(খণ্ড: ১) ফী আহকামিল জারহি ওয়াত তা’দীল - যিমনা আসারুল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: -)
في أحكام الجرح والتعديل - ضمن «آثار المعلمي»   (عبد الرحمن المعلمي اليماني)

القسم: علوم الحديث


الكتاب: في أحكام الجرح والتعديل

[آثار عبد الرحمن بن يحيى المعلمي اليماني (15)]

المؤلف: عبد الرحمن بن يحيى المُعَلِّمي اليماني (1313 - 1386 هـ)

المحقق: علي بن محمد العمران

راجعه: محمد أجمل الإصلاحي - عادل بن عبد الشكور الزرقي

الناشر: دار عالم الفوائد للنشر والتوزيع

الطبعة: الأولى، 1434 هـ

قدمه للشاملة: مؤسسة «عطاءات العلم»، جزاهم الله خيرا

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 10 شوّال 1442

জরহ ও তাদীল (جرح وتعديل) এর বিধানাবলী প্রসঙ্গে - «আসারুল মুয়াল্লিমি» এর অন্তর্ভুক্ত   (আবদুর রহমান আল-মুয়াল্লিমি আল-ইয়ামানি)

বিভাগ: হাদিস বিজ্ঞান (علوم الحديث)


বই: জরহ ও তাদীল (جرح وتعديل) এর বিধানাবলী প্রসঙ্গে

[আবদুর রহমান বিন ইয়াহইয়া আল-মুয়াল্লিমি আল-ইয়ামানির রচনাবলি (১৫)]

লেখক: আবদুর রহমান বিন ইয়াহইয়া আল-মুয়াল্লিমি আল-ইয়ামানি (১৩১৩ - ১৩৮৬ হিজরি)

সম্পাদক: আলি বিন মুহাম্মদ আল-উমরান

নিরীক্ষক: মুহাম্মদ আজমাল আল-ইসলাহি - আদিল বিন আব্দুশ শাকুর আল-জুরকি

প্রকাশক: দার আলামুল ফাওয়াইদ লিন-নাশর ওয়াত-তাওজি

সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩৪ হিজরি

শামেলার জন্য পেশ করেছে: মুয়াসসাসাতু «আতাআতিল ইলম», আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দান করুন

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১০ শাওয়াল ১৪৪২

(খণ্ড: ১৫) ফী আহকামিল জারহি ওয়াত তা’দীল - যিমনা আসারুল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৬৩)
الرسالة الثانية

رسالة في أحكام الجرح والتعديل
দ্বিতীয় রিসালাহ

জারহ (الجرح) এবং তা'দীল (التعديل)-এর বিধানাবলী বিষয়ক রিসালাহ
(খণ্ড: ১৫) ফী আহকামিল জারহি ওয়াত তা’দীল - যিমনা আসারুল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৬৫)
[ص 29](1) وقد عنَّ لي أن أجمع رسالة في أحكام الجرح والتعديل، ومذاهب أئمة الفن في ذلك تفصيلًا بقدر الإمكان، وأرجو إذا يسّر الله عز وجل ذلك أن تنحلّ به كثير من مشكلات الفن، بل أن يتيسَّر للعالم في هذا العصر السبيلُ إلى أن يعرف بالحجة والدليل درجات التابعين وأتباعهم فمن بعدهم، حتى يمكنه أن يوثّق من لم يعلم أحدًا وثقه، ويجرح من لم يعلم أحدًا جرحه.

هذا، ولست بجاهلٍ قصور باعي، وقلة اطلاعي، ولكن عسى أن يكون الله تبارك وتعالى قد أراد إظهار شيء من هذا العلم على يدي، والله على كل شيء قدير.

فإذا أتمَّ الله عز وجل ذلك شرعتُ إن شاء الله تعالى في رسالة في أحكام الاتصال والانقطاع، ثم أخرى في أحكام الشذود والعلل. والله المستعان، وعليه التكلان.

قال الله تبارك وتعالى في صفات المنافقين: {وَمِنْهُمُ الَّذِينَ يُؤْذُونَ النَّبِيَّ وَيَقُولُونَ هُوَ أُذُنٌ قُلْ أُذُنُ خَيْرٍ لَكُمْ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَيُؤْمِنُ لِلْمُؤْمِنِينَ وَرَحْمَةٌ لِلَّذِينَ آمَنُوا مِنْكُمْ} [التوبة: 61].

قولهم: {هُوَ أُذُنٌ} معناه كما في كتب اللغة والتفسير: أنه يُكثر الاستماعَ والتصديقَ لما يقال(2). يريدون أنه يصدّق ما يُخْبَر به صدقًا كان أو كذبًا.

--------------------------------------------

(1) لم يتحرر ترتيب الرسالة، فابتدأناها بهذا الموضع؛ لأنه أشبه شيء ببدايتها، وأخرنا [ص 25 ب -28 ب] إلى آخرها.

(2) الكلمة غير واضحة ولعلها ما أثبت.
[২৯](১) আর আমার মনে উদিত হয়েছে যে, আমি জরাহ ও তাদিল (الجرح والتعديل)-এর বিধিবিধান এবং এ ক্ষেত্রে এই শাস্ত্রের ইমামগণের মাযহাব বা বিস্তারিত কর্মপন্থা সম্পর্কে যথাসম্ভব একটি পুস্তিকা সংকলন করব। আমি আশা করি, মহান আল্লাহ যদি এটি সহজ করে দেন, তবে এর মাধ্যমে এই শাস্ত্রের অনেক জটিল সমস্যার সমাধান হবে; বরং এই যুগের আলেমদের জন্য দলিল-প্রমাণের মাধ্যমে তাবেয়ি (التابعين), তাঁদের অনুসারী এবং পরবর্তী স্তরের বর্ণনাকারীদের মান জানার পথ সুগম হবে, এমনকি তিনি এমন কাউকে নির্ভরযোগ্য হিসেবে সাব্যস্ত (توثيق) করতে সক্ষম হবেন যার নির্ভরযোগ্যতার কথা ইতিপূর্বে তাঁর জানা ছিল না এবং এমন কাউকে দোষারোপ (جرح) করতে পারবেন যার ত্রুটির কথা ইতিপূর্বে তাঁর জানা ছিল না।

এক্ষেত্রে আমি আমার সামর্থ্যের সীমাবদ্ধতা এবং জ্ঞানের স্বল্পতা সম্পর্কে অনবহিত নই; তবে আশা করা যায় যে, আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা হয়তো আমার হাতের মাধ্যমেই এই ইলমের কিছুটা প্রকাশ করতে চেয়েছেন। আর আল্লাহ সব কিছুর ওপর ক্ষমতাবান।

অতঃপর আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা যদি এটি পূর্ণ করে দেন, তবে ইনশাআল্লাহ আমি বর্ণনার নিরবচ্ছিন্নতা (الاتصال) এবং বিচ্ছিন্নতা (الانقطاع) সংক্রান্ত বিধিবিধান নিয়ে একটি পুস্তিকা এবং এরপর শায বা অস্বাভাবিকতা (الشذوذ) ও ইলাল বা সূক্ষ্ম ত্রুটি (العلل) সংক্রান্ত বিধিবিধান নিয়ে আরেকটি পুস্তিকা রচনার কাজ শুরু করব। আর আল্লাহর কাছেই সাহায্য চাই এবং তাঁর ওপরই ভরসা রাখি।

আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা মুনাফিকদের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে বলেছেন: {আর তাদের মধ্যে এমনও আছে যারা নবীকে কষ্ট দেয় এবং বলে, ‘তিনি তো কান (সবার কথা শোনেন)’। আপনি বলে দিন, ‘তিনি তোমাদের জন্য মঙ্গলের কান, তিনি আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখেন এবং মুমিনদের বিশ্বাস করেন এবং তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে তাদের জন্য তিনি রহমত’} [তওবা: ৬১]।

তাদের কথা: {তিনি তো কান} এর অর্থ অভিধান ও তাফসিরের কিতাবসমূহে বর্ণিত হয়েছে যে: তিনি যা শোনেন তাই অধিক শ্রবণ করেন ও সত্য বলে গ্রহণ করেন।(২) তারা বোঝাতে চায় যে, তাঁকে যা-ই বলা হয় তিনি তা-ই বিশ্বাস করেন, হোক তা সত্য কিংবা মিথ্যা।

--------------------------------------------

(১) এই পুস্তিকার বিন্যাস সুসংহত ছিল না, তাই আমরা এখান থেকে শুরু করেছি; কারণ এটি এর প্রারম্ভের সাথে সবচেয়ে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ। আর আমরা [পৃষ্ঠা ২৫ খ - ২৮ খ] অংশটি শেষে সংযোজন করেছি।

(২) শব্দটি অস্পষ্ট, সম্ভবত যা পাঠ করা হয়েছে তাই সঠিক।
(খণ্ড: ১৫) ফী আহকামিল জারহি ওয়াত তা’দীল - যিমনা আসারুল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৬৬)
واختلف المفسرون(1)؛ فقال قوم: المعنى أن هؤلاء كانوا يؤذون النبي صلى الله عليه وآله وسلم فيبلغه أذاهم، فيصدّق من بَلّغه، فيلومهم بعض المؤمنين فيما قالوه، فيجحدون، ويقولون(2): محمد أذن.

وقال قوم: بل المعنى أنهم كانوا يؤذون النبي صلى الله عليه وآله وسلم. ويقولون: لا علينا أن نقول ما شئنا، فإذا بلغ محمدًا، فلامنا، أتيناه فجحدنا ذلك، وحلفنا له فصدَّقَنا، فإنه أذن.

والمعنى الأول هو الصواب إن شاء الله تعالى.

وقوله تعالى: {قُلْ أُذُنُ خَيْرٍ لَكُمْ} الظاهر أن الخطاب هنا عام، كأنه قيل: خير لكم أيها الناس، ويشهد له قوله فيما بعد: {وَرَحْمَةٌ لِلَّذِينَ آمَنُوا مِنْكُمْ}.

وخصَّ جماعةٌ الخطاب بالمؤذِين القائلين: هو أذن.

وعليه، فوَجْه كون إيمان الرسول بالله وإيمانه للمؤمنين خيرًا لهم أنه صلى الله عليه وآله وسلم إذا عرف أذاهم يَعِظُهم ويذكِّرهم، وفي ذلك أعظم الخير لهم إن انتفعوا به، فإن لم ينتفعوا فخير رفضوه.

وقوله تعالى: {يُؤْمِنُ بِاللَّهِ} فيه معنى التصديق بما يوحى إليه، وذلك تنبيه على أن من أخبارهم التي يحاولون جَحْدها ما جاء به الوحي من عند الله عز وجل.

--------------------------------------------

(1) انظر تفسير ابن جرير: (11/ 354 - 356)، وابن عطية: (3/ 52).

(2) غير محررة في الأصل، ولعلها ما أثبت.
মুফাসসিরগণ (المفسرون)(১) এ বিষয়ে মতভেদ করেছেন; একদল বলেছেন: এর অর্থ হলো, তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লামকে কষ্ট দিত এবং তাদের সেই কষ্টের কথা তাঁর নিকট পৌঁছাত, তখন তিনি সংবাদদাতাকে সত্য বলে বিশ্বাস (تصديق) করতেন। ফলে মুমিনদের কেউ কেউ তাদের কৃতকর্মের জন্য তাদের তিরস্কার করত, তখন তারা তা অস্বীকার করত এবং বলত(২): মুহাম্মদ কেবল একজন কান (অত্যধিক শ্রবণকারী)।

অন্য একদল বলেছেন: বরং এর অর্থ হলো, তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লামকে কষ্ট দিত এবং বলত: আমরা যা খুশি বলি না কেন তাতে আমাদের কোনো পরোয়া নেই; যখন মুহাম্মদের নিকট সংবাদ পৌঁছাবে এবং তিনি আমাদের তিরস্কার করবেন, তখন আমরা তাঁর কাছে গিয়ে তা অস্বীকার করব এবং তাঁর নিকট শপথ করব, ফলে তিনি আমাদের বিশ্বাস (تصديق) করবেন; কারণ তিনি কেবল একজন কান (অত্যধিক শ্রবণকারী)।

ইনশাআল্লাহ তাআলা, প্রথম অর্থটিই সঠিক (الصواب)।

আর মহান আল্লাহর বাণী: {বলুন, তিনি তোমাদের জন্য যা মঙ্গলময় তা-ই শ্রবণ করেন}—এক্ষেত্রে বাহ্যিক (الظاهر) বিষয়টি হলো এখানকার সম্বোধনটি সাধারণ (عام), যেন বলা হয়েছে: হে লোকসকল, এটি তোমাদের জন্য কল্যাণকর। পরবর্তীতে আল্লাহর এই বাণী এর সাক্ষ্য দেয়: {এবং তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে তাদের জন্য রহমত}।

একদল আলিম এই সম্বোধনকে কেবল ঐ কষ্টদানকারীদের জন্য নির্দিষ্ট (خاص) করেছেন যারা বলেছিল: তিনি কেবল একজন কান।

সেই অনুযায়ী, আল্লাহর প্রতি রাসূলের ঈমান আনা এবং মুমিনদের কথা বিশ্বাস করা তাদের জন্য কল্যাণকর হওয়ার দিকটি হলো—তিনি যখন তাদের কষ্টের কথা জানতে পারতেন, তখন তাদের উপদেশ দিতেন এবং নসিহত করতেন। যদি তারা এর দ্বারা উপকৃত হতো তবে তাতে তাদের জন্য শ্রেষ্ঠ কল্যাণ নিহিত ছিল; আর যদি তারা উপকৃত না হতো, তবে তারা এক কল্যাণকেই প্রত্যাখ্যান করল।

আর মহান আল্লাহর বাণী: {তিনি আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস রাখেন}—এর মধ্যে তাঁর প্রতি যা ওহি (الوحي) করা হয় তাকে সত্য বলে মেনে নেয়ার (تصديق) অর্থ নিহিত রয়েছে। এটি এই বিষয়ে সতর্কবার্তা যে, তাদের যেসব সংবাদ তারা অস্বীকার করার চেষ্টা করে, তার কিছু মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে ওহির (الوحي) মাধ্যমেই এসেছে।

--------------------------------------------

(১) দেখুন তাফসীর ইবনে জারীর: (১১/ ৩৫৪ - ৩৫৬), এবং ইবনে আতিয়্যাহ: (৩/ ৫২)।

(২) মূল কপিতে এটি সুবিন্যস্ত নয়, সম্ভবত এটিই সঠিক যা এখানে সাব্যস্ত করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১৫) ফী আহকামিল জারহি ওয়াত তা’দীল - যিমনা আসারুল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৬৭)
وقوله: {وَيُؤْمِنُ لِلْمُؤْمِنِينَ} اتفقوا على أن المعنى: أي ويصدِّق المؤمنين، كما قالوا في قوله تعالى حكاية عن أخوة يوسف في خطابهم أباهم: {وَمَا أَنْتَ بِمُؤْمِنٍ لَنَا وَلَوْ كُنَّا صَادِقِينَ} [يوسف: 17] أن المعنى: وما أنت بمصدِّق لنا.

قالوا: وأصله من الأمن الذي هو طمأنينة النفس، وانتفاء الخوف عنها. فقوله: آمنت لفلان، معناه: جعلته آمنًا من تكذيبي له.

ثم قالوا: والأصل: "آمنت فلانًا"، ثم قال بعضهم: إنما يزاد اللام للتقوية. وقال غيره: بل على تضمين "آمن" معنى أذعن وسلَّم.

وقد يقال: مما حسَّن ذلك هنا: إن قولك "آمنت فلانًا"، المتبادر منه عند الإطلاق: جعلته آمنًا فقط، فإذا قيل: آمنت لفلان، عُرِف أن المراد الأمن من التكذيب.

ويلوح لي أن أصل التقدير: آمنت نفسي لفلان، أي جعلتُها آمنةً له لا تخاف كذبه، فهذا أقرب إلى إفادة التصديق من التقدير الأول، ويمكن غير ذلك.

والمقصود هنا إنما هو أن {يُؤْمِنُ لِلْمُؤْمِنِينَ} في الآية بمعنى يصدِّقهم. وهذا لا خلاف فيه.

[ص 30 ب](1) فقد نصّت الآية على أن تصديق المؤمنين فيما يخبرون به من صفات الحقّ التي أثنى الله عز وجل بها على رسوله، وقد أمر أُمته باتباعه

--------------------------------------------

(1) ضرب المؤلف على [ص 30 أ] كاملة.
এবং মহান আল্লাহর বাণী: {وَيُؤْمِنُ لِلْمُؤْمِنِينَ} (আর তিনি মুমিনদের বিশ্বাস করেন); এ বিষয়ে তাঁরা ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে এর অর্থ হলো: অর্থাৎ তিনি মুমিনদের সত্য বলে সত্যায়ন করেন (يصدِّق), যেমনটি ইউসুফ আ.-এর ভাইদের বক্তব্যে তাঁদের পিতার প্রতি মহান আল্লাহর উদ্ধৃতিতে তাঁরা বলেছিলেন: {وَمَا أَنْتَ بِمُؤْمِنٍ لَنَا وَلَوْ كُنَّا صَادِقِينَ} [ইউসুফ: ১৭], যার অর্থ হলো: আপনি আমাদের সত্য বলে সত্যায়নকারী (بمصدِّق) নন।

তাঁরা বলেছেন: এর মূল উৎস হলো 'নিরাপত্তা' (الأمن) থেকে, যা হলো মনের প্রশান্তি (طمأنينة النفس) এবং তা থেকে ভীতি দূর হওয়া। সুতরাং যখন বলা হয়: 'আমি অমুকের জন্য ঈমান এনেছি', এর অর্থ হলো: আমি তাকে আমার পক্ষ থেকে মিথ্যারোপ করার বিষয় থেকে নিরাপদ করেছি।

অতঃপর তাঁরা বলেছেন: এর মূল গঠন হলো: "আমি অমুককে বিশ্বাস করেছি" (آمنت فلانًا)। এরপর তাঁদের কেউ কেউ বলেছেন: এখানে 'লাম' (اللام) অক্ষরটি কেবল দৃঢ়তা প্রদানের জন্য (للتقوية) অতিরিক্ত হিসেবে যুক্ত হয়েছে। আবার অন্য কেউ বলেছেন: বরং এটি 'ঈমান' শব্দটির মধ্যে অনুগত হওয়া (أذعن) এবং আত্মসমর্পণ করার (سلَّم) অর্থ অন্তর্ভুক্তিকরণ (تضمين) করার জন্য হয়েছে।

এটিও বলা যেতে পারে যে, এখানে বিষয়টি যা সুন্দর করেছে তা হলো: সাধারণভাবে যখন আপনি বলেন 'আমি অমুককে নিরাপদ করেছি' (آمنت فلانًا), তখন কেবল তাকে নিরাপত্তা দেওয়ার বিষয়টিই প্রথমে বুঝে আসে; কিন্তু যখন বলা হয় 'আমি অমুকের জন্য ঈমান এনেছি' (آمنت لفلان), তখন বোঝা যায় যে এখানে উদ্দেশ্য হলো মিথ্যারোপ করা (التكذيب) থেকে নিরাপদ থাকা বা সত্য বলে মেনে নেওয়া।

আমার কাছে প্রতীয়মান হয় যে, এর মূল প্রাক্কলন হলো: 'আমি আমার নফসকে অমুকের জন্য আশ্বস্ত করেছি' (آمنت نفسي لفلان), অর্থাৎ আমি তাকে তার প্রতি এমনভাবে নিরাপদ করেছি যেন সে তার মিথ্যার ভয় না পায়। সত্য হিসেবে গ্রহণ করার অর্থ প্রদানের ক্ষেত্রে প্রথম প্রাক্কলনের চেয়ে এটি অধিকতর নিকটবর্তী, তবে এর বাইরে অন্য কিছুও হওয়া সম্ভব।

আর এখানে উদ্দেশ্য কেবল এটাই যে, আয়াতের {يُؤْمِنُ لِلْمُؤْمِنِينَ} অংশটি তাদের সত্য বলে সত্যায়ন করা (يصدِّقهم) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। আর এ বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই।

[পৃষ্ঠা ৩০ খ](১) আয়াতটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে যে, মুমিনরা মহান আল্লাহর সেইসব গুণাবলি সম্পর্কে যা সংবাদ দেয় যার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসূলের প্রশংসা করেছেন, তা সত্য বলে গ্রহণ করা আবশ্যক; আর তিনি তাঁর উম্মতকে রাসূলের অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছেন।

--------------------------------------------

(১) লেখক সম্পূর্ণ [পৃষ্ঠা ৩০ ক] কেটে দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১৫) ফী আহকামিল জারহি ওয়াত তা’দীল - যিমনা আসারুল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৬৮)
والتأسّي به، فكان حقًّا على الأمة تصديق المؤمنين فيما يخبرون به.

 

‌‌فصل

المراد بالمؤمنين في الآية
إما مَنْ أظهر الإسلام، وإما مَن أظهره ولم يعلم منه ما يريب في إيمانه، وإما مَن أظهره وظهرت دلائل إيمانه، بمحافظته على مقتضى الإيمان، ومجانبته ما يخالفه، حتى اطمأنت إليه نفوسُ من عَرَفه ويخالطه بأنه مؤمن صادق. وإما من أعْلَم الله عز وجل رسولَه بأنه مؤمن حقًّا.

الأولان باطلان؛ لأن مجرد إظهار الإسلام ليس بإيمان على الحقيقة، قال تعالى: {قَالَتِ الْأَعْرَابُ آمَنَّا قُلْ لَمْ تُؤْمِنُوا وَلَكِنْ قُولُوا أَسْلَمْنَا} [الحجرات: 14].

ومجرد عدم العلم بما يريب، بدون اختبار ولا مخالطة، لا يدلُّ على ثبوت الإيمان. ويؤكِّد ذلك أنه قد تقرّر في الأصول أن تعليق الحكم بالمشتق يؤذن بعلَّة ما منه الاشتقاق، فإيمان المؤمنين هو العلة المقتضية لتصديقهم.

ولا شك أن فيمن كان يظهر الإسلام من لم يؤمن، بل ومن هو منافق. والحاصلُ لهؤلاء بإظهارهم الإسلام لا يقتضي أن لا يكذبوا، فلا يقتضى تصديقهم.

وأما الرابع: ففيه بعد؛ لأن الله عز وجل لم يكن يُطْلِع رسولَه على حال كلّ واحد في صدق الإيمان أو عدمه، بل قد قال سبحانه لرسوله: {وَمِمَّنْ حَوْلَكُمْ مِنَ الْأَعْرَابِ مُنَافِقُونَ وَمِنْ أَهْلِ الْمَدِينَةِ مَرَدُوا عَلَى النِّفَاقِ لَا تَعْلَمُهُمْ نَحْنُ نَعْلَمُهُمْ} [التوبة: 101].
এবং তাঁর অনুসরণ করা, তাই মুমিনগণ যা সংবাদ প্রদান করেন তা সত্য বলে গ্রহণ করা উম্মতের জন্য একটি আবশ্যকীয় কর্তব্য।

 

‌‌পরিচ্ছেদ

আয়াতে মুমিনগণের দ্বারা যা উদ্দেশ্য
হয় তারা যারা ইসলাম প্রকাশ করেছে, অথবা তারা যারা ইসলাম প্রকাশ করেছে কিন্তু তাদের মধ্যে এমন কিছু জানা যায়নি যা তাদের ঈমান সম্পর্কে সংশয় তৈরি করে, অথবা তারা যারা ইসলাম প্রকাশ করেছে এবং তাদের মধ্যে ঈমানের দাবি রক্ষা করে চলা ও ঈমান পরিপন্থী বিষয়সমূহ বর্জনের মাধ্যমে ঈমানের নিদর্শনাবলী প্রকাশ পেয়েছে, এমনকি যারা তাকে চেনে ও যাদের সাথে তার মেলামেশা রয়েছে তাদের মনে এই প্রশান্তি জন্মেছে যে সে একজন সত্যবাদী (صادق) মুমিন। অথবা তারা যাদের সম্পর্কে আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা তাঁর রাসুলকে অবহিত করেছেন যে তারা প্রকৃত মুমিন।

প্রথম দুটি সম্ভাবনা বাতিল (باطل); কারণ কেবল ইসলাম প্রকাশ করা প্রকৃত অর্থে ঈমান নয়। আল্লাহ তায়ালা বলেন: "মরুবাসী আরবরা বলে: ‘আমরা ঈমান এনেছি’। আপনি বলুন: ‘তোমরা ঈমান আনোনি, বরং তোমরা বলো—আমরা ইসলাম কবুল করেছি’।" [সূরা আল-হুজুরাত: ১৪]।

আর পরীক্ষা ও মেলামেশা ব্যতিরেকে কেবল সংশয় সৃষ্টিকারী বিষয়ের অনুপস্থিতি ঈমান সাব্যস্ত হওয়ার প্রমাণ দেয় না। এটি এই বিষয়কে সুদৃঢ় করে যে, উসুল (الأصول) শাস্ত্রে এটি প্রতিষ্ঠিত যে, কোনো বিধানকে কোনো ব্যুৎপন্ন শব্দের (মুশতাক) সাথে সম্পৃক্ত করা সেই শব্দের ব্যুৎপত্তিগত কারণ (علة)-কেই নির্দেশ করে। সুতরাং মুমিনদের ঈমানই হলো তাদের সত্য বলে গ্রহণ করার আবশ্যকীয় কারণ (علة)।

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, যারা ইসলাম প্রকাশ করত তাদের মধ্যে এমন লোকও ছিল যারা ঈমান আনেনি, বরং কেউ কেউ তো কপট (منافق) ছিল। তাদের ইসলাম প্রকাশের মাধ্যমে অর্জিত অবস্থানটি এটি আবশ্যক করে না যে তারা মিথ্যা বলবে না, সুতরাং তাদের সত্য বলে গ্রহণ করাও আবশ্যক হয় না।

আর চতুর্থ সম্ভাবনার ক্ষেত্রে কিছুটা দূরত্ব রয়েছে; কারণ আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা তাঁর রাসুলকে প্রত্যেকের ঈমানের সত্যতা বা অভাব সম্পর্কে অবহিত করেননি। বরং মহান আল্লাহ তাঁর রাসুলকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন: "তোমাদের চারপাশের মরুবাসীদের মধ্যে কপট (منافقون) লোক রয়েছে এবং মদিনাবাসীদের মধ্যেও কেউ কেউ নিফাকে সিদ্ধহস্ত হয়েছে। আপনি তাদের জানেন না, আমি তাদের জানি।" [সূরা আত-তাওবাহ: ১০১]।
(খণ্ড: ১৫) ফী আহকামিল জারহি ওয়াত তা’দীল - যিমনা আসারুল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৬৯)
وقال تعالى: {وَلَوْ نَشَاءُ لَأَرَيْنَاكَهُمْ فَلَعَرَفْتَهُمْ بِسِيمَاهُمْ وَلَتَعْرِفَنَّهُمْ فِي لَحْنِ الْقَوْلِ} [القتال: 30].

والمعرفة بلحن القول لا يختص به صلى الله عليه وآله وسلم، وإن كنا لا ننفي أن يكون الله عز وجل أطلعه على بعضهم، أو على جميعهم بعد ذلك.

فالمتعيّن هو الثالث، وهو أن المراد بالمؤمنين في الآية هم الذين ظهرت دلائل الإيمان عليهم بمحافظتهم على مقتضاه، ومجانبتهم ما يخالفه، وعُرِف أن ذلك [ص 32] صار خُلقًا لهم، بحيث تطمئنّ نفوسُ عارفيهم إلى صدق إيمانهم، فيكون كلّ منهم بذلك قد آمن عارفيه، أي جعلهم آمنين من أن يقع منه ما يخالف الإيمان من كذب أو غيرهم(1)، فاستحقّ أن يؤتمن ويؤمَّن من التكذيب.

وقريب من هؤلاء قوله صلى الله عليه وآله وسلم في الحديث المشهور: "المؤمنُ مَن أَمِنَه الناسُ على دمائهم وأموالهم"(2).

وإنما يأمنه الناس إذا كانوا قد اختبروه فعرفوه بعدم الاعتداء والخيانة، فكذلك في الآية. والله أعلم.

ويؤكد هذا المعنى مفهوم قوله تعالى عز وجل: {إِنْ جَاءَكُمْ فَاسِقٌ بِنَبَإٍ

--------------------------------------------

(1) كذا ولعلها: "أو غيره".

(2) أخرجه الترمذي (2627)، والنسائي (4995)، وأحمد (8931)، وابن حبان (180)، والحاكم: (1/ 10) وغيرهم من حديث أبي هريرة رضي الله عنه. قال الترمذي: حسن صحيح، وصححه ابن حبان والحاكم على شرط مسلم.
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: "আর আমি যদি চাইতাম তবে অবশ্যই আপনাকে তাদের দেখিয়ে দিতাম, ফলে আপনি তাদের লক্ষণের মাধ্যমে তাদের চিনতে পারতেন; আর আপনি অবশ্যই কথার ভঙ্গি দেখে তাদের চিনতে পারবেন।" [সুরা মুহাম্মাদ: ৩০]।

আর কথার ভঙ্গি দেখে চেনার বিষয়টি কেবল তাঁর (সা.)-এর সাথে সুনির্দিষ্ট নয়, যদিও আমরা এটি অস্বীকার করি না যে আল্লাহ তাআলা তাঁকে তাদের কারো কারো সম্পর্কে বা পরবর্তীতে তাদের সকলের সম্পর্কে অবহিত করেছিলেন।

সুতরাং নির্ধারিত বিষয়টি হলো তৃতীয়টি, আর তা হলো—আয়াতে মুমিনদের দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তারা, যাদের ওপর ইমানের দাবিসমূহ রক্ষা করা এবং এর পরিপন্থী বিষয়সমূহ বর্জন করার মাধ্যমে ইমানের নিদর্শনসমূহ প্রকাশ পেয়েছে এবং এটি জানা গিয়েছে যে তা [পৃষ্ঠা ৩২] তাদের মজ্জাগত স্বভাবে পরিণত হয়েছে; ফলে তাদের পরিচিত ব্যক্তিদের অন্তর তাদের ইমানের সত্যতার বিষয়ে আশ্বস্ত হয়। এর মাধ্যমে তাদের প্রত্যেকেই যেন তার পরিচিতদের নিরাপদ করে দিয়েছে, অর্থাৎ ইমানের পরিপন্থী মিথ্যা (كذب) বা অন্য কিছু তার থেকে প্রকাশ পাওয়া থেকে তাদের নিরাপদ করেছে(১), ফলে সে নির্ভরযোগ্য (مؤتمن) সাব্যস্ত হওয়ার এবং মিথ্যা প্রতিপন্নকরণ (التكذيب) থেকে নিরাপদ থাকার যোগ্য হয়েছে।

আর এদের সমপর্যায়ের হলো প্রসিদ্ধ হাদিসে বর্ণিত নবিজি (সা.)-এর বাণী: "মুমিন সেই ব্যক্তি, যার নিকট মানুষের জান ও মাল নিরাপদ থাকে"(২)।

মানুষ কেবল তখনই তাকে নিরাপদ মনে করে যখন তারা তাকে পরীক্ষা করে এবং তাকে সীমালঙ্ঘন ও খিয়ানত থেকে মুক্ত বলে জানতে পারে। এই আয়াতের ক্ষেত্রেও বিষয়টি তদ্রূপ। আল্লাহ অধিক জ্ঞাত।

আল্লাহ তাআলার এই বাণীর মর্মার্থ এই অর্থকেই জোরালো করে: "যদি কোনো পাপাচারী (فاسق) তোমাদের কাছে কোনো সংবাদ নিয়ে আসে...

--------------------------------------------

(১) মূল পাঠে এভাবেই আছে, তবে সম্ভবত এটি হবে: "অথবা অন্য কিছু"।

(২) এটি বর্ণনা (أخرجه) করেছেন তিরমিজি (২৬২৭), নাসায়ি (৪৯৯৫), আহমাদ (৮৯৩১), ইবনে হিব্বান (১৮০), হাকেম: (১/ ১০) এবং আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদিস থেকে অন্যান্যরা। তিরমিজি বলেছেন: হাসান সহিহ (حسن صحيح), এবং ইবনে হিব্বান ও হাকেম একে মুসলিমের শর্ত (شرط) অনুযায়ী বিশুদ্ধ (صححه) সাব্যস্ত করেছেন।
(খণ্ড: ১৫) ফী আহকামিল জারহি ওয়াত তা’দীল - যিমনা আসারুল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৭০)
فَتَبَيَّنُوا}(1) [الحجرات: 6].

والمراد بالفاسق عندهم: أي من بان لهم أنه فاسق، فإنهم لم يكلَّفوا علم الغيب.

ومن التزم الإيمان، واستمرّ مدّةً محافظًا على ما اقتضاه، مجانبًا لما نافاه، حتى اطمأنت النفوس إلى أن ذلك خلق ثابت له، فليس بفاسق عندهم اتفاقًا. فهؤلاء هم المؤمنون في الآية الأولى، ويزيده في حق الآية وضوحًا، بل يصل درجة اليقين القاطع: ما عرف من الدلائل على وجوب العمل بخبر الواحد الثقة، وقد ذكرت كثيرًا منها في رسالة "العمل بخبر الواحد"(2). والله أعلم.

فصل

دل قوله تعالى: {وَيُؤْمِنُ لِلْمُؤْمِنِينَ} بمنطوقه، وقوله: {إِنْ جَاءَكُمْ فَاسِقٌ بِنَبَإٍ فَتَبَيَّنُوا} بمفهومه: أن من عُرِف بالإيمان والمحافظة على ما يقتضيه، واجتناب ما ينافيه، حتى اطمأنت النفوس إلى أن ذلك خلق له، فهو حقيق بأن يصدَّق في خبره، وهو المسمى عندهم بالعدل.

ودلت الأولى بمفهومها، والثانية بمنطوقها على أن من عُثِر منه على ما يقتضي الفسق، وجب التبيُّن في خبره.

فخبر العدل بَيِّن بنفسه، وخبر الفاسق غير بَيِّن بنفسه، بل يحتاج إلى

--------------------------------------------

(1) في الأصل سقط من الآية {بِنَبَإٍ}.

(2) وهي مطبوعة ضمن "رسائل أصول الفقه" في هذه الموسوعة المباركة.
...যাচাই করে নাও (فتبينوا)}(১) [হুজুরাত: ৬]।

তাদের নিকট ফাসিক (فاسق) বলতে উদ্দেশ্য হলো: যার ফাসিক হওয়া তাদের কাছে স্পষ্ট হয়েছে; কেননা তাদেরকে অদৃশ্যের জ্ঞান (علم الغيب) অন্বেষণের দায়িত্ব দেওয়া হয়নি।

আর যে ব্যক্তি ঈমানকে আঁকড়ে ধরেছে এবং দীর্ঘ সময় ধরে এর দাবিগুলো রক্ষায় অবিচল থেকেছে, আর এর পরিপন্থী বিষয়গুলো থেকে দূরে অবস্থান করেছে, এমনকি মানুষের মনে এই স্থির বিশ্বাস জন্মেছে যে এটি তার একটি স্থায়ী চরিত্রে পরিণত হয়েছে, তবে সে সর্বসম্মতভাবে তাদের নিকট ফাসিক (فاسق) নয়। তারাই প্রথম আয়াতে বর্ণিত মুমিন। আয়াতের হকের ব্যাপারে যা বিষয়টিকে আরও স্পষ্ট করে, বরং এটি অকাট্য নিশ্চিতের (يقين قاطع) পর্যায়ে পৌঁছে দেয়, তা হলো একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) ব্যক্তির একক সংবাদ (خبر الواحد) অনুযায়ী আমল করা ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে যেসকল দলিল জানা যায়। আমি আমার 'আল-আমালু বি-খাবারিল ওয়াহিদ' নামক রিসালায় এর অনেকগুলো উল্লেখ করেছি। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

পরিচ্ছেদ (فصل)

আল্লাহ তাআলার বাণী: {তিনি মুমিনদের বিশ্বাস করেন} তার শাব্দিক অর্থ (منطوق) দ্বারা এবং তাঁর বাণী: {যদি কোনো ফাসিক (فاسق) তোমাদের কাছে কোনো সংবাদ নিয়ে আসে, তবে তোমরা তা যাচাই করে নাও} তার ভাবার্থ (مفهوم) দ্বারা এটি প্রমাণ করে যে: যে ব্যক্তি ঈমান ও এর দাবি পালনের জন্য পরিচিত এবং এর পরিপন্থী বিষয় বর্জনে সচেষ্ট, এমনকি মানুষের মনে এই বিশ্বাস জন্মেছে যে এটি তার একটি মজ্জাগত চরিত্র, তবে তার সংবাদ সত্য বলে গণ্য হওয়ার যোগ্য। তাদের পরিভাষায় একেই ন্যায়পরায়ণ (عدل) বলা হয়।

প্রথম আয়াতটি তার ভাবার্থ (مفهوم) দ্বারা এবং দ্বিতীয় আয়াতটি তার শাব্দিক অর্থ (منطوق) দ্বারা নির্দেশ করে যে, যার মধ্যে পাপাচার (فسق) পরিলক্ষিত হবে, তার সংবাদ যাচাই করা আবশ্যক।

অতএব, ন্যায়পরায়ণ (عدل) ব্যক্তির সংবাদ নিজে থেকেই সুস্পষ্ট, কিন্তু ফাসিক (فاسق) ব্যক্তির সংবাদ নিজে থেকে স্পষ্ট নয়, বরং তার প্রয়োজন হয়...

--------------------------------------------

(১) মূল পাণ্ডুলিপিতে আয়াত থেকে 'সংবাদসহ' (بنبإ) অংশটি বাদ পড়েছে।

(২) এটি এই বরকতময় বিশ্বকোষের 'রিসাইল উসুল আল-ফিকহ' সংকলনের অন্তর্ভুক্ত হয়ে মুদ্রিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১৫) ফী আহকামিল জারহি ওয়াত তা’দীল - যিমনা আসারুল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৭১)
التبين، أي بالنظر، فإن وُجدت بينه على صدقه أُخذ به؛ لدلالة تلك البينة، وإلّا طُرِح.

* * * *
যাচাইকরণ (التبين), অর্থাৎ পর্যবেক্ষণের (النظر) মাধ্যমে; যদি তার সত্যবাদিতার (صدق) সপক্ষে কোনো প্রমাণ (بينة) পাওয়া যায়, তবে সেই প্রমাণের (بينة) নির্দেশনার কারণে তা গ্রহণ (أخذ) করা হবে; অন্যথায় তা বর্জন (طرح) করা হবে।

* * * *
(খণ্ড: ১৫) ফী আহকামিল জারহি ওয়াত তা’দীল - যিমনা আসারুল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৭২)
‌‌فصل

العدالة

يقال: حَكَم عَدْل، وشَاهِد عَدْل، أي لا يخشى أن يميل عن الحق، كما يقال: هو رضًا ومأمون، أي: يرضاه الناس ويأمنونه، لثقتهم بأنه لا يجور.

فالعدل في الرواية هو من يوثَق بأنه لا يكذب؛ لأنه مسلم معروف بالاستقامة في الدين، ولزوم ما يقتضيه، واجتناب ما ينافيه من الكذب وغيره.

وقال الله عز وجل في ما حكاه عن المنافقين، وردَّه عليهم: {وَمِنْهُمُ الَّذِينَ يُؤْذُونَ النَّبِيَّ وَيَقُولُونَ هُوَ أُذُنٌ قُلْ أُذُنُ خَيْرٍ لَكُمْ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَيُؤْمِنُ لِلْمُؤْمِنِينَ وَرَحْمَةٌ لِلَّذِينَ آمَنُوا مِنْكُمْ} [التوبة: 61].

كان هؤلاء يؤذون النبيَّ صلى الله عليه وآله وسلم بألسنتهم بأشياء يقولونها، فتبلغ النبيّ صلى الله عليه وآله وسلم فربما ذَكَر لهم ذلك، ووعظهم، فكانوا يجحدون ذلك، ثم يقولون لمن لقوه من المؤمنين: محمد أُذُن. يعنون: يقبل ما يُبَلِّغه الناس عنّا ويصدِّقه، مع أننا لم نقله، فردَّ الله عز وجل عليهم بقوله: {قُلْ أُذُنُ خَيْرٍ لَكُمْ}. يظهر أن الخطاب هنا عام، أي أُذُن خيرٍ لكم أيها الناس، بقرينة قوله بعد ذلك: {وَرَحْمَةٌ لِلَّذِينَ آمَنُوا مِنْكُمْ}.

فإن كان خطابًا للمؤذين فقط، فوَجْه كون قبوله لما يَبْلُغه عنهم خيرًا لهم أنه يبعثه ذلك على أن يَعِظَهم وينصحهم، وفي ذلك خير لهم إن أرادوا الانتفاع به.
‌পরিচ্ছেদ

ন্যায়পরায়ণতা (العدالة)

বলা হয়ে থাকে: ন্যায়পরায়ণ (عدل) বিচারক এবং ন্যায়পরায়ণ (عدل) সাক্ষী; অর্থাৎ যার ব্যাপারে এই আশঙ্কা নেই যে সে সত্য থেকে বিচ্যুত হবে। যেমন বলা হয়: তিনি গ্রহণযোগ্য (رضا) ও বিশ্বস্ত (مأمون); অর্থাৎ মানুষ তাঁকে পছন্দ করে এবং তাঁর ওপর আস্থা রাখে, কারণ তাদের বিশ্বাস যে তিনি অবিচার করবেন না।

সুতরাং হাদিস বর্ণনার (الرواية) ক্ষেত্রে ন্যায়পরায়ণ (عدل) হলেন তিনি, যার মিথ্যা না বলার ব্যাপারে আস্থা রাখা যায়; কারণ তিনি একজন মুসলিম যিনি দ্বীনের ব্যাপারে অবিচলতার (الاستقامة) জন্য সুপরিচিত, এর অপরিহার্য বিষয়গুলো পালন করেন এবং এর পরিপন্থী বিষয়—যেমন মিথ্যা ও অন্যান্য বিষয়—পরিহার করে চলেন।

আল্লাহ আয্যা ওয়া জাল্লা মুনাফিকদের সম্পর্কে যা বর্ণনা করেছেন এবং তাদের যে প্রত্যুত্তর দিয়েছেন, সে সম্পর্কে বলেছেন: {এবং তাদের মধ্যে এমন লোক রয়েছে যারা নবীকে কষ্ট দেয় এবং বলে, ‘সে তো কান (সবার কথা শোনে)’। বলুন, ‘সে কান তোমাদের জন্য মঙ্গলের, সে আল্লাহর ওপর ঈমান রাখে এবং মুমিনদের বিশ্বাস করে আর তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে তাদের জন্য সে রহমতস্বরূপ’} [আত-তাওবাহ: ৬১]।

এরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামকে তাদের কথার মাধ্যমে কষ্ট দিত। যখন তাদের সেসব কথা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের কাছে পৌঁছাত, তখন সম্ভবত তিনি তাদের কাছে তা উল্লেখ করতেন এবং তাদের নসিহত করতেন। তখন তারা তা অস্বীকার করত এবং এরপর মুমিনদের মধ্যে যাদের সাথে তাদের দেখা হতো তাদের বলত: মুহাম্মদ তো কান। তাদের উদ্দেশ্য ছিল: আমাদের সম্পর্কে মানুষ তাঁর কাছে যা কিছু পৌঁছায় তিনি তা গ্রহণ করেন এবং বিশ্বাস করেন, অথচ আমরা তা বলিনি। তখন আল্লাহ আয্যা ওয়া জাল্লা তাদের প্রতিবাদে বললেন: {বলুন, সে কান তোমাদের জন্য মঙ্গলের}। এখানে প্রতীয়মান হয় যে, সম্বোধনটি সাধারণ; অর্থাৎ হে মানুষ, তোমাদের জন্য তিনি মঙ্গলের কান। এর সপক্ষে প্রমাণ হলো পরবর্তী অংশ: {এবং তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে তাদের জন্য সে রহমতস্বরূপ}।

আর যদি এই সম্বোধনটি কেবল কষ্টদানকারীদের উদ্দেশ্যেই হয়ে থাকে, তবে তাদের সম্পর্কে যা কিছু তাঁর কাছে পৌঁছায় তা গ্রহণ করা তাদের জন্য মঙ্গল হওয়ার কারণ হলো—এটি তাঁকে তাদের উপদেশ দিতে ও নসিহত করতে উদ্বুদ্ধ করে। আর এতে তাদের জন্য কল্যাণ রয়েছে যদি তারা তা থেকে উপকৃত হতে চায়।
(খণ্ড: ১৫) ফী আহকামিল জারহি ওয়াত তা’দীল - যিমনা আসারুল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৭৩)
وقول: {يُؤْمِنُ بِاللَّهِ} تنبيه على أن من أخبارهم التي تبلغه ما يأتيه به الوحي من عند الله، وهو مؤمن بالله، فكيف لا يصدّق ما يوحيه إليه؟

وقوله: {وَيُؤْمِنُ لِلْمُؤْمِنِينَ} أي يصدِّقهم، كما اتفق عليه المفسرون.

فالمعنى: إن الأخبار التي تبلغه عنكم [ص 32] فيصدقها، ليست إلا من أحد هذين الوجهين:

الأول: الوحي.

الثاني: إخبار المؤمنين.

إما بمعنى: الذين آمنوه وغيره من أن يكذبوا.

وإما بمعنى: المؤمنين بالله ورسوله.

وإما بالمعنى الثاني مع الإشارة إلى المعنى الأول.

ويظهر أن هذا الأخير أرجح، فالمعنى: أنه يصدِّق المؤمنين الذين آمنوا بالله ورسوله، وظهر للرسول وغيره بطول اختبارهم ما بان به صحةُ إيمانهم، وتحرّيهم ما يقتضيه الإيمان من الصدق وغيره، وتجنّبهم ما ينافيه، فبذلك جعلوا النبيّ وغيره ممن عَرَف حالَهم لا يخافون منهم أن يأتوا ما ينافي الإيمان الراسخ من الكذب وغيره، فكما آمنوا النبيَّ وغيرَه من أن يَكْذِبوا كان من الحق أن يؤمِنَهم من أن يكذِّبهم، بل كان من الحقّ أن يصدّقهم.

فحاصل المعنى أنه صلى الله عليه وآله وسلم إنَّما يصدق من الأخبار ما كان صدقًا، إما يقينًا وهو الوحي، وإما ظاهرًا شرعًا وعقلًا، وهو خبر من عرف إيمانه واستقامته.
আর মহান আল্লাহর বাণী: {তিনি আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখেন}—এটি একটি সতর্কবার্তা যে, তাঁর কাছে যেসব সংবাদসমূহ (أخبار) পৌঁছায় তার মধ্যে আল্লাহ প্রদত্ত ওহিও অন্তর্ভুক্ত। তিনি আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসী, সুতরাং তিনি যা ওহি করেন তাকে কেন তিনি সত্য বলে গণ্য করবেন না?

আর তাঁর বাণী: {এবং তিনি মুমিনদের বিশ্বাস করেন}—এর অর্থ হলো তিনি তাদের সত্যবাদী মনে করেন, যেমনটি মুফাসসিরগণ (ব্যাখ্যাকারগণ) ঐকমত্য পোষণ করেছেন।

সুতরাং অর্থটি হলো: তোমাদের সম্পর্কে তাঁর কাছে যেসব সংবাদসমূহ (أخبار) পৌঁছায় [পৃষ্ঠা ৩২] এবং তিনি তা বিশ্বাস করেন, তা কেবল এই দুটি পদ্ধতির যেকোনো একটির মাধ্যমে আসে:

প্রথম: ওহি।

দ্বিতীয়: মুমিনদের সংবাদ প্রদান (إخبار)।

হয় এই অর্থে যে: যারা তাঁকে ও অন্যদেরকে এ ব্যাপারে আশ্বস্ত করেছেন যে তারা মিথ্যা বলবেন না।

অথবা এই অর্থে: যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি ঈমান এনেছেন।

অথবা প্রথম অর্থের প্রতি ইঙ্গিতসহ দ্বিতীয় অর্থটি উদ্দেশ্য।

প্রতীয়মান হয় যে, এই শেষোক্ত মতটিই অধিকতর প্রাধান্যযোগ্য (أرجح)। সুতরাং অর্থটি হলো: তিনি সেইসব মুমিনদের সত্যবাদী মনে করেন যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি ঈমান এনেছেন। দীর্ঘ পরীক্ষার মাধ্যমে রাসুল (সা.) ও অন্যদের কাছে তাদের ঈমানের সঠিকতা (صحة) সুস্পষ্ট হয়েছে এবং ঈমানের দাবি অনুযায়ী সত্যবাদিতা (صدق) ও অন্যান্য গুণের প্রতি তাদের নিষ্ঠা এবং এর পরিপন্থী বিষয়সমূহ বর্জনের বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে। এর ফলে তারা নবী (সা.) ও তাদের অবস্থা সম্পর্কে অবগত অন্যদের এমন এক পর্যায়ে নিয়ে গেছেন যে, তারা এখন আর তাদের থেকে সুদৃঢ় ঈমানের পরিপন্থী কোনো মিথ্যা বা অন্য কিছু প্রকাশ পাওয়ার ভয় করেন না। সুতরাং তারা যেহেতু নবী (সা.) ও অন্যদেরকে এ বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন যে তারা মিথ্যা বলবেন না, তাই এটিই সংগত যে তিনি তাদেরকে মিথ্যাবাদী গণ্য করা থেকে নিরাপদ রাখবেন, বরং সংগত কাজ হলো তাদের সত্যবাদী বলে গণ্য করা।

সারসংক্ষেপ হলো এই যে, সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদসমূহের (أخبار) মধ্যে কেবল সেগুলোকেই সত্য বলে গ্রহণ করেন যা প্রকৃতই সত্য; হয় তা নিশ্চিতভাবে (يقينًا) সত্য—আর তা হলো ওহি, অথবা শরয়ি ও যৌক্তিকভাবে আপাতদৃষ্টিতে (ظاهرًا) সত্য—আর তা হলো এমন ব্যক্তির সংবাদ (خبر) যার ঈমান ও অবিচলতা (استقامة) সম্পর্কে জানা গেছে।
(খণ্ড: ১৫) ফী আহকামিল জারহি ওয়াত তা’দীল - যিমনা আসারুল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৭৪)
وقد تقرر في الأصول أن تعليق الحكم بالمشتق يؤذِنُ بعِلّية ما منه الاشتقاق، فكأنه قيل: وإنما يصدقهم لإيمانهم، فيفهم منه أن من ليس بمؤمن لا يحقّ أن يصدَّق.

وقد تقدم أن المراد الإيمان مع الثبات على ما يقتضيه، بحيث يحصل لمن عرف صاحبه الوثوق به، والركون إليه. وعلى هذا فيخرج الكافر والفاسق، وقد قال الله عز وجل: {إِنْ جَاءَكُمْ فَاسِقٌ بِنَبَإٍ فَتَبَيَّنُوا} فنصّ على أن خبر الفاسق لا يحق أن يصدَّق، بل ينبغي التبيّن فيه، فإن وُجِدت بيّنة على صدقه، وإلّا طُرِح. والكافرُ فاسقٌ وزيادة.

فصل

جاء عن الإمام الشافعي وغيره: أنه ليس من شرط العدل أن لا يعصي الله عز وجل البتة، فإن هذا يؤدّي إلى أن لا تُقْبَل شهادة ولا رواية، ولا يُقام إمام ولا قاضٍ، إلى غير ذلك، ولكن المراد من كانت الطاعات أغلب عليه من المعاصي(1).

أقول: وفي كلام الشافعي وغيره أنه لا تُقْبَل شهادة من شرب الخمر، أو زَنَى، إلى غير ذلك، إلا(2) من ظهر منه شيء من ذلك ثم ظهرت توبته.

فواجبٌ حَمْل النقل الأول على هذا، أي أنّ مَن كان الغالب عليه الطاعة، وإنما تقع المعصية منه زلة، ثم يتوب منها، ثم أخرى ثم يتوب منها، فإنه يقبل، يعني عند ظهور توبته مما سبق منه من المعاصي.

--------------------------------------------

(1) حكاه عنه المزني في "مختصره" (5/ 310 ط المعرفة).

(2) في الأصل: "إلى" سبق قلم.
উসুল (الأصول) বা মূলনীতি শাস্ত্রে এটি প্রতিষ্ঠিত যে, কোনো বিধানকে কোনো প্রতিপাদিত শব্দের (المشتق) সাথে সম্পৃক্ত করা সেই বিধানের উৎস-মূলের কার্যকারণ (علية) নির্দেশ করে। সুতরাং এটি যেন এরূপ বলা যে: তাদের ঈমানের কারণেই তাদের সত্যবাদী বলে গণ্য করা হয়। এখান থেকে বোঝা যায় যে, যে ব্যক্তি মুমিন নয়, তাকে সত্যবাদী হিসেবে গ্রহণ করা সংগত নয়।

ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এখানে ঈমান বলতে সেই ঈমান উদ্দেশ্য যা এর দাবি অনুযায়ী অবিচলতা (الثبات) সহকারে বিদ্যমান থাকে, যাতে করে যে ব্যক্তি তাকে চেনে তার মনে তার প্রতি আস্থা (الوثوق) ও নির্ভরতা (الركون) তৈরি হয়। এর ভিত্তিতে কাফের (الكافر) এবং পাপাচারী (الفاسق) ব্যক্তি এর অন্তর্ভুক্ত হবে না। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {যদি কোনো পাপাচারী (الفاسق) তোমাদের নিকট কোনো সংবাদ নিয়ে আসে, তবে তোমরা তা যাচাই করে নাও}। সুতরাং এটি স্পষ্ট নির্দেশ করে যে, পাপাচারী (الفاسق) ব্যক্তির সংবাদ (خبر) সত্য বলে মেনে নেওয়া সংগত নয়, বরং তা যাচাই করা আবশ্যক। যদি তার সত্যতার প্রমাণ (بيّنة) পাওয়া যায় তবে গ্রহণ করা হবে, অন্যথায় তা প্রত্যাখ্যান করা হবে। আর কাফের (الكافر) তো পাপাচারী (فاسق) এবং তার চেয়েও গুরুতর।

পরিচ্ছেদ

ইমাম শাফেঈ এবং অন্যান্যদের থেকে বর্ণিত হয়েছে যে: ন্যায়পরায়ণ (العدل) হওয়ার শর্ত এটি নয় যে, সে আল্লাহর অবাধ্যতা মোটেও করবে না। কেননা এটি এমন পর্যায়ে নিয়ে যাবে যেখানে কোনো সাক্ষ্য (شهادة) কিংবা বর্ণনা (رواية) কবুল করা হবে না, এবং কোনো ইমাম (إمام) বা বিচারক (قاضٍ) নিয়োগ করা সম্ভব হবে না ইত্যাদি। বরং উদ্দেশ্য হলো সেই ব্যক্তি যার ক্ষেত্রে পাপাচারের (المعاصي) তুলনায় আনুগত্যের (الطاعات) দিকটিই প্রবল(1)।

আমি বলি: ইমাম শাফেঈ এবং অন্যান্যদের বক্তব্যে এটিও রয়েছে যে, মদ্যপানকারী বা ব্যভিচারী বা এজাতীয় ব্যক্তিদের সাক্ষ্য (شهادة) কবুল করা হবে না, তবে(2) যার থেকে এরূপ কোনো কাজ প্রকাশ পাওয়ার পর তার তওবা (توبة) প্রকাশ পেয়েছে তার বিষয়টি স্বতন্ত্র।

সুতরাং প্রথম উদ্ধৃতিটিকে এই অর্থের ওপর প্রয়োগ করা আবশ্যক। অর্থাৎ, যার ওপর আনুগত্যই (الطاعة) প্রবল এবং তার থেকে সংঘটিত অবাধ্যতা (المعصية) স্রেফ পদস্খলন মাত্র, যা থেকে সে তওবা করে নেয়, পুনরায় স্খলন হলে আবারও তওবা করে, তবে তার বর্ণনা কবুল করা হবে; অর্থাৎ তার বিগত গুনাহসমূহ থেকে তওবা প্রকাশ পাওয়ার প্রেক্ষিতে।

--------------------------------------------

(1) ইমাম মুযানী তাঁর "মুখতাসার" (৫/৩১০, দারুল মা'রিফাহ সংস্করণ) গ্রন্থে তাঁর থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

(2) মূল পাণ্ডুলিপিতে: "إلى" (পর্যন্ত), যা একটি লেখনী প্রমাদ।
(খণ্ড: ১৫) ফী আহকামিল জারহি ওয়াত তা’দীল - যিমনা আসারুল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৭৫)
فأما من كان الغالب عليه المعصية، فإنه ما دام على ذلك لا تتحقق له توبة.

وفي كتب الفقه ما يوضّح هذا، وهو أن يشترط في قبول من ظهرت معصيته وتاب منها: أن تظهر توبته بأن تمضى مدةٌ يظهر منه فيها الندم على تلك المعصية، والامتناع عن العَوْد إليها، حتى يكون الظاهر أنه لن يعود.

أقول: والظاهر أنه يُغْتَفر لمن عُرِفت عدالته، وظهرت استقامته من الرواة ما قد يقع منه مما يكون الظاهر أنه وقع فلتة. فقد حكى وكيع قصةً لأبي حصين عثمان بن عاصم الأسدي مع الأعمش، وفيها: أن أبا حصين قذف الأعمش [فحلف] ليحدّنّه، فكلّمه فيه بنو أسد. القصة(1).

والقذف كبيرة، ولاسيَّما لمثل الأعمش، ولكن لم يجرح أحدٌ أبا حصين بهذا، بل وثقوه، وأحسنوا الثناء عليه، فكأنهم حملوا هذا على أنه فلتة جرى على لسان الرجل عند الغضب. والظاهر أنه تاب في الحال؛ لما عُرِف من فضله وصلاحه قبل ذلك وبعد.

وجاء عن أبي داود الطيالسي عن شعبة: أنه سمع أبا الزبير محمد بن مسلم بن تَدْرُس غاضَبَه إنسانٌ، فافترى عليه. يريدُ: فَقَذَفه(2).

لكن عندي في صحة هذا وقفة، فقد جاء عن أبي داود الطيالسي مثل

--------------------------------------------

(1) القصة في "تاريخ دمشق": (38/ 413)، و"السير": (5/ 415).

(2) القصة في "تهذيب الكمال": (6/ 503) و"تهذيب التهذيب": (9/ 440). وانظر ما سلف (ص 41).
পক্ষান্তরে যার ওপর অবাধ্যতা প্রবল থাকে, যতক্ষণ সে তার ওপর অবিচল থাকে ততক্ষণ তার তাওবা পূর্ণতা লাভ করে না।

ফিকহ শাস্ত্রের গ্রন্থসমূহে এ বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে যে, যার অবাধ্যতা প্রকাশ পেয়েছে এবং সে তা থেকে তাওবা করেছে, তার (বর্ণনা) গ্রহণের জন্য শর্ত হলো—তার তাওবা প্রকাশ পেতে হবে। অর্থাৎ এমন একটি নির্দিষ্ট সময় অতিবাহিত হতে হবে যাতে তার মাঝে সেই অবাধ্যতার জন্য অনুশোচনা এবং পুনরায় তাতে লিপ্ত না হওয়ার সংকল্প প্রকাশ পায়, এমনকি এটিই প্রবল ধারণা হয় যে সে আর পুনরায় তাতে ফিরে যাবে না।

আমি বলছি: বাহ্যত প্রতীয়মান হয় যে, বর্ণনাকারীদের (راوي) মধ্যে যাদের ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) সুবিদিত এবং সততা প্রকাশমান, তাদের থেকে আকস্মিকভাবে কোনো ভুল-ত্রুটি হয়ে গেলে তা ক্ষমাযোগ্য। ওয়াকি আবু হাসিন উসমান ইবনে আসিম আল-আসাদির সাথে আমাশের একটি ঘটনা বর্ণনা করেছেন; সেখানে উল্লেখ আছে যে, আবু হাসিন আমাশকে অপবাদ (قذف) দিয়েছিলেন, [ফলে আমাশ শপথ করেছিলেন] যে তিনি তার ওপর দণ্ড (حد) প্রয়োগ করবেন। এরপর বনু আসাদ গোত্র তার বিষয়ে সুপারিশ করল। ঘটনাটি এরূপ(১)।

আর অপবাদ (قذف) দেওয়া একটি কবিরা গুনাহ, বিশেষ করে আমাশের মতো মহান ব্যক্তির ক্ষেত্রে। কিন্তু এ কারণে কোনো বিশেষজ্ঞই আবু হাসিনকে অভিযুক্ত (جرح) করেননি, বরং তারা তাকে নির্ভরযোগ্য (ثقة) বলে অভিহিত করেছেন এবং তার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তারা সম্ভবত বিষয়টিকে রাগের মাথায় মুখ ফসকে বেরিয়ে যাওয়া একটি আকস্মিক বিচ্যুতি হিসেবে গণ্য করেছেন। আর এটিই স্পষ্ট যে তিনি তৎক্ষণাৎ তাওবা করেছিলেন; কারণ এর আগে এবং পরেও তার মর্যাদা ও নেককার হওয়ার বিষয়টি সুবিদিত ছিল।

আবু দাউদ আত-তায়ালিসি শু'বা থেকে বর্ণনা করেছেন যে: তিনি শুনেছেন আবু যুবায়ের মুহাম্মদ ইবনে মুসলিম ইবনে তাদরুসকে জনৈক ব্যক্তি রাগান্বিত করেছিল, ফলে তিনি তার প্রতি অপবাদ আরোপ করেছিলেন। অর্থাৎ তাকে অপবাদ (قذف) দিয়েছিলেন(২)।

তবে এর বিশুদ্ধতা (صحة) যাচাইয়ের ক্ষেত্রে আমার কিছুটা সংশয় রয়েছে, কেননা আবু দাউদ আত-তায়ালিসি থেকে এ রকমই বর্ণিত হয়েছে...

--------------------------------------------

(১) ঘটনাটি 'তারিখু দিমাশক' (৩৮/৪১৩) এবং 'আস-সিয়ার' (৫/৪১৫)-এ বর্ণিত হয়েছে।

(২) ঘটনাটি 'তাহজিবুল কামাল' (৬/৫০৩) এবং 'তাহজিবুত তাহজিব' (৯/৪৪০)-এ রয়েছে। আর পূর্বে (পৃষ্ঠা ৪১) যা অতিবাহিত হয়েছে তা দেখুন।
(খণ্ড: ১৫) ফী আহকামিল জারহি ওয়াত তা’দীল - যিমনা আসারুল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৭৬)
هذا في محمد بن الزبير التميمي الحنظلي(1)، فلعلّ محمد بن الزبير هو صاحب الواقعة، ووقع الوهم في جَعْلها لأبي الزبير محمد بن مسلم. والله أعلم.

فصل

وذكروا أن المعاصي الصغيرة لا تخلُّ بالعدالة إلا في صورتين:

الأولى: أن تدل على الخِسّة، كسرقة تمرة، وخيانة فلس.

الثانية: أن يصرّ صاحبها عليها.

* * * *

--------------------------------------------

(1) انظر "تهذيب التهذيب": (9/ 167). وانظر "الاستبصار في نقد الأخبار- ضمن هذا الكتاب" (ص 41) للمؤلف.
এটি মুহাম্মদ বিন আয-যুবায়ের আত-তামিমী আল-হানজালী(১) সম্পর্কে; সম্ভবত মুহাম্মদ বিন আয-যুবায়েরই এই ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, এবং একে আবু আয-যুবায়ের মুহাম্মদ বিন মুসলিমের প্রতি আরোপ করার ক্ষেত্রে ভ্রান্তি (وهم) ঘটেছে। আর আল্লাহই ভালো জানেন।

পরিচ্ছেদ

তাঁরা উল্লেখ করেছেন যে, ছোট গুনাহসমূহ (المعاصي الصغيرة) ন্যায়নিষ্ঠতা (عدالة) ক্ষুণ্ণ করে না, কেবল দুটি অবস্থা ছাড়া:

প্রথমত: যদি তা হীনতা বা নীচতা নির্দেশ করে, যেমন একটি খেজুর চুরি করা অথবা সামান্য অর্থের খেয়ানত করা।

দ্বিতীয়ত: যদি লিপ্ত ব্যক্তি তার ওপর অটল থাকে।

* * * *

--------------------------------------------

(১) দেখুন "তাহযীব আত-তাহযীব": (৯/ ১৬৭)। আরও দেখুন লেখকের "আল-ইসতিবসার ফি নাকদ আল-আখবার—এই গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত" (পৃ. ৪১)।
(খণ্ড: ১৫) ফী আহকামিল জারহি ওয়াত তা’দীল - যিমনা আসারুল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৭৭)
[ص 33] بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ

العدالة مباحثها مستوفاة في كتب الفقه ومصطلح الحديث، وقد نظرتُ في عدة من كتب الجرح والتعديل، فرأيتُ تصريحَ الأئمة بالجرح بالمعاصي قليلًا، وإنما أقصد في رسالتي هذه قَصْد ما تكثر الحاجة إليه، مع الحاجة إلى تحقيقه.

فمن ذلك: البدع التي لا يُحْكَم بكفر أصحابها؛ فقيل: جرح مطلقًا.

وقيل: جرح إذا كان صاحبها داعيةً، يدعوا الناسَ إلى بدعته.

وقيل: ليست بجرح مطلقًا، ولكن لا يقبل من صاحبها ما يرويه مما يوافق بدعته لمكان التهمة.

وقيل: ليست بجرح، ويقبل من صاحبها ما رواه، وإن وافق هواه.

أقول: [الذي](1) ينبغي اختياره أن المدار على قوَّة التهمة، فالرواة على طبقات:

الأولى: من اشتهر بالثقة والصدق والأمانة، وكثر ثناء أهل العلم عليه.

فهذا ينبغي أن يُقْبل منه كلّ ما روى، وإن كان له هوًى يدعو إليه، وروى ما يوافقه، وذلك أن الذي يغلب على الظن في مثله(2) أنه إنما يدعو لاعتقاده أنه يدعو إلى حقّ، وأنه صادق فيما رواه مما يوافق هواه، وهو من جملة ما أداه إلى ذلك الهوى.

--------------------------------------------

(1) زيادة يستقيم بها السياق.

(2) الأصل: "مثل" سهو.
[পৃষ্ঠা ৩৩] পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সততা (عدالة) সংক্রান্ত আলোচনা ফিকহ এবং হাদিস শাস্ত্রের পরিভাষা (مصطلح الحديث) বিষয়ক গ্রন্থসমূহে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। আমি সমালোচনা ও গুণবর্ণনা (الجرح والتعديل) সংক্রান্ত বেশ কিছু গ্রন্থ পর্যালোচনা করে দেখেছি যে, ইমামগণ কর্তৃক পাপের কারণে সমালোচনা (الجرح) করার বিষয়টি স্পষ্টভাবে কমই উল্লেখ করা হয়েছে। মূলত আমি আমার এই পুস্তিকায় সেই বিষয়গুলো আলোচনা করার সংকল্প করেছি যেগুলোর প্রয়োজনীয়তা অনেক বেশি এবং যা তাহকিক বা পর্যালোচনার দাবি রাখে।

এরই অন্তর্ভুক্ত হলো: সেই সকল বিদআত (البدع) যেগুলোর ধারকদের কুফর (كفر)-এর ফয়সালা দেওয়া হয় না। এ বিষয়ে কেউ কেউ বলেছেন: এটি নিঃশর্তভাবে সমালোচনা (جرح) হিসেবে গণ্য।

আবার কেউ বলেছেন: এটি তখনই সমালোচনা (جرح) যখন ঐ ব্যক্তি আহ্বানকারী (داعية) হন, অর্থাৎ মানুষকে তার বিদআতের দিকে আহ্বান করেন।

আবার কারো মতে: এটি কোনোভাবেই সমালোচনা (جرح) নয়, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বর্ণিত সেই সকল বর্ণনা কবুল করা হবে না যা তার বিদআতের স্বপক্ষে যায়; কারণ সেক্ষেত্রে অভিযোগের (التهمة) অবকাশ থাকে।

এছাড়া এমন অভিমতও রয়েছে যে: এটি সমালোচনা (جرح) নয় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বর্ণিত বর্ণনা কবুল করা হবে, যদিও তা তার প্রবৃত্তির অনুকূলে হয়।

আমি বলছি: [যা](১) গ্রহণ করা যুক্তিযুক্ত তা হলো—মূল বিষয়টি অভিযোগের প্রবলতার ওপর নির্ভরশীল। সুতরাং বর্ণনাকারীরা কয়েকটি স্তরে বিভক্ত:

প্রথম স্তর: যারা নির্ভরযোগ্যতা (الثقة), সত্যবাদিতা (الصدق) ও বিশ্বস্ততার (الأمانة) জন্য প্রসিদ্ধ এবং যাদের সম্পর্কে আলেমগণের ভূয়সী প্রশংসা রয়েছে।

তাদের থেকে বর্ণিত সবকিছুই কবুল করা উচিত, যদিও তার এমন কোনো প্রবৃত্তি থাকে যার দিকে তিনি আহ্বান জানান এবং তার বর্ণিত হাদিস সেই মতের অনুকূলে হয়। এর কারণ হলো, এ ধরনের ব্যক্তির(২) ক্ষেত্রে প্রবল ধারণা এটাই হয় যে, তিনি সত্যের দিকেই আহ্বান করছেন বলে বিশ্বাস করেন এবং তিনি তার প্রবৃত্তির অনুকূলে যা বর্ণনা করেছেন তাতেও তিনি সত্যবাদী; আর তা মূলত সেই প্রবৃত্তিরই অংশ যা তাকে সেই সত্য বিশ্বাসের দিকে ধাবিত করেছে।

--------------------------------------------

(১) সংযোজন, যার মাধ্যমে প্রসঙ্গের ধারাবাহিকতা ঠিক হয়।

(২) মূল পাণ্ডুলিপিতে: "مثل" (অনুরূপ), যা অনবধানতাবশত ঘটেছে।
(খণ্ড: ১৫) ফী আহকামিল জারহি ওয়াত তা’দীল - যিমনা আসারুল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৭৮)
الطبقة الثانية: مَنْ لم يبلغ تلك الدرجة، وقد وثَّقه بعض الأئمة.

فهذا ينبغي التوقُّف عما يرويه موافقًا لهواه، ولاسيما إن كان داعية، فإن الداعية تكثر منه الخصومة، والخصومة توقع في اللجاج، واللجاج مظنة المجازفة.

فقد يتأوّل أحدهم إذا لج أنه لا حَرَج عليه في أن يكذب لنصرة ما هو الحق عنده، وقد لا يشمل الكذب، ولكن يورِّي تورية خفيَّة، ويدلِّس تدليسًا خفيًّا، وإن كان ممن يتقي التدليس في غير ذلك.

فأما الطبقة الأولى فلا يُعْرَف أحد منهم كان يخاصم ويلجّ.

الثالثة: من لم يوثق.

فهذا أولى بالاتهام، فإن كان ممن يصلح للمتابعة في الجملة، فالصالح من حديثه للمتابعة هو ما لا يُتَّهم فيه.

وبهذا أجبتُ لمَّا حُكِي لي عن بعض المتأخرين ــ ممن كان يُظهر التشيع بلا غلوّ شديد ــ أنه ناظر بعضَ العلماء من أهل السنة، واحتج بأحاديث.

فأجابه السنِّي: أنها ضعيفة؛ لأن في أسانيدها مَنْ ضعَّفه الأئمة.

فقال: إنما ضعفوه بأنه كان يتشيّع، فلي الحق أن أردّ الأحاديث التي تحتجّون بها؛ لأن في رواتها من كان يُظهر النصب، فإن ما تسميه أنت تشيعًا، أقول أنا: هو السنة في الحقيقة، وما تسميه أنت مذهب أهل السنة، أسميه أنا: نصبًا، وأقول: هو البدعة في الحقيقة.
দ্বিতীয় স্তর: যারা সেই স্তরে পৌঁছাতে পারেননি, তবে কোনো কোনো ইমাম তাদের নির্ভরযোগ্য (وثَّقه) বলে গণ্য করেছেন।

এ জাতীয় বর্ণনাকারী যখন তার খেয়াল-খুশির অনুকূলে বর্ণনা করেন, তখন সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা (توقف) উচিত; বিশেষ করে যদি তিনি তার মতবাদের দিকে আহ্বানকারী (داعية) হন। কেননা, আহ্বানকারীর মধ্যে বিতর্ক ও কলহের প্রবণতা বেশি থাকে, আর বিতর্ক মানুষকে হঠকারিতার দিকে নিয়ে যায়, যা অতিরঞ্জন বা বেপরোয়া আচরণের ক্ষেত্র তৈরি করে।

ফলে তাদের কেউ হঠকারিতায় লিপ্ত হলে এমন ব্যাখ্যা (تأوّل) দিতে পারে যে, তার দৃষ্টিতে যা সত্য তা বিজয়ী করার জন্য মিথ্যা বলায় কোনো দোষ নেই। আবার কখনো সরাসরি মিথ্যা না বললেও সূক্ষ্ম দ্ব্যর্থবোধকতা (تورية) অবলম্বন করতে পারে কিংবা সূক্ষ্মভাবে কারচুপি বা প্রতারণা (تدليس) করতে পারে, যদিও অন্যান্য ক্ষেত্রে তিনি হয়তো কারচুপি (تدليس) থেকে বিরত থাকেন।

আর প্রথম স্তরের ক্ষেত্রে এমন কাউকে পাওয়া যায় না যিনি বিতর্ক বা হঠকারিতায় লিপ্ত ছিলেন।

তৃতীয় স্তর: যাদের নির্ভরযোগ্য (وثق) বলে অভিহিত করা হয়নি।

এরা তো অভিযুক্ত হওয়ার অধিক যোগ্য। তবে সামগ্রিকভাবে যদি তিনি সমর্থক বর্ণনার (متابعة) যোগ্য হন, তবে তার হাদিসের সেই অংশটুকুই সমর্থক (متابعة) হিসেবে গ্রহণযোগ্য হবে যে বিষয়ে তিনি অভিযুক্ত নন।

এভাবেই আমি উত্তর দিয়েছিলাম যখন আমার কাছে পরবর্তী যুগের এমন একজনের কথা বলা হয়েছিল—যিনি চরম বাড়াবাড়ি ছাড়াই শিয়া মতবাদ প্রকাশ করতেন—যে তিনি আহলে সুন্নাতের জনৈক আলেমের সাথে বিতর্ক করেছিলেন এবং কিছু হাদিস দ্বারা দলিল পেশ (احتج) করেছিলেন।

সেই সুন্নি আলেম তাকে উত্তর দিয়েছিলেন: এগুলো দুর্বল (ضعيفة); কারণ এর সনদসমূহে (أسانيد) এমন বর্ণনাকারী রয়েছে যাকে ইমামগণ দুর্বল (ضعَّفه) বলেছেন।

তখন তিনি বলেছিলেন: ইমামগণ তাকে কেবল শিয়া হওয়ার কারণেই দুর্বল (ضعفوه) বলেছেন। সুতরাং আপনাদের পেশ করা দলিলসমূহের হাদিসগুলো প্রত্যাখ্যান (ردّ) করার অধিকার আমারও আছে; কারণ সেগুলোর বর্ণনাকারীদের (رواة) মধ্যে এমন ব্যক্তি আছে যারা 'নাসবি' বা আলীবিরোধী (النصب) মতাদর্শ প্রকাশ করত। আপনি যেটাকে 'শিয়া মতবাদ' বলছেন, আমি সেটাকে প্রকৃতপক্ষে 'সুন্নত' বলি। আর আপনি যেটাকে 'আহলে সুন্নাতের মাযহাব' বলছেন, আমি সেটাকে 'নাসবিয়্যাত' (نصبًا) বলি এবং বলি যে সেটিই প্রকৃতপক্ষে বিদআত (البدعة)।
(খণ্ড: ১৫) ফী আহকামিল জারহি ওয়াত তা’দীল - যিমনা আসারুল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৭৯)
قال: فقال ذلك العالم السني: إذن يسقط الاحتجاج بالأحاديث من الجانبين. هذا معنى الحكاية.

وعلى ما قدمتُه لا تسقط الأحاديث بحمد الله عز وجل، ولكن الإنصاف أن لا يحتج على المتشيع بأحاديث الطبقة الثانية ممن عرفوا بالسنة ولا يحتج هو بأحاديث الطبقة الثانية ممن عرفوا بالتشيُّع.

فإذا وافق على هذا، وكان الإنصاف، فما أسرع ما يكون الاتفاق، وإن أبى فقد سقطت شبهتُه، وظهرَ عنادُه.

وقد ذكرتُ هذا لبعض أهل العلم، فقال: وكيف يكون الرجل عدلًا في شيء، وغير عدل في شيء؟

والجواب: أن العدالة تتفاوت قوة وضعفًا، كما لا يخفى.

[ص 34] وقد جاء عن شريك أن رجلًا ادّعى على آخر عنده بمائة ألف دينار، فأقر، فقال: أما إنه لو أنكر لم أقبل عليه شهادة أحدٍ بالكوفة إلا شهادة وكيع وعبد الله بن نُمير(1).

يعنى أن المال عظيمًا(2)، فلا تنتفي تهمة الشاهد فيه حتى يكون عظيم

--------------------------------------------

(1) القصة في "تاريخ بغداد": (13/ 499). وقد حكم عليها المؤلف بالانقطاع، وأجاب عنها بأنها "لو ثبتت لوجب حملها على أن مراده القبول الذي تطمئن إليه نفسه، فإن القاضي قد لا يكون خبيرًا بعدالة الشاهدين وضبطهما وتيقظهما وإنما عدّلهما غيره، فإذا كان المال كثيرًا جدًّا بقي في نفسه ريبة … ". انظر "التنكيل": (1/ 69) و"تعزيز الطليعة" (ص 132 - 133) للمؤلف.

(2) كذا والوجه "عظيم".
তিনি বললেন: তখন সেই সুন্নি আলেম বললেন: তাহলে উভয় পক্ষ থেকেই হাদিসের মাধ্যমে দলিল পেশ করার (الاحتجاج) যোগ্যতা বাতিল হয়ে যায়। এটিই এই বর্ণনার মূল কথা।

আমি যা উপস্থাপন করেছি সেই অনুযায়ী আল্লাহর প্রশংসায় হাদিসসমূহ বাতিল হয়ে যায় না; কিন্তু ইনসাফের দাবি হলো, শিয়া মতাবলম্বীর বিরুদ্ধে এমন দ্বিতীয় স্তরের বর্ণনাকারীদের হাদিস দ্বারা দলিল পেশ (الاحتجاج) করা যাবে না যারা সুন্নি হিসেবে পরিচিত, আর সেও যেন এমন দ্বিতীয় স্তরের বর্ণনাকারীদের হাদিস দ্বারা দলিল পেশ (الاحتجاج) না করে যারা শিয়া হিসেবে পরিচিত।

যদি সে এতে একমত হয় এবং ইনসাফ বজায় থাকে, তবে ঐক্য কতই না দ্রুত সম্ভব হবে! আর যদি সে অস্বীকার করে, তবে তার সংশয় নিরসন হবে এবং তার হঠকারিতা প্রকাশ পাবে।

আমি এই বিষয়টি কোনো কোনো ইলম অন্বেষী ব্যক্তির কাছে উল্লেখ করেছি, তখন তিনি বললেন: একজন ব্যক্তি কীভাবে কোনো বিষয়ে ন্যায়পরায়ণ (عدلاً) হতে পারে, আবার অন্য বিষয়ে ন্যায়পরায়ণ (عدلاً) না-ও হতে পারে?

উত্তর হলো: ন্যায়পরায়ণতা (العدالة) এর শক্তি ও দুর্বলতার ক্ষেত্রে তারতম্য থাকে, যা অস্পষ্ট নয়।

[পৃষ্ঠা ৩৪] শারিক থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, এক ব্যক্তি তার কাছে অন্য এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে এক লক্ষ দিনার দাবি করল এবং বিবাদী তা স্বীকার করল। তখন শারিক বললেন: শোনো, যদি সে অস্বীকার করত, তবে কুফার কাউকেই তার বিপক্ষে সাক্ষী হিসেবে আমি গ্রহণ করতাম না, কেবল ওয়াকি এবং আবদুল্লাহ ইবনে নুমাইর ছাড়া(১)।

অর্থাৎ সম্পদের পরিমাণ অনেক বেশি ছিল(২), তাই সাক্ষীর প্রতি আনীত অভিযোগ (تهمة) ততক্ষণ দূর হয় না যতক্ষণ না সে অতি মহান বা উচ্চস্তরের নির্ভরযোগ্য হয়।

--------------------------------------------

(১) ঘটনাটি 'তারিখ বাগদাদ' (১৩/৪৯৯) গ্রন্থে রয়েছে। লেখক এর বর্ণনাসূত্রকে বিচ্ছিন্ন (بالانقطاع) হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং এর উত্তর দিয়েছেন এই বলে যে, "যদি এটি প্রমাণিতও হয়, তবে তাকে এমন গ্রহণযোগ্যতার ওপর ধরে নিতে হবে যাতে তার অন্তর প্রশান্ত হয়। কেননা বিচারক হয়তো সাক্ষীদের ন্যায়পরায়ণতা (العدالة), মুখস্থ করার নির্ভুলতা (وضبطهما) এবং সতর্কতার বিষয়ে অভিজ্ঞ নাও হতে পারেন, বরং অন্য কেউ তাদের নির্ভরযোগ্য সাব্যস্ত (عدلهما) করেছেন। সুতরাং যখন সম্পদের পরিমাণ অনেক বেশি হয়, তখন তার মনে সংশয় থেকে যায়..."। লেখকের 'আত-তানكيل' (১/৬৯) এবং 'তাজিজুত তলিআহ' (পৃষ্ঠা ১৩২-১৩৩) দেখুন।

(২) মূলে এভাবেই আছে, তবে ব্যাকরণগতভাবে সঠিক রূপটি হলো "আজিম" (عظيم)।
(খণ্ড: ১৫) ফী আহকামিল জারহি ওয়াত তা’দীল - যিমনা আসারুল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৮০)
العدالة، ولو كان ألف دينار فقط لكان بالكوفة يومئذٍ ألف عدل أو أكثر ممن تنتفي التهمة بشهادة رجلين منهم فيه.

وذكر الشافعي في "الأم" أنه ينبغي للقاضي إذا سأل عن الشهود مَنْ يطلب منه بيان حالهم أن يبين للمسؤول مقدار ما شهدوا فيه، قال: " فإن المسؤول عن الرجل قد يعرف ما لا يعرف الحاكم من أن يكون الشاهد … وتطيب نفسه على تعديله في اليسير، ويقف في الكثير " الأم (6/ 309)(1).

وقد قال الله تبارك وتعالى: {وَمِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ مَنْ إِنْ تَأْمَنْهُ بِقِنْطَارٍ يُؤَدِّهِ إِلَيْكَ وَمِنْهُمْ مَنْ إِنْ تَأْمَنْهُ بِدِينَارٍ لَا يُؤَدِّهِ إِلَيْكَ} [آل عمران: 75].

يعني أن منهم من هو عظيم الأمانة حتى لو ائتمن على قنطار لأداه، ومنهم من هو ضعيف الأمانة حتى لو ائتمن على دينار واحد لخان فيه. والقنطار المال العظيم، جاء عن الحسن البصري: أنه ملء مَسْك ثورٍ ذهبًا(2).

وغالبُ المسلمين تطيب أنفسُهم ببذل الزكاة المفروضة، والسفر للحج، والقتال في سبيل الله عند رجاء السلامة، ولو كُلِّفوا أعظم من هذا ما فعله إلا قليل.

قال الله تبارك وتعالى: {إِنَّمَا الْحَيَاةُ الدُّنْيَا لَعِبٌ وَلَهْوٌ وَإِنْ تُؤْمِنُوا وَتَتَّقُوا يُؤْتِكُمْ أُجُورَكُمْ وَلَا يَسْأَلْكُمْ أَمْوَالَكُمْ (36) إِنْ يَسْأَلْكُمُوهَا فَيُحْفِكُمْ تَبْخَلُوا

--------------------------------------------

(1) (7/ 508).

(2) ذكر القول في "تفسير الطبري": (5/ 259) و"تفسير ابن المنذر": (1/ 259) لكن منسوبًا إلى أبي نضرة العبدي.
ন্যায়পরায়ণতা (العدالة); যদি পরিমাণটি কেবল এক হাজার দিনার হতো, তবে সে সময় কুফায় এক হাজার বা তার চেয়ে বেশি ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি (عدل) পাওয়া যেত, যাদের মধ্যে দু’জন ব্যক্তির সাক্ষ্যের মাধ্যমে যেকোনো অভিযোগ দূর হয়ে যেত।

ইমাম শাফিঈ তার ‘আল-উম্ম’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, কাজী যখন সাক্ষীদের সম্পর্কে এমন কাউকে জিজ্ঞাসা করেন যার কাছে তাদের অবস্থা বর্ণনা করার অনুরোধ করা হয়, তখন উত্তরদাতার কাছে সাক্ষ্য প্রদানের বিষয়টির পরিমাণও বর্ণনা করা উচিত। তিনি বলেন: "কারণ ব্যক্তিটি সম্পর্কে যাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে, তিনি এমন কিছু জানতে পারেন যা হাকীম (বিচারক) জানেন না; যেমন সাক্ষী হয়তো … অল্প পরিমাণের ক্ষেত্রে তাকে নির্ভরযোগ্য ঘোষণা করতে (تعديل) তিনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, কিন্তু অধিক পরিমাণের ক্ষেত্রে তিনি বিরত থাকেন।" আল-উম্ম (৬/ ৩০৯)(১)।

আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা ইরশাদ করেছেন: {আর আহলে কিতাবদের মধ্যে এমন লোকও আছে যার কাছে তুমি ক্বিনতার (বিশাল সম্পদ) আমানত রাখলে সে তা তোমাকে ফেরত দেবে। আবার তাদের মধ্যে এমন লোকও আছে যার কাছে তুমি একটি দিনার আমানত রাখলেও সে তা তোমাকে ফেরত দেবে না} [আলে ইমরান: ৭৫]।

এর অর্থ হলো, তাদের মধ্যে এমন ব্যক্তি আছে যে আমানতদারিতার ক্ষেত্রে অত্যন্ত দৃঢ়, এমনকি যদি তার কাছে একটি ক্বিনতারও আমানত রাখা হয় তবে সে তা ফেরত দেয়। আবার তাদের মধ্যে এমন ব্যক্তিও আছে যে আমানতদারিতার ক্ষেত্রে দুর্বল (ضعيف), এমনকি একটি দিনারের আমানত পেলেও সে তাতে খেয়ানত করে। ক্বিনতার হলো বিশাল সম্পদ; হাসান বসরী থেকে বর্ণিত হয়েছে যে: এটি হলো একটি ষাঁড়ের চামড়া ভর্তি স্বর্ণ(২)।

অধিকাংশ মুসলিমই সানন্দে ফরয যাকাত প্রদান করেন, হজের জন্য সফর করেন এবং নিরাপত্তা লাভের আশায় আল্লাহর পথে জিহাদ করেন; কিন্তু যদি তাদের এর চেয়ে বড় কোনো দায়িত্ব দেওয়া হতো, তবে অল্প কিছু লোক ছাড়া কেউ তা পালন করত না।

আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা ইরশাদ করেছেন: {পার্থিব জীবন তো কেবল খেল-তামাশা। যদি তোমরা ঈমান আনো এবং তাকওয়া অবলম্বন করো, তবে তিনি তোমাদের পুরস্কার দেবেন এবং তিনি তোমাদের কাছে তোমাদের ধন-সম্পদ চাইবেন না। (৩৬) যদি তিনি তোমাদের কাছে সেসব চান এবং তোমাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন, তবে তোমরা কার্পণ্য করবে

--------------------------------------------

(১) (৭/ ৫০৮)।

(২) এই বক্তব্যটি ‘তাফসীর আল-তাবারী’ (৫/ ২৫৯) এবং ‘তাফসীর ইবনে আল-মুনযির’ (১/ ২৫৯)-এ উল্লেখ করা হয়েছে, তবে এটি আবু নাদরা আল-আবদী-এর প্রতি সম্বন্ধযুক্ত।
(খণ্ড: ১৫) ফী আহকামিল জারহি ওয়াত তা’দীল - যিমনা আসারুল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৮১)
وَيُخْرِجْ أَضْغَانَكُمْ} [القتال: 36 - 37].

يعنى ــ والله أعلم ــ لا يسألكم أموالكم كلها فرضًا محتومًا.

وقال تعالى: {وَلَوْ أَنَّا كَتَبْنَا عَلَيْهِمْ أَنِ اقْتُلُوا أَنْفُسَكُمْ أَوِ اخْرُجُوا مِنْ دِيَارِكُمْ مَا فَعَلُوهُ إِلَّا قَلِيلٌ مِنْهُمْ} [النساء: 66].

وقد تقرر في الشهادة أنه لا تقبل شهادة الرجل لنفسه، ولا حيث يجرّ لنفسه نفعًا، إلى غير مما هو معروف في الفقه بدون تفرقة بين الناس، حتى لو كان الرجل بغاية العدالة لما خرج عن ذلك، وعللوه بالتهمة.

وتقرر في الشريعة قبول إقرار الرجل على نفسه، وإن كان غاية في الكفر، أو الفجور، وإنما ذلك لبعد التهمة. والله أعلم.
...এবং তিনি তোমাদের বিদ্বেষসমূহ প্রকাশ করে দেবেন।} [আল-কিতাল: ৩৬-৩৭]।

অর্থাৎ—আল্লাহই ভালো জানেন—তিনি তোমাদের সমস্ত সম্পদ তোমাদের ওপর অবধারিত ফরয হিসেবে দাবি করবেন না।

এবং মহান আল্লাহ বলেন: {আর যদি আমি তাদের ওপর নির্দেশ দিতাম যে, তোমরা নিজেদের জীবন বিসর্জন দাও অথবা নিজেদের ঘরবাড়ি থেকে বের হয়ে যাও, তবে তাদের মধ্যে খুব অল্প সংখ্যকই তা করত} [আন-নিসা: ৬৬]।

সাক্ষ্যদানের ক্ষেত্রে এটি সাব্যস্ত হয়েছে যে, নিজের সপক্ষে কোনো ব্যক্তির সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য নয়, এবং এমন ক্ষেত্রেও নয় যেখানে সে নিজের জন্য কোনো উপকার টেনে আনে; ফিকহশাস্ত্রে মানুষের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ ছাড়াই এটি সুপরিচিত। এমনকি যদি ব্যক্তিটি চূড়ান্ত পর্যায়ের ন্যায়পরায়ণতার (العدالة) অধিকারীও হন, তবুও তিনি এই নিয়মের ঊর্ধ্বে নন; আর তারা একে অভিযোগের (التهمة) আশঙ্কার কারণে ব্যাখ্যা করেছেন।

আর শরীয়তে এটি সাব্যস্ত হয়েছে যে, কোনো ব্যক্তির নিজের বিরুদ্ধে করা স্বীকারোক্তি গ্রহণযোগ্য, যদিও সে চরম কুফরি কিংবা পাপাচারের (الفجور) স্তরে থাকে; আর এটি কেবল অভিযোগের (التهمة) অবকাশ না থাকার কারণে। আল্লাহই অধিক জ্ঞাত।
(খণ্ড: ১৫) ফী আহকামিল জারহি ওয়াত তা’দীল - যিমনা আসারুল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৮২)
(1) [ص 25 ب] هذا، وضبط الخبر وإتقانة يحتاج إلى التيقُّظ في ثلاثة مواضع:

الأول: عند تلقّي الخبر، فيجب على المتلقّي أن يتثبّت في حال المخبِر أنه فلان بن فلان، وفي إخباره بالخبر أنه أخبر به من لفظه جازمًا به، أو قُرئ عليه وهو منصت لا يخفى عليه من القراءة شيء حتى أقرَّ به، أو عُرض عليه مكتوبًا فتأمله حقّ التأمل، وهكذا في سائر أنواع التحمّل، كلٌّ بحسبه.

ثم يتثبّت في أخذه للخبر، فإن كتبه بإملاء الشيخ، تثبَّت في كتابته حتى يثق بأنه كتبه كما تلقَّاه، لم يزد ولم ينقص ولم يغير. ويدخل في ذلك نَقْط ما يحتاج إلى النقط، وضَبْط ما يحتاج إلى ضبط.

وإن كَتَبه مما قُرئ على الشيخ تثبَّت في المنقول عنه أنه مكتوب كما قُرئ على الشيخ، ثم في المنقول أنه كُتِب كما في المنقول عنه.

وإن حَفِظه راجع نفسه حتى يثق بأنه حفظه كما يجب، وإن اقتصر على فهمه راجع نفسه حتى يثق بأنه فهمه كما يجب، وقس على هذا.

الموضع الثاني: بين التحمّل والأداء، فإن كان مسموعه في كتاب احتاط لحفظ الكتاب، فلا يزيد فيه ولا ينقص ولا يغير، ولا يُمَكِّن منه مَن يُحْتَمل أن يصنع ذلك.

وإن كان حَفِظَه أو فَهِمَه تعاهَد حِفْظه أو فَهْمه، [ص 26] وذاكر الحفَّاظ،

--------------------------------------------

(1) أخرنا من هذا الموضع [ص 25 ب- 29] إلى آخر الرسالة مع تقدمه في الترقيم؛ ليتناسب مع ترتيب موضوعات الرسالة.
(১) [পৃষ্ঠা ২৫ বি] সংবাদ (الخبر) যথাযথভাবে আয়ত্ত করা (ضبط) এবং এতে পারদর্শিতা অর্জনের জন্য তিনটি ক্ষেত্রে অত্যন্ত সজাগ থাকা প্রয়োজন:

প্রথমত: সংবাদ (الخبر) গ্রহণ করার (تلقي) সময়। সুতরাং গ্রহণকারীর জন্য সংবাদ প্রদানকারীর অবস্থা সম্পর্কে সুনিশ্চিত হওয়া আবশ্যক যে, তিনি অমুকের পুত্র অমুক। এবং তাঁর সংবাদ প্রদানের ক্ষেত্রেও নিশ্চিত হতে হবে যে, তিনি তা নিজ মুখে দৃঢ়তার সাথে বর্ণনা করেছেন, অথবা তাঁর সামনে তা পাঠ করা হয়েছে এবং তিনি তা মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন যাতে পাঠের কোনো কিছু তাঁর কাছে অস্পষ্ট না থাকে এবং পরিশেষে তিনি তা স্বীকার করে নিয়েছেন; অথবা তাঁর সামনে লিখিত পাণ্ডুলিপি পেশ করা হয়েছে এবং তিনি তা যথাযথভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন। হাদিস গ্রহণের (تحمل) অন্যান্য সকল পদ্ধতির ক্ষেত্রেও একইভাবে নিজ নিজ নিয়ম অনুযায়ী সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

অতঃপর সংবাদটি (الخبر) গ্রহণ করার ক্ষেত্রে সুনিশ্চিত হবে। যদি সে তা শায়খের শ্রুতিলিখন (إملاء) অনুযায়ী লিখে থাকে, তবে তার লেখার ব্যাপারে নিশ্চিত হবে যাতে সে এই আস্থা পায় যে, যেভাবে সে তা গ্রহণ (تلقي) করেছিল ঠিক সেভাবেই লিখেছে; তাতে কোনো কিছু বৃদ্ধি করেনি, কমায়নি এবং পরিবর্তনও করেনি। এর অন্তর্ভুক্ত হলো যেখানে নুকতা প্রয়োজন সেখানে নুকতা প্রদান (نقط) করা এবং যেখানে স্বরচিহ্ন প্রয়োজন সেখানে স্বরচিহ্ন প্রদান (ضبط) করা।

আর যদি সে এমন কিছু থেকে লিখে থাকে যা শায়খের সামনে পাঠ করা হয়েছিল, তবে যেখান থেকে সে নকল করেছে সেটির ব্যাপারে নিশ্চিত হবে যে তা শায়খের সামনে পঠিত পাঠ অনুযায়ী লিখিত আছে কি না; অতঃপর নিজের নকলকৃত কপির ব্যাপারে নিশ্চিত হবে যে তা মূল কপি অনুযায়ী যথাযথভাবে লিখিত হয়েছে।

আর যদি সে তা মুখস্থ করে থাকে, তবে বারবার নিজেকে যাচাই করবে যতক্ষণ না সে এই আস্থা পায় যে, তা যথাযথভাবে মুখস্থ হয়েছে। আর যদি সে কেবল তা বোঝার ওপর সীমাবদ্ধ থাকে, তবে সে নিজেকে যাচাই করবে যতক্ষণ না সে নিশ্চিত হয় যে সে তা যথাযথভাবে বুঝেছে। অন্যান্য বিষয়ের ক্ষেত্রেও এর ওপর কিয়াস করে নিতে হবে।

দ্বিতীয় ক্ষেত্র: হাদিস গ্রহণ (تحمل) ও হাদিস বর্ণনার (أداء) মধ্যবর্তী সময়। যদি তার শ্রবণকৃত বিষয়টি কোনো কিতাবে থাকে, তবে সে কিতাবটি সংরক্ষণের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করবে; সুতরাং সে তাতে কোনো কিছু বৃদ্ধি করবে না, কমাবে না এবং পরিবর্তন করবে না। আর এমন কাউকে তা হস্তগত করতে দেবে না যার দ্বারা এ ধরনের পরিবর্তনের কাজের সম্ভাবনা থাকে।

আর যদি সে তা মুখস্থ করে থাকে বা বুঝে থাকে, তবে সে তার মুখস্থ বা বোঝার বিষয়টি নিয়মিত চর্চা করবে [পৃষ্ঠা ২৬] এবং হাফেজদের (حفاظ) সাথে মুজাকারা করবে।

--------------------------------------------

(১) আমরা এই অংশটিকে [পৃষ্ঠা ২৫ বি - ২৯] বর্তমান অবস্থান থেকে সরিয়ে রিসালাহর শেষে নিয়ে এসেছি, যদিও পৃষ্ঠা নাম্বারে এটি আগে ছিল; যাতে রিসালাহর বিষয়বস্তুর বিন্যাসের সাথে এর সামঞ্জস্য বজায় থাকে।
(খণ্ড: ১৫) ফী আহকামিল জারহি ওয়াত তা’দীল - যিমনা আসারুল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৮৩)
وتفطّن لمظان الاشتباه والالتباس، فاحترز منها.

الموضع الثالث: عند الأداء، فأولًا: يمرّ بفكْرِه على الموضعين الأولين ليستحضر هل تثبَّت فيهما كما يجب، ثم يتثبَّت في الإلقاء بحيث يثق بأنه ألقاه كما تلقاه.

ومن اختبر الناسَ، وعرفَ أحوالَهم، عرف أن من المؤمنين الصالحين [من](1) تغلب عليه الغفلة، وقلّة التيقّظ، كأن ترى في زمن سفيان بن عيينة رجلًا، فيقول لك هو: أنا سفيان بن عيينة، أو يقول لك آخر لا تعرفه: هذا سفيان بن عيينة، ثم يخبرك بخبر، فتذهب فتقول: أخبرني سفيان بن عيينة.

هذا مع أنه لم يقم عندك دليلٌ يحقق أن الذي أخبرك سفيان بن عيينة حقًّا.

والضابطُ المتيقِّظ يقول في مثل هذا: لقيتُ رجلًا لا أعرفه زعم، أو قال لي رجل آخر لا أعرفه: إنه سفيان بن عيينة، فأخبرني.

هذه صورة من صور الغفلة، وصورها كثيرة، فقد تغلب الغفلة على الرجل حتى إن من يعر ف حاله لا يثق بخبره ألبته، فيصير حينئذٍ في الحال(2).

ومن اختبر أحوال الناس وجدهم يتباينون في الضبط والإتقان، فقد تكون مؤمنًا صالحًا، فيلقاك رجل لا تعرفه، فيقول لك: أنا فلان بن فلان، ويخبرك بخبر، فتذهب فتقول: أخبرني فلان بن فلان.

--------------------------------------------

(1) الأصل: "مع" سهو.

(2) كذا، وتقدير باقي الكلام "بحيث لا تُقبل روايته" وقد كرر المؤلف هذا المعنى في الفقرة التالية.
সন্দেহ এবং বিভ্রান্তির সম্ভাব্য ক্ষেত্রগুলো সম্পর্কে সচেতন হোন এবং সেগুলো থেকে নিজেকে রক্ষা করুন।

তৃতীয় ক্ষেত্র: বর্ণনা (أداء) প্রদানের সময়। এক্ষেত্রে প্রথমত: তাকে পূর্বের দুটি ক্ষেত্রের স্মৃতিচারণ করতে হবে যেন সে নিশ্চিত হতে পারে যে সেখানে যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই (تثبُّت) করা হয়েছিল কি না; অতঃপর বর্ণনা প্রদানের ক্ষেত্রেও তাকে পুনরায় যাচাই-বাছাই (تثبُّت) করতে হবে যাতে সে আশ্বস্ত হতে পারে যে, সে যেভাবে গ্রহণ করেছিল সেভাবেই তা বর্ণনা করছে।

যারা মানুষদের পরীক্ষা করেছেন এবং তাদের অবস্থা সম্পর্কে অবগত হয়েছেন, তারা জানেন যে নেককার মুমিনদের মধ্যে এমন কেউ থাকতে পারে যার ওপর অসতর্কতা (الغفلة) এবং সজাগতা (التيقظ)-এর অভাব প্রবল হয়ে থাকে। যেমন ধরুন, আপনি সুফিয়ান ইবনে উয়াইনার যুগে এমন একজন লোককে দেখলেন যে আপনাকে বলল: "আমি সুফিয়ান ইবনে উয়াইনা", অথবা অপরিচিত অন্য কেউ আপনাকে বলল: "ইনি সুফিয়ান ইবনে উয়াইনা", অতঃপর সে আপনাকে একটি সংবাদ দিল এবং আপনি গিয়ে বললেন: "সুফিয়ান ইবনে উয়াইনা আমাকে সংবাদ দিয়েছেন।"

অথচ আপনার কাছে এমন কোনো প্রমাণ নেই যা নিশ্চিত করে যে, আপনাকে সংবাদ প্রদানকারী ব্যক্তিটি প্রকৃতপক্ষে সুফিয়ান ইবনে উয়াইনা ছিলেন।

পক্ষান্তরে যথাযথ হেফজকারী (الضابط) এবং সজাগ (المتيقظ) বর্ণনাকারী এই ধরনের ক্ষেত্রে বলবেন: "আমি এমন একজন ব্যক্তির সাথে সাক্ষাৎ করেছি যাকে আমি চিনি না, সে দাবি করেছে; অথবা অন্য একজন ব্যক্তি যাকে আমি চিনি না সে আমাকে বলেছে যে, ইনি সুফিয়ান ইবনে উয়াইনা এবং তিনি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন।"

এটি অসতর্কতা (الغفلة)-এর বহু রূপের একটি মাত্র রূপ। কখনো একজন ব্যক্তির ওপর অসতর্কতা (الغفلة) এতটাই প্রবল হতে পারে যে, তার অবস্থা সম্পর্কে যারা অবগত তারা মোটেও তার সংবাদের ওপর আস্থা রাখেন না, এমতাবস্থায় সে সেই স্তরে উপনীত হয় (যেখানে তার বর্ণনা অগ্রহণযোগ্য)।

আর যারা মানুষের অবস্থা পরীক্ষা করেছেন তারা তাদের সংরক্ষণ সক্ষমতা (الضبط) ও নিখুঁত দক্ষতা (الإتقان)-এর মধ্যে পার্থক্য খুঁজে পেয়েছেন। যেমন আপনি একজন নেককার মুমিন হতে পারেন, কিন্তু এমন একজন অপরিচিত লোক আপনার সাথে সাক্ষাৎ করল যে বলল: "আমি অমুকের পুত্র অমুক", এবং আপনাকে একটি সংবাদ দিল, আর আপনি গিয়ে বললেন: "অমুকের পুত্র অমুক আমাকে সংবাদ দিয়েছেন।"

--------------------------------------------

(1) মূল পাণ্ডুলিপিতে "مع" ছিল, যা অনবধানতাবশত ভুল।

(2) মূল টেক্সটে এমনই আছে, আর অবশিষ্ট কথার সারমর্ম হলো "যাতে করে তার বর্ণনা (رواية) গ্রহণযোগ্য না হয়" এবং লেখক পরবর্তী অনুচ্ছেদেও এই অর্থের পুনরাবৃত্তি করেছেন।
(খণ্ড: ১৫) ফী আহকামিল জারহি ওয়াত তা’দীল - যিমনা আসারুল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৮৪)
ولو تيقظت لكنت تقول: لقيت رجلًا لا أعرفه، فزعم لي أنه فلان بن فلان، وأخبرني.

وقد ترى رجلًا يقرأ ورقةً على شيخ، فتذهب فتنسخ تلك الورقة، وتقول: أخبرنا الشيخ.

ولو كنت يقظًا لكنت أولًا تتفقّد حالَ الشيخ عند القراءة عليه، فلعلّه يكون ساهيًا، أو ناسيًا، ثم تتفقّد حالَ القراءة، فلعلها أن تكون فيها خلاف المقروء.

في صور كثيرة أمثال هذه يتفاوت الناس في الاحتراز منها؛ فرُبَّ مؤمن صالح لا يتهمه العارف به بكذب، ولكنه لا يثق بكثير من أخباره. فخبر هذا لعدم ضبطه في معنى خبر الفاسق الذي لا يوثق بخبره لفسقه.

وقد يكون الرجل مؤمنًا صالحًا ضابطًا، ولكن يتفق في بعض أخباره أن يكون مظنّة للغلط، وتقوم قرينة على الغلط، فيكون خبره في هذا الموضع في معنى خبر الفاسق أو أضعف منه.

وذلك أن من قضية الإيمان أن تؤمِّن الناسَ من أن تأتي إليهم ما لا يحل لك، كما في الحديث المشهور: "المؤمن مَن أمِنَه الناسُ على دمائهم وأموالهم"(1).

ومما لا يحل: الكذب، فإذا أمنت الناس من الكذب كان عليهم أن يؤمِّنوك من التكذيب.

--------------------------------------------

(1) سبق تخريجه (ص 69).
আর যদি আপনি সচেতন হতেন তবে বলতেন: আমি এমন এক ব্যক্তির সাথে সাক্ষাৎ করেছি যাকে আমি চিনি না; সে আমার নিকট দাবি করেছে যে সে অমুকের পুত্র অমুক এবং আমাকে সংবাদ দিয়েছে।

অনেক সময় আপনি দেখেন যে কোনো ব্যক্তি একজন শাইখের নিকট একটি পাণ্ডুলিপি পাঠ করছে, অতঃপর আপনি গিয়ে সেই পাণ্ডুলিপিটি অনুলিপি করেন এবং বলেন: 'শাইখ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন।'

অথচ আপনি যদি সচেতন হতেন তবে শাইখের নিকট পাঠ করার সময় প্রথমে তাঁর অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতেন; সম্ভবত তিনি অন্যমনস্ক বা বিস্মৃত হতে পারেন। অতঃপর আপনি পাঠের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতেন; সম্ভবত তাতে পঠিত বিষয়ের বিপরীত কিছু থাকতে পারে।

এই জাতীয় অনেক ক্ষেত্রে মানুষ সতর্কতা অবলম্বনের বিষয়ে একে অপরের থেকে ভিন্ন হয়। অনেক সময় এমন একজন সৎ মুমিন ব্যক্তি থাকেন যাকে বিজ্ঞজনরা মিথ্যার অভিযোগে অভিযুক্ত করেন না, কিন্তু তারা তার অধিকাংশ সংবাদের ওপর আস্থা রাখেন না। সুতরাং নির্ভুলভাবে আয়ত্ত করার (ضبط) অভাবের কারণে এই ব্যক্তির সংবাদটি সেই পাপাচারী (فاسق) ব্যক্তির সংবাদের সমতুল্য, যার পাপাচারের (فسق) কারণে তার সংবাদের ওপর আস্থা রাখা যায় না।

আবার কোনো ব্যক্তি সৎ মুমিন ও প্রখর স্মৃতিসম্পন্ন (ضابط) হওয়া সত্ত্বেও তার কিছু সংবাদের ক্ষেত্রে ভুলের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে এবং ভুলের সপক্ষে কোনো আলামত পাওয়া যেতে পারে; এমতাবস্থায় এই বিশেষ স্থানে তার সংবাদটি পাপাচারী (فاسق) ব্যক্তির সংবাদের মতো অথবা তার চাইতেও দুর্বল (ضعيف) বলে গণ্য হবে।

এর কারণ হলো, ইমানের দাবি হলো মানুষকে আপনার এমন কাজ থেকে নিরাপদ রাখা যা আপনার জন্য বৈধ নয়, যেমনটি প্রসিদ্ধ হাদিসে এসেছে: "মুমিন সেই ব্যক্তি যার নিকট মানুষের জান ও মাল নিরাপদ থাকে।"(১)।

আর যা বৈধ নয় তার মধ্যে অন্যতম হলো মিথ্যা; সুতরাং যখন আপনি মানুষকে মিথ্যার হাত থেকে নিরাপদ রাখবেন, তখন তাদের ওপর কর্তব্য হলো আপনাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা থেকে নিরাপদ রাখা।

--------------------------------------------

(১) পূর্বে এর উৎস উদ্ঘাটন (تخريج) করা হয়েছে (পৃ. ৬৯)।
(খণ্ড: ১৫) ফী আহকামিল জারহি ওয়াত তা’দীল - যিমনা আসারুল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৮৫)
والفاسق قد أخاف الناسَ فهو خارج عن(1) نص الآية وكما هو خارج من الحديث، فخبر المؤمن بيِّن بنفسه، فلا يحتاج إلى تبين، بخلاف الفاسق. وفي هذا كالإيماء إلى أن المدار على الأمن والبيان.

وعلى هذا فإذا لم يحصل الأمن والبيان بخبر المؤمن الذي ليس بفاسق، كأنْ كان مغفّلًا يكثر وهمه وجب التبين في خبره.

[ص 27] وكذلك المؤمن الذي [ليس](2) بفاسق ولا مغفّل إذا عرض في بعض أخباره ما يَريبُ فيه، كأن يكون مظنة خطأٍ وهناك قرينة على الخطأ، فيجب التبين في ذلك الخبر وأشباهه.

فلا سبيل إلى معرفة ما يجب قبوله من المنقول من غيره إلا بمعرفة أحوال الناقلين، ثم بمعرفة ما يوقف على مظان الخطأ وقرائنه(3).

وإذا كانت الآية مفتقرة إلى معرفة ما جاء به الرسول صلى الله عليه وآله وسلم كان على علمائها أن يعرفوا أحوال الرواة؛ ليعرفوا من يجب قبول روايته من غيره.

وإذا كان المخبر مؤمنًا غير فاسق ولا مغفّل أو في معناه، ولم يكن هناك مظنة خطأ، ولا دلالة عليه، فخبره بيّن بنفسه، يجب قبوله منه وتصديقه فيه.

فأدى الصحابةُ رضي الله عنهم ما تحمّلوه بعضهم إلى بعض، وإلى

--------------------------------------------

(1) تحتمل قراءتها: "من".

(2) زيادة يستقيم بها السياق.

(3) ضرب المؤلف على أكثر الصفحة وبقي قوله: "هذا وإذا كثرت الوسائط فالمأمور به" ثم انقطع الكلام فالظاهر أنه كلام تابع للمضروب عليه أيضًا.

পাপাচারী (فاسق) মানুষের মনে ভীতির উদ্রেক করে, তাই সে আয়াতের মূল পাঠের আওতার বাইরে এবং হাদিসেরও বাইরে। মুমিনের সংবাদ স্বয়ংসম্পূর্ণভাবেই সুস্পষ্ট, তাই পাপাচারীর (فاسق) বিপরীতে তার সংবাদ যাচাইয়ের প্রয়োজন নেই। এতে এমন এক ইঙ্গিত রয়েছে যে, মূল বিষয়টি নিরাপত্তা ও স্পষ্টতার ওপর নির্ভরশীল।

আর এই ভিত্তিতে, যদি এমন কোনো মুমিনের সংবাদের মাধ্যমে নিরাপত্তা ও স্পষ্টতা অর্জিত না হয় যে পাপাচারী (فاسق) নয়, যেমন সে যদি অসতর্ক (مغفل) হয় যার ভ্রান্তি (وهم) অত্যধিক হয়, তবে তার সংবাদ যাচাই করা ওয়াজিব।

[পৃষ্ঠা ২৭] তদ্রূপ এমন মুমিন যে পাপাচারী (فاسق) নয় এবং অসতর্কও (مغفل) নয়, তার কোনো বর্ণনায় যদি এমন কিছু প্রকাশ পায় যা সন্দেহের উদ্রেক করে—যেমন সেখানে ভুলের আশঙ্কা থাকে এবং ভুলের কোনো আলামত (قرينة) বিদ্যমান থাকে—তবে সেই সংবাদ ও তার অনুরূপ সংবাদের ক্ষেত্রে যাচাই করা আবশ্যক।

সুতরাং বর্ণিত বিষয়াবলির মধ্যে কোনটি গ্রহণ করা আবশ্যক আর কোনটি নয়, তা জানার কোনো পথ নেই বর্ণনাকারীদের অবস্থা (أحوال الناقلين) জানা ব্যতীত। অতঃপর যে বিষয়গুলো ভুলের ক্ষেত্র এবং এর আলামতসমূহ (قرائن) সম্পর্কে অবগত করে, তা জানার মাধ্যমে।

আর আয়াতটি যদি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম যা নিয়ে এসেছেন তা জানার মুখাপেক্ষী হয়, তবে আলেমদের কর্তব্য হলো রাবিদের অবস্থা (أحوال الرواة) জানা; যাতে তারা জানতে পারেন কার বর্ণনা (رواية) গ্রহণ করা ওয়াজিব আর কার নয়।

আর সংবাদ দাতা যদি মুমিন হয় এবং পাপাচারী (فاسق) বা অসতর্ক (مغفل) না হয় অথবা এই অর্থের অনুরূপ হয়, আর সেখানে ভুলের কোনো আশঙ্কা বা এর সপক্ষে কোনো প্রমাণ না থাকে, তবে তার সংবাদ স্বয়ংসম্পূর্ণভাবেই সুস্পষ্ট। তার থেকে তা গ্রহণ করা এবং তাকে সত্যয়ন করা ওয়াজিব।

অতঃপর সাহাবীগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) তারা যা গ্রহণ (تحمل) করেছিলেন তা একে অপরের কাছে পৌঁছে দিলেন, এবং...

--------------------------------------------

(১) এটি সম্ভবত 'من' হিসেবেও পড়া যায়।

(২) বাক্যপ্রবাহ ঠিক রাখার জন্য অতিরিক্ত অংশ।

(৩) লেখক পৃষ্ঠার অধিকাংশ অংশ কেটে দিয়েছেন এবং তার এই বক্তব্যটি অবশিষ্ট রয়েছে: "এটি এবং যখন মধ্যবর্তী সূত্র (وسائط) বৃদ্ধি পায় তখন যা নির্দেশিত..." অতঃপর কথাটি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। প্রতীয়মান হয় যে, এটিও কেটে দেওয়া অংশেরই অনুবর্তী কোনো কথা।
(খণ্ড: ১৫) ফী আহকামিল জারহি ওয়াত তা’দীল - যিমনা আসারুল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৮৬)
التابعين، وأدى التابعون بعضهم إلى بعض، وإلى أتباعهم، وهكذا.

وصار في وسع المتأخّر أن يعرف ما جاء به رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم بالتلقي ممن قبله، إلا أن المنقول اختلط فيه الحق بالباطل، والصحيح بالسقيم، فلم يكن بُدٌّ للعلماء من تمييز ذلك.

وقد أرشد الكتاب والسنة إلى طريق التمييز، وتلقّى الأئمةُ ذلك فشرحوه، وعملوا به، كلٌّ بقدر وُسْعه.

وملخص ذلك: أن المحتجّ به من الأخبار ثلاثة:

الأول: المقطوع بصحته، كالمتواتر.

الثاني: ما جمع ثلاث شرائط: أن يكون راويه عدلًا ضابطًا، وأن يكون متصلًا، وأن لا يكون شاذًّا ولا معللًا.

الثالث: ما قصر عن هذه الدرجة إذا وُجِد ما يعضده، بحيث يحصل بالمجموع ظنّ قويّ، كالحاصل بخبر من اجتمعت فيه الشرائط.

[ص 28] ومعرفة أحوال الرواة في العدالة والضبط مفتقرٌ إليها في الأضْرُب الثلاثة، أما في الثاني والثالث فواضح، وأما في المقطوع به فلأن معظم الموجود منه في الأحاديث هو ما يفيد القطع بمعونة القرائن، والعدالةُ والضبط من أعظم القرائن.

وكما يفتقر إلى معرفة ثبوت العدالة والضبط أو انتفائهما، أو أحدهما، فإنه يفتقر إلى معرفة درجة الراوي في ذلك.

أما في الضرب الأول: فلأن العدالة التامة والضبط التام أقوى مما
তাবেয়ীগণ (تابعين), এবং তাবেয়ীগণ (تابعين) একে অন্যের কাছে এবং তাদের পরবর্তী অনুসারীদের কাছে (ইলম) পৌঁছে দিয়েছেন, এবং এভাবেই ধারাটি অব্যাহত ছিল।

এর ফলে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য এটা সম্ভব হয়েছে যে, তারা তাদের পূর্ববর্তীদের কাছ থেকে শ্রবণের মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা নিয়ে এসেছেন তা জানতে পারে। তবে বর্ণিত বিষয়গুলোর মধ্যে সত্যের সাথে মিথ্যা এবং সহিহ (صحيح) এর সাথে ত্রুটিপূর্ণ (سقيم) মিশ্রিত হয়ে গিয়েছিল। ফলে উলামায়ে কেরামের জন্য এগুলোর মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করা অপরিহার্য হয়ে পড়ে।

কুরআন এবং সুন্নাহ এই পার্থক্য করার পদ্ধতির দিকে দিকনির্দেশনা প্রদান করেছে এবং ইমামগণ তা গ্রহণ করে এর ব্যাখ্যা করেছেন এবং প্রত্যেকেই নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী সে অনুযায়ী আমল করেছেন।

এর সারকথা হলো: সংবাদ বা বর্ণনার মধ্যে যা দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য তা তিন প্রকার:

প্রথম: যার সঠিকতা নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত, যেমন মুতাওয়াতির (متواتر)।

দ্বিতীয়: যা তিনটি শর্ত পূরণ করে: এর বর্ণনাকারী ন্যায়পরায়ণ (عدل) ও প্রখর স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন (ضابط) হওয়া, সনদটি সংযুক্ত (متصل) হওয়া এবং বর্ণনাটি ব্যতিক্রমী (شاذ) বা সূক্ষ্ম ত্রুটিযুক্ত (معلل) না হওয়া।

তৃতীয়: যা এই স্তরের চেয়ে নিচে অবস্থান করে, তবে যদি এমন কিছু পাওয়া যায় যা একে শক্তিশালী করে, যাতে সমষ্টিগতভাবে একটি প্রবল ধারণা তৈরি হয়, যেমনটি ওই খবরের মাধ্যমে অর্জিত হয় যাতে সমস্ত শর্ত পূর্ণ থাকে।

[পৃষ্ঠা ২৮] বর্ণনাকারীদের ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) এবং স্মৃতিশক্তির (ضبط) অবস্থা সম্পর্কে জ্ঞান থাকা এই তিন প্রকারের ক্ষেত্রেই প্রয়োজন। দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রকারের ক্ষেত্রে এর প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট। আর যে বর্ণনাগুলো নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত, সেগুলোর ক্ষেত্রে প্রয়োজন এ কারণে যে, হাদিসগুলোর মধ্যে বিদ্যমান এমন বর্ণনার অধিকাংশ যা বিভিন্ন পারিপার্শ্বিক প্রমাণের সাহায্যে নিশ্চিত জ্ঞান প্রদান করে; আর ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) ও স্মৃতিশক্তি (ضبط) হলো অন্যতম শ্রেষ্ঠ পারিপার্শ্বিক প্রমাণ।

আর যেমনভাবে ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) ও স্মৃতিশক্তি (ضبط) থাকা বা না থাকা, অথবা এই দুটির কোনো একটি থাকা বা না থাকা জানার প্রয়োজন রয়েছে, তেমনি বর্ণনাকারী এই গুণাবলীতে কোন স্তরে রয়েছেন তাও জানার প্রয়োজন রয়েছে।

প্রথম প্রকারের ক্ষেত্রে: কারণ পূর্ণাঙ্গ ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) এবং পূর্ণাঙ্গ স্মৃতিশক্তি (ضبط) তার চেয়েও শক্তিশালী যা...
(খণ্ড: ১৫) ফী আহকামিল জারহি ওয়াত তা’দীল - যিমনা আসারুল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৮৭)
دونهما، فقد يفيد القطع خبر الثلاثة إذا كانوا تامي العدالة والضبط، ولا يفيده خبر الأربعة أو الخمسة من العدول الضابطين دون درجة أولئك.

وأما في الثاني: فليعرف الراجح، فيقدّم عند التعارض.

وأما في الثالث: فليعرف ما يصلح للشواهد والعواضد والمتابعات، ومقدار صلاحيته لذلك، فقد يصدق على ثلاثة أنهم ليسو امن أهل العدالة والضبط، بحيث لو تابعه آخر مثله لصار الخبر صالحًا للحجة.

ودرجة الثاني متوسطة بحيث لو تابعه آخر مثله لم يبلغ ذلك، بل يحتاج إلى متابعة اثنين أو ثلاثة مثلًا، وهكذا.

ودرجة الثالث بعيدة بحيث لو تابعه عشرة مثله لم يغن شيئًا، بل يقال: كأنهم تواطؤوا أو سرقه بعضُهم من بعض، أو وضعه بعضُ الدجّالين على هؤلاء فلقَّنهم، أو نحو ذلك.

وكذلك معرفة الاتصال، ومعرفة الشذود والعلة، يُحْتَاج إليها في الأضرب الثلاثة، كما يعلم بالتأمل.

وقد بلغ هذا العلم أوْجَه في القرون الأولى، ثم تباعد الناس عنه في القرون الوسطى؛ لاستغناء جمهورهم عن الاتباع بالتقليد، ومن احتاج إلى السنة من المقلدين إنما همّه نُصرة مذهبه، فينظر إلى الأحاديث المروية، فيرى منها ما يوافق مذهبه ومنها ما يخالفه، فيجتهد في تقوية ما يوافقه، وتضعيف ما يخالفه، فإذا وجد في الأصول المختلف فيها ما يساعده التزمه ونَصَره، وسعى في توهين ما يخالفه، وإن لم يجد أصلًا يساعده على هواه اخترع أصلًا وسعى في تثبيته بين أهل مذهبه على الأقل، ولهذا يكثر
এ দুটির নিম্নস্তরে, কখনও কখনও তিনজনের বর্ণনা নিশ্চিত জ্ঞান (القطع) প্রদান করতে পারে যদি তারা পূর্ণ ন্যায়পরায়ণতা ও স্মৃতিশক্তির (العدالة والضبط) অধিকারী হন। আবার চার বা পাঁচজন ন্যায়পরায়ণ ও স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন (العدول الضابطين) বর্ণনাকারীর খবর সেই নিশ্চয়তা প্রদান না-ও করতে পারে যদি তারা পূর্বোক্তদের স্তরের নিচে অবস্থান করেন।

আর দ্বিতীয় প্রকারের ক্ষেত্রে উদ্দেশ্য হলো: প্রাধান্যপ্রাপ্ত (الراجح) বিষয়টি জানা, যাতে বর্ণনার পারস্পরিক বিরোধের (التعارض) সময় তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া যায়।

আর তৃতীয় প্রকারের ক্ষেত্রে উদ্দেশ্য হলো: সেই বর্ণনাগুলো চেনা যা সাক্ষী (الشواهد), শক্তি প্রদানকারী (العواضد) এবং অনুগামী (المتابعات) হওয়ার যোগ্য এবং এ ক্ষেত্রে সেগুলোর যোগ্যতার মান কতটুকু তা নিরূপণ করা। কেননা, এমন হতে পারে যে তিনজন বর্ণনাকারী সম্পর্কে এটি সত্য যে তারা ন্যায়পরায়ণতা ও স্মৃতিশক্তির (العدالة والضبط) অধিকারী নন, কিন্তু যদি তাদের মতো অন্য কোনো বর্ণনাকারী তাদের অনুসরণ (تابعه) করে তবে সেই খবরটি দলিল (الحجة) হিসেবে পেশ করার যোগ্য হতে পারে।

দ্বিতীয় স্তরের বর্ণনাকারীর মান হলো মধ্যম পর্যায়ের, যেখানে যদি তার মতো অন্য কেউ তাকে অনুসরণ (تابعه) করে তবে তা সেই মানে পৌঁছাবে না, বরং এক্ষেত্রে আরও দুই বা তিনজন অনুসারীর (متابعة) প্রয়োজন হবে এবং এভাবেই পর্যায়ক্রম চলতে থাকে।

আর তৃতীয় স্তরের বর্ণনাকারীর মান এতটাই দূরবর্তী যে, যদি তার মতো দশজনও তাকে অনুসরণ করে তবে তা কোনো উপকারে আসবে না; বরং তখন বলা হবে: যেন তারা পরস্পর যোগসাজশ (تواطؤوا) করেছে অথবা তাদের একজন অন্যজনের থেকে তা চুরি করেছে, কিংবা কোনো চরম মিথ্যাবাদী-জালিয়াত (الدجالين) এটি তাদের নামে বানিয়ে (وضعه) তাদের শিখিয়ে দিয়েছে অথবা অনুরূপ কিছু।

একইভাবে সনদের ধারাবাহিকতা বা সংযুক্ততা (الاتصال) এবং বর্ণনার ব্যতিক্রমতা (الشذود) ও সূক্ষ্ম ত্রুটি (العلة) সম্পর্কে জ্ঞান রাখা এই তিন প্রকারের ক্ষেত্রেই প্রয়োজন, যা গভীর চিন্তার মাধ্যমে অনুধাবন করা যায়।

এই ইলম বা শাস্ত্র প্রথম শতাব্দীগুলোতে তার শিখরে পৌঁছেছিল, অতঃপর মধ্যযুগে মানুষ এটি থেকে দূরে সরে যায়; কারণ সাধারণ মানুষের বড় অংশ অনুসরণের পরিবর্তে অন্ধ অনুকরণের (التقليد) ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। আর মুকাল্লিদদের মধ্যে যাদের সুন্নাহর প্রয়োজন হতো, তাদের মূল লক্ষ্য ছিল নিজ মাজহাবকে বিজয়ী করা। ফলে তারা বর্ণিত হাদিসগুলোর প্রতি দৃষ্টি দিত এবং দেখত যে, সেগুলোর মধ্যে কোনটি তাদের মাজহাবের অনুকূলে আর কোনটি প্রতিকূলে। অতঃপর তারা অনুকূল বর্ণনাকে শক্তিশালী (تقوية) করার এবং প্রতিকূল বর্ণনাকে দুর্বল (تضعيف) সাব্যস্ত করার আপ্রাণ চেষ্টা করত। সুতরাং যখন তারা মতভেদপূর্ণ মূলনীতিসমূহের মধ্যে এমন কিছু পেত যা তাদের সহায়ক, তখন তারা সেটাকেই আঁকড়ে ধরত ও সমর্থন করত এবং যা তাদের প্রতিকূলে যেত তা দুর্বল (توهين) করার চেষ্টা করত। আর যদি তারা তাদের খেয়ালখুশি অনুযায়ী কোনো মূলনীতি খুঁজে না পেত, তবে তারা নিজেরাই একটি নতুন মূলনীতি উদ্ভাবন করত এবং অন্তত নিজ মাজহাবের অনুসারীদের মধ্যে তা প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করত। এ কারণেই এর আধিক্য দেখা যায়...
(খণ্ড: ১৫) ফী আহকামিল জারহি ওয়াত তা’দীল - যিমনা আসারুল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৮৮)
تناقضهم حتى في الأصول.

والمقصود: أن مرتبة التحقيق في هذا الفن عزَّ وجودُها في القرون الوسطى، إلا الواحد بعد الواحد.

فأما القرون المتأخرة فصار هذا العلم نسيًا منسيًّا؛ لأن كلَّ فرقةٍ قنعت بما عندها في كتب مذهبها، وأقرت مخالفيها على ما عندهم في كتب مذهبهم. وضَعُف العلمُ جملةً، بل هُجِرت كتب السنة نفسها، فكم من كتاب من كتبها لا يوجد في مكاتب العالم منه إلا نسخة أو نسختان، ومنها ما فُقِد ألبته، إلا أنّ الاعتناء بالسنة في الجملة بقيت منه بقيّة في اليمن والهند، ثم في هذا القرن بدأ الناس يتراجعون إلى الاعتبار بالسنة شيئًا فشيئًا. ولله الحمد.

والناظرون في هذا الفن من أهل العصر فريقان:

فريق ليسوا من المعتنين بالسنة أصلًا، وإنما يضطرّ أحدُهم إلى تثبيت حديث أورده، فيتعاطى الكلام عليه.

وهؤلاء لا يُعْبأ بهم، ولا بغلطهم.

وفريق لهم عناية بالسنة في الجملة، وأكثرهم من يرى أنه إذا طالع بعضَ كتب المصطلح كـ"شرح ألفية العراقي"، و"شرح تدريب النواوي"، ثم حَصَلت له نسخةٌ من "تهذيب التهذيب"، ونسخة من "لسان الميزان" فقد أخذ بناصية الفن!

وهيهات هيهات العقيقُ وأهلُه … وهيهاتَ خِلٌّ بالعقيق نُحاوله(1)

--------------------------------------------

(1) البيت لجرير في "ديوانه" (ص 385). وفيه:

فأيهات أيهات العقيقُ ومَن به … وأيهات وصلٌ بالعقيق تواصله

وبسياق المؤلف في "الصحاح": (6/ 2258)، و"اللسان": (13/ 552).
মূলনীতিসমূহের (الأصول) ক্ষেত্রেও তাদের বৈপরীত্য।

উদ্দেশ্য হলো: এই বিদ্যায় গবেষণা ও যাচাই-বাছাইয়ের (التحقيق) স্তর মধ্যযুগীয় শতাব্দীগুলোতে বিরল হয়ে গিয়েছিল, কদাচিৎ দু-একজন ব্যতীত।

আর পরবর্তী শতাব্দীগুলোতে এই ইলম পুরোপুরি বিস্মৃত হয়ে গিয়েছিল; কারণ প্রতিটি দল তাদের নিজস্ব মাযহাবের কিতাবসমূহে যা ছিল তা নিয়েই তুষ্ট ছিল এবং তাদের বিরোধীদের কিতাবে যা ছিল তা তারা মেনে নিয়েছিল। ফলে সামগ্রিকভাবে ইলম দুর্বল হয়ে পড়ে, এমনকি সুন্নাহর কিতাবসমূহও পরিত্যক্ত হয়। সুন্নাহর কিতাবগুলোর মধ্যে এমন অনেক কিতাব রয়েছে যার মাত্র একটি বা দুটি পাণ্ডুলিপি বিশ্বের লাইব্রেরিগুলোতে পাওয়া যায়, আবার কোনটি তো একেবারেই হারিয়ে গেছে। তবে সামগ্রিকভাবে সুন্নাহর প্রতি যত্নের কিছু অবশিষ্টাংশ ইয়ামেন ও ভারতে অবশিষ্ট ছিল, অতঃপর এই শতাব্দীতে মানুষ ধীরে ধীরে সুন্নাহর নির্ভরযোগ্যতা যাচাইয়ের (الاعتبار) দিকে ফিরে আসতে শুরু করেছে। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।

বর্তমান যুগে এই বিদ্যায় দৃষ্টিদানকারীরা দুই দলে বিভক্ত:

একদল যারা সুন্নাহর প্রতি মোটেও যত্নবান নন, বরং তাদের কেউ তার বর্ণিত কোনো হাদিসকে প্রমাণ করার জন্য বাধ্য হয়ে সে সম্পর্কে আলোচনা শুরু করেন।

এদের প্রতি এবং এদের ভুলভ্রান্তির প্রতি কোনো ভ্রুক্ষেপ করা হয় না।

আর অন্য দলটি সামগ্রিকভাবে সুন্নাহর প্রতি যত্নশীল, তাদের অধিকাংশের ধারণা এই যে, যদি তারা হাদিস পরিভাষা (المصطلح) শাস্ত্রের কিছু কিতাব যেমন ‘শারহু আলফিয়াতিল ইরাকি’ এবং ‘শারহু তাদরিবিন নাওয়াবি’ অধ্যয়ন করে, এরপর তার কাছে ‘তাহজিবুত তাহজিব’ এবং ‘লিসানুল মিজান’-এর একটি কপি সংগৃহীত হয়, তবে সে যেন এই শাস্ত্রের মূল শীর্ষকে ধারণ করেছে!

হায়, কতই না সুদূর পরাহত আকিক উপত্যকা এবং তার অধিবাসীবৃন্দ! আর কতই না সুদূর পরাহত সেই বন্ধু, যাকে আমরা আকিক উপত্যকায় খুঁজছি।(১)

--------------------------------------------

(১) কবিতাটি জারীরের 'দিওয়ান'-এ (পৃ. ৩৮৫) রয়েছে। সেখানে আছে:

হায়, কতই না সুদূর পরাহত আকিক উপত্যকা এবং সেখানে যারা আছে! আর কতই না সুদূর পরাহত সেই মিলন, যা তুমি আকিক উপত্যকায় প্রত্যাশা করো।

আর লেখকের উদ্ধৃতিটি ‘আস-সিহাহ’ (৬/২২৫৮) এবং ‘আল-লিসান’ (১৩/৫৫২) অনুযায়ী।
(খণ্ড: ১৫) ফী আহকামিল জারহি ওয়াত তা’দীল - যিমনা আসারুল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৮৯)
وإيضاح ذلك بوجوه(1).

 

‌‌فصل

المجهول
(2)

--------------------------------------------

(1) هنا انقطع الكلام فلعله سقط صفحة أو أكثر.

(2) لم يكتب المؤلف تحت هذا العنوان شيئًا وأبقى باقي الصفحة بياضًا، فهل كتب المؤلف بقية المبحث في مكان آخر أم وقف به القلم هنا؟ فالله أعلم.
এবং এর বিশদ ব্যাখ্যা বিভিন্ন দিক থেকে হতে পারে(১).

 

‌‌পরিচ্ছেদ

অজ্ঞাত (مجهول)
(২)

--------------------------------------------

(১) এখানে আলোচনাটি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে; সম্ভবত এক বা একাধিক পৃষ্ঠা ঝরে গেছে (হারিয়ে গেছে)।

(২) লেখক এই শিরোনামের অধীনে কিছুই লিখেননি এবং পৃষ্ঠার বাকি অংশ ফাঁকা রেখেছেন। সুতরাং লেখক কি আলোচনার অবশিষ্টাংশ অন্য কোথাও লিখেছেন নাকি তাঁর কলম এখানেই থেমে গেছে? আল্লাহই সর্বজ্ঞ।