(খণ্ড: ১) আহকামুল হাদিসিজ যয়ীফ - জিমনা আসারুল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: -)
أحكام الحديث الضعيف - ضمن «آثار المعلمي»   (عبد الرحمن المعلمي اليماني)

القسم: علوم الحديث


الكتاب: أحكام الحديث الضعيف

[آثار عبد الرحمن بن يحيى المعلمي اليماني (15)]

المؤلف: عبد الرحمن بن يحيى المُعَلِّمي اليماني (1313 - 1386 هـ)

المحقق: علي بن محمد العمران

راجعه: محمد أجمل الإصلاحي - عادل بن عبد الشكور الزرقي

الناشر: دار عالم الفوائد للنشر والتوزيع

الطبعة: الأولى، 1434 هـ

قدمه للشاملة: مؤسسة «عطاءات العلم»، جزاهم الله خيرا

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 10 شوّال 1442

দুর্বল (الضعيف) হাদিসের বিধানসমূহ - «আসারুল মুয়াল্লিমী»-এর অন্তর্ভুক্ত   (আবদুর রহমান আল-মুয়াল্লিমী আল-ইয়ামানি)

বিভাগ: হাদিস বিজ্ঞান (علوم الحديث)


গ্রন্থ: দুর্বল (الضعيف) হাদিসের বিধানসমূহ

[আবদুর রহমান ইবনে ইয়াহইয়া আল-মুয়াল্লিমী আল-ইয়ামানি-এর রচনাবলি (১৫)]

লেখক: আবদুর রহমান ইবনে ইয়াহইয়া আল-মুয়াল্লিমী আল-ইয়ামানি (১৩১৩ - ১৩৮৬ হিজরি)

সম্পাদক: আলী ইবনে মুহাম্মদ আল-উমরান

নিরীক্ষক: মুহাম্মদ আজমাল আল-ইসলাহি - আদিল ইবনে আবদুশ শাকুর আল-জুরকি

প্রকাশক: দারু আলমিল ফাওয়ায়িদ ফর পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন

সংস্করণ: প্রথম، ১৪৩৪ হিজরি

শামেলা লাইব্রেরির জন্য প্রস্তুত করেছেন: «আতাআত আল-ইলম» ফাউন্ডেশন، আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দান করুন

[গ্রন্থের পৃষ্ঠাসংখ্যা মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১০ শাওয়াল ১৪৪২

(খণ্ড: ১৫) আহকামুল হাদিসিজ যয়ীফ - জিমনা আসারুল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ১৫১)
الرسالة الثامنة

أحكام الحديث الضعيف
অষ্টম পত্র

দুর্বল (ضعيف) হাদিসের বিধানাবলী
(খণ্ড: ১৫) আহকামুল হাদিসিজ যয়ীফ - জিমনা আসারুল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ১৫৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله وسلام على عباده الذين اصطفى.

أما بعد، فهذه رسالة في أحكام الحديث الضعيف، جمعتُها لما رأيت ما وقع للمتأخرين من الاضطراب فيه؛ فنَسَب بعضُهم إلى كبار الأئمة الاحتجاجَ به، ونَسَب غيرُه إلى الإجماع استحبابَ العمل به في فضائل الأعمال ونحوها، وتوسّع كثيرٌ من الناس في العمل به، حتى بنوا عليه كثيرًا من المحدَثات، وأكَّدوا العمل بها، وحافظوا عليها أبلغ جدًّا من محافظتهم على السنن الثابتات، بل والفرائض القطعيات.

بل كثيرًا ما بنوا عليه عقائد مخالفة للبراهين القطعية من الكتاب والسنة والمعقول. ولم يقتصروا على الضعاف بل تناولوا الموضوعات.

وأنكر جماعةٌ جواز العمل بالضعيف مطلقًا، حتى قال بعضهم كما نقله ابن حجر الهيتمي في "شرح الأربعين النووية"(1): "إن الفضائل إنما تُتلقى من الشارع، فإثباتها بما ذُكِر اختراعُ عبادة وشَرْعٌ لما لم يأذن به الله".

ومَن تأمل هذه العبارة وجدها تُنبئ أن إثبات الفضائل بالضعيف شرك؛ لأن شَرْع ما لم يأذن به الله كذلك، قال تعالى: {أَمْ لَهُمْ شُرَكَاءُ شَرَعُوا لَهُمْ مِنَ الدِّينِ مَا لَمْ يَأْذَنْ بِهِ اللَّهُ} [الشورى: 21]. وسيأتي تقرير هذا المعنى إن شاء الله تعالى(2).

--------------------------------------------

(1) (ص 6).

(2) (ص 174 - 175).
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং তাঁর সেই বান্দাদের প্রতি সালাম, যাদের তিনি মনোনীত করেছেন।

অতঃপর, এটি দুর্বল (ضعيف) হাদিসের বিধান সংক্রান্ত একটি পুস্তিকা; পরবর্তী যুগের আলেমদের মাঝে এ বিষয়ে যে বিভ্রান্তি বা অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা দেখার পর আমি এটি সংকলন করেছি। তাদের কেউ কেউ বড় বড় ইমামদের প্রতি এর মাধ্যমে দলিল পেশ করাকে (الاحتجاج) সম্বন্ধ করেছেন, আবার অন্য কেউ আমলের ফজিলত (فضائل الأعمال) ও এই জাতীয় বিষয়ে এর ওপর আমল করা মুস্তাহাব হওয়ার ব্যাপারে ইজমার (ঐক্যমত্যের) দাবি করেছেন। আর অনেক মানুষ এর ওপর আমল করার ক্ষেত্রে এতোটাই শিথিলতা অবলম্বন করেছে যে, তারা এর ভিত্তিতে অনেক নব-আবিষ্কৃত বিষয় (المحدثات) তৈরি করে নিয়েছে এবং সেগুলোর ওপর আমল করার ব্যাপারে জোর দিয়েছে; এমনকি তারা এগুলোর ওপর অটল থাকাকে প্রমাণিত সুন্নাত (السنن الثابتات) বরং অকাট্য ফরজ (الفرائض القطعيات) সমূহের হিফাজত করার চেয়েও অনেক বেশি গুরুত্ব দিয়েছে।

এমনকি তারা অনেক ক্ষেত্রে এর ওপর ভিত্তি করে এমন সব আকিদা বা বিশ্বাস গড়ে তুলেছে, যা কুরআন, সুন্নাহ এবং বিবেকপ্রসূত অকাট্য প্রমাণের পরিপন্থী। তারা শুধু দুর্বল (الضعاف) হাদিসের ওপরই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং জাল (الموضوعات) হাদিসগুলোকেও গ্রহণ করেছে।

পক্ষান্তরে একদল আলেম ঢালাওভাবে দুর্বল (الضعيف) হাদিসের ওপর আমল করা বৈধ হওয়াকে অস্বীকার করেছেন। এমনকি ইবনে হাজার আল-হাইতামি "শারহুল আরবাঈন আন-নববিয়্যাহ" গ্রন্থে যেমনটি উদ্ধৃত করেছেন, তাদের কেউ কেউ বলেছেন(১): "নিশ্চয়ই ফজিলতসমূহ কেবল শরিয়তদাতার পক্ষ থেকেই গ্রহণ করা হয়; সুতরাং উল্লিখিত বিষয়ের মাধ্যমে তা প্রমাণ করা হলো ইবাদত উদ্ভাবন করা এবং এমন বিষয়ে শরিয়ত প্রবর্তন করা যার অনুমতি আল্লাহ দেননি।"

কেউ যদি এই উক্তিটি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করেন, তবে তিনি দেখতে পাবেন যে এটি এই বার্তাই দেয় যে—দুর্বল (بالضعيف) হাদিসের মাধ্যমে ফজিলত সাব্যস্ত করা শিরক; কেননা আল্লাহ যে বিষয়ে অনুমতি দেননি তা শরিয়ত হিসেবে সাব্যস্ত করা তেমনই বিষয়। মহান আল্লাহ বলেন: "তাদের কি এমন সব অংশীদার আছে, যারা তাদের জন্য দ্বীনের এমন বিধান দিয়েছে যার অনুমতি আল্লাহ দেননি?" [সুরা আশ-শুরা: ২১]। ইনশাআল্লাহ সামনে এই বিষয়ের বিস্তারিত ব্যাখ্যা আসবে(২)।

--------------------------------------------

(১) (পৃ. ৬)।

(২) (পৃ. ১৭৪ - ১৭৫)।
(খণ্ড: ১৫) আহকামুল হাদিসিজ যয়ীফ - জিমনা আসারুল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ১৫৪)
ومن المانعين القاضي أبو بكر ابن العربي، والمحقق الشاطبي صاحب [ص 2] كتاب "الموافقات" في أصول الفقه وغيره.

ثم نصّ بعضُ الفقهاء الشافعية كالزركشي في مقدمة "الذهب الإبريز"(1) والخطيب الشربيني في "شرح المنهاج"(2) أن العمل بالحديث الضعيف جائز فقط لا مستحبّ، وردّه بعضهم كابن قاسم في "حواشيه على التحفة"(3) وأثبت الاستحباب. هذا، وقد نصّ النوويّ نفسُه في كتاب "الأذكار"(4) على الاستحباب.

واستشكل جماعةٌ القولَ بالجواز أو الاستحباب مع الإجماع على أن الضعيف لا يثبت به حكم، والجواز والاستحباب من الأحكام الخمسة.

وأُجيب من طرف القائلين بالجواز والاستحباب بأجوبةٍ عامّتها من قبيل ما عُرِف في الجدليّات من المطاولة وتشتيت ذهن الناظر، ليقْنَع بالتقليد الصِّرْف. وتلك المطاولة هي التي ألجأتني إلى تأليف رسالة مستقلة.

وذلك أنني ألَّفت كتابًا(5) نبَّهتُ في مقدمته على الأمور التي يسلكُها كثير من المتأخرين في الاحتجاج وهي غير صالحةٍ لذلك، وذكرتُ من جملتها العمل بالضعيف، وحاولت أن أحقِّق الكلامَ فيه، فطال الكلام جدًّا قبل أن أستوفي البحث كما أحبّ، فآثرت إفراده برسالة مستقلة.

--------------------------------------------

(1) في تخريج أحاديث فتح العزيز، لم يطبع بعد.

(2) (1/ 62).

(3) (1/ 240).

(4) (ص 8).

(5) هو كتاب "العبادة" ذكر المؤلف فيه (ص 669) هذا البحث وأنه أفرده في رسالة.
নিষেধকারীদের মধ্যে রয়েছেন কাজি আবু বকর ইবনুল আরাবি এবং উসুল আল-ফিকহ বিষয়ক গ্রন্থ "আল-মুওয়াফাকাত" এর লেখক মুহাক্কিক শাত্বিবি ও অন্যান্যগণ। [পৃষ্ঠা ২]

অতঃপর শাফিঈ মাজহাবের কিছু ফকিহ যেমন—যারকাশি তার "আদ-দাহাবুল ইব্রিজ"(১) গ্রন্থের ভূমিকায় এবং খতিব আশ-শিরবিনি "শারহুল মিনহাজ"(২) গ্রন্থে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, দুর্বল (ضعيف) হাদিসের ওপর আমল করা কেবল বৈধ (جائز), মুস্তাহাব (مستحب) নয়। পক্ষান্তরে ইবনে কাসিম তার "হাওয়াশি আলাত তুহফা"(৩) গ্রন্থে এই মতটি প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং একে মুস্তাহাব (مستحب) হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন। স্বয়ং ইমাম নববি "আল-আযকার"(৪) গ্রন্থে এর মুস্তাহাব (مستحب) হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন।

একদল আলিম এই বৈধ (جائز) বা মুস্তাহাব (مستحب) হওয়ার মতটি নিয়ে আপত্তি উত্থাপন করেছেন। কারণ, এই বিষয়ে ঐক্যমত (إجماع) রয়েছে যে, দুর্বল (ضعيف) বর্ণনার মাধ্যমে কোনো বিধান সাব্যস্ত হয় না; অথচ বৈধ (جائز) ও মুস্তাহাব (مستحب) হওয়া শরয়ি পাঁচটি বিধানেরই অংশ।

এর উত্তরে বৈধ (جائز) ও মুস্তাহাব (مستحب) হওয়ার প্রবক্তাগণ যেসব জবাব দিয়েছেন, তার অধিকাংশই বিতর্কশাস্ত্রের (ইলমুল জাদাল) সেই দীর্ঘসূত্রতার মতো যা পাঠকের মনকে বিক্ষিপ্ত করে দেয়, যাতে সে নিছক অন্ধ অনুকরণ (تقليد) করতেই তুষ্ট থাকে। এই দীর্ঘসূত্রতাই আমাকে একটি স্বতন্ত্র পুস্তিকা রচনায় বাধ্য করেছে।

প্রকৃতপক্ষে আমি একটি গ্রন্থ(৫) রচনা করেছিলাম যার ভূমিকায় আমি পরবর্তী যুগের অনেক আলিম দলিল উপস্থাপনের (الاحتجاج) ক্ষেত্রে যে পন্থাগুলো অবলম্বন করেন অথচ যেগুলো তার উপযুক্ত নয়, সে বিষয়ে সতর্ক করেছিলাম। এর মধ্যে দুর্বল (ضعيف) বর্ণনার ওপর আমলের বিষয়টিও আমি উল্লেখ করেছিলাম। আমি এই বিষয়ে গবেষণালব্ধ বিস্তারিত আলোচনার চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু বিষয়টি অত্যন্ত দীর্ঘ হয়ে যায় এবং আমি যেভাবে পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধান করতে চেয়েছিলাম তার আগেই তা দীর্ঘ রূপ নেয়। তাই আমি একে একটি স্বতন্ত্র পুস্তিকা হিসেবে প্রকাশ করাকেই অগ্রাধিকার দিয়েছি।

--------------------------------------------

(১) ফাতহুল আজিজ-এর হাদিসসমূহের তাখরিজ (تخريج) বিষয়ক গ্রন্থ, যা এখনও মুদ্রিত হয়নি।

(২) (১/ ৬২)।

(৩) (১/ ২৪০)।

(৪) (পৃষ্ঠা ৮)।

(৫) এটি হলো "আল-ইবাদাহ" নামক গ্রন্থ; লেখক সেখানে (পৃষ্ঠা ৬৬৯) এই গবেষণার কথা উল্লেখ করেছেন এবং জানিয়েছেন যে তিনি এটি একটি স্বতন্ত্র পুস্তিকায় পৃথক করেছেন।
(খণ্ড: ১৫) আহকামুল হাদিসিজ যয়ীফ - জিমনা আসারুল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ১৫৫)
هذا، وبعد أن توسطت هذه الرسالة، ووجدتُ الكلام في هذه المسألة مرتبطًا بالكلام على البدع والمحْدَثات عزمتُ على إفراد رسالةٍ أخرى في تحقيق ما هي البدعة؟(1) ومِن الله أستمدُّ التوفيق والعون بفضله وكرمه.

--------------------------------------------

(1) طُبعت ضمن هذا المشروع المبارك ضمن الرسائل العقدية.

এমতাবস্থায়, এই পুস্তিকাটি যখন মধ্যপর্যায়ে উপনীত হলো এবং আমি লক্ষ্য করলাম যে এই প্রসঙ্গের আলোচনা বিদআত (بدعة) ও নব-উদ্ভাবিত বিষয়ের (محدثات) আলোচনার সাথে সংশ্লিষ্ট, তখন আমি 'বিদআত (بدعة) আসলে কী?'—সে বিষয়ের পর্যালোচনার (تحقيق) জন্য একটি স্বতন্ত্র পুস্তিকা রচনার সংকল্প করলাম।(১) আর আমি আল্লাহর নিকট তাঁর অনুগ্রহ ও দয়ায় তাওফিক ও সাহায্য প্রার্থনা করছি।

--------------------------------------------

(১) এটি এই বরকতময় প্রকল্পের অধীনে আকিদাহ বিষয়ক পুস্তিকাসমূহের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে মুদ্রিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১৫) আহকামুল হাদিসিজ যয়ীফ - জিমনা আসারুল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ১৫৬)
[ص 3] فصل

تعريف الضعيف مذكور في كتب المصطلح وغيرها فلا نطيل بذكره، وإنما ننبّه هنا على مهمّات:

الأولى: يُعْلَم من إمعان النظر في فصل "الحسن" من كتب الاصطلاح المطوّلة كـ "فتح المغيث"(1) أنه إنما استقرّ الاصطلاح على جَعْل الحسن قسمًا برأسه من الترمذي فمَنْ بعدَه.

ويتحقق بذلك ما قاله بعض الأجلّة(2): أن ما استقر الاصطلاح على تسميته بالحسن كان المتقدّمون يطلقون عليه تارةً "صحيح" وتارة "ضعيف". فإذا نظروا إليه من حيث هو صالح للحجة قالوا: صحيح، وإذا نظروا إليه من حيث هو قريب مما لا يصلح للحجة قالوا: ضعيف.

ويقرُب من هذا ما قاله السخاوي: "ينبغي أن تتأمل أقوال المزكّين ومخارجها، فقد يقولون: فلان ثقة أو ضعيف، ولا يريدون به أنه ممن يُحتج بحديثه ولا ممن يُردّ، وإنما ذلك بالنسبة لمن قُرِن معه … وعلى هذا يُحمل أكثر ما ورد من اختلاف كلام أئمة الجرح والتعديل". "فتح المغيث" ص 142 - 143(3).

الثانية: إذا وجدنا مسألةً ذهب إليها إمام، وشاع أنه إنما استند إلى حديث ضعيف، لم يَجُز أن نَنْسب إليه أنه يرى الاحتجاج بالضعيف، بل

--------------------------------------------

(1) (1/ 71 وما بعدها).

(2) لعله أراد الشيخ محمد تقي العثماني في مقدمة كتابه "فتح الملهم شرح مسلم".

(3) (2/ 127).
[পৃষ্ঠা ৩] পরিচ্ছেদ

দুর্বল (ضعيف)-এর সংজ্ঞা উসুলুল হাদিসের কিতাবসমূহ এবং অন্যান্য গ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে, তাই সেটির দীর্ঘ বর্ণনায় আমরা যাব না। বরং আমরা এখানে কেবল গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করছি:

প্রথমত: ‘ফাতহুল মুগিস’(১)-এর মতো উসুলুল হাদিসের বিস্তারিত গ্রন্থাবলির হাসান (حسن) অধ্যায়টি গভীরভাবে পর্যালোচনা করলে জানা যায় যে, ইমাম তিরমিজি এবং তাঁর পরবর্তী যুগ থেকেই হাসান (حسن)-কে একটি স্বতন্ত্র প্রকার হিসেবে গণ্য করার পরিভাষাটি স্থির হয়েছে।

এর মাধ্যমে কোনো কোনো মহান মনীষীর(২) বক্তব্য সুস্পষ্ট হয় যে, বর্তমানে যেটিকে হাসান (حسن) নামে অভিহিত করার পরিভাষা স্থির হয়েছে, প্রাচীন ইমামগণ সেটিকে কখনো সহিহ (صحيح) আবার কখনো দুর্বল (ضعيف) বলে অভিহিত করতেন। যখন তাঁরা এটিকে দলিলের যোগ্য হওয়ার দিক থেকে বিবেচনা করতেন তখন বলতেন: সহিহ (صحيح), আর যখন তাঁরা দলিলের অযোগ্য হওয়ার নিকটবর্তী হওয়ার দিক থেকে বিবেচনা করতেন তখন বলতেন: দুর্বল (ضعيف)।

আল্লামা সাখাভী যা বলেছেন তা এর কাছাকাছি: "তাজকিয়াহ প্রদানকারীদের বক্তব্য ও সেগুলোর প্রেক্ষাপট নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করা উচিত। কেননা তাঁরা হয়তো বলতে পারেন: অমুক ব্যক্তি নির্ভরযোগ্য (ثقة) অথবা দুর্বল (ضعيف), অথচ এর দ্বারা তাঁরা এটি বুঝাতে চান না যে তাঁর হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করা যাবে কিংবা তাঁর হাদিস প্রত্যাখ্যাত হবে; বরং এটি কেবল তাঁর সাথে তুলনা করা ব্যক্তির সাপেক্ষে বলা হয় … আর জারহ ও তাদিল (الجرح والتعديل)-এর ইমামদের বক্তব্যের মাঝে যে অধিকাংশ মতপার্থক্য পরিলক্ষিত হয়, তা এই বিষয়ের ওপরই প্রয়োগ করা হয়।" "ফাতহুল মুগিস" পৃষ্ঠা ১৪২ - ১৪৩(৩)।

দ্বিতীয়ত: যদি আমরা এমন কোনো মাসআলা পাই যা কোনো ইমাম গ্রহণ করেছেন এবং এটি প্রসিদ্ধি লাভ করেছে যে তিনি কেবল একটি দুর্বল (ضعيف) হাদিসের ওপর ভিত্তি করেই তা করেছেন, তবে তাঁর প্রতি এমন কথা নিসবত করা বৈধ হবে না যে তিনি দুর্বল (ضعيف) হাদিসকে দলিল হিসেবে গ্রহণ করাকে সমর্থন করেন, বরং

--------------------------------------------

(১) (১/ ৭১ এবং পরবর্তী পৃষ্ঠাগুলো)।

(২) সম্ভবত তিনি তাঁর "ফাতহুল মুলহিম শারহ মুসলিম" গ্রন্থের ভূমিকায় শাইখ মুহাম্মদ তাকি উসমানিকে বুঝিয়েছেন।

(৩) (২/ ১২৭)।
(খণ্ড: ১৫) আহকামুল হাদিসিজ যয়ীফ - জিমনা আসারুল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ১৫৭)
نقول: لعله ظن الحديث صحيحًا، إما لعدم علمه [ص 4] بجرح الراوي، وإما لأنه اعتضد عنده بدليلٍ قويّ عنده، إما بفهمه من القرآن، أو الأحاديث الثابتة، أو قياس، أو قول صحابيّ، أو إجماع ظنّه، أو عَمَل أهل بَلَدِه، أو غير ذلك.

الثالثة: إذا عَرَضتْ للمجتهد مسألة لم يجد لها دليلًا وإنما بلَغَه فيها حديثٌ ضعيف، فيجوز أن يؤدّيه اجتهاده إلى تصحيحه؛ لأن أمامه ثلاثة احتمالات:

أحدها: أن تكون الشريعةُ أهملت هذه المسألة.

الثاني: أن الأمة أضاعت الدليلَ الخاصَّ بتلك المسألة.

الثالث: أن يكون هناك دليل محفوظ، ولكن خفي على المجتهد.

والأوّلان باطلان فيتعيّن الثالث، وفيه احتمالان:

أحدهما: أن يكون ذلك الدليل غير هذا الضعيف ومخالفًا له.

الثاني: أن يكون هو ذلك الضعيف يُروى من طريق ثابتة، أو دليلًا آخر موافقًا له، والنظر يُساعد على ترجيح هذا الثاني.

فعلى هذا لم يَبْقَ هذا الضعيف ضعيفًا عند المجتهد، بل ترقّى عنده إلى رتبة الحسن بهذا النظر. فتدبّر.

الرابعة: قد يكون نوع أو فرد من الحديث صحيحًا في نظر مجتهد وهو ضعيف عند غيره، فإذا احتجّ ذلك المجتهد بما هذا حاله من الحديث أو عَمِل به فإنما عمل بالصحيح [ص 5] في رأيه، فمِنَ الغفلة والمغالطة أن
আমরা বলতে পারি: সম্ভবত তিনি হাদিসটিকে সহিহ (صحيح) মনে করেছেন, হয় রাবির ত্রুটি বর্ণন (جرح) সম্পর্কে তাঁর জ্ঞান না থাকার কারণে, অথবা সেটি তাঁর নিকট কোনো শক্তিশালী দলিলের মাধ্যমে সমর্থিত হওয়ার কারণে—হোক তা কুরআন থেকে তাঁর বুঝ অনুযায়ী, অথবা প্রমাণিত (ثابتة) হাদিসসমূহের মাধ্যমে, অথবা কিয়াস (قياس)-এর মাধ্যমে, অথবা কোনো সাহাবীর বক্তব্যের মাধ্যমে, অথবা এমন কোনো ইজমা (إجماع) যা তিনি মনে করেছেন, অথবা তাঁর শহরের অধিবাসীদের আমলের কারণে, কিংবা অন্য কোনো কারণে।

তৃতীয়ত: যখন কোনো মুজতাহিদ (مجتهد)-এর নিকট এমন কোনো মাসয়ালা উপস্থিত হয় যার কোনো দলিল তিনি খুঁজে পান না, অথচ সে বিষয়ে তাঁর নিকট একটি দুর্বল (ضعيف) হাদিস পৌঁছেছে, তখন তাঁর ইজতিহাদ (اجتهاد) তাঁকে হাদিসটিকে সহিহ (تصحيح) হিসেবে গ্রহণ করার দিকে ধাবিত করতে পারে; কারণ তাঁর সামনে তিনটি সম্ভাবনা থাকে:

প্রথমটি: শরিয়ত এই মাসয়ালাটিকে উপেক্ষা করেছে।

দ্বিতীয়টি: উম্মত উক্ত মাসয়ালার বিশেষ দলিলটি হারিয়ে ফেলেছে।

তৃতীয়টি: সেখানে কোনো সংরক্ষিত দলিল বিদ্যমান আছে, কিন্তু তা মুজতাহিদ (مجتهد)-এর নিকট অস্পষ্ট রয়ে গেছে।

আর প্রথম দুটি সম্ভাবনা বাতিল, ফলে তৃতীয়টিই নির্ধারিত হয়। আর এর মধ্যে দুটি সম্ভাবনা রয়েছে:

প্রথমটি: সেই দলিলটি এই দুর্বল (ضعيف) হাদিসটি ছাড়া অন্য কিছু এবং এর পরিপন্থী।

দ্বিতীয়টি: সেটি এই দুর্বল (ضعيف) হাদিসটিই হতে পারে যা কোনো প্রমাণিত (ثابتة) সূত্রের মাধ্যমে বর্ণিত হয়েছে, অথবা এটি এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ অন্য কোনো দলিল হতে পারে। আর সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ এই দ্বিতীয় সম্ভাবনাটিকে প্রাধান্য (ترجيح) দিতে সহায়তা করে।

সুতরাং এমতাবস্থায় এই দুর্বল (ضعيف) হাদিসটি মুজতাহিদ (مجتهد)-এর নিকট আর দুর্বল (ضعيف) থাকে না, বরং এই পর্যালোচনার মাধ্যমে তা তাঁর নিকট হাসান (حسن) স্তরে উন্নীত হয়। বিষয়টি গভীরভাবে অনুধাবন করুন।

চতুর্থত: কোনো এক প্রকারের হাদিস বা বিশেষ কোনো হাদিস একজন মুজতাহিদ (مجتهد)-এর দৃষ্টিতে সহিহ (صحيح) হতে পারে, অথচ অন্যজনের নিকট তা দুর্বল (ضعيف)। সুতরাং সেই মুজতাহিদ (مجتهد) যখন এই পর্যায়ের কোনো হাদিস দ্বারা দলিল পেশ (احتج) করেন বা সে অনুযায়ী আমল করেন, তখন তিনি মূলত তাঁর মতে সহিহ (صحيح) হাদিস অনুযায়ীই আমল করেন। সুতরাং এটি অসতর্কতা ও বিভ্রান্তি যে...
(খণ্ড: ১৫) আহকামুল হাদিসিজ যয়ীফ - জিমনা আসারুল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ১৫৮)
يُنسَب إليه أنه يعمل بالضعيف أو يُحتج بفعله على جواز العمل بالضعيف مطلقًا.

الخامسة: قد يكون نوع أو فرد من الحديث ضعيفًا عند مجتهد ضعفًا يسيرًا، فينصّ أنه إذا اعتضد بكذا (ويذكر عاضدًا ضعيفًا) صار حجةً، مع أنّ ذلك العاضد لا يُصَيّر كلَّ حديث ضعيف حجة عند ذلك المجتهد، وعلى هذا فلا يصح أن يُنسَب إلى ذلك المجتهد العمل بالضعيف.

[ص 6] فصل

نقل بعضُهم حكايةَ الإجماع على أن الأحكام لا تثبت بالضعيف، كما سيوافيك في كلام الدواني، وقد يخدش في ذلك أمور:

الأول: ما نُسِب إلى أبي حنيفة رحمه الله أنه يحتج بالضعيف ويقدّمه على القياس(1).

ولم يُنقل عن أبي حنيفة نصّ بهذا على أنه أصل وقاعدة، وإنما حُكيت عنه مسائل ذهب إليها ولم يوجد لها دليل إلا حديث ضعيف مع مخالفتها للقياس. ولما كان المشهور عن أبي حنيفة أنه يقدّم القياس على الأحاديث الصحيحة، ولهذا سمّوه وأصحابَه "أهل الرأي" حاول بعض أتباعه أن يدفع هذا ويبالغ في نفيه فقال: بل مذهب أبي حنيفة تقديم الحديث الضعيف على القياس، وحكى تلك المسائل، وأضاف إلى ذلك:

--------------------------------------------

(1) انظر "أصول البزدوي" (ص 5)، و"الإحكام" (7/ 54) لابن حزم، و"إعلام الموقعين": (2/ 145).

 

وانظر للمؤلف: "التنكيل": (1/ 37 - 40)، و"تنزيه الإمام الشافعي": (ص 329 - 330 ضمن هذا المجموع).
তাঁর প্রতি সম্বন্ধ করা হয় যে, তিনি দুর্বল (ضعيف) হাদিস অনুযায়ী আমল করেন অথবা তাঁর কর্মকে ঢালাওভাবে দুর্বল (ضعيف) হাদিসের ওপর আমল করার বৈধতার স্বপক্ষে দলিল (حجة) হিসেবে পেশ করা হয়।

পঞ্চম: কোনো সময় কোনো হাদিসের প্রকার বা কোনো একক হাদিস একজন মুজতাহিদের নিকট সামান্য দুর্বল (ضعيف) হতে পারে। তখন তিনি সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, এটি যদি অমুক বিষয়ের মাধ্যমে শক্তি অর্জন করে (এবং তিনি একটি দুর্বল (ضعيف) সমর্থনকারী (عاضد) বর্ণনা উল্লেখ করেন), তবে তা দলিল (حجة) হিসেবে গণ্য হবে। অথচ সেই সমর্থনকারী (عاضد) বর্ণনাটি ওই মুজতাহিদের নিকট প্রতিটি দুর্বল (ضعيف) হাদিসকে দলিলে (حجة) পরিণত করে না। এমতাবস্থায়, উক্ত মুজতাহিদের প্রতি দুর্বল (ضعيف) হাদিসের ওপর আমল করার বিষয়টি সম্বন্ধ করা সঠিক নয়।

[পৃষ্ঠা ৬] পরিচ্ছেদ

তাঁদের কেউ কেউ এই মর্মে ঐকমত্য (إجماع) বর্ণনা করেছেন যে, দুর্বল (ضعيف) হাদিসের মাধ্যমে শরয়ি বিধান সাব্যস্ত হয় না, যেমনটি আপনি দাওয়ানির বক্তব্যে অচিরেই পাবেন। তবে এখানে কিছু বিষয় আপত্তি সৃষ্টি করতে পারে:

প্রথমত: ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর প্রতি যা সম্বন্ধ করা হয়েছে যে, তিনি দুর্বল (ضعيف) হাদিসকে দলিল (حجة) হিসেবে গ্রহণ করেন এবং একে কিয়াসের (قياس) ওপর প্রাধান্য দেন।(১)

আবু হানিফা থেকে এমন কোনো স্পষ্ট বক্তব্য বর্ণিত হয়নি যে এটি একটি মূলনীতি (أصل) বা নিয়ম (قاعدة)। বরং তাঁর থেকে এমন কিছু মাসআলা বর্ণনা করা হয়েছে যা তিনি গ্রহণ করেছেন এবং কিয়াসের (قياس) পরিপন্থী হওয়া সত্ত্বেও সেগুলোর স্বপক্ষে দুর্বল (ضعيف) হাদিস ছাড়া অন্য কোনো দলিল পাওয়া যায় না। আর যেহেতু আবু হানিফার ব্যাপারে এটি প্রসিদ্ধ ছিল যে তিনি সহিহ হাদিসের ওপর কিয়াসকে (قياس) প্রাধান্য দেন, এবং এ কারণেই সমালোচকরা তাঁকে ও তাঁর অনুসারীদের "আহলে রায়" নামে অভিহিত করত; তাই তাঁর অনুসারীদের কেউ কেউ এটি খণ্ডন করার এবং অত্যন্ত জোরালোভাবে তা অস্বীকার করার চেষ্টা করেছেন। ফলে তারা বলেছেন: বরং আবু হানিফার মাযহাব হলো কিয়াসের (قياس) ওপর দুর্বল (ضعيف) হাদিসকে প্রাধান্য দেওয়া। তিনি সেই মাসআলাগুলো বর্ণনা করেছেন এবং এর সাথে আরও যোগ করেছেন:

--------------------------------------------

(১) দেখুন "উসুলুল বাজদাবি" (পৃষ্ঠা ৫), ইবনে হাজমের "আল-ইহকাম" (৭/ ৫৪), এবং "ইলামুল মুওয়াক্কিয়িন" (২/ ১৪৫)।

 

লেখকের আরও দেখুন: "আত-তানকিল" (১/ ৩৭ - ৪০), এবং "তানজিহুল ইমামিশ শাফিয়ি" (এই সংকলনের ৩২৯ - ৩৩০ পৃষ্ঠার অন্তর্ভুক্ত)।
(খণ্ড: ১৫) আহকামুল হাদিসিজ যয়ীফ - জিমনা আসারুল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ১৫৯)
أن أصحاب أبي حنيفة مجمعون على أن مذهبه تقديم الضعيف على القياس، كأنه أراد أن جميع أصحابه ينقلون عنه تلك المسائل ويذكرون في الاستدلال لها تلك الأحاديث الضعيفة.

وهذا كلّه مناورة، وقد عُلم جوابه من المهمّة الثانية(1). ومن راجع أصول الحنفية تبيَّن له الصواب.

الأمر الثاني: ما نُقل عن أحمد بن حنبل رحمه الله أنه يحتج بالضعيف إذا لم يكن في الباب غيره(2)، وقد عُلِم جوابه من المهمّة الأولى(3)، وبذلك أجاب بعض المحققين من أتباعه. ويؤيّده أن الناقلين مثّلوا الضعيفَ الذي يأخذ به إذا لم يجد غيره [ص 7] بحديث عَمرو بن شعيب عن أبيه عن جده، وهو من قبيل الحسن عند أحمد، كما يظهر من كلامه فيه؛ قال مرة في عَمْرو: له أشياء مناكير وإنما يُكتب حديثُه يُعتبر به، فأما أن يكون حجةً فلا. وقال مرةً: أنا أكتبُ حديثَه، وربما احتججنا به، وربما وَجَس في القلب منه شيء. وقال مرة: أصحاب الحديث إذا شاؤوا احتجوا بحديث عَمرو بن شعيب عن أبيه عن جده وإذا شاؤوا تركوه(4). وقال البخاري: رأيت أحمد بن حنبل وعلي ابن المديني وإسحاق بن راهويه وأبا عُبيد وعامة أصحابنا يحتجون بحديث عَمرو بن شعيب عن أبيه عن جده ما تركه أحدٌ

--------------------------------------------

(1) (ص 156).

(2) انظر "إعلام الموقعين": (2/ 55 و 145 - 146).

(3) (ص 156).

(4) انظر نصوص أحمد في "موسوعة أقوال أحمد في الرجال": (3/ 99 - 100).
আবু হানিফা (রহ.)-এর অনুসারীগণ এ বিষয়ে একমত যে, তাঁর মাযহাব হলো কিয়াসের (যৌক্তিক অনুমান) ওপর দুর্বল (ضعيف) হাদিসকে প্রাধান্য দেওয়া; যেন তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, তাঁর সকল অনুসারী তাঁর থেকে এই মাসআলাগুলো বর্ণনা করেন এবং এগুলোর সপক্ষে দলীল হিসেবে সেই দুর্বল (ضعيف) হাদিসগুলো উল্লেখ করেন।

আর এই সবটাই একটি কৌশলমাত্র, যার উত্তর দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ পরিচ্ছেদ(১) থেকে জানা গেছে। আর যে ব্যক্তি হানাফিদের মূলনীতি (উসুল) পর্যালোচনা করবে, তার কাছে সঠিক বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যাবে।

দ্বিতীয় বিষয়: ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রহ.) সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে যে, যখন কোনো বিষয়ে অন্য কিছু পাওয়া যায় না, তখন তিনি দুর্বল (ضعيف) হাদিস দ্বারা দলীল গ্রহণ করেন(২)। এর উত্তর প্রথম গুরুত্বপূর্ণ পরিচ্ছেদ(৩) থেকে জানা গেছে এবং তাঁর অনুসারীদের মধ্য থেকে কিছু গবেষক (মুহাক্কিক) এভাবেই উত্তর দিয়েছেন। এর সপক্ষে যুক্তি হলো, বর্ণনাকারীগণ সেই দুর্বল (ضعيف) হাদিসের উদাহরণ হিসেবে—যা তিনি অন্য কিছু না পেলে গ্রহণ করেন [পৃষ্ঠা ৭]—আমর ইবনে শুআইব তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণিত হাদিসটিকে পেশ করেছেন। এটি ইমাম আহমাদের নিকট হাসান (حسن) পর্যায়ের, যা এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য থেকে স্পষ্ট হয়; তিনি আমর সম্পর্কে একবার বলেছেন: তার বর্ণিত কিছু অগ্রহণযোগ্য (مناكير) বিষয় রয়েছে, তবে তার হাদিস লিখে রাখা হয় পর্যালোচনার (يعتبر به) জন্য; কিন্তু তা চূড়ান্ত দলীল (حجة) হওয়ার মতো নয়। তিনি অন্য একবার বলেছেন: আমি তার হাদিস লিখি, কখনো কখনো আমরা তা দ্বারা দলীল গ্রহণ করি এবং কখনো কখনো তা সম্পর্কে অন্তরে সংশয় জাগে। তিনি আরও একবার বলেছেন: হাদিস বিশারদগণ চাইলে আমর ইবনে শুআইব তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণিত হাদিস দ্বারা দলীল গ্রহণ করেন, আবার চাইলে তা বর্জন করেন(৪)। ইমাম বুখারি বলেছেন: আমি আহমাদ ইবনে হাম্বল, আলী ইবনুল মাদিনি, ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহি, আবু উবাইদ এবং আমাদের সাধারণ সঙ্গীগণকে আমর ইবনে শুআইব তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণিত হাদিস দ্বারা দলীল গ্রহণ করতে দেখেছি; তাদের কেউই এটি বর্জন করেননি।

--------------------------------------------

(১) (পৃষ্ঠা ১৫৬)।

(২) দেখুন "ইলামুল মুওয়াক্কিঈন": (২/ ৫৫ এবং ১৪৫ - ১৪৬)।

(৩) (পৃষ্ঠা ১৫৬)।

(৪) দেখুন ইমাম আহমাদের উক্তিগুলো "মাওসুআতু আকওয়ালি আহমাদ ফির রিজাল"-এ: (৩/ ৯৯ - ১০০)।
(খণ্ড: ১৫) আহকামুল হাদিসিজ যয়ীফ - জিমনা আসারুল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ১৬০)
من المسلمين(1). "تهذيب التهذيب"(2) ترجمة عَمرو.

ويتلخّص من كلام أحمد: أن حديث عَمرو ليس عنده بحجة مطلقًا وإنما يُحتج بأحاديثه التي لم يجس في النفس منها شيء، فإذا وَجَس في النفس من حديثه شيء لم يحتج به، وذلك بأن يكون الحديث منكرًا أي مخالفًا لدليل أقوى منه.

وهذا شأن الثقات كلهم ولكن كأنّ هذا الضرب من المناكير وقع في حديث عَمرو أكثر مما وقع في حديث وكيع وأضرابه، ولم يبلغ في الكثرة إلى حدّ يوقع الشكَّ في جميع حديثه. على أنّ يعقوب بن شيبة قال: "والأحاديث التي أنكروا من حديثه إنما هي لقومٍ ضعفاء رووها عنه، وما روى عنه الثقات فصحيح". وقال أبو زُرعة: "عامة المناكير تُروى عنه إنما هي عن المثنّى بن الصبّاح وابن لهيعة والضعفاء، وهو ثقة في نفسه … ". وقال إسحاق بن راهويه: "إذا كان الراوي [ص 8] عن عمرو بن شعيب عن أبيه عن جده ثقة فهو كأيوب عن نافع عن ابن عمر". "تهذيب التهذيب"(3) أيضًا.

فإن ثبت عن أحمد الاحتجاج بالضعيف المصطَلَح عليه إذ(4) لم يجد في الباب غيره، فقد مرَّ توجيه ذلك في المهمة الثالثة(5).

--------------------------------------------

(1) انظر نحوه في "التاريخ الكبير": (6/ 343).

(2) (8/ 48 - 55).

(3) نفسه.

(4) كذا في الأصل.

(5) (ص 157).
মুসলিমদের মধ্য থেকে(১)। "তাহজিবুত তাহজিব"(২) আমরের জীবনী অংশ।

ইমাম আহমদের বক্তব্য থেকে সারসংক্ষেপ এই যে: আমরের হাদিস তাঁর নিকট নিঃশর্তভাবে দলিল (حجة) নয়; বরং কেবল তাঁর ওইসব হাদিস দ্বারা দলিল গ্রহণ (يُحتج) করা যাবে যা সম্পর্কে অন্তরে কোনো খটকা জাগে না। আর যখন তাঁর কোনো হাদিস সম্পর্কে অন্তরে খটকা জাগে, তখন তা দ্বারা দলিল গ্রহণ করা যাবে না। আর তা হলো হাদিসটি প্রত্যাখ্যাত (منكرًا) হওয়া, অর্থাৎ তা অপেক্ষা অধিক শক্তিশালী কোনো দলিলের পরিপন্থী হওয়া।

এটি সকল নির্ভরযোগ্য (الثقات) বর্ণনাকারীদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য, তবে মনে হয় এ ধরনের প্রত্যাখ্যাত বর্ণনা (المناكير) ওকি এবং তাঁর সমপর্যায়ের বর্ণনাকারীদের হাদিসের তুলনায় আমরের হাদিসে অধিক পরিমাণে ঘটেছে। তবে তা এতোটাও বেশি নয় যা তাঁর সকল হাদিসের ব্যাপারে সংশয় সৃষ্টি করবে। অধিকন্তু ইয়াকুব বিন শায়বাহ বলেছেন: "তাঁর হাদিসগুলোর মধ্যে যেগুলোকে তারা প্রত্যাখ্যান করেছেন, সেগুলো মূলত একদল দুর্বল (ضعفاء) বর্ণনাকারী তাঁর থেকে বর্ণনা করেছে। আর নির্ভরযোগ্য (الثقات) বর্ণনাকারীগণ তাঁর থেকে যা বর্ণনা করেছেন তা বিশুদ্ধ (صحيح)।" আবু জুরআহ বলেন: "তাঁর থেকে বর্ণিত অধিকাংশ প্রত্যাখ্যাত হাদিস (المناكير) মূলত মুসান্না বিন সাবাহ, ইবনে লাহিয়া এবং অন্যান্য দুর্বল (الضعفاء) বর্ণনাকারীদের সূত্রে বর্ণিত। আর তিনি স্বয়ং নির্ভরযোগ্য (ثقة) … ।" ইসহাক বিন রাহওয়াইহ বলেন: "যদি আমর ইবনে শুয়াইব তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনাকারী [পৃ. ৮] ব্যক্তি নির্ভরযোগ্য (ثقة) হন, তবে তা আইয়ুব সূত্রে নাফে থেকে এবং তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনার মতোই।" এটিও "তাহজিবুত তাহজিব"(৩)-এ রয়েছে।

যদি ইমাম আহমদ থেকে পরিভাষা অনুযায়ী দুর্বল (الضعيف) হাদিস দ্বারা দলিল গ্রহণ (الاحتجاج) প্রমাণিত হয় যখন তিনি উক্ত বিষয়ে অন্য কিছু পান না, তবে তার ব্যাখ্যা তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায়(৫) অতিবাহিত হয়েছে।

--------------------------------------------

(1) অনুরূপ দেখুন "আত-তারিখুল কাবির": (৬/ ৩৪৩)।

(2) (৮/ ৪৮ - ৫৫)।

(3) প্রাগুক্ত।

(4) মূলে এভাবেই আছে।

(5) (পৃ. ১৫৭)।
(খণ্ড: ১৫) আহকামুল হাদিসিজ যয়ীফ - জিমনা আসারুল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ১৬১)
وأما ما رواه عبد الله بن أحمد: "أنه سأل أباه عن الرجل يكون ببلدٍ لا يجد فيها إلا صاحبَ حديث لا يدري صحيحه من سقيمه، وصاحبَ رأي، فمن يسأل؟ قال: يسأل صاحبَ الحديث"(1).

فوجْهُه أنه رأى أن كلام الرجلين يمكن أن يصيب ويمكن أن يُخطئ، والخطأ مع قَصْد الاتِّباع خير من الخطأ على قَصْد العمل بالرأي، والفَرْضُ أن صاحبَ الرأي جاهل بالحديث كما هو ظاهر.

وفي مذهب أحمد كثير من المسائل بناها على القياس وخالف أحاديث ضعيفة وردت فيها، منها المسائل التي نُسِب إلى أبي حنيفة أنه بناها على أحاديث ضعاف مخالفة للقياس، كانتقاض الوضوء بالقهقهة في الصلاة وغيرها.

 

الأمر‌‌ الثالث: ما حُكي عن أبي داود أنه يحتجّ بالضعيف إذا لم يكن في الباب غيره. وكأنّهم أخذوا ذلك من قوله في "رسالته إلى أهل مكة"(2): "وأما المراسيل فقد كان يحتج بها العلماء فيما مضى … فإذا لم يكن مسند غير(3) المراسيل، ولم يوجد المسند، فالمرسل يُحتجّ به، وليس هو مثل المتصل في القوّة … وأما ما كان في كتابي من حديث فيه وهن شديد فقد بينتُه، ومنه ما لم يصح سندُه. وما لم أذكر فيه شيئًا فهو صالح".

هذا مع أن في كتابه أحاديث ضعيفة سكت عنها.

--------------------------------------------

(1) في "مسائل عبد الله" (ص 275) بنحوه، وانظر "تاريخ بغداد": (13/ 448)، و"ذم الكلام": (2/ 264) للهروي.

(2) (ص 64 - 69).

(3) كذا، والذي في الأصول الخطية للرسالة "ضد" وهو الأصح من جهة المعنى.
আর আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ যা বর্ণনা করেছেন: "তিনি তাঁর পিতাকে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে এমন এক শহরে বাস করে যেখানে সে একজন হাদিস বিশারদ (যিনি হাদিসের বিশুদ্ধ (صحيح) ও দুর্বল (سقيم) দিক সম্পর্কে অবগত নন) এবং একজন রায়ের (যুক্তিনির্ভর মতবাদ) অনুসারী ছাড়া আর কাউকে পায় না; তবে সে কাকে জিজ্ঞাসা করবে? তিনি বললেন: সে হাদিস বিশারদকেই জিজ্ঞাসা করবে।"(1).

এর কারণ হলো, তিনি মনে করতেন যে উভয় ব্যক্তির কথাই সঠিক হতে পারে আবার ভুলও হতে পারে। তবে অনুসরণের সংকল্প নিয়ে ভুল করা, নিজস্ব রায়ের ভিত্তিতে আমল করার সংকল্প নিয়ে ভুল করার চেয়ে উত্তম। আর এখানে ধরে নেওয়া হয়েছে যে, রায়ের অনুসারী ব্যক্তি হাদিস সম্পর্কে অজ্ঞ, যেমনটি স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান।

আহমদের মাযহাবে এমন অনেক মাসআলা রয়েছে যা তিনি কিয়াসের ওপর ভিত্তি করে সমাধান করেছেন এবং সেই বিষয়ে বর্ণিত দুর্বল (ضعيف) হাদিসসমূহের বিরোধিতা করেছেন। এর মধ্যে এমন কিছু মাসআলা রয়েছে যা আবু হানিফার দিকে নিসবত করা হয় যে, তিনি কিয়াসের বিপরীতে গিয়ে দুর্বল (ضعيف) হাদিসসমূহের ওপর ভিত্তি করে সেগুলো সমাধান করেছেন, যেমন নামাজে অট্টহাসির কারণে ওজু ভেঙে যাওয়া এবং অন্যান্য মাসআলা।

 

তৃতীয়‌ ‌বিষয়: আবু দাউদ সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে যে, যখন কোনো অধ্যায়ে অন্য কিছু পাওয়া না যায় তখন তিনি দুর্বল (ضعيف) হাদিস দ্বারা দলিল গ্রহণ করতেন। সম্ভবত তারা এটি তাঁর "রিসালাতু ইলা আহলি মাক্কাহ"(2)-এর উক্তি থেকে গ্রহণ করেছেন: "আর মুরসাল (مرسل) হাদিসসমূহের ক্ষেত্রে কথা হলো, পূর্ববর্তী উলামাগণ এর মাধ্যমে দলিল গ্রহণ করতেন... সুতরাং যখন মুরসাল (مرسل) ব্যতীত অন্য কোনো মুসনাদ (مسند) হাদিস থাকে না এবং কোনো মুসনাদ (مسند) হাদিস পাওয়া যায় না, তখন মুরসাল (مرسل) হাদিস দ্বারাই দলিল গ্রহণ করা হয়। তবে এটি শক্তিশালী হওয়ার ক্ষেত্রে মুত্তাসিল (متصل) হাদিসের মতো নয়... আর আমার কিতাবে এমন যেসব হাদিস রয়েছে যাতে তীব্র দুর্বলতা রয়েছে তা আমি বর্ণনা করে দিয়েছি, আর তার মধ্যে কিছু এমন যার সনদ (سند) বিশুদ্ধ নয়। আর যে বিষয়ে আমি কিছু উল্লেখ করিনি তা গ্রহণযোগ্য (صالح)।"(3)

অথচ তাঁর কিতাবে এমন অনেক দুর্বল (ضعيف) হাদিস রয়েছে যেগুলোর ব্যাপারে তিনি নীরবতা অবলম্বন করেছেন।

--------------------------------------------

(1) 'মাসাইলু আবদুল্লাহ' (পৃ. ২৭৫)-তে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে, আরও দেখুন 'তারিখু বাগদাদ': (১৩/ ৪৪৮), এবং আল-হারাউয়ি রচিত 'যাম্মুল কালাম': (২/ ২৬৪)।

(2) (পৃ. ৬৪ - ৬৯)।

(3) এরূপই আছে, তবে রিসালার মূল পাণ্ডুলিপিসমূহে 'দিদ্দ' (বিপরীত) শব্দটি রয়েছে, যা অর্থের দিক থেকে অধিকতর সঠিক।
(খণ্ড: ১৫) আহকামুল হাদিসিজ যয়ীফ - জিমনা আসারুল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ১৬২)
وعبارته تُشْعِر بأنه متردّد في تصحيح المرسل مطلقًا، ومال إلى تصحيحه إذا لم يوجد غيره، وكأنّ ذلك لِمَا مرَّ في المهمة الثالثة(1). مع أن "غير المراسيل"(2) بلفظ الجمع ربما يُشْعِر باشتراطه اعتضاد المرسل بمرسل آخر كما هو رأي الشافعي على ما يأتي.

وأما قوله: "وما كان في كتابي فيه وهن شديد .. إلخ" فقد بيَّن المحققون أن مراده بالصالح ما هو أعم من الصالح للحجة والصالح للاعتبار، فيُحْمَل ما في الكتاب من [ص 9] أحاديث ضعيفة سكت عنها على أنها عنده صالحة للاعتبار فقط. ويرشد إلى هذا قوله: "وهن شديد" فإنه يدل على أنه لم يبيِّن ما فيه وهن وليس بالشديد. انظر "فتح المغيث"(3) وغيره.

الأمر الرابع: ما ذهب إليه مالك وغيره من الاحتجاج بالمرسل، وقد عُلِم جوابه من المهمة الرابعة(4).

الأمر الخامس: ما ذهب إليه الشافعي من الاحتجاج بالمرسل إذا اعتضد بمرسل آخر من وجه آخر، أو بقول صحابيّ أو نحوه على تفصيل له في ذلك(5). وقد عُلِم الجواب عنه من المهمة الخامسة(6).

--------------------------------------------

(1) (ص 157).

(2) سبق أن الثابت في الأصول في لفظة "غير المراسيل"= "ضد المراسيل" وعليه يكون المعنى: إذا لم يوجد مسند مضاد للمرسل، ولم نجد مسندًا يُغني عنه فإنه يُقبل.

(3) (1/ 88).

(4) انظر (ص 157).

(5) ذكره في كتاب "الرسالة" (ص 462 فما بعدها).

(6) انظر (ص 158).
তাঁর বক্তব্য নির্দেশ করে যে তিনি সাধারণভাবে বিচ্ছিন্ন (مرسل) হাদিসকে সহিহ সাব্যস্ত করার (تصحيح) ব্যাপারে দ্বিধান্বিত ছিলেন এবং যখন এর বিপরীতে অন্য কিছু পাওয়া যায় না তখন একে সহিহ সাব্যস্ত করার (تصحيح) দিকে ঝুঁকেছেন। সম্ভবত এর কারণ হচ্ছে যা তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ পরিচ্ছেদে অতিবাহিত হয়েছে(1)। যদিও "বিচ্ছিন্ন হাদিসসমূহের বিপরীত" (غير المراسيل)(2) বহুবচন শব্দটি সম্ভবত ইঙ্গিত দেয় যে, একটি বিচ্ছিন্ন (مرسل) হাদিস অন্য আরেকটি বিচ্ছিন্ন (مرسل) হাদিস দ্বারা শক্তিশালী হওয়ার (اعتضاد) শর্ত রয়েছে, যেমনটি ইমাম শাফি'ঈর অভিমত যা সামনে আসবে।

আর তাঁর এই উক্তি: "আমার কিতাবে যে হাদিসে তীব্র দুর্বলতা (وهن شديد) রয়েছে... ইত্যাদি" এর পরিপ্রেক্ষিতে গবেষকগণ (المحققون) স্পষ্ট করেছেন যে, উপযুক্ত (صالح) বলতে তাঁর উদ্দেশ্য হলো দলিলের জন্য উপযুক্ত (الصالح للحجة) এবং বিবেচনার জন্য উপযুক্ত (الصالح للاعتبار)-এর চেয়েও ব্যাপকতর বিষয়। সুতরাং কিতাবটিতে [পৃষ্ঠা ৯] বিদ্যমান যেসকল দুর্বল (ضعيفة) হাদিস সম্পর্কে তিনি নীরবতা অবলম্বন (سكت عنها) করেছেন, সেগুলোকে তাঁর নিকট কেবল বিবেচনার জন্য উপযুক্ত (صالحة للاعتبار) হিসেবে গণ্য করা হবে। তাঁর উক্তি: "তীব্র দুর্বলতা (وهن شديد)" একথাই নির্দেশ করে, কেননা তা প্রমাণ করে যে তিনি সেই হাদিসগুলো স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেননি যাতে দুর্বলতা (وهن) রয়েছে অথচ তা তীব্র নয়। দেখুন "ফাতহুল মুগিস"(3) এবং অন্যান্য।

চতুর্থ বিষয়: বিচ্ছিন্ন (مرسل) হাদিসকে দলিল হিসেবে গ্রহণ করার (الاحتجاج) ব্যাপারে ইমাম মালিক এবং অন্যদের অভিমত; আর এর উত্তর চতুর্থ গুরুত্বপূর্ণ পরিচ্ছেদ(4) থেকে জানা গেছে।

পঞ্চম বিষয়: বিচ্ছিন্ন (مرسل) হাদিসকে দলিল হিসেবে গ্রহণ করার (الاحتجاج) ব্যাপারে ইমাম শাফি'ঈর অভিমত, যখন তা অন্য কোনো সূত্রের ভিন্ন একটি বিচ্ছিন্ন (مرسل) হাদিস দ্বারা অথবা কোনো সাহাবি (صحابي) এর উক্তি বা অনুরূপ কিছুর মাধ্যমে শক্তিশালী (اعتضد) হয়—এ বিষয়ে তাঁর বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে(5)। এর উত্তর পঞ্চম গুরুত্বপূর্ণ পরিচ্ছেদ(6) থেকে জানা গেছে।

--------------------------------------------

(1) (পৃষ্ঠা ১৫৭)।

(2) পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মূল পাণ্ডুলিপিগুলোতে "বিচ্ছিন্ন হাদিসসমূহের বিপরীত" (غير المراسيل) শব্দটির পরিবর্তে "বিচ্ছিন্ন হাদিসসমূহের বিপরীত" (ضد المراسيل) কথাটি সাব্যস্ত হয়েছে। সেই অনুযায়ী অর্থ হবে: যদি বিচ্ছিন্ন (مرسل) হাদিসের বিপরীত কোনো মুসনাদ হাদিস না পাওয়া যায় এবং আমরা এমন কোনো মুসনাদ হাদিস না পাই যা একে অপ্রয়োজনীয় করে দেয়, তবে তা কবুল করা হবে।

(3) (১/ ৮৮)।

(4) দেখুন (পৃষ্ঠা ১৫৭)।

(5) তিনি এটি "আর-রিসালাহ" কিতাবে উল্লেখ করেছেন (পৃষ্ঠা ৪৬২ এবং পরবর্তী)।

(6) দেখুন (পৃষ্ঠা ১৫৮)।
(খণ্ড: ১৫) আহকামুল হাদিসিজ যয়ীফ - জিমনা আসারুল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ১৬৩)
[ص 10] فصل

قال الجلال الدواني في كتابه "أنموذج العلوم"(1): "اتفقوا على أن الحديث الضعيف لا تثبت به الأحكام الشرعية، ثم ذكروا أنه يجوز بل يستحبّ العمل بالحديث الضعيف في فضائل الأعمال … وفيه إشكال؛ لأن جواز العمل واستحبابه كلاهما من الأحكام الخمسة". نقله السيد الإمام عبد الرحمن بن سليمان الأهدل في "المنهج السوي"(2).

أقول: أول من أحفظ عنه الكلام في مسألة العمل بالضعيف في الفضائل صراحةً هو القاضي أبو بكر بن العربي المتوفى سنة 543، فإنهم نقلوا عنه أنه أنكر جواز العمل به(3)، ولعله صاحب العبارة التي حكاها ابن حجر الهيتمي عن بعض المانعين: "إن الفضائل إنما تُتلقّى عن الشارع فإثباتها بما ذكر اخْتِراع عبادة وشَرْعٌ لما لم يأذن به الله"(4).

ثم الشيخ عز الدين بن عبد السلام، فقد ذكر الحافظ ابن حجر في شروط جواز العمل بالضعيف ثلاثة شروط(5):

أحدها: أن يكون الضعف غير شديد، فيخرج من انفرد من الكذابين

--------------------------------------------

(1) (ص 2) ونقله عنه جمال الدين القاسمي في "قواعد التحديث" (ص 117 - 118).

(2) (ص).

(3) انظر "فتح المغيث": (1/ 333)، و"تدريب الراوي": (1/ 351).

(4) في "الفتح المبين" (ص 36).

(5) في "تبيين العجب لما ورد في فضل رجب" (ص 9).
[পৃষ্ঠা ১০] পরিচ্ছেদ

জালাল আল-দাওয়ানী তাঁর ‘উনমুজাজ আল-উলুম’(১) গ্রন্থে বলেছেন: "সকলে এই মর্মে ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, দুর্বল (ضعيف) হাদিস দ্বারা শরিয়তের বিধানসমূহ (الأحكام الشرعية) প্রমাণিত হয় না। অতঃপর তাঁরা উল্লেখ করেছেন যে, আমলের ফজিলত (فضائل الأعمال) বর্ণনার ক্ষেত্রে দুর্বল (ضعيف) হাদিসের ওপর আমল করা বৈধ (জায়েজ), বরং তা মুস্তাহাব (পছন্দনীয়) … তবে এতে সংশয় রয়েছে; কারণ কোনো আমল বৈধ হওয়া কিংবা মুস্তাহাব হওয়া—উভয়ই শরিয়তের পাঁচটি বিধানের (الأحكام الخمسة) অন্তর্ভুক্ত।" ইমাম সাইয়্যেদ আব্দুর রহমান বিন সুলাইমান আল-আহদাল তাঁর ‘আল-মানহাজ আল-সাওয়ী’(২) গ্রন্থে এটি উদ্ধৃত করেছেন।

আমি (লেখক) বলছি: ফজিলতের ক্ষেত্রে দুর্বল (ضعيف) হাদিসের ওপর আমল করার মাসআলায় আমি প্রথম যাঁর পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট বক্তব্য জানি, তিনি হলেন ৫৪৩ হিজরিতে ইন্তেকালকারী কাজী আবু বকর ইবনুল আরাবী। কেননা আলেমগণ তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি এর ওপর আমল করার বৈধতাকে অস্বীকার করেছেন(৩)। সম্ভবত তিনিই সেই বক্তব্যের প্রবক্তা যা ইবনে হাজার আল-হাইতামী কতিপয় নিষেধকারীর পক্ষ থেকে বর্ণনা করেছেন: "ফজিলতসমূহ কেবল শরিয়তদাতার পক্ষ থেকেই গ্রহণ করা হয়, সুতরাং উল্লিখিত বিষয়ের মাধ্যমে তা সাব্যস্ত করা হলো মূলত ইবাদত উদ্ভাবন করা এবং এমন বিধান প্রবর্তন করা যার অনুমতি আল্লাহ দেননি"(৪)।

অতঃপর শেখ ইজ্জুদ্দীন বিন আব্দুস সালাম (এর নাম উল্লেখযোগ্য)। হাফেজ ইবনে হাজার দুর্বল (ضعيف) হাদিসের ওপর আমল করার বৈধতার জন্য তিনটি শর্ত উল্লেখ করেছেন(৫):

প্রথমত: দুর্বলতা (ضعف) যেন তীব্র না হয়; ফলে এমন বর্ণনাকারী বাদ পড়ে যাবে যে মিথ্যাবাদী (كذابين) হওয়ার ক্ষেত্রে একক (অর্থাৎ যার কোনো সমর্থক বর্ণনা নেই)।

--------------------------------------------

(১) (পৃ. ২) এবং জামাল উদ্দীন আল-কাসেমী তাঁর ‘কাওয়ায়েদুত তাহদিস’ (পৃ. ১১৭ - ১১৮) গ্রন্থে এটি তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন।

(২) (পৃ.)।

(৩) দেখুন ‘ফাতহুল মুগিস’: (১/ ৩৩৩), এবং ‘তাদরীবুর রাবী’: (১/ ৩৫১)।

(৪) ‘আল-ফাতহুল মুবীন’ (পৃ. ৩৬) গ্রন্থে।

(৫) ‘তাবয়ীনুল আজাব বিমা ওয়ারাদা ফী ফাদলি রজব’ (পৃ. ৯) গ্রন্থে।
(খণ্ড: ১৫) আহকামুল হাদিসিজ যয়ীফ - জিমনা আসারুল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ১৬৪)
والمتهمين بالكذب ومَن فَحُش غلطُه. ونَقَل العلائيُّ الاتفاقَ عليه(1).

الثاني: أن يندرج تحت أصلٍ معمولٍ به.

الثالث: أن لا يعتقد عند العمل به ثبوته بل يعتقد الاحتياط.

وقال: هذان ذكرهما ابن عبد السلام وابن دقيق العيد. هكذا نقله السيوطي في "تدريب الراوي"(2).

ثم ابن دقيق العيد ولد سنة 635 وتوفي سنة 703. وقد مرَّ نقل ابن حجر عند اشتراط الشرطين السابقَين.

وقال الزركشي في مقدمة "الذهب الإبريز"(3) [ص 11] بعد أن ذكر جواز العمل بالضعيف: "وههنا أمران: أحدهما: قال أبو الفتح القُشيري ــ هو ابن دقيق العيد ــ حيث قلنا: يُعْمَل بالحديث الضعيف لدخوله تحت العمومات، فشرطه أن لا يقوم دليل على المنع منه أخصّ من تلك العمومات، مثاله: الصلاة المذكورة في ليلة أول جمعة من رجب، فإن الحديث فيها ضعيف، فمن أراد فِعْلها وإدراجها تحت العمومات الدالة على فضل الصلاة

--------------------------------------------

(1) نقله السيوطي في "التدريب".

(2) (1/ 351).

(3) كتاب "الذهب الإبريز في تخريج أحاديث فتح العزيز" للزركشي (795) لا يزال مخطوطًا. انظر "الفهرس الشامل- قسم الحديث": (2/ 797). وكلام ابن دقيق العيد في كتابه "إحكام الأحكام بشرح عمدة الأحكام": (2/ 150 - بحاشية الصنعاني) وقد نقله أيضًا ابن الملقن في "الإعلام بفوائد عمدة الأحكام": (2/ 398 - 404).
এবং মিথ্যেচারের অভিযোগে অভিযুক্ত (المتهم بالكذب) ও যাদের ভুল অত্যধিক (فحش غلطه) তাদের অন্তর্ভুক্ত হওয়া চলবে না। আল-আলাই এ বিষয়ে ঐক্যমত্য (الاتفاق) বর্ণনা করেছেন।(১).

দ্বিতীয়: তা যেন কোনো আমলযোগ্য মূলনীতির (أصل معمول به) অধীনে অন্তর্ভুক্ত হয়।

তৃতীয়: আমল করার সময় সেটি সাব্যস্ত বা প্রমাণিত (ثبوته) বলে বিশ্বাস না করা, বরং সতর্কতামূলক (الاحتياط) হিসেবে তা পালন করা।

তিনি বলেন: এই দুইটি বিষয় ইবনে আবদুস সালাম ও ইবনে দাকীক আল-ঈদ উল্লেখ করেছেন। জালালুদ্দীন সুয়ূতী 'তাদরীবুর রাবী' গ্রন্থে এভাবেই তা উদ্ধৃত করেছেন।(২).

অতঃপর ইবনে দাকীক আল-ঈদ ৬৩৫ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৭০৩ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। ইবনে হাজারের উদ্ধৃতি ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে যেখানে তিনি পূর্বোক্ত শর্তদ্বয়ের কথা উল্লেখ করেছেন।

যারকাশী 'আয-যাহাব আল-ইবরীয' এর ভূমিকায়(৩) [পৃষ্ঠা ১১] দুর্বল (ضعيف) হাদিসের ওপর আমল করার বৈধতা উল্লেখ করার পর বলেন: "এখানে দুটি বিষয় রয়েছে: একটি হলো: আবুল ফাতহ আল-কুশাইরী—যিনি ইবনে দাকীক আল-ঈদ—বলেছেন: আমরা যখন বলি যে, সাধারণ দালীলসমূহের (العمومات) অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণে দুর্বল (ضعيف) হাদিসের ওপর আমল করা যাবে, তখন শর্ত হলো সেই সাধারণ দালীলগুলোর চেয়ে অধিক সুনির্দিষ্ট (أخص) কোনো নিষেধাজ্ঞা যেন বিদ্যমান না থাকে। উদাহরণস্বরূপ: রজব মাসের প্রথম জুমার রাতে যে নামাজের কথা উল্লেখ করা হয়েছে; কেননা এ সংক্রান্ত হাদিসটি দুর্বল (ضعيف)। সুতরাং কেউ যদি তা পালন করতে চায় এবং নামাজের ফজিলত নির্দেশকারী সাধারণ দালীলসমূহের (العمومات) অধীনে তা অন্তর্ভুক্ত করতে চায়...

--------------------------------------------

(১) সুয়ূতী 'তাদরীব' গ্রন্থে এটি উদ্ধৃত করেছেন।

(২) (১/ ৩৫১)।

(৩) যারকাশীর (৭৯৫) 'আয-যাহাব আল-ইবরীয ফী তাখরীজি আহাদীছি ফাতহিল আযীয' গ্রন্থটি এখনও পাণ্ডুলিপি হিসেবে রয়েছে। দেখুন 'আল-ফিহরিস্ত আশ-শামিল - হাদিস বিভাগ': (২/ ৭৯৭)। আর ইবনে দাকীক আল-ঈদের বক্তব্য তার 'ইহকামুল আহকাম বিশারহি উমদাতিল আহকাম' গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে: (২/ ১৫০ - সান'আনীর টীকা সহ)। ইবনে মুলাক্কিনও 'আল-ই'লাম বি-ফাওয়াইদি উমদাতিল আহকাম' গ্রন্থে এটি উদ্ধৃত করেছেন: (২/ ৩৯৮ - ৪০৪)।
(খণ্ড: ১৫) আহকামুল হাদিসিজ যয়ীফ - জিমনা আসারুল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ১৬৫)
والتسبيحات لم يستقم؛ لأنه صح عن النبي صلى الله عليه وآله وسلم نَهْيٌ أن تُخَصّ ليلة الجمعة بقيام، وهذا أخصّ من العمومات الدالة على فضيلة الصلاة".

والنووي ولد سنة 631 وتوفي سنة 676. وهو الذي اشتهر عنه هذا القول، ونصّ عليه في عدة [من] كتبه، وحَكَى الاتفاقَ عليه، وفي أكثر كتبه ذِكْر الجواز فقط(1)، وفي "الأذكار"(2) الجواز والاستحباب، ولم ينص على شرطٍ أصلًا كما قاله السيوطي في "التدريب"(3) إلا أن الشروط المذكورة تؤخذ من كثير من أقواله.

ويظهر لي أن الصلاة ليلة أول جمعة من رجب هي التي أثارت هذا البحث، فقد حكى أبو شامة في كتابه "الباعث"(4) أن ابن الصلاح كان متولّيًا لمنصب الفتوى، فاسْتُفْتي عن الصلاة المذكورة، فأجاب بإنكارها وأنها محْدَثة، ثم اسْتُفتي مرة أخرى، فأجاب بنحو جوابه الأول. ثم فُصِل عن منصب الفتوى وأُقيم فيه الشيخ عز الدين ابن عبد السلام، فشدّد النكير على صلاة الرغائب، فعارضه ابنُ الصلاح [ص 12] وجوَّزها؛ معتذرًا بأنه قد ورد فيها حديث، وبأنها داخلة في عموم الترغيب في الصلاة، وصلاة الليل خاصة، فردّ ابنُ عبد السلام وتلامذتُه كأبي شامة وابن دقيق العيد بما تراه في

--------------------------------------------

(1) انظر "الأربعين" (ص 3)، و"المجموع": (1/ 59).

(2) (ص 8).

(3) (1/ 351).

(4) (ص 145).
এবং তাসবিহসমূহ (পড়া) সঠিক (لم يستقم) হয়নি; কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম থেকে জুমার রাতকে কিয়াম (সালাত)-এর জন্য নির্দিষ্ট করার ব্যাপারে একটি নিষেধাজ্ঞা (نهي) বিশুদ্ধভাবে (صح) প্রমাণিত হয়েছে। আর এটি সালাতের ফযিলত জ্ঞাপক সাধারণ দলীলসমূহের (العمومات) চেয়েও অধিক সুনির্দিষ্ট (أخص)।"

ইমাম নববী ৬৩১ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৬৭৬ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন। তিনিই এই বক্তব্যের জন্য প্রসিদ্ধি লাভ করেছেন এবং তাঁর একাধিক গ্রন্থে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি এ ব্যাপারে ঐকমত্য (الاتفاق) বর্ণনা করেছেন। তাঁর অধিকাংশ গ্রন্থে কেবল বৈধতার (الجواز) উল্লেখ রয়েছে(1), এবং 'আল-আযকার'(2) গ্রন্থে বৈধতা (الجواز) ও মুস্তাহাব (الاستحباب) হওয়ার কথা রয়েছে। যেমনটি সুয়ূতী 'তাদরীব'-এ(3) বলেছেন, তিনি আদতে কোনো শর্তের (شرط) কথা উল্লেখ করেননি, তবে উল্লিখিত শর্তসমূহ তাঁর অনেক বক্তব্য থেকে গৃহীত হয়েছে।

আমার কাছে প্রতীয়মান হয় যে, রজব মাসের প্রথম জুমার রাতের সালাতই এই আলোচনার সূত্রপাত ঘটিয়েছে। আবু শামাহ তাঁর 'আল-বা’ইছ' গ্রন্থে(4) বর্ণনা করেছেন যে, ইবনুল সালাহ ফতোয়া প্রদানের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। উক্ত সালাত সম্পর্কে তাঁর কাছে ফতোয়া চাওয়া হলে তিনি এটি প্রত্যাখ্যান (إنكار) করেন এবং বলেন যে এটি একটি নব-উদ্ভাবিত (محدثة) বিষয়। অতঃপর পুনরায় তাঁর কাছে ফতোয়া চাওয়া হলে তিনি প্রথম জবাবের অনুরূপ উত্তর দেন। এরপর তাঁকে ফতোয়ার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় এবং সেখানে শেখ ইজ্জুদ্দীন ইবন আবদুস সালামকে নিয়োগ করা হয়। তিনি 'সালাতুর রাগায়িব'-এর কঠোর প্রতিবাদ (النكير) করেন। তখন ইবনুল সালাহ তাঁর বিরোধিতা করেন এবং একে বৈধ (جوز) সাব্যস্ত করেন। তিনি যুক্তি পেশ করেন যে, এ বিষয়ে একটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে এবং এটি সালাতের প্রতি সাধারণ (عموم) উৎসাহ প্রদান এবং বিশেষত রাতের সালাতের অন্তর্ভুক্ত। ফলে ইবন আবদুস সালাম এবং তাঁর ছাত্রগণ যেমন—আবু শামাহ ও ইবন দাকীকুল ঈদ এর জবাব প্রদান করেন যা আপনি দেখতে পাবেন...

--------------------------------------------

(1) দেখুন 'আল-আরবাঈন' (পৃষ্ঠা ৩), এবং 'আল-মাজমু': (১/ ৫৯)।

(2) (পৃষ্ঠা ৮)।

(3) (১/ ৩৫১)।

(4) (পৃষ্ঠা ১৪৫)।
(খণ্ড: ১৫) আহকামুল হাদিসিজ যয়ীফ - জিমনা আসারুল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ১৬৬)
كتاب "الباعث" لأبي شامة(1).

وكان النوويّ من جملة من ردّ على ابن الصلاح، وصرّح بأن الصلاة المذكورة بدعة قبيحة(2).

ثم كأنَّ النوويَّ استخلص من البحث جواز العمل بالضعيف في الفضائل، وأيّد ذلك بما نقله عن أئمة السلف من النصوص في تساهلهم في رواية ما لم يكن فيه حُكم، كما ستراها. وكأنّه اعتضد ذلك عنده بفروعٍ للشافعي سَتَرِدُ عليك إن شاء الله، فجزم بالاتفاق على ذلك، ثم رأى أن الجواز لا فائدة له؛ لأن الفَرْض أنه ثابت بدون الضعيف فزاد الاستحباب كما صرّح به في "الأذكار"(3).

ومن العجب أن كتاب أبي شامة "الباعث على إنكار البدع والحوادث" لم يتصدَّ للكلام في العمل بالحديث الضعيف، مع أن القصد الأول منه إبطال الصلاة المذكورة، وتعرّض فيه لغالب ما جرى من الاحتجاج من الطرفين، نعم يؤخذ منه ما يخالف قولَ النوويِّ كما ستراه إن شاء الله.

ثم جاء مَن بَعْد النووي، فمنهم من ردّ عليه قوله أصلًا كالمحقق الشاطبي في "الاعتصام"(4). ومنهم من أرْعَبَتْه حكاية الاتفاق ولكنه لم ير

--------------------------------------------

(1) (ص 145 وما بعدها)، وهناك رسالة بعنوان "مساجلة علمية بين الإمامين العز بن عبد السلام وابن الصلاح حول صلاة الرغائب المبتدعة"، من مطبوعات المكتب الإسلامي بتحقيق الشيخ الألباني.

(2) انظر "المجموع شرح المهذب": (4/ 56).

(3) (ص 8).

(4) (2/ 16 - 20 ت مشهور).
আবু শামা রচিত "আল-বাইস" গ্রন্থ(১)।

ইমাম নববী ছিলেন ইবনে আস-সালাহ-এর উত্তর প্রদানকারীদের অন্তর্ভুক্ত এবং তিনি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন যে, উল্লিখিত সালাতটি একটি নিকৃষ্ট নব উদ্ভাবন (بدعة)(২)।

অতঃপর মনে হয় যে, ইমাম নববী গবেষণা থেকে ফযিলত (فضائل)-এর ক্ষেত্রে দুর্বল (ضعيف) হাদিসের ওপর আমল করার বৈধতার বিষয়টি নির্যাস হিসেবে গ্রহণ করেছেন। তিনি একে সমর্থন করেছেন পূর্বসূরি (سلف) ইমামগণের সেই সকল উক্তি দ্বারা, যা বিধান (حكم) বহির্ভূত বিষয়ের বর্ণনা (رواية) করার ক্ষেত্রে তাঁদের শিথিলতা সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে, যেমনটি আপনি সামনে দেখতে পাবেন। সম্ভবত ইমাম শাফেয়ীর কিছু শাখা মাসআলা দ্বারা তাঁর নিকট বিষয়টি আরও সুদৃঢ় হয়েছে যা ইনশাআল্লাহ আপনার সামনে আসবে; ফলে তিনি এ ব্যাপারে ঐকমত্যের (اتفاق) দৃঢ় নিশ্চয়তা প্রদান করেছেন। এরপর তিনি উপলব্ধি করলেন যে, এই বৈধতার কোনো সার্থকতা নেই; কারণ ধরে নেওয়া হয়েছে যে, এটি দুর্বল (ضعيف) হাদিস ছাড়াই প্রমাণিত, তাই তিনি একে মুস্তাহাব (استحباب) হিসেবে বৃদ্ধি করেছেন, যেমনটি তিনি "আল-আযকার" গ্রন্থে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন(৩)।

বিস্ময়ের ব্যাপার হলো, আবু শামা-এর গ্রন্থ "আল-বাইস আলা ইনকারিল বিদা ওয়াল হাওয়াদ্দিস"-এ দুর্বল (ضعيف) হাদিসের ওপর আমল করার বিষয়ে কোনো আলোচনা করা হয়নি, যদিও এর প্রাথমিক উদ্দেশ্য ছিল উল্লিখিত সালাতটিকে বাতিল সাব্যস্ত করা। এতে তিনি উভয় পক্ষের অধিকাংশ দলীল প্রদানের (احتجاج) বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেছেন। তবে হ্যাঁ, এর থেকে ইমাম নববীর বক্তব্যের পরিপন্থী কিছু বিষয় পাওয়া যায় যা ইনশাআল্লাহ আপনি সামনে দেখতে পাবেন।

অতঃপর ইমাম নববীর পরবর্তীগণ আসলেন; তাদের মধ্যে কেউ কেউ তাঁর বক্তব্যকে মূলত প্রত্যাখ্যান করেছেন, যেমন "আল-ইতিসাম" গ্রন্থে গবেষক (محقق) শাতবি(৪)। আবার তাদের মধ্যে কেউ কেউ ঐকমত্যের (اتفاق) বর্ণনায় প্রভাবান্বিত হয়েছেন কিন্তু তিনি দেখেননি...

--------------------------------------------

(১) (পৃষ্ঠা ১৪৫ এবং পরবর্তী), এবং "মুসাজালাহ ইলমিয়্যাহ বাইনাল ইমামাইন আল-ইয ইবন আবদিস সালাম ওয়া ইবন আস-সালাহ হাওলা সালাতির রাগািবিল মুবতাদিয়াহ" শিরোনামে একটি রিসালা রয়েছে, যা শেখ আলবানীর তাহকীক (تحقيق) সহ মাকতাবুল ইসলামি থেকে প্রকাশিত।

(২) দেখুন "আল-মাজমু শারহুল মুহাযযাব": (৪/ ৫৬)।

(৩) (পৃষ্ঠা ৮)।

(৪) (২/ ১৬ - ২০, মাশহুর সম্পাদিত)।
(খণ্ড: ১৫) আহকামুল হাদিসিজ যয়ীফ - জিমনা আসারুল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ১৬৭)
وجهًا للاستحباب.

قال الزركشي في مقدمة "الذهب الإبريز" بعد ما تقدم نقله عنه: "الثاني: أن هذا الاحتمال الذي قلناه من جواز إدراجه تحت العمومات يريد به في الفعل [ص 13] لا في الحكم باستحباب ذلك الشيء المخصوص بهيئته الخاصة؛ لأن الحكم باستحبابه على هيئته الخاصة يحتاج إلى دليل عليه ولابدّ، بخلاف ما إذا بُني على أنه من جملة الخيرات التي لا تختص [بذلك الوقت](1) ولا بتلك الهيئة. وهذا هو الذي قلنا باحتماله وجواز العمل به".

ونحو هذا قال الخطيب الشربيني في "شرح المنهاج"(2) فاعترضه ابنُ قاسم وأثبت الاستحباب.

ومنهم من تحيّر وقرر الإشكال كالدواني(3)، ومنهم من قلّد النووي وتمحّل في الاعتذار كابن حجر الهيتمي(4)، على أنه قال في "رسالة البسملة": "إنما يُعمل به حيث لم يعارضه ما هو أولى منه بالاعتماد والعمل، وهذا معلوم من كلامهم بلا شكّ، فإذا دلّ ضعيف على ترغيب في فعل شيء خاصة وقد عارضه صحيح يدل على كراهيته ــ مثلًا ــ ولو بطريق العموم= وجب أن يعمل بمدلول ذلك العام في هذا الشيء الخاص، ولم يَجُز العمل بالضعيف فيه".

--------------------------------------------

(1) مستدركة من كتاب ابن دقيق العيد.

(2) (1/ 62)، وكلام ابن قاسم في حاشيته على "تحفة المحتاج": (1/ 240).

(3) سبق العزو إلى كتابه "أنموذج العلوم".

(4) في "شرح الأربعين" وقد سبق.
মুস্তাহাব (استحباب) হওয়ার একটি দিক।

আল-যুরকাশী "আয-যাহাব আল-ইবরীয"-এর ভূমিকায় ইতিপূর্বে তাঁর থেকে যা উদ্ধৃত হয়েছে তার পরে বলেছেন: "দ্বিতীয়ত: আমরা সাধারণ মূলনীতির (عمومات) অন্তর্ভুক্ত করার বৈধতা সম্পর্কে যে সম্ভাবনার কথা বলেছি, তার দ্বারা কার্যের ক্ষেত্রে [পৃ. ১৩] উদ্দেশ্য করা হয়েছে, সেই নির্দিষ্ট পদ্ধতির বিশেষ বিষয়টি মুস্তাহাব (استحباب) হওয়ার বিধানের ক্ষেত্রে নয়; কারণ নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে মুস্তাহাব (استحباب) হওয়ার বিধানের জন্য অবশ্যই দলিলের প্রয়োজন। এর বিপরীতে, যদি বিষয়টি এমনভাবে বিবেচনা করা হয় যে এটি সেসব কল্যাণকর কাজের অন্তর্ভুক্ত যা কোনো [নির্দিষ্ট সময়ের] জন্য বা নির্দিষ্ট কোনো পদ্ধতির জন্য নির্দিষ্ট নয়, তবে এটিই সেই বিষয় যার সম্ভাবনা এবং যার ওপর আমল করার বৈধতার কথা আমরা বলেছি।"

অনুরূপ কথা খতিব শিরবিনি "শারহুল মিনহাজ"-এ বলেছেন, তবে ইবনে কাসেম এর বিরোধিতা করেছেন এবং মুস্তাহাব (استحباب) হওয়া সাব্যস্ত করেছেন।

তাদের মধ্যে কেউ কেউ দ্বিধান্বিত হয়েছেন এবং দাওয়ানির মতো সংশয় (إشكال) প্রকাশ করেছেন। আবার কেউ কেউ নববির অনুসরণ করেছেন এবং ইবনে হাজার আল-হাইতামির মতো ব্যাখ্যা প্রদানের কষ্টসাধ্য চেষ্টা করেছেন। তবে তিনি "রিসালাতুল বাসমালাহ"-তে বলেছেন: "নিশ্চয়ই তার ওপর তখনই আমল করা হয় যখন তার বিপরীতে নির্ভরযোগ্যতা ও আমলের ক্ষেত্রে অধিকতর অগ্রাধিকারযোগ্য কোনো দলিল না থাকে। এটি নিঃসন্দেহে তাঁদের কথা থেকে সুপরিচিত। সুতরাং যদি কোনো দুর্বল (ضعيف) বর্ণনা কোনো বিশেষ কাজ করার ব্যাপারে উৎসাহিত করে, কিন্তু তার বিপরীতে কোনো সহিহ (صحيح) বর্ণনা থাকে যা—উদাহরণস্বরূপ—সাধারণভাবে হলেও সেই কাজের অপছন্দনীয়তা নির্দেশ করে, তবে ওই বিশেষ কাজের ক্ষেত্রে সেই সাধারণ দলিলের অর্থ অনুযায়ী আমল করা ওয়াজিব এবং সেখানে দুর্বল (ضعيف) বর্ণনার ওপর আমল করা জায়েজ হবে না।"

--------------------------------------------

(১) ইবনে দাকীক আল-ঈদ-এর কিতাব থেকে সংগৃহীত।

(২) (১/ ৬২), এবং ইবনে কাসেমের বক্তব্য "তুহফাতুল মুহতাজ"-এর ওপর তাঁর হাশিয়ায়: (১/ ২৪০)।

(৩) ইতিপূর্বে তাঁর কিতাব "উনমুযাজুল উলুম"-এর প্রতি নির্দেশ করা হয়েছে।

(৪) "শারহুল আরবাঈন"-এ, যা ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১৫) আহকামুল হাদিসিজ যয়ীফ - জিমনা আসারুল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ১৬৮)
وهذا ــ وإن لم يتنبّه قائله ــ يقتلع جواز العمل بالضعيف من أصله، كما سترى إن شاء الله تعالى.

ومنهم من فصَّل، ولا داعي لاستيعاب أقوالهم، بل علينا أن نعترض الحجج والدلائل ونغترف الحقَّ من معدنه فأقول:

[ص 14] فصل

الآثار المروية عن أئمة السلف ــ وإليها استند النووي في حكاية الإجماع فيما يظهر ــ لم أر فيها ما هو ظاهر في جواز العمل بالضعيف ولا استحبابه. بل إذا أمعنت النظرَ وجدتها صريحة في خلافه، وهذا أشهرها:

قال السخاوي في "فتح المغيث"(1): "قال الحاكم: سمعت أبا زكريا الغُبَري(2) يقول: الخبر إذا ورد لم يحرّم حلالًا، ولم يحلّ حرامًا، ولم يوجب حكمًا، وكان في ترغيب أو ترهيب= أُغْمِض عنه وتُسُهِّل في رواته.

ولفظ ابن مهدي فيما أخرجه البيهقي في "المدخل"(3): إذا روينا عن النبي صلى الله عليه وآله وسلم في الحلال والحرام والأحكام شدّدنا في الأسانيد وانتقدنا في الرجال، وإذا روينا في الفضائل والثواب والعقاب

--------------------------------------------

(1) (1/ 332).

(2) كذا في الأصل، كما في الطبعة التي نقل عنها المؤلف وصوابه: "العنبري" كما في ط المحققة، وقول العنبري ذكره الخطيب في "الكفاية" (ص 134).

(3) ليس في المطبوع منه، وقد أخرجه الحاكم في "المستدرك": (1/ 490) وفي "المدخل إلى الإكليل" (ص 59).
এটি — যদিও এর প্রবক্তা এ বিষয়ে সচেতন নন — দুর্বল (ضعيف) হাদিসের ওপর আমল করার বৈধতাকে সমূলে উপড়ে ফেলে, যা আপনি ইনশাআল্লাহ তাআলা সামনে দেখতে পাবেন।

তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন, তবে তাঁদের সকল বক্তব্য পর্যালোচনার প্রয়োজন নেই; বরং আমাদের কর্তব্য হলো দলিল ও প্রমাণাদি পরীক্ষা করা এবং সত্যকে তার উৎস থেকে গ্রহণ করা। অতএব আমি বলছি:

[পৃষ্ঠা ১৪] পরিচ্ছেদ

সালাফ ইমামগণের থেকে বর্ণিত আসারসমূহ (الآثار) — দৃশ্যত ইমাম নববী ঐকমত্যের (الإجماع) কথা বর্ণনার ক্ষেত্রে যেগুলোর ওপর নির্ভর করেছেন — আমি সেগুলোর মধ্যে এমন কিছু দেখিনি যা দুর্বল (ضعيف) হাদিসের ওপর আমল করার বৈধতা বা তা মুস্তাহাব হওয়ার ব্যাপারে স্পষ্ট। বরং আপনি যদি গভীর দৃষ্টিতে লক্ষ্য করেন, তবে সেগুলোকে এর বিপরীতে স্পষ্ট দেখতে পাবেন। আর এটিই এগুলোর মধ্যে অধিক প্রসিদ্ধ:

সাখাভী 'ফাতহুল মুগীস' গ্রন্থে বলেছেন(১): "হাকিম বলেন: আমি আবু জাকারিয়া আল-গুবরীকে(২) বলতে শুনেছি: খবর বা সংবাদ (الخبر) যখন এমনভাবে বর্ণিত হয় যে তা কোনো হালালকে হারাম করে না, কোনো হারামকে হালাল করে না এবং কোনো বিধানকেও আবশ্যক করে না, বরং তা হয় উৎসাহ দান (ترغيب) বা ভীতি প্রদর্শনের (ترهيب) ক্ষেত্রে; তবে সেটি উপেক্ষা করা হয় এবং এর বর্ণনাকারীদের (رواة) ব্যাপারে শিথিলতা (تسهّل) অবলম্বন করা হয়।

আর ইবনুল মাহদীর শব্দাবলি যেমনটি বায়হাকী 'আল-মাদখাল' গ্রন্থে(৩) বর্ণনা করেছেন: "যখন আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম থেকে হালাল, হারাম এবং আহকাম বা বিধিবিধানের বিষয়ে বর্ণনা করি, তখন আমরা সনদ বা সূত্রসমূহের (الأسانيد) ব্যাপারে কঠোরতা অবলম্বন করি এবং বর্ণনাকারীদের (الرجال) সমালোচনা করি। কিন্তু যখন আমরা ফাজায়েল (الفضائل) তথা মাহাত্ম্য এবং সওয়াব ও আজাব বা শাস্তি সম্পর্কে বর্ণনা করি...

--------------------------------------------

(১) (১/ ৩৩২)।

(২) মূল পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই আছে, যেমনটি সেই সংস্করণে রয়েছে যা থেকে লেখক উদ্ধৃত করেছেন। এর সঠিক রূপ হলো: "আল-আনবারী", যেমনটি সম্পাদিত সংস্করণে এসেছে। আর আনবারীর এই বক্তব্য খতিব বাগদাদী 'আল-কিফায়া' (পৃষ্ঠা ১৩৪) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।

(৩) এটি মুদ্রিত সংস্করণে নেই। তবে হাকিম এটি 'আল-মুস্তাদরাক' (১/ ৪৯০) এবং 'আল-মাদখাল ইলাল ইকলীল' (পৃষ্ঠা ৫৯) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১৫) আহকামুল হাদিসিজ যয়ীফ - জিমনা আসারুল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ১৬৯)
سهّلنا في الأسانيد وتسامحنا في الرجال. ولفظ أحمد في رواية الميموني عنه: الأحاديث الرقائق يُحتمل أن يُتَسَاهل فيها حتى يجيء شيء فيه حكم" اهـ "فتح المغيث" ص 130.

وقال الخطيب في "الكفاية"(1): "باب التشدّد في أحاديث الأحكام والتجوّز في فضائل الأعمال. قد ورد عن غير واحدٍ من السلف أنه لا يجوز حمل الأحاديث المتعلقة بالتحليل والتحريم إلّا عمن كان بريئًا من التهمة بعيدًا عن الظِّنّة. وأما أحاديث الترغيب والمواعظ فإنه يجوز كَتْبها عن سائر المشايخ".

ثم أسند عدة آثار منها عن الإمام أحمد أنه قال: "إذا روينا عن رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم [ص 15] في الحلال والحرام والسنن والأحكام تشدّدنا في الأسانيد، وإذا روينا عن النبي صلى الله عليه وآله وسلم في الفضائل وما لا يضع حكمًا ولا يرفعه تساهلنا في الأسانيد" "الكفاية" ص [134].

وقال ابن عبد البر في كتاب "فضل العلم" بعد أن ذكر حديثًا ضعيفًا في فضل العلم: "الفضائل تُرْوَى عن كل أحد والحجة من جهة الإسناد إنما تُتقصَّى في الأحكام وفي الحلال والحرام" "مختصر جامع بيان العلم" ص(2).

--------------------------------------------

(1) (ص 133).

(2) بيَّض المؤلف رقم الصفحة، وكلام ابن عبد البر في "جامع بيان العلم": (1/ 152).
আমরা সনদসমূহের (الأسانيد) ক্ষেত্রে সহজ করেছি এবং রাবীগণের (الرجال) ক্ষেত্রে সহনশীলতা প্রদর্শন করেছি। আল-মায়মুনীর বর্ণনা (رواية) অনুযায়ী ইমাম আহমদের বক্তব্য হলো: "হৃদয় বিগলনকারী (الرقائق) হাদিসসমূহের ক্ষেত্রে শিথিলতা (التساهل) অবলম্বন করা যেতে পারে, যতক্ষণ না এমন কিছু আসে যাতে বিধি-বিধান (حكم) রয়েছে।" — ইতি, ফাতহুল মুগিস, পৃষ্ঠা ১৩০।

আল-খতিব আল-কিফায়া গ্রন্থে বলেছেন(১): "বিধি-বিধান (الأحكام) সংক্রান্ত হাদিসসমূহের ক্ষেত্রে কঠোরতা (التشدد) এবং আমলের ফযিলতসমূহ (فضائل الأعمال) সংক্রান্ত হাদিসের ক্ষেত্রে শিথিলতা অবলম্বনের অধ্যায়। একাধিক সালাফের পক্ষ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, হালাল ও হারাম (التحليل والتحريم) সম্পর্কিত হাদিসসমূহ গ্রহণ করা কেবল তাদের পক্ষ থেকেই বৈধ যারা অভিযোগ (التهمة) হতে মুক্ত এবং সন্দেহের (الظِّنّة) ঊর্ধ্বে। আর উৎসাহব্যঞ্জক (الترغيب) ও নসিহত (المواعظ) বিষয়ক হাদিসসমূহ অন্যান্য সকল মাশায়েখদের থেকে লিখে নেওয়া বৈধ।"

অতপর তিনি বেশ কিছু বর্ণনা উদ্ধৃত করেছেন, যার মধ্যে ইমাম আহমদের একটি বর্ণনা হলো: "যখন আমরা আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম থেকে হালাল ও হারাম (الحلال والحرام), সুনান এবং বিধি-বিধান (الأحكام) সম্পর্কে বর্ণনা করি, তখন আমরা সনদসমূহের (الأسانيد) ক্ষেত্রে কঠোরতা (التشدد) অবলম্বন করি। কিন্তু যখন আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম থেকে ফযিলত এবং এমন কিছু সম্পর্কে বর্ণনা করি যা কোনো বিধি-বিধান (حكم) সাব্যস্ত বা রহিত করে না, তখন আমরা সনদসমূহের (الأسانيد) ক্ষেত্রে শিথিলতা (التساهل) অবলম্বন করি।" আল-কিফায়া, পৃষ্ঠা ১৩৪।

ইবনে আব্দুল বার ফাযলুল ইলম গ্রন্থে ইলমের ফযিলত বিষয়ে একটি দুর্বল (ضعيف) হাদিস উল্লেখ করার পর বলেন: "ফযিলতসমূহ যে কারো পক্ষ থেকেই বর্ণনা করা যায়; আর সনদের (الإسناد) দিক থেকে প্রমাণযোগ্যতার (الحجة) বিষয়টি কেবল বিধি-বিধান (الأحكام) এবং হালাল ও হারামের (الحلال والحرام) ক্ষেত্রেই সূক্ষ্মভাবে অনুসন্ধান করা হয়।" মুখতাসারু জামিউ বায়ানিল ইলম, পৃষ্ঠা(২)।

--------------------------------------------

(১) (পৃষ্ঠা ১৩৩)।

(২) লেখক পৃষ্ঠার নম্বরটি ফাঁকা রেখেছেন, আর ইবনে আব্দুল বারের বক্তব্যটি জামিউ বায়ানিল ইলম গ্রন্থে রয়েছে: (১/১৫২)।
(খণ্ড: ১৫) আহকামুল হাদিসিজ যয়ীফ - জিমনা আসারুল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ১৭০)
وثَمَّ عبارات أخرى لا تخرج عن هذا المعنى، أي التساهل في الأخذ والرواية عن الضعفاء فيما رووه في الفضائل، مما ليس فيه حكم ولا حلال ولا حرام ولا سنة.

وقد لخص ابن الصلاح في "مقدمته"(1) عبارات القوم باحتياطٍ تامٍّ رغمًا عما حُكي عنه من تمحّله أخيرًا لصلاةِ ليلةِ أول جمعة من رجب وأشياء تُشْبهها، كما ذكره أبو شامة في "الباعث"(2).

وكأنّ ابن الصلاح ــ غفر الله له ــ أراد أن يكون كتابه "المقدمة" أصلًا لأهل الحديث إلى يوم القيامة، فتورّع أن يحْدِث فيه حَدَثًا أو يؤوي محدثًا.

وأما النووي رحمه الله فإنه رغمًا عن إنكاره الصلاةَ المذكورة زاد في "مختصره لمقدمة ابن الصلاح"(3) زيادةً نابية، وهذه عبارته: "ويجوز عند أهل الحديث وغيرهم التساهل في الأسانيد، ورواية ما سوى الموضوع من الضعيف، والعمل به من غير بيان ضعفه، في غير صفات الله تعالى والأحكام كالحلال والحرام وغيرهما، وذلك [ص 16] كالقصص وفضائل الأعمال والمواعظ وغيرها مما لا تعلُّق له بالعقائد والأحكام، والله أعلم".

فقوله: "والعمل به" من زيادته. ولولا أن القول بجواز العمل متواتر عن النووي، نصّ عليه في كثير من كتبه لقلتُ: إن هذه الكلمة ملحقة في عبارته؛ لأنها كما ستعرف مناقضة لما قبلها وما بعدها، ومناقضة للنصوص التي

--------------------------------------------

(1) (ص 103).

(2) (ص 145).

(3) "التقريب لسنن البشير النذير": (1/ 350 - مع شرحه تدريب الراوي).
সেখানে আরও কিছু উক্তি রয়েছে যা এই অর্থের বাইরে নয়, অর্থাৎ ফজিলতের ক্ষেত্রে দুর্বল (الضعفاء) রাবীদের থেকে গ্রহণ ও বর্ণনার (الرواية) ব্যাপারে শিথিলতা (التساهل) প্রদর্শন করা, যেগুলোর মধ্যে কোনো বিধান (حكم), হালাল, হারাম কিংবা সুন্নাহ (سنة) নেই।

ইবনে আস-সালাহ তার "মুকাদ্দিমা"-তে(1) আলেমদের বক্তব্যসমূহ পূর্ণ সতর্কতার সাথে সংক্ষেপ করেছেন, যদিও রজব মাসের প্রথম জুমার রাতের সালাত এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো নিয়ে শেষ বয়সে তার বিশেষ চেষ্টার কথা বর্ণিত হয়েছে, যেমনটি আবু শামা "আল-বায়েস"(2) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।

মনে হয় যেন ইবনে আস-সালাহ — আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন — চেয়েছিলেন যে তার "মুকাদ্দিমা" গ্রন্থটি কিয়ামত পর্যন্ত হাদিস বিশারদদের (أهل الحديث) জন্য একটি মূল ভিত্তি (أصل) হয়ে থাকুক, তাই তিনি এতে কোনো নতুন বিষয়ের উদ্ভব ঘটাতে কিংবা কোনো বিদআতকে (محدثًا) আশ্রয় দিতে সতর্কতা অবলম্বন করেছেন।

আর ইমাম নববী (রহিমাহুল্লাহ) সেই উল্লিখিত সালাতকে অস্বীকার করা সত্ত্বেও, ইবনে আস-সালাহর মুকাদ্দিমার সংক্ষিপ্তসারে(3) একটি অসঙ্গত সংযোজন করেছেন; তার বক্তব্য হলো: "হাদিস বিশারদ (أهل الحديث) ও অন্যদের নিকট সনদসমূহের (الأسانيد) ক্ষেত্রে শিথিলতা (التساهل) প্রদর্শন করা বৈধ। এছাড়া জাল (الموضوع) হাদিস ব্যতীত দুর্বল (الضعيف) হাদিস বর্ণনা করা এবং তার দুর্বলতা (ضعفه) বর্ণনা না করেই তার ওপর আমল করা জায়েজ, তবে তা মহান আল্লাহর গুণাবলি এবং হালাল-হারামের মতো বিধানাবলির (الأحكام) ক্ষেত্রে নয়। আর তা হলো [পৃষ্ঠা ১৬] যেমন কিসসা-কাহিনী, আমলের ফজিলত, নসিহত এবং এমন সব বিষয় যা আকিদা (العقائد) ও বিধানের (الأحكام) সাথে সংশ্লিষ্ট নয়। আল্লাহই ভালো জানেন।"

সুতরাং তার কথা: "এবং তার ওপর আমল করা" এটি তার নিজস্ব সংযোজন। আমল করার বৈধতার বিষয়টি যদি ইমাম নববীর পক্ষ থেকে অবিচ্ছিন্নভাবে (متواتر) বর্ণিত না হতো এবং তিনি তার অনেক কিতাবে এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ না করতেন, তবে আমি বলতাম: এই শব্দটি তার বক্তব্যে পরে জুড়ে দেওয়া হয়েছে; কারণ আপনি শীঘ্রই জানতে পারবেন যে, এটি তার পূর্ববর্তী ও পরবর্তী বক্তব্যের সাথে এবং সেই নসসমূহের সাথে সাংঘর্ষিক যা...

--------------------------------------------

(1) (পৃষ্ঠা ১০৩)।

(2) (পৃষ্ঠা ১৪৫)।

(3) "আত-তাকরিব লি সুনানিল বাশিরিন নাজির": (১/ ৩৫০ - এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ তাদরিবুর রাবী সহ)।
(খণ্ড: ১৫) আহকামুল হাদিসিজ যয়ীফ - জিমনা আসারুল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ১৭১)
لخَّصها، وليست في عبارة أصله.

إنني قد استعجلتُ بهذا الحكم قبل أن أضطَرَّ الناظر في هذه الرسالة إلى مشاركتي فيه، ولكنَّ الخطب سهل.

 

[ص 17]‌‌ فصل

أنت ترى النصوص المتقدّمة عن ابن مهدي وغيره ليس فيها ذِكْر لجواز العمل بالضعيف ولا استحبابه، وإنما فيه تساهلهم في روايته بشرطه، لكن قد لا يبعد أن يكون النووي رحمه الله رأى تساهلهم في رواية الضعيف في الفضائل دون الأحكام يستلزم جواز العمل به في الفضائل، وإلّا لَمَا كان هناك معنى للفرق، فإن تشدّدهم في رواية ما فيه حُكم إنما هو لعلمهم أنهم إذا لم يُشدّدوا في روايته يُخشَى أن يَعملَ به من يسمعه، وذلك لا يجوز، فتساهلهم في الفضائل يدلّ على أنهم لم يروا محذورًا في أن يعمل بها من يسمعها، وهذا معنى الجواز.

ثم رأى أن العمل المتوقّع من العامة إذا سمعوا الضعيف في الفضائل هو العمل طلبًا للفضل، ومعنى ذلك أنهم يرونه مظنّة لأن يُؤجروا عليه، وعليه فلو كان أولئك الأئمة يرون أن العمل به ليس مظنة للأجر لكانوا يرون العمل به طلبًا للأجر بدعة، وكل بدعةٍ ضلالة، فكيف يقع منهم تساهل يؤدّي إلى إيقاع الناس في الضلالة؟! فتعيّن أنهم كانوا يرون العملَ به مظنَّة للأجر، وهذا هو الاستحباب، فلهذا صرَّح النووي في "الأذكار"(1) بالاستحباب، وكأنه حمل ما صرَّحوا به من أنهم لا يتساهلون في رواية ما فيه حكم أو سنة

--------------------------------------------

(1) (ص 8).
তিনি এটিকে সংক্ষিপ্ত করেছেন, আর এটি তাঁর মূল পাঠের শব্দে নেই।

আমি এই ফয়সালা প্রদানের ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো করে ফেলেছি, এই পুস্তিকা পাঠকারীকে আমার সাথে একমত হতে বাধ্য করার পূর্বেই; তবে বিষয়টি সহজ।

 

[পৃষ্ঠা ১৭]‌‌ পরিচ্ছেদ

আপনি দেখছেন যে ইবনে মাহদি এবং অন্যদের থেকে বর্ণিত পূর্বোক্ত নসগুলোতে দুর্বল (ضعيف) হাদিসের ওপর আমল করা বৈধ হওয়া বা মুস্তাহাব (استحباب) হওয়ার কোনো উল্লেখ নেই। বরং এতে কেবল শর্তসাপেক্ষে তার বর্ণনার ক্ষেত্রে তাঁদের শিথিলতার (تساهل) কথা আছে। তবে এটি অসম্ভব নয় যে, ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) হয়তো মনে করেছেন—আহকাম বা বিধানের (أحكام) ক্ষেত্র বাদ দিয়ে ফজিলত (فضائل) এর ক্ষেত্রে দুর্বল (ضعيف) হাদিস বর্ণনায় তাঁদের শিথিলতা (تساهل) প্রদর্শন ফজিলতের ক্ষেত্রে তার ওপর আমল করা বৈধ হওয়াকে আবশ্যক করে। অন্যথায় এই পার্থক্যের কোনো অর্থ থাকত না। কারণ, যে বর্ণনায় কোনো বিধান (حكم) রয়েছে তার বর্ণনায় তাঁদের কঠোরতা (تشدد) প্রদর্শন করার কারণ হলো—তাঁরা জানতেন যে বর্ণনার ক্ষেত্রে যদি কড়াকড়ি না করেন, তবে আশঙ্কা রয়েছে যে শ্রবণকারী তার ওপর আমল করে বসবে, অথচ তা জায়েজ নয়। সুতরাং ফজিলতের (فضائل) ক্ষেত্রে তাঁদের শিথিলতা (تساهل) প্রমাণ করে যে, শ্রবণকারী তার ওপর আমল করার মধ্যে তাঁরা কোনো দোষ বা ভয়ের কিছু দেখেননি, আর এটিই হলো বৈধতার অর্থ।

অতঃপর তিনি মনে করেছেন যে, সাধারণ মানুষ যখন ফজিলতের ক্ষেত্রে দুর্বল (ضعيف) হাদিস শ্রবণ করবে, তখন তাদের থেকে প্রত্যাশিত কাজ হলো সওয়াব লাভের আশায় তার ওপর আমল করা। এর অর্থ হলো—তারা একে সওয়াব পাওয়ার সম্ভাব্য ক্ষেত্র (مظنة) মনে করে। এমতাবস্থায় ঐ সকল ইমামগণ যদি মনে করতেন যে তার ওপর আমল করা সওয়াবের ক্ষেত্র নয়, তবে তাঁরা সওয়াবের প্রত্যাশায় তার ওপর আমল করাকে বিদআত (بدعة) মনে করতেন; আর প্রত্যেক বিদআত (بدعة) হলো ভ্রষ্টতা (ضلالة)। এমতাবস্থায় তাঁদের পক্ষ থেকে এমন শিথিলতা (تساهل) কীভাবে প্রকাশ পেতে পারে যা মানুষকে ভ্রষ্টতার (ضلالة) দিকে পরিচালিত করে?! ফলে এটি নিশ্চিত হলো যে তাঁরা এর ওপর আমল করাকে সওয়াব প্রাপ্তির সম্ভাব্য ক্ষেত্র (مظنة) মনে করতেন, আর এটিই হলো মুস্তাহাব (استحباب) হওয়া। এ কারণেই নববী আল-আযকার(১) গ্রন্থে মুস্তাহাব (استحباب) হওয়ার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। আর মনে হচ্ছে তিনি তাঁদের সেই স্পষ্ট বক্তব্যকে—যেখানে তাঁরা কোনো বিধান (حكم) বা সুন্নাহ (سنة) সংক্রান্ত বর্ণনার ক্ষেত্রে শিথিলতা (تساهل) না করার কথা বলেছেন—এভাবেই প্রয়োগ করেছেন

--------------------------------------------

(১) (পৃষ্ঠা ৮)।
(খণ্ড: ১৫) আহকামুল হাদিসিজ যয়ীফ - জিমনা আসারুল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ১৭২)
أو يرفع حكمًا أو يضعه= على ما عدا ذلك الضرب من الجواز والاستحباب.

[ص 18] فصل

يجب أولًا أن نعلم ما هو التساهل الذي كان يعتمده ابن مهدي وغيره، فأقول: حاصل ما في "فتح المغيث"(1): أن التساهل هو أن لا يَنصّ على ضعف الحديث بل يكتفي بسياق إسناده، أو ذِكْره بصيغة التمريض، نحو رُوِي ويُروَى.

أقول: وعندي في هذا نظر؛ فإننا نجد في الكتب أحاديث ضعيفة في العقائد والأحكام قد رواها ابنُ مهدي وغيره ولم يبين ضعفها. وهذا "مسند أحمد" فيه أحاديث كثيرة ضعيفة في العقائد والأحكام ولم يبيِّن ضعفها، بل غالب مصنفات المتقدمين كذلك، كمصنَّفَي عبد الرزاق وابن أبي شيبة ومسانيد إسحاق والحميدي وعبد بن حُمَيد، وسنن النسائي الكبرى، وسنن الدارمي وابن ماجه، وتاريخ البخاري، وغيرها.

والذي أراه أن تشديد ابن مهدي هو أنه كان يتأمَّل الحديثَ الذي قد سمعه، فإن كان في العقائد والأحكام بدأ فنظر في إسناده ومتنه، فإذا تبيَّن له أن الحديث شديد الضعف بحيث لا يصلح للحجة ولا للاعتبار لم يَرْوِه أصلًا، فإن اضطرّ لروايته بيَّن ضعفه. وإن كان الحديث في غير العقائد والأحكام رواه ما لم يعلم أنه موضوع، فإذا علم أنه موضوع لم يروه أصلًا، فإن اضطر إلى روايته بيَّن وضعَه. فهذا الصنيع هو الذي ينطبق على ما نجده

--------------------------------------------

(1) (1/ 331 - 332).
অথবা কোনো বিধানকে রহিত করে কিংবা জারি করে—যা বৈধতা ও মুস্তাহাব হওয়ার পর্যায়ের বাইরে।

[পৃষ্ঠা ১৮] পরিচ্ছেদ

আমাদের প্রথমে জানা উচিত যে, ইবনে মাহদী ও অন্যান্যরা যে শিথিলতা (تساهل) অবলম্বন করতেন তার স্বরূপ কী। আমি বলছি: 'ফাতহুল মুগীস' গ্রন্থে যা বর্ণিত হয়েছে তার সারকথা হলো: শিথিলতা (تساهل) হলো হাদিসের দুর্বলতা (ضعف) স্পষ্টভাবে উল্লেখ না করে বরং কেবল তার সনদ (إسناد) উল্লেখ করার ওপর ক্ষান্ত হওয়া, অথবা তা অনিশ্চয়তাবাচক শব্দ (صيغة التمريض) যোগে উল্লেখ করা, যেমন: 'বর্ণিত হয়েছে' (رُوِي) এবং 'বর্ণনা করা হয়' (يُروَى)।

আমি বলছি: এ বিষয়ে আমার কিছু পর্যবেক্ষণ রয়েছে; কেননা আমরা কিতাবসমূহে আকিদা (العقائد) ও বিধান (الأحكام) সংক্রান্ত এমন অনেক দুর্বল (ضعيفة) হাদিস দেখতে পাই যা ইবনে মাহদী ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন অথচ সেগুলোর দুর্বলতা (ضعف) বর্ণনা করেননি। এই যে 'মুসনাদে আহমদ', এতে আকিদা (العقائد) ও বিধান (الأحكام) সংক্রান্ত এমন অনেক দুর্বল (ضعيفة) হাদিস রয়েছে যেগুলোর দুর্বলতা (ضعف) তিনি বর্ণনা করেননি। বরং পূর্ববর্তী ইমামদের অধিকাংশ সংকলনের অবস্থাও অনুরূপ, যেমন: আবদুর রাজ্জাক ও ইবনে আবী শায়বার দুই 'মুসান্নাফ', ইসহাক, হুমাইদী ও আবদ বিন হুমাইদের 'মুসনাদ'সমূহ, নাসাঈর 'সুনানে কুবরা', দারেমী ও ইবনে মাজাহর 'সুনান', বুখারীর 'তারিখ' এবং আরও অন্যান্য কিতাব।

আমার অভিমত হলো, ইবনে মাহদীর কঠোরতা (تشديد) ছিল এই যে, তিনি কোনো হাদিস শোনার পর তা নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করতেন; যদি তা আকিদা (العقائد) ও বিধান (الأحكام) সংক্রান্ত হতো, তবে তিনি প্রথমে তার সনদ (إسناد) ও মতন (متن) পর্যবেক্ষণ করতেন। যখন তাঁর কাছে স্পষ্ট হতো যে হাদিসটি অত্যধিক দুর্বল (شديد الضعف), যা দলিল (حجة) হিসেবে কিংবা সমর্থনমূলক প্রমাণ (اعتبار) হিসেবে গ্রহণের উপযুক্ত নয়, তখন তিনি তা আদৌ বর্ণনা করতেন না। আর যদি তা বর্ণনা করতে বাধ্য হতেন, তবে তার দুর্বলতা (ضعف) স্পষ্ট করে দিতেন। আর যদি হাদিসটি আকিদা (العقائد) ও বিধান (الأحكام) ব্যতিরেকে অন্য বিষয়ে হতো, তবে সেটি জাল (موضوع) বলে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি তা বর্ণনা করতেন। আর যখন জানতেন যে সেটি জাল (موضوع), তখন তা আদৌ বর্ণনা করতেন না। যদি তা বর্ণনা করতে বাধ্য হতেন, তবে তার জাল হওয়া (وضعه) স্পষ্ট করে দিতেন। এই কর্মপদ্ধতিই আমরা যা পাই তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

--------------------------------------------

(১) (১/ ৩৩১ - ৩৩২)।
(খণ্ড: ১৫) আহকামুল হাদিসিজ যয়ীফ - জিমনা আসারুল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ১৭৩)
في الكتب عن ابن مهدي والإمام أحمد وأكثر الأئمة، فاعْلَمْه، والله أعلم.

[ص 19] فصل

ثم يجب ثالثًا أن نحقق الأمور التي كانوا يتساهلون في رواية ما ورد فيها مما ليس بموضوع ولكنه غير صالح للمتابعة، فأقول:

يُعلَم من صنيع النووي ومَن وافقه: أنه يدخل في ذلك ما وَرَد بفضيلة لعملٍ خاصّ ولم تثبت له تلك الفضيلة، ولكنه مندرج تحتَ عمومٍ ثابت بالاستحباب.

وهذا كأنْ يَرِد ضعيفٌ بفضيلةٍ لصيامِ أولِ يومٍ من صفر أو قيام ليلته، أو بفضيلةٍ لقراءة سورة الأنعام في صلاة الصبح أو في ركعتَيْ تطوّع. ويظهر من كلام بعضهم إلحاق ما اندرج تحت عموم ثابت بالإباحة، كأنْ يَرِد ضعيف بفضل التختُّم بخاتم فضة عقيق.

فقال النووي بجواز واستحباب العمل بأشباه هذا، واقْتَصَر بعضهم على الجواز، واستشكله بعضهم كما مر. ورأى العلائي أن مثل هذا إن جاز في الضعيف الصالح للمتابعة فلا يتصوّر جوازه في شديد الضعيف، فلذلك زاد هذا الشرط وحكى الاتفاقَ عليه، كما تقدم مع ابن الصلاح والنووي قالا: "ما سوى الموضوع".

وعلينا أن نتدبّر النصوصَ السابقةَ وغيرها لتحقيق الأمور التي يتساهلون فيها، فأقول: [ص 20] الأحاديث الواردة في فضائل الأعمال على أضْرُب:

الأول: ما ورد بفضيلةٍ لعملٍ قد ثبت أنه مشروع بخصوصه، كأن يَرِدَ ضعيفٌ بفضيلةٍ للصلوات الخمس وصوم رمضان وصوم التطوّع مطلقًا،
গ্রন্থসমূহে ইবনে মাহদী, ইমাম আহমাদ এবং অধিকাংশ ইমামদের থেকে বর্ণিত হয়েছে; সুতরাং এটি অবগত হোন। আল্লাহ-ই সর্বজ্ঞ।

[পৃষ্ঠা ১৯] পরিচ্ছেদ

অতঃপর তৃতীয়ত আমাদের সেই বিষয়গুলো যাচাই করা আবশ্যক যেগুলোর বর্ণনার ক্ষেত্রে তাঁরা শৈথিল্য প্রদর্শন করতেন, যা মনগড়া (موضوع) নয় কিন্তু অনুসরণের অযোগ্য (غير صالح للمتابعة); আমি বলছি:

ইমাম নববী এবং তাঁর সাথে একমত পোষণকারীদের কর্মপদ্ধতি থেকে জানা যায় যে: এর অন্তর্ভুক্ত হবে সেই আমলগুলো যা কোনো বিশেষ আমলের ফজিলত সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে এবং সেই ফজিলতটি প্রমাণিত নয়, তবে তা মুস্তাহাব হওয়ার (الاستحباب) একটি প্রমাণিত সাধারণ মূলনীতির অধীনে দাখিল।

এটি যেমন সফর মাসের প্রথম দিনের রোজা বা সেই রাতের কিয়ামের ফজিলত সম্পর্কে কোনো দুর্বল (ضعيف) বর্ণনা আসা, অথবা ফজরের নামাজে বা নফল দুই রাকাতে সূরা আল-আনআম পাঠের ফজিলত সম্পর্কে কিছু আসা। আবার কারো কারো বক্তব্য থেকে এটিও প্রকাশ পায় যে, যা বৈধতা (الإباحة) সংক্রান্ত কোনো প্রমাণিত সাধারণ মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত তাও এর সাথে যুক্ত হবে; যেমন আকিক পাথরের রুপার আংটি পরিধান করার ফজিলত সম্পর্কে কোনো দুর্বল (ضعيف) বর্ণনা আসা।

ইমাম নববী এই জাতীয় আমল করা বৈধ (جواز) এবং মুস্তাহাব হওয়ার (استحباب) কথা বলেছেন; কেউ কেউ শুধু বৈধ হওয়ার (الجواز) মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকেছেন, আবার কেউ কেউ এটি নিয়ে আপত্তিও তুলেছেন যেমনটি পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে। আল্লামা আলাইয়ীর অভিমত হলো, যদি এই ধরনের আমল অনুসরণের যোগ্য (الصالح للمتابعة) দুর্বল (الضعيف) বর্ণনার ক্ষেত্রে বৈধ (جاز) হয়, তবে অত্যন্ত দুর্বল (شديد الضعيف) বর্ণনার ক্ষেত্রে এর বৈধতা কল্পনা করা যায় না। এই কারণেই তিনি এই শর্তটি বৃদ্ধি করেছেন এবং এর ওপর ঐকমত্যের কথা উল্লেখ করেছেন, যেমনটি ইবনে সালাহ ও নববীর ক্ষেত্রে পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে; তাঁরা বলেছেন: "মনগড়া (الموضوع) ছাড়া অন্য সব"।

আমাদের উচিত পূর্বোক্ত নসসমূহ এবং অন্যান্য বিষয়গুলো নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করা যাতে সেই বিষয়গুলো যাচাই করা যায় যেগুলোতে তাঁরা শৈথিল্য প্রদর্শন করতেন। অতএব আমি বলছি: [পৃষ্ঠা ২০] আমলের ফজিলত সম্পর্কে বর্ণিত হাদিসসমূহ কয়েক প্রকারের হয়:

প্রথম: এমন আমলের ফজিলত বর্ণিত হওয়া যা বিশেষভাবে শরয়তসম্মত (مشروع) হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। যেমন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, রমজানের রোজা এবং সাধারণভাবে নফল রোজার ফজিলত সম্পর্কে কোনো দুর্বল (ضعيف) বর্ণনা আসা।
(খণ্ড: ১৫) আহকামুল হাদিসিজ যয়ীফ - জিমনা আসারুল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ১৭৪)
وصوم الاثنين والخميس ونحو ذلك.

الثاني: ما ورد بفضيلةٍ لعملٍ خاصّ قد ثبتت مشروعيةُ ما هو أعمّ منه ولم تثبت له خصوصية، كأن يَرِد ضعيفٌ بفضيلةٍ لصيامِ ثاني يوم من صفر أو قيام ليلته، أو بفضيلةٍ لقراءة سورة الأنعام في صلاة الصبح أو في ركعتي تطوّع.

الثالث: ما ورد بفضيلةٍ لعملٍ هو مع صرف النظر عن الضعيف مباح، كأن يَرِد ضعيف بفضيلة للقيام في الشمس على رجلٍ واحدة.

الرابع: ما ورد بفضيلةٍ لعملٍ قد دلّ غير الضعيف على أنه حرام أو مكروه.

فأما الرابع فلا نزاع أنه لا يجوز العمل به، وقد تقدَّم كلام [ص 21] ابن دقيق العيد وابن حجر الهيتمي.

وأما الثالث فَلِكَي تعلم ما فيه يجب أن تنظر في المباح هل يجوز أن يُعْمَل على زَعْم أنه عبادة؟ ومن أمثلته أن يتحرّى إنسانٌ الجلوس مستقبِلًا مطلع سُهيل، أو النوم في ضوء القمر، أو الإمساك عن المُفَطِّرات ليلة العيد، زاعمًا أن هذه الأعمال يُرجى لفاعلها الأجر والثواب.

فإننا نقول لمن زَعَم زَعْمًا من هذا الضرب: أمِن المشروع فِعْل هذا العمل التماسًا للأجر والثواب؟

فإن قال: لا، فقد كفانا شأنه.

وإن قال: نعم، قلنا: آللهُ عز وجل شَرَعَه أم غيرُه؟
এবং সোম ও বৃহস্পতিবারের রোজা এবং এ জাতীয় বিষয়সমূহ।

দ্বিতীয়: এমন আমল যার বিশেষ ফজিলত বর্ণিত হয়েছে, অথচ তার চেয়ে সাধারণ একটি আমল শরিয়তসম্মত হওয়া সাব্যস্ত হয়েছে কিন্তু তার বিশেষত্ব সাব্যস্ত হয়নি। যেমন সফর মাসের দ্বিতীয় দিনে রোজা রাখা বা সেই রাতে কিয়াম করার ফজিলতে কোনো দুর্বল (ضعيف) বর্ণনা আসা, অথবা ফজরের সালাতে কিংবা নফল (تطوّع) সালাতের দুই রাকাতে সুরা আল-আনআম পাঠের ফজিলত সম্পর্কে কোনো বর্ণনা আসা।

তৃতীয়: এমন আমল যার ফজিলত সম্পর্কে বর্ণনা এসেছে অথচ দুর্বল (ضعيف) বর্ণনাটি বাদ দিলে বিষয়টি কেবল বৈধ (مباح)। যেমন এক পায়ে দাঁড়িয়ে রোদে অবস্থান করার ফজিলত সম্পর্কে কোনো দুর্বল (ضعيف) বর্ণনা আসা।

চতুর্থ: এমন কোনো আমলের ফজিলতে আসা বর্ণনা, যা দুর্বল (ضعيف) বর্ণনা ছাড়া অন্য দলিল অনুযায়ী হারাম (حرام) বা অপছন্দনীয় (مكروه) হিসেবে প্রমাণিত।

চতুর্থ প্রকারের ক্ষেত্রে এতে কোনো বিতর্ক নেই যে, এর ওপর আমল করা জায়েজ নেই। আর ইবনে দাকীক আল-ঈদ এবং ইবনে হাজার আল-হাইতামী (পৃষ্ঠা ২১) এর বক্তব্য ইতিপূর্বেই অতিবাহিত হয়েছে।

আর তৃতীয় প্রকারের বিধান জানার জন্য আপনাকে বৈধ (مباح) বিষয়গুলোর দিকে তাকাতে হবে যে, এগুলোকে ইবাদত (عبادة) মনে করে আমল করা জায়েজ কি না? এর উদাহরণ হলো কোনো ব্যক্তি সুহাইল নক্ষত্র উদিত হওয়ার দিকে মুখ করে বসাকে গুরুত্ব দেওয়া, অথবা চাঁদের আলোতে ঘুমানো, কিংবা ঈদের রাতে রোজা ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ থেকে বিরত থাকা; এই দাবি করে যে এসব আমলকারীর জন্য সওয়াব ও প্রতিদানের আশা করা যায়।

এই ধরনের দাবি যারা করে তাদের আমরা বলব: সওয়াব ও প্রতিদানের আশায় এই আমল করা কি শরিয়তসম্মত?

যদি সে বলে: না, তবে তার বিষয়টি আমাদের জন্য যথেষ্ট।

আর যদি সে বলে: হ্যাঁ, তবে আমরা বলব: মহান আল্লাহ কি এটি বিধিবদ্ধ করেছেন নাকি অন্য কেউ?
(খণ্ড: ১৫) আহকামুল হাদিসিজ যয়ীফ - জিমনা আসারুল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ১৭৫)
فإن قال: غيره، فقد أشرك. قال الله تعالى: {أَمْ لَهُمْ شُرَكَاءُ شَرَعُوا لَهُمْ مِنَ الدِّينِ مَا لَمْ يَأْذَنْ بِهِ اللَّهُ} [الشورى: 21].

وإن قال: بل الله عز وجل شرعه.

قيل له: فهل أعْلَمَ به رسولَ الله صلى الله عليه وآله وسلم؟

فإن قال: لا!

قيل له: فأَنَّى عَلِمْتَه؟ أتعلم الغيب؟ أم تدّعي النبوَّة لك أو لأحدٍ بعد محمد صلى الله عليه وآله وسلم، وقد قال الله تبارك وتعالى: {الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ} [المائدة: 3]. نزلت قُبيل موت النبي صلى الله عليه وآله وسلم.

وجاء عن عمر وابن عباس وغيرهم [ص 22] كمالك والشافعي وأحمد والبخاري وغيرهم تفسيرها بأن جميع أحكام الدين قد أوحاها الله إلى نبيّه صلى الله عليه وآله وسلم، وبلَّغها النبيُّ صلى الله عليه وسلم إلى أمّته(1).

وإن قال: بل أعْلَم الله عز وجل رسولَه صلى الله عليه وآله وسلم مشروعيّة هذا العمل.

قيل له: هل أمره بتبليغ ذلك؟

فإن قال: لا!

قيل له: فليست إذن مما شرعه للأمة، إذ لو كان مما شُرِع للأمة لأمره بتبليغه، وأيضًا فكيف علمتَ أنتَ أنَّ الله شَرَعَه؟ !

--------------------------------------------

(1) انظر تفسير الطبري: (8/ 79 - 80)، و"الدر المنثور": (2/ 456).
যদি তিনি বলেন: অন্য কেউ, তবে তিনি শিরক করলেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন: {নাকি তাদের এমন কিছু শরীক আছে যারা তাদের জন্য দ্বীনের এমন সব বিধান দিয়েছে যার অনুমতি আল্লাহ দেননি?} [শূরা: ২১]।

আর যদি তিনি বলেন: বরং আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা এটি বিধিবদ্ধ করেছেন।

তাকে জিজ্ঞেস করা হবে: তবে কি তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামকে এ সম্পর্কে অবহিত করেছেন?

যদি তিনি বলেন: না!

তাকে বলা হবে: তবে আপনি এটি কীভাবে জানলেন? আপনি কি গায়েব (অদৃশ্য) জানেন? নাকি আপনি নিজের জন্য অথবা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের পরে অন্য কারো জন্য নবুওয়তের দাবি করছেন? অথচ আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা বলেছেন: {আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করলাম} [মায়েদাহ: ৩]। এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের ইন্তেকালের কিছুকাল পূর্বে নাজিল হয়েছে।

উমর, ইবনে আব্বাস এবং অন্যান্যদের [পৃষ্ঠা ২২] থেকে বর্ণিত হয়েছে, যেমন মালেক, শাফেয়ী, আহমাদ, বুখারী এবং অন্যান্যরা এর তাফসিরে উল্লেখ করেছেন যে, দ্বীনের যাবতীয় বিধান আল্লাহ তাঁর নবীর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের প্রতি ওহী করেছেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তা তাঁর উম্মতের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন(১)।

আর যদি তিনি বলেন: বরং আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামকে এই আমলের বৈধতা সম্পর্কে অবহিত করেছেন।

তাকে জিজ্ঞেস করা হবে: তিনি কি তাঁকে এটি পৌঁছে দেওয়ার আদেশ দিয়েছেন?

যদি তিনি বলেন: না!

তাকে বলা হবে: তবে এটি উম্মতের জন্য বিধিবদ্ধ কোনো বিষয় নয়; কেননা যদি এটি উম্মতের জন্য বিধিবদ্ধ হতো তবে তিনি তাঁকে তা পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দিতেন। এছাড়া, আপনিই বা কীভাবে জানলেন যে আল্লাহ এটি বিধিবদ্ধ করেছেন?!

--------------------------------------------

(১) দেখুন তাফসিরে তাবারী: (৮/ ৭৯ - ৮০), এবং "আদ-দুররুল মানসুর": (২/ ৪৫৬)।
(খণ্ড: ১৫) আহকামুল হাদিসিজ যয়ীফ - জিমনা আসারুল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ১৭৬)
وإن قال: بل أمره بتبليغه.

قيل له: فهل بلّغه؟

فإن قال: لا، فقد كفر؛ لاتهامه النبيَّ صلى الله عليه وآله وسلم بعدم تبليغ ما أمره الله بتبليغه، وأيضًا فكيف علمتَها أنت؟

وإن قال: بل بلّغَه.

قيل له: فهل حَفِظَتْها الأمة؟

فإن قال: لا.

قيل له: فأين قول الله عز وجل: {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} [الحجر: 9]. الآية تدل على حفظ السنة أيضًا؛ لأن المقصود من حفظ القرآن هو أن تبقى الحجةُ قائمةً والهدايةُ دائمًة إلى يوم القيامة، حتى لا تدعو الحاجة إلى بعث نبي بعد خاتم الأنبياء صلى الله عليهم وسلم.

ولذلك لما قيل لابن المبارك: هذه الأحاديث المصنوعة؟ قال: تعيش لها الجهابذة {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ}(1). فاحتجَّ بالآية على حفظ السنة من أن يُلْصَق بها ما ليس منها على وجهٍ لا يمكن تمييزه، ونحن نحتجّ بها على حفظ السنة من أن يضيع منها دليل لا يُغني عنه غيره. [ص 23] وأيضًا فكيف علمته أنت؟ !

وإن قال: بل حفظَتْها الأمة.

قيل له: فأوْجِدْنا في الشريعة ذلك.

--------------------------------------------

(1) "تقدمة الجرح والتعديل": (1/ 3 و 2/ 18).
আর যদি সে বলে: বরং তিনি তাঁকে তা পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

তাকে জিজ্ঞেস করা হবে: তবে তিনি কি তা পৌঁছে দিয়েছেন?

যদি সে বলে: না, তবে সে কুফরি করল; কারণ সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম-এর ওপর আল্লাহ প্রদত্ত সেই বার্তা পৌঁছে না দেওয়ার অভিযোগ এনেছে যা পৌঁছে দেওয়ার জন্য তিনি নির্দেশিত হয়েছিলেন। এছাড়া, তুমি তা জানলে কীভাবে?

আর যদি সে বলে: বরং তিনি তা পৌঁছে দিয়েছেন।

তাকে জিজ্ঞেস করা হবে: তবে উম্মত কি তা সংরক্ষণ করেছে?

যদি সে বলে: না।

তাকে বলা হবে: তবে মহান আল্লাহর এই বাণীর কী হবে: {নিশ্চয় আমি জিকির (কুরআন) নাজিল করেছি এবং আমিই তার সংরক্ষণকারী} [আল-হিজর: ৯]। এই আয়াতটি সুন্নাহ্ সংরক্ষণের ওপরও প্রমাণ বহন করে; কারণ কুরআন সংরক্ষণের উদ্দেশ্য হলো কিয়ামত পর্যন্ত হুজ্জাত (حجة) সুপ্রতিষ্ঠিত রাখা এবং হিদায়াতকে স্থায়ী করা, যাতে শেষ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পর আর কোনো নবী পাঠানোর প্রয়োজন না থাকে।

আর এই কারণেই যখন ইবনুল মুবারককে জিজ্ঞেস করা হলো: এই বানোয়াট (مصنوعة) হাদিসগুলোর ব্যাপারে কী হবে? তিনি বললেন: সেগুলোর (রহস্য উন্মোচনের) জন্য প্রাজ্ঞ বিশেষজ্ঞগণ জীবিত আছেন— {নিশ্চয় আমি জিকির নাজিল করেছি এবং আমিই তার সংরক্ষণকারী}(১)। সুতরাং তিনি এই আয়াতের মাধ্যমে সুন্নাহ্ সংরক্ষণের পক্ষে দলিল পেশ করেছেন যেন সুন্নাহর সাথে এমন কিছু জুড়ে দেওয়া না হয় যা তার অংশ নয় এবং যা পৃথক করা সম্ভব নয়। আর আমরাও এর মাধ্যমে সুন্নাহ্ সংরক্ষণের দলিল দিচ্ছি যাতে এমন কোনো প্রমাণ হারিয়ে না যায় যার বিকল্প অন্য কিছু হতে পারে না। [পৃ. ২৩] আর তাছাড়া, তুমি তা জানলে কীভাবে?!

আর যদি সে বলে: বরং উম্মত তা সংরক্ষণ করেছে।

তাকে বলা হবে: তবে শরিয়তে আমাদের তা দেখাও।

--------------------------------------------

(১) "তাকদিমাতুল জারহ ওয়াত তাদিল": (১/ ৩ এবং ২/ ১৮)।
(খণ্ড: ১৫) আহকামুল হাদিসিজ যয়ীফ - জিমনা আসারুল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ১৭৭)
فإن قال: أنا لا أستحضر ذلك، ولكن لعله في دلالة آيةٍ من القرآن لم أتنبّه لها، أو في سنة ثابتة محفوظة لم أقف عليها.

قيل له: فمن أين علمتَ أن ذلك موجود محفوظ؟ والأصل عدم الشرع، ولو كان هناك دليل على شَرْع هذه الأعمال لَعَلِمه العلماء أو بعضُهم، ولو علموه لأخبروا به وتُنُوقِل عنهم.

وادّعاؤك على الله عز وجل أنه شَرَع ذلك العمل، وليس بيدك دليل على ذلك، كذب على الله، وقد قال تعالى: [{وَلَا تَقُولُوا لِمَا تَصِفُ أَلْسِنَتُكُمُ الْكَذِبَ هَذَا حَلَالٌ وَهَذَا حَرَامٌ لِتَفْتَرُوا عَلَى اللَّهِ الْكَذِبَ إِنَّ الَّذِينَ يَفْتَرُونَ عَلَى اللَّهِ الْكَذِبَ لَا يُفْلِحُونَ} [النحل: 116]](1).

[ص 24] فأنت ترى أن مَن تحرّى شيئًا من المباحات زاعمًا أنه يُرجى لعامله الأجر والثواب دائرٌ بين الشرك والكفر والكذب على الله والتكذيب بآياته، وأقلّ أحواله أنه مبتدع ضالّ إذا عَذَرْناه فلم نُكفّره.

إذا تقرر هذا فكيف يسوغ قلب الحكم لمجرّد حديث ضعيف فيقال: لو لم يَرِد الحديث الضعيف لكان تحرِّي هذا العمل رجاءً للأجر والثواب إما شركًا وإما كفرًا، وإذا عُذِر صاحبه لم يكفَّر ولكنه مبتدع ضال، ولمّا ورد الحديث الضعيف بالدلالة على استحبابه صار تحرّيه رجاء الأجر والثواب جائزًا أو مستحبًّا.

وبعبارة أخرى: لولا الضعيف لما كان هذا العمل من الدين، ولكن

--------------------------------------------

(1) ترك المؤلف مكان الآية بياضًا، والظاهر أنه أراد الآية التي أثبتّها.
যদ তিনি বলেন: আমার এই মুহূর্তে তা স্মরণে নেই, তবে সম্ভবত এটি কুরআনের কোনো আয়াতের নির্দেশনায় রয়েছে যা আমি লক্ষ্য করিনি, অথবা কোনো সুপ্রতিষ্ঠিত (ثابتة) সংরক্ষিত সুন্নাহর মধ্যে রয়েছে যা আমি খুঁজে পাইনি।

তাকে বলা হবে: আপনি কীভাবে জানলেন যে তা বিদ্যমান ও সংরক্ষিত রয়েছে? অথচ মূলনীতি হলো শরিয়ত সাব্যস্ত না হওয়া। যদি এই আমলগুলো বিধিবদ্ধ হওয়ার ব্যাপারে কোনো দলিল থাকত, তবে আলেমগণ বা তাদের কেউ কেউ অবশ্যই তা জানতেন। আর যদি তারা তা জানতেন, তবে তারা তা বর্ণনা করতেন এবং তাদের থেকে তা ধারাবাহিকভাবে বর্ণিত হতো।

আর মহান আল্লাহর ব্যাপারে আপনার এই দাবি করা যে তিনি এই আমলটি বিধিবদ্ধ করেছেন, অথচ আপনার কাছে এর কোনো প্রমাণ নেই—তা আল্লাহর ওপর মিথ্যারোপ করার শামিল। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "তোমাদের জিহ্বা থেকে মিথ্যা বর্ণনা করে তোমরা এ কথা বলো না যে, 'এটি হালাল এবং এটি হারাম', যাতে তোমরা আল্লাহর ওপর মিথ্যারোপ করতে পার। নিশ্চয় যারা আল্লাহর ওপর মিথ্যারোপ করে, তারা সফলকাম হবে না।" [আন-নাহল: ১১৬](১)।

[পৃষ্ঠা ২৪] সুতরাং আপনি দেখছেন যে, যে ব্যক্তি কোনো মুবাহ বা বৈধ বিষয় পালনে এই দাবি করে সচেষ্ট হয় যে এর আমলকারীর জন্য সওয়াব ও প্রতিদানের আশা রয়েছে, সে শিরক, কুফর, আল্লাহর ওপর মিথ্যারোপ এবং তাঁর আয়াতসমূহ অস্বীকার করার মাঝে ঘুরপাক খাচ্ছে। আর তার সর্বনিম্ন অবস্থা হলো এই যে, সে একজন বিভ্রান্ত (ضال) বিদআতকারী (مبتدع), যদি আমরা তাকে ওজরের কারণে কাফির সাব্যস্ত না করি।

যদি এটি সুপ্রতিষ্ঠিত হয়, তবে নিছক একটি দুর্বল (ضعيف) হাদিসের কারণে বিধান পরিবর্তন করা কীভাবে বৈধ হতে পারে? এমতাবস্থায় বলা হয়: যদি দুর্বল (ضعيف) হাদিসটি বর্ণিত না হতো, তবে সওয়াব ও প্রতিদানের আশায় এই আমলটি পালন করা হয় শিরক নতুবা কুফর হতো; আর যদি আমলকারীকে অপারগ গণ্য করা হতো তবে তাকে কাফির বলা না হলেও সে বিভ্রান্ত (ضال) বিদআতকারী (مبتدع) হিসেবে গণ্য হতো। কিন্তু যখন এর মুস্তাহাব বা পছন্দনীয় (استحباب) হওয়ার নির্দেশনায় একটি দুর্বল (ضعيف) হাদিস বর্ণিত হলো, তখন সওয়াব ও প্রতিদানের আশায় তা পালন করা বৈধ অথবা মুস্তাহাব (مستحب) হয়ে গেল!

অন্য কথায়: যদি দুর্বল (ضعيف) হাদিসটি না থাকত, তবে এই আমলটি দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত হতো না, কিন্তু...

--------------------------------------------

(১) লেখক আয়াতের স্থানে শূন্যস্থান রেখেছিলেন; প্রতীয়মান হয় যে, তিনি সেই আয়াতটিই উদ্দেশ্য করেছেন যা আমি এখানে সাব্যস্ত করেছি।
(খণ্ড: ১৫) আহকামুল হাদিসিজ যয়ীফ - জিমনা আসারুল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ১৭৮)
ورود الضعيف جَعَله من الدين!!

وبالنظر إلى النصوص السابقة نقول: ألا ترى هذا الضعيف فيه حُكم وحلال وحرام وسنة ويضع حُكمًا ويرفعه؟ فارجع إلى تلك النصوص وانظر هل تدل على أن القوم كانوا يتساهلون في رواية ما هذا شأنه؟

[ص 25] بالأدلة(1) الثابتة جملةً وتفصيلًا، فليس في ذلك الضعيف أمر زائد على الثابت، فهذا هو الذي تدلّ النصوص السابقة على أن العلماء يتساهلون في روايته؛ لأنهم يرون أنه لا يُخشى من تساهلهم فيه إلا أن يسمعه بعض المسلمين فيُجوِّز كونه صحيحًا، فيزداد إقبالًا على الطاعة، وهذه هي الفائدة في تساهلهم في رواية ما هذا شأنه.

فصل

ونزيد ذلك إيضاحًا فنقول: لو سألتَ عالمًا هل صوم يوم عَرفة لغير الحاج سنة ومستحبّ؟ لبادرك بالجواب قائلًا: نعم!

فلو قلتَ له: فهل صوم ثاني يوم من صفر سنة ومستحبّ؟ لبادر قائلًا: لا!

فإن احتاط في الجواب قال: أما من حيث خصوصه فلا، ولكن صيام التطوّع مستحبّ في أيّ يوم كان، ما عدا ما ثبت النهي عنه.

فقد علمتَ من هذا أن إثبات السّنِّية والاستحباب على الخصوص حكم

--------------------------------------------

(1) كذا تبدأ هذه الورقة [25] وفي الكلام نقص، يدل على أنّ هناك سقطًا في صفحات المخطوط.
দুর্বল (ضعيف) বর্ণনার উপস্থিতি একে দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত করে দিয়েছে!!

পূর্বোক্ত উদ্ধৃতিগুলো বিবেচনা করে আমরা বলি: আপনি কি দেখছেন না যে, এই দুর্বল (ضعيف) বর্ণনার মধ্যে কোনো বিধান (حكم), হালাল, হারাম ও সুন্নাহ রয়েছে এবং এটি কোনো বিধান (حكم) সাব্যস্ত করে কিংবা রহিত করে? সুতরাং সেই উদ্ধৃতিগুলোর দিকে লক্ষ্য করুন এবং দেখুন যে সেগুলো কি একথার প্রমাণ দেয় যে, আলেমগণ এমন প্রকৃতির বর্ণনা (رواية) করার ক্ষেত্রে শিথিলতা প্রদর্শন করতেন?

[পৃষ্ঠা ২৫] সামগ্রিক ও বিস্তারিতভাবে প্রমাণিত দলীলাদি(১) দ্বারা। সুতরাং সেই দুর্বল (ضعيف) বর্ণনায় প্রমাণিত বিষয়ের অতিরিক্ত কোনো কিছু নেই। আর এটিই সেই বিষয় যার বর্ণনা (رواية) করার ক্ষেত্রে আলেমগণ শিথিলতা প্রদর্শন করেন বলে পূর্বোক্ত উদ্ধৃতিসমূহ নির্দেশ করে। কারণ তারা মনে করেন যে, তাদের এই শিথিলতার ফলে কেবল এতটুকু ছাড়া অন্য কোনো আশঙ্কার কারণ নেই যে, কোনো মুসলিম তা শুনে একে সহিহ (صحيح) হওয়ার সম্ভাবনা কল্পনা করবে এবং ইবাদতের প্রতি তার আগ্রহ বৃদ্ধি পাবে। আর এই ধরনের বর্ণনা (رواية) করার ক্ষেত্রে তাদের শিথিলতা প্রদর্শনের উপকারিতা এখানেই।

পরিচ্ছেদ

আমরা এর আরও ব্যাখ্যা প্রদান করছি; আমরা বলি: আপনি যদি কোনো আলেমকে জিজ্ঞাসা করেন যে, হাজি ব্যতীত অন্যদের জন্য আরাফার দিনের রোজা কি সুন্নাত ও মুস্তাহাব? তবে তিনি তৎক্ষণাৎ উত্তর দেবেন: হ্যাঁ!

আর আপনি যদি তাকে জিজ্ঞাসা করেন: তবে সফর মাসের দ্বিতীয় দিনের রোজা কি সুন্নাত ও মুস্তাহাব? তবে তিনি সাথে সাথে বলবেন: না!

যদি তিনি উত্তর প্রদানের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করেন, তবে বলবেন: নির্দিষ্টভাবে এই দিনের রোজা হিসেবে নয়, তবে সাধারণ নফল রোজা যেকোনো দিনেই মুস্তাহাব, কেবল সেই দিনগুলো ব্যতীত যেগুলোতে রোজা রাখতে নিষেধ করা হয়েছে।

এ থেকে আপনি অবগত হলেন যে, নির্দিষ্টভাবে কোনো আমল সুন্নাত বা মুস্তাহাব হওয়া সাব্যস্ত করা একটি বিধান (حكم)

--------------------------------------------

(১) ২৫ নম্বর পৃষ্ঠাটি এভাবেই শুরু হয়েছে এবং বক্তব্যে অসম্পূর্ণতা রয়েছে, যা নির্দেশ করে যে পাণ্ডুলিপির পাতায় কিছু অংশ বাদ পড়েছে।
(খণ্ড: ১৫) আহকামুল হাদিসিজ যয়ীফ - জিমনা আসারুল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ১৭৯)
مستقلّ.

[ص 26] ولو سألتَه: هل يمكن أن يكون مِنْ أَجْر المكثر من صيام التطوّع غيرِ خارجٍ عن المشروع أن يُسْقَى من حوض النبي صلى الله عليه وآله وسلم قبل مَن كان أقلّ صيامًا منه؟ لقال لك: يمكن!

فلو قلتَ له: فهل يمكن أن يكون مِن أجْر صائم يوم الأربعاء وثاني صفر أن يُسقى من الحوض قَبْل صائمِ اليومِ الذي قبله وسائر الأيام؟ لقال لك: لا!

فإن طالبتَه بالفرق، قال: الشرع لم يُحدّد أجر صيام التطوّع وغيره من الطاعات، بل نصّ على بعض الأجر ووعد بالمزيد والمضاعفة، فيمكن أن يكون التقديم في السقي من الحوض من ذلك المزيد، ولا يلزم من عدم نص الشرع عليه ــ على فرض أنه واقع في نفس الأمر ــ نقصٌ في الدين. ولا يلزم من تجويز ذلك كَذِبٌ على الله تعالى ولا زيادةٌ في دينه ولا غير ذلك مما تقدم.

وأمّا ثاني يوم من صفر فلو كان له هذه المزيّة لخَصَّه الشارع بالحضّ على صيامه كما خصّ يوم عرفة ويوم عاشوراء، فلو جوَّزنا له هذه المزيّة، مع أن الشرع لم ينص على مزيّة له، لكُنّا قد جوّزنا أن يكون صيامه سنةً ومستحبًّا على الخصوص. وهذا حُكْم مستقل، لو كان واقعًا ولم ينص عليه، لكان الدين ناقصًا. [ص 27] وإذ قد عُلِمَ أن الدين كامل؛ فإنّ في زَعْم أن [صيامَ] ثاني صفر سُنةٌ ومستحبّ على الخصوص شرعًا لِمَا لم يأذن به الله، وكذبًا عليه … إلى غير ذلك من الموبقات.
স্বতন্ত্র।

[পৃষ্ঠা ২৬] আর যদি আপনি তাকে জিজ্ঞাসা করেন: শরীয়তসম্মত সীমার ভেতরে থেকে অধিকহারে নফল রোজা (صيام التطوع) পালনকারীর পুরস্কার কি এটা হওয়া সম্ভব যে, তাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম-এর হাউজ থেকে সেই ব্যক্তির আগে পানি পান করানো হবে যে তার চেয়ে কম রোজা রেখেছে? তবে তিনি অবশ্যই আপনাকে বলবেন: এটা সম্ভব!

অতঃপর আপনি যদি তাকে বলেন: তবে বুধবার এবং সফরের দ্বিতীয় তারিখে রোজা পালনকারীর পুরস্কার কি এটা হওয়া সম্ভব যে, তাকে তার পূর্ববর্তী দিন ও অন্যান্য দিনগুলোতে রোজা পালনকারীর আগে হাউজ থেকে পানি পান করানো হবে? তবে তিনি আপনাকে বলবেন: না!

যদি আপনি তার কাছে এর পার্থক্যের কারণ জানতে চান, তবে তিনি বলবেন: শরীয়ত নফল রোজা (صيام التطوع) এবং অন্যান্য ইবাদতসমূহের সওয়াব নির্দিষ্ট করে দেয়নি, বরং কিছু সওয়াবের কথা উল্লেখ করেছে এবং আরও অধিক ও বহুগুণ বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সুতরাং হাউজ থেকে পানি পানের ক্ষেত্রে অগ্রগণ্য হওয়া সেই অতিরিক্ত পুরস্কারের অন্তর্ভুক্ত হওয়া সম্ভব। আর শরীয়তে এটি স্পষ্টভাবে বর্ণিত না থাকা থেকে—যদি ধরেও নেওয়া হয় যে বাস্তবে এটি ঘটবে—দীনের মধ্যে কোনো অপূর্ণতা (نقص) আবশ্যক হয় না। তদ্রূপ এটি জায়েজ মনে করা থেকে আল্লাহ তাআলার প্রতি মিথ্যা আরোপ, তাঁর দীনের মধ্যে কোনো কিছু সংযোজন কিংবা পূর্বোল্লিখিত অন্য কোনো বিষয়ও আবশ্যক হয় না।

কিন্তু সফরের দ্বিতীয় দিনের যদি এমন কোনো বিশেষ মর্যাদা থাকত, তবে শরীয়ত প্রণেতা সে দিন রোজা রাখার ব্যাপারে বিশেষভাবে উৎসাহিত করতেন, যেমনটি তিনি আরাফার দিন এবং আশুরার দিনকে বিশিষ্ট করেছেন। সুতরাং আমরা যদি এই দিনটির জন্য এমন কোনো বিশেষ মর্যাদা সাব্যস্ত করি—অথচ শরীয়ত এর কোনো বিশেষত্বের কথা উল্লেখ করেনি—তবে আমরা যেন এর রোজা পালন করাকে বিশেষভাবে সুন্নাহ (سنة) ও মুস্তাহাব (مستحبّ) হিসেবে বৈধ করে নিলাম। অথচ এটি একটি স্বতন্ত্র বিধান (حكم); এটি যদি বাস্তব হতো আর শরীয়ত তা বর্ণনা না করত, তবে দীন অপূর্ণ থেকে যেত। [পৃষ্ঠা ২৭] যেহেতু এটি সুনিশ্চিত যে দীন পূর্ণাঙ্গ; সেহেতু সফরের দ্বিতীয় দিনের [রোজাকে] বিশেষভাবে শরীয়তসম্মত সুন্নাহ (سنة) ও মুস্তাহাব (مستحبّ) দাবি করা এমন এক বিষয় যার অনুমতি আল্লাহ দেননি, এবং এটি তাঁর ওপর মিথ্যা আরোপ করা … ইত্যাদি ধ্বংসাত্মক পাপের (موبقات) অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ১৫) আহকামুল হাদিসিজ যয়ীফ - জিমনা আসারুল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ১৮০)
فلو ورد حديثان ضعيفان، أحدهما: أن المكثرين من صيام التطوع يُسْقَون قبل غيرهم. والآخر: أن صائمي ثاني يوم من صفر يُسقون قبل غيرهم. فأيُّ الحديثين تدلّ النصوص التي تقدمت عن الإمام أحمد وغيره على أنهم يتساهلون في روايته؟ آلأول الذي ليس فيه حكم زائد ولا سنة ولا حلال ولا حرام؟ أم الثاني وفيه حكم زائد وسنة وحلال وحرام، على ما مرَّ تقريرُه؟

بقي شيءٌ وهو أن الحاكم قال في أول كتاب الدعوات من "المستدرك": ["وأنا بمشيئة الله أُجري الأخبار التي سقطت على الشيخين في كتاب الدعوات على مذهب أبي سعيد عبد الرحمن بن مهدي في قبولها؛ فإني سمعت أبا زكريا يحيى بن محمد العنبري يقول: سمعت أبا الحسن محمد بن إسحاق بن إبراهيم الحنظلي يقول: كان أبي يحكي عن عبد الرحمن بن مهدي، يقول: إذا روينا عن النبي صلى الله عليه وسلم في الحلال والحرام والأحكام شدّدنا في الأسانيد وانتقدنا الرجال، وإذا روينا في فضائل الأعمال والثواب والعقاب والمباحات والدعوات تساهلنا في الأسانيد"](1) "المستدرك" ج 1 ص 490.

فزاد في عبارة ابن مهدي "المباحات والدعوات" فلقائل أن يقول: هذه الزيادة تمنع حمل التساهل في كلام ابن مهدي على التساهل في رواية الضعيف على الضرب الأول، وتُعيِّن أنه أراد الضرب الثاني والثالث.

وأقول: أما المباحات فلم يُرِد ابن مهدي أنه يتساهل في الضعاف الواردة بفضائل لما ثبت في الشرع أنه مباح، فإن هذه الضعاف فيها سنن

--------------------------------------------

(1) ترك المؤلف ثلاثة أسطر لكلام الحاكم، فأضفناها من "المستدرك".
যদি দুটি দুর্বল (ضعيف) হাদিস বর্ণিত হয়; যার একটি হলো: নফল রোজা অধিক পালনকারীদের অন্যদের আগে পানি পান করানো হবে। আর অন্যটি হলো: সফরের দ্বিতীয় দিনে রোজা পালনকারীদের অন্যদের আগে পানি পান করানো হবে। তবে ইমাম আহমাদ ও অন্যদের থেকে পূর্বে বর্ণিত উদ্ধৃতিগুলো কোন হাদিসটির বর্ণনার (رواية) ক্ষেত্রে শৈথিল্য প্রদর্শনের ইঙ্গিত দেয়? প্রথমটি, যাতে কোনো অতিরিক্ত বিধান (حكم), সুন্নাহ (سنة), হালাল (حلال) বা হারাম (حرام) নেই? নাকি দ্বিতীয়টি, যাতে অতিরিক্ত বিধান (حكم), সুন্নাহ (سنة), হালাল (حلال) ও হারাম (حرام) রয়েছে, ইতিপূর্বে বর্ণিত আলোচনার ভিত্তিতে?

একটি বিষয় অবশিষ্ট রয়েছে, আর তা হলো হাকেম 'মুস্তাদরাক'-এর কিতাবুদ দাওয়াত-এর শুরুতে বলেছেন: ["আল্লাহর ইচ্ছায় আমি কিতাবুদ দাওয়াত-এ শাইখাইনের মানদণ্ডে উত্তীর্ণ না হওয়া বর্ণনাগুলোর গ্রহণযোগ্যতার ক্ষেত্রে আবু সাঈদ আব্দুর রহমান ইবনুল মাহদির মাযহাব অনুসরণ করব। কেননা আমি আবু যাকারিয়া ইয়াহইয়া বিন মুহাম্মদ আল-আনবারিকে বলতে শুনেছি: আমি আবুল হাসান মুহাম্মদ বিন ইসহাক বিন ইবরাহিম আল-হানজালিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: আমার পিতা আব্দুর রহমান ইবনুল মাহদি থেকে বর্ণনা করতেন যে, তিনি বলতেন: আমরা যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হালাল (حلال), হারাম (حرام) এবং বিধানাবলি (أحكام) সম্পর্কে বর্ণনা করি, তখন আমরা সনদসমূহের (أسانيد) ক্ষেত্রে কঠোরতা অবলম্বন করি এবং রাবিদের (رجال) সমালোচনা করি। আর যখন আমরা আমলের ফজিলত (فضائل الأعمال), সওয়াব ও আজাব (الثواب والعقاب), বৈধ বিষয় (مباحات) এবং দোয়া (دعوات) সম্পর্কে বর্ণনা করি, তখন আমরা সনদের (أسانيد) ক্ষেত্রে কিছুটা শৈথিল্য প্রদর্শন করি।"](1) "মুস্তাদরাক", ১ম খণ্ড, ৪৯০ পৃষ্ঠা।

ইবনুল মাহদির বক্তব্যে তিনি 'বৈধ বিষয়' (مباحات) ও 'দোয়া' (دعوات) শব্দ দুটি বৃদ্ধি করেছেন। ফলে কেউ বলতে পারেন যে: এই বর্ধিত অংশটি ইবনুল মাহদির বক্তব্যের শৈথিল্যকে প্রথম প্রকারের দুর্বল (ضعيف) হাদিস বর্ণনার (رواية) শৈথিল্যের ওপর প্রয়োগ করতে বাধা দেয়, বরং এটি নির্দিষ্ট করে দেয় যে তিনি দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রকার উদ্দেশ্য করেছেন।

আর আমি বলি: 'বৈধ বিষয়' (مباحات) দ্বারা ইবনুল মাহদি এমনটি বুঝাতে চাননি যে, শরিয়তে যা বৈধ হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে তার ফজিলত বর্ণনায় আসা দুর্বল (ضعاف) হাদিসগুলোর ক্ষেত্রে তিনি শৈথিল্য প্রদর্শন করবেন; কেননা এই দুর্বল (ضعاف) হাদিসগুলোর মধ্যে সুন্নাহ (سنة) নিহিত রয়েছে।

--------------------------------------------

(1) লেখক হাকেমের বক্তব্যের তিনটি পঙ্‌ক্তি বাদ দিয়েছিলেন, আমরা তা "মুস্তادরাক" থেকে যুক্ত করে দিয়েছি।