(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ লি-ইবনি মানদাহ - মাজাল্লাতুল জামিআতিল ইসলামিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
الرد على الجهمية لابن منده - مجلة الجامعة الإسلامية   (ابن منده محمد بن إسحاق)

القسم: العقيدة


الكتاب: من عقائد السلف (الرد على الجهمية)

المؤلف: أبو عبد الله محمد بن إسحاق بن محمد بن يحيى بن مَنْدَه العبدي (ت 395 هـ)

المحقق: علي بن محمد بن ناصر الفقيهي [ت 1446 هـ]

بحث: منشور في مجلة الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة، العام (13)، العدد (49)، 1401 هـ

عدد الصفحات: 34

[ترقيم الصفحات موافق للمجلة المطبوعة]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ইবনে মান্দাহর আল-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ - মদিনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সাময়িকী   (ইবনে মান্দাহ মুহাম্মদ বিন ইসহাক)

বিভাগ: আকীদা


গ্রন্থ: সালাফদের আকীদা থেকে (আল-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ)

লেখক: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইসহাক বিন মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া বিন মান্দাহ আল-আবদী (মৃত্যু ৩৯৫ হিজরি)

গবেষক: আলী বিন মুহাম্মদ বিন নাসির আল-ফাকীহী [মৃত্যু ১৪৪৬ হিজরি]

গবেষণা প্রবন্ধ: মদিনা মুনাওয়ারাহ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সাময়িকীতে প্রকাশিত, বর্ষ (১৩), সংখ্যা (৪৯), ১৪০১ হিজরি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৪

[পৃষ্ঠা নম্বরসমূহ মুদ্রিত সাময়িকীর অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ লি-ইবনি মানদাহ - মাজাল্লাতুল জামিআতিল ইসলামিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২১৩)
من عقائد السّلف (الرَّد على الْجَهْمِية)

للْإِمَام الْحَافِظ ابْن مَنْدَه 310-395هـ

تَحْقِيق وَتَعْلِيق الدكتور على بن مُحَمَّد بن جر الفقيهي الْأُسْتَاذ المساعد بكلية الدعْوَة وأصول الدّين

الْحلقَة الثَّانِيَة

‌‌بَاب ذكر قَول الله عز وجل {مَا مَنَعَكَ أَنْ تَسْجُدَ لِمَا خَلَقْتُ بِيَدَي} (ص75) .

ذكر مَا يسْتَدلّ بِهِ من كَلَام النَّبِي صلى الله عليه وسلم على أَن الله جلّ وَعز خلق آدم عليه السلام بيدين حَقِيقَة.

1- (38) أخبرنَا أَبُو الطَّاهِر أَحْمد بن عَمْرو الْمصْرِيّ، ثَنَا يُونُس بن عبد الْأَعْلَى ثَنَا عبد الله بن وهب، أَخْبرنِي هِشَام بن سعد، عَن زيد بن أسلم عَن أَبِيه أَن عمر بن الْخطاب رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم: " إِن مُوسَى عليه الصلاة والسلام قَالَ: يَا رب أَيْن أَبونَا الَّذِي أخرجنَا وَنَفسه من الْجنَّة؟ فَأرَاهُ الله آدم، فَقَالَ مُوسَى عليه السلام: أَنْت آدم فَقَالَ: نعم، قَالَ: فَمَا حملك على أَن أخرجتنا ونفسك من الْجنَّة؟ قَالَ: من أَنْت؟ قَالَ: أَنا مُوسَى قَالَ: أَنْت الَّذِي كلمك الله من وَرَاء حجاب وَلم يَجْعَل بَيْنك وَبَينه رَسُولا من خلقه، قَالَ: نعم، قَالَ: فَمَا وجدت فِي كتاب الله أَن ذَلِك كَائِن قبل أَن أخلق، قَالَ: نعم، قَالَ: فَفِيمَ تلومني فِي شَيْء سبق من الله جلّ وَعز فِيهِ الْقَضَاء قبلي، فَقَالَ: رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فحج آدم مُوسَى" 1.

--------------------------------------------

1 د/ فِي السّنة/ بَاب فِي الْقدر، 5/ 78 ح 4702 من طَرِيق أَحْمد بن صَالح قَالَ ثَنَا ابْن وهب بِهِ وَإِسْنَاده حسن.
সালাফদের আকিদাহ (জাহমিয়াদের খণ্ডন)

ইমাম হাফিয ইবনে মানদাহ (৩১০-৩৯৫ হিজরি)

তাহকিক ও তালীক: ডক্টর আলী বিন মুহাম্মদ বিন নাসির আল-ফাকিহি, দাওয়াহ ও উসুলুদ্দীন অনুষদের সহকারী অধ্যাপক

দ্বিতীয় কিস্তি

‌‌মহান আল্লাহর বাণী: {আমি যাকে আমার দুই হাতে সৃষ্টি করেছি, তার প্রতি সিজদাবনত হতে তোমাকে কিসে বাধা দিল?} (পৃষ্ঠা ৭৫) সংক্রান্ত অধ্যায়।

আদম আলাইহিস সালামকে মহান আল্লাহ প্রকৃতপক্ষে দুই হাত দ্বারা সৃষ্টি করেছেন - এ বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী থেকে যা দ্বারা দলিল পেশ করা হয় তার উল্লেখ।

১- (৩৮) আবু তাহের আহমদ ইবনে আমর আল-মিসরি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইউনুস ইবনে আব্দুল আলা আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আব্দুল্লাহ ইবনে ওয়াহাব আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, হিশাম ইবনে সাদ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন জায়েদ ইবনে আসলাম থেকে, তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "মূসা আলাইহিস সালাম বললেন: হে রব! আমাদের পিতা (আদম) কোথায়, যিনি আমাদের এবং নিজেকে জান্নাত থেকে বের করে দিয়েছেন? তখন আল্লাহ তাকে আদমকে দেখালেন। মূসা আলাইহিস সালাম বললেন: আপনি কি আদম? তিনি বললেন: হ্যাঁ। মূসা বললেন: কিসে আপনাকে প্ররোচিত করল যে আপনি আমাদেরকে এবং নিজেকে জান্নাত থেকে বের করে আনলেন? তিনি বললেন: আপনি কে? তিনি বললেন: আমি মূসা। আদম বললেন: আপনিই কি সেই ব্যক্তি যার সাথে আল্লাহ পর্দার আড়াল থেকে কথা বলেছেন এবং তাঁর ও আপনার মাঝে তাঁর সৃষ্টির মধ্য থেকে কোনো রাসূল (মাধ্যম) রাখেননি? তিনি বললেন: হ্যাঁ। আদম বললেন: তাহলে আপনি কি আল্লাহর কিতাবে পাননি যে, আমাকে সৃষ্টি করার পূর্বেই এটি নির্ধারিত ছিল? তিনি বললেন: হ্যাঁ। আদম বললেন: তবে আপনি আমাকে এমন একটি বিষয়ে কেন তিরস্কার করছেন যা আমার পূর্বে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে ফয়সালা হয়ে আছে? অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: এভাবে আদম মূসার ওপর তর্কে জয়ী হলেন।" ১।

--------------------------------------------

১. আবু দাউদ, আস-সুন্নাহ অধ্যায়, তাকদির পরিচ্ছেদ, ৫/৭৮, হাদীস নং ৪৭০২। আহমদ ইবনে সালেহ-এর সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন ইবনে ওয়াহাব। এর সনদ হাসান।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ লি-ইবনি মানদাহ - মাজাল্লাতুল জামিআতিল ইসলামিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২১৪)
2- (39) أخبرنَا أَحْمد بن عَمْرو، ثَنَا يُونُس بن عبد الْأَعْلَى، ثَنَا ابْن وهب، أنبا يُونُس1 عَن ابْن شهَاب عَن حميد بن عبد الرَّحْمَن بن وهب2 أَنه سمع أَبَا هُرَيْرَة حدث عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ:

"احْتج آدم ومُوسَى عِنْد ربهما، فحج آدم مُوسَى عَلَيْهِمَا الصَّلَاة وَالسَّلَام، فَقَالَ مُوسَى: أَنْت الَّذِي خلقك الله بِيَدِهِ وَنفخ فِيك من روحه، وأسجد لَك مَلَائكَته، وأسكنك فِي جنته، ثمَّ أهبطت النَّاس بخطيئتك الأَرْض، فَقَالَ آدم: أَنْت مُوسَى اصطفاك الله برسالته، وبكلامه، وأعطاك الألواح فِيهَا تبيان كل شَيْء وقربك نجيا، فبكم وجدت الله كتب التَّوْرَاة قبل أَن يخلقني. فَقَالَ مُوسَى بِأَرْبَعِينَ عَاما، قَالَ آدم: فَهَل وجدت فِيهَا {وَعَصَى آدَمُ رَبَّهُ فَغَوَى} (طه/121) قَالَ: نعم، قَالَ: فتلومني على أَن عملت عملا كتبه الله عليَّ أَن أعمله قبل أَن يخلقني بِأَرْبَعِينَ سنة، قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فحج آدم مُوسَى" 3.

3- (40) أخبرنَا أَبُو عَمْرو أَحْمد بن مُحَمَّد بن إِبْرَاهِيم مولى بني هَاشم، ثَنَا أَبُو أُميَّة الطرسوسي، ثَنَا أَبُو الْوَلِيد، ثَنَا عِكْرِمَة بن عمار، ثَنَا يحي ابْن أبي كثير، عَن أبي سَلمَة، حَدثنِي أَبُو هُرَيْرَة، أَنه سمع رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَقُول:

"تحاج آدم ومُوسَى فَقَالَ آدم لمُوسَى: أَنْت الَّذِي اصطفاك الله على خلقه وفضلك برسالته، ثمَّ صنعت الَّذِي صنعت، النَّفس الَّتِي قتلت، قَالَ مُوسَى لآدَم: فَأَنت آدم الَّذِي خلقك الله بِيَدِهِ، وأسجد لَك مَلَائكَته وأسكنك جنته ثمَّ فعلت الَّذِي فعلت لَوْلَا مَا فعلت دخلت ذريتك الْجنَّة، فَقَالَ آدم: تلومني فِي أَمر قد قدر عَليّ قبل أَن أخلق، قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم: حج آدم مُوسَى" 4.

4- (41) أخبرنَا مُحَمَّد بن الْحُسَيْن بن الْقطَّان بنيسابور، ثَنَا أَحْمد بن يُوسُف السّلمِيّ، ثَنَا النَّضر بن مُحَمَّد الجرشِي، ثَنَا عِكْرِمَة بن عمار، ثَنَا يحي بن أبي كثير، ثَنَا

--------------------------------------------

1 يُونُس - هُوَ ابْن يزِيد بن أبي النجاد الْأَيْلِي … ثِقَة إِلَّا أَن فِي رِوَايَته عَن الزُّهْرِيّ وهما قَلِيلا، وَفِي غير الزُّهْرِيّ خطأ، من كبار السَّابِعَة، مَاتَ سنة تسع وَخمسين على الصَّحِيح، روى عَن ابْن شهَاب، وَعنهُ ابْن وهب، تقريب 2/ 386. تَهْذِيب 11/ 45.

2 حميد بن عبد الرَّحْمَن بن عَوْف الزُّهْرِيّ الْمدنِي، ثِقَة، من الثَّانِيَة، مَاتَ سنة خمس وَمِائَة على الصَّحِيح، رُوِيَ عَن أبي هُرَيْرَة، وَعنهُ ابْن شهَاب. تقريب 1/ 203. تَهْذِيب 3/ 45.

3 إِسْنَاده حسن.

4 فِيهِ مُتَابعَة أبي سَلمَة لحميد بن عبد الرَّحْمَن عَن أبي هُرَيْرَة، وَقد جَاءَ فِيهِ تَقْدِيم قَول آدم على قَول مُوسَى، وَلَعَلَّ هَذَا من عِكْرِمَة بن عمار وَهُوَ الْعجلِيّ أَبُو عمار اليمامي، وَهُوَ صَدُوق يغلط، وَفِي رِوَايَته عَن يحيي بن أبي كثير اضْطِرَاب، انْظُر تَرْجَمته فِي تَهْذِيب التَّهْذِيب 7/ 261، وتقريب التَّهْذِيب 2/ 30.

وَأخرجه الْبَيْهَقِيّ فِي الْأَسْمَاء وَالصِّفَات ص 315.
২- (৩৯) আমাদের অবহিত করেছেন আহমদ বিন আমর, তিনি বলেন আমাদের বর্ণনা করেছেন ইউনুস বিন আবদুল আলা, তিনি বলেন আমাদের বর্ণনা করেছেন ইবনে ওয়াহাব, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইউনুস১ ইবনে শিহাব থেকে, তিনি হুমাইদ বিন আবদুর রহমান বিন ওয়াহাব২ থেকে, তিনি আবু হুরায়রাকে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করতে শুনেছেন, তিনি বলেছেন:

"আদম ও মূসা তাদের রবের কাছে বিতর্ক করলেন, তখন আদম মূসার ওপর তর্কে জয়ী হলেন। মূসা বললেন: আপনি সেই ব্যক্তি যাকে আল্লাহ তাঁর হাত দিয়ে সৃষ্টি করেছেন, আপনার মধ্যে তাঁর রূহ ফুঁকেছেন, ফেরেশতাদের আপনার প্রতি সিজদাহ করিয়েছেন এবং আপনাকে তাঁর জান্নাতে বসবাস করতে দিয়েছেন, অতঃপর আপনি আপনার ভুলের কারণে মানুষদের পৃথিবীতে নামিয়ে এনেছেন। আদম বললেন: আপনি মূসা, আল্লাহ আপনাকে তাঁর রিসালাত ও তাঁর কালামের মাধ্যমে মনোনীত করেছেন, আপনাকে ফলকসমূহ প্রদান করেছেন যাতে প্রতিটি বিষয়ের স্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে এবং কথোপকথনের জন্য আপনাকে নৈকট্য দান করেছেন। আপনি আল্লাহর তাওরাত লেখার কতকাল পর আমাকে সৃষ্টি করা হয়েছে বলে পেয়েছেন? মূসা বললেন: চল্লিশ বছর। আদম বললেন: আপনি কি সেখানে এটি পেয়েছেন যে, {আদম তার রবের অবাধ্য হলেন এবং লক্ষ্যভ্রষ্ট হলেন} (ত্বহা/১২১)? মূসা বললেন: হ্যাঁ। আদম বললেন: তবে কি আপনি আমাকে এমন একটি কাজ করার জন্য তিরস্কার করছেন যা আল্লাহ আমাকে সৃষ্টি করার চল্লিশ বছর আগেই আমার জন্য লিখে রেখেছিলেন? আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: এভাবে আদম মূসার ওপর তর্কে জয়ী হলেন।" ৩

৩- (৪০) আমাদের অবহিত করেছেন আবু আমর আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম, বনু হাশেমের মুক্ত দাস, তিনি বলেন আমাদের বর্ণনা করেছেন আবু উমাইয়া আল-তারসুসি, তিনি বলেন আমাদের বর্ণনা করেছেন আবু আল-ওয়ালিদ, তিনি বলেন আমাদের বর্ণনা করেছেন ইকরিমা বিন আম্মার, তিনি বলেন আমাদের বর্ণনা করেছেন ইয়াহিয়া বিন আবি কাসির, তিনি আবু সালামাহ থেকে, তিনি বলেন আমার কাছে বর্ণনা করেছেন আবু হুরায়রা, তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন:

"আদম ও মূসা পরস্পর বিতর্ক করলেন। আদম মূসাকে বললেন: আপনি সেই ব্যক্তি যাকে আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির ওপর মনোনীত করেছেন এবং তাঁর রিসালাতের মাধ্যমে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন, এরপর আপনি তা-ই করেছেন যা করেছেন, সেই প্রাণ যাকে আপনি হত্যা করেছিলেন। মূসা আদমকে বললেন: আপনি সেই আদম যাকে আল্লাহ তাঁর হাত দিয়ে সৃষ্টি করেছেন, ফেরেশতাদের আপনার প্রতি সিজদাহ করিয়েছেন এবং তাঁর জান্নাতে আপনাকে বসবাস করতে দিয়েছেন, এরপর আপনি তা-ই করেছেন যা করেছেন, আপনি যদি তা না করতেন তবে আপনার বংশধররা জান্নাতে প্রবেশ করত। আদম বললেন: আপনি আমাকে এমন এক বিষয়ে তিরস্কার করছেন যা আমার সৃষ্টির আগেই আমার জন্য নির্ধারিত ছিল। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: আদম মূসার ওপর তর্কে জয়ী হলেন।" ৪

৪- (৪১) আমাদের অবহিত করেছেন মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন বিন আল-কাত্তান নিশাপুরে, তিনি বলেন আমাদের বর্ণনা করেছেন আহমদ বিন ইউসুফ আল-সুলামি, তিনি বলেন আমাদের বর্ণনা করেছেন নাদর বিন মুহাম্মদ আল-জারাশি, তিনি বলেন আমাদের বর্ণনা করেছেন ইকরিমা বিন আম্মার, তিনি বলেন আমাদের বর্ণনা করেছেন ইয়াহিয়া বিন আবি কাসির, তিনি বর্ণনা করেছেন

--------------------------------------------

১ ইউনুস - তিনি হলেন ইউনুস বিন ইয়াজিদ বিন আবি আল-নাজাদ আল-আইলি … বিশ্বস্ত, তবে ইবনে শিহাব আল-জুহরি থেকে তাঁর বর্ণনায় সামান্য ভ্রম আছে এবং জুহরি ছাড়া অন্যদের থেকে বর্ণনায় ভুল আছে, তিনি সপ্তম স্তরের বড়দের অন্তর্ভুক্ত, সঠিক মতে ১৫৯ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ইবনে শিহাব থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর থেকে ইবনে ওয়াহাব বর্ণনা করেছেন। তাকরিব ২/৩৮৬। তাহজিব ১১/৪৫।

২ হুমাইদ বিন আবদুর রহমান বিন আউফ আল-জুহরি আল-মাদানি, বিশ্বস্ত, দ্বিতীয় স্তরের, সঠিক মতে ১০৫ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত এবং তাঁর থেকে ইবনে শিহাব বর্ণনা করেছেন। তাকরিব ১/২০৩। তাহজিব ৩/৪৫।

৩ এর সনদ হাসান।

৪ এতে আবু সালামাহর হুমাইদ বিন আবদুর রহমানের অনুসরণ পাওয়া যায় আবু হুরায়রা থেকে। এতে মূসার কথার আগে আদমের কথা এসেছে, সম্ভবত এটি ইকরিমা বিন আম্মারের পক্ষ থেকে হয়েছে, যিনি আল-ইজলি আবু আম্মার আল-ইয়ামামি; তিনি সত্যবাদী তবে ভুল করেন এবং ইয়াহিয়া বিন আবি কাসির থেকে তাঁর বর্ণনায় অস্থিরতা রয়েছে। তাঁর জীবনী দেখুন তাহজিব আল-তাহজিব ৭/২৬১ এবং তাকরিব আল-তাহজিব ২/৩০-এ।

আর বায়হাকি এটি আল-আসমা ওয়াস-সিফাত পৃষ্ঠা ৩১৫-তে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ লি-ইবনি মানদাহ - মাজাল্লাতুল জামিআতিল ইসলামিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২১৫)
أَبُو سَلمَة قَالَ عِكْرِمَة بن عمار وسمعته من عبد الله بن عُمَيْر اللَّيْثِيّ1، عَن أبي هُرَيْرَة قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم: "تحاج آدم ومُوسَى، فَقَالَ آدم: يَا مُوسَى أَنْت الَّذِي بَعثك الله برسالته، واصطفاك بِكَلَامِهِ على خلقه، ثمَّ فعلت كَذَا وَكَذَا، فَقَالَ مُوسَى: يَا آدم أَنْت آدم أَبُو النَّاس الَّذِي خلقك جلّ وَعز بِيَدِهِ، وأسجد لَك مَلَائكَته، وأسكنك جنته ثمَّ صنعت الَّذِي صنعت فلولا أَنْت لدخل ذريتك الْجنَّة، قَالَ آدم لمُوسَى: أتلومني على أَمر قدر عليَّ قبل أَن يخلقني، فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم: فحج آدم مُوسَى" 2.

5- (42) أخبرنَا أَبُو عَمْرو، ثَنَا أَبُو أُميَّة، ثَنَا حَامِد بن يحي3، عَن أَيُّوب ابْن النجار اليمامي4 ثَنَا يحي بن أبي كثير، عَن أبي سَلمَة عَن أبي هُرَيْرَة عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ: " (تحاج) آدم ومُوسَى عَلَيْهِمَا الصَّلَاة وَالسَّلَام، فَقَالَ مُوسَى: يَا آدم أَنْت أَبونَا خلقك الله بِيَدِهِ، وَنفخ فِيك من روحه، وأسجد لَك مَلَائكَته، خَيَّبْتَنَا وأخرجتنا من الْجنَّة، فَقَالَ آدم: أَنْت مُوسَى كلمك الله تكليما، وَخط لَك التَّوْرَاة بِيَدِهِ واصطفاك برسالته، فبكم وجدت فِي كتاب الله تَعَالَى {وَعَصَى آدَمُ رَبَّهُ فَغَوَى} قَالَ: بِأَرْبَعِينَ سنة، قَالَ: فتلومني على أَمر قدره الله عَليّ قبل أَن يَخْلُقَنِي بِأَرْبَعِينَ سنة، قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم: فحج آدم مُوسَى".

وَهَذِه الْأَحَادِيث صِحَاح ثَابِتَة لَا مدفع لَهَا، وَلِهَذَا الحَدِيث طرق عَن أبي هُرَيْرَة مِنْهَا أَبُو سَلمَة5 وَمُحَمّد بن سِيرِين 6 والأعرج، وَسَعِيد بن الْمسيب وَغَيرهم7.

--------------------------------------------

1 هُوَ عبد الله بن عبيد، بِالتَّصْغِيرِ بِغَيْر إِضَافَة ابْن عُمَيْر اللَّيْثِيّ الْمَكِّيّ، ثِقَة، من الثَّالِثَة اسْتشْهد غازيا سنة ثَلَاث عشرَة، م عَم. تقريب 1/431. روى عَنهُ عِكْرِمَة بن عمار، تَهْذِيب 5/308. تَهْذِيب الْكَمَال 5/355 مُصَور بالجامعة الإسلامية.

2 إِسْنَاده حسن، فقد صرح يحيي بن أبي كثير بِالتَّحْدِيثِ، ثمَّ إِن عِكْرِمَة بن عمار الَّذِي فِي رِوَايَته عَن يحيي بن أبي كثير اضْطِرَاب، قد رَوَاهُ عَن عبد الله بن عبيد الله بن عُمَيْر اللَّيْثِيّ غير أَن فِيهِ تَقْدِيم قَول آدم على قَول مُوسَى، وَهَذَا يُخَالف الرِّوَايَات الْأُخْرَى.

3 حَامِد بن يحيي بن هَانِئ الْبَلْخِي، ثِقَة حَافظ، من الْعَاشِرَة، مَاتَ سنة اثْنَتَيْنِ وَأَرْبَعين، رُوِيَ عَن أَيُّوب بن النجار، تَهْذِيب 2/169. تقريب 1/146.

4 أَيُّوب بن النجار بن زِيَاد الْحَنَفِيّ، أَبُو إِسْمَاعِيل قَاضِي الْيَمَامَة. ثِقَة مُدَلّس من الثَّامِنَة./ خَ م س. وَفِي التَّهْذِيب قَالَ ابْن أبي مَرْيَم، عَن ابْن معِين ثِقَة صَدُوق، وَكَانَ يَقُول: لم أسمع من يحيي بن أبي كثير إِلَّا حَدِيثا وَاحِدًا: التقى آدم ومُوسَى. قلت: وَهُوَ هَذَا الحَدِيث وَقد صرح فِيهِ بِالْحَدِيثِ، انْظُر تَهْذِيب 1/413. تقريب 1/91.

5 خَ/ فِي التَّفْسِير/ بَاب/ فَلَا يخرجنكما من الْجنَّة فتشقى. فتح الْبَارِي 8/434 ح 4838 من طَرِيق قُتَيْبَة، ثَنَا أَيُّوب بن النجار، عَن يحيي بن أبي كثير عَن أبي سَلمَة.

6 خَ/ التَّفْسِير/ بَاب/ واصطنعتك لنَفْسي، فتح الْبَارِي 8/434 ح 4836.

7 مِنْهُم أَبُو صَالح عَن أبي هُرَيْرَة. ت/ أَبْوَاب الْقدر، 6/336، ح 2217 تحفة الأحوذي.

وَالْبَيْهَقِيّ فِي الْأَسْمَاء وَالصِّفَات ص 316. من طَرِيق أبي الزِّنَاد وَهُوَ عبد الرَّحْمَن.
আবু সালামা বলেন, ইকরিমা ইবনে আম্মার বলেছেন এবং আমি আবদুল্লাহ ইবনে উমায়ের আল-লাইসি (১) থেকে শুনেছি, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আদম ও মুসা পরস্পর বিতর্ক করলেন। আদম বললেন: হে মুসা, আপনি সেই ব্যক্তি যাকে আল্লাহ তাঁর রিসালাত দিয়ে পাঠিয়েছেন এবং তাঁর কালামের মাধ্যমে সমস্ত সৃষ্টির ওপর আপনাকে মনোনীত করেছেন, তারপর আপনি এমন এমন কাজ করেছেন। মুসা বললেন: হে আদম, আপনি মানুষের পিতা আদম, যাঁকে আল্লাহ মহান ও পরাক্রমশালী স্বীয় হাত দিয়ে সৃষ্টি করেছেন, আপনার সামনে তাঁর ফেরেশতাদের সিজদা করিয়েছেন এবং আপনাকে তাঁর জান্নাতে বসবাস করতে দিয়েছেন। তারপর আপনি যা করার তা করলেন। আপনি না থাকলে আপনার সন্তানরা জান্নাতে প্রবেশ করত। আদম মুসাকে বললেন: আপনি কি আমাকে এমন এক বিষয়ের জন্য তিরস্কার করছেন যা আমার সৃষ্টির পূর্বেই আমার ওপর নির্ধারিত ছিল? রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: অতঃপর আদম মুসার ওপর তর্কে জয়ী হলেন।" (২)

৫- (৪২) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আমর, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু উমাইয়া, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হামিদ ইবনে ইয়াহইয়া (৩), আইয়ুব ইবনে আন-নাজ্জার আল-ইয়ামামি (৪) থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসির থেকে, তিনি আবু সালামা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে তিনি বলেছেন: "আদম ও মুসা (আলাইহিমাস সালাম) পরস্পর বিতর্ক করলেন। মুসা বললেন: হে আদম, আপনি আমাদের পিতা, আল্লাহ আপনাকে আল্লাহর হাত দিয়ে সৃষ্টি করেছেন, আপনার মধ্যে তাঁর পক্ষ থেকে রূহ ফুঁকে দিয়েছেন এবং ফেরেশতাদের দিয়ে আপনাকে সিজদা করিয়েছেন। আপনি আমাদের হতাশ করেছেন এবং জান্নাত থেকে বের করে দিয়েছেন। আদম বললেন: আপনি মুসা, আল্লাহ আপনার সাথে সরাসরি কথা বলেছেন এবং আল্লাহর হাত দিয়ে আপনার জন্য তাওরাত লিখেছেন এবং তাঁর রিসালাত দিয়ে আপনাকে মনোনীত করেছেন। আপনি আল্লাহর কিতাব তাআলায় কত বছর পূর্বে এটি লেখা পেয়েছেন যে {আদম তার রবের অবাধ্য হলো, ফলে সে পথভ্রষ্ট হলো}? তিনি বললেন: চল্লিশ বছর আগে। আদম বললেন: তাহলে আপনি কি আমাকে এমন একটি বিষয়ের ওপর তিরস্কার করছেন যা আল্লাহ আমার সৃষ্টির চল্লিশ বছর আগেই নির্ধারণ করে রেখেছেন? রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: অতঃপর আদম মুসার ওপর তর্কে জয়ী হলেন।"

এই হাদিসগুলো সহিহ ও সুপ্রমাণিত, যা অস্বীকার করার কোনো অবকাশ নেই। আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত এই হাদিসের আরও অনেক সূত্র রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে আবু সালামা (৫), মুহাম্মদ ইবনে সিরিন (৬), আল-আরাজ, সাঈদ ইবনে আল-মুসাইয়্যিব এবং অন্যান্যরা (৭)।

--------------------------------------------

১. তিনি হলেন আবদুল্লাহ ইবনে উবাইদ (তাসগির হিসেবে, ইবনে উমায়েরের সাথে সম্বন্ধযুক্ত না করে), আল-লাইসি আল-মাক্কি, নির্ভরযোগ্য, তৃতীয় স্তরের রাবি, ১৩ হিজরিতে যুদ্ধরত অবস্থায় শহীদ হন। ম, আম। তাকরিব ১/৪৩১। তাঁর থেকে ইকরিমা ইবনে আম্মার বর্ণনা করেছেন। তাহজিব ৫/৩০৮। তাহজিবুল কামাল ৫/৩৫৫, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ধারণকৃত অনুলিপি।

২. এর সনদ হাসান। ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসির শোনার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। আর ইকরিমা ইবনে আম্মার, যাঁর ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসির থেকে বর্ণনায় কিছু অস্থিরতা রয়েছে, তিনি এটি আবদুল্লাহ ইবনে উবাইদুল্লাহ ইবনে উমায়ের আল-লাইসি থেকে বর্ণনা করেছেন। তবে এতে মুসার কথার আগে আদমের কথা উল্লেখ রয়েছে, যা অন্যান্য বর্ণনার বিপরীত।

৩. হামিদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে হানি আল-বালখি, নির্ভরযোগ্য ও হাফেজ, দশম স্তরের রাবি, ২৪২ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। আইয়ুব ইবনে আন-নাজ্জার থেকে বর্ণিত। তাহজিব ২/১৬৯। তাকরিব ১/১৪৬।

৪. আইয়ুব ইবনে আন-নাজ্জার ইবনে জিয়াদ আল-হানাফি, আবু ইসমাইল, ইয়ামামার কাজী। নির্ভরযোগ্য, মুদাল্লিস, অষ্টম স্তরের রাবি। বুখারি, মুসলিম, নাসায়ি। তাহজিবে আছে, ইবনে আবি মারিয়াম ইবনে মাইন থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি নির্ভরযোগ্য ও সত্যবাদী। তিনি বলতেন: আমি ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসির থেকে কেবল একটি হাদিসই শুনেছি: 'আদম ও মুসার সাক্ষাৎ হলো'। আমি বলছি: এটি সেই হাদিস এবং এতে তিনি শোনার কথা স্পষ্টভাবে বলেছেন। দেখুন তাহজিব ১/৪১৩, তাকরিব ১/৯১।

৫. বুখারি, তাফসির অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: 'যাতে তিনি তোমাদের জান্নাত থেকে বের না করেন এবং তোমরা কষ্টে না পড়ো'। ফাতহুল বারি ৮/৪৩৪, হাদিস নং ৪৮৩৮; কুতাইবা থেকে বর্ণিত সূত্রে, আমাদের নিকট আইয়ুব ইবনে আন-নাজ্জার বর্ণনা করেছেন, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসির থেকে, তিনি আবু সালামা থেকে।

৬. বুখারি, তাফসির অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: 'এবং আমি তোমাকে আমার নিজের জন্য তৈরি করেছি'। ফাতহুল বারি ৮/৪৩৪, হাদিস নং ৪৮৩৬।

৭. তাদের মধ্যে রয়েছেন আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনাকারী আবু সালেহ। তিরমিজি, তাকদির অধ্যায়, ৬/৩৩৬, হাদিস নং ২২১৭, তুহফাতুল আহওয়াজি। এবং আল-বাইহাকি তাঁর 'আল-আসমা ওয়াস সিফাত' গ্রন্থে ৩১৬ পৃষ্ঠায় আবু যিনাদ (যিনি আবদুর রহমান) থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ লি-ইবনি মানদাহ - মাজাল্লাতুল জামিআতিল ইসলামিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২১৬)
‌‌(ذكر خبر آخر يدل على مَا تقدم)

6- (43) أخبرنَا مُحَمَّد بن عبد الله بن أَبى رَجَاء، ثَنَا مُوسَى بن هَارُون، ثَنَا قُتَيْبَة بن سعيد ح ثَنَا مُحَمَّد بن يَعْقُوب بنيسابور، ثَنَا مُحَمَّد بن نعيم، ثَنَا قُتَيْبَة، ثَنَا اللَّيْث بن سعد، عَن سعيد المَقْبُري، عَن سعيد بن يسَار، عَن أبي هُرَيْرَة عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ: "مَا تصدق أحد بِصَدقَة إِلَّا أَخذهَا الرَّحْمَن عز وجل بِيَمِينِهِ، فيربيها كَمَا يربى فُلُوَّه أَو فَصِيله". وَهَذَا خبر ثَابت بِاتِّفَاق1، وَله طرق عَن أبي هُرَيْرَة مِنْهَا أَبُو صَالح السمان2، وَأَبُو سعيد المَقْبُري وَغَيرهمَا.

--------------------------------------------

1 م/ كتاب الزَّكَاة بَاب قبُول الصَّدَقَة من الْكسْب الطّيب. 2/702 ح 63.

جه /كتاب الزَّكَاة / بَاب فضل الصَّدَقَة، 1/590 ح 1842.

الْمُوَطَّأ/ كتاب الصَّدَقَة/ بَاب التَّرْغِيب فِي الصَّدَقَة 1/615 طبعة الشّعب.

ابْن خُزَيْمَة/ فِي التَّوْحِيد ص 61.

2 خَ/ كتاب الزَّكَاة/ بَاب الصَّدَقَة من كسب طيب، فتح الْبَارِي 3/278 ح 1410.

حم/2/419.

وَالْبَيْهَقِيّ فِي الْأَسْمَاء وَالصِّفَات ص 328.
‌(পূর্বোক্ত বিষয়ের প্রমাণস্বরূপ অপর একটি বর্ণনার উল্লেখ)

৬- (৪৩) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আবি রাজা, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মুসা ইবনে হারুন, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন কুতাইবা ইবনে সাঈদ (এখানে সনদের সূত্র পরিবর্তন হয়েছে), আমাদের নিশাপুরে হাদীস শুনিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে নুয়াইম, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন কুতাইবা, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন লাইস ইবনে সাদ, তিনি সাঈদ আল-মাকবুরি থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে ইয়াসার থেকে, তিনি আবু হুরাইরা থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: "কেউ কোনো সদকা করলে পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত রহমান তা স্বীয় ডান হাত দিয়ে গ্রহণ করেন। অতঃপর তিনি তা লালন-পালন করে বৃদ্ধি করেন, যেভাবে তোমাদের কেউ তার ঘোড়ার বাচ্চা বা উটের বাচ্চাকে লালন-পালন করে।" এটি সর্বসম্মতভাবে একটি সাব্যস্ত বা প্রমাণিত বর্ণনা ১, এবং আবু হুরাইরা থেকে এর আরও একাধিক সূত্র রয়েছে, যার মধ্যে আবু সালেহ আস-সাম্মান ২ এবং আবু সাঈদ আল-মাকবুরি ও অন্যান্যরা রয়েছেন।

--------------------------------------------

১ মুসলিম/ যাকাত অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: পবিত্র উপার্জন থেকে সদকা কবুল হওয়া, ২/৭০২ হাদীস নং ৬৩।

ইবনে মাজাহ/ যাকাত অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: সদকার ফজিলত, ১/৫৯০ হাদীস নং ১৮৪২।

আল-মুয়াত্তা/ সদকা অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: সদকার প্রতি উৎসাহ প্রদান, ১/৬১৫ আশ-শাব সংস্করণ।

ইবনে খুজাইমা/ কিতাবুত তাওহীদ, পৃষ্ঠা ৬১।

২ বুখারী/ যাকাত অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: পবিত্র উপার্জন থেকে সদকা, ফাতহুল বারী ৩/২৭৮ হাদীস নং ১৪১০।

আহমদ ২/৪১৯।

এবং আল-বায়হাকী আল-আসমা ওয়াস-সিফাত গ্রন্থে, পৃষ্ঠা ৩২৮।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ লি-ইবনি মানদাহ - মাজাল্লাতুল জামিআতিল ইসলামিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২১৬)
‌‌ذكر خبر آخر يدل على مَا تقدم

…

(ذكر خبر يدل على مَا تقدم)

7- (44) أخبرنَا الْحسن بن مُحَمَّد بن النَّضر، ثَنَا إِسْمَاعِيل بن يزِيد، ثَنَا سُفْيَان بن عُيَيْنَة، عَن عَمْرو بن دِينَار الْمَكِّيّ، عَن عَمْرو بن أَوْس، عَن عبد الله بن عَمْرو يبلغ بِهِ النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ: "إِن المقسطين عِنْد الله يَوْم الْقِيَامَة على مَنَابِر من نور عَن الْيَمين الرَّحْمَن عز وجل وكلتا يَدَيْهِ يَمِين، هم الَّذين يعدلُونَ فِي حكمهم، وأهليهم وَمَا وُلُّوا" 3 وَهَذَا حَدِيث ثَابت بِاتِّفَاق.

--------------------------------------------

3 م/ كتاب الْإِمَارَة/ بَاب فَضِيلَة الإِمَام الْعَادِل....، 3/1458 ح 18، من طَرِيق أبي بكر بن أبي شيبَة، وَزُهَيْر بن حَرْب، وَابْن نمير قَالُوا: ثَنَا سُفْيَان بن عُيَيْنَة بِهِ.

حم/ 2/160، 203.

ن/ كتاب آدَاب الْقُضَاة/ فضل الْحَاكِم الْعَادِل فِي حكمه 8/195.

والآجري فِي الشَّرِيعَة ص 322.

وَالْبَيْهَقِيّ فِي الْأَسْمَاء وَالصِّفَات ص 324.
পূর্ববর্তী আলোচনার প্রমাণ বহনকারী অপর একটি সংবাদের বর্ণনা

…

(পূর্ববর্তী বিষয়ের প্রমাণস্বরূপ একটি সংবাদের বর্ণনা)

৭- (৪৪) আল-হাসান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আন-নাদর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইসমাইল ইবনে ইয়াজিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান ইবনে উয়াইনাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমর ইবনে দিনার আল-মাক্কী থেকে, তিনি আমর ইবনে আওস থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আমর থেকে বর্ণনা করেন, যা তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছেন (অর্থাৎ মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন), তিনি বলেছেন: "নিশ্চয়ই ন্যায়নিষ্ঠ ব্যক্তিগণ কিয়ামতের দিন আল্লাহর নিকট নূরের মিম্বরসমূহের উপর দয়াময় (আর-রহমান) মহান আল্লাহর ডানে অবস্থান করবেন এবং তাঁর উভয় হাতই ডান; তাঁরা হলেন সেইসব ব্যক্তি যারা তাদের বিচারে, তাদের পরিবার-পরিজনের ক্ষেত্রে এবং তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে ন্যায়বিচার করেন।" ৩ এবং এটি সর্বসম্মতিক্রমে একটি সুসাব্যস্ত হাদিস।

--------------------------------------------

৩ মুসলিম/ কিতাবুল ইমারাহ (নেতৃত্ব অধ্যায়)/ অনুচ্ছেদ: ন্যায়পরায়ণ শাসকের শ্রেষ্ঠত্ব..., ৩/১৪৫৮, হাদিস নং ১৮; আবু বকর ইবনে আবি শায়বাহ, যুহাইর ইবনে হারব এবং ইবনু নুমাইর-এর সূত্র থেকে, তাঁরা বলেন: সুফিয়ান ইবনে উয়াইনাহ আমাদের নিকট এটি বর্ণনা করেছেন।

আহমাদ/ ২/১৬০, ২০৩।

নাসায়ী/ কিতাব আদাবিল কুদাত (বিচারকদের শিষ্টাচার অধ্যায়)/ অনুচ্ছেদ: বিচারে ন্যায়পরায়ণ বিচারকের মর্যাদা ৮/১৯৫।

এবং আল-আজুররী, আশ-শারীআহ গ্রন্থে, পৃষ্ঠা ৩২২।

এবং আল-বায়হাকী, আল-আসমা ওয়াস সিফাত গ্রন্থে, পৃষ্ঠা ৩২৪।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ লি-ইবনি মানদাহ - মাজাল্লাতুল জামিআতিল ইসলামিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২১৭)
بَاب: فِي ذكر مَا ثَبت عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم مِمَّا يدل على معنى قَول الله جلّ وَعز {وَقَالَتِ الْيَهُودُ يَدُ اللَّهِ مَغْلُولَةٌ غُلَّتْ أَيْدِيهِمْ وَلُعِنُوا بِمَا قَالُوا بَلْ يَدَاهُ مَبْسُوطَتَانِ يُنْفِقُ كَيْفَ يَشَاءُ} (الْمَائِدَة/64) .

1- (45) أخبرنَا مُحَمَّد بن سعيد بن إِسْحَاق، ثَنَا عَمْرو بن سعيد الْجمال، ثَنَا أَبُو دَاوُد الطَّيَالِسِيّ ح/ وَأخْبرنَا عبد بن يحي بن مَنْدَه، ثَنَا إِسْمَاعِيل بن عبد الله بن مَسْعُود، ثَنَا أَبُو الْوَلِيد، ثَنَا شُعْبَة، عَن عَمْرو بن مرّة، سَمِعت أَبَا عُبَيْدَة يحدث عَن أبي مُوسَى الْأَشْعَرِيّ عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم: " إِن الله يبسط يَده بِالنَّهَارِ ليتوب مسيء اللَّيْل، حَتَّى تطلع الشَّمْس من مغْرِبهَا" 1.

2- (46) أخبرنَا مُحَمَّد بن عبد الله بن أبي رَجَاء بِمَكَّة ثَنَا مُوسَى بن هَارُون، ثَنَا مُحَمَّد بن الصَّباح، ثَنَا عبد الْعَزِيز بن أبي حَازِم، حَدَّثَنى أبي، عَن عُبَيْدَة الله بن مقسم، عَن عبد الله بن عمر أَنه قَالَ: سَمِعت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَقُول على الْمِنْبَر: " يَأْخُذ الْجَبَّار سماواته وأرضه بِيَدِهِ وَقبض يَده فَجعل يقبضهَا ويبسطها، ثمَّ يَقُول: أَنا الْجَبَّار أَنا الْملك أَيْن الجبارون أَيْن المتكبرون" 2. وَهَذَا حَدِيث ثَابت بِاتِّفَاق.

3- (47) أخبرنَا عبد الرَّحْمَن بن يحي بن مَنْدَه، وَعبد الله بن إِبْرَاهِيم الْمقري، قَالَا: ثَنَا أَبُو مَسْعُود أَحْمد بن الْفُرَات أنبا على ابْن إِسْحَاق ثَنَا ابْن الْمُبَارك، ثَنَا يُونُس، عَن الزُّهْرِيّ، عَن سعيد بن الْمسيب، عَن أبي هُرَيْرَة قَالَ: قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم: " يقبض الله الأَرْض يَوْم الْقِيَامَة ويطوي السَّمَاء بِيَمِينِهِ، وَيَقُول: أَنا الْملك أَيْن مُلُوك الأَرْض" 3.

4- (48) أخبرنَا عبد الله بن إِبْرَاهِيم، ثَنَا أَبُو مَسْعُود الرَّازِيّ، ثَنَا عَليّ بن إِسْحَاق

--------------------------------------------

1 م/ كتاب التَّوْبَة/ بَاب قبُول التَّوْبَة … ، 4/2113 من طَرِيق مُحَمَّد بن الْمثنى، ثَنَا مُحَمَّد بن جَعْفَر، ثَنَا شُعْبَة بِهِ، وَفِيه: إِن الله عز وجل يبسط يَدَيْهِ بِاللَّيْلِ ليتوب مسيء النَّهَار.

حم/ 4/395-404، كَرِوَايَة مُسلم.

2 م/ كتاب صِفَات الْمُنَافِقين، 4/2149 ح 25، من طَرِيق سعيد بن مَنْصُور، ثَنَا يَعْقُوب بن عبد الرَّحْمَن، ثنى أَبُو حَازِم بِهِ.

جه/ مُقَدّمَة/ بَاب فِيمَا أنْكرت الْجَهْمِية، 1/71 ح 198. وَفِي الزّهْد/ بَاب ذكر الْبَعْث 2/1429 ح 4275.

3 خَ/ فِي التَّفْسِير/ بَاب وَالْأَرْض جَمِيعًا قَبضته يَوْم الْقِيَامَة … فتح الْبَارِي 8/551 ح 4812 من طَرِيق.... ابْن شهَاب بِهِ.

وَفِي التَّوْحِيد/ بَاب قَول الله تَعَالَى {مَلِكِ النَّاسِ} فتح الْبَارِي 13/367 ح 738 من طَرِيق.... سعيد بن الْمسيب بِهِ.

جه/ الْمُقدمَة/ بَاب فِيمَا أنْكرت الْجَهْمِية، 1/68 ح 192 من طَرِيق يُونُس بِهِ.

وَالْبَيْهَقِيّ فِي الْأَسْمَاء وَالصِّفَات ص 323.
পরিচ্ছেদ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা প্রমাণিত হয়েছে এবং যা মহান আল্লাহর এই বাণীর অর্থের ওপর প্রমাণ বহন করে: "আর ইয়াহূদীরা বলে: আল্লাহর হাত রুদ্ধ, তাদের হাতই রুদ্ধ হয়েছে এবং তাদের এই কথার কারণে তাদের ওপর লানত করা হয়েছে। বরং তাঁর উভয় হাত প্রসারিত, তিনি যেভাবে ইচ্ছা ব্যয় করেন।" (সূরা আল-মায়িদাহ: ৬৪)।

১- (৪৫) মুহাম্মদ ইবনে সাঈদ ইবনে ইসহাক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আমর ইবনে সাঈদ আল-জাম্মাল আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, আবু দাউদ আত-তায়ালিসি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন (হ); এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে মানদাহ, ইসমাঈল ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, আবু আল-ওয়ালিদ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, শু’বাহ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আমর ইবনে মুররাহ থেকে, তিনি বলেন: আমি আবু উবাইদাহকে আবু মুসা আল-আশআরি থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ দিনে তাঁর হাত প্রসারিত করেন যাতে রাতের অপরাধী তওবা করে, যতক্ষণ না পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উদিত হয়।" ১।

২- (৪৬) মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আবি রাজা মক্কায় আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুসা ইবনে হারুন আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, মুহাম্মদ ইবনে সাব্বাহ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, আবদুল আজিজ ইবনে আবি হাযিম আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, আমার পিতা আমার কাছে বর্ণনা করেছেন উবাইদুল্লাহ ইবনে মিকসাম থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মিম্বারের ওপর বলতে শুনেছি: "প্রবল পরাক্রমশালী তাঁর আসমানসমূহ ও তাঁর জমিনকে তাঁর হাতে গ্রহণ করবেন এবং তাঁর হাত মুষ্টিবদ্ধ করবেন, এরপর তিনি তা মুষ্টিবদ্ধ করতে ও প্রসারিত করতে থাকবেন, অতঃপর বলবেন: আমিই প্রবল পরাক্রমশালী, আমিই রাজাধিরাজ, কোথায় স্বৈরশাসকরা? কোথায় অহংকারীরা?" ২। এবং এই হাদিসটি সর্বসম্মতিক্রমে প্রমাণিত।

৩- (৪৭) আবদুর রহমান ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে মানদাহ এবং আবদুল্লাহ ইবনে ইব্রাহিম আল-মুকরি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তাঁরা বলেন: আবু মাসউদ আহমদ ইবনে আল-ফুরাত আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, আলী ইবনে ইসহাক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইবনুল মুবারক আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, ইউনুস আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন যুহরি থেকে, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "কেয়ামতের দিন আল্লাহ জমিনকে মুষ্টিবদ্ধ করবেন এবং আসমানকে তাঁর ডান হাত দিয়ে গুটিয়ে নেবেন, এরপর বলবেন: আমিই রাজাধিরাজ, কোথায় জমিনের রাজন্যবর্গ?" ৩।

৪- (৪৮) আবদুল্লাহ ইবনে ইব্রাহিম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু মাসউদ আর-রাজি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, আলী ইবনে ইসহাক আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন...

--------------------------------------------

১ মুসলিম/ তওবা অধ্যায়/ তওবা কবুল হওয়া পরিচ্ছেদ..., ৪/২১১৩, মুহাম্মদ ইবনুল মুসান্না সূত্রে, মুহাম্মদ ইবনে জাফর আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, শু’বাহ এটি বর্ণনা করেছেন, এবং তাতে আছে: নিশ্চয়ই আল্লাহ মহান ও পরাক্রমশালী রাতে তাঁর উভয় হাত প্রসারিত করেন যাতে দিনের অপরাধী তওবা করে। আহমদ ৪/৩৯৫-৪০৪, মুসলিমের বর্ণনার মতো।

২ মুসলিম/ মুনাফিকদের বৈশিষ্ট্য অধ্যায়, ৪/২১৪৯ হাদিস ২৫, সাঈদ ইবনে মানসুর সূত্রে, ইয়াকুব ইবনে আবদুর রহমান আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, আবু হাযিম এটি বর্ণনা করেছেন। ইবনে মাজাহ/ ভূমিকা/ জাহমিয়ারা যা অস্বীকার করেছে সেই পরিচ্ছেদ, ১/৭১ হাদিস ১৯৮। এবং যুহদ অধ্যায়/ পুনরুত্থানের বর্ণনা পরিচ্ছেদ ২/১৪২৯ হাদিস ৪২৭৫।

৩ বুখারি/ তাফসির অধ্যায়/ 'কিয়ামতের দিন সমগ্র জমিন থাকবে তাঁর হাতের মুঠোয়' পরিচ্ছেদ... ফাতহুল বারি ৮/৫৫১ হাদিস ৪৮১২, ইবনে শিহাব সূত্রে। এবং তাওহিদ অধ্যায়/ আল্লাহর বাণী 'মানুষের মালিক' পরিচ্ছেদ, ফাতহুল বারি ১৩/৩৬৭ হাদিস ৭৩৮, সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব সূত্রে। ইবনে মাজাহ/ ভূমিকা/ জাহমিয়ারা যা অস্বীকার করেছে সেই পরিচ্ছেদ, ১/৬৮ হাদিস ১৯২, ইউনুস সূত্রে। এবং বায়হাকি 'আল-আসমা ওয়াস-সিফাত' গ্রন্থে, পৃষ্ঠা ৩২৩।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ লি-ইবনি মানদাহ - মাজাল্লাতুল জামিআতিল ইসলামিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২১৮)
عَن ابْن مبارك، عَن عنْبسَة، عَن حبيب بن أبي عمْرَة، عَن مُجَاهِد، عَن ابْن عَبَّاس، عَن عَائِشَة قَالَت: سَأَلت النَّبِي صلى الله عليه وسلم عَن قَوْله جلّ وَعز {وَالأَرْضُ جَمِيعاً قَبْضَتُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ} (الزمر/67) ، أَيْن النَّاس؟ قَالَ: "على الصِّرَاط"1.

--------------------------------------------

2 جه/ فِي الْمُقدمَة/ بَاب فِيمَا أنْكرت الْجَهْمِية، 1/71 ح 197.... عَن أبي الزِّنَاد بِهِ.

وَالْبَيْهَقِيّ فِي الْأَسْمَاء وَالصِّفَات ص 328.

3 خَ/ الزَّكَاة/ بَاب الصَّدَقَة من كسب طيب/ فتح الْبَارِي 3/278 ح 1410 من طَرِيق عبد الله بن مُنِير … عَن أبي هُرَيْرَة، وَلَفظه، فَإِن الله يتقبلها بِيَمِينِهِ.

وَفِي التَّوْحِيد/ بَاب قَوْله تَعَالَى {تَعْرُجُ الْمَلائِكَةُ وَالرُّوحُ إِلَيْهِ} ، فتح الْبَارِي 13/415 ح 7430 عَن طَرِيق خَالِد ين مخلد.. عَن أبي هُرَيْرَة، وَسَعِيد بن يسَار عَن أبي هُرَيْرَة.

م/ فِي الزَّكَاة/ بَاب قبُول الصَّدَقَة من الْكسْب الطّيب وتربيتها، 2/702 ح 63 من طَرِيق قُتَيْبَة بن سعيد بِهِ.

حم/ 2/331، 418، 431، 538، 541.

ت/ الزَّكَاة/ بَاب مَا جَاءَ فِي فضل الصَّدَقَة، تحفة الأحوذي 3/327 ح 656.

الدَّارمِيّ/ الزَّكَاة/ بَاب فضل الصَّدَقَة، 1/333 ح 1682. تَحْقِيق السَّيِّد عبد الله هَاشم طبعة 1386 هـ.

الْمُوَطَّأ/ الصَّدَقَة/ بَاب التَّرْغِيب فِي الصَّدَقَة ص 615 طبعة الشّعب.

جه/ الزَّكَاة/ بَاب فضل الصَّدَقَة 1/590 ح 1842.

وَالدَّارَقُطْنِيّ، فِي الصِّفَات، ورقة 4/ب خَ بالجامعة الإسلامية.
ইবনে মুবারক থেকে বর্ণিত, তিনি আমবাসাহ থেকে, তিনি হাবিব ইবনে আবি আমরাহ থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে এবং তিনি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে মহান আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম— "কিয়ামতের দিন সমগ্র পৃথিবী তাঁর হাতের মুষ্ঠিতে থাকবে" (যুমার/৬৭), তখন মানুষ কোথায় থাকবে? তিনি বললেন: "সিরাতের উপর।"১।

--------------------------------------------

২ ইবনে মাজাহ/ মুকাদ্দিমা/ জাহমিয়্যাহরা যা অস্বীকার করেছে সেই বিষয়ক অধ্যায়, ১/৭১ হাদিস ১৯৭.... আবু জিনাদ থেকে এর অনুরূপ বর্ণিত।

এবং আল-বায়হাকি 'আল-আসমা ওয়াস-সিফাত' গ্রন্থে, পৃষ্ঠা ৩২৮।

৩ বুখারি/ জাকাত/ পবিত্র উপার্জন থেকে সদকা প্রদান বিষয়ক অধ্যায়/ ফাতহুল বারি ৩/২৭৮ হাদিস ১৪১০, আবদুল্লাহ ইবনে মুনির-এর সূত্রে … আবু হুরাইরা থেকে বর্ণিত, আর এর শব্দাবলি হলো: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তা তাঁর ডান হাত দিয়ে গ্রহণ করেন।"

এবং আত-তাওহিদ/ আল্লাহর বাণী "ফেরেশতাগণ এবং রূহ তাঁর দিকে আরোহণ করে" বিষয়ক অধ্যায়, ফাতহুল বারি ১৩/৪১৫ হাদিস ৭৪৩০, খালিদ ইবনে মাখলাদ-এর সূত্রে.. আবু হুরাইরা থেকে এবং সাঈদ ইবনে ইয়াসার আবু হুরাইরা থেকে বর্ণনা করেছেন।

মুসলিম/ জাকাত/ পবিত্র উপার্জনের সদকা কবুল হওয়া ও তা বৃদ্ধি পাওয়া বিষয়ক অধ্যায়, ২/৭০২ হাদিস ৬৩, কুতাইবা ইবনে সাঈদ-এর সূত্রে এর অনুরূপ।

আহমাদ/ ২/৩৩১, ৪১৮, ৪৩১, ৫৩৮, ৫৪১।

তিরমিজি/ জাকাত/ সদকার ফজিলত বিষয়ক অধ্যায়, তুহফাতুল আহওয়াযি ৩/৩২৭ হাদিস ৬৫৬।

আদ-দারিমি/ জাকাত/ সদকার ফজিলত বিষয়ক অধ্যায়, ১/৩৩৩ হাদিস ১৬৮২। সাইয়িদ আবদুল্লাহ হাশেমের তাহকিক, ১৩৮৬ হিজরি মুদ্রণ।

আল-মুয়াত্তা/ সদকা/ সদকার প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ বিষয়ক অধ্যায়, পৃষ্ঠা ৬১৫, আশ-শা'ব মুদ্রণ।

ইবনে মাজাহ/ জাকাত/ সদকার ফজিলত বিষয়ক অধ্যায়, ১/৫৯০ হাদিস ১৮৪২।

এবং আদ-দারাকুতনি, 'আস-সিফাত' গ্রন্থে, ৪/বি পৃষ্ঠা, ইসলামিক ইউনিভার্সিটির পাণ্ডুলিপি।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ লি-ইবনি মানদাহ - মাজাল্লাতুল জামিআতিল ইসলামিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২১৮)
‌‌(ذكر خبر آخر يدل على مَا تقدم من ذكر الْيَد)

5- (49) أخبرنَا أَبُو عَمْرو بني هَاشم، ثَنَا أَبُو حَاتِم الرَّازِيّ، ثَنَا أَبُو الْيَمَان، ثَنَا شُعَيْب، ثَنَا أَبُو الزِّنَاد، عَن الْأَعْرَج، عَن أبي هُرَيْرَة، أَن رَسُول الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ:

"يَد الله مَلأى لَا ينقصها نَفَقَة، سحاء اللَّيْل وَالنَّهَار، وَقَالَ: أَرَأَيْتُم مَا أنْفق مُنْذُ خلق السَّمَوَات وَالْأَرْض فَإِنَّهُ لم ينقص مِمَّا فِي يَده، وَكَانَ عَرْشه على المَاء وَبِيَدِهِ الْمِيزَان، يخْفض وَيرْفَع" 2.

--------------------------------------------

2 جه/ فِي الْمُقدمَة/ بَاب فِيمَا أنْكرت الْجَهْمِية، 1/71 ح 197.... عَن أبي الزِّنَاد بِهِ.

وَالْبَيْهَقِيّ فِي الْأَسْمَاء وَالصِّفَات ص 328.
‌(আল্লাহর হাতের বর্ণনার বিষয়ে পূর্বে যা অতিক্রান্ত হয়েছে, তার সপক্ষে অন্য একটি বর্ণনার উল্লেখ)

৫- (৪৯) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আমর বিন হাশিম, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু হাতিম আর-রাযী, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু আল-ইয়ামান, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন শুআইব, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু আয-যিনাদ, তিনি আল-আ'রাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:

"আল্লাহর হাত পূর্ণ, দান-খয়রাত তা থেকে কিছুই কমাতে পারে না, রাত-দিন তা অবিরাম বর্ষণশীল। তিনি আরও বলেন: তোমরা কি দেখেছ আসমান ও যমীন সৃষ্টির পর থেকে তিনি যা ব্যয় করেছেন? নিশ্চয় তা তাঁর হাতে যা আছে তাতে বিন্দুমাত্র ঘাটতি সৃষ্টি করেনি। আর তাঁর আরশ ছিল পানির উপরে এবং তাঁর হাতেই রয়েছে পাল্লা, তিনি তা অবনমিত করেন ও উন্নীত করেন।"

--------------------------------------------

২. ইবনে মাজাহ/ মুকাদ্দিমা/ পরিচ্ছেদ: জাহমিয়্যারা যা অস্বীকার করেছে, ১/৭১, হাদীস ১৯৭... আবু আয-যিনাদ-এর সূত্রে।

এবং বায়হাকী, আল-আসমা ওয়াস-সিফাত, পৃষ্ঠা ৩২৮।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ লি-ইবনি মানদাহ - মাজাল্লাতুল জামিআতিল ইসলামিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২১৮)
‌‌(ذكر قَول النَّبِي صلى الله عليه وسلم: إِن الصَّدَقَة تربو فِي كف الرَّحْمَن عز وجل .

6- (50) أخبرنَا مُحَمَّد بن يَعْقُوب بن يُوسُف الأخرم بنيسابور، ثَنَا مُحَمَّد بن نعيم، ثَنَا ابْن قُتَيْبَة، ح وثنا مُحَمَّد بن عبد الله بن أبي رَجَاء، ثَنَا مُوسَى بن هَارُون، ثَنَا قُتَيْبَة، ثَنَا اللَّيْث، عَن سعيد بن أبي سعيد بن يسَار، سمع أَبَا هُرَيْرَة يَقُول: قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم: "إِن الصَّدَقَة تربو فِي كف الرَّحْمَن حَتَّى تكون أعظم من الْجَبَل، كَمَا يُربي أحدكُم فلوه أَو فَصِيله" هَذَا حَدِيث ثَابت بِاتِّفَاق3.

--------------------------------------------

3 خَ/ الزَّكَاة/ بَاب الصَّدَقَة من كسب طيب/ فتح الْبَارِي 3/278 ح 1410 من طَرِيق عبد الله بن مُنِير … عَن أبي هُرَيْرَة، وَلَفظه، فَإِن الله يتقبلها بِيَمِينِهِ.

وَفِي التَّوْحِيد/ بَاب قَوْله تَعَالَى {تَعْرُجُ الْمَلائِكَةُ وَالرُّوحُ إِلَيْهِ} ، فتح الْبَارِي 13/415 ح 7430 عَن طَرِيق خَالِد ين مخلد.. عَن أبي هُرَيْرَة، وَسَعِيد بن يسَار عَن أبي هُرَيْرَة.

م/ فِي الزَّكَاة/ بَاب قبُول الصَّدَقَة من الْكسْب الطّيب وتربيتها، 2/702 ح 63 من طَرِيق قُتَيْبَة بن سعيد بِهِ.

حم/ 2/331، 418، 431، 538، 541.

ت/ الزَّكَاة/ بَاب مَا جَاءَ فِي فضل الصَّدَقَة، تحفة الأحوذي 3/327 ح 656.

الدَّارمِيّ/ الزَّكَاة/ بَاب فضل الصَّدَقَة، 1/333 ح 1682. تَحْقِيق السَّيِّد عبد الله هَاشم طبعة 1386 هـ.

الْمُوَطَّأ/ الصَّدَقَة/ بَاب التَّرْغِيب فِي الصَّدَقَة ص 615 طبعة الشّعب.

جه/ الزَّكَاة/ بَاب فضل الصَّدَقَة 1/590 ح 1842.

وَالدَّارَقُطْنِيّ، فِي الصِّفَات، ورقة 4/ب خَ بالجامعة الإسلامية.
‌(নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী উল্লেখ: নিশ্চয়ই সদকা মহান ও পরাক্রমশালী রহমানের হাতের তালুতে বৃদ্ধি পায়) .

৬- (৫০) নিশাপুরে মুহাম্মদ বিন ইয়াকুব বিন ইউসুফ আল-আখরাম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ বিন নুআইম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবন কুতাইবা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, (হ) এবং মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আবি রাজা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুসা বিন হারুন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, কুতাইবা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, লায়স আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাঈদ বিন আবি সাঈদ বিন ইয়াসার থেকে, তিনি আবু হুরায়রাকে বলতে শুনেছেন যে: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই সদকা রহমানের হাতের তালুতে বৃদ্ধি পায় যতক্ষণ না তা পাহাড়ের চেয়েও বড় হয়ে যায়, যেমন তোমাদের কেউ তার ঘোড়ার বাচ্চা বা উটের বাচ্চাকে লালন-পালন করে।" এই হাদিসটি সর্বসম্মতিক্রমে প্রমাণিত৩।

--------------------------------------------

৩ বুখারি/ জাকাত/ অনুচ্ছেদ: উত্তম উপার্জন থেকে সদকা/ ফাতহুল বারি ৩/২৭৮ হাদিস ১৪১০, আব্দুল্লাহ বিন মুনির এর সূত্রে... আবু হুরায়রা থেকে, যার শব্দ হলো: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তা তাঁর ডান হাত দিয়ে গ্রহণ করেন।"

এবং আত-তাওহিদ/ অনুচ্ছেদ: মহান আল্লাহর বাণী {ফেরেশতা এবং রুহ তাঁর দিকে আরোহণ করে}, ফাতহুল বারি ১৩/৪১৫ হাদিস ৭৪৩০, খালিদ বিন মাখলাদ এর সূত্রে... আবু হুরায়রা থেকে, এবং সাঈদ বিন ইয়াসার আবু হুরায়রা থেকে।

মুসলিম/ জাকাত/ অনুচ্ছেদ: উত্তম উপার্জন থেকে সদকা কবুল হওয়া এবং তা বৃদ্ধি পাওয়া, ২/৭০২ হাদিস ৬৩, কুতাইবা বিন সাঈদ এর সূত্রে বর্ণিত।

আহমদ/ ২/৩৩১, ৪১৮, ৪৩১, ৫৩৮, ৫৪১।

তিরমিজি/ জাকাত/ অনুচ্ছেদ: সদকার ফজিলত সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে, তুহফাতুল আহওয়াযী ৩/৩২৭ হাদিস ৬৫৬।

দারিমি/ জাকাত/ অনুচ্ছেদ: সদকার ফজিলত, ১/৩৩৩ হাদিস ১৬৮২। সাইয়িদ আব্দুল্লাহ হাশেম সম্পাদিত ১৩৮৬ হিজরি সংস্করণ।

মুয়াত্তা/ সদকা/ অনুচ্ছেদ: সদকার প্রতি উৎসাহ প্রদান, পৃষ্ঠা ৬১৫, আশ-শা'ব সংস্করণ।

ইবনে মাজাহ/ জাকাত/ অনুচ্ছেদ: সদকার ফজিলত ১/৫৯০ হাদিস ১৮৪২।

এবং দারাকুতনি, আস-সিফাত-এ, পত্র ৪/খ, ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাণ্ডুলিপি।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ লি-ইবনি মানদাহ - মাজাল্লাতুল জামিআতিল ইসলামিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২১৯)
‌‌(ذكر خبر آخر على مَا تقدم من معنى قَوْله لما خلقت بيَدي) .

7- (51) أخبرنَا مُحَمَّد بن إِبْرَاهِيم بن عبد الْملك الْقرشِي، ثَنَا أَحْمد بن إِبْرَاهِيم البسري، ثَنَا أَبُو طَاهِر أَحْمد بن عَمْرو، ثَنَا خالى عبد الحميد، ثَنَا يحي بن أَيُّوب، عَن دَاوُد بن أبي هِنْد، عَن أنس بن مَالك قَالَ:

قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم: "إِن الله جلّ وَعز خلق الفردوس بِيَدِهِ، وحظرها عَن كل مُشْرك ومدمن خمر" 1.

8- (52) أخبرنَا أَحْمد بن سَلمَة الْمُؤَدب بِمصْر، ثَنَا أَبُو الزِّنْبَاع، ثَنَا سعيد بن عفير، ثَنَا يحي بن أَيُّوب، عَن خَالِد بن يزِيد، عَن سعيد بن أبي هِلَال، عَن أنس بن مَالك أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ: "إِن الله جلّ وَعز خلق الفردوس بِيَدِهِ، وحظرها عَن كل مُشْرك ومدمن خمر سكير" 2.

9- (53) أخبرنَا أَحْمد بن مُحَمَّد بن عمر بن أبان، ثَنَا عبد الله بن أَحْمد بن حَنْبَل، ثَنَا أبي ثَنَا يحي بن سعيد، عَن أبي عجلَان، قَالَ سَمِعت أبي يحدث عَن أبي هُرَيْرَة، عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ:

"إِن الله جلّ وَعز كتب على نَفسه بِيَدِهِ لما خلق الْخلق أَن رَحْمَتي تغلب غَضَبِي". روى هَذَا الحَدِيث جمَاعَة عَن أبي هُرَيْرَة، لم يذكر فِيهِ كتب على نَفسه بِيَدِهِ غير ابْن عجلَان3.

--------------------------------------------

1 23 لم أعثر على من خرجهما، وَفِيمَا تقدم من آيَات وَأَحَادِيث مَا يُغني عَنْهُمَا. وَقد وجدت للْحَدِيث شَاهدا مُرْسل فِي الْأَسْمَاء وَالصِّفَات للبيهقي من حَدِيث عبد الله بن الْحَارِث عَن أَبِيه، ص 318.

2

3 جه/ مُقَدّمَة/ بَاب فِيمَا أنْكرت الْجَهْمِية 1/67 ح 189 من طَرِيق مُحَمَّد بن يحيي ثَنَا صَفْوَان بن عِيسَى عَن ابْن عجلَان عَن أَبِيه عَن أبي هُرَيْرَة، وَفِيه: كتب على نَفسه بِيَدِهِ.

وَابْن خُزَيْمَة فِي التَّوْحِيد ص 58. وَالدَّارَقُطْنِيّ فِي الصِّفَات، ورقة 2/ب خَ.
(যাকে আমি আমার নিজের দুই হাত দিয়ে সৃষ্টি করেছি - এর অর্থের ওপর ভিত্তি করে পূর্বে যা বর্ণিত হয়েছে, সে সম্পর্কে অন্য একটি খবরের বর্ণনা) .

৭- (৫১) মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম ইবনে আব্দুল মালিক আল-কুরাশি আমাদের জানিয়েছেন, আহমাদ ইবনে ইব্রাহিম আল-বুসরি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আবু তাহের আহমাদ ইবনে আমর আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আমার মামা আব্দুল হামিদ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, ইয়াহইয়া ইবনে আইয়ুব আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, দাউদ ইবনে আবি হিন্দ থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ জাল্লা ওয়া আযযা ফেরদাউস জান্নাতকে তাঁর নিজের হাত দিয়ে সৃষ্টি করেছেন এবং একে প্রত্যেক মুশরিক ও মদ্যপানে আসক্ত ব্যক্তির জন্য নিষিদ্ধ করেছেন।" ১.

৮- (৫২) আহমাদ ইবনে সালামাহ আল-মুয়াদ্দিব মিশরে আমাদের জানিয়েছেন, আবুয যিনবা’ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, সাঈদ ইবনে উফাইর আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, ইয়াহইয়া ইবনে আইয়ুব আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, খালিদ ইবনে ইয়াযিদ থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে আবি হিলাল থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ জাল্লা ওয়া আযযা ফেরদাউস জান্নাতকে তাঁর নিজের হাত দিয়ে সৃষ্টি করেছেন এবং একে প্রত্যেক মুশরিক ও মদ্যপানে মত্ত নেশাখোর ব্যক্তির জন্য নিষিদ্ধ করেছেন।" ২.

৯- (৫৩) আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে উমর ইবনে আবান আমাদের জানিয়েছেন, আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে হাম্বল আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আমার পিতা আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আবু আজলান থেকে, তিনি বলেন, আমি আমার পিতাকে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন:

"নিশ্চয়ই আল্লাহ জাল্লা ওয়া আযযা যখন সৃষ্টিজগতকে সৃষ্টি করলেন, তখন তিনি নিজের হাত দিয়ে নিজের জন্য লিখেছিলেন যে, নিশ্চয়ই আমার রহমত আমার রাগকে ছাড়িয়ে যায়।" একদল রাবী আবু হুরায়রা (রা.) থেকে এই হাদীসটি বর্ণনা করেছেন, তবে ইবনে আজলান ছাড়া আর কেউ এতে 'নিজের হাত দিয়ে নিজের জন্য লিখেছেন' কথাটি উল্লেখ করেননি। ৩.

--------------------------------------------

১ ২৩ আমি এই দুটি বর্ণনার উৎস খুঁজে পাইনি, তবে পূর্বে অতিক্রান্ত আয়াত এবং হাদীসসমূহ এই দুটির প্রয়োজনীয়তা মিটিয়ে দেয়। আমি বায়হাকীর 'আল-আসমা ওয়াস সিফাত'-এ আবদুল্লাহ ইবনে হারিস থেকে তাঁর পিতার সূত্রে একটি মুরসাল শাহেদ (সমর্থনকারী বর্ণনা) পেয়েছি, পৃষ্ঠা ৩১৮।

২

৩ ইবনে মাজাহ/ মুকাদ্দিমাহ/ জাহমিয়্যাহরা যা অস্বীকার করেছে সেই অনুচ্ছেদ ১/৬৭, হাদীস ১৮৯; মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া... সাফওয়ান ইবনে ঈসা... ইবনে আজলান... তাঁর পিতা... আবু হুরায়রা (রা.)-এর সূত্রে। এতে রয়েছে: 'নিজের হাত দিয়ে নিজের জন্য লিখেছেন'।

এবং ইবনে খুযাইমাহ 'আত-তাওহীদ' পৃষ্ঠা ৫৮। আদ-দারাকুতনী 'আস-সিফাত', পাণ্ডুলিপি ২/খ।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ লি-ইবনি মানদাহ - মাজাল্লাতুল জামিআতিল ইসলামিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২১৯)
‌‌(ذكر خبر آخر على مَا تقدم من ذكر الْيَد والكف) .

10- (54) أخبرنَا عبد الرَّحْمَن بن يحي بن مَنْدَه، وَعبد الله بن إِبْرَاهِيم، قَالَا: ثَنَا أَحْمد بن الْفُرَات، أنبأ عبد الله بن صَالح، ثَنَا مُعَاوِيَة بن صَالح، عَن رَاشد بن سعد عَن عبد الرَّحْمَن بن قَتَادَة، عَن هِشَام بن حَكِيم، أَن رجلا قَالَ:

يَا رَسُول الله أنبتدئ الْأَعْمَال أم قد قضى الْقَضَاء؟ فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم: " إِن الله أَخذ من بني آدم من ظُهُورهمْ ذُرِّيتهمْ وأشهدهم على أنفسهم، ثمَّ أَفَاضَ بهم فِي
(হাত এবং হাতের তালু সম্পর্কে ইতিপূর্বে যা আলোচিত হয়েছে সে প্রসঙ্গে অপর একটি বর্ণনার উল্লেখ).

১০- (৫৪) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুর রহমান ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে মান্দাহ এবং আব্দুল্লাহ ইবনে ইব্রাহিম, তাঁরা বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনুল ফুরাত, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল্লাহ ইবনে সালিহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুআবিয়া ইবনে সালিহ, রাশিদ ইবনে সা’দ থেকে, তিনি আব্দুর রহমান ইবনে কাতাদাহ থেকে, তিনি হিশাম ইবনে হাকিম থেকে বর্ণনা করেন যে, এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করলেন:

হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি নতুন করে আমল শুরু করব নাকি ফয়সালা নির্ধারিত হয়ে গেছে? তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ আদম সন্তানদের পৃষ্ঠদেশ থেকে তাদের বংশধরদের গ্রহণ করেছেন এবং তাদের নিজেদের ওপর তাদের সাক্ষী রেখেছেন, অতঃপর তাদের নিয়ে ছড়িয়ে দিলেন..."
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ লি-ইবনি মানদাহ - মাজাল্লাতুল জামিআতিল ইসলামিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২২০)
كَفه وَقَالَ: هَؤُلَاءِ إِلَى الْجنَّة وَهَؤُلَاء إِلَى النَّار فَأهل الْجنَّة ميسرون لعمل الْجنَّة، وَأهل النَّار ميسرون لعمل النَّار" 1.

رَوَاهُ جمَاعَة عَن مُعَاوِيَة بن صَالح فَلم يذكرُوا فِيهِ هَذِه اللَّفْظَة، ثمَّ أَفَاضَ بهم فِي كَفه. وروى الزبيدِيّ عَن رَاشد فَقَالَ فِي كفيه. فَمِمَّنْ رَوَاهُ عبد الله بن وهب ومعن بن عِيسَى الْقَزاز. وَغَيرهمَا، أخبرناه عَليّ بن الْعَبَّاس الطَّحَّان الْمصْرِيّ، ثَنَا جَعْفَر بن سُلَيْمَان النَّوْفَلِي، ثَنَا إِبْرَاهِيم بن الْمُنْذر الْحَرَّانِي، ثَنَا معن بن عِيسَى عَن مُعَاوِيَة بن صَالح بِهَذَا الحَدِيث.

--------------------------------------------

1 ابْن جرير الطَّبَرِيّ، التَّفْسِير 9/117 من طَرِيق أَحْمد بن الْفرج الْحِمصِي، قَالَ: ثَنَا بَقِيَّة بن الْوَلِيد قَالَ حَدثنِي الزبيدِيّ عَن رَاشد بن سعد بِهِ، وَقد ذكر السُّيُوطِيّ فِي الدّرّ المنثور 3/143 أَن الحَدِيث أخرجه ابْن جرير وَالْبَزَّار وَالطَّبَرَانِيّ، والآجري فِي الشَّرِيعَة وَابْن مرْدَوَيْه وَالْبَيْهَقِيّ فِي الْأَسْمَاء وَالصِّفَات.

والآجري فِي الشَّرِيعَة ص 172.

وَالْبَيْهَقِيّ فِي الْأَسْمَاء وَالصِّفَات ص 326.
তাঁর হাতের তালু এবং তিনি বললেন: "এরা জান্নাতের জন্য এবং এরা জাহান্নামের জন্য। সুতরাং জান্নাতবাসীদের জন্য জান্নাতের আমল সহজ করে দেওয়া হয় এবং জাহান্নামবাসীদের জন্য জাহান্নামের আমল সহজ করে দেওয়া হয়।" ১

একদল বর্ণনাকারী মুআবিয়া বিন সালেহ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন, তবে তাঁরা এতে এই শব্দটি উল্লেখ করেননি: "অতঃপর তিনি তাদেরকে তাঁর হাতের তালুতে ছড়িয়ে দিলেন।" জুবাইদী রাশেদ থেকে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: "তাঁর দুই হাতের তালুতে।" যাঁরা এটি বর্ণনা করেছেন তাঁদের মধ্যে আব্দুল্লাহ বিন ওয়াহাব এবং মা’ন বিন ঈসা আল-কাযযা ও অন্যান্যরা রয়েছেন। আলী বিন আব্বাস আত-তাহহান আল-মিসরি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, জাফর বিন সুলাইমান আন-নাওফালি আমাদের বর্ণনা করেছেন, ইব্রাহিম বিন মুনযির আল-হাররানি আমাদের বর্ণনা করেছেন, মা’ন বিন ঈসা মুআবিয়া বিন সালেহ থেকে এই হাদিসটি আমাদের বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

১ ইবনে জারির আত-তাবারী, আত-তাফসির ৯/১১৭, আহমদ বিন আল-ফারাজ আল-হিমসির সূত্রে, তিনি বলেন: বাকিয়্যাহ বিন আল-ওয়ালিদ আমাদের বলেছেন, তিনি বলেন: জুবাইদী রাশেদ বিন সা’দ থেকে এই সূত্রে আমাকে হাদিস শুনিয়েছেন। সুয়ূতী আদ-দুররুল মানসুর ৩/১৪৩-এ উল্লেখ করেছেন যে, হাদিসটি ইবনে জারির, আল-বাযযার, আত-তাবারানি, আশ-শরীয়াহ গ্রন্থে আল-আজিউরি, ইবনে মারদুবাইহি এবং আল-আসমা ওয়াস সিফাত গ্রন্থে আল-বাইহাকী বের করেছেন।

এবং আশ-শরীয়াহ গ্রন্থে আল-আজিউরি, পৃষ্ঠা ১৭২।

এবং আল-আসমা ওয়াস সিফাত গ্রন্থে আল-বাইহাকী, পৃষ্ঠা ৩২৬।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ লি-ইবনি মানদাহ - মাজাল্লাতুল জামিআতিল ইসলামিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২২০)
‌‌(ذكر خبر آخر يدل على مَا تقدم فِي معنى الْيَد) .

11- (55) أخبرنَا عبد الله بن إِبْرَاهِيم الْمُقْرِئ، ثَنَا رجا بن صُهَيْب، ثَنَا يَعْقُوب الْحَضْرَمِيّ ثَنَا شُعْبَة، ح وثنا أَحْمد بن عبد الله بن الْحسن الْعَدوي بِمصْر، ثَنَا معَاذ بن الْمثنى وَاللَّفْظ لَهُ، ثَنَا أَبُو الْوَلِيد ثَنَا شُعْبَة، عَن أبي إِسْحَاق، عَن أبي الْأَحْوَص، عَن أَبِيه، أَنه أَتَى النَّبِي صلى الله عليه وسلم فَقَالَ لَهُ: "ساعد الله أَشد من ساعدك، ومُوسَى الله أحد من موساك" 2.

12- (56) أخبرنَا عبد الْعَزِيز بن سهل الدباس بِمَكَّة، ثَنَا مُحَمَّد بن الْحسن الْخرقِيّ الْبَغْدَادِيّ، ثَنَا مَحْفُوظ، عَن أبي تَوْبَة، عَن عبد الرَّزَّاق، عَن معمر، عَن الزُّهْرِيّ، عَن ابْن الْمسيب، عَن أبي هُرَيْرَة، عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ: "إِن الله جلّ وَعز ينزل إِلَى سَمَاء الدُّنْيَا، وَله فِي كل سَمَاء كرْسِي، فَإِذا نزل إِلَى سَمَاء الدُّنْيَا جلس على كرسيه، ثمَّ مد ساعديه فَيَقُول: من ذَا الَّذِي يقْرض غير عادم وَلَا ظلوم، من ذَا الَّذِي يستغفرني فَأغْفِر لَهُ، من ذَا الَّذِي يَتُوب فأتوب عَلَيْهِ، فَإِذا كَانَ عِنْد الصُّبْح ارْتَفع وَجلسَ على كرسيه"، هَكَذَا

--------------------------------------------

2 حم/ 3/ 473 من طَرِيق عبد الله حَدثنِي أبي ثَنَا مُحَمَّد بن جَعْفَر قَالَ ثَنَا شُعْبَة. 4/ 41/ 137.
(হাতের অর্থের বিষয়ে যা পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে, তার স্বপক্ষে অন্য একটি বর্ণনার উল্লেখ).

১১- (৫৫) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল্লাহ ইবনে ইবরাহিম আল-মুকরি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন রাজা ইবনে সুহাইব, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াকুব আল-হাদরামি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শু'বাহ। (হ) এবং আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনুল হাসান আল-আদাবি মিসরে, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুয়াজ ইবনুল মুসান্না—এবং শব্দাবলি তাঁরই—আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু ওয়ালিদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শু'বাহ, আবু ইসহাক থেকে, তিনি আবুল আহওয়াস থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট আসলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে বললেন: "আল্লাহর বাহু তোমার বাহুর চেয়ে অধিক শক্তিশালী এবং আল্লাহর ক্ষুর তোমার ক্ষুরের চেয়ে অধিক ধারালো।" ২.

১২- (৫৬) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল আজিজ ইবনে সাহল আদ-দাব্বাস মক্কায়, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনুল হাসান আল-খারকি আল-বাগদাদি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মাহফুজ, আবু তাওবাহ থেকে, তিনি আবদুর রাজ্জাক থেকে, তিনি মা'মার থেকে, তিনি যুহরি থেকে, তিনি ইবনুল মুসাইয়িব থেকে, তিনি আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ জাল্লা ওয়া আযযা দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করেন। প্রত্যেক আসমানে তাঁর জন্য একটি কুরসি রয়েছে। অতঃপর যখন তিনি দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করেন, তখন তিনি তাঁর কুরসির উপর বসেন। এরপর তিনি তাঁর দুই বাহু প্রসারিত করেন এবং বলেন: কে আছে এমন যে ঋণ দেবে এমন সত্তাকে যিনি নিঃস্ব নন এবং অবিচারকারী নন? কে আছে এমন যে আমার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করবে এবং আমি তাকে ক্ষমা করে দেব? কে আছে এমন যে তাওবা করবে এবং আমি তার তাওবা কবুল করব? যখন সকাল হয়, তখন তিনি উপরে উঠে যান এবং তাঁর কুরসির উপর বসেন।" - এভাবেই।

--------------------------------------------

২ আহমদ/ ৩/ ৪৭৩, আবদুল্লাহর সূত্রে; তিনি বলেন, আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে জাফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, শু'বাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। ৪/ ৪১/ ১৩৭।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ লি-ইবনি মানদাহ - মাজাল্লাতুল জামিআতিল ইসলামিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২২১)
رَوَاهُ الْخرقِيّ عَن مَحْفُوظ عَن أبي تَوْبَة1 عَن عبد الرَّزَّاق، وَله أصل عِنْد سعيد بن الْمسيب مُرْسل2.

13- (57) أخبرنَا مُحَمَّد بن عبد الْجَبَّار بِمصْر، ثَنَا الرّبيع بن سُلَيْمَان، ثَنَا ابْن وهب، ثَنَا أُسَامَة بن زيد، عَن أبي حَازِم، عَن ابْن عمر، أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم كَانَ على الْمِنْبَر يخْطب النَّاس فَقَالَ:

"يَأْخُذ الْجَبَّار سماواته وَالْأَرضين فيجعلها فِي كفيه، ثمَّ يَقُول بهم هَكَذَا كَمَا يَقُول الْغُلَام بالكرة، أَنا الله الْوَاحِد، أَنا الله الْعَزِيز" 3.

14- (58) أخبرنَا عبد الله بن جَعْفَر الْبَغْدَادِيّ بِمصْر، ثَنَا هَاشم بن يُونُس، ثَنَا أَبُو صَالح، عَن مُعَاوِيَة بن صَالح، عَن عمر بن عَمْرو عَن بعض أهل الشَّام قَالَ:

إِن رَبك عز وجل أَخذ لؤلؤة على رَاحَته ثمَّ دملجها بَين كفيه، ثمَّ غرسها وسط الْجنَّة، فَقَالَ لَهَا امتدي حَتَّى.... مرضاتي فَفعلت، فَلَمَّا اسْتَوَت تَفَجَّرَتْ من أُصُولهَا أَنهَار الْجنَّة وَهِي طُوبَى4.

15- (59) أخبرنَا أَحْمد بن مُحَمَّد بن زِيَاد، ثَنَا أَحْمد بن مُحَمَّد الصيدلاني الْبَغْدَادِيّ، ثَنَا سعيد يَعْنِي ابْن عَامر، ثَنَا شُعْبَة، عَن ثَابت، عَن أنس فِي قَوْله: جلّ وَعز {فَلَمَّا تَجَلَّى رَبُّهُ لِلْجَبَل} (الْأَعْرَاف/143) ، قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم: " تجلى مِنْهُ خِنْصره5 فَمن نورها جعلهَا دكا".

16- (60) حَدثنَا أَحْمد بن زِيَاد، ثَنَا أَحْمد بن مُحَمَّد الصيدلاني، ثَنَا إِسْحَاق بن أبي إِسْحَاق، ثَنَا دَاوُد يَعْنِي ابْن الزبْرِقَان6، ثَنَا شُعْبَة، عَن قَتَادَة، عَن أنس عَن النَّبِي صلى

--------------------------------------------

1مَحْفُوظ بن أبي تَوْبَة، سمع عبد الرَّزَّاق، ضعف أَحْمد أمره جدا وَقَالَ: كَانَ يسمع مَعنا بِالْيَمِينِ وَلم يكن ينْسَخ، قَالَ ابْن حجر: وَهُوَ مَحْفُوظ بن الْفضل، روى عَن معن وضمرة وَرَبِيعَة، حدث عَنهُ إِسْمَاعِيل القَاضِي وَعمر بن أَيُّوب السَّقطِي وَلم يتْرك. انْتهى وَذكره الْعقيلِيّ فِي الضُّعَفَاء. توفّي سنة سبع وَثَلَاثِينَ وَمِائَتَيْنِ. لِسَان الْمِيزَان 5/19 الطبعة الثَّانِيَة سنة 1390 هـ الأعلمي للمطبوعات الْمِيزَان 3/444. تَارِيخ بَغْدَاد الْجرْح وَالتَّعْدِيل 4/1/422-423.

2 الحَدِيث ضَعِيف لِأَن فِيهِ مَحْفُوظًا وَهُوَ ضَعِيف جدا كَمَا ترى فِي تَرْجَمته، وَفِي الْبَاب آيَات قرآنية وَأَحَادِيث صَحِيحَة تغني عَن هَذَا الحَدِيث.

3 ابْن جرير فِي التَّفْسِير 24/26 من طَرِيق الرّبيع بن سُلَيْمَان، ثَنَا ابْن وهب بِهِ. وَفِيه: حَتَّى لقد رَأينَا الْمِنْبَر وَأَنه ليكاد أَن يسْقط بِهِ.

4 فِي إِسْنَاده جَهَالَة، وَهُوَ قَوْله عَن بعض أهل الشَّام.

5 ابْن جرير، التَّفْسِير 9/53 من طَرِيق … ثَابت عَن أنس نَحوه.

6 ابْن الزبْرِقَان هُوَ الرقاشِي الْبَصْرِيّ قَالَ ابْن حجر: مَتْرُوك. تقريب 1/231.
আল-খিরকি এটি মাহফুজ থেকে, তিনি আবু তাওবাহ১ থেকে, তিনি আবদুর রাজ্জাক থেকে বর্ণনা করেছেন। সাইদ ইবনুল মুসাইয়িবের নিকট এর একটি মুরসাল২ মূল সূত্র রয়েছে।

১৩- (৫৭) মিশরে মুহাম্মদ বিন আব্দুল জাব্বার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আর-রাবী বিন সুলাইমান আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, ইবনে ওয়াহাব আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, উসামা বিন যায়েদ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবু হাজিম থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বরে দাঁড়িয়ে মানুষকে খুতবা দিচ্ছিলেন, তখন তিনি বললেন:

"মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ তাঁর আকাশসমূহ ও পৃথিবীসমূহকে গ্রহণ করবেন এবং সেগুলোকে আল্লাহর দুই হাতের তালুর মধ্যে রাখবেন। এরপর তিনি সেগুলো নিয়ে এমন করবেন যেভাবে কোনো বালক বল নিয়ে খেলে। তিনি বলবেন: আমিই আল্লাহ, একক; আমিই আল্লাহ, মহাপরাক্রমশালী।" ৩

১৪- (৫৮) মিশরে আব্দুল্লাহ বিন জাফর আল-বাগদাদি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হাশিম বিন ইউনুস আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, আবু সলিহ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন মুয়াবিয়া বিন সলিহ থেকে, তিনি উমর বিন আমর থেকে, তিনি শামবাসীদের একজনের সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন:

নিশ্চয়ই তোমাদের রব আযযা ওয়া জাল্লা তাঁর হাতের তালুতে একটি মুক্তা নিলেন, এরপর সেটি আল্লাহর দুই হাতের তালুর মাঝে ঘুরালেন, তারপর তিনি জান্নাতের মাঝখানে সেটি রোপণ করলেন। অতঃপর তিনি সেটিকে বললেন: বর্ধিত হও যতক্ষণ না... আমার সন্তুষ্টি পর্যন্ত। ফলে সেটি তাই করল। যখন তা পূর্ণাঙ্গ রূপ ধারণ করল, তখন এর তলদেশ থেকে জান্নাতের নদ-নদীগুলো উথলে উঠল এবং সেটি হলো তূবা৪।

১৫- (৫৯) আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন যিয়াদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আহমাদ বিন মুহাম্মদ আস-সাইদালানি আল-বাগদাদি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, সাইদ অর্থাৎ ইবনে আমির আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, শু’বাহ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন সাবিত থেকে, তিনি আনাস থেকে আল্লাহর এই বাণীর ব্যাপারে বর্ণনা করেছেন: "অতঃপর যখন তাঁর রব পাহাড়ের ওপর জ্যোতি প্রকাশ করলেন" (আল-আরাফ/১৪৩), তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আল্লাহর কনিষ্ঠ আঙুল৫ থেকে জ্যোতি প্রকাশিত হয়েছিল, যার নূরের প্রভাবে তিনি পাহাড়টিকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিয়েছেন।"

১৬- (৬০) আহমাদ বিন যিয়াদ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, আহমাদ বিন মুহাম্মদ আস-সাইদালানি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, ইসহাক বিন আবু ইসহাক আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, দাউদ অর্থাৎ ইবনুল জিব্রিকান৬ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, শু’বাহ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন কাতাদাহ থেকে, তিনি আনাস থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে...

--------------------------------------------

১. মাহফুজ বিন আবি তাওবাহ, তিনি আবদুর রাজ্জাক থেকে শুনেছেন। আহমাদ তাঁর বিষয়টিকে অত্যন্ত দুর্বল বলেছেন এবং বলেছেন: তিনি আমাদের সাথে ইয়ামেনে হাদিস শুনতেন কিন্তু অনুলিপি করতেন না। ইবনে হাজার বলেছেন: তিনি হলেন মাহফুজ বিন আল-ফাদল। তিনি মা’ন, দামরাহ এবং রাবিয়াহ থেকে বর্ণনা করেছেন। ইসমাইল আল-কাদি এবং উমর বিন আইয়ুব আস-সাকতি তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং তাঁকে বর্জন করা হয়নি। সমাপ্ত। আল-উকাইলি ‘আদ-দুয়াফা’ গ্রন্থে তাঁর উল্লেখ করেছেন। তিনি ২৩৭ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন। লিসানুল মিজান ৫/১৯, দ্বিতীয় মুদ্রণ ১৩৯০ হিজরি, আল-আলামি লিল মাতবুআত; আল-মিজান ৩/৪৪৪; তারিখ বাগদাদ; আল-জারহ ওয়াত তাদিল ৪/১/৪২২-৪২৩।

২. হাদিসটি দুর্বল, কারণ এতে মাহফুজ রয়েছেন এবং তিনি অত্যন্ত দুর্বল যেমনটি তাঁর জীবনীতে আপনি দেখতে পাচ্ছেন। এই বিষয়ে কুরআনের আয়াত এবং সহিহ হাদিসসমূহ বিদ্যমান রয়েছে যা এই হাদিসের প্রয়োজনীয়তা দূর করে দেয়।

৩. ইবনে জারির তাঁর তাফসিরে ২৪/২৬ পৃষ্ঠায় আর-রাবী বিন সুলাইমানের সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন, ইবনে ওয়াহাব আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন। তাতে আছে: এমনকি আমরা মিম্বরটিকেও দেখছিলাম যে, সেটি তাঁর ভারে প্রায় পড়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল।

৪. এর সনদে অজ্ঞাত বর্ণনাকারী রয়েছে, আর তা হলো ‘শামবাসীদের একজনের সূত্রে’ তাঁর এই কথাটি।

৫. ইবনে জারির, তাফসির ৯/৫৩, ... সাবিত থেকে আনাস (রা.)-এর সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

৬. ইবনুল জিব্রিকান হলেন আর-রাকাশী আল-বাসরি। ইবনে হাজার বলেছেন: তিনি পরিত্যক্ত (মাতরূক)। তাকরীব ১/২৩১।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ লি-ইবনি মানদাহ - মাজাল্লাতুল জামিআতিল ইসলামিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২২২)
الله عَلَيْهِ وَسلم نَحوه، قَالَ "الْجَبَل فِي الأَرْض". روى هَذَا الحَدِيث مُحَمَّد بن سَوَاء 1 عَن سعيد بن أبي عرُوبَة، عَن قَتَادَة مثله مَرْفُوعا. وهما من حَدِيث شُعْبَة غَرِيب مَرْفُوع.

--------------------------------------------

1 مُحَمَّد بن سَوَاء الدوسي، صَدُوق، رمي بِالْقدرِ. تقريب 2/168.
আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক—অনুরূপ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন "পাহাড় জমিনে"। মুহাম্মাদ ইবনে সাওয়া ১ সাঈদ ইবনে আবি আরুবা থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে অনুরূপ মারফু হিসেবে এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। আর এ দুটি শু'বার হাদিস থেকে গরীব ও মারফু।

--------------------------------------------

১ মুহাম্মাদ ইবনে সাওয়া আদ-দাউসি, সত্যবাদী, তাঁর প্রতি কাদারিয়্যাহর অপবাদ দেওয়া হয়েছে। তাকরীব ২/১৬৮।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ লি-ইবনি মানদাহ - মাজাল্লাতুল জামিআতিল ইসলামিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২২২)
‌‌(حَدِيث آخر يدل على ذكر القبضة) .

17- (61) أخبرنَا عبد الله بن جَعْفَر الْبَغْدَادِيّ بِمصْر، ثَنَا يحي بن أَيُّوب، ثَنَا يحي بن بكير، ثَنَا اللَّيْث عَن خَالِد بن يزِيد، عَن سعيد ابْن أبي هِلَال، عَن زيد بن أسلم، عَن عَطاء بن يسَار، عَن أبي سعيد، عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ:

"إِن الله جلّ وَعز يخرج قَبضته من النَّار فيطرحهم فِي نهر الْحَيَاة فيدخلهم الْجنَّة" 2.

--------------------------------------------

2 خَ/ التَّوْحِيد/ بَاب قَول الله تَعَالَى {وُجُوهٌ يَوْمَئِذٍ نَاضِرَةٌ إِلَى رَبِّهَا نَاظِرَةٌ} فتح الْبَارِي 13/420 ح 7439 من طَرِيق … عَطاء بن يسَار عَن أبي سعيد بِهِ مطولا.

م/ الْإِيمَان/ بَاب معرفَة طَرِيق الرُّؤْيَة 1/167 ح 302 من طَرِيق … عَطاء بن يسَار عَن أبي سعيد الْخُدْرِيّ بِهِ مطولا.

حم/ 3/94 من طَرِيق … عَطاء بن يسَار عَن أبي سعيد الخذري بِهِ مطولا.
‌(মুষ্টির বর্ণনার স্বপক্ষে আরেকটি হাদিস) .

১৭- (৬১) মিসরে আবদুল্লাহ ইবনে জাফর আল-বাগদাদি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইয়াহইয়া ইবনে আইয়ুব আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, লায়স আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন খালিদ বিন ইয়াজিদ থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে আবি হিলাল থেকে, তিনি জাইদ ইবনে আসলাম থেকে, তিনি আতা ইবনে ইয়াসার থেকে, তিনি আবু সাঈদ থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন:

"নিশ্চয়ই আল্লাহ জাল্লা ওয়া আযযা জাহান্নাম থেকে তাঁর এক মুষ্টি বের করবেন, অতঃপর তাদের হায়াত (জীবন) নদীতে নিক্ষেপ করবেন এবং তাঁদের জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।" ২।

--------------------------------------------

২. বুখারি/ তাওহিদ অধ্যায়/ পরিচ্ছেদ: মহান আল্লাহর বাণী {সেদিন অনেক চেহারা উজ্জ্বল হবে, তাদের রবের দিকে তাকিয়ে থাকবে} ফাতহুল বারি ১৩/৪২০, হাদিস নং ৭৪৩৯; আতা ইবনে ইয়াসার এর সূত্রে আবু সাঈদ থেকে দীর্ঘ বর্ণনায়।

মুসলিম/ ইমান অধ্যায়/ পরিচ্ছেদ: (আল্লাহকে) দেখার উপায় সম্পর্কিত জ্ঞান ১/১৬৭, হাদিস নং ৩০২; আতা ইবনে ইয়াসার এর সূত্রে আবু সাঈদ আল-খুদরি থেকে দীর্ঘ বর্ণনায়।

আহমদ/ ৩/৯৪; আতা ইবনে ইয়াসার এর সূত্রে আবু সাঈদ আল-খুদরি থেকে দীর্ঘ বর্ণনায়।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ লি-ইবনি মানদাহ - মাজাল্লাতুল জামিআতিল ইসলামিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২২২)
‌‌(حَدِيث آخر يدل على ذكر الْأصْبع) .

18- (62) أخبرنَا أَحْمد بن مُحَمَّد بن زِيَاد بِمَكَّة، ثَنَا الْحسن بن مُحَمَّد الزَّعْفَرَانِي، ثَنَا أَبُو مُعَاوِيَة، ثَنَا الْأَعْمَش، عَن إِبْرَاهِيم، عَن عَلْقَمَة، عَن عبد الله قَالَ:

أَتَى النَّبِي صلى الله عليه وسلم رجل فَقَالَ: "يَا أَبَا الْقَاسِم إِن الله يحمل الْخَلَائق على أصْبع، وَالسَّمَوَات على أصْبع، وَالْأَرضين على أصْبع، وَالْبَحْر على أصْبع، وَالثَّرَى على أصْبع، فَضَحِك النَّبِي صلى الله عليه وسلم حَتَّى بَدَت نَوَاجِذه فَأنْزل الله جلّ وَعز: {وَمَا قَدَرُوا اللَّهَ حَقَّ قَدْرِهِ وَالأَرْضُ جَمِيعاً قَبْضَتُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ} (الزمر/67) 3.

19- (63) أخبرنَا حَاجِب بن أبي بكر الطوسي، ثَنَا عبد الله بن حَاتِم الطوسي، ثَنَا يحي بن سعيد، ثَنَا سُفْيَان، عَن مَنْصُور، وَسليمَان، عَن إِبْرَاهِيم، عَن

--------------------------------------------

3 خَ/ كتاب التَّوْحِيد/ بَاب قَول الله تَعَالَى {لِمَا خَلَقْتُ بِيَدَيَّ} فتح الْبَارِي، 13/393 ح 7415 من طَرِيق عمر بن حَفْص بن غياث، ثَنَا أبي، ثَنَا الْأَعْمَش بِهِ.

وَبَاب قَول الله تَعَالَى: {إِنَّ اللَّهَ يُمْسِكُ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضَ أَنْ تَزُولا} فتح الْبَارِي 13/438 ح 7451.

م/ كتاب الْمُنَافِقين/ 4/2148 ح 21 من طَرِيق عمر بن حَفْص بن غياث، ثَنَا أبي عَن الْأَعْمَش بِهِ.

ابْن خُزَيْمَة فِي التَّوْحِيد ص 76.

وَالدَّارَقُطْنِيّ فِي الصِّفَات، ورقة 2/1 خَ.

وَالْبَيْهَقِيّ فِي الْأَسْمَاء وَالصِّفَات ص 333.
(আরেকটি হাদিস যা আঙুলের বর্ণনার প্রমাণ দেয়).

১৮- (৬২) মক্কায় আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন যিয়াদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাসান বিন মুহাম্মদ আজ-জা’ফরানি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু মুয়াবিয়া, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-আ’মাশ, ইব্রাহিম থেকে, তিনি আলকামা থেকে, তিনি আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এক ব্যক্তি এসে বলল: "হে আবুল কাসিম! নিশ্চয়ই আল্লাহ সৃষ্টিজগতকে একটি আঙুলের ওপর, আসমানসমূহকে একটি আঙুলের ওপর, জমিনসমূহকে একটি আঙুলের ওপর, সাগরকে একটি আঙুলের ওপর এবং মাটিকে একটি আঙুলের ওপর রাখবেন।" তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হেসে দিলেন, এমনকি তাঁর মাড়ির দাঁত দৃশ্যমান হলো। অতঃপর আল্লাহ মহীয়ান ও গরীয়ান নাযিল করলেন: {তারা আল্লাহকে যথার্থ মর্যাদা দেয়নি, অথচ কিয়ামতের দিন সমগ্র পৃথিবী থাকবে তাঁর হাতের মুঠোয়} (আজ-যুমার/৬৭) ৩.

১৯- (৬৩) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাজিব বিন আবু বকর আত-তুসি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ বিন হাতিম আত-তুসি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া বিন সাইদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান, মানসুর ও সুলায়মান থেকে, তাঁরা ইব্রাহিম থেকে...

--------------------------------------------

৩ বুখারি/ কিতাবুত তাওহিদ/ অধ্যায়: আল্লাহর বাণী {যাকে আমি আমার দুই হাতে সৃষ্টি করেছি}, ফাতহুল বারি, ১৩/৩৯৩ হাদিস ৭৪১৫, উমর বিন হাফস বিন গিয়াস-এর সূত্রে, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-আ’মাশ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন।

এবং অধ্যায়: আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই আল্লাহ আসমানসমূহ ও জমিনকে ধারণ করেন যাতে তারা বিচ্যুত না হয়}, ফাতহুল বারি ১৩/৪৩৮ হাদিস ৭৪৫১।

মুসলিম/ কিতাবুল মুনাফিকিন/ ৪/২১৪৮ হাদিস ২১, উমর বিন হাফস বিন গিয়াস-এর সূত্রে, তিনি বলেন: আমার পিতা আল-আ’মাশ থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন।

ইবনে খুজাইমা ‘আত-তাওহিদ’ গ্রন্থে পৃষ্ঠা ৭৬।

আদ-দারাকুতনি ‘আস-সিফাত’ গ্রন্থে, পাণ্ডুলিপি ২/১।

আল-বাইহাকি ‘আল-আসমা ওয়াস-সিফাত’ গ্রন্থে পৃষ্ঠা ৩৩৩।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ লি-ইবনি মানদাহ - মাজাল্লাতুল জামিআতিল ইসলামিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২২৪)
‌‌(ذكر خبر يدل على مَا تقدم من ذكر الْأَصَابِع) .

23- (68) أخبرنَا الْحسن بن مُحَمَّد بن النَّضر، ثَنَا إِسْمَاعِيل بن يزِيد، ثَنَا الْوَلِيد بن الْمُسلم ثَنَا عبد الرَّحْمَن بن يزِيد بن جَابر، ثَنَا بسر بن عبد الله، ثَنَا أَبُو إِدْرِيس الْخَولَانِيّ ثَنَا النواس بن سمْعَان، أَنه سمع رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَقُول: "مَا من قلب إِلَّا وَهِي بَين أصبعين من أَصَابِع الرَّحْمَن عز وجل إِذا شَاءَ أَن يقيمه أَقَامَهُ، وَإِذا شَاءَ أَن يزيغه أزاغه، وَيَقُول: يَا مُقَلِّب الْقُلُوب ثَبت قلبِي على دينك. قَالَ: وَالْمِيزَان بيد الرَّحْمَن جلّ وَعز يرفعهُ وَيخْفِضهُ" 3.

--------------------------------------------

3 حم/4/282 من طَرِيق عبد الله حَدثنِي أبي ثَنَا الْوَلِيد بن مُسلم بِهِ.

وَجه/ فِي الْمُقدمَة/ بَاب فِيمَا أنْكرت الْجَهْمِية، 1/72 ح 199 من طَرِيق هِشَام بن عمار ثَنَا صَدَقَة بن خَالِد، ثَنَا ابْن جَابر بِهِ، وَالدَّارَقُطْنِيّ فِي الصِّفَات، ورقة 4/1 خَ.

وَله شَاهد فِي الْمسند 2/168، 173 من حَدِيث عبد الله بن عَمْرو بن الْعَاصِ.

وَمن حَدِيث عَائِشَة 6/91، 251.

وَابْن خُزَيْمَة فِي التَّوْحِيد ص 80.
(আঙুলসমূহের বর্ণনার পূর্বে যা অতিক্রান্ত হয়েছে, তার প্রমাণ বহনকারী বর্ণনা).

২৩- (৬৮) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাসান ইবন মুহাম্মদ ইবনুন নাদর, আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন ইসমাইল ইবন ইয়াযিদ, আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন আল-ওয়ালিদ ইবনুল মুসলিম, আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন আবদুর রহমান ইবন ইয়াযিদ ইবন জাবির, আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন বুসর ইবন আবদুল্লাহ, আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু ইদ্রিস আল-খাওলানি, আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন নাওয়াস ইবন সামআন, তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন: "এমন কোনো অন্তর নেই যা রহমানের আঙুলসমূহের মধ্য থেকে দুটি আঙুলের মাঝে অবস্থিত নয়; তিনি যদি তাকে সঠিক পথে রাখতে চান তবে সুদৃঢ় রাখেন, আর যদি তাকে বিচ্যুত করতে চান তবে বিচ্যুত করেন। আর তিনি বলতেন: হে অন্তরসমূহ পরিবর্তনকারী, আমার অন্তরকে আপনার দ্বীনের ওপর অটল রাখুন। তিনি বলেন: আর পাল্লা (মিযান) রহমানের হাতের মধ্যে থাকে, তিনি তা উপরে তোলেন এবং নিচে নামান।" ৩.

--------------------------------------------

৩. আহমাদ/৪/২৮২; আবদুল্লাহর সূত্রে, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, ওয়ালিদ ইবন মুসলিম এই সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

ওয়াজহ/ মুকাদ্দিমায়/ জাহমিয়ারা যা অস্বীকার করেছে সেই অনুচ্ছেদে, ১/৭২, হাদিস ১৯৯; হিশাম ইবন আম্মারের সূত্রে, সাদাকা ইবন খালিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবন জাবির থেকে এই সূত্রে। এবং দারাকুতনি ‘আস-সিফাত’ গ্রন্থে, পাণ্ডুলিপি ৪/১ খ।

এবং মুসনাদে এর স্বপক্ষে সাক্ষ্যমূলক বর্ণনা রয়েছে ২/১৬8, ১৭৩; যা আবদুল্লাহ ইবন আমর ইবনুল আসের হাদিস থেকে বর্ণিত।

এবং আয়িশার হাদিস থেকে ৬/৯১, ২৫১।

এবং ইবন খুযাইমাহ ‘আত-তাওহীদ’ গ্রন্থে, পৃষ্ঠা ৮০।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ লি-ইবনি মানদাহ - মাজাল্লাতুল জামিআতিল ইসলামিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২২৫)
25- (69) أخبرنَا الْحسن بن مُحَمَّد بن النَّضر، ثَنَا إِسْمَاعِيل بن يزِيد، ثَنَا خَلاد بن يحي، ثَنَا سُفْيَان، عَن الْأَعْمَش، عَن أبي سُفْيَان، عَن جَابر قَالَ: كَانَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم، يكثر أَن يَقُول: "يَا مُقَلِّب الْقُلُوب ثَبت قلبِي على دينك، فَقيل يَا رَسُول الله أتخاف علينا وَقد آمنا بك وَبِمَا جِئْت بِهِ، فَقَالَ: إِن الْقُلُوب بَين إِصْبَعَيْنِ من أَصَابِع الرَّحْمَن جلّ وَعز يقلبها كَيفَ يَشَاء"، هَكَذَا، وَوصف سُفْيَان الثَّوْريّ بالسبابة وَالْوُسْطَى فحركهما، هَذَا حَدِيث ثَابت بِاتِّفَاق1. وَكَذَلِكَ حَدِيث النواس بن سمْعَان حَدِيث ثَابت رَوَاهُ الْأَئِمَّة الْمَشَاهِير مِمَّن لَا يُمكن الطعْن على وَاحِد مِنْهُم.

26- (70) أخبرنَا خَيْثَمَة بن سُلَيْمَان، ثَنَا أَحْمد بن مُحَمَّد بن أبي الْحَنَاجِر، ثَنَا الْهَيْثَم بن حميد ح/ وَأخْبرنَا الْحسن بن النَّضر، ثَنَا إِسْحَاق بن إِبْرَاهِيم الْبَغْدَادِيّ، ثَنَا عمر بن مُوسَى، ثَنَا حَمَّاد بن سَلمَة، عَن ثَابت عَن أنس عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم فِي قَوْله عز وجل {فَلَمَّا تَجَلَّى رَبُّهُ لِلْجَبَلِ} قَالَ: تجلى عز وجل مِنْهُ مثل هَذَا، وَوضع الْإِبْهَام على الْخِنْصر"، زَاد الْهَيْثَم قَالَ حَمَّاد لِثَابِت: لَا تحدث بِهَذَا الحَدِيث، فلكم فِي صَدره وَقَالَ لَهُ قولا شَدِيدا، فَقَالَ: يَعْنِي ثَابت: أنس يحدثني بِهِ عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَيَقُول لَا تحدث بِهِ2.

28- (71) أخبرنَا أَحْمد بن مُحَمَّد بن عمر الوارق، ثَنَا عبد الله بن أَحْمد بن حَنْبَل، ثَنَا مُحَمَّد بن أبي بكر الْمقدمِي، ثَنَا هريم، ثَنَا مُحَمَّد بن سوا، عَن سعيد عَن قَتَادَة عَن أنس، عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم {فَلَمَّا تَجَلَّى رَبُّهُ لِلْجَبَلِ} قَالَ: "هَكَذَا وَأَشَارَ صلى الله عليه وسلم بِطرف الْخِنْصر"3، وَهَذَا حَدِيث مَشْهُور، وَقد رُوِيَ من طرق عَن أنس بن مَالك.

28- (72) أخبرنَا خَيْثَمَة، ثَنَا مُحَمَّد بن إِبْرَاهِيم بن كثير، ثَنَا مُؤَمل، ثَنَا

--------------------------------------------

1 ت/قدر/ بَاب مَا جَاءَ أَن الْقُلُوب بَين إِصْبَعَيْنِ من أَصَابِع الرَّحْمَن، تحفة الأحوذي 6/349 ح 2226 من طَرِيق هناد … عَن أبي سُفْيَان عَن أنس، وَقَالَ حَدِيث حسن صَحِيح وَقَالَ روى بَعضهم عَن الْأَعْمَش عَن أبي سُفْيَان عَن جَابر، وَحَدِيث أبي سُفْيَان عَن أنس أصح، قلت: وَرِوَايَة أبي سُفْيَان عَن جَابر هِيَ رِوَايَة المُصَنّف، وَقد أخرجه الدَّارَقُطْنِيّ فِي الصِّفَات، ورقة 4/1خَ، وَقَالَ الهيثمي فِي مجمع الزَّوَائِد بَاب الْأَدْعِيَة المأثورة 10/176 رَوَاهُ أَبُو يعلى وَرِجَاله رجال الصَّحِيح، وَقد أخرج م/ لَهُ شَاهدا من حَدِيث عبد الله بن عَمْرو بن الْعَاصِ فِي الْقدر/ بَاب تصريف الله تَعَالَى الْقُلُوب 4/2045 ح 17.

وحم 2/168-173 من حَدِيث عبد الله بن عَمْرو.

وحم 6/251 من حَدِيث عَائِشَة.

وحم 6/302، 215 من حَدِيث أم سَلمَة.

2 ابْن جرير الطَّبَرِيّ فِي التَّفْسِير 9/53 من طَرِيق الْمثنى قَالَ ثَنَا هدبة بن خَالِد، قَالَ: ثَنَا حَمَّاد بن سَلمَة بِهِ.

3 ابْن جرير الطَّبَرِيّ فِي التَّفْسِير 9/53 من حَدِيث أنس.
২৫- (৬৯) আল-হাসান বিন মুহাম্মদ বিন আন-নাজর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন ইসমাইল বিন ইয়াজিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন খাল্লাদ বিন ইয়াহইয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আল-আ'মাশ থেকে, তিনি আবু সুফিয়ান থেকে, তিনি জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রায়ই বলতেন: "হে অন্তরসমূহের পরিবর্তনকারী! আমার অন্তরকে আপনার দ্বীনের ওপর অবিচল রাখুন।" তখন জিজ্ঞাসা করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি আমাদের ব্যাপারে আশঙ্কা করছেন, অথচ আমরা আপনার ওপর এবং আপনি যা নিয়ে এসেছেন তার ওপর ঈমান এনেছি? তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই অন্তরসমূহ দয়াময় আল্লাহর আঙ্গুলসমূহের মধ্য থেকে দুটি আঙ্গুলের মাঝে রয়েছে, তিনি যেভাবে ইচ্ছা সেগুলোকে পরিবর্তন করেন", এভাবে। এবং সুফিয়ান সাওরী তর্জনী ও মধ্যমা আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করলেন এবং সে দুটি নাড়ালেন। এটি সর্বসম্মতিক্রমে একটি প্রমাণিত হাদিস। অনুরূপভাবে নাওয়াস বিন সামআনের হাদিসটিও একটি প্রমাণিত হাদিস যা এমন প্রখ্যাত ইমামগণ বর্ণনা করেছেন যাদের কারো ওপর কোনো প্রকার আপত্তি উত্থাপন করা সম্ভব নয়।

২৬- (৭০) খাইসামা বিন সুলাইমান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন আবিল হানাজির আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আল-হাইসাম বিন হুমাইদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (হ)। এবং আল-হাসান বিন আন-নাজর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন ইসহাক বিন ইবরাহিম আল-বাগদাদী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন উমর বিন মুসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন হাম্মাদ বিন সালামাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাবিত থেকে, তিনি আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আল্লাহর মহিমান্বিত বাণী {যখন তাঁর রব পাহাড়ের ওপর জ্যোতি প্রকাশ করলেন} সম্পর্কে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "আল্লাহ মহিমান্বিত ও পরাক্রমশালী তাঁর পক্ষ থেকে এভাবে জ্যোতি প্রকাশ করলেন, এবং তিনি কনিষ্ঠার ওপর বৃদ্ধাঙ্গুলি রাখলেন"। হাইসাম অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, হাম্মাদ সাবিতকে বললেন: আপনি এই হাদিস বর্ণনা করবেন না। তখন তিনি (সাবিত) তাঁর বুকে একটি ধাক্কা দিলেন এবং তাঁকে কঠোর কথা বললেন। এরপর সাবিত বললেন: আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আমার নিকট এটি বর্ণনা করছেন আর আপনি বলছেন আমি যেন এটি বর্ণনা না করি!

২৮- (৭১) আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন উমর আল-ওয়াররাক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন আবদুল্লাহ বিন আহমাদ বিন হাম্বল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন মুহাম্মদ বিন আবু বকর আল-মুকাদ্দামি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন হুরিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন মুহাম্মদ বিন সাওয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাঈদ থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে, তিনি আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে {যখন তাঁর রব পাহাড়ের ওপর জ্যোতি প্রকাশ করলেন} সম্পর্কে বর্ণনা করেন, তিনি বললেন: "এভাবে, এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কনিষ্ঠা আঙ্গুলের অগ্রভাগ দিয়ে ইশারা করলেন।" এটি একটি প্রসিদ্ধ হাদিস যা আনাস বিন মালিক থেকে বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত হয়েছে।

২৮- (৭২) খাইসামা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম বিন কাসির আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন মুয়াম্মাল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন...

--------------------------------------------

১ তিরমিজি/কদর অধ্যায়; দয়াময় আল্লাহর আঙ্গুলসমূহের মধ্য থেকে দুটি আঙ্গুলের মাঝে অন্তরসমূহ থাকা বিষয়ক পরিচ্ছেদ; তুহফাতুল আহওয়াযী ৬/৩৪৯, হাদিস নং ২২২৬, হান্নাদের সূত্র থেকে... আবু সুফিয়ান থেকে, তিনি আনাস থেকে। তিনি বলেছেন হাদিসটি হাসান সহিহ। এবং তিনি বলেন তাদের কেউ কেউ আল-আ'মাশ থেকে, তিনি আবু সুফিয়ান থেকে, তিনি জাবির থেকে বর্ণনা করেছেন। তবে আনাস থেকে আবু সুফিয়ানের বর্ণনাটি অধিক বিশুদ্ধ। আমি (গ্রন্থকার) বলছি: আবু সুফিয়ান থেকে জাবিরের বর্ণনাটিই লেখকের বর্ণনা। দারাকুতনি এটি 'আস-সিফাত' গ্রন্থে (পৃষ্ঠা ৪/১) বর্ণনা করেছেন। হাইসামি 'মাজমাউজ জাওয়াইদ' গ্রন্থের দুয়া অধ্যায়ে (১০/১৭৬) বলেছেন: এটি আবু ইয়ালা বর্ণনা করেছেন এবং এর বর্ণনাকারীগণ সহিহ গ্রন্থের বর্ণনাকারী। ইমাম মুসলিম আবদুল্লাহ বিন আমর বিন আল-আস-এর হাদিস থেকে 'কদর' অধ্যায়ে আল্লাহর অন্তরসমূহ পরিবর্তন করা বিষয়ক পরিচ্ছেদে (৪/২০৪৫, হাদিস নং ১৭) এর সমর্থনকারী বর্ণনা উল্লেখ করেছেন।

মুসনাদে আহমাদ ২/১৬৮-১৭৩, আবদুল্লাহ বিন আমর-এর হাদিস থেকে।

মুসনাদে আহমাদ ৬/২৫১, আয়েশা-এর হাদিস থেকে।

মুসনাদে আহমাদ ৬/৩০২, ২১৫, উম্মে সালামাহ-এর হাদিস থেকে।

২ ইবনে জারির তবারি তাঁর তাফসির গ্রন্থে (৯/৫৩) আল-মুসান্না সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন হুদবাহ বিন খালিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন হাম্মাদ বিন সালামাহ এটি বর্ণনা করেছেন।

৩ ইবনে জারির তবারি তাঁর তাফসির গ্রন্থে (৯/৫৩) আনাস-এর হাদিস থেকে।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ লি-ইবনি মানদাহ - মাজাল্লাতুল জামিআতিল ইসলামিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২২৬)
عبيد الله بن أبي الْمليح، عَن أبي مليح، عَن أبي هُرَيْرَة قَالَ: قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم: "رَأَيْت رَبِّي عز وجل فِي مَنَامِي فِي أحسن صُورَة، فَقَالَ لي: يَا مُحَمَّد، قلت: لبيْك وَسَعْديك، قَالَ: هَل تَدْرِي فيمَ يخْتَصم الْمَلأ الْأَعْلَى؟ قلت: لَا، يَا رب. فَوضع يَده بَين كَتِفي حَتَّى وجدت بردهَا بَين ثدي"، وَذكره1.

29- (73) أخبرنَا عبد الله بن جَعْفَر الْبَغْدَادِيّ بِمصْر، ثَنَا هَارُون بن كَامِل، ثَنَا أَبُو صَالح، ثَنَا مُعَاوِيَة بن صَالح، عَن أبي يحي وَهُوَ سليم2، عَن أبي يزِيد عَن أبي سَلام الحبشي، أَنه سمع ثَوْبَان قَالَ: خرج رَسُول الله صلى الله عليه وسلم بعد صَلَاة الصُّبْح فَقَالَ: "إِن رَبِّي عز وجل أَتَانِي اللَّيْلَة فِي أحسن صُورَة فَقَالَ: يَا مُحَمَّد هَل تَدْرِي فيمَ يخْتَصم الْمَلأ الْأَعْلَى؟ قلت: لَا علم لي يَا رب، فَوضع كَفه على كَتِفي حَتَّى وجدت برد أنامله فِي صَدْرِي، فتجلى لي فِي السَّمَاء وَالْأَرْض"، وَذكر الحَدِيث.

30- (74) أخبرنَا الْحسن بن يُوسُف الطرائفي بِمصْر ثَنَا إِبْرَاهِيم بن مَرْزُوق، ثَنَا أَبُو عَامر الْعَقدي، ثَنَا زُهَيْر بن مُحَمَّد، عَن يزِيد بن جَابر، عَن خَالِد بن اللَّجْلَاج، عَن عبد الرَّحْمَن بن عايش، عَن بعض أَصْحَاب النَّبِي صلى الله عليه وسلم أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم خرج ذَات غَدَاة وَهُوَ طيب النَّفس، مشرق اللَّوْن، فَقُلْنَا لَهُ، فَقَالَ:

"مَالِي وأتاني رَبِّي عز وجل فِي أحسن صُورَة". الحَدِيث3. هَكَذَا رَوَاهُ عَن يزِيد بن يزِيد4، وَزَاد فِي الْإِسْنَاد رجل من أَصْحَاب النَّبِي صلى الله عليه وسلم. وَرَوَاهُ الْأَوْزَاعِيّ وَعبد الرَّحْمَن بن جَابر وَغَيرهمَا عَن خَالِد بن اللَّجْلَاج وَلم يذكرُوا الرجل فِي الْإِسْنَاد.

31- (75) أخبرنَا مُحَمَّد بن يَعْقُوب بن يُوسُف، وخثيمة بن سُلَيْمَان، قَالَا: ثَنَا الْعَبَّاس بن الْوَلِيد بن مزِيد، أَخْبرنِي أبي، ثَنَا ابْن جَابر، وَالْأَوْزَاعِيّ قَالَا: ثَنَا خَالِد بن اللَّجْلَاج، سَمِعت عبد الرَّحْمَن بن عايش قَالَ: صلى بِنَا رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَذكر الحَدِيث مثله وَقَالَ فِيهِ: "فَوضع كَفه بَين كَتِفي فَوجدت بردهَا بَين ثدي فَعلمت مَا فِي الأَرْض وَالسَّمَوَات"، ثمَّ قَرَأَ {وَكَذَلِكَ نُرِي إِبْرَاهِيمَ مَلَكُوتَ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ} (الْأَنْعَام/75) 5 قَالَ عبد الله6، رَوَاهُ أَبُو سَلام، عَن عبد الرَّحْمَن بن عايش، عَن مَالك بن يخَامر عَن معَاذ

--------------------------------------------

1 سَيَأْتِي تَخْرِيجه حَدِيث رقم 75.

2 سليم بن عَامر الكلَاعِي، أَبُو يحي الْحِمصِي، ثِقَة، من الثَّالِثَة. تقريب 1/320. تَهْذِيب 4/166.

3 حم4/66 من طَرِيق عبد الله حَدثنِي أبي، أَبُو عَامر بِهِ أتم من هَذَا.

4 وَيزِيد بن يزِيد هُوَ ابْن جَابر. وَسَيَأْتِي الحَدِيث كَامِلا.

5 ابْن جرير فِي التَّفْسِير 7/247.

6 لَعَلَّه: أَبُو عبد الله.
উবাইদুল্লাহ ইবনে আবিল মালিহ, আবু মালিহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমি আমার প্রতিপালক আযযা ওয়া জাল্লাকে স্বপ্নে সবচেয়ে সুন্দর আকৃতিতে দেখেছি। তিনি আমাকে বললেন: হে মুহাম্মদ! আমি বললাম: লাব্বাইকা ওয়া সাদাইকা। তিনি বললেন: উচ্চজগতের বাসিন্দারা কী নিয়ে বিতর্ক করছে তা কি তুমি জানো? আমি বললাম: না, হে আমার প্রতিপালক। তখন তিনি তাঁর হাত আমার কাঁধের মাঝে রাখলেন, এমনকি আমি আমার দুই স্তনের মাঝে তাঁর শীতলতা অনুভব করলাম।" তিনি হাদীসটি উল্লেখ করেছেন।১

২৯- (৭৩) আবদুল্লাহ ইবনে জাফর আল-বাগদাদী আমাদের মিশরে সংবাদ দিয়েছেন, হারুন ইবনে কামিল আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আবু সালেহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, মুআবিয়া ইবনে সালেহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আবু ইয়াহইয়া (যিনি সুলাইম)২ থেকে, তিনি আবু ইয়াযিদ থেকে, তিনি আবু সালাম আল-হাবাশি থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি সাওবান (রা.)-কে বলতে শুনেছেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ফজরের নামাজের পর বের হলেন এবং বললেন: "নিশ্চয়ই আমার প্রতিপালক আযযা ওয়া জাল্লা আজ রাতে সবচেয়ে সুন্দর আকৃতিতে আমার কাছে এসেছেন এবং বললেন: হে মুহাম্মদ, উচ্চজগতের বাসিন্দারা কী নিয়ে বিতর্ক করছে তা কি তুমি জানো? আমি বললাম: হে আমার প্রতিপালক, আমার এ বিষয়ে কোনো জ্ঞান নেই। তখন তিনি তাঁর হাতের তালু আমার কাঁধের ওপর রাখলেন, এমনকি আমি আমার বক্ষে তাঁর আঙুলের অগ্রভাগের শীতলতা অনুভব করলাম। ফলে আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে তা আমার কাছে উদ্ভাসিত হয়ে গেল।" তিনি হাদীসটি উল্লেখ করেছেন।

৩০- (৭৪) আল-হাসান ইবনে ইউসুফ আত-তরাইফি আমাদের মিশরে সংবাদ দিয়েছেন, ইব্রাহিম ইবনে মারজুক আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আবু আমির আল-আকাদি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, যুহাইর ইবনে মুহাম্মদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, ইয়াজিদ ইবনে জাবির থেকে, তিনি খালিদ ইবনে লাজলাজ থেকে, তিনি আবদুর রহমান ইবনে আইশ থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জনৈক সাহাবী থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একদিন সকালে প্রফুল্ল চিত্তে ও উজ্জ্বল চেহারায় বের হলেন। আমরা তাঁকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন:

"আমার কী হয়েছে (যে আমি আনন্দিত হবো না), অথচ আমার প্রতিপালক আযযা ওয়া জাল্লা সবচেয়ে সুন্দর আকৃতিতে আমার কাছে এসেছেন।" হাদীসটি ৩। তিনি এভাবে ইয়াজিদ ইবনে ইয়াজিদ৪ থেকে বর্ণনা করেছেন এবং সনদে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর একজন সাহাবীর কথা অতিরিক্ত উল্লেখ করেছেন। আল-আওযায়ী, আবদুর রহমান ইবনে জাবির এবং অন্যরা খালিদ ইবনে লাজলাজ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন, কিন্তু তাঁরা সনদে এই সাহাবীর কথা উল্লেখ করেননি।

৩১- (৭৫) মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব ইবনে ইউসুফ এবং খাইসামা ইবনে সুলাইমান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তাঁরা বলেন: আব্বাস ইবনে ওয়ালিদ ইবনে মাযিদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আমার পিতা আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, ইবনে জাবির ও আওযায়ী আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: খালিদ ইবনে লাজলাজ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আমি আবদুর রহমান ইবনে আইশকে বলতে শুনেছি: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন... এরপর তিনি অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেন এবং তাতে বলেন: "অতঃপর তিনি তাঁর হাতের তালু আমার কাঁধের মাঝে রাখলেন, ফলে আমি আমার দুই স্তনের মাঝে তাঁর শীতলতা অনুভব করলাম। তখন আমি আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে তা জেনে নিলাম।" তারপর তিনি তিলাওয়াত করলেন: {আর এভাবেই আমি ইব্রাহিমকে আসমানসমূহ ও জমিনের সার্বভৌমত্ব দেখিয়েছি} (আল-আনআম/৭৫) ৫। আবদুল্লাহ৬ বলেছেন, এটি আবু সালাম আবদুর রহমান ইবনে আইশ থেকে, তিনি মালিক ইবনে ইখামির থেকে, তিনি মুয়ায থেকে বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

১ সামনে হাদীস নং ৭৫-এ এর তাখরীজ আসবে।

২ সুলাইম ইবনে আমির আল-কিলাই, আবু ইয়াহইয়া আল-হিমসি, সিকাহ (নির্ভরযোগ্য), তৃতীয় স্তরের। তাকরীব ১/৩২০, তাহযীব ৪/১৬৬।

৩ আহমাদ ৪/৬৬, আবদুল্লাহর সূত্রে, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, আবু আমির থেকে এটি এর চেয়ে পূর্ণাঙ্গ রূপে বর্ণিত।

৪ ইয়াজিদ ইবনে ইয়াজিদ হলেন ইবনে জাবির। হাদীসটি পূর্ণাঙ্গভাবে সামনে আসবে।

৫ ইবনে জারীর, তাফসীর ৭/২৪৭।

৬ সম্ভবত তিনি: আবু আবদুল্লাহ।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ লি-ইবনি মানদাহ - মাজাল্লাতুল জামিআতিল ইসলামিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২২৭)
بن جبل1، وروى هَذَا الحَدِيث ابْن حَنْبَل2. وَرُوِيَ هَذَا الحَدِيث عَن عشرَة من أَصْحَاب النَّبِي صلى الله عليه وسلم ونقلها عَنْهُم أَئِمَّة الْبِلَاد، من أهل الشرق والغرب.

--------------------------------------------

1 وَصله ت/ فِي التَّفْسِير/ 9/106-107 ح 3288 تحفة الأحوذي، من طَرِيق مُحَمَّد بن بشار، ثَنَا معَاذ بن هاني … عَن أبي سَلام، عَن عبد الرَّحْمَن بن عايش الْحَضْرَمِيّ أَنه حَدثهُ عَن مَالك بن يخَامر السكْسكِي عَن معَاذ بن جبل بِهِ مطولا، ثمَّ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيث حسن صَحِيح، سَأَلت مُحَمَّد بن إِسْمَاعِيل عَن هَذَا الحَدِيث، فَقَالَ: هَذَا صَحِيح وَقَالَ: هَذَا أصح من حَدِيث الْوَلِيد بن مُسلم عَن عبد الرَّحْمَن بن يزِيد بن جَابر، قَالَ: ثَنَا خَالِد بن اللَّجْلَاج حَدثنِي عبد الرَّحْمَن بن عايش الْحَضْرَمِيّ قَالَ: قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَذكر الحَدِيث، وَهَذَا غير مَحْفُوظ. هَكَذَا ذكر الْوَلِيد فِي حَدِيثه عَن عبد الرَّحْمَن بن عايش قَالَ: سَمِعت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم. وروى بشر بن بكر، عَن عبد الرَّحْمَن بن يزِيد بن جَابر، هَذَا الحَدِيث بِهَذَا الْإِسْنَاد عَن عبد الرَّحْمَن بن عايش عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم، وَهَذَا أصح. وَعبد الرَّحْمَن بن عايش لم يسمع من النَّبِي صلى الله عليه وسلم اهـ.

والدرامي فِي السّنَن /بَاب فِي رُؤْيَة الرب تَعَالَى فِي النّوم، 2/51 ح 2155.

2 حم/ 5/243.
বিন জাবাল১, এবং এই হাদীসটি ইবনে হাম্বল বর্ণনা করেছেন২। এই হাদীসটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দশজন সাহাবী থেকে বর্ণিত হয়েছে এবং প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের দেশসমূহের ইমামগণ তাঁদের থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

১ তিরমিযী এটি বর্ণনা করেছেন/ তাফসীর অধ্যায়ে/ ৯/১০৬-১০৭, হাদীস নং ৩২৮৮ তুহফাতুল আহওয়াযী, মুহাম্মদ ইবনে বাশারের সূত্রে, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুআয ইবনে হানি হাদীস বর্ণনা করেছেন … আবু সালাম থেকে, তিনি আব্দুর রহমান ইবনে আইশ আল-হাদরামী থেকে, তিনি তাঁর নিকট মালেক ইবনে ইখামির আস-সাকসাকী থেকে, তিনি মুআয ইবনে জাবাল থেকে এটি দীর্ঘভাবে বর্ণনা করেছেন। অতঃপর আবু ঈসা বলেন: এই হাদীসটি হাসান সহীহ। আমি মুহাম্মদ ইবনে ইসমাঈলকে এই হাদীস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি, তিনি বললেন: এটি সহীহ। এবং তিনি বললেন: এটি ওয়ালিদ ইবনে মুসলিম কর্তৃক আব্দুর রহমান ইবনে ইয়াযীদ ইবনে জাবির থেকে বর্ণিত হাদীসের চেয়ে বেশি বিশুদ্ধ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট খালিদ ইবনুল লাজলাজ হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার নিকট আব্দুর রহমান ইবনে আইশ আল-হাদরামী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন... অতঃপর হাদীসটি উল্লেখ করেছেন, এবং এটি সংরক্ষিত নয়। ওয়ালিদ তার হাদীসে আব্দুর রহমান ইবনে আইশ থেকে এভাবেই উল্লেখ করেছেন যে, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি। এবং বিশর ইবনে বকর, আব্দুর রহমান ইবনে ইয়াযীদ ইবনে জাবির থেকে এই সনদে আব্দুর রহমান ইবনে আইশ থেকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সূত্রে এই হাদীসটি বর্ণনা করেছেন, আর এটিই অধিকতর সঠিক। এবং আব্দুর রহমান ইবনে আইশ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে শ্রবণ করেননি। সমাপ্ত।

এবং দারেমী তাঁর সুনানে/ স্বপ্নে প্রতিপালকের দর্শন অধ্যায়, ২/৫১, হাদীস নং ২১৫৫।

২ আহমদ/ ৫/২৪৩।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ লি-ইবনি মানদাহ - মাজাল্লাতুল জামিআতিল ইসলামিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২২৭)
‌‌(ذكر خبر آخر يدل على مَا تقدم) .

32- (76) أخبرنَا مُحَمَّد بن الْحُسَيْن الْقطَّان النَّيْسَابُورِي، ثَنَا أَحْمد بن يُوسُف السّلمِيّ ح/ وأنبأ عبد الرَّحْمَن بن يحي، وَعبد الله بن إِبْرَاهِيم، قَالَا: ثَنَا أَبُو مَسْعُود الرَّازِيّ، قَالَ: أنبأ عبد الرَّزَّاق، عَن معمر، عَن الزُّهْرِيّ، عَن عُرْوَة، عَن عَائِشَة، عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ:

"خلق الله جلّ وَعز الْمَلَائِكَة من نور، وَخلق الجان من نَار، وَخلق بني آدم مِمَّا وصف" 3، وَهَذَا حَدِيث ثَابت بِاتِّفَاق.

33- (77) أخبرنَا مُحَمَّد بن الْحُسَيْن الْقطَّان، ثَنَا أَبُو الْأَزْهَر النَّيْسَابُورِي، ثَنَا صَدَقَة بن سَابق، قَالَ: قَرَأت على مُحَمَّد بن إِسْحَاق حَدثنِي هِشَام بن عُرْوَة، عَن أَبِيه، عَن عبد الله بن عَمْرو قَالَ: سمعته يَقُول: "خلق الله الْمَلَائِكَة ثمَّ قَالَ، ليكن مِنْكُم ألف أَلفَيْنِ، فيكونون، فَإِن فِي الْمَلَائِكَة لخلقاً هم أَصْغَر من الذُّبَاب"، وَقَالَ غَيره وَزَاد فِيهِ: "وخلقهم من نور الذراعين والصدر".

34- (78) أخبرنَا أَحْمد بن مُحَمَّد بن عمر، ثَنَا عبد الله بن أَحْمد بن حَنْبَل، ثَنَا شُرَيْح بن يُونُس، ثَنَا أَبُو خَالِد الْأَحْمَر، عَن هِشَام بن عُرْوَة، عَن أَبِيه، عَن عبد الله بن عَمْرو، وَقَالَ: لَيْسَ شَيْء من الْمَلَائِكَة، إِن الله قد خلقهمْ من نور فَذكره، وَأَشَارَ شُرَيْح بِيَدِهِ إِلَى صَدره. وَقَالَ: أَشَارَ أَبُو خَالِد إِلَى صَدره، قَالَ عبد الله بن أَحْمد بن حَنْبَل: حَدَّثَنِيهِ

--------------------------------------------

3 م/ كتاب الزّهْد/ بَاب فِي أَحَادِيث متنوعة،4/2294 ح 60. وَفِيه: وَخلق آدم.

حم/ 6/168.
(পূর্বোক্ত বিষয়ের প্রমাণবাহী অপর একটি বর্ণনার উল্লেখ).

৩২- (৭৬) মুহাম্মাদ ইবনুল হুসাইন আল-কাত্তান আন-নাইসাবুরি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আহমাদ ইবনু ইউসুফ আস-সুলামি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন (হাদিসটি অন্য সূত্রে বর্ণিত), এবং আব্দুর রহমান ইবনু ইয়াহইয়া ও আব্দুল্লাহ ইবনু ইব্রাহিম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আবু মাসউদ আর-রাজি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্দুর রাজ্জাক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মা’মার থেকে, তিনি জুহরি থেকে, তিনি উরওয়াহ থেকে, তিনি আয়েশা থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন:

"মহান ও মহিমান্বিত আল্লাহ ফেরেশতাদের নূর থেকে সৃষ্টি করেছেন, জিনদের সৃষ্টি করেছেন অগ্নিশিখা থেকে এবং আদম সন্তানদের সৃষ্টি করেছেন সেই বস্তু থেকে যা তোমাদের কাছে বর্ণনা করা হয়েছে।" ৩, আর এটি সর্বসম্মতিক্রমে একটি সুসাব্যস্ত হাদিস।

৩৩- (৭৭) মুহাম্মাদ ইবনুল হুসাইন আল-কাত্তান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আল-আযহার আন-নাইসাবুরি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, সাদাকা ইবনু সাবিক আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি মুহাম্মাদ ইবনু ইসহাকের নিকট পাঠ করেছি, হিশাম ইবনু উরওয়াহ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনু আমর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি (হিশাম) বলেন: আমি তাঁকে বলতে শুনেছি: "আল্লাহ ফেরেশতাদের সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর বলেছেন: তোমাদের মধ্য থেকে দুই হাজার জন হও, তখন তাঁরা হয়ে গেলেন। নিশ্চয়ই ফেরেশতাদের মধ্যে এমন সৃষ্টিও রয়েছে যারা মাছির চেয়েও ক্ষুদ্র।" অন্য বর্ণনাকারী এতে আরও বর্ধিত করেছেন: "এবং তিনি তাঁদের দুই বাহু ও বুকের নূর থেকে সৃষ্টি করেছেন।"

৩৪- (৭৮) আহমাদ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু উমর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আব্দুল্লাহ ইবনু আহমাদ ইবনু হাম্বল আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, শুরাইহ ইবনু ইউনুস আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আবু খালিদ আল-আহমার আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি হিশাম ইবনু উরওয়াহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনু আমর থেকে বর্ণনা করেন, এবং তিনি বলেন: ফেরেশতাদের মতো কিছুই নেই, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁদের নূর থেকে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তিনি এটি উল্লেখ করলেন এবং শুরাইহ নিজ হাত দিয়ে নিজের বুকের দিকে ইশারা করলেন। তিনি বললেন: আবু খালিদও নিজের বুকের দিকে ইশারা করেছিলেন। আব্দুল্লাহ ইবনু আহমাদ ইবনু হাম্বল বলেন: তিনি এটি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

৩ মুসলিম/ কিতাবুয যুহদ/ বিভিন্ন হাদিস সংক্রান্ত অধ্যায়, ৪/২২৯৪ হাদিস ৬০। আর এতে রয়েছে: এবং তিনি আদমকে সৃষ্টি করেছেন।

আহমাদ/ ৬/১৬৮।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ লি-ইবনি মানদাহ - মাজাল্লাতুল জামিআতিল ইসলামিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২২৮)
أبي، ثَنَا أَبُو أُسَامَة عَن هِشَام، عَن أَبِيه، عَن عبد الله بن عَمْرو قَالَ: خلقت الْمَلَائِكَة من نور الذراعين والصدر1.

35- (79) أخبرنَا أَبُو عمر مولى بني هَاشم، ثَنَا أَبُو أُميَّة الطرسوسي، ثَنَا عبيد الله بن مُوسَى، ثَنَا شَيبَان، عَن الْأَعْمَش، عَن أبي صَالح، عَن أبي هُرَيْرَة قَالَ: قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم: "إِن غلظ جلد الْكَافِر اثْنَان وَأَرْبَعُونَ ذِرَاعا بِذِرَاع الْجَبَّار وضرسه مثل أحد" 2.

36- (80) (ثَنَا) أَحْمد بن مُحَمَّد بن زِيَاد، وَمُحَمّد بن يَعْقُوب بن يُوسُف، قَالَا: ثَنَا الْحسن بن عَليّ بن عَفَّان، ثَنَا عبد الله بن نمير، عَن الْأَعْمَش عَن أبي صَالح، عَن أبي هُرَيْرَة قَالَ: قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم: "فَقَالَ: يَعْنِي جلّ وَعز: أَنا عِنْد ظن عَبدِي بِي، إِن تقرب إليّ شبْرًا تقربت إِلَيْهِ ذِرَاعا، وَإِن تقرب إِلَيّ ذِرَاعا تقربت إِلَيْهِ باعا، وَإِن أَتَانِي يمشي أَتَيْته هرولة "3.

37- (81) أخبرنَا أَحْمد بن مُحَمَّد بن عمر، ثَنَا عبد الله بن أَحْمد بن حَنْبَل، ثَنَا أبي، ثَنَا أَبُو الْيَمَان، ثَنَا ابْن عَيَّاش، عَن أم عبد الله بنت خَالِد بن معدان عَن أَبِيهَا، أَنه قَالَ: " إِن ريح الْجنَّة ليضْرب على أَرْبَعِينَ خَرِيفًا والخريف بَاعَ الله عز وجل" 4.

--------------------------------------------

1 الحَدِيث من قَول عبد الله بن عَمْرو، وَقد أخرجه الْبَيْهَقِيّ فِي الْأَسْمَاء وَالصِّفَات ص 343، وَأَشَارَ إِلَى أَنه من الْإسْرَائِيلِيات.

وَالسّنة/ لعبد الله بن الإِمَام أَحْمد بن حَنْبَل ص 151.

2 حم/ 24/171 ح 419 تَرْتِيب الساعاتي.

الْحَاكِم فِي الْمُسْتَدْرك/ كتاب الْأَهْوَال، 4/595. على شَرط البُخَارِيّ وَمُسلم.

3 م/ فِي كتاب التَّوْبَة/ بَاب فِي الحض على التَّوْبَة، 4/2102 ح 1. من طَرِيق سُوَيْد بن سعيد … عَن أبي صَالح وَفِيه زِيَادَة.

خَ/ فِي التَّوْحِيد، بَاب ذكر النَّبِي صلى الله عليه وسلم وَرِوَايَته عَن ربه، فتح الْبَارِي 13/512 ح 7537 من حَدِيث أبي هُرَيْرَة.

حم/ 2/251، 413 وَفِيه زِيَادَة.

جه/ فِي الْأَدَب/ بَاب فضل الْعَمَل، 2/1255-1256 ح 3822.

خلق أَفعَال الْعباد وَالرَّدّ على الْجَهْمِية/ البُخَارِيّ ص 188.

وَالْبَيْهَقِيّ فِي الْأَسْمَاء وَالصِّفَات ص 342.

4 تقدم الحَدِيث رقم 80 يُغني عَن هَذَا وَهُوَ فِي مَعْنَاهُ.
আমার পিতা আমাদের বর্ণনা করেছেন, আবু উসামা হিশাম থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আমর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ফেরেশতাদেরকে (আল্লাহর) দুই বাহু এবং বক্ষের নূর থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে।১

৩৫- (৭৯) বনী হাশেমের মুক্তদাস আবু ওমর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু উমাইয়্যাহ আত-তারসুসি আমাদের বর্ণনা করেছেন, উবাইদুল্লাহ ইবনে মুসা আমাদের বর্ণনা করেছেন, শায়বান আমাদের বর্ণনা করেছেন আমাশ থেকে, তিনি আবু সলিহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই কাফেরের চামড়ার পুরুত্ব হবে জাব্বারের (আল্লাহর) বাহুর মাপে বিয়াল্লিশ হাত এবং তার দাঁত হবে ওহুদ পাহাড়ের সমান।" ২

৩৬- (৮০) (আমাদের বর্ণনা করেছেন) আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে যিয়াদ এবং মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব ইবনে ইউসুফ, তাঁরা বলেন: হাসান ইবনে আলী ইবনে আফফান আমাদের বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ ইবনে নুমাইর আমাদের বর্ণনা করেছেন আমাশ থেকে, তিনি আবু সলিহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আল্লাহ জাল্লা ওয়া আজাল্লা বলেন: আমার বান্দা আমার প্রতি যেমন ধারণা পোষণ করে আমি তেমন। সে যদি আমার দিকে এক বিঘত অগ্রসর হয়, তবে আমি তার দিকে এক বাহু (হাত) অগ্রসর হই। সে যদি আমার দিকে এক বাহু অগ্রসর হয়, তবে আমি তার দিকে দুই হাতের প্রসারণ (বা') পরিমাণ অগ্রসর হই। আর সে যদি আমার দিকে হেঁটে আসে, তবে আমি তার দিকে দ্রুত ধাবিত হই (হরওয়ালা করি)।" ৩

৩৭- (৮১) আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ওমর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে হাম্বল আমাদের বর্ণনা করেছেন, আমার পিতা আমাদের বর্ণনা করেছেন, আবু ইয়ামান আমাদের বর্ণনা করেছেন, ইবনুল আইয়াশ আমাদের বর্ণনা করেছেন উম্মে আবদুল্লাহ বিনতে খালিদ ইবনে মাদান থেকে, তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: "নিশ্চয়ই জান্নাতের সুঘ্রাণ চল্লিশ বছরের দূরত্ব থেকে পাওয়া যায়, আর 'খারিফ' (বছর) হলো মহান আল্লাহর হাতের প্রসারণ (বা')।" ৪

--------------------------------------------

১ হাদীসটি আবদুল্লাহ ইবনে আমরের উক্তি। এটি বায়হাকী ‘আল-আসমা ওয়াস-সিফাত’ (পৃ. ৩৪৩) গ্রন্থে বের করেছেন এবং ইঙ্গিত দিয়েছেন যে এটি ইসরাঈলী বর্ণনা। এবং ‘আস-সুন্নাহ’/ আবদুল্লাহ ইবনে ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (পৃ. ১৫১)।

২ আহমাদ/ ২৪/১৭১, হাদীস নং ৪১৯, আস-সাআতির বিন্যাস।

হাকীম তাঁর ‘আল-মুস্তাদরাক’/ কিতাবুল আহওয়াল, ৪/৫৯৫ গ্রন্থে। বুখারী ও মুসলিমের শর্তানুযায়ী।

৩ মুসলিম/ কিতাবুত তাওবাহ/ তাওবার প্রতি উৎসাহিতকরণ অধ্যায়, ৪/২১০২, হাদীস নং ১। সুওয়াইদ ইবনে সাঈদ-এর সূত্রে... আবু সলিহ থেকে এবং এতে বর্ধিতাংশ রয়েছে।

বুখারী/ কিতাবুত তাওহীদ, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কর্তৃক তাঁর রবের থেকে বর্ণনার অধ্যায়, ফাতহুল বারী ১৩/৫১২, হাদীস নং ৭৫৩৭, আবু হুরায়রার হাদীস থেকে।

আহমাদ/ ২/২৫১, ৪১৩ এবং এতে বর্ধিতাংশ রয়েছে।

ইবনে মাজাহ/ কিতাবুল আদাব/ আমলের ফযীলত অধ্যায়, ২/১২৫৫-১২৫৬, হাদীস নং ৩৮২২।

খালকু আফআলিল ইবাদ ওয়ার-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ/ বুখারী (পৃ. ১৮৮)।

এবং বায়হাকী ‘আল-আসমা ওয়াস-সিফাত’ (পৃ. ৩৪২)।

৪ পূর্ববর্তী ৮০ নং হাদীসটি এর প্রয়োজন পূরণ করে এবং এটি একই অর্থবোধক।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ লি-ইবনি মানদাহ - মাজাল্লাতুল জামিআতিল ইসলামিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২২৮)
‌‌بَاب: قَوْله الله جلّ وَعز {كُلُّ شَيْءٍ هَالِكٌ إِلَاّ وَجْهَهُ لَهُ الْحُكْمُ وَإِلَيْهِ تُرْجَعُونَ} (الْقَصَص/88) .

وَقَالَ الله عز وجل {وَيَبْقَى وَجْهُ رَبِّكَ ذُو الْجَلالِ} (الرَّحْمَن/27) .

وَذكر مَا ثَبت عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم مِمَّا يدل على حَقِيقَة ذَلِك.
পরিচ্ছেদ: মহান ও মহিমান্বিত আল্লাহর বাণী {তাঁর চেহারা ব্যতীত সবকিছুই ধ্বংসশীল, বিধান তাঁরই এবং তাঁরই নিকট তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে} (আল-কাসাস/৮৮)।

এবং মহান ও মহিমান্বিত আল্লাহ বলেছেন {আপনার মহিমাময় রবের চেহারা অবশিষ্ট থাকবে} (আর-রাহমান/২৭)।

এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে যা প্রমাণিত হয়েছে তা উল্লেখ করা হয়েছে যা এর প্রকৃতত্বের ওপর প্রমাণ দেয়।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ লি-ইবনি মানদাহ - মাজাল্লাতুল জামিআতিল ইসলামিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২২৯)
1- (82) أخبرنَا عبد الرَّحْمَن بن يحي بن مَنْدَه، ثَنَا إِسْمَاعِيل بن عبد الله بن مَسْعُود ثَنَا أَبُو نعيم، وَعَمْرو بن عون، ثَنَا الْحَارِث بن عبيد أَبُو قدامَة، عَن أبي عمرَان الْجونِي، عَن أبي بكر بن عبد الله بن قيس، عَن أَبِيه قَالَ:

قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم: "جنَّات الفردوس أَربع، ثِنْتَانِ من ذهب حليتهما وآنيتهما وَمَا فيهمَا، وثنتان من فضَّة حليتهما وَمَا فيهمَا، لَيْسَ بَين الْقَوْم وَبَين أَن ينظرو إِلَى رَبهم إلَاّ رِدَاء الْكِبْرِيَاء على وَجهه فِي جنَّات عدن، وَهَذِه الجنات تشخب من جنَّات عدن، ثمَّ تصدع بعد أَنهَار" 1.

--------------------------------------------

1 خَ/ التَّوْحِيد، 13/433 ح 7444. من طَرِيق عَليّ بن عبد الله، ثَنَا عبد الْعَزِيز عَن أبي عمرَان بِهِ.

م/الْإِيمَان/ بَاب إِثْبَات رُؤْيَة الْمُؤمنِينَ فِي الْآخِرَة رَبهم 1/163 ح 296.

ت/ فِي الْجنَّة/ بَاب مَا جَاءَ فِي صفة غرف الْجنَّة/ 7/232 ح 3648.

جه/ فِي الْمُقدمَة/ بَاب فِيمَا أنْكرت الْجَهْمِية 1/66/ ح 186.
১- (৮২) আবদুর রহমান ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে মান্দাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইসমাইল ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আবু নুআইম ও আমর ইবনে আউন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, হারিস ইবনে উবাইদ আবু কুদামাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আবু ইমরান আল-জাওনি থেকে বর্ণিত, তিনি আবু বকর ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে কাইস থেকে এবং তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "জান্নাতুল ফিরদাউস হলো চারটি; দুটি সোনার তৈরি—যার অলংকার, পাত্রসমূহ এবং এর ভেতরের সবকিছুই সোনার। আর দুটি রুপার তৈরি—যার অলংকার এবং এর ভেতরের সবকিছুই রুপার। আদন জান্নাতে অবস্থানকালে জান্নাতবাসীদের ও তাদের রবের দর্শনের মাঝে আল্লাহর চেহারার উপর কেবল মহিমার চাদরই অন্তরায় হয়ে থাকবে। আর এই জান্নাতগুলো আদন জান্নাত থেকে প্রবাহিত হয় এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন নদী হিসেবে বিদীর্ণ হয়ে বয়ে যায়।" ১।

--------------------------------------------

১. বুখারি/ আত-তাওহিদ, ১৩/৪৩৩, হাদিস নং ৭৪৪৪। আলি ইবনে আবদুল্লাহর সূত্রে, তিনি আব্দুল আজিজ থেকে, তিনি আবু ইমরান থেকে এই সনদে বর্ণনা করেছেন।

মুসলিম/ আল-ঈমান/ পরকালে মুমিনদের রবকে দেখার প্রমাণ অধ্যায়, ১/১৬৩, হাদিস নং ২৯৬।

তিরমিযী/ জান্নাত অধ্যায়/ জান্নাতের কক্ষসমূহের বৈশিষ্ট্য সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ, ৭/২৩২, হাদিস নং ৩৬৪৮।

ইবনে মাজাহ/ মুকাদ্দিমাহ/ জাহমিয়্যাহরা যা অস্বীকার করেছে সেই সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ, ১/৬৬, হাদিস নং ১৮৬।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ লি-ইবনি মানদাহ - মাজাল্লাতুল জামিআতিল ইসলামিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২২৯)
‌‌(ذكر خبر يدل على مَا تقدم من النّظر إِلَى وَجه الله عز وجل .

2- (83) أخبرنَا عبد الرَّحْمَن بن يحي، وَعبد الله بن إِبْرَاهِيم الْمُقْرِئ قَالَا: ثَنَا أَبُو مَسْعُود أَحْمد بن الْفُرَات، أنبا أَبُو دَاوُد، ثَنَا حَمَّاد بن سَلمَة، عَن ثَابت عَن عبد الرَّحْمَن بن أبي ليلى، عَن صُهَيْب، عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم فِي قَوْله: {لِلَّذِينَ أَحْسَنُوا الْحُسْنَى وَزِيَادَةٌ} (يُونُس/26) ، قَالَ: "النّظر إِلَى وَجه رَبهم جلّ وَعز"2، وَقَالَ ابْن مَسْعُود رحمه الله فِي الْمسند: النّظر إِلَى وَجه رَبهم جلّ وَعز.

3- (84) أخبرنَا الْحسن بن يُوسُف الطرائفي بِمصْر، وَمُحَمّد بن يَعْقُوب الْأَصَم بنيسابور، قَالَا: ثَنَا إِبْرَاهِيم بن مَرْزُوق، ثَنَا عُثْمَان بن عمر، ثَنَا إِسْرَائِيل، عَن أبي إِسْحَاق عَن عَامر بن سعد، أَن أَبَا بكر الصّديق رضي الله عنه قَالَ فِي هَذِه الْآيَة: {لِلَّذِينَ أَحْسَنُوا الْحُسْنَى وَزِيَادَةٌ} (يُونُس/26) ، قَالَ النّظر إِلَى وَجه الله جلّ وَعز3، قَالَ أَبُو عبد الله: وَكَذَلِكَ فَسرهَا حُذَيْفَة بن الْيَمَان4.

4- (85) أخبرنَا إِسْمَاعِيل بن مُحَمَّد الصفار بِبَغْدَاد، ثَنَا الْحسن بن عَرَفَة، ثَنَا مُسلم بن سَالم، عَن نوح بن أبي مَرْيَم، عَن ثَابت عَن أنس قَالَ:

--------------------------------------------

2 م/الْإِيمَان/ بَاب إِثْبَات رُؤْيَة الْمُؤمنِينَ رَبهم فِي الْآخِرَة 1/163 ح 297-298.

3 الْآجُرِيّ فِي الشَّرِيعَة ص 257.

4 الْآجُرِيّ فِي الشَّرِيعَة ص 265.
(মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর চেহারার দিকে তাকানোর বিষয়ে পূর্বে যা অতিক্রান্ত হয়েছে তার প্রমাণস্বরূপ বর্ণনার উল্লেখ).

২- (৮৩) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুর রহমান বিন ইয়াহইয়া এবং আব্দুল্লাহ বিন ইব্রাহিম আল-মুকরি, তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু মাসউদ আহমাদ বিন আল-ফুরাত, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু দাউদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ বিন সালামাহ, সাবিত থেকে, তিনি আব্দুর রহমান বিন আবি লায়লা থেকে, তিনি সুহাইব থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন: {যারা সৎকর্ম করেছে তাদের জন্য রয়েছে কল্যাণ (জান্নাত) এবং আরও অতিরিক্ত} (ইউনুস/২৬), তিনি বলেন: "তা হলো তাদের মহান ও পরাক্রমশালী রবের চেহারার দিকে তাকানো।" আর ইবনে মাসউদ রহিমাহুল্লাহ আল-মুসনাদে বলেছেন: "তাদের মহান ও পরাক্রমশালী রবের চেহারার দিকে তাকানো।"

৩- (৮৪) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাসান বিন ইউসুফ আত-তরাইফি মিসরে, এবং মুহাম্মদ বিন ইয়াকুব আল-আসাম নিশাপুরে, তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইব্রাহিম বিন মারজুক, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উসমান বিন উমর, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসরাঈল, আবু ইসহাক থেকে, তিনি আমির বিন সাদ থেকে বর্ণনা করেন যে, আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহু এই আয়াত সম্পর্কে বলেছেন: {যারা সৎকর্ম করেছে তাদের জন্য রয়েছে কল্যাণ (জান্নাত) এবং আরও অতিরিক্ত} (ইউনুস/২৬), তিনি বলেছেন: "তা হলো মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর চেহারার দিকে তাকানো।" আবু আব্দুল্লাহ বলেন: আর হুজাইফা বিন আল-ইয়ামানও একইভাবে এর ব্যাখ্যা করেছেন।

৪- (৮৫) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইসমাইল বিন মুহাম্মদ আস-সাফফার বাগদাদে, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাসান বিন আরাফাহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুসলিম বিন সালেম, নূহ বিন আবি মারইয়াম থেকে, তিনি সাবিত থেকে, তিনি আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:

--------------------------------------------

২. মুসলিম/ কিতাবুল ঈমান/ পরিচ্ছেদ: পরকালে মুমিনদের তাদের রবকে দেখার প্রমাণ, ১/১৬৩, হাদিস নং ২৯৭-২৯৮।

৩. আল-আজুরি, আশ-শরীয়াহ, পৃষ্ঠা ২৫৭।

৪. আল-আজুরি, আশ-শরীয়াহ, পৃষ্ঠা ২৬৫।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ লি-ইবনি মানদাহ - মাজাল্লাতুল জামিআতিল ইসলামিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৩০)
سُئِلَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم عَن هَذِه الْآيَة {لِلَّذِينَ أَحْسَنُوا الْحُسْنَى وَزِيَادَةٌ} قَالَ: "للَّذين أَحْسنُوا الْعَمَل فِي الدُّنْيَا الْجنَّة، وَزِيَادَة النّظر إِلَى وَجه الله الْكَرِيم جلّ وَعز".
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এই আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল— {যারা উত্তম কাজ করেছে তাদের জন্য রয়েছে কল্যাণ এবং আরও অতিরিক্ত}। তিনি বললেন: "যারা দুনিয়াতে নেক আমল করেছে তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত, আর অতিরিক্ত হলো মহান ও মহিমান্বিত আল্লাহর সম্মানিত চেহারার দিকে তাকানো।"
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ লি-ইবনি মানদাহ - মাজাল্লাতুল জামিআতিল ইসলামিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৩০)
‌‌(ذكر خبر آخر يدل على النّظر إِلَى وَجه الله عز وجل .

5- (86) أخبرنَا خَيْثَمَة بن سُلَيْمَان، ثَنَا مُحَمَّد بن عون بن سُفْيَان، ثَنَا عبد الله بن مُوسَى، أنبا حَمَّاد بن زيد، عَن عَطاء بن السَّائِب، عَن أَبِيه، عَن عمار بن يَاسر، أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم كَانَ يَقُول فِي دُعَائِهِ: " اللَّهُمَّ إِنِّي أَسأَلك الرِّضَا، بعد الْقَضَاء وَبرد الْعَيْش بعد الْمَوْت، وَأَسْأَلك لَذَّة النّظر إِلَى وَجهك، وَأَسْأَلك الشوق إِلَى لقائك فِي غير ضراء وَلَا فتْنَة مضلة، اللَّهُمَّ زينا بزينة الْإِيمَان، واجعلنا هداة مهديين" 1، رَوَاهُ حَمَّاد بن سَلمَة عَن عَطاء ابْن السَّائِب مثله، وراوه أَيْضا أَبُو الدَّرْدَاء عَن زيد بن ثَابت2، عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم.

--------------------------------------------

1 اللالكائي فِي السّنة/ الرُّؤْيَة عَن عمار بن يَاسر ص 64-65 خَ/ مكتبة الشَّيْخ حَمَّاد الْأنْصَارِيّ بِالْمَدِينَةِ المنورة.

وَفِي مجمع الزَّوَائِد، بَاب الْأَدْعِيَة المأثورة عَن رَسُول الله، 10/177 عَن السَّائِب الثَّقَفِيّ قَالَ: كنت عِنْد عمار وَكَانَ يَدْعُو بِدُعَاء فِي صلَاته، وَفِيه وَأَسْأَلك شوقا إِلَى لقائك.
(আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা-র চেহারার দিকে দৃষ্টিপাতের প্রমাণবাহী অপর একটি বর্ণনার উল্লেখ).

৫- (৮৬) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন খাইসামা বিন সুলাইমান, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন আউন বিন সুফিয়ান, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ বিন মুসা, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাম্মাদ বিন যায়েদ, তিনি আতা বিন সাইব থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আম্মার বিন ইয়াসির থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর দুআয় বলতেন: "হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট ফয়সালার পর সন্তুষ্টি এবং মৃত্যুর পর আরামদায়ক জীবনের প্রার্থনা করছি। আমি আপনার নিকট আপনার চেহারার দিকে তাকানোর স্বাদ এবং আপনার সাক্ষাতের আকাঙ্ক্ষা প্রার্থনা করছি—কোনো ক্ষতিকর কষ্ট কিংবা বিভ্রান্তিকর ফিতনা ব্যতীত। হে আল্লাহ! আমাদের ঈমানের অলঙ্কারে সজ্জিত করুন এবং আমাদের পথপ্রদর্শক ও সুপথপ্রাপ্ত করুন।" ১, হাম্মাদ বিন সালামাহ অনুরূপ বর্ণনা করেছেন আতা ইবনুল সাইব থেকে। আর এটি আবু দারদা যায়িদ বিন সাবিত থেকে ২, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

১ লালকাঈ, আস-সুন্নাহ/আর-রুয়া অধ্যায়, আম্মার বিন ইয়াসির থেকে বর্ণিত, পৃষ্ঠা ৬৪-৬৫ খ./ মাকতাবাতুশ শাইখ হাম্মাদ আল-আনসারী, মদিনা মুনাওয়ারা।

এবং মাজমাউয যাওয়াইদ-এ, ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত দুআসমূহ’ অধ্যায়, ১০/১৭৭, সাইব আস-সাকাফী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আম্মারের নিকট ছিলাম এবং তিনি তাঁর সালাতে একটি দুআ পড়ছিলেন, যাতে ছিল: 'এবং আমি আপনার সাক্ষাতের আকাঙ্ক্ষা প্রার্থনা করছি।'
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ লি-ইবনি মানদাহ - মাজাল্লাতুল জামিআতিল ইসলামিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৩০)
‌‌(ذكر خبر آخر يدل على إجَازَة السُّؤَال بِوَجْه الله عز وجل .

6- (87) (ثَنَا) مُحَمَّد بن إِبْرَاهِيم بن مَرْوَان، ثَنَا أَحْمد بن إِبْرَاهِيم البسري، ثَنَا مُضر بن مُحَمَّد بن سُلَيْمَان بن أبي ضَمرَة، ثَنَا أبي، ثَنَا دَاوُد بن عَليّ بن عبد الله بن عَبَّاس، عَن أَبِيه، عَن جده ابْن عَبَّاس، أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم كَانَ يَدْعُو فَيَقُول: "اللَّهُمَّ إِنِّي أَسأَلك وَجهك الْكَرِيم" 3، وَذكر الحَدِيث، وَهَذَا الحَدِيث لَهُ طرق كَثِيرَة عَن ابْن عَبَّاس.

--------------------------------------------

2 اللالكائي فِي السّنة/ الرُّؤْيَة، عَن زيد بن ثَابت. خَ ص 65 مكتبة الشَّيْخ حَمَّاد الْأنْصَارِيّ وَفِي مجمع الزَّوَائِد 10/177 عَن أم الدَّرْدَاء قَالَت: كَانَ فضَالة بن عبيد يَقُول، الحَدِيث رَوَاهُ الطبراني فِي الْأَوْسَط وَالْكَبِير ورجالهما ثِقَات. وَكَذَا اللالكائي فِي السّنة/ الرُّؤْيَة ص 66.

3 مجمع الزَّوَائِد، بَاب أدعية الصَّحَابَة، 10/184 وَقَالَ: رَوَاهُ الْبَزَّار وَرِجَاله رجال الصَّحِيح.
‌(মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর চেহারার মাধ্যমে প্রার্থনা করার বৈধতা নির্দেশকারী অপর একটি বর্ণনার উল্লেখ).

৬- (৮৭) (আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন) মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম বিন মারওয়ান, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ বিন ইব্রাহিম আল-বুসরি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুদার বিন মুহাম্মদ বিন সুলাইমান বিন আবি দামরাহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমার পিতা, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন দাউদ বিন আলী বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি তার দাদা ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এই বলে দোয়া করতেন: "হে আল্লাহ, আমি আপনার নিকট আপনার সম্মানিত চেহারার অসিলায় প্রার্থনা করছি" ৩, এবং তিনি হাদিসটি উল্লেখ করেন, আর এই হাদিসটির ইবনে আব্বাস থেকে আরও অনেকগুলো সূত্র রয়েছে।

--------------------------------------------

২ আল-লালাকায়ী আস-সুন্নাহ/আর-রু'ইয়াহ অধ্যায়ে, যায়েদ বিন সাবিত থেকে বর্ণনা করেছেন। পাণ্ডুলিপি পৃষ্ঠা ৬৫ শায়খ হাম্মাদ আল-আনসারী লাইব্রেরি এবং মাজমাউজ যাওয়াইদ ১০/১৭৭ এ উম্মুদ দারদা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ফাদালা বিন উবাইদ বলতেন, হাদিসটি তাবারানি আল-আওসাত এবং আল-কাবিরে বর্ণনা করেছেন এবং উভয়ের বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য। অনুরূপভাবে আল-লালাকায়ী আস-সুন্নাহ/আর-রু'ইয়াহ পৃষ্ঠা ৬৬ তে বর্ণনা করেছেন।

৩ মাজমাউজ যাওয়াইদ, সাহাবীদের দোয়া অধ্যায়, ১০/১৮৪ এবং তিনি বলেছেন: আল-বাজজার এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর বর্ণনাকারীগণ সহিহ (গ্রন্থের) বর্ণনাকারী।