্স বা আমানত ছাড়াই" ক্রেডিট কার্ড লাভ করে এবং ব্যাংকের অর্থ থেকে তা উত্তোলন করে কেবল কার্ডধারীর উপকারের উদ্দেশ্যে—তাও আবার ব্যাংকে নগদ প্রবাহের সাফল্যকে উপেক্ষা করে—বরং এই কার্ডের বাস্তবতা হলো কার্ডধারীর পকেটে যা আছে তা "শুষে নেওয়ার প্রক্রিয়া"। এটি মূলত অর্থ উত্তোলনের একটি প্রলোভন এবং তার ওপর ভবিষ্যতের ঋণের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া, যা তার আগামী বহু বছরের সঞ্চয়কে নিঃশেষ করে দেয়। এ কারণেই কার্ডধারীর বেপরোয়া অর্থ ব্যয়ের বিরুদ্ধে একের পর এক সতর্কবার্তা দেখা যায়, বিশেষ করে প্রবাস জীবনে। এটি যখন জানা গেল, তখন জেনে রাখুন যে, "বিলম্বজনিত সুদ (فوائد التأخير)" জাহেলি যুগের সুদ (ربا الجاهلية)-এর অন্তর্ভুক্ত যা হারাম (محرمة); যার মূল নীতি ছিল: "হয় তুমি ঋণ পরিশোধ করবে, নতুবা সুদ বৃদ্ধি করবে"। এটি একটি ঐক্যমত্যের (إجماع) বিষয় যেখানে কোনো প্রকার মতভেদ (خلاف) অনুমোদিত নয়।

আর কার্ড ইস্যুকারী ব্যাংকের অনুকূলে বিক্রেতার রশিদ থেকে যে "শতাংশ কর্তন" করা হয়, তা প্রকৃতপক্ষে কার্ডধারীকে ব্যাংকের ঋণ প্রদানের বিপরীতে বিক্রেতার কাছ থেকে নেওয়া "অগ্রিম সুদি মুনাফা (فوائد ربوية معجلة)"; যা মূলত একটি "প্রচ্ছন্ন সুদি ঋণ (إقراض ربوي مستتر)"।
(খণ্ড: ১) বিতাকাতুল ইতিমান (পৃষ্ঠা: ২৩)
فعادت العملية إلي العنصر الذي قامت عليه البنوك: " القرض بفائدة " لكنها بطريقة ذكية، فيها قلب وإبدال، وإغراء، ومكر، وخداع، ولعب بعقول الأفراد حتى المفلسين، واستحواذ علي السوق، وتحيل الناس إلي أبواب البنوك مأسورين بالديون، وتتابع التسديد والبنك يضاعف غرامة التأخير، وإذا تحقق لدي الناظر أن حقيقة هذه البطاقة " وعد بقرض بفائدة " معجلة وفوائد تأخير متعاقبة، عرفت أنه لا وجه لتكييفها لدي بعض الباحثين بأنها عقد وكالة، أو ضمان، أو كفالة أو حوالة 000 وإنما هي:" وعد بقرض " فكلما اقترض اقتصت الفائدة منه عن طريق التاجر، فلسان حال البنك يقول: لا تكن أيها التاجر شريكاً في البيع علي حاملي البطاقة إلا بشرط أن تدفع عنه فائدة القرض، ولسان حال حاملها يقول للتاجر: أنا أشتري منك وأحيلك بالثمن علي البنك، بشرط أن تدفع فائدة القرض للبنك فاتضحت الصورة تماماً أنه لا يقع " ريال واحد " في يد حاملها إلا بفائدته في يد البنك، فهذا: " القرض بفائدة " وحالاً في يد البنك، " القرض بفائدة " وهو عين الربا.

حينئذ صار حاملها في قبضة البنك، لينفذ فيه الوعيد بالغرامة، إذا تأخر عن التسديد، ثم مضاعفتها كلما تأخر عن التسديد. ثم سحبه إلي دائرة الحقوق للتنفيذ، فإن سدد، وإلا فإلى مأوي الغارمين.

عندئذ يظهر جلياً أن: " الرسم الخفيف ": " 400 ريال " لإصدار البطاقة، و " الرسم الخفيف " بنحوه عند تجديدها إلي آخر الرسوم الخمسة، جميعاً رسوم للتغرير، والأغراء بهذه البطاقة، التي في حقيقتها تحمل تحويلاً إلي: "المعاملات المحرمة": " القرض بفائدة " ثم إلى تراكم مديونيته للبنك.

ثم فيها: " غرر وجهالة " إذ في حال عدم استعمالها يفوت عليه هذا المبلغ بدون جدوى.

وعليه: فلا وجه لتكييف هذه الرسوم والبحث عن تخريجها، بأنها مقابل التكاليف الإدارية.

 

المنافع الأخري،،

أما المنافع الأخري فهي:
ফলে প্রক্রিয়াটি পুনরায় সেই উপাদানে ফিরে গেল যার ওপর ব্যাংক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত: "সুদযুক্ত ঋণ", তবে তা একটি চতুর উপায়ে, যাতে রয়েছে রূপান্তর ও পরিবর্তন, প্রলোভন, চাতুর্য, প্রতারণা এবং সাধারণ মানুষ এমনকি নিঃস্ব ব্যক্তিদের বুদ্ধিবৃত্তিক নিয়ন্ত্রণ। এটি বাজার দখল করে এবং ঋণগ্রস্ত অবস্থায় মানুষকে ব্যাংকের দ্বারে ফিরে আসতে বাধ্য করে। কিস্তি পরিশোধ চলতে থাকে এবং ব্যাংক বিলম্বিত জরিমানার পরিমাণ দ্বিগুণ করতে থাকে। যখন কোনো পর্যবেক্ষকের নিকট এটি স্পষ্ট হয় যে, এই কার্ডের বাস্তবতা হলো অবিলম্বে "সুদযুক্ত ঋণের প্রতিশ্রুতি" এবং ধারাবাহিক বিলম্বিত জরিমানা, তখন আপনি বুঝতে পারবেন যে কিছু গবেষকের নিকট একে প্রতিনিধিত্ব (وكالة), দায়বদ্ধতা (ضمان), জামিনদারী (كفالة) বা ঋণ স্থানান্তর (حوالة) চুক্তি হিসেবে আইনি রূপ দেওয়ার কোনো অবকাশ নেই। বরং এটি হলো: "ঋণের প্রতিশ্রুতি"। যখনই কেউ ঋণ গ্রহণ করে, ব্যবসায়ীর মাধ্যমে তার কাছ থেকে সুদ কর্তন করা হয়। ব্যাংকের অবস্থা যেন এমন যে সে বলছে: হে ব্যবসায়ী, কার্ডধারীদের কাছে বিক্রয়ে অংশীদার হয়ো না যতক্ষণ না তুমি তার পক্ষ থেকে ঋণের সুদ প্রদান করবে। আর কার্ডধারীর অবস্থা যেন এমন যে সে ব্যবসায়ীকে বলছে: আমি তোমার থেকে ক্রয় করছি এবং ব্যাংকের মাধ্যমে তোমাকে মূল্য পরিশোধ করছি, এই শর্তে যে তুমি ব্যাংকের কাছে ঋণের সুদ প্রদান করবে। ফলে বিষয়টি সম্পূর্ণ স্পষ্ট হয়ে গেল যে, কার্ডধারীর হাতে একটি রিয়ালও পৌঁছে না ব্যাংকের হাতে তার সুদ পৌঁছানো ব্যতিরেকে। সুতরাং এটিই হলো: "সুদযুক্ত ঋণ" যা তৎক্ষণাৎ ব্যাংকের কুক্ষিগত হয়; আর এটিই মূলত সুদ (ربا)-এর প্রকৃত রূপ।

এমতাবস্থায় কার্ডধারী ব্যাংকের কবজায় চলে আসে, যাতে পরিশোধে বিলম্ব করলে জরিমানার হুমকি কার্যকর করা যায়, অতঃপর প্রতিবার বিলম্বের কারণে তা দ্বিগুণ হতে থাকে। এরপর তাকে পাওনা আদায়ের লক্ষে আইনি বিভাগে সোপর্দ করা হয়; যদি সে পরিশোধ করে তবে ভালো, অন্যথায় তার গন্তব্য হয় ঋণগ্রস্তদের আশ্রয়স্থলে।

তখন এটি স্পষ্টভাবে প্রতিভাত হয় যে: কার্ড ইস্যু করার জন্য "সামান্য মাশুল": "৪০০ রিয়াল" এবং কার্ড নবায়নের সময় অনুরূপ "সামান্য মাশুল" ও অন্যান্য পাঁচটি মাশুল মূলত এই কার্ডের প্রতি প্রলুব্ধ করার জন্য একপ্রকার প্রবঞ্চনা। এর বাস্তবতা মূলত "নিষিদ্ধ লেনদেন": "সুদযুক্ত ঋণ" এবং পরবর্তীতে ব্যাংকের নিকট ঋণের বোঝা পুঞ্জীভূত করার দিকে ধাবিত করে।

তদুপরি এতে রয়েছে: "অনিশ্চয়তা (غرر) ও অস্পষ্টতা (جهالة)", কারণ কার্ডটি ব্যবহার না করলে কোনো ফায়দা ছাড়াই তার এই অর্থ বিফলে যায়।

সুতরাং, এই মাশুলগুলোকে প্রশাসনিক ব্যয় হিসেবে গণ্য করার বা সেভাবে নিরূপণ (تخريج) করার কোনো সুযোগ নেই।

 

অন্যান্য সুবিধাসমূহ,,

আর অন্যান্য সুবিধাগুলো হলো:
(খণ্ড: ১) বিতাকাতুল ইতিমান (পৃষ্ঠা: ২৪)
" التأمين علي الحياة " لحامل البطاقة. وقد صدرت القرارات الفقهية بتحريمه؛ لبنائه علي الغرر والمخاطرة، والجهالة، والمقامرة.

- " الجوائز والهدابا " وقاعدة الشريعة: كل قرض جر نفعاً فهو رباً.

- " المنافع والتسهيلات المعنوية " وهي داخلة في قاعدة الشريعة المذكورة، إذ هي شاملة لكل نفع مادي، أو معنوي، فكل قرض جر إليها فهو رباً محرم شرعا ً.

 

والخلاصة عندي:

أن: " بطاقة الائتمان " بأنواعها: فيزا، أمريكان إكسبريس، ماستركارد، أو غيرها، جميعاً في حقيقتها عقد ربوي، مبني علي الاستتار بالبطاقة التي اتفقت أطرافها الثلاثة أو الأربعة على: (التعاون علي الإثم والعدوان وأكل الربا) . والله سبحانه يقول: (وأن يريدوا خيانتك فقد خانوا الله من قبل) وهنا خانوه من قبل بالقرض بالفائدة علناً دون تغليفها: " ببطاقة ائتمان " ثم غلفوه بما يسمي: "بطاقة الائتمان" وكلاهما تحايل علي انتهاك محارم الله، وقد صب الله غضبه ولعنته علي من استحل محارمه بالحيل من اليهود فقال سبحانه: (فبما نقضهم ميثاقهم لعناهم وجعلنا قلوبهم قاسية يحرفون الكلم عن مواضعه ونسوا حظاً مما ذكروا به ولا تزال تطلع علي خائنة منهم) . الآية.

وإذا كان الحال كذلك، وأن نظام منظمات الخدمات المصرفية لا تعارض البنك العضو فيها من إصدار البطاقة الائتمانية، بما لا يتعارض مع نظامه الداخلي، فإن الفرصة مفتوحة للمصارف الإسلامية في إصدار " بطاقة ائتمان " تتفق عليها جميعاً بفتوي علماء الشريعة الموثوق بعلمهم، ودينهم، وخبرتهم، وبصيرتهم، وفي هذا أجر عظيم وخير كثير في تصحيح معاملات المسلمين، وحمايتهم من الوقوع فيما حرمه الله ورسوله صلى الله عليه وسلم، ولينابذوا بطاقة الائتمان الربوية النكداء:

ألق الصحيفة يا فزردق لا تكن

… ... … ... نكداء مثل " صحيفة المتلمس "

والحمد لله رب العالمين.

… ... … ... …
কার্ডধারীর জন্য "জীবন বীমা"। এটি হারাম হওয়ার ব্যাপারে ফিকহী সিদ্ধান্তসমূহ জারি করা হয়েছে; কারণ এটি অনিশ্চয়তা (غرر), ঝুঁকি, অজ্ঞাততা (جهالة) এবং জুয়ার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত।

- "পুরস্কার ও উপহার" এবং শরীয়তের মূলনীতি হলো: প্রত্যেক ঋণ যা কোনো উপকার বয়ে আনে, তা সুদ (ربا)।

- "মানসিক সুবিধা ও সহজীকরণ" যা উল্লেখিত শরীয়তের মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত। কেননা এটি সকল বস্তুগত বা মানসিক উপকারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অতএব, যে ঋণই এ ধরনের উপকারের দিকে ধাবিত করে, তা শরীয়তের দৃষ্টিতে নিষিদ্ধ সুদ।

 

আমার নিকট সারসংক্ষেপ হলো:

যে: "ক্রেডিট কার্ড" এর সকল প্রকার: ভিসা, আমেরিকান এক্সপ্রেস, মাস্টারকার্ড বা অন্য যাই হোক না কেন, মূলত এ সবগুলোই একটি সুদী চুক্তি, যা কার্ড ব্যবহারের আড়ালে আবৃত। এর তিন বা চারটি পক্ষ (পাপ, সীমালঙ্ঘন এবং সুদ খাওয়ার বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা)-এর ওপর একমত হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন: "আর তারা যদি আপনার সাথে খিয়ানত করতে চায়, তবে তারা তো ইতিপূর্বে আল্লাহর সাথেও খিয়ানত করেছে।" তারা এখানে ইতিপূর্বে সুদী ঋণের মাধ্যমে প্রকাশ্যে আল্লাহর সাথে খিয়ানত করেছে একে "ক্রেডিট কার্ড" হিসেবে মোড়কজাত না করেই। অতঃপর তারা একে "ক্রেডিট কার্ড" নামক মোড়কে আবৃত করেছে। উভয়ই আল্লাহর হারামকৃত বিষয় লঙ্ঘনের অপকৌশল মাত্র। আল্লাহ তাআলা হিল্লাহ বা অপকৌশলের মাধ্যমে তাঁর হারামকৃত বিষয়কে যারা হালাল করে নেয় সেই ইহুদীদের ওপর ক্রোধ ও অভিশাপ বর্ষণ করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: "অতঃপর তাদের অঙ্গীকার ভঙ্গের কারণে আমি তাদের ওপর অভিশাপ দিয়েছি এবং তাদের অন্তরকে কঠোর করে দিয়েছি। তারা শব্দসমূহকে তাদের সঠিক স্থান থেকে পরিবর্তন করে এবং তাদের যে উপদেশ দেওয়া হয়েছিল তারা তার একাংশ ভুলে গিয়েছে। আর আপনি সর্বদা তাদের কোনো না কোনো খিয়ানত সম্পর্কে জানতে পারবেন।" (আয়াতের শেষ পর্যন্ত)।

পরিস্থিতি যদি এমনই হয়, এবং ব্যাংকিং সেবা সংস্থাগুলোর নিয়ম যদি তাদের সদস্য ব্যাংকগুলোকে ক্রেডিট কার্ড ইস্যু করার ক্ষেত্রে বাধা না দেয়—যদি তা তাদের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ নিয়মের সাথে সাংঘর্ষিক না হয়—তবে ইসলামি ব্যাংকগুলোর জন্য এমন "ক্রেডিট কার্ড" ইস্যু করার সুযোগ উন্মুক্ত রয়েছে যার ব্যাপারে শরীয়ত বিশেষজ্ঞ আলেমগণ, যাদের জ্ঞান, দ্বীনদারিতা, অভিজ্ঞতা এবং প্রজ্ঞার ওপর আস্থা রাখা যায় এবং যারা নির্ভরযোগ্য (موثوق), তারা ঐক্যমত পোষণ করবেন। এতে মুসলমানদের লেনদেন সংশোধনের ক্ষেত্রে মহান সওয়াব এবং প্রভূত কল্যাণ নিহিত রয়েছে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সা.) যা হারাম করেছেন তা থেকে তাদের রক্ষা করা সম্ভব হবে। তারা যেন এই অশুভ সুদী ক্রেডিট কার্ড বর্জন করে:

হে ফারাযদাক, তুমি এই সহীফাটি (পত্রটি) নিক্ষেপ করো, তুমি হয়ো না

… ... … ... মুতাল্লামিসের সহীফার মতো অশুভ

সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

… ... … ... …
(খণ্ড: ১) বিতাকাতুল ইতিমান (পৃষ্ঠা: ২৫)
وكتب

بكر بن عبد الله أبو زيد

25/3/1416 هـ

 

‌‌ملاحق البحث

 

فتوى رقم (17611) وتاريخ 27/ 1 /1416هـ.

الحمد لله وحدة والصلاة والسلام علي من لانبي بعده 00 وبعد:

فقد اطلعت اللجنة الدائمة للبحوث العلمية والإفتاء علي ما ورد إلي سماحة المفتي العام من فضيلة رئيس جهاز الإرشاد والتوجيه بالحرس الوطني الشيخ إبراهيم بن محمد أبو عباة والمحال إلي اللجنة من الأمانة العامة لهيئة كبار العلماء برقم (337) وتاريخ 20/1/1416هـ وقد سأل المستفتي سؤالاً هذا نصه: (يتداول بين الناس في الوقت الحاضر بطاقة (فيزا) سامبا صادرة من البنك السعودي الأمريكي وقيمة هذه البطاقة إذا كانت ذهبية (485) ريالاً وإذا كانت فضية (245) ريالاً تسدد هذه القيمة سنوياً للبنك لمن يحمل بطاقة فيزا للاستفادة منها-كاشتراك سنوي.

وطريقة استعمال هذه البطاقة أنه يحق لمن يحمل هذه البطاقة أن يسحب من فروع البنك المبلغ الذي يريده (سلفة) ويسدد بنفس القيمة خلال مدة لا تتجاوز أربعة وخمسين يوماً وإذا لم يسدد المبلغ المسحوب (السلفة خلال الفترة المحددة، يأخذ البنك عن كل مائة ريال من المبلغ المسحوب (السلفة) ، فوائد قيمتها ريالاً وخمس وتسعين هللة (95 ، 1) كما أن البنك يأخذ عن كل عملية سحب نقدي لحامل البطاقة (3،5) ريال عن كل (100) ريال تسحب منهم أو يأخذون (45) ريالاً كحد أدنى عن كل عملية سحب نقدي.

ويحق لمن يحمل هذه البطاقة شراء البضائع من المحلات التجارية التي يتعامل معها البنك دون أن يدفع مالاً نقدياً وتكون سلفة عليه للبنك. وإذا تأخر عن سداد قيمة الذي اشتراه أربعة وخمسين يوماً يأخذون علي حامل البطاقة عن كل مائة ريال من قيمة البضاعة المشتراه من المحلات التجارية التي يتعامل معها البنك فوائد قيمتها ريالاً وخمس وتسعين هلله (95، 1) .
লিখেছেন

বকর বিন আব্দুল্লাহ আবু যায়েদ

২৫/৩/১৪১৬ হিজরি

 

‌‌গবেষণার পরিশিষ্টসমূহ

 

ফতোয়া নং (১৭৬১১) এবং তারিখ ২৭/১/১৪১৬ হিজরি।

সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য এবং দরুদ ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক যাঁর পরে আর কোনো নবী নেই... অতঃপর:

গবেষণা ও ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটি মহামান্য গ্র্যান্ড মুফতির নিকট ন্যাশনাল গার্ডের ইরশাদ ও তাওজিহ (নির্দেশনা ও পথনির্দেশনা) বিভাগের প্রধান ফজিলাতুশ শায়খ ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ আবু আবাতের পক্ষ থেকে প্রেরিত এবং সিনিয়র উলামা পরিষদের সাধারণ সচিবালয় থেকে ২০/১/১৪১৬ হিজরি তারিখে ৩৩৭ নম্বর স্মারকে কমিটির নিকট স্থানান্তরিত আবেদনটি পর্যালোচনা করেছে। প্রশ্নকারী একটি প্রশ্ন করেছেন যার মূল পাঠ নিম্নরূপ: (বর্তমানে মানুষের মাঝে সৌদি আমেরিকান ব্যাংক থেকে ইস্যুকৃত ‘সাম্বা’ ভিসা কার্ডের প্রচলন রয়েছে। এই কার্ডের বার্ষিক মূল্য যদি গোল্ডেন হয় তবে ৪৮৫ রিয়াল এবং যদি সিলভার হয় তবে ২৪৫ রিয়াল। এই মূল্য ভিসা কার্ডের সুবিধা ভোগের জন্য বার্ষিক সাবস্ক্রিপশন হিসেবে কার্ডধারী ব্যক্তি ব্যাংকে পরিশোধ করেন।

এই কার্ড ব্যবহারের পদ্ধতি হলো, কার্ডধারী ব্যক্তি ব্যাংকের শাখাগুলো থেকে তার ইচ্ছামতো অর্থ উত্তোলন (ঋণ) করার অধিকার রাখেন এবং সেই অর্থ সর্বোচ্চ চুয়ান্ন দিনের মধ্যে সমপরিমাণে পরিশোধ করতে হয়। যদি উত্তোলিত অর্থ (ঋণ) নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিশোধ করা না হয়, তবে ব্যাংক উত্তোলিত অর্থের প্রতি ১০০ রিয়ালের বিপরীতে ১.৯৫ (১, ৯৫) রিয়াল হারে সুদ গ্রহণ করে। এছাড়াও ব্যাংক কার্ডধারীর প্রতিটি নগদ অর্থ উত্তোলনের বিপরীতে প্রতি ১০০ রিয়ালে ৩.৫ রিয়াল অথবা প্রতিটি নগদ অর্থ উত্তোলনের জন্য সর্বনিম্ন ৪৫ রিয়াল গ্রহণ করে থাকে।

এই কার্ডধারী ব্যক্তির সেই সকল বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান থেকে নগদ অর্থ প্রদান ছাড়াই পণ্য ক্রয় করার অধিকার রয়েছে যাদের সাথে ব্যাংকের লেনদেন আছে এবং এটি তার ওপর ব্যাংকের পক্ষ থেকে একটি ঋণ হিসেবে গণ্য হয়। যদি তিনি ক্রয়কৃত পণ্যের মূল্য পরিশোধে চুয়ান্ন দিন বিলম্ব করেন, তবে ব্যাংক সেই সকল দোকান থেকে ক্রয়কৃত পণ্যের মূল্যের প্রতি ১০০ রিয়ালের বিপরীতে কার্ডধারীর কাছ থেকে ১.৯৫ (১, ৯৫) রিয়াল হারে সুদ গ্রহণ করে।
(খণ্ড: ১) বিতাকাতুল ইতিমান (পৃষ্ঠা: ২৬)
فما حكم استعمال هذه البطاقة والاشتراك السنوي مع هذا البنك للاستفادة من هذه البطاقة. والله يحفظكم ويرعاكم.) .

وبعد دراسة اللجنة للاستفادة أجابت بما يلي: إذا كان حال بطاقة: " سامبا فيزا " كما ذكر فهو إصدار جديد من أعمال المرابين وأكل لأموال الناس بالباطل وتأثيمهم وتلويث مكاسبهم وتعاملهم وهو لا يخرج عن حكم ربا الجاهلية المحرم في الشرع المطهر: " إما أن تقضي إما أن تربي ". لهذا فلا يجوز إصدار هذه البطاقة ولا التعامل بها. وبالله التوفيق.

وصلي الله علي نبياً محمد وآله وصحبه وسلم،،،

اللجنة الدائمة للبحوث العلمية والإفتاء

فتوى رقم (17289) وتاريخ 14/10/1415هـ

 

الحمد لله وحدة والصلاة والسلام علي من لانبي بعده 00 وبعد:

فقد اطلعت اللجنة الدائمة للبحوث العلمية والإفتاء علي ما ورد إلي سماحة المفتي العام من / فضيلة رئيس محاكم منطقة تبوك برقم (2591) وتاريخ 11/7/1415هـ.

ومشفوعة الاستفتاء المقدم من الأخوة العاملين في الشؤون الدينية بالقاعدة الجوية بتبوك. والمحال إلي اللجنة من الأمانة العامة لهيئة كبار العلماء برقم (3077) وتاريخ 18/7/1415هـ. الذي جاء فيه ما نصه: (أرفع لسماحتكم بطية السؤال الذي ورد إلينا من الإخوة العاملين في القاعدة الجوية بتبوك في الشؤون الدينية ويرغبون من سماحتكم الإجابة عليه لأنه مما كثر الخوض فيه وأخذ به كثير من الناس وحتى تكون الفتوى منهية لكثير من الإشكالات.) .
সুতরাং এই কার্ডটি ব্যবহারের এবং এই কার্ড থেকে উপকৃত হওয়ার জন্য এই ব্যাংকের সাথে বার্ষিক সদস্যপদ গ্রহণের বিধান কী? আল্লাহ আপনাদের হিফাজত ও রক্ষণাবেক্ষণ করুন।

কমিটির পর্যালোচনার পর তারা নিম্নোক্ত উত্তর প্রদান করেছেন: যদি "সাম্বা ভিসা" কার্ডের অবস্থা বর্ণনানুযায়ী হয়, তবে এটি সুদখোরদের কর্মকাণ্ডের একটি নতুন সংস্করণ এবং অন্যায়ভাবে মানুষের সম্পদ আত্মসাৎ, তাদের গুনাহগার করা এবং তাদের উপার্জন ও লেনদেনকে কলুষিত করার শামিল। এটি পবিত্র শরিয়তে নিষিদ্ধ জাহেলিয়াত আমলের সুদের বিধানের বাইরে নয়, যা ছিল: "হয় তুমি ঋণ পরিশোধ করো, নয়তো সুদ বৃদ্ধি করো"। অতএব, এই কার্ড ইস্যু করা বা এর মাধ্যমে লেনদেন করা জায়েজ নয়। আর আল্লাহর কাছেই তাওফিক প্রার্থনা করছি।

আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবীদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটি

ফতোয়া নং (১৭২৮৯) এবং তারিখ: ১৪/১০/১৪১৫ হিজরি

 

সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক সেই সত্তার ওপর যাঁর পরে আর কোনো নবী নেই। অতঃপর:

বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটি, তাবুক অঞ্চলের আদালতসমূহের মাননীয় প্রধানের পক্ষ থেকে মহামান্য গ্র্যান্ড মুফতির নিকট প্রেরিত (২৫৯১) নম্বর এবং ১১/৭/১৪১৫ হিজরি তারিখের পত্রটি পর্যালোচনা করেছে।

এর সাথে সংযুক্ত ছিল তাবুক বিমান ঘাঁটির ধর্মীয় বিষয়ক বিভাগে কর্মরত ভাইদের পক্ষ থেকে পেশ করা ফতোয়ার আবেদন। এটি সিনিয়র উলামা পরিষদের সাধারণ সচিবালয় থেকে ১৮/৭/1415 হিজরি তারিখে (৩০৭৭) নম্বর স্মারকে কমিটির নিকট প্রেরিত হয়েছিল। উক্ত পত্রে যা বর্ণিত হয়েছে তার পাঠ নিম্নরূপ: (আমি আপনার সদয় সমীপে তাবুক বিমান ঘাঁটির ধর্মীয় বিষয়ক বিভাগে কর্মরত ভাইদের পক্ষ থেকে প্রাপ্ত প্রশ্নটি পেশ করছি। তারা এর উত্তর প্রত্যাশা করছেন কারণ এটি বর্তমানে একটি বহুল আলোচিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং অনেক মানুষ এটি গ্রহণ করছে; যাতে আপনার ফতোয়াটি অনেক অস্পষ্টতা ও সমস্যার চূড়ান্ত সমাধান হিসেবে গণ্য হয়।) .
(খণ্ড: ১) বিতাকাতুল ইতিমান (পৃষ্ঠা: ২৭)
ونص السؤال: (ما حكم ما يسمي بالبطاقة الذهبية والبطاقة الفضية، والتي تبيعها البنوك للمواطنين ولو لم يكن لهم فيها حسابات. والفائدة منها بالنسبة للمواطن أن يقترض بموجبها مبلغاً من هذا البنك الذي باعه هذه البطاقة علي أن يرد هذا المبلغ خلال أربعين يوماً من تاريخ القرض، فإذا تأخر عن هذه المدة فإن البنك يأخذ نسبة بسيطة مقابل التأخير وكلما تأخر كلما زادت النسبة. وبعض الناس يشتري أكثر من بطاقة فيأخذ من البنك الآخر ويعطي هذا البنك وهكذا يفعل حتى لا يدفع هذه النسبة. فما رأي سماحتكم في هاتين المسألتين.) .

وبعد دراسة اللجنة للاستفتاء أجابت بما يلي:

البطاقة الفضية أو الذهبية علي الشرط المذكور بطاقة ربوية لا يجوز إصدارها ولا العمل بها لاشتمالها علي قرض جر نفعاً وهذا ربا محرم والتعامل بها من التعاون علي الإثم والعدوان. وبالله التوفيق. وصلي الله علي نبيناً محمد وآله وصحبة وسلم،،،

اللجنة الدائمة للبحوث العلمية والإفتاء
প্রশ্নের পাঠ নিম্নরূপ: (তথাকথিত গোল্ডেন কার্ড ও সিলভার কার্ডের বিধান কী, যা ব্যাংকগুলো নাগরিকদের নিকট বিক্রি করে থাকে, যদিও সেখানে তাদের কোনো অ্যাকাউন্ট বা হিসাব না থাকে। নাগরিকের জন্য এর সুবিধা হলো, তিনি এই কার্ড ইস্যুকারী ব্যাংক থেকে এর মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ ঋণ (قرض) হিসেবে গ্রহণ করতে পারেন এই শর্তে যে, ঋণের (قرض) তারিখ থেকে চল্লিশ দিনের মধ্যে উক্ত অর্থ পরিশোধ করতে হবে। যদি তিনি এই নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বিলম্ব করেন, তবে ব্যাংক বিলম্বের বিনিময়ে একটি সামান্য হার গ্রহণ করে এবং বিলম্ব যত বৃদ্ধি পায়, হারের পরিমাণও তত বৃদ্ধি পায়। কিছু মানুষ একাধিক কার্ড ক্রয় করেন এবং এক ব্যাংক থেকে অর্থ নিয়ে অন্য ব্যাংকের পাওনা পরিশোধ করেন; এভাবে তারা এই প্রক্রিয়া অবলম্বন করেন যাতে বিলম্বজনিত অতিরিক্ত অর্থ প্রদান করতে না হয়। এই দুই বিষয়ে আপনাদের বিজ্ঞ অভিমত কী?)।

আবেদনটি পর্যালোচনার পর কমিটি নিম্নোক্ত উত্তর প্রদান করেছে:

উল্লিখিত শর্তযুক্ত সিলভার বা গোল্ডেন কার্ড হলো একটি সুদভিত্তিক (ربوية) কার্ড। এটি ইস্যু করা বা এর মাধ্যমে লেনদেন করা জায়েজ নেই; কারণ এতে এমন ঋণ (قرض) অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যা মুনাফা বয়ে আনে (جر نفعاً), আর এটি হলো নিষিদ্ধ সুদ (ربا)। এই কার্ডের মাধ্যমে লেনদেন করা পাপ (إثم) ও সীমালঙ্ঘনের (عدوان) কাজে একে অপরকে সহযোগিতা করার অন্তর্ভুক্ত। আর আল্লাহর তাওফীকেই সকল সাফল্য নিহিত। আল্লাহ আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সাহাবীদের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন।

বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটি