(খণ্ড: ১) মাওসুআতুল মিলাল ওয়াদ আদিয়ান (পৃষ্ঠা: -)
موسوعة الملل والأديان   (مجموعة من المؤلفين)

القسم: الفرق والردود


الكتاب: موسوعة الملل والأديان

إعداد: مجموعة من الباحثين بإشراف الشيخ عَلوي بن عبد القادر السقاف

الناشر: موقع الدرر السنية على الإنترنت dorar.net

عدد الأجزاء: 2

تم تحميله في/ ربيع الأول 1433 هـ

[الكتاب مرقم آليا]

تاريخ النشر بالشاملة: 28 ربيع الأول 1433

ধর্মাদর্শ ও মতবাদ বিশ্বকোষ   (একদল লেখক)

বিভাগ: ফিরকা ও খণ্ডনমূলক গ্রন্থাবলি


গ্রন্থ: ধর্মাদর্শ ও মতবাদ বিশ্বকোষ

প্রস্তুতি: শেখ আলভী বিন আব্দুল কাদির আস-সাক্কাফ-এর তত্ত্বাবধানে একদল গবেষক

প্রকাশক: আদ-দুরার আস-সানিয়্যাহ ইন্টারনেট ওয়েবসাইট dorar.net

খণ্ড সংখ্যা: ২

ডাউনলোড করা হয়েছে/ রবিউল আউয়াল ১৪৩৩ হিজরি

[গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত]

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ২৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৩

(খণ্ড: ١) মাওসুআতুল মিলাল ওয়াদ আদিয়ান (পৃষ্ঠা: -)
ـ[موسوعة الملل والأديان]ـ

إعداد: مجموعة من الباحثين بإشراف الشيخ عَلوي بن عبد القادر السقاف

الناشر: موقع الدرر السنية على الإنترنت dorar.net

عدد الأجزاء: 2

تم تحميله في/ ربيع الأول 1433 هـ

[الكتاب مرقم آليا]
ـ[মতবাদ ও ধর্মসমূহের বিশ্বকোষ]ـ

প্রস্তুতকরণ: শাইখ আলাউই বিন আব্দুল কাদির আস-সাক্কাফের তত্ত্বাবধানে একদল গবেষক

প্রকাশক: ইন্টারনেটে আদ-দুরার আস-সানিয়্যাহ ওয়েবসাইট dorar.net

খণ্ড সংখ্যা: ২

ডাউনলোড করা হয়েছে: রবিউল আউয়াল ১৪৩৩ হিজরি

[বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত]
(খণ্ড: ١) মাওসুআতুল মিলাল ওয়াদ আদিয়ান (পৃষ্ঠা: ١)
‌‌مقدمة

الحمد لله القائل وَمَنْ يَبْتَغِ غَيْرَ الْإِسْلَامِ دِينًا فَلَنْ يُقْبَلَ مِنْهُ وَهُوَ فِي الْآخِرَةِ مِنَ الْخَاسِرِينَ [آل عمران: 85] والصلاة والسلام على المبعوث رحمة للعالمين نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.

أمَّا بعد:

فلا شك أن الكلام في الأديان المخالفة للدين الحق دين الإسلام، وبيان ما هي عليه من الضلال والزيغ عن الصراط المستقيم - والتي تتخبط خبط عشواء في عقائدها وأفكارها- له أهمية كبيرة. فبه تستبين سبيل الهداية من سبل الضلال، ويعرف الحق من الباطل، وبه تقام الحجة على المقلد الجاهل، قال الله تعالى: وَكَذَلِكَ نُفَصِّلُ الْآيَاتِ وَلِتَسْتَبِينَ سَبِيلُ الْمُجْرِمِينَ [الأنعام: 55]، والمسلم يحمد الله تعالى أن هداه للإسلام، ويزداد يقينا بدينه، كلما ازداد علمه بتلك الديانات ويقف على أوجه الانحراف فيها وشبهها التي يتعلقون بها.

لاسيما في هذا العصر مع هذا الانفتاح الهائل، والتواصل الدائم الذي يعيشه العالم الآن، سواء كان عبر شكة الإنترنت، أو غيرها من وسائل الإعلام.

هذا وقد ألف العلماء قديماً وحديثاً في الملل والنحل كتباً كثيرة، منها المطول ومنها المختصر، ومنها الجامع، ومنها المقتصر على بعض تلك الأديان، ولما كان الوقوف على أكثر هذه الكتب عسيراً، وبعضها فيه الصواب والخطأ، وكثيرٌ منها بحاجة إلى تحقيق وتنقيح، وتنقية وتصفية، وليس فيها كتاب واحد، بل ولا برنامج أو موقع إلكتروني واحد يجمع كل هذه الأديان السماوية منها والوثنية، شرعنا بفضل الله وتوفيقه في موقع الدرر السنية بجمع ما تفرق في كتب الأديان القديمة والمعاصرة، معرفين بها، وبأبرز شخصياتها، وأفكارها ومعتقداتها، والرد على الشبه المتعلقة بها، وأماكن انتشارها ومواقع نفوذها وغيرها من المباحث، وذلك من عشرات الكتب والمراجع مع تحقيقها، وتنقيحها، والتأليف بينها، وتخريج أحاديثها، وتصنيفها تضنيفاً موضوعياً شجرياً، مع الحرص على ذكر الكلام المنقول كما هو مع ذكر المرجع، إلا أنه أحيانا يتم التصرف في بعض المواضع ويشار إلى ذلك، ونسأل الله أن يجعل عملنا خالصا لوجهه الكريم، وينفع به المسلمين.
ভূমিকা

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি বলেছেন: "আর যে ব্যক্তি ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো দীন অন্বেষণ করবে, তার পক্ষ থেকে তা কখনো গ্রহণ করা হবে না এবং আখিরাতে সে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।" [আলে ইমরান: ৮৫]। আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক বিশ্বজগতের জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরিত আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার-পরিজন এবং তাঁর সকল সাহাবীর ওপর।

অতঃপর:

নিঃসন্দেহে সত্য দীন ইসলামের বিরুদ্ধাচরণকারী ধর্মসমূহ সম্পর্কে আলোচনা করা এবং তাদের পথভ্রষ্টতা ও সরল পথ থেকে বিচ্যুতির বিষয়টি বর্ণনা করার গুরুত্ব অপরিসীম—যে ধর্মগুলো তাদের আকিদা ও চিন্তাধারায় দিশেহারা হয়ে হাতড়াচ্ছে। এর মাধ্যমে হিদায়াতের পথ পথভ্রষ্টতার পথ থেকে স্পষ্ট হয় এবং সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য নিরূপিত হয়। আর এর দ্বারাই মূর্খ অন্ধ-অনুকরণকারীর বিরুদ্ধে প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন: "এভাবেই আমি আয়াতসমূহ বিস্তারিত বর্ণনা করি, যাতে অপরাধীদের পথ সুস্পষ্ট হয়ে যায়।" [আল-আনআম: ৫৫]। একজন মুসলিম আল্লাহ তাআলার প্রশংসা করে যে, তিনি তাকে ইসলামের পথে হিদায়াত দিয়েছেন। সে যখনই ঐসব ধর্ম সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করে এবং সেগুলোর বিচ্যুতি ও তাদের আঁকড়ে ধরা সংশয়গুলো সম্পর্কে জানতে পারে, তখনই তার নিজের দীনের ওপর বিশ্বাস আরও দৃঢ় হয়।

বিশেষ করে বর্তমান যুগে এই বিশাল উন্মুক্ততা এবং নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগের প্রেক্ষাপটে, যা এখন বিশ্বজুড়ে বিদ্যমান, চাই তা ইন্টারনেটের মাধ্যমে হোক বা অন্যান্য গণমাধ্যমের মাধ্যমে।

প্রাচীন ও আধুনিক যুগের আলেমগণ বিভিন্ন মতবাদ ও ধর্ম সম্পর্কে অনেক গ্রন্থ রচনা করেছেন; যার মধ্যে কোনটি বিস্তারিত, কোনটি সংক্ষিপ্ত, কোনটি সংকলনধর্মী, আবার কোনটি নির্দিষ্ট কিছু ধর্মের মধ্যে সীমাবদ্ধ। যেহেতু এই বইগুলোর অধিকাংশের নাগাল পাওয়া কঠিন এবং এগুলোর কোনোটিতে সঠিক ও ভুলের মিশ্রণ রয়েছে, আবার অনেকগুলোরই তাহকিক (গবেষণা), পরিমার্জন ও পরিশুদ্ধি প্রয়োজন; উপরন্তু এমন কোনো একক গ্রন্থ, এমনকি কোনো প্রোগ্রাম বা ওয়েবসাইট নেই যা আসমানি ও মূর্তিপূজক সকল ধর্মকে একত্রে তুলে ধরে—তাই আমরা আল্লাহর অনুগ্রহ ও তাওফিকে 'আদ-দুরার আস-সানিয়্যাহ' ওয়েবসাইটে প্রাচীন ও সমকালীন ধর্মের কিতাবসমূহে ছড়িয়ে থাকা তথ্যগুলো সংগ্রহ করতে শুরু করেছি। এসব ধর্ম, তাদের প্রধান ব্যক্তিত্ব, তাদের চিন্তাধারা ও আকিদা-বিশ্বাস পরিচয় করিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সংশয়গুলোর খণ্ডন এবং সেগুলোর বিস্তৃতি ও প্রভাবের ক্ষেত্রসহ অন্যান্য বিষয়াবলি এখানে স্থান পেয়েছে। এগুলো সংগৃহীত হয়েছে কয়েক ডজন কিতাব ও তথ্যসূত্র থেকে, যেগুলোকে যাচাই-বাছাই, পরিমার্জন, সমন্বয়, হাদিসের তাখরিজ (সূত্র যাচাই) এবং বিষয়ভিত্তিক বৃক্ষাকারে শ্রেণিবিন্যাস করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে মূল উদ্ধৃতিগুলো উৎস উল্লেখসহ হুবহু বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়েছে; তবে কখনো কখনো কোনো কোনো স্থানে সামান্য পরিবর্তন করা হয়েছে এবং সেক্ষেত্রে তা উল্লেখ করা হয়েছে। আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের এই আমলকে কেবল তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন এবং এর মাধ্যমে মুসলিমদের উপকৃত করেন।
(খণ্ড: ١) মাওসুআতুল মিলাল ওয়াদ আদিয়ান (পৃষ্ঠা: ٢)
‌‌تمهيد

الحمد لله الذي رضي لنا الإسلام ديناً، ونصب لنا الدلالة على صحته برهاناً مبيناً، وأوضح السبيل إلى معرفته واعتقاده حقاً يقيناً، ووعد من قام بأحكامه وحفظ حدوده أجراً جسيماً، وذخر لمن وافاه به ثواباً جزيلاً وفوزاً عظيماً، وفرض علينا الانقياد له ولأحكامه، والتمسك بدعائمه وأركانه، والاعتصام بعراه وأسبابه.

فهو دينه الذي ارتضاه لنفسه ولأنبيائه ورسله وملائكة قدسه، فبه اهتدى المهتدون وإليه دعا الأنبياء والمرسلون.

أَفَغَيْرَ دِينِ اللهِ يَبْغُونَ وَلَهُ أَسْلَمَ مَن فِي السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ طَوْعًا وَكَرْهًا وَإِلَيْهِ يُرْجَعُونَ [آل عمران:] 83، فلا يُقبل من أحد دين سواه من الأولين والآخرين وَمَن يَبْتَغِ غَيْرَ الإِسْلَامِ دِينًا فَلَن يُقْبَلَ مِنْهُ وَهُوَ فِي الآخِرَةِ مِنَ الْخَاسِرِينَ [آل عمران85:].

شهد بأنه دينه، قبل شهادة الأنام، وأشاد به ورفع ذكره وسمَّى به أهله، وما اشتملت عليه الأرحام، فقال تعالى: شَهِدَ اللهُ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَاّ هُوَ وَالْمَلَائِكَةُ وَأُوْلُواْ الْعِلْمِ قَآئِمَاً بِالْقِسْطِ لَا إِلَهَ إِلَاّ هُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ إِنَّ الدِّينَ عِندَ اللهِ الإِسْلَامُ وَمَا اخْتَلَفَ الَّذِينَ أُوْتُواْ الْكِتَابَ إِلَاّ مِن بَعْدِ مَا جَاءهُمُ الْعِلْمُ بَغْيًا بَيْنَهُمْ وَمَن يَكْفُرْ بِآيَاتِ اللهِ فَإِنَّ اللهِ سَرِيعُ الْحِسَابِ [آل عمران: 18 - 19].

وجعل أهله هم الشهداء على الناس يوم يقوم الأشهاد، لِما فضلهم به من الإصابة في القول والعمل والهدى والنية والاعتقاد؛ إذ كانوا أحق بذلك وأهله في سابق التقدير، فقال وَجَاهِدُوا فِي اللَّهِ حَقَّ جِهَادِهِ هُوَ اجْتَبَاكُمْ وَمَا جَعَلَ عَلَيْكُمْ فِي الدِّينِ مِنْ حَرَجٍ مِلَّةَ أَبِيكُمْ إِبْرَاهِيمَ هُوَ سَمَّاكُمُ الْمُسْلِمينَ مِن قَبْلُ وَفِي هَذَا لِيَكُونَ الرَّسُولُ شَهِيدًا عَلَيْكُمْ وَتَكُونُوا شُهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ فَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ وَاعْتَصِمُوا بِاللَّهِ هُوَ مَوْلَاكُمْ فَنِعْمَ الْمَوْلَى وَنِعْمَ النَّصِيرُ [الحج: 78].

وحكم سبحانه بأنه أحسن الأديان، ولا أحسن من حكمه ولا أصدق منه قيلا فقال: وَمَنْ أَحْسَنُ دِيناً مِمَّنْ أَسْلَمَ وَجْهَهُ لله وَهُوَ مُحْسِنٌ واتَّبَعَ مِلَّةَ إِبْرَاهِيمَ حَنِيفًا وَاتَّخَذَ اللهُ إِبْرَاهِيمَ خَلِيلاً [النساء: 125].

وكيف لا يميز من له أدنى عقل يرجع إليه بين دين قام أساسه وارتفع بناؤه على عبادة الرحمن، والعمل بما يحبه ويرضاه مع الإخلاص في السر والإعلان، ومعاملة خلقه بما أمر به من العدل والإحسان، مع إيثار طاعته على طاعة الشيطان، وبين دين أُسِّسَ بنيانه على شفا جرف هار فانهار بصاحبه في النار.

أُسِّسَ على عبادة النيران، وعقد الشركة بين الرحمن والشيطان، وبينه وبين الأوثان.
উপক্রমণিকা

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের জন্য ইসলামকে দ্বীন হিসেবে মনোনীত করেছেন, এর সত্যতার প্রমাণ হিসেবে সুস্পষ্ট দলিল স্থাপন করেছেন, একে জানা এবং এর প্রতি সুনিশ্চিত বিশ্বাসের পথকে পরিষ্কার করেছেন। আর তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এক বিশাল প্রতিদানের তাদের জন্য, যারা এর বিধানসমূহ পালন করে এবং এর সীমারেখা রক্ষা করে। আর তিনি গচ্ছিত রেখেছেন এক মহা পুরস্কার এবং বিশাল সফলতা তাদের জন্য, যারা এর ওপর অটল থেকে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করবে। তিনি আমাদের ওপর এর এবং এর বিধানসমূহের আনুগত্য করা, এর স্তম্ভ ও রুকনসমূহকে মজবুতভাবে ধারণ করা এবং এর রজ্জু ও মাধ্যমসমূহকে আঁকড়ে ধরা অপরিহার্য করেছেন।

এটিই সেই দ্বীন যা তিনি নিজের জন্য, তাঁর নবী ও রাসূলগণের জন্য এবং তাঁর পবিত্র ফেরেশতাদের জন্য পছন্দ করেছেন। এর মাধ্যমেই হিদায়াতপ্রাপ্তরা হিদায়াত লাভ করেছেন এবং এর দিকেই নবী ও রাসূলগণ দাওয়াত দিয়েছেন।

তবে কি তারা আল্লাহর দ্বীন ছাড়া অন্য কিছু তালাশ করছে? অথচ আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে সবই স্বেচ্ছায় বা অনিচ্ছায় তাঁরই নিকট আত্মসমর্পণ করেছে এবং তাঁরই কাছে তাদের ফিরিয়ে নেওয়া হবে [আল ইমরান: ৮৩]। সুতরাং সৃষ্টির আদি থেকে অন্ত কারো থেকেই ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো দ্বীন কবুল করা হবে না। আর যে ব্যক্তি ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো দ্বীন তালাশ করবে, তা কখনোই তার কাছ থেকে গ্রহণ করা হবে না এবং আখিরাতে সে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে [আল ইমরান: ৮৫]।

সৃষ্টির সাক্ষ্য দেওয়ার পূর্বেই তিনি সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, এটিই তাঁর দ্বীন। তিনি এর প্রশংসা করেছেন, এর আলোচনাকে উচ্চ করেছেন এবং এর অনুসারীদের 'মুসলিম' নামকরণ করেছেন এবং জরায়ু যা কিছু ধারণ করে তাকেও। মহান আল্লাহ বলেন: আল্লাহ সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, নিশ্চয়ই তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, আর ফেরেশতাগণ এবং ন্যায়নিষ্ঠ জ্ঞানীগণও (একই সাক্ষ্য দিয়েছেন)। তিনি ছাড়া আর কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট একমাত্র দ্বীন হলো ইসলাম। আর যাদের কিতাব দেওয়া হয়েছিল, তারা কেবল তাদের নিকট জ্ঞান আসার পরেই পরস্পর বিদ্বেষবশত মতভেদ করেছে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর আয়াতসমূহকে অস্বীকার করে, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী [আল ইমরান: ১৮ - ১৯]।

আর তিনি ইসলামের অনুসারীদেরকেই মানুষের ওপর সাক্ষী বানিয়েছেন সেই দিন যেদিন সাক্ষীরা দণ্ডায়মান হবে; কারণ তিনি তাদের কথা, কাজ, হিদায়াত, নিয়ত ও বিশ্বাসের সঠিকতার মাধ্যমে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। কেননা পূর্বনির্ধারিত তাকদিরে তারাই এর অধিক হকদার ও উপযুক্ত ছিলেন। তিনি বলেছেন: এবং তোমরা আল্লাহর পথে জিহাদ করো যেভাবে জিহাদ করা উচিত। তিনি তোমাদের মনোনীত করেছেন এবং দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের ওপর কোনো সংকীর্ণতা রাখেননি। এটি তোমাদের পিতা ইব্রাহিমের মিল্লাত। তিনি পূর্বেই তোমাদের নামকরণ করেছেন 'মুসলিম' এবং এই কিতাবেও, যাতে রাসূল তোমাদের ওপর সাক্ষী হন এবং তোমরা মানুষের ওপর সাক্ষী হও। অতএব তোমরা সালাত কায়েম করো, জাকাত প্রদান করো এবং আল্লাহকে মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরো। তিনিই তোমাদের অভিভাবক, কতই না উত্তম অভিভাবক এবং কতই না উত্তম সাহায্যকারী [আল হাজ্জ: ৭৮]।

আর সুবহানাহু ওয়া তাআলা ফয়সালা করেছেন যে, এটিই সর্বশ্রেষ্ঠ দ্বীন। তাঁর ফয়সালার চেয়ে উত্তম এবং তাঁর কথার চেয়ে সত্য আর কারো কথা হতে পারে না। তিনি বলেছেন: আর দ্বীনের ক্ষেত্রে তার চেয়ে উত্তম আর কে, যে সৎকর্মপরায়ণ হয়ে আল্লাহর নিকট নিজেকে সঁপে দিয়েছে এবং একনিষ্ঠভাবে ইব্রাহিমের মিল্লাত অনুসরণ করেছে? আর আল্লাহ ইব্রাহিমকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করেছেন [আন নিসা: ১২৫]।

যার সামান্যতম বিচারবুদ্ধি আছে সে কেন পার্থক্য করবে না এমন এক দ্বীনের মাঝে যার ভিত্তি ও ইমারত গড়ে উঠেছে দয়াময় রহমানের ইবাদতের ওপর, এবং গোপনে ও প্রকাশ্যে একনিষ্ঠতার সাথে তাঁর পছন্দ ও সন্তুষ্টি অনুযায়ী আমল করার ওপর, এবং সৃষ্টির সাথে ন্যায়বিচার ও সদাচরণের ওপর যা তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, সেই সাথে শয়তানের আনুগত্যের চেয়ে আল্লাহর আনুগত্যকে প্রাধান্য দেওয়ার ওপর; আর সেই দ্বীনের মাঝে যার ভিত্তি স্থাপিত হয়েছে এক পতনোন্মুখ গর্তের কিনারে, অতঃপর তা তার অনুসারীসহ জাহান্নামের আগুনে পতিত হয়েছে?

যার ভিত্তি স্থাপিত হয়েছে অগ্নির ইবাদতের ওপর, এবং দয়াময় রহমান ও শয়তানের মাঝে এবং তাঁর ও মূর্তিসমূহের মাঝে অংশীদারিত্ব স্থাপনের ওপর।
(খণ্ড: ١) মাওসুআতুল মিলাল ওয়াদ আদিয়ান (পৃষ্ঠা: ٣)
أو دين أسس بنيانه على عبادة الصلبان والصور المدهونة في السقوف والحيطان، وأن رب العالمين نزل عن كرسي عظمته فالتحم ببطن أنثى وأقام هناك مدة من الزمان، بين دم الطمث في ظلمات الأحشاء تحت ملتقى الأعكان، ثم خرج صبيًّا رضيعًا يشب شيئاً فشيئاً ويبكي ويأكل ويشرب ويبول وينام ويتقلب مع الصبيان، ثم أودع في المكتب بين صبيان اليهود يتعلم ما ينبغي للإنسان، هذا وقد قطعت منه القلفة حين الختان، ثم جعل اليهود يطردونه ويشردونه من مكان إلى مكان، ثم قبضوا عليه وأحلوه أصناف الذل والهوان، فعقدوا على رأسه من الشوك تاجاً من أقبح التيجان، وأركبوه قصبة ليس لها لجام ولا عنان، ثم ساقوه إلى خشبة الصلب مصفوعاً مبصوقاً على وجهه وهم خلفه وأمامه وعن شمائله وعن الأيمان.

ثم أركبوه ذلك المركب الذي تقشعر منه القلوب مع الأبدان، ثم شُدَّت بالحبال يداه مع الرجلين، ثم خالطهما تلك المسامي التي تكسر العظام وتمزق اللحمان، وهو يستغيث: يا قوم ارحموني! فلا يرحمه منهم إنسان، هذا وهو مدير العالم العلوي والسفلي الذي يسأله من في السماوات والأرض كل يوم هو في شأن، ثم مات ودفن في التراب تحت صم الجنادل والصوان، ثم قام من القبر وصعد إلى عرشه وملكه بعد أن كان ما كان، فما ظنك بفروعٍ هذا أصلها الذي قام عليه البنيان.

أو دين أسس بنيانه على عبادة الإله المنحوت بالأيدي بعد نحت الأفكار من سائر أجناس الأرض على اختلاف الأنواع والأصناف والألوان، والخضوع له والتذلل والخرور سجوداً إلى الأذقان، لا يؤمن من يدين به، بالله ولا ملائكته ولا كتبه ولا رسله ولا لقائه يوم يجزى المسيء بإساءته والمحسن بالإحسان.

أو دين الأمة الغضبية الذين انسلخوا من رضوان الله كانسلاخ الحية من قشرها، وباءوا بالغضب والخزي والهوان، وفارقوا أحكام التوراة ونبذوها وراء ظهورهم واشتروا بها القليل من الأثمان، فترحل عنهم التوفيق وقارنهم الخذلان، واستبدلوا بولاية الله وملائكته ورسله وأوليائه ولاية الشيطان.

أو دين أسس بنيانه على أن رب العالمين وجود مطلق في الأذهان، لا حقيقة له في العيان، ليس بداخل في العالم ولا خارج عنه، ولا متصل به ولا منفصل عنه، ولا محايث ولا مباين له، لا يَسمع، ولا يَرى، ولا يعلم شيئا من الموجودات ولا يفعل ما يشاء، لا حياة له، ولا قدرة، ولا إرادة، ولا اختيار، ولم يخلق السموات والأرض في ستة أيام بل لم تزل السموات والأرض معه، وجودها مقارن لوجوده، لم يحدثها بعد عدمها، ولا له قدرة على إفنائها بعد وجودها، ما أنزل على بشر كتاباً، ولا أرسل إلى الناس رسولاً، فلا شرع يُتَّبع، ولا رسول يُطاع، ولا دار بعد هذه الدار، ولا مبدأ للعالم ولا معاد، ولا بعث ولا نشور، ولا جنة ولا نار، إن هي إلا تسعة أفلاك وعشرة عقول، وأربعة أركان وأفلاك تدور، ونجوم تسير، وأرحام تدفع، وأرض تبلع وَقَالُوا مَا هِيَ إِلَّا حَيَاتُنَا الدُّنْيَا نَمُوتُ وَنَحْيَا وَمَا يُهْلِكُنَا إِلَّا الدَّهْرُ وَمَا لَهُم بِذَلِكَ مِنْ عِلْمٍ إِنْ هُمْ إِلَّا يَظُنُّونَ [الجاثية: 24].

وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، ولا ضد له ولا ند له، ولا صاحبة له ولا ولد له، ولا كفء له، تعالى عن إفك المبطلين، وخرص الكاذبين، وتقدس عن شرك المشركين، وأباطيل الملحدين. كذب العادلون به سواه، وضلوا ضلالاً بعيداً، وخسروا خسراناً مبيناً مَا اتَّخَذَ اللَّهُ مِن وَلَدٍ وَمَا كَانَ مَعَهُ مِنْ إِلَهٍ إِذًا لَّذَهَبَ كُلُّ إِلَهٍ بِمَا خَلَقَ وَلَعَلَا بَعْضُهُمْ عَلَى بَعْضٍ سُبْحَانَ اللَّهِ عَمَّا يَصِفُونَ [المؤمنون: 91].
অথবা এমন এক ধর্ম যার ভিত্তি স্থাপিত হয়েছে ক্রুশ এবং ছাদ ও দেয়ালে অঙ্কিত চিত্রসমূহের পূজার ওপর; আর এই বিশ্বাসের ওপর যে, বিশ্বজগতের রব তাঁর মহত্ত্বের কুরসি থেকে নেমে এসে এক নারীর জরায়ুতে মিশে গেছেন এবং সেখানে দীর্ঘ সময় অবস্থান করেছেন—পেটের ভাঁজগুলোর নিচে জরায়ুর অন্ধকারে ঋতুস্রাবের রক্তের মাঝে। তারপর তিনি এক দুগ্ধপোষ্য শিশু হিসেবে ভূমিষ্ঠ হয়েছেন, যিনি ধীরে ধীরে বড় হন, কাঁদেন, পানাহার করেন, প্রস্রাব করেন, ঘুমান এবং শিশুদের সাথে মেলামেশা করেন। এরপর তাঁকে ইয়াহুদি শিশুদের সাথে মকতবে রাখা হলো যাতে তিনি মানুষের জন্য যা প্রয়োজনীয় তা শিখতে পারেন; এমতাবস্থায় খতনার সময় তাঁর লিঙ্গাগ্রচর্ম কেটে ফেলা হলো। এরপর ইয়াহুদিরা তাঁকে তাড়িয়ে দিতে এবং এক স্থান থেকে অন্য স্থানে বিতাড়িত করতে শুরু করল। অতঃপর তারা তাঁকে বন্দি করল এবং তাঁর ওপর নানা প্রকার লাঞ্ছনা ও অপমান চাপিয়ে দিল। তারা তাঁর মাথায় সবচাইতে কদর্য এক কাঁটার মুকুট পরিয়ে দিল এবং তাঁকে এমন এক দণ্ডের ওপর আরোহণ করাল যার কোনো লাগাম বা নিয়ন্ত্রণ ছিল না। এরপর তারা তাঁকে চড়-থাপ্পড় মারতে মারতে এবং তাঁর মুখে থুতু নিক্ষেপ করতে করতে ক্রুশবিদ্ধ করার কাঠের দিকে নিয়ে গেল, অথচ তারা তাঁর সামনে, পেছনে, ডানে এবং বামে উপস্থিত ছিল।

তারপর তারা তাঁকে এমন এক বাহনে চড়াল যা দেখে অন্তর ও দেহ শিউরে ওঠে। এরপর রশি দিয়ে তাঁর হাত ও পা দুটি শক্ত করে বাঁধা হলো। অতঃপর সেগুলোতে এমন সব পেরেক বিদ্ধ করা হলো যা হাড় ভেঙে দেয় এবং গোশত ছিঁড়ে ফেলে। এমতাবস্থায় তিনি আর্তনাদ করছিলেন: 'হে জাতি! আমার ওপর দয়া করো!' কিন্তু তাদের মধ্যে কোনো মানুষ তাঁর ওপর দয়া করল না। অথচ তিনি হলেন ঊর্ধ্বজগত ও নিম্নজগতের পরিচালক, আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে তারা প্রতিদিন তাঁর কাছেই প্রার্থনা করে এবং তিনি প্রতিদিন নতুন নতুন কাজে রত থাকেন। এরপর তিনি মারা গেলেন এবং শক্ত পাথর ও নুড়ির নিচে মাটির স্তরে দাফন করা হলো। অতঃপর তিনি কবর থেকে পুনরুত্থিত হলেন এবং যা ঘটার তা ঘটার পর পুনরায় তাঁর আরশে উঠে গেলেন এবং তাঁর রাজত্বে ফিরে গেলেন। অতএব তোমার কী ধারণা সেই শাখাগুলো সম্পর্কে যার মূল ভিত্তি হলো এটি?

অথবা এমন এক ধর্ম যার ভিত্তি স্থাপিত হয়েছে হাত দিয়ে খোদাই করা মূর্তিপূজার ওপর, যা পৃথিবীর নানা প্রকার, শ্রেণি ও বর্ণের মানুষের চিন্তাপ্রসূত কল্পনার মাধ্যমে তৈরি। তার সামনে বিনীত হওয়া, হীনতা প্রকাশ করা এবং চিবুক পর্যন্ত লুটিয়ে পড়ে সিজদা করা। যে ব্যক্তি এ ধর্মে বিশ্বাসী সে আল্লাহর ওপর ঈমান রাখে না, না তাঁর ফেরেশতাদের ওপর, না তাঁর কিতাবসমূহের ওপর, না তাঁর রাসূলদের ওপর, আর না কিয়ামত দিবসে তাঁর সাথে সাক্ষাতের ওপর—যেদিন পাপিষ্ঠকে তার পাপের জন্য এবং নেককারকে তার পুণ্যের জন্য প্রতিদান দেওয়া হবে।

অথবা সেই ক্রোধের শিকার জাতির ধর্ম যারা আল্লাহর সন্তুষ্টি থেকে বিচ্যুত হয়েছে ঠিক যেমন সাপ তার খোলস থেকে বেরিয়ে আসে। তারা আল্লাহর ক্রোধ, অপদস্থতা ও লাঞ্ছনার শিকার হয়েছে। তারা তাওরাতের বিধানসমূহ পরিত্যাগ করেছে, সেগুলোকে নিজেদের পেছনে ফেলে দিয়েছে এবং তার বিনিময়ে তুচ্ছ মূল্য গ্রহণ করেছে। ফলে তাদের থেকে তাওফিক চলে গেছে এবং লাঞ্ছনা তাদের সঙ্গী হয়েছে। তারা আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতা, তাঁর রাসূল এবং তাঁর বন্ধুদের অভিভাবকত্বের পরিবর্তে শয়তানের অভিভাবকত্ব গ্রহণ করেছে।

অথবা এমন এক ধর্ম যার ভিত্তি এই ধারণার ওপর যে, বিশ্বজগতের রব কেবল মনের কল্পনাপ্রসূত এক পরম অস্তিত্ব, বাস্তবে যার কোনো হাকিকত নেই। তিনি জগতের ভেতরেও নেই, বাইরেও নেই; জগতের সাথে যুক্তও নন, বিযুক্তও নন; তিনি জগতের সাথে মিশে নেই, আবার জগৎ থেকে পৃথকও নন। তিনি শোনেন না, দেখেন না এবং বিদ্যমান কোনো বস্তু সম্পর্কে কিছু জানেন না। তিনি যা ইচ্ছা তা করেন না। তাঁর কোনো জীবন নেই, নেই কোনো ক্ষমতা, ইচ্ছা বা পছন্দ। তিনি আসমান ও জমিন ছয় দিনে সৃষ্টি করেননি, বরং আসমান ও জমিন অনাদিকাল থেকেই তাঁর সাথে ছিল। সেগুলোর অস্তিত্ব তাঁর অস্তিত্বের সাথে মিশে আছে। অনস্তিত্বের পর তিনি সেগুলোকে সৃষ্টি করেননি এবং অস্তিত্ব লাভের পর সেগুলোকে ধ্বংস করার ক্ষমতাও তাঁর নেই। তিনি কোনো মানুষের ওপর কোনো কিতাব নাজিল করেননি, মানুষের কাছে কোনো রাসূল পাঠাননি। সুতরাং অনুসরণের মতো কোনো শরিয়ত নেই, আনুগত্যের মতো কোনো রাসূল নেই। এই জগতের পর আর কোনো জগত নেই, জগতের কোনো সূচনা নেই, নেই কোনো প্রত্যাবর্তন। পুনরুত্থান নেই, হাশরের ময়দানে সমবেত হওয়া নেই, জান্নাত নেই আর জাহান্নামও নেই। এগুলো তো কেবল নয়টি আকাশস্তর ও দশটি বুদ্ধি (ইনটেলেক্ট), আর চারটি উপাদান এবং আবর্তনশীল মহাকাশ। আর রয়েছে ঘূর্ণায়মান নক্ষত্ররাজি, জন্মদানকারী গর্ভাশয় এবং গ্রাসকারী পৃথিবী। তারা বলেছিল, "আমাদের এই পার্থিব জীবনই সব; আমরা মরি ও বাঁচি, আর মহাকালই আমাদের ধ্বংস করে। এ বিষয়ে তাদের কোনো জ্ঞান নেই, তারা কেবল ধারণা করে।" [সূরা আল-জাসিয়া: ২৪]।

আর আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। তাঁর কোনো প্রতিপক্ষ নেই, সমকক্ষ নেই। তাঁর কোনো সঙ্গিনী নেই, নেই কোনো সন্তান। তাঁর সমতুল্য কেউ নেই। বাতিলপন্থীদের মিথ্যাচার এবং মিথ্যাবাদীদের বানোয়াট কথা থেকে তিনি অনেক ঊর্ধ্বে। আর মুশরিকদের শিরক ও নাস্তিকদের অসারতা থেকে তিনি পবিত্র। যারা তাঁর সাথে অন্যদের সমান করে তারা মিথ্যা বলেছে এবং তারা সুদূর বিভ্রান্তিতে পথ হারিয়েছে। তারা সুস্পষ্ট ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। আল্লাহ কোনো সন্তান গ্রহণ করেননি এবং তাঁর সাথে অন্য কোনো ইলাহ নেই; যদি থাকত তবে প্রত্যেক ইলাহ আপন সৃষ্টি নিয়ে আলাদা হয়ে যেত এবং একে অপরের ওপর প্রাধান্য বিস্তার করত। তারা যা বর্ণনা করে তা থেকে আল্লাহ পবিত্র ও মহান। [সূরা আল-মুমিনুন: ৯১]।
(খণ্ড: ١) মাওসুআতুল মিলাল ওয়াদ আদিয়ান (পৃষ্ঠা: ٤)
وأشهد أن محمداً عبده ورسوله، وصفوته من خلقه، وخيرته من بريته، وأمينه على وحيه، وسفيره بينه وبين عباده، ابتعثه بخير ملة وأحسن شرعة، وأظهر دلالة، وأوضح حجة، وأبين برهان إلى جميع العالمين إنسهم وجنهم عربهم وعجمهم حاضرهم وباديهم، الذي بشرت به الكتب السالفة، وأخبرت به الرسل الماضية، وجرى ذكره في الأعصار، في القرى والأمصار، والأمم الخالية، ضربت لنبوته البشائر من عهد آدم أبي البشر، إلى عهد المسيح ابن البشر، كلما قام رسول أخذ عليه الميثاق بالإيمان به والبشارة بنبوته، حتى انتهت النبوة إلى كليم الرحمن، موسى بن عمران، فأذن بنبوته على رؤوس الأشهاد بين بني إسرائيل معلنا بالأذان: جاء الله من طور سيناء، وأشرق من ساعير، واستعلن من جبال فاران.

إلى أن ظهر المسيح ابن مريم عبد الله ورسوله وروحه وكلمته التي ألقاها إلى مريم، فأذن بنبوته أذاناً لم يؤذنه أحد مثله قبله، فقام في بني إسرائيل مقام الصادق الناصح، وكانوا لا يحبون الناصحين فقال: وَإِذْ قَالَ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ يَا بَنِي إِسْرَائِيلَ إِنِّي رَسُولُ اللَّهِ إِلَيْكُم مُّصَدِّقاً لمَا بَيْنَ يَدَيَّ مِنَ التَّوْرَاةِ وَمُبَشِّرًا بِرَسُولٍ يَأْتِي مِن بَعْدِي اسْمُهُ أَحْمَدُ فَلَمَّا جَاءهُم بِالْبَيِّنَاتِ قَالُوا هَذَا سِحْرٌ مُّبِينٌ [الصف: 6].

تالله لقد أذن المسيح أذاناً أسمعه البادي والحاضر، فأجابه المؤمن المصدق وقامت حجة الله على الجاحد الكافر.

الله أكبر، الله أكبر عما يقول فيه المبطلون ويصفه به الكاذبون، وينسبه إليه المفترون والجاحدون، ثم قال: أشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، ولا ند له ولا كفء له، ولا صاحبة له ولا ولد له، بل هو الأحد الصمد الذي لم يلد ولم يولد ولم يكن له كفوا أحد، ثم رفع صوته بالشهادة لأخيه وأولى الناس به، بأنه عبد الله ورسوله، وأنه أركون العالم، وأنه روح الحق الذي لا يتكلم من قبل نفسه إنما يقول ما يقال له، وأنه يخبر الناس بكل ما أعد الله لهم، ويسوسهم بالحق، ويخبرهم بالغيوب ويجيئهم بالتأويل، ويوبخ العالم على الخطيئة، ويخلصهم من يد الشيطان، وتستمر شريعته وسلطانه إلى آخر الدهر، وصرح في أذانه باسمه ونعته وصفته وسيرته حتى كأنهم ينظرون إليه عياناً، ثم قال: حي على الصلاة خلف إمام المرسلين وسيد ولد آدم أجمعين، حي على الفلاح باتباع مَنِ السعادة في اتباعه، والفلاح في الدخول في زمرة أشياعه. فأذن وأقام وتولى وقال: لست أدعكم كالأيِتام، وسأعود وأصلي وراء هذا الإمام، هذا عهدي إليكم، إن حفظتموه دام لكم الملك إلى آخر الأيام.

فصلى الله عليه مِن ناصحٍ بشَّر برسالة أخيه عليهما أفضل الصلاة والسلام، وصدَّق به أخوه ونزَّهه عما قال فيه وفي أمه أعداؤه المغضوب عليهم من الإفك والباطل وزور الكلام، كما نزه ربه وخالقه ومرسله عما قال فيه المثلثة عباد الصليب، ونسبوه إليه من النقص والعيب والذم.

 

‌‌المصدر:هداية الحيارى في أجوبة اليهود والنصارى لابن قيم الجوزية ص 19 - 24
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল, তাঁর সৃষ্টির মধ্যে মনোনীত এবং তাঁর মাখলুকের মধ্যে শ্রেষ্ঠ। তিনি তাঁর ওহীর বিশ্বস্ত আমানতদার এবং তাঁর ও তাঁর বান্দাদের মাঝে দূত। তিনি তাঁকে সর্বোত্তম ধর্ম ও শ্রেষ্ঠতম শরীয়ত দিয়ে প্রেরণ করেছেন। তিনি সবচেয়ে সুস্পষ্ট নিদর্শন, উজ্জ্বলতম দলিল এবং সুষ্পষ্ট প্রমাণাদি সহ সমস্ত জগতবাসী—মানুষ ও জিন, আরব ও অনারব, শহরবাসী ও মরুবাসী—সবার নিকট প্রেরিত হয়েছেন। পূর্ববর্তী কিতাবসমূহ তাঁর সুসংবাদ প্রদান করেছে, গত হওয়া রাসূলগণ তাঁর সম্পর্কে খবর দিয়েছেন এবং যুগে যুগে, জনপদে ও নগরে এবং গত হয়ে যাওয়া জাতিসমূহের মধ্যে তাঁর আলোচনা জারি ছিল। মানবজাতির পিতা আদমের যুগ থেকে শুরু করে মারইয়াম তনয় ঈসা মসীহের যুগ পর্যন্ত তাঁর নবুওয়াতের সুসংবাদ প্রদান করা হয়েছে। যখনই কোনো রাসূলের আবির্ভাব ঘটেছে, তাঁর ওপর ঈমান আনার এবং তাঁর নবুওয়াতের সুসংবাদ প্রদানের অঙ্গীকার গ্রহণ করা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত নবুওয়াতের ধারা দয়াময় আল্লাহর সাথে কথোপকথনকারী মূসা ইবনে ইমরানের কাছে পৌঁছে। তিনি জনসমক্ষে উচ্চকণ্ঠে তাঁর নবুওয়াতের ঘোষণা দিয়ে বলেছিলেন: আল্লাহ সিনাই পর্বত থেকে এসেছেন, সাঈর থেকে উদ্ভাসিত হয়েছেন এবং ফারান পর্বতমালা থেকে প্রকাশিত হয়েছেন।

অবশেষে আল্লাহর বান্দা, তাঁর রাসূল, তাঁর রূহ এবং তাঁর সেই কালিমা বা বাক্য যাকে তিনি মারইয়ামের নিকট প্রেরণ করেছিলেন—সেই মসীহ ইবনে মারইয়াম আবির্ভূত হলেন। তিনি তাঁর (মুহাম্মদের) নবুওয়াত সম্পর্কে এমন এক ঘোষণা দিলেন, যার মতো ঘোষণা ইতিপূর্বে কেউ দেয়নি। তিনি বনী ইসরাঈলের মধ্যে একজন সত্যবাদী নসিহতকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হলেন, যদিও তারা নসিহতকারীদের পছন্দ করত না। তিনি বলেছিলেন: "স্মরণ করো, যখন মারইয়াম তনয় ঈসা বলেছিল, 'হে বনী ইসরাঈল! আমি তোমাদের নিকট আল্লাহর প্রেরিত রাসূল। আমার পূর্ববর্তী তাওরাত কিতাবের আমি প্রত্যায়নকারী এবং আমার পরে আহমদ নামে যে রাসূল আসবেন, আমি তাঁর সুসংবাদদাতা।' অতঃপর তিনি যখন সুস্পষ্ট নিদর্শনসমূহ নিয়ে তাদের কাছে আসলেন, তখন তারা বলল, 'এ তো এক স্পষ্ট জাদু'।" [আস-সাফ: ৬]।

আল্লাহর কসম, মসীহ এমন এক ঘোষণা দিয়েছিলেন যা মরুবাসী ও শহরবাসী সবাই শুনেছে। ফলে সত্যায়নকারী মুমিন ব্যক্তি তাঁর ডাকে সাড়া দিয়েছে এবং অস্বীকারকারী কাফিরের বিরুদ্ধে আল্লাহর প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান—বাতিলপন্থীরা তাঁর সম্পর্কে যা বলে, মিথ্যাবাদীরা তাঁর যে বর্ণনা দেয় এবং অপবাদকারী ও অস্বীকারকারীরা তাঁর প্রতি যা আরোপ করে, তিনি তা থেকে অনেক ঊর্ধ্বে। অতঃপর তিনি (ঈসা) বললেন: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, এক আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তাঁর কোনো শরিক নেই, তাঁর কোনো সমকক্ষ বা সদৃশ নেই, তাঁর কোনো স্ত্রী নেই এবং তাঁর কোনো সন্তান নেই। বরং তিনি এক ও অমুখাপেক্ষী, যিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং যাঁকেও জন্ম দেওয়া হয়নি এবং তাঁর সমতুল্য কেউ নেই। এরপর তিনি তাঁর ভাই এবং তাঁর সবচেয়ে নিকটবর্তী মানুষের পক্ষে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে উচ্চকণ্ঠ হলেন যে, তিনি আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল এবং তিনি জগতের প্রধান (আর্কুন)। তিনি সত্যের রূহ, যিনি নিজের পক্ষ থেকে কোনো কথা বলেন না, বরং তাঁকে যা বলা হয় তিনি কেবল তাই বলেন। তিনি মানুষকে সেই সবকিছু সম্পর্কে অবহিত করবেন যা আল্লাহ তাদের জন্য প্রস্তুত রেখেছেন। তিনি হকের মাধ্যমে তাদের পরিচালনা করবেন, গায়েবের সংবাদ দেবেন এবং তাদের নিকট কিতাবের প্রকৃত ব্যাখ্যা নিয়ে আসবেন। তিনি গুনাহর জন্য পৃথিবীবাসীকে তিরস্কার করবেন এবং শয়তানের হাত থেকে তাদের মুক্ত করবেন। তাঁর শরীয়ত ও কর্তৃত্ব মহাকালের শেষ অবধি বলবৎ থাকবে। তিনি তাঁর ঘোষণায় তাঁর (মুহাম্মদের) নাম, গুণাবলি, বৈশিষ্ট্য ও জীবনচরিত এত স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন যে, মনে হচ্ছিল যেন তারা তাঁকে সরাসরি প্রত্যক্ষ করছে। অতঃপর তিনি বললেন: রাসূলগণের ইমাম এবং আদম সন্তানের সরদারের পেছনে সালাতের জন্য এসো। কল্যাণের দিকে এসো সেই ব্যক্তির অনুসরণের মাধ্যমে, যাঁর অনুসরণে রয়েছে পরম সুখ এবং যাঁর অনুসারীদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার মধ্যে রয়েছে প্রকৃত সফলতা। অতঃপর তিনি আজান ও ইকামত দিলেন এবং প্রস্থান করলেন। তিনি বললেন: আমি তোমাদের এতিমদের মতো ফেলে যাব না, আমি পুনরায় ফিরে আসব এবং এই ইমামের পেছনে সালাত আদায় করব। এটিই তোমাদের প্রতি আমার অঙ্গীকার; যদি তোমরা তা রক্ষা করো, তবে শেষ দিন পর্যন্ত তোমাদের রাজত্ব স্থায়ী হবে।

আল্লাহর দরুদ বর্ষিত হোক সেই নসিহতকারীর ওপর, যিনি তাঁর ভাইয়ের রিসালাতের সুসংবাদ দিয়েছেন—তাঁদের উভয়ের ওপর সর্বোত্তম সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক। তাঁর ভাইও তাঁকে সত্যায়ন করেছেন এবং তাঁর ও তাঁর মায়ের সম্পর্কে তাঁর ক্রোধের শিকার শত্রুগণ যে মিথ্যা, বাতিল ও অপবাদমূলক কথা বলেছিল, তা থেকে তাঁকে পবিত্র ও নির্দোষ ঘোষণা করেছেন। যেমন তিনি তাঁর রব, সৃষ্টিকর্তা ও প্রেরণকারীকেও সেইসব ত্রুটি, খুঁত ও নিন্দা থেকে পবিত্র ঘোষণা করেছেন যা ত্রিত্ববাদী ক্রুশ-পূজারিরা তাঁর সম্পর্কে বলেছিল এবং তাঁর দিকে নেসবত করেছিল।

 

‌‌উৎস: ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ রচিত 'হিদায়াতুল হায়ারা ফি আজউয়িবাতিল ইয়াহুদি ওয়ান নাসারা', পৃষ্ঠা: ১৯ - ২৪
(খণ্ড: ١) মাওসুআতুল মিলাল ওয়াদ আদিয়ান (পৃষ্ঠা: ٥)
‌‌المبحث الأول: تعريف الأديان لغة واصطلاحا:

الأديان: جمع دين، والدين في اللغة بمعنى: الطاعة والانقياد. والدين في الاصطلاح العام: ما يعتنقه الإنسان ويعتقده ويدين به من أمور الغيب والشهادة (1).

وفي الاصطلاح الإسلامي: التسليم لله تعالى والانقياد له.

والدين هو ملة الإسلام وعقيدة التوحيد التي هي دين جميع المرسلين من لدن آدم ونوح إلى خاتم النبيين محمد صلى الله عليه وسلم.

قال الله تعالى: إِنَّ الدِّينَ عِندَ اللهِ الإِسْلَامُ [آل عمران: 19] وبعد أن جاء الإسلام فلا يقبل الله من الناس دينا غيره، قال الله تعالى: وَمَن يَبْتَغِ غَيْرَ الإِسْلَامِ دِينًا فَلَن يُقْبَلَ مِنْهُ وَهُوَ فِي الآخِرَةِ مِنَ الْخَاسِرِينَ [آل عمران: 85].

وقال تعالى: حُرِّمَتْ عَلَيْكُمُ الْمَيْتَةُ وَالْدَّمُ وَلَحْمُ الْخِنْزِيرِ وَمَا أُهِلَّ لِغَيْرِ اللهِ بِهِ وَالْمُنْخَنِقَةُ وَالْمَوْقُوذَةُ وَالْمُتَرَدِّيَةُ وَالنَّطِيحَةُ وَمَا أَكَلَ السَّبُعُ إِلَاّ مَا ذَكَّيْتُمْ وَمَا ذُبِحَ عَلَى النُّصُبِ وَأَن تَسْتَقْسِمُواْ بِالأَزْلَامِ ذَلِكُمْ فِسْقٌ الْيَوْمَ يَئِسَ الَّذِينَ كَفَرُواْ مِن دِينِكُمْ فَلَا تَخْشَوْهُمْ وَاخْشَوْنِ الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الإِسْلَامَ دِينًا فَمَنِ اضْطُرَّ فِي مَخْمَصَةٍ غَيْرَ مُتَجَانِفٍ لِّإِثْمٍ فَإِنَّ اللهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ [المائدة: 3].

 

‌‌المصدر:الموجز في الأديان والمذاهب المعاصرة: د. ناصر العقل ود. ناصر القفاري - ص10

الدين في اللغة: مشتق من الفعل الثلاثي: (دان)، وهو تارة يتعدى بنفسه، وتارة باللام، وتارة بالباء، ويختلف المعنى باختلاف ما يتعدى به، فإذا تعدى بنفسه يكون (دانه) بمعنى ملكه، وساسه، وقهره وحاسبه، وجازاه.

وإذا تعدى باللام يكون (دان له) بمعنى خضع له، وأطاعه.

وإذا تعدى بالباء يكون (دان به) بمعنى اتخذه ديناً ومذهباً واعتاده، وتخلق به، واعتقده.

وهذه المعاني اللغوية للدين موجودة في (الدين) في المعنى الاصطلاحي كما سيتبين؛ لأن الدين يقهر أتباعه ويسوسهم وفق تعاليمه وشرائعه، كما يتضمن خضوع العابد للمعبود وذلته له، والعابد يفعل ذلك بدوافع نفسية، ويلتزم به بدون إكراه أو إجبار.

الدين في الاصطلاح: اختلف في تعريف الدين اصطلاحاً اختلافاً واسعاً حيث عرفه كل إنسان حسب مشربه، وما يرى أنه من أهم مميزات الدين.

فمنهم من عرفه بأنه (الشرع الإلهي المتلقَّى عن طريق الوحي) وهذا تعريف أكثر المسلمين.

ويلاحظ على هذا التعريف قَصرُهُ الدين على الدين السماوي فقط، مع أن الصحيح أن كل ما يتخذه الناس ويتعبدون له يصح أن يسمى ديناً، سواء كان صحيحاً، أو باطلاً، بدليل قوله عز وجل: وَمَن يَبْتَغِ غَيْرَ الإِسْلَامِ دِينًا فَلَن يُقْبَلَ مِنْهُ وَهُوَ فِي الآخِرَةِ مِنَ الْخَاسِرِينَ [آل عمران: 85].

وقوله عز وجل: لَكُمْ دِينُكُمْ وَلِيَ دِينِ [الكافرون: 6]، فسمَّى الله ما عليه مشركو العرب من الوثنية ديناً.

أما غير المسلمين فبعضهم يخصصه بالناحية الأخلاقية كقول (كانت) (بأن الدين هو المشتمل على الاعتراف بواجباتنا كأوامر إلهية).

وبعضهم يخصصه بناحية التفكر والتأمل كقول (رودلف إيوكن): (الدين هو التجربة الصوفية التي يجاوز الإنسان فيها متناقضات الحياة). إلى غير ذلك من التعريفات التي نظرت إلى الدين من زاوية، وتركت أوجهاً وزوايا عدة.

وأرجح التعريفات أن يقال: الدين هو اعتقاد قداسة ذات، ومجموعة السلوك الذي يدل على الخضوع لتلك الذات ذلًّا وحبًّا، رغبة ورهبة.

فهذا التعريف فيه شمول للمعبود، سواء كان معبوداً حقًّا- وهو الله عز وجل أو معبوداً باطلا، وهو ما سوى الله عز وجل.

كما يشمل أيضا العبادات التي يتعبد الناس بها لمعبوداتهم، سواء كانت سماوية صحيحة كالإسلام، أو لها أصل سماوي ووقع فيها التحريف والنسخ كاليهودية، والنصرانية، أو كانت وضعية غير سماوية الأصل كالهندوكية، والبوذية، وعموم الوثنيات.

كما يبرز التعريف حال العابد؛ إذ لابد أن يكون العابد متلبساً بالخضوع ذلًّا وحبًّا للمعبود حال العبادة؛ إذ إن ذلك أهم معاني العبادة.

ويبين التعريف أيضاً هدف العابد من العبادة، وهو إما رغبة أو رهبة، أو رغبة ورهبة معاً؛ لأن ذلك هو مطلب بني آدم من العبادة. والله أعلم.

 

‌‌المصدر:دراسات في الأديان اليهودية والنصرانية لسعود بن عبد العزيز الخلف - ص 11

--------------------------------------------

(1) ويطلق كذلك على الدين (الملة) وجمعه: (ملل).
প্রথম পরিচ্ছেদ: আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে ধর্মের পরিচয়:

আদইয়ান (ধর্মসমূহ): এটি ‘দীন’ শব্দের বহুবচন। আভিধানিক অর্থে দীন মানে হলো: আনুগত্য ও বশ্যতা স্বীকার করা। সাধারণ পারিভাষিক অর্থে দীন হলো: মানুষ অদৃশ্য ও দৃশ্যমান বিষয়াবলির মধ্য থেকে যা কিছু লালন করে, বিশ্বাস করে এবং যার প্রতি অনুগত থাকে (১)।

আর ইসলামি পরিভাষায়: আল্লাহ তাআলার প্রতি আত্মসমর্পণ ও তাঁর আনুগত্য করা।

দীন হলো ইসলামি মিল্লাত ও তাওহিদের আকিদা, যা আদম ও নূহ থেকে শুরু করে সর্বশেষ নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পর্যন্ত সকল রাসুলের ধর্ম ছিল।

আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট একমাত্র মনোনীত ধর্ম হলো ইসলাম" [আলে ইমরান: ১৯]। ইসলাম আসার পর আল্লাহ মানুষের কাছ থেকে এটি ছাড়া অন্য কোনো ধর্ম কবুল করবেন না। আল্লাহ তাআলা বলেন: "আর যে ব্যক্তি ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো ধর্ম তালাশ করবে, তবে তার কাছ থেকে তা কখনোই কবুল করা হবে না এবং সে পরকালে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে" [আলে ইমরান: ৮৫]।

আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: "তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে মৃত জানোয়ার, রক্ত, শুকরের গোশত, আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে উৎসর্গ করা পশু, শ্বাসরোধে মৃত জানোয়ার, চোট খেয়ে মৃত জানোয়ার, ওপর থেকে পড়ে মৃত জানোয়ার, শিংয়ের আঘাতে মৃত জানোয়ার এবং যাকে হিংস্র জন্তু খেয়েছে, তবে যা তোমরা জবেহ করতে পেরেছ তা ছাড়া; আর যা প্রতিমার বেদিতে জবেহ করা হয়েছে এবং লটারি দিয়ে ভাগ্য নির্ধারণ করা—এসবই পাপাচার। আজ কাফেররা তোমাদের ধর্মের ব্যাপারে নিরাশ হয়ে গেছে, সুতরাং তাদের ভয় করো না, বরং আমাকেই ভয় করো। আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের ধর্মকে পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম, তোমাদের ওপর আমার নেয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং তোমাদের জন্য ইসলামকে ধর্ম হিসেবে মনোনীত করলাম। তবে যে ব্যক্তি ক্ষুধার তীব্রতায় নিরুপায় হয়ে পড়ে, কিন্তু পাপে লিপ্ত হওয়ার প্রবণতা না থাকে, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু" [আল-মায়িদাহ: ৩]।

 

‌‌উৎস:আল-মুজায ফিল আদইয়ান ওয়াল মাযাহিবিল মুআসিরাহ: ড. নাসের আল-আকল ও ড. নাসের আল-কুফারী - পৃষ্ঠা ১০

আভিধানিক অর্থে দীন: এটি একটি ত্রিপদীয় ক্রিয়া ‘দানা’ (دان) থেকে উদ্ভূত। এটি কখনো সকর্মক ক্রিয়া হিসেবে সরাসরি ব্যবহৃত হয়, কখনো ‘লাম’ অব্যয় যোগে, আবার কখনো ‘বা’ অব্যয় যোগে। ব্যবহৃত অব্যয় ভেদে এর অর্থ ভিন্ন ভিন্ন হয়। যখন এটি সরাসরি ব্যবহৃত হয় (দানাহু), তখন এর অর্থ হয় তাকে মালিক বানানো, শাসন করা, দমন করা, হিসাব নেওয়া এবং প্রতিদান দেওয়া।

যখন এটি ‘লাম’ অব্যয় যোগে ব্যবহৃত হয় (দানা লাহু), তখন এর অর্থ হয় তার কাছে নতি স্বীকার করা এবং তার আনুগত্য করা।

যখন এটি ‘বা’ অব্যয় যোগে ব্যবহৃত হয় (দানা বিহি), তখন এর অর্থ হয় একে ধর্ম ও আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করা, এতে অভ্যস্ত হওয়া, একে নিজের স্বভাব ও বিশ্বাসে পরিণত করা।

দীনের এই আভিধানিক অর্থগুলো পারিভাষিক অর্থেও বিদ্যমান রয়েছে, যেমনটি অচিরেই স্পষ্ট হবে; কেননা দীন তার অনুসারীদের বশীভূত করে এবং এর শিক্ষা ও বিধান অনুযায়ী তাদের পরিচালিত করে। একইভাবে এতে উপাস্যের প্রতি উপাসনাকারীর বশ্যতা ও হীনতা প্রকাশ পায়। উপাসনাকারী এটি স্বতঃস্ফূর্ত প্রেরণা থেকে করে থাকে এবং কোনো জবরদস্তি বা বাধ্যবাধকতা ছাড়াই এতে অঙ্গীকারবদ্ধ থাকে।

পারিভাষিক অর্থে দীন: পারিভাষিক অর্থে দীনের সংজ্ঞায় ব্যাপক মতভেদ রয়েছে। প্রত্যেকেই নিজ নিজ দৃষ্টিভঙ্গি এবং ধর্মের যে দিকটিকে প্রধান বৈশিষ্ট্য মনে করেছেন, সে অনুযায়ী এর সংজ্ঞা দিয়েছেন।

তাদের মধ্যে কেউ কেউ একে সংজ্ঞায়িত করেছেন যে, এটি হলো "ওহির মাধ্যমে প্রাপ্ত ঐশী বিধান"। এটি অধিকাংশ মুসলিমের দেওয়া সংজ্ঞা।

এই সংজ্ঞার ক্ষেত্রে লক্ষ্যণীয় যে, এটি দীনকে কেবল আসমানি ধর্মের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে দেয়। অথচ সঠিক কথা হলো, মানুষ যা কিছুকে নিজের ধর্ম হিসেবে গ্রহণ করে এবং যার উপাসনা করে, তাকেই ‘দীন’ বা ধর্ম বলা সঠিক, চাই তা সত্য হোক বা মিথ্যা। এর দলিল হলো আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লার বাণী: "আর যে ব্যক্তি ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো ধর্ম তালাশ করবে, তবে তার কাছ থেকে তা কখনোই কবুল করা হবে না এবং সে পরকালে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে" [আলে ইমরান: ৮৫]।

এবং আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লার বাণী: "তোমাদের জন্য তোমাদের ধর্ম এবং আমার জন্য আমার ধর্ম" [আল-কাফিরুন: ৬]। এখানে আরবের মুশরিকরা যে মূর্তিপূজার ওপর ছিল, আল্লাহ তাকেও ‘দীন’ বলে অভিহিত করেছেন।

অমুসলিমদের মধ্যে কেউ কেউ একে নৈতিকতার দিক দিয়ে নির্দিষ্ট করেন, যেমন কান্ট (Kant) বলেছেন, "দীন হলো আমাদের কর্তব্যগুলোকে ঐশী আদেশ হিসেবে স্বীকার করে নেওয়ার সমষ্টি"।

আবার কেউ কেউ একে চিন্তা ও ধ্যানের দিক থেকে নির্দিষ্ট করেন, যেমন রুডলফ ইউকেন (Rudolf Eucken) বলেছেন, "দীন হলো এমন এক আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা যার মাধ্যমে মানুষ জীবনের দ্বন্দ্বগুলো কাটিয়ে ওঠে।" এ ছাড়াও আরও অনেক সংজ্ঞা রয়েছে যা ধর্মকে একটি নির্দিষ্ট কোণ থেকে দেখেছে এবং অন্যান্য প্রেক্ষিতগুলো বর্জন করেছে।

সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য সংজ্ঞা হলো এই বলা যে: দীন হচ্ছে কোনো সত্তার পবিত্রতায় বিশ্বাস করা এবং এমন কিছু আচরণের সমষ্টি যা হীনতা, ভালোবাসা, আশা ও ভীতির সাথে সেই সত্তার প্রতি বশ্যতা প্রদর্শন করে।

এই সংজ্ঞায় উপাস্যের ক্ষেত্রে ব্যাপকতা রয়েছে, চাই তিনি সত্য উপাস্য হোন—যিনি আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা—অথবা মিথ্যা উপাস্য হোক যা আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছু।

এটি মানুষের সেই ইবাদতগুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করে যা তারা তাদের উপাস্যদের জন্য করে থাকে; চাই তা আসমানি সত্য ধর্ম ইসলামের মতো হোক, অথবা যার আসমানি ভিত্তি ছিল কিন্তু পরবর্তীতে বিকৃতি ও রহিতকরণ ঘটেছে যেমন ইয়াহুদি ও খ্রিষ্টধর্ম, কিংবা মানবরচিত অ-আসমানি ধর্ম যেমন হিন্দুধর্ম, বৌদ্ধধর্ম এবং সাধারণ মূর্তিপূজা।

এই সংজ্ঞা উপাসনাকারীর অবস্থাও ফুটিয়ে তোলে; কেননা ইবাদতের সময় উপাসনাকারীকে অবশ্যই উপাস্যের প্রতি হীনতা ও ভালোবাসার সাথে বশীভূত থাকতে হয়; কারণ এটাই ইবাদতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্থ।

এই সংজ্ঞা ইবাদতের ক্ষেত্রে উপাসনাকারীর লক্ষ্যও স্পষ্ট করে, যা হলো আশা অথবা ভীতি, অথবা আশা ও ভীতি উভয়ই; কারণ ইবাদতের ক্ষেত্রে মানবজাতির চাওয়া এটাই। আর আল্লাহই ভালো জানেন।

 

‌‌উৎস:দিরাসাত ফিল আদইয়ানিল ইয়াহুদিয়্যাহ ওয়ান নাসরানিয়্যাহ, সউদ বিন আব্দুল আজিজ আল-খালাফ - পৃষ্ঠা ১১

--------------------------------------------

(১) দীনকে একইভাবে ‘মিল্লাত’ও বলা হয় এবং এর বহুবচন হলো: ‘মিলাল’।
(খণ্ড: ١) মাওসুআতুল মিলাল ওয়াদ আদিয়ান (পৃষ্ঠা: ٦)
‌‌المبحث الثاني: الفرق بين الدين والمذهب:

الدين أشمل من المذهب، وأوسع مفهوما؛ لأن الدين يشتمل على اعتقاد الإنسان حول الخالق والمخلوقات وأمور الغيب والآخرة، أما المذهب فيكون في بعض هذه الأمور أو مسائل منها، وقد يكون في أمور الحياة فقط.

 

‌‌المصدر: الموجز في الأديان والمذاهب المعاصرة: د. ناصر العقل ود. ناصر القفاري – ص10
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: দ্বীন ও মাযহাবের মধ্যে পার্থক্য:

মাযহাব অপেক্ষা দ্বীন অধিক ব্যাপক এবং এর ধারণা অধিক বিস্তৃত; কারণ দ্বীন স্রষ্টা, সৃষ্টিজগত, অদৃশ্যের বিষয়াবলি এবং পরকাল সম্পর্কে মানুষের বিশ্বাসকে অন্তর্ভুক্ত করে। পক্ষান্তরে মাযহাব এই বিষয়গুলোর কোনো কোনো অংশে বা এগুলোর কিছু মাসআলার ক্ষেত্রে হয়ে থাকে, এবং কখনও তা কেবল জীবনের বিষয়াবলির ক্ষেত্রেও হতে পারে।

 

উৎস: আল-মুজায ফিল আদইয়ান ওয়াল মাযাহিবিল মুআসিরাহ: ড. নাসের আল-আকল এবং ড. নাসের আল-কাফারি – পৃষ্ঠা ১০
(খণ্ড: ١) মাওসুআতুল মিলাল ওয়াদ আদিয়ান (পৃষ্ঠা: ٧)
‌‌المبحث الثالث: تقسيم الأديان:

تنقسم الأديان التي يدين بها البشر باعتبار النظر في المعبود إلى قسمين:

القسم الأول: أديان تدعو إلى عبادة الله.

وهي في الدرجة الأولى: الإسلام، ثم يليه اليهودية، أما النصرانية فإن واقعها وحقيقتها الشرك، وهو عبادة المسيح عليه السلام والروح القدس مع الله تعالى، إلا أن أصحابها يزعمون أنهم يعبدون الله الواحد ذو الثلاثة أقانيم- كما سيأتي تفصيل ذلك.

القسم الثاني: أديان وثنية شركية تدعو إلى عبادة غير الله عز وجل.

وهي: الهندوكية والبوذية وغيرها من الشركيات القديمة والحديثة، والنصرانية يمكن اعتبارها من هذا القسم على اعتبار عبادتهم للمسيح والروح القدس.

 

‌‌المصدر:دراسات في الأديان اليهودية والنصرانية لسعود بن عبد العزيز الخلف – ص 14
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ধর্মের বিভাজন:

উপাস্যের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির বিচারে মানুষ যেসব ধর্ম পালন করে, সেগুলোকে দুই ভাগে বিভক্ত করা যায়:

প্রথম প্রকার: সেই সকল ধর্ম যা আল্লাহর ইবাদতের দিকে আহ্বান করে।

এর মধ্যে প্রথম স্তরে রয়েছে: ইসলাম, এরপর ইহুদি ধর্ম। আর খ্রিস্টধর্মের বাস্তব অবস্থা ও হাকিকত হলো শিরক; যা মহান আল্লাহর সাথে ঈসা আলাইহিস সালাম এবং পবিত্র আত্মার ইবাদত করা। যদিও এর অনুসারীরা দাবি করে যে তারা তিন ব্যক্তিত্ব বিশিষ্ট এক আল্লাহর ইবাদত করে—যার বিস্তারিত বিবরণ সামনে আসবে।

দ্বিতীয় প্রকার: পৌত্তলিক ও শিরকপূর্ণ ধর্মসমূহ, যা মহান আল্লাহ ব্যতীত অন্য কিছুর ইবাদতের দিকে আহ্বান করে।

এগুলো হলো: হিন্দুধর্ম, বৌদ্ধধর্ম এবং অন্যান্য প্রাচীন ও আধুনিক শিরকপূর্ণ ধর্মসমূহ। আর খ্রিস্টধর্মকেও এই প্রকারের অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে, কারণ তারা মসিহ এবং পবিত্র আত্মার ইবাদত করে।

 

উৎস:সাউদ বিন আব্দুল আজিজ আল-খালাফ রচিত 'দিরাসাত ফিল আদইয়ানিল ইয়াহুদিয়্যাহ ওয়ান নাসরানিইয়াহ' – পৃষ্ঠা ১৪
(খণ্ড: ١) মাওসুআতুল মিলাল ওয়াদ আদিয়ান (পৃষ্ঠা: ٨)
‌‌المبحث الأول: علم الأديان في القرآن الكريم وكتابة المسلمين فيه:

القرآن الكريم كتاب أنزله الله عز وجل لهداية البشرية جمعاء وهو خاتم الكتب السماوية، وهو كتاب دعوة وهداية، لهذا ذكر الله عز وجل فيه أديان الناس السابقة والمتزامنة مع نزوله، لأن ذلك وسيلة من وسائل دعوة أصحاب الأديان، فإن عرض ما هم عليه من الباطل وبيان أوجه بطلانه مع عرض الحق والتركيز على مميزاته، وأوجه رجحانه، كل ذلك مما ينير الأذهان التي غلفها التقليد، والجهل، والهوى، ويفتح أمامها آفاق المعرفة السليمة من أجل المقارنة والموازنة ثم الإيمان عن اقتناع ويقين.

وإذا نظرنا في القرآن الكريم نجد أنه حوى من ذلك الشيء الكثير، فمن ذلك أن الله عز وجل قد حصر الأديان التي عليها الناس في قوله عز وجل: إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَالَّذِينَ هَادُوا وَالصَّابِئِينَ وَالنَّصَارَى وَالْمَجُوسَ وَالَّذِينَ أَشْرَكُوا إِنَّ اللَّهَ يَفْصِلُ بَيْنَهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِنَّ اللَّهَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ شَهِيدٌ [الحج: 17].

فأديان البشر لا تخرج عن واحد من هذه، وهي: الإسلام، واليهودية، والصابئة، والنصرانية، والمجوسية، والوثنية.

كما ذكر الله عز وجل الأنبياء عليهم السلام وأبان أن دعوتهم كانت واحدة، وهي الدعوة إلى التوحيد، قال عز وجل: وَمَا أَرْسَلْنَا مِن قَبْلِكَ مِن رَّسُولٍ إِلَّا نُوحِي إِلَيْهِ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنَا فَاعْبُدُونِ [الأنبياء: 25].

وقال عز وجل: وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَّسُولاً أَنِ اعْبُدُواْ اللهَ وَاجْتَنِبُواْ الطَّاغُوتَ [النحل: 36].

وأن دينهم واحد وهو الإسلام، قال عز وجل عن نبيه إبراهيم وابنه إسماعيل عليهما السلام: رَبَّنَا وَاجْعَلْنَا مُسْلِمَيْنِ لَكَ وَمِن ذُرِّيَّتِنَا أُمَّةً مُّسْلِمَةً لَّكَ [البقرة: 128].

وقال عن نبيه إبراهيم ويعقوب عليهما السلام: إِذْ قَالَ لَهُ رَبُّهُ أَسْلِمْ قَالَ أَسْلَمْتُ لِرَبِّ الْعَالَمِينَ وَوَصَّى بِهَا إِبْرَاهِيمُ بَنِيهِ وَيَعْقُوبُ يَا بَنِيَّ إِنَّ اللهَ اصْطَفَى لَكُمُ الدِّينَ فَلَا تَمُوتُنَّ إَلَاّ وَأَنتُم مُّسْلِمُونَ [البقرة: 131 - 132] وقال عز وجل: وَقَالَ مُوسَى يَا قَوْمِ إِن كُنتُمْ آمَنتُم بِاللهِ فَعَلَيْهِ تَوَكَّلُواْ إِن كُنتُم مُّسْلِمِينَ [يونس: 84]

وقال عز وجل: فَلَمَّا أَحَسَّ عِيسَى مِنْهُمُ الْكُفْرَ قَالَ مَنْ أَنصَارِي إِلَى اللهِ قَالَ الْحَوَارِيُّونَ نَحْنُ أَنصَارُ اللهِ آمَنَّا بِاللهِ وَاشْهَدْ بِأَنَّا مُسْلِمُونَ [آل عمران:52].

كما ذكر الله عز وجل مجادلة الأنبياء لأقوامهم، وإقامتهم للحجة عليهم من أوجه عديدة.

وذكر الأديان التي يدين بها الناس، فذكر الديانة التي أنزلت على موسى عليه السلام، وذلك في آيات عديدة أيضا، ومن المثال على ذلك: قوله عز وجل: فَلَمَّا أَتَاهَا نُودِي يَا مُوسَى إِنِّي أَنَا رَبُّكَ فَاخْلَعْ نَعْلَيْكَ إِنَّكَ بِالْوَادِ الْمُقَدَّسِ طُوى وَأَنَا اخْتَرْتُكَ فَاسْتَمِعْ لِمَا يُوحَى إِنَّنِي أَنَا اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنَا فَاعْبُدْنِي وَأَقِمِ الصَّلَاةَ لِذِكْرِي إِنَّ السَّاعَةَ ءاَتِيَةٌ أَكَادُ أُخْفِيهَا لِتُجْزَى كُلُّ نَفْسٍ بِمَا تَسْعَى فَلَا يَصُدَّنَّكَ عَنْهَا مَنْ لَا يُؤْمِنُ بِهَا وَاتَّبَعَ هَوَاهُ فَتَرْدَى [طه: 11 - 16].
প্রথম পরিচ্ছেদ: পবিত্র কুরআনে ধর্মতত্ত্ব এবং এতে মুসলিমদের রচনা:

পবিত্র কুরআন এমন এক কিতাব যা মহান আল্লাহ সমগ্র মানবজাতির হেদায়েতের জন্য অবতীর্ণ করেছেন এবং এটি আসমানী কিতাবসমূহের মধ্যে সর্বশেষ। এটি দাওয়াত ও হেদায়েতের কিতাব। এ কারণেই আল্লাহ তাআলা এতে পূর্ববর্তী এবং কুরআন নাযিলের সময়কার সমসাময়িক ধর্মগুলোর কথা উল্লেখ করেছেন; কারণ এটি বিভিন্ন ধর্মের অনুসারীদের দাওয়াত দেওয়ার একটি মাধ্যম। তাদের অনুসৃত বাতিল পথগুলো তুলে ধরা এবং সেগুলোর অসারতা প্রমাণের পাশাপাশি সত্যকে উপস্থাপন করা এবং সত্যের বৈশিষ্ট্য ও শ্রেষ্ঠত্বের দিকগুলোর ওপর গুরুত্বারোপ করা—এসব কিছুই সেই মন-মস্তিষ্ককে আলোকিত করে যা অন্ধ অনুসরণ, অজ্ঞতা ও প্রবৃত্তির মাধ্যমে আচ্ছন্ন হয়ে আছে। এটি সঠিক জ্ঞানের দিগন্ত উন্মোচন করে যাতে তারা তুলনা ও বিচার-বিশ্লেষণ করতে পারে এবং এরপর দৃঢ় বিশ্বাস ও নিশ্চিত প্রত্যয়ের সাথে ঈমান আনতে পারে।

আমরা যদি পবিত্র কুরআনের দিকে তাকাই, তবে দেখব যে এতে এ সংক্রান্ত অনেক বিষয় রয়েছে। এর মধ্যে একটি হলো এই যে, মহান আল্লাহ মানুষের অনুসৃত ধর্মসমূহকে তাঁর এই বাণীতে সীমাবদ্ধ করেছেন: "নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে এবং যারা ইয়াহুদি হয়েছে, আর সাবেয়ী, খ্রিষ্টান, অগ্নিপূজক ও যারা শিরক করেছে; নিশ্চয় কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাদের মধ্যে ফয়সালা করে দেবেন। নিশ্চয় আল্লাহ সর্ববিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শী।" [হজ: ১৭]।

সুতরাং মানুষের ধর্মগুলো এর কোনো একটির বাইরে নয়, আর সেগুলো হলো: ইসলাম, ইয়াহুদি ধর্ম, সাবেয়ী ধর্ম, খ্রিষ্টধর্ম, অগ্নিপূজা ও মূর্তিপূজা।

মহান আল্লাহ নবীগণের (তাঁদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) কথা উল্লেখ করেছেন এবং স্পষ্ট করেছেন যে, তাঁদের দাওয়াত বা আহ্বান ছিল অভিন্ন, আর তা হলো তাওহীদের দিকে আহ্বান। মহান আল্লাহ বলেন: "আপনার পূর্বে আমি এমন কোনো রাসূল পাঠাইনি যার প্রতি এই ওহী নাযিল করিনি যে, 'আমি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, সুতরাং তোমরা আমারই ইবাদত করো'।" [আম্বিয়া: ২৫]।

আল্লাহ তাআলা আরো বলেন: "আর আমি অবশ্যই প্রত্যেক জাতির মধ্যে রাসূল পাঠিয়েছি এই নির্দেশ দিয়ে যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাগুতকে বর্জন করো।" [নাহল: ৩৬]।

আর তাঁদের দ্বীন ছিল এক, যা হলো ইসলাম। মহান আল্লাহ তাঁর নবী ইব্রাহিম ও তাঁর পুত্র ইসমাইল (তাঁদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) সম্পর্কে বলেন: "হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদের উভয়কে আপনার একান্ত অনুগত (মুসলিম) করুন এবং আমাদের বংশধরদের মধ্য থেকে আপনার এক অনুগত জাতি (উম্মতে মুসলিমাহ) গড়ে দিন।" [বাকারা: ১২৮]।

তিনি তাঁর নবী ইব্রাহিম ও ইয়াকুব (তাঁদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) সম্পর্কে বলেন: "যখন তাঁর পালনকর্তা তাঁকে বললেন, 'আত্মসমর্পণ করো (মুসলিম হও)', তিনি বললেন, 'আমি বিশ্বজগতের প্রতিপালকের নিকট আত্মসমর্পণ করলাম।' আর ইব্রাহিম ও ইয়াকুব তাঁদের সন্তানদেরও এই অসিয়ত করে গিয়েছিলেন যে, 'হে আমার পুত্রগণ, আল্লাহ তোমাদের জন্য এই দ্বীনকে মনোনীত করেছেন; সুতরাং তোমরা আত্মসমর্পণকারী (মুসলিম) না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না'।" [বাকারা: ১৩১ - ১৩২]। মহান আল্লাহ আরো বলেন: "আর মূসা বললেন, 'হে আমার জাতি, যদি তোমরা আল্লাহর ওপর ঈমান এনে থাকো, তবে তাঁরই ওপর ভরসা করো যদি তোমরা আত্মসমর্পণকারী (মুসলিম) হও'।" [ইউনুস: ৮৪]

মহান আল্লাহ আরো বলেন: "অতঃপর ঈসা যখন তাদের মধ্যে কুফর বা অস্বীকৃতি অনুভব করলেন, তখন তিনি বললেন, 'আল্লাহর পথে কারা আমার সাহায্যকারী হবে?' হাওয়ারীগণ (শিষ্যরা) বলল, 'আমরাই আল্লাহর সাহায্যকারী; আমরা আল্লাহর ওপর ঈমান এনেছি। আর আপনি সাক্ষী থাকুন যে, নিশ্চয় আমরা আত্মসমর্পণকারী (মুসলিম)'।" [আলে ইমরান: ৫২]।

তেমনিভাবে মহান আল্লাহ নবীগণের সাথে তাঁদের কওম বা জাতির বিতর্ক এবং বিভিন্ন দিক থেকে তাঁদের বিরুদ্ধে প্রমাণ ও যুক্তি উপস্থাপনের কথা উল্লেখ করেছেন।

তিনি মানুষের অনুসৃত ধর্মগুলোর কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি মূসা আলাইহিস সালামের ওপর অবতীর্ণ দ্বীনের কথা উল্লেখ করেছেন এবং তা বহু আয়াতে রয়েছে। এর উদাহরণ হিসেবে মহান আল্লাহর এই বাণী: "অতঃপর যখন তিনি আগুনের কাছে আসলেন, তখন তাঁকে আহ্বান করে বলা হলো, 'হে মূসা! নিশ্চয় আমিই তোমার প্রতিপালক। অতএব তোমার জুতা খুলে ফেলো, কারণ তুমি পবিত্র 'তুওয়া' উপত্যকায় আছো। আর আমি তোমাকে মনোনীত করেছি; সুতরাং যা ওহী বা প্রত্যাদেশ করা হচ্ছে তা মনোযোগ দিয়ে শোনো। নিশ্চয় আমিই আল্লাহ, আমি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। অতএব আমার ইবাদত করো এবং আমার স্মরণে সালাত কায়েম করো। নিশ্চয় কিয়ামত আসবেই, আমি তা প্রায় গোপন রাখতে চাই যাতে প্রত্যেক ব্যক্তি তার কৃতকর্মের ফল পায়। সুতরাং যে ব্যক্তি কিয়ামতে বিশ্বাস করে না এবং নিজের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে, সে যেন তোমাকে তা থেকে বিচ্যুত না করে; নতুবা তুমি ধ্বংস হয়ে যাবে'।" [তহা: ১১ - ১৬]।
(খণ্ড: ١) মাওসুআতুল মিলাল ওয়াদ আদিয়ান (পৃষ্ঠা: ٩)
وذكر الله عز وجل انحراف بني إسرائيل وكفرهم وتحريفهم لكلام الله في آيات عديدة، منها قوله عز وجل: وَإِنَّ مِنْهُمْ لَفَرِيقًا يَلْوُونَ أَلْسِنَتَهُم بِالْكِتَابِ لِتَحْسَبُوهُ مِنَ الْكِتَابِ وَمَا هُوَ مِنَ الْكِتَابِ وَيَقُولُونَ هُوَ مِنْ عِندِ اللهِ وَمَا هُوَ مِنْ عِندِ اللهِ وَيَقُولُونَ عَلَى اللهِ الْكَذِبَ وَهُمْ يَعْلَمُونَ [آل عمران:78].

وقال عز وجل: وَتَرَى كَثِيرًا مِّنْهُمْ يُسَارِعُونَ فِي الإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ وَأَكْلِهِمُ السُّحْتَ لَبِئْسَ مَا كَانُواْ يَعْمَلُونَ [المائدة: 62].

وذكر الله عز وجل النصارى وعقائدهم وانحرافاتهم في آيات عديدة، منها قوله عز وجل: لَقَدْ كَفَرَ الَّذِينَ قَالُواْ إِنَّ اللهَ هُوَ الْمَسِيحُ ابْنُ مَرْيَمَ [المائدة: 72]، لَقَدْ كَفَرَ الَّذِينَ قَالُواْ إِنَّ اللهَ ثَالِثُ ثَلَاثَةٍ وَمَا مِنْ إِلَهٍ إِلَاّ إِلَهٌ وَاحِدٌ وَإِن لَّمْ يَنتَهُواْ عَمَّا يَقُولُونَ لَيَمَسَّنَّ الَّذِينَ كَفَرُواْ مِنْهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ [المائدة: 73].

كما ذكر أقوالاً أخرى عديدة لهم في المسيح وأمه وذكر ادعاءهم صلبه، وأبان عن الحق في كل ذلك.

وإضافة إلى أقوال أصحاب الديانات ذكر الله عز وجل أيضاً أصول بعض تلك المقالات المنحرفة، فمن ذلك قوله عز وجل: وَقَالَتِ الْيَهُودُ عُزَيْرٌ ابْنُ اللهِ وَقَالَتْ النَّصَارَى الْمَسِيحُ ابْنُ اللهِ ذَلِكَ قَوْلُهُم بِأَفْوَاهِهِمْ يُضَاهِئُونَ قَوْلَ الَّذِينَ كَفَرُواْ مِن قَبْلُ قَاتَلَهُمُ اللهُ أَنَّى يُؤْفَكُونَ [التوبة: 30].

فبين سبحانه أن هذه المقالة اقتبسها اليهود والنصارى من الكفار قبلهم، وهذا أمر ثابت واضح لكل من نظر في الأديان السابقة على اليهودية والنصرانية، فإنه سيجد ادعاء الولد لله- تعالى الله عن ذلك - منتشراً لدى الكفار من الفراعنة واليونان والرومان وغيرهم.

كما ذكر الله عز وجل المشركين الوثنيين فذكر عباداتهم وآلهتهم في مثل قوله عز وجل: أَفَرَأَيْتُمُ اللَّاتَ وَالْعُزَّى وَمَنَاةَ الثَّالِثَةَ الْأُخْرَى [النجم: 19 - 20].

وقال عز وجل: أَتَدْعُونَ بَعْلًا وَتَذَرُونَ أَحْسَنَ الْخَالِقِينَ [الصافات:125].

كما ذكر حججهم مجملة ومفصلة، فمن المجملة قوله عز وجل: أَلَمْ يَأْتِكُمْ نَبَأُ الَّذِينَ مِن قَبْلِكُمْ قَوْمِ نُوحٍ وَعَادٍ وَثَمُودَ وَالَّذِينَ مِن بَعْدِهِمْ لَا يَعْلَمُهُمْ إِلَاّ اللهُ جَاءتْهُمْ رُسُلُهُم بِالْبَيِّنَاتِ فَرَدُّواْ أَيْدِيَهُمْ فِي أَفْوَاهِهِمْ وَقَالُواْ إِنَّا كَفَرْنَا بِمَا أُرْسِلْتُم بِهِ وَإِنَّا لَفِي شَكٍّ مِّمَّا تَدْعُونَنَا إِلَيْهِ مُرِيبٍ قَالَتْ رُسُلُهُمْ أَفِي اللهِ شَكٌّ فَاطِرِ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ يَدْعُوكُمْ لِيَغْفِرَ لَكُم مِّن ذُنُوبِكُمْ وَيُؤَخِّرَكُمْ إِلَى أَجَلٍ مُّسَمًّى قَالُواْ إِنْ أَنتُمْ إِلَاّ بَشَرٌ مِّثْلُنَا تُرِيدُونَ أَن تَصُدُّونَا عَمَّا كَانَ يَعْبُدُ آبَآؤُنَا فَأْتُونَا بِسُلْطَانٍ مُّبِينٍ [إبراهيم:9 - 10].
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বহু আয়াতে বনী ইসরাঈলের বিচ্যুতি, কুফরি এবং আল্লাহর কালামের বিকৃতির কথা উল্লেখ করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে তাঁর এই বাণী: আর তাদের মধ্যে এমন এক দল রয়েছে, যারা কিতাব পাঠকালে নিজেদের জিহ্বা বাঁকায়, যাতে তোমরা মনে কর যে তা কিতাবের অংশ, অথচ তা কিতাবের অংশ নয়। আর তারা বলে যে, এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে, অথচ তা আল্লাহর পক্ষ থেকে নয়। আর তারা জেনে-বুঝে আল্লাহর ওপর মিথ্যা বলে [আল ইমরান: ৭৮]।

তিনি আরও বলেন: আর তুমি তাদের অনেককে দেখবে যে, তারা পাপাচার, সীমালঙ্ঘন এবং হারাম মাল ভক্ষণের দিকে দ্রুত ধাবিত হয়। তারা যা করছে তা কতই না মন্দ [আল মায়িদা: ৬২]।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বহু আয়াতে নাসারাদের এবং তাদের আকিদা ও বিচ্যুতিসমূহের কথা উল্লেখ করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে তাঁর এই বাণী: অবশ্যই তারা কুফরি করেছে যারা বলেছে যে, নিশ্চয়ই আল্লাহই হলেন মারয়াম-পুত্র মাসীহ [আল মায়িদা: ৭২]। অবশ্যই তারা কুফরি করেছে যারা বলেছে যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ তিন জনের তৃতীয় জন। অথচ এক ইলাহ ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই। আর তারা যা বলছে তা থেকে যদি বিরত না হয়, তবে তাদের মধ্যে যারা কুফরি করেছে তাদের ওপর অবশ্যই যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি আপতিত হবে [আল মায়িদা: ৭৩]।

এছাড়াও তিনি মাসীহ ও তাঁর মাতা সম্পর্কে তাদের আরও অনেক বক্তব্যের কথা এবং মাসীহকে ক্রুশবিদ্ধ করার দাবির কথা উল্লেখ করেছেন এবং এ সকল বিষয়ে সত্য স্পষ্ট করে দিয়েছেন।

ধর্মাবলম্বীদের বক্তব্যের পাশাপাশি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সেই সকল বিচ্যুত বক্তব্যের কয়েকটির উৎসও উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে তাঁর এই বাণী: আর ইয়াহুদিরা বলে উযাইর আল্লাহর পুত্র এবং নাসারারা বলে মাসীহ আল্লাহর পুত্র। এটি তাদের মুখের কথা। তারা তাদের আগের কাফিরদের কথার অনুকরণ করছে। আল্লাহ তাদের ধ্বংস করুন, তারা সত্য থেকে কোথায় বিমুখ হচ্ছে! [আত-তাওবা: ৩০]।

মহান আল্লাহ স্পষ্ট করেছেন যে, এই কথাটি ইয়াহুদি ও নাসারারা তাদের পূর্ববর্তী কাফিরদের থেকে গ্রহণ করেছে। এটি এমন একটি বিষয় যা ইয়াহুদি ও খ্রিস্টধর্মের পূর্ববর্তী ধর্মগুলো সম্পর্কে যে কেউ লক্ষ্য করলে স্পষ্টভাবে দেখতে পাবে। সে দেখতে পাবে যে, আল্লাহর জন্য সন্তান গ্রহণের দাবি—আল্লাহ তা থেকে অনেক উর্ধ্বে—ফেরাউন, গ্রিক, রোমান ও অন্যদের ন্যায় কাফিরদের মধ্যে ব্যাপকভাবে প্রচলিত ছিল।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা মূর্তিপূজারী মুশরিকদের কথাও উল্লেখ করেছেন এবং তাদের ইবাদত ও উপাস্যদের কথা উল্লেখ করেছেন যেমন তাঁর এই বাণীতে: তোমরা কি ভেবে দেখেছ লাত ও উযযা সম্পর্কে? এবং তৃতীয় আরেকটি মানাত সম্পর্কে? [আন-নাজম: ১৯-২০]।

তিনি আরও বলেন: তোমরা কি বা'লকে আহ্বান করছ এবং সর্বোত্তম স্রষ্টাকে পরিত্যাগ করছ? [আস-সাফফাত: ১২৫]।

তিনি তাদের যুক্তিগুলোও সারসংক্ষেপে ও বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করেছেন। সারসংক্ষেপের মধ্যে রয়েছে তাঁর এই বাণী: তোমাদের কাছে কি তোমাদের পূর্ববর্তীদের সংবাদ পৌঁছেনি—নূহ, আদ ও সামূদ সম্প্রদায়ের এবং যারা তাদের পরবর্তী ছিল, যাদের আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানে না? তাদের কাছে তাদের রাসূলগণ স্পষ্ট প্রমাণাদিসহ এসেছিলেন, কিন্তু তারা নিজেদের হাত নিজেদের মুখে ফিরিয়ে নিল এবং বলল, 'তোমরা যা নিয়ে প্রেরিত হয়েছ তা আমরা অস্বীকার করছি এবং তোমরা আমাদের যার প্রতি আহ্বান করছ সে বিষয়ে আমরা বিভ্রান্তিকর সন্দেহে রয়েছি।' তাদের রাসূলগণ বলেছিলেন, 'আল্লাহ সম্পর্কে কি কোনো সন্দেহ আছে, যিনি আসমান ও জমিনের স্রষ্টা? তিনি তোমাদের আহ্বান করছেন যাতে তোমাদের পাপ ক্ষমা করে দেন এবং এক নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত তোমাদের অবকাশ দেন।' তারা বলল, 'তোমরা তো আমাদের মতোই মানুষ বৈ নও, তোমরা চাচ্ছ আমাদের পিতৃপুরুষেরা যার ইবাদত করত তা থেকে আমাদের বিরত রাখতে; অতএব তোমরা আমাদের কাছে কোনো স্পষ্ট প্রমাণ নিয়ে এসো' [ইব্রাহিম: ৯-১০]।
(খণ্ড: ١) মাওসুআতুল মিলাল ওয়াদ আদিয়ান (পৃষ্ঠা: ١٠)
ومن حجج المشركين المفصلة وجدالهم لأنبيائهم عليهم السلام قوله عز وجل: وَإِلَى مَدْيَنَ أَخَاهُمْ شُعَيْبًا قَالَ يَا قَوْمِ اعْبُدُواْ اللهَ مَا لَكُم مِّنْ إِلَهٍ غَيْرُهُ وَلَا تَنقُصُواْ الْمِكْيَالَ وَالْمِيزَانَ إِنِّي أَرَاكُم بِخَيْرٍ وَإِنِّي أَخَافُ عَلَيْكُمْ عَذَابَ يَوْمٍ مُّحِيطٍ وَيَا قَوْمِ أَوْفُواْ الْمِكْيَالَ وَالْمِيزَانَ بِالْقِسْطِ وَلَا تَبْخَسُواْ النَّاسَ أَشْيَاءهُمْ وَلَا تَعْثَوْاْ فِي الأَرْضِ مُفْسِدِينَ بَقِيَّةُ اللهِ خَيْرٌ لَّكُمْ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ وَما أناْ عَلَيْكُم بِحَفِيظٍ قَالُواْ يَا شُعَيْبُ أَصَلَاتُكَ تَأْمُرُكَ أَن نَّتْرُكَ مَا يَعْبُدُ آبَاؤُنَا أَوْ أَن نَّفْعَلَ فِي أَمْوَالِنَا مَا نَشَاءُ إِنَّكَ لأَنتَ الْحَلِيمُ الرَّشِيدُ قَالَ يَا قَوْمِ أَرَأَيْتُمْ إِن كُنتُ عَلَىَ بَيِّنَةٍ مِّن رَّبِّي وَرَزَقَنِي مِنْهُ رِزْقًا حَسَنًا وَمَا أُرِيدُ أَنْ أُخَالِفَكُمْ إلى ما أنهَاكُمْ عَنْهُ إِنْ أُرِيدُ إِلَاّ الإِصْلَاحَ مَا اسْتَطَعْتُ وَمَا تَوْفِيقِي إِلَاّ بِاللهِ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَإِلَيْهِ أُنِيبُ وَيَا قَوْمِ لَا يَجْرِمَنَّكُمْ شِقَاقِي أَنْ يُصِيبَكُمْ مِثْلُ مَا أَصَابَ قَوْمَ نُوحٍ أَوْ قَوْمَ هُودٍ أَوْ قَوْمَ صَالِحٍ وَمَا قَوْمُ لُوطٍ مِنْكُمْ بِبَعِيدٍ (89) وَاسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ ثُمَّ تُوبُوا إِلَيْهِ إِنَّ رَبِّي رَحِيمٌ وَدُودٌ قَالُواْ يَا شُعَيْبُ مَا نَفْقَهُ كَثِيرًا مِّمَّا تَقُولُ وَإِنَّا لَنَرَاكَ فِينَا ضَعِيفًا وَلَوْلَا رَهْطُكَ لَرَجَمْنَاكَ وَما أنتَ عَلَيْنَا بِعَزِيزٍ قَالَ يَا قَوْمِ أَرَهْطِي أَعَزُّ عَلَيْكُم مِّنَ اللهِ وَاتَّخَذْتُمُوهُ وَرَاءكُمْ ظِهْرِيًّا إِنَّ رَبِّي بِمَا تَعْمَلُونَ مُحِيطٌ وَيَا قَوْمِ اعْمَلُواْ عَلَى مَكَانَتِكُمْ إِنِّي عَامِلٌ سَوْفَ تَعْلَمُونَ مَن يَأْتِيهِ عَذَابٌ يُخْزِيهِ وَمَنْ هُوَ كَاذِبٌ وَارْتَقِبُواْ إِنِّي مَعَكُمْ رَقِيبٌ. [هود: 84 - 93].

كما عقد جل وعلا المقارنات العديدة بين الحق والباطل ليفسح المجال أمام العقل للمقارنة والموازنة، من ذلك قوله عز وجل: يَا صَاحِبَيِ السِّجْنِ أَأَرْبَابٌ مُّتَفَرِّقُونَ خَيْرٌ أَمِ اللهُ الْوَاحِدُ الْقَهَّارُ [يوسف: 39].

وقوله عز وجل: أَيُشْرِكُونَ مَا لَا يَخْلُقُ شَيْئاً وَهُمْ يُخْلَقُونَ وَلَا يَسْتَطِيعُونَ لَهُمْ نَصْرًا وَلَا أَنفُسَهُمْ يَنصُرُونَ وَإِن تَدْعُوهُمْ إلى الْهُدَى لَا يَتَّبِعُوكُمْ سَوَاءٌ عَلَيْكُمْ أَدَعَوْتُمُوهُمْ أَمْ أَنتُمْ صَامِتُونَ إِنَّ الَّذِينَ تَدْعُونَ مِن دُونِ اللهِ عِبَادٌ أَمْثَالُكُمْ فَادْعُوهُمْ فَلْيَسْتَجِيبُواْ لَكُمْ إِن كُنتُمْ صَادِقِينَ أَلَهُمْ أَرْجُلٌ يَمْشُونَ بِهَا أَمْ لَهُمْ أَيْدٍ يَبْطِشُونَ بِهَا أَمْ لَهُمْ أَعْيُنٌ يُبْصِرُونَ بِهَا أَمْ لَهُمْ آذَانٌ يَسْمَعُونَ بِهَا قُلِ ادْعُواْ شُرَكَاءكُمْ ثُمَّ كِيدُونِ فَلَا تُنظِرُونِ إِنَّ وَلِيِّيَ اللهُ الَّذِي نَزَّلَ الْكِتَابَ وَهُوَ يَتَوَلَّى الصَّالِحِينَ. [الأعراف: 191 - 196].
মুশরিকদের বিস্তারিত বিভিন্ন দলিল ও তাদের নবীদের (আলাইহিমুস সালাম) সাথে তাদের বিতর্কের একটি হলো মহান আল্লাহর এই বাণী: আর মাদইয়ানবাসীদের নিকট তাদের ভাই শুআইবকে (পাঠিয়েছি), সে বলল: হে আমার কওম! তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তিনি ছাড়া তোমাদের অন্য কোনো সত্য ইলাহ নেই। তোমরা মাপে ও ওজনে কম দিও না। আমি তোমাদেরকে সচ্ছল অবস্থায় দেখছি, আর আমি তোমাদের ওপর এক পরিবেষ্টনকারী দিনের আযাবের আশঙ্কা করছি। আর হে আমার কওম! তোমরা ইনসাফের সাথে মাপে ও ওজনে পূর্ণ করো এবং মানুষকে তাদের প্রাপ্য দ্রব্যাদি কম দিও না এবং পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করে বেড়াবে না। আল্লাহর পক্ষ থেকে যা অবশিষ্ট থাকে তা-ই তোমাদের জন্য কল্যাণকর, যদি তোমরা মুমিন হও। আর আমি তোমাদের ওপর কোনো হিফাযতকারী নই। তারা বলল: হে শুআইব! আপনার সালাত কি আপনাকে এই নির্দেশ দেয় যে, আমাদের পিতৃপুরুষরা যার ইবাদত করত আমরা তা বর্জন করি অথবা আমাদের ধন-সম্পদে আমরা যা ইচ্ছা করি তা ছেড়ে দেই? আপনি তো নিশ্চয়ই পরম সহিষ্ণু ও সুপথগামী। সে বলল: হে আমার কওম! তোমরা কি ভেবে দেখেছ, যদি আমি আমার রবের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট প্রমাণের ওপর থাকি এবং তিনি আমাকে তাঁর পক্ষ থেকে উত্তম রিযক দান করে থাকেন? আমি তোমাদের যা নিষেধ করছি, তার বিপরীতে গিয়ে আমি তা করতে চাই না। আমি তো কেবল আমার সাধ্যমতো সংস্কার চাই। আর আমার তাওফীক কেবল আল্লাহর সাহায্যেই সম্ভব; তাঁরই ওপর আমি ভরসা করেছি এবং তাঁরই অভিমুখী হই। আর হে আমার কওম! আমার সাথে তোমাদের শত্রুতা যেন তোমাদেরকে এমন অপরাধে প্ররোচিত না করে যার ফলে তোমাদের ওপর সেরূপ বিপদ আপতিত হয় যেরূপ আপতিত হয়েছিল নূহের কওম অথবা হূদের কওম অথবা সালিহের কওমের ওপর; আর লূতের কওম তো তোমাদের থেকে খুব বেশি দূরে নয়। তোমরা তোমাদের রবের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করো এবং তাঁর কাছেই তওবা করো; নিশ্চয়ই আমার রব পরম দয়ালু ও অত্যন্ত প্রেমময়। তারা বলল: হে শুআইব! আপনি যা বলছেন তার অনেক কিছুই আমরা বুঝি না এবং নিশ্চয়ই আমরা আমাদের মধ্যে আপনাকে একজন দুর্বল মানুষ হিসেবে দেখি। যদি আপনার আত্মীয়-স্বজন না থাকত তবে আমরা আপনাকে পাথর মেরে হত্যা করতাম, আর আমাদের কাছে আপনি কোনো শক্তিশালী ব্যক্তি নন। সে বলল: হে আমার কওম! আল্লাহর চেয়ে কি আমার স্বজনরা তোমাদের নিকট অধিক সম্মানিত? অথচ তোমরা তাঁকে তোমাদের পেছনে পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে রেখেছ। নিশ্চয়ই আমার রব তোমরা যা করো তা পরিবেষ্টন করে আছেন। আর হে আমার কওম! তোমরা তোমাদের অবস্থানে কাজ করতে থাকো, আমিও কাজ করছি। শীঘ্রই তোমরা জানতে পারবে কার ওপর লাঞ্ছনাকর আযাব আসবে এবং কে মিথ্যাবাদী। আর তোমরা অপেক্ষা করো, নিশ্চয়ই আমিও তোমাদের সাথে অপেক্ষমাণ। [হূদ: ৮৪ - ৯৩]।

তেমনিভাবে মহান ও মহীয়ান আল্লাহ সত্য ও মিথ্যার মাঝে অনেক তুলনা পেশ করেছেন যাতে করে বিবেকের সামনে তুলনা ও ভারসাম্য করার পথ প্রশস্ত হয়, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: হে আমার কারাগারের দুই সাথী! ভিন্ন ভিন্ন অনেক রব কি উত্তম, নাকি এক ও প্রবল প্রতাপশালী আল্লাহ? [ইউসুফ: ৩৯]।

এবং মহান আল্লাহর বাণী: তারা কি এমন কিছুকে অংশীদার সাব্যস্ত করে যারা কোনো কিছুই সৃষ্টি করতে পারে না, বরং তারা নিজেরাই সৃজিত? আর তারা না তাদের কোনো সাহায্য করতে পারে এবং না নিজেদের সাহায্য করতে পারে। আর তোমরা যদি তাদেরকে সৎপথের দিকে ডাকো তবে তারা তোমাদের অনুসরণ করবে না। তোমরা তাদেরকে ডাকো কিংবা নীরব থাকো—উভয়টিই তোমাদের জন্য সমান। আল্লাহকে বাদ দিয়ে তোমরা যাদেরকে ডাকো তারা তোমাদের মতোই দাস। সুতরাং তোমরা তাদেরকে ডাকো, অতঃপর তারা যেন তোমাদের ডাকে সাড়া দেয় যদি তোমরা সত্যবাদী হও। তাদের কি পা আছে যা দিয়ে তারা চলে? নাকি তাদের হাত আছে যা দিয়ে তারা ধরে? নাকি তাদের চোখ আছে যা দিয়ে তারা দেখে? নাকি তাদের কান আছে যা দিয়ে তারা শোনে? বলুন: তোমরা তোমাদের শরীকদের ডাকো, অতঃপর আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করো এবং আমাকে বিন্দুমাত্র অবকাশ দিও না। নিশ্চয়ই আমার অভিভাবক হলেন আল্লাহ, যিনি কিতাব নাযিল করেছেন এবং তিনিই নেককারদের অভিভাবকত্ব করেন। [আল-আরাফ: ১৯১ - ১৯৬]।
(খণ্ড: ١) মাওসুআতুল মিলাল ওয়াদ আদিয়ান (পৃষ্ঠা: ١١)
كما ذكر الله عز وجل الملاحدة الذين ينكرون وجود الخالق، وينكرون بالتالي الأديان حيث ذكر إمامهم فرعون في مواطن كثيرة، منها قوله عز وجل: وَقَالَ فِرْعَوْنُ يَا أَيُّهَا الْمَلَأُ مَا عَلِمْتُ لَكُم مِّنْ إِلَهٍ غَيْرِي فَأَوْقِدْ لِي يَا هَامَانُ عَلَى الطِّينِ فَاجْعَل لِّي صَرْحًا لَّعَلِّي أَطَّلِعُ إِلَى إِلَهِ مُوسَى وَإِنِّي لَأَظُنُّهُ مِنَ الْكَاذِبِينَ [القصص:38] بل بين سبحانه أن فرعون هو إمام الإلحاد، وذلك في قوله عز وجل: وَجَعَلْنَاهُمْ أَئِمَّةً يَدْعُونَ إِلَى النَّارِ وَيَوْمَ الْقِيَامَةِ لَا يُنصَرُونَ وَأَتْبَعْنَاهُمْ فِي هَذِهِ الدُّنْيَا لَعْنَةً وَيَوْمَ الْقِيَامَةِ هُم مِّنَ الْمَقْبُوحِينَ [القصص:41 - 42].

فبين سبحانه أن فرعون وأتباعه هم أئمة الدعاة إلى النار، ولاشك أن أعظم الدعاة إلى النار هم الفلاسفة الملاحدة والمؤلهة منهم، وهذا خلاف ما هو مشتهر لدى كثير من الناس من عزو الفلسفة والإلحاد إلى فلاسفة اليونان، فإن الصحيح أن الفراعنة كانوا هم أئمة اليونان في هذا، فقد أخذ اليونان فلسفتهم الوثنية عنهم، وكل من نظر في أساطير اليونان وفلسفتهم وكذلك أساطير الرومان الذين ورثوا ذلك عن اليونان، ثم نظر في أساطير وفلسفة الفراعنة قبلهم علم أن هذه الأقوال بعضها من بعض، وإن كان اليونان قد توسعوا في ذلك وانتشرت عنهم تلك الأقوال فنسبت إليهم.

قال د. محمد دراز: (لم يبق الآن مجال للشك في أن القدامى من علماء اليونان وفلاسفتهم تخرجوا في مدرسة الحضارات الشرقية، والحضارة المصرية بوجه أخص. وليس معنى هذا أن الإغريق (اليونان) كانوا بمثابة أوعية مصمتة نقلت علوم الشرق ومعارفه نقلاً حرفيًّا، فذلك ما لا يستسيغه عقل، ولم يقم عليه دليل من صحيح النقل، ولكن المعنى أنهم لم ينشئوا هذه العلوم إنشاءً على غير مثال سابق، كما ظنه بعضهم، بل وجدوا مادتها في الشرق فاقتبسوا منها وأفادوا كثيراً. وإن قدماء اليونان أنفسهم يذهبون إلى الاعتراف بهذه التلمذة إلى القول بأن عظماءهم أمثال (فيثاغورس) و (أفلاطون) مدينون بأرقى نظرياتهم إلى المدرسة المصرية، والناقدون المحدثون وإن استبعدوا حصول نقل حرفي لهذه النظريات، لم يسعهم إلا التسليم بتبعية هؤلاء الفلاسفة في الدين والأخلاق، للنظريات المصرية).

كما أمر الله عز وجل بمجادلة أهل الكتاب لإزالة شبههم وإقامة الحجة عليهم وذلك بالحسنى، كما قال عز وجل: وَلَا تُجَادِلُوا أَهْلَ الْكِتَابِ إِلَّا بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ إِلَّا الَّذِينَ ظَلَمُوا مِنْهُمْ [العنكبوت: 46].

كما حكم الله عز وجل في هذا القرآن بين بني إسرائيل فيما اختلفوا فيه من القضايا الدينية إِنَّ هَذَا الْقُرْآنَ يَقُصُّ عَلَى بَنِي إِسْرَائِيلَ أَكْثَرَ الَّذِي هُمْ فِيهِ يَخْتَلِفُونَ [النمل:76].

فبرَّأ الله عز وجل فيه سليمان عليه السلام مما اتهمه به اليهود من الكفر، وأثبت له النبوة التي كانوا ينكرونها، كما برَّأ مريم رضي الله عنها مما اتهمها به اليهود، وأبان عن حصانتها وعفتها وطهارتها، وبرأ ابنها مما نبزه به اليهود من الكفر والضلال، كما برأه مما ادعاه فيه النصارى من الألوهية والبنوة، ورد على اليهود والنصارى دعوى صلبه، وأخبر أنه أنجاه منهم ورفعه إليه.

فهذه المعلومات الغزيرة والمتنوعة عن الأديان التي وردت في القرآن الكريم، تدل دلالة واضحة على عظيم أهمية هذا العلم في مجال الدعوة إلى الله عز وجل، فتنبه لذلك علماء المسلمين فكتبوا، في الأديان قاصدين بذلك الدعوة إلى الله من خلال ذلك فكان من أوائل من كتب في ذلك:
আল্লাহ আযযা ওয়া জাল সেই নাস্তিকদের কথা উল্লেখ করেছেন যারা স্রষ্টার অস্তিত্ব অস্বীকার করে এবং এর ফলে ধর্মসমূহকেও অস্বীকার করে। তিনি তাদের নেতা ফেরাউনের কথা অনেক স্থানে উল্লেখ করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে মহান আল্লাহর বাণী: "আর ফেরাউন বলল, হে পারিষদবর্গ, আমি তোমাদের জন্য আমি ছাড়া অন্য কোনো ইলাহ আছে বলে জানি না। সুতরাং হে হামান, তুমি আমার জন্য কাদামাটি পুড়িয়ে (ইট তৈরি করে) একটি সুউচ্চ প্রাসাদ নির্মাণ করো, যাতে আমি মূসার ইলাহকে উঁকি দিয়ে দেখতে পারি। যদিও আমি তাকে মিথ্যাবাদীদের একজন মনে করি" [আল-কাসাস: ৩৮]। বরং তিনি মহিমান্বিত সত্তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে ফেরাউনই হলো নাস্তিক্যবাদের মূল নেতা। তা মহান আল্লাহর এই বাণীতে: "আর আমি তাদেরকে এমন নেতা বানিয়েছিলাম যারা জাহান্নামের দিকে আহ্বান করত এবং কিয়ামতের দিন তাদেরকে সাহায্য করা হবে না। আর আমি এই পৃথিবীতে তাদের পেছনে অভিশাপ লাগিয়ে দিয়েছি এবং কিয়ামতের দিন তারা হবে লাঞ্ছিতদের অন্তর্ভুক্ত" [আল-কাসাস: ৪১-৪২]।

অতঃপর তিনি মহিমান্বিত সত্তা স্পষ্ট করেছেন যে, ফেরাউন ও তার অনুসারীরা হলো জাহান্নামের দিকে আহ্বানকারী নেতা। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে জাহান্নামের দিকে আহ্বানকারীদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হলো নাস্তিক ও নিজেদের ইলাহ দাবিদার দার্শনিকরা। আর এটি অনেক মানুষের কাছে প্রচলিত সেই ধারণার বিপরীত যা দর্শন ও নাস্তিক্যবাদকে গ্রীক দার্শনিকদের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করে। কারণ সঠিক কথা হলো যে, ফেরাউনরাই ছিল এই ক্ষেত্রে গ্রীকদের অগ্রজ। গ্রীকরা তাদের পৌত্তলিক দর্শন তাদের কাছ থেকেই গ্রহণ করেছে। যে ব্যক্তিই গ্রীকদের রূপকথা ও দর্শন এবং রোমানদের রূপকথা নিয়ে গবেষণা করবে যারা তা গ্রীকদের কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে, অতঃপর তাদের পূর্ববর্তী ফেরাউনদের রূপকথা ও দর্শন নিয়ে গবেষণা করবে, সে জানতে পারবে যে এই বক্তব্যগুলো একে অপরের থেকে গৃহীত। যদিও গ্রীকরা এক্ষেত্রে বিস্তারিত আলোচনা করেছিল এবং তাদের মাধ্যমেই এই কথাগুলো ছড়িয়ে পড়েছিল, ফলে তা তাদের দিকেই সম্বন্ধযুক্ত হয়েছে।

ড. মুহাম্মদ দরাজ বলেছেন: "বর্তমানে এটি নিয়ে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই যে, প্রাচীন গ্রীক পণ্ডিত ও দার্শনিকরা প্রাচ্যের সভ্যতাগুলোর এবং বিশেষভাবে মিশরীয় সভ্যতার পাঠশালায় শিক্ষা লাভ করেছিলেন। এর অর্থ এই নয় যে, গ্রীকরা নিছক এমন এক জড় পাত্র ছিল যারা প্রাচ্যের জ্ঞান-বিজ্ঞানকে হুবহু অনুলিপি করেছিল; কারণ এটি কোনো সুস্থ মস্তিষ্ক গ্রহণ করবে না এবং সহীহ বর্ণনার কোনো দলীলও এর ওপর প্রতিষ্ঠিত নয়। বরং এর অর্থ হলো যে, তারা এই জ্ঞান-বিজ্ঞানগুলোকে কোনো পূর্ববর্তী নমুনা ছাড়াই শূন্য থেকে উদ্ভাবন করেনি, যেমনটি কেউ কেউ মনে করেন। বরং তারা প্রাচ্যে এর মূল উপাদান খুঁজে পেয়েছিল এবং তা থেকে গ্রহণ করেছিল ও প্রচুর উপকৃত হয়েছিল। এমনকি প্রাচীন গ্রীকরা নিজেরাই এই ছাত্রত্বের কথা স্বীকার করে বলে যে, তাদের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিরা যেমন পিথাগোরাস ও প্লেটো তাদের সর্বোচ্চ তত্ত্বগুলোর জন্য মিশরীয় পাঠশালার কাছে ঋণী। আধুনিক সমালোচকরা যদিও এই তত্ত্বগুলোর হুবহু অনুলিপি হওয়াকে অসম্ভব মনে করেন, তবুও ধর্ম ও নৈতিকতার ক্ষেত্রে এই দার্শনিকদের মিশরীয় তত্ত্বগুলোর অনুসারী হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে নিতে তারা বাধ্য হয়েছেন।"

তেমনিভাবে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল আহলে কিতাবদের সাথে বিতর্ক করার নির্দেশ দিয়েছেন তাদের সংশয় দূর করার জন্য এবং তাদের বিরুদ্ধে দলিল উপস্থাপনের জন্য, আর তা হতে হবে উত্তম পন্থায়। যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: "আর তোমরা উত্তম পন্থা ছাড়া আহলে কিতাবদের সাথে বিতর্ক করো না, তবে তাদের মধ্যে যারা জুলুম করেছে তারা ছাড়া" [আল-আনকাবুত: ৪৬]।

একইভাবে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল এই কুরআনে বনী ইসরাঈলের মধ্যে ধর্মীয় যে সকল বিষয়ে তারা মতভেদ করত সেগুলোর ফয়সালা করে দিয়েছেন: "নিশ্চয়ই এই কুরআন বনী ইসরাঈলের কাছে সেই অধিকাংশ বিষয় বর্ণনা করে যে বিষয়ে তারা মতভেদ করে" [আন-নামল: ৭৬]।

অতঃপর আল্লাহ আযযা ওয়া জাল এতে সুলায়মান আলাইহিস সালামকে কুফরের সেই অপবাদ থেকে মুক্ত করেছেন যা ইহুদীরা তাঁর ওপর আরোপ করেছিল, এবং তাঁর জন্য নবুওয়াত সাব্যস্ত করেছেন যা তারা অস্বীকার করত। যেমন তিনি মারইয়াম রাযিয়াল্লাহু আনহাকে সেই অপবাদ থেকে মুক্ত করেছেন যা ইহুদীরা তাঁর ওপর দিয়েছিল, এবং তাঁর সতীত্ব, পবিত্রতা ও নির্মলতা প্রকাশ করেছেন। আর তিনি তাঁর পুত্রকে সেই কুফর ও গোমরাহীর অপবাদ থেকে মুক্ত করেছেন যা ইহুদীরা তাঁর বিরুদ্ধে দিয়েছিল। যেমন তিনি তাঁকে খ্রিস্টানদের দাবিকৃত উপাস্যত্ব এবং পুত্রত্ব থেকেও পবিত্র ঘোষণা করেছেন। আর তিনি ইহুদী ও খ্রিস্টানদের তাঁর ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার দাবিকে খণ্ডন করেছেন এবং সংবাদ দিয়েছেন যে তিনি তাঁকে তাদের থেকে রক্ষা করেছেন এবং তাঁকে তাঁর নিজের দিকে উঠিয়ে নিয়েছেন।

সুতরাং কুরআনুল কারীমে বর্ণিত ধর্মসমূহ সম্পর্কে এই প্রচুর ও বৈচিত্র্যময় তথ্যগুলো আল্লাহর পথে দাওয়াতের ক্ষেত্রে এই ইলমের সুমহান গুরুত্বের সুস্পষ্ট প্রমাণ বহন করে। মুসলিম আলেমগণ এই বিষয়ে সচেতন হয়েছেন, তাই তারা আল্লাহ তাআলার দিকে দাওয়াতের উদ্দেশ্যে ধর্মতত্ত্বের ওপর কিতাব রচনা করেছেন। এক্ষেত্রে যারা সর্বপ্রথম কিতাব লিখেছেন তাদের মধ্যে ছিলেন:
(খণ্ড: ١) মাওসুআতুল মিলাল ওয়াদ আদিয়ান (পৃষ্ঠা: ١٢)
علي بن ربن الطبري في كتابيه (الرد على النصارى) وكتاب (الدين والدولة في إثبات نبوة النبي صلى الله عليه وسلم.

والجاحظ في كتابه: (الرد على النصارى)، والأشعري في كتابه (الفصول في الرد على الملحدين)، والمسعودي في كتابه (المقالات في أصول الديانات)، والبيروني في كتابه (تحقيق ما للهند من مقولة مقبولة في العقل أو مرذولة)، وابن حزم في كتابه (الفصل في الملل والأهواء والنحل)، والشهرستاني في كتابه (الملل والنحل)، والقرافي في كتابه (الأجوبة الفاخرة عن الأسئلة الفاجرة)، وشيخ الإسلام ابن تيمية في كتابه (الجواب الصحيح لمن بدل دين المسيح)، وغيرها كثير أرسى به المسلمون قواعد هذا العلم حيث أوردوا عقائد أصحاب الديانات وعباداتهم، ونقلوا ذلك عن كتبهم ومصادرهم المعتبرة لديهم، وناقشوهم فيها وأبانوا عن بطلان أقوالهم وأقاموا الحجة عليهم بالأدلة النقلية والعقلية، وسلكوا في ذلك منهجاً دعويًّا متأسين بذلك بالقرآن الكريم.

وقد سبق المسلمون في هذا المضمار الغربيين الذين لم يعتنوا بهذا العلم إلا في العصور المتأخرة بعد ما يسمى بعصر النهضة في القرنين 15، 16م؛ لأن النصارى بعد عصر النهضة وابتداء عصر الاستعمار أخذوا يرسلون البعوث من رجال دينهم إلى الشرق الأدنى والأقصى؛ للاطلاع على ديانات الناس والتعرف عليها والكتابة فيها، وتلك البعوث لم تكن في الواقع إلا طلائع الاستعمار، ومن الأشياء الجديدة التي استطاع الغربيون إضافتها إلى هذا العلم، البحث في الديانات القديمة، وساعدهم على ذلك التنقيب عن الآثار، وتعلم اللغات القديمة، فأفادوا في هذا الباب معرفة ديانات الأقوام القديمة التي اندثرت، فأكملوا بذلك ما كان بدأه المسلمون، مع أن المسلمين يتميزون عن الغربيين أن بين أيديهم مرجعاً عظيماً قد حوى في هذا الباب علماً جمًّا ذا دلالات مفيدة نافعة لهداية الإنسان ومصلحته الدينية، ذلك هو الوحي الإلهي في القرآن الكريم والسنة المطهرة، وهو مصدر علمي معصوم من الخطأ، لا يأتيه الباطل من بين يديه ولا من خلفه، فيعصم العقل البشري من البحث في علوم لا تعود بفائدة على الإنسان في دينه أو دنياه، كالبحث في أديان أقوام غبرت واندثرت من أهل الشرق والغرب، كما يعطيه المعلومات الصحيحة عن أمور لا يمكن للبشر التوصل إليها والقطع فيها بالحق إلا بالعلم الإلهي، كما في بحثهم في نشأة التدين وباعثه - كما سيأتي- فإن البحث في ذلك كثير منه هو من باب التخرص إذ لم يستند إلى الوحي الإلهي.

 

‌‌المصدر:دراسات في الأديان اليهودية والنصرانية لسعود بن عبد العزيز الخلف – ص 15
আলী ইবনে রাব্বান আত-তাবারী তাঁর দুটি গ্রন্থ (খ্রিস্টানদের খণ্ডন) এবং (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নবুয়ত প্রমাণের বিষয়ে ধর্ম ও রাষ্ট্র) গ্রন্থে।

এবং আল-জাহিয তাঁর গ্রন্থে: (খ্রিস্টানদের খণ্ডন), আল-আশআরী তাঁর গ্রন্থে (নাস্তিকদের খণ্ডনে অধ্যায়সমূহ), আল-মাসউদী তাঁর গ্রন্থে (ধর্মীয় মূলনীতির প্রবন্ধসমূহ), আল-বিরুনী তাঁর গ্রন্থে (ভারতের যেসব মতবাদ বুদ্ধিগ্রাহ্য অথবা বর্জনীয় তার অনুসন্ধান), ইবনে হাযম তাঁর গ্রন্থে (ধর্মীয় সম্প্রদায়, খেয়ালখুশি ও উপদলসমূহ), আশ-শাহরাস্তানী তাঁর গ্রন্থে (ধর্মীয় সম্প্রদায় ও উপদলসমূহ), আল-কারাফী তাঁর গ্রন্থে (নির্লজ্জ প্রশ্নসমূহের চমৎকার উত্তর), এবং শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ তাঁর গ্রন্থে (যিনি মসীহের ধর্ম পরিবর্তন করেছেন তাঁর জন্য সঠিক উত্তর), এবং আরও অনেক গ্রন্থ রয়েছে যার মাধ্যমে মুসলিমরা এই বিজ্ঞানের মূলভিত্তি স্থাপন করেছেন। সেখানে তাঁরা বিভিন্ন ধর্মের অনুসারীদের আকিদা ও ইবাদতসমূহ উল্লেখ করেছেন এবং তা তাদেরই নির্ভরযোগ্য গ্রন্থ ও উৎস থেকে উদ্ধৃত করেছেন। তাঁরা সেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন, তাদের বক্তব্যের অসারতা স্পষ্ট করেছেন এবং তাঁদের বিরুদ্ধে বর্ণনাভিত্তিক ও যুক্তিভিত্তিক প্রমাণের মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন। এক্ষেত্রে তাঁরা পবিত্র কুরআনের আদর্শ অনুসরণ করে একটি দাওয়াতী পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন।

এই ময়দানে মুসলিমরা পশ্চিমাপন্থীদের চেয়ে অগ্রগামী ছিলেন, যারা ১৫ ও ১৬ শতাব্দীতে রেনেসাঁ পরবর্তী আধুনিক যুগের আগে এই বিজ্ঞানের প্রতি মনোযোগ দেয়নি। কারণ রেনেসাঁ এবং উপনিবেশবাদের শুরুর পরে খ্রিস্টানরা তাদের ধর্মীয় প্রতিনিধিদের নিকট ও দূর প্রাচ্যে পাঠাতে শুরু করে; যাতে মানুষের ধর্ম সম্পর্কে অবগত হওয়া যায়, সেগুলো চেনা যায় এবং সে বিষয়ে লেখা যায়। বাস্তবে সেই মিশনগুলো ছিল উপনিবেশবাদের অগ্রযাত্রার অংশ মাত্র। পশ্চিমারা এই বিজ্ঞানে যা নতুন কিছু যোগ করতে পেরেছে তা হলো প্রাচীন ধর্মগুলো নিয়ে গবেষণা। প্রত্নতাত্ত্বিক খনন এবং প্রাচীন ভাষা শেখা তাদের এক্ষেত্রে সাহায্য করেছে। ফলে তারা বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া প্রাচীন জাতিগোষ্ঠীর ধর্ম সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করতে পেরেছে। এর মাধ্যমে তারা মুসলিমদের সূচিত কাজকে পূর্ণতা দিয়েছে। তবে পশ্চিমাপন্থীদের তুলনায় মুসলিমদের বৈশিষ্ট্য হলো তাঁদের কাছে এক মহান উৎস রয়েছে, যা এই ক্ষেত্রে প্রচুর জ্ঞান ধারণ করে এবং যা মানুষের হেদায়েত ও ধর্মীয় কল্যাণের জন্য অত্যন্ত উপকারী ও অর্থবহ দিকনির্দেশনা প্রদান করে। সেটি হলো পবিত্র কুরআন ও পবিত্র সুন্নাহর ঐশী ওহী, যা ভুলের ঊর্ধ্বে এক বৈজ্ঞানিক উৎস। এর সামনে বা পেছন থেকে কোনো মিথ্যা আসতে পারে না। এটি মানব বুদ্ধিকে এমন সব গবেষণায় মত্ত হওয়া থেকে রক্ষা করে যা মানুষের দ্বীন বা দুনিয়ার কোনো উপকারে আসে না, যেমন প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া জাতিগোষ্ঠীর ধর্ম নিয়ে গবেষণা করা। একইভাবে এটি এমন সব বিষয়ে সঠিক তথ্য প্রদান করে যা ঐশী জ্ঞান ছাড়া মানুষের পক্ষে পৌঁছানো এবং সত্য হিসেবে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। যেমন ধর্মপরায়ণতার উদ্ভব ও এর কারণ নিয়ে তাদের গবেষণা—যা সামনে আসবে—কারণ এক্ষেত্রে গবেষণার অধিকাংশ বিষয়ই হলো অনুমাননির্ভর, যেহেতু তা ঐশী ওহীর ওপর ভিত্তি করে নয়।

 

‌‌উৎস:সাউদ বিন আব্দুল আজীজ আল-খালাফ রচিত ইয়াহূদী ও খ্রিস্টধর্ম বিষয়ক অধ্যয়ন – পৃষ্ঠা ১৫
(খণ্ড: ١) মাওসুআতুল মিলাল ওয়াদ আদিয়ান (পৃষ্ঠা: ١٣)
‌‌المبحث الثاني: باعث التدين:

قال الله عز وجل: وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَّسُولاً [النحل:36].

وقال عز وجل أيضا: وَإِن مِّنْ أُمَّةٍ إِلَّا خلَا فِيهَا نَذِيرٌ [فاطر:24].

قال ابن كثير- رحمه الله عند الآية الأولى: (وبعث في كل أمة أي: من كل قرن وطائفة رسولاً … ثم قال: ( … فلم يزل تعالى يرسل إلى الناس الرسل بذلك منذ حدث الشرك في بني آدم في قوم نوح الذين أرسل إليهم نوح عليه السلام.

فهذا فيه دلالة واضحة على أن البشر ما أنفكوا عن رسل يدعونهم إلى الله، ويشرعون لهم الشرائع التي يتعبدون الله بها، كلما أندرست معالم التوحيد، وانطمست أنواره في نفوسهم. وذلك يعني أن التجمعات البشرية لم تخل من دين تدين به وتضبط كثيراً من نواحي حياتها وفْقَه، وهذا ما أكده أيضاً علم الآثار والبحوث الاجتماعية في التجمعات البشرية، إذ يصرح كثير من ذوي هذه الاختصاصات: (أن الجماعات البشرية القديمة والحديثة، المتحضرة وغير المتحضرة كان لها دين تدين به.

قال هنرى برجسون: (لقد وجدت وتوجد جماعات إنسانية من غيرعلوم وفنون وفلسفات، ولكن لم توجد جماعة بغير ديانة).

فهذه الدلالات المؤكدة، والحقيقة التي لا تقبل الجدل في أن النزعة الدينية متعمقة في الإنسان ومغروزة فيه، تجعل الباحث والناظر في ذلك يتساءل عن الباعث على هذا التدين ما هو؟ مع أن الدين ليس من الماديات، ولا من الشهوات التي تتعلق بها النفوس، بل الدين له تبعات ولوازم تجعل الإنسان في كثير من الأحيان يبذل دمه من أجله، فضلا عن ماله ووقته وعواطفه، ويتحكم الدين في كثير من تصرفات الإنسان وعلاقاته، فلهذا كثر في بيان الباعث على التدين القيل والقال، والاستنتاجات، والتخمينات.

وإليك بعض هذه الأقوال وهي كلها لغير المسلمين:

قال بعضهم: إن الدافع إلى التدين الخوف من الطبيعة حوله بما فيها من برق، ورعد، وزلازل، وبراكين، وحيوانات متوحشة، جعلت الإنسان في الأزمان القديمة- وهو الضعيف الذي لا حول له ولا طول مع هذه الأحوال المتغيرة حوله- يبحث عن قوة غيبية لها سيطرة وتأثير في هذه الطبيعة حوله، ولها قدرة على حمايته وحفظه، فأله وعبد ما يرى أنه أقوى وأقدر على حمايته من المخلوقات التي حوله كالشمس والقمر والبحر ونحو ذلك.

وقال بعضهم وهو (ماكس موللر): (إن العقل هو الباعث على التدين، وذلك أن العقل ميزة الإنسان عن الحيوان، وهو باعث على النظر والتفكر في هذه المخلوقات، والإعجاب بها، وتعظيمها، ومن هنا أخذ العقل يفكر فيما وراء الطبيعة، وأداه عقله مع اللغة المستخدمة في الحديث عن الجمادات إلى صبغها بصبغة الأحياء ذوات الأرواح، مما جعله يتعبد لها ويتخذها إلها (.

وهناك قول ثالث في الباعث قال به) دوركايم (الفرنسي، وهو: أن الحاجة الاجتماعية هي الباعث على التدين، وذلك أن المجتمعات البشرية تحتاج إلى نظم وقوانين تحفظ الحقوق وتصون الحرمات، ويؤدي كل إنسان واجبه بمراقبة داخلية، مما جعل بعض الأفذاذ وذوي القيادة يتولد في أذهانهم الدين، ويبثونه في جماعتهم، فتقبله الجماعة لحاجتها لذلك.

هذه الأقوال يظهر منها واضحاً ادعاء أن الدين مصدره الإنسان، وأن باعثه أمر من الأمور المتعلقة بالطبيعة حول الإنسان، أو دوافع داخلية في الإنسان.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ধর্মপরায়ণতার উৎস:

আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেন: “আমি অবশ্যই প্রত্যেক জাতির নিকট একজন রাসূল পাঠিয়েছি।” [আন-নাহল: ৩৬]।

তিনি আরও বলেন: “এমন কোনো জাতি নেই যার নিকট সতর্ককারী অতিক্রান্ত হয়নি।” [ফাতির: ২৪]।

ইবনে কাসীর (রাহিমাহুল্লাহ) প্রথম আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন: (অর্থাৎ প্রত্যেক যুগে এবং প্রত্যেক দলের মাঝে একজন করে রাসূল পাঠানো হয়েছে... এরপর তিনি বলেন: (...অতএব, বনী আদমের মাঝে যখন থেকে শির্কের উদ্ভব হয়েছিল অর্থাৎ নূহ (আলাইহিস সালাম)-এর কওমের সময় থেকে, তখন থেকেই আল্লাহ তাআলা মানুষের নিকট নিরবচ্ছিন্নভাবে রাসূল পাঠাতে থাকেন)।

এটি একটি স্পষ্ট দলিল যে, মানুষ কখনোই এমন রাসূলদের থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল না যারা তাদের আল্লাহর দিকে আহ্বান করতেন এবং তাদের জন্য এমন শরীয়ত বা বিধান প্রণয়ন করতেন যার মাধ্যমে তারা আল্লাহর ইবাদত করত; যখনই তাওহীদের শিক্ষা বিলুপ্ত হয়ে যেত এবং তাদের অন্তরে এর আলো নিভে যেত তখনই এমনটা ঘটত। এর অর্থ হলো, মানবসমাজ কখনোই এমন কোনো ধর্ম থেকে শূন্য ছিল না যা তারা পালন করত এবং যার আলোকে তাদের জীবনের অনেক দিক নিয়ন্ত্রিত হতো। প্রত্নতত্ত্ব এবং মানবসমাজে পরিচালিত সামাজিক গবেষণাসমূহও এই সত্যটি নিশ্চিত করেছে। এ সকল বিষয়ের অনেক বিশেষজ্ঞ স্পষ্ট করে বলেছেন: (প্রাচীন এবং আধুনিক, সভ্য এবং অসভ্য সকল মানবগোষ্ঠীরই কোনো না কোনো ধর্ম ছিল যা তারা পালন করত)।

হেনরি বার্গসন বলেছেন: (বিজ্ঞান, শিল্পকলা এবং দর্শনবিহীন মানবগোষ্ঠী অতীতে ছিল এবং বর্তমানেও আছে, কিন্তু ধর্মহীন কোনো মানবগোষ্ঠীর অস্তিত্ব কখনো ছিল না)।

এই সুনিশ্চিত প্রমাণাদি এবং বিতর্কাতীত সত্য—যা হলো ধর্মীয় প্রবণতা মানুষের মধ্যে গভীরভাবে প্রোথিত ও সহজাত—গবেষক এবং পর্যবেক্ষককে এই প্রশ্ন করতে বাধ্য করে যে, এই ধর্মপরায়ণতার নেপথ্যের উৎস বা চালিকাশক্তি কী? অথচ ধর্ম কোনো পার্থিব বস্তু নয়, কিংবা এটি এমন কোনো প্রবৃত্তির বিষয় নয় যার প্রতি মন আসক্ত হয়। বরং ধর্মের এমন অনেক দায়বদ্ধতা ও আবশ্যকতা রয়েছে যার কারণে মানুষ প্রায়শই নিজের জীবনের রক্ত পর্যন্ত বিলিয়ে দেয়, এমনকি নিজের অর্থ, সময় ও আবেগও উৎসর্গ করে। ধর্ম মানুষের অনেক আচরণ ও পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণ করে। তাই ধর্মপরায়ণতার নেপথ্যের কারণ বর্ণনায় বহু কথা, সিদ্ধান্ত ও অনুমানের অবতারণা হয়েছে।

অমুসলিমদের পক্ষ থেকে প্রদত্ত এ সংক্রান্ত কিছু মতবাদ নিচে তুলে ধরা হলো:

তাদের কেউ কেউ বলেছেন: ধর্মপরায়ণতার নেপথ্য চালিকাশক্তি হলো চারপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশ সম্পর্কে ভীতি, যেমন: বিদ্যুৎ চমকানো, বজ্রপাত, ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরি এবং হিংস্র বন্যপ্রাণী। এগুলো প্রাচীনকালের মানুষকে—যে ছিল অত্যন্ত দুর্বল এবং এই পরিবর্তনশীল অবস্থার সামনে যার কোনো ক্ষমতা বা শক্তি ছিল না—এমন এক অদৃশ্য শক্তির অনুসন্ধান করতে বাধ্য করেছে যার এই প্রকৃতির ওপর কর্তৃত্ব ও প্রভাব আছে এবং তাকে সুরক্ষা ও হিফাজত করার ক্ষমতা আছে। ফলে সে যাকেই সৃষ্টির মধ্যে নিজের হিফাজতের জন্য অধিক শক্তিশালী ও সক্ষম মনে করেছে তাকেই উপাস্য হিসেবে গ্রহণ করেছে ও তার ইবাদত করেছে, যেমন: সূর্য, চন্দ্র, সমুদ্র ইত্যাদি।

তাদের মধ্যে কেউ কেউ (ম্যাক্স মুলার) বলেছেন: (বুদ্ধিবৃত্তিই হলো ধর্মপরায়ণতার উৎস। কারণ বুদ্ধিই মানুষকে পশুকুল থেকে আলাদা করে এবং এই বুদ্ধিবৃত্তিই মানুষকে এই সকল সৃষ্টিজগত পর্যবেক্ষণ, চিন্তা-গবেষণা, এগুলোর প্রতি মুগ্ধ হওয়া এবং এগুলোর মাহাত্ম্য অনুধাবনে উদ্বুদ্ধ করে। এখান থেকেই মানুষের বুদ্ধি অতিপ্রাকৃত বা মেটাফিজিক্স নিয়ে চিন্তা করতে শুরু করে। জড়বস্তু সম্পর্কে আলোচনার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত ভাষার প্রভাবে তার বুদ্ধি এসকল বস্তুকে প্রাণময় বা আত্মা বিশিষ্ট হিসেবে চিত্রিত করে, যা তাকে এগুলোর ইবাদত করতে এবং এদের উপাস্য হিসেবে গ্রহণ করতে প্ররোচিত করে)।

এই উৎসের বিষয়ে তৃতীয় একটি মত রয়েছে যা (ফরাসি) ডুর্খেইম প্রদান করেছেন, তা হলো: সামাজিক প্রয়োজনই ধর্মপরায়ণতার মূল উৎস। কারণ মানবসমাজের এমন কিছু নীতি ও আইনের প্রয়োজন হয় যা মানুষের অধিকার রক্ষা করবে এবং পবিত্রতা বজায় রাখবে, যেন প্রতিটি মানুষ অভ্যন্তরীণ নজরদারির মাধ্যমে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করে। এর ফলে কিছু অসাধারণ মেধাসম্পন্ন ও নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের মস্তিষ্কে ধর্মের ধারণা জন্ম নেয় এবং তারা তা তাদের গোষ্ঠীর মাঝে ছড়িয়ে দেয়, আর গোষ্ঠী বা সমাজ তাদের প্রয়োজনে তা গ্রহণ করে নেয়।

এই সকল মতবাদ থেকে এটি স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, তাদের দাবি অনুযায়ী ধর্মের উৎস হলো মানুষ স্বয়ং, এবং এর চালিকাশক্তি হলো মানুষের চারপাশের প্রকৃতি সংশ্লিষ্ট কোনো বিষয় অথবা মানুষের অভ্যন্তরীণ কোনো তাড়না।
(খণ্ড: ١) মাওসুআতুল মিলাল ওয়াদ আদিয়ান (পৃষ্ঠা: ١٤)
ولا تحتاج هذه الأقوال إلى كثير عناء في إبطالها وردها؛ إذ إن هذه البواعث المذكورة كثيراً ما تكون غير موجودة، ومع ذلك يكون التدين ظاهراً واضحاً يصدم دعاة الإلحاد ويهدم تخرصاتهم. ولا يعدو ما ذكر هنا من باعث التدين أن يكون تخرصا وفرضاً باطلاً؛ إذ إن الحديث عن باعث التدين يحتاج إلى سبر أغوار النفس البشرية، ودراسة تاريخية متعمقة، تشمل الإنسان الأول، وتسير معه سيراً متأنياً، كاشفة عن مشاعره وأحاسيسه وتقلباتها حسب الظروف والأحوال التي تحيط به؛ إذ إن الدين له أوقات يظهر بها ويتضح جليًّا في حياة الإنسان، وهي أوقات الأزمات والمخاوف التي يقع فيها الإنسان، كما أن له أوقاتاً يكمن فيها ولا يظهر، وهي أوقات الرخاء والغنى، إذ يقع الإنسان فيها فريسة سهلة للغفلة والبعد عن الدين. كما أن الباحث يجب أن يكون في حال بحثه خاليا من المؤثرات البيئية والدينية والثقافية، وذلك من أجل أن يكون حكمه على الظواهر التي يقع عليها سليما من المؤثرات الخارجية، وأنَّى للباحث أن يتخلص من ذلك.

فهذه الأمور تجعل الوصول إلى باعث التدين الحقيقي من الصعوبة والعسر بما لا يتمكن منه الإنسان. ونحن- المسلمين- نعتقد أن الباعث على التدين: هو الفطرة، ونعتمد في ذلك على الوحي الإلهي والنور الرباني، فإن القرآن والسنة نصَّا على أن الإنسان مفطور على الإقرار بالخالق والعبودية له والبراءة من الشرك، يدل على ذلك قول الله عز وجل: فَأَقِمْ وَجْهَكَ لِلدِّينِ حَنِيفًا فِطْرَةَ اللَّهِ الَّتِي فَطَرَ النَّاسَ عَلَيْهَا لَا تَبْدِيلَ لِخَلْقِ اللَّهِ ذَلِكَ الدِّينُ الْقَيِّمُ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ [الروم: 30].
এই উক্তিগুলোকে বাতিল ও খণ্ডন করতে খুব একটা বেগ পেতে হয় না; কেননা উল্লিখিত এই অনুপ্রেরণাগুলো প্রায়শই অনুপস্থিত থাকে, তা সত্ত্বেও ধর্মপরায়ণতা এতই প্রকট ও স্পষ্ট থাকে যা নাস্তিকতার প্রচারকদের স্তম্ভিত করে দেয় এবং তাদের মিথ্যাচারকে ধূলিসাৎ করে দেয়। ধর্মপরায়ণতার যে অনুপ্রেরণার কথা এখানে উল্লেখ করা হয়েছে, তা কেবল মিথ্যাচার ও একটি অমূলক ধারণা মাত্র; কারণ ধর্মপরায়ণতার অনুপ্রেরণা নিয়ে আলোচনা করতে হলে মানবাত্মার গহীনে ডুব দেওয়া এবং একটি গভীর ঐতিহাসিক অধ্যয়নের প্রয়োজন, যা আদি মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করবে এবং অত্যন্ত ধীরস্থিরভাবে তার সাথে অগ্রসর হয়ে তার আবেগ, অনুভূতি এবং পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি ও অবস্থা অনুযায়ী সেগুলোর পরিবর্তনকে উন্মোচিত করবে। কেননা মানুষের জীবনে ধর্মের এমন কিছু সময় থাকে যখন তা প্রকাশ পায় এবং উজ্জ্বলভাবে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, আর তা হলো সংকট ও ভয়ের সময় যখন মানুষ তাতে নিপতিত হয়। আবার এমন সময়ও থাকে যখন তা সুপ্ত থাকে এবং প্রকাশ পায় না, আর তা হলো সচ্ছলতা ও প্রাচুর্যের সময়, কারণ তখন মানুষ খুব সহজেই উদাসীনতা এবং ধর্ম থেকে দূরত্বের শিকারে পরিণত হয়। এছাড়াও গবেষককে তার গবেষণার সময় পরিবেশগত, ধর্মীয় এবং সাংস্কৃতিক প্রভাব থেকে মুক্ত থাকতে হবে, যাতে তার পরিলক্ষিত বিষয়গুলোর ওপর সিদ্ধান্ত বাহ্যিক প্রভাব থেকে মুক্ত ও সঠিক হয়; কিন্তু একজন গবেষকের পক্ষে তা থেকে মুক্ত হওয়া কীভাবে সম্ভব?

এই বিষয়গুলো ধর্মপরায়ণতার প্রকৃত অনুপ্রেরণা পর্যন্ত পৌঁছানোকে এতটাই কঠিন ও দুঃসাধ্য করে তোলে যে মানুষের পক্ষে তা সম্ভব হয় না। আর আমরা মুসলমানরা বিশ্বাস করি যে, ধর্মপরায়ণতার অনুপ্রেরণা হলো ফিতরাত (স্বভাবজাত প্রবৃত্তি)। এ ক্ষেত্রে আমরা ঐশী ওহী এবং রব্বানী নূরের ওপর নির্ভর করি। কেননা কুরআন ও সুন্নাহ স্পষ্ট বর্ণনা করেছে যে, মানুষ স্রষ্টাকে স্বীকার করা, তাঁর দাসত্ব করা এবং শিরক থেকে মুক্ত থাকার স্বভাবের ওপর সৃজিত হয়েছে। মহান আল্লাহর এই বাণী এর প্রমাণ দান করে: "অতএব আপনি একনিষ্ঠ হয়ে আপনার চেহারাকে দীনের ওপর প্রতিষ্ঠিত রাখুন। এটিই আল্লাহর ফিতরাত (স্বভাব), যার ওপর তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহর সৃষ্টির কোনো পরিবর্তন নেই। এটিই সুপ্রতিষ্ঠিত দীন; কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা জানে না।" [রূম: ৩০]
(খণ্ড: ١) মাওসুআতুল মিলাল ওয়াদ আদিয়ান (পৃষ্ঠা: ١٥)
وقوله سبحانه: وَإِذْ أَخَذَ رَبُّكَ مِن بَنِي آدَمَ مِن ظُهُورِهِمْ ذُرِّيَّتَهُمْ وَأَشْهَدَهُمْ عَلَى أَنفُسِهِمْ أَلَسْتُ بِرَبِّكُمْ قَالُواْ بَلَى شَهِدْنَا أَن تَقُولُواْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِنَّا كُنَّا عَنْ هَذَا غَافِلِينَ أَوْ تَقُولُواْ إِنَّمَا أَشْرَكَ آبَاؤُنَا مِن قَبْلُ وَكُنَّا ذُرِّيَّةً مِّن بَعْدِهِمْ أَفَتُهْلِكُنَا بِمَا فَعَلَ الْمُبْطِلُونَ [الأعراف: 172 - 173]. فهذه الآية تشهد للآية قبلها، وتبين أن الله جعل ذلك في فطر بني آدم، وأنه أخرجهم من أصلاب آبائهم وأخذ عليهم بذلك العهد والميثاق، فقد روى البخاري ومسلم في (صحيحيهما) من حديث أنس رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((يقول الله تعالى لأهون أهل النار عذابا: لو كانت لك الدنيا وما فيها أكنت مفتدياً بها؟ فيقول: نعم. فيقول: قد أردت منك أهون من هذا وأنت في صلب آدم: أن لا تشرك ولا أدخلك النار، فأبيت إلا الشرك)) (1).وأخرج الإمام أحمد عن ابن عباس رضي الله عنهما مرفوعا قال: ((إن الله أخذ الميثاق من ظهر آدم عليه السلام بنعمان - يعني عرفة- فأخرج من صلبه كل ذرية ذرأها فنثرهم بين يديه كالذرِّ، ثم كلمهم قبلا قال: أَلَسْتَ بِرَبِّكُمْ قَالُواْ بَلَى شَهِدْنَا أَن تَقُولُواْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِنَّا كُنَّا عَنْ هَذَا غَافِلِينَ [الأعراف: 172])) (2).ومن الأدلة الدالة على أن الإنسان مفطور على الدين الحق حديث أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال النبي صلى الله عليه وسلم: ((كل مولود يولد على الفطرة فأبواه يهودانه، أو ينصرانه، أو يمجسانه كمثل البهيمة تنتج البهيمة هل ترى فيها جدعاء)) (3).وحديث عياض بن حمار المجاشعي رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال ذات يوم في خطبته: ((ألا إن ربي أمرني أن أعلمكم ما جهلتم مما علمني يومي هذا: كل مال نحلته عبداً حلالٌ، وإني خلقت عبادي حنفاء كلهم، وإنهم أتتهم الشياطين فاجتالتهم عن دينهم، وحرمت عليهم ما أحللت لهم، وأمرتهم أن يشركوا بي ما لم أنزل به سلطاناً … )) الحديث (4).

فهذه الأدلة صريحة في بيان أن الإنسان مفطور على الإقرار بالخالق، والعبودية له، وهذا هو التدين وذلك باعثه - ومن أصدق من الله حديثا- كما دلت هذه الأدلة أيضاً على أمرين:

أحدهما: أن هذه الفطرة والإقرار بالخالق إلهاً وربًّا، قابلة للتأثر والتغير والانحراف بفعل مؤثرات خارجية، ولذلك نعتقد بأن السبب في وجود الوثنيات السابقة في الأمم البائدة، واللاحقة في الأمم القديمة والحاضرة، هو هذه المؤثرات التي وردت في هذه النصوص.

ثانيهما: أن المؤثرات التي تؤدي إلى انحراف الفطرة عن وجهتها الصحيحة على ضوء هذه الأدلة ثلاثة وهي:

1 - الشياطين: وهي المؤثر الخارجي الأصلي والأول في هذا الأمر، كما دل على ذلك حديث عياض بن حمار المجاشعي رضي الله عنه المتقدم.

--------------------------------------------

(1) رواه البخاري (3334) ، ومسلم (2805).

(2) رواه أحمد (1/ 272) (2455) ، والنسائي في ((الكبرى)) (6/ 347) (11191) ، والحاكم (2/ 593) وقال: هذا حديث صحيح الإسناد ولم يخرجاه، ووافقه الذهبي، وقال الهيثمي في ((مجمع الزوائد)) (7/ 189): رجاله رجال الصحيح، وقال ابن كثير في ((البداية والنهاية)) (1/ 83): إسناده جيد قوي على شرط مسلم، وقال الشوكاني في ((فتح القدير)) (2/ 370): إسناده لا مطعن فيه، وصححه الألباني في ((صحيح الجامع)) (1701).

(3) رواه البخاري (1385) ، ومسلم (2658).

(4) رواه مسلم (2865).
এবং মহান আল্লাহর বাণী: "আর যখন আপনার রব বনী আদমের পিঠ থেকে তাদের সন্তানদের বের করে আনলেন এবং তাদেরকে তাদের নিজেদের ওপর সাক্ষী করলেন (এই বলে যে), ‘আমি কি তোমাদের রব নই?’ তারা বলল, ‘হ্যাঁ, আমরা সাক্ষ্য দিলাম।’ এটি এজন্য যে, যেন তোমরা কিয়ামতের দিন বলতে না পার যে, ‘আমরা এ বিষয়ে গাফেল ছিলাম।’ অথবা তোমরা বলতে পার যে, ‘আমাদের পূর্বপুরুষরাই তো আগে শিরক করেছিল আর আমরা তো তাদের পরবর্তী সন্তান মাত্র; তবে কি আপনি বাতিলপন্থীদের কর্মের কারণে আমাদের ধ্বংস করবেন?’" [আল-আরাফ: ১৭২ - ১৭৩]। সুতরাং এই আয়াতটি তার পূর্ববর্তী আয়াতের সাক্ষ্য দেয় এবং বর্ণনা করে যে, আল্লাহ তাআলা বনী আদমের ফিতরাতের (সহজাত স্বভাবের) মধ্যে এটি নিহিত রেখেছেন। তিনি তাদেরকে তাদের পিতাদের মেরুদণ্ড থেকে বের করে এনেছেন এবং তাদের কাছ থেকে এ বিষয়ে অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করেছেন। ইমাম বুখারী ও মুসলিম তাঁদের (সহীহ গ্রন্থে) আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন: "আল্লাহ তাআলা জাহান্নামীদের মধ্যে সবচেয়ে হালকা আযাবপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে বলবেন: যদি তোমার কাছে পৃথিবী এবং এর মধ্যকার যা কিছু আছে সব থাকত, তবে কি তুমি এর বিনিময়ে মুক্তি পেতে চাইতে? সে বলবে: হ্যাঁ। তখন আল্লাহ বলবেন: যখন তুমি আদমের মেরুদণ্ডে ছিলে, তখন আমি তোমার কাছে এর চেয়েও সহজ একটি বিষয় চেয়েছিলাম: তা হলো তুমি আমার সাথে কোনো শিরক করবে না এবং আমিও তোমাকে জাহান্নামে প্রবেশ করাব না। কিন্তু তুমি শিরক করা ছাড়া আর সব কিছুতেই অস্বীকৃতি জানিয়েছ।" (১)। এবং ইমাম আহমাদ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা নুমান নামক স্থানে - অর্থাৎ আরাফাতে - আদম আলাইহিস সালামের পিঠ থেকে অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলেন। তিনি তাঁর মেরুদণ্ড থেকে তাঁর সকল বংশধরকে বের করলেন যা তিনি সৃষ্টি করেছেন এবং তাদেরকে আল্লাহর দুই হাতের সামনে ক্ষুদ্র পিঁপড়ার মতো ছড়িয়ে দিলেন। অতঃপর তিনি সরাসরি তাদের সাথে কথা বললেন এবং বললেন: আমি কি তোমাদের রব নই? তারা বলল: হ্যাঁ, আমরা সাক্ষ্য দিলাম। এটি এজন্য যে, যেন তোমরা কিয়ামতের দিন বলতে না পার যে, আমরা এ বিষয়ে গাফেল ছিলাম [আল-আরাফ: ১৭২]।" (২)। মানুষ যে সত্য দ্বীনের ওপর সৃষ্টি হয়েছে তার অন্যতম দলিল হলো আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুর বর্ণিত হাদীস, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "প্রত্যেক নবজাতক ফিতরাতের ওপর জন্মগ্রহণ করে। অতঃপর তার পিতামাতা তাকে ইয়াহুদী, খ্রিষ্টান অথবা অগ্নিপূজক হিসেবে গড়ে তোলে। যেমন চতুষ্পদ জন্তু একটি পূর্ণাঙ্গ বাচ্চা জন্ম দেয়, তোমরা কি তার মধ্যে কোনো কান-কাটা (নিখুঁতহীন) দেখতে পাও?" (৩)। এবং ইয়াদ বিন হিমার আল-মুজাশিঈ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একদিন তাঁর খুতবায় বলেন: "জেনে রেখো, আমার রব আমাকে আদেশ করেছেন যেন আমি তোমাদেরকে সে বিষয়ে শিক্ষা দেই যা তোমরা জানো না এবং যা তিনি আমাকে আজকের দিনে শিখিয়েছেন: আমি আমার বান্দাকে যা কিছু দান করেছি তা হালাল। আর আমি আমার সকল বান্দাকে একনিষ্ঠ একত্ববাদী হিসেবে সৃষ্টি করেছি। কিন্তু শয়তানরা তাদের কাছে এসে তাদেরকে তাদের দ্বীন থেকে বিচ্যুত করে ফেলে এবং আমি যা তাদের জন্য হালাল করেছিলাম তা তাদের ওপর হারাম করে দেয়। আর তারা তাদেরকে নির্দেশ দেয় যেন তারা আমার সাথে এমন কিছুকে শরিক করে যার কোনো প্রমাণ আমি অবতীর্ণ করিনি ... " হাদীসটি শেষ পর্যন্ত (৪)।

এই দলিলগুলো সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করে যে, মানুষ স্রষ্টাকে স্বীকার করা এবং তাঁর দাসত্ব করার ফিতরাতের ওপর সৃজিত হয়েছে। আর এটাই হলো ধার্মিকতা এবং এটাই তার অনুপ্রেরণা - আর আল্লাহর চেয়ে সত্যবাদী আর কে আছে? যেমন এই দলিলগুলো আরও দুটি বিষয়ের প্রতি নির্দেশ করে:

প্রথমত: এই ফিতরাত এবং স্রষ্টাকে ইলাহ ও রব হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টি বাহ্যিক প্রভাবকের মাধ্যমে প্রভাবিত, পরিবর্তিত ও বিচ্যুত হওয়ার সম্ভাবনা রাখে। এ কারণেই আমরা বিশ্বাস করি যে, বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া পূর্ববর্তী জাতিগুলোর মধ্যে এবং প্রাচীন ও বর্তমান জাতিগুলোর মধ্যে মূর্তিপূজার অস্তিত্বের কারণ হলো এই প্রভাবকসমূহ যা এই নসগুলোতে (পাঠগুলোতে) বর্ণিত হয়েছে।

দ্বিতীয়ত: এই দলিলসমূহের আলোকে ফিতরাতকে সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত করার পেছনে দায়ী প্রভাবকগুলো তিনটি, আর সেগুলো হলো:

১ - শয়তানরা: এটি হলো এই বিষয়ের আদি ও প্রধান বাহ্যিক প্রভাবক, যেমনটি পূর্বে বর্ণিত ইয়াদ বিন হিমার আল-মুজাশিঈ রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদীস দ্বারা প্রমাণিত।

--------------------------------------------

(১) বুখারী (৩৩৩৪) এবং মুসলিম (২৮০৫) বর্ণনা করেছেন।

(২) আহমাদ (১/ ২৭২) (২৪৫৫), এবং নাসাঈ 'আল-কুবরা' গ্রন্থে (৬/ ৩৪৭) (১১১৯১), হাকেম (২/ ৫৯৩) বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন: এই হাদীসের সনদ সহীহ কিন্তু তাঁরা এটি বর্ণনা করেননি, এবং যাহাবী তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন। হাইসামী 'মাজমাউয যাওয়াইদ' গ্রন্থে (৭/ ১৮৯) বলেছেন: এর বর্ণনাকারীগণ সহীহ গ্রন্থের বর্ণনাকারী। ইবনে কাসীর 'আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া' গ্রন্থে (১/ ৮৩) বলেছেন: এর সনদ মুসলিমের শর্তানুযায়ী উত্তম ও শক্তিশালী। শাওকানী 'ফাতহুল কদীর' গ্রন্থে (২/ ৩৭০) বলেছেন: এর সনদে কোনো ত্রুটি নেই এবং আলবানী 'সহীহুল জামে' গ্রন্থে (১৭০১) একে সহীহ বলেছেন।

(৩) বুখারী (১৩৮৫) এবং মুসলিম (২৬৫৮) বর্ণনা করেছেন।

(৪) মুসলিম (২৮৬৫) বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ١) মাওসুআতুল মিলাল ওয়াদ আদিয়ান (পৃষ্ঠা: ١٦)
2 - الأبوان، ويقوم المجتمع بدور الأبوين في حال فقدهما، وهذا المؤثر هو أقوى المؤثرات، وأخطرها؛ لشدة التصاق الأولاد بآبائهم وقوة تأثيرهم عليهم، وقد دل على ذلك حديث أبي هريرة رضي الله عنه المتقدم، وقد قدمت الشياطين على الآباء؛ لأن الشياطين هي المؤثر الخارجي الأول في انحراف الآباء أنفسهم.

3 - الغفلة: وهي المؤثر الثالث في انحراف هذه الفطرة، كما دلت على ذلك آية سورة الأعراف.

ولسائل أن يسأل: ما هي فائدة الفطرة وهي على هذه الحال من الضعف، حيث تتأثر بهذه المؤثرات الخارجية التي تؤدي إلى انحرافها، ولا يكاد الإنسان ينفك عن واحد من هذه المؤثرات والصوارف، أو كلها؟

والجواب عن ذلك أن يقال: إن حكمة الله اقتضت جعل الفطرة بهذه الحال؛ ليتحقق الغرض من ابتلاء الإنسان بالخير والشر، ومن ثم جزاؤه على عمله؛ إذ لو كانت الفطرة قوية لا تتأثر بشيء لما وقع الكفر والانحراف في بني آدم، بل صاروا غير قابلين للكفر، فلا يتحقق الابتلاء، ولله الحكمة البالغة.

ومع ذلك فإن لهذه الفطرة فوائد عديدة منها:

أولاً: أن هذه الفطرة غرزت في النفس البشرية التدين والتعبد لله تعالى، فإذا لم يهتد الإنسان إلى الله عز وجل فإنه يُعبِّد نفسه لأي معبود آخر؛ ليشبع في ذلك نهمته إلى التدين، وذلك كمن استبد به الجوع فإنه إذا لم يجد الطعام الطيب الذي يناسبه فإنه يتناول كل ما يمكن أكله ولو كان خبيثاً ليسد به جوعته.

وهذا ما يفسر لنا وجود التدين عند عموم البشر، وقد يكون الدين والمعبود في كثير من الأحيان باطلاً.

ثانياً: أن هذه الفطرة جعلت في جبلة الإنسان قبول العبودية والانسجام مع لوازمها، وهذا من الأمور المهمة للإنسان، لأن كل ما لا يتفق مع الفطرة فإن النفس تنفر منه ولا تستجيب لمتطلباته.

ثالثاً: أن هذه الفطرة مرجحة للحق، فإذا تعرف الإنسان على دينين حق وباطل، فإن الفطرة تميز بينهما وتميل إلى الحق، بل يقع ذلك في قرارة النفس ويتيقن القلب منه، فإما أن يعلن ذلك ويلتزم به، أو لا يستجيب له بسبب هوى، أو خوف، أو إلف وتقليد ونحو ذلك من الصوارف عن الحق. كما قال عز وجل عن فرعون وقومه وَجَحَدُوا بِهَا وَاسْتَيْقَنَتْهَا أَنفُسُهُمْ ظُلْمًا وَعُلُوًّا فَانظُرْ كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الْمُفْسِدِينَ [النمل: 14].

رابعاً: أن هذه الفطرة تهب للمهتدي يقينا بالحق الذي هو عليه، وإن لم يكن عنده من الأدلة النظرية ما يهبه هذا اليقين، وهذا يفسر لنا - والله أعلم- عدم ترك المسلم لدينه رغبة عنه، وما ذلك إلا لتناسبه مع فطرته، فيعطيه ذلك يقينا بأنه الحق، وكذلك من اهتدى إلى الإسلام من ذوي الأديان الأخرى الباطلة، فإنه يتمسك به تمسك الغريق بحبل النجاة، وما ذلك إلا لتيقنه من أن هذا الدين هو الحق؛ لتناسبه وانسجامه مع الفطرة. والله أعلم.

 

‌‌المصدر:دراسات في الأديان اليهودية والنصرانية لسعود بن عبد العزيز الخلف – ص 26
২ - পিতা-মাতা; আর পিতা-মাতার অনুপস্থিতিতে সমাজ তাদের ভূমিকা পালন করে। এটি সবচেয়ে শক্তিশালী এবং বিপজ্জনক প্রভাবক; কারণ সন্তানদের তাদের পিতা-মাতার সাথে গভীর সম্পৃক্ততা এবং তাদের ওপর পিতা-মাতার প্রবল প্রভাব রয়েছে। আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত পূর্ববর্তী হাদিসটি এরই প্রমাণ দেয়। এখানে শয়তানদেরকে পিতা-মাতার আগে উল্লেখ করা হয়েছে; কারণ শয়তানরাই হলো পিতা-মাতাদের নিজেদের বিচ্যুতি ঘটানোর প্রাথমিক বাহ্যিক প্রভাবক।

৩ - গাফলত বা উদাসীনতা: এটি এই ফিতরাত বা স্বভাবজাত প্রকৃতির বিচ্যুতি ঘটানোর তৃতীয় প্রভাবক, যেমনটি সূরা আল-আরাফের আয়াত দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে।

কোনো প্রশ্নকারী প্রশ্ন করতে পারেন যে: ফিতরাতের উপযোগিতা কী যখন তা দুর্বলতার এই অবস্থায় থাকে, যেখানে এটি এমন সব বাহ্যিক প্রভাব দ্বারা প্রভাবিত হয় যা একে বিচ্যুতির দিকে নিয়ে যায় এবং মানুষ এই সকল প্রভাবক ও বিচ্যুতিমূলক বিষয়গুলোর কোনো একটি বা সবকটি থেকে প্রায় মুক্ত হতে পারে না?

এর উত্তর হলো: আল্লাহর প্রজ্ঞা দাবি করে যে ফিতরাতকে এই অবস্থায় রাখা হোক; যাতে কল্যাণ ও অকল্যাণের মাধ্যমে মানুষকে পরীক্ষার উদ্দেশ্য বাস্তবায়িত হয় এবং পরবর্তীতে তার আমল অনুযায়ী প্রতিদান নিশ্চিত হয়। কারণ ফিতরাত যদি এতই শক্তিশালী হতো যে তা কোনো কিছু দ্বারা প্রভাবিত হয় না, তবে আদম সন্তানদের মধ্যে কুফর ও বিচ্যুতি ঘটত না, বরং তারা কুফরি করতে অক্ষম হয়ে পড়ত। ফলে পরীক্ষা আর বাস্তবায়িত হতো না। আর আল্লাহর জন্যই সকল চূড়ান্ত প্রজ্ঞা।

তা সত্ত্বেও এই ফিতরাতের অনেক উপকারিতা রয়েছে, তার মধ্যে কয়েকটি হলো:

প্রথমত: এই ফিতরাত মানুষের অন্তরে ধর্মীয় চেতনা এবং মহান আল্লাহর ইবাদতের আকাঙ্ক্ষা গেঁথে দিয়েছে। তাই মানুষ যদি মহান আল্লাহর দিকে হিদায়াত না পায়, তবে সে তার ধর্মীয় তৃষ্ণা মেটানোর জন্য অন্য কোনো মাবুদের ইবাদতে নিজেকে লিপ্ত করে। এটি অনেকটা সেই ব্যক্তির মতো যাকে তীব্র ক্ষুধা পেয়ে বসেছে; সে যদি তার উপযোগী উত্তম খাবার না পায়, তবে সে তার ক্ষুধা নিবারণের জন্য যা কিছু খাওয়া সম্ভব তা-ই গ্রহণ করে, এমনকি তা মন্দ বা অপবিত্র হলেও।

আর এটিই আমাদের কাছে সাধারণ মানুষের মধ্যে ধর্মের অস্তিত্বকে ব্যাখ্যা করে, যদিও অনেক ক্ষেত্রে সেই ধর্ম এবং উপাস্য বাতিল বা মিথ্যা হয়ে থাকে।

দ্বিতীয়ত: এই ফিতরাত মানুষের স্বভাবের মধ্যে দাসত্ব গ্রহণ করা এবং এর প্রয়োজনীয় বিষয়গুলোর সাথে সামঞ্জস্য বজায় রাখার বৈশিষ্ট্য দান করেছে। এটি মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, কারণ যা কিছু ফিতরাতের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, আত্মা তা থেকে বিমুখ হয় এবং তার আহ্বানে সাড়া দেয় না।

তৃতীয়ত: এই ফিতরাত সত্যের স্বপক্ষে অগ্রাধিকার দানকারী। সুতরাং মানুষ যদি সত্য ও মিথ্যা—এই দুটি ধর্মের পরিচয় পায়, তবে ফিতরাত তাদের মধ্যে পার্থক্য করে এবং সত্যের দিকে ঝুঁকে পড়ে। বরং এটি অন্তরের গভীরে প্রোথিত হয় এবং হৃদয় সে বিষয়ে নিশ্চিত হয়। এরপর হয় সে তা ঘোষণা করে এবং তার ওপর অটল থাকে, অথবা প্রবৃত্তি, ভয়, অন্ধ অনুসরণ বা সত্য থেকে বিচ্যুতকারী অনুরূপ কোনো কারণে তাতে সাড়া দেয় না। যেমনটি মহান আল্লাহ ফেরাউন ও তার সম্প্রদায় সম্পর্কে বলেছেন: "তারা অন্যায় ও অহংকারবশত নিদর্শনগুলোকে অস্বীকার করল, যদিও তাদের অন্তর সেগুলো সত্য বলে নিশ্চিত হয়েছিল। সুতরাং লক্ষ্য করো, বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের পরিণাম কেমন হয়েছিল।" [আন-নামল: ১৪]।

চতুর্থত: এই ফিতরাত হিদায়াতপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে তার সত্যের ওপর দৃঢ় বিশ্বাস দান করে, যদিও তার কাছে এমন কোনো তাত্ত্বিক দলিল না থাকে যা তাকে এই দৃঢ়তা দেয়। এটিই আমাদের কাছে ব্যাখ্যা করে—আল্লাহই ভালো জানেন—কেন একজন মুসলিম তার ধর্মের প্রতি অনীহা পোষণ করে তা ত্যাগ করে না। এটি কেবল তার ফিতরাতের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ার কারণেই হয়, যা তাকে এটি যে সত্য সে বিষয়ে দৃঢ় বিশ্বাস দান করে। তেমনিভাবে অন্যান্য বাতিল ধর্ম থেকে যারা ইসলামের দিকে হিদায়াত পায়, তারা একে এমনভাবে আঁকড়ে ধরে যেমন কোনো ডুবন্ত ব্যক্তি বাঁচার রশি আঁকড়ে ধরে। আর এটি কেবল এই ধর্মের সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার কারণেই ঘটে; কারণ এটি ফিতরাতের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ও সঙ্গতিপূর্ণ। আল্লাহই ভালো জানেন।

 

‌‌উৎস:সাউদ বিন আব্দুল আজিজ আল-খালাফ রচিত 'দিরাসাত ফিল আদিয়ান আল-ইয়াহুদিয়্যাহ ওয়ান নাসরানিয়্যাহ' – পৃষ্ঠা ২৬
(খণ্ড: ١) মাওসুআতুল মিলাল ওয়াদ আদিয়ান (পৃষ্ঠা: ١٧)
‌‌المبحث الثالث: بيان أن التوحيد سبق الشرك:

لم توجد أمة من الأمم إلا وكان لها دين تدين به، وعبادة تلتزم بها، كما تقدم بأن الأديان نوعان: دين التوحيد وهو سماوي، وأديان وضعية شركية، وقد زعم الملحدون: أن الشرك كان أسبق في الوجود على الأرض من التوحيد، وهو قول مبني على إنكارهم للخالق جل وعلا، وزعمهم أن الإنسان إنما وجد من الطبيعة حيث كان أميبا، ثم تطور بفعل الرطوبة حتى وصل بعد أزمان عديدة إلى صورة القرد، ثم تطور فصار القرد إنساناً، فزعموا أن هذا الإنسان- وكان في ذلك الوقت في طور الطفولة البشرية- أخذ يبحث عن إله يعبده، فتوجه إلى عبادة الآباء والأجداد، والأشجار، والحيوانات الضخمة، والشمس، والقمر، إلى غير ذلك من الأشياء التي يستعظمها في نفسه، ثم بدأ هذا الإنسان يتطور في عقله وأحاسيسه، فبدأ يتخلى عن كثير من الآلهة التي كان يعبدها حتى توصل في عهد الفراعنة إلى التوحيد، ولا يعني ذلك عندهم عبادة الله وحده لا شريك له، وإنما عبادة إله واحد وهو) رع (في زعمهم الذي يرمز له بقرص الشمس، ظاهر من هذا القول أن أصحابه يزعمون أن الأديان من صنع البشر وليست من قبل الله عز وجل،

والعجيب أن يوافقهم على هذا القول بعض المنتسبين للإسلام كالعقاد في كتابه (الله جل جلاله وعبد الكريم الخطيب في كتابه (قضية الألوهية بين الفلسفة والدين) وقد زعم أصحاب هذا القول أن لهم عليه دليلين:

أولا: القياس على الصناعة، فكما أن الإنسان قد تطور في صناعته، فهو كذلك تطور في ديانته.

ثانياً: أن حفريات الآثار دلتهم على أن الناس وقعوا في الشرك وتعدد الآلهة، وأن الإنسان عرف التوحيد متأخراً.

وهذا في الواقع قياس فاسد، واستدلال باطل، فقولهم: إن الدين كالصناعة. قياس مع الفارق؛ لعدة أمور:

أولاً: أن الصناعات شيء مادي، والأديان شيء معنوي، فكيف يقاس شيء معنوي غير محسوس على شيء مادي محسوس، فهو كمن يقيس الهواء على الماء.

ثانيا: أن الصناعة تقوم على التجربة والملاحظة، وتظهر النتائج بعد استكمال مقوماتها، بخلاف الدين الذي لا يقوم على ذلك ........ ،

ثالثا: يلزم من هذا القياس أن يكون الإنسان في هذا الزمن صادق التدين خالص التوحيد؛ لأن الصناعة قد بلغت مبلغاً عاليا من التطور، والواقع خلاف ذلك فإن الإنسان أحط ما يكون من الناحية الدينية؛ إذ إن الإلحاد متفشٍّ في أكثر بقاع العالم، كما يلزم منه أن لا يوجد شرك في هذا الزمن، والواقع خلاف ذلك، حيث الشرك متفشٍّ في الشرق والغرب.

أما زعمهم الاستدلال على قولهم بالآثار ومخلفات الأمم السابقة، فيقال: إن هذه الآثار ناقصة، فلا دلالة فيها على ما ذكروا سوى التخمين ومحاولة الربط بين أمور متباعدة، وغاية ما تدل عليه الحفريات والآثار أن الأمم السابقة وقعت في الشرك، وهذا لا ننكره بل القرآن والسنة نصَّا على ذلك وبيناه، أما عبادة الإنسان الأول وعقيدته فلا يمكن معرفتها من خلال الآثار حتى يعثروا على الإنسان الأول ويجدوا آثاراً تدل على عقيدته وعبادته. ثم إن من المؤكد أن الأمم تتقلب في عباداتها، فتنتقل من التوحيد إلى الشرك، ومن الشرك إلى التوحيد، فمثلاً أهل مكة كانوا على التوحيد دين إسماعيل بن إبراهيم الخليل عليهما السلام، ثم وقعوا في الشرك، ثم عادوا إلى التوحيد بدعوة سيدنا محمد صلى الله عليه وسلم، فمعرفة عبادة أمة من الأمم لا يعني أنها لم تعرف سوى تلك العبادة، بل ذلك يعني أنها كانت على تلك العبادة في تلك الفترة فقط. وبهذا يظهر جليا واضحاً فساد هذا القول، وأن ما استدلوا به ليس إلا تخرصات وتوهمات، لا تقوم في وجه الحق الواضح البين وهو:
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তাওহীদ যে শিরকের পূর্বে ছিল তার বর্ণনা:

এমন কোনো জাতি নেই যাদের কোনো ধর্ম ছিল না যা তারা পালন করত এবং কোনো ইবাদত ছিল না যা তারা মেনে চলত। যেমনটি আগে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ধর্ম দুই প্রকার: তাওহীদী ধর্ম যা আসমানী বা ঐশী, এবং মানবরচিত শিরকী ধর্ম। নাস্তিকরা দাবি করেছে যে, পৃথিবীতে তাওহীদের আগে শিরকের অস্তিত্ব ছিল। এই মতটি মহান স্রষ্টাকে অস্বীকার করার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। তাদের দাবি হলো, মানুষ প্রকৃতি থেকে উদ্ভূত হয়েছে, যেখানে সে প্রথমে একটি অ্যামিবা ছিল, তারপর আর্দ্রতার প্রভাবে বিবর্তিত হয়ে দীর্ঘকাল পরে বানরের রূপ লাভ করে, এরপর বানর বিবর্তিত হয়ে মানুষে পরিণত হয়। তারা দাবি করে যে, এই মানুষ—যিনি সে সময় মানবজাতির শৈশবকালে ছিলেন—এমন এক উপাস্যের সন্ধান শুরু করেন যাকে তিনি পূজা করবেন। ফলে তিনি পূর্বপুরুষ, বৃক্ষ, বিশালাকার প্রাণী, সূর্য, চন্দ্র এবং অন্যান্য জিনিসের উপাসনার দিকে মনোনিবেশ করেন যা তিনি মনে মনে মহিমান্বিত মনে করতেন। এরপর এই মানুষের বিবেক ও অনুভূতি বিবর্তিত হতে শুরু করে এবং তিনি তার উপাসনা করা অনেক উপাস্যকে ত্যাগ করতে থাকেন, এমনকি ফেরাউনদের যুগে তিনি তাওহীদে পৌঁছান। তাদের কাছে এর অর্থ এই নয় যে, অংশীদারহীন এক আল্লাহর ইবাদত করা, বরং তাদের মতে এক উপাস্যের ইবাদত করা, আর তিনি হলেন 'রা' (Ra), যার প্রতীক হিসেবে তারা সূর্যকে ব্যবহার করত। এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট হয় যে, এর প্রবক্তারা দাবি করে যে ধর্ম মানুষের তৈরি, যা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে নয়।

আশ্চর্যের বিষয় হলো, ইসলামের দিকে সম্বন্ধযুক্ত কিছু ব্যক্তি এই বক্তব্যের সাথে একমত হয়েছেন, যেমন আব্বাস মাহমুদ আল-আক্কাদ তার 'আল্লাহ জাল্লা জালালুহু' বইয়ে এবং আব্দুল কারীম আল-খতীব তার 'কাদিয়াতুল উলুহিয়্যাহ বাইনাল ফালসাফাহ ওয়াদ দীন' বইয়ে। এই মতের প্রবক্তারা দাবি করেন যে, তাদের কাছে এর পক্ষে দুটি দলিল রয়েছে:

প্রথমত: শিল্পের ওপর কিয়াস বা তুলনা করা। মানুষ যেমন তার শিল্পকলায় বিবর্তিত হয়েছে, তেমনি সে তার ধর্মেও বিবর্তিত হয়েছে।

দ্বিতীয়ত: প্রত্নতাত্ত্বিক খনন তাদের দেখিয়েছে যে মানুষ শিরক ও বহু-ঈশ্বরবাদে লিপ্ত ছিল এবং মানুষ তাওহীদ সম্পর্কে অনেক পরে জেনেছে।

এটি আসলে একটি ভ্রান্ত তুলনা এবং বাতিল দলিল। তাদের কথা হলো: ধর্ম শিল্পের মতো। এটি একটি ত্রুটিপূর্ণ তুলনা; এর বেশ কিছু কারণ রয়েছে:

প্রথমত: শিল্পকলা একটি বস্তুগত বিষয়, আর ধর্ম একটি আধ্যাত্মিক বা অবস্তুগত বিষয়। সুতরাং একটি ইন্দ্রিয়াতীত অবস্তুগত বিষয়কে কীভাবে একটি ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বস্তুগত বিষয়ের সাথে তুলনা করা যেতে পারে? এটি এমন এক তুলনা যেমন কেউ বায়ুকে পানির সাথে তুলনা করল।

দ্বিতীয়ত: শিল্পকলা অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত এবং এর উপাদানগুলো পূর্ণ হওয়ার পর ফলাফল প্রকাশ পায়, ধর্মের বিষয়টি এর বিপরীত যা এর ওপর ভিত্তি করে চলে না... ,

তৃতীয়ত: এই তুলনার দাবি অনুযায়ী বর্তমান সময়ের মানুষের ধর্মপরায়ণতায় সবচেয়ে সত্যনিষ্ঠ এবং তাওহীদে একনিষ্ঠ হওয়া উচিত ছিল; কারণ শিল্পকলা বিবর্তনের এক উচ্চ শিখরে পৌঁছেছে। কিন্তু বাস্তবতা এর বিপরীত, কারণ মানুষ ধর্মীয় দিক থেকে এখন সবচেয়ে নিম্ন স্তরে রয়েছে; কেননা বিশ্বের অধিকাংশ স্থানে নাস্তিক্যবাদ ছড়িয়ে পড়েছে। একইভাবে এর দ্বারা এটিও আবশ্যক হয় যে বর্তমান যুগে কোনো শিরক থাকবে না, কিন্তু বাস্তবতা এর বিপরীত, কারণ প্রাচ্য ও প্রতীচ্যে শিরক ছড়িয়ে আছে।

আর প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন এবং পূর্ববর্তী জাতিসমূহের ধ্বংসাবশেষের মাধ্যমে তাদের দাবির স্বপক্ষে দলিলে বলা হয়: এই প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো অপূর্ণ। তাই এতে অনুমান এবং দূরবর্তী বিষয়গুলোর মধ্যে সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা ছাড়া তাদের উল্লিখিত দাবির কোনো প্রমাণ নেই। খননকার্য এবং প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের সর্বোচ্চ প্রমাণ এই যে, পূর্ববর্তী জাতিসমূহ শিরকে লিপ্ত হয়েছিল। এটি আমরা অস্বীকার করি না, বরং কুরআন ও সুন্নাহ তা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছে। তবে আদি মানুষের ইবাদত ও তার আকিদা সম্পর্কে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের মাধ্যমে জানা অসম্ভব, যতক্ষণ না তারা প্রথম মানুষের সন্ধান পায় এবং তার আকিদা ও ইবাদতের প্রমাণবাহী নিদর্শন খুঁজে পায়। তদুপরি এটি নিশ্চিত যে, জাতিসমূহ তাদের ইবাদতের ক্ষেত্রে পরিবর্তিত হয়; তারা তাওহীদ থেকে শিরকে এবং শিরক থেকে তাওহীদে স্থানান্তরিত হয়। উদাহরণস্বরূপ, মক্কাবাসীগণ ইবরাহীম খলীল আলাইহিস সালামের পুত্র ইসমাঈল আলাইহিস সালামের ধর্ম তথা তাওহীদের ওপর ছিল, অতঃপর তারা শিরকে লিপ্ত হয়, এরপর আমাদের নেতা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দাওয়াতের মাধ্যমে তারা পুনরায় তাওহীদে ফিরে আসে। সুতরাং কোনো জাতির ইবাদত সম্পর্কে জানা মানে এই নয় যে তারা সেই ইবাদত ছাড়া আর কিছু জানত না, বরং এর অর্থ হলো তারা কেবল সেই নির্দিষ্ট সময়ে ওই ইবাদতের ওপর ছিল। এর মাধ্যমে এই মতবাদের অসারতা স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় এবং এটি প্রকাশ পায় যে তারা যা দিয়ে দলিল পেশ করেছে তা ধারণা ও কল্পনাপ্রসূত মাত্র, যা এই সুস্পষ্ট সত্যের সামনে টিকে থাকতে পারে না, আর তা হলো:
(খণ্ড: ١) মাওসুআতুল মিলাল ওয়াদ আদিয়ান (পৃষ্ঠা: ١٨)
أن الإنسان أول ما عرف التوحيد، ثم بدأ بالانحراف فتدرج في ذلك حتى وقع في الشرك، وذلك لأن الإنسان الأول هو آدم عليه السلام كان نبيًّا يعبد الله وحده لا شريك له، وعلم أبناءه التوحيد، إلى أن وقع بنو آدم في الشرك بعده بأزمان- وهذا يقر به ويقول به كل من يؤمن بأن الله هو الخالق، وكل من يؤمن بالإسلام أو باليهودية والنصرانية إلا من تابع قول الملحدين منهم. ومن الأدلة- زيادة على هذا- قوله تعالى: كَانَ النَّاسُ أُمَّةً وَاحِدَةً فَبَعَثَ اللهُ النَّبِيِّينَ مُبَشِّرِينَ وَمُنذِرِينَ [البقرة: 213] قال ابن عباس رضي الله عنه، فيما روى عنه ابن جرير بسنده: (كان بين آدم ونوح عشرة قرون، كلهم على شريعة من الحق فاختلفوا فبعث الله النبيين مبشرين ومنذرين). (1) ويؤيد هذا قراءة أبي بن كعب وعبد الله بن مسعود رضي الله عنهما كَانَ النَّاسُ أُمَّة وَاحِدَة (فَاخْتَلَفُوا) فَبَعَثَ اللهُ النَّبِيينَ … الآية. ويؤيده أيضا قوله عز وجل في سورة يونس: وَمَا كَانَ النَّاسُ إِلَاّ أُمَّةً وَاحِدَةً فَاخْتَلَفُواْ [يونس: 19].فهذا ينص على أن بني آدم عبدوا الله عز وجل فترة من الزمن وهي عشرة قرون، كما ذكر ابن عباس رضي الله عنه، ثم إنهم انحرفوا عن هذا النهج القويم فبعث الله إليهم الرسل ليردوهم إلى التوحيد. وفي رواية أخرى عن ابن عباس رضي الله عنه بيَّن لنا كيف بدأ وقوع بني آدم في الشرك، فقد أخرج البخاري بسنده عنه أنه قال في معنى قول الله تعالى: وَقَالُوا لَا تَذَرُنَّ آلِهَتَكُمْ وَلَا تَذَرُنَّ وَدًّا وَلَا سُوَاعًا وَلَا يَغُوثَ وَيَعُوقَ وَنَسْرًا [نوح: 23]، قال: (هذه أسماء رجال صالحين من قوم نوح، فلما هلكوا أوحى الشيطان إلى قومهم أن انصبوا إلى مجالسهم التي كانوا يجلسون إليها أنصاباً، وسموها بأسمائهم، ففعلوا فلم تعبد، حتى إذا هلك أولئك ونسي العلم عبدت) (2). فهذا كان مبدأ وقوع بني آدم في الشرك وانحرافهم عن توحيد الله عز وجل، ولا يعني استدلالنا هذا أن هذا الأمر لم يثبت إلا عن طريق الوحي - وإن كان كافياً في هذا - بل إن هذا القول أثبته علماء في الآثار وباحثون في الأديان من الغربيين وغيرهم.

يقول الباحث) آدمسون هيوبل (المتخصص في دراسة الملل البدائية:) د مضى ذلك العهد الذي كان يتهم الرجل القديم بأنه غير قادر على التفكير فيما يتعلق بالذات المقدسة أوفي الله العظيم، ولقد أخطأ) تيلور (حيث جعل التفكير الديني الموحد نتيجة للتقدم الحضاري والسمو المعرفي، وجعل ذلك نتيجة لتطور بدأ من عبادة الأرواح والأشباح ثم التعدد ثم أخيراً العثور على فكرة التوحيد (.

ويقول الباحث (اندري لانج) من علماء القرن الماضي: (إن الناس في أستراليا وأفريقيا والهند لم ينشأ اعتقادهم في الله العظيم على أساس من الاعتقاد المسيحي، وقد أكد هذا الرأي العالم الأسترالي (وليم سميث) حيث ذكر في كتابه (أسس فكرة التوحيد) مجموعة من البراهين والأدلة جمعها من عدة مناطق واتجاهات تؤكد أن أول تعبد مارسه الإنسان كان تجاه الله الواحد العظيم).

--------------------------------------------

(1) ((جامع البيان في تأويل القرآن)) (4/ 275)، ورواه الحاكم (2/ 480) وقال: هذا حديث صحيح على شرط البخاري ولم يخرجاه، ووافقه الذهبي.

(2) رواه البخاري (4920)
মানুষ সর্বপ্রথম তাওহীদ সম্পর্কে জেনেছিল, তারপর সে বিচ্যুত হতে শুরু করে এবং পর্যায়ক্রমে এই পথে অগ্রসর হতে হতে শিরকে নিপতিত হয়। এর কারণ হলো প্রথম মানুষ আদম আলাইহিস সালাম একজন নবী ছিলেন, যিনি এক আল্লাহর ইবাদত করতেন যার কোনো শরিক নেই এবং তিনি তাঁর সন্তানদের তাওহীদ শিক্ষা দিয়েছিলেন। পরিশেষে আদম সন্তানেরা তাঁর দীর্ঘকাল পরে শিরকে নিপতিত হয়। এটি সেই প্রত্যেক ব্যক্তিই স্বীকার করে এবং বলে থাকে যে আল্লাহকেই স্রষ্টা হিসেবে বিশ্বাস করে এবং ইসলাম, ইহুদি বা খ্রিস্টধর্মের অনুসারী—তারা ব্যতীত যারা তাদের মধ্যকার নাস্তিকদের অনুসরণ করেছে। এর অতিরিক্ত প্রমাণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: "মানুষ ছিল এক উম্মত, অতঃপর আল্লাহ সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে নবীদের প্রেরণ করেন।" [আল-বাকারা: ২১৩] ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, যা ইবনে জারীর তাঁর সনদে বর্ণনা করেছেন: "আদম ও নূহের মাঝে দশটি প্রজন্ম অতিবাহিত হয়েছিল, তারা সবাই সত্যের শরীয়তের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল। অতঃপর তারা মতভেদ করল, ফলে আল্লাহ সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে নবীদের প্রেরণ করলেন।" (১) উবাই ইবনে কাব এবং আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা-এর কিরাতও এটিকে সমর্থন করে: "মানুষ ছিল এক উম্মত (অতঃপর তারা মতভেদ করল), ফলে আল্লাহ নবীদের প্রেরণ করলেন..." আয়াতের শেষ পর্যন্ত। এছাড়া সূরা ইউনুসে মহান আল্লাহর বাণীও একে সমর্থন করে: "মানুষ ছিল এক উম্মত, অতঃপর তারা মতভেদ করল।" [ইউনুস: ১৯]। এটি স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে যে, বনী আদম একটি দীর্ঘ সময় পর্যন্ত মহান আল্লাহর ইবাদত করেছিল এবং তা ছিল দশটি প্রজন্ম, যেমনটি ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু উল্লেখ করেছেন। এরপর তারা এই সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়, ফলে আল্লাহ তাদের নিকট রাসূলদের প্রেরণ করেন যাতে তারা মানুষকে পুনরায় তাওহীদের দিকে ফিরিয়ে আনেন। ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত অন্য একটি বর্ণনায় আমাদের নিকট স্পষ্ট করা হয়েছে যে কীভাবে বনী আদমের মধ্যে শিরকের সূচনা হয়েছিল। ইমাম বুখারী তাঁর সনদে বর্ণনা করেছেন, মহান আল্লাহর বাণী: "এবং তারা বলেছিল: তোমরা তোমাদের উপাস্যদের পরিত্যাগ করো না; আর ওয়াদ, সুওয়া‘, ইয়াগূস, ইয়া‘ঊক ও নাসরকেও ত্যাগ করো না।" [নূহ: ২৩] এর অর্থ প্রসঙ্গে তিনি বলেন: "এগুলো নূহ আলাইহিস সালাম-এর সম্প্রদায়ের কতিপয় নেককার ব্যক্তির নাম। যখন তারা মৃত্যুবরণ করল, তখন শয়তান তাদের সম্প্রদায়ের মনে এই কুমন্ত্রণা দিল যে, তারা যেখানে বসে মজলিস করত সেখানে তোমরা মূর্তি স্থাপন করো এবং তাদের নামে সেগুলোর নামকরণ করো। তারা তা-ই করল, কিন্তু তখন সেগুলোর ইবাদত করা হতো না। অবশেষে যখন সেই প্রজন্ম মৃত্যুবরণ করল এবং ইলম বা জ্ঞান বিলুপ্ত হয়ে গেল, তখন সেগুলোর ইবাদত শুরু হলো।" (২) এটিই ছিল বনী আদমের শিরকে নিপতিত হওয়ার এবং আল্লাহর তাওহীদ থেকে বিচ্যুত হওয়ার সূচনা। আমাদের এই দলীল উপস্থাপনের অর্থ এই নয় যে বিষয়টি কেবল ওহীর মাধ্যমেই প্রমাণিত—যদিও ওহীর প্রমাণই যথেষ্ট—বরং এই কথাটি প্রত্নতাত্ত্বিক এবং পাশ্চাত্যের ধর্ম গবেষকদের দ্বারাও প্রমাণিত হয়েছে।

আদিম সম্প্রদায় নিয়ে গবেষণায় বিশেষজ্ঞ গবেষক অ্যাডামসন হোয়েবেল বলেন: "সেই যুগ অতিবাহিত হয়েছে যখন মনে করা হতো যে আদিম মানুষ পবিত্র সত্তা বা মহান আল্লাহ সম্পর্কে চিন্তা করতে অক্ষম। টেইলর এখানে ভুল করেছেন যেখানে তিনি একত্ববাদী ধর্মীয় চিন্তাকে সভ্যতার অগ্রগতি ও উচ্চতর জ্ঞানের ফল হিসেবে গণ্য করেছেন এবং একে প্রেতাত্মা ও আত্মার পূজা থেকে বিবর্তিত হয়ে বহুঈশ্বরবাদ এবং পরিশেষে তাওহীদের ধারণা লাভের ফলাফল হিসেবে দেখিয়েছেন।"

গত শতাব্দীর গবেষক অ্যান্ড্রু ল্যাং বলেন: "অস্ট্রেলিয়া, আফ্রিকা এবং ভারতের মানুষের মহান আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস খ্রিস্টীয় বিশ্বাসের ভিত্তিতে গড়ে ওঠেনি।" অস্ট্রেলীয় বিজ্ঞানী উইলিয়াম স্মিথ তাঁর "তাওহীদের ধারণার মূল ভিত্তি" নামক গ্রন্থে এই মতটি নিশ্চিত করেছেন। সেখানে তিনি বিভিন্ন অঞ্চল ও উৎস থেকে একগুচ্ছ প্রমাণ সংগ্রহ করেছেন যা নিশ্চিত করে যে, মানুষের সর্বপ্রথম সম্পাদিত ইবাদত ছিল মহান এক আল্লাহর প্রতি।

--------------------------------------------

(১) জামেউল বায়ান ফী তা’বীলিল কুরআন (৪/২৭৫); হাকেম এটি বর্ণনা করেছেন (২/৪৮০) এবং বলেছেন: এটি বুখারীর শর্তানুযায়ী সহীহ হাদিস কিন্তু তারা এটি বর্ণনা করেননি; এবং যাহাবী তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন।

(২) বুখারী বর্ণনা করেছেন (৪৯২০)
(খণ্ড: ١) মাওসুআতুল মিলাল ওয়াদ আদিয়ান (পৃষ্ঠা: ١٩)
ويقول الدكتور الحاج (أورانج كاي) من علماء الملايو في إندونيسيا (: عندنا في بلاد أرخبيل الملايو دليل أكيد على أن أهل ديارنا هذه كانوا يعبدون الله الواحد، وذلك قبل أن يدخل الإسلام إلى هذه الديار، وقبل أن تدخل النصرانية، وفي عقيدة جزيرة كلمنتان بإندونيسيا لوثة من الهندوسية ورائحة من الإسلام، مع أن التوحيد كعبادة لأهل هذه الديار كان هو الأصل قبل وصول الهندوسية أو الإسلام إليها، وإذا رجعنا إلى اللغة الدارجة لأهل هذه الديار قبل استخدام اللغة السانسكريتية أو قبل هجرة الهندوسية أو دخول الإسلام تأكدنا من أن التصور الاعتقادي لأجدادنا حسب النطق والتعبير الموروث هو أن الله في عقيدتهم واحد لاشريك له).

 

‌‌المصدر: دراسات في الأديان اليهودية والنصرانية لسعود بن عبد العزيز الخلف – ص 34

الدين الإلهي وعقيدة التوحيد الخالصة هما الأصل في حياة البشر منذ أن خلق الله آدم (وذريته) بخلاف ما تدعيه النظريات المادية والفلسفية السائدة التي تزعم أن البشرية في أول أمرها كانت لا تعرف التوحيد، وأن الناس كانوا يعبدون ما حولهم من المخلوقات التي كانوا يروجونها أو يخافونها فهذا باطل ومحض افتراء، إنما يقوم على تخرصات الخراصين وظنون الجاهلين، إنما عبدت الأوثان بعد أزمان حيث كثر الخبث، وحاد أكثر البشر عن الله وشرعه القويم.

خلق الله الناس حنفاء موحدين:

فقد ثبت بالقرآن الكريم وصحيح السنة والآثار أن الله تعالى خلق الناس حنفاء موحدين مخلصين لله الدين، وفطرهم على التوحيد، وأن الشرك والضلال والانحراف إنما هو شيء طارئ حدث بعد أحقاب من الزمان، ولم تخل أمة ولا زمان على طول التاريخ البشري من دين ورسل وأنبياء يدعون إلى التوحيد، ويحذرون من الشرك.

قال الله تعالى: إِنَّا أَرْسَلْنَاكَ بِالْحَقِّ بَشِيرًا وَنَذِيرًا وَإِن مِّنْ أُمَّةٍ إِلَّا خلَا فِيهَا نَذِيرٌ [فاطر: 24]

وقال تعالى: رُسُلاً مُّبَشِّرِينَ وَمُنذِرِينَ لِئَلَاّ يَكُونَ لِلنَّاسِ عَلَى اللهِ حُجَّةٌ بَعْدَ الرُّسُلِ [النساء: 165].

وقال تعالى: وَلِكُلِّ أُمَّةٍ رَّسُولٌ [يونس: 47].

وقال تعالى: وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَّسُولاً أَنِ اعْبُدُواْ اللهَ وَاجْتَنِبُواْ الطَّاغُوتَ [النحل: 36].كما ثبت في صحيح السنة قوله صلى الله عليه وسلم في الحديث القدسي يرويه عن ربه تبارك وتعالى، وفيه: ((خلقت عبادي حنفاء فاجتالتهم الشياطين)). رواه مسلم (1).

بطلان نظرية تطور الدين:

إذن فقد عرفت يقينا أن التوحيد والصلاح هما الأصل الذي كانت عليه البشرية في أول وجودها، وأن الشرك والفساد والضلال أمور طارئة بما كسبت أيدي الناس.

وبعد هذا فلا تغتر بما يقوله بعض الكتّاب المحدثين والمفكرين، وكثير من علماء الاجتماع والتربية وعلم النفس والتاريخ من أن الناس في أول أمرهم على الجهل والوثنية والهمجية، ثم تطوروا إلى التوحيد، فالقائلون بهذا مقلدون للنظريات الغربية المادية التي لا تستند على دليل علمي ولا وحي سماوي.

 

‌‌المصدر: الموجز في الأديان والمذاهب المعاصرة: د. ناصر العقل ود. ناصر القفاري – ص14

--------------------------------------------

(1) رواه مسلم (2856) بلفظ) ( .... وإني خلقت عبادي حنفاء كلهم وإنهم أتتهم الشياطين فاجتالتهم عن دينهم .... )) من حديث عياض بن حمار المجاشعى.
ইন্দোনেশিয়ার মালয় ওলামাদের অন্যতম ডক্টর আল-হাজ (অরেঞ্জ কাই) বলেন: (আমাদের মালয় দ্বীপপুঞ্জ অঞ্চলে আমাদের কাছে নিশ্চিত প্রমাণ রয়েছে যে, আমাদের এই ভূখণ্ডের অধিবাসীরা এক আল্লাহর ইবাদত করত; আর তা এই ভূখণ্ডে ইসলাম ও খ্রিষ্টধর্ম প্রবেশের পূর্বের কথা। ইন্দোনেশিয়ার কালিমান্তান দ্বীপের আকিদায় হিন্দুধর্মের কিছুটা কলুষতা এবং ইসলামের কিছুটা ঘ্রাণ রয়েছে, যদিও হিন্দুধর্ম বা ইসলাম পৌঁছানোর আগে এই অঞ্চলের মানুষের ইবাদত হিসেবে তাওহীদই ছিল মূল ভিত্তি। যদি আমরা সংস্কৃত ভাষার ব্যবহারের আগে বা হিন্দুধর্মের হিজরত কিংবা ইসলাম প্রবেশের আগে এই অঞ্চলের অধিবাসীদের চলিত ভাষার দিকে ফিরে তাকাই, তবে আমরা নিশ্চিত হতে পারি যে, বংশপরম্পরায় প্রাপ্ত উচ্চারণ ও অভিব্যক্তি অনুযায়ী আমাদের পূর্বপুরুষদের বিশ্বাসগত ধারণা ছিল যে, আল্লাহ তাদের আকিদায় এক এবং তাঁর কোনো অংশীদার নেই)।

 

‌‌উৎস: সাউদ বিন আব্দুল আজিজ আল-খালাফ রচিত 'দিরাসাত ফিল আদিয়ান আল-ইয়াহুদিয়া ওয়ান নাসরানিয়া' – পৃষ্ঠা ৩৪

ঐশ্বরিক ধর্ম এবং বিশুদ্ধ তাওহীদের আকিদাই হলো মানবজীবনের মূল ভিত্তি, যখন থেকে আল্লাহ আদম (ও তাঁর সন্তানদের) সৃষ্টি করেছেন। এটি প্রচলিত বস্তুবাদী ও দার্শনিক তত্ত্বগুলোর বিপরীত, যা দাবি করে যে মানবজাতি তাদের প্রাথমিক অবস্থায় তাওহীদ সম্পর্কে জানত না এবং মানুষ তাদের চারপাশের এমন সব সৃষ্টিজীবের পূজা করত যেগুলোকে তারা পছন্দ করত বা ভয় পেত। এটি সম্পূর্ণ বাতিল এবং নিছক অপবাদ, যা কেবল অনুমানকারীদের ধারণা ও জ্ঞানহীনদের সংশয়ের ওপর ভিত্তি করে দণ্ডায়মান। মূলত মূর্তিপূজার সূচনা হয়েছে দীর্ঘকাল পরে, যখন পাপাচার বৃদ্ধি পেয়েছিল এবং অধিকাংশ মানুষ আল্লাহ ও তাঁর সঠিক শরীয়ত থেকে বিচ্যুত হয়েছিল।

আল্লাহ মানুষকে একনিষ্ঠ মুওয়াহিদ হিসেবে সৃষ্টি করেছেন:

পবিত্র কুরআন, সহীহ সুন্নাহ এবং আসার (পূর্বসূরিদের বর্ণনা) দ্বারা এটি প্রমাণিত যে, মহান আল্লাহ মানুষকে একনিষ্ঠ মুওয়াহিদ এবং আল্লাহর দ্বীনের প্রতি একনিষ্ঠ হিসেবে সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের তাওহীদের ফিতরাতের ওপর সৃষ্টি করেছেন। আর শিরক, পথভ্রষ্টতা এবং বিচ্যুতি হলো একটি আপতিত বিষয় যা দীর্ঘকাল পর সংঘটিত হয়েছে। মানব ইতিহাসের দীর্ঘ পথচলায় এমন কোনো জাতি বা সময় অতিবাহিত হয়নি যেখানে তাওহীদের দিকে আহ্বানকারী এবং শিরক থেকে সতর্ককারী কোনো দ্বীন, রাসূল বা নবী ছিলেন না।

আল্লাহ তাআলা বলেন: নিশ্চয়ই আমি তোমাকে সত্যসহ সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে পাঠিয়েছি; আর এমন কোনো জাতি নেই যার কাছে কোনো সতর্ককারী অতিবাহিত হয়নি। [ফাতির: ২৪]

তিনি আরও বলেন: সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে রাসূলগণকে (পাঠিয়েছি), যাতে রাসূলগণের পরে আল্লাহর বিরুদ্ধে মানুষের কোনো অজুহাত না থাকে। [নিসা: ১৬৫]।

তিনি আরও বলেন: আর প্রত্যেক জাতির জন্যই একজন রাসূল রয়েছেন। [ইউনুস: ৪৭]।

তিনি আরও বলেন: আর আমি অবশ্যই প্রত্যেক জাতির মধ্যে একজন রাসূল পাঠিয়েছি এই মর্মে যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাগুতকে বর্জন করো। [নাহল: ৩৬]। যেমনটি সহীহ সুন্নাহয় প্রমাণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বরকতময় রবের পক্ষ থেকে বর্ণনা করে হাদীসে কুদসীতে বলেছেন: ((আমি আমার বান্দাদের একনিষ্ঠ মুওয়াহিদ হিসেবে সৃষ্টি করেছি, অতঃপর শয়তানরা তাদের কাছে এসে তাদের পথভ্রষ্ট করে দেয়))। এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন (১)।

ধর্মের বিবর্তন তত্ত্বের অসারতা:

অতএব আপনি নিশ্চিতভাবে জানতে পারলেন যে, তাওহীদ ও সততাই হলো সেই মূল ভিত্তি যার ওপর মানবজাতি তাদের অস্তিত্বের শুরুতে ছিল, আর শিরক, ফাসাদ ও পথভ্রষ্টতা হলো মানুষের অর্জিত কর্মের কারণে সৃষ্ট আপতিত বিষয়।

এর পর আপনি আধুনিক কিছু লেখক, চিন্তাবিদ এবং সমাজবিজ্ঞান, শিক্ষাবিজ্ঞান, মনোবিজ্ঞান ও ইতিহাসের অনেক পণ্ডিতদের কথায় প্রতারিত হবেন না, যারা বলে যে মানুষ তাদের প্রাথমিক অবস্থায় মূর্খতা, মূর্তিপূজা ও বন্যতার ওপর ছিল, তারপর তারা তাওহীদের দিকে বিবর্তিত হয়েছে। যারা এই কথা বলে, তারা মূলত পশ্চিমা বস্তুবাদী তত্ত্বের অনুসারী, যার কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ বা আসমানী ওহীর ভিত্তি নেই।

 

‌‌উৎস: ড. নাসের আল-আকল এবং ড. নাসের আল-কাফফারি রচিত 'আল-মুজায ফিল আদিয়ান ওয়াল মাযাহিব আল-মুআসিরাহ' – পৃষ্ঠা ১৪

--------------------------------------------

(১) মুসলিম (২৮৫৬) শব্দে বর্ণনা করেছেন: ( .... আর আমি আমার সকল বান্দাকে একনিষ্ঠ মুওয়াহিদ হিসেবে সৃষ্টি করেছি, কিন্তু তাদের কাছে শয়তানরা এসে তাদের দ্বীন থেকে বিচ্যুত করে দেয় ....) এটি ইয়াদ বিন হিমার আল-মুজাশিঈ-এর বর্ণিত হাদীস থেকে।
(খণ্ড: ١) মাওসুআতুল মিলাল ওয়াদ আদিয়ান (পৃষ্ঠা: ٢٠)
‌‌الفصل الثالث: واقع العالم الديني وواجب المسلم تجاهه

من البدهي لدى كل مسلم أن الإسلام ـ عقيدة وسلوكا ـ هو الميزان الصحيح الحكم، والحكم العدل في تقويم الأديان والمذاهب، والحكم على مدى استقامة الأمم والشعوب أو انحرافها.

وعلى هذا فإن المتأمل لحال البشرية الدينية اليوم يرى أن الناس على أربعة أصناف:

الصنف الأول: مسلم متمسك بدينه معتصم بكتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم، يؤمن بالله ويأمر بالمعروف وينهى عن المنكر على هدى من دين الله وبصيرة. وهؤلاء رغم قلتهم منتشرون ـ بحمد لله ـ في سائر المعمورة يربطهم رباط العقيدة الصحيح وأخوة الإيمان، وهم الطائفة التي عناها رسول الله صلى الله عليه وسلم بقوله في الحديث الصحيح عن جماعة من الصحابة أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ((لا تزال طائفة من أمتي ظاهرين على الحق، لا يضرهم من خذلهم حتى يأتي أمر الله وهم كذلك)) (1).والمقصود بأمر الله هنا: قيام الساعة كما هو صريح في أحاديث أخرى ((حتى تقوم الساعة)) (2)

فاحرص أخي المسلم على أن تكون من هذه الطائفة؛ لتسعد في الدنيا والآخرة بنعمة الإسلام والإيمان وَلَا تَعْدُ عَيْنَاكَ عَنْهُمْ تُرِيدُ زِينَةَ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا [الكهف: 28] الصنف الثاني: المنتمون للإسلام وهم على شيء من الانحراف والضلال أو على الكفر أو الجهل، وهم مع الأسف كثير ممن يدعي الإسلام من الصوفية، والرافضة، والباطنية، والنصيرية، والمقابريين (3) وأصحاب المبادئ والاتجاهات الهدامة: كالاشتراكية، والبعثية، والقومية، والعلمانية، وسواهم من ذوي الانحراف العقدي والعملي.

وهؤلاء هم الذين استثنى منهم رسول الله صلى الله عليه وسلم تلك الطائفة المنصورة الظاهرة على الحق رغم قلتها، والتي أشرنا إليها آنفا (في الصنف الأول).

وينبغي لك أخي المسلم أن تتسلح بالعقيدة، وتكون على حذر من هؤلاء الأدعياء؛ لأنهم دعاة شر على أبواب جهنم، ويملكون من الأساليب والوسائل الجذابة والخادعة ما يشكل خطرا على شباب المسلمين الذين لم يتسلحوا بالعقيدة الإسلامية الصافية التي تحصنهم.

الصنف الثالث: أتباع الديانات الضالة:

وهؤلاء: إما كتابيون، وهم الذين ينتمون إلى الأديان المنزلة من الله في أصلها، ولكن دخلها التحريف والشرك ثم نسخت، وهم اليهود والنصارى.

وإما وثنيون يتبعون دينا مبتدعا يقوم في أصله على الشرك والوثنية وتقديس المخلوقات، كالبراهمة،

والبوذيين والكنفوشسيين والمجوس وأكثر الفلاسفة، وهذا الصنف كافر صريح الكفر، وعلى المسلم أن لا يرتبط معهم بأخوة أو مودة أو ولاء؛ لأنهم محادون لله ورسوله.

الصنف الرابع:

الملاحدة: وهم الذين لا يدينون بدين، أو يتبعون مذاهب تجحد وجود الخالق سبحانه وتعالى، وهم بعض الفلاسفة، والدهريون، والشيوعيون، وبعض العلمانيين ونحوهم، وهم كفار ملاحدة، وعلى المسلم أن يتبرأ منهم ويعاديهم، فلا يوالهم ولا يصادقهم ولا يوادهم وأن يكون على حذر منهم.

واجب المسلم تجاه هذا الواقع:

فعليك أخي المسلم أن تكون على بصيرة من أمرك واعيا ومدركا لواجبك وما يدور حولك، وما يحاك لدينك وأمتك، لتعرف الخير فتتمسك به، وتدرك الشر فتحذره، وتكون جنديا مخلصا لعقيدتك ودينك وأمتك فأنت أمل المسلمين بعد الله.

 

‌‌المصدر: الموجز في الأديان والمذاهب المعاصرة: د. ناصر العقل ود. ناصر القفاري – ص13

--------------------------------------------

(1) رواه مسلم (1920) ، عن ثوبان رضي الله عنه.

(2) رواه الترمذي (2192) ، وابن ماجه (6) ، وقال الترمذي: حسن صحيح، وقال الألباني في ((السلسلة الصحيحة)) (403): صحيح على شرط الشيخين.

(3) المقابريون ـ أو القبوريون ـ هم أولئك الذين يعظمون القبور والأضرحة ويبنون عليها القباب ويتخذونها مساجد وأعياد، ويذبحون عندها النذور والقرابين ويتمسحون بها زعما منهم أن الموتى ينفعونهم أو يضرون فيدعونهم ويرجونهم مع الله، ويزعمون أن لهم قدرة على تصريف الأقدار ومقاليد الكون، وهذا شرك وضلال مبين. فالقبورية من البدع الشركية التي تروجها الطرق الصوفية وأول من ابتدعها ونشرها الرافضة وفرقهم كالفاطميين والقرامطة.
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ধর্মীয় বিশ্বের বাস্তবতা এবং এর প্রতি মুসলিমের দায়িত্ব

প্রত্যেক মুসলিমের নিকট এটি স্বতঃসিদ্ধ যে, ইসলাম—আকিদা ও আচরণের দিক থেকে—হলো সঠিক মীমাংসাকারী মানদণ্ড এবং ধর্ম ও মতবাদসমূহের মূল্যায়ন করার এবং জাতি ও গোষ্ঠীসমূহের সঠিক পথ কিংবা বিচ্যুতির বিচার করার ক্ষেত্রে ন্যায়বিচারক।

এই পরিপ্রেক্ষিতে, বর্তমান মানবতার ধর্মীয় অবস্থার প্রতি দৃষ্টিপাতকারী দেখতে পাবেন যে, মানুষ চার শ্রেণিতে বিভক্ত:

প্রথম শ্রেণি: এমন মুসলিম যিনি নিজের দ্বীনের ওপর অটল এবং আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে আছেন; আল্লাহর ওপর ঈমান রাখেন, নেক কাজের আদেশ দেন এবং আল্লাহর দ্বীনের হেদায়েত ও দূরদর্শিতার ওপর ভিত্তি করে মন্দ কাজে বাধা প্রদান করেন। সংখ্যার দিক থেকে তারা অল্প হওয়া সত্ত্বেও—আল্লাহর শুকরিয়া যে—তারা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে আছেন। সহিহ আকিদার বন্ধন ও ঈমানি ভ্রাতৃত্ব তাঁদেরকে ঐক্যবদ্ধ করে রেখেছে। তাঁরাই সেই দল যাদের সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীগণের এক জামাত থেকে বর্ণিত সহিহ হাদিসে বলেছেন: "আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা হকের ওপর বিজয়ী থাকবে, যারা তাদের লাঞ্ছিত করতে চায় তারা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না, যতক্ষণ না আল্লাহর নির্দেশ চলে আসে এবং তারা এই অবস্থাতেই থাকবে।" (১)। আর এখানে আল্লাহর নির্দেশ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো কিয়ামত কায়েম হওয়া, যা অন্য হাদিসগুলোতে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে: "যতক্ষণ না কিয়ামত কায়েম হয়" (২)।

হে আমার মুসলিম ভাই! এই দলের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য সচেষ্ট হোন, যাতে আপনি ইসলাম ও ঈমানের নেয়ামত লাভের মাধ্যমে দুনিয়া ও আখিরাতে সৌভাগ্যবান হতে পারেন এবং আপনি তাদের থেকে আপনার দৃষ্টি ফিরিয়ে নিবেন না পার্থিব জীবনের সৌন্দর্য কামনায়। [সূরা আল-কাহফ: ২৮] দ্বিতীয় শ্রেণি: যারা ইসলামের দিকে সম্পৃক্ত কিন্তু কিছু বিচ্যুতি ও গোমরাহি অথবা কুফর বা অজ্ঞতার ওপর রয়েছে। পরিতাপের বিষয় যে, তারা সংখ্যায় অনেক যারা ইসলামের দাবিদার, যেমন: সুফি, রাফেজি, বাতিনিয়া, নুসাইরিয়া, মাজারপূজারী (৩) এবং ধ্বংসাত্মক আদর্শ ও মতবাদের অনুসারী: যেমন সমাজতন্ত্র, বাথবাদ, জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ এবং আকিদাগত ও আমলগত বিচ্যুতির শিকার অন্যান্যরা।

এরাই তারা যাদের থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই সাহায্যপ্রাপ্ত ও হকের ওপর বিজয়ী দলটিকে পৃথক করেছেন, যদিও তারা সংখ্যায় অল্প, যাদের কথা আমরা ইতিপূর্বে (প্রথম শ্রেণিতে) উল্লেখ করেছি।

হে মুসলিম ভাই! আপনার উচিত আকিদার অস্ত্রে সজ্জিত হওয়া এবং এই সব নামধারী দাবিদারদের থেকে সতর্ক থাকা; কারণ তারা জাহান্নামের দরজায় দাঁড়িয়ে অনিষ্টের দিকে আহ্বানকারী। তাদের কাছে এমন আকর্ষণীয় ও প্রতারণামূলক পদ্ধতি ও মাধ্যম রয়েছে যা সেই সব মুসলিম যুবক—যারা নিজেদের সুরক্ষাকারী স্বচ্ছ ইসলামী আকিদায় সজ্জিত নয়—তাদের জন্য বিপদজনক হতে পারে।

তৃতীয় শ্রেণি: পথভ্রষ্ট ধর্মসমূহের অনুসারী:

তারা হয় আহলে কিতাব, যারা মূলত আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ ধর্মসমূহের অনুসারী হওয়ার দাবি করে কিন্তু তাতে বিকৃতি ও শিরক প্রবেশ করেছে এবং পরে তা রহিত হয়ে গেছে; তারা হলো ইহুদি ও খ্রিস্টান।

অথবা তারা মূর্তিপূজারী, যারা এমন নব উদ্ভাবিত ধর্মের অনুসরণ করে যার মূল ভিত্তি হলো শিরক, মূর্তিপূজা এবং সৃষ্টির পবিত্রতা বর্ণনা করা, যেমন: ব্রাহ্মণ,

বৌদ্ধ, কনফুসীয়, অগ্নিপূজক এবং অধিকাংশ দার্শনিক। এই শ্রেণিটি স্পষ্টভাবে কাফের। একজন মুসলিমের জন্য তাদের সাথে ভ্রাতৃত্ব, ভালোবাসা বা বন্ধুত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া জায়েজ নেই; কারণ তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধাচরণকারী।

চতুর্থ শ্রেণি:

নাস্তিক সম্প্রদায়: তারা কোনো ধর্মে বিশ্বাস করে না অথবা এমন মতবাদ অনুসরণ করে যা সৃষ্টিকর্তা সুবহানাহু ওয়া তায়ালার অস্তিত্বকে অস্বীকার করে। তারা হলো কিছু দার্শনিক, বস্তুবাদী, সাম্যবাদী এবং কিছু ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী ও তাদের সমমনা ব্যক্তিবর্গ। তারা কাফের ও নাস্তিক। একজন মুসলিমের কর্তব্য হলো তাদের থেকে সম্পর্কচ্ছেদ করা এবং তাদের শত্রুজ্ঞান করা; তাদের সাথে বন্ধুত্ব, সখ্যতা বা ভালোবাসা রাখা যাবে না এবং তাদের সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে।

এই বাস্তবতার প্রেক্ষিতে মুসলিমের দায়িত্ব:

হে মুসলিম ভাই! আপনাকে আপনার বিষয়ে দূরদৃষ্টিসম্পন্ন হতে হবে, সচেতন থাকতে হবে এবং আপনার দায়িত্ব ও আপনার চারপাশে কী ঘটছে আর আপনার দ্বীন ও উম্মাহর বিরুদ্ধে কী ষড়যন্ত্র হচ্ছে সে সম্পর্কে সজাগ থাকতে হবে। যাতে আপনি কল্যাণকে চিনতে পারেন ও তা আঁকড়ে ধরতে পারেন এবং অকল্যাণকে বুঝতে পারেন ও তা থেকে সতর্ক থাকতে পারেন। আপনি আপনার আকিদা, দ্বীন ও উম্মাহর জন্য একজন একনিষ্ঠ সৈনিক হোন, কেননা আল্লাহর পর আপনিই মুসলিমদের আশা।

 

‌‌উৎস: আল-মুয়াজায ফিল আদইয়ান ওয়াল মাজাহিব আল-মুআসিরাহ: ড. নাসের আল-আকল এবং ড. নাসের আল-কাফফারি - পৃষ্ঠা ১৩

--------------------------------------------

(১) মুসলিম (১৯২০), সওবান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত।

(২) তিরমিজি (২১৯২) ও ইবনে মাজাহ (৬) বর্ণনা করেছেন। ইমাম তিরমিজি একে হাসান সহিহ বলেছেন। আলবানি 'আস-সিলসিলাতুস সহিহাহ' (৪০৩)-এ বলেছেন: শেখাইনের শর্তানুযায়ী সহিহ।

(৩) মাজারপূজারী বা কবরপূজারী হলো তারা যারা কবর ও সমাধিসৌধগুলোকে সম্মান করে, তার ওপর গম্বুজ নির্মাণ করে এবং সেগুলোকে মসজিদ ও উৎসবের স্থানে পরিণত করে। তারা সেখানে মানত ও পশু কোরবানি দেয় এবং এই বিশ্বাসে কবরে হাত বুলিয়ে বরকত নেয় যে, মৃত ব্যক্তিরা তাদের উপকার বা অপকার করতে পারে। তারা আল্লাহর পাশাপাশি তাদের ডাকে ও তাদের কাছে আশা পোষণ করে এবং দাবি করে যে, মহাবিশ্বের ফয়সালা ও পরিচালনার ক্ষমতা তাদের রয়েছে। এটি স্পষ্ট শিরক ও ভ্রষ্টতা। কবরপূজা হলো একটি শিরকি বিদআত যা সুফি তরিকাগুলো প্রচার করে এবং যারা সর্বপ্রথম এটি উদ্ভাবন ও প্রসার ঘটিয়েছে তারা হলো রাফেজি ও তাদের উপদলগুলো যেমন ফাতিমি ও কারামিতা।
(খণ্ড: ١) মাওসুআতুল মিলাল ওয়াদ আদিয়ান (পৃষ্ঠা: ٢١)
‌‌المبحث الأول: تعريف اليهودية:

اليهودية: هي ديانة العبرانيين المنحدرين من إبراهيم عليه السلام والمعروفين بالأسباط من بني إسرائيل الذين أرسل الله إليهم موسى عليه السلام مؤيداً بالتوراة؛ ليكون لهم نبيًّا.

واليهودية ديانة يبدو أنها منسوبة إلى يهود الشعب، وهذه بدورها قد اختلف في أصلها، وقد تكون نسبة إلى يهوذا أحد أبناء يعقوب، وعممت على الشعب على سبيل التغليب.

 

‌‌المصدر:الموسوعة الميسرة للندوة العالمية للشباب الإسلامي

اليهودية: مصطلح حادث يطلق على الديانة الباطلة المحرفة عن الدين الحق الذي جاء به موسى عليه السلام.

ولعل هذا هو التعريف الصحيح لليهودية، ومن خلاله يتبين الخلل في بعض التعريفات التي تقول: إنها الدين الذي جاء به موسى عليه السلام.

أو: إنها دين موسى عليه السلام.

وهذا خطأ؛ إذ موسى عليه السلام لم يجئ باليهودية، وإنما جاء بالإسلام - بمفهومه العام- الذي يعني الاستسلام لله وحده؛ فهو دين جميع الأنبياء من لدن نوح إلى محمد عليهم السلام.

قال الله عز وجل عن إبراهيم عليه السلام: مَا كَانَ إِبْرَاهِيمُ يَهُودِيًّا وَلَا نَصْرَانِيًّا وَلَكِن كَانَ حَنِيفًا مُّسْلِمًا وَمَا كَانَ مِنَ الْمُشْرِكِينَ [آل عمران: 67].

وقال تبارك وتعالى عن موسى عليه السلام: وَقَالَ مُوسَى يَا قَوْمِ إِن كُنتُمْ آمَنتُم بِاللهِ فَعَلَيْهِ تَوَكَّلُواْ إِن كُنتُم مُّسْلِمِينَ [يونس:84].

وقال عن عيسى عليه السلام: فَلَمَّا أَحَسَّ عِيسَى مِنْهُمُ الْكُفْرَ قَالَ مَنْ أَنصَارِي إِلَى اللهِ قَالَ الْحَوَارِيُّونَ نَحْنُ أَنصَارُ اللهِ آمَنَّا بِاللهِ وَاشْهَدْ بِأَنَّا مُسْلِمُونَ [آل عمران: 52].

فهذا هو الإسلام العام الذي جاء به جميع الأنبياء. أما الإسلام الخاص فهو: شريعة القرآن التي جاء بها محمد (1).

وهذا الإسلام الخاص يشترك مع كافة الشرائع بالتوحيد والأصول، ويختلف في تفصيل بعض الشرائع.

ومن خلال ما مضى يتبين أن اليهودية ديانة باطلة محرفة عن الدين الحق الذي جاء به موسى عليه السلام.

 

‌‌المصدر:رسائل في الأديان والفرق والمذاهب، لمحمد الحمد ص 62، 63

--------------------------------------------

(1) انظر ((التدمرية)) لابن تيمية (196 - 175).
প্রথম পরিচ্ছেদ: ইহুদি ধর্মের সংজ্ঞা:

ইহুদি ধর্ম: এটি ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের বংশধর হিব্রুদের ধর্ম, যারা বনী ইসরাইলের আসবাত (উপজাতি) হিসেবে পরিচিত, যাদের কাছে আল্লাহ মুসা আলাইহিস সালামকে তাওরাত দিয়ে সাহায্যপ্রাপ্ত হিসেবে পাঠিয়েছেন; যাতে তিনি তাদের নবী হতে পারেন।

আর ইহুদি ধর্ম আপাতদৃষ্টে ইহুদি জনগোষ্ঠীর সাথে সম্পর্কিত, এবং এর মূল উৎস নিয়ে মতভেদ রয়েছে। এটি সম্ভবত ইয়াকুবের অন্যতম পুত্র ইয়াহুদার সাথে সম্পর্কিত এবং প্রাধান্য দেওয়ার ভিত্তিতে এই পুরো জাতির ওপর তা প্রয়োগ করা হয়েছে।

 

‌উৎস:আল-মাওসুআ আল-মুয়াসসারা লিন-নাদওয়াতিল আলামিয়্যাহ লিল-শাবাবিল ইসলামি (ওয়ার্ল্ড অ্যাসেম্বলি অব মুসলিম ইয়ুথ-এর সহজ বিশ্বকোষ)

ইহুদি ধর্ম: এটি একটি নব উদ্ভাবিত পরিভাষা যা মুসা আলাইহিস সালাম যে সত্য দ্বীন নিয়ে এসেছিলেন, তা থেকে বিকৃত হওয়া বাতিল ধর্মের ওপর প্রয়োগ করা হয়।

সম্ভবত এটিই ইহুদি ধর্মের সঠিক সংজ্ঞা, আর এর মাধ্যমেই সেই সব সংজ্ঞার ত্রুটি স্পষ্ট হয় যা বলে: এটি সেই ধর্ম যা মুসা আলাইহিস সালাম নিয়ে এসেছিলেন।

অথবা: এটি মুসা আলাইহিস সালামের দ্বীন।

এটি ভুল; কেননা মুসা আলাইহিস সালাম ইহুদি ধর্ম নিয়ে আসেননি, বরং তিনি ইসলাম নিয়ে এসেছিলেন—এর সাধারণ অর্থে—যার অর্থ কেবল আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করা; আর নুহ থেকে নিয়ে মুহাম্মদ আলাইহিমুস সালাম পর্যন্ত সকল নবীর ধর্ম এটিই।

আল্লাহ তাআলা ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম সম্পর্কে বলেছেন: ইব্রাহিম ইহুদি ছিলেন না এবং নাসারাও (খ্রিস্টান) ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন একনিষ্ঠ মুসলিম এবং তিনি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না। [আল ইমরান: ৬৭]।

বরকতময় ও সুউচ্চ আল্লাহ মুসা আলাইহিস সালাম সম্পর্কে বলেছেন: আর মুসা বললেন, হে আমার কওম, যদি তোমরা আল্লাহর ওপর ঈমান এনে থাকো, তবে তাঁরই ওপর ভরসা করো যদি তোমরা মুসলিম হয়ে থাকো। [ইউনুস: ৮৪]।

তিনি ঈসা আলাইহিস সালাম সম্পর্কে বলেছেন: অতঃপর যখন ঈসা তাদের পক্ষ থেকে কুফরি অনুভব করলেন, তখন বললেন, আল্লাহর পথে কারা আমার সাহায্যকারী হবে? হাওয়ারিগণ (শিষ্যরা) বলল, আমরা আল্লাহর সাহায্যকারী, আমরা আল্লাহর ওপর ঈমান এনেছি এবং আপনি সাক্ষী থাকুন যে আমরা মুসলিম। [আল ইমরান: ৫২]।

সুতরাং এটিই হলো সাধারণ ইসলাম যা সকল নবী নিয়ে এসেছিলেন। আর বিশেষ ইসলাম হলো: কুরআনের শরিয়ত যা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিয়ে এসেছেন (১)।

আর এই বিশেষ ইসলাম তাওহিদ এবং মূলনীতিসমূহের ক্ষেত্রে সকল শরিয়তের সাথে একমত, তবে কিছু বিধানের খুঁটিনাটি বিষয়ে ভিন্ন।

পূর্বোক্ত আলোচনার মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয় যে, ইহুদি ধর্ম মুসা আলাইহিস সালাম আনীত সত্য দ্বীন থেকে বিকৃত হওয়া একটি বাতিল ধর্ম।

 

‌উৎস:রাসায়িল ফিল আদিয়ান ওয়াল ফিরাক ওয়াল মাজাহিব, মুহাম্মাদ আল-হামাদ, পৃষ্ঠা ৬২, ৬৩

--------------------------------------------

(১) দেখুন ইবনে তাইমিয়্যাহ-র রচিত ((আত-তাদমুরিয়্যাহ)) (১৭৫ - ১৯৬)।
(খণ্ড: ١) মাওসুআতুল মিলাল ওয়াদ আদিয়ান (পৃষ্ঠা: ٢٢)
‌‌المبحث الثاني: سبب التسمية:

سميت اليهودية بذلك نسبة إلى اليهود، وقد تعددت أسباب تسمية اليهود بهذا الاسم؛ فقيل في ذلك أقوال منها:

-1 أنهم سموا يهوداً نسبة إلى يهوذا بن يعقوب، الذي ينتمي إليه بنو إسرائيل الذين بعث فيهم موسى عليه السلام فقلبت العرب الذال دالاً.

-2 نسبة إلى الهَوَد: وهو التوبة، والرجوع، وذلك نسبة إلى قول موسى عليه السلام لربه: إِنَّا هُدْنَا إِلَيْكَ [الأعراف: 156]. أي: تبنا ورجعنا إليك يا ربنا. قال ابن منظور: الهود: التوبة، هادَ يهود هوداً، وتهوَّد: تاب ورجع إلى الحق؛ فهو هائد، وقومٌ هُوْد مثل حائك وحُوك، وبازل وبُزْل (1).

-3 نسبة إلى التقرب والعمل الصالح، قال زهير بن أبي سلمى:

سوى رَبَعٍ لم يأتِ فيه مخافةً … ولا رهقاً من عابد متهود

فالمتهود: المتقرب، والتهود: العمل الصالح (2).

-4 من الهوادة، وهي المودة، فكأنهم سموا بذلك؛ لمودة بعضهم بعضاً.

 

‌‌المصدر:رسائل في الأديان والفرق والمذاهب، لمحمد الحمد ص 63، 64

--------------------------------------------

(1) [13])) ((لسان العرب)) (3/ 439)

(2) ([14]) ((لسان العرب)) (3/ 349)
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: নামকরণের কারণ:

ইহুদি ধর্মকে ‘ইয়াহুদ’ (ইহুদি) এর দিকে সম্বন্ধ করে এই নামকরণ করা হয়েছে। ইহুদিদের এই নামে নামকরণের কারণ একাধিক; এ বিষয়ে যেসব মতামত বর্ণিত হয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

-১. তাদের ইয়াকুবের পুত্র ইয়াহুদার দিকে সম্বন্ধ করে ‘ইয়াহুদ’ বলা হয়, যাঁর বংশধারায় বনী ইসরাঈলরা অন্তর্ভুক্ত এবং যাদের নিকট মুসা (আলাইহিস সালাম) প্রেরিত হয়েছিলেন। আরবরা (হিব্রু নামের) ‘যাল’ বর্ণকে ‘দাল’ বর্ণে রূপান্তরিত করেছে (ফলে ইয়াহুযা থেকে ইয়াহুদা বা ইহুদি হয়েছে)।

-২. এটি ‘হাওদ’ শব্দ থেকে নির্গত, যার অর্থ হলো তওবা এবং ফিরে আসা। এটি মুসা (আলাইহিস সালাম)-এর তাঁর রবের উদ্দেশ্যে করা উক্তির সাথে সম্পর্কিত: "নিশ্চয়ই আমরা আপনার দিকে ফিরে এসেছি (তওবা করেছি)" [আল-আরাফ: ১৫৬]। অর্থাৎ: হে আমাদের রব! আমরা তওবা করেছি এবং আপনার নিকট ফিরে এসেছি। ইবনে মানযুর বলেছেন: ‘হাওদ’ অর্থ তওবা; ‘হাদা ইয়াহুদু হাওদান’ এবং ‘তাহাওয়াদা’ অর্থ সে তওবা করেছে এবং সত্যের দিকে ফিরে এসেছে। সুতরাং সে হলো ‘হা-ইদ’ (তওবাকারী) এবং বহুবচনে ‘হুদ’। যেমন ‘হা-ইক’ থেকে ‘হুক’ এবং ‘বাযিল’ থেকে ‘বুযল’ শব্দ গঠিত হয় (১)।

-৩. নৈকট্য লাভ এবং নেক আমলের দিকে সম্বন্ধ করে এই নামকরণ করা হয়েছে। যুহাইর বিন আবি সুলমা বলেছেন:

বসতভিটার চিহ্ন ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই, যেখানে কোনো উপাসনাপ্রয়াসী ইবাদতকারীর পক্ষ থেকে কোনো ভয় বা ক্লান্তি পরিলক্ষিত হয় না।

এখানে ‘মুতাহাওয়িদ’ অর্থ হলো নৈকট্য অন্বেষণকারী এবং ‘তাহাওয়ুদ’ অর্থ হলো নেক আমল (২)।

-৪. এটি ‘হাওয়াদাহ’ শব্দ থেকে এসেছে, যার অর্থ হলো সম্প্রীতি বা ভালোবাসা। যেন তাদের একে অপরের প্রতি গভীর ভালোবাসার কারণেই তাদের এই নামে অভিহিত করা হয়েছে।

 

‌উৎস: রাসাইল ফিল আদইয়ান ওয়াল ফিরাক ওয়াল মাযাহিব, মুহাম্মাদ আল-হামাদ, পৃষ্ঠা ৬৩, ৬৪

--------------------------------------------

(১) লিসানুল আরব (৩/৪৩৯)

(২) (২) লিসানুল আরব (৩/৩৪৯)
(খণ্ড: ١) মাওসুআতুল মিলাল ওয়াদ আদিয়ান (পৃষ্ঠা: ٢٣)
‌‌المبحث الثالث: أسماء اليهود:

لليهود عدة أسماء منها:

-1 اليهود.

-2 بنو إسرائيل: وإسرائيل لقب يعقوب بن إسحاق بن إبراهيم عليهم السلام.

قال ابن عباس رضي الله عنهما: معناه: (عبد الله).

لأن إسرا بمعنى عبد، وإيل: اسم الله. أي: أنه مركب من كلمتين: إسرا، وإيل، كما يقولون: بيت إيل (1).

-3 الذين هادوا: كما قال عز وجل: إِنَّ الَّذِينَ آمَنُواْ وَالَّذِينَ هَادُواْ وَالنَّصَارَى وَالصَّابِئِينَ [البقرة: 62].

وقال: إِنَّا أَنزَلْنَا التَّوْرَاةَ فِيهَا هُدًى وَنُورٌ يَحْكُمُ بِهَا النَّبِيُّونَ الَّذِينَ أَسْلَمُواْ لِلَّذِينَ هَادُواْ [المائدة: 44].

-4 أهل الكتاب: إشارة إلى اسمهم المتأخر خاصة بعد ظهور عيسى عليه السلام، وتميزهم عن أتباعه النصارى.

ولذلك يطلق هذا الاسم عليهم وعلى النصارى؛ إشارة إلى أن الله أنزل عليهم كتاباً من السماء، وهو التوراة على موسى، والإنجيل على عيسى عليهما السلام.

وعلى أية حال فاسم اليهود أشمل من بني إسرائيل؛ لأنه يطلق على الذين اعتنقوا الديانة سواء كانوا من بني إسرائيل أو من غيرهم.

في حين أن بني إسرائيل وهم ذرية يعقوب عليه السلام قد يكون منهم اليهودي، أو النصراني، أو المسلم، أو سواهم.

 

‌‌المصدر:رسائل في الأديان والفرق والمذاهب، لمحمد الحمد ص 64، 65

--------------------------------------------

(1) انظر ((التحرير والتنوير)) لابن عاشور (1/ 450).
‌‌তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ইহুদিদের নামসমূহ:

ইহুদিদের বেশ কিছু নাম রয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

-১ ইহুদি।

-২ বনী ইসরাঈল: আর ইসরাঈল হলো ইয়াকুব বিন ইসহাক বিন ইবরাহীম (আলাইহিমুস সালাম)-এর উপাধি।

ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন: এর অর্থ হলো: (আল্লাহর বান্দা)।

কারণ 'ইসরা' অর্থ হলো বান্দা, এবং 'ঈল' হলো আল্লাহর নাম। অর্থাৎ এটি দুটি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত: 'ইসরা' এবং 'ঈল', যেমন তারা বলে থাকে: বাইত-ঈল (১)।

-৩ আল্লাযীনা হাদূ (যারা ইহুদি হয়েছে): যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে এবং যারা ইহুদি হয়েছে এবং নাসারা ও সাবেয়ীরা [আল-বাকারা: ৬২]।

এবং তিনি বলেছেন: নিশ্চয়ই আমি তাওরাত নাযিল করেছি, এতে ছিল হিদায়াত ও আলো। যারা আত্মসমর্পণ করেছিল সেই নবীগণ এর মাধ্যমে ইহুদিদের জন্য ফয়সালা দিতেন [আল-মায়িদা: ৪৪]।

-৪ আহলে কিতাব (কিতাবধারী): এটি বিশেষ করে ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর আবির্ভাবের পরবর্তী সময়ের নামের দিকে ইঙ্গিত করে, যখন তাদের তাঁর অনুসারী নাসারাদের (খ্রিস্টানদের) থেকে পৃথক করার প্রয়োজন দেখা দেয়।

এজন্যই এই নামটি তাদের এবং নাসারাদের উভয়ের ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়; এটি নির্দেশ করে যে আল্লাহ তাদের নিকট আসমান থেকে কিতাব নাযিল করেছেন, যা হলো মুসা (আলাইহিস সালাম)-এর প্রতি তাওরাত এবং ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর প্রতি ইনজীল।

যাই হোক, ইহুদি নামটি বনী ইসরাঈল নামের চেয়ে অধিক ব্যাপক; কারণ এটি তাদের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় যারা এই ধর্ম গ্রহণ করেছে, তারা বনী ইসরাঈলের বংশোদ্ভূত হোক বা না হোক।

পক্ষান্তরে বনী ইসরাঈল হলো ইয়াকুব (আলাইহিস সালাম)-এর বংশধর, যাদের মধ্যে ইহুদি, নাসারা, মুসলিম বা অন্য যে কেউ থাকতে পারে।

 

‌‌উৎস:রাসাইল ফিল আদিয়ান ওয়াল ফিরাক ওয়াল মাজাহিব, মুহাম্মাদ আল-হামাদ, পৃষ্ঠা ৬৪, ৬৫

--------------------------------------------

(১) দেখুন ইবনে আশুরের ((আত-তাহরীর ওয়াত-তানবীর)) (১/ ৪৫০)।
(খণ্ড: ١) মাওসুআতুল মিলাল ওয়াদ আদিয়ান (পৃষ্ঠা: ٢٤)
‌‌المطلب الأول: النشأة:

يُعَدُّ الخليل إبراهيم عليه السلام الأب المشترك للعرب، واليهود، والنصارى. والخليل هو إبراهيم بن تارِخ بن ناحور بن ساروغ بن راغو بن فالغ بن عابر ابن شالخ بن أَرْفَخْشَذ بن سام بن نوح عليه السلام (1).

اختلف في مكان ولادة الخليل عليه السلام.

قال ابن كثير: عن ابن عباس رضي الله عنهما قال: (ولد إبراهيم بغُوطة دمشق، في قرية يقال لها: برزة، في جبل يقال له: قاسيون).ثم قال: والصحيح أنه ولد ببابل (2).

وتذكر كتب التواريخ أن إبراهيم عليه السلام تزوج سارة، وكانت عاقراً لا تلد، وأن تارخ انطلق بابنه إبراهيم وامرأته سارة وابن أخيه لوط بن هاران فخرج بهم من أرض الكلدانيين إلى أرض الكنعانيين، أي: من العراق إلى بيت المقدس فلسطين.

وقد حصل له من البلاء، والجهاد في سبيل الله ما يطول ذكره.

ولما وصل إلى بيت المقدس، ومكث فيها عشر سنين قالت له سارة: إن الرب حرمني الولد؛ فادخل على أَمَتي هذه - تعني هاجر -لعل الله يرزقنا منها ولداً.

فلما وهبتها له دخل بها إبراهيمُ عليه السلام فحملت ووضعت إسماعيل عليه السلام، وكان للخليل حينئذ ست وثمانون سنة.

ثم أوحى الله إلى إبراهيم يبشره بإسحاق من سارة، فخر له ساجداً؛ فولد له إسحاق بعد إسماعيل بثلاث عشرة سنة، فحمد الله إبراهيم كما قال عز وجل عنه: الْحَمْدُ لِلّهِ الَّذِي وَهَبَ لِي عَلَى الْكِبَرِ إِسْمَاعِيلَ وَإِسْحَقَ إِنَّ رَبِّي لَسَمِيعُ الدُّعَاء [إبراهيم: 39].

ثم انتقل بعد ذلك إبراهيم من أرض كنعان بابنه إسماعيل إلى واد غير ذي زرع عند موقع البيت فيما عرف باسم مكة.

وكان ذلك بسبب أمر الله عز وجل، وقيل: بسبب غيرة سارة عليها السلام.

ويقال: إن إسماعيل كان إذ ذاك رضيعاً؛ فلما تركه وأُمَّه هناك، وولى ظهره عنهما قامت إليه هاجر، وتعلقت بثيابه، وقالت: يا إبراهيم أين تذهب وتدعنا ههنا وليس معنا ما يكفينا؟

فلم يجبها، فلما ألحت عليه وهو لا يجيبها، قالت: آلله أمرك بهذا؟ قال: نعم. قالت: فإذاً لا يضيعنا (3).

جاء في (صحيح البخاري) عن ابن عباس رضي الله عنهما ((أول ما اتخذ النساء المنطق من قبل أم إسماعيل اتخذت منطقاً، لتعفي أثرها على سارة، ثم جاء بها إبراهيم وبابنها إسماعيل وهي ترضعه حتى وضعهما عند البيت، عند دوحة فوق زمزم في أعلى المسجد، وليس بمكة يومئذ أحد، وليس بها ماء، فوضعهما هنالك، ووضع عندهما جراباً فيه تمر وسقاء فيه ماء، ثم قفَّى إبراهيم منطلقاً، فتبعته أم إسماعيل، فقالت: يا إبراهيم أين تذهب وتتركنا بهذا الوادي الذي ليس فيه إنس ولا شيء؟ فقالت له ذلك مراراً، وجعل لا يلتفت إليها، فقالت له: آلله الذي أمرك بهذا؟ قال: نعم. قالت: إذاً لا يضيعنا. ثم رجعت، فانطلق إبراهيم حتى إذا كان عند الثنية حيث لا يرونه استقبل بوجهه البيت، ثم دعا بهؤلاء الكلمات ورفع يديه فقال: رَّبَّنَا إِنِّي أَسْكَنتُ مِن ذُرِّيَّتِي بِوَادٍ غَيْرِ ذِي زَرْعٍ حتى بلغ يَشْكُرُونَ [إبراهيم37:].

--------------------------------------------

(1) انظر ((البداية والنهاية)) لابن كثير (1/ 324)

(2) انظر ((البداية والنهاية)) (1/ 325).

(3) ([18]) انظر ((البداية والنهاية)) (1/ 356).
‌‌প্রথম পরিচ্ছেদ: উদ্ভব:

খলিল ইবরাহিম আলাইহিস সালাম আরব, ইহুদি ও নাসারাদের অভিন্ন পিতা হিসেবে বিবেচিত হন। আর খলিল হলেন ইবরাহিম ইবনে তারিখ ইবনে নাহুর ইবনে সারুগ ইবনে রাগু ইবনে ফালিগ ইবনে আবির ইবনে শালিহ ইবনে আরফাকশাদ ইবনে সাম ইবনে নুহ আলাইহিস সালাম (১)।

খলিল আলাইহিস সালামের জন্মস্থান নিয়ে মতভেদ রয়েছে।

ইবনে কাসির বলেন: ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: (ইবরাহিম দামেস্কের গুতায় ‘বারজাহ’ নামক গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন, যা ‘কাসিউন’ নামক পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত)। অতঃপর তিনি বলেন: সঠিক কথা হলো তিনি বাবেলে জন্মগ্রহণ করেছেন (২)।

ইতিহাস গ্রন্থসমূহে উল্লেখ রয়েছে যে, ইবরাহিম আলাইহিস সালাম সারাহকে বিবাহ করেন, যিনি ছিলেন বন্ধ্যা এবং তাঁর কোনো সন্তান হতো না। তারিখ তাঁর পুত্র ইবরাহিম, স্ত্রী সারাহ এবং তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্র লুত ইবনে হারানকে নিয়ে ক্যালদীয়দের ভূমি থেকে কেনানীয়দের ভূমির উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন, অর্থাৎ ইরাক থেকে ফিলিস্তিনের বায়তুল মুকাদ্দাসে।

আল্লাহর পথে তাঁর যে পরীক্ষা এবং জিহাদ সংগঠিত হয়েছে তা সবিস্তারে বর্ণনা করতে গেলে দীর্ঘ হবে।

যখন তিনি বায়তুল মুকাদ্দাসে পৌঁছালেন এবং সেখানে দশ বছর অবস্থান করলেন, তখন সারাহ তাঁকে বললেন: নিশ্চয়ই প্রভু আমাকে সন্তান থেকে বঞ্চিত করেছেন; সুতরাং আপনি আমার এই দাসীর কাছে—অর্থাৎ হাজারের কাছে—গমন করুন, হতে পারে আল্লাহ তাঁর মাধ্যমে আমাদের সন্তান দান করবেন।

যখন তিনি তাঁকে ইবরাহিমের নিকট অর্পণ করলেন, তখন ইবরাহিম আলাইহিস সালাম তাঁর সাথে মিলিত হলেন এবং তিনি গর্ভবতী হয়ে ইসমাইল আলাইহিস সালামকে প্রসব করলেন। সে সময় খলিলের বয়স ছিল ছিআশি বছর।

অতঃপর আল্লাহ ইবরাহিমের প্রতি ওহি অবতীর্ণ করে সারাহর গর্ভ থেকে ইসহাকের সুসংবাদ দিলেন, তখন তিনি সিজদায় লুটিয়ে পড়লেন। ইসমাইলের জন্মের তেরো বছর পর ইসহাক জন্মগ্রহণ করেন। তখন ইবরাহিম আল্লাহর প্রশংসা করেন যেমনটি মহান আল্লাহ তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: সকল প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাকে বার্ধক্যে ইসমাইল ও ইসহাককে দান করেছেন, নিশ্চয়ই আমার রব প্রার্থনা শ্রবণকারী। [সুরা ইবরাহিম: ৩৯]।

এরপর ইবরাহিম কেনান ভূমি থেকে তাঁর পুত্র ইসমাইলকে নিয়ে মক্কা নামে পরিচিত কা’বা ঘরের স্থানে এক শস্যহীন উপত্যকায় চলে আসেন।

আর তা ছিল মহান আল্লাহর নির্দেশে, আবার কেউ কেউ বলেন: সারাহ আলাইহাস সালামের ঈর্ষার কারণে।

বলা হয় যে, ইসমাইল তখন দুগ্ধপোষ্য শিশু ছিলেন। যখন তিনি তাকে এবং তার মাকে সেখানে রেখে প্রস্থান করছিলেন, তখন হাজেরা উঠে দাঁড়িয়ে তাঁর কাপড় ধরলেন এবং বললেন: হে ইবরাহিম! আপনি আমাদের কোথায় রেখে যাচ্ছেন যেখানে আমাদের জন্য পর্যাপ্ত কিছুই নেই?

তিনি কোনো উত্তর দিলেন না। যখন হাজেরা পীড়াপীড়ি করলেন এবং তিনি কোনো উত্তর দিচ্ছিলেন না, তখন তিনি বললেন: আল্লাহ কি আপনাকে এর নির্দেশ দিয়েছেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ। হাজেরা বললেন: তাহলে তিনি আমাদের ধ্বংস করবেন না (৩)।

‘সহিহ বুখারি’তে ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত হয়েছে যে: ((নারীদের মধ্যে কোমরবন্ধের ব্যবহার ইসমাইলের মায়ের পক্ষ থেকেই প্রথম শুরু হয়। তিনি সারাহর থেকে নিজের পদচিহ্ন আড়াল করার জন্য কোমরবন্ধ ব্যবহার করেছিলেন। অতঃপর ইবরাহিম তাঁকে এবং তাঁর শিশু পুত্র ইসমাইলকে নিয়ে আসলেন—সে সময় তিনি শিশুকে দুধ পান করাচ্ছিলেন—অবশেষে তিনি তাঁদের বাইতুল্লাহর নিকট মসজিদের উপরিভাগে যমযমের উপরে একটি বড় গাছের নিচে রেখে দিলেন। তখন মক্কায় কোনো জনমানুষ ছিল না এবং সেখানে পানিও ছিল না। তিনি তাঁদের সেখানেই রেখে দিলেন এবং তাঁদের কাছে একটি চামড়ার থলিতে কিছু খেজুর ও একটি মশক ভর্তি পানি রেখে দিলেন। এরপর ইবরাহিম প্রস্থান করতে লাগলেন, তখন ইসমাইলের মা তাঁর পিছু পিছু আসলেন এবং বললেন: হে ইবরাহিম! আপনি আমাদের এমন এক উপত্যকায় যেখানে কোনো মানুষ বা অন্য কিছু নেই, সেখানে রেখে কোথায় যাচ্ছেন? তিনি বারবার তাঁকে এ কথা বললেন, কিন্তু তিনি তাঁর দিকে ফিরে তাকাচ্ছিলেন না। তখন তিনি তাঁকে বললেন: আল্লাহ কি আপনাকে এর নির্দেশ দিয়েছেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ। তিনি বললেন: তাহলে তিনি আমাদের ধ্বংস করবেন না। এরপর তিনি ফিরে আসলেন এবং ইবরাহিম চলে গেলেন। যখন তিনি পাহাড়ের বাঁকে পৌঁছালেন যেখান থেকে তাঁরা তাঁকে আর দেখতে পাচ্ছিল না, তখন তিনি কা’বার দিকে মুখ করলেন এবং তাঁর হাত দুটি উত্তোলন করে এই কথাগুলো বলে দোয়া করলেন: হে আমাদের প্রতিপালক! আমি আমার বংশধরদের এক শস্যহীন উপত্যকায় বসবাস করালাম... ‘যাতে তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে’ পর্যন্ত। [সুরা ইবরাহিম: ৩৭]))।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ইবনে কাসিরের ‘আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া’ (১/৩২৪)

(২) দেখুন: ‘আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া’ (১/৩২৫)।

(৩) ([১৮]) দেখুন: ‘আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া’ (১/৩৫৬)।
(খণ্ড: ١) মাওসুআতুল মিলাল ওয়াদ আদিয়ান (পৃষ্ঠা: ٢٥)
وجعلت أم إسماعيل ترضع إسماعيل، وتشرب من ذلك الماء حتى إذا نفد ما في السقاء عطشت، وعطش ابنها، وجعلت تنظر إليه يتلوى- أو قال: يتلبط - فانْطَلَقَتْ؛ كراهية أن تنظر إليه، فوجدت الصفا أقرب جبل في الأرض يليها، فقامت عليه، ثم استقبلت الوادي تنظر هل ترى أحداً فلم تر أحداً، فهبطت من الصفا حتى إذا بلغت الوادي رفعت طرف درعها، ثم سعت سعي الإنسان المجهود حتى جاوزت الوادي، ثم أتت المروة، فقامت عليها، ونظرت هل ترى أحداً، فلم تر أحداً، ففعلت ذلك سبع مرات.

قال ابن عباس: قال النبي: فذلك سعي الناس بينهما.

فلما أشرفت على المروة سمعت صوتاً، فقالت: صه؛ تريد نفسها، ثم تسمعت فسمعت أيضا فقالت: قد أَسْمَعْتَ إن كان عندك غواث. فإذا هي بالملك عند موضع زمزم، فبحث بِعَقِبِه- أو قال بجناحه- حتى ظهر الماء، فجعلت تحوضه، وتقول بيدها هكذا، وجعلت تغرف من الماء في سقائها، وهو يفور بعد ما تغرف، قال ابن عباس: قال النبي صلى الله عليه وسلم: يرحم الله أم إسماعيل لو تركت زمزم - أو قال: لو لم تغرف من الماء- لكانت زمزم عيناً معيناً.

قال: فشربت، وأرضعت ولدها، فقال لها الملك: لا تخافوا الضيعة؛ فإن ها هنا بيت الله يبنيه هذا الغلام

وأبوه، وإن الله لا يضيع أهله.

وكان البيت مرتفعاً من الأرض كالرابية تأتيه السيول؛ فتأخذ عن يمينه وشماله، فكانت كذلك حتى مرت بهم رفقة من جُرْهم- أو أهل بيت من جرهم- مقبلين من طريق كداء، فنزلوا في أسفل مكة، فرأوا طائراً عائفاً، فقالوا: إن هذا الطائر ليدور على ماء، لَعَهْدُنا بهذا الوادي وما فيه ماء. فأرسلوا جرياً أو جريين فإذا هم بالماء، فرجعوا، فأخبروهم بالماء، فأقبلوا.

قال: وأم إسماعيل عند الماء، فقالوا: أتأذنين لنا أن ننزل عندك؟ فقالت: نعم، ولكن لا حق لكم في الماء.

قالوا: نعم. قال ابن عباس: قال النبي: فألفى ذلك أم إسماعيل، وهي تحب الأنس.

فنزلوا وأرسلوا إلى أهليهم، فنزلوا معهم حتى إذا كان بها أهل أبيات منهم، وشبَّ الغلام، وتعلم العربية منهم، وأنْفَسهم وأعجبهم حين شبَّ، فلما أدرك زوَّجوه امرأة منهم، وماتت أم إسماعيل، فجاء إبراهيم بعد ما تزوج إسماعيل يطالع تركته، فلم يجد إسماعيل، فسأل امرأته عنه، فقالت: خرج يبتغي لنا، ثم سألها عن عيشهم وهيئتهم، فقالت: نحن بِشَرٍّ، نحن في ضيق وشدة. فشكت إليه.

قال: فإذا جاء زوجك فاقرئي عليه السلام، وقولي له: يغيِّر عتبة بابه.

فلما جاء إسماعيل كأنه آنس شيئاً، فقال: هل جاءكم من أحد؟ قالت: نعم جاءنا شيخ كذا وكذا، فسألنا عنك، فأخبرته، وسألني كيف عيشنا؟ فأخبرته أنَّا في جهد وشدة.

قال: فهل أوصاك بشيء؟ قالت: نعم أمرني أن أقرأ عليك السلام، ويقول: غيِّر عتبةَ بابك. قال: ذاك أبي، وقد أمرني أن أفارقك؛ الحقي بأهلك. فطلَّقها، وتزوَّج منهم أخرى، فلبث عنهم إبراهيم ما شاء الله ثم أتاهم بعد، فلم يجده فدخل على امرأته، فسألها عنه، فقالت: خرج يبتغي لنا.

قال: كيف أنتم؟ وسألها عن عيشهم وهيئتهم، فقالت: نحن بخير وسعة. وأثنت على الله، فقال: ما طعامكم؟ قالت: اللحم. قال: فما شرابكم؟ قالت: الماء. قال: اللهم بارك لهم في اللحم والماء.

قال النبي: ولم يكن لهم يومئذ حَبٌّ، ولو كان لهم دعا لهم فيه.

قال: فهما لا يخلو عليهما أحد بغير مكة إلا لم يوافقاه.

قال: فإذا جاء زوجك فاقرئي عليه السلام، ومُرِيه يثبِّت عتبة بابه.

فلما جاء إسماعيل قال: هل أتاكم من أحد؟ قالت: نعم أتانا شيخ حسن الهيئة، وأثنت عليه، فسألني عنك، فأخبرته، فسألني كيف عيشنا؟ فأخبرته أنا بخير، قال: فأوصاك بشيء؟ قالت: نعم هو يقرأ عليك السلام،
ইসমাইলের মা ইসমাইলকে দুধ পান করাতে লাগলেন এবং সেই পানি পান করতে থাকলেন, যতক্ষণ না মশকের পানি ফুরিয়ে গেল। তখন তিনি তৃষ্ণার্ত হলেন এবং তাঁর পুত্রও তৃষ্ণার্ত হলো। তিনি তাঁর দিকে তাকাচ্ছিলেন এবং দেখছিলেন যে সে (তৃষ্ণায়) ছটফট করছে—অথবা বললেন: মাটিতে গড়াগড়ি দিচ্ছে। তিনি সেখান থেকে চলে গেলেন, কারণ তাঁর কষ্ট হচ্ছিল তাঁর (পুত্রের) দিকে তাকাতে। তিনি সাফা পাহাড়কে তাঁর নিকটবর্তী সবচেয়ে কাছের পাহাড় হিসেবে পেলেন, অতঃপর তিনি তার ওপর দাঁড়ালেন। তারপর তিনি উপত্যকার দিকে মুখ করে তাকালেন যে কাউকে দেখতে পান কি না, কিন্তু তিনি কাউকে দেখতে পেলেন না। তখন তিনি সাফা থেকে নামলেন এবং যখন উপত্যকায় পৌঁছালেন, তখন তাঁর কামিজের এক প্রান্ত তুলে ধরলেন এবং একজন অত্যন্ত ক্লান্ত মানুষের মতো দৌড়ালেন যতক্ষণ না উপত্যকা পার হলেন। তারপর তিনি মারওয়া পাহাড়ে আসলেন এবং তার ওপর দাঁড়ালেন এবং তাকালেন কাউকে দেখা যায় কি না, কিন্তু তিনি কাউকে দেখতে পেলেন না। এভাবে তিনি সাতবার করলেন।

ইবনে আব্বাস বলেন: নবী বলেছেন: এটিই হলো এই দুই পাহাড়ের মাঝে মানুষের সাঈ (দৌড়ানো)।

যখন তিনি মারওয়া পাহাড়ের ওপর উঠলেন, তখন একটি শব্দ শুনতে পেলেন। তিনি নিজেকে বললেন: চুপ করো। তারপর তিনি কান পাতলেন এবং আবারও সেই শব্দ শুনতে পেলেন। তখন তিনি বললেন: তুমি তো আমাকে শুনিয়েছ, যদি তোমার কাছে কোনো সাহায্যকারী থাকে (তবে সাহায্য করো)। তখন তিনি যমযমের স্থানে একজন ফেরেশতাকে দেখতে পেলেন। তিনি তাঁর পায়ের গোড়ালি দিয়ে—অথবা বললেন তাঁর ডানা দিয়ে—মাটি খুঁড়লেন, ফলে পানি বের হয়ে এল। তিনি (ইসমাইলের মা) তার চারপাশে বাঁধ দিতে লাগলেন এবং নিজের হাত দিয়ে এভাবে ইশারা করতে লাগলেন। তিনি তাঁর মশকে পানি ভরতে লাগলেন, আর পানি তোলার পরও তা উপচে উঠতে লাগল। ইবনে আব্বাস বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আল্লাহ ইসমাইলের মায়ের ওপর রহম করুন, যদি তিনি যমযমকে ছেড়ে দিতেন—অথবা বললেন: যদি তিনি পানি হাত দিয়ে আঁজলা ভরে না তুলতেন—তবে যমযম একটি প্রবহমান ঝরনা হতো।

তিনি বলেন: তারপর তিনি পানি পান করলেন এবং তাঁর সন্তানকে দুধ পান করালেন। তখন ফেরেশতা তাঁকে বললেন: তোমরা ধ্বংস হওয়ার ভয় করো না; কারণ এখানেই আল্লাহর ঘর রয়েছে যা এই বালক এবং তাঁর পিতা নির্মাণ করবেন, আর নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর আপনজনদের ধ্বংস করেন না।

আল্লাহর ঘরটি যমীন থেকে একটি টিলার মতো উঁচু ছিল। যখন প্লাবন আসত, তখন তা তার ডানে ও বামে প্রবাহিত হতো। এভাবে চলতে থাকল যতক্ষণ না জুরহুম গোত্রের একটি কাফেলা—অথবা জুরহুমের একটি পরিবার—কাদা নামক পথ দিয়ে আসার সময় তাদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করল। তারা মক্কার নিচু এলাকায় অবতরণ করল। সেখানে তারা একটি পাখি দেখতে পেল যা পানির ওপর চক্কর দিচ্ছিল। তারা বলল: এই পাখিটি নিশ্চয়ই পানির ওপর চক্কর দিচ্ছে, অথচ আমাদের জানামতে এই উপত্যকায় কোনো পানি ছিল না। তারপর তারা একজন বা দুজন দ্রুতগামী লোক পাঠাল। তারা সেখানে গিয়ে পানি দেখতে পেল। তারা ফিরে এসে তাদের পানির সংবাদ দিল, তখন তারা এগিয়ে এল।

তিনি বলেন: ইসমাইলের মা তখন পানির কাছে ছিলেন। তারা বলল: আপনি কি আমাদের আপনার কাছে অবস্থান করার অনুমতি দেবেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ, তবে এই পানিতে তোমাদের কোনো মালিকানা থাকবে না। তারা বলল: ঠিক আছে। ইবনে আব্বাস বলেন: নবী বলেছেন: এটি ইসমাইলের মায়ের জন্য একটি সুযোগ হয়ে এল, কারণ তিনি মানুষের সাহচর্য পছন্দ করতেন।

তারা সেখানে বসতি স্থাপন করল এবং তাদের পরিবারবর্গের কাছে সংবাদ পাঠাল। ফলে তারাও এসে তাদের সাথে বসবাস শুরু করল। একপর্যায়ে সেখানে তাদের কয়েকটি পরিবার হয়ে গেল। বালকটি বড় হলেন এবং তাদের কাছ থেকে আরবি শিখলেন। যখন তিনি যুবক হলেন, তখন তিনি তাদের কাছে অত্যন্ত প্রিয় ও প্রশংসিত হলেন। তিনি প্রাপ্তবয়স্ক হলে তারা তাদেরই এক নারীর সাথে তাঁর বিয়ে দিলেন। এরপর ইসমাইলের মা ইন্তেকাল করলেন। ইসমাইলের বিয়ের পর ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম তাঁর ফেলে আসা পরিজনদের অবস্থা দেখতে আসলেন। তিনি ইসমাইলকে পেলেন না। তিনি তাঁর স্ত্রীর কাছে তাঁর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। স্ত্রী বললেন: তিনি আমাদের জন্য জীবিকার সন্ধানে বের হয়েছেন। তারপর তিনি তাদের জীবনযাপন ও অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি বললেন: আমরা খুব খারাপ অবস্থায় আছি, আমরা অনটন ও কষ্টের মধ্যে আছি। তিনি তাঁর কাছে অভিযোগ করলেন।

তিনি বললেন: তোমার স্বামী যখন আসবে, তখন তাকে আমার সালাম জানিও এবং তাকে বোলো যেন সে তার দরজার চৌকাঠ পরিবর্তন করে।

ইসমাইল যখন আসলেন, তখন তিনি যেন কিছু অনুভব করতে পারলেন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন: তোমাদের কাছে কি কেউ এসেছিল? স্ত্রী বললেন: হ্যাঁ, আমাদের কাছে এমন এমন আকৃতির একজন বৃদ্ধ লোক এসেছিলেন। তিনি আমাদের কাছে আপনার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছেন, আমি তাঁকে জানিয়েছি। তিনি আরও জিজ্ঞাসা করেছেন আমাদের জীবনযাপন কেমন কাটছে? আমি তাঁকে জানিয়েছি যে আমরা অনেক কষ্টে ও সংকটে আছি।

তিনি বললেন: তিনি কি তোমাকে কোনো উপদেশ দিয়েছেন? স্ত্রী বললেন: হ্যাঁ, তিনি আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন আমি আপনাকে সালাম জানাই এবং তিনি বলেছেন: আপনি যেন আপনার দরজার চৌকাঠ পরিবর্তন করেন। ইসমাইল বললেন: তিনি আমার পিতা এবং তিনি আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন আমি তোমাকে ত্যাগ করি; তুমি তোমার পরিবারের কাছে চলে যাও। অতঃপর তিনি তাঁকে তালাক দিলেন এবং তাদের মধ্য থেকেই অন্য এক নারীকে বিয়ে করলেন। ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম তাদের থেকে দূরে থাকলেন যতদিন আল্লাহ চাইলেন। এরপর তিনি আবারও আসলেন কিন্তু তাঁকে পেলেন না। তিনি তাঁর স্ত্রীর ঘরে প্রবেশ করলেন এবং তাঁর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি বললেন: তিনি আমাদের জন্য জীবিকার সন্ধানে বের হয়েছেন।

তিনি জিজ্ঞাসা করলেন: তোমরা কেমন আছো? এবং তাদের জীবনযাপন ও অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি বললেন: আমরা ভালো ও সচ্ছল অবস্থায় আছি। আর তিনি আল্লাহর প্রশংসা করলেন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন: তোমাদের খাবার কী? তিনি বললেন: গোশত। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন: তোমাদের পানীয় কী? তিনি বললেন: পানি। তিনি দোয়া করলেন: হে আল্লাহ, তাদের গোশত ও পানিতে বরকত দান করুন।

নবী বললেন: সে সময় তাদের কাছে কোনো খাদ্যশস্য ছিল না, যদি থাকত তবে তিনি তার জন্যও দোয়া করতেন।

তিনি বলেন: মক্কা ছাড়া অন্য কোথাও কেউ যদি শুধু এই দুটির (গোশত ও পানি) ওপর নির্ভর করে থাকে, তবে তা তার স্বাস্থ্যের অনুকূল হয় না।

তিনি বললেন: যখন তোমার স্বামী আসবে, তাকে সালাম জানিও এবং তাকে নির্দেশ দিয়ো যেন সে তার দরজার চৌকাঠ সুদৃঢ় রাখে।

ইসমাইল যখন আসলেন, তখন তিনি বললেন: তোমাদের কাছে কি কেউ এসেছিল? স্ত্রী বললেন: হ্যাঁ, আমাদের কাছে সুন্দর অবয়বের একজন বৃদ্ধ লোক এসেছিলেন—এবং তিনি তাঁর প্রশংসা করলেন। তিনি আপনার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন, আমি তাঁকে জানালাম। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন আমাদের জীবনযাপন কেমন? আমি তাঁকে জানালাম যে আমরা ভালো আছি। তিনি বললেন: তিনি কি তোমাকে কোনো অসিয়ত করেছেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ, তিনি আপনাকে সালাম জানিয়েছেন।
(খণ্ড: ١) মাওসুআতুল মিলাল ওয়াদ আদিয়ান (পৃষ্ঠা: ٢٦)
ويأمرك أن تثبِّت عتبة بابك. قال: ذاك أبي وأنت العتبة، أمرني أن أمسكك. ثم لبث عنهم ما شاء الله، ثم جاء بعد ذلك وإسماعيل يبري نبلاً له تحت دوحة قريباً من زمزم، فلما رآه قام إليه، فصنعا كما يصنع الوالد بالولد والولد بالوالد، ثم قال: يا إسماعيل إن الله أمرني بأمر. قال: فاصنع ما أمرك ربك. قال: وتعينني؟ قال: وأعينك. قال: فإن الله أمرني أن أبني ها هنا بيتاً. وأشار إلى أكمة مرتفعة على ما حولها، قال: فعند ذلك رفعا القواعد من البيت، فجعل إسماعيل يأتي بالحجارة، وإبراهيم يبني، حتى إذا ارتفع البناء جاء بهذا الحجر، فوضعه له، فقام عليه وهو يبني، وإسماعيل يناوله الحجارة، وهما يقولان: رَبَّنَا تَقَبَّلْ مِنَّا إِنَّكَ أَنتَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ [البقرة] 127: قال: فجعلا يبنيان حتى يدورا حول البيت وهما يقولان: ربَّنَا تَقَبَّلْ مِنَّا إِنَّكَ أَنتَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ)) (1).

ثم حصل لإبراهيم ما حصل من البلاء بذبح ابنه وغير ذلك من البلايا.

وبعد أن بلغ إبراهيم عليه السلام مائة سنة رزقه الله تعالى بإسحاق.

وكان عمر سارة آنذاك تسعين سنة.

قال الله تعالى: وَبَشَّرْنَاهُ بِإِسْحَقَ نَبِيًّا مِّنَ الصَّالِحِينَ وَبَارَكْنَا عَلَيْهِ وَعَلَى إِسْحَقَ وَمِن ذُرِّيَّتِهِمَا مُحْسِنٌ وَظَالِمٌ لِّنَفْسِهِ مُبِينٌ [الصافات: 112 - 113].

قال ابن كثير: وذكر أهل الكتاب أن إسحاق لما تزوج رفقا بنت ثبوائيل في حياة أبيه كان عمره أربعين، وأنها كانت عاقراً، فدعا الله فحملت، فولدت غلامين توأمين: أولهما سمَّوه عيصو، وهو الذي تسميه العرب العيص، وهو والد الروم. والثاني خرج وهو آخذ بعقب أخيه؛ فسمَّوه يعقوب، وهو إسرائيل الذي ينسب إليه بنو إسرائيل (2).

ومما جاء في سيرة يعقوب عليه السلام أنه رحل من بيت المقدس إلى خاله لابان بأرض حران؛ فلما قدم على خاله إذا له ابنتان اسم الكبرى: لَيّا، ويقال لها: ليئة، واسم الصغرى: راحيل؛ فخطب إليه راحيل، وكانت أحسنهما وأجملهما؛ فأجابه إلى ذلك بشرط أن يرعى على غنمه سبع سنين؛ فلما مضت المدة عمل خاله لابان طعاماً، وجمع الناس عليه، وزفَّ إليه ليلاً ابنته الكبرى ليا، وكانت ضعيفة العينين، وليست بذات جمال.

فلما أصبح يعقوب، قال لخاله: لم غدرت بي وإنما خطبت إليك راحيل؟ فقال: إنه ليس من سننا أن نزوج الصغرى قبل الكبرى، فإن أحببت أختها فاعمل سبع سنين أخرى وأزوجكها؛ فعمل سبع سنين، وأدخلها عليه مع أختها، وكان ذلك سائغاً في ملتهم، ثم نسخ في شريعة التوراة، وهذا وحده دليل كافٍ على وقوع النسخ؛ لأن فعل يعقوب عليه السلام دليل على جواز هذا وإباحته؛ لأنه معصوم (3).

وبعد ذلك وهب خالُه لابان لكل واحدة من ابنتيه جارية؛ فوهب لليا جارية اسمها زلفا، وقيل: زلفة، ووهب لراحيل جارية اسمها بلها، وقيل: بلهة.

وقد جبر الله تعالى ضعفَ ليا بأن وهب لها أولاداً؛ فكان أول من ولدت ليعقوب: روبيل، ثم شمعون، ثم لاوي، ثم يهوذا.

وكانت راحيل لا تحبل؛ فوهبت ليعقوب جاريتها بلها؛ فوطئها؛ فحملت وولدت له غلاماً سمَّته دان، وحملت وولدت غلاماً ثانياً سمَّته يفثالي، وقيل: اسمه ثفيالي، أو نفتالي. فعمدت عند ذلك ليا؛ فوهبت جاريتها زلفا من يعقوب عليه السلام فولدت له جاد، وأشير، ثم حملت ليا، فولدت غلاماً خامساً وسمته أيساخر، ويقال: إنه يساكر.

ثم حملت وولدت غلاماً سادساً سمَّته زابلون، أو زوبلون، ثم حملت وولدت بنتاً سمَّتها دنيا، فصار لها سبعة من يعقوب.

--------------------------------------------

(1) رواه البخاري (3364).

(2) ((البداية والنهاية)) (1/ 447).

(3) ([21]) ((البداية والنهاية)) (1/ 449).
এবং তিনি আপনাকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন আপনি আপনার দরজার চৌকাঠটি মজবুত রাখেন। তিনি (ইসমাইল) বললেন: তিনিই আমার পিতা এবং আপনিই সেই চৌকাঠ, তিনি আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন আমি আপনাকে আমার কাছে রাখি। তারপর আল্লাহ যতদিন চাইলেন তিনি তাদের থেকে দূরে থাকলেন, এরপর তিনি আবার আসলেন। তখন ইসমাইল জমজমের নিকটে একটি বড় গাছের নিচে নিজের তীর মেরামত করছিলেন। যখন তিনি তাঁকে দেখলেন, তখন তিনি তাঁর দিকে উঠে দাঁড়ালেন। অতঃপর পিতা ও পুত্রের মধ্যে যেমন ব্যবহার হয় তারা একে অপরের সাথে তেমনই করলেন। তারপর তিনি বললেন: হে ইসমাইল! আল্লাহ আমাকে একটি কাজের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বললেন: আপনার রব আপনাকে যা নির্দেশ দিয়েছেন তা পালন করুন। তিনি বললেন: তুমি কি আমাকে সাহায্য করবে? তিনি বললেন: আমি আপনাকে সাহায্য করব। তিনি বললেন: আল্লাহ আমাকে এখানে একটি ঘর নির্মাণ করার নির্দেশ দিয়েছেন। আর তিনি তার চারপাশের চেয়ে উঁচু একটি টিলার দিকে ইশারা করলেন। তখন তারা সেই ঘরের ভিত্তি স্থাপন করলেন। ইসমাইল পাথর নিয়ে আসতেন এবং ইব্রাহিম নির্মাণ করতেন। যখন নির্মাণ কাজ উঁচুতে পৌঁছে গেল, তখন তিনি এই পাথরটি নিয়ে আসলেন এবং সেটি তাঁর জন্য রাখলেন। তিনি সেটির ওপর দাঁড়িয়ে নির্মাণ কাজ করছিলেন এবং ইসমাইল তাঁকে পাথর এগিয়ে দিচ্ছিলেন। তখন তাঁরা উভয়ে বলছিলেন: হে আমাদের রব! আমাদের পক্ষ থেকে কবুল করুন, নিশ্চয়ই আপনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ। [আল-বাকারা: ১২৭]। তিনি বলেন: তাঁরা নির্মাণ করতে থাকলেন এবং কাবার চারপাশে ঘুরতে থাকলেন আর বলতে থাকলেন: হে আমাদের রব! আমাদের পক্ষ থেকে কবুল করুন, নিশ্চয়ই আপনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ (১)।

এরপর ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম) তাঁর পুত্রকে জবাই করা সহ আরও বিভিন্ন পরীক্ষার সম্মুখীন হন।

ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের বয়স যখন একশ বছর পূর্ণ হলো, তখন মহান আল্লাহ তাঁকে ইসহাক দান করলেন।

সে সময় সারার বয়স ছিল নব্বই বছর।

মহান আল্লাহ বলেন: আর আমি তাকে সুসংবাদ দিয়েছিলাম ইসহাকের, যে ছিল একজন নবী ও সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত। আর আমি তাকে ও ইসহাককে বরকত দান করেছি; এবং তাদের উভয়ের বংশধরদের মধ্যে রয়েছে নেককার এবং রয়েছে নিজের ওপর স্পষ্ট জুলুমকারী। [আস-সাফফাত: ১১২ - ১১৩]।

ইবনে কাসির বলেন: আহলে কিতাবগণ উল্লেখ করেছেন যে, ইসহাক যখন তাঁর পিতার জীবদ্দশায় সাবুয়াইলের কন্যা রিফকাকে বিয়ে করেন, তখন তাঁর বয়স ছিল চল্লিশ বছর। তিনি বন্ধ্যা ছিলেন, পরে তিনি আল্লাহর কাছে দোয়া করলেন এবং তিনি গর্ভবতী হলেন। অতঃপর তিনি যমজ দুই পুত্র সন্তান প্রসব করলেন: তাদের প্রথমজনের নাম রাখা হয় ঈসু, যাকে আরবরা আল-ঈস বলে ডাকে, আর তিনি হলেন রোমীয়দের আদি পিতা। দ্বিতীয়জন ভূমিষ্ঠ হলেন তাঁর ভাইয়ের গোড়ালি ধরা অবস্থায়; তাই তাঁর নাম রাখা হলো ইয়াকুব, আর তিনিই হলেন ইসরাইল, যাঁর দিকে বনী ইসরাইলকে সম্বন্ধ করা হয় (২)।

ইয়াকুব আলাইহিস সালামের জীবনীতে আরও বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বায়তুল মুকাদ্দাস থেকে হাররান ভূমিতে তাঁর মামা লাবানের কাছে হিজরত করেছিলেন। তিনি যখন তাঁর মামার কাছে পৌঁছলেন, তখন তাঁর মামার দুই কন্যা ছিল। বড় কন্যার নাম লিয়া (বলা হয় লিআহ) এবং ছোট কন্যার নাম রাহিল। তিনি রাহিলকে বিয়ের প্রস্তাব দেন, কারণ তিনি তাদের মধ্যে অধিক রূপবতী ও সুন্দরী ছিলেন। তাঁর মামা এই শর্তে রাজি হলেন যে, তিনি সাত বছর তাঁর ছাগল চরাবেন। যখন নির্ধারিত সময় অতিবাহিত হলো, তখন তাঁর মামা লাবান খাবারের আয়োজন করলেন এবং লোকজনকে একত্রিত করলেন। অতঃপর রাতে তিনি তাঁর কাছে বড় কন্যা লিয়াকে পাঠিয়ে দিলেন, যাঁর চোখ দুর্বল ছিল এবং তিনি অতটা সুন্দরী ছিলেন না।

সকাল হলে ইয়াকুব তাঁর মামাকে বললেন: আপনি কেন আমার সাথে এমন প্রতারণা করলেন? আমি তো আপনার কাছে রাহিলকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলাম। তিনি বললেন: বড় কন্যার আগে ছোট কন্যাকে বিয়ে দেওয়া আমাদের রীতি নয়। তুমি যদি তাঁর বোনকেও পছন্দ করো, তবে আরও সাত বছর কাজ করো, আমি তাকেও তোমার সাথে বিয়ে দেব। অতঃপর তিনি আরও সাত বছর কাজ করলেন এবং তিনি তাঁকে তাঁর বোনের সাথে ইয়াকুবের কাছে পাঠিয়ে দিলেন। তৎকালীন শরীয়তে এটি বৈধ ছিল, পরবর্তীকালে তাওরাতের শরীয়তে তা রহিত (মানসুখ) করা হয়েছে। এটিই নাসখ বা রহিতকরণের বিধান সাব্যস্ত হওয়ার জন্য একটি যথেষ্ট দলিল; কারণ ইয়াকুব আলাইহিস সালামের এই কাজ এর বৈধতার প্রমাণ, যেহেতু তিনি নিষ্পাপ ছিলেন (৩)।

এরপর তাঁর মামা লাবান তাঁর দুই কন্যার প্রত্যেককে একজন করে দাসী উপহার দিলেন। লিয়াকে যালফা (বলা হয় যালফাহ) নামক একজন দাসী এবং রাহিলকে বিলহা (বলা হয় বিলহাহ) নামক একজন দাসী প্রদান করেন।

মহান আল্লাহ লিয়ার দুর্বলতা দূর করে তাকে সন্তান দান করলেন। ইয়াকুবের ঔরসে তার প্রথম সন্তান জন্ম নিল রুবিল, তারপর শামউন, তারপর লাভি এবং তারপর ইয়াহুদা।

রাহিলের কোনো সন্তান হচ্ছিল না; তাই তিনি ইয়াকুবকে তাঁর দাসী বিলহা দান করলেন। তিনি তাঁর সাথে মিলিত হলেন এবং তিনি গর্ভবতী হয়ে একটি পুত্র সন্তান প্রসব করলেন, যার নাম রাখলেন দান। এরপর তিনি পুনরায় গর্ভবতী হয়ে দ্বিতীয় পুত্র সন্তান প্রসব করলেন, যার নাম রাখলেন ইফশালি (বলা হয় শফিয়ালি বা নাফতালি)। তখন লিয়াও তাঁর দাসী যালফাকে ইয়াকুব আলাইহিস সালামকে দান করলেন। অতঃপর যালফা তাঁর জন্য জাদ ও আশির নামক দুই পুত্র প্রসব করলেন। এরপর লিয়া পুনরায় গর্ভবতী হলেন এবং পঞ্চম পুত্র প্রসব করলেন, যার নাম রাখলেন আইসাখার (বলা হয় ইয়াসাকার)।

অতঃপর তিনি পুনরায় গর্ভবতী হয়ে ষষ্ঠ পুত্র প্রসব করলেন এবং নাম রাখলেন যাবলুন বা যুবলুন। এরপর তিনি পুনরায় গর্ভবতী হয়ে একটি কন্যা সন্তান প্রসব করলেন যার নাম রাখলেন দুনিয়া। ফলে ইয়াকুবের ঔরসে তাঁর সাতজন সন্তান হলো।

--------------------------------------------

(১) বুখারি (৩৩৬৪) কর্তৃক বর্ণিত।

(২) আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (১/ ৪৪৭)।

(৩) ([২১]) আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (১/ ৪৪৯)।
(খণ্ড: ١) মাওসুআতুল মিলাল ওয়াদ আদিয়ান (পৃষ্ঠা: ٢٧)
ثم دعت راحيل الله تعالى وسألته أن يهب لها غلاماً من يعقوب؛ فسمع الله نداءها، وأجاب دعاءها؛ فحملت، وولدت غلاماً عظيماً شريفاً، حسناً جميلاً سمَّته يوسف.

كل هذا وهم مقيمون بأرض حران، وهو يرعى على خاله غنمه، ثم طلب يعقوب من خاله أن يأذن له بالرحيل؛ فأذن له ورحل إلى فلسطين عند أبيه إسحاق عليهما السلام. وبعد رجوعه إليها حملت زوجته راحيل؛ فولدت غلاماً وهو بنيامين إلا أنها جهدت في طلقها به جهداً شديداً، وماتت عقيبه، فدفنها يعقوب في بيت لحم (1).

وبعد ذلك مرض إسحاق، ومات عن مائة وثمانين سنة، ودفنه ابناه: العيص، ويعقوب مع أبيه الخليل عليهم السلام.

وهكذا استقر يعقوب هو وأبناؤه الأسباط الاثنا عشر في فلسطين.

ومن ذرية الأسباط يتكون نسب بني إسرائيل.

ثم حصل ما حصل بين يوسف وإخوته، وبعد ذلك دعا يوسف والده وإخوته إلى مصر، فنزحوا من فلسطين، ومات يعقوب في مصر، فذهب به يوسف وإخوته وأكابر أهل مصر إلى فلسطين، فلما وصلوا حبرون دفنوه في المغارة التي اشتراها الخليل. ثم رجعوا إلى مصر، وعزى إخوة يوسفَ يوسفَ، وترققوا له؛ فأكرمهم، وأحسن منقلبهم؛ فأقاموا بمصر، ثم حضرت يوسف الوفاة؛ فأوصى أن يحمل معهم إذا خرجوا من مصر؛ فيدفن عند آبائه، فحنطوه، ووضعوه في تابوت، فكان بمصر حتى أخرجه موسى عليه السلام فدفنه عند آبائه، كما يقول ابن كثير فيما نقله عن نصوص أهل الكتاب (2).

وبعد ذلك تناسل الأسباط، وكثروا، وأبوا أن يندمجوا مع المصريين؛ فعزلوا أنفسهم عنهم، وتواصوا فيما بينهم أن يكون لكل سبط نسله المعروف المميز عن بقية الأسباط، وذلك ليضمنوا الاحتفاظ بنسبهم؛ اعتزازاً به، وتعالياً على غيرهم، باعتبار أنهم من ذرية الأنبياء. وهذه العزة التي عاشها اليهود في مصر، مع الشعور المصاحب لهم من التعالي بنسبهم، جعل مقامهم في مصر قلقاً مضطرباً (3).

وبعد ثلاثة قرون أو تزيد اضطهدهم الفراعنةُ حكامُ مصر واستعبدوهم، فبعث الله موسى نبيًّا فيهم، ورسولاً إليهم وإلى فرعون.

وقد بيَّن لنا القرآن الكريم سيرة موسى عليه السلام مع فرعون، حيث منَّ الله على بني إسرائيل ونجَّاهم من سوء العذاب الذي كان فرعون يسومهم به، ونصرهم عليه بقيادة موسى عليه السلام حيث إنهزم فرعون وأهلكه الله بالغرق.

وكان جديراً ببني إسرائيل بعد هذا النصر أن يحمدوا الله ويطيعوه، إلا أنهم أبوا إلا الكفر والذلة والمسكنة، فآذوا موسى عليه السلام وتعنَّتوا حين أُمِرُوا أن يدخلوا فلسطين، الأرض المقدسة.

وقد أكرمهم الله وأنزل عليهم المنَّ والسلوى، ولما ذهب موسى لمناجاة ربه استضعفوا هارون، وعبدوا العجل الذهب، وتعنَّتوا على موسى بعد عودته، وقالوا له: لَن نُّؤْمِنَ لَكَ حَتَّى نَرَى اللَّهَ جَهْرَةً [البقرة:55].

ورفع الله فوقهم الطور؛ تهديداً لهم، فاستسلموا؛ خوفاً، وأعطوا مواثيقهم، ولكنهم نقضوا، واعتدوا فيالسبت؛ فمسخهم الله قردة وخنازير (4).

وتوالت عليهم الآيات والعبر، كقصة البقرة، والخسف، وغيرها، ولكن قست قلوبهم، ولم تنفعهم الآيات والعبر؛ فهي كالحجارة أو أشد قسوة.

ثم توالت بعد ذلك غطرستهم، وتبجحهم، وعنادهم، وتحريفهم، وتبديلهم مع كليم الله ومَنْ بعده من الأنبياء عليهم السلام.

--------------------------------------------

(1) ((البداية والنهاية)) (1/ 447،455)، و ((التحرير والتنوير)) (1/ 732).

(2) ((البداية والنهاية)) (1/ 504).

(3) ([24]) ((حقيقة اليهود)) (ص1).

(4) انظر ((حقيقة اليهود)) (ص3).
তারপর রাহিল মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করলেন এবং ইয়াকুবের ঔরসে একটি পুত্র সন্তান দান করার জন্য তাঁর কাছে চাইলেন; আল্লাহ তাঁর ডাক শুনলেন এবং তাঁর দোয়া কবুল করলেন; এরপর তিনি গর্ভবতী হলেন এবং ইউসুফ নামে এক মহান, সম্মানিত ও পরম রূপবান পুত্র সন্তান প্রসব করলেন।

এই সব কিছু ঘটেছিল যখন তারা হাররান ভূমিতে অবস্থান করছিলেন এবং তিনি তাঁর মামার ছাগল চরাতেন। এরপর ইয়াকুব তাঁর মামার কাছে প্রস্থানের অনুমতি চাইলেন; তিনি তাঁকে অনুমতি দিলেন এবং তিনি ফিলিস্তিনে তাঁর পিতা ইসহাক (আলাইহিমাস সালাম)-এর কাছে চলে গেলেন। সেখানে ফিরে আসার পর তাঁর স্ত্রী রাহিল গর্ভবতী হন এবং বিনয়ামিন নামে এক পুত্র সন্তান জন্ম দেন, তবে প্রসব বেদনায় তিনি অত্যন্ত কষ্ট পান এবং এর পরপরই মারা যান। ইয়াকুব তাঁকে বায়তুল লাহমে দাফন করেন (১)।

এরপর ইসহাক অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং একশত আশি বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর দুই পুত্র: ঈস এবং ইয়াকুব তাঁকে তাঁদের পিতা খলিল (আলাইহিমাস সালাম)-এর সাথে দাফন করেন।

এভাবেই ইয়াকুব এবং তাঁর বারো জন আসবাত (সন্তান ও তাঁদের বংশধর) ফিলিস্তিনে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।

এই আসবাতদের বংশধর থেকেই বনী ইসরায়েলের বংশপরম্পরা গঠিত হয়।

এরপর ইউসুফ ও তাঁর ভাইদের মধ্যে যা ঘটার তা ঘটল। এরপর ইউসুফ তাঁর পিতা ও ভাইদের মিসরে আসার আমন্ত্রণ জানালেন; ফলে তাঁরা ফিলিস্তিন থেকে স্থানান্তরিত হলেন। ইয়াকুব মিসরেই মৃত্যুবরণ করেন। এরপর ইউসুফ, তাঁর ভাইয়েরা এবং মিসরের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ তাঁকে নিয়ে ফিলিস্তিনে যান। যখন তাঁরা হিব্রুনে পৌঁছালেন, তখন তাঁকে সেই গুহায় দাফন করলেন যা খলিল (ইবরাহিম) ক্রয় করেছিলেন। এরপর তাঁরা মিসরে ফিরে আসলেন এবং ইউসুফের ভাইয়েরা তাঁকে সান্ত্বনা দিলেন ও তাঁর প্রতি বিনীত হলেন; তিনি তাঁদের সম্মান করলেন এবং তাঁদের অবস্থানের সুব্যবস্থা করলেন। এরপর ইউসুফের মৃত্যুর সময় উপস্থিত হলো; তখন তিনি অসিয়ত করলেন যেন তাঁরা যখন মিসর থেকে বের হবেন তখন তাঁকেও সাথে নিয়ে যাওয়া হয় এবং তাঁর পিতৃপুরুষদের পাশে দাফন করা হয়। তাঁরা তাঁর দেহে সুগন্ধি মাখিয়ে একটি কফিনে রাখলেন। তিনি মিসরেই ছিলেন যতক্ষণ না মূসা (আলাইহিস সালাম) তাঁকে সেখান থেকে বের করে আনেন এবং তাঁর পিতৃপুরুষদের নিকট দাফন করেন, যেমনটি ইবনে কাসির আহলে কিতাবদের বর্ণনা থেকে উদ্ধৃত করে উল্লেখ করেছেন (২)।

এরপর আসবাতদের বংশবৃদ্ধি ঘটে এবং তারা সংখ্যায় বৃদ্ধি পায়। তারা মিসরীয়দের সাথে মিশে যেতে অস্বীকার করে; ফলে তারা নিজেদের আলাদা করে রাখে এবং নিজেদের মধ্যে একে অপরকে এই উপদেশ দেয় যে, প্রত্যেক আসবাত বা গোত্র যেন তাদের নিজস্ব বংশধারা বজায় রাখে যা অন্য গোত্র থেকে স্বতন্ত্র হবে; এটি ছিল মূলত তাদের বংশের মর্যাদা রক্ষা এবং অন্যদের তুলনায় নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে, যেহেতু তারা ছিল নবীদের বংশধর। মিসরে ইহুদিদের এই আভিজাত্যবোধ এবং সেই সাথে বংশীয় শ্রেষ্ঠত্বের অনুভূতি তাদের জীবনকে সেখানে অস্থির ও অশান্ত করে তুলেছিল (৩)।

তিন শতাব্দী বা তার কিছুকাল পরে মিসরের শাসক ফেরাউনরা তাদের ওপর নির্যাতন শুরু করে এবং তাদের দাসে পরিণত করে। তখন আল্লাহ তাদের মধ্যে নবী ও রাসূল হিসেবে মূসাকে তাদের কাছে এবং ফেরাউনের কাছে প্রেরণ করেন।

পবিত্র কুরআন আমাদের কাছে ফেরাউনের সাথে মূসা (আলাইহিস সালাম)-এর জীবনী বর্ণনা করেছে; যেখানে আল্লাহ বনী ইসরায়েলের ওপর অনুগ্রহ করেছেন এবং ফেরাউন তাদের যে নিকৃষ্ট আযাব দিচ্ছিল তা থেকে তাদের রক্ষা করেছেন। মূসা (আলাইহিস সালাম)-এর নেতৃত্বে আল্লাহ তাদের ফেরাউনের ওপর বিজয় দান করেন, যেখানে ফেরাউন পরাজিত হয় এবং আল্লাহ তাকে ডুবিয়ে ধ্বংস করেন।

এই বিজয়ের পর বনী ইসরায়েলের উচিত ছিল আল্লাহর প্রশংসা করা এবং তাঁর আনুগত্য করা; কিন্তু তারা কুফরি, লাঞ্ছনা ও হীনম্মন্যতা ছাড়া অন্য কিছু গ্রহণ করতে অস্বীকার করল। তারা মূসা (আলাইহিস সালাম)-কে কষ্ট দিল এবং পবিত্র ভূমি ফিলিস্তিনে প্রবেশের নির্দেশ দেওয়া হলে তারা হঠকারিতা প্রদর্শন করল।

আল্লাহ তাদের সম্মানিত করেছিলেন এবং তাদের ওপর মান্ন ও সালওয়া নাজিল করেছিলেন। কিন্তু যখন মূসা তাঁর রবের সাথে নিভৃতে কথা বলতে গেলেন, তখন তারা হারুনকে দুর্বল মনে করল এবং স্বর্ণের বাছুর পূজা করল। মূসা ফিরে আসার পর তারা তাঁর সাথে হঠকারিতা করল এবং তাঁকে বলল: আমরা তোমাকে কখনোই বিশ্বাস করব না যতক্ষণ না আমরা আল্লাহকে প্রকাশ্যে দেখতে পাই [আল-বাকারা: ৫৫]।

আর আল্লাহ তাদের ওপর তূর পাহাড় তুলে ধরলেন তাদের ভয় দেখানোর জন্য। তখন তারা ভয়ে আত্মসমর্পণ করল এবং অঙ্গীকার প্রদান করল; কিন্তু পরে তারা তা ভঙ্গ করল এবং শনিবারের বিষয়ে সীমালঙ্ঘন করল। ফলে আল্লাহ তাদের বানর ও শুকরে রূপান্তরিত করে দিলেন (৪)।

তাদের ওপর একের পর এক নিদর্শন ও শিক্ষা আসতে লাগল, যেমন: গাভীর কিচ্ছা, জমিন ধসে যাওয়া এবং অন্যান্য নিদর্শন; কিন্তু তাদের অন্তর কঠিন হয়ে গেল। কোনো নিদর্শন বা শিক্ষাই তাদের উপকারে আসল না; তাদের অন্তর পাথরের মতো কিংবা তার চেয়েও বেশি কঠিন হয়ে গেল।

এরপর আল্লাহর সাথে কথোপকথনকারী এবং তাঁর পরবর্তী নবীদের (আলাইহিমাস সালাম) সাথে তাদের ঔদ্ধত্য, ধৃষ্টতা, হঠকারিতা এবং বিকৃতি ও পরিবর্তন চলতেই থাকল।

--------------------------------------------

(১) আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (১/ ৪৪৭, ৪৫৫), এবং আত-তাহরির ওয়াত তানউইর (১/ ৭৩২)।

(২) আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (১/ ৫০৪)।

(৩) ([২৪]) হাকিকাতুল ইয়াহুদ (পৃ. ১)।

(৪) দেখুন: হাকিকাতুল ইয়াহুদ (পৃ. ৩)।
(খণ্ড: ١) মাওসুআতুল মিলাল ওয়াদ আদিয়ান (পৃষ্ঠা: ٢٨)
ثم بعث الله فيهم عيسى عليه السلام، وبدلاً من أن يصححوا خطأهم وانحرافهم، ويكفوا عن خبثهم وتزييفهم أجمعوا على قتله عليه السلام، ولكن الله عز وجل نجَّاه منهم، وفي ذلك يقول الله تبارك وتعالى: وَقَوْلِهِمْ إِنَّا قَتَلْنَا الْمَسِيحَ عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ رَسُولَ اللهِ وَمَا قَتَلُوهُ وَمَا صَلَبُوهُ وَلَكِن شُبِّهَ لَهُمْ [النساء: 157] ولم يكتفوا بما فعلوه بالمسيح عليه السلام في حياته، وإنما دوَّنوا افتراءات كثيرة على المسيح عليه السلام واتهموا أمه مريم عليها السلام بالبهتان، وعاثوا في الأرض فساداً (1).

واستمروا على جرمهم بعد رفع عيسى عليه السلام وأخذوا يكيدون لأتباعه، ويطاردونهم، ويعملون على تحريف الإنجيل، حتى تمكنوا من ذلك بالسر والعلن، وأخذوا يعيثون في الأرض فساداً حتى حقدت عليهم الأمم والشعوب؛ فشردوا في الأرض أكثر من مرة، فتفرَّقوا قبل الإسلام بالشام ومصر والعراق وجزيرة العرب، في يثرب وخيبر ونجران واليمن.

وفي كل أرض يحلون بها يكون ديدنهم التفريقَ بين الناس - كما فعلوا مع الأوس والخزرج في المدينة- واحتكارَ التجارة، والربا، وإشاعة الرذيلة والبغاء، وأكل أموال الناس بالباطل.

واستمروا على هذه الحالة إلى أن بُعث محمد صلى الله عليه وسلم، وكانوا قبل بعثته يستفتحون على الذين كفروا، ويخبرونهم بأنه سوف يخرج نبي، وأنهم سوف يحاربون مع هذا النبي، فلما ظهر النبي، كذَّبوه، وآذوه، واستهزؤوا به، وسحروه، وهموا بقتله، وألَّبوا عليه المشركين، وبدؤوا يبثون سمومهم داخل الصف المسلم، وظهر فيهم النفاق، واستمرَّ كيدهم للإسلام والمسلمين إلى اليوم؛ حيث أسهموا إسهاماً كبيراً في إثارة الفرقة ونشر الفرق الضالة كالشيعة، والجهمية، والباطنية، والمعتزلة بمختلف طوائفها، والصوفية بمختلف طرقها إلى اليوم، والشيوعية الحمراء، وغيرها من الفرق والطوائف التي لا تحصى. كل هذه الفرق والطوائف إما من صنعهم، أو من تشجيعهم، ومساندتهم، وصدق الله تعالى إذ يقول: وَيَسْعَوْنَ فِي الأَرْضِ فَسَادًا [المائدة:33]، ويقول: وَلَا يَزَالُونَ يُقَاتِلُونَكُمْ حَتَّىَ يَرُدُّوكُمْ عَن دِينِكُمْ إِنِ اسْتَطَاعُواْ [البقرة: 217] (2).

 

‌‌المصدر: رسائل في الأديان والفرق والمذاهب، لمحمد الحمد ص65 - 75

من المعلوم أن إسرائيل هو يعقوب بن إسحاق بن إبراهيم الخليل عليهم السلام، ويعقوب هو الذي ينتسب

إليه بنو إسرائيل، وكان يسكن في منطقة فلسطين، متنقلاً في مناطق عدة فيها، وكان توطنها هو وأبناؤه من بعد إبراهيم الخليل عليه السلام يعيشون فيها حياة البداوة، قال عز وجل فيما حكاه من كلام يوسف عليه السلام: وَرَفَعَ أَبَوَيْهِ عَلَى الْعَرْشِ وَخَرُّواْ لَهُ سُجَّدًا وَقَالَ يَا أَبَتِ هَذَا تَأْوِيلُ رُؤْيَايَ مِن قَبْلُ قَدْ جَعَلَهَا رَبِّي حَقًّا وَقَدْ أَحْسَنَ بَي إِذْ أَخْرَجَنِي مِنَ السِّجْنِ وَجَاء بِكُم مِّنَ الْبَدْوِ [يوسف: 100]. قال ابن كثير: مِنَ الْبَدْوِ أي: من البادية، قال ابن جريج وغيره: (وكانوا أهل بادية وماشية).

--------------------------------------------

(1) ((حقيقة اليهود)) (ص3).

(2) انظر ((الموجز في الأديان والمذاهب المعاصرة)) (ص27 - 29).
অতঃপর আল্লাহ তাদের মধ্যে ঈসা আলাইহিস সালামকে প্রেরণ করেন। কিন্তু তারা নিজেদের ভুল ও বিচ্যুতি সংশোধন করার এবং তাদের খবিস কর্মকাণ্ড ও জালিয়াতি থেকে বিরত হওয়ার পরিবর্তে তাঁকে হত্যার ব্যাপারে একমত হয়। কিন্তু আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা তাঁকে তাদের হাত থেকে রক্ষা করেন। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা বলেন: ‘এবং তাদের একথার কারণে যে, আমরা আল্লাহর রাসূল মারইয়াম-পুত্র ঈসা মসীহকে হত্যা করেছি, অথচ তারা তাকে হত্যা করেনি এবং ক্রুশবিদ্ধও করেনি, বরং তাদের জন্য (এক ব্যক্তিকে) তাঁর সদৃশ করা হয়েছিল’ [আন-নিসা: ১৫৭]। তারা ঈসা আলাইহিস সালামের জীবদ্দশায় তাঁর প্রতি যা করেছিল তাতেই ক্ষান্ত হয়নি, বরং তারা তাঁর ওপর অনেক মিথ্যা অপবাদ আরোপ করেছে এবং তাঁর মাতা মারইয়াম আলাইহাস সালামের ওপর জঘন্য অপবাদ দিয়েছে এবং পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে (১)।

ঈসা আলাইহিস সালামকে উপরে উঠিয়ে নেওয়ার পর তারা তাদের অপরাধ অব্যাহত রাখে এবং তাঁর অনুসারীদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতে শুরু করে। তারা তাদের তাড়া করত এবং ইনজিল বিকৃত করার জন্য কাজ করত, এমনকি গোপনে ও প্রকাশ্যে তারা তা করতে সক্ষম হয়। তারা পৃথিবীতে এমনভাবে ফাসাদ বা বিপর্যয় সৃষ্টি করতে থাকে যে, শেষ পর্যন্ত বিভিন্ন জাতি ও গোষ্ঠী তাদের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। ফলে তারা পৃথিবীতে একাধিকবার বিতাড়িত হয়। ইসলামের আগমনের আগে তারা সিরিয়া, মিসর, ইরাক এবং আরব উপদ্বীপের ইয়াসরিব, খায়বার, নাজরান ও ইয়ামেনে ছড়িয়ে পড়েছিল।

যে জনপদেই তারা বসতি স্থাপন করত, সেখানেই তাদের প্রধান কাজ ছিল মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা—যেমনটি তারা মদীনার আউস ও খাযরাজ গোত্রের মধ্যে করেছিল—এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তার, সুদখোরি, অশ্লীলতা ও ব্যব্যিচার ছড়িয়ে দেওয়া এবং মানুষের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করা।

মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রেরিত হওয়া পর্যন্ত তারা এই অবস্থায় লিপ্ত ছিল। তাঁর নবুওয়াত প্রাপ্তির আগে তারা কাফিরদের বিরুদ্ধে বিজয় প্রার্থনা করত এবং তাদেরকে বলত যে, একজন নবী আবির্ভূত হতে চলেছেন এবং তারা সেই নবীর সাথে মিলে যুদ্ধ করবে। কিন্তু যখন নবী আবির্ভূত হলেন, তারা তাঁকে অস্বীকার করল, তাঁকে কষ্ট দিল, তাঁকে নিয়ে বিদ্রূপ করল, তাঁর ওপর জাদু করল এবং তাঁকে হত্যার ষড়যন্ত্র করল। তারা তাঁর বিরুদ্ধে মুশরিকদের উসকে দিল এবং মুসলিম কাতারগুলোর অভ্যন্তরে তাদের বিষবাষ্প ছড়াতে শুরু করল। তাদের মধ্যে মুনাফেকির প্রকাশ ঘটল। ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে তাদের এই ষড়যন্ত্র আজ পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে। তারা অনৈক্য সৃষ্টিতে এবং পথভ্রষ্ট দল যেমন শিয়া, জাহমিয়া, বাতেনিয়া এবং মুতাজিলাদের বিভিন্ন উপদল এবং সুফিবাদের বিভিন্ন তরিকা, লাল সাম্যবাদ এবং আরও অগণিত দল ও উপদল সৃষ্টি ও প্রসারে বড় ভূমিকা রেখেছে। এই সব দল ও গোষ্ঠী হয় তাদের তৈরি, অথবা তাদের উৎসাহ ও সমর্থনে পুষ্ট। আল্লাহ তাআলা সত্যই বলেছেন: ‘তারা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টির চেষ্টা করে বেড়ায়’ [আল-মায়িদাহ: ৩৩], এবং তিনি আরও বলেন: ‘আর তারা সর্বদা তোমাদের সাথে যুদ্ধ করতে থাকবে যে পর্যন্ত না তোমাদেরকে তোমাদের দীন থেকে ফিরিয়ে দেয়, যদি তারা সক্ষম হয়’ [আল-বাকারা: ২১৭] (২)।

 

‌‌উৎস: রাসাইল ফিল আদিয়ান ওয়াল ফিরাক ওয়াল মাজাহিব, মুহাম্মাদ আল-হামাদ, পৃষ্ঠা ৬৫ - ৭৫

এটি সর্বজনবিদিত যে, ইসরাঈল হলেন ইয়াকুব ইবনে ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম আল-খলিল আলাইহিমুস সালাম। আর ইয়াকুবের বংশধরদেরই বনী ইসরাঈল বলা হয়। তিনি ফিলিস্তিন অঞ্চলে বসবাস করতেন এবং সেখানকার বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করতেন। ইব্রাহিম খলিল আলাইহিস সালামের পর তিনি এবং তাঁর সন্তানেরা সেখানে যাযাবর জীবন যাপন করতেন। ইউসুফ আলাইহিস সালামের উদ্ধৃতি দিয়ে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেন: ‘তিনি তাঁর পিতা-মাতাকে আরশের (সিংহাসনের) উপরে উঠালেন এবং তারা তাঁর সম্মানে সিজদাবনত হলো। তিনি বললেন: হে আমার প্রিয় পিতা! এটিই আমার পূর্বের সেই স্বপ্নের ব্যাখ্যা, যা আমার রব বাস্তবে পরিণত করেছেন। তিনি আমার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন যখন আমাকে জেল থেকে মুক্তি দিয়েছেন এবং আপনাদেরকে মরু অঞ্চল থেকে এখানে নিয়ে এসেছেন’ [ইউসুফ: ১০০]। ইবনে কাসির বলেন: ‘মিনাল বাদওয়ি’ অর্থ মরু অঞ্চল থেকে। ইবনে জুরাইজ ও অন্যান্যরা বলেন: (তারা ছিল মরুবাসী ও পশুপালক)।

--------------------------------------------

(১) ((হাকিকাতুল ইয়াহুদ)) (পৃষ্ঠা ৩)।

(২) দেখুন ((আল-মুজিয ফিল আদিয়ান ওয়াল মাজাহিব আল-মুআসিরাহ)) (পৃষ্ঠা ২৭ - ২৯)।