(খণ্ড: ১) মুজাযু তারিখিল ইয়াহুদ ওয়ার রাদ্দু আলা বাদি মাযায়িমিহিমুল বাতিলাহ (পৃষ্ঠা: -)
موجز تاريخ اليهود والرد على بعض مزاعمهم الباطلة   (محمود قدح)

القسم: الفرق والردود


الكتاب: موجز تاريخ اليهود والرد على بعض مزاعمهم الباطلة

المؤلف: محمود بن عبد الرحمن قدح

الناشر: الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة

السنة : التاسعة والعشرون - العدد (107) - (1418/1419هـ)

عدد الصفحات: 301

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ইহুদিদের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস এবং তাদের কিছু অসার দাবির খণ্ডন   (মাহমুদ কাদাহ)

বিভাগ: ফেরকা ও খণ্ডন


গ্রন্থ: ইহুদিদের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস এবং তাদের কিছু অসার দাবির খণ্ডন

লেখক: মাহমুদ বিন আবদুর রহমান কাদাহ

প্রকাশক: মদিনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

বর্ষ: ঊনত্রিশতম - সংখ্যা (১০৭) - (১৪১৮/১৪১৯ হিজরি)

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩০১

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) মুজাযু তারিখিল ইয়াহুদ ওয়ার রাদ্দু আলা বাদি মাযায়িমিহিমুল বাতিলাহ (পৃষ্ঠা: ২৩৩)
موجز تَارِيخ الْيَهُود وَالرَّدّ على بعض مزاعمهم الْبَاطِلَة

تأليف د. مَحْمُود عبد الرَّحْمَن قدح

عُضْو هَيْئَة التدريس بالجامعة الإسلامية بِالْمَدِينَةِ المنورة

‌‌مُقَدّمَة

إنَّ الْحَمد لله نحمده ونستعينه وَنَسْتَغْفِرهُ ونستهديه، ونعوذ بِاللَّه مِن شرور أَنْفُسنَا وسيئات أَعمالنَا، مَنْ يهده الله فَلَا مُضِلَّ لَهُ، ومَنْ يُضْلِل فَلَا هادي لَهُ، وَأشْهد أنْ لَا إِلَه إلاَّ الله وَحده لَا شريك لَهُ، وَأشْهد أنَّ محمَّداً عَبده وَرَسُوله وَخَاتم أنبيائه وَرُسُله، صلَّى الله عَلَيْهِ وعَلى آله وَأَصْحَابه وَالتَّابِعِينَ لَهُم بإحسانٍ إِلَى يَوْم الدّين.

أما بعد:

فإنَّ (تَارِيخ الْأَدْيَان) من المباحث الرئيسة الَّتِي يشْتَمل عَلَيْهَا علم الْأَدْيَان، وَهُوَ مَبْحَث يهتم بدراسة تَارِيخ ونشأة الدّيانَة وتطورها، وتأثيرها على الْمُجْتَمع الإنساني.

وَقد اهتم عُلَمَاؤُنَا المتقدّمون فِي مؤلَّفاتهم بدراسة تَارِيخ الْأَدْيَان، وبالمراحل والتطورات الَّتِي يمر بهَا أَتبَاع الْأَدْيَان، ورصد انحرافاتهم عَن الدّين الْحق، لِمَا فِي ذَلِك من الْفَوَائِد فِي إِظْهَار الْحق وإزهاق الْبَاطِل، وَمَعْرِفَة أَسبَاب الانحراف عَن الدّين الْحق لتوقّيها وتحذير النَّاس مِنْهَا.

وَهَذِه دراسة موجزة عَن مَوْضُوع (موجز تَارِيخ الْيَهُود وَالرَّدّ على بعض مزاعمهم الْبَاطِلَة) لمعْرِفَة حَقِيقَة الْيَهُود المعاصرين، وَإِظْهَار فَسَاد دينهم وبطلانه، وَالرَّدّ على بعض دعاويهم وفضح ادّعاءاتهم الكاذبة، حَيْثُ إنَّ الْيَهُود قد جعلُوا تاريخهم جُزْءا من دينهم المنحرف وكتابهم المحرَّف.

وَقد قسمت الدراسة فِي الْمَوْضُوع كالآتي:
ইহুদিদের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস এবং তাদের কিছু ভিত্তিহীন দাবির খণ্ডন

রচনা: ড. মাহমুদ আব্দুর রহমান কাদাহ

শিক্ষক, মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়

‌‌ভূমিকা

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই কাছে সাহায্য চাই, তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং তাঁরই কাছে হেদায়াত কামনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের আমলের মন্দতা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হেদায়াত দান করেন, তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই; আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন, তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর বান্দা ও রাসুল এবং তাঁর নবী ও রাসুলদের সমাপ্তকারী। আল্লাহ তাঁর ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারীদের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।

অতঃপর:

নিশ্চয়ই ‘ধর্মের ইতিহাস’ হলো ধর্মতত্ত্বের অন্তর্ভুক্ত প্রধান আলোচ্য বিষয়সমূহের একটি। এটি এমন একটি বিষয় যা ধর্মের ইতিহাস, উদ্ভব, ক্রমবিকাশ এবং মানবসমাজের ওপর এর প্রভাব পর্যালোচনার সাথে সংশ্লিষ্ট।

আমাদের পূর্বসূরি ওলামায়ে কেরাম তাঁদের রচনাবলীতে ধর্মের ইতিহাস এবং ধর্মাবলম্বীরা যেসব পর্যায় ও পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়, তা অধ্যয়নের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছেন। তাঁরা সত্য ধর্ম থেকে তাদের বিচ্যুতিগুলো চিহ্নিত করেছেন। কারণ এর মাধ্যমে সত্যকে প্রকাশ করা ও মিথ্যাকে বিলুপ্ত করার নানাবিধ উপকারিতা রয়েছে। পাশাপাশি সত্য ধর্ম থেকে বিচ্যুতির কারণসমূহ জেনে তা থেকে আত্মরক্ষা করা এবং মানুষকে সে বিষয়ে সতর্ক করার সুযোগ তৈরি হয়।

বর্তমান সময়ের ইহুদিদের প্রকৃত স্বরূপ অনুধাবন, তাদের ধর্মের অসারতা ও বাতুলতা প্রমাণ এবং তাদের কিছু ভিত্তিহীন দাবি খণ্ডন ও মিথ্যাচার উন্মোচনের লক্ষ্যে ‘ইহুদিদের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস এবং তাদের কিছু ভিত্তিহীন দাবির খণ্ডন’ শীর্ষক এটি একটি সংক্ষিপ্ত গবেষণা। কেননা ইহুদিরা তাদের ইতিহাসকে তাদের বিকৃত ধর্ম এবং বিকৃত কিতাবের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত করেছে।

উক্ত বিষয়ে এই গবেষণাকে আমি নিম্নোক্তভাবে বিন্যস্ত করেছি:
(খণ্ড: ১) মুজাযু তারিখিল ইয়াহুদ ওয়ার রাদ্দু আলা বাদি মাযায়িমিহিমুল বাতিলাহ (পৃষ্ঠা: ২৩৪)
- التَّمْهِيد: ويشتمل على تَعْرِيف ومصطلحات.

- المبحث الأول: موجز تَارِيخ بني إِسْرَائِيل وَالْيَهُود.

- المبحث الثَّانِي: مزاعم يَهُودِيَّة بَاطِلَة.

وَالله الْمُوفق وَالْهَادِي إِلَى سَوَاء السَّبِيل

وَالْحَمْد لله رب الْعَالمين. وَصلى الله على نَبينَا مُحَمَّد على وَآله وَصَحبه أَجْمَعِينَ.

وَكتبه

د. مَحْمُود بن عبد الرَّحْمَن قدح
- উপক্রমনিকা: এতে সংজ্ঞা ও পরিভাষাসমূহ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

- প্রথম পরিচ্ছেদ: বনী ইসরাঈল ও ইহুদিদের ইতিহাসের সংক্ষিপ্তসার।

- দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ইহুদিদের ভিত্তিহীন দাবিসমূহ।

আর আল্লাহই তাওফিকদাতা এবং সঠিক পথের দিশারী।

সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আর আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

লেখক

ড. মাহমুদ ইবনে আব্দুর রহমান কাদাহ্
(খণ্ড: ১) মুজাযু তারিখিল ইয়াহুদ ওয়ার রাদ্দু আলা বাদি মাযায়িমিহিমুল বাতিলাহ (পৃষ্ঠা: ২৩৬)
‌‌تمهيد

…

إِن المنطقة الَّتِي سيتركز الحَدِيث عَلَيْهَا أثْنَاء دراستنا لِلْيَهُودِيَّةِ وتاريخهم هِيَ فلسطين، فَمن الْمُنَاسب معرفَة بعض المعلومات عَنْهَا:

فَأَما مساحتها فتبلغ حوالي 27.000 كم2، وتتمتع بموقع استراتيجي مُهِمّ جدا حَيْثُ تقع فِي قلب الْعَالم الإسلامي، وَفِي ملتقى ثَلَاث قارات (آسيا، إفريقيا، أوروبا) ، وَفِي مَرْكَز مُهِمّ بِالنِّسْبَةِ للمواصلات الْبَريَّة والبحرية والجوية. وتتميز كَذَلِك بأراضي خصبة جدا وثروات معدنية كَبِيرَة.

وَأما تاريخها فقد سكنها الفينيقيون - من الْقَبَائِل الْعَرَبيَّة المهاجرة من شبه الجزيرة الْعَرَبيَّة - فِي الْألف الثَّالِث قبل الميلاد (سنة 3000ق. م) ، وَإِلَى الْجنُوب مِنْهُم نزلت قبائل عَرَبِيَّة أُخْرَى أشهرها قبائل الكنعانيين حوالي سنة 2500ق. م. على ضفة الْأُرْدُن الغربية وَسميت المنطقة باسمهم فَأَصْبَحت تُدعى (أَرض كنعان) ووردت كثيرا بِهَذَا الإسم فِي التَّوْرَاة أَيْضا، وَفِي حوالي سنة 1200 ق. م. نزلت بالسَّاحل المطل على الْبَحْر الْأَبْيَض جماعات تسمى قبائل فلستين جَاءَت من جَزِيرَة كريت (اقريطش) واختلطت بالكنعانيين فَأَصْبَحت الْبِلَاد تعرف بفلسطين1، وَقد كَانَت تسمى بـ (أَرض كنعان) فِي التَّوْرَاة قبل دُخُول إِبْرَاهِيم عليه الصلاة والسلام إِلَيْهَا2 وَبعده إِلَى زمن دُخُول بني إِسْرَائِيل إِلَيْهَا بعد مُوسَى عليه الصلاة والسلام، أما إِطْلَاق اسمهم عَلَيْهَا فقد كَانَ فِي آخر عهد الْقُضَاة تَقْرِيبًا فِي زمن نَبِي لَهُم اسْمه صموئيل، مَعَ بَقَاء الكنعانيين فِيهَا3.

وَقد بَدَأَ الْفَتْح الإسلامي لهَذِهِ الْبِلَاد مُنْذُ عهد النَّبِي صلى الله عليه وسلم الَّذِي سيّر جَيْشًا سنة

--------------------------------------------

1 - انْظُر: قَامُوس الْكتاب الْمُقَدّس ص685، 789، الْيَهُودِيَّة ص41 د. أَحْمد شلبي.

2 - انْظُر: سفر التكوين 12/5.

3 - انْظُر: سفر صموئيل 13/9، وأخبار الْأَيَّام الأول 22/2.
উপক্রমণিকা

…

ইহুদি ধর্ম ও তাদের ইতিহাস অধ্যয়নের সময় আমাদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু যে অঞ্চলটি হবে, তা হলো ফিলিস্তিন। তাই এ সম্পর্কে কিছু তথ্য জেনে নেওয়া সমীচীন:

এর আয়তন প্রায় ২৭,০০০ বর্গকিলোমিটার এবং এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অবস্থানের অধিকারী। এটি মুসলিম বিশ্বের হৃদকেন্দ্রে এবং তিন মহাদেশের (এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপ) সংযোগস্থলে অবস্থিত। স্থল, সমুদ্র ও আকাশপথের যোগাযোগের ক্ষেত্রেও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এর ভূমি অত্যন্ত উর্বর এবং এটি বিপুল খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ।

এর ইতিহাসের ক্ষেত্রে, ফিনিশীয়রা—যারা আরব উপদ্বীপ থেকে হিজরতকারী আরব গোত্রগুলোর অন্তর্ভুক্ত ছিল—খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় সহস্রাব্দে (৩০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ) এখানে বসবাস শুরু করে। তাদের দক্ষিণাঞ্চলে অন্যান্য আরব গোত্র বসতি স্থাপন করে, যাদের মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত ছিল কানআনীয় গোত্র। তারা প্রায় ২৫০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে জর্ডান নদীর পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপন করে এবং তাদের নামানুসারে এই অঞ্চলের নামকরণ করা হয় (কানআন দেশ)। তাওরাতেও এই নামটি বহুবার উল্লেখ করা হয়েছে। প্রায় ১২০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে ক্রিট (ইকরিতিশ) দ্বীপ থেকে আসা 'ফিলিস্তিন' নামক গোত্রগুলো ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলে বসতি স্থাপন করে এবং কানআনীয়দের সাথে মিশে যায়। এর ফলে দেশটি 'ফিলিস্তিন' নামে পরিচিতি লাভ করে। ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর আগমনের পূর্বে এবং পরবর্তীকালে মুসা (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর পর বনী ইসরায়েলের প্রবেশের সময় পর্যন্ত তাওরাতে একে 'কানআন দেশ' বলা হয়েছে। তবে তাদের নামে এর নামকরণ মূলত বিচারকদের যুগের শেষ দিকে সামুয়েল নামক তাদের একজন নবীর সময়ে হয়েছিল, তখনো কানআনীয়রা সেখানে বসবাস করছিল।

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগ থেকেই এই দেশটিতে ইসলামী বিজয়ের সূচনা হয়, যিনি এক বছরে একটি সেনাবাহিনী প্রেরণ করেছিলেন...

--------------------------------------------

১ - দেখুন: বাইবেল ডিকশনারি, পৃষ্ঠা ৬৮৫, ৭৮৯; আল-ইয়াহুদিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ৪১, ড. আহমদ শালবি।

২ - দেখুন: আদিপুস্তক ১২/৫।

৩ - দেখুন: ১ শমূয়েল ১৩/৯ এবং ১ বংশাবলি ২২/২।
(খণ্ড: ১) মুজাযু তারিখিল ইয়াহুদ ওয়ার রাদ্দু আলা বাদি মাযায়িমিহিমুল বাতিলাহ (পৃষ্ঠা: ২৩৭)
ثَمَان من الْهِجْرَة النَّبَوِيَّة إِلَى (مُؤْتَة) 1 لمقاتلة الرّوم2، ثمَّ كَانَت غَزْوَة تَبُوك سنة تسع من الْهِجْرَة النَّبَوِيَّة3، وَفِي آخر عَهده صلى الله عليه وسلم جهّز جَيش أُسَامَة بن زيد رضي الله عنه إِلَى تخوم البلقاء من الشَّام4، وَقد سيّر الصّديق رضي الله عنه ذَلِك الْجَيْش بعد وَفَاة النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم5. وَفِي عهد الْخَلِيفَة الصّديق رضي الله عنه كَانَت موقعة (أجنادين) 6 الَّتِي نصر الله فِيهَا جَيش الْمُسلمين بقيادة خَالِد ابْن الْوَلِيد رضي الله عنه ونتج عَنْهَا فتح عدَّة مدن بفلسطين مِنْهَا: نابلس وعسقلان وغزة والرملة وعكا وَغَيرهَا، وَبِهَذَا مُهّد الطَّرِيق للزحف إِلَى بَيت الْمُقَدّس7، ودعم ذَلِك موقعة (اليرموك} الَّتِي انتصر فِيهَا الْمُسلمُونَ.

وَفِي عهد الْخَلِيفَة عمر بن الْخطاب رضي الله عنه وجّه جَيْشًا بقيادة أبي عُبَيْدَة ابْن الْجراح رضي الله عنه لفتح بَيت الْمُقَدّس الَّتِي حاصرها مُدَّة أَرْبَعَة أشهر حَتَّى طلب أَهلهَا الصُّلْح واشترطوا أَن يتَوَلَّى الْخَلِيفَة عمر بِنَفسِهِ استلام الْمَدِينَة، وَهَكَذَا كَانَ فجَاء عمر رضي الله عنه وَكتب لَهُم وَثِيقَة الْأمان وَبنى مَسْجده فِي بَيت الْمُقَدّس9.

--------------------------------------------

1 - منْطقَة تقع فِي شَرق الْأُرْدُن شمال البتراء، وعَلى مسيرَة أحد عشر كَيْلا جنوب الكرك.

انْظُر: (المعالم الأثيرة فِي السّنة والسيرة ص237 مُحَمَّد شرّاب) .

2 - انْظُر: السِّيرَة النَّبَوِيَّة 4/23 - 45 لِابْنِ هِشَام، تَارِيخ الْإِسْلَام (الْمَغَازِي) ص479 للذهبي.

3 - انْظُر: المرجعين السَّابِقين 4/215 - 236، ص627.

4 - انْظُر: المرجعين السَّابِقين 4/384، 385 - 396، ص713.

5 - انْظُر: تَارِيخ الْإِسْلَام (عهد الْخُلَفَاء الرَّاشِدين) ، ص19 للذهبي.

6 - منْطقَة بفلسطين فِي الْجنُوب الغربي لبيت الْمُقَدّس، من أَعمال الْخَلِيل. انْظُر: (المعالم الأثيرة ص20 مُحَمَّد شُرَّاب) .

7 - انْظُر: تَارِيخ الْإِسْلَام (عهد الْخُلَفَاء الرَّاشِدين) ، ص81 - 83.

8 - نهر اليرموك طوله 57 كَيْلا، وَهُوَ الْحَد الْفَاصِل بَين سورية والأردن، وَقد نشبت معركة اليرموك فِي سهل الواقوصة. انْظُر: (المعالم الأثيرة ص297) مُحَمَّد شُرَّاب.

9 - تَارِيخ الْإِسْلَام (عهد الْخُلَفَاء الرَّاشِدين) ص162 للذهبي، الْبِدَايَة وَالنِّهَايَة 7/55 لِابْنِ كثير.
হিজরতের অষ্টম বর্ষে রোমানদের২ বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য (মুতা) ১ অভিমুখে অভিযান প্রেরিত হয়, এরপর হিজরী নবম বর্ষে তাবুক যুদ্ধ৩ সংঘটিত হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনের শেষ প্রান্তে তিনি শাম অঞ্চলের বালকা সীমান্ত৪ অভিমুখে উসামা ইবনে যায়েদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর নেতৃত্বে একটি বাহিনী প্রস্তুত করেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওফাতের পর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহু সেই বাহিনীটি৫ প্রেরণ করেন। খলিফা সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহুর শাসনামলে (আজনাদাইন) ৬ যুদ্ধ সংঘটিত হয়, যেখানে আল্লাহ তাআলা খালিদ ইবনে ওয়ালিদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর নেতৃত্বে মুসলিম বাহিনীকে বিজয় দান করেন। এর ফলে ফিলিস্তিনের বেশ কিছু শহর বিজিত হয়, যার মধ্যে রয়েছে: নাবলুস, আসকালান, গাজা, রামলা, আক্কা এবং অন্যান্য শহর। এভাবেই বাইতুল মুকাদ্দাসের৭ দিকে অগ্রসর হওয়ার পথ সুগম হয় এবং ইয়ারমুক যুদ্ধের৮ মাধ্যমে সেই বিজয় আরও সুসংহত হয়, যাতে মুসলিমগণ জয়লাভ করেছিলেন।

খলিফা উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুর শাসনামলে তিনি বাইতুল মুকাদ্দাস বিজয়ের জন্য আবু উবাইদাহ ইবনুল জাররাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুর নেতৃত্বে একটি বাহিনী প্রেরণ করেন। তিনি শহরটি চার মাস অবরুদ্ধ করে রাখেন, অবশেষে সেখানকার অধিবাসীরা সন্ধির আবেদন জানায় এবং শর্ত আরোপ করে যে, খলিফা উমরকে নিজে এসে শহরের দায়িত্বভার গ্রহণ করতে হবে। বাস্তবে তা-ই হলো; উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু আসলেন এবং তাদের জন্য একটি নিরাপত্তা সনদ লিখে দিলেন এবং বাইতুল মুকাদ্দাসে৯ একটি মসজিদ নির্মাণ করলেন।

--------------------------------------------

১ - এটি জর্ডানের পূর্বাঞ্চলে পেট্রার উত্তরে এবং কারাক থেকে এগারো কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত একটি এলাকা।

দেখুন: (আল-মাআলিম আল-আসিরা ফিস সুন্নাহ ওয়াস সিরাহ, পৃষ্ঠা ২৩৭, মুহাম্মদ শাররাব)।

২ - দেখুন: আস-সিরাহ আন-নাবাউইয়াহ ৪/২৩-৪৫, ইবনে হিশাম; তারিখুল ইসলাম (আল-মাগাযি) পৃষ্ঠা ৪৭৯, আয-যাহাবি।

৩ - দেখুন: পূর্বোক্ত দুই সূত্র ৪/২১৫-২৩৬, পৃষ্ঠা ৬২৭।

৪ - দেখুন: পূর্বোক্ত দুই সূত্র ৪/৩৮৪, ৩৮৫-৩৯৬, পৃষ্ঠা ৭১৩।

৫ - দেখুন: তারিখুল ইসলাম (আহদ আল-خুলাফা আর-রাশিদিন), পৃষ্ঠা ১৯, আয-যাহাবি।

৬ - ফিলিস্তিনের একটি এলাকা যা বাইতুল মুকাদ্দাসের দক্ষিণ-পশ্চিমে খলিল (হেব্রন) অঞ্চলের অন্তর্গত। দেখুন: (আল-মাআলিম আল-আসিরা, পৃষ্ঠা ২০, মুহাম্মদ শাররাব)।

৭ - দেখুন: তারিখুল ইসলাম (আহদ আল-খুলাফা আর-রাশিদিন), পৃষ্ঠা ৮১-৮৩।

৮ - ইয়ারমুক নদী ৫৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং এটি সিরিয়া ও জর্ডানের মধ্যবর্তী সীমানা। ওয়াকুসা নামক সমতলে ইয়ারমুক যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। দেখুন: (আল-মাআলিম আল-আসিরা, পৃষ্ঠা ২৯৭), মুহাম্মদ শাররাব।

৯ - তারিখুল ইসলাম (আহদ আল-খুলাফা আর-রাশিদিন), পৃষ্ঠা ১৬২, আয-যাহাবি; আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ৭/৫৫, ইবনে কাসির।
(খণ্ড: ১) মুজাযু তারিখিল ইয়াহুদ ওয়ার রাদ্দু আলা বাদি মাযায়িমিহিমুল বাতিলাহ (পৃষ্ঠা: ২৩৮)
وَبِهَذَا الْفَتْح أصبح بَيت الْمُقَدّس مُنْذُ شهر رَجَب سنة 16? دَار إِسْلَام يجب على الْمُسلمين فِيهَا إِظْهَار أَحْكَام الْإِسْلَام وشعائره والدفاع عَنْهَا، وَإِذا مَا استولى الْكفَّار عَلَيْهَا وأصبحت (دَار الْإِسْلَام المحتلة أَو المغتصبة) فَإِنَّهُ يتَعَيَّن على الْمُسلمين المقيمين فِيهَا الْجِهَاد لاسترداد حَقهم وأراضيهم من الْكَفَرَة المغتصبين، كَمَا يتَعَيَّن على الْمُسلمين المجاورين لَهَا الْقيام بِالْجِهَادِ مَعَ أَهلهَا كَمَا فعل الْملك صَلَاح الدّين الأيوبي رَحمَه الله تَعَالَى حينما استردها من الصليبيين الْكَفَرَة وأعادها إِلَى الْمُسلمين، ونسأل الله عز وجل أَن يرفع راية الْجِهَاد، وَأَن يُؤَيّد الْمُسلمين بنصر من عِنْده عز وجل {وَمَا النَّصْرُ إِلا مِنْ عِنْدِ اللَّهِ الْعَزِيزِ الْحَكِيمِ} 1.

. العبرانيون، بَنو إِسْرَائِيل، الْيَهُود

إِن من الشعوب الَّتِي سكنت أَرض فلسطين فِي التَّارِيخ الْقَدِيم، شعب بني إِسْرَائِيل الَّذين سنتحدث عَن تاريخهم، لكننا نجد مسميات أُخْرَى لَهُم، كالعبرانيين، وَالْيَهُود، فَهَل هِيَ مصطلحات مترادفة؟ أم أَن بَينهَا فرقا؟!

وَقبل أَن نَخُوض فِي الحَدِيث عَن مَوْضُوع دراستنا (تَارِيخ الْيَهُود) ، كَانَ لَا بُد من الْإِجَابَة على السُّؤَال الْمَطْرُوح؛ لصلته الْوَثِيقَة بموضوع الدراسة، فَنَقُول - مستعينين بِاللَّه -:

- أما العبرانيون: - فِي الِاصْطِلَاح - فَهِيَ كلمة مرادفة لـ (بني إِسْرَائِيل) المتحدرين من سلالة يَعْقُوب بن إِسْحَاق بن إِبْرَاهِيم عَلَيْهِم الصَّلَاة وَالسَّلَام، وَتسَمى لغتهم العبرية أَو العبرانية2.

--------------------------------------------

1 - سُورَة آل عمرَان، الْآيَة 126.

2 - انْظُر: قَامُوس الْكتاب الْمُقَدّس ص596، دروس اللُّغَة العبرية ص32، 33 د. ربحي كَمَال.
এই বিজয়ের মাধ্যমে বাইতুল মুকাদ্দাস ১৬ হিজরি সালের রজব মাস থেকে 'দারুল ইসলাম' বা ইসলামি ভূখণ্ডে পরিণত হয়েছে, যেখানে ইসলামের বিধান ও নিদর্শনাবলী প্রকাশ করা এবং তা রক্ষা করা মুসলমানদের জন্য অপরিহার্য। আর যদি কাফিররা তা দখল করে নেয় এবং সেটি 'অধিকৃত বা জবরদখলকৃত ইসলামি ভূখণ্ডে' পরিণত হয়, তবে সেখানে বসবাসরত মুসলমানদের ওপর তাদের অধিকার ও ভূমি সেই দখলদার কাফিরদের কাছ থেকে পুনরুদ্ধারের জন্য জিহাদ করা আবশ্যক হয়ে পড়ে। একইভাবে পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের মুসলমানদের জন্যও সেই ভূখণ্ডের অধিবাসীদের সাথে জিহাদে শরিক হওয়া আবশ্যক, যেমনটি করেছিলেন সুলতান সালাহুদ্দীন আইয়ুবী (রাহিমাহুল্লাহ), যখন তিনি ক্রুসেডার কাফিরদের কাছ থেকে এটি পুনরুদ্ধার করে পুনরায় মুসলমানদের নিকট ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। আমরা মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন জিহাদের পতাকাকে সমুন্নত করেন এবং তাঁর পক্ষ থেকে বিজয় দান করে মুসলমানদের সাহায্য করেন। "আর সাহায্য তো কেবল মহাপরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময় আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে।" (১)

হিব্রু, বনী ইসরাঈল ও ইয়াহুদী

প্রাচীন ইতিহাসে ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে বসবাসকারী জাতিগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো বনী ইসরাঈল জাতি, যাদের ইতিহাস সম্পর্কে আমরা আলোচনা করব। তবে আমরা তাদের জন্য হিব্রু ও ইয়াহুদী—এরকম আরও কিছু নামও দেখতে পাই। এগুলো কি সমার্থক পরিভাষা? নাকি এদের মধ্যে কোনো পার্থক্য রয়েছে?

আমাদের আলোচনার মূল বিষয়বস্তু (ইয়াহুদীদের ইতিহাস) শুরু করার আগে উত্থাপিত প্রশ্নটির উত্তর দেওয়া আবশ্যক; কারণ আলোচনার বিষয়ের সাথে এর গভীর সম্পর্ক রয়েছে। সুতরাং আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করে আমরা বলছি:

— হিব্রু: পারিভাষিক অর্থে এটি 'বনী ইসরাঈল' শব্দেরই সমার্থক, যারা ইয়াকুব ইবনে ইসহাক ইবনে ইব্রাহীম (আলাইহিমুস সালাম)-এর বংশধর। তাদের ভাষাকে হিব্রু বা ইবরানি ভাষা বলা হয়। (২)

--------------------------------------------

১ - সূরা আল-ইমরান, আয়াত: ১২৬।

২ - দেখুন: কামুসুল কিতাবিল মুকাদ্দাস (বাইবেল অভিধান), পৃষ্ঠা: ৫৯৬; দুরুসুল লুগাতিল ইবরানিয়্যাহ, পৃষ্ঠা: ৩২, ৩৩, ড. রিবহি কামাল।
(খণ্ড: ১) মুজাযু তারিখিল ইয়াহুদ ওয়ার রাদ্দু আলা বাদি মাযায়িমিহিমুল বাতিলাহ (পৃষ্ঠা: ২৩৯)
وَقد اخْتلف فِي أصل هَذِه التَّسْمِيَة على أَقْوَال مِنْهَا:

1 - أَنَّهَا نِسْبَة إِلَى (عَابِر) أَو (عيبر) وَهُوَ الْجد الْخَامِس فِي سلسلة نسب إِبْرَاهِيم عليه الصلاة والسلام فِي التَّوْرَاة1.

2 - أَنَّهَا نِسْبَة إِلَى إِبْرَاهِيم عليه الصلاة والسلام الملقب فِي التَّوْرَاة بـ (ابرام العبراني) 2 لعبوره نهر الْفُرَات أَو نهر الْأُرْدُن.

وَلم ترد هَذِه التَّسْمِيَة فِي الْقُرْآن الْكَرِيم، وَإِنَّمَا وَردت فِي السّنة النَّبَوِيَّة الصَّحِيحَة من حَدِيث عَائِشَة رضي الله عنها وَفِيه: "فَانْطَلَقت بِهِ (النَّبِي صلى الله عليه وسلم خَدِيجَة حَتَّى أَتَت بِهِ ورقة بن نَوْفَل بن أَسد بن عبدا لعزى - ابْن عَم خَدِيجَة - وَكَانَ امْرَءًا تنصر فِي الْجَاهِلِيَّة، وَكَانَ يكْتب الْكتاب العبراني، فَيكْتب من الْإِنْجِيل بالعبرانية مَا شَاءَ الله أَن يكْتب"3.

ووردت كَذَلِك فِي حَدِيث أبي هُرَيْرَة رضي الله عنه، قَالَ: "كَانَ أهل الْكتاب يقرأون التَّوْرَاة بالعبرية، ويفسرونها بِالْعَرَبِيَّةِ لأهل الْإِسْلَام، فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم: "لَا تصدقوا أهل الْكتاب وَلَا تكذبوهم، وَقُولُوا: {ءَامَنَّا بِاللهِ وَمآ أُنْزِلَ إِلَيْنَا وَمَآ أُنْزِلَ إِلى إِبْرا?يمَ وَإِسماعِيلَ وَإسحاقَ وَيَعْقُوبَ والأَسْباطِ وَمَآ أُوتِيَ مُوسَى وَعِيسَى وَمَآ أُوتِيَ النَّبِيُّونَ مِنْ رَبِّهِم لَا نُفَرِّقُ بَينَ أَحَدٍ مِنْهُم وَنحَنُ لَهُ مُسْلِمُون} 4 " 5.

--------------------------------------------

1 - انْظُر: سفر التكوين 11/14.

2 - انْظُر: تكوين 14/13. للتوسع (انْظُر: قَامُوس الْكتاب الْمُقَدّس ص596، دروس اللُّغَة العبرية ص36 د. يحيى كَمَال، تأريخ بني إِسْرَائِيل 30 - 31 مُحَمَّد دروزة، بَنو إِسْرَائِيل فِي الْقُرْآن وَالسّنة ص18 د. مُحَمَّد سيد طنطاوي، الْيَهُودِيَّة ص46 - 47 د. أَحْمد شلبي) .

3 - أخرجه البُخَارِيّ فِي صَحِيحه (انْظُر: صَحِيح البُخَارِيّ ضمن فتح الْبَارِي 1/22) .

4 - سُورَة الْبَقَرَة، آيَة 136.

5 - أخرجه البُخَارِيّ. (انْظُر: فتح الْبَارِي 8/170، 13/333) .
এই নামকরণের মূল উৎস সম্পর্কে বিভিন্ন মতভেদ রয়েছে, যার মধ্যে কয়েকটি হলো:

১ - এটি ‘আবির’ বা ‘ইবার’-এর দিকে সম্পৃক্ত; যিনি তাওরাতের বর্ণনা অনুযায়ী ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর বংশপরম্পরার পঞ্চম পিতামহ।১

২ - এটি ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর দিকে একটি নিসবত বা সম্পৃক্ততা, যাকে তাওরাতে ‘আব্রাম ইবরানি’ (হিব্রু আব্রাম) নামে অভিহিত করা হয়েছে; কারণ তিনি ফোরাত নদী অথবা জর্ডান নদী অতিক্রম করেছিলেন।২

পবিত্র কুরআনে এই নামকরণের উল্লেখ আসেনি; তবে এটি আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বর্ণিত বিশুদ্ধ সুন্নাহ বা হাদিসে এসেছে, যেখানে বলা হয়েছে: "খাদিজা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) তাকে (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে) সাথে নিয়ে ওরাকা বিন নওফেল বিন আসাদ বিন আব্দুল উজ্জার নিকট গেলেন—যিনি খাদিজার চাচাতো ভাই ছিলেন। তিনি জাহেলি যুগে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেছিলেন এবং তিনি ইবরানি (হিব্রু) লিপি লিখতেন। তিনি ইনজিল থেকে ইবরানি ভাষায় যা আল্লাহর ইচ্ছা হতো তা লিখতেন।"৩

এটি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিসেও বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: "আহলে কিতাবগণ তাওরাত হিব্রু ভাষায় পাঠ করত এবং মুসলিমদের জন্য তা আরবিতে ব্যাখ্যা করত। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: 'তোমরা আহলে কিতাবদের কথা সত্য বলে বিশ্বাস করো না, আবার মিথ্যা বলেও প্রত্যাখ্যান করো না; বরং বলো: {আমরা ঈমান এনেছি আল্লাহর প্রতি এবং যা আমাদের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে আর যা ইব্রাহিম, ইসমাইল, ইসহাক, ইয়াকুব ও তাঁর বংশধরগণের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে, এবং যা মুসা ও ঈসাকে দেওয়া হয়েছে আর যা নবীগণকে তাঁদের রবের পক্ষ থেকে প্রদান করা হয়েছে। আমরা তাঁদের মধ্যে কোনো পার্থক্য করি না এবং আমরা তাঁরই অনুগত মুসলিম} ৪' ৫।"

--------------------------------------------

১ - দেখুন: আদিপুস্তক ১১/১৪।

২ - দেখুন: আদিপুস্তক ১৪/১৩। বিস্তারিত আলোচনার জন্য (দেখুন: কামুসুল কিতাবিল মুকাদ্দাস পৃষ্ঠা ৫৯৬, ড. ইয়াহইয়া কামাল রচিত 'দুরুসুল লুগাতিল ইবরানিয়্যাহ' পৃষ্ঠা ৩৬, মুহাম্মদ দারওয়াজা রচিত 'তারিখু বানি ইসরাইল' ৩০-৩১, ড. মুহাম্মদ সাইয়্যিদ তানতাভি রচিত 'বানু ইসরাইল ফিল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ' পৃষ্ঠা ১৮, ড. আহমদ শালবি রচিত 'আল-ইয়াহুদিয়্যাহ' ৪৬-৪৭)।

৩ - ইমাম বুখারি এটি তাঁর সহিহ গ্রন্থে সংকলন করেছেন (দেখুন: ফাতহুল বারীর অন্তর্ভুক্ত সহিহ বুখারি ১/২২)।

৪ - সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত ১৩৬।

৫ - ইমাম বুখারি এটি সংকলন করেছেন। (দেখুন: ফাতহুল বারী ৮/১৭০, ১৩/৩৩৩)।
(খণ্ড: ১) মুজাযু তারিখিল ইয়াহুদ ওয়ার রাদ্দু আলা বাদি মাযায়িমিহিমুল বাতিলাহ (পৃষ্ঠা: ২৪০)
- وَأما بَنو إِسْرَائِيل: - فِي الِاصْطِلَاح - فهم الأسباط الإثنا عشر أَبنَاء يَعْقُوب عليه الصلاة والسلام وَمن جَاءَ من نسلهم.

- وَأما (إِسْرَائِيل) : فَهُوَ نَبِي الله يَعْقُوب عليه الصلاة والسلام بِدَلِيل قَوْله تَعَالَى: {كُلُّ الطَّعَامِ كَانَ حِلاًّ لِبَنِي إِسْرائيلَ إِلاَّ مَا حَرَّمَ إِسْرائيلُ عَلَى نَفْسِهِ مِنْ قَبْلِ أَنْ تُنَزَّلَ التَّوْرَاةُ} 1.

وَبِمَا رَوَاهُ ابْن عَبَّاس رضي الله عنهما فِي حَدِيث طَوِيل - أَن عِصَابَة من الْيَهُود جَاءَت إِلَى رَسُول الله صلى الله عليه وسلم تسأله - وَفِيه: قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم: "أنْشدكُمْ بِاللَّه الَّذِي أنزل التَّوْرَاة على مُوسَى صلى الله عليه وسلم، هَل تعلمُونَ أَن إِسْرَائِيل يَعْقُوب عليه السلام مرض مَرضا شَدِيدا وَطَالَ سقمه فَنَذر لله نذرا لَئِن شفَاه الله تَعَالَى من سقمه ليحرمن أحب الشَّرَاب إِلَيْهِ وَأحب الطَّعَام إِلَيْهِ، وَكَانَ أحب الطَّعَام إِلَيْهِ لحْمَان الْإِبِل، وَأحب الشَّرَاب إِلَيْهِ أَلْبَانهَا؟ قَالُوا: اللَّهُمَّ نعم، قَالَ: اللَّهُمَّ اشْهَدْ … " 2. الحَدِيث.

وَقد ذكرت التَّوْرَاة قصَّة سَبَب تَسْمِيَة يَعْقُوب عليه الصلاة والسلام بإسرائيل، حينما صارعه ملاك فِي صُورَة إِنْسَان حَتَّى طُلُوع الْفجْر، وَلم يُطلقهُ يَعْقُوب حَتَّى قَالَ لَهُ: لَا يدعى اسْمك فِيمَا بَعْد يَعْقُوب بل إِسْرَائِيل، لِأَنَّك جاهدت مَعَ الله وَالنَّاس وقدرت3.

وَقد جَاءَ ذِكْر بني إِسْرَائِيل فِي الْقُرْآن الْكَرِيم وَالسّنة النَّبَوِيَّة كثيرا، خَاصَّة فِي مجَال تذكيرهم بنعم الله تَعَالَى عَلَيْهِم وعَلى آبَائِهِم وأسلافهم ودعوتهم، إِلَى

--------------------------------------------

1 - سُورَة آل عمرَان، آيَة 93.

2 - أخرجه الإِمَام أَحْمد 1/273، 278، وَالطَّبَرَانِيّ فِي المعجم الْكَبِير 12/247، وَالْبَيْهَقِيّ فِي دَلَائِل النُّبُوَّة 6/266، 267.

3 - انْظُر: سفر التكوين 32/24 - 32، قَامُوس الْكتاب الْمُقَدّس ص69، 1074.
আর বনী ইসরাঈল: - পরিভাষায় - তারা হলো ইয়াকুব (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর বারোজন সন্তান এবং যারা তাদের বংশধর।

- আর (ইসরাঈল) বলতে আল্লাহর নবী ইয়াকুব (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-কে বোঝায়; এর প্রমাণ মহান আল্লাহর বাণী: {তওরাত অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বে ইসরাঈল নিজের ওপর যা হারাম করেছিলেন তা ছাড়া সমস্ত খাবারই বনী ইসরাঈলের জন্য হালাল ছিল} ১।

এবং ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত একটি দীর্ঘ হাদীস অনুসারে—যেখানে একদল ইহুদি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে কিছু জিজ্ঞাসা করতে এসেছিল—সেখানে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন: "আমি তোমাদেরকে সেই আল্লাহর শপথ দিয়ে বলছি যিনি মুসা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর তওরাত অবতীর্ণ করেছেন, তোমরা কি জানো যে ইসরাঈল তথা ইয়াকুব (আলাইহিস সালাম) একবার কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং তাঁর অসুস্থতা দীর্ঘস্থায়ী হয়েছিল, তখন তিনি আল্লাহর উদ্দেশ্যে মানত করেছিলেন যে, আল্লাহ তাআলা যদি তাঁকে তাঁর এই রোগ থেকে আরোগ্য দান করেন তবে তিনি তাঁর সবচেয়ে প্রিয় পানীয় ও সবচেয়ে প্রিয় খাদ্য নিজের জন্য হারাম করে নেবেন? আর তাঁর নিকট সবচেয়ে প্রিয় খাদ্য ছিল উটের গোশত এবং প্রিয় পানীয় ছিল উটের দুধ। তারা বলল: হে আল্লাহ, হ্যাঁ (আমরা জানি)। তিনি বললেন: হে আল্লাহ, আপনি সাক্ষী থাকুন …" ২। হাদীসের অংশবিশেষ।

তওরাতে ইয়াকুব (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-কে ইসরাঈল নামকরণের কারণ সম্পর্কে একটি কাহিনী বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি ভোর পর্যন্ত মানবাকৃতিতে এক ফেরেশতার সাথে কুস্তি লড়েছিলেন এবং ইয়াকুব তাকে ততক্ষণ পর্যন্ত ছাড়েননি যতক্ষণ না সে তাকে বলেছিল: এরপর থেকে তোমার নাম আর ইয়াকুব ডাকা হবে না বরং ইসরাঈল হবে, কারণ তুমি আল্লাহ ও মানুষের সাথে সংগ্রাম করেছ এবং বিজয়ী হয়েছ ৩।

পবিত্র কুরআন এবং সুন্নাহয় বনী ইসরাঈলের কথা বহুবার এসেছে, বিশেষ করে তাদেরকে এবং তাদের পিতৃপুরুষ ও পূর্বপুরুষদের ওপর আল্লাহর নেয়ামতসমূহ স্মরণ করিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে এবং তাদেরকে সত্যের পথে আহ্বান জানানোর ক্ষেত্রে...

--------------------------------------------

১ - সূরা আল-ইমরান, আয়াত ৯৩।

২ - এটি ইমাম আহমদ ১/২৭৩, ২৭৮; তাবারানি আল-মুজামুল কাবীর ১২/২৪৭ এবং বায়হাকী দালাইলুন নুবুওয়াহ ৬/২৬৬, ২৬৭-এ বর্ণনা করেছেন।

৩ - দেখুন: আদিপুস্তক ৩২/২৪-৩২, বাইবেল অভিধান পৃষ্ঠা ৬৯, ১০৭৪।
(খণ্ড: ১) মুজাযু তারিখিল ইয়াহুদ ওয়ার রাদ্দু আলা বাদি মাযায়িমিহিমুল বাতিলাহ (পৃষ্ঠা: ২৪১)
الدُّخُول فِي الْإِسْلَام ومتابعة النَّبِي مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم وتهييجاً لَهُم بِذكر أَبِيهِم إِسْرَائِيل، قَالَ تَعَالَى: {يَا بني إِسْرَائِيل اذْكروا نعمتي الَّتِي أَنْعَمت عَلَيْكُم … } 1 الْآيَات.

وَتَقْدِيره: يَا بني العَبْد الصَّالح الْمُطِيع لله كونُوا مثل أبيكم فِي مُتَابعَة الْحق كَمَا تَقول: يَا ابْن الْكَرِيم افْعَل كَذَا2.

- وَأما الْيَهُود - فِي الِاصْطِلَاح - فهم المتبعون لشريعة التَّوْرَاة من بني إِسْرَائِيل وَغَيرهم3.

قَالَ الإِمَام ابْن تَيْمِية - رَحمَه الله تَعَالَى - فِي تَفْسِير قَوْله تَعَالَى: {إنَّ الَّذِينَءَامَنُوا وَالَّذِينَ هَادُوا وَالنَّصَارَى وَالصَّابِئِينَ مَنْءَامَنَ باللهِ وَاليَومِ الآخِرِ وَعَمِلَ صَالحِاً فَلَهُم أَجْرُهُم عِنْدَ رَبِّهِم وَلا خَوْفُ عَلَيْهِم وَلا هُم يحَزَنُون} 4. قَالَ: إِن لفظ {الَّذِينَ هَادُوا وَالنَّصَارَى} يتَنَاوَل جَمِيع أهل الْكتاب - التَّوْرَاة وَالْإِنْجِيل - الَّذين كَانُوا قبل النّسخ والتبديل، وَالَّذين كَانُوا بعد ذَلِك، فَهَذَا الِاسْم لَا يخْتَص بالكفار مِنْهُم، كَمَا أَن لفظ (بني إِسْرَائِيل) وَلَفظ (أهل الْكتاب) لَيْسَ مُخْتَصًّا بالكفار، وَلَكِن كَانُوا مُسلمين ومؤمنين مَعَ كَونهم من بني إِسْرَائِيل وَمن أهل الْكتاب، وَكَذَلِكَ من الْيَهُود وَالنَّصَارَى5.ا?

--------------------------------------------

1 - سُورَة الْبَقَرَة، آيَة 40، 47.

2 - انْظُر: تَفْسِير ابْن كثير 1/86.

3 - أَي من غير بني إِسْرَائِيل لِأَن أجناساً من الرّوم والخزر قد اعتنقوا الدّيانَة الْيَهُودِيَّة المنحرفة وَلَيْسوا من بني إِسْرَائِيل - فِيمَا سنبينه إِن شَاءَ الله تَعَالَى - فعلى هَذَا فَإِن مصطلح الْيَهُود أَعم من بني إِسْرَائِيل.

4 - سُورَة الْبَقَرَة، آيَة 62. ونظيرها فِي سُورَة الْمَائِدَة، آيَة 69 قَوْله تَعَالَى: {إنَّ الَّذِينَءَامَنُوا وَالَّذِينَ هَادُوا وَالنَّصَارَى وَالصَّابِئِينَ مَنْءَامَنَ باللهِ وَاليَومِ الآخِرِ وَعَمِلَ صَالحِاً فَلَهُم أَجْرُهُم عِنْدَ رَبِّهِم وَلا خَوْفُ عَلَيْهِم وَلا هُم يحَزَنُون} .

5 - انْظُر: كتاب (تَفْسِير آيَات أشكلت) 1/275، ومجموع فَتَاوَى شيخ الْإِسْلَام ابْن تَيْمِية 7/55.
ইসলামে প্রবেশ এবং নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আনুগত্যের প্রতি আহ্বান জানাতে এবং তাঁদের পূর্বপুরুষ ইসরাঈলের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তাঁদের উৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে মহান আল্লাহ বলেন: {হে বনী ইসরাঈল! তোমরা আমার সেই অনুগ্রহের কথা স্মরণ করো, যা আমি তোমাদের প্রতি দান করেছি...} ১ আয়াতসমূহ।

এর মর্মার্থ হলো: হে আল্লাহর অনুগত ও সৎ বান্দার সন্তানেরা! তোমরা সত্যের অনুসরণে তোমাদের পিতার মতো হও; যেমনটি বলা হয়ে থাকে: "হে সম্মানিত ব্যক্তির সন্তান! তুমি এরূপ কাজ করো।" ২।

- আর পরিভাষায় ইহুদি বলতে বোঝায় - বনী ইসরাঈল এবং অন্যান্যদের মধ্য থেকে যারা তাওরাত শরীয়তের অনুসারী ৩।

ইমাম ইবনে তাইমিয়াহ - আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন - মহান আল্লাহর এই বাণীর তাফসীরে বলেন: {নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে এবং যারা ইহুদি হয়েছে, আর নাসারা ও সাবেঈনদের মধ্য থেকে যারা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান আনে এবং সৎকাজ করে, তাদের জন্য তাদের প্রতিপালকের কাছে পুরস্কার রয়েছে; তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা দুঃখিতও হবে না} ৪। তিনি বলেন: {যারা ইহুদি হয়েছে এবং নাসারা} - এই শব্দসমষ্টি আহলে কিতাবের (তাওরাত ও ইঞ্জিল অনুসারী) সেই সকল লোককে অন্তর্ভুক্ত করে, যারা (শরীয়ত) রহিত ও বিকৃত হওয়ার আগে ছিল এবং যারা এর পরে ছিল। সুতরাং এই নামটি কেবল তাদের মধ্যকার কাফেরদের জন্য নির্দিষ্ট নয়, যেমনটি ‘বনী ইসরাঈল’ এবং ‘আহলে কিতাব’ শব্দ দুটিও কেবল কাফেরদের জন্য নির্দিষ্ট নয়; বরং তারা বনী ইসরাঈল এবং আহলে কিতাব হওয়া সত্ত্বেও মুসলিম ও মুমিন ছিলেন, আর ইহুদি ও নাসারাদের ক্ষেত্রেও বিষয়টি অনুরূপ ৫।

--------------------------------------------

১ - সূরা আল-বাকারা, আয়াত ৪০, ৪৭।

২ - দেখুন: তাফসীরে ইবনে কাসীর ১/৮৬।

৩ - অর্থাৎ বনী ইসরাঈল ব্যতীত অন্যরাও, কারণ রোমান ও খাজার বংশোদ্ভূত বিভিন্ন গোষ্ঠী বিকৃত ইহুদি ধর্ম গ্রহণ করেছিল এবং তারা বনী ইসরাঈলের অন্তর্ভুক্ত ছিল না - যা আমরা ইনশাআল্লাহ সামনে স্পষ্ট করব। এই প্রেক্ষাপটে, ইহুদি পরিভাষাটি বনী ইসরাঈলের চেয়েও ব্যাপক।

৪ - সূরা আল-বাকারা, আয়াত ৬২। এর অনুরূপ বক্তব্য সূরা আল-মায়িদাহর ৬৯ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ বলেছেন: {নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে এবং যারা ইহুদি হয়েছে, আর নাসারা ও সাবেঈনদের মধ্য থেকে যারা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান আনে এবং সৎকাজ করে, তাদের জন্য তাদের প্রতিপালকের কাছে পুরস্কার রয়েছে; তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা দুঃখিতও হবে না}।

৫ - দেখুন: কিতাব (তাফসীরু আয়াতিন আশকালত) ১/২৭৫, এবং মাজমুউ ফাতাওয়া শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহ ৭/৫৫।
(খণ্ড: ১) মুজাযু তারিখিল ইয়াহুদ ওয়ার রাদ্দু আলা বাদি মাযায়িমিহিমুল বাতিলাহ (পৃষ্ঠা: ২৪২)
وَاخْتلف فِي أصل تسميتهم باليهود على أَقْوَال مِنْهَا:

1 - قيل: سمُّوا يهوداً من (الهوادة) وَهِي المودّة، لمودتهم فِي بَعضهم لبَعض.

2 - وَقيل: من (التهوّد) وَهِي التَّوْبَة، وَمِنْه قَوْله تَعَالَى حِكَايَة عَن مُوسَى عليه الصلاة والسلام: {إِنَّا هُدْنَا إِلَيْك} 1، أَي تبنا. فكأنهم سُمُّوا بذلك فِي الأَصْل لتوبتهم ومودتهم فِي بَعضهم الْبَعْض.

3 - وَقَالَ أَبُو عَمْرو بن الْعَلَاء: لأَنهم يتهوّدون - أَي يتحركون - عِنْد قِرَاءَة التَّوْرَاة2.

4 - ورد أَن (يهوذا) هُوَ الابْن الرَّابِع ليعقوب عليه الصلاة والسلام وَنسب إِلَيْهِ سبط من الأسباط الاثْنَي عشر، ثمَّ أطلق اسْمه على المملكة الجنوبية (مملكة يهوذا) لِأَن مُلُوكهَا كَانُوا من سبط يهوذا وتمييزاً لَهَا عَن (مملكة إِسْرَائِيل الشمالية) وفيهَا الأسباط الْعشْرَة، وحينما تشَتت الأسباط وأُخِذَ سبط يهوذا إِلَى السَّبي البابلي فقد توسع مَعْنَاهُ، فَصَارَ يَشْمَل جَمِيع من رجعُوا من الْأسر من بني إِسْرَائِيل، ثمَّ صَار يُطلق على جَمِيع الْيَهُود المشتتين فِي الْعَالم3.

قَالَ البيروني: إِنَّه قد أبدلت الذَّال الْمُعْجَمَة دَالا مُهْملَة (يهوذا - يهودا) لِأَن الْعَرَب كَانُوا إِذا نقلوا أَسمَاء الأعجمية إِلَى لغتهم غيروا بعض حروفها. ا?4.

وَقَالَ المؤرخ الْيَهُودِيّ شاهين مكاريوس: وَمن ذَلِك الزَّمَان - 515 ق. م

--------------------------------------------

1 - سُورَة الْأَعْرَاف، آيَة 156.

2 - انْظُر: تَفْسِير ابْن كثير 1/107 فِي ذكر الْأَقْوَال السَّابِقَة.

3 - انْظُر: خطط المقريزي 3/503، قَامُوس الْكتاب الْمُقَدّس ص1084، الشخصية الإسرائيلية ص28 - 31 د. حسن ظاظا.

4 - صبح الْأَعْشَى 13/253.
'ইয়াহুদি' নামকরণের মূল উৎস সম্পর্কে বিভিন্ন মতভেদ রয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

১ - বলা হয়েছে যে, তাদের 'ইয়াহুদি' নামকরণ করা হয়েছে 'হাওয়াদাহ' থেকে, যার অর্থ হলো সম্প্রীতি বা ভালোবাসা; যেহেতু তাদের একে অপরের প্রতি গভীর সম্প্রীতি ছিল।

২ - আরও বলা হয়েছে: এটি 'তাহাওয়ুদ' থেকে আগত, যার অর্থ তাওবা বা অনুশোচনা। এর সপক্ষে মহান আল্লাহর বাণী রয়েছে, যেখানে তিনি মূসা (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর উক্তি উদ্ধৃত করেছেন: {নিশ্চয়ই আমরা আপনার দিকে প্রত্যাবর্তন করেছি} ১, অর্থাৎ আমরা তাওবা করেছি। সুতরাং প্রতীয়মান হয় যে, মূলত তাদের তাওবা এবং একে অপরের প্রতি সম্প্রীতির কারণেই মূলত তাদের এই নামে নামকরণ করা হয়েছে।

৩ - আবু আমর ইবনুল আলা বলেন: কারণ তারা তাওরাত পাঠের সময় 'ইয়াতাহাওয়াদুন'—অর্থাৎ নড়াচড়া করে বা দুলতে থাকে। ২

৪ - বর্ণিত আছে যে, 'ইয়াহুদা' ছিলেন ইয়াকুব (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর চতুর্থ পুত্র এবং বনী ইসরাঈলের বারোটি গোত্রের মধ্যে একটি গোত্র তাঁর বংশের দিকেই সম্বন্ধযুক্ত। পরবর্তীতে দক্ষিণ রাজ্যের নাম 'ইয়াহুদা রাজ্য' রাখা হয়, কারণ এর শাসকরা ছিলেন ইয়াহুদা গোত্রের এবং উত্তর দিকের 'ইসরাঈল রাজ্য' (যেখানে দশটি গোত্র ছিল) থেকে এটিকে পৃথক করার জন্য এই নামকরণ করা হয়। যখন এই গোত্রগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং ইয়াহুদা গোত্রকে ব্যবিলনের বন্দিদশায় নিয়ে যাওয়া হয়, তখন এই নামের অর্থ আরও ব্যাপকতা লাভ করে। ফলে বন্দিদশা থেকে ফিরে আসা বনী ইসরাঈলের সকল ব্যক্তিকেই এই নামে অভিহিত করা হতে থাকে। পরবর্তীতে বিশ্বের সর্বত্র ছড়িয়ে থাকা সমস্ত ইয়াহুদিদের জন্যই এই শব্দটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হতে শুরু করে। ৩

আল-বিরুনী বলেন: এখানে 'যাল' বর্ণটিকে 'দাল' বর্ণ দ্বারা পরিবর্তন করা হয়েছে (ইয়াহুযা থেকে ইয়াহুদা); কারণ আরবরা যখন কোনো অনারব নামকে তাদের ভাষায় রূপান্তর করত, তখন তারা তার কিছু বর্ণ পরিবর্তন করে দিত। ৪

ইয়াহুদি ঐতিহাসিক শাহীন মাকারিয়াস বলেন: সেই সময় থেকে—৫১৫ খ্রিস্টপূর্বাব্দ...

--------------------------------------------

১ - সূরা আল-আরাফ, আয়াত ১৫৬।

২ - দেখুন: তাফসিরে ইবনে কাসির ১/১০৭, পূর্ববর্তী মতামতের বর্ণনায়।

৩ - দেখুন: খিতাতুল মাকরিজি ৩/৫০৩, কামুসুল কিতাবিল মুকাদ্দাস পৃষ্ঠা ১০৮৪, আশ-শাখসিয়্যাহ আল-ইসরাইলিয়্যাহ পৃষ্ঠা ২৮-৩১, ড. হাসান জাযা।

৪ - সুবহুল আশা ১৩/২৫৩।
(খণ্ড: ১) মুজাযু তারিখিল ইয়াহুদ ওয়ার রাদ্দু আলা বাদি মাযায়িমিহিমুল বাতিলাহ (পৃষ্ঠা: ২৪৩)
- يختفي ذكر الأسباط الْعشْرَة الْأُخْرَى، فَمن عَاد مِنْهُم - أَي من السَّبي البابلي - إِلَى فلسطين اخْتَلَط بسبطي يهوذا وبنيامين، وَفِي ذَلِك الْحِين سُمي الإسرائيليون يهوداً، ودُعيت بِلَادهمْ الْيَهُودِيَّة1.ا?.

وَالْقَوْل الْأَخير – فِي نَظَرِي – أقرب الْأَقْوَال إِلَى الصَّوَاب؛ لما بيّناه2، وَالله أعلم.

وَقد تكَرر ذكر الْيَهُود فِي الْقُرْآن الْكَرِيم وَالسّنة النَّبَوِيَّة كثيرا، خَاصَّة فِي سِيَاق بَيَان كفرهم وأقوالهم الْبَاطِلَة وَإِظْهَار خزيهم وفضائحهم والتحذير من مكائدهم وشرورهم، حَيْثُ لم ترد هَذِه التَّسْمِيَة فِي مقَام الْمَدْح لَهُم، وَإِنَّمَا وَردت فِي مقَام الذَّم والتقريع لَهُم، وَمن تِلْكَ الْآيَات القرآنية الدَّالَّة على ذَلِك: قَوْله عز وجل: {وَقالت اليَهُودُ يَدُ الله مَغْلُولَةٌ غُلَّتْ أَيْدِيهم وَلُعِنٌوا بِمَا قَالُو ابَلْ يَدَاهُ مَبْسُوطَتانِ يُنْفِقُ كَيفَ يَشآءُ وَلَيَزِيدَنَّ كَثيراً مِنْهُم مَآ أُنْزِلَ إِلَيْكَ مِن رَبِّكَ طُغْياناً وَكُفْراً وَأَلْقَيْنا بَيْنَهُمُ العَداوَةَ والبَغْضآءَ إِلى يَومِ القِيامَةِ كُلَّمآ أَوْقَدُوا نَاراً للحَرْبِ أَطْفَأَها الله وَيَسْعَوْنَ فِي الأَرضِ فَساداً وَالله لَا يحُبُّ المُفْسِدينَ} 3.

- وَقَوله تَعَالَى: {مِنَ الَّذِينَ هَادُوا يحُرِّفُونَ الكَلِمَ عَنْ مَواضِعِهِ وَيَقولُونَ سَمِعْنا وَعَصَيْنا وَاسْمَعْ غَيرَ مُسْمَعٍ وَراعِنا ليّاً بِأَلْسِنَتِهِم وَطَعْناً فِي الدِّينِ وَلَو أَنَّهُم قَالُوا سَمِعْنا وَأَطَعْنا وَاسْمَعْ وَانْظُرْنا لَكَانَ خَيراً لَهُم وَأَقْوَم وَلكِنْ لَعَنَهُم الله بِكُفْرِهِم فَلا يُؤمِنُونَ إِلاَّ قَلِيلاً} 4.

- وَقَوله تَعَالَى: {لَتَجِدَنِّ أَشَدَّ النَّاسِ عَدَاوَةً للَّذِينَ ءامَنُوا اليَهُودَ وَالَّذِينَ

--------------------------------------------

1 - انْظُر: تَارِيخ الإسرائيليين، ص32.

2 - وَقد رجح هَذَا القَوْل الشَّيْخ مُحَمَّد صديق خَان - رَحمَه الله تَعَالَى - فِي كِتَابه: (لقطَة العجلان مِمَّا تمس إِلَى مَعْرفَته حَاجَة الْإِنْسَان، ص111) وَغَيره.

3 - سُورَة الْمَائِدَة، آيَة 64.

4 - سُورَة النِّسَاء، آيَة 46.
অন্য দশটি গোত্রের উল্লেখ বিলুপ্ত হয়ে যায়। ফলে তাদের মধ্য থেকে যারা—অর্থাৎ ব্যাবিলনীয় বন্দিত্ব থেকে—ফিলিস্তিনে ফিরে এসেছিল, তারা ইয়াহুদা ও বিনইয়ামিন গোত্রদ্বয়ের সাথে মিশে গিয়েছিল। সেই সময়েই ইসরায়েলিদের 'ইয়াহুদি' নামে অভিহিত করা হয় এবং তাদের ভূখণ্ডকে 'ইয়াহুদিয়া' বলা হতে থাকে১। সমাপ্ত।

আর শেষোক্ত মতটিই—আমার দৃষ্টিতে—সঠিকতার অধিক নিকটবর্তী; যা আমরা ইতিপূর্বে বর্ণনা করেছি তার কারণে২, আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

পবিত্র কুরআন ও সুন্নাতে নববীতে 'ইয়াহুদি' শব্দের উল্লেখ বারবার এসেছে, বিশেষ করে তাদের কুফরি ও বাতিল উক্তি বর্ণনা, তাদের লাঞ্ছনা ও কেলেঙ্কারি প্রকাশ এবং তাদের চক্রান্ত ও অনিষ্ট থেকে সতর্ক করার প্রেক্ষাপটে। কেননা এই নামকরণটি তাদের প্রশংসার স্থলে আসেনি, বরং তা এসেছে তাদের নিন্দা ও তিরস্কারের স্থলে। আর সেই সত্যের ওপর প্রমাণবহ কুরআনি আয়াতসমূহের মধ্যে রয়েছে মহান আল্লাহর বাণী: {আর ইয়াহুদিরা বলে, আল্লাহর হাত রুদ্ধ হয়ে গেছে। তাদের হাতই রুদ্ধ হোক এবং তাদের এই উক্তির জন্য তারা অভিশপ্ত হোক। বরং তাঁর উভয় হাতই প্রসারিত, তিনি যেভাবে ইচ্ছা ব্যয় করেন। আপনার প্রতি আপনার রবের পক্ষ থেকে যা নাযিল করা হয়েছে, তা তাদের অনেকের অবাধ্যতা ও কুফরিকেই বৃদ্ধি করবে। আর আমরা তাদের মধ্যে কিয়ামত পর্যন্ত শত্রুতা ও বিদ্বেষ ঢেলে দিয়েছি। যখনই তারা যুদ্ধের আগুন প্রজ্বলিত করে, আল্লাহ তা নির্বাপিত করে দেন। তারা পৃথিবীতে ফাসাদ (বিপর্যয়) সৃষ্টি করে বেড়ায়, আর আল্লাহ ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের পছন্দ করেন না।} ৩।

- এবং মহান আল্লাহর বাণী: {ইয়াহুদিদের মধ্যে এমন কিছু লোক রয়েছে যারা শব্দগুলোকে তাদের স্থান থেকে বিকৃত করে এবং বলে: 'আমরা শুনলাম ও অমান্য করলাম' এবং বলে: 'শোনো, না শোনার মতো' এবং নিজেদের জিহ্বা কুঁচকিয়ে দ্বীনের প্রতি তাচ্ছিল্য প্রদর্শন করে বলে: 'রাইনা'। অথচ তারা যদি বলত: 'আমরা শুনলাম ও আনুগত্য করলাম' এবং 'শুনুন ও আমাদের প্রতি লক্ষ্য রাখুন', তবে তা তাদের জন্য কল্যাণকর ও অধিক সংগত হতো। কিন্তু আল্লাহ তাদের কুফরির কারণে তাদের অভিশপ্ত করেছেন, তাই তাদের অল্প সংখ্যক লোকই ঈমান আনে।} ৪।

- এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আপনি মুমিনদের প্রতি শত্রুতার ক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে ইয়াহুদি ও যারা...

--------------------------------------------

১ - দেখুন: তারিখুল ইসরাইলিয়্যিন (ইসরাইলিদের ইতিহাস), পৃ. ৩২।

২ - শেখ মুহাম্মদ সিদ্দিক খান (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন) তাঁর গ্রন্থ: (লাকদাতুল আজলান মিম্মা তামাচ্ছু ইলা মারিফাতিহি হাজাতুল ইনসান, পৃ. ১১১) এবং অন্যান্য গ্রন্থে এই মতটিকেই প্রাধান্য দিয়েছেন।

৩ - সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত ৬৪।

৪ - সূরা আন-নিসা, আয়াত ৪৬।
(খণ্ড: ১) মুজাযু তারিখিল ইয়াহুদ ওয়ার রাদ্দু আলা বাদি মাযায়িমিহিমুল বাতিলাহ (পৃষ্ঠা: ২৪৪)
أَشْرَكُوا وَلَتَجِدَنَّ أَقْرَبَهُم مَوَدَّةً للَّذِينَءَامَنُوا الَّذينَ قَالوآ إِنَّا نَصارَى ذَلِكَ بَأَنَّ مِنْهُم قِسِّيسِينَ وَرُهْبَاناً وَأَنَّهُم لَا يَسْتَكْبِرون} 1.

- وَقَوله تَعَالَى: {وَقَالَتِ اليَهُودُ عُزَيْرٌ ابنُ الله وَقالَتِ النَّصارَى المَسِيحُ ابنُ الله ذَلِك قَوْلهُم بِأَفْواهِهِم يُضاهِئُونَ قَوْلَ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ قَبْلُ قَاتَلَهُم الله أَنَّى يُؤْفَكُونَ} 2.

- وَقَوله تَعَالَى: {قُلْ يَا أَيُّها الَّذِينَ هَادُوا إِنْ زَعَمْتُم أَنَّكُم أَوْلِياءُ لله مِنْ دُونِ النَّاسِ فَتَمَنَّوا المَوتَ إِنْ كُنْتُم صَادِقين وَلا يَتمَنَّوْنَهُ أبدا بِمَا قَدَّمَتْ أَيدِيهِم وَالله عَلِيمٌ بِالظَّالمِين قُلْ إِنَّ المَوْتَ الَّذِي تَفِرّونَ مِنْهُ فَإِنَّهُ مُلاقِيكُم ثُمَّ تُرَدُّونَ إِلى عَالمِ الغَيْبِ وَالشَّهادَةِ فَيُنَبِّئُكُم بِمَا كُنتم تَعْمَلُون} 3.

وَغير ذَلِك من الْآيَات الْكَثِيرَة الَّتِي تَتَحَدَّث عَن الْيَهُود.

أَسمَاؤُهُم الْأُخْرَى:

للْيَهُود أَسمَاء وأوصاف أُخْرَى نذْكر مِنْهَا الْآتِي:

- أهل الْكتاب: لأَنهم يُؤمنُونَ بِالْكتاب الْمنزل على مُوسَى عليه الصلاة والسلام، وَهُوَ التَّوْرَاة، وَهَذَا الِاسْم يشْتَرك فِيهِ مَعَهم النَّصَارَى.

- أهل التَّوْرَاة: لإيمانهم بشريعة التَّوْرَاة وَأَنَّهَا مُؤَبّدَة لَا تنسخ.

- أهل السبت: لتعظيمهم يَوْم السبت وَتَحْرِيم الْعَمَل فِيهِ.

- قوم مُوسَى أَو أمة مُوسَى: لانتسابهم إِلَيْهِ وَإِلَى شَرِيعَته، واعتقادهم أَنه لَيْسَ هُنَاكَ نَبِي أفضل من مُوسَى عليه الصلاة والسلام.

- المغضوب عَلَيْهِم: لأَنهم علمُوا الْحق فَلم يعملوا بِهِ فاستحقوا غضب الله عَلَيْهِم ولعنته، قَالَ ابْن أبي حَاتِم: وَلَا أعلم بَين الْمُفَسّرين فِي هَذَا - أَي أَن المُرَاد

--------------------------------------------

1 - سُورَة الْمَائِدَة، آيَة 82.

2 - سُورَة التَّوْبَة، آيَة 30.

3 - سُورَة الْجُمُعَة، آيَة 6 - 8.
...যারা শিরক করেছে। আর আপনি মুমিনদের প্রতি ভালোবাসায় তাদের সবচেয়ে নিকটবর্তী পাবেন যারা বলে: ‘আমরা নাসারা (খ্রিস্টান)’। এটি এজন্য যে, তাদের মধ্যে অনেক আলেম ও সংসারবিরাগী দরবেশ রয়েছে এবং তারা অহংকার করে না।} ১।

- এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আর ইয়াহুদীরা বলে, ‘উযাইর আল্লাহর পুত্র’ এবং নাসারারা (খ্রিস্টানরা) বলে, ‘মসীহ আল্লাহর পুত্র’। এটি তাদের মুখের কথা। তারা তাদের পূর্ববর্তী কাফিরদের কথার অনুকরণ করে। আল্লাহ তাদের ধ্বংস করুন; তারা কোথায় বিভ্রান্ত হচ্ছে!} ২।

- এবং মহান আল্লাহর বাণী: {বলুন, ‘হে ইয়াহুদীগণ! যদি তোমরা মনে কর যে, তোমরাই আল্লাহর বন্ধু—অন্য কোনো মানুষ বাদ দিয়ে—তবে তোমরা মৃত্যু কামনা কর, যদি তোমরা সত্যবাদী হও।’ কিন্তু তাদের হাত যা আগে পাঠিয়েছে (তাদের কৃতকর্ম) তার কারণে তারা কখনোই তা কামনা করবে না। আর আল্লাহ জালিমদের সম্পর্কে সম্যক অবগত। বলুন, ‘তোমরা যে মৃত্যু থেকে পলায়ন করছ, তা অবশ্যই তোমাদের সাথে সাক্ষাৎ করবে। অতঃপর তোমরা প্রত্যানীত হবে অদৃশ্য ও দৃশ্যের পরিজ্ঞাতা আল্লাহর নিকট, তারপর তিনি তোমাদের জানিয়ে দেবেন যা তোমরা করতে’} ৩।

এ ছাড়াও ইয়াহুদীদের সম্পর্কে আরও অনেক আয়াত রয়েছে যা তাদের নিয়ে আলোচনা করে।

তাদের অন্যান্য নামসমূহ:

ইয়াহুদীদের আরও কিছু নাম ও বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা আমরা নিচে উল্লেখ করছি:

- আহলে কিতাব (কিতাবধারী): কারণ তারা মূসা (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর ওপর অবতীর্ণ কিতাব—তাওরাতের প্রতি বিশ্বাস পোষণ করে। আর এই নামে নাসারারাও তাদের অংশীদার।

- আহলে তাওরাত: কারণ তারা তাওরাতের শরীয়তের প্রতি বিশ্বাস রাখে এবং মনে করে যে এটি চিরস্থায়ী, কখনো রহিত হবে না।

- আহলে সাবত (শনিবার পালনকারী): শনিবারের প্রতি তাদের বিশেষ সম্মান প্রদর্শন এবং সেদিন কাজ করা হারাম সাব্যস্ত করার কারণে।

- কওমে মূসা বা উম্মতে মূসা: তাঁর প্রতি এবং তাঁর শরীয়তের প্রতি নিজেদের সম্বন্ধ করার কারণে এবং তাদের এই বিশ্বাসের কারণে যে, মূসা (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর চেয়ে শ্রেষ্ঠ আর কোনো নবী নেই।

- মাগদুব আলাইহিম (যাদের ওপর আল্লাহ রাগান্বিত): কারণ তারা সত্য জেনেও সে অনুযায়ী আমল করেনি, ফলে তারা আল্লাহর ক্রোধ ও অভিশাপের অধিকারী হয়েছে। ইবনে আবি হাতিম (রহ.) বলেন: মুফাসসিরগণের মধ্যে এ বিষয়ে আমি কোনো দ্বিমত জানি না যে—অর্থাৎ এর দ্বারা উদ্দেশ্য...

--------------------------------------------

১ - সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত ৮২।

২ - সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত ৩০।

৩ - সূরা আল-জুমুআহ, আয়াত ৬ - ৮।
(খণ্ড: ১) মুজাযু তারিখিল ইয়াহুদ ওয়ার রাদ্দু আলা বাদি মাযায়িমিহিমুল বাতিলাহ (পৃষ্ঠা: ২৪৫)
بقوله تَعَالَى: {غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ} 1 هم الْيَهُود – اخْتِلَافا، وَذكر الإِمَام ابْن كثير أَحَادِيث مروية فِي ذَلِك2.

--------------------------------------------

1 - سُورَة الْفَاتِحَة، آيَة 7.

2 - انْظُر: تَفْسِير ابْن كثير 1/31، 32.
আল্লাহ তাআলার বাণী: {যাদের ওপর তোমার ক্রোধ বর্ষিত হয়নি} ১ তারা হলো ইহুদি—এ বিষয়ে কোনো দ্বিমত নেই, এবং ইমাম ইবনে কাসির এই মর্মে বর্ণিত হাদিসসমূহ উল্লেখ করেছেন ২।

--------------------------------------------

১ - সূরা আল-ফাতিহা, আয়াত ৭।

২ - দেখুন: তাফসির ইবনে কাসির ১/৩১, ৩২।
(খণ্ড: ১) মুজাযু তারিখিল ইয়াহুদ ওয়ার রাদ্দু আলা বাদি মাযায়িমিহিমুল বাতিলাহ (পৃষ্ঠা: ২৪৫)
‌‌المبحث الأول: موجز تأريخ بني إِسْرَائِيل وَالْيَهُود

‌‌مدْخل

…

المبحث الأول: موجز تأريخ بني إِسْرَائِيل وَالْيَهُود

لمعْرِفَة حَقِيقَة الْيَهُود المعاصرين وَفهم ديانتهم المحرفة وَنقد كتبهمْ المقدسة لديهم، فَإِنَّهُ يَنْبَغِي دراسة تَارِيخ بني إِسْرَائِيل، لِأَن الْيَهُود جعلُوا تاريخهم الطَّوِيل جُزْءا من دينهم المنحرف وكتابهم المحرّف، واعتبروه تراثاً مقدساً يستمدون مِنْهُ شعائرهم وأخلاقهم وشعاراتهم وأفكارهم، وَإِن نظرةً سريعة إِلَى مَا تتضمنه كتبهمْ المقدسة لديهم تُبَيِّن لنا أَن ثَلَاثَة أَربَاع محتوياتها تشْتَمل على سرد تَارِيخ بني إِسْرَائِيل الطَّوِيل وَمَا جرى لَهُم من الْحَوَادِث فِي مُخْتَلف الْأَزْمِنَة والأمكنة.

يَقُول المؤرخ الْيَهُودِيّ شاهين مكاريوس: وَلَا يخفى أَن مُعظم تَارِيخ الْيَهُود حَتَّى خراب أورشليم مَأْخُوذ من التَّوْرَاة، فَهِيَ خزانَة تاريخهم وحكاية مَا حلّ بهم من الْعُبُودِيَّة وَالظُّلم، وَمَا أَصَابُوهُ من الْعِزّ والفوز والسؤدد، كَمَا أَنَّهَا كتاب وحيهم ومجموعة معتقدهم وشرائعهم الدِّينِيَّة والأدبية والمدنية، فالناظر فِي تاريخهم لَا بُد لَهُ أَن يعْتَمد التَّوْرَاة لاستخلاص أخبارهم1.

وَلما كَانَ تاريخهم طَويلا يَمْتَد لعشرات الْقُرُون، ومليئاً بالأحداث وَالرِّوَايَات والقصص، فَإِنَّهُ يصعب الْإِحَاطَة بتفاصيله فِي هَذِه الدراسة الموجزة، لَا سِيمَا وَقد

--------------------------------------------

1 - تَارِيخ الإسرائليين، ص3، 4.
প্রথম পরিচ্ছেদ: বনী ইসরাঈল ও ইয়াহূদীদের ইতিহাসের সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ

ভূমিকা

…

প্রথম পরিচ্ছেদ: বনী ইসরাঈল ও ইয়াহূদীদের ইতিহাসের সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ

সমকালীন ইয়াহূদীদের প্রকৃত রূপ উদ্ঘাটন, তাদের বিকৃত ধর্মতত্ত্ব অনুধাবন এবং তাদের নিকট পবিত্র হিসেবে গণ্য কিতাবসমূহের পর্যালোচনার জন্য বনী ইসরাঈলের ইতিহাস অধ্যয়ন করা একান্ত প্রয়োজন। কারণ, ইয়াহূদীরা তাদের দীর্ঘ ইতিহাসকে তাদের বিচ্যুত ধর্ম ও বিকৃত কিতাবের অবিচ্ছেদ্য অংশ করে নিয়েছে এবং একে এমন এক পবিত্র ঐতিহ্য হিসেবে গণ্য করে, যেখান থেকে তারা তাদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, নীতি-নৈতিকতা, স্লোগান ও চিন্তাধারা গ্রহণ করে থাকে। তাদের তথাকথিত পবিত্র গ্রন্থসমূহের বিষয়বস্তুর ওপর এক দ্রুত দৃষ্টিপাত করলেই এটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, এর তিন-চতুর্থাংশই বনী ইসরাঈলের দীর্ঘ ইতিহাসের বর্ণনা এবং বিভিন্ন সময়ে ও স্থানে তাদের সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনাবলির বিবরণে পূর্ণ।

ইয়াহূদী ঐতিহাসিক শাহীন মাকারিওস বলেন: "এটি অস্পষ্ট নয় যে, জেরুজালেম ধ্বংস হওয়ার আগ পর্যন্ত ইয়াহূদীদের ইতিহাসের অধিকাংশ তথ্যই তাওরাত থেকে গৃহীত। কারণ তাওরাত হলো তাদের ইতিহাসের ভাণ্ডার এবং তাদের ওপর আপতিত দাসত্ব ও জুলুমের কাহিনী এবং তাদের অর্জিত সম্মান, বিজয় ও নেতৃত্বের দালিলিক বিবরণ। অনুরূপভাবে, এটি তাদের ওহীর কিতাব এবং তাদের ধর্মীয়, নৈতিক ও নাগরিক বিশ্বাস ও বিধি-বিধানের সংকলন। সুতরাং তাদের ইতিহাস নিয়ে যে কেউ আলোচনা করতে চাইলে তাদের সংবাদ আহরণের জন্য তাওরাতের ওপর নির্ভর করা অপরিহার্য।"১

যেহেতু তাদের ইতিহাস অত্যন্ত দীর্ঘ, যা কয়েক শতাব্দী ব্যাপী বিস্তৃত এবং অসংখ্য ঘটনা, বর্ণনা ও কাহিনীতে ভরপুর, তাই এই সংক্ষিপ্ত গবেষণায় এর বিস্তারিত বিবরণ আয়ত্ত করা কঠিন, বিশেষ করে যখন

--------------------------------------------

১ - তারিখুল ইসরাঈলিয়্যিন, পৃষ্ঠা ৩, ৪।
(খণ্ড: ১) মুজাযু তারিখিল ইয়াহুদ ওয়ার রাদ্দু আলা বাদি মাযায়িমিহিমুল বাতিলাহ (পৃষ্ঠা: ২৪৬)
كتبت فِي تاريخهم المجلدات والرسائل الجامعية الْكَثِيرَة، وَمِنْهَا:

- كتاب (تَارِيخ بني إِسْرَائِيل من أسفارهم) - للأستاذ مُحَمَّد عزة دروزة.

- وَكتاب (التراث الإسرائيلي فِي الْعَهْد الْقَدِيم وموقف الْقُرْآن الْكَرِيم مِنْهُ) ، وَكتاب (التَّارِيخ الْيَهُودِيّ الْعَام) ، وَكتاب (بَنو إِسْرَائِيل بَين نبأ الْقُرْآن الْكَرِيم وَخبر الْعَهْد الْقَدِيم) ، وَكلهَا للدكتور صابر طعيمة.

- وَكتاب (الْيَهُود نشأتهم وعقيدتهم) ، زكي شنودة.

- وَكتاب (الْيَهُود فِي تَارِيخ الحضارات الأولى) ، للدكتور غوستاف لوبون، وَغَيرهَا من المؤلفات العديدة.

لذَلِك سنكتفي فِي هَذِه الدراسة بموجز عَن تَارِيخ بني إِسْرَائِيل وأبرز الْأَحْدَاث الَّتِي مرت بهم خلال تاريخهم الطَّوِيل فِي النقاط الْآتِيَة:
তাদের ইতিহাস প্রসঙ্গে বহু খণ্ড এবং অসংখ্য গবেষণামূলক নিবন্ধ রচিত হয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

- অধ্যাপক মুহাম্মদ ইজ্জত দারওয়াজা রচিত ‘তারিখ বনী ইসরাঈল মিন আসফারিহিম’ (তাদের ধর্মগ্রন্থসমূহের আলোকে বনী ইসরাঈলের ইতিহাস) গ্রন্থটি।

- এবং ডক্টর সাবের তুয়াইমা রচিত ‘আত-তুরাছুল ইসরাঈলী ফিল আহদিল ক্বাদিম ওয়া মাওকিফুল কুরআনিল কারীম মিনহু’ (পুরাতন নিয়মে ইসরাঈলী ঐতিহ্য এবং এ বিষয়ে পবিত্র কুরআনের অবস্থান), ‘আত-তারিখুল ইয়াহুদিল আম্ম’ (ইহুদি জাতির সাধারণ ইতিহাস) এবং ‘বানু ইসরাঈল বাইনা নাবাইল কুরআনিল কারীম ওয়া খাবারিল আহদিল ক্বাদিম’ (পবিত্র কুরআনের সংবাদ ও পুরাতন নিয়মের বিবরণের প্রেক্ষাপটে বনী ইসরাঈল) গ্রন্থসমূহ।

- এবং জাকি শিনুদা রচিত ‘আল-ইয়াহুদ নাশআতুহুম ওয়া আক্বিদাতুহুম’ (ইহুদি জাতি: তাদের উৎপত্তি ও বিশ্বাস) গ্রন্থটি।

- এবং ডক্টর গুস্তাভ লো বঁ রচিত ‘আল-ইয়াহুদ ফী তারিখিল হাদারাতিল উলা’ (প্রাচীন সভ্যতার ইতিহাসে ইহুদিগণ) গ্রন্থসহ আরও অসংখ্য রচনা।

তাই আমরা অত্র গবেষণায় বনী ইসরাঈলের ইতিহাস এবং তাদের সুদীর্ঘ ইতিহাসে অতিক্রান্ত প্রধান ঘটনাবলির একটি সংক্ষিপ্ত সারমর্ম নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর মাধ্যমে উপস্থাপনে সীমাবদ্ধ থাকব:
(খণ্ড: ১) মুজাযু তারিখিল ইয়াহুদ ওয়ার রাদ্দু আলা বাদি মাযায়িমিহিমুল বাতিলাহ (পৃষ্ঠা: ২৪৬)
‌‌الْمطلب الأول: بَدْء تاريخهم.

- إِن تاريخهم يبْدَأ من إِسْرَائِيل – وَهُوَ يَعْقُوب بن إِسْحَاق بن إِبْرَاهِيم الْخَلِيل عَلَيْهِم الصَّلَاة وَالسَّلَام - الَّذِي نَشأ وعاش فِي أَرض الكنعانيين (أَرض فلسطين) ، وَقد ولد لَهُ اثْنَا عشر ولدا من أَربع نسْوَة وهم كالآتي:

- رأوبين، شَمْعُون، لاوي، يهوذا، يسّاكَرُ، زبلون - وأمهم ليئة.

- يُوسُف عليه الصلاة والسلام، بنيامين - وأمهما راحيل.

- دَان، نفْتالي - وأمهما بِلْهة جَارِيَة راحيل.

- جاد، أُشير – وأمهما زِلفة جَارِيَة ليئة1.

وَهَؤُلَاء الْأَوْلَاد الإثنا عشر هم أصل الأسباط الإسرائيليين.

--------------------------------------------

1 - انْظُر: سفر التكوين 35/33.
প্রথম পরিচ্ছেদ: তাদের ইতিহাসের সূচনা.

- তাদের ইতিহাস শুরু হয় ইসরাঈল থেকে—যিনি হলেন ইব্রাহিম খলিল-এর পুত্র ইসহাকের পুত্র ইয়াকুব (তাঁদের সবার ওপর দরুদ ও শান্তি বর্ষিত হোক)—যিনি কেনানীয়দের ভূখণ্ডে (ফিলিস্তিন ভূমি) লালিত-পালিত হয়েছেন ও বসবাস করেছেন। চারজন স্ত্রীর গর্ভে তাঁর বারোটি সন্তান জন্মগ্রহণ করেন, তাঁরা হলেন নিম্নরূপ:

- রুবেন, শিমোন, লেবি, ইহুদা, ইশাখর ও জেবুলুন—তাঁদের মাতা হলেন লিয়া।

- ইউসুফ (তাঁর ওপর দরুদ ও শান্তি বর্ষিত হোক) ও বিনইয়ামিন—তাঁদের মাতা হলেন রাহিল।

- দান ও নাফতালি—তাঁদের মাতা হলেন বিলহা, যিনি রাহিলের দাসী ছিলেন।

- গাদ ও আশের—তাঁদের মাতা হলেন জিলপা, যিনি লিয়ার দাসী ছিলেন।১

এই বারোজন সন্তানই হলেন ইসরাঈলী গোত্রসমূহের (আসবাত) মূল উৎস।

--------------------------------------------

১ - দেখুন: আদিপুস্তক ৩৫/৩৩।
(খণ্ড: ১) মুজাযু তারিখিল ইয়াহুদ ওয়ার রাদ্দু আলা বাদি মাযায়িমিহিমুল বাতিলাহ (পৃষ্ঠা: ২৪৭)
- ثمَّ قصَّة يُوسُف عليه الصلاة والسلام الْمَشْهُورَة مَعَ إخْوَته وأبيهم يَعْقُوب عليه الصلاة والسلام، وانتقال إِسْرَائِيل (يَعْقُوب) وبنيه للعيش فِي أَرض مصر معززين مكرّمين فِي ظلّ يُوسُف عَلَيْهِ الصَّلَاة وَالسَّلَام1.

- وَبعد وَفَاة يَعْقُوب ويوسف عَلَيْهِمَا الصَّلَاة وَالسَّلَام وتوالي السنون وتعاقب الْمُلُوك، تغير حَال بني إِسْرَائِيل فِي مصر من الْعِزَّة والكرامة إِلَى المذلة والمهانة، لِأَن فِرْعَوْن مصر اضطهد بني إِسْرَائِيل واستعبدهم2 قَالَ تَعَالَى: {وَإِذْ نَجَّيْنَاكُمْ مِنْ آلِ فِرْعَوْنَ يَسُومُونَكُمْ سُوءَ الْعَذَابِ يُذَبِّحُونَ أَبْنَاءَكُمْ وَيَسْتَحْيُونَ نِسَاءَكُمْ وَفِي ذَلِكُمْ بَلاءٌ مِنْ رَبِّكُمْ عَظِيمٌ} 3.

--------------------------------------------

1 - وَردت الْقِصَّة مفصلة فِي سُورَة يُوسُف، وَفِي سفر التكوين من الإصحاح 37 - إِلَى الإصحاح 45.

2 - ذكرت عدَّة أَسبَاب لذَلِك الإضطهاد، مِنْهَا:

أ - أَن فِرْعَوْن رأى رُؤْيا أفزعته مضمونها أَن زَوَال ملكه سَيكون على يَد رجل من بني إِسْرَائِيل. (انْظُر: تَفْسِير ابْن كثير 1/93) .

ب - لخشيته من تكاثر عَددهمْ واستفحال نفوذهم. (سفر الْخُرُوج 1/8، 9) .

ج - أَن زمن دُخُول بني إِسْرَائِيل إِلَى مصر كَانَ فِي فَتْرَة حكم مُلُوك الرُّعَاة (الهكسوس) غزَاة أَرض مصر، وحينما طرد المصريون الهكسوس من أَرضهم واستعادوا ملكهم فَإِنَّهُم اضطهدوا بني إِسْرَائِيل المتعاونين مَعَ الْحُكَّام السَّابِقين. (انْظُر: قصَص الْأَنْبِيَاء ص153، 154 عبد الْوَهَّاب النجار، الْيَهُودِيَّة 51 - 54، 59 - 61 د. شلبي) .

3 - سُورَة الْبَقَرَة، آيَة 49.
- এরপর ইউসুফ আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম-এর তাঁর ভাইদের সাথে এবং তাঁদের পিতা ইয়াকুব আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম-এর সাথে সেই বিখ্যাত কাহিনী, এবং ইসরাঈল (ইয়াকুব) ও তাঁর সন্তানদের ইউসুফ আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম-এর ছত্রছায়ায় সসম্মানে ও মর্যাদার সাথে বসবাস করার জন্য মিসর ভূমিতে স্থানান্তরের ঘটনা১।

- ইয়াকুব ও ইউসুফ আলাইহিমাস সালাতু ওয়াস সালাম-এর ইন্তেকালের পর এবং দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার সাথে সাথে ও একের পর এক রাজার পরিবর্তনের ফলে, মিসরে বনী ইসরাঈলের অবস্থা সম্মান ও মর্যাদা থেকে লাঞ্ছনা ও অপমানে পরিবর্তিত হয়ে যায়; কারণ মিসরের ফেরাউন বনী ইসরাঈলের ওপর নিপীড়ন চালায় এবং তাদেরকে দাসে পরিণত করে২। মহান আল্লাহ বলেন: {এবং স্মরণ করো, যখন আমি তোমাদেরকে ফেরাউনের বংশধরদের হাত থেকে রক্ষা করেছিলাম, যারা তোমাদেরকে নিকৃষ্টতম শাস্তি দিচ্ছিল; তারা তোমাদের পুত্রদের জবেহ করত এবং তোমাদের নারীদের জীবিত রাখত। আর এতে তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে এক মহাপরীক্ষা ছিল} ৩।

--------------------------------------------

১ - এই কাহিনীটি সূরা ইউসুফে এবং আদিপুস্তক (বুক অফ জেনেসিস)-এর ৩৭ থেকে ৪৫ অধ্যায়ে বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে।

২ - সেই নিপীড়নের বেশ কিছু কারণ উল্লেখ করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:

ক - ফেরাউন এমন একটি ভীতিকর স্বপ্ন দেখেছিল যার সারমর্ম ছিল এই যে, তার রাজত্বের পতন ঘটবে বনী ইসরাঈলের এক ব্যক্তির হাতে। (দেখুন: তাফসীর ইবনে কাসীর ১/৯৩)।

খ - তাদের জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং প্রভাব প্রতিপত্তি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায়। (যাত্রাপুস্তক/বুক অফ এক্সোডাস ১/৮, ৯)।

গ - বনী ইসরাঈলের মিসরে প্রবেশের সময়কালটি ছিল মিসর আক্রমণকারী ‘রাখাল রাজা’ (হিকসোস)-দের শাসনকাল। যখন মিসরীয়রা তাদের ভূমি থেকে হিকসোসদের বিতাড়িত করে এবং তাদের রাজত্ব পুনরুদ্ধার করে, তারা পূর্ববর্তী শাসকদের সহযোগিতাকারী বনী ইসরাঈলের ওপর নিপীড়ন শুরু করে। (দেখুন: কাসাসুল আম্বিয়া পৃষ্ঠা ১৫৩, ১৫৪ আব্দুল ওয়াহাব আল-নাজ্জার; আল-ইয়াহুদিয়্যাহ ৫১ - ৫৪, ৫৯ - ৬১ ড. শালবী)।

৩ - সূরা আল-বাকারা, আয়াত ৪৯।
(খণ্ড: ১) মুজাযু তারিখিল ইয়াহুদ ওয়ার রাদ্দু আলা বাদি মাযায়িমিহিমুল বাতিলাহ (পৃষ্ঠা: ২৪৭)
‌‌الْمطلب الثَّانِي: قوم مُوسَى.

- فَأرْسل الله تبارك وتعالى مُوسَى وَهَارُون عَلَيْهِمَا الصَّلَاة وَالسَّلَام ابْني عْمرام بن قَهَات بن لاوي بن يَعْقُوب1عَلَيْهِ الصَّلَاة وَالسَّلَام إِلَى فِرْعَوْن وَقَومه مؤيّدين بالمعجزات لدعوتهم إِلَى الْإِيمَان بِاللَّه وَحده وَرفع الْعَذَاب عَن بني

--------------------------------------------

1 - سلسلة النّسَب من سفر التكوين 6/16 - 20، وَقد عَاشَ مُوسَى فِي الْقرن الثَّانِي عشر قبل الميلاد تَقْرِيبًا.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: মুসা (আ.)-এর কওম.

- অতঃপর আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা মুসা ও হারুন (আলাইহিমাস সালাতু ওয়াস সালাম)-কে—যাঁরা ছিলেন ইমরান বিন কহাত বিন লাবি বিন ইয়াকুব ১ (আলাইহিস সালাম)-এর দুই পুত্র—ফেরাউন ও তার কওমের নিকট মুজেযাসমূহ দ্বারা শক্তিশালী করে প্রেরণ করেন, যেন তাঁরা তাদেরকে কেবল এক আল্লাহর প্রতি ঈমান আনার দাওয়াত প্রদান করেন এবং বনী [ইসরাঈলের] ওপর হতে নিপীড়ন দূর করেন।

--------------------------------------------

১ - বংশপরম্পরার এই তালিকা ‘সফরুত তাকউইন’ (বুক অব জেনেসিস) ৬/১৬-২০ হতে গৃহীত। আর মুসা (আ.) আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব দ্বাদশ শতাব্দীতে জীবিত ছিলেন।
(খণ্ড: ১) মুজাযু তারিখিল ইয়াহুদ ওয়ার রাদ্দু আলা বাদি মাযায়িমিহিমুল বাতিলাহ (পৃষ্ঠা: ২৪৮)
إِسْرَائِيل، فكذب فِرْعَوْن وَقَومه وعصوا وَكَفرُوا بِاللَّه وآياته، فَأمر الله رَسُوله مُوسَى أَن يخرج ببني إِسْرَائِيل من مصر، فأتبعهم فِرْعَوْن بجُنُوده، فأغرقهم الله فِي اليمّ، ونَجَّا مُوسَى وَقَومه إِلَى أَرض سيناء.

- وَكَانَ قوم مُوسَى عليه الصلاة والسلام من بني إِسْرَائِيل - الَّذين خرج بهم من مصر - قد عاشوا فِي الْعُبُودِيَّة والذل والوثنية سنوات مديدة، ففسدت عقائدهم وخبثت نُفُوسهم وضعفت همتهم وَظهر عنادهم وكسلهم وتواكلهم وتخاذلهم وعصيانهم لأمر الله وَرَسُوله، ونريد أَن نقف هُنَا بعض الوقفات لنبين بعض أَخْلَاق سلف الْيَهُود وآبائهم مِمَّن كَانُوا مَعَ مُوسَى عليه الصلاة والسلام فِي الْأُمُور الْآتِيَة:

- أَنهم شكّوا فِي موت فِرْعَوْن بعد أَن أغرقه الله فِي الْبَحْر، فَأمر الله تَعَالَى الْبَحْر أَن يلقيه بجسده سوياً بِلَا روح1. قَالَ تَعَالَى: {فَالْيَوْمَ نُنَجِّيكَ بِبَدَنِكَ لِتَكُونَ لِمَنْ خَلْفَكَ آيَةً وَإِنَّ كَثِيراً مِنَ النَّاسِ عَنْ آيَاتِنَا لَغَافِلُونَ} 2.

- وَلما جاوزوا الْبَحْر ونجوا قَالَ تَعَالَى: {وَجَاوَزْنَا بِبَنِي إِسْرائيلَ الْبَحْرَ فَأَتَوْا عَلَى قَوْمٍ يَعْكُفُونَ عَلَى أَصْنَامٍ لَهُمْ قَالُوا يَا مُوسَى اجْعَلْ لَنَا إِلَهاً كَمَا لَهُمْ آلِهَةٌ قَالَ إِنَّكُمْ قَوْمٌ تَجْهَلُونَ إِنَّ هَؤُلاءِ مُتَبَّرٌ مَا هُمْ فِيهِ وَبَاطِلٌ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ} 3.

- وحينما وصلوا إِلَى صحراء سيناء وأحسوا بالعطش تذمروا وَشَكوا إِلَى مُوسَى عَلَيْهِ الصَّلَاة وَالسَّلَام4 قَالَ تَعَالَى: {وَإِذِ اسْتَسْقَى مُوسَى لِقَوْمِهِ فَقُلْنَا اضْرِبْ

--------------------------------------------

1 - انْظُر: تَفْسِير ابْن كثير 2/446.

2 - سُورَة يُونُس، آيَة 92.

3 - سُورَة الْأَعْرَاف، آيَة 138 - 139.

4 - انْظُر: سفر الْخُرُوج 17/1 - 7.
ইসরাঈল, অতঃপর ফিরআউন ও তার সম্প্রদায় মিথ্যাচার করল, অবাধ্য হলো এবং আল্লাহ ও তাঁর নিদর্শনাবলির প্রতি কুফরি করল। ফলে আল্লাহ তাঁর রাসূল মূসাকে বনী ইসরাঈলকে নিয়ে মিশর থেকে বের হওয়ার নির্দেশ দিলেন। ফিরআউন তার বাহিনী নিয়ে তাদের পিছু নিল, অতঃপর আল্লাহ তাদের সমুদ্রে নিমজ্জিত করলেন এবং মূসা ও তাঁর সম্প্রদায়কে উদ্ধার করে সিনাই ভূমিতে পৌঁছে দিলেন।

- আর মূসা আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের কওম বনী ইসরাঈল—যাদের নিয়ে তিনি মিশর থেকে বের হয়েছিলেন—দীর্ঘ বছর যাবৎ দাসত্ব, লাঞ্ছনা ও মূর্তিপূজার মধ্যে অতিবাহিত করেছিল। ফলে তাদের আকিদা কলুষিত হয়েছিল, তাদের অন্তরসমূহ মন্দ হয়ে গিয়েছিল, তাদের মনোবল দুর্বল হয়ে পড়েছিল এবং তাদের মধ্যে হঠকারিতা, অলসতা, পরনির্ভরশীলতা, পারস্পরিক অসহযোগিতা এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নির্দেশের অবাধ্যতা প্রকাশ পেয়েছিল। আমরা এখানে কিছুটা বিরতি দিয়ে মূসা আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের সাথে থাকা ইহুদিদের পূর্বপুরুষদের কিছু চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য নিমোক্ত বিষয়গুলোর মাধ্যমে স্পষ্ট করতে চাই:

- আল্লাহ ফিরআউনকে সমুদ্রে নিমজ্জিত করার পর তারা তার মৃত্যু নিয়ে সন্দেহ পোষণ করেছিল। ফলে মহান আল্লাহ সমুদ্রকে নির্দেশ দিলেন তার দেহটি প্রাণহীন কিন্তু পূর্ণাঙ্গ অবস্থায় তীরে নিক্ষেপ করতে ১। মহান আল্লাহ বলেন: {আজ আমি তোমার দেহটি রক্ষা করব, যাতে তুমি তোমার পরবর্তী প্রজন্মের জন্য নিদর্শন হয়ে থাকো। আর নিশ্চয়ই মানুষের মধ্যে অনেকেই আমার নিদর্শনাবলি সম্পর্কে উদাসীন।} ২।

- আর যখন তারা সমুদ্র পাড়ি দিল এবং নাজাত পেল, তখন আল্লাহ তাআলা বলেন: {আমি বনী ইসরাঈলকে সমুদ্র পার করে দিলাম, তখন তারা এমন এক সম্প্রদায়ের কাছে পৌঁছাল যারা তাদের মূর্তিপূজায় লিপ্ত ছিল। তারা বলল, "হে মূসা! তাদের যেমন উপাস্য রয়েছে, আমাদের জন্যও তেমনি একজন উপাস্য নির্ধারণ করে দিন।" মূসা বললেন, "নিশ্চয়ই তোমরা এক জাহেল বা মূর্খ সম্প্রদায়। এরা যাতে লিপ্ত রয়েছে তা ধ্বংস হবে এবং তারা যা করছে তা বাতিল।"’} ৩।

- আর যখন তারা সিনাই মরুভূমিতে পৌঁছাল এবং তৃষ্ণা অনুভব করল, তারা অসন্তোষ প্রকাশ করল এবং মূসা আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের কাছে অভিযোগ করল ৪। মহান আল্লাহ বলেন: {আর যখন মূসা তার সম্প্রদায়ের জন্য পানি প্রার্থনা করল, তখন আমি বললাম, আঘাত করো...

--------------------------------------------

১ - দেখুন: তাফসীরে ইবনে কাসীর ২/৪৪৬।

২ - সূরা ইউনুস, আয়াত ৯২।

৩ - সূরা আল-আরাফ, আয়াত ১৩৮-১৩৯।

৪ - দেখুন: যাত্রাপুস্তক ১৭/১-৭।
(খণ্ড: ১) মুজাযু তারিখিল ইয়াহুদ ওয়ার রাদ্দু আলা বাদি মাযায়িমিহিমুল বাতিলাহ (পৃষ্ঠা: ২৪৯)
بِعَصَاكَ الْحَجَرَ فَانْفَجَرَتْ مِنْهُ اثْنَتَا عَشْرَةَ عَيْناً قَدْ عَلِمَ كُلُّ أُنَاسٍ مَشْرَبَهُمْ كُلُوا وَاشْرَبُوا مِنْ رِزْقِ اللَّهِ وَلا تَعْثَوْا فِي الأَرْضِ مُفْسِدِينَ} 1.

- وَبعد أَن شربوا وأطفؤا ظمأهم جأروا بالشكوى إِلَى مُوسَى من الْجُوع وسألوا الطَّعَام2 قَالَ تَعَالَى: {يَا بَنِي إِسْرائيلَ قَدْ أَنْجَيْنَاكُمْ مِنْ عَدُوِّكُمْ وَوَاعَدْنَاكُمْ جَانِبَ الطُّورِ الْأَيْمَنَ وَنَزَّلْنَا عَلَيْكُمُ الْمَنَّ وَالسَّلْوَى} 3.

وَعَن ابْن عَبَّاس رضي الله عنهما قَالَ: كَانَ المنّ ينزل عَلَيْهِم على الْأَشْجَار، فيغدون إِلَيْهِ فَيَأْكُلُونَ مِنْهُ مَا شاؤا، والسلوى طَائِر يشبه بالسماني كَانُوا يَأْكُلُون مِنْهُ4.

- ثمَّ طلبُوا بعد ذَلِك الْمَكَان الظليل الَّذِي يقيهم من حر الصَّحرَاء فَسَأَلَ مُوسَى عليه الصلاة والسلام ربه ذَلِك، قَالَ تَعَالَى: {وَظَلَّلْنَا عَلَيْكُمُ الْغَمَامَ وَأَنْزَلْنَا عَلَيْكُمُ الْمَنَّ وَالسَّلْوَى كُلُوا مِنْ طَيِّبَاتِ مَا رَزَقْنَاكُمْ وَمَا ظَلَمُونَا وَلَكِنْ كَانُوا أَنْفُسَهُمْ يَظْلِمُونَ} 5.

وعَلى الرغم من كَثْرَة الْآيَات والمعجزات من الله عز وجل لقوم مُوسَى، فقد أظهرُوا العناد والمكابرة وَعدم الْإِيمَان حَتَّى يرَوا الله جهرة، قَالَ تَعَالَى: {وَإِذْ قُلْتُمْ يَا مُوسَى لَنْ نُؤْمِنَ لَكَ حَتَّى نَرَى اللَّهَ جَهْرَةً فَأَخَذَتْكُمُ الصَّاعِقَةُ وَأَنْتُمْ تَنْظُرُونَ ثُمَّ

--------------------------------------------

1 - سُورَة الْبَقَرَة، آيَة 60.

2 - انْظُر: سفر الْخُرُوج صَحَّ16.

3 - سُورَة طه، آيَة 80.

4 - ذكره الإِمَام ابْن كثير فِي تَفْسِيره 1/98 - 100، كَمَا ذكر أقوالاً أُخْرَى فِي تَعْرِيف الْمَنّ والسلوى.

5 - سُورَة الْبَقَرَة، آيَة 57. وَانْظُر: تَفْسِير ابْن كثير 1/100 - 101، فِيمَا نَقله عَن السّديّ ووهب بن مُنَبّه وَغَيرهمَا فِي تَفْسِير الْآيَات الْكَرِيمَة السَّابِقَة.
"...তোমার লাঠি দ্বারা পাথরে আঘাত করো। ফলে তা থেকে বারোটি প্রস্রবণ প্রবাহিত হলো। প্রতিটি গোত্র নিজ নিজ পানস্থল চিনে নিল। (বলা হলো,) আল্লাহর দেওয়া রিযিক থেকে তোমরা আহার করো ও পান করো এবং পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করে বেড়িয়ো না।"} ১।

- তারা পান করার পর এবং তাদের তৃষ্ণা নিবারণ করার পর ক্ষুধার কারণে মূসার কাছে আর্তনাদ করে অভিযোগ করল এবং খাদ্য চাইল ২। মহান আল্লাহ বলেন: {হে বনী ইসরাঈল! আমি তোমাদেরকে তোমাদের শত্রু থেকে উদ্ধার করেছি, আমি তোমাদেরকে তূর পাহাড়ের ডান দিকের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম এবং আমি তোমাদের প্রতি 'মান্না' ও 'সালওয়া' অবতীর্ণ করেছি} ৩।

ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: গাছপালার ওপর তাদের জন্য 'মান্না' অবতীর্ণ হতো, তারা ভোরে সেখানে যেত এবং তা থেকে যা ইচ্ছা আহার করত। আর 'সালওয়া' হলো বটেরা পাখির মতো এক প্রকার পাখি, যা তারা আহার করত ৪।

- এরপর তারা এমন ছায়াযুক্ত স্থানের প্রার্থনা করল যা তাদের মরুভূমির উত্তাপ থেকে রক্ষা করবে। তখন মূসা (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) তাঁর রবের কাছে তা প্রার্থনা করলেন। মহান আল্লাহ বলেন: {আর আমি তোমাদের ওপর মেঘমালার ছায়া দান করেছি এবং তোমাদের ওপর 'মান্না' ও 'সালওয়া' অবতীর্ণ করেছি। (আমি বলেছি,) তোমরা সেই পবিত্র বস্তুসমূহ আহার করো যা আমি তোমাদের রিযিক হিসেবে দান করেছি। তারা আমার কোনো ক্ষতি করেনি, বরং তারা নিজেদেরই ক্ষতি করছিল} ৫।

মূসার কওমের জন্য মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে অসংখ্য নিদর্শন ও অলৌকিক ঘটনা প্রকাশ পাওয়া সত্ত্বেও তারা হঠকারিতা, অহংকার এবং ততক্ষণ পর্যন্ত ঈমান না আনার অবাধ্যতা প্রদর্শন করল যতক্ষণ না তারা আল্লাহকে প্রকাশ্য দিবালোকে দেখতে পায়। মহান আল্লাহ বলেন: {স্মরণ করো, যখন তোমরা বলেছিলে, হে মূসা! আমরা কখনই তোমার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করব না যতক্ষণ না আমরা আল্লাহকে প্রকাশ্যে দেখতে পাই; তখন তোমাদেরকে বজ্রপাত পাকড়াও করল, আর তোমরা তা প্রত্যক্ষ করছিলে। এরপর...

--------------------------------------------

১ - সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত ৬০।

২ - দেখুন: হিজরত পুস্তক (এক্সোডাস), অধ্যায় ১৬।

৩ - সূরা ত্বহা, আয়াত ৮০।

৪ - ইমাম ইবনে কাসীর তাঁর তাফসীরে ১/৯৮ - ১০০ এটি উল্লেখ করেছেন। এছাড়া তিনি 'মান্না' ও 'সালওয়া'-এর সংজ্ঞায় অন্যান্য মতামতও উল্লেখ করেছেন।

৫ - সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত ৫৭। আরও দেখুন: তাফসীরে ইবনে কাসীর ১/১০০ - ১০১, যেখানে তিনি পূর্বোক্ত সম্মানিত আয়াতগুলোর তাফসীরে সুদ্দী, ওয়াহাব ইবনে মুনাব্বিহ ও অন্যান্যদের থেকে বর্ণনা উদ্ধৃত করেছেন।
(খণ্ড: ১) মুজাযু তারিখিল ইয়াহুদ ওয়ার রাদ্দু আলা বাদি মাযায়িমিহিমুল বাতিলাহ (পৃষ্ঠা: ২৫০)
بَعَثْنَاكُمْ مِنْ بَعْدِ مَوْتِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ} 1. وَقَالَ تَعَالَى: {يَسْأَلُكَ أَهْلُ الْكِتَابِ أَنْ تُنَزِّلَ عَلَيْهِمْ كِتَاباً مِنَ السَّمَاءِ فَقَدْ سَأَلُوا مُوسَى أَكْبَرَ مِنْ ذَلِكَ فَقَالُوا أَرِنَا اللَّهَ جَهْرَةً فَأَخَذَتْهُمُ الصَّاعِقَةُ بِظُلْمِهِمْ ثُمَّ اتَّخَذُوا الْعِجْلَ مِنْ بَعْدِ مَا جَاءَتْهُمُ الْبَيِّنَاتُ فَعَفَوْنَا عَنْ ذَلِكَ وَآتَيْنَا مُوسَى سُلْطَاناً مُبِيناً} 2.

وَبعد هَذِه المعجزات والآيات الْبَينَات الَّتِي امتن الله بهَا على بني إِسْرَائِيل فَإِنَّهُم – حينما ذهب مُوسَى عليه الصلاة والسلام لميقات ربه لأخذ التَّوْرَاة على جبل طور سيناء واستبطأوا رُجُوعه - رجعُوا إِلَى مَا ألفوه من الوثنية بِمصْر فعبدوا الْعجل3، قَالَ تَعَالَى: {وَاتَّخَذَ قَوْمُ مُوسَى مِنْ بَعْدِهِ مِنْ حُلِيِّهِمْ عِجْلاً جَسَداً لَهُ خُوَارٌ أَلَمْ يَرَوْا أَنَّهُ لَا يُكَلِّمُهُمْ وَلا يَهْدِيهِمْ سَبِيلاً اتَّخَذُوهُ وَكَانُوا ظَالِمِينَ وَلَمَّا سُقِطَ فِي أَيْدِيهِمْ وَرَأَوْا أَنَّهُمْ قَدْ ضَلُّوا قَالُوا لَئِنْ لَمْ يَرْحَمْنَا رَبُّنَا وَيَغْفِرْ لَنَا لَنَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ} 4، وَمَعَ فداحة الذَّنب وَعظم الْخَطِيئَة فَإِن رَحْمَة الله عز وجل أكبر، وعفوه تبارك وتعالى أوسع وَأعظم قَالَ تَعَالَى: {وَإِذْ وَاعَدْنَا مُوسَى أَرْبَعِينَ لَيْلَةً ثُمَّ اتَّخَذْتُمُ الْعِجْلَ مِنْ بَعْدِهِ وَأَنْتُمْ ظَالِمُونَ ثُمَّ عَفَوْنَا عَنْكُمْ مِنْ بَعْدِ ذَلِكَ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ} 5.

--------------------------------------------

1 - سُورَة الْبَقَرَة، آيَة 55 - 56.

2 - سُورَة النِّسَاء، آيَة 153.

3 - انْظُر: سفر الْخُرُوج صَحَّ 32، وتتهم توراة الْيَهُود هَارُون عليه الصلاة والسلام بِأَنَّهُ صنع الْعجل لبني إِسْرَائِيل وَأمرهمْ بِعِبَادَتِهِ، وَقد برّأ الله عز وجل فِي الْقُرْآن الْكَرِيم هَارُون عليه الصلاة والسلام من هَذِه التُّهْمَة الْبَاطِلَة وكشف عَن المجرم الْحَقِيقِيّ وَهُوَ السامري. قَالَ تَعَالَى: {قَالُوا مَا أَخْلَفْنَا مَوْعِدَكَ بِمَلْكِنَا وَلَكِنَّا حُمِّلْنَا أَوْزَاراً مِنْ زِينَةِ الْقَوْمِ فَقَذَفْنَاهَا فَكَذَلِكَ أَلْقَى السَّامِرِيُّ فَأَخْرَجَ لَهُمْ عِجْلاً جَسَداً لَهُ خُوَارٌ فَقَالُوا هَذَا إِلَهُكُمْ وَإِلَهُ مُوسَى فَنَسِيَ} . [سُورَة طه، آيَة 87، 88] .

4 - سُورَة الْأَعْرَاف، آيَة 148 - 149.

5 - سُورَة الْبَقَرَة، آيَة 51، 52.
তোমাদের মৃত্যুর পর আমি তোমাদের পুনরায় জীবিত করলাম যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো} ১। এবং মহান আল্লাহ বলেন: {আহলে কিতাব আপনার কাছে দাবি জানায় যে, আপনি আকাশ থেকে তাদের কাছে একটি কিতাব অবতীর্ণ করুন। তারা তো মুসার কাছে এর চেয়েও বড় দাবি করেছিল। তারা বলেছিল: আমাদের সশরীরে আল্লাহকে দেখাও। ফলে তাদের সীমালঙ্ঘনের কারণে বজ্রপাত তাদের পাকড়াও করল। এরপর তাদের কাছে সুস্পষ্ট নিদর্শন আসার পরেও তারা বাছুরকে উপাস্য হিসেবে গ্রহণ করেছিল; আমি তাও ক্ষমা করে দিয়েছিলাম এবং মুসাকে দান করেছিলাম স্পষ্ট আধিপত্য।} ২।

বনি ইসরায়েলের প্রতি মহান আল্লাহ যে সকল অলৌকিক নিদর্শন ও সুস্পষ্ট প্রমাণাদির মাধ্যমে অনুগ্রহ করেছেন, এরপর যখন মুসা (আলাইহিস সালাম) তাঁর রবের সাথে সাক্ষাতের নির্ধারিত সময়ে সিনাই পাহাড়ে তাওরাত গ্রহণের জন্য গমন করলেন এবং তাঁর ফিরতে বিলম্ব হলো—তখন তারা মিশরে অভ্যস্ত সেই মূর্তিপূজার দিকে ফিরে গেল এবং বাছুরের পূজা শুরু করল ৩। মহান আল্লাহ বলেন: {আর মুসার সম্প্রদায়ের লোকেরা তাঁর অনুপস্থিতিতে নিজেদের অলঙ্কার দিয়ে একটি বাছুরের অবয়ব তৈরি করল, যা হাম্বা রব করত। তারা কি দেখল না যে, সেটি তাদের সাথে কথাও বলে না এবং তাদের পথও দেখায় না? তারা সেটিকে উপাস্য বানিয়েছিল এবং তারা ছিল জালিম। আর যখন তারা অনুতপ্ত হলো এবং বুঝতে পারল যে তারা পথভ্রষ্ট হয়েছে, তখন তারা বলতে লাগল: যদি আমাদের রব আমাদের প্রতি দয়া না করেন এবং আমাদের ক্ষমা না করেন, তবে অবশ্যই আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হব।} ৪। আর এই ভয়াবহ পাপ ও বিশাল অপরাধ সত্ত্বেও মহান আল্লাহর রহমত আরও অধিক এবং তাঁর ক্ষমা অত্যন্ত মহৎ ও মহান। মহান আল্লাহ বলেন: {আর স্মরণ করো, যখন আমি মুসার সাথে চল্লিশ রাতের ওয়াদা করেছিলাম, তারপর তোমরা তাঁর অনুপস্থিতিতে বাছুরকে উপাস্য হিসেবে গ্রহণ করেছিলে এবং তোমরা ছিলে জালিম। এরপরও আমি তোমাদের ক্ষমা করে দিয়েছি যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো।} ৫।

--------------------------------------------

১ - সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত ৫৫ - ৫৬।

২ - সূরা আন-নিসা, আয়াত ১৫৩।

৩ - দেখুন: যাত্রাপুস্তক, অধ্যায় ৩২। ইয়াহুদিদের তাওরাতে হারুন (আলাইহিস সালাম)-এর প্রতি এই অপবাদ আরোপ করা হয়েছে যে, তিনি বনি ইসরায়েলের জন্য বাছুরটি তৈরি করেছিলেন এবং তাদের সেটির পূজা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। অথচ মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে হারুন (আলাইহিস সালাম)-কে এই মিথ্যা অভিযোগ থেকে মুক্ত করেছেন এবং প্রকৃত অপরাধীকে উন্মোচিত করেছেন, যে হলো সামেরি। মহান আল্লাহ বলেন: {তারা বলল, আমরা আপনার সাথে কৃত ওয়াদা আমাদের স্বইচ্ছায় ভঙ্গ করিনি; বরং আমাদের ওপর জাতির অলঙ্কারের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল, যা আমরা নিক্ষেপ করেছি; অনুরূপভাবে সামেরিও তা নিক্ষেপ করেছে। অতঃপর সে তাদের জন্য একটি বাছুরের অবয়ব বের করে আনল যা হাম্বা শব্দ করত। তারা বলল, এটিই তোমাদের উপাস্য এবং মুসারও উপাস্য, কিন্তু সে (মুসা) ভুলে গেছে।} [সূরা ত্বহা, আয়াত ৮৭, ৮৮]।

৪ - সূরা আল-আরাফ, আয়াত ১৪৮ - ১৪৯।

৫ - সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত ৫১, ৫২।
(খণ্ড: ১) মুজাযু তারিখিল ইয়াহুদ ওয়ার রাদ্দু আলা বাদি মাযায়িমিহিমুল বাতিলাহ (পৃষ্ঠা: ২৫১)
وَلَكِن ذَلِك الْعَفو كَانَ لابد لَهُ من الْكَفَّارَة1 قَالَ تَعَالَى: {وَإِذْ قَالَ مُوسَى لِقَوْمِهِ يَا قَوْمِ إِنَّكُمْ ظَلَمْتُمْ أَنْفُسَكُمْ بِاتِّخَاذِكُمُ الْعِجْلَ فَتُوبُوا إِلَى بَارِئِكُمْ فَاقْتُلُوا أَنْفُسَكُمْ ذَلِكُمْ خَيْرٌ لَكُمْ عِنْدَ بَارِئِكُمْ فَتَابَ عَلَيْكُمْ إِنَّهُ هُوَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ} 2.

ـ وَلما جَاءَهُم مُوسَى عليه الصلاة والسلام بِمَا شرع لَهُم فِي التَّوْرَاة فَإِنَّهُم لم يقبلوها حَتَّى رُفع الْجَبَل فَوْقهم كَأَنَّهُ ظلة، قَالَ تَعَالَى: {وَإِذْ نَتَقْنَا الْجَبَلَ فَوْقَهُمْ كَأَنَّهُ ظُلَّةٌ وَظَنُّوا أَنَّهُ وَاقِعٌ بِهِمْ خُذُوا مَا آتَيْنَاكُمْ بِقُوَّةٍ وَاذْكُرُوا مَا فِيهِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ} 3.

وَمَعَ هَذَا كُله لم يحمد بَنو إِسْرَائِيل مَا هم فِيهِ من النَّعيم رب غَفُور وشراب طهُور وَطَعَام سَائِغ لَا يكلفهم أدنى مجهود وظل مَمْدُود بل ظلوا يضجرون ويتكاسلون وَيطْلبُونَ ويعاندون ويتمادون حَتَّى قَالُوا4 مَا أخبر الله عز وجل بِهِ عَنْهُم فِي الْقُرْآن الْكَرِيم بقوله تَعَالَى: {وَإِذْ قُلْتُمْ يَا مُوسَى لَنْ نَصْبِرَ عَلَى طَعَامٍ وَاحِدٍ فَادْعُ لَنَا رَبَّكَ يُخْرِجْ لَنَا مِمَّا تُنْبِتُ الْأَرْضُ مِنْ بَقْلِهَا وَقِثَّائِهَا وَفُومِهَا وَعَدَسِهَا وَبَصَلِهَا قَالَ أَتَسْتَبْدِلُونَ الَّذِي هُوَ أَدْنَى بِالَّذِي هُوَ خَيْرٌ اهْبِطُوا مِصْراً فَإِنَّ لَكُمْ مَا سَأَلْتُمْ وَضُرِبَتْ عَلَيْهِمُ الذِّلَّةُ وَالْمَسْكَنَةُ وَبَاءُوا بِغَضَبٍ مِنَ اللَّهِ ذَلِكَ بِأَنَّهُمْ كَانُوا يَكْفُرُونَ بآيَاتِ اللَّهِ وَيَقْتُلُونَ النَّبِيِّينَ بِغَيْرِ الْحَقِّ ذَلِكَ بِمَا عَصَوْا وَكَانُوا يَعْتَدُونَ} 5.

فَأَمرهمْ الله عز وجل أَن يدخلُوا الأَرْض المقدسة (بَيت الْمُقَدّس وَأَرْض الْخيرَات) وَوَعدهمْ بالنصر، وَطلب مُوسَى ذَلِك من قومه، فَقَالَ عز وجل: {وَإِذْ قَالَ مُوسَى لِقَوْمِهِ يَا قَوْمِ اذْكُرُوا نِعْمَةَ اللَّهِ عَلَيْكُمْ إِذْ جَعَلَ فِيكُمْ أَنْبِيَاءَ وَجَعَلَكُمْ مُلُوكاً وَآتَاكُمْ مَا

--------------------------------------------

1 - انْظُر: سفر الْخُرُوج صَحَّ (32) .

2 - سُورَة الْبَقَرَة، آيَة 54.

3 - سُورَة الْأَعْرَاف، آيَة 171.

4 - انْظُر: سفر الْعدَد صَحَّ (11) .

5 - سُورَة الْبَقَرَة، آيَة 61.
কিন্তু সেই ক্ষমার জন্য কাফফারা বা প্রায়শ্চিত্তের প্রয়োজন ছিল ১। মহান আল্লাহ বলেন: {এবং স্মরণ করো যখন মূসা তার সম্প্রদায়কে বলেছিল, হে আমার সম্প্রদায়! নিশ্চয়ই বাছুরকে উপাস্যরূপে গ্রহণ করে তোমরা নিজেদের প্রতি জুলুম করেছ; সুতরাং তোমরা তোমাদের স্রষ্টার নিকট তওবা করো এবং তোমরা নিজেদেরকে (অপরাধীদেরকে) হত্যা করো। তোমাদের স্রষ্টার নিকট এটাই তোমাদের জন্য কল্যাণকর। অতঃপর তিনি তোমাদের তওবা কবুল করলেন; নিশ্চয়ই তিনি তওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু} ২।

— এবং মূসা (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) যখন তাদের নিকট তাওরাতে বিধিবদ্ধ বিধানসমূহ নিয়ে আসলেন, তারা তা গ্রহণ করতে চাইল না যতক্ষণ না তাদের ওপর পাহাড়কে ছাউনির ন্যায় উত্তোলন করা হলো। মহান আল্লাহ বলেন: {এবং স্মরণ করো, যখন আমি পাহাড়কে তাদের ওপর উত্তোলিত করেছিলাম যেন তা একটি ছাউনি, আর তারা নিশ্চিত মনে করেছিল যে তা তাদের ওপর আছড়ে পড়বে; (আমি বললাম,) তোমাদের যা প্রদান করেছি তা দৃঢ়ভাবে ধারণ করো এবং এতে যা আছে তা স্মরণ করো যেন তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পারো} ৩।

এতদসত্ত্বেও বনী ইসরাঈল তাদের প্রাপ্ত নিয়ামতসমূহের প্রশংসা করেনি—যেমন ক্ষমাশীল প্রতিপালক, পবিত্র পানীয় এবং সুস্বাদু খাদ্য যা পেতে তাদের সামান্যতম পরিশ্রমের প্রয়োজন হতো না, আর ছিল বিস্তৃত ছায়া। বরং তারা বিরক্ত হতো, অলসতা করত এবং অবাধ্যতা ও হঠকারিতা চালিয়ে যেত ৪—এমনকি তারা তা-ই বলেছিল যা আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা পবিত্র কুরআনে তাদের সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন। মহান আল্লাহ বলেন: {এবং স্মরণ করো যখন তোমরা বলেছিলে, হে মূসা! আমরা একই ধরনের খাদ্যে কখনোই ধৈর্য ধারণ করতে পারব না। সুতরাং আপনি আপনার রবের নিকট আমাদের জন্য প্রার্থনা করুন যেন তিনি আমাদের জন্য ভূমি হতে উৎপাদিত শাক-সবজি, কাঁকুড়, রসুন, মসুর ডাল ও পেঁয়াজ উৎপন্ন করেন। তিনি বললেন, তোমরা কি উৎকৃষ্টতর বস্তুর পরিবর্তে নিকৃষ্টতর বস্তু গ্রহণ করতে চাও? তোমরা কোনো জনপদে অবতরণ করো, তবে তোমরা যা চেয়েছ তা সেখানে পাবে। আর তাদের ওপর লাঞ্ছনা ও দারিদ্র্য আপতিত হলো এবং তারা আল্লাহর ক্রোধের শিকার হলো। এটি এ কারণে যে, তারা আল্লাহর আয়াতসমূহকে অস্বীকার করত এবং অন্যায়ভাবে নবীগণকে হত্যা করত। এটি ছিল তাদের অবাধ্যতা ও সীমালঙ্ঘনেরই ফল} ৫।

অতঃপর আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা তাদেরকে পবিত্র ভূমিতে (বাইতুল মুকাদ্দাস ও বরকতময় ভূমি) প্রবেশ করার আদেশ দিলেন এবং তাদের বিজয়ের প্রতিশ্রুতি দিলেন। মূসা (আ.) তার সম্প্রদায়ের নিকট এটি চাইলেন। মহান আল্লাহ বলেন: {এবং স্মরণ করো যখন মূসা তার সম্প্রদায়কে বলেছিল, হে আমার সম্প্রদায়! তোমাদের প্রতি আল্লাহর নিয়ামত স্মরণ করো যখন তিনি তোমাদের মাঝে নবীগণকে পাঠিয়েছেন, তোমাদের রাজ্যাধিপতি করেছেন এবং তোমাদের এমন সব বস্তু দিয়েছেন যা...

--------------------------------------------

১ - দেখুন: যাত্রা পুস্তক (এক্সোডাস), অধ্যায় (৩২)।

২ - সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত ৫৪।

৩ - সূরা আল-আরাফ, আয়াত ১৭১।

৪ - দেখুন: গণনা পুস্তক (নাম্বারস), অধ্যায় (১১)।

৫ - সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত ৬১।
(খণ্ড: ১) মুজাযু তারিখিল ইয়াহুদ ওয়ার রাদ্দু আলা বাদি মাযায়িমিহিমুল বাতিলাহ (পৃষ্ঠা: ২৫২)
لَمْ يُؤْتِ أَحَداً مِنَ الْعَالَمِينَ يَا قَوْمِ ادْخُلُوا الأَرْضَ الْمُقَدَّسَةَ الَّتِي كَتَبَ اللَّهُ لَكُمْ وَلا تَرْتَدُّوا عَلَى أَدْبَارِكُمْ فَتَنْقَلِبُوا خَاسِرِينَ قَالُوا يَا مُوسَى إِنَّ فِيهَا قَوْماً جَبَّارِينَ وَإِنَّا لَنْ نَدْخُلَهَا حَتَّى يَخْرُجُوا مِنْهَا فَإِنْ يَخْرُجُوا مِنْهَا فَإِنَّا دَاخِلُونَ قَالَ رَجُلانِ مِنَ الَّذِينَ يَخَافُونَ أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيهِمَا ادْخُلُوا عَلَيْهِمُ الْبَابَ فَإِذَا دَخَلْتُمُوهُ فَإِنَّكُمْ غَالِبُونَ وَعَلَى اللَّهِ فَتَوَكَّلُوا إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ قَالُوا يَا مُوسَى إِنَّا لَنْ نَدْخُلَهَا أَبَداً مَا دَامُوا فِيهَا فَاذْهَبْ أَنْتَ وَرَبُّكَ فَقَاتِلا إِنَّا هَاهُنَا قَاعِدُونَ قَالَ رَبِّ إِنِّي لَا أَمْلِكُ إِلاَّ نَفْسِي وَأَخِي فَافْرُقْ بَيْنَنَا وَبَيْنَ الْقَوْمِ الْفَاسِقِينَ قَالَ فَإِنَّهَا مُحَرَّمَةٌ عَلَيْهِمْ أَرْبَعِينَ سَنَةً يَتِيهُونَ فِي الأَرْضِ فَلا تَأْسَ عَلَى الْقَوْمِ الْفَاسِقِينَ} 1.

فَحكم الله عَلَيْهِم بالتيه فِي صحراء سيناء أَرْبَعِينَ سنة يَسِيرُونَ دَائِما لَا يَهْتَدُونَ لِلْخُرُوجِ مِنْهُ حَتَّى2 مَاتَ ذَلِك الجيل المتخاذل العَاصِي الَّذِي خرج بِهِ مُوسَى من مصر وَلَقي من أذاهم وعصيانهم مَا لَا يُوصف، قَالَ الله عز وجل مُبينًا أذاهم لمُوسَى: {وَإِذْ قَالَ مُوسَى لِقَوْمِهِ يَا قَوْمِ لِمَ تُؤْذُونَنِي وَقَدْ تَعْلَمُونَ أَنِّي رَسُولُ اللَّهِ إِلَيْكُمْ فَلَمَّا زَاغُوا أَزَاغَ اللَّهُ قُلُوبَهُمْ وَاللَّهُ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الْفَاسِقِينَ} 3.

- وَتُوفِّي هَارُون وَمن بعده مُوسَى عَلَيْهِمَا الصَّلَاة وَالسَّلَام فِي ذَلِك التيه، وَأقَام الله فِي بني إِسْرَائِيل يُوشَع بن نون4 (فَتى مُوسَى) عَلَيْهِمَا الصَّلَاة وَالسَّلَام

--------------------------------------------

1 - سُورَة الْمَائِدَة، آيَة 20 - 26.

2 - انْظُر: سفر الْعدَد صَحَّ13، 14، 32.

3 - سُورَة الصَّفّ، آيَة 5.

4 - يُوشَع بن نون عليه الصلاة والسلام نَبِي من أَنْبيَاء بني إِسْرَائِيل ثبتَتْ نبوته عِنْد الْمُسلمين فِي السّنة الصَّحِيحَة بِمَا رَوَاهُ أَبُو هُرَيْرَة رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم: "غزا نَبِي من الْأَنْبِيَاء فَقَالَ لِقَوْمِهِ: لَا يَتبعني رجل قد ملك بضع امْرَأَة وَهُوَ يُرِيد أَن يَبْنِي بهَا ولمّا يبن، وَلَا آخر قد بنى بنياناً ولمّا يرفع سقفها، وَلَا آخر قد اشْترى غنما أَو خلفات وَهُوَ منتظر أَوْلَادهَا، قَالَ: فغزا فَدَنَا من الْقرْيَة حِين صلى الْعَصْر أَو قَرِيبا من ذَلِك فَقَالَ للشمس: أَنْت مأمورة وَأَنا مَأْمُور اللَّهُمَّ احبسها عَليّ شَيْئا، فحبست عَلَيْهِ حَتَّى فتح الله عَلَيْهِ…" الحَدِيث - أخرجه البُخَارِيّ مُخْتَصرا. (انْظُر: فتح الْبَارِي 9/223) ، وَمُسلم 3/1366 وَاللَّفْظ لَهُ، وَالْإِمَام أَحْمد 3/318، وَيبين لنا حَدِيث أبي هُرَيْرَة الْآتِي اسْم هَذَا النَّبِي الْكَرِيم، فَعَن أبي هُرَيْرَة رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم: "إِن الشَّمْس لم تحبس على بشر إِلَّا ليوشع ليَالِي سَار إِلَى بَيت الْمُقَدّس".

أخرجه الإِمَام أَحْمد 2/325 وَصَححهُ ابْن كثير (انْظُر: قصَص الْأَنْبِيَاء ص377) والألباني (انْظُر: سلسلة الْأَحَادِيث الصَّحِيحَة ح202) ، وراجع سفر يشوع صَحَّ (10) .
...তিনি বিশ্বজগতের কাউকেও তা দান করেননি। হে আমার সম্প্রদায়! আল্লাহ তোমাদের জন্য যে পবিত্র ভূমি নির্ধারিত করেছেন তাতে প্রবেশ করো এবং পশ্চাৎপসারণ করো না, অন্যথায় তোমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়বে। তারা বলল: ‘হে মুসা! সেখানে এক শক্তিশালী জাতি রয়েছে, আর তারা সেখান থেকে বের না হওয়া পর্যন্ত আমরা সেখানে কখনো প্রবেশ করব না; তবে তারা যদি সেখান থেকে বের হয়ে যায়, তবেই আমরা প্রবেশ করব।’ যারা আল্লাহকে ভয় করত তাদের মধ্য থেকে এমন দুজন ব্যক্তি যাদের ওপর আল্লাহ অনুগ্রহ করেছিলেন, তারা বলল: ‘তোমরা ফটক দিয়ে তাদের ওপর চড়াও হও; যদি তোমরা সেখানে প্রবেশ করো তবে তোমরাই বিজয়ী হবে। আর আল্লাহর ওপরই তোমরা ভরসা করো যদি তোমরা মুমিন হও।’ তারা বলল: ‘হে মুসা! তারা যতক্ষণ সেখানে থাকবে ততক্ষণ আমরা কখনো সেখানে প্রবেশ করব না। সুতরাং তুমি এবং তোমার পালনকর্তা যাও এবং লড়াই করো, আমরা এখানেই বসে থাকব।’ মুসা বললেন: ‘হে আমার পালনকর্তা! আমি নিজের এবং আমার ভাই ব্যতীত অন্য কারো ওপর কর্তৃত্ব রাখি না; অতএব তুমি আমাদের ও এই পাপাচারী সম্প্রদায়ের মধ্যে বিচ্ছেদ করে দাও।’ আল্লাহ বললেন: ‘তবে চল্লিশ বছর পর্যন্ত তাদের জন্য এ ভূমি নিষিদ্ধ করা হলো, তারা পৃথিবীতে বিভ্রান্ত হয়ে ঘুরে বেড়াবে। সুতরাং এই পাপাচারী সম্প্রদায়ের জন্য তুমি দুঃখ করো না।’ 1.

অতঃপর আল্লাহ তাদের ওপর সিনাই মরুভূমিতে চল্লিশ বছর পথ হারিয়ে ঘুরে বেড়ানোর ফয়সালা করেন। তারা সেখানে নিরন্তর চলতে থাকত কিন্তু বের হওয়ার কোনো পথ খুঁজে পেত না, শেষ পর্যন্ত সেই অবাধ্য ও ভীরু প্রজন্মের মৃত্যু হলো যাদের নিয়ে মুসা (আলাইহিস সালাম) মিসর থেকে বের হয়েছিলেন এবং যাদের থেকে তিনি অবর্ণনীয় কষ্ট ও অবাধ্যতার সম্মুখীন হয়েছিলেন। মহান আল্লাহ মুসা (আলাইহিস সালাম)-কে দেওয়া তাদের সেই কষ্টের বিবরণ দিয়ে বলেন: {স্মরণ করো, যখন মুসা তার সম্প্রদায়কে বলেছিল: হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা কেন আমাকে কষ্ট দিচ্ছ অথচ তোমরা জানো যে আমি তোমাদের নিকট আল্লাহর প্রেরিত রাসূল? অতঃপর তারা যখন বক্রতা অবলম্বন করল, তখন আল্লাহ তাদের অন্তরকে বক্র করে দিলেন। আর আল্লাহ পাপাচারী সম্প্রদায়কে হিদায়াত দান করেন না।} 3.

- সেই বিভ্রান্তির (তিহ) কালেই হারুন (আলাইহিস সালাম) এবং তাঁর পর মুসা (আলাইহিস সালাম) ইন্তেকাল করেন। অতঃপর আল্লাহ বনী ইসরাঈলের মধ্যে ইউশা বিন নুন 4 (মুসার খাদেম) আলাইহিমাস সালাতু ওয়াস সালামকে প্রতিষ্ঠিত করেন।

--------------------------------------------

1 - সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত ২০ - ২৬।

2 - দেখুন: বুক অফ নাম্বারস (সফরুল আদাদ), অধ্যায় ১৩, ১৪, ৩২।

3 - সূরা আস-সাফ, আয়াত ৫।

4 - ইউশা বিন নুন আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম বনী ইসরাঈলের একজন নবী। মুসলিমদের নিকট সহীহ সুন্নাহর ভিত্তিতে তাঁর নবুওয়াত প্রমাণিত হয়েছে, যা আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: "নবীদের মধ্যে একজন নবী যুদ্ধাভিযান পরিচালনা করলেন। তিনি তাঁর সম্প্রদায়কে বললেন: এমন কোনো ব্যক্তি যেন আমার অনুসরণ না করে যে কোনো নারীকে বিবাহ করেছে এবং সে তার সাথে বাসর যাপনের ইচ্ছা রাখে কিন্তু এখনও তা করেনি; কিংবা এমন ব্যক্তি যে কোনো ঘর নির্মাণ করেছে কিন্তু এখনও তার ছাদ তোলেনি; অথবা এমন ব্যক্তি যে গর্ভবতী ছাগল বা উট ক্রয় করেছে এবং সেগুলোর বাচ্চা প্রসবের অপেক্ষায় আছে। বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর তিনি যুদ্ধ পরিচালনা করলেন এবং আসরের সালাতের সময় বা তার কাছাকাছি সময়ে সেই জনপদের নিকটবর্তী হলেন। তখন তিনি সূর্যকে সম্বোধন করে বললেন: তুমিও (আল্লাহর) আদিষ্ট এবং আমিও আদিষ্ট। হে আল্লাহ! সূর্যকে আমার জন্য কিছুক্ষণ আটকে দিন। অতঃপর সূর্যকে আটকে রাখা হলো যতক্ষণ না আল্লাহ তাঁকে বিজয় দান করলেন..." হাদীসটি ইমাম বুখারী সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন। (দেখুন: ফাতহুল বারী ৯/২২৩), এবং ইমাম মুসলিম ৩/১৩৬৬, শব্দাবলি তাঁর; ইমাম আহমাদ ৩/৩১৮। আবু হুরায়রার পরবর্তী হাদীসটি আমাদের নিকট এই মহিমান্বিত নবীর নাম স্পষ্ট করে দেয়। আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: "নিশ্চয়ই ইউশা (আলাইহিস সালাম) ব্যতীত অন্য কোনো মানুষের জন্য সূর্যকে কখনো আটকে রাখা হয়নি যখন তিনি বায়তুল মুকাদ্দাস অভিমুখে যাত্রা করেছিলেন।"

এটি ইমাম আহমাদ বর্ণনা করেছেন ২/৩২৫ এবং ইবনে কাসীর একে সহীহ বলেছেন (দেখুন: কাসাসুল আম্বিয়া, পৃ. ৩৭৭) এবং আলবানী (দেখুন: সিলসিলাতুল আহাদীস আস-সহীহা, হাদীস ২০২), আরও দেখুন: বুক অফ জশুয়া (সফরুল ইয়াশু), অধ্যায় ১০।
(খণ্ড: ১) মুজাযু তারিখিল ইয়াহুদ ওয়ার রাদ্দু আলা বাদি মাযায়িমিহিমুল বাতিলাহ (পৃষ্ঠা: ২৫৩)
نَبيا لَهُم خَليفَة عَن مُوسَى عليه الصلاة والسلام، وَلما انْقَضتْ مُدَّة التيه خرج يُوشَع عليه الصلاة والسلام ببني إِسْرَائِيل إِلَى بَيت الْمُقَدّس فحاصرها وَفتحهَا الله عَلَيْهِم، وَأمرهمْ الله عز وجل حِين دُخُولهمْ الأَرْض المقدسة {وَإِذْ قُلْنَا ادْخُلُوا هَذِهِ الْقَرْيَةَ فَكُلُوا مِنْهَا حَيْثُ شِئْتُمْ رَغَداً وَادْخُلُوا الْبَابَ سُجَّداً وَقُولُوا حِطَّةٌ نَغْفِرْ لَكُمْ خَطَايَاكُمْ وَسَنَزِيدُ الْمُحْسِنِينَ فَبَدَّلَ الَّذِينَ ظَلَمُوا قَوْلاً غَيْرَ الَّذِي قِيلَ لَهُمْ فَأَنْزَلْنَا عَلَى الَّذِينَ ظَلَمُوا رِجْزاً مِنَ السَّمَاءِ بِمَا كَانُوا يَفْسُقُونَ} 1.

فَعَن أبي هُرَيْرَة رضي الله عنه عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ: "قيل لبني إِسْرَائِيل: {َادْخُلُوا الْبَابَ سُجَّداً وَقُولُوا حِطَّةٌ} فَدَخَلُوا يزحفون على أستاهم فبدّلوا وَقَالُوا: حِطة حَبَّة فِي شَعْرَة" 2.

فتعساً لهَؤُلَاء الْقَوْم الَّذين يقابلون الْإِحْسَان بالإساءة، وَالْمَعْرُوف بالمنكر، وَالنعْمَة بالجحود، فاستحقوا بذلك غضب الله عز وجل عَلَيْهِم.

- وَبعد دُخُولهمْ الأَرْض المقدسة بَدَأَ يُوشَع عليه الصلاة والسلام يكمل فتوحاته وَيقسم الْأَرَاضِي الَّتِي غنمها على أَسْبَاط بني إِسْرَائِيل الإثني عشر، وَبعد وَفَاة يُوشَع عليه الصلاة والسلام تولى قيادة بني إِسْرَائِيل قضاتهم. وَمن هُنَا

--------------------------------------------

1 - سُورَة الْبَقَرَة، آيَة 58، 59.

2 - أخرجه الإِمَام البُخَارِيّ (انْظُر: فتح الْبَارِي 8/164، 308) ، وَمُسلم 4/2312، وَأحمد 2/118، وراجع تَفْسِير ابْن كثير 1/103.
মুসা (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর স্থলাভিষিক্ত হিসেবে তাঁদের জন্য একজন নবী ছিলেন। যখন মরুভূমিতে পরিভ্রমণের সময়কাল শেষ হলো, তখন ইউশা (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) বনি ইসরায়েলকে নিয়ে বাইতুল মাকদিসের দিকে যাত্রা করলেন এবং তা অবরোধ করলেন। অতঃপর আল্লাহ তাঁদের অনুকূলে সেটি জয় করে দিলেন। পবিত্র ভূমিতে প্রবেশের সময় আল্লাহ তায়ালা তাঁদের নির্দেশ দিলেন: {আর যখন আমি বললাম, তোমরা এই জনপদে প্রবেশ করো এবং সেখান থেকে যেখানে ইচ্ছা স্বাচ্ছন্দ্যে আহার করো; আর দরজায় সিজদাবনত অবস্থায় প্রবেশ করো এবং বলো ‘হিত্তাহ’ (ক্ষমা চাই), আমি তোমাদের অপরাধসমূহ ক্ষমা করে দেব এবং শীঘ্রই সৎকর্মশীলদের প্রতি অনুগ্রহ বৃদ্ধি করব। কিন্তু যারা সীমালঙ্ঘন করেছিল, তারা তাদের যা বলা হয়েছিল তার পরিবর্তে অন্য কথা বলল; ফলে আমি জালেমদের ওপর আকাশ থেকে আজাব নাজিল করলাম, কারণ তারা অবাধ্যতা করত} ১।

আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "বনি ইসরায়েলকে বলা হয়েছিল: {তোমরা সিজদাবনত হয়ে দরজায় প্রবেশ করো এবং বলো ‘হিত্তাহ’}। কিন্তু তারা তাদের নিতম্বের ওপর ভর করে হেঁচড়ে হেঁচড়ে প্রবেশ করল এবং তারা কথা পরিবর্তন করে বলল: ‘শস্যের দানার মধ্যে একটি চুল’।" ২।

ধিক্কার সেই সম্প্রদায়ের জন্য যারা অনুগ্রহের বদলে মন্দ আচরণ, সুকৃতির বদলে অপকৃতি এবং নিয়ামতের বদলে অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। ফলে তারা এর মাধ্যমে তাদের ওপর মহান আল্লাহর ক্রোধের উপযুক্ত হলো।

- পবিত্র ভূমিতে প্রবেশের পর ইউশা (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) তাঁর বিজয় অভিযানগুলো সম্পন্ন করতে শুরু করেন এবং গনিমতের জমিগুলো বনি ইসরায়েলের বারোটি গোত্রের মধ্যে বণ্টন করে দেন। ইউশা (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর ইন্তেকালের পর বনি ইসরায়েলের নেতৃত্বের দায়িত্ব তাঁদের বিচারকগণ গ্রহণ করেন। আর এখান থেকেই

--------------------------------------------

১ - সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত ৫৮, ৫৯।

২ - ইমাম বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন (দেখুন: ফাতহুল বারি ৮/১৬৪, ৩০৮), মুসলিম ৪/২৩১২, আহমাদ ২/১১৮, এবং ইবনে কাসিরের তাফসির ১/১০৩ দেখুন।
(খণ্ড: ১) মুজাযু তারিখিল ইয়াহুদ ওয়ার রাদ্দু আলা বাদি মাযায়িমিহিমুল বাতিলাহ (পৃষ্ঠা: ২৫৪)
يُقَسِّم المؤرخون المراحل التاريخية الَّتِي مرت على بني إِسْرَائِيل مُنْذُ دُخُولهمْ الأَرْض المقدسة (فلسطين) إِلَى العصور الْآتِيَة:
ঐতিহাসিকগণ বনী ইসরাঈল কর্তৃক পবিত্র ভূমিতে (ফিলিস্তিন) প্রবেশের পর থেকে তাদের অতিক্রান্ত ঐতিহাসিক পর্যায়সমূহকে নিম্নোক্ত যুগসমূহে বিভক্ত করেন:
(খণ্ড: ১) মুজাযু তারিখিল ইয়াহুদ ওয়ার রাদ্দু আলা বাদি মাযায়িমিহিমুল বাতিলাহ (পৃষ্ঠা: ২৫৪)
‌‌الْمطلب الثَّالِث: عصر الْقُضَاة.

نِسْبَة إِلَى الْقُضَاة الَّذين توَلّوا الحكم فِي أَسْبَاط بني إِسْرَائِيل الإثني عشر بعد وَفَاة يُوشَع بن نون عليه الصلاة والسلام، وَيَنْتَهِي هَذَا الْعَصْر بآخر قَاض لبني إِسْرَائِيل وَهُوَ صموئيل، وَمُدَّة هَذَا الْعَصْر 350 سنة على حِسَاب سفر الْقُضَاة، وَالتَّحْقِيق العلمي يثبت أَن هَذَا الْعَصْر لَا تزيد مدَّته عَن 100عَام1.

وَمن سمات هَذَا الْعَصْر كَثْرَة النزاعات والحروب الداخلية والخارجية بَين الأسباط الإثني عشر وَغَيرهم، وتكرر حوادث الارتداد وَالْكفْر مِنْهُم، وانتشار الزِّنَا بَينهم وَمن ذَلِك مَا ورد فِي سفر الْقُضَاة الإصحاح (12) : "وَفعل بَنو إِسْرَائِيل الشَّرّ فِي عَيْني الرب وعبدوا البعليم، وَتركُوا إِلَه آبَائِهِم الَّذين أخرجهم من مصر، وَسَارُوا وَرَاء آلِهَة الشعوب الَّذين حَولهمْ وسجدوا لَهَا … " وتكرر ذَلِك الْكفْر والشرك مِنْهُم مَرَّات عديدة فِي فترات مُخْتَلفَة بِنَصّ سفر الْقُضَاة2، وحينما فسد الْقُضَاة وَأخذُوا الرِّشْوَة وحكموا بَين النَّاس بالظلم والهوى طلب بَنو إِسْرَائِيل من نَبِي لَهُم يدعى (صموئيل) وَهُوَ آخر قضاتهم أَن يخْتَار لَهُم ملكا يوحد صفوفهم وَيُقِيم النظام بَينهم وَيُقَاتل أمامهم3، وَبِذَلِك يبْدَأ الْعَصْر الثَّانِي وَهُوَ عصر الْمُلُوك.

--------------------------------------------

1 - انْظُر: تَارِيخ بني إِسْرَائِيل ص122 مُحَمَّد دروزة، دَائِرَة المعارف البريطانية 2/8، 9، الْيَهُودِيَّة والمسيحية ص83 د. مُحَمَّد الأعظمي.

2 - رَاجع الإصحاحات 3، 4، 6، 10، 13، 17.

3 - انْظُر: سفر صموئيل الأول، الإصحاح 8.
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: বিচারকদের যুগ.

ইউশা ইবনে নুন (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর ইনতিকালের পর বনী ইসরাঈলের বারোটি গোত্রের শাসনের দায়িত্বভার গ্রহণকারী বিচারকদের (Judges) নামানুসারে এই যুগের নামকরণ করা হয়েছে। বনী ইসরাঈলের সর্বশেষ বিচারক শামুয়েল (আ.)-এর মাধ্যমে এই যুগের সমাপ্তি ঘটে। 'বিচারকগণ' (বুক অব জাজেস) গ্রন্থের বর্ণনা অনুযায়ী এই যুগের সময়কাল ৩৫০ বছর, তবে বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান প্রমাণ করে যে এই যুগের সময়কাল ১০০ বছরের বেশি নয়।১

বারোটি গোত্র এবং অন্যদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক বহুবিধ বিবাদ ও যুদ্ধের প্রাবল্য ছিল এই যুগের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। তাদের মধ্যে বারবার ধর্মত্যাগ ও কুফরি করার ঘটনা ঘটত এবং তাদের মাঝে ব্যভিচার ছড়িয়ে পড়েছিল। এই প্রসঙ্গে 'বিচারকগণ' গ্রন্থের দ্বাদশ অধ্যায়ে (ইসহাহ) বর্ণিত হয়েছে: "ইসরায়েল সন্তানরা প্রভুর দৃষ্টিতে মন্দ কাজ করল এবং তারা বাল (Baalim) দেবমূর্তির পূজা করল। তারা তাদের পিতৃপুরুষদের সেই উপাস্যকে বর্জন করল যিনি তাদের মিশর থেকে বের করে এনেছিলেন এবং তারা পার্শ্ববর্তী জাতিগুলোর উপাস্যদের অনুসারী হলো ও তাদের সিজদা করল..."। 'বিচারকগণ' গ্রন্থের বর্ণনা অনুযায়ী বিভিন্ন সময়ে তাদের থেকে এই কুফর ও শিরকের পুনরাবৃত্তি বহুবার ঘটেছে।২ যখন বিচারকগণ দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে পড়ল, ঘুষ গ্রহণ করতে শুরু করল এবং মানুষের মাঝে জুলুম ও প্রবৃত্তির তাড়নায় বিচার কার্য পরিচালনা করতে লাগল, তখন বনী ইসরাঈল তাদের একজন নবীর কাছে—যাঁর নাম শামুয়েল এবং তিনি ছিলেন তাদের সর্বশেষ বিচারক—আবেদন জানাল যেন তিনি তাদের জন্য একজন রাজা মনোনীত করেন, যিনি তাদের কাতারগুলোকে সুসংবদ্ধ করবেন, তাদের মাঝে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করবেন এবং তাদের সম্মুখে থেকে যুদ্ধ করবেন।৩ এর মাধ্যমেই দ্বিতীয় যুগ তথা 'রাজাদের যুগ' শুরু হয়।

--------------------------------------------

১ - দ্রষ্টব্য: তারীখে বনী ইসরাঈল, পৃষ্ঠা ১২২, মুহাম্মদ দারওয়াজা; এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা ২/৮, ৯; আল-ইয়াহুদিয়্যাহ ওয়াল মাসিহিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ৮৩, ড. মুহাম্মদ আল-আজমি।

২ - ৩, ৪, ৬, ১০, ১৩, ১৭ অধ্যায়গুলো (ইসহাহ) দেখুন।

৩ - দ্রষ্টব্য: শামুয়েলের প্রথম পুস্তক (১ স্যামুয়েল), অধ্যায় ৮।
(খণ্ড: ১) মুজাযু তারিখিল ইয়াহুদ ওয়ার রাদ্দু আলা বাদি মাযায়িমিহিমুল বাতিলাহ (পৃষ্ঠা: ২৫৫)
وَقد بَين الله عز وجل السَّبَب الَّذِي لأَجله طلب بَنو إِسْرَائِيل تعْيين ملك عَلَيْهِم، فَقَالَ تَعَالَى: {أَلَمْ تَرَ إِلَى الْمَلأِ مِنْ بَنِي إِسْرائيلَ مِنْ بَعْدِ مُوسَى إِذْ قَالُوا لِنَبِيٍّ لَهُمُ ابْعَثْ لَنَا مَلِكاً نُقَاتِلْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ قَالَ هَلْ عَسَيْتُمْ إِنْ كُتِبَ عَلَيْكُمُ الْقِتَالُ أَلاَّ تُقَاتِلُوا قَالُوا وَمَا لَنَا أَلَّا نُقَاتِلَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَقَدْ أُخْرِجْنَا مِنْ دِيَارِنَا وَأَبْنَائِنَا فَلَمَّا كُتِبَ عَلَيْهِمُ الْقِتَالُ تَوَلَّوْا إِلاَّ قَلِيلاً مِنْهُمْ وَاللَّهُ عَلِيمٌ بِالظَّالِمِينَ وَقَالَ لَهُمْ نَبِيُّهُمْ إِنَّ اللَّهَ قَدْ بَعَثَ لَكُمْ طَالُوتَ مَلِكاً قَالُوا أَنَّى يَكُونُ لَهُ الْمُلْكُ عَلَيْنَا وَنَحْنُ أَحَقُّ بِالْمُلْكِ مِنْهُ وَلَمْ يُؤْتَ سَعَةً مِنَ الْمَالِ قَالَ إِنَّ اللَّهَ اصْطَفَاهُ عَلَيْكُمْ وَزَادَهُ بَسْطَةً فِي الْعِلْمِ وَالْجِسْمِ وَاللَّهُ يُؤْتِي مُلْكَهُ مَنْ يَشَاءُ وَاللَّهُ وَاسِعٌ عَلِيمٌ} 1.

--------------------------------------------

1 - سُورَة الْبَقَرَة، آيَة 246، 247.
মহান আল্লাহ সেই কারণটি স্পষ্ট করেছেন যার জন্য বনী ইসরাঈল তাদের ওপর একজন রাজা নিযুক্ত করার আবেদন করেছিল। মহান আল্লাহ বলেন: {আপনি কি মূসার পরবর্তী বনী ইসরাঈলের একদল নেতার কথা লক্ষ্য করেননি, যখন তারা তাদের এক নবীকে বলেছিল, ‘আমাদের জন্য একজন রাজা নিযুক্ত করুন যাতে আমরা আল্লাহর পথে যুদ্ধ করতে পারি।’ তিনি বললেন, ‘এমন কি হতে পারে যে, যদি তোমাদের ওপর যুদ্ধের বিধান দেওয়া হয়, তবে তোমরা যুদ্ধ করবে না?’ তারা বলল, ‘আল্লাহর পথে যুদ্ধ না করার আমাদের কী কারণ থাকতে পারে, অথচ আমাদের নিজেদের ঘরবাড়ি ও সন্তান-সন্ততি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে?’ অতঃপর যখন তাদের ওপর যুদ্ধের বিধান দেওয়া হলো, তখন তাদের অল্প কিছু সংখ্যক ছাড়া সবাই বিমুখ হলো। আর আল্লাহ জালিমদের সম্পর্কে সম্যক অবগত। এবং তাদের নবী তাদের বললেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তালূতকে তোমাদের জন্য রাজা হিসেবে পাঠিয়েছেন।’ তারা বলল, ‘আমাদের ওপর তার রাজত্ব কীভাবে হতে পারে, অথচ আমরা তার চেয়ে রাজত্বের বেশি হকদার এবং তাকে পর্যাপ্ত ধন-সম্পদ দেওয়া হয়নি।’ তিনি বললেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাকে তোমাদের ওপর মনোনীত করেছেন এবং তাকে জ্ঞানে ও শারীরিক শক্তিতে সমৃদ্ধি দান করেছেন। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা তাঁর রাজত্ব দান করেন। আর আল্লাহ প্রাচুর্যময় ও সর্বজ্ঞ।’} ১.

--------------------------------------------

১ - সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত ২৪৬, ২৪৭।
(খণ্ড: ১) মুজাযু তারিখিল ইয়াহুদ ওয়ার রাদ্দু আলা বাদি মাযায়িমিহিমুল বাতিলাহ (পৃষ্ঠা: ২৫৫)
‌‌الْمطلب الرَّابِع: عصر الْمُلُوك.

وَيبدأ بِاخْتِيَار شاؤل2 ملكا على بني إِسْرَائِيل، ثمَّ دَاوُد، ثمَّ سُلَيْمَان عَلَيْهِمَا الصَّلَاة وَالسَّلَام.

وَمن أبرز حوادث هَذَا الْعَصْر: بِنَاء دَاوُد عليه الصلاة والسلام للهيكل، وإتمام بنائِهِ فِي عهد سُلَيْمَان عليه الصلاة والسلام وتسميته بـ (هيكل سُلَيْمَان) ، وتكرر حوادث الانحراف وَالْكفْر فِي بني إِسْرَائِيل بِنَصّ سفر الْمُلُوك الأول فِي الإصحاح (11) .

وَقد بلغ الْكفْر والفجور عِنْد الْيَهُود إِلَى حد وصف النَّبِيين الكريمين دَاوُد وَسليمَان عَلَيْهِمَا الصَّلَاة وَالسَّلَام بارتكاب الْكَبَائِر حَتَّى الشّرك بِاللَّه، وَهَذَا من الْكَذِب والبهتان والتحريف الْمَوْجُود فِي كتب الْيَهُود المقدسة لديهم1، وَبعد

--------------------------------------------

1 - انْظُر: سفر صموئيل الثَّانِي صَحَّ11، سفر الْمُلُوك الأول صَحَّ11.
‌‌চতুর্থ পরিচ্ছেদ: রাজন্যবর্গের যুগ.

এটি বনী ইসরাঈলের ওপর বাদশাহ হিসেবে শাউলকে২ নির্বাচনের মাধ্যমে শুরু হয়, এরপর দাউদ, অতঃপর সুলাইমান (আলাইহিমাস সালাতু ওয়াস সালাম)।

এই যুগের উল্লেখযোগ্য ঘটনাবলির মধ্যে রয়েছে: দাউদ (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) কর্তৃক হাইকাল (উপাসনালয়) নির্মাণের সূচনা করা, সুলাইমান (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর শাসনামলে এর নির্মাণ সম্পন্ন করা এবং একে ‘সুলাইমানি হাইকাল’ নামে অভিহিত করা। এছাড়াও প্রথম রাজাবলি পুস্তকের ১১তম অধ্যায়ের বর্ণনা অনুযায়ী বনী ইসরাঈলের মধ্যে বারবার বিচ্যুতি ও কুফরির ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটা।

ইহুদিদের মাঝে কুফরি ও পাপাচার এমন এক চরম পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, তারা দুই সম্মানিত নবী দাউদ ও সুলাইমান (আলাইহিমাস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর প্রতি কবীরা গুনাহ এমনকি আল্লাহর সাথে শিরক করার অপবাদ আরোপ করেছে। এটি ইহুদিদের নিকট পবিত্র বলে গণ্য গ্রন্থসমূহের মধ্যে বিদ্যমান মিথ্যাচার, অপবাদ ও বিকৃতির অন্তর্ভুক্ত১। অতঃপর...

--------------------------------------------

১ - দেখুন: দ্বিতীয় শামুয়েল, অধ্যায় ১১; প্রথম রাজাবলি, অধ্যায় ১১।
(খণ্ড: ১) মুজাযু তারিখিল ইয়াহুদ ওয়ার রাদ্দু আলা বাদি মাযায়িমিহিমুল বাতিলাহ (পৃষ্ঠা: ২৫৬)
وَفَاة سُلَيْمَان عليه الصلاة والسلام انقسمت مملكة بني إِسْرَائِيل، وَكَانَ ذَلِك بداية الْعَصْر الثَّالِث.
সুলায়মান আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের ওফাতের পর বনী ইসরাঈলের রাজত্ব বিভক্ত হয়ে পড়ে এবং তা ছিল তৃতীয় যুগের সূচনা।
(খণ্ড: ১) মুজাযু তারিখিল ইয়াহুদ ওয়ার রাদ্দু আলা বাদি মাযায়িমিহিমুল বাতিলাহ (পৃষ্ঠা: ২৫৬)
‌‌الْمطلب الْخَامِس: عصر انقسام مملكة بني إِسْرَائِيل.

بعد وَفَاة سُلَيْمَان عليه الصلاة والسلام اجْتمع بَنو إِسْرَائِيل فِي أورشليم لتنصيب رحبعام بن سُلَيْمَان مَكَان أَبِيه، وَلَكنهُمْ اشترطوا عَلَيْهِ تَخْفيف الْأَحْكَام الَّتِي فَرضهَا عَلَيْهِم سُلَيْمَان، لكنه رفض ذَلِك فانحاز مُعظم الشّعب (10 أَسْبَاط) إِلَى مبايعة يربعام بن نباط (وَكَانَ أحد قادة جيوش سُلَيْمَان فانشق عَنهُ وهرب إِلَى مصر وَعَاد إِلَى فلسطين بعد وَفَاة سُلَيْمَان) وَبَايع سبطا يهوذا وبنيامين رحبعام، وَبِهَذَا انقسمت مملكة بني إِسْرَائِيل إِلَى دولتين متنازعتين:

1 - إِحْدَاهمَا فِي الشمَال وَتسَمى (مملكة إِسْرَائِيل أَو مملكة السامرة) أَو (المملكة الشمالية) وعاصمتها (شكيم) الَّتِي بناها يربعام.

2 - وَالْأُخْرَى فِي الْجنُوب وَتسَمى (مملكة يهوذا) أَو (المملكة الجنوبية) وعاصمتها (أورشليم) .

وأبرز حوادث هَذَا الْعَصْر مَا يَأْتِي:

أ - وُقُوع بني إِسْرَائِيل فِي الرِّدَّة وَالْكفْر والفجور مُنْذُ بداية عصر الانقسام وتكرر ذَلِك مِنْهُم مَرَّات عديدة فِي أزمنة مُخْتَلفَة1.

ب – سلسلة الحروب والنكبات المستمرة بَين المملكتين وَمَعَ الْبِلَاد الْمُجَاورَة لَهَا.

--------------------------------------------

1 - انْظُر: سفر الْمُلُوك الأول الإصحاحات (12، 14، 15، 16، 17، 18، 19، 22) ، وسفر الْمُلُوك الثَّانِي الإصحاحات (1، 13، 15، 16، 17، 21، 22، 23، 24) .
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: বনী ইসরাঈল রাজ্যের বিভক্তির যুগ.

সুলাইমান (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর ইন্তেকালের পর বনী ইসরাঈল জেরুসালেমে (অরশিলিম) সমবেত হলো, যাতে তারা তাঁর স্থলাভিষিক্ত হিসেবে তাঁর পুত্র রেহবোয়াম ইবনে সুলাইমানকে নিযুক্ত করতে পারে। তবে তারা তাঁর কাছে এই শর্তারোপ করল যে, সুলাইমান তাদের ওপর যে কঠোর বিধানগুলো আরোপ করেছিলেন, তিনি যেন সেগুলো শিথিল করেন। কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করলেন। ফলে জনগণের অধিকাংশ (১০টি গোত্র) যারবীয়াম ইবনে নাবাত-এর প্রতি আনুগত্য পোষণ করল (যিনি সুলাইমান-এর এক সেনাপতি ছিলেন, পরবর্তীতে তাঁর অবাধ্য হয়ে মিশরে পালিয়ে যান এবং সুলাইমান-এর ইন্তেকালের পর ফিলিস্তিনে ফিরে আসেন)। অন্যদিকে ইয়াহুদা ও বিনইয়ামীন গোত্রদ্বয় রেহবোয়ামের হাতে আনুগত্যের শপথ গ্রহণ করল। এর মাধ্যমে বনী ইসরাঈল রাজ্য দুটি প্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্রে বিভক্ত হয়ে যায়:

১ - একটি উত্তরে অবস্থিত, যাকে বলা হয় ‘ইসরাঈল রাজ্য’ বা ‘সামারিয়া রাজ্য’ অথবা ‘উত্তর রাজ্য’। এর রাজধানী ছিল ‘শেকেম’ (শিকিম), যা যারবীয়াম নির্মাণ করেছিলেন।

২ - অন্যটি দক্ষিণে অবস্থিত, যাকে বলা হয় ‘ইয়াহুদা রাজ্য’ বা ‘দক্ষিণ রাজ্য’। এর রাজধানী ছিল ‘জেরুসালেম’ (অরশিলিম)।

এই যুগের উল্লেখযোগ্য ঘটনাবলি নিম্নরূপ:

ক - বিভক্তির যুগের শুরু থেকেই বনী ইসরাঈলের ধর্মত্যাগ, কুফর ও পাপাচারে লিপ্ত হওয়া এবং বিভিন্ন সময়ে তাদের পক্ষ থেকে বারবার এর পুনরাবৃত্তি ঘটা।১

খ – দুই রাজ্যের মধ্যে এবং পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সাথে ধারাবাহিক যুদ্ধ ও অবিরাম বিপর্যয়।

--------------------------------------------

১ - দ্রষ্টব্য: প্রথম রাজাবলি (বুক অব কিংস ১), অধ্যায় (১২, ১৪, ১৫, ১৬, ১৭, ১৮, ১৯, ২২); এবং দ্বিতীয় রাজাবলি (বুক অব কিংস ২), অধ্যায় (১, ১৩, ১৫, ১৬, ১৭, ২১, ২২, ২৩, ২৪)।