(খণ্ড: ১) মুজাক্কিরাতু শাহিদিন লিল কারন (পৃষ্ঠা: -)
مذكرات شاهد للقرن   (مالك بن نبي)

القسم: كتب عامة


الكتاب: مذكرات شاهد للقرن

المؤلف: مالك بن نبي

المحقق: (إشراف ندوة مالك بن نبي)

الناشر: دار الفكر، دمشق - سورية

الطبعة: الثانية، 1404هـ - 1984م

عدد الصفحات: 429

أعده للشاملة: أبو ياسر الجزائري.

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 3 ربيع الأول 1433

এক শতাব্দীর সাক্ষীর স্মৃতিকথা   (মালেক বিন নবী)

বিভাগ: সাধারণ গ্রন্থাবলী


গ্রন্থ: এক শতাব্দীর সাক্ষীর স্মৃতিকথা

লেখক: মালেক বিন নবী

সম্পাদক: (মালেক বিন নবী সেমিনারের তত্ত্বাবধানে)

প্রকাশক: দারুল ফিকর، দামেস্ক - সিরিয়া

সংস্করণ: দ্বিতীয়، ১৪০৪ হি. - ১৯৮৪ খ্রি.

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪২৯

শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: আবু ইয়াসির আল-জাযাইরি.

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৩

(খণ্ড: ১) মুজাক্কিরাতু শাহিদিন লিল কারন (পৃষ্ঠা: ১)
مالك بن نبي

 

مذكرات شاهد للقرن

 

ندوة مالك بن نبي

 

دار الفكر المعاصر، بيروت - لبنان

دار الفكر، دمشق - سورية
মালেক বিন নবী

 

শতাব্দীর এক সাক্ষীর স্মৃতিকথা

 

মালেক বিন নবী সিম্পোজিয়াম

 

দারুল ফিকর আল-মুআসির, বৈরুত - লেবানন

দারুল ফিকর, দামেস্ক - সিরিয়া
(খণ্ড: ১) মুজাক্কিরাতু শাহিদিন লিল কারন (পৃষ্ঠা: ২)
مالك بن نبي

 

مذكّرات شاهد للقرن

القِسْمُ الأول: الطِّفْل 1905 - 1930

القِسْمُ الثاني: الطالبْ 1930 - 1939

 

بإشراف ندوة مالك بن نبي

 

دار الفكر المعاصر بيروت - لبنان

دار الفكر دمشق - سورية
মালেক বিন নবী

 

এক শতাব্দীর সাক্ষীর স্মৃতিকথা

প্রথম অংশ: শৈশব ১৯০৫ - ১৯৩০

দ্বিতীয় অংশ: ছাত্রজীবন ১৯৩০ - ১৯৩৯

 

মালেক বিন নবী সেমিনারের তত্ত্বাবধানে

 

দারুল ফিকর আল-মুয়াসির বৈরুত - লেবানন

দারুল ফিকর দামেস্ক - সিরিয়া
(খণ্ড: ১) মুজাক্কিরাতু শাহিদিন লিল কারন (পৃষ্ঠা: ৩)
تصوير 1413 هـ - 1993 م

الطبعة الثانية 1404هـ - 1984م

ط1: القسم الأول 1969م

القسم الثاني 1970م
পুনঃমুদ্রণ ১৪১৩ হিজরি - ১৯৯৩ খ্রিস্টাব্দ

দ্বিতীয় সংস্করণ ১৪০৪ হিজরি - ১৯৮৪ খ্রিস্টাব্দ

১ম সংস্করণ: প্রথম অংশ ১৯৬৯ খ্রিস্টাব্দ

দ্বিতীয় অংশ ১৯৭০ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১) মুজাক্কিরাতু শাহিদিন লিল কারন (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

في عام 1971، ترك أستاذنا مالك بن نبي، رحمه الله، في المحكمة الشرعية في طرابلس لبنان، وصية سجلت تحت رقم 275/ 67 في 16 ربيع الثاني 1391 الموافق 10 حزيران 1971، وقد حملني فيها مسؤولية كتبه المعنوية والمادية.

وتحملاً مني لهذه الرسالة، ووفاءً لندوات سقتنا على ظمأ صافي الرؤية، رأيت تسمية ما يصدر تنفيذاً لوصية المؤلف بـ (ندوة مالك بن نبي).

والتسمية هذه، دعوة إلى أصدقاء مالك بن نبي وقارئيه، ليواصلوا نهجاً في دراسة المشكلات، كان قد بدأه.

وهي مشروع نطرحه كنواة لعلاقات فكرية، كان رحمه الله يرغب في توثيقها.

وإنني لأرجو من أصدقاء مالك وقارئيه، مساعدتنا على حفظ حقوق المؤلف في كل ما ينشر بالعربية أو غيرها مترجماً من قبل المترجمين أو غير مترجم. فقد حمّلني، رحمه الله، مسؤولية حفظ هذه الحقوق، والإذن بنشر كتبه. فإن وجدت طبعات لم تذكر فيها إشارة إلى إذن صادر من قبلنا، فهذه طبعات غير مشروعة، ونرجو إبلاغنا عنها.

 

طرابلس لبنان

18 ربيع الأول 1399هـ

15 شباط (فبراير) 1979م

عمر مسقاوي
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

১৯৭১ সালে আমাদের উস্তাদ মালিক বিন নবী (রাহিমাহুল্লাহ), লেবাননের ত্রিপোলির শরীয়াহ আদালতে একটি অসিয়তনামা (وصية) রেখে যান, যা ১৬ই রবিউস সানি ১৩৯১ হিজরি মোতাবেক ১০ই জুন ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে ২৭৫/৬৭ নম্বরে নিবন্ধিত হয়। এতে তিনি আমাকে তাঁর গ্রন্থাবলির বুদ্ধিবৃত্তিক ও বস্তুগত বিষয়ের দায়িত্ব অর্পণ করেন।

এই মহান আমানত বহন এবং সেইসব বুদ্ধিবৃত্তিক মজলিসের (ندوة) প্রতি আনুগত্যের নিদর্শনস্বরূপ যা আমাদের স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গির তৃষ্ণা নিবারণ করেছিল, লেখকের অসিয়তনামা (وصية) বাস্তবায়নের লক্ষে যা কিছু প্রকাশিত হবে তার নাম ‘মালিক বিন নবী সেমিনার (ندوة)’ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

এই নামকরণ মূলত মালিক বিন নবীর সুহৃদ ও পাঠকদের প্রতি একটি আহ্বান, যাতে তাঁরা সমস্যাবলি পর্যালোচনার সেই পদ্ধতি (منهج) অব্যাহত রাখেন যা তিনি শুরু করেছিলেন।

এটি একটি প্রকল্প যা আমরা বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পর্কের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে উপস্থাপন করছি, যা তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) সুদৃঢ় করতে চেয়েছিলেন।

আমি মালিকের সুহৃদ এবং পাঠকদের নিকট অনুরোধ জানাচ্ছি যেন আরবি বা অন্য যেকোনো ভাষায় অনূদিত বা মৌলিক আকারে প্রকাশিত সকল বিষয়ের ক্ষেত্রে লেখকের স্বত্ব সংরক্ষণে আমাদের সহযোগিতা করেন। তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) আমাকে এই স্বত্ব সংরক্ষণ এবং তাঁর গ্রন্থসমূহ প্রকাশের অনুমতি (إذن) প্রদানের দায়িত্ব অর্পণ করেছেন। যদি এমন কোনো সংস্করণ পাওয়া যায় যেখানে আমাদের পক্ষ থেকে প্রদত্ত অনুমতির (إذن) কোনো উল্লেখ নেই, তবে সেগুলো অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে এবং আমরা অনুরোধ করছি যেন সে সম্পর্কে আমাদের অবহিত করা হয়।

 

ত্রিপোলি, লেবানন

১৮ই রবিউল আউয়াল ১৩৯৯ হিজরি

১৫ই ফেব্রুয়ারি ১৯৭৯ খ্রিস্টাব্দ

উমর মিসকাউয়ি
(খণ্ড: ১) মুজাক্কিরাতু শাহিদিন লিল কারন (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌تصدير

ـ[مذكرات شاهد للقرن]ـ

كتاب أخرجه فيلسوفنا مالك بن نبي عام 1966 بالفرنسية، وطبع في الجزائر. وكان قد أودعني نسخة على الآلة الكاتبة في ذلك التاريخ، رغبة منه في إصداره مترجماً باللغة العربية.

هكذا اتفقت مع الدكتور عبد المجيد النعنعي مدير فروع الجامعة اللبنانية في طرابلس- لبنان، ليعمل على ترجمته، ولأعمل معه على صياغة النص بما يتفق وروح المؤلف ومرامي أفكاره.

وأنجز الدكتور النعنعي المهمة مشكوراً، يدفعه إلى ذلك حماسته للفكر العربي والإسلامي معاً، إنما سبقنا إلى تمام العمل ترجمة أخرى للأستاذ مروان قنواتي، صدرت في نهاية الستينات.

وهكذا توقفنا .....

وفي بداية السبعينات صدر الجزء الثاني من (مذكرات شاهد للقرن) وهو الجزء الذي يتحدث عن مرحلة الدراسة في باريس ابتداء من عام 1930، وقد آثر الأستاذ مالك- رحمه الله أن يترجمه بنفسه إلى العربية، حين آنس في الترجمة الأولى شيئاً من حواجز الصياغة تحول بين القارئ وإحساس المؤلف، الذي أودعه في كتابه وهو يصوغه بالفرنسية.

ومرت الأيام ......
ভূমিকা

—[এক শতাব্দীর সাক্ষীর স্মৃতিকথা]—

আমাদের দার্শনিক মালিক বিন নবী ১৯৬৬ সালে ফরাসি ভাষায় এই বইটি প্রকাশ করেন এবং এটি আলজেরিয়ায় মুদ্রিত হয়। তিনি সেই সময়ে আমাকে টাইপরাইটারে লেখা একটি অনুলিপি প্রদান করেছিলেন, যাতে এটি আরবি ভাষায় অনূদিত হয়ে প্রকাশিত হয়—এটিই ছিল তাঁর আকাঙ্ক্ষা।

এই উদ্দেশ্যে আমি লেবাননের ত্রিপোলিতে অবস্থিত লেবানিজ ইউনিভার্সিটির শাখাগুলোর পরিচালক ডক্টর আব্দুল মাজিদ আল-না’না’য়ির সাথে একমত হই, যাতে তিনি এটি অনুবাদের কাজ করেন এবং আমি লেখকের চেতনা ও তাঁর চিন্তাধারার লক্ষ্যসমূহের সাথে সামঞ্জস্য রেখে পাঠ্যটির ভাষাগত রূপায়নে তাঁর সাথে কাজ করি।

ডক্টর আল-না’না’য়ি এই দায়িত্বটি প্রশংসনীয়ভাবে সম্পন্ন করেন; আরবি ও ইসলামি চিন্তাধারার প্রতি তাঁর যুগপৎ উৎসাহই তাঁকে এই কাজে অনুপ্রাণিত করেছিল। তবে আমাদের কাজ সমাপ্ত হওয়ার আগেই অধ্যাপক মারওয়ান কানাওয়াতির করা অন্য একটি অনুবাদ গত ষাটের দশকের শেষে প্রকাশিত হয়ে যায়।

এর ফলে আমরা থেমে যাই .....

সত্তরের দশকের শুরুতে "এক শতাব্দীর সাক্ষীর স্মৃতিকথা"-র দ্বিতীয় খণ্ডটি প্রকাশিত হয়। এই খণ্ডটি ১৯৩০ সাল থেকে শুরু হওয়া প্যারিসে তাঁর অধ্যয়নের পর্যায় সম্পর্কে আলোচনা করে। অধ্যাপক মালিক—আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন—এটি নিজেই আরবিতে অনুবাদ করা শ্রেয় মনে করেছিলেন; কারণ তিনি প্রথম অনুবাদটিতে ভাষাগত প্রকাশভঙ্গির এমন কিছু অন্তরায় লক্ষ্য করেছিলেন যা পাঠক এবং লেখকের সেই অনুভূতির মাঝে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছিল, যা তিনি ফরাসি ভাষায় মূল বইটি রচনার সময় তাতে নিহিত করেছিলেন।

দিন অতিবাহিত হলো ......
(খণ্ড: ১) মুজাক্কিরাতু শাহিদিন লিল কারন (পৃষ্ঠা: ৮)
وحين بدأنا في إعادة طبع مؤلفات الأستاذ مالك بن نبي من جديد، عدت إلى ترجمة الدكتور النعنعي وقد مضى عليها قرابة الخمسة عشر عاماً، ثم تأملت في ترجمة الأستاذ مروان قنواتي، وقد حوت كثيراً من التوضيحات حول الأسماء التي ذكرها الأستاذ مالك.

وما كنت لأعدل عن ترجمة الأستاذ قنواتي التي بذل فيها من علمه ومعرفته ما يشكر عليه، لولا أنني أردت أن أوائم بين القسم الأول من الكتاب، والقسم الثاني الذي كتبه الأستاذ مالك بالعربية مباشرة.

فالترجمة الحاضرة للقسم الأول من الكتاب ترتكز في أساسها على النص الفرنسي وعمدتها ترجمة الدكتور النعنعي، لكننا استفدنا كثيراً من جهود الأستاذ مروان قنواتي.

وقد حاولنا قدر الاستطاعة أن نسلك في ترجمتنا للقسم الأول من (مذكرات شاهد للقرن)، أسلوب الأستاذ مالك في ترجمته للقسم الثاني من هذه المذكرات، ذلك أن القسمين سيصدران في كتاب واحد في هذه الطبعة وكانا قد صدرا قبلُ في كتابين منفصلين. فعسى أن نكون قد حققنا هدفنا في التنسيق بين فصول هذه المذكرات التي يأخذ بعضها برقاب بعض.

ومذكرات مالك بن نبي، مذكرات شاهد يتحدث إلينا خلف ستار، وهو يحاول أن ينقل إلينا تبصّره بالأحداث، وما هذه التفاصيل التي يقصها علينا إلا ليجسد رؤيته الفكرية عبرها. فشاهدنا شاهد بصر وبصيرة معاً.

وهي بصيرة صاغتها أحاسيس جزائري امتد به عمق الحضارة الإسلامية إلى حدود الحضارة الغربية الحديثة، فكان نقطة اتصال وتحول كما يقول في بداية شهادته.

فأجيال الحضارة تتناقل دائماً رسالة سرية ذات رموز، ويحقّ لكل جيل أن يقرأ هذه الرسالة قراءة تختلف عن الجيل السابق، لأن لكل جيل مصطلحاً خاصاً به يفك رموز تلك الرسالة.
যখন আমরা উস্তাদ মালিক বিন নবীর রচনাবলি নতুনভাবে পুনঃমুদ্রণের কাজ শুরু করলাম, তখন আমি ডক্টর আন-না'নাঈ-এর অনুবাদের দিকে ফিরে তাকালাম যা প্রায় পনেরো বছর আগে সম্পন্ন হয়েছিল। এরপর আমি উস্তাদ মারওয়ান কানাওয়াতির অনুবাদের বিষয়টি বিবেচনা করলাম, যাতে উস্তাদ মালিকের উল্লেখ করা নামগুলোর বিষয়ে অনেক ব্যাখ্যা ও স্পষ্টীকরণ অন্তর্ভুক্ত ছিল।

আমি উস্তাদ কানাওয়াতির অনুবাদ থেকে সরে আসতাম না—যাতে তিনি তাঁর জ্ঞান ও প্রজ্ঞা দ্বারা এমন এক শ্রম ব্যয় করেছেন যার জন্য তিনি ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য—যদি না আমি বইটির প্রথম অংশ এবং সরাসরি মালিক বিন নবীর আরবিতে লেখা দ্বিতীয় অংশের মধ্যে সমন্বয় করতে চাইতাম।

বইটির প্রথম অংশের বর্তমান অনুবাদটি মূলত ফরাসি পাঠ্যের ওপর ভিত্তি করে প্রণীত এবং এর প্রধান অবলম্বন হলো ডক্টর আন-না'নাঈ-এর অনুবাদ, তবে আমরা উস্তাদ মারওয়ান কানাওয়াতির প্রচেষ্টা থেকে যথেষ্ট উপকৃত হয়েছি।

আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি 'মুদাক্কিরাতু শাহিদিন লিল-কারন' (একটি শতাব্দীর সাক্ষীর স্মৃতিকথা)-এর প্রথম অংশের অনুবাদে উস্তাদ মালিকের সেই শৈলী অনুসরণ করতে যা তিনি এই স্মৃতিকথার দ্বিতীয় অংশে ব্যবহার করেছিলেন। এর কারণ হলো, এই সংস্করণে উভয় অংশ একটি বই হিসেবে প্রকাশিত হবে, অথচ এর আগে এগুলো দুটি পৃথক বই হিসেবে প্রকাশিত হয়েছিল। আশা করি, আমরা এই স্মৃতিকথার পরিচ্ছেদগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধনের লক্ষ্য অর্জন করতে পেরেছি, যা একটির সাথে অন্যটি গভীরভাবে সংশ্লিষ্ট।

মালিক বিন নবীর স্মৃতিকথা হলো এমন একজন সাক্ষীর স্মৃতিকথা যিনি পর্দার আড়াল থেকে আমাদের সাথে কথা বলেন। তিনি ঘটনার প্রেক্ষাপটে তাঁর বিচক্ষণতা আমাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেন। তিনি আমাদের কাছে যে বিবরণগুলো তুলে ধরেন, তা মূলত তাঁর বুদ্ধিবৃত্তিক দৃষ্টিভঙ্গিকে মূর্ত করার প্রয়াস। সুতরাং আমাদের এই সাক্ষী একই সাথে চাক্ষুষ দৃষ্টি ও অন্তর্দৃষ্টির অধিকারী।

এটি এমন এক অন্তর্দৃষ্টি যা একজন আলজেরীয় নাগরিকের অনুভূতির দ্বারা রূপ পেয়েছে, যার মধ্যে ইসলামি সভ্যতার গভীরতা আধুনিক পাশ্চাত্য সভ্যতার সীমানা পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। ফলে তিনি ছিলেন সংযোগ ও পরিবর্তনের একটি কেন্দ্রবিন্দু, যেমনটি তিনি তাঁর সাক্ষ্যের শুরুতে উল্লেখ করেছেন।

সভ্যতার প্রজন্মগুলো সর্বদা প্রতীকী অর্থবহ একটি গোপন বার্তা আদান-প্রদান করে। প্রতিটি প্রজন্মের অধিকার রয়েছে এই বার্তাকে পূর্ববর্তী প্রজন্মের চেয়ে ভিন্নভাবে পাঠ করার, কারণ প্রতিটি প্রজন্মের নিজস্ব পরিভাষা থাকে যা সেই বার্তার প্রতীকগুলোর রহস্য উন্মোচন করে।
(খণ্ড: ১) মুজাক্কিরাতু শাহিদিন লিল কারন (পৃষ্ঠা: ৯)
هكذا يقول بن نبي في شهادته، وكأنما يريد أن يمنحنا من جديد مصطلحات رموز هذه الرسالة، بعد أن افتقدنا هذا المصطلح، وباتت رسالة حضارتنا رمزاً لا نستطيع له إدراكاً يلج في أعماق جيلنا المعاصر.

مالك بن نبي يحدثنا عن حدود التلاقي بين حضارة مندفعة تحتاح ما أمامها، وحضارة أسلمت مقاليدها للتاريخ وغدت أجيالها في مهب الريح.

كذلك كانت الجرائر وقد اجتاحها الاستعمار الفرنسي. لكن الجزائر عينة من عينات ذلك العالم الإسلامي الذي استقال من مهمته التاريخية، وغدت بقية التراث أشلاء مبعثرة هنا وهناك، لا تصمد أمام طوفان الحضارة الغربية وجحافلها المنتصرة.

هكذا ينقل إلينا مالك بن نبي صوراً من شهادته، إذا صدقت على أجيال الجزائريين من أبناء جيله، فهي صادقة أيضاً على أجيال العالم الإسلامي، والعالم المتخلف بأجمعه منذ بداية هذا القرن.

ولذا فهو شاهد أحداث هذا القرن فيها يروي.

والشهادة هذه ليست شهادة لمعاناة مجتمع مغلوب على أمره، وهي ليست شهادة على مجتمع لا يدرك لدفاعه فعالية الوسائل فحسب، بل إنها أيضاً شهادة على ما أرست حضارة الغرب الحديثة من مصطلحات ومفاهيم ومنجزات، تزري بمسيرة الإنسانية وهي تنشر ثقافتها وجيوشها.

فمالك بن نبي- وهو يروي أدق التفاصيل- لا يغفل عن إبراز القيم الأساسية التي ما يزال يحتفظ بها رجل الفطرة، وقد ورثها من أجيال سابقة حفظت التراث والقيم. وهو في الوقت نفسه يطرح أمامنا تهافت مثقفينا؛ الذين انغمسوا في الثقافة الغربية ومصطلحاتها وواقعها، فانقلبوا في حركتهم التقدمية إلى الوراء، واتخذوا من السياسة سبيلاً إلى قيادة تسير نحو العدم، لأنهم افتقدوا في
বিন নবী তাঁর সাক্ষ্যে (شهادة) এভাবেই বলেন, যেন তিনি আমাদের এই বাণীর প্রতীকী পরিভাষাগুলো নতুন করে প্রদান করতে চান, এই পরিভাষাগুলো আমরা হারিয়ে ফেলার পর এবং আমাদের সভ্যতার বার্তাটি এমন এক প্রতীকে পরিণত হওয়ার পর যার উপলব্ধি আমাদের সমসাময়িক প্রজন্মের গভীরে প্রবেশ করতে সক্ষম হচ্ছে না।

মালিক বিন নবী আমাদের এমন এক উম্মত্ত সভ্যতার—যা তার সম্মুখের সবকিছু গ্রাস করে নেয়—এবং এমন এক সভ্যতার—যা তার নেতৃত্ব ইতিহাসের কাছে সমর্পণ করেছে এবং যার পরবর্তী প্রজন্মগুলো বাতাসের ঝাপটায় লক্ষ্যহীন হয়ে পড়েছে—তাদের মিলনবিন্দুর সীমানা সম্পর্কে আলোকপাত করেছেন।

ফরাসি উপনিবেশবাদের কবলে পড়া আলজেরিয়াও তেমনই ছিল। তবে আলজেরিয়া হলো সেই মুসলিম বিশ্বের একটি নমুনা মাত্র, যা তার ঐতিহাসিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিয়েছে এবং যার অবশিষ্ট ঐতিহ্য (تراث) এখানে-সেখানে ছড়িয়ে থাকা ছিন্নভিন্ন অবশিষ্টাংশে পরিণত হয়েছে, যা পশ্চিমা সভ্যতার প্লাবন এবং তাদের বিজয়ী সেনাদলের সামনে টিকে থাকতে পারছে না।

মালিক বিন নবী এভাবেই আমাদের কাছে তাঁর সাক্ষ্যের (شهادة) কিছু চিত্র তুলে ধরেছেন, যা যদি তাঁর সমসাময়িক আলজেরীয় প্রজন্মের ক্ষেত্রে সত্য হয়, তবে তা এই শতাব্দীর শুরু থেকে সমগ্র মুসলিম বিশ্বের প্রজন্ম এবং সামগ্রিকভাবে অনগ্রসর বিশ্বের জন্যও সমানভাবে সত্য।

তাই তিনি যা বর্ণনা (يروي) করছেন, তাতে তিনি এই শতাব্দীর ঘটনাবলির একজন সাক্ষী।

আর এই সাক্ষ্য (شهادة) কেবল একটি পরাজিত সমাজের যন্ত্রণার সাক্ষ্য (شهادة) নয়, কিংবা এটি এমন একটি সমাজের সাক্ষ্য (شهادة) নয় যারা নিজেদের আত্মরক্ষার জন্য উপকরণের কার্যকারিতা উপলব্ধি করতে পারে না; বরং এটি আধুনিক পশ্চিমা সভ্যতা কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত সেই সকল পরিভাষা, ধারণা ও অর্জনের ওপর একটি সাক্ষ্য (شهادة), যা মানবজাতির অগ্রযাত্রাকে হেয় প্রতিপন্ন করছে যখন তারা তাদের সংস্কৃতি ও সেনাবাহিনী বিস্তার করছে।

মালিক বিন নবী—যিনি অতি সূক্ষ্ম খুঁটিনাটি বর্ণনা (يروي) করছেন—তিনি সেই মৌলিক মূল্যবোধগুলোকে ফুটিয়ে তুলতে বিস্মৃত হন না যা ফিতরাত বা সহজাত স্বভাবের মানুষ এখনও ধারণ করে আছে, এবং যা সে তার পূর্ববর্তী প্রজন্মগুলোর কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে যারা ঐতিহ্য (تراث) ও মূল্যবোধকে রক্ষা করেছিল। একই সাথে তিনি আমাদের সামনে আমাদের বুদ্ধিজীবীদের অন্তঃসারশূন্যতাকে উপস্থাপন করেছেন; যারা পশ্চিমা সংস্কৃতি, তাদের পরিভাষা ও বাস্তবতায় নিমজ্জিত হয়ে নিজেদের প্রগতিশীল আন্দোলনে উল্টো পথে মোড় নিয়েছে এবং রাজনীতিকে এমন এক নেতৃত্বের পথে বেছে নিয়েছে যা কেবল শূন্যতার দিকে ধাবিত হয়, কারণ তারা...
(খণ্ড: ১) মুজাক্কিরাতু শাহিদিন লিল কারন (পৃষ্ঠা: ১০)
ذلك الصخب الذي عانته مجتمعاتنا الإسلامية منذ بداية هذا القرن، سبل الفعالية في المبادرة والاتجاه، وهكذا فاتهم قطار التاريخ.

هذا الكتاب يحمل إلينا دفء الأصالة، ويهزّنا حين يروي لنا صفاء الراعي والبدوي ووفاءه للقيم، والتزامه بما استقر في ضميره من تقاليد هي أقرب إلى روح الحضارة وأرسخ في خطا التقدم.

فالذي حمله المثقفون الجزائريون من الجامعات والمعاهد الفرنسية، والذي نقله الاستعمار من الهياكل الإدارية إلى أرض الجزائر، قد أفسد الرؤية وأنقص قيمة الإنسان، وأحل مكان خرافة المرابطي شيخ الطريقة خرافةَ الزعيم، وهكذا تحطمت بمنطق السهولة المبادرات البناءة التي بدأتها حركة الإصلاح بقيادة (بن باديس).

هذا الكتاب يكشف لنا مكونات فكر بن نبي، وهاجسه العميق الذي رافقه طيلة حياته.

إنه هاجس الحضارة ومشكلاتها. وما كان لبن نبي أن يروي لنا شهادته، لولا أنه قد رغب في تأصيل الأساس الفكري لنهضتا، وآثر الحقيقة والتزم جانب الصدق والكفاح حتى أسلم الروح، لم تفتر له عزيمة في بيان ولم يهن له عزم في كشف كل زيف، تروج بضاعته في أسواق الثقافة ومراكز التوجيه.

إنه شاهد قرن ومبلغ فيه لما شهد. والتبليغ في منعطفات التاريخ رؤية فكرية وروحية معاً. في صيغته وضوح المعالم، وفي حرارته شرارة الإقلاع.

 

طرابلس- لبنان

22 جمادى الثانية 1403هـ

5 نيسان (ابريل) 1983

عمر مسقاوي
এই শতাব্দী শুরুর লগ্ন থেকে আমাদের ইসলামি সমাজগুলো যে অস্থিরতা ও কোলাহলের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হচ্ছে, তাতে উদ্যোগ এবং লক্ষ্যের কার্যকারিতার পথসমূহ রুদ্ধ হয়ে পড়েছে এবং এভাবেই ইতিহাসের ট্রেন তাদের হাতছাড়া হয়ে গেছে।

এই বইটি আমাদের নিকট ঐতিহ্যের উষ্ণতা বহন করে নিয়ে আসে এবং আমাদের আলোড়িত করে যখন এটি রাখাল ও বেদুইনদের নির্মলতা, মূল্যবোধের প্রতি তাদের বিশ্বস্ততা এবং তাদের বিবেকের গভীরে প্রোথিত সেই প্রথাগুলোর প্রতি তাদের দায়বদ্ধতা বর্ণনা করে যা সভ্যতার চেতনার অধিক নিকটবর্তী এবং প্রগতির পথে অধিকতর সুদৃঢ়।

আলজেরীয় বুদ্ধিজীবীরা ফরাসি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইনস্টিটিউট থেকে যা গ্রহণ করেছিলেন এবং উপনিবেশবাদ তার প্রশাসনিক কাঠামো থেকে আলজেরিয়ার মাটিতে যা স্থানান্তরিত করেছিল, তা দৃষ্টিভঙ্গিকে কলুষিত করেছে এবং মানুষের মর্যাদাকে হ্রাস করেছে। এটি তরীকার শায়খ বা মুরাবিতদের কুসংস্কারের স্থলে নেতার কুসংস্কারকে স্থলাভিষিক্ত করেছে। আর এভাবেই (বেন বাদিস)-এর নেতৃত্বে সংস্কার আন্দোলন যে গঠনমূলক উদ্যোগগুলো শুরু করেছিল, তা অতি সহজলভ্যতার যুক্তিতে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গিয়েছে।

এই বইটি আমাদের নিকট বিন নবীর চিন্তাধারার উপাদানসমূহ এবং তার সেই গভীর অন্তশ্চিন্তা উন্মোচন করে যা তার সারাজীবনের সঙ্গী ছিল।

এটি হলো সভ্যতা এবং এর সমস্যাবলি সংক্রান্ত অন্তশ্চিন্তা। বিন নবী আমাদের নিকট তার সাক্ষ্য (شهادة) প্রদান করতেন না, যদি না তিনি আমাদের জাগরণের বৌদ্ধিক ভিত্তি সুদৃঢ় করার আকাঙ্ক্ষা পোষণ করতেন। তিনি সত্যকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন এবং আমৃত্যু সততা (صدق) ও সংগ্রামের পথ অবলম্বন করেছেন। কোনো সত্য বর্ণনায় তার সংকল্পে কোনো শিথিলতা আসেনি এবং সংস্কৃতির বাজার ও দিকনির্দেশনা কেন্দ্রগুলোতে প্রচলিত প্রতিটি মিথ্যা বা জালিয়াতি (زيف) উন্মোচনে তার দৃঢ়তা কখনো দুর্বল হয়নি।

তিনি ছিলেন এই শতাব্দীর একজন প্রত্যক্ষদর্শী এবং যা প্রত্যক্ষ করেছেন তার একজন প্রচারকারী (مبلغ)। ইতিহাসের সন্ধিক্ষণে প্রচার (تبليغ) হলো একই সাথে একটি বুদ্ধিবৃত্তিক ও আধ্যাত্মিক দর্শন। তার উপস্থাপনা শৈলীতে রয়েছে বৈশিষ্ট্যের স্পষ্টতা এবং তার উষ্ণতায় রয়েছে নবযাত্রার স্ফুলিঙ্গ।

 

ত্রিপোলি- লেবানন

২২ জুমাদাল উখরা ১৪০৩ হিজরি

৫ এপ্রিল ১৯৮৩

ওমর মেসকাউয়ি
(খণ্ড: ১) মুজাক্কিরাতু শাহিদিন লিল কারন (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌القسم الأول

الطفل

(1905 - 1930 م)
প্রথম অংশ

শৈশবকাল

(১৯০৫ - ১৯৩০ খ্রি.)
(খণ্ড: ১) মুজাক্কিরাতু শাহিদিন লিল কারন (পৃষ্ঠা: ১৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌مقَدّمة

 

ليست الغاية من هذه المقدمة تقديم كتاب للقارئ، كما هو مألوف، إنما أردت أن أكشف الظروف المثيرة التي ألقت إليّ بهذه المخطوطة فاتجهت لنشر قسم منها في هذا الكتاب.

لكل امرئ ما تعود. ومن عادتي في بعض الأحيان أن أؤدي صلاة العصر في المسجد، حينما يخلو من الذين أدركوا الصلاة وراء الإمام في وقتها.

المكان شبه خالٍ إذن، وكنت أختار هذه الساعة بالذات لأستجمع نفسي في سكينة المسجد.

كان ذلك في مسجد قسنطينة المسترجع بعد ما ظل طوال قرن كاتدرائية المدينة. وكنت قد عدت إلى الجزائر منذ ثلاثة أيام أو أربعة وقد مضى على التحرر سنة كاملة.

عندما خلعت حذائي متأهباً لدخول المسجد، ألقيت نظرة فاحصة إلى داخله. فالمكان يتحدث بتاريخه أكثر مما يتحدث عنه طراز بنائه. واخترت ركنا في داخل المسجد مجانب المنبر القديم نائياً بنفسي عن ضجيج الشارع، وكانت أشعة الأصيل تتسرب من خلال الزجاج بين أعمدة المسجد.

وقفت في زاويتي أشرع في الصلاة. وكنت في الركعة الثانية من صلاة العصر أطيل السجود أكثر مما يفعل الناس في الجزائر؛ فهذه عادة حملها الزائرون للديار المقدسة حينما تتاح لهم فرصة المرور بالقاهرة والصلاة في مسجد الحسين بالقرب من الأزهر. وبينما أنا في سجود هذه الركعة تناهى إلى سمعي وقع
বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম

 

‌‌ভূমিকা

 

এই ভূমিকার উদ্দেশ্য প্রচলিত প্রথার ন্যায় পাঠকদের নিকট কোনো গ্রন্থ উপস্থাপন করা নয়, বরং আমি সেই রোমাঞ্চকর পরিস্থিতি উন্মোচন করতে চেয়েছি যা আমাকে এই পাণ্ডুলিপি (مخطوطة) প্রাপ্তিতে সহায়তা করেছে এবং যার ফলে আমি এই গ্রন্থের একটি অংশ প্রকাশে উদ্যোগী হয়েছি।

প্রত্যেক ব্যক্তিরই নিজস্ব কিছু অভ্যাস থাকে। আমার অভ্যাস হলো মাঝেমধ্যে মসজিদে আসরের সালাত আদায় করা, যখন মসজিদ সেই সকল মুসল্লিদের থেকে শূন্য হয়ে যায় যারা জামাতের সাথে ইমামের পেছনে যথাসময়ে সালাত আদায় করেছেন।

তখন স্থানটি প্রায় জনশূন্য থাকে, আর আমি মসজিদের নিস্তব্ধতার মাঝে নিজেকে সমাহিত করতে এই বিশেষ সময়টিকেই বেছে নিতাম।

এটি ছিল কন্সটানটাইনের সেই পুনরুদ্ধারকৃত মসজিদ যা সুদীর্ঘ এক শতাব্দী কাল ধরে শহরের ক্যাথেড্রাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল। স্বাধীনতার পূর্ণ এক বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর আমি মাত্র তিন বা চার দিন পূর্বে আলজেরিয়ায় প্রত্যাবর্তন করেছিলাম।

মসজিদে প্রবেশের প্রাক্কালে যখন জুতো খুললাম, তখন মসজিদের অভ্যন্তরীণ ভাগে এক তীক্ষ্ণ দৃষ্টিপাত করলাম। স্থানটি তার স্থাপত্যশৈলীর চেয়ে তার ইতিহাসের মাধ্যমেই বেশি কথা বলছিল। আমি রাস্তার কোলাহল থেকে দূরে থাকার জন্য মসজিদের অভ্যন্তরে প্রাচীন মিম্বর (منبر)-এর পার্শ্ববর্তী একটি কোণ বেছে নিলাম। বিকেলের সূর্যরশ্মি তখন মসজিদের স্তম্ভগুলোর মধ্যবর্তী কাঁচ ভেদ করে চুইয়ে আসছিল।

আমি আমার নির্দিষ্ট স্থানে দাঁড়িয়ে সালাত শুরু করলাম। আসরের সালাতের দ্বিতীয় রাকাআত (ركعة)-এ আমি আলজেরিয়ার সাধারণ মানুষের তুলনায় সেজদা (سجود)-কে দীর্ঘ করছিলাম; এটি এমন এক অভ্যাস যা পবিত্র ভূমি সফরকারীরা অর্জন করেন যখন তাদের কায়রো ভ্রমণ এবং আজহারের সন্নিকটে অবস্থিত হুসাইন মসজিদে সালাত আদায়ের সুযোগ ঘটে। আমি যখন সেই রাকাআতের সেজদাবনত অবস্থায় ছিলাম, তখন আমার কর্ণকুহরে এক পদধ্বনি ভেসে এল...
(খণ্ড: ১) মুজাক্কিরাতু শাহিদিন লিল কারন (পৃষ্ঠা: ১৪)
خطوات على السجادة ورائي، فما إن اقترب صاحبها مني حتى انسحب إلى الوراء. وعندما رفعت رأسي حانت مني التفاتة لا شعورية إلى جانبي الأيمن، فرأيت على مقربة من ركبتي ربطة حسنة التغليف.

أكملت صلاتي حسب العادة، ثم حيّيت وسلمت ونظرت ورائي فلم أجد أحداً، ثم نظرت يمنة ويسرة فلم أجد أحداً؛ فالذي وضع الربطة قد اختفى.

ولكن ماذا في هذه الربطة؟. أخذتها بين يدي فوجدتها مغلفة بعناية بورق مقوى وملتصق جيداً. وما إن لمستها حتى تبينت أنها كانت تضم أوراقاً، فنزعت عنها الغلاف الخارجي، إنها صفحات مكتوبة بخط دقيق لكنه مقروء جيداً، وعلى الصفحة الأولى رأيت العنوان (مذكرات شاهد للقرن) مكتوباً بخط أكبر ذي حروف مستديرة.

قرأت صفحة ثم أتبعتها بأخري. إنه شيء مثير، فكل جزائري يحسن الكتابة من أبناء جيلي يستطيع أن يكتب مثلها.

ثم قرأت بعض الصفحات فوقعت على اسم من يمكن أن يكون مؤلفها.

(صديق) .... من هو الصديق؟

إنه منذ الصفحة الأولى يبدو أنه واحد من مواليد قسنطينة ومن مواليد سنة 1905 فهو إذن رجل من أبناء جيلي. هذا كل ما في الأمر.

هل يجب أن أعيد إليه أوراقه، ولأي صديق أعيدها؟

ولكن أليس في نشرها إرجاع لها إليه؟ فربما كانت هذه رغبته بالذات.

فليتقبل القارئ إذن هذا الكتاب على أنه أفكار جزائري أراد أن يتحدث إليه من وراء حجاب محتفظاً باسمه لنفسه.

مدينة الجزائر 5 أيار (مايو) 1966م

مالك بن نبي

আমার পেছনের জায়নামাজে পদধ্বনি শ্রুত হলো, যার আগন্তুক আমার নিকটবর্তী হওয়া মাত্রই পুনরায় পশ্চাদপসরণ করলেন। যখন আমি মস্তক উত্তোলন করলাম, তখন অবচেতনভাবেই আমার ডান পার্শ্বে দৃষ্টি নিপতিত হলো এবং আমি আমার জানুর সন্নিকটে সুন্দরভাবে মোড়কজাত একটি প্যাকেট দেখতে পেলাম।

আমি প্রথা অনুযায়ী আমার নামাজ সম্পন্ন করলাম, অতঃপর অভিবাদন ও সালাম জ্ঞাপন শেষে পেছনের দিকে দৃষ্টিপাত করলাম কিন্তু কাউকে দেখতে পেলাম না। ডানে ও বামে তাকালাম, সেখানেও কেউ ছিল না; অর্থাৎ যিনি প্যাকেটটি রেখেছিলেন তিনি ততক্ষণে অন্তর্হিত হয়েছেন।

কিন্তু এই প্যাকেটের অভ্যন্তরে কী রয়েছে? আমি এটি হাতে তুলে নিলাম এবং দেখলাম এটি শক্ত কাগজ দ্বারা অত্যন্ত যত্নসহকারে মোড়ানো এবং সুসংবদ্ধভাবে আঠা লাগানো। এটি স্পর্শ করা মাত্রই আমার নিকট প্রতীয়মান হলো যে, এর ভেতরে কিছু কাগজ রয়েছে। আমি এর বহিঃস্থ আবরণটি উন্মোচন করলাম; এগুলো ছিল সূক্ষ্ম হস্তাক্ষরে লিখিত কিছু পৃষ্ঠা, তবে তা বেশ পাঠযোগ্য। প্রথম পৃষ্ঠায় আমি একটি শিরোনাম দেখতে পেলাম—(এক শতাব্দীর সাক্ষীর স্মৃতিকথা), যা তুলনামূলক বড় এবং গোলাকার হরফে লিখিত ছিল।

আমি একটি পৃষ্ঠা পাঠ করলাম এবং এরপর পরবর্তী পৃষ্ঠাগুলো অনুসরণ করলাম। এটি অত্যন্ত কৌতূহলোদ্দীপক একটি বিষয়; আমার প্রজন্মের প্রতিটি আলজেরীয় ব্যক্তি যিনি লিখনশৈলীতে পারদর্শী, তিনি এ ধরনের বিষয় লিখতে সক্ষম।

অতঃপর আমি আরও কিছু পৃষ্ঠা পাঠ করার পর এমন একজনের নাম দেখতে পেলাম, যিনি সম্ভবত এর লেখক হতে পারেন।

(বন্ধু).... কে এই বন্ধু?

প্রথম পৃষ্ঠা থেকেই এটি প্রতীয়মান হচ্ছে যে, তিনি ১৯০৫ সালে কন্সটানটাইনে জন্মগ্রহণকারী একজন ব্যক্তি; সুতরাং তিনি আমারই প্রজন্মের একজন মানুষ। প্রকৃত বিষয়টি কেবল এইটুকুই।

আমার কি তাঁর এই পাণ্ডুলিপি তাঁকে ফেরত দেওয়া উচিত? কিন্তু কোন বন্ধুর কাছে আমি এটি ফেরত দেব?

তবে এগুলো প্রকাশ করার মাধ্যমেই কি তা তাঁর নিকট ফিরিয়ে দেওয়া হবে না? সম্ভবত এটিই ছিল তাঁর একান্ত অভিপ্রায়।

অতএব, পাঠক যেন এই গ্রন্থটিকে একজন আলজেরীয় নাগরিকের চিন্তাধারা হিসেবে গ্রহণ করেন, যিনি স্বীয় নাম উহ্য রেখে পর্দার অন্তরাল থেকে তাঁর সাথে কথা বলতে চেয়েছেন।

আলজিয়ার্স শহর, ৫ মে ১৯৬৬ খ্রিস্টাব্দ

মালেক বিন নবী

(খণ্ড: ১) মুজাক্কিরাতু শাহিদিন লিল কারন (পৃষ্ঠা: ১৫)
كان مولدي في الجزائر عام 1905، أي في زمن كان يمكن فيه الاتصال بالماضي عن طريق آخر من بقي حياً من شهوده، وإلإطلال على المستقبل عبر الأوائل من رواده.

هكذا إذن فقد استفدت بامتياز لا غنى عنه لشاهد، حينما ولدت في تلك الفترة.

فقد عرفت في عائلتي جدة لي؛ الحاجة (بايا)، عُمِّرت حتى جاوزت المئة. وماتت حين كان لي من العمر ثلاث سنين أو أربع لم أعرفها بما فيه الكفاية، غير أنها أورثت العائلة الكثير من مشاهداتها وذكرياتها القديمة التي انتقلت إليّ بالتالي. فقد سردت على مسامعي فيما بعد جدتي لأمي الحاجة (زليخة)، كيف تركت أمها الحاجة (بايا) وعائلتها مدينة قسنطينة يوم دخلها الفرنسيون.

ففي ذلك اليوم لم يعد لعائلات قسنطينة من همّ، سوى إنقاذ شرفهم، وخاصة تلك العائلات التي كانت تكثر فيها الصبايا. فقد أخلوا المدينة من ناحية وادي الرمل، حيث توجد اليوم في الجهة السفلى مطاحن كاوكي، ومن الناحية العليا الجسر المعلق.

فبينما كان الفرنسيون يدخلون المدينة من كوّة في السور، كانت صبايا المدينة يسرع بهن آباؤهن إلى الجهة الأخرى منه يتدلين هرباً، وكثيراً ما كانت تنقطع بهن الحبال فتلقي بالعذارى في هوة المنحدر. فمعمَّرتنا (بايا) عاشت هذه المأساة، إذ كان والداها يدفعانها أمامهما عبر أزقة مدينة مذعورة نحو هوة السور، كما قاد إبراهيم قديماً ابنه إسماعيل إلى مذبح الرب. فكان على جدتي إذن أن تُقَدَّم قرباناً على مذبح وطن ينهار، إنقاذاً لشرف عائلة مسلمة. ولكن جدتي نجت
১৯০৫ সালে আলজেরিয়ায় আমার জন্ম হয়েছিল; অর্থাৎ এমন এক সময়ে, যখন অতীতের সাক্ষীগণের (شهود) মধ্যে যাঁরা জীবিত ছিলেন তাঁদের মাধ্যমে অতীতের সাথে সংযোগ স্থাপন করা এবং ভবিষ্যতের অগ্রপথিকদের মাধ্যমে আগামীর দিকে দৃষ্টিপাত করা সম্ভব ছিল।

এভাবে সেই সময়ে জন্মগ্রহণ করার ফলে একজন সাক্ষী (شاهد) হিসেবে আমি এমন এক অপরিহার্য সুবিধা লাভ করেছি, যা কোনো সাক্ষীর জন্য অনস্বীকার্য।

আমি আমার পরিবারে এক মাতামহীকে পেয়েছিলাম; আল-হাজ্জাহ বায়া, যিনি শতায়ু অতিক্রম করা পর্যন্ত দীর্ঘায়ু লাভকারিণী (معمرة) ছিলেন। আমার বয়স যখন তিন কি চার বছর, তখন তিনি ইন্তেকাল করেন। ফলে তাঁকে পর্যাপ্তভাবে জানার সুযোগ আমার হয়নি, তবে তিনি পরিবারের জন্য তাঁর প্রত্যক্ষ করা অনেক ঘটনা ও প্রাচীন স্মৃতি রেখে গেছেন, যা পর্যায়ক্রমে আমার কাছে পৌঁছেছে। পরবর্তীতে আমার নানি আল-হাজ্জাহ জুলাইখা আমার কাছে বর্ণনা করেছিলেন যে, ফরাসিরা যখন কনস্টানটাইন শহরে প্রবেশ করে, তখন কীভাবে তাঁর মা আল-হাজ্জাহ বায়া এবং তাঁর পরিবার শহরটি ত্যাগ করেছিলেন।

সেদিন কনস্টানটাইনের পরিবারগুলোর কাছে তাদের সম্মান রক্ষা করা ছাড়া আর কোনো চিন্তা ছিল না, বিশেষ করে সেই পরিবারগুলো যাদের ঘরে অনেক তরুণী কন্যা ছিল। তারা 'ওয়াদি আল-রামল' এর দিক দিয়ে শহর খালি করে দিচ্ছিল, যেখানে বর্তমানে নিচের দিকে কাওকি আটা কল এবং উপরের দিকে ঝুলন্ত সেতুটি অবস্থিত।

ফরাসিরা যখন প্রাচীরের এক ছিদ্র দিয়ে শহরে প্রবেশ করছিল, তখন শহরের তরুণীদের তাদের পিতারা প্রাচীরের অন্য প্রান্ত দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার জন্য নিচে নামিয়ে দিচ্ছিলেন। প্রায়শই সেই দড়ি ছিঁড়ে যেত এবং কুমারী মেয়েদের পাহাড়ের গভীর খাদে আছড়ে ফেলত। আমাদের সেই দীর্ঘায়ু লাভকারিণী (معمرة) বায়া এই বিয়োগান্তক ঘটনার সাক্ষী ছিলেন; কারণ তাঁর পিতামাতা তাঁকে এক আতঙ্কিত শহরের অলিগলি দিয়ে প্রাচীরের সেই খাদের দিকে ঠেলে দিচ্ছিলেন, ঠিক যেমন অতীতে ইব্রাহিম তাঁর পুত্র ইসমাইলকে প্রভুর কুরবানিগাহের দিকে নিয়ে গিয়েছিলেন। সুতরাং আমার মাতামহীকে একটি পতনোন্মুখ স্বদেশের বেদীতে এক মুসলিম পরিবারের সম্মান রক্ষার্থে উৎসর্গ হিসেবে পেশ করতে হয়েছিল। কিন্তু আমার মাতামহী বেঁচে গিয়েছিলেন।
(খণ্ড: ১) মুজাক্কিরাতু শাহিদিন লিল কারন (পৃষ্ঠা: ১৬)
أخيراً من مصيرها المرعب. فالحبل الذي تدلّى بها من فوق السور قاوم هذه المرة ولم يلق بحمله فسلمت جدتي، ولجأت مع عائلتها إلى تونس، وبعد سنوات عديدة قامت بزيارة مكة المكرمة لتعود بعدها مع زوجها وأطفالها إلى الجزائر. إنها الآن ميتة ولكن قصتها المحزنة ما تزال حية.

ولعل بإمكاننا أن نتصور تأثير هذه القصة على مخيلة أحفادها الصغار وأنا منهم، حين كانت تقصها علينا في ليالي الشتاء الباردة ابنتها- جدتي الحاجة زليخة- التي عُمّرت هي أيضاً فبلغت مئة عام.

وهنا أضيف أن هذه المرأة كانت بارعة في قص الحكايات، إذ كانت تشدنا إليها ونحن متحلقون حولها. كانت هذه مدرستي الأولى، فيها تكونت مداركي. فبعد ثلاثين سنة- من هذا التاريخ حينما كنت طالباً في باريس- قمت ذات يوم مع عدد من رفاقي في الكلية بعملية استبطان. وكان على كل منا أن يجيب على السؤال التالي: ما هو أهم حدث في حياتك ولمن تنسبه؟ لقد أحيا هذا السؤال في نفسي ذكريات قديمة.

كنت في السادسة أو السابعة من عمري، وكان وضع عائلتي قد ساء مادياً، فجدي لأبي باع كل ما تبقى بحوزته من أملاك العائلة، وهجر الجزائر المستعمَرة ليلجأ إلى طرابلس الغرب، فقد هاجر مع الموجة الأولى من الهجرة التي اجتاحت حوالي عام 1908 مدناً كثيرة كقسنطينة وتلمسان، تعبيراً عن رفض أهالي البلاد معايشة المستعمرين، والذي يعد البذرة الأولى لكثير من الأحداث السياسية التي جرت فيما بعد، وخصوصاً لذلك الشعور بضرورة مقاومة المستعمر الذي تفجر في أول تشرين الثاني (نوفبر) سنة 1954.

هذه الهجرة رافقتها تحولات اجتماعية كانت تتم تدريجياً في محيط مدينة قسنطينة، التي ما تزال تحافظ على المظاهر في الإطاار الاستعماري، إلا أن نظمها التقليدية وعاداتها قد بدأ يعتريها التغيير: الاحتفالات، والزواج، ومراسم
পরিশেষে তার সেই ভয়াবহ পরিণাম থেকে। দেয়ালের ওপর থেকে তাকে নামানোর জন্য যে দড়িটি ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল, সেটি এবার টিকে গেল এবং তার ভার ফেলে দিল না; ফলে আমার দাদী রক্ষা পেলেন। তিনি তার পরিবারের সাথে তিউনিসিয়ায় আশ্রয় নিলেন। অনেক বছর পর তিনি মক্কা মোকাররমা সফর করেন এবং এরপর স্বামী ও সন্তানদের নিয়ে আলজেরিয়ায় ফিরে আসেন। তিনি এখন পরলোকগত, তবে তার সেই করুণ কাহিনী আজও জীবন্ত হয়ে আছে।

সম্ভবত আমরা তার ছোট নাতি-নাতনিদের কল্পনায় এই গল্পের প্রভাব কল্পনা করতে পারি—আমিও তাদের একজন ছিলাম। শীতের হাড়কাঁপানো রাতে তার মেয়ে—আমার দাদী আল-হাজ্জা জুলাইখা—আমাদের কাছে এই গল্পটি শোনাতেন। তিনিও দীর্ঘায়ু লাভ করেছিলেন এবং একশ বছর বয়সে পদার্পণ করেছিলেন।

এখানে আমি আরও যোগ করতে চাই যে, এই নারী গল্প বলায় অত্যন্ত পারদর্শী ছিলেন; আমরা যখন তার চারপাশে গোল হয়ে বসতাম, তিনি আমাদের আবিষ্ট করে রাখতেন। এটিই ছিল আমার প্রথম পাঠশালা, যেখানে আমার বোধশক্তি গঠিত হয়েছিল। এই সময়ের ত্রিশ বছর পর—যখন আমি প্যারিসে ছাত্র ছিলাম—একদিন কলেজের কয়েকজন সহপাঠীর সাথে আমি এক আত্মবীক্ষণ প্রক্রিয়ায় অংশ নিই। আমাদের প্রত্যেককে নিম্নোক্ত প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়েছিল: "আপনার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা কোনটি এবং আপনি এটি কার সাথে নিসবত (نسبة) করেন?" এই প্রশ্নটি আমার মনে পুরনো স্মৃতিগুলোকে জাগিয়ে তুলেছিল।

তখন আমার বয়স ছয় বা সাত বছর। আমার পরিবারের আর্থিক অবস্থা খারাপ হয়ে গিয়েছিল। আমার দাদা তার অধিকারে থাকা পরিবারের অবশিষ্ট সব স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে দিয়েছিলেন এবং উপনিবেশিত আলজেরিয়া ত্যাগ করে ত্রিপোলিতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। তিনি হিজরতের সেই প্রথম ঢেউয়ের সাথে দেশত্যাগ করেছিলেন যা ১৯০৮ সালের দিকে কনস্টান্টিন এবং তলেমসেনের মতো অনেক শহরকে প্লাবিত করেছিল। এটি ছিল উপনিবেশবাদীদের সাথে বসবাস করার প্রতি দেশবাসীর অস্বীকৃতির বহিঃপ্রকাশ, যা পরবর্তীতে ঘটে যাওয়া অনেক রাজনৈতিক ঘটনার প্রথম বীজ হিসেবে গণ্য হয়; বিশেষ করে উপনিবেশবাদীদের প্রতিরোধের সেই প্রয়োজনীয়তার অনুভূতি, যা ১৯৫৪ সালের পহেলা নভেম্বরে বিস্ফোরিত হয়েছিল।

এই হিজরতের সাথে সাথে সামাজিক পরিবর্তনও দেখা দিয়েছিল যা কনস্টান্টিন শহরের পরিবেশে ধীরে ধীরে সম্পন্ন হচ্ছিল। শহরটি তখনও ঔপনিবেশিক কাঠামোর বাহ্যিক রূপ ধরে রেখেছিল, তবে এর ঐতিহ্যগত ব্যবস্থা এবং রীতিনীতিতে পরিবর্তন আসতে শুরু করেছিল: যেমন উৎসব, বিবাহ এবং আনুষ্ঠানিকতা...
(খণ্ড: ১) মুজাক্কিরাতু শাহিদিন লিল কারন (পৃষ্ঠা: ১৭)
الدفن، والأعياد، واجتماعات الرقية وطرد الجن، وحلقات الذكر عند الحنصالة والرحمانية والتيجانية، وخاصة العيسوية، كل ذلك كانت تقيمه عائلات المدينة في أبهة وروعة كما كان يجري في الماضي، مع أن مواردها لم تعد تسمح بذلك. ولو شاءت عائلة عرفت منذ قديم الزمان بالغنى أن تزوج ابناً أو بنتاً لها، لاضطرت أن تبيع بيتها، لتقوم بالمراسم المعتادة التي تليق بها.

لقد احتفظوا بالمظاهر فيما هم فقدوا الجوهر، إلا أن المظاهر بدورها لم تسلم في النهاية من التغيير. فهذه العادات الأخلاقية والاجتماعية قد اعتراها التحول. وقبل مولدي ببضع سنوات لم يعد أهل المنارل يضعون في المشكاة التي كانت بجانب الأبواب، طعاماً للفقراء يكفيهم السؤال بصوت مرتفع وهم يطرقون الأبواب.

لقد شاع الخمر وشاربوه. وبدت بوادر استغلال الثقة والمخالفة لتقاليد البلاد العريقة في الظهور، فيما نكفأت تتوارى شيئاً فشيئاً تلك التقاليد.

ومنذ طفولتي اختفت عادة تضامنية جميلة تقضي بأن يعير الجار عروس جاره حلي الزفاف. لقد اختفت هذه العادة لأن كثيراً من الحلي المعارة في أحد الاحتفالات لا تعود لأصحابها.

أما على الصعيد الاجتماعي فقد كان تدهور الإطار التقليدي أبلغ في الوضوح. فبعض النقابات المهنية كنقابة النساجين كانت قد اختفت منذ بعيد، فيما ظلت أخرى تقاوم قبل أن يدركها الأفول. لقد ولّت واحدة تلو أخرى لتخلي مكانها لما يستورد من السلع المصنوعة.

كثير من شوارع قسنطينة القديمة لا تزال محتفظة بأسمائها القديمة مثل: رحبة الصوف وسباط شبارليه (1)؛ مع أن تلك الجمعيات المهنية التي ازدهزت قديماً

--------------------------------------------

(1) الشبرلة: حذاء النساء (ترجمة الأستاذ قنواتي).
দাফন, উৎসবসমূহ, রুকইয়াহ ও জিন তাড়ানোর মাহফিল এবং হানসালা, রহমানিয়া, তিজানিয়া ও বিশেষ করে ঈসাভিয়া তরিকার জিকিরের মজলিসসমূহ—এই সবকিছুই শহরের পরিবারগুলো অতীতের ন্যায় পূর্ণ মহিমা ও জাঁকজমকের সাথে পালন করত, যদিও তাদের আর্থিক সঙ্গতি এখন আর তা করার অনুমতি দিত না। প্রাচীনকাল থেকে সম্পদশালী হিসেবে সুপরিচিত কোনো পরিবার যদি তাদের পুত্র বা কন্যার বিবাহ দিতে চাইত, তবে তাদের আভিজাত্যের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ প্রচলিত রীতিনীতি পালনের নিমিত্তে তারা নিজেদের ঘরবাড়ি বিক্রয় করতেও বাধ্য হতো।

তারা বাহ্যিক রূপ ধরে রাখলেও এর সারবস্তু হারিয়ে ফেলেছিল; কিন্তু পরিশেষে সেই বাহ্যিক রূপও পরিবর্তন থেকে রক্ষা পায়নি। বস্তুত এই নৈতিক ও সামাজিক রীতিনীতিগুলো রূপান্তরের সম্মুখীন হয়েছিল। আমার জন্মের কয়েক বছর পূর্ব থেকেই গৃহস্থ বাড়ির অধিবাসীরা দরজার পার্শ্বস্থ কুলুঙ্গিতে দরিদ্রদের জন্য খাদ্যদ্রব্য রাখা বন্ধ করে দিয়েছিল, যা তাদের উচ্চকণ্ঠে ভিক্ষা প্রার্থনা বা দ্বারে করাঘাতের প্রয়োজনকে রহিত করত।

মদ্যপান ও মদ্যপায়ীদের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পেয়েছিল। নির্ভরযোগ্যতা (الثقة)-এর অপব্যবহার এবং দেশের সুপ্রাচীন ঐতিহ্যের পরিপন্থী আচরণের লক্ষণসমূহ প্রকাশ পেতে শুরু করেছিল, আর সেই ঐতিহ্যগুলো ক্রমশ বিলীন হয়ে যাচ্ছিল।

আমার শৈশব থেকেই সংহতির একটি সুন্দর প্রথা বিলুপ্ত হয়ে যায়, যার মাধ্যমে প্রতিবেশী তার অপর প্রতিবেশীর কনেকে বিবাহের অলংকারাদি ধার দিত। এই প্রথাটি বিলুপ্ত হওয়ার কারণ ছিল এই যে, কোনো অনুষ্ঠানে ধার দেওয়া অনেক অলংকার আর মালিকদের নিকট ফেরত আসত না।

সামাজিক প্রেক্ষাপটে প্রথাগত কাঠামোর এই অবক্ষয় অধিকতর সুস্পষ্ট ছিল। তাঁতিদের ইউনিয়নের ন্যায় কিছু পেশাজীবী সংগঠন অনেক পূর্বেই বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল, আবার অন্য কিছু সংগঠন বিলীন হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত টিকে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিল। আমদানিকৃত শিল্পজাত পণ্যের পথ সুগম করতে সেগুলো একে একে অপসৃত হয়েছিল।

প্রাচীন কাসান্তিনা শহরের অনেক রাস্তা এখনও তাদের প্রাচীন নামসমূহ ধারণ করে আছে, যেমন: রাহবাত আল-সুফ এবং সাবাত শাবারিলাহ (১); যদিও সেই সকল পেশাজীবী সমিতি যা প্রাচীনকালে সমৃদ্ধি লাভ করেছিল...

--------------------------------------------

(১) শাবারালাহ: নারীদের পাদুকা (অধ্যাপক কানাওয়াতীর অনুবাদ)।
(খণ্ড: ১) মুজাক্কিরাতু শাহিদিন লিল কারন (পৃষ্ঠা: ১৮)
والتي أعطت الاسم للشارع اختفت منذ زمن بعيد.

لقد بدأ المجتمع القسنطيني يتصعلك من فوق ويسوده الفقر من تحت، حتى ملابس الرجال شملها هذا التطور المتدهور: ففي شوارع قسنطينة بدأت تختفي العمائم والبرانس والملابس المصنوعة من الأقمشة المطرزة. والمخازن التي كانت تصنع فيها تلك السلع- كمخازن الصدارين- بدأت تقفل واحدة تلو الأخرى. وأخذت تظهر أكثر فأكثر في هذه الشوارع البضائع الأوروبية، وأحياناً الأثواب المستعملة المستوردة من مرسيليا.

مظهر المدن إذن أخذ يتغير من هذه الناحية، ثم من ناحية أخرى فإن تجمع الأوربيين الذي بدأ يتكاثر شيئاً فشيئاً، وأبناء الجالية اليهودية الذين أصبحوا فرنسيين دفعة واحدة، قد أدّى ذلك كله إلى أن تكون لهؤلاء مقاهيهم ومتاجرهم ومطاعمهم ومصارفهم وكهرباؤهم ومخازهم ذات الواجهات الجميلة. هذا كله أخذ يضفي على المدينة طابعاً جديداً، فحياة السكان الأصلية أخذت تتقلص لتنعزل في الشوارع الضيقة وزقاق سيدي راشد.

لقد كان لهذه التغيرات علاوة على أثرها الأخلاقي والاجتماعي، تأثير نفساني مضنٍ على أولئك المسنين الذين كان جدي أحدهم، فكل ما يجري حوله كان يدفعه لترك الجزائر، إلا أن والدي لم يرافقه في هجرته لأن أمي كانت تتمسك بالبقاء قرب أهلها، الذين استقروا في تبسة منذ حوالي نصف القرن. ولما كان جدي الذي هاجر برفقة شقيق له وابن له هو عمي، قد حمل معه كل ما تمكن من حمله، فقد بقي والدي ردحاً من الزمن في تبسة دون مورد يعيش منه ودون عمل.

لقد كانت هذه الفترة من حياة عائلتي شديدة العسر. إذ مات عمي الأكبر في قسنطينة، وكان قد تبناني منذ أمد بعيد، مما جعل زوجه تعيدني إلى أهلي في تِبِسَّة على الرغم مما خلف ذلك من أسى في نفسها وفي نفسي. لقد فعلت ذلك لأن مواردها لم تعد تسمح لها بإعالتي.
রাস্তাটির নামকরণের উৎসটি বহু পূর্বেই বিলীন হয়ে গেছে।

কন্সটান্টাইনের সমাজ উপরিস্তর থেকে আভিজাত্য হারিয়ে রিক্ত হতে শুরু করেছিল এবং নিম্নস্তরে দারিদ্র্য প্রবল হয়ে উঠেছিল। এমনকি পুরুষদের পোশাক-পরিচ্ছদেও এই অবক্ষয় পরিলক্ষিত হচ্ছিল: কন্সটান্টাইনের সড়কগুলো থেকে পাগড়ি, আলখাল্লা এবং কারুকাজ করা কাপড়ে নির্মিত ঐতিহ্যবাহী পোশাকগুলো হারিয়ে যেতে শুরু করেছিল। যেসব কারখানায় সেই পণ্যগুলো উৎপাদিত হতো—যেমন কটি প্রস্তুতকারকদের কারখানা—তা একে একে বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল। এর বিপরীতে এই রাস্তাগুলোতে উত্তরোত্তর ইউরোপীয় পণ্য এবং কখনো কখনো মার্সেই থেকে আমদানিকৃত ব্যবহৃত পুরনো পোশাকের আধিক্য দেখা দিতে লাগল।

শহরের অবয়ব একদিকে যেমন পরিবর্তিত হচ্ছিল, অন্যদিকে ইউরোপীয়দের ক্রমবর্ধমান জনবসতি এবং ইহুদি সম্প্রদায়ের লোকজন—যারা রাতারাতি ফরাসি নাগরিকে পরিণত হয়েছিল—তাদের নিজস্ব ক্যাফে, বিপণিবিতান, রেস্তোরাঁ, ব্যাংক, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা এবং সুদৃশ্য সম্মুখভাগ সম্পন্ন গুদামঘর গড়ে তুলেছিল। এই সবকিছুই শহরটিকে একটি নতুন আমেজ দান করছিল; ফলে স্থানীয় আদিবাসীদের জীবনযাত্রা সংকুচিত হয়ে সিদি রাশেদের সংকীর্ণ গলি ও সরু রাস্তাগুলোতে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছিল।

এই পরিবর্তনগুলোর নৈতিক ও সামাজিক প্রভাব ছাড়াও বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিদের ওপর একটি পীড়াদায়ক মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব ছিল; আমার দাদাও ছিলেন তাদেরই একজন। তাঁর চতুষ্পার্শ্বের ঘটনাবলি তাঁকে আলজেরিয়া ত্যাগে উদ্বুদ্ধ করছিল। তবে আমার পিতা তাঁর সাথে হিজরতে সঙ্গী হননি, কারণ আমার মাতা তাঁর আত্মীয়-স্বজনের সান্নিধ্যে থাকতে চেয়েছিলেন, যারা প্রায় অর্ধশতাব্দী পূর্বে তেবেসায় বসতি স্থাপন করেছিলেন। যেহেতু আমার দাদা তাঁর এক ভ্রাতা এবং এক পুত্রকে (আমার চাচা) সাথে নিয়ে দেশত্যাগ করেছিলেন এবং তাঁর পক্ষে যতটুকু সম্ভব সম্পদ সাথে নিয়ে গিয়েছিলেন, তাই আমার পিতা দীর্ঘকাল তেবেসায় কোনো আয়ের উৎস বা কর্মসংস্থান ছাড়াই অতিবাহিত করেছিলেন।

আমার পরিবারের সেই অধ্যায়টি ছিল চরম কৃচ্ছ্রতার। কন্সটান্টাইনে আমার জ্যেষ্ঠ পিতৃব্য ইন্তেকাল করেন, যিনি দীর্ঘকাল পূর্বে আমাকে দত্তক নিয়েছিলেন। তাঁর ইন্তেকালের পর তাঁর বিধবা স্ত্রী আমাকে পুনরায় তেবেসায় আমার পিতামাতার নিকট ফেরত পাঠান, যদিও বিষয়টি তাঁর এবং আমার উভয়ের হৃদয়েই গভীর বেদনার উদ্রেক করেছিল। প্রকৃতপক্ষে তাঁর আর্থিক সঙ্গতি আমার ভরণপোষণের ভার বহনের অনুকূলে না থাকার কারণেই তিনি এই পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।
(খণ্ড: ১) মুজাক্কিরাতু শাহিদিন লিল কারন (পৃষ্ঠা: ১৯)
وعلى هذا فقد انضمت إلى زمرة أطفال تبِسَّة، وفي هذا الوسط الجديد في عائلة مفرطة في الفقر أخذت أتعرف إلى جدتي لأمي، وسمعت الكثير من أقاصيصها وحكاياتها التي كان محورها العمل الصالح وما يليه هن ثواب، وعمل السوء وما يتبعه من عقاب. وكانت هذه الأقاصيص الورعة تعمل على تكويني دون أن أدري. فمنها عرفت أن الإحسان في مرتبة عليا من الأخلق الإسلامي. وإحدى حكاياتها عن الإحسان جعلتني أنا ابن السادسة أو السابعة من عمري أقوم بعمل ربما كان على ما أعتقد أسمى ما قمت به في حياتي.

ففي العائلة الفقيرة لابد أن يجوع الصغار متى فقد الأب عمله، غير أن أمي كانت تحول دون ذلك بممارستها للخياطة، وبالتالي فهي التي كانت تمسك بكيس النقود الذي كان دائماً فارغاً.

ولا أزال أذكر كيف أنها اضطرت ذات يوم لكي تدفع لمعلم القرآن الذي يتولى تدريسي، بدل المال سريرها الخاص، وأذكر أنه كان مصنوعاً من عدة ألواح من الخشب رفعت على صقالتين. وكان هذا يسمى في الجزائر آنذاك (السدّة).

وموارد العائلة كما ترى كانت هزيلة، إلا أننا كنا نحصل على قوتنا بفضل حسن تدبير أمي وانكبابها الليالي الطوال على عملها. ولكن أمي في إدارتها لشؤون العائلة كانت تعرف أن ما يحصل عليه أطفالها من غذاء غير كاف، فكانت تسد هذا النقص بعمل إضافي أيام الجمع. كان هذا العمل الإضافي يعطينا شقيقتي وأنا يوم الجمعة قطعة من (الرفيس) وهي حلوى تبسية تصنع من الطحين والسكر والتمر والزيت.

وفي ظهيرة يوم الجمعة أخدت نصيبي من الرفيس وأخذت أقضمه بنهم ولذة، وفجأة سمعت بباب الدار سائلاً ينادي: ((أعطوني من مال الله))، ولم أكن عندها أكلت من فطيرتي أكثر من النصف، ومع ذلك بادرت يإعطائها له عندما تذكرت واحدة من حكايات جدتي عن الإحسان وثوابه.
এভাবে আমি তেবিসার শিশুদের দলের সাথে যুক্ত হলাম। চরম দারিদ্র্যপীড়িত এই নতুন পরিবেশে আমি আমার মাতামহীর সাথে পরিচিত হতে শুরু করি এবং তাঁর কাছ থেকে অনেক উপকথা ও কিচ্ছা শুনি, যার মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল নেক আমল (العمل الصالح) ও তার পরবর্তী সওয়াব (ثواب), এবং মন্দ কাজ ও তার অনুগামী আজাব বা শাস্তি (عقاب)। এই ধর্মপ্রাণ কিচ্ছাগুলো আমার অলক্ষ্যেই আমার ব্যক্তিত্ব গঠনে কাজ করছিল। এ থেকেই আমি জানতে পেরেছিলাম যে, ইহসান (الإحسان) বা সদাচরণ ইসলামি আখলাকের এক উচ্চতর স্তরে অবস্থিত। ইহসান (الإحسان) সম্পর্কিত তাঁর একটি গল্প আমাকে ছয় বা সাত বছর বয়সে এমন একটি কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করেছিল, যা আমার বিশ্বাস মতে সম্ভবত আমার জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ কাজ ছিল।

একটি দরিদ্র পরিবারে বাবার কাজ হারিয়ে ফেলার অর্থই হলো ছোটদের ক্ষুধার্ত থাকা, তবে আমার মা সেলাইয়ের কাজ করার মাধ্যমে তা প্রতিহত করতেন। ফলে তিনিই সেই টাকার থলেটি আগলে রাখতেন যা সর্বদা শূন্যই থাকত।

আমার আজও মনে আছে, একদিন তিনি আমার কুরআন শিক্ষককে পারিশ্রমিক হিসেবে টাকার বদলে নিজের বিছানাটি দিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছিলেন। আমার মনে আছে সেটি কাঠের কয়েকটি তক্তা দিয়ে তৈরি ছিল যা দুটি মাচার ওপর বসানো ছিল। আলজেরিয়ায় তখন একে 'সাদ্দাহ' (السدة) বলা হতো।

আপনি যেমনটি দেখছেন, পরিবারের সম্পদ ছিল অত্যন্ত সামান্য; কিন্তু আমার মায়ের উত্তম ব্যবস্থাপনা এবং রাতভর হাড়ভাঙা পরিশ্রমের ফলে আমরা আমাদের জীবিকা পেতাম। কিন্তু মা যখন পারিবারিক বিষয়গুলো পরিচালনা করতেন, তখন তিনি জানতেন যে তাঁর সন্তানরা যে খাবার পাচ্ছে তা পর্যাপ্ত নয়। তাই তিনি শুক্রবারগুলোতে অতিরিক্ত কাজের মাধ্যমে এই অভাব পূরণের চেষ্টা করতেন। এই অতিরিক্ত কাজের বদৌলতে শুক্রবার দিন আমি এবং আমার বোন এক টুকরো 'রাফিস' (الرفيس) পেতাম, যা ছিল আটা, চিনি, খেজুর ও তেল দিয়ে তৈরি তেবিসার একটি মিষ্টি।

এক শুক্রবার দুপুরে আমি আমার রাফিসের অংশটি নিয়ে বেশ তৃপ্তি ও লোভাতুর ভঙ্গিতে খেতে শুরু করি। হঠাৎ বাড়ির দরজায় একজন সাহায্যপ্রার্থীর আওয়াজ শুনতে পেলাম, যে ডাকছিল: "আমাকে আল্লাহর মাল থেকে কিছু দান করুন।" তখন আমি আমার সেই পিঠার অর্ধেকও শেষ করিনি, তা সত্ত্বেও ইহসান (الإحسان) ও তার সওয়াব (ثواب) সম্পর্কে আমার নানির একটি গল্পের কথা মনে পড়তেই আমি তৎক্ষণাৎ তা তাকে দিয়ে দিলাম।
(খণ্ড: ১) মুজাক্কিরাতু শাহিদিন লিল কারন (পৃষ্ঠা: ২০)
بعد ربع قرن من هذا الحادث وكنت قد أصبحت رجلاً، أخذت أدرك إلى أي حد كنت مديناً لتلك الجدة العجوز.

والآن من الواجب أن ألاحظ في هذه المذكرات أنه في تلك الفترة البائسة حين لم تكن البلاد تمسك بمقاليد وجودها، ولا همّ للشباب قبل الحرب العالمية الأولى سوى الاستقرار بقدر الإمكان في الإطار الاستعماري، كان جدي القديم وجدتي يتشبثان برصيدهما التاريخي الأصيل، بتلك التقاليد وهذه الروح التي لولاها ما استطاعت البلاد أن تعود لصياغة تاريخها من جديد.

ومهما يكن من أمر فعندما عدت إلى عائلتي في تبِسَّة، عدت إليهم وقد ارتسمت في نفسي انطباعات واضحة خلال إقامتي في قسنطينة عند عمي وزوجه.

ولعل فقداني لما اعتدت عليه في مدينة الباي، كان يزيد في تأثير بيئة تلك المدينة على ذهني. ولهذا فقد ظلت قسنطينة تستقطب تفكيري طيلة سنوات طفولتي. ولكن تبسة أصبحت هي الأخرى مجال استقطاب آخر أضاف إلى ذاتي طابعه النفسي أيضاً.

ففي هذه الفترة كانت المدينة قابعة تقريباً داخل حدودها البيزنطية القديمة، أعني داخل الأسوار التي بنيت سريعاً دون تنسيق لمواجهة غزو الفندال. وأضيف إلى المدينة أيام الحكم العربي ضاحية بنيت خارج الأسوار (مشتى) يسمونها الآن الزاوية؛ ولعلها سميت كذلك نسبة إلى سيدي عبد الرحمن، أحد الأولياء الصالحين. ويؤم هذه الضاحية عادة بعض رجال القبائل المجاورة (ليموشي واليحياوي وعبديس) ولعلهم يفضلون الإقامة فيها على المدينة ليبقوا قرب مواشيهم.

في هذا الإطار قضيت القسم الأهم من طفولتي.
এই ঘটনার এক চতুর্থাংশ শতাব্দী পর, যখন আমি একজন পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছি, তখন আমি উপলব্ধি করতে শুরু করলাম যে সেই বৃদ্ধা দাদীর কাছে আমি কতটা ঋণী ছিলাম।

এখন এই স্মৃতিকথায় এটি উল্লেখ করা আবশ্যক যে, সেই চরম দুর্দশাগ্রস্ত সময়ে যখন দেশটি তার নিজের অস্তিত্বের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছিল এবং প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পূর্ববর্তী যুবসমাজের কাছে ঔপনিবেশিক কাঠামোর মধ্যে কোনোভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়া ছাড়া আর কোনো লক্ষ্য ছিল না, তখন আমার বৃদ্ধ দাদা ও দাদী তাদের আদি ঐতিহাসিক উত্তরাধিকারকে আঁকড়ে ধরেছিলেন। তারা সেই ঐতিহ্য এবং চেতনাকে লালন করেছিলেন, যা না থাকলে দেশটির পক্ষে পুনরায় নিজের ইতিহাস রচনা করা অসম্ভব হতো।

যাই হোক না কেন, আমি যখন তেবেসায় আমার পরিবারের কাছে ফিরে এলাম, তখন কন্সট্যান্টিনে আমার চাচা এবং তার স্ত্রীর কাছে অবস্থানের সময়কার কিছু স্পষ্ট প্রভাব আমার মনে রেখাপাত করেছিল।

সম্ভবত 'বে' (Bey) শাসিত শহরে আমি যে পরিবেশে অভ্যস্ত ছিলাম, তা থেকে বিচ্যুত হওয়া আমার মনে সেই শহরের প্রভাবকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল। এ কারণে কন্সট্যান্টিন আমার শৈশবের বছরগুলোতে আমার চিন্তার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ছিল। তবে তেবেসাও আমার আকর্ষণের আরেকটি ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল, যা আমার সত্তায় নিজস্ব মনস্তাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্যের ছাপ রেখেছিল।

সেই সময়ে শহরটি প্রায় তার প্রাচীন বাইজেন্টাইন সীমানার ভেতরেই সীমাবদ্ধ ছিল; অর্থাৎ ভ্যান্ডালদের আক্রমণ ঠেকানোর জন্য কোনো সুসমন্বয় ছাড়াই দ্রুততার সাথে নির্মিত প্রাচীরের অভ্যন্তরে। আরব শাসনের আমলে প্রাচীরের বাইরে একটি উপশহর (শীতকালীন আবাস) যুক্ত হয়েছিল, যাকে এখন তারা 'জাউইয়া' বলে অভিহিত করে। সম্ভবত কোনো এক পুণ্যবান (صالح) অলি (ولي) সিদি আবদুর রহমানের নামানুসারে এর এই নামকরণ করা হয়েছিল। নিকটবর্তী গোত্রগুলোর (লিমুশি, ইয়াহইয়াউই ও আবদিস) কিছু লোক সাধারণত এই উপশহরে আসত। সম্ভবত তারা তাদের গবাদি পশুর কাছাকাছি থাকার সুবিধার্থে শহরের ভেতর থাকার চেয়ে সেখানেই থাকাকে শ্রেয় মনে করত।

এই পরিবেশের মধ্যেই আমি আমার শৈশবের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়টি কাটিয়েছি।
(খণ্ড: ১) মুজাক্কিরাতু শাহিদিন লিল কারন (পৃষ্ঠা: ২১)
وكان للعائلات المقيمة داخل المدينة أيضاً قطعانها من الأبقار ترسلها باكراً لترعى خارج المدينة. فكانت تتجمع في الصباح عند باب (كراكلا) ويسميه المسلمون الآن باب (سيدي سعيد)، ليدعها تعود في المساء وحدها إلى حظائرها تضج بها أزقة المدينة كما تملؤها بما تلقي خلفها من أقذارها. ثم أضاف الحكم الاستعماري إلى المدينة القديمة الطابع، ضاحية إدارية أقام فيها الوحدات المختلطة لدينتي (تبسة ومرسوت)، وأخرى سكنية لإقامة الأوربيين من الموظفين ومعلمي المدارس ورجال الجمارك ورجال الدرك مع طبيب واحد أو طبيبة.

فالإطار الذي سأقضي فيه شبابي يحكي باختصار قصة ألفي عام من تاريخ الجزائر. فبيئة تبِسَّة تختلف في عدة نقاط عن محيط قسنطينة حيث قضيت السنوات الأولى من طفولتي.

لقد نجت بنسبة كبيرة من تسلط الواقع الاستعماري الذي سيسمى فيما بعد (الحضور الفرنسي)، وهذا ناتج من أن طبيعة المنطقة كانت تشكل نوعاً من الدفاع الذاتي ضد الأوربيين. ذلك أن تربتها لم يكن فيها ما يستهوي المعمر الأوربي، ففيها كنت ترى الدركي وبوليس الجمرك سابحين، في محيط من لابسي البرانص، خاصة في الأيام التي تقام فيها الأسواق، فاحتكاكها بالقبائل المجاورة قد حفظ لها طابعاً شبه بدوي مع شيء عن مظاهر حياة قبلية رعوية تفوح منها رائحة الحليب والخمير التي تَأَلَّفَت الأزقة.

لم تكن النظم التقليدية لهذه المنطقة تفسح المجال كثيراً- كما هي الحال في الحواضر الكبرى- للمؤثرات الأخلاقية والاجتماعية الناتجة عن الوجود الاستعماري. فالسكان هنا لم يتخلوا عن فضائلهم وتقاليدهم. فلا يزال طعامهم الشائع الكسكسي والفطائر وشرابهم الماء القراح. لقد تمكنت تبسة من المحافظة على روحها القديمة وعزتها بفضل بساطة الحياة فيها وجدب تربتها. وهكذا
শহরের অভ্যন্তরে বসবাসকারী পরিবারগুলোরও গবাদি পশুর পাল ছিল, যা তারা খুব ভোরে শহরের বাইরে চারণের জন্য পাঠিয়ে দিত। সেগুলো সকালে (কারাকালা) ফটকের সামনে জড়ো হতো, যাকে মুসলমানরা বর্তমানে (সিদি সাঈদ) তোরণ বলে ডাকে; যাতে সন্ধ্যায় সেগুলো একাকী নিজ নিজ খোঁয়াড়ে ফিরে আসতে পারে। তখন শহরের অলিগলিগুলো সেগুলোর কোলাহলে মুখরিত হতো এবং পেছনে ফেলে আসা মলমূত্রে সিক্ত হতো। পরবর্তীতে ঔপনিবেশিক শাসন প্রাচীন আমেজঘেরা এই শহরে একটি প্রশাসনিক উপশহর যুক্ত করে, যেখানে (তেবেসা ও মরসুত) অঞ্চলের মিশ্র ইউনিটগুলো স্থাপন করা হয়েছিল। এছাড়া ইউরোপীয় কর্মকর্তা, বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শুল্ক ও রক্ষীবাহিনীর সদস্যদের বসবাসের জন্য আরেকটি আবাসিক এলাকা গড়ে তোলা হয়েছিল, যেখানে একজন চিকিৎসক বা নারী চিকিৎসকও থাকতেন।

যে কাঠামোর মধ্যে আমি আমার যৌবন অতিবাহিত করব, তা সংক্ষেপে আলজেরিয়ার দুই হাজার বছরের ইতিহাসের কথাই ব্যক্ত করে। তেবেসার পরিবেশ বেশ কিছু দিক থেকে কন্সটান্টিন অঞ্চলের পরিবেশের চেয়ে ভিন্ন ছিল, যেখানে আমি আমার শৈশবের প্রাথমিক বছরগুলো কাটিয়েছিলাম।

এটি ঔপনিবেশিক বাস্তবতার আধিপত্য থেকে অনেকাংশে রক্ষা পেয়েছিল, যাকে পরবর্তীতে (ফরাসি উপস্থিতি) নামে অভিহিত করা হয়। এর কারণ ছিল এই অঞ্চলের প্রকৃতি ইউরোপীয়দের বিরুদ্ধে এক ধরণের স্বয়ংক্রিয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিল। এখানকার মাটি ইউরোপীয় উপনিবেশবাদীদের প্রলুব্ধ করার মতো ছিল না। সেখানে আপনি রক্ষীবাহিনী এবং শুল্ক পুলিশকে 'বার্নোস' পরিহিতদের ভিড়ে নিমজ্জিত থাকতে দেখতেন, বিশেষ করে হাটের দিনগুলোতে। প্রতিবেশী গোত্রগুলোর সাথে নিবিড় সম্পর্কের কারণে এটি একটি আধা-যাযাবর বৈশিষ্ট্য বজায় রাখতে পেরেছিল, যার সাথে জড়িয়ে ছিল পশুপালন ভিত্তিক গোত্রীয় জীবনের নানা অনুষঙ্গ এবং অলিগলিতে মিশে থাকা দুধ ও খামিরের ঘ্রাণ।

এই অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী ব্যবস্থাগুলো—বড় শহরগুলোর মতো—ঔপনিবেশিক উপস্থিতির ফলে সৃষ্ট নৈতিক ও সামাজিক প্রভাবগুলোকে খুব একটা স্থান দেয়নি। এখানকার বাসিন্দারা তাদের মহৎ গুণাবলি ও ঐতিহ্য বিসর্জন দেয়নি। তাদের সাধারণ খাদ্য ছিল কুসকুস ও পিঠা এবং পানীয় ছিল বিশুদ্ধ পানি। জীবনের সরলতা এবং মাটির রুক্ষতার কারণে তেবেসা তার প্রাচীন সত্তা ও আত্মমর্যাদা রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছিল। আর এভাবেই...
(খণ্ড: ১) মুজাক্কিরাতু শাহিদিন লিল কারন (পৃষ্ঠা: ২২)
فبانتقالي من قسنطينة إلى تبسة، وجدتني في إطار جديد أمام عناصر ومؤثرات تختلف عن سابق نشأتي.

في تِبسَّة تختلف وسائل اللعب عنها في قسنطينة، فأطفال مدينتي الأولى قسنطينة أَكثر رفاهية وبالتالي فقد كانت لعبهم أكثر أناقة ورقة، فالصغار منهم يتلهون بلعب صغيرة صنعت محلياً من خشب ملون، فهي أشبه ما تكون بتلك الصناديق الرخيصة الثمن التي كانت تحملها عرائس قبائل تبسة ضمن جهازها، والذين هم أسنّ كانوا يلعبون بالقفز أو بلعبة أخرى هي (الكينة quinet). في تِبسَّة كانت اللعب تعتمد على مزيد من القسوة والصلابة المتأثرة بالتقاليد المحلية، وبعضها كان أحياناً يقترب من السحر والشعوذة.

هناك أيضاً الألعاب الموسمية، ففي الربيع تجري المباريات الرياضية بلعبة (الكورة) بين أبناء المدينة وأبناء الزاوية، وكثيراً ما كان بعض الكبار يشتركون فيها؛ أما الكورة فكانت عبارة عن عقدة من غصن سنديان أو أنها مصنوعة من شعر الماعز. أما قاعدة اللعب فتقضي بأن يحاول كل فريق توجيه كرته إلى أرض الفريق الآخر، بواسطة عصا صنعت من غصن سنديان معكوفة عند طرفها شويت على نار خفيفة (الخوص)، ولعلها تشبه إلى حد ما العصا المستعملة اليوم في لعبة (الجُلف).

وهناك لعبة أخرى ربما كانت أخطر، وهي عبارة عن حرب صغيرة تقوم بين صبية تبسة وأولاد الزاوية. وهذه معروفة أيضاً في قسنطينة حيث يتقابل بضراوة أبناء حي القنطرة مع صبية باب الجدابية. على أن أكثر ما كان يثير اهتمامنا نحن أبناء تبسة السطو. كان يحيط بالمدينة منطقة خضراء يقوم بعض المزارعين باستغلالها في إنتاج الخضار، وفي موسم الخسّ والفواكه كنا نحن الأطفال نغرو هذه الحقول ونسطو على ما يتيسر من إنتاجها. بل كثيراً ما كان الأطفال يهربون من مدارسهم جماعات جماعات ليغيروا على هذه الحقول. ولعل أطفال
কন্সটান্টিন থেকে তেবেসায় স্থানান্তরের ফলে আমি নিজেকে এক নতুন পরিবেশে আবিষ্কার করলাম, যেখানে উপাদান ও প্রভাবকসমূহ আমার শৈশবের বেড়ে ওঠার পরিবেশ থেকে ভিন্ন ছিল।

তেবেসায় খেলাধুলার ধরণ কন্সটান্টিন থেকে আলাদা ছিল। আমার প্রথম শহর কন্সটান্টিনের শিশুরা অধিক সচ্ছল ছিল, ফলে তাদের খেলনাগুলো ছিল অধিক মার্জিত ও সূক্ষ্ম। সেখানকার ছোট শিশুরা রঙিন কাঠ দিয়ে স্থানীয়ভাবে তৈরি ছোট খেলনা নিয়ে মেতে থাকত, যা ছিল অনেকটা তেবেসার গোত্রীয় নববধূদের যৌতুকের সামগ্রীর অন্তর্ভুক্ত সেই সস্তা সিন্দুকগুলোর মতো। আর যারা বয়সে বড় ছিল, তারা লাফঝাঁপ অথবা 'কিনে' (quinet) নামক অন্য একটি খেলা খেলত। তেবেসায় খেলাধুলা ছিল স্থানীয় ঐতিহ্যের প্রভাবে অধিক কঠোর ও রুক্ষ প্রকৃতির; এমনকি কোনো কোনোটি মাঝেমধ্যে জাদুবিদ্যা ও তুকতাকের পর্যায়ভুক্ত হতো।

সেখানে মৌসুমী খেলাধুলাও প্রচলিত ছিল। বসন্তকালে শহরের কিশোর এবং জাভিয়ার ছাত্রদের মধ্যে 'আল-কোরা' নামক একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হতো, যাতে অনেক সময় বড়রাও অংশগ্রহণ করতেন। আর এই 'কোরা' ছিল মূলত ওক গাছের ডাল দিয়ে তৈরি একটি গিট অথবা ছাগলের লোম দিয়ে তৈরি কোনো বস্তু। খেলার নিয়ম ছিল এই যে, প্রতিটি দল তাদের বলটিকে প্রতিপক্ষের সীমানায় পাঠানোর চেষ্টা করত। এর জন্য ওক গাছের ডাল দিয়ে তৈরি এবং মাথায় বাঁকানো একটি লাঠি ব্যবহার করা হতো, যা মৃদু আগুনে পুড়িয়ে শক্ত করা হতো; সম্ভবত এটি বর্তমানকালের 'গলফ' খেলায় ব্যবহৃত লাঠির সাথে কিছুটা সাদৃশ্যপূর্ণ।

সেখানে অন্য একটি খেলা ছিল যা সম্ভবত আরও বেশি বিপজ্জনক ছিল; এটি ছিল মূলত তেবেসার কিশোর এবং জাভিয়ার ছেলেদের মধ্যে একটি ছোটখাটো যুদ্ধ। এটি কন্সটান্টিনেও সুপরিচিত ছিল, যেখানে আল-কান্তারা মহল্লার ছেলেরা বাব আল-জাদাবিয়া মহল্লার ছেলেদের সাথে প্রচণ্ড উগ্রতায় লিপ্ত হতো। তবে তেবেসার কিশোর হিসেবে আমাদের সবচেয়ে বেশি যা আকর্ষণ করত তা হলো লুটতরাজ। শহরটি একটি সবুজ অঞ্চল দ্বারা পরিবেষ্টিত ছিল যা কৃষকরা শাকসবজি উৎপাদনের জন্য ব্যবহার করত। লেটুস পাতা এবং ফলের মৌসুমে আমরা শিশুরা এই বাগানগুলোতে হানা দিতাম এবং যা পাওয়া যেত তা নিয়ে আসতাম। এমনকি প্রায়ই শিশুরা দলবদ্ধভাবে স্কুল থেকে পালিয়ে এই বাগানগুলোতে চড়াও হতো। আর সম্ভবত শিশুরা...
(খণ্ড: ১) মুজাক্কিরাতু শাহিদিন লিল কারন (পৃষ্ঠা: ২৩)
المدينة قد أسهموا مع تطور الحياة في تحويل هذه الجنائن إلى أرض موات، قسمت فيما بعد إلى قطع معدة للبناء عند ضاحيتي باب زعرور وباب الزواتين.

أما أنا فكانت لي أماكن مفضَّلة وكذلك أيام مفضلة، فكان يطيب لي أن أسطو على شيء من الأثمار بعد ظهر كل أربعاء. ففي هذا اليوم بالذات كان معلم المدرسة- ولم أكن بعد قد دخلت المدرسة الفرنسية- يصرفنا قبل موعد الانصراف، بعد أن يكون قد حصل من كل طفل على قطعة نقدية من فئة القرشين، وهذا ما كان يوفر لي الوقت اللازم للسطو على البساتين.

في تلك الساعة من بعد الظهيرة كانت الشمس عادة تلف المدينة بأشعة ذهبية رائعة، مما كان يجعلني أجد متعة كبرى في اللعب على أرصفة شارع قسنطينة أو في ساحة (كارنو Carnot) حيث أقيم كشك للموسيقا، اعتاد الفرنسيون أن يرقصوا على أنغامه في ليالي الرابع عشر من تموز. ولا أزال أذكر تلك الأمسية من بعد ظهر أربعاء ركلني فيها أحد الأوربيين لأنني دست على قدمه بينما كنت ألعب على الرصيف. وكان اللعب قرب الأسوار بالذات يطربني إلى حد كبير، إذ كان يجعلني أشعر وكأنني أنتقل إلى عالم آخر.

في زوايا أخرى من المدينة كان يخالجني شيء من الاضطراب، فحين كنت أمر بصحبة أختي الكبيرة أمام الكنيسة كنت أتطلع باستمرار إلى جرسها، إذ كانت تتملكني فكرة لم أبح بها لأحد مطلقاً. كنت أعتقد أن شقيقتي الصغيرة وردة - التي لم أعرفها لأنها توفيت وأنا ما أزال رضيعاً- سجينة داخل الكنيسة كما لو كانت كنزاً سلب من أحد وأخفي في مكان أمين لا تصل إليه يد.

لم تكن الزاوية القادرية بعيدة كثيراً عن منزلنا. وكان العرف آنذاك يقضي في حفلات الزواج والختان، بأن تواكب نوبة الزاوية العريس ليلة زفافه والطفل يوم ختانه. وما إن يصل إلى مسامعي إيقاع الضربات الأولى للنوبة حتى أبادر إلى الخروج، وحين كان يحدث ذلك عند الظهر كنت أعرف أنه
শহরের বাসিন্দারা জীবনের বিবর্তনের সাথে সাথে এই উদ্যানগুলোকে পরিত্যক্ত ভূমিতে (أرض موات) রূপান্তরিত করতে ভূমিকা রেখেছিলেন, যা পরবর্তীতে বাব জারুর এবং বাব জাওয়াতিন উপশহরের নিকটবর্তী এলাকায় নির্মাণ কাজের উপযোগী খণ্ডে বিভক্ত করা হয়।

আমার নিজের ক্ষেত্রে, কিছু প্রিয় জায়গা এবং প্রিয় দিন ছিল। প্রতি বুধবার বিকেলে বাগান থেকে ফলমূল চুরি করা আমার কাছে বেশ আনন্দদায়ক ছিল। বিশেষ করে এই দিনে স্কুলের শিক্ষক—তখনও আমি ফরাসি স্কুলে ভর্তি হইনি—ছুটির সময়ের আগেই আমাদের বিদায় দিতেন, তবে তার আগে প্রত্যেক শিশুর কাছ থেকে দুই কির্‌শ মূল্যের একটি করে মুদ্রা সংগ্রহ করে নিতেন। এটিই আমাকে বাগানগুলোতে হানা দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সময় করে দিত।

দুপুরের পরের সেই সময়ে সূর্য সাধারণত শহরটিকে চমৎকার সোনালি আভার চাদরে মুড়িয়ে দিত, যার ফলে কনস্টানটাইন রাস্তার ফুটপাতে অথবা 'কার্নো' (Carnot) চত্বরে খেলাধুলা করতে আমি দারুণ আনন্দ পেতাম। সেখানে একটি মিউজিক প্যাভিলিয়ন বা কিয়স্ক ছিল, যেখানে ফরাসিরা চৌদ্দই জুলাইয়ের রাতগুলোতে সুরের তালে নাচত। আমার এখনও সেই বুধবারের বিকেলের কথা মনে পড়ে, যখন ফুটপাতে খেলার সময় আমি এক ইউরোপীয়র পায়ে পা দিয়ে ফেলায় সে আমাকে লাথি মেরেছিল। বিশেষ করে দেয়ালগুলোর কাছে খেলাধুলা করা আমাকে ভীষণভাবে রোমাঞ্চিত করত, কারণ এটি আমাকে এমন এক অনুভূতি দিত যেন আমি অন্য এক জগতে চলে গিয়েছি।

শহরের অন্য প্রান্তগুলোতে আমার মনে এক প্রকার অস্থিরতা কাজ করত। যখন আমি আমার বড় বোনের সাথে গির্জার সামনে দিয়ে যেতাম, তখন আমি বারবার সেটির ঘণ্টার দিকে তাকাতাম। তখন আমার মনে এমন এক চিন্তা কাজ করত যা আমি কখনও কাউকে বলিনি। আমি বিশ্বাস করতাম যে, আমার ছোট বোন ওয়ার্দা—যাকে আমি কখনও দেখিনি কারণ আমি যখন দুগ্ধপোষ্য শিশু (رضيع) ছিলাম তখনই সে মারা গিয়েছিল—ঐ গির্জার ভেতরে বন্দি হয়ে আছে, যেন সে কোনো লুণ্ঠিত ধনভাণ্ডার যা কারও কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে কোনো নিরাপদ স্থানে লুকিয়ে রাখা হয়েছে যেখানে কারও হাত পৌঁছাতে পারে না।

কাদিরিয়া জাউইয়া আমাদের বাড়ি থেকে খুব একটা দূরে ছিল না। তখনকার দিনের প্রথা (العرف) অনুযায়ী বিয়ে বা সুন্নতে খতনার অনুষ্ঠানে বরকে তার বিয়ের রাতে এবং শিশুকে তার খতনার দিনে জাউইয়ার বাদ্যদলের সুরের মূর্ছনায় সংবর্ধনা জানানো হতো। বাদ্যের প্রথম আঘাতের শব্দ কানে পৌঁছানো মাত্রই আমি বাইরে যাওয়ার জন্য ছটফট করতাম। আর যখন এটি দুপুরের সময় ঘটত, তখন আমি বুঝতে পারতাম যে—
(খণ্ড: ১) মুজাক্কিরাতু শাহিদিন লিল কারন (পৃষ্ঠা: ২৪)
بمناسبة ختان عند العائلة الفلانية، وأسارع فوراً إلى اللحاق بالموكب كما كان يفعل جميع صغار الحي.

هذه الذكريات تبدو لي غريبة حتى في هذا الوقت بالذات، ومع الأيام بدأت تتحسن أوضاع عائلتي المادية؛ فوالدي حصل على وظيفة في المجمع المختلط لتبسة، وذلك بفضل ما تعلمه قديماً في المدرسة.

لقد أرسلوني إلى المدرسة الفرنسية، إلا أنني في الوقت نفسه ثابرت على التردد على مدرستي القديمة لتعلم القرآن، فكنت أقصدها كل يوم في الصباح الباكر لأكون فيما بعد عند الثامنة صباحاً في المدرسة الفرنسية. وكنت أجد في ذلك صعوبة كبيرة، أضف إلى هذا أن الفارق الذي كنت أحس به بين المدرستين والمعلمين، كان يجعلني لا أطيق هذا الوضع، فبدأت أتغيب عن مدرسة القرآن القديمة وسجادة الخلفاء، مما كان يعرضني لعقاب متواصل من أبي ومن معلم القرآن، وهذا زادني كرهاً بمدرسة القرآن، واسمترار هذا الوضع جعل حالي تسوء في المدرستين. وهكذا اقتنع والدي فانقطعت عن مدرسة القرآن القديمة لأنني لم أتعلم الكثير على الرغم من السنوات الأربع التي صرفتها فيها. فحتى ذلك الوقت لم أكن قد تجاوزت في قراءتي للقرآن سورة (سَبَّح).

وإن من ذكريات تلك الأيام ما لا يزال في مخيلتي، فقد كنت كباقي التلاميذ أغسل كل صباح لوحي الحجري في بركة ماء صغيرة، تقع عند زاوية المدرسة، ومتى تشبعت مياه البركة بذلك الحبر الذي كنا نكتب فيه وهو الصماغ - وكان المعلم يصنعه عادة بنفسه مستعملاً دهن الخرفان- كنا نعمد إلى نقل المياه الملوثة بدلوٍ لطرحها في مكان خاص. شربت ورفاقي مرة من هذه المياه الملوثة لاعتقادنا بأنها كانت تضم كلمة الله. لقد كان قصدنا من ذلك نبيلاً ومؤثراً، فما أردناه هو أن نشرب كلمة الله المقدسة بالذات.
কোনো এক পরিবারের খতনা উপলক্ষে আমি দ্রুত সেই মিছিলে যোগ দিতাম, যেমনটা পাড়ার অন্য সব ছোটরা করত।

এই স্মৃতিগুলো এমনকি বর্তমান সময়েও আমার কাছে অদ্ভুত মনে হয়। দিন অতিবাহিত হওয়ার সাথে সাথে আমার পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হতে শুরু করে; আমার পিতা তেবেসার (Tebessa) একটি সম্মিলিত কেন্দ্রে (المجمع المختلط) চাকরি পান, যা সম্ভব হয়েছিল অতীতে মাদরাসায় অর্জিত তাঁর শিক্ষার বদৌলতে।

তাঁরা আমাকে ফরাসি স্কুলে পাঠিয়েছিলেন, তবে আমি একই সাথে কুরআন শেখার জন্য আমার পুরনো মাদরাসায় যাওয়া অব্যাহত রেখেছিলাম। আমি প্রতিদিন খুব ভোরে সেখানে যেতাম যাতে পরবর্তীতে সকাল আটটার সময় ফরাসি স্কুলে উপস্থিত থাকতে পারি। এতে আমি অনেক কষ্ট পেতাম। তার ওপর দুই স্কুল এবং শিক্ষকদের মধ্যে যে পার্থক্য আমি অনুভব করতাম, তা পরিস্থিতিকে আমার জন্য অসহনীয় করে তুলেছিল। ফলে আমি সেই পুরনো কুরআন মাদরাসা এবং ‘সাজ্জাদাতুল খুলাফা’ থেকে অনুপস্থিত থাকতে শুরু করি, যার ফলে আমার পিতা এবং কুরআন শিক্ষকের কাছ থেকে অনবরত শাস্তির সম্মুখীন হতে হতো। এটি কুরআন মাদরাসার প্রতি আমার অনীহা আরও বাড়িয়ে দেয় এবং এই পরিস্থিতির ধারাবাহিকতা উভয় স্কুলে আমার অবস্থার অবনতি ঘটায়। শেষ পর্যন্ত আমার পিতা আশ্বস্ত হন এবং আমি সেই পুরনো কুরআন মাদরাসা ছেড়ে দেই, কারণ সেখানে চার বছর ব্যয় করা সত্ত্বেও আমি খুব বেশি কিছু শিখতে পারিনি। এমনকি সেই সময় পর্যন্ত আমার কুরআন পাঠ সূরা ‘সাব্বিহ’ (سَبَّح) অতিক্রম করেনি।

সেই দিনগুলোর স্মৃতিগুলোর মধ্যে একটি এখনও আমার মানসপটে উজ্জ্বল হয়ে আছে; আমি অন্য শিক্ষার্থীদের মতো প্রতিদিন সকালে মাদরাসার এক কোণে অবস্থিত একটি ছোট পুকুরে আমার পাথরের স্লেটটি ধৌত করতাম। পুকুরের পানি যখন সেই কালি দ্বারা পূর্ণ হয়ে যেত যা দিয়ে আমরা লিখতাম—আর তা ছিল সুমাগ (এক প্রকার প্রাকৃতিক আঠা জাতীয় কালি), যা শিক্ষক সাধারণত ভেড়ার চর্বি ব্যবহার করে নিজে তৈরি করতেন—তখন আমরা একটি বালতি দিয়ে সেই দূষিত পানি তুলে একটি বিশেষ স্থানে ফেলে দিতাম। একবার আমি ও আমার বন্ধুরা এই দূষিত পানি পান করেছিলাম, এই বিশ্বাস থেকে যে এতে আল্লাহর বাণী মিশে আছে। আমাদের উদ্দেশ্য ছিল মহৎ এবং আবেগপূর্ণ; আমরা চেয়েছিলাম খোদ আল্লাহর পবিত্র বাণী পান করতে।
(খণ্ড: ১) মুজাক্কিরাতু শাহিদিন লিল কারন (পৃষ্ঠা: ২৫)
في المدرسة الفرنسية الوحيدة في مدينتنا الصغيرة، أوجدوا صفاً رابعاً خصص للصغار من أبناء البلاد Petits indigènes وهو عبارة عن (مطهر) يقضي فيه الولد عدة سنوات، قبل أن يلحق بالصفوف العادية، عقب امتحان يقرر ما إذا كان على التلميذ أن يدخل الصف الثاني أو الثالث. لقد كان لي حظ الدخول في الصف الثالث.

وكان هذا في الواقع حظاً أتاح لي على ما أعتقد متابعة دراستي. فقد تمثل في شخصي معلمتي (مدام بيل) التي أحفظ لها حتى اليوم ذكرى حانية. ففي هذا الصف وجدتني لأول مرة مع أطفال أوربيين قد أتوا عن طريق القسم الخامس.

لقد كان لدى أهلي اهتمام بوضعي في مستوى الوسط الجديد، فزودت بأولى صدارة سوداء وأول محفظة كتب بغية الانسجام مع رفاقي الصغار.

لقد وضعني أول امتحان- وكان على ما أعتقد إملاء فرنسيا وبضعة أسئلة في اللغة- في مقدمة زملائي، وأعطاني الحق في أن أكتب ذلك اليوم التمارين على الصفحة الأولى لما يسمى دفتر الصف، الذي كان المعلم أو المعلمة يضعه بيدي الطالب كل صباح وفقاً لترتيبه.

ولكن الذي بقي في ذاكرتي هو الحب الصاعق الذي جذبني بقوة نحو (مدام بيل). ففي صباح أحد الأيام استيقظت وأنا أستشعر حباً جنونياً نحو معلمتي الجديدة كما لو كانت أمي بالذات، ولعل من السهل تفسير هذه الحادثة إذا ما لجأنا إلى نظريات فرويد. والغريب أن هذه السيدة قد استجابت لنزوة قلبي الصغير.

وعلى كل فقد بدأت دراستي بداية طيبة وتصرفاتي في الشارع بدأت شيئاً فشيئاً تتسم بطابع الهدوء والانتظام، وربما منذ تلك الفترة بالذات بدأت أكثر من التردّد على المسجد وخاصة أيام العطل. إذ كانت تلذ لي بصورة خاصة المشاركة في صلاة الجمعة، ففي هذه المناسبة فقط يسمح لي أن أرتدي قميصي الأبيض المزركش وبرنصي الصغير. وكنت قد حصلت على هذه الملابس الجميلة هدية من
আমাদের ছোট শহরের একমাত্র ফরাসি বিদ্যালয়ে তারা স্থানীয় সন্তানদের (Petits indigènes) জন্য চতুর্থ একটি শ্রেণি প্রবর্তন করেছিল, যা ছিল মূলত একটি ‘পরিশোধন কেন্দ্র’ (مطهر) সদৃশ। সাধারণ শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পূর্বে একজন বালককে সেখানে কয়েক বছর অতিবাহিত করতে হতো। অতঃপর একটি পরীক্ষার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গৃহীত হতো যে, শিক্ষার্থী দ্বিতীয় নাকি তৃতীয় শ্রেণিতে প্রবেশ করবে। আমার সৌভাগ্য হয়েছিল তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তির সুযোগ পাওয়ার।

এটি বাস্তবে এমন একটি সৌভাগ্য ছিল যা আমার বিশ্বাস মতে আমাকে শিক্ষা চালিয়ে যেতে সহায়তা করেছিল। আমার সেই শিক্ষিকা (মাদাম বেল)-এর ব্যক্তিত্বের মাঝে আমি তা খুঁজে পেয়েছিলাম, যার একটি স্নেহময় স্মৃতি আমি আজও হৃদয়ে লালন করি। এই শ্রেণিতেই আমি প্রথমবারের মতো পঞ্চম বিভাগের মাধ্যমে আসা ইউরোপীয় শিশুদের সাথে একত্রিত হওয়ার সুযোগ পাই।

আমার অভিভাবকগণ আমাকে নতুন এই পরিবেশের স্তরের সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার ব্যাপারে বেশ যত্নশীল ছিলেন। তাই আমার ছোট সহপাঠীদের সাথে সামঞ্জস্য বিধানের লক্ষ্যে আমাকে প্রথম একটি কালো কটি (صدارة) এবং প্রথম একটি স্কুলব্যাগ দেওয়া হয়েছিল।

আমার যতদূর মনে পড়ে, প্রথম পরীক্ষাটি ছিল ফরাসি শ্রুতিলিপি এবং ভাষার উপর কয়েকটি প্রশ্ন সম্বলিত; যা আমাকে সহপাঠীদের মাঝে শীর্ষস্থানে পৌঁছে দিয়েছিল। এটি আমাকে সেই দিন তথাকথিত ‘শ্রেণি খাতা’র (دفتر الصف) প্রথম পৃষ্ঠায় অনুশীলনীগুলো লেখার অধিকার প্রদান করেছিল, যা মেধা তালিকা অনুযায়ী শিক্ষক বা শিক্ষিকা প্রতিদিন সকালে শিক্ষার্থীর হাতে অর্পণ করতেন।

তবে যা আমার স্মৃতিতে অক্ষয় হয়ে আছে, তা হলো (মাদাম বেল)-এর প্রতি সেই তীব্র অনুরাগ যা আমাকে প্রবলভাবে আকর্ষণ করেছিল। একদিন সকালে আমি আমার নতুন শিক্ষিকার প্রতি এক প্রগাঢ় ভালোবাসা অনুভব করে জেগে উঠলাম, যেন তিনি আমার আপন জননী। ফ্রয়েডের মনস্তাত্ত্বিক তত্ত্বের আলোকে এই ঘটনার ব্যাখ্যা দেওয়া হয়তো সহজ হবে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই মহীয়সী নারী আমার সেই শিশুসুলভ হৃদয়ের আবেগের প্রতি সাড়া দিয়েছিলেন।

মোটের ওপর, আমার পড়াশোনার সূচনা অত্যন্ত চমৎকার ছিল এবং রাজপথে আমার আচরণে ধীরে ধীরে গাম্ভীর্য ও শৃঙ্খলার ছাপ ফুটে উঠতে শুরু করল। সম্ভবত সেই সময় থেকেই আমি বিশেষ করে ছুটির দিনগুলোতে মসজিদে যাতায়াত বাড়িয়ে দিয়েছিলাম। জুমার সালাতে অংশগ্রহণ করা আমার কাছে বিশেষভাবে আনন্দদায়ক ছিল; কারণ কেবল এই উপলক্ষেই আমাকে আমার কারুকার্যখচিত সাদা কামিজ এবং ছোট বার্নুস (برنص) পরিধান করার অনুমতি দেওয়া হতো। এই সুন্দর পোশাকগুলো আমি উপহার হিসেবে পেয়েছিলাম...
(খণ্ড: ১) মুজাক্কিরাতু শাহিদিন লিল কারন (পৃষ্ঠা: ২৬)
امرأة عمي بهيجة، تلك المرأة التي كفلتني في طفولتي في قسنطينة وما برحت تزورنا من آنٍ لآخر في تِبِسَّة، مما كان يبعث دوماً في نفسي الشوق والحنين للأرض التي ولدت فيها.

وقد بات الآن في وسعي أن أتتبع أحاديث أفراد العائلة، وبن خلال ذلك عرفت عن طريق امرأة عمي بهيجة في إحدى زياراتها أن جدي لأبي قد عاد إلى قسنطينة من طرابلس الغرب بعد أن احتلها الإيطاليون.

فقد مرَّ زمن طويل كنت خلاله ألهو وأدرس على عادتي في تبسة قبل أن تتاح لي فرصة السفر لرؤية قسنطينة، والتعرف إلى جدي الذي لم يسبق لي أن رأيت وجهه من قبل.

في السهول المحيطة بالمدينة كانت العائلات القديمة لا تزال تعيش من عمل زراعي تمارسه فيؤمن الغذاء لها ولمواشيها. وكثيراً ما كان يشاهد القائد الصدّيق جالساً أمام داره بُعَيْد الظهر في شارع (بريزون Prison )، وكان يجلس معه بعض أصدقائه القدامى يشربون القهوة ويلعبون (الدامة). لم يعد يمارس عملاً، اللهم إلا أن يعير برنصه الأحمر القديم إلى الشبان ليلة زفافهم، وأن تقدم زوجه لعائلاتهم القِدر الكبير الذي يستعمل عادة لطبخ الكسكسي في المناسبات الكبيرة.

فمنذ أن اجتاحت الحرائق الكبيرة في عام 1912 غابات المنطقة ودمّرتها، بدأت الأوضاع الاقتصادية لهذه العائلات تسوء تدريجياً، حتى أصبحت صعبة للغاية، وبدأ التحلل الاجتماعي الذي عمّ المنطقة ينتشر حتى عبر أسوار المدينة الرومانية القديمة.

لقد بدت مدينة تبسة في ذلك الوقت تعيش حياتها المعتادة داخل أسوارها، والحدث الفريد فيها هو الانتخابات، إذ كانت المدينة تتحسس الأحداث السياسية وكانت تتنازعها زعامتان: (عباس بن حمانة) وهو مستقل، و (بن علاوة) وهو هن أنصار الإدارة.
আমার চাচী বাহিজা, সেই মহীয়সী নারী যিনি কন্সটানটাইনে আমার শৈশবে আমার লালন-পালন করেছিলেন এবং তেবিসায় সময়ে সময়ে আমাদের দেখতে আসতেন; যা আমার অন্তরে সর্বদা আমার জন্মভূমির প্রতি গভীর অনুরাগ ও আকুলতা জাগ্রত করত।

এখন আমার পক্ষে পরিবারের সদস্যদের ঘটনাবলি (হাদিস) অনুসরণ করা সম্ভব হয়েছে এবং এর মাধ্যমেই আমি আমার চাচী বাহিজার অন্যতম এক সফরের সময় জানতে পারি যে, ইতালীয়রা লিবিয়ার ত্রিপোলি দখল করার পর আমার দাদা সেখান থেকে কন্সটানটাইনে ফিরে এসেছিলেন।

দীর্ঘকাল অতিবাহিত হয়েছিল যখন আমি তেবিসায় আমার স্বভাবসুলভ ক্রীড়া ও পড়াশোনায় মগ্ন ছিলাম। অবশেষে কন্সটানটাইন ভ্রমণ করে আমার দাদাকে দেখার সুযোগ হলো, যাঁর অবয়ব আমি ইতিপূর্বে কখনো দেখিনি।

শহরের চতুষ্পার্শ্বস্থ সমতল ভূমিতে প্রাচীন পরিবারগুলো তখনও কৃষিকাজের ওপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করত, যা তাদের এবং তাদের গবাদি পশুর খাদ্যের সংস্থান করত। প্রায়শই জোহরের নামাজের কিছু পরে 'প্রিজন' (Prison) রোডে নেতা সিদ্দিককে তার গৃহের সম্মুখে উপবিষ্ট থাকতে দেখা যেত। তার সাথে তার কিছু পুরাতন বন্ধু বসে কফি পান করতেন এবং 'দামা' (এক প্রকার বোর্ড গেম) খেলতেন। তিনি তখন আর কোনো পেশায় নিয়োজিত ছিলেন না; তবে বিবাহের রজনীতে যুবকদের নিজের পুরাতন লাল আলখাল্লাটি ধার দিতেন এবং তার স্ত্রী বড় বড় অনুষ্ঠানে কুসকুস রান্নার জন্য ব্যবহৃত বৃহৎ পাত্রটি সংশ্লিষ্ট পরিবারকে প্রদান করতেন।

১৯১২ সালে যখন ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড এই অঞ্চলের বনভূমিকে গ্রাস ও ধ্বংস করে ফেলে, তখন থেকেই এই পরিবারগুলোর অর্থনৈতিক অবস্থার ক্রমঅবনতি শুরু হয় এবং তা চরম সংকটাপন্ন পর্যায়ে পৌঁছায়। এই অঞ্চলের সামাজিক অবক্ষয় তখন থেকে বিস্তৃত হয়ে প্রাচীন রোমান শহরের প্রাচীর অবধি ছড়িয়ে পড়েছিল।

সে সময় তেবিসা শহরটি তার প্রাচীরের অভ্যন্তরে প্রাত্যহিক জীবন যাপন করছিল। সেখানে একমাত্র উল্লেখযোগ্য ঘটনা ছিল নির্বাচন; শহরটি রাজনৈতিক পরিস্থিতির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছিল এবং দুটি নেতৃত্বের মধ্যে দ্বিধাবিভক্ত ছিল: স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্বাস বিন হামানা এবং প্রশাসনের সমর্থক বিন আলাওয়া।
(খণ্ড: ১) মুজাক্কিরাতু শাহিদিন লিল কারন (পৃষ্ঠা: ২৭)
وكما كان (بن رحال) من أوائل رجال الفكرة الوطنية غربي الجزائر، فقد كان معاصره (بن حمانة) مثله في شرقي البلاد وإن لم يكن ذا شهرة واسعة. لقد تعارف الرجلان وشكلا أول وفد جزائري سافر إلى باريس في تلك الفترة، وقدم للحكومة الفرنسية بعض مطالب أبناء البلاد وقد خلف (عبابس بن حمانة) وراءه في باريس أثراً طريفاً؛ بالطبع لم يمنحه الفرنسيون الحقوق التي جاء يطلبها لبلاده، إلا أنهم على كل حال منحوه وسام الاستحقاق الزراعي؛ وحين سأله فيما بعد أحد الأوربيين في الجزائر مازحاً: ((ماذا زرعت حتى تنال هذا الوسام؟)) فأجاب: ((لقد زرعت نفوذاً في باريس)).

على أن اسم هذا الرجل قد ارتبط في تلك الفترة بقضية اغتيال سياسي هزّ كيان الإدارة الفرنسية في الجزائر وكان له وقع كبير، حتى إن أحد الكتاب الأوربيين، وضع كتاباً حول الحادث أسماه (قضية تبسة).

على أن (بن حمانة) لابد أن يُذكَر على أنه أول جزائري عمل على بعث اللغة العربية في البلاد، وبفضله ارتفعت ضمن أسوار تبسة جدران أول مدرسة.

هكذا انتعشت الحياة في المدينة فجأة وسادها جو من الصراع السياسي، إذ كانت الأيام التي تسبق الانتخابات البلدية حافلة بالنشاط، أما الأمسيات التي عقبت ظهور النتائج الانتخابية فكانت أكثر حرارة بسبب المهرجانات التي ينظمها الحزب الفائز في شوارع المدينة. ولم تكن المواكب لتكتفي بالتجوال في الشوارع والأزقة، بل كانت تتوقف أمام منازل من ينتمون للحزب الخاسر للطرق على أبوابها بالعصي.

وفي إحدى الأمسيات توقف الموكب أمام دارنا، إذ كنا من أنصار (صالح بن حمانة) الذي أخفق في الانتخابات، فكان من الطبيعي أن يتلقى بابنا نصيبه من ضربات عصي الفائزين. وهنا أود أن أعترف بأن الخوف قد تملّكني في تلك اللحظة، إذ خشيت ألا يقفوا عند هذا الحد وأن يدخلوا دارنا
পশ্চিম আলজেরিয়ার জাতীয়তাবাদী চেতনার অগ্রপথিক ব্যক্তিবর্গের (رجال) মধ্যে (বিন রাহাল) যেমন অন্যতম ছিলেন, তেমনি দেশের পূর্বাঞ্চলেও তাঁর সমসাময়িক (বিন হাম্মানা) অনুরূপ এক ব্যক্তিত্ব ছিলেন, যদিও তিনি ততটা সুখ্যাতি অর্জন করতে পারেননি। এই দুই ব্যক্তি একে অপরের পরিচিত ছিলেন এবং তাঁরা সেই সময়ে প্যারিসে গমনকারী প্রথম আলজেরীয় প্রতিনিধি দল গঠন করেছিলেন, যাঁরা ফরাসি সরকারের নিকট দেশবাসীর কিছু দাবি-দাওয়া পেশ করেছিলেন। (আবাবাস বিন হাম্মানা) প্যারিসে একটি কৌতূহলোদ্দীপক নিদর্শন (أثر) রেখে এসেছিলেন; অবশ্য ফরাসিরা তাঁকে সেই অধিকারগুলো প্রদান করেনি যা তিনি তাঁর স্বদেশের জন্য দাবি করতে গিয়েছিলেন, তবে তারা তাঁকে অন্তত 'কৃষি সম্মাননা পদক' প্রদান করেছিল। পরবর্তীতে আলজেরিয়ায় অবস্থানরত এক ইউরোপীয় ব্যক্তি তাঁকে পরিহাসচ্ছলে জিজ্ঞাসা করেছিলেন: "আপনি কী চাষ করেছিলেন যে এই পদক পেলেন?" তিনি প্রতিউত্তরে বলেছিলেন: "আমি প্যারিসে প্রভাব-প্রতিপত্তি বপন করেছি।"

তদুপরি, সেই সময়ে এই ব্যক্তির নাম একটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনার সাথে জড়িয়ে পড়েছিল, যা আলজেরিয়ার ফরাসি প্রশাসনের ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছিল এবং এর ব্যাপক প্রভাব অনুভূত হয়েছিল; এমনকি জনৈক ইউরোপীয় লেখক এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি গ্রন্থ রচনা করেছিলেন যার শিরোনাম দিয়েছিলেন 'তেবেসা মামলা'।

তবে (বিন হাম্মানা)-কে অবশ্যই এই কারণে স্মরণ করতে হবে যে, তিনি ছিলেন প্রথম আলজেরীয় যিনি দেশে আরবি ভাষা পুনর্জীবিত করার লক্ষ্যে কাজ করেছিলেন এবং তাঁর অবদানেই তেবেসার প্রাচীরের অভ্যন্তরে প্রথম মাদরাসার ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল।

এভাবেই শহরটি হঠাৎ প্রাণচঞ্চল হয়ে ওঠে এবং সেখানে রাজনৈতিক সংঘাতের এক আবহ তৈরি হয়। বিশেষত পৌর নির্বাচনের পূর্ববর্তী দিনগুলো ছিল অত্যন্ত কর্মমুখর, আর নির্বাচনের ফলাফল পরবর্তী সন্ধ্যাগুলো ছিল আরও উত্তপ্ত; কারণ বিজয়ী দল শহরের রাজপথে নানা উৎসব-মিছিলের আয়োজন করত। এই মিছিলগুলো কেবল অলিগলিতে ঘুরে বেড়ানোতেই সীমাবদ্ধ থাকত না, বরং তারা পরাজিত দলের সমর্থকদের গৃহদ্বারে গিয়ে লাঠি দিয়ে সজোরে আঘাত করত।

তেমনি এক সন্ধ্যায় মিছিলটি আমাদের গৃহের সম্মুখে এসে থামল, যেহেতু আমরা নির্বাচনে পরাজিত (সালেহ বিন হাম্মানা)-র সমর্থক ছিলাম, তাই আমাদের দরজায় বিজয়ীদের লাঠির আঘাত পড়াটাই ছিল স্বাভাবিক। আমি এখানে স্বীকার করছি যে, সেই মুহূর্তে আমি ভীষণ ভীত হয়ে পড়েছিলাম, কারণ আমার আশঙ্কা ছিল তারা হয়তো কেবল এখানেই ক্ষান্ত হবে না বরং আমাদের গৃহের অভ্যন্তরে প্রবেশ করবে।
(খণ্ড: ১) মুজাক্কিরাতু শাহিদিন লিল কারন (পৃষ্ঠা: ২৮)
ويحطموا كل شيء فيه، ويحطموني أنا أيضاً بضربات عصيهم قطعاً صغيرة. ولما كان والدي خارج الدار في تلك اللحظة فقد اختبأت مذعوراً وراء أمي، التي كانت تتفرج على ما يجري في الخارج من فتحات النافذة.

كان لتبسة وجه آخر هو الوجه الشعبي، ففي (أيام السوق) كان يلذ لي أن أذهب هناك- إذا صادف يوم عطلة في مدرستي- وأستمع إلى الحكواتي، يقص بطولات سيدنا علي في الساحة قرب باب الجديد، وكان يطربني أكثر فأكثر أن أتحلق حول الحاوي وهو يرقص ثعابينه، أو أقف حول أولاد (بن عيسى) أتفرج على ألعابهم البهلوانية التي كان يزيد في بهائها حركات المهرج الذي كان يرافقهم، والذي كانوا يطلقون عليه اسم (المُسيّح).

في المساء كان الناس يتجمعون في المقاهي الجزائرية يستمعون إلى القصاصين يروون حكايات ألف ليلة وليلة أو سيرة بني هلال. أما من كانوا يفضلون البقاء في المسجد بعد صلاة العشاء فكانوا يستمعون إلى ما يلقي الإمام من دروس. وبذا كانت تبسة عبارة عن مركز ثقافي تلتقي فيه عناصر الماضي بطلائع المستقبل، وبالطبع فإن مداركي كانت تنمو متأثرة بهذين التيارين.

هكذا كانت الحياة في تبسة في تلك الحقبة من التاريخ التي أسماها الفرنسيون فيها بعد (العصر الجميل).

وذات صباح شاع في تبسة خبر اغتيال (عباس بن حمانة). وبعد أيام قلائل شاهدت المدينة آخر عيد للحرية 14 تموز (يوليو) يقيمه الفرنسيون قبل انتهاء الفترة الجميلة. لقد وضع الفرنسيون على كل جانب من بوابة الثكنة العسكرية مدفع ميدان مخصَّصاً لتلك المناسبة، وقد بدا لي أن لهذا علاقة بمقتل (بن حمانة)، بل أكثر من ذلك حين اندلعت نيران الحرب العالمية الأولى بعد ذلك بعدة أيام خُيل إلي أن ذلك ما وقع إلا بسبب حادث الاغتيال.
এবং তারা সেখানে থাকা সবকিছু চূর্ণ-বিচূর্ণ করে ফেলত, আর তাদের লাঠির আঘাতে আমাকেও টুকরো টুকরো করে ফেলত। সেই মুহূর্তে আমার পিতা গৃহের বাইরে থাকায় আমি আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে আমার মায়ের পেছনে লুকিয়ে পড়লাম, যিনি জানালার ছিদ্র দিয়ে বাইরে কী ঘটছিল তা দেখছিলেন।

তেবেসার (Tebessa) আরেকটি দিক ছিল, যা ছিল এর লোকজ রূপ। 'হাটের দিনে' সেখানে যেতে আমার খুব ভালো লাগত—যদি তা আমার বিদ্যালয়ের ছুটির দিনে হতো—এবং আমি সেখানে 'বাব আল-জাদিদ'-এর নিকটবর্তী চত্বরে আমাদের নেতা আলী (রা.)-এর বীরত্বগাথা বর্ণনাকারী গল্পকারের কাহিনী শুনতাম। সাপুড়ে যখন তার সাপগুলোকে নাচাত, তখন তার চারপাশে ভিড় করতে আমার আরও বেশি আনন্দ হতো; অথবা আমি 'ইবনে ঈসা'র ছেলেদের চারপাশে দাঁড়িয়ে তাদের শারীরিক কসরত দেখতাম, যা তাদের সাথে থাকা ভাঁড়টির অঙ্গভঙ্গিতে আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠত, যাকে তারা 'আল-মুসাইয়্যাহ' নামে ডাকত।

সন্ধ্যায় আলজেরীয় কফিখানাগুলোতে মানুষ একত্রিত হতো কাহিনীরূপকারদের কাছ থেকে 'এক হাজার এক রজনী' অথবা 'বনু হিলালের সীরাত' শোনার জন্য। আর যারা এশার নামাজের পর মসজিদে অবস্থান করা পছন্দ করতেন, তারা ইমামের দেওয়া দরস বা পাঠগুলো শুনতেন। এভাবেই তেবেসা ছিল একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র যেখানে অতীতের উপাদানগুলো ভবিষ্যতের অগ্রদূতদের সাথে মিলিত হতো। স্বাভাবিকভাবেই, এই দুই ধারার প্রভাবে আমার বোধশক্তি বিকশিত হচ্ছিল।

ইতিহাসের সেই কালখণ্ডে তেবেসার জীবন এমনই ছিল, যাকে ফরাসীরা পরবর্তীকালে 'সুন্দর যুগ' বলে অভিহিত করেছিল।

এক সকালে তেবেসায় 'আব্বাস বিন হাম্মানা'র হত্যাকাণ্ডের সংবাদ ছড়িয়ে পড়ল। এর কয়েক দিন পর শহরটি ফরাসীদের দ্বারা উদযাপিত 'সুন্দর যুগ' সমাপ্ত হওয়ার পূর্বের সর্বশেষ স্বাধীনতা দিবস (১৪ জুলাই) প্রত্যক্ষ করল। ফরাসীরা সেই উপলক্ষ্যে সামরিক ব্যারাকের প্রবেশদ্বারের উভয় পাশে একটি করে ফিল্ড গান বা যুদ্ধের কামান স্থাপন করেছিল। আমার কাছে মনে হয়েছিল যে এর সাথে 'বিন হাম্মানা'র হত্যাকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র রয়েছে; এমনকি কয়েক দিন পর যখন প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আগুন জ্বলে উঠল, তখন আমার মনে হয়েছিল যে সম্ভবত সেই হত্যাকাণ্ডের কারণেই এই যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) মুজাক্কিরাতু শাহিদিন লিল কারন (পৃষ্ঠা: ২৯)
حين اندلعت نيران الحرب العالمية الأولى التي غيرت فيما بعد وجه العالم، لم يكن لذلك الحدث وقع كبير في نفسي، فالرابع عشر من آب (أغسطسى) عام 1914 لم يكن بالنسبة لي غير يوم كباقي أيام السنة؛ وحين سمعت جدتي تستعيد ذكريات حرب عام 1870 أو (عيطة البروس) كما كانت تسميها، خُيِّل إلي أن ما حدث في ذلك اليوم كان فقط بسبب مقتل (بن حمانة). وعلى كلٍ فإني أعتقد أن جميع الشعوب كانت في ذلك الوقت طفلة مثلي، فلم تستطع أن تقدر ماهية الحدث وأبعاده. ذلك أنها لم تكن تستطيع ذلك.

من المؤكد أن مظاهر الاندفاع الوطني كانت كثيرة وشاملة. إنني لا أدري ماذا فعل سكان برلين وكذلك سكان لندن لدى سماعهم نبأ الحرب، غير أن ما أعرفه هو أن أهالي باريس قد اندفعوا يحطمون واجهات المحلات التي افترضوا أنها تخص الرعايا الألمان، كما خرّبوا منشآت كثيرة منها مستودعات ( Maggi).

وساروا في تظاهرات ضخمة مخترقين شوارع باريس نحو (محطة الشرق La gare de L’Est) وهم ينشدون المرسلياز لوداع قوافل الشباب المسافرة إلى الجبهة. أما في تبسة فذلك اليوم كان عادياً كغيره: الأطفال يتلهون بتسلق الأسوار والأمهات يغزلن الصوف أو يطبخن الكسكسي، والحكواتي يسرد كعادته أخبار سيدنا علي أو يقصّ شيئاً من سيرة (أبي زيد الهلالي) في ساحة السوق؛ أما في المساء فكان الناس في الحي الأوربي من المدينة يمكنهم أن يشهدوا فيلماً تعرضه سينما متجولة تمر بالمدينة مرة في الأسبوع، فتعرض على رصيف أحد المقاهي أفلام (ماكس لينتر Max Linter)؛ أما في الجانب الغربي من المدينة فكان الناس يستمعون إلى فصل من قصص ألف ليلة وليلة، يُقرأ في أحد المقاهي الجزائرية. لكن البلاد
যখন প্রথম বিশ্বযুদ্ধের অগ্নিশিখা প্রজ্বলিত হলো, যা পরবর্তীতে বিশ্বব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন সাধন করেছিল, সেই ঘটনার কোনো প্রবল প্রভাব আমার মনে পরিলক্ষিত হয়নি। ১৯১৪ সালের ১৪ই আগস্ট আমার নিকট বছরের অন্যান্য সাধারণ দিনগুলোর ন্যায় একটি দিন বৈ আর কিছুই ছিল না। যখন আমি আমার দাদিমাকে ১৮৭০ সালের যুদ্ধের স্মৃতি রোমন্থন করতে শুনতাম—যাকে তিনি ‘আইতা আল-বরুস’ বলে অভিহিত করতেন—তখন আমার ধারণা হতো যে, সেদিনের সেই ঘটনা কেবল ‘বিন হাম্মানা’-এর হত্যার ফলেই সংঘটিত হয়েছিল। যা-ই হোক, আমার বিশ্বাস এই যে, তৎকালীন সময়ে সকল জাতিই আমার ন্যায় অপরিণত ছিল; ফলে তারা সেই ঘটনার স্বরূপ ও তার ব্যাপকতা উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়নি। বস্তুত তারা তা করতে সমর্থ ছিল না।

নিশ্চয়ই জাতীয়তাবোধের স্বতঃস্ফূর্ত বহিঃপ্রকাশ ছিল ব্যাপক ও সর্বজনীন। যুদ্ধের সংবাদ শ্রবণে বার্লিন ও লন্ডনের অধিবাসীরা কী প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিল তা আমার জানা নেই; তবে আমি যা জানি তা হলো, প্যারিসের অধিবাসীরা উন্মত্ত হয়ে সেই সব দোকানের সম্মুখভাগ ভাঙচুর করছিল যেগুলোকে তারা জার্মান নাগরিকদের মালিকানাধীন বলে ধারণা করেছিল। এছাড়া তারা ‘ম্যাগি’ (Maggi) গুদামসহ বহু স্থাপনা বিনষ্ট করেছিল।

তারা বিশাল মিছিল সহকারে প্যারিসের রাজপথ দিয়ে ‘পূর্ব রেলওয়ে স্টেশন’ (La gare de L’Est)-এর অভিমুখে অগ্রসর হচ্ছিল এবং যুদ্ধক্ষেত্রে যাত্রারত তরুণ বাহিনীকে বিদায় জানাতে মার্সেইলেজ (Marseillaise) রণসঙ্গীত গাইছিল। তবে তেবেসা শহরে সেই দিনটি ছিল অন্য দশটি দিনের মতোই অতি সাধারণ: শিশুরা দেয়াল বেয়ে খেলা করছিল, মায়েরা পশম কাটছিলেন অথবা কুসকুসি রান্না করছিলেন, আর কিসসাগো (গল্পকার) বাজারের চত্বরে তাঁর প্রথা অনুযায়ী আমাদের নেতা আলীর সংবাদ (أخبار) পরিবেশন করছিলেন কিংবা ‘আবু যায়েদ আল-হিলালী’-এর জীবনী (سيرة) থেকে কোনো অংশ পাঠ করছিলেন। আর সন্ধ্যারাত হলে শহরের ইউরোপীয় অংশে মানুষজন সপ্তাহে একবার আসা ভ্রাম্যমাণ সিনেমা দেখার সুযোগ পেত, যেখানে কোনো এক কফি হাউজের ফুটপাতে ‘ম্যাক্স লিন্ডার’ (Max Linder)-এর চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হতো। অন্যদিকে শহরের পশ্চিম প্রান্তে মানুষজন কোনো এক আলজেরীয় কফি হাউজে বসে আলফ লায়লা ওয়া লায়লা (এক হাজার এক রজনী)-এর গল্পের কোনো একটি পাঠ শুনত। কিন্তু দেশটি...
(খণ্ড: ১) মুজাক্কিরাতু শাহিদিন লিল কারন (পৃষ্ঠা: ৩০)
أخذت رويداً رويداً تدرك حقيقة ما يجري، خاصة حين بدأت أولى فرق المتطوعين تغادر المدينة، فكانت أمهاتهم ترافقهم حتى المحطة وتودعهم بالبكاء والنحيب.

وبدأت المدينة تستشعر بصورة أوضح جو الحرب، حين بدأت السلطة تَحُدُّ من استهلاك بعض السلع كالسكر والبترول الخ .... وخاصة لما ظهرت في البلاد تلك القطع النقدية الورقية الصغيرة.

في تلك الفترة وفي تلك الظروف بدأت تظهر أسطورة (الحاج غليوم)، وبدأ الشعراء الشعبيون يمجدونه مستعينين لذلك بالأدب الشعبي القديم يبعثونه من سباته، وأحياناً كانوا يخلقون أدباً جديداً لهذه الغاية، وقد أعاد هؤلاء إلى الأذهان في منطقة تبسة أقوال (سيدي علي بن الحفصي) القديمة حول الحرب والبطولات.

وفي منطقة قسنطينة أضيف إلى التراث الشعبي عدة أسئلة جديدة تدور حول موضوع الحرب.

ذات يوم كان معلم عجوز في مدرسة قرآنية في تبسة يروي لتلاميذه أن (غليوم) قال: ((أخشى أن تنتهي الحرب قبل أن أتمكن من التعبير عن كل أفكاري وتحقيق كل ما عندي من اختراعات)).

هذه الأوهام عاشت لفترة ما في ضمائر الجماهير، أما بالنسبة لي شخصياً فإن حدثاً مهماً جاء يغير مجرى حياتي. في مساء أحد الأيام كنت عائداً من المدرسة إلى المنزل فوجدت أمي بانتظاري عند أعلى درج السلم متأبطة حقيبة وضعت فيها ملابسي. عانقتني بحنان ورافقتني نحو السلم وهي تقول: ((أسرع نحو عربة البريد لتجد والدك فترافقه إلى قسنطينة)). وقد اندفعت مسرعاً تحدوني رغبة ملحة
সে ধীরে ধীরে যা ঘটছে তার বাস্তবতা অনুধাবন করতে শুরু করল, বিশেষ করে যখন স্বেচ্ছাসেবকদের প্রথম দলগুলো শহর ত্যাগ করতে শুরু করল; তাদের মায়েরা স্টেশন পর্যন্ত তাদের সাথে যেতেন এবং অঝোর ধারায় কান্নাকাটি ও বিলাপের মাধ্যমে বিদায় জানাতেন।

শহরটি যুদ্ধের পরিবেশ আরও স্পষ্টভাবে অনুভব করতে শুরু করল যখন কর্তৃপক্ষ চিনি ও পেট্রোল জাতীয় কিছু পণ্যের ব্যবহার সীমিত করতে শুরু করল... বিশেষ করে যখন দেশে সেই ছোট ছোট কাগজের মুদ্রা প্রচলিত হলো।

সেই সময়ে এবং সেই পরিস্থিতিতে 'হাজ গিলিউম'-এর উপকথা (أسطورة) প্রকাশ পেতে শুরু করে। লোককবিরা প্রাচীন লোকসাহিত্যের সাহায্য নিয়ে তার গুণগান গাইতে শুরু করেন এবং সেই সাহিত্যকে তার দীর্ঘ নিস্পৃহতা থেকে পুনরুজ্জীবিত করেন। কখনও কখনও তারা এই উদ্দেশ্যে নতুন সাহিত্যও সৃষ্টি করতেন। তারা তেবেসা অঞ্চলে যুদ্ধ ও বীরত্ব নিয়ে 'সিদি আলি বিন হাফসি'-র প্রাচীন উক্তিগুলোকে মানুষের স্মৃতির পাতায় পুনরায় ফিরিয়ে আনেন।

আর কনস্টানটাইন অঞ্চলে লোকঐতিহ্য (تراث)-এর সাথে যুদ্ধ বিষয়ক বেশ কিছু নতুন জিজ্ঞাসা যুক্ত হয়েছিল।

একদিন তেবেসার একটি কুরআন মাদ্রাসার এক বৃদ্ধ শিক্ষক তার ছাত্রদের কাছে বর্ণনা (رواية) করছিলেন যে, গিলিউম বলেছেন: "আমি আশঙ্কা করছি যে, আমার সমস্ত চিন্তাধারা প্রকাশ করার এবং আমার উদ্ভাবনসমূহ বাস্তবায়ন করার পূর্বেই যুদ্ধ শেষ হয়ে যাবে।"

এই বিভ্রমগুলো কিছুকাল জনসাধারণের অন্তরে বিরাজমান ছিল। তবে ব্যক্তিগতভাবে আমার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা জীবনের গতিপথ পরিবর্তন করে দিল। একদিন সন্ধ্যায় আমি বিদ্যালয় থেকে ঘরে ফিরছিলাম, তখন দেখলাম মা সিঁড়ির উপরিভাগে আমার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছেন এবং তার বগলে একটি ব্যাগ ছিল যাতে তিনি আমার কাপড়চোপড় গুছিয়ে রেখেছিলেন। তিনি আমাকে অত্যন্ত মমতার সাথে আলিঙ্গন করলেন এবং সিঁড়ি বেয়ে নামার সময় আমাকে এগিয়ে দিতে দিতে বললেন: "শীঘ্রই ডাকগাড়ির দিকে যাও যাতে তোমার বাবার দেখা পাও এবং তার সাথে কনস্টানটাইন যেতে পার।" আমি এক তীব্র আকাঙ্ক্ষায় তাড়িত হয়ে দ্রুতবেগে অগ্রসর হলাম।
(খণ্ড: ১) মুজাক্কিরাতু শাহিদিন লিল কারন (পৃষ্ঠা: ৩১)
لرؤية امرأة عمي بهيجة، والتعرف إلى جدي لأبي الذي كنا نسميه (بابا الخضير)، كما كنت أرغب أيضاً التعرف إلى عمي محمود وإلى عم والدي محمد.

في الواقع منذ أمد بعيدى كنت أتمنى العودة إلى قسنطينة. ومن ثم فكلما مرت العربة تحت شبابيك مدرستي، وكلما تناهى إلى سمعي وقع سوط السائق يهوي على رؤوس خيوله ذات الصفين كنت أتنهد بأسى. لقد كان عجاج غبارها المنبعث وهي تتركه وراءها، في رواحها المتاخر على طريق قسنطينة، وغدوها عندما ألتقي بها وأنا عائد من المدرسة، يسلمني إلى أحلامي، وبصورة عامة لقد ولدت وفي نفسي ذلك المزاج الذي وصفه بدقة مؤلف كتاب (رجال الأسفار).

في ذلك المساء خامرتني نشوة الانتصار وأنا في ذلك المقعد الذي هو خلف سائق العربة. وعندما مرت العربة أمام مدرستي تحت نوافذ صفي، كان لدي شعور بالنصر والتحرر. كان النهار قد قارب نهايته حينما توقفت العربة في استراحتها الأولى في (يوكس)، فهناك بدلت جيادها وقد حصل هذا عدة مرات أثناء الليل في المحطات التالية. وفي الفجر وصلنا إلى عين البيضاء، وهناك كان علينا أن ننتظر قطار قسنطينة الذي سوف يسافر بعد الظهر. لقد قضينا الليل في غرفة حمام مغربي. والقليل من الأهالي كانوا يحجزون غرفة في فندق لأنهم غالباً ما كانوا يطردون. وحملنا القطار من عين البيضاء على خط ضيق في الدرجة الثالثة منه، وكم كان مثيراً في نفسي أن جاوزنا (الخروب) فتراءى لي بريق ينسلّ من الأفق الدامس من الليل؛ لقد لاحت قسنطينة بأضوائها الكهربائية.

خرجنا أنا وأبي سيراً عل أقدامنا من المحطة. وحين وقعت عيني على جسر القنطرة بأنواره الكهربائية بدا لي لأول وهلة كأنه من عمل الجان والعفاريت. ولكن نظرة مني في قنطرة الجسر تاهت في أعماق (وادي الرمل) الداكنة.
আমার চাচার স্ত্রী বাহিজাকে দেখা এবং আমার পিতামহ—যাকে আমরা (বাবা আল-খুদাইর) বলে সম্বোধন করতাম—তাঁর সাথে পরিচিত হওয়া, সেই সাথে আমার চাচা মাহমুদ এবং আমার পিতার চাচা মুহাম্মদের সাথে পরিচিত হওয়ার প্রবল আকাঙ্ক্ষা আমার ছিল।

প্রকৃতপক্ষে, সুদীর্ঘ কাল যাবৎ আমি কনস্টান্টিনে প্রত্যাবর্তন করার তামান্না পোষণ করছিলাম। তাই যখনই ঘোড়ার গাড়িটি আমার বিদ্যালয়ের গবাক্ষের নিচ দিয়ে অতিক্রম করত এবং যখনই দুই সারিবদ্ধ অশ্বের মস্তকে চালকের চাবুকের আঘাতের শব্দ আমার কর্ণকুহরে প্রবেশ করত, আমি অত্যন্ত ব্যথিত চিত্তে দীর্ঘশ্বাস ফেলতাম। কনস্টান্টিনের পথে গাড়িটির বিলম্বিত প্রস্থানকালে এবং বিদ্যালয় থেকে ফেরার পথে সেটির সাথে আমার সাক্ষাতের সময় উড্ডীয়মান ধূলিকুণ্ডলী আমাকে স্বপ্নের জগতে নিমগ্ন করে দিত। সামগ্রিকভাবে, আমি এমন এক স্বভাবজাত মেজাজ নিয়ে জন্মগ্রহণ করেছিলাম যা (রিজাল আল-আসফার) গ্রন্থের লেখক অত্যন্ত নিপুণভাবে বর্ণনা করেছেন।

সেই সন্ধ্যায়, ঘোড়ার গাড়ির চালকের ঠিক পেছনের আসনে আসীন হয়ে আমি এক অভাবনীয় বিজয়ের আনন্দ অনুভব করছিলাম। যখন গাড়িটি আমার বিদ্যালয়ের সম্মুখ দিয়ে এবং আমার শ্রেণিকক্ষের বাতায়নের নিচ দিয়ে অতিক্রম করছিল, তখন আমার হৃদয়ে এক বিজয় ও মুক্তির অনুভূতি জাগ্রত হচ্ছিল। দিবস যখন প্রায় অন্তিম লগ্নে উপনীত, তখন গাড়িটি (ইউক্স)-এ তার প্রথম বিরতিস্থলে থামল। সেখানে ঘোড়াগুলো পরিবর্তন করা হলো এবং পরবর্তী স্টেশনগুলোতেও রাত্রিকালীন সময়ে কয়েকবার অনুরূপ করা হয়েছিল। উষালগ্নে আমরা 'আইন আল-বাইদা'-তে পৌঁছালাম এবং সেখানে আমাদের কনস্টান্টিনের ট্রেনের জন্য প্রতীক্ষা করতে হয়েছিল, যা অপরাহ্ণে ছাড়ার কথা ছিল। আমরা একটি মাগরেবি হাম্মামখানার কক্ষে রাত্রি যাপন করলাম। স্থানীয়দের মধ্যে অতি নগণ্য সংখ্যক ব্যক্তিই হোটেলে কক্ষ ভাড়া নিতেন, কারণ প্রায়শই তাঁদের সেখান থেকে বিতাড়িত করা হতো। 'আইন আল-বাইদা' থেকে একটি ন্যারো গেজ লাইনের তৃতীয় শ্রেণীর কামরায় চড়ে ট্রেন আমাদের নিয়ে চলল। আমার মনে কী এক রোমাঞ্চ অনুভূত হলো যখন আমরা (আল-খারুব) অতিক্রম করলাম এবং রজনীর নিবিড় অন্ধকার চিরে দিগন্তরেখায় এক আলোকচ্ছটা পরিলক্ষিত হলো; বৈদ্যুতিক আলোকমালায় কনস্টান্টিন তখন উদ্ভাসিত হয়ে উঠেছিল।

আমি ও আমার পিতা স্টেশন থেকে পদব্রজে নির্গত হলাম। যখন বৈদ্যুতিক আলোয় উদ্ভাসিত কানতারা সেতুর ওপর আমার দৃষ্টি নিপতিত হলো, প্রথম দর্শনে মনে হলো এটি যেন জিন ও অশরীরীদের কোনো কারসাজি। কিন্তু সেতুর খিলানে নিবদ্ধ আমার দৃষ্টি (ওয়াদি আল-রামাল)-এর অন্ধকার গহ্বরে বিলীন হয়ে গেল।
(খণ্ড: ১) মুজাক্কিরাতু শাহিদিন লিল কারন (পৃষ্ঠা: ৩২)
لم أكن أعرف كيف أسير لكن دقائق (الشارع الوطني National) الذي مشينا فيه أثارت انتباهي، وكذلك خيول العربات القادمة من المحطة تحمل المسافرين تضرب إيقاعاً بحوافرها على البلاط الصلب للطريق، لقد أسلمتني هذه الضجة في الواقع إلى صورة تختلف عن أختها في تبسة. ففي تبسة الحوافر صامتة لأنها تغرق في الغبار الذي يغطي شوارع المدينة الصغيرة.

ونظرت يميني فبدت لي السلم التي تصعد باتجاه الحي العربي، وكم تمنيت في تلك اللحظة لو أني صعدته ونزلته. ومما لفت نظري ارتفاع الأبنية في هذه المدينة، بينما تقصر عنها أبنية تبسة حتى في الشارع الرئيسي. وكذلك الإضاءة بالكهرباء لم يسبق لي أن شاهدتها.

وباختصار فإنني أتصور أن فلاحاً صغيراً يأتي من الريف إلى باريس في الليل، لم يكن ليختلف انطباعه عما استولى على نفسي في تلك الساعة.

وفجأة رأيت والدي يدخل مقهى عربياً يستعد صاحبه لإغلاقه. لقد كان يشعل نار الوجاق من أجل الصباح التالي. إن رقة الحاشية و (الشاش الأغباني) الذي كان يحيط بوجهه قد أشاعا في نفسي اطمئناناً واستلطافاً، لذلك الرجل العجوز الذي خف لاستقبالنا. لقد كان يدعى سي (بن يمينه)، وبينما كان يتبادل وأبي التحية كنت ألقي نظرة حول الحصر التي تغطي الأرض، وذلك الوجاق الذي صُفَّت حوله بذوق وأناقة فناجين القهوة وأباريقها ذات الأيدي الطويلة.

لقد أودعني والدي ذلك الشيخ ليقودني إلى منزل امرأة عمي بهيجة ثم انصرف. وهكذا أكمل الشيخ إعداد مقهاه للصباح، وأغلق الأبواب ثم سار بي عبر مجاهل شوارع قسنطينة العربية حتى وصلنا. وقبل أن نعبر إلى تلك الدار التي أثارتني باتساع أرجائها ونظافة جدرانها المطلية بالكلس الأبيض كباقي بيوت
আমি জানতাম না কীভাবে পথ চলতে হবে, তবে আমরা যে (ন্যাশনাল স্ট্রিট National) দিয়ে হাঁটছিলাম তার খুঁটিনাটি বিষয়গুলো আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করছিল। একইভাবে স্টেশন থেকে আসা যাত্রীবাহী ঘোড়ার গাড়িগুলোর খুরের শব্দ রাস্তার শক্ত ইটের ওপর আছড়ে পড়ে এক ছন্দময় ধ্বনি তৈরি করছিল। প্রকৃতপক্ষে এই কোলাহল আমাকে এমন এক চিত্রের সম্মুখীন করেছিল যা তেবাসা শহরের অভিজ্ঞতার চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন। তেবাসায় ঘোড়ার খুরের শব্দ নিভৃত থাকত, কারণ ক্ষুদ্র সেই শহরের রাস্তাগুলো ধুলোবালিতে আচ্ছাদিত থাকত।

আমি আমার ডান দিকে তাকালাম এবং আরব পাড়ার দিকে উঠে যাওয়া সিঁড়িগুলো আমার দৃষ্টিগোচর হলো; সেই মুহূর্তে আমার মনে প্রবল আকাঙ্ক্ষা জেগেছিল যদি আমি সেই সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করতে পারতাম। এই শহরের সুউচ্চ ভবনগুলোও আমার দৃষ্টি কেড়েছিল, যেখানে তেবাসার প্রধান সড়কের ভবনগুলোও এর তুলনায় অনেক নিচু। তদুপরি, বৈদ্যুতিক আলো আমি এর আগে কখনো দেখিনি।

সংক্ষেপে বলতে গেলে, আমার মনে হচ্ছিল গ্রাম থেকে রাতে প্যারিসে আগত কোনো সাধারণ কৃষকের মনে যে প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়, সেই মুহূর্তে আমার অনুভূতির অবস্থাও তার চেয়ে ভিন্ন ছিল না।

হঠাৎ আমি দেখলাম আমার বাবা একটি আরবীয় ক্যাফেতে প্রবেশ করছেন যার মালিক সেটি বন্ধ করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তিনি পরদিন সকালের জন্য চুল্লিতে আগুন জ্বালাচ্ছিলেন। সেই বৃদ্ধ লোকটির স্বভাবের বিনয় এবং তার চেহারার চারপাশে জড়ানো আঘবানি পাগড়ি আমার অন্তরে এক প্রকার প্রশান্তি ও অনুরাগের সঞ্চার করেছিল, যিনি আমাদের অভ্যর্থনা জানাতে দ্রুত এগিয়ে এসেছিলেন। তাকে 'সি বিন ইয়ামিনা' নামে ডাকা হতো। যখন তিনি এবং আমার বাবা অভিবাদন বিনিময় করছিলেন, তখন আমি মেঝেতে বিছানো পাটিগুলোর দিকে এবং সেই চুল্লির দিকে দৃষ্টিপাত করছিলাম, যার চারপাশে কফির পেয়ালা এবং দীর্ঘ হাতলবিশিষ্ট পাত্রগুলো অত্যন্ত রুচিশীল ও মার্জিতভাবে সাজানো ছিল।

আমার বাবা আমাকে সেই বৃদ্ধের জিম্মায় অর্পণ করলেন যেন তিনি আমাকে আমার চাচি বাহিজার বাড়িতে পৌঁছে দেন, অতঃপর তিনি বিদায় নিলেন। এভাবেই বৃদ্ধ লোকটি সকালের জন্য তার ক্যাফে প্রস্তুত করার কাজ শেষ করলেন এবং দরজা বন্ধ করে কনস্টানটাইনের আরব মহলার অলিগলি দিয়ে আমাকে নিয়ে পথ চললেন যতক্ষণ না আমরা গন্তব্যে পৌঁছলাম। আমরা সেই বাড়িতে প্রবেশের পূর্বে—যা এর প্রশস্ততা এবং শহরের অন্য সব বাড়ির ন্যায় সাদা চুনকাম করা দেয়ালের পরিচ্ছন্নতার কারণে আমাকে মুগ্ধ করেছিল—