(খণ্ড: ১) শাযারাতুম মিন ইত্তিহাফিল আরীব বিআহকামি মারাতিবি তাকরীবিত তাহযীব (পৃষ্ঠা: -)
شذرات من إتحاف الأريب بأحكام مراتب تقريب التهذيب   (أحمد شحاتة السكندري)

القسم: علوم الحديث


الكتاب: شَذَرَاتُ من إتْحَافِ الأرِيبِ بأحكام مراتب تقريب التهذيب

المؤلف: أحمد محمد شحاته الألفى السكندرى

[الكتاب مرقم آليا]

عدد الصفحات: 52

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

তাকরিবুত তাহজিবের স্তরসমূহের (مراتب) বিধানাবলী বিষয়ক 'ইতহাফুল আরিব' গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত অংশ বিশেষ   (আহমদ শিহাতা আল-ইসকান্দারি)

বিভাগ: হাদিস বিজ্ঞান (علوم الحديث)


বই: তাকরিবুত তাহজিবের স্তরসমূহের (مراتب) বিধানাবলী বিষয়ক ইতহাফুল আরিব থেকে সংগৃহীত অংশ বিশেষ

লেখক: আহমদ মুহাম্মদ শিহাতা আল-আলফি আল-ইসকান্দারি

[বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত করা হয়েছে]

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫২

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) শাযারাতুম মিন ইত্তিহাফিল আরীব বিআহকামি মারাতিবি তাকরীবিত তাহযীব (পৃষ্ঠা: ১)
شَذَرَاتُ من إتْحَافِ الأرِيبِ

بِأحْكامِ مَرَاتِبِ تَقْرِيبِ التَّهْذِيبِ

أبُو مْحَمَّدٍ أَحْمَدُ شِحَاتَهْ الأَلْفِيُّ السَّكَنْدَرِيُّ

ــ،،، ــ

‌‌«وَأَمَّا عَمَلُ الْمُعَاصِرِينَ، وَمَنْهَجُهُمُ الْمُتَعَجِّلُ فِي بَيَانِ مَرَاتِبِ الأَحَادِيثِ مِنَ الصِّحَةِ وَالضَّعْفِ، فَهُوَ أَشْبَهُ شَيْءٍ بِالْمُعَادَلاتِ الرِّيَاضِيَّةِ الْبسِيطَةِ، الَّتِي يَعْتَقِدُ الْمُبْتَدِئُ فِي الْعِلْمِ عُمُومَ الاعْتِمَادِ عَلَيْهَا فِي حَلِّ الْمَسَائِلِ الْمُرَكَّبَةِ وَالْبَسِيطَةِ عَلَى حَدٍّ سَوَاءٍ، وَهُوَ كَالتَّلْفِيقِ بَيْنَ عَمْلِ الْمُحَدِّثِينَ وَعَمَلِ الْفُقَهَاءِ، فِي صُورَةِ مُعَادَلاتٍ رِيَاضِيَّةٍ سَاذِجَةٍ، كَانَ مِنْ نَتَائِجِهَا الشَّاذَّةِ: أَنَّ يُضَعِّفَ أَحَدُهُمْ صَحِيحَاً تَلَقَّاهُ الأَئِمَّةُ الْمُتَقَدِّمُونَ بِالْقَبُولِ وَصَحَّحُوهُ، أَوْ يُصَحِّحَ ضَعِيفَاً مُنْكَرَاَ هَجَرُوهُ وَأَنْكَرُوهُ. وبِمِثْلِ هَذَا الْعَمَلِ الْمُتَهَافِتِ جَاءَ الْكَثِيْرُ مِنْ أَحْكَامِهِمْ شَاذَّاً مُخَالِفَاً لأَحْكَامِ الأَئِمَّةِ الْمُتَقَدِّميِنَ، سِيَّمَا التَّسَاهُلَ فِي تَصْحِيحِ الْمَوْضُوعَاتِ وَالْمَنَاكِيْرِ وَالأَبَاطِيلِ» .
ইতহাফুল আরিব বি-আহকামি মারাতিবি তাকরিবুত তাহযিব-এর সারাংশ

আবু মুহাম্মদ আহমাদ শিহাতাহ আল-আলফি আস-সাকান্দারি

—...—

«আর সমকালীনদের কর্মপদ্ধতি এবং হাদিসের সহিহ (الصحة) ও দুর্বল (الضعফ) হওয়ার মান বর্ণনার ক্ষেত্রে তাদের ত্বরান্বিত নীতি অনেকটা সাধারণ গাণিতিক সমীকরণের মতো, যা সম্পর্কে জ্ঞান অন্বেষণে শিক্ষানবিসরা মনে করে যে, জটিল বা সাধারণ সব ধরণের সমস্যার সমাধানে এর ওপর ঢালাওভাবে নির্ভর করা যায়। এটি অনেকটা মুহাদ্দিসগণ ও ফকিহগণের কর্মপদ্ধতির মধ্যকার এক কৃত্রিম সংমিশ্রণ, যা সাধারণ গাণিতিক সমীকরণের রূপ ধারণ করেছে। এর বিচ্যুৎ (الشاذة) ফলাফলগুলোর মধ্যে একটি হলো: তাদের কেউ এমন কোনো সহিহ (صحيحاً) হাদিসকে দুর্বল (ضعيفاً) সাব্যস্ত করে বসেন যা পূর্ববর্তী ইমামগণ গ্রহণের মাধ্যমে গ্রহণ করেছেন এবং সহিহ (صححوه) সাব্যস্ত করেছেন; অথবা এমন কোনো দুর্বল (ضعيفاً) ও মুনকার (منكراً) বর্ণনাকে সহিহ (صحيحاً) সাব্যস্ত করেন যা তাঁরা বর্জন ও প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। এই প্রকার অসংলগ্ন কর্মপদ্ধতির কারণে তাদের অধিকাংশ সিদ্ধান্তই বিচ্যুৎ (شاذّاً) এবং পূর্ববর্তী ইমামগণের সিদ্ধান্তের পরিপন্থী হয়ে দাঁড়িয়েছে; বিশেষ করে মাউদু (الموضوعات), মুনকার (المناكير) এবং বাতিল (الأباطيل) বর্ণনাগুলোকে সহিহ সাব্যস্ত করার (تصحيح) ক্ষেত্রে তাদের শিথিলতা প্রদর্শনের বিষয়টি উল্লেখযোগ্য।»
(খণ্ড: ১) শাযারাতুম মিন ইত্তিহাফিল আরীব বিআহকামি মারাতিবি তাকরীবিত তাহযীব (পৃষ্ঠা: ২)
الْحَمْدُ للهِ الْمُتَعَزِّزِ فِي عَلْيَائِهِ. الْمُتَوَحِّدِ فِى عَظَمَتِهِ وَكِبْرِيَائِهِ. الْنَافِذِ أَمْرُهُ فِي أَرْضِهِ وَسَمَائِهِ. حَمْدَاً يُكَافِئُ الْمَزِيدَ مِنْ أَفْضَالِهِ وَنَعْمَائِهِ. وَيَكُونُ ذُخْرَاً لِقَائِلِهِ عِنْدَ رَبِّهِ يَوْمَ لِقَائِهِ. وَالصَّلاةُ وَالسَّلامُ الدَّائِمَانِ عَلَى الْمُصْطَفَى مِنْ رُسْلِ اللهِ وَأَنْبِيَائِهِ. وَرَضِىَ اللهُ عَنْ آلِهِ وَصَحْبِهِ وَأَصْفِيَائِهِ.

وَبَعْدُ …

‌‌فَإنَّ «تَقْرِيبَ التَّهْذِيبِ» لِلْحَافِظِ الشِّهَابِ ابْنِ حَجَرٍ الْعَسْقَلانِيِّ، هُوَ زُبْدَةُ مَا تَوَصَّلَ إِلَيْهِ مِنْ أَحْكَامِ الْجَرْحِ وَالتَّعْدِيلِ لِرُوَاةِ الْكُتُبِ السِّتَّةِ. فَقَدْ تَكَفَّلَ بِبَيَانِ أَصَحِّ مَا قِيلَ فِي الرَّاوِي، وَأَعْدَلِ مَا وُصِفَ بِهِ، بِأَلْخَصِ عِبَارَةٍ، وَأَخْلَصِ إِشَارَةِ. وَقَدْ أَوْفِي الْحَافِظَ الْغَايَةَ فِيمَا أَرَادَ، وَحَكَمَ فَعَدَلَ وَأَنْصَفَ، وَتَكَلَّمَ فَأَجَادَ وَأَفَادَ.
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি স্বীয় সুউচ্চ মর্যাদায় মহিমান্বিত, স্বীয় মহিমা ও গরিমায একক, যাঁর নির্দেশ আসমান ও জমিনে কার্যকর; এমন প্রশংসা যা তাঁর উত্তরোত্তর অনুগ্রহ ও নিয়ামতের সমতুল্য এবং যা তাঁর রবের সাথে সাক্ষাতের দিনে পাঠকারীর জন্য সঞ্চিত পাথেয় হবে। আর দরুদ ও সালাম সর্বদা বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূল ও নবীদের মধ্য হতে মনোনীত বান্দার ওপর এবং আল্লাহ সন্তুষ্ট হোন তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবী ও মনোনীত নেককার বান্দাদের ওপর।

অতঃপর …

‌‌নিশ্চয়ই হাফিজ (الحافظ) শিহাব ইবনে হাজার আল-আসকালানি রচিত ‘তাকরীবুত তাহযীব’ হলো কুতুবে সিত্তার বর্ণনাকারীদের (الرواة) ব্যাপারে জরাহ ও তাদীল (الجرح والتعديل) সংক্রান্ত তাঁর গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্তসমূহের নির্যাস। তিনি বর্ণনাকারীর (الراوي) ব্যাপারে বর্ণিত সবচেয়ে বিশুদ্ধ বক্তব্য এবং তাঁর সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ গুণাবলি অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত ভাষা ও নিখুঁত ইঙ্গিতের মাধ্যমে বর্ণনা করার দায়িত্ব পালন করেছেন। হাফিজ (الحافظ) স্বীয় উদ্দেশ্যে পূর্ণতা লাভ করেছেন; তিনি সিদ্ধান্ত দানে ন্যায়বিচার ও ইনসাফ করেছেন এবং আলোচনায় চমৎকারিত্ব ও কল্যাণ নিহিত রেখেছেন।
(খণ্ড: ১) শাযারাতুম মিন ইত্তিহাফিল আরীব বিআহকামি মারাতিবি তাকরীবিত তাহযীব (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌وَنَصُّ أَحْكَامِهِ فِي مُقَدِّمَةِ التَّقْرِيبِ: «وَبِاعْتِبَارِ مَا ذَكَرْتُ انْحَصَرَ لِيَ الْكَلامُ عَلَى أَحْوَالِهِمْ - يَعْنِي رُوَاةَ السِّتَّةِ - فِي اثْنَتَيْ عَشَرَةَ مَرْتَبَةً، وَحَصْرِ طَبَقَاتِهِمْ فِي اثْنَتَيْ عَشَرَةَ طَبَقَةً. فَأَمَّا الْمَرَاتِبُ:

فَأَوَّلُهَا: الصَّحَابَةُ فَأَصْرَحُ بِذَلِكَ لِشَرَفِهِمْ.

الثَّانِيَةُ: مَنْ أُكِّدَ مَدْحُهُ إِمَّا بِأَفْعَلِ كَأَوْثَقِ النَّاسِ أَوْ بِتَكْرِيرِ الصِّفَةِ لَفْظَاً كَثِقَةٍ ثِقَةٍ، أَوْ مَعْنَىً كَثِقَةٍ حَافِظٍ.

الثَّالِثَةُ: مَنْ أُفْرِدَ بِصِفَةٍ كِثِقَةٍ، أَوْ مُتْقِنٍ، أَوْ ثَبْتٍ، أَوْ عَدْلٍ.

الرَّابِعَةُ: مَنْ قَصَرَ عَنْ دَرَجَةٍ الثَّالِثَةِ قَلِيلاً، وَإِلَيْهِ الإِشَارَةُ بِصَدُوقٍ، أَوْ لا بَأْسَ بِهِ، أَوْ لَيْسَ بِهِ بَأْسٌ.

الْخَامِسَةُ: مَنْ قَصَرَ عَنِ الرَّابِعَةِ قَلِيلاً، وَإِلَيْهِ الإِشَارَةُ بِصَدُوقٍ سَيْءِ الْحِفْظِ، أَوْ صَدُوقٌ يَهِمُ، أَوْ لَهُ أَوْهَامٌ، أَوْ يُخْطِئُ، أَوْ تَغَيَّرَ بِأَخِرَةَ، وَيَلْتَحِقُ بِذَلِكَ مَنْ رُمِيَ بِنَوْعٍ مِنَ الْبِدْعَةِ كَالتَّشَيُّعِ، وَالْقَدَرِ، وَالنَّصَبِ، وَالإِرْجَاءِ، وَالتَّجَهُّمِ مَعَ بَيَانِ الدَّاعِيَةِ مِنْ غَيْرِهِ.

السَّادِسَةُ: مَنْ لَيْسَ لَهُ مِنَ الْحَدِيثِ إِلَاّ الْقَلِيلَ، وَلَمْ يَثْبُتْ فِيهِ مَا يُتْرَكُ حَدِيثُهُ مِنْ أَجْلِهِ، وَإِلَيْهِ الإِشَارَةُ بِلَفْظِ مَقْبُولٍ حَيْثُ يُتَابَعُ، وَإِلَاّ فَلَيِّنُ الْحَدِيثِ.

السَّابِعَةُ: مَنْ رَوَى عَنْهُ أَكْثَرُ مِنْ وَاحِدٍ، وَلَمْ يُوَثَّقْ، وَإِلَيْهِ الإِشَارَةُ بِلَفْظِ مَسْتُورٍ، أَوْ مَجْهُولِ الْحَالِ.

الثَّامِنَةُ: مَنْ لَمْ يُوجَدْ فِيهِ تَوْثِيقٌ لِمُعَتَبِرٍ، وَوُجِدَ فِيهِ إِطْلاقُ الضَّعْفِ وَلَوْ لَمْ يُفَسَّرْ، وَإِلَيْهِ الإِشَارَةُ بِلَفْظِ ضَعِيفٍ.

التَّاسِعَةُ: مَنْ لَمْ يَرْوِ عَنْهُ غَيْرُ وَاحِدٍ وَلَمْ يُوَثَّقْ، وَإِلَيْهِ الإِشَارَةُ بِلَفْظِ مَجْهُولٍ.

الْعَاشِرَةُ: مَنْ لَمْ يُوَثَّقْ الْبَتَّةَ، وَضُعِّفَ مَعَ ذَلِكَ بِقَادِحٍ، وَإِلَيْهِ الإِشَارَةُ بِلَفْظِ مَتْرُوكٍ، أَوْ مَتْرُوكِ الْحَدِيثِ، أَوْ وَاهِي الْحَدِيثِ، أَوْ سَاقِطٍ.

الْحَادِيَةَ عَشَرَةَ: مَنْ اتُّهِمَ بِالْكَذِبِ.

الثَّانِيَةَ عَشَرَةَ: مَنْ أُطْلِقَ عَلَيْهِ اسْمُ الْكَذِبِ وَالْوَضْعِ» اهـ.
‌‌তাকরিবের মুকাদ্দিমায় তাঁর বর্ণিত বিধানের পাঠ হলো: "আমি যা উল্লেখ করেছি তার পরিপ্রেক্ষিতে, তাদের অবস্থার বিবরণ আমার নিকট — অর্থাৎ কুতুবুস সিত্তাহর বর্ণনাকারীদের — বারোটি স্তরে (مرتبة) এবং তাদের প্রজন্মের শ্রেণীবিভাগ বারোটি প্রজন্মে (طبقة) সীমাবদ্ধ হয়েছে। আর স্তরগুলো (مراتب) হলো:

প্রথমটি: সাহাবীগণ (صحابة), তাঁদের মর্যাদার কারণে আমি স্পষ্টভাবে তা উল্লেখ করেছি।

দ্বিতীয়: যাদের প্রশংসা জোরালোভাবে করা হয়েছে, হয় 'আফআলু' (أفعل) ছন্দের মাধ্যমে যেমন: মানুষের মধ্যে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য (أوثق الناس), অথবা শব্দ দ্বিরুক্তির মাধ্যমে যেমন: নির্ভরযোগ্য নির্ভরযোগ্য (ثقة ثقة), অথবা অর্থের মাধ্যমে যেমন: নির্ভরযোগ্য হাফেজ (ثقة حافظ)।

তৃতীয়: যাদের একক কোনো গুণের মাধ্যমে বর্ণনা করা হয়েছে, যেমন: নির্ভরযোগ্য (ثقة), অত্যন্ত নিপুণ (متقন), সুদৃঢ় (ثبت), অথবা ন্যায়পরায়ণ (عدل)।

চতুর্থ: যারা তৃতীয় স্তরের (درجة) চেয়ে সামান্য নিচে অবস্থান করছেন। তাদের প্রতি ইঙ্গিত করা হয় সত্যবাদী (صدوق), তার মধ্যে কোনো সমস্যা নেই (لا بأس به), অথবা তার মধ্যে কোনো অসুবিধা নেই (ليس به بأس) শব্দগুলো দিয়ে।

পঞ্চম: যারা চতুর্থ স্তরের চেয়ে সামান্য নিচে অবস্থান করছেন। তাদের প্রতি ইঙ্গিত করা হয় মন্দ স্মৃতিশক্তির সত্যবাদী (صدوق سيئ الحفظ), ভ্রান্তিতে পতিত হওয়া সত্যবাদী (صدوق يهم), তার অনেক ভ্রান্তি রয়েছে (له أوهام), তিনি ভুল করেন (يخطئ), অথবা শেষ বয়সে স্মৃতিশক্তি পরিবর্তিত হয়ে গিয়েছিল (تغير بأخرة) শব্দগুলো দিয়ে। এর সাথে সংশ্লিষ্ট করা হবে তাদের যাদের ওপর কোনো প্রকার বিদআতের অভিযোগ রয়েছে যেমন: শিয়া মতবাদ (تشيع), কদর মতবাদ (قدر), নাসবি মতবাদ (نصب), ইরজা মতবাদ (إرجاء) এবং জাহমি মতবাদ (تجهم)। তবে এক্ষেত্রে বিদআতের দিকে আহ্বানকারীকে অন্যদের থেকে পৃথক করে অবস্থা বর্ণনা করা হবে।

ষষ্ঠ: যার বর্ণনাকৃত হাদিস সংখ্যা সামান্য এবং যার মধ্যে এমন কোনো দোষ প্রমাণিত নয় যার কারণে তার হাদিস বর্জন করা যায়। তাদের প্রতি ইঙ্গিত করা হয় গ্রহণযোগ্য (مقبول) শব্দ দিয়ে যখন তার সমর্থক বর্ণনা (متابعة) পাওয়া যায়, অন্যথায় সে শিথিল হাদিস বর্ণনাকারী (لين الحديث)।

সপ্তম: যার থেকে একের অধিক বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন কিন্তু তাকে নির্ভরযোগ্য (توثيق) বলা হয়নি। তাদের প্রতি ইঙ্গিত করা হয় অজ্ঞাত পরিচয় (مستور) অথবা অজ্ঞাত অবস্থা (مجهول الحال) শব্দ দিয়ে।

অষ্টম: যার ব্যাপারে কোনো নির্ভরযোগ্য ইমামের সত্যায়ন (توثيق) পাওয়া যায় না এবং যার ওপর সাধারণভাবে দুর্বলতা (ضعف) আরোপ করা হয়েছে যদিও তা ব্যাখ্যা করা হয়নি। তার প্রতি দুর্বল (ضعيف) শব্দ দিয়ে ইঙ্গিত করা হয়।

নবম: যার থেকে মাত্র একজন বর্ণনা করেছেন এবং তাকে নির্ভরযোগ্য (توثيق) বলা হয়নি। তার প্রতি অজ্ঞাত (مجهول) শব্দ দিয়ে ইঙ্গিত করা হয়।

দশম: যাকে মোটেই নির্ভরযোগ্য (توثيق) বলা হয়নি এবং সেই সাথে কোনো দোষের কারণে তাকে দুর্বল সাব্যস্ত করা হয়েছে। তাকে বর্জনীয় (متروك), হাদিস বর্জনীয় (متروك الحديث), অত্যন্ত দুর্বল হাদিস বর্ণনাকারী (واهي الحديث) অথবা পরিত্যক্ত (ساقط) শব্দ দিয়ে ইঙ্গিত করা হয়।

একাদশ: যাকে মিথ্যা বলার অভিযোগে অভিযুক্ত (متهم بالكذب) করা হয়েছে।

দ্বাদশ: যাকে সরাসরি মিথ্যা (كذب) এবং জালকরণ (وضع) শব্দ দিয়ে অভিহিত করা হয়েছে।" সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১) শাযারাতুম মিন ইত্তিহাফিল আরীব বিআহকামি মারাতিবি তাকরীবিত তাহযীব (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌فَمِنَ الْوَاضِحِ اللائِحِ: أَنَّ الْحَافِظَ اقْتَصَرَ عَلَى بَيَانِ أَحْكَامِ الْجَرْحِ وَالتَّعْدِيلِ لِلرُّوَاةِ، وَلَمْ يُرِدْ قَطُّ بَيَانَ دَرَجَةِ أَحَادِيثِهِمْ مِنَ الصِّحَةِ أَوْ الْحُسْنِ أَوْ الضَّعْفِ، وَلَوْ أَرَادَهُ لأتَى بِأَحْكَامٍ مُسَدَّدَةٍ، أَوْ مُقَارِبَةٍ، فَهُوَ أَبُو عُذْرَةِ هَذَا الشَّانِ، وَفَارِسُ ذَلِكَ الْمَيْدَانِ. وَلَكِنْ لَمْ يَكُنْ ذَلِكَ مِنْ مَقْصُودِهِ، لا فِي تَقْرِيبِهِ، وَلا فِي تَهْذِيبِهِ، كَمَا صَرَحَ بِذَلِكَ هُوَ نَفْسَهُ فِي «مُقَدِّمَةِ التَّقْرِيبِ» ، إذْ يَقُولُ مُعْرِبَاً عَنْ خُطَّتِهِ فِي تَرْجَمَتِهِ لِكُلِّ رَاوٍ: «أَنَّنِي أَحْكُمُ عَلَى كُلِّ رَاوٍ بِحُكْمٍ يَشْمَلُ أَصَحَّ مَا قِيلَ فِيهِ، وَأَعْدَلَ مَا وُصِفَ بِهِ، بِأَلْخَصِ عِبَارَةٍ، وَأَخْلَصِ إِشْارَةٍ، بِحَيْثُ لا تَزِيدُ كُلُّ تَرْجَمَةٍ عَلَى سَطْرٍ وَاحِدٍ غَالِبَاً يَجْمَعُ: اسْمَ الرَّجُلِ. وَاسْمَ أَبِيهِ وَجَدِّهِ. وَمُنْتَهَى أَشْهَرِ نِسْبَتِهِ وَنَسَبِهِ. وَكُنْيَتَهُ وَلَقَبَهُ مَعَ ضَبْطِ مَا يُشْكَلُ مِنْ ذَلِكِ بِالْحُرُوفِ. ثُمَّ صِفَتَهُ الَّتِي يَخْتَصُّ بِهَا مِنْ جَرْحٍ أَوْ تَعْدِيلٍ» . فَهَذَا بَيَانٌ وَافٍ لِمَقْصُودِهِ وَغَايَتِهِ، وَمُرَادِهِ وَطِلْبَتِهِ.

فَإِنْ قِيلَ: فَمَا الَّذِي صَرَفَ الْحَافِظَ عَنْ هَذَا الْمَقْصِدِ، مَعَ اقْتِضَاءِ ضَرُورَتِهِ، وَالْجَزْمِ بِأَنَّهُ لَوْ أَرَادَهُ لأتَى بِأَحْكَامٍ مُسَدَّدَةٍ، أَوْ مُقَارِبَةٍ؟ .

قُلْنَا: لاعْتِبَارَاتٍ عِدَّةٍ لا تَخْفَى عَلَي أَهْلِ هَذَا الشَّأْنِ، فَلْنَقْتَصِرُ عَلَى أَهَمِّهَا فِي هَذَا الإِيْضَاحِ:

‌‌إِنَّ الْحُكْمَ عَلَى دَرَجَةِ حَدِيثِ الرَّاوِي لا يَتَوَقَّفُ عَلَى مَعْرِفَةِ عَدَالَتِهِ أَوْ جَرْحِهِ فَقَطْ. فَلَيْسَ الأَمْرُ كَمَا يَجْرِي عَلَيْهِ الْعَمَلُ عِنْدَ أَكْثَرِ أَهْلِ الْحَدِيثِ الْمُعَاصِرِينَ، كَقَوْلِهِمْ: فُلانٌ ثِقَةٌ فَحَدِيثُهُ صَحِيحٌ، وَفُلانٌ صَدُوقٌ فَحَدِيثُهُ حَسَنٌ، وَفُلانٌ ضَعِيفٌ فَحَدِيثُهُ ضَعِيفٌ، وَفُلانٌ مَتْرُوكٌ فَحَدِيثُهُ مَتْرُوكٌ، وَفُلانٌ لَهُ مَنَاكِيْرُ فَحَدِيثُهُ مُنْكَرٌ، وَفُلانٌ كَذَّابٌ فَحَدِيثُهُ مَوْضُوعٌ.

فَهَذَا مَنْهَجُ الْمُبْتَدِئِ الْمُتَعَجِّلِ، وَهَذِهِ أَحْكَامُ الْمُحَقِّقِ الْمُتَطَفِّلِ. وَمِمَّا يَنْقُضُ هَذِهِ الأَحْكَامَ كُلَّهَا، وَيَقْضِي أَنَّهَا مُتَهَافِتَةٌ مُتَدَاعِيَةٌ: أَوَّلُ دَرْسٍ فِي عِلْمِ الْمُصْطَلَحِ، وَبِمَعْنَىً آخَرَ: أَوَّلُ مَا يُلْقَى عَلَى أَسْمَاعِ الْمَبْتَدِئِ فِي هَذَا الْعِلْمِ، فَهُوَ كَافٍ فِي كَشْفِ عَوَارِ هَذِهِ الْقَضِيَّةِ الشَّوْهَاءِ، وَالْقَوَاعِدِ الْعَوْجَاءِ، وَالْخَطَأِ الْمُنْتَشِرِ، وَالْعَمَلِ الْمُبْتَسِرِ. فَقَدْ تَلَقَّنَ الْمُبْتَدِئُ أَوَّلَ مَا تَلَقَّنَ، بَلْ حَفِظَ عَنْ ظَهْرِ قَلْبٍ مَا قَالَهُ الْحَافِظُ ابْنُ الصَّلاحِ أَنَّ «الْحَدِيثَ الصَّحِيحَ مَا اتَّصَلَ سَنَدُهُ بِالْعَدْلِ الضَّابِطِ عَنِ الْعَدْلِ الضَّابِطِ إِلَى مُنْتَهَاهُ، مِنْ غَيْرِ شُذُوذٍ وَلا عِلَّةٍ» ، ثُمَ عَقَّبَ بِقَوْلِهِ: «فَهَذَا هُوَ الْحَدِيثُ الَّذِي يُحْكَمُ لَهُ بِالصِّحَةِ بِلا خِلافٍ بَيْنَ أَهْلِ الْحَدِيثِ» .
‌‌এটি একটি সুস্পষ্ট ও দীপ্যমান বিষয় যে: হাফেজ (হাফিজ ইবনে হাজার) কেবল বর্ণনাকারীদের ওপর জরাহ ও তাদিল (الْجَرْحِ وَالتَّعْدِيلِ) এর হুকুম বর্ণনার ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছেন, তিনি কখনোই তাদের বর্ণিত হাদিসসমূহের বিশুদ্ধতা (الصحة), গ্রহণযোগ্যতা (الحسن) বা দুর্বলতা (الضعف) এর মান বর্ণনা করার ইচ্ছা করেননি। যদি তিনি তা করতে চাইতেন, তবে তিনি অত্যন্ত নির্ভুল ও কাছাকাছি সিদ্ধান্ত প্রদান করতেন; কেননা তিনি এই শাস্ত্রের প্রবর্তক এবং এই ময়দানের অপ্রতিদ্বন্দ্বী বীর। কিন্তু তা তাঁর উদ্দেশ্য ছিল না, না তাঁর তাকরীব গ্রন্থে, আর না তাঁর তাহযীব গ্রন্থে। যেমনটি তিনি নিজেই মুকাদ্দিমাতুত তাকরীব-এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, যখন তিনি প্রত্যেক বর্ণনাকারীর (راو) জীবনী (ترجمة) রচনার ক্ষেত্রে তাঁর কর্মপন্থা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন: "আমি প্রত্যেক বর্ণনাকারী (راو) সম্পর্কে এমন একটি হুকুম প্রদান করি যা তাঁর সম্পর্কে বলা সর্বাধিক বিশুদ্ধ (أصح) বক্তব্য এবং তাঁকে যে বৈশিষ্ট্যে ভূষিত করা হয়েছে তার মধ্যে সর্বাধিক ইনসাফপূর্ণ (أعدل) বক্তব্যকে অন্তর্ভুক্ত করে; যা অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত অভিব্যক্তি এবং সুনিপুণ ইঙ্গিতের মাধ্যমে ব্যক্ত করা হয়েছে। এর ফলে প্রতিটি জীবনী (ترجمة) সাধারণত এক লাইনের বেশি দীর্ঘ হয় না, যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকে: ব্যক্তির নাম, তাঁর পিতা ও দাদার নাম, তাঁর সর্বাধিক প্রসিদ্ধ উপাধি ও বংশ পরিচয়, তাঁর কুনিয়াত ও লকব (উপনাম), এবং এই বিষয়গুলোর মধ্যে যা অস্পষ্ট তা অক্ষরের মাধ্যমে সুস্পষ্ট করা। অতঃপর তাঁর সেই বৈশিষ্ট্য যা তাঁর জন্য সুনির্দিষ্ট, তা জরাহ/দোষত্রুটি (جرح) অথবা তাদিল/নির্ভরযোগ্যতা (تعديل) এর মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়।" এটি তাঁর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এবং অভীষ্ট ও কাম্য বিষয়ের একটি পূর্ণাঙ্গ বর্ণনা।

যদি বলা হয়: হাফেজকে এই উদ্দেশ্য থেকে কিসে নিবৃত করল, অথচ এর প্রয়োজনীয়তা ছিল অনস্বীকার্য এবং এটি নিশ্চিত যে তিনি যদি তা করতে চাইতেন তবে অত্যন্ত নির্ভুল ও কাছাকাছি সিদ্ধান্ত প্রদান করতেন?

আমরা বলি: বেশ কিছু বিবেচনার কারণে যা এই শাস্ত্রের পণ্ডিতদের কাছে অস্পষ্ট নয়। আমরা এই ব্যাখ্যায় কেবল গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর ওপর সীমাবদ্ধ থাকব:

‌‌নিশ্চয়ই বর্ণনাকারীর হাদিসের মান নির্ণয় করা কেবল তাঁর ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) বা ত্রুটি (جرح) জানার ওপর নির্ভর করে না। বিষয়টি এমন নয় যেমনটি বর্তমান সময়ের অধিকাংশ হাদিস গবেষকদের কর্মপন্থায় দেখা যায়। যেমন তাদের কথা: অমুক ব্যক্তি নির্ভরযোগ্য (ثقة), তাই তাঁর হাদিস বিশুদ্ধ (صحيح); অমুক ব্যক্তি সত্যবাদী (صدوق), তাই তাঁর হাদিস গ্রহণযোগ্য (حسن); অমুক ব্যক্তি দুর্বল (ضعيف), তাই তাঁর হাদিস দুর্বল (ضعيف); অমুক ব্যক্তি বর্জনীয় (متروك), তাই তাঁর হাদিস বর্জনীয় (متروك); অমুক ব্যক্তির কিছু অগ্রহণযোগ্য/মুনকার বিষয় (مناكير) আছে, তাই তাঁর হাদিস অগ্রহণযোগ্য/মুনকার (منكر); অমুক চরম মিথ্যাবাদী (كذاب), তাই তাঁর হাদিস জাল (موضوع)।

এটি মূলত তড়িঘড়ি করা শিক্ষার্থীর পদ্ধতি এবং এটি একজন অগভীর গবেষকের সিদ্ধান্ত। এই সিদ্ধান্তগুলোকে যা অসার প্রমাণ করে এবং এগুলো যে অত্যন্ত দুর্বল ও ভিত্তিহীন তা সাব্যস্ত করে, তা হলো উসুলুল হাদিস বা পরিভাষা বিদ্যার (علم المصطلح) প্রথম পাঠ। অন্য কথায়: এই বিদ্যায় একজন শিক্ষার্থীর কানে সর্বপ্রথম যা পৌঁছে, তা-ই এই বিকৃত ধারণা, বক্র নিয়ম, বহুল প্রচলিত ভুল এবং অপরিপক্ব কর্মপদ্ধতির অসারতা উন্মোচনে যথেষ্ট। একজন শিক্ষার্থী সর্বপ্রথম যা শিখে, বরং মুখস্থ করে নেয়, তা হলো হাফেজ ইবনুস সালাহ যা বলেছেন: "বিশুদ্ধ (صحيح) হাদিস হলো যার সনদ নিরবচ্ছিন্ন (اتصل سنده), যা একজন ন্যায়পরায়ণ ও স্মৃতিশক্তিতে পারদর্শী (بالعدل الضابط) ব্যক্তি থেকে অপর একজন ন্যায়পরায়ণ ও স্মৃতিশক্তিতে পারদর্শী (بالعدل الضابط) ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন এবং তা সনদের শেষ পর্যন্ত পৌঁছেছে, যা কোনো শায/ব্যতিক্রমীতা (شذوذ) ও ইল্লত/সূক্ষ্ম ত্রুটি (علة) হতে মুক্ত।" অতঃপর তিনি এর অনুসরণে বলেছেন: "এটিই সেই হাদিস যার ব্যাপারে হাদিস বিশারদদের মধ্যে কোনো মতভেদ ছাড়াই বিশুদ্ধতার (الصحة) হুকুম প্রদান করা হয়।"
(খণ্ড: ১) শাযারাতুম মিন ইত্তিহাফিল আরীব বিআহকামি মারাতিবি তাকরীবিত তাহযীব (পৃষ্ঠা: ৫)
وَالْخُلاصَةُ: أَنَّ الْحَدِيثَ الصَّحِيحَ الْمُجْمَعَ عَلَى صِحَّتِهِ عِنْدَ أَهْلِ الْحَدِيثِ مَا جَمَعَ شُرُوطَاً خَمْسَةً: اتِّصَالَ السَّنَدِ، وَعَدَالَةَ الرُّوَاةِ، وَضَبْطَهُمْ، وَالسَّلامَةَ مِنَ الشُّذُوذِ، وَمِنَ الْعِلَّةِ الْقَادِحَةِ. فَهَذِهِ بِاتِّفَاقِهِمْ خَمْسَةُ أَرْكَانٍ، لا تَنْقُصُ وَاحِدَاً.

وَهَذَا بِخِلافِهِ عِنْدَ الْفُقَهَاءِ وَالأُصُولِيِّينَ، فَإِنَّهُمْ لَمْ يَشْتَرِطُوا فِي الْحَدِيثِ الصَّحِيحِ أَنْ يَكُونَ سَالِمَاً مِنَ الشُّذُوذِ وَالْعِلَّةِ الْمُتَّفَقِ عَلَيْهِمَا عِنْدَ الْمُحَدِّثِينَ.

وَلِذَا قَالَ شَيْخُ الإِسْلامِ ابْنُ دَقِيقِ الْعِيدِ فِي شَرْحِ الإِلْمَامِ: «إنَّ لِكُلٍّ مِنْ أَئِمَّةِ الْفِقْهِ وَالْحَدِيثِ طَرِيقَاً غَيْرَ طَرِيقِ الآخَرِ، فَإِنَّ الَّذِي تَقْتَضِيهِ قَوَاعِدُ الأُصُولِ وَالْفِقْهِ أَنَّ الْعُمْدَةَ فِي تَصْحِيحِ الْحَدِيثِ عَدَالَةُ الرَّاوِي وَجَزْمُهُ بِالرِّوَايَةِ، وَنَظَرُهُمْ يَمِيلُ إِلَى اعْتِبَارِ التَّجْوِيزِ الَّذِي يُمْكِنُ مَعَهُ صِدْقُ الرَّاوِي وَعَدَمُ غَلَطِهِ، فَمَتَى حَصَلَ ذَلِكَ، وَجَازَ أَلا يَكُونَ غَلَطَاً، وَأَمْكَنَ الْجَمْعُ بَيْنَ رِوَايَتِهِ وَرِوَايَةِ مَنْ خَالَفَهُ بِوَجْهٍ مِنَ الْوُجُوهِ الْجَائِزَةِ لَمْ يُتْرَكْ حَدِيثُهُ. فَأَمَّا أَهْلُ الْحَدِيثِ، فَإِنَّهُمْ قَدْ يَرْوُونَ الْحَدِيثَ مِنْ رِوَايَةِ الثِّقَاتِ الْعُدُولِ، ثُمَّ تَبْدُو لَهُمْ عِلَلٌ تَمْنَعُهُمْ عَنِ الْحُكْمِ بِصِحَّتِهِ» .

قُلْتُ: فَهَذَا مِنْ أَبْيَنِ الْكَلامِ وَأَصْرَحِهِ فِي تَبَايُنِ الاصْطِلاحَيْنِ: الْفِقْهِيِّ، وَالْحَدِيثِيِّ فِي تَقْرِيرِ الْمَبَادِئِ، وَتَحْرِيرِ الْقَوَاعِدِ الْمُقْتَضِيَةِ لِقَبُولِ الأَخْبَارِ أَوْ رَدِّهَا.

‌‌وَأَمَّا عَمَلُ الْمُعَاصِرِينَ، وَمَنْهَجُهُمُ الْمُتَعَجِّلُ الْمَذْكُورُ آنِفَاً، فَأَكْثَرُ مُبَايَنَةً، وَأَوْسَعُ خِلافَاً مِنْ ذَا، فَهُوَ أَشْبَهُ شَيْءٍ بِالْمُعَادَلاتِ الرِّيَاضِيَّةِ الْبسِيطَةِ، الَّتِي يَعْتَقِدُ الْمُبْتَدِئُ فِي الْعِلْمِ عُمُومَ الاعْتِمَادِ عَلَيْهَا فِي حَلِّ الْمَسَائِلِ الْمُرَكَّبَةِ وَالْبَسِيطَةِ عَلَى حَدٍّ سَوَاءٍ، وَهُوَ كَالتَّلْفِيقِ بَيْنَ عَمْلِ الْمُحَدِّثِينَ وَعَمَلِ الْفُقَهَاءِ، فِي صُورَةِ مُعَادَلات رِيَاضِيَّةٍ سَاذِجَةٍ، كَانَ مِنْ نَتَائِجِهَا الشَّاذَّةِ: أَنَّ يُضَعِّفَ أَحَدُهُمْ صَحِيحَاً تَلَقَّاهُ الأَئِمَّةُ الْمُتَقَدِّمُونَ بِالْقَبُولِ وَصَحَّحُوهُ، أَوْ يُصَحِّحَ ضَعِيفَاً مُنْكَرَاَ هَجَرُوهُ وَأَنْكَرُوهُ. وبِمِثْلِ هَذَا الْعَمَلِ الْمُتَهَافِتِ جَاءَ الْكَثِيْرُ مِنْ أَحْكَامِهِمْ شَاذَّاً مُخَالِفَاً لأَحْكَامِ الأَئِمَّةِ الْمُتَقَدِّميِنَ، سِيَّمَا التَّسَاهُلَ فِي تَصْحِيحِ الْمَوْضُوعَاتِ وَالْمَنَاكِيْرِ وَالأَبَاطِيلِ.

وَالْمَقْصُودُ: الإِيْقَاظُ وَالتَّنْبِيهُ بِأَنَّ هَذَا الْعَمَلَ عَدِيْمُ الْجَدْوِى، وَلَوْ صَادَفَ الصَّوَابَ فِي بَعْضِ اسْتِعْمَالاتِهِ. وَالْحَقُّ الَّذِي لا مِرْيَةَ فِيهِ: أَنَّ الصَّوَابَ الْمَحْضَّ مُسْتَسَاغٌ كَاللَّبَنِ «يَخْرُجُ مِنْ بَيْنِ فَرْثٍ وَدَمٍ لَبَنَاً خَالِصَاً سَائِغَاً لِلشَّارِبِينَ» ، وَأَنَّ أَحْكَامَ الْكَتَبَةِ الْمُفَهْرِسِينَ لَيْسَتْ كَأَحْكَامِ الْحُفَّاظِ الْمُتْقِنِينَ، فَـ «لا يُنَبِّئُكَ مِثْلُ خَبِيْرٍ» .

وَلِهَذَا وَلاعْتِبَارَاتٍ أُخْرَى، لَمْ يُرِدِ الْحَافِظُ ابْنُ حَجَرٍ أَنْ يَقْرِنَ بَيْنَ مَرْتَبَةِ الرَّاوِي مِنَ الْجَرْحِ وَالتَّعْدِيلِ، وَبَيْنَ الْحُكْمِ عَلَى حَدِيثِهِ صِحَّةً أَوْ حُسْنَاً أَوْ ضَعْفَاً، لِوُجُوبِ أَنْ يَنْضَافَ إلَى الْعَدَالَةِ وَالضَّبْطِ أَرْكَانٌ أُخْرَي كَمَا أَلْمَحْنَا فِي الإِيْضَاحِ السَّابِقِ.
সারকথা হলো: হাদিসবিশারদদের মতে যে সহিহ (صحيح) হাদিসের বিশুদ্ধতার (صحة) ব্যাপারে ঐকমত্য হয়েছে, তা পাঁচটি শর্তের সমষ্টি: সনদের ধারাবাহিকতা (اتصال السند), বর্ণনাকারীদের ন্যায়পরায়ণতা (عدالة الرواة), তাঁদের স্মৃতিশক্তির নির্ভুলতা (ضبط), বিচ্যুতি (شذوذ) থেকে মুক্ত থাকা এবং ক্ষতিকর ত্রুটি (علة قادحة) থেকে মুক্ত থাকা। তাঁদের ঐকমত্য অনুযায়ী এগুলো হলো পাঁচটি স্তম্ভ, যার একটিও বাদ দেওয়া যাবে না।

তবে ফকিহ ও উসুলবিদগণের নিকট বিষয়টি ভিন্ন; কারণ তাঁরা সহিহ (صحيح) হাদিসের ক্ষেত্রে হাদিসবিশারদদের নিকট স্বীকৃত বিচ্যুতি (شذوذ) ও ত্রুটি (علة) থেকে মুক্ত থাকাকে শর্ত হিসেবোরোপ করেননি।

একারণেই শায়খুল ইসলাম ইবনে দাকীকুল ঈদ 'শারহুল ইলমাম'-এ বলেছেন: «নিশ্চয়ই ফিকহ ও হাদিসের ইমামগণের প্রত্যেকেরই নিজস্ব ভিন্ন ভিন্ন পন্থা রয়েছে। কেননা উসুল ও ফিকহের মূলনীতি অনুসারে হাদিস বিশুদ্ধ (تصحيح) করার ক্ষেত্রে প্রধান ভিত্তি হলো বর্ণনাকারীর ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) এবং বর্ণনার ক্ষেত্রে তাঁর দৃঢ়তা। তাঁদের দৃষ্টি মূলত সেই সম্ভাবনার দিকে ঝুঁকে থাকে যেখানে বর্ণনাকারীর সত্যবাদিতা এবং ভুল না হওয়ার বিষয়টি ফুটে ওঠে। সুতরাং যখন এটি অর্জিত হয় এবং এটি ভুল না হওয়ার সম্ভাবনা থাকে এবং তাঁর বর্ণনা ও তাঁর বিরোধিতাকারীর বর্ণনার মধ্যে সম্ভাব্য কোনো উপায়ে সমন্বয় করা সম্ভব হয়, তখন তাঁর হাদিস বর্জন করা হয় না। পক্ষান্তরে হাদিসবিশারদগণ অনেক সময় নির্ভরযোগ্য (ثقات) ও ন্যায়পরায়ণ (عدول) বর্ণনাকারীদের সূত্রে হাদিস বর্ণনা করেন, কিন্তু পরবর্তীতে তাঁদের সামনে এমন সব সূক্ষ্ম ত্রুটি (علل) ধরা পড়ে যা তাঁদেরকে হাদিসটির বিশুদ্ধতার (صحة) রায় দেওয়া থেকে বিরত রাখে।»

আমি বলি: সংবাদ গ্রহণ বা বর্জনের প্রয়োজনীয় মূলনীতি নির্ধারণ ও নিয়মাবলী বিন্যাসের ক্ষেত্রে ফিকহশাস্ত্রীয় এবং হাদিসশাস্ত্রীয় পরিভাষার ভিন্নতা স্পষ্ট করার জন্য এটি অত্যন্ত সুস্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন বক্তব্য।

আর বর্তমান যুগের আলেমদের কর্মপদ্ধতি এবং পূর্বে উল্লিখিত তাঁদের তড়িঘড়ি করার প্রবণতা তো ফকিহ ও মুহাদ্দিসদের সেই মতভেদের চেয়েও অনেক বেশি বিসদৃশ এবং ব্যাপক। এটি অনেকটা সাধারণ গাণিতিক সমীকরণের মতো, যা কোনো শাস্ত্রের নবীন শিক্ষার্থী মনে করেন যে এটি জটিল এবং সহজ সব ধরণের মাসআলা সমাধানের ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযোজ্য। এটি মূলত মুহাদ্দিস ও ফকিহদের কর্মপদ্ধতির মাঝে এক ধরণের সংমিশ্রণ যা সাধারণ গাণিতিক সমীকরণের রূপ নিয়েছে। এর অদ্ভুত ফলাফলগুলোর মধ্যে একটি হলো: তাঁদের কেউ কেউ এমন হাদিসকে দুর্বল (تضعيف) বলে দেন যা পূর্ববর্তী ইমামগণ গ্রহণ করেছেন এবং সহিহ (تصحيح) হিসেবে গণ্য করেছেন; অথবা এমন কোনো দুর্বল (ضعيف) ও অগ্রহণযোগ্য (منكر) হাদিসকে সহিহ (تصحيح) সাব্যস্ত করেন যা পূর্ববর্তীগণ বর্জন করেছেন এবং প্রত্যাখ্যান করেছেন। এই অসার কর্মপদ্ধতির কারণেই তাঁদের অধিকাংশ সিদ্ধান্ত পূর্ববর্তী ইমামদের সিদ্ধান্তের বিপরীতে এবং অসামঞ্জস্যপূর্ণ হয়ে থাকে, বিশেষ করে জাল (موضوعات), অগ্রহণযোগ্য (مناكير) ও বাতিল (أباطيل) বর্ণনাগুলোকে সহিহ (تصحيح) করার ক্ষেত্রে তাঁদের শিথিলতা লক্ষণীয়।

আর এর উদ্দেশ্য হলো সজাগ ও সতর্ক করা যে, এই ধরণের কাজ মূল্যহীন, যদিও কখনও কখনও এর প্রয়োগ সঠিক হতে পারে। যে সত্যে কোনো সন্দেহ নেই তা হলো: নির্ভেজাল সঠিক বিষয়টি অত্যন্ত সুপেয় পানীয়ের মতো যা «গোবর ও রক্তের মধ্য থেকে নির্গত হয় এমন খাঁটি দুধ হিসেবে যা পানকারীদের জন্য অত্যন্ত তৃপ্তিদায়ক»; আর সূচিপত্র প্রস্তুতকারী লেখকদের সিদ্ধান্ত কখনো সূক্ষ্মদর্শী মুখস্থকারী হাফেজগণের (حفاظ) সিদ্ধান্তের সমতুল্য হতে পারে না, কারণ— «এক অভিজ্ঞ ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ তোমাকে এমন খবর দিতে পারবে না»।

একারণেই এবং অন্যান্য কিছু বিবেচনার প্রেক্ষিতে হাফেজ ইবনে হাজার বর্ণনাকারীর দোষ ও গুণ বিচারের (الجرح والتعديل) স্তরের সাথে তাঁর বর্ণিত হাদিস সহিহ (صحة), হাসান (حسن) নাকি দুর্বল (ضعف) হওয়ার বিষয়টি মিলিয়ে ফেলতে চাননি; কারণ কোনো বর্ণনার বিশুদ্ধতার জন্য ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) ও নির্ভুলতার (ضبط) সাথে আরও কিছু স্তম্ভ বা শর্তের উপস্থিতি আবশ্যক, যেমনটি আমরা পূর্ববর্তী ব্যাখ্যায় ইঙ্গিত করেছি।
(খণ্ড: ১) শাযারাতুম মিন ইত্তিহাফিল আরীব বিআহকামি মারাতিবি তাকরীবিত তাহযীব (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌وَقَدْ تَكَلَّفَ جَمَاعَةٌ مِنَ الْعُلَمَاءِ الْمُتَأَخِّرِينَ بَيَانَ مَا لَمْ يُرِدِ الْحَافِظُ بَيَانَهُ، فَسَدَّدَ كُلٌّ سَهْمَاً لَكِنْ فِي غَيْرِ مَرْمَاهُ، وَجَالَ بَعْضُهُمْ لَكِنْ بَعِيدَاً عَنْ مَقْصِدِهِ وَمُبْتَغَاهُ، وَفَسَّرَ بَعْضُهُمُ الْوَاضِحَ الْمَفْهُومَ بِالْغَامِضِ الْمُبْهَمِ.

‌‌وَمِمَّنْ أَغَارَ عَلَى أَحْكَامِ التَّقْرِيبِ مِنْ رُفَعَاءِ الشُّيُوخِ وَعُقَلائِهِمْ، فَصَرَفَهَا عَنْ مَقَاصِدِهَا وَغَايَاتِهَا، وَتَصَرَّفَ بِالْجَوْرِ فِي تَأوِيلِ دِلالاتِهَا: الشَّيْخُ الْعَلَاّمَةُ أبُو الأَشْبَالِ أَحْمَدُ شَاكِرٍ رحمه الله. فَقَدْ قَالَ فِي «الْبَاعِثِ الْحَثِيثِ» (ج1/219) بَعْدَ نَقْلِهِ لِمَا فِي التَّقْرِيبِ مِنْ مَرَاتِبِ الْجَرْحِ وَالتَّعْدِيلِ: «وَالدَّرَجَاتُ – يَعْنِى الْمَرَاتِبَ - مِنْ بَعْدِ الصَّحَابَةِ.

فَمَا كَانَ مِنَ الثَّانِيَةِ وَالثَّالِثَةِ، فَحَدِيثُهُ صَحِيحٌ مِنَ الدَّرَجَةِ الأُولَى، وَغَالِبُهُ فِي الصَّحِيحَيْنِ.

وَمَا كَانَ مِنَ الرَّابِعَةِ، فَحَدِيثُهُ صَحِيحٌ مِنَ الدَّرَجَةِ الثَّانِيَةِ، وَهُوَ الَّذِي يُحَسِّنُهُ التِّرْمِذِيُّ، وَيَسْكُتُ عَلَيْهِ أَبُو دَاوُدَ.

وَمَا بَعْدَ الرَّابِعَةِ فَمِنَ الْمَرْدُودِ، إِلَاّ إِذَا تَعَدَّدَتْ طُرُقُهُ مِمَّا كَانَ مِنَ الْمَرْتَبَةِ الْخَامِسَةِ وَالسَّادِسة، فَيَتَقَوَّى بِذَلِكَ وَيَصِيْرُ حَسَنَاً لِغَيْرِهِ.

وَمَا كَانَ مِنَ السَّابِعَةِ إلَى آخِرِهَا، فَضَعِيفٌ عَلَى اخْتِلافِ دَرَجَاتِ الضَّعْفِ، مِنَ الْمُنْكَرِ إلَى الْمَوْضُوعِ» اهـ.

ثُمَّ خَتَمَ الشَّيْخُ أَحْمَدُ شَاكِرٍ أَحْكَامَهُ الشَّاذَّةَ الْفَاذَّةَ بِتَقْرِيرٍ عَجِيبٍ غَرِيبٍ، فَقَالَ: «وَيَغْلِبُ عَلَى الظَّنِّ أَنَّ هَذِهِ الْمَرَاتِبَ إِنَّمَا هِيَ خَاصَّةٌ بِالْحَافِظِ ابْنِ حَجَرٍ، وَلَيْسَتْ مُطْلَقَةً عِنْدَ جَمِيعِ النُّقَّادِ وَالأَئِمَّةِ، فَاعْتِبَارُهَا نِظَامَاً لِلنَّقْدِ فِي عِلْمِ الْجَرْحِ وَالتَّعْدِيلِ لا يَخْفَى مَا فِيهِ!!» اهـ.

قُلْتُ: بَلْ الَّذِي لا يَخْفَى مَا فِيهِ هُوَ كِلامُ الشَّيْخِ أَبِي الأَشْبَالِ رحمه الله، لِمُبَاعَدَتِهِ عَنِ الإِنْصَافِ، وَلِمَا فِيهِ مِنَ التَّكَلُّفِ وَالاعْتِسَافِ. وَلَوْ رَدَّ الشَّيْخُ مَا تَكَلَّفَهُ وَعَانَاهُ إِلَى الْحَافِظِ ابْنِ حَجَرٍ، لَنَقَضَهُ بِرُمَّتِهِ، وَجَاءَهُ بِأَحْكَامٍ مُسَدَّدَةٍ مُحَرَّرَةٍ مُتْقَنَةٍ، كَمَا هِيَ لائَحِةٌ فِي تَهْذِيبِهِ، وَمَفْهُومَةٌ مِنْ تَقْرِيبِهِ.
পরবর্তী যুগের আলেমদের একটি দল হাফিজ (ইবনে হাজার) যা বর্ণনা করার ইচ্ছা করেননি তা ব্যাখ্যা করার জন্য যথেষ্ট কসরত করেছেন। তারা প্রত্যেকেই তীর ছুড়েছেন, তবে তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে, তাদের কেউ কেউ বিচরণ করেছেন, কিন্তু তা ছিল তার উদ্দেশ্য ও অভিপ্রায় থেকে বহু দূরে। আর তাদের কেউ কেউ সুস্পষ্ট ও বোধগম্য বিষয়কে জটিল ও অস্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেছেন।

উচ্চপদস্থ ও প্রাজ্ঞ শায়খদের মধ্যে যারা 'তাকরিব'-এর হুকুমগুলোর ওপর আক্রমণ চালিয়েছেন, সেগুলোকে তাদের মূল উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য থেকে সরিয়ে দিয়েছেন এবং সেগুলোর তাৎপর্য ব্যাখ্যায় অবিচার করেছেন, তাদের অন্যতম হলেন: শায়খ আল্লামা আবু আশবাল আহমাদ শাকির (রহিমাহুল্লাহ)। তিনি 'আল-বাইসুল হাসিছ' (১/২১৯) গ্রন্থে 'তাকরিব'-এ বর্ণিত সমালোচনা ও গুণগান (الجرح والتعديل)-এর স্তরসমূহ (المراتب) উদ্ধৃত করার পর বলেছেন: "সাহাবীদের পরবর্তী পর্যায়ের স্তরসমূহ (الدرجات) —অর্থাৎ ধাপসমূহ (المراتب)— হলো:

দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্তরের যারা রয়েছেন, তাদের হাদিস হলো প্রথম স্তরের সহিহ (صحيح); যার অধিকাংশই 'সহিহাইন'-এ রয়েছে।

আর চতুর্থ স্তরের যারা রয়েছেন, তাদের হাদিস হলো দ্বিতীয় স্তরের সহিহ (صحيح); এটি সেই প্রকার যাকে তিরমিজি হাসান (حسن) বলেন এবং আবু দাউদ যে ব্যাপারে নীরবতা অবলম্বন করেন।

চতুর্থ স্তরের পরবর্তী যা রয়েছে তা প্রত্যাখ্যাত (المردود) পর্যায়ের; তবে পঞ্চম ও ষষ্ঠ স্তরের (المرتبة) বর্ণনাকারীদের সূত্র যদি একাধিক হয়, তবে তার মাধ্যমে সেটি শক্তিশালী হয় এবং অন্য সূত্রের কারণে হাসান (حسن لغيره)-এ পরিণত হয়।

সপ্তম স্তর থেকে শেষ পর্যন্ত যারা রয়েছেন, তারা দুর্বলতার (الضعف) বিভিন্ন পর্যায় অনুযায়ী দুর্বল (ضعيف); যা অগ্রহণযোগ্য (المنكر) থেকে শুরু করে জাল (الموضوع) পর্যন্ত হয়ে থাকে।" [উদ্ধৃতি শেষ]

এরপর শায়খ আহমাদ শাকির তার এই বিরল ও বিচ্ছিন্ন (الشاذة) হুকুমগুলোকে এক অদ্ভুত ও বিস্ময়কর মন্তব্যের মাধ্যমে শেষ করেছেন। তিনি বলেন: "প্রবল ধারণা এই যে, এই স্তরগুলো (المراتب) কেবল হাফিজ ইবনে হাজারের সঙ্গেই খাস বা নির্দিষ্ট, এটি সকল সমালোচক ও ইমামদের নিকট সর্বজনীন নয়। সুতরাং সমালোচনা ও গুণগান (الجرح والتعديل) শাস্ত্রে একে পর্যালোচনার মানদণ্ড হিসেবে গ্রহণ করার মাঝে যে ত্রুটি রয়েছে তা গোপন নয়!!" [উদ্ধৃতি শেষ]

আমি বলি: বরং যার মাঝে ত্রুটি গোপন নেই তা হলো শায়খ আবু আশবালের (রহিমাহুল্লাহ) কথা; কারণ তা ইনসাফ বা ন্যায়নিষ্ঠতা থেকে দূরে এবং তাতে রয়েছে অহেতুক কসরত ও বাড়াবাড়ি। শায়খ যে বিষয়ে কষ্ট ও শ্রম ব্যয় করেছেন তা যদি হাফিজ ইবনে হাজারের মূল বক্তব্যের সাথে মিলিয়ে দেখতেন, তবে তিনি নিজেই একে সম্পূর্ণরূপে খণ্ডন করতেন এবং সঠিক, পরিমার্জিত ও সুসংগত হুকুম নিয়ে আসতেন; যেমনটি তার 'তহজিব'-এ স্পষ্ট এবং 'তাকরিব' থেকে বোধগম্য।
(খণ্ড: ১) শাযারাতুম মিন ইত্তিহাফিল আরীব বিআহকামি মারাতিবি তাকরীবিত তাহযীব (পৃষ্ঠা: ৭)
وَللهِ دَرُّ الشَّيْخِ الدُّكْتُورِ وَلِيدِ بْنِ حَسَنٍ الْعَانِي رحمه الله حَيْثُ قَالَ فِي ثَنَايَا مُنَاقَشَتِهِ أَحْكَامِ الشَّيْخِ أَبِي الأَشْبَالِ الآنِفَةِ:

إنَّ الأَحْكَامَ الَّتِي أَصْدَرَهَا الشَّيْخُ أَحْمَدُ شَاكِرٍ رحمه الله لَمْ تَكُنْ قَائِمَةً عَلَى دِرَاسَةٍ حَدِيثِيَّةٍ جَادَّةٍ، وَلا عَلَى اسْتِقْرَاءٍ يُؤَهِّلُ لإِصْدَارِ مِثْلِ هَذِهِ الأَحْكَامِ الْخَطِيْرَةِ. وَأَوَّلُ رَجُلٍ عَالِمٍ لَمْ يَقْتَنِعْ بِمَا قَالَهُ هُوَ الشَّيْخُ أَحْمَدُ شَاكِرٍ نَفْسَهُ، وَلِذَلِكَ لَمْ يَعْتَمِدْ عَلَى أَحْكَامِهِ عِنْدَ تَحْقِيقِهِ مُسْنَدِ الإِمَامِ أَحْمَدَ، وَحَكَم عَلَى أَسَانِيدِهِ، وَكَذَلِكَ اسْتَبْعَدَ هَذِهِ الأَحْكَامَ عِنْدَ تَحْقِيقِهِ سُنَنِ التِّرْمِذِيِّ، وَحَكَم عَلَى رِجَالِ أَسَانِيدِهِ اهـ.

قُلْتُ: وَأَوَّلُ الْعَجَائِبِ الْغَرَائِبِ الَّتِي لَمُ يُسْبَقَ إِلَيْهَا، وَلا يَنْبَغِي أَنْ يُتَابَعَ عَلَيْهَا: قَوْلُهُ «وَمَا بَعْدَ الْمَرْتَبَةِ الرَّابِعَةِ فَمِنَ الْمَرْدُودِ، إِلَاّ إِذَا تَعَدَّدَتْ طُرُقُهُ مِمَّا كَانَ مِنَ الْمَرْتَبَةِ الْخَامِسَةِ وَالسَّادِسة، فَيَتَقَوَّى بِذَلِكَ، وَيَصِيْرُ حَسَنَاً لِغَيْرِهِ» ! .

فَمُقْتَضَى هَذِهِ الأُطْرُوحَةِ الْمُتَعَسِّفَةِ، وَالْقَضِيَّةِ الْجَائِرَةِ؛ فِي حَقِّ رِجَالِ الْمَرْتَبَتَيْنِ الْخَامِسَةِ وَالسَّادِسَةِ:

[أَوَّلاً] أَنَّ كُلَّ مَنْ ذَكَرَهُ الْحَافِظُ فِي الْمَرْتَبَةِ الْخَامِسَةِ، وَوَصَفَهُ بِـ صَدُوقٌ سَيْءٌ الْحِفْظِ، أَوْ صَدُوقٌ يَهِمُ، أَوْ لَهُ أَوْهَامٌ، أَوْ يُخْطِئُ، أَوْ تَغَيَّرَ بِأَخِرَةَ، أَوْ مَنْ رُمِيَ بِنَوْعٍ مِنَ الْبِدْعَةِ كَالتَّشَيُّعِ، وَالْقَدَرِ، وَالنَّصَبِ، وَالإِرْجَاءِ، وَالتَّجَهُّم. وَمَا أَكْثَرَ رُوَاةِ هَذِهِ الْمَرْتَبَةِ فِي النَّقْرِيبِ، بَلْ هِيَ أَكْثَرُ الْمَرَاتِبِ عَدَدَاً، فَأَحَادِيثُ هَؤُلاءِ جَمِيعَاً مَرْدُودَةٌ، وَإِنْ شَفَعَتْ لِحَدِيثِ أَحَدِهِمْ مُتَابَعَةٌ لِتُقَوِّيهِ، أَوْ شَاهِدٌ لِيُعَضِّدَهُ، فَأَقْصَى غَايَاتِهِ أَنْ يَكُونَ حَسَنَاً، وَلا يَبْلَغُ الصِّحَةَ بِحَالٍ!! .

[ثَانِيَاً] أنَّ هَذَا الْحَكْمَ بِرُمَّتِهِ هُوَ مَا يُحْكَمُ بِهِ عَلَى أَحَادِيثِ رِجَالِ الْمَرْتَبَةِ السَّادِسَةِ، الَّذِينَ وَصَفَهُمُ الْحَافِظُ بِقَوْلِهِ: مَنْ لَيْسَ لَهُ مِنَ الْحَدِيثِ إِلَاّ الْقَلِيلَ، وَلَمْ يَثْبُتْ فِيهِ مَا يُتْرَكُ حَدِيثُهُ مِنْ أَجْلِهِ، وَإِلَيْهِ الإِشَارَةُ بِلَفْظِ مَقْبُولٍ حَيْثُ يُتَابَعُ، وَإِلَاّ فَلَيِّنُ الْحَدِيثِ.

[ثَالِثَاً] أنَّ هَذَا الْحَكْمَ عَامٌّ شُمُولِيٌّ لِرِجَالِ الْمَرْتَبَتَيْنِ الْمَذْكُورَتَيْنِ، بِلا اسْتِثَاءَ، وَلا تَخْصِيصَ، وَلا نَظَرَ فِيمَا ذَكَرَهُ الْحَافِظُ فِي خَوَاتِيمِ تَرَاجَمِ الْعَشَرَاتِ، بَلْ الْمِئَاتِ مِنَ رِجَالِ هَاتَيْنِ الْمَرْتَبَتَيْنِ بِقَوْلِهِ [خ م] ، يَعْنِي أَخْرَجَ لَهُ الْبُخَارِيُّ وَمُسْلِمٌ!! .
আল্লাহ শায়খ ড. ওয়ালীদ বিন হাসান আল-আনী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর প্রতি রহমত বর্ষণ করুন, যখন তিনি শায়খ আবু আশবালের পূর্বোক্ত বিধানগুলো পর্যালোচনার এক পর্যায়ে বলেছিলেন:

নিশ্চয়ই শায়খ আহমদ শাকির (রাহিমাহুল্লাহ) কর্তৃক প্রদত্ত বিধানগুলো কোনো গভীর হাদিস-গবেষণার ওপর ভিত্তি করে ছিল না, আর না তা কোনো এমন ব্যাপক অনুসন্ধানের (استقراء) ওপর ভিত্তি করে ছিল যা এই ধরনের গুরুতর বিধান প্রদানের যোগ্য করে তোলে। প্রথম আলেম হিসেবে স্বয়ং শায়খ আহমদ শাকির নিজেই নিজের কথায় সন্তুষ্ট হতে পারেননি; আর এই কারণেই তিনি ইমাম আহমদের মুসনাদ তাহকিক (تحقيق) করার সময় এবং এর সনদসমূহের (أسانيد) ওপর হুকুম প্রদানের ক্ষেত্রে নিজের সেই বিধানগুলোর ওপর নির্ভর করেননি। তেমনিভাবে সুনানে তিরমিজি তাহকিক (تحقيق) করার এবং এর সনদের বর্ণনাকারীদের ওপর হুকুম প্রদানের ক্ষেত্রেও তিনি এই বিধানগুলোকে পরিহার করেছেন।

আমি বলছি: সেসব অদ্ভুত ও বিস্ময়কর কথার মধ্যে প্রথমটি—যে ব্যাপারে তাঁর আগে কেউ এমন কথা বলেনি এবং যে বিষয়ে তাঁর অনুসরণ করাও উচিত নয়—তা হলো তাঁর এই উক্তি: "চতুর্থ স্তরের (مرتبة) পরের স্তরগুলো প্রত্যাখ্যাত (مردود); তবে পঞ্চম ও ষষ্ঠ স্তরের বর্ণনাকারীদের হাদিসের যদি একাধিক সূত্র (طرق) থাকে, তবে তার মাধ্যমে তা শক্তিশালী হয় এবং অন্যের কারণে হাসান (حسن لغيره) হিসেবে গণ্য হয়!"।

পঞ্চম ও ষষ্ঠ স্তরের বর্ণনাকারীদের ক্ষেত্রে এই স্বৈরাচারী তত্ত্ব এবং অন্যায্য সিদ্ধান্তের অনিবার্য ফলাফল হলো:

[প্রথমত] হাফেজ (ইবনে হাজার) পঞ্চম স্তরে (مرتبة) যাদের উল্লেখ করেছেন এবং যাদেরকে 'সত্যবাদী তবে মন্দ স্মৃতিশক্তি সম্পন্ন (صدوق سيئ الحفظ)', অথবা 'সত্যবাদী তবে সংশয়ে নিপতিত হন (صدوق يهم)', অথবা 'তার বিভ্রম রয়েছে (له أوهام)', অথবা 'ভুল করেন (يخطئ)', অথবা 'শেষ বয়সে স্মৃতিবিভ্রাট ঘটেছে (تغير بأخرة)', অথবা যাকে কোনো ধরনের বিদআতের (بدعة) দোষে অভিযুক্ত করা হয়েছে, যেমন: শিয়া মতবাদ (التشيع), কদরিয়া মতবাদ (القدر), নাসবি মতবাদ (النصب), মুরজিয়া মতবাদ (الإرجاء) এবং জাহমিয়া মতবাদ (التجهم)। 'তাকরিব' গ্রন্থে এই স্তরের বর্ণনাকারীর সংখ্যা কতই না বেশি! বরং সংখ্যার দিক থেকে এটিই সবচেয়ে বড় স্তর। ফলে এই সকলের হাদিসই প্রত্যাখ্যাত (مردودة), যদিও তাদের কারোর হাদিসকে শক্তিশালী করার জন্য কোনো সমর্থনমূলক বর্ণনা (متابعة) পাওয়া যায় অথবা একে সাহায্য করার জন্য কোনো সাক্ষী বর্ণনা (شاهد) থাকে, তবে এর সর্বোচ্চ পর্যায় হবে যে তা হাসান (حسن) হবে, কিন্তু কোনো অবস্থাতেই তা সহিহ (الصحة) স্তরে পৌঁছাবে না!!

[দ্বিতীয়ত] এই পুরো হুকুমটি সেই ষষ্ঠ স্তরের (مرتبة) বর্ণনাকারীদের হাদিসের ওপরও প্রযোজ্য হবে, যাদের সম্পর্কে হাফেজ বলেছেন: 'যার নিকট খুব সামান্যই হাদিস রয়েছে এবং তার মধ্যে এমন কিছু প্রমাণিত হয়নি যার কারণে তার হাদিস বর্জন করা (يترك حديثه) আবশ্যক হয়; আর এর দিকেই গ্রহণযোগ্য (مقبول) শব্দ দ্বারা ইঙ্গিত করা হয়েছে যখন তার সমর্থনমূলক বর্ণনা থাকে, অন্যথায় সে হাদিসে শিথিল (لين الحديث)।'

[তৃতীয়ত] এই হুকুমটি উল্লিখিত দুই স্তরের বর্ণনাকারীদের জন্য সাধারণ ও সর্বব্যাপী, যার মধ্যে কোনো ব্যতিক্রম, বিশেষীকরণ বা বাছ-বিচার নেই। এমনকি হাফেজ এই দুই স্তরের শত শত বর্ণনাকারীর জীবনীর (تراجم) শেষে যে [খ ম] উল্লেখ করেছেন, তার দিকেও লক্ষ্য রাখা হয়নি; যার অর্থ হলো ইমাম বুখারি ও ইমাম মুসলিম তাদের থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন!!
(খণ্ড: ১) শাযারাতুম মিন ইত্তিহাফিল আরীব বিআহকামি মারাতিবি তাকরীবিত তাহযীব (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌وَهَذَا الاقْتِضَاءُ الثَّالِثُ هُوَ الَّذِي حَمَلَنِي عَلَى: التَّأَسُّفِ مِمَّا فِي هَذَا الْحُكْمِ مِنَ الْجَوْرِ وَالتَّعَسُّفِ، وَالإِشْفَاقِ عَلَى الشَّيْخِ رحمه الله مِمَّا قَابَلَ بِهِ أَحْكَامَ التَّقْرِيبِ الْعَادِلَةِ مِنَ الْقَطِيعَةِ وَالشِّقَاقِ، وَالإِذْعَانِ لِمَا أُمِرْنَا بِهِ مِنْ إِزْهَاقِ الْجَوْرِ وَإِظْهَارِ الْحَقِّ بِالْحُجَّةِ وَالْبَيَانِ.

فَأَقُولُ بِلا ارْتِيَابْ، وَاللهُ وَحْدَهُ الْمُوَفِّقُ لِلصَّوَابْ:‌‌ إنَّ الْحُكْمَ الصَّحِيحِ عَلَى أَحَادِيثِ رِجَالِ هَاتَيْنِ الْمَرْتَبَتَيْنِ لَيْسَ بِدَرَجَةٍ وَاحِدَةٍ، بَلْ يَجِبُ النَّظَرُ فِي حَدِيثِ كُلِّ رَاوٍ عَلَى حِدَّةٍ، لِيُحْكَمَ عَلَى حَدِيثِهِ بِمَا يَسْتَحِقُّهُ، صِحَّةً أَوْ حُسْنَاً أَوْ ضَعْفَاً. فَهَذِهِ ثَلاثَةُ أَحْكَامٍ مُتَبَايِنَةٍ مُتَفَاوِتَةٍ، وَلَيْسَتْ حُكْمَاً وَاحِدَاً مُتَعَسِّفَاً كَمَا ادَّعَاهُ الشَّيْخُ شَاكِرُ رحمه الله. فَلا يَغِيبَنَّ عَنْكَ هَذَا الْبَيَانُ، فَإِنَّهُ مِنَ الْمُهِمَّاتِ الْكَاشِفَةِ عَنْ خَطَأِ هَذِهِ الأُطْرُوحَةِ، وَعَسَفِ هَذِهِ الأَحْكَامِ.

فَأَمَّا الْحُكْمُ الأَوَّلُ مِنَ الثَّلاثَةِ الأَحْكَامِ؛ أَعْنِي الصِّحَةَ، فَأَعْلَى مَرَاتِبِهِ وَأَرْفَعُ دَرَجَاتِهِ، وَهُوَ الْمُجْمَعُ عَلَى تَلَقِّيهِ بِالْقَبُولِ، قَدْ كَفَانَا الْحَافِظُ تَكَلُّفَ مُؤْنَتِهِ، وَتَعَسُّفَ مَشَقَّتِهِ، وَذَلِكَ بِإِضَافَتِهِ حَرْفَيْنِ مُفْرَدَيْنِ [خ م] فِي خَاتِمَةِ تَرْجَمَةِ رَاوِي الصَّحِيحِ مِنْ رِجَالِ هَاتَيْنِ الْمَرْتَبَتَيْنِ، وَبِعِبَارَةٍ أَدَقِّ: احْتَجَّ بِهِ الشَّيْخَانِ فِي صَحِيحِهِمَا.
আর এই তৃতীয় আবশ্যকতা আমাকে বাধ্য করেছে: এই সিদ্ধান্তের মধ্যে থাকা জুলুম ও যথেচ্ছচারের জন্য দুঃখ প্রকাশ করতে, এবং শাইখ (রহিমাহুল্লাহ) 'তাকরীব' এর ন্যায়সঙ্গত হুকুমগুলোর বিপরীতে যে বিচ্ছিন্নতা ও বিরোধের পথ বেছে নিয়েছেন, সেজন্য তাঁর প্রতি সমবেদনা জানাতে এবং জুলুমকে মিটিয়ে দেওয়া ও দলীল ও বর্ণনার মাধ্যমে সত্যকে প্রকাশ করার যে নির্দেশ আমাদের দেওয়া হয়েছে, তার অনুগত হতে।

তাই আমি কোনো সন্দেহ ছাড়াই বলছি—আর আল্লাহই একমাত্র সঠিক তাওফিকদাতা: এই দুই স্তরের বর্ণনাকারীদের (رجال) হাদিসসমূহের ওপর সঠিক সিদ্ধান্ত (صحيح) কোনো একক স্তরের নয়, বরং প্রতিটি বর্ণনাকারীর (راوٍ) হাদিসকে পৃথকভাবে পর্যালোচনা করা আবশ্যক (واجب), যাতে তার হাদিসের ওপর তার যোগ্যতা অনুযায়ী সহিহ (صحة), হাসান (حسن) অথবা যঈফ (ضعف) হওয়ার হুকুম দেওয়া যায়। এগুলি হলো তিনটি ভিন্ন ও বৈচিত্র্যময় হুকুম, এটি কোনো একটি ঢালাও বা যথেচ্ছ রায় নয় যেমনটি শাইখ শাকির (রহিমাহুল্লাহ) দাবি করেছেন। সুতরাং এই ব্যাখ্যাটি যেন আপনার দৃষ্টির অগোচরে না যায়; কেননা এটি এই থিসিসের ভুল এবং এই সিদ্ধান্তগুলোর অসারতা উন্মোচনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

এই তিন হুকুমের প্রথমটি—অর্থাৎ সহিহ (صحة)—হলো এর সর্বোচ্চ স্তর এবং উচ্চতম মর্যাদা, যা সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহণযোগ্য বলে স্বীকৃত। হাফিজ আমাদের এর শ্রমসাধ্য কষ্ট থেকে রেহাই দিয়েছেন, আর তা হলো এই দুই স্তরের সহিহ হাদিসের বর্ণনাকারীদের (راوٍ) জীবনীর শেষে দুটি স্বতন্ত্র অক্ষর [خ ম] যুক্ত করার মাধ্যমে। আরও সুনির্দিষ্ট ভাষায় বলতে গেলে: শাইখাইন তাঁদের সহিহ গ্রন্থে তাঁদের মাধ্যমে দলীল পেশ করেছেন (احتج به)।
(খণ্ড: ১) শাযারাতুম মিন ইত্তিহাফিল আরীব বিআহকামি মারাতিবি তাকরীবিত তাহযীব (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌ومن التَّمْثِيلِ عَلَى عُجَالَةٍ لِهِذَا الصِّنْفِ مِنْ رُوَاةِ الصَّحِيحِ مِنَ الْمَرْتَبَةِ الْخَامِسَةِ؛ مَا قَالَهُ الْحَافِظُ الْحُجَّةُ الْمُتْقِنُ طَيَّبَ اللهُ ثَرَاهُ:

[1] شُجَاعُ بْنُ الْوَلِيدِ بْنِ قَيْسٍ السَّكُونِيُّ أَبُو بَدْرٍ الْكُوفِيُّ صَدُوقٌ وَرِعٌ لَهُ أَوْهَامٌ [خ م د ت س ق] .

[2] طَارِقُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْبَجَلِيُّ الأَحْمَسِيُّ الْكُوفِيُّ صَدُوقٌ لَهُ أَوْهَامٌ [خ م د ت س ق] .

[3] عَمْرُو بْنُ أَبِي سَلَمَةَ التِّنِّيسِيُّ أبُو حَفْصٍ الدِّمَشْقِيُّ مَوْلَى بَنِي هَاشِمٍ صَدُوقٌ لَهُ أَوْهَامٌ [خ م د ت س ق] .

[4] مُحَمَّدُ بْنُ طَلْحَةَ بْنِ مُصَرِّفٍ الْيَامِيُّ كُوفِيٌّ صَدُوقٌ لَهُ أَوْهَامٌ [خ م د ت عس ق] .

[5] مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللهِ بْنِ مُسْلِمِ بْنِ عُبَيْدِ اللهِ بْنِ شِهَابٍ الزُّهْرِيُّ ابْنُ أَخِي الزُّهْرِيِّ صَدُوقٌ لَهُ أَوْهَامٌ [خ م د ت س ق] .

[6] مَخْلَدُ بْنُ يَزِيدَ الْقُرَشِيُّ الْحَرَّانِيُّ صَدُوقٌ لَهُ أَوْهَامٌ [خ م د س ق] .

[7] هِشَامُ بْنُ حُجَيْرٍ الْمَكِّيُّ صَدُوقٌ لَهُ أَوْهَامٌ [خ م س] .

وَمِنْهُ كَذَلِكَ قَوْلُهُ طَيَّبَ اللهُ ثَرَاهُ:

[1] إِبْرَاهِيمُ بْنُ يُوسُفَ بْنِ إِسْحَاقَ بْنِ أَبِي إِسْحَاقَ السَّبِيعِيُّ صَدُوقٌ يَهِمُ [خ م د س] .

[2] حَاتِمُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الْمَدَنِيُّ أَبُو إِسْمَاعِيلَ الْحَارِثِيُّ مَوْلاهُمْ الْكَوفِي صَحِيحُ الْكِتَابِ صَدُوقٌ يَهِمُ [خ م د ت س ق] .

[3] الْحَارِثُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ سَعْدِ بْنِ أَبِي ذُبَابٍ الْمَدَنِيُّ صَدُوقٌ يَهِمُ [عخ م د ت س ق] .

[4] حَرَمِيُّ بْنُ عُمَارَةَ بْنِ أَبِي حَفْصَةَ الْعَتَكِيُّ الْبَصْرِيُّ أَبُو رَوْحٍ صَدُوقٌ يَهِمُ [خ م د س ق] .

[5] طَلْحَةُ بْنُ يَحْيَى بْنِ النُّعْمَانِ بْنِ أَبِي عَيَّاشٍ الزُّرَقِيُّ الأَنْصَارِيُّ الْمَدَنِيُّ صَدُوقٌ يَهِمُ [خ م د س ق] .

[6] عَبْدُ رَبِّهِ بْنُ نَافِعٍ الْكِنَانِيُّ الْحَنَّاطُ أَبُو شِهَابٍ الْكُوفِيُّ صَدُوقٌ يَهِمُ [خ م د س ق] .

[7] مُحَمَّدُ بْنُ عَبَّادِ بْنِ الزَّبْرَقَانِ الْمَكِّيُّ نَزِيلُ بَغْدَادَ صَدُوقٌ يَهِمُ [خ م ت س ق] .
পঞ্চম স্তরের (المرتبة الخامسة) সহিহ (صحيح) এর বর্ণনাকারীদের এই শ্রেণির একটি সংক্ষিপ্ত দৃষ্টান্ত হলো; যা হাফেজ (الحافظ), হুজ্জাহ (الحجة) ও মুতকিন (المتقن) [আল্লাহ তাঁর মাটিকে সুগন্ধযুক্ত করুন] বলেছেন:

[1] শুজা ইবনে ওয়ালিদ ইবনে কায়স আস-সাকুনি আবু বদর আল-কুফি; তিনি সত্যবাদী (صدوق) ও পরহেজগার (ورع), তবে তাঁর কিছু ভুলভ্রান্তি রয়েছে (له أوهام) [বুখারি, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিজি, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ]।

[2] তারিক ইবনে আবদুর রহমান আল-বাজালি আল-আহমাসি আল-কুফি; তিনি সত্যবাদী (صدوق), তবে তাঁর কিছু ভুলভ্রান্তি রয়েছে (له أوهام) [বুখারি, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিজি, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ]।

[3] আমর ইবনে আবি সালামা আত-তিন্নিসি আবু হাফস আদ-দিমাশকি, বনু হাশিমের মুক্তদাস; তিনি সত্যবাদী (صدوق), তবে তাঁর কিছু ভুলভ্রান্তি রয়েছে (له أوهام) [বুখারি, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিজি, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ]।

[4] মুহাম্মাদ ইবনে তালহা ইবনে মুসাররিফ আল-ইয়ামি আল-কুফি; তিনি সত্যবাদী (صدوق), তবে তাঁর কিছু ভুলভ্রান্তি রয়েছে (له أوهام) [বুখারি, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিজি, নাসাঈর আল-মুসনাদ, ইবনে মাজাহ]।

[5] মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে মুসলিম ইবনে উবাইদুল্লাহ ইবনে শিহাব আজ-জুহরি, আজ-জুহরির ভ্রাতুষ্পুত্র; তিনি সত্যবাদী (صدوق), তবে তাঁর কিছু ভুলভ্রান্তি রয়েছে (له أوهام) [বুখারি, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিজি, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ]।

[6] মাখলাদ ইবনে ইয়াজিদ আল-কুরাশি আল-হাররানি; তিনি সত্যবাদী (صدوق), তবে তাঁর কিছু ভুলভ্রান্তি রয়েছে (له أوهام) [বুখারি, মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ]।

[7] হিশাম ইবনে হুজাইর আল-মাক্কি; তিনি সত্যবাদী (صدوق), তবে তাঁর কিছু ভুলভ্রান্তি রয়েছে (له أوهام) [বুখারি, মুসলিম, নাসাঈ]।

অনুরূপভাবে তাঁর [আল্লাহ তাঁর মাটিকে সুগন্ধযুক্ত করুন] উক্তি থেকে আরও রয়েছে:

[1] ইব্রাহিম ইবনে ইউসুফ ইবনে ইসহাক ইবনে আবি ইসহাক আস-সাবিঈ; তিনি সত্যবাদী (صدوق), তবে তাঁর ভ্রম হয় (يهم) [বুখারি, মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাঈ]।

[2] হাতিম ইবনে ইসমাইল আল-মাদানি আবু ইসমাইল আল-হারিসি, তাঁদের মুক্তদাস আল-কুফি; তিনি পাণ্ডুলিপিগতভাবে নির্ভুল (صحيح الكتاب) ও সত্যবাদী (صدوق), তবে তাঁর ভ্রম হয় (يهم) [বুখারি, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিজি, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ]।

[3] আল-হারিস ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে সাদ ইবনে আবি জুবাব আল-মাদানি; তিনি সত্যবাদী (صدوق), তবে তাঁর ভ্রম হয় (يهم) [বুখারি (খালকু আফআলিল ইবাদ), মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিজি, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ]।

[4] হারামি ইবনে উমারা ইবনে আবি হাফসাহ আল-আতাকি আল-বাসরি আবু রাওহ; তিনি সত্যবাদী (صدوق), তবে তাঁর ভ্রম হয় (يهم) [বুখারি, মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ]।

[5] তালহা ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে নুমান ইবনে আবি আইয়াশ আজ-জুরাকি আল-আনসারি আল-মাদানি; তিনি সত্যবাদী (صدوق), তবে তাঁর ভ্রম হয় (يهم) [বুখারি, মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ]।

[6] আবদু রাব্বিহি ইবনে নাফি আল-কিনানি আল-হান্নাত আবু শিহাব আল-কুফি; তিনি সত্যবাদী (صدوق), তবে তাঁর ভ্রম হয় (يهم) [বুখারি, মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ]।

[7] মুহাম্মাদ ইবনে আব্বাদ ইবনে জাবরাকান আল-মাক্কি, বাগদাদে বসবাসকারী; তিনি সত্যবাদী (صدوق), তবে তাঁর ভ্রম হয় (يهم) [বুখারি, মুসলিম, তিরমিজি, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ]।
(খণ্ড: ১) শাযারাতুম মিন ইত্তিহাফিল আরীব বিআহকামি মারাতিবি তাকরীবিত তাহযীব (পৃষ্ঠা: ১০)
وَمِنْهُ كَذَلِكَ قَوْلُهُ طَيَّبَ اللهُ ثَرَاهُ:

[1] حَسَّانُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عَبْدِ اللهِ الْكِرْمَانِيُّ أَبُو هِشَامٍ الْعَنَزِيُّ قَاضِي كِرْمَانَ صَدُوقٌ يُخْطِئُ [خ م د] .

[2] سُلَيْمَانُ بْنُ حَيَّانَ الأَزْدِيُّ أَبُو خَالِدٍ الأَحْمَرُ الْكُوفِيُّ صَدُوقٌ يُخْطِئُ [خ م د ت س ق] .

[3] شَرِيكُ بْنُ عَبْدِ اللهِ بْنِ أَبِي نَمَرٍ أَبُو عَبْدِ اللهِ الْمَدَنِيُّ صَدُوقٌ يُخْطِئُ [خ م د تم س ق] .

[4] عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ مَرْوَانَ الأُمَوِيُّ أَبُو مُحَمَّدٍ الْمَدَنِيُّ صَدُوقٌ يُخْطِئُ [خ م د ت س ق] .

[5] عُبَيْدُ اللهِ بْنُ الأَخْنَسِ النَّخَعِيُّ أَبُو مَالِكٍ الْخَزَّازُ صَدُوقٌ قَالَ ابْنُ حِبَّانَ: كَانَ يُخْطِئُ [خ م د ت س ق] .

[6] كَثِيْرُ بْنُ شِنْظِيْرٍ الْمَازِنِيُّ أَبُو قُرَّةَ الْبَصْرِيُّ صَدُوقٌ يُخْطِئُ [خ م د ت ق] .

[7] مِسْكِينُ بْنُ بُكَيْرٍ الْحَرَّانِيُّ أبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحَذَّاءُ صَدُوقٌ يُخْطِئُ [خ م س] .

وَمِنْهُ كَذَلِكَ قَوْلُهُ طَيَّبَ اللهُ ثَرَاهُ:

[1] سُهَيْلُ بْنُ أَبِي صَالِحٍ ذَكْوَانَ السَّمَّانِ أَبُو يَزِيدَ الْمَدَنِيُّ صَدُوقٌ تَغَيَّرَ حِفْظُهُ بِأَخِرَةَ [خ م د ت س ق] .

[2] سِمَاكُ بْنُ حَرْبِ بْنِ أَوْسِ بْنِ خَالِدٍ الذُّهْلِيُّ الْكُوفِيُّ صَدُوقٌ وَقَدْ تَغَيَّرَ بِأَخِرَةَ فَكَانَ رُبَّمَا تَلَقَّنَ [خت م د ت س ق] .

[3] شَرِيكُ بْنُ عَبْدِ اللهِ بْنِ أبِي شَرِيكٍ النخعِيُّ أَبُو عَبْدِ اللهِ الْكُوفِيُّ الْقَاضِي صَدُوقٌ عَابِدٌ يُخْطِئُ كَثِيْرَاً وَتَغَيَّرَ لَمَا وَلِيَ الْقَضَاءَ [خت م د ت س ق] .

[4] عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي الزِّنَادِ عَبْدِ اللهِ بْنِ ذَكْوَانَ الْمَدَنِيُّ صَدُوقٌ تَغَيَّرَ حِفْظُهُ لَمَا قَدِمَ بَغْدَادَ [خت م د ت س ق] .

[5] عَبْدُ اللهِ بْنُ مَطَرٍ أَبُو رَيْحَانَةَ الْبَصْرِيُّ صَدُوقٌ تَغَيَّرَ بِأَخِرَةَ [م د ت ق] .

[6] قُرَيْشُ بْنُ أَنَسٍ الأَنْصَارِيُّ وَيُقَالُ الأُمَوِيُّ أَبُو أَنَسٍ الْبَصْرِيُّ صَدُوقٌ تَغَيَّرَ بِأَخِرَةَ [خ م د ت س] .

[7] يَحْيَى بْنُ يَمَانٍ الْعِجْلِيُّ الْكُوفِيُّ صَدُوقٌ عَابِدٌ يُخْطِئُ كَثِيْرَاً وَقَدْ تَغَيَّرَ [بخ م د ت س ق] .
অনুরূপভাবে তাঁর [আল্লাহ তাঁর মাটিকে সুগন্ধিময় করুন] উক্তি হলো:

[1] হাসান ইবনে ইবরাহিম ইবনে আবদুল্লাহ আল-কিরমানি আবু হিশাম আল-আনাজি, কিরমানের বিচারক; তিনি সত্যবাদী (صدوق), তবে ভুল করেন (يخطئ) [বুখারি, মুসলিম, আবু দাউদ]।

[2] সুলাইমান ইবনে হাইয়ান আল-আজদি আবু খালিদ আল-আহমার আল-কুফি; তিনি সত্যবাদী (صدوق), তবে ভুল করেন (يخطئ) [বুখারি, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিজি, নাসায়ি, ইবনে মাজাহ]।

[3] শারিক ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আবি নামার আবু আবদুল্লাহ আল-মাদানি; তিনি সত্যবাদী (صدوق), তবে ভুল করেন (يخطئ) [বুখারি, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিজি (শামাইল), নাসায়ি, ইবনে মাজাহ]।

[4] আবদুল আজিজ ইবনে উমর ইবনে আবদুল আজিজ ইবনে মারওয়ান আল-উমাবি আবু মুহাম্মদ আল-মাদানি; তিনি সত্যবাদী (صدوق), তবে ভুল করেন (يخطئ) [বুখারি, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিজি, নাসায়ি, ইবনে মাজাহ]।

[5] উবাইদুল্লাহ ইবনে আল-আখনাস আন-নাখায়ি আবু মালিক আল-খাজ্জাজ; তিনি সত্যবাদী (صدوق)। ইবনে হিব্বান বলেন: তিনি ভুল করতেন (يخطئ) [বুখারি, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিজি, নাসায়ি, ইবনে মাজাহ]।

[6] কাসির ইবনে শিনজির আল-মাজিনি আবু কুররাহ আল-বাসরি; তিনি সত্যবাদী (صدوق), তবে ভুল করেন (يخطئ) [বুখারি, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিজি, ইবনে মাজাহ]।

[7] মিসকিন ইবনে বুকায়র আল-হাররানি আবু আবদুর রহমান আল-হাজ্জা; তিনি সত্যবাদী (صدوق), তবে ভুল করেন (يخطئ) [বুখারি, মুসলিম, নাসায়ি]।

অনুরূপভাবে তাঁর [আল্লাহ তাঁর মাটিকে সুগন্ধিময় করুন] উক্তি হলো:

[1] সুহাইল ইবনে আবি সালিহ যাকওয়ান আস-সাম্মান আবু ইয়াজিদ আল-মাদানি; তিনি সত্যবাদী (صدوق), শেষ বয়সে তাঁর মুখস্থশক্তিতে পরিবর্তন (تغير حفظه) ঘটেছিল [বুখারি, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিজি, নাসায়ি, ইবনে মাজাহ]।

[2] সিমাক ইবনে হারব ইবনে আউস ইবনে খালিদ আজ-জুহলি আল-কুফি; তিনি সত্যবাদী (صدوق), শেষ বয়সে তাঁর মধ্যে পরিবর্তন (تغير) ঘটেছিল, ফলে কখনো কখনো তাঁকে তালকিন করা হতো (تلقن) [বুখারি (তা’লিক), মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিজি, নাসায়ি, ইবনে মাজাহ]।

[3] শারিক ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আবি শারিক আন-নাখায়ি আবু আবদুল্লাহ আল-কুফি, বিচারক; তিনি সত্যবাদী (صدوق) ও ইবাদতগুজার (عابد), তবে প্রচুর ভুল করেন (يخطئ كثيرا) এবং বিচারকের দায়িত্ব পাওয়ার পর তাঁর মধ্যে পরিবর্তন (تغير) ঘটেছিল [বুখারি (তা’লিক), মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিজি, নাসায়ি, ইবনে মাজাহ]।

[4] আবদুর রহমান ইবনে আবিয যিনাদ আবদুল্লাহ ইবনে যাকওয়ান আল-মাদানি; তিনি সত্যবাদী (صدوق), বাগদাদে আসার পর তাঁর মুখস্থশক্তিতে পরিবর্তন (تغير حفظه) ঘটেছিল [বুখারি (তা’লিক), মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিজি, নাসায়ি, ইবনে মাজাহ]।

[5] আবদুল্লাহ ইবনে মাতার আবু রায়হানা আল-বাসরি; তিনি সত্যবাদী (صدوق), শেষ বয়সে তাঁর মধ্যে পরিবর্তন (تغير) ঘটেছিল [মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিজি, ইবনে মাজাহ]।

[6] কুরাইশ ইবনে আনাস আল-আনসারি—বলা হয় আল-উমাবি—আবু আনাস আল-বাসরি; তিনি সত্যবাদী (صدوق), শেষ বয়সে তাঁর মধ্যে পরিবর্তন (تغير) ঘটেছিল [বুখারি, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিজি, নাসায়ি]।

[7] ইয়াহইয়া ইবনে ইয়ামান আল-ইজলি আল-কুফি; তিনি সত্যবাদী (صدوق) ও ইবাদতগুজার (عابد), তবে প্রচুর ভুল করেন (يخطئ كثيرا) এবং তাঁর মধ্যে পরিবর্তন (تغير) ঘটেছিল [বুখারি (আদাবুল মুফরাদ), মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিজি, নাসায়ি, ইবনে মাজাহ]।
(খণ্ড: ১) শাযারাতুম মিন ইত্তিহাফিল আরীব বিআহকামি মারাতিবি তাকরীবিত তাহযীব (পৃষ্ঠা: ১১)
وَمِنْهُ كَذَلِكَ قَوْلُهُ طَيَّبَ اللهُ ثَرَاهُ:

[1] سَعِيدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سَعِيدٍ الْجَرْمِيُّ الْكُوفِيُّ صَدُوقٌ رُمِيَ بِالتَّشَيُّعِ [خ م د ق] .

[2] عَبْدُ الْحَمِيدِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحِمَّانِيُّ أبُو يَحْيَى الْكُوفِيُّ صَدُوقٌ يُخْطِئُ وَرُمِيَ بِالإِرْجَاءِ [خ م د ت ق] .

[3] عُمَرُ بْنُ أَبِي زَائِدَةَ الْهَمْدَانِيُّ الْوَادِعِيُّ الْكُوفِيُّ أَخُو زَكَرِيَّا صَدُوقٌ رُمِيَ بِالْقَدَرِ [خ م س] .

[4] فِطْرُ بْنُ خَلِيفَةَ الْمَخْزُومِيُّ مَوْلاهُمْ أَبُو بَكْرٍ الْحَنَّاطُ صَدُوقٌ رُمِيَ بِالتَّشَيُّعِ [خ د ت س ق] .

[5] مُحَمَّدُ بْنُ سَوَاءٍ أبُو الْخَطَّابِ الْبَصْرِيُّ الْمَكْفُوفُ صَدُوقٌ رُمِيَ بِالْقَدَرِ [خ م خد ت س ق] .

[6] مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلِ بْنِ غَزْوَانَ الضَّبِّيُّ مَوْلاهُمْ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْكُوفِيُّ صَدُوقٌ عَارِفٌ رُمِيَ بِالتَّشَيُّعِ [خ م د ت س ق] .

[7] الْوَلِيدُ بْنُ كَثِيْرٍ الْقُرَشِيُّ الْمَخْزُومِيُّ مَوْلاهُمْ أَبُو مُحَمَّدٍ الْمَدَنِيُّ الْكُوفِيُّ صَدُوقٌ رُمِيَ برأي الْخَوَارِجِ [خ م د ت س ق] .

وَمِنْهُ كَذَلِكَ قَوْلُهُ طَيَّبَ اللهُ ثَرَاهُ:

[1] يَحْيَى بْنُ سُلَيْمٍ الْقُرَشِيُّ الطَّائِفِيُّ أَبُو مُحَمَّدٍ الْمَكِّيُّ الْخَرَّازُ [خ م د ت س ق] .

[2] سَعْدُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ قَيْسِ بْنِ عَمْرٍو الأَنْصَارِيُّ أَخُو يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ صَدُوقٌ سَيْءُ الْحِفْظِ [خت م د ت س ق] .

[3] النُّعْمَانُ بْنُ رَاشِدٍ الْجَزَرِيُّ أَبُو إِسْحَاقَ الرَّقِّيُّ صَدُوقٌ سَيْءُ الْحِفْظِ [خت م د ت س ق] .

[4] إبْرَاهِيمُ بْنُ مُهَاجِرِ بْنِ جَابِرٍ الْبَجَلِيُّ أَبُو إِسْحَاقَ الْكُوفِيُّ صَدُوقٌ سَيْءُ الْحِفْظِ [م د ت س ق] .

[5] زِيَادُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الْمَخْزُومِيُّ، وَيُقَالُ السَّهْمِيُّ الْمَكِّيُّ صَدُوقٌ سَيْءُ الْحِفْظِ [عخ م ت ق] .

[6] إبْرَاهِيمُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ إِسْمَاعِيلَ السَّكْسَكِيُّ أَبُو إِسْمَاعِيلَ الْكُوفِيُّ صَدُوقٌ سَيْءُ الْحِفْظِ [خ د س] .

[7] مُوسَى بْنُ مَسْعُودٍ النَّهْدِيُّ أبُو حُذَيْفَةَ الْبَصْرِيُّ صَدُوقٌ سَيْءُ الْحِفْظِ وَكَانَ يُصَحِّفُ [خ د ت ق] .
একইভাবে তাঁর বক্তব্য থেকেও (আল্লাহ তাঁর কবরকে সুগন্ধিময় করুন):

[1] সাঈদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে সাঈদ আল-জারমি আল-কুফি; সত্যবাদী (صدوق), তাঁর প্রতি শিয়া মতবাদের (التشيع) অভিযোগ রয়েছে। [খ, ম, দ, ক] ।

[2] আব্দুল হামিদ ইবনে আব্দুর রহমান আল-হিম্মানি আবু ইয়াহইয়া আল-কুফি; সত্যবাদী (صدوق), ভুল করেন (يخطئ) এবং তাঁর প্রতি ইরজা (الإرجاء) মতবাদের অভিযোগ রয়েছে। [খ, ম, দ, ত, ক] ।

[3] উমর ইবনে আবি জাইদাহ আল-হামদানি আল-ওয়াদিয়ি আল-কুফি, জাকারিয়ার ভাই; সত্যবাদী (صدوق), তাঁর প্রতি কদর (القدر) মতবাদের অভিযোগ রয়েছে। [খ, ম, স] ।

[4] ফিতর ইবনে খলিফা আল-মাখজুমি মাওলাহুম আবু বকর আল-হান্নাত; সত্যবাদী (صدوق), তাঁর প্রতি শিয়া মতবাদের (التشيع) অভিযোগ রয়েছে। [খ, দ, ত, স, ক] ।

[5] মুহাম্মাদ ইবনে সাওয়া আবু আল-খাত্তাব আল-বাসরি আল-মাকফুফ; সত্যবাদী (صدوق), তাঁর প্রতি কদর (القدر) মতবাদের অভিযোগ রয়েছে। [খ, ম, খদ, ত, স, ক] ।

[6] মুহাম্মাদ ইবনে ফুদাইল ইবনে গাজওয়ান আদ-দব্বি মাওলাহুম আবু আব্দুর রহমান আল-কুফি; সত্যবাদী (صدوق), অভিজ্ঞ (عارف), তাঁর প্রতি শিয়া মতবাদের (التشيع) অভিযোগ রয়েছে। [খ, ম, দ, ত, স, ক] ।

[7] আল-ওয়ালিদ ইবনে কাসীর আল-কুরাশি আল-মাখজুমি মাওলাহুম আবু মুহাম্মাদ আল-মাদানি আল-কুফি; সত্যবাদী (صدوق), তাঁর প্রতি খারিজি মতাদর্শের (رأي الخوارج) অভিযোগ রয়েছে। [খ, ম, দ, ত, স, ক] ।

একইভাবে তাঁর বক্তব্য থেকেও (আল্লাহ তাঁর কবরকে সুগন্ধিময় করুন):

[1] ইয়াহইয়া ইবনে সুলাইম আল-কুরাশি আত-তাঈফি আবু মুহাম্মাদ আল-মাক্কি আল-খাররাজ। [খ, ম, দ, ত, স, ক] ।

[2] সাদ ইবনে সাঈদ ইবনে কাইস ইবনে আমর আল-আনসারি, ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদের ভাই; সত্যবাদী (صدوق), দুর্বল মুখস্থশক্তি সম্পন্ন (سيء الحفظ)। [খত, ম, দ, ত, স, ক] ।

[3] নুমান ইবনে রাশিদ আল-জাজারি আবু ইসহাক আর-রাক্কি; সত্যবাদী (صدوق), দুর্বল মুখস্থশক্তি সম্পন্ন (سيء الحفظ)। [খত, ম, দ, ত, স, ক] ।

[4] ইব্রাহিম ইবনে মুহাজির ইবনে জাবির আল-বাজালি আবু ইসহাক আল-কুফি; সত্যবাদী (صدوق), দুর্বল মুখস্থশক্তি সম্পন্ন (سيء الحفظ)। [ম, দ, ত, স, ক] ।

[5] জিয়াদ ইবনে ইসমাইল আল-মাখজুমি, এবং বলা হয় আস-সাহমি আল-মাক্কি; সত্যবাদী (صدوق), দুর্বল মুখস্থশক্তি সম্পন্ন (سيء الحفظ)। [আখ, ম, ত, ক] ।

[6] ইব্রাহিম ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে ইসমাইল আস-সাকসাকি আবু ইসমাইল আল-কুফি; সত্যবাদী (صدوق), দুর্বল মুখস্থশক্তি সম্পন্ন (سيء الحفظ)। [খ, দ, স] ।

[7] মুসা ইবনে মাসউদ আন-নাহদি আবু হুজাইফা আল-বাসরি; সত্যবাদী (صدوق), দুর্বল মুখস্থশক্তি সম্পন্ন (سيء الحفظ) এবং তিনি বর্ণনায় শব্দ পরিবর্তন করে ফেলতেন (يصحف)। [খ, দ, ত, ক] ।
(খণ্ড: ১) শাযারাতুম মিন ইত্তিহাফিল আরীব বিআহকামি মারাতিবি তাকরীবিত তাহযীব (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌فَهَذِهِ السُّبَاعِيَّاتُ السِّتُّ، بِعِدَّةِ أَوْصَافِ رِجَالِ الْمَرْتَبَةِ الْخَامِسَةِ: صَدُوقٌ سَيْءُ الْحِفْظِ، أَوْ صَدُوقٌ يَهِمُ، أَوْ صَدُوقٌ لَهُ أَوْهَامٌ، أَوْ صَدُوقٌ يُخْطِئُ، أَوْ صَدُوقٌ تَغَيَّرَ بِأَخِرَةَ، أو صَدُوقٌ رُمِيَ بِنَوْعٍ مِنَ الْبِدْعَةِ، كَالأمثلة لِرُوَاةٍ مِنَ هَذِهِ الْمَرْتَبَةِ احْتَجَّ بِهِمُ الشَّيْخَانِ فِي صَحِيحِهِمَا، وَشَارَكَهُمَا أَصْحَابُ الصِّحَاحِ وَالسُّنَنِ، وَهِيَ غَيْضٌ مِنْ فَيْضٍ، وَجَمْعُ قِلَّةٍ مِنْ كَثْرَةٍ أَمْثَالِهِمْ. وَفِيهَا كِفَايَةٌ لِدَفْعِ هَذَا الْحُكْمِ الْمُتَعَسِّفِ فِي حَقِّ رِجَالِ هَذِهِ الْمَرْتَبَةِ مِنْ مَرَاتِبِ تَقْرِيبِ الْحَافِظِ، شِهَابِ مِصْرَ الْوَقَّادِ ابْنِ حَجَرٍ.

‌‌وَمِنْ أَوْضَحِ الْبَرَاهِينِ عَلَى خَطَأِ هَذَا الْحُكْمِ، لِجَوْرِهِ، وَوُعُورَةِ مَسْلَكِهِ، وَمُخَالَفَتِهِ لِلاسْتِقْرَاءِ وَالتَّتَبُّعِ، خَاصَّةً لِرُوَاةِ الصَّحِيحَيْنِ مِنْ هَذِهِ الْمَرْتَبَةِ: أَنَّ الشَّيْخَ أَبَا الأَشْبَالِ هُوَ أَوَّلُ مَنْ أَلْقَى بِهِ خَلْفَ ظَهْرِهِ، وَلَمْ يُعِرْهُ اهْتِمَامَاً، وَلَمْ يُطَبِّقْهُ وَلَوْ مَرَّةً وَاحِدَةً فِي أَحْكَامِهِ عَلَى أَحَادِيثِ رِجَالِ هَذِهِ الْمَرْتَبَةِ، فَأُطْرُوحَتُهُ بِهَذَا الْحُكْمِ فِي وَادٍ، وَأَحْكَامُهُ عَلَى أَحَادِيثِ الْمُسْنَدِ الْحَنْبَلِيِّ وَالْجَامِعِ التِّرْمِذِيِّ فِي وَادٍ آخَرَ، وَكَأَنَّهُمَا ضِدَّانِ مُتَعَارِضَانِ، يَنْقُضُ أَحَدُهُمَا عَمَلَ الآخَرِ وَقَوْلَهِ، وَيَصْدُقُ فِيهِمَا قَوْلُ الْقَائِلِ:

وَغَيَّرَ بَعْضُهُمْ أَقْوَالَ بَعْضٍ … وَأَبْطَلَتِ النُّهَى مَا أوْجَبُوهُ

فَلا تَفْرَحْ إِذَا عُلِّمْتَ ذَلِكْ … فَإِنَّ الْحَقَّ مَعْ مَنْ خَالَفُوهُ

- الله الله -
‌‌এই হলো সেই ছয়টি সপ্তক, যা পঞ্চম স্তরের (المرتبة الخامسة) বর্ণনাকারীদের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের অন্তর্ভুক্ত: সত্যবাদী কিন্তু দুর্বল স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন (صدوق سيء الحفظ), অথবা সত্যবাদী যিনি বিভ্রান্তিতে পতিত হন (صدوق يهم), অথবা সত্যবাদী যার বিভ্রান্তি রয়েছে (صدوق له أوهام), অথবা সত্যবাদী যিনি ভুল করেন (صدوق يخطئ), অথবা সত্যবাদী যার শেষ জীবনে স্মৃতিভ্রম ঘটেছে (صدوق تغير بأخرة), অথবা এমন সত্যবাদী যিনি কোনো এক প্রকার বিদআতে অভিযুক্ত (صدوق رمي بنوع من البدعة); এই স্তরের বর্ণনাকারীদের উদাহরণস্বরূপ যাদের মাধ্যমে দুই শায়খ তাঁদের সহীহাইন গ্রন্থে দলিল গ্রহণ করেছেন এবং সিহাহ ও সুনান গ্রন্থকারগণও এ ক্ষেত্রে তাঁদের সাথে শরিক হয়েছেন। আর এগুলো অজস্রের মাঝে যৎসামান্য এবং তাঁদের মতো অসংখ্য বর্ণনাকারীর মধ্য থেকে সামান্য কয়েকজনের সংগ্রহ। হাফিজ (الحافظ), মিশরের প্রজ্জ্বলিত নক্ষত্র ইবনে হাজার-এর 'তাকরিব' গ্রন্থের স্তরগুলোর (مراتب) মধ্যে এই স্তরের বর্ণনাকারীদের ব্যাপারে প্রদত্ত এই অযৌক্তিক ও কঠোর সিদ্ধান্তটি খণ্ডন করার জন্য এগুলোই যথেষ্ট।

‌‌এই সিদ্ধান্তের ভ্রান্তি, এর কঠোরতা, এর অনুসৃত পথের বন্ধুরতা এবং আরোহী পদ্ধতি (الاستقراء) ও নিবিড় অনুসন্ধানের (التتبع) পরিপন্থী হওয়ার অন্যতম স্পষ্ট প্রমাণ হলো—বিশেষ করে এই স্তরের সহীহাইনের বর্ণনাকারীদের ক্ষেত্রে—শায়খ আবু আশবাল হলেন প্রথম ব্যক্তি যিনি একে পেছনে নিক্ষেপ করেছেন, এর প্রতি কোনো ভ্রূক্ষেপ করেননি এবং এই স্তরের বর্ণনাকারীদের হাদিসের ওপর হুকুম প্রদানের ক্ষেত্রে একবারও এটি প্রয়োগ করেননি। সুতরাং এই সিদ্ধান্তের ব্যাপারে তাঁর উপস্থাপিত তত্ত্ব একদিকে, আর মুসনাদে হানবালি ও জামি তিরমিজি-র হাদিসসমূহের ওপর তাঁর প্রদত্ত হুকুম অন্যদিকে। যেন তারা একে অপরের সম্পূর্ণ বিপরীত, যাদের একজন অন্যজনের কর্ম ও বক্তব্যকে নাকচ করে দিচ্ছে। আর তাদের ক্ষেত্রে কবির এই উক্তিটিই সত্য প্রমাণিত হয়:

তাদের কেউ কেউ অন্যের কথা বদলে দিয়েছে … আর প্রজ্ঞা বাতিল করে দিয়েছে তারা যা আবশ্যক করেছিল

যখন তুমি এটি জানতে পারবে তখন আনন্দিত হয়ো না … কারণ সত্য তাদেরই সাথে যারা তাদের বিরোধিতা করেছে

- আল্লাহ আল্লাহ -
(খণ্ড: ১) শাযারাতুম মিন ইত্তিহাফিল আরীব বিআহকামি মারাতিবি তাকরীবিত তাহযীব (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌وَأَمَا شَبِيهُ هَذَا التَّمْثِيلِ بِرُوَاةِ الصَّحِيحِ مِنَ الْمَرْتَبَةِ التَّالِيَةِ، وَهِيَ السَّادِسَةُ مِنْ مَرَاتِبِ تَقْرِيبِ الْحَافِظِ الْجِهْبَذِ، فَأَوْسَعُ مِمَّا سَبَقَ وَأَسْهَبُ فِي كِتَابِنَا «الْمَنْهَجُ الْمَأْمُولُ بِبِيَانِ مَعْنَى قَوْلِ ابْنِ حَجَرٍ مَقْبُولُ» .

وَمِنْ نَافِلَةِ الْقَوْلِ وَمُعَادِهِ: أَنَّ الْحَافِظَ الشِّهَابَ الْمُتْقِنَ قَدْ كَفَانَا تَكَلُّفَ مُؤْنَةِ الْبَحْثِ وَالتَّنْقِيبِ، وَتَعَسُّفَ مَشَقَّةِ الاقْتِضَابِ وَالتَّرْتِيبِ، وَذَلِكَ بِإِضَافَتِهِ حَرْفَيْنِ مُفْرَدَيْنِ [خ م] فِي خَاتِمَةِ تَرْجَمَةِ رَاوِي الصَّحِيحِ مِنْ رِجَالِ هَذِهِ الْمَرْتَبَةِ السَّادِسَةِ، فَهُمَا لِمَنْ اتَّفَقَا عَلَيْهِ، وَأَوَّلُهُمَا مُنْفَرِدَاً [خ] لِمَنْ تَفَرَّدَ بِهِ الْبُخَارِيُّ، وَثَانِيهِمَا مُنْفَرِدَاً [م] لِمَنْ تَفَرَّدَ بِهِ مُسْلِمٌ.

وَهَذِهِ أَرْبَعِينِيَّةٌ مِنَ الرُّوَاةِ، أَعْنِى رُوَاةَ الصَّحِيحِ الْمُتَّفَقِ عَلَى قَبُولِهِ مِنْ هَذِهِ الْمَرْتَبَةَ، وَالَّذِينَ حَكَمَ الشَّيْخُ أَبُو الأَشْبَالِ رحمه الله أَنَّ حَدِيثَهُمْ مَرْدُودٌ، مُهْدَاةٌ عَلَى عُجَالَةٍ لِمُقَلِّدِيهِ، لِيُقْلِعُوا عَنْ تَقْلِيدِ الْخَطَأِ الْقَبِيحِ، وَيَلْتَزِمُوا الصَّوَابَ الصَّرِيحَ:

[1] مَالِكُ بْنُ جُعْشُمِ بْنِ مَالِكِ بْنِ عَمْرٍو الْمُدْلَجِيُّ مَقْبُولٌ مِنَ الثَّانِيَةِ [خ ق] .

[2] خَالِدُ بْنُ عُمَيْرٍ الْعَدَوِيُّ الْبَصْرِيُّ مَقْبُولٌ مِنَ الثَّانِيَةِ [م تم س ق] .

[3] طَلْقُ بْنُ مُعَاوِيَةَ النَّخَعِيُّ أَبُو غِيَاثٍ الْكُوفِيُّ تَابِعِيٌّ كَبِيْرٌ مُخَضْرَمٌ مَقْبُولٌ مِنَ الثَّانِيَةِ [بخ م س] .

[4] رَافِعٌ الْمَدَنِيُّ مَوْلَى مَرْوَانَ بْنِ الْحَكَمِ وَبَوَّابُهُ مَقْبُولٌ مِنَ الثَّالِثَةِ [خ م ت س] .

[5] عَبْدُ اللهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِى بَكْرٍ التَّيْمِيُّ الْمَدَنِىُّ مَقْبُولٌ مِنَ الثَّالِثَةِ [خ م خد س ق] .

[6] عُمَرُ بْنُ عَبْدِ اللهِ بْنِ الأَرْقَمِ بْنِ عَبْدِ يَغُوثَ الزُّهْرِيُّ الْمَدَنِىُّ مَقْبُولٌ مِنَ الثَّالِثَةِ [خ م د س] .

[7] مَعْبَدُ بْنُ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ الأَنْصَارِيُّ السُّلَمِيُّ الْمَدَنِىُّ مَقْبُولٌ مِنَ الثَّالِثَةِ [خ م خد س ق] .

[8] إبْرَاهِيمُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ أَبِى رَبِيعَةَ الْمَخْزُومِيُّ الْمَدَنِىُّ مَقْبُولٌ مِنَ الثَّالِثَةِ [خ س ق] .

[9] عُبَيْدُ بْنُ أَبِي مَرْيَمَ الْمَكِّيُّ مَقْبُولٌ مِنَ الثَّالِثَةِ [خ د ت س] .

[10] عَوْفُ بْنُ الْحَارِثِ بْنِ الطُّفَيْلِ بْنِ سَخْبَرَةَ الأَزْدِيُّ مَقْبُولٌ مِنَ الثَّالِثَةِ [خ د س ق] .

[11] نَبْهَانُ الْجُمَحِيُّ أَبُو صَالِحٍ الْمَدَنِىُّ وَالِدُ صَالِحٍ مَوْلَى التَّوْأَمَةِ مَقْبُولٌ مِنَ الثَّالِثَةِ [خ] .

[12] يَزِيدُ بْنُ أَبِى كَبْشَةَ السَّكْسَكِيُّ الشَّامِيُّ الدِّمَشْقِيُّ مَقْبُولٌ مِنَ الثَّالِثَةِ [خ] .

[13] أبُو بَكْرِ بْنُ عُبَيْدِ اللهِ بْنِ أَبِى مُلَيْكَةَ التَّيْمِىُّ الْمَكِّيُّ مَقْبُولٌ مِنَ الثَّالِثَةِ [خ] .

[14] جَعْفَرُ بْنُ أَبِي ثَوْرٍ عِكْرِمَةَ السُّوَائِيُّ أَبُو ثَوْرٍ الْكُوفِيُّ مَقْبُولٌ مِنَ الثَّالِثَةِ [م ق] .

[15] جَعْفَرُ بْنُ عَمْرِو بْنِ حُرَيْثٍ الْقُرَشِيُّ الْمَخْزُومِيُّ الْكُوفِيُّ مَقْبُولٌ مِنَ الثَّالِثَةِ [م د تم س ق] .

[16] حَبِيبٌ الأَعْوَرُ الْمَدَنِىُّ مَوْلَى عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ مَقْبُولٌ مِنَ الثَّالِثَةِ [م د س] .

[17] خَالِدُ بْنُ غِلاقٍ الْقَيْسِيُّ أَبُو حَسَّانٍ الْبَصْرِيُّ مَقْبُولٌ مِنَ الثَّالِثَةِ [بخ م] .

[18] عَامِرُ بْنُ سَعْدٍ الْبَجَلِيُّ الْكُوفِيُّ مَقْبُولٌ مِنَ الثَّالِثَةِ [م د ت س] .

[19] عَبْدُ اللهِ بْنُ شِهَابٍ الْخَوْلانِيُّ أبُو الْجَزْلِ الْكُوفِيُّ مَقْبُولٌ مِنَ الثَّالِثَةِ [م] .

[20] عَبْدُ اللهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مَعْنٍ الْمَدَنِيُّ مَقْبُولٌ مِنَ الثَّالِثَةِ [م د] .
‌‌সহিহ হাদিসের বর্ণনাকারীগণের (رواة) পরবর্তী স্তরের ক্ষেত্রে এই উদাহরণের সদৃশ বিষয়টি—যা বিচক্ষণ (الجهبذ) আল-হাফিজের (الحافظ) 'তাকরিব' গ্রন্থের স্তরসমূহের (مراتب) মধ্যে ষষ্ঠ স্তরভুক্ত—তা আমাদের 'আল-মানহাজ আল-মামুল বি-বায়ানি মা'না কাওলি ইবনি হাজার মাকবুল' গ্রন্থে পূর্বের আলোচনার তুলনায় অধিক বিস্তারিত ও বিশদভাবে আলোচিত হয়েছে।

অতিরিক্ত কথা ও তার পুনরাবৃত্তি হিসেবে এটি বলা যায় যে: নিপুণ আল-হাফিজ (الحافظ) আশ-শিহাব (ইবনে হাজার) আমাদের গবেষণার কষ্ট ও অনুসন্ধানের পরিশ্রম এবং সংক্ষেপণ ও বিন্যাসের কাঠখড় পোড়ানো থেকে রেহাই দিয়েছেন। আর তা এভাবে যে, তিনি এই ষষ্ঠ স্তরের সহিহ হাদিসের বর্ণনাকারীদের (رواة) জীবনীর (ترجمة) শেষে দুটি পৃথক বর্ণ [খ ও ম] যুক্ত করেছেন। এই দুটি বর্ণ তাঁদের জন্য যাদের ওপর ইমাম বুখারি ও ইমাম মুসলিম উভয়ই একমত হয়েছেন। প্রথমটি এককভাবে [খ] তাঁর জন্য যাকে এককভাবে ইমাম বুখারি বর্ণনা করেছেন এবং দ্বিতীয়টি এককভাবে [ম] তাঁর জন্য যাকে এককভাবে ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেছেন।

আর এটি হচ্ছে সেই বর্ণনাকারীগণের (رواة) মধ্য থেকে চল্লিশ জনের একটি সংকলন; অর্থাৎ এই স্তরের অন্তর্ভুক্ত সহিহ হাদিসের সেই বর্ণনাকারীগণ (رواة) যাদের গ্রহণযোগ্যতা (قبول) সর্বসম্মত, অথচ শায়খ আবু আল-আশবাল (রহিমাহুল্লাহ) হুকুম (حكم) দিয়েছেন যে তাদের হাদিস প্রত্যাখ্যাত (مردود)। এটি তাঁর অন্ধ অনুসারীদের জন্য একটি দ্রুত উপহার, যাতে তারা কদর্য ভুলের অনুসরণ ত্যাগ করে এবং সুস্পষ্ট সঠিক পথকে আঁকড়ে ধরে:

[1] মালিক বিন জুশুম বিন মালিক বিন আমর আল-মুদলাজি; তিনি দ্বিতীয় স্তর (مرتبة) থেকে একজন গ্রহণযোগ্য (مقبول) বর্ণনাকারী। [বুখারি ও ইবনে মাজাহ]।

[2] খালিদ বিন উমাইর আল-আদাবি আল-বাসরি; তিনি দ্বিতীয় স্তর (مرتبة) থেকে একজন গ্রহণযোগ্য (مقبول) বর্ণনাকারী। [মুসলিম, তিরমিজি (শামাইল), নাসায়ি ও ইবনে মাজাহ]।

[3] তালক বিন মুয়াবিয়া আন-নাখায়ি আবু গিয়াস আল-কুফি; তিনি একজন প্রবীণ তাবেয়ি (تابعي) ও মুখাদরাম (مخضرم), দ্বিতীয় স্তর (مرتبة) থেকে একজন গ্রহণযোগ্য (مقبول) বর্ণনাকারী। [বুখারি (আল-আদাবুল মুফরাদ), মুসলিম ও নাসায়ি]।

[4] রাফি আল-মাদানি, মারওয়ান বিন আল-হাকামের মুক্তদাস (مولى) ও তাঁর দারোয়ান; তিনি তৃতীয় স্তর (مرتبة) থেকে একজন গ্রহণযোগ্য (مقبول) বর্ণনাকারী। [বুখারি, মুসলিম, তিরমিজি ও নাসায়ি]।

[5] আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান বিন আবি বকর আত-তাইমি আল-মাদানি; তিনি তৃতীয় স্তর (مرتبة) থেকে একজন গ্রহণযোগ্য (مقبول) বর্ণনাকারী। [বুখারি, মুসলিম, বুখারি (খালকু আফআলিল ইবাদ), নাসায়ি ও ইবনে মাজাহ]।

[6] ওমর বিন আব্দুল্লাহ বিন আল-আরকাম বিন আব্দ ইয়াগুস আজ-জুহরি আল-মাদানি; তিনি তৃতীয় স্তর (مرتبة) থেকে একজন গ্রহণযোগ্য (مقبول) বর্ণনাকারী। [বুখারি, মুসলিম, আবু দাউদ ও নাসায়ি]।

[7] মাবাদ বিন কাব বিন মালিক আল-আনসারি আস-সুলামি আল-মাদানি; তিনি তৃতীয় স্তর (مرتبة) থেকে একজন গ্রহণযোগ্য (مقبول) বর্ণনাকারী। [বুখারি, মুসলিম, বুখারি (খালকু আফআলিল ইবাদ), নাসায়ি ও ইবনে মাজাহ]।

[8] ইব্রাহিম বিন আব্দুর রহমান বিন আব্দুল্লাহ বিন আবি রাবিয়াহ আল-মাখজুমি আল-মাদানি; তিনি তৃতীয় স্তর (مرتبة) থেকে একজন গ্রহণযোগ্য (مقبول) বর্ণনাকারী। [বুখারি, নাসায়ি ও ইবনে মাজাহ]।

[9] উবাইদ বিন আবি মারইয়াম আল-মাক্কি; তিনি তৃতীয় স্তর (مرتبة) থেকে একজন গ্রহণযোগ্য (مقبول) বর্ণনাকারী। [বুখারি, আবু দাউদ, তিরমিজি ও নাসায়ি]।

[10] আউফ বিন আল-হারিস বিন আত-তুফাইল বিন সাখবারাহ আল-আজদি; তিনি তৃতীয় স্তর (مرتبة) থেকে একজন গ্রহণযোগ্য (مقبول) বর্ণনাকারী। [বুখারি, আবু দাউদ, নাসায়ি ও ইবনে মাজাহ]।

[11] নাবহান আল-জুমাহি আবু সালিহ আল-মাদানি, সালিহ-এর পিতা ও তাওআমাহ-র মুক্তদাস (مولى); তিনি তৃতীয় স্তর (مرتبة) থেকে একজন গ্রহণযোগ্য (مقبول) বর্ণনাকারী। [বুখারি]।

[12] ইয়াজিদ বিন আবি কাবশাহ আস-সাকসাকি আশ-শামি আদ-দিমাশকি; তিনি তৃতীয় স্তর (مرتبة) থেকে একজন গ্রহণযোগ্য (مقبول) বর্ণনাকারী। [বুখারি]।

[13] আবু বকর বিন উবাইদুল্লাহ বিন আবি মুলাইকাহ আত-তাইমি আল-মাক্কি; তিনি তৃতীয় স্তর (مرتبة) থেকে একজন গ্রহণযোগ্য (مقبول) বর্ণনাকারী। [বুখারি]।

[14] জাফর বিন আবি সাওর ইকরিমা আস-সুওয়ায়ি আবু সাওর আল-কুফি; তিনি তৃতীয় স্তর (مرتبة) থেকে একজন গ্রহণযোগ্য (مقبول) বর্ণনাকারী। [মুসলিম ও ইবনে মাজাহ]।

[15] জাফর বিন আমর বিন হারিছ আল-কুরাশি আল-মাখজুমি আল-কুফি; তিনি তৃতীয় স্তর (مرتبة) থেকে একজন গ্রহণযোগ্য (مقبول) বর্ণনাকারী। [মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিজি (শামাইল), নাসায়ি ও ইবনে মাজাহ]।

[16] হাবিব আল-আওয়ার আল-মাদানি, উরওয়াহ বিন আজ-জুবাইরের মুক্তদাস (مولى); তিনি তৃতীয় স্তর (مرتبة) থেকে একজন গ্রহণযোগ্য (مقبول) বর্ণনাকারী। [মুসলিম, আবু দাউদ ও নাসায়ি]।

[17] খালিদ বিন গালাক আল-কাইসি আবু হাসসান আল-বাসরি; তিনি তৃতীয় স্তর (مرتبة) থেকে একজন গ্রহণযোগ্য (مقبول) বর্ণনাকারী। [বুখারি (আল-আদাবুল মুফরাদ) ও মুসলিম]।

[18] আমির বিন সাদ আল-বাজালি আল-কুফি; তিনি তৃতীয় স্তর (مرتبة) থেকে একজন গ্রহণযোগ্য (مقبول) বর্ণনাকারী। [মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিজি ও নাসায়ি]।

[19] আব্দুল্লাহ বিন শিহাব আল-খাওলানি আবু আল-জাজল আল-কুফি; তিনি তৃতীয় স্তর (مرتبة) থেকে একজন গ্রহণযোগ্য (مقبول) বর্ণনাকারী। [মুসলিম]।

[20] আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন মান আল-মাদানি; তিনি তৃতীয় স্তর (مرتبة) থেকে একজন গ্রহণযোগ্য (مقبول) বর্ণনাকারী। [মুসলিম ও আবু দাউদ]।
(খণ্ড: ১) শাযারাতুম মিন ইত্তিহাফিল আরীব বিআহকামি মারাতিবি তাকরীবিত তাহযীব (পৃষ্ঠা: ১৪)
[21] عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ بِشْرِ بْنِ مْسْعُودٍ أَبُو بِشْرٍ الْمَدَنِىُّ الأَزْرَقُ مَقْبُولٌ مِنَ الثَّالِثَةِ [م د س] .

[22] عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ الْمِسْوَرِ بْنِ مَخْرَمَةَ بْنِ نَوْفَلٍ الزُّهْرِيُّ أبُو الْمِسْوَرِ الْمَدَنِيُّ مَقْبُولٌ مِنَ الثَّالِثَةِ [م] .

[23] عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مِهْرَانَ الْمَدَنِيُّ أبُو مُحَمَّدٍ مَوْلَى الأَزْدِ مَقْبُولٌ مِنَ الثَّالِثَةِ [م س] .

[24] مُسْلِمُ بْنُ قَرَظَةَ الأَشْجَعِيُّ الشَّامِيُّ ابْنُ أَخِي عَوْفِ بْنِ مَالِكٍ الأَشْجَعِيُّ مَقْبُولٌ مِنَ الثَّالِثَةِ [م] .

[25] مِصْدَعٌ أبُو يَحْيَى الأَعْرَجُ الْمُعَرْقَبِ مَوْلَى مُعَاذِ بْنِ عَفْرَاءَ مَقْبُولٌ مِنَ الثَّالِثَةِ [م د ت س ق] .

[26] الْمُنْذِرُ بْنُ جَرِيرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ الْبَجَلِيُّ الْكُوفِيُّ مَقْبُولٌ مِنَ الثَّالِثَةِ [م د س ق] .

[27] وَهْبُ بْنُ رَبِيعَةَ الْكُوفِيُّ مَقْبُولٌ مِنَ الثَّالِثَةِ [م ت] .

[28] يَعْقُوبُ بْنُ عَاصِمِ بْنِ عُرْوَةَ بْنِ مَسْعُودٍ الثَّقَفِيُّ الطَّائِفِيُّ مَقْبُولٌ مِنَ الثَّالِثَةِ [م د س] .

[29] أبُو بَكْرِ بْنُ عُمَارَةَ بْنِ رُوَيْبَةَ الثَّقَفِيُّ الْكُوفِيُّ مَقْبُولٌ مِنَ الثَّالِثَةِ [م د س] .

[30] أبُو سَعِيدٍ مَوْلَى الْمَهْرِيِّ مَقْبُولٌ مِنَ الثَّالِثَةِ [م د ت س] .

[31] أَبُو شُعْبَةَ الْكُوفِيُّ مَوْلَى سُوَيْدِ بْنِ مُقَرِّنٍ الْمُزَنِيِّ مَقْبُولٌ مِنَ الثَّالِثَةِ [بخ م س] .

[32] أبُو عُبَيْدَةَ بْنُ عَبْدِ اللهِ بْنِ زَمْعَةَ بْنِ الأَسْوَدِ الأَسَدِيُّ مَقْبُولٌ مِنَ الثَّالِثَةِ [م د س ق] .

[33] أبُو عُبَيْدَةَ بْنُ عُقْبَةَ بْنِ نَافِعٍ الْفِهْرِيُّ الْمِصْرِيُّ مَقْبُولٌ مِنَ الثَّالِثَةِ [م س] .

[34] الْقَاسِمُ بْنُ عَاصِمٍ التَّمِيمِيُّ اللَّيْثِيُّ الْبَصْرِيُّ مَقْبُولٌ مِنَ الرَّابِعَةِ [خ م مد تم س] .

[35] عَطَاءٌ أَبُو الْحَسَنِ السُّوَائِيُّ الْكُوفِيُّ مَقْبُولٌ مِنَ الرَّابِعَةِ [خ د س] .

[36] أَبُو يَزِيدَ الْمَدَنِيُّ الْبَصْرِيُّ مَقْبُولٌ مِنَ الرَّابِعَةِ [خ س] .

[37] سَالِمُ بْنُ أَبِى سَالِمٍ سُفْيَانَ بْنِ هَانِئ الْجَيْشَانِيُّ الْمِصْرِيُّ مَقْبُولٌ مِنَ الرَّابِعَةِ [م د س] .

[38] صُهَيْبُ أَبُو الصَّهْبَاءِ الْبَكْرِيُّ الْبَصْرِيُّ مَقْبُولٌ مِنَ الرَّابِعَةِ [م د س] .

[39] عَبْدُ اللهِ بْنُ عَمْرِو بْنِ عَبْدٍ الْقَارِّيُّ ابْنُ أَخِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدٍ الْقَارِّيِّ مَقْبُولٌ مِنَ الرَّابِعَةِ [م د] .

[40] عَبْدُ اللهِ بْنُ وَاقِدِ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ الْعَدَوِيُّ الْمَدَنِيُّ مَقْبُولٌ مِنَ الرَّابِعَةِ [م د س] .
[21] আব্দুর রহমান ইবনে বিশর ইবনে মাসউদ আবু বিশর আল-মাদানি আল-আযরাক; তিনি গ্রহণযোগ্য (مقبول), তৃতীয় স্তরের (من الثالثة) অন্তর্ভুক্ত [মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাঈ] ।

[22] আব্দুর রহমান ইবনুল মিসওয়ার ইবনে মাখরামাহ ইবনে নাওফাল আয-যুহরি আবু আল-মিসওয়ার আল-মাদানি; তিনি গ্রহণযোগ্য (مقبول), তৃতীয় স্তরের (من الثالثة) অন্তর্ভুক্ত [মুসলিম] ।

[23] আব্দুর রহমান ইবনে মিহরান আল-মাদানি আবু মুহাম্মদ, আযদ গোত্রের আযাদকৃত দাস; তিনি গ্রহণযোগ্য (مقبول), তৃতীয় স্তরের (من الثالثة) অন্তর্ভুক্ত [মুসলিম, নাসাঈ] ।

[24] মুসলিম ইবনে কারাযাহ আল-আশজায়ি আশ-শামি, তিনি আওফ ইবনে মালিক আল-আশজায়ি-এর ভ্রাতুষ্পুত্র; তিনি গ্রহণযোগ্য (مقبول), তৃতীয় স্তরের (من الثالثة) অন্তর্ভুক্ত [মুসলিম] ।

[25] মিসদা' আবু ইয়াহইয়া আল-আরাজ আল-মুয়ারকাব, মুয়ায ইবনে আফরা-এর আযাদকৃত দাস; তিনি গ্রহণযোগ্য (مقبول), তৃতীয় স্তরের (من الثالثة) অন্তর্ভুক্ত [মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযি, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ] ।

[26] আল-মুনযির ইবনে জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ আল-বাজালি আল-কুফি; তিনি গ্রহণযোগ্য (مقبول), তৃতীয় স্তরের (من الثالثة) অন্তর্ভুক্ত [মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ] ।

[27] ওয়াহাব ইবনে রাবীআ আল-কুফি; তিনি গ্রহণযোগ্য (مقبول), তৃতীয় স্তরের (من الثالثة) অন্তর্ভুক্ত [মুসলিম, তিরমিযি] ।

[28] ইয়াকুব ইবনে আসিম ইবনে উরওয়াহ ইবনে মাসউদ আস-সাকাফি আত-তাঈফি; তিনি গ্রহণযোগ্য (مقبول), তৃতীয় স্তরের (من الثالثة) অন্তর্ভুক্ত [মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাঈ] ।

[29] আবু বকর ইবনে উমারা ইবনে রুওয়াইবাহ আস-সাকাফি আল-কুফি; তিনি গ্রহণযোগ্য (مقبول), তৃতীয় স্তরের (من الثالثة) অন্তর্ভুক্ত [মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাঈ] ।

[30] আবু সাঈদ, আল-মাহরির আযাদকৃত দাস; তিনি গ্রহণযোগ্য (مقبول), তৃতীয় স্তরের (من الثالثة) অন্তর্ভুক্ত [মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযি, নাসাঈ] ।

[31] আবু শুবা আল-কুফি, সুওয়াইদ ইবনে মুকাররিন আল-মুযানির আযাদকৃত দাস; তিনি গ্রহণযোগ্য (مقبول), তৃতীয় স্তরের (من الثالثة) অন্তর্ভুক্ত [বুখারি (আল-আদাব আল-মুফরাদ), মুসলিম, নাসাঈ] ।

[32] আবু উবায়দাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে জামআ ইবনে আসওয়াদ আল-আসাদি; তিনি গ্রহণযোগ্য (مقبول), তৃতীয় স্তরের (من الثالثة) অন্তর্ভুক্ত [মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ] ।

[33] আবু উবায়দাহ ইবনে উকবা ইবনে নাফি আল-ফিহরি আল-মিসরি; তিনি গ্রহণযোগ্য (مقبول), তৃতীয় স্তরের (من الثالثة) অন্তর্ভুক্ত [মুসলিম, নাসাঈ] ।

[34] আল-কাসিম ইবনে আসিম আত-তামিমি আল-লাইসি আল-বাসরি; তিনি গ্রহণযোগ্য (مقبول), চতুর্থ স্তরের (من الرابعة) অন্তর্ভুক্ত [বুখারি, মুসলিম, আবু দাউদ (মারাসিল), তিরমিযি (শামাইল), নাসাঈ] ।

[35] আতা আবু আল-হাসান আস-সুওয়াই আল-কুফি; তিনি গ্রহণযোগ্য (مقبول), চতুর্থ স্তরের (من الرابعة) অন্তর্ভুক্ত [বুখারি, আবু দাউদ, নাসাঈ] ।

[36] আবু ইয়াজিদ আল-মাদানি আল-বাসরি; তিনি গ্রহণযোগ্য (مقبول), চতুর্থ স্তরের (من الرابعة) অন্তর্ভুক্ত [বুখারি, নাসাঈ] ।

[37] সালিম ইবনে আবি সালিম সুফিয়ান ইবনে হানি আল-জাইশানি আল-মিসরি; তিনি গ্রহণযোগ্য (مقبول), চতুর্থ স্তরের (من الرابعة) অন্তর্ভুক্ত [মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাঈ] ।

[38] সুহাইব আবু আস-সাহবা আল-বাকরি আল-বাসরি; তিনি গ্রহণযোগ্য (مقبول), চতুর্থ স্তরের (من الرابعة) অন্তর্ভুক্ত [মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাঈ] ।

[39] আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আবদ আল-কাররি, তিনি আব্দুর রহমান ইবনে আবদ আল-কাররির ভ্রাতুষ্পুত্র; তিনি গ্রহণযোগ্য (مقبول), চতুর্থ স্তরের (من الرابعة) অন্তর্ভুক্ত [মুসলিম, আবু দাউদ] ।

[40] আব্দুল্লাহ ইবনে ওয়াকিদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর ইবনুল খাত্তাব আল-আদাউয়ি আল-মাদানি; তিনি গ্রহণযোগ্য (مقبول), চতুর্থ স্তরের (من الرابعة) অন্তর্ভুক্ত [মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাঈ] ।
(খণ্ড: ১) শাযারাতুম মিন ইত্তিহাফিল আরীব বিআহকামি মারাতিবি তাকরীবিত তাহযীব (পৃষ্ঠা: ১৫)
وَمِنَ التَّتْمِيمِ لِهَذَا الإِيْضاحِ، مَعَ وُضُوحِ دِلالَتِهِ عَلَى خَطَأِ أَحْكَامِ أبِي الأَشْبَالِ عَلَى رُوَاةِ الْمَرْتَبَتَيْنِ الْخَامِسَةِ وَالسَّادِسَةِ: أَنْ نَجْتَزِئَ بِذِكْرِ صِحَاحَ أَحَادِيثِ سَبْعَةِ رُوَاةٍ مِنْ كُلِّ مَرْتَبَةٍ، لِتَكُونَ دَالَّةً عَلَى أَمْثَالِهَا وَنَظَائِرِهَا لِبَاقِي الرُّوَاةِ الْمُتَرْجَمِ لَهُمْ آنِفَاً، مَعَ الإِعْلامِ أَنَّنَا ذَكَرْنَا كُلَّ الأَحَادِيثِ الْمُتَّفَقِ عَلَى صِحَّتِهَا لِثِقَاتِ الْمَقْبُولِينَ مِنَ الْمَرْتَبَةِ السَّادِسَةِ فِي «الْبَيَانُ الْمَأْمُولُ بِعِدَّةِ الثِّقَاتِ الَّذِينَ وَصَفَهُمُ ابْنُ حَجَرٍ بِقَوْلِهِ مَقْبُولُ» .

‌‌فَمِنَ الْمَرْتَبَةِ الْخامِسَةِ:

‌‌[1] مُحَمَّدُ بْنُ طَلْحَةَ بْنِ مُصَرِّفٍ الْيَامِيُّ كُوفِيٌّ

صَدُوقٌ لَهُ أَوْهَامٌ، وَأَنْكَرُوا سَمَاعَهُ مِنْ أَبِيهِ لِصِغَرِهِ [
خ م د ت عس ق]

وَهَذَا حُكْمٌ مُقَارِبٌ وَسَطٌ، لاخْتِلافِ أَقْوَالِ أَئِمَّةِ التَّعْدِيلِ وَالتَّجْرِيْحِ فِيهِ، فَقَدْ ضَعَّفَهُ يَحْيَى بْنُ مَعِينٍ، وَمَشَّاهُ فِي رِوَايَةِ ابْنِ أَبِي خَيْثَمَةَ عَنْهُ، وَلَيَّنَهُ عَفَّانُ وَأَحْمَدُ، وَلَوْلا فَضْلَهُ وَمَكَانَتَهُ لَتَرَكَا حَدِيثَهُ، وَكَذَلِكَ لَيَّنَهُ النَّسَائِيُّ، وَحَكَم أَبُو زُرْعَةُ وَأَبُو حَاتِمٍ بِأَنَّهُ صَالِحٌ، وَوَثَّقَهُ الْعِجْلِيُّ وَابْنُ حِبَّانَ، وَزَعَمَ ابْنُ سَعْدٍ أَنَّ: لَهُ أَحَادِيثٌ مُنْكَرَةٌ. وَلَمْ يُنْكِرِ الْجَمِيعُ فَضْلَهُ وَشَرَفَهُ، وَلَكِنْ أَنْكَرُوا سَمَاعَهُ مِنْ أَبِيهِ لِقِدَمِ وَفَاتِهِ، وَاعْتَمَدَهُ الشَّيْخَانِ وَصَحَّحَا أَحَادِيثَاً لَهُ صَالِحَةً، وَاتَّقَيَا حَدِيثَهُ عَنْ أَبِيهِ لِنَكَارَتِهِ، إلَاّ حَدِيثَاً وَاحِدَاً أَخْرَجَهُ الْبُخَارِيُّ، سَيَأْتِي بَيَانُ وَجْهُ تَخْرِيْجِهِ إِيَّاهُ. وَلَخَّصَ الْحَافِظُ ذَلِكَ كُلَّهُ بِقَوْلٍ مُقَارِبٍ وَسَطٍ: صَدُوقٌ لَهُ أَوْهَامٌ.

وَقَدْ بَسَطَ أَقْوَالَهُمْ فِي «تَهْذِيبِهِ» (2/110/209) بِقَوْلِهِ: «قَالَ عَبْدُ اللهِ بْنُ أَحْمَدَ عَنْ أَبِيهِ: لا بَأْسَ بِهِ إِلَاّ أَنَّهُ كَانَ لا يَكَادُ يَقُولُ فِي شَيءٍ مِنْ حَدِيثِهِ: حَدَّثَنَا. وَقَالَ ابْنُ مَعِينٍ: كَانَ يُقَالُ: ثَلاثَةٌ يُتَّقَى حَدِيثُهُمْ: مُحَمَّدُ بْنُ طَلْحَةَ بْنِ مُصَرِّفٍ، وَأَيُّوبُ بْنُ عُتْبَةَ، وَفُلَيْحُ بْنُ سُلَيْمَانَ. قَالَ ابْنُ مَعِينٍ: سَمِعْتُ هَذَا مِنْ أَبِي كَامِلٍ مُظَفَّرِ بْنِ مُدْرِكٍ، وَكَانَ رَجُلاً صَالِحَاً. وَقَالَ ابْنُ مَعِينٍ: قَالَ أَبُو كَامِلٍ مُظَفَّرُ بْنُ مُدْرِكٍ: قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ طَلْحَةَ: أَدْرَكْتُ أَبِي كَالْحُلْمِ، وَقَدْ رَوَى عَنْ أَبِيهِ أَحَادِيثَ صَالِحَةً. وَقَالَ ابْنُ أَبِي خَيْثَمَةَ عَنِ ابْنِ مَعِينٍ: مُحَمَّدُ بْنُ طَلْحَةَ صَالِحٌ. وَقَالَ إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ عَنِ ابْنِ مَعِينٍ: ضَعِيفٌ. وَقَالَ أَبُو زُرْعَةَ: صَالِحٌ. وَقَالَ النَّسَائِيُّ: لَيْسَ بِالْقَوِيِّ. وَذَكَرَهُ ابْنُ حِبَّانَ فِي الثِّقَاتِ، وَقَالَ: كَانَ يُخْطِئُ.

وَقَالَ ابْنُ سَعْدٍ: كَانَتْ لَهُ أَحَادِيثُ مُنْكَرَةٌ، قَالَ عَفَّانُ: كَانَ مُحَمَّدُ بْنُ طَلْحَةَ يَرْوِي عَنْ أَبِيهِ وَأَبُوهُ قَدِيْمُ الْمَوْتِ، وَكَانَ النَّاسُ كَأَنَّهُمْ يُكَذِّبُونَهُ، وَلَكِنْ مَنْ يَجْتَرِئُ أَنْ يَقُولَ لَهُ: أَنْتَ تَكْذِبُ، كَانَ مِنْ فَضْلِهِ وَكَانَ. وَقَالَ أَبُو دَاوُدَ: كَانَ يُخْطِئُ. وَقَالَ الْعُقَيْلِيُّ قَالَ أَحْمَدُ: ثِقَةٌ. وَقَالَ الْعِجْلِيُّ: ثِقَةٌ إِلَاّ أَنَّهُ سَمِعَ مِنْ أَبِيهِ وَهُوَ صَغِيْرٌ. وَقَالَ بِشْرُ بْنُ الْوَلِيدِ: كَانَ سَيِّدَاً كَرِيْمَاً» .
এই ব্যাখ্যাটিকে পূর্ণতা দেওয়ার লক্ষ্যে, যেখানে পঞ্চম ও ষষ্ঠ স্তরের বর্ণনাকারীদের ব্যাপারে আবু আল-আশবালের রায়ের ভুল স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে: আমরা প্রতিটি স্তর থেকে সাতজন করে বর্ণনাকারীর সহিহ (صحيح) হাদিসসমূহ উল্লেখ করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকব, যাতে এই হাদিসগুলো ইতিপূর্বে আলোচিত অবশিষ্ট বর্ণনাকারীদের অনুরূপ ও সমজাতীয় বর্ণনার প্রমাণ হিসেবে কাজ করে। সেই সাথে এটিও অবগত করা যাচ্ছে যে, আমরা ষষ্ঠ স্তরের ‘মকবুল’ বা গ্রহণযোগ্য (مقبول) নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারীদের ঐ সকল হাদিস ‘আল-বায়ানুল মামুল বি ইদ্দাতিত থিকাতিল লাযিনা ওয়া সাফাহুমুবনু হাজারিন বি-কাউলিহি মকবুল’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছি যেগুলোর বিশুদ্ধতার ব্যাপারে সবাই একমত।

‌‌পঞ্চম স্তর থেকে:

‌‌[১] মুহাম্মদ বিন তালহা বিন মুসাররিফ আল-ইয়ামি কুফি

সত্যবাদী (صدوق), তবে তাঁর ভ্রম রয়েছে (له أوهام)। তারা তাঁর অল্প বয়সের কারণে তাঁর পিতার নিকট থেকে হাদিস শোনাকে অস্বীকার করেছেন [
বুখারি, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিজি, নাসায়ি ও ইবনে মাজাহ]

এটি একটি মধ্যম ও কাছাকাছি পর্যায়ের রায়, কারণ তাঁর ব্যাপারে সত্যায়ন (تعديل) এবং সমালোচনা (تجريح) বিষয়ক ইমামগণের মতভেদ রয়েছে। ইয়াহইয়া বিন মাইন তাঁকে দুর্বল (ضعيف) আখ্যা দিয়েছেন, যদিও ইবনে আবি খাইসামার বর্ণনায় তিনি তাঁর বর্ণিত হাদিস গ্রহণযোগ্য হিসেবে চালিয়ে নিয়েছেন। আফফান এবং আহমদ তাঁকে শিথিল (لين) বলেছেন; তাঁর মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব না থাকলে তাঁরা তাঁর হাদিস বর্জন (متروك) করতেন। একইভাবে নাসায়িও তাঁকে শিথিল (لين) বলেছেন। আবু যুরআহ এবং আবু হাতেম রায় দিয়েছেন যে তিনি যোগ্য (صالح)। আল-ইজলি ও ইবনে হিব্বান তাঁকে নির্ভরযোগ্য (ثقة) বলেছেন। ইবনে সা’দ দাবি করেছেন যে, তাঁর কিছু অস্বীকৃত (منكر) হাদিস রয়েছে। তবে কেউই তাঁর মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব অস্বীকার করেননি, বরং তাঁর পিতার ইনতিকাল অনেক আগে হওয়ায় তাঁর থেকে শ্রবণের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। শায়খাইন (বুখারি ও মুসলিম) তাঁর ওপর নির্ভর করেছেন এবং তাঁর কিছু উপযুক্ত হাদিসকে সহিহ (صحيح) হিসেবে গ্রহণ করেছেন। তবে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত হাদিসগুলো তারা বর্জন করেছেন তার আপত্তিকর প্রকৃতির (نكارة) কারণে; শুধুমাত্র একটি হাদিস ব্যতীত যা বুখারি বর্ণনা করেছেন, যার তাখরিজের কারণ সামনে আলোচিত হবে। হাফেজ ইবনে হাজার এই সব কিছুকে একটি মধ্যম ও কাছাকাছি বক্তব্যে সারসংক্ষেপ করেছেন: সত্যবাদী (صدوق), তবে তাঁর ভ্রম রয়েছে (له أوهام)।

তিনি তাঁর ‘তাহজিব’ গ্রন্থে (২/১১০/২০৯) ইমামদের বক্তব্যগুলো বিস্তারিত তুলে ধরেছেন এই বলে: ‘আবদুল্লাহ বিন আহমদ তাঁর পিতার সূত্রে বলেছেন: এতে কোনো সমস্যা নেই, তবে তিনি তাঁর হাদিসের কোনোটিতেই ‘হাদ্দাসানা’ (আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন) বলতে চাইতেন না। ইবনে মাইন বলেন: বলা হতো যে, তিনজনের হাদিস থেকে বেঁচে থাকা উচিত: মুহাম্মদ বিন তালহা বিন মুসাররিফ, আইয়ুব বিন উতবা এবং ফুলাইহ বিন সুলাইমান। ইবনে মাইন বলেন: আমি এটি আবু কামিল মুজাফফর বিন মুদরিকের কাছ থেকে শুনেছি, আর তিনি একজন নেককার লোক ছিলেন। ইবনে মাইন আরও বলেন: আবু কামিল মুজাফফর বিন মুদরিক বলেছেন: মুহাম্মদ বিন তালহা বলেছেন: আমি আমার পিতাকে স্বপ্ন বা অস্পষ্ট স্মৃতির মতো পেয়েছি; অথচ তিনি তাঁর পিতার সূত্রে অনেক ভালো হাদিস বর্ণনা করেছেন। ইবনে আবি খাইসামা ইবনে মাইন থেকে বর্ণনা করেছেন: মুহাম্মদ বিন তালহা যোগ্য (صالح)। ইসহাক বিন মনসুর ইবনে মাইন থেকে বর্ণনা করেছেন: তিনি দুর্বল (ضعيف)। আবু যুরআহ বলেছেন: যোগ্য (صالح)। নাসায়ি বলেছেন: তিনি শক্তিশালী নন। ইবনে হিব্বান তাঁকে নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারীদের তালিকায় উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: তিনি ভুল করতেন।’

ইবনে সা’দ বলেছেন: তাঁর কিছু অস্বীকৃত (منكر) হাদিস ছিল। আফফান বলেছেন: মুহাম্মদ বিন তালহা তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণনা করতেন অথচ তাঁর পিতা অনেক আগে মারা গেছেন। মানুষ যেন তাঁকে মিথ্যাবাদী মনে করত, কিন্তু তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের কারণে কে তাঁকে ‘আপনি মিথ্যা বলছেন’ বলার সাহস পেত? আবু দাউদ বলেছেন: তিনি ভুল করতেন। আল-উকাইলি বলেছেন, আহমদ বলেছেন: তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة)। আল-ইজলি বলেছেন: নির্ভরযোগ্য (ثقة), তবে তিনি তাঁর পিতার কাছ থেকে অল্প বয়সে শুনেছেন। বিশর বিন ওয়ালিদ বলেছেন: তিনি একজন মহান ও সম্মানিত ব্যক্তি ছিলেন।
(খণ্ড: ১) শাযারাতুম মিন ইত্তিহাফিল আরীব বিআহকামি মারাতিবি তাকরীবিত তাহযীব (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌أَخْرَجَا لَهُ فِي الصَّحِيحَيْنِ سَبْعَةَ أَحَادِيثَ، تَفَرَّدَ الْبُخَارِيُّ بِأَرْبَعَةٍ مِنْهَا، وَمُسْلِمٌ بِالثَّلاثَةِ الأُخْرَى.

[1] قَالَ الْبُخَارِيُّ (كِتَابُ الْجُمُعَةِ /ح976) : حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ طَلْحَةَ عَنْ زُبَيْدٍ عَنْ الشَّعْبِيِّ عَنْ الْبَرَاءِ قَالَ: خَرَجَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ أَضْحًى إِلَى الْبَقِيعِ، فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَيْنَا بِوَجْهِهِ، وَقَالَ: «إِنَّ أَوَّلَ نُسُكِنَا فِي يَوْمِنَا هَذَا أَنْ نَبْدَأَ بِالصَّلاةِ، ثُمَّ نَرْجِعَ، فَنَنْحَرَ، فَمَنْ فَعَلَ ذَلِكَ فَقَدْ وَافَقَ سُنَّتَنَا، وَمَنْ ذَبَحَ قَبْلَ ذَلِكَ فَإِنَّمَا هُوَ شَيْءٌ عَجَّلَهُ لأَهْلِهِ، لَيْسَ مِنْ النُّسُكِ فِي شَيْءٍ» ، فَقَامَ رَجُلٌ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ؛ إِنِّي ذَبَحْتُ وَعِنْدِي جَذَعَةٌ خَيْرٌ مِنْ مُسِنَّةٍ؟ ، قَالَ: «اذْبَحْهَا، وَلا تَفِي عَنْ أَحَدٍ بَعْدَكَ» .

[2] قَالَ الْبُخَارِيُّ (كِتَابُ الْمغازي /ح4048) : أَخْبَرَنَا حَسَّانُ بْنُ حَسَّانَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ طَلْحَةَ حَدَّثَنَا حُمَيْدٌ عَنْ أَنَسٍ رضي الله عنه: أَنَّ عَمَّهُ غَابَ عَنْ بَدْرٍ، فَقَالَ: غِبْتُ عَنْ أَوَّلِ قِتَالِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، لَئِنْ أَشْهَدَنِي اللهُ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم لَيَرَيَنَّ اللهُ مَا أُجِدُّ، فَلَقِيَ يَوْمَ أُحُدٍ، فَهُزِمَ النَّاسُ، فَقَالَ: اللَّهُمَّ إِنِّي أَعْتَذِرُ إِلَيْكَ مِمَّا صَنَعَ هَؤُلاءِ يَعْنِي الْمُسْلِمِينَ، وَأَبْرَأُ إِلَيْكَ مِمَّا جَاءَ بِهِ الْمُشْرِكُونَ، فَتَقَدَّمَ بِسَيْفِهِ، فَلَقِيَ سَعْدَ بْنَ مُعَاذٍ، فَقَالَ: أَيْنَ يَا سَعْدُ، إِنِّي أَجِدُ رِيحَ الْجَنَّةِ دُونَ أُحُدٍ، فَمَضَى، فَقُتِلَ، فَمَا عُرِفَ حَتَّى عَرَفَتْهُ أُخْتُهُ بِشَامَةٍ أَوْ بِبَنَانِهِ، وَبِهِ بِضْعٌ وَثَمَانُونَ مِنْ طَعْنَةٍ، وَضَرْبَةٍ، وَرَمْيَةٍ بِسَهْمٍ.

[3] قَالَ الْبُخَارِيُّ (كِتَابُ الأَطْعِمَةِ /ح5448) : حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ طَلْحَةَ عَنْ زُبَيْدٍ عَنْ مُجَاهِدٍ قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ عُمَرَ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «إِنَّ مِنْ الشَّجَرِ شَجَرَةً تَكُونُ مِثْلَ الْمُسْلِمِ وَهِيَ النَّخْلَةُ» .
তারা উভয়ে তাঁর থেকে সহিহাইন-এ সাতটি হাদিস বর্ণনা করেছেন। ইমাম বুখারি এর মধ্যে চারটি হাদিসে এককভাবে বর্ণনা করেছেন (تفرد) এবং ইমাম মুসলিম অন্য তিনটিতে।

[১] ইমাম বুখারি (কিতাবুল জুমুআ / হাদিস ৯৭৬) বলেন: আমাদের কাছে আবু নুয়াইম হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের কাছে মুহাম্মদ ইবনে তালহা হাদিস বর্ণনা করেছেন জুবাইদ থেকে, তিনি শাবি থেকে, তিনি বারা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল আজহার দিন বাক্বী-এর দিকে বের হলেন। অতঃপর তিনি দুই রাকাত সালাত আদায় করলেন এবং আমাদের দিকে মুখ ফিরিয়ে বললেন: «আমাদের এই দিনের প্রথম ইবাদত হলো সালাত দিয়ে শুরু করা, এরপর ফিরে গিয়ে কুরবানি করা। যে ব্যক্তি এরূপ করল, সে আমাদের সুন্নাহর অনুসারী হলো। আর যে ব্যক্তি এর আগে জবেহ করল, তা কেবল তার পরিবারের জন্য অগ্রিম ব্যবস্থা করা গোশত হিসেবে গণ্য হবে, তা কুরবানির অন্তর্ভুক্ত হবে না।» তখন এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললেন: হে আল্লাহর রাসুল! আমি তো জবেহ করে ফেলেছি, আর আমার কাছে একটি অল্প বয়স্ক বকরি আছে যা পূর্ণ বয়স্ক বকরির চেয়েও উত্তম? তিনি বললেন: «তুমি সেটিই জবেহ করো, তবে তোমার পর আর কারো জন্য এটি যথেষ্ট হবে না।»

[২] ইমাম বুখারি (কিতাবুল মাগাজি / হাদিস ৪০৪৮) বলেন: আমাদের হাসান ইবনে হাসান সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন আমাদের কাছে মুহাম্মদ ইবনে তালহা হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি হুমাইদ থেকে, তিনি আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন: তাঁর চাচা বদর যুদ্ধে অনুপস্থিত ছিলেন। তিনি বললেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রথম যুদ্ধে অনুপস্থিত ছিলাম। যদি আল্লাহ আমাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে কোনো যুদ্ধে অংশগ্রহণের সুযোগ দেন, তবে আল্লাহ অবশ্যই দেখবেন আমি কী পরাক্রম প্রদর্শন করি। অতঃপর উহুদ যুদ্ধের দিন যখন মুসলিমগণ ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলেন, তখন তিনি বললেন: হে আল্লাহ! এরা (অর্থাৎ মুসলিমরা) যা করেছে আমি তার জন্য আপনার কাছে ওজর পেশ করছি, আর মুশরিকরা যা নিয়ে এসেছে আমি তা থেকে সম্পর্কহীনতা ঘোষণা করছি। এরপর তিনি তলোয়ার নিয়ে এগিয়ে গেলেন এবং সাদ ইবনে মুয়াজের সাথে তাঁর দেখা হলো। তিনি বললেন: হে সাদ, কোথায় যাচ্ছ? আমি উহুদের ওপাশ থেকে জান্নাতের সুঘ্রাণ পাচ্ছি। এরপর তিনি যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়লেন এবং শহীদ হলেন। তাঁর বোন তাঁর একটি তিল বা আঙ্গুলের অগ্রভাগ দেখে তাঁকে শনাক্ত করেছিলেন। তাঁর শরীরে তলোয়ারের কোপ, বর্শার আঘাত এবং তীরের জখম মিলিয়ে আশিটিরও বেশি চিহ্ন ছিল।

[৩] ইমাম বুখারি (কিতাবুল আতইমাহ / হাদিস ৫৪৪৮) বলেন: আমাদের কাছে আবু নুয়াইম হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের কাছে মুহাম্মদ ইবনে তালহা হাদিস বর্ণনা করেছেন জুবাইদ থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে, তিনি বলেন আমি ইবনে উমর (রা.)-কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি যে তিনি বলেছেন: «বৃক্ষরাজির মধ্যে এমন একটি গাছ রয়েছে যা মুসলিমের ন্যায়, আর তা হলো খেজুর গাছ।»
(খণ্ড: ১) শাযারাতুম মিন ইত্তিহাফিল আরীব বিআহকামি মারাতিবি তাকরীবিত তাহযীব (পৃষ্ঠা: ১৭)
[4] وَقَالَ مُسْلِمٌ (كِتَابُ الإِيْمَانِ /ح64) : حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَكَّارِ بْنِ الرَّيَّانِ وَعَوْنُ بْنُ سَلَاّمٍ قَالا حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ طَلْحَةَ (ح) وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى ثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ ثَنَا سُفْيَانُ (ح) وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ ثَنَا شُعْبَةُ كُلُّهُمْ عَنْ زُبَيْدٍ عَنْ أَبِي وَائِلٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «سِبَابُ الْمُسْلِمِ فُسُوقٌ، وَقِتَالُهُ كُفْرٌ» .

[5] وَقَالَ مُسْلِمٌ (كِتَابُ الْمَسَاجِدِ /ح628) : حَدَّثَنَا عَوْنُ بْنُ سَلَاّمٍ الْكُوفِيُّ أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ طَلْحَةَ الْيَامِيُّ عَنْ زُبَيْدٍ عَنْ مُرَّةَ عَنْ عَبْدِ اللهِ قَالَ: حَبَسَ الْمُشْرِكُونَ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ صَلاةِ الْعَصْرِ حَتَّى احْمَرَّتِ الشَّمْسُ أَوِ اصْفَرَّتْ، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «شَغَلُونَا عَنِ الصَّلاةِ الْوُسْطَى صَلاةِ الْعَصْرِ، مَلأَ اللهُ أَجْوَافَهُمْ وَقُبُورَهُمْ نَارَاً» ، أَوْ قَالَ: «حَشَا اللهُ أَجْوَافَهُمْ وَقُبُورَهُمْ نَارَاً» .

[6] وَقَالَ مُسْلِمٌ (كِتَابُ الْبِرِّ وَالصِّلَةِ /ح2548) : حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ حَدَّثَنَا شَبَابَةُ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ طَلْحَةَ عَنِ ابْنِ شُبْرُمَةَ عَنْ أَبِي زُرْعَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ؛ أَيُّ النَّاسِ أَحَقُّ مِنِّي بِحُسْنِ الصُّحْبَةِ؟ ، قَالَ: «أُمُّكَ، ثُمَّ أُمُّكَ، ثُمَّ أُمُّكَ، ثُمَّ أَبُوكَ، ثُمَّ أَدْنَاكَ أَدْنَاكَ» .

[7] وَقَالَ الْبُخَارِيُّ (كِتَابُ الْجِهَادِ وَالسِّيَرِ /ح2896) : حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ طَلْحَةَ عَنْ طَلْحَةَ عَنْ مُصْعَبِ بْنِ سَعْدٍ قَالَ: رَأَى سَعْدٌ رضي الله عنه أَنَّ لَهُ فَضْلاً عَلَى مَنْ دُونَهُ، فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «هَلْ تُنْصَرُونَ وَتُرْزَقُونَ إِلَاّ بِضُعَفَائِكُمْ» .

قُلْتُ: أَنْكَرَ الدَّارَقُطْنِيُّ عَلَى الْبُخَارِيِّ تَخْرِيْجَ هَذَا الْحَدِيثِ فِي الصَّحِيحِ، وَقَالَ: هُوَ مُرْسَلٌ، يَعْنِي أَنَّ مُحَمَّدَ بْنَ طَلْحَةَ بْنِ مُصَرِّفٍ لَمْ يَسْمَعْ مِنْ أَبِيهِ.
[4] এবং ইমাম মুসলিম (কিতাবুল ঈমান / হাদিস ৬৪) বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে বাক্কার ইবনে রাইয়্যান এবং আউন ইবনে সালাম। তাঁরা উভয়ে বলেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে তালহা (ح)। এবং আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে মুসান্না, তিনি বর্ণনা করেন আবদুর রহমান ইবনে মাহদী থেকে, তিনি বর্ণনা করেন সুফিয়ান থেকে (ح)। এবং আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে মুসান্না, তিনি বর্ণনা করেন মুহাম্মদ ইবনে জাফর থেকে, তিনি বর্ণনা করেন শুবা থেকে। তাঁরা সকলেই জুবায়দ থেকে, তিনি আবু ওয়ায়িল থেকে এবং তিনি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «মুসলিমকে গালি দেওয়া পাপাচার এবং তার সাথে লড়াই করা কুফরি»।

[5] এবং ইমাম মুসলিম (কিতাবুল মাসাজিদ / হাদিস ৬২৮) বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আউন ইবনে সালাম আল-কুফি, তিনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে তালহা আল-ইয়ামি থেকে, তিনি জুবায়দ থেকে, তিনি মুররাহ থেকে এবং তিনি আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: মুশরিকরা আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আসরের নামাজ থেকে আটকে রেখেছিল, এমনকি সূর্য লাল অথবা হলুদ বর্ণ ধারণ করেছিল। তখন আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «তারা আমাদের মধ্যবর্তী নামাজ অর্থাৎ আসরের নামাজ থেকে বিরত রেখেছে; আল্লাহ তাদের পেট ও কবরসমূহ আগুন দিয়ে পূর্ণ করে দিন», অথবা তিনি বলেন: «আল্লাহ তাদের পেট ও কবরসমূহ আগুনে ভরে দিন»।

[6] এবং ইমাম মুসলিম (কিতাবুল বিররি ওয়াস সিলাহ / হাদিস ২৫৪৮) বলেন: আমার কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে হাতিম, তিনি বর্ণনা করেন শাবাবাহ থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে তালহা থেকে, তিনি ইবনে শুবরুমাহ থেকে, তিনি আবু জুরআহ থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে জিজ্ঞাসা করল: হে আল্লাহর রাসুল! আমার সুন্দর সাহচর্য পাওয়ার ক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে সর্বাধিক হকদার কে? তিনি বললেন: «তোমার মা, তারপর তোমার মা, তারপর তোমার মা, তারপর তোমার বাবা, এরপর যে তোমার নিকটতম, তারপর যে তোমার নিকটতম»।

[7] এবং ইমাম বুখারি (কিতাবুল জিহাদ ওয়াস সিয়ার / হাদিস ২৮৯৬) বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন সুলাইমান ইবনে হারব, তিনি বর্ণনা করেন মুহাম্মদ ইবনে তালহা থেকে, তিনি তালহা থেকে এবং তিনি মুসআব ইবনে সাদ থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: সাদ (রা.) মনে করলেন যে, তাঁর নিম্নস্তরের লোকদের ওপর তাঁর বিশেষ শ্রেষ্ঠত্ব রয়েছে। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «তোমাদের কি কেবল তোমাদের দুর্বলদের কারণেই সাহায্য ও রিজিক প্রদান করা হয় না?»

আমি বলছি: ইমাম দারাকুতনি ইমাম বুখারির এই হাদিসটি সহিহ গ্রন্থে সংকলন করার ওপর আপত্তি করেছেন এবং বলেছেন: এটি বিচ্ছিন্ন (مرسل)। অর্থাৎ মুহাম্মদ ইবনে তালহা ইবনে মুসাররিফ তাঁর পিতা থেকে এটি শোনেননি।
(খণ্ড: ১) শাযারাতুম মিন ইত্তিহাফিল আরীব বিআহকামি মারাতিবি তাকরীবিত তাহযীব (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌[2] حَاتِمُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الْمَدَنِيُّ أَبُو إِسْمَاعِيلَ الْحَارِثِيُّ مَوْلاهُمْ الْكَوفِي

صَحِيحُ الْكِتَابِ صَدُوقٌ يَهِمُ [خ م د ت س ق]

وَهَذَا مِنْ أَسَدِّ وَأَعْدَلِ وَأَنْصَفِ الأَقْوَالِ فِي حَقِّ حَاتِمِ بْنِ إِسْمَاعِيلَ، إِذْ جَاءَ وَسَطَاً بَيْنَ قَوْلِ مَنْ وَثَّقَهُ بِإِطْلاقٍ كَابْنِ مَعِينٍ وَابْنِ سَعْدٍ وَالْعِجْلِيِّ وَابْنِ حِبَّانَ، وَقَوْلِ مَنْ صَدَّقَهُ وَصَحَّحَ كِتَابَهُ، مَعَ نِسْبَتِهِ إِلَى الْغَفْلَةِ وَالْخَطَأِ وَالْوَهْمِ كَأَحْمَدَ وَابْنِ الْمَدِينِيِّ وَالنَّسَائِيِّ. وَلَوْ جَهِدَ النُّقَّادُ أَنْ يَأْتُوا بِحُكْمٍ فِيهِ، لَمْ يَأْتُوا بِأَعْدَلَ وَلا أَبْيَنَ لِحَالِهِ مِنْهُ، فَللهِ دَرُّ الْحَافِظِ النَّاقِدِ.

وَيَتَّضِحُ ذَلِكَ مِنْ أَقْوَالِ أَئِمَّةِ التَّعْدِيلِ وَالتَّجْرِيْحِ فِيهِ، كَمَا بَسَطَهَا الْحَافِظُ فِي «تَهْذِيبِهِ» (2/110/209) بِقَوْلِهِ: «قَالَ أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ: حَاتِمُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنَ الدَّرَاوَرْدِيِّ، وَزَعَمُوا أَنَّ حَاتِمَاً كَانَ فِيهِ غَفْلَةٌ، إِلَاّ أَنَّ كِتَابَهُ صَالِحٌ. وَقَالَ أبُو حَاتِمٍ: هُوَ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنَ سَعِيدِ بْنِ سَالِمٍ. وَقَالَ النَّسَائِيُّ: لَيْسَ بِهِ بَأْسٌ. وَقَالَ مُحَمَّدُ بْنُ سَعْدٍ: كَانَ أَصْلُهُ مِنَ الْكُوفَةِ، وَلَكِنَّهُ انْتَقَلَ إِلَى الْمَدِينَةِ فَنَزَلَهَا، وَمَاتَ بِهَا سَنَةَ سِتٍّ وَثَمَانِينَ وَمِئَةٍ، وَكَانَ ثِقَةً مَأْمُونَاً كَثِيْرَ الْحَدِيثِ. وَقَالَ الْعِجْلِيُّ: ثِقَةٌ. وَكَذَا قَالَ إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ عَنْ يَحْيَى بْنِ مَعِينٍ: ثِقَةٌ. وَقَالَ ابْنُ الْمَدِينِيِّ: رَوَى عَنْ جَعْفَرٍ عَنْ أَبِيهِ أَحَادِيثَ مَرَاسِيلَ أَسْنَدَهَا.

وَقَرَأْتُ بِخَطِّ الذَّهَبِيِّ فِي الْمِيزَانِ: قَالَ النَّسَائِيُّ: لَيْسَ بِالْقَوِيِّ» .
[২] হাতিম বিন ইসমাইল আল-মাদানি আবু ইসমাইল আল-হারিসি মাওলাহুম আল-কুফি

তিনি সঠিক পাণ্ডুলিপিধারী (صحيح الكتاب), সত্যবাদী (صدوق), তবে মাঝেমধ্যে বিভ্রমের শিকার হন (يهم) [বুখারি, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিজি, নাসায়ি ও ইবনে মাজাহ]

হাতিম বিন ইসমাইলের ব্যাপারে এটি সবচেয়ে সঠিক, সুষম ও ইনসাফপূর্ণ অভিমত। কারণ এটি সেই সব ব্যক্তিদের অভিমতের মাঝামাঝি অবস্থান যারা তাঁকে নিঃশর্তভাবে নির্ভরযোগ্য বলেছেন (وثقه), যেমন ইবনে মাঈন, ইবনে সা’দ, ইজলি ও ইবনে হিব্বান; এবং যারা তাঁকে সত্যবাদী বলেছেন ও তাঁর কিতাবকে সঠিক বলেছেন কিন্তু একই সঙ্গে তাঁর দিকে অসতর্কতা (غفلة), ভুল (الخطأ) ও বিভ্রমের (الوهم) সম্পর্ক আরোপ করেছেন, যেমন ইমাম আহমাদ, ইবনুল মাদিনি ও নাসায়ি। যদি সমালোচকগণ তাঁর ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে কঠোর পরিশ্রমও করতেন, তবে তাঁর অবস্থা বর্ণনায় এর চেয়ে অধিক সুষম ও স্পষ্ট কোনো ফয়সালা দিতে পারতেন না। হাফেজ ও সমালোচক (নাক্বিদ)-এর কতই না চমৎকার এই মূল্যায়ন!

জারহ ও তাদিলের (التعديل والتجريح) ইমামগণের বক্তব্যের মাধ্যমে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে, যেমনটি হাফেজ ইবনে হাজার তাঁর তাহজিব গ্রন্থে (২/১১০/২০৯) বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন: «আহমাদ বিন হাম্বল বলেছেন: হাতিম বিন ইসমাইল আমার নিকট দারাওয়ার্দি অপেক্ষা অধিক প্রিয়। লোকেরা ধারণা করত যে হাতিমের মধ্যে কিছুটা অসতর্কতা (غفلة) ছিল, তবে তাঁর কিতাব গ্রহণযোগ্য (صالح)। আবু হাতিম বলেছেন: তিনি আমার নিকট সাঈদ বিন সালিম অপেক্ষা অধিক প্রিয়। নাসায়ি বলেছেন: তাঁর মধ্যে কোনো সমস্যা নেই (ليس به بأس)। মুহাম্মদ বিন সা’দ বলেছেন: তাঁর মূল নিবাস ছিল কুফায়, কিন্তু তিনি মদিনায় স্থানান্তরিত হন ও সেখানেই বসবাস করেন। তিনি ১৮৬ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة), আমানতদার (مأمون) এবং প্রচুর হাদিস বর্ণনাকারী (كثير الحديث) ছিলেন। ইজলি বলেছেন: নির্ভরযোগ্য (ثقة)। অনুরূপভাবে ইসহাক বিন মানসুর ইয়াহইয়া বিন মাঈন থেকে বর্ণনা করেছেন: নির্ভরযোগ্য (ثقة)। ইবনুল মাদিনি বলেছেন: তিনি জাফর থেকে তাঁর পিতার সূত্রে কিছু বিচ্ছিন্ন (مراسيل) হাদিস বর্ণনা করেছেন, যেগুলোকে তিনি সনদযুক্ত করে (أسندها) বর্ণনা করেছেন।

আমি মিজানুল ইতিদাল গ্রন্থে ইমাম যাহাবির স্বহস্তে লিখিত নোটে পড়েছি: নাসায়ি বলেছেন: তিনি শক্তিশালী নন (ليس بالقوي)»।
(খণ্ড: ১) শাযারাতুম মিন ইত্তিহাফিল আরীব বিআহকামি মারাতিবি তাকরীবিত তাহযীব (পৃষ্ঠা: ১৯)
قُلْتُ:‌‌ وَقَدْ أَكْثَرَ الشَّيْخَانِ مِنْ تَخْرِيْجِ أَحَادِيثِهِ فِي صَحِيحِهِمَا، فَاتَّفَقَا عَلَى ثَمَانِيَةِ أَحَادِيثَ، وَتَفَرَّدَ الْبُخَارِيُّ بِسَبْعَةِ أَحَادِيثَ، وَتَفَرَّدَ مُسْلِمٌ بِسِتَّةٍ وَعِشْرِينَ حَدِيثَاً، فَجُمْلَةُ أَحَادِيثِهِ فِيهِمَا: وَاحِدٌ وَأَرْبَعُونَ حَدِيثَاً، وَبِالْمُكَرَّرِ: وَاحِدٌ وَسِتُّونَ حَدِيثَاً.

فَأَمَّا الْمُتَّفَقُ عَلَيْهِ:

[1] قَالَ الْبُخَارِيُّ (كِتَابُ الْجِهَادِ وَالسِّيَرِ /ح2975) ، وَمُسْلِمٌ (كِتَابُ فَضَائِلِ الصَّحَابَةِ /ح2407) : حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا حَاتِمُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي عُبَيْدٍ عَنْ سَلَمَةَ بْنِ الأَكْوَعِ رضي الله عنه قَالَ: كَانَ عَلِيٌّ رضي الله عنه تَخَلَّفَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي خَيْبَرَ، وَكَانَ بِهِ رَمَدٌ، فَقَالَ: أَنَا أَتَخَلَّفُ عَنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم، فَخَرَجَ عَلِيٌّ، فَلَحِقَ بِالنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، فَلَمَّا كَانَ مَسَاءُ اللَّيْلَةِ الَّتِي فَتَحَهَا فِي صَبَاحِهَا، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: لأُعْطِيَنَّ الرَّايَةَ أَوْ قَالَ لَيَأْخُذَنَّ غَدًا رَجُلٌ يُحِبُّهُ اللهُ وَرَسُولُهُ، أَوْ قَالَ: يُحِبُّ اللهَ وَرَسُولَهُ، يَفْتَحُ اللهُ عَلَيْهِ، فَإِذَا نَحْنُ بِعَلِيٍّ، وَمَا نَرْجُوهُ، فَقَالُوا: هَذَا عَلِيٌّ، فَأَعْطَاهُ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم، فَفَتَحَ اللهُ عَلَيْهِ.

[2] قَالَ الْبُخَارِيُّ (كِتَابُ الْمَغَازِي /ح4169) ، وَمُسْلِمٌ (كِتَابُ الإِمَارَةِ /ح1860) : حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا حَاتِمٌ عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي عُبَيْدٍ قَالَ: قُلْتُ لِسَلَمَةَ بْنِ الأَكْوَعِ: عَلَى أَيِّ شَيْءٍ بَايَعْتُمْ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ الْحُدَيْبِيَةِ؟ ، قَالَ: عَلَى الْمَوْتِ.
আমি বলেছি:‌‌ আর দুই শায়খ তাঁদের সহিহ গ্রন্থদ্বয়ে তাঁর হাদিস অধিক পরিমাণে চয়ন (تخريج) করেছেন; তাঁরা আটটি হাদিসের ব্যাপারে ঐকমত্য (متفق عليه) পোষণ করেছেন, ইমাম বুখারি এককভাবে সাতটি হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম মুসলিম এককভাবে ছাব্বিশটি হাদিস বর্ণনা করেছেন। সুতরাং তাঁদের উভয়ের কিতাবে তাঁর মোট হাদিস সংখ্যা হলো একচল্লিশটি, আর পুনরাবৃত্তি (مكرر) সহ মোট একষট্টিটি।

আর যেগুলোর ব্যাপারে ঐকমত্য (متفق عليه) হয়েছে:

[1] ইমাম বুখারি (কিতাবুল জিহাদ ওয়াস সিয়ার / হা ২৯৭৫) এবং ইমাম মুসলিম (কিতাব ফাদায়িলুস সাহাবা / হা ২৪০৭) বলেছেন: কুতাইবাহ ইবনে সাঈদ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি হাতেম ইবনে ইসমাইল থেকে, তিনি ইয়াজিদ ইবনে আবি উবাইদ থেকে এবং তিনি সালামাহ ইবনুল আকওয়া (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আলী (রা.) খায়বরের যুদ্ধে নবী (সা.)-এর থেকে পেছনে রয়ে গিয়েছিলেন, কারণ তাঁর চোখে রোগ ছিল। তিনি বললেন: "আমি কি আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর থেকে পেছনে থেকে যাব?" অতঃপর আলী (রা.) বেরিয়ে পড়লেন এবং নবী (সা.)-এর সাথে মিলিত হলেন। যখন সেই রাতের সন্ধ্যা এল যার পরদিন সকালে বিজয় অর্জিত হয়েছিল, তখন আল্লাহর রাসুল (সা.) বললেন: "অবশ্যই আমি আগামীকাল এমন এক ব্যক্তিকে পতাকা দেব—অথবা তিনি বলেছেন: আগামীকাল এমন এক ব্যক্তি এটি গ্রহণ করবেন—যাকে আল্লাহ ও তাঁর রাসুল ভালোবাসেন, অথবা তিনি বলেছেন: যে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলকে ভালোবাসে; আল্লাহ তাঁর হাতে বিজয় দান করবেন।" হঠাৎ আমরা আলীকে দেখতে পেলাম, অথচ আমরা তাঁর আসার আশা করিনি। তারা বলল: "এই তো আলী!" অতঃপর আল্লাহর রাসুল (সা.) তাঁকে পতাকা দান করলেন এবং আল্লাহ তাঁর হাতে বিজয় দান করলেন।

[2] ইমাম বুখারি (কিতাবুল মাগাযী / হা ৪১৬৯) এবং ইমাম মুসলিম (কিতাবুল ইমারাহ / হা ১৮৬০) বলেছেন: কুতাইবাহ ইবনে সাঈদ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি হাতেম থেকে, তিনি ইয়াজিদ ইবনে আবি উবাইদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: আমি সালামাহ ইবনুল আকওয়াকে বললাম: "আপনারা হুদায়বিয়ার দিনে কোন বিষয়ের ওপর আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর নিকট বায়আত করেছিলেন?" তিনি বললেন: "মৃত্যুর ওপর।"
(খণ্ড: ১) শাযারাতুম মিন ইত্তিহাফিল আরীব বিআহকামি মারাতিবি তাকরীবিত তাহযীব (পৃষ্ঠা: ২০)
[3] قَالَ الْبُخَارِيُّ (كِتَابُ الأَدَبِ /ح6148) : حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا حَاتِمُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي عُبَيْدٍ عَنْ سَلَمَةَ بْنِ الأَكْوَعِ قَالَ: خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى خَيْبَرَ فَسِرْنَا لَيْلاً، فَقَالَ رَجُلٌ مِنَ الْقَوْمِ لِعَامِرِ بْنِ الأَكْوَعِ: أَلا تُسْمِعُنَا مِنْ هُنَيْهَاتِكَ، قَالَ: وَكَانَ عَامِرٌ رَجُلاً شَاعِرَاً، فَنَزَلَ يَحْدُو بِالْقَوْمِ، يَقُولُ:

اللَّهُمَّ لَوْلا أَنْتَ مَا اهْتَدَيْنَا … وَلا تَصَدَّقْنَا وَلا صَلَّيْنَا

فَاغْفِرْ فِدَاءٌ لَكَ مَا اقْتَفَيْنَا … وَثَبِّتِ الأَقْدَامَ إِنْ لاقَيْنَا

وَأَلْقِيَنْ سَكِينَةً عَلَيْنَا … إِنَّا إِذَا صِيحَ بِنَا أَتَيْنَا

وَبِالصِّيَاحِ عَوَّلُوا عَلَيْنَا

فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ هَذَا السَّائِقُ؟» ، قَالُوا: عَامِرُ بْنُ الأَكْوَعِ، فَقَالَ: «يَرْحَمُهُ اللهُ» ، فَقَالَ رَجُلٌ مِنَ الْقَوْمِ: وَجَبَتْ يَا نَبِيَّ اللهِ لَوْلا أَمْتَعْتَنَا بِهِ، قَالَ: فَأَتَيْنَا خَيْبَرَ، فَحَاصَرْنَاهُمْ حَتَّى أَصَابَتْنَا مَخْمَصَةٌ شَدِيدَةٌ، ثُمَّ إِنَّ اللهَ فَتَحَهَا عَلَيْهِمْ، فَلَمَّا أَمْسَى النَّاسُ الْيَوْمَ الَّذِي فُتِحَتْ عَلَيْهِمْ، أَوْقَدُوا نِيرَانَاً كَثِيرَةً، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «مَا هَذِهِ النِّيرَانُ؛ عَلَى أَيِّ شَيْءٍ تُوقِدُونَ؟» ، قَالُوا: عَلَى لَحْمٍ، قَالَ: «عَلَى أَيِّ لَحْمٍ؟» ، قَالُوا: عَلَى لَحْمِ حُمُرٍ إِنْسِيَّةٍ، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «أَهْرِقُوهَا وَاكْسِرُوهَا» ، فَقَالَ رَجُلٌ: يَا رَسُولَ اللهِ؛ أَوْ نُهَرِيقُهَا وَنَغْسِلُهَا، قَالَ: «أَوْ ذَاكَ» ، فَلَمَّا تَصَافَّ الْقَوْمُ كَانَ سَيْفُ عَامِرٍ فِيهِ قِصَرٌ، فَتَنَاوَلَ بِهِ يَهُودِيَّاً لِيَضْرِبَهُ، وَيَرْجِعُ ذُبَابُ سَيْفِهِ، فَأَصَابَ رُكْبَةَ عَامِرٍ، فَمَاتَ مِنْهُ، فَلَمَّا قَفَلُوا، قَالَ سَلَمَةُ: رَآنِي رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم شَاحِبَاً، فَقَالَ لِي: «مَا لَكَ؟» ، فَقُلْتُ فِدَىً لَكَ أَبِي وَأُمِّي، زَعَمُوا أَنَّ عَامِرَاً حَبِطَ عَمَلُهُ! ، قَالَ: «مَنْ قَالَهُ؟» ، قُلْتُ: قَالَهُ فُلانٌ وَفُلانٌ، وَفُلانٌ، وَأُسَيْدُ بْنُ الْحُضَيْرِ الأَنْصَارِيُّ، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «كَذَبَ مَنْ قَالَهُ، إِنَّ لَهُ لأَجْرَيْنِ - وَجَمَعَ بَيْنَ إِصْبَعَيْهِ - إِنَّهُ لَجَاهِدٌ مُجَاهِدٌ، قَلَّ عَرَبِيٌّ نَشَأَ بِهَا مِثْلَهُ» .

وَقَالَ مُسْلِمٌ (كِتَابُ الْجِهَادِ وَالسِّيَرِ /ح1802) : حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ وَمُحَمَّدُ بْنُ عَبَّادٍ وَاللَّفْظُ لابْنِ عَبَّادٍ حَدَّثَنَا حَاتِمُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي عُبَيْدٍ بِمِثْلِهِ، إِلَاّ أَنَّ ابْنَ عَبَّادٍ خَالَفَ قُتَيْبَةَ فِي حَرْفَيْنِ، قَالَ: مَشَى بِهَا مِثْلَهُ، وَأَلْقِ سَكِينَةً عَلَيْنَا.
[3] ইমাম বুখারি (কিতাবুল আদাব / হাদিস নং ৬১৪৮) বলেন: কুতাইবা ইবনে সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حَدَّثَنَا), হাতেম ইবনে ইসমাইল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حَدَّثَنَا), তিনি ইয়াজিদ ইবনে আবি উবাইদ থেকে (عَنْ) এবং তিনি সালামাহ ইবনুল আকওয়া থেকে (عَنْ) বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে খায়বারের দিকে রওয়ানা হলাম এবং রাতে পথ চলছিলাম। তখন কাফেলার এক ব্যক্তি আমির ইবনুল আকওয়াকে বললেন: আপনি কি আমাদের আপনার কিছু ক্ষুদ্র কবিতা শোনাবেন না? বর্ণনাকারী বলেন: আমির ছিলেন একজন কবি। অতঃপর তিনি সওয়ারি থেকে নামলেন এবং উট চালনার গান গেয়ে কাফেলাকে উৎসাহিত করতে লাগলেন। তিনি বলছিলেন:

হে আল্লাহ! আপনি না থাকলে আমরা হেদায়াত পেতাম না … দান-সদকা করতাম না এবং সালাতও আদায় করতাম না

সুতরাং আমাদের ক্ষমা করুন, আপনার জন্য আমাদের প্রাণ উৎসর্গিত হোক … আর যখন আমরা (শত্রুর) মোকাবিলা করি, তখন আমাদের কদম অটল রাখুন

আমাদের ওপর প্রশান্তি নাজিল করুন … আমাদের যখন যুদ্ধের ডাক দেওয়া হয়েছে, আমরা উপস্থিত হয়েছি

আর সাহায্যের চিৎকারে তারা আমাদের ওপরই নির্ভর করেছে

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «এই চালক কে?» তারা বললেন: আমির ইবনুল আকওয়া। তিনি বললেন: «আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন।» কাফেলার এক ব্যক্তি বললেন: (তাঁর শাহাদাত তো) অবধারিত হয়ে গেল হে আল্লাহর নবী! আপনি যদি আরও কিছুকাল তাঁকে দিয়ে আমাদের উপকৃত হওয়ার সুযোগ দিতেন! বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর আমরা খায়বারে পৌঁছালাম এবং তাদের অবরোধ করলাম, এমনকি আমরা তীব্র ক্ষুধার সম্মুখীন হলাম। এরপর আল্লাহ তাদের ওপর বিজয় দান করলেন। যে দিন বিজয় অর্জিত হলো, সে দিন সন্ধ্যাবেলায় লোকেরা প্রচুর আগুন জ্বালালো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «এই আগুন কিসের? তোমরা কিসের ওপর আগুন জ্বালিয়েছ?» তারা বললেন: গোশতের জন্য। তিনি বললেন: «কিসের গোশত?» তারা বললেন: গৃহপালিত গাধার গোশত। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «এগুলো ফেলে দাও এবং পাত্রগুলো ভেঙে ফেলো।» এক ব্যক্তি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি গোশত ফেলে দিয়ে পাত্রগুলো ধুয়ে নিতে পারি? তিনি বললেন: «অথবা তাই করো।» অতঃপর যখন উভয় দল যুদ্ধের জন্য সারিবদ্ধ হলো, তখন আমিরের তরবারিটি ছিল কিছুটা খাটো। তিনি এক ইহুদিকে আঘাত করার জন্য তরবারি চালালেন, কিন্তু তাঁর তরবারির অগ্রভাগ ফিরে এসে আমিরের হাঁটুতে বিদ্ধ হলো এবং তাতে তাঁর মৃত্যু হলো। যখন সাহাবীরা (যুদ্ধ থেকে) ফিরে আসছিলেন, সালামাহ বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বিবর্ণ ও বিষণ্ণ অবস্থায় দেখলেন। তিনি আমাকে বললেন: «তোমার কী হয়েছে?» আমি বললাম: আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য উৎসর্গিত হোক, লোকেরা ধারণা করছে যে আমিরের আমল বাতিল হয়ে গেছে! তিনি বললেন: «যে এ কথা বলেছে সে ভুল বলেছে (كَذَبَ)। নিশ্চয়ই তাঁর জন্য দ্বিগুণ পুরস্কার রয়েছে - এবং তিনি তাঁর দুই আঙুল একত্রিত করলেন - সে ছিল একজন পরিশ্রমী মুজাহিদ। আরবে তাঁর মতো খুব কম লোকই এ পথে বড় হয়েছে।»

ইমাম মুসলিম (কিতাবুল জিহাদ ওয়াস সিয়ার / হাদিস নং ১৮০২) বলেন: কুতাইবা ইবনে সাঈদ ও মুহাম্মদ ইবনে আব্বাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حَدَّثَنَا) - এবং শব্দবিন্যাস (اللَّفْظُ) ইবনে আব্বাদের - তারা হাতেম ইবনে ইসমাইল থেকে (عَنْ), তিনি ইয়াজিদ ইবনে আবি উবাইদ থেকে (عَنْ) অনুরূপ (بِمِثْلِهِ) বর্ণনা করেছেন। তবে ইবনে আব্বাদ দুটি শব্দের ক্ষেত্রে কুতাইবার বিপরীত বর্ণনা বা ভিন্নমত পোষণ করেছেন (خَالَفَ); তিনি বলেছেন: 'এই পথে তাঁর মতো খুব কম লোকই চলেছে' এবং 'আমাদের ওপর প্রশান্তি বর্ষণ করুন'।
(খণ্ড: ১) শাযারাতুম মিন ইত্তিহাফিল আরীব বিআহকামি মারাতিবি তাকরীবিত তাহযীব (পৃষ্ঠা: ২১)
[4] قَالَ الْبُخَارِيُّ (كِتَابُ الْمَغَازِي /ح4194) ، وَمُسْلِمٌ (كِتَابُ الْجِهَادِ وَالسِّيَرِ /ح1806) : حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا حَاتِمٌ عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي عُبَيْدٍ سَمِعْتُ سَلَمَةَ بْنَ الأَكْوَعِ يَقُولُ: خَرَجْتُ قَبْلَ أَنْ يُؤَذَّنَ بِالأُولَى، وَكَانَتْ لِقَاحُ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم تَرْعَى بِذِي قَرَدَ، فَلَقِيَنِي غُلامٌ لِعَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ، فَقَالَ: أُخِذَتْ لِقَاحُ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم، قُلْتُ: مَنْ أَخَذَهَا؟ ، قَالَ: غَطَفَانُ، قَالَ فَصَرَخْتُ ثَلاثَ صَرَخَاتٍ: يَا صَبَاحَاهْ، قَالَ: فَأَسْمَعْتُ مَا بَيْنَ لابَتَيِ الْمَدِينَةِ، ثُمَّ انْدَفَعْتُ عَلَى وَجْهِي حَتَّى أَدْرَكْتُهُمْ، وَقَدْ أَخَذُوا يَسْتَقُونَ مِنَ الْمَاءِ، فَجَعَلْتُ أَرْمِيهِمْ بِنَبْلِي، وَكُنْتُ رَامِيَاً، وَأَقُولُ:

أَنَا ابْنُ الأَكْوَعْ … وَالْيَوْمُ يَوْمُ الرُّضَّعْ

وَأَرْتَجِزُ، حَتَّى اسْتَنْقَذْتُ اللِّقَاحَ مِنْهُمْ، وَاسْتَلَبْتُ مِنْهُمْ ثَلاثِينَ بُرْدَةً، قَالَ: وَجَاءَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَالنَّاسُ، فَقُلْتُ: يَا نَبِيَّ اللهِ؛ قَدْ حَمَيْتُ الْقَوْمَ الْمَاءَ وَهُمْ عِطَاشٌ، فَابْعَثْ إِلَيْهِمُ السَّاعَةَ، فَقَالَ: «يَا ابْنَ الأَكْوَعِ؛ مَلَكْتَ فَأَسْجِحْ» ، قَالَ: ثُمَّ رَجَعْنَا، وَيُرْدِفُنِي رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى نَاقَتِهِ، حَتَّى دَخَلْنَا الْمَدِينَةَ.

[5] قَالَ الْبُخَارِيُّ (كِتَابُ الْمَغَازِي /ح4271) : حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، وَمُسْلِمٌ (كِتَابُ الْجِهَادِ وَالسِّيَرِ /ح1815) : حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ وَمُحَمَّدُ بْنُ عَبَّادٍ قالا:حَدَّثَنَا حَاتِمٌ عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي عُبَيْدٍ قَالَ سَمِعْتُ سَلَمَةَ بْنَ الأَكْوَعِ يَقُولُ: غَزَوْتُ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم سَبْعَ غَزَوَاتٍ، وَخَرَجْتُ فِيمَا يَبْعَثُ مِنَ الْبُعُوثِ تِسْعَ غَزَوَاتٍ، مَرَّةً عَلَيْنَا أَبُو بَكْرٍ، وَمَرَّةً عَلَيْنَا أُسَامَةُ.

[6] قَالَ الْبُخَارِيُّ (كِتَابُ الْفِتَنِ /ح7087) ، وَمُسْلِمٌ (كِتَابُ الإمارة /ح1862) : حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا حَاتِمٌ عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي عُبَيْدٍ عَنْ سَلَمَةَ بْنِ الأَكْوَعِ أَنَّهُ دَخَلَ عَلَى الْحَجَّاجِ فَقَالَ يَا ابْنَ الأَكْوَعِ ارْتَدَدْتَ عَلَى عَقِبَيْكَ تَعَرَّبْتَ قَالَ: لا، وَلَكِنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَذِنَ لِي فِي الْبَدْوِ. وَزَادَ الْبُخَارِيُّ فِي رِوَايَتِهِ: وَعَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي عُبَيْدٍ قَالَ: لَمَّا قُتِلَ عُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ خَرَجَ سَلَمَةُ بْنُ الأَكْوَعِ إِلَى الرَّبَذَةِ، وَتَزَوَّجَ هُنَاكَ امْرَأَةً، وَوَلَدَتْ لَهُ أَوْلادَاً، فَلَمْ يَزَلْ بِهَا حَتَّى قَبْلَ أَنْ يَمُوتَ بِلَيَالٍ، فَنَزَلَ الْمَدِينَةَ.
[৪] ইমাম বুখারি (কিতাবুল মাগাজি / হাদিস ৪১৯৪) এবং ইমাম মুসলিম (কিতাবুল জিহাদ ওয়াস সিয়ার / হাদিস ১৮০৬) বর্ণনা করেছেন: আমাদের নিকট কুতাইবাহ ইবনে সাঈদ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট হাতিম বর্ণনা করেছেন ইয়াজিদ ইবনে আবি উবাইদ থেকে, তিনি বলেন আমি সালামাহ ইবনুল আকওয়াকে বলতে শুনেছি: আমি ফজর হওয়ার (প্রথম আযানের) আগে বের হলাম। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দুগ্ধবতী উষ্ট্রীগুলো যী-ক্বারাদ নামক স্থানে চরে বেড়াচ্ছিল। পথিমধ্যে আব্দুর রহমান ইবনে আউফ-এর এক দাসের সাথে আমার দেখা হলো। সে বলল, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উষ্ট্রীগুলো ছিনতাই করা হয়েছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, কে এগুলো নিয়েছে? সে বলল, গাতফান গোত্র। তিনি (সালামাহ) বলেন, তখন আমি উচ্চৈঃস্বরে তিনটি চিৎকার দিয়ে ‘ইয়া সাবাহাহ’ বলে ডাক দিলাম। তিনি বলেন, আমি মদিনার দুই পাথুরে পাহাড়ের মধ্যবর্তী সকলকে তা শুনিয়ে দিলাম। এরপর আমি সামনের দিকে দ্রুত ছুটে চললাম এবং তাদেরকে ধরে ফেললাম। তারা তখন পানি পান করাচ্ছিল। আমি আমার তীর দিয়ে তাদের দিকে তীর ছুড়তে শুরু করলাম। আমি একজন দক্ষ তিরন্দাজ ছিলাম এবং বলছিলাম:

আমি আকওয়ার পুত্র... … আজ দুগ্ধপোষ্যদের বিনাশের দিন

আমি রাজায (যুদ্ধ-কবিতা) আবৃত্তি করছিলাম, অবশেষে তাদের কাছ থেকে উষ্ট্রীগুলো উদ্ধার করলাম এবং তাদের থেকে ত্রিশটি চাদর কেড়ে নিলাম। তিনি বলেন, এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং লোকজন আসলেন। আমি বললাম: হে আল্লাহর নবী! আমি এই সম্প্রদায়কে পানির কাছে পৌঁছাতে বাধা দিয়েছি এবং তারা তৃষ্ণার্ত ছিল। আপনি এখনই তাদের কাছে সেনাদল পাঠান। তখন তিনি বললেন: «হে আকওয়ার পুত্র! তুমি জয়ী হয়েছ, সুতরাং এখন উদারতা প্রদর্শন করো (অর্থাৎ ক্ষমাসুন্দর আচরণ করো)»। তিনি বলেন, এরপর আমরা ফিরে আসলাম এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে তাঁর উষ্ট্রীর পিঠে নিজের পেছনে বসিয়ে নিলেন, যতক্ষণ না আমরা মদিনায় প্রবেশ করলাম।

[৫] ইমাম বুখারি (কিতাবুল মাগাজি / হাদিস ৪২৭১) বর্ণনা করেছেন: আমাদের নিকট কুতাইবাহ ইবনে সাঈদ বর্ণনা করেছেন। এবং ইমাম মুসলিম (কিতাবুল জিহাদ ওয়াস সিয়ার / হাদিস ১৮১৫) বর্ণনা করেছেন: কুতাইবাহ ইবনে সাঈদ ও মুহাম্মদ ইবনে আব্বাদ বর্ণনা করেছেন। তাঁরা উভয়ে বলেন: হাতিম ইয়াজিদ ইবনে আবি উবাইদ থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমি সালামাহ ইবনুল আকওয়াকে বলতে শুনেছি: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে সাতটি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছি এবং তিনি যে সকল সেনাদল পাঠিয়েছিলেন তার মধ্যে নয়টি অভিযানে বের হয়েছি। একবার আমাদের সেনাপতি ছিলেন আবু বকর এবং একবার ছিলেন উসামা।

[৬] ইমাম বুখারি (কিতাবুল ফিতান / হাদিস ৭০৮৭) এবং ইমাম মুসলিম (কিতাবুল ইমারাহ / হাদিস ১৮৬২) বর্ণনা করেছেন: আমাদের নিকট কুতাইবাহ ইবনে সাঈদ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট হাতিম বর্ণনা করেছেন ইয়াজিদ ইবনে আবি উবাইদ থেকে, তিনি সালামাহ ইবনুল আকওয়া থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফের নিকট প্রবেশ করলেন। হাজ্জাজ বলল: হে আকওয়ার পুত্র! তুমি কি তোমার পূর্বাবস্থায় ফিরে গিয়েছ এবং পুনরায় মরুবাসী হয়ে গেছ? তিনি বললেন: না, বরং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে মরুভূমিতে বসবাসের অনুমতি দিয়েছেন। ইমাম বুখারি তাঁর বর্ণনা (رواية)-এ আরও বর্ধিত করেছেন: ইয়াজিদ ইবনে আবি উবাইদ থেকে বর্ণিত যে, যখন উসমান ইবনে আফফান নিহত হলেন, তখন সালামাহ ইবনুল আকওয়া রাবাযা নামক স্থানে চলে যান এবং সেখানে একজন নারীকে বিয়ে করেন। সেখানে তাঁর সন্তানাদিও জন্মগ্রহণ করে। তিনি মৃত্যু বরণের কয়েক দিন পূর্ব পর্যন্ত সেখানেই অবস্থান করেন, এরপর মদিনায় ফিরে আসেন।
(খণ্ড: ১) শাযারাতুম মিন ইত্তিহাফিল আরীব বিআহকামি মারাতিবি তাকরীবিত তাহযীব (পৃষ্ঠা: ২২)
[7] قَالَ الْبُخَارِيُّ (كِتَابُ الدَّعَوَاتِ /ح6352) : حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، وَمُسْلِمٌ (كِتَابُ الْفَضَائِلِ /ح2345) : حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ وَمُحَمَّدُ بْنُ عَبَّادٍ قَالا: حَدَّثَنَا حَاتِمُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ عَنِ الْجَعْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ سَمِعْتُ السَّائِبَ بْنَ يَزِيدَ يَقُولُ: ذَهَبَتْ بِي خَالَتِي إِلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَتْ: يَا رَسُولَ اللهِ؛ إِنَّ ابْنَ أُخْتِي وَجِعٌ، فَمَسَحَ رَأْسِي، وَدَعَا لِي بِالْبَرَكَةِ، ثُمَّ تَوَضَّأَ، فَشَرِبْتُ مِنْ وَضُوئِهِ، ثُمَّ قُمْتُ خَلْفَ ظَهْرِهِ، فَنَظَرْتُ إِلَى خَاتَمِهِ بَيْنَ كَتِفَيْهِ، مِثْلَ زِرِّ الْحَجَلَةِ.

[8] قَالَ الْبُخَارِيُّ (كِتَابُ التَّفْسِيْرِ /ح4832) ، وَمُسْلِمٌ (كِتَابُ البر والصلةِ /ح2554) وَالسِّيَاقُ لَهُ: حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدِ وَمُحَمَّدُ بْنُ عَبَّادٍ قَالا حَدَّثَنَا حَاتِمُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ أَبِي مُزَرِّدٍ مَوْلَى بَنِي هَاشِمٍ حَدَّثَنِي عَمِّي أَبُو الْحُبَابِ سَعِيدُ بْنُ يَسَارٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ اللهَ خَلَقَ الْخَلْقَ، حَتَّى إِذَا فَرَغَ مِنْهُمْ، قَامَتِ الرَّحِمُ، فَقَالَتْ: هَذَا مَقَامُ الْعَائِذِ مِنَ الْقَطِيعَةِ، قَالَ: نَعَمْ؛ أَمَا تَرْضَيْنَ أَنْ أَصِلَ مَنْ وَصَلَكِ، وَأَقْطَعَ مَنْ قَطَعَكِ، قَالَتْ: بَلَى، قَالَ: فَذَاكِ لَكِ» ، ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: اقْرَءُوا إِنْ شِئْتُمْ «فَهَلْ عَسَيْتُمْ إِنْ تَوَلَّيْتُمْ أَنْ تُفْسِدُوا فِي الأَرْضِ وَتُقَطِّعُوا أَرْحَامَكُمْ أُولَئِكَ الَّذِينَ لَعَنَهُمُ اللهُ فَأَصَمَّهُمْ وَأَعْمَى أَبْصَارَهُمْ أَفَلا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ أَمْ عَلَى قُلُوبٍ أَقْفَالُهَا» .
[7] ইমাম বুখারি (কিতাবুদ দাওয়াত / হাদিস ৬৩৫২) বলেন: কুতাইবা ইবনে সাঈদ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন। এবং মুসলিম (কিতাবুল ফাদাইল / হাদিস ২৩৪৫): কুতাইবা ইবনে সাঈদ ও মুহাম্মদ ইবনে আব্বাদ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়ে বলেন: হাতিম ইবনে ইসমাইল আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন জা’দ ইবনে আব্দুর রহমান থেকে, তিনি বলেন, আমি সায়েব ইবনে ইয়াজিদকে বলতে শুনেছি: আমার খালা আমাকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট নিয়ে গেলেন এবং বললেন, "হে আল্লাহর রাসুল! নিশ্চয়ই আমার ভাগ্নে অসুস্থ।" তখন তিনি আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন এবং আমার জন্য বরকতের দোয়া করলেন। অতঃপর তিনি অজু করলেন এবং আমি তাঁর অজুর পানি থেকে পান করলাম। তারপর আমি তাঁর পিঠের পেছনে দাঁড়ালাম এবং তাঁর দুই কাঁধের মাঝখানে মোহরে নবুওয়াত দেখলাম, যা দেখতে পালঙ্কের পর্দার বোতামের ন্যায় ছিল।

[8] ইমাম বুখারি (কিতাবুত তাফসির / হাদিস ৪৮৩২) এবং মুসলিম (কিতাবুল বিররি ওয়াস সিলাতি / হাদিস ২৫৫৪) বর্ণনা করেছেন, এবং শব্দবিন্যাস মুসলিমের: কুতাইবা ইবনে সাঈদ ও মুহাম্মদ ইবনে আব্বাদ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: হাতিম ইবনে ইসমাইল আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন মুয়াবিয়া ইবনে আবি মুজাররিদি থেকে—যিনি বনু হাশেমের মুক্ত দাস—তিনি বলেন, আমার চাচা আবু আল-হুবাব সাঈদ ইবনে ইয়াসার আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু হুরায়রা থেকে, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা সৃষ্টিজগতকে সৃষ্টি করেছেন। এমনকি যখন তিনি তাদের সৃষ্টির কাজ সমাপ্ত করলেন, তখন ‘রাহিম’ (আত্মীয়তার বন্ধন) দাঁড়িয়ে আরজ করল: ‘এটি আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনাকারীর স্থান।’ আল্লাহ বললেন: ‘হ্যাঁ; তুমি কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, যে তোমার সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখবে আমি তার সাথে সম্পর্ক রাখব এবং যে তোমার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করবে আমিও তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করব?’ সে বলল: ‘অবশ্যই, হে আমার রব!’ আল্লাহ বললেন: ‘তাহলে এটিই তোমার জন্য সাব্যস্ত হলো’।” অতঃপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “তোমরা চাইলে পাঠ করো— ‘তবে কি তোমাদের থেকে এটিই প্রত্যাশিত যদি তোমরা ক্ষমতা লাভ করো, তবে তোমরা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে এবং তোমাদের আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করবে? এরাই তারা যাদেরকে আল্লাহ লানত করেছেন, ফলে তিনি তাদের বধির করেছেন এবং তাদের দৃষ্টিসমূহকে অন্ধ করে দিয়েছেন। তবে কি তারা কুরআন নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা-গবেষণা করে না, নাকি তাদের অন্তরসমূহে তালা লাগানো রয়েছে?’”
(খণ্ড: ১) শাযারাতুম মিন ইত্তিহাফিল আরীব বিআহকামি মারাতিবি তাকরীবিত তাহযীব (পৃষ্ঠা: ২৩)
وَأَمَّا أَفْرَادُ الْبُخَارِيِّ:

[1] قَالَ الْبُخَارِيُّ (كِتَابُ الشَّرِكَةِ /ح2484) : حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ مَرْحُومٍ حَدَّثَنَا حَاتِمُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي عُبَيْدٍ عَنْ سَلَمَةَ رضي الله عنه قَالَ: خَفَّتْ أَزْوَادُ الْقَوْمِ، وَأَمْلَقُوا، فَأَتَوُا النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فِي نَحْرِ إِبِلِهِمْ، فَأَذِنَ لَهُمْ، فَلَقِيَهُمْ عُمَرُ، فَأَخْبَرُوهُ، فَقَالَ: مَا بَقَاؤُكُمْ بَعْدَ إِبِلِكُمْ، فَدَخَلَ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ؛ مَا بَقَاؤُهُمْ بَعْدَ إِبِلِهِمْ؟! ، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: نَادِ فِي النَّاسِ، فَيَأْتُونَ بِفَضْلِ أَزْوَادِهِمْ، فَبُسِطَ لِذَلِكَ نِطَعٌ، وَجَعَلُوهُ عَلَى النِّطَعِ، فَقَامَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم، فَدَعَا، وَبَرَّكَ عَلَيْهِ، ثُمَّ دَعَاهُمْ بِأَوْعِيَتِهِمْ، فَاحْتَثَى النَّاسُ حَتَّى فَرَغُوا، ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «أَشْهَدُ أَنْ لا إِلَهَ إِلَاّ اللهُ وَأَنِّي رَسُولُ اللهِ» .

[2] قَالَ الْبُخَارِيُّ (كِتَابُ الْجِهَادِ وَالسِّيَرِ /ح2899) : حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ مَسْلَمَةَ حَدَّثَنَا حَاتِمُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي عُبَيْدٍ سَمِعْتُ سَلَمَةَ بْنَ الأَكْوَعِ رضي الله عنه قَالَ: مَرَّ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَلَى نَفَرٍ مِنْ أَسْلَمَ يَنْتَضِلُونَ، فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «ارْمُوا بَنِي إِسْمَاعِيلَ، فَإِنَّ أَبَاكُمْ كَانَ رَامِيَاً، ارْمُوا وَأَنَا مَعَ بَنِي فُلانٍ» ، قَالَ: فَأَمْسَكَ أَحَدُ الْفَرِيقَيْنِ بِأَيْدِيهِمْ، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «مَا لَكُمْ لا تَرْمُونَ؟» ، قَالُوا: كَيْفَ نَرْمِي وَأَنْتَ مَعَهُمْ! ، قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «ارْمُوا، فَأَنَا مَعَكُمْ كُلِّكُمْ» .

[3] قَالَ الْبُخَارِيُّ (كِتَابُ الْحَجِّ /ح1858) : حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ يُونُسَ حَدَّثَنَا حَاتِمُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يُوسُفَ عَنِ السَّائِبِ بْنِ يَزِيدَ قَالَ: حُجَّ بِي مَعَ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم، وَأَنَا ابْنُ سَبْعِ سِنِينَ.
আর ইমাম বুখারীর একক (أفراد) বর্ণনাগুলোর ক্ষেত্রে:

[1] ইমাম বুখারী বলেন (কিতাবুশ শিরকাহ / হাদিস ২৪৮৪): আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন বিশর ইবন মারহুম, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাতিম ইবন ইসমাঈল, তিনি ইয়াজিদ ইবন আবি উবায়দ থেকে, তিনি সালামাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: লোকজনের পাথেয় ফুরিয়ে গিয়েছিল এবং তারা নিঃস্ব হয়ে পড়েছিল। তখন তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট তাদের উটগুলো জবেহ করার অনুমতি চাইতে আসল। তিনি তাদের অনুমতি দিলেন। পথিমধ্যে তাদের সাথে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর দেখা হলো, তারা তাঁকে বিষয়টি জানালেন। তিনি বললেন, "তোমাদের উটগুলো জবেহ করার পর তোমাদের আর কী টিকে থাকবে?" এরপর তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট প্রবেশ করলেন এবং বললেন, "হে আল্লাহর রাসুল! উটগুলো জবেহ করার পর তাদের আর কী অবশিষ্ট থাকবে?!" তখন আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "লোকদের মাঝে ঘোষণা দাও, তারা যেন তাদের অতিরিক্ত পাথেয় নিয়ে আসে।" এরপর তার জন্য একটি চামড়ার দস্তরখান বিছানো হলো এবং তারা তা দস্তরখানের ওপর রাখল। এরপর আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়ালেন এবং দোয়া করলেন ও তাতে বরকতের প্রার্থনা করলেন। অতঃপর তিনি তাদের নিজ নিজ পাত্রসহ ডাকলেন। ফলে মানুষ অঞ্জলি ভরে নিতে শুরু করল যতক্ষণ না তারা শেষ করল। এরপর আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং আমি আল্লাহর রাসুল»।

[2] ইমাম বুখারী বলেন (কিতাবুল জিহাদ ওয়াস সিয়ার / হাদিস ২৮৯৯): আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবন মাসলামাহ, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাতিম ইবন ইসমাঈল, তিনি ইয়াজিদ ইবন আবি উবায়দ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন আমি সালামাহ ইবনুল আকওয়া রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসলাম গোত্রের একদল লোকের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যারা তীর নিক্ষেপ প্রতিযোগিতা করছিল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «হে ইসমাইলের বংশধরেরা! তোমরা তীর নিক্ষেপ করো, কেননা তোমাদের পিতাও তীরন্দাজ ছিলেন। তোমরা তীর নিক্ষেপ করো আর আমি অমুক গোত্রের সাথে আছি»। তিনি বলেন: তখন দুই দলের মধ্যে একদল তাদের হাত গুটিয়ে নিল। আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «তোমাদের কী হলো যে তোমরা তীর নিক্ষেপ করছ না?» তারা বলল: «আমরা কীভাবে তীর নিক্ষেপ করব অথচ আপনি তাদের সাথে আছেন!» তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «তোমরা তীর নিক্ষেপ করো, কারণ আমি তোমাদের সকলের সাথেই আছি»।

[3] ইমাম বুখারী বলেন (কিতাবুল হাজ্জ / হাদিস ১৮৫৮): আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুর রহমান ইবন ইউনুস, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাতিম ইবন ইসমাঈল, তিনি মুহাম্মদ ইবন ইউসুফ থেকে, তিনি সায়িব ইবন ইয়াজিদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমাকে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে হজ করানো হয়েছিল যখন আমার বয়স ছিল সাত বছর।
(খণ্ড: ১) শাযারাতুম মিন ইত্তিহাফিল আরীব বিআহকামি মারাতিবি তাকরীবিত তাহযীব (পৃষ্ঠা: ২৪)
[4] قَالَ الْبُخَارِيُّ (كِتَابُ الْجِزْيَةُ وَالْمُوَادَعَةِ /ح3183) : حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا حَاتِمُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ قَالَتْ: قَدِمَتْ عَلَيَّ أُمِّي، وَهِيَ مُشْرِكَةٌ، فِي عَهْدِ قُرَيْشٍ إِذْ عَاهَدُوا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَمُدَّتِهِمْ، مَعَ أَبِيهَا، فَاسْتَفْتَتْ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَتْ: يَا رَسُولَ اللهِ، إِنَّ أُمِّي قَدِمَتْ عَلَيَّ وَهِيَ رَاغِبَةٌ أَفَأَصِلُهَا؟ ، قَالَ: «نَعَمْ؛ صِلِيهَا» .

[5] قَالَ الْبُخَارِيُّ (كِتَابُ الْمَنَاقِبِ /ح3933) : حَدَّثَنِي إِبْرَاهِيمُ بْنُ حَمْزَةَ حَدَّثَنَا حَاتِمُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ حُمَيْدٍ الزُّهْرِيِّ سَمِعْتُ عُمَرَ بْنَ عَبْدِالْعَزِيزِ يَسْأَلُ السَّائِبَ ابْنَ أُخْتِ الْنَّمِرِ مَا سَمِعْتَ فِي سُكْنَى مَكَّةَ قَالَ سَمِعْتُ الْعَلاءَ بْنَ الْحَضْرَمِيِّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: ثَلاثٌ لِلْمُهَاجِرِ بَعْدَ الصَّدَرِ.

[6] قَالَ الْبُخَارِيُّ (كِتَابُ الْجِهَادِ وَالسِّيَرِ /ح2824) : حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا حَاتِمُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يُوسُفَ عَنِ السَّائِبِ بْنِ يَزِيدَ قَالَ: صَحِبْتُ طَلْحَةَ بْنَ عُبَيْدِ اللهِ وَسَعْدَاً وَالْمِقْدَادَ بْنَ الأَسْوَدِ وَعَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ عَوْفٍ رضي الله عنهم، فَمَا سَمِعْتُ أَحَدَاً مِنْهُمْ يُحَدِّثُ عَنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم، إِلَاّ أَنِّي سَمِعْتُ طَلْحَةَ يُحَدِّثُ عَنْ يَوْمِ أُحُدٍ.

[7] قَالَ الْبُخَارِيُّ (كِتَابُ الْحَجِّ /ح1580) : حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ عَبْدِ الْوَهَّابِ حَدَّثَنَا حَاتِمُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ عَنْ هِشَامٍ عَنْ عُرْوَةَ: دَخَلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَامَ الْفَتْحِ مِنْ كَدَاءٍ مِنْ أَعْلَى مَكَّةَ، وَكَانَ عُرْوَةُ أَكْثَرَ مَا يَدْخُلُ مِنْ كَدَاءٍ، وَكَانَ أَقْرَبَهُمَا إِلَى مَنْزِلِهِ.
[4] ইমাম বুখারি বলেন (কিতাবুল জিজিয়া ওয়াল মুওয়াদা'আ / হাদিস নং ৩১৮৩): আমাদের কাছে কুতাইবা ইবনে সাঈদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের কাছে হাতেম ইবনে ইসমাইল বর্ণনা করেছেন, তিনি হিশাম ইবনে উরওয়াহ থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি আসমা বিনতে আবু বকর (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, আসমা (রা.) বলেন: কুরাইশদের সাথে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সন্ধি চলাকালীন সময়ে আমার মা মুশরিক অবস্থায় আমার কাছে আসলেন। সাথে তার পিতাও ছিলেন। তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে ফতোয়া জানতে চাইলেন। তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসুল! আমার মা আমার কাছে এসেছেন এবং তিনি সুসম্পর্কের প্রত্যাশী, আমি কি তার সাথে আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখব? তিনি (সা.) বললেন: "হ্যাঁ, তুমি তার সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখো।"

[5] ইমাম বুখারি বলেন (কিতাবুল মানাকিব / হাদিস নং ৩৯৩৩): আমার কাছে ইব্রাহিম ইবনে হামজা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের কাছে হাতেম ইবনে ইসমাইল বর্ণনা করেছেন, তিনি আবদুর রহমান ইবনে হুমাইদ আজ-জুহরি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন আমি উমর ইবনে আবদুল আজিজকে আন-নামিরের ভাগ্নে সায়েবকে জিজ্ঞেস করতে শুনেছি যে, মক্কায় অবস্থান সম্পর্কে আপনি কী শুনেছেন? তিনি বললেন, আমি আলা ইবনুল হাদরামিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "হজ সমাপনান্তে মিনা থেকে প্রত্যাবর্তনের পর মুহাজিরদের জন্য (মক্কায়) তিন দিন অবস্থানের অনুমতি রয়েছে।"

[6] ইমাম বুখারি বলেন (কিতাবুল জিহাদ ওয়াস সিয়ার / হাদিস নং ২৮২৪): আমাদের কাছে কুতাইবা ইবনে সাঈদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের কাছে হাতেম ইবনে ইসমাইল বর্ণনা করেছেন, তিনি মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ থেকে, তিনি সায়েব ইবনে ইয়াজিদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি তালহা ইবনে উবাইদুল্লাহ, সাদ, মিকদাদ ইবনুল আসওয়াদ এবং আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রা.)-এর সাহচর্য লাভ করেছি। আমি তাদের কাউকেই রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পক্ষ থেকে কোনো হাদিস বর্ণনা করতে শুনিনি, তবে তালহা (রা.)-কে উহুদ যুদ্ধের ঘটনা বর্ণনা করতে শুনেছি।

[7] ইমাম বুখারি বলেন (কিতাবুল হজ / হাদিস নং ১৫৮০): আমাদের কাছে আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল ওয়াহহাব বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের কাছে হাতেম ইবনে ইসমাইল বর্ণনা করেছেন, তিনি হিশাম থেকে, তিনি উরওয়াহ থেকে বর্ণনা করেন: মক্কা বিজয়ের বছর নবী (সা.) মক্কার উচ্চভূমি 'কাদা' নামক প্রবেশপথ দিয়ে মক্কায় প্রবেশ করেছিলেন। উরওয়াহ নিজেও অধিকাংশ সময় কাদা দিয়ে প্রবেশ করতেন এবং এটিই ছিল তার আবাসের নিকটবর্তী পথ।
(খণ্ড: ১) শাযারাতুম মিন ইত্তিহাফিল আরীব বিআহকামি মারাতিবি তাকরীবিত তাহযীব (পৃষ্ঠা: ২৫)
وَأَمَّا أَفْرَادُ مُسْلِمٍ:

[1] قَالَ مُسْلِمٌ (كِتَابُ الصَّلاةِ /ح742) : حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ عَنْ حَاتِمِ بْنِ إِسْمَاعِيلَ عَنْ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ حُنَيْنٍ عَنْ عَلِيٍّ قَالَ: نَهَانِي حِبِّي صلى الله عليه وسلم عَنْ قِرَاءَةِ الْقُرْآنِ وَأَنَا رَاكِعٌ.

[2] قَالَ مُسْلِمٌ (كِتَابُ الْمَسَاجِدِ /ح636) : حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا حَاتِمُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي عُبَيْدٍ عَنْ سَلَمَةَ بْنِ الأَكْوَعِ: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُصَلِّي الْمَغْرِبَ إِذَا غَرَبَتِ الشَّمْسُ، وَتَوَارَتْ بِالْحِجَابِ.

[3] قَالَ مُسْلِمٌ (كِتَابُ الزَّكَاةِ /ح1025) : حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا حَاتِمُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي عُبَيْدٍ قَالَ: سَمِعْتُ عُمَيْرَاً مَوْلَى آبِي اللَّحْمِ قَالَ: أَمَرَنِي مَوْلايَ أَنْ أُقَدِّدَ لَحْمَاً، فَجَاءَنِي مِسْكِينٌ فَأَطْعَمْتُهُ مِنْهُ، فَعَلِمَ بِذَلِكَ مَوْلايَ، فَضَرَبَنِي، فَأَتَيْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم، فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لَهُ، فَدَعَاهُ، فَقَالَ: «لِمَ ضَرَبْتَهُ؟» ، فَقَالَ: يُعْطِي طَعَامِي بِغَيْرِ أَنْ آمُرَهُ، فَقَالَ: «الأَجْرُ بَيْنَكُمَا» .

[4] قَالَ مُسْلِمٌ (كِتَابُ الصِّيَامِ /ح1135) : حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا حَاتِمُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي عُبَيْدٍ عَنْ سَلَمَةَ بْنِ الأَكْوَعِ رضي الله عنه أَنَّهُ قَالَ: بَعَثَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم رَجُلاً مِنْ أَسْلَمَ يَوْمَ عَاشُورَاءَ، فَأَمَرَهُ أَنْ يُؤَذِّنَ فِي النَّاسِ: مَنْ كَانَ لَمْ يَصُمْ فَلْيَصُمْ، وَمَنْ كَانَ أَكَلَ فَلْيُتِمَّ صِيَامَهُ إِلَى اللَّيْلِ.

[5] قَالَ مُسْلِمٌ (كِتَابُ الْحج /ح1218) : حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ جَمِيعَاً عَنْ حَاتِمِ بْنِ إِسْمَاعِيلَ عَنْ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ: دَخَلْنَا عَلَى جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ، فَسَأَلَ عَنْ الْقَوْمِ، حَتَّى انْتَهَى إِلَيَّ، فَقُلْتُ: أَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ حُسَيْنٍ، فَأَهْوَى بِيَدِهِ إِلَى رَأْسِي، فَنَزَعَ زِرِّي الأَعْلَى، ثُمَّ نَزَعَ زِرِّي الأَسْفَلَ، ثُمَّ وَضَعَ كَفَّهُ بَيْنَ ثَدْيَيَّ، وَأَنَا يَوْمَئِذٍ غُلامٌ شَابٌّ، فَقَالَ مَرْحَبَاً بِكَ يَا ابْنَ أَخِي؛ سَلْ عَمَّا شِئْتَ، فَسَأَلْتُهُ وَهُوَ أَعْمَى، وَحَضَرَ وَقْتُ الصَّلاةِ، فَقَامَ فِي نِسَاجَةٍ مُلْتَحِفَاً بِهَا، كُلَّمَا وَضَعَهَا عَلَى مَنْكِبِهِ، رَجَعَ طَرَفَاهَا إِلَيْهِ مِنْ صِغَرِهَا، وَرِدَاؤُهُ إِلَى جَنْبِهِ عَلَى الْمِشْجَبِ، فَصَلَّى بِنَا، فَقُلْتُ: أَخْبِرْنِي عَنْ حَجَّةِ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ بِيَدِهِ، فَعَقَدَ تِسْعَاً، فَقَالَ: إِنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم مَكَثَ تِسْعَ سِنِينَ لَمْ يَحُجَّ، ثُمَّ أَذَّنَ فِي النَّاسِ فِي الْعَاشِرَةِ: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم حَاجٌّ، فَقَدِمَ الْمَدِينَةَ بَشَرٌ كَثِيرٌ، كُلُّهُمْ يَلْتَمِسُ أَنْ يَأْتَمَّ بِرَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم، وَيَعْمَلَ مِثْلَ عَمَلِهِ، وَسَاقَ حَدِيثَ حَجَّةِ النَّبيِّ الطَّوِيلِ.
আর ইমাম মুসলিমের একক বর্ণনা (أفراد) সমূহ হলো:

[1] ইমাম মুসলিম (সালাত অধ্যায়/হাদিস ৭৪২) বলেন: কুতাইবা ইবনে সাঈদ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন হাতিম ইবনে ইসমাঈল হতে, তিনি জাফর ইবনে মুহাম্মদ হতে, তিনি মুহাম্মদ ইবনুল মুনকাদির হতে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে হুনাইন হতে, তিনি আলী হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমার প্রিয়তম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে রুকু অবস্থায় কুরআন তিলাওয়াত করতে নিষেধ করেছেন।

[2] ইমাম মুসলিম (মাসজিদসমূহ অধ্যায়/হাদিস ৬৩৬) বলেন: কুতাইবা ইবনে সাঈদ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন হাতিম ইবনে ইসমাঈল আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি ইয়াজিদ ইবনে আবি উবাইদ হতে, তিনি সালামাহ ইবনুল আকওয়া হতে বর্ণনা করেন যে: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মাগরিবের সালাত আদায় করতেন যখন সূর্য ডুবে যেত এবং পর্দার অন্তরালে আত্মগোপন করত।

[3] ইমাম মুসলিম (যাকাত অধ্যায়/হাদিস ১০২৫) বলেন: কুতাইবা ইবনে সাঈদ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন হাতিম ইবনে ইসমাঈল আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি ইয়াজিদ ইবনে আবি উবাইদ হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আবি আল-লাহমের মুক্তদাস উমাইরকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমার মনিব আমাকে গোশত শুকাতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। তখন একজন অভাবী লোক আমার কাছে আসলে আমি তাকে তা থেকে কিছু খেতে দিই। আমার মনিব তা জানতে পেরে আমাকে প্রহার করেন। এরপর আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এসে বিষয়টি তাঁকে অবহিত করি। তিনি তাঁকে ডেকে পাঠালেন এবং জিজ্ঞেস করলেন: «তুমি তাকে কেন প্রহার করলে?» তিনি বললেন: সে আমার অনুমতি ছাড়াই আমার খাবার দান করে দেয়। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: «এর সওয়াব তোমাদের উভয়ের মাঝেই বণ্টিত হবে।»

[4] ইমাম মুসলিম (সিয়াম অধ্যায়/হাদিস ১১৩৫) বলেন: কুতাইবা ইবনে সাঈদ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন হাতিম ইবনে ইসমাঈল আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি ইয়াজিদ ইবনে আবি উবাইদ হতে, তিনি সালামাহ ইবনুল আকওয়া (রাদিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণনা করেন যে: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আশুরার দিনে আসলাম গোত্রের একজন ব্যক্তিকে পাঠালেন এবং তাকে মানুষের মাঝে এই ঘোষণা দেওয়ার নির্দেশ দিলেন যে: যারা রোজা রাখেনি তারা যেন রোজা রাখে, আর যারা খেয়ে ফেলেছে তারা যেন রাত পর্যন্ত তাদের রোজা পূর্ণ করে।

[5] ইমাম মুসলিম (হজ অধ্যায়/হাদিস ১২১৮) বলেন: আবু বকর ইবনে আবি শাইবা এবং ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম উভয়ে হাতিম ইবনে ইসমাঈল হতে, তিনি জাফর ইবনে মুহাম্মদ হতে, তিনি তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমরা জাবির ইবনে আবদুল্লাহর নিকট উপস্থিত হলাম। তিনি আগত লোকজনের পরিচয় জিজ্ঞাসা করতে করতে শেষে আমার কাছে পৌঁছালেন। আমি বললাম: আমি মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে হুসাইন। তিনি আমার মাথার দিকে হাত বাড়ালেন এবং আমার (জামার) উপরের বোতামটি খুললেন, এরপর নিচের বোতামটি খুললেন। অতঃপর তিনি তাঁর হাতের তালু আমার বুকের মাঝে রাখলেন, তখন আমি ছিলাম এক তরুণ যুবক। তিনি বললেন: তোমাকে স্বাগতম হে আমার ভাতিজা; তুমি যা চাও জিজ্ঞাসা করো। আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম, তখন তিনি ছিলেন অন্ধ। সালাতের সময় উপস্থিত হলে তিনি একটি বুননকৃত চাদর গায়ে জড়িয়ে দাঁড়িয়ে গেলেন। সেটি ছোট হওয়ার কারণে যখনই তিনি তা কাঁধের ওপর রাখতেন, তখনই এর দুই পাশ তাঁর দিকে ফিরে আসত। আর তাঁর বড় চাদরটি পাশেই হ্যাঙ্গারের ওপর রাখা ছিল। তিনি আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন। আমি বললাম: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হজ সম্পর্কে আমাকে অবহিত করুন। তিনি হাত দিয়ে ইশারা করে নয় পর্যন্ত গণনা করলেন এবং বললেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নয় বছর পর্যন্ত হজ করেননি। এরপর দশম বছরে মানুষের মাঝে ঘোষণা দেওয়া হলো যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হজ করবেন। তখন মদীনায় প্রচুর মানুষের আগমন হলো, যাদের প্রত্যেকেই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অনুসরণ করতে এবং তাঁর আমলের অনুরূপ আমল করতে আগ্রহী ছিল। এরপর তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হজের দীর্ঘ হাদিসটি বর্ণনা করেন।
(খণ্ড: ১) শাযারাতুম মিন ইত্তিহাফিল আরীব বিআহকামি মারাতিবি তাকরীবিত তাহযীব (পৃষ্ঠা: ২৬)
[6] قَالَ مُسْلِمٌ (كِتَابُ الإِمَارةِ /ح1822) : حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ وَأَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ قَالا حَدَّثَنَا حَاتِمُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ عَنِ الْمُهَاجِرِ بْنِ مِسْمَارٍ عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ قَالَ: كَتَبْتُ إِلَى جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ مَعَ غُلامِي نَافِعٍ: أَنْ أَخْبِرْنِي بِشَيْءٍ سَمِعْتَهُ مِنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: فَكَتَبَ إِلَيَّ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ جُمُعَةٍ عَشِيَّةَ رُجِمَ الأَسْلَمِيُّ يَقُولُ: «لا يَزَالُ الدِّينُ قَائِمَاً حَتَّى تَقُومَ السَّاعَةُ أَوْ يَكُونَ عَلَيْكُمُ اثْنَا عَشَرَ خَلِيفَةً، كُلُّهُمْ مِنْ قُرَيْشٍ» ، وَسَمِعْتُهُ يَقُولُ: «عُصَيْبَةٌ مِنَ الْمُسْلِمِينَ يَفْتَتِحُونَ الْبَيْتَ الأَبْيَضَ بَيْتَ كِسْرَى أَوْ آلِ كِسْرَى، وَسَمِعْتُهُ يَقُولُ: «إِنَّ بَيْنَ يَدَيِ السَّاعَةِ كَذَّابِينَ فَاحْذَرُوهُمْ» ، وَسَمِعْتُهُ يَقُولُ: «إِذَا أَعْطَى اللهُ أَحَدَكُمْ خَيْرَاً، فَلْيَبْدَأْ بِنَفْسِهِ وَأَهْلِ بَيْتِهِ» ، وَسَمِعْتُهُ يَقُولُ: «أَنَا الْفَرَطُ عَلَى الْحَوْضِ» .

[7] قَالَ مُسْلِمٌ (كِتَابُ الْحَجِّ /ح1387) : حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا حَاتِمُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ عَنْ عُمَرَ بْنِ نُبَيْهٍ أَخْبَرَنِي دِينَارٌ الْقَرَّاظُ قَالَ سَمِعْتُ سَعْدَ بْنَ أَبِي وَقَّاصٍ يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ أَرَادَ أَهْلَ الْمَدِينَةِ بِسُوءٍ أَذَابَهُ اللهُ كَمَا يَذُوبُ الْمِلْحُ فِي الْمَاءِ» .

[8] قَالَ مُسْلِمٌ (كِتَابُ فَضَائِلِ الصَّحَابَةِ /ح2404) : حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ وَمُحَمَّدُ بْنُ عَبَّادٍ قَالا حَدَّثَنَا حَاتِمُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ عَنْ بُكَيْرِ بْنِ مِسْمَارٍ عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ: أَمَرَ مُعَاوِيَةُ بْنُ أَبِي سُفْيَانَ سَعْدَاً فَقَالَ: مَا مَنَعَكَ أَنْ تَسُبَّ أَبَا التُّرَابِ؟ ، فَقَالَ: أَمَّا مَا ذَكَرْتُ ثَلاثَاً قَالَهُنَّ لَهُ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم، فَلَنْ أَسُبَّهُ، لأَنْ تَكُونَ لِي وَاحِدَةٌ مِنْهُنَّ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ حُمْرِ النَّعَمِ، سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ لَهُ خَلَّفَهُ فِي بَعْضِ مَغَازِيهِ، فَقَالَ لَهُ عَلِيٌّ: يَا رَسُولَ اللهِ خَلَّفْتَنِي مَعَ النِّسَاءِ وَالصِّبْيَانِ، فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «أَمَا تَرْضَى أَنْ تَكُونَ مِنِّي بِمَنْزِلَةِ هَارُونَ مِنْ مُوسَى، إِلَاّ أَنَّهُ لا نُبُوَّةَ بَعْدِي» ، وَسَمِعْتُهُ يَقُولُ يَوْمَ خَيْبَرَ: «لأُعْطِيَنَّ الرَّايَةَ رَجُلاً يُحِبُّ اللهَ وَرَسُولَهُ، وَيُحِبُّهُ اللهُ وَرَسُولُهُ» ، قَالَ: فَتَطَاوَلْنَا لَهَا، فَقَالَ: «ادْعُوا لِي عَلِيَّاً» ، فَأُتِيَ بِهِ أَرْمَدَ، فَبَصَقَ فِي عَيْنِهِ، وَدَفَعَ الرَّايَةَ إِلَيْهِ، فَفَتَحَ اللهُ عَلَيْهِ، وَلَمَّا نَزَلَتْ هَذِهِ الآيَةُ «فَقُلْ تَعَالَوْا نَدْعُ أَبْنَاءَنَا وَأَبْنَاءَكُمْ» ، دَعَا رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم عَلِيَّاً وَفَاطِمَةَ وَحَسَنَاً وَحُسَيْنَاً، فَقَالَ: «اللَّهُمَّ هَؤُلاءِ أَهْلِي» .
[6] ইমাম মুসলিম (কিতাবুল ইমারাহ / হাদিস ১৮২২) বলেন: কুতাইবাহ ইবনে সাঈদ এবং আবু বকর ইবনে আবি শায়বাহ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন; তারা উভয়ে বলেন: হাতেম ইবনে ইসমাইল আল-মুহাজির ইবনে মিসমার থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আমির ইবনে সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আমার গোলাম নাফিকের মাধ্যমে জাবির ইবনে সামুরাহর নিকট এই মর্মে পত্র লিখলাম যে, আমাকে এমন কিছু সম্পর্কে অবগত করুন যা আপনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছেন। তিনি বলেন: তখন তিনি আমার নিকট লিখে পাঠালেন: আমি জুমার দিন সন্ধ্যায়, যেদিন আসলামি গোত্রের ব্যক্তিকে পাথর ছুড়ে মারা (রজম) হয়েছিল, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «কিয়ামত সংঘটিত না হওয়া পর্যন্ত এই দ্বীন প্রতিষ্ঠিত থাকবে অথবা তোমাদের উপর বারোজন খলিফা অতিবাহিত হওয়া পর্যন্ত, যাদের সকলেই কুরাইশ বংশের হবে»। এবং আমি তাকে বলতে শুনেছি: «মুসলিমদের একটি ক্ষুদ্র দল শ্বেত প্রাসাদ অর্থাৎ কিসরার বা কিসরার বংশধরদের রাজপ্রাসাদ বিজয় করবে»। এবং আমি তাকে বলতে শুনেছি: «নিশ্চয়ই কিয়ামতের আগে অনেক মহা-মিথ্যাবাদী (كذابين) আত্মপ্রকাশ করবে, সুতরাং তোমরা তাদের থেকে সতর্ক থেকো»। এবং আমি তাকে বলতে শুনেছি: «যখন আল্লাহ তোমাদের কাউকে কোনো কল্যাণ দান করেন, তখন সে যেন তা নিজের এবং তার পরিবার-পরিজনের মাধ্যমে শুরু করে»। এবং আমি তাকে বলতে শুনেছি: «আমি হাউজের নিকট তোমাদের অগ্রবর্তী থাকব»।

[7] ইমাম মুসলিম (কিতাবুল হাজ্জ / হাদিস ১৩৮৭) বলেন: কুতাইবাহ ইবনে সাঈদ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, হাতেম ইবনে ইসমাইল উমর ইবনে নুবাইহ থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, দিনার আল-কাররাজ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাসকে বলতে শুনেছি, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি মদিনাবাসীর সাথে মন্দের সংকল্প করবে, আল্লাহ তাকে এমনভাবে গলিয়ে দেবেন যেমন লবণ পানিতে গলে যায়»।

[8] ইমাম মুসলিম (কিতাব ফাদায়িলুস সাহাবা / হাদিস ২৪০৪) বলেন: কুতাইবাহ ইবনে সাঈদ এবং মুহাম্মদ ইবনে আব্বাদ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন; তারা উভয়ে বলেন: হাতেম ইবনে ইসমাইল বুকাইর ইবনে মিসমার থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আমির ইবনে সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস থেকে, তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান সাদকে নির্দেশ দিলেন এবং বললেন: আবু তুরাবকে গালি দিতে আপনাকে কিসে বাধা দিল? তিনি বললেন: আমি তিনটি বিষয়ের কথা স্মরণ করি যা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সম্পর্কে বলেছিলেন, তাই আমি তাকে কখনোই গালি দেব না। তার সেই গুণাবলির একটির অধিকারী হওয়াও আমার নিকট লাল উটের চেয়ে অধিক প্রিয়। আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাকে উদ্দেশ্য করে বলতে শুনেছি, যখন তিনি তাকে কোনো এক যুদ্ধে পেছনে রেখে গিয়েছিলেন। তখন আলী (রাযি.) তাকে বলেছিলেন: হে আল্লাহর রাসুল! আপনি কি আমাকে নারী ও শিশুদের সাথে রেখে যাচ্ছেন? তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন: «তুমি কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, তুমি আমার নিকট হারুনের নিকট মুসার মর্যাদার মতো হবে? তবে আমার পরে আর কোনো নবুওয়াত নেই»। এবং খায়বারের দিন আমি তাকে বলতে শুনেছি: «আমি অবশ্যই এমন এক ব্যক্তির হাতে পতাকা অর্পণ করব যে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলকে ভালোবাসে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসুলও তাকে ভালোবাসেন»। তিনি (সাদ) বলেন: তখন আমরা সেই মর্যাদার আশায় নিজেদের উঁচু করে ধরলাম। তিনি (রাসুল) বললেন: «আমার নিকট আলীকে ডাকো»। তাকে আনা হলো, তখন তিনি চক্ষুপ্রদাহে আক্রান্ত ছিলেন। তিনি তার চোখে থুথু দিলেন এবং তার হাতে পতাকা তুলে দিলেন, অতঃপর আল্লাহ তার মাধ্যমে বিজয় দান করলেন। আর যখন এই আয়াতটি নাজিল হলো: «বলুন! এসো, আমরা আহ্বান করি আমাদের পুত্রদের এবং তোমাদের পুত্রদের...», তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলী, ফাতেমা, হাসান এবং হুসাইনকে ডাকলেন এবং বললেন: «হে আল্লাহ! এরাই আমার পরিবার»।
(খণ্ড: ১) শাযারাতুম মিন ইত্তিহাফিল আরীব বিআহকামি মারাতিবি তাকরীবিত তাহযীব (পৃষ্ঠা: ২৭)
[9] قَالَ مُسْلِمٌ (كِتَابُ فَضَائِلِ الصَّحَابَةِ /ح2412) : حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبَّادٍ حَدَّثَنَا حَاتِمُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ عَنْ بُكَيْرِ بْنِ مِسْمَارٍ عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدٍ عَنْ أَبِيهِ: أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم جَمَعَ لَهُ أَبَوَيْهِ يَوْمَ أُحُدٍ، قَالَ: كَانَ رَجُلٌ مِنَ الْمُشْرِكِينَ قَدْ أَحْرَقَ الْمُسْلِمِينَ، فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «ارْمِ فِدَاكَ أَبِي وَأُمِّي» ، قَالَ: فَنَزَعْتُ لَهُ بِسَهْمٍ لَيْسَ فِيهِ نَصْلٌ، فَأَصَبْتُ جَنْبَهُ، فَسَقَطَ، فَانْكَشَفَتْ عَوْرَتُهُ، فَضَحِكَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم، حَتَّى نَظَرْتُ إِلَى نَوَاجِذِهِ.

[10] قَالَ مُسْلِمٌ (كِتَابُ الزَّكَاةِ /ح985) : حَدَّثَنِي عَمْرٌو النَّاقِدُ حَدَّثَنَا حَاتِمُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ عَنِ ابْنِ عَجْلانَ عَنْ عِيَاضِ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ أَبِي سَرْحٍ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ: أَنَّ مُعَاوِيَةَ لَمَّا جَعَلَ نِصْفَ الصَّاعِ مِنَ الْحِنْطَةِ عَدْلَ صَاعٍ مِنْ تَمْرٍ، أَنْكَرَ ذَلِكَ أَبُو سَعِيدٍ، وَقَالَ: لا أُخْرِجُ فِيهَا إِلَاّ الَّذِي كُنْتُ أُخْرِجُ فِي عَهْدِ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم صَاعَاً مِنْ تَمْرٍ، أَوْ صَاعَاً مِنْ زَبِيبٍ، أَوْ صَاعَاً مِنْ شَعِيرٍ، أَوْ صَاعَاً مِنْ أَقِطٍ.

[11] قَالَ مُسْلِمٌ (كِتَابُ الْحَجِّ /ح2477) : حَدَّثَنَا أبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ وَسَعِيدُ بْنُ عَمْرٍو الأَشْعَثِيُّ، وَاللَّفْظُ لأبِي بَكْرٍ قالَ: حَدَّثَنَا حَاتِمُ بْنُ إسْمَاعِيلَ عَنْ حُمَيْدِ بْنِ صَخْرٍ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ قَالَ: دَخَلْت عَلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم، فَسَأَلْتُهُ عَنِ الْمَسْجِدِ الَّذِي أُسِّسَ عَلَى التَّقْوَى، فَقَبَضَ قَبْضَةً مِنَ الْحَصَى، ثُمَّ ضَرَبَ بِهَا الأَرْضَ، فَقَالَ: «هَذَا هُوَ» ، يَعْنِي مَسْجِدَ الْمَدِينَةِ.
[9] ইমাম মুসলিম বলেছেন (সাহাবীদের মর্যাদাবিষয়ক অধ্যায় / হাদিস ২৪১২): আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে আব্বাদ বর্ণনা করেছেন, তিনি হাতেম ইবনে ইসমাইল থেকে, তিনি বুকাইর ইবনে মিসমার থেকে, তিনি আমির ইবনে সাদ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন যে: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উহুদের দিন তাঁর জন্য তাঁর পিতা-মাতা উভয়কে একত্রিত করেছিলেন (উভয়ের নামে শপথ করেছিলেন)। তিনি বলেন: মুশরিকদের মধ্যে এক ব্যক্তি মুসলমানদের অতিষ্ঠ করে তুলেছিল, তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে বললেন: «তুমি তীর নিক্ষেপ করো, তোমার জন্য আমার পিতা ও মাতা উৎসর্গিত হোক»। তিনি বলেন: অতঃপর আমি তার লক্ষ্য করে এমন একটি তীর নিক্ষেপ করলাম যাতে কোনো ফলক ছিল না। সেটি তার পার্শ্বদেশে আঘাত করল এবং সে পড়ে গেল, ফলে তার সতর অনাবৃত হয়ে পড়ল। এতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হেসে উঠলেন, এমনকি আমি তাঁর মাড়ির দাঁতগুলো দেখতে পেলাম।

[10] ইমাম মুসলিম বলেছেন (যাকাত অধ্যায় / হাদিস ৯৮৫): আমর আন-নাকিদ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি হাতেম ইবনে ইসমাইল থেকে, তিনি ইবনে আজলান থেকে, তিনি ইয়াজ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আবি সারহ থেকে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরি থেকে বর্ণনা করেছেন যে: মুয়াবিয়া যখন অর্ধেক সা' গমকে এক সা' খেজুরের সমতুল্য নির্ধারণ করলেন, তখন আবু সাঈদ তা প্রত্যাখ্যান করলেন এবং বললেন: আমি সদকা হিসেবে তা ছাড়া অন্য কিছু বের করব না যা আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর যুগে বের করতাম; (আর তা হলো) এক সা' খেজুর, অথবা এক সা' কিশমিশ, অথবা এক সা' যব, অথবা এক সা' পনির।

[11] ইমাম মুসলিম বলেছেন (হজ অধ্যায় / হাদিস ২৪৭৭): আমাদের নিকট আবু বকর ইবনে আবি শাইবাহ এবং সাঈদ ইবনে আমর আল-আশআসি বর্ণনা করেছেন—শব্দ বিন্যাস আবু বকরের—তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাতেম ইবনে ইসমাইল বর্ণনা করেছেন হুমাইদ ইবনে সাখর থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে, তিনি আবু সাঈদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট উপস্থিত হলাম এবং তাঁকে সেই মসজিদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম যার ভিত্তি তাকওয়ার ওপর স্থাপিত। তখন তিনি এক মুষ্টি কাঁকর গ্রহণ করলেন এবং তা দ্বারা মাটিতে আঘাত করে বললেন: «এটিই সেই (মসজিদ)», অর্থাৎ মদিনার মসজিদ।
(খণ্ড: ১) শাযারাতুম মিন ইত্তিহাফিল আরীব বিআহকামি মারাতিবি তাকরীবিত তাহযীব (পৃষ্ঠা: ২৮)
[12] قَالَ مُسْلِمٌ (كِتَابُ /ح560) : حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبَّادٍ حَدَّثَنَا حَاتِمُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ عَنْ يَعْقُوبَ بْنِ مُجَاهِدٍ عَنِ ابْنِ أَبِي عَتِيقٍ قَالَ: تَحَدَّثْتُ أَنَا وَالْقَاسِمُ عِنْدَ عَائِشَةَ رضي الله عنها حَدِيثَاً، وَكَانَ الْقَاسِمُ رَجُلاً لَحَّانَةً، وَكَانَ لأُمِّ وَلَدٍ، فَقَالَتْ لَهُ عَائِشَةُ: مَا لَكَ لا تَحَدَّثُ كَمَا يَتَحَدَّثُ ابْنُ أَخِي هَذَا، أَمَا إِنِّي قَدْ عَلِمْتُ مِنْ أَيْنَ أُتِيتَ، هَذَا أَدَّبَتْهُ أُمُّهُ، وَأَنْتَ أَدَّبَتْكَ أُمُّكَ، قَالَ: فَغَضِبَ الْقَاسِمُ، وَأَضَبَّ عَلَيْهَا، فَلَمَّا رَأَى مَائِدَةَ عَائِشَةَ قَدْ أُتِيَ بِهَا قَامَ، قَالَتْ: أَيْنَ؟ ، قَالَ: أُصَلِّي، قَالَتِ: اجْلِسْ، قَالَ: إِنِّي أُصَلِّي، قَالَتِ: اجْلِسْ غُدَرُ، إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: لا صَلاةَ بِحَضْرَةِ الطَّعَامِ، وَلا هُوَ يُدَافِعُهُ الأَخْبَثَانِ.

[13] قَالَ مُسْلِمٌ (كِتَابُ الْجُمُعَةِ /ح1451) : حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ وَأبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا حَاتِمُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ عَنْ جَعْفَرٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عُبَيْدِ اللهِ بْنِ أَبِي رَافِعٍ، قَالَ: اسْتَخْلَفَ مَرْوَانُ أَبَا هُرَيْرَةَ عَلَى الْمَدِينَةِ، وَخَرَجَ إِلَى مَكَّةَ، فَصَلَّى بِنَا أَبُو هُرَيْرَةَ الْجُمُعَةَ، فَقَرَأَ بِسُورَةِ الْجُمُعَةِ فِي السَّجْدَةِ الأُولَى، وَفِي الآخِرَةِ: «إِذَا جَاءَكَ الْمُنَافِقُونَ» ، فَقَالَ عُبَيْدُ اللهِ: فَأَدْرَكْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ حِينَ انْصَرَفَ، فَقُلْتُ لَهُ: إِنَّك قَرَأْتَ بِسُورَتَيْنِ كَانَ عَلِيٌّ يَقْرَأُ بِهِمَا بِالْكُوفَةِ، فَقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ: إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقْرَأُ بِهِمَا.

[14] قَالَ مُسْلِمٌ (كِتَابُ الزَّكَاةِ /ح1632) : حَدَّثَنَا أبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا حَاتِمُ بْنُ إسْمَاعِيلَ عَنْ خُثَيْمِ بْنِ عِرَاكٍ سَمِعْتُ أَبِي يَقُولُ: سَمِعْت أَبَا هُرَيْرَةَ يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «لَا صَدَقَةَ عَلَى الْمُسْلِمِ فِي عَبْدِهِ، وَلَا فَرَسِهِ» .

[15] قَالَ مُسْلِمٌ (كِتَابُ الاعِتِكَافِ /ح2002) : حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مِهْرَانَ الرَّازِيُّ حَدَّثَنَا حَاتِمُ بْنُ إِسْماَعِيلَ عَنْ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ رضي الله عنه أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَعْتَكِفُ فِي الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ مِنْ رَمَضَانَ.َ

[16] قَالَ مُسْلِمٌ (كِتَابُ الْحجِّ /ح2030) : حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبَّادٍ حَدَّثَنَا حَاتِمُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ عَنْ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ وَنَافِعٍ مَوْلَى عَبْدِ اللهِ وَحَمْزَةَ بْنِ عَبْدِ اللهِ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ رضي الله عنه: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا اسْتَوَتْ بِهِ رَاحِلَتُهُ قَائِمَةً عِنْدَ مَسْجِدِ ذِي الْحُلَيْفَةِ أَهَلَّ، فَقَالَ: لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ لَبَّيْكَ لا شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ لا شَرِيكَ لَكَ، قَالُوا: وَكَانَ عَبْدُ اللهِ بْنُ عُمَرَ رضي الله عنه يَقُولُ: هَذِهِ تَلْبِيَةُ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم. قَالَ نَافِعٌ: كَانَ عَبْدُ اللهِ رضي الله عنه يَزِيدُ مَعَ هَذَا: لَبَّيْكَ لَبَّيْكَ وَسَعْدَيْكَ وَالْخَيْرُ بِيَدَيْكَ لَبَّيْكَ، وَالرَّغْبَاءُ إِلَيْكَ وَالْعَمَلُ.
[12] ইমাম মুসলিম (কিতাব / হাদিস ৫৬০) বলেছেন: আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবন আব্বাদ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট হাতিম ইবন ইসমাইল বর্ণনা করেছেন ইয়াকুব ইবন মুজাহিদ থেকে, তিনি ইবন আবি আতিক থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: আমি এবং কাসিম আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর নিকট বসে একটি বিষয়ে আলোচনা করছিলাম। কাসিম ছিলেন অশুদ্ধ ভাষাভাষী (لحانة) ব্যক্তি, আর তিনি ছিলেন একজন ‘উম্মে ওয়ালাদ’-এর সন্তান। তখন আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) তাকে বললেন: তোমার কী হয়েছে যে, তুমি আমার এই ভাতিজার মতো কথা বলছো না? আমি অবশ্যই জানি তুমি কেন এমন হয়েছো; একে তার মা আদব শিক্ষা দিয়েছে, আর তোমাকে তোমার মা আদব শিক্ষা দিয়েছে। বর্ণনাকারী বলেন: এতে কাসিম রাগান্বিত হলেন এবং তার প্রতি বিমুখতা (أضب) প্রদর্শন করলেন। অতঃপর যখন তিনি আয়েশার দস্তরখান নিয়ে আসতে দেখলেন, তখন তিনি উঠে দাঁড়ালেন। আয়েশা জিজ্ঞেস করলেন: কোথায় যাচ্ছ? তিনি বললেন: আমি সালাত আদায় করব। আয়েশা বললেন: বসো। তিনি পুনরায় বললেন: আমি সালাত আদায় করব। আয়েশা বললেন: বসো হে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গকারী (غدر)! কারণ আমি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: “খাবার উপস্থিত থাকা অবস্থায় কোনো সালাত নেই, আর মল-মূত্রের বেগ চাপিয়ে রাখা অবস্থায়ও কোনো সালাত নেই।”

[13] ইমাম মুসলিম (কিতাবুল জুমুআহ / হাদিস ১৪৫১) বলেছেন: আমাদের নিকট কুতাইবা ইবন সাঈদ ও আবু বকর ইবন আবি শাইবা বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট হাতিম ইবন ইসমাইল বর্ণনা করেছেন জাফর থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি উবাইদুল্লাহ ইবন আবি রাফি থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: মারওয়ান আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে মদিনার ভারপ্রাপ্ত প্রশাসক নিযুক্ত করে নিজে মক্কার উদ্দেশ্যে বের হলেন। আবু হুরায়রা আমাদের নিয়ে জুমার সালাত আদায় করলেন। তিনি প্রথম রাকাতে সূরা আল-জুমুআহ এবং দ্বিতীয় রাকাতে ‘ইযা জাআকাল মুনাফিকুন’ (সূরা আল-মুনাফিকুন) পাঠ করলেন। উবাইদুল্লাহ বলেন: সালাত শেষে আমি আবু হুরায়রার সাক্ষাৎ পেলাম এবং তাকে বললাম: আপনি এমন দুটি সূরা পাঠ করেছেন যা আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) কুফাতে পাঠ করতেন। তখন আবু হুরায়রা বললেন: আমি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে এই দুটি সূরা দিয়েই সালাত আদায় করতে শুনেছি।

[14] ইমাম মুসলিম (কিতাবুজ জাকাত / হাদিস ১৬৩২) বলেছেন: আমাদের নিকট আবু বকর ইবন আবি শাইবা বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট হাতিম ইবন ইসমাইল বর্ণনা করেছেন খুসাইম ইবন ইরাক থেকে, তিনি বলেন: আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে বলতে শুনেছেন যে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: “মুসলিমের ওপর তার দাসের ও তার ঘোড়ার কোনো জাকাত আবশ্যক নয়।”

[15] ইমাম মুসলিম (কিতাবুল ইতিকাফ / হাদিস ২০০২) বলেছেন: আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবন মিহরান আর-রাজি বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট হাতিম ইবন ইসমাইল বর্ণনা করেছেন মুসা ইবন উকবা থেকে, তিনি নাফি থেকে, তিনি ইবন উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করতেন।

[16] ইমাম মুসলিম (কিতাবুল হাজ্জ / হাদিস ২০৩০) বলেছেন: আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবন আব্বাদ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট হাতিম ইবন ইসমাইল বর্ণনা করেছেন মুসা ইবন উকবা থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবন উমরের পুত্র সালিম, আব্দুল্লাহর মুক্তদাস নাফি এবং আব্দুল্লাহর পুত্র হামজা থেকে, তারা আব্দুল্লাহ ইবন উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর উট যখন যুল-হুলাইফা মসজিদের নিকট তাকে নিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়াত, তখন তিনি উচ্চস্বরে ইহরামের তালবিয়া পাঠ করতেন। তিনি বলতেন: ‘লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান নিমাতা লাকা ওয়াল মুলক, লা শারিকা লাক’ (আমি হাজির হে আল্লাহ, আমি হাজির। আমি হাজির, আপনার কোনো শরিক নেই, আমি হাজির। নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা ও নেয়ামত আপনারই এবং রাজত্বও আপনার, আপনার কোনো শরিক নেই)। বর্ণনাকারীগণ বলেন: আব্দুল্লাহ ইবন উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলতেন যে, এটিই ছিল রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর তালবিয়া। নাফি বলেন: আব্দুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এর সাথে আরও বৃদ্ধি করতেন: ‘লাব্বাইকা লাব্বাইকা ওয়া সাদাইকা, ওয়াল খাইরু বিয়াদাইকা লাব্বাইকা, ওয়ার রাগবাউ ইলাইকা ওয়াল আমাল’ (আমি হাজির, আমি হাজির এবং আপনার আনুগত্যে ধন্য, সকল কল্যাণ আপনারই হাতে নিহিত, আমি হাজির। আপনার নিকটই সকল আকুতি এবং সকল আমল আপনারই জন্য)।
(খণ্ড: ১) শাযারাতুম মিন ইত্তিহাফিল আরীব বিআহকামি মারাতিবি তাকরীবিত তাহযীব (পৃষ্ঠা: ২৯)
[17] قَالَ مُسْلِمٌ (كِتَابُ الْحجَِّ /ح2034) : حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا حَاتِمُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ عَنْ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ عَنْ سَالِمٍ قَالَ: كَانَ ابْنُ عُمَرَ رضي الله عنه إِذَا قِيلَ لَهُ الإِحْرَامُ مِنَ الْبَيْدَاءِ، قَالَ: الْبَيْدَاءُ الَّتِي تَكْذِبُونَ فِيهَا عَلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم! ، مَا أَهَلَّ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِلَاّ مِنْ عِنْدِ الشَّجَرَةِ، حِينَ قَامَ بِهِ بَعِيرُهُ.

[18] قَالَ مُسْلِمٌ (كِتَابُ الْحجَِّ /ح2211) : حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبَّادٍ حَدَّثَنَا حَاتِمُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ عَنْ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا طَافَ فِي الْحَجِّ وَالْعُمْرَةِ أَوَّلَ مَا يَقْدَمُ، فَإِنَّهُ يَسْعَى ثَلاثَةَ أَطْوَافٍ بِالْبَيْتِ، ثُمَّ يَمْشِي أَرْبَعَةً، ثُمَّ يُصَلِّي سَجْدَتَيْنِ، ثُمَّ يَطُوفُ بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ.

[19] قَالَ مُسْلِمٌ (كِتَابُ الْحجَِّ /ح2297) : حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْقَارِيُّ (ح) وَحَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ حَدَّثَنَا حَاتِمُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ كِلاهُمَا عَنْ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم حَلَقَ رَأْسَهُ فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ.

[20] قَالَ مُسْلِمٌ (كِتَابُ الْحجَِّ /ح2399) : حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبَّادٍ حَدَّثَنَا حَاتِمُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ عَنْ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ عَنْ سَالِمٍ عَنْ أَبِيهِ: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم أُتِيَ فِي مُعَرَّسِهِ بِذِي الْحُلَيْفَةِ، فَقِيلَ لَهُ: إِنَّكَ بِبَطْحَاءَ مُبَارَكَةٍ.

[21] قَالَ مُسْلِمٌ (كِتَابُ الْفِتَنِ /ح5218) : حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبَّادٍ حَدَّثَنَا حَاتِمُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ عَنْ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم ذَكَرَ الدَّجَّالَ بَيْنَ ظَهْرَانَيِ النَّاسِ، فَقَالَ: إِنَّ اللهَ تَعَالَى لَيْسَ بِأَعْوَرَ، أَلا وَإِنَّ الْمَسِيحَ الدَّجَّالَ أَعْوَرُ الْعَيْنِ الْيُمْنَى، كَأَنَّ عَيْنَهُ عِنَبَةٌ طَافِئَةٌ.

[22] قَالَ مُسْلِمٌ (كِتَابُ اللِّبَاسِ وَالزِّينَةِ /ح3898) : حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبَّادٍ حَدَّثَنَا حَاتِمُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم: أَنَّهُ اصْطَنَعَ خَاتَمَاً مَنْ ذَهَبٍ، وَكَانَ يَجْعَلُ فَصَّهُ مَنْ دَاخِلٍ، فَرَمَى بِهِ، وَقَالَ: «وَاللهِ لا أَلْبَسُهُ أَبَدَاً» ، فَنَبَذَ النَّاسُ خَوَاتِيمَهُمْ.
[17] মুসলিম বলেন (কিতাবুল হাজ্জ / হা ২০৩৪): আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন কুতাইবা বিন সাঈদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাতিম বিন ইসমাঈল, মুসা বিন উকবা থেকে, সালিম থেকে; তিনি বলেন: ইবনে উমর (রা.)-কে যখন বলা হতো যে ইহরাম ‘বাইদা’ নামক স্থান থেকে শুরু করতে হয়, তখন তিনি বলতেন: তোমরা বাইদা সম্পর্কে আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নামে মিথ্যাচার করছ! আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কেবল সেই বৃক্ষটির (যুল-হুলাইফা) নিকট থেকেই ইহরামের তালবিয়া পাঠ (أهلّ) শুরু করেছিলেন, যখন তাঁর উট তাঁকে নিয়ে দাঁড়িয়েছিল।

[18] মুসলিম বলেন (কিতাবুল হাজ্জ / হা ২২১১): আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন আব্বাদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাতিম বিন ইসমাঈল, মুসা বিন উকবা থেকে, নাফি থেকে, ইবনে উমর থেকে: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন হজ ও উমরায় পৌঁছানোর পর প্রথম তাওয়াফ করতেন, তখন তিনি কাবার চারদিকে তিন চক্কর দ্রুত পদক্ষেপে (يسعى) চলতেন এবং চার চক্কর স্বাভাবিকভাবে হাঁটতেন। এরপর তিনি দুই সিজদা (অর্থাৎ দুই রাকাত নামাজ) আদায় করতেন, অতঃপর সাফা ও মারওয়ার মাঝে সায়ি করতেন।

[19] মুসলিম বলেন (কিতাবুল হাজ্জ / হা ২২৯৭): আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন কুতাইবা বিন সাঈদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াকুব বিন আবদুর রহমান আল-কারী থেকে। রূপান্তর (ح); এবং আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন কুতাইবা, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাতিম বিন ইসমাঈল, তারা উভয়ে বর্ণনা করেছেন মুসা বিন উকবা থেকে, নাফি থেকে, ইবনে উমর থেকে: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বিদায় হজের সময় তাঁর মাথা মুণ্ডন করেছিলেন।

[20] মুসলিম বলেন (কিতাবুল হাজ্জ / হা ২৩৯৯): আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন আব্বাদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাতিম বিন ইসমাঈল, মুসা বিন উকবা থেকে, সালিম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন যুল-হুলাইফাতে শেষ রাতে বিশ্রামের জন্য অবস্থান (معرس) করছিলেন, তখন তাঁকে বলা হলো: নিশ্চয়ই আপনি এক বরকতময় উপত্যকায় রয়েছেন।

[21] মুসলিম বলেন (কিতাবুল ফিতান / হা ৫২১৮): আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন আব্বাদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাতিম বিন ইসমাঈল, মুসা বিন উকবা থেকে, নাফি থেকে, ইবনে উমর থেকে: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মানুষের উপস্থিতিতে দাজ্জালের আলোচনা করলেন এবং বললেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা কানা নন। জেনে রাখো, মসিহ দাজ্জাল ডান চোখে কানা, তার চোখটি যেন একটি ভেসে থাকা আঙুর।

[22] মুসলিম বলেন (কিতাবুল লিবাস ওয়াজ যিনাহ / হা ৩৮৯৮): আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন আব্বাদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাতিম বিন ইসমাঈল, উসামা বিন যায়েদ থেকে, নাফি থেকে, ইবনে উমর থেকে, তিনি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন: তিনি একটি স্বর্ণের আংটি তৈরি করেছিলেন এবং এর পাথরটি হাতের তালুর ভেতরের দিকে রাখতেন। অতঃপর তিনি তা নিক্ষেপ করলেন এবং বললেন: "আল্লাহর কসম, আমি এটি আর কখনো পরিধান করব না।" অতঃপর লোকেরাও তাদের আংটিগুলো বর্জন করল।