(খণ্ড: ১)
ফাতহুল মুতাআল আলাল কাসিদাতিল মুসাম্মাহ বি-লামিয়াতিল আফআল
(পৃষ্ঠা: -)
فتح المتعال على القصيدة المسماة بلامية الأفعال القسم: النحو والصرف
الكتاب: فتح المتعال على القصيدة المسماة بلامية الأفعال
المؤلف: حمد بن مُحَمَّد الرائقي الصعيدي الْمَالِكِي (ت نحو 1250هـ)
المحقق: إبراهيم بن سليمان البعيمي
الناشر: مجلة الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة
الطبعة: 1417هـ - 1418هـ
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
عدد الصفحات: 271
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ফাতহুল মুতাআল আলাল কাসিদাহ আল-মুসাম্মাহ বি-লামিয়াতিল আফআল বিভাগ: ব্যাকরণ ও রূপতত্ত্ব
বই: ফাতহুল মুতাআল আলাল কাসিদাহ আল-মুসাম্মাহ বি-লামিয়াতিল আফআল
লেখক: হামাদ বিন মুহাম্মদ আর-রাইকি আস-সাঈদী আল-মালিকি (মৃত আনুমানিক ১২৫০ হিজরি)
সম্পাদক: ইব্রাহিম বিন সুলাইমান আল-বাইমি
প্রকাশক: মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় সাময়িকী
সংস্করণ: ১৪১৭ হিজরি - ১৪১৮ হিজরি
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণ অনুযায়ী]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৭১
শামেলা-তে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
ফাতহুল মুতাআল আলাল কাসিদাতিল মুসাম্মাহ বি-লামিয়াতিল আফআল
(পৃষ্ঠা: ১২৭)
بسم الله الرحمن الرحيم
الْمُؤلفاسْمه وَنسبه:هُوَ حمد بن مُحَمَّد الرائقي الصعيدي الْمَالِكِي.
هَذَا مَا اسْتَطَعْت الْوُصُول إِلَيْهِ فِي نسبه، إِذْ لم أجد من ترْجم لَهُ وكل مَا اسْتَطَعْت الْوُصُول إِلَيْهِ حِيَال نسبه مَأْخُوذ من النّسخ الَّتِي اعتمدت عَلَيْهَا، وعبثاً حاولت التنقيب فِي بطُون المراجع المختصة بِعلم الرِّجَال خلال الحقبة الَّتِي عَاشَ فِيهَا الرجل، وَلَكِنِّي لم أجد ذكرا لَهُ، فَأخذت أقدم فِي اسْمه وأؤخر عَسى أَن أَقف على تَرْجَمَة لَهُ من مثل أَحْمد بن مُحَمَّد، وَمُحَمّد بن مُحَمَّد، ومحمود بن مُحَمَّد، والسعيدي مَكَان الصعيدي والصعدي نِسْبَة لصعدة مَدِينَة فِي الْيمن، وَلَكِن كَانَ يردني أَنه مالكي وَأهل الْيمن إِمَّا زيود وَإِمَّا شافعية وَلَيْسَ فيهم مالكية، والمالكية فِي صَعِيد مصر كثر مِمَّا يُقَوي نسبته لصعيد مصر ويوهن نسبته لصعدة الْيمن فَقلت لَعَلَّه آفاقي فيهم فَعَسَى أَن أظفر بِشَيْء وَلَكِن ذهب جهدي أدراج الرِّيَاح، وكلمّا أعياني التنقيب أوقفت الْبَحْث يأساً من العثور على شَيْء، ثمَّ إِذا عاودني النشاط عدت للبحث من جَدِيد وَهَكَذَا دواليك عَاميْنِ كَامِلين.
والصعيدي نِسْبَة لصعيد مصر إقليم وَاسع جدا فِي جنوب الْقَاهِرَة خرج مِنْهُ طَائِفَة كَبِيرَة من الْعلمَاء الأفاضل فِي مُخْتَلف الْعُلُوم والفنون.
والرائقي قَبيلَة فِي صَعِيد مصر لَا تزَال تحمل هَذَا المسمّى حسب مَا أَخْبرنِي بِهِ أحد الْفُضَلَاء من أَبنَاء ذَلِك الإِقليم.
বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম
লেখকতাঁর নাম ও বংশপরিচয়:তিনি হলেন হামদ বিন মুহাম্মদ আল-রাইকি আস-সাঈদি আল-মালিকি।
তাঁর বংশপরিচয় সম্পর্কে আমি এটুকুই জানতে সক্ষম হয়েছি, কারণ আমি এমন কাউকে পাইনি যিনি তাঁর জীবনী (ترجمة) বর্ণনা করেছেন। তাঁর বংশপরম্পরা সম্পর্কে আমি যা কিছু সংগ্রহ করতে পেরেছি তা মূলত সেই পাণ্ডুলিপিগুলো থেকে সংগৃহীত যার ওপর আমি নির্ভর করেছি। তিনি যে যুগে জীবিত ছিলেন, সেই সময়ের বর্ণনাকারীদের জীবনচরিত ও মান যাচাই বিষয়ক বিদ্যা (علم الرجال) সংশ্লিষ্ট তথ্যসূত্রগুলোর গভীরে আমি বৃথাই অনুসন্ধানের চেষ্টা করেছি, কিন্তু সেখানে তাঁর কোনো উল্লেখ খুঁজে পাইনি। ফলে আমি তাঁর নাম আগে-পিছে পরিবর্তন করে দেখতে শুরু করি—যেমন আহমদ বিন মুহাম্মদ, মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ কিংবা মাহমুদ বিন মুহাম্মদ—এই আশায় যে হয়তো তাঁর কোনো জীবনী (ترجمة) খুঁজে পাব। আমি 'আস-সাঈদি'র স্থলে 'আস-সা'ঈদি' এবং ইয়েমেনের সাদাহ শহরের সাথে সম্পৃক্ত 'আস-সাদি' রূপেও অনুসন্ধান করেছি। কিন্তু প্রতিবারই এই বিষয়টি বাধা হয়ে আসছিল যে, তিনি ছিলেন মালিকি মাজহাবের অনুসারী; অথচ ইয়েমেনের অধিবাসীরা হয় যায়দি নতুবা শাফেয়ি, তাদের মধ্যে মালিকি মাজহাবের অনুসারী নেই বললেই চলে। পক্ষান্তরে মিশরের 'সাঈদ' (উচ্চ মিশর) অঞ্চলে মালিকি মাজহাবের অনুসারীদের সংখ্যা অনেক বেশি, যা তাঁর উচ্চ মিশরের অধিবাসী হওয়ার সম্ভাবনাকে শক্তিশালী করে এবং ইয়েমেনের সাদাহর সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার সম্ভাবনাকে দুর্বল (يوهن) করে। আমি ভাবলাম তিনি হয়তো সেখানে কোনো বহিরাগত ছিলেন, ফলে আমি কিছু একটা পাওয়ার আশা করেছিলাম, কিন্তু আমার সব চেষ্টা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হলো। যখনই অনুসন্ধান করতে করতে আমি ক্লান্ত হয়ে পড়তাম, কোনো কিছু খুঁজে পাওয়ার ব্যাপারে হতাশ হয়ে গবেষণা স্থগিত করতাম; পুনরায় যখন নতুন উদ্যম ফিরে আসত, আবার নতুন করে অনুসন্ধান শুরু করতাম—এভাবেই দীর্ঘ দুই বছর সময় অতিবাহিত হয়েছে।
'আস-সাঈদি' নিসবতটি মিশরের 'সাঈদ' বা উচ্চ মিশরের সাথে সম্পৃক্ত, যা কায়রোর দক্ষিণে অবস্থিত একটি অত্যন্ত বিশাল অঞ্চল। এখান থেকে বিভিন্ন জ্ঞান-বিজ্ঞানে পারদর্শী এক বিশাল দল বিজ্ঞ আলেম আবির্ভূত হয়েছেন।
'আল-রাইকি' হলো উচ্চ মিশরের একটি গোত্র, যারা ওই অঞ্চলের একজন গুণী ব্যক্তির দেওয়া তথ্যমতে এখনো এই নামেই পরিচিত।
(খণ্ড: ১)
ফাতহুল মুতাআল আলাল কাসিদাতিল মুসাম্মাহ বি-লামিয়াতিল আফআল
(পৃষ্ঠা: ১২৮)
وَالَّذِي يَبْدُو لي – وَالله أعلم – أَن صاحبنا عَاشَ فِي الصَّعِيد بَعيدا عَن مراكز الحضارة فِي مصر وَهَذَا مَا جعل الْمَعْنيين بالتراجم من أَمْثَال الجبرتي فِي تَارِيخه، ومبارك فِي خططه، والشوكاني فِي الْبَدْر الطالع، والبيطار فِي حلية الْبشر، وَابْن زبارة فِي النُّور السافر وَغَيرهم يغفلون ذكره.
كَمَا أَنه لم يحظ بتلامذة نجباء يحملون علمه واسْمه من بعده فيشتهر بهم؛ وَلِهَذَا عَاشَ الرجل مَجْهُولا، وَكم من عَالم نحرير خَفِي على الْعَالمين ببعده عَن مراكز الحضارة.
আমার কাছে যা প্রতীয়মান হয়—আর আল্লাহই ভালো জানেন—আমাদের এই ব্যক্তি মিশরের সভ্যতার কেন্দ্রবিন্দুগুলো থেকে দূরে সায়িদ অঞ্চলে বসবাস করতেন। আর এই কারণেই জীবনী সংক্রান্ত বিষয়াভিজ্ঞ ব্যক্তিগণ, যেমন—নিজ ইতিহাসে আল-জাবারতি, নিজ খিতাতে মুবারক, আল-বদরুত তালি গ্রন্থে আশ-শাওকানি, হিলয়াতুল বাশার গ্রন্থে আল-বাইতার এবং আন-নূরুস সাফির গ্রন্থে ইবনু জাবারাহ ও অন্যান্যরা তাঁর কথা উল্লেখ করতে বিমুখ থেকেছেন।
তেমনিভাবে তিনি এমন কোনো মেধাবী ছাত্র পাননি যারা তাঁর পরে তাঁর ইলম ও নাম বহন করত এবং যাদের মাধ্যমে তিনি খ্যাতি লাভ করতেন; এই কারণে এই ব্যক্তি অপরিচিত (مجهول) হিসেবে জীবন অতিবাহিত করেছেন। আর কতই না বিজ্ঞ আলেম সভ্যতার কেন্দ্রবিন্দু থেকে দূরে থাকার কারণে জগৎবাসীর নিকট অজানাই থেকে গেছেন।
(খণ্ড: ১)
ফাতহুল মুতাআল আলাল কাসিদাতিল মুসাম্মাহ বি-লামিয়াতিল আফআল
(পৃষ্ঠা: ১২৮)
مولده ووفاته:بِمَا أننا لم نقف على تَرْجَمَة للرجل فَمن الْعَبَث الْجَزْم بتاريخ قَاطع لميلاده أَو وَفَاته، وكل مَا نستطيع القَوْل بِهِ فِي هَذَا الشَّأْن هُوَ تقريبي فَقَط بِنَاء على إشارات من كِتَابه مقربة للزمن لَا جازمة بِهِ، فَنَقُول: إِن الرجل عَاشَ مَا بَين الْعَام 1170، و1250هـ تَقْرِيبًا، لِأَنَّهُ نقل من الشَّيْخ أَحْمد بن أَحْمد بن مُحَمَّد السجاعي فِي موضِعين1 من كِتَابه فتح الْجَلِيل على شرح ابْن عقيل،
--------------------------------------------
তাঁর জন্ম ও মৃত্যু:যেহেতু আমরা উক্ত ব্যক্তির কোনো জীবনী (ترجمة) খুঁজে পাইনি, তাই তাঁর জন্ম বা মৃত্যুর কোনো সুনিশ্চিত তারিখ প্রদান করা নিরর্থক হবে। এই বিষয়ে আমরা যা বলতে পারি তা কেবল আনুমানিক, যা তাঁর রচিত গ্রন্থ হতে প্রাপ্ত কিছু ইশারার ওপর ভিত্তি করে তৈরি, যা সময়ের একটি ধারণা দিলেও সুনিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্ত দেয় না। সুতরাং আমরা বলতে পারি যে: উক্ত ব্যক্তি আনুমানিক ১১৭০ হিজরি থেকে ১২৫০ হিজরির মধ্যবর্তী সময়ে জীবিত ছিলেন; কারণ তিনি তাঁর ‘ফাতহুল জলিল আলা শারহি ইবনি আকিল’ গ্রন্থের দুটি স্থানে১ শায়খ আহমদ বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ আস-সুজাঈ থেকে উদ্ধৃতি বর্ণনা (نقل) করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাতহুল মুতাআল আলাল কাসিদাতিল মুসাম্মাহ বি-লামিয়াতিল আফআল
(পৃষ্ঠা: ১২৯)
والسجاعي توفّي عَام 1197هـ، وَنقل من مُحَمَّد بن مُحَمَّد الْأَمِير الْكَبِير1 دون أَن يذكر اسْمه صَرَاحَة فِي مَوضِع وَاحِد، والأمير توفّي عَام 1233هـ، وَإِحْدَى النسختين اللَّتَيْنِ عملت عَلَيْهِمَا مؤرخة عَام 1248هـ، وَهِي لَيست نُسْخَة الْمُؤلف بل منقولة عَنْهَا؛ وَبِنَاء على هَذَا نستنتج أنّ الرجل كَانَ حَيا خلال تِلْكَ الحقب الزمنية، وَأَنه كَانَ أَصْغَر من السجاعي لِأَنَّهُ كَانَ يصفه بالعلامة وَلَعَلَّ السجاعي من شُيُوخه، وَأَنه كَانَ قريناً للأمير الْكَبِير لِأَنَّهُ وَصفه بِبَعْض الْمُحَقِّقين وَقد يكون زميلاً لَهُ.
--------------------------------------------
সাজাঈ ১১৯৭ হিজরি সালে ইন্তেকাল করেন এবং তিনি এক স্থানে স্পষ্টভাবে নাম উল্লেখ না করেই মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আল-আমির আল-কাবীর থেকে উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন। আল-আমির ১২৩৩ হিজরি সালে ইন্তেকাল করেন। আমি যে দুইটি পাণ্ডুলিপির ওপর কাজ করেছি তার একটির তারিখ হলো ১২৪৮ হিজরি; এটি লেখকের মূল পাণ্ডুলিপি নয়, বরং তা থেকে অনুলিপি করা হয়েছে। এর ওপর ভিত্তি করে আমরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারি যে, উক্ত ব্যক্তি সেই সময়কালে জীবিত ছিলেন এবং তিনি সাজাঈর চেয়ে বয়সে ছোট ছিলেন, কারণ তিনি তাঁকে 'আল্লামা' হিসেবে অভিহিত করতেন। সম্ভবত সাজাঈ তাঁর শিক্ষকদের (شيوخ) অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং তিনি আমির আল-কাবীরের সমসাময়িক (قرين) ছিলেন, কারণ তিনি তাঁকে 'জনৈক গবেষক' (محقق) হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং সম্ভবত তিনি তাঁর সহকর্মী ছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাতহুল মুতাআল আলাল কাসিদাতিল মুসাম্মাহ বি-লামিয়াতিল আফআল
(পৃষ্ঠা: ১৩০)
دراسة الْكتابعنوانه:الْكتاب عنوانه "فتح المتعال على القصيدة المسمّاة بلامية الْأَفْعَال" هَذَا هُوَ المدوّن على النسختين، وكما صرّح بِهِ الْمُؤلف: "وسمّيته بِفَتْح المتعال على القصيدة الْمُسَمَّاة بلامية الْأَفْعَال".
গ্রন্থ পর্যালোচনাএর শিরোনাম:গ্রন্থটির শিরোনাম হলো "ফাতহুল মুতাআল আলাল কাসিদাহ আল-মুসাম্মাহ বি-লামিয়াতুল আফআল", এটিই উভয় পাণ্ডুলিপিতে লিপিবদ্ধ রয়েছে এবং যেমনটি লেখক স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন: "আমি এর নামকরণ করেছি ফাতহুল মুতাআল আলাল কাসিদাহ আল-মুসাম্মাহ বি-লামিয়াতুল আফআল।"
(খণ্ড: ১)
ফাতহুল মুতাআল আলাল কাসিদাতিল মুসাম্মাহ বি-লামিয়াতিল আফআল
(পৃষ্ঠা: ১৩০)
نِسْبَة الْكتاب للمؤلف:لَا شكّ فِي نِسْبَة الْكتاب للمؤلف إِذْ صرح الْمُؤلف باسمه فِي أول الْكتاب فَقَالَ: "الْحَمد لله على إفضاله، وَالصَّلَاة وَالسَّلَام على سيدنَا مُحَمَّد وَآله وَبعد فَيَقُول أحْوج الْعباد، وأخفض العبيد حمد بن مُحَمَّد الصعيدي الْمَالِكِي غفر الله لَهُ ولوالديه ولإخوانه وَالْمُسْلِمين آمين هَذَا تَعْلِيق لطيف على منظومة الإِمَام أبي عبد الله جمال الدّين مُحَمَّد بن مَالك
…".
وَمِمَّا يُؤَكد نِسْبَة الْكتاب للمؤلف مَا ذكره بروكلمان فِي تَارِيخ الْأَدَب الْعَرَبِيّ فِي النُّسْخَة الْعَرَبيَّة فِي حَدِيثه عَن لامية الْأَفْعَال وشروحها: 5/292 قَالَ "شرح لحمد بن مُحَمَّد السعيدي ميونخ 719" وَلكنه جعله السعيدي بِالسِّين بدل الصعيدي بالصَّاد.
লেখকের প্রতি গ্রন্থটির নিসবত (نسبة) বা সম্বন্ধ:লেখকের প্রতি গ্রন্থটির নিসবত (نسبة) বা সম্বন্ধের বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই, যেহেতু লেখক গ্রন্থের শুরুতেই নিজ নামের স্পষ্ট উল্লেখ করে বলেছেন: "সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য তাঁর অনুগ্রহের ওপর, আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মদ ও তাঁর পরিবারবর্গের ওপর। অতপর, আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে সর্বাধিক মুখাপেক্ষী এবং বিনয়ী দাস হামাদ বিন মুহাম্মদ আস-সাঈদী আল-মালিকী—আল্লাহ তাঁকে, তাঁর পিতামাতাকে, তাঁর ভাইদের এবং সকল মুসলিমকে ক্ষমা করুন, আমিন—বলছেন: এটি ইমাম আবু আব্দুল্লাহ জামালুদ্দিন মুহাম্মদ ইবনে মালিকের কাব্যগ্রন্থের (منظومة) ওপর একটি সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা (تعليق)
…"।
লেখকের প্রতি গ্রন্থটির নিসবত (نسبة) বা সম্বন্ধের বিষয়টি আরও সুনিশ্চিত হয় ব্রোকলম্যান কর্তৃক 'তারিখুল আদাব আল-আরাবি' (আরবি সংস্করণ) গ্রন্থে 'লামিয়াতুল আফআল' ও এর ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ সম্পর্কে আলোচনার মাধ্যমে: ৫/২৯২; সেখানে তিনি বলেছেন, "হামাদ বিন মুহাম্মদ আস-সাঈদীর একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ, মিউনিখ ৭১৯"। তবে তিনি এখানে 'সাদ' (ص) অক্ষরের পরিবর্তে 'সিন' (س) অক্ষর যোগে 'আস-সাঈদী' লিখেছেন।
(খণ্ড: ১)
ফাতহুল মুতাআল আলাল কাসিদাতিল মুসাম্মাহ বি-লামিয়াতিল আফআল
(পৃষ্ঠা: ১৩০)
مصَادر الْكتاب:اعْتمد الْمُؤلف كثيرا على الشَّرْح الْكَبِير لبحرق اليمني فِي شَرحه لامية الْأَفْعَال، وَهُوَ قد صرّح بذلك فَقَالَ: "اقتطفته من ثمار شرح الإِمام الْفَاضِل بحرق اليمني وَهُوَ المُرَاد بالشارح عِنْد الإِطلاق، وَبَعض كَلِمَات من غَيره".
গ্রন্থের উৎসসমূহ:লেখক তার ‘লামিয়াতুল আফআল’-এর ব্যাখ্যায় বাহরাক আল-ইয়ামানি রচিত ‘আশ-শারহুল কাবীর’-এর ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করেছেন। তিনি নিজেই বিষয়টি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করে বলেছেন: "আমি এটি ইমাম আল-ফাদিল বাহরাক আল-ইয়ামানি-এর ব্যাখ্যার নির্যাস থেকে আহরণ করেছি; আর সাধারণভাবে ‘ব্যাখ্যাকার’ বলতে তাকেই উদ্দেশ্য করা হয়েছে এবং কিছু কথা অন্যদের থেকেও নেওয়া হয়েছে।"
(খণ্ড: ১)
ফাতহুল মুতাআল আলাল কাসিদাতিল মুসাম্মাহ বি-লামিয়াতিল আফআল
(পৃষ্ঠা: ১৩১)
موقفه من ابْن مَالك:لم يكن موقفه من ابْن مَالك موقف المسلّم المستسلم بِمَا قَالَ بل كَانَ يناقش ويرجح خلاف اخْتِيَار ابْن مَالك، إِذا بدا لَهُ أَن الصَّوَاب خِلَافه من مثل حَدِيثه عَن كسر عين مضارع فَعَلَ يَفْعِلُ إِذا كَانَ يائي اللَّام من مثل أَتَى يَأْتِي قَالَ: "وَلم يشذّ من هَذَا النَّوْع إِلَّا أَبى الشَّيْء يأباه إباء بموحدة، وَلم يستثنه النَّاظِم".
ইবনে মালিকের প্রতি তাঁর অবস্থান:ইবনে মালিকের প্রতি তাঁর অবস্থান এমন ছিল না যে তিনি তাঁর প্রতিটি বক্তব্য নির্দ্বিধায় মেনে নিতেন; বরং তিনি আলোচনা করতেন এবং ইবনে মালিকের পছন্দের বিপরীতে ভিন্ন মতকে প্রাধান্য দিতেন, যখনই তাঁর নিকট প্রতীয়মান হতো যে সঠিক বিষয়টি এর পরিপন্থী। যেমন—'ফায়ালা ইয়াফয়িলু' ওজনের অন্তর্ভুক্ত 'ইয়া' মূলবর্ণ বিশিষ্ট ক্রিয়া পদের—যেমন: 'আতা ইয়াতি'—মুদারি-র 'আইন' বর্ণে কাসরা প্রদান করা সম্পর্কে তাঁর আলোচনা। তিনি বলেন: "এই প্রকারের মধ্যে বিচ্যুত (شاذ) হিসেবে কেবল এক নুকতা বিশিষ্ট 'বা' বর্ণযুক্ত 'আবা আশ-শায়আ ইয়াবাহু ইবা' শব্দটিরই ব্যত্যয় ঘটেছে, আর রচয়িতা একে ব্যতিক্রম হিসেবে উল্লেখ করেননি।"
(খণ্ড: ১)
ফাতহুল মুতাআল আলাল কাসিদাতিল মুসাম্মাহ বি-লামিয়াতিল আফআল
(পৃষ্ঠা: ১৩২)
وَمن مثل حَدِيثه عَن الْمِثَال الواوي من فَعَلَ المفتوح الْعين قَالَ 13/ب: "قَالَ الشَّارِح: صرح فِي التسهيل بِأَن سَائِر الْعَرَب غير بني عَامر تلْزم كسر مضارع هَذَا النَّوْع، وَلم يسْتَثْن مِنْهُ شَيْء وَلَا شَرط لَهُ شرطا وَهُوَ مُقْتَضى النّظم، وَذَلِكَ عَجِيب مِنْهُ فَإِنَّهُ جَاءَت مِنْهُ أَفعَال بِالْفَتْح، بل إنّاَ نقُول بِاشْتِرَاط كَون لامه غير حرف حلق، فإنني تتبعت مواده فَوجدت حلقي اللَّام مِنْهُ مَفْتُوحًا كوجا الْأُنْثَيَيْنِ يجَأ رضّهما، ودعه يَدعه تَركه، ووزعه يزعه كَفه وَوضع يَضَعهُ" الخ.
وَقَالَ فِي مضارع فَعَلَ يَفْعُلُ مَفْتُوح الْعين فِي الْمَاضِي مضمومها فِي الْمُضَارع قَالَ 21/أ: "قَالَ الشَّارِح: شَرط فِي التسهيل للُزُوم الضَّم فِيمَا لامه وَاو أَن لَا يكون عينه حرف حلق، وَهُوَ مُقْتَضى كَلَام النَّاظِم فِيمَا سَيَأْتِي فِي الحلقي، وَكَأَنَّهُ لم يمعن النّظر فِي ذَلِك".
وَهَكَذَا كَانَ ديدنه، ولكنَّ أغلب مَا اعْترض بِهِ على ابْن مَالك هُوَ من كَلَام بحرق اليمني وللمصنف الِاخْتِيَار، وَالِاخْتِيَار دَلِيل الْمُوَافقَة، إِذْ قد اعْترض على الشَّارِح فِي إعرابه قَول ابْن مَالك فِي اللامية:
عين الْمُضَارع من فعلت حَيْثُ خلا
… من جالب الْفَتْح كالمبني من عتلا
فاكسر أَو اضمم إِذْ تعْيين بعضهما
… لفقد شهرةٍ أَو دَاع قد اعتزلا
عين مَنْصُوب على التَّنَازُع فَقَالَ الصعيدي 24/ب: "عين الْمُضَارع مفعول بِهِ مقدّم لقَوْله اكسر، وَلَا يضرّه وُقُوعه بعد الْفَاء؛ لِأَنَّهَا زَائِدَة، ومفعول اضمم مَحْذُوف يدل عَلَيْهِ الْمَذْكُور، وَلَيْسَ من بَاب التَّنَازُع خلافًا للشَّارِح؛ لِأَن النَّاظِم لَا يرَاهُ فِي الْمُتَقَدّم".
এবং তার বর্ণনার অনুরূপ উদাহরণ হলো 'ওয়াও' আদ্যাক্ষর বিশিষ্ট ক্রিয়ামূল (مثال واوي) থেকে ফাতহা বিশিষ্ট আঈন কালিমাযুক্ত 'ফাআলা' (فعل) ওজন সম্পর্কে। তিনি ১৩/খ পৃষ্ঠায় বলেছেন: "ব্যাখ্যাকার (شارح) বলেছেন: 'আত-তাসহিল' গ্রন্থে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বনু আমির ব্যতীত বাকি সমস্ত আরব এই ধরণের ক্রিয়ার মুদারে (مضارع) প্রদানকালে কাসরা (كسر) দেওয়াকে আবশ্যক মনে করে। তিনি এখান থেকে কোনো কিছু ব্যতিক্রম করেননি এবং এর জন্য কোনো শর্তও আরোপ করেননি, যা কাব্যিক ছন্দের দাবি। আর এটি তার পক্ষ থেকে বিস্ময়কর, কারণ এই ওজনে ফাতহা (فتح) বিশিষ্ট কিছু ক্রিয়া এসেছে। বরং আমরা ল্যাম কালিমাটি হরফে হালকী (حرف حلق) না হওয়ার শর্তারোপের কথা বলি। কারণ আমি এর শব্দমূলগুলো অনুসন্ধান করে দেখেছি যে, ল্যাম কালিমা হরফে হালকী (حلقي اللام) হলে তা ফাতহা (مفتوح) বিশিষ্ট হয়। যেমন 'ওয়াজা' (وجا) এর ক্ষেত্রে 'ইয়াজাউ' (يجأ), 'দাহু' (دعه) এর ক্ষেত্রে 'ইয়াদাউ' (يدعه), 'ওয়াঝাউ' (وزعه) এর ক্ষেত্রে 'ইয়াঝাউ' (يزعه), এবং 'ওয়াদাআ' (وضع) এর ক্ষেত্রে 'ইয়াদাউ' (يضعه) ইত্যাদি।"
এবং তিনি মাঝিতে আঈন কালিমা ফাতহা বিশিষ্ট এবং মুদারেতে দম্মা বিশিষ্ট (فعل يفعل) ওজনের মুদারে (مضارع) সম্পর্কে ২১/ক পৃষ্ঠায় বলেছেন: "ব্যাখ্যাকার (شارح) বলেছেন: 'আত-তাসহিল' গ্রন্থে ল্যাম কালিমা 'ওয়াও' হলে দম্মা (ضم) আবশ্যক হওয়ার জন্য শর্ত করা হয়েছে যে, তার আঈন কালিমা যেন হরফে হালকী (حرف حلق) না হয়। আর এটিই নাজিমের (মূল লেখক) বক্তব্যের দাবি যা সামনে হালকী সম্পর্কিত আলোচনায় আসবে। মনে হয় তিনি বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেননি।"
আর এভাবেই তার অভ্যাস ছিল। তবে ইবনে মালিকের ওপর তিনি যেসব আপত্তি তুলেছেন তার অধিকাংশ বাহরাক আল-ইয়ামানির বক্তব্য থেকে নেওয়া। আর গ্রন্থকারের (مصنف) জন্য রয়েছে পছন্দের অবকাশ, আর পছন্দ করা হলো ঐকমত্যের প্রমাণ। কেননা তিনি শারহকারের (شارح) ওপর ইবনে মালিকের 'লামিয়্যা' কাব্যের ইরাব (إعراب) বা ব্যাকরণিক বিশ্লেষণের ক্ষেত্রেও আপত্তি তুলেছেন:
মুদারের আঈন কালিমা 'ফাআলতু' (فعلت) থেকে যখন ফাতহা দানকারী কারণ থেকে মুক্ত হয়
… যেমন 'আতালা' (عتلا) থেকে গঠিত শব্দের মতো
তখন কাসরা অথবা দম্মা প্রদান করো, যেহেতু কোনো একটিকে নির্দিষ্ট করা
… প্রসিদ্ধির অভাব অথবা কোনো স্বতন্ত্র কারণ না থাকার কারণে হয়ে থাকে
'আঈন' (عين) শব্দটি তানাজু (تنازع) হিসেবে মানসুব (منصوب) হয়েছে। অতঃপর সাইদি ২৪/খ পৃষ্ঠায় বলেছেন: "মুদারের আঈন শব্দটি হলো 'ইকসির' (اكسر) এর জন্য মাফউল বিহি মুকাদ্দাম (مفعول به مقدم)। আর এটি 'ফা' (فاء) এর পরে আসাতে কোনো ক্ষতি নেই, কারণ এটি অতিরিক্ত (زائدة)। আর 'আদমুম' (اضمم) এর মাফউলটি উহ্য (محذوف) রয়েছে যা উল্লিখিত শব্দটি দ্বারা নির্দেশিত হচ্ছে। এটি শারহকারের (شارح) মতের বিপরীতে তানাজু (تنازع) এর অধ্যায়ভুক্ত নয়; কারণ নাজিম অগ্রবর্তী শব্দের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য মনে করেন না।"
(খণ্ড: ১)
ফাতহুল মুতাআল আলাল কাসিদাতিল মুসাম্মাহ বি-লামিয়াতিল আফআল
(পৃষ্ঠা: ১৩৩)
وَكَذَلِكَ كَانَ موقفه من ابْن النَّاظِم يخطئه أَحْيَانًا كَمَا قَالَ فِي شرح هَذَا الْبَيْت:
فَعالة لخصال والفِعالة دع
… لحرفة أَو ولَايَة وَلَا تهلا
فَقَالَ: "قَالَ بدر الدّين رَحمَه الله تَعَالَى: الْخِصَال إِنَّمَا تبنى من فعُل المضموم نَحْو نظف نظافة قَالَ وَقد تقدّم أَن مصدره يَجِيء على فَعالة وفُعولة كالشجاعة والسهولة فَقَوله هُنَا فَعالة لخصال إِعَادَة مَحْضَة قَالَ الشَّارِح: وَعِنْدِي أَنه لَيْسَ بِإِعَادَة مَحْضَة بل هُوَ بَيَان أَعم من الأول فَإِنَّهُ ذكر فِيمَا مضى أَن فعُل بِالضَّمِّ يَجِيء مصدره الْمَقِيس على فَعالة وفُعُولة، وَأَرَادَ هُنَا أَن يبيّن أَن أَفعَال الْخِصَال من أَي فعل كَانَ يُقَاس مصدره على فعالة".
তেমনিভাবে ইবনে নাযিমের প্রতি তাঁর অবস্থান ছিল এমন যে, তিনি তাকে মাঝে মাঝে ভুল সাব্যস্ত করতেন, যেমনটি তিনি এই পংক্তির ব্যাখ্যায় বলেছেন:
চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের জন্য ‘ফা’আলাহ’ (فَعالة) এবং পেশা কিংবা শাসনকার্যের জন্য ‘ফি’আলাহ’ (الفِعالة) ব্যবহার করো
… এবং দ্বিধাগ্রস্ত হয়ো না।
অতঃপর তিনি বলেন: "বদরুদ্দীন (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যসমূহ (الخصال) মূলত পেশযুক্ত (المضموم) ‘ফা-উ-লা’ (فعُل) কাঠামো থেকে গঠিত হয়, যেমন: ‘নাযুফা’ (نظف) থেকে ‘নাযাফাহ’ (نظافة)। তিনি বলেন যে, ইতিপূর্বে গত হয়েছে যে এর ক্রিয়ামূল (مصدر) ‘ফা’আলাহ’ (فَعالة) ও ‘ফু’উলাহ’ (فُعولة) ওজনে আসে, যেমন: ‘শাজাআহ’ (الشجاعة) ও ‘সুহুলাহ’ (السهولة)। সুতরাং এখানে তাঁর বক্তব্য—চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের জন্য ‘ফা’আলাহ’ (فَعالة) হওয়া—স্রেফ একটি পুনরাবৃত্তি মাত্র। ব্যাখ্যাকার বলেন: আমার মতে এটি স্রেফ পুনরাবৃত্তি নয়, বরং এটি পূর্বোক্ত বর্ণনার চেয়ে অধিক ব্যাপক একটি বর্ণনা। কেননা তিনি ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছেন যে, পেশযুক্ত (بالضم) ‘ফা-উ-লা’ (فعُل) এর নিয়মসিদ্ধ (المقيس) ক্রিয়ামূল (مصدر) ‘ফা’আলাহ’ (فَعالة) ও ‘ফু’উলাহ’ (فُعولة) ওজনে আসে। আর তিনি এখানে স্পষ্ট করতে চেয়েছেন যে, চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য প্রকাশক ক্রিয়াগুলো যে কোনো মূল ক্রিয়া থেকেই হোক না কেন, তার ক্রিয়ামূলকে (مصدر) ‘ফা’আলাহ’ (فَعالة) ওজনের ওপর কিয়াস বা অনুমান (يقاس) করা যাবে।"
(খণ্ড: ১)
ফাতহুল মুতাআল আলাল কাসিদাতিল মুসাম্মাহ বি-লামিয়াতিল আফআল
(পৃষ্ঠা: ১৩৩)
طَرِيقَته فِي الشَّرْح:يَبْدُو أَن الأسلوب الَّذِي سلكه الشَّيْخ خَالِد الْأَزْهَرِي فِي التَّصْرِيح، والأشموني فِي مَنْهَج السالك من دمج الْمُتُون الَّتِي يشرحونها بكلامهم حَتَّى يَكُونَا كلَاما وَاحِدًا يصعب التَّفْرِيق بَينهمَا قد راق لصاحبنا فسلكه؛ إِذْ نثر لامية الْأَفْعَال فِي كَلَامه نثراً وخلطهما مَعًا فصارا شَيْئا وَاحِدًا، وَلم يصنع كَمَا صنع من قبله من شرّاح المنظومات بإيراد بَيت كَامِل ثمَّ يعقبه الشَّرْح، بل كَانَ صاحبنا يجزِّئ الْبَيْت أَجزَاء، ويشرح كلّ جُزْء على حِدة بِحَسب مُرَاده تسبقه أَحْيَانًا عبارَة "أَشَارَ لَهُ بقوله ".
وَهَذَا الأسلوب الَّذِي سلكه جعله يلجأ إِلَى الْفَصْل بَين المتلازمين كالعاطف والمعطوف، وَالْجَار ومجروره، والمضاف والمضاف إِلَيْهِ من مثل شَرحه لهَذَا الْبَيْت:
ব্যাখ্যা প্রদানে তাঁর অনুসৃত পদ্ধতি:প্রতীয়মান হয় যে, শায়খ খালিদ আল-আজহারি 'আত-তাসরিহ' গ্রন্থে এবং আল-আশমুনি 'মানহাজুস সালিক' গ্রন্থে যে শৈলী অবলম্বন করেছেন—অর্থাৎ মূল পাঠসমূহকে (متون) তাঁদের নিজস্ব বক্তব্যের সাথে এমনভাবে সংমিশ্রিত করা যাতে উভয়টি মিলে একটি অভিন্ন বক্তব্যে পরিণত হয় এবং তাদের মধ্যে পার্থক্য করা দুরূহ হয়ে পড়ে—তা আমাদের গ্রন্থকারের মনঃপূত হয়েছে এবং তিনি সেটিই অনুসরণ করেছেন। কারণ তিনি 'লামিয়াতুল আফআল'-কে তাঁর বক্তব্যের মধ্যে গদ্যাকারে বিন্যস্ত করেছেন এবং উভয়কে একত্রে এমনভাবে মিশ্রিত করেছেন যে তা একটি একক সত্তায় পরিণত হয়েছে। তিনি তাঁর পূর্ববর্তী কাব্যগ্রন্থের ব্যাখ্যাকারকদের ন্যায় পূর্ণ একটি পঙক্তি উল্লেখ করে তার পশ্চাতে ব্যাখ্যা প্রদানের ধারা অনুসরণ করেননি। বরং আমাদের গ্রন্থকার পঙক্তিটিকে বিভিন্ন অংশে বিভক্ত করতেন এবং স্বীয় উদ্দেশ্য অনুযায়ী প্রতিটি অংশ পৃথকভাবে ব্যাখ্যা করতেন; যার পূর্বে কখনো কখনো "তিনি তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে সেদিকেই ইঙ্গিত করেছেন" বাক্যটি থাকত।
আর তাঁর অনুসৃত এই শৈলী তাঁকে পরস্পর অবিচ্ছেদ্য বিষয়গুলোর মাঝে বিচ্ছেদ ঘটাতে বাধ্য করেছে; যেমন—সংযোজক ও সংযোজিত পদ, অব্যয় ও তার অনুগামী বিশেষ্য, এবং সম্বন্ধপদ ও সম্বন্ধী পদ; যেমনটি তাঁর এই পঙক্তির ব্যাখ্যায় লক্ষ্য করা যায়:
(খণ্ড: ১)
ফাতহুল মুতাআল আলাল কাসিদাতিল মুসাম্মাহ বি-লামিয়াতিল আফআল
(পৃষ্ঠা: ১৩৪)
من أفْعَلَ الأمرُ أفْعِلْ واعزه لسوا
هـ كالمضارع ذِي الْجَزْم الَّذِي اختزلا
إِذْ جزّأه سِتَّة أَجزَاء فَقَالَ "من أَفْعَلَ الأمرُ أَفْعِلْ" الأمرُ مُبْتَدأ وأفعلْ بِقطع الْهمزَة الْمَفْتُوحَة وَكسر الْعين خَبره، وَمن أفعل مُتَعَلق بِمَحْذُوف صفة الْأَمر
… ثمَّ قَالَ "واعزه" أَي الْأَمر "لسواه" أَي لسوى أفعل "كـ" صِيغَة "الْمُضَارع ذِي" أَي صَاحب "الْجَزْم الَّذِي اختزلا". كَمَا ترى قد فصل بَين الْجَار وَالْمَجْرُور فِي "كالمضارع"، والمضاف والمضاف إِلَيْهِ فِي "ذِي الْجَزْم"
وَلَو شَاءَ امْرُؤ أَن يستلّ لامية الْأَفْعَال من هَذَا الْكتاب لَكَانَ بمقدوره ذَلِك دون أَن يفقد مِنْهَا شَيْء وَلَكِن بعد عناء وَجهد جهيد.
وَهَذَا الأسلوب الَّذِي سلكه المُصَنّف جعلني أورد فِي الْحَاشِيَة أَبْيَات اللامية عِنْد ذكر الْمُؤلف أول كلمة من الْبَيْت المُرَاد شَرحه ليَكُون الْقَارئ على بَصِيرَة مِمَّا يُرَاد شَرحه لَهُ، وَإِذا كَانَت الفكرة الَّتِي يُرَاد شرحها تتكون من أَبْيَات مُتعَدِّدَة فإنني أوردهَا مجتمعة.
كَمَا أنني جعلت اللامية فِي الْمَتْن بَين قوسين كبيرين وبخط مُخْتَلف بِحَسب تجزئة الْمُؤلف لَهَا؛ لكَي يفرق الْقَارئ بَين الْمَتْن وَالشَّرْح هَكَذَا (وانقل لفاء الثلاثي) (شكل عين إِذا) (اعتلت) (وَكَانَ) (بتا الْإِضْمَار) (مُتَّصِلا)
وَلَو شِئْنَا جمع شتات هَذَا الْبَيْت لَكَانَ بِهَذِهِ الصُّورَة:
وانقل لفاء الثلاثي شكل عين إِذا اعـ
تلت وَكَانَ بتا الْإِضْمَار مُتَّصِلا
فَمَا وضع بَين ذَيْنك القوسين وَكتب بذلك الْخط فَهُوَ من اللامية.
'আফ'আলা' (أفعل) থেকে আমর (الأمر) বা নির্দেশসূচক ক্রিয়া 'আফ'ইল' (أفعل) রূপ লাভ করে এবং একে অন্যের দিকে অর্থাৎ 'আফ'আলা' ব্যতীত অন্যের দিকে সম্পৃক্ত করো
যেমনটি জযম (الجزم) বা প্রশমন বিশিষ্ট মুযারি (المضارع) বা বর্তমান-ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়ার ক্ষেত্রে হয় যা সংক্ষেপিত (اختزلا) করা হয়েছে।
যেহেতু তিনি একে ছয়টি অংশে বিভক্ত করেছেন এবং বলেছেন, "'আফ'আলা' (أفعل) থেকে আমর (الأمر) বা নির্দেশসূচক ক্রিয়া 'আফ'ইল' (أفعل) হবে।" এখানে আমর (الأمر) শব্দটি মুবতাদা (مبتدأ) বা উদ্দেশ্য এবং উন্মুক্ত হামযা ও কাসরাযুক্ত আইন বর্ণ সহকারে 'আফ'ইল' শব্দটি তার খবর (خبر) বা বিধেয়। আর 'মিন আফ'আলা' অংশটি আমর (الأمر) শব্দের উহ্য সিফাত (صفة) বা বিশেষণের সাথে সংশ্লিষ্ট
… এরপর তিনি বলেন, "এবং একে সম্পৃক্ত করো" অর্থাৎ আমর (الأمر) বা নির্দেশসূচক ক্রিয়াকে, "তার এছাড়া অন্যের সাথে" অর্থাৎ 'আফ'আলা' (أفعل) ব্যতীত অন্য ক্রিয়ার সাথে, "যেমন" মুযারি (المضارع) বা বর্তমান-ভবিষ্যৎকালীন শব্দের গঠন "যা" অর্থাৎ যা ধারণকারী "জযম (الجزم) যা সংক্ষেপিত (اختزلا) করা হয়েছে।" যেমনটি আপনি দেখছেন, তিনি 'ক্যাল-মুযারি' শব্দে জার (جار) ও মাজরুর (مجرور)-এর মধ্যে এবং 'যিল-জাযম' শব্দে মুদাফ (مضاف) ও মুদাফ ইলাইহি (مضاف إليه)-এর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটিয়েছেন।
যদি কোনো ব্যক্তি এই গ্রন্থ থেকে 'লামিয়াতুল আফআল'কে পৃথক করতে চাইতেন, তবে তার পক্ষে তা সম্ভব হতো এবং এর কোনো অংশই হারিয়ে যেত না; তবে তা হতো অনেক কষ্ট ও কঠোর প্রচেষ্টার পর।
গ্রন্থকার যে পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন, তা আমাকে বাধ্য করেছে যে, লেখক যখন কোনো শ্লোক বা বায়েতের প্রথম শব্দ উল্লেখ করেন যার ব্যাখ্যা (الشرح) তিনি দিতে চান, তখন আমি টীকায় (الحاشية) সেই 'লামিয়া'র শ্লোকগুলো উল্লেখ করি; যাতে পাঠক যা ব্যাখ্যা করা হচ্ছে সে সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা লাভ করতে পারেন। আর যদি ব্যাখ্যাযোগ্য বিষয়টি একাধিক শ্লোক নিয়ে গঠিত হয়, তবে আমি সেগুলো একত্রে উল্লেখ করি।
একইভাবে আমি মূল পাঠকে (المتن) বড় বন্ধনীর মাঝে এবং ভিন্ন ফন্টে গ্রন্থকারের বিভাজন অনুযায়ী স্থাপন করেছি; যাতে পাঠক মূল পাঠ (المتن) ও ব্যাখ্যার (الشرح) মধ্যে পার্থক্য করতে পারেন। যেমন: (এবং তিন অক্ষরবিশিষ্ট শব্দের ফা-মূলবর্ণে স্থানান্তর করো) (আইন-মূলবর্ণের হরকত যখন) (দুর্বল বা ইলাল (اعتلت) যুক্ত হবে) (এবং যখন তা) (যমীরের তা-এর সাথে) (সংযুক্ত হবে)।
যদি আমরা এই শ্লোকটির বিক্ষিপ্ত অংশগুলোকে একত্রে জমা করতে চাই, তবে তা এই রূপে হবে:
তিন অক্ষরবিশিষ্ট শব্দের ফা-মূলবর্ণে আইন-মূলবর্ণের হরকত স্থানান্তর করো যখন তা দুর্বল (اعتلت) হয়
এবং যখন তা যমীরের 'তা'-এর সাথে সংযুক্ত হয়।
সুতরাং, যা কিছু ওই দুই বন্ধনীর মাঝে রাখা হয়েছে এবং বিশেষ ফন্টে লেখা হয়েছে, তা 'লামিয়া'র অংশ।
(খণ্ড: ১)
ফাতহুল মুতাআল আলাল কাসিদাতিল মুসাম্মাহ বি-লামিয়াতিল আফআল
(পৃষ্ঠা: ১৩৫)
شَرحه الْغَرِيب:تمتلئ المصنفات الصرفية بالغريب والحوشيّ من الْكَلَام، والأوزان المهجورة الْآن من مثل: اِفْعَيَّلَ كاهْبَيَّخَ، اِفْعَنْلأ كاحْبَنْطَأَ، وَمن مثل فَهْعَلَ ك"رَهْمَسَ " وهَفْعَلَ ك"هَلْقَمَ" وهلمَّ جرَّا من هَذِه الأوزان الَّتِي لَا يعرف المتخصصون فِي اللُّغَة الْعَرَبيَّة مَعْنَاهَا وَلَا يضبطون مبناها إِلَّا بِالرُّجُوعِ للمعاجم، وَكَأن صاحبنا قد أحسَّ بِهَذَا؛ فتولّى شرح الْغَرِيب، وَضبط الْبناء كَقَوْلِه "وَمِنْهَا اِفْعَنْلَلَ كاحْرَنْجَمَ بِزِيَادَة همزَة الْوَصْل وَالنُّون بَين الْعين وَاللَّام الأولى، وَهُوَ لمطاوعة فَعْلَلَ كحَرْجَمْتُ الإبلَ فَتَحَرْجَمَتْ: أَي جمعتها فاجتمعت" وَقَالَ فِي الْأَفْعَال الثلاثية مَكْسُورَة الْعين فِي الْمَاضِي وَفِي مضارعها الْفَتْح وَالْكَسْر مَعًا قَالَ "الثَّانِي وَغِرَ بغين مُعْجمَة يُقَال وَغِرَ صدرُه يَغِرُ وَيوْغَرُ إِذا توقَّدَ غيظاً" وَقَالَ فِي الْأَفْعَال الثلاثية المضعّفة اللَّازِمَة الَّتِي سمع فِي مضارعها الْكسر قِيَاسا وَالضَّم شذوذاً "السَّابِع عشر: نَسَّ الشيءُ بالنُّون وَالسِّين الْمُهْملَة يُقَال نَسَّ اللحمُ ينِسُّ وينُسُّ أَي جفَّ وَذَهَبت رطوبته".
তার বিরল (غريب) শব্দের ব্যাখ্যা:রূপতাত্ত্বিক গ্রন্থসমূহ বিরল (غريب) এবং অপ্রচলিত শব্দাবলীতে পরিপূর্ণ। বর্তমানে পরিত্যক্ত কিছু ওজন বা রূপকাঠামো যেমন: ইফ’আইয়ালা যেমন ইহবাইয়াখা, ইফ’আনলায়া যেমন ইহবানতায়া, এবং ফাহ’আলা যেমন "রাহমাসা" ও হাফ’আলা যেমন "হালকামাহ" এবং এ জাতীয় এমন সব ওজন যার অর্থ আরবি ভাষা বিশেষজ্ঞগণও জানেন না এবং অভিধানের শরণাপন্ন হওয়া ব্যতীত এগুলোর গঠনরীতিও আয়ত্ত করতে পারেন না। মনে হয় আমাদের লেখক বিষয়টি উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন; তাই তিনি বিরল (غريب) শব্দের ব্যাখ্যা এবং শব্দগঠন সুনির্দিষ্ট করার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। যেমন তার উক্তি— "তন্মধ্যে একটি হলো ইফ’আনলালা যেমন ইহরানজামা, যা আইন ও প্রথম লাম-এর মাঝে সংযোগকারী হামযা ও নুন বৃদ্ধির মাধ্যমে গঠিত। এটি ফ’লালা-এর অনুগামী হিসেবে আসে, যেমন: 'হারজামতুল ইবিলা ফাতা-হারজামা' অর্থাৎ আমি উটগুলোকে একত্রিত করলাম ফলে সেগুলো একত্রিত হলো।" তিনি অতীতকালে আইন বর্ণে কাসরা এবং বর্তমানকালে ফাতহা ও কাসরা উভয়টিই গ্রহণ করে এমন তিন অক্ষরবিশিষ্ট ক্রিয়া সম্পর্কে বলেছেন— "দ্বিতীয়টি হলো ‘ওয়াগিরা’ যা নুকতাযুক্ত ‘গাইন’ বর্ণ দিয়ে গঠিত। বলা হয় ‘ওয়াগিরা সদ্রুহু’, এর বর্তমানকাল হলো ‘ইয়াগিরু’ ও ‘ইয়াওগারু’, যার অর্থ যখন ক্রোধে বক্ষ প্রজ্জ্বলিত হয়।" তিনি তিন অক্ষরবিশিষ্ট দ্বিত্ববর্ণের অকর্মক ক্রিয়া সম্পর্কে, যেগুলোর বর্তমানকালে নিয়ম অনুযায়ী কাসরা এবং ব্যতিক্রমী (شذوذاً) হিসেবে পেশ শ্রুত হয়, বলেছেন— "সপ্তদশ: নুন এবং নুকতাহীন সিন যোগে ‘নাসসা’। বলা হয় ‘নাসসাল লাহমু’, এর বর্তমানকাল হলো ‘ইয়ানিসসু’ ও ‘ইয়ানুসসু’, অর্থাৎ গোশত শুকিয়ে গেছে এবং এর আর্দ্রতা দূরীভূত হয়েছে।"
(খণ্ড: ১)
ফাতহুল মুতাআল আলাল কাসিদাতিল মুসাম্মাহ বি-লামিয়াতিল আফআল
(পৃষ্ঠা: ১৩৫)
شواهده:شَوَاهِد الصّرْف فِي الْجُمْلَة قَليلَة لَا ترقى إِلَى مستوى شَوَاهِد النَّحْو؛ وَلِهَذَا نجد أغلب كتب التصريف شحيحة فِي شواهدها، وصاحبنا تنوّعت شواهده إِذْ اسْتشْهد بِالْقُرْآنِ الْكَرِيم، وَالْأَحَادِيث النَّبَوِيَّة، وأشعار الْعَرَب، وأمثالهم، وَلكنهَا كَمَا قلت قَليلَة يَأْتِي فِي صدارتها شواهده من الْقُرْآن الَّتِي ناهزت ثَمَانِينَ شَاهدا، وَكَانَ الْمُؤلف يُورد فِي بعض الْأَحَايِين الشَّاهِد من الْقُرْآن دون إِشْعَار بِأَنَّهُ آيَة، بل كَانَ يجتزئ من الْآيَة بموطن الشَّاهِد كاستشهاده على مَجِيء فِعْلِ
তাঁর প্রমাণসমূহ (شواهد):সামগ্রিকভাবে রূপতত্ত্বের প্রমাণসমূহ (شواهد) সংখ্যায় কম যা বাক্যতত্ত্বের প্রমাণের (شواهد) স্তরে উন্নীত হয় না; এই কারণে আমরা রূপতত্ত্বের অধিকাংশ কিতাবকে তাদের প্রমাণের (شواهد) ক্ষেত্রে অপ্রতুল দেখতে পাই। আমাদের আলোচ্য লেখকের প্রমাণসমূহ (شواهد) বৈচিত্র্যময়, যেহেতু তিনি পবিত্র কুরআন, নববী হাদিসসমূহ, আরবদের কবিতা এবং তাদের প্রবাদসমূহ থেকে প্রমাণ (شواهد) পেশ করেছেন। তবে আমি যেমনটি বলেছি, এগুলো পরিমাণে কম যার শীর্ষে রয়েছে কুরআন থেকে সংগৃহীত তাঁর প্রমাণসমূহ (شواهد), যা সংখ্যায় প্রায় আশিটি প্রমাণের (شاهد) কাছাকাছি। লেখক অনেক সময় এটি যে একটি আয়াত তা উল্লেখ না করেই কুরআন থেকে প্রমাণ (شاهد) পেশ করতেন; বরং তিনি পূর্ণ আয়াতের কেবল সেই অংশটুকুই উদ্ধৃত করতেন যেখানে মূল প্রমাণটি (شاهد) বিদ্যমান, যেমন কোনো ক্রিয়ার ব্যবহারের স্বপক্ষে তাঁর প্রমাণ উপস্থাপন।
(খণ্ড: ১)
ফাতহুল মুতাআল আলাল কাসিদাতিল মুসাম্মাহ বি-লামিয়াতিল আফআল
(পৃষ্ঠা: ১৩৬)
الْأَمر من أَفْعَلَ على أَفْعِلْ قَالَ: "فِعْلُ الْأَمر الْكَائِن من أَفْعَلَ كأَكْرَمَ بزنة أَفْعِلْ كأَكْرِمْ زيدا و {أَرْسِلْهُ مَعَنَا} و {وَأَدْخِلْ يَدَكَ} و {أَلْقِ عَصَاكَ} وَقَالَ فِي معنى فعّل المضعّف الْعين "وَيكون أَيْضا لإِفادة معنى التكثير نَحْو {وَمَزَّقْنَاهُمْ كُلَّ مُمَزَّقٍ} {وَقَطَّعْنَاهُمُ} {وَغَلَّقَتِ الأَبْوَاب} وَهَكَذَا يُورد الْآيَات دون إِشْعَار بِأَنَّهَا آيَة، بل ربّما اجتزأ بِكَلِمَة وَاحِدَة مِنْهَا من مثل استشهاده على وجوب كسر همزَة الْوَصْل وَعدم الِاعْتِدَاد بالحركة الْعَارِضَة فِي عين أَمر الثلاثي إِذا كَانَت مَكْسُورَة فِي الأَصْل وطرأ عَلَيْهَا الضَّم فَقَالَ "وَاحْترز بقوله لُزُوم الضَّم مِمَّا لم يكن الضَّم فِيهِ لَازِما نَحْو {امْشُوا} فاجتزأ بِهَذِهِ الْكَلِمَة من الْآيَة السَّادِسَة من سُورَة ص.
وَكَانَ يستشهد بالقراءات الشاذة وَلكنه كَانَ ينبِّه على ذَلِك بقوله وَقُرِئَ شذوذاً.
أما عَلَيْهِ شواهده من حَدِيث رَسُول الله صلى الله وَسلم فَكَانَت فِي الْمرتبَة الثَّانِيَة، وَلكنهَا لَا تبلغ فِي الْكَثْرَة شواهده من الْقُرْآن كاستشهاده بقوله صلى الله عليه وسلم: "لَا خلابة" و "الْوَلَد مَبْخَلَة مَجْبَنَة" و "السِّوَاك مطهرة للفم مرضاة للرب".
أما شواهده من أشعار الْعَرَب فَهِيَ تعدّ على أَصَابِع الْيَد الْوَاحِدَة، وَمَعَ قلتهَا فَلم يعلّق عَلَيْهَا، وَعزا وَاحِدًا مِنْهَا فَقَط مَعَ أَنه مَحل نزاع.
وَاسْتشْهدَ بِمثل وَاحِد من أَمْثَال الْعَرَب وَهُوَ قَوْلهم "برق خلّب" وَفِي الْجُمْلَة شَوَاهِد الصّرْف قَليلَة فِي هَذَا الْكتاب وَغَيره.
'Af'ala' রূপ থেকে নির্দেশক ক্রিয়ার গঠন 'Af'il' ওজনে হয়। তিনি বলেন: "'Af'ala' থেকে গঠিত নির্দেশক ক্রিয়া, যেমন 'Akrama', 'Af'il' ওজনেই হবে; যেমন: 'Akrim Zaydan', {তাকে আমাদের সাথে পাঠাও}, {এবং তোমার হাত প্রবেশ করাও} এবং {তোমার লাঠি নিক্ষেপ করো}।" তিনি 'Fa'ala' এর 'Ain' বর্ণ দ্বিত্ব হওয়ার অর্থ সম্পর্কে বলেন: "এটি আধিক্য বা ব্যাপকতার অর্থ প্রকাশের জন্যও ব্যবহৃত হয়, যেমন- {আমি তাদের সম্পূর্ণরূপে ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছি}, {আমি তাদের খণ্ড-বিখণ্ড করেছি} এবং {সে দ্বারসমূহ রুদ্ধ করে দিল}।" এভাবে তিনি আয়াতসমূহ উল্লেখ করেন কোনো প্রকার ইঙ্গিত ছাড়াই যে এগুলো আয়াত। এমনকি অনেক সময় তিনি আয়াতের মাত্র একটি শব্দ গ্রহণ করেই ক্ষান্ত হন; যেমন— 'Hamzatul Wasl' এ জের (কাসরা) হওয়া আবশ্যক হওয়া এবং ত্রৈাক্ষরিক নির্দেশক ক্রিয়ার 'Ain' বর্ণের মূল হরকত যদি জের থাকে এবং পরবর্তীতে পেশ (দাম্মা) আপতিত হয় তবে সেই আগন্তুক হরকতকে গণ্য না করার সপক্ষে তিনি দলিল পেশ করেন। তিনি বলেন: "তিনি 'দাম্মা আবশ্যক' বলার মাধ্যমে ওইসব অবস্থা থেকে সতর্কতা অবলম্বন করেছেন যেখানে দাম্মা আবশ্যক নয়, যেমন- {তোমরা চলো}।" তিনি সূরা সদ-এর ছয় নম্বর আয়াতের মাত্র এই শব্দটুকু গ্রহণ করেছেন।
তিনি অনিয়মিত (شاذ) কিরাআতসমূহ দ্বারাও দলিল পেশ করতেন, তবে তিনি "অনিয়মিত (شاذ) পঠিত হয়েছে" বলে সে বিষয়ে সতর্ক করে দিতেন।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিস থেকে তাঁর পেশকৃত প্রমাণাদি ছিল দ্বিতীয় স্তরে। তবে তা কুরআনের উদাহরণের মতো ততোটা অধিক ছিল না; যেমন—তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এই বাণী দ্বারা দলিল পেশ করা: "প্রতারণা নেই", "সন্তান কৃপণতা ও ভীরুতার কারণ" এবং "মিসওয়াক মুখের পবিত্রতা ও রবের সন্তুষ্টির মাধ্যম।"
আরবদের কবিতা থেকে তাঁর সংগৃহীত প্রমাণাদি এক হাতের আঙুলে গণনা করা যায়। এগুলো সংখ্যায় কম হওয়া সত্ত্বেও তিনি এগুলোর ওপর কোনো টীকা প্রদান করেননি এবং মাত্র একটির সূত্র উল্লেখ করেছেন, যদিও সেটি বিতর্কের ঊর্ধ্বে নয়।
তিনি আরবদের প্রবাদ থেকে মাত্র একটি উদাহরণ পেশ করেছেন, আর তা হলো তাদের এই কথা: "প্রতারণাপূর্ণ বিদ্যুৎ।" মোটকথা, এই গ্রন্থ এবং অন্যান্য গ্রন্থেও রূপতত্ত্ব সংক্রান্ত প্রমাণাদি অত্যন্ত কম।
(খণ্ড: ১)
ফাতহুল মুতাআল আলাল কাসিদাতিল মুসাম্মাহ বি-লামিয়াতিল আফআল
(পৃষ্ঠা: ১৩৭)
لامية الْأَفْعَاللامية الْأَفْعَال لِابْنِ مَالك منظومة صرفية من الْبَحْر الْبَسِيط بلغ عدد أبياتها مائَة وَأَرْبَعَة عشر بَيْتا، وسمّيت بِهَذَا الِاسْم؛ لِأَنَّهَا بنيت على رويّ اللَّام، وأضيفت إِلَى الْأَفْعَال تَغْلِيبًا لَهَا لَا اختصاصاً بهَا.
লামিয়াতুল আফআলইবনে মালিক রচিত 'লামিয়াতুল আফআল' সরফ শাস্ত্রের (صرفية) একটি কাব্যগ্রন্থ (منظومة), যা 'আল-বাহরুল বাসিত' ছন্দে রচিত। এর মোট শ্লোক সংখ্যা একশত চৌদ্দটি। একে এই নামে নামকরণ করা হয়েছে; কারণ এটি 'লাম' বর্ণের অন্ত্যানুপ্রাসের (رويّ) ওপর ভিত্তি করে রচিত হয়েছে। আর একে 'আফআল' বা ক্রিয়ার সাথে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে মূলত এর আধিক্যের (تغليباً) কারণে, কেবল এর সাথে সুনির্দিষ্ট (اختصاصاً) হওয়ার জন্য নয়।
(খণ্ড: ১)
ফাতহুল মুতাআল আলাল কাসিদাতিল মুসাম্মাহ বি-লামিয়াতিল আফআল
(পৃষ্ঠা: ১৩৭)
مباحثها:اشْتَمَلت اللامية على بعضٍ من تصريف الْأَفْعَال، واشتملت على مَا كَانَ الْحَدث بَعْضًا من دلَالَته فِي تصريف الْأَسْمَاء، وأخلت بِبَعْض، فقد بدأها النَّاظِم بِالْحَدِيثِ عَن تصريف الْفِعْل المجرّد رباعيّاً كَانَ أَو ثلاثياً، مَعَ بَيَان مضارعه، وحركة عين الْمُضَارع من الثلاثي، والمواطن الَّتِي ينقاس فيهمَا ضمّ عين الْمُضَارع، وَكسرهَا وَفتحهَا، ثمَّ تحدث عَن اتِّصَال ضمائر الرّفْع المتحركة بالأفعال الجوفاء، وَمَا يطْرَأ على فَاء الْفِعْل بِسَبَب هَذَا الِاتِّصَال، ثمَّ ذكر أبنية الْمَزِيد فِيهِ سَوَاء كَانَت الزِّيَادَة للمعنى أم للمبنى، وَذكر فِي هَذَا أبنية نادرة جدا من كل رهمس وهلقم وترمس وجلمط واعثوجج واعلنكس واجفأظّ وترهشف وزهزق، ثمَّ تحدث عَن بِنَاء الْفِعْل الْمُضَارع فَذكر فِيهِ حُرُوف المضارعة "أنيت" وحركة حرف المضارعة فتحهَا وَضمّهَا وَكسرهَا، وحركة مَا قبل آخِره، ثمَّ عرّج على الْفِعْل الْمَبْنِيّ للْمَفْعُول وأَوضح كَيْفيَّة بنائِهِ وَمَا يطْرَأ عَلَيْهِ من تَغْيِير ثمَّ أنهى المطاف فِي تصريف الْأَفْعَال بِالْحَدِيثِ عَن فعل الْأَمر.
وَفِي تصريف الْأَسْمَاء تحدث عَن أبنية أَسمَاء الفاعلين والمفعولين وَالصِّفَات المشبهة بأسماء الفاعلين، ثمَّ ذكر أبنية المصادر من الثلاثي وَغَيره قياسية كَانَت أم سماعية، وتحدث عَن مَا صِيغ مِنْهَا للدلالة على المرّة والهيئة،
এর আলোচ্য বিষয়সমূহ:লামিয়া (Al-Lamiyyah) কাব্যটি ক্রিয়ার রূপান্তর (تصريف الأفعال)-এর কিছু অংশ অন্তর্ভুক্ত করেছে। এছাড়া এটি বিশেষ্যের রূপান্তরের (تصريف الأسماء) ক্ষেত্রে এমন বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করেছে যেখানে ‘ঘটনা’ (حدث) অর্থটি নির্দেশনার অংশ হিসেবে থাকে, তবে কিছু বিষয় বাদও পড়েছে। লেখক (নাযিম) এটি শুরু করেছেন মৌলিক ক্রিয়ার (الفعل المجرّد) রূপান্তর নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে, তা চাই চতুর্মূল বিশিষ্ট (رباعي) হোক বা ত্রিমূল বিশিষ্ট (ثلاثي) হোক। এর পাশাপাশি তিনি এর বর্তমান-ভবিষ্যৎকালীন রূপ (مضارع) এবং ত্রিমূল বিশিষ্ট ক্রিয়ার মুদারে-এর আইন বর্ণের (عين المضارع) হরকত বর্ণনা করেছেন। তিনি সেই ক্ষেত্রগুলোও উল্লেখ করেছেন যেখানে মুদারে-এর আইন বর্ণে পেশ (ضم), যের (كسر) এবং জবর (فتح) হওয়া নিয়মানুগ (قياسي)। এরপর তিনি মধ্য-বর্ণ দুর্বল ক্রিয়ার (الأفعال الجوفاء) সাথে যমিরে রাফ মুতাহাররিক (ضمائر الرفع المتحركة) যুক্ত হওয়া এবং এই সংযোগের কারণে ক্রিয়ার ফা বর্ণে (فاء الفعل) যে পরিবর্তন ঘটে তা নিয়ে আলোচনা করেছেন। তারপর তিনি অতিরিক্ত অক্ষরযুক্ত (المزيد فيه) ক্রিয়ার গঠনশৈলী উল্লেখ করেছেন, চাই সেই আধিক্য অর্থের জন্য হোক বা শব্দগঠনের জন্য। এই প্রসঙ্গে তিনি অত্যন্ত বিরল কিছু শব্দরূপ উল্লেখ করেছেন, যেমন: রাহমাস, হিলকাম, তারমাস, জালমাত, ই’সাউজাজ, ই’লানাকাস, ইজফাউয়াজ, তারাশহাফ এবং যাহযাক। এরপর তিনি বর্তমান-ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়ার (الفعل المضارع) গঠন নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং এতে মুদারে-এর আলামতসমূহ (حروف المضارعة) তথা 'আনাইতু' (أنيت) এবং মুদারে-এর আলামতের হরকত হিসেবে জবর (فتح), পেশ (ضم) ও যের (كسر) এবং শেষ বর্ণের পূর্ববর্তী বর্ণের হরকত উল্লেখ করেছেন। তারপর তিনি কর্মবাচ্যের ক্রিয়া (الفعل المبني للمفعول) নিয়ে আলোকপাত করেছেন এবং এর গঠন পদ্ধতি ও এতে ঘটিত পরিবর্তনসমূহ স্পষ্ট করেছেন। পরিশেষে তিনি আদেশসূচক ক্রিয়া (فعل الأمر) আলোচনার মাধ্যমে ক্রিয়ার রূপান্তরের অধ্যায় সমাপ্ত করেছেন।
বিশেষ্যের রূপান্তরের (تصريف الأسماء) ক্ষেত্রে তিনি কর্তৃবাচক বিশেষ্য (اسم الفاعل), কর্মবাচক বিশেষ্য (اسم المفعুল) এবং কর্তৃবাচক বিশেষ্যের সদৃশ গুণবাচক বিশেষ্যের (الصفة المشبهة) গঠন নিয়ে আলোচনা করেছেন। এরপর তিনি ত্রিমূল বিশিষ্ট ও অন্যান্য ক্রিয়ার ক্রিয়ামূলের (مصدر) গঠনসমূহ উল্লেখ করেছেন, তা নিয়মানুগ (قياسي) হোক বা শ্রুতিনির্ভর (سماعي) হোক। এছাড়া তিনি একবার সংঘটিত হওয়া (المرة) এবং ধরন (الهيئة) বুঝানোর জন্য গঠিত রূপগুলো সম্পর্কেও আলোচনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
ফাতহুল মুতাআল আলাল কাসিদাতিল মুসাম্মাহ বি-লামিয়াতিল আফআল
(পৃষ্ঠা: ১৩৮)
وَعقد بَابا للْحَدِيث عَن مَا صِيغ على وزن مفعَلٍ أَو مفعِلٍ سَوَاء أُرِيد بِهِ الْمصدر أم الظّرْف، وَأَشَارَ قبل نِهَايَة الْمَنْظُومَة إِلَى مَا صاغته الْعَرَب على وزن مَفْعَلَةٍ للدلالة على كَثْرَة الشَّيْء فِي الْمَكَان، واختتم منظومته بِالْحَدِيثِ عَن اسْم الْآلَة.
من خلال هَذَا الْعرض السَّرِيع لما حوته لامية الْأَفْعَال يتبيَّن لنا أَنَّهَا قد أخلّت بِبَعْض مبَاحث عَامَّة كالميزان الصرفي، والإلحاق، والاشتقاق.
ومباحث تخصُّ تصريف الْأَفْعَال من مثل أَحْكَام توكيد الْفِعْل، ومعاني صِيغ الزِّيَادَة وَهُوَ مَبْحَث مهمٌّ جدا، والتعدي واللزوم وعلاماتها، وَالْفِعْل اللفيف وَأَحْكَامه، والجامد والمشتق.
ومباحث تخصُّ تصريف الْأَسْمَاء وَهِي كَثِيرَة جدّاً مثل أبنية الْأَسْمَاء المجرّدة الثلاثية والرباعية والخماسية، والتذكير والتأنيث، وَجمع التكسير، والمقصور والمنقوص والممدود، والتصغير، وَلَعَلَّ ابْن مَالك لَا حَظّ أَن الْحَدث لَيْسَ من دلَالَة هَذِه الْأَبْوَاب فَأَعْرض عَنْهَا.
তিনি 'মাফআল' (مَفْعَلٌ) অথবা 'মাফইল' (مَفْعِلٌ) ওজনে গঠিত শব্দাবলি সম্পর্কে আলোচনার জন্য একটি অধ্যায় নিবদ্ধ করেছেন, চাই তা দ্বারা মূলক্রিয়া (مصدر) বুঝানো হোক বা আধার (ظرف) বুঝানো হোক। আর তিনি কাব্যগ্রন্থটি শেষ করার পূর্বে আরবরা কোনো স্থানে কোনো বস্তুর আধিক্য বুঝাতে 'মাফআলাহ' (مَفْعَلَةٌ) ওজনে যা গঠন করে সেদিকে ইঙ্গিত করেছেন এবং যন্ত্রবাচক বিশেষ্য (اسم الآلة) আলোচনার মাধ্যমে তাঁর কাব্যগ্রন্থটি সমাপ্ত করেছেন।
লামিয়াতুল আফআল গ্রন্থে যা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে তার এই সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনার মাধ্যমে আমাদের নিকট এটি স্পষ্ট হয় যে, এতে সাধারণ কিছু তাত্ত্বিক আলোচনা বাদ পড়েছে, যেমন: সরফ শাস্ত্রীয় ওজন (الميزان الصرفي), শব্দসংলগ্নকরণ (الإلحاق) এবং শব্দ নির্গমন (الاشتقاق)।
এছাড়াও ক্রিয়া রূপান্তর সংশ্লিষ্ট কিছু আলোচনাও বাদ পড়েছে, যেমন: ক্রিয়া জোরালো করার বিধানাবলি (أحكام توكيد الفعل), অতিরিক্ত বর্ণযুক্ত রূপসমূহের অর্থসমূহ (معاني صيغ الزيادة)—যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি আলোচনা, সকর্মক ও অকর্মক ক্রিয়া (التعدي واللزوم) ও তাদের আলামতসমূহ, লফিফ (اللفيف) ক্রিয়া ও তার বিধানসমূহ এবং অনুৎপন্ন (الجامد) ও উৎপন্ন (المشتق) শব্দ।
আর বিশেষ্য পদের রূপান্তর সংশ্লিষ্ট অনেক আলোচনাও এতে বাদ পড়েছে, যা সংখ্যায় অনেক। যেমন: তিন, চার ও পাঁচ বর্ণবিশিষ্ট মূল বিশেষ্যসমূহের গঠন (أبنية الأسماء المجرّدة الثلاثية والرباعية والخماسية), পুংলিঙ্গ ও স্ত্রীলিঙ্গ (التذكير والتأنيث), ভগ্ন বহুবচন (جمع التكسير), মাকসুর (المقصور), মানকুস (المنقوص) ও মামদুদ (الممدود) এবং ক্ষুদ্রার্থবোধক শব্দ (التصغير)। সম্ভবত ইবনে মালিক লক্ষ্য করেছেন যে, ঘটনা বা কাজ (الحدث) এই অধ্যায়গুলোর অর্থের অন্তর্ভুক্ত নয়, তাই তিনি এগুলো এড়িয়ে গেছেন।
(খণ্ড: ১)
ফাতহুল মুতাআল আলাল কাসিদাতিল মুসাম্মাহ বি-লামিয়াতিল আফআল
(পৃষ্ঠা: ১৩৮)
شُرُوح اللامية:تصدّى للامية الْأَفْعَال عُلَمَاء كَثِيرُونَ شرحوها أعرف من شروحها:
1 - شرح: ابْن النَّاظِم وسأتحدث عَن شَرحه فِي الْفَصْل الَّذِي بعد هَذَا.
2 - شرح: مُحَمَّد بن دهقان النَّسَفِيّ الْمُتَوفَّى عَام 818هـ، ويسمّى شَرحه "شرح تصريف الْمِفْتَاح" وَيُوجد مِنْهُ نُسْخَة فِي الآصفية برقم 2/892/81.
--------------------------------------------
লামিয়াহ-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ:বহু আলিম 'লামিয়াতুল আফআল'-এর ব্যাখ্যা করার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এবং এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা করেছেন। এর ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোর মধ্য থেকে আমি যা জানি তা হলো:
১ - শারহ্: ইবনুন নাজিম; এর পরবর্তী পরিচ্ছেদে আমি তাঁর এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটি নিয়ে আলোচনা করব।
২ - শারহ্: মুহাম্মদ ইবনে দেহকান আন-নাসাফি, যিনি ৮১৮ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটির নাম "শারহু তাসরিফ আল-মিফতাহ" এবং আসিফিয়া কুতুবখানায় ২/৮৯২/৮১ নম্বরে এর একটি পাণ্ডুলিপি বিদ্যমান রয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাতহুল মুতাআল আলাল কাসিদাতিল মুসাম্মাহ বি-লামিয়াতিল আফআল
(পৃষ্ঠা: ১৩৯)
3 - شرح: مُحَمَّد بن عبد الدَّائِم الْبرمَاوِيّ الْمُتَوفَّى سنة 831هـ،، وتوجد نُسْخَة من شَرحه فِي المكتبة الأزهرية برقم 203، وَأُخْرَى فِي ليدن برقم 197، وثالثة فِي الأسكوريال برقم 2/ 1441.
4 - شرح: مُحَمَّد بن عَبَّاس التلمساني، وسمّى شَرحه تَحْقِيق الْمقَال وتسهيل المنال فِي شرح لامية الْأَفْعَال، انْتهى مِنْهُ عَام 751?، وَيُوجد من شَرحه نُسْخَة فِي الأسكوريال ثَانِي 16 برقم 3/ 79، 2702.
5 - شرح: بحرق اليمني وَله عَلَيْهَا شرحان. كَبِير وصغير وسأتحدث عَنْهُمَا فِيمَا بعد.
6 - شرح: عبد الْكَرِيم بن مُحَمَّد الفكوت القسمطيني وَشَرحه هَذَا مطوَّل وَمِنْه نُسْخَة فِي المَكتبة الوطبية بتونس ذكرهَا مُحَقّق شرح ابْن النَّاظِم دون أَن يحدد رقمها3.
7 - شرح يَعْقُوب بن سعيد المكلاتي، وَمِنْه نُسْخَة فِي تونس فِي الْقرَوِيين برقم 42/أ. ب. ?، ونسخة فِي الأسكوريال ثَان 16/رقم4، وثالثة فِي المتحف البريطاني برقم 548/24.
8 - – شرح: مُحَمَّد بن مُحَمَّد بن سعيد الطنجي وَمِنْهَا نُسْخَة فِي الجزائر أَشَارَ لَهَا بروكلمان5.
9 - – شرح: أبي الْعَبَّاس أمد بن مُحَمَّد الدلاني المغربي الْمُتَوفَّى سنة 1128هـ أَشَارَ إِلَيْهِ بروكلمان
--------------------------------------------
3 - ব্যাখ্যাগ্রন্থ: মুহাম্মদ বিন আব্দুল দায়িম আল-বারমাউয়ি, মৃত্যু ৮৩১ হিজরি। তাঁর ব্যাখ্যাগ্রন্থের একটি পাণ্ডুলিপি আল-আজহার লাইব্রেরিতে ২০৩ নম্বরে, অন্যটি লাইডেনে ১৯৭ নম্বরে এবং তৃতীয়টি এস্কোরিয়ালে ২/ ১৪৪১ নম্বরে সংরক্ষিত রয়েছে।
4 - ব্যাখ্যাগ্রন্থ: মুহাম্মদ বিন আব্বাস আল-তিলিমসানি। তিনি তাঁর ব্যাখ্যার নাম রেখেছেন 'তাহকীকুল মাকাল ওয়া তাসহীলুল মানাল ফী শারহি লামিয়াতিল আফআল'। এটি ৭৫১ হিজরিতে সমাপ্ত হয়েছে। তাঁর এই ব্যাখ্যাগ্রন্থের একটি পাণ্ডুলিপি এস্কোরিয়ালে (দ্বিতীয় ১৬) ৩/ ৭৯, ২৭০২ নম্বরে বিদ্যমান।
5 - ব্যাখ্যাগ্রন্থ: বাহরাক আল-ইয়ামানি। এর ওপর তাঁর দুটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ রয়েছে—একটি বৃহৎ ও অন্যটি সংক্ষিপ্ত। আমি অচিরেই সে দুটি সম্পর্কে আলোচনা করব।
6 - ব্যাখ্যাগ্রন্থ: আব্দুল কারিম বিন মুহাম্মদ আল-ফাক্কুত আল-কাসামতিনি। তাঁর এই ব্যাখ্যাটি বেশ দীর্ঘ এবং এর একটি পাণ্ডুলিপি তিউনিসিয়ার জাতীয় লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত রয়েছে। 'শারহু ইবনিন নাজিম'-এর গবেষক পাণ্ডুলিপিটির নম্বর নির্দিষ্ট না করেই এর কথা উল্লেখ করেছেন।
7 - ইয়াকুব বিন সাঈদ আল-মাকলাতির ব্যাখ্যাগ্রন্থ। এর একটি পাণ্ডুলিপি তিউনিসিয়ার আল-কারাউয়িনে ৪২/আ. ব. নম্বরে, দ্বিতীয়টি এস্কোরিয়ালে (দ্বিতীয় ১৬) ৪ নম্বরে এবং তৃতীয়টি ব্রিটিশ মিউজিয়ামে ৫৪৮/২৪ নম্বরে বিদ্যমান।
8 - ব্যাখ্যাগ্রন্থ: মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন সাঈদ আল-তানজি। আলজেরিয়ায় এর একটি পাণ্ডুলিপি রয়েছে যার প্রতি ব্রোকলম্যান ইঙ্গিত করেছেন।
9 - ব্যাখ্যাগ্রন্থ: আবুল আব্বাস আহমদ বিন মুহাম্মদ আদ-দাল্লানি আল-মাগরিবি, মৃত্যু ১১২৮ হিজরি। ব্রোকলম্যান এর প্রতি ইঙ্গিত করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাতহুল মুতাআল আলাল কাসিদাতিল মুসাম্মাহ বি-লামিয়াতিল আফআল
(পৃষ্ঠা: ১৪০)
10 - – شرح: أبي الْعَبَّاس الوهراني وَمِنْهَا نُسْخَة فِي الأسكوريال أَشَارَ إِلَيْهَا بروكلمان1.
11 - – شرح: بدر الدّين الحسني الْمُتَوفَّى عَام 1354هـ.
12 - – شرح: ابْن يحيى هَكَذَا وَمن شَرحه نُسْخَة فِي المكتبة الأزهرية برقم 996 أَشَارَ إِلَيْهَا مُحَقّق التسهيل2.
13 - – شرح: لمجهول وَمن هَذَا الشَّرْح عدَّة نسخ فِي الأسكوريال ثَان 16/6، 1،143، وَأُخْرَى فِي الأمبروزيانا أَشَارَ إِلَيْهَا بروكلمنان3، وثالثة فِي المكتبة الأزهرية صرف برقم 9974.
14 - – شرح: حمد بن مُحَمَّد الصعيدي الْمَالِكِي وَهُوَ كتَابنَا هَذَا.
--------------------------------------------
১০ - – ব্যাখ্যাগ্রন্থ: আবুল আব্বাস আল-ওয়াহরানি; এর একটি পাণ্ডুলিপি এসকোরিয়াল লাইব্রেরিতে রয়েছে, যার দিকে ব্রোকলম্যান ইঙ্গিত করেছেন১।
১১ - – ব্যাখ্যাগ্রন্থ: বদর উদ্দিন আল-হাসানি, যিনি ১৩৫৪ হিজরি সালে মৃত্যুবরণ করেন।
১২ - – ব্যাখ্যাগ্রন্থ: ইবনে ইয়াহিয়া; এভাবেই (নামটি বর্ণিত হয়েছে)। তার এই ব্যাখ্যার একটি পাণ্ডুলিপি আল-আজহার লাইব্রেরিতে ৯৯৬ নম্বরে সংরক্ষিত আছে, যার দিকে তাসহিল গ্রন্থের গবেষক ইঙ্গিত করেছেন২।
১৩ - – ব্যাখ্যাগ্রন্থ: জনৈক অজ্ঞাত (مجهول) লেখকের; এই ব্যাখ্যার বেশ কয়েকটি পাণ্ডুলিপি এসকোরিয়াল (দ্বিতীয় ১৬/৬, ১, ১৪৩) এবং অন্যটি আমব্রোসিয়ানায় রয়েছে যার দিকে ব্রোকলম্যান ইঙ্গিত করেছেন৩, আর তৃতীয় একটি পাণ্ডুলিপি আল-আজহার লাইব্রেরির 'সারফ' বিভাগে ৯৯৭ নম্বরে রয়েছে৪।
১৪ - – ব্যাখ্যাগ্রন্থ: হামদ বিন মুহাম্মদ আস-সাঈদী আল-মালিকি; এটিই আমাদের বর্তমান আলোচ্য গ্রন্থ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাতহুল মুতাআল আলাল কাসিদাতিল মুসাম্মাহ বি-লামিয়াতিল আফআল
(পৃষ্ঠা: ১৪১)
موازنة بَين هَذَا الْكتاب وَشرح النَّاظِم وَفتح الأقفال…موازنة بَين هَذَا الْكتاب
وَشرح ابْن النَّاظِم وَفتح الأقفال
الموازنة بَين كتابين تَقْتَضِي من الموازِن أَن يُقَابل بَين الدقائق الَّتِي يوازن بَينهَا، ويتتبع الْمسَائِل مَسْأَلَة مَسْأَلَة، وَكَيف عالج الْمُؤَلّفَة نصوصه واستشهاده على مسَائِله، وغزارة مادته العلمية، وتوثيقه للمسائل، وَينظر فِيمَن أَجَاد فِي هَذِه وأخلّ بِتِلْكَ وَهَذَا الْعَمَل يتطلب بحثا طَويلا يخرج بِنَا عَن المسار المرسوم لنا لَو سلكناه، ولكننا هُنَا نحاول أَن نوازن موازنة عَامَّة تضئ لنا الدَّرْب لنعلم من خلالها كَيفَ أَفَادَ الْمُتَأَخر من الْمُتَقَدّم فِي إحسانه، وَكَيف عالج مَا وَقع فِيهِ من قبله من مزالق.
এই কিতাব, শারহুন নাজিম এবং ফাতহুল আকফাল-এর মধ্যে তুলনামূলক পর্যালোচনা (موازنة)…এই কিতাবের মধ্যে তুলনামূলক পর্যালোচনা (موازنة)
শারহু ইবনি নাজিম এবং ফাতহুল আকফাল
দুটি কিতাবের মধ্যে তুলনামূলক পর্যালোচনা (موازنة) করার ক্ষেত্রে পর্যালোচনাকারীর জন্য আবশ্যক হলো তিনি যেন সেই সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বিষয়গুলোর মধ্যে তুলনা করেন যেগুলোর ওপর পর্যালোচনা করা হচ্ছে; এবং প্রতিটি মাসআলা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অনুসরণ করেন। পাশাপাশি লেখক কীভাবে তার মূলপাঠ (نصوص) এবং মাসআলাগুলোর স্বপক্ষে প্রমাণাদি উপস্থাপন করেছেন, তার জ্ঞানগত উপকরণের প্রাচুর্য এবং মাসআলাগুলোর প্রামাণিকীকরণ (توثيق) পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। এছাড়া কে কোন বিষয়ে পারদর্শিতা দেখিয়েছেন এবং কোথায় ত্রুটি করেছেন তাও লক্ষ্য করা দরকার। এই কাজটি দীর্ঘ গবেষণার দাবি রাখে, যা অনুসরণ করলে আমরা আমাদের নির্ধারিত পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়ব। তবে আমরা এখানে একটি সাধারণ তুলনামূলক পর্যালোচনা (موازنة) করার চেষ্টা করব যা আমাদের পথকে আলোকিত করবে, যার মাধ্যমে আমরা জানতে পারব যে কীভাবে একজন পরবর্তী (متأخر) আলেম পূর্ববর্তী (متقدم) আলেমের শ্রেষ্ঠত্ব থেকে উপকৃত হয়েছেন এবং তাঁর পূর্বসূরি যেসব পদস্খলনের শিকার হয়েছিলেন তা তিনি কীভাবে সংশোধন করেছেন।
(খণ্ড: ১)
ফাতহুল মুতাআল আলাল কাসিদাতিল মুসাম্মাহ বি-লামিয়াতিল আফআল
(পৃষ্ঠা: ১৪১)
التَّعْرِيف بالكتب - شرح ابْن النَّاظِم…أَولا: التَّعْرِيف بالكتب:
أشرح ابْن النَّاظِم
على الرغم من صغر حجم شرح ابْن النَّاظِم فَإِنَّهُ يعدّ أصلا مهما فِي شُرُوح اللامية؛ لِأَنَّهُ أَولهَا ظهوراً، وَالشَّارِح ابنٌ للناظم أدرى النَّاس بِمُرَاد أَبِيه، وَمن تصدّى لشرح اللامية فلابدَّ أَن يكون هَذَا الشَّرْح بَين يَدَيْهِ.
গ্রন্থ পরিচিতি - শারহু ইবনিন নাজিম…প্রথমত: গ্রন্থ পরিচিতি:
শারহু ইবনিন নাজিম
ইবনিন নাজিম-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থটি কলেবরে ছোট হওয়া সত্ত্বেও এটি ‘লামিয়্যাহ’-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক উৎস হিসেবে গণ্য হয়; কারণ এটিই সর্বপ্রথম প্রকাশিত ব্যাখ্যাগ্রন্থ। এছাড়া ব্যাখ্যাকার স্বয়ং মূল রচয়িতার (নাজিম) পুত্র হওয়ায় তিনি তাঁর পিতার উদ্দেশ্য সম্পর্কে অন্য যেকোনো মানুষের তুলনায় অধিক অবগত। তাই যে ব্যক্তিই ‘লামিয়্যাহ’-এর ব্যাখ্যা করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন, তাঁর নিকট এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটি থাকা অপরিহার্য।
(খণ্ড: ১)
ফাতহুল মুতাআল আলাল কাসিদাতিল মুসাম্মাহ বি-লামিয়াতিল আফআল
(পৃষ্ঠা: ১৪১)
طبعات الْكتاب:طبع الْكتاب أَكثر من مرّة أذكر مِنْهَا:
1 - طبع الْكتاب دونما تَحْقِيق فِي مطابع مصطفى البابي الْحلَبِي عَام 1367هـ، وَهُوَ يَقع فِي سِتِّينَ صحيفَة من الْقطع الصَّغِير، وَعِنْدِي مِنْهُ نُسْخَة أحضرتها من السنغال.
বইটির সংস্করণসমূহ:বইটি একাধিকবার মুদ্রিত হয়েছে, আমি সেগুলোর মধ্য থেকে উল্লেখ করছি:
১ - বইটি কোনো গবেষণা-সম্পাদনা (تحقيق) ছাড়াই ১৩৬৭ হিজরি সালে মুস্তফা আল-বাবি আল-হালাবি প্রেসে মুদ্রিত হয়েছে। এটি ছোট সাইজের ষাট পৃষ্ঠার একটি বই এবং আমার কাছে এর একটি অনুলিপি (نسخة) রয়েছে যা আমি সেনেগাল থেকে এনেছি।
(খণ্ড: ১)
ফাতহুল মুতাআল আলাল কাসিদাতিল মুসাম্মাহ বি-লামিয়াতিল আফআল
(পৃষ্ঠা: ১৪২)
ب - فتح الأقفال:
فتح الأقفال بشرح لامية الْأَفْعَال الْمَشْهُور بالشرح الْكَبِير لجمال الدّين مُحَمَّد بن عمر الْحمير الْحَضْرَمِيّ الْمَعْرُوف ببحرق هَذَا هُوَ عنوان الْكتاب الَّذِي نَحن بصدد الموازنة بَينه وَبَين شرح ابْن النَّاظِم وَشرح الصعيدي.
وَهُوَ أحد شرحين لبحرق على لامية الْأَفْعَال، وَالْآخر يُسمى الشَّرْح الصَّغِير، وَهُوَ مُخْتَصر من الشَّرْح الْكَبِير جرده من كثير من الْأَمْثِلَة المبسوطة فِي الشَّرْح الْكَبِير.
وَمِمَّا لَا شكّ فِيهِ أَن بحرق قد اطلع على أَكثر من شرح للاّمية مِنْهَا شرح ابْن النَّاظِم، وَأفَاد من تِلْكَ الشُّرُوح.
খ - ফাতহুল আকফাল:
ফাতহুল আকফাল যা ‘লামিয়াতুল আফআল’-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ এবং ‘আশ-শারহুল কাবীর’ নামে প্রসিদ্ধ। এটি জামালুদ্দীন মুহাম্মাদ বিন উমর আল-হিমইয়ারি আল-হাদরামি—যিনি বাহরাক নামে পরিচিত—তাঁর রচনা। এটিই সেই গ্রন্থের শিরোনাম, যা নিয়ে আমরা ইবনুন নাজিম এবং আস-সাঈদী এর ব্যাখ্যাগ্রন্থের সাথে তুলনামূলক আলোচনা করতে যাচ্ছি।
এটি ‘লামিয়াতুল আফআল’-এর ওপর বাহরাক রচিত দুটি ব্যাখ্যাগ্রন্থের একটি। অন্যটির নাম ‘আশ-শারহুস সাগীর’, যা মূলত ‘আশ-শারহুল কাবীর’-এর সংক্ষিপ্ত রূপ; তিনি এতে ‘আশ-শারহুল কাবীর’-এ উল্লিখিত বিস্তারিত উদাহরণগুলোর অনেকাংশ পরিহার করেছেন।
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, বাহরাক ‘লামিয়াতুল আফআল’-এর একাধিক ব্যাখ্যাগ্রন্থ পর্যবেক্ষণ করেছেন, যার মধ্যে ইবনুন নাজিমের ব্যাখ্যাগ্রন্থটিও অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং তিনি সেই ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলো থেকে উপকৃত হয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
ফাতহুল মুতাআল আলাল কাসিদাতিল মুসাম্মাহ বি-লামিয়াতিল আফআল
(পৃষ্ঠা: ১৪৩)
طبعات الْكتاب:
طبع فتح الأقفال ثَلَاث مرّات:
الأولى: عَام 1950م، فِي الْقَاهِرَة، وَهِي طبعة مصححة بِمَعْرِِفَة لجنة من الْعلمَاء برئاسة الشَّيْخ أَحْمد أسعد عَليّ، وَلم أَقف عَلَيْهَا.
الثَّانِيَة: عَام 1954م بمطبعة مصطفى البابي الْحلَبِي، وَهِي تقع فِي ثَلَاث وَسبعين صحيفَة من الْقطع الْمُتَوَسّط، وأسطرها مضغوطة فِي صفحاتها، وَهِي خَالِيَة من التَّحْقِيق العلمي، وَقد حاول صَاحب المطبعة إخْرَاجهَا بمخرج مَقْبُول فأوكل تصحيحها إِلَى سيّد أَحْمد شيخ مُوسَى الصومالي فاجتهد وَلم يحالفه التَّوْفِيق فِي كثير من الْمَوَاضِع.
الثَّالِثَة: عَام 1414هـ طبعتها كُلية الْآدَاب بجامعة الكويت، وحققها الدكتور: مصطفى النّحاس، وَهِي تقع فِي مِائَتَيْنِ وَخمْس وَخمسين صحيفَة من الْقطع الْمُتَوَسّط، وجلُّ عمل الْمُحَقق مُقَارنَة النّسخ، وَضبط الْكتاب بالشكل.
গ্রন্থের সংস্করণসমূহ:
ফাতহুল আকফাল তিনবার মুদ্রিত হয়েছে:
প্রথম: ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দে কায়রোতে। এটি শেখ আহমদ আসআদ আলীর নেতৃত্বে একদল আলেম কর্তৃক সংশোধিত একটি সংস্করণ, তবে এটি আমার হস্তগত হয়নি।
দ্বিতীয়: ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দে মোস্তফা আল-বাবী আল-হালাবি প্রেসে। এটি মাঝারি আকারের ৭৩ পৃষ্ঠার একটি সংস্করণ এবং এর পৃষ্ঠাগুলোতে লাইনগুলো খুব ঠাসা। এটি গবেষণামূলক সম্পাদনা (تحقيق) বর্জিত। প্রেসের মালিক এটিকে গ্রহণযোগ্য (مقبول) রূপে প্রকাশ করার চেষ্টা করেছিলেন, তাই তিনি এর সংশোধনের দায়িত্ব সৈয়দ আহমদ শেখ মুসা আল-সোমালির ওপর অর্পণ করেন। তিনি যথেষ্ট চেষ্টা করেছিলেন, তবে অনেক ক্ষেত্রেই তিনি সফল হতে পারেননি।
তৃতীয়: ১৪১৪ হিজরিতে কুয়েত বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদ এটি মুদ্রণ করে এবং এটি সম্পাদনা করেছেন ড. মোস্তফা আন-নাহহাস। এটি মাঝারি আকারের ২৫৫ পৃষ্ঠার একটি সংস্করণ। সম্পাদকের অধিকাংশ কাজ ছিল পাণ্ডুলিপিগুলোর পারস্পরিক তুলনা এবং গ্রন্থটির পাঠ সঠিকভাবে নির্ধারণ (ضبط) করা।
(খণ্ড: ১)
ফাতহুল মুতাআল আলাল কাসিদাতিল মুসাম্মাহ বি-লামিয়াতিল আফআল
(পৃষ্ঠা: ১৪৩)
ج -
فتح المتعال:هَذَا هُوَ عنوان كتَابنَا الْمُحَقق وَقد سبقت دراسته والتعريف بِهِ.
ثَانِيًا: عرض الْمسَائِل عِنْدهم:
عِنْدَمَا يُرِيد ابْن النَّاظِم أَن يشْرَح فكرة فَإِنَّهُ يصدِّرها بِبَيْت من اللامية ثمَّ يتولّى شرح ذَلِك الْبَيْت شرحاً موجزاً مفسّراً بالأمثلة دون إسهاب فِيهَا بل يجتزئ بالمثال الْوَاحِد الدَّال على الْقَاعِدَة، وَإِن كَانَ الْأَمر يلْزم الْحصْر فَإِنَّهُ يحصر كَأَن يَقُول: وَلم يرد مِنْهُ سوى تِسْعَة أَفعَال هِيَ.. ثمَّ يوردها، وَيذكر اخْتِلَاف اللُّغَات إِذا كَانَ يَنْبَنِي عَلَيْهَا حكم صرفي كَقَوْلِه فِي مضارع وَرِعَ يَرِعُ "وَحكى سِيبَوَيْهٍ يورع".
জ -
ফাতহুল মুতাআল:এটি আমাদের সম্পাদিত (المحقق) গ্রন্থটির শিরোনাম এবং ইতিপূর্বে এর পর্যালোচনা ও পরিচিতি প্রদান করা হয়েছে।
দ্বিতীয়ত: তাঁদের নিকট মাসআলা বা বিষয়বস্তু উপস্থাপনের পদ্ধতি:
ইবনুন নাজিম যখন কোনো বিষয় ব্যাখ্যা করতে চান, তখন তিনি 'লামিয়্যাহ' কাব্যগ্রন্থের একটি চরণ (بيت) দিয়ে তা শুরু করেন। অতঃপর তিনি সেই চরণের একটি সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা প্রদান করেন এবং কোনো দীর্ঘসূত্রিতা ছাড়াই উদাহরণের মাধ্যমে তা বিশ্লেষণ করেন। বরং তিনি নিয়মের পরিচায়ক কেবল একটি উদাহরণের ওপরই সীমাবদ্ধ থাকেন। আর যদি বিষয়টি সীমাবদ্ধকরণের (الحصر) প্রয়োজন হয়, তবে তিনি তা সীমাবদ্ধ করেই উল্লেখ করেন; যেমন তিনি বলেন: "এ থেকে মাত্র নয়টি ক্রিয়া বর্ণিত হয়েছে, সেগুলো হলো..." অতঃপর তিনি সেগুলো বর্ণনা করেন। আর যদি কোনো ভাষাগত পার্থক্যের ওপর কোনো সরফ শাস্ত্রীয় বিধান (حكم صرفي) নির্ভরশীল হয়, তবে তিনি সেই ভাষাগত বৈচিত্র্যও উল্লেখ করেন; যেমন ‘ওয়ারিআ-ইয়ারিউ’ এর মুদারে (مضارع) সম্পর্কে তাঁর উক্তি: "সিবওয়াইহি 'ইয়াওরাউ' বর্ণনা করেছেন।"
(খণ্ড: ১)
ফাতহুল মুতাআল আলাল কাসিদাতিল মুসাম্মাহ বি-লামিয়াতিল আফআল
(পৃষ্ঠা: ১৪৪)
أما بحرق فَإِنَّهُ يذكر أَبْيَات اللامية وَلكنه جعل كِتَابه معجماً للأمثلة؛ إِذْ يَسُوق على الْقَاعِدَة الْوَاحِدَة الْكثير من الْأَمْثِلَة، وَقد بلغ بَعْضهَا ثَلَاثمِائَة وَسبعين مِثَالا على قَاعِدَة وَاحِدَة وَهُوَ قد صرّح بذلك فِي مُقَدّمَة شَرحه فَقَالَ: "فَلهَذَا شرحت أَنا هَذِه الْمَنْظُومَة شرحاً مطابقاً لغَرَض النَّاظِم رحمه الله فبسطت القَوْل فِي الْبَاب الأول بِكَثْرَة الْأَمْثِلَة الَّتِي يُحتاج إِلَيْهَا فَذكرت للْفِعْل الرباعي نَحْو مائَة مِثَال، ولفعُل المضموم مائَة أَيْضا، ولفعِل المكسور ثَلَاثمِائَة وَسبعين مِنْهَا أَرْبَعِينَ لوناً" وَكَانَ يرتب أمثلته حسب تَرْتِيب الْقَامُوس فَيبْدَأ بِمَا آخِره همزَة، ثمَّ مَا آخِره بَاء، وَهَكَذَا مَعَ مُرَاعَاة التَّرْتِيب الداخلي حَتَّى يصل إِلَى آخر الْأَمْثِلَة.
وتوسط الصعيدي بَينهمَا فِي هَذَا الْمِضْمَار فَلم يسرف إِسْرَاف بحرق وَلم يوجز إيجاز ابْن النَّاظِم، بل كَانَ يمثل لقواعده بأمثلة يضمن مَعهَا إِيضَاح الْقَاعِدَة للقارئ.
আর বাহরাক (Bahraq) আল-লামিয়্যাহ-র পঙক্তিগুলো উল্লেখ করেছেন, তবে তিনি তাঁর গ্রন্থটিকে উদাহরণের একটি অভিধানে পরিণত করেছেন; কেননা তিনি একটি মাত্র নিয়মের অধীনে প্রচুর উদাহরণ উপস্থাপন করেন। এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে একটি নিয়মের অধীনে উদাহরণের সংখ্যা তিনশত সত্তরটি পর্যন্ত পৌঁছেছে। তিনি তাঁর ব্যাখ্যার ভূমিকায় এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে বলেছেন: "এই কারণে আমি এই কাব্যগ্রন্থের (মানজুমা) এমন একটি ব্যাখ্যা লিখেছি যা রচয়িতার (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) উদ্দেশ্যের সাথে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাই আমি প্রথম অধ্যায়ে প্রয়োজনীয় উদাহরণের আধিক্যসহ বিস্তারিত আলোচনা করেছি। আমি চতুরক্ষর বিশিষ্ট ক্রিয়ার জন্য প্রায় একশত উদাহরণ, পেশ-যুক্ত 'ফাউলা' এর জন্য একশত এবং জের-যুক্ত 'ফাইলা' এর জন্য তিনশত সত্তরটি উদাহরণ উল্লেখ করেছি, যার মধ্যে চল্লিশটি ধরণ রয়েছে।" তিনি তাঁর উদাহরণগুলো 'আল-কামুস' এর বর্ণনাক্রম অনুযায়ী সাজাতেন। ফলে তিনি প্রথমে সেই শব্দ দিয়ে শুরু করতেন যার শেষে হামজাহ রয়েছে, এরপর যার শেষে 'বা' রয়েছে—এভাবে অভ্যন্তরীণ বিন্যাস রক্ষা করে উদাহরণের শেষ পর্যন্ত যেতেন।
আর আস-সাঈদী এই ক্ষেত্রে উক্ত দুইজনের মধ্যপন্থা অবলম্বন করেছেন। তিনি বাহরাকের মতো আতিশয্য করেননি, আবার ইবনুন নাজিমের মতো অতিসংক্ষিপ্তও করেননি। বরং তিনি তাঁর নিয়মগুলোর সপক্ষে এমন সব উদাহরণ পেশ করতেন যা পাঠকের নিকট নিয়মটিকে সুস্পষ্ট করে তুলত।
(খণ্ড: ১)
ফাতহুল মুতাআল আলাল কাসিদাতিল মুসাম্মাহ বি-লামিয়াতিল আফআল
(পৃষ্ঠা: ১৪৪)
ثَالِثا:
شواهدهم:اسْتشْهد ابْن النَّاظِم بِإِحْدَى عشرَة آيَة فَقَط، وَلم يستشهد بالأحاديث، وَبقول وَاحِد لعمر رَضِي الله تَعَالَى عَنهُ، وبأربعة عشر بَيْتا من الشّعْر مِنْهَا ثَمَانِيَة من الرجز وَالْبَاقِي من القصيد.
أما بحرق فقد فاقت شواهده من الْقُرْآن مِائَتَيْنِ وَثَلَاثِينَ شَاهدا، وَاسْتشْهدَ من الحَدِيث بأَرْبعَة عشر حَدِيثا، وبثلاثة أَقْوَال للْعَرَب، وبثلاثة عشر بَيْتا من الشّعْر مِنْهَا تِسْعَة من الرجز وَالْبَاقِي من القصيد.
أما الصعيدي فَكَانَ أَيْضا وسطا إِذْ اسْتشْهد بِمَا يُقَارب الثَّمَانِينَ آيَة وَعشرَة
তৃতীয়ত:
তাদের প্রমাণাদি (شواهد):ইবনে আল-নাজিম কেবল এগারোটি আয়াত থেকে প্রমাণ পেশ করেছেন এবং তিনি কোনো হাদিস থেকে প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। তিনি ওমর (রাযিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু)-এর একটি উক্তি এবং চৌদ্দটি কাব্য পংক্তি ব্যবহার করেছেন, যার মধ্যে আটটি রাজাজ ছন্দের এবং বাকিগুলো কাসিদা।
পক্ষান্তরে বাহরাকের ক্ষেত্রে কুরআন থেকে তাঁর সংগৃহীত প্রমাণাদির (شواهد) সংখ্যা দুইশত ত্রিশটি ছাড়িয়ে গেছে। তিনি চৌদ্দটি হাদিস, আরবদের তিনটি উক্তি এবং তেরোটি কাব্য পংক্তি প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করেছেন, যার মধ্যে নয়টি রাজাজ ছন্দের এবং বাকিগুলো কাসিদা।
আর আস-সাঈদীও এক্ষেত্রে মধ্যমপন্থা অবলম্বন করেছেন, যেহেতু তিনি প্রায় আশিটি আয়াত এবং দশটি...