(খণ্ড: ১)
মুহাযারাহ ফী ইলমির রিজাল ওয়া আহমিয়্যাতিহি - জিমনা আসারুল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: -)
محاضرة في علم الرجال وأهميته - ضمن «آثار المعلمي» القسم: علوم الحديث
الكتاب: محاضرة في علم الرجال وأهميته
[آثار عبد الرحمن بن يحيى المعلمي اليماني (15)]
المؤلف: عبد الرحمن بن يحيى المُعَلِّمي اليماني (1313 - 1386 هـ)
المحقق: علي بن محمد العمران
راجعه: محمد أجمل الإصلاحي - عادل بن عبد الشكور الزرقي
الناشر: دار عالم الفوائد للنشر والتوزيع
الطبعة: الأولى، 1434 هـ
قدمه للشاملة: مؤسسة «عطاءات العلم»، جزاهم الله خيرا
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 10 شوّال 1442
বর্ণনাকারী সংক্রান্ত শাস্ত্র (علم الرجال) এবং এর গুরুত্ব বিষয়ক বক্তৃতা - «আসারুল মুয়াল্লিমী»-এর অন্তর্ভুক্ত বিভাগ: হাদিস বিজ্ঞান (علوم الحديث)
বই: বর্ণনাকারী সংক্রান্ত শাস্ত্র (علم الرجال) এবং এর গুরুত্ব বিষয়ক বক্তৃতা
[আবদুর রহমান বিন ইয়াহইয়া আল-মুয়াল্লিমী আল-ইয়ামানী-এর রচনাবলি (১৫)]
লেখক: আবদুর রহমান বিন ইয়াহইয়া আল-মুয়াল্লিমী আল-ইয়ামানী (১৩১৩ - ১৩৮৬ হিজরি)
মুহাক্কিক: আলী বিন মুহাম্মদ আল-উমরান
নিরীক্ষণ করেছেন: মুহাম্মদ আজমল আল-ইসলাহি - আদিল বিন আব্দুশ শাকুর আজ-যুরকি
প্রকাশক: দার আলম আল-ফাওয়াইদ পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন
সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩৪ হিজরি
শামেলার জন্য পেশ করেছে: ‘আতাআত আল-ইলম’ ফাউন্ডেশন, আল্লাহ তাঁদের উত্তম প্রতিদান দিন
[কিতাবের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১০ শাওয়াল ১৪৪২
(খণ্ড: ১৫)
মুহাযারাহ ফী ইলমির রিজাল ওয়া আহমিয়্যাতিহি - জিমনা আসারুল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ২১৫)
الرسالة التاسعة
محاضرة في علم الرجال وأهميته
নবম পত্র
রাবী-সংক্রান্ত শাস্ত্র (علم الرجال) এবং এর গুরুত্ব বিষয়ক একটি বক্তৃতা
(খণ্ড: ১৫)
মুহাযারাহ ফী ইলমির রিজাল ওয়া আহমিয়্যাতিহি - জিমনা আসারুল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ২১৭)
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله، وسلام على عباده الذين اصطفى.
إنه قد استقر في الأذهان، واستغنى عن إقامة البرهان، ما للعلم من الشرف والفضيلة، وأنه هو الوسيلة لرفع الإنسان في المعنى عما ارتفع عنه في الصورة من البهائم.
وممّا لا نزاع فيه أنّ العلوم تتفاوت في مقدار ذلك الشرف؛ منها الشريف والأشرف، والمهمّ والأهمّ.
ومهما يتصور لعلوم الفلسفة والطبيعيات والرياضيات والأدبيات والصناعيات وغيرها من العلوم الكونيات ــ مهما يُتَصوّر لها من الشرف والفضيلة، والمرتبة الرفيعة ــ فإنها لا تُداني في ذلك العلمَ الذي مع مشاركته لها في ترقية المدارك، وتنوير العقول، ينفرد عنها بإصلاح الأخلاق، وتحصيل السعادة الأبديَّة، وهو علم الدين.
ومهما ترقّى الإنسان في الصنائع والمعارف الكونية، وتسهيل أسباب الراحة؛ فإن ذلك إن رفعه عن البهمية من جهة، فإنه ينزل به عنها من جهة أخرى، ما لم تتطهّر أخلاقُه، فيتخلَّق بالرأفة والرحمة، والإيثار والعفة والتواضع، والصدق والأمانة، والعدل والإحسان، وغيرها من الأخلاق الكريمة.
كل من كان له وقوفٌ على أحوال الأمم والأفراد في هذا العصر، عَلِم أنه بحق يسمى عصر العلم، ولكنه يرى أنه مع ذلك يجب أن يسمى ــ بالنظر
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং তাঁর মনোনীত বান্দাদের প্রতি সালাম।
এটি মানুষের মনে সুপ্রতিষ্ঠিত এবং কোনো প্রমাণ উপস্থাপনের মুখাপেক্ষী নয় যে, ইলমের মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব অনস্বীকার্য। ইলমই সেই মাধ্যম যা মানুষকে বাহ্যিক অবয়বের ঊর্ধ্বে গিয়ে অভ্যন্তরীণ ও আধ্যাত্মিক অর্থে চতুষ্পদ জন্তু থেকে উচ্চতর স্তরে আসীন করে।
এতে কোনো দ্বিমত নেই যে, বিভিন্ন শাস্ত্রের মর্যাদায় তারতম্য বিদ্যমান; এর কোনোটি মহৎ, কোনোটি মহত্তর, আবার কোনোটি গুরুত্বপূর্ণ এবং কোনোটি সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ।
দর্শন, প্রাকৃতিক বিজ্ঞান, গণিত, সাহিত্য ও কারিগরি বিদ্যাসহ জাগতিক জ্ঞানসমূহের মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বের কথা যতই কল্পনা করা হোক না কেন, তা কখনোই সেই ইলমের সমকক্ষ হতে পারে না, যা প্রজ্ঞা ও বুদ্ধিবৃত্তিক উৎকর্ষ সাধনে সহায়তা করার পাশাপাশি মানবচরিত্রের সংশোধন এবং পরকালীন চিরস্থায়ী মুক্তি ও সৌভাগ্য অর্জনে অনন্য ভূমিকা পালন করে; আর তা হলো দ্বীনি ইলম।
মানুষ শিল্পকলা ও জাগতিক বিদ্যায় এবং জীবনযাত্রার উপকরণ সহজলভ্য করার ক্ষেত্রে যতই উন্নতি সাধন করুক না কেন, তা যদি তাকে একদিক থেকে পশুত্বের স্তর থেকে উন্নত করে, তবে চরিত্র নির্মল না হওয়া পর্যন্ত অন্যদিক থেকে তাকে নিম্নগামী করে। যতক্ষণ না সে দয়া, করুণা, ত্যাগ, চারিত্রিক পবিত্রতা, বিনয়, সত্যবাদিতা, আমানতদারি, ন্যায়পরায়ণতা ও ইহসানসহ অন্যান্য মহৎ গুণাবলিতে ভূষিত হয়।
বর্তমান সময়ে জাতি ও ব্যক্তিদের অবস্থা সম্পর্কে যারা অবগত আছেন, তারা জানেন যে একে যথার্থই বিজ্ঞানের যুগ বলা হয়; তবে এর পাশাপাশি তিনি এটিও অনুধাবন করেন যে একে অভিহিত করা উচিত— পর্যবেক্ষণের নিরিখে...
(খণ্ড: ১৫)
মুহাযারাহ ফী ইলমির রিজাল ওয়া আহমিয়্যাতিহি - জিমনা আসারুল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ২১৮)
إلى تدهور الأخلاق ــ اسما آخر!
النفوس الأرضية تربة، من شأنها أن تنبت الأخلاق الذميمة ما لم تُسْقَ بماء الإيمان الطاهر، وتشرق عليها شمسُ العلم الديني الصحيح، وتهبّ عليها رياح التذكير الحكيم.
فأيّ أرضٍ أَمْحَلت من ذلك الماء، وحُجِب عنها شعاع تلك الشمس، وسُدَّتْ عنها طرق تلك الرياح؛ كان نباتها كما قال الملائكة عليهم السلام: {أَتَجْعَلُ فِيهَا مَنْ يُفْسِدُ فِيهَا وَيَسْفِكُ الدِّمَاءَ} [البقرة: 30].
للدين ــ وهو الإسلام ــ ينبوعان عظيمان: كتاب الله عز وجل، وسنة رسوله صلى الله عليه وآله وسلم.
السنة عبارة عما ثبت عن النبي صلى الله عليه وآله وسلم من الأقوال والأفعال وغيرها مما هو تبيينٌ للقرآن، وتفصيل للأحكام، وتعليم للآداب، وغير ذلك من مصالح المعاش والمعاد.
أوّل من تلقّى السنّة هم الصحابة الكرام، فحفظوها وفهموها، وعلموا جملتها وتفصيلها، وبلّغوها كما أُمِروا إلى من بعدهم.
ثمّ تلقّاها التابعون، وبلّغوها إلى من يليهم وهكذا! فكان الصحابيّ يقول: سمعتُ رسولَ الله صلى الله عليه وآله وسلم يقول كيت وكيت، ويقول التابعي: سمعت فلانًا الصحابي يقول: سمعت النبيَّ صلى الله عليه وآله وسلم، ويقول الذي يليه: سمعتُ فلانًا يقول: سمعت فلانًا الصحابي يقول: سمعت النبي صلى الله عليه وآله وسلم، وهكذا.
চরিত্রের অবক্ষয়ের—অন্য একটি নাম!
পার্থিব আত্মাগুলো হলো মাটির ন্যায়, যার স্বভাব হলো মন্দ চরিত্র উৎপন্ন করা, যতক্ষণ না তা ঈমানের পবিত্র পানি দ্বারা সিক্ত হয়, তার ওপর সঠিক দ্বীনি ইলমের সূর্য উদিত হয় এবং প্রজ্ঞাপূর্ণ উপদেশের বাতাস প্রবাহিত হয়।
সুতরাং যে ভূমি সেই পানি থেকে বঞ্চিত হয়, যার থেকে সেই সূর্যের আলো রুদ্ধ করা হয় এবং যেখান থেকে সেই বাতাসের পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়; তার উদ্ভিদ তেমনই হয় যেমনটি ফেরেশতাগণ (আলাইহিমুস সালাম) বলেছিলেন: {আপনি কি সেখানে এমন কাউকে সৃষ্টি করবেন যে সেখানে ফাসাদ সৃষ্টি করবে এবং রক্তপাত ঘটাবে?} [আল-বাকারা: ৩০]।
দ্বীন—যা মূলত ইসলাম—তার দুটি সুমহান উৎস রয়েছে: আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম) সুন্নাহ।
সুন্নাহ হলো নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম) থেকে প্রমাণিত (ثبت) সেই সকল কথা, কাজ ও অন্যান্য বিষয়াবলি, যা কুরআনের ব্যাখ্যা প্রদানকারী, বিধিবিধানের বিস্তারিত বর্ণনাকারী, শিষ্টাচার শিক্ষাদানকারী এবং ইহকাল ও পরকালের অন্যান্য কল্যাণ সংশ্লিষ্ট।
সর্বপ্রথম যারা সুন্নাহ গ্রহণ করেছেন তারা হলেন সম্মানিত সাহাবীগণ (الصحابة), তাঁরা এটি মুখস্থ করেছেন, অনুধাবন করেছেন এবং এর সামগ্রিক ও বিস্তারিত বিষয়াবলি সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করেছেন। অতঃপর আদেশ অনুযায়ী তাঁদের পরবর্তী স্তরের মানুষের কাছে তা পৌঁছে দিয়েছেন।
অতঃপর তাবেঈগণ (التابعون) তা গ্রহণ করেছেন এবং তাঁদের পরবর্তী স্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন, আর এভাবেই ধারাটি চলতে থাকে! একজন সাহাবী (صحابي) বলতেন: আমি আল্লাহর রাসুলকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম) এমন এমন বলতে শুনেছি; আবার একজন তাবেঈ (تابعي) বলতেন: আমি অমুক সাহাবীকে (صحابي) বলতে শুনেছি, তিনি নবীকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম) বলতে শুনেছেন; তার পরবর্তী স্তরের কেউ বলতেন: আমি অমুককে বলতে শুনেছি, তিনি অমুক সাহাবীকে (صحابي) বলতে শুনেছেন, তিনি নবীকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম) বলতে শুনেছেন, এভাবেই এই সিলসিলা প্রবহমান থাকে।
(খণ্ড: ১৫)
মুহাযারাহ ফী ইলমির রিজাল ওয়া আহমিয়্যাতিহি - জিমনা আসারুল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ২১৯)
كلُّ من علم أنّ محمدًا صلى الله عليه وآله وسلم خاتم الأنبياء، وأنّ شريعتَه خاتمة الشرائع، وأنّ سعادة المعاش والمعاد والحياة الأبدية في اتّباعه= يعلم أنّ النّاس أحوج إلى حفظ السنة منهم إلى الطعام والشراب.
قد وقعت الروايةُ ممّن يجب قبولُ خبرِه، وممّن يجب ردُّه، وممّن يجب التوقف فيه. وهيهات أن يعرف ما هو من الحقّ الذي بلَّغه خاتمُ الأنبياء عن ربّه عز وجل، وما هو من الباطل الذي يُبرَّأ عنه الله ورسوله؛ إلاّ بمعرفة أحوال الرواة.
وهكذا الوقائع التاريخية، بل حاجتها إلى معرفة أحوال رواتها أشدُّ؛ لغلبة التساهل في نَقْلها. على أنّ معرفة أحوال الرجال هي نفسها من أهمّ فروع التاريخ.
وإذ كان لا بدّ من معرفة أحوال الرواة؛ فلا بدّ من بيانها؛ بأن يخبر كلُّ مَن عَرَف حالَ راوٍ بحاله ليعْلَمَه الناسُ. وقد قامت الأمّة بهذا الفرض كما ينبغي.
أوّل من تكلّم في أحوال الرجال القرآن، ثمّ النبي صلى الله عليه وآله وسلم، ثم أصحابه.
والآيات كثيرة في الثناء على الصحابة إجمالًا، وذم المنافقين إجمالًا، ووردت آياتٌ في الثناء على أفراد مُعَيَّنين من الصحابة ــ كما يُعلم من كتب الفضائل ــ وآيات في التنبيه على نفاق أفراد مُعَيَّنين، وعلى جرح أفراد آخرين.
وأشهر ما جاء في هذا قوله تعالى: {إِنْ جَاءَكُمْ فَاسِقٌ بِنَبَإٍ فَتَبَيَّنُوا}
যে ব্যক্তি এ কথা অবগত যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) হলেন শেষ নবী, তাঁর শরিয়ত হলো সর্বশেষ শরিয়ত এবং ইহকাল, পরকাল ও অনন্ত জীবনের সুখ তাঁকে অনুসরণের মধ্যেই নিহিত—সে জানে যে মানুষের জন্য সুন্নাহ সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা খাদ্য ও পানীয়ের চেয়েও অধিক।
বর্ণনা (رواية) এমন সব ব্যক্তিদের মাধ্যমে আমাদের কাছে পৌঁছেছে যাদের সংবাদ গ্রহণ করা (قبول الخبر) আবশ্যক, আবার এমন ব্যক্তিদের থেকেও এসেছে যাদের সংবাদ বর্জন করা (الرد) আবশ্যক, এবং এমন ব্যক্তিদের মাধ্যমেও এসেছে যাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা (التوقف) আবশ্যক। শেষ নবী তাঁর রবের পক্ষ থেকে যে সত্য পৌঁছে দিয়েছেন তা আর যে বাতিল থেকে আল্লাহ ও তাঁর রাসুল দায়মুক্ত তা পৃথকভাবে চেনা কখনোই সম্ভব নয়; যদি না বর্ণনাকারীদের অবস্থা (أحوال الرواة) সম্পর্কে জ্ঞান থাকে।
ঐতিহাসিক ঘটনাবলির ক্ষেত্রেও বিষয়টি অনুরূপ, বরং এগুলোর বর্ণনাকারীদের অবস্থা (أحوال الرواة) জানার প্রয়োজনীয়তা আরও তীব্র; কারণ ইতিহাস বর্ণনার ক্ষেত্রে শিথিলতার (التساهل) আধিক্য পরিলক্ষিত হয়। তাছাড়া বর্ণনাকারীদের অবস্থা (أحوال الرجال) সম্পর্কে জ্ঞান রাখা স্বয়ং ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি শাখা।
যেহেতু বর্ণনাকারীদের অবস্থা (أحوال الرواة) জানা অপরিহার্য, সেহেতু তা বর্ণনা করাও আবশ্যক; যেন কোনো বর্ণনাকারী (راوٍ) সম্পর্কে অবগত ব্যক্তি তার অবস্থা বর্ণনা করেন যাতে মানুষ তা জানতে পারে। এই উম্মাহ এই অপরিহার্য দায়িত্বটি যথাযথভাবে পালন করেছে।
বর্ণনাকারীদের অবস্থা (أحوال الرجال) নিয়ে সর্বপ্রথম আলোচনা করেছে পবিত্র কুরআন, এরপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম), অতঃপর তাঁর সাহাবীগণ।
সামগ্রিকভাবে সাহাবীদের প্রশংসা এবং সামগ্রিকভাবে মুনাফিকদের নিন্দায় কুরআনে অনেক আয়াত রয়েছে। এ ছাড়া নির্দিষ্ট কিছু সাহাবীর প্রশংসায় আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে—যেমনটি ফাজায়েলের কিতাবসমূহ থেকে জানা যায়—আবার নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির নিফাক সম্পর্কে সতর্কবাণী এবং অন্য অনেকের ত্রুটি বর্ণনা বা সমালোচনা (جرح) সংক্রান্ত আয়াতও অবতীর্ণ হয়েছে।
এ বিষয়ে সর্বাধিক প্রসিদ্ধ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {যদি কোনো পাপাচারী তোমাদের কাছে কোনো সংবাদ নিয়ে আসে, তবে তোমরা তা যাচাই করে নাও}
(খণ্ড: ১৫)
মুহাযারাহ ফী ইলমির রিজাল ওয়া আহমিয়্যাতিহি - জিমনা আসারুল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ২২০)
[الحجرات: 6]. نزلت في رجل بِعَينه، كما هو معروف في موضعه
(1)، وهي مع ذلك قاعدة عامّة.
وثبتت عن النبي صلى الله عليه وآله وسلم أحاديثُ كثيرة في الثناء على أصحابه جملةً، وعلى أفراد منهم معينين؛ معروفة في كتب الفضائل. وأخبارٌ أُخَر في ذمّ بعض الفِرَق إجمالًا؛ كالخوارج، وفي تعيين المنافقين وذم أفراد معينين؛ كعيينة بن حصن
(2)، والحَكَم بن أبي العاص
(3).
وثبتت آثار كثيرة عن الصحابة في الثناء على بعض التابعين، وآثار في جرح أفراد منهم.
وأمّا التابعون؛ فكلامهم في التعديل كثير، ولا يُروى عنهم من الجرح إلا القليل، وذلك لقرب العهد بالسراج المنير، عليه وعلى آله أفضل الصلاة والتسليم، فلم يكن أحدٌ من المسلمين يجترئ على الكذب على الله ورسوله.
وعامّة المُضَعَّفين من التابعين إنّما ضُعّفوا للمذهب؛ كالخوارج أو لسوء الحفظ، أو للجهالة.
ثمّ جاء عصر أتباع التابعين فما بعده، فكَثُر الضعفاء والمغَفَّلون،
--------------------------------------------
[হুজুরাত: ৬]। এটি বিশেষ এক ব্যক্তির সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে, যেমনটি তার নিজ স্থানে সুবিদিত
(1); তবে তা সত্ত্বেও এটি একটি সাধারণ মূলনীতি।
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম থেকে তাঁর সাহাবিদের সামগ্রিক প্রশংসা এবং তাঁদের মধ্য থেকে নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির প্রশংসায় অনেক হাদিস প্রমাণিত হয়েছে; যা ফাদায়িল বিষয়ক গ্রন্থগুলোতে সুপরিচিত। আবার কিছু দলের সামগ্রিক নিন্দায় অন্যান্য সংবাদ বা বর্ণনা রয়েছে; যেমন খারিজি সম্প্রদায়। অনুরূপভাবে মুনাফিকদের পরিচয় নির্ধারণ এবং নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির নিন্দায় বর্ণনা রয়েছে; যেমন উয়াইনা ইবনে হিসন
(2) এবং হাকাম ইবনে আবিল আস
(3)।
সাহাবিদের থেকে কিছু তাবিয়ির প্রশংসায় অনেক আছার (آثار) প্রমাণিত হয়েছে, আবার তাঁদের মধ্য থেকে কিছু ব্যক্তির জরাহ বা সমালোচনায় (جرح) আছার (آثار) বিদ্যমান রয়েছে।
আর তাবিয়িগণ; তাঁদের পক্ষ থেকে তাদিল বা ন্যায়পরায়ণ সাব্যস্তকরণ (تعديل) সম্পর্কিত বক্তব্য প্রচুর, কিন্তু তাঁদের থেকে জরাহ বা সমালোচনা (جرح) খুব সামান্যই বর্ণিত হয়েছে। এর কারণ হলো 'সিরাজুন মুনীর' (প্রদীপ্ত প্রদীপ)-এর যুগের সাথে নৈকট্য—তাঁর এবং তাঁর পরিবারের ওপর সর্বোত্তম দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক—ফলে মুসলমানদের মধ্যে কেউ আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের নামে মিথ্যাচারের দুঃসাহস দেখাতেন না।
তাবিয়িদের মধ্যে সাধারণভাবে যাদেরকে দুর্বল সাব্যস্ত করা হয়েছে (مضعفين), তাঁদেরকে মূলত মাজহাব বা মতাদর্শের কারণে দুর্বল (ضعفوا) বলা হয়েছে; যেমন খারিজি হওয়ার কারণে, অথবা মুখস্থ শক্তির দুর্বলতার (سوء الحفظ) কারণে, কিংবা অজ্ঞাত হওয়ার (جهالة) কারণে।
অতঃপর তাবে-তাবিয়ি এবং পরবর্তী যুগ আসলো, তখন দুর্বল (ضعفاء) এবং অসতর্ক (مغفلون) বর্ণনাকারীদের সংখ্যা বেড়ে গেল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৫)
মুহাযারাহ ফী ইলমির রিজাল ওয়া আহমিয়্যাতিহি - জিমনা আসারুল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ২২১)
والكذّابون والزنادقة، فنهض الأئمة لتبيين أحوال الرواة وتزييف ما لا يثبت، فلم يكن مِصْرٌ من أمصار المسلمين إلَّا وفيه جماعة من الأئمة يمتحنون الرواة، ويختبرون أحوالهم وأحوال رواياتهم، ويتتبَّعون حركاتهم وسكناتهم، ويُعلنون للناس حكمهم عليهم.
واستمرّ ذلك إلى القرن العاشر، فلا تجد في كتب الحديث اسمَ راوٍ إلّا وجدت في كتب الرجال تحقيقَ حاله. وهذا مصداق الوعد الإلهي؛ قيل لابن المبارك: هذه الأحاديث المصنوعة؟! قال: تعيش لها الجهابذة، وتلا قول الله سبحانه وتعالى: {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ}
(1) [الحجر: 9].
وكان نشاط الأئمة في ذلك آيةً من الآيات؛ فمن أمثلة ذلك: قال العراقي في "شرح مقدمة ابن الصلاح"
(2): "رُوّينا عن مؤمّل
(3) أنّه قال: حدّثني شيخ بهذا الحديث ــ يعني حديث فضائل القرآن سورة سورة ــ فقلت للشيخ: من حدّثك؟ فقال: حدّثني رجلٌ بالمدائن، وهو حيٌّ، فصرت إليه، فقلت: من حدّثك؟ قال: حدثني شيخٌ بواسط، وهو حيٌّ، فصرت إليه، فقال: حدّثني شيخٌ بالبصرة، فصرت إليه، فقال: حدّثني شيخٌ بعبّادان، فصرت إليه، فأخذ بيدي، فأدخلني بيتًا، فإذا فيه قوم من المتصوفة ومعهم شيخٌ، فقال: هذا الشيخ حدّثني، فقلت: يا شيخ من حدّثك؟ فقال: لم يحدّثني أحد، ولكننا
--------------------------------------------
এবং চরম মিথ্যুক (كذابون) ও ধর্মদ্রোহীদের (زنادقة) আবির্ভাব ঘটলে ইমামগণ বর্ণনাকারীদের অবস্থা স্পষ্ট করতে এবং যা সাব্যস্ত নয় তা বাতিল করতে সচেষ্ট হন। ফলে মুসলিম বিশ্বের এমন কোনো শহর ছিল না যেখানে একদল ইমাম ছিলেন না, যারা বর্ণনাকারীদের পরীক্ষা করতেন, তাদের অবস্থা ও তাদের বর্ণিত হাদিসসমূহ যাচাই করতেন, তাদের প্রতিটি গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করতেন এবং তাদের সম্পর্কে নিজেদের সিদ্ধান্ত মানুষের কাছে প্রকাশ করতেন।
দশম হিজরি শতাব্দী পর্যন্ত এই ধারা অব্যাহত ছিল। ফলে হাদিসের গ্রন্থাবলিতে এমন কোনো বর্ণনাকারীর নাম নেই, যার অবস্থা সম্পর্কে রিজাল শাস্ত্রের কিতাবসমূহে বিশদ বিশ্লেষণ পাওয়া যায় না। এটি মূলত মহান আল্লাহর সেই বাণীরই প্রতিফলন; ইবনুল মুবারককে যখন জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: "এই জাল (مصنوعة) হাদিসগুলোর কী হবে?" তিনি বলেছিলেন: "এগুলোর রহস্য উন্মোচনের জন্য বিশেষজ্ঞ (جهابذة) পণ্ডিতগণ রয়েছেন।" অতঃপর তিনি মহান আল্লাহর এই বাণী তিলাওয়াত করলেন: "নিশ্চয়ই আমি এই উপদেশ অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষণকারী।" (হিজর: ৯)
এ বিষয়ে ইমামগণের তৎপরতা ছিল আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মধ্য হতে এক অনন্য নিদর্শন। উদাহরণস্বরূপ, আল-ইরাকি 'শরহে মুকাদ্দিমাহ ইবনুস সালাহ' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন: "মুআম্মিল হতে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেন: জনৈক শায়খ আমাকে এই হাদিসটি শুনিয়েছেন—অর্থাৎ কুরআনের প্রতিটি সূরার ফজিলত সম্পর্কিত হাদিসটি। তখন আমি সেই শায়খকে জিজ্ঞাসা করলাম: আপনাকে এটি কে শুনিয়েছে? তিনি বললেন: মাদায়েনের এক ব্যক্তি আমাকে শুনিয়েছেন এবং তিনি জীবিত আছেন। আমি তার কাছে গেলাম এবং জিজ্ঞাসা করলাম: আপনাকে কে শুনিয়েছে? তিনি বললেন: ওয়াসিত শহরের এক শায়খ আমাকে এটি শুনিয়েছেন এবং তিনি জীবিত আছেন। আমি তার কাছে গেলাম। তিনি বললেন: বসরার এক শায়খ আমাকে শুনিয়েছেন। আমি সেখানে গেলাম। তিনি বললেন: আব্বাদানের এক শায়খ আমাকে শুনিয়েছেন। আমি তার নিকট গেলে তিনি আমার হাত ধরে একটি ঘরে নিয়ে গেলেন। সেখানে একদল সুফি এবং তাদের সাথে একজন শায়খ ছিলেন। তিনি বললেন: এই শায়খ আমাকে এটি শুনিয়েছেন। আমি বললাম: হে শায়খ, আপনাকে কে শুনিয়েছেন? তিনি বললেন: আমাকে কেউ শোনায়নি, বরং আমরা..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৫)
মুহাযারাহ ফী ইলমির রিজাল ওয়া আহমিয়্যাতিহি - জিমনা আসারুল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ২২২)
رأينا النّاس قد رغبوا عن القرآن، فوضعنا لهم هذا الحديث ليصرفوا قلوبهم إلى القرآن!! "
(1).
لعلّ هذا الرجل قطع نحو ثلاثة أشهر مسافرًا لتحقيق رواية هذا الحديث الواحد.
وللأئمة طرق في اختبار الرواة؛ منها: النظر إلى حال الراوي في المحافظة على الطاعات واجتناب المعاصي، وسؤال أهل المعرفة به.
قال الحسن بن صالح بن حَيّ: "كنّا إذا أردنا أن نكتب عن الرجل سألنا عنه، حتّى يقال: أتريدون أن تزوجوه؟! "
(2).
ومنها: أن يحدث أحاديث عن شيخ حيٍّ، فيسأل ذلك الشيخ عنها.
مثاله: قول شعبة: قال الحسن بن عمارة: "حدّثني الحكم، عن يحيى بن الجزّار، عن علي: سبعةَ أحاديث، فسألتُ الحَكَم عنها، فقال: ما سمعتُ منها شيئًا! "
(3).
ومنها: أن يحدّث عن شيخ قد مات، فيقال للرّاوي: متى ولدت؟ ومتى لقيت هذا الشيخ؟ وأين لقيته؟ ثم يقابل بين ما يجيب به وبين ما حفظ من وفاة الشيخ الذي روى عنه ومحل إقامته وتواريخ تنقله.
مثاله: ما جاء عن عُفَير بن مَعْدان أنّ عمر بن موسى بن وجيه حدّث عن
--------------------------------------------
"আমরা দেখলাম মানুষ কুরআন থেকে বিমুখ হয়ে পড়েছে, তাই আমরা তাদের জন্য এই হাদিসটি জাল করেছি (وضعنا) যাতে তারা তাদের অন্তরকে কুরআনের দিকে নিবিষ্ট করে!!"
(1).
সম্ভবত এই ব্যক্তিটি এই একটি মাত্র হাদিসের বর্ণনা (رواية) যাচাই করার জন্য প্রায় তিন মাস সফর করেছেন।
বর্ণনাকারীদের (رواة) পরীক্ষার ক্ষেত্রে ইমামগণের বিভিন্ন পদ্ধতি ছিল; তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: আনুগত্য (طاعات) পালনের ক্ষেত্রে এবং গুনাহ (معاصي) বর্জনের ক্ষেত্রে বর্ণনাকারীর (راوي) অবস্থার প্রতি লক্ষ্য রাখা এবং তাকে চেনেন এমন বিজ্ঞ ব্যক্তিদের নিকট জিজ্ঞাসা করা।
হাসান ইবনে সালিহ ইবনে হাই বলেন: "আমরা যখন কোনো ব্যক্তির নিকট থেকে হাদিস লিখে নেয়ার ইচ্ছা পোষণ করতাম, তখন তার সম্পর্কে এমনভাবে অনুসন্ধান করতাম যে, এমনকি বলা হতো: তোমরা কি তাকে বিয়ে দিতে চাও?!"
(2).
অন্য একটি পদ্ধতি হলো: কোনো জীবিত শায়খের (شيخ) বরাতে হাদিস বর্ণনা করা, অতঃপর সেই শায়খকে (شيخ) উক্ত হাদিসগুলো সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা।
উদাহরণস্বরূপ: শু'বাহ এর উক্তি, হাসান ইবনে আমারা বলেছেন: "হাকাম আমার নিকট ইয়াহইয়া ইবনুল জাযযার এর মাধ্যমে আলী (রা.) থেকে সাতটি হাদিস বর্ণনা করেছেন, অতঃপর আমি হাকামকে সেই হাদিসগুলো সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: আমি এগুলোর কিছুই শুনিনি!"
(3).
আরেকটি পদ্ধতি হলো: এমন একজন শায়খের (شيخ) বরাতে বর্ণনা করা যিনি মৃত্যুবরণ করেছেন। এমতাবস্থায় বর্ণনাকারীকে (راوي) জিজ্ঞাসা করা হতো: তোমার জন্ম কবে? এই শায়খের (شيخ) সাথে তোমার সাক্ষাৎ কবে হয়েছে? আর কোথায় সাক্ষাৎ হয়েছে? এরপর সে যে উত্তর দিত এবং যে শায়খ (شيخ) থেকে সে বর্ণনা (روى) করেছে, তার মৃত্যু তারিখ, তার বাসস্থান এবং তার ভ্রমণের সময়কাল সংক্রান্ত সংরক্ষিত তথ্যের সাথে একটি তুলনামূলক যাচাই করা হতো।
উদাহরণস্বরূপ: উফাইর ইবনে মা'দান থেকে বর্ণিত যে, উমর ইবনে মুসা ইবনে ওয়াজিন বর্ণনা করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৫)
মুহাযারাহ ফী ইলমির রিজাল ওয়া আহমিয়্যাতিহি - জিমনা আসারুল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ২২৩)
خالد بن مَعْدان، قال عُفير: فقلت له: في أيّ سنة لقيته؟ قال: في سنة ثمان وخمسين ومائة، في غزاة إرْمِينِيَّة. قلت: اتق الله يا شيخ، لا تكذب! مات خالد سنة أربع وخمسين ومائة، أزيدك أنّه لم يغز إرْمِينية! !
(1).
ومنها: أن يسمع من الراوي أحاديث عن مشايخ قد ماتوا، فتُعْرَض هذه الأحاديث على ما رواه الثقات عن أولئك المشايخ، فينظر: هل انفرد هذا الراوي بشيء أو خالف أو زاد أو نقص؟ فتجدهم يقولون في الجرح: "ينفرد عن الثقات بما لا يتابع عليه"، "في حديثه مناكير" "يخطئ ويُخالف"، ونحو ذلك.
ومنها: أن يسمع من الراوي عدّة أحاديث، فتُحْفَظ أو تُكْتَب، ثم يَسأل عنها بعد مدة، وربّما كَرَّر السؤال مرارًا لينظر أيُغيّر أو يُبدّل أو يزيد أو ينقص؟
دعا بعض الأمراء أبا هريرة، وسأله أن يحدّث، وقد خبَّأ الأمير كاتبًا حيث لا يراه أبو هريرة، فجعل أبو هريرة يحدّث، والكاتب يكتب، ثم بعد سنة دعا الأمير أبا هريرة، ودسّ رجلًا ينظر في تلك الصحيفة، وسأل أبا هريرة عن تلك الأحاديث، فجعل يُحدِّث والرجل ينظر في الصحيفة، فما زاد ولا نقص، ولا قدّم ولا أخّر
(2).
وسأل بعضُ الخلفاء ابنَ شهاب الزُّهري أن يملي على بعض ولده، فدعا بكاتب، فأملى عليه أربع مائة حديث، ثمّ إنّ الخليفة قال للزهري بعد
--------------------------------------------
খালিদ বিন মাদান; উফায়র বলেন: আমি তাঁকে বললাম: আপনি কোন বছর তাঁর সাথে দেখা করেছেন? তিনি বললেন: একশত আটান্ন হিজরীতে, আর্মেনিয়া অভিযানে। আমি বললাম: হে শায়খ, আল্লাহকে ভয় করুন, মিথ্যা বলবেন না! খালিদ একশত চুয়ান্ন হিজরীতে ইন্তেকাল করেছেন; আমি আরও যোগ করছি যে, তিনি কখনও আর্মেনিয়া অভিযানে অংশ নেননি!
(১).
এর মধ্যে একটি পদ্ধতি হলো: বর্ণনাকারীর কাছ থেকে এমন শিক্ষকদের সূত্রে হাদিস শ্রবণ করা যারা ইন্তেকাল করেছেন। অতঃপর এই হাদিসগুলোকে সেই সকল শিক্ষকদের সূত্রে নির্ভরযোগ্য (ثقات) বর্ণনাকারীদের বর্ণিত হাদিসের সাথে তুলনা করা হয়। তখন দেখা হয়: এই বর্ণনাকারী কি এককভাবে কোনো কিছু বর্ণনা করেছেন, নাকি বিরোধিতা করেছেন, নাকি বাড়িয়ে বলেছেন বা কমিয়ে বলেছেন? ফলে আপনি তাঁদের জারহ বা ত্রুটি বর্ণনার (الجرح) ক্ষেত্রে বলতে দেখবেন: "তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقات) বর্ণনাকারীদের বিপরীতে এমন সব একক বর্ণনা দেন যা সমর্থিত নয়", "তাঁর হাদিসে মুনকার (مناكير) বর্ণনা রয়েছে", "তিনি ভুল করেন এবং বিরোধিতা করেন", এবং এই জাতীয় মন্তব্য।
এর মধ্যে আরও রয়েছে: বর্ণনাকারীর কাছ থেকে বেশ কিছু হাদিস শোনা, এরপর তা মুখস্থ করা বা লিখে রাখা। তারপর দীর্ঘ সময় পর সেই হাদিসগুলো সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা; সম্ভবত বারবার প্রশ্নটি করা হয় এটা দেখার জন্য যে, তিনি কি কোনো পরিবর্তন বা রদবদল করছেন, নাকি কিছু বাড়াচ্ছেন বা কমাচ্ছেন?
জনৈক আমির আবু হুরাইরাহ-কে ডেকে পাঠালেন এবং তাঁকে হাদিস বর্ণনা করতে অনুরোধ করলেন। আমির একজন লেখককে এমন জায়গায় লুকিয়ে রেখেছিলেন যেখানে আবু হুরাইরাহ তাঁকে দেখতে পাচ্ছিলেন না। আবু হুরাইরাহ হাদিস বর্ণনা করতে থাকলেন এবং লেখক তা লিখে নিতে লাগলেন। এক বছর পর আমির আবার আবু হুরাইরাহ-কে ডাকলেন এবং এক ব্যক্তিকে সেই পাণ্ডুলিপির ওপর নজর রাখার জন্য নিযুক্ত করলেন। অতঃপর তিনি আবু হুরাইরাহ-কে সেই হাদিসগুলো সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। আবু হুরাইরাহ বর্ণনা করতে থাকলেন আর সেই ব্যক্তি পাণ্ডুলিপির দিকে তাকিয়ে মিলিয়ে দেখতে লাগলেন। তিনি তাতে কিছুই বাড়াননি বা কমাননি, এবং কোনো বর্ণনা আগেও করেননি বা পিছেও করেননি
(২).
জনৈক খলিফা ইবনে শিহাব আল-জুহরিকে তাঁর এক সন্তানের জন্য হাদিস লিখে দিতে (ইমলা করতে) অনুরোধ করলেন। তিনি একজন লেখককে ডাকলেন এবং তাকে চারশ হাদিস লিখে দিলেন। এরপর খলিফা জুহরিকে বললেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৫)
মুহাযারাহ ফী ইলমির রিজাল ওয়া আহমিয়্যাতিহি - জিমনা আসারুল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ২২৪)
مدّة: إنّ ذلك الكتاب قد ضاع، فدعا الكاتب فأملاها عليه، ثمّ قابلوا الكتابَ الثاني على الكتاب الأوّل، فما غادر حرفًا
(1).
وكانوا كثيرًا ما يبالغون في الاحتياط، حتّى قيل لشعبة: لم تركت حديث فلان؟ قال: رأيته يركض على بِرْذَون
(2).
وقال جرير: رأيت سِماك بن حرب يبول قائمًا، فلم أكتب عنه
(3).
وقيل للحكم بن عُتَيبة: لِمَ لَمْ تروِ عن زاذان؟ قال: كان كثير الكلام
(4).
وكانوا يطعنون فيمن خالط الأمراء، أو قبل عطاياهم، أو عظَّمهم، بل ربّما بالغوا في ذلك، كما وقع لمحمد بن بشر الزَّنْبَري المصري مع سعة علمه، كان يملي الحديث على أهل بلده، فاتفق أن خرج الملك غازيًا، فخرج الزَّنْبري يشيّعه، فلمّا انصرف وجلس يوم الجمعة في مجلسه، قام إليه أصحاب الحديث فنزعوه من موضعه، وسبّوه وهمُّوا به، ومزّقوا رواياتهم عنه.
ثمّ ذكره ابن يونس في "تاريخ مصر" فقال: "لم يكن يشبه أهل العلم"
(5).
--------------------------------------------
একদা (مدّة): সেই গ্রন্থটি হারিয়ে গিয়েছিল, তখন তিনি লেখককে ডাকলেন এবং তাকে তা শ্রুতিলিপি (إملاء) হিসেবে লিখিয়ে দিলেন। এরপর তারা দ্বিতীয় গ্রন্থটিকে প্রথমটির সাথে মিলিয়ে দেখলেন, তাতে একটি অক্ষরও বাদ পড়েনি
(১)।
তারা প্রায়ই সতর্কতার বিষয়ে অত্যধিক কঠোরতা অবলম্বন করতেন, এমনকি যখন শু'বাহকে জিজ্ঞাসা করা হলো: আপনি কেন অমুকের হাদিস পরিত্যাগ করেছেন? তিনি বললেন: আমি তাকে একটি খচ্চরের (بِرْذَون) পিঠে চড়ে দৌড়াতে দেখেছি
(২)।
জারীর বলেন: আমি সিমাক ইবন হারবকে দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করতে দেখেছি, তাই আমি তার থেকে [হাদিস] লিখিনি
(৩)।
হাকাম ইবন উতাইবাহকে জিজ্ঞেস করা হলো: আপনি কেন যাযান থেকে বর্ণনা (رواية) করেননি? তিনি বললেন: সে খুব বেশি কথা বলত
(৪)।
তারা ঐসব বর্ণনাকারীদের সমালোচনা (طعن) করতেন যারা শাসকদের সাথে মেলামেশা করত, অথবা তাদের উপঢৌকন গ্রহণ করত কিংবা তাদের অতিমূল্যায়ন করত। এমনকি তারা এ বিষয়ে চরম কঠোরতা প্রদর্শন করতেন, যেমনটি ঘটেছিল মিশরের মুহাম্মদ ইবন বিশর আল-যানবারীর ক্ষেত্রে—তার অগাধ জ্ঞান থাকা সত্ত্বেও। তিনি তার অঞ্চলের অধিবাসীদের কাছে হাদিস শ্রুতিলিপি (إملاء) হিসেবে লিখিয়ে দিতেন; ঘটনাক্রমে একদিন বাদশাহ যুদ্ধের উদ্দেশ্যে বের হলেন এবং যানবারী তাকে বিদায় জানাতে সঙ্গে গেলেন। যখন তিনি ফিরে এসে জুমার দিন নিজ মজলিসে বসলেন, তখন হাদিস অন্বেষণকারীরা (أصحاب الحديث) তার কাছে গিয়ে তাকে তার জায়গা থেকে নামিয়ে দিল, তাকে গালিগালাজ করল এবং তার ওপর চড়াও হওয়ার উপক্রম করল। এমনকি তারা তার থেকে সংগৃহীত বর্ণনাগুলো (روايات) ছিঁড়ে ফেলল।
অতঃপর ইবন ইউনুস 'তারিখে মিসর'-এ তার কথা উল্লেখ করে বলেন: "তিনি ইলম অন্বেষণকারীদের (أهل العلم) মতো ছিলেন না"
(৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৫)
মুহাযারাহ ফী ইলমির রিজাল ওয়া আহমিয়্যাতিহি - জিমনা আসারুল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ২২৫)
وإنّما كانوا يتسامحون فيمن بلغ من الجلالة بحيث يُعلَم أنّه إنّما يُخالط الأمراء ليأمرهم بالمعروف، وينهاهم عن المنكر، ويكفَّهم عن الباطل ما استطاع؛ كالزُّهري، ورجاء بن حَيْوة.
روى الشافعيّ قال: حدّثنا عمّي، قال: دخل سليمان بن يسار على هشام بن عبد الملك، فقال له: يا سليمان! الذي تولّى كِبْره من هو؟ يعني في قول الله تعالى: {وَالَّذِي تَوَلَّى كِبْرَهُ مِنْهُمْ لَهُ عَذَابٌ عَظِيمٌ} [النور: 24]. قال: عبد الله بن أُبيّ، قال: كذبت؛ هو فلانٌ! قال: أمير المؤمنين أعلم بما يقول. فدخل الزُّهريّ، فقال: يا ابن شهاب! من الّذي تولى كِبْره؟ قال: ابنُ أُبَيّ، قال: كذبت، هو فلان! فقال الزُّهريّ لهشام: أنا أكذب لا أبا لك؟ ! والله لو نادى منادٍ من السماء: إنّ الله أحلَّ الكذب ما كذبت! حدّثني عروة وسعيدٌ وعبيد الله وعلقمة، عن عائشة: أنّ الذي تولّى كِبْره عبد الله بن أُبيّ
(1).
وذكر تمام القصة، وفيها خضوع هشام للزُّهري واسترضاؤه له
(2).
وقد وقعت للزُّهري قصة تشبه هذه مع الوليد بن عبد الملك، وفيها: أنّ الوليد قال له: يا أبا بكر، من تولّى كِبْره، أليس فلانًا؟ قال الزهري: قلت: لا! فضرب الوليد بقضيبه على السرير: فمن؟ فمن؟ حتّى ردّد ذلك مرارًا، قال الزهري: لكن عبد الله بن أُبيّ
(3).
--------------------------------------------
তারা মূলত এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে শিথিলতা প্রদর্শন (تسامح) করতেন যারা এমন মর্যাদায় পৌঁছেছিলেন যে এটি স্পষ্ট ছিল যে, তারা কেবল শাসকদের সৎকাজের আদেশ দিতে, অসৎকাজ থেকে নিষেধ করতে এবং সাধ্যমতো তাদের অন্যায় থেকে ফিরিয়ে রাখার উদ্দেশ্যেই তাদের সাথে মেলামেশা করতেন; যেমন যুহরি এবং রাজা বিন হাইওয়াহ।
ইমাম শাফেঈ বর্ণনা করেছেন (روى), তিনি বলেন: আমার চাচা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: সুলায়মান বিন ইয়াসার হিশাম বিন আব্দুল মালিকের নিকট প্রবেশ করলে হিশাম তাকে জিজ্ঞেস করলেন: হে সুলায়মান! আল্লাহ তাআলার এই বাণীতে: {আর তাদের মধ্যে যে এই অপবাদের বড় দায়িত্বটি নিয়েছিল, তার জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি} [সূরা নূর: ২৪] — সেই ব্যক্তিটি কে? তিনি বললেন: আব্দুল্লাহ বিন উবাই। হিশাম বললেন: আপনি মিথ্যা (كذب) বলছেন; সে তো অমুক ব্যক্তি! সুলায়মান বললেন: আমিরুল মুমিনীন যা বলেন সে সম্পর্কে তিনিই অধিক অবগত। এরপর যুহরি প্রবেশ করলেন। হিশাম বললেন: হে ইবনে শিহাব! সেই ব্যক্তিটি কে যে এই অপবাদের বড় দায়িত্বটি নিয়েছিল? তিনি বললেন: ইবনে উবাই। হিশাম বললেন: আপনি মিথ্যা (كذب) বলছেন, সে তো অমুক! তখন যুহরি হিশামকে বললেন: আমি মিথ্যা (كذب) বলছি? আপনার মা আপনার জন্য শোকাতুর হোক! আল্লাহর কসম! যদি আসমান থেকে কোনো ঘোষক এই ঘোষণাও দিত যে আল্লাহ তাআলা মিথ্যা (كذب) বলা হালাল করেছেন, তবুও আমি মিথ্যা (كذب) বলতাম না! উরওয়াহ, সাঈদ, উবাইদুল্লাহ এবং আলকামা আয়েশা (রা.) থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثني) যে, সেই ব্যক্তিটি ছিল আব্দুল্লাহ বিন উবাই।
(1)তিনি পুরো ঘটনাটি উল্লেখ করেছেন, যাতে যুহরির প্রতি হিশামের নতি স্বীকার এবং তাকে সন্তুষ্ট করার বিবরণ রয়েছে।
(2)ওয়ালিদ বিন আব্দুল মালিকের সাথেও যুহরির অনুরূপ একটি ঘটনা ঘটেছিল। তাতে বর্ণিত হয়েছে যে, ওয়ালিদ তাকে বলেছিলেন: হে আবু বকর, যে এর বড় দায়িত্ব নিয়েছিল সে কি অমুক নয়? যুহরি বলেন: আমি বললাম: না! তখন ওয়ালিদ তার লাঠি দিয়ে খাটের ওপর আঘাত করে বলতে লাগলেন: তবে কে? তবে কে? তিনি বারবার এ কথাটি বললেন। যুহরি বললেন: বরং সে ছিল আব্দুল্লাহ বিন উবাই।
(3)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৫)
মুহাযারাহ ফী ইলমির রিজাল ওয়া আহমিয়্যাতিহি - জিমনা আসারুল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ২২৬)
وفي جواب سليمان لهشام لطيفة، حيث لم يقل: "أمير المؤمنين أعلم" ويسكت، بل قال: "أعلم بما يقول" أي: أعْلمُ بقول نفسه، لا أعلم بحقيقة الحال، ولكنّ المقام لم يكن لتُغني فيه مثل هذه الإشارة، فلذلك قيّض الله تعالى الزُّهريّ ووفّقه فقال ما قال. وقوله لهشام ــ وهو الملك ــ: "لا أبا لك" جرأةٌ عظيمة.
وكانوا من الورع وعدم المحاباة على جانب عظيم، حتى قال زيد بن أبي أُنَيسة: أخي يحيى يكذب
(1).
وسُئل جرير بن عبد الحميد عن أخيه أنس، فقال: قد سمع من هشام بن عروة، ولكنّه يكذب في حديث الناس فلا يكتب عنه
(2).
وروى عليُّ بن المديني عن أبيه، ثم قال: "وفي حديث الشيخ ما فيه"
(3)! وأشار إلى تضعيفه غير مرّة.
وقال أبو داود: ابني عبد الله كذّاب
(4).
وكان الإمام أبو بكر الصِّبْغي ينهى عن السماع من أخيه محمد بن إسحاق
(5).
--------------------------------------------
হিশামকে দেওয়া সুলায়মানের উত্তরের মধ্যে একটি সূক্ষ্মতা ছিল, যেখানে তিনি কেবল "আমীরুল মুমিনীন অধিক জ্ঞাত" বলে চুপ থাকেননি, বরং বলেছিলেন: "তিনি যা বলছেন সে সম্পর্কে তিনি অধিক জ্ঞাত"। অর্থাৎ: তিনি নিজের বক্তব্যের ব্যাপারে অধিক অবগত, প্রকৃত অবস্থার ব্যাপারে নয়। তবে সেই পরিস্থিতিটি এমন ছিল না যে কেবল এই ধরনের ইঙ্গিতই যথেষ্ট হবে, তাই মহান আল্লাহ তাআলা যুহরীকে সেখানে উপস্থিত করেন এবং তাঁকে তাওফিক দান করেন, ফলে তিনি যা বলার তা বলেন। আর হিশামকে—যিনি তখন রাজা ছিলেন—উদ্দেশ্য করে তাঁর এই কথাটি: "তোমার কোনো পিতা নেই" ছিল এক বিরাট সাহসিকতা।
আর তাঁরা খোদাভীতি ও পক্ষপাতহীনতার এমন এক সুউচ্চ স্তরে ছিলেন যে, জায়েদ ইবনে আবি উনাইসাহ বলেছিলেন: আমার ভাই ইয়াহইয়া মিথ্যা বলে (يكذب)।
জারীর ইবনে আব্দুল হামীদকে তাঁর ভাই আনাস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেছিলেন: সে হিশাম ইবনে উরওয়াহ থেকে শুনেছে, কিন্তু সে মানুষের সাথে সাধারণ কথাবার্তায় মিথ্যা বলে (يكذب), তাই তার থেকে হাদিস লেখা যাবে না।
আলী ইবনুল মাদীনী তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, অতঃপর বলেছেন: "শায়খের হাদিসে সমস্যা রয়েছে"! এবং তিনি একাধিকবার তাঁকে দুর্বল সাব্যস্ত করার (تضعيف) দিকে ইঙ্গিত করেছেন।
আবু দাউদ বলেছিলেন: আমার পুত্র আব্দুল্লাহ চরম মিথ্যাবাদী (كذاب)।
ইমাম আবু বকর আস-সিবগী তাঁর ভাই মুহাম্মদ ইবনে ইসহাকের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করতে নিষেধ করতেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৫)
মুহাযারাহ ফী ইলমির রিজাল ওয়া আহমিয়্যাতিহি - জিমনা আসারুল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ২২৭)
حفظ علماء السلف لتراجم الرجالكان الرجل لا يسمى عالمًا حتى يكون عارفًا بأحوال رجال الحديث؛ ففي "تدريب الراوي"
(1): "قال الرافعي وغيره: إذا أُوصيَ للعلماء لم يدخل الذين يسمعون الحديث، ولا عِلْم لهم بطرقه، ولا بأسماء الرواة
… وقال الزركشي: أما الفقهاء؛ فاسم المحدِّث عندهم لا يُطلق إلا على من حفظ متن الحديث، وعَلِم عدالةَ رواته وجرحها
… وقال التاج السبكي:
… إنما المحدِّث مَن عَرَف الأسانيد والعلل وأسماء الرجال
… ".
وذَكَر عن المِزِّي أنه سُئل عمن يستحق اسم الحافظ، فقال: "أقل ما يكون أن يكون الرجال الذين يعرفهم ويعرف تراجمهم وأحوالهم وبلدانهم أكثر من الذين لا يعرفهم؛ ليكون الحكم للغالب"
(2).
فكان العالم يعرف أحوال من أدركهم؛ إما باختباره لأحوالهم بنفسه، وإما بإخبار الثقات له، ويعلم أحوال من تقدمه بإخبار الثقات، أو بإخبار الثقات عن الثقات، وهكذا، ويحفظ ذلك كله، كما يحفظ الحديث بأسانيده، حتى كان منهم من يحفظ الألوف، ومنهم من يحفظ عشرات الألوف، ومنهم من يحفظ مئات الألوف بأسانيدها
(3).
فكذلك كانوا يحفظون تراجم الرواة بأسانيدها، فيقول أحدهم: أخبرني فلان أنه سمع فلانًا قال: قال فلان: لا تكتبوا عن فلان فإنه كذاب، وهكذا.
--------------------------------------------
সালাফ উলামাদের বর্ণনাকারীদের জীবনী সংরক্ষণএকজন ব্যক্তিকে ততক্ষণ পর্যন্ত আলেম বলা হতো না, যতক্ষণ না তিনি হাদিসের বর্ণনাকারীদের অবস্থা সম্পর্কে পরিজ্ঞাত হতেন। "তাদরীবুর রাবী" গ্রন্থে এসেছে
(১): "রাফেয়ি এবং অন্যরা বলেছেন: যখন আলেমদের জন্য কোনো অসিয়ত করা হয়, তখন যারা হাদিস শোনে অথচ তার সূত্রসমূহ (طرق) এবং বর্ণনাকারীদের নাম সম্পর্কে যাদের জ্ঞান নেই, তারা এর অন্তর্ভুক্ত হবে না... এবং যারকাশি বলেছেন: ফকিহদের মতে, মুহাদ্দিস শব্দটি কেবল তাদের ওপরই প্রয়োগ করা হয় যারা হাদিসের মতন মুখস্থ করেছেন এবং বর্ণনাকারীদের ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) ও তাদের সমালোচনা (جرح) সম্পর্কে অবগত হয়েছেন... এবং তাজ আল-সুবকি বলেছেন: ...প্রকৃত মুহাদ্দিস তো তিনিই যিনি সনদসমূহ (أسانيد), সূক্ষ্ম ত্রুটিসমূহ (علل) এবং বর্ণনাকারীদের নাম সম্পর্কে জানেন...।"
আল-মিযযি সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে যে, তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল কে 'হাফেজ' উপাধির যোগ্য। তিনি উত্তরে বলেন: "সর্বনিম্ন স্তর হলো, তিনি যাদের চেনেন এবং যাদের জীবনী, অবস্থা ও দেশ সম্পর্কে জানেন, তারা যেন তাদের চেয়ে সংখ্যায় অধিক হয় যাদের তিনি চেনেন না; যাতে করে অধিকাংশের ওপর ভিত্তি করে হুকুম প্রদান করা যায়"
(২)।
আলেমগণ তাদের সমসাময়িকদের অবস্থা জানতেন—হয় নিজে তাদের অবস্থা পরীক্ষার মাধ্যমে, অথবা নির্ভরযোগ্য (ثقات) ব্যক্তিদের সংবাদের মাধ্যমে। আর পূর্ববর্তীদের অবস্থা জানতেন নির্ভরযোগ্য (ثقات) ব্যক্তিদের সংবাদের মাধ্যমে, অথবা নির্ভরযোগ্য (ثقات) ব্যক্তি থেকে নির্ভরযোগ্য (ثقات) ব্যক্তির সংবাদের মাধ্যমে—এভাবেই ধারাটি চলত। আর তারা এই সবকিছু মুখস্থ রাখতেন, যেমন করে তারা হাদিসকে তার সনদসহ মুখস্থ রাখতেন। এমনকি তাদের মধ্যে এমনও ছিলেন যারা হাজার হাজার, দশ হাজার এবং লক্ষ লক্ষ হাদিস সনদসহ মুখস্থ রাখতেন
(৩)।
একইভাবে তারা বর্ণনাকারীদের জীবনীও সনদসহ মুখস্থ রাখতেন। তাদের কেউ বলতেন: আমাকে অমুক জানিয়েছেন যে তিনি অমুককে বলতে শুনেছেন, তিনি বলেছেন: অমুক ব্যক্তির নিকট থেকে হাদিস লিখো না, কারণ সে চরম মিথ্যাবাদী (كذاب)। এভাবেই চলত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৫)
মুহাযারাহ ফী ইলমির রিজাল ওয়া আহমিয়্যাতিহি - জিমনা আসারুল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ২২৮)
طائفة من مشاهير المكثرين من الجرح والتعديل1 - شُعبة بن الحجَّاج. ولد سنة (82)، وتوفي سنة (160)، وهو أول من تجرَّد لذلك وشدَّد فيه. جاء عنه أنه قال: سمعت من طلحة بن مُصَرِّف حديثًا واحدًا، وكنتُ كلما مررتُ به سألته عنه، فقيل له: لِمَ يا أبا بسطام؟! قال: أردت أن أنظر إلى حفظه، فإن غيَّر فيه شيئًا تركته
(1).
2 - سفيان الثوري (97 ــ 161). وله في ذلك نوادر؛ قال في ثور بن يزيد: "خذوا عن ثور، واتقوا قَرْنَيْه"
(2). وكان ثور قدريًّا، يميل إلى النَّصْب، فهذان قرناه.
3 - الإمام مالك بن أنس (93 ــ 179). وكان لا يروي إلا عن ثقة.
4 - ابن المبارك (118 ــ 181). وكان ربما جعل كلامه في الرجال شعرًا ليشتهر، فمنه قوله
(3):
أيها الطالبُ علمًا
… ائتِ حمادَ بن زيد
فاطلبنَّ العلمَ منه
… ثم قيده بقيد
لا كثورٍ وكجَهْم
… وكعَمْرو بن عُبيد
وفي ترجمة أبي إسحاق الفَزَاري من "تهذيب التهذيب"
(4) وغيره: أن هارون الرشيد أخذ زنديقًا فأراد قتله، فقال: أين أنت من ألف حديث
--------------------------------------------
জরাহ ও তাদীল (جرح وتعديل) বা বর্ণনাকারী যাচাই-বাছাইয়ে অধিক ব্যাপৃত ও প্রসিদ্ধ একদল ইমাম1 - শুবা ইবনুল হাজ্জাজ। তিনি ৮২ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৬০ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি নিজেকে এই বিষয়ের জন্য উৎসর্গ করেছিলেন এবং এতে কঠোরতা (شدَّد) অবলম্বন করেছিলেন। তাঁর সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে তিনি বলেন: "আমি তালহা ইবনে মুসাররিফ থেকে একটি মাত্র হাদিস শুনেছিলাম। আমি যখনই তাঁর পাশ দিয়ে যেতাম, তাঁকে সেই হাদিসটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতাম।" তাঁকে বলা হলো: "হে আবু বিসতাম! কেন এমন করতেন?" তিনি বললেন: "আমি তাঁর মুখস্থশক্তি (حفظ) পর্যবেক্ষণ করতে চেয়েছিলাম; যদি তিনি তাতে কোনো পরিবর্তন করতেন, তবে আমি তা বর্জন (تركته) করতাম।"
(1)2 - সুফিয়ান আস-সাওরি (৯৭ ــ ১৬১)। এই শাস্ত্রে তাঁর কিছু চমৎকার মন্তব্য রয়েছে; তিনি সাওরি ইবনে ইয়াজিদ সম্পর্কে বলেন: "তোমরা সাওর থেকে (হাদিস) গ্রহণ করো, তবে তাঁর দুই শিং থেকে বেঁচে থাকো।"
(2) সাওরি ক্বাদারি (قدريًا) মতাবলম্বী ছিলেন এবং তিনি নাসব (النَّصْب) বা আলী (রা.)-এর প্রতি বিদ্বেষের দিকে ঝুঁকে ছিলেন; এই দুটিই ছিল তাঁর দুই শিং।
3 - ইমাম মালিক ইবনে আনাস (৯৩ ــ ১৭৯)। তিনি কেবল নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারী ছাড়া কারো থেকে বর্ণনা করতেন না।
4 - ইবনুল মুবারক (১১৮ ــ ১৮১)। তিনি সম্ভবত বর্ণনাকারীদের সম্পর্কে তাঁর মন্তব্যগুলো কবিতায় রূপ দিতেন যাতে তা প্রসিদ্ধি লাভ করে। তাঁর সেই কবিতার অংশ বিশেষ:
(3)হে ইলম অন্বেষণকারী
… হাম্মাদ ইবনে যায়দ-এর নিকট এসো
তাঁর থেকে ইলম অন্বেষণ করো
… অতঃপর তা দৃঢ়ভাবে সংরক্ষণ (قيده بقيد) করো
তা যেন সাওরি, জাহম
… এবং আমর ইবনে উবায়ের মতো না হয়
তাহজিবুত তাহজিব-এর
(4) আবু ইসহাক আল-ফাজারির জীবনীতে এবং অন্যান্য গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে যে: হারুনুর রশিদ এক জিন্দিককে (زنديقًا) পাকড়াও করলেন এবং তাকে হত্যার ইচ্ছা পোষণ করলেন। তখন সে বলল: "আমার সেই এক হাজার হাদিসের কী হবে..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৫)
মুহাযারাহ ফী ইলমির রিজাল ওয়া আহমিয়্যাতিহি - জিমনা আসারুল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ২২৯)
وضعتها؟ ! فقال له: أين أنت يا عدوَّ الله من أبي إسحاق الفَزاري وابن المبارك ينخلانها حرفًا حرفًا؟ !
5 - يحيى بن سعيد القطان (120 ــ 198). من المُشدِّدين.
6 - عبد الرحمن بن مهدي (133 ــ 198). من المعتدلين.
7 - محمد بن سعد صاحب "الطبقات" (168 ــ 230).
8 - يحيى بن معين (158 ــ 233). وهو أكثر الأئمة كلامًا في الجرح والتعديل، وله "كتاب الضعفاء" و"كتاب الكنى". وجمع تلميذه عباس الدُّوري من كلامه "تاريخًا"، وكذلك فعل غير واحد من تلامذته.
9 - علي بن المديني (161 ــ 234). ومن مؤلفاته: "كتاب الضعفاء"، "العلل"، "المدلّسون"، "الأسماء والكنى"، "المسند بعلله"
(1).
10 - أبو خيثمة (160 ــ 234). وله كلام كثير في الرجال، نقله ابنه أحمد في "تاريخه".
11 - الإمام أحمد بن حنبل (164 ــ 241). وكلامه كثير، يرويه عنه ابنه عبد الله وغيره من تلامذته، وله كتاب "العلل"
(2).
12 - البخاري (194 ــ 256). وله من التصانيف: "التواريخ الثلاثة"، "الكنى المجرَّدة"، "الضعفاء".
13 - مسلم (204 ــ 261). له "التاريخ"، "الطبقات"، "الأسماء والكنى"، "المفاريد والواحدان".
--------------------------------------------
আপনি সেগুলো তৈরি করেছেন?! তখন তিনি তাকে বললেন: ওহে আল্লাহর শত্রু, আবু ইসহাক আল-ফাজারি এবং ইবনুল মুবারক সম্পর্কে তোমার কী ধারণা? তাঁরা এগুলোর প্রতিটি অক্ষর সূক্ষ্মভাবে যাচাই করেন।
৫ - ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান (১২০ – ১৯৮)। তিনি কঠোরতা অবলম্বনকারীদের (المشددين) অন্তর্ভুক্ত।
৬ - আবদুর রহমান ইবনে মাহদি (১৩৩ – ১৯৮)। তিনি মধ্যপন্থা অবলম্বনকারীদের (المعتدلين) অন্তর্ভুক্ত।
৭ - মুহাম্মদ ইবনে সাদ, ‘আত-তাবাকাত’-এর রচয়িতা (১৬৮ – ২৩০)।
৮ - ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন (১৫৮ – ২৩৩)। বর্ণনাকারীর সমালোচনা ও গুণগান (الجرح والتعديل) বিষয়ে তিনি ইমামদের মধ্যে সর্বাধিক মন্তব্যকারী। তাঁর ‘কিতাবুদ দুয়াফা’ এবং ‘কিতাবুল কুনা’ রয়েছে। তাঁর ছাত্র আব্বাস আদ-দুরি তাঁর বক্তব্যসমূহ থেকে একটি ‘তারিখ’ সংকলন করেছেন এবং তাঁর আরও একাধিক ছাত্র একই কাজ করেছেন।
৯ - আলি ইবনুল মাদিনি (১৬১ – ২৩৪)। তাঁর রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে: ‘কিতাবুদ দুয়াফা’, ‘আল-ইলাল’, ‘মুদাল্লিসগণ’ (المدلسون), ‘আল-আসমা ওয়াল কুনা’ এবং ‘আল-মুসনাদ বি-ইলালিহি’
(১)।
১০ - আবু খাইসামা (১৬০ – ২৩৪)। বর্ণনাকারীদের (الرجال) বিষয়ে তাঁর অনেক বক্তব্য রয়েছে, যা তাঁর ছেলে আহমদ নিজের ‘তারিখ’-এ উদ্ধৃত করেছেন।
১১ - ইমাম আহমদ বিন হাম্বল (১৬৪ – ২৪১)। তাঁর অনেক বক্তব্য রয়েছে, যা তাঁর থেকে তাঁর ছেলে আবদুল্লাহ এবং অন্যান্য ছাত্রগণ বর্ণনা করেছেন। তাঁর ‘কিতাবুল ইলাল’
(২) রয়েছে।
১২ - বুখারি (১৯৪ – ২৫৬)। তাঁর রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে: ‘আত-তাওয়ারিখ আস-সালাসা’, ‘আল-কুনা আল-মুজাররাদা’ এবং ‘আদ-দুয়াফা’।
১৩ - মুসলিম (২০৪ – ২৬১)। তাঁর রয়েছে: ‘আত-তারিখ’, ‘আত-তাবাকাত’, ‘আল-আসমা ওয়াল কুনা’ এবং ‘আল-মুফারিদু ওয়াল ওয়াহদান’।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৫)
মুহাযারাহ ফী ইলমির রিজাল ওয়া আহমিয়্যাতিহি - জিমনা আসারুল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ২৩০)
14 - أحمد بن عبد الله بن صالح العِجْلي (182 ــ 261). وهو أكبر من البخاري ومسلم، ولكن تأخرت وفاته، له "كتاب الثقات".
15 - أبو زُرْعة الرازي (200 ــ 264). وله كلام كثير، غالبه في كتاب "الجرح والتعديل" لابن أبي حاتم.
16 - أبو داود صاحب "السنن" (202 ــ 275). سأله عن الرجال تلميذه أبو عُبيد الآجُرِّي، وجمع من ذلك كتابًا.
17 - أبو حاتم الرازي (195 ــ 277). له كلام كثير، غالبه في كتاب "الجرح والتعديل" لابنه.
18 - صالح بن محمد جزرة (205 ــ 293). له "تاريخ الري"، وغيره.
19 - النسائي (215 ــ 303). له كتاب "الضعفاء"، وغيره.
20 - زكريا الساجي (تقريبًا 220 ــ 307). له كتاب "العلل"، وغيره.
21 - أبو بشر الدّولابي (224 ــ 310). له كتاب "الكنى" وغيره.
22 - أبوجعفر العُقَيلي (؟ ــ 322). له كتاب "الضعفاء".
23 - ابن أبي حاتم (240 ــ 327). له كتاب "الجرح والتعديل" وغيره.
24 - أبو سعيد بن يونس (281 ــ 347). له "تاريخ مصر".
25 - ابن حبّان (تقريبًا 275 ــ 354). له كتاب "الثقات"، وكتاب "الضعفاء" وغيرهما.
26 - أبو أحمد بن عدي (277 ــ 365). له كتاب "الكامل في الضعفاء وغيرهم ممن تُكلِّم فيه".
27 - أبو أحمد الحاكم (284 ــ 378). له كتاب "الكنى".
14 - আহমদ বিন আব্দুল্লাহ বিন সালিহ আল-ইজলি (১৮২ – ২৬১)। তিনি ইমাম বুখারি ও ইমাম মুসলিমের চেয়ে বয়সে বড় ছিলেন, তবে তিনি তাঁদের পরবর্তী সময়ে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর ‘কিতাবুত থিকাত’ নামক গ্রন্থ রয়েছে।
15 - আবু যুরআহ আর-রাজি (২০০ – ২৬৪)। তাঁর অনেক মূল্যায়নধর্মী বক্তব্য রয়েছে, যার অধিকাংশ ইবনে আবি হাতিমের ‘আল-জারহ ওয়াত তাদিল’ গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে।
16 - ‘সুনান’-এর রচয়িতা আবু দাউদ (২০২ – ২৭৫)। তাঁর ছাত্র আবু উবাইদ আল-আজুরি তাঁকে বর্ণনাকারীগণ (الرجال) সম্পর্কে প্রশ্ন করেছিলেন এবং তিনি তা থেকে একটি গ্রন্থ সংকলন করেছেন।
17 - আবু হাতিম আর-রাজি (১৯৫ – ২৭৭)। তাঁর অনেক বক্তব্য রয়েছে, যার অধিকাংশ তাঁর পুত্রের ‘আল-জারহ ওয়াত তাদিল’ গ্রন্থে বিদ্যমান।
18 - সালিহ বিন মুহাম্মদ জাযারাহ (২০৫ – ২৯৩)। তাঁর ‘তারিখুর রায়’ ও অন্যান্য গ্রন্থ রয়েছে।
19 - আন-নাসায়ি (২১৫ – ৩০৩)। তাঁর ‘কিতাবুদ দুয়াফা’ ও অন্যান্য গ্রন্থ রয়েছে।
20 - যাকারিয়া আস-সাজি (প্রায় ২২০ – ৩০৭)। তাঁর ‘কিতাবুল ইলাল’ ও অন্যান্য গ্রন্থ রয়েছে।
21 - আবু বিশর আদ-দুলাবি (২২৪ – ৩১০)। তাঁর ‘কিতাবুল কুনা’ ও অন্যান্য গ্রন্থ রয়েছে।
22 - আবু জাফর আল-উকায়লি (? – ৩২২)। তাঁর ‘কিতাবুদ দুয়াফা’ নামক গ্রন্থ রয়েছে।
23 - ইবনে আবি হাতিম (২৪০ – ৩২৭)। তাঁর ‘আল-জারহ ওয়াত তাদিল’ ও অন্যান্য গ্রন্থ রয়েছে।
24 - আবু সাঈদ বিন ইউনুস (২৮১ – ৩৪৭)। তাঁর ‘তারিখে মিসর’ নামক গ্রন্থ রয়েছে।
25 - ইবনে হিব্বান (প্রায় ২৭৫ – ৩৫৪)। তাঁর ‘কিতাবুত থিকাত’, ‘কিতাবুদ দুয়াফা’ এবং আরও অন্যান্য গ্রন্থ রয়েছে।
26 - আবু আহমদ বিন আদি (২৭৭ – ৩৬৫)। তাঁর ‘আল-কামিল ফিদ দুয়াফা ওয়া গাইরিহিম মিম্মান তুকুল্লিমা ফিহি’ নামক গ্রন্থটি রয়েছে।
27 - আবু আহমদ আল-হাকিম (২৮৪ – ৩৭৮)। তাঁর ‘কিতাবুল কুনা’ নামক গ্রন্থ রয়েছে।
(খণ্ড: ১৫)
মুহাযারাহ ফী ইলমির রিজাল ওয়া আহমিয়্যাতিহি - জিমনা আসারুল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ২৩১)
28 - الدارقطني (306 ــ 385). له كتاب "العلل" وغيره.
29 - ابن شاهين (298 ــ 385). له كتاب "الثقات".
30 - أبو عبد الله الحاكم (321 ــ 405). له "تاريخ نيسابور" وغيره.
31 - حمزة السَّهمي (تقريبًا 340 ــ 427). قال الذهبي: صنّف التصانيف، وجرّح وعدّل وصحّح وعلّل
(1)، وله "تاريخ جرجان"
(2).
32 - ابن حزم الأندلسي (384 ــ 456). له كلامٌ كثيرٌ في الرجال في كتابه "المحلّى" وغيره.
33 - الخطيب البغدادي (392 ــ 463). له "تاريخ بغداد" وغيره.
34 - ابن ماكولا (422 ــ 475 وقيل بعدها). له كتاب "الإكمال" وغيره.
35 - شجاع الذُّهلي (430 ــ 507). سأله السِّلَفي عن المشايخ، وجمع من ذلك كتابًا.
36 - الشَّنْتَريني (443 ــ 522). له كتابٌ في "رجال مسلم" وغيره.
37 - أبو سعد ابن السَّمعاني (506 ــ 562). له كتاب "الأنساب" وغيره.
38 - ابن عساكر (499 ــ 571). له "تاريخ دمشق" وغيره.
39 - ابن بَشْكُوال الأندلسي (494 ــ 578). له كتاب "الصلة" وغيره.
40 - ابن الجوزي (510 ــ 597). له "التاريخ المنتظم"
(3)، وكتاب
--------------------------------------------
২৮ - আদ-দারাকুতনি (৩০৬ — ৩৮৫)। তাঁর রচিত ‘আল-ইলাল’ এবং অন্যান্য গ্রন্থ রয়েছে।
২৯ - ইবনে শাহীন (২৯৮ — ৩৮৫)। তাঁর ‘আস-সিকাত’ (নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীগণ (الثقات)) নামক গ্রন্থ রয়েছে।
৩০ - আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিম (৩২১ — ৪০৫)। তাঁর ‘তারিখে নিসাবুর’ এবং অন্যান্য গ্রন্থ রয়েছে।
৩১ - হামজা আস-সাহমি (প্রায় ৩৪০ — ৪২৭)। যাহাবি বলেন: তিনি বহু গ্রন্থ সংকলন করেছেন এবং জারহ (جرح), তাদিল (تعديل), সহিহ (صحّح) সাব্যস্তকরণ ও ইল্লাত (علّل) বর্ণনা করেছেন
(১)। তাঁর ‘তারিখে জুরজান’
(২) নামক গ্রন্থ রয়েছে।
৩২ - ইবনে হাজম আল-আন্দালুসি (৩৮৪ — ৪৫৬)। তাঁর ‘আল-মুহাল্লা’ এবং অন্যান্য গ্রন্থে রিজাল (الرجال) শাস্ত্র সম্পর্কে তাঁর অনেক আলোচনা রয়েছে।
৩৩ - আল-খতিব আল-বাগদাদি (৩৯২ — ৪৬৩)। তাঁর ‘তারিখে বাগদাদ’ এবং অন্যান্য গ্রন্থ রয়েছে।
৩৪ - ইবনে মাকুলা (৪২২ — ৪৭৫, কারো মতে এর পরে)। তাঁর রচিত ‘আল-ইকমাল’ এবং অন্যান্য গ্রন্থ রয়েছে।
৩৫ - শুজা আদ-দুহলি (৪৩০ — ৫০৭)। আস-সিলাফি তাঁকে মাশায়েখ (শিক্ষকগণ) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন এবং তিনি তা থেকে একটি গ্রন্থ সংকলন করেন।
৩৬ - আশ-শানতারিনি (৪৪৩ — ৫২২)। তাঁর ‘রিজালু মুসলিম’ (মুসলিম-এর বর্ণনাকারীগণ) এবং অন্যান্য বিষয়ে গ্রন্থ রয়েছে।
৩৭ - আবু সাদ ইবনে আস-সামআনি (৫০৬ — ৫৬২)। তাঁর ‘আল-আনসাব’ এবং অন্যান্য গ্রন্থ রয়েছে।
৩৮ - ইবনে আসাকির (৪৯৯ — ৫৭১)। তাঁর ‘তারিখে দামেশক’ এবং অন্যান্য গ্রন্থ রয়েছে।
৩৯ - ইবনে বাশকুওয়াল আল-আন্দালুসি (৪৯৪ — ৫৭৮)। তাঁর ‘আস-সিলাহ’ এবং অন্যান্য গ্রন্থ রয়েছে।
৪০ - ইবনে আল-জাওজি (৫১০ — ৫৯৭)। তাঁর রচিত ‘আত-তারিখুল মুনতাজাম’
(৩) এবং গ্রন্থ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৫)
মুহাযারাহ ফী ইলমির রিজাল ওয়া আহমিয়্যাতিহি - জিমনা আসারুল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ২৩২)
"الضعفاء" وغيرهما.
41 - عبد الغني المقدسي (541 ــ 600). له كتاب "الكمال" وغيره.
42 - أبو الحسن ابن القطّان (لعله قبل 570 ــ 628). له كتاب "الوهم والإيهام" يتضمّن كلامًا كثيرًا في الرجال.
43 - ابن الدُّبَيْثي (558 ــ 637). له "تاريخ واسط"، وذيل لـ "تاريخ السمعاني لبغداد" وغيرهما.
44 - ابن النّجّار (578 ــ 643). له "ذيل تاريخ بغداد" في ستة عشر مجلدًا.
45 - الزَّكي المُنْذري (581 ــ 656). له "معجم" في مجلّدين، وغيره
(1).
46 - الدِّمْياطي (613 ــ 705). له "المعجم" وغيره. وشهد له المِزّيُّ أنّه أعلم من أدركه من الحفّاظ بالرّجال.
47 - المِزِّيّ (654 ــ 742). له "تهذيب الكمال"، وغيره.
48 - الذّهبيّ (673 ــ 748). له "تاريخ الإسلام"، و"الميزان"، و"تذكرة الحفاظ"، و"الكاشف"، و"المغني"، و"تذهيب التهذيب"، وغيرها
(2).
49 - مُغُلْطاي (689 ــ 761). له "إكمال تهذيب الكمال" وغيره.
50 - العراقي (725 ــ 806). له معجم جماعة من رجال القرن الثامن
(3).
--------------------------------------------
"আদ-দুয়াফা" ও অন্যান্য।
৪১ - আব্দুল গনি আল-মাকদিসি (৫৪১ ــ ৬০০)। তাঁর গ্রন্থ "আল-কামাল" ও অন্যান্য।
৪২ - আবুল হাসান ইবনুল কাত্তান (সম্ভবত ৫৭০ এর পূর্বে ــ ৬২৮)। তাঁর "আল-ওয়াহমু ওয়াল ইহাম" গ্রন্থটি বর্ণনাকারীদের (الرجال) বিষয়ে অনেক আলোচনা সমৃদ্ধ।
৪৩ - ইবনু দুবাইসি (৫৫৮ ــ ৬৩৭)। তাঁর "তারিখু ওয়াসিত" এবং সামআনি-র "তারিখু বাগদাদ"-এর পরিশিষ্ট (যাইল) ও অন্যান্য গ্রন্থ রয়েছে।
৪৪ - ইবনু নাজ্জার (৫৭৮ ــ ৬৪৩)। তাঁর ১৬ খণ্ডের "যাইলু তারিখি বাগদাদ" রয়েছে।
৪৫ - যাকি আল-মুনযিরি (৫৮১ ــ ৬৫৬)। তাঁর দুই খণ্ডের "মুজাম" ও অন্যান্য গ্রন্থ রয়েছে
(১)।
৪৬ - আদ-দিমইয়াতি (৬১৩ ــ ৭০৫)। তাঁর "আল-মুজাম" ও অন্যান্য গ্রন্থ রয়েছে। মিযযি তাঁর সম্পর্কে সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, তিনি তাঁর দেখা হাফিজদের (الحفاظ) মধ্যে বর্ণনাকারীদের (الرجال) বিষয়ে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী ছিলেন।
৪৭ - আল-মিযযি (৬৫৪ ــ ৭৪২)। তাঁর "তাহযিবুল কামাল" ও অন্যান্য গ্রন্থ রয়েছে।
৪৮ - আয-যাহাবি (৬৭৩ ــ ৭৪৮)। তাঁর "তারিখুল ইসলাম", "আল-মিযান", "তাযকিরাতুল হুফফাজ", "আল-কাশিফ", "আল-মুগনি", "তাযহিবুত তাহযিব" ও অন্যান্য গ্রন্থ রয়েছে
(২)।
৪৯ - মুগলতাই (৬৮৯ ــ ৭৬১)। তাঁর "ইকমালু তাহযিবিল কামাল" ও অন্যান্য গ্রন্থ রয়েছে।
৫০ - আল-ইরাকি (৭২৫ ــ ৮০৬)। তাঁর অষ্টম শতাব্দীর একদল বর্ণনাকারীর (الرجال) ওপর একটি মুজাম (অভিধান) রয়েছে
(৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৫)
মুহাযারাহ ফী ইলমির রিজাল ওয়া আহমিয়্যাতিহি - জিমনা আসারুল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ২৩৩)
51 - ابن حجر (773 ــ 852). له "تهذيب التهذيب"، و"لسان الميزان"، و"تعجيل المنفعة"، و"الدرر الكامنة" وغيرها.
52 - السّخاوي (830 ــ 901). له "الضوء اللامع" وغيره.
قال في كتابه "فتح المغيث"
(1) بعد أن سرد أسماء جماعة من أئمة الجرح والتعديل، وختم بذكر شيخه ابن حجر ما لفظه: "وطُوِيَ البِساط بعده إلاّ لمن شاء الله، ختم الله لنا بخير".
* * * *
--------------------------------------------
৫১ - ইবনে হাজার (৭৭৩ ــ ৮৫২ হিজরি)। তাঁর রচনাবলির মধ্যে রয়েছে "তাহজীবুত তাহজীব", "লিসানুল মিজান", "তা’জীলুল মানফায়াহ", "আদ-দুরারুল কামিনাহ" এবং অন্যান্য।
৫২ - আস-সাখাবি (৮৩০ ــ ৯০১ হিজরি)। তাঁর "আদ-দাওউল লামি" সহ অন্যান্য গ্রন্থ রয়েছে।
তিনি তাঁর "ফাতহুল মুগিস"
(১) গ্রন্থে জরাহ ও তাদিল (الجرح والتعديل)-এর একদল ইমামের নাম ধারাবাহিকভাবে উল্লেখ করার পর তাঁর উস্তাদ ইবনে হাজারের আলোচনার মাধ্যমে ইতি টেনে এই শব্দাবলি ব্যক্ত করেছেন: "তাঁর পরে এই শাস্ত্রের কার্পেট গুটিয়ে নেওয়া হয়েছে, তবে আল্লাহ যাকে তাওফিক দান করেন সে ভিন্ন; আল্লাহ যেন আমাদের জীবনের সমাপ্তি মঙ্গলের সাথে করেন।"
* * * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৫)
মুহাযারাহ ফী ইলমির রিজাল ওয়া আহমিয়্যাতিহি - জিমনা আসারুল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ২৩৪)
تدوينُ العلم وحَظُّ علم الرجال منهذكروا أنّ تدوين العلم في الكتب في العهد الإسلامي شُرِعَ فيه حوالي نصف القرن الثاني؛ فألّف ابنُ جُريج (80 ــ 150)، وابن أبي عَرُوبة (؟ ــ 156)، والربيع بن صُبَيح (؟ ــ 160).
ويتوهّم بعض الناس أنّه قبل ذلك لم يكن عند أحدٍ من المسلمين كتابٌ ما، يتضمّن علمًا غير كتاب الله عز وجل.
وهذا خطأ؛ فقد كان عند جماعةٍ من الصحابة صحائف
(1) في كلٍّ منها طائفة من الأحاديث النبوية، منها: صحيفةٌ كانت عند أمير المؤمنين عليٍّ ــ عليه السلام. ذكرها البخاري
(2) وغيره، وجمع ابن حجر في "فتح الباري"
(3) قِطَعًا منها.
وكان عند عَمرو بن حزم كتابٌ كتبه النبي صلى الله عليه وآله وسلم إلى أهل اليمن، فيه أحكامٌ كثيرة
(4).
وكان عند أنس كتابٌ في أحكام الزكاة كتبه أبو بكر الصديق، قال في
--------------------------------------------
জ্ঞান সংকলন এবং এতে বর্ণনাকারী বিষয়ক জ্ঞানের (علم الرجال) অংশবিদ্বানগণ উল্লেখ করেছেন যে, ইসলামি যুগে কিতাব আকারে জ্ঞান সংকলনের (تدوين) কাজ দ্বিতীয় শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়েছিল; ফলে ইবনে জুরাইজ (৮০-১৫০), ইবনে আবি আরুবাহ (?-১৫৬) এবং আল-রাবি ইবনে সুবাইহ (?-১৬০) গ্রন্থ রচনা করেন।
কিছু মানুষ ধারণা করেন যে, এর পূর্বে মুসলমানদের নিকট মহান আল্লাহর কিতাব ব্যতীত অন্য কোনো জ্ঞান সংবলিত কোনো কিতাব ছিল না।
এটি একটি ভুল ধারণা; কেননা সাহাবিগণের একটি দলের নিকট এমন কিছু পাণ্ডুলিপি (صحائف)
(১) ছিল যেগুলোর প্রত্যেকটিতে একগুচ্ছ করে নববী হাদিস বিদ্যমান ছিল। এর মধ্যে একটি পাণ্ডুলিপি (صحيفة) আমীরুল মুমিনীন আলী (আলাইহিস সালাম)-এর নিকট ছিল। ইমাম বুখারি এবং অন্যান্যরা এটি উল্লেখ করেছেন, আর ইবনে হাজার ‘ফাতহুল বারি’ গ্রন্থে এর বিভিন্ন অংশ সংকলন করেছেন।
আমর ইবনে হাজমের নিকট একটি কিতাব ছিল যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) ইয়ামেনবাসীদের উদ্দেশ্যে লিখেছিলেন, যাতে প্রচুর বিধান সংবলিত ছিল
(৪)।
আনাস-এর নিকট জাকাতের বিধান বিষয়ক একটি কিতাব ছিল যা আবু বকর সিদ্দিক লিখেছিলেন, তিনি তাতে বলেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৫)
মুহাযারাহ ফী ইলমির রিজাল ওয়া আহমিয়্যাতিহি - জিমনা আসারুল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ২৩৫)
أوّله: "هذه فريضة الصدقة التي فرضها رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم على المسلمين"
(1).
وفي رواية عند الحاكم وغيره: "كتب رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم كتاب الصدقة، فلم يخرجه إلى عُمّاله حتّى قُبِض، فقرنه بسيفه، فعمل به أبو بكر حتّى قُبِض
… " وذكر الكتاب
(2).
وكان لسَمُرة بن جندب كتبٌ فيها ما سمعه من النبي صلى الله عليه وآله وسلم؛ يروي عنها الحسن البصري
(3).
وكان لجابر بن عبد الله صحيفة كذلك، يروي عنها الحسن
(4) أيضًا وطلحة بن نافع
(5).
وكان لعبد الله بن عمرو صحيفة كتبها بإذن النبي صلى الله عليه وآله وسلم، يرويها عمرو بن شعيب بن محمد بن عبد الله بن عمرو، عن أبيه
--------------------------------------------
এর প্রারম্ভ ছিল: "এটি হলো সদকার সেই বিধান যা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম মুসলিমদের ওপর ফরজ করেছেন"
(১).
আল-হাকিম এবং অন্যদের একটি বর্ণনায় (رواية) রয়েছে: "আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম সদকার একটি নির্দেশনামা লিখিয়েছিলেন, কিন্তু তাঁর ওফাত পর্যন্ত তিনি তা তাঁর গভর্নরদের নিকট প্রেরণ করেননি। তিনি তা তাঁর তরবারির সাথে রেখেছিলেন। অতঃপর আবু বকর তাঁর ওফাত পর্যন্ত সে অনুযায়ী আমল করেছেন..." এবং তিনি কিতাবটি বা নির্দেশনামাটি উল্লেখ করেন
(২).
সামুরা বিন জুনদুব-এর নিকট কিছু কিতাব ছিল যাতে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম থেকে যা শুনেছিলেন তা লিপিবদ্ধ ছিল; হাসান বসরী সেগুলো থেকে বর্ণনা (يروي) করতেন
(৩).
অনুরূপভাবে জাবির বিন আব্দুল্লাহ-এরও একটি পাণ্ডুলিপি (صحيفة) ছিল, যা থেকে হাসান
(৪) এবং তালহা বিন নাফেও
(৫) বর্ণনা (يروي) করতেন।
আব্দুল্লাহ বিন আমর-এর একটি পাণ্ডুলিপি (صحيفة) ছিল যা তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের অনুমতিক্রমে লিখেছিলেন। আমর বিন শুআইব বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আমর তাঁর পিতার মাধ্যমে সেটি বর্ণনা (يرويها) করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৫)
মুহাযারাহ ফী ইলমির রিজাল ওয়া আহমিয়্যাতিহি - জিমনা আসারুল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ২৩৬)
عن جدّه
(1).
وفي "المستدرك"
(2) عن الحسن بن عمرو بن أمية الضمري قال: حدثت عن أبي هريرة بحديث؛ فأنكره، فقلت له: إنّي قد سمعته منك! قال: إن كنت سمعته منّي فإنه مكتوبٌ عندي، فأخذ بيدي إلى بيته، فأراني كتابًا من كتبه
… فذكر القصة.
استنكره الذهبي لما في "البخاري"
(3) وغيره عن أبي هريرة قال: "ما من أصحاب رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم أحدٌ أكثر حديثًا عنه منّي، إلاّ ما كان من عبد الله بن عَمرو؛ فإنّه كان يكتب ولا أكتب".
لكن قال ابن عبد البر: يمكن أنّه لم يكن يكتب في العهد النبوي، ثمّ كتب بعده
(4).
وأمّا التابعون؛ فقلّ عالمٌ منهم لم يكن عنده كتب، ولكن كانت الأحاديث تُجمع كيفما اتّفق، بلا تأليف ولا ترتيب؛ كما في "صحيفة همّام بن منبّه اليماني عن أبي هريرة"، وهي نحو من مائة وأربعين حديثًا، تجدها في "مسند أحمد" (2/ 312 ــ 319).
--------------------------------------------
তাঁর দাদা
(১) থেকে বর্ণিত।
আর "আল-মুস্তাদরাক"
(২)-এ আল-হাসান ইবনে আমর ইবনে উমাইয়া আদ-দামরি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আবু হুরায়রাকে একটি হাদিস শোনালাম; কিন্তু তিনি তা অস্বীকার (أنكره) করলেন। তখন আমি তাঁকে বললাম: নিশ্চয়ই আমি এটি আপনার থেকেই শুনেছি! তিনি বললেন: যদি তুমি এটি আমার থেকেই শুনে থাকো, তবে তা আমার কাছে লিখিত আছে। অতঃপর তিনি আমার হাত ধরে তাঁর ঘরে নিয়ে গেলেন এবং আমাকে তাঁর কিতাবসমূহের মধ্য থেকে একটি কিতাব দেখালেন... এরপর তিনি ঘটনাটি উল্লেখ করলেন।
আজ-জাহাবি এটিকে আপত্তিকর (استنكره) মনে করেছেন, যেহেতু "বুখারি"
(৩) ও অন্যান্য কিতাবে আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবিদের মধ্যে আবদুল্লাহ ইবনে আমর ব্যতীত আর কেউ আমার চেয়ে বেশি হাদিস বর্ণনাকারী ছিলেন না; কারণ তিনি লিখতেন কিন্তু আমি লিখতাম না।"
কিন্তু ইবনে আবদিল বার বলেছেন: সম্ভবত তিনি নবুওয়াতের যুগে লিখতেন না, অতঃপর পরবর্তী সময়ে লিখেছিলেন
(৪)।
আর তাবেয়িগণ (التابعون); তাঁদের মধ্যে এমন আলেম খুব কমই ছিলেন যাঁদের কাছে কিতাব ছিল না। তবে হাদিসসমূহ যেভাবে সম্ভব সেভাবেই সংগ্রহ করা হতো, কোনো অধ্যায় বিন্যাস (تأليف) বা ক্রমবিন্যাস (ترتيب) ছাড়াই; যেমন "আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত হাম্মাম ইবনে মুনাব্বিহ আল-ইয়ামানি-এর সহিফা"-তে রয়েছে। এটি প্রায় একশত চল্লিশটি হাদিস সংবলিত, যা আপনি "মুসনাদ আহমাদ"-এ (২/ ৩১২-৩১৯) পাবেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৫)
মুহাযারাহ ফী ইলমির রিজাল ওয়া আহমিয়্যাতিহি - জিমনা আসারুল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ২৩৭)
وهي في "الصحيحين" وغيرهما مفرّقة
(1).
التدوين
فأمّا
التدوين بالترتيب والتأليف: فقد رُويت عن زيد بن ثابت الصحابي المشهور رسالة طويلة، كتبها في أحكام المواريث حوالي سنة 40 للهجرة
(2).
وفي "سنن البيهقي"
(3) قِطَعٌ كثيرة منها.
وذكر غير واحد أنّ الحسن بن محمد ابن الحنفية المتوفّى سنة (95) وضع كتابًا في بعض العقائد.
ولكن في ترجمته من " تهذيب التهذيب"
(4) ما يؤخذ منه أنّها رسالة صغيرة.
وفي ترجمة الحلّاج من "تاريخ الخطيب"
(5) أنّ للحسن البصري (21 ــ 110) كتابًا اسمه كتاب "الإخلاص" كان يُروى ويسمع في القرن الثالث.
وفي "فهرست ابن النديم"
(6) أنّ لمكحول الشاميّ المتوفّى (سنة 112) أو بعدها كتابين: "كتاب السُّنن"، و"كتاب المسائل" في الفقه.
--------------------------------------------
আর এটি "সহীহাইন" এবং অন্যান্য গ্রন্থে বিক্ষিপ্ত অবস্থায় রয়েছে
(১).
সংকলন (تدوين)
পক্ষান্তরে
বিন্যাস ও রচনার মাধ্যমে সংকলন (تدوين): প্রখ্যাত সাহাবী যায়িদ ইবনে সাবিত (রা.) থেকে একটি দীর্ঘ পত্র বর্ণিত হয়েছে, যা তিনি হিজরি ৪০ সনের কাছাকাছি সময়ে উত্তরাধিকার আইনের (মীরাস) বিধানাবলি সম্পর্কে লিখেছিলেন
(২).
আর "সুনানে বায়হাকী"
(৩) গ্রন্থে এর অনেকগুলো অংশ বিদ্যমান।
একাধিক ব্যক্তি উল্লেখ করেছেন যে, হাসান ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল হানাফিয়্যাহ (মৃত্যু ৯৫ হি.) আকিদাহ বা বিশ্বাসের কিছু বিষয়ে একটি গ্রন্থ রচনা করেছিলেন।
কিন্তু "তহজীবুত তহজীব"
(৪) গ্রন্থে তাঁর জীবনী আলোচনায় (ترجمة) যা পাওয়া যায় তা থেকে বোঝা যায় যে, এটি একটি ক্ষুদ্র পুস্তিকা ছিল।
"তারীখে খতীব"
(৫) গ্রন্থে হাল্লাজের জীবনী আলোচনায় (ترجمة) বর্ণিত হয়েছে যে, হাসান বসরীর (২১-১১০ হি.) "কিতাবুল ইখলাস" নামে একটি গ্রন্থ ছিল, যা তৃতীয় শতাব্দীতে বর্ণনা ও শ্রবণ করা হতো।
আর "ফিহরিস্ত ইবনে নাদীম"
(৬) গ্রন্থে উল্লেখ আছে যে, মাকহুল শামীর (মৃত্যু ১১২ হি. বা তার পরে) দুটি গ্রন্থ ছিল: "কিতাবুস সুনান" এবং ফিকহ শাস্ত্রের ওপর "কিতাবুল মাসায়েল"।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৫)
মুহাযারাহ ফী ইলমির রিজাল ওয়া আহমিয়্যাতিহি - জিমনা আসারুল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ২৩৮)
فأمّا ما ذكروه
(1) أنّ أوّل من دوّن الحديث ابن شهاب الزُّهري في سنة مائة أو نحوها، بأمر عمر بن عبد العزيز، وبعث به عمر إلى كل أرضٍ له عليها سلطان
(2)؛ فلا أدري أمُرتَّبًا كان ذلك الكتاب أم لا؟!
فأمّا
التأليف في أحوال الرجال؛ فإنّه تأخر قليلًا، وقد ذكر ابن النديم، أنّ لِلَّيث بن سعد (94 ــ 175) "تاريخًا"، وأنّ لابن المبارك (118 ــ 181) "تاريخًا"
(3).
وقال الذهبي في ترجمة الوليد بن مسلم الدّمشقي (119 ــ 195): "صنّف التصانيف والتواريخ"
(4).
ثمّ ألّف ابن معين وابن المديني وغيرهما؛ واتّسع التأليف جدًّا.
ولكن في القرن العاشر وهَلُمّ جرًّا تقاصرت الهمم، وهُجِرَ علم الرجال، فقلَّ من بقي يعتني بقراءة كتب الرجال أو نسخها أو نشرها.
فأمّا التأليف، فأقلّ وأقلّ، الّلهم إلا أن يجمع أحدهم تراجم لبعض المجاذيب والدّراويش يملؤها بالخوارق، أو يجمع آخرُ تراجمَ لبعض
--------------------------------------------
তারা যা উল্লেখ করেছেন
(1) যে, একশত হিজরী বা এর কাছাকাছি সময়ে ওমর বিন আব্দুল আজিজের নির্দেশে ইবনে শিহাব আল-জুহরি সর্বপ্রথম হাদিস সংকলন (تدوين) করেন এবং ওমর তাঁর শাসনাধীন প্রতিটি জনপদে তা পাঠিয়েছিলেন
(2); তবে আমি জানি না সেই বইটি বিন্যস্ত (مرتب) ছিল কি না?!
আর
বর্ণনাকারীদের অবস্থা (أحوال الرجال) সংক্রান্ত রচনার বিষয়টি কিছুটা পরে শুরু হয়েছে। ইবনুন নাদিম উল্লেখ করেছেন যে, লাইস বিন সা’দ (৯৪-১৭৫)-এর একটি 'তারিখ' ছিল এবং ইবনুল মুবারক (১১৮-১৮১)-এরও একটি 'তারিখ' ছিল
(3)।
আল-যাহাবি ওয়ালিদ বিন মুসলিম আদ-দিমাশকি (১১৯-১৯৫)-এর জীবনী (ترجمة)-তে বলেন: "তিনি বিভিন্ন গ্রন্থ ও ইতিহাস গ্রন্থ রচনা করেছেন"
(4)।
এরপর ইবনে মাঈন, ইবনুল মাদিনি ও অন্যান্যরা গ্রন্থ রচনা করেন এবং এই রচনাধারা ব্যাপকভাবে বিস্তৃত হয়।
কিন্তু দশম হিজরী শতাব্দী থেকে পরবর্তী সময়গুলোতে উদ্যম কমে যেতে থাকে এবং বর্ণনাকারী বিষয়ক জ্ঞান (علم الرجال) পরিত্যক্ত হয়। ফলে বর্ণনাকারী বিষয়ক গ্রন্থাবলি পাঠ, অনুলিপি তৈরি বা প্রকাশের ব্যাপারে যত্নবান হওয়ার মতো খুব কম লোকই অবশিষ্ট রইল।
আর গ্রন্থ রচনার সংখ্যাও দিন দিন কমতে থাকে; বড়জোর কেউ হয়তো কিছু আধ্যাত্মিক পাগল ও দরবেশদের জীবনী (تراجم) সংকলন করেন যা অলৌকিক ঘটনায় ভরপুর থাকে, অথবা অন্য কেউ জীবনী (تراجم) সংকলন করেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৫)
মুহাযারাহ ফী ইলমির রিজাল ওয়া আহমিয়্যাতিহি - জিমনা আসারুল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ২৩৯)
الأدباء، ينتقي من شعرهم ما يستظرفه من الغزل ونحوه، ممّا إن لم يضرّ لم ينفع، إلاّ ما شاء الله تعالى.
حتّى أيقظ الله تعالى الأمّةَ لعلم الحديث وعلم الرجال، والفضل في ذلك ــ بعد الله عز وجل ــ للهند، وأعظمه لدائرة المعارف كما سيأتي.
* * * *
সাহিত্যিকগণ; তাঁদের কবিতা থেকে তিনি নিজের কাছে চমৎকার মনে হয় এমন প্রেমগীতি ও এই জাতীয় বিষয়সমূহ চয়ন করতেন, যা যদি কোনো ক্ষতি না-ও করে, তবে বিশেষ কোনো উপকারেও আসে না, মহান আল্লাহ যা চান তা ব্যতীত।
অবশেষে আল্লাহ তাআলা এই উম্মাহকে হাদিস শাস্ত্র ও বর্ণনাকারী মূল্যায়ন শাস্ত্রের (علم الرجال) প্রতি জাগ্রত করলেন। আর আল্লাহ তাআলার পরেই এই ক্ষেত্রে প্রধান কৃতিত্ব ভারতের প্রাপ্য এবং এর সিংহভাগ অবদান ‘দাইরাতুল মাআরিফ’-এর, যা সামনে বিস্তারিত আসবে।
* * * *
(খণ্ড: ১৫)
মুহাযারাহ ফী ইলমির রিজাল ওয়া আহমিয়্যাতিহি - জিমনা আসারুল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ২৪০)
طريقة العلماء في وضع كتب الرِّجالأمّا ترتيب التراجم فمعروف، وأجوده طريقة "التهذيب" وفروعه؛ فإنّه على ترتيب حروف الهجاء باعتبار اسم الراوي بجميع حروفه، وكذا باعتبار اسم أبيه وجدّه فصاعدًا.
مثاله: إبراهيم بن محمد بن عبد الله بن جحش، وبعده إبراهيم بن محمد بن عبد الله بن عبيد الله.
وكذلك يُرتّب باعتبار النسب، مثاله: إبراهيم بن ميمون الصّنعاني، إبراهيم بن ميمون الكوفي، إبراهيم بن ميمون النحّاس.
وإفادة الترتيب سهولة الكشف واضحة، ولكن ثَمّ فائدة أعظم منها، وهي التنبيه على ما قد يقع من سقط، أو زيادة، أو تصحيف، أو تحريف.
مثال السَّقط: ما وقع في "التقريب" المطبوع بدهلي سنة (1320)؛ ذكر في المحمدين تراجم من اسمه محمد بن إبراهيم، ثم ذكر بعدها محمد بن كعب الأنصاري، ثم محمد بن أحمد!!
وكيف يكون كعبٌ بين إبراهيم وأحمد؟! والصواب كما في "تهذيب التهذيب" وغيره: محمد بن أُبيّ بن كعب.
ومثال الزيادة: ما وقع في "الميزان" المطبوع بمصر
(1)، ذُكر في آخر تراجم البكرين: بكر بن يونس، ثم بكر بن الأعنق! والصواب: بكرٌ الأعنق
--------------------------------------------
রিজাল শাস্ত্রের গ্রন্থসমূহ সংকলনে আলেমদের পদ্ধতিজীবনীর (ترجمة) বিন্যাস পদ্ধতি তো সবার জানা, আর এর মধ্যে সর্বোত্তম হলো ‘তাহজিব’ এবং এর শাখা গ্রন্থসমূহের বিন্যাস পদ্ধতি। কারণ এটি বর্ণনাকারীর (راوي) নামের পূর্ণ বর্ণানুক্রম এবং একইভাবে তার পিতা, দাদা এবং তদূর্ধ্ব পূর্বপুরুষদের নামের বর্ণানুক্রম অনুযায়ী বিন্যস্ত করা হয়েছে।
উদাহরণস্বরূপ: ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে জাহশ, এরপর ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উবাইদুল্লাহ।
অনুরূপভাবে নিসবত বা সম্পর্কের ভিত্তিতেও বিন্যস্ত করা হয়। উদাহরণস্বরূপ: ইব্রাহিম ইবনে মাইমুন আস-সানআনী, ইব্রাহিম ইবনে মাইমুন আল-কুফি, ইব্রাহিম ইবনে মাইমুন আন-নাহহাস।
এই বিন্যাসের ফলে নাম খুঁজে পাওয়ার সহজলভ্যতা তো সুস্পষ্ট, তবে এর চেয়েও বড় একটি উপকারিতা রয়েছে, আর তা হলো—কোনো স্থানে বিচ্যুতি (سقط), অতিরিক্ত সংযোজন (زيادة), লিপিক্রমের ভুল (تصحيف) বা বিকৃতি (تحريف) ঘটলে সে বিষয়ে সচেতন হওয়া।
বিচ্যুতির (سقط) উদাহরণ: ১৩২০ হিজরিতে দিল্লি থেকে মুদ্রিত ‘তাক্বরিব’ গ্রন্থে যা ঘটেছে; ‘মুহাম্মাদ’ নামধারীদের বর্ণনায় প্রথমে মুহাম্মাদ ইবনে ইব্রাহিমদের জীবনী (ترجمة) আলোচনা করা হয়েছে, এরপর উল্লেখ করা হয়েছে মুহাম্মাদ ইবনে কাব আল-আনসারী, এরপর মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ!!
অথচ ইব্রাহিম এবং আহমাদের মাঝখানে ‘কাব’ কীভাবে আসতে পারে?! সঠিক পাঠ হলো—যেমনটি ‘তাহজিবুত তাহজিব’ ও অন্যান্য গ্রন্থে রয়েছে—মুহাম্মাদ ইবনে উবাই ইবনে কাব।
অতিরিক্ত সংযোজনের (زيادة) উদাহরণ: মিশরে মুদ্রিত ‘মিজান’ গ্রন্থে যা ঘটেছে
(১), ‘বাকর’ নামধারীদের জীবনীর (ترجمة) শেষে উল্লেখ করা হয়েছে: বাকর ইবনে ইউনুস, এরপর বাকর ইবনে আল-আ’নাক! অথচ সঠিক পাঠ হলো: বাকর আল-আ’নাক।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৫)
মুহাযারাহ ফী ইলমির রিজাল ওয়া আহমিয়্যাতিহি - জিমনা আসারুল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ২৪১)
كما في "لسان الميزان"
(1).
ومن عادتهم أنّ من عُرفَ باسمه ولقبه فقط أن يذكروه آخر الأسماء الموافقة لاسمه.
وفي "الميزان"
(2) بعد بكر هذا بكر بن بشر! والصواب بُكير بن بشر؛ كما في "الّلسان"
(3).
وأما التصحيف، فأمثلته في "الميزان" كثيرة، فمنها ذكر إبراهيم بن حميد، ثم إبراهيم بن أبي حنيفة، ثم إبراهيم بن حبَّان، والصواب: ابن حيَّان كما في "اللسان"
(4).
وذكر إبراهيم بن خيثم وبعده إبراهيم بن الخضر! وخيثم تصحيف، والصواب: خُثَيم؛ كما في "اللسان"
(5)؛ بل ليس في الأسماء خيثم، وإنّما فيها خثيم وخيثمة.
وذكر أصبغ بن محمد وبعده أصبغ بن بنانة تصحيف، والصواب: نباتة، كما في "اللسان"
(6).
وذكر الحارث بن شريح وبعده الحارث بن سعيد، وشريح تصحيف،
--------------------------------------------
যেমনটি "লিসানুল মিজান"-এ
(১) রয়েছে।
আর এটি তাঁদের রীতি যে, যাকে কেবল তার নাম ও উপাধির (لقب) মাধ্যমে চেনা যায়, তাকে তারা একই নামের অন্যান্য ব্যক্তিদের শেষে উল্লেখ করেন।
আর "মিজান"-এ
(২) এই বকরের পর ‘বকর বিন বিশর’ এসেছে! অথচ সঠিক হলো ‘বুকাইর বিন বিশর’; যেমনটি "লিসান"-এ
(৩) রয়েছে।
আর অক্ষর বিকৃতির (تصحيف) উদাহরণ "মিজান"-এ প্রচুর রয়েছে। তন্মধ্যে রয়েছে ইব্রাহিম বিন হুমাইদ-এর উল্লেখ, অতঃপর ইব্রাহিম বিন আবি হানিফা, অতঃপর ইব্রাহিম বিন হাব্বান; অথচ সঠিক হলো: ইবনে হাইয়্যান, যেমনটি "লিসান"-এ
(৪) রয়েছে।
এবং তিনি ইব্রাহিম বিন খয়সাম এবং তারপরে ইব্রাহিম বিন আল-খিজরের কথা উল্লেখ করেছেন! এখানে খয়সাম হলো অক্ষর বিকৃতি (تصحيف), আর সঠিক হলো: খুসাইম; যেমনটি "লিসান"-এ
(৫) রয়েছে। বস্তুত নামসমূহের মধ্যে খয়সাম বলতে কিছু নেই, বরং তাতে রয়েছে খুসাইম ও খয়সামাহ।
তিনি আসবাগ বিন মুহাম্মদ এবং তারপরে আসবাগ বিন বানানাহ উল্লেখ করেছেন যা অক্ষর বিকৃতি (تصحيف); সঠিক হলো: নাবাতাহ, যেমনটি "লিসান"-এ
(৬) রয়েছে।
তিনি আল-হারিস বিন শুরাইহ এবং তারপরে আল-হারিস বিন সাঈদ-এর উল্লেখ করেছেন, আর শুরাইহ হলো অক্ষর বিকৃতি (تصحيف),
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৫)
মুহাযারাহ ফী ইলমির রিজাল ওয়া আহমিয়্যাতিহি - জিমনা আসারুল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ২৪২)
والصواب: سُريج؛ كما في "اللسان"
(1).
والتحريف في "الميزان" كثيرٌ أيضًا؛ فمنه أنّ فيه (أسامة بن يزيد بن أسلم) وبعده (أسامة بن يزيد الليثي)، ثم (أسامة بن سعد)، ويزيد في الأوّلين تحريف، والصواب: زيد فيهما، كما في "اللسان"
(2) وغيره.
وفيه إسماعيل بن مسلم، وبعده إسماعيل بن سلمة، وسلمة تحريف، والصواب: مسلمة؛ كما في "اللسان"
(3).
فهذه الأغلاط الواقعة في "الميزان" المطبوع بمصر يُنبّه عليها ترتيب الأسماء في التراجم كما هو ظاهر، على أنّه ربّما أخلَّ الذهبيّ في "الميزان" بالترتيب، ولكن "اللسان" يُحوّل الترجمة المخالفة للترتيب إلى موضعها، وربّما أبقاها حيث وقعت في "الميزان".
وضع التراجمطريقهم في ذلك: أن يذكروا أوّلًا اسم الراوي ونسبه وكنيته ولقبه، ونسبته إلى قبيلته وبلدته وحِرْفته، ونحو ذلك ممّا يميزه عن غيره؛ فإنّه كثيرًا ما يشترك الرجلان فأكثر في الاسم واسم الأب، ونحو ذلك، فيُخْشى الاشتباه.
ذكر ابن أبي أُصيبعة في "عيون الأنباء"
(4) أنّ النضر بن الحارث بن
--------------------------------------------
সঠিক হলো: সুরাইজ; যেমনটি "আল-লিসান"-এ রয়েছে
(১)।
"আল-মিজান" গ্রন্থে অনুলিখন প্রমাদ (تحريف) অনেক বেশি রয়েছে; তার মধ্যে একটি হলো এতে (উসামা বিন ইয়াজিদ বিন আসলাম) এবং তার পরে (উসামা বিন ইয়াজিদ আল-লাইসি), তারপর (উসামা বিন সা'দ) বর্ণিত হয়েছে। প্রথম দুই ব্যক্তির ক্ষেত্রে 'ইয়াজিদ' শব্দটি একটি অনুলিখন প্রমাদ (تحريف), আর সঠিক হলো উভয়ের ক্ষেত্রেই 'যায়েদ', যেমনটি "আল-লিসান"
(২) এবং অন্যান্য গ্রন্থে রয়েছে।
আর তাতে ইসমাইল বিন মুসলিম এবং তার পরে ইসমাইল বিন সালামাহ রয়েছে, আর 'সালামাহ' শব্দটি অনুলিখন প্রমাদ (تحريف), সঠিক হলো: 'মাসলামাহ'; যেমনটি "আল-লিসান"
(৩)-এ রয়েছে।
মিসরে মুদ্রিত "আল-মিজান" গ্রন্থে সংঘটিত এই ভুলগুলোর প্রতি জীবনীগুলোর (التراجم) নামের ক্রমধারা লক্ষ্য করলে সচেতন হওয়া যায়, যেমনটি সুস্পষ্ট। যদিও ইমাম দাহাবি "আল-মিজান" গ্রন্থে সম্ভবত বর্ণনাক্রমে কিছুটা বিচ্যুতি ঘটিয়েছেন, তবে "আল-লিসান" গ্রন্থে ক্রমবহির্ভূত জীবনীকে (الترجمة) তার সঠিক স্থানে স্থানান্তর করা হয়েছে, আবার কখনও কখনও তা "আল-মিজান"-এর মূল স্থানেই রেখে দেওয়া হয়েছে।
জীবনী (التراجم) রচনার পদ্ধতিএক্ষেত্রে তাঁদের পদ্ধতি হলো: তাঁরা প্রথমে বর্ণনাকারীর (الراوي) নাম, বংশপরিচয়, উপনাম (কুনিয়াত), উপাধি এবং তাঁর গোত্র, শহর ও পেশার সম্বন্ধ ইত্যাদি উল্লেখ করেন যা তাঁকে অন্যদের থেকে পৃথক করে; কেননা অনেক সময় দুই বা ততোধিক ব্যক্তি নাম, পিতার নাম ও অনুরূপ বিষয়ে এক হয়ে যান, ফলে বিভ্রান্তির আশঙ্কা থাকে।
ইবনে আবি উসাইবিয়া "উয়ুনুল আম্বা"
(৪) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, আন-নাদর বিন আল-হারিস বিন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৫)
মুহাযারাহ ফী ইলমির রিজাল ওয়া আহমিয়্যাতিহি - জিমনা আসারুল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ২৪৩)
كلدة ــ الذي كان يؤذي النبي صلى الله عليه وآله وسلم ــ هو ابن الحارث ابن كلدة الثقفي، طبيب العرب! وتبعه الآلوسي في "بلوغ الأرب"
(1) فقال: "النضر بن الحارث الثقفي" وهذا خطأ؛ فإنّ الطبيب هو الحارث بن كلدة بن عمرو بن عِلاج
(2) بن أبي سلمة بن عبد العزّى بن غيرة بن عوف بن قُسيّ
(3). وقَسيٌّ هو ثقيف
(4).
والنّضر هو ابن الحارث بن كلدة بن علقمة
(5) بن عبد مناف بن عبد الدار بن قُصيّ بن كلاب بن مُرّة بن كعب بن لؤي بن غالب بن فِهر بن مالك بن النضر؛ وهو قريش، وقيل: فِهر هو قريش
(6).
وذكر الفاضل محمد فريد وجدي في "كنز العلوم واللغة" في ترجمة أُبيّ بن كعب الصحابيّ المشهور أنّه ابن كعب الأحبار التابعيّ المشهور! وكذا ذكر في ترجمة كعب، وهذا خطأ؛ فإنّ أُبيًّا هو ابن كعب بن قيس بن عُبيد بن زيد بن معاوية بن عمرو بن مالك بن النّجّار
(7)، وهو تيم الله بن ثعلبة بن عمرو بن الخزرج
(8)، والخزرج وإخوتهم الأوس هم الأنصار،
--------------------------------------------
কালাদাহ—যিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম)-কে কষ্ট দিতেন—তিনি হলেন আরবের চিকিৎসক হারিস ইবনে কালাদাহ আস-সাকাফির পুত্র! এবং আলুসি "বুলুগুল আরাব"
(1) গ্রন্থে তার অনুসরণ করে বলেছেন: "নাদর ইবনুল হারিস আস-সাকাফি", অথচ এটি একটি ভুল; কেননা সেই চিকিৎসক হলেন হারিস ইবনে কালাদাহ ইবনে আমর ইবনে ইলাজ
(2) ইবনে আবি সালামাহ ইবনে আব্দুল উযযা ইবনে গয়রাহ ইবনে আউফ ইবনে কুসাই
(3)। আর কুসাই-ই হলেন সাকাফি
(4)।
আর নাদর হলেন হারিস ইবনে কালাদাহ ইবনে আলকামা
(5) ইবনে আব্দ মানাফ ইবনে আব্দুদ দার ইবনে কুসাই ইবনে কিলাব ইবনে মুররাহ ইবনে কা'ব ইবনে লুআই ইবনে গালিব ইবনে ফিহর ইবনে মালিক ইবনে আন-নাদর-এর পুত্র; আর তিনিই হলেন কুরাইশ, আবার বলা হয়: ফিহর-ই হলেন কুরাইশ
(6)।
ফাজেল মুহাম্মদ ফরিদ ওয়াজদি "কানযুল উলুম ওয়াল লুগাহ" গ্রন্থে প্রসিদ্ধ সাহাবি (صحابي) উবাই ইবনে কা'বের জীবনীতে (ترجمة) উল্লেখ করেছেন যে, তিনি হলেন প্রসিদ্ধ তাবেয়ি (تابعي) কা'ব আল-আহবারের পুত্র! একইভাবে তিনি কা'বের জীবনীতেও (ترجمة) এটি উল্লেখ করেছেন, অথচ এটি ভুল; কেননা উবাই হলেন কা'ব ইবনে কায়েস ইবনে উবাইদ ইবনে যাইদ ইবনে মুয়াবিয়া ইবনে আমর ইবনে মালিক ইবনে আন-নাজ্জারের পুত্র
(7), আর তিনি হলেন তাইমুল্লাহ ইবনে সা'লাবাহ ইবনে আমর ইবনে আল-খাযরাজ
(8), আর খাযরাজ এবং তাদের ভাই আওস গোত্রই হলো আনসার,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৫)
মুহাযারাহ ফী ইলমির রিজাল ওয়া আহমিয়্যাতিহি - জিমনা আসারুল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ২৪৪)
وكعب الأحبار هو ابن ماتع الحميري، من آل ذي رُعين، أو من ذي الكلاع
(1).
ووقع في بعض كتب الخطيب البغداديّ
(2): "قرأتُ على القاضي أبي العلاء الواسطي، عن يوسف بن إبراهيم الجُرجاني، قال: ثنا أبو نعيم ابن عدي
… " فعمد بعض أفاضل العصر، فكتب بدل "أبو نعيم": "أبو أحمد"! وكتب على الحاشية ما لفظه: "أبو نعيم أصل، وليس بشيء! " وحاصله أنّ الصواب: أبو أحمد، لا أبو نعيم، وهذا خطأ أوقعه فيه أنه يعرف أبا أحمد عبد الله بن عديّ
(3) الجُرجاني الحافظ مؤلّف كتاب "الكامل" توفي سنة (365)، ولا يعرف أبا نُعيم عبد الملك بن محمد بن عدي الجرجاني الإستراباذي الحافظ المتوفّى سنة (323).
ولكلٍّ من الحافظين ترجمةٌ في "تذكرة الحفّاظ"، و"أنساب السمعاني"، و"طبقات الشافعية"، و"معجم البلدان": جُرجان. ولأبي نُعيم ترجمة في "تاريخ الخطيب".
وكذا ترجم الخطيب ليوسف بن إبراهيم المذكور، فقال: "قدم بغداد، وحدّث بها عن أبي نُعيم عبد الملك بن محمد بن عَديّ الجرجاني
…--------------------------------------------
আর কা'ব আল-আহবার হলেন ইবনে মাতি' আল-হিময়ারি, তিনি যু রু'আয়ন গোত্রভুক্ত অথবা যু আল-কিলা' বংশোদ্ভূত
(১)।
খতীব আল-বাগদাদীর কিছু কিতাবে এসেছে
(২): "আমি কাজী আবু আল-আলা আল-ওয়াসিতির নিকট পাঠ করেছি, তিনি ইউসুফ ইবনে ইব্রাহিম আল-জুরজানি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আবু নু'আইম ইবনে আদি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (ثنا)..." অতঃপর বর্তমান যুগের জনৈক বিদগ্ধ ব্যক্তি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে "আবু নু'আইম"-এর পরিবর্তে "আবু আহমাদ" লিখেছেন! এবং তিনি টীকায় এই শব্দগুলো লিখেছেন: "আবু নু'আইম মূল পাঠে (أصل) আছে, কিন্তু এটি নগণ্য (ليس بشيء)!" এর সারকথা হলো, সঠিক নাম হলো আবু আহমাদ, আবু নু'আইম নয়; আর এটি এমন এক ভুল যাতে তিনি পতিত হয়েছেন এই কারণে যে, তিনি 'আল-কামিল' গ্রন্থের রচয়িতা হাফেজ (حافظ) আবু আহমাদ আব্দুল্লাহ ইবনে আদি
(৩) আল-জুরজানিকে চেনেন, যিনি ৩৬৫ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেছেন; কিন্তু তিনি ৩২৩ হিজরিতে ইন্তেকালকারী হাফেজ (حافظ) আবু নু'আইম আব্দুল মালিক ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আদি আল-জুরজানি আল-ইস্তরাবাদীকে চেনেন না।
উক্ত দুই হাফেজ (حافظ)-এর প্রত্যেকেরই জীবনী (ترجمة) 'তাযকিরাতুল হুফফাজ', 'আনসাবুস সামআনি', 'তাবাকাতুশ শাফিয়্যাহ' এবং 'মু'জামুল বুলদান'-এর জুরজান অংশে বর্ণিত হয়েছে। আর আবু নু'আইমের জীবনী (ترجمة) 'তারিখে খতীব'-এ রয়েছে।
একইভাবে খতীব উল্লিখিত ইউসুফ ইবনে ইব্রাহিমের জীবনী (ترجمة) বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: "তিনি বাগদাদে আগমন করেন এবং সেখানে আবু নু'আইম আব্দুল মালিক ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আদি আল-জুরজানি থেকে হাদিস বর্ণনা করেন...
--------------------------------------------