(খণ্ড: ১)
জুযউন ফীহি তুরুকু হাদীছি আবদুর রহমান ইবনু আবী লায়লা আন কা'ব ইবনে উজরাহ ফিস-সালাতি আলান নাবীয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: -)
جزء فيه طرق حديث عبد الرحمن بن أبي ليلى عن كعب بن عجرة في الصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم القسم: كتب السنة
الكتاب: جزء فيه طرق حديث عبد الرحمن بن أبي ليلى عن كعب بن عجرة في الصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم
المؤلف: شَرَفُ الدِّيْنِ، عَلِيُّ بنُ المُفَضَّلِ بنِ عَلِيِّ بنِ مُفَرِّجِ بنِ حَاتِمِ بنِ حَسَنِ بنِ جَعْفَرٍ المَقْدِسِيُّ (ت 611هـ)
المحقق: حمد عبد الله كريم
الناشر: الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة
الطبعة: السنة السادسة والثلاون العدد 124 - 1424هـ/2004م
عدد الصفحات: 240
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর দরুদ পাঠ সংক্রান্ত কাব বিন উজরাহ হতে বর্ণিত আব্দুর রহমান বিন আবু লাইলার হাদিসের বর্ণনাসূত্রসমূহ সম্বলিত পুস্তিকা বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
কিতাব: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর দরুদ পাঠ সংক্রান্ত কাব বিন উজরাহ হতে বর্ণিত আব্দুর রহমান বিন আবু লাইলার হাদিসের বর্ণনাসূত্রসমূহ সম্বলিত পুস্তিকা
লেখক: শারাফুদ দ্বীন, আলী বিন আল-মুফাদ্দাল বিন আলী বিন মুফাররিজ বিন হাতিম বিন হাসান বিন জাফর আল-মাকদিসী (মৃত্যু ৬১১ হিজরি)
তাহকীককারী: হামদ আব্দুল্লাহ কারীম
প্রকাশক: মদীনা মুনাওয়ারাহ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়
সংস্করণ: ৩৬তম বর্ষ, সংখ্যা ১২৪ - ১৪২৪ হিজরি/২০০৪ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৪০
[কিতাবটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ্জ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
জুযউন ফীহি তুরুকু হাদীছি আবদুর রহমান ইবনু আবী লায়লা আন কা'ব ইবনে উজরাহ ফিস-সালাতি আলান নাবীয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ١٦٣)
مقدمةالتصنيف على الأجزاء الحديثية نوع من أنواع التأليف التي اتبعها علماء الحديث في القرون السابقة، وقد خدم بها أصحابها سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم خدمة موضوعية يغلب عليها الاختصار لتخصصها في الموضوع الواحد، لذلك فإن أهمية هذا النوع من التأليف لا يختلف فيه اثنان، ولكون هذا الجزء يختص بخدمة عبادة من العبادات العظيمة وهي عبادة الصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم اخترت هذا الجزء لمخرجه الإمام علي بن المفضل المقدسي (ت 611?) ، وكان أحد حفاظ زمانه متفقاً على حفظه وإتقانه وجودة تخريجه.
وقد قمت بدراسته وتحقيقه، ففي الدراسة عرّفت بالأجزاء الحديثية وعناية العلماء بها، وذكرت التخريج بمعنى الاستخراج وهو إخراج الحديث من بطون الكتب. ونبهت على أن هذا الجزء يحوي عددا من أنواع الإسناد العالي كالموافقة والبدل وغير ذلك، وقد قمت بخدمة الأحاديث خدمة إسنادية متنيّة بالطرق العلمية المتبعة في ذلك.
وأرجو من الله العلي القدير أن يكون هذا العمل خالصاً لوجهه الكريم وأن أكون من خلاله أسهمت في خدمة السنة المطهرة بخدمة متواضعة، وصلى الله وسلم على عبده ورسوله محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.
ভূমিকাহাদিসের অংশসমূহ (আজজাউল হাদিসিয়া) বিন্যাসে গ্রন্থ রচনা হলো রচনার এমন একটি শৈলী যা পূর্ববর্তী শতাব্দীগুলোতে হাদিস বিশারদগণ অনুসরণ করেছেন। এর রচয়িতাগণ এর মাধ্যমে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর এমন এক বিষয়ভিত্তিক খিদমত আঞ্জাম দিয়েছেন যেখানে একক বিষয়ে বিশেষায়িত হওয়ার কারণে সংক্ষিপ্ততার প্রাধান্য পরিলক্ষিত হয়। এই কারণে এ ধরনের রচনার গুরুত্বের বিষয়ে কোনো দ্বিমত নেই। যেহেতু এই সংকলনটি (জুজ) একটি মহান ইবাদত অর্থাৎ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর দরুদ পাঠের খিদমতের সাথে সংশ্লিষ্ট, তাই আমি ইমাম আলী বিন আল-মুফাজ্জল আল-মাকদিসি (মৃত্যু ৬১১ হি.) সংকলিত এই অংশটি নির্বাচন করেছি। তিনি ছিলেন তাঁর সময়ের এমন একজন হাফেজ, যাঁর মুখস্থশক্তি, পাণ্ডিত্য এবং হাদিস চয়নের নিপুণতার বিষয়ে সকলে ঐকমত্য পোষণ করেছেন।
আমি এটি অধ্যয়ন ও তাহকিক (সম্পাদনা) করেছি। এই গবেষণায় আমি হাদিসের ক্ষুদ্র সংকলনসমূহ এবং এগুলোর প্রতি আলেমদের বিশেষ মনোযোগের কথা উল্লেখ করেছি। এখানে আমি 'তাখরিজ' শব্দটিকে 'ইস্তিখরাজ' বা মূল গ্রন্থসমূহ থেকে হাদিস আহরণ ও বিন্যাস করার অর্থে ব্যবহার করেছি। আমি এ বিষয়েও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি যে, এই সংকলনটিতে উচ্চ পর্যায়ের সনদের (ইসনাদে আলী) বিভিন্ন প্রকার যেমন 'মুওয়াফাকাহ', 'বাদাল' ইত্যাদি বিদ্যমান রয়েছে। আমি প্রচলিত বৈজ্ঞানিক ও গবেষণামূলক পদ্ধতি অনুসরণের মাধ্যমে হাদিসগুলোর সনদ ও মূল পাঠের (মতন) খিদমত সম্পন্ন করেছি।
আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন এই কাজটুকু কেবল তাঁর সন্তুষ্টির জন্যই হয় এবং এর মাধ্যমে যেন আমি পবিত্র সুন্নাহর খিদমতে সামান্য অবদান রাখতে পারি। আল্লাহ তাঁর বান্দা ও রাসুল মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন।
(খণ্ড: ১)
জুযউন ফীহি তুরুকু হাদীছি আবদুর রহমান ইবনু আবী লায়লা আন কা'ব ইবনে উজরাহ ফিস-সালাতি আলান নাবীয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ١٦٤)
التقريب
… تقريب التهذيب لابن حجر.
التهذيب
… تهذيب التهذيب لابن حجر.
الكاشف
… الكاشف في معرفة من له رواية في الكتب الستة للإمام الذهبي.
السير
… سير أعلام النبلاء للإمام الذهبي.
العبر
… العبر في خبر من غبر للإمام الذهبي.
الميزان
… ميزان الاعتدال في نقد الرجال للإمام الذهبي.
اللسان
… لسان الميزان لابن حجر.
النيل
… نيل الأوطار شرح منتقى الأخبار للشوكاني.
المجمع
… مجمع الزوائد ومنبع الفوائد للهيثمي.
التمهيد
… التمهيد لما في الموطأ من المعاني والأسانيد لابن عبد البر.
الاستذكار
… الاستذكار لما في الموطأ من المعاني والآثار لابن عبد البر.
الكامل
… الكامل في ضعفاء الرجال لابن عدي الجرجاني.
التعجيل
… تعجيل المنفعة بزوائد رجال الأربعة لابن حجر.
الفتح
… فتح الباري شرح صحيح البخاري لابن حجر.
আত-তাকরীব
… ইবনে হাজারের তাকরীবুত তাহযীব।
আত-তাহযীব
… ইবনে হাজারের তাহযীবুত তাহযীব।
আল-কাশিফ
… ইমাম আয-যাহাবীর আল-কাশিফ ফী মারিফাতি মান লাহু রিওয়ায়াতুন ফিল কুতুবিস সিত্তাহ।
আস-সিয়ার
… ইমাম আয-যাহাবীর সিয়ারু আলামিন নুবালা।
আল-ইবার
… ইমাম আয-যাহাবীর আল-ইবার ফী খাবারি মান গাবার।
আল-মীযান
… ইমাম আয-যাহাবীর মীযানুল ইতিদাল ফী নাক্বদির রিজাল।
আল-লিসান
… ইবনে হাজারের লিসানুল মীযান।
আন-নাইল
… আশ-শাওকানীর নাইলুল আওতার শারহু মুনতাক্বাল আখবার।
আল-মাজমা
… আল-হাইসামীর মাজমাউয যাওয়াইদ ওয়া মানবাউল ফাওয়াইদ।
আত-তামহীদ
… ইবনু আবদিল বার-এর আত-তামহীদ লিমা ফিল মুওয়াত্ত্বা মিনাল মাআনী ওয়াল আসানীদ।
আল-ইস্তযকার
… ইবনু আবদিল বার-এর আল-ইস্তযকার লিমা ফিল মুওয়াত্ত্বা মিনাল মাআনী ওয়াল আছার।
আল-কামিল
… ইবনু আদী আল-জুরজানীর আল-কামিল ফী দুয়াফাইর রিজাল।
আত-তাজীল
… ইবনে হাজারের তাজীলুল মানফায়াহ বি-যাওয়াইদি রিজালিল আরবায়াহ।
আল-ফাতহ
… ইবনে হাজারের ফাতহুল বারী শারহু সহীহিল বুখারী।
(খণ্ড: ১)
জুযউন ফীহি তুরুকু হাদীছি আবদুর রহমান ইবনু আবী লায়লা আন কা'ব ইবনে উজরাহ ফিস-সালাতি আলান নাবীয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ١٦٥)
المقدمة
إن الحمد لله نحمده ونستعينه، ونستغفره ونستهديه ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له ومن يضلل فلا هادي له. وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله.
أما بعد: فإن الله تعالى أمر عباده بالصلاة على نبيه محمد بعد أن أخبر سبحانه وتعالى أنه يصلي عليه وأن ملائكته الكرام يصلون عليه {إِنَّ اللَّهَ وَمَلائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيماً} 1.
وهذا جزء حديثي في الصلاة على رسول الله صلى الله عليه وسلم للإمام علي بن المفضل المقدسي، والجزء الحديثي هو: “المؤلَّف في الأحاديث المروية عن رجل واحد
… وقد يختارون من المطالب الثمانية ـ المذكورة في صفة الجامع ـ مطلباً جزئياً يصنفون فيه
…، كما سيأتي، والأجزاء الحديثية تعد من الكتب التي تخدم سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم.
وهذا الجزء يخدم عبادة عظيمة هي الصلاة على رسول الله صلى الله عليه وسلم بأصح الأسانيد، وفيه الموافقة والبدل، وهما من أنواع الأسانيد العالية، وعلو الإسناد يحرص على الرواية به المحدثون لأنه تقلّ فيه الوسائط وتقلّ تبعا لها جهات احتمال الخلل ـ من الرواة ـ من ناحية، ويحصل من خلاله التقوية بتعدد الطرق، ونجد من هذا القبيل ما يقول فيه المصنف علي بن المفضل: “وافقنا مسلماً في شيخه بعينه”.
إن الصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم أمرها عظيم وجزاؤها كبير. قال صلى الله عليه وسلم: “من صلى علي مرة صلى الله عليه بها عشرا” 2، وقال صلى الله عليه وسلم: “أولى الناس بي يوم
--------------------------------------------
ভূমিকা
নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই, তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট হেদায়েত কামনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে হেদায়েত দেওয়ার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।
অতঃপর: মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদেরকে তাঁর নবী মুহাম্মদের ওপর দরুদ পাঠ করার নির্দেশ দিয়েছেন, স্বয়ং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সংবাদ দেওয়ার পর যে, তিনি তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করেন এবং তাঁর সম্মানিত ফেরেশতাগণ তাঁর প্রতি দরুদ পাঠ করেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণ নবীর প্রতি দরুদ পাঠ করেন। হে ঈমানদারগণ! তোমরাও তাঁর প্রতি দরুদ পাঠ করো এবং যথাযথভাবে সালাম জানাও।} ১।
এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর দরুদ পাঠ সংক্রান্ত ইমাম আলী ইবনুল মুফাজ্জল আল-মাকদিসীর একটি হাদিস সংকলন (জুয হাদিসী)। হাদিস সংকলন (জুয হাদিসী) হলো: “একই ব্যক্তি থেকে বর্ণিত হাদিসসমূহের সংকলন
… এবং কখনো কখনো তারা জামে কিতাবের গুনাগুন বর্ণনায় উল্লিখিত আটটি বিষয়ের মধ্য থেকে কোনো একটি আংশিক বিষয় নির্বাচন করে তাতে গ্রন্থ রচনা করেন
…, যেমনটি সামনে আসবে। হাদিস সংকলনসমূহ এমন কিতাব হিসেবে গণ্য যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর খিদমত করে।
এই সংকলনটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর দরুদ পাঠের মতো একটি মহান ইবাদতের খিদমত করে সবচেয়ে বিশুদ্ধ সনদসমূহের মাধ্যমে। এতে 'মুওয়াফাকাহ' ও 'বাদাল' রয়েছে, যা উচ্চ পর্যায়ের সনদের (উচ্চ সনদ) প্রকারভেদ। মুহাদ্দিসগণ উচ্চ সনদ লাভে সচেষ্ট থাকেন কারণ এতে বর্ণনার মধ্যস্থতাকারী কম থাকে এবং এর ফলে বর্ণনাকারীদের পক্ষ থেকে ত্রুটি হওয়ার সম্ভাবনাও কমে যায়। অন্যদিকে এর মাধ্যমে একাধিক সূত্রের কারণে হাদিস শক্তিশালী হয়। এই জাতীয় ক্ষেত্রে আমরা গ্রন্থকার আলী ইবনুল মুফাজ্জলকে বলতে দেখি: “আমরা ইমাম মুসলিমের সাথে হুবহু তাঁর উস্তাদের বর্ণনায় একমত হয়েছি।”
নিশ্চয়ই নবীর ওপর দরুদ পাঠের বিষয়টি অত্যন্ত মহিমান্বিত এবং এর প্রতিদান অনেক বড়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি আমার ওপর একবার দরুদ পাঠ করবে, আল্লাহ তার বিনিময়ে তার ওপর দশবার রহমত নাজিল করবেন” ২। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন: “কিয়ামতের দিন মানুষের মধ্যে আমার সবচেয়ে নিকটবর্তী সেই ব্যক্তি হবে যে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুযউন ফীহি তুরুকু হাদীছি আবদুর রহমান ইবনু আবী লায়লা আন কা'ব ইবনে উজরাহ ফিস-সালাতি আলান নাবীয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ١٦٦)
القيامة أكثرهم علي صلاة” 1.
وعلى المسلم أن يتحرى في أدائه لهذه العبادة العظيمة ما صح فقد سأل الصحابة الكرام رسول الله صلى الله عليه وسلم عن كيفية الصلاة فقال مجيباً ومعلماً لهم: “قولوا اللهم صل على محمد وعلى آل محمد كما صليت على إبراهيم إنك حميد مجيد اللهم بارك على محمد وعلى آل محمد كما باركت على آل إبراهيم إنك حميد مجيد” 2.
فهذه الكيفية التي علمها رسول الله صلى الله عليه وسلم لأصحابه حريٌّ بالمسلم أن لا يتجاوزها إلى صلوات لم تثبت، وقد ذهب إلى ترجيح هذه الصيغة على غيرها الحافظ ابن حجر ونقل ذلك عن النووي، فقال: “وقد استدل بتعليمه صلى الله عليه وسلم لأصحابه هذه الكيفية - بعد سؤالهم عنها - بأنها أفضل كيفيات الصلاة عليه لأنه لا يختار لنفسه إلا الأشرف الأكمل” 3.
وأُسمّي هنا بعض ما أُلف في هذه العبادة، لأن المؤلفات في عبادة الصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم كثيرة، وقد ذكر منها د/ صلاح الدين المنجد في معجمه4 (47) مؤلَّفاً، وأحصى الشيخ مشهور بن حسن آل سلمان من مطبوعها (28) عنوانا، ومن مخطوطها وما وقف على ذكره عند بعض أهل العلم: (101) مائة عنوان وعنوان5.
--------------------------------------------
“কেয়ামতের দিন তাদের মধ্যে আমার সবচেয়ে নিকটবর্তী হবে সেই ব্যক্তি, যে আমার ওপর সবচেয়ে বেশি দরুদ পাঠ করে।” 1.
একজন মুসলমানের জন্য উচিত এই মহান ইবাদত পালনের ক্ষেত্রে যা সহীহ ও প্রমাণিত তা অনুসন্ধান করা। সম্মানিত সাহাবায়ে কেরাম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দরুদ পাঠের পদ্ধতি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, তখন তিনি তাদের উত্তর প্রদান ও শিক্ষা দিতে গিয়ে বলেছিলেন: “তোমরা বলো: হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদ এবং মুহাম্মাদের পরিবারের ওপর রহমত বর্ষণ করুন, যেভাবে আপনি ইবরাহীমের ওপর রহমত বর্ষণ করেছিলেন; নিশ্চয় আপনি অত্যন্ত প্রশংসিত ও মহিমান্বিত। হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদ এবং মুহাম্মাদের পরিবারের ওপর বরকত দান করুন, যেভাবে আপনি ইবরাহীমের পরিবারের ওপর বরকত দান করেছিলেন; নিশ্চয় আপনি অত্যন্ত প্রশংসিত ও মহিমান্বিত।” 2.
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের যে পদ্ধতি শিখিয়েছেন, একজন মুসলমানের জন্য সমীচীন হবে না যে তিনি তা বাদ দিয়ে এমন সব দরুদ পাঠের দিকে ধাবিত হবেন যা প্রমাণিত নয়। হাফেজ ইবনে হাজার এই শব্দবিন্যাসকে অন্যগুলোর ওপর প্রাধান্য দিয়েছেন এবং তিনি ইমাম নববী থেকেও এটি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন: “সাহাবীদের জিজ্ঞাসার পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক এই পদ্ধতি শিক্ষা দান থেকে প্রমাণিত হয় যে, এটিই তাঁর ওপর দরুদ পাঠের সর্বোত্তম পদ্ধতি; কারণ তিনি নিজের জন্য সবচেয়ে সম্মানজনক ও নিখুঁতটি ছাড়া অন্য কিছু পছন্দ করেন না।” 3.
আমি এখানে এই ইবাদত সম্পর্কে রচিত কিছু গ্রন্থের নাম উল্লেখ করছি, কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর দরুদ পাঠের ইবাদত সম্পর্কে রচনার সংখ্যা অনেক। ডক্টর সালাহউদ্দীন আল-মুনাজ্জিদ তাঁর অভিধানে 4 (47)টি রচনার কথা উল্লেখ করেছেন। আর শায়খ মাশহুর বিন হাসান আল-সালমান এর মধ্যে মুদ্রিত (28)টি শিরোনাম এবং পাণ্ডুলিপি ও আলেমদের নিকট যার উল্লেখ পাওয়া গেছে এমন (101) একশত একটি শিরোনাম গণনা করেছেন 5.
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুযউন ফীহি তুরুকু হাদীছি আবদুর রহমান ইবনু আবী লায়লা আন কা'ব ইবনে উজরাহ ফিস-সালাতি আলান নাবীয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ١٦٧)
وأذكر هنا نزرا يسيرا من المؤلفات فيها:
1- فضل الصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم لإسماعيل بن إسحاق القاضي المالكي (ت 282?) حققه الشيخ ناصر الدين الألباني ونشره المكتب الإسلامي ببيروت.
2- فضل الصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم لأبي بكر أحمد بن عمر بن أبي عاصم (ت 287?) حققه حمدي عبد المجيد السلفي ونشرته دار المأمون للتراث بدمشق سنة 1995 م.
3- فضل الصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم للقاضي عياض بن موسى بن عياض اليحصبي المغربي (ت 544?) وقد جاء كتابه هذا حافلا بفصول عديدة بلغت ثمانية فصول وهي:
الفصل الأول: في معنى الصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم.
الفصل الثاني: في حكم الصلاة والسلام عليه صلى الله عليه وسلم.
الفصل الثالث: في المواطن التي يستحب فيها الصلاة والسلام على النبي صلى الله عليه وسلم ويرغب فيها.
الفصل الرابع: كيفية الصلاة والتسليم على النبي صلى الله عليه وسلم.
الفصل الخامس: فضيلة الصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم عليه والدعاء له.
الفصل السادس: ذم من لم يصل على النبي صلى الله عليه وسلم وإثمه.
الفصل السابع: تخصيصه صلى الله عليه وسلم بتبليغ صلاة من صلى عليه.
الفصل الثامن: الاختلاف في جواز الصلاة على غير النبي صلى الله عليه وسلم وسائر الأنبياء عليهم السلام.
وقد طبع الكتاب عن طريق المختار السلامي بالقاهرة.
4 - جلاء الأفهام في فضل الصلاة والسلام على محمد خير الأنام للإمام ابن القيم الجوزية (ت 751?) وقد قال عنه الإمام شمس الدين السخاوي
আমি এখানে এই বিষয়ের কিছু গ্রন্থের সংক্ষিপ্ত তালিকা উল্লেখ করছি:
১- ফজলুস সালাতি আলান নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর দরুদ পড়ার ফজিলত) - লেখক: ইসমাইল বিন ইসহাক আল-কাজী আল-মালিকী (মৃত্যু ২৮২ হিজরি?), এটি তাহকীক করেছেন শায়খ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানী এবং বৈরুতের আল-মাকতাব আল-ইসলামী থেকে প্রকাশিত হয়েছে।
২- ফজলুস সালাতি আলান নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - লেখক: আবু বকর আহমদ বিন আমর বিন আবি আসিম (মৃত্যু ২৮৭ হিজরি?), এটি তাহকীক করেছেন হামদি আব্দুল মাজিদ আস-সালাফি এবং ১৯৯৫ সালে দামেস্কের দারুল মামুন লিত-তুরাস থেকে প্রকাশিত হয়েছে।
৩- ফজলুস সালাতি আলান নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - লেখক: কাজী আইয়াজ বিন মুসা বিন আইয়াজ আল-ইয়াহসুবি আল-মাগরিবি (মৃত্যু ৫৪৪ হিজরি?), তাঁর এই বইটি অনেকগুলো পরিচ্ছেদে সমৃদ্ধ যা আটটি পরিচ্ছেদে বিন্যস্ত, সেগুলো হলো:
প্রথম পরিচ্ছেদ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর দরুদ পড়ার অর্থ প্রসঙ্গে।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ওপর দরুদ ও সালাম পাঠ করার বিধান প্রসঙ্গে।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: যেসব স্থানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর দরুদ ও সালাম পাঠ করা মুস্তাহাব এবং যে সময়গুলোর প্রতি উৎসাহিত করা হয়েছে।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর দরুদ ও সালাম পাঠ করার পদ্ধতি।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর দরুদ পাঠ ও তাঁর জন্য দোয়ার ফজিলত।
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: যে ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর দরুদ পাঠ করে না তার নিন্দা ও গুনাহ প্রসঙ্গে।
সপ্তম পরিচ্ছেদ: দরুদ পাঠকারীর দরুদ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে পৌঁছে দেওয়ার বিশেষত্ব প্রসঙ্গে।
অষ্টম পরিচ্ছেদ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং অন্যান্য নবী আলাইহিমুস সালাম ব্যতীত অন্যদের ওপর দরুদ পাঠের বৈধতা নিয়ে মতভেদ প্রসঙ্গে।
বইটি কায়রোর আল-মুখতার আস-সালামির মাধ্যমে মুদ্রিত হয়েছে।
৪ - জালাউল আফহাম ফি ফাদলিস সালাতি ওয়াস সালামি আলা মুহাম্মাদিন খাইরিল আনাম - লেখক: ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ (মৃত্যু ৭৫১ হিজরি?), তাঁর সম্পর্কে ইমাম শামসুদ্দিন আস-সাখাবি বলেছেন
(খণ্ড: ১)
জুযউন ফীহি তুরুকু হাদীছি আবদুর রহমান ইবনু আবী লায়লা আন কা'ব ইবনে উজরাহ ফিস-সালাতি আলান নাবীয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ١٦٨)
(ت 902?) ـ بعد أن ذكر عدة كتب في الصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم وذكر جلاء الأفهام: “هو كتاب جليل في معناه”.. وقال إنه “أحسنها وأكثرها فوائد” 1. وقد نوّه به مؤلفه نفسه رحمه الله فقال في كتابه زاد المعاد في هدي خير العباد في مبحث تسميته صلى الله عليه وسلم باسم محمد “كتاب جلاء الأفهام في فضل الصلاة والسلام على خير الأنام، وهو كتاب فرد في معناه لم يُسبق إلى مثله في كثرة فوائده وغزارتها، بيّنّا فيه الأحاديث الواردة في الصلاة والسلام عليه، وصحيحها من حسنها ومعلولها، وبيان ما في معلولها من العلل بياناً شافياً، ثم أسرار هذا الدعاء وشرفه، وما اشتمل عليه من الحكم والفوائد، ثم مواطن الصلاة عليه، ومحالَّها ثم الكلام على مقدار الواجب منها، واختلاف أهل العلم فيه، وترجيح الراجح، وزيْف المُزيّف، ومَخبرُ الكتاب فوق وصفه” 2 وقد صدق في ذلك وبرَّ رحمه الله وطبع الكتاب بتحقيق مشهور بن حسن آل سلمان في طبعته الثانية عام 1419?.
5- القول البديع في الصلاة على الحبيب الشفيع لشمس الدين محمد بن عبد الرحمن السخاوي (ت 902?) تناول فيه المؤلف موضوع الصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم وأراده أن يكون عمدة لمن يرجع إليه، وكفاية لمن عول عليه، ووصف عمله بأنه لم يُطِلْهُ بذكر الأسانيد ليسهل تحصيله لأُولي التوفيق والسداد ومُعقّباً كل حديث بعزوه لمن رواه مُبيّناً ـ غالباً ـ صحّته أو حسنه أو ضعفه لدفع الاشتباه3.
والكتاب حققه وخرج أحاديثه وعلق عليه الأستاذ بشير محمد عيون ونشرته مكتبة المؤيد بالطائف ومكتبة دار البيان بدمشق.
6- فضل الصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم وبيان معناها وكيفيتها وشيء مما ألف
--------------------------------------------
(মৃত্যু ৯০২? হিজরি) — নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর দরুদ পাঠ সম্পর্কিত বেশ কিছু কিতাবের নাম উল্লেখ করার পর এবং জালাউল আফহাম কিতাবটি সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি বলেন: “এটি এর বিষয়বস্তুর দিক থেকে একটি সুমহান কিতাব”.. এবং তিনি বলেছেন যে এটি “সেগুলোর মধ্যে সর্বোত্তম এবং সবচেয়ে বেশি তথ্যবহুল ও উপকারী” ১। এর লেখক স্বয়ং (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর ‘যাদুল মাআদ ফী হাদয়ি খাইরিল ইবাদ’ কিতাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ‘মুহাম্মদ’ নামকরণের আলোচনায় কিতাবটির গুরুত্ব তুলে ধরে বলেছেন: “জালাউল আফহাম ফী ফাদলিস সালাতি ওয়াস সালামি আলা খাইরিল আনাম কিতাবটি এর বিষয়বস্তুর দিক থেকে এক অনন্য গ্রন্থ, যার উপকারের আধিক্য ও প্রাচুর্যের দিক থেকে ইতিপূর্বে এমন কোনো কিতাব রচিত হয়নি। এতে আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর সালাত ও সালাম পাঠ সংক্রান্ত বর্ণিত হাদিসগুলো এবং সেগুলোর সহিহ, হাসান ও ত্রুটিযুক্ত বর্ণনাগুলো স্পষ্ট করেছি। ত্রুটিযুক্ত বর্ণনার ত্রুটিগুলোও পর্যাপ্তভাবে ব্যাখ্যা করেছি। এরপর এই দোয়ার রহস্য ও মর্যাদা এবং এর অন্তর্ভুক্ত হিকমত ও উপকারিতাগুলো তুলে ধরেছি। অতঃপর দরুদ পাঠের ক্ষেত্র ও স্থানসমূহ এবং এর ওয়াজিব হওয়ার পরিমাণ নিয়ে আলোচনা করেছি। এ বিষয়ে আলেমদের মতভেদ, সঠিক মতের প্রাধান্য দান এবং অসার মতের অসারতা বর্ণনা করেছি। কিতাবটি পাঠ করলে দেখা যাবে এটি বর্ণনার চেয়েও অধিক সমৃদ্ধ” ২। তিনি সত্যই বলেছেন এবং সঠিক দাবি করেছেন (রহিমাহুল্লাহ)। কিতাবটি মাশহুর বিন হাসান আল সালমানের তাহকিকসহ ১৪১৯ হিজরিতে দ্বিতীয় সংস্করণে মুদ্রিত হয়েছে।
৫- শামস উদ্দিন মুহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আস-সাখাভী (মৃত্যু ৯০২? হিজরি) রচিত আল-কাওলুল বাদি’ ফিস সালাতি আলাল হাবিবিশ শাফি’। এতে লেখক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর দরুদ পাঠের বিষয়টি আলোচনা করেছেন এবং ইচ্ছা করেছেন যে এটি যেন একটি নির্ভরযোগ্য উৎস হয় তাদের জন্য যারা এর দিকে রুজু করে এবং যথেষ্ট হয় তাদের জন্য যারা এর ওপর নির্ভর করে। তিনি তাঁর কাজের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেছেন যে, তিনি এটি দীর্ঘ করেননি সনদগুলো উল্লেখ করার মাধ্যমে, যাতে সঠিক পথের অনুসারীদের জন্য এটি আয়ত্ত করা সহজ হয়। তিনি প্রতিটি হাদিসের শেষে সেটি কে বর্ণনা করেছেন তা উল্লেখ করেছেন এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে এর সহিহ, হাসান বা যয়িফ হওয়া বর্ণনা করেছেন যাতে কোনো সন্দেহ ও অস্পষ্টতা না থাকে ৩।
কিতাবটি তাহকিক ও হাদিসগুলোর তাখরিজ করেছেন এবং টীকা যুক্ত করেছেন উস্তাদ বশির মুহাম্মদ উয়ুন। এটি তায়েফের মাকতাবাতুল মুয়াইয়্যাদ এবং দামেস্কের মাকতাবাতু দারিল বায়ান থেকে প্রকাশিত হয়েছে।
৬- ফাদলুস সালাতি আলান নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং এর অর্থ ও পদ্ধতির বর্ণনা এবং এ বিষয়ে রচিত কিছু গ্রন্থের বিবরণ
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুযউন ফীহি তুরুকু হাদীছি আবদুর রহমান ইবনু আবী লায়লা আন কা'ব ইবনে উজরাহ ফিস-সালাতি আলান নাবীয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ١٦٩)
فيها لفضيلة شيخنا العلامة الشيخ عبد المحسن بن حمد العباد المدرس بالمسجد النبوي ـ حفظه الله.
وهو في أصله محاضرة لفضيلته، وقد أوضح فيها الكتب المعتمدة في الصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم وما هي الكتب التي يتحتم على المسلم أن يحذرها وهي الكتب المشتملة على فضائل وكيفيات في الصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم ما أنزل الله بها من سلطان وذلك لاشتمالها على أحاديث موضوعة وأخرى ضعيفة، وذكر منها كتابا مشهورا للجزولي المتوفى سنة (870?) 1.
وقال فضيلته ـ في كتاب آخر له ـ عن هذا الكتاب إنه: “مشتمل على صلوات على النبي صلى الله عليه وسلم محدثة وفيها غُلُو، وما ثبت في الصحيحين وغيرهما من كيفيات للصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم فيها غُنية وكفاية عما أحدثه المحدثون، ولاشكّ أنّ ما جاءت به السنة وفعله الصحابة الكرام والتابعون لهم بإحسان هو الطريق المستقيم والمنهج القويم، والفائدة للأخذ به محقّقة، والمضرّة عنه منتفية، وقد قال عليه الصلاة والسلام: “عليكم بستني وسنة الخلفاء الراشدين المهديين من بعدي عضوا عليها بالنواجذ وإياكم ومحدثات الأمور، فإن كل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة” 2، وكتاب دلائل الخيرات اشتمل على أحاديث موضوعة وكيفيّات للصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم فيها غُلُوٌّ ومجاوزة للحدّ ووقوع في المحذور لا يرضاه الله ولا رسوله صلى الله عليه وسلم، وهو طارئ لم يكن من منهج السابقين بإحسان، ثم نقل عن الشيخ محمد الخضر بن مايابي الشنقيطي قوله: “إن الناس مولعة بحب الطارئ، ولذلك تراهم يرغبون دائماً في الصلوات المرويّة في دلائل الخيرات ونحوه، وكثير منها لم يثبت له سند صحيح ويرغبون عن الصلوات الواردة عن النبي صلى الله عليه وسلم في الصحيح” 3.
--------------------------------------------
এতে মসজিদে নববীর শিক্ষক আমাদের পরম শ্রদ্ধেয় শায়খ, আল্লামা শায়খ আব্দুল মুহসিন বিন হামাদ আল-আব্বাদ —আল্লাহ তাকে হিফাযত করুন— এর আলোচনা রয়েছে।
এটি মূলত তাঁর একটি বক্তৃতা। এতে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর দরুদ পাঠের নির্ভরযোগ্য কিতাবসমূহ এবং কোন কিতাবগুলো থেকে একজন মুসলিমের সতর্ক থাকা অনিবার্য, তা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন। এই কিতাবগুলোতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর দরুদ পাঠের এমন সব ফযীলত ও পদ্ধতি বর্ণিত হয়েছে, যেগুলোর পক্ষে আল্লাহ কোনো প্রমাণ অবতীর্ণ করেননি। কেননা এগুলোতে বানোয়াট ও দুর্বল হাদিস রয়েছে। তিনি এ প্রসঙ্গে ৮৭০ হিজরিতে মৃত্যুবরণকারী জাযুলীর একটি বিখ্যাত কিতাবের কথা উল্লেখ করেছেন। ১
তিনি তাঁর অন্য একটি কিতাবে এই কিতাবটি সম্পর্কে বলেছেন যে, এটি: “নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর নব-উদ্ভাবিত দরুদ সম্বলিত যাতে অতিরঞ্জন রয়েছে। আর সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম) এবং অন্যান্য গ্রন্থে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর দরুদ পাঠের যে পদ্ধতিগুলো সাব্যস্ত হয়েছে, তা নব-উদ্ভাবকদের আবিষ্কৃত বিষয়গুলো থেকে বিমুখ থাকার জন্য যথেষ্ট ও পর্যাপ্ত। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, সুন্নাহ যা নিয়ে এসেছে এবং সম্মানিত সাহাবীগণ ও নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারী তাবিঈগণ যা করেছেন, তা-ই হলো সরল পথ ও সঠিক আদর্শ। এটি গ্রহণ করার উপকারিতা নিশ্চিত এবং এর থেকে বিমুখ হওয়া ক্ষতিকর। আর নবী আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম বলেছেন: ‘তোমরা আমার সুন্নাত এবং আমার পরে হিদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরো। তা মাড়ির দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে রাখো। আর তোমরা দ্বীনের মধ্যে নব-উদ্ভাবিত বিষয়গুলো থেকে বেঁচে থাকো। কারণ প্রত্যেক নব-উদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত এবং প্রত্যেক বিদআতই পথভ্রষ্টতা।’ ২। আর দালাইলুল খাইরাত কিতাবটি বানোয়াট হাদিস এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর দরুদ পাঠের এমন সব পদ্ধতি সম্বলিত যাতে অতিরঞ্জন, সীমালঙ্ঘন এবং এমন নিষিদ্ধ বিষয় রয়েছে যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পছন্দ করেন না। এটি একটি নতুন আবিষ্কৃত বিষয় যা নিষ্ঠাবান পূর্বসূরিদের আদর্শের অন্তর্ভুক্ত ছিল না। অতঃপর তিনি শায়খ মুহাম্মদ আল-খিদর বিন মায়াবি আশ-শানকিতীর উক্তি উদ্ধৃত করেন যে: ‘মানুষ নতুন উদ্ভাবিত জিনিসের প্রতি আসক্ত। একারণেই আপনি তাদের সর্বদা দালাইলুল খাইরাত ও এই জাতীয় কিতাবে বর্ণিত দরুদগুলোর প্রতি আগ্রহী হতে দেখবেন, যার অধিকাংশেরই কোনো সহীহ সনদ নেই; অথচ তারা সহীহ কিতাবসমূহে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত দরুদগুলো থেকে বিমুখ থাকে’।” ৩।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুযউন ফীহি তুরুকু হাদীছি আবদুর রহমান ইবনু আবী লায়লা আন কা'ব ইবনে উজরাহ ফিস-সালাতি আলান নাবীয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ١٧٠)
- أما ما يتعلّق بهذا الجزء المُسمّى: “جزء فيه حديث عبد الرحمن بن أبي ليلى عن كعب بن عجرة في الصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم “
فهو جزء مسند، مُختارة أحاديثه من أصحّ الصحيح، وقد يسّر الله لي العمل فيه بعد أن توفّرتُ على نُسختين خطّيّتين له، وسرت في عملي في دراسته وتحقيقه على الخطّة التالية:
القسم الأوّل: الدراسة
الفصل الأول: في حياة المصنف:
المبحث الأول: اسمه ونسبه – مولده ونشأته – تاريخ وفاته ومكانها.
المبحث الثاني: منزلته العلميّة.
المبحث الثالث: شيوخه وتلاميذه.
المبحث الرابع: مُؤلّفاته ورحلاته.
الفصل الثاني: في كتابه:
المبحث الأول: الأجزاء الحديثية وأهمّيّتها العلميّة والاستخراجية.
المبحث الثاني: التعريف بهذا الجزء.
المبحث الثالث: توثيق نسبة الجزء إلى مؤلّفه.
القسم الثاني: التحقيق
أولا: وصف النسختين.
ثانيا: منهج التحقيق.
ثالثا: مُشجّرات الأسانيد.
النصّ المحقّق.
الفهارس.
এই খণ্ডটি যা “নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর দরুদ পাঠ সম্পর্কে কাব বিন উজরাহ হতে বর্ণিত আব্দুর রহমান বিন আবি লায়লার হাদিস সম্বলিত খণ্ড” নামে পরিচিত, তার ব্যাপারে বক্তব্য হলো:
এটি একটি মুসনাদ (সনদযুক্ত) খণ্ড, যার হাদিসসমূহ বিশুদ্ধতম সহিহ বর্ণনা থেকে চয়ন করা হয়েছে। আল্লাহ আমার জন্য এতে কাজ করা সহজ করে দিয়েছেন যখন আমি এর দুটি পাণ্ডুলিপি লাভ করি। আমি এটি অধ্যয়ন ও সম্পাদনার ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত পরিকল্পনা অনুসরণ করেছি:
প্রথম অংশ: গবেষণা
প্রথম অধ্যায়: গ্রন্থকারের জীবন চরিত:
প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁর নাম ও বংশ পরিচয় – জন্ম ও বেড়ে ওঠা – মৃত্যুর তারিখ ও স্থান।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর জ্ঞানতাত্ত্বিক মর্যাদা।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর শিক্ষক ও ছাত্রগণ।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: তাঁর রচনাবলী ও সফরসমূহ।
দ্বিতীয় অধ্যায়: গ্রন্থ পরিচিতি:
প্রথম পরিচ্ছেদ: হাদিসের খণ্ডসমূহ (আল-আদজাউল হাদিসিয়্যাহ) এবং সেগুলোর জ্ঞানতাত্ত্বিক ও ইস্তিখরাজি গুরুত্ব।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: এই খণ্ডটির পরিচয়।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: লেখকের প্রতি এই খণ্ডটির সম্পৃক্ততার প্রামাণিকতা যাচাই।
দ্বিতীয় অংশ: সম্পাদনা (তাহকিক)
প্রথমত: পাণ্ডুলিপি দুটির বিবরণ।
দ্বিতীয়ত: সম্পাদনা পদ্ধতি।
তৃতীয়ত: সনদসমূহের বৃক্ষচিত্র।
সম্পাদিত মূল পাঠ।
নির্ঘণ্টসমূহ।
(খণ্ড: ১)
জুযউন ফীহি তুরুকু হাদীছি আবদুর রহমান ইবনু আবী লায়লা আন কা'ব ইবনে উজরাহ ফিস-সালাতি আলান নাবীয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ١٧١)
القسم الأول: الدراسة
الفصل الأول: في حياة المصنف
المبحث الأول: اسمه ونسبه، مولده ونشأته، تاريخ وفاته ومكانهاهو أبو الحسن علي بن الأنجب المفضل بن أبي الحسن علي بن أبي المغيث مفرج بن حاتم بن الحسن بن جعفر بن إبراهيم بن الحسن اللخمي.
الشيخ الإمام المفتي الحافظ الكبير المتقن شرف الدين أبو الحسن بن القاضي الأنجب أبي المكارم المقدسي ثم الإسكندراني المالكي1.
ولد ليلة السبت الرابع والعشرين من ذي القعدة سنة أربعين وخمسمائة بالإسكندرية ونشأ بها واعتنى بالعلم من صغره وأخذ عن جملة من الشيوخ سيأتي ذكر بعضهم2.
أما وفاته فتُجمع المصادر على أنها كانت سنة إحدى عشرة وستمائة، وزاد ابن خلّكان أنها كانت في يوم الجمعة مستهل شعبان سنة إحدى عشرة وستمائة بالقاهرة رحمه الله تعالى3.
--------------------------------------------
প্রথম ভাগ: পর্যালোচনাপ্রথম অধ্যায়: লেখকের জীবন প্রসঙ্গেপ্রথম অনুচ্ছেদ: তাঁর নাম ও বংশপরিচয়, জন্ম ও বেড়ে ওঠা, মৃত্যুর তারিখ ও স্থানতিনি হলেন আবুল হাসান আলী বিন আল-আনজাব আল-মুফাযযাল বিন আবিল হাসান আলী বিন আবিল মুগীস মুফাররিজ বিন হাতিম বিন আল-হাসান বিন জাফর বিন ইবরাহীম বিন আল-হাসান আল-লাখমী।
তিনি শেখ, ইমাম, মুফতী, সুমহান হাফেজ, অতি প্রাজ্ঞ, শরফুদ্দীন আবুল হাসান বিন আল-কাজী আল-আনজাব আবিল মাকারিম আল-মাকদিসী, অতঃপর আল-ইসকান্দরানী আল-মালিকী ১।
তিনি ৫৪০ হিজরি সনের চব্বিশে জিলকদ শনিবার রাতে ইসকান্দারিয়া শহরে জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানেই বেড়ে ওঠেন। শৈশবকাল থেকেই তিনি ইলমের প্রতি বিশেষ যত্নশীল ছিলেন এবং একদল শাইখের নিকট থেকে শিক্ষা লাভ করেন, যাদের কয়েকজনের নাম সামনে উল্লেখ করা হবে ২।
তাঁর মৃত্যুর বিষয়ে সকল ঐতিহাসিক উৎস একমত যে তা ৬১১ হিজরি সনে হয়েছিল। ইবনে খাল্লিকান আরও যোগ করেছেন যে, তাঁর মৃত্যু ৬১১ হিজরি সনের পহেলা শাবান জুমাবার কায়রো শহরে হয়েছিল। আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন ৩।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুযউন ফীহি তুরুকু হাদীছি আবদুর রহমান ইবনু আবী লায়লা আন কা'ব ইবনে উজরাহ ফিস-সালাতি আলান নাবীয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ١٧٢)
المبحث الثاني: منزلته العلميةقال عنه تلميذه الحافظ المنذري: “حدّث بالحرمين الشريفين، والإسكندرية، ومصر، وغيرها. وناب في الحكم للعزيز1 بالإسكندرية ودرّس بها بالمدرسة المعروفة به، ودرّس بالقاهرة بالمدرسة الصاحبية 2 إلى حين وفاته”3.
أما ابن خلكان فقد قال عنه: “كان فقيهاً فاضلاً في مذهب الإمام مالك رضي الله عنه، ومن أكابر الحفاظ المشاهير في الحديث وعلومه، وكان ينوب في الحكم بثغر الإسكندرية المحروس، ودرّس به بالمدرسة المعروفة هناك، ثم انتقل إلى مدينة القاهرة المحروسة ودرّس بها بالمدرسة الصاحبيّة وهي مدرسة الوزير صفي الدين أبي محمد عبد الله بن علي المعروف بابن شكر، إلى حين وفاته” 4.
وقال الذهبي: “كان من أئمة المذهب العارفين به ومن حفاظ الحديث”5. وقال الحافظ ابن كثير: “كان مدرساً للمالكية بالإسكندرية وناب في الحكم بها” 6.
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর ইলমি মাকামতাঁর ছাত্র হাফেজ আল-মুনজিরি তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: “তিনি হারামাইন শরিফাইন, আলেকজান্দ্রিয়া, মিশর এবং অন্যান্য স্থানে হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি আলেকজান্দ্রিয়ায় আল-আজিজ ১-এর শাসনামলে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেছেন এবং সেখানে তাঁর নামে পরিচিত মাদরাসায় অধ্যাপনা করেছেন। এছাড়া তিনি কায়রোর আস-সাহিবিয়্যাহ মাদরাসায় ২ মৃত্যু পর্যন্ত শিক্ষকতা করেছেন” ৩।
আর ইবনে খাল্লিকান তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: “তিনি ইমাম মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর মাযহাবের একজন বিজ্ঞ ফকিহ ছিলেন এবং হাদিস ও এর জ্ঞানশাখাসমূহের বড় ও প্রসিদ্ধ হাফেজদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি সংরক্ষিত আলেকজান্দ্রিয়া বন্দরে বিচারকের দায়িত্ব পালন করতেন এবং সেখানে পরিচিত মাদরাসায় অধ্যাপনা করতেন। এরপর তিনি সংরক্ষিত শহর কায়রোতে চলে আসেন এবং সেখানে আস-সাহিবিয়্যাহ মাদরাসায় অধ্যাপনা করেন; এটি উজির সফিউদ্দীন আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনে আলী—যিনি ইবনে শুকর নামে পরিচিত—তাঁর প্রতিষ্ঠিত মাদরাসা। তিনি তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত সেখানে শিক্ষকতা করেন” ৪।
আয-যাহাবি বলেছেন: “তিনি মাযহাবের অভিজ্ঞ ইমামদের একজন এবং হাদিসের হাফেজ ছিলেন” ৫। হাফেজ ইবনে কাসির বলেছেন: “তিনি আলেকজান্দ্রিয়ায় মালিকি মাযহাবের শিক্ষক ছিলেন এবং সেখানে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেছিলেন” ৬।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুযউন ফীহি তুরুকু হাদীছি আবদুর রহমান ইবনু আবী লায়লা আন কা'ব ইবনে উজরাহ ফিস-সালাতি আলান নাবীয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ١٧٣)
المبحث الثالث: شيوخه وتلاميذهلقد روى الإمام علي بن المفضل عن كثير من الشيوخ، وقد رأيت الاقتصار على ترجمة من روى عنهم في هذا الجزء، ومنهم مشاهير كما سيأتي في تراجمهم، وقد أضفت عليهم ترجمة والده رحمه الله المعدود أيضا في شيوخه، وهو:
القاضي الأجل الأنجب أبو المكارم المفضل بن علي بن مفرج بن حاتم بن الحسن بن جعفر بن إبراهيم بن الحسن، المقدسي الأصل الإسكندراني الدار، والوفاة 1.
أما جملة من روى عنهم الأحاديث الستة عشر في هذا الجزء فهم تسعة شيوخ، وقد أسند عنهم في خمس وعشرين مرة، وقرن أحدَهم ـ وهو السِّلَفي أشهرهم ـ بشيخين في الحديث العاشر.
وقد روى الإمام علي بن المفضل ـ عن السلفي هذا ـ أحد عشر حديثاً2، وأضاف إليه سبعة شيوخ مقرونين به في ستة أحاديث، وفي كل سند ـ من خمسة أسانيد3 ـ بشيخ واحد، ما عدا الحديث العاشر الذي قرنه فيه بشيخين؛ كما تقدم، وأضاف الرواية عن سبعة شيوخ آخرين ليسوا مقرونين بالسلفي.
وفيما يلي تراجم هؤلاء الشيوخ مُرتّبة أسماؤهم على الوفيات:
- أبو عبيد نعمة بن زيادة الله بن خلف الغفاري. قال السلفي: “سمعت منه بالإسكندرية وحج في السنة التي حججت أنا فيها مع أبي ـ سنة سبع وتسعين وأربعمائة ـ وسمع عيسى بن أبي ذر الهروي بمكة وآخرين، قال السلفي: وقد سمع علي ـ بقراءتي بالإسكندرية على نفر من شيوخها ـ كثيراً وكان من
--------------------------------------------
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর উস্তাদ ও ছাত্রবৃন্দইমাম আলী ইবনুল মুফাযযাল অসংখ্য উস্তাদ থেকে বর্ণনা করেছেন। আমি এই খণ্ডে তাঁর বর্ণিত উস্তাদদের জীবনবৃত্তান্তের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকাকে সমীচীন মনে করেছি, যাঁদের মধ্যে কয়েকজন প্রসিদ্ধ ব্যক্তিত্ব রয়েছেন যা তাঁদের জীবনীতে সামনে আসবে। আমি তাঁদের সাথে তাঁর পিতার জীবনীও যোগ করেছি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন), যিনি তাঁর উস্তাদদের মধ্যেও গণ্য। তিনি হলেন:
অত্যন্ত সম্মানিত ও শ্রেষ্ঠ বিচারক আবু আল-মাকারিম আল-মুফাযযাল ইবনে আলী ইবনে মুফাররিজ ইবনে হাতিম ইবনুল হাসান ইবনে জাফর ইবনে ইবরাহীম ইবনুল হাসান; মূল নিবাস মাকদিস (জেরুজালেম), আবাসন ও মৃত্যু ইসকান্দারিয়া ১।
এই খণ্ডে মোট ১৬টি হাদীস বর্ণিত হয়েছে নয়জন উস্তাদ থেকে, তাঁদের থেকে পঁচিশ বার সনদসহ বর্ণনা করা হয়েছে। দশম হাদীসে তাঁদের একজনকে—যিনি তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ আস-সিলাফী—অন্য দুইজন উস্তাদের সাথে একত্রে উল্লেখ করেছেন।
ইমাম আলী ইবনুল মুফাযযাল এই সিলাফী থেকে এগারোটি হাদীস বর্ণনা করেছেন ২। এছাড়া ছয়টি হাদীসে সিলাফীর সাথে অন্য সাতজন উস্তাদকে একত্রে উল্লেখ করেছেন। পাঁচটি সনদের ৩ প্রত্যেকটিতে একজন করে উস্তাদ রয়েছেন, শুধুমাত্র দশম হাদীসটি বাদে যেখানে তাঁর সাথে দুইজন উস্তাদকে একত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, যেমনটি পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। সিলাফী ছাড়া আরও সাতজন উস্তাদ থেকেও তিনি বর্ণনা করেছেন যাঁদের সিলাফীর সাথে একত্রে উল্লেখ করা হয়নি।
নিম্নে এই উস্তাদগণের জীবনবৃত্তান্ত তাঁদের মৃত্যুর তারিখ অনুযায়ী ধারাবাহিকভাবে দেওয়া হলো:
- আবু উবাইদ নি’মাহ ইবনে যিয়াদাতুল্লাহ ইবনে খালাফ আল-গিফারী। আস-সিলাফী বলেন: “আমি তাঁর থেকে ইসকান্দারিয়ায় শুনেছি। আমি যে বছর আমার পিতার সাথে হজ করেছিলাম—অর্থাৎ ৪৯৭ হিজরীতে—সে বছর তিনিও হজ করেছিলেন। তিনি মক্কায় ঈসা ইবনে আবু যার আল-হারাভী ও অন্যান্যদের থেকে শুনেছেন।” আস-সিলাফী আরও বলেন: “তিনি আমার সাথে—ইসকান্দারিয়ার একদল উস্তাদের নিকট আমার পাঠের মাধ্যমে—প্রচুর (হাদীস) শ্রবণ করেছেন এবং তিনি ছিলেন...”
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুযউন ফীহি তুরুকু হাদীছি আবদুর রহমান ইবনু আবী লায়লা আন কা'ব ইবনে উজরাহ ফিস-সালাতি আলান নাবীয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ١٧٤)
أهل الصلاح والمجتهدين في طلب العلم والمواظبين على فعل الخير وتوفي سنة ثلاث وستين وخمسمائة، في شهر ربيع الأول وقال لي ابنه عبيد: كان قبل وفاته يقول عمري الآن سبع وتسعون سنة” 1.
- أبو الطاهر أحمد بن محمد بن أحمد بن سِلَفة الأصبهاني الحافظ العلامة الكبير مُسنِد الدنيا ومُعمّر الحُفّاظ. كان كثير التّرحال وأخذ عن الكثير من الشيوخ واستوطن الإسكندرية بضعاً وستين سنة مُكبّاً على الاشتغال والمطالعة والنسخ وتحصيل الكتب قال الذهبي: “وقد أفردت أخباره في جزء وقد جاوز المائة بلا ريب وإنما النّزاع في مقدار الزيادة، ومكث نيّفاً وثمانين سنة يُسمَع عليه ولا أعلم أحداً مثله في هذا. مات يوم الجمعة بكرة خامس ربيع الآخر سنة ست وسبعين وخمسمائة”2.
- علي بن حميد بن عمار الطرابلسي أبو الحسن المكي سمع صحيح البخاري من أبي مكتوم عيسى بن أبي ذر الهروي وتفرّد به عنه، ورواه عنه جماعة آخرهم عبد الرحمن بن أبي حرمي. قال الذهبي: حدث به في سنة إحدى وسبعين وخمسمائة، وترجمه بالمقري النحوي، توفي في شوال سنة ست وسبعين وخمسمائة بمكة، قال الفاسي: كذا وجدت وفاته ملحقة بوفاة الحافظ أبي الحسن علي بن المفضل المقدسي بخط شخص لا أعرفه وذكر أنه وجدها في ظهر نسخة من وفيات ابن المفضل بخط أبي الحسن التونسي 3.
--------------------------------------------
তিনি সৎকর্মশীল, জ্ঞান অন্বেষণে কঠোর পরিশ্রমী এবং সর্বদা নেক কাজ সম্পাদনকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি পাঁচশত তেষট্টি হিজরির রবিউল আউয়াল মাসে মৃত্যুবরণ করেন। তার পুত্র উবাইদ আমাকে বলেছেন: “মৃত্যুর পূর্বে তিনি বলতেন, 'এখন আমার বয়স সাতানব্বই বছর'।” ১।
- আবু তাহের আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ বিন সিলাফাহ আল-আসবাহানি আল-হাফিয, মহান আল্লামা, দুনিয়ার মুসনিদ এবং হাফেজদের মধ্যে দীর্ঘজীবী। তিনি প্রচুর সফর করতেন এবং অনেক শাইখের নিকট থেকে জ্ঞান অর্জন করেছেন। তিনি ষাটেরও অধিক বছর আলেকজান্দ্রিয়ায় বসবাস করেন এবং পাঠদান, অধ্যয়ন, পাণ্ডুলিপি লিখন ও কিতাব সংগ্রহে নিমগ্ন ছিলেন। যাহাবি বলেন: “আমি তার জীবনী নিয়ে একটি পৃথক খণ্ড লিখেছি। নিঃসন্দেহে তিনি একশত বছর অতিক্রম করেছিলেন, তবে অতিরিক্ত সময় নিয়ে মতভেদ আছে। আশি বছরেরও বেশি সময় ধরে মানুষ তার নিকট হাদিস শুনেছে, আমি এই বিষয়ে তার মতো কাউকে জানি না। তিনি পাঁচশত ছিয়াত্তর হিজরির পাঁচই রবিউল আখের শুক্রবার ভোরে মৃত্যুবরণ করেন।” ২।
- আলি বিন হুমাইদ বিন আম্মার আত-তরাবুলুসি আবুল হাসান আল-মাক্কি। তিনি আবু মাকতূম ঈসা বিন আবু যর আল-হারাবি থেকে সহিহ বুখারি শ্রবণ করেছেন এবং এই বর্ণনায় তিনি একক মর্যাদা লাভ করেছিলেন। তার কাছ থেকে একদল রাবী এটি বর্ণনা করেছেন যাদের মধ্যে সর্বশেষ হলেন আবদুর রহমান বিন আবু হারামি। যাহাবি বলেন: তিনি পাঁচশত একাত্তর হিজরিতে এটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি তাকে কারী ও ব্যাকরণবিদ হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তিনি পাঁচশত ছিয়াত্তর হিজরির শাওয়াল মাসে মক্কায় ইন্তেকাল করেন। আল-ফাসি বলেন: আমি তার মৃত্যুর বিবরণ হাফেজ আবুল হাসান আলি বিন মুফাদদাল আল-মাকদিসির মৃত্যুর বিবরণের সাথে সংযুক্ত অবস্থায় পেয়েছি, যা এমন এক ব্যক্তির হস্তলিপি যাকে আমি চিনি না। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি এটি আবুল হাসান আত-তিউনিসির হস্তলিপিতে ইবনে মুফাদদালের 'অফাত' কিতাবের কপির অপর পৃষ্ঠায় পেয়েছেন। ৩।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুযউন ফীহি তুরুকু হাদীছি আবদুর রহমান ইবনু আবী লায়লা আন কা'ব ইবনে উজরাহ ফিস-সালাতি আলান নাবীয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ١٧٥)
- أبو القاسم بن بشكوال خلف بن عبد الملك بن مسعود الأنصاري القرطبي الحافظ محدث الأندلس ومؤرخها ومسندها مات سنة ثمان وسبعين وخمسمائة وله أربع وثمانون سنة 1.
- أبو الطاهر إسماعيل بن مكي بن إسماعيل الزهري. قال عنه الذهبي: توفي صدر الإسلام أبو الطاهر الزهري الإسكندراني المالكي في شعبان سنة إحدى وثمانين وخمسمائة وله ست وثمانون سنة، تفقّه على أبي بكر الطرطوشي وسمع منه ومن أبي عبد الله الرازي، وبرع في المذهب وتخرّج به الأصحاب، وقصده السلطان صلاح الدين وسمع منه الموطّأ، كما كتب عنه السلفي، وهو من شيوخه، وأخذ عنه أيضا عبد الغني وابن المفضل2.
- أبو سعيد محمد بن عبد الرحمن بن مسعود المروزي الصوفي الرحال الأديب مات سنة أربع وثمانين وخمسمائة عن اثنتين وثمانين سنة سمع من أبي الوقت وطبقته وأملى بمصر مجالس وعُني بهذا الشأن وكتب وسعى وجمع فأوعى وصنف شرحاً طويلاً للمقامات. قال الذهبي: ليّنه المحدّثون. وقال ابن النجار: كان من الفضلاء في كل فن وكان من أظرف المشايخ وأجملهم3.
- أبو إبراهيم القاسم بن إبراهيم بن عبد الله المقدسي الأصل المصري الدار الشافعي، مات بمصر سنة ثمان وثمانين وخمسمائة ومولده على التّخمين سنة ثلاث عشرة وخمسمائة، سمع من أبي الحسن علي بن إبراهيم بن صولة البغدادي
--------------------------------------------
- আবু আল-কাসিম বিন বাশকুওয়াল খালাফ বিন আব্দুল মালিক বিন মাসউদ আল-আনসারি আল-কুরতুবি আল-হাফিজ; আন্দালুসের মুহাদ্দিস, ঐতিহাসিক ও মুসনিদ। তিনি পাঁচশ আটাত্তর হিজরিতে চুরাশি বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন ১।
- আবু আত-তাহির ইসমাইল বিন মাক্কি বিন ইসমাইল আজ-জুহরি। ইমাম যাহাবি তাঁর সম্পর্কে বলেন: সদরুল ইসলাম আবু আত-তাহির আজ-জুহরি আল-ইসকান্দারানি আল-মালিকি পাঁচশ একাশি হিজরির শাবান মাসে ছিয়াশি বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। তিনি আবু বকর আত-তোরতুশির নিকট ফিকহ অধ্যয়ন করেন এবং তাঁর ও আবু আব্দুল্লাহ আর-রাজি থেকে শ্রবণ করেন। তিনি মাযহাবে পারদর্শিতা অর্জন করেন এবং তাঁর নিকট থেকে বহু ছাত্র তৈরি হয়। সুলতান সালাহউদ্দিন তাঁর নিকট আসতেন এবং তাঁর কাছে মুয়াত্তা শ্রবণ করেছেন। ইমাম সালাফিও তাঁর নিকট থেকে লিখেছেন, অথচ তিনি ছিলেন তাঁরই শাইখদের একজন। এছাড়া আব্দুল গনি ও ইবনুল মুফাদ্দালও তাঁর থেকে ইলম গ্রহণ করেছেন ২।
- আবু সাঈদ মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান বিন মাসউদ আল-মারওয়াযি আস-সুফি আর-রাহহাল আল-আদিব। তিনি পাঁচশ চুরাশি হিজরিতে বিরাশি বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। তিনি আবু আল-ওয়াক্ত ও তাঁর সমসাময়িকদের থেকে শ্রবণ করেন। তিনি মিশরে বিভিন্ন মজলিসে ইমলা (শ্রুতলিপি) করিয়েছেন এবং এই বিষয়ের প্রতি বিশেষভাবে যত্নবান ছিলেন। তিনি লিখেছেন, সফর করেছেন এবং অনেক সংগ্রহ করেছেন। তিনি 'মাকামাত'-এর একটি দীর্ঘ ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা করেছেন। যাহাবি বলেন: মুহাদ্দিসগণ তাঁকে কিছুটা শিথিল গণ্য করেছেন। ইবনুন নাজ্জার বলেন: তিনি প্রতিটি শাস্ত্রে বিজ্ঞ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং তিনি ছিলেন অন্যতম সুরুচিশীল ও সুন্দর স্বভাবের শাইখ ৩।
- আবু ইব্রাহিম আল-কাসিম বিন ইব্রাহিম বিন আব্দুল্লাহ আল-মাকদিসি আল-আসল, মিশরি আদ-দার আল-শাফিঈ। তিনি পাঁচশ আটাশি হিজরিতে মিশরে ইন্তেকাল করেন এবং তাঁর জন্ম আনুমানিক পাঁচশ তেরো হিজরি। তিনি আবু আল-হাসান আলি বিন ইব্রাহিম বিন সাওলা আল-বাগদাদির নিকট শ্রবণ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুযউন ফীহি তুরুকু হাদীছি আবদুর রহমান ইবনু আবী লায়লা আন কা'ব ইবনে উজরাহ ফিস-সালাতি আলান নাবীয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ١٧٦)
وأبي القاسم عبد الغني بن طاهر بن إسماعيل بن الزعفراني وأبي عمر عبد الله بن رفاعة بن غدير السعدي1.
- أبو القاسم هبة الله بن أبي الحسن الخزرجي الكاتب الأديب مسند الديار المصرية ولد سنة ستّ وخمسمائة وسمع من أبي صادق المديني محمد بن بركات السعدي وطائفة وتفرّد في زمانه ورُحل إليه، توفي سنة تسعين وخمسمائة، سمع منه جماعة منهم علي بن المفضل2.
- أبو الحسن علي بن الحسن بن علي بن محمد بن عبد السلام بن المبارك ابن راشد التميمي الدارمي الريحاني المكي، بها سمع من أبي الفتح عبد الملك بن أبي القاسم الكروخي وأبي القاسم محمود بن عبد الكريم بن علي الأصبهاني وأبي بكر أحمد بن المقرب، قال المنذري: “وحدثنا عنه الحافظ أبو الحسن المقدسي وغيره، توفي سنة ستّ وتسعين وخمسمائة بمكة حرسها الله” 3.
هذا وقد لوحظ أن الإمام علي بن المفضل ربما ذكر بعض شيوخه بصورة أخرى ـ غير الصورة المتقدمة ـ بحيث يذكر كنيته ـ ولم تتقدم ـ مع ذكر اسمه ويكنّي أباه ولا يسمّيه؛ كما صنع في (هبة الله علي بن ثابت الكاتب) في حديث رقم (2) المقرون فيه بالسلفي، وأعاده مرة أخرى باسم (أبي القاسم هبة الله بن أبي الحسن الخزرجي) والشيخ هو هو نفسه، وهذا ما يُعرف بتدليس الشيوخ، ولعلّ الإمام علي بن المفضل استعمله على ما اعتاده بعض الرواة للتنويع أو
--------------------------------------------
এবং আবুল কাসেম আব্দুল গনী বিন তাহের বিন ইসমাইল বিন আয-জাফরানী এবং আবু উমর আব্দুল্লাহ বিন রিফায়া বিন গাদীর আস-সাদী ১।
- আবু আল-কাসেম হিবাতুল্লাহ বিন আবিল হাসান আল-খাজরাজি, যিনি লেখক ও সাহিত্যিক এবং মিসরীয় অঞ্চলের মুসনিদ (হাদিসের উচ্চ সনদধারী) ছিলেন। তিনি পাঁচশত ছয় হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন এবং আবু সাদিক আল-মাদিনী মুহাম্মদ বিন বারাকাত আস-সাদী ও একদল ব্যক্তির নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেন। তিনি তার সমসাময়িককালে অনন্য ছিলেন এবং মানুষ (হাদিস সংগ্রহের জন্য) তার নিকট সফর করত। তিনি পাঁচশত নব্বই হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন। একদল ব্যক্তি তার নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন, যাদের মধ্যে আলী বিন আল-মুফাযযাল অন্যতম ২।
- আবুল হাসান আলী বিন আল-হাসান বিন আলী বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুস সালাম বিন আল-মুবারক ইবনে রাশিদ আত-তামিমী আদ-দারিমি আর-রায়হানি আল-মাক্কী। সেখানে তিনি আবুল ফাতহ আব্দুল মালিক বিন আবিল কাসিম আল-কারুখি, আবুল কাসিম মাহমুদ বিন আব্দুল কারিম বিন আলী আল-আসবাহানী এবং আবু বকর আহমদ বিন আল-মুর্কাররাব-এর নিকট থেকে শ্রবণ করেন। আল-মুনযিরী বলেন: “হাফিয আবুল হাসান আল-মাকদিসী ও অন্যান্যরা আমাদের নিকট তার থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি পাঁচশত ছিয়ানব্বই হিজরীতে মক্কায় মৃত্যুবরণ করেন, আল্লাহ শহরটিকে রক্ষা করুন” ৩।
এই প্রেক্ষিতে লক্ষ্য করা গেছে যে, ইমাম আলী বিন আল-মুফাযযাল সম্ভবত তার কিছু শিক্ষককে পূর্বোল্লিখিত বর্ণনার চেয়ে ভিন্ন আঙ্গিকে উল্লেখ করেছেন; যেমন তিনি তাদের নাম উল্লেখ করার পাশাপাশি এমন উপনাম (কুনিয়াত) ব্যবহার করেছেন যা আগে উল্লিখিত হয়নি, অথবা পিতার নাম উল্লেখ না করে কেবল তার উপনাম ব্যবহার করেছেন; যেমনটি তিনি ২ নম্বর হাদিসে ‘হিবাতুল্লাহ আলী বিন সাবিত আল-কাতিব’ এর ক্ষেত্রে করেছেন যেখানে তাকে আস-সিলাফীর সাথে যুক্ত করা হয়েছে, এবং পুনরায় তাকেই ‘আবু আল-কাসেম হিবাতুল্লাহ বিন আবিল হাসান আল-খাজরাজি’ নামে উল্লেখ করেছেন, অথচ শাইখ মূলত একই ব্যক্তি। এটিই ‘তাদলিসুশ শুয়ুখ’ (শিক্ষকদের পরিচয়ে অস্পষ্টতা রাখা) হিসেবে পরিচিত। সম্ভবত ইমাম আলী বিন আল-মুফাযযাল বৈচিত্র্য আনয়নের জন্য এটি ব্যবহার করেছেন যেমনটি কিছু বর্ণনাকারী অভ্যাসবশত করে থাকেন অথবা
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুযউন ফীহি তুরুকু হাদীছি আবদুর রহমান ইবনু আবী লায়লা আন কা'ব ইবনে উজরাহ ফিস-সালাতি আলান নাবীয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ١٧٧)
لإيهام تكثير الشيوخ1، وقد صنع نحو ذلك بالنسبة للسِّلَفي في الحديث الأول الذي استفتح به؛ وذكره باسم (أبو الطاهر أحمد بن محمد بن سِلَفة الأصبهاني) ثم روى عنه في الحديث الثاني فأسند عنه باسم (أحمد بن محمد بن إبراهيم الحافظ) وهو السلفي نفسه، فنسب علي بن المفضل والد السلفي إلى جدّ جدّه لأن نسبه هكذا: (أحمد بن محمد بن أحمد بن محمد بن إبراهيم) ، وأما “سلفة” فهو لقب لجده أحمد.
وتدليس الشيوخ يختلف باختلاف المقاصد 2، وهو لهذا الغرض المذكور لعلّه ليس فيه ملامة، وإن كان عدم استعماله وبيان الواقع هو الأولى والأحسن.
أما تلاميذه:
فلاشك أن المنزلة العلمية الرفيعة التي وصل إليها علي بن المفضل في الحديث وسعة باعه في حفظه جعلته قبلة أنظار طلبة العلم فوفدوا عليه بكثرة، ينهلون من منهله العذب الصافي، ويتخلّقون بأخلاقه من الثقة والأمانة والزهد والديانة، ولقد تخرّج على يدي هذا الإمام أئمة أجلاء في الحديث وعلومه والفقه وغير ذلك:
- وكان من أبرزهم ابنه أحمد الفقيه الصالح أبو الحسين المقدسي ثم الإسكندراني المالكي العدل. ولد سنة ثمان وسبعين وخمسمائة وتفقّه على مذهب الإمام
--------------------------------------------
শাইখদের সংখ্যা বেশি হওয়ার বিভ্রম তৈরির জন্য।১ এবং তিনি প্রথম হাদীসে সিলাফীর ক্ষেত্রেও অনুরূপ কাজ করেছেন যা দিয়ে তিনি (বইটি) শুরু করেছেন; সেখানে তাকে (আবু তাহের আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন সিলাফা আল-আসবাহানী) নামে উল্লেখ করেছেন। এরপর দ্বিতীয় হাদীসে তার থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তার প্রতি সম্বন্ধ করেছেন (আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন ইবরাহীম আল-হাফিজ) নামে, অথচ তিনি নিজেই সেই সিলাফী। ফলে আলী বিন মুফাদদাল সিলাফীর পিতাকে তার দাদার দাদার দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেছেন, কারণ তার বংশলতিকা হলো: (আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন ইবরাহীম)। আর "সিলাফা" হলো তার দাদা আহমদের উপাধি।
শাইখদের তাদলীস (পরিচয় অস্পষ্ট রাখা) বিভিন্ন উদ্দেশ্যের ভিত্তিতে ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে।২ উল্লিখিত এই উদ্দেশ্যের ক্ষেত্রে সম্ভবত এতে কোনো দোষ নেই, যদিও তা ব্যবহার না করা এবং প্রকৃত অবস্থা স্পষ্ট করাই উত্তম ও শ্রেষ্ঠ।
তার ছাত্রদের সম্পর্কে:
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, হাদীস শাস্ত্রে আলী বিন মুফাদদাল যে সুউচ্চ ইলমী মর্যাদা লাভ করেছিলেন এবং হিফজের ক্ষেত্রে তার যে গভীর পারদর্শিতা ছিল, তা তাকে তালিবে ইলমদের (জ্ঞানান্বেষীদের) দৃষ্টির কেন্দ্রে পরিণত করেছিল। ফলে তারা বিপুল সংখ্যায় তার নিকট আগমন করত, তার স্বচ্ছ ও সুমিষ্ট ঝর্ণাধারা থেকে জ্ঞান পান করত এবং তার নির্ভরযোগ্যতা, আমানতদারি, যুহদ (দুনিয়াবিমুখতা) ও দ্বীনদারির মতো চরিত্র দ্বারা নিজেদের ভূষিত করত। এই ইমামের হাতে হাদীস ও এর সংশ্লিষ্ট শাস্ত্রসমূহ, ফিকহ এবং অন্যান্য বিষয়ে প্রথিতযশা ইমামগণ তৈরি হয়েছেন:
- তাদের মধ্যে অন্যতম প্রধান ছিলেন তার পুত্র আহমদ, যিনি একজন নেককার ফকীহ, আবুল হুসাইন আল-মাকদিসী অতঃপর আল-ইসকান্দারানী আল-মালিকী আল-আদল। তিনি পাঁচশত আটাত্তর হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ইমামের মাযহাব অনুযায়ী ফিকহ শিক্ষা করেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুযউন ফীহি তুরুকু হাদীছি আবদুর রহমান ইবনু আবী লায়লা আন কা'ব ইবনে উজরাহ ফিস-সালাতি আলান নাবীয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ١٧٨)
مالك ونشأ على غاية من الدين والورع والبرّ بالوالدين، توفي في صفر سنة ثلاث عشرة وستمائة1.
- عبد العظيم بن عبد القوى الحافظ الكبير زكي الدين أبو محمد المنذري الشافعي ثم المصري صاحب التصانيف الكثيرة ولد سنة إحدى وثمانين وخمسمائة تخرج بأبي الحسن علي بن المفضل، ولي مشيخة الكامليّة 2 مدة، وانقطع بها نحواً من عشرين سنة مكباً على العلم والإفادة وكان ثبتاً حجة متبحراً في علوم الحديث عارفاً بالفقه والنحو، مع الزهد والورع والصفات الحميدة، توفي رحمه الله في رابع ذي القعدة سنة ست وخمسين وستمائة3.
- ابن النجار، الحافظ الكبير محب الدين أبو عبد الله محمد بن محمود بن الحسن بن هبة الله بن محاسن البغدادي صاحب “ تاريخ بغداد ” ولد سنة ثمان وسبعين وخمسمائة، رحل إلى أصبهان، وخراسان، والشام ومصر، وكتب ما لا يوصف. وكان ثقة متقناً واسع الحفظ، تام المعرفة بالفن، توفي في خامس شعبان سنة ثلاث وأربعين وستمائة4.
--------------------------------------------
মালিক এবং তিনি অত্যন্ত দ্বীনদারী, পরহেযগারী এবং পিতামাতার প্রতি সদাচরণের ওপর বেড়ে উঠেছেন, তিনি ৬১৩ হিজরির সফর মাসে মৃত্যুবরণ করেন।১।
- আব্দুল আযীম বিন আব্দুল কাবী, মহান হাফিয, যাকিউদ্দীন আবু মুহাম্মদ আল-মুনযিরি আশ-শাফিয়ী, পরবর্তীতে আল-মিসরি, বহু গ্রন্থের প্রণেতা। তিনি ৫৮১ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি আবুল হাসান আলী বিন আল-মুফাদদালের নিকট শিক্ষা সমাপ্ত করেন। তিনি একসময় কামিলিয়্যাহ২ মাদরাসার শাইখ পদের দায়িত্ব পালন করেন এবং সেখানে প্রায় বিশ বছর জ্ঞানচর্চা ও শিক্ষা প্রদানের জন্য নিবিষ্ট থাকেন। তিনি হাদীস শাস্ত্রে একজন নির্ভরযোগ্য হুজ্জাত ও পারদর্শী ব্যক্তি ছিলেন এবং ফিকহ ও নাহু (ব্যাকরণ) শাস্ত্রে বিজ্ঞ ছিলেন। এর পাশাপাশি তিনি ছিলেন দুনিয়াবিমুখ, পরহেযগার ও উত্তম চরিত্রের অধিকারী। তিনি—আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন—৬৫৬ হিজরির ৪ঠা যিলকদ মৃত্যুবরণ করেন।৩।
- ইবনুন নাজ্জার, মহান হাফিয, মুহিব্বুদ্দীন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন মাহমুদ বিন হাসান বিন হিবাতুল্লাহ বিন মাহাসিন আল-বাগদাদি, 'তারিখে বাগদাদ'-এর প্রণেতা। তিনি ৫৭৮ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ইস্পাহান, খোরাসান, শাম ও মিশরে সফর করেন এবং অগণিত রচনা লিখে যান। তিনি অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য, নিখুঁত, প্রখর স্মৃতিশক্তির অধিকারী এবং এই শাস্ত্রে পূর্ণ জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন। তিনি ৬৪৩ হিজরির ৫ই শাবান মৃত্যুবরণ করেন।৪।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুযউন ফীহি তুরুকু হাদীছি আবদুর রহমান ইবনু আবী লায়লা আন কা'ব ইবনে উজরাহ ফিস-সালাতি আলান নাবীয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ١٧٩)
المبحث الرابع: مؤلفاته ورحلاته
قال الذهبي: “له تصانيف محررة، ورأيت له في سنة ست وثمانين وستمائة كتاب (الصيام) بالأسانيد، وله (الأربعون في طبقات الحفاظ) ، ولمّا رأيتها تحرّكت همّتي إلى جمع الحفاظ، وأحوالهم” 1.
وهذه الكتب منها:
1- (الأربعون المسلسلات) ذكرها الحافظ ابن حجر فقال إنه رواها سوى الحديث العشرين فإنه كان سقط من الجزء، وهو جزء ضخم بسماعه من أحمد ابن أبي بكر بن طي، قال أخبرنا: عبد الهادي بن عبد الكريم القيسي، قال أخبرنا ابن المفضل2. وأوردها الشيخ عبد الحي الكتاني بإسناده إلى ابن جابر الوادي آشى عن أبي حيان والذهبي كلاهما عن عبد المؤمن الدمياطي عن الحافظ زكي الدين المنذري عن الحافظ أبي الحسن علي بن المفضل المقدسي. وقال: وهو كما ترى مسلسل بالحفاظ3.
2- (الأربعون المرتّبة على طبقات الأربعين) وفيه تراجم لأربعين حافظاً أولهم الزهري وآخرهم ابن ماكولا. وفيها فوائد جمّة، قُرئت النسخة عليه وتحت السماع خطه. 4
--------------------------------------------
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: তাঁর রচনাবলী ও সফরসমূহ
আয-যাহাবী বলেন: “তাঁর সুপরিমার্জিত অনেক সংকলন রয়েছে। আমি ৬৬৬ হিজরি সনে তাঁর 'কিতাবুস সিয়াম' (রোজা বিষয়ক গ্রন্থ) সনদসহ দেখেছি। তাঁর 'আল-আরবাউন ফি তাবাকাতিল হুফফাজ' নামক একটি গ্রন্থও রয়েছে; যখন আমি সেটি দেখলাম, তখন হাফেজদের জীবনী ও তাঁদের অবস্থা সংকলনের প্রতি আমার আগ্রহ জেগে ওঠে।” ১।
আর এই বইগুলোর মধ্যে রয়েছে:
১- (আল-আরবাউন আল-মুসালসালাত): হাফেজ ইবনে হাজার এটি উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন যে, বিশতম হাদিসটি বাদে তিনি এটি বর্ণনা করেছেন, কারণ তা পাণ্ডুলিপির সেই অংশ থেকে বাদ পড়ে গিয়েছিল। এটি একটি বিশাল অংশ যা তিনি আহমাদ ইবনে আবি বকর বিন তয়ী-এর নিকট শ্রবণের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমাদের জানিয়েছেন: আব্দুল হাদি ইবনে আব্দুল কারিম আল-কায়সি, তিনি বলেন, আমাদের জানিয়েছেন ইবনুল মুফাদ্দাল। ২। আর শেখ আব্দুল হাই আল-কাত্তানি এটি তাঁর সনদে বর্ণনা করেছেন ইবনে জাবের আল-ওয়াদি আশি থেকে, তিনি আবু হাইয়ান ও আয-যাহাবী থেকে, তাঁরা উভয়েই আব্দুল মুমিন আদ-দিমইয়াতি থেকে, তিনি হাফেজ যাকিউদ্দীন আল-মুনযিরি থেকে, তিনি হাফেজ আবুল হাসান আলী ইবনুল মুফাদ্দাল আল-মাকদিসি থেকে। তিনি বলেন: আপনি যেমন দেখছেন, এটি হাফেজদের দ্বারা একটি মুসালসাল (পরম্পরাযুক্ত) বর্ণনা। ৩।
২- (আল-আরবাউন আল-মুরাত্তাবাহ আলা তাবাকাতিল আরবাউন): এতে চল্লিশজন হাফেজের জীবনী রয়েছে, যাদের মধ্যে প্রথম জন হলেন আয-যুহরি এবং সর্বশেষ জন ইবনে মাকুলা। এতে প্রচুর জ্ঞানগর্ভ তথ্য রয়েছে। পাণ্ডুলিপিটি তাঁর সামনে পাঠ করা হয়েছিল এবং শ্রবণলিপির নিচে তাঁর স্বাক্ষর রয়েছে। ৪
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুযউন ফীহি তুরুকু হাদীছি আবদুর রহমান ইবনু আবী লায়লা আন কা'ব ইবনে উজরাহ ফিস-সালাতি আলান নাবীয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ١٨٠)
3- كتاب الأربعين في فضل الدعاء والداعين يوجد منه الجزء الخامس وقد قام بتحقيقه بدر بن عبد الله البدر وهو آخر الكتاب وذكر أن بقيّة الأجزاء لا تتوفّر، وقد طبعه مع كتاب الأربعين على مذهب المحققين من الصوفية لأبي نعيم بتحقيقه أيضا 1.
4- الأربعين الإلهية، لأبي الحسن علي بن المفضل المقدسي بسماعه على محمد بن غالي بسماعه على عبد الهادي بن عبد الكريم القيسي بسماعه منه2.
أما رحلاته:
فقد رحل من الإسكندرية إلى مصر سنة أربع وسبعين وخمسمائة، وسمع من أبي الحسن علي بن هبة الله بن عبد الصمد الكاملي، والعلامة أبي محمد عبد الله ابن بري النحوي، وأبي الفضل هبة الله بن الحسن بن عبد السلام المعروف بابن الطوير وغيره وحج وجاور بمكة شرفها الله وسمع بها من عدد من الشيوخ وحدث بالحرمين الشريفين والإسكندرية، ومصر وغيرها3.
--------------------------------------------
৩- দুআ এবং দুআকারীদের ফযীলত বিষয়ক চল্লিশ হাদীসের কিতাব; এর পঞ্চম খণ্ডটি বিদ্যমান রয়েছে এবং বদর বিন আব্দুল্লাহ আল-বদর এটি সম্পাদনা করেছেন, যা কিতাবটির শেষ অংশ। তিনি উল্লেখ করেছেন যে অবশিষ্ট খণ্ডগুলো লভ্য নয়। তিনি এটি আবু নুআইম রচিত ‘কিতাবুল আরবাঈন আলা মাযহাবিল মুহাক্কিকীন মিনাস সুফিয়্যাহ’ কিতাবের সাথে তাঁরই সম্পাদনায় প্রকাশ করেছেন ১।
৪- আল-আরবাঈন আল-ইলাহিয়্যাহ; এটি আবু হাসান আলী বিন আল-মুফাদদাল আল-মাকদিসী কর্তৃক বর্ণিত, যা তিনি মুহাম্মদ বিন গালীর নিকট শ্রবণ করেছেন, তিনি আব্দুল হাদী বিন আব্দুল কারীম আল-কাইসীর নিকট শ্রবণ করেছেন এবং তিনি তাঁর নিকট সরাসরি শ্রবণ করেছেন ২।
তাঁর সফরসমূহ:
তিনি পাঁচশ চুয়াত্তর হিজরি সালে আলেকজান্দ্রিয়া থেকে মিশরে সফর করেন এবং আবুল হাসান আলী বিন হিবাতুল্লাহ বিন আব্দুস সামাদ আল-কামিলী, আল্লামা আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ ইবনে বাররী আন-নাহবী, আবুল ফজল হিবাতুল্লাহ বিন আল-হাসান বিন আব্দুস সালাম—যিনি ইবনুত তুয়াইর নামে পরিচিত—এবং অন্যান্যদের নিকট থেকে হাদীস শ্রবণ করেন। তিনি হজ পালন করেন এবং মক্কায় (আল্লাহ একে সম্মানিত করুন) অবস্থান করেন। সেখানে তিনি বহু সংখ্যক শায়খের নিকট থেকে শ্রবণ করেন এবং হারামাইন শরীফাইন, আলেকজান্দ্রিয়া, মিশর ও অন্যান্য স্থানে হাদীস বর্ণনা করেন ৩।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুযউন ফীহি তুরুকু হাদীছি আবদুর রহমান ইবনু আবী লায়লা আন কা'ব ইবনে উজরাহ ফিস-সালাতি আলান নাবীয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ١٨١)
الفصل الثاني: في كتابه
المبحث الأول: الأجزاء الحديثية، وأهمّيّتها العلميّة والاستخراجيّةإن رواة السنة وحفاظ الحديث نهجوا في تدوين السنة والأثر طرقاً متعددة منها: التأليف على طريقة الأجزاء الحديثية.
والجزء عرّفه الشيخ محمد عبد الرحمن المباركفوري بقوله: “الجزء ـ في اصطلاحهم ـ: تأليف الأحاديث المروية عن رجل واحد، سواء كان ذلك الرجل من الصحابة أو من بعدهم، كجزء حديث أبي بكر وجزء حديث مالك
… وقد يختارون من المطالب الثمانية -المذكورة في صفة الجامع- مطلباً جزئياً يصنفون فيه
…” 1.
--------------------------------------------
দ্বিতীয় অধ্যায়: তাঁর গ্রন্থ সম্পর্কেপ্রথম পরিচ্ছেদ: হাদীসের জুযসমূহ (অংশসমূহ), এবং এগুলোর ইলমী ও উদ্ভাবনী গুরুত্বনিশ্চয়ই সুন্নাহর বর্ণনাকারী এবং হাদীসের হাফেযগণ সুন্নাহ ও আসার (সাহাবী-তাবেঈদের উক্তি) সংকলনে বহুমুখী পথ অনুসরণ করেছেন, যার মধ্যে অন্যতম হলো: হাদীসের জুয (অংশ) পদ্ধতিতে সংকলন করা।
আর 'জুয' এর সংজ্ঞা দিতে গিয়ে শায়খ মুহাম্মাদ আব্দুর রহমান আল-মুবারকপুরী বলেন: “তাদের (মুহাদ্দিসদের) পরিভাষায় জুয হলো: একজন মাত্র ব্যক্তি থেকে বর্ণিত হাদীসসমূহের সংকলন, সেই ব্যক্তি সাহাবী হোন কিংবা পরবর্তী প্রজন্মের কেউ, যেমন- জুযউ হাদীসি আবী বকর এবং জুযউ হাদীসি মালিক... আবার কখনও তারা 'জামে'র বর্ণনায় উল্লিখিত আটটি বিষয়ের মধ্য থেকে কোনো একটি আংশিক বিষয় বেছে নেন এবং সে বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেন...” ১।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুযউন ফীহি তুরুকু হাদীছি আবদুর রহমান ইবনু আবী লায়লা আন কা'ব ইবনে উজরাহ ফিস-সালাতি আলান নাবীয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ١٨٢)
ولقد حرص المحدثون على رواية المصنفات والأجزاء الحديثية، وعلى رواية النصوص في مشيخاتهم ومصنّفاتهم بأسانيد عالية، وغدا ذلك ظاهرة واضحة في معاجم الشيوخ والمشيخات التي صُنّفت في القرن الخامس، الأمر الذي يجعلنا نقول: إن هذا النوع من المصنفات قد أضحى هو البديل المناسب عن التصنيف في المستخرجات، وقد بين الإمام السخاوي مشاركة أصحاب المشيخات في الاستخراج قائلاً: “إن أصحاب المستخرجات غير مُتفرّدين بتصنيفهم بل أكثر المخرّجين للمشيخات والمعاجم يُوردون الحديث بأسانيدهم، ثم يُصرّحون بعد انتهاء سياقه غالباً بعزوه إلى البخاري أو مسلم أو إليهما معاً مع اختلاف في الألفاظ وغيرها ويريدون أصله”.
ويؤخذ من كلام السخاوي رحمه الله أن المستخرجات ـ على كبرها ـ تشاركها المشيخات والأجزاء ـ مع صغرها ـ في أداء مهمة الاستخراج، وتحقيق شيء من فوائده كعلو الإسناد؛ والقوة بتعدد الطرق مما يفيد عند الترجيح، مع ما يحصل بذلك من زيادة ألفاظ.
قال د. موفق: “إنّ المرويات التي ترويها العديد من معاجم الشيوخ والمشيخات والتي قد تكون روايةً لجزء حديثي، أو لكتاب مشهور، أو محاولة القُرب بالنسبة إلى رواية من روايات الكتب الستة، أو غيرها من المصنفات: هو ما كثر اعتناء المتأخرين به” 1.
وقد نبه الحافظ ابن الصلاح على أمر مُهمّ يجده الناظر في هذه المستخرجات وأمثالها؛ وهو التفاوت بين بعض ألفاظها وألفاظ من استُخرجت
--------------------------------------------
মুহাদ্দিসগণ হাদিস গ্রন্থ ও বিভিন্ন হাদিস বিষয়ক অংশগুলো (আজযা) বর্ণনা করার ব্যাপারে এবং উচ্চ সনদসহ তাদের মাশয়াখাত (শায়খদের তালিকা) ও সংকলনগুলোতে মূল পাঠসমূহ বর্ণনা করার ব্যাপারে অত্যন্ত সচেষ্ট ছিলেন। পঞ্চম শতাব্দীতে সংকলিত মু’জামুশ শুয়ুখ এবং মাশয়াখাতগুলোতে এটি একটি স্পষ্ট প্রবণতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। এই বিষয়টি আমাদের বলতে উদ্বুদ্ধ করে যে, এ ধরণের সংকলনগুলো মুস্তাখরাজাত সংকলনের একটি উপযুক্ত বিকল্প হয়ে উঠেছিল। ইমাম সাখাভী মুস্তাখরাজের পদ্ধতিতে মাশয়াখাত রচয়িতাদের অংশগ্রহণের বিষয়টি স্পষ্ট করে বলেছেন: “মুস্তাখরাজ রচয়িতাগণ তাদের এই সংকলন পদ্ধতিতে একচ্ছত্র নন, বরং মাশয়াখাত ও মু’জাম সংকলকদের অধিকাংশই তাদের নিজস্ব সনদে হাদিস বর্ণনা করেন, এরপর হাদিসের পাঠ শেষ করে তারা প্রায়শই সেটিকে বুখারি বা মুসলিম কিংবা উভয়ের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেন—যদিও শব্দে বা অন্য কিছুতে পার্থক্য থাকতে পারে—তবে তারা এর মূল হাদিসটিই উদ্দেশ্য করেন”।
সাখাভী (রহিমাহুল্লাহ)-এর বক্তব্য থেকে বোঝা যায় যে, মুস্তাখরাজাতগুলো—বৃহদাকার হওয়া সত্ত্বেও—এবং মাশয়াখাত ও আজযাগুলো—ক্ষুদ্রাকার হওয়া সত্ত্বেও—মুস্তাখরাজের দায়িত্ব পালন এবং এর নানাবিধ উপকারিতা অর্জনে অংশীদার। যেমন: সনদের উচ্চতা (উলুউল ইসনাদ), বিভিন্ন সূত্রের মাধ্যমে হাদিসের শক্তি বৃদ্ধি পাওয়া যা কোনো বর্ণনাকে প্রাধান্য দেওয়ার ক্ষেত্রে কার্যকর হয়, সেই সাথে এতে কিছু অতিরিক্ত শব্দও অর্জিত হয়।
ড. মুয়াফফাক বলেন: “শায়খদের বিভিন্ন মু’জাম ও মাশয়াখাতগুলোতে যেসব বর্ণনা পাওয়া যায়, যা হতে পারে কোনো হাদিস বিষয়ক অংশ (জুয), অথবা কোনো প্রসিদ্ধ গ্রন্থ, অথবা কুতুবে সিত্তাহ ও অন্যান্য সংকলনের বর্ণনার কাছাকাছি পৌঁছানোর একটি প্রয়াস—এ বিষয়গুলোর প্রতিই পরবর্তী যুগের আলিমগণ অধিক মনোযোগী হয়েছিলেন” ১।
হাফিজ ইবনুস সালাহ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন, যা এই মুস্তাখরাজাত ও এর সদৃশ গ্রন্থসমূহের পর্যবেক্ষকগণ দেখতে পান; আর তা হলো মুস্তাখরাজের কিছু শব্দের সাথে মূল গ্রন্থের (যার মুস্তাখরাজ করা হয়েছে) শব্দের মধ্যকার পার্থক্য।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুযউন ফীহি তুরুকু হাদীছি আবদুর রহমান ইবনু আবী লায়লা আন কা'ব ইবনে উজরাহ ফিস-সালাতি আলান নাবীয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ١٨٣)
على كتبهم من الأئمة بقوله: “الكتب المخرجة على كتاب البخاري أو كتاب مسلم لم يلتزم مصنفوها موافقتهما في ألفاظ الأحاديث بعينها من غير زيادة ولا نقصان، لكونهم رووا تلك الأحاديث من غير جهة البخاري ومسلم طلباً لعلو الإسناد فحصل فيها بعض التفاوت في الألفاظ” 1.
وقد تنوّعت كتب المستخرجات بتنوّع الكتب المستخرج عليها، فيجد طالب المستخرجات التخريج على الصحيحين، أو أحدهما، وأخرى على السنن الأربعة، ومن المستخرجات المشهورة: مستخرج أبي عوانة على صحيح مسلم، وكذلك مستخرج أبي نعيم على صحيح مسلم أيضا، وكلاهما مطبوعان، وقد طُبعت قطعة من مستخرج على صحيح البخاري في أربعة أجزاء في التفسير وفضائل القرآن 2.
--------------------------------------------
ইমামগণের কিতাবসমূহের ওপর তাঁর উক্তি হলো: “সহীহ বুখারী বা সহীহ মুসলিমের ওপর ভিত্তি করে সংকলিত কিতাবসমূহের (মুস্তাখরাজ) সংকলকগণ হাদীসের শব্দাবলীতে কোনো রকম হ্রাস-বৃদ্ধি ছাড়া হুবহু মিল বজায় রাখা আবশ্যক মনে করেননি। কারণ, তাঁরা উচ্চতর সনদ লাভের উদ্দেশ্যে বুখারী ও মুসলিমের সূত্র ব্যতিরেকে ভিন্ন সূত্র থেকে হাদীসগুলো বর্ণনা করেছেন। ফলে শব্দ বিন্যাসে কিছু পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়।” ১।
যে মূল কিতাবগুলোর ওপর ভিত্তি করে মুস্তাখরাজ রচিত হয়েছে সেগুলোর বিভিন্নতার কারণে মুস্তাখরাজ গ্রন্থগুলোও বৈচিত্র্যময় হয়েছে। ফলে মুস্তাখরাজ অন্বেষণকারী ব্যক্তি সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম) বা এ দুটির যেকোনো একটির ওপর, অথবা সুনান আরবাআ-র (চার সুনান) ওপর রচিত মুস্তাখরাজ দেখতে পান। প্রসিদ্ধ মুস্তাখরাজসমূহের মধ্যে রয়েছে: সহীহ মুসলিমের ওপর আবু আওয়ানার মুস্তাখরাজ এবং একইভাবে সহীহ মুসলিমের ওপর আবু নুয়াইমের মুস্তাখরাজ; এই উভয় গ্রন্থই মুদ্রিত হয়েছে। এছাড়া সহীহ বুখারীর ওপর রচিত একটি মুস্তাখরাজের একাংশ তাফসীর ও ফাযাইলুল কুরআন বিষয়ে চার খণ্ডে মুদ্রিত হয়েছে। ২।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুযউন ফীহি তুরুকু হাদীছি আবদুর রহমান ইবনু আবী লায়লা আন কা'ব ইবনে উজরাহ ফিস-সালাতি আলান নাবীয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ١٨٤)
المبحث الثاني: في التعريف بهذا الجزءهذا جزء يتضمن بعض الأحاديث الواردة في الصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم من رواية عبد الرحمن بن أبي ليلى عن كعب بن عجرة عن النبي صلى الله عليه وسلم، تخريج الإمام علي ابن المفضل عن شيوخه.
تكمن أهمية هذا الجزء في أنه أثر من آثار الإمام علي بن المفضل النادرة التي لها منهج مُتميّز، فهو لا يكتفي بسرد الأحاديث دون أن يحكم عليها بعد تخريجها بل نجده كلما روى حديثاً في كتابه ذيّله بالحكم عليه مبيناً درجته من حيث الصحة؛ لأنه كالمستخرج على الصحيحين فيقول: “هذا حديث صحيح ثابت متفق عليه من حديث فلان”، وغير ذلك من الألفاظ التي تدل على التصحيح.
أما التضعيف فلم يضعف الإمام المقدسي أحاديث في كتابه هذا لأن الغالب على الأحاديث التي أوردها هنا هي إما في البخاري ومسلم أو في أحدهما إلا أحاديث قليلة ليست فيهما ساقها للمتابعات والشواهد، وبعد حكمه على سند الحديث يتوجّه إلى تخريجه؛ وذلك بعزوه إلى البخاري ومسلم فيقول: (انفرد به مسلم) أو (انفرد به البخاري) ، ويُعنى ببيان طرق الحديث وقد يقول عن حديث متفق عليه: “هذا حديث حسن صحيح ثابت متفق عليه من رواية أبي بسطام شعبة بن الحجاج، وأبي سلمة مسعر بن كدام الهلالي، وانفرد مسلم بحديث مالك بن مغول وسليمان الأعمش عن الحكم بن عُتيبة”.
وبعد أن ساق الروايات قال: “فهذه طرق هذا الحديث من صحيحي البخاري ومسلم رحمة الله عليهما من رواية الحكم عن ابن أبي ليلى عن كعب ابن عجرة” ثم أتبع ذلك برواية عبد الله بن عيسى عن ابن أبي ليلى، وعقب على هذه الرواية بقوله: “انفرد به البخاري دون مسلم في صحيحه بهذا الإسناد، وليس في الصحيحين طريق سوى ما ذكرنا”.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: এই পুস্তিকাটির পরিচিতি প্রসঙ্গেএটি এমন একটি পুস্তিকা যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর দরুদ পাঠ সংক্রান্ত বর্ণিত কিছু হাদিসকে অন্তর্ভুক্ত করে, যা আব্দুর রহমান ইবনে আবি লায়লা থেকে, তিনি কাব ইবনে উজরাহ থেকে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন; এটি ইমাম আলী ইবনুল মুফাজ্জাল তাঁর উস্তাদদের সূত্রে তাখরিজ করেছেন।
এই পুস্তিকাটির গুরুত্ব নিহিত রয়েছে এতে যে, এটি ইমাম আলী ইবনুল মুফাজ্জালের একটি দুর্লভ রচনা যার একটি স্বতন্ত্র পদ্ধতি রয়েছে। তিনি কেবল হাদিসগুলো তাখরিজ করে বর্ণনা করেই ক্ষান্ত হননি, বরং দেখা যায় যে যখনই তিনি তাঁর কিতাবে কোনো হাদিস বর্ণনা করেছেন, তখনই তার শেষে সেটির হুকুম বা মান বর্ণনা করেছেন এবং বিশুদ্ধতার দিক থেকে এর স্তর স্পষ্ট করেছেন। যেহেতু এটি সহিহাইন (বুখারি ও মুসলিম)-এর ওপর একটি মুস্তাখরাজের মতো, তাই তিনি বলেন: “এটি অমুকের হাদিস থেকে একটি সহিহ, সুসাব্যস্ত এবং মুত্তাফাকুন আলাইহি হাদিস”, এবং এ জাতীয় অন্যান্য শব্দাবলি যা হাদিস বিশুদ্ধ সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।
পক্ষান্তরে দুর্বল সাব্যস্ত করার বিষয়টি হলো, ইমাম মাকদিসি তাঁর এই কিতাবে কোনো হাদিসকে দুর্বল বলেননি; কারণ এখানে তিনি যেসব হাদিস উল্লেখ করেছেন তার অধিকাংশ হয় বুখারি ও মুসলিমে রয়েছে অথবা এই দুটির কোনো একটিতে আছে। তবে সামান্য কিছু হাদিস রয়েছে যা এই দুই কিতাবে নেই, যেগুলো তিনি মুতাবিআত (সমর্থক বর্ণনা) এবং শাওয়াহিদ (সাক্ষ্যমূলক বর্ণনা) হিসেবে নিয়ে এসেছেন। হাদিসের সনদের ওপর হুকুম লাগানোর পর তিনি এর তাখরিজের দিকে মনোযোগ দেন; আর তা হলো একে বুখারি ও মুসলিমের দিকে সম্বন্ধ করার মাধ্যমে। তখন তিনি বলেন: (মুসলিম এটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন) অথবা (বুখারি এটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন)। তিনি হাদিসের বিভিন্ন সূত্র বর্ণনার প্রতি যত্নবান থাকেন এবং কখনও কখনও কোনো মুত্তাফাকুন আলাইহি হাদিস সম্পর্কে বলেন: “এটি আবু বিস্তাম শু'বাহ ইবনুল হাজ্জাজ এবং আবু সালামাহ মিসআর ইবনে কিদাম আল-হিলালির বর্ণনা থেকে একটি হাসান, সহিহ, সুসাব্যস্ত ও মুত্তাফাকুন আলাইহি হাদিস। আর মুসলিম মালিক ইবনে মিগওয়াল ও সুলাইমান আল-আ'মাশ থেকে হাকাম ইবনে উতাইবাহর সূত্রে এককভাবে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন।”
বর্ণনাগুলো উল্লেখ করার পর তিনি বলেন: “এই হলো ইমাম বুখারি ও ইমাম মুসলিম (রহমাতুল্লাহি আলাইহিমা)-এর সহিহ গ্রন্থদ্বয় থেকে হাকামের সূত্রে, তিনি ইবনে আবি লায়লা থেকে এবং তিনি কাব ইবনে উজরাহ থেকে বর্ণিত এই হাদিসের বিভিন্ন পথ বা সূত্র।” এরপর তিনি এর সাথে আব্দুল্লাহ ইবনে ঈসার সূত্রে ইবনে আবি লায়লা থেকে বর্ণিত রেওয়াতটি যুক্ত করেন এবং এই বর্ণনার ওপর মন্তব্য করে বলেন: “মুসলিম ব্যতিরেকে কেবল বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে এই সনদে এটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন। আমরা যা উল্লেখ করেছি তা ছাড়া সহিহাইনে আর কোনো সূত্র নেই।”
(খণ্ড: ১)
জুযউন ফীহি তুরুকু হাদীছি আবদুর রহমান ইবনু আবী লায়লা আন কা'ব ইবনে উজরাহ ফিস-সালাতি আলান নাবীয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ١٨٥)
المبحث الثاني: في التعريف بهذا الجزء
هذا جزء يتضمن بعض الأحاديث الواردة في الصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم من رواية عبد الرحمن بن أبي ليلى عن كعب بن عجرة عن النبي صلى الله عليه وسلم، تخريج الإمام علي ابن المفضل عن شيوخه.
تكمن أهمية هذا الجزء في أنه أثر من آثار الإمام علي بن المفضل النادرة التي لها منهج مُتميّز، فهو لا يكتفي بسرد الأحاديث دون أن يحكم عليها بعد تخريجها بل نجده كلما روى حديثاً في كتابه ذيّله بالحكم عليه مبيناً درجته من حيث الصحة؛ لأنه كالمستخرج على الصحيحين فيقول: “هذا حديث صحيح ثابت متفق عليه من حديث فلان”، وغير ذلك من الألفاظ التي تدل على التصحيح.
أما التضعيف فلم يضعف الإمام المقدسي أحاديث في كتابه هذا لأن الغالب على الأحاديث التي أوردها هنا هي إما في البخاري ومسلم أو في أحدهما إلا أحاديث قليلة ليست فيهما ساقها للمتابعات والشواهد، وبعد حكمه على سند الحديث يتوجّه إلى تخريجه؛ وذلك بعزوه إلى البخاري ومسلم فيقول: (انفرد به مسلم) أو (انفرد به البخاري) ، ويُعنى ببيان طرق الحديث وقد يقول عن حديث متفق عليه: “هذا حديث حسن صحيح ثابت متفق عليه من رواية أبي بسطام شعبة بن الحجاج، وأبي سلمة مسعر بن كدام الهلالي، وانفرد مسلم بحديث مالك بن مغول وسليمان الأعمش عن الحكم بن عُتيبة”.
وبعد أن ساق الروايات قال: “فهذه طرق هذا الحديث من صحيحي البخاري ومسلم رحمة الله عليهما من رواية الحكم عن ابن أبي ليلى عن كعب ابن عجرة” ثم أتبع ذلك برواية عبد الله بن عيسى عن ابن أبي ليلى، وعقب على هذه الرواية بقوله: “انفرد به البخاري دون مسلم في صحيحه بهذا الإسناد، وليس في الصحيحين طريق سوى ما ذكرنا”.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: এই জুয (অংশ) সম্পর্কে পরিচিতি
এই জুয-টি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর দরুদ পাঠ করা সংক্রান্ত কিছু হাদীস সম্বলিত, যা আব্দুর রহমান বিন আবি লায়লা, কা’ব বিন উজরাহ থেকে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। এটি ইমাম আলী ইবনুল মুফাযযাল তাঁর উস্তাদদের থেকে চয়ন (তাখরিজ) করেছেন।
এই জুয-টির গুরুত্ব এখানে যে, এটি ইমাম আলী বিন মুফাযযালের বিরল রচনাবলির মধ্যে একটি, যার একটি স্বতন্ত্র মানহাজ (পদ্ধতি) রয়েছে। তিনি কেবল হাদীস বর্ণনা করেই ক্ষান্ত হননি, বরং তাখরিজের পর সেগুলোর ওপর হুকুমও প্রদান করেছেন। আমরা দেখতে পাই, যখনই তিনি তাঁর কিতাবে কোনো হাদীস বর্ণনা করেছেন, তখনই তার শেষে সেটির বিশুদ্ধতার মান বর্ণনা করে হুকুম প্রদান করেছেন। যেহেতু এটি 'সহীহাইন'-এর ওপর রচিত 'মুস্তাখরাজ'-এর মতো, তাই তিনি বলেন: "এটি অমুকের হাদীস থেকে বর্ণিত একটি সহীহ, সুসাব্যস্ত ও মুত্তাফাকুন আলাইহি (সর্বসম্মত) হাদীস।" এবং এ জাতীয় অন্যান্য শব্দ ব্যবহার করেছেন যা হাদীস সহীহ হওয়ার প্রমাণ দেয়।
যঈফ (দুর্বল) আখ্যা দেওয়ার ক্ষেত্রে ইমাম মাকদিসি তাঁর এই কিতাবে হাদীসগুলোকে যঈফ বলেননি; কারণ এখানে তিনি যেসব হাদীস উল্লেখ করেছেন তার অধিকাংশ হয় বুখারী ও মুসলিম উভয়ে রয়েছে অথবা তাদের কোনো একজনে আছে। তবে অল্প কিছু হাদীস আছে যা এই দুই কিতাবে নেই, সেগুলো তিনি মুতাবা’আত ও শাওয়াহিদ (সমর্থক বর্ণনা) হিসেবে নিয়ে এসেছেন। হাদীসের সনদের ওপর হুকুম দেওয়ার পর তিনি সেটির তাখরিজের দিকে মনোনিবেশ করেন; আর তা হলো বুখারী ও মুসলিমের দিকে সেটিকে সম্বন্ধযুক্ত করা। যেমন তিনি বলেন: (এটি কেবল মুসলিম বর্ণনা করেছেন) অথবা (এটি কেবল বুখারী বর্ণনা করেছেন)। তিনি হাদীসের সূত্রগুলো (তুরুক) স্পষ্ট করার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন। কখনও তিনি মুত্তাফাকুন আলাইহি হাদীস সম্পর্কে বলেন: "এটি আবু বিসতাম শু’বা বিন হাজ্জাজ এবং আবু সালামা মিসআর বিন কিদাম আল-হিলালী-র বর্ণনা থেকে একটি হাসান, সহীহ, সুসাব্যস্ত ও মুত্তাফাকুন আলাইহি হাদীস। আর মালিক বিন মিগওয়াল ও সুলায়মান আল-আ’মাশ কর্তৃক হাকাম বিন উতাইবাহ থেকে বর্ণিত হাদীসটি কেবল মুসলিম বর্ণনা করেছেন।"
বর্ণনাগুলো উল্লেখ করার পর তিনি বলেন: "এগুলো হলো হাকাম, তিনি ইবনে আবি লায়লা থেকে এবং তিনি কা’ব ইবনে উজরাহ থেকে বর্ণিত এই হাদীসের পথসমূহ (তুরুক), যা বুখারী ও মুসলিম (আল্লাহ তাদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন)-এর সহীহ গ্রন্থদ্বয় থেকে নেওয়া।" এরপর তিনি ইবনে আবি লায়লা থেকে আব্দুল্লাহ বিন ঈসার বর্ণনাটি নিয়ে আসেন এবং এই বর্ণনার ওপর মন্তব্য করে বলেন: "বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে এই সনদে এটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন, মুসলিম তা করেননি। আর আমাদের বর্ণিত পথগুলো ছাড়া সহীহাইনে অন্য কোনো পথ নেই।"
(খণ্ড: ১)
জুযউন ফীহি তুরুকু হাদীছি আবদুর রহমান ইবনু আবী লায়লা আন কা'ব ইবনে উজরাহ ফিস-সালাতি আলান নাবীয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ١٨٦)
المبحث الثالث: توثيق نسبة الجزء إلى مؤلفاته…المبحث الثالث: توثيق نسبة الجزء إلى مؤلفه
من مزايا هذا الجزء أنه مسوق بالإسناد المتصل كما هو شأن معظم الأجزاء الحديثية، وأنه متداول بين أهل العلم حيث أثبتوا عليه سماعاتهم التي بلغت ثمانية سماعات على النسخة الأولى.
وقد سمعه أبو محمد عبد المعطي بن عبد الكريم بن المنجا الأنصاري من الإمام المخرج علي بن المفضل وسمعه من أبي محمد عبد المعطي أحمد بن محمد الظاهري وابنه عثمان، والجزء منقول من نسخة بخط عبيد الله بن موسى الذي نقل سماع النسخة ملخصاً من خط سامعها الإمام عبد المعطي بن عبد القوي المنذري، والذي كان سمعها -في صحبته- كل من أبي محمد عبد المعطي بن عبد الكريم، ومحمد مرتضى بن عفيف ثلاثتهم عن المخرج، وكان تاريخ سماعهم منه لهذا الجزء سنة (605?) بقراءة الإمام المنذري رحمهم الله جميعا، قبل وفاة المخرج المذكور بستّ سنوات.
والنسخة الثانية رواها أبو الفتح محمد بن محمد بن إبراهيم بن أبي القاسم الميدومي عن أبي محمد عبد المعطي بن عبد الكريم رواها عن المخرج وكان ذلك في 22 صفر سنة (753?) بمسجد المغاربة ببيت المقدس وهي من مُقتنيات المكتبة العمرية التابعة للمكتبة الظاهرية بدمشق؛ مكتبة الأسد حالياً.
ولاشك أنّ ما ذكرته كافٍ في إثبات نسبة الجزء إلى مخرجه، هذا إضافةً إلى أنه مسوق بأسانيد المؤلف المتصلة؛ عن شيوخه.
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: লেখকের রচনার সাথে এই জুয-এর সম্পৃক্ততার প্রামাণিকতা…তৃতীয় পরিচ্ছেদ: লেখকের সাথে জুয-টির সম্পৃক্ততার প্রামাণিকতা
এই জুয-এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো যে এটি নিরবচ্ছিন্ন সনদের (ইসনদ) মাধ্যমে বর্ণিত, যেমনটি অধিকাংশ হাদিস গ্রন্থের (জুয) ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। এছাড়া এটি আলেমদের নিকট বহুল প্রচলিত, তারা এর প্রথম পাণ্ডুলিপির ওপর তাদের শ্রবণলিপি (সামাআত) লিপিবদ্ধ করেছেন যা আটটি পর্যন্ত পৌঁছেছে।
আবু মুহাম্মদ আব্দুল মু’তি বিন আব্দুল কারিম বিন আল-মানজা আল-আনসারী এটি ইমাম ও সংকলক (মুখাররিজ) আলী বিন আল-মুফাদদাল থেকে শুনেছেন। আর আবু মুহাম্মদ আব্দুল মু’তি থেকে এটি শুনেছেন আহমদ বিন মুহাম্মদ আদ-দাহিরি এবং তার পুত্র উসমান। এই জুয-টি উবাইদুল্লাহ বিন মূসার হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপি থেকে নকল করা হয়েছে, যিনি এই পাণ্ডুলিপির শ্রবণের সংক্ষিপ্ত বিবরণ এর শ্রবণকারী ইমাম আব্দুল মু’তি বিন আব্দুল কাওয়ি আল-মুনযিরীর হস্তলিপি থেকে গ্রহণ করেছেন। ইমাম আল-মুনযিরীর সাথে অবস্থানকালে আবু মুহাম্মদ আব্দুল মু’তি বিন আব্দুল কারিম এবং মুহাম্মদ মুরতাদা বিন আফিফ—এই তিনজনই সংকলক (মুখাররিজ) থেকে এটি শ্রবণ করেছিলেন। সংকলকের মৃত্যুর ছয় বছর পূর্বে ইমাম আল-মুনযিরীর পাঠের মাধ্যমে ৬০৫ (?) হিজরী সালে তাদের এই জুয শ্রবণের তারিখ নির্ধারিত ছিল, আল্লাহ তাদের সকলের ওপর রহম করুন।
দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপিটি বর্ণনা করেছেন আবুল ফাতহ মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম বিন আবুল কাসিম আল-মাইদুমি। তিনি আবু মুহাম্মদ আব্দুল মু’তি বিন আব্দুল কারিম থেকে এবং তিনি সংকলক (মুখাররিজ) থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। এটি ৭৫৩ (?) হিজরীর ২২শে সফর বায়তুল মাকদিসের মসজিদে মাগারিবা-তে সংঘটিত হয়েছিল। এই পাণ্ডুলিপিটি দামেস্কের জাহিরিয়া লাইব্রেরির অন্তর্ভুক্ত উমারিয়া লাইব্রেরির সংগ্রহে সংরক্ষিত রয়েছে, যা বর্তমানে আল-আসাদ লাইব্রেরি নামে পরিচিত।
নিঃসন্দেহে আমি যা উল্লেখ করেছি তা এই জুয-টিকে এর সংকলকের (মুখাররিজ) সাথে সম্পৃক্ত করার প্রমাণের জন্য যথেষ্ট। এছাড়া এটি লেখকের শাইখদের মাধ্যমে প্রাপ্ত নিরবচ্ছিন্ন সনদে বর্ণিত।
(খণ্ড: ১)
জুযউন ফীহি তুরুকু হাদীছি আবদুর রহমান ইবনু আবী লায়লা আন কা'ব ইবনে উজরাহ ফিস-সালাতি আলান নাবীয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ١٨٧)
القسم الثاني: التحقيق
أولا: وصف النسختين:نسخة الأصل:
هذه النسخة مصدرها برلين 257 / 2 و M 1575 C 125 / 4 - و (29-35) ضمن مجموع نحو [605] .
انظر الفهرس الشامل للتراث العربي والإسلامي المخطوط - الحديث الشريف وعلومه ورجاله، في مؤسسة آل البيت بالأردن 2 / 1066.
ومنها صورة بمكتبة الأستاذ الدكتور / سعدي الهاشمي حفظه الله والذي تفضّل بتصويرها لفضيلة الشيخ الدكتور / إبراهيم محمد نور سيف والذي تفضّل هو الآخر بإعطائها لي شكر الله سعيه.
وهي تقع في إحدى عشرة لوحة؛ إضافة إلى لوحة العنوان التي فيها سند النسخة، في ضمن مجموع؛ ورقم الورقة الأولى من هذا الجزء هو (29) ، والأخيرة رقمها في التسلسل (36) .
وقد كُتبت هذه النسخة بخط نسخ جيّد، وهي خالية من الأخطاء، وتوفّرت لها أسباب الوثوق حيث إنها حَظِيت بعناية ناسخها، وقوبلت على الأصل الذي نُقلت عنه، والذي يدل على أنها قوبلت كونها تتخلّلها الدوائر المنقوطة.
واستدرك الناسخ بهامشها خمس كلمات سقطت فألحقها وكتب بجوارها (صح) وكتب لها خرجة في موضعها بالإضافة إلى جملتين قصيرتين سقطتا فألحقهما في الهامش وكتب بجوارهما (صح) .
كما حَظِيتْ النسخة بكونها مُتداولة بين أهل العلم من المحدّثين وأثبتوا عليها سماعاتهم التي بلغت ثمانية سماعات.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাহকীক (সম্পাদনা ও গবেষণা)
প্রথমত: পাণ্ডুলিপিদ্বয়ের বিবরণ:মূল পাণ্ডুলিপি:
এই পাণ্ডুলিপির উৎস হলো বার্লিন ২৫৭ / ২ এবং এম ১৫৭৫ সি ১২৫ / ৪ - এবং [৬০৫] নং সংকলনের অন্তর্ভুক্ত (২৯-৩৫) পৃষ্ঠাসমূহ।
দেখুন: আল-ফিহরাস আল-শামিল লিত-তুরাসিল আরাবি ওয়াল ইসলামি আল-মাখতুত - আল-হাদিস আশ-শারিফ ওয়া উলুমিহি ওয়া রিজালিহি, মুআসসাসাতু আলিল বাইত, জর্ডান ২ / ১০৬৬।
এর একটি অনুলিপি প্রফেসর ডক্টর সাদী আল-হাশিমি (হাফিযাহুল্লাহ)-এর ব্যক্তিগত লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত আছে, যিনি অনুগ্রহপূর্বক এটি ফজিলতুশ শাইখ ডক্টর ইবরাহিম মুহাম্মদ নূর সাইফকে কপি করে দিয়েছিলেন এবং তিনি (ইবরাহিম মুহাম্মদ নূর সাইফ) দয়াবশত এটি আমাকে প্রদান করেছেন, আল্লাহ তাঁর প্রচেষ্টাকে কবুল করুন।
এটি এগারোটি পৃষ্ঠায় বিন্যস্ত; এর সাথে শিরোনাম সম্বলিত পৃষ্ঠাটি যুক্ত রয়েছে যাতে পাণ্ডুলিপিটির সনদ বর্ণিত হয়েছে। এটি একটি সংকলনের অন্তর্ভুক্ত; এই অংশের প্রথম পাতার নম্বর হলো (২৯) এবং ধারাবাহিকে শেষ পাতার নম্বর হলো (৩৬)।
এই পাণ্ডুলিপিটি উন্নত নাসখ লিপিতে লিখিত এবং এটি ভুলত্রুটি মুক্ত। এর নির্ভরযোগ্যতার পূর্ণ প্রমাণ বিদ্যমান, কারণ এটি প্রতিলিপিকারীর বিশেষ যত্ন লাভ করেছে এবং যে মূল উৎস থেকে এটি প্রতিলিপি করা হয়েছে তার সাথে এটি মিলিয়ে দেখা (মুকাবালা) হয়েছে। এটি মিলিয়ে দেখার প্রমাণ হলো এর বিভিন্ন স্থানে বিন্দুযুক্ত বৃত্তের উপস্থিতি।
প্রতিলিপিকারী মার্জিনে এমন পাঁচটি শব্দ সংশোধন করে যুক্ত করেছেন যা বাদ পড়ে গিয়েছিল এবং তার পাশে (সাহ/সঠিক) লিখে দিয়েছেন। এছাড়াও তিনি যথাস্থানে এর জন্য সংকেত প্রদান করেছেন। পাশাপাশি দুটি ছোট বাক্যও বাদ পড়ে গিয়েছিল, যা তিনি মার্জিনে যুক্ত করে পাশে (সাহ/সঠিক) লিখে দিয়েছেন।
পাণ্ডুলিপিটি মুহাদ্দিসগণের ন্যায় আলেমদের নিকট সমাদৃত হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে এবং তাঁরা এর ওপর তাঁদের শ্রবণলিপি (সামা‘আত) লিপিবদ্ধ করেছেন, যার সংখ্যা আটটি।
(খণ্ড: ১)
জুযউন ফীহি তুরুকু হাদীছি আবদুর রহমান ইবনু আবী লায়লা আন কা'ব ইবনে উজরাহ ফিস-সালাতি আলান নাবীয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ١٨٨)
وتبدأ النسخة بسياق إسناد راويها عن الشيخ الخطيب أبي محمد عبد المعطي ابن عبد الكريم بن أبي المكارم الأنصاري عن علي بن المفضل المقدسي عن أبي طاهر السلفي عن العسال إلى آخر الإسناد، وراويها عن أبي محمد عبد المعطي بن عبد الكريم هو أحمد بن محمد الظاهري وابنه عثمان المذكور على طرة النسخة.
وقد خلت النسخة من بيان تاريخ نسخها، أما ناسخها فهو أحمد بن محمد الظاهري نفسه وهو محدث معروف كان أحد شيوخ الإمام الذهبي، وقد نقل هذا الجزء من نسخة بخط موسى بن محمد بن موسى بن محمد الأنصاري الذي نقل سماع النسخة ملخصاً من خط سامعها الإمام المنذري، والذي كان سمعها بصحبة كل من أبي محمد عبد المعطي بن عبد الكريم ومحمد مرتضى بن عفيف ثلاثتهم عن المخرج الحافظ شرف الدين علي بن المفضل المقدسي، وكان تاريخ سماعهم منه لهذا الجزء سنة (605?) بقراءة الإمام المنذري رحمهم الله قبل وفاة المخرج الحافظ المذكور بست سنوات.
وقد جعلتُ هذه النسخة أصلاً لأنها أقدم من النسخة الثانية ويدلّ على ذلك سياق سند تلك النسخة الذي سأذكره عند وصفها.
ويلاحظ أنه مكتوب على طرة الجزء فوق عنوانه جملة (أنهاه قراءةً كاتِبُهُ محمد المظفري) والظاهر أن مقصودهُ كاتب هذه الجملة نفسها، والله أعلم.
أما النسخة الثانية:
فهي من مُصوّرات المكتبة الظاهرية بدمشق مذكورة في فهرس المكتبة العمرية التابعة للظاهرية برقم (52) انظر فهرس الظاهرية للألباني: 417 رقم 2024، وتقع في إحدى عشرة لوحة أيضاً؛ إضافة إلى لوحة العنوان، ضمن مجموع؛ ويبدأ ترقيم أوراق هذا الجزء فيه من (34) وينتهي في (41) ، وقد خلت هذه النسخة من الإلحاقات، ويوجد بها علامة - في موضع واحد - تدل على مقابلتها وهو في لوحة (36) وهي دائرة منقوطة، ولعل هذه العلامة لم
এই পাণ্ডুলিপিটি শুরু হয়েছে বর্ণনাকারীর সনদের প্রাসঙ্গিক বর্ণনার মাধ্যমে, যা তিনি শায়খ আল-খতিব আবু মুহাম্মদ আব্দুল মুতি ইবনে আব্দুল কারিম বিন আবিল মাকারিম আল-আনসারি থেকে, তিনি আলি বিন আল-মুফাদ্দাল আল-মাকদিসি থেকে, তিনি আবু তাহির আস-সিলাফি থেকে, তিনি আল-আসসাল থেকে—সনদের শেষ পর্যন্ত বর্ণনা করেছেন। আর আবু মুহাম্মদ আব্দুল মুতি বিন আব্দুল কারিম থেকে এর বর্ণনাকারী হলেন আহমদ বিন মুহাম্মদ আজ-জাহিরি এবং তার পুত্র উসমান, যার কথা পাণ্ডুলিপির প্রচ্ছদে উল্লিখিত রয়েছে।
পাণ্ডুলিপিটিতে এটি অনুলিপি করার তারিখের কোনো উল্লেখ নেই। তবে এর অনুলিপিকারক হলেন খোদ আহমদ বিন মুহাম্মদ আজ-জাহিরি, যিনি একজন প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস এবং ইমাম আজ-জাহাবির অন্যতম উস্তাদ ছিলেন। তিনি এই অংশটি মুসা বিন মুহাম্মদ বিন মুসা বিন মুহাম্মদ আল-আনসারির হস্তলিখিত একটি অনুলিপি থেকে নকল করেছেন, যিনি আবার পাণ্ডুলিপিটি শ্রবণের বিবরণ এর শ্রোতা ইমাম আল-মুনজিরির হস্তলিপি থেকে সংক্ষেপে উদ্ধৃত করেছিলেন। ইমাম আল-মুনজিরি এটি আবু মুহাম্মদ আব্দুল মুতি বিন আব্দুল কারিম এবং মুহাম্মদ মুরতাদা বিন আফিফ—এই তিনজনের সাথে একত্রে মুখাররিজ হাফেজ শরাফুদ্দিন আলি বিন আল-মুফাদ্দাল আল-মাকদিসি থেকে শ্রবণ করেছিলেন। তাদের এই অংশটি শ্রবণের তারিখ ছিল (৬০৫ হিজরি?) ইমাম আল-মুনজিরির পাঠের মাধ্যমে (আল্লাহ তাদের প্রতি রহম করুন), যা উল্লিখিত মুখাররিজ হাফেজের মৃত্যুর ছয় বছর আগের ঘটনা।
আমি এই পাণ্ডুলিপিটিকে মূল হিসেবে গ্রহণ করেছি, কারণ এটি দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপির চেয়ে প্রাচীনতর এবং দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপির সনদের প্রাসঙ্গিক বর্ণনাও এর প্রমাণ দেয়, যা আমি এর বর্ণনার সময় উল্লেখ করব।
লক্ষ্যণীয় যে, এই অংশের প্রচ্ছদে শিরোনামের উপরে একটি বাক্য লেখা রয়েছে: (এর লেখক মুহাম্মদ আল-মুজাফফারি পাঠের মাধ্যমে এটি সমাপ্ত করেছেন)। স্পষ্টত এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো এই বাক্যের লেখক নিজে, আল্লাহই ভালো জানেন।
দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপির ক্ষেত্রে:
এটি দামেস্কের জাহিরিয়া লাইব্রেরির অনুলিপিগুলোর অন্তর্ভুক্ত, যা জাহিরিয়ার অন্তর্ভুক্ত ওমরিয়া লাইব্রেরির ক্যাটালগে ৫২ নম্বরে উল্লিখিত (দ্রষ্টব্য: আলবানি কর্তৃক প্রণীত জাহিরিয়া লাইব্রেরির ক্যাটালগ: ৪১৭, নম্বর ২০২৪)। এটিও একটি সমষ্টির মধ্যে শিরোনামের পৃষ্ঠাটিসহ মোট ১১টি পৃষ্ঠায় অবস্থিত। এই অংশে পৃষ্ঠার ক্রমিক নম্বর ৩৪ থেকে শুরু হয়ে ৪১-এ শেষ হয়েছে। এই পাণ্ডুলিপিটি পরবর্তী কোনো সংযোজন থেকে মুক্ত। এতে একটি স্থানে একটি চিহ্ন রয়েছে যা মূলের সাথে মেলানোর প্রমাণ দেয় এবং তা ৩৬ নম্বর পৃষ্ঠায় অবস্থিত, যা একটি বিন্দাযুক্ত বৃত্ত। সম্ভবত এই চিহ্নটি...
(খণ্ড: ১)
জুযউন ফীহি তুরুকু হাদীছি আবদুর রহমান ইবনু আবী লায়লা আন কা'ব ইবনে উজরাহ ফিস-সালাতি আলান নাবীয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ١٨٩)
تتكرّر بسبب كون هذا الجزء صغيراً.
وعليها ثلاث سماعات في آخرها، بالإضافة إلى طلب إجازة لعدد من الأشخاص مُوجّه للميدومي بأن يجيز لهم ما يجوز له روايته، وكتب الميدومي إجازته تحت هذا الطلب، وهو راوي هذه النسخة عن جمال الدين أبي محمد عبد المعطي بن عبد الكريم، وهو صدر الدين أبو الفتح محمد بن محمد بن إبراهيم بن أبي القاسم الميدومي رحمه الله1، سمعها في الثاني والعشرين من شهر صفر سنة (753 هـ) بمسجد المغاربة ببيت المقدس، ولعلّ هذا هو السبب في كتابة كلمة (القدس) على طُرّة النسخة، وربما كانت قديماً ببيت المقدس والله أعلم.
وفيما يلي صور لنماذج من النسختين:
--------------------------------------------
এটি বারবার পুনরাবৃত্ত হয়েছে কারণ এই অংশটি ছোট।
এর শেষে তিনটি শ্রবণ-লিপি (সামাআত) রয়েছে; এর পাশাপাশি বেশ কিছু ব্যক্তির পক্ষ থেকে আল-মাইদুমির কাছে পেশকৃত একটি ইজাজতের (বর্ণনার অনুমতি) আবেদনও রয়েছে, যাতে তিনি তাঁর জন্য বর্ণনা করা বৈধ এমন বিষয়গুলোর ইজাজত তাদের প্রদান করেন। আল-মাইদুমি সেই আবেদনের নিচেই তাঁর ইজাজত লিখে দিয়েছিলেন। তিনি জামালুদ্দিন আবু মুহাম্মদ আব্দুল মুতি ইবনে আব্দুল কারিমের সূত্রে এই পাণ্ডুলিপিটির বর্ণনাকারী। তিনি হলেন সদরুদ্দিন আবুল ফাতহ মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম ইবনে আবিল কাসিম আল-মাইদুমি (রাহিমাহুল্লাহ) ১, তিনি ৭৫৩ হিজরি সালের ২২শে সফর বায়তুল মাকদিসের মাসজিদুল মাগারিবাতে এটি শ্রবণ করেন। সম্ভবত একারণেই পাণ্ডুলিপির প্রচ্ছদভাগে 'আল-কুদস' শব্দটি লেখা হয়েছে; আর সম্ভবত এটি প্রাচীনকালে বায়তুল মাকদিসে সংরক্ষিত ছিল, আল্লাহই ভালো জানেন।
নিচে উভয় পাণ্ডুলিপির নমুনার কিছু ছবি দেওয়া হলো:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুযউন ফীহি তুরুকু হাদীছি আবদুর রহমান ইবনু আবী লায়লা আন কা'ব ইবনে উজরাহ ফিস-সালাতি আলান নাবীয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ١٩٠)
لوحة العنوان من نسخة الأصل
মূল পাণ্ডুলিপির শিরোনাম পাতা
(খণ্ড: ১)
জুযউন ফীহি তুরুকু হাদীছি আবদুর রহমান ইবনু আবী লায়লা আন কা'ব ইবনে উজরাহ ফিস-সালাতি আলান নাবীয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ١٩١)
اللوحة الأولى من نسخة الأصل
মূল পাণ্ডুলিপির প্রথম ফলক