(খণ্ড: ১) রিয়ায়াতুল মাসলাহতি ওয়াল হিকমাতি ফী তাশরীয়ি নাবিয়্যির রাহমাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (পৃষ্ঠা: -)
رعاية المصلحة والحكمة في تشريع نبي الرحمة (صلى الله عليه وسلم)   (محمد طاهر حكيم)

القسم: أصول الفقه


الكتاب: رعاية المصلحة والحكمة في تشريع نبي الرحمة (صلى الله عليه وسلم)

المؤلف: محمد طاهر حكيم

الناشر: الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة

الطبعة: العدد 116، السنة 34، 1422هم2002م

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

عدد الصفحات: 256

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

রহমতের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বিধান প্রণয়নে (تشريع) জনকল্যাণ বিবেচনা (رعاية المصلحة) ও প্রজ্ঞা (حكمة)   (মুহাম্মদ তাহের হাকিম)

বিভাগ: ফিকহ শাস্ত্রের মূলনীতি (أصول الفقه)


বই: রহমতের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বিধান প্রণয়নে (تشريع) জনকল্যাণ বিবেচনা (رعاية المصلحة) ও প্রজ্ঞা (حكمة) (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)

লেখক: মুহাম্মদ তাহের হাকিম

প্রকাশক: মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়

সংস্করণ: সংখ্যা ১১৬، বর্ষ ৩৪، ১৪২২ হিজরি / ২০০২ খ্রিস্টাব্দ

[বইটির নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৫৬

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) রিয়ায়াতুল মাসলাহতি ওয়াল হিকমাতি ফী তাশরীয়ি নাবিয়্যির রাহমাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (পৃষ্ঠা: ১৯৭)
‌‌مُقَدّمَة

…

رِعَايَة الْمصلحَة وَالْحكمَة فِي تشريع نَبِي الرَّحْمَة صلى الله عليه وسلم

إعداد

د. مُحَمَّد طَاهِر حَكِيم

الْأُسْتَاذ المساعد فِي كُلية الشَّرِيعَة فِي نواكشوط

الْمُقدمَة

الْحَمد لله وَالصَّلَاة وَالسَّلَام على سيدنَا رَسُول الله وَآله وَصَحبه.

وَبعد، فَإِن الْعلم بالمصالح والمفاسد واعتبارها وتقديرها عِنْد دراسة الْأَحْكَام والفتاوى الشَّرْعِيَّة أَمر مُهِمّ عِنْد أهل الْعلم، بل إِنَّه لَا يُمكن فهم الْكتاب وَالسّنة ودراستهما واستلهام هديهما وَالْعَمَل بأحكامهما إِلَّا بفهم الْمَقَاصِد والمصالح الَّتِي شرعت الْأَحْكَام لأَجلهَا. يَقُول الإِمَام الشاطبي رحمه الله: "الْأَحْكَام الشَّرْعِيَّة لَيست مَقْصُودَة لأنفسها، وَإِنَّمَا قُصد بهَا أُمُور أُخْرَى هِيَ مَعَانِيهَا وَهِي الْمصَالح الَّتِي شُرعت لأَجلهَا"1

والفقيه لَا يكون فَقِيها بحقٍ إِلَّا بِمَعْرِِفَة حِكم الشَّرِيعَة ومصالحها ومقاصدها والنفوذ إِلَى دقائقها والمعرفة بأسرارها ليبين للنَّاس أَن لكل حكم من أَحْكَام الْإِسْلَام غَايَة يحققها ووظيفة يُؤَدِّيهَا وَحِكْمَة ظَاهِرَة أَو كامنة يعْمل لإيجادها ومقصداً وهدفاً يَقْصِدهُ ويستهدفه لتحقيق مصلحَة لإِنْسَان أَو دفع مفْسدَة عَنهُ.

وَأَن مالم يكن فِيهِ تَحْقِيق مصلحَة أَو دفع مفْسدَة فَهُوَ عَبث تتنزه عَن مثله شَرِيعَة الله.

إِذن فَإِن دراسة الْمصَالح والمفاسد ومعرفتها واعتبارها وبيانها للنَّاس أمرٌ مُهمّ وضرورة مُلحّة لإِظْهَار محَاسِن الشَّرِيعَة وأسرارها ولتجديد الْفِقْه وتقوية دوره ونشاطه وحيويته وصفائه ومنعاً من جموده وخموده فِي الْحَيَاة.

--------------------------------------------

1 - الموافقات 2/385.
উপস্থাপনা

…

রহমতের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শরীয়ত প্রণয়নে জনকল্যাণ ও হিকমতের পরিপালন

প্রস্তুতকারক

ড. মুহাম্মদ তাহের হাকিম

সহকারী অধ্যাপক, শরীয়াহ অনুষদ, নুয়াকশুত

ভূমিকা

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা রাসূলুল্লাহ এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবীগণের ওপর।

অতঃপর, শরয়ী বিধান ও ফতোয়া পর্যালোচনার ক্ষেত্রে জনকল্যাণ ও অপকার সম্পর্কে জ্ঞান লাভ এবং সেগুলোর উপযোগিতা বিচার ও মূল্যায়ন করা আলেমদের নিকট একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বরং কুরআন ও সুন্নাহর মর্ম উপলব্ধি করা, তা নিয়ে গবেষণা করা, তার হেদায়েত থেকে অনুপ্রেরণা গ্রহণ করা এবং এর বিধানসমূহ অনুযায়ী আমল করা ততক্ষণ পর্যন্ত সম্ভব নয়, যতক্ষণ না সেই লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ও কল্যাণসমূহ অনুধাবন করা যায় যার জন্য বিধানগুলো প্রণীত হয়েছে। ইমাম শাতবি রহিমাহুল্লাহ বলেন: "শরীয়তের বিধানসমূহ নিজস্ব সত্তার কারণে লক্ষ্য নয়, বরং এর মাধ্যমে অন্য কিছু উদ্দেশ্য করা হয়েছে যা এর অন্তর্নিহিত অর্থ; আর তা হলো সেই জনকল্যাণ যার জন্য এই বিধানগুলো প্রণয়ন করা হয়েছে।"১

একজন ফকিহ ততক্ষণ পর্যন্ত প্রকৃত ফকিহ হতে পারেন না, যতক্ষণ না তিনি শরীয়তের হিকমত, জনকল্যাণ ও উদ্দেশ্যসমূহ সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান লাভ করেন এবং এর সূক্ষ্ম রহস্যসমূহ অনুধাবন করতে পারেন। যাতে তিনি মানুষের নিকট এটি স্পষ্ট করতে পারেন যে, ইসলামের প্রতিটি বিধানেরই একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য রয়েছে যা সে বাস্তবায়ন করে, একটি দায়িত্ব রয়েছে যা সে পালন করে এবং একটি প্রকাশ্য বা প্রচ্ছন্ন হিকমত রয়েছে যা প্রতিষ্ঠার জন্য সে কাজ করে। এর একটি সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য রয়েছে যা কোনো মানুষের কল্যাণ সাধন অথবা তার থেকে কোনো অপকার দূর করার জন্য নিবেদিত।

আর যে বিষয়ের মধ্যে কোনো কল্যাণ অর্জন বা অপকার প্রতিরোধের দিক নেই, তা একটি নিরর্থক কাজ; আল্লাহর শরীয়ত এ জাতীয় কাজ থেকে পবিত্র।

সুতরাং, জনকল্যাণ ও অপকারসমূহ নিয়ে গবেষণা করা, সেগুলো সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান লাভ করা, সেগুলোকে বিবেচনায় রাখা এবং মানুষের সামনে তা বর্ণনা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সময়ের অনিবার্য দাবি। এটি শরীয়তের সৌন্দর্য ও রহস্যসমূহ ফুটিয়ে তোলার জন্য এবং ফিকহ শাস্ত্রের নবায়ন ও এর ভূমিকা, সক্রিয়তা, জীবনীশক্তি ও স্বচ্ছতাকে শক্তিশালী করার জন্য অপরিহার্য, যা একে জীবনের পথে স্থবিরতা ও জড়তা থেকে রক্ষা করবে।

--------------------------------------------

১ - আল-মুয়াফাকাত, ২/৩৮৫।
(খণ্ড: ১) রিয়ায়াতুল মাসলাহতি ওয়াল হিকমাতি ফী তাশরীয়ি নাবিয়্যির রাহমাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (পৃষ্ঠা: ১৯৮)
لأجل هَذَا أدليتُ بدلوي بِكِتَابَة هَذَا الْبَحْث المتواضع فِي هَذَا الْمَوْضُوع الْهَام، قَاصِدا إِظْهَار أهمية الْمصلحَة - المنصوصة والمستنبطة - ومؤكداً على ضَرُورَة دراستها وبيانها للنَّاس.

ونظراً لطبيعة الْمَوْضُوع فقد جَاءَ تقسيمه إِلَى مَوْضُوعَات متتابعة فِي إطار المعالجة الموضوعية الَّتِي تتطلبها طبيعة الْبَحْث والمادة العلمية المتاحة لَهُ، وَذَلِكَ من خلال تَعْرِيف الْمصلحَة وأنواعها واعتبارها، وضرورة معرفَة الْمصَالح والمفاسد. ثمَّ تطرقت إِلَى منكري تَعْلِيل الْأَحْكَام بالمصالح ووضحت موقفهم وبينت شبهاتهم مفنداً لَهَا مُبينًا فِي هَذَا الصدد أَن الْمُوجب للْحكم هُوَ الله تَعَالَى لَا الْمصلحَة وَلَا الْحِكْمَة نَاقِلا كَلَام الْعلمَاء فِي هَذَا كُله. وأشرت إِلَى كَيْفيَّة تَقْدِير الْمصَالح والمفاسد وَالنَّظَر إِلَى المآلات عِنْد تقديرها، وأخيراً شُرُوط الْمصلحَة الْمُعْتَبرَة. وتوخيت فِي ذَلِك اللُّغَة السهلة والعبارة الْوَاضِحَة وَالْعرض المقرب وفْق الْمنْهَج العلمي المتبع - قدر استطاعتي - حَتَّى يكون فِي متناول جَمِيع طَبَقَات المتعلمين وَأهل الِاخْتِصَاص، وَجَعَلته بعنوان:

(رِعَايَة الْمصلحَة وَالْحكمَة فِي تشريع نَبِي الرَّحْمَة صلى الله عليه وسلم

سَائِلًا الْمولى عز وجل أَن يَنْفَعنِي بِهِ وإخواني من طلبة الْعلم وَأَن يوفقنا جَمِيعًا إِلَى مَا يُحِبهُ ويرضاه وَأَن يَجْزِي علماءنا خير الْجَزَاء إِنَّه سميع مُجيب كريم {وَمَا تَوْفِيقِي إِلاَّ بِاللَّهِ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَإِلَيْهِ أُنِيبُ} 1 وَصلى الله على سيدنَا مُحَمَّد وَآله وَسلم.

--------------------------------------------

1 - سُورَة هود آيَة (88) .
এই উদ্দেশ্যেই আমি এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এই বিনম্র গবেষণাটি রচনার মাধ্যমে আমার ক্ষুদ্র অবদান পেশ করেছি; যেখানে আমার লক্ষ্য হলো জনকল্যাণের (المصلحة)—তা সরাসরি বর্ণিত (المنصوصة) হোক কিংবা উদ্ভূত (المستنبطة) হোক—গুরুত্ব ফুটিয়ে তোলা এবং মানুষের নিকট এর অধ্যয়ন ও বর্ণনার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা।

বিষয়ের প্রকৃতির প্রতি লক্ষ্য রেখে, গবেষণার ধরণ ও লভ্য জ্ঞানতাত্ত্বিক উপাদানের চাহিদালগ্নে বিষয়ভিত্তিক আলোচনার কাঠামোর অধীনে একে ধারাবাহিক পরিচ্ছেদে বিন্যস্ত করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে জনকল্যাণের (المصلحة) সংজ্ঞা, এর প্রকারভেদ, এর গ্রহণযোগ্যতা (اعتبار) এবং জনকল্যাণ (المصالح) ও জন-অকল্যাণের (المفاسد) স্বরূপ উপলব্ধির প্রয়োজনীয়তা। অতঃপর আমি জনকল্যাণের (المصالح) ওপর ভিত্তি করে বিধানের যৌক্তিক কারণ (تعليل الأحكام) অন্বেষণকে যারা অস্বীকার করেন তাদের প্রসঙ্গে আলোচনা করেছি, তাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছি এবং তাদের সংশয়সমূহ (شبهاتهم) খণ্ডনপূর্বক ব্যাখ্যা করেছি। এ প্রসঙ্গে আমি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছি যে, বিধান প্রবর্তনকারী (الموجب للحكم) হলেন কেবল মহান আল্লাহ তায়ালা, কোনো জনকল্যাণ (المصلحة) বা প্রজ্ঞা (الحكمة) নয়; আর এ ক্ষেত্রে আমি ওলামায়ে কেরামের উদ্ধৃতি পেশ করেছি। এছাড়া আমি জনকল্যাণ (المصالح) ও জন-অকল্যাণ (المفاسد) নিরূপণের পদ্ধতি এবং তা নিরূপণের ক্ষেত্রে পরিণতির (المآلات) দিকে লক্ষ্য রাখার বিষয়টি নির্দেশ করেছি। সবশেষে শরীয়তে গ্রহণযোগ্য (المعتبرة) জনকল্যাণের শর্তাবলি উল্লেখ করেছি। এই রচনায় আমি সহজ ভাষা, প্রাঞ্জল বাক্য ও বোধগম্য উপস্থাপনা শৈলী অনুসরণের চেষ্টা করেছি—সাধ্যানুযায়ী অনুসৃত জ্ঞানতাত্ত্বিক পদ্ধতি বজায় রেখে—যাতে শিক্ষার্থী ও বিশেষজ্ঞ সকল স্তরের মানুষের কাছে এটি সহজবোধ্য হয়। আমি এর শিরোনাম দিয়েছি:

(রহমতের নবীর (সা.) শরীয়ত প্রবর্তনে জনকল্যাণ (المصلحة) ও প্রজ্ঞার (الحكمة) সুরক্ষা

আমি মহান রবের নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন এই রচনার মাধ্যমে আমাকে এবং আমার জ্ঞান অন্বেষণকারী (طلبة العلم) ভাইদের উপকৃত করেন এবং আমাদের সকলকে তাঁর পছন্দনীয় ও সন্তোষজনক পথে পরিচালিত করেন। তিনি যেন আমাদের ওলামায়ে কেরামকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা, প্রার্থনা কবুলকারী ও অতি দয়ালু। {আর আমার তাওফিক কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে। তাঁরই ওপর আমি ভরসা করেছি এবং তাঁরই অভিমুখী হই।} ১ মহান আল্লাহ আমাদের নেতা মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গের ওপর সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন।

--------------------------------------------

১ - সূরা হুদ, আয়াত (৮৮)।
(খণ্ড: ১) রিয়ায়াতুল মাসলাহতি ওয়াল হিকমাতি ফী তাশরীয়ি নাবিয়্যির রাহমাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (পৃষ্ঠা: ১৯৯)
‌‌مدْخل:

الْعَاقِل لَا يقدم على فعل إِلَّا لمصْلحَة، وَلَا يَأْمر أَو ينْهَى عَن شَيْء إِلَّا لحكمة فضلا عَن الله سبحانه وتعالى الَّذِي هُوَ مصدر كل كَمَال ومنبع كل نوال كَمَا قَالَ تَعَالَى: {وَكَانَ اللَّهُ عَلِيماً حَكِيماً} 1 أَي كَانَ وَلم يزل يصدر فِي أَفعاله وَأَحْكَامه عَن علم وَحِكْمَة - لَا عَن جهل وعبث – سُبْحَانَهُ.

فَهُوَ جلّ وَعلا لم يخلق شَيْئا بَاطِلا أَو لعباً، وَلم يشرع شرعا عَبَثا أَو اعتباطاً بل إِن كل أَحْكَامه – عز وجل – مثل كل أَفعاله منوطة بالحكمة فَهُوَ سُبْحَانَهُ حَكِيم فِيمَا خلق، وَحَكِيم فِيمَا شرع. كَمَا قَالَ سُبْحَانَهُ: {وَمَا خَلَقْنَا السَّمَاءَ وَالأَرْضَ وَمَا بَيْنَهُمَا لاعِبِينَ} 2 أَي عابثين، والعبث: مَا خلا عَن الْمصلحَة وَالْحكمَة.

وَقَالَ جلّ وَعلا: {أَفَحَسِبْتُمْ أَنَّمَا خَلَقْنَاكُمْ عَبَثا} 3 أَي من غير مصلحَة مَقْصُودَة وَحِكْمَة منشودة؟!

{فَتَعَالَى اللَّهُ الْمَلِكُ الْحَقّ} 4 "أَي تقدس أَن يخلق شَيْئا عَبَثا فَإِنَّهُ الْملك الْحق المنزه عَن ذَلِك"5.

وَقَالَ عز وجل فِي مقادير الْمَوَارِيث -: {يُوصِيكُمُ اللَّهُ فِي أَوْلادِكُمْ} حَتَّى خَتمهَا بقوله: {إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلِيماً حَكِيماً} 6 "لتشعر الْقُلُوب بِأَن قَضَاء الله للنَّاس مَعَ أَنه هُوَ الأَصْل الَّذِي لَا يحل لَهُم غَيره، فَهُوَ كَذَلِك الْمصلحَة المبنية على

--------------------------------------------

1 - سُورَة الْفَتْح آيَة (4) .

2 - سُورَة الْأَنْبِيَاء آيَة (16) .

3 - سُورَة الْمُؤْمِنُونَ آيَة (115) .

4 - سُورَة الْمُؤْمِنُونَ آيَة (116) .

5 - انْظُر تَفْسِير ابْن كثير 3/316.

6 - سُورَة النِّسَاء آيَة (11) .
ভূমিকা:

একজন বুদ্ধিমান ব্যক্তি কোনো কল্যাণ (مصلحة) ব্যতিরেকে কোনো কাজে প্রবৃত্ত হন না এবং কোনো প্রজ্ঞা (حكمة) ব্যতিরেকে কোনো কিছুর আদেশ দেন না বা নিষেধ করেন না; তাহলে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার ক্ষেত্রে কী হতে পারে, যিনি প্রতিটি পূর্ণতার উৎস এবং সকল দানের আধার? যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময় (حكيماً)} ১ অর্থাৎ তিনি সর্বদা তাঁর কার্যাবলি ও বিধানে জ্ঞান ও প্রজ্ঞা (حكمة) অনুযায়ী সিদ্ধান্ত প্রদান করেন—অজ্ঞতা বা বৃথা কর্মকাণ্ড (عبث) থেকে নয়—তিনি পবিত্র।

অতএব তিনি মহিমান্বিত ও সুউচ্চ, তিনি কোনো কিছুই অনর্থক বা খেলাচ্ছলে সৃষ্টি করেননি এবং কোনো বিধান বৃথা (عبثاً) বা উদ্দেশ্যহীনভাবে প্রণয়ন করেননি। বরং তাঁর প্রতিটি বিধান—তিনি পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত—তাঁর সকল কর্মের মতোই প্রজ্ঞার (حكمة) সাথে সম্পৃক্ত। তিনি তাঁর সৃষ্টিতে যেমন প্রজ্ঞাময় (حكيم), তেমনি তাঁর শরয়ি বিধানেও প্রজ্ঞাময় (حكيم)। যেমন তিনি পবিত্র সত্তা বলেছেন: {আর আমি আকাশ ও পৃথিবী এবং এই দুয়ের মধ্যবর্তী যা কিছু আছে, তা খেলাচ্ছলে সৃষ্টি করিনি} ২ অর্থাৎ বৃথা (عابثين) সৃষ্টি করিনি। আর 'বৃথা' (عبث) হলো: যা কল্যাণ (مصلحة) ও প্রজ্ঞা (حكمة) বর্জিত।

আর তিনি মহিমান্বিত ও সুউচ্চ বলেছেন: {তবে কি তোমরা মনে করেছিলে যে, আমি তোমাদেরকে বৃথা (عبثاً) সৃষ্টি করেছি?} ৩ অর্থাৎ কোনো নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য বা কাঙ্ক্ষিত প্রজ্ঞা (حكمة) ব্যতিরেকেই কি সৃষ্টি করেছি?!

{অতঃপর আল্লাহ সুউচ্চ, যিনি প্রকৃত মালিক} ৪ "অর্থাৎ কোনো কিছু বৃথা (عبثاً) সৃষ্টি করা থেকে তিনি পবিত্র, কেননা তিনি এমন প্রকৃত মালিক যিনি এ জাতীয় কাজ থেকে মুক্ত" ৫।

আর তিনি পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত মিরাসের পরিমাপ প্রসঙ্গে বলেছেন: {আল্লাহ তোমাদের সন্তানদের সম্পর্কে নির্দেশ দিচ্ছেন} শেষ পর্যন্ত আয়াতটি শেষ করেছেন এই বলে: {নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময় (حكيماً)} ৬ "যাতে অন্তরসমূহ অনুভব করতে পারে যে, মানুষের জন্য আল্লাহর ফয়সালাই হলো মূল ভিত্তি যা ব্যতীত অন্য কিছু গ্রহণ করা তাদের জন্য বৈধ নয়; তেমনিভাবে এটি এমন কল্যাণের (مصلحة) ওপর প্রতিষ্ঠিত যা...

--------------------------------------------

১ - সুরা আল-ফাতহ, আয়াত (৪)।

২ - সুরা আল-আম্বিয়া, আয়াত (১৬)।

৩ - সুরা আল-মুমিনুন, আয়াত (১১৫)।

৪ - সুরা আল-মুমিনুন, আয়াত (১১৬)।

৫ - তাফসিরে ইবনে কাসির দেখুন ৩/৩১৬।

৬ - সুরা আন-নিসা, আয়াত (১১)।
(খণ্ড: ১) রিয়ায়াতুল মাসলাহতি ওয়াল হিকমাতি ফী তাশরীয়ি নাবিয়্যির রাহমাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (পৃষ্ঠা: ২০০)
كَمَال الْعلم وَالْحكمَة، فَالله يحكم لِأَنَّهُ عليم وهم لَا يعلمُونَ، وَالله يفْرض لِأَنَّهُ حَكِيم وهم يتبعُون الْهوى"1.

وَمن هُنَا قَالَ الْعلمَاء: حَيْثُ المصلحةُ فثَم شرع الله، أَي حَيْثُ الْمصلحَة مُحَققَة فثم شرع الله بهَا مَوْجُود. فَمَا هِيَ الْمصلحَة؟.

تَعْرِيف الْمصلحَة:

الْمصلحَة كالمنفعة وزنا وَمعنى، فَهِيَ مصدر بِمَعْنى الصّلاح، كالمنفعة بِمَعْنى النَّفْع، أَو هِيَ اسْم للواحدة من الْمصَالح، وَقد صرّح صَاحب لِسَان الْعَرَب بِالْوَجْهَيْنِ فَقَالَ: "والمصلحة الصّلاح، والمصلحة وَاحِدَة الْمصَالح". فَكل مَا كَانَ فِيهِ نفع - سَوَاء كَانَ بالجلب والتحصيل كاستحصال الْفَوَائِد واللذائذ، أَو بِالدفع والاتقاء كاستبعاد المضار والآلام - فَهُوَ جدير بِأَن يُسمى مصلحَة.

والمصلحة عِنْد عُلَمَاء الشَّرِيعَة الإسلامية هِيَ: "الْمَنْفَعَة الَّتِي قَصدهَا الشَّارِع الْحَكِيم لِعِبَادِهِ، من حفظ دينهم ونفوسهم وعقولهم ونسلهم وَأَمْوَالهمْ طبق تَرْتِيب معِين فِيمَا بَينهَا" قَالَه الرَّازِيّ2.

وَعرفهَا الطوفي3 بِحَسب الْعرف: "بِأَنَّهَا السَّبَب الْمُؤَدِّي إِلَى الصّلاح والنفع كالتجارة المؤدية إِلَى الرِّبْح" وبحسب الشَّرْع: "بِأَنَّهَا السَّبَب الْمُؤَدِّي إِلَى مَقْصُود الشَّارِع عبَادَة أَو عَادَة"4.

--------------------------------------------

1 - فِي ظلال الْقُرْآن لسَيِّد قطب 1 / 593.?

2 - فِي الْمَحْصُول فِي علم أصُول الْفِقْه نقلا عَن ضوابط الْمصلحَة للدكتور البوطي ص 23 والرازي: فَخر الدّين أَبُو عبد الله مُحَمَّد بن عمر بن الْحُسَيْن التَّيْمِيّ أصولي مُفَسّر فَقِيه مُتَكَلم (ت 606?) وترجمته فِي: وفيات الْأَعْيَان 3/381 والإعلام 7/203.

3 - نجم الدّين سُلَيْمَان بن عبد الْقوي الْحَنْبَلِيّ فَقِيه أصولي، وَقد نسب إِلَيْهِ أَشْيَاء، بَعْضهَا صحّ عَنهُ (ت716?) وترجمته فِي: ذيل طَبَقَات الْحَنَابِلَة 2/366 والإعلام 3/189.

4 - الْمصلحَة فِي التشريع الإسلامي وَنجم الدّين الطوفي للدكتور مصطفى زيد ص 23 نقلا عَن أصُول التشريع الإسلامي للأستاذ عَليّ حسب الله ص 135.
"জ্ঞান ও প্রজ্ঞার পূর্ণতা, সুতরাং আল্লাহ বিধান প্রদান করেন কারণ তিনি সর্বজ্ঞ (عليم) আর তারা জানে না, এবং আল্লাহ (বিধান) আবশ্যিক করেন কারণ তিনি প্রজ্ঞাময় (حكيم) আর তারা প্রবৃত্তির অনুসরণ করে।"১

আর এখান থেকেই আলেমগণ বলেছেন: যেখানে জনকল্যাণ (مصلحة) বিদ্যমান, সেখানেই আল্লাহর বিধান রয়েছে; অর্থাৎ যেখানে জনকল্যাণ (مصلحة) নিশ্চিত হয়, সেখানেই আল্লাহর বিধান বিদ্যমান থাকে। তবে জনকল্যাণ (مصلحة) কী?

জনকল্যাণের (المصلحة) সংজ্ঞা:

জনকল্যাণ (المصلحة) শব্দটি ওজন এবং অর্থের দিক থেকে উপকারের (المنفعة) মতো। এটি কল্যাণ (الصلاح) অর্থে একটি মূলধাতু (مصدر), যেমন 'উপকার' শব্দটি 'লাভ' অর্থে ব্যবহৃত হয়। অথবা এটি জনকল্যাণসমূহ (المصالح)-এর একক রূপ। লিসানুল আরব গ্রন্থের রচয়িতা উভয় অর্থই স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেন: "আল-মাসলাহা হলো কল্যাণ (الصلاح), আর আল-মাসলাহা হলো আল-মাসালিহ-এর একক রূপ।" সুতরাং যাতে কোনো উপকার নিহিত থাকে—চাই তা কোনো প্রাপ্তি বা অর্জনের মাধ্যমে হোক যেমন ফায়দা ও তৃপ্তি অর্জন, অথবা কোনো কিছু প্রতিহিত করা বা বেঁচে থাকার মাধ্যমে হোক যেমন ক্ষতি ও বেদনা দূর করা—তা জনকল্যাণ (مصلحة) হিসেবে অভিহিত হওয়ার যোগ্য।

ইসলামি শরীয়াহর আলেমগণের নিকট জনকল্যাণ (المصلحة) হলো: "এমন উপকার যা প্রজ্ঞাময় বিধানদাতা (الشارع الحكيم) তাঁর বান্দাদের জন্য উদ্দেশ্য করেছেন; যা তাদের দীন, জীবন, বুদ্ধি, বংশ এবং সম্পদের সুরক্ষার সাথে একটি নির্দিষ্ট ক্রমধারা অনুযায়ী বিন্যস্ত।" এটি আল-রাজি২ বলেছেন।

আর আল-তুফি৩ লোকরীতি (عرف) অনুযায়ী এর সংজ্ঞা দিয়েছেন: "এটি এমন একটি কারণ যা কল্যাণ ও উপকারের দিকে ধাবিত করে, যেমন ব্যবসা যা লাভের দিকে ধাবিত করে।" আর শরীয়াহর পরিভাষায়: "এটি এমন একটি কারণ যা বিধানদাতার (الشارع) মূল উদ্দেশ্যের দিকে ধাবিত করে, চাই তা ইবাদত হোক কিংবা অভ্যাস (عادة)।"৪

--------------------------------------------

১ - সাইয়্যেদ কুতুব রচিত ফি জিলালিল কুরআন ১/৫৯৩।

২ - ড. আল-বুতীর জাওয়াবিতুল মাসলাহা (পৃষ্ঠা ২৩) থেকে উদ্ধৃত যা আল-মাহসুল ফি ইলমি উসুলিল ফিকহ গ্রন্থে রয়েছে। আর আল-রাজি হলেন: ফখরুল দীন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন উমর বিন আল-হুসাইন আল-তাইমি; একজন উসুলবিদ (أصولي), মুফাসসির, ফকিহ এবং ধর্মতত্ত্ববিদ (متكلم) (মৃত্যু ৬০৬ হিজরি)। তাঁর জীবনী রয়েছে: ওয়াফায়াতুল আইয়ান ৩/৩৮১ এবং আল-আ'লাম ৭/২০৩ গ্রন্থে।

৩ - নাজমুদ্দীন সুলাইমান বিন আব্দুল কাবি আল-হাম্বলি; একজন ফকিহ এবং উসুলবিদ (أصولي)। তাঁর প্রতি এমন কিছু বিষয় সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে যার কিছু তাঁর থেকে বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত (صح) (মৃত্যু ৭১৬ হিজরি)। তাঁর জীবনী রয়েছে: জাইলু তাবাকাতিল হানাবিলা ২/৩৬৬ এবং আল-আ'লাম ৩/১৮৯ গ্রন্থে।

৪ - ড. মুস্তফা যায়িদ রচিত আল-মাসলাহা ফিত তাশরিয়িল ইসলামি ওয়া নাজমুদ্দীন আল-তুফি (পৃষ্ঠা ২৩), যা উস্তাদ আলী হাসাবুল্লাহ রচিত উসুলুত তাশরিয়িল ইসলামি (পৃষ্ঠা ১৩৫) থেকে উদ্ধৃত।
(খণ্ড: ১) রিয়ায়াতুল মাসলাহতি ওয়াল হিকমাতি ফী তাশরীয়ি নাবিয়্যির রাহমাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (পৃষ্ঠা: ২০১)
فالمصالح عِنْد الطوفي هِيَ الْوَسَائِل إِلَى الصّلاح، وَعند الرَّازِيّ هِيَ الْوَسَائِل والمقاصد جَمِيعًا: "ونرى أَن الْمصلحَة هِيَ الْغَايَة، وَمَا يُؤَدِّي إِلَيْهَا وَسِيلَة، وَتَسْمِيَة الْوَسِيلَة مصلحَة بِاعْتِبَار إفضائها إِلَيْهَا لَا أَنَّهَا هِيَ، وَلَا بُد من الْفَصْل بَينهمَا، لِأَن من الْوَسَائِل مَا قد يتَغَيَّر أَو ينْسَخ دون الْمَقَاصِد"1.

ونقول: إِن الْمصلحَة: "هِيَ مُقْتَضى الْعُقُول القويمة وَالْفطر السليمة من الرشاد، مَا يُحَقّق مَقْصُود الشَّارِع والعباد من صَلَاح المعاش والمعاد".

فَقولِي: "هِيَ مُقْتَضى الْعُقُول القويمة": أَي غير المصابة بِمَرَض الشَّهْوَة أَو الشُّبْهَة كَالَّتِي تزْعم أَن الْجمع بَين الجنسين فِي مرافق الْمُجْتَمع من مدارس ومكاتب وَنَحْوهمَا يهذب من الْخلق ويخفف من شَره الْميل الجنسي وكالتي تزْعم أَن استحلال الرِّبَا ينعش الاقتصاد الوطني … الخ فَهَذِهِ المزاعم الْبَاطِلَة مفاسد لَا مصَالح، وَهِي نتاج شَهْوَة أَو شُبْهَة، وَهِي عَلامَة الخذلان {. كَمَا قَالَ مُحَمَّد بن كَعْب الْقرظِيّ لما سُئِلَ عَن عَلامَة الخذلان} - يَعْنِي: الحرمان من توفيق الله وتسديده - قَالَ: "أَن يستقبح الرجلُ مَا كَانَ يُستحسن! ويستحسن مَا كَانَ قبيحاً"2، قَالَ المتنبي:

يُقضى على الْمَرْء فِي أَيَّام محنته … حَتَّى يرى حسنا مَا لَيْسَ بالحسنِ

وَهَذَا من انتكاس الْفطْرَة وخَطَل القَوْل وَفَسَاد الرَّأْي، نَعُوذ بِاللَّه من الحَوْرِ بعد الكَوْر وَمن الْفساد بعد السداد.

وَقَوْلِي: "الفِطر السليمة" أَي لَا المنكوسة: فطْرَة الله الَّتِي فطر النَّاس عَلَيْهَا قبل أَن يطْرَأ عَلَيْهَا الانحراف عَن الطَّرِيق السويّ.

وَقَوْلِي: "من الرشاد" أَي لَا من الغيّ وَالْفساد كالأمثلة الَّتِي سلفتْ.

--------------------------------------------

1 - أصُول التشريع الإسلامي ص 135.

2 - حلية الْأَوْلِيَاء لأبي نعيم الْأَصْبَهَانِيّ 3 / 214.

সুতরাং তুফীর নিকট জনকল্যাণ (مصالح) হলো সংশোধনের মাধ্যম। আর রাজীর মতে তা মাধ্যম ও লক্ষ্য উভয়ই: "আমরা মনে করি যে জনকল্যাণ (مصلحة) হলো লক্ষ্য, আর যা সেদিকে নিয়ে যায় তা হলো মাধ্যম। মাধ্যমকে জনকল্যাণ (مصلحة) নাম দেওয়া হয় তার পরিণতির বিবেচনায়, সেটি নিজে জনকল্যাণ হওয়ার কারণে নয়। এই দুটির মধ্যে পার্থক্য করা আবশ্যক, কারণ লক্ষ্য অপরিবর্তিত থাকলেও এমন অনেক মাধ্যম রয়েছে যা পরিবর্তিত বা রহিত (منسوخ) হতে পারে।"১।

আমরা বলি: জনকল্যাণ (مصلحة) হলো: "সঠিক বুদ্ধি এবং সঠিক পথ নির্দেশকারী সুস্থ স্বভাবজাত প্রবণতার দাবি, যা ইহকাল ও পরকালের সংশোধনের ক্ষেত্রে শরীয়ত প্রণেতা ও বান্দাদের উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করে"。

আমার উক্তি: "সঠিক বুদ্ধির দাবি": অর্থাৎ যা প্রবৃত্তি বা সংশয়ের রোগে আক্রান্ত নয়; যেমনটি কেউ দাবি করে যে স্কুল, অফিস বা এ জাতীয় সামাজিক ক্ষেত্রগুলোতে নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা চরিত্রকে মার্জিত করে এবং যৌন লালসার তীব্রতা হ্রাস করে, অথবা যেমনটি কেউ দাবি করে যে সুদকে বৈধ করা জাতীয় অর্থনীতিকে চাঙ্গা করে … ইত্যাদি। এই বাতিল দাবিগুলো মূলত অনিষ্ট (مفাসد), কোনো কল্যাণ (مصالح) নয়। এগুলো প্রবৃত্তি বা সংশয়ের ফসল এবং এগুলো লাঞ্ছনার লক্ষণ। {যেমনটি মুহাম্মদ ইবনে কাব আল-কুরাযী-কে যখন লাঞ্ছনার লক্ষণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল - অর্থাৎ: আল্লাহর তাওফিক ও সঠিক পথে রাখা থেকে বঞ্চিত হওয়া -} তিনি বলেছিলেন: "মানুষ যা ভালো মনে করত তাকে মন্দ মনে করা এবং যা মন্দ ছিল তাকে ভালো মনে করা"২। মুতানাব্বী বলেছেন:

বিপর্যয়ের দিনগুলোতে মানুষের বিচারবুদ্ধি এমন হয়ে যায় … যে সে যা ভালো নয় তাকেও ভালো হিসেবে দেখতে শুরু করে।

এটি হলো স্বভাবজাত প্রকৃতির বিপর্যয়, বাক্যের অসারতা এবং মতামতের ভ্রষ্টতা। আমরা আল্লাহর কাছে প্রাচুর্যের পর ঘাটতি এবং সঠিক পথের পর বিপর্যয় থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করি।

আমার উক্তি: "সুস্থ স্বভাবজাত প্রবণতা" অর্থাৎ যা বিকৃত নয়: আল্লাহর সেই ফিতরাত যার ওপর তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন, সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হওয়ার পূর্বে।

আমার উক্তি: "সঠিক পথ থেকে" অর্থাৎ বিভ্রান্তি ও ফাসাদ থেকে নয়, যেমনটি পূর্বের উদাহরণগুলোতে অতিবাহিত হয়েছে।

--------------------------------------------

১ - উসুলুত তাশরি আল-ইসলামি, পৃষ্ঠা ১৩৫।

২ - আবু নুআইম আল-আসবাহানি রচিত হিলয়াতুল আউলিয়া, ৩/২১৪।
(খণ্ড: ১) রিয়ায়াতুল মাসলাহতি ওয়াল হিকমাতি ফী তাশরীয়ি নাবিয়্যির রাহমাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (পৃষ্ঠা: ২০২)
وَقَوْلِي: "مَا يُحَقّق مُرَاد الشَّارِع وَمُرَاد الْعباد" وَمُرَاد الشَّارِع: تَحْقِيق الْعُبُودِيَّة لله بامتثال أوَامِر الله تَعَالَى، سَوَاء أدْرك العَبْد حكمتها، كالأعمال المعللّة، أَو لم يدْرك حكمتها كالأعمال التعبدية.

"وَمُرَاد الْعباد من صَلَاح المعاش والمعاد" أَي صَلَاح الدُّنْيَا وفلاح الْآخِرَة وهما غَايَة السَّعَادَة. رزقنا الله إيَّاهُمَا.
এবং আমার উক্তি: "যা শরীয়তদাতার (الشارع) উদ্দেশ্য এবং বান্দাদের উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করে"। আর শরীয়তদাতার (الشارع) উদ্দেশ্য হলো: মহান আল্লাহর নির্দেশসমূহ পালনের মাধ্যমে আল্লাহর প্রতি দাসত্ব (العبودية) নিশ্চিত করা, চাই বান্দা তার হিকমত বা প্রজ্ঞা অনুধাবন করুক, যেমন কারণ-যুক্ত (المعللة) কার্যাবলি, অথবা তার হিকমত অনুধাবন করতে না পারুক, যেমন ইবাদত-মূলক (التعبدية) কার্যাবলি।

"এবং ইহকাল ও পরকালের সংশোধনের ক্ষেত্রে বান্দাদের উদ্দেশ্য" অর্থাৎ দুনিয়ার কল্যাণ এবং আখেরাতের মুক্তি, আর এ উভয়টিই হলো পরম সৌভাগ্য। আল্লাহ আমাদের উভয়টি দান করুন।
(খণ্ড: ১) রিয়ায়াতুল মাসলাহতি ওয়াল হিকমাতি ফী তাশরীয়ি নাবিয়্যির রাহমাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (পৃষ্ঠা: ২০২)
‌‌تَعْرِيف الْحِكْمَة وَالْعلَّة وَالسَّبَب وَالْفرق بَينهَا:

الْحِكْمَة: مَا يَتَرَتَّب على ربط الحكم بعلته أَو سَببه، من جلب مصلحَة أَو دفع مضرَّة.

وَالْعلَّة: وصف مُنَاسِب ظَاهر منضبط ناط الشَّرْع بِهِ الحكم كجعله الْإِتْلَاف عِلّة لضمان الْمُتْلف، والجريمة عِلّة للعقوبة عَلَيْهَا1.

وَالْفرق بَين الْعلَّة وَالْحكمَة: أَن الْعلَّة: هِيَ الْوَصْف الْمُنَاسب المعرّف لحكم الشَّارِع وباعثه على تشريع الحكم كالإسكار عِلّة لتَحْرِيم الْخمر.

وَالْحكمَة: مَا يجتنيه الْمُكَلف من الثَّمَرَة المترتبة على امْتِثَال حكم الشَّارِع من جَلب نفع أَو دفع ضرّ. كحفظ الْعقل من تَحْرِيم الْخمر.

وَعلة الْقصاص الْقَتْل الْعمد والعدوان، وحكمته: حفظ النَّفس. وَالسَّرِقَة عِلّة الْقطع، وَالْغَصْب عِلّة الضَّمَان وَالْحكمَة فيهمَا: حفظ المَال.

وَالزِّنَا عِلّة الْحَد وحكمته حفظ الْأَنْسَاب.

وَأما السَّبَب: "فَهُوَ وصف ظَاهر منضبط، ناط الشَّارِع بِهِ الحكم مناسباً كَانَ - كالأمثلة السَّابِقَة - أَو غير مُنَاسِب كجعل الدلوك سَببا لوُجُوب الصَّلَاة وشهود رَمَضَان سَببا لوُجُوب صَوْمه"2 فَهُوَ أَعم من الْعلَّة.

--------------------------------------------

1 - أصُول التشريع الإسلامي ص 145 وراجع شرح الْكَوْكَب الْمُنِير 4 / 16 - 17 و 39.

2 - الْمرجع السَّابِق.
হিকমত (حكمة), ইল্লাত (علة) ও সাবাব (سبب)-এর সংজ্ঞা এবং এগুলোর মধ্যকার পার্থক্য:

হিকমত (حكمة): কোনো হুকুমকে (বিধান) তার ইল্লাত (علة) বা সাবাব (سبب)-এর সাথে সংশ্লিষ্ট করার ফলে যে কল্যাণ লাভ বা অকল্যাণ প্রতিহত হয়, তাকেই হিকমত (حكمة) বলে।

ইল্লাত (علة): এটি এমন এক মানানসই, প্রকাশ্য ও সুনির্ধারিত গুণ, যার ওপর শরয়ি বিধান (হুকুম) নির্ভরশীল। যেমন—কোনো কিছু বিনষ্ট করাকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের ইল্লাত (علة) হিসেবে নির্ধারণ করা এবং অপরাধকে শাস্তির ইল্লাত (علة) হিসেবে গণ্য করা।১

ইল্লাত (علة) ও হিকমত (حكمة)-এর মধ্যে পার্থক্য: ইল্লাত (علة) হলো এমন একটি মানানসই গুণ যা শারিয়াত প্রণেতার হুকুমকে পরিচয় করিয়ে দেয় এবং বিধান প্রবর্তনের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে। যেমন—মাদকতা হলো মদ হারাম হওয়ার ইল্লাত (علة)।

হিকমত (حكمة): এটি হলো শারিয়াতের বিধান পালনের ফলে মুকাল্লাফ (দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি) যে ফল লাভ করে, তা কোনো উপকার লাভ হোক বা অপকার দূর করা হোক। যেমন—মদ হারাম করার মাধ্যমে আকল বা বুদ্ধিবৃত্তি সংরক্ষণ।

কিসাসের ইল্লাত (علة) হলো ইচ্ছাকৃত ও অন্যায়ভাবে হত্যা করা, আর এর হিকমত (حكمة) হলো জীবন রক্ষা করা। চুরি হলো হাত কাটার ইল্লাত (علة), আর জবরদখল হলো ক্ষতিপূরণ প্রদানের ইল্লাত (علة); এবং এই উভয় বিধানের হিকমত (حكمة) হলো সম্পদ রক্ষা করা।

ব্যভিচার হলো নির্ধারিত শাস্তির বা হদ-এর (حد) ইল্লাত (علة), আর এর হিকমত (حكمة) হলো বংশধারা রক্ষা করা।

আর সাবাব (سبب) হলো: "এটি এমন এক প্রকাশ্য ও সুনির্ধারিত গুণ, যার ওপর শারিয়াত প্রণেতা হুকুমকে নির্ভরশীল করেছেন; তা হুকুমের সাথে মানানসই হোক—যেমনটি পূর্বের উদাহরণগুলোতে দেখা গেছে—অথবা মানানসই না হোক। যেমন—সূর্য ঢলে পড়াকে সালাত ওয়াজিব হওয়ার সাবাব (سبب) এবং রমজান মাসের উপস্থিতি লাভ করাকে রোজা ওয়াজিব হওয়ার সাবাব (سبب) হিসেবে নির্ধারণ করা।"২ সুতরাং সাবাব (سبب) হলো ইল্লাত (علة)-এর চেয়ে অধিক ব্যাপক।

--------------------------------------------

১ - উসুল আত-তাশরি আল-ইসলামি, পৃষ্ঠা ১৪৫; এবং দেখুন শারহুল কাওকাব আল-মুনির ৪/ ১৬ - ১৭ ও ৩৯।

২ - পূর্বোক্ত উৎস।
(খণ্ড: ১) রিয়ায়াতুল মাসলাহতি ওয়াল হিকমাতি ফী তাশরীয়ি নাবিয়্যির রাহমাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (পৃষ্ঠা: ২০৩)
وَهَذِه التَّفْرِقَة بَين الْحِكْمَة وَالْعلَّة وَالسَّبَب اصْطِلَاح حَادث، أما القدماء فقد استعملوا الْحِكْمَة مرادفة لقصد الشَّارِع أَو مَقْصُوده، فَيَقُولُونَ: هَذَا مَقْصُوده كَذَا، أَو حكمته كَذَا، فَلَا فرق، وَإِن كَانَ استعمالهم للفظ الْحِكْمَة أَكثر من استعمالهم للفظ الْمَقْصد. قَالَ الونشريسي1: " … الْحِكْمَة فِي اصْطِلَاح المتشرعين: هِيَ الْمَقْصُود من إِثْبَات الحكم أَو نَفْيه وَذَلِكَ كالمشقة الَّتِي شُرع الْقصر والإفطار لأَجلهَا"2.

وَقد يَبْدُو فِي هَذَا الْكَلَام شَيْء من الْإِشْكَال - كَمَا يَقُول الدكتور الريسوني وَهُوَ: هَل الْمَشَقَّة حِكْمَة ومقصود؟ وَالْجَوَاب: إِن الْكَلَام فِيهِ حذف، وَمرَاده: أَن رفع الْمَشَقَّة عَن الْمُسَافِر هُوَ مَقْصُود الحكم وحكمته، وَقد نبه على هَذَا الأصولي الْحَنَفِيّ شمس الدّين الفناري3 حَيْثُ قَالَ: "أما مَا يُقَال فِي رخص السّفر: أَن السَّبَب السّفر، وَالْحكمَة الْمَشَقَّة، وَأَمْثَاله، فَكَلَام مجازي، وَالْمرَاد أَن الْحِكْمَة الباعثة دفع مشقة السّفر"4.

ويؤكد الدكتور بدران أَبُو الْعَينَيْنِ بدران هَذَا التطابق بَين مَقْصُود الحكم وحكمته فِي اصْطِلَاح الْفُقَهَاء فَيَقُول: "على أَن جُمْهُور الْفُقَهَاء كَانُوا يذهبون فِي اجتهاداتهم إِلَى أَن مَا شَرعه الله من أَحْكَام، لم يشرعه الله إِلَّا لمصْلحَة جلب مَنْفَعَة لَهُم أَو دفع مضرَّة عَنْهُم، فَلهَذَا كَانَت تِلْكَ الْمصلحَة هِيَ الْغَايَة الْمَقْصُودَة من

--------------------------------------------

1 - أَحْمد بن يحي بن عبد الْوَاحِد، فَقِيه أديب خطيب مالكي وَانْظُر تَرْجَمته فِي شَجَرَة النُّور الزكية 1/274.

2 - المعيار 1 / 349.

3 - مُحَمَّد حَمْزَة الفناري، فَقِيه أصولي حَنَفِيّ (ت 834?) .

4 - فُصُول البديع فِي أصُول التشريع 2 / 371 عَن نظرية الْمَقَاصِد ص 21.
প্রজ্ঞা (حكمة), কার্যকর কারণ (علة) এবং হেতু (سبب)-এর মধ্যকার এই পার্থক্য নিরূপণ একটি আধুনিক পরিভাষা (اصطلاح)। তবে প্রাচীন পণ্ডিতগণ প্রজ্ঞা (حكمة) শব্দটিকে বিধানদাতার উদ্দেশ্য বা লক্ষ্য (مقصود)-এর সমার্থক হিসেবে ব্যবহার করতেন। তারা বলতেন: "এর লক্ষ্য (مقصود) এমন, অথবা এর প্রজ্ঞা (حكمة) এমন"; ফলে সেখানে কোনো পার্থক্য ছিল না। যদিও লক্ষ্য (مقصد) শব্দের ব্যবহারের চেয়ে প্রজ্ঞা (حكمة) শব্দের ব্যবহারই তাদের নিকট অধিক প্রচলিত ছিল। ওয়ানশারিসি ১ বলেন: " ... শরিয়ত বিশারদদের পরিভাষায় (اصطلاح) প্রজ্ঞা (حكمة) হলো: কোনো বিধান সাব্যস্ত করা বা নাকচ করার মূল লক্ষ্য (مقصود)। যেমন সেই কষ্ট (مشقة), যার কারণে কসর এবং ইফতারের (রোজা ভঙ্গ করা) বিধান প্রবর্তন করা হয়েছে" ২।

ড. রাইসুনি যেমনটি বলেন, এই বক্তব্যের মধ্যে কিছুটা অস্পষ্টতা পরিলক্ষিত হতে পারে। আর তা হলো: কষ্ট (مشقة) কি কোনো প্রজ্ঞা (حكمة) বা লক্ষ্য (مقصود)? এর উত্তর হলো: এই বাক্যে কিছু অংশ উহ্য রয়েছে এবং তার উদ্দেশ্য হলো: মুসাফিরের কষ্ট (مشقة) লাঘব করাই হলো বিধানের লক্ষ্য (مقصود) এবং প্রজ্ঞা (حكمة)। হানাফি উসুলবিদ শামস উদ্দিন আল-ফানারানি ৩ এ বিষয়ে সতর্ক করে বলেছেন: "সফরের শিথিলতা (رخص) সম্পর্কে যা বলা হয় যে—সফর হলো হেতু (سبب) এবং কষ্ট (مشقة) হলো প্রজ্ঞা (حكمة) ও অনুরূপ বিষয়সমূহ—তা রূপক কথা। মূলত এর অর্থ হলো, মূল চালিকাশক্তি বা প্রজ্ঞা (حكمة) হলো সফরের কষ্ট (مشقة) দূর করা" ৪।

ড. বদরান আবু আল-আইনাঈন বদরান ফকিহদের পরিভাষায় (اصطلاح) বিধানের লক্ষ্য (مقصود) এবং প্রজ্ঞার (حكمة) মধ্যকার এই অভিন্নতাকে সুনিশ্চিত করে বলেন: "অধিকাংশ ফকিহ তাদের ইজতিহাদের ক্ষেত্রে এই মত পোষণ করতেন যে, আল্লাহ তাআলা যেসব বিধান প্রবর্তন করেছেন, তা কেবল তাদের (বান্দাদের) কোনো কল্যাণ (مصلحة) সাধন বা উপকার অর্জনের জন্য অথবা তাদের থেকে কোনো ক্ষতি দূর করার জন্যই করেছেন। ফলে সেই কল্যাণই (مصلحة) ছিল উদ্দিষ্ট লক্ষ্য (غاية مقصودة)...

--------------------------------------------

১ - আহমদ বিন ইয়াহইয়া বিন আব্দুল ওয়াহিদ, একজন মালেকি ফকিহ, সাহিত্যিক ও খতিব। তার জীবনী দেখুন: শাজারাতুন নুর আয-যাকিয়্যাহ ১/২৭৪।

২ - আল-মিইয়ার ১/৩৪৯।

৩ - মুহাম্মদ হামজাহ আল-ফানারানি, একজন হানাফি ফকিহ ও উসুলবিদ (মৃত্যু ৮৩৪ হিজরি?)।

৪ - ফুসুলুল বাদি ফি উসুলিত তাশরি ২/৩৭১; উদ্ধৃতি: নাজারিয়াতুল মাকাসিদ পৃ. ২১।
(খণ্ড: ১) রিয়ায়াতুল মাসলাহতি ওয়াল হিকমাতি ফী তাশরীয়ি নাবিয়্যির রাহমাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (পৃষ্ঠা: ২০৪)
التشريع وَتسَمى حِكْمَة"1. ثمَّ قَالَ: "أما حِكْمَة الحكم فَهِيَ الْبَاعِث على تشريعه والمصلحة الَّتِي قَصدهَا الشَّارِع من شَرعه الحكم"2.

وَأما مصطلح الْعلَّة فَهُوَ مِمَّا يُعبر بِهِ عَن مَقْصُود الشَّارِع، فَيكون على هَذَا مرادفاً لمصطلح (الْحِكْمَة) وَهَذَا هُوَ الِاسْتِعْمَال الْأَصْلِيّ والحقيقي لمصطلح الْعلَّة ثمَّ غلب اسْتِعْمَاله فِيمَا بعد بِمَعْنى الْوَصْف الظَّاهِر المنضبط الَّذِي تناط بِهِ الْأَحْكَام الشَّرْعِيَّة، على أساس أَن الْحِكْمَة وَهِي منَاط الحكم ومقصوده فِي حَقِيقَة الْأَمر ترتبط غَالِبا بذلك الْوَصْف الظَّاهِر المنضبط، الَّذِي يسهل إِحَالَة النَّاس عَلَيْهِ فِي تعرفهم لأحكام الشَّارِع - كَمَا أوضح ذَلِك الدكتور الريسوني - فَفِي بَاب الرُّخص مثلا، لاشك أَن رفع المشاق عَن النَّاس وَالتَّخْفِيف عَنْهُم هِيَ الْحِكْمَة وَالْمَقْصُود، وَهِي الْعلَّة الْحَقِيقِيَّة للرخص الشَّرْعِيَّة، وَلَكِن الشَّارِع لَا يَقُول للمكلفين: كلما وجدْتُم عنتاً فترخّصوا. وَإِنَّمَا حدد لَهُم أَمَارَات مَعْرُوفَة وأسباباً مُعينَة، هِيَ مَا يُسَمِّيه الأصوليون: الْأَوْصَاف الظَّاهِرَة المنضبطة، فبناء عَلَيْهَا يَقع الترخيص كالسفر وَالْمَرَض وَالْعجز وَالْإِكْرَاه.

فَهَذِهِ الْأَوْصَاف أَو الأمارات المنضبطة يُطلق عَلَيْهَا الْعِلَل أَو الْأَسْبَاب بَيْنَمَا الْعلَّة الْحَقِيقِيَّة وَالسَّبَب الْحَقِيقِيّ هُوَ مَقْصُود الحكم وحكمته من جلب مصلحَة أَو دَرْء مفْسدَة أَو هما مَعًا، وَلَكِن الشَّارِع يرْبط الْأَحْكَام بأمارات ظَاهِرَة منضبطة ضبطا للْأَحْكَام وتجنباً للفوضى فِي التشريع. على أَن تِلْكَ الأمارات تكون متلازمة عَادَة مَعَ الْمصَالح أَو الْمَفَاسِد الَّتِي هِيَ عِلّة التشريع

--------------------------------------------

1 - أَدِلَّة التشريع المتعارضة ووجوه التَّرْجِيح بَينهَا ص 242 - 243.

2 - الْمرجع السَّابِق.
বিধান প্রণয়ন (تشريع) এবং একে হিকমত (حكمة) বলা হয়।" ১। অতঃপর তিনি বলেন: "বিধানের হিকমত (حكمة) হলো এর বিধান প্রণয়নের প্রবর্তক (الباعث) এবং সেই কল্যাণ (المصلحة), যা বিধানদাতা (الشارع) বিধানটি প্রবর্তনের মাধ্যমে লক্ষ্য করেছেন।" ২।

আর ইল্লত (العلة) পরিভাষাটি মূলত বিধানদাতার (الشارع) উদ্দেশ্য ব্যক্ত করার জন্য ব্যবহৃত হয়; ফলে এই বিবেচনায় এটি হিকমত (الحكمة) পরিভাষার সমার্থক (مرادفاً)। আর এটিই হলো ইল্লত (العلة) পরিভাষার মৌলিক ও প্রকৃত ব্যবহার। পরবর্তীতে এর ব্যবহার সেই সুস্পষ্ট ও সুশৃঙ্খল বৈশিষ্ট্যের (الوصف الظاهر المنضبط) ক্ষেত্রে প্রাধান্য পায়, যার সাথে শরঈ বিধানসমূহ (الأحكام الشرعية) সম্পৃক্ত করা হয়। এর ভিত্তি হলো—হিকমত (الحكمة) যা মূলত বিধানের ভিত্তি (مناط الحكم) এবং এর প্রকৃত উদ্দেশ্য, তা সাধারণত সেই সুস্পষ্ট ও সুশৃঙ্খল বৈশিষ্ট্যের (الوصف الظاهر المنضبط) সাথেই সংশ্লিষ্ট থাকে; যার মাধ্যমে মানুষের পক্ষে বিধানদাতার (الشارع) হুকুমগুলো চেনা বা অবগত হওয়া সহজ হয়—যেমনটি ডক্টর আর-রাইসুনি ব্যাখ্যা করেছেন। উদাহরণস্বরূপ, শিথিলতার (الرخص) অধ্যায়ে মানুষের কষ্ট লাঘব করা এবং তাদের জন্য বিষয়টি সহজ করাই যে হিকমত (الحكمة) ও মূল লক্ষ্য, তাতে কোনো সন্দেহ নেই; আর এটিই হলো শরঈ শিথিলতাগুলোর (الرخص الشرعية) প্রকৃত ইল্লত (العلة الحقيقية)। কিন্তু বিধানদাতা (الشارع) দায়বদ্ধ ব্যক্তিদের (المكلفين) প্রতি এ কথা বলেননি যে: 'যখনই তোমরা কষ্টের সম্মুখীন হবে, তখনই শিথিলতা গ্রহণ করবে।' বরং তিনি তাদের জন্য কিছু সুনির্দিষ্ট নিদর্শন (أمارات) এবং বিশেষ কারণ (أسباب) নির্ধারণ করে দিয়েছেন, যাকে মূলনীতিবিদগণ (الأصوليون) সুস্পষ্ট ও সুশৃঙ্খল বৈশিষ্ট্য (الأوصاف الظاهرة المنضبطة) বলে অভিহিত করেন। এর ওপর ভিত্তি করেই সফর (السفر), অসুস্থতা (المرض), অক্ষমতা (العجز) এবং জবরদস্তির (الإكراه) মতো বিষয়গুলোতে শিথিলতা (الترخيص) প্রদান করা হয়।

এই বৈশিষ্ট্য বা সুশৃঙ্খল নিদর্শনগুলোকেই ইল্লত (العلل) বা কারণ (الأسباب) বলা হয়। পক্ষান্তরে প্রকৃত ইল্লত (العلة الحقيقية) ও প্রকৃত কারণ (السبب الحقيقي) হলো কল্যাণ (مصلحة) অর্জন অথবা অকল্যাণ (مفسدة) প্রতিহত করা—বা উভয়টির সমন্বয়ে গঠিত বিধানের মূল উদ্দেশ্য ও হিকমত (حكمة)। তবে বিধিব্যবস্থার শৃঙ্খলা রক্ষা এবং বিধান প্রণয়নে বিশৃঙ্খলা এড়ানোর লক্ষ্যে বিধানদাতা (الشارع) বিধানসমূহকে সুস্পষ্ট ও সুশৃঙ্খল নিদর্শনের (أمارات) সাথে সম্পৃক্ত করেন। অবশ্য এই নিদর্শনগুলো সাধারণত সেই সকল কল্যাণ বা অকল্যাণের সাথে অবিচ্ছেদ্য থাকে, যা বিধান প্রণয়নের মূল কারণ (علة التشريع)।

--------------------------------------------

১ - আদিল্লাহ আত-তাশরি আল-মুতাআরিজাহ ওয়া উজুহুত তারজিহ বাইনাহা, পৃষ্ঠা ২৪২-২৪৩।

২ - পূর্বোক্ত উৎস।
(খণ্ড: ১) রিয়ায়াতুল মাসলাহতি ওয়াল হিকমাতি ফী তাশরীয়ি নাবিয়্যির রাহমাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (পৃষ্ঠা: ২০৫)
الْحَقِيقِيَّة أَو تكون مَظَنَّة لَهَا. قَالَ الشاطبي1: "فنصب الشَّارِع المظنة فِي مَوضِع الْحِكْمَة ضبطا للقوانين الشَّرْعِيَّة"2.

نخلص من هَذَا إِلَى أَن الْعلَّة - وَإِن استعملتْ استعمالات مُتعَدِّدَة مُخْتَلفَة - لَكِن مَعْنَاهَا الْحَقِيقِيّ والأصلي هُوَ الْحِكْمَة والمصلحة.

يَقُول الشاطبي: " … وَأما الْعلَّة فَالْمُرَاد بهَا الحِكم والمصالح الَّتِي تعلّقت بهَا الْأَوَامِر أَو الْإِبَاحَة، والمفاسد الَّتِي تعلّقت بهَا النواهي … فعلى الْجُمْلَة: الْعلَّة هِيَ الْمصلحَة نَفسهَا أَو الْمفْسدَة نَفسهَا … "3.

وَهَذَا الَّذِي صنعه الشاطبي من تَفْسِير الْعلَّة - عِنْده - بِالْمَصْلَحَةِ والمفسدة الْمَقْصُودَة بالحكم هُوَ اللَّائِق فِي بَاب الْمَقَاصِد، لِأَن الْبَحْث فِي الْمَقَاصِد هُوَ بحث فِي الْعِلَل الحقيقيّة الَّتِي هِيَ مَقَاصِد الْأَحْكَام بغض النّظر عَن كَونهَا ظَاهِرَة أَو خُفْيَة منضبطة أَو غير منضبطة، وعَلى أساس هَذَا الْمَعْنى الْأَصْلِيّ لمصطلح الْعلَّة، تفرع مصطلح التَّعْلِيل بِمَعْنَاهُ الْعَام، وَهُوَ تَعْلِيل أَحْكَام الشَّرِيعَة بجلب الْمصَالح ودرء الْمَفَاسِد4.

--------------------------------------------

1 - أَبُو إِسْحَاق إِبْرَاهِيم بن مُوسَى الغرناطي، فَقِيه أصولي مُجْتَهد (ت 790 ?) وترجمته فِي نيل الابتهاج بتطريز الديباج ص 46 والأعلام 1/71.

2 - الموافقات 1 / 254.

3 - الموافقات 1 / 265.

4 - نظرية الْمَقَاصِد ص 21 - 25.
প্রকৃত অথবা এর সম্ভাব্য স্থল (مظنة)। শাতবি বলেন: "শারয়ী আইনসমূহ সুশৃঙ্খল করার লক্ষ্যে বিধানদাতা (شارع) হিকমতের স্থলে সম্ভাবনাকে (مظنة) নির্ধারণ করেছেন।"২।

এ থেকে আমরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারি যে, ইল্লাত বা কারণ (علة) - যদিও এর বহুবিধ ও ভিন্ন ভিন্ন ব্যবহার রয়েছে - তবে এর প্রকৃত ও মূল অর্থ হলো হিকমত (حكمة) ও জনকল্যাণ (مصلحة)।

শাতবি বলেন: " … আর কারণ (علة) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ঐ সকল হিকমত (حكم) ও জনকল্যাণ (مصالح) যার সাথে আদেশ বা বৈধতা সংশ্লিষ্ট, এবং ঐ সকল অপকার (مفاسد) যার সাথে নিষেধ সংশ্লিষ্ট … মোদ্দাকথা: কারণ (علة) হলো স্বয়ং জনকল্যাণ (مصلحة) অথবা স্বয়ং অপকার (مفسدة) … "৩।

শাতবি কর্তৃক কারণের (علة) যে ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়েছে—তাঁর মতে যা বিধানের লক্ষ্য হিসেবে জনকল্যাণ ও অপকারের সাথে সংশ্লিষ্ট—তা মাকাসিদ (مقاصদ) অধ্যায়ের জন্য অত্যন্ত উপযুক্ত। কেননা, মাকাসিদ বিষয়ক আলোচনা মূলত প্রকৃত কারণসমূহ (العلل الحقيقية) নিয়ে আলোচনা, যা বিধানের লক্ষ্য হিসেবে গণ্য; তা প্রকাশ্য (ظاهرة) হোক বা অপ্রকাশ্য (خفية), সুশৃঙ্খল (منضبطة) হোক বা বিশৃঙ্খল। কারণ (علة) পরিভাষার এই মূল অর্থের ওপর ভিত্তি করেই 'তালিল' বা কারণ বর্ণনা (تعليل) পরিভাষাটি তার সাধারণ অর্থে উৎসারিত হয়েছে, যা হলো জনকল্যাণ সাধন ও অপকার প্রতিরোধের মাধ্যমে শরীয়তের বিধানসমূহের কারণ বর্ণনা (تعليل) করা।৪।

--------------------------------------------

১ - আবু ইসহাক ইবরাহিম ইবনে মুসা আল-গারনাতি, ফকিহ (فقيه), উসুলি (أصولي) ও মুজতাহিদ (مجتهد) (মৃত্যু ৭৯০ হি.?); তাঁর জীবনী 'নাইলুল ইবতিহাজ বি তাতরিযিদ দিবাজ' পৃষ্ঠা ৪৬ এবং 'আল-আ'লাম' ১/৭১-এ দ্রষ্টব্য।

২ - আল-মুওয়াফাকাত ১ / ২৫৪।

৩ - আল-মুওয়াফাকাত ১ / ২৬৫।

৪ - নাজারিয়াতুল মাকাসিদ পৃষ্ঠা ২১ - ২৫।
(খণ্ড: ১) রিয়ায়াতুল মাসলাহতি ওয়াল হিকমাতি ফী তাশরীয়ি নাবিয়্যির রাহমাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (পৃষ্ঠা: ২০৬)
‌‌أَنْوَاع الْمصَالح:

وَقد علم بالاستقراء1 أَن الْمصَالح الْمَقْصُودَة من الشَّرَائِع ثَلَاثَة أَنْوَاع:

1 - مصَالح ضَرُورِيَّة: وَهِي الَّتِي تتَوَقَّف عَلَيْهَا حَيَاة النَّاس الدِّينِيَّة والدنيوية بِحَيْثُ إِذا فقدتْ اختلتْ الْحَيَاة الإنسانية فِي الدُّنْيَا، وَفَاتَ النَّعيم وَحل الْعقَاب فِي الْآخِرَة، وَهِي تَنْحَصِر بالاستقراء فِي الْمُحَافظَة على خمس: الدّين، وَالنَّفس، وَالْعقل، والنسل، وَالْمَال.

2 - مصَالح حاجية: وَهِي رفع الْمَشَقَّة وَدفع الْحَرج والضيق عَن النَّاس فبفقدها لَا تختل حياتهم، بل يصيبهم حرج وضيق لَا يبلغان مبلغ الْفساد المتوقع فِي فقد الضروريات، كتيسير حاجاتهم بِإِبَاحَة البيع وَالْإِجَارَة وَنَحْوهمَا، وَتَخْفِيف التكاليف عَنْهُم بقصر الصَّلَاة وَالْفطر فِي رَمَضَان للْمُسَافِر وَإِبَاحَة الْمسْح على الْخُفَّيْنِ، وَنَحْو ذَلِك.

3 - مصَالح تحسينية: وَهِي مَالا يدْخل فِي النَّوْعَيْنِ السَّابِقين، بل يرجع إِلَى اجْتِنَاب مَا لَا تألفه الْعُقُول الراجحات، وَإِلَى الْأَخْذ بمحاسن الْعَادَات وَمَا تَقْتَضِيه المروءات وَيجمع ذَلِك قسم مَكَارِم الْأَخْلَاق ورعاية أحسن المناهج فِي الْعَادَات والمعاملات، مثل ستر الْعَوْرَة وَأخذ الزِّينَة عِنْد كل مَسْجِد، وَالْأَخْذ بآداب الْأكل وَالشرب وتجنب الْإِسْرَاف والامتناع عَن بيع النَّجَاسَات وَمَا أشبه ذَلِك.

وَدَلِيل انحصار مصَالح الْخلق فِي هَذِه الْأَنْوَاع الثَّلَاثَة: استقراء مصَالح النَّاس وتبيُّن رُجُوع كل مصلحَة مِنْهَا إِلَى نوع من هَذِه الْأَنْوَاع، وَقد يتَرَدَّد

--------------------------------------------

1 - الاستقراء: هُوَ تتبع جزئيات الشَّيْء، وَمِنْه استقريت الشَّيْء إِذا تتبعته، وَعند المنطقيين: هُوَ تصفح الجزيئات لإِثْبَات حكم كلي، رَاجع شرح الْكَوَاكِب الْمُنِير 2/426 والمعجم الفلسفي للدكتور عبد الْمُنعم الحفني ص 175 (ط: مصر 1410?) .
‌জনকল্যাণের (المصالح) প্রকারভেদ:

আরোহী পদ্ধতির (الاستقراء) মাধ্যমে এটি জানা গেছে যে, শরিয়তের উদ্দেশ্যমূলক জনকল্যাণসমূহ তিন প্রকার:

1 - অত্যাবশ্যকীয় জনকল্যাণ (مصالح ضرورية): এগুলো হলো সেই বিষয় যার ওপর মানুষের ধর্মীয় ও পার্থিব জীবন নির্ভরশীল, যাতে এগুলো হারিয়ে গেলে দুনিয়াতে মানবজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে এবং পরকালে নেয়ামত হাতছাড়া হয় ও শাস্তি অবতীর্ণ হয়। আরোহী পদ্ধতির (الاستقراء) মাধ্যমে এটি পাঁচটি বিষয় সংরক্ষণের মধ্যে সীমাবদ্ধ: ধর্ম, জীবন, বুদ্ধি, বংশধারা এবং সম্পদ।

2 - প্রয়োজনভিত্তিক জনকল্যাণ (مصالح حاجية): এগুলো হলো মানুষের কষ্ট লাঘব এবং তাদের থেকে সংকীর্ণতা ও কঠিন অবস্থা দূর করা। এগুলো না থাকলে তাদের জীবন বিপর্যস্ত হয় না, তবে তারা এমন সংকীর্ণতা ও কষ্টের সম্মুখীন হয় যা অত্যাবশ্যকীয় বিষয়গুলো হারিয়ে যাওয়ার মতো ধ্বংসাত্মক পর্যায়ে পৌঁছায় না। যেমন: ক্রয়-বিক্রয়, ইজারা ও অনুরূপ বিষয়গুলো বৈধ করার মাধ্যমে তাদের প্রয়োজন পূরণ সহজ করা এবং মুসাফিরের জন্য সালাত কসর করা ও রমজানে সিয়াম ভঙ্গের অনুমতি এবং মোজার ওপর মাসেহ করার বৈধতা ইত্যাদির মাধ্যমে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব লাঘব করা।

3 - সৌন্দর্যবর্ধক জনকল্যাণ (مصالح تحسينية): এগুলো সেই বিষয় যা পূর্ববর্তী দুই প্রকারের অন্তর্ভুক্ত নয়, বরং এগুলো সুস্থ বিবেকের নিকট অপছন্দনীয় বিষয়গুলো বর্জন এবং সুন্দর অভ্যাস ও সৌজন্যবোধের দাবি অনুযায়ী কাজ করার সাথে সংশ্লিষ্ট। এটি উত্তম চরিত্র এবং অভ্যাস ও লেনদেনের ক্ষেত্রে সর্বোত্তম পন্থা অনুসরণের বিষয়গুলোকে একত্রিত করে। যেমন: সতর ঢাকা, প্রত্যেক সালাতের সময় সৌন্দর্য অবলম্বন করা, পানাহারের আদব রক্ষা করা, অপচয় বর্জন করা এবং অপবিত্র বস্তু বিক্রয় থেকে বিরত থাকা ও অনুরূপ বিষয়সমূহ।

সৃষ্টির কল্যাণসমূহ এই তিন প্রকারের মধ্যে সীমাবদ্ধ হওয়ার দলিল হলো: মানুষের কল্যাণসমূহের আরোহী বিশ্লেষণ (الاستقراء) এবং এটি স্পষ্ট হওয়া যে, প্রতিটি কল্যাণ এই প্রকারগুলোর কোনো না কোনোটির অন্তর্ভুক্ত হয়। কখনও কখনও এটি দোদুল্যমান হতে পারে

--------------------------------------------

1 - আরোহী পদ্ধতি (الاستقراء): এটি হলো কোনো বিষয়ের আংশিক বিষয়গুলো অনুসন্ধান করা। এ থেকেই বলা হয় 'আমি বিষয়টি অনুসন্ধান করেছি' যখন আমি এর পেছনে লেগে থাকি। যুক্তিবিদদের মতে: এটি হলো সামগ্রিক বিধান (حكم كلي) প্রমাণের জন্য আংশিক বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা। দ্রষ্টব্য: শারহুল কাওয়াকিবুল মুনীর ২/৪২৬ এবং ড. আব্দুল মুনয়েম আল-হাফনি রচিত আল-মু'জাম আল-ফালসাফি, পৃষ্ঠা ১৭৫ (মুদ্রণ: মিশর ১৪১০ হিজরি)।
(খণ্ড: ১) রিয়ায়াতুল মাসলাহতি ওয়াল হিকমাতি ফী তাশরীয়ি নাবিয়্যির রাহমাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (পৃষ্ঠা: ২০৭)
الباحث فِي إِلْحَاق شَيْء مِنْهَا بِأحد الْأَنْوَاع، وَلَكِن لَا يتَرَدَّد فِي عدم خُرُوجه مِنْهَا بِحَال1.

--------------------------------------------

1 - انْظُر أصُول التشريع الإسلامي ص 135 - 136 و 296 - 297.
গবেষক এগুলোর কোনো অংশকে কোনো একটি প্রকারের (الأنواع) অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে হয়তো দ্বিধাবোধ করতে পারেন, কিন্তু এগুলো কোনো অবস্থাতেই তার বহির্ভূত হওয়ার ব্যাপারে তিনি মোটেও দ্বিধাবোধ করেন না।১

--------------------------------------------

১ - দেখুন উসুল আত-তাশরি আল-ইসলামি পৃ. ১৩৫ - ১৩৬ ও ২৯৬ - ২৯৭।
(খণ্ড: ১) রিয়ায়াতুল মাসলাহতি ওয়াল হিকমাতি ফী তাশরীয়ি নাবিয়্যির রাহমাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (পৃষ্ঠা: ২০৭)
‌‌قيام الشَّرِيعَة على أساس مصَالح الْعباد:

الشَّرِيعَة الإسلامية مَبْنِيَّة على تَحْقِيق مصَالح الْعباد فِي المعاش والمعاد، سَوَاء مَا أمرتْ بِهِ من فَرَائض ومندوبات أَو مَا نهتْ عَنهُ من مُحرمَات ومكروهات فَهِيَ فِي كل ذَلِك تهدف إِلَى تَحْقِيق مَقَاصِد ومصالح وَحكم، يَقُول الإِمَام ابْن الْقيم2 رَحمَه الله تَعَالَى: " … فَإِن الشَّرِيعَة مبناها وأساسها على الحكم ومصالح الْعباد، فِي المعاش والمعاد، وَهِي عدل كلهَا، وَرَحْمَة كلهَا، ومصالح كلهَا، وَحِكْمَة كلهَا، فَكل مَسْأَلَة خرجت عَن الْعدْل إِلَى الْجور، وَعَن الرَّحْمَة إِلَى ضدها، وَعَن الْمصلحَة إِلَى الْمفْسدَة، وَعَن الْحِكْمَة إِلَى الْعَبَث فليستْ من الشَّرِيعَة، وإنْ أُدخلتْ فِيهَا بالتأويل، فالشريعة عدل الله بَين عباده، وَرَحمته بَين خلقه، وظله فِي أرضه وحكمته الدَّالَّة عَلَيْهِ وعَلى صدق رَسُوله صلى الله عليه وسلم أتم دلَالَة وَأصْدقهَا … "3.

فالشريعة إِذا لَيست تعبّدية تحكّمية تحلّل وتحرّم دون أَن تقصد إِلَى شَيْء وَرَاء أمرهَا ونهيها، وحظرها وإباحتها، وَبِعِبَارَة أُخْرَى: إِن أَحْكَام الشَّرِيعَة الإسلامية - فِي جُمْلَتهَا - معللة عِنْد الجماهير من أهل الْعلم4 وَإِن لَهَا مَقَاصِد فِي كل

--------------------------------------------

2 - شمس الدّين أَبُو عبد الله مُحَمَّد بن أَبُو بكر بن أَيُّوب الزرعي الدِّمَشْقِي، مُحدث فَقِيه أصولي مُجْتَهد إِمَام (ت 751?) وترجمته فِي ذيل طَبَقَات الْحَنَابِلَة 2/447 والدرر الكامنة 4/21.

3 - إِعْلَام الموقعين 3 / 14 - 15.

4 - رَاجع الموافقات 2 / 6 - 7 والاعتصام 2 / 132 للشاطبي وَتَخْرِيج الْفُرُوع على الْأُصُول للزنجاني ص 38 ومختصر شرح الرَّوْضَة للطوفي 1 / 394.
‌‌বান্দাদের কল্যাণের ভিত্তিতে শরিয়তের প্রতিষ্ঠা:

ইসলামী শরিয়ত ইহকাল ও পরকালে বান্দাদের কল্যাণ হাসিলের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত, চাই তা ফরজ ও মুস্তাহাব (مندوبات) এর নির্দেশ হোক অথবা হারাম ও মাকরুহ এর নিষেধ হোক; এ সবকিছুর মাধ্যমেই শরিয়ত সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য, জনকল্যাণ এবং হিকমত হাসিল করতে চায়। ইমাম ইবনুল কাইয়্যুম ২ রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন: " … কেননা শরিয়তের ভিত্তি ও মূল হলো হিকমত এবং ইহকাল ও পরকালে বান্দাদের কল্যাণ। এটি পূর্ণাঙ্গ ইনসাফ, পূর্ণাঙ্গ রহমত, পূর্ণাঙ্গ কল্যাণ এবং পূর্ণাঙ্গ হিকমত। সুতরাং যে বিষয় ইনসাফ থেকে জুলুমের দিকে, রহমত থেকে তার বিপরীতে, কল্যাণ থেকে অকল্যাণের দিকে এবং হিকমত থেকে নিরর্থকতার দিকে ধাবিত হয়, তা শরিয়তের অন্তর্ভুক্ত নয়, যদিও তা অপব্যাখ্যার (تأويل) মাধ্যমে এতে অন্তর্ভুক্ত করা হোক না কেন। সুতরাং শরিয়ত হলো বান্দাদের মাঝে আল্লাহর ইনসাফ, তাঁর সৃষ্টির মাঝে তাঁর রহমত, তাঁর জমিনে তাঁর ছায়া এবং তাঁর এমন হিকমত যা তাঁর নিজের এবং তাঁর রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সত্যতার ওপর পূর্ণাঙ্গ ও সত্যনিষ্ঠ প্রমাণ বহন করে … "৩।

সুতরাং শরিয়ত কেবল নিছক কোনো অন্ধ আনুগত্যের (تعبّدية) বিষয় নয় যা তার আদেশ-নিষেধ এবং নিষেধাজ্ঞা ও অনুমতির পেছনে কোনো গূঢ় উদ্দেশ্য রাখা ছাড়াই কেবল হালাল বা হারাম নির্ধারণ করে। অন্য কথায়: জমহুর আলেমদের ৪ মতে ইসলামী শরিয়তের বিধানসমূহ সামগ্রিকভাবে কারণভিত্তিক বা যুক্তিযুক্ত (معللة) এবং এর প্রতিটি বিধানের পেছনে লক্ষ্য রয়েছে...

--------------------------------------------

২ - শামসুদ্দিন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন আবু বকর বিন আইয়ুব আল-যারঈ আদ-দিমাশকি; তিনি একজন মুহাদ্দিস (محدث), ফকিহ (فقيه), উসুলবিদ (أصولي), মুজতাহিদ (مجتهد) ও ইমাম (إمام) ছিলেন (মৃত্যু ৭৫১ হিজরি)। তাঁর জীবনী যাইলু তাবাকাতিল হানাবিলা ২/৪৪৭ এবং আদ-দুরারুল কামিনা ৪/২১-এ বর্ণিত হয়েছে।

৩ - ইলামুল মুয়াক্কিঈন ৩ / ১৪ - ১৫।

৪ - দেখুন: আশ-শাতিবি রচিত আল-মুয়াফাকাত ২ / ৬ - ৭ এবং আল-ইতিসাম ২ / ১৩২; যানজানি রচিত তাখরিজুল ফুরু আলাল উসুল পৃ. ৩৮ এবং তুফি রচিত মুখতাসারু শারহির রওদা ১ / ৩৯৪।
(খণ্ড: ১) রিয়ায়াতুল মাসলাহতি ওয়াল হিকমাতি ফী তাশরীয়ি নাবিয়্যির রাহমাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (পৃষ্ঠা: ২০৮)
مَا شرعتْه وَإِن هَذِه الْمَقَاصِد وَالْحكم معقولة ومفهومة فِي الْجُمْلَة، بل معقولة ومفهومة تَفْصِيلًا إِلَّا فِي بعض الْأَحْكَام التعبدية الْمَحْضَة1 الَّتِي يصعب تعليلها تعليلاً مفصّلاً ظَاهرا معقولاً مثل مَا ورد فِي الْأَحْكَام والعبادات من تحديدات وهيئات ومقادير كعدد الصَّلَوَات وَعدد الرَّكْعَات فِي كل صَلَاة وَجعل الصّيام شهرا وَفِي شهر معِين، وَكَذَا بعض تفاصيل الْحَج وَأَحْكَام الْكَفَّارَات ومقاديرها والعقوبات المحددة (الْحُدُود) ، من حَيْثُ نوعها ومقاديرها وَعدد الْأَشْهر فِي الْعدة وَالذّبْح فِي الْمحل الْمَخْصُوص فِي الْحَيَوَان الْمَأْكُول وَغير ذَلِك مِمَّا اسْتَأْثر الله بِعِلْمِهِ وَلم نطلع عَلَيْهِ. فَهَذِهِ الْأَحْكَام التعبدية يصعب تعليلها بالتفصيل - وَإِن كانتْ هِيَ معللة فِي أَصْلهَا وجملتها.

قَالَ الشاطبي: "وَقد عُلم أَن الْعِبَادَات وُضعت لمصَالح الْعباد فِي الدُّنْيَا أَو فِي الْآخِرَة على الْجُمْلَة - وَإِن لم يُعلم ذَلِك على التَّفْصِيل، وَيصِح الْقَصْد إِلَى مسبباتها - ثَمَرَتهَا وفوائدها - الدُّنْيَوِيَّة والأخروية على الْجُمْلَة"2.

وَقَالَ إِمَام الْحَرَمَيْنِ الْجُوَيْنِيّ3 بعد أَن عرض آراء الْعلمَاء فِيمَا يُعلل وَمَا لَا يُعلل من الْأَحْكَام وَذكر نماذج لتعليلاتهم، وَفِي معرض ذكر تقسيمه الخماسي للعلل والمقاصد الشَّرْعِيَّة. قَالَ: "وَالْقسم الْخَامِس: هُوَ مَا لَا يظْهر لَهُ تَعْلِيل وَاضح وَلَا مقصد محدد، لامن بَاب الضرورات، وَلَا من بَاب الْحَاجَات، وَلَا من بَاب المكرمات - أَي التحسينات - قَالَ: وَهَذَا ينْدر تصَوره جدا"4

--------------------------------------------

1 - انْظُر الْمدْخل لدراسة الشَّرِيعَة الإسلامية ص 57 - 58 للدكتور القرضاوي.

2 - الموافقات 1 / 201.

3 - عبد الملك بن عبد الله بن يُوسُف أَبُو الْمَعَالِي، فَقِيه أصولي إِمَام شيخ الشَّافِعِيَّة (ت 478?) وترجمته فِي سير أَعْلَام النبلاء 18/467

4 - الْبُرْهَان 2 / 926.
যা তিনি শরীয়ত হিসেবে প্রবর্তন করেছেন এবং নিশ্চয়ই এই উদ্দেশ্যসমূহ (المقاصد) ও প্রজ্ঞাসমূহ (الحكم) সামগ্রিকভাবে বুদ্ধিগ্রাহ্য ও বোধগম্য, বরং বিস্তারিতভাবেও বুদ্ধিগ্রাহ্য ও বোধগম্য; কেবল কিছু বিশুদ্ধ ইবাদতকেন্দ্রিক বিধান (الأحكام التعبدية المحضة) ব্যতীত, যেগুলোর বিস্তারিত, সুস্পষ্ট ও বুদ্ধিগ্রাহ্য কারণ দর্শানো (تعليلاً) কঠিন। যেমন বিধিবিধান ও ইবাদতের ক্ষেত্রে বর্ণিত নির্দিষ্ট সীমা, পদ্ধতি ও পরিমাণসমূহ; যথা—নামাজের সংখ্যা, প্রতি নামাজে রাকাতের সংখ্যা, সিয়ামকে এক মাস এবং একটি নির্দিষ্ট মাসে নির্ধারণ করা। তেমনিভাবে হজের কিছু বিস্তারিত নিয়ম, কাফফারার বিধানসমূহ ও সেগুলোর পরিমাণ, এবং নির্দিষ্ট দণ্ডবিধি (الحدود)—এগুলোর ধরন ও পরিমাণের দিক থেকে, ইদ্দতের মাসের সংখ্যা, ভক্ষণযোগ্য পশুর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট স্থানে জবেহ করা এবং এ জাতীয় অন্যান্য বিষয় যা আল্লাহ তাঁর নিজস্ব জ্ঞানের জন্য সংরক্ষিত রেখেছেন এবং আমরা তা অবগত নই। সুতরাং এই ইবাদতকেন্দ্রিক বিধানগুলোর (الأحكام التعبدية) বিস্তারিত কারণ দর্শানো কঠিন—যদিও এগুলোর মূল এবং সামগ্রিক ভিত্তি কারণযুক্ত (معللة)।

শাতবি বলেন: "এটি জানা কথা যে, ইবাদতসমূহ সামগ্রিকভাবে দুনিয়া বা আখেরাতে বান্দাদের কল্যাণের (مصالح) জন্য প্রণয়ন করা হয়েছে—যদিও বিস্তারিতভাবে তা জানা না যায়। আর এগুলোর ফলাফল—অর্থাৎ দুনিয়াবী ও আখেরাতের সুফল ও উপকারিতা—সামগ্রিকভাবে উদ্দেশ্য করা সঠিক।"

ইমামুল হারামাইন আল-জুওয়াইনি বিধিবিধানের মধ্যে যেগুলোর কারণ দর্শানো যায় এবং যেগুলোর কারণ দর্শানো যায় না সে সম্পর্কে আলেমদের মতামত তুলে ধরার পর এবং তাদের কারণ দর্শানোর নমুনা উল্লেখ করার সময়, এবং শরীয়তের কারণসমূহ (العلل) ও উদ্দেশ্যসমূহের (المقاصد) তাঁর পঞ্চমুখী বিভাজন উল্লেখকালে বলেন: "পঞ্চম প্রকার: যার কোনো স্পষ্ট কারণ দর্শানো (تعليل) বা সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য (مقصد) প্রকাশ পায় না; না জরুরি বিষয়ের (الضرورات) পর্যায় থেকে, না প্রয়োজনীয় বিষয়ের (الحاجات) পর্যায় থেকে, আর না সৌন্দর্যবর্ধক বিষয়ের (التحسينات) পর্যায় থেকে। তিনি বলেন: এটি কল্পনা করা খুবই বিরল।"

--------------------------------------------

১ - ড. কারযাভী প্রণীত আল-মাদখাল লি-দিরাসাতুশ শরীয়াহ আল-ইসলামিয়াহ, পৃষ্ঠা ৫৭ - ৫৮ দেখুন।

২ - আল-মুওয়াফাকাত ১ / ২০১।

৩ - আবদুল মালিক বিন আবদুল্লাহ বিন ইউসুফ আবুল মাআলি, ফকিহ, উসুলবিদ (أصولي), ইমাম ও শাফেয়ী মাজহাবের শায়খ (মৃত্যু ৪৭৮ হিজরি?)। তাঁর জীবনী সিয়ারু আলামিন নুবালা ১৮/৪৬৭-এ বর্ণিত।

৪ - আল-বুরহান ২ / ৯২৬।
(খণ্ড: ১) রিয়ায়াতুল মাসলাহতি ওয়াল হিকমাতি ফী তাশরীয়ি নাবিয়্যির রাহমাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (পৃষ্ঠা: ২০৯)
ثمَّ مثل لَهُ بالعبادات الْبَدَنِيَّة الْمَحْضَة، لكنه سرعَان مَا نبه على أَن هَذِه الْعِبَادَات يُمكن تعليلها تعليلاً إجمالياً، وَهُوَ أَنَّهَا تمرن الْعباد على الانقياد لله تَعَالَى وتجديد الْعَهْد بِذكرِهِ مِمَّا ينْتج النَّهْي عَن الْفَحْشَاء وَالْمُنكر ويخفف من المغالاة فِي اتِّبَاع مطَالب الدُّنْيَا وَيذكر بالاستعداد للآخرة … " قَالَ: "فَهَذِهِ أُمُور كُلية لَا ننكر على الْجُمْلَة أَنَّهَا غَرَض الشَّارِع فِي التَّعَبُّد بالعبادات الْبَدَنِيَّة، وَقد أشعر بذلك بنصوص من الْقُرْآن الْعَظِيم فِي مثل قَوْله تَعَالَى: {إِنَّ الصَّلاةَ تَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنْكَرِ} 12.

وَقَالَ ابْن الْقيم: "وَبِالْجُمْلَةِ فللشارع فِي أَحْكَام الْعِبَادَات أسرار لَا تهتدي الْعُقُول إِلَى إِدْرَاكهَا على وَجه التَّفْصِيل، وإنْ أدركتْها جملَة"3.

إِن الْعِبَادَات فِي الْإِسْلَام ليستْ مُجَرّد مظَاهر وشعائر وطقوس يُؤَدِّيهَا الْمُسلم لمُجَرّد أَنَّهَا مَفْرُوضَة عَلَيْهِ من ربه فَحسب، فَلَيْسَ عَلَيْهِ إِلَّا الإذعان والامتثال لأوامر الله وَإِظْهَار الْعُبُودِيَّة لَهُ، ولاشك أَن هَذَا مَطْلُوب ومقصود على الْوَجْه الْأَكْمَل، وَلَكِن الْعِبَادَات - إِلَى جَانب هَذَا - تنطوي على غايات نبيلة وَحكم جليلة إِذا قَامَ العَبْد بهَا على وَجههَا خَالِصَة لله تَعَالَى اجتنى مِنْهَا ثَمَرَات كَرِيمَة وفوائد عَظِيمَة من تَطْهِير النَّفس وتزكيتها وطهارة الْقلب وسلامته مِمَّا ران عَلَيْهِ وتنوير البصيرة وانشراح الصَّدْر واطمئنان الْقلب، ومحبة الله وَرضَاهُ ومحبة عباد الله الصَّالِحين، وَصَلَاح الدُّنْيَا وفلاح الْآخِرَة إِلَى غير ذَلِك من الْأَسْرَار والأنوار وَالْخَيْر الْكثير والنفع الوفير مَالا يَأْتِي عَلَيْهِ حصر، فَيُصْبِح بعد ذَلِك عبدا مثالياً ربانياً فِي أنوار مشرقة بعد أَن كَانَ تائهاً فِي ظلمات حالكة كَمَا قَالَ

--------------------------------------------

1 - سُورَة العنكبوت آيَة: 45.

2 - الْبُرْهَان 2 / 958.

3 - إِعْلَام الموقعين 2 / 88.
এরপর তিনি কেবল বিশুদ্ধ শারীরিক ইবাদতসমূহের উদাহরণ দিয়েছেন। তবে শীঘ্রই তিনি এ ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন যে, এই ইবাদতগুলোর একটি সামগ্রিক যৌক্তিক ব্যাখ্যা (تعليلاً إجمالياً) প্রদান করা সম্ভব। আর তা হলো, এগুলো বান্দাকে মহান আল্লাহর আনুগত্য করার প্রশিক্ষণ দেয় এবং তাঁর স্মরণের মাধ্যমে অঙ্গীকার নবায়ন করে, যা অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে এবং দুনিয়াবী চাহিদা অনুসরণের বাড়াবাড়ি কমিয়ে দেয় এবং পরকালের প্রস্তুতির কথা স্মরণ করিয়ে দেয় … " তিনি বলেন: "এগুলো হলো এমন কিছু সামগ্রিক বিষয়, আমরা মোটের ওপর এটি অস্বীকার করি না যে শারীরিক ইবাদতসমূহের মাধ্যমে আনুগত্যমূলক ইবাদত (تعبد) করানোর ক্ষেত্রে এটিই শরিয়ত প্রণেতার উদ্দেশ্য। মহান কুরআনের টেক্সট (نصوص) বা ভাষ্যসমূহেও এর ইঙ্গিত পাওয়া যায়, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই সালাত অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে} ১২。

ইবনুল কাইয়্যিম বলেন: "পরিশেষে, ইবাদতের বিধানসমূহের ক্ষেত্রে শরিয়ত প্রণেতার এমন কিছু রহস্য রয়েছে যা মানুষের বিবেক-বুদ্ধি বিস্তারিতভাবে (التفصيل) অনুধাবন করতে সক্ষম হয় না, যদিও তা সামগ্রিকভাবে (جملة) অনুধাবন করতে পারে" ৩。

ইসলামে ইবাদতসমূহ কেবল বাহ্যিক রূপ, নিদর্শন বা আনুষ্ঠানিকতা নয় যা একজন মুসলিম কেবল তার রবের পক্ষ থেকে অর্পিত দায়িত্ব হিসেবে পালন করে; যাতে কেবল আল্লাহর আদেশের আনুগত্য করা এবং তাঁর দাসত্ব প্রকাশ করা ছাড়া আর কিছু নেই। কোনো সন্দেহ নেই যে, এটি একটি পূর্ণাঙ্গ উদ্দেশ্য ও কাঙ্ক্ষিত বিষয়; তবে ইবাদতসমূহ—এর পাশাপাশি—কিছু মহৎ লক্ষ্য ও মহান প্রজ্ঞার ধারক। যদি বান্দা একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য যথাযথভাবে তা পালন করে, তবে সে এর মাধ্যমে নফসের পবিত্রতা ও পরিশুদ্ধি, হৃদয়ের স্বচ্ছতা ও কলুষতা থেকে মুক্তি, অন্তর্দৃষ্টির আলোকায়ন, বক্ষ প্রশস্ত হওয়া, হৃদয়ের প্রশান্তি, আল্লাহর ভালোবাসা ও সন্তুষ্টি এবং আল্লাহর নেককার বান্দাদের ভালোবাসার মতো অত্যন্ত সম্মানজনক ও মহান উপকারিতা লাভ করে। এছাড়াও দুনিয়ার কল্যাণ, পরকালের সফলতা এবং আরও অনেক রহস্য, নূর ও অফুরন্ত কল্যাণ অর্জিত হয় যা গণনা করে শেষ করা সম্ভব নয়। ফলে সে নিবিড় অন্ধকারে পথহারা হওয়ার পর উজ্জ্বল আলোয় উদ্ভাসিত একজন আদর্শ রব্বানি বান্দায় পরিণত হয়, যেমনটি বলা হয়েছে

--------------------------------------------

১ - সূরা আল-আনকাবুত, আয়াত: ৪৫।

২ - আল-বুরহান ২ / ৯৫৮।

৩ - ইলামুল মুওয়াক্কিয়িন ২ / ৮৮।
(খণ্ড: ১) রিয়ায়াতুল মাসলাহতি ওয়াল হিকমাতি ফী তাশরীয়ি নাবিয়্যির রাহমাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (পৃষ্ঠা: ২১০)
تَعَالَى: {أَوَمَنْ كَانَ مَيْتاً فَأَحْيَيْنَاهُ وَجَعَلْنَا لَهُ نُوراً يَمْشِي بِهِ فِي النَّاسِ كَمَنْ مَثَلُهُ فِي الظُّلُمَاتِ لَيْسَ بِخَارِجٍ مِنْهَا} 1 وَيكون - إِلَى جَانب كل مَا تقدم - قد حقق الْعُبُودِيَّة الْمَحْضَة لله تَعَالَى وَتَحْقِيق الْعُبُودِيَّة الْخَالِصَة لله غَايَة الغايات ومصلحة الْمصَالح وحِكمة الحِكم وَغَايَة مَا تسمو إِلَيْهِ الهمم، وأسمى الْمَقَاصِد وأنبلها عِنْد أولي الْأَلْبَاب.

كَمَا أَن لَهَا حكما وأسراراً أُخْرَى لَا يُدْرِكهَا الْعقل الإنساني الْقَاصِر لِأَن لِلْعَقْلِ حدا يَنْتَهِي إِلَيْهِ - كَمَا قَالَ الشَّافِعِي رحمه الله وَمن يُحِيط بِعلم الله وحكمته؟ {وَلا يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِنْ عِلْمِهِ إِلاَّ بِمَا شَاءَ} 2 وَقَالَ تَعَالَى: {وَمَا أُوتِيتُمْ مِنَ الْعِلْمِ إِلاَّ قَلِيلاً} 3.

نخلص من هَذَا إِلَى أَن أَحْكَام الشَّرِيعَة كلهَا معللة - فِي الْجُمْلَة - وَأَن لَهَا غايات نبيلة وَحكما جليلة قَالَ ابْن الْقيم: "لَيْسَ فِي الشَّرِيعَة حكم إِلَّا وَله حِكْمَة وَإِن لم يَعْقِلهَا كثير من النَّاس أَو أَكْثَرهم"4.

وَنَصّ الْآمِدِيّ5 على أَنه لَا يجوز القَوْل بِوُجُود حكم إِلَّا لعِلَّة: "إِذْ هُوَ خلاف إِجْمَاع الْفُقَهَاء على أَن الحكم لَا يَخْلُو من عِلّة"6.

وَقَالَ ابْن الْحَاجِب7: " … فَإِن الْأَحْكَام شرعت لمصَالح الْعباد بِدَلِيل إِجْمَاع الْأمة"8.

--------------------------------------------

1 - سُورَة الْأَنْعَام آيَة 122.

2 - سُورَة الْبَقَرَة آيَة 225.

3 - سُورَة الْإِسْرَاء آيَة 85.

4 - زَاد الْمعَاد 5 / 665.

5 - سيف الدّين عَليّ بن أبي عَليّ التغلبي أصولي مُتَكَلم مناظر (ت 631?) وترجمته فِي وفيات الْأَعْيَان 2/455 والأعلام 5/153.

6 - الْأَحْكَام 3 / 380.

7 - أَبُو عَمْرو عُثْمَان بن أبي بكر الإسكندري، أصولي مُتَكَلم فَقِيه (ت 646?) وترجمته فِي شَجَرَة النُّور الزكية ص 167.

8 - مُنْتَهى الْوُصُول والأمل فِي علمي الْأُصُول والجدل ص 184 نقلا عَن نظرية الْمَقَاصِد ص 226.
মহান আল্লাহ বলেন: {আর যে ব্যক্তি মৃত ছিল, এরপর আমি তাকে জীবিত করেছি এবং তার জন্য আলোর ব্যবস্থা করেছি যা নিয়ে সে মানুষের মাঝে চলাচল করে; সে কি ওই ব্যক্তির মতো হতে পারে যে অন্ধকারে নিমজ্জিত এবং সেখান থেকে বের হতে পারছে না?} ১ আর এর পাশাপাশি—পূর্বোক্ত সবকিছুর মাধ্যমে—সে মহান আল্লাহর প্রতি নিরবচ্ছিন্ন দাসত্ব (عبودية) অর্জন করল। আর আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠ দাসত্ব (عبودية) অর্জন করাই হলো চূড়ান্ত লক্ষ্য, সকল কল্যাণের মূল কল্যাণ, প্রজ্ঞার সার নির্যাস এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষার সর্বোচ্চ স্তর; আর এটিই জ্ঞানীবর্গের নিকট মহত্তম ও সর্বশ্রেষ্ঠ উদ্দেশ্য।

তদ্রূপ এর আরও অনেক হিকমত ও রহস্য রয়েছে যা মানুষের সীমাবদ্ধ বুদ্ধিমত্তা অনুধাবন করতে অক্ষম। কেননা বুদ্ধির একটি নির্দিষ্ট সীমা রয়েছে যেখানে গিয়ে তা থেমে যায়—যেমনটি ইমাম শাফিঈ (রহ.) বলেছেন। আর কে-ই বা আল্লাহর জ্ঞান ও হিকমতকে আয়ত্ত করতে পারে? {আর তারা তাঁর জ্ঞানের সামান্যতম অংশও আয়ত্ত করতে পারে না, তবে তিনি যতটুকু চান তা ছাড়া} ২ এবং মহান আল্লাহ আরও বলেন: {তোমাদেরকে খুব সামান্যই জ্ঞান দান করা হয়েছে} ৩।

আমরা এখান থেকে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারি যে, শরীয়তের সকল বিধানই—সামগ্রিকভাবে—কারণভিত্তিক (معللة) এবং এগুলোর মহৎ উদ্দেশ্য ও মহান হিকমত রয়েছে। ইবনুল কাইয়্যিম বলেন: "শরীয়তের এমন কোনো বিধান নেই যার কোনো হিকমত নেই, যদিও অনেক মানুষ বা অধিকাংশ মানুষ তা বুঝতে সক্ষম হয় না" ৪।

আর আল-আমিদী ৫ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, কারণ (علة) ব্যতীত কোনো বিধান থাকার কথা বলা জায়েজ নয়: "কেননা এটি ফুকাহায়ে কেরামের ঐকমত্যের (إجماع) পরিপন্থী যে, কোনো বিধান কারণ (علة) মুক্ত হয় না" ৬।

ইবনুল হাজিব ৭ বলেন: " … কেননা উম্মতের ঐকমত্যের (إجماع) প্রমাণ অনুযায়ী বান্দাদের কল্যাণের লক্ষ্যেই বিধানসমূহ প্রবর্তিত হয়েছে" ৮।

--------------------------------------------

১ - সূরা আল-আনআম, আয়াত ১২২।

২ - সূরা আল-বাকারা, আয়াত ২২৫।

৩ - সূরা আল-ইসরা, আয়াত ৮৫।

৪ - যাদুল মাআদ ৫/৬৬৫।

৫ - সাইফুদ্দীন আলী ইবনে আবি আলী আত-তাগলিবি, একজন উসুলবিদ (أصولي), কালামশাস্ত্রবিদ (متكلم) ও তার্কিক (مناظر) (মৃত্যু ৬৩১ হিজরি?)। তাঁর জীবনী 'ওয়াফায়াতুল আইয়ান' ২/৪৫৫ এবং 'আল-আলাম' ৫/১৫৩-এ বর্ণিত হয়েছে।

৬ - আল-ইহকাম ৩/৩৮০।

৭ - আবু আমর উসমান ইবনে আবি বকর আল-ইসকান্দারি, উসুলবিদ (أصولي), কালামশাস্ত্রবিদ (متكلم) ও ফকিহ (فقيه) (মৃত্যু ৬৪৬ হিজরি?)। তাঁর জীবনী 'শাজারাতুন নূর আয-জাকিয়্যাহ' পৃষ্ঠা ১৬৭-তে বর্ণিত হয়েছে।

৮ - মুনতাহাল উসুল ওয়াল আমাল ফি ইলমাই আল-উসুল ওয়াল জাদাল পৃষ্ঠা ১৮৪, 'নাজারিইয়াতুল মাকাসিদ' পৃষ্ঠা ২২৬-এর উদ্ধৃতিতে।
(খণ্ড: ১) রিয়ায়াতুল মাসলাহতি ওয়াল হিকমাতি ফী তাশরীয়ি নাবিয়্যির রাহমাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (পৃষ্ঠা: ২১১)
وَقَالَ ابْن الْقيم: " … وَالْقُرْآن وَسنة رَسُول الله صلى الله عليه وسلم مملوآن من تَعْلِيل الْأَحْكَام بالحكم والمصالح وتعليل الْخلق بهما، والتنبيه على وُجُوه الحكم الَّتِي لأَجلهَا شرع تِلْكَ الْأَحْكَام، ولأجلها خلق تِلْكَ الْأَعْيَان، وَلَو كَانَ هَذَا فِي الْقُرْآن وَالسّنة نَحْو مائَة مَوضِع أَو مِائَتَيْنِ لسقناها وَلَكِن يزِيد على ألف مَوضِع بطرق متنوعة"1 ثمَّ نبه على عدد كثير من صِيغ التَّعْلِيل المستعملة فِي الْقُرْآن.

ويؤكد على هَذَا الاتجاه الإِمَام عز الدّين بن عبد السَّلَام2 موضحاً أَن الشَّرِيعَة كلهَا معللة بجلب الْمصَالح ودرء الْمَفَاسِد، سَوَاء مِنْهَا مَا وَقع النَّص على تَعْلِيله أَو مَا لم ينص عَلَيْهِ، فَمَا نَص على تَعْلِيله فِيهِ تَنْبِيه على مَا لم ينص عَلَيْهِ يَقُول: "والشريعة كلهَا مصَالح، إِمَّا تدرأ مفاسد أَو تجلب مصَالح، فَإِذا سَمِعت الله يَقُول: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا} فَتَأمل وَصيته بعد ندائه فَلَا تَجِد إِلَّا خيرا يحثّك عَلَيْهِ أَو شرا يزجرك عَنهُ، أَو جمعا بَين الْحَث والزجر، وَقد أبان فِي كِتَابه مَا فِي بعض الْأَحْكَام من الْمَفَاسِد حثاً على اجْتِنَاب الْمَفَاسِد، وَمَا فِي بعض الْأَحْكَام من الْمصَالح حثاً على إتْيَان الْمصَالح"3.

ويؤكد فِي مَوضِع آخر وبجلاء أَكثر وأسلوب أوضح على هَذَا الْمَعْنى فَيَقُول: "التكاليف كلهَا رَاجِعَة إِلَى مصَالح الْعباد فِي دنياهم وأخراهم وَالله غَنِي عَن عبَادَة الْكل، لَا تَنْفَعهُ طَاعَة الطائعين وَلَا تضره مَعْصِيّة العاصين … "4.

وَقَالَ الشاطبي: "إِن وضع الشَّرَائِع إِنَّمَا هُوَ لمصَالح الْعباد فِي العاجل والآجل مَعًا"5.

--------------------------------------------

1 - مِفْتَاح دَار السَّعَادَة ومنشور ولَايَة الْعلم والارادة 2 / 40 {ط: رئاسة الافتاء) .

2 - الملقب بسُلْطَان الْعلمَاء فَقِيه أصولي مُجْتَهد (ت 660?) وترجمته فِي طَبَقَات الشَّافِعِيَّة الْكُبْرَى 5/80 ووفيات الْأَعْيَان 1/594.

3 - قَوَاعِد الْأَحْكَام 1 / 11.

4 - قَوَاعِد الْأَحْكَام 2 / 73.

5 - الموافقات 2 / 6.
ইবনুল কাইয়্যিম বলেন: " … কুরআন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ হিকমত ও জনকল্যাণের মাধ্যমে বিধানসমূহের কারণ দর্শানো (تعليل) এবং সৃষ্টির কারণ বর্ণনায় পরিপূর্ণ। যে সকল হিকমতের দিক বিবেচনা করে এই বিধানসমূহ প্রণয়ন করা হয়েছে এবং যে কারণে এই বস্তুসমূহ সৃষ্টি করা হয়েছে, তার প্রতি এতে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। যদি কুরআন ও সুন্নাহর একশত বা দুইশত স্থানে এমনটি থাকত তবে আমরা তা বিস্তারিত বর্ণনা করতাম, কিন্তু এটি বিভিন্ন পন্থায় এক হাজারেরও বেশি স্থানে বর্ণিত হয়েছে।" অতঃপর তিনি কুরআনে ব্যবহৃত কারণ দর্শানোর (تعليل) অনেকগুলো শব্দরীতি সম্পর্কে আলোকপাত করেন।

ইমাম ইযযুদ্দীন ইবন আবদিস সালাম এই প্রবণতাকে জোরালোভাবে সমর্থন করে স্পষ্ট করেছেন যে, শরিয়তের সবটুকুই জনকল্যাণ সাধন এবং অনিষ্ট দূর করার সাথে সকারণ (معللة), চাই তার কারণ দর্শানোর বিষয়টি অকাট্য পাঠ (نص) দ্বারা প্রমাণিত হোক বা না হোক। যার কারণ স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে তা মূলত যেগুলোর কারণ বর্ণিত হয়নি সেগুলোর দিকেই ইঙ্গিত প্রদান করে। তিনি বলেন: "সমগ্র শরিয়তই হলো কল্যাণ; হয় তা অনিষ্ট দূর করে অথবা কল্যাণ বয়ে আনে। সুতরাং যখনই আপনি আল্লাহকে বলতে শুনবেন: {হে মুমিনগণ}, তখন তাঁর আহ্বানের পর তাঁর নির্দেশের প্রতি লক্ষ্য করুন; তাহলে আপনি কেবল এমন কোনো কল্যাণই পাবেন যার প্রতি তিনি আপনাকে উৎসাহিত করছেন অথবা এমন কোনো মন্দ পাবেন যা থেকে তিনি আপনাকে বিরত রাখছেন, অথবা উৎসাহ ও সতর্কতা উভয়েরই সমন্বয় পাবেন। তিনি তাঁর কিতাবে কোনো কোনো বিধানের মধ্যে বিদ্যমান অনিষ্টগুলো স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন যাতে তা পরিহার করা যায়, আবার কোনো কোনো বিধানের কল্যাণগুলো বর্ণনা করেছেন যাতে তা সম্পাদন করা যায়।"

তিনি অন্য স্থানে আরও স্পষ্টভাবে এবং সহজভাবে এই বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন: "সমস্ত ধর্মীয় দায়বদ্ধতা (تكاليف) দুনিয়া ও আখেরাতে বান্দার কল্যাণের দিকেই ফিরে যায়। আল্লাহ সমস্ত সৃষ্টিজগতের ইবাদত থেকে অমুখাপেক্ষী; আনুগত্যকারীদের আনুগত্য তাঁর কোনো উপকারে আসে না এবং পাপাচারীদের পাপ তাঁর কোনো ক্ষতি করে না … "

আল-শাতিবি বলেন: "শরিয়ত প্রবর্তনের মূল লক্ষ্যই হলো ইহকাল ও পরকাল উভয় ক্ষেত্রে বান্দাদের কল্যাণ সাধন করা।"

--------------------------------------------

১ - মিফতাহু দারিস সাআদাহ ওয়া মানশুরু উইলায়াতিল ইলমি ওয়াল ইরাদাহ ২/৪০ (প্রকাশনী: রিয়াসাতুল ইফতা)।

২ - 'সুলতানুল উলামা' উপাধিতে ভূষিত ফকিহ, মূলনীতিবিদ (أصولي) ও মুজতাহিদ (مجتهد) (মৃত্যু: ৬৬০ হিজরি?)। তাঁর জীবনী তাবাকাতুশ শাফিয়্যাহ আল-কুবরা ৫/৮০ এবং ওয়াফায়াতুল আ’য়ান ১/৫৯৪-এ দ্রষ্টব্য।

৩ - কাওয়ায়িদুল আহকাম ১/১১।

৪ - কাওয়ায়িদুল আহকাম ২/৭৩।

৫ - আল-মুওয়াফাকাত ২/৬।
(খণ্ড: ১) রিয়ায়াতুল মাসলাহতি ওয়াল হিকমাতি ফী তাশরীয়ি নাবিয়্যির রাহমাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (পৃষ্ঠা: ২১২)
وَقَالَ أَيْضا: "إِذا ثَبت أَن الشَّارِع قد قصد بالتشريع إِقَامَة الْمصَالح الأخروية والدنيوية وَذَلِكَ على وَجه لَا يخْتل لَهَا بِهِ نظام، لَا بِحَسب الْكل وَلَا بِحَسب الْجُزْء وَسَوَاء فِي ذَلِك مَا كَانَ من قبيل الضروريات أَو الحاجيات أَو التحسينات"1 وَقد كرر هَذَا الْمَعْنى فِي كِتَابه كثيرا.

وَقد انتقد الإِمَام الشاه ولي الله الدهلوي2 منكري التَّعْلِيل، وَأنكر عَلَيْهِم ظنهم أَن الشَّرِيعَة ليستْ سوى تعبد واختبار، لَا اهتمام لَهَا بِشَيْء من الْمصَالح قَائِلا: "وَهَذَا ظن فَاسد تكذبه السّنة وَإِجْمَاع الْقُرُون الْمَشْهُود لَهَا بِالْخَيرِ … "3.

--------------------------------------------

1 - الْمصدر السَّابِق 2 / 37.

2 - أَحْمد بن عبد الرَّحِيم الدهلوي، فَقِيه مُحدث محيي علم الحَدِيث فِي الْهِنْد (ت 1176?) انْظُر فقه أهل الْعرَاق وحديثهم ص 78.

3 - مُقَدّمَة حجَّة الله الْبَالِغَة 1 / 9.
তিনি আরও বলেন: "যখন এটি প্রমাণিত যে, বিধানদাতা (الشارع) বিধান প্রণয়নের (التشريع) মাধ্যমে পরকালীন ও ইহকালীন কল্যাণসমূহ (المصالح) প্রতিষ্ঠার সংকল্প করেছেন, এবং তা এমনভাবে যাতে সামগ্রিক বা আংশিক কোনো দিক থেকেই এর শৃঙ্খলায় কোনো বিচ্যুতি না ঘটে; চাই তা জরুরি (الضروريات), প্রয়োজনভিত্তিক (الحاجيات) কিংবা সৌন্দর্যবর্ধক (التحسينات) বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত হোক না কেন।" ১ তিনি তাঁর কিতাবে এই অর্থটি বহুবার পুনরাবৃত্তি করেছেন।

ইমাম শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভি ২ কার্যকারণ নির্দেশ (التعليل) অস্বীকারকারীদের সমালোচনা করেছেন। শরিয়ত কেবল নিছক ইবাদত ও পরীক্ষা ছাড়া আর কিছুই নয় এবং এর সাথে জনকল্যাণের কোনো সম্পর্ক নেই—তাদের এমন ধারণাকে তিনি প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন: "এটি একটি ভ্রান্ত ধারণা, যাকে সুন্নাহ (السنة) এবং কল্যাণের সাক্ষ্যপ্রাপ্ত প্রজন্মের ঐকমত্য (إجماع) মিথ্যা প্রতিপন্ন করে … " ৩।

--------------------------------------------

১ - পূর্বোক্ত উৎস ২ / ৩৭।

২ - আহমদ ইবনে আবদুর রহিম দেহলভি, ফকিহ (فقيه), মুহাদ্দিস (محدث) এবং ভারতে হাদিস শাস্ত্রের পুনর্জীবক (মৃত্যু ১১৭৬ হিজরি)। দ্রষ্টব্য: ফিকহ আহলিল ইরাক ওয়া হাদিসুহুুম, পৃষ্ঠা ৭৮।

৩ - হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ-র ভূমিকা ১ / ৯।
(খণ্ড: ১) রিয়ায়াতুল মাসলাহতি ওয়াল হিকমাতি ফী তাশরীয়ি নাবিয়্যির রাহমাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (পৃষ্ঠা: ২১২)
‌‌الْأَدِلَّة عَليّ أَن أَحْكَام الله تَعَالَى معللة بالمصالح

…

الْأَدِلَّة على أَن أَحْكَام الله تَعَالَى معللة بالحكم والمصالح:

وَقد دلّت أَدِلَّة كَثِيرَة على أَن أَحْكَام الشَّرِيعَة مَبْنِيَّة على مصَالح الْعباد من صَلَاح المعاش والمعاد، مِنْهَا:

1 - النُّصُوص الْكَثِيرَة الدَّالَّة على تَعْلِيل أَفعاله تَعَالَى وَأَحْكَامه، وَهِي من الْكَثْرَة فِي الْكتاب وَالسّنة بِحَيْثُ يتَعَذَّر إحصاؤها، مِنْهَا على سَبِيل الْمِثَال:

قَوْله تَعَالَى فِي الصَّلَاة: {إِنَّ الصَّلاةَ تَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنْكَر} 4.

وَقَوله سُبْحَانَهُ فِي الزَّكَاة: {خُذْ مِنْ أَمْوَالِهِمْ صَدَقَةً تُطَهِّرُهُمْ وَتُزَكِّيهِمْ بِهَا} 5.

--------------------------------------------

4 - سُورَة العنكبوت آيَة: 45.

5 - سُورَة التَّوْبَة آيَة: 103.
মহান আল্লাহর বিধানসমূহ যে জনকল্যাণের (المصالح) ওপর ভিত্তি করে প্রবর্তিত হওয়ার প্রমাণসমূহ

…

আল্লাহ তাআলার বিধানসমূহ যে হিকমত (الحكم) ও জনকল্যাণের (المصالح) ওপর ভিত্তি করে প্রবর্তিত, তার প্রমাণসমূহ:

অসংখ্য প্রমাণাদি এ কথা নির্দেশ করে যে, শরিয়তের বিধানসমূহ ইহকালীন ও পরকালীন জীবনের সংশোধনের নিমিত্তে বান্দার কল্যাণের (المصالح) ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। সেগুলোর মধ্য থেকে কিছু হলো:

১ - মহান আল্লাহর কার্যাবলি ও বিধানসমূহের কারণ বা উদ্দেশ্য বর্ণনাকারী অসংখ্য অকাট্য দলিল (النصوص)। কুরআন ও সুন্নাহতে এ সংক্রান্ত দলিলাদি এত অধিক যে তা গণনা করা দুঃসাধ্য। উদাহরণস্বরূপ:

সালাত সম্পর্কে আল্লাহ তাআলার বাণী: {নিশ্চয়ই সালাত অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে} ৪।

এবং জাকাত সম্পর্কে পবিত্র মহান সত্তার বাণী: {তাদের ধনসম্পদ থেকে সদকা গ্রহণ করুন, যার মাধ্যমে আপনি তাদেরকে পবিত্র ও পরিশোধিত করবেন} ৫।

--------------------------------------------

৪ - সূরা আল-আনকাবুত, আয়াত: ৪৫।

৫ - সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত: ১০৩।
(খণ্ড: ১) রিয়ায়াতুল মাসলাহতি ওয়াল হিকমাতি ফী তাশরীয়ি নাবিয়্যির রাহমাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (পৃষ্ঠা: ২১৩)
وَقَوله فِي الْحَج: {وَأَذِّنْ فِي النَّاسِ بِالْحَجّ … لِيَشْهَدُوا مَنَافِعَ لَهُمْ وَيَذْكُرُوا اسْمَ اللَّهِ فِي أَيَّامٍ مَعْلُومَاتٍ} 1.وَقَالَ سُبْحَانَهُ: {وَقَاتِلُوهُمْ حَتَّى لَا تَكُونَ فِتْنَةٌ وَيَكُونَ الدِّينُ كُلُّهُ لِلَّه} 2 وَقَالَ عز وجل: {وَلَكُمْ فِي الْقِصَاصِ حَيَاةٌ يَا أُولِي الأَلْبَابِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ} 3

وَقَالَ صلى الله عليه وسلم: "يَا معشر الشَّبَاب من اسْتَطَاعَ مِنْكُم الْبَاءَة فليتزوج … وَمن لم يسْتَطع فَعَلَيهِ بِالصَّوْمِ فَإِنَّهُ لَهُ وَجَاء" 4.

وَقَالَ فِي أَربع قبل الظّهْر: "إِنَّهَا سَاعَة تفتح فِيهَا أَبْوَاب السَّمَاء فَأحب أَن يصعد لي فِيهَا عمل صَالح" 5.

وَقَالَ عليه الصلاة والسلام فِي نقض الْوضُوء بِالنَّوْمِ: " … فَإِنَّهُ إِذا اضْطجع استرختْ مفاصله" 6.

قَالَ الإِمَام الشاطبي رحمه الله: "وَالْمُعْتَمد إِنَّمَا هُوَ أَنا استقرينا من الشَّرِيعَة أَنَّهَا وضعت لمصَالح الْعباد استقراء لَا يُنَازع فِيهِ الرَّازِيّ وَغَيره" إِلَى أَن قَالَ: "وَإِذا دلّ الاستقراء على هَذَا، وَكَانَ فِي مثل هَذِه الْقَضِيَّة مُفِيدا للْعلم فَنحْن نقطع بِأَن الْأَمر مُسْتَمر فِي جَمِيع تفاصيل الشَّرِيعَة"7.

--------------------------------------------

1 - سُورَة الْحَج آيَة: 27، 28.

2 - سُورَة الْأَنْفَال الْآيَة: 39.

3 - سُورَة الْبَقَرَة آيَة: 179.

4 - رَوَاهُ البُخَارِيّ 9 / 106 (مَعَ الْفَتْح) وَمُسلم 2 / 1018، وَرَوَاهُ كَذَلِك التِّرْمِذِيّ وَأَبُو دَاوُد وَالنَّسَائِيّ وَغَيرهم.

5 - رَوَاهُ أَحْمد 5 / 417، 430 وَالتِّرْمِذِيّ وَغَيرهمَا.

6 - رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ1/ 253وَأَبُو دَاوُد1/139وَالْإِمَام أَحْمد1/256 وَالدَّارَقُطْنِيّ1/159 وَابْن أبي شيبَة1/132 وَالْبَيْهَقِيّ1/121 وَقَالَ أَبُو دَاوُد: هُوَ حَدِيث مُنكر وَنَحْوه قَالَ ابْن عبد الْبر انْظُر الاستذكار1/191 وَنصب الرَّايَة1/44.

7 - الموافقات 2 / 6 - 7.
হজের বিষয়ে তাঁর বাণী: {এবং মানুষের মাঝে হজের ঘোষণা দাও … যাতে তারা তাদের কল্যাণের স্থানগুলোতে উপস্থিত হতে পারে এবং নির্দিষ্ট দিনগুলোতে আল্লাহর নাম স্মরণ করতে পারে} ১। এবং মহান আল্লাহ বলেন: {আর তোমরা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো যতক্ষণ না ফেতনা দূরীভূত হয় এবং দ্বীন পরিপূর্ণভাবে আল্লাহর জন্য হয়ে যায়} ২। এবং পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত আল্লাহ বলেন: {আর হে জ্ঞানবানগণ! কিসাসের মধ্যে তোমাদের জন্য জীবন নিহিত রয়েছে, যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পারো} ৩।

আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "হে যুবক সম্প্রদায়! তোমাদের মধ্যে যার বিবাহের সামর্থ্য আছে সে যেন বিবাহ করে … আর যার সামর্থ্য নেই সে যেন রোজা রাখে, কেননা তা তার জন্য কামভাব দমনকারী" ৪।

জোহরের পূর্বের চার রাকাত সম্পর্কে তিনি বলেছেন: "এটি এমন একটি সময় যখন আকাশের দ্বারসমূহ উন্মুক্ত করা হয়, তাই আমি পছন্দ করি যে এই সময়ে আমার কোনো নেক আমল উপরে উঠুক" ৫।

নিদ্রার মাধ্যমে অজু ভঙ্গ হওয়া প্রসঙ্গে তিনি (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) বলেছেন: " … কেননা মানুষ যখন কাত হয়ে শুয়ে পড়ে তখন তার শরীরের জোড়াগুলো শিথিল হয়ে যায়" ৬।

ইমাম শাতবি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "নির্ভরযোগ্য (المعتمد) কথা হলো এই যে, আমরা শরিয়তের বিধানসমূহ পর্যালোচনার (استقراء) মাধ্যমে এটি নিশ্চিত করেছি যে, শরিয়ত বান্দাদের কল্যাণের নিমিত্তেই প্রবর্তিত হয়েছে; এমন এক পর্যালোচনার (استقراء) মাধ্যমে যা ইমাম রাজি বা অন্য কেউ অস্বীকার করতে পারবেন না।" তিনি আরও বলেন: "যখন পর্যালোচনা (استقراء) এই বিষয়ের ওপর প্রমাণ পেশ করে এবং এই ধরণের বিষয়ে তা নিশ্চিত জ্ঞানের (العلم) ফায়দা দেয়, তখন আমরা অকাট্যভাবে সিদ্ধান্ত নিই যে, বিষয়টি শরিয়তের সকল খুঁটিনাটি বিষয়ের ক্ষেত্রে অব্যাহত রয়েছে" ৭।

--------------------------------------------

১ - সূরা আল-হজ, আয়াত: ২৭, ২৮।

২ - সূরা আল-আনফাল, আয়াত: ৩৯।

৩ - সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৭৯।

৪ - বুখারি ৯ / ১০৬ (ফাতহুল বারিসহ) এবং মুসলিম ২ / ১০১৮ এটি বর্ণনা করেছেন; তদ্রূপ তিরমিজি, আবু দাউদ, নাসায়ি ও অন্যান্যরাও এটি বর্ণনা করেছেন।

৫ - আহমদ ৫ / ৪১৭, ৪৩০ এবং তিরমিজি ও অন্যান্যরা এটি বর্ণনা করেছেন।

৬ - তিরমিজি ১ / ২৫৩, আবু দাউদ ১ / ১৩৯, ইমাম আহমদ ১ / ২৫৬, দারা কুতনি ১ / ১৫৯, ইবনে আবি শায়বা ১ / ১৩২ এবং বায়হাকি ১ / ১২১ এটি বর্ণনা করেছেন। আবু দাউদ বলেছেন: এটি প্রত্যাখ্যাত (منكر) হাদিস এবং ইবনে আব্দুল বারও অনুরূপ মন্তব্য করেছেন। দেখুন: আল-ইসতিযকার ১ / ১৯১ এবং নাসবুর রায়াহ ১ / ৪৪।

৭ - আল-মুওয়াফাকাত ২ / ৬ - ৭।
(খণ্ড: ১) রিয়ায়াতুল মাসলাহতি ওয়াল হিকমাতি ফী তাশরীয়ি নাবিয়্যির রাহমাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (পৃষ্ঠা: ২১৪)
2 - قَالَ تَعَالَى: {وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلاَّ رَحْمَةً لِلْعَالَمِينَ} 1.

قَالَ الْعَضُد الإيجي: "وَظَاهر الْآيَة التَّعْمِيم، أَي يفهم مِنْهُ مُرَاعَاة مصالحهم فِيمَا شرع لَهُم من الْأَحْكَام كلهَا، إِذْ لَو أرسل بِحكم لَا مصلحَة لَهُم فِيهِ لَكَانَ إرْسَالًا لغير الرَّحْمَة، لِأَنَّهُ تَكْلِيف بِلَا فَائِدَة، فَخَالف ظَاهر الْعُمُوم"2.

3 - وَمن السّنة: قَوْله صلى الله عليه وسلم: "الْخلق كلهم عِيَال الله فأحبهم إِلَى الله أنفعهم لِعِيَالِهِ" 3 فقد أوضح الرَّسُول صلى الله عليه وسلم أَن منَاط قرب الْإِنْسَان من الله تَعَالَى هُوَ مدى تَقْدِيمه النَّفْع والخدمة لِعِبَادِهِ، وَذَلِكَ برعاية مصالحهم وتوفير مَا بِهِ سعادتهم الْحَقِيقِيَّة.

وَإِذا كَانَ ميزَان مَا يتَقرَّب بِهِ الْإِنْسَان إِلَى الله فِي أَعماله هُوَ: خدمَة مصَالح الْعباد، فأحرى أَن يكون هَذَا الْمِيزَان هُوَ نَفسه الْمُحكم فِي نظام الشَّرِيعَة الإسلامية نَفسهَا4.

--------------------------------------------

1 - سُورَة الْأَنْبِيَاء آيَة: 107

2 - شرح مُخْتَصر ابْن الْحَاجِب 2 / 238 نقلا عَن نظرية الْمَقَاصِد ص 219.

3 - رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ وَأَبُو يعلى وَذكر السخاوي لَهُ عدَّة طرق فِي الْمَقَاصِد الْحَسَنَة ص 200.

4 - ضوابط الْمصلحَة للدكتور البوطي ص 78 - 79.
২ - মহান আল্লাহ বলেন: "আর আমি আপনাকে সমগ্র সৃষ্টিজগতের জন্য রহমতস্বরূপই প্রেরণ করেছি।" ১।

আযুদ আল-ইজি বলেন: "আয়াতের প্রকাশ্য অর্থ হলো ব্যাপকতা (التعميم), অর্থাৎ এর মাধ্যমে তাদের জন্য প্রবর্তিত সমস্ত বিধানে তাদের কল্যাণ বজায় রাখার বিষয়টি বোঝা যায়। কেননা যদি এমন কোনো বিধান দিয়ে তাকে প্রেরণ করা হতো যাতে তাদের কোনো কল্যাণ নেই, তবে তা রহমত হিসেবে প্রেরণ হতো না; কারণ এটি হতো নিরর্থক দায়ভার প্রদান, যা প্রকাশ্য ব্যাপকতার (العموم) পরিপন্থী।" ২।

৩ - আর সুন্নাহ থেকে প্রমাণ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী: "সমগ্র সৃষ্টি আল্লাহর পরিবারভুক্ত, সুতরাং আল্লাহর নিকট তাদের মধ্যে সবচেয়ে প্রিয় সেই ব্যক্তি যে তাঁর পরিবারের জন্য সবচেয়ে বেশি উপকারী।" ৩। এর মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্পষ্ট করেছেন যে, আল্লাহর নৈকট্য লাভের মানদণ্ড হলো তাঁর বান্দাদের উপকার ও সেবা করা, এবং তা তাদের কল্যাণ বজায় রাখা এবং তাদের প্রকৃত সুখের উপকরণ নিশ্চিত করার মাধ্যমেই সম্ভব।

আর যদি মানুষের আমলের মাধ্যমে আল্লাহর নিকটবর্তী হওয়ার মানদণ্ড হয় বান্দাদের কল্যাণের সেবা করা, তবে ইসলামি শরীয়ত ব্যবস্থার ভিত্তি হিসেবেও এই মানদণ্ডটিই কার্যকর হওয়া অধিক যুক্তিসঙ্গত। ৪।

--------------------------------------------

১ - সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত: ১০৭

২ - শারহু মুখতাসার ইবনুল হাজিব ২/২৩৮, 'নাজারিয়্যাতুল মাকাসিদ' পৃষ্ঠা ২১৯ থেকে উদ্ধৃত।

৩ - এটি বর্ণনা করেছেন তাবারানি ও আবু ইয়ালা এবং সাখাভি 'আল-মাকাসিদ আল-হাসানা'র ২০০ পৃষ্ঠায় এর একাধিক সূত্র (طرق) উল্লেখ করেছেন।

৪ - ডক্টর আল-বুতির 'দাওয়াবিত আল-মাসলাহা', পৃষ্ঠা ৭৮-৭৯।
(খণ্ড: ১) রিয়ায়াতুল মাসলাহতি ওয়াল হিকমাতি ফী তাশরীয়ি নাবিয়্যির রাহমাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (পৃষ্ঠা: ২১৪)
‌‌فُقَهَاء الصَّحَابَة ينظرُونَ الى الْمَقَاصِد والمصالح

…

فُقَهَاء الصَّحَابَة ينظرُونَ إِلَى مَقَاصِد الشَّرِيعَة:

وَمن نظر إِلَى مَا أثر عَن فُقَهَاء الصَّحَابَة رضي الله عنه مثل الْخُلَفَاء الرَّاشِدين وَابْن مَسْعُود ومعاذ بن جبل وَابْن عمر وَابْن عَبَّاس وَغَيرهم وَنظر إِلَى فقههم وتأمله بعمق تبين لَهُ أَنهم كَانُوا ينظرُونَ إِلَى مَا وَرَاء الْأَحْكَام من علل ومصالح وَمَا تحمله الْأَوَامِر والنواهي من حكم ومقاصد، فَإِذا أفتوا فِي مَسْأَلَة أَو حكمُوا فِي قَضِيَّة لم يغبْ عَن بالهم مَقَاصِد الشَّرِيعَة وأهدافها، وَلم يهدروا هَذِه الْمَقَاصِد الْكُلية فِي
ফকিহ সাহাবিগণ উদ্দেশ্য (مقاصد) ও জনকল্যাণের (مصالح) প্রতি লক্ষ্য রাখতেন

…

ফকিহ সাহাবিগণ শরিয়তের উদ্দেশ্যসমূহের (مقاصد الشريعة) প্রতি লক্ষ্য রাখতেন:

খুলাফায়ে রাশেদিন, ইবনে মাসউদ, মুয়াজ ইবনে জাবাল, ইবনে উমর, ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) এবং অন্যান্য ফকিহ সাহাবিদের থেকে যা কিছু বর্ণিত (أثر) হয়েছে, তার প্রতি কেউ যদি দৃষ্টিপাত করে এবং তাঁদের ফিকহ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা-গবেষণা করে, তবে তার কাছে এটা স্পষ্ট হয়ে যাবে যে, তাঁরা বিধানসমূহের পেছনে বিদ্যমান গূঢ় কারণ (علل) ও জনকল্যাণ (مصالح) এবং আদেশ ও নিষেধের অন্তর্ভুক্ত হিকমত (حكم) ও উদ্দেশ্যসমূহের (مقاصد) প্রতি লক্ষ্য রাখতেন। ফলে তাঁরা যখন কোনো মাসআলায় ফতোয়া প্রদান করতেন কিংবা কোনো বিচারকার্য পরিচালনা করতেন, তখন শরিয়তের উদ্দেশ্য (مقاصد الشريعة) ও এর লক্ষ্যসমূহ তাঁদের মনঃচক্ষুর আড়ালে যেত না এবং তাঁরা এই সামগ্রিক উদ্দেশ্যগুলোকে (المقاصد الكلية) উপেক্ষা করতেন না।
(খণ্ড: ১) রিয়ায়াতুল মাসলাহতি ওয়াল হিকমাতি ফী তাশরীয়ি নাবিয়্যির রাহমাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (পৃষ্ঠা: ২১৫)
غمرة الحماس للنصوص الْجُزْئِيَّة، وَلَا الْعَكْس، بل ربطوا الجزئيات بالكليات وَالْفُرُوع بالأصول، وَالْأَحْكَام بالمقاصد1.

فَهَذَا معَاذ رضي الله عنه أرْسلهُ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم إِلَى الْيمن معلما وقاضياً وَأمره أَن يَأْخُذ الزَّكَاة من أغنيائهم ليردها إِلَى فقرائهم، حَيْثُ قَالَ لَهُ: "وأعلمهم أَن الله افْترض عَلَيْهِم الصَّدَقَة فِي أَمْوَالهم، تُؤْخَذ من أغنيائهم فَترد على فقرائهم وَإِيَّاك وكرائم أَمْوَالهم، وَاتَّقِ دَعْوَة الْمَظْلُوم فانه لَيْسَ بَينهَا وَبَين الله حجاب" 2. وَكَانَ فِيمَا قَالَه لَهُ أَيْضا: "خُذ الْحبّ من الْحبّ، وَالشَّاة من الْغنم وَالْبَعِير من الْإِبِل، وَالْبَقَرَة من الْبَقر" 3 وَلَكِن معَاذًا رضي الله عنه لم يجمد على ظَاهر الحَدِيث بِحَيْثُ لَا يَأْخُذ من الْحبّ إِلَّا الْحبّ … الخ وَلَكِن نظر إِلَى الْمَقْصد من أَخذ الزَّكَاة، وَهُوَ التَّزْكِيَة والتطهير للغني وسد خلة الْفُقَرَاء من الْمُؤمنِينَ فَلم ير بَأْسا من أَخذ قيمَة الْعين الْوَاجِبَة فِي الزَّكَاة، كَمَا ذكره البُخَارِيّ فِي صَحِيحه مُعَلّقا بِصِيغَة الْجَزْم، وَرَوَاهُ الْبَيْهَقِيّ فِي سنَنه بِسَنَدِهِ عَن طَاوس عَن معَاذ أَنه قَالَ لأهل الْيمن: "ائْتُونِي بخميس أَو لبيس آخذه مِنْكُم مَكَان الصَّدَقَة فَإِنَّهُ أَهْون عَلَيْكُم وَخير للمهاجرين بِالْمَدِينَةِ" 4.

وَقد ذهب إِلَى هَذَا أَبُو حنيفَة وَأَصْحَابه وَالثَّوْري وَعمر بن عبد الْعَزِيز وَالْحسن الْبَصْرِيّ وَأحمد - فِي غير زَكَاة الْفطر - وَهُوَ الظَّاهِر من مَذْهَب البُخَارِيّ فِي صَحِيحه5.

--------------------------------------------

1 - انْظُر المرجعية الْعليا فِي الْإِسْلَام لِلْقُرْآنِ وَالسّنة للدكتور القرضاوي حَيْثُ التَّفْصِيل ص236 - 237.

2 - رَوَاهُ البُخَارِيّ 1 / 322 وَفِي أمكنة أُخْرَى وَرَوَاهُ أَيْضا مُسلم وَأَصْحَاب السّنَن وَغَيرهم.

3 - رَوَاهُ أَبُو دَاوُد فِي الزَّكَاة 2 / 253 وَابْن مَاجَه (1841) وَالْحَاكِم 1 / 338 وَصَححهُ على شَرط الشَّيْخَيْنِ - إِن صَحَّ سَماع عَطاء بن يسَار من معَاذ وَقَالَ الذَّهَبِيّ: لم يلقه.

4 - صَحِيح البُخَارِيّ فِي كتاب الزَّكَاة، بَاب أَخذ الْعرُوض فِي الزَّكَاة3/211الْبَيْهَقِيّ4/113.

5 - انْظُر فقه الزَّكَاة للقرضاوي 2 / 809 - 814 ط: مكتبة وَهبة.
আংশিক নসসমূহের (النصوص) প্রতি অতি-উৎসাহের বশবর্তী হয়ে নয়, আবার এর বিপরীতও নয়; বরং তাঁরা আংশিক বিষয়গুলোকে সামষ্টিক বিষয়ের সাথে, শাখাগুলোকে মূলনীতির সাথে এবং বিধানগুলোকে উদ্দেশ্যের সাথে সংযুক্ত করেছেন।১

এই যেমন মুআয (রা.), রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁকে শিক্ষক ও বিচারক হিসেবে ইয়ামেনে পাঠিয়েছিলেন এবং তাঁকে নির্দেশ দিয়েছিলেন যেন তিনি তাদের ধনীদের থেকে জাকাত গ্রহণ করেন এবং তা তাদের দরিদ্রদের মাঝে ফিরিয়ে দেন। যেখানে তিনি তাঁকে বলেছিলেন: "তাদের জানিয়ে দাও যে, আল্লাহ তাদের সম্পদের ওপর সদকা (জাকাত) ফরজ করেছেন, যা তাদের ধনীদের থেকে গ্রহণ করা হবে এবং তাদের দরিদ্রদের মাঝে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। আর তাদের উত্তম সম্পদ গ্রহণ করা থেকে বিরত থেকো এবং মজলুমের বদদোয়াকে ভয় করো, কেননা তার ও আল্লাহর মাঝে কোনো অন্তরাল নেই।" ২। তাঁকে আরও যা বলেছিলেন তার মধ্যে ছিল: "শস্য থেকে শস্য গ্রহণ করো, বকরি থেকে ছাগল, উট থেকে উট এবং গরু থেকে গরু গ্রহণ করো।" ৩। কিন্তু মুআয (রা.) হাদিসের বাহ্যিক অর্থের (ظاهر الحديث) ওপর এমনভাবে স্থবির হয়ে থাকেননি যে শস্যের পরিবর্তে কেবল শস্যই নিতে হবে … ইত্যাদি। বরং তিনি জাকাত গ্রহণের উদ্দেশ্যের প্রতি দৃষ্টি দিয়েছেন, আর তা হলো ধনীর আত্মশুদ্ধি ও পবিত্রতা এবং মুমিন দরিদ্রদের অভাব পূরণ করা। তাই তিনি জাকাতের ক্ষেত্রে ওয়াজিব হওয়া মূল পণ্যের মূল্য গ্রহণ করাকে দোষণীয় মনে করেননি, যেমনটি ইমাম বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে দৃঢ়তার ভঙ্গিতে (بصيغة الجزم) ঝুলন্ত বর্ণনা (معلقا) হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আর ইমাম বায়হাকি তাঁর সুনান গ্রন্থে তাঁর সনদসহ (بسنده) তাউসের সূত্রে মুআয (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি ইয়ামেনবাসীদের বলেছিলেন: "তোমরা আমার কাছে খামিস বা লাবিস (কাপড়ের প্রকারভেদ) নিয়ে আসো, আমি জাকাতের পরিবর্তে তা গ্রহণ করব; কারণ এটি তোমাদের জন্য সহজ এবং মদিনায় হিজরতকারী মুহাজিরদের জন্য অধিক কল্যাণকর।" ৪।

ইমাম আবু হানিফা ও তাঁর সাথীবর্গ, সাওরি, উমর ইবনে আবদুল আজিজ, হাসান বসরি এবং ইমাম আহমদ—ফিতরা ব্যতীত অন্য জাকাতের ক্ষেত্রে—এই মতই গ্রহণ করেছেন। আর ইমাম বুখারির সহিহ গ্রন্থে তাঁর মাযহাব থেকেও এটিই স্পষ্ট হয়।৫

--------------------------------------------

১ - বিস্তারিত জানতে ডক্টর আল-কারযাভি রচিত 'আল-মারজিয়্যাহ আল-উলইয়া ফিল ইসলাম লিল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ', পৃষ্ঠা ২৩৬ - ২৩৭ দেখুন।

২ - এটি বুখারি ১ / ৩২২ এবং অন্যান্য স্থানে বর্ণনা করেছেন। এছাড়াও মুসলিম, সুনান গ্রন্থকারগণ এবং অন্যান্যরা এটি বর্ণনা করেছেন।

৩ - এটি আবু দাউদ জাকাত অধ্যায়ে ২ / ২৫৩, ইবনে মাজাহ (১৮৪১) এবং হাকেম ১ / ৩৩৮ বর্ণনা করেছেন। আর তিনি একে দুই শায়খের শর্তানুযায়ী (شرط الشيخين) বিশুদ্ধ (صححه) বলেছেন—যদি আতা ইবনে ইয়াসার কর্তৃক মুআয (রা.) থেকে শ্রবণ করা প্রমাণিত হয়। তবে ইমাম যাহাবি বলেছেন: তিনি তাঁর সাক্ষাৎ পাননি।

৪ - সহিহ বুখারি, জাকাত অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: জাকাতের পরিবর্তে পণ্য গ্রহণ ৩/২১১; বায়হাকি ৪/১১৩।

৫ - ডক্টর কারযাভি রচিত ফিকহুয জাকাত ২ / ৮০৯ - ৮১৪ দেখুন, প্রকাশনা: মাকতাবাতু ওয়াহবাহ।
(খণ্ড: ১) রিয়ায়াতুল মাসলাহতি ওয়াল হিকমাতি ফী তাশরীয়ি নাবিয়্যির রাহমাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (পৃষ্ঠা: ২১৬)
وَمن ذَلِك: جمع الصَّحَابَة الْقُرْآن الْكَرِيم ثمَّ كِتَابَة الْمَصَاحِف وَجمع النَّاس على مصحف وَاحِد، دفعا لمفسدة اخْتِلَاف النَّاس وتفرقهم وتنازعهم وَرُبمَا تَكْفِير بَعضهم بَعْضًا الَّتِي هِيَ أعظم من مصلحَة التورع بإبقاء الْحَال فِي ذَلِك على مَا كَانَت عَلَيْهِ فِي عَهده صلى الله عليه وسلم.

وَمن ذَلِك - أَيْضا - اقْتِدَاء ابْن مَسْعُود برَسُول الله صلى الله عليه وسلم فِي تخول النَّاس بِالْمَوْعِظَةِ - كَمَا رَوَاهُ البُخَارِيّ عَن أبي وَائِل - قَالَ: كَانَ عبد الله يذكر النَّاس فِي كل خَمِيس: فَقَالَ لَهُ رجل: يَا أَبَا عبد الرَّحْمَن لَوَدِدْت أَنَّك ذكرتنا كل يَوْم قَالَ: أما إِنَّه يَمْنعنِي من ذَلِك أَنِّي أكره أَن أَملكُم، وَإِنِّي أتخولكم بِالْمَوْعِظَةِ كَمَا كَانَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم يَتَخَوَّلنَا بهَا مَخَافَة السَّآمَة علينا1.

وَمن هَذَا الْبَاب - أَيْضا - مَا حُكيَ عَن عمر بن عبد الْعَزِيز رحمه الله أَن ابْنه عبد الْملك قَالَ لَهُ: "مَالك لَا تنفذ الْأُمُور؟ فوَاللَّه مَا أُبَالِي لَو أَن الْقُدُور غلت بِي وَبِك فِي الْحق؟ " قَالَ: "لَا تعجل يَا بني، فَإِن الله ذمّ الْخمر فِي آيَتَيْنِ وحرمها فِي الثَّالِثَة، وَإِنِّي أَخَاف أَن أحمل الْحق على النَّاس جملَة فيدمغوه جملَة وَيكون منا ذَا فتْنَة"2.

وَمن ذَلِك مَا قَرَّرَهُ الْعلمَاء فِي بَاب الْأَمر بِالْمَعْرُوفِ وَالنَّهْي عَن الْمُنكر من اعْتِبَار الْمصَالح والمفاسد فِي ذَلِك والحرص على تقديرها قبل الهجوم بِالْأَمر أَو الْإِنْكَار: قَالَ الإِمَام ابْن تَيْمِية رحمه الله فِي رِسَالَة الْأَمر بِالْمَعْرُوفِ وَالنَّهْي عَن الْمُنكر: "وَإِذا كَانَ الْأَمر بِالْمَعْرُوفِ وَالنَّهْي عَن الْمُنكر من أعظم الْوَاجِبَات والمستحبات، ولابد أَن الْمصلحَة فِيهَا راجحة على الْمفْسدَة إِذْ بِهَذَا بعثت الرُّسُل وَنزلت الْكتب وَالله لَا يحب الْفساد، بل كل مَا أَمر الله بِهِ هُوَ صَلَاح وَقد

--------------------------------------------

1 - البُخَارِيّ فِي الصَّحِيح 1 / 162، 163.

2 - الموافقات 2 / 93 - 94.
এর অন্তর্ভুক্ত হলো: সাহাবীগণ কর্তৃক পবিত্র কুরআন সংকলন, অতঃপর মাসহাফসমূহ লিখন এবং জনগণকে একটি একক মাসহাফের ওপর ঐক্যবদ্ধ করা; এটি করা হয়েছিল মানুষের পারস্পরিক মতভেদ, অনৈক্য ও বিবাদের অনিষ্ট (مفسدة) দূর করার জন্য, এমনকি একে অপরকে কাফির সাব্যস্ত করার (تكفير) মতো পরিস্থিতি এড়াতে, যা সেই আল্লাহভীতি বা সতর্কতার কল্যাণের (مصلحة) চেয়েও মহান ছিল যে, বিষয়টিকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগের অবস্থার ওপর বহাল রাখা হোক।

এর অন্তর্ভুক্ত আরও একটি বিষয় হলো—উপদেশ প্রদানের ক্ষেত্রে ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু কর্তৃক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুসরণ করা। যেমনটি ইমাম বুখারি আবু ওয়াইল থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ (ইবনে মাসউদ) প্রতি বৃহস্পতিবার মানুষকে নসিহত করতেন। তখন এক ব্যক্তি তাকে বললেন: 'হে আবু আবদুর রহমান! আমি পছন্দ করতাম যদি আপনি আমাদের প্রতিদিন নসিহত করতেন।' তিনি বললেন: 'জেনে রাখুন, আমাকে এ কাজ থেকে যা বিরত রাখছে তা হলো আমি তোমাদের বিরক্ত করতে অপছন্দ করি। আর আমি তোমাদের নসিহত করার জন্য উপযুক্ত সময় তালাশ করি, যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের ওপর বিরক্তি আসার আশঙ্কায় আমাদের জন্য উপযুক্ত সময় তালাশ করতেন।'

এ পর্যায়ের অন্তর্ভুক্ত আরও একটি বিষয় হলো—যা উমর ইবনে আবদুল আজিজ রহমাতুল্লাহি আলাইহি থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তাঁর পুত্র আবদুল মালিক তাঁকে বলেছিলেন: "আপনার কী হলো যে আপনি বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করছেন না? আল্লাহর কসম, সত্যের (حق) পথে চলতে গিয়ে যদি আপনার ও আমার জন্য ডেকচিও ফুটতে থাকে (অর্থাৎ আমরা দগ্ধ হই), তবুও আমি পরোয়া করি না।" তিনি বললেন: "হে বৎস, তাড়াহুড়ো করো না; কেননা আল্লাহ তাআলা কুরআনের দুটি আয়াতে মদের নিন্দা করেছেন এবং তৃতীয় আয়াতে তা হারাম করেছেন। আমি আশঙ্কা করি যে, যদি আমি মানুষের ওপর সত্যকে (حق) একবারে চাপিয়ে দিই, তবে তারা একসাথেই তা প্রত্যাখ্যান করবে এবং এটি আমাদের পক্ষ থেকে একটি ফিতনার (فتنة) কারণ হয়ে দাঁড়াবে।"

এর অন্তর্ভুক্ত আরও একটি বিষয় হলো—সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজে বাধা প্রদানের ক্ষেত্রে আলেমগণ কল্যাণ (مصالح) ও অকল্যাণের (مفاسد) যে বিষয়টি নির্ধারণ করেছেন এবং আদেশ বা নিষেধের পদক্ষেপ নেওয়ার আগে তা নিরূপণ করার ব্যাপারে যে গুরুত্বারোপ করেছেন। ইমাম ইবনে তাইমিয়া রহমাতুল্লাহি আলাইহি তাঁর সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজে বাধা প্রদান সংক্রান্ত পুস্তিকায় বলেছেন: "সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজে বাধা প্রদান যেহেতু অন্যতম শ্রেষ্ঠ ওয়াজিব ও মুস্তাহাব আমল, তাই অবশ্যই এতে অনিষ্টের (مفسدة) তুলনায় কল্যাণ (مصلحة) প্রবল (راجحة) হতে হবে। কেননা এ উদ্দেশ্যেই রাসূলগণ প্রেরিত হয়েছেন এবং কিতাবসমূহ অবতীর্ণ হয়েছে। আর আল্লাহ তাআলা বিপর্যয় পছন্দ করেন না। বরং আল্লাহ যা কিছু নির্দেশ দিয়েছেন তার সবই কল্যাণকর এবং..."

--------------------------------------------

1 - সহিহ বুখারি ১/১৬২, ১৬৩।

2 - আল-মুওয়াফাকাত ২/৯৩-৯৪।
(খণ্ড: ১) রিয়ায়াতুল মাসলাহতি ওয়াল হিকমাতি ফী তাশরীয়ি নাবিয়্যির রাহমাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (পৃষ্ঠা: ২১৭)
أثنى الله على الصّلاح والمصلحين وَالَّذين ءامنوا وَعمِلُوا الصَّالِحَات، وذم الْفساد والمفسدين فِي غير مَوضِع، فَحَيْثُ كَانَت مفْسدَة الْأَمر وَالنَّهْي أعظم من مصْلحَته لم يكن مِمَّا أَمر الله بِهِ، وَإِن كَانَ قد ترك وَاجِبا وَفعل محرما … "1.

وَقَالَ الإِمَام ابْن الْقيم رحمه الله: "إِن النَّبِي صلى الله عليه وسلم شرع لأمته إِيجَاب إِنْكَار الْمُنكر ليحصل بإنكاره من الْمَعْرُوف مَا يُحِبهُ الله وَرَسُوله فَإِذا كَانَ إِنْكَار الْمُنكر يسْتَلْزم مَا هُوَ أنكر مِنْهُ وَأبْغض إِلَى الله وَرَسُوله صلى الله عليه وسلم فَإِنَّهُ لَا يسوغ إِنْكَاره وَإِن كَانَ الله يبغضه ويمقت أَهله … وَمن تَأمل مَا جرى على الْإِسْلَام فِي الْفِتَن الْكِبَار وَالصغَار رَآهَا من إِضَاعَة هَذَا الأَصْل وَعدم الصَّبْر على مُنكر بِطَلَب إِزَالَته فتولد مِنْهُ مَا هُوَ أكبر مِنْهُ، فقد كَانَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يرى بِمَكَّة أكبر الْمُنْكَرَات وَلَا يَسْتَطِيع تغييرها، بل لما فتح الله مَكَّة وَصَارَت دَار إِسْلَام عزم على تَغْيِير الْبَيْت ورده على قَوَاعِد إِبْرَاهِيم، وَمنعه من ذَلِك مَعَ قدرته عَلَيْهِ خشيَة وُقُوع مَا هُوَ أعظم مِنْهُ من عدم احْتِمَال قُرَيْش لذَلِك لقرب عَهدهم بِالْإِسْلَامِ وكونهم حَدِيثي عهد بِكفْر2.

وَقَالَ– رحمه الله: "فَإِذا رَأَيْت أهل الْفُجُور والفسوق يَلْعَبُونَ بالشطرنج كَانَ إنكارك عَلَيْهِم من عدم الْفِقْه والبصيرة إِلَّا إِذا نقلتهم إِلَى مَا هُوَ أحب إِلَى الله وَرَسُوله صلى الله عليه وسلم كرمي النشاب وسباق الْخَيل وَنَحْو ذَلِك، وَإِذا رَأَيْت الْفُسَّاق قد اجْتَمعُوا على لَهو وَلعب أَو سَماع مكاء وتصدية فَإِن نقلتهم عَنهُ إِلَى طَاعَة الله فَهُوَ المُرَاد وَإِلَّا كَانَ تَركهم على ذَلِك خيرا [من] أَن تفرغهم لما هُوَ أعظم من ذَلِك فَكَانَ مَا هم فِيهِ شاغلاً عَن ذَلِك… وَهَذَا بَاب وَاسع …، وَسمعت شيخ

--------------------------------------------

1 - رِسَالَة الْأَمر بِالْمَعْرُوفِ وَالنَّهْي عَن الْمُنكر لِابْنِ تَيْمِية ص 38 نقلا عَن الْأَدِلَّة على الِاعْتِبَار الْمصَالح والمفاسد لهشام بن عبد الْقَادِر ص 32.

2 - أَعْلَام الموقعين 3 / 15 - 16.
আল্লাহ নেক আমল ও সংশোধনকারীদের এবং যারা ঈমান এনেছে ও সৎকাজ করেছে তাদের প্রশংসা করেছেন এবং বিভিন্ন স্থানে ফাসাদ ও ফাসাদকারীদের নিন্দা করেছেন। সুতরাং যেখানে কোনো বিষয়ে আদেশ ও নিষেধের অনিষ্ট (মফাসাদাহ) তার কল্যাণের (মাসলাহাহ) চেয়ে অধিক হবে, সেখানে সেটি আল্লাহর নির্দেশিত বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত হবে না, যদিও এর মাধ্যমে কোনো ওয়াজিব বর্জন করা হয় অথবা কোনো হারাম কাজ সংঘটিত হয় … "1.

ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "নিশ্চয়ই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর উম্মতের জন্য অন্যায় (منكر) কাজের প্রতিবাদ করা শরিয়তসিদ্ধ করেছেন যাতে সেই প্রতিবাদের মাধ্যমে এমন কোনো কল্যাণ অর্জিত হয় যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ভালোবাসেন। সুতরাং যখন অন্যায় (منكر) কাজের প্রতিবাদ এমন কিছুর জন্ম দেয় যা তার চেয়েও বড় অন্যায় (أنكر) এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নিকট অধিক ঘৃণিত, তখন সেই অন্যায়ের প্রতিবাদ করা বৈধ নয়, যদিও আল্লাহ উক্ত কাজটিকে অপছন্দ করেন এবং এর সাথে জড়িতদের প্রতি রাগান্বিত হন … আর যে ব্যক্তি ইসলামের ইতিহাসে সংঘটিত ছোট ও বড় ফিতনাগুলো পর্যবেক্ষণ করবে, সে দেখতে পাবে যে এর মূলে ছিল এই মূলনীতিকে উপেক্ষা করা এবং কোনো অন্যায়ের (منكر) মূলোৎপাটন করতে গিয়ে ধৈর্য না ধরা, যার ফলে তার চেয়েও বড় অন্যায়ের উদ্ভব হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মক্কায় থাকাকালীন জঘন্যতম অন্যায়সমূহ (منكرات) সংঘটিত হতে দেখতেন কিন্তু সেগুলো পরিবর্তনের সক্ষমতা তাঁর ছিল না। এমনকি যখন আল্লাহ মক্কা বিজয় দান করলেন এবং তা দারুল ইসলামে পরিণত হলো, তখন তিনি কা’বা ঘরকে পরিবর্তন করে ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম)-এর ভিত্তির ওপর পুনঃনির্মাণ করার সংকল্প করেছিলেন। কিন্তু সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও তিনি তা করা থেকে বিরত থাকেন এই ভয়ে যে, তার চেয়েও বড় কোনো ক্ষতি না ঘটে; কারণ কুরাইশরা ছিল নব্য মুসলিম এবং তাদের কুফর (كفر) ত্যাগের সময়কাল ছিল অত্যন্ত অল্প। 2.

তিনি (রহিমাহুল্লাহ) আরও বলেছেন: "যখন তুমি পাপাচারী ও ফাসেকদের দাবা খেলায় লিপ্ত হতে দেখবে, তখন তাদের প্রতি তোমার প্রতিবাদ করাটা প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতার অভাব হিসেবে গণ্য হবে, যদি না তুমি তাদের সেখান থেকে সরিয়ে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অধিক প্রিয় কোনো কাজের দিকে ধাবিত করতে পারো, যেমন তীর নিক্ষেপ বা ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা ইত্যাদি। আর যখন তুমি পাপাচারীদের অনর্থক আমোদ-প্রমোদ কিংবা শিস ও তালি দেওয়ার শব্দ শ্রবণে লিপ্ত হতে দেখবে, তখন যদি তুমি তাদের সেখান থেকে সরিয়ে আল্লাহর আনুগত্যের দিকে নিয়ে আসতে পারো তবে তাই উদ্দেশ্য; অন্যথায় তাদেরকে ওই অবস্থায় ছেড়ে দেওয়াটাই শ্রেয় হবে, যাতে তারা সেখান থেকে ফুরসত পেয়ে এর চেয়েও বড় কোনো পাপে লিপ্ত না হয়। প্রকৃতপক্ষে তারা যে অবস্থায় লিপ্ত ছিল তা তাদেরকে সেই বৃহত্তর পাপ থেকে বিরত রেখেছিল … আর এটি একটি বিস্তৃত অধ্যায় …, এবং আমি শাইখকে বলতে শুনেছি

--------------------------------------------

১ - ইবনে তাইমিয়্যাহ রচিত রিসালাতুল আমর বিল মারুফ ওয়ান নাহি আনিল মুনকার, পৃ. ৩৮; হিশাম বিন আব্দুল কাদিরের আল-আদিল্লাহ আলাল ইতিবার আল-মাসালিহ ওয়াল মাফাসিদ, পৃ. ৩২ থেকে উদ্ধৃত।

২ - ইলামুল মুওয়াক্কিয়িন ৩ / ১৫ - ১৬।
(খণ্ড: ১) রিয়ায়াতুল মাসলাহতি ওয়াল হিকমাতি ফী তাশরীয়ি নাবিয়্যির রাহমাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (পৃষ্ঠা: ২১৮)
الْإِسْلَام ابْن تَيْمِية – قدس الله روحه – يَقُول: مَرَرْت أَنا وَبَعض أَصْحَابِي فِي زمن التتار بِقوم مِنْهُم يشربون الْخمر فَأنْكر عَلَيْهِم من كَانَ معي، فأنكرت عَلَيْهِ وَقلت لَهُ: إِنَّمَا حرم الله الْخمر لِأَنَّهَا تصد عَن ذكر الله وَعَن الصَّلَاة، وَهَؤُلَاء تصدهم الْخمر عَن قتل النُّفُوس وَسبي الذُّرِّيَّة وَأخذ الْأَمْوَال فَدَعْهُمْ"1.

وَهَذَا بَاب وَاسع وَيطول سرد الْأَمْثِلَة إِذا تتبعناها، وحسبنا هَذِه الملامح والإرشادات.

--------------------------------------------

1 - الْمرجع السَّابِق 3 / 16.
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ —আল্লাহ তাঁর রূহকে পবিত্র করুন— বলেন: "তাতারদের শাসনামলে আমি এবং আমার কয়েকজন সঙ্গী তাদের এমন একদলের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম যারা মদ পান করছিল। তখন আমার সাথে থাকা ব্যক্তি তাদের এই কার্যের প্রতিবাদ করলেন, কিন্তু আমি তাকেই বারণ করলাম এবং বললাম: আল্লাহ তাআলা মদকে হারাম করেছেন কেবল এই কারণে যে, তা আল্লাহর স্মরণ ও সালাত থেকে বিমুখ রাখে; অথচ এই মদই এদেরকে নরহত্যা, সন্তান-সন্ততিদের বন্দি করা এবং সম্পদ লুণ্ঠন থেকে বিরত রাখছে। সুতরাং তাদের ছেড়ে দাও।" ১।

এটি একটি বিস্তৃত অধ্যায় এবং আমরা যদি এর উদাহরণসমূহ একে একে অনুসন্ধান করি তবে তার ফিরিস্তি অনেক দীর্ঘ হবে; আমাদের জন্য এই আলোকপাত ও নির্দেশনাসমূহ যথেষ্ট।

--------------------------------------------

১ - পূর্বোক্ত তথ্যসূত্র, ৩/১৬।
(খণ্ড: ১) রিয়ায়াতুল মাসলাহতি ওয়াল হিকমাতি ফী তাশরীয়ি নাবিয়্যির রাহমাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (পৃষ্ঠা: ২১৮)
‌‌مصَالح مَنْصُوص عَلَيْهَا وَأُخْرَى غير مَنْصُوص عَلَيْهَا:

وَإِذا تقرر هَذَا فَإِن الْمصلحَة أَو الْحِكْمَة قد تكون مَنْصُوصا عَلَيْهَا فِي كَلَام الشَّارِع وَقد لَا تكون مَنْصُوصا عَلَيْهَا فيهتدي إِلَيْهَا الْعَالم بِنور الله: بالفهم الَّذِي يؤتاه الرجل فِي الْكتاب وَالسّنة وَهُوَ المعنيّ بالحكمة فِي قَوْله سبحانه وتعالى: {يُؤْتِي الْحِكْمَةَ مَنْ يَشَاء} 2 يَعْنِي: - وَالله أعلم - الْإِصَابَة فِي الْفَهم والسداد فِي القَوْل وَالْعَمَل وحسبك بهما نعْمَة.

فَمن أَمْثِلَة الْقسم الأول:

- شرعت الصَّلَاة لذكر الله تَعَالَى. قَالَ تَعَالَى: {وَأَقِمِ الصَّلاةَ لِذِكْرِي} 3.

- شرع الْجِهَاد لإعلاء كلمة الله وَإِزَالَة الْفِتْنَة كَمَا قَالَ تَعَالَى: {وَقَاتِلُوهُمْ حَتَّى لَا تَكُونَ فِتْنَةٌ وَيَكُونَ الدِّينُ كُلُّهُ لِلَّهِ} 4.

- شرع الْقصاص زاجراً عَن الْقَتْل كَمَا قَالَ جلّ وَعلا: {وَلَكُمْ فِي الْقِصَاصِ حَيَاةٌ يَا أُولِي الْأَلْبَابِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ} 5.

--------------------------------------------

2 - سُورَة الْبَقَرَة آيَة: 269.

3 - سُورَة طه آيَة:14.

4 - سُورَة الْأَنْفَال آيَة: 39.

5 - سُورَة الْبَقَرَة آيَة: 179.
সরাসরি বর্ণিত (منصوص عليها) জনকল্যাণ এবং সরাসরি বর্ণিত নয় (غير منصوص عليها) এমন অন্যান্য বিষয়:

যখন এটি প্রতিষ্ঠিত হলো যে, জনকল্যাণ (مصلحة) বা প্রজ্ঞা (حكمة) কখনো বিধানদাতার (شارع) বাণীতে সরাসরি বর্ণিত (منصوص عليها) হতে পারে, আবার কখনো তা সরাসরি বর্ণিত (منصوص عليها) নাও হতে পারে। সেক্ষেত্রে একজন আলেম আল্লাহর নূর তথা কুরআন ও সুন্নাহর সেই উপলব্ধির মাধ্যমে সঠিক পথ খুঁজে পান যা কোনো ব্যক্তিকে প্রদান করা হয়। আর মহান আল্লাহর এই বাণীতে প্রজ্ঞা (حكمة) বলতে এটিই উদ্দেশ্য: {তিনি যাকে ইচ্ছা প্রজ্ঞা (حكمة) দান করেন} অর্থাৎ—আল্লাহই ভালো জানেন—উপলব্ধির ক্ষেত্রে সঠিকতা এবং কথা ও কর্মে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছানো। আর এই দুটি বিষয় নেয়ামত হিসেবে আপনার জন্য যথেষ্ট।

প্রথম প্রকারের উদাহরণসমূহের মধ্যে রয়েছে:

- মহান আল্লাহর স্মরণের উদ্দেশ্যে সালাত বিধিবদ্ধ করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর আমার স্মরণের জন্য সালাত কায়েম করো}।

- আল্লাহর বাণীকে সমুন্নত করা এবং ফিতনা দূর করার উদ্দেশ্যে জিহাদ বিধিবদ্ধ করা হয়েছে, যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর তোমরা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো যতক্ষণ না ফিতনা দূরীভূত হয় এবং দ্বীন সম্পূর্ণরূপে আল্লাহর জন্য হয়ে যায়}।

- হত্যা থেকে বিরত রাখার উদ্দেশ্যে কিصاص (قصاص) বিধিবদ্ধ করা হয়েছে, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেন: {আর হে বিবেকসম্পন্নগণ! কিصاصের (قصاص) মধ্যেই তোমাদের জন্য জীবন রয়েছে, যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পারো}।

--------------------------------------------

২ - সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ২৬৯।

৩ - সূরা ত্বহা, আয়াত: ১৪।

৪ - সূরা আল-আনফাল, আয়াত: ৩৯।

৫ - সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ১৭৯।
(খণ্ড: ১) রিয়ায়াতুল মাসলাহতি ওয়াল হিকমাতি ফী তাশরীয়ি নাবিয়্যির রাহমাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (পৃষ্ঠা: ২১৯)
- حرمت الْخمر لِأَنَّهَا تصد عَن ذكر الله وَعَن الصَّلَاة كَمَا قَالَ سُبْحَانَهُ: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّمَا الْخَمْرُ وَالْمَيْسِرُ وَالأَنْصَابُ وَالأَزْلامُ رِجْسٌ مِنْ عَمَلِ الشَّيْطَانِ فَاجْتَنِبُوهُ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ إِنَّمَا يُرِيدُ الشَّيْطَانُ أَنْ يُوقِعَ بَيْنَكُمُ الْعَدَاوَةَ وَالْبَغْضَاءَ فِي الْخَمْرِ وَالْمَيْسِرِ وَيَصُدَّكُمْ عَنْ ذِكْرِ اللَّهِ وَعَنِ الصَّلاةِ فَهَلْ أَنْتُمْ مُنْتَهُونَ} 1.

- حرم الزِّنَا لِأَنَّهُ فَاحِشَة كَمَا قَالَ سُبْحَانَهُ: {وَلا تَقْرَبُوا الزِّنَى إِنَّهُ كَانَ فَاحِشَةً وَسَاءَ سَبِيلاً} 2.

نهى عَن الْجمع بَين الْمَرْأَة ومحارمها منعا من القطيعة كَمَا قَالَ صلى الله عليه وسلم: "إِنَّكُم إِذا فَعلْتُمْ ذَلِك قطعْتُمْ أَرْحَامكُم" 3 وأمثلة هَذَا الْقسم كَثِيرَة مَعْلُومَة فِي الْقُرْآن وَالسّنة كَمَا تقدم من كَلَام ابْن الْقيم.

وَمن أَمْثِلَة الْقسم الثَّانِي:

- شرع البيع لمصْلحَة الِانْتِفَاع بالمعقود عَلَيْهِ.

- شرعت الْإِجَارَة لسد حَاجَة النَّاس إِذْ لَو لم يشرع لدخل على النَّاس حرج شَدِيد.

- رخص فِي بيع (الْعَرَايَا) دفعا للْحَاجة وَرَحْمَة بِالْمُسْلِمين مَعَ أَن فِيهِ معنى الرِّبَا لِأَن الرطب إِذا جف نقص وَزنه.

--------------------------------------------

1 - سُورَة الْمَائِدَة آيَة: 90، 91.

2 - سُورَة الْإِسْرَاء آيَة: 32.

3 - رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ فِي المعجم الْكَبِير 11/337، وَقَالَ الْحَافِظ ابْن حجر فِي الدِّرَايَة 2/56: صَححهُ ابْن حبَان ا?، وَهُوَ فِي صَحِيح ابْن حبَان 9/426 لكنه أعله بِأبي حريز عبد الله بن الْحُسَيْن قَاضِي سجستان فَقَالَ: ضَعِيف واهي.
- মদকে হারাম করা হয়েছে কারণ তা আল্লাহর স্মরণ ও সালাত থেকে বিমুখ করে, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {হে মুমিনগণ, এই যে মদ, জুয়া, প্রতিমা এবং ভাগ্য-নির্ধারক শর—এসবই শয়তানের অপবিত্র কাজ। সুতরাং তোমরা এসব পরিহার করো, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো। শয়তান তো চায় মদ ও জুয়ার মাধ্যমে তোমাদের মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি করতে এবং আল্লাহর স্মরণ ও সালাত থেকে তোমাদেরকে বিরত রাখতে। সুতরাং তোমরা কি নিবৃত্ত হবে?} ১।

- ব্যভিচারকে হারাম করা হয়েছে কারণ তা অশ্লীলতা, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর তোমরা ব্যভিচারের কাছেও যেও না। নিশ্চয় তা একটি অশ্লীল কাজ এবং অতি মন্দ পথ।} ২।

কোনো নারী এবং তার মাহরাম আত্মীয়দের একত্রে বিবাহ করা নিষেধ করা হয়েছে আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন হওয়া রোধ করতে, যেমনটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমরা যদি এমনটি করো, তবে তোমরা তোমাদের আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করলে।" ৩। এই প্রকারের উদাহরণ কুরআন ও সুন্নাহতে অনেক এবং সুপরিচিত, যেমনটি ইবনুল কায়্যিমের বক্তব্যে পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।

দ্বিতীয় প্রকারের উদাহরণসমূহের মধ্যে রয়েছে:

- চুক্তিকৃত বস্তুর দ্বারা উপকৃত হওয়ার স্বার্থে ক্রয়-বিক্রয়কে বিধিবদ্ধ করা হয়েছে।

- মানুষের প্রয়োজন মেটানোর জন্য ইজারা বিধিবদ্ধ করা হয়েছে; কারণ এটি বিধিবদ্ধ না হলে মানুষ চরম সংকটে পতিত হতো।

- প্রয়োজন পূরণ এবং মুসলিমদের প্রতি দয়াপরবশ হয়ে ‘আরাইয়া’ বিক্রয়ের অনুমতি প্রদান করা হয়েছে, যদিও এর মধ্যে সুদের অর্থ বিদ্যমান; কারণ তাজা খেজুর শুকিয়ে গেলে তার ওজন হ্রাস পায়।

--------------------------------------------

১ - সূরা আল-মায়িদা, আয়াত: ৯০, ৯১।

২ - সূরা আল-ইসরা, আয়াত: ৩২।

৩ - এটি তবারানি মুজামুল কাবীর (১১/৩৩৭) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং হাফিজ ইবনে হাজার আদ-দিরায়া (২/৫৬) গ্রন্থে বলেছেন: ইবনে হিব্বান একে সহিহ (صحيح) বলেছেন। এটি সহিহ ইবনে হিব্বান (৯/৪২৬) গ্রন্থেও রয়েছে, তবে তিনি একে সিজিস্তানের বিচারক আবু হারিজ আব্দুল্লাহ বিন আল-হুসাইনের কারণে ত্রুটিপূর্ণ (أعله) সাব্যস্ত করেছেন এবং বলেছেন: সে দুর্বল (ضعيف) ও অতিশয় দুর্বল (واهي)।
(খণ্ড: ১) রিয়ায়াতুল মাসলাহতি ওয়াল হিকমাতি ফী তাশরীয়ি নাবিয়্যির রাহমাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (পৃষ্ঠা: ২২০)
- شرعت الشُّفْعَة لدفع ضَرَر الشّركَة عَن الشَّرِيك، فَإِذا أَرَادَ بيع نصِيبه كَانَ شَرِيكه أَحَق من الْأَجْنَبِيّ، وَهُوَ يصل إِلَى غَرَضه من الْعِوَض من أَيهمَا كَانَ فَكَانَ الشَّرِيك أَحَق بِدفع الْعِوَض من الْأَجْنَبِيّ وَيَزُول عَنهُ ضَرَر الشّركَة، وَلَا يتَضَرَّر البَائِع لِأَنَّهُ يصل إِلَى حَقه من الثّمن.

- شرعت الْعُقُوبَات فِي الْجِنَايَات لحكمة الردع والزجر، ليرتدع النَّاس عَن الظُّلم وَالْبَغي والعدوان ويقتنع كل إِنْسَان بِمَا آتَاهُ الله مَالِكه وخالقه.

- أعْطى لكل من الزَّوْجَيْنِ حق خِيَار فسخ النِّكَاح إِذا وجد فِي الآخر عَيْبا يَسْتَحِيل مَعَه تَحْقِيق الْمَقْصُود من النِّكَاح كالعُنة والجبّ والخصاء فِي الزَّوْج والرتق والقرن فِي الزَّوْجَة، أَو الْجُنُون والجذام والبرص وَنَحْوهمَا - عَافَانَا الله وَالْمُسْلِمين مِنْهَا - فِي أَحدهمَا كَمَا هُوَ مَذْهَب الجماهير غير الظَّاهِرِيَّة مَعَ خلاف فِي بعض الْعُيُوب - وَالْحكمَة من ذَلِك: أَن مَقْصُود النِّكَاح لَا يتَحَقَّق مَعَ وجود هَذِه الْعُيُوب وَمن ثمَّ لَا يُوجد (السكن) بَين الزَّوْجَيْنِ بِمَا تشمله كلمة السكن من مَعَاني الشُّعُور بالأمن والراحة والمتعة، وتبادل الْمَوَدَّة وَالرَّحْمَة، فَإِذا اسْتَحَالَ تَحْقِيق هَذِه الْغَايَة كَانَ هَذَا مسوغا كَافِيا لحل عقدَة النِّكَاح. قَالَ ابْن الْقيم: " … وَالْقِيَاس أَن كل عيب ينفر الزَّوْج الآخر مِنْهُ وَلَا يحصل بِهِ مَقْصُود النِّكَاح من الرَّحْمَة والمودة يُوجب الْخِيَار … وَمن تدبر مَقَاصِد الشَّرْع فِي مصادره وموارده وعدله وحكمته، وَمَا اشْتَمَل عَلَيْهِ من الْمصَالح لم يَخْفَ عَلَيْهِ رُجْحَان هَذَا القَوْل وقربه من قَوَاعِد الشَّرِيعَة"1.

وأمثلة هَذَا الْقسم كَثِيرَة لَا حصر لَهَا، لَا سِيمَا فِي بَاب الْمُعَامَلَات.

--------------------------------------------

1 - زَاد الْمعَاد فِي هدى خير الْعباد 5 / 183.
অংশীদারিত্বের ফলে অংশীদারের সম্ভাব্য ক্ষতি নিরসনের জন্য অগ্রক্রয় বা শুফআ বিধিবদ্ধ করা হয়েছে। যখন কোনো অংশীদার তার মালিকানাধীন অংশ বিক্রি করার ইচ্ছা পোষণ করে, তখন অপরিচিত ব্যক্তির তুলনায় তার অংশীদারই এর অধিক হকদার। বিক্রেতা তার বিনিময় বা মূল্য যেকোনো পক্ষের থেকেই লাভ করতে পারে; তাই অপরিচিত ব্যক্তির পরিবর্তে অংশীদার কর্তৃক সেই বিনিময় প্রদান করাই অধিক যুক্তিযুক্ত, যাতে তার অংশীদারিত্বের ক্ষতি দূর হয়। এতে বিক্রেতাও ক্ষতিগ্রস্ত হয় না, কারণ সে তার প্রাপ্য মূল্য হাতে পেয়ে যাচ্ছে।

ফৌজদারি অপরাধের ক্ষেত্রে দণ্ডসমূহ বিধিবদ্ধ করা হয়েছে অপরাধ দমন ও প্রতিরোধের হিকমতের ওপর ভিত্তি করে, যাতে মানুষ জুলুম, বিদ্রোহ ও সীমালঙ্ঘন থেকে বিরত থাকে এবং মহান আল্লাহ তার মালিক ও স্রষ্টা হিসেবে তাকে যা দান করেছেন তাতে প্রত্যেক মানুষ তুষ্ট থাকে।

স্বামী-স্ত্রীর প্রত্যেককে বিবাহ বিচ্ছেদের অধিকার (ইখতিয়ার) প্রদান করা হয়েছে যদি অপরজনের মধ্যে এমন কোনো ত্রুটি পাওয়া যায় যার উপস্থিতিতে বিবাহের মূল উদ্দেশ্য সফল হওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে। যেমন স্বামীর ক্ষেত্রে লিঙ্গহীনতা, অঙ্গহানি বা খোজা হওয়া; এবং স্ত্রীর ক্ষেত্রে যোনিপথের বিশেষ শারীরিক প্রতিবন্ধকতা (রাত্মক ও ক্বারান); অথবা উভয়ের যেকোনো একজনের ক্ষেত্রে উন্মাদনা, কুষ্ঠ বা শ্বেতী রোগ এবং এই জাতীয় অন্যান্য ব্যাধি—আল্লাহ আমাদের ও সকল মুসলিমকে তা থেকে পানাহ দিন—যেমনটি জাহিরি মাযহাব ব্যতীত জমহুর বা অধিকাংশ আলিমের অভিমত, যদিও কিছু ত্রুটির ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে। এর পেছনের হিকমত হলো: এই ত্রুটিগুলোর উপস্থিতিতে বিবাহের মূল লক্ষ্য অর্জিত হয় না এবং এর ফলে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সেই 'সুকুন' বা প্রশান্তি গড়ে ওঠে না যার মধ্যে নিরাপত্তা, স্বস্তি ও আনন্দের অনুভূতি এবং পারস্পরিক ভালোবাসা ও দয়া বিনিময়ের অর্থসমূহ অন্তর্ভুক্ত থাকে। যখন এই লক্ষ্য অর্জন অসম্ভব হয়ে পড়ে, তখন তা বিবাহ বন্ধন ছিন্ন করার জন্য একটি পর্যাপ্ত ও গ্রহণযোগ্য কারণ হিসেবে গণ্য হয়। ইবনুল কাইয়্যিম রহ. বলেন: " … আর কিয়াস বা যৌক্তিক অনুমান হলো এই যে, প্রতিটি ত্রুটি যা জীবনসঙ্গীর মনে ঘৃণা উদ্রেক করে এবং যার ফলে বিবাহের মূল উদ্দেশ্য তথা দয়া ও হৃদ্যতা অর্জিত হয় না, তা বিচ্ছেদের অধিকার সাব্যস্ত করে … আর যে ব্যক্তি শরিয়তের উৎসসমূহ ও এর প্রয়োগক্ষেত্রের লক্ষ্যসমূহ, এর ইনসাফ ও হিকমত এবং এতে নিহিত জনকল্যাণ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করবে, তার কাছে এই মতের শ্রেষ্ঠত্ব এবং শরিয়তের মূলনীতির সাথে এর ঘনিষ্ঠতা গোপন থাকবে না।"১

লেনদেনের (মুআমালাত) অধ্যায়সহ অন্যান্য ক্ষেত্রেও এই প্রকারের উদাহরণ অসংখ্য যা গণনা করে শেষ করা যাবে না।

--------------------------------------------

১ - যাদুল মাআদ ফি হাদয়ি খাইরিল ইবাদ ৫ / ১৮৩।