(খণ্ড: ১)
আল ইস্তিবসার ফী নাকদিল আখবার - যিমনা আসারুল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: -)
الاستبصار في نقد الأخبار - ضمن «آثار المعلمي» القسم: علوم الحديث
الكتاب: الاستبصار في نقد الأخبار
[آثار عبد الرحمن بن يحيى المعلمي اليماني (15)]
المؤلف: عبد الرحمن بن يحيى المُعَلِّمي اليماني (1313 - 1386 هـ)
المحقق: علي بن محمد العمران
راجعه: محمد أجمل الإصلاحي - عادل بن عبد الشكور الزرقي
الناشر: دار عالم الفوائد للنشر والتوزيع
الطبعة: الأولى، 1434 هـ
قدمه للشاملة: مؤسسة «عطاءات العلم»، جزاهم الله خيرا
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 10 شوّال 1442
আল-ইস্তিবসার ফি নাকদিল আখবার - 'আসারুল মুয়াল্লিমী'-এর অন্তর্ভুক্ত বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র (علوم الحديث)
গ্রন্থ: আল-ইস্তিবসার ফি নাকদিল আখবার
[আব্দুর রহমান বিন ইয়াহইয়া আল-মুয়াল্লিমী আল-ইয়ামানীর রচনাবলি (১৫)]
লেখক: আব্দুর রহমান বিন ইয়াহইয়া আল-মুয়াল্লিমী আল-ইয়ামানী (১৩১৩ - ১৩৮৬ হিজরি)
গবেষক (محقق): আলী বিন মুহাম্মাদ আল-উমরান
পরিমার্জন করেছেন (راجعه): মুহাম্মদ আজমল আল-ইসলাহি - আদিল বিন আব্দুশ শাকুর আজ-জুরকি
প্রকাশক: দারু আলামিল ফাওয়ায়িদ লিন-নাশর ওয়াত-তাউজি
সংস্করণ: প্রথম، ১৪৩৪ হিজরি
শামেলার জন্য পেশ করেছে: 'আতাআত আল-ইলম' সংস্থা، আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দান করুন
[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১০ শাওয়াল ১৪৪২
(খণ্ড: ১৫)
আল ইস্তিবসার ফী নাকদিল আখবার - যিমনা আসারুল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৩)
الرسالة الأولى
الاستبصار في نقد الأخبار
প্রথম পত্র
সংবাদ বা বর্ণনা (أخبار) পর্যালোচনার (نقد) ক্ষেত্রে অন্তর্দৃষ্টি
(খণ্ড: ১৫)
আল ইস্তিবসার ফী নাকদিল আখবার - যিমনা আসারুল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৫)
[ص 1] بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
الحمد لله، نحمده ونستعينه، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضلَّ له، ومن يضلله فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأنّ محمدًا عبده ورسوله.
اللهم صلّ على محمد وعلى آل محمد كما صليت على آل إبراهيم، وبارك على محمد وعلى آل محمد كما باركت على آل إبراهيم، إنك حميد مجيد.
أما بعد، فهذه ــ إن شاء الله تعالى ــ رسالة في معرفة الحديث، أتوخّى فيها تحريرَ المطالب، وتقرير الأدلة، وأتتبع مذاهبَ أئمة الجرح والتعديل فيها؛ ليتحرَّر بذلك ما تعطيه كلماتُهم في الرواة.
فإنّ منهم من لا يطلق "ثقة" إلا على مَن كان في الدرجة العُليا مِن العدالة والضبط، ومنهم مَن يطلقها على كلّ عدلٍ ضابط وإن لم يكن في الدرجة العليا، ومنهم من يطلقها على العدل وإن لم يكن ضابطًا، ومنهم مَن يطلقها على المجهول الذي روى حديثًا واحدًا قد تُوبع عليه، ومنهم مَن يطلقها على المجهول الذي روى حديثًا له شاهد، ومنهم من يطلقها على المجهول الذي روى حديثًا لم يستنكره هو، ومنهم من يطلقها على المجهول الذي روى عنه ثقة، إلى غير ذلك مما يأتي إن شاء الله تعالى.
[ص 2] وهم ــ مع ذلك ــ مختلفون في الاستدلال على أحوال الرواة؛ فمنهم المبالغ في التثبُّت، ومنهم المسامح. ومَنْ لم يعرف مذهب الإمام منهم ومنزلته من التثبُّت لم يعرف ما تعطيه كلمتُه، وحينئذٍ فإما أن يتوقَّف،
[পৃষ্ঠা ১] পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি এবং তাঁর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তার জন্য কোনো পথপ্রদর্শক নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক ও অদ্বিতীয়, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।
হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মদ এবং মুহাম্মদের বংশধরদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন, যেমন আপনি ইব্রাহিমের বংশধরদের ওপর রহমত বর্ষণ করেছেন। মুহাম্মদ এবং মুহাম্মদের বংশধরদের ওপর বরকত নাযিল করুন, যেমন আপনি ইব্রাহিমের বংশধরদের ওপর বরকত নাযিল করেছেন। নিশ্চয়ই আপনি অত্যন্ত প্রশংসিত ও মহিমান্বিত।
অতঃপর, ইনশাআল্লাহ এটি হাদিস পরিচিতি (معرفة الحديث) বিষয়ক একটি পুস্তিকা, যাতে আমি বিষয়বস্তুসমূহ বিশ্লেষণ করা এবং দলিলসমূহ সুপ্রতিষ্ঠিত করার প্রয়াস পেয়েছি। এতে আমি জারহ ও তা'দিল (الجرح والتعديل)-এর ইমামগণের মাযহাবসমূহ অনুসরণ করেছি; যাতে বর্ণনাকারীদের (الرواة) ব্যাপারে তাঁদের ব্যবহৃত পরিভাষাগুলোর প্রকৃত অর্থ সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে।
কেননা তাঁদের মধ্যে এমন কেউ রয়েছেন যিনি 'নির্ভরযোগ্য' (ثقة) শব্দটি কেবল তাঁর ক্ষেত্রেই প্রয়োগ করেন যিনি ন্যায়পরায়ণতা (العدالة) এবং ধারণক্ষমতার (الضبط) সর্বোচ্চ স্তরে রয়েছেন। আবার তাঁদের কেউ কেউ প্রত্যেক ন্যায়পরায়ণ (عدل) ও প্রখর স্মৃতিসম্পন্ন (ضابط) ব্যক্তির ক্ষেত্রেই তা প্রয়োগ করেন, যদিও তিনি উচ্চপর্যায়ের না হন। আবার তাঁদের কেউ কেউ কেবল ন্যায়পরায়ণ (عدل) ব্যক্তির ক্ষেত্রেও তা ব্যবহার করেন, যদিও তার মাঝে প্রখর স্মৃতিশক্তি (ضابط) না থাকে। আবার কেউ কেউ এমন অজ্ঞাত (المجهول) বর্ণনাকারীর ক্ষেত্রেও তা প্রয়োগ করেন যিনি মাত্র একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং যার অনুকূলে অন্য বর্ণনার সমর্থন (توبع) পাওয়া গেছে। আবার তাঁদের কেউ কেউ এমন অজ্ঞাত (المجهول) ব্যক্তির ক্ষেত্রেও এটি ব্যবহার করেন যার বর্ণিত হাদিসের স্বপক্ষে কোনো সাক্ষী বা শাহেদ (شاهد) বিদ্যমান। আবার তাঁদের কেউ এমন অজ্ঞাত (المجهول) ব্যক্তির ক্ষেত্রেও এটি প্রয়োগ করেন যার বর্ণিত হাদিসকে তিনি নিজে মুনকার বা আপত্তিকর (يستنكره) মনে করেননি। আবার কেউ কেউ এমন অজ্ঞাত (المجهول) ব্যক্তির ক্ষেত্রেও এটি ব্যবহার করেন যার থেকে কোনো নির্ভরযোগ্য (ثقة) ব্যক্তি হাদিস বর্ণনা করেছেন। এ জাতীয় আরও বিষয় সামনে আসবে ইনশাআল্লাহ।
[পৃষ্ঠা ২] পাশাপাশি, বর্ণনাকারীদের (الرواة) অবস্থা সম্পর্কে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেও তাঁদের মাঝে ভিন্নতা রয়েছে; তাঁদের মধ্যে কেউ সতর্কতার (التثبت) ক্ষেত্রে কঠোর, আবার কেউ শিথিলকারী (المسامح)। সুতরাং যে ব্যক্তি তাঁদের মধ্য থেকে কোনো ইমামের মাযহাব এবং সতর্কতার (التثبت) ক্ষেত্রে তাঁর অবস্থান সম্পর্কে অবগত নন, তিনি সেই ইমামের বক্তব্যের মর্মার্থ অনুধাবন করতে পারবেন না। এমতাবস্থায় তিনি হয়তো সিদ্ধান্তহীনতায় বিরত থাকবেন (يتوقف),
(খণ্ড: ১৫)
আল ইস্তিবসার ফী নাকদিল আখবার - যিমনা আসারুল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৬)
وإما أن يحملها على أدنى الدرجات، ولعل ذلك ظلم لها. وإما أن يحملها على ما هو المشهور في كتب المصطلح، ولعلَّ ذلك رفعٌ لها عن درجتها. وبالجملة، فإن لم يتوقف قال بغير علم، وسار على غير هدى.
وأرجو ــ إذا يسَّر الله تبارك وتعالى إتمام هذه الرسالة كما أحبّ ــ أن يتضح لقارئها سبيل القوم في نقد الحديث، ويتبين أن سلوكها ليس من الصعوبة بالدرجة التي يُقطع بامتناعها، وعسى أن يكون ذلك داعيًا لأولي الهمم إلى الاستعداد لسلوكها، فيكون منهم أئمة مجتهدون في ذلك إن شاء الله تعالى.
هذا؛ ونقد الخبر على أربع مراتب:
الأولى: النظر في أحوال رجال سنده واحدًا واحدًا.
الثانية: النظر في اتصاله.
الثالثة: البحث والنظر في الأمور التي تدل على خطأ إن كان.
الرابعة: النظر في الأدلة الأخرى مما يوافقه أو يخالفه.
فلنعقد لكلِّ واحدة من هذه الأربع مقالةً، ونسأل الله تبارك وتعالى التوفيق.
হয় তাকে সর্বনিম্ন স্তরে নামিয়ে দেওয়া হবে, আর সম্ভবত তা হবে তার প্রতি এক প্রকার অবিচার। অথবা তাকে পরিভাষা (اصطلاح) সংক্রান্ত গ্রন্থাবলীতে যা প্রসিদ্ধ তার ওপর প্রয়োগ করা হবে, আর সম্ভবত তা হবে তাকে তার প্রকৃত স্তরের চেয়ে ঊর্ধ্বে তুলে ধরা। সারকথা হলো, সে যদি বিরতি না নেয় (যথাযথ পর্যবেক্ষণ না করে), তবে সে জ্ঞান ছাড়াই কথা বলল এবং সঠিক দিকনির্দেশনা ছাড়া পথ চলল।
আর আমি আশা করি—যদি আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা আমার পছন্দ অনুযায়ী এই প্রবন্ধটি সম্পন্ন করা সহজ করে দেন—তবে এর পাঠকের নিকট হাদিস যাচাই বা সমালোচনা (نقد) করার ক্ষেত্রে পূর্বসূরিদের পথ সুস্পষ্ট হয়ে উঠবে এবং এটি প্রতীয়মান হবে যে, সেই পথে চলা ততটা কঠিন নয় যাকে অসম্ভব বলে গণ্য করা যায়। আর আশা করা যায় যে, এটি উচ্চাকাঙ্ক্ষীদের সেই পথে চলার প্রস্তুতি গ্রহণে অনুপ্রাণিত করবে, ফলে তাদের মধ্য থেকে এই বিষয়ে ইজতিহাদকারী (مجتهدون) ইমামগণ তৈরি হবেন, ইনশাআল্লাহ তায়ালা।
যাহোক, সংবাদ বা বর্ণনা যাচাই (نقد الخبر) করার চারটি স্তর (مراتب) রয়েছে:
প্রথমত: সনদের (سند) বর্ণনাকারীদের (رجال) অবস্থা একে একে পর্যবেক্ষণ করা।
втоরীয়ত: এর নিরবচ্ছিন্নতা (اتصال) পর্যবেক্ষণ করা।
তৃতীয়ত: যদি কোনো ভুল থেকে থাকে, তবে সেই ইঙ্গিতবাহী বিষয়গুলো নিয়ে অনুসন্ধান ও পর্যবেক্ষণ করা।
চতুর্থত: অন্যান্য প্রমাণের দিকে লক্ষ্য করা যা এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় কিংবা এর পরিপন্থী হয়।
অতএব, আসুন আমরা এই চারটির প্রত্যেকটির জন্য একটি করে পরিচ্ছেদ গঠন করি এবং আমরা আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালার নিকট তাওফিক প্রার্থনা করছি।
(খণ্ড: ১৫)
আল ইস্তিবসার ফী নাকদিল আখবার - যিমনা আসারুল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৭)
[ص 3]
المقالة الأولى: في النظر في أحوال الرواةشرط قبول الخبر: أن يكون المُخبِر حين أَخبر به مسلمًا بالغًا عاقلًا عدلًا ضابطًا.
الباب الأول: في الإسلامأما الإسلام فلاشتراطه أدلّة:
منها: أنَّ عامَّة الأدلة على مشروعية العمل بخبر الواحد في الدّين خاصة واردةٌ في خبر المسلم.
ومنها: قول الله تبارك وتعالى في المنافقين والرد عليهم: {وَمِنْهُمُ الَّذِينَ يُؤْذُونَ النَّبِيَّ وَيَقُولُونَ هُوَ أُذُنٌ قُلْ أُذُنُ خَيْرٍ لَكُمْ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَيُؤْمِنُ لِلْمُؤْمِنِينَ} [التوبة: 61].
أي: ويصدِّق المؤمنين.
ومنها: قوله تعالى: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنْ جَاءَكُمْ فَاسِقٌ بِنَبَإٍ فَتَبَيَّنُوا} [الحجرات: 6].
والكفر أشدّ الفسق قال تعالى: {أَفَمَنْ كَانَ مُؤْمِنًا كَمَنْ كَانَ فَاسِقًا لَا يَسْتَوُونَ} إلى قوله: {وَأَمَّا الَّذِينَ فَسَقُوا فَمَأْوَاهُمُ النَّارُ كُلَّمَا أَرَادُوا أَنْ يَخْرُجُوا مِنْهَا أُعِيدُوا فِيهَا وَقِيلَ لَهُمْ ذُوقُوا عَذَابَ النَّارِ الَّذِي كُنْتُمْ بِهِ تُكَذِّبُونَ} [الجرز
(1): 18 ــ 20].
--------------------------------------------
[ص ৩]
প্রথম প্রবন্ধ: বর্ণনাকারীদের (الرواة) অবস্থা পর্যালোচনার বর্ণনায়সংবাদ (خبر) কবুল হওয়ার শর্ত: সংবাদ প্রদানকারী (المخبر) যখন সংবাদ প্রদান করবেন, তখন তাকে অবশ্যই মুসলিম (مسلم), প্রাপ্তবয়স্ক (بالغ), সুস্থমস্তিষ্কসম্পন্ন (عاقل), ন্যায়পরায়ণ (عدل) এবং প্রখর স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন (ضابط) হতে হবে।
প্রথম অধ্যায়: ইসলাম প্রসঙ্গেইসলাম শর্ত হওয়ার পেছনে অনেক দলীল রয়েছে:
তার মধ্যে একটি হলো: দ্বীনের ক্ষেত্রে একক সংবাদের (خبر الواحد) ওপর আমল করার বৈধতার স্বপক্ষে সাধারণ দলীলসমূহ বিশেষভাবে কেবল মুসলিমের সংবাদের ক্ষেত্রেই বর্ণিত হয়েছে।
অন্যটি হলো: মুনাফিকদের সম্পর্কে এবং তাদের প্রতিবাদে আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার বাণী: {এবং তাদের মধ্যে এমন লোক রয়েছে যারা নবীকে কষ্ট দেয় এবং বলে, ‘সে তো কান (সবার কথা শোনে)’; বলুন, ‘সে কান তোমাদের জন্য কল্যাণের; সে আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখে এবং মুমিনদের (المؤمنين) বিশ্বাস করে’} [আত-তাওবাহ: ৬১]।
অর্থাৎ: তিনি মুমিনদের সত্যবাদী বলে গণ্য করেন।
আরেকটি হলো: মহান আল্লাহর বাণী: {হে মুমিনগণ! যদি কোনো পাপাচারী (فاسق) তোমাদের কাছে কোনো সংবাদ নিয়ে আসে, তবে তোমরা তা যাচাই করে নাও} [আল-হুজুরাত: ৬]।
আর কুফর (الكفر) হলো সর্বাপেক্ষা বড় পাপাচার (الفسق)। আল্লাহ তাআলা বলেন: {তবে কি যে মুমিন সে কি তার মতো যে পাপাচারী (فاسق)? তারা সমান নয়...} মহান আল্লাহর এই বাণী পর্যন্ত: {আর যারা পাপাচার (فسق) করেছে তাদের আবাসস্থল হলো জাহান্নাম। যখনই তারা সেখান থেকে বের হতে চাইবে, তখনই তাদের সেখানে ফিরিয়ে দেওয়া হবে এবং তাদের বলা হবে, ‘তোমরা আগুনের সেই আযাব আস্বাদন করো, যা তোমরা অস্বীকার করতে’} [আল-জুরুয
(১): ১৮ ــ ২০]।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৫)
আল ইস্তিবসার ফী নাকদিল আখবার - যিমনা আসারুল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৮)
وقال سبحانه: {وَلَقَدْ أَنْزَلْنَا إِلَيْكَ آيَاتٍ بَيِّنَاتٍ وَمَا يَكْفُرُ بِهَا إِلَّا الْفَاسِقُونَ} [البقرة: 99].
والآيات في ذلك كثيرة.
وتبادُر المسلم من نحو قولك: "رأيتُ رجلًا فاسقًا" من العُرف الحادث [ص 4] بعد صدر الإسلام، وسببه: أنه صار الغالب إذا ذُكِر الكافر أن يُذْكر بلفظه الخاص به "كافر" أو ما يعطي ذلك مثل: "يهودي، ونصراني، ومجوسي". وإذا ذُكِر المسلم الذي ليس بعَدْل أن يُذكر بنحو: "فاسق، وفاجر"، ومثل هذا العرف لا يعتدّ به في فهم القرآن.
وغَفَل بعضهم عن هذا فظنَّ أن دخول الكافر في الآية إنما هو من باب الفحوى، قال: لأنه أسوأ حالًا من الفاسق.
ونُوقش في ذلك بأن الفسق مظنة التساهل في الكذب، إذ المانع من الكذب هو الخوف من الله عز وجل، ومن عيب الناس، ومرتكب الكبيرة قد دلَّ بارتكابه إياها على ضعف هذا الخوف من نفسه.
وأما الكافر فقد يكون عدلًا في دينه بأن يكون يحسب أنه على الدين الحقّ، ويحافظ على حدود ذلك الدين، ويخاف الله عز وجل والناس بحسب ذلك.
أقول: في هذا نظر؛ فإن الحجة قد قامت على الكافر، فدلَّ ذلك على كذبه في زعمه أنه يعتقد أنَّ دينه حقّ.
মহান আল্লাহ বলেন: "আর আমি আপনার প্রতি সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ নাজিল করেছি; আর পাপাচারীরা (الفاسقون) ব্যতীত অন্য কেউ তা অস্বীকার করে না।" [আল-বাকারা: ৯৯]।
এ বিষয়ে আয়াতসমূহ অনেক।
আপনার কথা: "আমি একজন পাপাচারী (فاسق) ব্যক্তিকে দেখেছি"—এ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে একজন মুসলিমের কথা বুঝে আসা মূলত ইসলামের প্রাথমিক যুগের পরবর্তী সময়ের একটি পরিভাষা [পৃষ্ঠা ৪]। এর কারণ হলো: সাধারণত যখন কাফিরের কথা উল্লেখ করা হয়, তখন তাকে তার নির্দিষ্ট শব্দ ‘কাফির’ অথবা এমন কোনো নামে অভিহিত করা হয় যা একই অর্থ প্রদান করে; যেমন: ‘ইহুদি’, ‘খ্রিস্টান’ ও ‘অগ্নিপূজক’। আর যখন এমন কোনো মুসলিমের কথা উল্লেখ করা হয় যে ন্যায়পরায়ণ (عدل) নয়, তখন তাকে ‘পাপাচারী (فاسق)’ বা ‘দুরাচারী (فاجر)’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। কুরআন বোঝার ক্ষেত্রে এই ধরনের পরবর্তীকালের পরিভাষা ধর্তব্য নয়।
কেউ কেউ এ বিষয়টি লক্ষ্য করেননি, ফলে তারা মনে করেছেন যে আয়াতে কাফিরের অন্তর্ভুক্ত হওয়াটি কেবল ইঙ্গিতের (ফাহওয়া) মাধ্যমে হয়েছে। তারা বলেছেন: কারণ কাফিরের অবস্থা পাপাচারী (فاسق)-এর চেয়েও মন্দ।
এ বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে যে, পাপাচার (فسق) মিথ্যা বলার ক্ষেত্রে শিথিলতার একটি ক্ষেত্র; কেননা মিথ্যা থেকে বিরত রাখার মূল কারণ হলো মহান আল্লাহর ভয় এবং লোকলজ্জার ভয়। আর কবিরা গুনাহে (كبيرة) লিপ্ত ব্যক্তি তা করার মাধ্যমে নিজের মধ্যে এই ভয়ের দুর্বলতাই প্রকাশ করেছে।
পক্ষান্তরে কাফির ব্যক্তি তার নিজ ধর্মের বিচারে ন্যায়পরায়ণ (عدل) হতে পারে; অর্থাৎ সে হয়তো মনে করে যে সে সত্য ধর্মের ওপর আছে এবং সেই ধর্মের বিধিবিধানগুলো সংরক্ষণ করে এবং সেই অনুযায়ী মহান আল্লাহ ও মানুষকে ভয় পায়।
আমি বলব: এই বক্তব্যে আপত্তির অবকাশ আছে; কেননা কাফিরের বিরুদ্ধে অকাট্য প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সুতরাং এটি তার সেই দাবির মিথ্যা হওয়াই প্রমাণ করে যে, সে তার ধর্মকে সত্য মনে করে।
(খণ্ড: ১৫)
আল ইস্তিবসার ফী নাকদিল আখবার - যিমনা আসারুল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৯)
والكافر الذي بلغته دعوة الإسلام لا يخلو عن واحد من ثلاثة أمور:
الأول: التقصير في البحث عن الدين الحق.
الثاني: الهوى الغالب.
الثالث: العناد.
ولو برئ من هذه الثلاثة لأسلم، قال الله تبارك وتعالى: {وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنِ افْتَرَى عَلَى اللَّهِ كَذِبًا أَوْ كَذَّبَ بِالْحَقِّ لَمَّا جَاءَهُ أَلَيْسَ فِي جَهَنَّمَ مَثْوًى لِلْكَافِرِينَ (68) وَالَّذِينَ جَاهَدُوا فِينَا لَنَهْدِيَنَّهُمْ سُبُلَنَا وَإِنَّ اللَّهَ لَمَعَ الْمُحْسِنِينَ} [العنكبوت
(1): 68 - 69].
[ص 5] وقد اتفقوا على أنّ من كان مسلمًا مخالطًا للمسلمين، ثم ارتكب كبيرة قد قامت الحجة القاطعة بأنها كبيرة ــ كأن ترك صوم رمضان ــ فهو فاسق، فإن زاد على ذلك فزعم أنه لا حجَّة عنده على تحريم ما ارتكبه كان مرتدًّا، وهو في باب الأخبار أسوأ حالًا من المسلم المرتكب الكبيرة مع اعترافه بأنها كبيرة.
فإن قيل: إننا نجد من الكفار من يبالغ في تحرِّي الصدق والأمانة، حتى إن مَن يَخبر حاله، ويتّبع أخباره، قد يكون أوثق بخبره من خبر كثير من عدول المسلمين.
قلت: وكذلك في فُسّاق المسلمين ممن يترك الصلاة المفروضة ــ مثلًا ــ من يكون حاله في إظهار تحرِّي الصدق والأمانة كحال الكافر المذكور.
--------------------------------------------
আর যে কাফিরের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছেছে, সে তিনটি বিষয়ের যেকোনো একটি থেকে মুক্ত নয়:
প্রথম: সত্য দ্বীন অন্বেষণে অবহেলা।
দ্বিতীয়: প্রবল প্রবৃত্তি।
第三: হঠকারিতা।
যদি সে এই তিনটি বিষয় থেকে মুক্ত থাকত তবে অবশ্যই ইসলাম গ্রহণ করত। আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা বলেছেন: "যে আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আরোপ করে অথবা তার কাছে সত্য আসার পর তাকে অস্বীকার করে, তার চেয়ে বড় যালিম আর কে? কাফিরদের আবাসস্থল কি জাহান্নাম নয়? আর যারা আমার পথে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালায়, আমি অবশ্যই তাদেরকে আমার পথে পরিচালিত করব। আর নিশ্চয়ই আল্লাহ সৎকর্মশীলদের সাথে আছেন।" [আনকাবুত
(১): ৬৮ - ৬৯]।
[পৃষ্ঠা ৫] আর ওলামায়ে কেরাম এই বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, যে ব্যক্তি মুসলিম ছিল এবং মুসলিমদের সাথে মেলামেশা করত, অতঃপর এমন কোনো কবিরা গুনাহে লিপ্ত হলো যার বড় গুনাহ হওয়ার ব্যাপারে অকাট্য দলিল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে—যেমন রমজানের রোজা ত্যাগ করা—তবে সে পাপাচারী (فاسق)। এরপর সে যদি এর চেয়েও বেশি কিছু করে এবং দাবি করে যে, সে যা লিপ্ত হয়েছে তা হারাম হওয়ার ব্যাপারে তার কাছে কোনো দলিল নেই, তবে সে ধর্মত্যাগী (مرتد) হিসেবে গণ্য হবে। আর সংবাদের (الأخبار) ক্ষেত্রে তার অবস্থা ওই মুসলিমের চেয়েও নিকৃষ্ট যে কবিরা গুনাহে লিপ্ত হওয়া সত্ত্বেও তা কবিরা গুনাহ বলে স্বীকার করে।
যদি বলা হয়: আমরা কাফিরদের মধ্যে এমন কিছু লোক পাই যারা সত্যবাদিতা ও আমানতদারিতার অনুসন্ধানে অত্যন্ত সচেষ্ট, এমনকি যে ব্যক্তি তার অবস্থা সম্পর্কে জানে এবং তার সংবাদের (أخبار) অনুসরণ করে, সে হয়তো অনেক ন্যায়পরায়ণ (عدول) মুসলিমের সংবাদের চেয়েও তার সংবাদের ওপর বেশি আস্থাশীল হতে পারে।
আমি বলব: তেমনিভাবে মুসলিমদের মধ্যকার পাপাচারীদের (فساق) মাঝেও—উদাহরণস্বরূপ যারা ফরজ নামাজ ত্যাগ করে—এমন লোক রয়েছে যাদের সত্যবাদিতা ও আমানতদারিতা প্রদর্শনের অবস্থা উল্লিখিত কাফিরের মতোই।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৫)
আল ইস্তিবসার ফী নাকদিল আখবার - যিমনা আসারুল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ১০)
وحل الإشكال من أوجه:
الأول: أنَّ الظاهر من حال الكافر والفاسق الذي يُعرف بتحرِّي الصدق أن المانع له من الكذب الخوف من الناس، وحبُّ السمعة الحسنة بينهم، وعلى هذا فهذا المانع إنّما يؤثر في الأخبار التي يخافُ من اطلاع الناس على جَليَّة الحال فيها، فلا يُؤمن ممن هذا حاله أن يكذب إذا ظن أنه لا يُوقَفُ على كذبه.
فالعدل في خبر هذا أن نتبيّن [ص 6] فيه، فإن ثبت بدليل موثوق به أنه صَدَق عُمل به لذلك الدليل، وإلا اطُّرح لعدم الوثوق به حينئذٍ.
الوجه الثاني: أنه لا يُسْتنكر من الشارع أن لا يعتدّ بصدق مثل هذا؛ لأنه ليس بصدقٍ يحمده عليه الشارع؛ إذ الباعثُ عليه هو رئاء الناس كما علمت.
الوجه الثالث: أنه لو فُرِض أنه يحصل من الوثوق بخبره كما يحصل بخبر المسلم العدل، فقد يكون الشارع جعل كفرَ هذا الرجل أو فسقَه مانعًا من قبول خبره في الدين؛ زجرًا له، وعونًا له على نفسه، لعله يستنكف من تلك الحال فيتوب، ورفعًا لتلك المرتبة العليّة ــ وهي أن يُدان بخبر الرجل ــ عمن لا يستحقها.
الوجه الرابع: أن السبب الباعث على الحكم قد يكون خفيًّا، أو غير منضبط، فإذا كان هكذا فلو كلَّف الشارعُ الناس ببناء الحكم عليه كان في ذلك مفاسدُ، منها: أنه من باب التكليف بما لا يطاق، ومنها: أنه فتحٌ لباب اتباع الهوى، ولكثرة الاختلاف، ولاتهام الحكام، وغير ذلك.
فاقتضت الحكمةُ أن يبني الشارعُ الحكمَ على أمر آخر يشتمل على
এই সমস্যার সমাধান কয়েকটি দিক থেকে দেওয়া হয়েছে:
প্রথমত: কাফির (كافر) এবং পাপাচারী (فাসق), যারা সত্যবাদিতা (صدق) অনুসন্ধানে সচেষ্ট বলে পরিচিত, তাদের বাহ্যিক অবস্থা থেকে এটি স্পষ্ট যে, তাদের মিথ্যা (كذب) থেকে বিরত রাখার মূল কারণ হলো লোকভয় এবং মানুষের মাঝে সুখ্যাতি অর্জনের আকাঙ্ক্ষা। এমতাবস্থায়, এই প্রতিবন্ধকটি কেবল সেইসব সংবাদ বা বর্ণনা (خبر)-এর ক্ষেত্রেই কার্যকর হয়, যেগুলোর প্রকৃত অবস্থা মানুষের সামনে প্রকাশ হয়ে যাওয়ার ভয় থাকে। সুতরাং, যার অবস্থা এমন, সে যখন মনে করবে যে তার মিথ্যা (كذب) ধরা পড়ার সম্ভাবনা নেই, তখন সে মিথ্যা বলবে না—এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায় না।
তাই এমন ব্যক্তির বর্ণনা (خبر)-এর ক্ষেত্রে সঠিক পন্থা হলো সেটি যাচাই করে দেখা [পৃষ্ঠা ৬]; যদি নির্ভরযোগ্য দলিলের মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে সে সত্য বলেছে, তবে সেই দলিলের ভিত্তিতেই তা আমলযোগ্য হবে। অন্যথায়, নির্ভরযোগ্যতার অভাবের কারণে সেই মুহূর্তে তা বর্জন করা হবে।
দ্বিতীয় দিক: শরিয়ত প্রণেতা (شارع) এমন ব্যক্তির সত্যবাদিতা (صدق)-কে গণ্য না করলে তা অযৌক্তিক হবে না; কারণ এটি এমন সত্যবাদিতা নয় যার জন্য শরিয়ত প্রণেতা (شارع) তাকে প্রশংসা করবেন; যেহেতু আপনি জেনেছেন যে, এর মূল প্রেরণা হলো লোকদেখানো (رئاء)।
তৃতীয় দিক: যদি ধরে নেওয়া হয় যে, তার বর্ণনা (خبر)-এর মাধ্যমে ঠিক তেমনই আস্থা অর্জিত হয় যেমনটি একজন ন্যায়পরায়ণ (عدل) মুসলিমের বর্ণনা (خبر)-এর মাধ্যমে হয়, তবুও হতে পারে যে শরিয়ত প্রণেতা (شارع) এই ব্যক্তির কুফর (كفر) বা পাপাচার (فسق)-কে দ্বীনি বিষয়ে তার বর্ণনা (خبر) গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক হিসেবে নির্ধারণ করেছেন; এটি তাকে সতর্ক করার জন্য এবং তার নফসের বিরুদ্ধে তাকে সহায়তা করার জন্য, যাতে সে হয়তো সেই অবস্থা থেকে লজ্জিত হয়ে তাওবা করে। এছাড়া এই উচ্চ মর্যাদা—অর্থাৎ যার বর্ণনা (خبر)-এর ওপর ভিত্তি করে দ্বীনি বিধান নির্ধারিত হয়—তা এমন ব্যক্তি থেকে সরিয়ে রাখার জন্য যে এর যোগ্য নয়।
চতুর্থ দিক: কোনো বিধান (حكم)-এর মূল কারণ বা প্রেরণা অনেক সময় অস্পষ্ট বা অনিয়মিত হতে পারে। বিষয়টি যদি এমনই হয়, তবে শরিয়ত প্রণেতা (شارع) যদি মানুষকে এর ওপর ভিত্তি করে বিধান (حكم) গঠনের দায়িত্ব দিতেন, তবে তাতে নানাবিধ অনিষ্ট নিহিত থাকত। যেমন: এটি সাধ্যাতীত কাজের দায়িত্ব দেওয়ার অন্তর্ভুক্ত হতো এবং এটি খেয়ালখুশির অনুসরণ, মতপার্থক্যের আধিক্য ও বিচারকদের ওপর অপবাদ আরোপসহ আরও অনেক ফিতনার দ্বার উন্মোচন করত।
তাই হিকমত বা প্রজ্ঞার দাবি হলো যে, শরিয়ত প্রণেতা (شارع) বিধান (حكم)-টিকে অন্য কোনো বিষয়ের ওপর ভিত্তি করবেন যা...
(খণ্ড: ১৫)
আল ইস্তিবসার ফী নাকদিল আখবার - যিমনা আসারুল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ১১)
ذلك السبب غالبًا، ثم تكفَّل الله عز وجل بتطبيق العدل بقضائه وقدره.
مثال ذلك: أن السبب الباعث على شرع العقوبة للمذنب هو الذنب، فإذا شُرعت العقوبة على وجهين ــ مثلًا ــ[ص 7] فإنما ذلك لاختلاف حال ذلك الذنب. فمن ذلك الزنا شُرِع الحدُّ عليه على وجهين:
الأول: الجلد.
الثاني: الرجم.
ولا يخفى أن الجلد أخفّ من الرجم، وأنّ حقّه أن يكون الرجم عقوبة لمن يكون زناه جرمًا أغلظ مِنْ زنا عقوبته الجلد، ولكنَّ الغِلَظَ والخِفَّة في الإجرام بالزنا أمرٌ لا ينضبط؛ لأن شديد الشهوة أقرب إلى العذر من ضعيفها، وشدّتها وضعفُها أمرٌ خفيٌّ وغير منضبط، والعاشق أقرب إلى العذر من غيره، والعشق يخفى ولا ينضبط. والمصادف للمرأة بغتةً أقرب إلى العذر من المتصدّي لها. والعاجز عن التزوّج بالمرأة أقرب إلى العذر من القادر على زواجها، في أمورٍ أخر.
فلذلك علّق الشارع الفرق بالإحصان وعدمه؛ لأن الغالب أن يكون المحصَن أضعف عذرًا من غيره، على أنه قد يتَّفق خلاف ذلك، فقد يكون شابٌّ فقيرٌ، قوي البنية، شديدُ الشهوة، عاشقًا لامرأة عاجزًا عن التزوّج بها، وهو يحبس نفسه عن التعرُّض لها، والقرب من مكانها، ثم حاول أن يدافع داعيته فتزوج امرأة فقيرة، فبات معها ليلة فهلكت، ثم لم يستطع الزواج بغيرها، ولم تزل نفسُه متعلّقة بمعشوقته، فبينا هو ليلةً في خلوة لم يفجأه إلا دخول معشوقته عليه، ورميها نفسها [ص 8] بين ذراعيه، فلم يتمالك أن كان ما
এটিই সাধারণত সেই কারণ, অতঃপর আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা তাঁর ফয়সালা ও তাকদীরের মাধ্যমে ন্যায়বিচার বাস্তবায়নের ভার গ্রহণ করেছেন।
এর উদাহরণ হলো: অপরাধীর জন্য দণ্ডবিধি (عقوبة) প্রবর্তনের মূল কারণ হলো অপরাধ। সুতরাং যখন দণ্ডবিধি দুই প্রকারে নির্ধারিত হয় — যেমন — [পৃষ্ঠা ৭] তবে তা কেবল সেই অপরাধের অবস্থার ভিন্নতার কারণেই। এর একটি উদাহরণ হলো ব্যভিচার (الزنا), যার ক্ষেত্রে নির্ধারিত দণ্ড (الحد) দুই প্রকারে প্রবর্তন করা হয়েছে:
প্রথম: বেত্রাঘাত (الجلد)।
দ্বিতীয়: পাথর নিক্ষেপে মৃত্যুদণ্ড (الرجم)।
আর এটি অস্পষ্ট নয় যে, বেত্রাঘাত (الجلد) পাথর নিক্ষেপে মৃত্যুদণ্ড (الرجم) অপেক্ষা লঘু, এবং এর যৌক্তিক দাবি হলো পাথর নিক্ষেপে মৃত্যুদণ্ড (الرجم) তার জন্য শাস্তি হওয়া উচিত যার ব্যভিচার সেই ব্যক্তির ব্যভিচার অপেক্ষা গুরুতর যার শাস্তি বেত্রাঘাত (الجلد)। কিন্তু ব্যভিচারের অপরাধের কঠোরতা ও লঘুতা এমন একটি বিষয় যা সুনির্দিষ্টভাবে নিরূপণযোগ্য নয় (لا ينضبط); কারণ তীব্র কামভাবসম্পন্ন ব্যক্তি এর দুর্বল অধিকারী অপেক্ষা ওজরের (عذر) অধিক নিকটবর্তী, আর কামভাবের তীব্রতা ও শিথিলতা একটি গোপন ও অনির্দিষ্ট (غير منضبط) বিষয়। এবং প্রেমিক ব্যক্তি অন্যের তুলনায় ওজরের (عذر) অধিক নিকটবর্তী, অথচ প্রেম-ভালোবাসা গোপন থাকে এবং সুনির্দিষ্টভাবে নিরূপণ করা যায় না (لا ينضبط)। হঠাৎ কোনো নারীর মুখোমুখি হওয়া ব্যক্তি ওজরের (عذر) ক্ষেত্রে ওই ব্যক্তির চেয়ে অধিক নিকটবর্তী যে উদ্দেশ্যমূলকভাবে তার পিছু নেয়। এবং যে ব্যক্তি বিয়ে করতে অক্ষম সে সক্ষম ব্যক্তির চেয়ে ওজরের (عذر) অধিক নিকটবর্তী; এ জাতীয় আরও অন্যান্য বিষয় রয়েছে।
এ কারণেই শরীয়ত প্রণেতা (الشارع) এই পার্থক্যের বিষয়টি বিবাহিত হওয়া (الإحصان) বা না হওয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট করেছেন; কারণ সাধারণত বিবাহিত ব্যক্তি (المحصن) অন্যদের তুলনায় ওজরের (عذر) ক্ষেত্রে দুর্বলতর হয়ে থাকে। যদিও এর বিপরীতে ঘটনাও ঘটতে পারে; যেমন কোনো এক যুবক দরিদ্র, সুঠাম দেহের অধিকারী, তীব্র কামভাবসম্পন্ন, কোনো এক নারীর প্রেমে আসক্ত অথচ তাকে বিবাহ করতে অক্ষম। সে নিজেকে ওই নারীর সংস্পর্শ থেকে এবং তার অবস্থানস্থলের কাছে যাওয়া থেকে বিরত রাখে। অতঃপর সে নিজের কুপ্রবৃত্তি দমনের চেষ্টা করে একজন দরিদ্র নারীকে বিবাহ করল এবং তার সাথে এক রাত যাপন করার পর স্ত্রীটি মারা গেল। এরপর সে আর কাউকে বিবাহ করতে পারল না। কিন্তু তার মন সেই পূর্বের প্রেমিকার প্রতিই আসক্ত রইল। একদিন রাতে সে নির্জনে থাকা অবস্থায় হঠাৎ তার সেই প্রেমিকা তার কাছে প্রবেশ করল এবং নিজেকে তার বাহুবন্ধনে [পৃষ্ঠা ৮] সঁপে দিল, এমতাবস্থায় সে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারল না এবং শেষ পর্যন্ত যা ঘটার তাই ঘটল।
(খণ্ড: ১৫)
আল ইস্তিবসার ফী নাকদিল আখবার - যিমনা আসারুল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ১২)
كان.
وآخر غنيٌّ ضعيفُ البنية، ضعيف الشهوة، لم يتزوّج حتى شاخ وضعف، فتعرَّض مرةً لامرأة لو شاء لتزوّجها، ولكنه لم يلتفت إلى ذلك، بل تَبِعها ووقع عليها.
فظاهرٌ أنَّ ذنب هذا الشيخ الذي لم يُحصَن أغلظ من ذنب ذلك الشاب الذي قد أُحْصِن بدرجات، ولكن مع ذلك حدُّ الشابِّ المحصن الرجم، وحدُّ الشيخ الذي لم يحصَن الجلد.
إلا أننا نقول: إن الحكمة اقتضت في القانون الكلي أن يُناط الفرقُ بالإحصان وعدمه، والله سبحانه وتعالى هو الرقيب على عباده، يطبق العدل بقضائه وقدره، كأن يستر ذلك الشاب، ويفضح هذا الشيخ، أو غير ذلك، فإنه سبحانه بكل شيء خبير، وعلى كل شيء قدير.
ومن ذلك: القاتل إذا تعمّد الضرب قد تكون عقوبته الدية، وقد تكون القتل قودًا، والمعقول أنَّ جرمه إنما يختلف بأن يكون قَصَد القتل أو لم يقصده، ولكنَّ قَصْده القتل أمرٌ خفيٌّ لا يُعْلَم كما ينبغي إلا بقوله، والقاتل غالبًا يدفع عن نفسه القتل، فهو ــ وإن قصد القتل ــ حريٌّ بأن يقول: لم أقصده، والقرائن عامتها مشتبهة، فناط الشارعُ الفرقَ بأقوى القرائن، وهي الآلة، وموضع الضرب بها، فإن كان الضرب في ذلك المكان بمثل تلك الآلة من شأنه أن يقتل حُكِم [ص 9] بالقَوَد؛ إذ الغالب أن القاتل قَصَد القتل، وإلا فلا.
وكأنه ــ والله أعلم ــ بناءً على هذا ذهب مالك رحمه الله إلى أن الوالد إذا
كان।
এবং অন্য একজন ধনী ব্যক্তি, যে ছিল দৈহিক গঠনে দুর্বল এবং কামপ্রবৃত্তিতে হীনবল; সে বৃদ্ধ ও অশক্ত হওয়া পর্যন্ত বিবাহ করেনি। একদা সে এমন এক মহিলার সম্মুখীন হলো যাকে সে ইচ্ছা করলে বিবাহ করতে পারত; কিন্তু সে সেদিকে ভ্রুক্ষেপ না করে বরং তাকে অনুসরণ করল এবং তার সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত হলো।
এটা স্পষ্ট যে, এই অবিবাহিত (غير محصن) বৃদ্ধের পাপ সেই বিবাহিত (محصن) যুবকের পাপের তুলনায় কয়েক স্তর বেশি গুরুতর। কিন্তু তা সত্ত্বেও, বিবাহিত (محصن) যুবকের দণ্ডবিধি হলো পাথর নিক্ষেপে মৃত্যু (رجم), আর অবিবাহিত (غير محصن) বৃদ্ধের দণ্ডবিধি হলো বেত্রাঘাত (جلد)।
তবে আমরা বলি: সামগ্রিক আইনের ক্ষেত্রে হিকমত বা প্রজ্ঞা এটাই দাবি করে যে, পার্থক্যের ভিত্তি হবে বিবাহিত হওয়া (إحصان) বা না হওয়ার ওপর। আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর বান্দাদের ওপর অতন্দ্র পর্যবেক্ষক; তিনি তাঁর ফয়সালা ও তকদিরের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রয়োগ করেন। যেমন—হয়তো তিনি সেই যুবককে গোপন রাখেন এবং এই বৃদ্ধকে লাঞ্ছিত করেন, অথবা অন্য কিছু। নিশ্চয়ই তিনি সর্ববিষয়ে সম্যক পরিজ্ঞাত এবং সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান।
এর একটি উদাহরণ হলো: হত্যাকারী যখন ইচ্ছাকৃতভাবে আঘাত করে, তখন তার দণ্ড কখনও রক্তপণ (دية) হতে পারে, আবার কখনও প্রতিবিধানমূলক হত্যা (قود) হতে পারে। যুক্তিগ্রাহ্য বিষয় হলো যে, তার অপরাধের মাত্রা ভিন্ন হওয়া উচিত সে হত্যার উদ্দেশ্য করেছিল কি করেনি তার ওপর ভিত্তি করে। কিন্তু হত্যার উদ্দেশ্য একটি গোপন বিষয়, যা তার স্বীকারোক্তি ছাড়া যথাযথভাবে জানা সম্ভব নয়। আর হত্যাকারী সাধারণত নিজেকে মৃত্যুদণ্ড থেকে বাঁচাতে চায়; ফলে সে হত্যার ইচ্ছা করলেও বলবে যে: 'আমি তা করতে চাইনি'। পারিপার্শ্বিক অধিকাংশ আলামত অস্পষ্ট থাকে। তাই শরিয়ত প্রদাতা পার্থক্যের ভিত্তি নির্ধারণ করেছেন সবচেয়ে শক্তিশালী আলামতের ওপর, আর তা হলো—ব্যবহৃত সরঞ্জাম এবং এর দ্বারা আঘাতের স্থান। সুতরাং যদি সেই স্থানে ওই ধরনের সরঞ্জাম দ্বারা আঘাত করার ধরনটি এমন হয় যা সাধারণত মানুষের প্রাণহানি ঘটায়, তবে [পৃষ্ঠা ৯] প্রতিবিধানের (قود) নির্দেশ দেওয়া হবে; কারণ এতে প্রবল ধারণা জন্মে যে হত্যাকারী হত্যারই উদ্দেশ্য করেছিল, অন্যথায় নয়।
এবং প্রতীয়মান হয় যে—আল্লাহই ভালো জানেন—এরই ওপর ভিত্তি করে ইমাম মালিক (রহিমাহুল্লাহ) এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে, পিতা যখন...
(খণ্ড: ১৫)
আল ইস্তিবসার ফী নাকদিল আখবার - যিমনা আসারুল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ১৩)
قتل ولده قِتْلَة شنيعة ــ كأن أضجعه فذبحه ــ وجب القصاص، وإلا فلا. كأنه بنى دفعَ القصاص عن الوالد بأن الغالب أنه لا يقصد القتل، فلم يوجب القصاص عليه إلا في الحال التي يمتنع فيها أن يكون لم يقصد القتل.
هذا وقد يتفق في مَنْ حقّه ــ بحكم الشرع ــ أن يُقاد منه أن لا يكون قصد القتل، وفي مَن حقه أن لا يقاد منه أنه قصد القتل، فمثل هذا يُطبق الله سبحانه وتعالى العدل فيه بقضائه وقدره.
إذا تقرّر هذا فمظنّة أن لا يكذبَ المخْبِر في خبرٍ عن الشرع مما لا ينضبط، فضبطه الشارع بالإسلام والعدالة، وقد يتفق في المسلم العدل أن يكذب خطأ أو عمدًا، وفي غيره أن يصدق، ولكن الله تبارك وتعالى يطبق العدل بقضائه وقدره، فيهدي أهلَ العلم إلى معرفة خطأ ذاك أو عَمْده، ويغنيهم عن خبر الكافر أو الفاسق بأن ييسر لهم علمه من غير طريقه.
فإن قيل: قد لا يهتدي بعضهم إلى الخطأ، وقد لا يقف بعضهم على الدليل.
قلت: إن قصَّر فهو الموقِعُ نفسَه في ذلك، وإن لم يقصّر [ص 10] فذلك داخل في تدبير الله عز وجل، وتطبيقه العدل والحكمة بقضائه وقدره، والبحث طويل، وفي هذا كفاية إن شاء الله تعالى.
যদি কোনো পিতা তার সন্তানকে জঘন্যভাবে হত্যা করেন—যেমন তাকে শুইয়ে দিয়ে জবাই করা—তবে কিশাস আবশ্যক হবে, অন্যথায় নয়। বিষয়টি এমন যে, পিতার ওপর থেকে কিশাস রহিত করার ভিত্তি হলো এই যে, সাধারণত তিনি হত্যার ইচ্ছা পোষণ করেন না; তাই কিশাস কেবল সেই অবস্থাতেই আবশ্যক করা হয়েছে যেখানে হত্যার ইচ্ছা না থাকাটা অসম্ভব।
এক্ষেত্রে শরিয়তের বিধান অনুযায়ী যার ওপর কিশাস কার্যকর হওয়া আবশ্যক, কখনো কখনো দেখা যায় যে তার হত্যার উদ্দেশ্য ছিল না। আবার যার ওপর কিশাস কার্যকর হয় না, দেখা যায় যে তার হত্যার উদ্দেশ্য ছিল। এমতাবস্থায় আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর ফয়সালা ও তকদিরের মাধ্যমে ন্যায়বিচার কায়েম করেন।
এটি সাব্যস্ত হওয়ার পর, শরিয়ত সংক্রান্ত কোনো সংবাদের ক্ষেত্রে সংবাদদাতার মিথ্যা না বলার বিষয়টি এমন যা সুনির্দিষ্টভাবে পরিমাপ করা যায় না। তাই শরিয়তদাতা একে ইসলাম (الإسلام) এবং চারিত্রিক ন্যায়পরায়ণতা (العدالة) দ্বারা সুসংবদ্ধ করেছেন। কখনো কখনো এমন হতে পারে যে, একজন ন্যায়পরায়ণ (العدل) মুসলিম ভুলবশত বা ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা বলে ফেলেন, আবার অন্য কেউ সত্য বলেন। কিন্তু আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা তাঁর ফয়সালা ও তকদিরের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রয়োগ করেন; ফলে তিনি আহলে ইলম বা বিজ্ঞজনদের সেই ব্যক্তির ভুল বা ইচ্ছাকৃত মিথ্যার বিষয়টি শনাক্ত করার দিশা দান করেন এবং কোনো কাফির বা পাপাচারী (الفاسق)-এর সংবাদের মুখাপেক্ষী হওয়া থেকে তাঁদের অমুখাপেক্ষী করেন, এভাবে যে তিনি তাঁদের জন্য অন্য পন্থায় সেই জ্ঞান অর্জনের পথ সহজ করে দেন।
যদি প্রশ্ন করা হয়: তাঁদের মধ্যে কেউ হয়তো ভুলটি শনাক্ত করতে পারেন না, আবার কেউ হয়তো দলিলের সন্ধান পান না।
আমি বলব: যদি তিনি অবহেলা করেন তবে তিনি নিজেই নিজেকে সেই অবস্থায় নিপতিত করেছেন। আর যদি তিনি অবহেলা না করেন [পৃষ্ঠা ১০], তবে তা আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা-র ব্যবস্থাপনা এবং তাঁর ফয়সালা ও তকদিরের মাধ্যমে ইনসাফ ও হিকমত প্রতিষ্ঠার অন্তর্ভুক্ত। এ আলোচনা দীর্ঘ, আর ইনশাআল্লাহ তাআলা এতটুকুই যথেষ্ট।
(খণ্ড: ১৫)
আল ইস্তিবসার ফী নাকদিল আখবার - যিমনা আসারুল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ১৪)
[ص 11]
الباب الثاني: في البلوغوأما البلوغ فهو حدُّ التكليف، ولا يتحقق الخوف من الله عز وجل والخوف من الناس إلا بعده؛ لأن الصبي مرفوع عنه القلم فلا يخاف الله عز وجل، وكذلك لا يخاف الناس؛ لأنهم إن ظهروا على كذبٍ منه قالوا: صبي، ولعله لو قد بلغ وتمَّ عقلُه لتحرَّز.
ومع هذا فلا تكاد تدعو الحاجة إلى رواية الصبي؛ لأنه إن روى فالغالب أن المرويّ عنه حيّ فيراجع، فإن كان قد مات فالغالب ــ إن كان الصبي صادقًا ــ أن يكون غيره ممن هو أكبر قد سمع من ذلك المخبر أو غيره، فإن اتفق أن لا يوجد ذلك الخبر إلا عند ذلك الصبي، فمثل هذا الخبر لا يوثَقُ به.
هذا وعامة الأدلة على شَرْع العمل بخبر الواحد موردها في البالغين.
[পৃষ্ঠা ১১]
দ্বিতীয় অধ্যায়: প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া (البلوغ) প্রসঙ্গেআর প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া (البلوغ) হলো শরীয়তের বিধান পালনের সীমা (حد التكليف)। মহান আল্লাহর ভয় এবং মানুষের ভয় কেবল এর পরেই অর্জিত হয়; কারণ শিশুর (صبي) উপর থেকে কলম উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে (مرفوع عنه القلم), তাই সে মহান আল্লাহকে ভয় পায় না। একইভাবে সে মানুষকেও ভয় পায় না; কারণ যদি তার কোনো মিথ্যা প্রকাশ পেয়েও যায়, তবে তারা বলে: সে তো শিশু (صبي)। সম্ভবত সে যদি প্রাপ্তবয়স্ক হতো এবং তার বুদ্ধি পরিপক্ক হতো, তবে সে (মিথ্যা থেকে) নিজেকে রক্ষা করত।
এতদসত্ত্বেও শিশুর (صبي) বর্ণনা (رواية) গ্রহণের খুব একটা প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয় না; কারণ সে যদি বর্ণনা (رواية) করে, তবে সাধারণত যার নিকট থেকে বর্ণনা করা হয়েছে তিনি জীবিত থাকেন এবং তাঁর নিকট থেকে বিষয়টি যাচাই করা যায়। আর তিনি যদি মারাও গিয়ে থাকেন—যদি শিশুটি সত্যবাদী (صادق) হয়—তবে প্রবল ধারণা এই যে, তার চেয়ে বয়সে বড় অন্য কেউ সেই সংবাদদাতার কাছ থেকে অথবা অন্য কারও কাছ থেকে তা শুনে থাকবেন। কিন্তু যদি এমনটি ঘটে যে, সেই সংবাদ (خبر) কেবল সেই শিশুর (صبي) কাছেই পাওয়া যাচ্ছে, তবে এমন সংবাদের (خبر) ওপর নির্ভরযোগ্যতা (يوثق به) স্থাপন করা যায় না।
তদুপরি, একক বর্ণনা (خبر الواحد) অনুযায়ী আমল করার শরয়ী বিধানের সাধারণ দলিলসমূহ প্রাপ্তবয়স্ক (البالغين) ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
(খণ্ড: ১৫)
আল ইস্তিবসার ফী নাকদিল আখবার - যিমনা আসারুল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ১৫)
الباب الثالث: في العقلوأمّا العقل فالأمر فيه أظهر، إذ المراد به هنا أن لا يكون مجنونًا، فأما المغفّل فيأتي الكلام فيه في الباب الخامس إن شاء الله تعالى.
তৃতীয় অধ্যায়: বিবেক বা বুদ্ধিমত্তা (العقل) প্রসঙ্গেআর বিবেক বা বুদ্ধিমত্তার (العقل) বিষয়টি এখানে অধিকতর স্পষ্ট, কেননা এখানে এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো বর্ণনাকারী যেন পাগল (مجنون) না হন। আর অসতর্ক বা বেখেয়াল (المغفّل) বর্ণনাকারী সম্পর্কে আলোচনা ইনশাআল্লাহ তাআলা পঞ্চম অধ্যায়ে আসবে।
(খণ্ড: ১৫)
আল ইস্তিবসার ফী নাকদিল আখবার - যিমনা আসারুল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ১৬)
[ص 12]
الباب الرابع: في العدالةوأما العدالة، فقد قال الله عز وجل: {إِنْ جَاءَكُمْ فَاسِقٌ بِنَبَإٍ فَتَبَيَّنُوا} [الحجرات: 6]، وقال سبحانه: {وَأَشْهِدُوا ذَوَيْ عَدْلٍ مِنْكُمْ} [الطلاق: 2]. وقال تعالى: {يَحْكُمُ بِهِ ذَوَا عَدْلٍ مِنْكُمْ} [المائدة: 95].
والشهادة والحكم كالإخبار، والأصل اتحاد الحكم فيهما وفي الرواية إلا ما قام الدليل على الافتراق فيه.
وقد تقدّم في الكلام على الشرط الأول ما يتعلق بهذا
(1)، فلا حاجة إلى إعادته.
هذا؛ و"العدالة" مصدر عَدُل الرجل صار عادلًا، والعدل في الحكم: الإنصاف فيه، كأنه مِن عَدْل الغرارتين على البعير مثلًا، أي التسوية بينهما حتى تكونا متعادلتين، فيبقى الحمل معتدلًا مستقيمًا لا ميل فيه.
فالعدل في الحكم إذًا: أن ينظر ميل المائل عن الحقّ فيردّه إليه، وحاصله: أن يتحرَّى الحق فيقضي به.
فالعدالة إذًا هي الاستقامة على حدود الشرع.
والفِسْقُ هو: الخروج عن هذه الصفة. قالوا: وأصله من فَسَقت الرطبةُ إذا خرجت عن قشرتها.
هذا، وقد تقرّر في أقوال أهل العلم سلفًا وخلفًا أنّ المعصية الصغيرة لا
--------------------------------------------
[পৃষ্ঠা ১২]
চতুর্থ অধ্যায়: ন্যায়পরায়ণতা (العدالة) প্রসঙ্গেআর ন্যায়পরায়ণতা (العدالة) প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ বলেছেন: {হে মুমিনগণ! যদি কোনো পাপাচারী (فاسق) তোমাদের কাছে কোনো সংবাদ নিয়ে আসে, তবে তোমরা তা যাচাই করে নাও} [আল-হুজুরাত: ৬]। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আরও বলেছেন: {এবং তোমাদের মধ্য থেকে দুজন ন্যায়পরায়ণ (عدل) ব্যক্তিকে সাক্ষী রাখো} [আত-তালাক: ২]। আল্লাহ তায়ালা আরও বলেছেন: {তোমাদের মধ্য থেকে দুজন ন্যায়পরায়ণ (عدل) ব্যক্তি এর ফয়সালা করবে} [আল-মায়িদাহ: ৯৫]।
সাক্ষ্য প্রদান এবং বিচার কার্য হলো সংবাদ প্রদানের (الإخبار) ন্যায়। মূল নীতি হলো, উভয় ক্ষেত্রে এবং বর্ণনার (الرواية) ক্ষেত্রে বিধান একই হবে, তবে কোনো বিষয়ে পার্থক্যের দলিল থাকলে তা ভিন্ন কথা।
প্রথম শর্তের আলোচনায় এ সংক্রান্ত বিষয়গুলো ইতিপূর্বে অতিবাহিত হয়েছে
(১), তাই তা পুনরায় উল্লেখ করার প্রয়োজন নেই।
উল্লেখ্য যে, 'আদালাহ' (العدالة) শব্দটি 'আদুলা' (عَدُلَ) ক্রিয়ামূলের মাসদার, যার অর্থ হলো—ব্যক্তিটি ন্যায়পরায়ণ হয়েছে। বিচারের ক্ষেত্রে 'আদল' (العدل) বলতে নিরপেক্ষতাকে বোঝায়। এটি যেন উটের পিঠে থাকা দুই পাশের দুটি মালবাহী ঝোলার ভারসাম্যের মতো; অর্থাৎ উভয়ের মধ্যে এমনভাবে সমতা বিধান করা যাতে তারা ভারসাম্যপূর্ণ হয়, ফলে বোঝাটি সোজা ও স্থির থাকে এবং কোনো একদিকে ঝুঁকে না পড়ে।
সুতরাং বিচারের ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার হলো—সত্য থেকে বিচ্যুত ব্যক্তির বিচ্যুতির দিকে লক্ষ করা এবং তাকে সত্যের দিকে ফিরিয়ে আনা। এর সারকথা হলো, সত্য অনুসন্ধান করা এবং সেই অনুযায়ী ফয়সালা প্রদান করা।
অতএব, ন্যায়পরায়ণতা (العدالة) হলো শরিয়তের সীমারেখার ওপর অবিচল (الاستقامة) থাকা।
আর পাপাচার (الفسق) হলো এই গুণ থেকে বিচ্যুত হওয়া। ভাষাবিদগণ বলেন, এর মূল বুৎপত্তি হলো—'ফাসাকাতুর রুতবাহ', যখন পাকা খেজুর তার খোসা থেকে বেরিয়ে আসে।
উল্লেখ্য যে, পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী আলেমগণের বক্তব্যে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, ছোট গুনাহ (المعصية الصغيرة) কোনো ব্যক্তিকে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৫)
আল ইস্তিবসার ফী নাকদিল আখবার - যিমনা আসারুল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ১৭)
تقتضي الخروج عن العدالة، وقد قال الله تبارك وتعالى: {وَلِلَّهِ مَا فِي السَّمَاوَاتِ [ص 13] وَمَا فِي الْأَرْضِ لِيَجْزِيَ الَّذِينَ أَسَاءُوا بِمَا عَمِلُوا وَيَجْزِيَ الَّذِينَ أَحْسَنُوا بِالْحُسْنَى (31) الَّذِينَ يَجْتَنِبُونَ كَبَائِرَ الْإِثْمِ وَالْفَوَاحِشَ إِلَّا اللَّمَمَ إِنَّ رَبَّكَ وَاسِعُ الْمَغْفِرَةِ} [النجم: 31 ــ 32].
فههنا احتمالان:
الأول: أن يقال: إن الفسوق يختص بالخروج الفاحش، فلا يسمَّى ارتكاب الصغيرة فسوقًا وإن كان عصيانًا، وقد يستدلُّ على هذا بقول الله تبارك وتعالى ــ بعد آية {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنْ جَاءَكُمْ فَاسِقٌ .. } الآية ــ: {وَاعْلَمُوا أَنَّ فِيكُمْ رَسُولَ اللَّهِ لَوْ يُطِيعُكُمْ فِي كَثِيرٍ مِنَ الْأَمْرِ لَعَنِتُّمْ وَلَكِنَّ اللَّهَ حَبَّبَ إِلَيْكُمُ الْإِيمَانَ وَزَيَّنَهُ فِي قُلُوبِكُمْ وَكَرَّهَ إِلَيْكُمُ الْكُفْرَ وَالْفُسُوقَ وَالْعِصْيَانَ أُولَئِكَ هُمُ الرَّاشِدُونَ} [الحجرات: 7].
فكما أن الفسوق أعمُّ من الكفر؛ لأن من الفسوق ما هو دون الكفر، فكذلك يظهر أنّ العصيان أعمُّ من الفسوق، وأنّ من العصيان ما هو دون الفسوق.
الاحتمال الثاني: أن يُقال: الفسوق من الأشياء التي تتفاوت كالعلم مثلًا، فكما لا يوصَف من علم مسألةً أو مسألتين بأنه عالم على الإطلاق، فكذلك لا يوصف من فَسَق بصغيرة أو صغيرتين بأنه فاسق على الإطلاق.
[ص 14] والآية الأولى وهي قوله تعالى: {إِنْ جَاءَكُمْ فَاسِقٌ} إنما بُنيت على من هو فاسق لا على من وقع منه فسوق.
এটি ন্যায়নিষ্ঠতা (العدالة) থেকে বিচ্যুত হওয়াকে দাবি করে, অথচ আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা বলেছেন: {এবং আসমানসমূহে যা আছে ও জমিনে যা আছে তা আল্লাহরই, যাতে তিনি মন্দ কাজের কর্তাদের তাদের কর্মফল দেন এবং সৎকর্মীদের দেন চমৎকার প্রতিদান। যারা গুরুতর পাপ (كبائر الإثم) ও অশ্লীল কাজ থেকে বেঁচে থাকে, ছোটখাটো অপরাধ (اللَّمم) ছাড়া; নিশ্চয়ই আপনার প্রতিপালক ক্ষমা দানে অত্যন্ত উদার} [আন-নাজম: ৩১-৩২]।
এক্ষেত্রে দুটি সম্ভাবনা রয়েছে:
প্রথমটি: এটি বলা যে, পাপাচার (الفسوق) কেবল গুরুতর বিচ্যুতির সাথে নির্দিষ্ট। সুতরাং কোনো ছোট গুনাহ (الصغيرة) করাকে পাপাচার (الفسوق) বলা হবে না, যদিও তা অবাধ্যতা (العصيان) হিসেবে গণ্য হয়। এর সপক্ষে আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার এই বাণীর মাধ্যমে দলিল পেশ করা যেতে পারে—যা {হে মুমিনগণ! যদি তোমাদের নিকট কোনো পাপাচারী (فاسق) আসে...} আয়াতের পরে বর্ণিত হয়েছে—: {এবং জেনে রেখো যে, তোমাদের মধ্যে আল্লাহর রাসূল রয়েছেন; তিনি যদি অনেক বিষয়ে তোমাদের কথা মেনে নিতেন, তবে তোমরাই কষ্টে পড়তে। কিন্তু আল্লাহ তোমাদের নিকট ঈমানকে প্রিয় করে দিয়েছেন এবং তা তোমাদের হৃদয়ে সুশোভিত করেছেন; আর তোমাদের নিকট কুফর (الكفر), পাপাচার (الفسوق) ও অবাধ্যতাকে (العصيان) অপছন্দনীয় করে দিয়েছেন। তারাই তো সত্যপথ অনুসারী} [আল-হুজুরাত: ৭]।
ঠিক যেমন পাপাচার (الفسوق) কুফর (الكفر) অপেক্ষা অধিক ব্যাপক; কারণ পাপাচার (الفسوق)-এর মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যা কুফর (الكفر)-এর পর্যায়ভুক্ত নয়, তেমনিভাবে এটিও প্রতীয়মান হয় যে, অবাধ্যতা (العصيان) পাপাচার (الفسوق) অপেক্ষা ব্যাপকতর এবং অবাধ্যতা (العصيان)-এর মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যা পাপাচার (الفسوق)-এর নিম্নতর পর্যায়ভুক্ত।
দ্বিতীয় সম্ভাবনা: এটি বলা যে, পাপাচার (الفسوق) এমন বিষয়সমূহের অন্তর্ভুক্ত যা তারতম্য বা কম-বেশি হয়ে থাকে, যেমন উদাহরণস্বরূপ ইলম (العلم)। যে ব্যক্তি কেবল একটি বা দুটি মাসআলা জানে তাকে যেমন ঢালাওভাবে আলিম (عالم) হিসেবে অভিহিত করা হয় না, তেমনিভাবে যে ব্যক্তি কেবল একটি বা দুটি ছোট গুনাহের মাধ্যমে পাপাচার করেছে তাকেও ঢালাওভাবে পাপাচারী (فاسق) হিসেবে অভিহিত করা যাবে না।
[পৃষ্ঠা ১৪] আর প্রথম আয়াতটি—যা মহান আল্লাহর বাণী: {যদি তোমাদের নিকট কোনো পাপাচারী (فاسق) আসে...}—তা কেবল তার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য যে পাপাচারী (فاسق) হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, তার ক্ষেত্রে নয় যার থেকে কেবল সামান্য পাপাচার (الفسوق) সংঘটিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১৫)
আল ইস্তিবসার ফী নাকদিল আখবার - যিমনা আসারুল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وقال الله عز وجل في سورة الحجرات في سياق الآيتين السابقتين وهما: {إِنْ جَاءَكُمْ فَاسِقٌ} {وَكَرَّهَ إِلَيْكُمُ الْكُفْرَ وَالْفُسُوقَ وَالْعِصْيَانَ}: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا يَسْخَرْ قَوْمٌ مِنْ قَوْمٍ عَسَى أَنْ يَكُونُوا خَيْرًا مِنْهُمْ وَلَا نِسَاءٌ مِنْ نِسَاءٍ عَسَى أَنْ يَكُنَّ خَيْرًا مِنْهُنَّ وَلَا تَلْمِزُوا أَنْفُسَكُمْ وَلَا تَنَابَزُوا بِالْأَلْقَابِ بِئْسَ الِاسْمُ الْفُسُوقُ بَعْدَ الْإِيمَانِ وَمَنْ لَمْ يَتُبْ فَأُولَئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ} [الحجرات: 11].
وقال الله تبارك وتعالى: {الْحَجُّ أَشْهُرٌ مَعْلُومَاتٌ فَمَنْ فَرَضَ فِيهِنَّ الْحَجَّ فَلَا رَفَثَ وَلَا فُسُوقَ وَلَا جِدَالَ فِي الْحَجِّ} [البقرة: 197].
وقال سبحانه: {وَلَا يُضَارَّ كَاتِبٌ وَلَا شَهِيدٌ وَإِنْ تَفْعَلُوا فَإِنَّهُ فُسُوقٌ بِكُمْ} [البقرة: 282].
وقال تعالى: {وَالَّذِينَ يَرْمُونَ الْمُحْصَنَاتِ ثُمَّ لَمْ يَأْتُوا بِأَرْبَعَةِ شُهَدَاءَ فَاجْلِدُوهُمْ ثَمَانِينَ جَلْدَةً وَلَا تَقْبَلُوا لَهُمْ شَهَادَةً أَبَدًا وَأُولَئِكَ هُمُ الْفَاسِقُونَ} [النور: 4].
لمّا ذكر الكبيرة الموجبة للحدّ ورد الشهادة قال: {وَأُولَئِكَ هُمُ الْفَاسِقُونَ}. ولمّا ذكر ما قد يكون دونها ــ أي صغيرة ــ من السخرية بالمسلم، [ص 15] ولمزه، ونبزه بلقب، ومضارة الكاتب أو الشاهد، وما قد يقع في الحج من ذلك وما يشبهه سماها: فسوقًا.
* * * *
আল্লাহ عز وجل সূরা আল-হুজুরাত-এর পূর্ববর্তী দুটি আয়াতের প্রেক্ষাপটে—যা হলো: {যদি তোমাদের কাছে কোনো পাপাচারী (فاسق) আসে} এবং {তিনি তোমাদের কাছে কুফরি, পাপাচার (فسوق) ও অবাধ্যতাকে অপ্রিয় করে দিয়েছেন}—বলছেন: {হে মুমিনগণ, কোনো পুরুষ যেন অপর কোনো পুরুষকে উপহাস না করে; হতে পারে তারা তাদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। আর কোনো নারী যেন অপর কোনো নারীকে উপহাস না করে; হতে পারে তারা তাদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। তোমরা একে অপরকে দোষারোপ করো না এবং একে অপরকে মন্দ উপনামে ডাকো না। ঈমান আনার পর পাপাচার (الفسوق) কতই না মন্দ নাম! যারা তওবা করে না তারাই তো জালেম।} [হুজুরাত: ১১]।
আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা বলেছেন: {হজ হয় সুবিদিত মাসসমূহে। সুতরাং যে ব্যক্তি এই মাসগুলোতে নিজের ওপর হজ অবধারিত করে নেয়, হজের সময় তার জন্য অশ্লীল আচরণ, পাপাচার (فسوق) ও ঝগড়া-বিবাদ বৈধ নয়।} [বাকারা: ১৯৭]।
এবং তিনি সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন: {কোনো লেখক বা সাক্ষীকে ক্ষতিগ্রস্ত করা যাবে না। আর যদি তোমরা তা করো, তবে তা তোমাদের জন্য হবে পাপাচার (فسوق)।} [বাকারা: ২৮২]।
আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: {যারা সতী-সাধ্বী নারীদের প্রতি অপবাদ দেয়, অতঃপর চারজন সাক্ষী উপস্থিত করে না, তোমরা তাদেরকে আশিটি বেত্রাঘাত করো এবং কখনোই তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ করো না। আর তারাই হলো পাপাচারী (الفاسقون)।} [নূর: ৪]।
যখন তিনি হদ (নির্ধারিত দণ্ডবিধি) প্রযোজ্য হওয়ার মতো এবং সাক্ষ্য প্রত্যাখ্যানের কারণস্বরূপ বড় গুনাহর কথা উল্লেখ করেছেন, তখন বলেছেন: {আর তারাই হলো পাপাচারী (الفاسقون)}। আর যখন তিনি এর চেয়ে কম পর্যায়ের বিষয়—অর্থাৎ সগিরা গুনাহ—যেমন কোনো মুসলিমকে উপহাস করা, [পৃষ্ঠা ১৫] তাকে দোষারোপ করা, তাকে মন্দ উপনামে ডাকা, লেখক বা সাক্ষীকে ক্ষতিগ্রস্ত করা এবং হজের মধ্যে যা ঘটে থাকে বা এই জাতীয় কাজগুলোর কথা উল্লেখ করেছেন, তখন সেগুলোকে 'পাপাচার' (فسوقًا) বলে অভিহিত করেছেন।
* * * *
(খণ্ড: ১৫)
আল ইস্তিবসার ফী নাকদিল আখবার - যিমনা আসারুল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ১৯)
[ص 27]
(1)
فصل ــ 1الصحابةاسم الصحابي يعمُّ عند الجمهور كلَّ من رأى النبي صلى الله عليه وآله وسلم مسلمًا ومات على ذلك.
والمراد رؤيته إياه بعد البعثة وقبل الوفاة.
والاسم يشمل من ارتدَّ بعد وفاة النبي صلى الله عليه وآله وسلم ممن كان قد رآه مسلمًا إذا عاد إلى الإسلام ومات عليه، كطُلَيحة بن خويلد، وعُيينة بن حصن، وأضرابهما.
لكن قضيّة ما نُقِل عن الشافعي وغيره ـ مِن أنّ الردة تُحبط العمل الصالح قبلها ولو عَقَبَتْها توبة ــ أن هؤلاء لا حظّ لهم في فضل الصحبة.
وذهب الجمهور إلى أن الصحابة كلَّهم عدول، قال ابن الأنباري: "وليس المراد بعدالتهم ثبوت العصمة لهم، واستحالة المعصية منهم، وإنما المراد قبول رواياتهم من غير تكلُّف للبحث عن أسباب العدالة والتزكية
(2)، إلا إن ثبت ارتكاب قادح، ولم يثبت ذلك ولله الحمد. فنحن على استصحاب ما كانوا عليه في زمن رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم حتى يثبت خلافه، ولا التفات إلى ما يذكره أصحاب السير، فإنه لا يصح، وما
--------------------------------------------
[২৭]
(১)
পরিচ্ছেদ - ১সাহাবীগণ (الصحابة)জমহুর (جمهور) বা সংখ্যাগুরু আলিমদের নিকট সাহাবী (صحابي) শব্দটি এমন প্রত্যেক ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করে, যিনি ঈমান অবস্থায় (مسلمًا) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামকে দেখেছেন এবং সেই ঈমানের ওপর মৃত্যুবরণ করেছেন।
আর (নবীকে) দেখার উদ্দেশ্য হলো নবুয়ত প্রাপ্তির পরে এবং ওফাতের পূর্বে দেখা।
এই নাম (সাহাবী) এমন ব্যক্তিকেও অন্তর্ভুক্ত করে, যিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের ওফাতের পর মুরতাদ বা ধর্মত্যাগ (ارتدَّ) করেছিলেন—অথচ তিনি পূর্বে ঈমান অবস্থায় তাঁকে দেখেছিলেন—যদি তিনি পুনরায় ইসলামে ফিরে আসেন এবং ইসলামের ওপর মৃত্যুবরণ করেন। যেমন: তুলাইহা ইবনে খুওয়াইলিদ, উয়াইনা ইবনে হিসন এবং তাদের সদৃশ ব্যক্তিবর্গ।
তবে ইমাম শাফিয়ী এবং অন্যদের থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তার দাবি হলো—ধর্মত্যাগ (الردة) তার পূর্ববর্তী সকল নেক আমলকে বাতিল করে দেয় যদিও এরপর তওবা (توبة) করা হয়—যে এই সকল ব্যক্তিদের সাহচর্য লাভের মর্যাদায় (فضل الصحبة) কোনো অংশ নেই।
জমহুর (جمهور) বা সংখ্যাগুরু ওলামায়ে কেরাম এই মত পোষণ করেছেন যে, সকল সাহাবীই ন্যায়পরায়ণ (عدول)। ইবনুল আনবারী বলেন: "তাদের ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) দ্বারা তাদের জন্য নিষ্পাপতা (عصمة) সাব্যস্ত হওয়া কিংবা তাদের থেকে পাপাচার সংঘটিত হওয়া অসম্ভব হওয়া উদ্দেশ্য নয়; বরং এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) এবং চারিত্রিক পরিশুদ্ধি (تزكية)
(২) অনুসন্ধানের কষ্ট ছাড়াই তাদের বর্ণনা (روايات) গ্রহণ করা, তবে যদি কোনো দোষারোপযোগ্য (قادح) বিষয় প্রমাণিত হয় (তবে ভিন্ন কথা)। আর আলহামদুলিল্লাহ, তেমনটি প্রমাণিত হয়নি। সুতরাং আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের যুগে তাঁরা যে অবস্থায় ছিলেন, সেই অবস্থার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার (استصحاب) নীতিতে অটল থাকব, যতক্ষণ না এর বিপরীত কিছু প্রমাণিত হয়। আর সীরাত রচয়িতাগণ যা উল্লেখ করেন তার প্রতি কোনো ভ্রুক্ষেপ করা হবে না, কারণ তা বিশুদ্ধ (يصح) নয় এবং যা..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৫)
আল ইস্তিবসার ফী নাকদিল আখবার - যিমনা আসারুল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ২০)
صحَّ فله تأويل صحيح" فتح المغيث (ص 378)
(1).
وقال الخطيب في "الكفاية" (ص 46)
(2): "باب ما جاء في تعديل الله ورسوله للصحابة، وأنه لا يحتاج إلى سؤال عنهم، وإنما يجب فيمن دونهم
… " فذكر عدة آيات [ص 28] وأحاديث في الثناء عليهم، إلى أن قال: "فهم على هذه الصفة إلا أن يثبت على أحدٍ ارتكاب ما لا يحْتَمِل إلا قصد المعصية، والخروج من باب التأويل، فيُحْكَم بسقوط العدالة، وقد برأهم الله من ذلك، ورَفَع أقدارهم [عنه]، على أنه لو لم يرد من الله عز وجل ورسوله فيهم شيء مما ذكرناه لأوجبت الحالُ التي كانوا عليها؛ من الهجرة، والجهاد والنُّصرة، وبذل المُهَج والأموال، وقتل الآباء والأولاد، والمناصحة في الدين، وقوة الإيمان واليقين= القطعَ على عدالتهم، والاعتقاد لنزاهتهم، وأنهم أفضل من جميع المعدَّلين والمُزَكَّين الذين يجيئون مِنْ بعدهم أبد الآبدين".
أقول: أما الآيات فمنها:
{لِلْفُقَرَاءِ الْمُهَاجِرِينَ الَّذِينَ أُخْرِجُوا مِنْ دِيَارِهِمْ وَأَمْوَالِهِمْ يَبْتَغُونَ فَضْلًا مِنَ اللَّهِ وَرِضْوَانًا وَيَنْصُرُونَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ أُولَئِكَ هُمُ الصَّادِقُونَ (8) وَالَّذِينَ تَبَوَّءُوا الدَّارَ وَالْإِيمَانَ مِنْ قَبْلِهِمْ يُحِبُّونَ مَنْ هَاجَرَ إِلَيْهِمْ وَلَا يَجِدُونَ فِي صُدُورِهِمْ حَاجَةً مِمَّا أُوتُوا وَيُؤْثِرُونَ عَلَى أَنْفُسِهِمْ وَلَوْ كَانَ بِهِمْ خَصَاصَةٌ وَمَنْ يُوقَ شُحَّ نَفْسِهِ فَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ (9) وَالَّذِينَ جَاءُوا مِنْ بَعْدِهِمْ
--------------------------------------------
[যদি তা] সহিহ (صحيح) হয়, তবে তার একটি সঠিক ব্যাখ্যা রয়েছে।" ফাতহুল মুগিস (পৃ. ৩৭৮)
(১)।
খতিব আল-বাগদাদি 'আল-কিফায়াহ' গ্রন্থে (পৃ. ৪৬)
(২) বলেন: "পরিচ্ছেদ: সাহাবীগণের বিশ্বস্ততা সাব্যস্তকরণ (تعديل) বিষয়ে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল থেকে যা বর্ণিত হয়েছে; এবং তাঁদের সম্পর্কে কোনো প্রকার জিজ্ঞাসার প্রয়োজন নেই, বরং এটি কেবল তাঁদের পরবর্তী স্তরের ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে আবশ্যক
…" অতঃপর তিনি তাঁদের প্রশংসায় বেশ কিছু আয়াত [পৃ. ২৮] এবং হাদিস উল্লেখ করেছেন। পরিশেষে তিনি বলেন: "তাঁরা এই গুণাবলীর উপরেই অধিষ্ঠিত, যতক্ষণ না কারো ক্ষেত্রে এমন কোনো কাজ প্রমাণিত হয় যা কেবল পাপের উদ্দেশ্যেই করা হয়েছে এবং যা ব্যাখ্যার অবকাশ রাখে না; এমতাবস্থায় তার ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) রদ হওয়ার হুকুম দেওয়া হবে। অথচ আল্লাহ তা'আলা তাঁদেরকে এসব থেকে পবিত্র করেছেন এবং তাঁদের মর্যাদাকে [এর থেকে] ঊর্ধ্বে তুলেছেন। তাছাড়া মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে তাঁদের ব্যাপারে আমাদের উল্লিখিত বিষয়গুলো বর্ণিত না হলেও তাঁদের যাপিত জীবনই—যেমন: হিজরত, জিহাদ, সাহায্য-সহযোগিতা, জীবন ও সম্পদ উৎসর্গ করা, [সত্যের পথে] পিতা ও সন্তানদের সংহার করা, দ্বীনের ক্ষেত্রে কল্যাণকামিতা এবং ঈমান ও ইয়াকিনের দৃঢ়তা—তাঁদের ন্যায়পরায়ণতার (عدالة) ওপর অকাট্য বিশ্বাস এবং তাঁদের নিষ্কলঙ্ক হওয়ার বিশ্বাসের দাবি রাখে। আর তাঁরা অনন্তকাল ধরে তাঁদের পরে আগত সকল নির্ভরযোগ্য (معدلين) ও গ্রহণযোগ্য (مزكين) ব্যক্তিদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ।"
আমি (গ্রন্থকার) বলছি: আয়াতসমূহের মধ্যে অন্যতম হলো:
{সেই সব অভাবগ্রস্ত মুহাজিরদের জন্য, যারা নিজেদের ঘরবাড়ি ও সম্পত্তি থেকে বহিষ্কৃত হয়েছে; তারা আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি অন্বেষণ করে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে সাহায্য করে। তারাই তো সত্যবাদী। (৮) আর যারা মুহাজিরদের আসার আগে এই নগরীতে (মদিনায়) বসবাস করেছিল এবং ঈমান এনেছিল, তারা মুহাজিরদের ভালোবাসে এবং মুহাজিরদের যা দেওয়া হয়েছে তার জন্য তারা নিজেদের অন্তরে কোনো আকাঙ্ক্ষা পোষণ করে না। তারা নিজেদের ওপর তাঁদের অগ্রাধিকার দেয়, যদিও তারা অভাবগ্রস্ত হয়। আর যাদেরকে অন্তরের কার্পণ্য থেকে রক্ষা করা হয়েছে, তারাই সফলকাম। (৯) আর যারা তাদের পরে এসেছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৫)
আল ইস্তিবসার ফী নাকদিল আখবার - যিমনা আসারুল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ২১)
يَقُولُونَ رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلِإِخْوَانِنَا الَّذِينَ سَبَقُونَا بِالْإِيمَانِ وَلَا تَجْعَلْ فِي قُلُوبِنَا غِلًّا لِلَّذِينَ آمَنُوا رَبَّنَا إِنَّكَ رَءُوفٌ رَحِيمٌ} [الحشر: 8 ــ 10].
[ص 29] {وَالسَّابِقُونَ الْأَوَّلُونَ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنْصَارِ وَالَّذِينَ اتَّبَعُوهُمْ بِإِحْسَانٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ وَأَعَدَّ لَهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي تَحْتَهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَدًا ذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ} [التوبة: 100].
{لَقَدْ تَابَ اللَّهُ عَلَى النَّبِيِّ وَالْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنْصَارِ الَّذِينَ اتَّبَعُوهُ فِي سَاعَةِ الْعُسْرَةِ مِنْ بَعْدِ مَا كَادَ يَزِيغُ قُلُوبُ فَرِيقٍ مِنْهُمْ ثُمَّ تَابَ عَلَيْهِمْ إِنَّهُ بِهِمْ رَءُوفٌ رَحِيمٌ} [التوبة: 117].
{لَقَدْ رَضِيَ اللَّهُ عَنِ الْمُؤْمِنِينَ إِذْ يُبَايِعُونَكَ تَحْتَ الشَّجَرَةِ فَعَلِمَ مَا فِي قُلُوبِهِمْ فَأَنْزَلَ السَّكِينَةَ عَلَيْهِمْ وَأَثَابَهُمْ فَتْحًا قَرِيبًا} [الفتح: 18].
{مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ وَالَّذِينَ مَعَهُ أَشِدَّاءُ عَلَى الْكُفَّارِ رُحَمَاءُ بَيْنَهُمْ تَرَاهُمْ رُكَّعًا سُجَّدًا يَبْتَغُونَ فَضْلًا مِنَ اللَّهِ وَرِضْوَانًا سِيمَاهُمْ فِي وُجُوهِهِمْ مِنْ أَثَرِ السُّجُودِ ذَلِكَ مَثَلُهُمْ فِي التَّوْرَاةِ وَمَثَلُهُمْ فِي الْإِنْجِيلِ كَزَرْعٍ أَخْرَجَ شَطْأَهُ فَآزَرَهُ فَاسْتَغْلَظَ فَاسْتَوَى عَلَى سُوقِهِ يُعْجِبُ الزُّرَّاعَ لِيَغِيظَ بِهِمُ الْكُفَّارَ وَعَدَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ مِنْهُمْ مَغْفِرَةً وَأَجْرًا عَظِيمًا} [الفتح
(1): 29].
[ص 30] {الَّذِينَ اسْتَجَابُوا لِلَّهِ وَالرَّسُولِ مِنْ بَعْدِ مَا أَصَابَهُمُ الْقَرْحُ لِلَّذِينَ أَحْسَنُوا مِنْهُمْ وَاتَّقَوْا أَجْرٌ عَظِيمٌ (172) الَّذِينَ قَالَ لَهُمُ النَّاسُ إِنَّ النَّاسَ قَدْ
--------------------------------------------
তারা বলে, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের ক্ষমা করুন এবং আমাদের সেই ভাইদেরকেও যারা আমাদের আগে ঈমান এনেছে। আর যারা ঈমান এনেছে তাদের প্রতি আমাদের অন্তরে কোনো বিদ্বেষ রাখবেন না। হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি তো অতি দয়ালু, পরম করুণাময়।’ [আল-হাশর: ৮-১০]।
[পৃষ্ঠা ২৯] ‘আর মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে যারা প্রথম অগ্রগামী এবং যারা নিষ্ঠার সাথে তাদের অনুসরণ করেছে, আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তারাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছে। তিনি তাদের জন্য প্রস্তুত করেছেন এমন জান্নাত যার পাদদেশে নহরসমূহ প্রবাহিত, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। এটাই মহাসাফল্য।’ [আত-তাওবাহ: ১০০]।
‘আল্লাহ ক্ষমা করেছেন নবীকে এবং মুহাজির ও আনসারদের, যারা কঠিন সময়ে তাঁর অনুসরণ করেছিল, এমনকি যখন তাদের এক দলের অন্তর বিচ্যুত হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। তারপর তিনি তাদের ক্ষমা করলেন। নিশ্চয়ই তিনি তাদের প্রতি অতি দয়ালু, পরম করুণাময়।’ [আত-তাওবাহ: ১১৭]।
‘অবশ্যই আল্লাহ মুমিনদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন যখন তারা গাছের নিচে আপনার কাছে বায়আত গ্রহণ করছিল। তাদের অন্তরে যা ছিল তা তিনি জানতেন, তাই তিনি তাদের ওপর প্রশান্তি নাজিল করলেন এবং তাদের পুরস্কার হিসেবে দিলেন এক আসন্ন বিজয়।’ [আল-ফাতহ: ১৮]।
‘মুহাম্মদ আল্লাহর রাসুল; এবং তাঁর সাথে যারা আছে তারা কাফিরদের প্রতি কঠোর এবং নিজেদের মধ্যে অত্যন্ত দয়ালু। আপনি তাদের রুকু ও সিজদাবনত অবস্থায় আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি অন্বেষণ করতে দেখবেন। তাদের মুখমণ্ডলে সিজদার চিহ্ন রয়েছে। তাওরাতে তাদের দৃষ্টান্ত এরূপ এবং ইঞ্জিলেও তাদের দৃষ্টান্ত এরূপ—যেন একটি চারাগাছ যা থেকে অঙ্কুর বের হয়, তারপর তা শক্ত হয় এবং পুষ্ট হয়ে কাণ্ডের ওপর দাঁড়ায়, যা চাষীদের আনন্দ দেয়; যাতে তিনি তাদের দ্বারা কাফিরদের অন্তর্জ্বালা সৃষ্টি করেন। তাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে, আল্লাহ তাদের জন্য ক্ষমা ও মহাপুরস্কারের ওয়াদা করেছেন।’ [আল-ফাতহ
(১): ২৯]।
[পৃষ্ঠা ৩০] ‘যারা জখম হওয়ার পরও আল্লাহ ও রাসুলের ডাকে সাড়া দিয়েছে, তাদের মধ্যে যারা সৎকর্ম করেছে এবং তাকওয়া অবলম্বন করেছে তাদের জন্য রয়েছে মহাপুরস্কার। (১৭২) যাদেরকে লোকেরা বলেছিল, নিশ্চয়ই লোকেরা তোমাদের বিরুদ্ধে...’
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৫)
আল ইস্তিবসার ফী নাকদিল আখবার - যিমনা আসারুল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ২২)
جَمَعُوا لَكُمْ فَاخْشَوْهُمْ فَزَادَهُمْ إِيمَانًا وَقَالُوا حَسْبُنَا اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ (173) فَانْقَلَبُوا بِنِعْمَةٍ مِنَ اللَّهِ وَفَضْلٍ لَمْ يَمْسَسْهُمْ سُوءٌ وَاتَّبَعُوا رِضْوَانَ اللَّهِ وَاللَّهُ ذُو فَضْلٍ عَظِيمٍ} [آل عمران: 172 ــ 174].
{لَا يَسْتَوِي مِنْكُمْ مَنْ أَنْفَقَ مِنْ قَبْلِ الْفَتْحِ وَقَاتَلَ أُولَئِكَ أَعْظَمُ دَرَجَةً مِنَ الَّذِينَ أَنْفَقُوا مِنْ بَعْدُ وَقَاتَلُوا وَكُلًّا وَعَدَ اللَّهُ الْحُسْنَى وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرٌ} [الحديد: 10].
{وَإِذْ غَدَوْتَ مِنْ أَهْلِكَ تُبَوِّئُ الْمُؤْمِنِينَ مَقَاعِدَ لِلْقِتَالِ وَاللَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ (121) إِذْ هَمَّتْ طَائِفَتَانِ مِنْكُمْ أَنْ تَفْشَلَا وَاللَّهُ وَلِيُّهُمَا وَعَلَى اللَّهِ فَلْيَتَوَكَّلِ الْمُؤْمِنُونَ} [آل عمران: 121، 122].
{كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَتُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ} [آل عمران: 110].
{وَكَذَلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطًا لِتَكُونُوا شُهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ وَيَكُونَ الرَّسُولُ عَلَيْكُمْ شَهِيدًا} [البقرة: 143].
[ص 31] ومن تدبَّر هذه الآيات وغيرها من القرآن وجدَ الثناء على المهاجرين عامًّا سالمًا من التخصيص، فإذا تتبَّع السنة أيضًا لم يجد ما ينافي ذلك، سوى فلتاتٍ ربما كانت تقع من بعضهم فلا تضرهم.
فمنها: ما جرى منهم يوم بدر، مِنْ ترجيح أخذ الفداء، فأقرّهم الله عز وجل عليه وأنزل: {لَوْلَا كِتَابٌ مِنَ اللَّهِ سَبَقَ لَمَسَّكُمْ فِيمَا أَخَذْتُمْ عَذَابٌ عَظِيمٌ
...লোকেরা তাদের বলেছিল, 'নিশ্চয়ই মানুষ তোমাদের বিরুদ্ধে সমবেত হয়েছে, সুতরাং তোমরা তাদের ভয় কর।' কিন্তু তা তাদের ঈমান আরও বৃদ্ধি করে দিল এবং তারা বলল, 'আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না চমৎকার কর্মবিধায়ক।' (১৭৩) ফলে তারা আল্লাহর নেয়ামত ও অনুগ্রহসহ ফিরে এল, কোনো অনিষ্ট তাদের স্পর্শ করেনি এবং তারা আল্লাহর সন্তুষ্টির অনুসরণ করেছিল; আর আল্লাহ মহা অনুগ্রহের অধিকারী। [আল ইমরান: ১৭২ — ১৭৪]
তোমাদের মধ্যে যারা বিজয়ের পূর্বে ব্যয় করেছে এবং যুদ্ধ করেছে তারা (পরবর্তীদের) সমান নয়। তারা মর্যাদায় তাদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ যারা পরবর্তী সময়ে ব্যয় করেছে এবং যুদ্ধ করেছে। তবে আল্লাহ প্রত্যেকের কাছেই কল্যাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আর তোমরা যা কর সে সম্পর্কে আল্লাহ সম্যক অবহিত। [আল হাদিদ: ১০]
আর স্মরণ করুন, যখন আপনি সাত সকালে আপনার পরিবার-পরিজন থেকে বের হয়ে মুমিনদের যুদ্ধের জন্য বিভিন্ন ঘাঁটিতে বিন্যস্ত করছিলেন; আর আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ। (১২১) যখন তোমাদের মধ্য থেকে দুই দল সাহসহীন হওয়ার উপক্রম হয়েছিল, অথচ আল্লাহ ছিলেন তাদের অভিভাবক; আর মুমিনদের উচিত আল্লাহর ওপরই ভরসা করা। [আল ইমরান: ১২১, ১২২]
তোমরাই হলে শ্রেষ্ঠ উম্মত, যাদের মানবজাতির জন্য আবির্ভূত করা হয়েছে। তোমরা সৎকাজের আদেশ দাও, অসৎকাজে নিষেধ করো এবং আল্লাহর ওপর ঈমান রাখো। [আল ইমরান: ১১০]
আর এভাবেই আমি তোমাদের এক মধ্যপন্থী জাতি হিসেবে গঠন করেছি, যাতে তোমরা মানবজাতির ওপর সাক্ষী হও এবং রাসূল তোমাদের ওপর সাক্ষী হন। [আল বাকারা: ১৪৩]
[পৃষ্ঠা ৩১] যে ব্যক্তি কুরআনের এই আয়াতসমূহ এবং অন্যান্য আয়াত নিয়ে গভীর চিন্তা-গবেষণা করবে, সে মুহাজিরদের প্রতি এই প্রশংসাগুলোকে সাধারণ (عام) হিসেবে এবং বিশেষীকরণ (تخصيص) হতে মুক্ত দেখতে পাবে। একইভাবে সে যদি সুন্নাহ অনুসন্ধান করে, তবে সেখানেও এর পরিপন্থী কিছু পাবে না; কেবল আকস্মিক কিছু বিচ্যুতি ব্যতীত যা হয়তো তাদের কারো কারো পক্ষ থেকে ঘটেছিল, কিন্তু তা তাদের কোনো ক্ষতি করেনি।
তার মধ্যে একটি হলো: বদর যুদ্ধের দিনে তাদের পক্ষ থেকে যা ঘটেছিল, অর্থাৎ মুক্তিপণ গ্রহণ করাকে অগ্রাধিকার দেওয়া। এরপর আল্লাহ তায়ালা তাদের জন্য তা বহাল রাখেন এবং অবতীর্ণ করেন: {যদি আল্লাহর পক্ষ থেকে পূর্ব-নির্ধারিত কোনো বিধান না থাকত, তবে তোমরা যা গ্রহণ করেছ তার বিনিময়ে তোমাদের ওপর মহাশাস্তি আপতিত হতো...}
(খণ্ড: ১৫)
আল ইস্তিবসার ফী নাকদিল আখবার - যিমনা আসারুল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ২৩)
(68) فَكُلُوا مِمَّا غَنِمْتُمْ حَلَالًا طَيِّبًا وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَحِيمٌ}
(1) [الأنفال: 68 ــ 69].
ومنها: تولي بعضهم يومَ أحد فأنزل الله عز وجل: {إِنَّ الَّذِينَ تَوَلَّوْا مِنْكُمْ يَوْمَ الْتَقَى الْجَمْعَانِ إِنَّمَا اسْتَزَلَّهُمُ الشَّيْطَانُ بِبَعْضِ مَا كَسَبُوا وَلَقَدْ عَفَا اللَّهُ عَنْهُمْ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ حَلِيمٌ}
(2) [آل عمران: 155].
ومنها: قصة مِسْطَح بن أُثاثة لما خاض مع أهل الإفك فكان ما كان، وأقسم أبو بكر أن لا ينفق عليه، فأنزل الله عز وجل: {وَلَا يَأْتَلِ أُولُو الْفَضْلِ مِنْكُمْ وَالسَّعَةِ أَنْ يُؤْتُوا أُولِي الْقُرْبَى وَالْمَسَاكِينَ وَالْمُهَاجِرِينَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَلْيَعْفُوا وَلْيَصْفَحُوا أَلَا تُحِبُّونَ أَنْ يَغْفِرَ اللَّهُ لَكُمْ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ}
(3) [النور: 22].
ومنها: قصة حاطب بن أبي بلتعة
(4).
وأشدّ ما وقع من ذلك قصة عبد الله بن أبي سرح، مع أنه ليس من المهاجرين الأولين، وإنما كان ممن أسلم قبيل الفتح، ثم ارتد، فأمر النبي صلى الله [ص 32] عليه وآله وسلم يوم الفتح بقتله فلم يقتل وأسلم
(5).
--------------------------------------------
(68) {সুতরাং তোমরা যা গনীমত হিসেবে লাভ করেছ তা থেকে হালাল ও পবিত্র হিসেবে ভক্ষণ করো এবং আল্লাহকে ভয় করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।}
(1) [আল-আনফাল: ৬৮ ــ ৬৯]।
এর মধ্যে রয়েছে: ওহুদের দিনে তাদের কারো কারো পৃষ্ঠপ্রদর্শন করা, যার প্রেক্ষিতে আল্লাহ আয্যা ওয়া জাল্লা নাযিল করেন: {তোমাদের মধ্যে যারা দুই দল মুখোমুখি হওয়ার দিনে পৃষ্ঠপ্রদর্শন করেছিল, তাদের কৃতকর্মের কারণে শয়তান তাদের পদস্খলন ঘটিয়েছিল। তবে অবশ্যই আল্লাহ তাদের ক্ষমা করেছেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল, সহনশীল।}
(2) [আল-ইমরান: ১৫৫]।
এর মধ্যে রয়েছে: মিসতাহ ইবনে উসাসার ঘটনা, যখন তিনি অপবাদ রটনাকারীদের সাথে লিপ্ত হয়েছিলেন এবং যা ঘটার ছিল তাই ঘটেছিল। এমতাবস্থায় আবু বকর শপথ করেছিলেন যে তিনি তার জন্য আর ব্যয় করবেন না। তখন আল্লাহ আয্যা ওয়া জাল্লা নাযিল করেন: {তোমাদের মধ্যে যারা মর্যাদা ও সচ্ছলতার অধিকারী, তারা যেন নিকটাত্মীয়, অভাবগ্রস্ত এবং আল্লাহর পথে হিজরতকারীদের দান করবে না বলে শপথ না করে। তারা যেন ক্ষমা করে এবং ভুলত্রুটি উপেক্ষা করে। তোমরা কি চাও না যে আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করেন? আর আল্লাহ অতিশয় ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।}
(3) [আন-নূর: ২২]।
এর মধ্যে রয়েছে: হাতিব ইবনে আবি বালতাআর
(4) ঘটনা।
আর এ জাতীয় ঘটনার মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর ছিল আবদুল্লাহ ইবনে আবি সারহর ঘটনা; যদিও তিনি প্রাথমিক যুগের মুহাজিরদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না, বরং তিনি মক্কা বিজয়ের প্রাক্কালে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। এরপর তিনি ধর্মত্যাগী হন। ফলে নবী সাল্লাল্লাহু [পৃষ্ঠা ৩২] আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম মক্কা বিজয়ের দিনে তাকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে হত্যা করা হয়নি এবং তিনি পুনরায় ইসলাম গ্রহণ করেন
(5)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৫)
আল ইস্তিবসার ফী নাকদিল আখবার - যিমনা আসারুল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ২৪)
قال ابن عبد البر
(1): "فحسن إسلامه، فلم يظهر منه شيء ينكر عليه بعد ذلك، هو أحد النجباء العقلاء الكرماء من قريش". ثم ذكر ولايته مصر وفتحه أفريقية والنوبة، ثم قال: "ودعا ربه فقال: اللهم اجعل خاتمة عملي صلاة الصبح، فتوضأ ثم صلى الصبح، فقرأ في الركعة الأولى بأم القرآن والعاديات، وفي الثانية بأم القرآن وسورة، ثم سلّم عن يمينه، وذهب يسلم عن يساره، فقبض الله روحه. ذكر ذلك كله يزيد بن أبي حبيب وغيره".
ومع ذلك فلم يُرْوَ عنه من الحديث شيء إلا حديث واحد قد رواه غيره من الصحابة، ومع ذلك لم يصح السند إليه.
وأمّا الأنصار فحالهم قريب من حال المهاجرين، إلا أنه لم يعم الإيمان جميع الأوس والخزرج بل كان منهم أفراد منافقون.
وقد ذكر الله عز وجل ذلك في كتابه، لكن أولئك الأفراد كانوا قليلًا، كما يظهر من الآيات والأحاديث، وكما يُعْلَم ذلك بدلالة المعقول؛ فإنهم لو كانوا هم الأكثر أو كثيرًا، لكانوا أظهروا كُفْرَهم، ولم يحتاجوا إلى النفاق، ومع ذلك فقد كانوا معروفين عند النبي صلى الله عليه وآله وسلم والمسلمين، إن لم يكن عِلْمَ اليقين فالظن، قال الله عز وجل: {أَمْ حَسِبَ الَّذِينَ فِي قُلُوبِهِمْ مَرَضٌ أَنْ لَنْ يُخْرِجَ اللَّهُ أَضْغَانَهُمْ (29) وَلَوْ نَشَاءُ لَأَرَيْنَاكَهُمْ فَلَعَرَفْتَهُمْ بِسِيمَاهُمْ وَلَتَعْرِفَنَّهُمْ فِي لَحْنِ الْقَوْلِ وَاللَّهُ يَعْلَمُ أَعْمَالَكُمْ} [القتال
(2): 29 ــ 30].
--------------------------------------------
ইবনে আবদ আল-বার
(১) বলেছেন: "অতঃপর তার ইসলাম গ্রহণ সুন্দর রূপ লাভ করে এবং এর পর থেকে তার মধ্যে আপত্তিকর কিছু প্রকাশ পায়নি। তিনি কুরাইশদের অন্যতম শ্রেষ্ঠ, বুদ্ধিমান ও উদার ব্যক্তি ছিলেন।" এরপর তিনি তার মিশরের শাসনভার গ্রহণ এবং আফ্রিকা ও নুবিয়া বিজয়ের কথা উল্লেখ করে বলেন: "তিনি তাঁর রবের নিকট দোয়া করে বলেছিলেন: হে আল্লাহ! আমার আমলের সমাপ্তি ফজর নামাজের মাধ্যমে করুন। অতঃপর তিনি অজু করলেন এবং ফজর নামাজ আদায় করলেন। তিনি প্রথম রাকাতে সূরা ফাতিহা ও সূরা আদিয়াত এবং দ্বিতীয় রাকাতে সূরা ফাতিহা ও অন্য একটি সূরা পাঠ করলেন। এরপর তিনি ডান দিকে সালাম ফেরালেন এবং যখন বাম দিকে সালাম ফেরাতে গেলেন, তখন আল্লাহ তাঁর জান কবজ করলেন। ইয়াজিদ ইবনে আবি হাবিব ও অন্যান্যরা এ সবই বর্ণনা করেছেন।"
এতদসত্ত্বেও তাঁর থেকে একটি মাত্র হাদিস ব্যতীত আর কিছু বর্ণিত হয়নি যা অন্য সাহাবীগণও বর্ণনা করেছেন, এবং তা সত্ত্বেও তাঁর পর্যন্ত পৌঁছানো সনদটি (السند) বিশুদ্ধ (صحيح) নয়।
আর আনসারদের অবস্থা মুহাজিরদের অবস্থার কাছাকাছিই ছিল, তবে ঈমান সকল আওস ও খাজরাজ গোত্রের মাঝে পরিব্যাপ্ত ছিল না, বরং তাদের মধ্যে কিছু মুনাফিক ব্যক্তি ছিল।
মহান আল্লাহ তাঁর কিতাবে তা উল্লেখ করেছেন, কিন্তু সেই ব্যক্তিরা সংখ্যায় অল্প ছিল, যেমনটি বিভিন্ন আয়াত ও হাদিস থেকে স্পষ্ট হয় এবং যুক্তিনির্ভর প্রমাণের (دلالة المعقول) মাধ্যমেও তা জানা যায়। কেননা তারা যদি সংখ্যাগরিষ্ঠ বা অনেক হতো তবে তারা তাদের কুফর প্রকাশ করে দিত এবং নিফাকের কোনো প্রয়োজন বোধ করত না। তা সত্ত্বেও তারা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) ও মুসলিমদের নিকট পরিচিত ছিলেন; যদি নিশ্চিত জ্ঞানের (علم اليقين) মাধ্যমে না-ও হয়, তবে অন্তত প্রবল ধারণার (الظن) ভিত্তিতে। আল্লাহ তাআলা বলেন: {যাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে তারা কি মনে করে যে, আল্লাহ কখনোই তাদের মনের বিদ্বেষ প্রকাশ করে দেবেন না? (২৯) আমি ইচ্ছা করলে আপনাকে তাদের পরিচয় করিয়ে দিতাম, ফলে আপনি তাদের লক্ষণ দেখে তাদের চিনতে পারতেন। আর আপনি অবশ্যই কথার ভঙ্গি দেখে তাদের চিনতে পারবেন। আল্লাহ তোমাদের আমল সম্পর্কে অবগত} [আল-কিতাল
(২): ২৯-৩০]।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৫)
আল ইস্তিবসার ফী নাকদিল আখবার - যিমনা আসারুল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ২৫)
[ص 33] وكانوا مع ذلك خائفين كما قال الله عز وجل فيهم: {يَحْسَبُونَ كُلَّ صَيْحَةٍ عَلَيْهِمْ} [المنافقون: 4].
وكانوا مع ذلك إلى نقص بالهلاك أو التوبة والإخلاص، والغالب على الظن أنّ من بقي منهم بعد وفاة النبي صلى الله عليه وآله وسلم لم يتعرَّض أحدٌ منهم لأن يذكر عن النبي صلى الله عليه وآله وسلم شيئًا لخوفهم من المؤمنين، وعلمهم أنَّ أحدَهم لو أخبر بشيء عن النبي صلى الله عليه وآله وسلم فكَذَب فيه لأنكره عليه المؤمنون وفضحوه بما كانوا يظنونه من نفاقه، أو لأعْلَمهم بنفاقه حذيفةُ أو غيرُه ممن كان قد أسرَّ إليه النبي صلى الله عليه وآله وسلم بأسماء المنافقين.
وأمّا الأعراب فقد قال الله عز وجل: {قَالَتِ الْأَعْرَابُ آمَنَّا قُلْ لَمْ تُؤْمِنُوا وَلَكِنْ قُولُوا أَسْلَمْنَا وَلَمَّا يَدْخُلِ الْإِيمَانُ فِي قُلُوبِكُمْ وَإِنْ تُطِيعُوا اللَّهَ وَرَسُولَهُ لَا يَلِتْكُمْ مِنْ أَعْمَالِكُمْ شَيْئًا إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَحِيمٌ} [الحجرات: 14].
والظاهر أنَّ أهلَ هذه الآية آمنوا بعد ذلك أو غالبهم، كما تقتضيه كلمة "لمّا".
وقد ذكر الله عز وجل فِرقَهَم في سورة التوبة [95 ــ 105] فذكر أنّ منهم منافقين، ومنهم مؤمنون مخلصون، ومنهم مخلّطون يرجى لهم الخير، وقال في آخر ذلك: {وَقُلِ اعْمَلُوا [ص 34] فَسَيَرَى اللَّهُ عَمَلَكُمْ وَرَسُولُهُ وَالْمُؤْمِنُونَ} [التوبة: 105].
ثم ابتلاهم الله عز وجل بعد غزوة العُسْرة بوفاة رسوله صلى الله عليه وآله وسلم، فارتدَّ أقوامٌ من الأعراب، فعرفهم المؤمنون حقّ المعرفة.
[পৃষ্ঠা ৩৩] আর তারা তা সত্ত্বেও ভীত ছিল, যেমনটি মহান আল্লাহ তাদের সম্পর্কে বলেছেন: {তারা প্রতিটি আওয়াজকেই তাদের বিরুদ্ধে মনে করে} [আল-মুনাফিকুন: ৪]।
আর তারা তা সত্ত্বেও মৃত্যু অথবা তওবা ও নিষ্ঠার (ইখলাস) মাধ্যমে হ্রাস পাচ্ছিল। প্রবল ধারণা এই যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের ইন্তেকালের পর তাদের মধ্যে যারা অবশিষ্ট ছিল, তাদের কেউ মুমিনদের ভয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম থেকে কোনো কিছু বর্ণনা করার সাহস করেনি। তারা জানত যে, যদি তাদের কেউ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের পক্ষ থেকে কোনো কিছু বর্ণনা করে এবং তাতে মিথ্যা (كذب) বলে, তবে মুমিনগণ তা প্রত্যাখ্যান করবে এবং তাদের নিফাক (نفاق) সম্পর্কে মুমিনদের যে ধারণা ছিল তা দিয়ে তাদেরকে লাঞ্ছিত করবে। অথবা হুজাইফা কিংবা অন্য কেউ, যাঁদের নিকট নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম মুনাফিকদের (منافق) নাম সংগোপনে প্রকাশ করেছিলেন, তাঁরা তাদের নিফাক (نفاق) সম্পর্কে মুমিনদের অবহিত করে দেবেন।
আর বেদুঈনদের সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেছেন: {মরুবাসীরা বলে, ‘আমরা ঈমান এনেছি’। আপনি বলুন, ‘তোমরা ঈমান আনোনি, বরং তোমরা বলো—আমরা ইসলাম গ্রহণ করেছি; কারণ ঈমান এখনো তোমাদের অন্তরে প্রবেশ করেনি। আর যদি তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করো, তবে তিনি তোমাদের আমলসমূহ হতে বিন্দুমাত্র হ্রাস করবেন না। নিশ্চয় আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল, পরম dয়ালু’} [আল-হুজুরাত: ১৪]।
প্রকাশ্য বিষয় হলো, এই আয়াতের উদ্দিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অথবা তাদের অধিকাংশ এর পরে ঈমান এনেছিলেন, যেমনটি 'লাম্মা' (এখনো না) শব্দটির দ্বারা প্রতীয়মান হয়।
আর মহান আল্লাহ সূরা আত-তাওবায় [৯৫-১০৫] তাদের বিভিন্ন শ্রেণির কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তাদের মধ্যে রয়েছে মুনাফিক (منافق), কেউ একনিষ্ঠ মুমিন, আবার কেউ মিশ্রণকারী (مخلط), যাদের জন্য কল্যাণের আশা করা যায়। আর এই প্রসঙ্গের শেষে তিনি বলেছেন: {আর আপনি বলুন, ‘তোমরা আমল করো, [পৃষ্ঠা ৩৪] অচিরেই আল্লাহ তোমাদের আমল দেখবেন এবং তাঁর রাসূল ও মুমিনগণও দেখবেন’} [আত-তাওবা: ১০৫]।
অতঃপর গাযওয়ায়ে উসরাতের পর মহান আল্লাহ তাঁদেরকে তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের ইন্তেকালের মাধ্যমে পরীক্ষায় ফেলেন। ফলে বেদুঈনদের কিছু সম্প্রদায় মুরতাদ (ارتد) হয়ে যায়, তখন মুমিনগণ তাঁদেরকে যথাযথভাবে চিনে নিয়েছিলেন।
(খণ্ড: ১৫)
আল ইস্তিবসার ফী নাকদিল আখবার - যিমনা আসারুল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وأمّا الطُّلقاء من أهل مكة فلم يرتدّ منهم أحد بعده صلى الله عليه وآله وسلم، وقد شملتهم بعضُ الآيات المتقدّمة كما يعلم بمراجعتها، وكذلك تشملهم بعض الأحاديث، كالحديث المشهور: "خير الناس قرني
… "
(1).
وبالجملة فتعديل الله عز وجل ورسوله ثابت للمهاجرين عامة، ولم يجئ ما يخصِّصه.
وأمّا الأنصار؛ فالثناء عليهم عام، ولكن قد كان من الأوس والخزرج منافقون لكنهم قليل، ولم يحضر من المنافقين أحدٌ بيعةَ العقبة، ولا شهد بدرًا ولا أحدًا، فإنَّ كبيرهم اعتزل بهم، والظاهر أنه لم يبايع تحت الشجرة أحدٌ منهم، وقد قيل: إنه كان هناك واحد منهم فلم يبايع وقد سُمّي
(2).
وقول الله عز وجل في ذكر تخلُّفهم عن غزوة تبوك: {وَلَكِنْ كَرِهَ اللَّهُ انْبِعَاثَهُمْ فَثَبَّطَهُمْ وَقِيلَ اقْعُدُوا مَعَ الْقَاعِدِينَ (46) لَوْ خَرَجُوا فِيكُمْ مَا زَادُوكُمْ إِلَّا خَبَالًا} الآية [التوبة: 46 ــ 47] يقتضي أنه لم يشهد تبوك أحدٌ منهم.
ولكن رُوي أن اثني عشر منهم اعترضوا النبيَّ صلى الله عليه وآله وسلم مَرْجِعَه من تبوك، وأرادوا تَرْديته من العقبة
(3).
--------------------------------------------
আর মক্কাবাসীদের মধ্য হতে যারা মুক্ত ব্যক্তিবর্গ (الطلقاء) ছিলেন, তাদের মধ্য থেকে কেউই তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) ইন্তেকালের পর ধর্মত্যাগী হয়নি। তাদের ব্যাপারে পূর্ববর্তী কিছু আয়াত প্রযোজ্য হয়, যেমনটি সেগুলো পর্যালোচনা করলে জানা যায়। অনুরূপভাবে কিছু হাদিসও তাদের অন্তর্ভুক্ত করে, যেমন প্রসিদ্ধ হাদিস: "মানুষের মাঝে সর্বোত্তম হলো আমার যুগ
… "
(১).
মোদ্দাকথা, আল্লাহ আযযা ওয়া জাল এবং তাঁর রাসুলের পক্ষ থেকে মুহাজিরগণের জন্য ঢালাওভাবে উত্তম চরিত্রের ঘোষণা (تعديل) সাব্যস্ত রয়েছে, এবং এমন কিছু আসেনি যা একে বিশেষায়িত করে।
আর আনসারগণের ক্ষেত্রে; তাদের প্রশংসা সাধারণ (সর্বজনীন)। তবে আউস ও খাযরাজ গোত্রের মাঝে কিছু মুনাফিক ছিল, কিন্তু তারা ছিল সংখ্যায় নগণ্য। মুনাফিকদের কেউ আকাবার বায়আতে উপস্থিত ছিল না, এবং বদর বা উহুদ যুদ্ধেও অংশগ্রহণ করেনি; কারণ তাদের নেতা তাদের নিয়ে পৃথক হয়ে গিয়েছিল। আর বাহ্যত গাছের নিচে বায়আতে (বায়আতুর রিদওয়ান) তাদের কেউ অংশগ্রহণ করেনি। তবে বলা হয়ে থাকে যে, সেখানে তাদের একজন উপস্থিত ছিল কিন্তু সে বায়আত গ্রহণ করেনি, এবং তার নামও উল্লেখ করা হয়েছে
(২).
এবং তাবুক যুদ্ধে তাদের অনুপস্থিতি সম্পর্কে আল্লাহ আযযা ওয়া জালের বাণী: {কিন্তু আল্লাহ তাদের অভিযানে বের হওয়া অপছন্দ করলেন, তাই তিনি তাদের নিবৃত্ত রাখলেন এবং বলা হলো, 'বসে থাকো বসে থাকা লোকদের সাথে'। যদি তারা তোমাদের সাথে বের হতো, তবে তোমাদের মাঝে বিভ্রান্তিই বৃদ্ধি করতো} আয়াত [আত-তাওবাহ: ৪৬ ــ ৪৭]; এটি দাবি করে যে, তাদের কেউ তাবুক যুদ্ধে উপস্থিত ছিল না।
কিন্তু বর্ণিত আছে যে, তাবুক থেকে প্রত্যাবর্তনের পথে তাদের বারোজন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের গতিরোধ করেছিল এবং তারা তাঁকে পাহাড়ের গিরিপথ থেকে নিচে ফেলে দিতে চেয়েছিল
(৩).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৫)
আল ইস্তিবসার ফী নাকদিল আখবার - যিমনা আসারুল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ২৭)
[ص 35] وقد يقال ــ إن صح الخبر ــ: لعلّ هؤلاء لم يشهدوا تبوك، وإنّما ترصَّدوا قدومَه صلى الله عليه وآله وسلم من تبوك، فالتقوه ببعض الطريق لمَّا هموا به. ومع ذلك ففي الخبر أن حذيفة عرف هؤلاء.
هذا، وقد سبق أن الظاهر أنّ من بقي من المنافقين لم يُرْوَ عن أحدٍ منهم شيء عن النبي صلى الله عليه وآله وسلم.
وأمّا الأعراب فقد تمّ امتحانهم بوفاته صلى الله عليه وآله وسلم، فَمَن ثبت منهم على الإسلام فقد ثبتت عدالته، ومن ارتدّ فقد زالت، فمن عاد بعد ذلك إلى الإسلام فيحتاج إلى عدالة جديدة.
وأمّا الطُّلقاء فقد شملتهم بعض الآيات كما عرفتَ، ولم تقع منهم ردّة.
ولو اقتصر المخالف في المسألة على القول بأن مَنْ تأخَّر إسلامُه وقلَّت صحبتُه يحتاج إلى البحث عنهم لكان لقوله وجهٌ في الجملة. وأوجه من ذلك مَنْ كان من الأعراب، ويحتمل أنّه ممن ارتدّ عقب وفاة النبي صلى الله عليه وآله وسلم، فأما من عُلِم أنه ممن ارتدّ فالأمر فيه أظهر.
هذا، وقد كان العرب يتحاشَون من الكذب، وتأكَّد ذلك فيمن أسلم، وكان أحدهم ــ وإن رقَّ دينُه ــ لا يبلغُ به أن يجترئ على الكذب على الله ورسوله، وكانوا يرون أنّ أصحابَ رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم متوافرون، وأنه إن تجرَّأ أحدٌ على الكذب افْتُضِح.
[ص 36] ولو قال قائل: إنّ الله تبارك وتعالى منعَ القومَ مِن تعمُّدِ الكذب على نبيه عليه الصلاة والسلام بمقتضى ضمانه بحفظ دينه، ولا سيّما مع إخباره بعدالتهم لَمَا أبْعَد.
[পৃষ্ঠা ৩৫] আর যদি সংবাদটি (الخبر) সঠিক (صحيح) হয়—তবে হয়তো বলা যেতে পারে: সম্ভবত তারা তাবুকের যুদ্ধে উপস্থিত ছিল না, বরং তারা তাবুক থেকে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) প্রত্যাবর্তনের প্রতীক্ষায় ছিল এবং পথিমধ্যে যখন তারা তাঁর ক্ষতির সংকল্প করেছিল, তখন তাঁর সাথে তাদের সাক্ষাৎ ঘটে। তা সত্ত্বেও সংবাদে (الخبر) এসেছে যে, হুযাইফা (রা.) তাদের চিনে ফেলেছিলেন।
উল্লেখ্য যে, ইতিপূর্বেও আলোচিত হয়েছে যে, বাহ্যত অবশিষ্ট মুনাফিকদের কারও পক্ষ থেকেই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) থেকে কোনো কিছু বর্ণিত (مروي) হয়নি।
আর বেদুইনদের (الأعراب) ক্ষেত্রে বিষয়টি হলো, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর ইন্তেকালের মাধ্যমে তাদের পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। ফলে তাদের মধ্যে যারা ইসলামে অবিচল ছিল, তাদের বিশ্বস্ততা (عدالة) সাব্যস্ত হয়েছে। আর যারা ধর্মত্যাগী (مرتد) হয়েছিল, তাদের থেকে তা অপসারিত হয়েছে। এরপর যারা পুনরায় ইসলামের পথে ফিরে এসেছে, তাদের নতুন করে বিশ্বস্ততা (عدالة) প্রমাণের প্রয়োজন রয়েছে।
আর তুলাকাদের (طلقاء) ব্যাপারে আপনি যেমনটা জেনেছেন, তাদের ক্ষেত্রেও কিছু আয়াত প্রযোজ্য হয় এবং তাদের পক্ষ থেকে ধর্মত্যাগ (ردة) সংঘটিত হয়নি।
যদি এই মাসআলায় বিরোধিতাকারী ব্যক্তি কেবল এই কথায় সীমাবদ্ধ থাকতেন যে, যাদের ইসলাম গ্রহণ বিলম্বিত হয়েছে এবং সাহচর্য (صحبة) কম ছিল, তাদের সম্পর্কে অনুসন্ধান করা প্রয়োজন—তবে সামগ্রিকভাবে তার এই বক্তব্যের একটি যৌক্তিক দিক থাকত। এর চেয়েও জোরালো দিক হলো ঐসব বেদুইন (الأعراب), যাদের ব্যাপারে সম্ভাবনা রয়েছে যে তারা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর ইন্তেকালের পর ধর্মত্যাগী (مرتد) হয়েছিল। আর যাদের ব্যাপারে নিশ্চিতভাবে জানা যায় যে তারা ধর্মত্যাগী (مرتد) হয়েছিল, তাদের বিষয়টি তো আরও বেশি স্পষ্ট।
উল্লেখ্য যে, আরবরা মিথ্যা (كذب) বলা থেকে বিরত থাকত এবং যারা ইসলাম গ্রহণ করেছিল তাদের মধ্যে এই বিষয়টি আরও সুদৃঢ় হয়েছিল। তাদের কারও দীনদারী শিথিল হলেও সে আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের নামে মিথ্যা (كذب) বলার দুঃসাহস দেখাত না। তারা মনে করত যে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীগণ (أصحاب) বিপুল সংখ্যায় বিদ্যমান এবং কেউ যদি মিথ্যা (كذب) বলার স্পর্ধা দেখাত, তবে সে লাঞ্ছিত ও উন্মোচিত হয়ে পড়ত।
[পৃষ্ঠা ৩৬] যদি কোনো বক্তা এই কথা বলেন যে: আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা তাঁর দীন সংরক্ষণের প্রতিশ্রুতির দাবি অনুযায়ী সেই জনগোষ্ঠীকে তাঁর নবীর (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) নামে উদ্দেশ্যমূলক মিথ্যা (كذب) বলা থেকে বিরত রেখেছেন, বিশেষত যেখানে তিনি নিজেই তাদের বিশ্বস্ততা (عدالة) সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন—তবে সেই বক্তব্যটি অসঙ্গত হবে না।
(খণ্ড: ১৫)
আল ইস্তিবসার ফী নাকদিল আখবার - যিমনা আসারুল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ২৮)
ومَنْ تدبّر الأحاديث المروية عمن يمكن أن يُتكلَّم فيه من الطلقاء ونحوهم= ظهر له صِدْق القوم؛ فإنَّ المرويّ عن هؤلاء قليل، ولا تكاد تجد حديثًا يصحّ عن أحدٍ منهم إلا وقد صحَّ بلفظه أو معناه عن غيره من المهاجرين أو الأنصار. وقد كانت بين القوم إحَنٌ
(1) بعد النبي صلى الله عليه وآله وسلم، فلو استساغ أحدٌ منهم الكذب لاختلق أحاديث تقتضي ذمَّ خصمه، ولم نجد من هذا شيئًا صحيحًا صريحًا.
وفوق هذا كله فأهل السنة لم يدَّعوا عصمةَ القوم، بل غاية ما ادَّعوه أنه ثبت لهم أصل العدالة، ثم لم يثبت ما يزيلها. والمخالف يزعم أنه قد ثبت عنده في حقِّ بعضهم ما يزيل العدالة، فانحصر الخلاف في تلك الأمور التي زعمها، فإذا أثبت أهل السنة أنها لم تصح، وأن ما صحَّ منها لا يقتضي زوال العدالة استتبَّ الأمر. فأمّا من ثبتَ شهادةُ النبيّ صلى الله عليه وآله وسلم له بالمغفرة والجنة فقد تضمن ذلك تعديلهم أوّلًا وآخرًا. والله الموفق.
[ص 37] تنبيه:
أما الخطأ فقد وقع من بعض الصحابة، كقول ابن عمر: إن النبي صلى الله عليه وآله وسلم اعتمر مرةً في رجب
(2)، وغير ذلك مما يعرف بتتبع كتب السنة
(3).
--------------------------------------------
এবং যারা 'তুলাকা' (মক্কা বিজয়ের পর মুক্তিপ্রাপ্ত) এবং তাদের সমপর্যায়ের এমন ব্যক্তি যাদের বিষয়ে সমালোচনার অবকাশ থাকতে পারে, তাদের বর্ণিত (المروية) হাদিসসমূহ নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করলে উক্ত লোকগুলোর সত্যবাদিতা (صدق) স্পষ্ট হয়ে যায়। কেননা তাদের থেকে বর্ণিত (المرويّ) হাদিসের সংখ্যা খুবই কম; আর আপনি তাদের কারো পক্ষ থেকে এমন কোনো হাদিস সহিহ হওয়া (يصحّ) দেখতে পাবেন না যা অন্য কোনো মুহাজির বা আনসার সাহাবির মাধ্যমে শব্দে বা অর্থে সহিহ (صحَّ) হয়নি। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের ওফাতের পর এই কওমের মধ্যে কিছু মনোমালিন্য বা বিদ্বেষ
(১) সৃষ্টি হয়েছিল; যদি তাদের কেউ মিথ্যা বলাকে বৈধ মনে করতেন, তবে তারা অবশ্যই নিজেদের প্রতিপক্ষের নিন্দায় হাদিস জাল করতেন। অথচ আমরা এর স্বপক্ষে স্পষ্ট (صريحًا) ও সহিহ (صحيحًا) কোনো কিছুই পাইনি।
এর বাইরে বড় কথা হলো, আহলুস সুন্নাহ এই কওমের নিষ্পাপত্ব (عصمة) দাবি করেন না। বরং তাদের দাবির সারকথা হলো, তাদের জন্য ন্যায়পরায়ণতা (العدالة)-এর মূল ভিত্তি প্রমাণিত, আর এমন কিছু প্রমাণিত হয়নি যা তাকে বিলুপ্ত করে দেয়। অন্যদিকে বিপক্ষ দল মনে করে যে, তাদের কারো কারো ক্ষেত্রে ন্যায়পরায়ণতা (العدالة) বিলুপ্তকারী বিষয় তাদের কাছে সাব্যস্ত হয়েছে। ফলে বিরোধ কেবল সেই বিষয়গুলোতেই সীমাবদ্ধ যা তারা দাবি করেছে। এখন আহলুস সুন্নাহ যদি প্রমাণ করে দেন যে, সেই বিষয়গুলো আদতেই সহিহ (تصح) নয়, আর এর মধ্যে যা সহিহ (صحَّ) বলে প্রমাণিত তা ন্যায়পরায়ণতা (العدالة) বিলুপ্ত হওয়াকে আবশ্যক করে না, তবে বিষয়টি সুরাহা হয়ে যায়। আর যাদের জন্য নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের ক্ষমা ও জান্নাতের সাক্ষ্য সাব্যস্ত হয়েছে, তা মূলত আদি-অন্ত সব সময়ের জন্য তাদের ন্যায়পরায়ণ সাব্যস্তকরণ (تعديل)-কেই শামিল করে। আল্লাহ-ই তাওফিকদাতা।
[পৃষ্ঠা ৩৭] সতর্কতা:
তবে ভুল কোনো কোনো সাহাবি থেকে সংঘটিত হয়েছে, যেমন ইবনে উমর (রা.)-এর উক্তি: "নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম একবার রজব মাসে ওমরাহ করেছিলেন"
(২); এছাড়া আরও কিছু উদাহরণ রয়েছে যা সুন্নাহর গ্রন্থসমূহ পর্যালোচনার মাধ্যমে জানা যায়
(৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৫)
আল ইস্তিবসার ফী নাকদিল আখবার - যিমনা আসারুল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ২৯)
مسألة:
قال الخطيب في "الكفاية" (ص 52): "ومن الطريق إلى معرفة كونه صحابيًّا: تظاهرُ الأخبار بذلك. وقد يُحْكَم بأنه صحابي إذا كان ثقة أمينًا مقبول القول، إذا قال: "صَحِبتُ النبي صلى الله عليه وآله وسلم وكثر لقائي له
… وإذا قال: أنا صحابي ولم يُحْكَ عن الصحابة رَدُّ قوله ولا ما يعارضه
… = وجبَ إثباته صحابيًّا حكمًا بقوله لذلك، أو قول آحاد الصحابة: [إنه صحابي]
(1) ".
أقول: فعُرِف من هذا أن من لم تثبت صحبتُه إلا بقوله حُكْمه حكم التابعين في البحث عن عدالته؛ لأنها لا تثبت صحبته حتى تثبت عدالته.
* * * *
--------------------------------------------
মাসআলা:
খতিব আল-বাগদাদি 'আল-কিফায়া' গ্রন্থে (পৃ. ৫২) বলেন: "কোনো ব্যক্তি সাহাবি (صحابي) হওয়ার বিষয়টি জানার একটি মাধ্যম হলো: এ সংক্রান্ত সংবাদগুলো সুপ্রসিদ্ধ হওয়া। আর কোনো ব্যক্তিকে সাহাবি (صحابي) হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে যদি তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة), আমানতদার এবং গ্রহণযোগ্য বক্তব্যের অধিকারী হন, যখন তিনি বলেন: 'আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের সাহচর্য লাভ করেছি এবং তাঁর সাথে আমার বহুবার সাক্ষাৎ হয়েছে
…' এবং যখন তিনি বলেন: 'আমি একজন সাহাবি (صحابي)' আর সাহাবিদের (صحابة) পক্ষ থেকে তাঁর সেই বক্তব্য প্রত্যাখ্যান বা এর বিরোধিতার কোনো কিছু বর্ণিত না হয়
… = তবে তাঁর এই বক্তব্যের কারণে তাকে বিধানগতভাবে সাহাবি (صحابي) হিসেবে সাব্যস্ত করা আবশ্যক হবে, অথবা সাহাবিদের মধ্য থেকে একক কোনো ব্যক্তির (আহাদ (آحاد)) এই উক্তির ভিত্তিতে যে: [তিনি একজন সাহাবি (صحابي)]
(১) "।
আমি বলছি: এ থেকে জানা গেল যে, যাঁর সাহচর্য (صحبة) কেবল তাঁর নিজের উক্তি ব্যতীত অন্য কোনোভাবে প্রমাণিত নয়, তাঁর ন্যায়পরায়ণতা (আদালাত (عدالة)) অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে তাঁর বিধান হবে তাবেয়িদের (تابعين) বিধানের মতো; কারণ তাঁর ন্যায়পরায়ণতা (আদালাত (عدالة)) প্রমাণিত হওয়া ব্যতীত তাঁর সাহচর্য (صحبة) সাব্যস্ত হয় না।
* * * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৫)
আল ইস্তিবসার ফী নাকদিল আখবার - যিমনা আসারুল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৩০)
[ص 39]
فصل ــ 2التابعونالتابعيُّ: مَن أدرك بعض الصحابة، ورأى بعضهم، وسمع منه سماعًا يُعتدُّ به، بأن يكون السامع مميزًا، وقيل: بل تكفي الرؤية مع التمييز.
والذي يظهر في حديث: "خيرُ الناسِ قرني، ثمّ الذين يلونهم"
(1) أن الدخول في "الذين يلونهم" يُشْترط فيه زيادة على ما تقدَّم، قال ابن الأثير في "النهاية"
(2) عن أبي عبيد الهروي: "فيه: "خيركم قرني ثم الذين يلونهم" يعني الصحابة ثم التابعين
(3)، والقرن أهلُ كلّ زمان، وهو مقدار التوسط في أعمار أهل كل زمان، مأخوذ من الاقتران، وكأنه المقدار الذي يقترن فيه أهل ذلك الزمان في أعمارهم وأحوالهم، وقيل: القرن أربعون سنة، وقيل: ثمانون، وقيل: مائة".
أقول: والقول الثاني كأنّه ضابط تقريبيّ للأول.
هذا، والقرون تتداخل ــ أعني أن القرن الأول إذا أخذَ في النقصان أخذ الذي يليه في الزيادة، وهكذا ــ فقد يقال: إن قَرْنه صلى الله عليه وآله وسلم بقي على الغلبة إلى تمام ثلاثين سنة من الهجرة، ثم أخذ في الضعف، وذلك حين بدأ الناسُ في الإنكار على أمراء عثمان، وأخذ القرنان يصطرعان، فكان
--------------------------------------------
[পৃষ্ঠা ৩৯]
অনুচ্ছেদ — ২তাবিঈগণ (التابعون)তাবিঈ (التابعي) হলেন তিনি: যিনি কোনো সাহাবীর (الصحابة) সাক্ষাৎ লাভ করেছেন, তাঁদের কাউকে দেখেছেন এবং তাঁদের থেকে নির্ভরযোগ্য (يُعتدُّ به) শ্রবণ করেছেন, এই শর্তে যে শ্রবণকারী যেন সমঝদার (مميز) হন। আবার কেউ কেউ বলেছেন: বরং সমঝদার হওয়ার সাথে সাথে কেবল দেখাই যথেষ্ট।
হাদিসের এই বাণী থেকে যা প্রতীয়মান হয়: "মানুষের মধ্যে সর্বোত্তম আমার যুগের লোকজন, এরপর যারা তাদের পরবর্তী" — এখানে "যারা তাদের পরবর্তী" এর অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য উপরে যা উল্লেখ করা হয়েছে তার অতিরিক্ত শর্তারোপ করা হয়। ইবনুল আসির "নিহায়া" গ্রন্থে আবু উবাইদ আল-হারাউই থেকে বর্ণনা করেছেন: "এতে রয়েছে: 'তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম আমার যুগের লোকজন, এরপর যারা তাদের পরবর্তী' অর্থাৎ সাহাবীগণ (الصحابة) এবং এরপর তাবিঈগণ (التابعين)। যুগ (القرن) বলতে প্রত্যেক সময়ের অধিবাসীদের বোঝায়। আর তা হলো প্রত্যেক সময়ের মানুষের গড় আয়ুর পরিমাণ, যা 'ইকতিরান' (الاقتران) শব্দ থেকে ব্যুৎপন্ন। যেন এটি এমন এক সময়কাল যাতে ওই সময়ের মানুষ তাদের বয়স ও অবস্থায় একে অপরের সাথে যুক্ত থাকে। কেউ কেউ বলেছেন: এক যুগ হলো চল্লিশ বছর, কেউ বলেছেন আশি বছর, আবার কেউ বলেছেন একশ বছর।"
আমি বলি: দ্বিতীয় মতটি যেন প্রথমটির জন্য একটি আনুমানিক মানদণ্ড (ضابط) স্বরূপ।
উল্লেখ্য যে, যুগসমূহ একে অপরের মধ্যে প্রবিষ্ট হয় — অর্থাৎ প্রথম যুগ যখন কমতে শুরু করে তখন পরবর্তী যুগ বৃদ্ধি পেতে শুরু করে, এবং এভাবেই চলতে থাকে। বলা যেতে পারে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লামের যুগ হিজরতের ত্রিশ বছর পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত প্রবল ছিল, এরপর তা দুর্বল (الضعف) হতে শুরু করে। আর তা ঠিক তখনই ঘটেছিল যখন মানুষ উসমানের নিযুক্ত গভর্নরদের ওপর আপত্তি করতে শুরু করে এবং দুই যুগের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়, ফলে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৫)
আল ইস্তিবসার ফী নাকদিল আখবার - যিমনা আসারুল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৩১)
[ص 40] بعد خمس سنين قتل عثمان، وذلك مصداق حديث البراء بن ناجية عن ابن مسعود عن النبي صلى الله عليه وآله وسلم: "تدور رحى الإسلام لخمس وثلاثين أو ست وثلاثين أو سبع وثلاثين، فإن يهلكوا فسبيل مَنْ هلك، وإن يقم لهم دينهم يقم لهم سبعين عامًا". قال: فقلت: مما بقي أو ممّا مضى؟ قال: "ممّا مضى"
(1).
وفي بعض الروايات "مما بقي".
وروى شريك عن مجالد، عن الشعبي، عن مسروق، عن ابن مسعود مرفوعًا: "إن رحى الإسلام ستزول بعد خمس وثلاثين، فإن اصطلحوا فيما بينهم على غير قتال يأكلوا الدنيا سبعين عامًا رغدًا، وإن يقتتلوا يركبوا سَنَن من قبلهم"
(2).
فكان لخمس وثلاثين حَصْر عثمان، ولم يقم الدين كما ينبغي؛ إذ لم يصطلحوا على غير قتال، بل كان هلاك ما بالقتل والفرقة والفتنة، فكان سبيلهم سبيل الأمم الماضية من الاختلاف، ثم تمت الغلبة للقرن الثاني بعد سنوات بقتل أمير المؤمنين علي عليه السلام، ثم بتسليم ابنه الحسن الخلافة لمعاوية، وذلك مصداق حديث سفينة مولى النبي صلى الله عليه وآله وسلم، قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم يقول: "الخلافة ثلاثون
--------------------------------------------
[পৃষ্ঠা ৪০] পাঁচ বছর পর উসমান (রা.) নিহত হন, আর এটি ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বারা বিন নাজিয়াহ কর্তৃক বর্ণিত নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদিসের সত্যায়ন: "ইসলামের চাকা পয়ত্রিশ বা ছত্রিশ বা সাইত্রিশ বছর পর্যন্ত আবর্তিত হবে। যদি তারা ধ্বংস হয় তবে তা ধ্বংসপ্রাপ্তদের পথ হবে, আর যদি তাদের দ্বীন তাদের জন্য প্রতিষ্ঠিত থাকে তবে তা সত্তর বছর পর্যন্ত কায়েম থাকবে।" তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন: আমি জিজ্ঞেস করলাম, "এটি কি অবশিষ্ট সময় থেকে নাকি অতিক্রান্ত সময় থেকে?" তিনি বললেন: "অতিক্রান্ত সময় থেকে"
(১)।
এবং কোনো কোনো বর্ণনায় (رواية) "যা অবশিষ্ট আছে তা থেকে" শব্দটি এসেছে।
শারীক মুজালিদ থেকে, তিনি শাবি থেকে, তিনি মাসরুক থেকে এবং তিনি ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে মরফু (مرفوع) হিসেবে বর্ণনা করেছেন: "নিশ্চয়ই ইসলামের চাকা পয়ত্রিশ বছর পর অপসারিত হবে। যদি তারা লড়াই ব্যতিরেকে নিজেদের মধ্যে মীমাংসা করে তবে তারা সত্তর বছর সাচ্ছন্দ্যে জীবন অতিবাহিত করবে। আর যদি তারা লড়াইয়ে লিপ্ত হয় তবে তারা তাদের পূর্ববর্তীদের রীতিনীতি অনুসরণ করবে"
(২)।
সুতরাং পয়ত্রিশতম বছরে উসমান (রা.)-এর অবরোধের ঘটনা ঘটে এবং দ্বীন যথাযথভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি; যেহেতু তারা লড়াই ছাড়া মীমাংসায় পৌঁছাতে পারেনি। বরং হত্যা, বিভেদ ও ফিতনার মাধ্যমে বিনাশ সাধিত হয়েছিল। ফলে তাদের পথ ছিল পূর্ববর্তী উম্মতদের মতভেদের পথের মতো। অতঃপর কয়েক বছর পর আমিরুল মুমিনীন আলী (আলাইহিস সালাম)-এর শাহাদাত এবং তাঁর পুত্র হাসান (রা.) কর্তৃক মুয়াবিয়া (রা.)-এর নিকট খিলাফত হস্তান্তরের মাধ্যমে দ্বিতীয় যুগের আধিপত্য পূর্ণতা পায়। আর এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর মুক্তদাস সাফিনাহ (রা.) বর্ণিত হাদিসের সত্যায়ন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "খিলাফত ত্রিশ বছর...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৫)
আল ইস্তিবসার ফী নাকদিল আখবার - যিমনা আসারুল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৩২)
عامًا ثم يكون بعد ذلك الملك"
(1).
أقول: فتمَّت الغلبة للقرن الثاني بنحو أربعين سنة من الهجرة، فثلاثون سنة منها كانت للقرن الأول، وعشر بينه وبين الثاني، ثم تمَّت للقرن الثاني ثلاثون سنة لستين من الهجرة، فكانت ولاية يزيد، ثم قتل الحسين بن عليّ عليه السلام.
وقد صحَّ عن أبي هريرة [ص 41] أنه كان يتعوَّذ من عام الستين وإمارة الصبيان
(2)، فمات قبلها.
ثم كانت وقعة الحرَّة، وإحراق الكعبة، ثم كان بعد السبعين رمي الكعبة بالمجانيق، وقتل ابن الزبير، واستتباب الأمر لعبد الملك.
وعلى هذا المنوال يكون انتهاء القرن الثاني سنة سبعين، وانتهاء الثالث على رأس المائة.
ومن أسباب الفضل للثاني والثالث: أنه لم يزل فيهما بقايا من أصحاب النبي صلى الله عليه وآله وسلم، وانتهى ذلك بعد انتهاء المائة بقليل، مصداقًا
--------------------------------------------
বছর, তারপর রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে"
(১)।
আমি বলি: হিজরতের প্রায় চল্লিশ বছর নাগাদ দ্বিতীয় প্রজন্মের (قرن) প্রাধান্য পূর্ণতা পায়। এর মধ্যে ত্রিশ বছর ছিল প্রথম প্রজন্মের (قرن) জন্য, আর দশ বছর ছিল প্রথম ও দ্বিতীয় প্রজন্মের মধ্যবর্তী সময়। অতঃপর হিজরি ষাট বছর নাগাদ দ্বিতীয় প্রজন্মের (قرن) ত্রিশ বছর পূর্ণ হয়; তখন ছিল ইয়াজিদের শাসনকাল এবং এরপর হুসাইন ইবনে আলী (আলাইহিস সালাম) শহীদ হন।
আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে সহিহ (صحيح) সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি ষাট হিজরি সাল এবং বালকদের শাসন থেকে আল্লাহর কাছে পানাহ চাইতেন; তিনি সেই সময়ের পূর্বেই ইন্তেকাল করেন
(২)।
অতঃপর হাররার যুদ্ধ এবং কাবা গৃহে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এরপর সত্তর হিজরির পর মিনজানিক দিয়ে কাবা শরীফে পাথর নিক্ষেপ, ইবনুল জুবায়েরের হত্যাকাণ্ড এবং আব্দুল মালিকের শাসন সুসংহত হওয়ার ঘটনাগুলো ঘটে।
এই ধারাবাহিকতায় দ্বিতীয় প্রজন্মের (قرن) সমাপ্তি সত্তর হিজরিতে এবং তৃতীয় প্রজন্মের সমাপ্তি শততম বছরের শুরুতে হয়।
দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রজন্মের শ্রেষ্ঠত্বের অন্যতম কারণ হলো: এই উভয় যুগে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীদের অবশিষ্টাংশ বিদ্যমান ছিলেন। আর একশ বছর শেষ হওয়ার অল্প কিছুকাল পর তাঁদের সেই উপস্থিতির সমাপ্তি ঘটে, যা সত্যতা প্রমাণ করে...
--------------------------------------------