(খণ্ড: ১)
তানযীহুল ইমামিশ শাফিয়ী আন মাতাইনিল কাওসারী - জিমনা আসারুল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: -)
تنزيه الإمام الشافعي عن مطاعن الكوثري - ضمن «آثار المعلمي» القسم: الفرق والردود
الكتاب: تنزيه الإمام الشافعي عن مطاعن الكوثري
[آثار عبد الرحمن بن يحيى المعلمي اليماني (15)]
المؤلف: عبد الرحمن بن يحيى المُعَلِّمي اليماني (1313 - 1386 هـ)
المحقق: علي بن محمد العمران
راجعه: محمد أجمل الإصلاحي - عادل بن عبد الشكور الزرقي
الناشر: دار عالم الفوائد للنشر والتوزيع
الطبعة: الأولى، 1434 هـ
قدمه للشاملة: مؤسسة «عطاءات العلم»، جزاهم الله خيرا
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 10 شوّال 1442
কাওসারীর অপবাদসমূহ থেকে ইমাম শাফিঈর পবিত্রতা ঘোষণা - «আল-মুয়াল্লিমীর রচনাবলি»-এর অন্তর্ভুক্ত বিভাগ: ফিরকা ও খণ্ডনসমূহ
কিতাব: কাওসারীর অপবাদসমূহ থেকে ইমাম শাফিঈর পবিত্রতা ঘোষণা
[আবদুর রহমান বিন ইয়াহইয়া আল-মুয়াল্লিমী আল-ইয়ামানীর রচনাবলি (১৫)]
লেখক: আবদুর রহমান বিন ইয়াহইয়া আল-মুয়াল্লিমী আল-ইয়ামানী (১৩১৩ - ১৩৮৬ হিজরি)
সম্পাদক: আলী বিন মুহাম্মদ আল-উমরান
পর্যালোচনায়: মুহাম্মদ আজমল আল-ইসলাহী - আদিল বিন আবদুশ শাকুর আল-জুরকী
প্রকাশক: দারু আলামিল ফাওয়াইদ প্রকাশনা ও বিতরণ
সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩৪ হিজরি
শামেলার জন্য পেশ করেছে: প্রতিষ্ঠান «আতাআত আল-ইলম», আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দিন
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামেলার প্রকাশের তারিখ: ১০ শাওয়াল ১৪৪২
(খণ্ড: ١٥)
তানযীহুল ইমামিশ শাফিয়ী আন মাতাইনিল কাওসারী - জিমনা আসারুল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ২৮৫)
الرسالة الحادية عشرة
تنزيه الإمام الشافعي عن مطاعن الكوثري
একাদশ পত্র
আল-কাউসারীর অপবাদ হতে ইমাম শাফিঈর পবিত্রতা ঘোষণা
(খণ্ড: ١٥)
তানযীহুল ইমামিশ শাফিয়ী আন মাতাইনিল কাওসারী - জিমনা আসারুল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ২৮৭)
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله حمدًا كثيرًا طيبًا مباركًا فيه، وأشهد ألا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله، اللهم صل على محمد وعلى آل محمد كما صليت على آل إبراهيم، وبارك على محمد وعلى آل محمد كما باركت على آل إبراهيم إنك حميد مجيد.
أما بعد، فإني لما وقفت على كتاب (تأنيب الخطيب) للأستاذ العلامة محمد زاهد الكوثري، ورأيته تعدّى ما يوافقه عليه أهلُ العلم؛ من توقير الإمام أبي حنيفة وحُسْن الذبّ عنه، إلى الطعن في غيره من أئمة الفقه والحديث= جمعتُ كتابًا في ردّ الباطل من مطاعن الكوثري سميته (التنكيل بما في تأنيب الكوثري من الأباطيل). ثم اقتضبتُ منه نموذجًا سمّيته (طليعة التنكيل)، وقد طُبعت الطليعة بمصر. والآن بدا لي أن أفرد ما يتعلّق برَدِّ مزاعم الكوثري التي حاول بها الغضّ من الإمام الشافعي، وهذا هو.
الإمام الشافعي هو [محمد بن إدريس بن العباس بن عثمان بن شافع بن السائب بن عبيد بن عبديزيد بن هاشم بن المطلب بن عبد مناف، القرشي المطَّلبي الشافعي أبو عبد الله]
(1).
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি অত্যন্ত প্রশংসিত, পবিত্র ও বরকতময়। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, এক আল্লাহ ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মদ ও তাঁর বংশধরের ওপর রহমত বর্ষণ করুন, যেমনটি করেছিলেন ইব্রাহিমের বংশধরের ওপর। আর মুহাম্মদ ও তাঁর বংশধরের ওপর বরকত নাযিল করুন, যেমনটি করেছিলেন ইব্রাহিমের বংশধরের ওপর। নিশ্চয়ই আপনি অত্যন্ত প্রশংসিত ও মহিমান্বিত।
অতঃপর, যখন আমি উস্তাদ আল্লামা মুহাম্মদ জাহিদ আল-কাওসারীর ‘তানিবুল খাতিব’ গ্রন্থটি পাঠ করলাম, তখন দেখলাম যে তিনি সেই সীমা অতিক্রম করেছেন যাতে আলেমগণ তাঁর সাথে একমত হতে পারতেন; অর্থাৎ ইমাম আবু হানিফার প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন ও উত্তমরূপে তাঁর প্রতিরক্ষা করা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ না থেকে তিনি ফিকহ ও হাদিসের অন্যান্য ইমামদের ওপর কটাক্ষ করেছেন। ফলশ্রুতিতে কাওসারীর মিথ্যা অপবাদসমূহ খণ্ডন করার উদ্দেশ্যে আমি একটি গ্রন্থ সংকলন করি এবং তার নাম দিই ‘আত-তানিকল বিমা ফি তানিবি আল-কাওসারী মিনাল আবাতিল’ (কাওসারীর তানিবে বর্ণিত মিথ্যাচারসমূহের কঠোর প্রতিবাদ)। অতঃপর সেখান থেকে একটি সারাংশ প্রস্তুত করি যার নাম দিই ‘তলিআতুত তানিকল’, যা মিশরে মুদ্রিত হয়েছে। বর্তমানে আমি সেই অংশটিকে পৃথকভাবে উপস্থাপনের সংকল্প করেছি যা ইমাম শাফেয়ীর সম্মানহানির চেষ্টায় কাওসারীর দাবিসমূহের খণ্ডন সংশ্লিষ্ট। আর এটিই সেই সংকলন।
ইমাম শাফেয়ী হলেন [মুহাম্মদ বিন ইদ্রিস বিন আল-আব্বাস বিন উসমান বিন শাফি বিন আস-সাইব বিন উবাইদ বিন আবদি ইয়াজিদ বিন হাশিম বিন আল-মুত্তালিব বিন আবদু মানাফ, আল-কুরাশী আল-মুত্তালিবি আশ-শাফেয়ী আবু আবদুল্লাহ]
(১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١٥)
তানযীহুল ইমামিশ শাফিয়ী আন মাতাইনিল কাওসারী - জিমনা আসারুল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ২৮৮)
[الجواب عن مطاعن الكوثري على الإمام الشافعي في اللغة][ص 1] قال الأستاذ
(1): "وقوله في
تفسير الفِهْر في قول عمر: (كأنهم اليهود قد خرجوا من فِهْرهم): البيت المبني بالحجارة الكبار، مع أنه موضع عبادتهم أو اجتماعهم ودرسهم مطلقًا، سواء كان في بنيان أو صحراء".
أقول: عليه في هذا أمور:
الأول: لم يذكر ما يثبت التفسير المذكور عن الشافعي.
الثاني: أن الأثر منسوب إلى عليّ كما في "نهاية ابن الأثير"
(2) لا إلى عمر، ولفظه في "النهاية": "خرجوا من فهورهم".
الثالث: قوله: "مطلقًا، سواء كان في بنيان
(3) أو صحراء". لم أجدها في كتب اللغة ولا الغريب، ولا يلزم من إطلاقهم أن يكون مطلقًا في نفس الأمر. راجع "مفردات الراغب" يتبين لك كثرة الكلمات التي أطلقوها وحقّها أن تقيّد.
الرابع: قول الأثر نفسه: "خرجوا من فهورهم" ظاهر في التقييد.
--------------------------------------------
[ভাষা ও অভিধানশাস্ত্রে ইমাম শাফিয়ীর বিরুদ্ধে কাওসারীর সমালোচনার জওয়াব][পৃষ্ঠা ১] উস্তাদ
(১) বলেছেন: "উমরের বাণীতে বর্ণিত—'মনে হচ্ছে ইয়াহুদিরা যেন তাদের ফিহর থেকে বেরিয়ে এসেছে'—'ফিহর' শব্দের ব্যাখ্যায় শাফিয়ীর বক্তব্য হলো: 'বড় বড় পাথর দিয়ে নির্মিত ঘর'। অথচ এটি তাদের ইবাদতগাহ অথবা সাধারণ সমাবেশ ও পাঠগ্রহণের স্থান, তা কোনো দালানে হোক বা মরুভূমিতে।"
আমি বলি: এই বিষয়ে তাঁর বিরুদ্ধে কয়েকটি আপত্তির দিক রয়েছে:
প্রথমত: ইমাম শাফিয়ী থেকে উল্লিখিত ব্যাখ্যাটি সাব্যস্ত হওয়ার কোনো প্রমাণ তিনি উল্লেখ করেননি।
দ্বিতীয়ত: ইবনুল আসিরের 'নিহায়া' গ্রন্থ অনুযায়ী এই বর্ণনাটি আলীর দিকে সম্বন্ধযুক্ত
(২), উমরের দিকে নয়। আর 'নিহায়া'র শব্দ হলো: "তারা তাদের ফিহুর (ফিহরের বহুবচন) থেকে বেরিয়ে এসেছে।"
তৃতীয়ত: তাঁর এই বক্তব্য যে: "এটি সাধারণ, চাই তা দালানে হোক
(৩) বা মরুভূমিতে"—এমন কথা আমি অভিধানগ্রন্থ কিংবা দুর্লভ শব্দাবলি (গারিবুল হাদিস) বিষয়ক কিতাবসমূহে খুঁজে পাইনি। ভাষাবিদদের সাধারণ বর্ণনা থেকেই বিষয়টি বাস্তবে সাধারণ হওয়া অনিবার্য নয়। আপনি রাগিবের 'মুফরাদাত' দেখে নিন, তাহলে আপনার কাছে স্পষ্ট হবে যে অনেক শব্দই তারা সাধারণভাবে উল্লেখ করেছেন অথচ সেগুলোকে সুনির্দিষ্ট বা সীমাবদ্ধ করা আবশ্যক ছিল।
চতুর্থত: বর্ণনার নিজস্ব শব্দমালা: "তারা তাদের ফিহুর থেকে বেরিয়ে এসেছে" এটি বাহ্যত ঘরটি সুনির্দিষ্ট বা সীমাবদ্ধ হওয়ার দিকেই ইঙ্গিত করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١٥)
তানযীহুল ইমামিশ শাফিয়ী আন মাতাইনিল কাওসারী - জিমনা আসারুল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ২৮৯)
الخامس: قد اختلفوا في تفسير الفهر، وفي "القاموس"
(1): "مدراس اليهود تجتمع إليه في عيدهم، أو هو يوم يأكلون فيه ويشربون"، فلماذا لا يجعل قول القائل: "البيت المبني بالحجارة الكبار" قولًا آخر ــ إن صحّ ــ عمن يُعتدّ به كالشافعي.
السادس: الكلمة نبطية أو عبرانية كما في "النهاية". والغلط في تفسير الكلمة الأعجمية لا ينافي فصاحة العربي، فقد قال قائلهم:
"لم تدر ما نسج اليَرَنْدَج قبلها"
(2)فزعم أن اليَرَنْدَج شيء يُنسج، وإنما هو الجلد الأسود.
وقال الآخر:
"ولم تذق من البقول الفستقا"
(3)فزعم أن الفستق بقلة. ولهذا نظائر معروفة، والله أعلم.
قال الأستاذ: "و
وصف الماء بالمالح مع أن الماء لا يوصف به، وفي القرآن: {مِلْحٌ أُجَاجٌ} [الفرقان: 53، فاطر: 12]، [ص 2] وأما المالح فيوصف به نحو السمك".
--------------------------------------------
পঞ্চমত: 'ফিহর' শব্দের ব্যাখ্যায় আলিমগণ মতভেদ করেছেন। 'আল-কামুস' গ্রন্থে রয়েছে: "এটি ইহুদিদের সেই পাঠশালা যেখানে তারা তাদের উৎসবে সমবেত হয়, অথবা এটি এমন একটি দিন যাতে তারা পানাহার করে।" সুতরাং কোনো নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি—যেমন ইমাম শাফিয়ী—থেকে যদি এটি বর্ণিত হওয়া বিশুদ্ধ হয়, তবে "বড় পাথর দিয়ে নির্মিত ঘর" শীর্ষক বক্তব্যটিকে কেন অন্য একটি স্বতন্ত্র অভিমত হিসেবে গণ্য করা হবে না?
ষষ্ঠত: 'আন-নিহায়া' গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে যে, শব্দটি নবতী অথবা হিব্রু বংশোদ্ভূত। আর অনারব শব্দের অর্থ নির্ধারণে ভুল হওয়া কোনো খাঁটি আরবের সাবলীলতা বা বাগ্মিতার পরিপন্থী নয়। কেননা তাদের জনৈক কবি বলেছেন:
"সে ইতিপূর্বে জানত না ইয়ারান্দাজ কী বুনন করে"
সে ধারণা করেছিল যে 'ইয়ারান্দাজ' এমন কিছু যা বোনা হয়, অথচ এটি মূলত কালো চামড়া।
অন্য একজন কবি বলেছেন:
"এবং সে শাকসবজির মধ্যে পিস্তা কখনো আস্বাদন করেনি"
সে মনে করেছিল যে পিস্তা এক প্রকারের শাকসবজি। এর আরও অনেক সুপরিচিত উদাহরণ রয়েছে। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
উস্তাদ বলেছেন: "পানিকে 'মালিহ' (লবণাক্ত) হিসেবে গুণান্বিত করা হয়েছে, যদিও পানির ক্ষেত্রে সাধারণত এই বিশেষণ ব্যবহৃত হয় না। পবিত্র কুরআনে এসেছে: {অত্যধিক লোনা ও বিস্বাদ} [আল-ফুরকান: ৫৩, ফাতির: ১২], [পৃষ্ঠা ২]। অন্যদিকে 'মালিহ' বিশেষণটি মাছের ন্যায় বস্তুর ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় (যেমন লোনা মাছ)।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١٥)
তানযীহুল ইমামিশ শাফিয়ী আন মাতাইনিল কাওসারী - জিমনা আসারুল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ২৯০)
أقول: المعروف عن الأصمعي ومن تبعه أن لا يقال "مالح" لا في الماء ولا في السمك ونحوه. وذكر ابن السِّيد في "الاقتضاب" (ص 116) ذلك، ثم نقضه بعدَّة حُجَج أثبت بها أنه يقال: "سمك مالح" و"شجر مالح"، ثمّ قال: "وحكى عليّ بن حمزة عن بعض اللغويين أنه يقال: ماء ملح، فإذا وصف الشيء بما فيه من الملوحة قلت: سمك مالح، وبقلة مالحة، قال: ولا يقال: ماء مالح؛ لأن الماء هو الملح بعينه. وهذا قول غير معروف، وهو مع ذلك مخالف للقياس؛ لأن صفة الماء بأنه مالح أقرب إلى القياس من وصف السمك؛ لأنهم قالوا: مَلُح الماءُ وأمْلَح، فأسندوا إليه الفعل كما يُسند إلى الفاعل، ولم يقل أحد: ملح السمك، إنما قالوا: ملَحْتُ السمكَ، إذا جعلتَ فيها الملح". ثم قال: "وأنشد أبو زياد الأعرابي قال: أنشدني أعرابيٌّ فصيح:
صَبَّحن قوًّا والحمامُ واقعُ
… وماءُ قوٍّ مالحٌ وناقع
(1) "
وفي "اللسان"
(2) عن ابن الأعرابي: "ماء أجاج
… وهو الماء المالح". وعن الجوهري: "ولا يقال: مالح، قال أبو الدُّقَيش: ماء مالح ومِلْح". ثم قال: "قال ابن برّي: قد جاء المالح في أشعار الفصحاء
… وقال عمر بن أبي ربيعة:
ولو تَفَلت في البحر والبحرُ مالح
… لأصبح ماء البحر من ريقها عذبا
قال ابن برّي: وجدت هذا البيت المنسوب إلى عمر بن أبي ربيعة في شعر أبي عيينة محمد
(3) ابن أبي صُفرة .... ".
--------------------------------------------
আমি বলছি: আল-আসমাঈ এবং তাঁর অনুসারীদের নিকট সুবিদিত অভিমত এই যে, পানি কিংবা মাছ বা এ জাতীয় কিছুর ক্ষেত্রে 'মালিহ' (লবণাক্ত) শব্দটি প্রয়োগ করা যাবে না। ইবনুস সীদ 'আল-ইকতিযাব' (পৃ. ১১৬) গ্রন্থে বিষয়টি উল্লেখ করেছেন, অতঃপর তিনি একে বিভিন্ন প্রমাণের মাধ্যমে খণ্ডন করেছেন যার দ্বারা তিনি প্রমাণ করেছেন যে, 'সামাকুন মালিহ' (লোনা মাছ) এবং 'শাজারুন মালিহ' (লবণাক্ত বৃক্ষ) বলা বৈধ। এরপর তিনি বলেন: "আলী ইবনে হামজা জনৈক ভাষাবিদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, 'মাউন মিলহুন' (লবণাক্ত পানি) বলা হয়। সুতরাং যখন কোনো বস্তুকে তার ভেতরের লবণাক্ততার দ্বারা বিশেষিত করা হয়, তখন বলা হয়: 'সামাকুন মালিহ' (লোনা মাছ) এবং 'বাকলাতুন মালিহাহ' (লবণাক্ত শাক-সবজি)। তিনি বলেন: 'মাউন মালিহুন' বলা যাবে না; কারণ পানি নিজেই লবণের আধার। এটি একটি অপরিচিত মত, তদুপরি এটি ভাষাতাত্ত্বিক নিয়মের (কিয়াস) পরিপন্থী; কারণ পানিকে 'মালিহ' হিসেবে বিশেষিত করা মাছকে বিশেষিত করার চেয়ে নিয়মের অধিক নিকটবর্তী। কেননা আরবরা বলেন: 'মালুহা আল-মাউ' এবং 'আমলাহা' (পানি লোনা হয়েছে), ফলে তাঁরা ক্রিয়াটিকে পানির দিকেই সম্বন্ধযুক্ত করেছেন যেভাবে কর্তার দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়। অথচ কেউ বলেনি: 'মালুহা আস-সামাকু' (মাছ লোনা হয়েছে), বরং তাঁরা বলেন: 'মালাহতু আস-সামাকা' (আমি মাছটিকে লবণাক্ত করেছি), যখন তাতে লবণ দেওয়া হয়।" এরপর তিনি বলেন: "আবু যিয়াদ আল-আ’রাবী কবিতা আবৃত্তি করেছেন, তিনি বলেন: আমাকে একজন বিশুদ্ধভাষী গ্রাম্য আরব আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন:
তারা ভোরে 'কুউ' নামক স্থানে পৌঁছাল যখন কবুতরগুলো সেখানে অবস্থান করছিল
… আর কুউ-এর পানি লবণাক্ত এবং পিপাসা নিবারক
(১) "
আর 'লিসানুল আরব' গ্রন্থে
(২) ইবনুল আ’রাবী থেকে বর্ণিত হয়েছে: "মাউন উজাজুন (তীব্র লোনা পানি)
… আর তা হলো লোনা পানি (আল-মা আল-মালিহ)"। আল-জাওহারী থেকে বর্ণিত: "মালিহ বলা হয় না। তবে আবুল দুকাইশ বলেছেন: পানি মালিহ এবং মিলহ (উভয়ই হয়)"। এরপর তিনি বলেন: "ইবনে বাররী বলেছেন: বিশুদ্ধভাষীদের কবিতায় 'মালিহ' শব্দের প্রয়োগ এসেছে
… এবং উমর ইবনে আবি রাবীআ বলেছেন:
সে যদি সমুদ্রে থুতু ফেলত এমতাবস্থায় যে সমুদ্র লবণাক্ত
… তবে সমুদ্রের পানি তার মুখের লালায় মিষ্টি হয়ে যেত
ইবনে বাররী বলেন: আমি উমর ইবনে আবি রাবীআর নামে লব্ধ এই চরণটি আবু উইয়াইনাহ মুহাম্মদ
(৩) ইবনে আবি সুফরাহ-এর কবিতায় পেয়েছি.... "।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١٥)
তানযীহুল ইমামিশ শাফিয়ী আন মাতাইনিল কাওসারী - জিমনা আসারুল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ২৯১)
أقول: والحاصل أن قولهم: "ماء مالح" ثابت عن العرب الفصحاء نصًّا، وثابت قياسًا، لكن أكثر ما يقولون: "ملح"، ولما غلب على ألسنة الناس في عصر الشافعي "مالح" أتى بها الشافعيُّ في كتبه؛ لأنه كان يتحرَّى التقريب إلى فهم الناس كما يأتي عن الربيع
(1).
[ص 3] قال الأستاذ: "وقوله:
ثوب نسوي لفظة عامية".
أقول: هذا أيضًا لم يذكر ما يثبته عن الشافعي، ولم أجده في مظانه، ومع ذلك فإن كان نسبةً إلى (النساء) ففي "القاموس" و"شرحه"
(2): "قال سيبويه في النسبة إلى نساء: نِسْوي". وإن كان نسبة إلى بلد (نسا) فقد قال ياقوت
(3): "والنسبة الصحيحة إليها: نَسائي وقيل: نَسَويّ أيضًا، وكان من الواجب كسر النون". كذا قال، ونسويّ هو القياس كما لا يخفى.
قال الأستاذ: "وقوله:
العَفْريت ــ بالفتح ــ مما لم يقله أحد".
أقول: ولا قاله الشافعي، ولو قاله لعددناها لغةً لبعض العرب.
قال: "وقوله:
أشْلَيت الكلبَ، بمعنى زجرته، خطأ صوابه أن ذلك بمعنى أغريته كما قال ثعلب وغيره".
أقول: لم يكفِ هذا المعترض الأنْوَك
(4) أنْ كذَب على الشافعي حتى كذَب على ثعلب وغيره أيضًا، والموجود في كتب الشافعي استعمال
--------------------------------------------
আমি বলছি: সারকথা হলো, তাদের উক্তি "মা-উন মালিহুন" বিশুদ্ধভাষী আরবদের থেকে বর্ণনাগতভাবে প্রমাণিত এবং ভাষাতাত্ত্বিক নিয়মানুসারেও সঠিক। তবে তারা অধিকাংশ ক্ষেত্রে "মিলহুন" বলে থাকেন। ইমাম শাফিঈর যুগে মানুষের মুখে "মালিহুন" শব্দটি বহুল প্রচলিত হয়ে যাওয়ায় তিনি তাঁর কিতাবগুলোতে এটি ব্যবহার করেছেন; কারণ তিনি মানুষের বোধগম্যতার নিকটবর্তী হওয়ার চেষ্টা করতেন, যেমনটি সামনে রাবী'র বর্ণনায় আসবে
(১).
[পৃষ্ঠা ৩] উস্তাদ বলেছেন: "এবং তাঁর উক্তি:
সাওবুন নিসওয়িয়্যুন একটি অপশব্দ"৷
আমি বলছি: এক্ষেত্রেও তিনি ইমাম শাফিঈ থেকে এটি প্রমাণ করে এমন কিছু উল্লেখ করেননি, এবং আমিও সংশ্লিষ্ট উৎসগুলোতে তা খুঁজে পাইনি। তা সত্ত্বেও, যদি এটি 'নিসা' (নারী) শব্দের সাথে সম্পর্কিত সম্বন্ধবাচক বিশেষ্য হয়, তবে "আল-কামুস" এবং এর "ব্যাখ্যাগ্রন্থ"-এ
(২) রয়েছে: "সিবাওয়াইহ 'নিসা' শব্দের সম্বন্ধবাচক শব্দ হিসেবে 'নিসওয়িয়্যুন' বলেছেন।" আর যদি এটি 'নাসা' নামক শহরের সাথে সম্পর্কিত হয়, তবে ইয়াকুত
(৩) বলেছেন: "এর সঠিক সম্বন্ধবাচক রূপ হলো: নাসায়ি, তবে কেউ কেউ নাসাওয়িয়্যুনও বলেছেন; আর এক্ষেত্রে নূন বর্ণে কাসরা (জের) দেওয়া আবশ্যক ছিল।" তিনি এমনই বলেছেন। তবে 'নাসাওয়িয়্যুন' শব্দটিই ভাষাতাত্ত্বিক নিয়মানুযায়ী সঠিক, যা স্পষ্ট।
উস্তাদ বলেছেন: "এবং তাঁর উক্তি:
আল-আফরিত — ফাতহা যোগে — এমন শব্দ যা কেউ বলেনি"৷
আমি বলছি: ইমাম শাফিঈ-ও তা বলেননি, আর যদি তিনি তা বলতেনও, তবে আমরা একে কোনো এক আরব গোত্রের উপভাষা হিসেবে গণ্য করতাম।
তিনি বলেছেন: "এবং তাঁর উক্তি:
আশলাইতুল কালবা, ধমক দেওয়া অর্থে—এটি ভুল। এর সঠিক অর্থ হলো আমি তাকে লেলিয়ে দিয়েছি, যেমনটি ছা'লাব এবং অন্যান্যরা বলেছেন"৷
আমি বলছি: এই নির্বোধ
(৪) প্রতিবাদকারীর জন্য ইমাম শাফিঈর নামে মিথ্যাচার করাই যথেষ্ট ছিল না যে, সে ছা'লাব এবং অন্যদের নামেও মিথ্যাচার করেছে। আর ইমাম শাফিঈর কিতাবসমূহে যা পাওয়া যায়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١٥)
তানযীহুল ইমামিশ শাফিয়ী আন মাতাইনিল কাওসারী - জিমনা আসারুল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ২৯২)
الإشلاء بمعنى الإغراء، وثعلب إنما زعم أنه بمعنى أن تدعوه إليك، فأما الإغراء فإنما يقال: آسدته". وصحح غيرُه استعمال "أشليته" بمعنى أغريته وبمعنى دعوته.
أقول: وقد يكون أصله بمعنى الدعاء فيشمل ما إذا دَعَوتَه إليك وكان نائمًا مثلًا، وما إذا دَعَوتَه ليحمل على الصيد، فالأول هو الدعاء والثاني يتضمّن الإغراء والثالث يتضمّن الزجر، والقرينة تبيّن المراد. والذي في كلام الشافعي الإغراء كما في قول الشاعر:
قَصَدْنا أبا عمرو فأشلى كلابَه
… علينا فكِدْنا بين بيتيه نؤكل
(1) قال
(2) الأستاذ: "وقوله في (مختصر المزني):
وليست الأذنان من الوجه فيغسلان. والصواب: فيغسلا".
أقول: عليه في هذا أمور:
الأول: أن النصب في مثل هذا إما ممتنع وإما مرجوح، وفي "الهمع" (2/ 12): "وإن تقدمت جملة اسمية نحو: ما زيد قادم فيحدثنا، فأكثر النحويين على أنه لا يجوز النصب؛ لأن الاسمية لا تدل على المصدر. وذهب طائفة إلى جوازه، وقال أبو حيان: الصحيح الجواز بشرط أن يقوم مقام الفعل ظرف أو مجرور .... ".
--------------------------------------------
'আল-ইশলা' শব্দটির অর্থ হলো প্ররোচিত করা বা লেলিয়ে দেওয়া। সা'লাব দাবি করেছেন যে, এর অর্থ হলো তাকে নিজের দিকে আহ্বান করা। পক্ষান্তরে প্ররোচিত করার ক্ষেত্রে বলা হয়: 'আসাদ্দাতুহু'। অন্য ভাষাবিদগণ 'আশলাইতুহু' শব্দটিকে প্ররোচিত করা এবং আহ্বান করা—উভয় অর্থেই ব্যবহার করাকে সঠিক বলে গণ্য করেছেন।
আমি বলি: এর মূল অর্থ সম্ভবত 'আহ্বান করা' বা 'ডাকা', ফলে এটি এমন বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে যেখানে আপনি তাকে নিজের দিকে ডাকলেন অথচ সে ঘুমন্ত ছিল, কিংবা আপনি তাকে শিকার ধরার জন্য ডাকলেন। সুতরাং প্রথমটি হলো নিছক আহ্বান, দ্বিতীয়টিতে প্ররোচনা নিহিত থাকে এবং তৃতীয়টিতে ধমক বা তাড়ানো নিহিত থাকে; আর প্রেক্ষাপটই উদ্দেশ্য স্পষ্ট করে দেয়। ইমাম শাফেঈর বক্তব্যে এটি প্ররোচনা বা লেলিয়ে দেওয়া অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, যেমনটি জনৈক কবি বলেছেন:
আমরা আবু আমরের কাছে গেলাম, আর সে তার কুকুরগুলোকে
… আমাদের ওপর লেলিয়ে দিল, ফলে আমরা তার দুই ঘরের মাঝখানে প্রায় ভক্ষিত হওয়ার উপক্রম হয়েছিলাম।
(১) উস্তাদ বলেছেন
(২): "এবং 'মুখতাসারুল মুযানী'-তে তাঁর উক্তি:
'আর কান দুটি চেহারার অন্তর্ভুক্ত নয় বিধায় তা ধৌত করা হবে (ফায়ুগসালানি)'। অথচ সঠিক হলো: 'ফায়ুগসালা' (নসব সহকারে) বলা।"
আমি বলি: এ বিষয়ে কয়েকটি বক্তব্য রয়েছে:
প্রথমত: এই জাতীয় ক্ষেত্রে নসব (নসব প্রদান) হয় অসম্ভব, নয়তো অপ্রাধান্যযোগ্য। 'আল-হাম' (২/১২) গ্রন্থে রয়েছে: "যদি জুমলা ইসমিয়া বা বিশেষ্যমূলক বাক্য আগে আসে, যেমন: 'যাইদ উপস্থিত নয় যে সে আমাদের সাথে কথা বলবে', তবে অধিকাংশ ব্যাকরণবিদের মতে নসব দেওয়া জায়েয নয়; কারণ বিশেষ্যমূলক বাক্য মাসদারের অর্থ প্রদান করে না। একদল আলেম এটি জায়েয বলেছেন এবং আবু হাইয়ান বলেছেন: সঠিক মত হলো এটি জায়েয, তবে শর্ত হলো ক্রিয়ার স্থলে কোনো যরফ বা মাজরুর থাকতে হবে ...."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١٥)
তানযীহুল ইমামিশ শাফিয়ী আন মাতাইনিল কাওসারী - জিমনা আসারুল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ২৯৩)
فإن قيل: بأنّ "ليس" فعل. قلتُ: هي فعل جامد فلا دلالة فيها على المصدر، فأما دلالتها على النفي فهي كدلالة حرف النفي، بل قال جماعة: إن النصب بعد الفاء مطلقًا ليس بواجب.
وقال الرضي في "شرح الكافية" (2/ 245): "وقد يبقى ما بعد فاء السببية على رفعه قليلًا، كقوله تعالى: {وَلَا يُؤْذَنُ لَهُمْ فَيَعْتَذِرُونَ} [المرسلات: 36]. وقوله
(1):
* ألم تسأل الرَّبْعَ القواء فينطق *
وقوله
(2):
* لم تَدْرِ ما جزعٌ عليك فتجزعُ *
جاء جميع هذا على الأصل، ومعنى الرفع فيه كمعنى النصب لو نصب .... جاز لك أن لا تصرف في المواضع المذكورة إلى النصب اعتمادًا على ظهور المعنى
… ".
ومع هذا فقد جاء إهمال "أن" مضمرة وظاهرة، وعدّ ابنُ هشام
(3) من الأوّل قول الله عز وجل: {قُلْ أَفَغَيْرَ اللَّهِ تَأْمُرُونِّي أَعْبُدُ} [الزمر: 64]، وقوله:
--------------------------------------------
যদি বলা হয়: "লাইসা" একটি ক্রিয়া। আমি বলব: এটি একটি অকর্মক (জামিদ্) ক্রিয়া, তাই এটি কোনো ক্রিয়ামূল বা মাসদারের অর্থ প্রদান করে না। আর এর নেতিবাচক অর্থ প্রদান করার বিষয়টি নেতিবাচক অব্যয়ের মতোই। বরং একদল ব্যাকরণবিদ বলেছেন: 'ফা' এর পরে নসব হওয়া মোটেও আবশ্যিক নয়।
আর আল-রাযী "শারহুল কাফিয়া" (২/২৪৫) গ্রন্থে বলেছেন: "কখনও কখনও 'ফায়ে সাবাবিয়া'র পরবর্তী অংশটি বিরল ক্ষেত্রে 'রাফা' বা পেশ অবস্থায় বহাল থাকে, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {তাদেরকে অনুমতি দেওয়া হবে না, ফলে তারা ওজরও পেশ করবে না} [আল-মুরসালাত: ৩৬]। এবং কবির এই উক্তি
(১):
* তুমি কি সেই জনশূন্য প্রান্তরকে প্রশ্ন করোনি, যেন সে কথা বলে? *
এবং কবির এই উক্তি
(২):
* তুমি জানো না তোমার বিচ্ছেদে কী পরিমাণ অস্থিরতা রয়েছে, ফলে তুমি অস্থির হয়ে পড়ছ *
এই সমস্ত উদাহরণ মূল নিয়ম অনুযায়ী এসেছে। এখানে রাফা-র অর্থ নসব-এর অর্থের মতোই যদি তা নসব হতো... অর্থ স্পষ্ট হওয়ার ওপর নির্ভর করে উল্লিখিত স্থানগুলোতে নসব না করা আপনার জন্য বৈধ...।"
এর পাশাপাশি উহ্য এবং প্রকাশ্য 'আন' (أن) এর আমল রহিত হওয়ার নজিরও পাওয়া যায়। ইবনে হিশাম
(৩) প্রথম প্রকারের (উহ্য 'আন') উদাহরণ হিসেবে মহান আল্লাহর এই বাণীকে গণ্য করেছেন: {বলুন, তোমরা কি আমাকে আল্লাহ ছাড়া অন্যের ইবাদত করতে আদেশ করছ?} [আয-যুমার: ৬৪], এবং কবির বাণী:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١٥)
তানযীহুল ইমামিশ শাফিয়ী আন মাতাইনিল কাওসারী - জিমনা আসারুল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ২৯৪)
{وَمِنْ آيَاتِهِ يُرِيكُمُ الْبَرْقَ} [الروم: 24]. ومن الثاني قراءة ابن محيصن: {لِمَنْ أَرَادَ أَنْ يُتِمُّ الرَّضَاعَةَ} [البقرة: 233].
وفي "الهمع" (2/ 3): "قال الرؤاسي من الكوفيين: فصحاء العرب ينصبون بـ"أنْ" وأخواتها الفعلَ، ودونهم قوم يرفعون بها، ودونهم قوم يجزمون بها".
[ص 4] الثاني: أن المزني لم يسق عبارات الشافعي بنصها، فقد قال أول "المختصر"
(1): "اختصرت هذا الكتاب مِنْ عِلْم محمد بن إدريس الشافعي رحمه الله ومن معنى قوله؛ لأقرّبه على من أراده". وربما صرح بنسبة بعض ما ينقله عن الشافعي إلى بعض كتب الشافعي المطبوعة في "الأم" فإذا قابلنا العبارتين وجدناهما مختلفتين. فقول المعترض: "وقوله
… " يعني الشافعي جهل أو مجازفة.
الثالث: أن النساخ لم يزالوا من قديم الزمان يخطئون ويزيدون وينقصون؛ فنسبة عدم حذف النون إلى المزني يتوقّف على وجودها في النسخة التي بخطه
(2).
الرابع: قول المعترض: "يغسلا" لحن عند النحويين، والصواب "تغسلا"؛ لأن الأذن أنثى، وقد قالوا في قول الشاعر
(3):
--------------------------------------------
{আর তাঁর নিদর্শনাবলির মধ্যে একটি হলো যে, তিনি তোমাদের বিদ্যুৎ দেখান} [আর-রূম: ২৪]। আর দ্বিতীয় প্রকারের উদাহরণ ইবনে মুহাইসিনের পাঠ (কিরাত): {যে স্তন্যদানের সময়কাল পূর্ণ করতে চায়} [আল-বাকারা: ২৩৩]।
এবং 'আল-হামাউ' (২/ ৩) গ্রন্থে রয়েছে: "কুফাবাসীদের অন্তর্ভুক্ত আর-রুআসী বলেছেন: আরবের বিশুদ্ধভাষীরা 'আন' এবং তার সমগোত্রীয় অব্যয়গুলোর মাধ্যমে ক্রিয়াকে নসব (জবর) প্রদান করেন, তাদের নিম্নপর্যায়ের একদল এর মাধ্যমে রফ’ (পেশ) প্রদান করেন এবং তাদের চাইতেও নিম্নপর্যায়ের একদল এর মাধ্যমে জজম (সুকুন) প্রদান করেন।"
[পৃষ্ঠা ৪] দ্বিতীয়ত: আল-মুযানী ইমাম শাফিঈর বক্তব্যসমূহ হুবহু শব্দে উদ্ধৃত করেননি। তিনি 'আল-মুখতাসার' এর শুরুতে বলেছেন
(১): "আমি মুহাম্মদ ইবনে ইদরিস আশ-শাফিঈ (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন)-এর জ্ঞান এবং তাঁর বক্তব্যের মর্মার্থ থেকে এই গ্রন্থটি সংক্ষেপিত করেছি, যাতে তা অন্বেষণকারীর জন্য সহজবোধ্য হয়।" মাঝে মাঝে তিনি ইমাম শাফিঈ থেকে যা বর্ণনা করেন তা 'আল-উম্ম' গ্রন্থে মুদ্রিত ইমাম শাফিঈর কোনো কোনো কিতাবের দিকে সরাসরি সম্বন্ধ করেন। অথচ আমরা যখন উভয় বক্তব্য তুলনা করি, তখন সেগুলোকে ভিন্ন ভিন্ন পাই। সুতরাং প্রতিবাদকারীর কথা: "এবং তাঁর বক্তব্য…" অর্থাৎ শাফিঈর বক্তব্য—এটি অজ্ঞতা অথবা হঠকারিতা মাত্র।
তৃতীয়ত: প্রাচীনকাল থেকেই অনুলিপিকাররা (নাসিখরা) ভুল করে আসছেন এবং শব্দ বাড়িয়ে বা কমিয়ে লিখছেন; সুতরাং 'নুন' বিলুপ্ত না করার বিষয়টি আল-মুযানীর দিকে সম্বন্ধ করা তাঁর স্বহস্তে লিখিত মূল পাণ্ডুলিপিতে তা বিদ্যমান থাকার ওপর নির্ভরশীল
(২)।
চতুর্থত: প্রতিবাদকারীর বক্তব্য: "ইয়াগসিলা" ব্যাকরণবিদদের মতে ভাষাগত ভুল, আর সঠিক হলো "তাগসিলা"; কারণ কান (উযুন) শব্দটি স্ত্রীলিঙ্গ। কবি এর সপক্ষে বলেছেন
(৩):
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١٥)
তানযীহুল ইমামিশ শাফিয়ী আন মাতাইনিল কাওসারী - জিমনা আসারুল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ২৯৫)
* ولا أرضَ أبْقَلَ إبقالَها *
وقول الآخر
(1):
إن السماحة والشجاعة ضُمِّنا
… قبرًا بمرو على الطريق الواضح
إنه ضرورة شعرية مع تأويل الأرض بالمكان، والسماحة والشجاعة بالجود والبأس مثلًا، [ص 5] ولا ضرورة في النثر، ولا يسوغ التأويل بعد النص على التأنيث في قوله: "ليست" وكذلك مع التصريح بالتأنيث لا يتّجه الحمل على مذهب الكوفيين من جواز نحو: الشمسُ غَرَب.
فإن زعم أنها كذلك في "مختصر المزني": "فيغسلان" وأن المعترض لم يخف عليه ما ذكرنا لكنه سامَحَ في ذلك لاحتمال أن يكون التصحيف من النسّاخ.
قلنا: فكذلك إثبات النون على فرض أنه لحن.
ثم قال الأستاذ: "ولفظ الشافعي إثبات النون، وحَذْفها من تصرّف الطابع، وأمانته في العلم كأمانته
… ".
أقول: قوله: "ولفظ الشافعي" مجازفة كما مرّ. وقوله: "وحذفها من تصرف الطابع" مجازفة من وجهين:
الأول: أن الأستاذ لم يراجع الأصول القَلَمية المطبوع عنها وإلا لصرّح بذلك، وهبه راجعها فقد يكون إسقاط النون من تصرّف ناسخ المسودة ولم
--------------------------------------------
*আর কোনো ভূমি তার মতো উদ্ভিদ উৎপন্ন করেনি*
অন্য একজনের উক্তি
(১):
নিশ্চয়ই মহানুভবতা ও বীরত্বকে সমাহিত করা হয়েছে... মার্ভের এক কবরে, যা এক সুস্পষ্ট পথের ধারে অবস্থিত।
এটি কাব্যিক প্রয়োজনে করা হয়েছে, যেখানে 'ভূমি' শব্দটিকে 'স্থান' অর্থে ব্যাখ্যা করা হয়েছে এবং উদাহরণস্বরূপ 'মহানুভবতা' ও 'বীরত্ব' শব্দদ্বয়কে 'দানশীলতা' ও 'সাহসিকতা' অর্থে গ্রহণ করা হয়েছে, [পৃষ্ঠা ৫] আর গদ্যের ক্ষেত্রে এমন কোনো কাব্যিক বাধ্যবাধকতা নেই। এবং তাঁর উক্তি "সেটি নয়"-এর মধ্যে স্ত্রীলিঙ্গ ব্যবহারের সুস্পষ্ট বর্ণনা থাকার পর অন্য কোনো ব্যাখ্যার অবকাশ থাকে না। অনুরূপভাবে, যেখানে স্ত্রীলিঙ্গ হওয়ার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে, সেখানে কূফী ভাষাবিদদের মাযহাব অনুযায়ী "সূর্য অস্ত গিয়েছে" (যেখানে ক্রিয়াটি পুংলিঙ্গ) এমন ব্যবহারের সুযোগ নেই।
যদি দাবি করা হয় যে "মুখতাসার আল-মুযানী"-তে শব্দরূপটি "তারা উভয়ে ধৌত করবে" হিসেবেই রয়েছে, এবং আমরা যা উল্লেখ করেছি তা আপত্তিকারীর কাছে অজানা ছিল না, বরং তিনি পাণ্ডুলিপি লেখকদের অনবধানতাজনিত ভুলের সম্ভাবনার কারণে তা সহজভাবে গ্রহণ করেছেন—
আমরা বলবো: অনুরূপভাবে 'নুন' বর্ণটিকে বহাল রাখা হবে, যদিও ধরে নেওয়া হয় যে এটি ভাষাগত ভুল।
অতঃপর উস্তাদ বললেন: "ইমাম শাফিঈর মূল পাঠে 'নুন' বিদ্যমান ছিল, আর তা বিলোপ করাটা মুদ্রক বা প্রকাশকের হস্তক্ষেপের ফল; ইলমের ক্ষেত্রে তাঁর আমানতদারি তাঁর আমানতদারির মতোই..."।
আমি বলছি: তাঁর উক্তি "শাফিঈর শব্দ"—এটি একটি অতিরঞ্জন, যেমনটি ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। এবং তাঁর উক্তি "তা বিলোপ করা মুদ্রকের হস্তক্ষেপ"—এটি দুই দিক থেকে অতিরঞ্জন:
প্রথমত: উস্তাদ যে মূল পাণ্ডুলিপি থেকে এটি মুদ্রিত হয়েছে তা যাচাই করে দেখেননি, অন্যথায় তিনি তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতেন। আর যদি তর্কের খাতিরে ধরেও নেওয়া হয় যে তিনি তা দেখেছেন, তবুও এই 'নুন' বিলোপ করাটা খসড়া অনুলিপিকারীর কাজ হতে পারে এবং তিনি তা করেননি—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١٥)
তানযীহুল ইমামিশ শাফিয়ী আন মাতাইনিল কাওসারী - জিমনা আসারুল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ২৯৬)
يتضح ذلك عند المقابلة على الأصول، كما يقع مثل ذلك كثيرًا.
الوجه الثاني: أن الذي في خاتمة طبع "الأم" أن القائم بالتصحيح مصححو دار الطباعة: نصر
(1) بن محمد العادلي، ومحمد البلبيسي، ومحمود حسن زناتي. ولعل مع هؤلاء غيرهم. ولم يذكر لصاحب العزة أحمد بك الحسيني إلا أن الطبع على نفقته. ومع هذا كله فلم يزل المصححون للكتب ــ والأستاذ منهم ــ يصلحون ما يتبيّن لهم أنه خطأ في الإعراب، حملًا على أن ذلك من النسّاخ كما عُرِف من عادتهم حتى في كتاب الله عز وجل.
وجرت عادة المصحّحين في مصر على مثل ذلك الإصلاح بدون تنبيه في الحواشي على ما كان في الأصل أو بعض الأصول، ولو تُتُبِّعتْ [ص 6] الأصولُ القَلَمية التي طُبِعت عنها الكتب التي صَحّحها الأستاذ لوُجِد فيها من ذلك شيء كثير إن لم يوجد فيها ما يثبت المحذور حقًّا.
وأول ما نقله في "التأنيب" عن "تاريخ الخطيب" قوله ص 15: "رأى أبو حنيفة أنس بن مالك
… ". وكلمة "أبو حنيفة" ليست في التاريخ. ونقل ص 37 عبارة عن التاريخ حذف منها كلمة "بن محمد" وزاد كلمة "قال". ونقل ص 38 عن التاريخ عبارة فحذف منها كلمة "مؤمن". وليس مقصودي الاعتراض في هذه الأمثلة على الأستاذ؛ فإن هذه الأمور وأمثالها لا يسلم منها الإنسان، ولعله قد وقع لي أمثالها أو أشدّ منها!
على أنه قد وقع للأستاذ ما يمسّ الأمانة مسًّا واضحًا، ومرّ أمثلة من
--------------------------------------------
মূল পাণ্ডুলিপির সাথে তুলনা করলে এটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে, যেমনটি প্রায়শই ঘটে থাকে।
দ্বিতীয় দিকটি হলো: 'আল-উম্ম' গ্রন্থের মুদ্রণের শেষে যা উল্লেখ রয়েছে তা হলো—এর সংশোধনের দায়িত্ব পালন করেছেন ছাপাখানার সংশোধনকারীগণ: নাসর
(১) ইবনে মুহাম্মদ আল-আদিলি, মুহাম্মদ আল-বিলবিসি এবং মাহমুদ হাসান জানতি। সম্ভবত তাঁদের সাথে অন্য কেউও ছিলেন। আর মহামান্য আহমাদ বেগ আল-হুসাইনি সম্পর্কে কেবল এটুকুই উল্লেখ করা হয়েছে যে, মুদ্রণটি তাঁর অর্থায়নে হয়েছে। এতৎসত্ত্বেও গ্রন্থসমূহের সংশোধনকারীগণ—আর উস্তাদও তাঁদের অন্তর্ভুক্ত—ব্যাকরণগত যে ভুলগুলো তাঁদের সামনে স্পষ্ট হয় তা সংশোধন করে থাকেন। তাঁরা মনে করেন যে এগুলো অনুলিপিকারীদের ভুল, যেমনটি এমনকি মহান আল্লাহর কিতাবের (অনুলিপির) ক্ষেত্রেও তাঁদের অভ্যাস হিসেবে পরিচিত।
মিশরের সংশোধনকারীদের রীতি হলো মূল পাণ্ডুলিপিতে বা কোনো একটি পাণ্ডুলিপিতে যা ছিল সে সম্পর্কে টীকায় কোনো সতর্কতা প্রদান ছাড়াই এ জাতীয় সংশোধন করে যাওয়া। যদি সেই পাণ্ডুলিপিগুলো [পৃষ্ঠা ৬] অনুসন্ধান করা হতো যেখান থেকে উস্তাদ কর্তৃক সংশোধিত গ্রন্থগুলো মুদ্রিত হয়েছে, তবে সেখানে এ ধরনের প্রচুর বিষয় পাওয়া যেত, যদি না সেখানে আশঙ্কাজনক বিষয়টি প্রকৃতপক্ষে প্রমাণিত হতো।
তিনি 'আত-তানিবে' 'তারিখে খাতিব' থেকে প্রথম যা উদ্ধৃত করেছেন তা হলো ১৫ পৃষ্ঠায় তাঁর উক্তি: "আবু হানিফা আনাস ইবনে মালিককে দেখেছেন
..."। অথচ "আবু হানিফা" শব্দটি 'তারিখ'-এ নেই। তিনি ৩৭ পৃষ্ঠায় 'তারিখ' থেকে একটি বক্তব্য উদ্ধৃত করেছেন যেখান থেকে "ইবনে মুহাম্মদ" শব্দটি বাদ দিয়েছেন এবং "তিনি বলেছেন" শব্দটি যোগ করেছেন। তিনি ৩৮ পৃষ্ঠায় 'তারিখ' থেকে একটি বক্তব্য উদ্ধৃত করতে গিয়ে "মুমিন" শব্দটি বাদ দিয়েছেন। এসব উদাহরণের মাধ্যমে উস্তাদের ওপর আপত্তি তোলা আমার উদ্দেশ্য নয়; কারণ মানুষ এ জাতীয় ভুলত্রুটি থেকে মুক্ত নয়। হতে পারে আমার দ্বারাও এ ধরনের বা এর চেয়েও গুরুতর ভুল সংঘটিত হয়েছে!
তবে উস্তাদের পক্ষ থেকে এমন কিছু ঘটেছে যা আমানতদারিতাকে স্পষ্টভাবে ক্ষুণ্ণ করে, এবং এর কিছু উদাহরণ ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١٥)
তানযীহুল ইমামিশ শাফিয়ী আন মাতাইনিল কাওসারী - জিমনা আসারুল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ২৯৭)
ذلك في "الطليعة"
(1)، ومع ذلك كابر في "الترحيب"
(2) مكابرةً مكشوفة، كما ترى ذلك في مواضعه من هذا الكتاب
(3).
واغتياظ الأستاذ من السيد الحسيني لطبعه بعض كتب الشافعية يُنبئ عن هوًى مُطْبق وغلوٍّ مفرط.
وقد وقفتُ على "مُنية الألمعي" للعلامة قاسم بن قُطلوبغا الحنفي ومقدمة الأستاذ عليها، وتصفّحت ما فصَّله قاسم من الأغلاط الكثيرة التي كانت في نسخة الزيلعي، ومع ذلك أصلحها أحباب الكوثري في الطبع بدون تنبيه، فاعتذر الأستاذ في المقدمة بقوله: "وفي عداد تعقبات العلامة الحافظ قاسم أمور قد ينتبه إليها الفَطِن بنفسه لظهور أنها من قبيل سَبْق القلم، فيوجد بعض ما هو من هذا القبيل على الصحة في النسخة المطبوعة؛ لأن الانتباه إلى الصواب مِن فضل الله سبحانه؛ وفضل الله لا يكون وقفًا على أحد".
فترى الأستاذ يناقش طابع كتاب الشافعي في حرف واحد، ويعدّ فعله خيانة، أما تصرّف أحباب الكوثري الكثير
…(4) في كتاب الزيلعي بدون تنبيه فيعدّه من فضل الله عليهم. ولا ريب أن الأستاذ يرى فضل الله عز وجل عليه أعظم من فضله على أولئك المتقدمين بدرجات كثيرة، فكم نراه يتصرّف في الكتب التي يطبعها مستندًا إلى أن ذلك من فضل الله عز وجل عليه!
--------------------------------------------
এটি "আত-তালিআ"
(১) গ্রন্থে রয়েছে, তা সত্ত্বেও তিনি "আত-তারহিব"
(২) গ্রন্থে অত্যন্ত নগ্নভাবে সত্যকে অস্বীকার করার ধৃষ্টতা দেখিয়েছেন, যেমনটি আপনি এই কিতাবের বিভিন্ন স্থানে দেখতে পাবেন
(৩)।
শাফেয়ী মাযহাবের কিছু কিতাব প্রকাশের কারণে সাইয়্যেদ আল-হুসাইনীর প্রতি উস্তাদের (কাওসারী) এই চরম ক্ষোভ তাঁর অন্ধ প্রবৃত্তি এবং সীমাহীন বাড়াবাড়িরই বহিঃপ্রকাশ।
আমি আল্লামা কাসিম ইবনে কুতলুবুগা আল-হানাফীর ‘মুনিয়াতুল আলমায়ি’ এবং এর ওপর উস্তাদের লিখিত ভূমিকাটি পাঠ করেছি। যায়লায়ীর পাণ্ডুলিপিতে থাকা যে অসংখ্য ভুল কাসিম বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন, আমি সেগুলো পর্যালোচনা করেছি। তা সত্ত্বেও কাওসারীর অনুসারীরা ছাপানোর সময় কোনো প্রকার সতর্কবাণী ছাড়াই সেগুলো সংশোধন করে দিয়েছেন। উস্তাদ তাঁর ভূমিকায় এই বলে অজুহাত পেশ করেছেন যে: "আল্লামা হাফেয কাসিমের পর্যবেক্ষণগুলোর মধ্যে এমন কিছু বিষয় রয়েছে যা একজন তীক্ষ্ণধী ব্যক্তি নিজেই বুঝতে পারেন, কারণ এটি স্পষ্টতই লেখনীর অসতর্কতা মাত্র। ফলে মুদ্রিত কপিতে এই জাতীয় কিছু বিষয় সঠিক রূপেই পাওয়া যায়; কেননা সঠিক বিষয়টি অনুধাবন করতে পারা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার অনুগ্রহ, আর আল্লাহর অনুগ্রহ কারো জন্য একচেটিয়া বা নির্দিষ্ট নয়।"
এখানে আপনি দেখছেন যে, উস্তাদ শাফেয়ী কিতাবের প্রকাশকের সাথে মাত্র একটি বর্ণ নিয়ে বিতর্ক করছেন এবং তার কাজকে ‘খিয়ানত’ বা বিশ্বাসভঙ্গ বলে আখ্যা দিচ্ছেন। অথচ যায়লায়ীর কিতাবে কোনো প্রকার টীকা ছাড়াই কাওসারীর অনুসারীদের ব্যাপক রদবদলকে
…(৪) তিনি তাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ বলে গণ্য করছেন। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, উস্তাদ নিজের ওপর আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহকে সেই পূর্বসূরিদের তুলনায় বহুগুণ বেশি মনে করেন; কারণ আমরা দেখি যে, তিনি তাঁর প্রকাশিত কিতাবগুলোতে প্রায়ই যথেচ্ছ পরিবর্তন সাধন করেন এবং একে নিজের ওপর আল্লাহর অনুগ্রহ বলে অজুহাত দাঁড় করান!
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١٥)
তানযীহুল ইমামিশ শাফিয়ী আন মাতাইনিল কাওসারী - জিমনা আসারুল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ২৯৮)
قال الأستاذ
(1): "وقوله:
الواو للترتيب، والباء للتبعيض، مما لا يعرفه أحد من أئمة اللسان، بل الأولى للجمع مطلقًا، والثانية للإلصاق".
أقول: هذه مجازفة قبيحة، أما في الواو فمن وجهين:
الأول: زعم أن الشافعي قال: "الواو للترتيب" ولم يقل الشافعيُّ هذا قطّ ولا ما يؤدّي معناه. فأما إيجابه ترتيب الوضوء فهذه عبارته كما في "الأم"
(2): "قال الله عز وجل: {فَاغْسِلُوا وُجُوهَكُمْ وَأَيْدِيَكُمْ إِلَى الْمَرَافِقِ وَامْسَحُوا بِرُءُوسِكُمْ وَأَرْجُلَكُمْ إِلَى الْكَعْبَيْنِ} [المائدة: 6] قال: وتوضأ رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم كما أمره الله عز وجل، وبدأ بما بدأ الله تعالى به، قال: فأشبه ــ والله تعالى أعلم ــ أن يكون على المتوضئ شيئان: أن يبدأ بما بدأ الله ثم رسوله عليه الصلاة والسلام منه
… فمن بدأ بيده قبل وجهه [ص 7]
… كان عليه عندي أن يعيد
… وإنما قلت: يعيد، كما قلتُ وقال غيري في قول الله عز وجل: {إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللَّهِ} [البقرة: 158]، فبدأ رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم بالصفا وقال: "نبدأ بما بدأ الله به"
(3). ولم أعلم خلافًا أنه لو بدأ بالمروة ألغى طوافًا حتى يكون بدؤه بالصفا. وكما قلنا في الجمار: إن بدأ بالآخرة قبل الأولى أعاد حتى تكون بعدها، وإن بدأ بالطواف بالصفا والمروة قبل الطواف بالبيت أعاد، فكان الوضوء في هذا المعنى أوكد من بعضه عندي، والله أعلم".
--------------------------------------------
উস্তাদ
(১) বললেন: "তাঁর এই বক্তব্য:
ওয়াও অনুক্রমের জন্য, এবং বা আংশিকতার জন্য, এটি ভাষাবিদ ইমামগণের কারোরই জানা নেই; বরং প্রথমটি নিঃশর্ত সমাবেশের জন্য এবং দ্বিতীয়টি সংশ্লিষ্টতার জন্য।"
আমি বলছি: এটি একটি কদর্য অতিশয়োক্তি। ওয়াও-এর বিষয়টি দুটি দিক থেকে বিচার্য:
প্রথমত: তিনি দাবি করেছেন যে শাফি’ঈ বলেছেন: "ওয়াও অনুক্রমের জন্য", অথচ শাফি’ঈ কখনও এটি বলেননি এবং এমন কোনো কথা বলেননি যা এর অর্থ প্রকাশ করে। তবে অযুর অনুক্রম বজায় রাখা আবশ্যক হওয়ার ব্যাপারে 'আল-উম্ম'
(২) গ্রন্থে তাঁর বক্তব্য নিম্নরূপ: "আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেছেন: {তোমরা তোমাদের মুখমণ্ডল ধৌত করো এবং কনুই পর্যন্ত তোমাদের হাত ধৌত করো, আর তোমাদের মাথা মাসেহ করো এবং টাখনু পর্যন্ত তোমাদের পা ধৌত করো} [আল-মায়িদাহ: ৬]। তিনি (শাফি’ঈ) বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার নির্দেশ অনুযায়ী অযু করেছেন এবং আল্লাহ যা দিয়ে শুরু করেছেন তিনি তা দিয়েই শুরু করেছেন। তিনি আরও বলেন: আল্লাহ তা’আলাই ভালো জানেন—সম্ভবত অযুকারীর ওপর দুটি বিষয় আবশ্যক: আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল যা দিয়ে শুরু করেছেন তা দিয়ে শুরু করা
… সুতরাং যে ব্যক্তি মুখমণ্ডলের আগে হাত ধোয়া দিয়ে শুরু করল [পৃষ্ঠা ৭]
… আমার মতে তাকে পুনরায় অযু করতে হবে
… আমি পুনরায় করার কথা একারণেই বলেছি যেমনটি আমি এবং অন্যেরা আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার এই বাণীর ক্ষেত্রে বলেছি: {নিশ্চয়ই সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনাবলির অন্তর্ভুক্ত} [আল-বাকারা: ১৫৮]। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম সাফা থেকে শুরু করেছিলেন এবং বলেছিলেন: "আমরা তা দিয়ে শুরু করছি যা দিয়ে আল্লাহ শুরু করেছেন"
(৩)। আমার জানা মতে এমন কোনো মতভেদ নেই যে, যদি কেউ মারওয়া থেকে শুরু করে তবে তার সেই চক্করটি বাতিল বলে গণ্য হবে যতক্ষণ না সে সাফা থেকে শুরু করে। আর যেমনটি আমরা জামরাহ নিক্ষেপের ক্ষেত্রে বলেছি: যদি কেউ প্রথমটির আগে শেষটি দিয়ে শুরু করে তবে সে পুনরায় নিক্ষেপ করবে যতক্ষণ না তা পূর্ববর্তীর পরবর্তী হিসেবে সম্পন্ন হয়। আর যদি বায়তুল্লাহ তাওয়াফের আগে সাফা ও মারওয়ার সা’ঈ শুরু করে তবে সে তা পুনরায় করবে। সুতরাং অযু এই অর্থে আমার কাছে এগুলোর কোনো কোনোটির চেয়েও অধিক তাকিদপূর্ণ, আল্লাহই ভালো জানেন।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١٥)
তানযীহুল ইমামিশ শাফিয়ী আন মাতাইনিল কাওসারী - জিমনা আসারুল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ২৯৯)
فلم يزعم الشافعي أن الواو للترتيب ولكنه نظر إلى قاعدة التقديم والتأخير وإلى البيان الفعلي من النبي صلى الله عليه وآله وسلم مع
…(1) ظنية على ذلك، فقد تقرّر في علوم البلاغة أن تقديم ما لا يقتضي التركيب تقديمه يحتاج في الكلام البليغ إلى نكتة، والقرآن أبلغ الكلام، فتقديمه في آية الوضوء الوجهَ على ما عداه، واليدين على الباقي، والرأسَ على الرجلين لا بدّ له من نكتة.
ويرى الشافعي أنه إذا كان المجموع عبادة واحدة فأظهر النُّكت هي أنه ينبغي الترتيب كذلك، واحتج على هذا بحديث: "نبدأ بما بدأ الله به" ودلالته على ذلك ظاهرة، وعلى هذا فهذه هي النكتة الظاهرة في مثل هذا فلا يُعدَل عنها إلا بدليل.
الوجه الثاني: زَعْم المعترض أنه لا يعرف أحدٌ من أئمة اللسان أنَّ الواوَ للترتيب فيه مجازفة؛ فقد نُقِل القولُ بأنها للترتيب عن قُطْرب والربعي والفرّاء وثعلب وأبى عمر الزاهد
(2) وهشام. ذكر ذلك ابنُ هشام في "المغني"
(3) وذكر معهم الشافعي، فردّه الأمير بقوله "لا يكفي في [ص 8] هذه النسبة مجرّد قوله بالترتيب في الوضوء لأن له دليلًا آخر".
وأقول: يمتنع أن يخفى على الأئمة المذكورين ما جاء في الكلام البليغ وفي كلام الفصحاء مما يبطل أن تكون الواو للترتيب بمنزلة (الفاء وثم)، فيظهر أنهم إنما أرادوا أن الظاهر معها في الكلام البليغ هو الترتيب، ومرجع
--------------------------------------------
ইমাম শাফেঈ দাবি করেননি যে, ‘ওয়াও’ (و) বর্ণটি ক্রমিকতা (তারতীব) বোঝানোর জন্য ব্যবহৃত হয়; বরং তিনি অগ্রবর্তিতা ও পশ্চাদবর্তিতার (তাকদীম ও তা’খীর) নীতি এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম)-এর কর্মগত বর্ণনার প্রতি দৃষ্টি দিয়েছেন, যার সাথে
…(১) এর ওপর একটি ধারণাগত প্রমাণ বিদ্যমান। অলঙ্কারশাস্ত্রে (বালাগাত) এটি প্রতিষ্ঠিত যে, বাক্যের গঠনগত দিক থেকে কোনো কিছু আগে নিয়ে আসার প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও যদি তা আগে আনা হয়, তবে প্রাঞ্জল ও অলঙ্কৃত বাক্যে তার পেছনে কোনো সূক্ষ্ম রহস্য (নুকতাহ) থাকতে হয়। আর কুরআন হলো সর্বাধিক প্রাঞ্জল বাণী। সুতরাং ওযুর আয়াতে অন্য অঙ্গের আগে মুখমণ্ডলকে রাখা, অবশিষ্টাংশের আগে হাতদ্বয়কে রাখা এবং পদদ্বয়ের আগে মস্তককে উল্লেখ করার পেছনে অবশ্যই কোনো সূক্ষ্ম রহস্য রয়েছে।
ইমাম শাফেঈ মনে করেন যে, যখন পূর্ণ বিষয়টি একটি একক ইবাদত হয়, তখন সবচেয়ে সুস্পষ্ট রহস্যটি হলো—এটিও অনুরূপ ক্রমিকতা অনুযায়ী হওয়া উচিত। তিনি এর স্বপক্ষে এই হাদিসটি দিয়ে দলিল পেশ করেছেন: "আল্লাহ যা দিয়ে শুরু করেছেন, আমরাও তা দিয়েই শুরু করব।" এবং এই হাদিসটির নির্দেশনা এ বিষয়ে অত্যন্ত সুস্পষ্ট। অতএব, এই জাতীয় ক্ষেত্রে এটিই হলো প্রকাশ্য রহস্য, যা থেকে কোনো অকাট্য দলিল ব্যতীত বিচ্যুত হওয়া সমীচীন নয়।
দ্বিতীয় দিক: আপত্তিকারীর এই দাবি যে, ভাষাবিদ ইমামগণের কাউকেই এমন পাওয়া যায় না যারা ‘ওয়াও’ বর্ণটিকে ক্রমিকতার জন্য মনে করেন, তা মূলত একটি অতিশয়োক্তি। কেননা কুতরুব, রিবয়ী, ফাররা, ছা’লাব, আবু আমর আল-যাহিদ
(২) এবং হিশাম থেকে এটি বর্ণিত হয়েছে যে, তাঁরা একে ক্রমিকতার জন্য মনে করতেন। ইবনে হিশাম তাঁর ‘আল-মুগনী’ গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন এবং তাঁদের সাথে ইমাম শাফেঈর নামও উল্লেখ করেছেন। তবে আমীর (আস-সানআনী) তাঁর এ বক্তব্যটি খণ্ডন করে বলেছেন, "[পৃ. ৮] এই সম্পৃক্তকরণের ক্ষেত্রে ওযুতে ক্রমিকতার কথা বলাই যথেষ্ট নয়, কারণ তাঁর নিকট (ইমাম শাফেঈর নিকট) এর জন্য অন্য একটি দলিল রয়েছে।"
আমি বলব: এটি অসম্ভব যে, উল্লেখিত ইমামগণের নিকট প্রাঞ্জল বাক্যে ও বাগ্মীদের কথাবার্তায় আসা সেই বিষয়গুলো অজানা থাকবে যা ‘ওয়াও’ বর্ণটিকে ‘ফা’ (ف) ও ‘ছুম্মা’ (ثم)-র ন্যায় সরাসরি ক্রমিকতার অর্থ প্রদানকে বাতিল করে দেয়। তাই প্রতীয়মান হয় যে, তাঁরা মূলত এটাই বোঝাতে চেয়েছেন যে, প্রাঞ্জল বাক্যে এর (ওয়াও-এর) মাধ্যমে প্রকাশ্য অর্থটি ক্রমিকতাই হয়ে থাকে এবং এর ভিত্তি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١٥)
তানযীহুল ইমামিশ শাফিয়ী আন মাতাইনিল কাওসারী - জিমনা আসারুল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৩০০)
ذلك في التحقيق إلى قاعدة التقديم والتأخير كما مرّ إيضاحه، وعلى هذا فلا قائل بأنها للترتيب، ولا مُنكر من أئمة اللغة لقاعدة التقديم والتأخير. وبهذا يرتفع الخلاف البتة، والله الموفق.
وأما الباء فمن وجهين أيضًا:
الأول: زعم أن الشافعي قال: "الباء للتبعيض" ولم يقل الشافعي هذا، وهذه عبارته في "الأم" (1/ 22)
(1): "
… كان معقولًا في الآية أن مَن مسح مِن رأسه شيئًا فقد مسح برأسه، ولم تحتمل الآية إلا هذا، وهذا أظهر معانيها، أو مسح الرأس كله، ودلّت السنةُ على أنه ليس على المرء مسح الرأس كله
… ".
وهذا قد يأتي على كون الباء للإلصاق، فقد مثّل له أهلُ العربية بقولهم: "أمسكت بزيد". ولا يخفى أن معناه إلصاق اليد ببعض بدنه.
لكن انظر إلى ما زعَمَه بعض الحنفية: أن التقدير "وامسحوا أيديكم برؤوسكم"، ففيه نظر من جهات: منها أن تقدير "أيديكم" لا حجة عليه، فلماذا لا يكون المقدَّر عامًّا، فيصدق بمسح أيِّ شيء كان بالرأس، ومن ذلك طرف الإصبع، وبذلك يتحقَّق قول الشافعي.
ومنها: أن الباء في "مسحت ذا بكذا" باء الآلة كما لا يخفى، وهي تعطي أن الآلة غير مقصودة لذاتها وإنما المقصود غيرها، وذلك كقولك: مسحتُ يدي بالمنديل، [ص 9] فيلزم من ذلك أن يكون المقصود فيما لو كان التقدير: "وامسحوا أيديكم برؤوسكم"، هو تنشيف الأيدي؛ فعلى هذا يكون تنشيفها
--------------------------------------------
এটি গবেষণার বিচারে 'তাকদীম ও তা’খীর' (অগ্র-পশ্চাৎ বিন্যাস) এর মূলনীতির দিকে ফিরে যায়, যেমনটি ইতিপূর্বে স্পষ্ট করা হয়েছে। সেই অনুযায়ী, এটি (ওয়াও বর্ণটি) ক্রমানুসারের (তারতীব) জন্য—এমন দাবি কেউ করেননি, আর ভাষাবিদ ইমামগণের মধ্যে কেউ অগ্র-পশ্চাৎ বিন্যাসের মূলনীতিকেও অস্বীকার করেননি। এর মাধ্যমেই মতভেদ সম্পূর্ণরূপে নিরসন হয়ে যায়। আর আল্লাহই তাওফীকদাতা।
আর 'বা' বর্ণটি সম্পর্কেও দুটি দিক রয়েছে:
প্রথমত: ধারণা করা হয় যে ইমাম শাফিঈ বলেছেন: "'বা' বর্ণটি আংশিকতা (তাব'ঈয) বুঝাতে ব্যবহৃত হয়।" অথচ ইমাম শাফিঈ এমনটি বলেননি। "আল-উম্ম" (১/২২) গ্রন্থে তাঁর মূল বক্তব্যটি নিম্নরূপ
(১): "
… আয়াতের অর্থ থেকে এটিই বোধগম্য হয় যে, যে ব্যক্তি তার মাথার কিছু অংশ মাসাহ করল, সে অবশ্যই তার মাথা মাসাহ করল। আয়াতটি এই অর্থ ছাড়া অন্য কোনো অর্থ ধারণ করে না, আর এটিই এর সবচেয়ে স্পষ্ট অর্থ; অথবা পুরো মাথা মাসাহ করা (উদ্দেশ্য হতে পারে), তবে সুন্নাহ প্রমাণ করেছে যে ব্যক্তির জন্য পুরো মাথা মাসাহ করা আবশ্যক নয়
… "।
আর এটি 'বা' বর্ণটি সংস্পর্শ (ইলতিসাক) বুঝানোর ভিত্তিতেও হতে পারে। কেননা ভাষাবিদগণ এর উদাহরণ দিতে গিয়ে বলেন: "আমি যায়েদকে ধরলাম"। এটি স্পষ্ট যে, এর অর্থ হলো শরীরের কোনো এক অংশের সাথে হাতের সংস্পর্শ ঘটানো।
কিন্তু কিছু হানাফী আলিম যে দাবি করেছেন তা লক্ষ্য করুন: তাদের মতে বাক্যটির উহ্য রূপ হলো "তোমরা তোমাদের হাত দ্বারা তোমাদের মাথা মাসাহ করো"। এই বক্তব্যে কয়েক দিক থেকে আপত্তির অবকাশ রয়েছে: তার মধ্যে একটি হলো— "তোমাদের হাত" অংশটি উহ্য ধরার সপক্ষে কোনো দলিল নেই। তাহলে উহ্য অংশটি কেন সাধারণ বা ব্যাপক হবে না? যাতে মাথার সাথে যে কোনো কিছুর স্পর্শেই মাসাহ শুদ্ধ হয়ে যায়, যার অন্তর্ভুক্ত হলো আঙুলের অগ্রভাগও। আর এর মাধ্যমেই ইমাম শাফিঈর বক্তব্যটি সার্থকতা পায়।
আরেকটি দিক হলো: "আমি এটি দিয়ে ওটি মুছলাম" বাক্যে 'বা' বর্ণটি মাধ্যম (আলাহ) বুঝানোর জন্য ব্যবহৃত হয়, যা সবারই জানা। এটি নির্দেশ করে যে, মাধ্যমটি স্বয়ং উদ্দেশ্য নয়, বরং অন্য কিছু উদ্দেশ্য। যেমন আপনার উক্তি: "আমি রুমাল দিয়ে আমার হাত মুছলাম"। [পৃষ্ঠা ৯] ফলে যদি উহ্য বাক্যটি এমন হয়: "তোমরা তোমাদের হাত দিয়ে তোমাদের মাথা মোছো", তবে এর অনিবার্য অর্থ দাঁড়াবে যে এখানে হাত শুকানোই মূল উদ্দেশ্য; এমতাবস্থায় হাত শুকানো হবে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١٥)
তানযীহুল ইমামিশ শাফিয়ী আন মাতাইনিল কাওসারী - জিমনা আসারুল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৩০১)
بعد غسلها فرضًا. غايةُ الأمر أن النصّ على الآلة الخاصة وهي الرأس يدلّ على تعيّنها فيدل أنها مقصودة أيضًا، وهذا لا ينفعهم؛ لأن الفرض حينئذٍ يكون هو تنشيف اليد بالرأس، فلا بد من تحقق ما يحصل به تنشيف اليد بالرأس. ثم إذا أمكن تنشيفها بقدر إصبع من الرأس كفى، كما لو نشّف يده بقَدْر إصبع من المنديل، بأن يمرّ بعض اليد على ذاك القدر ثم بعض آخر وهكذا.
وقد اضطرب الحنفيةُ في تطبيق مذهبهم على الآية اضطرابًا شديدًا راجع "روح المعاني" (2/ 257 - 258).
الوجه الثاني: قول المعترض: إن القول بأن الباء قد تجيء للتبعيض لا يعرفه أحدٌ من أئمة العربية؛ مردود فقد قال ابن هشام في "المغني"
(1): "أثبت ذلك الأصمعي والفارسي والقتبي وابن مالك، قيل: والكوفيون".
فتدبّر ما تقدّم ثمّ فكِّر في سير هؤلاء القوم في الطعن في فصاحة الشافعي تجده من جهةٍ أحثّ سير وأنصبه وأتعبه، ومن جهةٍ أخرى كالإنسان الذي يقف في مكان لا يجاوزه ولكن يرفع رجليه ويضعهما كهيئة الماشي بأقصى ما يمكنه من السرعة، فينصب نفسَه
(2) أشدّ النصب وهو لم يقطع من الأرض مقدار أصبع واحد!
وقدِّر ما يصيب هذا
(3) الخائب من الحسرة إذا كان يتوهَّم أنه يسير ويقطع الأرض ينضو إلى مطلوبه، ثمّ لمّا بلغ به الإعياء كلّ مبلغ وخارت
--------------------------------------------
এটি ফরয হিসেবে ধৌত করার পর। সারকথা হলো এই যে, নির্দিষ্ট মাধ্যম অর্থাৎ মাথার কথা উল্লেখ করা এর আবশ্যকতাকে নির্দেশ করে, যা প্রমাণ করে যে এটিও উদ্দেশ্য; কিন্তু এটি তাদের কোনো উপকারে আসে না। কারণ তখন ফরয হবে মাথার মাধ্যমে হাত শুকানো, তাই মাথার মাধ্যমে হাত শুকানোর বিষয়টি অর্জিত হওয়া আবশ্যক। অতঃপর যদি মাথার এক আঙুল পরিমাণ স্থান দ্বারা হাত শুকানো সম্ভব হয় তবে তা যথেষ্ট হবে, যেমন কেউ রুমালের এক আঙুল পরিমাণ স্থান দিয়ে তার হাত শুকাল—এভাবে যে, হাতের কিছু অংশ সেই স্থানের ওপর দিয়ে ঘষল এবং অবশিষ্ট অংশও একইভাবে ঘষল।
আর হানাফীগণ এই আয়াতের ওপর তাদের মাযহাব প্রয়োগ করতে গিয়ে প্রচণ্ড বিচলিত হয়েছেন; দেখুন: ‘রূহুল মাআনী’ (২/ ২৫৭-২৫৮)।
দ্বিতীয় দিক: বিরোধিতাকারীর এই উক্তি যে—'বা' বর্ণটি আংশিকতা (তাবয়িয) অর্থে ব্যবহৃত হওয়ার বিষয়টি আরবি ভাষার কোনো ইমাম জানেন না—তা প্রত্যাখ্যাত। কারণ ইবনে হিশাম ‘আল-মুগনী’তে
(১) বলেছেন: "আসমাঈ, ফারিসী, কুতুবী এবং ইবনে মালিক এটি সাব্যস্ত করেছেন; বলা হয়েছে: কুফীগণও (এটি স্বীকার করেন)।"
সুতরাং যা অতিক্রান্ত হয়েছে তা নিয়ে চিন্তা করুন, অতঃপর ইমাম শাফেঈর ভাষাশৈলী ও সাবলীলতার ওপর এই সম্প্রদায়ের অপবাদ আরোপের প্রচেষ্টার কথা ভাবুন। আপনি দেখতে পাবেন যে, একদিকে তারা অত্যন্ত দ্রুতবেগে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করে নিজেকে পরিশ্রান্ত ও ক্লান্ত করছে, আবার অন্যদিকে তারা সেই ব্যক্তির মতো যে একই স্থানে দাঁড়িয়ে সামনে না বেড়ে কেবল পা নাড়াচ্ছে—অর্থাৎ হাঁটার ভঙ্গিতে অত্যন্ত দ্রুততার সাথে পা উঠাচ্ছে ও নামাচ্ছে। সে নিজেকে কঠোর পরিশ্রমে
(২) নিক্ষেপ করছে অথচ জমিনের এক আঙুল পরিমাণ জায়গাও অতিক্রম করতে পারছে না!
আর এই
(৩) ব্যর্থ ব্যক্তি কী পরিমাণ আফসোস ও অনুশোচনায় দগ্ধ হবে তা ধারণা করুন, যখন সে কল্পনা করে যে সে পথ চলছে এবং ভূমি অতিক্রম করে তার গন্তব্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু যখন ক্লান্তি তাকে পুরোপুরি আচ্ছন্ন করে ফেলে এবং সে নিস্তেজ হয়ে পড়ে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١٥)
তানযীহুল ইমামিশ শাফিয়ী আন মাতাইনিল কাওসারী - জিমনা আসারুল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৩০২)
قواه وسقط على الأرض سُئل عن حاله وتبيّن له أنه لم يقطع من الأرض مقدار أصبع! ! ثم انظر ألا يكون هذا أوضح حجة على فصاحة الشافعي؟
والعلماء يعرفون أن في لغة العرب اتساعًا تضيق عنه قواعد النحو أو تكاد، حتى إن في القرآن مواضع يصعب تطبيقها على تلك القواعد، كقوله تعالى: {وَالْمُقِيمِينَ الصَّلَاةَ وَالْمُؤْتُونَ الزَّكَاةَ} [النساء: 162]، وقوله: {إِنْ هَذَانِ لَسَاحِرَانِ} [طه: 63]، وقوله: {وَقِيلِهِ يَارَبِّ} [الزخرف: 88]، وقوله: {إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَالَّذِينَ هَادُوا وَالصَّابِئُونَ} [المائدة: 69]، وقوله: {وَالْمُوفُونَ بِعَهْدِهِمْ إِذَا عَاهَدُوا وَالصَّابِرِينَ} [البقرة: 177] وغير هذا، حتى ألَّف بعض أهل العلم في مشكل إعراب القرآن خاصة. ولولا العلم اليقيني بأنه يستحيل أن يكون في القرآن لحن لَجَزم كثير من المتقيّدين بقواعد النّحاة بأن كثيرًا من تلك المواضع لحن.
بل قد روي عن بعض المتقدمين أنه زعم أن الكاتب أخطأ! وأُجيب عن ذلك بما هو معروف
(1). ومما يُجاب به عن ذلك: أن القائل بأنه خطأ غَفَل عن تقدير معنويّ يصحّ به ذلك اللفظ، أو جَهِل لغة قبيلة من العرب غير قبيلته، ثم ظن أن القائل له: "هي في المصحف كذا" إنما عنى مصحفًا خاصًّا لا المصحف الإمام، أو لم يكن قد بلغه العناية التي قِيمَ بها في المصحف الإمام. ولا مانع أن يخفى التواتر عن رجل، كما يقال: إنه خفي على ابن مسعود في شأن المعوّذتين
(2).
--------------------------------------------
তার শক্তি নিঃশেষ হয়ে গেল এবং তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন। তাকে তার অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তার কাছে স্পষ্ট হলো যে, তিনি ভূখণ্ডের এক আঙুল পরিমাণ জায়গাও অতিক্রম করতে পারেননি!! অতঃপর দেখুন, এটি কি ইমাম শাফিঈর বাগ্মিতার সপক্ষে সবচেয়ে স্পষ্ট প্রমাণ নয়?
আলেমগণ জানেন যে আরবী ভাষায় এমন প্রশস্ততা রয়েছে যার সামনে ব্যাকরণের নিয়মাবলী সংকীর্ণ হয়ে পড়ে বা হওয়ার উপক্রম হয়। এমনকি কুরআনেও এমন কিছু স্থান রয়েছে যেখানে এই নিয়মগুলো প্রয়োগ করা কঠিন হয়ে পড়ে। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "এবং যারা সালাত কায়েমকারী এবং যারা যাকাত প্রদানকারী" [নিসা: ১৬২], এবং তাঁর বাণী: "নিশ্চয় এই দু'জন জাদুকর" [ত্বহা: ৬৩], এবং তাঁর বাণী: "এবং তাঁর এই উক্তি—হে আমার প্রতিপালক!" [যুখরুফ: ৮৮], এবং তাঁর বাণী: "নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে এবং যারা ইয়াহুদী হয়েছে ও সাবেয়ীরা" [মায়িদা: ৬৯], এবং তাঁর বাণী: "এবং যারা অঙ্গীকার করলে তা পূর্ণ করে এবং যারা বিপদে ধৈর্যশীল" [বাকারা: ১৭৭] এবং এ জাতীয় আরও উদাহরণ। এমনকি কোনো কোনো আলেম বিশেষভাবে কুরআনের জটিল ই'রাব (বাক্য বিশ্লেষণ) বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন। আর যদি এই দৃঢ় জ্ঞান না থাকত যে কুরআনে কোনো ভুল থাকা অসম্ভব, তবে ব্যাকরণবিদদের নিয়মের অনুসারী অনেকের নিকটেই এটি নিশ্চিত মনে হতো যে, ওই সকল স্থানের অনেকগুলোই ব্যাকরণগত ভুল।
বরং পূর্ববর্তীদের কারও কারও থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি দাবি করেছিলেন যে লেখক ভুল করেছেন! তবে এর উত্তর সেই পরিচিত পন্থায় দেওয়া হয়েছে। সেই উত্তরগুলোর মধ্যে একটি হলো: যিনি একে ভুল বলেছেন তিনি এমন কোনো অর্থগত উহ্য বিষয় সম্পর্কে গাফেল ছিলেন যার মাধ্যমে ওই শব্দটি সঠিক সাব্যস্ত হয়, অথবা তিনি নিজের গোত্র ব্যতীত আরবদের অন্য কোনো গোত্রের ভাষা সম্পর্কে অনবহিত ছিলেন। অতঃপর তিনি মনে করেছেন যে, যে তাকে বলেছে—"মাসহাফে এটি এভাবেই আছে"—সে মূলত কোনো বিশেষ পাণ্ডুলিপির কথা বুঝিয়েছেন, 'আল-মাসহাফুল ইমাম' (মূল প্রামাণ্য কপি) বুঝাননি। অথবা 'আল-মাসহাফুল ইমাম' সংরক্ষণে যে অসীম যত্ন নেওয়া হয়েছে সে সম্পর্কে তিনি অবগত ছিলেন না। আর কোনো ব্যক্তির কাছে কোনো 'মুতাওয়াতির' (অবিচ্ছিন্নভাবে প্রমাণিত) বিষয় গোপন থাকা অসম্ভব কিছু নয়, যেমনটি বলা হয় যে—ইবনে মাসউদের নিকট 'মুআউবিযাতাইন' (শেষ দুই সূরা) সংক্রান্ত বিষয়টি অস্পষ্ট ছিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١٥)
তানযীহুল ইমামিশ শাফিয়ী আন মাতাইনিল কাওসারী - জিমনা আসারুল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৩০৩)
والمقصود هنا أن في القرآن مواضع كثيرة تشكل فصاحتها على كثير من الناس، فما الظنّ بعربيّ فصيح نُقِل عنه كلام كثير جدًّا؟! فإذا تدبّرت هذا ثم تدبّرت ما تقدّم وأنعمتَ النظر اتضح لك حالُ الشافعي في فصاحته.
ثم اسمع الآن بعض الثناء عليه بالفصاحة، فمما ذكره الحافظ ابن حجر في "توالي التأسيس"
(1) ــ ومن عادته أن لا يجزم إلا بما كان ثابتًا ــ: "قال زكريّا الساجي: حدثنا جعفر بن أحمد قال: قال أحمد بن حنبل: كلام الشافعي في اللغة حُجّة".
"قال داود بن عليّ إمام أهل الظاهر في "مناقب الشافعي" له: قال لي إسحاق بن راهويه: ذهبت أنا وأحمد بن حنبل إلى الشافعي بمكة فسألته عن أشياء، فوجدته فصيحًا حسن الأدب، فلما فارقناه أعلمني جماعة من أهل الفهم بالقرآن أنه كان أعلم الناس في زمانه بمعاني القرآن، وأنه قد أوتي فيه فهمًا
… "
(2).
[ص 10] "وقال ابن أبي حاتم عن الربيع قال: قال ابن هشام (صاحب السيرة وهو من أهل العلم بالعربية): الشافعي ممن يؤخذ عنه اللغة. قال ابن أبي حاتم: وحُدِّثتُ عن أبي عبيد القاسم بن سلام نحوه. وقال أيضًا: سمعت الربيع يقول: كان الشافعي عربي النفس واللسان. قال: وكتب إليَّ عبد الله بن أحمد قال: قال أبي: كان الشافعي من أفصح الناس. وقال الساجي: سمعت
--------------------------------------------
উদ্দেশ্য হলো, কুরআনের এমন অনেক স্থান রয়েছে যার সাবলীলতা বা অলঙ্কার অনেক মানুষের কাছে দুর্বোধ্য মনে হয়। তাহলে একজন বিশুদ্ধভাষী আরব সম্পর্কে কী ধারণা করা যেতে পারে, যাঁর থেকে প্রচুর পরিমাণে কথা বর্ণিত হয়েছে?! আপনি যদি বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করেন এবং পূর্বোক্ত বিষয়গুলো গভীরভাবে অনুধাবন করেন, তবে ইমাম শাফিঈর ভাষাগত দক্ষতার স্বরূপ আপনার কাছে স্পষ্ট হয়ে উঠবে।
এখন তাঁর বাগ্মিতা ও ভাষাজ্ঞান সম্পর্কে কিছু প্রশংসা শুনুন। হাফিজ ইবনে হাজার 'তাওয়ালি আত-তাসিস'
(১) গ্রন্থে যা উল্লেখ করেছেন—আর এটি তাঁর রীতি যে, তিনি প্রমাণিত বিষয় ছাড়া কোনো বিষয়ে সুনিশ্চিত মত দেন না—: "যাকারিয়া আস-সাজি বলেন: জা’ফর ইবনে আহমাদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আহমাদ ইবনে হাম্বল বলেছেন: ভাষাজ্ঞানের ক্ষেত্রে শাফিঈর কথা হলো হুজ্জাত (প্রমাণ)।"
"আহলে যাহিরদের ইমাম দাউদ ইবনে আলী তাঁর রচিত 'মানাকিব আশ-শাফিঈ' গ্রন্থে বলেছেন: ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহি আমাকে বলেছেন: আমি এবং আহমাদ ইবনে হাম্বল মক্কায় ইমাম শাফিঈর নিকট গেলাম এবং তাঁকে বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলাম। আমি তাঁকে অত্যন্ত প্রাঞ্জলভাষী ও শিষ্টাচারসম্পন্ন হিসেবে পেলাম। যখন আমরা তাঁর কাছ থেকে বিদায় নিলাম, তখন কুরআন সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান রাখেন এমন একদল লোক আমাকে জানালেন যে, তিনি তাঁর যুগে কুরআনের মর্মার্থ সম্পর্কে মানুষের মাঝে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী ছিলেন এবং তাঁকে এ বিষয়ে প্রখর অনুধাবন শক্তি দান করা হয়েছিল
… "
(২).
[পৃষ্ঠা ১০] "ইবনে আবি হাতিম রবী’ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: ইবনে হিশাম (যিনি সিরাতগ্রন্থের রচয়িতা এবং আরবি ভাষায় পাণ্ডিত্যের অধিকারী ছিলেন) বলেছেন: শাফিঈ সেই সব ব্যক্তিদের একজন, যাঁর কাছ থেকে আরবী ভাষা গ্রহণ করা যায়। ইবনে আবি হাতিম বলেন: আবু উবাইদ আল-কাসিম ইবনে সাল্লাম থেকেও আমার কাছে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তিনি আরও বলেন: আমি রবী’কে বলতে শুনেছি: শাফিঈ মানসিকতা ও ভাষার দিক থেকে খাঁটি আরব ছিলেন। তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ আমার নিকট লিখেছেন যে, তাঁর পিতা (ইমাম আহমাদ) বলেছেন: শাফিঈ ছিলেন মানুষের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ বাগ্মী। আস-সাজি বলেন: আমি শুনেছি..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١٥)
তানযীহুল ইমামিশ শাফিয়ী আন মাতাইনিল কাওসারী - জিমনা আসারুল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৩০৪)
جعفر بن محمد الخوارزمي يحدِّث عن أبي عثمان المازني عن الأصمعي قال: قرأتُ شِعر الشَّنْفَرى على الشافعي بمكة. وقال ابن أبي الدنيا: حدثنا عبد الرحمن بن أخي الأصمعي: قلنا لعمّي: على مَن قرأت شعرَ هذيل؟ قال: على رجل من آل المطلب يقال له: محمد بن إدريس"
(1).
"وقال أبو عبد الله محمد بن إبراهيم البوشنجي: تصفحنا أخبار الناس فلم نجد بعد الصدر الأول من هذه الأمة أوضح شأنًا، ولا أبين بيانًا، ولا أفصح لسانًا من الشافعي، مع قرابته من رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم"
(2).
"وقال الحاكم: سمعت محمد بن عبد الله الفقيه: سألت أبا عمر غلام ثعلب عن حروف أُخِذَت على الشافعي، مثل قوله: "ماء مالح". ومثل قول: "انبغى أن يكون كذا وكذا"؟ فقال لي: كلام الشافعي صحيح. وقد سمعت أبا العباس ثعلبًا يقول: يأخذون على الشافعي، وهو من بيت اللغة يجب أن يؤخذ عنه"
(3).
"وقال الآبري: أخبرنا أبو نعيم الإستراباذي: سمعت الربيع بن سليمان يقول مرارًا: لو رأيتَ الشافعيّ وحسن بيانه وفصاحته لعجبت منه، ولو أنه ألَّف هذه الكتب على عربيّته التي كان يتكلّم بها معنا في المناظرة لم يُقْدَر على قراءة كتبه لفصاحته وغرائب ألفاظه، غير أنه كان في تأليفه يجتهد أن يوضّح للعوام"
(4).
--------------------------------------------
জাফর ইবনে মুহাম্মদ আল-খাওয়ারিজমি আবু উসমান আল-মাজিনি থেকে এবং তিনি আসমায়ি থেকে বর্ণনা করেন, আসমায়ি বলেন: "আমি মক্কায় শাফিয়ির নিকট শানফারার কবিতা পাঠ করেছি।" ইবনে আবিদ দুনিয়া বলেন: আসমায়ির ভ্রাতুষ্পুত্র আবদুর রহমান আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমরা আমার চাচাকে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনি কার কাছে হুযাইল গোত্রের কবিতা পাঠ করেছেন? তিনি বললেন: আল-মুত্তালিব বংশের এক ব্যক্তির কাছে, যাঁকে মুহাম্মদ ইবনে ইদ্রিস বলা হয়।"
(১).
"আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম আল-বুশানজি বলেন: আমরা মানুষের ইতিহাস পর্যালোচনা করেছি, কিন্তু এই উম্মতের প্রথম প্রজন্মের পর শাফিয়ির চেয়ে অধিক স্পষ্ট মর্যাদা সম্পন্ন, অধিক প্রাঞ্জল বর্ণনাকারী এবং অধিক বিশুদ্ধভাষী আর কাউকে খুঁজে পাইনি; পাশাপাশি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের সাথে তাঁর আত্মীয়তার সম্পর্ক তো রয়েছেই।"
(২).
"হাকিম বলেন: আমি মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ আল-ফকিহকে বলতে শুনেছি যে, তিনি আবু উমর গোলাম সালাবকে শাফিয়ির ভাষার এমন কিছু শব্দ নিয়ে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যা নিয়ে আপত্তি তোলা হয়েছিল, যেমন তাঁর উক্তি: 'লবণাক্ত পানি' (মাউন মালিহ) এবং 'এমন হওয়া বাঞ্ছনীয়' (ইনবাগা আন ইয়াকুনা) শব্দদ্বয়ের ব্যবহার। তিনি আমাকে বললেন: শাফিয়ির ভাষা নির্ভুল। আমি আবু আব্বাস সালাবকে বলতে শুনেছি: তারা শাফিয়ির ভাষার সমালোচনা করে, অথচ তিনি তো ভাষার আদি উৎস ও ঘরের লোক, বরং তাঁর থেকেই ভাষা গ্রহণ করা উচিত।"
(৩).
"আবিরি বলেন: আবু নুয়াইম আল-ইস্তারাবাজি আমাদের জানিয়েছেন যে, তিনি রাবি ইবনে সুলাইমানকে বারবার বলতে শুনেছেন: আপনি যদি শাফিয়িকে এবং তাঁর বর্ণনার সৌন্দর্য ও বিশুদ্ধতা দেখতেন তবে বিস্মিত হতেন। তিনি বিতর্কের সময় আমাদের সাথে যে উচ্চাঙ্গের আরবি ভাষায় কথা বলতেন, যদি সেই ভাষায় এই কিতাবগুলো রচনা করতেন, তবে তাঁর ভাষার অতি উচ্চমান ও শব্দের দুর্লভতার কারণে তা পাঠ করা সম্ভব হতো না। তবে তিনি তাঁর রচনায় সাধারণ মানুষের কাছে বিষয়টি সহজবোধ্য করার চেষ্টা করতেন।"
(৪).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١٥)
তানযীহুল ইমামিশ শাফিয়ী আন মাতাইনিল কাওসারী - জিমনা আসারুল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৩০৫)
[ص 11]
فصل[زَعْم الكوثري: تتلمذ الشافعي على محمد بن الحسن]يحاول الأستاذ أن يثبت أن الشافعي تلميذ محمد بن الحسن، ولا أرى حاجة إلى الكلام معه في كلِّ عبارة، ولكني ألخص هذا البحث فأقول:
ثبت بالروايات الجيّدة أن الشافعي شرع في طلب العلم وسِنّه نحو عشر سنين، وذلك نحو سنة 160، فأخذ عن علماء مكة والمدينة، وخرج مرة أو أكثر إلى اليمن، وأقام بالبادية مدّة، وكان فيمن أخذ عنه من الفقهاء بمكة مَن كان على طريقة أهل العراق كسعيد بن سالم القدّاح. وكان الشافعيّ يبحث مع مَن يقدم مكة من علماء الآفاق. وفي "توالي التأسيس" (ص 58)
(1): "قال زكريا الساجي: حدثنا الزعفراني قال: حجّ بشر المريسي [الحنفي] سنة إلى مكة، ثم قدِم فقال: لقد رأيت بالحجاز رجلًا ما رأيت مثله سائلًا ولا مجيبًا ــ يعني الشافعي ــ. قال: فقدِم الشافعيُّ علينا بعد ذلك فاجتمع إليه الناس، فجئت إلى بِشر فسألته فقال: إنه قد تغيّر عما كان عليه
… ".
وفيها (ص 56)
(2) "وأخرج الآبري من طريق الزعفراني قال: كنا نحضر مجلس بشر المريسي فكنّا لا نقدر على مناظرته، فقدم الشافعي فأعطانا كتاب الشاهد واليمين، فدرسته في ليلتين، ثم تقدّمت إلى حَلْقة بشرٍ فناظرته فيه فقطعته، فقال: ليس هذا من كيسك، هذا من كلام رجل رأيته بمكة معه نصف عقل أهل الدنيا".
--------------------------------------------
[পৃষ্ঠা ১১]
পরিচ্ছেদ[কাওসারীর দাবি: শাফেয়ী মুহাম্মাদ ইবনুল হাসানের ছাত্র ছিলেন]উস্তাদ (কাওসারী) প্রমাণ করার চেষ্টা করছেন যে, শাফেয়ী মুহাম্মাদ ইবনুল হাসানের ছাত্র ছিলেন। আমি তাঁর প্রতিটি বাক্যের ওপর আলোচনার প্রয়োজন মনে করি না, তবে আমি এই গবেষণার সারসংক্ষেপ তুলে ধরে বলছি:
নির্ভরযোগ্য বর্ণনা দ্বারা প্রমাণিত যে, শাফেয়ী যখন ইলম অর্জন শুরু করেন তখন তাঁর বয়স ছিল দশ বছরের কাছাকাছি, আর সেটি ছিল আনুমানিক ১৬০ হিজরি সনের দিকে। তিনি মক্কা ও মদীনার আলেমদের কাছ থেকে জ্ঞান অর্জন করেন এবং একবার বা একাধিকবার ইয়ামেনে যান। তিনি মরু অঞ্চলেও (বদিয়া) কিছুকাল অবস্থান করেছিলেন। মক্কায় তিনি যেসব ফকীহদের থেকে ইলম অর্জন করেছিলেন, তাঁদের মধ্যে এমনও কেউ ছিলেন যারা ইরাকীদের পদ্ধতিতে চলতেন, যেমন সাঈদ ইবনে সালিম আল-কাদদাহ। শাফেয়ী মক্কায় আগত দেশ-বিদেশের আলেমদের সাথে জ্ঞানতাত্ত্বিক আলোচনা ও বিতর্ক করতেন। "তাওয়ালিত তাসীস" (পৃষ্ঠা ৫৮) গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে
(১): "যাকারিয়া আস-সাজী বলেন: আমাদের কাছে জাফরানী বর্ণনা করেছেন যে, বিশর আল-মারীসী [হানাফী] এক বছর হজ্জের জন্য মক্কায় আসেন। ফিরে এসে তিনি বললেন: আমি হিজাজে এমন এক ব্যক্তিকে দেখেছি, যার মতো প্রশ্নকারী এবং উত্তরদানকারী আমি আর কাউকে দেখিনি—অর্থাৎ শাফেয়ী। জাফরানী বলেন: এরপর শাফেয়ী আমাদের কাছে (বাগদাদে) আসলেন এবং তাঁর কাছে মানুষজন সমবেত হতে লাগল। আমি বিশরের কাছে গিয়ে তাঁকে শাফেয়ী সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন: তিনি আগে যেমন ছিলেন এখন তাঁর মধ্যে পরিবর্তন এসেছে..."।
উক্ত কিতাবেরই (পৃষ্ঠা ৫৬)
(২) সূত্রে বর্ণিত: "আল-আবরী জাফরানীর সূত্রে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: আমরা বিশর আল-মারীসীর মজলিসে উপস্থিত হতাম কিন্তু তাঁর সাথে বিতর্কে পেরে উঠতাম না। এরপর শাফেয়ী আসলেন এবং আমাদের 'কিতাবুস শাহেদ ওয়াল ইয়ামীন' প্রদান করলেন। আমি দুই রাতে সেটি অধ্যয়ন করলাম। অতঃপর বিশরের মজলিসে গিয়ে তাঁর সাথে ওই বিষয়ে বিতর্ক করলাম এবং তাঁকে পরাস্ত করলাম। তখন বিশর বললেন: এটি তোমার নিজের কথা নয়; এটি সেই ব্যক্তির কথা যাকে আমি মক্কায় দেখেছিলাম, যার কাছে পৃথিবীর অর্ধেক বুদ্ধি বিদ্যমান ছিল।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١٥)
তানযীহুল ইমামিশ শাফিয়ী আন মাতাইনিল কাওসারী - জিমনা আসারুল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৩০৬)
فواضح أن اجتماع بشر بالشافعي كان قبل ورود الشافعي بغداد لأول مرة وإلا لِمَ احتاج إلى أن يقول "بالحجاز رجلًا" أو "كلام رجل رأيته بمكة" بل كان يسميه لأنهم قد عرفوه.
والمقصود أن الشافعي بقي نحو عشرين سنة في طلب العلم وكتابته والمناظرة فيه بمكة والمدينة وما [ص 12] حولهما، ثم تولى بعض الولايات باليمن وكان يقضي ويفتي. وفي "توالي التأسيس" (ص 78)
(1): "قال ابن أبي حاتم: حدثنا محمد بن إدريس ورّاق الحميدي، حدثنا الحميدي قال: قال الشافعي: .... ثم وليت نجران وبها بنو الحارث بن عبد المدان وموالي ثقيف .... وتظلّم عندي ناس كثير، فجمعتهم وقلت: اجمعوا لي سبعة يكون مَن عدّلوه عدلًا ومَن جرّحوه مجروحًا، ففعلوا .... حتى أتيت على جميع الظلامات، فلما انتهيت جعلت أحكم وأسجّل .... حتى حُمِلت إلى العراق، وكان محمد بن الحسن جيّد المنزلة عند الخليفة، فاختلفتُ إليه، وقلت: هو أولى من جهة الفقه، فلزمته، وكتبت عنه، وعرفتُ أقاويلهم، وكان إذا قام ناظرتُ أصحابَه، فقال لي: بلغني أنك تُناظر فناظرني في الشاهد واليمين، فامتنعتُ، فألحّ عليّ، فتكلّمت معه، فرُفع ذلك إلى الرشيد، فأعجبه ووصلني".
وقد ذكر الأستاذ طرفًا من هذه الحكاية ص 184 وثبّتها ثم حمّلها ما لا تطيقه، فمِن جملة ما قاله: "وبها يعلم أيضًا أن محمد بن الحسن بعد أن درّب الشافعي على الأخذ والردّ هكذا رفع حديثه إلى الرشيد". ولا أثر للتدريب في هذه الرواية ولا غيرها، وإنما حقيقة الأمر أن الشافعي جالس محمد بن
--------------------------------------------
এটা স্পষ্ট যে বিশরের সাথে শাফিঈর সাক্ষাৎ শাফিঈর প্রথমবার বাগদাদে আগমনের পূর্বেই হয়েছিল, অন্যথায় তাকে "হিজাজে এক ব্যক্তি" অথবা "মক্কায় দেখা এক ব্যক্তির কথা" বলার প্রয়োজন হতো না; বরং তিনি তার নামই উল্লেখ করতেন কারণ তারা তাকে চিনে ফেলেছিল।
উদ্দেশ্য হলো, শাফিঈ মক্কা, মদিনা এবং এর আশপাশে [পৃষ্ঠা ১২] প্রায় বিশ বছর ইলম অন্বেষণ, সংকলন এবং সে বিষয়ে শাস্ত্রীয় বিতর্কে লিপ্ত ছিলেন। এরপর তিনি ইয়েমেনের কিছু অঞ্চলের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন এবং সেখানে বিচারিক কাজ ও ফতোয়া প্রদানের দায়িত্ব পালন করেন। "তাওয়ালি আত-তাসিস" (পৃষ্ঠা ৭৮)
(১) গ্রন্থে রয়েছে: "ইবনে আবি হাতিম বলেছেন: আমাদের নিকট মুহাম্মাদ ইবনে ইদরিস—যিনি হুমাইদির নকলনবিশ (ওয়াররাক) ছিলেন—বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট হুমাইদি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: শাফিঈ বলেছেন: .... এরপর আমি নাজরানের গভর্নর নিযুক্ত হলাম, সেখানে বনু হারিস ইবনে আবদিল মুদান এবং সাকিফ গোত্রের মুক্তদাসরা ছিল .... অনেক মানুষ আমার কাছে অভিযোগ নিয়ে এল, তখন আমি তাদের একত্রিত করে বললাম: তোমরা আমার জন্য এমন সাতজন ব্যক্তিকে নির্বাচন করো যাদেরকে তারা নির্ভরযোগ্য বললে সে নির্ভরযোগ্য বিবেচিত হবে এবং যাদেরকে তারা অযোগ্য বললে সে অযোগ্য বিবেচিত হবে। তারা তাই করল .... এভাবে আমি সকল অভিযোগের নিষ্পত্তি করলাম। যখন আমি কাজ শেষ করলাম, তখন রায় প্রদান ও তা নথিবদ্ধ করতে শুরু করলাম .... শেষ পর্যন্ত আমাকে ইরাকে নিয়ে যাওয়া হলো। খলিফার কাছে মুহাম্মাদ ইবনুল হাসানের বিশেষ মর্যাদা ছিল। আমি তার নিকট যাতায়াত শুরু করলাম এবং বললাম: ফিকহের দিক থেকে তিনিই অধিক যোগ্য। ফলে আমি তার সান্নিধ্যে থাকলাম, তার থেকে ইলম লিপিবদ্ধ করলাম এবং তাদের মতামতগুলো জানলাম। তিনি যখন উঠে যেতেন, আমি তার ছাত্রদের সাথে বিতর্ক করতাম। তিনি আমাকে বললেন: আমার কাছে পৌঁছেছে যে আপনি বিতর্ক করেন, সুতরাং আপনি 'সাক্ষী ও শপথ' বিষয়ে আমার সাথে বিতর্কে লিপ্ত হোন। আমি অস্বীকৃতি জানালাম, কিন্তু তিনি জেদ ধরলেন। ফলে আমি তার সাথে আলোচনা করলাম এবং বিষয়টি রশিদের কাছে উত্থাপন করা হলে তিনি তাতে মুগ্ধ হলেন ও আমাকে পুরস্কৃত করলেন।"
উস্তাদ এই ঘটনার কিছু অংশ ১৮৪ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন এবং তা প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করেছেন, অতঃপর এর ওপর এমন ব্যাখ্যা চাপিয়েছেন যা এটি বহন করতে সক্ষম নয়। তার বক্তব্যের মধ্যে ছিল: "এর দ্বারা এটিও জানা যায় যে, মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান শাফিঈকে যুক্তি-তর্কের আদান-প্রদানে পারদর্শী করার পর এভাবেই তার কথা রশিদের কাছে পৌঁছে দেন।" অথচ এই বর্ণনা বা অন্য কোথাও এই 'প্রশিক্ষণের' কোনো চিহ্ন নেই। বরং প্রকৃত সত্য এই যে, শাফিঈ মুহাম্মাদ ইবনে... এর নিকট বসেছিলেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١٥)
তানযীহুল ইমামিশ শাফিয়ী আন মাতাইনিল কাওসারী - জিমনা আসারুল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৩০৭)
الحسن ليأخذ عنه كتب أهل الرأي سماعًا ليعرف أقوالهم، ومغزاه في ذلك أمران:
الأول: مغزى كلّ عالم متديّن، وهو أن يعرف أقوالهم وما يحتجّون به، حتى إذا بان له في بعض المسائل حجةٌ لم يكن قد وقف عليها أو خللٌ في حجة كان من قبل يحتجّ بها أخذ بذلك. وهذا لا يستأنف عنه المجتهد المتديّن، فإن غالب حجج الفقه ظنّيات لا يأمن المجتهد أن يكون [ص 13] أخطأ في كثير مما قد قاله وأن يكون عند غيره ما ليس عنده.
المغزى الثاني: ما صرّح به في بعض الروايات أنه أراد أن يعرف أقاويلهم وما يحتجون به؛ ليتمكّن من الردّ عليهم فيما يراه خطأً ومناظرتهم فيه؛ فإن عِماد المناظرة أن يحتجّ على المخالف بأقواله فيبين له تناقضه. وهذا النوع لا تكاد تخلو عنه مناظرة من مناظرات الشافعي معهم، ولو لم يعرف أقاويلهم ما أمكنه ذلك. فلا نزاع أن الشافعي سمع تلك الكتب من محمد، والشافعيُّ باقٍ على مذهبه لم يقلّد محمدًا ولا تابعه متابعة التلميذ المطلق لأستاذه، بل كان محمد إذا قام ناظر الشافعيُّ أصحابَ محمد، يقرّر الشافعيُّ مذهبه؛ ليبيّن لأصحاب محمد أنه الصواب.
وتأبّيه من مناظرة محمد أوّلًا من كمال عقله ووفور أدبه؛ لأنه كان هو المحتاج إلى سماع تلك الكتب من محمد، ويخاف أن يتكدّر محمدٌ فيتعسّر على الشافعي في تلك الكتب.
وفي "توالي التأسيس" (ص 55)
(1) من طريق الربيع قال: "قال لي
--------------------------------------------
আল-হাসান, যাতে তিনি তাঁর নিকট থেকে শ্রবণের মাধ্যমে আহলে রায়ের কিতাবসমূহ গ্রহণ করতে পারেন এবং তাদের অভিমতসমূহ জানতে পারেন। এ ক্ষেত্রে তাঁর উদ্দেশ্য ছিল দুটি:
প্রথমত: প্রত্যেক ধর্মপ্রাণ আলেমের যে উদ্দেশ্য থাকে—অর্থাৎ তাদের অভিমত এবং তারা কিসের ভিত্তিতে দলিল পেশ করে তা জানা; যাতে কোনো বিষয়ে যদি তাঁর সামনে এমন কোনো দলিল স্পষ্ট হয় যা ইতিপূর্বে তাঁর নিকট প্রকাশ পায়নি, অথবা তাঁর পূর্বের দলিলে কোনো ত্রুটি ধরা পড়ে যা তিনি ইতিপূর্বে পেশ করেছিলেন, তবে তিনি তা গ্রহণ করতে পারেন। একজন ধর্মপ্রাণ মুজতাহিদ এ থেকে বিমুখ হন না; কেননা ফিকহশাস্ত্রের অধিকাংশ দলিলই ধারণাভিত্তিক (যন্নি)। একজন মুজতাহিদ এ বিষয়ে নিশ্চিত থাকতে পারেন না যে তিনি যা বলেছেন তার অনেক কিছুতেই তিনি [পৃ. ১৩] ভুল করেননি, অথবা অন্যদের নিকট এমন কোনো জ্ঞান নেই যা তাঁর কাছে নেই।
দ্বিতীয় উদ্দেশ্য: যা তিনি কিছু বর্ণনায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি তাদের বক্তব্য ও দলিলসমূহ জানতে চেয়েছিলেন; যাতে তিনি যেগুলোকে ভুল মনে করেন সেগুলোতে তাদের খণ্ডন করতে পারেন এবং তাদের সাথে বিতর্ক করতে সক্ষম হন। কারণ বিতর্কের মূল ভিত্তি হলো প্রতিপক্ষের বক্তব্যের মাধ্যমেই তাঁর বিরুদ্ধে দলিল পেশ করা এবং তাঁর স্ববিরোধিতা ফুটিয়ে তোলা। ইমাম শাফেঈর বিতর্কের এমন কোনো দিক নেই যেখানে এই পদ্ধতির অভাব রয়েছে। যদি তিনি তাদের বক্তব্যগুলো না জানতেন, তবে তাঁর পক্ষে এটি সম্ভব হতো না। এতে কোনো বিতর্ক নেই যে শাফেঈ মুহাম্মাদের নিকট থেকে সেই কিতাবসমূহ শ্রবণ করেছেন; অথচ শাফেঈ স্বীয় মাযহাবের ওপর অটল ছিলেন। তিনি মুহাম্মাদকে অনুকরণ (তাকলীদ) করেননি এবং একজন ছাত্র যেভাবে তার শিক্ষকের নিরঙ্কুশ অনুসরণ করে সেভাবে তাঁকে অনুসরণও করেননি। বরং মুহাম্মাদ যখন উঠে যেতেন, তখন শাফেঈ মুহাম্মাদের অনুসারীদের সাথে বিতর্ক করতেন এবং স্বীয় মাযহাবের সপক্ষে যুক্তি তুলে ধরতেন; যাতে মুহাম্মাদের অনুসারীদের নিকট এটি স্পষ্ট হয় যে তাঁর মাযহাবই সঠিক।
প্রাথমিকভাবে মুহাম্মাদের সাথে বিতর্কে লিপ্ত না হওয়া ছিল তাঁর পরিপূর্ণ প্রজ্ঞা ও শিষ্টাচারের বহিঃপ্রকাশ; কারণ তখন মুহাম্মাদের নিকট থেকে সেই কিতাবসমূহ শোনার প্রয়োজন ছিল তাঁর নিজেরই। তিনি আশঙ্কা করেছিলেন যে (বিতর্কের কারণে) মুহাম্মাদ হয়তো মনঃক্ষুণ্ণ হতে পারেন, ফলে শাফেঈর জন্য সেই কিতাবসমূহ অর্জন করা কঠিন হয়ে পড়বে।
এবং ‘তাওয়ালি আত-তাসিস’ (পৃ. ৫৫)
(১) গ্রন্থে রবী’র সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: "তিনি আমাকে বললেন—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١٥)
তানযীহুল ইমামিশ শাফিয়ী আন মাতাইনিল কাওসারী - জিমনা আসারুল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৩০৮)
الشافعي: سألت محمد بن الحسن كتابًا فدافعني به، فكتبت إليه:
قل لمن
(1) لم تر عيـ
… ـنا مَن رآه مثلَه
ومَن كأنّ مَن رآ
… هـ قد رأى مَن قبله
العلمُ ينهى أهلَه
… أن يمنعوه أهلَه
لعلّه يبذله
… لأهله لعلّه
قال: فحمل محمدٌ الكتابَ في كُمّه وجاءني به معتذرًا من حينه".
[ص 14] وقول الأستاذ: "رفع حديثه إلى الرشيد" بناه على أن كلمة "رفع" في الحكاية مبنيّة للفاعل، والذي تدلّ عليه الروايات الأخرى أنها مبنيّة للمفعول وأن الرافع غير محمد.
ومما بناه الأستاذ على تلك الحكاية قوله: "فبهذه الرواية يعلم أن ما في "الأم" من محادثات للشافعي مع بعض الناس في مسائل ليس مناظرة للشافعي مع محمد بن الحسن بل مع بعض أصحابه، على خلاف ما توهّمه بعضهم".
أقول: من مكارم أخلاق الشافعي وكمال عقله وصدق إخلاصه أن غالب ما يسوقه من المناظرات لا يسمّي مَن ناظره؛ لأن المقصود إنما هو تقرير الحقّ ودفع الشبهات وتعليم طرق النظر. وتسميةُ المناظر يُتوهّم فيها حظّ النفس، كأنه يقول: ناظرتُ فلانًا المشهورَ فقطعته. وفيها غضٌّ ما مِن المناظر فيما يبينه من خطائه واحتجاجه بما ليس بحجة.
والواقع أن المناظرات التي في "الأم" منها ما هو مع محمد بن الحسن، ومنها ما هو مع بعض أصحابه في حياته أو بعد وفاته، وربما صرّح الشافعي
--------------------------------------------
শাফিঈ বলেন: "আমি মুহাম্মাদ বিন হাসানের কাছে একটি কিতাব চেয়েছিলাম, কিন্তু তিনি তা দিতে কালক্ষেপণ করছিলেন। তখন আমি তাঁকে লিখে পাঠালাম:
বলে দিন তাঁকে
(১) যাঁর সমতুল্য কোনো ব্যক্তিকে তাঁর প্রত্যক্ষদর্শীরা
… কখনো দেখেনি
এবং যাঁর দর্শন যেন
… তাঁর পূর্বসূরি মহান মনীষীদেরই দর্শন
জ্ঞান তার অধিকারীকে বাধা প্রদান করে
… যোগ্য ব্যক্তিদের কাছে তা গোপন করতে
হয়তো তিনি তা অকাতরে দান করবেন
… তার উপযুক্ত পাত্রে
তিনি বলেন: এরপর মুহাম্মাদ কিতাবটি তাঁর আস্তিনে করে বয়ে নিয়ে এলেন এবং তৎক্ষণাৎ ক্ষমা প্রার্থনা করে তা আমার কাছে পৌঁছে দিলেন।"
[পৃষ্ঠা ১৪] এবং উস্তাদ মহোদয়ের উক্তি: "তিনি তাঁর কথা রশীদের কাছে পেশ করেছেন"—এটি তিনি এই ধারণার ওপর ভিত্তি করে বলেছেন যে, বর্ণনায় 'রাফা' (পেশ করা) শব্দটি কর্তৃবাচ্যে ব্যবহৃত হয়েছে; অথচ অন্যান্য বর্ণনা নির্দেশ করে যে, এটি কর্মবাচ্যে (রুফিয়া) ব্যবহৃত এবং পেশকারী ব্যক্তি মুহাম্মাদ নন।
উস্তাদ মহোদয় উক্ত কাহিনীর ওপর ভিত্তি করে আরও বলেছেন: "এই বর্ণনার মাধ্যমে জানা যায় যে, 'আল-উম্ম' গ্রন্থে ইমাম শাফিঈর সাথে বিভিন্ন বিষয়ের ওপর যে আলোচনাগুলো রয়েছে, তা মুহাম্মাদ বিন হাসানের সাথে শাফিঈর মুনাজারা (বিতর্ক) নয়, বরং তাঁর কোনো কোনো ছাত্রের সাথে; যা অনেকেরই ভুল ধারণার বিপরীত।"
আমি বলছি: ইমাম শাফিঈর মহান চরিত্র, পূর্ণ প্রজ্ঞা এবং নিষ্ঠাপূর্ণ ঐকান্তিকতার পরিচয় হলো যে, তিনি তাঁর অধিকাংশ মুনাজারার বর্ণনায় প্রতিপক্ষের নাম উল্লেখ করেন না; কারণ তাঁর মূল উদ্দেশ্য হলো সত্যকে সুপ্রতিষ্ঠিত করা, সংশয় নিরসন করা এবং জ্ঞানতাত্ত্বিক পর্যালোচনার পদ্ধতি শেখানো। প্রতিপক্ষের নাম উল্লেখ করার মধ্যে আত্মগৌরবের আশঙ্কা থাকতে পারে, যেন তিনি বলছেন: 'আমি অমুক বিখ্যাত ব্যক্তির সাথে বিতর্ক করেছি এবং তাকে নিরুত্তর করে দিয়েছি।' তাছাড়া এতে প্রতিপক্ষের ভুল এবং অসার যুক্তিগুলো প্রদর্শনের মাধ্যমে তাকে কিছুটা হেয় করার বিষয়টিও জড়িয়ে থাকে।
বাস্তবতা হলো, 'আল-উম্ম' গ্রন্থে বর্ণিত বিতর্কগুলোর কোনোটি মুহাম্মাদ বিন হাসানের সাথে সরাসরি ছিল, আবার কোনোটি তাঁর জীবদ্দশায় বা ইন্তেকালের পর তাঁর ছাত্রদের সাথে ছিল। আর সম্ভবত শাফিঈ স্পষ্টভাবে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١٥)
তানযীহুল ইমামিশ শাফিয়ী আন মাতাইনিল কাওসারী - জিমনা আসারুল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৩০৯)
باسم محمد بن الحسن لفائدة. فقد صرّح الشافعي باسم محمد بن الحسن وأن المناظرة كانت معه في مواضع من كتابه "الرد على محمد بن الحسن" كما تراه في "الأم" (ج 7 ص 278 سطر 1 وص 283 سطر 24 وص 301 سطر 15)
(1). وذلك أنّ الكتاب معنون بـ "الردّ على محمد بن الحسن" فربما رأى الشافعيّ أن الحاجة تدعو إلى التصريح بأن المناظرة معه توكيدًا للحجة؛ لئلا يقول قائل: إنما تردّ عليه بعد موته، فلعلّه لو كان حيًّا لعرفَ كيف يجيب.
[ص 15] وربما بدأ الشافعيّ المناظرةَ مع غير مسمّى ثم احتاج في أثنائها فسمّى محمد بن الحسن، كما تراه في "الأم" (ج 3 ص 106)
(2) ساق المناظرة مِن غير مسمّى ثم قال في آخر الصفحة: "وقلت لمحمد بن الحسن: أنت أخبرتني عن أبي يوسف عن عطاء بن السائب .... " صرّح به هنا ليتصل إسنادُ ذاك الخبر بالرجال المعروفين، ثم ذكره بعد ذلك في أثناء المناظرة (ص 107 سطر 16)
(3)؛ لأنه قد عُرِف سابقًا فلم يبق معنًى لإبهامه، وانظر (ج 7 ص 82). وربما لم يسمّه ولكن يكني عنه بما يظهر أنه محمد بن الحسن كما في (ج 1 ص 231 وج 4 ص 5 وج 7 ص 79)
(4). وربما يكون في السياق ما يدل أنه محمد بن الحسن كما في (ج 1 ص 56
--------------------------------------------
মুহাম্মাদ ইবনুল হাসানের নামোল্লেখের একটি বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। ইমাম শাফিয়ী স্পষ্টভাবে মুহাম্মাদ ইবনুল হাসানের নাম উল্লেখ করেছেন এবং তাঁর সাথে বিতর্ক সংঘটিত হওয়ার বিষয়টি তাঁর ‘আর-রাদ্দু আলা মুহাম্মাদ ইবনিল হাসান’ গ্রন্থের বিভিন্ন স্থানে ব্যক্ত করেছেন, যেমনটি ‘আল-উম্ম’ গ্রন্থে দৃষ্ট হয় (খণ্ড ৭, পৃষ্ঠা ২৭৮, লাইন ১; পৃষ্ঠা ২৮৩, লাইন ২৪ এবং পৃষ্ঠা ৩০১, লাইন ১৫)
(১)। এর কারণ হলো, গ্রন্থটি ‘আর-রাদ্দু আলা মুহাম্মাদ ইবনিল হাসান’ শিরোনামে রচিত, তাই সম্ভবত ইমাম শাফিয়ী প্রমাণকে সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে তাঁর সাথে সরাসরি বিতর্কের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা প্রয়োজন মনে করেছেন; যাতে কোনো সমালোচক বলতে না পারে যে: আপনি তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর প্রতিবাদ করছেন, তিনি জীবিত থাকলে হয়তো জানতেন কীভাবে এর উত্তর দিতে হয়।
[পৃষ্ঠা ১৫] কখনো কখনো ইমাম শাফিয়ী নাম উল্লেখ না করেই বিতর্ক শুরু করতেন, অতঃপর আলোচনার মাঝপথে প্রয়োজনবশত মুহাম্মাদ ইবনুল হাসানের নাম উল্লেখ করতেন, যেমনটি ‘আল-উম্ম’ গ্রন্থে দেখা যায় (খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ১০৬)
(২)। সেখানে তিনি নাম উল্লেখ ছাড়াই বিতর্কটি উপস্থাপন করেছেন এবং পৃষ্ঠার শেষভাগে বলেছেন: “আমি মুহাম্মাদ ইবনুল হাসানকে বললাম: আপনি আবু ইউসুফের সূত্রে আতা ইবনুস সাইব থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন...।” এখানে তিনি স্পষ্টভাবে নাম উল্লেখ করেছেন যাতে উক্ত বর্ণনার সনদটি সুপরিচিত ব্যক্তিদের সাথে সংযুক্ত হয়। অতঃপর তিনি বিতর্কের মাঝপথে পুনরায় তাঁর নাম উল্লেখ করেছেন (পৃষ্ঠা ১০৭, লাইন ১৬)
(৩); কারণ ইতিপূর্বেই তাঁর পরিচয় স্পষ্ট হয়ে গেছে, তাই তাকে অস্পষ্ট রাখার আর কোনো সার্থকতা ছিল না। আরও দেখুন (খণ্ড ৭, পৃষ্ঠা ৮২)। আবার কখনো তিনি তাঁর নাম উল্লেখ না করে এমনভাবে ইঙ্গিত করেন যা দ্বারা স্পষ্ট প্রতিভাত হয় যে তিনি মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান, যেমনটি রয়েছে (খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২৩১; খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ৫ এবং খণ্ড ৭, পৃষ্ঠা ৭৯)
(৪)। কখনো বা প্রসঙ্গের মধ্যেই এমন ইঙ্গিত থাকে যা প্রমাণ করে যে তিনি মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান, যেমনটি দেখা যায় (খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৫৬...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١٥)
তানযীহুল ইমামিশ শাফিয়ী আন মাতাইনিল কাওসারী - জিমনা আসারুল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৩১০)
وج 3 ص 189 وج 4 ص 17 وج 5 ص 119).
هذا ومناظرة الشافعي لمحمد بن الحسن في الشاهد واليمين معروفة في تلك الرواية وغيرها، ومع ذلك ذكر الشافعي في "الأم"
(1) المناظرةَ في هذه المسألة ولم يصرّح باسم محمد بن الحسن.
فالتحقيق أن المناظرات التي في "الأم" منها ما هو مع محمد بن الحسن، ومنها ما هو مع غيره، فمنها ما يُعرف أنه مع محمد كما مرّ، ومنها ما يعرف أنه مع غيره كما في (ج 3 ص 195 وص 275)
(2)، ومنها ما هو على الاحتمال.
ولا يلزم من تمنّع الشافعي أوّلًا من مناظرة محمد ألا يكون ناظره بعد ذلك مرارًا، فإن محمدًا اغتبط بمناظرةِ الشافعيِّ، وعرفَ الشافعيُّ إنصافَ محمد فكثرت المباحثةُ بينهما.
وفي "توالي التأسيس" (ص 71)
(3) من طريق "أبي حسان الحسن بن عثمان الزيادي قال: كنت في دهليز محمد بن الحسن فخرج محمد راكبًا، فنظر فرأى الشافعي قد جاء، فثنى رجله ونزل وقال لغلامه: اذهب فاعتذر، فقال له الشافعي: لنا وقت غير هذا [ص 16]، قال: لا، وأخذ بيده فدخلا الدار. قال أبو حسان: وما رأيت محمدًا يعظم أحدًا إعظام الشافعي".
--------------------------------------------
(খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ১৮৯; খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ১৭; খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ১১৯)।
এই প্রসঙ্গে উল্লেখ্য যে, এক জন সাক্ষী ও শপথ (আশ-শাহিদ ওয়াল ইয়ামিন) বিষয়ে মুহাম্মাদ ইবনুল হাসানের সাথে আশ-শাফিঈর বিতর্ক সেই বর্ণনা ও অন্যান্য বর্ণনায় সুপরিচিত। তা সত্ত্বেও, আশ-শাফিঈ "আল-উম্ম"
(১) গ্রন্থে এই বিষয়ে বিতর্কটি উল্লেখ করেছেন, কিন্তু সেখানে মুহাম্মাদ ইবনুল হাসানের নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেননি।
প্রকৃত অনুসন্ধান হলো, "আল-উম্ম" গ্রন্থে বিদ্যমান বিতর্কগুলোর মধ্যে কিছু মুহাম্মাদ ইবনুল হাসানের সাথে এবং কিছু অন্যদের সাথে সংঘটিত হয়েছে। এর মধ্যে কোনটি মুহাম্মাদের সাথে তা যেমন পূর্বে গত হয়েছে সেভাবে জানা যায়, আবার কোনটি অন্য কারো সাথে তা-ও জানা যায়, যেমনটি দেখা যায় (খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ১৯৫ ও পৃষ্ঠা ২৭৫)-এ
(২); আবার কিছু বিতর্ক সম্ভাবনার পর্যায়ে রয়েছে।
শুরুতে মুহাম্মাদের সাথে বিতর্কে আশ-শাফিঈর অসম্মতি থেকে এটি আবশ্যক হয় না যে, পরবর্তীতে তিনি তাঁর সাথে বহুবার বিতর্ক করেননি। কেননা মুহাম্মাদ আশ-শাফিঈর সাথে বিতর্কে অত্যন্ত আনন্দিত হতেন এবং আশ-শাফিঈ মুহাম্মাদের ন্যায়নিষ্ঠতা সম্পর্কে জানতেন, ফলে তাঁদের মধ্যে জ্ঞানগর্ভ আলোচনা বৃদ্ধি পায়।
আর "তাওয়ালি আত-তাসিস" (পৃষ্ঠা ৭১)
(৩)-এ আবু হাসান আল-হাসান বিন উসমান আজ-জিয়াদি-এর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: "আমি মুহাম্মাদ ইবনুল হাসানের গৃহের প্রবেশপথে ছিলাম। এমতাবস্থায় মুহাম্মাদ সওয়ার হয়ে বের হলেন। তখন তিনি তাকিয়ে দেখলেন যে আশ-শাফিঈ এসেছেন। তিনি তৎক্ষণাৎ তাঁর পা ঘুরিয়ে সওয়ারি থেকে নেমে পড়লেন এবং তাঁর গোলামকে বললেন: যাও, (যাদের সাথে সাক্ষাতের কথা ছিল তাদের কাছে) ক্ষমা চেয়ে নাও। তখন আশ-শাফিঈ তাঁকে বললেন: আমাদের জন্য অন্য কোনো সময় রয়েছে [পৃষ্ঠা ১৬]। তিনি বললেন: না, এবং তাঁর হাত ধরে তাঁরা দুজনে ঘরে প্রবেশ করলেন। আবু হাসান বলেন: আমি মুহাম্মাদকে আশ-শাফিঈর মতো আর কাউকে এতটা সম্মান করতে দেখিনি।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١٥)
তানযীহুল ইমামিশ শাফিয়ী আন মাতাইনিল কাওসারী - জিমনা আসারুল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৩১১)
ومن تدبّر مناظرات الشافعي لمحمد وجدها مناظرة الأكفاء، وعلم منها أن الشافعي كان حينئذ مجتهدًا، وأن محمدًا كان مع مكانته من العلم والسنّ والمنزلة من الدولة وكثرة الأتْباع على غاية من الإنصاف في البحث والنظر وإن لم يرجع في كثير من ذلك أو أكثره عن قوله.
وكان الشافعي على وفور أدبه وحُسْن معاشرته لمحمد وغيره لا يقصّر في إظهار حجته؛ ومن اللطائف في ذلك ما تراه في "الأم" (ج 6 ص 160)
(1) ذكر الشافعيُّ مناظرته مع بعض الناس إلى أن قال: "وكانت حجته في أن لا تُقتل المرأةُ على الردّة= شيئًا رواه عن عاصم عن أبي رزين
--------------------------------------------
যে ব্যক্তি ইমাম শাফিয়ী এবং ইমাম মুহাম্মদের মধ্যকার বিতর্কসমূহ অনুধাবন করবে, সে এগুলোকে সমকক্ষদের মধ্যকার বিতর্ক হিসেবেই দেখতে পাবে। এ থেকে এটিও প্রতীয়মান হয় যে, ইমাম শাফিয়ী সেই সময়েই একজন মুজতাহিদ ছিলেন। অন্যদিকে ইমাম মুহাম্মদ স্বীয় পাণ্ডিত্য, বয়স, রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদা এবং বিপুল সংখ্যক অনুসারী থাকা সত্ত্বেও গবেষণা ও পর্যালোচনার ক্ষেত্রে চূড়ান্ত ইনসাফ প্রদর্শন করেছেন, যদিও তিনি তাঁর অনেক বা অধিকাংশ বক্তব্য থেকে ফিরে আসেননি।
ইমাম শাফিয়ী, ইমাম মুহাম্মদ ও অন্যদের সাথে তাঁর অগাধ শিষ্টাচার এবং উত্তম আচরণ বজায় রাখা সত্ত্বেও নিজের দলিল-প্রমাণ উপস্থাপনে কোনো প্রকার ত্রুটি করতেন না। এই বিষয়ের সূক্ষ্ম দিকগুলোর মধ্যে একটি আপনি "আল-উম্ম" (৬ষ্ঠ খণ্ড, ১৬০ পৃষ্ঠা)
(১) গ্রন্থে দেখতে পাবেন। ইমাম শাফিয়ী জনৈক ব্যক্তির সাথে তাঁর বিতর্কের কথা উল্লেখ করে বলেন: "মুরতাদ হওয়ার কারণে নারীকে হত্যা না করার সপক্ষে তাঁর যুক্তি ছিল আসিম হতে আবু রাজিনের সূত্রে বর্ণিত একটি বর্ণনা..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١٥)
তানযীহুল ইমামিশ শাফিয়ী আন মাতাইনিল কাওসারী - জিমনা আসারুল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৩১২)
عن ابن عباس رضي الله عنهما في المرأة ترتدّ عن الإسلام: تُحبَس ولا تُقتل.
وكلّمني بعض من يذهب هذا المذهب وبحضرتنا جماعة من أهل العلم بالحديث، فسألناهم عن هذا الحديث، فما علمتُ واحدًا منهم سكت عن أن قال: هذا خطأ، والذي روى هذا ليس ممن يُثبت أهلُ العلم حديثَه، فقلت له: قد سمعت ما قال هؤلاء الذين لا شكّ في علمهم بحديثك، وقد روى بعضهم عن أبي بكر أنه قتل نِسوة ارتددن عن الإسلام فكيف لم تصرْ إليه؟ قال: إني إنما ذهبت في ترك قتل النساء إلى القياس
… ".
فكأنّ الشافعي كان متوقعًا البحث في ذاك المجلس في حكم المرتدّة، وعَلِم أن مناظره سيحتجّ بحديث أبي حنيفة عن عاصم، وكره الشافعيّ أن يقول هو في أبي حنيفة ما يسوء القوم، فأحضر الشافعيُّ معه مَن لا نزاع في معرفتهم بالحديث ورُواته؛ حتى إذا جاء ذاك الحديث سألهم ليكون الغضُّ [ص 17] من أبي حنيفة منهم، فتقوم حجةُ الشافعي، ويسلم بما يتوقّاه من سوء العشرة.
وأعجب من هذا أن الشافعي حاول الجري على هذه الطريقة بعد أن فارق القومَ ومضت على ذلك مدة، فأثبت الحكايةَ في كتابه على ما مرّ لم يعرض فيها تسمية أبي حنيفة، بل حاول أن يعمِّيه حتى كأنه لا شأن له بذلك الحديث ولا بكلام أولئك الذين حضروا من أهل المعرفة بالحديث.
وقد ذكر البيهقي في "السنن" (8/ 203) حكاية الشافعي، فقال صاحبُ "الجوهر النقي": "أبو رزين صحابي، وعاصم وإن تكلّم فيه بعضهم، قال الدارقطني: في حفظه شيء، وقال ابن سعد: ثقة إلا أنه كثير الخطأ في حديثه.
ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে ইসলাম ত্যাগকারী মহিলার ব্যাপারে বর্ণিত আছে যে: তাকে বন্দি করা হবে, হত্যা করা হবে না।
এই মত পোষণকারী জনৈক ব্যক্তি আমার সাথে আলোচনা করলেন এবং আমাদের উপস্থিতিতে একদল হাদিস বিশারদ আলেম ছিলেন। আমি তাঁদের কাছে এই হাদিসটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তাঁদের মধ্যে এমন একজনকেও পেলাম না যিনি এ কথা বলা থেকে বিরত ছিলেন যে: "এটি ভুল, আর যিনি এটি বর্ণনা করেছেন তিনি এমন কেউ নন যাঁর হাদিসকে জ্ঞানতাপসগণ প্রামাণ্য হিসেবে গ্রহণ করেন।" তখন আমি তাকে (সেই ব্যক্তিকে) বললাম: "আপনি তো শুনলেনই যে এই হাদিস বিশারদগণ কী বলেছেন, যাঁদের জ্ঞান সম্পর্কে কোনো সন্দেহ নেই। তাঁদের কেউ কেউ তো বর্ণনা করেছেন যে, আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) ইসলাম ত্যাগকারী কতিপয় মহিলাকে হত্যা করেছিলেন, তবে আপনি কেন সেই মতের দিকে ফিরে গেলেন না?" তিনি বললেন: "আমি মহিলাদের হত্যা না করার বিষয়ে মূলত কিয়াসের (যৌক্তিক অনুমানের) আশ্রয় নিয়েছি
… "।
এতে প্রতীয়মান হয় যে, ইমাম শাফিঈ সেই মজলিসে মুরতাদ নারীর বিধান নিয়ে আলোচনার প্রত্যাশা করছিলেন এবং তিনি জানতেন যে তাঁর প্রতিপক্ষ আসিমের মাধ্যমে বর্ণিত ইমাম আবু হানিফার হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করবেন। শাফিঈ নিজে আবু হানিফা সম্পর্কে এমন কিছু বলা অপছন্দ করতেন যা সংশ্লিষ্ট লোকদের মনে কষ্টের উদ্রেক করতে পারে। তাই শাফিঈ নিজের সাথে এমন কিছু ব্যক্তিকে উপস্থিত করেছিলেন যাদের হাদিস ও বর্ণনাকারীদের বিষয়ে পারদর্শিতা নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই; যাতে করে সেই হাদিসটি উপস্থাপিত হলে তিনি তাঁদের জিজ্ঞাসা করতে পারেন এবং আবু হানিফার বর্ণনার দুর্বলতা প্রমাণের দায়ভার তাঁদের ওপর পড়ে। ফলে শাফিঈর দলিলও প্রতিষ্ঠিত হলো এবং তিনি যে সৌজন্যহীনতা এড়াতে চাচ্ছিলেন তা থেকেও রক্ষা পেলেন।
এর চেয়েও আশ্চর্যের বিষয় হলো, শাফিঈ সেই মজলিস ত্যাগ করার এবং দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও এই পদ্ধতি অনুসরণের চেষ্টা করেছেন। তিনি তাঁর কিতাবে ঘটনাটি সেভাবেই লিপিবদ্ধ করেছেন যা পূর্বে বর্ণিত হয়েছে, সেখানে আবু হানিফার নাম উল্লেখ করেননি। বরং তিনি বিষয়টি এমনভাবে অস্পষ্ট রাখার চেষ্টা করেছেন যেন সেই হাদিসের সাথে বা উপস্থিত হাদিস বিশারদদের মন্তব্যের সাথে তাঁর (আবু হানিফার) কোনো সংশ্লিষ্টতাই নেই।
বায়হাকী তাঁর "আস-সুনান" (৮/২০৩) গ্রন্থে শাফিঈর এই ঘটনাটি উল্লেখ করেছেন। অতঃপর "আল-জাওহার আন-নাকী" গ্রন্থের লেখক বলেন: "আবু রাযীন একজন সাহাবী, আর আসিম সম্পর্কে যদিও কেউ কেউ সমালোচনা করেছেন, তবুও দারাকুতনী বলেছেন: 'তাঁর স্মৃতিশক্তিতে কিছুটা দুর্বলতা ছিল', এবং ইবনে সাদ বলেছেন: 'তিনি নির্ভরযোগ্য, তবে তিনি হাদিস বর্ণনায় প্রচুর ভুল করতেন'।"
(খণ্ড: ١٥)
তানযীহুল ইমামিশ শাফিয়ী আন মাতাইনিল কাওসারী - জিমনা আসারুল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৩১৩)
فإن ضعّفوا هذا الأثرَ لأجله فالأمر فيه قريب فقد وثّقه جماعةٌ، خرّج له في "الصحيحين" مقرونًا بغيره، وخرّج له الحاكم في "المستدرك" وابن حبان في "صحيحه". وإن ضعّف لأجل أبي حنيفة فهو وإن تكلّم فيه بعضُهم فقد وثّقه كثيرون وأخرج له ابن حبان في صحيحه
… "
(1).
ولا يشك عالمٌ أن قول الجماعة: "الذي روى هذا ليس ممن يُثبتُ أهلُ العلمِ حديثَه" لا يصلح أن يُراد به عاصم، فإن حال عاصم عندهم أعلى من ذلك، وقد قال أحمد وأبو زُرعة: "ثقة"، فأما أبو حنيفة فالكلام في روايته وخاصة لهذا الحديث معروف، ومنزلته عند ابن حبان تُعرف مما قاله في "الضعفاء"
(2). وقد نقل الأستاذ بعضه كما يأتي في ترجمة محمد بن حبان
(3).
ومع هذه المجاملة الشريفة من الشافعي وأنه قائل تلك الكلمة التي يبالغ بعض الناس فيقول: تكاد تكون هي رأس مال الحنفية: "الناسُ عيال في الفقه على أبي حنيفة"، وعَرْضه أقوال أهل الرأي مع أقوال فقهاء أهل الحديث جنبًا لجنب وكانت قبله مهجورة، حتى إن ابن المبارك ذكر شيئًا
(4) في كتبه فلم يزل به الناس حتى جاء عنه أنه قال في أواخر عمره: "لأن عشت لأخرجنّ أبا حنيفة من كتبي"
(5). وحتى تذاكر أهلُ العلم في مسألةٍ فقال
--------------------------------------------
যদি তারা এই বর্ণনাটিকে তাঁর কারণে দুর্বল প্রতিপন্ন করেন, তবে বিষয়টি সহজসাধ্য; কেননা একদল আলেম তাঁকে বিশ্বস্ত বলে অভিহিত করেছেন। 'সহীহাইন'-এ অন্য বর্ণনাকারীর পাশাপাশি তাঁর হাদিস উদ্ধৃত হয়েছে এবং হাকেম 'মুস্তাদরাক'-এ ও ইবনে হিব্বান তাঁর 'সহীহ' গ্রন্থে তা সংকলন করেছেন। আর যদি আবু হানিফার কারণে একে দুর্বল বলা হয়, তবে তাঁর ব্যাপারে কেউ কেউ সমালোচনা করলেও অনেকে তাঁকে বিশ্বস্ত বলেছেন এবং ইবনে হিব্বান তাঁর সহীহ গ্রন্থে তাঁর হাদিস গ্রহণ করেছেন
… "
(১).
কোনো আলেমই এ বিষয়ে সন্দেহ পোষণ করবেন না যে, একদল পণ্ডিতের এই উক্তি— "যিনি এটি বর্ণনা করেছেন, তিনি এমন কেউ নন যার হাদিস আহলে ইলমগণ নির্ভরযোগ্য বলে গণ্য করেন"—তা দিয়ে আসিমকে উদ্দেশ্য করা সঠিক নয়। কেননা তাঁদের নিকট আসিমের মর্যাদা এর চেয়েও ঊর্ধ্বে। আহমদ ও আবু জুরআ বলেছেন: "তিনি বিশ্বস্ত (সিকাহ)"। তবে আবু হানিফার ক্ষেত্রে তাঁর বর্ণিত হাদিস, বিশেষ করে এই হাদিসটির ব্যাপারে সমালোচনা সুপরিচিত। ইবনে হিব্বানের নিকট তাঁর মর্যাদা তাঁর 'আদ-দুয়াফা' গ্রন্থে যা বলেছেন তা থেকে জানা যায়
(২)। উস্তাদ এর কিছু অংশ উদ্ধৃত করেছেন, যেমনটি মুহাম্মদ বিন হিব্বানের জীবনীর আলোচনায় সামনে আসবে
(৩).
ইমাম শাফেয়ীর এই মহৎ সৌজন্যবোধ থাকা সত্ত্বেও—এবং তিনিই সেই উক্তির প্রবক্তা যাকে কেউ কেউ অতিরঞ্জিত করে হানাফী মাযহাবের মূল পুঁজি বলে গণ্য করেন: "ফিকহ শাস্ত্রে মানুষ আবু হানিফার মুখাপেক্ষী"—এবং তাঁর (শাফেয়ীর) আহলে রায়ের মতামতসমূহকে আহলে হাদিস ফকিহদের মতামতের পাশাপাশি উপস্থাপন করা, যা ইতিপূর্বে বর্জিত ছিল; এমনকি ইবনুল মুবারক তাঁর কিতাবসমূহে কিছু বিষয় উল্লেখ করেছিলেন
(৪), কিন্তু লোকজন অনবরত তাঁর বিরোধিতা করতে থাকে, শেষ পর্যন্ত তাঁর জীবনের শেষ দিকে তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছিলেন: "আমি যদি বেঁচে থাকি, তবে অবশ্যই আমার কিতাবসমূহ থেকে আবু হানিফাকে বাদ দেব"
(৫)। এমনকি আহলে ইলমগণ যখন একটি মাসআলা নিয়ে আলোচনা করছিলেন, তখন তিনি বললেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١٥)
তানযীহুল ইমামিশ শাফিয়ী আন মাতাইনিল কাওসারী - জিমনা আসারুল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৩১৪)
أبو عبيد: "قال أبو حنيفة"، فأنكر عليه الأسود بن سالم أشدّ الإنكار، كما ترى في ترجمة الأسود
(1).
أقول: إنه مع هذا كان جزاء الشافعي في ذلك كله من الأستاذ ما ترى بعضه في هذه الترجمة، حتى إنه حاول الطعن في نَسَبِه المجمع عليه؟ !
وحَسْبكمُ هذا التفاوتُ بيننا
… وكلُّ إناءٍ بالذي فيه ينضحُ
(2)دع كثرة المؤلفين في مناقب أبي حنيفة من الشافعية! فأما الخطيب فإنما سرد أقوال الناس [ص 18] في الغضِّ كما ساق ما روي في المناقب، وذاك واجبه من جهة أنه مؤرّخ ومحدّث، ومع ذلك فأعرض سائر الشافعية عما نقله الخطيب، بل منهم مَن عارضه، ومنهم من ردّ عليه كما حكاه الأستاذ. ولما تعرّض للردّ عليه الملك عيسى ومأجوره ابن قُزْغلي ــ وفي ردّهما ما فيه من التهافت ــ لم يعرض لهما أحدٌ من الشافعية بل استمروا على مجاملتهم التي قد تبلغ في بعضهم أن تكون إدهانًا واضحًا!
وكذلك لما أشيع ذلك الكتيب المجهولُ مؤلِّفُه "كتاب التعليم" ــ وفيه ما فيه من الطعن في الشافعي وغيره ــ مرّ به الشافعيةُ مرور الكرام، وأقصى ما كان منهم أنْ ذَكَر بعضُهم أن مؤلفه مجهول.
وكأنّ الأستاذ اغترّ بتلك المجاملة والإدهان فظنّها استكانة لا حَراك بعدها؛ فجاء بما جاء به، ولم يدر أن للصبر حدًّا، وأن للحق أنصارًا، وأن وراء الأكمة رجالًا!
--------------------------------------------
আবু উবাইদ বলেছেন: "আবু হানিফা বলেছেন", তখন আসওয়াদ বিন সালিম এর তীব্র প্রতিবাদ করেন, যেমনটি আপনি আসওয়াদের জীবনীতে দেখতে পাবেন
(১)।
আমি বলছি: তা সত্ত্বেও এসবে ইমাম শাফিয়ী (রহ.)-এর প্রতি উস্তাদের পক্ষ থেকে বিনিময় ছিল তাই, যা আপনি এই জীবনীতে কিছুটা দেখতে পাচ্ছেন। এমনকি তিনি তাঁর সর্বসম্মত বংশপরিচয়ের ওপরও কলঙ্ক লেপনের চেষ্টা করেছেন?!
আমাদের মধ্যকার এই ব্যবধানটুকুই আপনাদের জন্য যথেষ্ট
… আর প্রতিটি পাত্র থেকে তা-ই চুইয়ে পড়ে, যা তাতে বিদ্যমান থাকে
(২)শাফিয়ী মাজহাবের অনুসারীদের মধ্যে যারা ইমাম আবু হানিফার গুণকীর্তনে অজস্র গ্রন্থ রচনা করেছেন, তাদের কথা বাদ দিন! আর খতিব (বাগদাদী), তিনি তো মানুষের সমালোচনামূলক বক্তব্যসমূহ [পৃষ্ঠা ১৮] সেভাবেই বর্ণনা করেছেন যেভাবে তিনি গুণকীর্তনমূলক বর্ণনাগুলো উল্লেখ করেছেন। ঐতিহাসিক ও মুহাদ্দিস হিসেবে এটা ছিল তাঁর দায়িত্ব। তা সত্ত্বেও অন্যান্য শাফিয়ীগণ খতিবের বর্ণিত বিষয়গুলো উপেক্ষা করেছেন; বরং তাদের মধ্যে কেউ কেউ তার বিরোধিতা করেছেন এবং কেউ কেউ তার খণ্ডনও করেছেন, যেমনটি উস্তাদ উল্লেখ করেছেন। আর যখন বাদশাহ ঈসা এবং তাঁর বেতনভুক্ত ইবনুল কাযগালি তাঁর (খতিবের) প্রতিবাদে লিপ্ত হলেন—যদিও তাদের খণ্ডনমূলক বক্তব্যে স্পষ্ট অসঙ্গতি ছিল—তখন কোনো শাফিয়ী আলেম তাদের বিরুদ্ধে দাঁড়াননি; বরং তারা তাদের সৌজন্যবোধ বজায় রেখেছেন, যা কোনো কোনো ক্ষেত্রে স্পষ্ট তোষামোদে রূপ নিয়েছিল!
অনুরূপভাবে যখন অজ্ঞাত লেখকের "কিতাবুত তালীম" নামক সেই পুস্তিকাটি প্রচারিত হলো—যাতে ইমাম শাফিয়ী ও অন্যদের বিরুদ্ধে কটু মন্তব্য ছিল—তখন শাফিয়ীগণ তা অত্যন্ত মার্জিতভাবে এড়িয়ে গেছেন। তাদের সর্বোচ্চ প্রতিক্রিয়া ছিল কেবল এইটুকু যে, তাদের মধ্যে কেউ কেউ উল্লেখ করেছেন যে এর লেখক অজ্ঞাত।
মনে হচ্ছে উস্তাদ এই সৌজন্যবোধ ও তোষামোদে প্রতারিত হয়েছেন এবং একে এমন এক অসহায় আত্মসমর্পণ মনে করেছেন যার পরে আর কোনো প্রতিরোধের নড়াচড়া নেই। ফলে তিনি যা ইচ্ছা করেছেন। তিনি জানতেন না যে ধৈর্যের একটি সীমা আছে, সত্যের অনেক সাহায্যকারী রয়েছে এবং পর্দার আড়ালে বীর পুরুষগণও উপস্থিত আছেন!
--------------------------------------------