(খণ্ড: ১) আহকামুন নিসা - মুস্তাখলাসুন মিন কুতুবিল আলবানী (পৃষ্ঠা: -)
أحكام النساء - مستخلصا من كتب الألباني   (أبو مالك بن عبد الوهاب)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: أحكام النساء - مستخلصا من كتب الألباني

المؤلف: أبو مالك محمد بن حامد بن عبد الوهاب

الناشر: الناشر الدولي - 45 امتداد رمسيس - مدينة نصر - القاهرة

الطبعة: الأولى، 1428هـ - 2007 م

عدد الصفحات: 406

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 28 ربيع الأول 1433

মহিলাদের বিধানসমূহ - আলবানী-এর কিতাবসমূহ হতে সংকলিত   (আবু মালিক বিন আব্দুল ওয়াহহাব)

বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ


কিতাব: মহিলাদের বিধানসমূহ - আলবানী-এর কিতাবসমূহ হতে সংকলিত

লেখক: আবু মালিক মুহাম্মদ বিন হামিদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব

প্রকাশক: আন-নাশির আদ-দাওলি - ৪৫ ইমতিদাদে রামসিস - মাদিনাতুন নাসর - কায়রো

সংস্করণ: প্রথম، ১৪২৮ হিজরি - ২০০৭ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪০৬

[কিতাবের নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলা-তে প্রকাশের তারিখ: ২৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৩

(খণ্ড: ১) আহকামুন নিসা - মুস্তাখলাসুন মিন কুতুবিল আলবানী (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله رب العالمين القائل في محكم آياته:

{قُلْ هَلْ يَسْتَوِي الَّذِينَ يَعْلَمُونَ وَالَّذِينَ لا يَعْلَمُونَ إِنَّمَا يَتَذَكَّرُ أُولُو الْأَلْبَابِ} الزمر: 9

والصلاة والسلام على من أرسله هاديًا ، وبشيرًا ، ونذيرًا. القائل: «مَنْ سَلَكَ طَرِيقًا يَبْتَغِى فِيهِ عِلْمًا سَلَكَ اللَّهُ بِهِ طَرِيقًا إِلَى الْجَنَّةِ وَإِنَّ الْمَلَائِكَةَ لَتَضَعُ أَجْنِحَتَهَا رِضًا لِطَالِبِ الْعِلْمِ وَإِنَّ الْعَالِمَ لَيَسْتَغْفِرُ لَهُ مَنْ فِى السَّمَوَاتِ وَمَنْ فِى الأَرْضِ حَتَّى الْحِيتَانُ فِى الْمَاءِ وَفَضْلُ الْعَالِمِ عَلَى الْعَابِدِ كَفَضْلِ الْقَمَرِ عَلَى سَائِرِ الْكَوَاكِبِ إِنَّ الْعُلَمَاءَ وَرَثَةُ الأَنْبِيَاءِ إِنَّ الأَنْبِيَاءَ لَمْ يُوَرِّثُوا دِينَارًا وَلَا دِرْهَمًا إِنَّمَا وَرَّثُوا الْعِلْمَ فَمَنْ أَخَذَ بِهِ أَخَذَ بِحَظٍّ وَافِرٍ».

ورضي الله عن صحابته الأطهار الكرام أبو بكر ، وعمر، وعثمان ، وعلي القائل:" يَا حَمَلَةَ الْعِلْمِ اعْمَلُوا بِهِ، فَإِنَّمَا الْعَالِمُ مَنْ عَمِلَ بِمَا عَلِمَ وَوَافَقَ عِلْمُهُ عَمَلَهُ، وَسَيَكُونُ أَقْوَامٌ يَحْمِلُونَ الْعِلْمَ لَا يُجَاوِزُ تَرَاقِيَهُمْ، يُخَالِفُ عَمَلُهُمْ عِلْمَهُمْ وَتُخَالِفُ سَرِيرَتُهُمْ عَلَانِيَتَهُمْ يَجْلِسُونَ حِلَقاً فَيُبَاهِى بَعْضُهُمْ بَعْضاً حَتَّى إِنَّ الرَّجُلَ لَيَغْضَبُ عَلَى جَلِيسِهِ أَنْ يَجْلِسَ إِلَى غَيْرِهِ وَيَدَعَهُ، أُولَئِكَ لَا تَصْعَدُ أَعْمَالُهُمْ فِى مَجَالِسِهِمْ تِلْكَ إِلَى اللَّهِ."

ومن حملة العلم - بل من منارات العلم - في هذا العصر ، المحدث العلامة محمد ناصر الدين الألباني رحمه الله الذي طارت كتبه بين المشرق والمغرب ، وتناولتها الأيدي بالبحث والتنقيب ، حتى صحَّ أن يُقال: بأنه محيي السنة في هذا العصر ، وأن كل من اشتغل بعلم الحديث من الشبيببة
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর সুষ্পষ্ট আয়াতে বলেছেন:

{বলুন, যারা জানে এবং যারা জানে না তারা কি সমান হতে পারে? কেবল বোধশক্তিসম্পন্নরাই উপদেশ গ্রহণ করে।} (যুমার: ৯)

এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর ওপর, যাকে তিনি পথপ্রদর্শক, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে প্রেরণ করেছেন। যিনি বলেছেন: «যে ব্যক্তি ইলম অর্জনের জন্য কোনো পথ অবলম্বন করে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতের পথ সুগম করে দেন। আর ফেরেশতারা ইলম অন্বেষণকারীর সন্তুষ্টির জন্য তাদের ডানা বিছিয়ে দেয়। আর আলেমের জন্য আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে তারা ক্ষমা প্রার্থনা করে, এমনকি পানির মাছ পর্যন্ত। ইবাদতকারীর ওপর আলেমের শ্রেষ্ঠত্ব ঠিক যেমন সমস্ত নক্ষত্ররাজির ওপর পূর্ণিমার চাঁদের শ্রেষ্ঠত্ব। নিশ্চয়ই ওলামায়ে কেরাম নবীদের উত্তরাধিকারী। আর নবীরা উত্তরাধিকার হিসেবে কোনো দিনার বা দিরহাম রেখে যাননি, বরং তাঁরা উত্তরাধিকার হিসেবে রেখে গেছেন কেবল ইলম। সুতরাং যে ব্যক্তি তা গ্রহণ করল, সে এক পূর্ণ অংশ লাভ করল।»

আর আল্লাহ সন্তুষ্ট হোন তাঁর পবিত্র ও সম্মানিত সাহাবী আবু বকর, উমর, উসমান এবং আলীর প্রতি, যিনি বলেছেন: "হে ইলমের বাহকগণ! তোমরা তা অনুযায়ী আমল করো। কেননা আলেম তো কেবল সেই ব্যক্তি, যে যা জানে সে অনুযায়ী আমল করে এবং যার ইলম ও আমল পরস্পর সংগতিপূর্ণ হয়। অচিরেই এমন কিছু সম্প্রদায়ের আবির্ভাব ঘটবে যারা ইলম বহন করবে কিন্তু তা তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করবে না। তাদের আমল হবে তাদের ইলমের বিপরীত এবং তাদের গোপন বিষয় হবে তাদের প্রকাশ্য বিষয়ের বিরোধী। তারা চক্রাকারে মজলিসে বসবে এবং একে অপরের ওপর অহংকার করবে, এমনকি কোনো ব্যক্তি তার সাথীর ওপর এ কারণে রাগান্বিত হবে যে, সে তাকে ছেড়ে অন্য কারো কাছে গিয়ে বসেছে। তাদের ঐ মজলিসসমূহ থেকে তাদের আমল আল্লাহর দিকে উন্নীত হবে না।"

আর এই যুগের ইলমের বাহকদের মধ্য থেকে—বরং ইলমের আলোকবর্তিকাদের মধ্য থেকে—অন্যতম হলেন মুহাদ্দিস (المحدث) আল্লামা মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানী (রহিমাহুল্লাহ), যাঁর কিতাবসমূহ প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যে ছড়িয়ে পড়েছে এবং গবেষকগণ অত্যন্ত গভীর অনুসন্ধান ও বিশ্লেষণের সাথে তা গ্রহণ করেছেন। এমনকি এটি বলা যথার্থ যে, তিনি এই যুগের সুন্নাহর পুনর্জাগরণকারী। আর বর্তমান তরুণ প্রজন্মের যারা হাদিস শাস্ত্র (علم الحديث) নিয়ে কাজ করছেন...
(খণ্ড: ১) আহকামুন নিসা - মুস্তাখলাসুন মিন কুতুবিল আলবানী (পৃষ্ঠা: ৬)
في هذا العصر؛ صاروا عيالاً على كتبه النافعة ، الماتعة.

ولأن الشيخ له هذه المكانة بين قلوب طلبة العلم ، وكل المشتغلين به ، ولقلة كلام الشيخ في الفقه ، ولندرة كتبه المؤلفة فيه، لكل هذه الأسباب: أحببتُ أن أجمع كتابًا فيه بيان لأحكام النساء ، مرتبًا على أبواب الفقه المتعارف عليها.

خدمةً للعلم ولطلبته ، وإثراءً للمكتبة العربية والإسلامية ، بمثل هذا الكتاب المرصع بأحكام وتعليقات الشيخ رحمه الله ، والتي كانت منتثرة ، مبثوثة في شتات كتبه المتفرقة.

وهذه ليست بأول مرة أغوص في كتب الشيخ:؛ فقد سبق لنا أن أخرجنا كتاب " فرائد الشوارد لما في كتب الألباني من فوائد " ، ولعل الله ييسر بخروج كتابي " الجامع في أحكام الصلاة " ، و " علوم الحديث"، في القريب العاجل بإذنه تعالى ، وهما أيضًا مستخلصان من كتب الشيخ رحمه الله

فجزى الله الشيخ خير الجزاء ، وأسكنه فسيح جناته ، هو ولي ذلك والقادر عليه.

وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين.

 

وكتب

أبو مالك محمد بن حامد بن عبد الوهاب

Aboumalik3@hotmail.com
বর্তমান যুগে তাঁরা তাঁর উপকারী ও চমৎকার কিতাবসমূহের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন।

যেহেতু ইলম অন্বেষণকারী এবং ইলম চর্চায় নিয়োজিত সকলের হৃদয়ে শাইখের এক সুউচ্চ মর্যাদা রয়েছে, এবং ফিকহ শাস্ত্রে শাইখের আলোচনা কম হওয়ার পাশাপাশি এই বিষয়ে তাঁর রচিত কিতাবও বিরল; মূলত এই সকল কারণেই আমি নারীদের বিধি-বিধান সম্বলিত এমন একটি কিতাব সংকলন করার আগ্রহ বোধ করেছি, যা প্রচলিত ফিকহী অধ্যায় অনুযায়ী বিন্যস্ত হবে।

ইলম ও তালিবে ইলমদের সেবা এবং আরবি ও ইসলামি জ্ঞানভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করার লক্ষে শাইখ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর বিভিন্ন কিতাবে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা বিধি-বিধান ও টীকা-টিপ্পনী দ্বারা এই কিতাবটিকে সুসজ্জিত করা হয়েছে।

শাইখের কিতাবসমূহের গভীরে অবগাহন করার এটিই আমার প্রথম প্রচেষ্টা নয়; এর আগে আমরা ‘ফারায়েদুশ শাওয়ারিদ লিমা ফী কুতুবিল আলবানি মিনাল ফাওয়াইদ’ নামক কিতাবটি প্রকাশ করেছি। ইনশাআল্লাহ অচিরেই আল্লাহ তাআলা আমার সংকলিত ‘আল-জামি‘ ফী আহকামিস সালাত’ এবং ‘হাদিস শাস্ত্র’ কিতাব দুটি প্রকাশের পথ সহজ করে দেবেন; এই দুটিও শাইখ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর কিতাবসমূহ থেকেই সংগৃহীত।

আল্লাহ তাআলা শাইখকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন এবং তাঁকে জান্নাতের প্রশস্ত উদ্যানে স্থান দিন; নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক ও সর্বশক্তিমান।

আমাদের শেষ কথা হলো—সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

 

লিখেছেন

আবু মালিক মুহাম্মদ ইবনে হামিদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব

Aboumalik3@hotmail.com
(খণ্ড: ১) আহকামুন নিসা - মুস্তাখলাসুন মিন কুতুবিল আলবানী (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌كِتَابُ الطَّهَارَة

‌‌نجاسة دم الحيض:

298 - " يكفيك الماء ولا يضرك أثره ".

[الصحيحة]

قال رحمه الله:

أخرجه أبو داود (1/ 141 - 142 - بشرح العون) وأحمد (2/ 380) قالا:

حدثنا قتيبة بن سعيد أنبأنا ابن لهيعة عن يزيد بن أبي حبيب عن عيسى ابن طلحة عن أبي هريرة:

" أن خولة بنت يسار أتت النبي صلى الله عليه وسلم، فقالت: يا رسول الله! إنه ليس لي إلا ثوب واحد، وأنا أحيض فيه، فكيف أصنع؟ قال: إذا طهرت فاغسليه، ثم صلي فيه، فقالت: فإن لم يخرج الدم؟ قال ". فذكره.

ورواه البيهقي في " السنن " (2/ 408) من طريق عثمان بن صالح حدثنا ابن لهيعة: حدثني يزيد ابن أبي حبيب به.

وتابعهما عبد الله بن وهب فقال: أخبرنا ابن لهيعة به.

أخرجه البيهقي وكذا أبو الحسن القصار في " حديثه عن ابن أبي حاتم" (2/ 2) وابن الحمصي الصوفي في " منتخب من مسموعاته " (33/ 1) وابن منده في" المعرفة " (2/ 321 / 2).
পবিত্রতা অধ্যায়

ঋতুস্রাবের রক্তের অপবিত্রতা:

২৯৮ - "পানিই তোমার জন্য যথেষ্ট এবং এর চিহ্ন তোমার কোনো ক্ষতি করবে না।"

[আস-সহীহাহ]

তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বলেছেন:

এটি আবু দাউদ (১/ ১৪১ - ১৪২ - আওনুল মাবুদের ব্যাখ্যাসহ) এবং আহমাদ (২/ ৩৮০) বর্ণনা করেছেন। তাঁরা উভয়েই বলেছেন:

কুতাইবাহ ইবনে সাঈদ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, ইবনে লাহিয়াহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি ইয়াজিদ ইবনে আবি হাবিব থেকে, তিনি ঈসা ইবনে তালহা থেকে, তিনি আবু হুরাইরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন:

"খাওলা বিনতে ইয়াসার নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এসে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমার কাছে একটি মাত্র কাপড় আছে এবং আমি তাতে ঋতুবতী হই, এমতাবস্থায় আমি কী করব? তিনি বললেন: যখন তুমি পবিত্র হবে, তখন তা ধুয়ে ফেলবে, তারপর তাতে সালাত আদায় করবে। তিনি বললেন: যদি রক্ত না যায়? তখন তিনি বললেন..." এরপর তিনি পূর্বোক্ত অংশটি উল্লেখ করলেন।

বায়হাকি এটি সুনান-এ (২/ ৪০৮) উসমান ইবনে সলিহ-এর সূত্র (طريق)-এ বর্ণনা করেছেন: ইবনে লাহিয়াহ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন: ইয়াজিদ ইবনে আবি হাবিব আমার নিকট এটি বর্ণনা করেছেন।

আবদুল্লাহ ইবনে ওয়াহাব তাঁদের উভয়ের সমর্থনকারী (متابعة) হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: ইবনে লাহিয়াহ আমাদের নিকট এটি বর্ণনা করেছেন।

বায়হাকি এটি বর্ণনা করেছেন এবং অনুরূপভাবে আবুল হাসান আল-কাসসার তাঁর 'হাদিসুহু আন ইবনি আবি হাতিম' (২/ ২) গ্রন্থে, ইবনুল হিমসি আস-সুফি তাঁর 'মুনতাখাব মিন মাসমুয়াতিহি' (৩৩/ ১) গ্রন্থে এবং ইবনে মান্দাহ তাঁর 'আল-মারিফাহ' (২/ ৩২১/ ২) গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আহকামুন নিসা - মুস্তাখলাসুন মিন কুতুবিল আলবানী (পৃষ্ঠা: ৮)
وقال البيهقي: إسناده ضعيف. " تفرد به ابن لهيعة ".

قلت: وقال ابن الملقن في " خلاصة الإبريز للنبيه، حافظ أدلة التنبيه " (ق 89/ 2): " وقد ضعفوه، ووثقه بعضهم ".

وقال الحافظ في " فتح الباري " (1/ 266):

" رواه أبو داود وغيره، وفي إسناده ضعف، وله شاهد مرسل ".

ونقله عنه صاحب " عون المعبود " (1/ 141 - 142) وأقره!

وقال الحافظ أيضا في " بلوغ المرام ":

" أخرجه الترمذي، وسنده ضعيف ".

قال شارحه الصنعاني (1/ 55) تبعا لأصله " بدر التمام " (1/ 29 / 1): " وكذلك أخرجه البيهقي، وفيه ابن لهيعة ".

واغتر بقول الحافظ هذا جماعة فعزوه تبعا له إلى الترمذي، منهم صديق حسن خان في " الروضة الندية " (1/ 17)، ومن قبله الشوكاني في " نيل الأوطار " فقال (1/ 35):

" أخرجه الترمذي وأحمد وأبو داود، والبيهقي من طريقين عن خولة بنت يسار، وفيه ابن لهيعة ".

وكذا قال الحافظ في " التلخيص " (13) لكنه لم يذكر الترمذي وأحمد.

أقول: وفي كلمات هؤلاء الأفاضل من الأوهام ما لا يجوز السكوت عليه فأقول:
ইমাম বায়হাকি বলেছেন: এর সনদ দুর্বল (ضعيف)। "ইবনে লাহিয়া এককভাবে এটি বর্ণনা (تفرد) করেছেন"。

আমি বলছি: ইবনুল মুলাক্কিন 'খুলাসাতুল ইবরিজ লিন-নাবিহ, হাফিজ আদিল্লাতুত তানবিহ' গ্রন্থে (পত্র ৮৯/২) বলেছেন: "মুহাদ্দিসগণ তাকে দুর্বল (ضعفوه) বলেছেন, আর তাদের কেউ কেউ তাকে নির্ভরযোগ্য (وثقه) বলেছেন"。

হাফিজ (ইবনে হাজার) 'ফাতহুল বারি' (১/২৬৬) গ্রন্থে বলেছেন:

"আবু দাউদ ও অন্যান্যরা এটি বর্ণনা করেছেন, এর সনদে দুর্বলতা (ضعف) রয়েছে এবং এর একটি বিচ্ছিন্ন (مرسل) সমর্থনকারী বর্ণনা (شاهد) আছে"。

'আওনুল মাবুদ' গ্রন্থের লেখক এটি তার থেকে উদ্ধৃত করেছেন (১/১৪১-১৪২) এবং এটিকে সমর্থন করেছেন!

হাফিজ 'বুলuগুল মারাম' গ্রন্থে আরও বলেছেন:

"তিরমিজি এটি সংকলন (أخرجه) করেছেন এবং এর সনদ দুর্বল (ضعيف)"。

এর ব্যাখ্যাকারী সানআনি (১/৫৫) তার মূল উৎস 'বদরুত তামাম' (১/২৯/১)-এর অনুসরণে বলেছেন: "অনুরূপভাবে বায়হাকি এটি সংকলন করেছেন এবং এতে ইবনে লাহিয়া রয়েছেন"。

হাফিজের এই বক্তব্যে একদল আলেম বিভ্রান্ত হয়ে তার অনুসরণে হাদিসটিকে তিরমিজির দিকে সম্বন্ধ করেছেন, তাদের মধ্যে 'আর-রাওদাতুন নাদিয়্যাহ' (১/১৭) গ্রন্থে সিদ্দিক হাসান খান রয়েছেন এবং তার পূর্বে শাওকানি 'নাইলুল আওতার' (১/৩৫) গ্রন্থে বলেছেন:

"তিরমিজি, আহমাদ, আবু দাউদ এবং বায়হাকি খাওলা বিনতে ইয়াসার থেকে দুটি সূত্রে এটি সংকলন করেছেন, এবং এতে ইবনে লাহিয়া রয়েছেন"。

হাফিজ 'আত-তালখিস' (১৩) গ্রন্থেও অনুরূপ বলেছেন, কিন্তু সেখানে তিনি তিরমিজি ও আহমাদের উল্লেখ করেননি。

আমি বলছি: এই শ্রেষ্ঠ আলেমদের বক্তব্যের মধ্যে এমন কিছু বিভ্রান্তি রয়েছে যার ব্যাপারে নিশ্চুপ থাকা বৈধ নয়, তাই আমি বলছি:
(খণ্ড: ১) আহকামুন নিসা - মুস্তাখলাসুন মিন কুতুবিল আলবানী (পৃষ্ঠা: ৯)
أولا: عزوه الترمذي وهم محض، فإنه لم يخرجه البتة، وإنما أشار إليه عقب حديث أسماء الآتي بقوله:

" وفي الباب عن أبي هريرة، وأم قيس بنت محصن ".

ولذلك لما شرع ابن سيد الناس في تخريج الحديث كعادته في تخريج أحاديث الترمذي المعلقة لم يزد على قوله:

" رواه أحمد "، فلم يعزه لأي موضع من " سننه "، بل ولا لأي كتاب من كتبه الأخرى. وكذلك صنع المباركفوري في شرحه عليه. إلا أنه جاء بوهم آخر! فقال (1/ 128).

" أخرجه أبو داود والنسائي وابن ماجه "!

ثانيا: إطلاق الضعف على ابن لهيعة وإسناد حديثه هذا، ليس بصواب فإن المتقرر من مجموع كلام الأئمة فيه أنه ثقة في نفسه، ولكنه سيىء الحفظ، وقد كان يحدث من كتبه فلما احترقت حدث من حفظه فأخطأ، وقد نص بعضهم على أن حديثه صحيح إذا جاء من طريق أحد العبادلة الثلاثة: عبد الله بن وهب، وعبد الله بن المبارك، وعبد الله بن يزيد المقرىء، فقال الحافظ عبد الغني ابن سعيد الأزدي:

إذا روى العبادلة عن ابن لهيعة فهو صحيح، ابن المبارك وابن وهب والمقرىء. وذكر الساجي وغيره مثله. ونحوه قول نعيم بن حماد: سمعت ابن مهدي يقول:" لا أعتد بشيء سمعته من حديث ابن لهيعة إلا سماع ابن المبارك ونحوه ".

وقد أشار الحافظ ابن حجر إلى هذا بقوله في " التقريب ":
প্রথমত: একে তিরমিযীর দিকে সম্পৃক্ত করা নিছক একটি ভ্রান্তি (وهم), কারণ তিনি এটি আদৌ বর্ণনা করেননি। বরং তিনি পরবর্তী আসমা-এর হাদিসের পর তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে এর প্রতি ইঙ্গিত করেছেন:

"এই অনুচ্ছেদে আবু হুরায়রা এবং উম্মে কায়স বিনতে মিহসান থেকেও বর্ণনা রয়েছে।"

এই কারণেই ইবনে সাইয়্যেদুন নাস যখন তিরমিযীর ঝুলে থাকা (معلقة) হাদিসগুলো তাখরিজ (تخريج) করার চিরাচরিত অভ্যাসে এই হাদিসটির উৎস অনুসন্ধান শুরু করেন, তখন তিনি কেবল এটুকু বলেই ক্ষান্ত হয়েছেন:

"আহমদ এটি বর্ণনা করেছেন", সুতরাং তিনি তাঁর সুনান-এর কোনো স্থানেই একে সম্পৃক্ত করেননি, এমনকি তাঁর অন্য কোনো কিতাবেও না। মুবারকপুরীও তাঁর শারহ-এ অনুরূপ করেছেন। তবে তিনি অন্য একটি ভ্রান্তির (وهم) অবতারণা করেছেন! তিনি (১/ ১২৮) বলেছেন:

"আবু দাউদ, নাসাঈ এবং ইবনে মাজাহ এটি বর্ণনা করেছেন!"

দ্বিতীয়ত: ইবনে লাহিয়াহ এবং তাঁর এই হাদিসের সনদ (إسناد)-এর ওপর সাধারণভাবে দুর্বলতা (الضعف) আরোপ করা সঠিক নয়। কারণ তাঁর সম্পর্কে ইমামগণের সামগ্রিক বক্তব্য থেকে যা নির্ধারিত হয়েছে তা হলো, তিনি ব্যক্তিগতভাবে নির্ভরযোগ্য (ثقة), তবে তাঁর মুখস্থশক্তি ছিল দুর্বল (سيىء الحفظ)। তিনি তাঁর কিতাব থেকে হাদিস বর্ণনা করতেন, কিন্তু যখন সেগুলো পুড়ে গেল, তখন তিনি তাঁর মুখস্থ থেকে বর্ণনা করতে শুরু করেন এবং ভুল (أخطأ) করেন। তাঁদের কেউ কেউ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, তাঁর হাদিস সহিহ (صحيح) হবে যদি তা তিন আবদিল্লাহ (العبادلة) - আব্দুল্লাহ ইবনে ওয়াহাব, আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক এবং আব্দুল্লাহ ইবনে ইয়াজিদ আল-মুকরী-এর মাধ্যমে বর্ণিত হয়। হাফিজ আব্দুল গনি ইবনে সাঈদ আল-আযদি বলেন:

যখন তিন আবদিল্লাহ ইবনে লাহিয়াহ থেকে বর্ণনা করেন তখন তা সহিহ (صحيح); তাঁরা হলেন ইবনুল মুবারক, ইবনে ওয়াহাব এবং আল-মুকরী। আস-সাজি এবং অন্যরাও অনুরূপ কথা উল্লেখ করেছেন। নুআইম ইবনে হাম্মাদ-এর বক্তব্যও এর কাছাকাছি; তিনি বলেন: আমি ইবনে মাহদীকে বলতে শুনেছি: "আমি ইবনে লাহিয়াহ-এর হাদিস থেকে ইবনুল মুবারক এবং তাঁর ন্যায় ব্যক্তিদের শ্রবণ করা হাদিস ব্যতীত অন্য কিছু ধর্তব্য মনে করি না।"

হাফিজ ইবনে হাজার তাঁর তাকরীব গ্রন্থে তাঁর বাণীর মাধ্যমে এ দিকেই ইঙ্গিত করেছেন:
(খণ্ড: ১) আহকামুন নিসা - মুস্তাখলাসুন মিন কুতুবিল আলবানী (পৃষ্ঠা: ১০)
" صدوق، خلط بعد احتراق كتبه، ورواية ابن المبارك وابن وهب عنه أعدل من غيرهما ".

فإذا عرفت هذا تبين لك أن الحديث صحيح؛ لأنه قد رواه عنه أحد العبادلة وهوعبد الله بن وهب عند البيهقي وغيره، كما سبق، فينبغي التفريق بين طريق أبي داود وغيره عن ابن لهيعة، فيقال: إنها ضعيفة، وبين طريق البيهقي، فتصحح لما ذكرنا. وهذا تحقيق دقيق استفدناه من تدقيقات الأئمة في بيان أحوال الرواة تجريحا وتعديلا. والتوفيق من الله تعالى.

ثالثا: قول الشوكاني: " إن الحديث أخرجه أحمد وأبو داود والبيهقي من طريقين:

عن خولة بنت يسار، وفيه ابن لهيعة ". وهم أيضا، فإنه ليس للحديث عندهم إلا الطريق المتقدم عن ابن لهيعة عن يزيد بن أبي حبيب عن عيسى ابن طلحة عن أبي هريرة أن خولة بنت يسار.

فالطريق ينتهي إلى أبي هريرة لا خولة، وعنه عيسى بن طلحة، ليس إلا.

نعم قد رواه ابن لهيعة مرة على وجه آخر في شيخه فقال في رواية موسى بن داود الضبي عنه قال: حدثنا ابن لهيعة عن عبيد الله بن أبي جعفر عن عيسى بن طلحة به.

أخرجه أحمد (2/ 344)، فهذا إن كان ابن لهيعة قد حفظه من طريق أخرى له عن عيسى بن طلحة، وإلا فهو من أوهامه لأنها ليست من رواية
"সত্যবাদী (صدوق), তবে তাঁর কিতাবসমূহ পুড়ে যাওয়ার পর তিনি বিভ্রান্তিতে (خلط) পড়ে যান। তাঁর থেকে ইবনে মুবারক এবং ইবনে ওয়াহাব-এর বর্ণনা অন্যদের বর্ণনার তুলনায় অধিক সঠিক (أعدل)।"

যখন আপনি এটি জানলেন, তখন আপনার কাছে স্পষ্ট হয়ে গেল যে হাদিসটি সহিহ (صحيح); কারণ বায়হাকি ও অন্যান্যদের নিকট এটি তাঁর থেকে জনৈক আব্দুল্লাহগণের (العبادلة) একজন বর্ণনা করেছেন, আর তিনি হলেন আব্দুল্লাহ ইবনে ওয়াহাব, যেমনটি ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। সুতরাং ইবনে লাহিয়া থেকে আবু দাউদ ও অন্যান্যদের সূত্রের (طريق) মধ্যে পার্থক্য করা উচিত; এভাবে বলা হবে যে: নিশ্চয়ই তা দুর্বল (ضعيفة), আর বায়হাকির সূত্রের ক্ষেত্রে—আমাদের বর্ণিত কারণে সেটিকে সহিহ (صحيح) হিসেবে গণ্য করা হবে। এটি একটি সূক্ষ্ম গবেষণা যা আমরা বর্ণনাকারীদের অবস্থা বর্ণনা তথা জরাহ ও তাদিল (تجريحا وتعديلا) বিষয়ে ইমামগণের সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ থেকে লাভ করেছি। আর আল্লাহর পক্ষ থেকেই তাওফিক লাভ হয়।

তৃতীয়ত: শাওকানির উক্তি: "নিশ্চয়ই হাদিসটি আহমাদ, আবু দাউদ ও বায়হাকি দুটি সূত্রের (طريق) মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন:

খাওলা বিনতে ইয়াসার থেকে, আর এতে ইবনে লাহিয়া রয়েছেন।" এটিও একটি ভ্রম (وهم); কারণ তাদের নিকট উক্ত হাদিসের জন্য ইবনে লাহিয়া থেকে ইয়াজিদ ইবনে আবি হাবিব থেকে, তিনি ঈসা ইবনে তালহা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত পূর্বোক্ত সূত্র (طريق) ছাড়া আর কোনো সূত্র নেই যে, খাওলা বিনতে ইয়াসার...

সুতরাং সূত্রটি (طريق) আবু হুরায়রা পর্যন্ত পৌঁছেছে, খাওলা পর্যন্ত নয়; আর তাঁর থেকে ঈসা ইবনে তালহা বর্ণনা করেছেন, এছাড়া অন্য কিছু নয়।

হ্যাঁ, ইবনে লাহিয়া একবার তাঁর উস্তাদের (شيخ) ক্ষেত্রে ভিন্নভাবে বর্ণনা করেছেন; মূসা ইবনে দাউদ আদ-দব্বি তাঁর থেকে যে বর্ণনাটি করেছেন তাতে তিনি বলেছেন: ইবনে লাহিয়া আমাদের নিকট উবাইদুল্লাহ ইবনে আবি জাফর থেকে, তিনি ঈসা ইবনে তালহা থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

এটি আহমাদ (২/৩৪৪) বর্ণনা করেছেন; সুতরাং ইবনে লাহিয়া যদি ঈসা ইবনে তালহা থেকে এটি ভিন্ন কোনো সূত্রের (طريق) মাধ্যমে মুখস্থ (حفظ) করে থাকেন তবে ঠিক আছে, অন্যথায় এটি তাঁর ভ্রমসমূহের (أوهامه) অন্তর্ভুক্ত, কারণ এটি বর্ণনার অন্তর্ভুক্ত নয়...
(খণ্ড: ১) আহকামুন নিসা - মুস্তাখলাসুন মিন কুতুবিল আলবানী (পৃষ্ঠা: ১১)
أحد العبادلة عنه بل هي مخالفة لها كما سبق، وسواء كان هذا أو ذاك فلا يصح أن يقال في هذه الطريق أنها طريق أخرى وعن خولة أيضا!!

ولعل الشوكاني أراد بالطريق الأخرى ما أخرجه البيهقي عقب حديث أبي هريرة، من طريق مهدي بن حفص حدثنا علي بن ثابت عن الوازع بن نافع عن أبي سلمة ابن عبد الرحمن عن خولة بنت يمان قالت:

" قلت: يا رسول الله، إني أحيض، وليس لي إلا ثوب واحد، فيصيبه الدم. قال: اغسليه وصلي فيه. قلت: يا رسول الله، يبقى أثره. قال: لا يضر ".

وقال: " قال إبراهيم الحربي: الوازع بن نافع غيره أوثق منه، ولم يسمع خولة بنت يمان أو يسار إلا في هذين الحديثين ".

وأخرجه ابن منده في " المعرفه " (2/ 321 / 2) وابن سيد الناس في " شرح الترمذي " (1/ 48 / 2) من طريق عثمان بن أبي شيبة، أنبأنا علي ابن ثابت الجزري به، إلا أن الأول منهما قال " خولة " ولم ينسبها، وقال الآخر: " خولة بنت حكيم " وهو عنده من طريق الطبراني عن ابن أبي شيبة، وكذلك ذكره الهيثمي في " المجمع " (1/ 282) من رواية الطبراني في الكبير وقال: " وفيه الوازع بن نافع وهو ضعيف ".

قلت: بل هو متروك شديد الضعف، أورده الذهبي في " الضعفاء " وقال:" قال أحمد ويحيى: ليس بثقة ". ولذلك تعقب ابن التركماني البيهقي في تركه مثل هذا التجريح واختصاره على كلام إبراهيم الحربي الموهم بظاهره أنه ثقة لكن غيره أوثق منه! مع أنه ليس بثقة.

'আবাদিলাহ'-গণের (আবদুল্লাহ নামীয় সাহাবীগণ) মধ্য হতে কোনো একজনের থেকে তার বর্ণিত রেওয়ায়েত, বরং এটি এর বিপরীত যেমনটি ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। আর এটি হোক বা সেটিই হোক, এই সূত্রের (طريق) ক্ষেত্রে এটি বলা সঠিক হবে না যে, এটি অন্য একটি সূত্র (طريق) এবং সেটিও খাওলাহ্-র বরাতে!!

সম্ভবত শাওকানী 'অন্য সূত্র' (طريق) বলতে সেই বর্ণনাটি বুঝিয়েছেন যা বায়হাকী আবু হুরায়রা (রাযি.)-এর হাদিসের পরপরই উল্লেখ করেছেন। এটি মাহদী ইবনে হাফস-এর সূত্রে (طريق) বর্ণিত, তিনি আলী ইবনে সাবিত থেকে, তিনি ওয়াজিয়া ইবনে নাফে থেকে, তিনি আবু সালামা ইবনে আবদুর রহমান থেকে এবং তিনি খাওলাহ্ বিনতে ইয়ামান থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন:

"আমি আরজ করলাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমি ঋতুবর্তী হই, আর আমার নিকট একটি মাত্র কাপড় রয়েছে যাতে রক্ত লেগে যায়। তিনি বললেন: তুমি তা ধুয়ে নাও এবং তা পরিধান করেই সালাত আদায় করো। আমি আরজ করলাম: হে আল্লাহর রাসূল! এর দাগ থেকে যায়। তিনি বললেন: এটি কোনো ক্ষতি করবে না।"

তিনি (বায়হাকী) বলেন: "ইব্রাহিম আল-হারবী বলেছেন: ওয়াজিয়া ইবনে নাফে অপেক্ষা অন্যান্য বর্ণনাকারীগণ অধিক নির্ভরযোগ্য (أوثق); আর তিনি খাওলাহ্ বিনতে ইয়ামান অথবা ইয়াসার থেকে এই দুটি হাদিস ব্যতীত আর কিছুই শ্রবণ করেননি।"

ইবনে মানদাহ তার মারিফাহ (২/৩২১/২) গ্রন্থে এবং ইবনে সাইয়্যিদুন নাস তার শারহুত তিরমিযী (১/৪৮/২) গ্রন্থে এটি উসমান ইবনে আবু শাইবাহ-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন; তাকে আলী ইবনে সাবিত আল-জাযারী এটি সংবাদ দিয়েছেন। তবে তাদের মধ্যে প্রথমজন কেবল 'খাওলাহ্' বলেছেন এবং তার বংশ পরিচয় উল্লেখ করেননি, আর অপরজন বলেছেন 'খাওলাহ্ বিনতে হাকীম'। এটি তার নিকট তাবারানীর সূত্রে ইবনে আবু শাইবাহ থেকে বর্ণিত। একইভাবে হাইসামী তার মাজমাউজ যাওয়াইদ (১/২৮২) গ্রন্থে তাবারানীর আল-মুজামুল কাবীর-এর বর্ণনা হতে এটি উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: "এর সনদে ওয়াজিয়া ইবনে নাফে রয়েছে এবং সে দুর্বল (ضعيف)।"

আমি বলি: বরং সে পরিত্যাজ্য (متروك) এবং অত্যন্ত দুর্বল (شديد الضعف)। যাহাবী তাকে আদ-দুয়াফা গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং বলেছেন: "আহমদ ও ইয়াহইয়া বলেছেন: সে নির্ভরযোগ্য নয় (ليس بثقة)।" এই কারণেই ইবনে আল-তুর্কমানী বায়হাকীর সমালোচনা করেছেন যে, তিনি এই ধরনের সরাসরি দোষারোপ (تجريح) বর্জন করেছেন এবং ইব্রাহিম আল-হারবীর উক্তির ওপর সংক্ষেপ করেছেন যার বাহ্যিক রূপটি এমন ভ্রম তৈরি করে যে সে হয়তো নির্ভরযোগ্য (ثقة) কিন্তু অন্যেরা তার চেয়ে বেশি নির্ভরযোগ্য! অথচ সে আদৌ নির্ভরযোগ্য নয় (ليس بثقة)।

(খণ্ড: ১) আহকামুন নিসা - মুস্তাখলাসুন মিন কুতুবিল আলবানী (পৃষ্ঠা: ১২)
ولعل قوله في رواية البيهقي " بنت يمان "،وقوله " بنت حكيم " في رواية الطبراني وغيره، إنما هو من الوازع هذا، ومن العجائب قول ابن عبد البر في " الاستيعاب " في ترجمة خولة بنت يسار بعد أن ذكرحديثها المتقدم:

" روى عنها أبو سلمة، وأخشى أن تكون خولة بنت اليمان، لأن إسناد حديثهما واحد، إنما هو علي بن ثابت عن الوازع بن نافع عن أبي سلمة بالحديث الذي ذكرنا في اسم خولة بنت اليمان (يعني حديث: " لا خير في جماعة النساء … ")

وبالذي ذكرنا ههنا، إلا أن من دون علي بن ثابت يختلف في الحديثين، وفي ذلك نظر ".

ووجه العجب أن الحديث الذي أشار إليها بقوله " وبالذي ذكرنا هنا " إنما هو هذا الحديث الذي نحن في صدد الكلام عليه " ولا يضرك أثره " وهو الذي ذكره ابن عبد البر في ترجمة بنت يسار هذه كما أشرت إليه آنفا، وهو ليس من رواية أبي سلمة هذا عنها ولا عن غيرها، وإنما هو من رواية عيسى بن طلحة عن أبي هريرة كما سبق، فهذا طريق آخر للحديث، وفيه وقع اسمها منسوبا إلى يسار، والسند بذلك صحيح، فكيف نخشى أن يكون ذلك خطأ والصواب بنت يمان مع أن راويه علي بن ثابت ضعيف كما أشار إليه ابن عبد البر بل هو متروك كما سبق.

وأعجب من ذلك أن الحافظ ابن حجر لما نقل كلام ابن عبد البر إلى قوله " لأن إسناد حديثهما واحد " رد عليه بقوله: " قلت: لا يلزم من كون الإسناد إليهما واحدا مع اختلاف المتن أن تكون واحدة " فسلم بقوله إن
সম্ভবত বায়হাকীর বর্ণনায় তাঁর উক্তি "বিন্ত ইয়ামান", এবং তাবারানী ও অন্যান্যদের বর্ণনায় তাঁর উক্তি "বিন্ত হাকিম", মূলত এই ওয়াযে'র মাধ্যমেই এসেছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো ইবন আবদিল বার "আল-ইস্তিয়াব" গ্রন্থে খাওলা বিন্ত ইয়াসারের জীবনীতে তাঁর পূর্বোল্লিখিত হাদিসটি উল্লেখ করার পর যা বলেছেন:

"আবু সালামাহ তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন; এবং আমি আশঙ্কা করছি যে তিনি খাওলা বিন্ত আল-ইয়ামান হতে পারেন, কারণ তাঁদের উভয়ের হাদিসের সনদ (إسناد) এক। মূলত আলী বিন সাবিত, ওয়াযে' বিন নাফি'র মাধ্যমে আবু সালামাহ থেকে সেই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন যা আমরা খাওলা বিন্ত আল-ইয়ামানের নামে উল্লেখ করেছি (অর্থাৎ হাদিস: "নারীদের জামাতে কোনো কল্যাণ নেই … ")

এবং আমরা এখানে যা উল্লেখ করেছি তার মাধ্যমেও, তবে আলী বিন সাবিতের পরবর্তী বর্ণনাকারীদের ক্ষেত্রে হাদিস দুটির মধ্যে ভিন্নতা রয়েছে এবং এ বিষয়ে পর্যালোচনার অবকাশ (نظر) রয়েছে।"

আশ্চর্যের দিকটি হলো যে হাদিসটির প্রতি তিনি "এবং এখানে আমরা যা উল্লেখ করেছি" বলে ইঙ্গিত করেছেন, তা মূলত সেই হাদিস যা নিয়ে আমরা বর্তমানে আলোচনা করছি— "এর চিহ্ন তোমার কোনো ক্ষতি করবে না"। এটি সেই হাদিস যা ইবন আবদিল বার এই বিন্ত ইয়াসারের জীবনীতে উল্লেখ করেছেন যেমনটি আমি একটু আগেই ইঙ্গিত করেছি। এটি তাঁর থেকে বা অন্য কারো থেকে আবু সালামাহ-র বর্ণনা নয়, বরং এটি ঈসা বিন তালহার সূত্রে আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। সুতরাং এটি হাদিসের একটি ভিন্ন সূত্র (طريق), আর তাতে তাঁর নাম ইয়াসারের সাথে সম্বন্ধযুক্ত হয়েছে এবং সেই সূত্রে সনদ (سند) সহিহ (صحيح)। এমতাবস্থায় আমরা কীভাবে আশঙ্কা করতে পারি যে এটি ভুল এবং সঠিকটি হলো 'বিন্ত ইয়ামান', যেখানে এর বর্ণনাকারী (راوٍ) আলী বিন সাবিত স্বয়ং দুর্বল (ضعيف) যেমনটি ইবন আবদিল বার ইঙ্গিত করেছেন, বরং তিনি পরিত্যক্ত (متروك) যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।

এর চেয়েও আশ্চর্যের বিষয় হলো, হাফেজ ইবন হাজার যখন ইবন আবদিল বার-এর বক্তব্য "যেহেতু তাঁদের উভয়ের হাদিসের সনদ (إسناد) এক" পর্যন্ত উদ্ধৃত করেছেন, তখন তিনি এই বলে তার প্রতিবাদ করেছেন: "আমি বলি: মতন (متن) ভিন্ন হওয়া সত্ত্বেও উভয়ের সনদ (إسناد) এক হওয়া থেকে এটি আবশ্যক হয় না যে তাঁরা একই ব্যক্তি।" ফলে তিনি তাঁর এই কথার সাথে একমত হয়েছেন যে...
(খণ্ড: ১) আহকামুন নিসা - মুস্তাখলাসুন মিন কুতুবিল আলবানী (পৃষ্ঠা: ১৩)
الإسناد واحد، مع أنه ليس كذلك، وهو الإمام الحافظ، فجل من لا يسهو ولا ينسى تبارك وتعالى.

رابعا: قول الحافظ فيما سبق: " وله شاهد مرسل "، وهم أيضا، فإننا لا نعلم له شاهدا مرسلا، ولا ذكره الحافظ في " التلخيص " وإنما ذكر له شاهدا موقوفا عن عائشة قالت:

" إذا غسلت المرأة الدم فلم يذهب فلتغيره بصفرة ورس أو زعفران " أخرجه الدارمي (1/ 238) وسكت عليه الحافظ (13) وسنده صحيح على شرط الشيخين.

ورواه أبو داود بنحوه.

انظر " صحيح أبي داود " (ج 3 رقم 383)

والحديث دليل على نجاسة دم الحيض لأمره صلى الله عليه وسلم بغسله، وظاهره أنه يكفي فيه الغسل، ولا يجب فيه استعمال شيء من الحواد والمواد القاطعة لأثر الدم، ويؤيده الحديث الآتي:

299 - " إذا أصاب ثوب إحداكن الدم من الحيضة فلتقرصه ثم لتنضحه بالماء (وفي رواية: ثم اقرصيه بماء ثم انضحي في سائره) ثم لتصلي فيه ". [الصحيحة]

قال رحمه الله:

أخرجه مالك (1/ 79) وعنه البخاري (1/ 325) ومسلم (1/ 166) وأبو داود (ج 3 رقم 386 - صحيحه) والبيهقي (1/ 13) كلهم عن مالك عن هشام بن عروة عن فاطمة بنت المنذر بن الزبير عن أسماء بنت أبي بكر الصديق أنها قالت:
সনদটি (الإسناد) অভিন্ন, যদিও বিষয়টি প্রকৃতপক্ষে তেমন নয়; অথচ তিনি একজন হাফিজ ইমাম (الإمام الحافظ), তবে আল্লাহ তাআলা সুমহান, যিনি কোনো ভুল বা বিস্মৃতিতে পতিত হন না।

চতুর্থত: হাফিজের (ইবনে হাজার আসকালানি) পূর্বোক্ত বক্তব্য: "এর একটি মুরসাল (مرسل) সমর্থক বর্ণনা (شاهد) রয়েছে"—এটিও একটি ভুল। কেননা, আমরা এর কোনো মুরসাল (مرسل) সমর্থক বর্ণনা (شاهد) সম্পর্কে অবগত নই এবং হাফিজ "আত-তালখিস" গ্রন্থেও এটি উল্লেখ করেননি। বরং তিনি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি মওকুফ (موقوف) সমর্থক বর্ণনা (شاهد) উল্লেখ করেছেন, যেখানে তিনি বলেছেন:

"যদি কোনো নারী রক্ত ধুয়ে ফেলে এবং রক্ত দূর না হয়, তবে সে যেন তা হলুদ (বিবর্ণকারী), ওয়ারাস বা জাফরান দিয়ে পরিবর্তন করে দেয়।" এটি দারেমি (১/২৩৮) বর্ণনা করেছেন এবং হাফিজ (১৩) এ বিষয়ে নীরব থেকেছেন। এর সনদটি (سند) শাইখাইনের (বুখারি ও মুসলিম) শর্তানুযায়ী সহিহ (صحيح)।

এবং আবু দাউদ অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

দেখুন: "সহিহ আবু দাউদ" (৩য় খণ্ড, নং ৩৮৩)

এই হাদিসটি ঋতুস্রাবের রক্তের অপবিত্রতার (নাজাসাত) দলিল, যেহেতু রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তা ধোয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এর বাহ্যিক অর্থ হলো ধুয়ে ফেলাই যথেষ্ট, এবং রক্তের দাগ দূর করার জন্য উগ্র বা কড়া কোনো পরিষ্কারক পদার্থ ব্যবহার করা আবশ্যক নয়। পরবর্তী হাদিসটি একে সমর্থন করে:

২৯৯ - "তোমাদের কারো কাপড়ে যদি ঋতুস্রাবের রক্ত লাগে, তবে সে যেন তা ঘষে ফেলে এবং পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলে (অন্য বর্ণনায়: অতঃপর তা পানি দিয়ে ঘষবে এবং অবশিষ্ট অংশে পানি ছিটিয়ে দেবে), তারপর তাতে সালাত আদায় করবে।" [আস-সহিহাহ]

তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:

ইমাম মালিক (১/৭৯) এটি বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর সূত্রে বুখারি (১/৩২৫), মুসলিম (১/১৬৬), আবু দাউদ (৩য় খণ্ড, নং ৩৮৬ - সহিহ) এবং বায়হাকি (১/১৩) বর্ণনা করেছেন। তাঁরা সকলে মালিক থেকে, তিনি হিশাম ইবনে উরওয়াহ থেকে, তিনি ফাতিমা বিনতে আল-মুনজির ইবনে আজ-জুবাইর থেকে এবং তিনি আসমা বিনতে আবি বকর আস-সিদ্দিক (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন:
(খণ্ড: ১) আহকামুন নিসা - মুস্তাখলাসুন মিন কুতুবিল আলবানী (পৃষ্ঠা: ১৪)
" سألت امرأة رسول الله صلى الله عليه وسلم فقالت: أرأيت إحدانا إذا أصاب ثوبها الدم من الحيضة كيف تصنع فيه؟ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم … "

فذكره.

وتابعه يحيى بن سعيد عن هشام به.

أخرجه البخاري (1/ 264) ومسلم والبيهقي (2/ 406)

وأحمد (6/ 346، 353).

وتابعه حماد بن سلمة عنه به، وزاد: " وانضحي ما حوله ".

أخرجه أبو داود (رقم 387) والنسائي (1/ 69) وأبو داود الطيالسي (1638) والزيادة له، ولأبي داود معناها.

قلت: وسنده على شرط مسلم. وتابعه وكيع عنه.

أخرجه مسلم. ويحيى بن عبد الله بن سالم وعمرو بن الحارث.

أخرجه مسلم والبيهقي. وتابعه عيسى بن يونس عنه.

أخرجه أبو داود. وتابعه أبو خالد الأحمر عن هشام به.

أخرجه ابن ماجه (1/ 217): حدثنا أبو بكر بن أبي شيبة حدثنا أبو خالد الأحمر به. ولفظه: " اقرصيه، واغسليه وصلي فيه ".

وتابعه أبو معاوية قال: حدثنا هشام به.

أخرجه أحمد (6/ 345 و 353).
এক মহিলা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করলেন এবং বললেন: আপনি কি মনে করেন (অর্থাৎ কী নির্দেশ দেন), আমাদের কারো কাপড়ে যদি ঋতুকালীন রক্ত লাগে তবে সে কী করবে? আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন …

অতঃপর তিনি এটি উল্লেখ করেন।

এবং হিশাম থেকে ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ এই বর্ণনায় তার অনুসরণ করেছেন (تابعه)।

এটি বর্ণনা করেছেন বুখারি (১/ ২৬৪), মুসলিম এবং বায়হাকি (২/ ৪০৬)

এবং আহমাদ (৬/ ৩৪৬, ৩৫৩)।

এবং হাম্মাদ ইবনে সালামাহ তার থেকে বর্ণনায় তার অনুসরণ করেছেন (تابعه), এবং তিনি অতিরিক্ত উল্লেখ করেছেন: "এবং এর চারপাশ ছিটিয়ে দাও।"

এটি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ (নম্বর ৩৮৭), নাসায়ি (১/ ৬৯) এবং আবু দাউদ তায়ালিসি (১৬৩৮); আর অতিরিক্ত অংশটি তার বর্ণনায় রয়েছে, এবং আবু দাউদের বর্ণনায় এর সমার্থবোধক শব্দ রয়েছে।

আমি বলি: এর সনদ (سند) মুসলিমের শর্তানুযায়ী (على شرط)। এবং ওকি' তার থেকে বর্ণনায় তার অনুসরণ করেছেন (تابعه)।

এটি বর্ণনা করেছেন মুসলিম। এবং ইয়াহইয়া ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে সালিম ও আমর ইবনে হারিসও (অনুরূপ বর্ণনা করেছেন)।

এটি বর্ণনা করেছেন মুসলিম এবং বায়হাকি। এবং ঈসা ইবনে ইউনুস তার থেকে বর্ণনায় তার অনুসরণ করেছেন (تابعه)।

এটি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ। এবং আবু খালিদ আল-আহমার হিশাম থেকে বর্ণনায় তার অনুসরণ করেছেন (تابعه)।

এটি বর্ণনা করেছেন ইবনে মাজাহ (১/ ২১৭): আমাদের নিকট আবু বকর ইবনে আবি শায়বাহ বর্ণনা করেছেন, আবু খালিদ আল-আহমার আমাদের নিকট এটি বর্ণনা করেছেন। আর এর শব্দগুলো হলো: "তা নখ দিয়ে খুঁটে বা রগড়ে দাও, অতঃপর ধৌত করো এবং তাতে নামাজ আদায় করো।"

এবং আবু মুয়াবিয়া তার অনুসরণ করেছেন (تابعه), তিনি বলেন: আমাদের নিকট হিশাম এটি বর্ণনা করেছেন।

এটি বর্ণনা করেছেন আহমাদ (৬/ ৩৪৫ এবং ৩৫৩)।
(খণ্ড: ১) আহকামুন নিসা - মুস্তাখলাসুন মিন কুতুবিল আলবানী (পৃষ্ঠা: ১৫)
وتابعه سفيان بن عيينة عن هشام به إلا أنه قال: " اقرصيه بالماء ثم رشيه ".

أخرجه الترمذي (1/ 254 - 255) والدارمي (1/ 239) والشافعي في " الأم " (1/ 58) والبيهقي (1/ 13، 2/ 406).

وقال الترمذي: " وفي الباب عن أبي هريرة، وأم قيس بنت محصن " قال:

" حديث أسماء حديث حسن صحيح ".

(تنبيه) اتفق جميع هؤلاء الرواة عن هشام بن عروة على تنكير المرأة السائلة وعدم تسميتها، إلا سفيان بن عيينة في رواية الشافعي وعمرو بن عون عند الدارمي فإنهما قالا عنه:

" عن أسماء قالت: سألت رسول الله صلى الله عليه وسلم.

فجعلا الراوية هي السائلة، وخالفهما الحميدي عند البيهقي وابن أبي عمر عند الترمذي فقالا عن سفيان بن عيينة مثل رواية الجماعة ولا شك أنها هي المحفوظة ورواية الشافعي وابن عون شاذة لمخالفتها لرواية الجماعة عن هشام، ورواية الحميدي وابن أبي عمر عن سفيان، ولذلك ضعفها النووي فأصاب، ولكنه لم يفصح عن العلة، فأوهم ما لا يريد، ولذلك تعقبه الحافظ في " الفتح " فقال: (1/ 264) بعد أن ذكر رواية الشافعي هذه:

" وأغرب النووي فضعف هذه الرواية بلا دليل، وهي صحيحة الإسناد لا علة لها، ولا بعد في أن يهم الراوي اسم نفسه كما سيأتي في حديث أبي سعيد في قصة الرقية بفاتحة الكتاب ".
সুফিয়ান বিন উয়াইনা হিশামের সূত্রে এর অনুসরণ (تابعه) করেছেন, তবে তিনি বলেছেন: "পানির সাহায্যে এটি ঘষে তুলে ফেলুন এবং তারপর পানি ছিটিয়ে দিন।"

এটি তিরমিজি (১/ ২৫৪ - ২৫৫), দারিমি (১/ ২৩৯), শাফেয়ি তার "আল-উম্ম" (১/ ৫৮) এবং বায়হাকি (১/ ১৩, ২/ ৪০৬) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।

তিরমিজি বলেন: "এই অনুচ্ছেদে আবু হুরায়রা এবং উম্মে কায়স বিনতে মিহসান থেকেও বর্ণনা রয়েছে।" তিনি বলেন:

"আসমা বর্ণিত হাদিসটি সুন্দর সহিহ (حسن صحيح) হাদিস।"

(সতর্কবার্তা) হিশাম বিন উরওয়ার সূত্রে এই সকল বর্ণনাকারী প্রশ্নকারী নারীকে অনির্দিষ্ট রাখার এবং তার নাম উল্লেখ না করার ব্যাপারে একমত হয়েছেন; তবে শাফেয়ির বর্ণনায় সুফিয়ান বিন উয়াইনা এবং দারিমির নিকট আমর বিন আওন এর ব্যতিক্রম করেছেন। তারা উভয়ে তার (হিশাম) সূত্রে বলেছেন:

"আসমা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রশ্ন করলাম।"

এভাবে তারা বর্ণনাকারীকে নিজেই প্রশ্নকারী হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন। কিন্তু বায়হাকির নিকট হুমাইদি এবং তিরমিজির নিকট ইবনে আবি উমর তাদের বিরোধিতা করেছেন। তারা সুফিয়ান বিন উয়াইনার সূত্রে সাধারণ বর্ণনাকারীদের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, সেটিই সংরক্ষিত (محفوظة) বর্ণনা এবং শাফেয়ি ও ইবনে আওনের বর্ণনাটি বিচ্ছিন্ন (شاذة); কারণ এটি হিশামের সূত্রে সাধারণ বর্ণনাকারীদের বর্ণনার এবং সুফিয়ানের সূত্রে হুমাইদি ও ইবনে আবি উমরের বর্ণনার পরিপন্থী। একারণেই ইমাম নববী একে দুর্বল (ضعفها) বলেছেন এবং তিনি সঠিক কাজই করেছেন, তবে তিনি এর ত্রুটি (العلة) স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেননি, যা অনাকাঙ্ক্ষিত অস্পষ্টতা তৈরি করেছে। ফলে হাফিজ ইবনে হাজার "আল-ফাতহ" (১/ ২৬৪) গ্রন্থে শাফেয়ির এই বর্ণনাটি উল্লেখ করার পর তার পর্যালোচনা করে বলেছেন:

"নববী আশ্চর্যজনকভাবে কোনো দলিল ছাড়াই এই বর্ণনাটিকে দুর্বল (ضعف) বলেছেন, অথচ এটি সহিহ সনদবিশিষ্ট (صحيحة الإسناد) এবং এতে কোনো ত্রুটি (علة) নেই। আর বর্ণনাকারীর নিজের নাম বর্ণনায় ভুল (يهم) করা অবাস্তব কিছু নয়, যেমনটি সুরা ফাতিহা দ্বারা ঝাড়ফুঁকের ঘটনায় আবু সাঈদের হাদিসে সামনে আসবে।"
(খণ্ড: ১) আহকামুন নিসা - মুস্তাখলাসুন মিন কুতুবিল আলবানী (পৃষ্ঠা: ১৬)
وقال في " التلخيص " (13):

" (تنبيه): زعم النووي في " شرح المهذب " أن الشافعي روى في " الأم أن أسماء هي السائلة بإسناد ضعيف. وهذا خطأ، بل إسناده في غاية الصحة، وكأن النووي قلد في ذلك ابن الصلاح، وزعم جماعة ممن تكلم على " المهذب " أنه غلط في قوله إن أسماء هي السائلة، وهم الغالطون ".

قلت: كلا، بل هم المصيبون، والحافظ هو الغالط، والسبب ثقته البالغة بحفظ الشافعي وهو حري بذلك، لكن رواية الجماعة أضبط وأحفظ، ويمكن أن يقال: إن الغلط ليس من الشافعي، بل من ابن عيينة نفسه، بدليل أنه صح عنه الروايتان، الموافقة لرواية الجماعة، والمخالفة لها، فروى الشافعي والذي معه هذه، وروى الحميدي والذي معه رواية الجماعة، فكانت أولى وأصح، وخلافها معلولة بالشذوذ، ولو أن الحافظ رحمه الله جمع الروايات عن هشام كما فعلنا، لم يعترض على النووي ومن معه، بل لوافقهم على تغليطهم لهذه الرواية.

والعصمة لله وحده.

وأما قوله " ولا بعد في أن يبهم الراوي … " فمسلم، ولكن ذلك عندما لا تكون الرواية التي وقع فيها التسمية شاذة كما هنا.

ومما يؤيد ما تقدم أن محمد بن إسحاق قد تابع هشاما على روايته فقال:

حدثتني فاطمة بنت المنذر عن أسماء بنت أبي بكر قالت:
এবং তিনি 'আল-তালখিস' (১৩) গ্রন্থে বলেছেন:

"(সতর্কবার্তা): আন-নববী 'শারহুল মুহাযযাব' গ্রন্থে দাবি করেছেন যে, আশ-শাফিঈ 'আল-উম্ম' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন যে আসমা-ই হলেন প্রশ্নকর্ত্রী এবং এর বর্ণনাধারা (إسناد) দুর্বল (ضعيف)। এটি একটি ভুল কথা, বরং এর বর্ণনাধারা (إسناد) অত্যন্ত বিশুদ্ধ (صحيح); মনে হয় এই ক্ষেত্রে আন-নববী ইবনুস সালাহকে অনুসরণ করেছেন। আর 'আল-মুহাযযাব'-এর ওপর যারা আলোচনা করেছেন তাদের একদল দাবি করেছেন যে, আসমা-ই প্রশ্নকর্ত্রী—একথা বলা তার ভুল ছিল; অথচ তারাই মূলত ভুল করছেন।"

আমি বলছি: মোটেও নয়, বরং তারাই সঠিক এবং আল-হাফিজই মূলত ভুল করছেন। এর কারণ হলো আশ-শাফিঈর মুখস্থশক্তির ওপর তার অগাধ আস্থা, আর তিনি (শাফিঈ) এর যোগ্যও বটে। কিন্তু বর্ণনাকারীদের বৃহত্তর দলের (جماعة) বর্ণনা (رواية) অধিক নিখুঁত (أضبط) ও সংরক্ষিত (أحفظ)। এটিও বলা সম্ভব যে, ভুলটি আশ-শাফিঈর নয়, বরং খোদ ইবনে উয়াইনার; যার প্রমাণ হলো তার থেকে উভয় প্রকার বর্ণনাই প্রমাণিত হয়েছে—যা বর্ণনাকারীদের বৃহত্তর দলের বর্ণনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং যা তার বিপরীত। সুতরাং আশ-শাফিঈ ও তার সাথীরা এই পাঠটি বর্ণনা (رواية) করেছেন, আর আল-হুমাইদী ও তার সাথীরা বর্ণনাকারীদের বৃহত্তর দলের বর্ণনা (رواية) করেছেন। ফলে সেটিই ছিল অধিক অগ্রাধিকারযোগ্য ও বিশুদ্ধ (أصح), আর এর বিপরীত বর্ণনাটি অস্বাভাবিকতা (شذوذ) হেতু ত্রুটিযুক্ত (معلولة)। আল-হাফিজ (রহিমাহুল্লাহ) যদি হিশাম থেকে বর্ণিত বর্ণনাগুলো (روايات) সংগ্রহ করতেন যেভাবে আমরা করেছি, তবে তিনি আন-নববী ও তার সাথে একমত পোষণকারীদের ওপর আপত্তি করতেন না, বরং এই বর্ণনাটিকে (رواية) ভুল সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে তাদের সাথে একমত হতেন।

আর নির্ভুলতা কেবল আল্লাহরই গুণ।

আর তার এই কথা— "বর্ণনাকারী (راوي) নাম উল্লেখ না করে অস্পষ্ট (مبهم) রাখা অসম্ভব কিছু নয়..."—তা গ্রহণযোগ্য, তবে তা তখনই যখন নামোল্লেখিত বর্ণনাটি (رواية) বর্তমানটির মতো অস্বাভাবিক (شاذة) না হয়।

পূর্বোক্ত বক্তব্যের সপক্ষে একটি জোরালো যুক্তি হলো, মুহাম্মদ ইবন ইসহাক হিশামের বর্ণনার ক্ষেত্রে তার সমর্থনমূলক বর্ণনা (متابعة) দিয়েছেন এবং বলেছেন:

ফাতিমা বিনতে মুনযির আসমা বিনতে আবু বকর থেকে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি (আসমা) বলেছেন:
(খণ্ড: ১) আহকামুন নিসা - মুস্তাখলাসুন মিন কুতুবিল আলবানী (পৃষ্ঠা: ১৭)
" سمعت امرأة تسأل رسول الله صلى الله عليه وسلم عن ثوبها إذا طهرت من محيضها كيف تصنع به؟ قال: إن رأيت فيه دما فحكيه، ثم اقرصيه بماء، ثم انضحي في سائره فصلي فيه ".

أخرجه أبو داود (385) والدارمي (1/ 239) والسياق له والبيهقي (2/ 406) وسنده حسن.

فقولها " سمعت امرأة " مما يبعد أن تكون هي السامعة كما هو ظاهر.

(تنبيه) في هذه الرواية زيادة " ثم انضحي في سائره "، وهي زيادة هامة لأنهاتبين أن قوله في رواية هشام " ثم لتنضحه " ليس المراد نضح مكان الدم، بل الثوب كله. ويشهد لها حديث عائشة قالت:

" كانت إحدانا تحيض ثم تقرص الدم من ثوبها عند طهرها فتغسله وتنضح على سائره، ثم تصلي فيه ".

أخرجه البخاري (1/ 326) وابن ماجه (1/ 217) والبيهقي (2/ 406 - 407).

وظاهر الحديث يدل كالحديث الذي قبله على أن الماء يكفي في غسل دم الحيض وأنه لا يجب فيه استعمال شيء من الحوادِّ كالسدر والصابون ونحوه، لكن قد جاء ما يدل على وجوب ذلك وهو الحديث الآتي.
"আমি এক নারীকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাঁর পোশাক সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে শুনেছি যে, যখন সে ঋতুস্রাব থেকে পবিত্র হয় তখন সেটির সাথে কী করবে? তিনি বললেন: 'যদি তুমি তাতে রক্ত দেখতে পাও, তবে তা খুঁটে ফেলবে, তারপর পানি দিয়ে রগড়ে ধোবে, এরপর বাকি অংশে পানি ছিটিয়ে দেবে এবং তাতে সালাত আদায় করবে'।"

এটি আবু দাউদ (৩৮৫) এবং দারেমি (১/২৩৯) বর্ণনা করেছেন—এবং শব্দবিন্যাস তাঁর—তথা বায়হাকি (২/৪০৬); এর সনদ (سند) হাসান (حسن)।

তাঁর উক্তি "আমি এক নারীকে বলতে শুনেছি" থেকে এটি দূরবর্তী মনে হয় যে তিনিই সরাসরি শ্রবণকারী ছিলেন, যেমনটি বাহ্যিকভাবে প্রকাশ পায়।

(সতর্কবার্তা) এই বর্ণনায় "অতঃপর তার বাকি অংশে পানি ছিটিয়ে দাও" অতিরিক্ত (زيادة) অংশটি রয়েছে, যা একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্ধন; কারণ এটি স্পষ্ট করে যে, হিশাম-এর বর্ণনায় "অতঃপর সে যেন তাতে পানি ছিটিয়ে দেয়" কথাটির উদ্দেশ্য রক্তের স্থানে পানি ছিটানো নয়, বরং পুরো পোশাকে। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস এর সাক্ষ্য দেয়, তিনি বলেন:

"আমাদের কেউ ঋতুবতী হতো, অতঃপর পবিত্র হওয়ার সময় সে তার পোশাক থেকে রক্ত রগড়ে ফেলত, তারপর তা ধৌত করত এবং বাকি অংশে পানি ছিটিয়ে দিত, এরপর তাতে সালাত আদায় করত।"

এটি বুখারি (১/৩২৬), ইবনে মাজাহ (১/২১৭) এবং বায়হাকি (২/৪০৬-৪০৭) বর্ণনা করেছেন।

হাদিসটির প্রকাশ্য অর্থ পূর্ববর্তী হাদিসের মতোই নির্দেশ করে যে, ঋতুস্রাবের রক্ত ধোয়ার জন্য পানিই যথেষ্ট এবং এতে পরিষ্কারক দ্রব্য যেমন কুল পাতা, সাবান বা এই জাতীয় কিছু ব্যবহার করা ওয়াজিব (واجب) নয়। তবে এমন কিছু বর্ণিত হয়েছে যা এর আবশ্যকতা নির্দেশ করে এবং তা হলো পরবর্তী হাদিসটি।
(খণ্ড: ১) আহকামুন নিসা - মুস্তাখলাসুন মিন কুতুবিল আলবানী (পৃষ্ঠা: ১৮)
300 - " حكيه بضلع واغسليه بماء وسدر ".

[الصحيحة]

قال رحمه الله:

أخرجه أبو داود (1/ 41 - بشرح عون المعبود) والنسائي (1/ 69) والدارمي (1/ 239) وابن ماجه (1/ 217) وابن حبان في " صحيحه" (235) والبيهقي (2/ 407) وأحمد (6/ 355، 356) من طرق عن سفيان: حدثني ثابت الحداد حدثني عدي بن دينار قال: سمعت أم قيس بنت محصن تقول:

" سألت النبي صلى الله عليه وسلم عن دم الحيض يكون في الثوب؟ قال … " فذكره

قلت: وهذا سند صحيح ورجاله كلهم ثقات، وفي ثابت الحداد وهو ابن هرمز الكوفي مولى بكر بن وائل خلاف يسير، وثقه أحمد وابن معين وابن المديني وغيرهم، وتكلم فيه بعضهم بدون حجة، وفي " التقريب ": " صدوق يهم"

وكأنه لهذا لم يصحح الحافظ في " الفتح " (1/ 266) إسناده، بل قال:

" إسناده حسن ".

وقال في " التهذيب ":

" وأخرج ابن خزيمة وابن حبان حديثه في الحيض في " صحيحيهما "، وصححه ابن القطان، وقال عقبه: لا أعلم له علة، وثابت ثقة ولا أعلم أحدا ضعفه غير الدارقطني ".
৩০০ - "এটি একটি পাঁজরের হাড় দিয়ে ঘষে তুলে ফেলো এবং পানি ও বরই পাতা দিয়ে ধুয়ে নাও।"

[সহিহ (الصحيحة)]

তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) বলেছেন:

আবু দাউদ (১/ ৪১ - আউনুল মাবুদ-এর ব্যাখ্যাসহ), নাসাঈ (১/ ৬৯), দারেমি (১/ ২৩৯), ইবনে মাজাহ (১/ ২১৭), ইবনে হিব্বান তাঁর "সহিহ" গ্রন্থে (২৩৫), বায়হাকি (২/ ৪০৭) এবং আহমাদ (৬/ ৩৫৫, ৩৫৬) সুফিয়ান থেকে একাধিক সূত্রে বর্ণনা করেছেন: সাবিত আল-হাদ্দাদ আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, আদি বিন দিনার আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি উম্মে কায়স বিনতে মিহসানকে বলতে শুনেছি:

"আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে কাপড়ে লেগে থাকা ঋতুর রক্ত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন … " অতঃপর তিনি হাদীসটি উল্লেখ করেন।

আমি বলছি: এই সনদ (سند) সঠিক (صحيح) এবং এর বর্ণনাকারীগণ সবাই নির্ভরযোগ্য (ثقات)। সাবিত আল-হাদ্দাদ (যিনি বকর বিন ওয়ায়েলের মুক্তদাস ইবনে হুরমুজ আল-কুফি) সম্পর্কে সামান্য মতভেদ আছে। আহমাদ, ইবনে মাঈন, ইবনে মাদিনি এবং অন্যান্যরা তাঁকে নির্ভরযোগ্য (وثقه) বলেছেন, আর কেউ কেউ কোনো প্রমাণ ছাড়াই তাঁর সমালোচনা করেছেন। 'তাকরিব' গ্রন্থে তাঁর সম্পর্কে বলা হয়েছে: "সত্যবাদী তবে ভ্রম করেন (صدوق يهم)"।

সম্ভবত এই কারণেই হাফিজ (ইবনে হাজার) 'ফাতহুল বারি' (১/ ২৬৬) গ্রন্থে এর সনদকে সহিহ বলেননি, বরং বলেছেন:

"এর সনদ (إسناده) হাসান (حسن)।"

তিনি 'তাহজিব' গ্রন্থে বলেছেন:

"ইবনে খুজাইমা এবং ইবনে হিব্বান তাঁদের নিজ নিজ 'সহিহ' গ্রন্থে ঋতু সংক্রান্ত তাঁর হাদিসটি বর্ণনা করেছেন এবং ইবনে আল-কাত্তান একে সঠিক (صححه) বলে গণ্য করেছেন। তিনি এর পরপরই বলেছেন: আমি এর কোনো ত্রুটি (علة) জানি না; সাবিত নির্ভরযোগ্য (ثقة) এবং দারাকুতনি ছাড়া আর কেউ তাঁকে দুর্বল (ضعفه) করেছেন বলে আমার জানা নেই।"
(খণ্ড: ১) আহকামুন নিসা - মুস্তাখলাসুন মিন কুতুবিল আলবানী (পৃষ্ঠা: ১৯)
ونقل في " التلخيص " (ص 12 - 13) تصحيح ابن القطان هذا وأقره، وهو الصواب.

(تنبيه): قوله " بضلع " كذا وقع عند جميع من أخرج الحديث بالضاد المعجمة، وهو بالكسر وفتح اللام ويكسر، وهو العود.

لكن قال الحافظ في " التلخيص " (13):

" ضبطه ابن دقيق العيد بفتح الصاد المهملة وإسكان اللام ثم عين مهملة وهوالحجر. قال: ووقع في بعض المواضع بكسر الضاد المعجمة وفتح اللام، ولعله تصحيف لأنه لا معنى يقضي تخصيص الضلع بذلك. كذا قال.

لكن قال الصغاني في " العباب " في مادة " ضلع " بالمعجمة:

" وفي الحديث حتيه بضلع ".

قال ابن الأعرابي: الضلع ههنا العود الذي فيه اعوجاج.

وكذا ذكره الأزهري في المادة المذكورة وزاد عن الليث:

قال: " الأصل فيه ضلع الحيوان فسمي به العود الذي يشبهه ".

فقه الحديث:

يستفاد من هذه الأحاديث أحكام كثيرة أذكر أهمها:

الأول: أن النجاسات إنما تزال بالماء دون غيره من المائعات، لأن جميع النجاسات بمثابة دم الحيض، ولا فرق بينه وبينها اتفاقا. وهو مذهب الجمهور وذهب أبو حنيفة إلى أنه يجوز تطهير النجاسة بكل مائع طاهر.
"আত-তালখিস" (পৃ. ১২ - ১৩) গ্রন্থে ইবনে আল-কাত্তানের এই সহিহ আখ্যা দেওয়া (تصحيح)-র বিষয়টি উদ্ধৃত করা হয়েছে এবং তিনি তা সমর্থন করেছেন, আর এটিই সঠিক।

(সতর্কতা): তাঁর কথা "জিল্" (ضلع) শব্দটি হাদিসটি সংকলনকারী সকলের নিকটেই 'দোয়াদ' (ض) বর্ণ যোগে বর্ণিত হয়েছে। এটি 'দোয়াদ' বর্ণে কাসরাহ (জের) এবং 'লাম' বর্ণে ফাতহাহ (জবর) অথবা কাসরাহ যোগে পঠিত হয়; যার অর্থ হলো কাঠি বা কাঠের টুকরো।

কিন্তু আল-হাফিজ "আত-তালখিস" (১৩) গ্রন্থে বলেছেন:

"ইবনে দাকীকুল ঈদ এটি 'সোয়াদ' (ص) বর্ণে ফাতহাহ (জবর), 'লাম' বর্ণে সুকুন এবং এরপর 'আইন' (ع) বর্ণ যোগে (অর্থাৎ 'সালা' বা পাথর হিসেবে) নির্ধারণ করেছেন। তিনি বলেন: কোনো কোনো স্থানে এটি 'দোয়াদ' (ض) বর্ণে কাসরাহ (জের) এবং 'লাম' বর্ণে ফাতহাহ (জবর) যোগে বর্ণিত হয়েছে; সম্ভবত এটি একটি লেখনী বিভ্রাট (تصحيف), কারণ সেখানে বক্র কাঠিকে (ضلع) নির্দিষ্ট করার কোনো বিশেষ অর্থ প্রকাশ পায় না। তিনি এভাবেই বলেছেন।"

কিন্তু আস-সাগানি "আল-উবাব" গ্রন্থের "দা-লাম-আইন" (ضلع) পরিচ্ছেদে বলেছেন:

"এবং হাদিসে এসেছে—তা বক্র কাঠি দিয়ে ঘষে পরিষ্কার করো।"

ইবনুল আরাবি বলেন: এখানে 'জিল্' (ضلع) বলতে এমন কাঠের টুকরো বোঝানো হয়েছে যাতে বক্রতা রয়েছে।

আল-আযহারি উক্ত পরিচ্ছেদে একইভাবে এটি উল্লেখ করেছেন এবং আল-লাইস থেকে অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে:

তিনি বলেন: "এর মূল উৎস হলো প্রাণীর পাঁজরের হাড়; তাই এর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ কাঠের টুকরোকেও এই নামে অভিহিত করা হয়েছে।"

হাদিসের ফিকহ:

এই হাদিসগুলো থেকে অনেক বিধানাবলি আহরিত হয়, যার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণগুলো আমি উল্লেখ করছি:

প্রথমত: নাপাকি বা অপবিত্রতা পানি দ্বারাই দূর করতে হবে, অন্য কোনো তরল পদার্থ দ্বারা নয়। কারণ সর্বসম্মতিক্রমে সকল নাপাকি ঋতুস্রাবের রক্তের পর্যায়ভুক্ত এবং এ দুয়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। এটিই জুমহুর (সংখ্যাগুরু উলামাদের) মত। তবে আবু হানিফা এই মত পোষণ করেছেন যে, যেকোনো পবিত্র তরল পদার্থ দ্বারা নাপাকি দূর করা বৈধ।
(খণ্ড: ১) আহকামুন নিসা - মুস্তাখলাসুন মিন কুতুবিল আলবানী (পৃষ্ঠা: ২০)
قال الشوكاني (1/ 35):

" والحق أن الماء أصل في التطهير لوصفه بذلك كتابا وسنة وصفا مطلقا غير مقيد لكن القول بتعينه وعدم إجزاء غيره يرده حديث مسح النعل وفرك المني، وإماطته بإذخرة، وأمثال ذلك كثير، فالإنصاف أن يقال أنه يطهر كل فرد من أفراد النجاسات المنصوص على تطهيرها بما اشتمل عليه النص، لكنه إن كان ذلك الفرد المحال عليه هو الماء فلا يجوز لعدول إلى غيره للمزية التي اختص بها وعدم مساواة غيره له فيها، وإن كان ذلك الفرد غير الماء جاز العدول عنه إلى الماء لذلك، وإن وجد فرد من أفراد النجاسة لم يقع من الشارع الإحالة في تطهيره على فرد من أفراد المطهرات بل مجرد الأمر بمطلق التطهير فالاقتصار على الماء هو اللازم لحصول الامتثال به بالقطع، وغيره مشكوك فيه. وهذه طريقة متوسطة بين القولين لا محيص عن سلوكها ".

قلت: وهذا هو التحقيق فشد عليه بالنواجذ.

ومما يدل على أن غير الماء لا يجزىء في دم الحيض قوله صلى الله عليه وسلم في الحديث الثاني: " يكفيك الماء " فإن مفهومه أن غير الماء لا يكفي. فتأمل.
শাওকানী বলেন (১/ ৩৫):

"প্রকৃত কথা হলো, পবিত্রতা অর্জনের ক্ষেত্রে পানিই মূল উৎস; কেননা কুরআন ও সুন্নাহতে একে সাধারণ (مطلق) ও শর্তহীন (غير مقيد) বৈশিষ্ট্যে বর্ণনা করা হয়েছে। তবে পানিই নির্দিষ্ট হওয়া এবং পানি ব্যতীত অন্য কিছু যথেষ্ট না হওয়ার বিষয়টি জুতা মোছা, বীর্য ঘষে পরিষ্কার করা, ইযখির ঘাস দিয়ে তা দূর করা এবং এই জাতীয় বহু হাদিস দ্বারা প্রত্যাখ্যাত হয়। সুতরাং ইনসাফপূর্ণ কথা হলো, যেসব নাপাকীকে পবিত্র করার পদ্ধতি দলিলে (نص) বর্ণিত হয়েছে, সেগুলোর প্রত্যেকটিকে দলিলের (نص) নির্দেশ অনুযায়ী পবিত্র করতে হবে। তবে যদি সেই নির্দেশিত মাধ্যমটি পানি হয়, তবে পানির বিশেষ বৈশিষ্ট্য ও অন্য কোনো বস্তু পানির সমতুল্য না হওয়ার কারণে পানি ত্যাগ করে অন্য কিছুর দিকে যাওয়া জায়েজ হবে না। আর যদি মাধ্যমটি পানি ছাড়া অন্য কিছু হয়, তবে উল্লিখিত কারণেই তা ত্যাগ করে পানির দিকে আসা জায়েজ হবে। কিন্তু যদি এমন কোনো নাপাকী পাওয়া যায় যার পবিত্রতার বিষয়ে শরিয়ত প্রণেতা নির্দিষ্ট কোনো মাধ্যমের কথা উল্লেখ করেননি, বরং কেবল সাধারণ পবিত্রতার নির্দেশ দিয়েছেন, সেক্ষেত্রে নিশ্চিতভাবে নির্দেশ পালনের জন্য পানির ওপর সীমাবদ্ধ থাকাই আবশ্যক; কারণ পানি ব্যতীত অন্য কিছু সন্দেহযুক্ত। এটি হলো দুই মতের মাঝামাঝি একটি পদ্ধতি যা অনুসরণ করা অপরিহার্য।"

আমি বলছি: এটিই হলো সঠিক ও চূড়ান্ত বিশ্লেষণ (تحقيق), সুতরাং একে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরুন।

আর ঋতুকালীন রক্তের ক্ষেত্রে পানি ব্যতীত অন্য কিছু যথেষ্ট না হওয়ার একটি প্রমাণ হলো দ্বিতীয় হাদিসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "তোমার জন্য পানিই যথেষ্ট।" এর মর্মার্থ (مفهوم) হলো পানি ছাড়া অন্য কিছু যথেষ্ট নয়। বিষয়টি অনুধাবন করুন।
(খণ্ড: ১) আহকামুন নিসা - মুস্তাখলাসুন মিন কুতুবিল আলবানী (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌باب الحيض والنفاس والاستحاضة

قال رحمه الله:

الحيض: هو الدم الأسود الخاثر الكريه الرائحة خاصة فمتى ظهر من المرأة صارت حائضا.

عن فاطمة بنت أبي حبيش أنها كانت تستحاض فقال لها النبي صلى الله عليه وسلم: (إذا كان دم الحيضة فإنه دم أسود يعرف فإذا كان ذلك فأمسكي عن الصلاة فإذا كان الآخر فتوضئي وصلي فإنما هو عرق). (د: 45 و 50، ن: 66، قط: 76، مس: 174) وابن حزم (2/ 164) عن ابن أبي عدي: ثنا محمد بن عمرو: ثنا ابن شهاب عن عروة بن الزبير عنها.

وهذا سند حسن وقد حسنه ابن العربي في (العارضة) وقال الحاكم: (صحيح على شرط مسلم) ووافقه الذهبي. وليس كما قالا.

ثم أخرجه الحاكم (1/ 174) عن سهيل بن أبي صالح عن الزهري عن عروة بن الزبير عن أسماء بنت عميس قالت: قلت: يا رسول الله إن فاطمة بنت أبي حبيش استحاضت منذ كذا وكذا فلم تصل. قالت: فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (فسبحان الله هذا من الشيطان لتجلس في مركن، فإذا رأت صفرة فوق الماء فتغتسل للظهر والعصر غسلا واحدا وتغتسل للمغرب والعشاء غسلا واحدا وتغتسل للفجر وتتوضأ فيما بين ذلك).

وقال: (صحيح على شرط مسلم) ووافقه الذهبي.

وهو كما قالا.
ঋতুস্রাব (হায়েজ), প্রসূতি অবস্থা (নিফাস) এবং দীর্ঘস্থায়ী রক্তক্ষরণ (ইস্তিহাজা) বিষয়ক অধ্যায়

তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বলেছেন:

ঋতুস্রাব (হায়েজ) হলো: বিশেষভাবে সেই কালো, ঘন এবং দুর্গন্ধযুক্ত রক্ত; যখনই কোনো নারীর এই রক্ত প্রকাশ পায়, তখনই সে ঋতুবতী বলে গণ্য হয়।

ফাতিমা বিনতে আবি হুবাইশ (রা.) থেকে বর্ণিত যে, তাঁর ইস্তিহাজা (দীর্ঘস্থায়ী রক্তক্ষরণ) হতো। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে বলেছিলেন: "যদি এটি ঋতুস্রাবের রক্ত হয়, তবে তা হবে কালো বর্ণের যা চেনা যায়। সুতরাং যখন তেমনটি হবে, তখন নামাজ থেকে বিরত থেকো। আর যখন অন্যটি হবে (অন্য বর্ণের রক্ত), তখন অজু করো এবং নামাজ পড়ো; কারণ সেটি কেবল একটি শিরার রক্ত।" (আবু দাউদ: ৪৫ ও ৫০, নাসায়ি: ৬৬, দারা কুতনি: ৭৬, মুসনাদে আহমাদ: ১৭৪) এবং ইবনে হাজম (২/ ১৬৪) ইবনে আবি আদি থেকে বর্ণনা করেছেন: আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে আমর হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইবনে শিহাব উরওয়াহ ইবনে যুবায়েরের সূত্রে ফাতিমা (রা.) থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন।

এই সূত্র (سند) টি উন্নত (حسن)। ইবনুল আরাবি আল-আরিজাহ গ্রন্থে একে উন্নত (حسن) বলেছেন। ইমাম হাকেম বলেছেন: "এটি ইমাম মুসলিমের শর্তানুযায়ী বিশুদ্ধ (صحيح)" এবং ইমাম যাহাবি তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন। তবে বিষয়টি তেমন নয় যেমনটি তাঁরা বলেছেন।

অতঃপর ইমাম হাকেম (১/ ১৭৪) সুহাইল ইবনে আবি সালেহ-এর সূত্রে, তিনি জুহরি থেকে, তিনি উরওয়াহ ইবনে যুবায়ের থেকে, আসমা বিনতে উমাইস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! ফাতিমা বিনতে আবি হুবাইশের এতদিন যাবত ইস্তিহাজা হচ্ছে যে সে নামাজ পড়ছে না। তিনি বলেন: তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: "সুবহানাল্লাহ! এটি শয়তানের পক্ষ থেকে। সে যেন একটি বড় পাত্রে বসে। যখন সে পানির ওপর হলুদ আভা দেখবে, তখন জোহর ও আসরের জন্য একবার গোসল করবে, মাগরিব ও এশার জন্য একবার গোসল করবে এবং ফজরের জন্য একবার গোসল করবে, আর এর মধ্যবর্তী সময়গুলোতে সে অজু করবে।"

তিনি (হাকেম) বলেছেন: "এটি ইমাম মুসলিমের শর্তানুযায়ী বিশুদ্ধ (صحيح)" এবং ইমাম যাহাবি তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন।

আর বিষয়টি তেমনই যেমনটি তাঁরা বলেছেন।
(খণ্ড: ১) আহকামুন নিসা - মুস্তাখলাসুন মিন কুতুবিল আলবানী (পৃষ্ঠা: ২২)
ورواه د (48) وقط (79) وطحا (60 - 61) فهذا الحديث يفيد أن الصفرة ليست دم حيض لقوله: (دم الحيض أسود يعرف) وهو مذهب ابن حزم وجمهور الظاهرية كما قال في (المحلى) (2/ 168).

وأما الحمرة والصفرة بعد الطهر فلا يعد شيئا وهو قول أبي حنيفة وسفيان الثوري والأوزاعي والشافعي وأحمد وغيرهم

عن عائشة زوج النبي صلى الله عليه وسلم أن أم حبيبة بنت جحش ختنة رسول الله صلى الله عليه وسلم وتحت عبد الرحمن بن عوف استحيضت سبع سنين فاستفتت رسول الله صلى الله عليه وسلم في ذلك فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (إن هذه ليست بالحيضة ولكن هذا عرق فاغتسلي وصلي).

قالت عائشة: فكانت تغتسل في مركن في حجرة أختها زينب بنت جحش حتى تعلو حمرة الدم الماء. (م: 181، د 44، ن: 655، مج: 215 - 216، مي: 196 - 198، 199 و 200) وحم (6 - 83 و 187) ورواه: م (181 - 182) ن (65) د (43)

وعن عائشة أن النبي صلى الله عليه وسلم اعتكف معه بعض نسائه وهي مستحاضة ترى الدم فربما وضعت الطست تحتها من الدم وزعم أن عائشة رأت ماء العصفر فقالت: كان هذا شيء كانت فلانة تجده. (خ: 26، مي: 217، وفي لفظ:

ل خ: 327 و 4/ 226): اعتكفت مع رسول الله صلى الله عليه وسلم امرأة مستحاضة من أزواجه فكانت ترى الحمرة والصفرة فربما وضعنا الطست تحتها وهي تصلي.
এটি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ (৪৮), দারা কুতনী (৭৯) এবং তাহাবী (৬০-৬১)। এই হাদিসটি নির্দেশ করে যে, পীতবর্ণের স্রাব (صفرة) ঋতুস্রাবের রক্ত নয়; কারণ তাঁর বাণী: "ঋতুস্রাবের রক্ত কালো, যা চেনা যায়।" এটি ইবনে হাজম এবং জমহুর (جمهور) বা সংখ্যাগরিষ্ঠ জাহেরী মতাবলম্বীদের অভিমত, যেমনটি তিনি আল-মুহাল্লা (২/১৬৮) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।

আর পবিত্রতা (طهر) অর্জনের পরবর্তী লালচে (حمرة) ও পীতবর্ণের (صفرة) স্রাবকে কিছুই গণ্য করা হবে না। এটি ইমাম আবু হানিফা, সুফিয়ান সাওরী, আওযাঈ, শাফিঈ, আহমাদ এবং অন্যদের অভিমত।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রী আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শ্যালিকা এবং আবদুর রহমান ইবনে আউফের স্ত্রী উম্মে হাবিবা বিনতে জাহশ সাত বছর যাবত এস্তেহাযা (استحاضة) বা দীর্ঘস্থায়ী রক্তক্ষরণে আক্রান্ত ছিলেন। তিনি এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে ফতোয়া চাইলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "এটি ঋতুস্রাব (حيضة) নয়, বরং এটি একটি ধমনীর রক্তক্ষরণ; সুতরাং তুমি গোসল করো এবং সালাত আদায় করো।"

আয়েশা (রা.) বলেন: এরপর তিনি তাঁর বোন জয়নব বিনতে জাহশের কামরায় একটি বড় পাত্রে গোসল করতেন, এমনকি রক্তের লাল আভা পানির উপরে ভেসে উঠত। (মুসলিম: ১৮১, আবু দাউদ: ৪৪, নাসাঈ: ৬৫৫, ইবনে মাজাহ: ২১৫-২১৬, দারেমী: ১৯৬-১৯৮, ১৯৯ ও ২০০) এবং আহমাদ (৬ - ৮৩ ও ১৮৭)। এটি আরও বর্ণনা করেছেন: মুসলিম (১৮১-১৮২), নাসাঈ (৬৫), আবু দাউদ (৪৩)।

আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জনৈক স্ত্রী তাঁর সাথে এতেকাফ করেছিলেন এমতাবস্থায় যে, তিনি এস্তেহাযা (استحاضة) আক্রান্ত ছিলেন এবং রক্ত দেখতেন। রক্তের আধিক্যের কারণে অনেক সময় তিনি নিজের নিচে একটি পাত্র রাখতেন। বর্ণিত আছে যে, আয়েশা (রা.) কুসুম ফুলের রঙের ন্যায় পানি (হলুদাভ পানি) দেখেছিলেন এবং বলেছিলেন: "এটি এমন কিছু যা অমুক নারী অনুভব করত।" (বুখারী: ২৬, দারেমী: ২১৭), এবং অন্য শব্দে:

(সহিহ বুখারী: ৩২৭ এবং ৪/২২৬): রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে তাঁর স্ত্রীদের মধ্য থেকে একজন এস্তেহাযা (استحاضة) আক্রান্ত নারী এতেকাফ করেছিলেন। তিনি লালচে (حمرة) ও পীতবর্ণের (صفرة) স্রাব দেখতেন, এমনকি অনেক সময় তিনি সালাত আদায়রত অবস্থায় আমরা তাঁর নিচে পাত্র রাখতাম।
(খণ্ড: ১) আহকামুন নিসা - মুস্তাখলাসুন মিন কুতুবিল আলবানী (পৃষ্ঠা: ২৩)
وعن أيوب عن محمد عن أم عطية قالت: كنا لا نعد الكدرة والصفرة شيئا. (خ: 338، د: 50، ن: 66، مي: 214، مجج: 222، مس: 174) ثم أخرجه د مي: 215، مج: 222 ومس من طريق حماد بن سلمة عن قتادة عن أم الهذيل عنها بزيادة: بعد الطهر شيئا وقال: مس:

(صحيح على شرطهما).

وأم الهذيل هي حفصة بنت سيرين وكذا قال الذهبي وإنما هو على شرط مسلم من أجل حماد بن سلمة والأول هو على شرطهما واستدراكه على البخاري لا معنى له وروى الدارمي عن ابن سيرين قال: لم يكونوا يرون في الكدرة والسفرة بأسا.

1 - فإذا كان دم الحيض أسود يعرف فكل من رأته من النساء وميزته فهي حائض وإلا فمستحاضة.

2 - إلا التي لا تميز دمها بسبب كثرته واستدامته فعليها أن ترجع إلى عادتها وأيامها المعرفة من الحيض.

3 - وإذا لم تعرف أيام الحيض ولم تميز الدم فعليها أن ترجع إلى الغالب من عادة النساء في ذلك.

يدل للأول حديث فاطمة بنت أبي حبيش المتقدم

وللثاني حديث أم حبيبة عند أحمد وقد مر قريبا وهو من حديث عائشة.

وقد روته - أيضا - أم سلمة عند أحمد (6 - 322 - 323 و 320 و 393) وأبو داود (42) ن (65) مي (199) مج (215) قط (76)
আইয়ুব হতে, তিনি মুহাম্মদ (ইবনে সিরিন) হতে এবং তিনি উম্মে আতিয়্যাহ হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "আমরা ঘোলাটে এবং হলদেটে রঙকে (ঋতুস্রাব হিসেবে) কিছুই গণ্য করতাম না।" (বুখারি: ৩৩৮, আবু দাউদ: ৫০, নাসায়ি: ৬৬, দারেমি: ২১৪, ইবনে মাজাহ: ২২২, মুস্তাদরাক হাকেম: ১৭৪)। অতঃপর এটি আবু দাউদ (২১৫), দারেমি (২১৫), ইবনে মাজাহ (২২২) এবং মুস্তাদরাক হাকেম হাম্মাদ ইবনে সালামাহ-এর সূত্রে কাতাদাহ হতে, তিনি উম্মুল হুযাইল হতে এবং তিনি উম্মে আতিয়্যাহ হতে বর্ণনা করেছেন; সেখানে "পবিত্রতার পর" কথাটি বর্ধিত রয়েছে। মুস্তাদরাক হাকেম-এর লেখক (ইমাম হাকেম) বলেন:

(উভয় ইমামের শর্তানুযায়ী সহিহ (صحيح))।

আর উম্মুল হুযাইল হলেন হাফসাহ বিনতে সিরিন; ইমাম যাহাবিও অনুরূপ বলেছেন। তবে এটি মূলত ইমাম মুসলিমের শর্তানুযায়ী, কারণ এতে হাম্মাদ ইবনে সালামাহ রয়েছেন। আর পূর্বের বর্ণনাটি (বুখারি ও মুসলিম) উভয়ের শর্তানুযায়ী। তাই ইমাম বুখারির ওপর তাঁর এই সংশোধনী (ইস্তিদরাক) অর্থহীন। ইমাম দারেমি ইবনে সিরিন হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "তাঁরা (সাহাবায়ে কেরাম) ঘোলাটে এবং হলদেটে রঙে কোনো সমস্যা মনে করতেন না।"

1 - সুতরাং ঋতুস্রাবের রক্ত যদি কালো হয় যা চেনা যায়, তবে যে নারী তা দেখবে এবং শনাক্ত করতে পারবে, সে ঋতুবতী; অন্যথায় সে ইস্তিহাযাগ্রস্ত নারী।

2 - তবে যে নারী রক্তের আধিক্য এবং নিরবচ্ছিন্নতার কারণে নিজের রক্ত শনাক্ত করতে পারে না, তাকে তার পূর্বের অভ্যাস এবং ঋতুস্রাবের পরিচিত দিনগুলোর দিকে ফিরে যেতে হবে।

3 - আর যদি সে ঋতুস্রাবের দিনগুলো না চিনে এবং রক্তও শনাক্ত করতে না পারে, তবে তাকে এক্ষেত্রে নারীদের সাধারণ অভ্যাসের দিকে ফিরে যেতে হবে।

প্রথম বিষয়ের দলিল হলো ফাতিমা বিনতে আবি হুবাইশ-এর পূর্বে বর্ণিত হাদিস।

দ্বিতীয় বিষয়ের দলিল হলো ইমাম আহমদের নিকট বর্ণিত উম্মে হাবিবার হাদিস, যা সম্প্রতি অতিবাহিত হয়েছে এবং এটি আয়েশা হতে বর্ণিত হাদিসের অন্তর্ভুক্ত।

এটি উম্মে সালামাহ-ও বর্ণনা করেছেন ইমাম আহমদের নিকট (৬/৩২২-৩২৩, ৩২০ ও ৩৯৩), আবু দাউদ (৪২), নাসায়ি (৬৫), দারেমি (১৯৯), ইবনে মাজাহ (২১৫) এবং দারা কুতনি (৭৬)।
(খণ্ড: ১) আহকামুন নিসা - মুস্তাখলাসুন মিন কুতুবিল আলবানী (পৃষ্ঠা: ২৪)
عن سليمان بن يسار عنها. وهو معلول بالإنقاطاع بيته وبينها فقد رواه د وغيره عنه أن رجلا أخبره عنها.

لكن له طريق أخرى في (المسند) (6/ 304): ثنا سريج: ثنا عبد اله - يعني ابن عمر - عن سالم أبي النضر عن أبي سلمة بن عبد الرحمن عنها. وهذا سند حسن بما قبله.

ويدل للثالث حديث حمنة بنت جحش قالت: كنت أستحاض حيضة شديدة كثيرة فجئت إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم أستفتيه وأخبره فوجدته في بيت أختي زينب بنت جحش قالت: قلت: يا رسول الله إني أستحاض حيضة كثيرة شديدة فما ترى فيها؟ قد منعتني الصلاة والصيام. فقال: (أنعت لك الكرسف (أي: القطن) فإنه يذهب الدم. قالت: هو أكثر من ذلك. قال: (فاتخذي ثوبا). قالت: هو أكثر من ذلك. قال: (فتلجمي). قالت: إنما أثج ثجا (الثج: السيلان) فقال: سآمرك بأمرين أيهما فعلت فقد أجزأ عنك من الآخر فإن قويت عليهما فأنت أعلم).

فقال: لها:

(إنما هذه ركضة من ركضات الشيطان فتحيضي (أي: اجعلي نفسك حائضا) ستة ايام أو سبعة في علم الله ثم اغتسلي حتى إذا رأيت أنك قد طهرت واستنقيت فصلي أربعا وعشرين ليلة أو ثلاثا وعشرين ليلة وأيامها فصومي فإن ذلك مجزيك وكذلك فافعلي في كل شهر كما تحيض النساء وكما يطهرن لميقات حيضهن وطهرهن.

وإن قويت أن تؤخري الظهر وتعجلي العصر فتغتسلين ثم تصلين الظهر والعصر جميعا ثم تؤخري المغرب وتعجلي العشاء ثم تغتسلين وتجمعين
সুলাইমান ইবনে ইয়াসার থেকে তার সূত্রে বর্ণিত। আর এটি তার এবং তার মধ্যবর্তী বিচ্ছিন্নতার (انقطاع) কারণে ত্রুটিযুক্ত (معلول)। কেননা আবু দাউদ ও অন্যান্যরা তার থেকে বর্ণনা করেছেন যে, এক ব্যক্তি তাকে তার পক্ষ থেকে সংবাদ দিয়েছেন।

কিন্তু মুসনাদ (৬/৩০৪)-এ এর অন্য একটি সূত্র রয়েছে: সুরায়জ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (ثنا): আবদুল্লাহ—অর্থাৎ ইবনে উমর—আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (ثنا) সালিম আবু নাদর থেকে, তিনি আবু সালামা ইবনে আবদুর রহমান থেকে, তিনি তার সূত্রে। আর পূর্ববর্তী বর্ণনার কারণে এই সনদটি গ্রহণযোগ্য (حسن)।

আর তৃতীয় বিষয়ের প্রমাণ হলো হামনাহ বিনতে জাহাশ-এর হাদিস, তিনি বলেন: আমি অত্যন্ত তীব্র ও প্রচুর রক্তপ্রদরে আক্রান্ত ছিলাম। তাই আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট ফতোয়া চাইতে এবং তাঁকে বিষয়টি জানাতে আসলাম। আমি তাঁকে আমার বোন জয়নব বিনতে জাহাশের ঘরে পেলাম। তিনি বলেন, আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসুল! আমি প্রচুর ও তীব্র রক্তপ্রদরে আক্রান্ত, এ বিষয়ে আপনার অভিমত কী? এটি আমাকে নামাজ ও রোজা থেকে বিরত রাখছে। তিনি বললেন: (আমি তোমাকে তুলো—অর্থাৎ তুলা—ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছি, কেননা তা রক্ত শুষে নেবে)। তিনি বললেন: রক্ত তার চেয়েও বেশি। তিনি বললেন: (তবে একটি কাপড় ব্যবহার করো)। তিনি বললেন: রক্ত তার চেয়েও বেশি। তিনি বললেন: (তবে পট্টি বেঁধে নাও)। তিনি বললেন: রক্ত তো সজোরে প্রবাহিত (অর্থাৎ প্রবলভাবে নিঃসরণ) হচ্ছে। তখন তিনি বললেন: আমি তোমাকে দুটি বিষয়ের নির্দেশ দিচ্ছি, এর যে কোনোটি তুমি পালন করলে তা তোমার জন্য অন্যটির বিকল্প হিসেবে যথেষ্ট হবে। আর যদি তুমি উভয়টি করতে সক্ষম হও, তবে তুমিই ভালো জানো।

অতঃপর তিনি তাকে বললেন:

(এটি শয়তানের আঘাতসমূহের একটি আঘাত মাত্র। সুতরাং তুমি আল্লাহর জ্ঞানে ছয় বা সাত দিন নিজেকে ঋতুমতী (অর্থাৎ নিজেকে ঋতুবতী অবস্থায়) গণ্য করো। এরপর গোসল করো; এমনকি যখন তুমি দেখবে যে তুমি পবিত্র হয়েছ এবং পরিচ্ছন্ন হয়েছ, তখন চব্বিশ রাত অথবা তেইশ রাত নামাজ পড়ো এবং দিনগুলোতে রোজা রাখো। নিশ্চয়ই তা তোমার জন্য যথেষ্ট হবে। আর তুমি প্রতি মাসে এভাবেই করবে, যেমনটি মহিলারা তাদের ঋতুস্রাব ও পবিত্রতার নির্ধারিত সময়ে ঋতুবতী হয় এবং পবিত্র হয়।

আর যদি তুমি যোহরের নামাজ বিলম্বিত করতে এবং আসরের নামাজ এগিয়ে আনতে সক্ষম হও, তবে গোসল করবে এবং এরপর যোহর ও আসর উভয়টি একত্রে পড়বে। এরপর মাগরিবের নামাজ বিলম্বিত করবে এবং এশার নামাজ এগিয়ে আনবে, এরপর গোসল করবে এবং একত্রে পড়বে।
(খণ্ড: ১) আহকামুন নিসা - মুস্তাখলাসুন মিন কুতুবিল আলবানী (পৃষ্ঠা: ২৫)
بين الصلاتين فافعلي وتغتسلين مع الفجر وتصلين فكذلك فافعلي وصلي وصومي إن قدرت على ذلك) وقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (وهذا أعجب الأمرين إلي) رواه أصحاب السنن إلا النسائي وغيرهم وهو مخرج في التعليق على (المعجم) (ص 179 / ج 2) وهو حديث حسن.

وما ذكرناه من الأحوال الثلاثة قال به أحمد وإسحاق ففي الترمذي (1/ 227): وقال أحمد وإسحاق في المستحاضة: إذا كانت تعرف حيضها بإقبال الدم وإدباره وإقباله أن يكون أسود وإدباره أن يتغير إلى لاصفرة فالحكم لها على حديث فاطمة بنت أبي حبيش وإن كانت المستحاضة لها أيام معروفة قبل أن تستحاض، فإنها تدع الصلاة أيام أقرائها ثم تغتسل وتتوضأ لكل صلاة وتصلي، وإذا استمر بها الدم ولم يكن لها أيام معروفة قبل أن تستحاض فإنها تدع الصلاة أيام أقرائها ثم تغتسل وتتوضأ لكل صلاة وتصلي وإذا استمر بها الدم ولم يكن لها أيام معروفة ولم تعرف الحيض بإقبال الدم وإدباره فالحكم لها على حديث حمنة بنت جحش. وكذلك قال أبو عبيد) ولا بد للمستحاضة من أن تتوضأ لكل صلاة عن هشام بن عروة عن أبيه عن عائشة:

أن فاطمة بنت أبي حبيش أتت النبي فقالت: إني أحيض الشهر والشهرين فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم:

(إن ذلك ليس بحيض وإنما ذلك عرق فإذا أقبل الحيض فدعي الصلاة وإذا أدبر فاغتسلي لطهرك ثم توضئي عند كل صلاة) طحا (61) عن أبي حنيفة عنه. وخ (1/ 264 - 265) وت (1/ 217 - 219) قط (76)

عن أبي معاوية عنه وقال ت: حسن صحيح وحب كما في (نصب الراية) (203) عن أبي حمزة عنه.
(দুই সালাতের মাঝখানে এভাবে করো এবং ফজরের সাথে গোসল করো এবং সালাত আদায় করো, তদ্রূপ করো এবং সালাত আদায় করো ও রোজা রাখো যদি তুমি তাতে সক্ষম হও)। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: (এ বিষয়টিই আমার নিকট অধিক পছন্দনীয়)। এটি নাসাঈ ব্যতীত সুনান গ্রন্থসমূহের সংকলকগণ এবং অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন। এটি আল-মু'জাম-এর টীকাতে (পৃষ্ঠা ১৭৯ / খণ্ড ২) উদ্ধৃত হয়েছে এবং এটি একটি হাসান (حسن) হাদিস।

আমরা যে তিনটি অবস্থার কথা উল্লেখ করেছি, ইমাম আহমাদ ও ইসহাকও তা ব্যক্ত করেছেন। তিরমিজিতে (১/ ২২৭) বর্ণিত আছে: আহমাদ ও ইসহাক ইস্তিহাজাগ্রস্ত নারী সম্পর্কে বলেছেন: যদি সে রক্তের আসা ও যাওয়ার (শুরু ও শেষ) মাধ্যমে তার ঋতুস্রাব চিনতে পারে—যেমন রক্ত আসা মানে তা কালো হওয়া এবং ফিরে যাওয়া মানে তা হলদেটে বর্ণে পরিবর্তিত হওয়া—তবে তার বিধান ফাতিমা বিনতে আবি হুবাইশ বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী হবে। আর যদি ইস্তিহাজা শুরু হওয়ার পূর্বে ওই নারীর নির্দিষ্ট দিন জানা থাকে, তবে সে তার ঋতুস্রাবের দিনগুলোতে সালাত ত্যাগ করবে, এরপর গোসল করবে এবং প্রত্যেক সালাতের জন্য অজু করবে ও সালাত আদায় করবে। আর যদি রক্তপাত অব্যাহত থাকে এবং ইস্তিহাজা শুরুর আগে তার নির্দিষ্ট দিন জানা না থাকে, তবে সে তার অনুমিত ঋতুকালীন দিনগুলোতে সালাত ত্যাগ করবে, এরপর গোসল করবে এবং প্রত্যেক সালাতের জন্য অজু করবে ও সালাত আদায় করবে। আর যদি রক্তপাত অব্যাহত থাকে এবং তার নির্দিষ্ট দিন জানা না থাকে এবং রক্তের আসা-যাওয়ার মাধ্যমে ঋতুস্রাব চিনতে না পারে, তবে তার বিধান হামনাহ বিনতে জাহশ বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী হবে। আবু উবাইদও অনুরূপ বলেছেন। আর ইস্তিহাজাগ্রস্ত নারীর জন্য প্রত্যেক সালাতের জন্য অজু করা আবশ্যক। হিশাম ইবনে উরওয়া তাঁর পিতা থেকে, তিনি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন:

ফাতিমা বিনতে আবি হুবাইশ নবী (সা.)-এর নিকট এসে বললেন: আমি এক মাস বা দুই মাস যাবৎ ঋতুবতী থাকি। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন:

(নিশ্চয়ই তা ঋতুস্রাব নয়, বরং তা রক্তশিরা জনিত রক্তক্ষরণ। সুতরাং যখন ঋতুস্রাব উপস্থিত হয় তখন সালাত ত্যাগ করো, আর যখন তা অতিক্রান্ত হয় তখন পবিত্রতার জন্য গোসল করো, এরপর প্রত্যেক সালাতের সময় অজু করো)। তহবি (৬১) আবু হানিফা থেকে তাঁর সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন। বুখারি (১/ ২৬৪-২৬৫), তিরমিজি (১/ ২১৭-২১৯) এবং দারা কুতনি (৭৬) এটি বর্ণনা করেছেন।

আবু মুয়াবিয়া থেকে তাঁর সূত্রে বর্ণিত। ইমাম তিরমিজি একে হাসান সহিহ (حسن صحيح) বলেছেন। আর ইবনে হিব্বানও এটি বর্ণনা করেছেন, যেমনটি নাসবুর রাইয়াহ (২০৩) গ্রন্থে আবু হামজা থেকে তাঁর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আহকামুন নিসা - মুস্তাখলাসুন মিন কুতুবিল আলবানী (পৃষ্ঠা: ২৬)
ورواه م (180) د (44) ن (64) مج (214) مي (198) طحا (62) قط (76) حم (4/ 84) من طرق عن هشام به دون قوله: (ثم توضئي عند كل صلاة) وهو رواية (خ ت) ولذلك تكلم في هذه الزيادة بعضهم بأنها مدرجة ورد ذلك الحافظ في (الفتح) وقد جاءت من طريق أخرى عن عروة ابن الزبير عند مج (215) وطحا (61) وقط (78) وحم (6/ 42 و 204 و 262) عن الأعمش عن حبيب بن أبي ثابت عن عروة. زاد ابن ماجه: ابن الزبير به نحوه بلفظ:

(وتوضئي لكل صلاة إن قطر الدم على الحصير) ورجاله رجال الشيخين ولكن أعل بالانقطاع بين حبيب وعروة. وله طريق أخرى عن فاطمة عن عثمان بن سعد الكاتب عن عبد الله بن أبي مليكة قال: حدثتني فاطمة بنت أبي حبيش قالت: أتيت عائشة. . . الحديث. وفيه أنه صلى الله عليه وسلم قال لعائشة:

(مري فاطمة بنت أبي حبيش فلتمسك كل شهر عدد أيام أقرائها ثم تغتسل وتحتشي وتستثفر وتنظف ثم تطهر عند كل صلاة وتصلي). . . الحديث أخرجه حم (6/ 464) وقط (80) ومس (175) وقال:

(حديث صحيح)

وعثمان بن سعد الكاتب بصري ثقة غزير الحديث يجمع حديثه.

قلت: وضعفه غير الحاكم. وفي (التقريب) أنه ضعيف. وفي الباب أحاديث أخرى تراجع في (نصب الراية).
এটি বর্ণনা করেছেন মুসলিম (১৮০), আবু দাউদ (৪৪), নাসায়ি (৬৪), ইবনে মাজাহ (২১৪), দারেমি (১৯৮), তহাবি (৬২), দারা কুতনি (৭৬) এবং আহমদ (৪/৮৪) একাধিক সূত্রে হিশাম থেকে, তবে এতে "অতঃপর প্রতিটি সালাতের সময় অজু করো" কথাটি নেই। এটি বুখারি ও তিরমিজির বর্ণনা; এই কারণে কেউ কেউ এই অতিরিক্ত অংশটি সম্পর্কে সমালোচনা করেছেন যে এটি অনুপ্রবেশিত (مدرجة)। হাফেজ (ইবনে হাজার) 'ফাতহুল বারি' গ্রন্থে এর প্রত্যুত্তর দিয়েছেন। এটি উরওয়াহ ইবনুল জুবাইর থেকে অন্য সূত্রে বর্ণিত হয়েছে ইবনে মাজাহ (২১৫), তহাবি (৬১), দারা কুতনি (৭৮) এবং আহমদ (৬/৪২, ২০৪ ও ২৬২)-এ; যা আমাশ হাবিব ইবনে আবি সাবিত থেকে এবং তিনি উরওয়াহ থেকে বর্ণনা করেছেন। ইবনে মাজাহ অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন: উরওয়াহ ইবনুল জুবাইর থেকে অনুরূপ শব্দে:

(এবং তুমি প্রতিটি সালাতের জন্য অজু করো যদি মাদুরের ওপর রক্ত ঝরে পড়ে)। এর বর্ণনাকারীগণ বুখারি ও মুসলিমের বর্ণনাকারী, তবে হাবিব এবং উরওয়াহ-র মাঝে বিচ্ছিন্নতার (انقطاع) কারণে এটিকে ত্রুটিযুক্ত (أعل) বলা হয়েছে। ফাতিমার সূত্রে এর আরেকটি পথ রয়েছে যা উসমান ইবনে সাদ আল-কাতিব বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে আবি মুলাইকাহ থেকে। তিনি বলেন: আমাকে ফাতিমা বিনতে আবি হুবাইশ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আয়েশার কাছে আসলাম... হাদিস। এতে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী (সা.) আয়েশাকে বলেছেন:

(ফাতিমা বিনতে আবি হুবাইশকে নির্দেশ দাও সে যেন প্রতি মাসে তার ঋতুস্রাবের দিনগুলোতে বিরত থাকে, অতঃপর গোসল করে এবং তুলা বা পট্টি ব্যবহার করে নিজেকে পরিচ্ছন্ন করে। এরপর সে প্রতিটি সালাতের সময় পবিত্রতা অর্জন করবে এবং সালাত আদায় করবে)... হাদিসটি আহমদ (৬/৪৬৪), দারা কুতনি (৮০) এবং মুসতাদরাক (১৭৫) বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন:

সহিহ (صحيح) হাদিস

উসমান ইবনে সাদ আল-কাতিব বসরার অধিবাসী, নির্ভরযোগ্য (ثقة) এবং প্রচুর হাদিস বর্ণনাকারী, যার হাদিসগুলো সংগ্রহ করা হয়।

আমি বলি: হাকেম ব্যতীত অন্য ইমামগণ তাকে দুর্বল বলেছেন। 'তাকরিব' গ্রন্থে বলা হয়েছে যে তিনি দুর্বল (ضعيف)। এই অধ্যায়ে আরও অন্যান্য হাদিস রয়েছে যা 'নাসবুর রায়াহ' গ্রন্থে দেখা যেতে পারে।
(খণ্ড: ১) আহকামুন নিসা - মুস্তাখলাসুন মিন কুতুবিল আলবানী (পৃষ্ঠা: ২৭)
وقد ذهب إلى وضوء المستحاضة لكل صلاة: الشافعي وأحمد وأبو ثور وغيرهم وقال ابو حنيفة وصاحباه: تتوضأ لوقت كل صلاة وهذا مجاز حذف يحتاج إلى دليل ولذلك رده الشوكاني (240) تبعا للحافظ.

ويحرم وطء الحائض في الفرج ويجوز التمتع بها فيما سوى ذلك، عن أنس بن مالك: أن اليهود كانوا إذا حاضت المرأة فيهم لم يواكلوها ولم يجامعوها في البيوت فسأل أصحاب النبي النبي صلى الله عليه وسلم فأنزل اله عز وجل: {وَيَسْأَلونَكَ عَنِ الْمَحِيضِ قُلْ هُوَ أَذىً فَاعْتَزِلُوا النِّسَاءَ فِي الْمَحِيضِ} إلى آخر الآية. فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (اصنعوا كل شيء إلا النكاح) وفي لفظ: (إلا الجماع). رواه الجماعة إلا البخاري وقال عليه الصلاة والسلام:

(من أتى حائضا أو امرأة في دبرها أو كاهنا فصدقه بما يقول فقد كفر بما أنزل على محمد صلى الله عليه وسلم. رواه أهل (السنن) بإسناد صحيح كما بيناه في (نقد التاج) رقم (64).

وتحريم إتيان الحائض مجمع عليه.

وقد ذهب إلى الحديث أحمد بن حنبل ومحمد بن الحسن وإسحاق وغيرهم أن إتيان المرأة في غير المذكور جائز ويكره ذلك لمن يخشى عليه أن يقع في المحرم سدا للذريعة.

وعلى من أتاها أن يتصدق بدينار أو بنصف دينار على التخيير: عن ابن عباس عن النبي صلى الله عليه وسلم في الذي يأتي امرأته وهي حائض يتصدق بدينار أو بنصف دينار رواه أصحاب السنن بسند صحيح. وقد
ইমাম শাফিঈ, আহমাদ, আবু সাওর এবং অন্যান্যরা ইস্তিহাযাগ্রস্ত মহিলার প্রত্যেক সালাতের জন্য ওজু করার অভিমত ব্যক্ত করেছেন। আবু হানিফা ও তাঁর দুই শিষ্য বলেছেন: সে প্রত্যেক সালাতের সময়ের জন্য ওজু করবে। এটি একটি উহ্যতাজনিত রূপক প্রয়োগ যা প্রমাণের মুখাপেক্ষী, আর এ কারণেই হাফিযের অনুসরণে শাওকানি (২৪০) একে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

ঋতুবতী মহিলার সাথে যৌনাঙ্গে সহবাস করা হারাম, তবে তা ব্যতীত অন্যভাবে মেলামেশা ও উপভোগ করা বৈধ। আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত: ইহুদিদের নিয়ম ছিল যখন তাদের কোনো মহিলার ঋতুস্রাব হতো, তখন তারা তার সাথে একত্রে আহার করত না এবং ঘরে তাদের সাথে একত্রে অবস্থান করত না। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবিগণ এ বিষয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসা করলে আল্লাহ তাআলা অবতীর্ণ করেন: {তারা আপনাকে ঋতুস্রাব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। আপনি বলুন, তা অপবিত্র। সুতরাং ঋতুস্রাবকালে তোমরা স্ত্রীদের থেকে পৃথক থাক...} আয়াতের শেষ পর্যন্ত। অতঃপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "নিকাহ (সহবাস) ব্যতীত সবকিছুই করো।" অন্য শব্দে এসেছে: "সহবাস ব্যতীত।" বুখারি ব্যতীত জামাতভুক্ত ইমামগণ এটি বর্ণনা করেছেন। আর তিনি (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) বলেছেন:

"যে ব্যক্তি ঋতুবতী মহিলার সাথে সহবাস করল অথবা স্ত্রীর মলদ্বারে মৈথুন করল কিংবা কোনো গণকের নিকট গেল এবং সে যা বলে তা বিশ্বাস করল, তবে সে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর যা অবতীর্ণ হয়েছে তা অস্বীকার করল।" এটি সুনান গ্রন্থকারগণ সহিহ (صحيح) সনদে (إسناد) বর্ণনা করেছেন, যেমনটি আমরা নাকদুত তাজ-এর ৬৪ নম্বরে স্পষ্ট করেছি।

ঋতুবতী মহিলার সাথে সহবাস হারাম হওয়ার বিষয়টি সর্বসম্মত (مجمع عليه)।

ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল, মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান, ইসহাক এবং অন্যান্যরা এই হাদিসের ভিত্তিতে এ মত পোষণ করেছেন যে, উল্লিখিত বিষয় ছাড়া স্ত্রীর সাথে অন্যভাবে মেলামেশা করা বৈধ, তবে হারামে লিপ্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকলে অকল্যাণের পথ রুদ্ধ করার নিমিত্তে তা মাকরুহ হবে।

আর যে ব্যক্তি তার সাথে সহবাস করবে, তাকে ঐচ্ছিক হিসেবে এক দিনার অথবা অর্ধেক দিনার সদকা করতে হবে। ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত—সেই ব্যক্তির ব্যাপারে যে ঋতুবতী অবস্থায় স্ত্রীর সাথে সহবাস করে: "সে এক দিনার অথবা অর্ধেক দিনার সদকা করবে।" এটি সুনান গ্রন্থকারগণ সহিহ (صحيح) সনদে (سند) বর্ণনা করেছেন। আর...
(খণ্ড: ১) আহকামুন নিসা - মুস্তাখলাসুন মিন কুতুবিল আলবানী (পৃষ্ঠা: ২৮)
أطال في تحقيق الكلام على أسانيده وتصحيح بعضها على متنه العلامة أحمد محمد شاكر في التعليق على الترمذي (1/ 246 - 254).

ولا تصلي ولا تصوم: قال عليه الصلاة والسلام للنساء:

(أليس شهادة المرأة مثل نصف شهادة الرجل؟) قلن بلى. قال: (فذلكن من نقصان عقلها أليس إذا حاضت لم تصل ولم تصم)؟ قلن: بلى قال: فذلكن من نقصان دينها). رواه البخاري

وتقضي الصوم دون الصلاة: عن معاذة رضي الله عنه قالت: سألت عائشة فقلت:

ما بال الحائض تقضي الصوم ولا تقضي الصلاة؟ قالت:

كان يصيبنا ذلك مع رسول الله صلى الله عليه وسلم فنؤمر بقضاء الصوم ولا نؤمر بقضاء الصلاة. رواه الجماعة

ولا تطوف بالبيت. قال عليه الصلاة والسلام:

(الحائض تقضي المناسك كلها إلا الطواف بالبيت)

رواه أحمد (6/ 137) عن عائشة و (1/ 364) عن ابن عباس وأحدهما يقوي الآخر، لا سيما وأن معناه في (الصحيحين) عنها.

ويحضرن مصلى العيد يكبرن مع الناس ويعتزلن الصلاة. عن أم عطية قالت:

أمرنا رسول الله صلى الله عليه وسلم أن نخرجهن في الفطر والأضحى العواتق والحيض وذوات الدور فأما الحيض فيعتزلن الصلاة ويشهدن الخير ودعوة المسلمين قلت: يا رسول الله إحدانا لا يكون لها جلباب.
আল্লামা আহমাদ মুহাম্মাদ শাকির তিরমিযীর টিকায় (১/ ২৪৬ - ২৫৪) এর সনদগুলোর (أسانيد) তাহকিকের আলোচনা দীর্ঘ করেছেন এবং এর পাঠের (متن) ভিত্তিতে কয়েকটিকে সহিহ (صحيح) সাব্যস্ত করেছেন।

এবং সে (ঋতুবতী নারী) সালাত আদায় করবে না এবং সিয়াম পালন করবে না: নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নারীদের উদ্দেশ্যে বলেছেন:

(নারীর সাক্ষ্য কি পুরুষের সাক্ষ্যের অর্ধেক নয়?) তারা বলল, অবশ্যই। তিনি বললেন: (এটাই তাদের বুদ্ধির অপূর্ণতা। আর যখন তারা ঋতুবতী হয় তখন কি সালাত ও সিয়াম ত্যাগ করে না?) তারা বলল, অবশ্যই। তিনি বললেন: (এটাই তাদের দ্বীনের অপূর্ণতা)। বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন।

এবং সে সিয়ামের কাজা করবে কিন্তু সালাতের নয়: মুআযা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-কে জিজ্ঞাসা করলাম:

ঋতুবতী নারীর কী হলো যে সে সিয়ামের কাজা করে কিন্তু সালাতের কাজা করে না? তিনি বললেন:

রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগে আমাদের এই অবস্থার সম্মুখীন হতে হতো, তখন আমাদের সিয়ামের কাজা করার নির্দেশ দেওয়া হতো কিন্তু সালাতের কাজা করার নির্দেশ দেওয়া হতো না। জামাআত এটি বর্ণনা করেছেন।

এবং সে কাবা ঘর তওয়াফ করবে না। নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:

(ঋতুবতী নারী কাবা ঘরের তওয়াফ ব্যতীত হজের সমস্ত বিধান পালন করবে)

আহমাদ আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে (৬/ ১৩৭) এবং ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে (১/ ৩৬৪) এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর একটি সনদ অপরটিকে শক্তিশালী (يقوي) করে, বিশেষ করে যেখানে এর অর্থ সহিহাইনে তার (আয়েশা) থেকে বর্ণিত হয়েছে।

আর তারা ঈদের ঈদগাহে উপস্থিত হবে, মানুষের সাথে তাকবির পাঠ করবে এবং সালাতের স্থান থেকে দূরে থাকবে। উম্মে আতিয়্যাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:

রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন যেন আমরা ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় যুবতী, ঋতুবতী ও পর্দানশীন নারীদের বের করি। তবে ঋতুবতীরা সালাতের স্থান থেকে দূরে থাকবে এবং কল্যাণ ও মুসলিমদের দোয়ায় শরিক হবে। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসুল! আমাদের কারো কারো জিলবাব (ওড়না বা চাদর) নেই।
(খণ্ড: ১) আহকামুন নিসা - মুস্তাখলাসুন মিন কুতুবিল আলবানী (পৃষ্ঠা: ২৯)
قال: (لتلبسها أختها من جلبابها) وفي رواية: كنا نؤمر بالخروج في العيدين والمخبأة والبكر قالت: الحيض يخرجن فيكن خلف الناس يكبرن مع الناس. م (3/ 20 - 21) وراجع خ في العيدين وغيره.

ولها أن تدخل المسجد: عن عائشة قالت: قال لي رسول الله صلى الله عليه وسلم: (ناوليني الخمرة من المسجد) ن فقلت: إني حائض؟ فقال: تناوليها فإن الحيضة ليست في يدك). (م 168) د (41) ن (1/ 52 - 53 و 68) وت (1/ 241) وصححه ومي (248) مج (218) وحم (6/ 45 و 101 و 106 و 110 و 111 و 114 و 173 و 179 و 208 و 214 و 229 و 245) من طرق عنها وفي الباب عن أبي هريرة عند م ن حم (2/ 428، 6/ 214) وأم سلمة عند ن حم (6/ 331 و 334) وابن عمر عند حم (2/ 70 و 86) وأنس عند البزار وأبي بكرة عند الطبراني في (الكبير). مجمع (1/ 283).

وقد أجاز لها ذلك ابن حزم (2/ 184 - 187) وحكاه عن المزني وداود وغيرهما.

ويجوز مواكلتها: عن عائشة قالت: كنت أشرب وأنا حائض فأناوله النبي صلى الله عليه وسلم فيضع فاه على موضع في. رواه الجماعة إلا البخاري والترمذي وهو في (المسند (6/ 62 و 64 و 127 و 192 و 210 و 214) وفي الدارمي (1/ 246).

وقال عبد الله بن سعد: سألت النبي صلى الله عليه وسلم عن مواكلة الحائض؟ قال: واكلها. ت (1/ 240) مي (248) وحم (4/ 342 و 5/ 293) عن عبد الرحمن ابن مهدي: ثنا معاوية بن صالح عن العلاء بن
তিনি বলেছেন: (তার বোন যেন তাকে নিজের জিলবাব থেকে পরিধান করায়)। একটি বর্ণনা (رواية)-য় এসেছে: আমাদের নির্দেশ দেওয়া হতো দুই ঈদে বের হওয়ার জন্য, এমনকি পর্দানশীন ও কুমারী মেয়েদেরও। তিনি বলেন: ঋতুমতী মহিলারাও বের হতো এবং মানুষের পেছনে অবস্থান করত, তারা মানুষের সাথে তাকবির পাঠ করত। মুসলিম (৩/ ২০ - ২১) এবং বুখারি-তে 'দুই ঈদ' ও অন্যান্য অধ্যায় দ্রষ্টব্য।

এবং ঋতুমতী নারীর জন্য মসজিদে প্রবেশ করা বৈধ: আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন: (মসজিদ থেকে আমাকে জায়নামাজটি দাও)। আমি বললাম: আমি তো ঋতুমতী? তখন তিনি বললেন: (তা আমাকে দাও, কারণ তোমার ঋতুস্রাব তোমার হাতে লেগে নেই)। মুসলিম (১৬৮), আবু দাউদ (৪১), নাসায়ি (১/ ৫২ - ৫৩ ও ৬৮), তিরমিজি (১/ ২৪১) এবং তিনি একে সহিহ (صحيح) বলেছেন, দারেমি (২৪৮), ইবনে মাজাহ (২১৮) এবং আহমাদ (৬/ ৪৫, ১০১, ১০৬, ১১০, ১১১, ১১৪, ১৭৩, ১৭৯, ২০৮, ২১৪, ২২৯ ও ২৪৫) তাঁর থেকে বর্ণিত বিভিন্ন সূত্রের (طرق) মাধ্যমে। এই অনুচ্ছেদে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস রয়েছে মুসলিম, নাসায়ি ও আহমাদ-এর নিকট (২/ ৪২৮, ৬/ ২১৪); উম্মে সালামাহ (রা.) থেকে বর্ণিত নাসায়ি ও আহমাদ-এর নিকট (৬/ ৩৩১ ও ৩৩৪); ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত আহমাদ-এর নিকট (২/ ৭০ ও ৮৬); আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত বাজ্জার-এর নিকট এবং আবু বাকরাহ (রা.) থেকে বর্ণিত তাবারানি-এর 'আল-কাবীর'-এ। মাজমাউয যাওয়াইদ (১/ ২৮৩)।

ইবনে হাজম (২/ ১৮৪ - ১৮৭) ঋতুমতী নারীর জন্য এটি বৈধ বলেছেন এবং তিনি মুযানী, দাউদ ও অন্যদের থেকেও এটি বর্ণনা করেছেন।

এবং ঋতুমতী নারীর সাথে একত্রে আহার করা বৈধ: আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি ঋতুমতী অবস্থায় পানি পান করতাম, এরপর আমি তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দিতাম এবং তিনি আমার মুখ লাগানোর স্থানে তাঁর মুখ রেখে পান করতেন। বুখারি ও তিরমিজি ব্যতীত জামাআত (الجماعة) এটি বর্ণনা করেছেন এবং এটি মুসনাদ (৬/ ৬২, ৬৪, ১২৭, ১৯২, ২১০ ও ২১৪) এবং দারেমি-তে (১/ ২৪৬) রয়েছে।

আব্দুল্লাহ ইবনে সাদ বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ঋতুমতী মহিলার সাথে একত্রে আহার করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম? তিনি বললেন: (তার সাথে আহার করো)। তিরমিজি (১/ ২৪০), দারেমি (২৪৮) এবং আহমাদ (৪/ ৩৪২ ও ৫/ ২৯৩) আব্দুর রহমান ইবনে মাহদি থেকে; তিনি বলেন: মুয়াবিয়া ইবনে সালিহ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন (حدثنا) আলা ইবনে... থেকে।
(খণ্ড: ১) আহকামুন নিসা - মুস্তাখলাসুন মিন কুতুবিল আলবানী (পৃষ্ঠা: ৩০)
الحارث عن حرام بن معاوية عنه. وقال الترمذي: حديث حسن. وهو كما قال.

ثم أخرجه الدارمي (1/ 249) من طريق الهيثم بن حميد: ثنا اللعاء بن الحارث به بلفظ: فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (إن بعض أهلي لحائض وإنا لمتعشون إن شاء الله جميعا) ولا يجوز إتيانها إلا بعد أن تصير مستحاضة وتغتسل فلا بد من الغسل لقوله تعالى: {وَلا تَقْرَبُوهُنَّ حَتَّى يَطْهُرْنَ} والطهر بانقطاع الحيض {فَإِذَا تَطَهَّرْنَ} أي: اغتسلن {فَأْتُوهُنَّ مِنْ حَيْثُ أَمَرَكُمُ اللَّهُ} [البقرة / 222] وهذا مذهب الجمهور. وانظر الدارمي (249 - 251) و (نيل المرام) لصديق حسن خان.

وأما المستحاضة فلم يرد في خصوصها شيء من السنة عنه صلى الله عليه وسلم فيما علمنا. وقد اختلف العلماء في إتيانها والجمهور على جواز ذلك وهو الحق لأن الأصل في الأشياء الإباحة ولأن في المنع من ذلك ضرا على الزوج فيما إذا كانت الاستحاضة مستديمة كما جرى لأم حبيبة بنت جحش كما سبق. وما أحسن ما روى الدارمي (207) بإسناد صحيح عن سالم الأفطس قال:

سئل سعيد بن جبير: أتجامع المستحاضة؟ فقال: الصلاة أعظم من الجماع.

وروي مثله عن بكر بن عبد الله المزني بسند صحيح أيضا.
আল-হারিস, হারাম বিন মুয়াবিয়া থেকে এবং তিনি তার থেকে বর্ণনা করেছেন। ইমাম তিরমিযী বলেছেন: এটি সুন্দর (حسن) হাদিস। বিষয়টি তেমনই যেমন তিনি বলেছেন।

অতঃপর দারেমি (১/ ২৪৯) এটি হাইসাম বিন হুমাইদ-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন: আমাদের নিকট লাআ বিন আল-হারিস এই শব্দে বর্ণনা করেছেন যে: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আমার পরিবারের কেউ কেউ ঋতুমতী (حائض), তবে ইনশাআল্লাহ আমরা সবাই একত্রে রাতের খাবার খাব।" আর তার সাথে সহবাস করা বৈধ নয় যতক্ষণ না সে ইস্তিহাযাগ্রস্তা (مستحاضة) নারীতে পরিণত হয় এবং গোসল করে। অতএব গোসল করা আবশ্যক, কারণ মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরা তাদের নিকটবর্তী হয়ো না যতক্ষণ না তারা পবিত্র হয়}। আর এখানে পবিত্রতা মানে ঋতুস্রাব বন্ধ হওয়া। {অতঃপর যখন তারা ভালোভাবে পবিত্র হবে} অর্থাৎ: গোসল করবে {তখন তোমরা তাদের নিকট গমন করো যেভাবে আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দিয়েছেন} [আল-বাকারাহ: ২২২]। এটিই জমহুর (الجمهور) বা সংখ্যাগরিষ্ঠের মাজহাব। এ বিষয়ে দেখুন দারেমি (২৪৯ - ২৫১) এবং সিদ্দিক হাসান খানের নেইলুল মারাম।

আর ইস্তিহাযাগ্রস্তা (المستحاضة) নারীর ব্যাপারে আমাদের জানামতে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে সুন্নাহয় বিশেষ কিছু বর্ণিত হয়নি। তার সাথে সহবাসের বিষয়ে আলেমদের মাঝে মতভেদ রয়েছে, তবে জমহুর (الجمهور) বা সংখ্যাগরিষ্ঠ আলেমগণ এটি বৈধ হওয়ার পক্ষে এবং এটিই সঠিক। কারণ বস্তুর মূল বিধান হলো বৈধতা (الإباحة), আর এটি নিষেধ করার মধ্যে স্বামীর জন্য ক্ষতির কারণ রয়েছে যদি ইস্তিহাযা (الاستحاضة) দীর্ঘস্থায়ী হয়, যেমনটি উম্মে হাবিবা বিনতে জাহাশের ক্ষেত্রে ঘটেছিল যা পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। আর দারেমি (২০৭) সহিহ (صحيح) সনদে (إسناد) সালিম আল-আফতাস থেকে কতই না চমৎকার একটি বর্ণনা উদ্ধৃত করেছেন, তিনি বলেছেন:

সাঈদ বিন জুবাইরকে জিজ্ঞেস করা হলো: ইস্তিহাযাগ্রস্তা (المستحاضة) নারীর সাথে কি সহবাস করা যাবে? তিনি বললেন: সালাত সহবাসের চেয়েও মহান বিষয়।

অনুরূপ বর্ণনা বকর বিন আব্দুল্লাহ আল-মুজানি থেকেও একটি সহিহ (صحيح) সনদে (سند) বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আহকামুন নিসা - মুস্তাখলাসুন মিন কুতুবিল আলবানী (পৃষ্ঠা: ৩১)
وأقل الحيض دفعة فإذا رأت المرأة الدم الأسود من فرجها أمسكت عن الصلاة والصوم. . . فإن - رأت - أثر الدم الأحمر. . . فقد طهرت. (المحلى) (2/ 191) … [الثمر المستطاب 1/ 35 - 45].

 

‌‌حكم مكث الجنب في المسجد

قوله (1): " يحرم على الجنب أن يمكث في المسجد لحديث عائشة قالت: جاء رسول الله صلى الله عليه وسلم ووجوه بيوت أصحابه شارعة في المسجد فقال: " وجهوا هذه البيوت عن المسجد. . فإني لا أحل المسجد لحائض ولا لجنب " رواه أبو داود.

وعن أم سلمة قالت: دخل رسول الله صلى الله عليه وسلم صرحة هذا المسجد فنادى بأعلى صوته: " إن المسجد لا يحل لحائض ولا لجنب "

رواه ابن ماجه والطبراني "

قلت: سوق الحديث على هذه الصورة يوهم القارئ أنهما حديثان بإسنادين متغايرين أحدهما عن عائشة والآخر عن أم سلمة وليس كذلك بل هما حديث واحد بإسناد واحد مداره على جسرة بنت دجاجة اضطربت في روايته فمرة قالت: " عن عائشة " ومرة: " عن أم سلمة " والاضطراب مما يوهن به الحديث كما هو معروف عند المحدثين لأنه يدل على عدم ضبط الراوي وحفظه.

--------------------------------------------

(1) 1 - أي: الشيخ سيد سابق في فقه السنة.
মাসিকের সর্বনিম্ন সময় হলো একবার নির্গত হওয়া। যখন কোনো নারী তার লজ্জাস্থান থেকে কালো রক্ত দেখতে পায়, তখন সে সালাত ও সিয়াম থেকে বিরত থাকবে... আর যদি সে লালাভ রক্তের আভা দেখে... তবে সে পবিত্র হয়ে গেছে। (আল-মুহাল্লা) (২/১৯১) … [আত-থামারুল মুসতাতাব ১/৩৫-৪৫]।

 

‌‌মসজিদে জুনুবী (অপবিত্র) ব্যক্তির অবস্থানের বিধান

তাঁর উক্তি (১): "জুনুবী ব্যক্তির জন্য মসজিদে অবস্থান করা হারাম। কারণ আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) আসলেন এবং দেখলেন তাঁর সাহাবীদের ঘরগুলোর দরজা মসজিদের দিকে মুখ করা। তখন তিনি বললেন: 'এই ঘরগুলোর মুখ মসজিদ থেকে অন্যদিকে সরিয়ে দাও... কারণ আমি ঋতুবতী এবং জুনুবী ব্যক্তির জন্য মসজিদ বৈধ করি না'।" এটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন।

আর উম্মে সালামাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) এই মসজিদের আঙিনায় প্রবেশ করে উচ্চস্বরে ডেকে বললেন: "নিশ্চয়ই ঋতুবতী ও জুনুবী ব্যক্তির জন্য মসজিদ বৈধ নয়।"

এটি ইবনে মাজাহ ও তাবারানি বর্ণনা করেছেন।

আমি বলি: হাদিসটিকে এভাবে উপস্থাপন করা পাঠকদের মনে এই বিভ্রম সৃষ্টি করে যে, এগুলি ভিন্ন দুটি সনদ (إسناد) সংবলিত দুটি পৃথক হাদিস; যার একটি আয়েশা (রা.) থেকে এবং অন্যটি উম্মে সালামাহ (রা.) থেকে বর্ণিত। বিষয়টি আসলে তেমন নয়; বরং এটি একটিই সনদ (إسناد) সংবলিত একটিই হাদিস। এর মূল বর্ণনাকারী হলেন জাসরাহ বিনতে দাজাজাহ, যিনি এটি বর্ণনায় সূত্রগত গোলযোগ (اضطربت) করেছেন। তিনি কখনো আয়েশা (রা.) থেকে, আবার কখনো উম্মে সালামাহ (রা.) থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। আর সূত্রগত গোলযোগ (الاضطراب) এমন একটি বিষয় যা হাদিসকে দুর্বল (يوهن) করে দেয়, যেমনটি মুহাদ্দিসগণের নিকট সুপরিচিত। কারণ এটি বর্ণনাকারীর যথাযথ সংরক্ষণ ক্ষমতা (ضبط) ও মুখস্থ শক্তির (حفظ) অভাবকে নির্দেশ করে।

--------------------------------------------

(১) ১- অর্থাৎ: ফিকহুস সুন্নাহ গ্রন্থে শায়খ সাইয়্যেদ সাবিক।
(খণ্ড: ১) আহকামুন নিসা - মুস্তাখলাসুন মিন কুতুবিল আলবানী (পৃষ্ঠা: ৩২)
يضاف إلى ذلك أن جسرة هذه لم يوثقها من يعتمد على توثيقه بل قال البخاري: " عندها عجائب ".

ولذلك ضعف جماعة هذا الحديث كما قال الخطابي.

وقال البيهقي:

" ليس بالقوي لما "

وقال عبد الحق:

" لا يثبت "

وبالغ ابن حزم فقال: " إنه باطل " (1)

وللحديث شاهدان لا ينهضان لتقويته ودعمه لأن في أحدهما متروكا وفي الآخر كذابا وقد خرجتهما وفصلت القول فيهما في " ضعيف سنن أبي داود " (رقم 32)

والقول عندنا في هذه المسألة من الناحية الفقهية كالقول في مس القرآن من الجنب للبراءة الأصلية وعدم وجود ما ينهض على التحريم وبه قال الإمام أحمد وغيره

قال البغوي في " شرح السنة " (2/ 46): " وجوز أحمد والمزني المكث فيه وضعف أحمد الحديث لأن راويه أفلت مجهول وتأول الآية

--------------------------------------------

(1) 1 - قلت: وقد خفي هذا التحقيق على الشوكاني فقوى حديث عائشة بحديث أم سلمة كما خفي عليه أن علة الحديث جسرة هذه فانظر " السيل الجرار " (1/ 109)
এর সাথে আরও যোগ করা যেতে পারে যে, এই জাসরাহ্-কে এমন কেউ নির্ভরযোগ্য (وثقها) বলেননি যার নির্ভরযোগ্যতা প্রদানের ওপর নির্ভর করা যায়, বরং বুখারি বলেছেন: "তার নিকট অদ্ভুত বর্ণনা রয়েছে।"

এ কারণেই একদল উলামা এই হাদিসটিকে দুর্বল (ضعف) বলেছেন, যেমনটি খাত্তাবি বলেছেন।

আর বায়হাকি বলেছেন:

"এটি শক্তিশালী (القوي) নয় কারণ..."

আর আব্দুল হক বলেছেন:

"এটি প্রমাণিত (يثبت) নয়"

ইবনে হাজম আরও কঠোরতা প্রদর্শন করে বলেছেন: "নিশ্চয়ই এটি বাতিল (باطل)" (১)

এই হাদিসটির দুটি সমর্থনমূলক বর্ণনা (شاهدان) রয়েছে যা এটিকে শক্তিশালী করতে ও সমর্থন দিতে যথেষ্ট নয়, কারণ তাদের একজনের মধ্যে একজন পরিত্যক্ত (متروكا) এবং অন্যজনের মধ্যে একজন চরম মিথ্যাবাদী (كذابا) বর্ণনাকারী রয়েছে। আমি এই দুটি বর্ণনাকে উদ্ধৃত করেছি এবং এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি "যঈফ সুনান আবু দাউদ" (নম্বর ৩২) গ্রন্থে।

ফিকহী দৃষ্টিকোণ থেকে এই মাসআলায় আমাদের অভিমত হলো—অপবিত্র ব্যক্তির কোরআন স্পর্শ করার বিষয়ের মতো, যা মূলগত বৈধতা (البراءة الأصلية) এবং হারাম হওয়ার সপক্ষে কোনো শক্তিশালী দলিল না থাকার ওপর প্রতিষ্ঠিত। ইমাম আহমাদ ও অন্যান্যরা এই মতই পোষণ করেছেন।

বাগাভি "শারহুস সুন্নাহ" (২/৪৬) গ্রন্থে বলেছেন: "আহমাদ ও মুযানী এতে অবস্থান করা বৈধ বলেছেন এবং আহমাদ হাদিসটিকে দুর্বল (ضعف) বলেছেন, কারণ এর বর্ণনাকারী আফলাত অজ্ঞাত (مجهول) এবং তিনি আয়াতটির ব্যাখ্যা (تأول) করেছেন।"

--------------------------------------------

(১) ১ - আমি বলছি: এই সূক্ষ্ম বিষয়টি শাওকানির নিকট অস্পষ্ট ছিল, তাই তিনি আয়িশার হাদিসকে উম্মে সালামার হাদিসের মাধ্যমে শক্তিশালী (قوى) করেছেন; যেমনটি তার নিকট অস্পষ্ট ছিল যে, হাদিসটির ত্রুটি (علة) হলো এই জাসরাহ্। সুতরাং দেখুন "আস-সাইলুল জাররার" (১/১০৯)।
(খণ্ড: ১) আহকামুন নিসা - মুস্তাখলাসুন মিন কুতুবিল আলবানী (পৃষ্ঠা: ৩৩)
على أن (عابري السبيل) هم المسافرون تصيبهم الجنابة فيتيممون ويصلون وقد روي ذلك عن ابن عباس ".

قوله: " وعن يزيد بن حبيب أن رجالا من الأنصار كانت أبوابهم إلى المسجد فكانت تصيبهم جنابة فلا يجدون الماء ولا طريق إليه إلا من المسجد فأنزل الله تعالى: {وَلا جُنُباً إِلَّا عَابِرِي سَبِيلٍ} رواه ابن جرير"

قلت: كذا في الأصل: " ابن حبيب " ولعله خطأ مطبعي والصواب: " ابن أبي حبيب " كما في " تفسير ابن جرير " وكتب الرجال وهو أبو رجاء المصري وكان فقيها من ثقات التابعين إلا أنه كان يرسل.

فهذه الرواية معللة بالإرسال فلا يفرح بها.

[تمام المنة ص 119].

 

‌‌متى تبلغ الجارية مبلغ النساء؟

185 - وقد روي عن عائشة أنها قالت: (إذا بلغت الجارية تسع سنين فهي امرأة "). ص 55. موقوف.

رواه الترمذي (1/ 207) والبيهقي (1/ 320) تعليقا بدون إسناد فقال: " وروينا عن عائشة رضي الله عنها أنها قالت: فذكره. وقال: تعني الله أعلم فحاضت فهي امرأة ".

قلت: وقد روي مرفوعا من حديث ابن عمر كما سيأتي في " النكاح " وبلفظه: " إذا أتى على الجارية تسع سنين فهي امرأة ". أخرجه أبو نعيم في " أخبار أصبهان " (2/ 273) وعنه الديلمي في " المسند " (1/ 1 / 89 -
এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো (পথচারী) যারা মুসাফির, তাদের জানাবাত (অপবিত্রতা) স্পর্শ করলে তারা তায়াম্মুম করে সালাত আদায় করবে। এটি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত হয়েছে।

তাঁর উক্তি: "ইয়াজিদ বিন হাবিব থেকে বর্ণিত যে, আনসারদের কিছু লোকের দরোজা মসজিদের দিকে ছিল। তাদের ওপর জানাবাত (অপবিত্রতা) আপতিত হতো, অথচ তারা পানি পেত না এবং মসজিদ ব্যতীত পানির কাছে যাওয়ার কোনো পথও ছিল না। তখন আল্লাহ তাআলা নাযিল করেন: {আর না জানাবাত অবস্থায়, তবে পথচারী অবস্থায় ব্যতীত}। এটি ইবনে জারির বর্ণনা করেছেন।"

আমি বলছি: মূল পাঠে এভাবেই আছে: "ইবনে হাবিব", সম্ভবত এটি একটি মুদ্রণজনিত ভুল। সঠিক হলো: "ইবনে আবি হাবিব", যেমনটি ইবনে জারিরের তাফসির এবং রিজাল শাস্ত্রে রয়েছে। তিনি হলেন আবু রাজা আল-মিসরি। তিনি একজন ফকিহ এবং তাবিঈদের (التابعين) অন্তর্ভুক্ত নির্ভরযোগ্য (ثقات) বর্ণনাকারী ছিলেন; তবে তিনি মুরসাল হাদিস বর্ণনা করতেন (يرسل)।

সুতরাং এই বর্ণনাটি বিচ্ছিন্নতা (الإرسال) জনিত কারণে ত্রুটিযুক্ত (معللة), তাই এটি নিয়ে আশাবাদী হওয়া যায় না।

[তামামুল মিন্নাহ, পৃষ্ঠা ১১৯]।

 

‌একটি মেয়ে কখন সাবালিকা হিসেবে গণ্য হয়?

১৮৫ - আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "যখন একটি মেয়ে নয় বছর বয়সে পৌঁছায়, তখন সে নারী (সাবালিকা)।" পৃষ্ঠা ৫৫। এটি মাওকুফ (موقوف)।

তিরমিজি (১/ ২০৭) এবং বায়হাকি (১/ ৩২০) এটি সনদ (إسناد) বিহীন মুয়াল্লাক হিসেবে (تعليقا) বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন: "আমরা আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছি যে তিনি বলেছেন..." এরপর সেটি উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন: "এর অর্থ হলো—আল্লাহই ভালো জানেন—সে ঋতুবতী হয়েছে, তখন সে নারী।"

আমি বলছি: এটি ইবনে উমর (রা.)-এর হাদিস থেকে মারফু হিসেবেও (مرفوعا) বর্ণিত হয়েছে, যেমনটি সামনে 'নিকাহ' অধ্যায়ে আসবে। এর শব্দগুলো হলো: "যখন একটি মেয়ে নয় বছর বয়সে উপনীত হয়, তখন সে নারী (সাবালিকা)।" আবু নুআইম 'আখবারু আসবাহান' (২/ ২৭৩) গ্রন্থে এটি বের করেছেন এবং তাঁর থেকে দায়লামি মুসনাদ গ্রন্থে (১/ ১/ ৮৯) বর্ণনা করেছেন।