(খণ্ড: ১)
আল হাজাতু ইলা মা’রিফাতি ইলমিল জারহি ওয়াত তা’দীল - যিমনা আসারুল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: -)
الحاجة إلى معرفة علم الجرح والتعديل - ضمن «آثار المعلمي» القسم: علوم الحديث
الكتاب: الحاجة إلى معرفة علم الجرح والتعديل
[آثار عبد الرحمن بن يحيى المعلمي اليماني (15)]
المؤلف: عبد الرحمن بن يحيى المُعَلِّمي اليماني (1313 - 1386 هـ)
المحقق: علي بن محمد العمران
راجعه: محمد أجمل الإصلاحي - عادل بن عبد الشكور الزرقي
الناشر: دار عالم الفوائد للنشر والتوزيع
الطبعة: الأولى، 1434 هـ
قدمه للشاملة: مؤسسة «عطاءات العلم»، جزاهم الله خيرا
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 10 شوّال 1442
জারহ ও তাদিল (الجرح والتعديل) শাস্ত্র জানার প্রয়োজনীয়তা - «আসারুল মুআল্লিমী»-এর অন্তর্ভুক্ত বিভাগ: উলূমুল হাদিস
গ্রন্থ: জারহ ও তাদিল (الجرح والتعديل) শাস্ত্র জানার প্রয়োজনীয়তা
[আসারু আব্দুর রহমান বিন ইয়াহইয়া আল-মুআল্লিমী আল-ইয়ামানি (15)]
লেখক: আব্দুর রহমান বিন ইয়াহইয়া আল-মুআল্লিমী আল-ইয়ামানি (1313 - 1386 হিজরি)
সম্পাদক (মুহাক্কিক): আলী বিন মুহাম্মদ আল-উমরান
পর্যালোচনা করেছেন: মুহাম্মদ আকমল আল-ইসলাহি - আদিল বিন আব্দুশ শাকুর আল-জুরকি
প্রকাশক: দারু আলামিল ফাওয়াইদ লিন-নাশর ওয়াত-তাউযি
সংস্করণ: প্রথম، 1434 হিজরি
শামিলার জন্য উপস্থাপন করেছেন: ‘আতাআত আল-ইলম’ «ফাউন্ডেশন», আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দিন
[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: 10 শাওয়াল 1442
(খণ্ড: ১৫)
আল হাজাতু ইলা মা’রিফাতি ইলমিল জারহি ওয়াত তা’দীল - যিমনা আসারুল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৯৭)
الرسالة الرابعة
الحاجة إلى معرفة علم الجرح والتعديل
চতুর্থ পত্র
জরাহ (الجرح) ও তাদিল (التعديل) শাস্ত্র সম্পর্কে জানার প্রয়োজনীয়তা
(খণ্ড: ১৫)
আল হাজাতু ইলা মা’রিফাতি ইলমিল জারহি ওয়াত তা’দীল - যিমনা আসারুল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৯৯)
قال تبارك وتعالى: {وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ} [الذاريات: 56]، وعبادته سبحانه وتعالى هي طاعته، وطاعتُه هي امتثال ما أمر به، واجتناب ما نهى عنه، فلذلك بعث الله النبيين مبشرين ومنذرين، وعلّمهم الكتابَ والحكمةَ، ليبينوا للناس أمرَ الله عز وجل ونهيَه، فيكون لمن أراد أن يقوم بما خُلق لأجله سبيلٌ إلى معرفته، فيسعى في تحصيله، وذاك السعي بنفسه عبادة، وتقوم الحجة على من لم يُرِد ذلك، فيحيا من حيَّ عن بيّنة، ويَهْلِك من هلك عن بيّنة.
ولما قضى سبحانه وتعالى أن نبوّة محمد صلى الله عليه وآله وسلم خاتم النبيين وشريعتَه خاتمةُ الشرائع قضى أن تبقى محفوظةً إلى قيام الساعة، قال تعالى: {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} [الحجر: 9].
والذِّكْر متناولٌ للسنة إن لم يكن بلفظه فبمعناه؛ لأن المقصود من حفظ القرآن إنما هو حفظ ما يعلم به أمر الله عز وجل ونهيه، وهذا ثابت للسنة.
ومَنْ أوفى بعهده من الله؟ فقد وفّى سبحانه وتعالى بعهده، فقيَّض للدين حَفَظَة، وللسنة نَقَلَة.
فإن قيل: قد اختلط بها ما ليس منها.
قلنا: أما أن تلتبس بها ألبتة بحيث لا يمكن تمييز الحق من الباطل، فلا والله.
وأما بحيث يشتبه، فيتوقف التمييز على النظر والاجتهاد، فنعم، وتلك سنة الله عز وجل.
মহান ও বরকতময় আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: {আমি জিন ও মানবজাতিকে কেবল আমার ইবাদত করার জন্যই সৃষ্টি করেছি} [আয-যারিয়াত: ৫৬]। আর তাঁর সুবহানাহু ওয়া তাআলার ইবাদত হলো তাঁর আনুগত্য করা; আর তাঁর আনুগত্য হলো তাঁর আদেশকৃত বিষয়সমূহ পালন করা এবং তাঁর নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ পরিহার করা। এ উদ্দেশ্যেই আল্লাহ তাআলা নবীগণকে সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে প্রেরণ করেছেন এবং তাঁদেরকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দিয়েছেন, যাতে তাঁরা মানুষের নিকট মহান আল্লাহর আদেশ ও নিষেধ বর্ণনা করতে পারেন। ফলে যে ব্যক্তি সেই উদ্দেশ্য পালন করতে চায় যার জন্য তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে, তার কাছে তা জানার একটি পথ উন্মুক্ত হয় এবং সে তা অর্জনে সচেষ্ট হয়। আর সেই প্রচেষ্টা নিজেই একটি ইবাদত। অন্যদিকে, যারা এটি চায় না তাদের বিরুদ্ধে অকাট্য প্রমাণ (حجة) প্রতিষ্ঠিত হয়, যাতে যে জীবিত থাকে সে সুস্পষ্ট প্রমাণের (بينة) ভিত্তিতেই জীবিত থাকে এবং যে ধ্বংস হয় সে সুস্পষ্ট প্রমাণের (بينة) ভিত্তিতেই ধ্বংস হয়।
আর যখন তিনি সুবহানাহু ওয়া তাআলা ফয়সালা করলেন যে সর্বশেষ নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের নবুয়ত হবে সকল নবীর পরিসমাপ্তি এবং তাঁর শরিয়ত হবে সর্বশেষ শরিয়ত, তখন তিনি ফয়সালা করলেন যে একে কিয়ামত পর্যন্ত সংরক্ষিত রাখা হবে। আল্লাহ তাআলা বলেন: {নিশ্চয়ই আমিই যিকর নাজিল করেছি এবং আমিই তার সংরক্ষক} [আল-হিজর: ৯]।
আর ‘যিকর’ শব্দটি সুন্নাহকেও শামিল করে, যদি তা শব্দগতভাবে না হয় তবে অর্থগতভাবে তো বটেই। কেননা কুরআন সংরক্ষণের মূল উদ্দেশ্য হলো যার মাধ্যমে মহান আল্লাহর আদেশ ও নিষেধ জানা যায় তা সংরক্ষণ করা; আর এটি সুন্নাহর ক্ষেত্রেও সাব্যস্ত।
আর আল্লাহর চেয়ে প্রতিশ্রুতি রক্ষায় কে বেশি সত্যবাদী? মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করেছেন; ফলে তিনি দ্বীনের জন্য কিছু হেফজকারী এবং সুন্নাহর জন্য কিছু বর্ণনাকারী (نقلة) নির্ধারণ করে দিয়েছেন।
যদি বলা হয়: এর (সুন্নাহর) সাথে এমন কিছু মিশ্রিত হয়ে গেছে যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়।
আমরা বলি: সুন্নাহর সাথে তা এমনভাবে ও ওতপ্রোতভাবে মিশে যাবে যে সত্য থেকে মিথ্যাকে পৃথক করা সম্ভব হবে না—আল্লাহর কসম, তা কখনো হতে পারে না।
তবে যদি এমন অস্পষ্টতা তৈরি হয় যাতে সত্য-মিথ্যা নিরুপণ করা গভীর পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা (اجتهاد)-এর ওপর নির্ভর করে, তবে সেটি হতে পারে এবং এটিই মহান আল্লাহর চিরন্তন নীতি।
(খণ্ড: ১৫)
আল হাজাতু ইলা মা’রিফাতি ইলমিল জারহি ওয়াত তা’দীল - যিমনা আসারুল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ১০০)
قال الله تبارك وتعالى: {وَكَذَلِكَ جَعَلْنَا لِكُلِّ نَبِيٍّ عَدُوًّا شَيَاطِينَ الْإِنْسِ وَالْجِنِّ يُوحِي بَعْضُهُمْ إِلَى بَعْضٍ زُخْرُفَ الْقَوْلِ غُرُورًا وَلَوْ شَاءَ رَبُّكَ مَا فَعَلُوهُ فَذَرْهُمْ وَمَا يَفْتَرُونَ (112) وَلِتَصْغَى إِلَيْهِ أَفْئِدَةُ الَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِالْآخِرَةِ وَلِيَرْضَوْهُ وَلِيَقْتَرِفُوا مَا هُمْ مُقْتَرِفُونَ} [الأنعام: 112 - 113].
قال تعالى: {أَمْ حَسِبْتُمْ أَنْ تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ وَلَمَّا يَعْلَمِ اللَّهُ الَّذِينَ جَاهَدُوا مِنْكُمْ وَيَعْلَمَ الصَّابِرِينَ} [آل عمران: 142].
وقال سبحانه: {وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنِ افْتَرَى عَلَى اللَّهِ كَذِبًا أَوْ كَذَّبَ بِالْحَقِّ لَمَّا جَاءَهُ أَلَيْسَ فِي جَهَنَّمَ مَثْوًى لِلْكَافِرِينَ (68) وَالَّذِينَ جَاهَدُوا فِينَا لَنَهْدِيَنَّهُمْ سُبُلَنَا وَإِنَّ اللَّهَ لَمَعَ الْمُحْسِنِينَ} [خاتمة العنكبوت].
يحسب كثير من الناس أن الجهاد في تمييز الحق من الباطل في السنة قد انتهى دوره، وهم فرق:
الأولى: غُلاة المقلدين، الذين يزعمون أنه لم يبق للناس طريق إلى معرفة الشريعة إلا بأقوال أئمتهم أو القياس عليها.
الثانية: من يترقّى عن هذه الدرجة، ولكنه يزعم أنه لا طريق إلى معرفة صحاح الأحاديث من ضعافها إلا بأقوال أئمة الحديث الذين ميزوا الصحيح من غيره.
الثالثة: من يترقّى عن هذه الدرجة، ولكنه يرى أنه لا طريق إلى معرفة أحوال الرواة إلا بما قاله فيهم أئمة الحديث، كما هو مدون في كتب الرجال.
فأما الفرقة الأولى: فليس هذا مقام البحث معها.
মহান আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা বলেন: {আর এভাবেই আমি প্রত্যেক নবীর জন্য মানুষ ও জিনের মধ্য থেকে শয়তানদের শত্রু বানিয়েছি, তারা ধোঁকা দেওয়ার উদ্দেশ্যে একে অপরকে চমৎকার সব কথা প্ররোচনা দেয়। আর আপনার প্রতিপালক যদি চাইতেন তবে তারা তা করত না। সুতরাং আপনি তাদেরকে এবং তাদের মিথ্যা অপবাদগুলোকে বর্জন করুন। (১১২) আর যাতে পরকালে যারা বিশ্বাস করে না তাদের অন্তর সেদিকে ধাবিত হয় এবং তারা তাতে সন্তুষ্ট হয় এবং তারা যা করে তা যেন করতে পারে।} [আল-আনআম: ১১২-১১৩]।
মহান আল্লাহ বলেন: {তোমরা কি মনে করেছ যে তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করবে, অথচ আল্লাহ এখনও জেনে নেননি তোমাদের মধ্যে কারা জিহাদ করেছে এবং ধৈর্যশীলদেরকেও তিনি এখনও স্পষ্ট করেননি?} [আল ইমরান: ১৪২]।
এবং মহান আল্লাহ পবিত্র সত্তা বলেন: {সে ব্যক্তির চেয়ে বড় জালেম আর কে হতে পারে, যে আল্লাহর ওপর মিথ্যা অপবাদ আরোপ করে অথবা সত্য যখন তার কাছে আসে তখন তাকে অস্বীকার করে? কাফেরদের আবাসস্থল কি জাহান্নাম নয়? (৬৮) আর যারা আমার পথে জিহাদ করে, আমি অবশ্যই তাদেরকে আমার পথে পরিচালিত করব। নিশ্চয়ই আল্লাহ সৎকর্মশীলদের সাথে আছেন।} [আনকাবুত এর শেষাংশ]।
অনেক মানুষ মনে করে যে, সুন্নাহর ক্ষেত্রে সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য নিরূপণে জিহাদের যে ভূমিকা তা শেষ হয়ে গেছে; তারা কয়েকটি দলে বিভক্ত:
প্রথম দল: চরমপন্থী মুকাল্লিদগণ, যারা দাবি করে যে তাদের ইমামদের বক্তব্য অথবা তার ওপর ভিত্তি করে কিয়াস (القياس) করা ব্যতীত শরীয়ত জানার আর কোনো পথ মানুষের জন্য অবশিষ্ট নেই।
দ্বিতীয় দল: যারা এই স্তরের চেয়ে কিছুটা অগ্রসর, কিন্তু তারা দাবি করে যে হাদিসের ঐ সকল ইমামদের বক্তব্য ব্যতীত সহিহ (صحاح) হাদিস ও জইফ (ضعاف) হাদিস চেনার আর কোনো পথ নেই, যারা সহিহ (الصحيح) কে অন্যান্য হাদিস থেকে পৃথক করেছেন।
তৃতীয় দল: যারা এই স্তরের চেয়েও কিছুটা উপরে, তবে তারা মনে করে যে হাদিসের ইমামগণ বর্ণনাকারীদের (الرواة) অবস্থা সম্পর্কে যা বলেছেন তা ব্যতীত তাদের অবস্থা জানার কোনো পথ নেই, যেমনটি রিজাল (الرجال) শাস্ত্রের গ্রন্থসমূহে লিপিবদ্ধ রয়েছে।
আর প্রথম দলটির বিষয়ে: তাদের সাথে আলোচনার স্থান এটি নয়।
(খণ্ড: ১৫)
আল হাজাতু ইলা মা’রিফাতি ইলমিল জারহি ওয়াত তা’দীল - যিমনা আসারুল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ১০১)
وأما الفرقة الثانية: فيقال لهم: أرأيتم أولئك الأئمة أمعصومين كانوا؟
فإن قالوا: لا.
قيل لهم: فالعادة تقضي بأنهم لم يسلموا من الخطأ.
فإن قالوا: العبرة بالغالب.
قيل لهم: أفرأيتم إذا كانت الطريق لمعرفة ما غلطوا فيه موجودة، لماذا تسدونها؟
أو رأيتم ما اختلف فيه إمامان، فصححه أحدهما، وضعفه آخر؟
فإن قلتم: يُتوقّف فيه.
قيل لكم: فإذا كانت السبيل إلى معرفة المصيب منهما موجودة، لماذا تقطعونها؟
أو رأيتم ما لم يُنْقَل عن الأئمة فيه تصحيح ولا تضعيف، ومعرفة حاله ممكنة، لماذا تتركونها؟
فإن قالوا: إنما ذهبنا إلى ما ذهبنا إليه لقصور عِلْم الناس، فإن غاية أحدهم أن يعرف أن رواة هذا الحديث ثقات، قد سمع كلٌّ منهم ممن قبله، وهذا وحده لا يقتضي الصحة؛ فإن شَرْط الصحيح أن يسلم من الشذوذ والعلة، ومعرفة العلل بغاية الصعوبة.
قيل لهم: أرأيتم تلك الصعوبة، أتَبْلُغ أن يُقْطَع لأجلها بأن بلوغ تلك الرتبة مستحيل؟
فإن قالوا: نعم.
আর দ্বিতীয় দলের ক্ষেত্রে, তাদের বলা হবে: আপনারা কি মনে করেন ঐ সকল ইমামগণ নিষ্পাপ (معصومين) ছিলেন?
তারা যদি বলে: না।
তখন তাদের বলা হবে: তবে স্বভাবগতভাবেই প্রতীয়মান হয় যে, তারা ভুল (خطأ) থেকে মুক্ত ছিলেন না।
তারা যদি বলে: অধিকাংশের ওপরই ভিত্তি করা হয়।
তাদের বলা হবে: আপনারা কি মনে করেন, যদি তাদের ভুলের বিষয়গুলো জানার পথ বিদ্যমান থাকে, তবে কেন আপনারা তা রুদ্ধ করছেন?
অথবা আপনারা কি সেই বিষয়টি বিবেচনা করেছেন যে বিষয়ে দুইজন ইমাম মতভেদ করেছেন, যেখানে একজন একে সহিহ (صححه) বলেছেন এবং অন্যজন একে জয়িফ (ضعفه) বলেছেন?
আপনারা যদি বলেন: এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিরত থাকা (توقّف) হবে।
তবে আপনাদের বলা হবে: যদি তাদের মধ্যে কে সঠিক তা জানার পথ বিদ্যমান থাকে, তবে কেন আপনারা তা বিচ্ছিন্ন করে দিচ্ছেন?
অথবা আপনারা কি লক্ষ্য করেছেন যে সকল বিষয়ে ইমামগণের নিকট থেকে সহিহ ঘোষণা (تصحيح) কিংবা জয়িফ ঘোষণা (تضعيف) কোনটিই বর্ণিত হয়নি, অথচ তার অবস্থা জানা সম্ভব, তবে কেন আপনারা তা বর্জন করছেন?
তারা যদি বলে: মানুষের জ্ঞানের সীমাবদ্ধতার কারণেই আমরা এই পথ অবলম্বন করেছি। কারণ যে কারো সর্বোচ্চ সক্ষমতা হলো এটি জানা যে, এই হাদিসের রাবিগণ নির্ভরযোগ্য (ثقات), এবং তাদের প্রত্যেকেই তাদের পূর্ববর্তী বর্ণনাকারীর নিকট থেকে শুনেছেন। কিন্তু শুধুমাত্র এটিই সহিহ হওয়া (الصحة) এর জন্য যথেষ্ট নয়; কেননা সহিহ (الصحيح) হওয়ার শর্ত হলো এটি শায (الشذوذ) এবং ইল্লত (العلة) থেকে মুক্ত হওয়া, আর ইল্লত (العلل) নিরুপণ করা অত্যন্ত কঠিন।
তাদের বলা হবে: সেই কাঠিন্য কি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যার কারণে এটি নিশ্চিতভাবে বলা যায় যে, সেই স্তরে পৌঁছানো অসম্ভব?
তারা যদি বলে: হ্যাঁ।
(খণ্ড: ১৫)
আল হাজাতু ইলা মা’রিফাতি ইলমিল জারহি ওয়াত তা’দীল - যিমনা আসারুল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ১০২)
قيل لهم: هذا خلاف قضاء الله السابق، ووعده الصادق، فإن معرفة حكم تلك الأحاديث من الدين الذي تكفَّل الله عز وجل بحفظه.
وإن قالوا: أما الاستحالة فلا، ولكن بلوغها متعسّر.
قيل لهم: فهلموا إلى السعي في سبيلها، والاجتهاد في تحصيلها، وقد قال الله عز وجل: {وَالَّذِينَ جَاهَدُوا فِينَا
… } الآية [العنكبوت: 69].
وأما الفرقة الثالثة؛ فيقال لهم: أرأيتم من لم يوثّق، ولم يجرَّح؟
فإن قالوا: مجهول.
قلنا: أرأيتم إن أريناكم الطريق إلى معرفة أحوال كثير من هؤلاء، أتسلكونها على ما فيها من التعب؟
أو رأيتم من قال فيه بعض الأئمة: روى عنه ثقة ولم أر في حديثه ما يدلُّ على ضعفه، أيكون هذا توثيقًا؟
فإن قالوا: لا.
قيل: فإنّ من أهل العلم مَن يقول في مثل هذا: هو «ثقة»، فمَنْ عُلِم أن هذا مذهبه، هل يُعتدّ بتوثيقه؟
فإن قالوا: لا.
قيل لهم: فلعل كثيرًا من الموثِّقين يرى هذا المذهب، فكيف تستندون إلى توثيقهم بدون أن تعرفوا مذهبهم؟
أو رأيتم ألفاظ الجرح والتعديل، هل الأئمة متفقون على معانيها؟
তাদের বলা হলো: এটি আল্লাহর পূর্বনির্ধারিত ফয়সালা এবং তাঁর সত্য প্রতিশ্রুতির পরিপন্থী। কারণ সেসব হাদিসের বিধান সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা দ্বীনেরই অংশ, যার হিফাজতের দায়িত্ব আল্লাহ তাআলা স্বয়ং গ্রহণ করেছেন।
আর তারা যদি বলে: অসম্ভব হওয়ার বিষয়টি তা নয়, বরং সেই পর্যন্ত পৌঁছানো কষ্টসাধ্য।
তাদের বলা হলো: তাহলে তোমরা এর পথে চেষ্টা করো এবং তা হাসিলের জন্য সাধনা করো। আর আল্লাহ তাআলা তো বলেছেন: {আর যারা আমাদের পথে সংগ্রাম করে
… } আয়াত [আনকাবুত: ৬৯]।
আর তৃতীয় দলের ক্ষেত্রে কথা হলো: তাদের বলা হবে, আপনারা কি সেই বর্ণনাকারী সম্পর্কে ভেবেছেন যাকে নির্ভরযোগ্য সাব্যস্ত (توثيق) করা হয়নি এবং যার সমালোচনাও (تجريح) করা হয়নি?
যদি তারা বলে: তিনি অজ্ঞাত (مجهول)।
আমরা বললাম: আমরা যদি আপনাদের এই বর্ণনাকারীদের অনেকের অবস্থা জানার পথ দেখিয়ে দিই, তবে কি আপনারা ক্লান্তি সত্ত্বেও সেই পথে চলবেন?
অথবা আপনারা কি তাদের সম্পর্কে ভেবেছেন যাদের ব্যাপারে কোনো কোনো ইমাম বলেছেন: "তার থেকে একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন এবং আমি তার হাদিসে এমন কিছু দেখিনি যা তার দুর্বলতার (ضعف) প্রমাণ দেয়"—এটি কি নির্ভরযোগ্য সাব্যস্তকরণ (توثيق) হিসেবে গণ্য হবে?
তারা যদি বলে: না।
বলা হলো: আলেমদের মধ্যে এমন ব্যক্তিও আছেন যিনি এই ধরণের বর্ণনাকারী সম্পর্কে বলেন: তিনি «নির্ভরযোগ্য (ثقة)»। এখন যার সম্পর্কে জানা গেল যে এটিই তার কর্মপন্থা, তার নির্ভরযোগ্য সাব্যস্তকরণ (توثيق) কি গ্রহণযোগ্য হবে?
তারা যদি বলে: না।
তাদের বলা হলো: হতে পারে নির্ভরযোগ্য সাব্যস্তকারী (موثق) ইমামদের অনেকেই এই মত পোষণ করেন। এমতাবস্থায় তাদের কর্মপন্থা না জেনেই আপনারা কীভাবে তাদের নির্ভরযোগ্য সাব্যস্তকরণের (توثيق) ওপর নির্ভর করেন?
অথবা আপনারা কি সমালোচনা ও গুণকীর্তনের (الجرح والتعديل) শব্দাবলি বা পরিভাষাগুলোর দিকে লক্ষ্য করেছেন, ইমামগণ কি সেগুলোর অর্থের ব্যাপারে একমত?
(খণ্ড: ১৫)
আল হাজাতু ইলা মা’রিফাতি ইলমিল জারহি ওয়াত তা’দীল - যিমনা আসারুল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ১০৩)
فإن قلتم: غالبًا.
قلنا: بل هناك اختلاف، لابد لكم مِن معرفة مَن مِن الأئمة يقول بهذا ومَن منهم يقول بذاك، لتُعرف قيمة الكلمة الصادرة عن كل منهم.
أو رأيتم من اختُلِف فيه، فوثقه بعض، وجرحه بعض؟
فإن قالوا: الجرح إن كان مفسّرًا مقدّم.
قيل لهم: فهل حققتم ما هو المفسر من ألفاظ الجرح والتعديل؟ فإن الظاهر من رأيكم أن نحو قولهم: «ضعيف» غير مفسَّر، أفرأيتم من كان منهم لا يطلق هذه الكلمة إلا لمعنى ترونه جرحًا، ألا تكون هذه الكلمة من المفسَّر؟
وبالجملة، فإنه ينبغي لكم أن تبحثوا عن مذاهب أئمة الجرح والتعديل، لتعرفوا مذهب كلِّ واحد في حدّ مَن يُطلِق عليه «ثقة» وفي حدّ مَن يُطلِق عليه «ضعيف» وغير ذلك.
بل وأن تبحثوا عن الطريقة التي سلكها أئمة الحديث في تعرُّف أحوال الرواة، وتسعوا في اتباعهم فيها.
فإن قالوا: هذا صعب. كان الكلام معهم كما تقدم مع الفرقة الثانية.
وبالجملة، فإن بأهل العلم أشدّ الحاجة إلى أمرين:
الأول: تحقيق الحق فيما اختلف فيه بما يقتضي القبول أو الرد، مع السعي في معرفة رأي كل إمام من أئمة الجرح والتعديل في ذلك، ومعرفة عادة كل إمام في استعماله ألفاظ الجرح والتعديل، في أيّ حال يطلق «ثقة»،
যদি আপনারা বলেন: অধিকাংশ ক্ষেত্রে।
আমরা বলব: বরং সেখানে মতপার্থক্য রয়েছে; আপনাদের জন্য এটি জানা আবশ্যক যে, ইমামগণের মধ্যে কে এই মত পোষণ করেন এবং কে ওই মত পোষণ করেন, যাতে তাঁদের প্রত্যেকের পক্ষ থেকে প্রকাশিত শব্দের মান অনুধাবন করা যায়।
অথবা আপনারা কি এমন কাউকে দেখেছেন যার ব্যাপারে মতভেদ হয়েছে, ফলে কেউ তাকে নির্ভরযোগ্য (ثقة) সাব্যস্ত করেছেন আর কেউ তাকে ত্রুটিযুক্ত (جرح) করেছেন?
যদি তারা বলেন: জরাহ বা ত্রুটি বর্ণনা (الجرح) যদি ব্যাখ্যাসম্বলিত (مفسر) হয় তবে তা অগ্রগণ্য (مقدم)।
তাদের বলা হবে: আপনারা কি অনুসন্ধান করেছেন যে, জরাহ ও তাদীল (الجرح والتعديل) এর শব্দাবলির মধ্যে কোনটি ব্যাখ্যাসম্বলিত (مفسر)? আপনাদের অভিমত থেকে যা প্রতীয়মান হয় তা হলো, তাঁদের উক্তি—যেমন: «দুর্বল (ضعيف)»—ব্যাখ্যাবিহীন (غير مفسر); কিন্তু আপনারা কি তাঁদের এমন কাউকে দেখেছেন যিনি এই শব্দটি কেবল এমন কোনো অর্থের জন্যই ব্যবহার করেন যা আপনারা জরাহ বা ত্রুটি (جرح) হিসেবে গণ্য করেন? তবে কি এই শব্দটি ব্যাখ্যাসম্বলিত (مفسر) বলে গণ্য হবে না?
সারকথা হলো, আপনাদের উচিত জরাহ ও তাদীল (الجرح والتعديل) এর ইমামগণের মাযহাব বা কর্মপন্থা নিয়ে গবেষণা করা, যাতে আপনারা জানতে পারেন যে, তাঁদের প্রত্যেকের নিকট কার ক্ষেত্রে 'নির্ভরযোগ্য (ثقة)' এবং কার ক্ষেত্রে 'দুর্বল (ضعيف)' ইত্যাদি শব্দ প্রয়োগ করার মানদণ্ড কী।
বরং আপনাদের উচিত রাবীদের অবস্থা জানার ক্ষেত্রে হাদিস বিশারদ ইমামগণ যে পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন তা অনুসন্ধান করা এবং সে ক্ষেত্রে তাঁদের অনুসরণ করার চেষ্টা করা।
যদি তারা বলেন: এটি কঠিন; তবে তাদের সাথে আলোচনা তেমনই হবে যেমনটি দ্বিতীয় দলের ক্ষেত্রে ইতিপূর্বে গত হয়েছে।
মোদ্দাকথা হলো, ইলম অন্বেষণকারীদের দুটি বিষয়ের প্রতি অত্যন্ত মুখাপেক্ষিতা রয়েছে:
প্রথমত: মতপার্থক্যপূর্ণ বিষয়সমূহে গ্রহণযোগ্যতা (القبول) বা প্রত্যাখ্যানের (الرد) নিরিখে সত্য উদঘাটন করা; পাশাপাশি সে বিষয়ে জরাহ ও তাদীল (الجرح والتعديل) এর ইমামগণের প্রত্যেকের অভিমত জানার চেষ্টা করা এবং জরাহ ও তাদীল (الجرح والتعديل) এর শব্দাবলি ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রত্যেক ইমামের অভ্যাস বা রীতি সম্পর্কে অবগত হওয়া যে, তিনি কোন অবস্থায় 'নির্ভরযোগ্য (ثقة)' শব্দটি ব্যবহার করেন,
(খণ্ড: ১৫)
আল হাজাতু ইলা মা’রিফাতি ইলমিল জারহি ওয়াত তা’দীল - যিমনা আসারুল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ১০৪)
وفي أيّ حالٍ يطلق «ضعيف» إلى غير ذلك.
الثاني: معرفة الطريق التي سلكها الأئمة لنقد الرواة، ثم السعي في اتباعهم فيها.
এবং যেকোনো অবস্থাতেই ‘দুর্বল (ضعيف)’ ইত্যাদি শব্দ প্রয়োগ করা হয়।
দ্বিতীয়ত: বর্ণনাকারীদের (رواة) সমালোচনার (نقد) ক্ষেত্রে ইমামগণ যে পথ অবলম্বন করেছেন তা অবগত হওয়া, অতঃপর সেই পথে তাঁদের অনুসরণের সচেষ্ট হওয়া।