(খণ্ড: ১)
আল-মানখুল মিন তা'লীক্বাতিল উসুল
(পৃষ্ঠা: -)
المنخول من تعليقات الأصول القسم: أصول الفقه
الكتاب: المنخول من تعليقات الأصول
المؤلف: أبو حامد محمد بن محمد الغزالي الطوسي (ت 505 هـ)
حققه وخرج نصه وعلق عليه: الدكتور محمد حسن هيتو [ت 1447 هـ]
الناشر: دار الفكر المعاصر- بيروت لبنان، دار الفكر دمشق - سورية
الطبعة: الثالثة، 1419 هـ - 1998 م
عدد الصفحات: 618
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-মানখুল মিন তালীকাতিল উসুল বিভাগ: উসুল আল-ফিকহ
গ্রন্থ: আল-মানখুল মিন তালীকাতিল উসুল
লেখক: আবু হামিদ মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আল-গাজ্জালী আত-তুসি (মৃত্যু ৫০৫ হিজরি)
তাহকিক, মূল পাঠ নিরূপণ ও টীকা প্রদান: ডক্টর মুহাম্মদ হাসান হিতু [মৃত্যু ১৪৪৭ হিজরি]
প্রকাশক: দারুল ফিকর আল-মুআসির- বৈরুত লেবানন, দারুল ফিকর দামেস্ক - সিরিয়া
সংস্করণ: তৃতীয়, ১৪১৯ হিজরি - ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬১৮
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-মানখুল মিন তা'লীক্বাতিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৫৯)
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على محمد نبيه وعلى آله وصحبه أجمعين
قد تقرر عند ذوي الألباب أن الفقه أشرف العلوم وأعلاها قدرا وأعظمها خطرا إذ به تعرف الأحكام ويتميز الحلال عن الحرام وهو على علو قدره وتفاقم أمره في حكم الفرع المتشعب عن علم الأصول ولا مطمع في الإحاطة بالفرع وتقريره والاطلاع على حقيقته إلا بعد تمهيد الأصل وإتقانه إذ مثار التخبط في الفروع ينتج عن التخبط في الأصول ولتعلم أن علوم الشرع ثلاثة الكلام والأصول والفقه
ولكل واحد منها مادة منها استمداده وإليها استناده ومقصود به يتعلق قصد الطالب وارتياده فلابد من التنبيه على مادته ليقتبس الخائض فيه منها مبلغ حاجته فيتوسل إلى بغيته ولا غنى عن التنبيه على مقصوده لئلا يكون الطالب على عماية من مطلبه فأما علم الكلام فمادته الميز بين البراهين والاغاليط والميز بين العلوم والاعتقادات والميز بين مجاري العقول ومواقفها وأما مقصوده فهو الإحاطة بحدوث العالم وافتقاره إلى صانع مؤثر
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
যাবতীয় প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর সকল পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর।
প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিদের নিকট এটি সুপ্রতিষ্ঠিত যে, ফিকহ (فقه) হলো ইলম বা জ্ঞানসমূহের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ও মর্যাদায় সর্বোচ্চ এবং এর গুরুত্ব অত্যন্ত ব্যাপক। কেননা এর মাধ্যমেই বিধানাবলি (أحكام) জানা যায় এবং হালাল ও হারামের মধ্যে পার্থক্য করা যায়। ফিকহ তার উচ্চমর্যাদা ও বিষয়বস্তুর ব্যাপকতা সত্ত্বেও তা উসূল (أصول) বা মূলনীতি শাস্ত্র থেকে উদ্ভূত একটি শাখা (فرع) হিসেবে বিবেচিত। মূলনীতিকে সুবিন্যস্ত ও সুদৃঢ়ভাবে আয়ত্ত করা ব্যতিরেকে এর শাখাগত (فرع) বিষয়াদি পরিবেষ্টন করা, তা উপস্থাপন করা কিংবা এর প্রকৃত রহস্য অবগত হওয়ার কোনো উপায় নেই। কেননা শাখাগত বিষয়ে বিভ্রান্তির মূল কারণ হলো মূলনীতিগত (أصول) ত্রুটি। জেনে রাখা প্রয়োজন যে, শরয়ি জ্ঞান মূলত তিনটি: কালাম (كلام), উসূল (أصول) এবং ফিকহ (فقه)।
এগুলোর প্রত্যেকটির জন্য মৌলিক উপাদান (مادة) রয়েছে যেখান থেকে এগুলোর ব্যুৎপত্তি এবং যার ওপর এগুলোর ভিত্তি। তদ্রূপ এগুলোর সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য (مقصود) রয়েছে যা শিক্ষার্থীর অন্বেষণ ও অভীষ্টের সাথে সম্পৃক্ত। সুতরাং এর মৌলিক উপাদানগুলো সম্পর্কে সচেতন করা অপরিহার্য, যাতে এই শাস্ত্রে প্রবেশকারী ব্যক্তি তার প্রয়োজন অনুযায়ী জ্ঞান আহরণ করতে পারে এবং তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে। এর উদ্দেশ্য সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকাও অপরিহার্য যাতে শিক্ষার্থী তার লক্ষ্য সম্পর্কে অন্ধকারে না থাকে। ইলমুল কালাম (علم الكلام)-এর উপাদান (مادة) হলো—প্রমাণ (براهين) ও ভ্রান্তিগুলোর (أغاليط) মধ্যে পার্থক্য করা, নিশ্চিত জ্ঞান ও বিশ্বাসের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করা এবং বুদ্ধিবৃত্তিক যুক্তির গতিপথ ও সীমাবদ্ধতার সীমারেখা চিহ্নিত করা। আর এর উদ্দেশ্য (مقصود) হলো—জগতের নতুনত্ব বা সৃষ্টিতত্ত্ব এবং একজন কুশলী ও প্রভাবশালী স্রষ্টার প্রতি এর মুখাপেক্ষিতার স্বরূপ সম্যক অনুধাবন করা।
(খণ্ড: ১)
আল-মানখুল মিন তা'লীক্বাতিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৬০)
متصف بما يجب من الصفات منزه عما يستحيل تخيله صفة للذات قادر على بعثة الرسل وتأييدهم بالمعجزات وأما الأصول فمادته الكلام والفقه واللغة ووجه استمداده من الكلام أن الإحاطة بالأدلة المنصوبة على الأحكام مبناها على تقبل الشرائع وتصديق الرسل ولا مطمع فيه إلا بعد العلم بالمرسل ووجه استمداده من الفقه أنه المدلول وطلب الدليل مع الذهول عن المدلول مما تأباه مسالك العقول ووجه استمداده من اللغة كون الأصولي مدفوعا إلى الكلام في فحوى الخطاب وتأويل أخبار الرسول عليه السلام ونصوص الكتاب ومقصوده معرفة الأدلة القطعية المنصوبة على الأحكام التكليفية وأخبار الآحاد ومسالك العبر والمقاييس والمستثارة قال بطرق الاجتهاد ليس من
তিনি সেই সকল গুণে গুণান্বিত যা (তাঁর জন্য) আবশ্যক, এবং এমন সব বিষয় থেকে পবিত্র যা তাঁর সত্তার গুণ হিসেবে কল্পনা করা অসম্ভব; তিনি রাসূলদের প্রেরণ করতে এবং অলৌকিক নিদর্শনের (معجزات) মাধ্যমে তাঁদের সমর্থন করতে সক্ষম। আর উসুল (الأصول) তথা মূলনীতির উপাদান হলো ইলমুল কালাম (الكلام), ফিকহ (الفقه) এবং ভাষাতত্ত্ব (اللغة)। কালাম শাস্ত্র থেকে এর ব্যুৎপত্তি গ্রহণের কারণ হলো, বিধানাবলির ওপর স্থাপিত দলিলসমূহ পরিবেষ্টন করার ভিত্তি হলো শরিয়ত গ্রহণ করা এবং রাসূলদের সত্যায়ন করা; আর যিনি প্রেরণকারী (আল্লাহ) তাঁর সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন ব্যতিরেকে এটি অর্জনের কোনো উপায় নেই। ফিকহ থেকে এর ব্যুৎপত্তি গ্রহণের কারণ হলো, এটি নির্দেশিত বিষয় (المدلول); আর নির্দেশিত বিষয় সম্পর্কে বিস্মৃত থেকে দলিলের অনুসন্ধান করা যুক্তিগ্রাহ্য নয়। ভাষাতত্ত্ব থেকে এর ব্যুৎপত্তি গ্রহণের কারণ হলো, একজন উসুলবিদ (الأصولي) সম্বোধনের মর্মার্থ (فحوى الخطاب), রাসূলের সংবাদসমূহের ব্যাখ্যা এবং কিতাবের অকাট্য পাঠসমূহ (نصوص) নিয়ে আলোচনা করতে বাধ্য হন। এর উদ্দেশ্য হলো তাকলিফি বিধানাবলির (الأحكام التكليفية) ওপর স্থাপিত অকাট্য দলিলসমূহ (الأدلة القطعية), একসূত্রে বর্ণিত সংবাদ (أخبار الآحاد), ইবরত বা শিক্ষণীয় পথসমূহ, কিয়াস (المقاييس) এবং ইজতিহাদের (الاجتهاد) পদ্ধতির মাধ্যমে আহরিত বিষয়সমূহ সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা।
(খণ্ড: ১)
আল-মানখুল মিন তা'লীক্বাতিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৬১)
الأصول فإنها مظنونات بجانب أخذها مأخذ القطعيات ولكن افتقر
الأصولي إلى ذكرها لتبين الصحيح من الفاسد والمستند من الحائد ولأن الترجيحات من مغمضات علم الأصول ولا سبيل إليها إلا ببيان المراتب والدرجات وأما الفقه فمادته الأصول ومقصوده معرفة الأحكام الشرعية وتقرير الأحكام عند ظهور العلامات المظنونة معلومة بأدلة قطعية لا ظن فيها
فصلما من علم من هذه العلوم إلا وله مواقع إجماع ومثارات نزاع فمطلع الإجماع في الكلام المدركات بالبداية والضروريات والمعقولات التي يتحد
উসুল বা মূলনীতিসমূহ মূলত ধারণাপ্রসূত বিষয়াবলি (مظنونات), যদিও সেগুলোকে সুনিশ্চিত বিষয়াবলির (قطعيات) ন্যায় গ্রহণ করা হয়; কিন্তু একজন উসুলবিদের নিকট এগুলো উল্লেখ করা আবশ্যক হয়ে পড়ে যেন তিনি সঠিক (صحيح) থেকে ত্রুটিপূর্ণ (فاسد) এবং শক্তিশালী ভিত্তি থেকে বিচ্যুত বিষয়কে পৃথক করতে পারেন। আর যেহেতু অগ্রাধিকার প্রদান সংক্রান্ত বিষয়গুলো উসুল শাস্ত্রের অত্যন্ত সূক্ষ্ম বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত, তাই বিভিন্ন স্তর ও ধাপের বর্ণনা ব্যতীত সে পর্যন্ত পৌঁছানোর কোনো পথ নেই। পক্ষান্তরে ফিকহ শাস্ত্রের ক্ষেত্রে এর মূল উপাদান হলো উসুল এবং এর উদ্দেশ্য হলো শারঈ বিধানসমূহ অবগত হওয়া। ধারণাপ্রসূত নিদর্শনাবলি প্রকাশের সময় বিধানসমূহ সাব্যস্তকরণ সুনিশ্চিত প্রমাণাদির (أدلة قطعية) মাধ্যমে সুপরিজ্ঞাত, যাতে কোনো সংশয় নেই।
পরিচ্ছেদ (فصل)এই বিজ্ঞানসমূহের মধ্যে এমন কোনো শাস্ত্র নেই যার নির্দিষ্ট ঐক্যমত্যের (إجماع) ক্ষেত্র এবং মতভেদের কারণসমূহ নেই। সুতরাং ইলমুল কালামের ক্ষেত্রে ঐক্যমত্যের সূচনা ঘটে প্রাথমিক জ্ঞান, স্বতঃসিদ্ধ বিষয়াবলি এবং বুদ্ধিগত বিষয়গুলোর মাধ্যমে যা ঐক্যবদ্ধ হয়
(খণ্ড: ১)
আল-মানখুল মিন তা'লীক্বাতিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৬২)
فيها صوب النظر ولا يتعدد كإجماع العقلاء على أن القديم لا يعدم ومثار الخلاف فيه تعارض الأدلة والشبهات وأما علم الأصول فمنشأ الوفاق فيه يضاهي منشأ الوفاق في الكلام ومنبع الخلاف فيه أمران أحدهما تعارض الأدلة والشبهات والثاني امتزاج القطع فيها بالظنيات وأما الفقه فموضع الإجماع فيه ما يستند إلى نص كتاب الله أو حديث متواتر أو إجماع واجب الإتباع وما عداها فهو من مظان الظنون وعند الإرتباك فيها يختلف المجتهدون وتضطرب آراؤهم فيتحزبون
এতে সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি নিহিত এবং তা বহুত্ববাদী হয় না; যেমন জ্ঞানীদের ঐক্যমত (إجماع) যে, অনাদি সত্তার বিনাশ নেই। আর এতে মতভেদের কারণ হলো দলিলের পারস্পরিক সংঘাত ও সংশয়সমূহ। পক্ষান্তরে উসুল শাস্ত্রের ক্ষেত্রে ঐকমত্যের উৎস ইলমুল কালামের ঐকমত্যের উৎসেরই অনুরূপ। আর এতে মতভেদের উৎস দুটি বিষয়; তার একটি হলো দলিলের বৈপরীত্য ও সংশয়, আর দ্বিতীয়টি হলো সুনিশ্চিত (قطع) বিষয়ের সাথে ধারণালব্ধ (ظنيات) বিষয়ের সংমিশ্রণ। আর ফিকহ শাস্ত্রের ক্ষেত্রে ঐক্যমত (إجماع)-এর ক্ষেত্র হলো সেই সব বিষয় যা আল্লাহর কিতাবের অকাট্য পাঠ অথবা মুতাওয়াতির (متواتر) হাদিস কিংবা অনুসরণযোগ্য ঐক্যমত (إجماع)-এর ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। এগুলো ছাড়া বাকি সব বিষয় প্রবল ধারণার (ظنون) ক্ষেত্র। আর এগুলোতে বিভ্রান্তি দেখা দিলে মুজতাহিদগণ (مجتهدون) মতভেদ করেন এবং তাঁদের অভিমতগুলো অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে, ফলে তাঁরা বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে যান।
(খণ্ড: ১)
আল-মানখুল মিন তা'লীক্বাতিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৬৩)
باب القول في الأحكام الشرعيةليست أحكام الأفعال صفات ذاتية وإنما معناها ارتباط خطاب الشارع بها نهيا وأمرا وحثا وزجرا فالمحرم هو المقول فيه لا تفعلوه والواجب هو المقول فيه لا تتركوه وهو كالنبوة ليست صفة ذاتية للنبي ولكنها عبارة عن اختصاص شخص بتبليغ خطاب الشارع فقولنا الخمر محرمة تجوز فإنها جماد لا يتعلق بها الخطاب وإنما المحرم تناولها مسألة لا يستدرك حسن الأفعال وقبحا بمسالك العقول بل يتوقف دركها على الشرع المنقول
শরয়ি বিধানাবলি (الأحكام الشرعية) সংক্রান্ত আলোচনার অধ্যায়কর্মসমূহের বিধানাবলি কোনো সত্তাগত বৈশিষ্ট্য (صفات ذاتية) নয়, বরং এর অর্থ হলো এদের সাথে শরিয়তদাতার (الشارع) সম্বোধনের (خطاب) সম্পর্ক; যা নিষেধ (نهيا), আদেশ (أمرا), উৎসাহ প্রদান (حثا) এবং বাধা প্রদানের (زجرا) মাধ্যমে হয়ে থাকে। সুতরাং হারাম (المحرم) হলো সেটি যার ব্যাপারে বলা হয়েছে ‘তোমরা এটি করো না’, আর ওয়াজিব (الواجب) হলো সেটি যার ব্যাপারে বলা হয়েছে ‘তোমরা এটি বর্জন করো না’। আর এটি নবুওয়াতের (النبوة) মতো, যা কোনো নবীর জন্য সত্তাগত বৈশিষ্ট্য (صفة ذاتية) নয়; বরং এটি শরিয়তদাতার (الشارع) বাণী প্রচারের উদ্দেশ্যে কোনো ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট করার নামান্তর। সুতরাং আমাদের এই কথা যে—‘মদ হারাম’, এটি রূপক অর্থে ব্যবহৃত হয়; কারণ মদ একটি জড় পদার্থ যার সাথে (শরয়ি) সম্বোধন সংশ্লিষ্ট হয় না, বরং মদ পান করাই মূলত হারাম (المحرم)। মাসয়ালা (مسألة): কর্মসমূহের ভালো (حسن) বা মন্দ (قبح) হওয়া নিছক বুদ্ধিবৃত্তিক উপায়ে (العقول) নিরূপণ করা যায় না; বরং তা অনুধাবন করা বর্ণিত শরিয়তের (الشرع المنقول) ওপর নির্ভরশীল।
(খণ্ড: ১)
আল-মানখুল মিন তা'লীক্বাতিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৬৪)
فالحسن عندنا ما حسنه الشرع بالحث عليه والقبيح ما قبحه بالزجر عنه والذم عليه وقد خالف في ذلك المعتزلة والكرامية والروافض فقالوا الحسن حسن لذاته والقبيح كذلك ثم قسموا ذلك إلى ما يستدرك بمحض العقل والى ما لا يستدرك إلا بانضمام الشرع إليه كحسن الزكوات والصلوات وأنواع العبادات لأن مصالحهما الخفية لا يطلع عليها إلا بتنبيه وما يستدرك بمحض العقل على زعمهم ينقسم إلى
আমাদের নিকট উত্তম (الحسن) হলো তা-ই যাকে শরীয়ত (الشرع) এর প্রতি উৎসাহ প্রদানের মাধ্যমে উত্তম সাব্যস্ত করেছে, আর মন্দ (القبيح) হলো তা-ই যাকে এর থেকে বিরত থাকার নির্দেশ ও নিন্দার মাধ্যমে মন্দ সাব্যস্ত করেছে। এ বিষয়ে মুতাযিলা (المعتزلة), কাররামিয়া (الكرامية) এবং রাফেযি (الروافض) সম্প্রদায় দ্বিমত পোষণ করেছে। তারা বলেছে, যা উত্তম (الحسن) তা তার স্বকীয় সত্তার কারণেই উত্তম এবং মন্দ (القبيح)-ও অনুরূপ। অতঃপর তারা একে এমন ভাগে বিভক্ত করেছে যা নিছক বিবেকবুদ্ধি (بمحض العقل) দ্বারা অনুধাবনযোগ্য এবং যা শরীয়ত (الشرع)-এর সংশ্লিষ্টতা ব্যতীত অনুধাবন করা সম্ভব নয়—যেমন যাকাত, সালাত এবং বিভিন্ন প্রকার ইবাদতের উত্তম (الحسن) হওয়া; কারণ এগুলোর নিগূঢ় কল্যাণসমূহ কেবল (শরীয়তের) নির্দেশনার মাধ্যমেই অবগত হওয়া যায়। আর তাদের দাবি অনুযায়ী যা নিছক বিবেকবুদ্ধি (بمحض العقل) দ্বারা অনুধাবন করা যায় তা বিভক্ত হয়...
(খণ্ড: ১)
আল-মানখুল মিন তা'লীক্বাতিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৬৫)
المعلوم بضرورة العقل عندهم كحسن الشكر وانقاذ الغرقى والهلكى وكقبح الايلام ابتداء أو الكذب الذي لا غرض فيه
والى المعلوم بالنظر كالكذب الذي يرتبط به غرض ولنا في هذه المسألة مسلكان أحدهما ابطال مذهبهم والثاني اثبات مذهب أهل الحق ولنا في ابطال مذهبهم طريقتان إحداهما جدلية والأخرى معنوية أما الطريقة الجدلية فهي أنا نقول ادعيتم أن حسن بعض الأفعال وقبحها مستدرك ببداية العقول واوائلها ونحن ننازعكم في ذلك ومواضع الضرورات لا يتصور فيها الخلاف بين العقلاء فإن نسبونا إلى عناد عكسنا عليهم دعواهم ثم العناد إنما يتصور في شرذمة يسيرة ونحن الجم الغفير والجمع الكبير لا يتصور منا التواطؤ على
তাদের নিকট বিবেকের আবশ্যকতা (ضرورة العقل) দ্বারা যা জানা যায়—যেমন কৃতজ্ঞতা প্রকাশের কল্যাণকারিতা (حسن) এবং নিমজ্জমান ও বিপন্নদের রক্ষা করা, এবং প্রারম্ভিকভাবে কাউকে কষ্ট দেওয়া কিংবা উদ্দেশ্যহীন মিথ্যার কদর্যতা (قبح)।
আর যা তাত্ত্বিক পর্যালোচনার (النظر) মাধ্যমে জানা যায়, যেমন উদ্দেশ্য-সংশ্লিষ্ট মিথ্যা। এই মাসআলায় আমাদের দুটি কর্মপন্থা রয়েছে: একটি হলো তাদের মতবাদ বাতিল করা এবং দ্বিতীয়টি হলো সত্যপন্থীদের (أهل الحق) মতবাদ সাব্যস্ত করা। তাদের মতবাদ বাতিলের ক্ষেত্রে আমাদের দুটি পদ্ধতি রয়েছে: একটি তর্কমূলক (جدلية) এবং অন্যটি অর্থগত (معنوية)। তর্কমূলক পদ্ধতিটি হলো—আমরা বলি, আপনারা দাবি করেছেন যে কিছু কর্মের কল্যাণকারিতা (حسن) ও কদর্যতা (قبح) বিবেকের প্রারম্ভিক ও প্রাথমিক বোধ দ্বারা অনুধাবনযোগ্য; অথচ আমরা এ বিষয়ে আপনাদের সাথে দ্বিমত পোষণ করছি। আর আবশ্যিক (ضرورات) বিষয়সমূহে বুদ্ধিমানদের মধ্যে মতভেদ থাকা কল্পনা করা যায় না। যদি তারা আমাদের প্রতি সত্যবিমুখতার (عناد) অপবাদ দেয়, তবে আমরা তাদের দাবির বিপরীতে পাল্টা যুক্তি দেব। তাছাড়া সত্যবিমুখতা (عناد) কেবল একটি ক্ষুদ্র গোষ্ঠীর ক্ষেত্রে কল্পনা করা যেতে পারে, কিন্তু আমরা তো এক বিশাল জনসমষ্টি ও বৃহৎ জামাত, যাদের ক্ষেত্রে কোনো বিষয়ে মিথ্যা বা ভুল ধারণার ওপর একমত হওয়া (تواطؤ) অকল্পনীয়।
(খণ্ড: ১)
আল-মানখুল মিন তা'লীক্বাতিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৬৬)
كر العصور وتوالي الدهور من غير فرض رجوع من واحد إلى الانصاف وقولكم أنكم وافقتمونا على اصل العلم وخالفتمونا من في مسندة اهو العقل أم الشرع وذلك لا يمنع دعوي الضرورة كمخالفتكم في الكعبي في علم التواتر في كونه نظريا قلنا ايلام الله سبحانه البهائم معلوم عندكم قبحه بالضرورة لو لم يقدر تعويض ونحن ننازعكم في نفس هذا العلم مع اعتقاد نفي التعويض وبطلان مذهب التناسخية
যুগের আবর্তন এবং সময়ের পরিক্রমায় কোনো একজনের ইনসাফের দিকে ফিরে আসার বাধ্যবাধকতা ছাড়াই। আপনাদের এই দাবি যে, আপনারা ইলমের মূল বিষয়ে আমাদের সাথে একমত হয়েছেন কিন্তু এর ভিত্তি (مسند) সম্পর্কে আমাদের সাথে দ্বিমত করেছেন—তা কি বিবেকপ্রসূত নাকি শরয়ি (شرع)? আর এটি আবশ্যিকতার (ضرورة) দাবিকে নাকচ করে না, যেমন বহুজন-বর্ণিত (تواتر) ইলম তাত্ত্বিক (نظري) হওয়ার প্রশ্নে আল-কাবির সাথে আপনাদের মতবিরোধ রয়েছে। আমরা বললাম, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা কর্তৃক চতুষ্পদ জন্তুদের কষ্ট প্রদান আপনাদের নিকট আবশ্যিকভাবেই (بالضرورة) মন্দ হিসেবে পরিচিত, যদি এর কোনো বিনিময় নির্ধারিত না থাকে। অথচ আমরা এই ইলম নিয়েই আপনাদের সাথে দ্বিমত পোষণ করি, সাথে সাথে আমরা সেই বিনিময়কে অস্বীকার করি এবং জন্মান্তরবাদের মতবাদের অসারতায় বিশ্বাস রাখি।
(খণ্ড: ১)
আল-মানখুল মিন তা'লীক্বাতিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৬৭)
ثم نحن لا نسلم لكم لحسن الراجع إلى الذات وانما المعني بالحسن عندنا ما يحسنه الشارع بالحث عليه ولو قدر عدم ورود الشرع لضاهي بن الكفر الإيمان عندنا فكيف يستقيم ادعاؤكم الموافقة في أصل العلم واما الطريقة المعنوية فهي أنا نقول ما قولكم في واقف على فوهة طريق اجتاز به نبي واشياعه واتبعه غاشم يبغي قتله واستخبره هذه عن حاله ايصدق سنة أم يكذب فإن صدق فهو سعي في روح نبي وان كذب فهو مستقبح لذاته عندكم وصفات الذات لا تتبدل ونحن نعلم إن الكذب احسن من الصدق ههنا المسلك الثاني في اثبات المذهب نقول القتل الواقع اعتداء يجانس القتل المستوفى قصاصا في الصورة والصفات بدليل إن الفافل عمرو عن المستند فيهما لا يميز بينهما والمختلفان في صفة الذات يستحيل اشتباههما وتجانسهما وكذا الوطء في النكاح والزنا فآل مأخذهما إلى
অতঃপর আমরা আপনাদের জন্য এমন কোনো সৌন্দর্য (حسن) স্বীকার করি না যা সত্তার দিকে প্রত্যাবর্তন করে; বরং আমাদের নিকট সৌন্দর্যের (حسن) অর্থ হলো যা শরয়ি বিধানদাতা তার প্রতি উৎসাহিত করার মাধ্যমে সুন্দর সাব্যস্ত করেছেন। যদি শরয়ি বিধানের অনুপস্থিতি কল্পনা করা হতো, তবে আমাদের নিকট কুফর ও ঈমান পরস্পর সদৃশ হতো। এমতাবস্থায় জ্ঞানের মূলভিত্তিতে আপনাদের ঐকমত্যের দাবি কীভাবে সংগত হতে পারে? আর তাত্ত্বিক পদ্ধতিটি হলো এই যে, আমরা বলি: সেই ব্যক্তি সম্পর্কে আপনাদের অভিমত কী যে পথের প্রবেশমুখে অবস্থান করছে এবং তাকে অতিক্রম করে একজন নবী ও তাঁর অনুসারীরা চলে গেলেন, আর একজন জালিম তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে অনুসরণ করল এবং লোকটির কাছে তাঁর অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইল; সে কি সত্য (صدق) বলবে নাকি মিথ্যা (كذب) বলবে? সে যদি সত্য (صدق) বলে তবে তা একজন নবীর প্রাণের নাশের প্রচেষ্টায় পর্যবসিত হবে, আর যদি সে মিথ্যা (كذب) বলে তবে তা আপনাদের নিকট সত্তাগতভাবে মন্দ। অথচ সত্তাগত গুণাবলি কখনো পরিবর্তিত হয় না। আমরা জানি যে, এক্ষেত্রে মিথ্যা (كذب) বলা সত্য (صدق) বলার চেয়ে উত্তম (حسن)। মাযহাব প্রমাণের দ্বিতীয় পথটি হলো: আমরা বলি যে, অন্যায়বশত সংঘটিত হত্যা এবং কিসাস হিসেবে সম্পাদিত হত্যা বাহ্যিক অবয়ব ও গুণাবলির দিক থেকে সমজাতীয়। এর প্রমাণ হলো, যে ব্যক্তি উভয়টির আইনি ভিত্তি সম্পর্কে অনবগত, সে এ দুটির মাঝে কোনো পার্থক্য করতে পারে না। অথচ সত্তাগত বৈশিষ্ট্যে ভিন্ন এমন দুটি বিষয়ের মাঝে পারস্পরিক সাদৃশ্য বা সমজাতীয়তা থাকা অসম্ভব। অনুরূপভাবে বিবাহের মাধ্যমে মিলন এবং ব্যভিচার; ফলে এগুলোর মূল উৎস গিয়ে ঠেকেছে...
(খণ্ড: ১)
আল-মানখুল মিন তা'লীক্বাতিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৬৮)
الاغراض جلبا ودفعا ونحن لا ننكر تفاوت الافعال عند العقلاء لتفاوت الاغراض وانما الخلاف في الافعال بالنسبة إلى الله تعالى وهو منزه عن الاغراض لا يتضرر بالكفر ولا ينتفع بالايمان فلا معنى للتمييز في حقه وكذا فعله تعالى لا يطلب له غرض فيه حتى إذا خالف غرضه قبح ولا تحكم للعباد عليه وهو يفعل ما يشاء فلا يجب عليه تطبيق افعاله على غرض العباد وهو متصرف في ملكه لا اعتراض عليه اصلا ولهم أربع شبه احدها انهم قالوا استحسان مكارم الاخلاق من الشكر والإحسان وانقاذ
الغرقى والهلكى واستقباح الكذب والايلام اطبق عليه العقلاء مع تفاوت قرائحهم فدل على انه مدرك بالضرورة قلنا نعم ذلك مسلم فيما بين الناس ومنشؤ اغراضهم والكفر كالايمان بالنسبة إلى الله عز وجل وليس كالكفر والشكر بالنسبة إلينا فإنا
উদ্দেশ্য অর্জন বা বর্জন; আমরা বুদ্ধিমানদের (العقلاء) নিকট উদ্দেশ্যের ভিন্নতার কারণে কার্যাবলীর ভিন্নতার বিষয়টি অস্বীকার করি না। বস্তুত বিবাদ কেবল মহান আল্লাহর কার্যাবলীর ক্ষেত্রে; তিনি সকল উদ্দেশ্য বা জাগতিক স্বার্থ থেকে পবিত্র (منزه)। কুফরের দ্বারা তাঁর কোনো ক্ষতি হয় না এবং ঈমানের দ্বারা তিনি কোনোভাবেই লাভবান হন না। সুতরাং তাঁর ক্ষেত্রে (ভালো ও মন্দের) পার্থক্যের কোনো অর্থ নেই। তদ্রূপ তাঁর কার্যাবলীর পেছনে কোনো উদ্দেশ্য অন্বেষণ করা হয় না, যেন সেই উদ্দেশ্য লঙ্ঘিত হলে তা মন্দ (قبح) বলে গণ্য হয়। তাঁর ওপর বান্দাদের কোনো শাসন চলে না; তিনি যা ইচ্ছা তা-ই করেন। সুতরাং তাঁর কার্যাবলীকে বান্দাদের উদ্দেশ্যের সাথে মিলানো তাঁর ওপর আবশ্যক (واجب) নয়। তিনি তাঁর একচ্ছত্র মালিকানায় যেভাবে ইচ্ছা পরিচালনা করেন, তাঁর ওপর কোনো আপত্তির অবকাশ নেই। তাদের চারটি সংশয় (شبه) রয়েছে, যার প্রথমটি হলো: তারা বলে যে, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও সদাচরণ এবং ডুবন্ত ও
মুমূর্ষু ব্যক্তিদের উদ্ধার করার ন্যায় মহৎ গুণাবলিকে উত্তম গণ্য করা (استحسان) এবং মিথ্যা ও কষ্ট প্রদানকে মন্দ গণ্য করার (استقباح) বিষয়ে সকল বুদ্ধিমান (العقلاء) ব্যক্তিগণ তাদের মেধার ভিন্নতা সত্ত্বেও ঐকমত্য পোষণ করেছেন। সুতরাং এটি প্রমাণ করে যে, বিষয়টি স্বতঃসিদ্ধভাবে (الضرورة) অনুধাবনীয়। আমরা বলি, হ্যাঁ, মানুষের পারস্পরিক বিষয়ের ক্ষেত্রে এটি স্বীকৃত (مسلم) এবং তা তাদের উদ্দেশ্যেরই উৎস। মহান আল্লাহর নিকট কুফর ও ঈমান একই পর্যায়ের, যা আমাদের নিকট কুফর ও কৃতজ্ঞতার পার্থক্যের ন্যায় নয়। কেননা আমরা...
(খণ্ড: ১)
আল-মানখুল মিন তা'লীক্বাতিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৬৯)
نفرح ونرتاح بالشكر ونغتم قبل بالكفران وسر العبودية التلفت إلى الحظوظ حتى لو ورد الأمر المجرد من الشارع من غير عقاب لما قضى العقل بامتثاله إذ لا غرض لنا ولا للرب سبحانه فيه فإذا اورد العقاب قضى العقل باجتنابه وسر الربوبية! التنزة يحيى عن الحظوظ ومن لم ينزه فقد ذهل عن حقيقة الالهية الثانية إن قالوا ما بال الملك العظيم الولي على الاقاليم يحسن إلى فقير وان اشرف على الموت من غير توقع غرض فيه ليس ذلك إلا لتحسين العقل قلنا المستحث عليه أما استمرار العادة وهي طبيعة خاصة يعسر خلافها أو رقة الجنسية والرب تعالى منزه عن الرقة والشفقة الثالثة انهم قالوا إن البراهمة ونفاة الشرائع ادركوا الحسن والقبح ولا مستند لهم إلا محض العقل قلنا ذلك اعتقاد فاسد كاعتقادكم الرحمن وليس ذلك بعلم كإحالتهم وكان بعثة الرسل
আমরা কৃতজ্ঞতায় আনন্দিত ও প্রশান্ত হই এবং অকৃতজ্ঞতায় ব্যথিত হই। দাসত্বের (عبودية) গূঢ় রহস্য হলো নিজের স্বার্থের দিকে লক্ষ্য রাখা; এমনকি যদি শরিয়ত প্রবর্তকের (شارع) পক্ষ থেকে কোনো শাস্তির বিধান ছাড়াই কেবল সাধারণ আদেশ (امر) প্রদান করা হতো, তবে বুদ্ধি (عقل) তা পালনের আবশ্যকতা বিচার করত না। কারণ এতে আমাদের কোনো উদ্দেশ্য নেই এবং মহান রবেরও এতে কোনো স্বার্থ নেই। অতঃপর যখন শাস্তির (عقاب) ভয় দেখানো হলো, তখন বুদ্ধি (عقل) তা থেকে বেঁচে থাকার সিদ্ধান্ত দিল। আর রুবুবিয়তের (ربوبية) রহস্য হলো সকল প্রকার স্বার্থ ও প্রয়োজন থেকে পবিত্র (تنزيه) থাকা। যে ব্যক্তি আল্লাহকে পবিত্র ঘোষণা করল না, সে মূলত ইলাহিয়তের (الهية) প্রকৃত স্বরূপ সম্পর্কে বিস্মৃত হলো।
দ্বিতীয়ত, তারা যদি বলে যে, বিশাল সাম্রাজ্যের অধিপতি কোনো মহান রাজা কেন একজন মৃত্যুপথযাত্রী দরিদ্রের প্রতি দয়া করেন কোনো স্বার্থ লাভের প্রত্যাশা ছাড়াই? এটা কি কেবল বুদ্ধির (عقل) বিচারে ভালো (حسن) হওয়ার কারণে নয়? আমরা বলি, এর মূল প্রেরণা হলো হয় অভ্যাসের ধারাবাহিকতা যা একটি বিশেষ স্বভাব এবং যার বিরুদ্ধাচরণ করা কঠিন, অথবা এটি স্বজাতীয় সহমর্মিতা। অথচ মহান রব এজাতীয় মানবিক কোমলতা ও করুণা থেকে পবিত্র (منزه)।
তৃতীয়ত, তারা বলে যে, ব্রাহ্মণ এবং শরিয়ত (شرائع) অস্বীকারকারীরা ভালো (حسن) ও মন্দের (قبح) পরিচয় লাভ করেছে, অথচ বিশুদ্ধ বুদ্ধি (عقل) ছাড়া তাদের কাছে আর কোনো ভিত্তি (مستند) নেই। আমরা বলি, এটি একটি ভ্রান্ত (فاسد) বিশ্বাস যেমনটি দয়াময় আল্লাহর ব্যাপারে তোমাদের ধারণা। এটি কোনো জ্ঞান (علم) নয় যেমনটি তাদের অসম্ভব (إحالة) কল্পনা করা। আর এ কারণেই রাসূলগণের প্রেরণ অপরিহার্য হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-মানখুল মিন তা'লীক্বাতিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৭০)
الرابعة
قولهم إن العاقل يؤثر الصدق على الكذب عند استوائهما في الافضاء إلى الغرض وسببه تحسين العقل قلنا لا بل سببه الشرع أو حذر اللوم من الناس أو تقليد مذهبهم الفاسد فإن فرضوا عدم هذه المعاني فيستوي عنده الصدق والكذب ثم غايتهم اعتبار الغائب بالشاهد ويقبح من السيد شاهدا إن يترك عبيده واماءه يموج بعضهم في بعض يزنون ويقتحمون الفواحش وهو قادر على منعهم وقد فعله الرب سبحانه والخلائق في قبضته وقهره فإن قيل تركهم لينزجروا بأنفسهم مؤثرين فيستحقون الثواب قلنا وقد علم انهم لا يفعلون فليمنعهم اجبارا وكم من مجبر ممنوع بزمانة أو عجز عن ارتكاب الفواحش
চতুর্থত
তাদের দাবি এই যে, কোনো উদ্দেশ্য হাসিলের ক্ষেত্রে সত্যবাদিতা (الصدق) ও মিথ্যাচার (الكذب) সমান পর্যায়ের হলে একজন বুদ্ধিমান ব্যক্তি (العاقল) সত্যকেই প্রাধান্য দেন এবং এর কারণ হলো বুদ্ধিবৃত্তিক সৌন্দর্য বিচার (تحسين العقل)। আমরা বলি: বিষয়টি এমন নয়, বরং এর কারণ হলো শরয়ি বিধান (الشرع) অথবা মানুষের নিন্দার ভয় কিংবা তাদের ভ্রান্ত মতাদর্শের অন্ধ অনুসরণ। যদি এই বিষয়গুলোর অনুপস্থিতি ধরে নেওয়া হয়, তবে তার কাছে সত্যবাদিতা (الصدق) ও মিথ্যাচার (الكذب) উভয়ই সমান বিবেচিত হবে। অতঃপর তাদের লক্ষ্য হলো অদৃশ্যের বিষয়কে দৃশ্যমান বিষয়ের ওপর তুলনা করা (اعتبار الغائب بالشاهد)। দৃশ্যমান জগতে কোনো প্রভুর ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত মন্দ বা নিন্দনীয় (يقبح) যে, তিনি তার দাস-দাসীদের একে অপরের সাথে লিপ্ত হতে দেবেন যেখানে তারা ব্যভিচার ও অশ্লীলতায় নিমগ্ন হবে, অথচ তিনি তাদের বাধা দিতে সক্ষম। অথচ মহান প্রতিপালক তা-ই করেছেন, যদিও সমস্ত সৃষ্টি তাঁর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্যের আওতাভুক্ত। যদি বলা হয় যে, তিনি তাদের ছেড়ে দিয়েছেন যাতে তারা নিজেরাই তা থেকে বিরত থেকে সত্যনিষ্ঠ হতে পারে এবং প্রতিদান (الثواب) লাভের যোগ্য হয়, তবে আমরা বলি: তিনি তো জানতেন যে তারা তা করবে না, তাই তাঁর উচিত ছিল তাদের বাধ্যতামূলকভাবে (إجبارا) বিরত রাখা। অথচ এমন অনেক বাধ্য (مجبر) ব্যক্তি রয়েছে যারা দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতা বা অক্ষমতার কারণে অশ্লীলতায় লিপ্ত হতে পারে না।
(খণ্ড: ১)
আল-মানখুল মিন তা'লীক্বাতিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৭১)
مسألة لا يستدرك وجوب شكر المنعم بالعقل خلافا للمعتزلة لان العقل
মাসআলা: নিয়ামতদাতার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনের আবশ্যকতা বুদ্ধিবৃত্তির মাধ্যমে অনুধাবন করা যায় না, যা মুতাযিলাদের মতের পরিপন্থী; কারণ বুদ্ধিবৃত্তি
(খণ্ড: ১)
আল-মানখুল মিন তা'লীক্বাতিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৭২)
لا يوجب الشئ هزلا هملا فلا بد من تخيل غرض وذلك يستحيل رجوعه إلى المشكور فإنه تعالى منزه عن الأغراض والشاكر أيضا لا يلتذ به في الحال بل يتعب نفسه فإن قيل يعرض له انه إن شكر ربه بعد أن عرفه اثيب فيثاب وان كفر فربما يعاقب فعقله يستحثه على سلوك طريق الأمن كالمسافر إذا تصدى له طريقان على هذا الوجه قلنا توقع العقاب مختصا بجانب الكفر خيال فاسد مستنده تخيل غرض في الشكر والمعرفة وهما متساويان عند الرب فلا تمييز
কোনো বিষয়কে পরিহাস বা নিরর্থকভাবে আবশ্যক করা যায় না, তাই অবশ্যই একটি উদ্দেশ্য কল্পনা করতে হবে। আর সেই উদ্দেশ্য কৃতজ্ঞতাভাজন সত্তার দিকে ফিরে আসা অসম্ভব; কেননা মহান আল্লাহ যাবতীয় বৈষয়িক উদ্দেশ্য থেকে পবিত্র। আবার কৃতজ্ঞতা প্রকাশকারী ব্যক্তিও তাৎক্ষণিকভাবে তা থেকে কোনো স্বাদ লাভ করে না, বরং নিজেকে পরিশ্রান্ত করে। যদি বলা হয় যে, তার সামনে এ বিষয়টি উপস্থাপিত হয় যে, সে যদি তার রবকে চেনার পর তাঁর কৃতজ্ঞতা আদায় করে তবে তাকে পুরস্কৃত করা হবে, ফলে সে সওয়াব লাভ করবে; আর যদি সে অকৃতজ্ঞ হয় তবে সম্ভবত তাকে শাস্তি ভোগ করতে হবে। এমতাবস্থায় তার বিবেক তাকে নিরাপত্তার পথ অবলম্বনে প্ররোচিত করে, যেমন একজন মুসাফিরের সামনে যখন একইভাবে দুটি পথ উপস্থাপিত হয়। আমরা বলি: শাস্তির আশঙ্কাকে কেবল অকৃতজ্ঞতার বিষয়ের সাথে নির্দিষ্ট করা একটি অসার বা ত্রুটিপূর্ণ (فاسد) কল্পনা। যার ভিত্তি হলো কৃতজ্ঞতা ও মারেফাতের মাঝে কোনো উদ্দেশ্য কল্পনা করা, অথচ রবের নিকট এ উভয়টিই সমান, তাই কোনো পার্থক্য করার অবকাশ নেই।
(খণ্ড: ১)
আল-মানখুল মিন তা'লীক্বাতিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৭৩)
ثم نقول وقد يخطر للعبد انه إن نظر وشكر ربما يعاقب فإنه عبد مرفه أمده الله تعالى بأسباب التنعم فلعله خلقه للترفه فإتعابه نفسه تصرف منه في مملكته من غير اذنه ولهم شبهتان إحداهما ادعاؤهم اطباق العقلاء على استحسان الشكر واستقباح الكفران وذلك مسلم فيما يرجع إلى الناس لانهم يهتزون بالشكر ويغتمون بالكفر والرب تعالى يستوي في حقه الامران ويعضد هذا الكلام شيئان أحدهما إن المتقرب إلى السلطان بتحريك انملته في زاوية حجرته يسفه في عقله وعبادات العباد بالنسبة إلى جلال الله دونه في الرتبة والثاني إن من تصدق عليه السطان بكسرة من رغيف في غير مخمصة فلو أخذ يدور في البلاد وينادي على رؤوس الاشهاد يشكره كان
অতঃপর আমরা বলি, কোনো বান্দার মনে এই ভাবনার উদয় হতে পারে যে, সে যদি চিন্তা-গবেষণা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তবে হয়তো তাকে শাস্তি প্রদান করা হবে; কেননা সে এমন এক স্বাচ্ছন্দ্যভোগী বান্দা যাকে মহান আল্লাহ তাআলা নেয়ামত ও বিলাসিতার উপকরণ দ্বারা সমৃদ্ধ করেছেন। সম্ভবত আল্লাহ তাকে বিলাসিতার জন্যই সৃষ্টি করেছেন, ফলে (ইবাদতের মাধ্যমে) নিজের নফসকে পরিশ্রান্ত করা আল্লাহর অনুমতি ব্যতিরেকে তাঁর রাজত্বে এক প্রকার অনধিকার চর্চা। তাদের দুটি সংশয় রয়েছে: প্রথমটি হলো, কৃতজ্ঞতা প্রকাশকে উত্তম গণ্য করা এবং অকৃতজ্ঞতাকে মন্দ সাব্যস্ত করার বিষয়ে বিবেকবানদের ঐকমত্য রয়েছে বলে তাদের দাবি। মানুষের ক্ষেত্রে বিষয়টি স্বীকৃত; কারণ তারা কৃতজ্ঞতায় প্রফুল্ল হয় এবং অকৃতজ্ঞতায় ব্যথিত হয়। কিন্তু মহান রবের ক্ষেত্রে উভয় বিষয়ই সমান। এ কথাটিকে দুটি বিষয় শক্তিশালী করে: প্রথমত, যে ব্যক্তি সুলতানের নৈকট্য লাভের আশায় স্বীয় কক্ষের এক কোণে আঙুলের অগ্রভাগ সঞ্চালন করে, সে বুদ্ধিহীন গণ্য হয়; অথচ আল্লাহর মহত্ত্বের তুলনায় বান্দাদের ইবাদতের স্তর তার চেয়েও নিম্নতর। দ্বিতীয়ত, সুলতান যদি কাউকে তীব্র ক্ষুধা বা দুর্ভিক্ষ ব্যতিরেকে এক টুকরো রুটি দান করেন, আর সেই ব্যক্তি যদি জনপদসমূহে ঘুরে ঘুরে জনসমক্ষে উচ্চৈঃস্বরে তাঁর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে থাকে, তবে তা হতো...
(খণ্ড: ১)
আল-মানখুল মিন তা'লীক্বাতিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৭৪)
ذلك خزيا وافتضاحا وجملة انعام الله تعالى على عباده بالنسبة إلى مقدوراته دون ذلك بالنسبة إلى السلطان الثانية قولهم حصر مدارك الوجوب في الشرع المنقول دون مسالك العقول يؤدي إلى افحام الرسول فإنه إذا اظهر المعجزة ودعا الناس إلى النظر قالوا لا يجب علينا النظر في معجزاتك إلا بشرع مستقر فثبت شرعك حتى ننظر في معجزتك والجواب من وجهين
أحدهما إن هذا يلزمكم أيضا لأن العقل بجوهريته روى لا يدل على الوجوب إذ لو دل ذلك لما انفك كل عاقل عن العلم بكل معقول وقد يرى العاقل المعجزة ويذهل عنها فلا يتدبر حتى يتبين وجوب النظر وقولهم إن الإنسان لا يخلو عن خاطرين اجتراء على الحس
এটি অপমান ও লাঞ্ছনার বিষয়। আর তাঁর কুদরত বা ক্ষমতার তুলনায় বান্দাদের ওপর মহান আল্লাহর নেয়ামতসমূহের সমষ্টি একজন সুলতানের নেয়ামতের তুলনায় নগণ্য। দ্বিতীয়ত, তাদের এই দাবি যে—ওয়াজিব বা আবশ্যকতা (وجوب) অনুধাবনের উপায় কেবলমাত্র বর্ণিত (منقول) শরিয়তের মাঝে সীমাবদ্ধ রাখা এবং বুদ্ধিবৃত্তিক পথসমূহ পরিহার করা রাসূলকে নিরুত্তর করার দিকে ধাবিত করে। কারণ তিনি যখন কোনো মুজিজা প্রদর্শন করেন এবং মানুষকে তা নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করার আহ্বান জানান, তখন তারা বলে: "একটি প্রতিষ্ঠিত শরিয়ত ব্যতীত আপনার মুজিজা নিয়ে চিন্তা করা আমাদের ওপর আবশ্যক (واجب) নয়। অতএব, আগে আপনার শরিয়তকে সাব্যস্ত করুন যাতে আমরা আপনার মুজিজা নিয়ে চিন্তা করতে পারি।" এর উত্তর দুইভাবে প্রদান করা যায়:
একটি হলো, এই বিষয়টি আপনাদের ক্ষেত্রেও একইভাবে প্রযোজ্য। কারণ বুদ্ধিবৃত্তি তার আপন সত্তাগত দিক থেকে আবশ্যকতার (وجوب) ওপর প্রমাণ প্রদান করে না। কেননা যদি তা-ই হতো, তবে প্রত্যেক বুদ্ধিমান ব্যক্তিই সকল বুদ্ধিবৃত্তিক জ্ঞান লাভে সক্ষম হতো। অথচ অনেক সময় বুদ্ধিমান ব্যক্তি মুজিজা দেখেও তা থেকে বিমুখ থাকে এবং যতক্ষণ না গবেষণার আবশ্যকতা (وجوب) স্পষ্ট হয়, ততক্ষণ সে তা নিয়ে চিন্তা করে না। আর তাদের এই দাবি যে—মানুষ সর্বদা দুটি পরস্পরবিরোধী চিন্তা বা প্রবৃত্তিগত সংকল্প (خاطرين) থেকে মুক্ত থাকে না, তা ইন্দ্রিয়লব্ধ অনুভূতির ওপর দুঃসাহস প্রদর্শনের নামান্তর।
(খণ্ড: ১)
আল-মানখুল মিন তা'লীক্বাতিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৭৫)
وبالحري إن يتذكر ذلك عند ظهور المعجزة لا قبل ولا يختص وجوبه عندكم بورود الشرع ثم قد يستهين بالرسول فلا يقيم له وزنا ويستمر على غفلته كما نرى فيمن يحضرون مجالس الوعظ فينغمسون ولم في الغفلات والواعظ يعظهم على رؤوس المنابر مع الزعقات والجواب الثاني وهو التحقيق إن الوجوب يثبت بثبوت الشرع فإذا ظهرت المعجزة فقد استقر الشرع فلا يتوقف ذلك على قبول قابل والتكليف لا يستدعي إلا الإمكان وقد أمكن فإن وفق له فاز وإلا هلك وعن هذا قيل لا يتقرب إلى الله تعالى بأول نظر فإنه لا يعلمه إذ لو علمه لعلمه بنظر آخر وخرج الأول عن أن يكون أو لا
বস্তুত অলৌকিক নিদর্শন (معجزة) প্রকাশ পাওয়ার সময় এটি স্মরণ করা বাঞ্ছনীয়, তার আগে নয়। আপনাদের মতে এর আবশ্যকতা (وجوب) কেবল শরিয়ত (الشرع) আগমনের সাথে সুনির্দিষ্ট নয়। অতঃপর কেউ রাসুলের (رسول) প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করতে পারে, তাকে কোনো গুরুত্ব না দিয়ে নিজের উদাসীনতায় মগ্ন থাকতে পারে; যেমনটি আমরা সেই সব লোকদের ক্ষেত্রে দেখি যারা ওয়াজ মাহফিলে উপস্থিত হয়েও চরম উদাসীনতায় ডুবে থাকে, অথচ ওয়ায়েজ মিম্বরের ওপর দাঁড়িয়ে উচ্চস্বরে তাদের নসিহত করতে থাকেন। দ্বিতীয় উত্তর এবং এটিই সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ (تحقيق) হলো যে, আবশ্যকতা (وجوب) শরিয়ত (الشرع) সাব্যস্ত হওয়ার মাধ্যমেই সাব্যস্ত হয়। সুতরাং যখন অলৌকিক নিদর্শন (معجزة) প্রকাশ পায়, তখন শরিয়ত (الشرع) সুপ্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়; আর তা কারো গ্রহণ করার ওপর নির্ভর করে না। আর দায়িত্ব অর্পণ (تكليف) কেবল সম্ভাবনা (إمكان) দাবি করে, আর তা সম্ভব হয়েছে। অতএব, যাকে তাওফিক দেওয়া হয়েছে সে সফল হয়েছে, অন্যথায় সে ধ্বংস হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে বলা হয়েছে যে, প্রথম বুদ্ধিবৃত্তিক পর্যবেক্ষণের (نظر) মাধ্যমেই মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা যায় না; কেননা ব্যক্তি তখন তা অনুধাবন করতে পারে না। কারণ, সে যদি তা জানত তবে অন্য একটি পর্যবেক্ষণের (نظر) মাধ্যমেই তা জানত, ফলে প্রথমটি আর প্রথম হওয়ার পর্যায় থেকে বিচ্যুত হতো।
(খণ্ড: ১)
আল-মানখুল মিন তা'লীক্বাতিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৭৬)
مسألة لا حكم قبل ورود الشرع ونقل عن بعضهم إن الافعال محظورة قبل ورود الشرع وعن بعضهم إنها مباحة ولا يظن بالحاظرين بين تخيل الحظر في مستحسنات العقول وفيما لا بد للنفس منه من أكل وشرب
মাসআলা (مسألة): শরীয়ত আগমনের পূর্বে কোনো বিধান নেই। কারও কারও পক্ষ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, শরীয়ত আগমনের পূর্বে সকল কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ (محظورة) ছিল; আবার অন্যদের মতে তা বৈধ (مباحة)। যারা নিষিদ্ধকরণের প্রবক্তা, তাদের ক্ষেত্রে এমন ধারণা করা সমীচীন নয় যে, তারা বুদ্ধিগতভাবে উত্তম বিষয়সমূহ এবং মানুষের জীবনধারণের জন্য অপরিহার্য পানাহারের মতো বিষয়গুলোর ক্ষেত্রেও নিষিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি কল্পনা করবেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মানখুল মিন তা'লীক্বাতিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৭৭)
ولا بالمبيحين أهل اباحة ما استقبح بالعقل كالايلام حديث والكذب فلعلهم قالوا ذلك فيما لا يقضي العقل فيه بحسن ولا قبح فنقول الحكم بالحظر تحكم لا يدرك بنظر العقل ولا بضرورته إذ لا يرتبط بالانزجار غرض ولا يمكن تقديره في الأقدام واما الاباحة فإن عنوا بها تساوي الاحجام والاقدام مع نفي الأحكام فهو المتمنى وان زعموا أن الاباحة حكم فحكم الله خطابه فمن المبلغ ولا رسول
এবং সেই সব বৈধতাকামীদের (المبيحين) সাথেও নয় যারা বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে কদর্য বিবেচিত বিষয়সমূহকে—যেমন কষ্ট প্রদানের হাদিস এবং মিথ্যাকে—বৈধ (اباحة) সাব্যস্ত করে। সম্ভবত তারা এ কথা ঐসব বিষয়ে বলেছেন যে ক্ষেত্রে বুদ্ধি কোনো উত্তম (حسن) বা মন্দের (قبح) ফয়সালা দেয় না। আমরা বলি, নিষিদ্ধকরণের (الحظر) বিধান (حكم) চাপিয়ে দেওয়া একটি অযৌক্তিক বিষয় যা বুদ্ধিবৃত্তিক পর্যবেক্ষণ বা এর আবশ্যিকতার দ্বারা অনুধাবনযোগ্য নয়; যেহেতু কোনো উদ্দেশ্যই এর নিবৃত্তির সাথে সংশ্লিষ্ট নয় এবং কর্মে অগ্রসর হওয়ার ক্ষেত্রেও এর কোনো অনুমান সম্ভব নয়। আর বৈধতার (الاباحة) ক্ষেত্রে, তারা যদি এর দ্বারা বিধানের (الأحكام) অনুপস্থিতিতে অগ্রসর হওয়া এবং বিরত থাকার সমতাকে বুঝিয়ে থাকেন, তবে তা-ই তো কাম্য। কিন্তু যদি তারা মনে করেন যে বৈধতা (الاباحة) একটি শরয়ী বিধান (حكم), তবে আল্লাহর বিধান (حكم) তো তাঁর ঐশী সম্বোধন; এমতাবস্থায় সংবাদ পৌঁছানোর বাহক কে, যখন কোনো রাসুল নেই?
(খণ্ড: ১)
আল-মানখুল মিন তা'লীক্বাতিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৭৮)
القول في الأحكام التكليفية التكليف مأخوذ من الكلفة على وجه التفعيل ومعناه الحمل على ما في فعله مشقة ويندرج تحته الايجاب والحظر ولا وفق ما يتشوف إليه الطبع أو ينبو عنه إما الندب فهو عند القاضي من التكليف لان تخصيص الفعل بوعد الثواب يحث العاقل على الفعل وهذا من الكلفة والاختيار انه ليس من التكليف لانه ورد مع رفع الجناح والاباحة ليست من التكليف إلا عند الأستاذ أبى اسحق
তাকলিফি বিধানসমূহ (الأحكام التكليفية) সংক্রান্ত আলোচনা: তাকলিফ (تكليف) শব্দটি 'তাফ'ইল' (تفعيل) ছাঁচে 'কুলফাহ' (كلفة) শব্দ থেকে গৃহীত, যার অর্থ হলো এমন বিষয়ের ভার অর্পণ করা যা সম্পাদনে কষ্টসাধ্যতা রয়েছে। এর অন্তর্ভুক্ত হলো অপরিহার্যকরণ (إيجاب) এবং নিষিদ্ধকরণ (حظر); চাই তা মানুষের স্বভাবজাত আকাঙ্ক্ষার অনুকূলে হোক কিংবা প্রতিকূলে। আর পছন্দনীয় (ندب) বিধানটি আল-কাদীর মতে তাকলিফ (تكليف)-এর অন্তর্ভুক্ত; কারণ কোনো কাজের জন্য সওয়াবের প্রতিশ্রুতি নির্দিষ্ট করা বুদ্ধিমান ব্যক্তিকে সেই কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করে, আর এটি কষ্টসাধ্যতারই অন্তর্ভুক্ত। তবে অগ্রগণ্য মত হলো এটি তাকলিফ (تكليف)-এর অন্তর্ভুক্ত নয়; কেননা এটি দায়মুক্ততা (رفع الجناح) প্রদানের সাথে বর্ণিত হয়েছে। আর বৈধতা (إباحة) তাকলিফ (تكليف)-এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তবে উস্তাদ আবু ইসহাক ভিন্ন মত পোষণ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মানখুল মিন তা'লীক্বাতিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৭৯)
قال ووجه الكلفة وجوب اعتقاد كونه مباحا شرعا وهذا ضعيف فإن ذلك مأخوذ من تصديق الرسل ونفس الفعل لا كلفة فيه وتفصيل القول في التكاليف يحصره أربع مسائل مسألة
ذهب شيخنا أبو الحسن رحمه الله إلى جواز تكليف ما لا يطاق مستدلا
তিনি বললেন, দায়বদ্ধতার কারণ হলো বিষয়টিকে শরয়িভাবে বৈধ বলে বিশ্বাস করার আবশ্যকতা। আর এটি একটি দুর্বল (ضعيف) অভিমত; কেননা তা রাসুলগণের সত্যয়ন থেকে গৃহীত, আর মূল কাজের মাঝে কোনো দায়বদ্ধতা নেই। দায়বদ্ধতা সংক্রান্ত বিস্তারিত আলোচনার বিবরণ চারটি মাসআলায় সীমাবদ্ধ। মাসআলা:
আমাদের শাইখ আবুল হাসান (রহিমাহুল্লাহ) সাধ্যাতীত বিষয়ের দায়ভার অর্পণ বৈধ হওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন এবং দলিল হিসেবে পেশ করেছেন...
(খণ্ড: ১)
আল-মানখুল মিন তা'লীক্বাতিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৮০)
بقوله تعالى ولا تحملنا ما لا طاقة لنا به ولا وجه للابتهال لو لم يتصور ذلك بالبال واستدل بأن أبا جهل كلف تصديق رسول الله صلى الله عليه وسلم بعد أن أتى على لسان الرسول انه لا يصدق في اصل تكليفه فحاصله تكليفه أن يصدقه في انه لا يصدقه وهذا المذهب لائق بمذهب شيخنا أبى الحسن لازم له من وجهين إحدهما إن القدرة الحادثة عنده لا تأثير لها في المقدور وهو واقع باختراع الله تعالى وقد كلفنا فعل الغير والآخر أن القاعد عنده غير قادر على القيام وهو مأمور بالقيام وقدرة القيام تقارن القيام ولا ينجي من هذا قول بعض اصحابنا إن القعود
আল্লাহ তাআলার এই বাণীর মাধ্যমে: "হে আমাদের রব! আমাদের ওপর এমন কোনো দায়ভার চাপিয়ে দেবেন না যা বহন করার ক্ষমতা আমাদের নেই।" যদি বিষয়টি বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে অনুমেয় না হতো, তবে এমন আকুল প্রার্থনার কোনো যৌক্তিকতা থাকত না। তিনি এ দ্বারাও প্রমাণ পেশ করেছেন যে, আবু জেহেলকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে সত্য বলে মেনে নেওয়ার দায়ভার অর্পণ (تكليف) করা হয়েছিল, যদিও রাসূলের জবানে এ কথা ব্যক্ত হয়েছিল যে সে তার মৌলিক আহবানের ক্ষেত্রে বিশ্বাস স্থাপন করবে না। সুতরাং তার ওপর দায়ভার অর্পণের (تكليف) সারমর্ম দাঁড়ায় এই যে, তাকে রাসূলকে এই বিষয়ে সত্য বলে বিশ্বাস করতে হবে যে সে তাঁকে সত্য বলে বিশ্বাস করবে না। এই মতবাদটি আমাদের শায়খ আবুল হাসানের মাযহাবের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং দুটি দিক থেকে তাঁর জন্য অপরিহার্য। প্রথমত, তাঁর মতে সৃষ্ট সামর্থ্যের (القدرة الحادثة) কোনো প্রভাব সামর্থ্যধীন বিষয়ের (المقدور) ওপর নেই, বরং তা আল্লাহ তাআলার উদ্ভাবনের (اختراع) মাধ্যমেই সংঘটিত হয়; আর আমাদের ওপর অন্যের কাজেরও দায়ভার অর্পণ করা হয়েছে। দ্বিতীয়ত, তাঁর নিকট উপবিষ্ট ব্যক্তি দণ্ডায়মান হতে অক্ষম (غير قادر), অথচ তাকে দণ্ডায়মান হওয়ার আদেশ দেওয়া হয়েছে; আর দণ্ডায়মান হওয়ার সক্ষমতা (قدرة) কেবল দণ্ডায়মান হওয়ার মুহূর্তেই সৃষ্টি হয়। আমাদের কতিপয় সঙ্গীর এই উক্তি এখান থেকে নিষ্কৃতি দেয় না যে, উপবেশন...
(খণ্ড: ১)
আল-মানখুল মিন তা'লীক্বাতিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৮১)
مقدور فهو مأمور بتركه فان الأمر متوجه بالقيام وهو غير مقدور والقاعد إذا أمر بالطيران فقد أمر بما لا يطيق قطعا وان قدر على ترك القعود والمختار عندنا استحالة تكليف ما لا يطاق نعم ترد صيغة الأمر للتعجيز كقوله تعالى كونوا قردة خاسئين والانباء عن القدرة كقوله تعالى كن فيكون ولم ترد للخطاب والطلب وهذا كقوله تعالى حتى يلج الجمل في
سم الخياط معناه الابعاد لا ما يفهم من صيغة التعليق فإنه يستحيل ان يطلب من المكلف ما لا يطيق والدليل على استحالته إن الأمر طلب يتعلق بمطلوب كالعلم يتعلق بمعلوم والجمع بين القيام والقعود غير معقول فلا يكون مطلوبا ويستحيل طلبه إذ لا يعقل في نفسه
যদি তা সাধ্যাতীত হয়, তবে তাকে তা বর্জনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কারণ নির্দেশটি দণ্ডায়মান হওয়ার প্রতি নিবদ্ধ, অথচ তা সাধ্যাতীত (غير مقدور)। আর উপবিষ্ট ব্যক্তিকে যদি উড্ডয়নের নির্দেশ দেওয়া হয়, তবে তাকে নিশ্চিতভাবেই এমন বিষয়ের নির্দেশ দেওয়া হলো যা পালনে সে অক্ষম (ما لا يطيق), যদিও সে উপবিষ্ট অবস্থা বর্জন করতে সক্ষম। আমাদের নিকট মনোনীত মত হলো সাধ্যের অতীত বিষয়ের দায়িত্বারোপ (تكليف ما لا يطاق) অসম্ভব হওয়া। হ্যাঁ, নির্দেশের গঠন (صيغة الأمر) কখনো অক্ষমতা প্রদর্শনের (تعجيز) উদ্দেশ্যে আসে, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "তোমরা লাঞ্ছিত বানরে পরিণত হও"; আবার কখনো ক্ষমতার সংবাদ প্রদানের জন্য আসে, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "হও, ফলে তা হয়ে যায়"। এখানে তা কোনো সম্বোধন বা তলব বা দাবির (طلب) জন্য আসেনি। আর এটি মহান আল্লাহর এই বাণীর মতো: "যতক্ষণ না উট প্রবেশ করে
সুঁইয়ের ছিদ্রে"; এর অর্থ হলো অসম্ভাব্যতা বা দূরবর্তিতা বোঝানো, শর্তযুক্ত গঠন (صيغة التعليق) থেকে যা আপাতদৃষ্টিতে বোঝা যায় তা নয়। কারণ শরয়ি দায়বদ্ধ ব্যক্তির (مكلف) নিকট তার সাধ্যাতীত কোনো বিষয় তলব করা অসম্ভব। এর অসম্ভবতার প্রমাণ হলো, নির্দেশ হলো এমন এক তলব বা দাবি (طلب) যা উদ্দিষ্ট বিষয়ের (مطلوب) সাথে সম্পৃক্ত, যেমন জ্ঞান (علم) জ্ঞাত বিষয়ের (معلوم) সাথে সম্পৃক্ত হয়। আর একই সাথে দণ্ডায়মান ও উপবিষ্ট থাকার একত্রীকরণ বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে অসম্ভব, তাই তা উদ্দিষ্ট বিষয় (مطلوب) হতে পারে না এবং তা তলব করাও অসম্ভব, যেহেতু তা স্বয়ং অসম্ভব।
(খণ্ড: ১)
আল-মানখুল মিন তা'লীক্বাতিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৮৩)
واختيارنا ان للقدرة الحادثة تعلقا بالمقدرو عند والاستطاعة وإن
এবং আমাদের অভিমত এই যে, সৃষ্ট সক্ষমতার (القدرة الحادثة) একটি সংশ্রব রয়েছে কর্মের (المقدور) সাথে [ক্রিয়া সংগঠনের] সময়ে এবং সামর্থ্যের (الاستطاعة) সাথে; আর যদিও
(খণ্ড: ১)
আল-মানখুল মিন তা'লীক্বাতিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৮৪)
قارنت الفعل فلم يكلف في الشرع إلا ما يتمكن منه قطعا وذلك بين في مصادر الشرع وموارده ووعده ووعيده إذ لا معنى لتخصيص فعل فاعل عن آخر بعقاب أو ثواب مع تساوي الكل في العجز عنه وهذا شئ مستحيل وحكم الإستطاعة يذكر في الكلام وأما أبو جهل فقد كلف أن يقول لا إله إلا الله محمد رسول الله وكان قادرا عليه ثم الرب سبحانه أنه سيمتنع لأنه عنادا مع القدرة فأخبر الرسول به كما علمه فإن قيل الكفار الذين لم يؤمنوا كلفوا الإيمان وقد علم أنهم لا يؤمنون وخلاف المعلوم لا يتصور وقوعه فكان تكليف ما لا يطاق
আমি কর্মের তুলনা করেছি; কেননা শরিয়তে (الشرع) কেবল সেই কাজেরই দায়িত্ব অর্পণ (تكليف) করা হয়েছে যা নিশ্চিতভাবে সম্পাদন করা সম্ভব। আর এটি শরিয়তের (الشرع) উৎসসমূহ ও এর প্রয়োগস্থল এবং এর প্রতিশ্রুতি ও সতর্কবাণীর ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট। কেননা, কোনো কাজ পালনে অক্ষমতার ক্ষেত্রে সকলেই সমান হওয়া সত্ত্বেও, এক ব্যক্তির কাজকে অন্যজন থেকে পৃথক করে শাস্তি বা পুরস্কারের জন্য নির্দিষ্ট করার কোনো অর্থ হয় না। আর এটি একটি অসম্ভব বিষয়; আর সক্ষমতা (الإستطاعة) সংক্রান্ত বিধান ইলমুল কালাম (الكلام) শাস্ত্রে আলোচিত হয়। আর আবু জাহলের ক্ষেত্রে তাকে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’ বলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল এবং সে তা বলতে সক্ষম ছিল। অতঃপর মহান রব জানতেন যে, সে সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও হঠকারিতাবশত তা থেকে বিরত থাকবে; তাই তিনি রাসুলকে সে সম্পর্কে অবহিত করেন যেভাবে তিনি তা জানতেন। যদি বলা হয় যে, যে সকল কাফির ঈমান আনেনি তাদেরকে ঈমান আনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, অথচ এটা আগে থেকেই জানা ছিল যে তারা ঈমান আনবে না; আর আল্লাহ যা জানেন তার বিপরীত কিছু ঘটা অকল্পনীয়, ফলে এটি সাধ্যাতীত দায়িত্ব অর্পণ (تكليف ما لا يطاق) হিসেবে গণ্য হবে।
(খণ্ড: ১)
আল-মানখুল মিন তা'লীক্বাতিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৮৫)
قلنا ينعكس على الملزم هذا في خلاف المعلوم في حق الله تعالى فانه مقدور بالإتفاق وإن لم يقع والتحقيق إن ما كان مقدورا في ذاته جائز الوقوع لا تتغير حقيقته بالعلم فقد اقدر الله سبحانه الكفار على الإيمان ثم علم أنهم يمتنعون مع القدرة
فكان كما علم فلم ينقلب المقدور معجزوزا أخبرنا عنه بسبب علمه مسالة 2 لا يكلف السكران لأن شرط الخطاب فهمه وهو مضمن به والكسران يا لا يفهم فإن قيل له افهم كان تكليف ما لا يطاق وذهب الفقهاء إلى أنه مخاطب تمسكا بقوله تعالى لا تقربوا
আমরা বলি যে, এটি সেই আবশ্যিক বিষয়ের বিপরীতে ফিরে আসে যা আল্লাহ তাআলার ক্ষেত্রে পরিজ্ঞাত বিষয়ের পরিপন্থী; কারণ তা সর্বসম্মতিক্রমে সক্ষমতাধীন (مقدور), যদিও তা বাস্তবে সংঘটিত হয়নি। আর প্রকৃত সত্য (تحقيق) হলো এই যে, যা স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে সক্ষমতাধীন (مقدور), তার সংঘটন হওয়া সম্ভব (جائز); ইলমের কারণে তার প্রকৃত স্বরূপ পরিবর্তিত হয় না। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা কাফিরদের ঈমান আনয়নের সামর্থ্য দান করেছেন, অতঃপর তিনি জানতেন যে তারা সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও তা থেকে বিরত থাকবে।
ফলে বিষয়টি তেমনই হয়েছে যেমনটি তিনি জানতেন; সুতরাং সক্ষমতাধীন (مقدور) বিষয়টি তাঁর ইলমের কারণে অক্ষমতায় (معجوز) পর্যবসিত হয়নি যে সম্পর্কে তিনি আমাদের অবহিত করেছেন। মাসআলা ২: মাতাল ব্যক্তিকে কোনো শরয়ি দায়িত্ব (تكليف) প্রদান করা হবে না; কারণ সম্বোধনের (خطاب) শর্ত হলো তা অনুধাবন করা, যা তার ক্ষেত্রে অনিবার্য। আর মাতাল ব্যক্তি বুঝতে সক্ষম নয়। যদি তাকে বলা হয় ‘অনুধাবন করো’, তবে তা সাধ্যের অতীত দায়িত্ব প্রদান (تكليف ما لا يطاق) বলে গণ্য হবে। পক্ষান্তরে ফকিহগণ এই মত পোষণ করেছেন যে, সে সম্বোধিত (مخاطব); তারা মহান আল্লাহর বাণী “তোমরা (নামাযের) নিকটবর্তী হয়ো না” এর মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মানখুল মিন তা'লীক্বাতিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৮৬)
الصلاة وأنتم سكارى وظاهر الآي لا يصادم المعقولات
সালাত যখন তোমরা মদ্যপ অবস্থায় থাকো এবং আয়াতের বাহ্যিক অর্থ (ظاهر الآي) যুক্তিগ্রাহ্য বিষয়াবলির (المعقولات) সাথে সাংঘর্ষিক নয়।
(খণ্ড: ১)
আল-মানখুল মিন তা'লীক্বাতিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৮৭)
ثم هو خطاب مع المنتشي الذي لم يزل عقله بدليل أنه نزل في شارب خمر أم قوما فقرأ الفاتحة فتخبطت عليه سورة قل يا أيها الكافرون وكان معه من العقل ما يفهم به وقوله سبحانه وتعالى حتى تعلموا ما تقولون معناه لتكونوا على تثبت تام وربما يتمسكون بوجوب القضاء في الصلوات ونفوذ الطلاق وجملة الأحكام قلنا جريان الأحكام عليه تغليظ لان السكر متشوف النفوس وقد تعدى بالتسبب إليه فلا يتوجه إليه الخطاب في حالة السكر اصلا والاحكام جارية والصلاة تقضي بأمر جديد ولو أمر به المجنون
অতঃপর এটি হলো এমন মত্ত ব্যক্তির প্রতি সম্বোধন (خطাব) যার হিতাহিত জ্ঞান সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়নি। এর প্রমাণ হলো, এটি এমন এক মদপানকারীর ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছিল যে একটি সম্প্রদায়ের ইমামতি করেছিল; সে সুরা ফাতিহা পাঠ করেছিল, কিন্তু সুরা 'কুল ইয়া আইয়্যুহাল কাফিরুন' পাঠে বিভ্রান্তিতে পড়ে গিয়েছিল। তার মাঝে অনুধাবন করার মতো ন্যূনতম জ্ঞান অবশিষ্ট ছিল। আর মহান আল্লাহর বাণী—"যাতে তোমরা যা বলছ তা বুঝতে পারো"—এর অর্থ হলো যাতে তোমরা পূর্ণ স্থিরতা ও নিশ্চিতকরণের (تثبت) ওপর থাকতে পারো। তারা সম্ভবত নামাজের কাজা (قضاء) ওয়াজিব হওয়া, তালাক কার্যকর হওয়া এবং সামগ্রিক বিধানাবলির প্রয়োগ দ্বারা দলিল পেশ করেন। আমরা বলি যে, তার ওপর বিধানসমূহ কার্যকর হওয়া মূলত কঠোরতা (تغليظ) আরোপের উদ্দেশ্যে; কারণ মাদকতা হলো নফসের আসক্তিপূর্ণ বিষয় এবং সে মদ্যপানের মাধ্যমে সীমা লঙ্ঘন করেছে। ফলে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় তার প্রতি মূলত কোনো সম্বোধন (خطاب) নিবদ্ধ হয় না, যদিও বিধানসমূহ কার্যকর থাকে। আর নামাজ কাজা (قضاء) করা হয় নতুন নির্দেশের ভিত্তিতে, এমনকি পাগলকেও যদি তা আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হতো।
(খণ্ড: ১)
আল-মানখুল মিন তা'লীক্বাতিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৮৮)
بعد الإفاقة أو الحائض بعد الطهر بفعل الصوم لم يبعد وسببه تعديه بالتسبب إليه مع كونه مجنونا حتى لو ردى نفسه من شاهق فانخلعت
قدماه لا يجب القضاء لأن النفس لا تتشوف إليه والخلاف آيل إلى عبارة إن سلموا لنا استحالة تكليف ما لا يطاق لأنا نسلم الأحكام وجريانها وذلك لا يدل على التكليف والسكران لا يفهم ولا يقال له افهم وهو شرط كل خطاب وكذا الناسي الذاهل حكمه حكم السكران في التكليف مسألة (3) الكفار مخاطبون بفروع الشريعة عند الشافعي خلافا لأبي حنيفة والدليل على جواز تكليفهم الفروع أن العقل لا يحيله إذ التوصل إليه
জ্ঞান ফেরার পর অথবা ঋতুবতী নারী পবিত্র হওয়ার পর রোজা পালন করা অসমীচীন নয়। এর কারণ হলো, পাগল থাকা সত্ত্বেও সে নিজেই এর কারণ সৃষ্টি করার মাধ্যমে সীমালঙ্ঘন করেছে। এমনকি সে যদি নিজেকে কোনো উঁচু স্থান থেকে নিচে ফেলে দেয় এবং তার পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তবে তার ওপর কাজা (قضاء) ওয়াজিব নয়; কারণ মানুষের প্রবৃত্তি এর প্রতি লালায়িত হয় না। এই মতপার্থক্যটি একটি বিশেষ বাক্যের দিকে পর্যবসিত হয়—যদি তারা আমাদের কাছে সাধ্যাতীত কাজের দায়িত্ব অর্পণ (تكليف ما لا يطاق) অসম্ভব হওয়া মেনে নেয়। কারণ আমরা বিধান (حكم) ও সেগুলোর প্রয়োগ স্বীকার করি, আর এটি দায়িত্ব অর্পণ (تكليف) প্রমাণ করে না। মাতাল ব্যক্তি কিছু বোঝে না এবং তাকে 'বোঝ' বলেও সম্বোধন করা যায় না, অথচ এটি প্রতিটি সম্বোধনের (خطاب) শর্ত। অনুরূপভাবে, বিস্মৃত ও অন্যমনস্ক ব্যক্তির বিধানও (حكم) দায়িত্ব অর্পণের (تكليف) ক্ষেত্রে মাতাল ব্যক্তির বিধানের (حكم) মতোই।
মাসআলা (৩): ইমাম আবু হানিফার মতের বিপরীতে ইমাম শাফেয়ীর মতে কাফেররা শরীয়তের শাখা-প্রশাখার (فروع الشريعة) ক্ষেত্রেও সম্বোধিত (مخاطب)। তাদের ওপর শাখা-প্রশাখার দায়িত্ব অর্পণ (تكليف) বৈধ হওয়ার দলিল হলো—বিবেক একে অসম্ভব মনে করে না, যেহেতু এর মাধ্যমে পৌঁছানো...