(খণ্ড: ১) ফাযাইলু মিসর আল-মাহরুসাহ (পৃষ্ঠা: -)
فضائل مصر المحروسة   (ابن الكندي)

القسم: البلدان والرحلات


الكتاب: فضائل مصر المحروسة

المؤلف: ابن الكندي، عمر بن محمد بن يوسف، من علماء النصف الثاني من القرن الرابع الهجري

المحقق: د علي عمر، قسم التاريخ والحضارة الإسلامية بجامعتي المنيا والإمام محمد بن سعود بالرياض

الناشر: مكتبة الخانجي- القاهرة

الطبعة: الأولى، 1417 هـ - 1997 م

(وقد نشره المحقق أول مرة في مطبعة الاستقلال، القاهرة 1391 هـ - 1971 م)

عدد الصفحات: 52

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

সংরক্ষিত মিসরের ফযিলতসমূহ   (ইবনুল কিন্দি)

বিভাগ: দেশসমূহ ও ভ্রমণ


গ্রন্থ: সংরক্ষিত মিসরের ফযিলতসমূহ

লেখক: ইবনুল কিন্দি، উমর বিন মুহাম্মাদ বিন ইউসুফ، চতুর্থ হিজরি শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধের আলেমদের অন্তর্ভুক্ত

গবেষক: ড. আলী উমর، মিনিয়া এবং রিয়াদের ইমাম মুহাম্মাদ বিন সাউদ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও ইসলামি সভ্যতা বিভাগ

প্রকাশক: মাকতাবাতুল খানজি- কায়রো

সংস্করণ: প্রথম، ১৪১৭ হিজরি - ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দ

(গবেষক এটি প্রথমবার কায়রোর আল-ইস্তিকলাল প্রেসে ১৩৯১ হিজরি - ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশ করেছিলেন)

পৃষ্ঠাসংখ্যা: ৫২

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যুল হিজ্জাহ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) ফাযাইলু মিসর আল-মাহরুসাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

مقدمة

موضوع الكتاب يتجلى في قول ابن الكندى: "هذا الكتاب أمر بجمعه وحض على تأليفه الأستاذ أبو المسك كافور، نذكر فيه أخبار مصر وما خصها الله تعالى به من الفضل والبركات والخيرات على أكثر البلدان … ".

وقد استهل ابن الكندى عرضه لأخبار مصر وفضائلها بآيات من القرآن الكريم جاء فيها ذكر مصر من مثل قوله تعالى: {وَأَوْحَيْنَا إِلَى مُوسَى وَأَخِيهِ أَنْ تَبَوَّآ لِقَوْمِكُمَا بِمِصْرَ بُيُوتًا وَاجْعَلُوا بُيُوتَكُمْ قِبْلَةً} [يونس: 87]. وقوله تعالى حكاية عن فرعون وافتخاره بمصر: {أَلَيْسَ لِي مُلْكُ مِصْرَ وَهَذِهِ الْأَنْهَارُ تَجْرِي مِنْ تَحْتِي} [الزخرف: 51].

وهكذا ساق ابن الكندى عددا من الآيات الكريمة التي ذكر فيها اسم مصر، ليصل في النهاية إلى التنويه بمجد وطنه، ولذا نراه يتساءل بعدها: فهل يعلم أن بلدًا من البلدان في جميع أقطار الأرض أثنى عليه الكتاب بمثل هذا الثناء، أو وصفه بمثل هذا الوصف، أو شهد له بالكرم غير مصر؟.

وسار ابن الكندى على النهج نفسه في روايته لأحاديث الرسول الكريم التي ورد فيها ذكر مصر، ونقتبس منها حديثا روى عن الرسول الكريم صلى الله عليه وسلم يوصى فيه صحابته بأهل مصر، وهو مما رواه مسلم في صحيحه، وهو: "ستفتح عليكم بعدى مصر فاستوصوا بقبطها خيرا فإن لكم منهم صهرا وذمة".

كما أشاد ابن الكندى بمصر وبأهلها في الجانب المرتبط بالرسل والأنبياء فيما ذكره عن الرسول الكريم حين كتب إلى جماعة من الملوك منهم هرقل الروم، فما أجابه أحد منهم، وكتب إلى المقوقس صاحب مصر، فأجابه عن كتابه جوابا جميلا، وأهدى إلى الرسول الكريم عددا من الهدايا فقبلها، ومن هذا المنظور
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

ভূমিকা

বইটির মূল বিষয়বস্তু ইবনুল কিন্দি-এর উক্তিতে স্পষ্ট হয়ে ওঠে: "উস্তাদ আবুল মিসক কাফুর এই কিতাবটি সংকলনের নির্দেশ দিয়েছেন এবং এটি রচনার ব্যাপারে উৎসাহিত করেছেন। এতে আমরা মিশরের সংবাদসমূহ এবং অন্যান্য অধিকাংশ দেশের তুলনায় মহান আল্লাহ এই দেশকে যে ফযীলত, বরকত ও কল্যাণসমূহ দ্বারা বিশিষ্ট করেছেন, তা উল্লেখ করব … "।

ইবনুল কিন্দি মিশরের সংবাদ ও এর শ্রেষ্ঠত্বের বর্ণনা শুরু করেছেন পবিত্র কুরআনের এমন কিছু আয়াতের মাধ্যমে যাতে মিশরের উল্লেখ রয়েছে। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "আর আমি মূসা ও তার ভাইয়ের প্রতি ওহী পাঠালাম যে, তোমরা তোমাদের সম্প্রদায়ের জন্য মিশরে ঘরসমূহ নির্মাণ করো এবং তোমাদের ঘরগুলোকে কিবলামুখী করো।" [ইউনুস: ৮৭]। এবং ফেরাউনের কাহিনী ও মিশরের ব্যাপারে তার অহংকারের বর্ণনায় মহান আল্লাহর বাণী: "মিশরের রাজত্ব কি আমার নয়? আর এই নদীগুলো কি আমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে না?" [আয-যুখরুফ: ৫১]।

এভাবেই ইবনুল কিন্দি বেশ কিছু আয়াত পেশ করেছেন যেখানে মিশরের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যার মাধ্যমে তিনি পরিশেষে তার স্বদেশের মর্যাদার কথা তুলে ধরেছেন। আর এই কারণেই আমরা তাকে এরপর এই প্রশ্ন করতে দেখি: "পৃথিবীর অন্য কোনো দেশের ব্যাপারে কি জানা আছে যার প্রশংসা কিতাব (কুরআন) এভাবে করেছে, অথবা যাকে এভাবে বিশেষায়িত করেছে, কিংবা মিশর ব্যতীত অন্য কারো মর্যাদার ব্যাপারে এমন সাক্ষ্য দিয়েছে?"

ইবনুল কিন্দি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীসসমূহ বর্ণনার ক্ষেত্রেও একই পথ অনুসরণ করেছেন যেখানে মিশরের কথা এসেছে। আমরা সেখান থেকে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত একটি হাদীস উদ্ধৃত করছি যেখানে তিনি তাঁর সাহাবীদের মিশরের অধিবাসীদের ব্যাপারে অসিয়ত করেছেন, যা ইমাম মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন: "আমার পরে অচিরেই তোমাদের জন্য মিশর বিজিত হবে, সুতরাং তোমরা সেখানকার কিবতীদের (কপটিক) সাথে সদ্ব্যবহারের অসিয়ত গ্রহণ করো, কেননা তাদের সাথে তোমাদের বৈবাহিক ও নিরাপত্তার সম্পর্ক রয়েছে।"

ইবনুল কিন্দি মিশর এবং এর অধিবাসীদের প্রশংসা করেছেন রাসূল ও আম্বিয়াগণের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের দিক থেকেও; তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন যখন তিনি রোম সম্রাট হিরাক্লিয়াসসহ একদল সম্রাটের কাছে পত্র লিখেছিলেন। তাদের কেউই তাঁকে উত্তর দেয়নি, কিন্তু যখন তিনি মিশরের অধিপতি মুকাওকিস-এর কাছে লিখলেন, তখন তিনি তাঁর পত্রের অত্যন্ত সুন্দর উত্তর দিয়েছিলেন এবং তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বেশ কিছু উপহার পাঠিয়েছিলেন যা তিনি গ্রহণ করেছিলেন। আর এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই...
(খণ্ড: ১) ফাযাইলু মিসর আল-মাহরুসাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
جميلا، وأهدى إلى الرسول الكريم عددا من الهدايا فقبلها، ومن هذا المنظور التاريخى عالج ابن الكندى أيضا موقف وزراء مصر في القديم؛ وبين أن الله سبحانه أثنى عليهم في كتابه الكريم لأنهم قدموا النصح لفرعون، قال تعالى حكاية عن فرعون: {قَالَ لِلْمَلَإِ حَوْلَهُ إِنَّ هَذَا لَسَاحِرٌ عَلِيمٌ (34) يُرِيدُ أَنْ يُخْرِجَكُمْ مِنْ أَرْضِكُمْ بِسِحْرِهِ فَمَاذَا تَأْمُرُونَ (35) قَالُوا أَرْجِهْ وَأَخَاهُ وَابْعَثْ فِي الْمَدَائِنِ حَاشِرِينَ (36) يَأْتُوكَ بِكُلِّ سَحَّارٍ عَلِيمٍ (37)} [الشعراء: 34 - 37]. وهنا يتساءل ابن الكندى أيضا: فهل في الدنيا جلساء ملك أرجح عقلا وأحسن محضرا منهم؟. وذلك على العكس من وزراء نمرود الذين حرضوه على البغى والقتل حين شاورهم في أمر إبراهيم عليه السلام. قال تعالى حكاية عنهم: {قَالُوا حَرِّقُوهُ وَانْصُرُوا آلِهَتَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ فَاعِلِينَ (68)} [الأنبياء: 68].

وعالج ابن الكندى في ضوء هذا المنهج من أنجبته مصر من الحكماء، فذكر منهم: نيروز أبو بختنصر وكان رجلا من أهل العلم، والاسكندر ذو القرنين ونسب إليه بناء عدة مدن كسمرقند والإسكندرية ببلاد الخزر وغيرهما.

ثم أعقب ذلك يذكر عدد من فلاسفة الإغريق وعلمائهم ممن كانوا بمصر ووضعوا مؤلفات في الفلك والهندسة والطبيعة والطب وغيرها. وأشاد ابن الكندى ببلده مصر حين ذكر أن هؤلاء الفلاسفة والعلماء سكنوا مصر في العصور السالفة فما غيرت أذهانهم ولا أضرت بعقولهم.

ويمضى ابن الكندى في كتابه ليصل إلى العصر الإسلامي فيذكر عددا من الصحابة الذين وفدوا إلى مصر مع عمرو بن العاص أثناء الفتح كما يذكر عددا منهم بلغوا الثمانين رجلا ممن وقف على إقامة المسجد الجامع.

كما أشاد بعد ذلك بمن أنجبته مصر من الفقهاء والعلماء، فجعل يزيد بن أبى حبيب في قمة فقهاء وعلماء مصر وقتئذ، كما جعل الليث بن سعد ثانى اثنين من فقهاء مصر وعلمائها في عصره، أما ابن لهيعة فقد وصفه بعلو منزلته في الفقه والحديث والأخبار. ثم ذكر بعدهم طائفة أخرى من علماء مصر من أمثال
সুন্দর এবং তিনি সম্মানিত রাসূলের নিকট বেশ কিছু উপহার পাঠিয়েছিলেন যা তিনি গ্রহণ করেছিলেন। এই ঐতিহাসিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ইবনে আল-কিন্দী প্রাচীন মিশরের মন্ত্রীদের অবস্থানও আলোচনা করেছেন; এবং স্পষ্ট করেছেন যে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর সম্মানিত কিতাবে তাদের প্রশংসা করেছেন কারণ তারা ফেরাউনকে সদুপদেশ দিয়েছিল। ফেরাউনের কথা বর্ণনা করে আল্লাহ তাআলা বলেন: {সে তার চারপাশের পারিষদবর্গকে বলল: নিশ্চয় এই ব্যক্তি একজন অত্যন্ত বিজ্ঞ জাদুকর। (৩৪) সে তার জাদুর মাধ্যমে তোমাদেরকে তোমাদের দেশ থেকে বের করে দিতে চায়। অতএব তোমরা এখন কী আদেশ দিচ্ছ? (৩৫) তারা বলল: তাকে ও তার ভাইকে অবকাশ দিন এবং শহরে শহরে সংগ্রহকারীদের পাঠিয়ে দিন। (৩৬) তারা আপনার কাছে প্রতিটি বিজ্ঞ জাদুকরকে নিয়ে আসবে। (৩৭)} [আশ-শুআরা: ৩৪ - ৩৭]। এখানে ইবনে আল-কিন্দী আরও প্রশ্ন করেন: তবে কি পৃথিবীতে কোনো রাজার এমন কোনো সভাসদ আছেন যারা এদের চেয়ে অধিকতর প্রজ্ঞাবান এবং উত্তম স্বভাব সম্পন্ন? এটি নমরুদের মন্ত্রীদের সম্পূর্ণ বিপরীত ছিল, যারা ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের ব্যাপারে পরামর্শ করার সময় তাকে বিদ্রোহ ও হত্যার জন্য প্ররোচিত করেছিল। তাদের কথা বর্ণনা করে আল্লাহ তাআলা বলেন: {তারা বলল: একে পুড়িয়ে ফেলো এবং তোমাদের উপাস্যদের সাহায্য করো, যদি তোমরা কিছু করতে চাও। (৬৮)} [আল-আনবিয়া: ৬৮]।

ইবনে আল-কিন্দী এই পদ্ধতির আলোকে মিশরের সেইসব প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিদের আলোচনা করেছেন যারা সেখানে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তিনি তাদের মধ্য থেকে উল্লেখ করেছেন: নওরোজ আবু বখতেনাসসার—যিনি একজন বিদ্বান ব্যক্তি ছিলেন, এবং ইসকান্দার জুলকারনাইন—যাঁর প্রতি সমরকন্দ এবং খাজার অঞ্চলের আলেকজান্দ্রিয়াসহ বেশ কিছু শহর নির্মাণের কৃতিত্ব আরোপ করা হয়।

এরপর তিনি গ্রীক দার্শনিক ও বিজ্ঞানীদের একটি তালিকা উল্লেখ করেন যারা মিশরে অবস্থান করেছিলেন এবং জ্যোতির্বিদ্যা, জ্যামিতি, পদার্থবিজ্ঞান, চিকিৎসা বিজ্ঞান ও অন্যান্য বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছিলেন। ইবনে আল-কিন্দী তাঁর দেশ মিশরের প্রশংসা করেছেন যখন তিনি উল্লেখ করেছেন যে, এই দার্শনিক ও বিজ্ঞানীরা অতীত যুগে মিশরে বসবাস করেছিলেন কিন্তু তা তাদের মেধা পরিবর্তন করেনি এবং তাদের বুদ্ধিবৃত্তির কোনো ক্ষতি করেনি।

ইবনে আল-কিন্দী তাঁর গ্রন্থে ইসলামী যুগে পদার্পণ করেন এবং বিজয়ের সময় আমর ইবনুল আস-এর সাথে মিশরে আগত বেশ কিছু সাহাবীর কথা উল্লেখ করেন। তিনি তাদের মধ্য থেকে এমন আশী জন ব্যক্তির কথা উল্লেখ করেছেন যারা জামে মসজিদ প্রতিষ্ঠায় উপস্থিত ছিলেন।

এরপর তিনি মিশরে জন্ম নেওয়া ফকিহ ও আলেমদের প্রশংসা করেন। তিনি ইয়াজিদ ইবনে আবি হাবিবকে তৎকালীন মিশরের ফকিহ ও আলেমদের শীর্ষে স্থান দিয়েছেন। তেমনিভাবে লাইস ইবনে সাদকে তাঁর যুগের মিশরের শ্রেষ্ঠ দুইজন ফকিহ ও আলেমের একজন হিসেবে গণ্য করেছেন। আর ইবনে লাহিয়া সম্পর্কে তিনি ফিকহ, হাদিস ও ইতিহাসের ক্ষেত্রে তাঁর সুউচ্চ মর্যাদার বর্ণনা দিয়েছেন। এরপর তিনি মিশরের আলেমদের মধ্যে আরও একদল ব্যক্তির কথা উল্লেখ করেন যেমন-
(খণ্ড: ১) ফাযাইলু মিসর আল-মাহরুসাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
أشهب بن عبد العزيز، وأسد بن موسى، والمزنى صاحب الشافعي، ثم قال: وكل واحد قد برع في مذهبه، ونجم على أهل عصره، ولكل واحد منهم من الكتب المصنفة ما يعجز عن نظيرها سائر أهل الدنيا.

أما سعيد بن عفير، ويحيى بن عثمان؛ وابن قديد، وأبو عمر الكندى فقد جعلهم ابن الكندى من أعلام المؤرخين البارزين في القرن الثالث الهجرى حيث أشاد بكل واحد منهم ووصفه بأنه قد فاق أهل عصره وبرز عليهم في المعرفة بالأخبار وأيام الناس، والاقتنان في سائر العلوم.

وممن نبغ من المؤرخين المصريين في العصر الإخشيدى ابن يونس والكندى؛ ويضعهما ابن الكندى في قمة مؤرخى مصر الإسلامية وقتئذ.

كذلك يذكر ابن الكندى مما أشاد به من فضائل مصر من كان بها من الزهاد من أمثال حيوة بن شريح، وسليم بن عِتْر، وغيرهما.

كما أوضح اعتزازه واعتزاز مواطنيه ببلدهم مصر في التنويه بشأنها بذكر من وفد إليها من العلماء والخلفاء والشعراء.

وكان مركز الحركة العلمية الدينية في مصر وقلبها الناهض في ذلك العهد، جامع عمرو بن العاص، فكان ملتقى العلماء وإليه يفد الطلاب لتلقى العلم، كما كثر الوافدون إلى مصر من شتى الأمصار الإسلامية بغية الرواية عن علماء مصر.

وانتقل ابن الكندى من الإشادة بعلماء مصر إلى الإشاده بمصر وما تميزت به عن غيرها من الأمصار، فذكر ما قاله بعض الصحابة في شأنها من أنها خزانة الأرض كلهاء ثم أشار إلى ما تميزت به مصر من طيب هوائها ونقاء جوها وما يتمتع به أهلها من سلامة وأمن يكاد ينعدم في الأمصار الأخرى. كما أشاد بمصر حين نوه بما قاله أهل المعرفة بشأنها من أن أهل الدنيا مضطرون إلى مصر يسافرون إليها طلبا للرزق وغيره وأهلها ليسوا كذلك.

وبلغت رؤية ابن الكندى لفضائل مصر وروعتها وهو يتحدث عن النظام الإدارى في مصر، حيث كان بها ثمانون كورة (مركز) فقد أشاد بما في كل
আশহাব ইবনে আব্দুল আজিজ, আসাদ ইবনে মুসা এবং শাফেয়ী রহ.-এর অনুসারী আল-মুযানী; এরপর তিনি বলেন: তাদের প্রত্যেকেই নিজ নিজ মাযহাবে পারদর্শিতা অর্জন করেছেন এবং নিজ যুগের সমসাময়িকদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছেন। তাদের প্রত্যেকের রচিত গ্রন্থাবলি এমন মানের যে, সারা বিশ্বের অন্য কারো পক্ষে এর সমতুল্য কিছু তৈরি করা অসম্ভব।

আর সাঈদ ইবনে উফাইর, ইয়াহইয়া ইবনে উসমান, ইবনে কুদাইদ এবং আবু উমর আল-কিন্দি—ইবনে কিন্দি তাদের তৃতীয় হিজরি শতাব্দীর বিশিষ্ট ও প্রথিতযশা ইতিহাসবিদদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তিনি তাদের প্রত্যেকের প্রশংসা করেছেন এবং এই মর্মে বর্ণনা করেছেন যে, তারা নিজ যুগের লোকদের ছাড়িয়ে গেছেন এবং ইতিহাস, জনজীবন ও বিবিধ বিদ্যায় পারদর্শিতার ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন।

ইখশিদি যুগে যে সকল মিশরীয় ইতিহাসবিদ প্রসিদ্ধি লাভ করেছিলেন, তাদের মধ্যে ইবনে ইউনুস এবং আল-কিন্দি অন্যতম; ইবনে কিন্দি তাদের উভয়কে তৎকালীন ইসলামী মিশরের শীর্ষস্থানীয় ইতিহাসবিদদের কাতারে স্থান দিয়েছেন।

অনুরূপভাবে, ইবনে কিন্দি মিশরের শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনায় সেখানে বসবাসকারী দুনিয়াবিমুখ ও নিরাসক্ত ব্যক্তিদের কথা উল্লেখ করেছেন, যেমন হায়ওয়াহ ইবনে শুরাইহ, সুলাইম ইবনে ইতর এবং অন্যান্যরা।

এছাড়াও তিনি নিজ দেশ মিশরের উচ্চ মর্যাদা তুলে ধরার মাধ্যমে নিজের এবং তার দেশবাসীর গৌরব প্রকাশ করেছেন সেই সকল আলেম, খলিফা এবং কবিদের কথা উল্লেখ করে যারা সেখানে সফর করেছিলেন।

সে যুগে মিশরের ধর্মীয় ও তাত্ত্বিক আন্দোলনের কেন্দ্র এবং এর প্রাণস্পন্দন ছিল আমর ইবনুল আস মসজিদ। এটি ছিল আলেমদের মিলনস্থল এবং জ্ঞান অর্জনের জন্য শিক্ষার্থীরা এখানে ভিড় জমাত। মিশরের আলেমদের কাছ থেকে বর্ণনা (রেওয়ায়েত) সংগ্রহের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ইসলামী দেশ থেকে মিশরে আগত পর্যটকদের সংখ্যাও ছিল বিপুল।

ইবনে কিন্দি মিশরের আলেমদের প্রশংসার পর স্বয়ং মিশরের এবং অন্যান্য জনপদ থেকে এর স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের বর্ণনায় পদার্পণ করেন। তিনি মিশরের মর্যাদা সম্পর্কে জনৈক সাহাবীর উক্তি উল্লেখ করেন যে, এটি সমস্ত জমিনের ভাণ্ডারস্বরূপ। অতঃপর তিনি মিশরের নাতিশীতোষ্ণ বাতাস ও নির্মল আবহাওয়ার বৈশিষ্ট্য এবং এখানকার অধিবাসীদের অর্জিত নিরাপত্তা ও শান্তির কথা নির্দেশ করেন, যা অন্যান্য জনপদে প্রায় দুর্লভ। তিনি মিশরের প্রশংসা করতে গিয়ে প্রাজ্ঞজনদের এই উক্তিটি উদ্ধৃত করেন যে, দুনিয়ার মানুষ জীবিকা ও অন্যান্য প্রয়োজনে মিশরে আসতে বাধ্য হয়, কিন্তু মিশরের অধিবাসীরা সেভাবে অন্যদের মুখাপেক্ষী নয়।

মিশরের প্রশাসনিক ব্যবস্থা সম্পর্কে আলোচনার সময় ইবনে কিন্দি এর মর্যাদা ও চমৎকারিত্বের বর্ণনায় চরম উৎকর্ষে পৌঁছান; যেখানে মিশরে আশিটি 'কুরা' (প্রশাসনিক কেন্দ্র) ছিল। তিনি এই প্রত্যেকটির মাঝে বিদ্যমান গুণাবলির প্রশংসা করেন...
(খণ্ড: ১) ফাযাইলু মিসর আল-মাহরুসাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
كورة من الطرائف والعجائب من أصناف الشراب والطعام والفاكهة وكذلك بما في كل مدينة من الآثار العجيبة والبرابى وغير ذلك.

أما النيل فقد أظهر ابن الكندى اعتزازه واعتزاز مواطنيه به فيما قام به من جمع الروايات التي تشيد بهذا النهر وتوضح أهميته لحياة مصر وأهلها.

وعن فضائل مصر الاقتصادية فقد أوضح ابن الكندى فضل مصر على غيرها في أثناء ذكره لمواردها. فأشاد بخيراتها الوفيرة الناتجة من الزراعة، حيث كان يزرع فيها الكتان والقمح والقرط وسائر أصناف الغلات.

وحين أشاد بمنتجات مصر وصناعاتها ذكر ما اشتهرت به من صناعة القصب التنيسى والثوب الديبقى. مما ليس بغيرها، وكذلك ما اشتهرت به من صناعة المنسوجات الصوفية والأكسية المرعز التي لم يكن لها مثيل. وقد تجلى اعتزازه واعتزاز مواطنيه بصناعة مصر المتميزة في هذا الشأن بما حكاه أهل العلم والخبرة بمميزات هذه الصناعة من أن معاوية بن أبى سفيان لما كبرت سنه كان لا يدفأ، فاتفقوا أنه لا يدفئه إلا الأكسية التي تعمل بمصر من صوفها المرعز؛ فعمل له منها عدد، فما احتاج منها إلا إلى واحد فقط.

كذلك أشاد ابن الكندى بفضل مصر على غيرها بما اشتهرت به من صناعة الورق وصناعة المعادن.

واختتم ابن الكندى رؤيته لفضائل مصر بالإشادة بموقعها الممتاز الذي تتمتع به وبما كان له من أثر في نشاط مصر التجارى(1).

***

--------------------------------------------

(1) ذكر المؤلف مصادره إلى اعتمد عليها في مقدمة كتابه هذا.

প্রতিটি জনপদে পানীয়, খাদ্য ও ফলের বৈচিত্র্য এবং অলৌকিক বিষয়াদি, সেইসাথে প্রতিটি শহরের আশ্চর্যজনক নিদর্শন, প্রাচীন স্মৃতিস্তম্ভ ও অন্যান্য দ্রষ্টব্য বিষয়গুলো বিদ্যমান।

নীল নদ সম্পর্কে ইবনে আল-কিন্দি সেই সকল বর্ণনা সংগ্রহ করার মাধ্যমে নিজের এবং তার দেশবাসীর গর্ব প্রকাশ করেছেন, যা এই নদের প্রশংসা করে এবং মিসর ও তার অধিবাসীদের জীবনে এর গুরুত্ব তুলে ধরে।

মিসরের অর্থনৈতিক শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে ইবনে আল-কিন্দি এর প্রাকৃতিক সম্পদ বর্ণনার সময় অন্যান্য অঞ্চলের ওপর মিসরের শ্রেষ্ঠত্ব স্পষ্ট করেছেন। তিনি কৃষিজাত প্রচুর প্রাচুর্যের প্রশংসা করেছেন, যেখানে তিসি, গম, কলোনিয়া এবং অন্যান্য সমস্ত ধরণের শস্য উৎপাদিত হতো।

যখন তিনি মিসরের পণ্য ও শিল্পের প্রশংসা করেন, তখন তিনি তান্নিসি কাসাব এবং দাবিকি পোশাকের কথা উল্লেখ করেছেন, যা অন্য কোথাও পাওয়া যেত না। একইভাবে তিনি পশমী বস্ত্র এবং মারইজি চাদরের উল্লেখ করেছেন যার কোনো তুলনা ছিল না। এই বিষয়ে মিসরের বিশিষ্ট শিল্প নিয়ে তাঁর এবং তাঁর দেশবাসীর গর্ব ফুটে ওঠে সেই বর্ণনায়, যা জ্ঞান ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা বর্ণনা করেছেন; তারা বলেছেন যে, মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান যখন বার্ধক্যে উপনীত হন, তখন তিনি আর উষ্ণতা অনুভব করতে পারতেন না। তখন সকলে একমত হলেন যে, মিসরে উৎপাদিত মারইজি পশমের চাদর ছাড়া অন্য কিছু তাঁকে উষ্ণতা দিতে পারবে না। ফলে তাঁর জন্য বেশ কিছু চাদর তৈরি করা হলো, কিন্তু তাঁর কেবল একটিরই প্রয়োজন হয়েছিল।

ইবনে আল-কিন্দি একইভাবে কাগজ ও ধাতু শিল্পের জন্য অন্যান্য দেশের ওপর মিসরের শ্রেষ্ঠত্বের প্রশংসা করেছেন।

ইবনে আল-কিন্দি মিসরের ভৌগোলিক অবস্থানের চমৎকার বৈশিষ্ট্যের প্রশংসা করার মাধ্যমে মিসরের শ্রেষ্ঠত্ব বিষয়ক তাঁর আলোচনার সমাপ্তি টেনেছেন, যা মিসরের বাণিজ্যিক কার্যক্রমে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল(১)।

***

--------------------------------------------

(১) লেখক তাঁর এই বইয়ের ভূমিকায় যে সকল উৎসের ওপর নির্ভর করেছেন তা উল্লেখ করেছেন।

(খণ্ড: ১) ফাযাইলু মিসর আল-মাহরুসাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌المؤلف ونسبة الكتاب إليه

لم تذكر المصادر التي بين أيدينا شيئا عن حياة عمر بن أبى عمر الكندى؛ والتزمت جميعها الصمت نحو حياته، وكل ما يمكن معرفته عنه، أنه كان على قيد الحياة في النصف الثاني من القرن الرابع الهجرى، وأنه ألف كتاب فضائل مصر المحروسة للأمير أبى المسك كافور بناء على رغبة هذا الأمير الذي استقل بملك مصر سنة 355 هـ. يضاف إلى ذلك أنه أخذ عن أبيه أبى عمر (ت 350 هـ) كما أخذ عنه المؤرخ المصرى ابن زولاق (ت 387 هـ)(1).

هذا وقد ظل كثير من المؤرخين حتى اليوم ينسبون كتاب فضائل مصر إلى أبى عمر الكندى مؤلف الولاة والقضاة، فالسيوطى يقول في مقدمة كتابه حسن المحاضرة: وقد طالعت على هذا الكتاب كتبا شتى منها فضائل مصر لأبى عمر الكندى(2). وقد سار على نهج السيوطى أغلب المؤرخين المُحْدَثين فنسب البغدادى كتاب الفضائل إلى أبى عمر الكندى(3)، كما نسبه كذلك الزركلى(4)، وكذلك فعل رضا كحالة(5).

ويعتبر المقريزى المؤرخ الوحيد الذي يذكر صراحة نسبة كتاب الفضائل إلى عمر بن أبى عمر الكندى، وفقد نقل كثيرًا عن كتاب الفضائل وأودعها خططه ونسبها إلى عمر هذا(6).

--------------------------------------------

(1) ابن زولاق: مختصر تاريخ مصر، ورقة 25.

(2) السيوطى: حسن المحاضرة ج 1 ص 3.

(3) إيضاح المكنون ج 7 ص 197، وهدية العارفين ج 2 ص 46.

(4) الأعلام ج 8 ص 21.

(5) معجم المؤلفين ج 3 ص 791.

(6) المقريزى: المواعظ والاعتبار ج 1 ص 124، 158، 176، 204، 211، 212، 249.

লেখক এবং গ্রন্থটি তাঁর প্রতি সম্পৃক্ত হওয়ার প্রমাণ

আমাদের হাতে থাকা উৎসসমূহ উমর বিন আবি উমর আল-কিন্দির জীবন সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রদান করেনি; সেগুলোর প্রতিটিই তাঁর জীবন সম্পর্কে নীরবতা পালন করেছে। তাঁর সম্পর্কে কেবল এতটুকু জানা সম্ভব হয়েছে যে, তিনি চতুর্থ হিজরি শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে জীবিত ছিলেন। এছাড়াও তিনি আমীর আবুল মিসক কাফুরের ইচ্ছানুসারে তাঁর জন্য 'ফাদায়িলু মিসর আল-মাহরুসাহ' (সুরক্ষিত মিশরের শ্রেষ্ঠত্ব) গ্রন্থটি রচনা করেছিলেন, যিনি ৩৫৫ হিজরি সালে মিশরের রাজত্বের পূর্ণ স্বাধীনতা ও কর্তৃত্ব লাভ করেছিলেন। এর সাথে আরও যোগ করা যায় যে, তিনি তাঁর পিতা আবু উমর (মৃত্যু ৩৫০ হিজরি) থেকে জ্ঞান অর্জন করেছিলেন, যেমনটি মিশরীয় ঐতিহাসিক ইবনে যুলাক (মৃত্যু ৩৮৭ হিজরি) তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন(১)।

উল্লেখ্য যে, আজ পর্যন্ত অনেক ঐতিহাসিক 'ফাদায়িলু মিসর' গ্রন্থটিকে 'আল-উলাত ওয়াল-কুদাত' গ্রন্থের লেখক আবু উমর আল-কিন্দির সাথে সম্পৃক্ত করে আসছেন। যেমন, সুয়ূতী তাঁর 'হুসনুল মুহাদারা' গ্রন্থের ভূমিকায় বলেন: "আমি এই গ্রন্থের জন্য বিভিন্ন কিতাব অধ্যয়ন করেছি, যার মধ্যে আবু উমর আল-কিন্দির 'ফাদায়িলু মিসর' অন্যতম(২)।" অধিকাংশ আধুনিক ঐতিহাসিক সুয়ূতীর এই পথই অনুসরণ করেছেন; ফলে বাগদাদী 'ফাদায়িল' গ্রন্থটিকে আবু উমর আল-কিন্দির প্রতি সম্পৃক্ত করেছেন(৩), যেমনটি করেছেন যিরিকলী(৪) এবং রিদা কাহহালাও তা-ই করেছেন(৫)।

মাকরিজী একমাত্র ঐতিহাসিক হিসেবে গণ্য, যিনি স্পষ্টভাবে 'ফাদায়িল' গ্রন্থটিকে উমর বিন আবি উমর আল-কিন্দির কাজ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি 'ফাদায়িল' গ্রন্থ থেকে প্রচুর উদ্ধৃতি দিয়েছেন এবং তাঁর 'খিতাত' গ্রন্থে সেগুলো সন্নিবেশিত করে এই উমরের প্রতিই তা সম্পৃক্ত করেছেন(৬)।

--------------------------------------------

(১) ইবনে যুলাক: মুখতাসার তারিখু মিসর, পৃষ্ঠা ২৫।

(২) সুয়ূতী: হুসনুল মুহাদারা, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৩।

(৩) ইদাহুল মাকনুন, খণ্ড ৭, পৃষ্ঠা ১৯৭; এবং হাদিয়াতুল আরিফীন, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৪৬।

(৪) আল-আলাম, খণ্ড ৮, পৃষ্ঠা ২১।

(৫) মুজামুল মুআল্লিফীন, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৭৯১।

(৬) মাকরিজী: আল-মাওয়ায়িজ ওয়াল ই'তিবার, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১২৪, ১৫৮, ১৭৬, ২০৪, ২১১, ২১২, ২৪৯।

(খণ্ড: ১) ফাযাইলু মিসর আল-মাহরুসাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
يضاف إلى ذلك أن كتاب فضائل مصر لم يذكر بين مؤلفات أبى عمر الكندى في ترجمته بكتاب المقفى للمقريزى، حيث ساق المقريزى مؤلفاته دون إشارة إلى كتاب الفضائل(1).

ومهما يكن من أمر فإن عمر أشار في مقدمة كتابه الفضائل هذا إلى والده أبى عمر بين علماء مصر الذين جمع من كتبهم ما أمره به كافور الإخشيدى، كما ذكره مرة أخرى بين علماء مصر الذين فاقوا أهل عصرهم وبرزوا عليهم في العلم والأخبار وأيام الناس. كما تحدث عمر عن نفسه أثناء الكلام عن الأهرام والصابئة في كتابه هذا فقال: وأنا رأيت من الصابئة من حجهما.

***

--------------------------------------------

(1) المقريزى: المقفى ج 7 ص 489.

এর সাথে এটিও যুক্ত করা প্রয়োজন যে, আল-মাকরিজীর 'আল-মুকাফফা' গ্রন্থে আবু উমর আল-কিনদীর জীবনী আলোচনায় তার রচনাবলীর মধ্যে 'ফাযায়েলু মিসর' গ্রন্থের উল্লেখ করা হয়নি, যেখানে মাকরিজী 'ফাযায়েল' গ্রন্থের প্রতি কোনো ইঙ্গিত ছাড়াই তার গ্রন্থসমূহের তালিকা পেশ করেছেন(১)।

বিষয়টি যেমনই হোক না কেন, উমর তার এই 'ফাযায়েল' গ্রন্থের ভূমিকায় মিশরের সেই সকল আলেমদের তালিকায় তার পিতা আবু উমরের নাম উল্লেখ করেছেন, যাদের কিতাবসমূহ থেকে তথ্য সংগ্রহের জন্য কাফুর আল-ইখশিদী তাকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। এছাড়াও তিনি তাকে মিশরের সেই সকল আলেমদের মধ্যে পুনরায় স্মরণ করেছেন যারা তাদের সমসাময়িকদের ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন এবং জ্ঞান-বিজ্ঞান, ইতিহাস ও ঐতিহাসিক ঘটনাবলীতে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছিলেন। অনুরূপভাবে উমর তার এই গ্রন্থে পিরামিড ও সাবায়ীদের আলোচনার সময় নিজের সম্পর্কে বলেন: "আমি সাবায়ীদের মধ্যে এমন ব্যক্তিকে দেখেছি যে ঐ দুইটির (পিরামিড) উদ্দেশ্যে হজ্জ করত।"

***

--------------------------------------------

(১) আল-মাকরিজী: আল-মুকাফফা, ৭ম খণ্ড, ৪৮৯ পৃষ্ঠা।

(খণ্ড: ১) ফাযাইলু মিসর আল-মাহরুসাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌مكانة ابن الكندى بين المؤرخين

ظل ابن الكندى لفترات طويلة تجاوزت عصره - من أبرز وجوه مصر الفكرية لدى مؤرخى مصر. وقد تجلى ذلك حين اعتمدت المؤلفات المتأخرة على كتاب ابن الكندى إلى حد بعيد.

فقد نقل عنه ابن سعيد الأندلسى (ت 685 هـ) في كتاب المغرب في حلى المغرب نقلا حرفيا في عدة مواضع. وذلك بمناسبة ما رآه بمصر موسى الهاشمي والى مصر من قبل الرشيد من بعض المناظر التي شدت انتباهه وبين إعجابه بها من أمثال النخيل والبساتين والنيل ومراتع الخيل وصائدى الأسماك وملاحى السفن وغير ذلك(1).

وكذلك نقل ابن سعيد نصا كاملا عن ابن الكندى في فضل مقبرة مصر(2).

كما نقل ابن سعيد أيضًا عن كتاب فضائل مصر بمناسبة الحديث عن الإسكندرية وما بها من عجائب(3).

ويلاحظ أن جميع النقول لدى ابن سعيد مأخوذة بالحرف عن ابن الكندى.

أما النويرى (ت 732 هـ) فقد انتفع كذلك بكتاب فضائل مصر في كتابه "نهاية الأرب"(4) وذلك في الفصل الذي عقده بعنوان "مصر وما يختص

--------------------------------------------

(1) انظر ابن سعيد الأندلسي: المغرب في حلى المغرب ص 3.

(2) المصدر السابق ص 11، 12.

(3) انظر المصدر السابق ص 16.

(4) انظر جـ 1 ص 344.

ঐতিহাসিকদের মাঝে ইবনুল কিন্দীর অবস্থান

দীর্ঘ সময় ধরে—যা তাঁর যুগকেও ছাড়িয়ে গিয়েছিল—ইবনুল কিন্দী মিশরের ঐতিহাসিকদের নিকট মিশরের অন্যতম প্রধান বুদ্ধিবৃত্তিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে গণ্য ছিলেন। এটি তখন স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যখন পরবর্তীকালের রচনাসমূহ ইবনুল কিন্দীর গ্রন্থের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়ে।

ইবনে সাঈদ আল-আন্দালুসি (মৃত্যু ৬৮৫ হিজরি) তাঁর 'আল-মুগরিব ফি হুলা আল-মাগরিব' গ্রন্থে বেশ কিছু স্থানে ইবনুল কিন্দী থেকে হুবহু উদ্ধৃতি দিয়েছেন। এটি হারুনুর রশিদের পক্ষ থেকে নিযুক্ত মিশরের গভর্নর মুসা আল-হাশিমী কর্তৃক মিশরে দেখা এমন কিছু দৃশ্যের প্রেক্ষিতে ছিল, যা তাঁর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল এবং তিনি সেগুলোর প্রতি মুগ্ধতা প্রকাশ করেছিলেন; যেমন—খেজুর বাগান, উদ্যানসমূহ, নীল নদ, ঘোড়ার চারণভূমি, মৎস্যজীবী, নৌকার মাঝি এবং অন্যান্য বিষয়সমূহ(১)।

অনুরূপভাবে ইবনে সাঈদ মিশরের কবরস্থানের ফযিলত সম্পর্কে ইবনুল কিন্দী থেকে একটি পূর্ণাঙ্গ পাঠ্য উদ্ধৃত করেছেন(২)।

পাশাপাশি ইবনে সাঈদ আলেকজান্দ্রিয়া এবং সেখানকার বিস্ময়কর বিষয়াদি সম্পর্কে আলোচনার সূত্রে 'ফাযায়েলে মিসর' গ্রন্থ থেকেও উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন(৩)।

লক্ষ্যণীয় যে, ইবনে সাঈদের নিকট প্রাপ্ত সকল উদ্ধৃতিই ইবনুল কিন্দী থেকে অক্ষরভেদে হুবহু গ্রহণ করা হয়েছে।

অন্যদিকে আল-নুওয়াইরি (মৃত্যু ৭৩২ হিজরি) তাঁর "নিহায়াতুল আরাব" গ্রন্থে একইভাবে 'ফাযায়েলে মিসর' কিতাবটি থেকে উপকৃত হয়েছেন(৪); আর তা সেই পরিচ্ছেদে যা তিনি "মিশর এবং যা বিশেষত্বমণ্ডিত" শিরোনামে রচনা করেছেন।

--------------------------------------------

(১) দেখুন ইবনে সাঈদ আল-আন্দালুসি: আল-মুগরিব ফি হুলা আল-মাগরিব, পৃষ্ঠা ৩।

(২) পূর্বোক্ত উৎস, পৃষ্ঠা ১১, ১২।

(৩) দেখুন পূর্বোক্ত উৎস, পৃষ্ঠা ১৬।

(৪) দেখুন ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩৪৪।

(খণ্ড: ১) ফাযাইলু মিসর আল-মাহরুসাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
بها من الفضائل" فقد نقل معظم مادته نقلًا حرفيا عما جاء بكتاب ابن الكندى.

كما كان كتاب فضائل مصر لابن الكندى من المصادر الرئيسية لدى القلقشندى(1) (ت 871 هـ) في الفصل الذي خصصه للحديث عن مصر وفضائلها.

أما المقريزى (ت 845 هـ) فقد نقل في كتابه المواعظ والاعتبار معظم المادة الموجودة في كتاب الفضائل، واستعان بها في أماكن متعددة من كتابه، فاقتبس من الفضائل بمناسبة الحديث الذي دار بين عمرو بن العاص والمقوقس بشأن جبل المقطم(2). كما اقتبس من الفضائل بمناسبة الحديث عن منارة الإسكندرية(3). وكذلك في حديثه عن مدينة أتريب(4). كما استعان المقريزى بابن الكندى في وصفه لمدينة الفرما وما كان بها من آثار(5) وكذاك في وصفه لمدينة الفيوم(6).

كذلك اعتمد ابن تغرى بردى(7) (ت 874 هـ) على ابن الكندى وذلك بمناسبة الحديث عن فضائل مصر من جبلها المقدس ونيلها المبارك وما بها من آثار.

وتعتبر معظم النقول الخاصة بفضائل مصر لدى السيوطى (ت 910 هـ) مأخوذة بالحرف عن كتاب فضائل مصر لابن الكندى، وذلك على الرغم من أنه نسب كتاب الفضائل خطأ لأبى عمر الكندى(8).

--------------------------------------------

(1) انظر صبح الأعشى ج 3 ص 287.

(2) انظر المقريزى: المواعظ والاعتبار ج 1 ص 124.

(3) انظر المصدر السابق ج 1 ص 158.

(4) انظر المصدر السابق ج 1 ص 176.

(5) انظر المصدر السابق ج 1 ص 211.

(6) انظر المصدر السابق ج 1 ص 249.

(7) انظر النجوم الزاهرة ج 1 ص 37.

(8) انظر السيوطى: حسن المحاضرة ج 1 ص 3، 553.

সেসব ফযিলতসমূহ" সম্পর্কে; তিনি এর অধিকাংশ বিষয়বস্তু ইবনে আল-কিন্দি-র কিতাবে যা এসেছে তা থেকে হুবহু নকল করেছেন।

একইভাবে কালকাশান্দি(১) (মৃত্যু ৮৭১ হিজরি) মিশর এবং এর ফযিলতসমূহ নিয়ে আলোচনার জন্য নির্ধারিত অধ্যায়ে ইবনে আল-কিন্দি-র 'ফাযায়িল মিসর' কিতাবটিকে অন্যতম প্রধান উৎস হিসেবে ব্যবহার করেছেন।

আর মাকরিজি (মৃত্যু ৮৪৫ হিজরি) তাঁর 'আল-মাওয়ায়িজ ওয়াল ই'তিবার' কিতাবে 'ফাযায়িল' কিতাবের অধিকাংশ বিষয়বস্তু উদ্ধৃত করেছেন এবং তাঁর কিতাবের বিভিন্ন স্থানে এর সাহায্য নিয়েছেন; তিনি 'ফাযায়িল' থেকে জাবালে মুকাত্তাম প্রসঙ্গে আমর ইবনুল আস ও মুকাউকিস-এর মধ্যকার আলোচনার উদ্ধৃতি দিয়েছেন(২)। তিনি আলেকজান্দ্রিয়ার বাতিঘর সম্পর্কিত আলোচনার সময়ও 'ফাযায়িল' থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন(৩)। একইভাবে আতরিব শহর সম্পর্কে আলোচনার ক্ষেত্রেও(৪)। মাকরিজি ফারমা শহর ও সেখানে বিদ্যমান নিদর্শনাবলি বর্ণনার ক্ষেত্রেও ইবনে আল-কিন্দি-র সাহায্য নিয়েছেন(৫) এবং ফাইয়ুম শহরের বর্ণনার ক্ষেত্রেও(৬)।

তেমনিভাবে ইবনে তাগরি বারদি(৭) (মৃত্যু ৮৭৪ হিজরি) মিশরের ফযিলত অর্থাৎ এর পবিত্র পাহাড়, বরকতময় নীল নদ এবং সেখানে বিদ্যমান নিদর্শনাবলি সম্পর্কে আলোচনার সময় ইবনে আল-কিন্দি-র ওপর নির্ভর করেছেন।

সুয়ূতি (মৃত্যু ৯১০ হিজরি)-র নিকট মিশরের ফযিলত সম্পর্কিত অধিকাংশ বর্ণনা ইবনে আল-কিন্দি-র 'ফাযায়িল মিসর' কিতাব থেকে হুবহু নেওয়া হয়েছে বলে বিবেচিত হয়, যদিও তিনি ভুলবশত 'ফাযায়িল' কিতাবটিকে আবু উমর আল-কিন্দি-র নামে অভিহিত করেছেন(৮)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: সুবহুল আ'শা, ৩য় খণ্ড, ২৮৭ পৃষ্ঠা।

(২) দেখুন: আল-মাকরিজি: আল-মাওয়ায়িজ ওয়াল ই'তিবার, ১ম খণ্ড, ১২৪ পৃষ্ঠা।

(৩) দেখুন: পূর্বোক্ত উৎস, ১ম খণ্ড, ১৫৮ পৃষ্ঠা।

(৪) দেখুন: পূর্বোক্ত উৎস, ১ম খণ্ড, ১৭৬ পৃষ্ঠা।

(৫) দেখুন: পূর্বোক্ত উৎস, ১ম খণ্ড, ২১১ পৃষ্ঠা।

(৬) দেখুন: পূর্বোক্ত উৎস, ১ম খণ্ড, ২৪৯ পৃষ্ঠা।

(৭) দেখুন: আন-নুজুমুজ জাহেরা, ১ম খণ্ড, ৩৭ পৃষ্ঠা।

(৮) দেখুন: আস-সুয়ূতি: হুসনুল মুহাদারা, ১ম খণ্ড, ৩, ৫৫৩ পৃষ্ঠা।

(খণ্ড: ১) ফাযাইলু মিসর আল-মাহরুসাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
فقد أشار السيوطى إلى كتاب الفضائل بمناسبة ذكر من دخل مصر من الأنبياء(1). وكذلك بمناسبة السحرة الذين آمنوا بموسى عليه السلام(2) وما ذكره أيضا من كان بمصر من الحكماء في الدهر الأول(3).

وفى الفصل الذي عقده السيوطى عن المقطم اعتمد فيه كذلك إلى حد بعيد على كتاب الفضائل، فنقل معظم أقواله منه بنصها(4).

وكذلك الفصل الذي عقده السيوطى بعنوان لطائف مصر، فقد نقل معظم مادته أيضا من كتاب الفضائل بنصها(5).

ويعد كتاب الفضائل أيضا مصدرا رئيسيا لدى ابن ظهيرة في كتابه الفضائل الباهرة في محاسن مصر والقاهرة، حيث نقل هذا المؤرخ معظم ما كتبه ابن الكندى عن فضائل مصر في كثير من فصول كتابه(6).

وهكذا ظلت مدرسة مصر تعتمد على كتاب ابن الكندى في كل مراحلها حين يزمع مؤرخوها الحديث عن فضائل مصر.

***

--------------------------------------------

(1) انظر السيوطى: حسن المحاضرة ج 1 ص 52.

(2) انظر المصدر السابق ج 1 ص 59.

(3) انظر المصدر السابق ج 1 ص 60.

(4) انظر المصدر السابق ج 1 ص 137 - 139.

(5) انظر المصدر السابق ج 1 ص 324.

(6) انظر ابن ظهيرة: الفضائل الباهرة ص 62، 110، 150، 158، 159، 162، 186.

আস-সুয়ূতী মিশরে প্রবেশকারী নবীদের আলোচনার সূত্রে 'কিতাবুল ফাযায়িল'-এর প্রতি ইঙ্গিত করেছেন(১)। অনুরূপভাবে মূসা আলাইহিস সালামের প্রতি ঈমান আনয়নকারী জাদুকরদের আলোচনায়(২) এবং প্রাচীন যুগে মিশরে অবস্থানকারী প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিদের বর্ণনার ক্ষেত্রেও তিনি এটি উল্লেখ করেছেন(৩)।

আল-মুকাট্টাম সম্পর্কে আস-সুয়ূতী যে পরিচ্ছেদটি রচনা করেছেন, সেখানেও তিনি বহুলাংশে 'কিতাবুল ফাযায়িল'-এর ওপর নির্ভর করেছেন; ফলে তিনি এর অধিকাংশ বক্তব্য মূল পাঠসহ সেখান থেকে উদ্ধৃত করেছেন(৪)।

অনুরূপভাবে 'লাতায়েফু মিসর' (মিশরের সূক্ষ্ম রহস্যসমূহ) শিরোনামে আস-সুয়ূতী যে পরিচ্ছেদটি বিন্যস্ত করেছেন, তার অধিকাংশ বিষয়বস্তুও তিনি 'কিতাবুল ফাযায়িল' থেকে হুবহু উদ্ধৃত করেছেন(৫)।

ইবনে জুহায়রার 'আল-ফাযায়িলুল বাহিরা ফী মাহাসিনি মিসর ওয়াল কাহিরা' গ্রন্থেও 'কিতাবুল ফাযায়িল' একটি প্রধান উৎস হিসেবে বিবেচিত, যেখানে এই ঐতিহাসিক তাঁর গ্রন্থের অনেকগুলো পরিচ্ছেদে মিশরের শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে ইবনুল কিনদীর লেখার অধিকাংশ অংশই উদ্ধৃত করেছেন(৬)।

এভাবেই যখনই মিশরের ঐতিহাসিকগণ মিশরের শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে আলোচনার সংকল্প করেছেন, তখনই মিশরের ইতিহাস চর্চার ধারাটি তার প্রতিটি স্তরে ইবনুল কিনদীর কিতাবের ওপর নির্ভরশীল থেকেছে।

***

--------------------------------------------

(১) দেখুন আস-সুয়ূতী: হুসনুল মুহাযারা, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৫২।

(২) পূর্বোক্ত উৎস দেখুন, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৫৯।

(৩) পূর্বোক্ত উৎস দেখুন, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৬০।

(৪) পূর্বোক্ত উৎস দেখুন, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১৩৭ - ১৩৯।

(৫) পূর্বোক্ত উৎস দেখুন, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৩২৪।

(৬) দেখুন ইবনে জুহায়রা: আল-ফাযায়িলুল বাহিরা, পৃষ্ঠা ৬২, ১১০, ১৫০, ১৫৮, ১৫৯, ১৬২, ১৮৬।

(খণ্ড: ১) ফাযাইলু মিসর আল-মাহরুসাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌النسخ الخطية للكتاب

هذا وقد استندت في تحقيق نص ابن الكندى إلى المخطوطات الآتى ذكرها، مع مقارنتها بأهم المصادر المتعلقة بموضوع النص.

1 - نسخة كتبت بخط نسخى، بدون تاريخ، وعليها هذه العبارة منقولة عن نسخة الأصل المكتبة لكافور الإخشيدى برسم قاسم أفندى الشعرانى قاضى العسكر بمصر، وتقع في 21 ورقة. ومسطرتها 15 سطرًا، وهى محفوظة بدار الكتب المصرية، برقم 422 تاريخ، وقد رمزنا لهذه النسخة بالحرف أ.

1 - نسخة كتبت بخط نسخى، بدون تاريخ، وناقصة من آخرها ورقة، وتقع في 19 ورقة، ومسطرتها 19 سطرًا، وهى محفوظة بدار الكتب المصرية، برقم 753 تاريخ، وقد رمزنا لهذه النسخة بالحرف ب.

3 - قطعة من نسخة ميكروفيلم محفوظة بمعهد المخطوطات، وتقع في 8 ورقات، ومسطرتها 25 سطرًا، تحت رقم 874 تاريخ. عن أصلها المحفوظ بمتحف الآثار الفلسطينى بالقدس، مصورة عن نسخة بجامع أحمد باشا الجزار بعكا، وهى بقلم معتاد قديم من خطوط القرن الخامس الهجرى، كما ذكر في فهرس معهد المخطوطات بجامعة الدول العربية، وقد رمزنا لهذه النسخة بالحرف ج.

وقد اخترت الاعتماد على نسخة (ج) إلى أن ينتهى ما فيها عند كلمة (القناطر) ص 41 س 6؛ لأنها أقدم النسخ. حيث نسخت في القرن الخامس الهجرى. وخاصة حين تتفق معها نسخة أخرى. ولم أكن أفارق قراءة (ج) إلا إذا اتفقت فيها النسخ الأخرى دونها.
গ্রন্থের পাণ্ডুলিপিসমূহ

ইবনে আল-কিন্দির পাঠ্য সম্পাদনায় (তাহকিক) আমি নিচে উল্লিখিত পাণ্ডুলিপিসমূহের ওপর ভিত্তি করেছি, পাশাপাশি পাঠ্যের বিষয়বস্তুর সাথে সম্পর্কিত প্রধান উৎসগুলোর সাথে তা তুলনা করেছি।

১ - নাসখ লিপিতে লিখিত একটি পাণ্ডুলিপি, যার কোনো তারিখ নেই। এতে এই কথাটি উল্লেখ রয়েছে যে, এটি মিশরের কাযী আল-আসকার কাসেম এফেন্দি আশ-শারানির জন্য প্রস্তুতকৃত কাফুর আল-ইখশিদীর মূল গ্রন্থাগারের পাণ্ডুলিপি থেকে অনুলিপি করা হয়েছে। এটি ২১টি পৃষ্ঠায় বিস্তৃত। এর প্রতি পৃষ্ঠায় ১৫টি করে লাইন রয়েছে। এটি মিশরের 'দারুল কুতুব'-এ ৪২২ নম্বর ইতিহাসে সংরক্ষিত রয়েছে। আমরা এই পাণ্ডুলিপিটিকে 'আলিফ' বর্ণ দিয়ে চিহ্নিত করেছি।

১ - নাসখ লিপিতে লিখিত একটি পাণ্ডুলিপি, যার কোনো তারিখ উল্লেখ নেই এবং এর শেষ থেকে একটি পৃষ্ঠা হারিয়ে গেছে। এটি ১৯টি পৃষ্ঠায় বিস্তৃত এবং এর প্রতি পৃষ্ঠায় ১৯টি করে লাইন রয়েছে। এটি মিশরের 'দারুল কুতুব'-এ ৭৫৩ নম্বর ইতিহাসে সংরক্ষিত আছে। আমরা এই পাণ্ডুলিপিটিকে 'বা' বর্ণ দিয়ে চিহ্নিত করেছি।

৩ - পাণ্ডুলিপি ইনস্টিটিউটে সংরক্ষিত মাইক্রোফিল্ম কপির একটি অংশ। এটি ৮টি পৃষ্ঠায় বিস্তৃত এবং প্রতি পৃষ্ঠায় ২৫টি করে লাইন রয়েছে, যা ৮৭৪ নম্বর ইতিহাস হিসেবে নথিভুক্ত। এটি জেরুজালেমের ফিলিস্তিনি প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘরে সংরক্ষিত মূল পাণ্ডুলিপি থেকে নেওয়া, যা আবার এক্কার আহমদ পাশা আল-জাজ্জার মসজিদের একটি পাণ্ডুলিপি থেকে ছবি তোলা হয়েছে। এটি পঞ্চম হিজরি শতাব্দীর প্রাচীন সাধারণ লিপিতে লিখিত, যেমনটি আরব লিগের পাণ্ডুলিপি ইনস্টিটিউটের সূচিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। আমরা এই পাণ্ডুলিপিটিকে 'জীম' বর্ণ দিয়ে চিহ্নিত করেছি।

আমি 'জীম' পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করাকে বেছে নিয়েছি যতক্ষণ না এর বিষয়বস্তু ৪১ নম্বর পৃষ্ঠার ৬ নম্বর লাইনে 'আল-কানাতীর' শব্দে গিয়ে শেষ হয়; কারণ এটি সবচেয়ে প্রাচীন পাণ্ডুলিপি, যা পঞ্চম হিজরি শতাব্দীতে অনুলিপি করা হয়েছে। বিশেষ করে যখন অন্য কোনো পাণ্ডুলিপি এর সাথে একমত হয় তখন এটিই অগ্রাধিকার পায়। আমি 'জীম' পাণ্ডুলিপির পাঠ থেকে বিচ্যুত হইনি, কেবল তখনই হয়েছি যখন অন্য পাণ্ডুলিপিসমূহ সেটিকে বাদ দিয়ে নিজেদের মধ্যে একমত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) ফাযাইলু মিসর আল-মাহরুসাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
كما وضعت عناوين داخلية في متن الكتاب بين حاصرتين للتوضيح.
অনুরূপভাবে আমি কিতাবের মূল পাঠ্যের অভ্যন্তরে স্পষ্টীকরণের উদ্দেশ্যে বন্ধনীদ্বয়ের মাঝে কিছু অভ্যন্তরীণ শিরোনাম যুক্ত করেছি।
(খণ্ড: ১) ফাযাইলু মিসর আল-মাহরুসাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
صفحة العنوان من النسخة "أ" المحفوظة بدار الكتب رقم 422 تاريخ.
দারুল কুতুব-এ সংরক্ষিত 'আলিফ' পাণ্ডুলিপির শিরোনাম পাতা, নম্বর ৪২২ ইতিহাস।
(খণ্ড: ১) ফাযাইলু মিসর আল-মাহরুসাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
الصفحة الأولى من النسخة "أ" المحفوظة بدار الكتب برقم 422 تاريخ
দারুল কুতুব-এ ৪২২ নম্বর ইতিহাস হিসেবে সংরক্ষিত ‘ক’ পাণ্ডুলিপির প্রথম পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) ফাযাইলু মিসর আল-মাহরুসাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
الصفحة الأخيرة من النسخة "أ" المحفوظة بدار الكتب برقم 422 تاريخ
দার আল-কুতুব-এ ৪২২ নম্বর ইতিহাস হিসেবে সংরক্ষিত পাণ্ডুলিপি ‘আলিফ’-এর সর্বশেষ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) ফাযাইলু মিসর আল-মাহরুসাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
الصفحة الأولى من النسخة "ب" المحفوظة بدار الكتب برقم 753 تاريخ
দারুল কুতুব-এ ৭৫৩ ইতিহাস নম্বরে সংরক্ষিত 'খ' পাণ্ডুলিপির প্রথম পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) ফাযাইলু মিসর আল-মাহরুসাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
آخر الموجود من النسخة "ب" المحفوظة بدار الكتب برقم 753 تاريخ
দারুল কুতুব-এ ৭৫৩ ইতিহাস নম্বরে সংরক্ষিত "বা" পাণ্ডুলিপির বিদ্যমান অংশের শেষ।
(খণ্ড: ১) ফাযাইলু মিসর আল-মাহরুসাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
اللوحة الأولى من النسخة "ج" المحفوظة بمعهد المخطوطات برقم 874 تاريخ
ইন্সটিটিউট অফ ম্যানুস্ক্রিপ্টস-এ ৮৭৪ ইতিহাস নম্বরে সংরক্ষিত 'জিম' পাণ্ডুলিপির প্রথম পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) ফাযাইলু মিসর আল-মাহরুসাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
آخر الموجود من النسخة "ج" المحفوظة بمعهد المخطوطات برقم 874 تاريخ
পাণ্ডুলিপি ইনস্টিটিউটে ৮৭৪ নম্বর ইতিহাস হিসেবে সংরক্ষিত "জীম" অনুলিপির বিদ্যমান অংশের সমাপ্তি।
(খণ্ড: ১) ফাযাইলু মিসর আল-মাহরুসাহ (পৃষ্ঠা: -)
فضائل مصر المحروسة   (ابن الكندي)

القسم: البلدان والرحلات


الكتاب: فضائل مصر المحروسة

المؤلف: ابن الكندي، عمر بن محمد بن يوسف، من علماء النصف الثاني من القرن الرابع الهجري

المحقق: د علي عمر، قسم التاريخ والحضارة الإسلامية بجامعتي المنيا والإمام محمد بن سعود بالرياض

الناشر: مكتبة الخانجي- القاهرة

الطبعة: الأولى، 1417 هـ - 1997 م

(وقد نشره المحقق أول مرة في مطبعة الاستقلال، القاهرة 1391 هـ - 1971 م)

عدد الصفحات: 52

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

সুরক্ষিত মিসরের ফযীলতসমূহ   (ইবনুল কিন্দি)

বিভাগ: দেশসমূহ ও ভ্রমণকাহিনী


বই: সুরক্ষিত মিসরের ফযীলতসমূহ

লেখক: ইবনুল কিন্দি, উমর বিন মুহাম্মাদ বিন ইউসুফ, হিজরি চতুর্থ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধের আলেমদের অন্তর্ভুক্ত

সম্পাদক: ড. আলী উমর, মিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয় এবং রিয়াদের ইমাম মুহাম্মাদ বিন সাউদ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও ইসলামি সভ্যতা বিভাগ

প্রকাশক: মাকতাবাতুল খানজি- কায়রো

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৭ হিজরি - ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দ

(সম্পাদক এটি প্রথমবার প্রকাশ করেছিলেন আল-ইস্তিকলাল প্রেস, কায়রো ১৩৯১ হিজরি - ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে)

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫২

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) ফাযাইলু মিসর আল-মাহরুসাহ (পৃষ্ঠা: ১)
فضائل مصر المحروسة

 

لابن الكندي، عمر بن محمد بن يوسف

من علماء النصف الثاني من القرن الرابع الهجري
সুরক্ষিত মিসরের শ্রেষ্ঠত্ব

 

ইবনুল কিন্দি, উমর ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে ইউসুফ-এর

চতুর্থ হিজরি শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধের আলেমদের অন্তর্ভুক্ত
(খণ্ড: ১) ফাযাইলু মিসর আল-মাহরুসাহ (পৃষ্ঠা: ২)
كتاب

فضائل مصر المحروسة

نقل من نسخة الأصل المكتتبة لكافور الإخشيدي رحمه الله، برسم سيدنا ومولانا فخر قضاة الإسلام كمال ولاة الأنام معدن الفضل والفضائل والإكرام. مولانا قاسم أفندي الشعراني القاضي العسكري بمصر حالا، دامت سعادته بمحمد وآله.
গ্রন্থ

সুরক্ষিত মিশরের ফজিলতসমূহ

কাফুর আল-ইখশিদি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন)-এর জন্য অনুলিখিত মূল পাণ্ডুলিপি হতে নকলকৃত; যা আমাদের নেতা ও অভিভাবক, ইসলামের বিচারকগণের গৌরব, শাসকদের মধ্যে পূর্ণতা প্রাপ্ত, অনুগ্রহ, সচ্চরিত্র ও মহানুভবতার আকর, বর্তমানে মিশরের সামরিক বিচারক আমাদের মাওলানা কাসিম এফেন্দি আল-শারানির অভিপ্রায়ে প্রস্তুতকৃত। মুহাম্মদ (সা.) ও তাঁর পরিজনের উসিলায় তাঁর সৌভাগ্য চিরস্থায়ী হোক।
(খণ্ড: ১) ফাযাইলু মিসর আল-মাহরুসাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

وبالله التوفيق والإعانة

أخبرنا أبو محمد عبد الرحمن بن عمر بن محمد المعدل المعروف بابن النحاس(1) أخبرنا عمر بن أبي عمر محمد بن يوسف بن يعقوب الكندي المصري رحمه الله، قال:

هذا كتاب أمر بجمعه وحضَّ على تأليفه أبو المسك كافور(2)، يذكر فيه مصر وما خصها الله به من الفضل والبركات والخيرات، على سائر البلدان، فزاد الله الأستاذ رغبة في العلم، ولأهله محبة، وعليه مثابرة وشهوة، فمثله رغب في مثله، وحث على جمعه. إذ كان أردشير زمانه في السياسة والعمارة، وواحد دهره في عدله ورأفته، ورفقه برعيته، فلا أزال الله عنا ظله، وأمتعنا ببقائه، ودوام أيامه، وجعل ما خصه به من الفضل في دنياه، موصولا بأخراه.

فجمعت ما أمر به من كتب شيوخ المصريين وغيرهم من أهل العلم والخبرة، والبحث والذكاء والفطنة، والتفتيش والرحلة والطلب.

--------------------------------------------

(1) ولد سنة 323 هـ. وسمع بمصر أبا الطاهر أحمد بن محمد بن عمرو المدينى، والحافظ أبا سعيد بن يونس الصدفى وغيرهما. حدث عنه القاضي محمد بن سلامة القضاعى وغيره. توفى سنة 416 هـ. (الذهبي: سير أعلام النبلاء، 7/ 313).

(2) ذكره الذهبي في تاريخه في وفيات سنة 357 هـ بقوله: كافور الخادم الأسود الحبشى الأستاذ أبو المسك الإخشيدى السلطان اشتراه الإخشيدى من بعض رؤساء المصريين، ثم إنه تقدم عند الإخشيد صاحب مصر لعقله ورأيه إلى أن كان من كبار قواده، ثم استقل بأمر مصر سنة 355 هـ، وكان كافور يُدْني الشعراء ويُجيزهم، وكان يُقرأ عنده كل ليلة السِّيَر وأخبار الدولة الأموية والعباسية، توفى سنة 357 هـ.

(الذهبي: تاريخ الإسلام وفيات سنة 357 هـ).
বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম

 

এবং আল্লাহর নিকট হতেই তৌফিক এবং সাহায্য প্রার্থনা করছি

আমাদের সংবাদ প্রদান করেছেন আবু মুহাম্মদ আবদুর রহমান ইবনে উমর ইবনে মুহাম্মদ আল-মুয়াদ্দিল, যিনি ইবনুন নাহহাস নামে পরিচিত(১) আমাদের সংবাদ প্রদান করেছেন উমর ইবনে আবু উমর মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ ইবনে ইয়াকুব আল-কিন্দী আল-মিসরী (রহিমাহুল্লাহ), তিনি বলেন:

এটি এমন একটি কিতাব যা সংকলনের আদেশ প্রদান করেছেন এবং যার রচনার ব্যাপারে উৎসাহিত করেছেন আবু আল-মিসক কাফুর(২)। এতে তিনি মিসর এবং অন্যান্য সকল দেশের ওপর এই ভূখণ্ডকে আল্লাহ তাআলা যে মর্যাদা, বরকত এবং কল্যাণ দ্বারা বিশিষ্ট করেছেন, তা উল্লেখ করেছেন। আল্লাহ তাআলা সেই মহান উস্তাদের ইলমের প্রতি আগ্রহ, ইলম অন্বেষণকারীদের প্রতি ভালোবাসা এবং এর ওপর ধৈর্য ও স্পৃহা বাড়িয়ে দিন। তাঁর মতো ব্যক্তিরাই এ জাতীয় বিষয়ের প্রতি অনুরাগী হন এবং তা সংকলনে উৎসাহিত করেন। কেননা তিনি রাজনীতি ও দেশ গড়ায় তাঁর সময়ের আরদাশির সদৃশ এবং ইনসাফ, মমতা ও প্রজাদের প্রতি কোমলতায় তাঁর যুগের অনন্য ব্যক্তিত্ব। আল্লাহ তাআলা যেন আমাদের ওপর থেকে তাঁর ছায়া অপসারিত না করেন, আমাদের তাঁর দীর্ঘ হায়াত ও দীর্ঘ শাসনকাল দ্বারা উপকৃত করেন এবং দুনিয়াতে তাকে যে মর্যাদা দান করেছেন, তা যেন পরকালের সাথেও যুক্ত করে দেন।

অতঃপর আমি তাঁর আদেশ অনুযায়ী মিসরীয় শায়খগণ এবং অন্যান্য ইলম, অভিজ্ঞতা, গবেষণা, মেধা, প্রজ্ঞা, অনুসন্ধান, সফর ও জ্ঞানান্বেষী ব্যক্তিবর্গের কিতাবসমূহ হতে তথ্য সংগ্রহ করেছি।

--------------------------------------------

(১) জন্ম ৩২৩ হিজরি। তিনি মিসরে আবু তাহের আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আমর আল-মাদিনী এবং হাফেজ আবু সাঈদ ইবনে ইউনুস আস-সালাফী ও অন্যান্যদের নিকট হতে হাদিস শ্রবণ করেছেন। তাঁর নিকট হতে কাজি মুহাম্মদ ইবনে সালামাহ আল-কুদায়ী ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন। মৃত্যু ৪১৬ হিজরি। (আয-যাহাবি: সিয়ারু আলামিন নুবালা, ৭/৩১৩)।

(২) আয-যাহাবি তাঁর ইতিহাসে ৩৫৭ হিজরির মৃত্যুসংবাদে তাকে এভাবে উল্লেখ করেছেন: কাফুর আল-খাদেম আল-আসওয়াদ আল-হাবাশি আল-উস্তাদ আবু আল-মিসক আল-ইখশিদি সুলতান। ইখশিদ তাকে মিসরের জনৈক প্রধান ব্যক্তির নিকট হতে ক্রয় করেছিলেন। এরপর তাঁর বুদ্ধিমত্তা ও প্রজ্ঞার কারণে ইখশিদের (মিসরের অধিপতি) নিকট তিনি উচ্চমর্যাদা লাভ করেন, এমনকি তিনি তাঁর প্রধান সেনাপতিদের অন্তর্ভুক্ত হন। অতঃপর তিনি ৩৫৫ হিজরিতে মিসরের শাসনভার লাভ করেন। কাফুর কবিদের সান্নিধ্য দান করতেন এবং তাদের পুরস্কৃত করতেন। তাঁর নিকট প্রতি রাতে সীরাত এবং উমাইয়া ও আব্বাসীয় খিলাফতের ইতিহাস পঠিত হতো। মৃত্যু ৩৫৭ হিজরি। (আয-যাহাবি: তারিখুল ইসলাম, ৩৫৭ হিজরির মৃত্যুসংবাদ)।
(খণ্ড: ১) ফাযাইলু মিসর আল-মাহরুসাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
فمن مشهوريهم: يَزيد بن أبي حَبِيب(1)، وعبيد الله بن أبي جعفر(2).

وبعدهما: الليث بن سعد(3)، وعبد الله بن لَهِيعة(4).

وبعدهما: سعيد بن كثير بن عفير(5)، وعثمان بن صالح السهمي(6).

--------------------------------------------

(1) يزيد بن أبي حبيب (ت 128 هـ) أول من أظهر بمصر علم المسائل في الحلال والحرام وكانوا قبل ذلك يتحدثون في الترغيب والملاحم والفتن، ويعد ابن أبي حبيب من أقدم من ألف في تاريخ مصر الإسلامية، وقد وضعه ابن زولاق - من مؤرخى القرن الرابع الهجرى - في قمة مؤرخى مصر الإسلامية. (المزى: تهذيب الكمال 2/ 105، وابن زولاق: مختصر تاريخ مصر، ورقة 10).

(2) عبيد الله بن أبي جعفر (ت 135 هـ) أحد المؤرخين الأوئل في مصر الإسلامية، ويعد مثل معاصره يزيد بن أبي حبيب في هذا الشأن. ويعتبر كتابه في تاريخ مصر أحد مصادر ابن عبد الحكم وأبي عمر الكندى (ابن عبد الحكم: فتوح مصر ص 55، 86، أبو عمر الكندى: الولاة والقضاة ص 6، 312، 317، 333).

(3) الليث بن سعد (ت 175 هـ) ويعتبر كتابه في تاريخ مصر أهم ما قدمه لمدرسة مصر الإسلامية، وقد أشار إليه ابن النديم، كما ذكر أبو عمر الكندى كتاب الليث في التاريخ في كتابيه الولاة والقضاة وأفاد منه (ابن النديم: الفهرست 252، والكندى: الولاة والقضاة ص 11،10،8).

(4) عبد الله بن لهيعة (ت 174 هـ) أحد مشاهير علماء مصر في القرن الثاني الهجرى. أسند إليه مؤرخو مصر حتى السيوطى كثيرًا من الأخبار عن تاريخ مصر الإسلامية في عهدها المبكر (ابن زولاق: مختصر تاريخ مصر ورقة 10، الكندى الولاة والقضاة 6، 213، 333، ابن تغرى بردى: النجوم الزاهرة 1/ 19 - 20).

(5) سعيد بن عفير (ت 226 هـ) ظل لفترات طويلة تجاوزت عصره من أبرز وجوه مصر الفكرية لدى مؤرخى مصر، فقد قال عنه المؤرخ المصرى ابن يونس المتوفى سنة 347 هـ "كان أعلم الناس بالأنساب والأخبار الماضية وأيام العرب والتواريخ" أما السيوطى فقد وضعه في قمة مؤرخى مصر الإسلامية، على أن أهم ما قدمه ابن عفير لمدرسة مصر أنه كتب كتابا في تاريخ مصر، كان فيما بعد أحد مصادر ابن عبد الحكم في كتابه فتوح مصر (ابن عبد الحكم: فتوح مصر ص 19، 20، 58، 66 وغيرها، الذهبي: سير أعلام النبلاء 10/ 584، والسيوطى: حسن المحاضرة 1/ 553).

(6) عثمان بن صالح (ت 219 هـ) كان مولعا بمعرفة الأخبار التاريخية وروايتها، كما أن اسمه يظهر كمصدر للمعلومات عن تاريخ مصر القديم، وكذلك فيما يتعلق بأحداث الفتح الإسلامي لها، كما ساهم في تزويد مدرسة مصر بالمعلومات الإفريقية (ابن عبد الحكم: فتوح مصر ص 9، 18،12، 19، 55، 185).
তাদের বিখ্যাত ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন: ইয়াজিদ বিন আবি হাবিব(১), এবং উবাইদুল্লাহ বিন আবি জাফর(২)।

এবং তাঁদের পরে: লাইস বিন সাদ(৩), এবং আবদুল্লাহ বিন লাহিয়া(৪)।

এরপর: সাইদ বিন কাসির বিন উফাইর(৫), এবং উসমান বিন সালিহ আস-সাহমি(৬)।

--------------------------------------------

(১) ইয়াজিদ বিন আবি হাবিব (মৃত্যু ১২৮ হিজরি) মিশরে সর্বপ্রথম হালাল ও হারামের মাসআলা বিষয়ক জ্ঞান প্রকাশ করেন, অথচ এর আগে তারা কেবল উৎসাহ প্রদান (তারগিব), যুদ্ধবিগ্রহ (মালাহিম) এবং ফিতনা সম্পর্কে আলোচনা করতেন। ইবনে আবি হাবিবকে ইসলামি মিশরের ইতিহাস রচয়িতাদের মধ্যে অন্যতম প্রাচীন গণ্য করা হয়। চতুর্থ হিজরি শতাব্দীর ঐতিহাসিক ইবনে জুলাইক তাকে ইসলামি মিশরের ঐতিহাসিকদের শীর্ষে স্থান দিয়েছেন। (আল-মিযযি: তাহযিবুল কামাল ২/ ১০৫, এবং ইবনে জুলাইক: মুখতাসারু তারিখি মিসর, পাতা ১০)।

(২) উবাইদুল্লাহ বিন আবি জাফর (মৃত্যু ১৩৫ হিজরি) ইসলামি মিশরের প্রাথমিক ঐতিহাসিকদের একজন। এই বিষয়ে তিনি তাঁর সমসাময়িক ইয়াজিদ বিন আবি হাবিবের মতোই গণ্য হন। মিশরের ইতিহাস বিষয়ে তাঁর গ্রন্থটি ইবনে আবদিল হাকাম এবং আবু ওমর আল-কিন্দি-এর অন্যতম উৎস হিসেবে বিবেচিত (ইবনে আবদিল হাকাম: ফুতুহুল মিসর পৃ. ৫৫, ৮৬, আবু ওমর আল-কিন্দি: আল-উলাত ওয়াল কুদাত পৃ. ৬, ৩১২, ৩১৭, ৩৩৩)।

(৩) লাইস বিন সাদ (মৃত্যু ১৭৫ হিজরি)। মিশরের ইতিহাস বিষয়ক তাঁর গ্রন্থটি ইসলামি মিশরের জ্ঞানধারায় (মাদরাসা) তাঁর প্রদান করা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবদান হিসেবে বিবেচিত। ইবনে নাদিম এর প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। আবু ওমর আল-কিন্দিও তাঁর 'আল-উলাত ওয়াল কুদাত' নামক গ্রন্থে লাইসের ইতিহাস গ্রন্থের কথা উল্লেখ করেছেন এবং তা থেকে উপকৃত হয়েছেন (イবনে নাদিম: আল-ফিহরিসত ২৫২, এবং আল-কিন্দি: আল-উলাত ওয়াল কুদাত পৃ. ১১, ১০, ৮)।

(৪) আবদুল্লাহ বিন লাহিয়া (মৃত্যু ১৭৪ হিজরি) দ্বিতীয় হিজরি শতাব্দীতে মিশরের বিখ্যাত আলেমদের একজন। মিশরের ঐতিহাসিকগণ, এমনকি আস-সুয়ুতিও, মিশরের প্রারম্ভিক যুগের ইতিহাস সম্পর্কে তাঁর থেকে অনেক বর্ণনা উদ্ধৃত করেছেন (ইবনে জুলাইক: মুখতাসারু তারিখি মিসর পাতা ১০, আল-কিন্দি: আল-উলাত ওয়াল কুদাত ৬, ২১৩, ৩৩৩, ইবনে তাগরি বারদি: আন-নুজুমুজ জাহিরা ১/ ১৯-২০)।

(৫) সাইদ বিন উফাইর (মৃত্যু ২২৬ হিজরি)। দীর্ঘ সময় ধরে এবং নিজের প্রজন্মের পরেও মিশরের ঐতিহাসিকদের কাছে তিনি মিশরের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বুদ্ধিজীবী হিসেবে পরিগণিত ছিলেন। ৩৪৭ হিজরিতে মৃত্যুবরণকারী মিশরীয় ঐতিহাসিক ইবনে ইউনুস তাঁর সম্পর্কে বলেছেন, "তিনি বংশলতিকা, অতীতের সংবাদ, আরবদের ইতিহাস এবং কালপঞ্জি সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী ছিলেন।" আর আস-সুয়ুতি তাকে ইসলামি মিশরের ঐতিহাসিকদের শীর্ষে স্থান দিয়েছেন। তবে মিশরের জ্ঞানধারায় ইবনে উফাইরের সবচেয়ে বড় অবদান হলো তিনি মিশরের ইতিহাসের ওপর একটি বই লিখেছেন, যা পরবর্তীতে ইবনে আবদিল হাকামের 'ফুতুহুল মিসর' গ্রন্থের অন্যতম উৎস হয়ে দাঁড়ায় (ইবনে আবদিল হাকাম: ফুতুহুল মিসর পৃ. ১৯, ২০, ৫৮, ৬৬ ইত্যাদি, আয-যাহাবি: সিয়ারু আলামিন নুবালা ১০/ ৫৮৪, এবং আস-সুয়ুতি: হুসনুল মুহাদারা ১/ ৫৫৩)।

(৬) উসমান বিন সালিহ (মৃত্যু ২১৯ হিজরি) ঐতিহাসিক সংবাদ জানা এবং তা বর্ণনা করার প্রতি অত্যন্ত অনুরাগী ছিলেন। মিশরের প্রাচীন ইতিহাস এবং এর ইসলামি বিজয়ের ঘটনাবলী সংক্রান্ত তথ্যের উৎস হিসেবে তাঁর নাম পাওয়া যায়। এছাড়া তিনি মিশরের জ্ঞানধারাকে আফ্রিকার তথ্যাদি সরবরাহে অবদান রেখেছেন (ইবনে আবদিল হাকাম: ফুতুহুল মিসর পৃ. ৯, ১৮, ১২, ১৯, ৫৫, ১৮৫)।
(খণ্ড: ১) ফাযাইলু মিসর আল-মাহরুসাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
وبعدهما: خلف بن ربيعة(1)، وعبد الرحمن بن مَيْسَرة(2)، وأحمد بن يحيى بن الوزير(3)، وأبو خيثمة علي بن عمرو بن خالد(4).

وبعد هذه الطبقة: يحيى بن عثمان بن صالح(5)، وعبيد الله بن سعيد بن كثير بن عفير(6).

وبعدهما: علي بن الحسن بن خلف بن قديد(7)، ومحمد بن الربيع

--------------------------------------------

(1) خلف بن ربيعة (ت 262 هـ) كان عالما بأخبار مصر، ويضعه ابن زولاق في مشاهير مؤرخى مصر الإسلامية في القرن الثالت الهجرى (ابن زولاق: مختصر تاريخ مصر، ورقة 11، وابن الجوزى: المنتظم 12/ 175).

(2) عبد الرحمن بن ميسرة (ت 188 هـ) من كبار علماء المصريين في القرن الثالث الهجرى، تتلمذ عليه من مؤرخى مصر وعلمائها سعيد بن عفير. ويحيى بن بكير وغيرهما (المزى: تهذيب الكمال 17/ 451، الذهبي: تاريخ الإسلام وفيات سنة 188 هـ).

(3) أحمد بن يحيى (ت 250 هـ) كان عالما بالأخبار وأيام الناس، ويضعه ابن زولاق في مؤرخى مصر المرموقين (ابن زولاق: مختصر تاريخ مصر ورقة 11، المزى: تهذيب الكمال 1/ 6519).

(4) أبو خيثمة على بن عمرو (ت 229 هـ) أفاد الكندى من كتابه في تاريخ مصر في كتاباته عن الولاة الذين حكموا مصر منذ الفتح الإسلامي حتى عصره، وكذلك قضاة مصر في هذه الفترة (الكندى: الولاة والقضاة ص 50، 336، 445، 451).

(5) يحيى بن عثمان (ت 282 هـ) كان عالما بأخبار مصر وبموت العلماء، وجعله ابن زولاق من الشيوخ البارزين بمدرسة التاريخ في مصر. ويعتبر كتابه في تاريخ مصر أحد مصادر ابن قديد الذي أفاد من نسخة منه بخط المؤلف.

(الكندى: الولاة والقضاة ص 439، وابن زولاق: مختصر تاريخ مصر، ورقة 11، الذهبي: سير أعلام النبلاء 13/ 355).

(6) عبيد الله بن سعيد (ت 273 هـ) من أبناء البيوتات العلمية بمصر، وقد أثنى على علمهم القاضي عياض حين تناول ترجمة أبيه بقوله: "وبقى العلم في بيته زمنا طويلا" وتجلى ذلك في الأخبار التي حفل بها كتاب الولاة والقضاة للكندى نقلًا عن عبيد الله بن سعيد.

(الكندى: الولاة والقضاة ص 412، 417، 324، عياض: ترتيب المدارك 1/ 454).

(7) ابن قديد (ت 312 هـ) وضع كتابا عن مصر أفاد منه الكندى في كتابيه الولاة والقضاة، كما اقتبس منه ياقوت في معجم البلدان، والذهبى في تذكرة الحفاظ، وابن حجر في رفع الإصر.

(الكندى: الولاة والقضاة ص 7، 19، 12، 13، ياقوت مادة الفرما) الذهبي: تذكرة الحفاظ ص 458، ابن حجر: رفع الإصر ص 305).
এবং তাঁদের পরে: খালাফ বিন রাবি'আহ(১), আবদুর রহমান বিন মাইসারাহ(২), আহমাদ বিন ইয়াহইয়া বিন আল-ওয়াজির(৩), এবং আবু খাইসামাহ আলি বিন আমর বিন খালিদ(৪)।

এবং এই স্তরের পরে: ইয়াহইয়া বিন উসমান বিন সালিহ(৫), এবং উবাইদুল্লাহ বিন সাঈদ বিন কাসীর বিন উফাইর(৬)।

এবং তাঁদের পরে: আলি বিন আল-হাসান bin খালাফ বিন কুদাইদ(৭), এবং মুহাম্মাদ বিন আল-রাবি'

--------------------------------------------

(১) খালাফ বিন রাবি'আহ (মৃত ২৬২ হিজরি) মিসরের ইতিহাস সম্পর্কে অভিজ্ঞ ছিলেন। ইবনে জুলাইক তাকে তৃতীয় হিজরি শতকের মিসরীয় ইসলামের বিখ্যাত ঐতিহাসিকদের মধ্যে গণ্য করেন (ইবনে জুলাইক: মুখতাসার তারিখু মিসর, পৃষ্ঠা ১১; ইবনুল জাওজি: আল-মুনতাজাম ১২/১৭৫)।

(২) আবদুর রহমান বিন মাইসারাহ (মৃত ১৮৮ হিজরি) তৃতীয় হিজরি শতকের অন্যতম প্রধান মিসরীয় আলেম ছিলেন। মিসরের ঐতিহাসিক ও আলেমদের মধ্যে সাঈদ বিন উফাইর, ইয়াহইয়া বিন বুকাইর এবং আরও অনেকে তাঁর নিকট শিক্ষা লাভ করেন (আল-মিজ্জি: তাহজিবুল কামাল ১৭/৪৫১; আজ-জাহাবি: তারিখুল ইসলাম, ১৮৮ হিজরির মৃত্যু)।

(৩) আহমাদ বিন ইয়াহইয়া (মৃত ২৫০ হিজরি) ঐতিহাসিক সংবাদ ও ঘটনাবলি সম্পর্কে অভিজ্ঞ ছিলেন। ইবনে জুলাইক তাকে মিসরের বিশিষ্ট ঐতিহাসিকদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন (ইবনে জুলাইক: মুখতাসার তারিখু মিসর, পৃষ্ঠা ১১; আল-মিজ্জি: তাহজিবুল কামাল ১/৬৫১৯)।

(৪) আবু খাইসামাহ আলি বিন আমর (মৃত ২২৯ হিজরি); আল-কিন্দি তাঁর মিসরের ইতিহাস বিষয়ক গ্রন্থ থেকে উপকৃত হয়েছেন। বিশেষ করে ইসলামি বিজয় থেকে তাঁর যুগ পর্যন্ত যারা মিসর শাসন করেছিলেন সেই গভর্নরদের এবং সেই সময়ের মিসরের বিচারকদের সম্পর্কে বর্ণনার ক্ষেত্রে (আল-কিন্দি: আল-উলাত ওয়াল কুদাত, পৃষ্ঠা ৫০, ৩৩৬, ৪৪৫, ৪৫১)।

(৫) ইয়াহইয়া বিন উসমান (মৃত ২৮২ হিজরি) মিসরের ইতিহাস এবং আলেমদের মৃত্যু সম্পর্কে অভিজ্ঞ ছিলেন। ইবনে জুলাইক তাকে মিসরের ইতিহাস চর্চাকেন্দ্রের অন্যতম বিশিষ্ট শাইখ হিসেবে গণ্য করেছেন। মিসরের ইতিহাস সম্পর্কে তাঁর রচিত গ্রন্থটি ইবনে কুদাইদের অন্যতম উৎস হিসেবে বিবেচিত, যিনি লেখকের স্বহস্তে লিখিত অনুলিপি থেকে উপকৃত হয়েছিলেন।

(আল-কিন্দি: আল-উলাত ওয়াল কুদাত, পৃষ্ঠা ৪৩৯; ইবনে জুলাইক: মুখতাসার তারিখু মিসর, পৃষ্ঠা ১১; আজ-জাহাবি: সিয়ারু আ'লামিন নুবালা ১৩/৩৫৫)।

(৬) উবাইদুল্লাহ বিন সাঈদ (মৃত ২৭৩ হিজরি) মিসরের প্রসিদ্ধ আলেম পরিবারগুলোর একজন। কাজী ইয়াদ তাঁর পিতার জীবনী আলোচনা করার সময় তাঁদের জ্ঞানের প্রশংসা করে বলেছেন: "তাঁর পরিবারে দীর্ঘকাল জ্ঞান চর্চা অব্যাহত ছিল।" এর প্রতিফলন আল-কিন্দি রচিত 'আল-উলাত ওয়াল কুদাত' গ্রন্থে উবাইদুল্লাহ বিন সাঈদ থেকে বর্ণিত প্রচুর সংবাদের মাধ্যমে পরিলক্ষিত হয়।

(আল-কিন্দি: আল-উলাت ওয়াল কুদাত, পৃষ্ঠা ৪১২, ৪১৭, ৩২৪; ইয়াদ: তারতিবুল মাদারিক ১/৪৫৪)।

(৭) ইবনে কুদাইদ (মৃত ৩১২ হিজরি) মিসর সম্পর্কে একটি গ্রন্থ রচনা করেছিলেন যা থেকে আল-কিন্দি তাঁর 'আল-উলাত' ও 'আল-কুদাত' গ্রন্থদ্বয়ে উপকৃত হয়েছেন। এছাড়াও ইয়াকুত তাঁর 'মু'জামুল বুলদান'-এ, আজ-জাহাবি 'তাজকিরাতুল হুফফাজ'-এ এবং ইবনে হাজার 'রাফউল ইসর'-এ তাঁর থেকে উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন।

(আল-কিন্দি: আল-উলাত ওয়াল কুদাত, পৃষ্ঠা ৭, ১৯, ১২, ১৩; ইয়াকুত: আল-ফারামা অংশ; আজ-জাহাবি: তাজকিরাতুল হুফফাজ, পৃষ্ঠা ৪৫৮; ইবনে হাজার: রাফউল ইসর, পৃষ্ঠা ৩০৫)।
(খণ্ড: ১) ফাযাইলু মিসর আল-মাহরুসাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
ابن سليمان الجيزي(1).

وبعدهما: أبو عمر محمد بن يوسف بن يعقوب الكندي(2)، وأبو سعيد عبد الرحمن بن أحمد بن يونس بن عبد الأعلى(3) فأعلمت نفسي فيما تأدى إلى من الأخبار لمن ذكرتهم ورواياتهم، وألفته واختصرت المتون، وأسقطت الأسانيد؛ لتتسق أخباره، ويسهل استماعه، وتقرب فائدته، على اسم الله وعونه والصلاة على نبينا محمد وعلى آله.

 

‌‌[فضل مصر على غيرها]

فأقول: فضل الله مصر على سائر البلدان، كما فضل بعض الناس على بعض والأيام والليالي بعضها على بعض.

والفضل على ضربين: في دين أو دنيا، أو فيهما جميعا، وقد فضل الله مصر وشهد لها في كتابه بالكرم وعظم المنزلة وذكرها باسمها وخصها دون غيرها، وكرر ذكرها، وأبان فضلها في آيات من القرآن العظيم، تنبئ عن مصر وأحوالها، وأحوال الأنبياء بها، والأمم الخالية والملوك الماضية، والآيات البينات، يشهد لها بذلك القرآن، وكفى به شهيدًا، ومع ذلك روى عن النبي صلى الله عليه وسلم في مصر وفي عجمها(4) خاصة وذكره لقرابته (ورحمهم)(5) ومباركته عليهم وعلى بلدهم(6) وحثه على برهم

--------------------------------------------

(1) محمد بن الربيع (ت 324 هـ) أفاد من كتبه في تاريخ مصر الكندى في كتابه القضاة، وابن حجر في رفع الإصر والسيوطى في حسن المحاضرة (الكندى ص 313، 428، وابن حجر: رفع الإصر 135، والسيوطى، حسن المحاضرة 1/ 166).

(2) محمد بن يوسف أبو عمر الكندى والد المصنف (ت 350 هـ) كان من أعلم الناس بالبلد وأهله وأعماله وثغوره، وله مصنفات فيه وفى غيره من صنوف الأخبار والأنساب وكان من جلة أهل العلم بالحديث والنسب (المقريزى: المقفى 7/ 489).

(3) أبو سعيد بن يونس (ت 347 هـ) أحد المؤرخين المصريين القدامى، اشتهر بأنه كان خبيرا بأيام الناس وتواريخهم. وقد كتب ابن يونس مؤلفين تاريخيين حول مصر: الأول خصصه لشخصيات أثرت في تاريخ بلده - مصر. والثانى وهو أقل حجما ويدور حول الغرباء الذين لم يولدوا بمصر ولكن أقاموا فيها ردحًا من الزمن (ابن خلكان: وفيات الأعيان 3/ 173).

(4) في: أ "عجائبها"، والمثبت من: ب، ج.

(5) ما بين القوسين ساقط من: أ، وهو في: ب، ج.

(6) أ "ومباركته عليهم وعلى بلدتهم"، ب "ومباركته لهم ولبلدهم" والمثبت من: ج.
ইবনে সুলাইমান আল-জিজি(১)।

এবং তাদের দুজনের পর: আবু উমর মুহাম্মদ বিন ইউসুফ বিন ইয়াকুব আল-কিন্দি(২), এবং আবু সাঈদ আবদুর রহমান বিন আহমদ বিন ইউনুস বিন আবদিল আলা(৩)। আমি যাদের নাম উল্লেখ করেছি তাদের সম্পর্কে আমার কাছে যে সকল সংবাদ ও বর্ণনা পৌঁছেছে, তা আমি অনুধাবন করেছি এবং তা সংকলন করেছি। আমি মূল পাঠগুলো সংক্ষিপ্ত করেছি এবং সনদগুলো বাদ দিয়েছি; যাতে এর সংবাদগুলো সুশৃঙ্খল হয়, তা শোনা সহজ হয় এবং এর উপকারিতা নিকটবর্তী হয়। আল্লাহর নামে, তাঁর সাহায্যে এবং আমাদের নবী মুহাম্মদ ও তাঁর পরিবারের ওপর দরুদ পাঠের মাধ্যমে (আমি শুরু করছি)।

 

‌‌[অন্যান্য দেশের ওপর মিসরের শ্রেষ্ঠত্ব]

আমি বলছি: আল্লাহ তাআলা মিসরকে অন্যান্য দেশের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন, যেভাবে তিনি মানুষের এক অংশকে অন্য অংশের ওপর এবং দিন ও রাতের এক অংশকে অন্য অংশের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন।

আর শ্রেষ্ঠত্ব দুই প্রকার: দ্বীনের ক্ষেত্রে অথবা দুনিয়ার ক্ষেত্রে, অথবা উভয় ক্ষেত্রেই। আল্লাহ তাআলা মিসরকে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন এবং তাঁর কিতাবে এর সম্মান ও মহান মর্যাদার সাক্ষ্য দিয়েছেন। তিনি একে নাম ধরে উল্লেখ করেছেন এবং অন্য দেশের পরিবর্তে একে বিশেষভাবে নির্দিষ্ট করেছেন। তিনি এর উল্লেখ বারবার করেছেন এবং মহান কুরআনের বিভিন্ন আয়াতে এর শ্রেষ্ঠত্ব স্পষ্ট করেছেন, যা মিসর ও তার অবস্থা, সেখানে নবীদের অবস্থা, অতীত জাতিসমূহ ও বিগত রাজাদের সম্পর্কে সংবাদ দেয়। আর সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলি এবং কুরআন এর পক্ষে সাক্ষ্য দেয়, আর সাক্ষী হিসেবে কুরআনই যথেষ্ট। সেই সাথে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বিশেষ করে মিসর এবং এর অনারবদের(৪) সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে। তিনি তাদের সাথে তাঁর আত্মীয়তার সম্পর্ক (ও তাদের প্রতি দয়া)(৫), তাদের ও তাদের দেশের প্রতি তাঁর বরকত(৬) এবং তাদের সাথে সদাচরণ করার নির্দেশের কথা উল্লেখ করেছেন।

--------------------------------------------

(১) মুহাম্মদ বিন আর-রাবি (মৃত্যু ৩২৪ হি.)। মিসরের ইতিহাসে তাঁর গ্রন্থসমূহ থেকে আল-কিন্দি তাঁর ‘আল-কুদাত’ গ্রন্থে, ইবনে হাজার ‘রাফউল ইসর’ গ্রন্থে এবং সুয়ূতী ‘হুসনুল মুহাদারা’ গ্রন্থে তথ্য গ্রহণ করেছেন (কিন্দি পৃ. ৩১৩, ৪২৮; ইবনে হাজার: রাফউল ইসর ১৩৫; সুয়ূতী: হুসনুল মুহাদারা ১/১৬৬)।

(২) মুহাম্মদ বিন ইউসুফ আবু উমর আল-কিন্দি, লেখকের পিতা (মৃত্যু ৩৫০ হি.)। তিনি দেশ, এর অধিবাসী, এর প্রশাসনিক কাজ এবং এর সীমান্ত সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী ছিলেন। এ বিষয়ে এবং অন্যান্য সংবাদ ও বংশতালিকায় তাঁর বহু রচনা রয়েছে। তিনি হাদিস ও বংশতালিকায় পারদর্শী বিশিষ্ট আলেমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন (মাকরিজি: আল-মুকাফ্ফা ৭/৪৮৯)।

(৩) আবু সাঈদ বিন ইউনুস (মৃত্যু ৩৪৭ হি.) প্রাচীন মিসরীয় ঐতিহাসিকদের একজন। তিনি মানুষের জীবন চরিত ও তাদের ইতিহাসে বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ইবনে ইউনুস মিসর সম্পর্কে দুটি ঐতিহাসিক গ্রন্থ লিখেছেন: প্রথমটি তিনি তাঁর দেশ মিসরের ইতিহাসে প্রভাব বিস্তারকারী ব্যক্তিত্বদের জন্য উৎসর্গ করেছেন। দ্বিতীয়টি অপেক্ষাকৃত ছোট আকারের এবং তা ঐ সকল বিদেশীদের সম্পর্কে যারা মিসরে জন্মগ্রহণ করেননি কিন্তু সেখানে দীর্ঘ সময় বসবাস করেছেন (ইবনে খাল্লিকান: ওফায়াতুল আইয়ান ৩/১৭৩)।

(৪) পাণ্ডুলিপি ‘আ’-তে আছে: “এর বিস্ময়কর বিষয়াদি”, আর যা টেক্সটে রাখা হয়েছে তা ‘বা’ এবং ‘জিম’ পাণ্ডুলিপি থেকে।

(৫) বন্ধনীভুক্ত অংশটি পাণ্ডুলিপি ‘আ’ থেকে বাদ পড়েছে, তবে তা ‘বা’ ও ‘জিম’-এ রয়েছে।

(৬) পাণ্ডুলিপি ‘আ’-তে আছে “তাদের ও তাদের শহরের প্রতি তাঁর বরকত”, ‘বা’-তে আছে “তাদের জন্য ও তাদের দেশের জন্য তাঁর বরকত”, আর যা টেক্সটে রাখা হয়েছে তা ‘জিম’ থেকে।
(খণ্ড: ১) ফাযাইলু মিসর আল-মাহরুসাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
ما لم يرو عنه في قوم من العجم غيرهم، وسنذكر ذلك إن شاء الله في موضعه مع ما خصها الله به من الخصب والفضل وما أنزل فيها من البركات وأخرج منها من الأنبياء والعلماء والحكماء والخواص والملوك والعجائب بما لم يخصص الله به بلدًا غيرها، ولا أرضا سواها، فإن ثرب(1) علينا مثرب بذكر الحرمين، أو شنع مشنع، فللحرمين فضلهما الذي لا يدفع، وما خصهما الله به مما لا ينكر من موضع بيته الحرام، وقبر نبيه عليه الصلاة والسلام، وليس ما فضلهما الله به بباخس فضل مصر ولا بناقص منزلتها، وإن منافعها في الحرمين لبينة لأنها تميرهما(2) بطعامها وخصبها وكسوتها وسائر مرافقها، فلها بذلك فضل كبير، ومع ذلك فإنها تطعم أهل الدنيا ممن يرد إليها من الحاج طول مقامهم يأكلون ويتزودون من طعامها من أقصى جنوب الأرض وشمالها ممن كان من (المسلمين)(3) في بلاد الهند والأندلس وما بينهما، لا ينكر هذا منكر، ولا يدفعه دافع، وكفى بذلك فضلا وبركة في دين ودنيا.

 

‌‌[ذكر ما ورد في فضل مصر]

فأما ما ذكره الله عز وجل في كتابه مما اختصرناه(4) من ذكر مصر. فقول الله تعالى: {وَأَوْحَيْنَا إِلَى مُوسَى وَأَخِيهِ أَنْ تَبَوَّآ لِقَوْمِكُمَا بِمِصْرَ بُيُوتًا وَاجْعَلُوا بُيُوتَكُمْ قِبْلَةً} [يونس: 87] وما ذكره الله عز وجل حكاية عن قول يوسف: {ادْخُلُوا مِصْرَ إِنْ شَاءَ اللَّهُ آمِنِينَ} [يوسف: 99] وقال عز وجل: {اهْبِطُوا مِصْرًا فَإِنَّ لَكُمْ مَا سَأَلْتُمْ} [البقرة: 61]

--------------------------------------------

(1) ثرب عليه: لامه، والمثرب بتشديد الراء: المخلط المفسد، القاموس: ثرب.

(2) ج "تميرها" والميرة: جلب الطعام.

(3) ساقط من: ب، وهو في: أ، ج.

(4) في: أ "مما اخترناه". والمثبت في: ب، ج.
যা তাদের ব্যতীত অন্য কোনো অনারব জাতি সম্পর্কে তাঁর থেকে বর্ণিত হয়নি; এবং ইনশাআল্লাহ আমরা তা যথাস্থানে উল্লেখ করব—সেই সাথে আল্লাহ তাআলা দেশটিকে উর্বরতা ও শ্রেষ্ঠত্বের যে বিশেষত্ব দান করেছেন, সেখানে যে বরকতসমূহ নাযিল করেছেন এবং সেখান থেকে যে সকল নবী, আলিম, হিকমতওয়ালা, বিশিষ্ট ব্যক্তি, রাজা-বাদশাহ ও বিস্ময়কর নিদর্শনাবলী বের করেছেন, যার মাধ্যমে আল্লাহ অন্য কোনো শহর বা ভূখণ্ডকে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেননি। যদি হারামাঈনের (মক্কা ও মদীনা) কথা উল্লেখ করে কোনো তিরস্কারকারী আমাদের তিরস্কার করে বা কোনো নিন্দুক নিন্দা রটায়, তবে হারামাঈনের এমন শ্রেষ্ঠত্ব রয়েছে যা অনস্বীকার্য। আল্লাহ সে দুটিকে যে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছেন তা অস্বীকার করার উপায় নেই, যেমন তাঁর পবিত্র ঘরের অবস্থান এবং তাঁর নবীর (তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক) রওজার উপস্থিতি। তবে আল্লাহ সেই দুই পবিত্র স্থানকে যে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন, তা মিসরের ফযীলতকে খাটো করে না এবং তার মর্যাদাও হ্রাস করে না। হারামাঈনের ক্ষেত্রে মিসরের উপকারিতা সুস্পষ্ট, কারণ এটি তার খাদ্যশস্য, উর্বরতা, পোশাক-পরিচ্ছদ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী দিয়ে সেগুলোর রসদ যোগায়(২)। এর ফলে তার বড় ধরনের শ্রেষ্ঠত্ব রয়েছে। তদুপরি, এটি পৃথিবীর দূরবর্তী দক্ষিণ ও উত্তর প্রান্ত থেকে আগত হাজীদের মধ্যে যারা সেখানে অবস্থান করেন, তাদের আহারের ব্যবস্থা করে; তারা এর খাদ্য গ্রহণ করে এবং পাথেয় সংগ্রহ করে—হোক তারা হিন্দুস্তান বা আন্দালুস কিংবা এ দুয়ের মধ্যবর্তী অঞ্চলের মুসলিম(৩)। কোনো অস্বীকারকারী এটি অস্বীকার করতে পারে না এবং কোনো প্রতিরোধকারীও তা রদ করতে পারে না। দ্বীন ও দুনিয়ার ক্ষেত্রে ফযীলত ও বরকত হিসেবে এটাই যথেষ্ট।

 

‌‌[মিসরের ফযীলত সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে তার বর্ণনা]

আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে মিসরের যে বর্ণনা দিয়েছেন, যা আমরা সংক্ষেপে উল্লেখ করছি। আল্লাহ তাআলার বাণী: {আর আমি মূসা ও তার ভাইয়ের প্রতি ওহী পাঠালাম যে, তোমরা তোমাদের কওমের জন্য মিসরে ঘর তৈরি করো এবং তোমাদের ঘরগুলোকে কিবলামুখী করো} [ইউনুস: ৮৭]। এবং আল্লাহ তাআলা ইউসুফ (আলাইহিস সালাম)-এর উক্তির উদ্ধৃতি দিয়ে যা উল্লেখ করেছেন: {তোমরা ইনশাআল্লাহ নিরাপদে মিসরে প্রবেশ করো} [ইউসুফ: ৯৯]। এবং মহান আল্লাহ বলেছেন: {তোমরা কোনো এক নগরে (মিসরে) অবতরণ করো, তবে তোমরা যা চেয়েছ তা পেয়ে যাবে} [আল-বাকারা: ৬১]

--------------------------------------------

(১) 'ছরাবা আলাইহি' অর্থ: তাকে তিরস্কার করল। আর 'আল-মুছাররিব' (রা বর্ণে তাশদীদসহ) অর্থ: বিশৃঙ্খলাকারী ও ফাসাদ সৃষ্টিকারী। আল-কামুস: ছরাবা।

(২) পাণ্ডুলিপি 'জিম'-এ 'তামিরুহা' রয়েছে। আর 'আল-মিরাহ' অর্থ: খাদ্যশস্য সরবরাহ করা।

(৩) পাণ্ডুলিপি 'বা' থেকে বিলুপ্ত, তবে 'আলিফ' ও 'জিম'-এ রয়েছে।

(৪) পাণ্ডুলিপি 'আলিফ'-এ রয়েছে: "যা আমরা নির্বাচন করেছি"। আর যা মূল পাঠে সাব্যস্ত হয়েছে তা 'বা' ও 'জিম'-এ রয়েছে।
(খণ্ড: ১) ফাযাইলু মিসর আল-মাহরুসাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
وقال تعالى: {وَجَعَلْنَا ابْنَ مَرْيَمَ وَأُمَّهُ آيَةً وَآوَيْنَاهُمَا إِلَى رَبْوَةٍ ذَاتِ قَرَارٍ وَمَعِينٍ}(1) [المؤمنون: 50] قال بعض المفسرين: هي مصر.

وقال بعض علماء مصر: هي البهنسا.

وقبط مصر مجمعون على أن المسيح عيسى بن مريم وأمه عليهما السلام كانا بالبهنسا وانتقلا عنها إلى القدس.

وقال بعض المفسرين: الربوة دمشق، والله أعلم.

وقال تعالى: {وَقَالَ الَّذِي اشْتَرَاهُ مِنْ مِصْرَ لِامْرَأَتِهِ أَكْرِمِي مَثْوَاهُ} [يوسف: 21].

وقال تعالى: {وَقَالَ نِسْوَةٌ فِي الْمَدِينَةِ امْرَأَتُ الْعَزِيزِ تُرَاوِدُ فَتَاهَا عَنْ نَفْسِهِ} [يوسف: 30] والمدينة: منف، والعزيز ملك مصر حينئذ.

وقال تعالى: {وَدَخَلَ الْمَدِينَةَ عَلَى حِينِ غَفْلَةٍ مِنْ أَهْلِهَا} [القصص: 15] هي منف، مدينة فرعون.

وقال تعالى: {وَجَاءَ رَجُلٌ مِنْ أَقْصَى الْمَدِينَةِ يَسْعَى} [القصص: 20] هي منف أيضًا.

وقال تعالى حكاية عن إخوة يوسف: {يَا أَيُّهَا الْعَزِيزُ} [يوسف: 78] وقال تعالى حكاية عن يوسف عليه السلام: {وَقَدْ أَحْسَنَ بِي إِذْ أَخْرَجَنِي مِنَ السِّجْنِ وَجَاءَ بِكُمْ مِنَ الْبَدْوِ} [يوسف: 100] فجعل الشام بدوا، وقال تعالى حكاية عن فرعون وافتخاره بمصر: {أَلَيْسَ لِي مُلْكُ مِصْرَ وَهَذِهِ الْأَنْهَارُ تَجْرِي مِنْ تَحْتِي} [الزخرف: 51]

--------------------------------------------

(1) الربوة ما ارتفع من الأرض.
আর মহান আল্লাহ বলেছেন: "আর আমি মারইয়াম-তনয় ও তার জননীকে এক নিদর্শন বানিয়েছিলাম এবং আমি তাদের উভয়কে এমন এক উচ্চ ভূমিতে আশ্রয় দিয়েছিলাম যা স্থিতিশীল এবং প্রস্রবণযুক্ত ছিল।"(১) [আল-মুমিনুন: ৫০] কোনো কোনো মুফাসসির বলেছেন: এটি হলো মিসর।

মিসরের কিছু আলেম বলেছেন: এটি হলো বাহনাসা।

আর মিসরের কিবতিরা এ বিষয়ে একমত যে, মসীহ ঈসা ইবনে মারইয়াম এবং তাঁর জননী (আলাইহিমাস সালাম) বাহনাসায় ছিলেন এবং সেখান থেকে তাঁরা জেরুসালেমে চলে যান।

আবার কোনো কোনো মুফাসসির বলেছেন: সেই উচ্চ ভূমি হলো দামেস্ক; আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

আর মহান আল্লাহ বলেছেন: "মিসরের যে ব্যক্তি তাকে ক্রয় করেছিল, সে তার স্ত্রীকে বলল, ‘তার থাকার সুন্দর ব্যবস্থা করো’।" [ইউসুফ: ২১]।

আর মহান আল্লাহ বলেছেন: "শহরের কিছু নারী বলল, ‘আযীযের স্ত্রী তার যুবক গোলামকে ফুসলাচ্ছে’।" [ইউসুফ: ৩০] আর এখানে শহর বলতে ‘মানফ’ (মেমফিস) বোঝানো হয়েছে, এবং আযীয ছিলেন তৎকালীন মিসরের অধিপতি।

আর মহান আল্লাহ বলেছেন: "আর সে শহরে প্রবেশ করল যখন তার অধিবাসীরা ছিল অসতর্ক।" [আল-কাসাস: ১৫] এটি হলো মানফ, ফেরাউনের শহর।

আর মহান আল্লাহ বলেছেন: "শহরের দূরপ্রান্ত থেকে এক ব্যক্তি ছুটে এলো।" [আল-কাসাস: ২০] এটিও মানফ।

আর মহান আল্লাহ ইউসুফের ভাইদের উক্তি বর্ণনা করে বলেছেন: "হে আযীয!" [ইউসুফ: ৭৮] এবং মহান আল্লাহ ইউসুফ (আলাইহিস সালাম)-এর উক্তি বর্ণনা করে বলেছেন: "তিনি আমার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন যখন আমাকে কারাগার থেকে মুক্তি দিয়েছেন এবং আপনাদেরকে মরুভূমি থেকে এখানে নিয়ে এসেছেন।" [ইউসুফ: ১০০] এখানে তিনি শাম (সিরিয়া) অঞ্চলকে মরুভূমি হিসেবে অভিহিত করেছেন। আর মহান আল্লাহ ফেরাউনের উক্তি ও মিসর নিয়ে তার দম্ভের কথা বর্ণনা করে বলেছেন: "মিসরের রাজত্ব কি আমার নয়? আর এই নদীগুলো তো আমার পাদদেশ দিয়েই প্রবাহিত হচ্ছে।" [আজ-জুুখরুফ: ৫১]

--------------------------------------------

(১) ‘রাবওয়াহ’ হলো ভূমির উঁচু অংশ।
(খণ্ড: ১) ফাযাইলু মিসর আল-মাহরুসাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
وقال تعالى حين وصف مصر وما كان فيه آل فرعون من النعمة والملك بما لم يصف به مشرقا ولا مغربا، ولا سهلا ولا جبلا، (ولا برا ولا بحرا(1)): {كَمْ تَرَكُوا مِنْ جَنَّاتٍ وَعُيُونٍ (25) وَزُرُوعٍ وَمَقَامٍ كَرِيمٍ (26) وَنَعْمَةٍ كَانُوا فِيهَا فَاكِهِينَ (27)} [الدخان: 25 - 27] فهل يعلم أن بلداً من البلدان في جميع أقطار الأرض أثنى عليه الكتاب بمثل هذا الثناء، أو وصفه بمثل هذا الوصف، أو شهد له بالكرم غير مصر؟

وروى عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: "ستفتح عليكم بعدي مصر فاستوصوا بقبطها خيرًا، فإن لكم منهم صهرًا وذمة"(2).

وروى أبو ذر عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: "ستفتحون أرضا يذكر فيها القيراط فاستوصوا بأهلها خيرا، فإن لهم ذمة ورحما"(3).

فأما الرحم، فإن هاجر أم إسماعيل بن إبراهيم الخليل عليهما السلام من القبط من قرية نحو الفَرَما يقال لها: أم العرب(4).

--------------------------------------------

(1) ساقط من: أ، ج، وهو في ب.

(2) رواه مسلم في صحيحه مع زيادة في اللفظ، كتاب فضائل الصحابة، باب وصية النبي صلى الله عليه وسلم بأهل مصر (صحيح مسلم 4/ 1970).

(3) اندثرت هذه المدينة، وتعرف اليوم آثارها بتل الفرما، على بعد ثلاثة كيلومترات من ساحل البحر الأبيض المتوسط (القاموس الجغرافي، ق 1 ص 9).

(4) صيغت هذه العبارة في المصادر الأخرى بصيغ مختلفة فقد ذكرت في طبقات ابن سعد 1/ 23 "هاجر أم إسماعيل من القبط من قرية نحو الفرما يقال لها أم العرب، وفى فتوح مصر ص 4. طبعة تورى "أن أم إسماعيل هاجر من أم العرب قرية كانت أمام الفرما من مصر" وبهامشها أن رواية نسخة ب "أنّ أم إسماعيل هاجر أم العرب من قرية أمام الفرما من مصر" وفى نسخة الحرم المكى من فتوح مصر "أن أم إسماعيل هاجر من أم العرب قرية كانت أمام الفرما من مصر" مع ضبط كلمة "قرية" ضبط قلم بكسرتين تحت التاء المربوطة.

وفى ياقوت "أم إسماعيل هاجر من أم العرب: قرية كانت أمام الفرما من أرض مصر" وفى التبيين في أنساب القرشيين ص 86 "هاجر أم إسماعيل أم العرب من قرية كانت أمام الفرما". وفى خطط المقريزى 1/ 25 "أن أم إسماعيل هاجر من أم العرب قرية كانت أمام الفرما من مصر، وفى حسن المحاضرة طبعة أبو الفضل 1/ 13 "أن أم إسماعيل هاجر أم العرب من قرية كانت من أمام الفرما من مصر، وفي ورقة 3 من مخطوطة حسن المحاضرة عن مكتبة الزاوية الحمزاوية "أن أم إسماعيل هاجر من أم العرب قرية كانت أمام الفرما من مصر".
আর মহান আল্লাহ যখন মিশরের বর্ণনা দিয়েছেন এবং ফেরাউনের বংশধরেরা সেখানে যে নিয়ামত ও রাজত্বে ছিল তার এমন বর্ণনা দিয়েছেন যা তিনি কোনো পূর্ব বা পশ্চিম, সমতল বা পাহাড়, (কিংবা স্থল বা জল(১)) সম্পর্কে দেননি: {তারা কতই না ছেড়ে গিয়েছে উদ্যানসমূহ ও ঝরনাধারা, (২৫) এবং শস্যক্ষেত্র ও সম্মানজনক স্থান, (২৬) এবং এমন স্বাচ্ছন্দ্য যাতে তারা আমোদ-প্রমোদে লিপ্ত ছিল। (২৭)} [আদ-দুখান: ২৫ - ২৭] তবে পৃথিবীর সমস্ত প্রান্তের দেশগুলোর মধ্যে এমন কোনো দেশ কি আছে যা কিতাব (কুরআন) এই রূপ প্রশংসার ন্যায় প্রশংসা করেছে, অথবা এই ধরণের বর্ণনা দিয়েছে, অথবা মিশর ছাড়া আর কোনো দেশের জন্য সম্মানের সাক্ষ্য দিয়েছে?

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "আমার পরে শীঘ্রই মিশর তোমাদের জন্য বিজিত হবে, সুতরাং তোমরা সেখানের কিবতিদের (কপ্টদের) সাথে ভালো আচরণের অসিয়ত গ্রহণ করো, কেননা তাদের সাথে তোমাদের বৈবাহিক সম্পর্ক এবং নিরাপত্তা চুক্তি রয়েছে"(২)।

আবু যার থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমরা শীঘ্রই এমন একটি ভূমি বিজয় করবে যেখানে কীরাত (মুদ্রার একক) উল্লেখ করা হয়, সুতরাং তোমরা তার অধিবাসীদের সাথে সদাচরণের অসিয়ত গ্রহণ করো, কেননা তাদের জন্য রয়েছে নিরাপত্তা চুক্তি এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক"(৩)।

আর আত্মীয়তার সম্পর্কের বিষয়টি হলো, ইবরাহীম আল-খালীল আলাইহিস সালামের পুত্র ইসমাঈল আলাইহিস সালামের মাতা হাজেরা ছিলেন কিবতি বংশোদ্ভূত, আল-ফারামা সংলগ্ন একটি গ্রাম থেকে যাকে উম্মুল আরব বলা হয়(৪)।

--------------------------------------------

(১) এটি ‘আ’ এবং ‘জ’ পাণ্ডুলিপি থেকে বাদ পড়েছে, তবে ‘বা’ পাণ্ডুলিপিতে আছে।

(২) মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে শব্দের কিছু আধিক্যসহ বর্ণনা করেছেন, কিতাব ফাদায়িলুস সাহাবা, পরিচ্ছেদ: মিশরবাসীর ব্যাপারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অসিয়ত (সহীহ মুসলিম ৪/ ১৯৭০)।

(৩) এই শহরটি বিলুপ্ত হয়ে গেছে এবং আজ এর ধ্বংসাবশেষ তাল আল-ফারামা নামে পরিচিত, যা ভূমধ্যসাগরীয় উপকূল থেকে তিন কিলোমিটার দূরে অবস্থিত (আল-কামুস আল-জুগরাফি, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৯)।

(৪) এই বাক্যটি অন্যান্য সূত্রে বিভিন্নভাবে বর্ণিত হয়েছে। ইবনে সা’দের ‘তাবাকাত’ গ্রন্থে (১/২৩) উল্লেখ আছে: "ইসমাঈলের মাতা হাজেরা ছিলেন কিবতিদের অন্তর্ভুক্ত, আল-ফারামা সংলগ্ন উম্মুল আরব নামক একটি গ্রামের"। ফুতুহ মিসর (পৃ. ৪, তরী সংস্করণ) গ্রন্থে রয়েছে: "ইসমাঈলের মাতা হাজেরা ছিলেন উম্মুল আরবের অধিবাসী, যা মিশরের আল-ফারামার সামনে একটি গ্রাম ছিল"। এর পার্শ্বটীকা অনুযায়ী ‘বা’ পাণ্ডুলিপির বর্ণনা হলো: "ইসমাঈলের মাতা হাজেরা, যিনি আরবদের জননী, তিনি মিশরের আল-ফারামার সামনের একটি গ্রামের অধিবাসী ছিলেন"। ফুতুহ মিসরের হারাম মক্কী পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "ইসমাঈলের মাতা হাজেরা উম্মুল আরবের অধিবাসী ছিলেন, যা মিশরের আল-ফারামার সামনে একটি গ্রাম ছিল", সেখানে ‘গ্রাম’ শব্দটিকে তানভীন যোগে নির্দিষ্ট করা হয়েছে।

ইয়াকুত হামাভীর বর্ণনায়: "ইসমাঈলের মাতা হাজেরা ছিলেন উম্মুল আরবের অধিবাসী: যা মিশর ভূখণ্ডের আল-ফারামার সামনে একটি গ্রাম ছিল"। আত-তাবয়ীন ফি আনসাবিল কুরাশিয়্যীন (পৃ. ৮৬) গ্রন্থে বলা হয়েছে: "ইসমাঈলের মাতা হাজেরা, যিনি আরবদের জননী, তিনি আল-ফারামার সামনে অবস্থিত একটি গ্রামের অধিবাসী ছিলেন"। খিতাতুল মাকরিযী (১/২৫) গ্রন্থে উল্লেখ আছে: "ইসমাঈলের মাতা হাজেরা ছিলেন উম্মুল আরবের অধিবাসী, যা মিশরের আল-ফারামার সামনে একটি গ্রাম ছিল"। হুসনুল মুহাদারা (আবু ফাদল সংস্করণ, ১/১৩) গ্রন্থে আছে: "ইসমাঈলের মাতা হাজেরা, যিনি আরবদের জননী, তিনি মিশরের আল-ফারামার সামনে অবস্থিত একটি গ্রামের অধিবাসী ছিলেন"। হুসনুল মুহাদারা-এর পাণ্ডুলিপির ৩ নম্বর পাতায় (যাউয়িয়া হামযাওইয়া লাইব্রেরি) রয়েছে: "ইসমাঈলের মাতা হাজেরা ছিলেন উম্মুল আরবের অধিবাসী, যা মিশরের আল-ফারামার সামনে একটি গ্রাম ছিল"।
(খণ্ড: ১) ফাযাইলু মিসর আল-মাহরুসাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
وأما الذمة: فإن النبي صلى الله عليه وسلم، تسرى من القبط مارية أم إبراهيم ابن رسول الله صلى الله عليه وسلم، وهي من قرية نحو الصعيد، يقال لها "حَفْن"(1) من كورة(2) "أنصنا"(3).

فالعرب والمسلمون كافة لهم نسب بمصر من جهة أمهم مارية أم إبراهيم ابن رسول الله صلى الله عليه وسلم؛ لأن أزواج النبي صلى الله عليه وسلم أمهات المؤمنين، والقبط أخوالهم.

وصارت العرب كافة من مصر، بأمهم هاجر؛ لأنها أم إسماعيل صلى الله عليه وسلم، وهو أبو العرب.

وروى عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: "ستكونون أجنادًا، وخير أجنادكم الجند الغربي، فاتقوا الله في القبط: لا تأكلوهم أكل الخُضَر"(4).

--------------------------------------------

(1) حفن: قرية من كورة أنصنا بصعيد مصر (ياقوت) وفى القاموس الجغرافى القسم الأول ص 229 "أن هذه القرية قد اندثرت ولا يزال توجد آثارها بحوض الكوم الأخضر رقم 19، بأراضى ناحية المطاهرة البحرية بمركز المنيا".

(2) الكورة تشمل عددا من القرى، ويقابلها المركز: في النظام الإدارى المصرى الحاضر.

(3) أنصنا: مدينة أزلية من نواحى الصعيد شرقى النيل، وفى أوائل القرن الثالث عشر للهجرة قيد زمامها باسم الشيخ عبادة، ومكانها اليوم الأطلال الواقعة شرقي النيل بمركز ملوى، بمحافظة المنيا (ياقوت)، (القاموس الجغرافى القسم الأول ص 132).

(4) لم أهتد إلى تخريجه فيما بين يدى من مصادر، وقد أورده ابن عبد الحكم في فتوح مصر ص 3. والمقريزى في الخطط جـ 1 ص 25. والسيوطى في حسن المحاضرة جـ 1 ص 12، مع اختلاف في اللفظ. والمراد بالجند الغربي: جند مصر. والخضر: النبات الغضّ.

هذا وقد اختلفت المصادر بخصوص لفظة "الخضر" حيث وردت في فتوح مصر لابن عبد الحكم ص 3 طبعة تورى مضبوطة بالشكل بفتح الحاء المهملة وكسر الضاد المعجمة. وكذا في حسن المحاضرة جـ 1 ص 12 بتحقيق الأستاذ أبو الفضل. وضبطها بالشكل هكذا أيضا. وكذا ضبطها نفس الضبط الأستاذ عبد المنعم عامر في طبعته لفتوح مصر. وفسرها كل منهما في الهامش بقولها "الحضر: هو الذي يتحين طعام الناس حتى يحضره".

وقد علق الدكتور حسين نصار في مجلة المجلة عدد 80 ص 101 على ما ذهب إليه الأستاذ عبد المنعم عامر بقوله "كذلك وقع تصحيف في المتن في مواضع متعددة منها: جاء في ص 4 س 5 في الوصية بالقبط: لا تأكلوهم أكل الحضر - وفسر المحقق الحضر بأنه الذي يتحين طعام الناس حتى يحضره.

ثم قال الدكتور نصار: وأرجح أن الصواب: لا تأكلوهم أكل الخُضَر - أي "النبات =
আর জিম্মার (চুক্তিবদ্ধ অমুসলিমদের রক্ষা) বিষয়টি হলো: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিবতিদের মধ্য থেকে মারিয়া (রা.)-কে দাসী হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন, যিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পুত্র ইবরাহিমের মাতা ছিলেন। তিনি উচ্চ মিশরের দিকের 'হাফন'(১) নামক একটি গ্রাম থেকে এসেছিলেন, যা 'আনসিনা'(২) জেলার(৩) অন্তর্ভুক্ত ছিল।

সুতরাং সমস্ত আরব ও মুসলমানদের মিশরের সাথে তাদের মাতা মারিয়া—রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পুত্র ইবরাহিমের মাতা—এর দিক থেকে একটি আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে; কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রীগণ হলেন মুমিনদের মাতা, আর কিবতিরা হলো তাদের মামার বংশীয়।

আর সমস্ত আরব জাতি তাদের মাতা হাজেরার মাধ্যমে মিশরের সাথে সম্পর্কযুক্ত হয়েছে; কারণ তিনি ছিলেন ইসমাইল আলাইহিস সালামের মাতা, আর তিনি হলেন আরবদের আদিপিতা।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "তোমরা অচিরেই বিভিন্ন সেনাবাহিনীতে বিভক্ত হবে, আর তোমাদের সর্বোত্তম সেনাবাহিনী হবে পশ্চিমের বাহিনী। সুতরাং কিবতিদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো; তাদের ওপর এমনভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ো না যেমন গবাদি পশু কচি ঘাসের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে"(৪)।

--------------------------------------------

(১) হাফন: উচ্চ মিশরের আনসিনা জেলার একটি গ্রাম (ইয়াকুত)। ভৌগোলিক অভিধান (আল-কামুস আল-জুগরাফি), প্রথম খণ্ড, পৃষ্ঠা ২২৯-এ উল্লেখ আছে যে, "এই গ্রামটি বিলীন হয়ে গেছে, তবে এর ধ্বংসাবশেষ এখনও মিনিয়া কেন্দ্রের মুতাহারা আল-বাহরিয়া এলাকার ১৯ নম্বর আল-কুম আল-আখদার অববাহিকার জমিতে পাওয়া যায়।"

(২) কুরাহ্ বলতে বেশ কিছু গ্রামের সমষ্টিকে বোঝায়, যা বর্তমান মিশরের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় 'মারকাজ' বা কেন্দ্রের সমতুল্য।

(৩) আনসিনা: নীল নদের পূর্ব তীরে উচ্চ মিশরের একটি প্রাচীন শহর। হিজরি ত্রয়োদশ শতাব্দীর শুরুর দিকে এর প্রশাসনিক এলাকা শেখ উবাদাহর নামে নিবন্ধিত ছিল। বর্তমানে এর অবস্থান মিনিয়া প্রদেশের মালওয়ি কেন্দ্রের নীল নদের পূর্ব তীরে অবস্থিত ধ্বংসাবশেষের স্থানে (ইয়াকুত), (ভৌগোলিক অভিধান, প্রথম খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৩২)।

(৪) আমার কাছে থাকা উৎসগুলোর মধ্যে আমি এর তাখরিজ (সূত্র) খুঁজে পাইনি। ইবনে আবদিল হাকাম 'ফুতুহ মিসর' (পৃষ্ঠা ৩), মাকরিজি 'আল-খিতাত' (১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ২৫) এবং সুয়ূতি 'হুসনুল মুহাদারা' (১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ১২)-তে শব্দগত কিছু পার্থক্যসহ এটি উল্লেখ করেছেন। 'পশ্চিমের বাহিনী' বলতে মিশরের বাহিনীকে বোঝানো হয়েছে। আর 'খুদার' অর্থ হলো কচি বা নরম উদ্ভিদ।

তবে 'খুদার' শব্দের উচ্চারণ ও গঠন নিয়ে উৎসগুলোর মধ্যে মতভেদ রয়েছে। ইবনে আবদিল হাকামের 'ফুতুহ মিসর' (টরি সংস্করণ, পৃষ্ঠা ৩)-এ শব্দটি 'হাদির' (হা-এর ওপর জবর এবং দদ-এর নিচে জের) হিসেবে স্বরচিহ্ন যুক্ত করা হয়েছে। একইভাবে ওস্তাদ আবুল ফজল সম্পাদিত 'হুসনুল মুহাদারা' (১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ১২)-তেও একে একইভাবে স্বরচিহ্ন দেওয়া হয়েছে। ওস্তাদ আবদুল মুনিম আমেরও তার সম্পাদিত 'ফুতুহ মিসর'-এ এটি এভাবেই নির্ধারণ করেছেন। তারা উভয়েই পাদটীকায় এর ব্যাখ্যায় বলেছেন: "হাদির হলো সেই ব্যক্তি যে মানুষের খাবারের অপেক্ষায় ওত পেতে থাকে যতক্ষণ না তা উপস্থিত হয়।"

ড. হুসাইন নাসসার 'আল-মাজাল্লা' পত্রিকার ৮০তম সংখ্যায় (পৃষ্ঠা ১০১) ওস্তাদ আবদুল মুনিম আমেরের মতের ওপর মন্তব্য করে বলেছেন: "অনুরূপভাবে মূল পাঠের বিভিন্ন স্থানে বর্ণবিপর্যয় (তাসহিফ) ঘটেছে, যার মধ্যে একটি হলো: পৃষ্ঠা ৪, লাইন ৫-এ কিবতিদের সম্পর্কে বর্ণিত অসিয়ত: 'তাদের ওপর হাদিরদের মতো ঝাঁপিয়ে পড়ো না'—এবং গবেষক হাদির এর ব্যাখ্যা করেছেন এমন ব্যক্তি যে অন্যের খাবারের সুযোগ খোঁজে।"

এরপর ড. নাসসার বলেন: "আমি মনে করি সঠিকটি হলো: তোমরা তাদের ওপর এমনভাবে চড়াও হয়ো না যেমন গবাদি পশু কচি ঘাসের (খুদার) ওপর চড়াও হয়—অর্থাৎ 'উদ্ভিদ' ="