(খণ্ড: ১)
মাদরাসাতুদ দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: -)
مدرسة الدعوة القسم: كتب عامة
الكتاب: مدرسة الدعوة
المؤلف: محمد السيد الوكيل
الناشر: الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة
الطبعة: السنة الثانية عشرة العدد (47-48) 1400 هـ
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
عدد الصفحات: 248
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
মাদরাসাতুদ দাওয়াহ বিভাগ: সাধারণ গ্রন্থাবলি
গ্রন্থ: মাদরাসাতুদ দাওয়াহ
লেখক: মুহাম্মদ আস-সায়্যিদ আল-ওয়াকিল
প্রকাশক: মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়
সংস্করণ: দ্বাদশ বর্ষ, সংখ্যা (৪৭-৪৮) ১৪০০ হিজরি
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা বিন্যাস মূল মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৪৮
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
মাদরাসাতুদ দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২১৫)
مدْخل…مدرسة الدعْوَة
فَضِيلَة الدكتور مُحَمَّد السَّيِّد الْوَكِيل
وَكيل كُلية الحَدِيث الشريف
نشأت الدعْوَة فِي مَكَّة المكرمة، وَكَانَت أول مدرسة لَهَا هِيَ دَار الأرقم بن أبي الأرقم المَخْزُومِي، حَيْثُ كَانَ الرَّسُول صلى الله عليه وسلم يلتقي بالرعيل الأول هُنَاكَ، فيعلمهم العقيدة الصَّحِيحَة، وينتزع مَا بَقِي فِي قُلُوبهم من آثَار الوثنية، ويقتلع من نُفُوسهم قدسية الْأَصْنَام ومنزلتها، ويغرس فِيهَا الْإِيمَان بِالْيَوْمِ الآخر، وَمَا فِيهِ من الْبَعْث والحساب وَالْجنَّة وَالنَّار إِلَى غير ذَلِك من أصُول العقيدة.
وَقد تميزت مدرسة الدعْوَة بخصائص لم تتوفر لغَيْرهَا، كَانَ لَهَا أكبر الْأَثر على الدعاة، فخرّجت جيلا ضحى فِي سَبِيل الدعْوَة بِمَا يملك من النَّفس وَالْمَال وَالْولد، وَلم يضن عَلَيْهَا بِشَيْء تحْتَاج إِلَيْهِ، كَمَا كَانَ للجهد الْعَظِيم الَّذِي بذله الدعاة نتائج هائلة وثمرات جَيِّدَة، وَبِذَلِك أَصبَحت مدرسة الدعْوَة فِي تِلْكَ الآونة مدرسة فريدة فِي موضوعها، فريدة فِي منهاجها، فريدة فِي نتائجها.
উপক্রমণিকা…দাওয়াহর বিদ্যাপীঠ
সম্মানিত ডক্টর মুহাম্মদ আল-সাইয়্যিদ আল-ওয়াকিল
হাদিস শরিফ অনুষদের উপ-ডিন
মক্কা আল-মুকাররমায় দাওয়াহর উদ্ভব ঘটে এবং এর প্রথম বিদ্যাপীঠ ছিল দারুল আরকাম বিন আবিল আরকাম আল-মাখজুমি। সেখানে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রথম প্রজন্মের অগ্রগামীদের সাথে মিলিত হতেন এবং তাদের বিশুদ্ধ (صحيحة) আকিদাহ শিক্ষা দিতেন। তিনি তাদের অন্তরে মূর্তিপূজার যে অবশিষ্টাংশ ছিল তা অপসারিত করতেন এবং তাদের আত্মা থেকে মূর্তির পবিত্রতা ও শ্রেষ্ঠত্বের আসন সমূলে উৎপাটিত করতেন। তিনি তাদের অন্তরে পরকালের প্রতি বিশ্বাস এবং পুনরুত্থান, হিসাব-নিকাশ, জান্নাত ও জাহান্নামসহ আকিদাহর অন্যান্য মূলনীতি (أصول) সমূহের বিশ্বাস রোপণ করতেন।
দাওয়াহর এই বিদ্যাপীঠ এমন কিছু বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে অনন্য হয়ে উঠেছিল যা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে লভ্য ছিল না। এটি দাঈদের ওপর অত্যন্ত গভীর প্রভাব বিস্তার করেছিল। ফলে এমন এক প্রজন্মের সৃষ্টি হয়েছিল যারা দাওয়াহর পথে নিজেদের জীবন, সম্পদ ও সন্তানসহ সর্বস্ব বিসর্জন দিয়েছিল এবং এর প্রয়োজনীয়তায় কোনো কিছুই ব্যয়ে কুণ্ঠাবোধ করেনি। দাঈগণ যে মহান শ্রম দিয়েছিলেন তার বিশাল ফলাফল ও উৎকৃষ্ট সুফল অর্জিত হয়েছিল। এভাবেই সেই সময়ে দাওয়াহর এই বিদ্যাপীঠটি তার বিষয়বস্তু, কর্মপদ্ধতি ও ফলাফলের দিক দিয়ে একটি অনন্য প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছিল।
(খণ্ড: ১)
মাদরাসাতুদ দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২১৫)
خَصَائِص مدرسة الدعْوَة:أول هَذِه الخصائص ربانية الْمنْهَج:
لقد كَانَ مَنْهَج هَذِه الْمدرسَة من صنع الله تبارك وتعالى جَاءَ بِهِ جِبْرِيل من عِنْده سُبْحَانَهُ وَحيا يُوحى؛ لهَذَا كَانَ منهجا متكاملا، لم يتْرك مِمَّا يصلح بِهِ البشرية فِي دينهَا ودنياها إِلَّا حث عَلَيْهِ وَأمر بِهِ.
দাওয়াহ পাঠশালার বৈশিষ্ট্যসমূহ:এই বৈশিষ্ট্যসমূহের মধ্যে প্রথমটি হলো পদ্ধতির ঐশ্বরিকতা (ربانية المنهج):
নিশ্চয়ই এই পাঠশালার পদ্ধতি (منهج) ছিল মহান আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালার পক্ষ থেকে নির্ধারিত, যা জিবরাঈল তাঁর নিকট থেকে প্রত্যাদেশকৃত ওহী (وحي) হিসেবে নিয়ে এসেছিলেন; একারণেই এটি ছিল একটি পূর্ণাঙ্গ পদ্ধতি (منهج), যা মানবজাতির দীন ও দুনিয়ার সংশোধনের জন্য কল্যাণকর এমন কোনো বিষয়ই বাদ দেয়নি যার প্রতি এটি উৎসাহ প্রদান করেনি এবং নির্দেশ দেয়নি।
(খণ্ড: ১)
মাদরাসাতুদ দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২১৬)
وَكَانَ أول مَا اهتم بِهِ الْمنْهَج هُوَ تَصْحِيح العقيدة من الانحراف الَّذِي طَرَأَ عَلَيْهَا، لِأَن الْغَايَة من خلق آدم وَذريته هُوَ تَحْقِيق معنى الْعُبُودِيَّة لله عز وجل فِي الأَرْض، بِاتِّبَاع الْمنْهَج القويم الَّذِي جَاءَ بِهِ الْأَنْبِيَاء والمرسلون، وَذَلِكَ بِعبَادة الله - تَعَالَى - وإخلاص الطَّاعَة لَهُ - سُبْحَانَهُ -.
وَكَانَ النَّاس فِي تِلْكَ الآونة من الزَّمَان قد نسوا الْبَعْث، بل أنكروه، كَمَا هُوَ حَالهم فِي فترات الزَّمَان المتباعدة، فَكَانَت الدعْوَة الإسلامية عَاملا مهما من عوامل إيقاظ هَذَا الْمَعْنى فِي النُّفُوس، وركزت عَلَيْهِ تركيزا بِحَيْثُ لم يعد هُنَاكَ مجَال للشَّكّ فِيهِ.
وَقد ثبَّت الْمنْهَج هَذِه العقيدة بأساليب مُخْتَلفَة، فَضرب الْأَمْثِلَة، وانتقل من الْمَعْقُول إِلَى المحسوس، ولفت أنظار النَّاس إِلَى قدرَة الله فِيمَا حَولهمْ وَفِيمَا يجْرِي بَينهم؛ حَتَّى تكون الوقائع الماثلة شاهدة على مَا يُخْبِرهُمْ بِهِ الله فِي كِتَابه على لِسَان نبيه.
وَحَيْثُ كَانَ الْمنْهَج ربانيا فَإِنَّهُ جَاءَ مناسبا لكل زمَان وَمَكَان، لَا يَعْتَرِيه نقص، وَلَا يطْرَأ عَلَيْهِ تَغْيِير، لِأَن صفة الربانية لهَذَا الْمنْهَج تكسبه معنى الصلاحية والثبات، وَكَونه منهجا لآخر رِسَالَة فِي هَذِه الْحَيَاة يكسبه معنى الخلود إِلَى آخر هَذِه الْحَيَاة، فلسنا إِذا فِي حَاجَة إِلَى تَغْيِير من فَتْرَة إِلَى فَتْرَة، وَلَا فِي حَاجَة إِلَى التَّعْدِيل فِيهِ من حِين إِلَى حِين.
وَأما ثَانِيَة الخصائص فَهِيَ جمعهَا بَين مصَالح الدُّنْيَا وَالْآخِرَة:
قد يخْطر بالبال أَن ربانية الْمنْهَج فِي تِلْكَ الْمدرسَة يدل على أَنَّهَا تتَنَاوَل أُمُور الدّين فَقَط، وَلَا تلْتَفت إِلَى الدُّنْيَا فِي قَلِيل أَو كثير، وَالْوَاقِع خلاف ذَلِك؛ فَإِن تِلْكَ الْمدرسَة قد جمعت بَين مصَالح الدُّنْيَا وَالْآخِرَة، فِي تناسق تَامّ وتوازن عَجِيب، فَلم تتْرك أحد الْجَانِبَيْنِ يطغى عل الآخر، وَلم تهمل شَيْئا مِنْهُمَا على حِسَاب الآخر، ذَلِك لِأَن الْإِسْلَام ينظر إِلَى الدُّنْيَا على أَنَّهَا هِيَ المزرعة الَّتِي يحصد مِنْهَا الْإِنْسَان زَاده للآخرة، بل هِيَ الجسر الَّذِي يعبر عَلَيْهِ ليصل إِلَى مقره الَّذِي يسْعَى جاهدا لبلوغه.
وَمن جَانب آخر فَإِن الْأَعْمَال الدُّنْيَوِيَّة كلهَا تتحول إِلَى أَعمال دينية إِذا حسنت فِيهَا النِّيَّة، فَأَنت تَأْكُل لتعيش فَقَط هَذَا عمل دُنْيَوِيّ صرف، وَأَنت تَأْكُل لتستعين على طَاعَة الله، وَتقوم بواجبك، بِهَذِهِ النِّيَّة يَنْقَلِب الْعَمَل الدنيوي إِلَى عمل ديني لَك أجره ومثوبته، وَأَنت تتَزَوَّج لتَكون رب أسرة وتنجب الْبَنِينَ وَالْبَنَات، وَأَنت نَفسك تتَزَوَّج لتعف نَفسك وتغض
এই পদ্ধতির (মানহাজ) সর্বপ্রথম যে বিষয়ের প্রতি গুরুত্বারোপ ছিল তা হলো আকিদাহকে তাতে আপতিত বিচ্যুতি থেকে সংশোধন করা। কারণ আদম ও তাঁর সন্তানদের সৃষ্টির মূল উদ্দেশ্যই হলো পৃথিবীতে মহান আল্লাহর দাসত্বের স্বরূপ বাস্তবায়ন করা, যা নবী ও রাসূলগণের আনীত সুদৃঢ় পথ অনুসরণের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়—অর্থাৎ আল্লাহর ইবাদত করা এবং একনিষ্ঠভাবে তাঁর প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করা।
সে সময় মানুষ পুনরুত্থান ভুলে গিয়েছিল, এমনকি তারা তা অস্বীকার করত; যেমনটা সময়ের দীর্ঘ ব্যবধানে মানুষের মাঝে পরিলক্ষিত হয়। তাই মানুষের অন্তরে এই বোধ জাগ্রত করার ক্ষেত্রে ইসলামি দাওয়াত এক গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে এবং এর ওপর এমনভাবে গুরুত্বারোপ করেছে যে তাতে সন্দেহের কোনো অবকাশ অবশিষ্ট থাকেনি।
এই পদ্ধতি বিভিন্ন পন্থায় এই আকিদাহকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছে। এটি উদাহরণ পেশ করেছে, বুদ্ধিবৃত্তিক পর্যায় থেকে তা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়ের দিকে নিয়ে গেছে এবং মানুষের চারপাশ ও তাদের মাঝে যা কিছু ঘটে তাতে আল্লাহর কুদরতের প্রতি মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে; যাতে বিদ্যমান বাস্তবতাগুলো আল্লাহ তাঁর কিতাবে তাঁর নবীর যবানীতে যা সংবাদ দিয়েছেন তার সাক্ষী হয়ে দাঁড়ায়।
যেহেতু এই পদ্ধতিটি রব্বানি (ঐশী), তাই এটি সকল কাল ও পাত্রের জন্য উপযোগী। এতে কোনো অপূর্ণতা নেই এবং এতে কোনো পরিবর্তনও ঘটে না। কারণ রব্বানি বৈশিষ্ট্য এই পদ্ধতিকে উপযোগিতা ও স্থায়িত্ব দান করে। আর এটি জীবনের সর্বশেষ বার্তার (রিসালাত) পদ্ধতি হওয়ার কারণে একে চিরন্তন রূপ দান করে। সুতরাং সময়ের ব্যবধানে আমাদের যেমন এতে পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই, তেমনি সময়ে সময়ে এতে কোনো পরিমার্জনেরও প্রয়োজন পড়ে না।
আর দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্যটি হলো দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের সমন্বয় সাধন:
কারো মনে হতে পারে যে, সেই ঘরানার (মাদরাসা) পদ্ধতির রব্বানি বৈশিষ্ট্য একথাই নির্দেশ করে যে এটি কেবল দ্বীনি বিষয়াবলি নিয়ে আলোচনা করে এবং পার্থিব বিষয়ের প্রতি সামান্যতম ভ্রুক্ষেপও করে না। অথচ বাস্তবতা এর বিপরীত। কারণ সেই ঘরানা অত্যন্ত নিপুণ সামঞ্জস্য ও বিস্ময়কর ভারসাম্যের সাথে দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের সমন্বয় সাধন করেছে। এটি এক দিককে অন্য দিকের ওপর প্রবল হতে দেয়নি এবং একটিকে অন্যটির বিনিময়ে অবহেলা করেনি। কেননা ইসলাম দুনিয়াকে এমন এক শস্যক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করে যেখান থেকে মানুষ আখিরাতের পাথেয় সংগ্রহ করে; বরং এটি এমন এক সেতু যা পার হয়ে মানুষ তার কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালায়।
অন্যদিক থেকে, সমস্ত পার্থিব কাজই দ্বীনি কাজে রূপান্তরিত হয় যদি তাতে নিয়ত বা সংকল্প সঠিক থাকে। আপনি কেবল বেঁচে থাকার জন্য আহার করছেন—এটি নিছক একটি পার্থিব কাজ। কিন্তু আপনি যখন আল্লাহর ইবাদতে শক্তি অর্জন এবং নিজের দায়িত্ব পালনের উদ্দেশ্যে আহার করেন, তখন এই নিয়তের বরকতে পার্থিব কাজটি দ্বীনি কাজে পরিণত হয় যার জন্য আপনি প্রতিদান ও সওয়াব পাবেন। আপনি একটি পরিবারের প্রধান হতে এবং সন্তান-সন্ততি লাভের জন্য বিবাহ করেন, আবার আপনি নিজেকে চারিত্রিক পবিত্রতা দান ও দৃষ্টির হেফাযতের জন্য বিবাহ করেন...
(খণ্ড: ১)
মাদরাসাতুদ দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২১৭)
بَصرك وَتحفظ فرجك، أما الزواج الأول فدنيوي صرف، وَأما الثَّانِي فديني صرف، وَكِلَاهُمَا زواج سَتَكُون فِيهِ رب أسرة، وَأَبا للبنين وَالْبَنَات.
وَهَكَذَا كل الْأَعْمَال تَسْتَطِيع أَن تحولها إِلَى أَعمال دينية مهما كَانَت درجتها الدُّنْيَوِيَّة، وَيكون لَك عَلَيْهَا من الْأجر وَالثَّوَاب مثل بَقِيَّة الْأَعْمَال العبادية أَو الدِّينِيَّة الصرفة.
وَبِذَلِك تكون مدرسة الدعْوَة الإسلامية قد مزجت مزجا تَاما بَين أَعمال الدُّنْيَا وَالدّين، ونهجت فِي سَبِيل تَوْحِيد الْأَعْمَال نهجا قويما عبر عَنهُ الْقُرْآن فَقَالَ: {وَابْتَغِ فِيمَا آتَاكَ اللَّهُ الدَّارَ الآخِرَةَ وَلا تَنْسَ نَصِيبَكَ مِنَ الدُّنْيَا وَأَحْسِنْ كَمَا أَحْسَنَ اللَّهُ إِلَيْكَ وَلا تَبْغِ الْفَسَادَ فِي الأَرْضِ إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْمُفْسِدِينَ} 1.
ألم تَرَ أَن الْآيَة الْكَرِيمَة جمعت بَين ابْتِغَاء الْآخِرَة، وتذكير الْإِنْسَان بِنَصِيبِهِ من الدُّنْيَا حَتَّى لَا يكون فِي شغله بِطَلَب الْآخِرَة مَا ينسيه نصِيبه من الدُّنْيَا؟
وَنحن نلاحظ فِي الْآيَة أَيْضا أَنَّهَا أمرت بِالْإِحْسَانِ، وَهُوَ من أَعمال الْآخِرَة، وحذرت من الْفساد فِي الأَرْض وَهُوَ من أَعمال الدُّنْيَا.
إِن الْآيَة الْكَرِيمَة قد مزجت بَين الْعَمَل الدائب للآخرة بِكُل أَنْوَاعه، وَبَين الْعَمَل الدنيوي الَّذِي يعود على النَّاس بالنفع وَالْخَيْر، وَإنَّك مهما حاولت التَّأَمُّل فِي الْآيَة لن تشعر بفاصل بَين الْعَمَل للدنيا وَالْعَمَل للآخرة، وَمهما أرهفت حسك الأدبي فَلَنْ تدْرك - مهما بالغت - ثقلا أَو صعوبة فِي الِانْتِقَال من أَعمال الْآخِرَة إِلَى أَعمال الدُّنْيَا، لِأَن الْآيَة الْكَرِيمَة قد ساقتهما فِي نسق وَاحِد، وتأليف فريد.
إِنَّك بحسك الأدبي وذوقك الفني تدْرك أَن موسيقى الْأَلْفَاظ وَاحِدَة فِي الْآيَة من أَولهَا إِلَى آخرهَا، وتقسيم الفواصل لَا يخْتَلف فِيهَا، ونلاحظ أَن أَعمال الْآخِرَة وَردت فِي الْآيَة بِصِيغَة الْأَمر وأعمال الدُّنْيَا جَاءَت بِصِيغَة النَّهْي، وَلَعَلَّ ذَلِك لِكَثْرَة مَا يَقع النَّاس فِي الْمَحْظُورَات؛ فَجَاءَت صِيغَة النَّهْي للتحذير من الْوُقُوع فِي مخالب الدُّنْيَا ومفاتنها الَّتِي تشغل النَّاس عَن أَعمال الْآخِرَة؛ فَنَاسَبَ أَن تَأتي بِصِيغَة الْأَمر لأعمال الْآخِرَة {وَابْتَغِ} .. {وَأَحْسِنْ} ، وناسب أَن تَأتي أَعمال الدُّنْيَا بِصِيغَة النَّهْي {وَلا تَنْسَ} .. {وَلا تَبْغِ} .
--------------------------------------------
আপনার দৃষ্টি সংযত রাখা এবং লজ্জাস্থান হেফাজত করা; প্রথমোক্ত বিবাহটি নিছক পার্থিব, আর দ্বিতীয়টি নিছক দ্বীনি। তবে উভয়ই এমন বিবাহ যাতে আপনি একটি পরিবারের প্রধান এবং পুত্র-কন্যাদের পিতা হবেন।
এভাবেই আপনি আপনার সমস্ত আমলকে দ্বীনি আমলে রূপান্তরিত করতে পারেন, তার পার্থিব স্তর যাই হোক না কেন। এতে আপনার জন্য অন্যান্য ইবাদত বা নিছক দ্বীনি আমলসমূহের ন্যায় সওয়াব ও প্রতিদান নির্ধারিত হবে।
এর মাধ্যমে ইসলামী দাওয়াতের শিক্ষা দুনিয়াবি ও দ্বীনি আমলের মাঝে এক পূর্ণাঙ্গ সমন্বয় সাধন করেছে এবং আমলসমূহের একীকরণের ক্ষেত্রে এক সুদৃঢ় পথ অবলম্বন করেছে, যা কুরআন এভাবে ব্যক্ত করেছে: {আল্লাহ তোমাকে যা দান করেছেন তা দিয়ে পরকাল অন্বেষণ করো এবং দুনিয়া থেকে তোমার অংশ ভুলে যেও না; আর তুমি অনুগ্রহ করো যেমন আল্লাহ তোমার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন এবং পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করতে চেয়ো না; নিশ্চয়ই আল্লাহ বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের ভালোবাসেন না।} ১।
আপনি কি লক্ষ্য করেননি যে, এই সম্মানিত আয়াতটি পরকাল অন্বেষণ এবং মানুষকে তার পার্থিব অংশ স্মরণ করিয়ে দেওয়ার মাঝে সমন্বয় সাধন করেছে? যাতে পরকাল লাভের ব্যস্ততা তাকে তার দুনিয়াবি অংশ ভুলিয়ে না দেয়।
আমরা আয়াতে আরও লক্ষ্য করি যে, এটি ইহসানের (সদাচার) আদেশ দিয়েছে, যা পরকালের আমলের অন্তর্ভুক্ত; এবং পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করা থেকে সতর্ক করেছে, যা দুনিয়াবি আমলের অন্তর্ভুক্ত।
এই মহিমান্বিত আয়াতটি পরকালের জন্য সকল প্রকার নিরবচ্ছিন্ন আমল এবং সেই সকল পার্থিব আমলের মাঝে সমন্বয় ঘটিয়েছে যা মানুষের জন্য কল্যাণ ও মঙ্গল বয়ে আনে। আপনি এই আয়াতের ওপর যতই গভীরভাবে চিন্তা করুন না কেন, দুনিয়াবি আমল এবং পরকালীন আমলের মাঝে কোনো বিচ্ছেদ অনুভব করবেন না। আপনার সাহিত্যিক বোধ যতই প্রখর হোক না কেন, পরকালের আমল থেকে দুনিয়াবি আমলে উত্তরণের ক্ষেত্রে আপনি কোনো স্থবিরতা বা কাঠিন্য অনুভব করবেন না—তা আপনি যত চেষ্টাই করুন না কেন। কারণ এই সম্মানিত আয়াতটি উভয়কে একই ধারায় এবং এক অনন্য বিন্যাসে উপস্থাপন করেছে।
আপনার সাহিত্যিক বোধ এবং শৈল্পিক রুচি দিয়ে আপনি অনুধাবন করবেন যে, আয়াতের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত শব্দশৈলীর ঝংকার অভিন্ন এবং এর যতিবিন্যাসও পৃথক নয়। আমরা লক্ষ্য করি যে, আয়াতে পরকালীন আমলসমূহ আদেশের (أمر) মাধ্যমে বর্ণিত হয়েছে এবং দুনিয়াবি বিষয়সমূহ নিষেধের (نهي) ভঙ্গিতে এসেছে। সম্ভবত এর কারণ হলো, মানুষ নিষিদ্ধ বিষয়সমূহে অধিক পতিত হয়; তাই দুনিয়ার মরণফাঁদ ও মোহ—যা মানুষকে পরকালের আমল থেকে বিমুখ করে রাখে—তাতে নিপতিত হওয়া থেকে সতর্ক করার জন্য নিষেধের (نهي) ভঙ্গি এসেছে। সুতরাং পরকালের আমলসমূহের জন্য আদেশের (أمر) ভঙ্গি যেমন— {وَابْتَغِ} .. {وَأَحْسِنْ} উপযুক্ত হয়েছে, এবং দুনিয়াবি আমলের ক্ষেত্রে নিষেধের (نهي) ভঙ্গি যেমন— {وَلا تَنْسَ} .. {وَلا تَبْغِ} যথাযথ হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাদরাসাতুদ দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২১৮)
وَإنَّك لتلاحظ هَذَا المزج فِي كثير من آيَات الْقُرْآن الْكَرِيم، وتلمسه وَاضحا فِي قَوْله تَعَالَى: {قُلْ إِنَّ صَلاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ لَا شَرِيكَ لَهُ} 1.
فَإِن الْآيَة الْكَرِيمَة جمعت بَين الْعِبَادَة ورمزت لَهَا بِالصَّلَاةِ، وَبَين الْأَعْمَال العادية وأشارت إِلَيْهَا بالنسك وَهُوَ الذَّبِيحَة، ثمَّ أجلات فَجعلت حَيَاة الْمُؤمن ومماته لله، وَذكرت التَّوْحِيد بِنَفْي الشّرك.
وَهَكَذَا تتَنَاوَل الْآيَة أَعمال الدّين الْخَالِصَة، والأعمال الَّتِي هِيَ فِي الأَصْل عمل دُنْيَوِيّ حولهَا الْإِسْلَام إِلَى عبَادَة، ثمَّ ذكر التَّوْحِيد صَرَاحَة وَهُوَ العقيدة الَّتِي لَا يقبل من الْإِنْسَان سواهَا.
وَآيَة أُخْرَى يَقُول تبارك وتعالى: {فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ} 2، وَالْآيَة كَمَا ترى تجمع بَين الصَّلَاة الَّتِي هِيَ أهم أَرْكَان الْإِيمَان بعد الشَّهَادَتَيْنِ، وَبَين الذّبْح الَّذِي هُوَ أَمر لَا حرج على من لم يَفْعَله وَلَا إِثْم، وَالصَّلَاة فِي الْآيَة وَإِن كَانَ الْمَقْصُود بهَا صَلَاة الْعِيد إِلَّا أَنَّهَا من جنس الْفَرِيضَة الَّتِي فَرضهَا الله على الْمُؤمنِينَ، وَهِي فِي الأَصْل عمل ديني لَا يشوبه شَائِبَة من شوائب الدُّنْيَا.
والخصيصة الثَّالِثَة هِيَ تَسَاوِي النَّاس جَمِيعًا أَمَام نظمها: فَلَيْسَ هُنَاكَ عبيد وأحرار، وَلَا سادة وعوام، وَلَا نبلاء ودهماء، بل الْكل فِي ذَات الله سَوَاء، يجمعهُمْ الْإِيمَان بِاللَّه، ويفاضل بَينهم الْعَمَل الصَّالح، ويتنافسون فِي ميدان التَّقْوَى الرحب الفسيح.
وَكَانَ الرَّسُول صلى الله عليه وسلم يَقُول لَهُم: "كلكُمْ بَنو آدم، وآدَم خلق من تُرَاب؛ لينتهين قوم يفتخرون بآبائهم أَو لَيَكُونن أَهْون على الله من الْجعلَان" 3.
وَالله عز وجل يَقُول فِي الْقُرْآن الْكَرِيم: {يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّا خَلَقْنَاكُمْ مِنْ ذَكَرٍ وَأُنْثَى وَجَعَلْنَاكُمْ شُعُوباً وَقَبَائِلَ لِتَعَارَفُوا إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِنْدَ اللَّهِ أَتْقَاكُمْ إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ خَبِيرٌ} 4.
--------------------------------------------
আপনি পবিত্র কুরআনের অনেক আয়াতে এই সমন্বয় লক্ষ্য করবেন এবং মহান আল্লাহর এই বাণীতে তা স্পষ্টভাবে অনুভব করবেন: {বলুন, নিশ্চয়ই আমার সালাত, আমার কোরবানি, আমার জীবন ও আমার মরণ সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহরই জন্য, তাঁর কোনো শরিক নেই} ১।
কেননা এই বরকতময় আয়াতটি ইবাদতের সমন্বয় ঘটিয়েছে এবং সালাতের মাধ্যমে তার প্রতীকায়ন করেছে, আবার সাধারণ কার্যাবলীরও সমন্বয় করেছে এবং 'নুসুক' তথা পশুবলির মাধ্যমে সেদিকে ইঙ্গিত করেছে। অতঃপর তা বিষয়টিকে সুস্পষ্ট করেছে এবং মুমিনের জীবন ও মরণকে আল্লাহর জন্য সাব্যস্ত করেছে এবং শিরক অস্বীকারের মাধ্যমে তাওহীদের কথা উল্লেখ করেছে।
এভাবে আয়াতটি বিশুদ্ধ দ্বীনি আমলসমূহ এবং মূলত পার্থিব কাজ হওয়া সত্ত্বেও ইসলাম যেগুলোকে ইবাদতে রূপান্তরিত করেছে, সেই কাজগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। এরপর স্পষ্টভাবে তাওহীদের কথা উল্লেখ করেছে, যা এমন এক আকিদা যা ব্যতীত মানুষের নিকট থেকে অন্য কিছু কবুল করা হবে না।
অন্য এক আয়াতে বরকতময় মহান আল্লাহ বলছেন: {অতএব আপনার রবের উদ্দেশ্যে সালাত আদায় করুন এবং কোরবানি করুন} ২। আপনি যেমনটি দেখছেন, আয়াতটি সালাত—যা শাহাদাতদ্বয়ের পর ঈমানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রুকন—এবং পশুবলির মধ্যে সমন্বয় করেছে, যা এমন একটি বিষয় যে তা পালন না করলে কারো ওপর কোনো সংকীর্ণতা বা পাপ নেই। আয়াতে সালাত বলতে যদিও ঈদের সালাত উদ্দেশ্য, তবুও তা সেই শ্রেণির ফরজ ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত যা আল্লাহ মুমিনদের ওপর আবশ্যিক করেছেন। আর এটি মূলত একটি দ্বীনি আমল যাতে পার্থিব কোনো কলুষতার সামান্যতম স্পর্শও নেই।
তৃতীয় বৈশিষ্ট্যটি হলো এর বিধানের সামনে সকল মানুষের সাম্য: সেখানে কোনো দাস বা স্বাধীন নেই, নেই কোনো নেতা বা সাধারণ মানুষ, নেই কোনো অভিজাত বা সাধারণ জনতা; বরং আল্লাহর কাছে সবাই সমান। আল্লাহর প্রতি ঈমান তাদের ঐক্যবদ্ধ করে, নেক আমল তাদের মধ্যে মর্যাদার পার্থক্য তৈরি করে এবং তারা তাকওয়ার প্রশস্ত ও বিশাল ময়দানে একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতা করে।
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের বলতেন: "তোমরা সকলেই আদমের সন্তান, আর আদমকে মাটি থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে। অবশ্যই একদল লোক তাদের পিতৃপুরুষদের নিয়ে অহংকার করা ত্যাগ করবে, নতুবা তারা আল্লাহর নিকট গুবরে পোকার চেয়েও বেশি তুচ্ছ হবে" ৩।
আর মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে বলছেন: {হে মানবজাতি, আমি তোমাদেরকে এক পুরুষ ও এক নারী থেকে সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি যাতে তোমরা একে অপরের সাথে পরিচিত হতে পারো। নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যে আল্লাহর কাছে সেই অধিক মর্যাদাসম্পন্ন, যে তোমাদের মধ্যে অধিক মুত্তাকি। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সম্যক অবহিত} ৪।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাদরাসাতুদ দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২১৯)
وَمَا دَامَ النَّاس كلهم أَوْلَاد آدم عليه السلام فَكيف يفرق بَينهم فِي النّسَب؟ وَكَيف يفخر بَعضهم على بعض؟
وَمَا دَامَ النَّاس جَمِيعًا من أَب وَاحِد وَأم وَاحِدَة فَكيف يسوغ التخاصم والنزاع؟
إِن الأولى للنَّاس جَمِيعًا أَن يتعارفوا وَأَن يأتلفوا، وَأَن يَكُونُوا جَمِيعًا فِي منزلَة وَاحِدَة أَمَام قوانين النظام الَّذِي ردهم على أصلهم، ونهاهم أَن يفتخروا بآبائهم.
النَّاس من جِهَة التَّمْثِيل أكفاء
… أبوهم آدم وَالأُم حَوَّاء
فَإِن يكن لَهُم فِي أصلهم شرف
… يفاخرون بِهِ فالطين وَالْمَاء
قَالَ الشَّاعِر:
وَمن أجل تَحْقِيق تِلْكَ الْمُسَاوَاة كَانَت التَّكْلِيف عَامَّة لم يُكَلف بهَا جنس دون جنس، وَكَانَت الْوَاجِبَات عل الْجَمِيع سَوَاء بِسَوَاء لم يعف مِنْهَا أحد مهما كَانَ.
كَذَلِك كَانَت الْمَحْظُورَات مَحْظُورَات على كل الْمُسلمين لم يسْتَثْن مِنْهَا أحد مهما كَانَ شريفا، والمنهيات مُحرمَة على الْجَمِيع لم يعف مها مُسلم قطّ.
وَهَكَذَا كَانَت الْمُسَاوَاة فِي الْحُقُوق والواجبات من خَصَائِص تِلْكَ الْمدرسَة ومميزاتها.
وباجتماع تِلْكَ الخصائص فِي مدرسة الدعْوَة تفوقت الدعْوَة على كل مَا عَداهَا، وأصبحت مدرستها فريدة فِي نهجها، فذة فِي تربيتها، وحيدة فِي تفوق نتائجها.
وَلَقَد أَصبَحت هَذِه الخصائص شعارات لتِلْك الْمدرسَة عرفت بهَا، وغرستها فِي قُلُوب طلابها، فآمنوا بهَا إِيمَانًا أصبح وَاقعا عمليا فِي حياتهم، وَكَانُوا النماذج الْحَيَّة الَّتِي يَرَاهَا النَّاس لتِلْك الدعْوَة بسلوكهم قبل كَلَامهم، وبواقعهم قبل دعايتهم.
وانتظم الصَّحَابَة - رضوَان الله عَلَيْهِم – فِي تِلْكَ الْمدرسَة، وحرصوا على أَن يتلقوا فِيهَا علومهم، حَتَّى كَانَ الرّجلَانِ المشتركان فِي تِجَارَة أَو نَحْوهَا يتناوبان مجَالِس الْعلم، ويخبر
যতক্ষণ পর্যন্ত সকল মানুষ আদম (আলাইহিস সালাম)-এর সন্তান, ততক্ষণ পর্যন্ত বংশের (نسب) ভিত্তিতে তাদের মধ্যে কীভাবে বিভাজন করা সম্ভব? আর কীভাবে একে অপরের ওপর অহংকার করতে পারে?
যেহেতু সকল মানুষ একই পিতা ও একই মাতার সন্তান, তবে বিবাদ ও কলহ কীভাবে বৈধ হতে পারে?
প্রকৃতপক্ষে সকল মানুষের জন্য সমীচীন হলো একে অপরের সাথে পরিচিত হওয়া ও সম্প্রীতি বজায় রাখা, এবং সেই নিয়মতান্ত্রিক ব্যবস্থার আইনের সামনে সকলে একই স্তরে অবস্থান করা যা তাদের মূল উৎসের (أصل) দিকে ফিরিয়ে নেয় এবং তাদের পিতৃপুরুষদের নিয়ে অহংকার করতে নিষেধ করে।
বাহ্যিক অবয়বের দিক থেকে মানুষ পরস্পর সমকক্ষ (أكفاء)
… তাদের পিতা আদম এবং মাতা হাওয়া
যদি তাদের মূলে এমন কোনো আভিজাত্য (شرف) থেকে থাকে
… যা নিয়ে তারা গর্ব করে, তবে তা তো কেবল মাটি ও পানি
কবি বলেন:
আর সেই সাম্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই শারয়ি দায়বদ্ধতা (تكليف) ছিল সর্বজনীন, যেখানে এক বিশেষ লিঙ্গ বা শ্রেণিকে বাদ দিয়ে অন্যকে বাধ্য করা হয়নি। প্রত্যেকের ওপর অর্পিত কর্তব্যসমূহ ছিল সমান এবং পদমর্যাদা নির্বিশেষে কাউকেই তা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়নি।
অনুরূপভাবে, নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ সকল মুসলিমের জন্যই নিষিদ্ধ ছিল, কোনো উচ্চবংশীয় ব্যক্তিকেও তা থেকে বাদ দেওয়া হয়নি। বর্জনীয় বিষয়গুলো (منهيات) সকলের জন্যই হারাম (محرم) ছিল, কোনো মুসলিমকেই তা থেকে কখনোই ছাড় দেওয়া হয়নি।
এভাবেই অধিকার ও কর্তব্যের ক্ষেত্রে সাম্য ছিল সেই বিদ্যাপীঠের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ও স্বাতন্ত্র্য।
দাওয়াতি বিদ্যাপীঠের মাঝে এসব বৈশিষ্ট্যের সমন্বয়ে এই দাওয়াত অন্য সবকিছুর ওপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছে। এর বিদ্যাপীঠ তার কর্মপদ্ধতিতে অনন্য, তার লালন-পালন পদ্ধতিতে অদ্বিতীয় এবং ফলাফলের শ্রেষ্ঠত্বে অতুলনীয় হয়ে উঠেছে।
বস্তুত এই বৈশিষ্ট্যগুলো সেই বিদ্যাপীঠের প্রতীকে পরিণত হয়েছিল যার মাধ্যমে এটি পরিচিতি লাভ করেছিল এবং যা শিক্ষার্থীদের হৃদয়ে প্রোথিত হয়েছিল। তারা এতে এমন দৃঢ়তার সাথে বিশ্বাস স্থাপন করেছিল যা তাদের জীবনে এক বাস্তব অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়েছিল। তারা ছিল সেই দাওয়াতের জীবন্ত প্রতিচ্ছবি যা মানুষ তাদের কথার চেয়ে আচরণের মাধ্যমে এবং প্রচারণার চেয়ে বাস্তব কর্মতৎপরতার মাধ্যমে প্রত্যক্ষ করত।
সাহাবীগণ (صحابة) - রাযিয়াল্লাহু আনহুম - সেই বিদ্যাপীঠের অন্তর্ভুক্ত হয়েছিলেন এবং সেখানে ইলম অর্জনে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন। এমনকি ব্যবসা বা অনুরূপ কাজে অংশীদার দুই ব্যক্তি পালাক্রমে ইলমের মজলিসগুলোতে (مجالس العلم) উপস্থিত হতেন এবং সংবাদ দিতেন...
(খণ্ড: ১)
মাদরাসাতুদ দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২২০)
الْحَاضِر مِنْهُم الْغَائِب بِمَا سَمعه من الْعُلُوم فِي نوبَته فيتعلمه مِنْهُ1.
واستطاع هَؤُلَاءِ الْأَصْحَاب أَن يتحملوا الْأَمَانَة، وَأَن يبلغوها كَمَا حملوها، وَكَانَ صلى الله عليه وسلم يحثهم عل التَّبْلِيغ ويرغبهم فِيهِ وَيُعلمهُم أَن الْمبلغ قد يكون أوعى من السَّامع، وَأَن حَامِل الْفِقْه قد يكون غير فَقِيه، ويخلص من هَذَا إِلَى وجوب التَّبْلِيغ على الْمُسلمين فَيَقُول صلى الله عليه وسلم: "بلغُوا عني وَلَو آيَة" 23.
كَمَا كَانَ صلى الله عليه وسلم يبين للْمُسلمين الْأَسْبَاب الداعية إِلَى التَّبْلِيغ الْمُوجبَة للْقِيَام بِهِ فَيَقُول: "نضر الله امْرأ سمع منا حَدِيثا فحفظه حَتَّى يبلغهُ غَيره، فَرب حَامِل فقه إِلَى من هُوَ أفقه مِنْهُ، وَرب حَامِل فقه لَيْسَ بفقيه"1.
وَهَكَذَا يُوضح الرَّسُول صلى الله عليه وسلم منزلَة تَبْلِيغ الدعْوَة ونقلها إِلَى من لم يسْمعهَا، لِأَن الدعْوَة قد تصل عَن طَرِيق الْبَلَاغ إِلَى من يقدرها قدرهَا وَيدْرك مِنْهَا مَا لم يُدْرِكهُ غَيره وَلَو كَانَ سَمعهَا من فَم الدَّاعِي إِلَيْهَا، وَقد يكون حماس الْمبلغ للدعوة ودأبه على نشرها وحرصه على الْقيام بِحَقِّهَا أعظم مِمَّن سَمعهَا، وَذَلِكَ لِأَن فقهه لأهدافها، وإدراكه لمراميها يشعره بِعظم حَقّهَا عَلَيْهِ، فيبذل من وقته ليبلغها وَمن مَاله لنشرها، وَمن فقهه ليرغب فِيهِ.
وَلَيْسَ أدعى للتضحية فِي سَبِيل المبدأ من فقهه وَالْإِيمَان بِهِ، وَلَيْسَ أقوى للنَّفس وأجرأ للقلب فِي سَبِيل نشر الفكرة من عقيدة تسيطر على صَاحبهَا فتحوله إِلَى حَرَكَة لَا تهدأ، وَعمل لَا يفتر حَتَّى يصل إِلَى غَايَته.
وَلنْ يَتَأَتَّى ذَلِك إِلَّا لرجل فهم دَعوته وَأدْركَ عظمتها؛ فَدفعهُ ذَلِك إِلَى الْعَمَل الدائب من أجل تبليغها وإيجاد الْقُلُوب الَّتِي تحملهَا وتضحي فِي سَبِيلهَا.
وَلِهَذَا كَانَ حرص رَسُول الله صلى الله عليه وسلم – على تَبْلِيغ الدعْوَة إِلَى من لم تبلغه، وَحملهَا إِلَى كل مَكَان لَعَلَّهَا تصادف من يعيها، وَيفهم حَقِيقَتهَا، وَيدْرك عظمتها، فيهب لحملها ويتولى الدفاع عَنْهَا حَتَّى ينصرها الله عز وجل.
--------------------------------------------
তাদের মধ্যে উপস্থিত ব্যক্তি অনুপস্থিত ব্যক্তির নিকট সেই জ্ঞান পৌঁছে দিতেন যা তিনি তাঁর পালার সময় শ্রবণ করেছেন, যাতে অনুপস্থিত ব্যক্তি তা থেকে শিখতে পারেন।1.
এই সাহাবীগণ আমানত গ্রহণ (تحمل) করতে এবং তা যেভাবে গ্রহণ করেছিলেন সেভাবেই পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে প্রচারের জন্য উৎসাহিত করতেন এবং এতে উদ্বুদ্ধ করতেন। তিনি তাদেরকে শিক্ষা দিতেন যে, সংবাদ পৌঁছানো ব্যক্তি হয়তো শ্রবণকারীর চেয়েও অধিক সংরক্ষণকারী (أوعى) হতে পারেন এবং ইলম বহনকারী হয়তো ফকিহ বা প্রাজ্ঞ নাও হতে পারেন। এর মাধ্যমে তিনি মুসলিমদের ওপর প্রচারের আবশ্যকতা স্পষ্ট করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন: "আমার পক্ষ থেকে পৌঁছে দাও, যদিও তা একটি আয়াত হয়" 23.
তেমনিভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রচারের গুরুত্ব ও এর প্রয়োজনীয় কারণসমূহ মুসলিমদের সামনে বর্ণনা করে বলতেন: "আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে সতেজ ও প্রফুল্ল রাখুন, যে আমাদের থেকে কোনো হাদিস শুনেছে এবং তা সংরক্ষণ (حفظ) করেছে যতক্ষণ না সে তা অন্যের কাছে পৌঁছে দেয়। কারণ ইলম বহনকারী এমন অনেকের কাছে তা পৌঁছে দেয় যারা তার চেয়ে অধিক সমঝদার, আবার ইলম বহনকারী নিজেও অনেক সময় প্রাজ্ঞ বা ফকিহ হয় না।"1.
এভাবেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাওয়াত প্রচারের মর্যাদা এবং যারা তা শোনেনি তাদের নিকট তা স্থানান্তরের গুরুত্ব স্পষ্ট করেছেন। কারণ, প্রচারের মাধ্যমে দাওয়াত এমন ব্যক্তির কাছে পৌঁছাতে পারে যিনি এর যথাযোগ্য মূল্যায়ন করতে পারেন এবং তা থেকে এমন কিছু উপলব্ধি করতে পারেন যা অন্য কেউ পারেনি, এমনকি তিনি যদি দাওয়াতদাতার মুখ থেকে সরাসরি শুনতেন তবুও। দাওয়াত প্রচারকারীর উদ্যম, এর প্রসারে নিরলস প্রচেষ্টা এবং এর হক আদায়ের আগ্রহ সেই ব্যক্তির চেয়েও বেশি হতে পারে যে সরাসরি তা শুনেছে। এর কারণ হলো, দাওয়াতের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অনুধাবন এবং এর লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে তাঁর উপলব্ধি তাঁকে তাঁর ওপর অর্পিত মহান দায়িত্বের অনুভূতি জাগিয়ে তোলে। ফলে তিনি এটি প্রচারের জন্য সময় ব্যয় করেন, প্রসারের জন্য অর্থ ব্যয় করেন এবং দাওয়াতের প্রতি মানুষকে আগ্রহী করার জন্য তাঁর প্রজ্ঞা প্রয়োগ করেন।
কোনো আদর্শের পথে আত্মত্যাগের জন্য সেই আদর্শের সঠিক উপলব্ধি এবং এর প্রতি বিশ্বাসের চেয়ে বড় কোনো অনুপ্রেরণা নেই। আর কোনো চিন্তা প্রসারের ক্ষেত্রে মানুষের মনকে শক্তিশালী ও সাহসী করার জন্য এমন কোনো আকিদা বা বিশ্বাসের চেয়ে শক্তিশালী কিছু নেই যা তার অধিকারীর ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বিস্তার করে; ফলে এটি তাকে একটি বিরামহীন গতিশীলতায় এবং নিরলস কর্মতৎপরতায় রূপান্তরিত করে যতক্ষণ না সে তার লক্ষ্যে পৌঁছায়।
আর এটি কেবল সেই ব্যক্তির পক্ষেই সম্ভব যে তার দাওয়াত বা আহ্বানকে বুঝতে পেরেছে এবং এর মাহাত্ম্য উপলব্ধি করেছে। এই উপলব্ধিই তাকে দাওয়াত প্রচারের জন্য এবং এমন সব হৃদয় খুঁজে বের করার জন্য নিরলস কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করে যারা এই দাওয়াতকে বহন করবে এবং এর পথে আত্মত্যাগ করবে।
একারণেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাদের কাছে দাওয়াত পৌঁছেনি তাদের কাছে তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন। তিনি দাওয়াতকে সব জায়গায় ছড়িয়ে দিতেন এই আশায় যে, হয়তো এটি এমন কারও সাক্ষাৎ পাবে যে তা সংরক্ষণ (وعى) করবে, এর বাস্তবতা বুঝবে এবং এর মাহাত্ম্য উপলব্ধি করবে; অতঃপর সে এটি বহনের জন্য এগিয়ে আসবে এবং এর প্রতিরক্ষার দায়িত্ব গ্রহণ করবে, যতক্ষণ না আল্লাহ عز وجل একে বিজয়ী করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাদরাসাতুদ দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২২১)
الصَّحَابَة فِي ميدان الدعْوَة:شحن الصَّحَابَة رضي الله عنهم تِلْكَ الشّحْنَة الإيمانية العميقة، وخالطت بشاشة الْإِيمَان سويداء قُلُوبهم، وَعَلمُوا أَن من حَقّهَا عَلَيْهِم تبليغها لكل من يلقونه، وَحملهَا إِلَى كل مَكَان يذهبون إِلَيْهِ.
لم يغب عَن الصَّحَابَة أَن الطَّرِيق لن يَخْلُو من عقبات، وَأَن تَبْلِيغ الدعْوَة سيحملهم الْكثير من المشقات، وَأَنَّهُمْ سيواجهون أَصْحَاب عقائد فَاسِدَة يذعنون لَهَا ويدافعون عَنْهَا، وَلم يثنهم ذَلِك عَن حمل العبء الثقيل مضحين بِأَنْفسِهِم وَأَمْوَالهمْ، وَجَهْدهمْ وأوقاتهم.
خرج أَبُو بكر رضي الله عنه بعد أَن التقى برَسُول الله صلى الله عليه وسلم وتلقى عَنهُ أصُول الدعْوَة، فبشر بهَا ودعا إِلَيْهَا كل من يَثِق فِيهِ، وعرضها على أصدقائه فِي أسلوب أخاذ، فَاسْتَجَاب لَهُ جمَاعَة من وجهاء مَكَّة، وآمن على يَدَيْهِ كبار الصَّحَابَة: عُثْمَان بن عَفَّان، الزبير بن الْعَوام، وَعبد الرَّحْمَن بن عَوْف، وَسعد بن أبي وَقاص، وَطَلْحَة بن عبيد الله.
وَلم يكد هَؤُلَاءِ الأفاضل يعلنون إسْلَامهمْ، ويذعنون للحق الَّذِي دعاهم إِلَيْهِ أَبُو بكر حَتَّى ذهب بهم إِلَى رَسُول الله فأسلموا1.
وَيجْلس أَصْحَاب رَسُول الله يَوْمًا فيتذاكرون قُريْشًا وموقفها من الْإِسْلَام، ويتمنون لَو أَن أحدا يسمعهم الْقُرْآن مَا قد يكون سَببا فِي هدايتهم أَو يغيظهم ويقلقهم، فَيَقُولُونَ: من رجل يسمعهم الْقُرْآن؟ ويتطوع عبد الله ابْن مَسْعُود رضي الله عنه – وَيخَاف عَلَيْهِ أَن يُؤْذِيه الْقَوْم، وَلَيْسَ لَهُ عشيرة تَمنعهُ إِن أرادوه بِسوء.
قَالَ ابْن مَسْعُود: دَعونِي! فَإِن الله سيمنعني.
وَغدا الداعية إِلَى حَيْثُ يجْتَمع الْقَوْم فِي أَنْدِيَتهمْ حول الْكَعْبَة وَقَامَ عِنْد الْمقَام، وَأخذ يَتْلُو سُورَة الرَّحْمَن.
--------------------------------------------
দাওয়াতের ময়দানে সাহাবী (الصحابة) গণ:সাহাবী (الصحابة) (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)-গণ সেই গভীর ঈমানী চেতনায় উজ্জীবিত হয়েছিলেন এবং ঈমানের সজীবতা তাঁদের হৃদয়ের অন্তঃস্থলে মিশে গিয়েছিল। তাঁরা বুঝতে পেরেছিলেন যে, যাঁর সাথেই তাঁদের দেখা হবে তাঁর নিকট দ্বীনের দাওয়াত পৌঁছে দেওয়া এবং যেখানেই তাঁরা যাবেন সেখানে তা বহন করে নিয়ে যাওয়া তাঁদের ওপর অর্পিত অন্যতম দায়িত্ব।
সাহাবী (الصحابة)-গণের নিকট এটি অস্পষ্ট ছিল না যে, এই পথ বাধা-বিপত্তিহীন হবে না এবং দাওয়াত প্রচারের ক্ষেত্রে তাঁদের অনেক দুঃখ-কষ্ট সহ্য করতে হবে। তাঁরা জানতেন যে, তাঁদের এমন সব ভ্রান্ত আকিদাহর অধিকারীদের মোকাবিলা করতে হবে যারা সেই ভ্রান্ত মতবাদের অনুগত এবং তার রক্ষক। এই কঠিন দায়িত্ব পালনে কোনো কিছুই তাঁদের পিছু হটাতে পারেনি; তাঁরা নিজেদের জীবন, সম্পদ, শ্রম ও সময় উৎসর্গ করে দিয়েছিলেন।
আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে সাক্ষাৎ করে তাঁর নিকট থেকে দাওয়াতের মূলনীতি (أصول الدعوة) গ্রহণ করার পর বেরিয়ে পড়লেন। তিনি এই দাওয়াতের সুসংবাদ দিলেন এবং যাঁদের ওপর তিনি আস্থা রাখতেন তাঁদের সকলকে এর প্রতি আহ্বান জানালেন। তিনি তাঁর বন্ধুদের নিকট অত্যন্ত চিত্তাকর্ষক পদ্ধতিতে দাওয়াত পেশ করলেন, ফলে মক্কার একদল গণ্যমান্য ব্যক্তি তাঁর আহ্বানে সাড়া দিলেন। তাঁর মাধ্যমেই প্রবীণ সাহাবী (كبار الصحابة) গণ ঈমান আনলেন: উসমান বিন আফফান, যুবাইর বিন আওয়াম, আব্দুর রহমান বিন আউফ, সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস এবং তালহা বিন উবাইদুল্লাহ।
এই মহৎ ব্যক্তিগণ ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দিতে এবং আবু বকর যে সত্যের দিকে তাঁদের আহ্বান জানিয়েছিলেন তার প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করতে বিলম্ব করেননি। এরপর আবু বকর তাঁদেরকে রাসূলুল্লাহ-এর নিকট নিয়ে গেলেন এবং তাঁরা ইসলাম গ্রহণ করলেন।১
একদিন রাসূলুল্লাহ-এর সাহাবী (الصحابة) গণ একত্রিত হয়ে কুরাইশ এবং ইসলামের প্রতি তাদের আচরণ নিয়ে আলোচনা করছিলেন। তাঁরা আকাঙ্ক্ষা করছিলেন যদি কেউ তাদের কুরআন শুনিয়ে দিত, যা হয়তো তাদের হিদায়াতের কারণ হতো অথবা তাদের ক্ষুব্ধ ও বিচলিত করত। তাঁরা বললেন: এমন কে আছে যে তাদের কুরআন শোনাবে? তখন আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) স্বেচ্ছায় এগিয়ে এলেন—অথচ তাঁর ব্যাপারে আশঙ্কা করা হচ্ছিল যে সম্প্রদায়টি তাঁকে কষ্ট দেবে, কারণ তাঁর এমন কোনো গোত্রীয় শক্তি ছিল না যা তাঁকে কোনো অনিষ্ট থেকে রক্ষা করবে।
ইবনে মাসউদ বললেন: আমাকে যেতে দাও! নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাকে রক্ষা করবেন।
পরদিন এই দায়ী (দাওয়াত দানকারী) যেখানে কা’বার চারপাশের মজলিসে লোকেরা সমবেত হতো সেখানে গেলেন এবং মাকামে ইব্রাহীমের নিকট দাঁড়িয়ে সূরা আর-রহমান তিলাওয়াত করতে লাগলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাদরাসাতুদ দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২২২)
وأنصت أَعدَاء الله إِلَى مَا يردد ابْن مَسْعُود، وتساءلوا فِي دهشة مَاذَا قَالَ ابْن أم عبد؟
وَأجَاب بَعضهم: إِنَّه يَتْلُو بعض مَا جَاءَ بِهِ مُحَمَّد، فانهالوا عَلَيْهَا ضربا فِي وَجهه، وَهُوَ يَتْلُو غير مبال بِمَا يَفْعَلُونَ بِهِ، حَتَّى بلغ مِنْهَا مَا شَاءَ الله أَن يبلغ.
وَانْصَرف الداعية الجريء إِلَى أَصْحَابه، وَقد أثر الضَّرْب فِي وَجهه، فرق لَهُ الْمُسلمُونَ، وَقَالُوا: هَذَا الَّذِي خشينا عَلَيْك، فَقَالَ: مَا كَانَ أَعدَاء الله أَهْون عَليّ مِنْهُم الْآن، وَلَئِن شِئْتُم لأغادينهم بِمِثْلِهَا غَدا، قَالُوا: حَسبك قد أسمعتم مَا يكْرهُونَ2.
ويتوالى الدعاة، وتختلف أساليب التَّبْلِيغ، فَتَارَة تكون بنشر الدعْوَة بِالْكَلِمَةِ وَالتَّفْصِيل، وَتارَة تكون بالتمسك بهَا والإصرار عَلَيْهَا، وَتارَة تكون بِالصبرِ على الْأَذَى فِي سَبِيلهَا، وَتحمل المشقات من أجلهَا.
والأسلوب الْأَخير وَإِن كلف الدعاة كثيرا من الدِّمَاء، وَكَثِيرًا من الْجهد، وَكَثِيرًا من العناء إِلَّا أَنه أثبت أَن للدعوة رجَالًا قد آمنُوا بهَا إِيمَانًا ملك عَلَيْهِم حواسهم ومشاعرهم، وتغلغل فِي قُلُوبهم تغلغلا أنساهم آلامهم، وَمَا يلقون فِي سَبِيلهَا من المتاعب والصعاب.
وَكَثِيرًا مَا يكون الصَّبْر والثبات أبلغ فِي التَّأْثِير من الْكَلِمَة مهما كَانَت بليغة مقنعة، وَكَثِيرًا مَا يذل الصَّبْر والثبات كبرياء الجبارين؛ فيستسلمون أَمَام هَذَا الصمود صاغرين.
لقد أذلّ بِلَال العَبْد الضَّعِيف كبرياء أُميَّة بن خلف، وأرغمه بصبره وثباته على الْحق على أَن يطْلب من أبي بكر شِرَاءَهُ ليخلصه مِنْهُ.
يَقُول ابْن هِشَام: إِن أَبَا بكر مرّ بأمية بن خلف وَهُوَ يعذب بِلَالًا؛ فَقَالَ لَهُ: أَلا تتقي الله فِي هَذَا الْمِسْكِين؟ حَتَّى مَتى؟ 3.
وَكَأن ابْن خلف كَانَ ينْتَظر أَن يَقُول أَبُو بكر ذَلِك، وَكَأَنَّهُ قد نفد صبره، ووهنت عزيمته، وَلم يعد لَهُ قدرَة على التعذيب، لقد صَبر بِلَال صبرا أتعب ابْن خلف
--------------------------------------------
আল্লাহর শত্রুরা ইবনে মাসউদ যা আবৃত্তি করছিলেন তা মনোযোগ দিয়ে শুনল এবং বিস্ময়ের সাথে একে অপরকে জিজ্ঞাসা করল, "ইবনে উম্মে আবদ কী বলছে?"
তাদের কেউ কেউ উত্তর দিল, "মুহাম্মদ যা নিয়ে এসেছেন, সে তারই কিছু অংশ তিলাওয়াত করছে।" তখন তারা তার মুখমণ্ডলে নির্দয়ভাবে আঘাত করতে শুরু করল। কিন্তু তিনি তাদের আচরণের প্রতি কোনো ভ্রুক্ষেপ না করে তিলাওয়াত চালিয়ে যাচ্ছিলেন, যতক্ষণ না আল্লাহ যা চেয়েছিলেন তা পূর্ণ হলো।
সাহসী এই দাঈ তার সঙ্গীদের কাছে ফিরে এলেন, তখন তার চেহারায় আঘাতের চিহ্ন সুস্পষ্ট ছিল। তা দেখে মুসলমানরা ব্যথিত হলেন এবং বললেন, "আমরা তোমার ব্যাপারে এই বিষয়টিই আশঙ্কা করছিলাম।" তিনি বললেন, "আল্লাহর শত্রুরা এখন আমার কাছে আগের চেয়েও বেশি তুচ্ছ মনে হচ্ছে। তোমরা চাইলে আগামীকালও আমি তাদের সামনে গিয়ে একইভাবে তিলাওয়াত করতে পারি।" তারা বললেন, "তোমার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট; তুমি তাদের এমন কিছু শুনিয়েছ যা তারা অপছন্দ করে।"
এভাবে দাঈদের আগমন অব্যাহত থাকে এবং প্রচারের পদ্ধতিতে বৈচিত্র্য আসে। কখনও তা হয় শব্দের মাধ্যমে এবং বিস্তারিত ব্যাখ্যার সাহায্যে দাওয়াত প্রচার করে, কখনও দাওয়াতের ওপর অটল ও অবিচল থেকে, আবার কখনও এই পথে অবর্ণনীয় কষ্ট সহ্য করে এবং এর খাতিরে সকল প্রতিকূলতা বরণ করে নেওয়ার মাধ্যমে।
শেষোক্ত পদ্ধতিতে যদিও দাঈদের অনেক রক্ত, শ্রম ও কষ্টের প্রয়োজন হয়, তবুও এটি প্রমাণ করে যে, এই দাওয়াতের এমন কিছু পুরুষ রয়েছেন যারা এর প্রতি এমন ঈমান এনেছেন যা তাদের সমস্ত চেতনা ও অনুভূতিকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে। এই ঈমান তাদের অন্তরে এমনভাবে প্রোথিত হয়েছে যে, তা তাদের সমস্ত ব্যথা এবং এই পথে সম্মুখীন হওয়া সকল ক্লান্তি ও কাঠিন্য ভুলিয়ে দিয়েছে।
প্রায়শই ধৈর্য ও দৃঢ়তা যেকোনো বাগ্মী ও যুক্তিপূর্ণ কথার চেয়েও অধিক প্রভাবশালী হয়। বহু ক্ষেত্রে ধৈর্য ও অবিচলতা দাম্ভিক স্বৈরাচারীদের অহংকারকে ধূলিসাৎ করে দেয়, ফলে তারা এই অটল অবস্থানের সামনে হীনাবস্থায় নতি স্বীকার করে।
একজন দুর্বল দাস হওয়া সত্ত্বেও বিলাল উমাইয়া বিন খালাফের অহংকারকে চূর্ণ করেছিলেন। সত্যের ওপর তার ধৈর্য ও দৃঢ়তা উমাইয়াকে বাধ্য করেছিল যেন সে আবু বকরের কাছে তাকে কিনে নেওয়ার জন্য অনুরোধ করে, যাতে সে বিলালের হাত থেকে নিষ্কৃতি পায়।
ইবনে হিশাম বলেন: আবু বকর উমাইয়া বিন খালাফের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যখন সে বিলালকে নির্যাতন করছিল। তিনি তাকে বললেন, "এই অসহায় লোকটির ব্যাপারে তুমি কি আল্লাহকে ভয় করো না? আর কতকাল এভাবে চলবে?"
মনে হচ্ছিল ইবনে খালাফ যেন আবু বকরের এই কথাটি শোনার অপেক্ষায় ছিল। তার ধৈর্য যেন নিঃশেষ হয়ে গিয়েছিল এবং তার সংকল্প দুর্বল হয়ে পড়েছিল; নির্যাতন করার মতো আর কোনো শক্তি তার অবশিষ্ট ছিল না। বিলাল এমন ধৈর্য ধারণ করেছিলেন যা ইবনে খালাফকে ক্লান্ত ও পরিশ্রান্ত করে দিয়েছিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাদরাসাতুদ দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২২৩)
وافقده لأمل فِي أَن يستجيب بِلَال لما يعرضه عَلَيْهِ من العودة إِلَى الْكفْر، فاستسلم، وَقد صادفت كلمة الصّديق هوى فِي نَفسه لم يكن ليفصح عَنهُ مَخَافَة أَن يرْمى بالضعف - وَهُوَ السَّيِّد المطاع - أَمَام صَبر هَذَا العَبْد الضَّعِيف، وَلِهَذَا لم يكد الصّديق يلقِي عَلَيْهِ كَلمته حَتَّى قَالَ: أَنْت الَّذِي أفسدته، فأنقذه مِمَّا ترى1.
وإننا لنفهم من كلمة أُميَّة بن خلف أَمريْن هامين جديرين بِالتَّأَمُّلِ:
أما الأول: فَهُوَ أَن الصّديق- رضي الله عنه كَانَ لَا يكف عَن تَبْلِيغ الدعْوَة ونشرها فِي كل الأوساط، السَّادة وَالْعَبِيد، والأغنياء والفقراء؛ وَلِهَذَا يرميه ابْن خلف بِأَنَّهُ هُوَ الَّذِي أفسد بِلَالًا.
وَأما الثَّانِي: فَهُوَ إفلاس ابْن خلف أَمَام صَبر بِلَال، وعجزه عَن الِاسْتِمْرَار فِي التعذيب، ورغبته فِي التَّخَلُّص من هَذَا المأزق الَّذِي انحدر إِلَيْهِ، وَلم يعد قَادِرًا على التَّخَلُّص مِنْهُ، نلمس ذَلِك فِي قَوْله لأبي بكر: فأنقذه مِمَّا ترى.
إِن ابْن خلف لَو بَقِي لَدَيْهِ شَيْء من الأمل فِي عودة بِلَال إِلَى الْكفْر لما ضحى بِهِ، ولظل يعذبه حَتَّى يُحَقّق ذَلِك الأمل، لِأَنَّهُ يعلم تَمام الْعلم أَن انْتِقَال بِلَال إِلَى بَيت أبي بكر يضمن لَهُ الْحَيَاة الهادئة فِي ظلّ العقيدة الَّتِي يحاربها، ويعذبه من أجل تَركهَا والعدول عَنْهَا.
وَهَكَذَا يكون بِلَال رضي الله عنه قد أذلّ كبرياء ابْن خلف بصبره، وأرغمه على الاستسلام لما يُرِيد بثباته.
ولندع هَذَا المشهد المثير لنقف أَمَام مشْهد أَكثر إثارة وأعجب مِنْهُ دهشة، إِنَّه مشْهد امْرَأَة ضَعِيفَة تقهر كبرياء رجل قَاس عنيد، أما الْمَرْأَة فَهِيَ جَارِيَة بني مُؤَمل، وَأما الرجل فَهُوَ عمر بن الْخطاب.
لقد ظلّ عمر يعذب تِلْكَ الْجَارِيَة المسكينة ليصرفها عَن دينهَا ويردها إِلَى الشّرك والوثنية، وَلَكِن الْجَارِيَة أَبَت العودة إِلَى الْكفْر وأصرت على الْإِيمَان بِاللَّه وَحده، وَيسْتَمر عمر فِي تَعْذِيب الْمَرْأَة وتزداد ثباتا وتمسكا.
--------------------------------------------
বেলালের কুফরিতে ফিরে যাওয়ার ব্যাপারে উমাইয়ার সমস্ত আশা শেষ হয়ে গিয়েছিল, ফলে সে আত্মসমর্পণ করল। সিদ্দীকের প্রস্তাবটি উমাইয়ার মনের এমন একটি সুপ্ত ইচ্ছার সাথে মিলে গিয়েছিল যা সে প্রকাশ করতে পারছিল না এই ভয়ে যে, এই দুর্বল (ضعيف) দাসের ধৈর্যের কাছে তাকে যেন দুর্বল (ضعيف) হিসেবে আখ্যায়িত করা না হয়—অথচ সে ছিল একজন মান্যবর নেতা। এই কারণেই সিদ্দীক তার সামনে প্রস্তাব পেশ করার সাথে সাথেই সে বলে উঠল: ‘তুমিই তাকে নষ্ট করেছ, সুতরাং তুমি যা দেখছ তা থেকে তাকে উদ্ধার করো’।১
উমাইয়া বিন খালাফের এই উক্তি থেকে আমরা দুটি গুরুত্বপূর্ণ ও অনুধাবনযোগ্য বিষয় বুঝতে পারি:
প্রথমত: সিদ্দীক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) সকল মহলে—নেতা ও দাস, ধনী ও দরিদ্র নির্বিশেষে—দাওয়াত পৌঁছানো এবং তা প্রচারে কখনো বিরত থাকতেন না; এই কারণেই ইবনে খালাফ তাকে অভিযুক্ত করে বলেছিল যে, তিনিই বেলালকে নষ্ট করেছেন।
দ্বিতীয়ত: বেলালের ধৈর্যের মুখে ইবনে খালাফের ব্যর্থতা এবং নির্যাতন অব্যাহত রাখতে তার অক্ষমতা। এছাড়া এই সংকটময় পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা যাতে সে নিপতিত হয়েছিল এবং যা থেকে সে নিস্তার পেতে পারছিল না। আমরা এটি আবু বকরের প্রতি তার এই উক্তিতে অনুভব করি: ‘তুমি যা দেখছ তা থেকে তাকে উদ্ধার করো’।
ইবনে খালাফের মনে যদি বেলালের কুফরিতে ফিরে আসার সামান্যতম আশাও অবশিষ্ট থাকত, তবে সে তাকে হাতছাড়া করত না। বরং সে তার সেই আশা পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাকে নির্যাতন করে যেত। কারণ সে খুব ভালো করেই জানত যে, বেলালের আবু বকরের ঘরে চলে যাওয়া মানে হলো তার জন্য সেই আকিদার ছায়াতলে এক শান্তিপূর্ণ জীবনের নিশ্চয়তা পাওয়া, যে আকিদাকে সে বিরোধিতা করত এবং যা ত্যাগ করা ও তা থেকে ফিরে আসার জন্য সে তাকে নির্যাতন করত।
এভাবেই বেলাল (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তার ধৈর্যের মাধ্যমে ইবনে খালাফের অহংকারকে চূর্ণ করেছিলেন এবং নিজের দৃঢ়তার দ্বারা তাকে নতি স্বীকার করতে বাধ্য করেছিলেন।
আসুন আমরা এই রোমাঞ্চকর দৃশ্যটি রেখে আরও বেশি রোমাঞ্চকর এবং বিস্ময়কর এক দৃশ্যের সামনে দাঁড়াই। এটি এক দুর্বল (ضعيف) মহিলার দৃশ্য যে একজন কঠোর ও একগুঁয়ে ব্যক্তির অহংকারকে পরাভূত করেছিল। সেই মহিলা ছিলেন বনু মুআম্মিলের এক দাসী, আর সেই ব্যক্তিটি ছিলেন উমর ইবনুল খাত্তাব।
উমর সেই অসহায় দাসীটিকে তার দ্বীন থেকে সরিয়ে দিতে এবং শিরক ও মূর্তিপূজার দিকে ফিরিয়ে নিতে ক্রমাগত নির্যাতন করতেন। কিন্তু দাসীটি কুফরিতে ফিরে যেতে অস্বীকার করেন এবং এক আল্লাহর প্রতি ঈমানে অটল থাকেন। উমর তাকে নির্যাতন চালিয়ে যেতে থাকেন, আর মহিলাটি তার দৃঢ়তা ও অবিচলতায় আরও অটল হতে থাকেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাদরাসাতুদ দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২২৪)
وَهَا نَحن نرى عمر يكل ويتعب، وَلَكِن صَبر امْرَأَة وثباتها لم يضعفا وَلم يهنا.
والمشهد يصور لنا ابْن الْخطاب وَهُوَ لَا يزَال على الشّرك جَالِسا ليستريح مِمَّا أَصَابَهُ من التَّعَب والإرهاق، يلتقط أنفاسه التقاطا كَأَنَّهُ عَائِد من معركة مَعَ خصم ذِي بَأْس شَدِيد.
وَفِي الْجَانِب الآخر نشاهد الْجَارِيَة وَقد لاذت بإيمانها، واعتصمت بعقيدتها واقفة كالطود لم ينل مِنْهَا الْأَذَى إِلَّا كَمَا ينَال من الصَّخْرَة حِين يقرعها الوعل بقرنه.
وَيعْتَذر عمر بن الْخطاب لجارية آسفا لعدم قدرته على التعذيب أَكثر من ذَلِك؛ فَيَقُول: إِنِّي أعْتَذر إِلَيْك، إِنِّي لم أتركك إِلَّا ملالة1.
وَترد عَلَيْهِ الْجَارِيَة فِي استعلاء الْمُؤمن بإيمانه: واعتزازه بعقيدته فَتَقول: كَذَلِك فعل الله بك2.
لَا شكّ أَنه مشْهد يثير الْعجب، وَيبْعَث على الدهشة؛ عمر بن الْخطاب يضعف أَمَام امْرَأَة!، المعذب يُصِيبهُ الْملَل والتعب، والمعذبة لَا تسترحمه وَلَا تستعطفه!، المعذب يعْتَذر لعدم قدرته على التعذيب أَكثر من ذَلِك، والمعذبة مستعدة لتحمل أَكثر من ذَلِك فِي سَبِيل عقيدتها وَمن أجل إيمَانهَا!.
ويستسلم عمر ابْن لخطاب الْقوي الْجَبَّار أَمَام صمود الْجَارِيَة الضعيفة.
وَالْحق أَن الْمَسْأَلَة لَيست مَسْأَلَة عمر وَالْجَارِيَة، وَلَا هِيَ مَسْأَلَة قُوَّة وَضعف، وَلكنهَا فِي حَقِيقَتهَا مَسْأَلَة الْإِيمَان وَالْكفْر، وقصة الْإِيمَان وَالْكفْر بعيدَة الأغوار فِي أعماق التَّارِيخ، لَا يَخْلُو مِنْهَا جيل من الأجيال مُنْذُ خلق الله الْإِنْسَان.
نرى صور تِلْكَ الْقِصَّة، تَتَكَرَّر متماثلة مَعَ اخْتِلَاف الزَّمَان والأجيال يبدؤها ولدا آدم عليه السلام وتتكرر مَعَ نوح وَقَومه، ثمَّ مَعَ إِبْرَاهِيم والنمرود، وتتضح معالمها فِي قصَّة مُوسَى مَعَ فِرْعَوْن؛ حَيْثُ يتحدّى السَّحَرَة الْعَزْل فِرْعَوْن، ويصرون على إِيمَانهم بعد أَن هدَاهُم الله إِلَيْهِ، وذاقوا لذته، يهددهم فِرْعَوْن بِعَذَاب تقشعر مِنْهُ الْأَبدَان؛ {فَلأُقَطِّعَنَّ أَيْدِيَكُمْ وَأَرْجُلَكُمْ مِنْ خِلافٍ وَلأُصَلِّبَنَّكُمْ فِي جُذُوعِ النَّخْلِ وَلَتَعْلَمُنَّ أَيُّنَا أَشَدُّ عَذَاباً وَأَبْقَى} 3.
ويظن فِرْعَوْن أَنهم سينزعجون من هَذَا التهديد، وَأَنَّهُمْ سيخرون بَين يَدَيْهِ ساجدين خوفًا من الْعَذَاب، وَنسي أَن الْإِيمَان قد اسْتَقر فِي قُلُوبهم فَأَصْبحُوا بفضله قَادِرين على الصمود
--------------------------------------------
আর এখন আমরা উমরকে পরিশ্রান্ত ও ক্লান্ত হতে দেখছি, কিন্তু একজন নারীর ধৈর্য ও দৃঢ়তা দুর্বল বা শিথিল হয়ে পড়েনি।
এই দৃশ্যটি আমাদের সামনে ইবনুল খাত্তাবকে চিত্রিত করছে এমতাবস্থায় যে, তিনি তখনও শিরকের ওপর অটল ছিলেন; তিনি তাঁর ক্লান্তি ও অবসাদ দূর করে বিশ্রাম নেওয়ার জন্য বসেছেন, এবং এমনভাবে হাঁপাচ্ছেন যেন তিনি এক শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে ফিরে এসেছেন।
অন্যদিকে আমরা সেই দাসীটিকে দেখছি, যিনি তাঁর ঈমানের আশ্রয় নিয়েছেন এবং নিজ আকিদার ওপর অটল থেকেছেন। তিনি সুদৃঢ় পাহাড়ের ন্যায় দণ্ডায়মান; কোনো নির্যাতনই তাঁর তেমন কোনো ক্ষতি করতে পারেনি, যেমন পাহাড়ের গায়ে বুনো ছাগলের শিংয়ের আঘাত কোনো ক্ষতি করতে পারে না।
উমর ইবনুল খাত্তাব সেই দাসীকে আরও বেশি শাস্তি দিতে না পারার কারণে দুঃখ প্রকাশ করে ওজোর পেশ করছেন; তিনি বলছেন: “আমি তোমার নিকট ক্ষমা চাচ্ছি, আমি তোমাকে কেবল ক্লান্ত হয়ে যাওয়ার কারণেই ছেড়ে দিচ্ছি।”১
উত্তরে সেই দাসী একজন মুমিনের ঈমানি শ্রেষ্ঠত্ব ও নিজ আকিদার প্রতি গর্ববোধ নিয়ে বলছেন: “আল্লাহ আপনার সাথেও ঠিক এরূপই করুন।”২
নিঃসন্দেহে এটি এক বিস্ময়কর ও হতবাক করে দেওয়ার মতো দৃশ্য; উমর ইবনুল খাত্তাব একজন নারীর সামনে দুর্বল হয়ে পড়েছেন! নির্যাতনকারী ক্লান্তি ও অবসাদে আক্রান্ত, অথচ নির্যাতিতা তাঁর কাছে করুণা বা দয়া ভিক্ষা করছেন না! নির্যাতনকারী আরও অধিক শাস্তি দিতে অক্ষম হওয়ার কারণে ওজোর পেশ করছেন, আর নির্যাতিতা তাঁর আকিদার পথে ও ঈমানের খাতিরে আরও বেশি কিছু সহ্য করতে প্রস্তুত!
প্রবল প্রতাপশালী উমর ইবনুল খাত্তাব সেই দুর্বল দাসীর দৃঢ়তার সামনে নতি স্বীকার করছেন।
প্রকৃতপক্ষে বিষয়টি উমর এবং সেই দাসীর ব্যক্তিগত কোনো বিষয় নয়, কিংবা এটি কেবল শক্তি ও দুর্বলতার প্রশ্নও নয়; বরং এটি হলো ঈমান ও কুফরের সংঘাত। ঈমান ও কুফরের এই কাহিনী ইতিহাসের গভীরে প্রোথিত, যা মানব সৃষ্টির পর থেকে প্রতিটি প্রজন্মেই বিদ্যমান।
আমরা এই কাহিনীর রূপান্তরগুলো সময়ের বিবর্তন ও প্রজন্মের পরিক্রমায় বারবার পুনরাবৃত্তি হতে দেখি। আদম (আলাইহিস সালাম)-এর দুই পুত্রের মাধ্যমে এর সূচনা হয়েছিল এবং নূহ ও তাঁর কওমের সাথে এর পুনরাবৃত্তি হয়েছে, অতঃপর ইবরাহিম ও নমরূদের সাথেও। মুসা ও ফেরাউনের কাহিনীতে এর স্বরূপ আরও স্পষ্টভাবে পরিস্ফুট হয়; যেখানে নিরস্ত্র জাদুকররা ফেরাউনকে চ্যালেঞ্জ করে এবং আল্লাহ তাদের হিদায়াত দান করার পর ও ঈমানের স্বাদ আস্বাদন করার পর তারা তাদের বিশ্বাসের ওপর অটল থাকে। ফেরাউন তাদের এমন যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির হুমকি দেয় যা শুনলে শরীর শিউরে ওঠে: {আমি অবশ্যই তোমাদের হাত ও পা বিপরীত দিক থেকে কেটে ফেলব এবং তোমাদেরকে খেজুর গাছের কাণ্ডে শূলে চড়াব। তখন তোমরা অবশ্যই জানতে পারবে আমাদের মধ্যে কার শাস্তি অধিক কঠোর ও দীর্ঘস্থায়ী।}৩
ফেরাউন ধারণা করেছিল যে তারা এই হুমকিতে আতঙ্কিত হবে এবং শাস্তির ভয়ে তার সামনে সিজদাবনত হবে; কিন্তু সে ভুলে গিয়েছিল যে ঈমান তাদের অন্তরে সুদৃঢ়ভাবে গেঁথে গেছে, ফলে এর বদৌলতে তারা যে কোনো পরিস্থিতিতে অটল থাকতে সক্ষম হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাদরাসাতুদ দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২২৫)
فِي وَجه الْكفْر، وأصبحت عقيدتهم أعز عَلَيْهِم من حياتهم، فَأَجَابُوا على التهديد بالصمود، وعَلى الْوَعيد بالتحدي {قَالُوا لَنْ نُؤْثِرَكَ عَلَى مَا جَاءَنَا مِنَ الْبَيِّنَاتِ وَالَّذِي فَطَرَنَا فَاقْضِ مَا أَنْتَ قَاضٍ إِنَّمَا تَقْضِي هَذِهِ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا إِنَّا آمَنَّا بِرَبِّنَا لِيَغْفِرَ لَنَا خَطَايَانَا وَمَا أَكْرَهْتَنَا عَلَيْهِ مِنَ السِّحْرِ وَاللَّهُ خَيْرٌ وَأَبْقَى} 4.
ويفاجأ فِرْعَوْن المتغطرس بِهَذَا التحدي مِمَّن كَانُوا بالْأَمْس عبيدا لَهُ؛ فينخلع قلبه، ويطيش صَوَابه، وَلكنه لم يسْتَطع أَن يمْضِي وعيده، وَلَا أَن ينفذ تهديده، وَكَانَ كعادته يتوعد وَيقف عِنْد هَذَا الْحَد وَلَا يتعداه.
وَسِيَاق الْآيَات الكريمات لَا يُعْطي مدلولا وَاضحا لنتيجة هَذَا التهديد، هَل نفذ فِرْعَوْن وعيده، أم تراجع أَمَام هَذَا التحدي، وبلع رِيقه أَمَام هَذَا الصمود، وَزعم أَن أَتْبَاعه هم حالوا بَينه وَبَين التَّنْفِيذ، كَمَا حكى عَنهُ الْقُرْآن حِين قَالَ: {وَقَالَ فِرْعَوْنُ ذَرُونِي أَقْتُلْ مُوسَى وَلْيَدْعُ رَبَّهُ إِنِّي أَخَافُ أَنْ يُبَدِّلَ دِينَكُمْ أَوْ أَنْ يُظْهِرَ فِي الأَرْضِ الْفَسَادَ} 5.
إِن فِرْعَوْن يزْعم أَن أَتْبَاعه هم الَّذين يحولون بَينه وَبَين قتل مُوسَى، ولولاهم لقَتله، فَهُوَ يَقُول لَهُم: {ذَرُونِي} أَي اتركوني؛ وَالْحق أَن أحدا لم يمنعهُ، وَلم يكن فِي رَعيته من يَسْتَطِيع أَن يمنعهُ أَو أَن يحول بَينه وَبَين تَنْفِيذ مَا يُرِيد، وَلَكِن بهت أَمَام تحدي الْإِيمَان وصمود الْمُؤمنِينَ.
وَالَّذِي يَبْدُو من سِيَاق الْآيَات أَن فِرْعَوْن هدد وَلم ينفذ، وتوعد وَتوقف، حَيْثُ لم تشر الْآيَات إِلَى مصير السَّحَرَة الَّذين آمنُوا بِرَبّ هَارُون مُوسَى.
وَالَّذِي يظْهر كَذَلِك أَن فِرْعَوْن انهزم نفسيا أَمَام تحدي السَّحَرَة واستهانتهم بِمَا توعدهم بِهِ، فَلم يقدر على أَكثر من القَوْل.
وَهَكَذَا تَتَكَرَّر الصُّورَة، وَلَا تزَال تَتَكَرَّر حَتَّى يَرث الله الأَرْض وَمن عَلَيْهَا.
وَهَكَذَا يقف الدعاة فِي وَجه الظُّلم والطغيان، ويعلنون فِي ميدان الدعْوَة إِيمَانهم الْحق، وتحديهم للباطل، وصبرهم على الْأَذَى فِي سَبِيل الله حَتَّى يتَحَقَّق لَهُم النَّصْر.
কুফরির মোকাবিলায় তাদের আকিদা তাদের প্রাণের চেয়েও প্রিয় হয়ে ওঠে। তারা হুমকির উত্তর দেয় অবিচলতার মাধ্যমে এবং ভীতিপ্রদর্শনের মোকাবিলা করে চ্যালেঞ্জের মাধ্যমে। {তারা বলল: আমাদের নিকট যে স্পষ্ট নিদর্শনাবলি এসেছে তার ওপর এবং যিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন তাঁর ওপর আমরা তোমাকে কখনোই প্রাধান্য দেব না। সুতরাং তুমি যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার নাও; তুমি তো কেবল এই পার্থিব জীবনেরই ফয়সালা করতে পারবে। আমরা আমাদের রবের ওপর ঈমান এনেছি যাতে তিনি আমাদের ভুলত্রুটি এবং তুমি আমাদের যে জাদু করতে বাধ্য করেছ তা ক্ষমা করে দেন। আর আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ ও চিরস্থায়ী।} ৪।
উদ্ধত ফেরাউন গতকাল পর্যন্ত যারা তার দাস ছিল, তাদের পক্ষ থেকে এমন চ্যালেঞ্জ দেখে বিস্মিত হয়; তার হৃদয় প্রকম্পিত হয় এবং সে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ে। কিন্তু সে তার হুমকি কার্যকর করতে পারেনি এবং তার ভীতিপ্রদর্শন বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হয়নি। সে তার চিরাচরিত অভ্যাস অনুযায়ী কেবল হুমকি দিত এবং সেই সীমার মধ্যেই থেমে থাকত, তা অতিক্রম করত না।
পবিত্র আয়াতসমূহের প্রেক্ষাপট এই হুমকির ফলাফল সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয় না; ফেরাউন কি তার হুমকি কার্যকর করেছিল, নাকি সে এই চ্যালেঞ্জের সামনে পিছু হটেছিল এবং এই অবিচলতার সামনে নতিস্বীকার করেছিল? সে কি এমন দাবি করেছিল যে, তার অনুসারীরাই তাকে তা বাস্তবায়ন করা থেকে বিরত রেখেছে? যেমনটি কুরআন তার সম্পর্কে বর্ণনা করেছে যখন সে বলেছিল: {ফেরাউন বলল: তোমরা আমাকে ছাড়ো, আমি মুসাকে হত্যা করি এবং সে তার রবকে ডাকুক। আমি আশঙ্কা করি যে, সে তোমাদের দ্বীন পরিবর্তন করে দেবে অথবা জমিনে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে।} ৫।
ফেরাউন দাবি করে যে, তার অনুসারীরাই তাকে মুসাকে হত্যা করার পথে বাধা দিচ্ছে, আর তারা না থাকলে সে তাকে হত্যা করত। সে তাদের বলছে: {তোমরা আমাকে ছাড়ো} অর্থাৎ আমাকে বাধা দিও না। অথচ সত্য হলো এই যে, কেউ তাকে বাধা দেয়নি এবং তার প্রজাদের মধ্যে এমন কেউ ছিল না যে তাকে বাধা দেওয়ার বা সে যা চায় তা বাস্তবায়ন থেকে তাকে রুখতে সক্ষম ছিল। বরং সে ঈমানের চ্যালেঞ্জ এবং মুমিনদের অবিচলতার সামনে হতভম্ব হয়ে পড়েছিল।
আয়াতসমূহের প্রেক্ষাপট থেকে যা প্রতীয়মান হয় তা হলো, ফেরাউন হুমকি দিয়েছিল কিন্তু তা কার্যকর করেনি; সে ভীতি প্রদর্শন করেছিল কিন্তু থেমে গিয়েছিল। কেননা আয়াতসমূহ সেই জাদুকরদের পরিণতির দিকে কোনো ইঙ্গিত দেয়নি যারা হারুন ও মুসার রবের ওপর ঈমান এনেছিল।
একইভাবে এটিও স্পষ্ট হয় যে, জাদুকরদের চ্যালেঞ্জ এবং তারা তার হুমকিকে যেভাবে তুচ্ছজ্ঞান করেছিল, তার সামনে ফেরাউন মানসিকভাবে পরাজিত হয়েছিল। ফলে সে আস্ফালনের চেয়ে বেশি কিছু করতে সমর্থ হয়নি।
এভাবেই এই দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি ঘটে এবং তা ঘটতেই থাকবে যতক্ষণ না আল্লাহ পৃথিবী ও তার ওপর বিচরণকারীদের উত্তরাধিকারী হন।
এভাবেই সত্যের আহ্বানকারীগণ জুলুম ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান এবং দাওয়াতের ময়দানে তাদের সত্য ঈমান, বাতিলের প্রতি চ্যালেঞ্জ এবং আল্লাহর পথে কষ্টের ওপর ধৈর্য ঘোষণা করেন, যতক্ষণ না তাদের বিজয় অর্জিত হয়।
(খণ্ড: ১)
মাদরাসাতুদ দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২২৫)
الدعْوَة تواجه التيارات المضادة:دأبت مدرسة الدعْوَة على تَخْرِيج دعاة مسلحين بسلاحين مهمين فِي حَيَاة الدعاة وهما: الْإِيمَان وَالْعلم.
وَالْإِيمَان سلَاح لَا يُغني عَنهُ سلَاح مهما كَانَ، إِذْ هُوَ الدرْع الواقي من هجمات الْأَعْدَاء، وكنز لَا ينْفد فِي إمداد الدعاة بِالصبرِ على الْأَذَى، والثقة فِي الله، والصمود فِي وَجه الطغاة.
--------------------------------------------
দাওয়াহ প্রতিকূল স্রোতের মোকাবিলা করছে:দাওয়াহর বিদ্যাপীঠ সর্বদা দাঈদের এমন দুটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ারে সুসজ্জিত করে গড়ে তোলার ধারা অব্যাহত রেখেছে যা দাঈদের জীবনে অত্যন্ত প্রয়োজনীয়, আর তা হলো: ঈমান ও ইলম।
আর ঈমান হলো এমন এক হাতিয়ার যার সমকক্ষ কোনো হাতিয়ার নেই, তা যা-ই হোক না কেন; কেননা এটি শত্রুদের আক্রমণ থেকে সুরক্ষাকারী ঢাল এবং দাঈদেরকে কষ্টের মুখে ধৈর্য ধারণ, আল্লাহর প্রতি সুদৃঢ় আস্থা (ثقة) এবং জালিমদের মোকাবিলায় অটল থাকার রসদ জোগাতে এক অক্ষয় ভাণ্ডার।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাদরাসাতুদ দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২২৬)
أما الْعلم فَهُوَ الْفِقْه الدَّقِيق فِي أهداف الدعْوَة ووسائلها، وَكَيْفِيَّة تبليغها والحرص على نشرها، وَالْفِقْه فِي الدعْوَة بِهَذَا الْمَفْهُوم أَمر وَاجِب على الدعاة.
فالدعاة مهما كَانَت جرأتهم فِي الْحق، وقدرتهم على المواجهة، وصبرهم على الْأَذَى، وصمودهم فِي ميدان الدعْوَة؛ فَإِن ذَلِك لَا يسد مسد الْفِقْه فِي الدعْوَة وَالْعلم بدقائقها وطرق تبليغها، وَلَئِن كَانَت هَذِه الْأُمُور ضَرُورِيَّة للدعاة فَإِن الْفِقْه فِي الدعْوَة من أهم الضروريات.
إِن فهم الداعية لحقيقة دَعوته هُوَ الَّذِي يُمكنهُ من تبليغها، ويجعله قَادِرًا على رد الشُّبُهَات عَنْهَا، وتفنيد افتراءات المبطلين الَّذين لَا يكفون عَن إثارة الشُّبُهَات، وإشعال الْفِتَن، وإلصاق التهم، وتجريح الأبرياء.
وَليكن مَعْلُوما لَدَى الدعاة إِلَى الله أَن الحماس للحق لَا يُغني غناء الْفِقْه، وَأَن الجرأة فِي التَّبْلِيغ لَا تسد مسد الْفَهم، وَأَن الصَّبْر على الْأَذَى لَا يقوم مقَام الْعلم، وَلِهَذَا وجدنَا الدعاة فِي ميدان الدعْوَة يواجهون أعداءهم بالحجج الَّتِي تدحض باطلهم، والأدلة الَّتِي تدعم دعوتهم، فِي مُوَاجهَة خصومهم، والبراهين الَّتِي تمكنهم من كشف زيف الْبَاطِل الَّذِي يقف فِي طَرِيق دعوتهم.
وَلَقَد كَانَ هَذَا الْفِقْه للدعاة أمضى من الأسلحة فِي أَيدي الْمُحَاربين؛ اقتحموا بِهِ الْعُقُول فأذعنت للحق، وطرقوا بِهِ الْقُلُوب فَلَانَتْ لذكر الله.
إِن أَي دَعْوَة لَا تمد دعاتها بالفقه فِي مبادئها، والفهم لغايتها ووسائلها لهي دَعْوَة مَحْكُوم عَلَيْهَا بالفشل، لِأَن مشكلات الدعاة لَا تحل عَن طَرِيق السَّيْف بِقدر مَا تحل عَن طَرِيق الْإِقْنَاع والفهم، وَلِأَن الدعْوَة إِذا اسْتَقَرَّتْ فِي الْقلب يعجز السَّيْف عَن إخْرَاجهَا مِنْهُ، وَهَذَا هُوَ الْمَفْهُوم الْحَقِيقِيّ لقَوْله تبارك وتعالى: {ادْعُ إِلَى سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ وَجَادِلْهُمْ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ} 1.
إِن الْفِقْه الدَّقِيق لأسرار الدعْوَة وأهدافها، وَالَّذِي يَسْتَطِيع الداعية عَن طَرِيق إقناع خَصمه، وَإِزَالَة الأباطيل من رَأسه؛ لَهو السِّلَاح الْحَقِيقِيّ الَّذِي يجب أَن يتسلح بِهِ الدعاة؛ لِأَن الدعْوَة لابد أَن تواجهها تيارات مضادة وأفكار معادية، وَمن الْمَعْلُوم أَن الفكرة لَا تحارب بِالسَّيْفِ مهما كَانَت بَاطِلَة، وَأَن العقيدة لَا تقاوم بالقهر وَلَو كَانَت فَاسِدَة؛ وَمن أجل هَذَا كَانَ الْفِقْه وَمَعْرِفَة كَيْفيَّة إقناع الْخصم أجدى على الدعْوَة من السَّيْف والمدفع.
وَمَعَ أَن الدعْوَة لَا تَسْتَغْنِي مُطلقًا عَن السَّيْف والمدفع - إِذْ هما الْوَسِيلَة الفعالة لإقناع
--------------------------------------------
অতঃপর জ্ঞান (علم) হলো দাওয়াতের লক্ষ্য ও পন্থাসমূহ এবং তা পৌঁছানোর পদ্ধতি ও প্রসারে একাগ্রতার সূক্ষ্ম উপলব্ধি (فقه); আর দাওয়াতের ক্ষেত্রে এই অর্থে গভীর জ্ঞান (فقه) অর্জন করা দাওয়াত দানকারীদের জন্য ওয়াজিব।
দাওয়াত দানকারীদের সত্যের পথে সাহস, মোকাবেলার ক্ষমতা, কষ্টের ওপর ধৈর্য এবং দাওয়াতের ময়দানে অবিচলতা যতই থাকুক না কেন, তা দাওয়াতের ক্ষেত্রে গভীর জ্ঞান (فقه) এবং এর সূক্ষ্ম বিষয় ও প্রচারের পদ্ধতি সম্পর্কে জ্ঞানের (علم) বিকল্প হতে পারে না। এই বিষয়গুলো যদি দাওয়াত দানকারীদের জন্য জরুরি হয়, তবে দাওয়াতের ক্ষেত্রে গভীর জ্ঞান (فقه) অর্জন করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজনের অন্তর্ভুক্ত।
দাওয়াত দানকারী কর্তৃক তাঁর দাওয়াতের প্রকৃত রূপ উপলব্ধি করা এমন এক বিষয় যা তাঁকে তা পৌঁছে দিতে সক্ষম করে এবং দাওয়াতের ওপর আনীত সংশয়সমূহ নিরসন করতে এবং বাতিলপন্থীদের মিথ্যাচার খণ্ডন করতে সমর্থ করে, যারা সংশয় সৃষ্টি করা, ফিতনা উস্কে দেওয়া, অপবাদ আরোপ করা এবং নির্দোষদের অযোগ্য প্রতিপন্ন করা (تجريح) থেকে বিরত থাকে না।
আল্লাহর পথে দাওয়াত দানকারীদের জেনে রাখা উচিত যে, সত্যের প্রতি আবেগ গভীর জ্ঞানের (فقه) বিকল্প হতে পারে না, প্রচারের ক্ষেত্রে সাহস সঠিক উপলব্ধির স্থান দখল করতে পারে না এবং কষ্টের ওপর ধৈর্য জ্ঞানের (علم) স্থলাভিষিক্ত হতে পারে না। এই কারণেই আমরা দেখতে পাই যে, দাওয়াতের ময়দানে দাওয়াত দানকারীরা তাদের শত্রুদের এমন যুক্তির মাধ্যমে মোকাবেলা করেন যা তাদের বাতিলকে খণ্ডন করে এবং এমন প্রমাণের মাধ্যমে যা তাদের দাওয়াতকে সমর্থন যোগায়, আর এমন দলীলের মাধ্যমে যা তাদের দাওয়াতের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ানো মিথ্যার অসারতা উন্মোচন করতে সক্ষম করে।
দাওয়াত দানকারীদের নিকট এই গভীর জ্ঞান (فقه) যোদ্ধাদের হাতের অস্ত্রের চেয়েও অধিক ধারালো ছিল; এর মাধ্যমে তারা বুদ্ধিবৃত্তিক বিজয় অর্জন করেছেন ফলে মানুষ সত্যের নিকট নতি স্বীকার করেছে এবং এর মাধ্যমে তারা হৃদয়ের দ্বারে কড়া নেড়েছেন ফলে আল্লাহর স্মরণে তা বিগলিত হয়েছে।
যে দাওয়াত তার কর্মীদের তার মূলনীতিসমূহ সম্পর্কে গভীর জ্ঞান (فقه) এবং তার লক্ষ্য ও পন্থাসমূহ সম্পর্কে সঠিক উপলব্ধি প্রদান করে না, তা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হতে বাধ্য। কেননা দাওয়াত দানকারীদের সমস্যাগুলো তরবারির মাধ্যমে সমাধান হয় না যতটা না তা যুক্তি ও উপলব্ধির মাধ্যমে সমাধান হয়। আর দাওয়াত যখন অন্তরে বদ্ধমূল হয়ে যায়, তখন তরবারি তা বের করতে অক্ষম হয়ে পড়ে। আর এটাই হলো আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালার এই বাণীর প্রকৃত অর্থ: {তোমার রবের পথের দিকে দাওয়াত দাও হিকমত ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে এবং তাদের সাথে বিতর্ক করো সেই পন্থায় যা সর্বোত্তম} ১।
দাওয়াতের রহস্য ও লক্ষ্যসমূহের সূক্ষ্ম উপলব্ধি (فقه), যার মাধ্যমে দাওয়াত দানকারী তার প্রতিপক্ষকে আশ্বস্ত করতে পারে এবং তার মস্তক থেকে ভ্রান্তিগুলো দূর করতে পারে; তা-ই হলো প্রকৃত অস্ত্র যা দ্বারা দাওয়াত দানকারীদের সজ্জিত হওয়া উচিত। কারণ দাওয়াতকে অবশ্যই বিরোধী স্রোত ও শত্রুভাবাপন্ন মতাদর্শের মুখোমুখি হতে হবে। এটা সর্বজনবিদিত যে, কোনো আদর্শ যতই ভ্রান্ত হোক না কেন, তা তরবারির মাধ্যমে দমন করা যায় না এবং কোনো আকিদাহ যতই কলুষিত হোক না কেন, বলপ্রয়োগের মাধ্যমে তার মোকাবেলা করা যায় না। এ কারণেই দাওয়াতের ক্ষেত্রে প্রতিপক্ষকে আশ্বস্ত করার গভীর জ্ঞান (فقه) ও পদ্ধতি জানা তরবারি বা কামানের চেয়ে অধিক ফলপ্রসূ।
যদিও দাওয়াত কখনোই তরবারি ও কামানের অভাব বোধ থেকে মুক্ত নয় - যেহেতু এই দুটি হলো আশ্বস্ত করার কার্যকর মাধ্যম
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাদরাসাতুদ দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২২৭)
المعاندين والجاحدين، وإخضاع الطغاة وَالْمُتَجَبِّرِينَ - إِلَّا أَن الْفِقْه والإقناع نتائجهما أعظم وفوائدهما أَكثر.
ولكي ندرك تِلْكَ الْحَقِيقَة سنسوق هُنَا نماذج من حَيَاة الدعاة فِي العصور الْمُخْتَلفَة؛ لنرى كَيفَ كَانَت الْحجَّة والبرهان وَالْفِقْه والإقناع هِيَ الْوَسَائِل الَّتِي كَانَ يستعملها الدعاة، حَتَّى إِذا مَا استعصى الْأَمر ونفد الصَّبْر لم يكن بعد ذَلِك إِلَّا السَّيْف
وَالنَّاس إِن ظلمُوا الْبُرْهَان واعتسفوا
… فالحرب أجدى على الدُّنْيَا من السّلم
1- فِي عصر مُوسَى: أرسل الله عز وجل مُوسَى إِلَى فِرْعَوْن، وَأمره أَن يطْلب من فِرْعَوْن أَن يتْرك بني إِسْرَائِيل ليذهبوا مَعَه، ويحررهم من عبوديتهم لَهُ، وَلَكِن فِرْعَوْن لج فِي العناد، وهدد مُوسَى بالسجن وَالْعِقَاب {قَالَ لَئِنِ اتَّخَذْتَ إِلَهاً غَيْرِي لأَجْعَلَنَّكَ مِنَ الْمَسْجُونِينَ} 2.
وَإِن المتدبر لتِلْك الْآيَة الْكَرِيمَة ليلمح فِيهَا تهديدا رهيبا، كَمَا يلمس من التَّعْبِير {لأَجْعَلَنَّكَ مِنَ الْمَسْجُونِينَ} أَن سجون فِرْعَوْن كَانَت مَمْلُوءَة بالمظلومين من أَمْثَال مُوسَى عليه السلام حَيْثُ يُفِيد التَّعْبِير أَن مُوسَى سَيكون وَاحِدًا من المسجونين الكثيرين، وَلنْ يضير فِرْعَوْن أَن يُضَاف سِجِّين جَدِيد إِلَى الْأَعْدَاد الهائلة الَّتِي تغص بهَا سجونه.
ومُوسَى عليه السلام – لَا يعبأ كثيرا بِهَذَا التهديد المخيف، مَعَ أَنه لَا يخفى عَلَيْهِ مَا يكون عَادَة فِي سجون الظَّالِمين من النكال والتعذيب، وبخاصة وَقد سبقه يُوسُف عليه السلام – فسجن فِي أحد سجون الفراعنة ظلما بعد مَا تبينت بَرَاءَته، ولبث فِي السجْن بضع سِنِين، وَلكنه خرج مِنْهُ موفور الْكَرَامَة، مَحْمُود السِّيرَة، مَرْفُوع الرَّأْس، حَيْثُ نَصبه فِرْعَوْن الَّذِي سجنه وزيرا على خَزَائِن الأَرْض، فَمَاذَا يضير مُوسَى عليه السلام لَو أَدخل سجن فِرْعَوْن؟ وَهل نَالَ السجْن من عَزِيمَة يُوسُف شَيْئا حَتَّى ينَال من عَزِيمَة مُوسَى؟ وماذا لَو سجن وَاتخذ من السجْن ميدانا لنشر الدعْوَة؟ ألم يفعل ذَلِك يُوسُف من قبل حِين قَالَ {يَا صَاحِبَيِ السِّجْنِ أَأَرْبَابٌ مُتَفَرِّقُونَ خَيْرٌ أَمِ اللَّهُ الْوَاحِدُ الْقَهَّارُ} 1.
لم يلْتَفت مُوسَى عليه السلام إِلَى هَذَا التهديد الأجوف، وتذرع بالحلم، وَقَالَ لفرعون فِي هدوء: أتسجنني وَلَو جئْتُك بِآيَة بَيِّنَة تثبت لَك صدق دعواي؟ {قَالَ أَوَلَوْ جِئْتُكَ بِشَيْءٍ مُبِينٍ} 2؟
--------------------------------------------
একগুঁয়ে ও সত্য অস্বীকারকারীদের মোকাবিলা করা এবং স্বৈরাচারী ও উদ্ধতদের বশীভূত করার চেয়ে প্রজ্ঞা ও বুদ্ধিবৃত্তিক প্রণোদনার ফলাফল অনেক বেশি সুদূরপ্রসারী এবং এর উপকারিতাও অনেক বেশি।
এই বাস্তবতাকে উপলব্ধি করার জন্য আমরা এখানে বিভিন্ন যুগের দাঈদের জীবনের কিছু দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করব; যাতে আমরা দেখতে পাই যে কীভাবে অকাট্য যুক্তি, প্রমাণ, প্রজ্ঞা ও বুদ্ধিবৃত্তিক প্রণোদনাই ছিল সেই মাধ্যম যা দাঈগণ ব্যবহার করতেন। এমনকি যখন বিষয়টি দুঃসাধ্য হয়ে পড়ত এবং ধৈর্য নিঃশেষ হয়ে আসত, তখন তলোয়ার ছাড়া আর কোনো উপায় অবশিষ্ট থাকত না।
আর মানুষ যখন অকাট্য প্রমাণকে উপেক্ষা করে এবং অবিচার করে... তখন দুনিয়ার জন্য শান্তির চেয়ে যুদ্ধই অধিক কার্যকর।
১- মুসার যুগে: আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা মুসাকে ফেরাউনের নিকট প্রেরণ করেন এবং তাকে নির্দেশ দেন যেন সে ফেরাউনের নিকট বনী ইসরাঈলকে তার সাথে চলে যেতে দেওয়ার দাবি জানায় এবং তাদেরকে তার দাসত্ব থেকে মুক্ত করে। কিন্তু ফেরাউন একগুঁয়েমি চালিয়ে যেতে থাকল এবং মুসাকে কারাবরণ ও শাস্তির হুমকি প্রদান করল: {সে বলল, তুমি যদি আমার পরিবর্তে অন্য কাউকে ইলাহ হিসেবে গ্রহণ করো, তবে আমি অবশ্যই তোমাকে বন্দিদের অন্তর্ভুক্ত করব।} ২।
এই সম্মানিত আয়াতটি নিয়ে যিনি গভীরভাবে চিন্তা করবেন, তিনি এতে এক ভয়ংকর হুমকি লক্ষ্য করবেন। যেমন {আমি অবশ্যই তোমাকে বন্দিদের অন্তর্ভুক্ত করব}—এই অভিব্যক্তি থেকে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, ফেরাউনের কারাগারগুলো মুসা আলাইহিস সালামের মতো অনেক মজলুমের দ্বারা পূর্ণ ছিল। এই অভিব্যক্তিটি ইঙ্গিত দেয় যে, মুসা হবেন সেই অসংখ্য বন্দির মাঝে একজন মাত্র; আর তার কারাগারগুলো যে বিশাল সংখ্যক বন্দিতে ঠাসা ছিল, তাতে নতুন একজন বন্দি যুক্ত হওয়া ফেরাউনের জন্য কোনো চিন্তার বিষয় ছিল না।
মুসা আলাইহিস সালাম এই ভীতিপ্রদ হুমকির প্রতি খুব একটা ভ্রূক্ষেপ করলেন না, যদিও জালেমদের কারাগারে সাধারণত যে ধরণের কঠোর যাতনা ও নির্যাতন চালানো হয় তা তাঁর অজানা ছিল না। বিশেষ করে তাঁর পূর্বে ইউসুফ আলাইহিস সালামের দৃষ্টান্ত তো ছিলই—যিনি নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ার পরও জুলুমের শিকার হয়ে ফেরাউনদের একটি কারাগারে নিক্ষিপ্ত হয়েছিলেন এবং কয়েক বছর সেখানে কারাবাস করেছিলেন। তবে তিনি সেখান থেকে পূর্ণ মর্যাদা ও প্রশংসিত চরিত্রের সাথে মাথা উঁচু করে বের হয়েছিলেন, কারণ সেই ফেরাউন—যিনি তাঁকে কারারুদ্ধ করেছিলেন—তাঁকে জমিনের ধনভাণ্ডারের মন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত করেছিলেন। সুতরাং মুসা আলাইহিস সালাম ফেরাউনের কারাগারে প্রবেশ করলে তাতে তাঁর কী ক্ষতি হতো? কারাগার কি ইউসুফের সংকল্পকে বিন্দুমাত্র দমাতে পেরেছিল যে তা মুসার সংকল্পকে দমিত করবে? আর যদি তাঁকে কারারুদ্ধই করা হতো, তবে তিনি কারাগারকেই দাওয়াত প্রচারের ময়দান হিসেবে গ্রহণ করতেন না কেন? ইউসুফ কি এর আগে এমনটি করেননি যখন তিনি বলেছিলেন: {হে আমার কারাগারের দুই সাথী! ভিন্ন ভিন্ন অনেক প্রতিপালক কি উত্তম, নাকি এক পরাক্রমশালী আল্লাহ?} ১।
মুসা আলাইহিস সালাম এই অন্তঃসারশূন্য হুমকির প্রতি কর্ণপাত করলেন না এবং ধৈর্য অবলম্বন করে শান্তভাবে ফেরাউনকে বললেন: আমি যদি তোমার কাছে আমার দাবির সত্যতা প্রমাণে কোনো সুস্পষ্ট নিদর্শন নিয়ে আসি, তবুও কি তুমি আমাকে কারারুদ্ধ করবে? {সে বলল, তুমি যদি সত্যবাদী হও, তবে কোনো সুস্পষ্ট কিছু নিয়ে আসো।} ২।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাদরাসাতুদ দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২২৮)
ويتظاهر فِرْعَوْن بِأَنَّهُ لَا يرفض الْبُرْهَان، وَأَنه مستعد للإذعان للحق مَتى مَا أثْبته بِبَيِّنَة مَقْبُولَة؛ {قَالَ فَأْتِ بِهِ إِنْ كُنْتَ مِنَ الصَّادِقِينَ} 3.
وَهنا يظْهر مُوسَى عليه السلام من المعجزات مَا لَا يُمَارِي فِيهِ إِلَّا جَاحد عنيد؛ فيحول الْعَصَا حَيَّة تسْعَى، وَيخرج يَده بَيْضَاء مشعة يَرَاهَا كل من نظر إِلَيْهَا بعكس مَا كَانَت عَلَيْهِ فِي الأَصْل من الأدمة - أَي السمرَة -.
ويتنكر فِرْعَوْن لما وعد بِهِ، ويوحي إِلَى الْمَلأ حوله أَن الَّذِي رَأَوْهُ إِنَّمَا هُوَ سحر، وَأَن مُوسَى سَاحر بارع.
وَنحن نلاحظ فِي الْآيَات الَّتِي قصها الْقُرْآن الْكَرِيم علينا أَن مُوسَى لم يواجه فِرْعَوْن بِالسِّلَاحِ، وَلم يذهب إِلَيْهِ بِجَيْش ليجبره على الدُّخُول فِي دينه، مَعَ علمه تَمام الْعلم أَن فِرْعَوْن ظَالِم جَبَّار، وَأَنه لن يسلم للحجة والبرهان، وَمَعَ هَذَا لم يكن مَعَه سلَاح إِلَّا الْحجَّة والبرهان.
ويخلف مُوسَى رجلا من آل فِرْعَوْن، يقوم فيهم دَاعيا إِلَى الله حِين همّ فِرْعَوْن أَو هدد بقتل مُوسَى، ونرى فِي دَعوته حجَجًا عقلية يذعن لَهَا الْعُقَلَاء، ويستجيب لَهَا أولو الْأَبْصَار، وَالْقُرْآن الْكَرِيم يَحْكِي لنا مَا حَاج بِهِ قومه، فَلَا نرى فِي تهديدا بِالْقُوَّةِ، أَو إرهابا بِالسِّلَاحِ قَالَ تَعَالَى: {وَقَالَ رَجُلٌ مُؤْمِنٌ مِنْ آلِ فِرْعَوْنَ يَكْتُمُ إِيمَانَهُ أَتَقْتُلُونَ رَجُلاً أَنْ يَقُولَ رَبِّيَ اللَّهُ وَقَدْ جَاءَكُمْ بِالْبَيِّنَاتِ مِنْ رَبِّكُمْ وَإِنْ يَكُ كَاذِباً فَعَلَيْهِ كَذِبُهُ وَإِنْ يَكُ صَادِقاً يُصِبْكُمْ بَعْضُ الَّذِي يَعِدُكُمْ إِنَّ اللَّهَ لَا يَهْدِي مَنْ هُوَ مُسْرِفٌ كَذَّابٌ، يَا قَوْمِ لَكُمُ الْمُلْكُ الْيَوْمَ ظَاهِرِينَ فِي الْأَرْضِ فَمَنْ يَنْصُرُنَا مِنْ بَأْسِ اللَّهِ إِنْ جَاءَنَا} 4.
لقد كَانَت تِلْكَ الْحجَج كَافِيَة لإقناع فِرْعَوْن، وَإِظْهَار الْحق لَهُ بعد أَن تجاهله، وَلَكِن العناد والجحود حَالا بَينه وَبَين الْحق، فلج فِي طغيانه، وَلم يسْتَطع أَن يرد على الْحجَّة بِالْحجَّةِ، فَقَالَ قولة الْعَاجِز المفحوم: {مَا أُرِيكُمْ إِلَاّ مَا أَرَى وَمَا أَهْدِيكُمْ إِلَاّ سَبِيلَ الرَّشَادِ} 5.
وَيتْرك الداعية فِرْعَوْن سادرا مَعَ غيه، لاجا فِي عناده، ويلتفت إِلَى قومه مشفقا عَلَيْهِم، حَرِيصًا على هدايتهم، فيذكرهم بِمَا حدث للأمم السالفة، وَمَا ينتظرهم يَوْم الْقِيَامَة إِذا هم لم يطيعوا رَسُول الله مُوسَى- عليه السلام.
لقد تفنن الداعية فِي عرض حججه؛ فساقها مرّة فِي صُورَة اسْتِفْهَام، وَمرَّة فِي صُورَة الدَّلِيل الْعقلِيّ؛ فَأمر مُوسَى لَا يَخْلُو من أَن يكون صَاحبه كَاذِبًا أَو صَادِقا: فَإِن كَانَ كَاذِبًا فسيعود
--------------------------------------------
ফেরাউন এমন ভান করছিল যে সে প্রমাণ প্রত্যাখ্যান করে না এবং গ্রহণযোগ্য দলিলের মাধ্যমে সত্য প্রমাণিত হলে সে তা মেনে নিতে প্রস্তুত; (সে বলল): "যদি তুমি সত্যবাদীদের (صادق) অন্তর্ভুক্ত হও, তবে তা নিয়ে আসো।" ৩।
এখানে মুসা (আলাইহিস সালাম) এমন কিছু মুজিজা প্রদর্শন করেন যা কেবল একগুঁয়ে অস্বীকারকারী ছাড়া আর কেউ অস্বীকার করতে পারে না। তিনি লাঠিটিকে একটি চলন্ত সাপে পরিণত করেন এবং তার হাত বের করলে তা দর্শকদের চোখে উজ্জ্বল আলোকোজ্জ্বল সাদা হয়ে প্রতিভাত হয়, অথচ মূলত তার শরীরের গায়ের রং ছিল তামাটে।
ফেরাউন তার দেওয়া অঙ্গীকার অস্বীকার করে এবং তার চারপাশের প্রধানদের প্ররোচিত করে যে, তারা যা দেখেছে তা নিছক জাদু এবং মুসা একজন দক্ষ জাদুকর।
পবিত্র কুরআনে আমাদের কাছে বর্ণিত আয়াতসমূহে আমরা লক্ষ্য করি যে, মুসা (আলাইহিস সালাম) ফেরাউনের মোকাবিলা অস্ত্র দিয়ে করেননি এবং তাকে দ্বীনে প্রবেশ করতে বাধ্য করার জন্য কোনো সেনাবাহিনী নিয়ে যাননি; যদিও তিনি পরিপূর্ণভাবে জানতেন যে ফেরাউন একজন জালিম ও স্বৈরাচারী এবং সে কেবল যুক্তি ও প্রমাণের কাছে নতি স্বীকার করবে না। তা সত্ত্বেও তার কাছে যুক্তি ও প্রমাণ ছাড়া অন্য কোনো অস্ত্র ছিল না।
মুসার অনুপস্থিতিতে ফেরাউনের বংশের এক ব্যক্তি তাদের মাঝে দাঁড়িয়ে আল্লাহর দিকে আহ্বান জানাতে থাকেন, যখন ফেরাউন মুসাকে হত্যার সংকল্প করে বা হত্যার হুমকি দেয়। আমরা তার দাওয়াতের মধ্যে এমন কিছু বুদ্ধিবৃত্তিক যুক্তি দেখতে পাই যা জ্ঞানীরা মেনে নেয় এবং বিবেকসম্পন্নরা তাতে সাড়া দেয়। পবিত্র কুরআন আমাদের কাছে তার সেই যুক্তিতর্কের বিবরণ দেয় যা তিনি তার কওমের সাথে করেছিলেন। সেখানে আমরা শক্তির কোনো হুমকি বা অস্ত্রের কোনো আতঙ্ক দেখতে পাই না। মহান আল্লাহ বলেন: "ফেরাউনের বংশের এক মুমিন ব্যক্তি, যে তার ঈমান গোপন রাখত, সে বলল— তোমরা কি একজন মানুষকে এজন্য হত্যা করবে যে সে বলে আমার রব আল্লাহ? অথচ সে তোমাদের রবের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট প্রমাণাদিসহ তোমাদের কাছে এসেছে। যদি সে মিথ্যাবাদী (كاذب) হয় তবে তার মিথ্যাচারের বোঝা তার ওপরই বর্তাবে, আর যদি সে সত্যবাদী (صادق) হয় তবে সে যে প্রতিশ্রুতি তোমাদের দিচ্ছে তার কিছু তো তোমাদের ওপর আপতিত হবেই। নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো সীমালঙ্ঘনকারী ও চরম মিথ্যাবাদীকে (كذاب) পথপ্রদর্শন করেন না। হে আমার কওম! আজ এ জমিনে তোমরাই প্রবল, রাজত্ব তোমাদেরই; কিন্তু আমাদের ওপর যদি আল্লাহর আজাব চলে আসে তবে কে আমাদের সাহায্য করবে?" ৪।
ফেরাউনকে আশ্বস্ত করার জন্য এবং সত্যকে উপেক্ষা করার পর তা তার সামনে স্পষ্ট করার জন্য সেই যুক্তিগুলোই যথেষ্ট ছিল। কিন্তু একগুঁয়েমি ও অস্বীকৃতি তার এবং সত্যের মাঝে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াল। ফলে সে তার অবাধ্যতায় লিপ্ত থাকল এবং যুক্তির বিপরীতে কোনো যুক্তি দিতে সক্ষম হলো না। অবশেষে সে এক অক্ষম ও বাকরুদ্ধ ব্যক্তির ন্যায় বলল: "আমি যা বুঝি তোমাদের তাই বোঝাই এবং আমি তোমাদের কেবল সঠিক পথই দেখাই।" ৫।
সেই দাঈ ফেরাউনকে তার গোমরাহি ও একগুঁয়েমির মধ্যে ছেড়ে দিয়ে তার কওমের দিকে মনোযোগ দিলেন। তিনি তাদের প্রতি দয়াপরবশ হয়ে তাদের হেদায়েতের জন্য ব্যাকুল হলেন। ফলে তিনি তাদের পূর্ববর্তী জাতিসমূহের পরিণতি এবং কিয়ামতের দিন তাদের জন্য কী অপেক্ষা করছে তা স্মরণ করিয়ে দিলেন—যদি তারা আল্লাহর রাসূল মুসা (আলাইহিস সালাম)-এর আনুগত্য না করে।
সেই দাঈ অত্যন্ত নিপুণভাবে তার যুক্তিগুলো উপস্থাপন করেছেন। কখনো তিনি তা প্রশ্নের আকারে পেশ করেছেন, আবার কখনো বুদ্ধিবৃত্তিক দলিলের মাধ্যমে। কেননা মুসার বিষয়টি হয় তিনি মিথ্যাবাদী (كاذب) হবেন নতুবা সত্যবাদী (صادق); যদি তিনি মিথ্যাবাদী (كاذب) হন তবে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাদরাসাতুদ দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২২৯)
عَلَيْهِ ضَرَر كذبه، وَإِن كَانَ صَادِقا ينزل بكم بعض مَا تهددكم بِهِ.
وَمرَّة ثَالِثَة يخوفهم من بَأْس الله، وَمِمَّا حل بالأمم قبلهم، ثمَّ يلْتَفت إِلَى قومه وَكَأَنَّهُ يَقُول لَهُم: لَا تسمعوا لفرعون فَإِنَّمَا يُرِيد لكم الدمار والهلاك، {اتَّبِعُونِ أَهْدِكُمْ سَبِيلَ الرَّشَادِ} 1.
ثمَّ يتعجب من إصرارهم على الْبَاطِل، وإلحاحهم عَلَيْهِ فِي قبُوله، فَيَقُول: {وَيَا قَوْمِ مَا لِي أَدْعُوكُمْ إِلَى النَّجَاةِ وَتَدْعُونَنِي إِلَى النَّارِ} 2، وَيثبت لَهُم بالأدلة المنطقية أَن الَّذِي يَدعُونَهُ لعبادته لَيْسَ لَهُ دَعْوَة وَلَا يَسْتَطِيع الْإِجَابَة لمن دَعَاهُ، ثمَّ يعْذر إِلَيْهِم بقوله: {فَسَتَذْكُرُونَ مَا أَقُولُ لَكُمْ وَأُفَوِّضُ أَمْرِي إِلَى اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ بَصِيرٌ بِالْعِبَادِ} 3.
2- فِي عصر عِيسَى: ويمضي الزَّمن سَرِيعا، ورسل الله تترى لَا يَخْلُو مِنْهَا جيل، والدعاة يتابعون عرض دعوتهم، ويعملون على نشر فكرتهم، فَيُرْسل عِيسَى- عليه السلام الدعاة إِلَى الْقرى النائية يدعونَ أَهلهَا إِلَى الدّين الصَّحِيح، {وَاضْرِبْ لَهُمْ مَثَلاً أَصْحَابَ الْقَرْيَةِ إِذْ جَاءَهَا الْمُرْسَلُونَ إِذْ أَرْسَلْنَا إِلَيْهِمُ اثْنَيْنِ فَكَذَّبُوهُمَا فَعَزَّزْنَا بِثَالِثٍ فَقَالُوا إِنَّا إِلَيْكُمْ مُرْسَلُونَ، قَالُوا مَا أَنْتُمْ إِلَاّ بَشَرٌ مِثْلُنَا وَمَا أَنْزَلَ الرَّحْمَنُ مِنْ شَيْءٍ إِنْ أَنْتُمْ إِلَاّ تَكْذِبُون، قَالُوا رَبُّنَا يَعْلَمُ إِنَّا إِلَيْكُمْ لَمُرْسَلُونَ، وَمَا عَلَيْنَا إِلَاّ الْبَلاغُ الْمُبِينُ} 4.
وَفِي هَذِه الْقرْيَة يتَعَرَّض الدعاة للتكذيب، فيحاولون دفع هَذَا الاتهام، والمدعوون يصرون على تكذيبهم، وَكَأَنَّهُم كَانُوا ينتظرون أَن يكون الدعاة من الْمَلَائِكَة أَو من جنس آخر غير الْجِنْس الْآدَمِيّ فَقَالُوا: {مَا أَنْتُمْ إِلَاّ بَشَرٌ مِثْلُنَا} ، وجهلوا أَن الدعاة لابد أَن يَكُونُوا من جنس المدعوين، وَإِلَّا لما اسْتَجَابُوا لَهُم، وَلَا فَهموا عَنْهُم، وَلَا اسْتَطَاعُوا التلقي عَنْهُم، وَلِهَذَا قَالَ تَعَالَى: {قُلْ لَوْ كَانَ فِي الْأَرْضِ مَلائِكَةٌ يَمْشُونَ مُطْمَئِنِّينَ لَنَزَّلْنَا عَلَيْهِمْ مِنَ السَّمَاءِ مَلَكاً رَسُولاً} 5.
وَلما كَانَ ذَلِك غير مُمكن - لِأَن النَّاس لَا يَسْتَطِيعُونَ مُوَاجهَة الْمَلَائِكَة، وَلَا يُطِيقُونَ الِاسْتِمَاع إِلَيْهِم - أخبر سُبْحَانَهُ بِأَنَّهُ وَلَو أرسل ملكا لابد أَن يكون على هَيْئَة الْآدَمِيّين؛ ليتَمَكَّن من التَّبْلِيغ دون أَن ينفر مِنْهُ النَّاس، وليتلقى مِنْهُ النَّاس دون صعوبة أَو عناء.
وَمن أجل هَذَا أخبر الله عز وجل بِأَنَّهُ لَو أرسل ملكا لجعله على صُورَة الْبشر حَتَّى يتمكنوا من رُؤْيَته؛ إِذْ لَا قبل للبشر بِرُؤْيَة الْمَلَائِكَة، قَالَ تَعَالَى: {وَقَالُوا لَوْلا أُنْزِلَ عَلَيْهِ
--------------------------------------------
তাঁর মিথ্যার ক্ষতি তাঁর উপরেই বর্তাবে, আর যদি তিনি সত্যবাদী (صادق) হন, তবে তিনি তোমাদের যে সতর্কবাণী দিচ্ছেন তার কিছু অংশ তোমাদের ওপর আপতিত হবে।
এবং তৃতীয়বার তিনি তাদেরকে আল্লাহর শাস্তি এবং তাদের পূর্ববর্তী জাতিসমূহের ওপর যা আপতিত হয়েছিল তা থেকে ভয় প্রদর্শন করেন। অতঃপর তিনি তাঁর জাতির দিকে ফিরে এমনভাবে বললেন যেন তিনি তাদের বলছেন: তোমরা ফেরাউনের কথা শুনো না, কারণ সে তোমাদের জন্য কেবল ধ্বংস ও বিনাশই চায়, {তোমরা আমার অনুসরণ করো, আমি তোমাদেরকে সঠিক পথ দেখাবো} ১।
এরপর তিনি মিথ্যার ওপর তাদের অটল থাকা এবং তা গ্রহণ করার ব্যাপারে তাদের পিড়াপিড়িতে বিস্ময় প্রকাশ করেন। তিনি বলেন: {হে আমার জাতি! আমার কী হলো যে, আমি তোমাদেরকে মুক্তির দিকে ডাকছি আর তোমরা আমাকে আগুনের দিকে ডাকছ?} ২। তিনি যৌক্তিক প্রমাণের মাধ্যমে তাদের কাছে এটি সাব্যস্ত করেন যে, তারা যাকে ইবাদতের জন্য ডাকছে তার কোনো আহ্বান নেই এবং সে তাকে আহ্বানকারীর ডাকে সাড়া দিতে সক্ষম নয়। অতঃপর তিনি তাদের কাছে নিজের ওজর পেশ করে বলেন: {আমি তোমাদেরকে যা বলছি তা তোমরা শীঘ্রই স্মরণ করবে। আমি আমার বিষয়টি আল্লাহর কাছে সোপর্দ করছি; নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি সম্যক দ্রষ্টা} ৩।
২- ঈসার যুগে: সময় দ্রুত অতিবাহিত হয় এবং আল্লাহর রসূলগণ একের পর এক আসতে থাকেন, কোনো প্রজন্মই তাঁদের থেকে খালি ছিল না। দাঈগণ তাঁদের দাওয়াত উপস্থাপন করে যাচ্ছিলেন এবং তাঁদের আদর্শ প্রচারে কাজ করছিলেন। অতঃপর ঈসা (আলাইহিস সালাম) দূরবর্তী গ্রামগুলোতে দাঈদের প্রেরণ করেন যারা সেখানকার অধিবাসীদের সঠিক (صحيح) দ্বীনের দিকে দাওয়াত দিচ্ছিলেন। {আপনি তাদের কাছে সেই জনপদের অধিবাসীদের উদাহরণ বর্ণনা করুন, যখন সেখানে প্রেরিত (مرسل) গণ এসেছিলেন। যখন আমি তাদের কাছে দুইজন প্রেরণ করেছিলাম, অতঃপর তারা তাদের প্রতি মিথ্যারোপ করল, তখন আমি তৃতীয় একজনের মাধ্যমে শক্তি প্রদান করলাম। তারা বলল: আমরা তোমাদের কাছে প্রেরিত (مرسل) হয়েছি। তারা বলল: তোমরা তো আমাদের মতো মানুষ ছাড়া আর নও এবং দয়াময় আল্লাহ কিছুই অবতীর্ণ করেননি; তোমরা কেবল মিথ্যাই বলছ। তারা বলল: আমাদের রব জানেন যে আমরা অবশ্যই তোমাদের কাছে প্রেরিত (مرسل); আর আমাদের দায়িত্ব তো কেবল সুস্পষ্ট প্রচার করা} ৪।
এই জনপদে দাঈগণ মিথ্যারোপের সম্মুখীন হন, তখন তাঁরা এই অভিযোগ খণ্ডনের চেষ্টা করেন। আর যাদের দাওয়াত দেওয়া হচ্ছিল তারা তাদের মিথ্যারোপেই অটল থাকে; যেন তারা আশা করছিল যে দাঈগণ ফেরেশতা হবেন অথবা মানবজাতি ছাড়া অন্য কোনো জাতির হবেন। তাই তারা বলেছিল: {তোমরা তো আমাদের মতোই মানুষ ছাড়া আর কিছুই নও}। তারা এই বিষয়ে অজ্ঞ ছিল যে, দাঈগণকে অবশ্যই দাওয়াতপ্রাপ্তদের স্বজাতীয় হতে হবে, অন্যথায় তারা তাদের ডাকে সাড়া দিত না, তাদের কথা বুঝত না এবং তাদের থেকে জ্ঞান অর্জন করতে পারত না। এজন্যই মহান আল্লাহ বলেন: {বলুন, যদি পৃথিবীতে ফেরেশতারা নিশ্চিন্ত হয়ে চলাফেরা করত, তবে আমি অবশ্যই আকাশ থেকে তাদের কাছে কোনো ফেরেশতাকে রসূল হিসেবে পাঠাতাম} ৫।
যেহেতু সেটি সম্ভব ছিল না—কারণ মানুষ ফেরেশতাদের সরাসরি মোকাবিলা করতে সক্ষম নয় এবং তাদের কথা শোনার মতো শক্তি তাদের নেই—তাই মহান আল্লাহ সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি যদি ফেরেশতাও পাঠাতেন, তবে তাকে অবশ্যই মানুষের আকৃতিতেই হতে হতো; যাতে মানুষ তার থেকে মুখ ফিরিয়ে না নিয়ে প্রচারের কাজ সুচারুরূপে সম্পন্ন করতে পারে এবং মানুষ কোনো প্রকার কষ্ট বা ক্লেশ ছাড়াই তার থেকে জ্ঞান গ্রহণ করতে পারে।
এই কারণেই মহামহিম আল্লাহ সংবাদ দিয়েছেন যে, যদি তিনি কোনো ফেরেশতা পাঠাতেন, তবে তাকে মানুষের রূপেই পাঠাতেন যাতে তারা তাকে দেখতে সক্ষম হয়; কারণ ফেরেশতাদের সরাসরি দেখার সামর্থ্য মানুষের নেই। আল্লাহ তাআলা বলেন: {এবং তারা বলে: তাঁর ওপর কেন কোনো ফেরেশতা অবতীর্ণ করা হলো না...}
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাদরাসাতুদ দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৩০)
مَلَكٌ وَلَوْ أَنْزَلْنَا مَلَكاً لَقُضِيَ الأَمْرُ ثُمَّ لَا يُنْظَرُونَ، وَلَوْ جَعَلْنَاهُ مَلَكاً لَجَعَلْنَاهُ رَجُلاً وَلَلَبَسْنَا عَلَيْهِمْ مَا يَلْبِسُونَ} 1.
ونلاحظ أَن الدعاة لم يكن لديهم إِلَّا محاولة إقناعهم، فَلَمَّا أَعرضُوا ولجوا فِي طغيانهم قَالَ لَهُم رسل عِيسَى عليه السلام {وَمَا عَلَيْنَا إِلَاّ الْبَلاغُ الْمُبِينُ} ، نَحن لَا نملك قهركم على الْحق، وَلَا نستطيع إرغامكم على الْإِيمَان بِهِ، وَإِنَّمَا نحاول إقناعكم، ونعمل مُخلصين على إرشادكم، وَلكم بعد ذَلِك الْخِيَار فِيمَا تختارون.
وَيطول الحوار، والدعاة يواجهون المضادة بِالصبرِ والحلم محاولين إِظْهَار الْحق فِي صور من المناقشة المتبادلة بَين الْفَرِيقَيْنِ.
يَقُول أَصْحَاب التيارات المضادة: {قَالُوا إِنَّا تَطَيَّرْنَا بِكُمْ لَئِنْ لَمْ تَنْتَهُوا لَنَرْجُمَنَّكُمْ وَلَيَمَسَّنَّكُمْ مِنَّا عَذَابٌ أَلِيمٌ} 2.
ويجيبهم الدعاة قائلين: {قَالُوا طَائِرُكُمْ مَعَكُمْ أَإِنْ ذُكِّرْتُمْ بَلْ أَنْتُمْ قَوْمٌ مُسْرِفُونَ} 3.
وَترى وَاضحا فِي كَلَام المدعوين أَنهم يتعللون بأوهام وأباطيل، ويحاولون لصق التهم بالدعاة، زاعمين أَن مَا يحل بهم من الْبلَاء إِنَّمَا هُوَ بِسَبَب وجود الدعاة بَينهم، وينسون أَنهم بابتعادهم عَن الْحق، وعداوتهم لأَهله، وإسرافهم فِي الغي يسْتَحقُّونَ مَا هم فِيهِ من الْبلَاء، بل وَأكْثر مِنْهُ.
ثمَّ نرى مِنْهُم لجوءا إِلَى حيل المفلسين من الْبَرَاهِين، والمصرين على الضلال من غير أَن يكون لديهم عَلَيْهِ حجَّة، فيهددون الدعاة باتخاذ أبشع أَنْوَاع التعذيب.
وَلَكِن الدعاة لَا يلتفتون إِلَى مثل ذَلِك التهديد، فهم يسمعونه فِي كل يَوْم، وهم مُؤمنُونَ بِأَنَّهُم لن يصيبهم إِلَّا مَا قدر لَهُم، ويعتقدون أَن أقْصَى مَا ينزل بهم هُوَ الْعَذَاب حَتَّى الْمَوْت، وَتلك هِيَ الشَّهَادَة الَّتِي يتمناها الدعاة المخلصون، لِأَنَّهَا تقربهم من غايتهم، حَيْثُ لَا يروي شَجَرَة النَّصْر إِلَّا الدِّمَاء، وَلَا يكْتب للدعوة النجاح إِلَّا إِذا قدمت الشُّهَدَاء، وَتلك سنة الله، وَلنْ تَجِد لسنة الله تبديلا.
وَلِهَذَا يحاول الدعاة رد الْأُمُور إِلَى أُصُولهَا، ويبينون أَن مَا ينزل بِالنَّاسِ إِنَّمَا هُوَ بِسَبَب انصرافهم عَن الْحق، ولجاجهم فِي الْبَاطِل؛ فَيَقُولُونَ فِي هدوء الواثق من الْحق، وطمأنينة الْمُؤمن بِالْقضَاءِ وَالْقدر: {طَائِرُكُمْ مَعَكُمْ} ، لسنا نَحن سَبَب مَا نزل بكم من الْقَحْط وَقلة الْمَطَر وَلَكِنَّكُمْ أسرفتم فِي الضلال، وتماديتم فِي الْبَاطِل؛ فاستوجبتم مَا حل بكم {بَلْ أَنْتُمْ قَوْمٌ مُسْرِفُونَ} .
--------------------------------------------
{...ফেরেশতা। আর যদি আমরা কোনো ফেরেশতা অবতীর্ণ করতাম, তবে বিষয়ের চূড়ান্ত ফয়সালা হয়ে যেত, অতঃপর তাদের আর কোনো অবকাশ দেওয়া হতো না। আর যদি আমরা তাঁকে ফেরেশতা করতাম, তবে তাঁকে মানুষের রূপেই পাঠাতাম এবং তারা যে সংশয়ে লিপ্ত রয়েছে, আমরা তাদের সেই সংশয়েই লিপ্ত রাখতাম।} ১.
আমরা লক্ষ্য করি যে, দাঈদের নিকট তাদের কেবল বোঝানোর প্রচেষ্টা ছাড়া আর কিছুই ছিল না। অতঃপর যখন তারা বিমুখ হলো এবং নিজেদের অবাধ্যতায় নিমগ্ন হলো, তখন ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর প্রেরিত রাসূলগণ তাদের বললেন: {আমাদের দায়িত্ব কেবল সুস্পষ্ট প্রচার (البلاغ المبين)}। আমরা তোমাদের সত্য গ্রহণে বাধ্য করার ক্ষমতা রাখি না এবং তোমাদের এতে ঈমান আনতে বাধ্য করতেও পারি না; বরং আমরা কেবল তোমাদের বোঝানোর চেষ্টা করছি এবং তোমাদের পথপ্রদর্শনে একনিষ্ঠভাবে কাজ করছি। এর পর তোমরা যা চয়ন করবে, সেই পছন্দের অধিকার তোমাদেরই।
সংলাপ দীর্ঘায়িত হয় এবং দাঈগণ ধৈর্য ও সহনশীলতার সাথে বিরোধিতার মোকাবিলা করেন; তাঁরা উভয় পক্ষের পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে সত্যকে সুস্পষ্ট করার প্রয়াস পান।
বিপক্ষ ধারার অনুসারীরা বলে: {তারা বলল, আমরা তোমাদের অমঙ্গল (تطيرنا) হিসেবে গণ্য করছি; যদি তোমরা বিরত না হও তবে আমরা অবশ্যই তোমাদের পাথর মেরে হত্যা করব এবং আমাদের পক্ষ থেকে তোমাদের ওপর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি আপতিত হবে} ২।
দাঈগণ তাদের উত্তরে বলেন: {তাঁরা বললেন, তোমাদের অমঙ্গল (طائركم) তোমাদের সাথেই; এটি কি এজন্য যে তোমাদের উপদেশ দেওয়া হয়েছে? বরং তোমরা এক সীমালঙ্ঘনকারী (مسرفون) জাতি} ৩।
যাদের দাওয়াত দেওয়া হচ্ছে তাদের বক্তব্যে এটি স্পষ্টভাবে পরিলক্ষিত হয় যে, তারা অলীক কল্পনা ও অসার যুক্তির অজুহাত দিচ্ছে। তারা দাঈদের ওপর দোষারোপ করার চেষ্টা করে এবং দাবি করে যে, তাদের ওপর যে বালা-মুসিবত আপতিত হচ্ছে তা মূলত তাদের মাঝে দাঈদের অবস্থানের কারণে। তারা ভুলে যায় যে, সত্য থেকে তাদের বিমুখতা, সত্যপন্থীদের সাথে শত্রুতা এবং বিভ্রান্তিতে তাদের সীমালঙ্ঘনই এই বিপদের প্রকৃত কারণ, বরং তারা এর চেয়েও কঠোর শাস্তির উপযুক্ত।
অতঃপর আমরা দেখি যে, তারা প্রমাণহীন নিঃস্বদের কৌশলের আশ্রয় নেয় এবং কোনো প্রমাণ ছাড়াই ভ্রষ্টতায় অনড় থাকে; ফলে তারা দাঈদের জঘন্যতম নির্যাতনের ভয় দেখায়।
কিন্তু দাঈগণ এ ধরনের হুমকির প্রতি কর্ণপাত করেন না; কারণ তাঁরা প্রতিদিন এমন কথা শোনেন। তাঁরা বিশ্বাস করেন যে, আল্লাহর পক্ষ থেকে যা নির্ধারিত তা ব্যতীত অন্য কিছুই তাঁদের স্পর্শ করবে না। তাঁরা মনে করেন যে, তাঁদের ওপর সর্বোচ্চ যে নির্যাতন নেমে আসতে পারে তা হলো মৃত্যু; আর এটিই সেই শাহাদাত (شهادة), যা একনিষ্ঠ দাঈগণ কামনা করেন। কারণ এটি তাঁদের পরম লক্ষ্যের নিকটবর্তী করে দেয়। কেননা বিজয়ের বৃক্ষ রক্ত ছাড়া সিক্ত হয় না এবং দাওয়াতের সফলতা ততক্ষণ অর্জিত হয় না যতক্ষণ না এতে শহীদদের (شهداء) রক্ত প্রদান করা হয়। আর এটিই আল্লাহর রীতি (سنة), আর আপনি আল্লাহর রীতিতে (سنة) কোনো পরিবর্তন পাবেন না।
এ কারণে দাঈগণ বিষয়গুলোকে তাদের মূল উৎসের (أصول) দিকে ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তাঁরা স্পষ্ট করেন যে, মানুষের ওপর যা আপতিত হয় তা মূলত তাদের সত্য থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া এবং বাতিলের ওপর অবিচল থাকার কারণেই ঘটে। তাই তাঁরা সত্যের ওপর আস্থাশীল ব্যক্তির শান্ত মেজাজে এবং তাকদির ও ফয়সালার (القضاء والقدر) ওপর বিশ্বাসী মুমিনের (مؤمن) প্রশান্তিতে বলেন: {তোমাদের অমঙ্গল তোমাদের সাথেই}। আমাদের কারণে তোমাদের ওপর দুর্ভিক্ষ বা অনাবৃষ্টি আসেনি; বরং তোমরা ভ্রষ্টতায় সীমালঙ্ঘন করেছ এবং বাতিলের পথে অবিচল রয়েছ, তাই তোমরা এই পরিণতির যোগ্য হয়েছ— {বরং তোমরা এক সীমালঙ্ঘনকারী জাতি}।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাদরাসাতুদ দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৩১)
وتقف الْآيَات عِنْد هَذَا الْحَد، فَلَا تَتَكَلَّم عَن مصير الدعاة، وَلَا تبين مَاذَا تمّ على أَيْديهم، وَالَّذِي يظْهر من السِّيَاق أَنهم انصرفوا رَاجِعين من حَيْثُ أَتَوا وَقد بلّغوا، وَلَيْسَ عَلَيْهِم إِلَّا ذَلِك {إِنْ عَلَيْكَ إِلَاّ الْبَلاغُ} 4.
ويخلف رسل عِيسَى رجل من أهل الْقرْيَة فهِم الدعْوَة وآمن بهَا، وأيقن أَن من حَقّهَا عَلَيْهِ أَن يحملهَا إِلَى النَّاس، وَأَن يَدْعُو بهَا من لَا يُؤمن بهَا، فَلَمَّا بلغه أَن أهل الْقرْيَة عصوا الدعاة، وَلم يدخلُوا فِي دعوتهم أقبل مسرعا، ودعا قومه إِلَى الطَّاعَة وَالْإِيمَان، وواجه عنادهم بِالْحجَّةِ والبرهان، {قَالَ يَا قَوْمِ اتَّبِعُوا الْمُرْسَلِينَ، اتَّبِعُوا مَنْ لَا يَسْأَلُكُمْ أَجْراً وَهُمْ مُهْتَدُونَ} 1.
ونلمح من خلال الْآيَات أَن قوم الرجل أَنْكَرُوا عَلَيْهِ كَلَامه واتهموه بالمروق، وَكَأَنَّهُم سَأَلُوهُ: هَل أَنْت على دينهم؟ فَقَالَ: {وَمَا لِيَ لَا أَعْبُدُ الَّذِي فَطَرَنِي وَإِلَيْهِ تُرْجَعُونَ أَأَتَّخِذُ مِنْ دُونِهِ آلِهَةً إِنْ يُرِدْنِ الرَّحْمَنُ بِضُرٍّ لَا تُغْنِ عَنِّي شَفَاعَتُهُمْ شَيْئاً وَلا يُنْقِذُونِ، إِنِّي إِذاً لَفِي ضَلالٍ مُبِينٍ} 2.
إِن الداعية - حسب سِيَاق الْآيَات - قد فهم دَعوته فهما دَقِيقًا مكنه من شرحها لهَؤُلَاء المنكرين، أما ترَاهُ يُقرر الوحدانية بأسلوب منطقي فريد؟، وَيثبت بطلَان الشّرك ببراهين محسوسة لَا ينكرها إِلَّا معاند متغطرس؟، ثمَّ يبين أَن من يفعل ذَلِك فَهُوَ فِي ضلال مُبين وَلَو كَانَ هُوَ الداعية نَفسه.
وَهَكَذَا يُقيم عَلَيْهِم الْحجَّة، ويلزمهم بالبرهان، فَلَا يكادون ينطقون.
3- وَفِي عصر خَاتم النَّبِيين: تمْضِي المسيرة الْمُبَارَكَة إِلَى غايتها، غير عابئة بِمَا يواجهها من مؤامرات الحاقدين، وَلَا مكترثة بافتراءات المفترين، يَقُودهَا خَاتم النَّبِيين، وترعاها عناية رب الْعَالمين.
وتظل الدعْوَة فِي طورها السّري ثَلَاث سِنِين، وَهُوَ طور التربية والتعليم، يخرج بعده الدعاة وَقد فقهوا دعوتهم، واستنارت بصيرتهم، وعقدوا الْعَزْم على نصْرَة الْحق مهما طَالَتْ محنتهم.
--------------------------------------------
আয়াতসমূহ এই সীমানাতেই ইতি টানে, ফলে তা দাঈদের পরিণতি সম্পর্কে কোনো কথা বলে না এবং তাদের মাধ্যমে কী ফল অর্জিত হয়েছিল তাও বর্ণনা করে না। প্রেক্ষাপট (سياق) থেকে যা প্রতীয়মান হয় তা হলো, তারা বার্তা পৌঁছে দেওয়ার পর যেখান থেকে এসেছিলেন সেখানেই ফিরে গিয়েছিলেন, আর তাদের ওপর কেবল এটাই দায়িত্ব ছিল: {তোমার ওপর কেবল পৌঁছে দেওয়াই কর্তব্য} ৪।
ঈসা (আ.)-এর প্রেরিতদের স্থলাভিষিক্ত হন সেই জনপদের এক ব্যক্তি, যিনি দাওয়াত বুঝতে পেরেছিলেন এবং তাতে ঈমান এনেছিলেন। তিনি নিশ্চিত হয়েছিলেন যে, মানুষের কাছে এই দাওয়াত পৌঁছে দেওয়া এবং যারা এতে বিশ্বাস করে না তাদের দাওয়াত দেওয়া তাঁর ওপর অর্পিত হক। যখন তিনি জানতে পারলেন যে জনপদের অধিবাসীরা দাঈদের অবাধ্য হয়েছে এবং তাদের দাওয়াত গ্রহণ করেনি, তখন তিনি দ্রুতবেগে এগিয়ে আসলেন। তিনি তাঁর কওমকে আনুগত্য ও ঈমানের দিকে আহ্বান জানালেন এবং যুক্তি ও প্রমাণ (برهان) দিয়ে তাদের একগুঁয়েমির মোকাবিলা করলেন, {সে বলল, হে আমার কওম! তোমরা প্রেরিতদের (مرسلين) অনুসরণ করো। অনুসরণ করো তাদের, যারা তোমাদের কাছে কোনো বিনিময় চায় না এবং তারা সঠিক পথে পরিচালিত} ১।
আমরা আয়াতের মাধ্যমে লক্ষ্য করি যে, লোকটির কওম তার কথা অস্বীকার করল এবং তাকে ধর্মত্যাগের অভিযোগে অভিযুক্ত করল। যেন তারা তাকে জিজ্ঞেস করল: তুমি কি তাদের দ্বীনের ওপর আছো? তখন সে বলল: {আমার কী হয়েছে যে, আমি তাঁর ইবাদত করব না যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং যাঁর কাছে তোমাদের ফিরিয়ে নেওয়া হবে? আমি কি তাঁর পরিবর্তে অন্য উপাস্যদের গ্রহণ করব? পরম দয়ালু আল্লাহ যদি আমাকে কোনো ক্ষতি করতে চান, তবে তাদের সুপারিশ আমার কোনো কাজে আসবে না এবং তারা আমাকে উদ্ধারও করতে পারবে না। সেক্ষেত্রে আমি অবশ্যই স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে লিপ্ত হব} ২।
প্রেক্ষাপট (سياق) অনুযায়ী দাঈ তাঁর দাওয়াতকে অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে অনুধাবন করেছিলেন, যা তাঁকে এই অস্বীকারকারীদের সামনে তা ব্যাখ্যা করতে সক্ষম করেছিল। আপনি কি দেখছেন না যে তিনি এক অনন্য যৌক্তিক পদ্ধতিতে তাওহিদ বা একত্ববাদ সাব্যস্ত করছেন? এবং দৃশ্যমান প্রমাণ (برهان) এর মাধ্যমে শিরকের অসারতা প্রমাণ করছেন যা কেবল কোনো অহংকারী ও হঠকারী ব্যক্তিই অস্বীকার করতে পারে? অতঃপর তিনি বর্ণনা করেন যে, যে ব্যক্তি এমনটি করবে সে স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে থাকবে, এমনকি তিনি নিজে সেই দাঈ হলেও।
এভাবেই তিনি তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ (حجة) পেশ করেন এবং যুক্তির মাধ্যমে তাদের নিরুত্তর করে দেন, ফলে তারা কথা বলতে পারে না।
3- এবং খাতামুন নবীয়্যীনের যুগে: এই বরকতময় যাত্রা তার লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে চলে, হিংসুকদের ষড়যন্ত্রের কোনো পরোয়া না করে এবং অপবাদ দানকারীদের মিথ্যা অপবাদে ভ্রুক্ষেপ না করে। যার নেতৃত্ব দিচ্ছেন খাতামুন নবীয়্যীন এবং যা রাব্বুল আলামীনের বিশেষ তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে।
দাওয়াাত তিন বছর ধরে তার গোপন পর্যায়ে থাকে, যা ছিল মূলত তারবিয়াত ও শিক্ষার পর্যায়। এরপর দাঈগণ এমন অবস্থায় বের হয়ে আসেন যে তারা তাদের দাওয়াত সম্পর্কে গভীর জ্ঞান (فقه) লাভ করেছেন, তাদের অন্তর্দৃষ্টি প্রোজ্জ্বল হয়েছে এবং তাদের পরীক্ষা যতই দীর্ঘ হোক না কেন সত্যকে সাহায্য করার দৃঢ় সংকল্প গ্রহণ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাদরাসাতুদ দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৩২)
وتواجه الدعْوَة الْفتية التيارات المضادة {سُنَّةَ اللَّهِ فِي الَّذِينَ خَلَوْا مِنْ قَبْلُ} 3، ويتذرع الدعاة بالحلم وَالصَّبْر، ويقابلون الفكرة بالفكرة، ويقرعون الْحجَّة بِالْحجَّةِ.
وَنحن قد رَأينَا نماذج رائعة من ثبات الدعاة وتحملهم، وسنعرض هُنَا نماذج حَيَّة لأساليب نشر الدعْوَة فِي مُوَاجهَة الأفكار المعادية، وَفقه الدعاة وطرق إقناع الْخصم.
أ- الطُّفَيْل بن عَمْرو: أسلم الطُّفَيْل لما الْقُرْآن الْكَرِيم من رَسُول الله صلى الله عليه وسلم رغم تحذير قُرَيْش إِيَّاه من سَمَاعه، حَتَّى وضع فِي أُذُنَيْهِ الْقطن.
وَلم يكد يسْتَقرّ الْإِيمَان فِي قلبه حَتَّى اسْتَأْذن من رَسُول الله فِي الذّهاب إِلَى قومه لِيَدْعُوهُمْ إِلَى الْإِسْلَام، فَأذن لَهُ، وَبَدَأَ الطُّفَيْل بِأَبِيهِ فَأسلم، وثنى بزوجه فَلم تخَالفه، ثمَّ توجه إِلَى قومه فأبطأوا عَلَيْهِ، وَلكنه لم ييأس.
يَقُول ابْن هِشَام: (قَالَ - الطُّفَيْل -: فَلم أزل فِي أَرض دوس أدعوهم إِلَى الْإِسْلَام.. حَتَّى نزلت الْمَدِينَة بسبعين أَو ثَمَانِينَ بَيْتا من دوس، ثمَّ لحقنا برَسُول الله صلى الله عليه وسلم بِخَيْبَر؛ فَأَسْهم لنا مَعَ الْمُسلمين) 1.
وَالَّذِي يلفت النّظر فِي قصَّة الطُّفَيْل موقفان لابد من تجليتهما؛ حَتَّى يتَعَلَّم الدعاة كَيفَ يدعونَ إِلَى الله:
الأول: لما أَبْطَأَ قوم الطُّفَيْل فِي الدُّخُول فِي الْإِسْلَام ذهب إِلَى رَسُول الله، وَطلب مِنْهُ أَن يَدْعُو عَلَيْهِم، فَدَعَا لَهُم الرَّسُول قَائِلا: اللَّهُمَّ اهد دوسا، وَأمر الطُّفَيْل أَن يرجع إِلَى قومه، وَأَن يَدعُوهُم ويرفق بهم، فَرجع حَتَّى كَانَ إسْلَامهمْ على يَدَيْهِ2.
وَمن هُنَا يجب أَن يتَعَلَّم الدعاة أَن النَّاس لَا يستجيبون لأوّل وهلة، لِأَن لَهُم عقيدة يتعلقون بهَا؛ فلابد من الصَّبْر عَلَيْهِم والرفق بهم، حَتَّى يتَبَيَّن لَهُم الْحق، وَحِينَئِذٍ يُسَارِعُونَ إِلَيْهِ.
الثَّانِي: أَن الْإِيمَان لما اسْتَقر فِي قلب الطُّفَيْل خرج مِنْهُ الْخَوْف من تِلْكَ الْآلهَة الَّتِي كَانَ يَعْبُدهَا، فَلم يعد يحفل بهَا وَلم يعد لَهَا مكانتها فِي نَفسه، وَنحن نلمس ذَلِك عِنْدَمَا أَمر زوجه أَن تذْهب إِلَى حمى الصَّنَم الَّذِي كَانُوا يعبدونه فتغتسل هُنَاكَ حَتَّى يعرض عَلَيْهَا الْإِسْلَام.
--------------------------------------------
এই নবীন দাওয়াত প্রতিকূল স্রোতধারার মোকাবিলা করে, {যাঁরা ইতিপূর্বে অতিবাহিত হয়েছেন তাঁদের ব্যাপারে এটাই আল্লাহর বিধান} ৩; দাঈগণ সহিষ্ণুতা ও ধৈর্যের আশ্রয় নেন, তাঁরা আদর্শের মোকাবিলা আদর্শ দিয়ে করেন এবং যুক্তির মোকাবিলা করেন অকাট্য যুক্তি দিয়ে।
আমরা দাঈগণের অবিচলতা ও সহনশীলতার চমৎকার কিছু দৃষ্টান্ত দেখেছি। আমরা এখানে প্রতিকূল চিন্তাধারার মোকাবিলায় দাওয়াত প্রচারের পদ্ধতি, দাঈগণের প্রজ্ঞা এবং প্রতিপক্ষকে সন্তুষ্ট করার পন্থাসমূহ নিয়ে কিছু জীবন্ত উদাহরণ তুলে ধরব।
ক- তুফাইল ইবনে আমর: কুরাইশরা তুফাইলকে আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর নিকট থেকে কুরআন শোনার ব্যাপারে সতর্ক করা সত্ত্বেও, এমনকি তিনি তাঁর কানে তুলা গুঁজে রাখা সত্ত্বেও পবিত্র কুরআন শোনার পর তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন।
তাঁর অন্তরে ঈমান বদ্ধমূল হওয়ার সাথে সাথেই তিনি নিজ কওমকে ইসলামের দাওয়াত দেওয়ার উদ্দেশ্যে তাদের কাছে যাওয়ার জন্য আল্লাহর রাসূলের নিকট অনুমতি প্রার্থনা করলেন। রাসূল (সা.) তাঁকে অনুমতি দিলেন। তুফাইল (রা.) তাঁর পিতাকে দিয়ে দাওয়াত শুরু করলেন এবং তিনি ইসলাম গ্রহণ করলেন। এরপর তাঁর স্ত্রীকে দাওয়াত দিলে তিনিও তাঁর বিরুদ্ধাচরণ করলেন না। অতঃপর তিনি তাঁর কওমের প্রতি মনোনিবেশ করলেন, কিন্তু তারা ইসলাম গ্রহণে বিলম্ব করল; তবে তিনি নিরাশ হলেন না।
ইবনে হিশাম বলেন: (তুফাইল বলেছেন— "আমি দাওস গোত্রের এলাকায় তাদের ইসলামের দাওয়াত দিতে থাকলাম... অবশেষে আমি দাওস গোত্রের সত্তর বা আশিটি পরিবারসহ মদিনায় পৌঁছালাম। অতঃপর আমরা খায়বারে আল্লাহর রাসূলের (সা.) সাথে মিলিত হলাম; তিনি আমাদের জন্য মুসলমানদের সাথে গণিমতের অংশ বরাদ্দ করলেন") ১।
তুফাইল (রা.)-এর ঘটনায় দুটি বিষয় বিশেষভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করে যা দাঈগণের জন্য অত্যন্ত শিক্ষণীয়; এর মাধ্যমে তাঁরা শিখতে পারবেন কীভাবে আল্লাহর পথে দাওয়াত দিতে হয়:
প্রথমত: তুফাইলের কওম যখন ইসলাম গ্রহণে বিলম্ব করছিল, তখন তিনি আল্লাহর রাসূলের নিকট গিয়ে তাদের বিরুদ্ধে বদদোয়া করার আবেদন জানালেন। কিন্তু রাসূল (সা.) তাদের জন্য এই বলে দোয়া করলেন: "হে আল্লাহ! দাওস গোত্রকে হেদায়াত দান করুন।" এরপর তিনি তুফাইলকে নিজ কওমের কাছে ফিরে যাওয়ার এবং তাদের প্রতি নম্র আচরণ করে দাওয়াত দেওয়ার নির্দেশ দিলেন। তিনি ফিরে গেলেন এবং পরিশেষে তাঁর মাধ্যমেই তারা ইসলাম গ্রহণ করল ২।
এখান থেকে দাঈগণের শিক্ষা নেওয়া উচিত যে, মানুষ প্রথমবারেই দাওয়াতে সাড়া দেয় না, কারণ তারা তাদের নিজস্ব আকিদাহ বা বিশ্বাসের ওপর আসক্ত থাকে। তাই সত্য স্পষ্ট হওয়া পর্যন্ত তাদের প্রতি ধৈর্য ও কোমলতা প্রদর্শন করা অপরিহার্য; আর যখন সত্য প্রতিভাত হয়, তখন তারা এর দিকে দ্রুত ধাবিত হয়।
দ্বিতীয়ত: তুফাইল (রা.)-এর হৃদয়ে যখন ঈমান বদ্ধমূল হলো, তখন তাঁর অন্তর থেকে সেইসব উপাস্যদের ভয় দূর হয়ে গেল যাদের তিনি আগে পূজা করতেন। তাদের প্রতি তাঁর আর কোনো মোহ বা গুরুত্ব অবশিষ্ট রইল না। আমরা এর প্রমাণ পাই যখন তিনি তাঁর স্ত্রীকে সেই মূর্তির সুরক্ষিত এলাকায় গিয়ে গোসল করার নির্দেশ দিলেন যার তারা উপাসনা করত, যাতে তিনি তাঁর নিকট ইসলামের দাওয়াত পেশ করতে পারেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাদরাসাতুদ দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৩৩)
قَالَت زوجه: بِأبي أَنْت وَأمي، أتخشى على الصبية من ذِي الشرى - الصَّنَم - شَيْئا؟ قَالَ: لَا، أَنا ضَامِن لذَلِك3.
لقد أصبح ذُو الشرى - ذَلِك الصَّنَم الَّذِي كَانَ يعظمه الطُّفَيْل ويرهبه - حجرا لَا يضر وَلَا ينفع، وَأصْبح الطُّفَيْل يزدريه ويحتقره، بل ويحتقر أُولَئِكَ الَّذين لَا يزالون يعظمونه، وَيدعونَ لَهُ مكانة تعدل مكانة الْإِلَه، وَهُوَ لَا يعدو أَن يكون حجرا قطعوه من الْجَبَل، وصنعوه بِأَيْدِيهِم، ثمَّ دانوا لَهُ من دون الله بالإجلال والتضرع والابتهال.
وَلم يكتف الطُّفَيْل رضي الله عنه بِهَذَا الْموقف من الْآلهَة، وَلكنه أَبى إِلَّا أَن يكون لَهُ مَعهَا شَأْن آخر، فألح على الرَّسُول- صلى الله عليه وسلم أَن يَبْعَثهُ إِلَى ذِي الْكَفَّيْنِ - صنم عَمْرو بن حممه - ليحرقه فَأذن لَهُ الرَّسُول، وَخرج إِلَيْهِ، وَجعل يُوقد عَلَيْهِ النَّار وَيَقُول:
ميلادنا أقدم من ميلادكا
… يَا ذَا الْكَفَّيْنِ لست من عبادكا
إِنِّي حشوت النَّار فِي فؤادكا4
إِن إحراق الطُّفَيْل للصنم الَّذِي كَانَ قومه يخضعون لَهُ، ويعطونه ولاءهم، لدَعْوَة عملية للكفر بِتِلْكَ الْآلهَة، ونداء صَرِيح بالوحدانية الَّتِي جَاءَ بهَا الْإِسْلَام، إِذْ كَيفَ يحرق الْإِلَه دون أَن يدْفع عَن نَفسه؟ أتراه ذلّ وَهَان إِلَى ذَلِك الْحَد، أم قدم نَفسه هُوَ الآخر فدَاء للإنسانية، وتحملا لخطايا بني آدم المغفلين؟؟
إِن الْعقل الإنساني يرفض هَذِه وَتلك، ويأبى إِلَّا أَن يكون للإله قدرَة يدْفع بهَا عَن نَفسه من أَرَادَهُ بِسوء، بل إِن الْعقل ليذْهب إِلَى مَا هُوَ أبعد من ذَلِك، إِنَّه يرفض أَن يتَمَكَّن الْإِنْسَان مهما كَانَت قدرته أَن يدْخل مَعَ الله فِي صراع وَهُوَ الْعَاجِز المفتقر إِلَيْهِ فِي كل أَحْوَاله.
أَفلا يكون ذَلِك وَحده كَافِيا لرد هَذِه الْعُقُول إِلَى صوابها، وَتَحْوِيلهَا إِلَى مَا يجب أَن تكون عَلَيْهِ بعد ضلالها.
وَهَكَذَا يكون الطُّفَيْل دَاعِيَة بِعَمَلِهِ أَكثر مِمَّا دَعَا قومه بِكَلَامِهِ، وَكَيف لَا؟ وَقد رَآهُ قومه يسخر من ذِي الشرى وَيضمن عَجزه عَن أَن يُصِيب صَبيا بِسوء، ثمَّ هاهو ذَا يحرق ذَا الْكَفَّيْنِ دون أَن يُصِيبهُ أدنى مَكْرُوه، إِنَّه بِعَمَلِهِ هَذَا أثبت لِقَوْمِهِ عجز مَا يعْبدُونَ، فَعَلَيْهِم أَن يتوجهوا بعبادتهم وطاعتهم لمن يَدعُوهُم إِلَيْهِ.
--------------------------------------------
তাঁর স্ত্রী বললেন: আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য উৎসর্গিত হোন, আপনি কি শিশুদের ব্যাপারে যি আশ-শারা—সেই মূর্তি—এর পক্ষ থেকে কোনো ক্ষতির আশঙ্কা করছেন? তিনি বললেন: না, আমি এর জিম্মাদার।
যি আশ-শারা—সেই মূর্তি যাকে তুফাইল সম্মান করতেন এবং ভয় পেতেন—এখন একটি পাথরে পরিণত হয়েছে যা কোনো ক্ষতিও করতে পারে না, উপকারও করতে পারে না। তুফাইল এখন একে অবজ্ঞা ও ঘৃণা করেন, বরং তিনি তাদেরও অবজ্ঞা করেন যারা এখনও একে সম্মান করে এবং এর জন্য এমন মর্যাদা দাবি করে যা উপাস্যের মর্যাদার সমান; অথচ এটি পাহাড় থেকে কেটে আনা একটি পাথর বৈ কিছু নয়, যা তারা নিজ হাতে তৈরি করেছে। অতঃপর তারা আল্লাহর পরিবর্তে এর প্রতি বিনয়, কাকুতি-মিনতি ও ঐকান্তিক প্রার্থনার মাধ্যমে অনুগত হয়েছে।
তুফাইল (রাযিয়াল্লাহু আনহু) মূর্তিদের প্রতি কেবল এই অবস্থানেই ক্ষান্ত হননি, বরং তিনি তাদের ব্যাপারে অন্য এক চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে চাইলেন। তাই তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট পীড়াপীড়ি করলেন যেন তিনি তাঁকে যি আল-কাফফাইন—আমর ইবনে হামামাহ-র মূর্তি—পুড়িয়ে ফেলার জন্য পাঠান। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে অনুমতি প্রদান করলেন। তিনি সেখানে গমন করলেন এবং তাতে আগুন প্রজ্বলিত করতে করতে বলতে লাগলেন:
আমাদের জন্ম তোমার জন্মের চেয়ে প্রাচীন
… হে যি আল-কাফফাইন, আমি তোমার উপাসকদের অন্তর্ভুক্ত নই
আমি তোমার অন্তরে আগুন ভরে দিয়েছি
তুফাইল কর্তৃক সেই মূর্তিকে পুড়িয়ে ফেলা—যার সামনে তাঁর কওম মাথা নত করত এবং নিজেদের আনুগত্য নিবেদন করত—ছিল সেই মূর্তিদের প্রতি কুফর পোষণের একটি ব্যবহারিক দাওয়াত এবং ইসলামের আনীত তাওহীদের এক সুস্পষ্ট ঘোষণা। কেননা, একজন উপাস্য কীভাবে নিজেকে রক্ষা না করে পুড়ে যেতে পারে? সে কি এতটাই লাঞ্ছিত ও তুচ্ছ হয়ে গেল, নাকি সে নিজেও মানবতার জন্য উৎসর্গিত হয়ে নির্বোধ আদম সন্তানদের পাপের বোঝা বহন করছে?
মানবীয় বিবেক এই উভয় সম্ভাবনাকেই প্রত্যাখ্যান করে এবং সে এটিই দাবি করে যে, উপাস্যের এমন ক্ষমতা থাকতে হবে যা দিয়ে তিনি তাঁর অনিষ্টকারী থেকে নিজেকে রক্ষা করবেন। বরং বিবেক আরও গভীরে গিয়ে চিন্তা করে; এটি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারে না যে, মানুষ—তার ক্ষমতা যাই হোক না কেন—আল্লাহর সাথে দ্বন্দ্বে লিপ্ত হতে পারে, অথচ মানুষ তার সকল অবস্থায় তাঁরই মুখাপেক্ষী ও অক্ষম।
তবে কি এই বিষয়টিই এই বিবেকগুলোকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে এবং তাদের বিভ্রান্তির পর যা হওয়া উচিত ছিল সেই পথে ধাবিত করতে যথেষ্ট নয়?
এভাবেই তুফাইল তাঁর কথার চেয়ে কাজের মাধ্যমে বড় দাঈ হিসেবে গণ্য হলেন। আর কেনই বা হবে না? তাঁর কওম তাঁকে দেখল যে তিনি যি আশ-শারার প্রতি উপহাস করছেন এবং কোনো শিশুর অনিষ্ট করতে এর অক্ষমতার নিশ্চয়তা দিচ্ছেন। তারপর এই তো তিনি যি আল-কাফফাইনকে পুড়িয়ে ফেলছেন অথচ তাঁর সামান্যতম কোনো অনিষ্ট হচ্ছে না। তিনি তাঁর এই কাজের মাধ্যমে নিজের কওমের কাছে তাদের উপাস্যগুলোর অক্ষমতা প্রমাণ করে দিলেন। সুতরাং তাদের উচিত তাদের ইবাদত ও আনুগত্য সেই সত্তার প্রতি নিবেদন করা, যাঁর দিকে তিনি তাদের আহ্বান করছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাদরাসাতুদ দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৩৪)
2- ضمام بن ثَعْلَبَة: وَهَذَا الرجل صنف آخر من أَصْنَاف الدعاة وَفد على الرَّسُول صلى الله عليه وسلم نَائِبا عَن بني سعد بن بكر، وأناخ بعيره على بَاب الْمَسْجِد وعقله، وَأَقْبل على الجالسين فِي الْمَسْجِد فَسَأَلَهُمْ: أَيْن ابْن عبد الْمطلب؟ فَأَجَابَهُ الرَّسُول: "أَنا ابْن عبد الْمطلب"، وَكَأن الرجل قد خَافَ أَن يكون الْمُجيب شخصا آخر غير الَّذِي يُرِيد؛ فَقَالَ: مُحَمَّد؟ قَالَ: "نعم".
فَقَالَ ضمام: يَا ابْن عبد الْمطلب، إِنِّي سَائِلك ومغلظ لَك فِي الْمَسْأَلَة؛ فَلَا تجدن فِي نَفسك، فَقَالَ صلى الله عليه وسلم: "لَا أجد فِي نَفسِي؛ فسل عَمَّا بدا لَك". فَسَأَلَ ضمام الرَّسُول:
هَل هُوَ رَسُول الله حَقًا؟ وَهل الَّذِي أرْسلهُ أمره بِأَن يعبد الله وَحده وَلَا يُشْرك بِهِ شَيْئا؟ وَأخذ يسْأَله عَن فَرَائض الْإِسْلَام كلهَا، وَالرَّسُول صلى الله عليه وسلم يجِيبه فِي كل مرّة: "اللَّهُمَّ نعم"، فَلَمَّا فرغ قَالَ ضمام: فَإِنِّي أشهد أَن لَا إِلَه إِلَّا الله، وَأَن مُحَمَّدًا عَبده وَرَسُوله، وسأؤدي هَذِه الْفَرَائِض، وأجتنب مَا نهيتني عَنهُ لَا أَزِيد وَلَا أنقصن ثمَّ انْصَرف.
فَقَالَ الرَّسُول صلى الله عليه وسلم: "إِن يصدق ذُو العقيصتين يدْخل الْجنَّة" 1.
وأتى ضمام بعيره، فَأطلق عقاله، وَانْطَلق بِهِ حَتَّى دخل على قومه؛ فَاجْتمعُوا عَلَيْهِ ينظرُونَ مَا وَرَاءه، وبماذا جَاءَهُم من عِنْد رَسُول الله.
وَكَانَ ضمام كَمَا رَأينَا رجلا صَرِيحًا وَاضحا لَا يعرف اللف، وَلَا يُؤمن بالمناورات، وبالسرعة الَّتِي صدق فِيهَا رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وآمن بِهِ، هاجم اللات والعزى، لم يجامل فِي الله أحدا بعد أَن آمن بِهِ، وَلم يهادن فِي دينه أحدا وَلَو كَانَ الْإِلَه الَّذِي كَانَ يعبده من قبل، ويخضع لَهُ، لقد استبان لَهُ الْحق، واتضح لَهُ الطَّرِيق فَمَا لَهُ لَا يُبينهُ للنَّاس؟ وَمَا لَهُ لَا يفضح هَذَا التزييف الخطير فِي عقيدة قومه، وَهُوَ رسولهم الَّذِي ائتمنوه ليوضح لَهُم مَا خَفِي عَنْهُم.
لقد كَانَ ضمام أَمينا على مَا ائْتمن عَلَيْهِ، ناصحا لِقَوْمِهِ بِقدر ثقتهم فِيهِ، فَلم يرد أَن يظل قومه على الشّرك لَحْظَة وَاحِدَة بعد مَا عرف الْحق، واتخذه دينا لَهُ، لهَذَا كَانَ أول مَا تكلم بِهِ ضمام بعد أَن اجْتمع عَلَيْهِ قومه قَوْله: بئست اللات والعزى، واندهش الْقَوْم لما سمعُوا من ضمام، وخافوا عَلَيْهِ أَن يُصِيبهُ الْجُنُون أَو البرص أَو الجذام، وَلَكِن ضمام سخر من قَوْلهم، فأجابهم: وَيْلكُمْ! إنَّهُمَا مَا يضران وَلَا ينفعان1.
وانتهز ضمام فرْصَة إصغاء الْقَوْم، وَقد رأى على وُجُوههم وجوما لم يعهده فيهم،
--------------------------------------------
২- দ্বিমাম ইবন সা'লাবা: এই ব্যক্তি দাঈদের বিভিন্ন শ্রেণির মধ্যে এক অনন্য শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি বনু সা'দ ইবন বকর গোত্রের প্রতিনিধি হিসেবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উপস্থিত হলেন। তিনি মসজিদের দরজায় তাঁর উট বসালেন এবং সেটিকে বাঁধলেন। এরপর তিনি মসজিদে উপবিষ্টদের দিকে এগিয়ে গেলেন এবং তাঁদের জিজ্ঞাসা করলেন: "আব্দুল মুত্তালিবের পুত্র কোথায়?" রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে উত্তর দিলেন: "আমিই আব্দুল মুত্তালিবের পুত্র।" মনে হচ্ছিল লোকটি আশঙ্কা করেছিলেন যে, উত্তরদাতা হয়তো তাঁর কাঙ্ক্ষিত ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কেউ; তাই তিনি বললেন: "মুহাম্মদ?" রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "হ্যাঁ।"
দ্বিমাম বললেন: "হে আব্দুল মুত্তালিবের পুত্র, আমি আপনাকে কিছু প্রশ্ন করব এবং আপনার প্রতি কঠোরতা প্রদর্শন করব; আপনি এতে মনে কিছু নেবেন না।" রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "আমি মনে কিছু নেব না; তোমার যা মনে চায় তা-ই জিজ্ঞাসা করো।" এরপর দ্বিমাম রাসূলকে জিজ্ঞাসা করলেন:
তিনি কি সত্যিই আল্লাহর রাসূল? এবং যিনি তাঁকে পাঠিয়েছেন, তিনি কি তাঁকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন তিনি একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করেন এবং তাঁর সাথে কোনো কিছু শরিক না করেন? তিনি তাঁকে ইসলামের সকল ফরজ বিধান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে শুরু করলেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতিবারই উত্তর দিচ্ছিলেন: "হে আল্লাহ, হ্যাঁ।" যখন তিনি শেষ করলেন, তখন দ্বিমাম বললেন: "আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আমি এই ফরজ বিধানসমূহ পালন করব এবং আপনি আমাকে যা থেকে নিষেধ করেছেন তা থেকে দূরে থাকব; আমি এর চেয়ে বৃদ্ধিও করব না এবং হ্রাসও করব না।" এরপর তিনি প্রস্থান করলেন।
তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "যদি এই দুই ঝুঁটিওয়ালা ব্যক্তি সত্য বলে থাকে, তবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে" ১।
দ্বিমাম তাঁর উটের কাছে আসলেন, তার বাঁধন খুললেন এবং সেটিকে নিয়ে চললেন যতক্ষণ না তিনি তাঁর কওমের কাছে পৌঁছালেন। লোকেরা তাঁর কাছে সমবেত হলো এটা দেখতে যে, তিনি কী খবর নিয়ে এসেছেন এবং রাসূলুল্লাহর নিকট থেকে তাঁদের জন্য কী নিয়ে এসেছেন।
দ্বিমাম যেমনটি আমরা দেখলাম, একজন অত্যন্ত স্পষ্টভাষী ও সোজাসাপ্টা মানুষ ছিলেন; তিনি কোনো মারপ্যাঁচ বুঝতেন না এবং কূটকৌশলে বিশ্বাসী ছিলেন না। যে দ্রুততার সাথে তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সত্য বলে গ্রহণ করেছিলেন এবং তাঁর প্রতি ঈমান এনেছিলেন, ঠিক সেই দ্রুততায় তিনি লাত ও উজ্জার ওপর আক্রমণাত্মক সমালোচনা করলেন। আল্লাহর ওপর ঈমান আনার পর তিনি এই বিষয়ে কারো প্রতি তোষামোদ করেননি। তিনি তাঁর দ্বীনের ব্যাপারে কারো সাথে আপস করেননি, এমনকি সেই উপাস্যদের ব্যাপারেও নয় যাদের তিনি আগে পূজা করতেন এবং যাদের অনুগত ছিলেন। তাঁর কাছে সত্য সুস্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল এবং পথ পরিষ্কার হয়েছিল, তবে তিনি কেন তা মানুষের কাছে বর্ণনা করবেন না? কেনই বা তিনি তাঁর কওমের আকিদার এই ভয়াবহ জালিয়াতিকে উন্মোচিত করবেন না, অথচ তিনি ছিলেন তাঁদের সেই প্রতিনিধি যাকে তাঁরা তাঁদের অজানা বিষয়গুলো স্পষ্ট করার জন্য আমানতদার হিসেবে পাঠিয়েছিলেন।
দ্বিমাম তাঁর অর্পিত আমানতের প্রতি বিশ্বস্ত ছিলেন এবং তাঁর প্রতি কওমের আস্থার পূর্ণ মর্যাদা দিয়ে তাঁদের জন্য হিতাকাঙ্ক্ষী ছিলেন। সত্য জানার পর এবং সেটিকে নিজের দ্বীন হিসেবে গ্রহণ করার পর তিনি এক মুহূর্তের জন্যও চাননি যে তাঁর কওম শিরকের ওপর অটল থাকুক। এজন্যই কওমের লোকেরা যখন তাঁর নিকট সমবেত হলো, তখন দ্বিমামের প্রথম কথাটি ছিল: "লাত ও উজ্জা কতই না নিকৃষ্ট!" দ্বিমামের মুখে এ কথা শুনে লোকেরা স্তম্ভিত হয়ে গেল এবং ভয় পেল যে, হয়তো তিনি পাগল হয়ে যাবেন অথবা শ্বেত রোগ কিংবা কুষ্ঠ রোগে আক্রান্ত হবেন। কিন্তু দ্বিমাম তাদের কথা নিয়ে উপহাস করলেন এবং উত্তর দিলেন: "তোমাদের দুর্ভোগ হোক! এই দুটি তো কোনো ক্ষতিও করতে পারে না, কোনো উপকারও করতে পারে না" ২।
দ্বিমাম মানুষের এই মনোযোগের সুযোগ গ্রহণ করলেন, এবং তিনি তাদের চেহারায় এমন এক বিষণ্ণতা বা স্তব্ধতা দেখতে পেলেন যা আগে কখনো তাদের মধ্যে দেখেননি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাদরাসাতুদ দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৩৫)
ولاحظ عَلَيْهِم اضطرابا شَدِيدا، وَلَعَلَّ الْقَوْم قد تَرَبَّصُوا بضمام أَن يحل عَلَيْهِ سخط آلِهَتهم، أَو تنزل بِهِ لعنة الْأَصْنَام.
لقد تَأَكد النَّاس - حَسْبَمَا كَانَ فِي رؤوسهم من الأوهام - أَن ضماما هَالك لَا محَالة، وَأَن الْآلهَة لن تَدعه سالما وَقد اعْتدى على قدسيتها، وانتهك كرامتها، فنظروا إِلَيْهِ آسفين عَلَيْهِ، متوقعين لَهُ الدمار.
وَكَانَ وجوم الْقَوْم واضطرابهم، وإشفاقهم على ضمام فرْصَة اهتبلها ضمام وَقَالَ لَهُم: إِن الله قد بعث رَسُولا، وَأنزل عَلَيْهِ كتابا، استنقذكم بِهِ مِمَّا كُنْتُم فِيهِ2.
وأعلن ضمام إِسْلَامه أَمَام قومه، وَشهد شَهَادَة الْحق فَقَالَ: وَإِنِّي أشهد أَن لَا إِلَه إِلَّا الله، وَأَن مُحَمَّدًا عَبده وَرَسُوله، وَإِنِّي قد جِئتُكُمْ من عِنْده بِمَا أَمركُم بِهِ، ونهاكم عَنهُ3.
وَأَقْبل الْمسَاء وضمام يتمتع بكامل صِحَّته، لم يصبهُ جُنُون وَلَا جذام، وَلَا برص وَلَا هَلَاك، وَنظر النَّاس إِلَيْهِ سليما معافى، لم تستطع الْآلهَة أَن تصب عَلَيْهِ لعنتها؛ فَهِيَ إِذن عاجزة، وَلم تنزل بِهِ غَضَبهَا ونقمتها فَهِيَ لَا محَالة غير قادرة، وَلَو كَانَت آلِهَة تسْتَحقّ التَّقْدِير والاحترام لما سكتت على هَذَا الهوان.
وَعرف النَّاس الْحق فِي كَلَام ضمام ودعوته، فآمنوا بِمَا آمن بِهِ ودخلوا جَمِيعًا فِي دين الله، قَالَ الرَّاوِي: فوَاللَّه مَا أَمْسَى فِي الْيَوْم فِي حاضره رجل وَلَا امْرَأَة إِلَّا مُسلما4.
قَالَ ابْن عَبَّاس: فَمَا سمعنَا بوافد قوم أفضل من ضمام بن ثَعْلَبَة5.
3- جَعْفَر بن أبي طَالب: وَكَانَ جَعْفَر رضي الله عنه نَسِيج وَحده، تفرد بخصائص لم يُشَارِكهُ فِيهَا أحد، فقد كَانَ مقدم أَصْحَاب رَسُول الله بَين يَدي النَّجَاشِيّ، والمتصدي لأعداء الله حِين حاولوا إغراء النَّجَاشِيّ بطردهم من بِلَاده، واستطاع جَعْفَر بعقله الرَّاجِح، وأسلوبه الفريد، وحجته الْبَالِغَة أَن يستحوذ على قلب النَّجَاشِيّ، ويستميله إِلَى صُفُوف الْمُسلمين كَمَا تمكن من أَن يَأْخُذ مِنْهُ أَمَانًا لَهُ ولأصحاب رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فأقاموا فِي الْحَبَشَة على خير مَا يحبونَ.
علمت قُرَيْش بِطيب مقَام الْمُهَاجِرين، وغاظها مَا صَارُوا إِلَيْهِ من الْأَمْن والاطمئنان، فدبروا أَمرهم ليكيدوا الْمُهَاجِرين الفارين بدينهم إِلَى حَيْثُ يطمئنون على عقيدتهم، ويتمكنون من عبَادَة رَبهم.
--------------------------------------------
তিনি তাদের মধ্যে তীব্র অস্থিরতা লক্ষ্য করলেন। সম্ভবত কওমের লোকেরা এই অপেক্ষায় ওত পেতে ছিল যে, দ্বিমাম-এর ওপর তাদের উপাস্যদের ক্রোধ আপতিত হবে অথবা মূর্তিদের অভিশাপ তাঁর ওপর নেমে আসবে।
মানুষের মনে বদ্ধমূল বিভ্রান্তি অনুযায়ী তারা নিশ্চিত হয়েছিল যে, দ্বিমাম নিশ্চিতভাবে ধ্বংস হতে যাচ্ছেন; আর উপাস্য দেব-দেবীরা তাঁকে কিছুতেই ছেড়ে দেবে না, কারণ তিনি তাদের পবিত্রতাকে আঘাত করেছেন এবং তাদের মর্যাদাকে ভুলুণ্ঠিত করেছেন। ফলে তারা তাঁর ধ্বংসের প্রতীক্ষা করে দুঃখভারাক্রান্ত হৃদয়ে তাঁর দিকে তাকাচ্ছিল।
কওমের এই নিস্তব্ধতা, অস্থিরতা এবং দ্বিমাম-এর প্রতি তাদের করুণাকে তিনি একটি মোক্ষম সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করলেন এবং তাদের বললেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ একজন রাসূল পাঠিয়েছেন এবং তাঁর ওপর একটি কিতাব অবতীর্ণ করেছেন, যার মাধ্যমে তিনি তোমাদের সেই অবস্থা থেকে উদ্ধার করেছেন যাতে তোমরা লিপ্ত ছিলে।
দ্বিমাম তাঁর কওমের সামনে ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দিলেন এবং সত্যের সাক্ষ্য প্রদান করে বললেন: "আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। আমি তাঁর পক্ষ থেকে তোমাদের নিকট যা নিয়ে এসেছি তা তিনি তোমাদের আদেশ করেছেন এবং যা থেকে বিরত থাকতে বলেছেন তা তিনি তোমাদের নিষেধ করেছেন।"
সন্ধ্যা ঘনিয়ে এল অথচ দ্বিমাম পূর্ণ সুস্থতা উপভোগ করছিলেন। কোনো উন্মাদনা, কুষ্ঠরোগ, ধবলরোগ বা কোনো ধ্বংস তাঁকে স্পর্শ করল না। মানুষ যখন তাঁকে সম্পূর্ণ সুস্থ ও নিরাপদ দেখল এবং দেখল যে উপাস্যরা তাঁর ওপর অভিশাপ বর্ষণ করতে সমর্থ হয়নি; তখন তারা বুঝল যে এগুলো অক্ষম। তারা তাঁর ওপর তাদের ক্রোধ ও প্রতিশোধ অবতীর্ণ করতে পারেনি, সুতরাং সেগুলো নিশ্চয়ই ক্ষমতাহীন। যদি এগুলো সম্মান ও শ্রদ্ধার যোগ্য উপাস্য হতো, তবে এই অবমাননায় তারা কখনো নীরব থাকত না।
লোকেরা দ্বিমাম-এর কথা ও দাওয়াতের মধ্যে সত্যের সন্ধান পেল। ফলে তিনি যা বিশ্বাস করেছিলেন তারাও তাতে বিশ্বাস স্থাপন করল এবং তারা সকলে আল্লাহর দ্বীনে প্রবেশ করল। বর্ণনাকারী (راوي) বলেন: আল্লাহর শপথ, সেই দিন সন্ধ্যা হওয়ার আগেই সেই জনপদে এমন কোনো পুরুষ বা নারী অবশিষ্ট ছিল না যে ইসলাম গ্রহণ করেনি।
ইবনে আব্বাস বলেন: আমরা দ্বিমাম ইবনে সা'লাবা-এর চেয়ে উত্তম কোনো গোত্রীয় প্রতিনিধি সম্পর্কে শুনিনি।
৩- জাফর ইবনে আবি তালিব: জাফর (রা.) ছিলেন স্বীয় ব্যক্তিত্বে অনন্য, তিনি এমন কিছু বৈশিষ্ট্যের অধিকারী ছিলেন যা অন্য কারো মধ্যে ছিল না। তিনি নাজাশি-র সামনে রাসূলুল্লাহর সাহাবীদের অগ্রণী নেতা ছিলেন এবং আল্লাহর শত্রুদের মোকাবেলা করেছিলেন যখন তারা নাজাশিকে প্ররোচিত করে তাদেরকে নিজ দেশ থেকে বহিষ্কার করার চেষ্টা করেছিল। জাফর তাঁর প্রখর বুদ্ধি, অনন্য শৈলী এবং অকাট্য যুক্তির মাধ্যমে নাজাশি-র অন্তর জয় করতে এবং তাঁকে মুসলমানদের পক্ষে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছিলেন। তদুপরি তিনি নাজাশি-র পক্ষ থেকে নিজের জন্য এবং রাসূলুল্লাহর সাহাবীদের জন্য নিরাপত্তার নিশ্চয়তা লাভ করেছিলেন, ফলে তারা হাবাশায় তাদের পছন্দমতো অত্যন্ত স্বাচ্ছন্দ্যে অবস্থান করতে লাগলেন।
কুরাইশরা মুহাজিরদের এই স্বস্তিদায়ক অবস্থানের কথা জানতে পারল এবং তাদের এই নিরাপত্তা ও প্রশান্তি কুরাইশদের অত্যন্ত ক্রুদ্ধ করল। তাই তারা সেই সব মুহাজিরদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করল, যারা তাদের আকিদার নিরাপত্তা এবং তাদের রবের ইবাদত করার উদ্দেশ্যে দ্বীন রক্ষার্থে হিজরত করেছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাদরাসাতুদ দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৩৬)
أرسل أهل مَكَّة رجلَيْنِ من أَشْرَافهم هما: عَمْرو بن الْعَاصِ، وَعبد الله بن أبي ربيعَة، وَالرجلَانِ مخزوميان، وجهزوهما بالهدايا الثمينة للنجاشي وبطارقته، وأمروهما أَن يقدما هَدَايَا البطارقة قبل أَن يدخلا على النَّجَاشِيّ حَتَّى يساعدوهما عِنْد النَّجَاشِيّ فِيمَا قدما من أَجله.
وَلَا يخفى على الْإِنْسَان سَبَب اخْتِيَار عَمْرو بن الْعَاصِ لتِلْك المهمة؛ فَهُوَ مَعَ كَونه شريفا من أَشْرَاف قُرَيْش، داهية من دهاة الْعَرَب الْمَعْدُودين؛ يَسْتَطِيع بذكائه إقناع من أَمَامه بِمَا يُرِيد، ويتمكن بحيلته إِن لم تسعفه الْحجَّة من بُلُوغ مأربه.
وَلَكِن جَعْفَر الداعية الْمُؤمن، قد أفسد عَلَيْهِ رَأْيه، وعطل فِيهِ دهاءه، فَلم تعد لَدَيْهِ الْقُدْرَة على الْإِقْنَاع، وَلم تسعفه الْحِيلَة ليدبر المكيدة الَّتِي جَاءَ من أجلهَا.
دخل عَمْرو وَعبد الله على النَّجَاشِيّ، وحاولا إيغار صَدره على من عِنْده من الْمُسلمين، وقف إِلَى جانبهما جمَاعَة البطارقة؛ فقد جعلتهم الرِّشْوَة يميلون إِلَى الْبَاطِل، ويقفون إِلَى جوَار الظَّالِمين، وَلَكِن النَّجَاشِيّ رفض أَن يسمع فِي الْمُهَاجِرين رَأيا أَو يتَّخذ مِنْهُم موقفا حَتَّى يرى رَأْيهمْ، وَيسمع قَوْلهم، وَقَالَ: فَإِن كَانُوا كَمَا يَقُولَانِ أسلمتهم إِلَيْهِمَا، ورددتهم إِلَى قَومهمْ، وَإِن كَانُوا على غير ذَلِك منعتهم مِنْهُمَا، وأحسنت جوارهم مَا جاوروني1.
وَجِيء بِجَعْفَر وَأَصْحَابه، فَلَمَّا وقفُوا على بَاب النَّجَاشِيّ صَاح جَعْفَر: يسْتَأْذن عَلَيْك حزب الله، فَأذن لَهُم النَّجَاشِيّ أَن يدخلُوا بِأَمَان الله وذمته2.
كَانَت تِلْكَ الصَّيْحَة براعة استهلال من جَعْفَر، فقد أعلن قبل دُخُوله أَنه وجماعته من طراز آخر غير مَا عرف النَّجَاشِيّ، فَلَو حصل مَا يُخَالف نظام الدُّخُول على الْمُلُوك كَانَ الْعذر مُتَقَدما، ثمَّ إِن النَّجَاشِيّ رجل على دين الْمَسِيح؛ فَهُوَ يعرف الله ويوحده؛ وَلذَلِك لم يكد يسمع قَول جَعْفَر: يسْتَأْذن عَلَيْك حزب الله، حَتَّى قَالَ: نعم فليدخلوا بِأَمَان الله وذمته.
كَانَ جَعْفَر رضي الله عنه لبقا أريبا مُسَددًا، فَلَمَّا أذن لَهُ النَّجَاشِيّ بِالدُّخُولِ لم يسْجد لَهُ كَمَا كَانَ يفعل الداخلون عَلَيْهِ، فَقَالَ لَهُم: مَا منعكم أَن تسجدوا لي؟ قَالُوا: نسجد لله الَّذِي خلقك وملكك، وَإِنَّمَا كَانَت تِلْكَ التَّحِيَّة لنا وَنحن نعْبد الْأَوْثَان، فَبعث الله فِينَا نَبيا صَادِقا، وأمرنا بالتحية الَّتِي رضيها، وَهِي السَّلَام؛ تَحِيَّة أهل الْجنَّة3.
وأكد جَعْفَر رضي الله عنه هُوَ وَأَصْحَابه بِهَذَا الْكَلَام الصَّيْحَة الَّتِي صاحها بِبَاب النَّجَاشِيّ، فهم لَيْسُوا عبيدا إِلَّا لله وَحده، لَهُ يَسْجُدُونَ، وَبِه يعتزون، وَعَلِيهِ يَتَوَكَّلُونَ.
--------------------------------------------
মক্কাবাসী তাদের উচ্চবংশীয় ব্যক্তিবর্গের মধ্য থেকে দুইজন ব্যক্তিকে প্রেরণ করলেন, তারা হলেন: আমর ইবনুল আস এবং আব্দুল্লাহ ইবনে আবি রাবিয়া। তারা উভয়েই ছিলেন মাখজুম গোত্রীয়। তারা নাজাশি ও তার ধর্মযাজকদের জন্য মূল্যবান উপঢৌকন প্রস্তুত করলেন এবং তাদের নির্দেশ দিলেন যেন তারা নাজাশির নিকট প্রবেশের পূর্বে ধর্মযাজকদের উপঢৌকন প্রদান করেন, যাতে তারা নাজাশির নিকট তাদের উদ্দেশ্য হাসিলে সহায়তা করতে পারেন।
এই গুরুত্বপূর্ণ অভিযানের জন্য আমর ইবনুল আসকে নির্বাচনের কারণ কারোর নিকট অস্পষ্ট নয়; কেননা তিনি কুরাইশদের একজন নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি হওয়ার পাশাপাশি আরবের অন্যতম প্রথিতযশা কূটনীতিবিদ হিসেবে গণ্য হতেন। তিনি তার মেধা দ্বারা সম্মুখস্থ ব্যক্তিকে আপন উদ্দেশ্য অনুযায়ী আশ্বস্ত করতে পারতেন এবং যুক্তি দ্বারা লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হলে আপন কৌশলের মাধ্যমে উদ্দিষ্ট মাকসাদে পৌঁছাতে সক্ষম হতেন।
কিন্তু ঈমানদার দাঈ জাফর তার পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দিলেন এবং তার কূটকৌশলকে অকেজো করে দিলেন। ফলে তার মধ্যে আর কাউকে প্রভাবিত করার সক্ষমতা অবশিষ্ট থাকল না এবং যে ষড়যন্ত্রের উদ্দেশ্যে তিনি এসেছিলেন, তা বাস্তবায়নে কোনো কৌশলই তাকে সহায়তা করতে পারল না।
আমর ও আব্দুল্লাহ নাজাশির দরবারে প্রবেশ করলেন এবং তার নিকট অবস্থানরত মুসলিমদের বিরুদ্ধে তার মন বিষিয়ে তোলার অপচেষ্টা করলেন। ধর্মযাজকদের দলটি তাদের পক্ষাবলম্বন করল; মূলত উৎকোচই তাদের মিথ্যার প্রতি ধাবিত করেছিল এবং জালিমদের পাশে দাঁড়াতে উদ্বুদ্ধ করেছিল। কিন্তু নাজাশি মুহাজিরদের সম্পর্কে কোনো মন্তব্য গ্রহণ করতে বা তাদের বিরুদ্ধে কোনো অবস্থান নিতে অস্বীকার করলেন যতক্ষণ না তিনি তাদের মতামত শোনেন এবং তাদের বক্তব্য প্রত্যক্ষ করেন। তিনি বললেন: "যদি তারা তেমনই হয় যেমনটা এই দুইজন বলছে, তবে আমি তাদের এদের হাতে সোপর্দ করব এবং তাদের স্বগোত্রে ফিরিয়ে দেব। আর যদি তারা অন্যরূপ হয়, তবে আমি তাদের এদের থেকে রক্ষা করব এবং যতদিন তারা আমার আশ্রয়ে থাকবে, আমি তাদের সাথে উত্তম প্রতিবেশীসুলভ আচরণ করব।"১
অতঃপর জাফর ও তার সঙ্গীদের উপস্থিত করা হলো। যখন তারা নাজাশির দ্বারে দণ্ডায়মান হলেন, জাফর উচ্চস্বরে ঘোষণা করলেন: "আল্লাহর দল আপনার নিকট অনুমতি প্রার্থনা করছে।" নাজাশি তাদের আল্লাহর আমান ও জিম্মাদারিতে প্রবেশের অনুমতি দিলেন।২
জাফরের এই ঘোষণা ছিল এক অনন্য প্রারম্ভিক কৌশল; তিনি প্রবেশের পূর্বেই ঘোষণা করে দিলেন যে, তিনি এবং তার দল নাজাশির পরিচিত অন্যান্যদের চেয়ে ভিন্ন ধাঁচের। ফলে রাজকীয় আদব-কেতার পরিপন্থী কোনো কিছু ঘটলে তার ওজর অগ্রিম পেশ করা হয়ে গেল। তদুপরি নাজাশি ছিলেন খ্রিস্টধর্মাবলম্বী; তিনি আল্লাহকে চিনতেন এবং তাঁর একত্ববাদে বিশ্বাস করতেন। তাই তিনি যখনই জাফরের এই উক্তি শুনলেন—"আল্লাহর দল আপনার নিকট অনুমতি প্রার্থনা করছে"—তৎক্ষণাৎ বললেন: "হ্যাঁ, তারা আল্লাহর আমান ও জিম্মাদারিতে প্রবেশ করুক।"
জাফর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ছিলেন অত্যন্ত মার্জিত, বুদ্ধিমান ও সঠিক পথের অনুসারী। নাজাশি যখন তাকে প্রবেশের অনুমতি দিলেন, তিনি অন্যান্য প্রবেশকারীদের মতো তাকে সিজদা করলেন না। নাজাশি তাদের বললেন: "তোমাদের আমার প্রতি সিজদাবনত হতে কিসে বাধা প্রদান করল?" তারা বলল: "আমরা সেই আল্লাহর প্রতি সিজদা করি যিনি আপনাকে সৃষ্টি করেছেন এবং রাজত্ব দান করেছেন। ইতিপূর্বে আমরা যখন মূর্তিপূজা করতাম, তখন এটিই ছিল আমাদের অভিবাদন। অতঃপর আল্লাহ আমাদের মাঝে একজন সত্যবাদী (صادق) নবী প্রেরণ করলেন এবং তিনি আমাদের এমন এক অভিবাদনের নির্দেশ প্রদান করলেন যা আল্লাহ পছন্দ করেছেন; আর তা হলো 'সালাম', যা জান্নাতবাসীদের সম্ভাষণ।"৩
জাফর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এবং তার সঙ্গীগণ এই বক্তব্যের মাধ্যমে নাজাশির দ্বারে দেওয়া সেই ঘোষণারই সত্যতা নিশ্চিত করলেন যে, তারা একমাত্র আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারোর দাস নন। তারা কেবল তাঁকেই সিজদা করেন, তাঁর মাধ্যমেই সম্মান বোধ করেন এবং তাঁরই ওপর ভরসা করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাদরাসাতুদ দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৩৭)
إِن اعتزاز الْإِنْسَان بعقيدته فِي مثل تِلْكَ المواقف الَّتِي ترتجف فِيهَا قُلُوب الْمُنَافِقين أكبر دَلِيل على صدقه فِي دَعْوَاهُ، إِذْ لَو كَانَ كَاذِبًا لنافق حَتَّى لَا يُؤْذى، وداهن حَتَّى يصل إِلَى مأربه، وَالْمُسلم قد يجامل غَيره ليستميله، وَقد يلاطفه ليدله على الْحق، كل ذَلِك لَا بَأْس بِهِ مَا دَامَ لَا يمس العقيدة وَلَا يكون على حِسَابهَا، أما أَن يصل الْأَمر إِلَى حد التهاون فِي العقيدة، وصرفها إِلَى غير الله عز وجل فَذَلِك مَا يرفضه الْمُؤمن وَلَو علقت لَهُ المشانق، وَذَلِكَ مَا فعله جَعْفَر وَأَصْحَابه.
إِن السُّجُود لغير الله انحراف فِي العقيدة يُؤَدِّي إِلَى الْكفْر، ومظهر من مظَاهر الضعْف النَّفْسِيّ لَا يَفْعَله إِلَّا جبان خوار، وَلِهَذَا رفض الْمُهَاجِرُونَ أَن يسجدوا للنجاشي، وَلَو أدّى ذَلِك إِلَى طردهم من مأمنهم وإخراجهم يسيحون فِي الأَرْض على غير هدى.
وَلَقَد كَانَ ذَلِك الْموقف الجريء من جمَاعَة الْمُهَاجِرين الَّذين يعيشون فِي غير بِلَادهمْ مهددين فِي كل لَحْظَة بالطرد والإبعاد عَن أَرض وجدوا فِيهَا طمأنينة قُلُوبهم والأمان على دينهم؛ من أهم الْأَسْبَاب الَّتِي جعلت النَّجَاشِيّ يقف على حَقِيقَة صدقهم، ويعتز بوجودهم فِي بِلَاده، ويمنحهم الْأمان مَا داموا فِي جواره.
وَأدْركَ جَعْفَر الداعية الأريب أَنه فِي موقف حرج، وَأَن الْأَمر يتطلب إِعْطَاء الْملك حَقه من الاحترام وَالتَّقْدِير، وَإِن الْحَاجة إِلَى إقناع الْملك بسلامة موقفهم أهم من الدُّخُول فِي مناقشة مَعَ الْخصم اللدود؛ فَقَالَ: إِنَّك ملك لَا يصلح عنْدك كَثْرَة الْكَلَام وَلَا الظُّلم، وَأَنا أحب أَن أُجِيب عَن أَصْحَابِي1.
وَطلب النَّجَاشِيّ أَن يسمع من كلا الطَّرفَيْنِ حَتَّى يقف على حَقِيقَة الْأَمر، وَهنا قَالَ عَمْرو بن الْعَاصِ لجَعْفَر: تكلم.
فَالْتَفت جَعْفَر إِلَى النَّجَاشِيّ وَقَالَ: سَله أعبيد نَحن أم أَحْرَار؟ فَإِن كُنَّا عبيدا فقد أبقنا من موالينا فارددنا عَلَيْهِم.
فَقَالَ عَمْرو: بل أَحْرَار كرام.
قَالَ جَعْفَر: هَل أرقنا دَمًا بِغَيْر حق فيقتص منا؟
قَالَ عَمْرو: وَلَا قَطْرَة.
قَالَ جَعْفَر: فَهَل أَخذنَا أَمْوَال النَّاس بِغَيْر حق فعلينا قَضَاؤُهَا؟
قَالَ عَمْرو: وَلَا قِيرَاط.
وَهنا تبين الْأَمر للنجاشي، وآمن بسلامة موقف الْمُهَاجِرين، إِن هَذِه الْأُمُور الَّتِي ثبتَتْ
--------------------------------------------
এ ধরনের পরিস্থিতিতে যেখানে মুনাফিকদের অন্তর প্রকম্পিত হয়, সেখানে নিজের আকিদার প্রতি একজন মানুষের গর্ববোধ তার দাবির সত্যতা (صدق) এর সর্বশ্রেষ্ঠ প্রমাণ। কারণ সে যদি মিথ্যাবাদী (كاذب) হতো তবে কষ্ট ভোগ না করার জন্য কপটতা করত এবং নিজের উদ্দেশ্য হাসিল করার জন্য তোষামোদ করত। একজন মুসলিম অন্যকে আকৃষ্ট করার জন্য সৌজন্য প্রদর্শন করতে পারে এবং তাকে হকের দিকে পরিচালিত করার জন্য নম্র আচরণ করতে পারে; যতক্ষণ পর্যন্ত তা আকিদাকে স্পর্শ না করে বা আকিদার বিনিময়ে না হয়, ততক্ষণ এতে কোনো দোষ নেই। কিন্তু বিষয়টি যদি আকিদার ক্ষেত্রে শিথিলতা প্রদর্শন এবং তা মহান আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো দিকে ধাবিত করার পর্যায়ে পৌঁছে যায়, তবে একজন মুমিন তা প্রত্যাখ্যান করে, এমনকি যদি তাকে ফাঁসি কাষ্ঠেও ঝুলানো হয়। আর জাফর ও তাঁর সাথীবৃন্দ এটিই করেছিলেন।
আল্লাহ ব্যতীত অন্য কাউকে সিজদা করা আকিদার বিচ্যুতি যা কুফরের দিকে নিয়ে যায়। এটি একটি মানসিক দুর্বলতার বহিঃপ্রকাশ যা কেবল ভীরু ও কাপুরুষরাই করে থাকে। এ কারণেই মুহাজিরগণ নাজাশীর সামনে সিজদা করতে অস্বীকার করেছিলেন, যদিও এর ফলে তাদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল থেকে বিতাড়িত হওয়ার এবং লক্ষ্যহীনভাবে পৃথিবীতে ঘুরে বেড়ানোর আশঙ্কা ছিল।
মুহাজিরদের সেই সাহসী অবস্থান—যাঁরা নিজ দেশের বাইরে ছিলেন এবং যেকোনো মুহূর্তে বিতাড়িত হওয়ার ও এমন এক ভূমি থেকে দূরে সরে যাওয়ার হুমকিতে ছিলেন যেখানে তাঁরা অন্তরের প্রশান্তি ও দ্বীনের নিরাপত্তা খুঁজে পেয়েছিলেন—তা ছিল অন্যতম প্রধান কারণ যা নাজাশীকে তাঁদের সত্যতা (صدق) এর স্বরূপ উপলব্ধি করতে সাহায্য করেছিল। এর ফলে তিনি তাঁর দেশে তাঁদের অবস্থানের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েছিলেন এবং যতক্ষণ তাঁরা তাঁর আশ্রয়ে ছিলেন ততক্ষণ তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছিলেন।
প্রজ্ঞাবান দাঈ জাফর অনুধাবন করলেন যে তিনি এক জটিল পরিস্থিতিতে রয়েছেন এবং বিষয়টি বাদশাহর প্রাপ্য সম্মান ও কদর প্রদানের দাবি রাখে। সেই সাথে শত্রুর সাথে বিতর্কে লিপ্ত হওয়ার চেয়ে তাঁদের অবস্থানের বিশুদ্ধতা সম্পর্কে বাদশাহকে আশ্বস্ত করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তাই তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই আপনি এমন একজন বাদশাহ যার দরবারে অধিক কথা বলা এবং জুলুম করা শোভা পায় না। আমি আমার সাথীদের পক্ষ থেকে উত্তর দিতে চাই।"১
নাজাশী উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার আগ্রহ প্রকাশ করলেন যাতে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন করা যায়। তখন আমর ইবনুল আস জাফরকে বললেন: "কথা বলো।"
জাফর নাজাশীর দিকে ফিরে বললেন: "তাঁকে জিজ্ঞাসা করুন, আমরা কি দাস নাকি স্বাধীন? যদি আমরা দাস হই এবং আমাদের মনিবদের কাছ থেকে পালিয়ে এসে থাকি, তবে আমাদের তাঁদের কাছে ফিরিয়ে দিন।"
আমর বললেন: "না, বরং তারা সম্মানিত স্বাধীন ব্যক্তি।"
জাফর বললেন: "আমরা কি অন্যায়ভাবে কারো রক্ত ঝরিয়েছি যার জন্য আমাদের থেকে প্রতিশোধ নেওয়া হবে?"
আমর বললেন: "এক ফোঁটাও নয়।"
জাফর বললেন: "আমরা কি মানুষের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রহণ করেছি যা আমাদের পরিশোধ করতে হবে?"
আমর বললেন: "এক কিরাত পরিমাণও নয়।"
তখন নাজাশীর কাছে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে গেল এবং তিনি মুহাজিরদের অবস্থানের বিশুদ্ধতার ওপর বিশ্বাস স্থাপন করলেন। এই বিষয়গুলো যা প্রমাণিত হয়েছে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাদরাসাতুদ দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৩৮)
براءتهم مِنْهَا هِيَ الَّتِي من أجلهَا يطْلب الْمَرْء؛ فَإِذا لم يكن هُنَاكَ شَيْء من ذَلِك فعلام يلح هَؤُلَاءِ فِي طَلَبهمْ؟
وَهنا قَالَ النَّجَاشِيّ لِابْنِ الْعَاصِ: فَمَا تطلبون مِنْهُم؟
وَسقط فِي يَد عَمْرو، فَلم يسْتَطع إدانتهم بِشَيْء من ذَلِك حَتَّى يسلمهم الْملك إِلَيْهِ، وَلكنه قَالَ: كُنَّا وهم على دين وَاحِد، فتركوا ذَلِك وَاتبعُوا غَيره.
وتطلعت نفس النَّجَاشِيّ لمعْرِفَة الدّين الْجَدِيد، فَقَالَ لجَعْفَر: مَا هَذَا الدّين الَّذِي قد فارقتم فِيهِ قومكم، وَلم تدْخلُوا فِي ديني، وَلَا فِي دين أحد من الْملَل؟
وحانت الفرصة للداعية اللبق فانتهزها، وَنحن قد لاحظنا أَن جَعْفَر رضي الله عنه حَتَّى هَذِه اللحظات لم يتَكَلَّم كلمة وَاحِدَة عَن الْإِسْلَام، وَلَعَلَّه ترك الْكَلَام عَن الدعْوَة حَتَّى تحين الفرصة وتتهيأ النُّفُوس للتلقي، فَيكون شوقها إِلَى الِاسْتِمَاع أعظم، وتقبلها لما يلقى عَلَيْهَا أَكثر.
وَلَعَلَّ النَّجَاشِيّ نَفسه - وَقد طَال بَين يَدَيْهِ الْأَخْذ وَالرَّدّ والقيل والقال دون أَن يسمع شَيْئا عَن الدّين الْجَدِيد - قد شغف بِأَمْر هَذَا الدّين، وتاقت نَفسه ليعرف شَيْئا عَنهُ، فَسَالَ جَعْفَر هَذَا السُّؤَال، وَلم يتَرَدَّد جَعْفَر فِي الْإِجَابَة، وَكَأَنَّهُ أدْرك لهفة النَّجَاشِيّ وتعلقه بِمَعْرِِفَة الدّين، فأسهب فِي الْإِجَابَة وَالنَّجَاشِي منصت يستمع إِلَيْهِ، وَذكر جَعْفَر كل مَا كَانُوا يَفْعَلُونَ فِي الْجَاهِلِيَّة من أَعمال سَيِّئَة، وقفّى عَلَيْهَا بتعاليم الدّين الَّذِي جَاءَ بِهِ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَبَين أَن الله أنقذهم مِمَّا كَانُوا فِيهِ ببعثة الْمُصْطَفى الَّذِي دلهم على الْخَيْر وحذرهم من الشَّرّ، وَأمرهمْ بِالْمَعْرُوفِ ونهاهم عَن الْمُنكر، وحثهم على مَكَارِم الْأَخْلَاق ومحامد الْعَادَات.
وركز جَعْفَر على إبراز التَّوْحِيد؛ لِأَنَّهُ أساس العقيدة الَّتِي جَاءَ الْإِسْلَام لينشرها فِي الْعَالمين، وَلِأَن أَي دين لَا يقوم على أساسها فَهُوَ بَاطِل لَا يُغني عَن صَاحبه شَيْئا، ثمَّ الْتفت جَعْفَر إِلَى النَّجَاشِيّ وَكَأَنَّهُ يُرِيد أَن يستعديه على هَؤُلَاءِ الَّذين يلاحقونهم؛ فَقَالَ: فَلَمَّا صدقنا النَّبِي وآمنا بِهِ، واتبعناه على مَا جَاءَ بِهِ من الله، فعبدنا الله وَحده، وَلم نشْرك بِهِ شَيْئا، وحرمنا مَا حرم علينا، وأحللنا مَا أحل لنا، عدا علينا قَومنَا، فعذبونا وفتنونا عَن ديننَا ليردونا إِلَى عبَادَة الْأَوْثَان؛ فَلَمَّا قهرونا وظلمونا وضيقوا علينا، وحالوا بَيْننَا وَبَين ديننَا، خرجنَا إِلَى بلادك، واخترناك على من سواك، ورغبنا فِي جوارك، ورجونا أَن لَا نظلم عنْدك أَيهَا الْملك! 1.
واشتاق النَّجَاشِيّ بعد هَذَا الحَدِيث الطلي عَن الدّين الْجَدِيد لِأَن يسمع شَيْئا من
--------------------------------------------
তাদের নির্দোষিতাই হচ্ছে সেই বিষয় যার জন্য কোনো ব্যক্তিকে তলব করা হয়ে থাকে; সুতরাং যখন সেখানে তেমন কিছুই নেই, তখন তারা কেন তাদের দাবিতে এমন নাছোড়বান্দা হয়ে আছে?
এখানে নাজ্জাশি ইবনুল আসকে বললেন: "তাহলে তোমরা তাদের কাছে কী চাও?"
অমরের হাত অবশ হয়ে এলো (তিনি কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়লেন), তিনি তাদের বিরুদ্ধে এমন কোনো অপরাধ প্রমাণ করতে পারলেন না যার মাধ্যমে বাদশাহ তাদেরকে তাঁর হাতে সোপর্দ করবেন; তবে তিনি বললেন: "আমরা এবং তারা একই ধর্মের ওপর ছিলাম, অতঃপর তারা তা বর্জন করেছে এবং অন্য ধর্ম অনুসরণ শুরু করেছে।"
নতুন ধর্মটি সম্পর্কে জানার জন্য নাজ্জাশির মনে আগ্রহ জাগ্রত হলো, তিনি জাফরকে বললেন: "এই ধর্মটি কী, যার কারণে তোমরা তোমাদের স্বজাতিকে ত্যাগ করেছ, অথচ আমার ধর্মে কিংবা অন্য কোনো জাতির ধর্মেও প্রবেশ করোনি?"
বিচক্ষণ দাঈর (داعية) সামনে মোক্ষম সুযোগ এল এবং তিনি তা গ্রহণ করলেন। আমরা লক্ষ্য করেছি যে, জাফর (রা.) এই মুহূর্ত পর্যন্ত ইসলাম সম্পর্কে একটি শব্দও উচ্চারণ করেননি; সম্ভবত তিনি দাওয়াতের কথা বলা থেকে ততক্ষণ পর্যন্ত বিরত ছিলেন যতক্ষণ না সুযোগ তৈরি হয় এবং মনগুলো তা গ্রহণের জন্য প্রস্তুত হয়, যাতে শোনার আকাঙ্ক্ষা প্রবলতর হয় এবং যা পেশ করা হবে তা গ্রহণের আগ্রহ বৃদ্ধি পায়।
সম্ভবত নাজ্জাশি নিজেও—যার সামনে দীর্ঘক্ষণ ধরে বাদ-প্রতিবাদ ও বাদানুবাদ চলছিল অথচ নতুন ধর্ম সম্পর্কে কিছুই শোনেননি—এই ধর্মের বিষয়ে কৌতূহলী হয়ে উঠেছিলেন এবং তা সম্পর্কে জানতে ব্যাকুল ছিলেন। তাই তিনি জাফরকে এই প্রশ্নটি করেন। জাফরও উত্তর দিতে দ্বিধা করেননি, যেন তিনি নাজ্জাশির ব্যাকুলতা ও ধর্মটি সম্পর্কে জানার আগ্রহ অনুভব করতে পেরেছিলেন। তিনি বিস্তারিত উত্তর দিলেন এবং নাজ্জাশি নিবিষ্ট মনে তা শুনতে লাগলেন। জাফর জাহেলিয়াত যুগে তারা যে সকল মন্দ কাজ করত তার সব উল্লেখ করলেন এবং এর পরেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে ধর্মের শিক্ষা নিয়ে এসেছেন তা বর্ণনা করলেন। তিনি স্পষ্ট করলেন যে, আল্লাহ তাআলা তাদেরকে সেই শোচনীয় অবস্থা থেকে উদ্ধার করেছেন মুস্তফা (সা.)-এর প্রেরণের মাধ্যমে, যিনি তাদেরকে কল্যাণের পথ দেখিয়েছেন, অকল্যাণ থেকে সতর্ক করেছেন, সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজে নিষেধ করেছেন এবং তাদেরকে মহৎ চরিত্র ও প্রশংসনীয় অভ্যাসের প্রতি উৎসাহিত করেছেন।
জাফর তাওহিদকে ফুটিয়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন; কারণ এটিই সেই আকিদাহ বা বিশ্বাসের মূলভিত্তি যা প্রচারের জন্য ইসলাম বিশ্বে আবির্ভূত হয়েছে। আর যেহেতু এর ওপর ভিত্তিহীন কোনো ধর্মই সঠিক নয় এবং তা তার অনুসারীর কোনো উপকারে আসে না। অতঃপর জাফর নাজ্জাশির দিকে নিবদ্ধ হলেন যেন তিনি ঐসব লোকদের বিরুদ্ধে তাঁর সাহায্য প্রার্থনা করছেন যারা তাঁদের পিছু ধাওয়া করছে; তিনি বললেন: "অতঃপর যখন আমরা নবীকে সত্য বলে মেনে নিলাম, তাঁর প্রতি ঈমান আনলাম এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে তিনি যা নিয়ে এসেছেন তাতে তাঁর অনুসরণ করলাম, তখন আমরা এক আল্লাহর ইবাদত করতে শুরু করলাম, তাঁর সাথে কাউকে শরিক করলাম না, তিনি আমাদের জন্য যা হারাম করেছেন তা বর্জন করলাম এবং যা হালাল করেছেন তা গ্রহণ করলাম। এরপর আমাদের কওম আমাদের ওপর চড়াও হলো, তারা আমাদের ওপর নির্যাতন চালাল এবং আমাদের ধর্ম থেকে বিচ্যুত করার জন্য ফিতনায় ফেলল যাতে আমাদের পুনরায় মূর্তিপূজায় ফিরিয়ে নিতে পারে। যখন তারা আমাদের ওপর চড়াও হলো, জুলুম করল, আমাদের জীবন সংকীর্ণ করে দিল এবং আমাদের ও আমাদের ধর্মের মাঝে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াল, তখন আমরা আপনার দেশে হিজরত করে চলে এলাম। আমরা অন্যদের বাদ দিয়ে আপনাকেই বেছে নিয়েছি, আপনার প্রতিবেশী হওয়াকে পছন্দ করেছি এবং হে বাদশাহ! আমরা আশা পোষণ করেছি যে আপনার নিকট আমাদের ওপর কোনো জুলুম করা হবে না!" ১।
নতুন ধর্ম সম্পর্কে এই চমৎকার আলোচনার (হাদিস) পর নাজ্জাশি শোনার জন্য ব্যাকুল হলেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাদরাসাতুদ দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৩৯)
الْوَحْي الَّذِي أنزل على نَبِي هَذَا الدّين، فَقَالَ لجَعْفَر:
هَل مَعَك مِمَّا جَاءَ بِهِ عَن الله شَيْء؟.
فَقَالَ جَعْفَر: نعم.
فَقَالَ النَّجَاشِيّ: فاقرأه عَليّ!
فَقَرَأَ جَعْفَر {كهيعص} صَدرا من سُورَة مَرْيَم.
فَلَمَّا سَمعه النَّجَاشِيّ بَكَى وبكت أساقفته، ثمَّ قَالَ: إِن هَذَا وَالَّذِي جَاءَ بِهِ مُوسَى ليخرج من مشكاة وَاحِدَة.
وَنظر النَّجَاشِيّ إِلَى عَمْرو وَصَاحبه، وطردهما من مَجْلِسه، وَأمر برد مَا حملا إِلَيْهِ من الْهَدَايَا، وَقَالَ: انْطَلقَا فوَاللَّه لَا أسلمهم إلَيْكُمَا، وَلَا يكادون.
وحز فِي نفس عَمْرو أَن يطرد من مجْلِس الْملك هَذِه الطردة، وَكبر عَلَيْهِ أَن يعود بِهَذِهِ النتيجة المؤسفة، وَكَيف يرجع إِلَى قومه دون أَن يُحَقّق لَهُم مَا أَرَادوا وهم لم يختاروه إِلَّا لإيمانهم بِأَنَّهُ الشخصية العبقرية القادرة على تَحْقِيق تِلْكَ المكيدة، إِن عودة عَمْرو دون أَن يكون مَعَه الْمُهَاجِرُونَ من الْمُسلمين خيبة أمل فِي دهائه، وَحكم بالفشل على عبقريته، وَقَضَاء على مَنْزِلَته بَين قومه.
وفكر عَمْرو كثيرا فِي الْأَمر، وهداه تفكيره إِلَى مكيدة لم يجربها بعد، فعزم على تنفيذها، وَقَالَ: وَالله لآتينهم غَدا بِمَا استأصل بِهِ خضراءهم1.
وَدخل على النَّجَاشِيّ من الْغَد، وَقَالَ: أَيهَا الْملك إِنَّهُم يَقُولُونَ فِي عِيسَى بن مَرْيَم قولا عَظِيما، فأرسلْ إِلَيْهِم فسلْهم عَمَّا يَقُولُونَ فِيهِ.
وَأرْسل النَّجَاشِيّ إِلَى الْمُسلمين، وسألهم عَمَّا يَقُولُونَ فِي عِيسَى بن مَرْيَم عليه السلام، ورد عَلَيْهِ جَعْفَر رضي الله عنه فَقَالَ: نقُول فِيهِ مَا جَاءَنَا بِهِ نَبينَا صلى الله عليه وسلم: هُوَ عبد الله وَرَسُوله وروح مِنْهُ وكلمته أَلْقَاهَا إِلَى مَرْيَم الْعَذْرَاء البتول.
فَأخذ النَّجَاشِيّ عودا من الأَرْض، وَقَالَ: وَالله مَا عدا عِيسَى بن مَرْيَم مَا قلت هَذَا الْعود.
والتفت إِلَى جَعْفَر وَأَصْحَابه وَقَالَ: اذْهَبُوا فَأنْتم شيوم بأرضي - أَي آمنون - من سبكم غرم، من سبكم غرم، من سبكم غرم، مَا أحب أَن لي دبرا من ذهب - أَي جبلا - وَأَنِّي آذيت أحدا مِنْكُم.
والتفت مرّة أُخْرَى إِلَى عَمْرو وَصَاحبه، وَقَالَ لحاشيته: ردوا عَلَيْهِمَا هداياهما فَلَا حَاجَة لي بهَا، فوَاللَّه مَا أَخذ الله مني الرِّشْوَة حِين رد عَليّ ملكي فآخذ الرِّشْوَة فِيهِ، وَمَا أطَاع النَّاس فِي فأطيعهم فِيهِ، فَخَرَجَا من عِنْده مقبوحين2.
--------------------------------------------
এই দ্বীনের নবীর ওপর অবতীর্ণ হওয়া ওহি (وحي) সম্পর্কে তিনি জাফরকে জিজ্ঞাসা করলেন:
তোমার নিকট কি আল্লাহর পক্ষ থেকে তিনি যা নিয়ে এসেছেন তার কোনো কিছু আছে?
জাফর বললেন: হ্যাঁ।
নাজ্জাসি বললেন: তাহলে তা আমার কাছে পাঠ করো!
তখন জাফর সূরা মারইয়ামের প্রথমাংশ {কাফ-হা-ইয়া-আইন-সদ} পাঠ করলেন।
যখন নাজ্জাসি তা শুনলেন, তিনি কাঁদতে লাগলেন এবং তাঁর বিশপগণও কাঁদতে লাগলেন; অতঃপর তিনি বললেন: নিশ্চয়ই এটি এবং মুসা যা নিয়ে এসেছিলেন, তা একই প্রদীপাধার (مشكاة) থেকে নির্গত হয়েছে।
নাজ্জাসি আমর ও তার সঙ্গীর দিকে তাকালেন এবং তাদের তাঁর দরবার থেকে বিতাড়িত করলেন। তারা যে উপঢৌকন নিয়ে এসেছিল তা ফেরত দেওয়ার আদেশ দিয়ে তিনি বললেন: তোমরা চলে যাও! আল্লাহর কসম, আমি তাদের তোমাদের হাতে সোপর্দ করব না এবং তারা আমার আশ্রয়ে নিরাপদ থাকবে।
রাজার দরবার থেকে এভাবে বিতাড়িত হওয়া আমরের মনে গভীর রেখাপাত করল এবং এমন হতাশাজনক পরিণাম নিয়ে ফিরে যাওয়া তাঁর নিকট অত্যন্ত গুরুভার মনে হলো। তিনি কীভাবে তাঁর কওমের কাছে ফিরবেন অথচ তাদের উদ্দেশ্য সফল করতে পারেননি? অথচ তারা তাঁকে কেবল এই বিশ্বাসেই নির্বাচন করেছিল যে, তিনি এক তীক্ষ্ণ মেধাসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব যিনি এই ষড়যন্ত্র সফল করতে সক্ষম। মুসলিম মুহাজিরদের সাথে না নিয়ে আমরের ফিরে আসা ছিল তাঁর চতুরতার চরম ব্যর্থতা এবং তাঁর মেধার পরাজয়, যা তাঁর স্বজাতির মধ্যে তাঁর মর্যাদাকে ভূলুণ্ঠিত করার শামিল ছিল।
আমর এ বিষয়ে অনেক চিন্তা করলেন এবং তাঁর চিন্তা তাঁকে এমন এক ষড়যন্ত্রের দিকে ধাবিত করল যা তিনি আগে কখনো চেষ্টা করেননি। তিনি তা বাস্তবায়নের সংকল্প করলেন এবং বললেন: আল্লাহর কসম, আগামীকাল আমি তাদের নিকট এমন এক বিষয় নিয়ে আসব যার মাধ্যমে আমি তাদের অস্তিত্ব সমূলে বিনাশ (استأصل خضراءهم) করব।১
পরদিন তিনি নাজ্জাসির দরবারে প্রবেশ করলেন এবং বললেন: হে রাজাধিরাজ! তারা মারইয়াম পুত্র ঈসা সম্পর্কে এক গুরুতর (عظيم) উক্তি করে। আপনি তাদের ডেকে পাঠান এবং জিজ্ঞাসা করুন তারা তাঁর সম্পর্কে কী বলে।
নাজ্জাসি মুসলিমদের ডেকে পাঠালেন এবং মারইয়াম পুত্র ঈসা (আলাইহিস সালাম) সম্পর্কে তাঁদের বক্তব্য জানতে চাইলেন। জাফর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) উত্তরে বললেন: আমরা তাঁর সম্পর্কে তাই বলি যা আমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের নিকট নিয়ে এসেছেন: তিনি আল্লাহর বান্দা (عبد الله), তাঁর রসূল (رسوله), তাঁর পক্ষ থেকে আসা রূহ (روح) এবং তাঁর বাণী (كلمة) যা তিনি কুমারী ও পবিত্র মারইয়ামের প্রতি প্রেরণ করেছেন।
তখন নাজ্জাসি মাটি থেকে একটি কাঠি হাতে নিলেন এবং বললেন: আল্লাহর কসম, তুমি যা বললে ঈসা ইবনে মারইয়াম এই কাঠির পরিমাণও তার অতিরিক্ত কিছু নন।
অতঃপর তিনি জাফর ও তাঁর সঙ্গীদের দিকে ফিরে বললেন: তোমরা যাও, তোমরা আমার ভূমিতে নিরাপদ (شيوم) - অর্থাৎ শান্তিতে আছ। যে তোমাদের গালি দেবে তার জরিমানা হবে, যে তোমাদের গালি দেবে তার জরিমানা হবে, যে তোমাদের গালি দেবে তার জরিমানা হবে। আমার নিকট যদি একটি স্বর্ণের পাহাড়ও (دبر) থাকে, তবুও আমি তোমাদের কাউকেও কষ্ট দেওয়া পছন্দ করব না।
এরপর তিনি পুনরায় আমর ও তার সঙ্গীর দিকে ফিরে তাকালেন এবং তাঁর পারিষদদের বললেন: এদের উপঢৌকন এদের ফিরিয়ে দাও, আমার এগুলোর প্রয়োজন নেই। আল্লাহর কসম, আল্লাহ যখন আমাকে আমার রাজত্ব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন তখন তিনি আমার নিকট থেকে কোনো উৎকোচ (رشوة) গ্রহণ করেননি যে আমি রাজত্বের বিষয়ে উৎকোচ গ্রহণ করব। আর তিনি আমার ব্যাপারে মানুষের আনুগত্য করেননি যে আমি মানুষের আনুগত্য করব। ফলে তারা তাঁর নিকট থেকে লাঞ্ছিত (مقبوح) অবস্থায় বেরিয়ে গেল।২
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাদরাসাতুদ দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৪০)
ونجح جَعْفَر الداعية فقد بلغ الدعْوَة إِلَى النَّجَاشِيّ نَفسه، وأقنعه بِالْحَقِّ الَّذِي جَاءَ بِهِ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم؛ فَأسلم وَمَات مُسلما1.
وباء رَسُولا قُرَيْش بخيبة أمل لم يتوقعها أحد، وَلم تَنْفَع عبقرية عَمْرو وَلَا دهاؤه فِي بُلُوغ الأمل الَّذِي علقته قُرَيْش عَلَيْهِمَا، وَسعد الْمُسلمُونَ بجوار النَّجَاشِيّ، وبقوا عِنْده حَتَّى عَادوا يَوْم فتح خَيْبَر يتزعمهم جَعْفَر بن أبي طَالب رضي الله عنه، وَقد سر الرَّسُول – صلى الله عليه وسلم بقدومه، وَقَبله بَين عَيْنَيْهِ، وَالْتَزَمَهُ وَقَالَ: مَا أَدْرِي بِأَيِّهِمَا أسر، بِفَتْح خَيْبَر أم بقدوم جَعْفَر؟ 4.
باستعراض هَذِه النماذج من حَيَاة الدعاة وطرائقهم فِي تَبْلِيغ الدعْوَة نفهم الْأُمُور الْآتِيَة:
1- إِن على الدعاة أَن يتفقهوا فِي الدّين، وَأَن يتعلموا الْأُمُور الَّتِي سيبلغونها لغَيرهم، لِأَن الْجَهْل يَتَرَتَّب عَلَيْهِ أضرار تعرض الدعْوَة لهجوم أعدائها عَلَيْهَا، وتمكنهم من النّيل مِنْهَا وتشويهها.
وَالْإِنْسَان عَادَة لَا يَسْتَطِيع أَن يمنح شَيْئا لَيْسَ عِنْده، إِذْ فَاقِد الشَّيْء لَا يُعْطِيهِ، وَالنَّاس أَعدَاء لما جهلوا، فَإِذا لم يكن الداعية على جَانب من الْعلم وَالْفِقْه يُمكنهُ من شرحها، وَدفع الشُّبُهَات والافتراءات عَنْهَا؛ كَانَ ضَرَره عَلَيْهَا أَكثر من نَفعه.
وَلِهَذَا فَإِن الطُّفَيْل بن عَمْرو لما دخل الْإِسْلَام فِي قلبه تبع رَسُول الله صلى الله عليه وسلم حَتَّى دخل بَيته ثمَّ دخل عَلَيْهِ، وَأخْبرهُ بِأَنَّهُ أسلم، وَقَالَ: اعْرِض عَليّ أَمرك، فَعرض عَلَيْهِ الْإِسْلَام، وتلا عَلَيْهِ الْقُرْآن، ثمَّ اسْتَأْذن رَسُول الله فِي أَن يَدْعُو قومه إِلَى مَا آمن بِهِ، فَأذن لَهُ الرَّسُول، وَلما دَعَا الطُّفَيْل وَالِده واستجاب قَالَ لَهُ: اذْهَبْ فاغتسل، وطهر ثِيَابك ثمَّ تعال حَتَّى أعلمك مَا علمت1.
هَكَذَا يَقُول الطُّفَيْل: (حَتَّى أعلمك مَا علمت) ، وَهُوَ بِهَذَا يَدْعُو إِلَى شَيْء تعلمه وفهمه، إِذْ لَيست الدعْوَة حماسا وخطبا وَلكنهَا علم وَعمل.
وَأما ضمام بن ثَعْلَبَة فَإِنَّهُ لما وَفد على رَسُول الله صلى الله عليه وسلم – لم يُغَادر مَجْلِسه حَتَّى تعلم أَرْكَان الْإِسْلَام، وَعرف الْحَلَال وَالْحرَام، وَعَاد إِلَى قومه فأعلن إِسْلَامه، وَقَالَ لِقَوْمِهِ: إِن الله بعث رَسُولا، وَأنزل كتابا استنقذكم بِهِ مِمَّا كُنْتُم فِيهِ، ثمَّ نطق بِالشَّهَادَتَيْنِ وَقَالَ: وَإِنِّي قد جِئتُكُمْ من عِنْده بِمَا أَمركُم بِهِ ونهاكم عَنهُ2.
--------------------------------------------
দাঈ জাফর সফল হয়েছিলেন; তিনি স্বয়ং নাজাশির কাছে দাওয়াত পৌঁছে দিয়েছিলেন এবং আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে সত্য নিয়ে এসেছেন সে বিষয়ে তাকে আশ্বস্ত করেছিলেন। ফলে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন এবং মুসলিম হিসেবেই ইন্তেকাল করেন ১।
কুরাইশদের প্রেরিত দুই দূত এমন এক হতাশাজনক ব্যর্থতার সাথে ফিরে এল যা কেউ প্রত্যাশা করেনি। আমরের প্রতিভা কিংবা তার চতুরতা—কোনোটিই সেই আশা পূরণে কাজে আসেনি যা কুরাইশরা তাদের ওপর ন্যস্ত করেছিল। মুসলিমরা নাজাশির আশ্রয়ে সুখে-শান্তিতে বসবাস করতে থাকেন এবং তারা সেখানে খাইবার বিজয়ের দিন পর্যন্ত অবস্থান করেন। এরপর তারা জাফর ইবনে আবি তালিব (রা.)-এর নেতৃত্বে ফিরে আসেন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর আগমনে অত্যন্ত আনন্দিত হন, তাঁর দুই চোখের মাঝে চুম্বন করেন, তাঁকে আলিঙ্গন করেন এবং বলেন: "আমি জানি না কোনটিতে আমি অধিক আনন্দিত—খাইবার বিজয় নাকি জাফরের আগমনে?" ৪।
দাঈদের জীবন ও দাওয়াত প্রচারের এই নমুনা ও পদ্ধতিগুলো পর্যালোচনার মাধ্যমে আমরা নিম্নলিখিত বিষয়গুলো বুঝতে পারি:
১- দাঈদের জন্য আবশ্যক হলো দ্বীনের সঠিক জ্ঞান অর্জন করা এবং যা তারা অন্যের কাছে পৌঁছাতে চান সে বিষয়গুলো ভালোভাবে শিখে নেওয়া। কারণ, অজ্ঞতার ফলে এমন সব ক্ষতির সৃষ্টি হয় যা দাওয়াতকে শত্রুদের আক্রমণের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে এবং তাদেরকে দাওয়াতকে কলঙ্কিত ও বিকৃত করার সুযোগ করে দেয়।
সাধারণত কোনো মানুষ এমন কিছু দান করতে পারে না যা তার নিজের কাছে নেই; কেননা রিক্তহস্ত ব্যক্তি অন্যকে কিছু দিতে পারে না। মানুষ যা জানে না, সাধারণত তার শত্রু হয়ে দাঁড়ায়। সুতরাং, দাঈ যদি জ্ঞান ও প্রজ্ঞার এমন স্তরে না থাকেন যা তাকে দাওয়াত ব্যাখ্যা করতে এবং সংশয় ও অপবাদগুলো নিরসন করতে সক্ষম করে, তবে সেক্ষেত্রে তার দ্বারা উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি হবে।
এ কারণেই তুফায়েল ইবনে আমর যখন হৃদয়ে ইসলামের দীক্ষা পেলেন, তখন তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুসরণ করে তাঁর ঘরে প্রবেশ করলেন এবং নিজের ইসলাম গ্রহণের কথা জানালেন। তিনি বললেন: "আপনার বিষয়টি আমার কাছে পেশ করুন।" তখন তিনি তাঁর কাছে ইসলাম পেশ করলেন এবং কোরআন তিলাওয়াত করে শোনালেন। এরপর তুফায়েল রাসুলুল্লাহর কাছে তাঁর কওমকে দাওয়াত দেওয়ার অনুমতি চাইলেন এবং রাসুলুল্লাহ তাঁকে অনুমতি দিলেন। তুফায়েল যখন তাঁর পিতাকে দাওয়াত দিলেন এবং তিনি তাতে সাড়া দিলেন, তখন তুফায়েল তাঁকে বললেন: "যাও, গোসল করো এবং পোশাক পবিত্র করো, তারপর এসো যাতে আমি তোমাকে তা শেখাতে পারি যা আমি শিখেছি" ১।
তুফায়েল এভাবেই বলেছিলেন: (যাতে আমি তোমাকে তা শেখাতে পারি যা আমি শিখেছি)। এর মাধ্যমে তিনি এমন কিছুর দিকেই আহ্বান জানাচ্ছিলেন যা তিনি শিখেছেন এবং অনুধাবন করেছেন। কেননা দাওয়াত কেবল নিছক আবেগ বা বক্তৃতার নাম নয়, বরং এটি হলো জ্ঞান ও আমলের সমন্বয়।
অন্যদিকে দিমাম ইবনে সা'লাবা যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দরবারে প্রতিনিধি হয়ে আসলেন, তখন তিনি ইসলামের রুকনসমূহ শিক্ষা করা এবং হালাল-হারাম সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান লাভ না করা পর্যন্ত মজলিস ত্যাগ করেননি। এরপর তিনি স্বজাতির কাছে ফিরে গিয়ে নিজের ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দেন এবং বলেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ একজন রাসুল পাঠিয়েছেন এবং একটি কিতাব অবতীর্ণ করেছেন যার মাধ্যমে তিনি তোমাদের সেই পথভ্রষ্টতা থেকে উদ্ধার করেছেন যাতে তোমরা লিপ্ত ছিলে।" এরপর তিনি কালিমায়ে শাহাদাত পাঠ করেন এবং বলেন: "আমি তাঁর পক্ষ থেকে তোমাদের জন্য সেইসব আদেশ ও নিষেধ নিয়ে এসেছি যা তিনি তোমাদের পালন করতে বলেছেন" ২।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাদরাসাতুদ দাওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৪১)
وَهَكَذَا يكون ضمام قد تعلم وَفقه مَا يجب أَن يَدْعُو إِلَيْهِ قبل أَن يقدم على تَبْلِيغ الدعْوَة، ويتحمل أمانتها، يجب أَن يكون الدعاة فِي كل زمَان وَمَكَان.
2- نشر الدعْوَة وَاجِب على الدعاة مهما كَانَت الظروف الَّتِي يوجدون فِيهَا، فالإمساك عَن التَّبْلِيغ جريمة فِي حق الدعْوَة لَا يغفرها إِلَّا الْعَمَل الدَّائِم من أجل لنشرها.
وَلَيْسَ معنى هَذَا التهور فِي التَّبْلِيغ وَعدم مُرَاعَاة الظروف الَّتِي يُوجد فِيهَا الداعية، وَلَكِن الْمَقْصُود انتهاز الفرصة المواتية وَعدم تضييعها، وَاسْتِعْمَال الأسلوب الْمُنَاسب لكل وضع يعِيش فِيهِ الدعاة، وَهَذَا هُوَ تَفْسِير الْآيَة الْكَرِيمَة {ادْعُ إِلَى سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ وَجَادِلْهُمْ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ} 3.
وَالْقُرْآن الْكَرِيم يَحْكِي لنا قصَّة دَاعِيَة أَدخل السجْن ظلما ولبث فِي السجْن بضع سِنِين، وَلم تحل الظروف القاسية الَّتِي يعِيش فِيهَا بَينه وَبَين تَبْلِيغ الدعْوَة، وَلم تكن أسوار السجْن الرهيب لتصرفه عَن بَيَان الْحق وإعلانه، لقد وجد فِي السجْن من ينصت إِلَيْهِ، فَلْيَكُن السجْن ميدان دَعوته، وأحس من المساجين ميلًا إِلَيْهِ وشغفا بِهِ فَلْيَكُن هَؤُلَاءِ هم البذور الَّتِي يستنبتها فيحصد مِنْهَا الْخَيْر الوفير.
وجهر يُوسُف عليه السلام بِالتَّوْحِيدِ وَهُوَ فِي أعماق السجْن، ودعا إِلَيْهِ من حوله حِين واتته الفرصة وَلم يضيعها؛ {يَا صَاحِبَيِ السِّجْنِ أَأَرْبَابٌ مُتَفَرِّقُونَ خَيْرٌ أَمِ اللَّهُ الْوَاحِدُ الْقَهَّارُ} 1.
3- لَيْسَ للدعوة أسلوب معِين يجب اتِّبَاعه عِنْد التَّبْلِيغ بل لكل بيئة مَا يُنَاسِبهَا، وَلكُل عقلية خطاب، وَلكُل مقَام مقَال، وَلأَجل هَذَا قَالَ عَليّ - كرم الله وَجهه -: حدثوا النَّاس بِمَا يعْرفُونَ أتحبون أَن يكذب الله وَرَسُوله؟ 2.
وأسلوب الْقُرْآن الْكَرِيم فِي الدعْوَة لم يلْتَزم خطا وَاحِدًا، وَلم يَأْتِ على وتيرة وَاحِدَة، بل خَاطب الْمُؤمنِينَ بأسلوب، وخاطب أهل الْكتاب بأسلوب آخر، وخاطب الْمُلْحِدِينَ الْمُشْركين بأسلوب غير الأسلوبين السَّابِقين3.
--------------------------------------------
এভাবে দিমাম (রা.) দাওয়াত প্রচার করার এবং এর আমানত গ্রহণ করার পূর্বে যা প্রচার করা ওয়াজিব তা শিক্ষা করেছিলেন ও যথাযথভাবে অনুধাবন করেছিলেন; সকল সময়ের ও সকল স্থানের দাঈদের এমনই হওয়া উচিত।
২- দাঈগণ যে পরিস্থিতির মধ্যেই থাকুন না কেন, দাওয়াত প্রচার করা তাদের ওপর আবশ্যক। প্রচার কাজ থেকে বিরত থাকা দাওয়াতের হকের প্রতি এমন এক অপরাধ যা এর প্রসারে নিরন্তর প্রচেষ্টা ব্যতীত আর কিছুই মোচন করতে পারে না।
এর অর্থ প্রচারের ক্ষেত্রে হঠকারিতা করা কিংবা দাঈ যে পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছেন তা বিবেচনা না করা নয়; বরং এর উদ্দেশ্য হলো অনুকূল সুযোগের সদ্ব্যবহার করা এবং তা নষ্ট না করা, আর দাঈগণ যে অবস্থায় বসবাস করছেন তার প্রতিটি প্রেক্ষিতের জন্য উপযোগী পদ্ধতি ব্যবহার করা। আর এটিই এই মহান আয়াতের ব্যাখ্যা: {তোমার রবের পথের দিকে দাওয়াত দাও হিকমত ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে এবং তাদের সাথে বিতর্ক করো এমন পন্থায় যা অতি উত্তম} ৩।
কুরআনুল কারীম আমাদের নিকট এমন একজন দাঈর কাহিনী বর্ণনা করে যাকে অন্যায়ভাবে কারাগারে নিক্ষেপ করা হয়েছিল এবং তিনি সেখানে কয়েক বছর অবস্থান করেছিলেন। তিনি যে প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে ছিলেন তা তাঁর দাওয়াত প্রচারের পথে বাধা হতে পারেনি। সেই ভয়াবহ কারাগারের প্রাচীরসমূহ তাঁকে সত্যের বর্ণনা ও তা ঘোষণা করা থেকে বিমুখ করতে পারেনি। তিনি কারাগারে এমন কিছু লোক পেয়েছিলেন যারা তাঁর কথা মনোযোগ দিয়ে শুনত, ফলে কারাগারই তাঁর দাওয়াতের ময়দান হয়ে উঠল। তিনি কয়েদিদের মধ্যে তাঁর প্রতি এক প্রকার অনুরাগ ও আসক্তি অনুভব করেছিলেন, ফলে তারাই ছিল সেই বীজ যা তিনি রোপণ করেছিলেন এবং তা থেকে প্রচুর কল্যাণ লাভ করেছিলেন।
ইউসুফ (আলাইহিস সালাম) কারাগারের গভীর প্রকোষ্ঠে থাকা অবস্থায় তাওহীদের ঘোষণা দিয়েছিলেন এবং যখনই সুযোগ পেয়েছিলেন তখনই তা নষ্ট না করে তাঁর চারপাশের লোকদের এর প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন: {হে কারাগারের দুই সঙ্গী! ভিন্ন ভিন্ন অনেক প্রতিপালক উত্তম, নাকি এক ও মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ?} ১।
৩- দাওয়াতের ক্ষেত্রে এমন কোনো নির্দিষ্ট পদ্ধতি নেই যা প্রচারের সময় অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে, বরং প্রতিটি পরিবেশের জন্য তার উপযোগী ব্যবস্থা রয়েছে, প্রতিটি মানসিকতার জন্য রয়েছে উপযুক্ত সম্বোধন এবং প্রতিটি প্রেক্ষিতের জন্য রয়েছে যথাযথ বক্তব্য। আর এই কারণেই আলী (কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু) বলেছেন: মানুষের সাথে তাদের বোধগম্য বিষয় নিয়ে কথা বলো। তোমরা কি চাও যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা হোক? ২।
দাওয়াতের ক্ষেত্রে কুরআনুল কারীমের পদ্ধতি কোনো নির্দিষ্ট একটি ধারা অনুসরণ করেনি এবং তা কেবল একঘেয়েমি রূপ নিয়ে আসেনি; বরং এটি মুমিনদের সাথে এক পদ্ধতিতে কথা বলেছে, আহলে কিতাবদের সাথে ভিন্ন পদ্ধতিতে কথা বলেছে এবং নাস্তিক ও মুশরিকদের সাথে পূর্বোক্ত দুই পদ্ধতির চেয়ে আলাদা পদ্ধতিতে কথা বলেছে ৩।
--------------------------------------------