(খণ্ড: ১) হুজ্জাতুন নবী (পৃষ্ঠা: -)
حجة النبي   (ناصر الدين الألباني)

القسم: الفقه العام


الكتاب: حجة النبي صلى الله عليه وسلم كما رواها عنه جابر رضي الله عنه

المؤلف: محمد ناصر الدين الألباني (ت 1420هـ)

الناشر: المكتب الإسلامي - بيروت

الطبعة: الخامسة - 1399

عدد الصفحات: 148

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

নবী (সা.)-এর হজ   (নাসিরুদ্দিন আলবানী)

বিভাগ: সাধারণ ফিকহ


গ্রন্থ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হজ, যেভাবে জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু তা বর্ণনা করেছেন

লেখক: মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন আলবানী (মৃত্যু ১৪২০ হি.)

প্রকাশক: আল-মাকতাবুল ইসলামী - বৈরুত

সংস্করণ: পঞ্চম - ১৩৯৯

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৪৮

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) হুজ্জাতুন নবী (পৃষ্ঠা: ১)
‌‌حجة النبي صلى الله عليه وسلم

كما رواها عنه جابر رضي الله عن هـ

(خذوا عني مناسككم فإني لا أدري لعلي لا أحج بعد عامي هذا)

حديث شريف

تأليف: محمد ناصر الدين الألباني

الطبعة الخامسة - 1399 هـ - بيروت

المكتب الإسلامي - بيروت
‌নবীজির হজ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম

যেভাবে জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর থেকে এটি বর্ণনা করেছেন

(তোমরা আমার নিকট থেকে তোমাদের হজের নিয়মাবলি গ্রহণ করো; কেননা আমি জানি না, সম্ভবত এই বছরের পর আমি আর হজ করতে পারব না)

হাদিসে শরিফ

রচনা: মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানী

পঞ্চম সংস্করণ - ১৩৯৯ হিজরি - বৈরুত

আল-মাকতাব আল-ইসলামী - বৈরুত
(খণ্ড: ১) হুজ্জাতুন নবী (পৃষ্ঠা: ২)
إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا من يهده الله فلا مضل له ومن يضلل فلا هادي له وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأشهد أن محمدا عبده ورسوله

أما بعد: فهذه هي الطبعة الثانية لكتابنا (حجة النبي صلى الله عليه وسلم كما رواها جابر رضي الله عن هـ) عز منا على إعادة طبعه بعد أن عزت نسخه وكثر الطلب عليه من كثير من البلاد الإسلامية فأعدت النظر فيه وزدت في متنه بعض الجمل التي استدركتها من المصادر الحديثية التي لم تكن قد طبعت من قبل أو كانت نسخها عزيزة مثل (موارد الظمآن إلى زوائد ابن حبان) و (المنتقى) لابن الجارود و (طبقات ابن سعد) وبعض المخطوطات

[2]
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাচ্ছি। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ প্রদর্শনকারী কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল।

অতঃপর: এটি আমাদের 'হজ্জাতুন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কামা রাওয়াহা জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু' শীর্ষক গ্রন্থের দ্বিতীয় সংস্করণ। কপির দুষ্প্রাপ্যতা এবং বিভিন্ন মুসলিম দেশ থেকে এর ব্যাপক চাহিদার কারণে আমরা এটি পুনঃমুদ্রণের সংকল্প করি। তাই আমি বইটিতে পুনরায় দৃষ্টিপাত করেছি এবং এর মূল পাঠে (متن) এমন কিছু বাক্য বৃদ্ধি করেছি যা আমি হাদিস বিষয়ক এমন সব উৎস থেকে সংগ্রহ করেছি যেগুলো ইতিপূর্বে মুদ্রিত হয়নি অথবা যেগুলোর কপি ছিল দুষ্প্রাপ্য; যেমন— মাওয়ারিদুজ জামআন ইলা যাওয়াইদি ইবনে হিব্বান, ইবনুল জারুদের আল-মুনতাকা, ইবনে সা'দের তাবাকাত এবং কিছু পাণ্ডুলিপি (مخطوطات)।

[2]
(খণ্ড: ১) হুজ্জাতুন নবী (পৃষ্ঠা: ৩)
بيد أني أضفت إليه تعليقات كثيرة تضمنت فوائد جمة أغلبها في بيان بعض المناسك كانت قد فإني أو لم يتيسر لي معها في طبعته السابقة

ثم ذيلته بذيل ذكرت فيه قسما كبيرا من البدع التي يقع فيها بع الحجاج منذ عزمهم على السفر حتى رجوعهم إلى أهلهم وأدخلت فيه بدع زيارة المسجد النبوي وبيت المقدس لأن كثيرا من الحجاج يجمعون بين الحج والسفر إلى المسجد النبوي والمسجد الأقصى وذلك أمر مشروع مرغوب فيه وإن كان مطلقا غير مقيد بالحج فيشرع مع الحج قبله أو بعده وبدونه

وعندي بعض النصائح أريد أن أقدمها إلى القراء الكرام والحجاج إلى بيت الله الحرام عسى الله تبارك وتعالى أن ينفعهم بها ويكتب لي أجر الدال على الخير بإذنه إنه على ما يشاء قدير وبالإجابة جدير

ومما لا ريب فيه أن باب النصيحة واسع جدا ولذلك فإني سأنتقي منه ما أعلم أن كثيرا من الحجاج في جهل به أو إهمال له أسأل الله تعالى أن يعلمنا ما ينفعنا ويوفقنا للعمل به فإنه خير مسؤول

[3]
তবে আমি এতে অনেক টীকা যুক্ত করেছি যাতে অনেক উপকারিতা রয়েছে, যার অধিকাংশই হজের কিছু নিয়ম-কানুন বর্ণনায়; যা পূর্ববর্তী সংস্করণে সন্নিবেশিত হয়নি অথবা আমার জন্য তা তখন সহজসাধ্য ছিল না।

অতঃপর আমি এর সাথে একটি পরিশিষ্ট যুক্ত করেছি যেখানে দ্বীনের মধ্যে নতুন উদ্ভাবিত বিষয়ের (بدعة) একটি বড় অংশ উল্লেখ করেছি, যাতে অনেক হাজি সফরের সংকল্প থেকে শুরু করে নিজ পরিবারে ফিরে আসা পর্যন্ত লিপ্ত হয়ে পড়েন। এতে আমি মসজিদে নববী ও বায়তুল মুকাদ্দাস যিয়ারত সংশ্লিষ্ট নতুন উদ্ভাবিত বিষয়সমূহও (بدعة) অন্তর্ভুক্ত করেছি। কেননা অনেক হাজিই হজের সাথে মসজিদে নববী ও মসজিদে আকসার সফরের সমন্বয় করেন। আর এটি একটি শরিয়তসম্মত (مشروع) ও পছন্দনীয় বিষয়, যদিও তা হজের সাথে শর্তযুক্ত নয় বরং সাধারণ; এটি হজের সাথে, হজের আগে বা পরে অথবা হজ ছাড়াই বিধিবদ্ধ (مشروع)।

আমার নিকট কিছু উপদেশ রয়েছে যা আমি সম্মানিত পাঠক ও আল্লাহর পবিত্র ঘরের হাজিদের উদ্দেশ্যে পেশ করতে চাই। আশা করি আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা এর মাধ্যমে তাদের উপকৃত করবেন এবং তাঁর অনুমতিক্রমে কল্যাণের পথপ্রদর্শকের সওয়াব আমার আমলনামায় লিখে দেবেন। নিশ্চয়ই তিনি যা ইচ্ছা করেন তা করতে সক্ষম এবং প্রার্থনা কবুলের যোগ্য।

নিঃসন্দেহে উপদেশের ক্ষেত্র অত্যন্ত বিস্তৃত। তাই আমি সেখান থেকে এমন কিছু বিষয় নির্বাচন করব যে সম্পর্কে অনেক হাজিই অবগত নন অথবা সে ব্যাপারে উদাসীন। আমি আল্লাহ তায়ালার নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের উপকারী জ্ঞান দান করেন এবং তা অনুযায়ী আমল করার তৌফিক দান করেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ সাহায্য কামনার স্থল।

[3]
(খণ্ড: ১) হুজ্জাতুন নবী (পৃষ্ঠা: ৪)
أولا: إن كثيرا من الحجاج إذا أحرموا بالحج لا يشعرون أبدا أنهم تلبسوا بعبادة تفرض عليهم الابتعاد عما حرم الله تعالى من المحرمات عليهم خاصة وعلى كل مسلم عامة وكذا تراهم يحجون ويفرغون منه ولم يتغير شيء من سلوكهم المنحرف قبل الحج وذلك دليل عملي منهم على أن حجهم ليس كاملا إن لم نقل: ليس مقبولا ولذلك فإن على كل حاج أن يتذكر هذا وأن يحرص جهد طاقته أن لا يقع فيما حرم الله عليه من الفسق والمعاصي فإن الله تبارك وتعالى يقول: (الحج أشهر معلومات فمن فرض فيهن الحج فلا رفث ولا فسوق ولا جدال في الحج) - البقرة: 197. وقال رسول الله صلى الله عليه وسلم:

(صحيح) (من حج فلم يرفث ولم يفسق رجع من ذنوبه كيوم ولدته أمه) أخرجه الشيخان والرفث: هو الجماع

قال شيخ الإسلام ابن تيمية:

(وليس في المحظورات ما يفسد الحج إلا جنس الرفث فلهذا ميز بينه وبين الفسوق

وأما سائر المحظورات كاللباس والطيب فإنه وإن كان يأثم بها فلا تفسد الحج عند أحد من الأئمة المشهورين)

وهو يشير في آخر كلامه إلى أن هناك من العلماء من يقول

[4]
প্রথমত: অনেক হাজি যখন হজের ইহরাম বাঁধেন, তখন তারা মোটেও অনুভব করেন না যে, তারা এমন একটি ইবাদতে লিপ্ত হয়েছেন যা তাদের ওপর বিশেষ করে এবং সাধারণভাবে প্রত্যেক মুসলিমের ওপর আল্লাহ তাআলা যা হারাম করেছেন তা থেকে দূরে থাকা আবশ্যক করে দেয়। একইভাবে আপনি তাদের দেখবেন যে, তারা হজ সম্পাদন করছেন অথচ হজের আগে তাদের আচরণের যে বিচ্যুতি ছিল তার কোনো পরিবর্তন হয়নি। এটি তাদের পক্ষ থেকে একটি ব্যবহারিক প্রমাণ যে, তাদের হজ পূর্ণাঙ্গ হয়নি, যদি আমরা না বলি যে তা কবুল হয়নি। তাই প্রত্যেক হাজির উচিত এটি স্মরণ রাখা এবং সাধ্যমতো চেষ্টা করা যাতে তিনি আল্লাহ কর্তৃক নিষিদ্ধ পাপাচার ও অবাধ্যতায় লিপ্ত না হন। কারণ আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা বলেন: (হজের মাসসমূহ নির্দিষ্ট, সুতরাং যে ব্যক্তি এই মাসগুলোতে নিজের ওপর হজ আবশ্যক করে নিল, তার জন্য হজের মধ্যে কোনো প্রকার অশ্লীলতা, পাপাচার এবং ঝগড়া-বিবাদ বৈধ নয়) - আল-বাকারা: ১৯৭। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

সহিহ (صحيح) (যে ব্যক্তি হজ করল এবং তাতে কোনো অশ্লীল কাজ বা কথা বলল না এবং কোনো পাপাচার করল না, সে তার গুনাহ থেকে সেদিনের মতো হয়ে ফিরে আসবে যেদিন তার মা তাকে জন্ম দিয়েছিলেন)। এটি শায়খাইন বর্ণনা করেছেন। আর 'রাফাস' হলো যৌন মিলন।

শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেছেন:

(নিষিদ্ধ বিষয়গুলোর মধ্যে যৌন মিলন বা তজ্জাতীয় বিষয় ব্যতীত অন্য কিছু হজ বাতিল করে না, এ কারণেই তিনি এর এবং পাপাচারের মধ্যে পার্থক্য করেছেন।

আর অন্যান্য নিষিদ্ধ বিষয় যেমন পোশাক ও সুগন্ধি ব্যবহারের ক্ষেত্রে কথা হলো—যদিও এসবের কারণে গুনাহ হবে, তবে প্রসিদ্ধ ইমামগণের কারো মতেই তা হজ নষ্ট করে দেয় না।)

তিনি তাঁর বক্তব্যের শেষ দিকে ইঙ্গিত করছেন যে, এমন কিছু আলেম রয়েছেন যারা বলেন

[4]
(খণ্ড: ১) হুজ্জাতুন নবী (পৃষ্ঠা: ৪)
بفساد الحج بأي معصية يرتكبها الحاج فمن هؤلاء الإمام ابن حزم رحمه الله فإنه يقول:

(وكل من تعمد معصية أي معصية كانت وهو ذاكر لحجه مذ أن يتم طوافه بالبيت للإفاضة ويرمي الجمرة فقد بطل حجه. . .) واحتج بالآية السابقة فراجعه في كتابه (المحلى) (7 / 186) فإنه مهم

ومما سبق يتبن أن المعصية من الحاج إما أن تفسد عليه حجه على قول ابن حزم وإما أن يأثم بها ولكن هذا الإثم ليس كما لو صدر من غير الحاج بل هو أخطر بكثير فإن من آثاره أن لا يرجع من ذنوبه كما ولدته أمه كما صرح بذلك الحديث المتقدم. فبذلك يكون كما لو خسر حجته لأنه لم يحصل على الثمرة منها وهي مغفرة الله تعالى فالله المستعان

وإذا تبين هذا فلا بد لي من أن أحذر من بعض المعاصي التي يكثر ابتلاء الناس بها ويحرمون بالحج ولا يشعرون إطلاقا بأن عليهم الإقلاع عنها ذلك لجهلهم وغلبة الغفلة عليهم وتقليدهم لآبائهم
হাজী কর্তৃক কৃত যেকোনো পাপের কারণে হজ নষ্ট (فسাদ) হয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে যে সকল ওলামা মত ব্যক্ত করেছেন, ইমাম ইবনে হাজম (রহিমাহুল্লাহ) তাঁদের অন্যতম; তিনি বলেন:

(যে ব্যক্তিই সচেতন অবস্থায় ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো পাপ করল—তা যেকোনো ধরণের পাপই হোক না কেন—তাওয়াফে ইফাজাহ সম্পন্ন করা এবং জামারায় কঙ্কর নিক্ষেপ করা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে, তবে তার হজ বাতিল (بطل) হয়ে যাবে...) তিনি পূর্বোক্ত আয়াতের মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিধায় তাঁর 'আল-মুহাল্লা' (৭/১৮৬) গ্রন্থটি দেখে নিন।

উপরোক্ত আলোচনা হতে এটি স্পষ্ট হয় যে, হাজী কর্তৃক সংঘটিত পাপের কারণে ইবনে হাজমের মতানুসারে হয় তা তার হজকে নষ্ট (تفسد) করে দেয়, নতুবা সে এর কারণে গুনাহগার হয়। তবে এই গুনাহ কোনো অ-হাজীর গুনাহের মতো নয়, বরং এটি অনেক বেশি বিপজ্জনক। কারণ এর একটি প্রভাব হলো, সে তার গুনাহসমূহ থেকে সেই দিনের মতো নিষ্পাপ হয়ে ফিরতে পারবে না, যেদিন তার মা তাকে জন্ম দিয়েছিল; যেমনটি পূর্বোক্ত হাদিসে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে। ফলশ্রুতিতে বিষয়টি এমন দাঁড়াবে যেন সে তার হজটিই হারাল, কারণ সে হজের প্রকৃত ফল তথা আল্লাহ তাআলার ক্ষমা লাভে ব্যর্থ হলো। আল্লাহই সাহায্যস্থল।

বিষয়টি যখন স্পষ্ট হলো, তখন আমাকে এমন কিছু পাপাচার সম্পর্কে সতর্ক করতে হচ্ছে যাতে মানুষ ব্যাপকভাবে লিপ্ত হয়। তারা হজের ইহরাম গ্রহণ করে অথচ তারা একেবারেই উপলব্ধি করে না যে এসব পাপাচার বর্জন করা তাদের জন্য অপরিহার্য। মূলত তাদের অজ্ঞতা, উদাসীনতার প্রাবল্য এবং পূর্বপুরুষদের অন্ধ অনুকরণের কারণেই এমনটি হয়ে থাকে।
(খণ্ড: ১) হুজ্জাতুন নবী (পৃষ্ঠা: ৫)
1 - الشرك بالله عز وجل:

فإن من أكبر المصائب التي أصيب بها بعض المسلمين جهلهم

[5]
১ - মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর সাথে শিরক করা:

প্রকৃতপক্ষে, কিছু মুসলিম যে সকল ভয়াবহ বিপদের সম্মুখীন হয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম হলো তাদের অজ্ঞতা

[৫]
(খণ্ড: ১) হুজ্জাতুন নবী (পৃষ্ঠা: ৬)
بحقيقة الشرك الذي هو من أكبر الكبائر ومن صفته أنه يحبط الأعمال:

(لئن أشركت ليحبطن عملك) - محمد: 65. فقد رأينا كثيرا من الحجاج يقعون في الشرك وهم في بيت الله الحرام وفي مسجد النبي عليه الصلاة والسلام يتركون دعاء الله والاستغاثة به إلى الاستعانة بالأنبياء بالصالحين ويحلفون بهم ويدعونهم من دون الله عز وجل والله عز وجل يقول: (إن تدعوهم لا يسمعوا دعاءكم ولو سمعوا ما استجابوا لكم ويوم القيامة يكفرون بشرككم ولا ينبئك مثل خبير) - فاطر: 14. والآيات في هذا المعنى كثيرة جدا وفي هذه كفاية لمن فتح قلبه للهداية. إذ ليس الغرض الآن البحث العمي في هذه المسألة وإنما هو التذكير فقط

فليت شعري ماذا يستفيد هؤلاء من حجهم إلى بيت الله الحرام إذا كانوا يصرون على مثل هذا الشرك ويغيرون اسمه فيسمونه: توسلا تشفعا وواسطة أليس هذه الواسطة هي التي ادعاها المشركون من قبيل يبررون بها شركهم وعبادتهم لغيره تبارك وتعالى: (والذين اتخذوا من دونه أولياء ما نعبدهم إلا ليقربونا إلى الله زلفى) - الزمر: 3

[6]
শিরকের প্রকৃত স্বরূপ সম্পর্কে, যা সর্ববৃহৎ কবিরা গুনাহসমূহের অন্তর্ভুক্ত এবং যার বৈশিষ্ট্য হলো এটি আমলসমূহকে বিনষ্ট করে দেয়:

“(হে নবি!) যদি তুমি শিরক করো, তবে তোমার আমল অবশ্যই বিফল হবে” - মুহাম্মদ: ৬৫। বস্তুত আমরা অনেক হাজিকে শিরকের মধ্যে লিপ্ত হতে দেখেছি, অথচ তারা আল্লাহর পবিত্র ঘর এবং নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মসজিদে অবস্থান করছেন; তারা আল্লাহকে ডাকা এবং তাঁর নিকট ফরিয়াদ করা ছেড়ে দিয়ে নবি ও পুণ্যবানদের নিকট সাহায্য প্রার্থনা করেন, তাদের নামে শপথ করেন এবং আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লাকে বাদ দিয়ে তাদের আহ্বান করেন। আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা বলেন: “তোমরা তাদেরকে ডাকলে তারা তোমাদের ডাক শুনবে না, আর শুনলেও তারা তোমাদের ডাকে সাড়া দেবে না। কিয়ামতের দিন তারা তোমাদের এই শিরককে অস্বীকার করবে। আর সর্বজ্ঞের (আল্লাহর) ন্যায় কেউ তোমাকে সংবাদ দেবে না” - ফাতির: ১৪। এই বিষয়ের আয়াতসমূহ সংখ্যায় অনেক এবং হেদায়াতের জন্য যার অন্তর উন্মুক্ত, তার জন্য এগুলোই যথেষ্ট। যেহেতু বর্তমানে উদ্দেশ্য এই বিষয়ে কোনো গভীর তাত্ত্বিক গবেষণা নয়, বরং কেবল স্মরণ করিয়ে দেওয়া মাত্র।

হায়! আমি যদি জানতাম, এই সকল লোক আল্লাহর পবিত্র ঘরে হজের মাধ্যমে কী ফায়দা হাসিল করবে, যদি তারা এই জাতীয় শিরকের ওপর অটল থাকে এবং এর নাম পরিবর্তন করে একে ‘তওয়াসসুল’, ‘তশাফ্ফু’ ও ‘ওয়াসিতা’ (মাধ্যম) বলে অভিহিত করে? এই মাধ্যম কি তা-ই নয়, যার দাবি মুশরিকরা তাদের শিরক এবং মহান আল্লাহ ব্যতীত অন্যের ইবাদতের স্বপক্ষে অজুহাত হিসেবে করত? (তারা বলত:) “যারা আল্লাহ ছাড়া অন্যদের অভিভাবকরূপে গ্রহণ করে (তারা বলে): আমরা তো তাদের ইবাদত কেবল এই জন্যই করি যেন তারা আমাদের আল্লাহর অতি নিকটবর্তী করে দেয়।” - যুমার: ৩।

[৬]
(খণ্ড: ১) হুজ্জাতুন নবী (পৃষ্ঠা: ৬)
فيا أيها الحاج قبل أن تعزم على الحج يجب عليك وجوبا عينيا أن تبادر إلى معرفة التوحيد الخالص وما ينافيه من الشرك وذلك بدراسة كتاب الله وسنة نبيه صلى الله عليه وسلم فإن من تمسك بهما نجا ومن حاد عنهما ضل. والله المستعان
হে হজ্জযাত্রী, হজ্জের সংকল্প গ্রহণ করার পূর্বে আপনার ওপর ব্যক্তিগতভাবে বাধ্যতামূলক (وجوبا عينيا) যে, আপনি বিশুদ্ধ তাওহীদ (التوحيد الخالص) এবং এর পরিপন্থী শিরক (الشرك) সম্পর্কে জ্ঞান লাভে তৎপর হবেন। আর তা মহান আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর নবীর সুন্নাহ (سنة) (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অধ্যয়নের মাধ্যমে সম্ভব। কেননা যে ব্যক্তি এই দুইটিকে আঁকড়ে ধরবে সে মুক্তি পাবে, আর যে এ থেকে বিচ্যুত হবে সে পথভ্রষ্ট হবে। আর আল্লাহই সাহায্যস্থল।
(খণ্ড: ১) হুজ্জাতুন নবী (পৃষ্ঠা: ৭)
2 - التزين بحلق اللحية:

وهذه المعصية من أكثر المعاصي شيوعا بين المسلمين في هذا العصر بسبب استيلاء الكفار على أكثر بلادهم ونقلهم هذه المعصية إليها وتقليد المسلمين لهم فيها مع نهيه صلى الله عليه وسلم إياهم عن ذلك صراحة في قوله عليه الصلاة والسلام:

(صحيح) (خالفوا المشركين احفوا الشوارب وأوفوا اللحى) رواه شيخان وفي حديث آخر: (وخالفوا أهل الكتاب)

وفي هذه القبيحة عدة مخالفات:

الأولى: مخالفة أمره صلى الله عليه وسلم الصريح بالإعفاء

الثانية: التشبه بالكفار

الثالثة: تغير خلق الله الذي فيه طاعة الشيطان في قوله كما حكى الله تعالى ذلك عنه: (ولآمرنهم فليغيرن خلق الله)

الرابعة: التشبه بالنساء وقد لعن رسول الله صلى الله عليه وسلم من فعل

[7]
২ - দাড়ি মুণ্ডনের মাধ্যমে সৌন্দর্য চর্চা করা:

বর্তমান যুগে মুসলিমদের মাঝে এই পাপাচারটি সর্বাধিক প্রচলিত গুনাহসমূহের অন্তর্ভুক্ত। এর কারণ হলো অধিকাংশ মুসলিম ভূখণ্ডের ওপর কাফিরদের আধিপত্য বিস্তার এবং তাদের মাধ্যমে এই পাপাচারটি সেখানে স্থানান্তরিত হওয়া। অধিকন্তু মুসলিমরা এক্ষেত্রে তাদের অনুকরণ করছে, অথচ আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের এ কাজ থেকে স্পষ্টভাবে নিষেধ করেছেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন:

(সহিহ (صحيح)) "তোমরা মুশরিকদের বিরুদ্ধাচরণ করো; গোঁফ ছেঁটে ফেলো এবং দাড়ি লম্বা করো।" এটি শাইখাইন (বুখারি ও মুসলিম) বর্ণনা করেছেন। অন্য একটি হাদিসে এসেছে: "এবং তোমরা আহলে কিতাবদের বিরুদ্ধাচরণ করো।"

আর এই জঘন্য কাজের মধ্যে বেশ কিছু বিধি লঙ্ঘন রয়েছে:

প্রথমত: দাড়ি লম্বা রাখার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর স্পষ্ট নির্দেশের অবাধ্যতা করা।

দ্বিতীয়ত: কাফিরদের সাদৃশ্য অবলম্বন করা।

তৃতীয়ত: আল্লাহর সৃষ্টিতে পরিবর্তন আনা, যার মধ্যে শয়তানের আনুগত্য নিহিত রয়েছে। যেমনটি আল্লাহ তাআলা তার (শয়তানের) বক্তব্য উদ্ধৃত করে বর্ণনা করেছেন: "আর আমি অবশ্যই তাদেরকে নির্দেশ দেব, ফলে তারা অবশ্যই আল্লাহর সৃষ্টি বিকৃত করবে।"

চতুর্থত: নারীদের সাদৃশ্য গ্রহণ করা। অথচ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এমন কাজকারীর ওপর অভিশাপ দিয়েছেন।

[৭]
(খণ্ড: ১) হুজ্জাতুন নবী (পৃষ্ঠা: ৭)
ذلك. وانظر تفصيل هذا الإجمال في كتابنا (آداب الزفاف في السنة المطهرة) (ص 126 - 131)

وإن من المشاهدات التي يراها الحريص على دينه أن جماهير من الحجاج يكونون قد وفروا لحاهم بسبب إحرامهم فإذا تحللوا منه فبدل أن يحلقوا رؤوسهم كما ندب إليه رسول الله صلى الله عليه وسلم حلقوا لحاهم التي أمرهم صلى الله عليه وسلم بإغفائها. فإنا لله وإنا إليه راجعون
এটিই বিষয়। আর এই সংক্ষিপ্ত আলোচনার বিস্তারিত বিবরণ আমাদের গ্রন্থ 'আদাবুয যিফাফ ফিস সুন্নাতিল মুতাহহারাহ' (পৃষ্ঠা ১২৬-১৩১)-এ দেখুন।

আর দ্বীনের প্রতি যত্নশীল ব্যক্তি যা পর্যবেক্ষণ করেন তা হলো, বিপুল সংখ্যক হাজী ইহরামের কারণে তাদের দাড়ি লম্বা রাখেন; অতঃপর যখন তারা ইহরাম থেকে হালাল হন, তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যেভাবে মস্তক মুণ্ডনের সুপারিশ করেছেন, তা করার পরিবর্তে তারা তাদের সেই দাড়ি কামিয়ে ফেলেন যা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) লম্বা রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন। নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর এবং নিশ্চয়ই আমরা তাঁরই নিকট প্রত্যাবর্তনকারী।
(খণ্ড: ১) হুজ্জাতুন নবী (পৃষ্ঠা: ৮)
3 - تختم الرجال بالذهب:

لقد رأينا كثيرا من الحجاج قد تزينوا بخاتم الذهب ولدى البحث معهم في ذلك تبين أنهم على ثلاثة أنواع:

بعضهم لا يعلم تحريمه ولذلك كان يسارع إلى مزعه بعد أن نذكر له شيئا من النصوص المحرمة كحديث:

(صحيح) (نهى صلى الله عليه وسلم عن خاتم الذهب) متفق عليه وقوله صلى الله عليه وسلم:

(صحيح) (يعمد أحدكم إلى جمرة من نار فيجعلها في يده؟) رواه مسلم

وبعضهم على علم بالتحريم ولكنه متبع لهواه فهذا لا حيلة لنا فيه إلا أن يهديه الله

وبعضهم يعترف بالتحريم ولكن يعتذر هو كما يقال أقبح من ذنب - فيقول: إنه خاتم الخطبة. ولا يدري المسكين

[8]
3 - পুরুষদের স্বর্ণের আংটি পরিধান করা:

আমরা অনেক হাজিকে স্বর্ণের আংটি দ্বারা সুসজ্জিত হতে দেখেছি। এ বিষয়ে তাদের সাথে আলোচনার পর প্রতীয়মান হয়েছে যে, তারা মূলত তিন প্রকারের:

তাদের মধ্যে কেউ কেউ এর নিষিদ্ধতা সম্পর্কে অবগত নন। তাই যখন আমরা তাদের নিকট এ সংক্রান্ত নিষিদ্ধকারী দলিলসমূহ থেকে কিছু বর্ণনা করি, যেমন এই হাদিসটি:

(সহিহ (صحيح)) (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বর্ণের আংটি পরিধান করতে নিষেধ করেছেন) মুত্তাফাকুন আলাইহি। এবং তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাণী:

(সহিহ (صحيح)) (তোমাদের কেউ কি আগুনের অঙ্গারের দিকে অগ্রসর হয়ে তা নিজের হাতে রাখতে চায়?) মুসলিম বর্ণনা করেছেন।

আবার তাদের কেউ কেউ নিষিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি জানেন, কিন্তু তিনি নিজ খেয়াল-খুশির অনুসরণ করেন। আল্লাহ তাকে হেদায়েত না করা পর্যন্ত এক্ষেত্রে আমাদের কিছু করার নেই।

আর তাদের কেউ কেউ নিষিদ্ধ হওয়াকে স্বীকার করেন, কিন্তু এমন ওজর পেশ করেন যা প্রবাদ অনুযায়ী পাপের চেয়েও জঘন্য— যেমন তিনি বলেন: এটি বিবাহের আংটি। আর এই বেচারা জানে না—

[8]
(খণ্ড: ১) হুজ্জাতুন নবী (পৃষ্ঠা: ১০)
أنه بذلك يجمع بين معصيتين: مخالفة نهيه صلى الله عليه وسلم الصريح كما تقدم وتشبه بالكفار لأن خاتم الخطبة لم يكن معروفا عند المسلمين إلى ما قبل هذا العصر ثم سرت هذه العادة إليهم من تقاليد النصارى

وقد فصلت القول في هذه المسألة في (آداب الزفاف) أيضا (ص 131 - 138) وبينت فيه أن النهي المذكور يشمل النساء أيضا خلافا للجمهور فراجع (ص 139 - 167) فإنه مهم جدا

ثانيا: ننصح لكل من أراد الحج أن يدرس مناسك الحج على ضوء الكتاب والسنة قبل أن يباشر أعمال الحج ليكون تاما مقبولا عند الله تبارك وتعالى

وإنما قلت: على الكتاب والسنة لأن المناسك قد وقع فيها من الخلاف - مع الأسف - ما وقع في سائر العبادات من ذلك مثلا: هل الأفضل أن ينوي في حجه التمتع أم القران أم الإفراد؟ على ثلاثة مذاهب والذي نراه من ذلك إنما هو التمتع فقط كما هو مذهب الإمام أحمد وغيره بل ذهب بعض العلماء المحققين إلى وجوبه إذا لم يسق معه الهدي منهم ابن حزم

[10]
এর মাধ্যমে তিনি দুটি পাপকে একত্রিত করছেন: প্রথমত, ইতিপূর্বে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুস্পষ্ট নিষেধাভজ্ঞার লঙ্ঘন; এবং দ্বিতীয়ত, কাফেরদের সদৃশ হওয়া। কেননা বাগদানের আংটি বর্তমান যুগের পূর্ব পর্যন্ত মুসলিমদের মাঝে পরিচিত ছিল না। পরবর্তীতে এই প্রথাটি খ্রিস্টানদের রীতিনীতি থেকে তাদের মাঝে ছড়িয়ে পড়েছে।

আমি এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা আদাবুয যিফাফ গ্রন্থেও (পৃষ্ঠা ১৩১ - ১৩৮) করেছি এবং সেখানে স্পষ্ট করেছি যে, উক্ত নিষেধাজ্ঞা অধিকাংশ আলিমের (جمهور) মতের বিপরীতে নারীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। সুতরাং আপনি (পৃষ্ঠা ১৩৯ - ১৬৭) দেখে নিতে পারেন, কারণ এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

দ্বিতীয়ত: যারা হজ্জ করার ইচ্ছা পোষণ করেন, তাদের প্রতি আমাদের উপদেশ হলো—হজ্জের কার্যাবলি শুরু করার পূর্বে কিতাব ও সুন্নাহর আলোকে হজ্জের নিয়মাবলি অধ্যয়ন করা, যাতে তা আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলার নিকট পূর্ণাঙ্গ ও কবুলযোগ্য হয়।

আমি কেন 'কিতাব ও সুন্নাহর আলোকে' বলেছি, তার কারণ হজ্জের নিয়মাবলির ক্ষেত্রেও দুঃখজনকভাবে এমন মতপার্থক্য সৃষ্টি হয়েছে যেমনটি অন্যান্য ইবাদতের ক্ষেত্রে হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ: হজ্জের ক্ষেত্রে কি তামাত্তু (تمتع), কিরান (قران) নাকি ইফরাদ (إفراد) নিয়ত করা উত্তম? এ বিষয়ে তিনটি মাযহাব বিদ্যমান। তবে আমাদের নিকট অগ্রগণ্য মত হলো কেবল তামাত্তু (تمتع), যেমনটি ইমাম আহমাদ এবং অন্যান্যদের মাযহাব। এমনকি ইবনে হাযমসহ কিছু গবেষক (محققين) আলিমের মতে, সাথে কুরবানির পশু (هدي) না নিয়ে আসলে এটি অপরিহার্য (وجوب) হয়ে যায়।

[10]
(খণ্ড: ১) হুজ্জাতুন নবী (পৃষ্ঠা: ১০)
وابن القيم تبعا لابن عباس وغيره من السلف وتجد تفصيل القول في ذلك في كتاب (المحلى) و (زاد المعاد) وغيرهما

ولست أريد الآن الخوض في هذه المسألة بتفصيل وإنما أريد أن أذكر بكلمة قصيرة تنفع إن شاء الله تعالى من كان مخلصا وغايته اتباع الحق وليس تقليد الآباء أو المذهب فأقول:

لا شك أن الحج كان في أول استئنافه صلى الله عليه وسلم إياه جائزا بأنواعه الثلاثة المتقدمة وكذلك كان أصحابه صلى الله عليه وسلم منهم المتمتع ومنهم القارن ومنهم المفرد لأنه صلى الله عليه وسلم خيرهم في ذلك كما في حديث عائشة رضي الله عن ها:

(صحيح) (خرجنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: من أرد منكم أن يهل بحج وعمرة فليفعل ومن أراد أن يهل بحج فليهل ومن أراد أن يهل بعمرة فليهل. . .) الحديث رواه مسلم

وكان هذا التخيير في أول إحرامهم عند الشجرة (1) كما في رواية لأحمد (6 / 245) ولكن النبي صلى الله عليه وسلم لم يستمر على هذا التخيير بل نقلهم إلى ما هو أفضل وهو التمتع دون أن يعزم بذلك عليهم أو يأمرهم به وذلك في مناسبات شتى في

--------------------------------------------

(1) أي عند ذي الحليفة

[10]
এবং ইবনুল কায়্যিম, ইবনে আব্বাস ও অন্যান্য পূর্বসূরি (سلف) গণের অনুসরণ করে এটি উল্লেখ করেছেন। এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা আল-মুহাল্লা এবং যাদুল মাআদ ও অন্যান্য গ্রন্থে পাওয়া যাবে।

আমি এখন এই মাসআলায় বিস্তারিত আলোচনা করতে চাচ্ছি না, বরং সংক্ষিপ্ত কিছু কথা উল্লেখ করতে চাই যা ইনশাআল্লাহ তাআলা সেই মুখলিস ব্যক্তির উপকারে আসবে যার লক্ষ্য হলো সত্যের অনুসরণ করা, বাপ-দাদা কিংবা মাযহাবের অন্ধ অনুকরণ (تقليد) করা নয়। অতএব আমি বলছি:

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন নতুনভাবে হজ শুরু করেছিলেন, তখন তা পূর্বে উল্লিখিত তিন প্রকারেই বৈধ (جائز) ছিল। একইভাবে তাঁর সাহাবীগণও (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের মধ্যে কেউ মুতামাত্তি, কেউ কারিন এবং কেউ মুফরিদ ছিলেন। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের এ বিষয়ে ইখতিয়ার দিয়েছিলেন, যেমনটি আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা এর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে:

সহিহ (صحيح): (আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে বের হলাম। তিনি বললেন: তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি হজ ও ওমরার ইহরাম বাঁধতে চায় সে যেন তা করে, আর যে হজের ইহরাম বাঁধতে চায় সে যেন তা করে এবং যে ওমরার ইহরাম বাঁধতে চায় সে যেন তা করে...) হাদিসটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।

এই স্বাধীনতা ছিল তাদের ইহরামের শুরুতে ‘শাজারা’ (১) নামক স্থানে, যেমনটি আহমাদ এর একটি বর্ণনায় (৬/২৪৫) এসেছে। কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই স্বাধীনতার ওপর অব্যাহত থাকেননি, বরং তিনি তাদেরকে যা অতি উত্তম—অর্থাৎ তামাত্তু হজ—তার দিকে ধাবিত করেছিলেন, যদিও তিনি তা তাদের ওপর আবশ্যিক করেননি বা আদেশ দেননি। এটি বিভিন্ন সময়ে সংঘটিত হয়েছিল...

--------------------------------------------

(১) অর্থাৎ যুল হুলাইফা নামক স্থানে।

[১০]
(খণ্ড: ১) হুজ্জাতুন নবী (পৃষ্ঠা: ১১)
طريقهم إلى مكة فمن ذلك حينما وصلوا إلى (سرف) وهو موضع قريب من التنعيم وهو من مكة على نحو عشرة أميال فقالت عائشة في رواية عنها:

(صحيح) (. . . فنزلنا سرف فقال النبي صلى الله عليه وسلم لأصحابه: من لم يكن معه هدي فأحب أن يجعلها عمرة فليفعل ومن كان معه هدي فلا قالت: فالآخذ بها والتارك لها من أصحابه [ممن لم يكن معه هدي] . . .) الحديث متفق عليه والزيادة لمسلم

ومن ذلك لما وصل صلى الله عليه وسلم إلى (ذي طوى) وهو موضع قريب من مكة وبات بها فلما صلى الصبح قال لهم:

(صحيح) (من شاء أن يجعلها عمرة فليجعلها عمرة) أخرجه الشيخان من حديث ابن عباس ولكنا رأيناه صلى الله عليه وسلم لما دخل مكة وطاف هو وأصحابه طواف القدوم لم يدعهم على الحكم السابق وهو الأفضلية بل نقلهم إلى حكم جديد وهو الوجوب فإنه أمر من كان لم يسق الهدي منهم أن يفسخ الحج إلى عمرة ويتحلل فقالت عائشة رضي الله عن ها:

(صحيح) (خرجنا مع النبي صلى الله عليه وسلم ولا نرى إلا أنه الحج فلما قدمنا مكة تطوفنا بالبيت فأمر النبي صلى الله عليه وسلم من لم يكن ساق الهدي أن يحل قالت: فحل من لم يكن ساق الهدي ونساؤه لم

[11]
মক্কায় তাদের যাত্রা পথ; এর মধ্যে অন্যতম হলো যখন তারা (সারিফ) নামক স্থানে পৌঁছালেন, যা তানঈমের নিকটবর্তী একটি স্থান এবং মক্কা থেকে প্রায় দশ মাইল দূরে অবস্থিত। আয়িশা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি রেওয়ায়েতে তিনি বলেছেন:

সহিহ (صحيح) (...আমরা সারিফ নামক স্থানে অবতরণ করলাম। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের বললেন: 'যার সাথে কোরবানির পশু নেই, সে যদি পছন্দ করে তবে যেন এটিকে উমরায় রূপান্তরিত করে। আর যার সাথে কোরবানির পশু আছে সে যেন তা না করে।' তিনি বলেন: 'ফলে তাঁর সাহাবীদের মধ্য থেকে যারা এটি গ্রহণ করেছিলেন এবং যারা তা বর্জন করেছিলেন [যাদের সাথে কোরবানির পশু ছিল না তাদের মধ্য থেকে]...') হাদিসটি সর্বসম্মত (متفق عليه) এবং অতিরিক্ত অংশটুকু মুসলিম-এর।

এবং এর অন্তর্ভুক্ত আরেকটি বিষয় হলো যখন তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (যি-তুয়া) নামক স্থানে পৌঁছালেন, যা মক্কার নিকটবর্তী একটি স্থান এবং তিনি সেখানে রাত যাপন করেছিলেন। অতঃপর যখন তিনি ফজরের নামাজ আদায় করলেন, তখন তাদের বললেন:

সহিহ (صحيح) ('যে চায় এটিকে উমরায় রূপান্তরিত করতে, সে যেন উমরায় রূপান্তরিত করে')। ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণিত হাদিস থেকে শাইখাইন এটি বর্ণনা করেছেন। কিন্তু আমরা দেখেছি যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মক্কায় প্রবেশ করলেন এবং তিনি ও তাঁর সাহাবীরা তাওয়াফে কুদুম সম্পন্ন করলেন, তখন তিনি তাদের পূর্ববর্তী হুকুমের ওপর বহাল রাখেননি যা ছিল কেবল উত্তম (أفضلية) হওয়ার বিষয়; বরং তিনি তাদের নতুন এক হুকুমের দিকে নিয়ে গেলেন যা ছিল আবশ্যকীয়তা (وجوب)। কেননা তিনি তাদের মধ্যে যাদের সাথে কোরবানির পশু ছিল না, তাদেরকে হজ বাতিল করে উমরায় রূপান্তরিত করতে এবং এহরামমুক্ত হতে আদেশ দিলেন। আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন:

সহিহ (صحيح) ('আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে বের হলাম এবং আমরা হজের উদ্দেশ্য ছাড়া অন্য কিছু মনে করছিলাম না। যখন আমরা মক্কায় আসলাম এবং বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করলাম, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাদের সাথে কোরবানির পশু ছিল না তাদেরকে এহরামমুক্ত হওয়ার আদেশ দিলেন।' তিনি বলেন: 'ফলে যাদের সাথে কোরবানির পশু ছিল না তারা এহরামমুক্ত হলেন, কিন্তু তাঁর স্ত্রীগণ হলেন না...')

[১১]
(খণ্ড: ১) হুজ্জাতুন নবী (পৃষ্ঠা: ১২)
يسقن فأحللن. . .) الحديث متفق عليه وعن ابن عباس نحوه بلفظ:

(صحيح) (فأمرهم أن يجعلوها عمرة فتعاظم ذلك عندهم فقالوا: يا رسول الله أي الحل؟ قال: الحل كله) متفق عليه. وفي حديث جابر نحوه وأوضح منه كما يأتي فقرة (33 - 45)

قلت: فمن تأمل في هذه الأحاديث الصحيحة تبين له بيانا لا يشوبه ريب أن التخيير الوارد فيها إنما كان منه صلى الله عليه وسلم لإعداد النفوس وتهيئتها لتقبل حكم جديد قد يصعب ولو على البعض تقبله بسهولة لأول وهلة ألا وهو الأمر بفسخ الحج إلى العمرة لا سيما وقد كانوا في الجاهلية - كما هو ثابت في (الصحيحين) - يرون أن العمرة لا تجوز في أشهر الحج وهذا الرأي وإن كان رسول الله صلى الله عليه وسلم قد أبطله باعتباره صلى الله عليه وسلم ثلاث مرات في ثلاث سنوات كلها في شهر ذي القعدة فهذا وحده وإن كان كافيا في إبطال بلك البدعة الجاهلية فإنه ولا قرينة هنا بل لا يكفي - والله أعلم - لإعداد النفوس لتقبل الحكم الجديد فلذلك مهد له صلى الله عليه وسلم بتخييرهم بين الحج والعمرة مع بيان ما هو الأفضل لهم ثم أتبع ذلك بالأمر الجازم بفسخ الحج إلى العمرة كما تقدم

[12]
(...নিয়ে আসা হয়েছে বিধায় তারা হালাল হয়েছে...) হাদিসটি সর্বসম্মত (متفق عليه)। ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে এই শব্দে:

(সহিহ (صحيح)) (অতঃপর তিনি তাদেরকে নির্দেশ দিলেন যেন তারা একে উমরায় রূপান্তরিত করে। বিষয়টি তাদের নিকট অনেক বড় মনে হলো। তারা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! কোন ধরনের হালাল হওয়া? তিনি বললেন: পূর্ণাঙ্গ হালাল হওয়া।) সর্বসম্মত (متفق عليه)। জাবাল (রা.)-এর হাদিসে এর অনুরূপ এবং এর চেয়েও স্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে, যা সামনে ৩৩-৪৫ অনুচ্ছেদে আসবে।

আমি বলছি: যে ব্যক্তি এই সহিহ (صحيح) হাদিসগুলো নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করবে, তার নিকট সংশয়াতীতভাবে এটি সুস্পষ্ট হবে যে, এসকল বর্ণনায় যে ইখতিয়ার (تخيير) বা পছন্দের অবকাশ এসেছে, তা মূলত ছিল রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পক্ষ থেকে মনমানসিকতাকে প্রস্তুত করার জন্য যেন তারা একটি নতুন বিধান গ্রহণ করতে পারে। যা প্রথম দেখায় হয়তো অনেকের জন্যই সহজে গ্রহণ করা কঠিন হতে পারে। আর তা হলো হজ বাতিল করে উমরায় রূপান্তরের (فسخ الحج إلى العمرة) নির্দেশ। বিশেষত জাহেলি যুগে তারা মনে করত যে—যেমনটি সহিহাইন (বুখারি ও মুসলিম)-এ সাব্যস্ত হয়েছে—হজের মাসসমূহে উমরা করা বৈধ নয়। যদিও রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তিন বছরে তিনবার উমরা করার মাধ্যমে—যার প্রতিটিই ছিল জিলকদ মাসে—এই ধারণাকে বাতিল করে দিয়েছিলেন। জাহেলি যুগের সেই কুপ্রথা বা বিদআত (بدعة) বাতিলের জন্য যদিও এটি একাই যথেষ্ট ছিল, তবুও—আল্লাহই ভালো জানেন—নতুন এই বিধান গ্রহণের জন্য মনমানসিকতাকে প্রস্তুত করতে সম্ভবত এটিই যথেষ্ট ছিল না। সে কারণেই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হজ এবং উমরার মধ্যে ইখতিয়ার (تخيير) প্রদানের মাধ্যমে এর প্রেক্ষাপট তৈরি করেছেন এবং তাদের জন্য কোনটি অধিকতর উত্তম তাও বর্ণনা করেছেন। এরপর তিনি হজ বাতিল করে উমরায় রূপান্তরের (فسخ الحج إلى العمرة) অকাট্য নির্দেশ প্রদান করেন, যা ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।

[12]
(খণ্ড: ১) হুজ্জাতুন নবী (পৃষ্ঠা: ১৩)
فإذا عرفنا ذلك فهذا الأمر للوجوب قطعا ويد لعلى ذلك الأمور التالية:

الأول: أن الأصل فيه الوجوب إلا لقرينة ولا قرينة هنا بل والقرينة هنا تؤكده وهي الأمر التالي وهو:

الثاني: أنه صلى الله عليه وسلم لما أمرهم تعاظم عندهم كما تقدم آنفا ولو لم يكن للوجوب لم يتعاظموه ألم تر أنه صلى الله عليه وسلم قد أمرهم من قبل ثلاث مرات أمر تخيير ومع ذلك لم يتعاظموه فدل على أنهم فهموا من الأمر الوجوب وهو المقصود

الثالث: أن في رواية في حديث عائشة رضي الله عن ها قالت:

(صحيح) (. . . فدخل علي وهو غضبان فقلت: من أغضبك يا رسول الله أدخله الله النار قال: أوما شعرت أني أمرت الناس بأمر فإذا هم يترددون قال الحكم كأنهم يترددون أحسب ولو أني استقبلت من أمري ما استدبرت ما سقت الهدي معي حتى أشتريه ثم أحل كما حلوا) . رواه مسلم والبيهقي وأحمد (6 / 175)

ففي غضبه صلى الله عليه وسلم دليل واضح على أن أمره كان للوجوب لا سيما وأن غضبه صلى الله عليه وسلم إنما كان لترددهم لا من أجل امتناعهم من تنفيذ الأمر وحاشاهم من ذلك ولذلك حلوا جميعا إلا من كان معه هدي كما يأتي في الفقرة (44)

[13]
যখন আমরা এটি জানলাম, তখন এই নির্দেশটি নিশ্চিতভাবে আবশ্যকতার (وجوب) জন্য এবং পরবর্তী বিষয়গুলো এর প্রমাণ বহন করে:

প্রথমত: কোনো নির্দেশের ক্ষেত্রে মূলনীতি হলো তা আবশ্যকতার (وجوب) অর্থ প্রদান করে, যতক্ষণ না অন্য কোনো প্রাসঙ্গিক প্রমাণ (قرينة) পাওয়া যায়। আর এখানে এ জাতীয় কোনো প্রমাণ নেই, বরং এখানে এমন প্রমাণ বিদ্যমান যা একে সুদৃঢ় করে, আর তা হলো পরবর্তী বিষয়টি, যথা:

দ্বিতীয়ত: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন তাঁদের নির্দেশ প্রদান করলেন, তখন তাঁদের কাছে এটি অত্যন্ত গুরুত্ববহ মনে হলো, যেমনটি পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে। যদি এটি আবশ্যকতার (وجوب) জন্য না হতো, তবে তাঁরা একে এত বড় করে দেখতেন না। আপনি কি লক্ষ্য করেননি যে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর আগে তিনবার তাঁদের ঐচ্ছিক (تخيير) নির্দেশ দিয়েছিলেন, তবুও তাঁরা একে এত গুরুত্ববহ মনে করেননি? সুতরাং এটি প্রমাণ করে যে, তাঁরা এই নির্দেশ থেকে আবশ্যকতা (وجوب) অনুধাবন করেছিলেন এবং এটিই উদ্দেশ্য।

তৃতীয়ত: আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসের বর্ণনায় এসেছে, তিনি বলেন:

(সহিহ (صحيح)) (. . . অতঃপর তিনি আমার নিকট প্রবেশ করলেন এমতাবস্থায় যে তিনি রাগান্বিত ছিলেন। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসুল! কে আপনাকে রাগান্বিত করেছে? আল্লাহ তাকে জাহান্নামে প্রবেশ করান। তিনি বললেন: "তুমি কি লক্ষ্য করোনি যে, আমি মানুষকে একটি কাজের নির্দেশ দিয়েছি, অথচ তারা দ্বিধাগ্রস্ত হচ্ছে?" হাকাম বলেন, বর্ণনাকারী সম্ভবত বলেছেন: "তারা দ্বিধাগ্রস্ত হচ্ছে। যদি আমি আমার কাজের পরিণাম আগে জানতাম যা পরে জেনেছি, তবে আমি সাথে করে কুরবানির পশু নিয়ে আসতাম না যতক্ষণ না তা ক্রয় করতাম, অতঃপর আমিও তাদের মতো হালাল (ইহরাম মুক্ত) হয়ে যেতাম।") মুসলিম, বায়হাকি এবং আহমাদ (৬ / ১৭৫) এ বর্ণনা করেছেন।

রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর রাগান্বিত হওয়ার মাঝে এই স্পষ্ট দলিল রয়েছে যে, তাঁর নির্দেশটি আবশ্যকতার (وجوب) জন্য ছিল। বিশেষ করে তাঁর রাগ ছিল তাঁদের দ্বিধা করার কারণে, নির্দেশ পালনে বিরত থাকার কারণে নয়—তাঁরা এ থেকে বহু দূরে ছিলেন। এ কারণেই তারা সকলেই হালাল (ইহরাম মুক্ত) হয়ে গিয়েছিলেন, কেবল তারা ব্যতীত যাদের সাথে কুরবানির পশু ছিল, যেমনটি ৪৪ নম্বর অনুচ্ছেদে আসবে।

[13]
(খণ্ড: ১) হুজ্জাতুন নবী (পৃষ্ঠা: ১৪)
الرابع: قوله صلى الله عليه وسلم: لما سألوه عن الفسخ الذي أمرهم به:

(ألعامنا هذا أم لأبد الأبد؟) فشبك صلى الله عليه وسلم أصابعه واحدة في أخرى وقال:

(دخلت العمرة في الحج إلى يوم القيامة لا بل لأبد أبد لا بل لأبد أبد) . كما يأتي في الفقرة (24)

فهذا نص صريح على أن العمرة أصبحت جزءا من الحج لا يتجزأ وأن هذا الحكم ليس خاصا بالصحابة كما يظن البعض بل هو مستمر إلى الأبد. (1)

خامسا: أن الأمر لو لم يكن للوجوب لكفى أن ينفذه بعض الصحابة فكيف وقد رأينا رسول الله صلى الله عليه وسلم ايكتفي بأمر الناس بالفسخ أمرا عاما فهو تارة يأمر بذلك ابنته فاطمة رضي الله عن ها كما يأتي (فقرة 48) وتارة يأمر به أزواجه كما في (الصحيحين) عن ابن عمر أن النبي صلى الله عليه وسلم أمر أزواجه أن يحللن عام حجة الوداع قالت حفصة: فقلت: ما يمنعك أن تحل؟ قال: (إني لبدت رأسي. . .) الحديث. ولما جاء أبو موسى من اليمن حاجا قال له صلى الله عليه وسلم: (بم أهللت) ؟ قال: أهللت بإهلال النبي صلى الله عليه وسلم قال: هل سقت من الهدي؟ قال: لا

قال: (فطف بالبيت وبالصفا والمروة ثم حل. . .) الحديث

--------------------------------------------

(1) وقد رددنا على القائلين بالخصوصية في التعليق على الفقرة المشار إليها من الكتاب الصفحة (63)

[14]
চতুর্থত: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: যখন তাঁরা তাঁকে (হজকে উমরায়) রূপান্তর (الفسخ) করার আদেশ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যা তিনি তাঁদের দিয়েছিলেন:

(এটি কি আমাদের এই বছরের জন্য, নাকি অনন্তকালের জন্য?) অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর এক হাতের আঙুল অন্য হাতের আঙুলের মধ্যে প্রবেশ করালেন এবং বললেন:

(উমরা হজের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছে কিয়ামত পর্যন্ত; না, বরং অনন্তকাল পর্যন্ত, না, বরং অনন্তকাল পর্যন্ত)। যেমনটি অনুচ্ছেদ (২৪)-এ আসবে।

এটি একটি সুস্পষ্ট বক্তব্য (نص صريح) এই বিষয়ে যে, উমরা হজের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে এবং এই বিধানটি সাহাবীগণের জন্য বিশেষ নয় যেমনটি কেউ কেউ মনে করেন, বরং এটি অনন্তকাল পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। (১)

পঞ্চমত: যদি এই আদেশটি আবশ্যিকতা (الوجوب)-এর জন্য না হতো, তবে তা পালনের জন্য কিছু সাহাবীর আমলই যথেষ্ট হতো। কিন্তু আমরা কীভাবে দেখি যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের (হজকে উমরায়) রূপান্তর (الفسخ)-এর সাধারণ আদেশ দিয়ে কেবল ক্ষান্ত হননি; বরং তিনি কখনো তাঁর কন্যা ফাতিমা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে এ আদেশ দিয়েছেন যেমনটি আসবে (অনুচ্ছেদ ৪৮), আবার কখনো তাঁর স্ত্রীদের এ আদেশ দিয়েছেন যেমনটি সহীহাইন-এ ইবনে উমর থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিদায় হজের বছর তাঁর স্ত্রীদের ইহরাম খোলার নির্দেশ দিয়েছিলেন। হাফসা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, আমি বললাম: আপনার ইহরাম খুলতে কিসে বাধা দিচ্ছে? তিনি বললেন: (আমি আমার চুল জমিয়ে নিয়েছি...) হাদিস। আর যখন আবু মুসা রাদিয়াল্লাহু আনহু ইয়ামেন থেকে হাজি হিসেবে আসলেন, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেন: (তুমি কিসের নিয়ত করেছ?) তিনি বললেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিয়তের ন্যায় ইহরাম বেঁধেছি। তিনি বললেন: তুমি কি কুরবানির পশু (الهدي) সাথে এনেছ? তিনি বললেন: না।

তিনি বললেন: (তবে তুমি বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করো এবং সাফা-মারওয়া সাঈ করো, অতঃপর ইহরাম খুলে ফেলো...) হাদিস।

--------------------------------------------

(১) আমরা সেই ব্যক্তিদের উত্তর দিয়েছি যারা একে নির্দিষ্টতা (الخصوصية) বলে দাবি করেন, বইটির ৬৩ পৃষ্ঠার নির্দেশিত অনুচ্ছেদের টিকায়।

[১৪]
(খণ্ড: ১) হুজ্জাতুন নবী (পৃষ্ঠা: ১৫)
فهل هذا الحرص الشديد من النبي صلى الله عليه وسلم على تبليغ أمره بالفسخ إلى كل مكلف لا يدل على الوجوب؟ اللهم إن الوجوب ليثبت بأدنى من هذا

ولوضوح هذه الأدلة الدالة على وجوب الفسخ بله التمتع لم يسع المخالفين لها إلا التسليم بدلالتها ثم اختلفوا في الإجابة عنها فبعضهم ادعى خصوصية ذلك بالصحابة وقد عرفت بطلان ذلك مما سبق

وبعضهم ادعى نسخه ولكنهم لم يستطيعوا أن يذكروا ولو دليلا واحدا يحسن ذكره والرد عليه اللهم إلا نهي عمر رضي الله عن هـ وكذا عثمان وابن الزبير كما في (الصحيحين) وغيرهما

والجواب من وجوه:

الأول: أن الذين يحتجون بهذا النهي عن المتعة لا يقولون به لأن من مذهبهم جوازها فما كان جوابهم عنه فهو جوابنا

الثاني: أن هذا النهي قد أنكره جماعة من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم مهم علي وعمران بن حصين وابن عباس وغيرهم

الثالث: أنه رأي مخالف للكتاب فضلا عن السنة قال الله

[15]
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে প্রত্যেক মুকাল্লাফের নিকট (হজের ইহরাম) ভঙ্গ করার নির্দেশ পৌঁছে দেওয়ার এই তীব্র আকাঙ্ক্ষা কি আবশ্যকতা (وجوب)-এর প্রমাণ দেয় না? হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আবশ্যকতা (وجوب) এর চেয়েও সামান্য বিষয়ের মাধ্যমে সাব্যস্ত হয়।

ইহরাম ভঙ্গ করা তথা তামাত্তু হজের আবশ্যকতা (وجوب) নির্দেশক এই দলিলগুলোর স্পষ্টতার কারণে বিরোধীদের পক্ষে এগুলোর নির্দেশ্যতা মেনে নেওয়া ছাড়া কোনো উপায় ছিল না। অতঃপর তারা এর উত্তরের ব্যাপারে মতভেদ করেছেন। তাদের কেউ কেউ দাবি করেছেন যে, এটি সাহাবিদের জন্য সুনির্দিষ্ট (خصوصية) ছিল; অথচ ইতিপূর্বে যা অতিবাহিত হয়েছে তা থেকে আপনি এর অসারতা সম্পর্কে অবগত হয়েছেন।

এবং তাদের মধ্যে কেউ কেউ এটি রহিত (نسخ) হওয়ার দাবি করেছেন। কিন্তু তারা এমন একটি দলিলও পেশ করতে সক্ষম হননি যা উল্লেখ করার মতো বা খণ্ডন করার যোগ্য। তবে ওমর (রা.)-এর নিষেধ, অনুরূপভাবে উসমান (রা.) ও ইবনুল জুবাইর (রা.)-এর বিষয়টি স্বতন্ত্র, যা সহিহাইন এবং অন্যান্য কিতাবে বর্ণিত হয়েছে।

এর উত্তর কয়েকভাবে দেওয়া যায়:

প্রথমত: যারা তামাত্তু হজের এই নিষেধের মাধ্যমে দলিল পেশ (احتجاج) করেন, তারা নিজেরাও এর প্রবক্তা নন; কারণ তাদের মাযহাব অনুযায়ী এটি বৈধ (جواز)। সুতরাং এর স্বপক্ষে তাদের যা উত্তর, সেটিই আমাদের উত্তর।

দ্বিতীয়ত: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একদল সাহাবি এই নিষেধকে প্রত্যাখ্যান করেছেন, যাদের মধ্যে আলী, ইমরান বিন হুসাইন, ইবনে আব্বাস (রা.) এবং অন্যান্যরা রয়েছেন।

তৃতীয়ত: এটি সুন্নাহর পাশাপাশি কুরআনেরও পরিপন্থী একটি মত। আল্লাহ তাআলা বলেন:

[15]
(খণ্ড: ১) হুজ্জাতুন নবী (পৃষ্ঠা: ১৬)
تعالى: (فمن تمتع بالعمر إلى الحج فما استيسر من الهدي) البقرة: 196. وقد أشار إلى هذا المعنى عمران بن حصين رضي الله عن هـ بقوله:

(صحيح) (قال تمتعنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم ولم ينزل فيه القرآن (وفي رواية: نزلت آية المتعة في كتاب الله - يعني متعة الحج - وأمرنا بها رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى مات) قال رجل برأيه بعد ما شاء) . رواه مسلم

وقد صرح عمر رضي الله عن هـ بمشروعية التمتع وأن نهيه عنه أو كراهته له إنما هو رأي رآه لعلة بدت له فقال:

(صحيح) (قد علمت أن النبي صلى الله عليه وسلم قد فعله وأصحابه ولكن كرهت أن يظلوا معرسين بهن (1) في الأراك (2) ثم يروحون في الحج تقطر رؤوسهم) رواه مسلم وأحمد

ومن الأمور التي تستلفت نظر الباحث أن هذه العلة التي

--------------------------------------------

(1) أي ملمين بنسائهم

(2) أي في حجر الأراك كناية عن التستر به وهو شجر من الحمض يستاك به. وهو أيضا موضع بعرفة وليس مرادا هنا خلافا لبعض المعلقين على مسلم فإن الحجاج في هذا الموضع يكونون محرمين لا يجوز لهم وطأ نسائهم

[16]
মহান আল্লাহ বলেন: (অতঃপর যে ব্যক্তি উমরার সাথে হজের তামাত্তু সুবিধা গ্রহণ করে, সে যেন সাধ্যানুযায়ী কুরবানী করে) আল-বাকারাহ: ১৯৬। ইমরান বিন হুসাইন (রা.) তাঁর বাণীতে এই অর্থের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন:

(সহিহ (صحيح)) (তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সাথে তামাত্তু করেছি এবং এ বিষয়ে কুরআনে কোনো (নিষেধাজ্ঞা) অবতীর্ণ হয়নি। (অন্য বর্ণনায়: আল্লাহর কিতাবে তামাত্তুর আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে - অর্থাৎ হজের তামাত্তু - এবং রাসূলুল্লাহ (সা.) মৃত্যু পর্যন্ত আমাদের এটি পালনের নির্দেশ দিয়েছেন)। এরপর এক ব্যক্তি নিজের অভিমত অনুসারে যা ইচ্ছা তা বলেছেন)। মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন।

উমর (রা.) তামাত্তু বৈধ হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন এবং এ থেকে তাঁর নিষেধ করা বা একে অপছন্দ করা ছিল কেবল তাঁর একটি ব্যক্তিগত অভিমত, যা একটি নির্দিষ্ট কারণে তিনি পোষণ করেছিলেন। তিনি বলেন:

(সহিহ (صحيح)) (আমি অবশ্যই জানতাম যে নবী (সা.) এবং তাঁর সাহাবীগণ তা পালন করেছিলেন; কিন্তু আমি অপছন্দ করেছি যে তারা আরাক (গাছের ছায়া) এলাকায় স্ত্রীদের সাথে মিলিত (১) অবস্থায় অবস্থান করুক (২), আর এরপর হজের জন্য এমনভাবে যাত্রা করবে যে তাদের মাথা থেকে (গোসলের পানি) টপকাচ্ছে)। মুসলিম এবং আহমাদ এটি বর্ণনা করেছেন।

গবেষকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এমন বিষয়গুলোর মধ্যে একটি হলো যে, এই কারণটি যা—

--------------------------------------------

(১) অর্থাৎ নিজেদের স্ত্রীদের সাথে মিলিত হওয়া।

(২) অর্থাৎ আরাক গাছের ছায়ায়, এর মাধ্যমে আড়ালে থাকার বিষয়টি ইঙ্গিত করা হয়েছে। এটি এক প্রকার টক স্বাদের গাছ যা দিয়ে মেসওয়াক করা হয়। এটি আরাফাতের একটি স্থানের নামও, তবে মুসলিম-এর কিছু ব্যাখ্যাকারীর মতের বিপরীতে এখানে সেই স্থানটি উদ্দেশ্য নয়। কারণ ওই স্থানে হাজিগণ ইহরাম অবস্থায় থাকেন, তখন তাদের জন্য স্ত্রীদের সাথে মিলিত হওয়া জায়েজ নয়।

[১৬]
(খণ্ড: ১) হুজ্জাতুন নবী (পৃষ্ঠা: ১৭)
اعتمدها عمر رضي الله عن هـ في كراهته التمتع هي عينها التي تذرع بها الصحابة الذين لم يبادروا إلى تنفيذ أمره صلى الله عليه وسلم بالفسخ في ترك المبادرة فقالوا:

(خرجنا حجاجا لا نريد إلا الحج حتى إذا لم يكن بيننا وبين عرفة إلا أربع ليال أمرنا أن نفضي إلى نسائنا فنأتي عرفة تقطر مذاكيرنا المني من النساء. . .) انظر الفقرة (40) وقد رد النبي صلى الله عليه وسلم ذلك بقوله: (أبالله تعلموني أيها الناس؟ قد علمتم أني أتقاكم لله وأصدقكم وأبركم افعلوا ما آمركم به فإني لولا هديي لحللت كما تحلون) (فقرة 42)

فهذا يبين لنا عمر رضي الله عن هـ لو استحضر حين كرة للناس التمتع قول الصحابة هذا الذي هو مثل قوله وتذكر معه رد النبي صلى الله عليه وسلم عليهم لما كره ذلك ونهى الناس عنه

وفي هذا دليل على أن الصحابي الجليل قد تخفى عليه سنة من سنن رسول الله صلى الله عليه وسلم أو قول من أقواله فيجتهد برأيه فيخطئ وهو مع ذلك مأجور غير مأزور والعصمة لله وحده ثم لرسوله

وقد يقول قائل: إن ما ذكرته من الأدلة على وجوب التمتع وعلى رد ما يخالفه واضح مقبول ولكن يشكل عليه ما يذكره البعض

[17]
উমর (রা.) তামাত্তু হজ অপছন্দ করার ক্ষেত্রে যে যুক্তির ওপর নির্ভর করেছিলেন, সেটি হুবহু সেই একই অজুহাত যা সেই সকল সাহাবীগণ পেশ করেছিলেন যারা ফাসখ (فسخ) (হজ বাতিল করে উমরায় রূপান্তর) করার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নির্দেশ পালনে অগ্রসর হননি। তারা বলেছিলেন:

"আমরা হজের উদ্দেশ্যে বের হয়েছিলাম, আমরা কেবল হজই করতে চেয়েছিলাম। এমনকি যখন আমাদের এবং আরাফার মাঝে মাত্র চার রাত বাকি ছিল, তখন তিনি আমাদের নির্দেশ দিলেন যেন আমরা আমাদের স্ত্রীদের সাথে মিলিত হই। ফলে আমরা আরাফায় এমন অবস্থায় উপস্থিত হব যে আমাদের লজ্জাস্থান থেকে বীর্য ঝরবে..." অনুচ্ছেদ (৪০) দেখুন। আর নবী (সা.) তাদের এই কথার প্রতিবাদ করে বলেছিলেন: "হে লোক সকল! তোমরা কি আমাকে আল্লাহ সম্পর্কে শিক্ষা দিচ্ছ? তোমরা তো জানো যে আমি তোমাদের মধ্যে আল্লাহকে সবচেয়ে বেশি ভয় করি, সবচেয়ে বেশি সত্যবাদী এবং সবচেয়ে বেশি পুণ্যবান। আমি তোমাদের যা নির্দেশ দিচ্ছি তা পালন করো; কেননা যদি আমার সাথে হাদি (কুরবানীর পশু) না থাকত, তবে তোমরা যেভাবে হালাল (حلال) (ইহরামমুক্ত) হয়েছ, আমিও সেভাবে হালাল (حلال) হয়ে যেতাম।" (অনুচ্ছেদ ৪২)

এটি আমাদের কাছে স্পষ্ট করে দেয় যে, উমর (রা.) যখন মানুষের জন্য তামাত্তু অপছন্দ করেছিলেন, তখন যদি তাঁর সেই সকল সাহাবীদের এই বক্তব্য স্মরণে থাকত—যা তাঁর বক্তব্যের মতোই ছিল—এবং সেই সাথে তাদের প্রতি নবী (সা.)-এর প্রতিবাদটি মনে থাকত, তবে তিনি এটিকে অপছন্দ করতেন না এবং মানুষকে এ থেকে নিষেধ করতেন না।

এর মধ্যে এই প্রমাণ রয়েছে যে, একজন মহান সাহাবীর কাছেও রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কোনো সুন্নাহ (سنة) বা তাঁর কোনো বাণী অজানা থেকে যেতে পারে। ফলে তিনি নিজের মত অনুযায়ী ইজতিহাদ (اجتهاد) করেন এবং তাতে ভুল করেন। তবুও তিনি এ জন্য সওয়াবপ্রাপ্ত হবেন, গুনাহগার হবেন না; কারণ অভ্রান্ততা (عصمة) কেবল আল্লাহর জন্য এবং এরপর তাঁর রাসূলের জন্য।

কেউ হয়তো বলতে পারেন: তামাত্তু হজ আবশ্যক (وجوب) হওয়ার পক্ষে এবং এর বিরোধিতাকারীদের প্রতিবাদের বিষয়ে আপনি যা উল্লেখ করেছেন তা স্পষ্ট ও গ্রহণযোগ্য; কিন্তু কেউ কেউ যা উল্লেখ করেন তাতে কিছু জটিলতা সৃষ্টি হয়।

[১৭]
(খণ্ড: ১) হুজ্জাতুন নবী (পৃষ্ঠা: ১৮)
هذا وبين ما ذكرته؟

والجواب: أنه سبق أن بينا أن التمتع إنما يجب على من لم يسق الهدي وأما من ساق الهدي فلا يجب عليه ذلك بل لا يجوز له وإنما عليه أن يقرن وهو الأفضل وأو يفرد فيحتمل أن ما ذكر عن الخلفاء من الإفراد إنما هو لأنهم كانوا ساقوا الهدي. وحينئذ فلا منافاة والحمد لله

وخلاصة القول: أن على كل من أراد الحج أن يأتي إحرامه بالعمرة ثم يتحلل منها بعد فراغه من السعي بين الصفا والمروة بقص شعره. وفي اليوم الثامن من ذي الحجة يحرم بالحج فمن كان لبى بالقران أو الحج المفرد فعليه أن يفسخ ذلك بالعمرة إطاعة لنبيه صلى الله عليه وسلم والله عز وجل يقول: (من يطع الرسول فقد أطاع الله) - النساء: 80، وعلى التمتع بعد ذلك أن يقدم هديا يوم النحر أو في أيام التشريق وهو من تمام النسك وهو دم شكران وليس دم جبران وهو - كما قال ابن القيم - بمنزلة الأضحية للمقيم وهو من تمام عبادة هذا اليوم فالنسك المشتمل على الدم بمنزلة العيد المشتمل على الأضحية وهو من أفضل الأعمال فقد جاء من طرق أن النبي صلى الله عليه وسلم سئل: أي الأعمال أفضل؟

[18] أن الخلفاء الراشدين جميعا كانوا يفردون الحج فكيف التوفيق فقال:
এটি এবং আমি যা উল্লেখ করেছি তার মধ্যে পার্থক্য কী?

উত্তর হলো: আমরা ইতিপূর্বে বর্ণনা করেছি যে, তামাত্তু (التمتع) কেবল তাদের জন্য ওয়াজিব যারা সাথে করে হাদই (الهدي) (কুরবানির পশু) নিয়ে আসেনি। আর যে ব্যক্তি হাদই (الهدي) সাথে এনেছে, তার জন্য এটি ওয়াজিব নয়; বরং তার জন্য এটি (তামাত্তু করা) জায়েজও নয়। বরং তার দায়িত্ব হলো কিরাণ (القران) হজ করা এবং এটিই উত্তম (الأفضل), অথবা ইফরাদ (الإفراد) হজ করা। সুতরাং খলিফাদের পক্ষ থেকে ইফরাদ (الإفراد) সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে, তার সম্ভাবনা এই যে, তাঁরা সাথে করে হাদই (الهدي) নিয়ে এসেছিলেন। এমতাবস্থায় কোনো বৈপরীত্য থাকে না, আলহামদুলিল্লাহ।

সারকথা হলো: যে ব্যক্তি হজের ইচ্ছা পোষণ করেন, তাঁর কর্তব্য হলো উমরার ইহরাম বাঁধা, অতঃপর সাফা ও মারওয়ার মাঝে সায়ি (السعي) সম্পন্ন করে চুল ছোট করার মাধ্যমে ইহরাম থেকে হালাল (تحلل) হওয়া। অতঃপর জিলহজ মাসের অষ্টম তারিখে হজের ইহরাম বাঁধবেন। সুতরাং যারা কিরাণ (القران) বা একক হজ বা ইফরাদ (الإفراد) হজের তালবিয়া পাঠ করেছিলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্যস্বরূপ তাঁদের তা বাতিল (فسخ) করে উমরায় রূপান্তর করা উচিত। আল্লাহ আযযা ওয়া জাল বলেন: "যে ব্যক্তি রাসূলের আনুগত্য করল, সে মূলত আল্লাহরই আনুগত্য করল" (সূরা আন-নিসা: ৮০)। এরপর তামাত্তু (التمتع) হজকারীর জন্য নহরের দিন (يوم النحر) বা তাশরিকের দিনগুলোতে (أيام التشريق) হাদই (الهدي) পেশ করা আবশ্যক। এটি ইবাদতের (النسك) পূর্ণতার অংশ এবং এটি কৃতজ্ঞতাস্বরূপ রক্ত বা দম শুকরান (دم شكران), ক্ষতিপূরণস্বরূপ রক্ত বা দম জিবরান (دم جبران) নয়। এটি—ইবনুল কাইয়্যিম যেমনটি বলেছেন—একজন মুকিমের (স্থায়ী বাসিন্দার) কুরবানির (الأضحية) সমতুল্য এবং এই দিনের ইবাদতের পূর্ণতা দানকারী। সুতরাং রক্ত (কুরবানি) সম্বলিত এই ইবাদতটি কুরবানি সম্বলিত ঈদের সমতুল্য এবং এটি সর্বোত্তম আমলসমূহের অন্তর্ভুক্ত। বিভিন্ন সূত্রে (طرق) বর্ণিত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: কোন আমলটি সর্বোত্তম?

[18] সকল খুলাফায়ে রাশেদীন ইফরাদ (الإفراد) হজ পালন করতেন, তবে এই দুই বিষয়ের মধ্যে সমন্বয় কীভাবে হবে? তিনি উত্তরে বললেন:
(খণ্ড: ১) হুজ্জাতুন নবী (পৃষ্ঠা: ১৯)
(صحيح) (العج والثج) وصححه ابن خزيمة والحاكم والذهبي وحسنه المنذري والعج رفع الصوت بالتلبية والثج إراقة دن الهدي. وعليه أن يأكل من هديه كما فعل رسول الله صلى الله عليه وسلم على ما يأتي بيانه (فقرة 90) ولقوله عز وجل فيما يذبح من الهدي في منى (فكلوا منها وأطعموا البائس الفقير) - الحج: 28

وقد اتصلنا بكثير من الحجاج فعرفنا منهم أنهم مع كونهم يعلمون أن التمتع أفضل من الإفراد فكانوا يفردون ثم يأتون بالعمرة بعد الحج من التنعيم وذلك لئلا يلزمهم الهدي

وفي هذا من المخالفة للشارع الحكيم والاحتيال على شرعه ما لا يخفى فساده فإن الله بحكمته شرع العمرة قبل الحج وهم يعكسون ذلك وأوجب على المتمتع هديا وهم يفرون منه وليس ذلك من عمل المتقين ثم هم يطمعون أن يتقبل الله حجهم وأن يغفر ذنبهم هيهات هيهات ف (إنما يتقبل الله من المتقين) - المائدة: 27، وليس من البخلاء المحتالين

فكن أيها الحاج متقيا لربك متبعا لسنة نبيك في مناسكك عسى أن ترجع من ذنوبك كيوم ولدتك أمك

ثالثا: واحذر يا أخي أن تدع البيات في منى ليلة عرفة وكذا

[19]
(সঠিক (صحيح)) (আল-আজ ও আত-থজ)। ইবনে খুজাইমা, আল-হাকিম এবং আল-জাহাবি একে সহিহ (صحيح) বলেছেন এবং আল-মুনজিরি একে হাসান (حسن) বলেছেন। 'আল-আজ' হলো তালবিয়ার মাধ্যমে উচ্চস্বরে শব্দ করা এবং 'আত-থজ' হলো হাদির রক্ত প্রবাহিত করা (কুরবানি করা)। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা করেছেন সে অনুযায়ী হাজিকে তার হাদির গোশত খেতে হবে, যার বিস্তারিত বিবরণ সামনে (অনুচ্ছেদ ৯০) আসবে এবং মিনা’তে জবেহকৃত হাদি সম্পর্কে মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: (অতঃপর তোমরা তা থেকে আহার করো এবং অভাবগ্রস্ত দরিদ্রকে আহার করাও) - আল-হাজ: ২৮।

আমরা অনেক হাজির সংস্পর্শে এসেছি এবং তাদের থেকে জানতে পেরেছি যে, তারা তামাত্তু হজ্জ ইফরাদের চেয়ে উত্তম জানা সত্ত্বেও ইফরাদ হজ্জ পালন করে, এরপর তানঈম থেকে হজ্জের পরে ওমরাহ আদায় করে; আর এটি তারা করে থাকে যাতে তাদের ওপর হাদি (কুরবানি) ওয়াজিব না হয়।

এর মধ্যে বিজ্ঞ শরীয়তদাতার বিধানের বিরোধিতা এবং তাঁর শরীয়তের সাথে এমন চাতুরতা রয়েছে যার অসারতা গোপন নয়। কেননা আল্লাহ তাঁর প্রজ্ঞায় হজ্জের পূর্বে ওমরাহ বিধান করেছেন, অথচ তারা একে উল্টে দিচ্ছে। তিনি তামাত্তু পালনকারীর ওপর হাদি ওয়াজিব করেছেন, আর তারা তা থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। এটি মুত্তাকিদের কাজ নয়। এরপরও তারা আশা করে যে আল্লাহ তাদের হজ্জ কবুল করবেন এবং তাদের গুনাহ মাফ করবেন। অসম্ভব, অসম্ভব! কেননা (নিশ্চয়ই আল্লাহ মুত্তাকিদের থেকেই কবুল করেন) - আল-মায়িদাহ: ২৭; কৃপণ ও প্রতারকদের থেকে নয়।

অতএব হে হাজি! তোমার হজ্জের কার্যাবলীতে তোমার প্রতিপালকের প্রতি তাকওয়াবলম্বনকারী এবং তোমার নবীর সুন্নাহর অনুসারী হও, যেন তুমি তোমার গুনাহসমূহ থেকে সেদিনের মতো পবিত্র হয়ে ফিরে আসতে পারো, যেদিন তোমার মা তোমাকে জন্ম দিয়েছিলেন।

তৃতীয়ত: হে আমার ভাই! সাবধান থেকো, আরাফাতের রাতে মিনায় রাত্রিযাপন ত্যাগ করো না এবং তেমনিভাবে...

[19]
(খণ্ড: ১) হুজ্জাতুন নবী (পৃষ্ঠা: ১৯)
البيات في المزدلفة ليلة النحر فذلك من هدي نبيك صلى الله عليه وسلم لا سيما في البيات في المزدلفة حتى الصبح ركن من أركان الحج على الراجح من أقوال أهل العلم. ولا تغتر بما يزخرف لك من القول بعض من يسمون ب (المطوفين) فإنهم لا هم لهم إلا قبض الفلوس وتقليل العمل الذي أخذوا عليه الأجر كافيا وافيا على أدائه بتمامه وسواء عليهم بعد ذلك أتم حجك أم نقص أتبعت سنة نبيك أم خالفت؟

رابعا: واحذر أيضا يا أخي من أن تمر بين يدي أحد من المصلين في المسجد الحرام وفي غيره من المساجد لقوله صلى الله عليه وسلم:

(صحيح) (لو يعلم المار بين يدي المصلي ماذا عليه لكان أن يقف أربعين خيرا له من أن يمر بين يديه) . قال الراوي: لا أدري قال: أربعين يوما أو شهرا أو سنة. رواه الشيخان في (صحيحيهما) . وكما لا يجوز لك هذا فلا يجوز لك أيضا أن تصلي إلى غير سترة بل عليك أن تصلي إلى أي شيء يمنع الناس من المرور بين يديك. فإن أراد أحد أن يجتاز بينك وبين سترتك فعليك أن تمنعه. وفي ذلك أحاديث وآثار أذكر بعضها:
কুরবানীর রাতে মুজদালিফায় অবস্থান করা তোমার নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নির্দেশিত পদ্ধতির অন্তর্ভুক্ত। বিশেষ করে সুবহে সাদিক পর্যন্ত মুজদালিফায় অবস্থান করা আলেমদের অধিকতর শক্তিশালী (الراجح) মত অনুযায়ী হজের অন্যতম একটি রুকন (ركن)। তথাকথিত 'মুতাওয়িফ'দের চাকচিক্যময় কথায় প্রলুব্ধ হয়ো না; কারণ তাদের মূল লক্ষ্য হলো অর্থ উপার্জন এবং পরিশ্রম কমানো, অথচ তারা কাজটি যথাযথভাবে সম্পাদন করার জন্য পূর্ণ পারিশ্রমিক গ্রহণ করেছে। তোমার হজ পূর্ণ হলো কি অপূর্ণ থাকল, কিংবা তুমি তোমার নবীর সুন্নাত অনুসরণ করলে না কি তার বিরোধিতা করলে—তাতে তাদের কিছু যায় আসে না।

চতুর্থত: হে আমার ভাই! মসজিদুল হারাম কিংবা অন্য যেকোনো মসজিদে কোনো নামাজির সামনে দিয়ে যাতায়াত করা থেকে সতর্ক থাকো। কেননা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:

(সহিহ (صحيح)) "নামাজির সামনে দিয়ে অতিক্রমকারী যদি জানত এতে তার ওপর কী (পরিমাণ গুনাহ) রয়েছে, তবে তার সামনে দিয়ে অতিক্রম করার চেয়ে চল্লিশ পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকা তার জন্য কল্যাণকর হতো।" বর্ণনাকারী বলেন: আমি জানি না তিনি কি চল্লিশ দিন, মাস না কি বছরের কথা বলেছেন। এটি শায়খাইন তাঁদের সহিহ গ্রন্থদ্বয়ে বর্ণনা করেছেন। আর যেমনটি তোমার জন্য নামাজির সামনে দিয়ে যাওয়া জায়েজ নয়, তেমনি সুতরা (سترة) ছাড়াই নামাজে দাঁড়ানোও তোমার জন্য বৈধ নয়। বরং তোমার সামনে এমন কিছু রাখা উচিত যা তোমার সামনে দিয়ে মানুষের যাতায়াতে প্রতিবন্ধক হবে। যদি কেউ তোমার এবং তোমার সুতরা (سترة)-এর মাঝখান দিয়ে পার হতে চায়, তবে তাকে বাধা দাও। এ বিষয়ে অনেক হাদিস ও আসার (آثار) রয়েছে, যার কিছু নিচে উল্লেখ করছি:
(খণ্ড: ১) হুজ্জাতুন নবী (পৃষ্ঠা: ২০)
1 - (صحيح) (إذا وضع أحدكم بين يديه مثل مؤخرة الرجل فليصل ولا يبالي من مر من وراء ذلك)

[20]
১ - (সহিহ (صحيح)) (যদি তোমাদের কেউ তার সামনে উটের জিনের পেছনের কাঠের মতো কোনো বস্তু রাখে, তবে সে যেন সালাত আদায় করে এবং এর ওপাশ দিয়ে কেউ অতিক্রম করলে সে যেন পরোয়া না করে।)

[২০]
(খণ্ড: ১) হুজ্জাতুন নবী (পৃষ্ঠা: ২০)
2 - (صحيح) إذا صلى أحدكم إلى شيء يستره من الناس فأراد أحد أن يجتاز بين يديه فليدفع في نحره وليدرأ ما استطاع فإن أبى فليقاتل فإنما هو شيطان) . (1)
২ - (সহিহ (صحيح)) তোমাদের কেউ যখন এমন কোনো বস্তুর দিকে মুখ করে সালাত আদায় করে যা তাকে মানুষের থেকে আড়াল করে, এমতাবস্থায় কেউ যদি তার সামনে দিয়ে অতিক্রম করতে চায়, তবে সে যেন তাকে ধাক্কা দিয়ে বাধা প্রদান করে এবং যথাসাধ্য প্রতিহত করে। যদি সে অস্বীকার করে তবে সে যেন তার সাথে লড়াই করে, কারণ সে তো কেবল একজন শয়তান) । (১)
(খণ্ড: ১) হুজ্জাতুন নবী (পৃষ্ঠা: ২০)
3 - قال يحيى بن كثير:

(صحيح) (رأيت أنس بن مالك دخل المسجد الحرام فركز شيئا أو هيأ شيئا يصلي إليه) . رواه ابن سعد (7 / 18) بسند صحيح
৩ - ইয়াহইয়া ইবনে কাসীর বলেছেন:

(সহীহ (صحيহ)) (আমি আনাস ইবনে মালিককে দেখেছি যে, তিনি মসজিদুল হারামে প্রবেশ করলেন, এরপর কোনো একটি বস্তু (সুতরা হিসেবে) গেড়ে দিলেন অথবা কোনো কিছু প্রস্তুত করলেন যেটির দিকে মুখ করে তিনি সালাত আদায় করবেন)। এটি ইবনে সাদ (৭ / ১৮) একটি সহীহ (صحيহ) সনদে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) হুজ্জাতুন নবী (পৃষ্ঠা: ২১)
4 - عن صالح بن كيسان قال:

(صحيح) (رأيت ابن عمر يصلي في الكعبة ولا يدع أحدا يمر بين يديه) . رواه أبو زرعة الرازي في (تاريخ دمشق) (91 / 1) (2) وكذا ابن عساكر في (تاريخ دمشق) (8 / 106 / 2) بسند صحيح

ففي الحديث الأول إيجاب اتخاذ السترة وأنه إذا فعل ذلك فلا يضره من مر وراءها

وفي الحديث الثاني: إيجاب دفع المار بين يدي المصلي إذا كان يصلي إلى السترة وتحريم المرور عمدا وأن فاعل ذلك شيطان

وليت شعري ما هو الكسب الذي يعود به الحاج إذا رجع وقد استحق هذا الاسم: (الشيطان) ؟

--------------------------------------------

(1) حديثان صحيحان مخرجان في " صفة الصلاة " لنا (51 / 53 الطبعة الثالثة)

وهو تحت الطبع في مطابع المكتب الإسلامي

[21]
৪ - সালিহ ইবনে কায়সান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:

(বিশুদ্ধ (صحيح)) (আমি ইবনে উমরকে কাবা ঘরের অভ্যন্তরে সালাত আদায় করতে দেখেছি এবং তিনি তাঁর সামনে দিয়ে কাউকে অতিক্রম করতে দিতেন না)। এটি বর্ণনা করেছেন আবু জুরআহ আর-রাজি ‘তারিখে দামেশক’ (১/৯১) গ্রন্থে এবং একইভাবে ইবনে আসাকির ‘তারিখে দামেশক’ (৮/১০৬/২) গ্রন্থে একটি বিশুদ্ধ (صحيح) সনদ (সند) সহকারে এটি বর্ণনা করেছেন।

প্রথম হাদিসটিতে সুতরাহ (سترة) গ্রহণ করার আবশ্যকতা (إيجاب) প্রমাণিত হয় এবং এটিও প্রতীয়মান হয় যে, যদি মুসাল্লি তা গ্রহণ করে তবে তার সুতরাহর পেছন দিয়ে কেউ অতিক্রম করলে তা তার কোনো ক্ষতি করবে না।

আর দ্বিতীয় হাদিসে: সালাতরত ব্যক্তির সামনে দিয়ে অতিক্রমকারীকে প্রতিহত করার আবশ্যকতা (إيجاب) বর্ণিত হয়েছে—যখন সে সুতরাহ (سترة) সামনে রেখে সালাত আদায় করে—এবং ইচ্ছাকৃতভাবে সামনে দিয়ে অতিক্রম করার অবৈধতা বা হারাম (تحريم) হওয়া এবং এরূপ জমকারী যে শয়তান (شيطان), তাও বর্ণিত হয়েছে।

আমি ভাবি, একজন হাজি তার সফর শেষে কী পাথেয় নিয়ে ফিরলেন যদি তিনি এই ‘শয়তান (شيطان)’ উপাধির যোগ্য হন?

--------------------------------------------

(১) আমাদের রচিত 'সিফাতুস সালাত' গ্রন্থে হাদিস দুটি বিশুদ্ধ (صحيح) হিসেবে উদ্ধৃত হয়েছে (পৃষ্ঠা ৫১ / ৫৩, তৃতীয় সংস্করণ)।

এটি বর্তমানে আল-মাকতাব আল-ইসলামী এর ছাপাখানায় মুদ্রণাধীন রয়েছে।

[২১]
(খণ্ড: ১) হুজ্জাতুন নবী (পৃষ্ঠা: ২২)
والحديثان وما في معناهما مطلقان لا يختصان بمسجد دون مسجد ولا بمكان دوم مكان فهما يشملان المسجد الحرام والمسجد النبوي من باب أولى لأن هذه الأحاديث إنما قالها صلى الله عليه وسلم في مسجده فهو المراد بها أصالة والمساجد الأخرى تبعا. والأثران المذكوران نصان صريحان على أن المسجد الحرام داخل في تلك الأحاديث فما يقال من بعض المطوفين وغيرهم أن المسجد المكي والمسجد النبوي مستثنيان من النهي لا أصل له في السنة ولا عن أحد من الصحابة اللهم سوى حديث واحد روي في المسجد المكي لا يصح إسناده ولا دلالة فيه على الدعوى كما سيأتي بيانه في (بدع الحج) (الفقرة 124)

خامسا: وعلى أهل العلم والفضل أن يغتنموا فرصة التقائهم بالحجاج في المسجد الحرام وغيره من المواطن المقدسة فيعلموهم ما يلزم من مناسك الحج وأحكامه على وفق الكتابة السنة وأن لا يشغلهم ذلك عن الدعوة إلى أصل الإسلام الذي من أجله بعثت الرسل وأنزلت الكتب ألا وهو التوحيد فإن أكثر من لقيناهم حتى ممن ينتمي إلى العلم وجدناهم في جهل بالغ بحقيقة التوحيد وما ينافيه من الشركيات والوثنيات كما أنهم في غفلة تامة عن ضرورة وجوع المسلمين على اختلاف مذاهبهم وكثرة أحزابهم

[22]
উল্লিখিত হাদিসদ্বয় এবং এ জাতীয় সমার্থবোধক বক্তব্যগুলো নিঃশর্ত (مطلق); এগুলো কোনো বিশেষ মসজিদের জন্য নির্দিষ্ট নয় এবং কোনো বিশেষ স্থানের জন্যও সীমাবদ্ধ নয়। বরং এগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববীকে অন্তর্ভুক্ত করে। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই হাদিসগুলো তাঁর নিজ মসজিদেই বলেছিলেন, তাই মূলত তাঁর মসজিদই এর মূল উদ্দেশ্য এবং অন্যান্য মসজিদগুলো এর অনুগামী। উল্লিখিত বর্ণনা (أثر) দুটি স্পষ্ট পাঠ (نص صريح) যে, মসজিদুল হারাম ঐ হাদিসগুলোর অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং কোনো কোনো মোয়াল্লেম বা অন্যদের পক্ষ থেকে যা বলা হয় যে, মক্কার মসজিদ এবং মসজিদে নববী এই নিষেধাজ্ঞা থেকে ব্যতিক্রম—সুন্নাহ কিংবা কোনো সাহাবীর পক্ষ থেকে এর কোনো ভিত্তি নেই। তবে মক্কার মসজিদ সম্পর্কে বর্ণিত একটি মাত্র হাদিস ব্যতীত, যার সনদ (إسناد) বিশুদ্ধ (صحيح) নয় এবং দাবিকৃত বিষয়ে এর কোনো প্রমাণ্যতা (دلالة) নেই, যেমনটি 'বিদ'আতুল হজ' (অনুচ্ছেদ ১২৪) অংশে সামনে বিস্তারিত আলোচিত হবে।

পঞ্চম: আলেম ও গুণীজনদের উচিত মসজিদুল হারাম এবং অন্যান্য পবিত্র স্থানগুলোতে হাজিদের সাথে সাক্ষাতের সুযোগকে কাজে লাগানো। সুতরাং তারা যেন তাদেরকে হজের প্রয়োজনীয় নিয়মাবলি ও এর বিধানসমূহ কুরআন ও সুন্নাহ অনুযায়ী শিক্ষা দেন। আর এই কাজ যেন তাদেরকে ইসলামের সেই মূল ভিত্তির দিকে দাওয়াত দেওয়া থেকে বিচ্যুত না করে যার জন্য রাসূলগণ প্রেরিত হয়েছিলেন এবং কিতাবসমূহ অবতীর্ণ হয়েছিল; আর তা হলো তাওহিদ। কেননা আমরা যাদের সাথে সাক্ষাৎ করেছি, এমনকি যারা ইলমের সাথে সম্পৃক্ত বলে পরিচিত, তাদের অনেকের মধ্যেই তাওহিদের প্রকৃত স্বরূপ এবং এর পরিপন্থী শিরক ও মূর্তিপূজা সম্পর্কে চরম অজ্ঞতা লক্ষ্য করেছি। পাশাপাশি তারা বিভিন্ন মাজহাব ও অসংখ্য দলের বিভক্তি সত্ত্বেও মুসলিমদের ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কেও সম্পূর্ণ গাফেল বা উদাসীন।

[22]
(খণ্ড: ১) হুজ্জাতুন নবী (পৃষ্ঠা: ২৩)
إلى العمل الثابت في الكتاب والسنة في العقائد والأحكام والمعاملات والأخلاق والسياسة والاقتصاد وغير ذلك من شؤون الحياة وأن أي صوت يرتفع وأي إصلاح يزعم على غير هذا الأصل القويم والصراط المستقيم فسوف لا يجني المسلمون منه إلا ذلا وضعفا والواقع أكبر شاهد على ذلك والله المستعان

وقد تتطلب الدعوة إلى ما سبق شيئا قليلا أو كثيرا من الجدال بالتي هي أحسن كما قال الله عز وجل: (ادع إلى سبيل ربك بالحكمة والموعظة الحسنة وجادلهم بالتي هي أحسن) - النحل: 125. فلا يصدنك عن ذلك معارضة الجهلة بقوله تعالى: (. . . فلا رفث ولا فسوق ولا جدال في الحج) - البقرة: 196. فإن الجدال المنهي عنه في الحج هو كالفسق المنهي عنه في غير الحج أيضا وهو الجدال بالباطل وهو غير الجدال المأمور به في آية الدعوة قال ابن حزم رحمه الله (7 / 196) :

(والجدال قسمان: قسم واجب وحق وقسم في باطل فالذي في الحق واجب في الإحرام وغير الإحرام قال تعالى: (ادع إلى سبيل ربك. . .) ومن جادل في طلب حق به فقد دعا إلى سبيل ربه تعالى وسعى في إظهار الحق والمنع

[23]
আকিদা, আহকাম, মুয়ামালাত, আখলাক, রাজনীতি, অর্থনীতি এবং জীবনের অন্যান্য সকল ক্ষেত্রে কুরআন ও সুন্নাহর অটল বিধান অনুযায়ী আমল করা এবং এই সুদৃঢ় মূলনীতি ও সরল পথ ব্যতীত অন্য যে কোনো উচ্চকণ্ঠ এবং কথিত সংস্কার হতে মুসলিমরা কেবল লাঞ্ছনা ও দুর্বলতাই লাভ করবে; আর বাস্তবতা এর সবচেয়ে বড় সাক্ষী। আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি।

আর উপরোক্ত বিষয়সমূহের দাওয়াতের ক্ষেত্রে কখনও সামান্য বা অধিকতর উত্তম পন্থায় বিতর্কের প্রয়োজন হতে পারে, যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: (তোমার রবের পথের দিকে হিকমত ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে দাওয়াত দাও এবং তাদের সাথে উত্তম পন্থায় বিতর্ক করো) - আন-নাহল: ১২৫। সুতরাং অজ্ঞদের এই আপত্তির কারণে তুমি যেন এ থেকে বিরত না হও যে, মহান আল্লাহ বলেছেন: (. . . হজ্বের সময় কোনো অশ্লীলতা, পাপাচার ও বিবাদ-বিতর্ক নেই) - আল-বাকারাহ: ১৯৬। কারণ হজ্বের মধ্যে যে বিতর্ককে নিষেধ করা হয়েছে, তা হজ্বের বাইরেও নিষিদ্ধ পাপাচারের মতোই; আর তা হলো বাতিলের সপক্ষে বিতর্ক। এটি দাওয়াতের আয়াতে নির্দেশিত বিতর্কের পর্যায়ভুক্ত নয়। ইবনে হাজম (রহিমাহুল্লাহ) (৭ / ১৯৬) বলেছেন:

(বিতর্ক দুই প্রকার: এক প্রকার ওয়াজিব ও সত্যনির্ভর এবং অন্য প্রকার হলো বাতিল আশ্রিত। সুতরাং সত্যের সপক্ষে যা, তা ইহরাম অবস্থায় এবং ইহরাম ব্যতীত অন্য সময়েও ওয়াজিব। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: (তোমার রবের পথের দিকে দাওয়াত দাও. . .) সুতরাং যে ব্যক্তি সত্য অন্বেষার উদ্দেশ্যে বিতর্ক করল, সে মূলত তার সুমহান রবের পথের দিকেই দাওয়াত দিল এবং সত্য প্রকাশ ও অন্যায় প্রতিরোধের ক্ষেত্রে প্রচেষ্টা চালাল।

[23]