(খণ্ড: ১)
হাল বাশশারাল কিতাবুল মুক্বদ্দাসু বি-মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: -)
هل بشر الكتاب المقدس بمحمد صلى الله عليه وسلم القسم: الفرق والردود
الكتاب: هل بشر الكتاب المقدس بمحمد صلى الله عليه وسلم؟
المؤلف: منقذ بن محمود السقار
الناشر: دار الإسلام للنشر والتوزيع
الطبعة: الأولى، 1428 هـ - 2007 م
عدد الصفحات: 146
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 26 صفر 1433
পবিত্র বাইবেল কি মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সম্পর্কে সুসংবাদ প্রদান করেছে? বিভাগ: সম্প্রদায় ও খণ্ডনসমূহ
গ্রন্থ: পবিত্র বাইবেল কি মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সম্পর্কে সুসংবাদ প্রদান করেছে?
লেখক: মুনকিয বিন মাহমুদ আস-সাক্কার
প্রকাশক: দারুল ইসলাম প্রকাশনা ও বিতরণ
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৮ হিজরি - ২০০৭ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৪৬
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২৬ সফর ১৪৩৩
(খণ্ড: ১)
হাল বাশশারাল কিতাবুল মুক্বদ্দাসু বি-মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১)
سلسلة الهدى والنور (5)
هل
بشَّر الكتاب المقدس
بمحمّد
صلى الله عليه وسلم؟
د. منقذ بن محمود السقار
হিদায়াত ও নূর সিরিজ (৫)
পবিত্র বাইবেল কি
সুসংবাদ প্রদান করেছে
মুহাম্মদ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে?
ড. মুনকিয বিন মাহমুদ আস-সাক্কার
(খণ্ড: ১)
হাল বাশশারাল কিতাবুল মুক্বদ্দাসু বি-মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৫)
مقدمةالحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على رسل الله أجمعين، عليهم وعلى نبينا أفضل الصلاة وأزكى التسليم، وبعد:
لا ريب أن نبوة نبينا محمد صلى الله عليه وسلم أحد أهم مسألتين يحملهما المسلم إلى العالمين.
فالمسلمون يرون في إثبات نبوته صلى الله عليه وسلم تمام الأصل الأول من أصول دينهم، لذا كان لزاماً عليهم أن يدفعوا بحجتهم وبرهانهم في إثبات نبوته عليه الصلاة والسلام.
والحق أن طرق إثبات نبوته صلى الله عليه وسلم كثيرة ومتنوعة، ومن أهم هذه الطرق: البشارات التي صدرت عن الأنبياء السابقين، وهي تبشر بمقدم نبي خاتم يؤسس دين الله الذي ارتضاه إلى قيام الساعة ديناً.
وتأتي أهمية هذا الطريق - الذي حرص المسلمون على الاهتمام به - في كونه يقيم الحجة على أهل الكتاب بما يعتقدونه من الكتب التي أشارت إلى مبعث هذا النبي قبل قرون متفاوتة في البعد.
وأهل الكتاب من يهود ونصارى مقرون بوجود هذه البشارات، ومقرون بدلالتها على النبي الخاتم أو النبي العظيم القادم، لكنهم يصرون على أنه رجل من بني إسرائيل، يزعم النصارى أنه عيسى ابن مريم عليه السلام، بينما ما زال اليهود ينتظرونه، ونهدف هنا إلى إثبات أن هذا النبي المنتظر هو محمد صلى الله عليه وسلم، وليس غيره من الأنبياء الكرام.
ভূমিকাসমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর প্রেরিত সকল রাসূলের ওপর; তাঁদের ওপর এবং আমাদের নবীর ওপর বর্ষিত হোক সর্বোত্তম সালাত ও পবিত্রতম সালাম। অতঃপর:
নিঃসন্দেহে আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নবুওয়াত হলো সেই দুটি অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের একটি যা মুসলিমরা বিশ্ববাসীর কাছে বহন করে নিয়ে যায়।
মুসলিমরা তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নবুওয়াত প্রমাণের মধ্যেই তাদের দ্বীনের মূলনীতিসমূহের প্রথম মূলনীতির পূর্ণতা খুঁজে পায়; তাই তাঁর (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) নবুওয়াত প্রমাণের স্বপক্ষে নিজেদের দলিল ও প্রমাণাদি উপস্থাপন করা তাদের জন্য আবশ্যক হয়ে পড়েছে।
প্রকৃতপক্ষে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নবুওয়াত প্রমাণের পদ্ধতিসমূহ বহু ও বৈচিত্র্যময়। এই পদ্ধতিগুলোর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হলো পূর্ববর্তী নবীগণের পক্ষ থেকে দেওয়া সেই সকল সুসংবাদ, যা কিয়ামত পর্যন্ত আল্লাহর মনোনীত দ্বীন প্রতিষ্ঠাকারী একজন সর্বশেষ নবীর আগমনের বার্তা দেয়।
এই পদ্ধতির গুরুত্ব—যেটির প্রতি মুসলিমরা সবিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে—মূলত আহলে কিতাবদের নিকট তাদেরই বিশ্বাসযোগ্য কিতাবসমূহের মাধ্যমে দলিল উপস্থাপনের মধ্যে নিহিত, যেসব কিতাবে বহু শতাব্দী আগে থেকেই এই নবীর আবির্ভাবের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল।
ইহুদি ও খ্রিস্টান উভয় সম্প্রদায়ের আহলে কিতাবগণ এই সুসংবাদগুলোর অস্তিত্ব স্বীকার করে এবং তারা এই বিষয়েও একমত যে, এগুলো কোনো এক সর্বশেষ নবী বা আগত কোনো মহান নবীর আগমনের ইঙ্গিত বহন করে। তবে তারা এই দাবিতে অনড় যে, সেই ব্যক্তিটি হবেন বনী ইসরাঈলের একজন পুরুষ। খ্রিস্টানদের দাবি অনুযায়ী তিনি হলেন ঈসা ইবনে মারইয়াম আলাইহিস সালাম, অন্যদিকে ইহুদিরা আজও সেই নবীর অপেক্ষায় প্রহর গুনছে। আমাদের লক্ষ্য হলো এটি প্রমাণ করা যে, সেই প্রতীক্ষিত নবী হলেন মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং অন্য কোনো সম্মানিত নবী নন।
(খণ্ড: ১)
হাল বাশশারাল কিতাবুল মুক্বদ্দাসু বি-মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৬)
أما الكتب التي وردت بها هذه البشارات فقد سبق لنا التعريف بحالها، واستشهادنا بها ليس تزكية لها، إنما هو غوص وتنقيب عن القليل من أثارة النبوة في سطورها، هذا القليل نؤمن به ولا نكذبه، إذ هو مصدق لما بين أيدينا، وقد قال صلى الله عليه وسلم مثبتاً وجود حق في هذه الكتب: ((لا تسألوهم عن شيء، فيخبروكم بحق فتكذبوا به، أو بباطل فتصدقوا به ". (1)
فإذا جاء في هذه الكتب ما تشهد له آيات القرآن ونصوص السنة، فهذا شهادة بأن ذا قد سلم من التحريف أو سلم من كثير منه {ويقول الذين كفروا لست مرسلاً قل كفى بالله شهيداً بيني وبينكم ومن عنده علم الكتاب} (الرعد: 43).
وقد حوى الكتاب المقدس - رغم ما تعرض له من العبث والتحريف - الكثير من النبوءات المبشرة بالنبي الخاتم، والتي لم تتحقق، ونتساءل متى ستتحقق، وقد مرّ على مقدم المسيح عليه السلام زهاء ألفي سنة من غير أن تتحقق هذه النبوءات؟ إن دعوى عدم تحقق هذه النبوءات مع تطاول الأيام يزري بالكتاب المقدس عند قارئيه.
لذا فإننا نوجه دعوة صادقة للتمعن في نبوءات الكتاب وقراءتها قراءة جديدة في ضوء ظهور الإسلام ونبيه، ونحن على ثقة بأن ذلك سيفضي إلى كشف الحقيقة والإيمان بنبوة نبينا محمد صلى الله عليه وسلم.
ولا نقول ذلك رجماً بالغيب، بل هي الحقيقة التاريخية التي أعلن عنها كل من تبصر في أمر هذا النبي وأحواله، فقد شهد هرقل ملك الروم برسالته حين جاءه كتاب النبي فأرسل إلى روما يسأل عن خبر النبي الخاتم، فلما جاءه الرد قال لقومه: "يا معشر الروم: إني قد جمعتكم لخير، إنه قد أتاني كتاب من هذا الرجل يدعوني إلى دينه، وإنه
--------------------------------------------
যেসব গ্রন্থে এই সুসংবাদসমূহ বর্ণিত হয়েছে, সেগুলোর অবস্থা সম্পর্কে আমরা ইতিপূর্বেই আলোচনা করেছি। এগুলো থেকে আমাদের উদ্ধৃতি প্রদানের অর্থ এই নয় যে, আমরা এই গ্রন্থগুলোর বিশুদ্ধতা প্রত্যয়ন করছি; বরং এটি হলো তাদের ছত্রে ছত্রে বিদ্যমান নবুয়তের অবশিষ্টাংশের অনুসন্ধান ও নিরন্তর প্রচেষ্টা। আমরা এই সামান্য অংশের ওপর বিশ্বাস রাখি এবং একে মিথ্যা মনে করি না, কারণ এটি আমাদের নিকট বিদ্যমান সত্যের সত্যায়নকারী। আর এসকল গ্রন্থে সত্যের অস্তিত্বের বিষয়টি নিশ্চিত করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তোমরা আহলে কিতাবদের কাছে কোনো কিছু জিজ্ঞেস করো না। কেননা তারা হয়তো তোমাদের নিকট কোনো সত্য সংবাদ দেবে আর তোমরা তা অস্বীকার করবে, অথবা তারা কোনো মিথ্যা বলবে আর তোমরা তা সত্য বলে গ্রহণ করে নেবে।” (১)
সুতরাং এই গ্রন্থগুলোতে যদি এমন কিছু পাওয়া যায় যার সপক্ষে কুরআনের আয়াত ও সুন্নাহর ভাষ্যসমূহ সাক্ষ্য দেয়, তবে তা এই সাক্ষ্যই বহন করে যে, উক্ত অংশটুকু বিকৃতি থেকে রক্ষা পেয়েছে অথবা এর অধিকাংশ বিকৃতিমুক্ত রয়েছে। {আর যারা কুফরি করেছে তারা বলে, ‘তুমি আল্লাহর প্রেরিত নও’। বলো, ‘আমার ও তোমাদের মধ্যে সাক্ষী হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট এবং সেই ব্যক্তিও, যার কাছে কিতাবের জ্ঞান রয়েছে’} (আর-রাদ: ৪৩)।
পবিত্র বাইবেল—তাতে নানাবিধ হস্তক্ষেপ ও বিকৃতি সাধিত হওয়া সত্ত্বেও—সর্বশেষ নবী সম্পর্কে এমন অনেক ভবিষ্যদ্বাণী ধারণ করে আছে যা এখনও পূর্ণ হয়নি। আমাদের প্রশ্ন হলো, ঈসা আলাইহিস সালামের আগমনের পর প্রায় দুই হাজার বছর অতিক্রান্ত হয়ে গেলেও যদি এই ভবিষ্যদ্বাণীগুলো বাস্তবায়িত না হয়, তবে এগুলো আর কবে বাস্তবায়িত হবে? দীর্ঘকাল অতিবাহিত হওয়ার পরেও এই ভবিষ্যদ্বাণীগুলো পূর্ণ না হওয়ার দাবি করা মূলত এর পাঠকদের নিকট বাইবেলের মর্যাদা ও গ্রহণযোগ্যতাকেই ক্ষুণ্ণ করে।
তাই আমরা বাইবেলের ভবিষ্যদ্বাণীগুলো নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করার এবং ইসলাম ও ইসলামের নবীর আবির্ভাবের আলোকে সেগুলো নতুন করে পাঠ করার জন্য একটি আন্তরিক আহ্বান জানাচ্ছি। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, এটি সত্য উন্মোচন করবে এবং আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুয়তের ওপর ঈমান আনার পথ প্রশস্ত করবে।
আর আমরা অনুমানের ওপর ভিত্তি করে এ কথা বলছি না, বরং এটি এক ঐতিহাসিক সত্য যা এই নবীর বিষয় ও অবস্থা নিয়ে গভীরভাবে পর্যালোচনাকারী প্রত্যেকেই প্রকাশ করেছেন। রোম সম্রাট হিরাক্লিয়াস তাঁর রিসালতের সাক্ষ্য দিয়েছিলেন যখন তাঁর কাছে নবীর পত্র পৌঁছেছিল। তখন তিনি রোমে লোক পাঠিয়ে সর্বশেষ নবীর খবর জানতে চেয়েছিলেন। যখন তাঁর কাছে উত্তর এল, তখন তিনি তাঁর সম্প্রদায়কে উদ্দেশ্য করে বললেন: “হে রোমবাসী! আমি তোমাদের এক বিশেষ কল্যাণের জন্য একত্রিত করেছি। নিশ্চয়ই এই লোকটির পক্ষ থেকে আমার নিকট একটি পত্র এসেছে যেখানে তিনি আমাকে তাঁর দ্বীনের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছেন এবং নিশ্চয়ই তা...”
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাল বাশশারাল কিতাবুল মুক্বদ্দাসু বি-মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৭)
والله للنبي الذي كنا ننتظره، ونحن نجده في كتبنا، فهلموا نتبعه ونصدقه، فتسلم لنا دنيانا وآخرتنا".
وفي رواية البخاري أنه قال: " يا معشر الروم، هل لكم في الفلاح والرشد وأن يثبت ملككم فتبايعوا هذا النبي" فحاصوا حيصة حمر الوحش إلى الأبواب، فوجدوها قد غلقت، فلما رأى هرقل نفرتهم، وأيس من الإيمان. قال: "ردوهم علي"، وقال لهم: "إني قلت مقالتي آنفاً أختبر بها شدتكم على دينكم، فقد رأيتُ" فسجدوا له ورضوا عنه. (1)
ولئن كان هرقل قد نكل عن مقتضيات شهادته فلم يدخل في الإسلام - كحال الكثيرين ممن يعرفون الحق فيصمّون عن اتباعه - فإن النجاشي ملك الحبشة قد آمن بالنبي صلى الله عليه وسلم، وقال لأحبار مملكته: "يا معشر القسيسين والرهبان، ما يزيد ما يقول هؤلاء على ما تقولون في ابن مريم ما يزن هذه، مرحباً بكم وبمن جئتم من عنده، فأنا أشهد أنه رسول الله، والذي بشّر به عيسى ابن مريم، ولولا ما أنا فيه من الملك لأتيته حتى أحمل نعليه". (2)
وأكد سطوع البشارة به صلى الله عليه وسلم في كتب أهل الكتاب إسلام العشرات المعتبرين من أهل الكتاب كالحسن بن أيوب والترجمان وزيادة النصب الراسي والقس عبد الأحد داود، وإبراهيم خليل، وموريس بوكاي وغيرهم كثير .....
ولسوف نسمي النبي القادم المبشر به في كثير من المواضع في بحثنا بالنبي المنتظر، أو المسيح المنتظر متابعة للأستاذ الدكتور أحمد حجازي السقا صاحب السبق في معالجة
--------------------------------------------
"আল্লাহর কসম, ইনিই সেই নবী যাঁর জন্য আমরা অপেক্ষা করছিলাম এবং আমরা তাঁর বিবরণ আমাদের কিতাবসমূহে পাই। সুতরাং এসো আমরা তাঁর অনুসরণ করি ও তাঁকে বিশ্বাস করি, যাতে আমাদের দুনিয়া ও আখিরাত নিরাপদ হয়।"
বুখারীর এক বর্ণনায় এসেছে যে, তিনি বললেন: "হে রোমবাসী! তোমরা কি কল্যাণ, সঠিক পথপ্রদর্শন এবং তোমাদের রাজত্ব অটুট রাখা পছন্দ করো? তবে এই নবীর হাতে আনুগত্যের শপথ (বায়আত) গ্রহণ করো।" এতে তারা বন্য গাধার মতো দরজার দিকে ছুটে পালাল, কিন্তু দেখল সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যখন হিরাক্লিয়াস তাদের এই বিমুখতা দেখলেন এবং তাদের ঈমান আনার ব্যাপারে আশাহত হলেন, তখন তিনি বললেন: "ওদেরকে আমার কাছে ফিরিয়ে আনো।" এরপর তিনি তাদের বললেন: "আমি একটু আগে যে কথা বলেছিলাম, তা কেবল তোমাদের ধর্মের প্রতি তোমাদের অবিচলতা পরীক্ষা করার জন্য ছিল। এখন আমি তা প্রত্যক্ষ করলাম।" তখন তারা তাকে সিজদা করল এবং তার ওপর সন্তুষ্ট হলো। (১)
যদিও হিরাক্লিয়াস তাঁর সাক্ষ্যের দাবি পূরণ করতে পিছু হটেছিলেন এবং ইসলাম গ্রহণ করেননি—যেমনটা ঘটে থাকে অনেকের ক্ষেত্রে যারা সত্য জানার পরও তা অনুসরণে বিমুখ হয়—তবে আবিসিনিয়ার সম্রাট নাজ্জাশি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর ঈমান এনেছিলেন। তিনি তাঁর রাজ্যের ধর্মীয় পণ্ডিতদের উদ্দেশে বলেছিলেন: "হে পাদ্রি ও সন্ন্যাসী সমাজ! মরিয়ম-পুত্র ঈসা সম্পর্কে তোমরা যা বলো, এরা যা বলছে তা থেকে এই কাঠির পরিমাণও বেশি নয়। তোমাদের প্রতি এবং যাঁর পক্ষ থেকে তোমরা এসেছ তাঁর প্রতি সুস্বাগতম। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তিনি আল্লাহর রাসুল এবং যাঁর সুসংবাদ ঈসা ইবনে মারিয়াম দিয়েছিলেন। যদি আমি এই রাজকীয় দায়িত্বে না থাকতাম, তবে অবশ্যই তাঁর কাছে গিয়ে তাঁর জুতো মোবারক বহন করতাম।" (২)
আহলে কিতাবদের কিতাবসমূহে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আগমনের সুসংবাদের উজ্জ্বলতা প্রমাণিত হয়েছে আহলে কিতাবদের মধ্য থেকে বহু বরেণ্য ব্যক্তির ইসলাম গ্রহণের মাধ্যমে; যেমন—আল-হাসান বিন আইয়ুব, আত-তারজুমান, জিয়াদাতুন নাসব আর-রাসি, পাদ্রি আব্দুল আহাদ দাউদ, ইব্রাহিম খলিল, মরিস বুকাইলি এবং আরও অনেকে...
আমরা আমাদের গবেষণার অনেক স্থানে আগত সুসংবাদপ্রাপ্ত নবীকে 'প্রতীক্ষিত নবী' বা 'প্রতীক্ষিত মসীহ' হিসেবে অভিহিত করব। এ ক্ষেত্রে আমরা প্রফেসর ডক্টর আহমদ হিজাজি আস-সাক্কার অনুসরণ করছি, যিনি এই বিষয়টি পর্যালোচনায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাল বাশশারাল কিতাবুল মুক্বদ্দাসু বি-মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৮)
هذا الموضوع، وجرياً على المصطلح الذي درج اليهود على استعماله، للدلالة على هذا النبي الموعود.
واللهَ أسأل أن يشرح صدورنا لمعرفة هذا النبي، وأن يرزقنا الإيمان به، وأن يحشرنا يوم القيامة في لوائه، إنه ولي ذلك والقادر عليه.
… د. منقذ بن محمود السقار
مكة المكرمة - محرم - 1425هـ
… mongiz@maktoob.com
এই বিষয়টি এবং ইয়াহুদিদের মাঝে প্রচলিত পরিভাষা অনুযায়ী সেই প্রতিশ্রুত নবীকে নির্দেশ করা হয়েছে।
আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি এই নবীকে চেনার জন্য আমাদের বক্ষ উন্মোচন করে দেন, তাঁর প্রতি ঈমান আনয়নের তাওফিক দান করেন এবং কিয়ামতের দিন আমাদের তাঁর পতাকাতলে হাশর করেন; নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং সর্বশক্তিমান।
… ড. মুনকিজ বিন মাহমুদ আস-সাক্কার
মক্কা আল-মুকাররামা - মুহাররাম - ১৪২৫ হিজরি
… mongiz@maktoob.com
(খণ্ড: ১)
হাল বাশশারাল কিতাবুল মুক্বদ্দাসু বি-মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৯)
مدخل إلى نبوءات الكتاب المقدستطلق الأسفار المقدسة على النبي القادم أسماء شتى، فتسميه تارة الملك، وأخرى النبي، وتارة تلقبه بالمسِيّا وأخرى بالمسيح، بمعنى المخلص، فكل هذه الأسماء مترادفات تدل على النبي القادم، وهي في ذات الوقت أوصاف لهذا النبي العظيم.
لكن يبقى تسميته بالمسيح أشهرها لما لهذا اللقب من أهمية عند بني إسرائيل.
وقد يتمسك بعضهم بأحقية عيسى عليه السلام بهذا الاسم من غيره، حيث لقب به عليه الصلاة والسلام، فنقول: إن تسمية عيسى عليه السلام بالمسيح تسمية اصطلاحية ليست خاصة به، حيث كان اليهود يسمون أنبياءهم وملوكهم، بل وملوك غيرهم بهذا الاسم، لعادتهم في مسح ملوكهم وأنبيائهم بالزيت، ثم اعتادوا تسميتهم بالمسيح، ولو لم يمسحوا.
وقد سمي كورش ملك فارس مسيحاً " يقول الرب لمسيحه لكورش " (إشعيا 45/ 1).
وكذا داود كانا مسيحاً "والصانع رحمة لمسيحه لداود" (المزمور 18/ 50).
وشاول الملك سمي مسيحاً، إذ لما أراد أبيشاي قتل شاول وهو نائم نهاه داود " فقال داود لأبيشاي: لا تهلكه فمن الذي يمد يده إلى مسيح الرب ويتبرّأ" (صموئيل (1) 26/ 7 - 9).
وكذلك جاء في سفر المزامير "لا تمسوا مسحائي، ولا تسيئوا إلى أنبيائي" (المزمور 105/ 15). وانظر حديث سفر الملوك عن الكهنة المسحاء. (انظر الملوك (2) 1/ 10).
فهذا اللقب الشريف ليس خاصاً بالمسيح عيسى ابن مريم عليه صلوات الله وسلامه، بل هو لقب يستحقه النبي القادم لما يؤتيه الله من الملك والظفر والبركة التي
বাইবেলের ভবিষ্যদ্বাণীসমূহের ভূমিকাপবিত্র ধর্মগ্রন্থসমূহ আগত নবীকে বিভিন্ন নামে অভিহিত করেছে। কখনো তাঁকে 'রাজা', কখনো 'নবী', আবার কখনো 'মসীহ' বা 'খ্রিষ্ট' উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছে, যার অর্থ হলো 'ত্রাণকর্তা'। এই সবকটি নামই আগত নবীর সমার্থক এবং একই সাথে এই মহান নবীর বিশেষ গুণাবলি নির্দেশ করে।
তবে বনী ইসরায়েলের কাছে এই উপাধিটির বিশেষ গুরুত্ব থাকায় 'মসীহ' নামটিই সর্বাধিক প্রসিদ্ধি লাভ করেছে।
কেউ কেউ হয়তো ঈসা আলাইহিস সালামকে এই নামের জন্য অন্যের তুলনায় অধিক যোগ্য মনে করতে পারেন, যেহেতু তিনি এই উপাধিতেই ভূষিত হয়েছেন। এর উত্তরে আমরা বলব: ঈসা আলাইহিস সালামকে 'মসীহ' বলা একটি পারিভাষিক নামকরণ মাত্র, যা কেবল তাঁর জন্যই সুনির্দিষ্ট নয়। কেননা ইহুদিরা তাদের নবী ও রাজাদের, এমনকি অন্য জাতির রাজাদেরও এই নামে ডাকত। তাদের নিয়ম ছিল নিজেদের রাজা ও নবীদের পবিত্র তেল দিয়ে অভিষেক করা, পরবর্তীতে অভিষেক না করলেও তারা তাঁদের 'মসীহ' নামে ডাকার রীতি বজায় রাখত।
পারস্যের রাজা কোরশকেও (সাইরাস) মসীহ বলা হয়েছে: "সদাপ্রভু তাঁর অভিষিক্ত ব্যক্তি কোরশের উদ্দেশ্যে এই কথা বলেন" (যিশাইয় ৪৫: ১)।
অনুরূপভাবে দাউদও মসীহ ছিলেন: "এবং তিনি আপন অভিষিক্ত দাউদের প্রতি দয়া প্রদর্শন করেন" (সামসংহিতা ১৮: ৫০)।
রাজা শৌলকেও মসীহ বলা হয়েছে; যখন অবীাশয় ঘুমন্ত অবস্থায় শৌলকে হত্যা করতে চেয়েছিলেন, তখন দাউদ তাকে নিষেধ করে বলেন: "দাউদ অবীাশয়কে বললেন, 'তাঁকে বিনাশ করো না; কেননা সদাপ্রভুর অভিষিক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে হাত বাড়িয়ে কে নির্দোষ থাকতে পারে?'" (১ শমূয়েল ২৬: ৭-৯)।
তেমনিভাবে সামসংহিতায় এসেছে: "তোমরা আমার অভিষিক্তদের স্পর্শ করো না, এবং আমার নবীদের অপকার করো না" (সামসংহিতা ১০৫: ১৫)। অভিষিক্ত যাজকদের সম্পর্কে রাজাবলি গ্রন্থের বর্ণনা দেখুন। (দ্রষ্টব্য ২ রাজাবলি ১: ১০)।
সুতরাং এই সম্মানিত উপাধিটি কেবল মরিয়ম-তনয় মসীহ ঈসা আলাইহিস সালামের জন্য নির্দিষ্ট নয়, বরং এটি সেই আগত নবীর জন্যও একটি যোগ্য উপাধি, যা আল্লাহ প্রদত্ত রাজত্ব, বিজয় ও বরকতের কারণে তিনি লাভ করবেন...
(খণ্ড: ১)
হাল বাশশারাল কিতাবুল মুক্বদ্দাসু বি-মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১০)
فاقت بركة الممسوحين بالزيت من ملوك بني إسرائيل.
والمسيح لقب للنبي القادم الذي كانت تنتظره بنو إسرائيل، لذا تساءل اليهود لما رأوا يوحنا المعمدان إن كان هو المسيح القادم " فاعترف ولم ينكر، وأقر: إني لست المسيح. فسألوه إذاً ماذا؟ إيّليا أنت؟ " (يوحنا 1/ 21 - 22).
كما استخدم هذا الاسم جموعُ اليهود حين رأوا معجزات عيسى عليه السلام، فقالوا: " ألعل المسيح (أي القادم) متى جاء يعمل آيات أكثر من هذه التي عملها هذا! " (يوحنا 7/ 30 - 31).
كما يطلق على النبي القادم المسِيّا، وهو لقب مرادف للفظة المسيح، فقد جاء في بيان ذلك في إنجيل يوحنا " مسِيّا الذي تفسيره: المسيح " (يوحنا 1/ 41)، فالكلمة السريانية: "ماشيح "، تنطق في اللغات التي ليس فيها حرف الحاء: "المسيّا".
ولعل البعض يهتف مطالباً بالكشف عن النص الصريح الذي يبشر بمحمد صلى الله عليه وسلم، ويبين بجلاء اسمه وصفته التي لا ينازعه فيها أحد، وحُق له ذلك، لكن يحول دون تحقيقه أمران متعلقان بالكتاب المقدس وتراجمه، وهما لا يعزبان عن فهم المتضلعين في كتب القوم المقدسة، الذين يدركون السبب الذي أضاع أو أغمض كثيراً من البشارات الكتابية.
أولهما: أن لأهل الكتاب عادة في ترجمة الأسماء إلى معانيها، فيوردون في الترجمة المعنى دون الاسم، وقد يزيدون تفسيراً للعبارة، ويقحمونه في النص.
ولكم ضاع بسبب هذا الصنيع من دلالات واضحات، منها نبوءة المسيح عن البارقليط، والذي تسميه التراجم الحديثة: المعزي، ومنها بشارة النبي حجي بمقدم (محماد) التي ترجمها المترجمون بمشتهى، فضاعت الكثير من دلالات قول النبي حجي: "ويأتي مشتهى كل الأمم" (حجي 2/ 7).
বনী ইসরাঈলের সেই সকল রাজাদের বরকতকেও তিনি ছাড়িয়ে গেছেন যারা পবিত্র তেল দ্বারা অভিষিক্ত হতেন।
'মসীহ' হলো সেই প্রতিক্ষীত নবীর উপাধি যার অপেক্ষায় বনী ইসরাঈল ছিল। তাই ইয়াহূদীরা যখন ইয়াহইয়া ইবনে যাকারিয়াকে (যোহন বাপ্তাইজক) দেখল, তখন তারা জিজ্ঞাসা করল যে তিনি সেই প্রতিক্ষীত মসীহ কি না— "তিনি স্বীকার করলেন এবং অস্বীকার করলেন না; বরং স্বীকার করে বললেন: আমি মসীহ নই। তখন তারা তাকে জিজ্ঞাসা করল: তবে কে? আপনি কি ইলিয়া?" (যোহন ১: ২১-২২)।
তেমনিভাবে ইয়াহূদী জনতাও এই উপাধি ব্যবহার করত যখন তারা ঈসা আলাইহিস সালামের মুজিযাসমূহ প্রত্যক্ষ করত। তারা বলত: "মসীহ (অর্থাৎ আগমনকারী) যখন আসবেন, তিনি কি এর চেয়ে বেশি অলৌকিক নিদর্শন প্রদর্শন করবেন যা এই ব্যক্তি করেছেন!" (যোহন ৭: ৩০-৩১)।
সেই আগমনকারী নবীকে 'মসিহা' বা 'মেসায়া'-ও বলা হয়, যা 'মসীহ' শব্দেরই একটি সমার্থক রূপ। যোহন লিখিত ইঞ্জিলে এর ব্যাখ্যায় এসেছে: "মসিহা, যার অনুবাদ হলো: মসীহ" (যোহন ১: ৪১)। মূলত সিরিয়াক শব্দ হলো 'মাশীহ্', যা সেই সকল ভাষায় 'মসিহা' উচ্চারিত হয় যেগুলোতে 'হা' বর্ণের উচ্চারণ নেই।
সম্ভবত কেউ কেউ এমন একটি সুস্পষ্ট পাঠ উন্মোচনের দাবি জানাতে পারেন যা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আগমনের সুসংবাদ প্রদান করে এবং স্পষ্টভাবে তাঁর নাম ও গুণাবলি তুলে ধরে যাতে কেউ দ্বিমত করতে না পারে। আর এমন দাবি করার অধিকার তাদের রয়েছে। কিন্তু এই লক্ষ্য অর্জনের পথে দুটি প্রতিবন্ধকতা রয়েছে যা পবিত্র কিতাব (বাইবেল) এবং এর অনুবাদসমূহের সাথে সংশ্লিষ্ট। আহলে কিতাবদের ধর্মগ্রন্থসমূহে যারা সুগভীর পাণ্ডিত্য রাখেন, তাদের কাছে এই বিষয় দুটি অস্পষ্ট নয়। তারা সেই কারণগুলো উপলব্ধি করেন যা কিতাবগুলোর অনেক ঐশী সুসংবাদকে বিলুপ্ত বা অস্পষ্ট করে দিয়েছে।
প্রথমত: আহলে কিতাবদের একটি রীতি হলো ব্যক্তিনামগুলোকে সরাসরি উল্লেখ না করে সেগুলোর অর্থ অনুবাদ করা। ফলে তারা অনুবাদের ক্ষেত্রে মূল নামের পরিবর্তে সেটির অর্থ উল্লেখ করে এবং অনেক সময় বাক্যের ব্যাখ্যা যোগ করে তা মূল পাঠের অন্তর্ভুক্ত করে দেয়।
এই কর্মপদ্ধতির কারণে কত যে সুস্পষ্ট নিদর্শন হারিয়ে গেছে! এর মধ্যে অন্যতম হলো 'পারাক্লিত' (Paraclete) সম্পর্কে মসীহ আলাইহিস সালামের ভবিষ্যদ্বাণী, যাকে আধুনিক অনুবাদসমূহে 'সান্ত্বনাদানকারী' বলা হয়। তদ্রূপ নবী হগয় (Haggai) কর্তৃক 'মাহমাদ' (মুহাম্মাদ)-এর আগমনের সুসংবাদ, যা অনুবাদকরা 'আকাঙ্ক্ষিত' হিসেবে অনুবাদ করেছেন। এর ফলে নবী হগয়-এর এই বাণীর অনেক নিহিত অর্থ হারিয়ে গেছে: "এবং সকল জাতির আকাঙ্ক্ষিত জন আসবেন" (হগয় ২: ৭)।
(খণ্ড: ১)
হাল বাশশারাল কিতাবুল মুক্বদ্দাসু বি-মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১১)
ونحوه ما جاء في المزامير (84/ 6) عندما ذكرت المزامير اسم مدينة المسيح القادم، أسمتها: وادي بكة [???????? ????????]، وتقرأ: (بعيمق هبكا)، فترجمها المترجمون إلى العربية إلى وادي البكاء، وترجمتها نسخة الرهبانية اليسوعية إلى "وادي البَلَسان"؛ لتضيع دلالتها على كل عربي يعرف أن بكة هي بلد محمد صلى الله عليه وسلم {إن أول بيتٍ وضع للناس للذي ببكة مباركاً وهدًى للعالمين} (آل عمران: 96).
وضرب رحمة الله الهندي في كتابه الماتع "إظهار الحق" لهذا الصنيع من المترجمين ثلاثة عشر مثالاً قارن فيها بين طبعات مختلفة للكتاب المقدس، ليقف منها على أثر هذا الصنيع في ضياع دلالات النصوص، منها:
أنه جاء في الطبعة العربية (1811م) " سمى إبراهيم اسم الموضع: مكان يرحم الله زائره " (انظر التكوين 22/ 14) فاسم المكان العبراني أبدله المترجم بمعناه، وفي طبعة (1844م) العربية قال: " دعا اسم ذلك الموضع:" الرب يرى"، وبذلك ضاع الاسم الصحيح، واختلفت المعاني، ومثله كثير .. ثم يقول رحمة الله الهندي: " فهؤلاء المترجمون لو بدلوا في البشارات المحمدية لفظ رسول الله بلفظ آخر، فلا استبعاد منهم ".
وفي هذا الصدد نقل العلامة رحمة الله الهندي أيضاً عن حيدر القرشي صاحب كتاب " خلاصة سيف المسلمين " قوله: " إن القسيس أوسكان الأرمني ترجم كتاب إشعياء باللسان الأرمني في سنة ألف وستمائة وست وستين، وطبعت هذه الترجمة في سنة ألف وسبعمائة وثلاث وثلاثين في مطبعة أنتوني بورتولي، ويوجد في هذه الترجمة في الباب الثاني والأربعين هذه الفقرة: " سبحوا الله تسبيحاً جديداً، وأثر سلطنته على ظهره، واسمه أحمد " (إشعيا 42/ 10 - 11). (1)
--------------------------------------------
অনুরূপ বর্ণনা জাবুর বা সামসংহিতায় (৮৪/ ৬) এসেছে; যখন সেখানে আগত মসিহের নগরীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তখন একে 'বাক্কা উপত্যকা' বলা হয়েছে, যার হিব্রু উচ্চারণ: 'বে-এমিক হা-বাকা'। কিন্তু অনুবাদকগণ আরবিতে একে 'ক্রন্দন উপত্যকা' হিসেবে অনুবাদ করেছেন এবং জেসুইট সন্ন্যাসী সংস্করণ একে 'বালসাম উপত্যকা' হিসেবে অনুবাদ করেছে; যেন এর মাধ্যমে সেই বিশেষত্বটি বিলুপ্ত হয়ে যায় যা প্রত্যেক আরবের নিকট সুস্পষ্ট, যারা জানে যে 'বাক্কা' হলো মুহাম্মদ (সা.)-এর শহর। (পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে:) "নিশ্চয়ই মানবজাতির জন্য সর্বপ্রথম যে ঘরটি নির্মিত হয়েছিল, তা তো বাক্কায়; যা বরকতময় এবং বিশ্ববাসীর জন্য হেদায়েত।" (সূরা আলে ইমরান: ৯৬)।
আল্লামা রহমতুল্লাহ কিরানবি হিন্দি তাঁর চমৎকার গ্রন্থ 'ইজহারুল হক'-এ অনুবাদকদের এই কর্মতৎপরতার তেরোটি উদাহরণ পেশ করেছেন, যেখানে তিনি বাইবেলের বিভিন্ন সংস্করণের মধ্যে তুলনা করে দেখিয়েছেন কীভাবে এই ধরনের কাজের ফলে মূল পাঠ্যের প্রকৃত অর্থ ও তাৎপর্য হারিয়ে যায়। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে:
১৮১১ খ্রিস্টাব্দের আরবি সংস্করণে এসেছে: "ইব্রাহিম সেই স্থানের নাম রাখলেন: এমন স্থান যেখানে আল্লাহ তাঁর যিয়ারতকারীর প্রতি রহম করেন" (দেখুন: আদিপুস্তক ২২/ ১৪)। এখানে অনুবাদক হিব্রু নামটির স্থলে তার অর্থ বসিয়ে দিয়েছেন। আবার ১৮৪৪ খ্রিস্টাব্দের আরবি সংস্করণে বলা হয়েছে: "তিনি সেই স্থানের নাম রাখলেন: 'প্রভু দেখেন'।" এর ফলে সঠিক নামটি হারিয়ে গেছে এবং অর্থের ভিন্নতা তৈরি হয়েছে। এমন উদাহরণ আরও অনেক রয়েছে। অতঃপর রহমতুল্লাহ হিন্দি বলেন: "এই অনুবাদকরা যদি মুহাম্মাদী সুসংবাদসমূহের ক্ষেত্রে 'আল্লাহর রাসূল' শব্দের পরিবর্তে অন্য কোনো শব্দ বসিয়ে দেন, তবে তাঁদের পক্ষ থেকে এটি মোটেও অসম্ভব নয়।"
এই প্রসঙ্গে আল্লামা রহমতুল্লাহ হিন্দি 'খুলাসাতু সাইফিল মুসলিমীন' গ্রন্থের লেখক হায়দার আল-কুরাইশীর উক্তিও উদ্ধৃত করেছেন: "আর্মেনীয় যাজক ওস্কান ১৬৬৬ খ্রিস্টাব্দে আর্মেনীয় ভাষায় ইশাইয়া (যিশাইয়) ভাববাদীর কিতাব অনুবাদ করেন এবং এই অনুবাদটি ১৭৩৩ খ্রিস্টাব্দে আন্তোনি বোরতোলি ছাপাখানায় মুদ্রিত হয়। এই অনুবাদের ৪২তম অধ্যায়ে এই অনুচ্ছেদটি পাওয়া যায়: 'আল্লাহর নতুন প্রশংসা গীত গাও, তাঁর পিঠে তাঁর কর্তৃত্বের চিহ্ন বিদ্যমান এবং তাঁর নাম আহমদ' (যিশাইয় ৪২/ ১০-১১)। (১)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাল বাশশারাল কিতাবুল মুক্বদ্দাসু বি-মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১২)
ثانيهما: الكتاب المقدس كثير الاستعارات، تكثر فيه الرموز والإشارات خاصة فيما يتعلق بالمستقبل، يقول الدكتور سمعان كهلون في كتابه " مرشد الطالبين إلى الكتاب المقدس الثمين ": "وأما اصطلاح الكتاب المقدس فإنه ذو استعارات وافرة غامضة وخاصة العهد العتيق ".
ويقول أيضاً: " واصطلاح العهد الجديد أيضاً هو استعاري جداً، وخاصة مسامرات مخلصنا، وقد اشتهرت آراء كثيرة فاسدة لكون بعض معلمي النصارى شرحوها شرحاً حرفياً
… ". (1)
لذا ينبغي أن يدرك القارئ المشاق التي سنعانيها ونحن نبحث عن الكلمة الأصلية أو الاسم الذي أضاعه المترجمون، كما سيدرك القارئ - بثاقب فكره - طبيعة الكتاب المقدس في التعبير عن الحقائق عن طريق الاستعارة والإلغاز.
هذه الصعوبة لن يشعر بها أولئك الذين يتفاخرون بأن كتابهم قد حوى الكثير من النبوءات التي تحققت فيما بعد كقيام الاتحاد السوفيتي وإسرائيل وحتى شخص كسينجر، وذلك كله عن طريق الإلغاز أو بحساب الجمّل أو سوى ذلك، ويقولون أيضاً بورود مئات النبوءات التي تشير إلى السيد المسيح، فإن النصارى يرون أن في العهد القديم ألف نبوءة عن المسيح.
وهنا نتساءل هل من المعقول أن يخلو الكتاب المقدس من نبوءة عن ذلك الرجل الذي غيّر مسار التاريخ باسم الله، أما كان ينبغي أن يكون له في هذه النبوءات نصيب، ولو نبوءة واحدة تحذر من حاله ودعوته أو تبشر بها؟!
والإجابة عن هذا السؤال صمت مطبق من أولئك الذين يدعون أنهم الوحيدون
--------------------------------------------
দ্বিতীয়ত: পবিত্র বাইবেল রূপকধর্মী বর্ণনায় সমৃদ্ধ; এতে প্রচুর প্রতীক ও ইঙ্গিত রয়েছে, বিশেষ করে ভবিষ্যতের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে। ডক্টর সামআন কাহলুন তাঁর 'মুরশিদুত তালিবিন ইলাল কিতাবিল মুকাদ্দাসিস সামিন' গ্রন্থে বলেন: "পবিত্র বাইবেলের পরিভাষাগুলো অত্যন্ত রূপক ও অস্পষ্ট, বিশেষ করে পুরাতন নিয়মের ক্ষেত্রে।"
তিনি আরও বলেন: "নতুন নিয়মের পরিভাষাগুলোও অত্যন্ত রূপকনির্ভর, বিশেষ করে আমাদের ত্রাণকর্তার কথোপকথনসমূহ। খ্রিষ্টানদের কিছু ধর্মগুরু এগুলোকে শাব্দিক অর্থে ব্যাখ্যা করার কারণে অনেক ভ্রান্ত মতবাদ প্রসিদ্ধি লাভ করেছে
...।" (১)
অতএব, অনুবাদকদের কারণে হারিয়ে যাওয়া মূল শব্দ বা নাম অনুসন্ধানে আমাদের যে কষ্টের সম্মুখীন হতে হবে, পাঠককে তা অনুধাবন করতে হবে। সেই সাথে পাঠক তাঁর তীক্ষ্ণ বিচারবুদ্ধি দিয়ে সত্য প্রকাশের ক্ষেত্রে রূপক ও রহস্যময়তার আশ্রয় নেওয়া বাইবেলের প্রকৃতি সম্পর্কেও সম্যক ধারণা লাভ করতে পারবেন।
যারা গর্ব করে বলেন যে তাঁদের গ্রন্থে এমন অনেক ভবিষ্যদ্বাণী রয়েছে যা পরবর্তীতে বাস্তবায়িত হয়েছে—যেমন সোভিয়েত ইউনিয়ন ও ইসরায়েলের উত্থান, এমনকি কিসিঞ্জারের মতো ব্যক্তির আবির্ভাব—তারা এই কাঠিন্য অনুভব করবেন না। আর এই সবকিছুই বের করা হয়েছে রহস্যময় ইঙ্গিত কিংবা 'হিসাবুল জুমাল' (আক্ষরিক সংখ্যাতত্ত্ব) বা এই জাতীয় অন্য কোনো পন্থায়। তারা আরও দাবি করেন যে, মসিহ (আ.)-কে ইঙ্গিত করে শত শত ভবিষ্যদ্বাণী বর্ণিত হয়েছে; খ্রিষ্টানদের মতে পুরাতন নিয়মে মসিহ সম্পর্কে এক হাজার ভবিষ্যদ্বাণী রয়েছে।
এখানে প্রশ্ন জাগে, এটি কি যুক্তিসঙ্গত যে—যিনি আল্লাহর নামে ইতিহাসের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছেন, পবিত্র বাইবেল সেই মহান ব্যক্তি সম্পর্কে কোনো ভবিষ্যদ্বাণী থেকে শূন্য থাকবে? এসব ভবিষ্যদ্বাণীতে কি তাঁর কোনো অংশ থাকা উচিত ছিল না—হোক তা তাঁর অবস্থা ও দাওয়াত সম্পর্কে সতর্ককারী কিংবা সুসংবাদদানকারী কোনো একক ভবিষ্যদ্বাণী?!
এই প্রশ্নের উত্তর কেবলই গভীর নীরবতা বজায় রাখেন তারা, যারা নিজেদের একমাত্র সত্যের অনুসারী বলে দাবি করেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাল বাশশারাল কিতাবুল মুক্বদ্দাসু বি-মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১৩)
المؤهلون لحل ألغاز ورموز هذا الكتاب واستخراج نبوءاته وفهم مراميه.
لكن ظهور كلمة النبي صلى الله عليه وسلم ودينه، يعتبر المفتاح الذي نلج به إلى نبوءات العهد القديم والجديد، ففي طيات أسفار التوارة نبوءة وميزان يكشف الدعي الكاذب، ويجليه بوصفه وحاله، يقول سفر التثنية " وأما النبي الذي يطغى فيتكلم باسمي كلاماً لم أوصه
… فيموت ذلك النبي
… فلا تخف منه" (التثنية 18/ 20 - 22).
وقد قال غملائيل الفريسي كلمة حق: "والآن أقول لكم: تنحوا عن هؤلاء الناس واتركوهم، لأنه إن كان هذا الرأي أو هذا العمل من الناس فسوف ينتقض، وإن كان من الله فلا تقدرون أن تنقضوه، لئلا توجدوا محاربين لله أيضاً " (أعمال 5/ 38 - 39)، ودعوة نبينا لم تنتقض، بل ملأت الخافقين، وسادت الدنيا قروناً طوالاً.
فسلامته صلى الله عليه وسلم من القتل، وانتصاره على عدوه، وانتشار دعوته ودينه، دليل وبرهان على صدقه ورسالته " الرب يعلم طريق الأبرار، أما طريق الأشرار فتهلك" (المزمور 1/ 6).
وكذا قال: "وتهلك كل الذين يتكلمون بالكذب، رجل الدماء والغش يكرهه الرب" (المزمور 5/ 6)، لأن "المستقيمين يسكنون الأرض، والكاملين يبقون فيها، أما الأشرار فينقرضون من الأرض، والغادرون يستأصلون منها" (الأمثال 2/ 21 - 22).
لقد دلت هذه النصوص على صدق رسول الله صلى الله عليه وسلم في نبوته ورسالته، لسلامته من الأذى وتمام أمره ودينه وانتشار دعوته في العالمين.
এই গ্রন্থের রহস্য ও প্রতীকসমূহ উন্মোচন করতে, এর ভবিষ্যদ্বাণীসমূহ উদ্ধার করতে এবং এর উদ্দেশ্যসমূহ বুঝতে সক্ষম ব্যক্তিবর্গ।
তবে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী ও তাঁর দ্বীনের আবির্ভাবকে সেই চাবিকাঠি হিসেবে গণ্য করা হয়, যার মাধ্যমে আমরা পুরাতন ও নতুন নিয়মের ভবিষ্যদ্বাণীসমূহে প্রবেশ করি। তওরাতের পুস্তকগুলোর ভাঁজে ভাঁজে এমন ভবিষ্যদ্বাণী ও মানদণ্ড রয়েছে যা মিথ্যা দাবিদারকে উন্মোচিত করে এবং তার বৈশিষ্ট্য ও অবস্থার মাধ্যমে তাকে প্রকাশ করে দেয়। দ্বিতীয় বিবরণ পুস্তকে বলা হয়েছে: "কিন্তু যে নবী ধৃষ্টতা প্রকাশ করে আমার নামে এমন কথা বলে যা আমি তাকে বলতে আদেশ করিনি
… সেই নবী মৃত্যুবরণ করবে
… তুমি তাকে ভয় করো না" (দ্বিতীয় বিবরণ ১৮/ ২০-২২)।
ফরীশী গমলীয়েল একটি সত্য কথা বলেছিলেন: "আর এখন আমি তোমাদের বলছি, তোমরা এই লোকদের থেকে দূরে থাকো এবং তাদের ছেড়ে দাও; কারণ যদি এই সংকল্প বা এই কাজ মানুষের পক্ষ থেকে হয়, তবে তা ব্যর্থ হবে। কিন্তু যদি তা ঈশ্বরের পক্ষ থেকে হয়, তবে তোমরা তা ব্যর্থ করতে পারবে না; পাছে তোমরা ঈশ্বরের বিরুদ্ধে যুদ্ধকারী হিসেবে গণ্য হও" (প্রেরিত ৫/ ৩৮-৩৯)। আর আমাদের নবীর দাওয়াত ব্যর্থ হয়নি, বরং তা দিগদিগন্ত প্লাবিত করেছে এবং দীর্ঘ শতাব্দী ধরে পৃথিবীতে আধিপত্য বিস্তার করেছে।
সুতরাং তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হত্যা থেকে নিরাপদ থাকা, শত্রুর বিরুদ্ধে বিজয় লাভ এবং তাঁর দাওয়াত ও দ্বীনের প্রসার তাঁর সত্যবাদিতা ও রিসালাতের অকাট্য প্রমাণ। "সদাপ্রভু ধার্মিকদের পথ জানেন, কিন্তু দুষ্টদের পথ বিনাশ পায়" (সামসংহিতা ১/ ৬)।
একইভাবে বলা হয়েছে: "যারা মিথ্যা বলে তুমি তাদের বিনাশ করবে; রক্তপাতকারী ও প্রবঞ্চক ব্যক্তিকে সদাপ্রভু ঘৃণা করেন" (সামসংহিতা ৫/ ৬)। কারণ "সরলরাই দেশে বাস করবে এবং সিদ্ধরাই তাতে অবশিষ্ট থাকবে। কিন্তু দুষ্টরা দেশ থেকে উচ্ছিন্ন হবে এবং বিশ্বাসঘাতকরা সেখান থেকে সমূলে উৎপাটন হবে" (হিতোপদেশ ২/ ২১-২২)।
এই পাঠ্যসমূহ আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নবুওয়াত ও রিসালাতের সত্যতার প্রমাণ বহন করে; কেননা তিনি অনিষ্ট থেকে নিরাপদ ছিলেন এবং তাঁর আদর্শ ও দ্বীন পূর্ণতা লাভ করেছে এবং বিশ্বময় তাঁর দাওয়াত ছড়িয়ে পড়েছে।
(খণ্ড: ১)
হাল বাশশারাল কিতাবুল মুক্বদ্দাসু বি-মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১৫)
الملك المنتظرفي عام 63 ق. م وقعت القدس وفلسطين بيد الرومان الوثنيين، ليبدأ - من جديد - اضطهاد آخر عانى منه بنو إسرائيل، بنو إسرائيل الذين كانوا يترقبون مخلصاً عظيماً يرد إليهم الملك الضائع والسؤدد الذي طال لهفهم وشوقهم إليه.
لقد كانوا ينتظرون تحقق بشارة يعقوب وموسى وداود وغيرهم من الأنبياء بالقادم المنتظر، فهم لا يمارون ولا يشكون في مقدم النبي الملك الظافر الذي يقود أتباعه إلى عز الدنيا وسعادة الآخرة، لذا لما بُعث المسيح العظيم، ورأوا ما أعطاه الله من المعجزات تعلق الكثيرون منهم بشخص المسيح، راجين أن يكون هو النبي المظفر العظيم، النبي المخلص، وهذا أمر يراه بجلاء الذي يتتبع أقوال معاصري المسيح من اليهود.
وتنقل لنا الأسفار المقدسة قصص بعض أولئك الذين كانوا يترقبون الملك المظفر المنتظر، من هؤلاء سمعان، الذي وصفه لوقا: "كان الرجل في أورشليم اسمه سمعان، وهذا الرجل كان باراً تقياً ينتظر تعزية إسرائيل، والروح القدس كان عليه" (لوقا 2/ 25)، فسمعان هذا أحد منتظري الخلاص.
ومنهم نثنائيل الذي صارح المسيح بشعوره وظنه " أجاب نثنائيل وقال له: يا معلّم أنت ابن الله؟ أنت ملك إسرائيل؟ أجاب يسوع وقال له: هل آمنت لأني قلت لك .. " (يوحنا 1/ 49 - 50).
ولما أشيع أن المسيح صلب حزن بعضهم لتخلف الخلاص المنشود في شخص المسيح، إذ تعرض المسيح بعد القيامة لتلميذين وهو متنكر "فقال لهما: ما هذا الكلام الذي تتطارحان به وأنتما ماشيان عابسين، فأجاب أحدهما - الذي اسمه كليوباس - وقال له: هل أنت متغرب وحدك في أورشليم ولم تعلم الأمور التي حدثت فيها في هذه
প্রতিক্ষিত সম্রাট৬৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দে জেরুজালেম এবং ফিলিস্তিন পৌত্তলিক রোমানদের হস্তগত হয়, যার ফলে বনী ইসরাঈলের ওপর নতুন করে আরেকটি নিপীড়ন শুরু হয়। সেই বনী ইসরাঈল যারা একজন মহান ত্রাণকর্তার প্রতীক্ষায় ছিল, যিনি তাদের হারানো রাজত্ব এবং দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত গৌরব ও মর্যাদা ফিরিয়ে দেবেন।
তারা ইয়াকুব, মুসা, দাউদ এবং অন্যান্য নবীদের মাধ্যমে দেওয়া সেই প্রতিক্ষিত ব্যক্তির আগমনের সুসংবাদ পূর্ণ হওয়ার অপেক্ষায় ছিল। সেই বিজয়ী নবী-রাজার আগমনের ব্যাপারে তাদের মনে কোনো সন্দেহ বা সংশয় ছিল না, যিনি তাঁর অনুসারীদের ইহকালীন মর্যাদা এবং পরকালীন সৌভাগ্যের পথে পরিচালিত করবেন। একারণে যখন মহান মসীহ প্রেরিত হলেন এবং আল্লাহ প্রদত্ত তাঁর মুজিজাসমূহ তারা প্রত্যক্ষ করল, তখন তাদের অনেকেই মসীহের ব্যক্তিত্বের প্রতি অনুরক্ত হয়ে পড়ল। তারা আশা করেছিল যে, তিনিই হবেন সেই মহান বিজয়ী ও ত্রাণকর্তা নবী। মসীহের সমসাময়িক ইহুদিদের বক্তব্যগুলো পর্যালোচনা করলে এই বিষয়টি স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়।
পবিত্র কিতাবসমূহ আমাদের কাছে এমন কিছু ব্যক্তির কাহিনী তুলে ধরে যারা সেই প্রতিক্ষিত বিজয়ী সম্রাটের অপেক্ষায় ছিল। তাদের মধ্যে একজন ছিলেন শিমোন, যাঁর সম্পর্কে লুক বর্ণনা করেছেন: "জেরুজালেমে শিমোন নামে এক ব্যক্তি ছিল; এই ব্যক্তি ছিল পুণ্যবান ও ধর্মভীরু, সে ইসরাঈলের সান্ত্বনার (মুক্তির) অপেক্ষায় ছিল এবং পবিত্র আত্মা তাঁর ওপর অধিষ্ঠিত ছিল" (লুক ২/২৫)। সুতরাং এই শিমোন ছিলেন মুক্তি প্রত্যাশীদের একজন।
তাদের মধ্যে অন্যজন ছিলেন নথনেল, যিনি মসীহের নিকট তাঁর অনুভূতি ও ধারণা ব্যক্ত করে বলেছিলেন: "নথনেল উত্তর দিয়ে তাঁকে বললেন: হে গুরু, আপনি কি আল্লাহর পুত্র? আপনি কি ইসরাঈলের রাজা? যীশু উত্তর দিয়ে তাঁকে বললেন: আমি তোমাকে বলেছি বলেই কি তুমি বিশ্বাস করলে...?" (যোহন ১/৪৯-৫০)।
যখন গুজব ছড়িয়ে পড়ল যে মসীহকে ক্রুশবিদ্ধ করা হয়েছে, তখন মসীহের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত মুক্তি অর্জিত না হওয়ায় তাদের কেউ কেউ ব্যথিত হলো। এমনকি পুনরুত্থানের পর মসীহ যখন ছদ্মবেশে দুই শিষ্যের সামনে উপস্থিত হলেন, তখন: "তিনি তাদের বললেন: তোমরা বিষণ্ণ মনে পথ চলতে চলতে নিজেদের মধ্যে কী আলোচনা করছ? তখন ক্লিওপাস নামক তাদের একজন উত্তর দিয়ে তাঁকে বলল: আপনি কি জেরুজালেমে একমাত্র আগন্তুক যে এই দিনগুলোতে সেখানে যা ঘটেছে তা জানেন না?"
(খণ্ড: ১)
হাল বাশশারাল কিতাবুল মুক্বদ্দাসু বি-মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১৬)
الأيام، فقال لهما: وما هي؟ فقالا: المختصة بيسوع الناصري الذي كان إنساناً نبياً مقتدراً في الفعل والقول أمام الله وجميع الشعب، كيف أسلمه رؤساء الكهنة وحكامنا لقضاء الموت، وصلبوه، ونحن كنا نرجو أنه هو المزمع أن يفدي إسرائيل، ولكن مع هذا كله اليوم له ثلاثة أيام منذ حدث ذلك" (لوقا 24/ 17 - 21). لقد كانوا ينتظرون الخلاص على يديه كما كانت قد وعدت النصوص التوراتية بمقدم الملك الظافر الذي يخلص شعبه ويقودهم للنصر على الأمم، إذا بهم يسمعون بقتله وصلبه.
وقال له التلاميذ بعد القيامة: " يا رب هل في هذا الوقت ترد الملك إلى إسرائيل؟ فقال لهم: ليس لكم أن تعرفوا الأزمنة والأوقات التي جعلها الآب في سلطانه" (أعمال 1/ 6 - 7). أي أن هذا ليس هو وقت الملك المنتظر.
يقول عوض سمعان: " إن المتفحصين لعلاقة الرسل والحواريين بالمسيح يجد أنهم لم ينظروا إليه إلا على أنه إنسان
… كانوا ينتظرون المسيّا، لكن المسيّا بالنسبة إلى أفكارهم التي توارثوها عن أجدادهم لم يكن سوى رسول ممتاز يأتي من عند الله ". (1)
وقد سبق أن ظن شعب إسرائيل - المتلهف لظهور النبي العظيم المظفر - أن يوحنا المعمدان هو المسيح المنتظر "إذ كان الشعب ينتظر، والجميع يفكرون في قلوبهم عن يوحنا، لعله المسيح" (لوقا 3/ 15).
وهذه الجموع المتربصة للخلاص لما رأت المسيح قالوا فيه ما قالوه من قبل عن يوحنا المعمدان "قالوا للمرأة: إننا لسنا بعد بسبب كلامك نؤمن، لأننا نحن قد سمعنا ونعلم أن هذا هو بالحقيقة المسيح مخلّص العالم" (يوحنا 4/ 42).
وأندرواس قال لأخيه سمعان مبشراً: " قد وجدنا مسِيّا، الذي تفسيره المسيح"
--------------------------------------------
দিনগুলি; তখন তিনি তাদের বললেন: "সেগুলো কী?" তারা তাঁকে বলল: "নাসরতের যিশু সম্পর্কিত বিষয়াদি, যিনি ঈশ্বর ও সমস্ত জনগণের সম্মুখে কর্মে ও বাক্যে একজন শক্তিশালী নবী ছিলেন। আমাদের প্রধান পুরোহিতগণ ও শাসকবর্গ কীভাবে তাঁকে মৃত্যুদণ্ডের দণ্ডাদেশের জন্য সমর্পণ করল এবং তাঁকে ক্রুশবিদ্ধ করল। অথচ আমরা আশা করেছিলাম যে, তিনিই ইসরায়েলকে মুক্ত করবেন; কিন্তু এই সবকিছুর পরেও আজ সেই ঘটনার তিন দিন পার হয়ে গেছে।" (লূক ২৪: ১৭-২১)। তারা তাঁর হাতে সেই মুক্তির প্রতীক্ষায় ছিল, যেমনটা তওরাতের পাঠসমূহে একজন বিজয়ী রাজার আগমনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, যিনি তাঁর জনগণকে উদ্ধার করবেন এবং জাতিসমূহের বিরুদ্ধে বিজয়ে নেতৃত্ব দেবেন; কিন্তু হঠাৎ করেই তারা তাঁর নিধন ও ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার সংবাদ শুনতে পেল।
পুনরুত্থানের পর শিষ্যগণ তাঁকে বললেন: "হে প্রভু, আপনি কি এই সময়েই ইসরায়েলের রাজত্ব পুনরুদ্ধার করবেন?" তিনি তাদের বললেন: "পিতা তাঁর নিজ কর্তৃত্বে যে সময় ও কাল নির্ধারণ করেছেন, তা তোমাদের জানার বিষয় নয়।" (প্রেরিত ১: ৬-৭)। অর্থাৎ, এটি সেই প্রতীক্ষিত রাজত্বের সময় ছিল না।
আওয়াদ সামআন বলেন: "যারা খ্রিস্টের সাথে রসুল ও হাওয়ারীগণের সম্পর্কের বিষয়টি খতিয়ে দেখেন, তারা দেখতে পান যে, তারা তাঁকে একজন মানুষ ছাড়া অন্য কিছু হিসেবে দেখেননি
… তারা মসিহের প্রতীক্ষায় ছিলেন, কিন্তু তাদের পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত ধারণা অনুযায়ী মসিহ ঈশ্বরের পক্ষ থেকে প্রেরিত একজন শ্রেষ্ঠ বার্তাবাহক ছাড়া অন্য কেউ ছিলেন না।" (১)
আর ইতিপূর্বেও মহান বিজয়ী নবীর আবির্ভাবের জন্য অধীর অপেক্ষায় থাকা ইসরায়েল জাতি মনে করেছিল যে, যোহন বাপ্তাইজকই সেই প্রতীক্ষিত মসিহ; "যখন জনগণ প্রতীক্ষায় ছিল এবং সবাই মনে মনে যোহন সম্পর্কে চিন্তা করছিল যে, তিনি সম্ভবত মসিহ।" (লূক ৩: ১৫)।
আর মুক্তির অপেক্ষায় থাকা এই জনতা যখন খ্রিস্টকে দেখল, তখন তারা তাঁর সম্পর্কে তাই বলল যা তারা পূর্বে যোহন বাপ্তাইজক সম্পর্কে বলেছিল। "তারা সেই নারীকে বলল: এখন আমরা কেবল তোমার কথার কারণেই বিশ্বাস করি না, কারণ আমরা নিজেরা শুনেছি এবং জানি যে, এই ব্যক্তিই প্রকৃতপক্ষে জগতের ত্রাণকর্তা মসিহ।" (যোহন ৪: ৪২)।
আর আন্দ্রিয় তাঁর ভাই শিমোনকে সুসংবাদ দিয়ে বললেন: "আমরা মসিহের দেখা পেয়েছি, যার অর্থ হলো খ্রিস্ট।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাল বাশশারাল কিতাবুল মুক্বদ্দাসু বি-মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১৭)
(يوحنا 1/ 41). لكنه - وكما يقول القس الخضري -: "لا يقصد بهذه العبارة إلا ما كان يقصده اليهودي المتدين الذي كان ينتظر مجيء المسيا الذي سيخلص ويحرر إسرائيل من العبودية الأجنبية، ثم ينعش الحياة الروحية". (1)
والمراة السامرية لما رأته أعاجيبه " قالت له المرأة: أنا أعلم أن مسيّا - الذي يقال له المسيح - يأتي، فمتى جاء ذاك يخبرنا بكل شيء" (يوحنا 4/ 25 - 30).
وشاع هذا الخبر في بني إسرائيل حتى خشي رؤساء الكهنة من بطش الرومان إن عرفوا أن المسيح المنتظر العظيم المظفر قد ظهر في شخص عيسى، فسارعوا إلى الإيقاع به، متهمين إياه بإفساد الأمة وادعاء أنه المخلص المنتظر، " فجمع رؤساء الكهنة والفريسيون مجمعاً، وقالوا: ماذا نصنع، فإن هذا الإنسان يعمل آيات كثيرة، إن تركناه هكذا يؤمن الجميع به، فيأتي الرومانيون ويأخذون موضعنا وأمّتنا؟
فقال لهم واحد منهم، وهو قيافا، كان رئيساً للكهنة في تلك السنة: أنتم لستم تعرفون شيئاً، ولا تفكرون، إنه خير لنا أن يموت إنسان واحد عن الشعب، ولا تهلك الأمة كلها " (يوحنا 11/ 47 - 50). فقالوا لبيلاطس: " إننا وجدنا هذا يفسد الأمة، ويمنع أن تعطى جزية لقيصر قائلاً: إنه هو مسيح ملك، فسأله بيلاطس قائلاً: أنت ملك اليهود؟ فأجابه وقال: أنت تقول، فقال بيلاطس لرؤساء الكهنة والجموع: إني لا أجد علّة في هذا الإنسان" (لوقا 23/ 2 - 4)، فقد ثبت لبيلاطس براءته مما اتهموه، إذ هو لم يدع أنه ملك اليهود المنتظر.
--------------------------------------------
(যোহন ১/ ৪১)। তবে তিনি - যাজক আল-খুদারি যেমন বলেন -: "এই বাক্য দ্বারা তিনি কেবল তা-ই বুঝিয়েছেন, যা একজন ধর্মপ্রাণ ইহুদি বুঝতেন, যিনি মসিহর আগমনের অপেক্ষায় ছিলেন, যিনি ইসরায়েলকে বিদেশি দাসত্ব থেকে মুক্ত ও স্বাধীন করবেন এবং অতঃপর আধ্যাত্মিক জীবনকে পুনরুজ্জীবিত করবেন।" (১)
সামেরীয় নারী যখন তাঁর অলৌকিক নিদর্শনগুলো দেখল, তখন "সেই নারী তাঁকে বলল: আমি জানি যে মসিহ - যাঁকে খ্রিষ্ট বলা হয় - আসছেন; তিনি যখন আসবেন, তখন আমাদের সবকিছু জানাবেন" (যোহন ৪/ ২৫ - ৩০)।
এই খবর বনী ইসরায়েলের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ল, এমনকি প্রধান যাজকরা রোমানদের আক্রমণের ভয়ে ভীত হয়ে পড়ল যে, রোমানরা যদি জানতে পারে সেই মহান বিজয়ী প্রতীক্ষিত মসিহ ঈসারূপে আবির্ভূত হয়েছেন (তবে বিপদ হবে)। তাই তারা তাঁকে বিপদে ফেলার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হলো এবং তাঁর বিরুদ্ধে জাতিকে বিভ্রান্ত করার ও নিজেকে প্রতীক্ষিত ত্রাণকর্তা দাবি করার অভিযোগ তুলল। "অতঃপর প্রধান যাজক ও ফরীশীরা এক সভা ডাকল এবং বলল: আমরা কী করছি? কারণ এই লোক তো অনেক অলৌকিক নিদর্শন দেখাচ্ছে। যদি আমরা তাকে এভাবে ছেড়ে দিই, তবে সবাই তার ওপর বিশ্বাস স্থাপন করবে এবং রোমানরা এসে আমাদের পবিত্র স্থান ও জাতি দখল করে নেবে।
তাদের মধ্যে একজন, যার নাম কায়াফা, সে ঐ বছরের প্রধান যাজক ছিল; সে তাদের বলল: তোমরা কিছুই জানো না এবং ভাবছ না যে, আমাদের জন্য এটাই কল্যাণকর যে সমগ্র জাতির ধ্বংস হওয়ার চেয়ে একজনের মৃত্যু হওয়া" (যোহন ১১/ ৪৭ - ৫০)। তারা পীলাতকে বলল: "আমরা এই লোকটিকে জাতিকে বিভ্রান্ত করতে এবং কায়সারকে কর দিতে নিষেধ করতে দেখেছি; সে দাবি করে যে সে মসিহ রাজা। তখন পীলাত তাকে জিজ্ঞাসা করলেন: তুমি কি ইহুদিদের রাজা? তিনি উত্তরে বললেন: আপনি নিজেই তা বলছেন। তখন পীলাত প্রধান যাজক ও জনতাকে বললেন: আমি এই লোকটির মধ্যে কোনো দোষ খুঁজে পাচ্ছি না" (লূক ২৩/ ২ - ৪)। পীলাতের কাছে তাঁর নির্দোষিতা প্রমাণিত হলো সেই অভিযোগ থেকে যা তারা করেছিল, কারণ তিনি নিজেকে ইহুদিদের সেই প্রতীক্ষিত রাজা হিসেবে দাবি করেননি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাল বাশশারাল কিতাবুল মুক্বদ্দাসু বি-মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১৯)
عدم فهم التلاميذ لنبوءات المسيحشغف كتاب الأناجيل بالنبوءات التوراتية، وعمدوا في تكلف ظاهر إلى تحريف معاني الكثير من النصوص التوراتية، ليجعلوا منها نبوءات عن المسيح، إن محبتهم للمسيح أو امتهانهم للتحريف قد جعلهم يخطئون في فهم كثير من النبوءات التي تحدثت عن المسيّا المنتظر.
ومن صور ذلك أنه جاء في المزامير عن النبي القادم "قال الرب لربي: اجلس عن يميني حتى أضع أعداءك موطئاً لقدميك" (المزمور 110/ 1)، وهذه النبوءة بالمسيح المنتظر لا يراد منها المسيح ابن مريم بحال من الأحوال.
وقد أخطأ بطرس - أو من نسبه إلى بطرس - حين فسرها بذلك، فقال: " لأن داود لم يصعد إلى السموات، وهو نفسه يقول: قال الرب لربي: اجلس عن يميني حتى أضع أعداءك موطئاً لقدميك، فليعلم يقيناً جميع بيت إسرائيل أن الله جعل يسوع هذا الذي صلبتموه أنتم رباً ومسيحاً " (أعمال 2/ 29 - 37).
ودليل الخطأ في فهم بطرس، وكذا فهم النصارى من بعده أن المسيح عليه السلام أنكر أن يكون هو المسيح الموعود على لسان داود، "فيما كان الفريسيون مجتمعين سألهم يسوع قائلاً: ماذا تظنون في المسيح، ابن من هو؟ قالوا له: ابن داود، قال لهم: فكيف يدعوه داود بالروح رباً قائلاً: قال الرب لربي: اجلس عن يميني حتى أضع أعداءك موطئاً لقدميك؟ فإن كان داود يدعوه رباً فكيف يكون ابنه؟ فلم يستطع أحد أن يجيبه بكلمة، ومن ذلك اليوم لم يجسر أحد أن يسأله بتة" (متى 22/ 41 - 46) لقد كان جواب المسيح مسكتاً، إن القادم ليس من ذرية داود بدليل أن داود جعله سيده، والأب لا يقول ذلك عن ابنه.
فالمسيح عليه السلام سأل اليهود عن المسيح المنتظر الذي بشر به داود وغيره من الأنبياء:
মসীহ সম্পর্কিত ভবিষ্যৎবাণীগুলো বুঝতে শিষ্যদের ব্যর্থতাসুসমাচার (ইঞ্জিল) লেখকদের তাওরাতের ভবিষ্যৎবাণীগুলোর প্রতি গভীর অনুরাগ ছিল। তারা অত্যন্ত কৃত্রিমভাবে তাওরাতের অনেক পাঠ্যের অর্থ বিকৃত করেছেন, যাতে সেগুলোকে মসীহ সম্পর্কিত ভবিষ্যৎবাণী হিসেবে উপস্থাপন করা যায়। মসীহের প্রতি তাদের অতিভক্তি কিংবা বিকৃতি সাধনের প্রবণতা তাদেরকে প্রতীক্ষিত মসীহ সম্পর্কে বর্ণিত অনেক ভবিষ্যৎবাণী বুঝতে ভুল পথে চালিত করেছে।
এর একটি উদাহরণ হলো আগত নবী সম্পর্কে জবুরে (সামসঙ্গীতে) যা বর্ণিত হয়েছে: "প্রভু আমার প্রভুকে বললেন, তুমি আমার ডানপাশে বসো যতক্ষণ না আমি তোমার শত্রুদের তোমার পাদপীঠ করি" (সামসঙ্গীত ১১০:১)। প্রতীক্ষিত মসীহ সম্পর্কিত এই ভবিষ্যৎবাণীটি কোনোভাবেই মারইয়াম-তনয় ঈসা (মসীহ)-এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
পিতর—অথবা পিতরের নামে যিনি এটি বর্ণনা করেছেন—তিনি এর ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ভুল করেছেন। তিনি বলেন: "কারণ দাউদ তো স্বর্গে আরোহণ করেননি, বরং তিনি নিজেই বলেছেন: ‘প্রভু আমার প্রভুকে বললেন, তুমি আমার ডানপাশে বসো, যতক্ষণ না আমি তোমার শত্রুদের তোমার পাদপীঠ করি।’ অতএব সমগ্র ইসরায়েল জাতি নিশ্চিতভাবে জানুক যে, ঈশ্বর এই যিশুকে (ঈসা), যাঁকে তোমরা ক্রুশবিদ্ধ করেছ, তাঁকেই প্রভু ও মসীহ নিযুক্ত করেছেন" (প্রেরিত ২:২৯-৩৭)।
পিতরের বুঝের এই ভুলের প্রমাণ, এবং তার পরবর্তী খ্রিস্টানদের ভ্রান্তির প্রমাণ হলো স্বয়ং মসীহ (আ.) দাউদের জবানীতে বর্ণিত সেই প্রতিশ্রুত মসীহ হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। "যখন ফরীশীরা একত্রিত ছিল, তখন যিশু তাদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন: তোমরা মসীহ সম্পর্কে কী মনে করো? তিনি কার সন্তান? তারা বলল: দাউদের সন্তান। তিনি তাদের বললেন: তবে দাউদ পবিত্র আত্মার অনুপ্রেরণায় তাঁকে কীভাবে 'প্রভু' বলে সম্বোধন করেন? তিনি বলেছিলেন: ‘প্রভু আমার প্রভুকে বললেন, তুমি আমার ডানপাশে বসো, যতক্ষণ না আমি তোমার শত্রুদের তোমার পাদপীঠ করি।’ দাউদ যদি তাঁকে ‘প্রভু’ বলে ডাকেন, তবে তিনি কীভাবে তাঁর সন্তান হতে পারেন? কেউই তাঁর কথার উত্তর দিতে পারল না, এবং সেদিন থেকে আর কেউ তাঁকে কিছু জিজ্ঞাসা করার সাহস করল না" (মথি ২২:৪১-৪৬)। মসীহ-এর উত্তর ছিল সকলকে নিরুত্তর করে দেওয়ার মতো। কারণ, আগত সেই সত্তা দাউদের বংশধর নন, যার প্রমাণ হলো দাউদ তাঁকে নিজের 'প্রভু' বা 'মনিব' বলে অভিহিত করেছেন; আর কোনো পিতা তাঁর পুত্র সম্পর্কে এমন কথা বলেন না।
মূলত মসীহ (আ.) ইহুদিদের সেই প্রতীক্ষিত মসীহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, যাঁর সুসংবাদ দাউদ এবং অন্যান্য নবীরা দিয়েছিলেন।
(খণ্ড: ১)
হাল বাশশারাল কিতাবুল মুক্বদ্দাসু বি-মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২০)
"ماذا تظنون في المسيح؟ ابن من هو؟ " فأجابوه: "ابن داود"، فخطأهم وقال: " فإن كان داود يدعوه رباً، فكيف يكون ابنه! "، فالمسيح القادم ليس من أبناء داود الذي وصفه بقوله: ربي أو سيدي.
ومن المعلوم أن المسيح - حسب متى ولوقا هو من ذرية النبي داود -، وكثيراً ما نودي "يا ابن داود" (انظر متى1/ 1، 9/ 27، ولوقا 19/ 38)
وفي مرقس أن المسيح عليه السلام قال: " كيف يقول الكتبة: إن المسيح ابن داود؟ لأن داود نفسه قال بالروح القدس: قال الرب لربي: اجلس عن يميني حتى أضع أعداءك موطئاً لقدميك، فداود نفسه يدعوه رباً، فمن أين هو ابنه؟! " (مرقس 12/ 37).
وهو ما ذكره لوقا أيضاً " وقال لهم: كيف يقولون: إن المسيح ابن داود، وداود نفسه يقول في كتاب المزامير: قال الرب لربي: اجلس عن يميني، حتى أضع أعداءك موطئاً لقدميك، فإذا داود يدعوه رباً فكيف يكون ابنه! " (لوقا 20/ 40 - 44)، ورغم هذا البيان يصر النصارى إلى يومنا هذا أن المسيح عيسى عليه السلام هو من بشر به داود في نبوءته مع قولهم بأنه ابن داود!
ونقل بولس (أو بالأحرى الكاتب المجهول للرسالة) في الرسالة إلى العبرانيين بشارة الله لداود بابنه سليمان، وجعلها نبوءة بالمسيح عليه السلام، فيقول: "كلمنا في هذه الأيام الأخيرة في ابنه الذي جعله وارثاً لكل شيء .. صائراً أعظم من الملائكة، بمقدار ما ورث اسماً أفضل منهم، لأنه لمن مِن الملائكة قال قط: أنت ابني، أنا اليوم ولدتك، وأيضاً أنا أكون له أباً، وهو يكون لي ابناً" (عبرانيين 1/ 5).
وقد اقتبس الكاتب العبارة الواردة في سفر صموئيل الثاني (7/ 14)، وجعلها نبوءة عن المسيح، ففيه: "أنا أكون له أباً، وهو يكون لي ابناً " فقد ظن كاتب أن هذه العبارة نبوءة عن المسيح عليه السلام، فنقلها في رسالته.
"তোমরা মসীহ সম্পর্কে কী ধারণা পোষণ করো? তিনি কার সন্তান?" তারা উত্তর দিল: "দাউদের সন্তান"। তখন তিনি তাদের ভুল সংশোধন করে বললেন: "দাউদ যদি তাঁকে 'প্রভু' বলে সম্বোধন করেন, তবে তিনি কীভাবে তাঁর সন্তান হতে পারেন!" সুতরাং আগত মসীহ সেই দাউদের বংশধরদের অন্তর্ভুক্ত নন, যাকে তিনি 'আমার প্রভু' বা 'আমার সায়্যিদ' বলে বর্ণনা করেছেন।
আর এটি সুবিদিত যে, মথি ও লূকের বর্ণনা অনুযায়ী—মসীহ নবী দাউদের বংশধর—এবং তাঁকে প্রায়শই "হে দাউদ-সন্তান" বলে সম্বোধন করা হতো (দেখুন: মথি ১/১, ৯/২৭ এবং লূক ১৯/৩৮)।
আর মার্কের বর্ণনায় এসেছে যে, মসীহ (আলাইহিস সালাম) বলেছেন: "ধর্মশাস্ত্রবিদগণ কীভাবে বলেন যে মসীহ দাউদের সন্তান? কারণ দাউদ স্বয়ং পবিত্র আত্মার অনুপ্রেরণায় বলেছিলেন: 'প্রভু আমার প্রভুকে বললেন: তুমি আমার ডান পাশে বসো, যতক্ষণ না আমি তোমার শত্রুদের তোমার পাদপীঠ করি।' সুতরাং দাউদ নিজেই যদি তাঁকে 'প্রভু' বলে ডাকেন, তবে তিনি কীভাবে তাঁর সন্তান হতে পারেন?" (মার্ক ১২:৩৭)।
লূকও একইভাবে উল্লেখ করেছেন, "তিনি তাদের বললেন: তারা কীভাবে বলে যে মসীহ দাউদের সন্তান? অথচ দাউদ নিজেই সামসঙ্গীতের কিতাবে বলেছেন: 'প্রভু আমার প্রভুকে বললেন: তুমি আমার ডান পাশে বসো, যতক্ষণ না আমি তোমার শত্রুদের তোমার পাদপীঠ করি।' অতএব, দাউদ যদি তাঁকে 'প্রভু' বলে সম্বোধন করেন, তবে তিনি কীভাবে তাঁর সন্তান হতে পারেন!" (লূক ২০: ৪০-৪৪)। এই স্পষ্ট বর্ণনা সত্ত্বেও খ্রিস্টানরা আজ পর্যন্ত দাবি করে আসছে যে, ঈসা মসীহ (আলাইহিস সালাম)-ই সেই ব্যক্তি যার সুসংবাদ দাউদ তাঁর ভবিষ্যদ্বাণীতে দিয়েছিলেন, অথচ একই সাথে তারা তাঁকে দাউদের সন্তানও বলে থাকে!
পৌল (অথবা সঠিকভাবে বললে ইব্রীয়দের কাছে লেখা পত্রের সেই অজ্ঞাত লেখক) দাউদের প্রতি তাঁর পুত্র সুলায়মান সম্পর্কে আল্লাহর দেওয়া সুসংবাদটিকে উদ্ধৃত করেছেন এবং সেটিকে মসীহ (আলাইহিস সালাম) সম্পর্কিত একটি ভবিষ্যদ্বাণী হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। তিনি বলেন: "এই শেষ দিনগুলোতে তিনি তাঁর পুত্রের মাধ্যমে আমাদের সাথে কথা বলেছেন, যাঁকে তিনি সবকিছুর উত্তরাধিকারী করেছেন... তিনি ফেরেশতাদের চেয়েও শ্রেষ্ঠ হয়েছেন, ঠিক যেমন তিনি তাদের চেয়েও এক শ্রেষ্ঠ নাম উত্তরাধিকার সূত্রে লাভ করেছেন। কারণ তিনি ফেরেশতাদের মধ্যে কাকে কখনো বলেছিলেন: তুমি আমার পুত্র, আজ আমি তোমার জন্ম দিয়েছি? এবং আরও: আমি তাঁর পিতা হব এবং তিনি আমার পুত্র হবেন?" (ইব্রীয় ১:৫)।
লেখক দ্বিতীয় শমূয়েল (৭:১৪) থেকে এই বাক্যটি গ্রহণ করেছেন এবং একে মসীহ সম্পর্কিত একটি ভবিষ্যদ্বাণী হিসেবে গণ্য করেছেন, যেখানে বলা হয়েছে: "আমি তাঁর পিতা হব এবং তিনি আমার পুত্র হবেন।" লেখক ধারণা করেছিলেন যে, এই বাক্যটি মসীহ (আলাইহিস সালাম) সম্পর্কে একটি ভবিষ্যদ্বাণী, তাই তিনি এটি তাঁর পত্রে উদ্ধৃত করেছেন।
(খণ্ড: ১)
হাল বাশশারাল কিতাবুল মুক্বদ্দাসু বি-মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২১)
إلا أن هذا الاقتباس غير صحيح، فالنص جاء في سياق الحديث إلى داود، فقد أمر الله النبي ناثان أن يقول لداود: "فهكذا تقول لعبدي داود
… متى كملت أيامك واضطجعت مع آبائك أقيم نسلك الذي يخرج من أحشائك، وأثبت مملكته، هو يبني بيتاً لاسمي، وأنا أثبت كرسي مملكته إلى الأبد، أنا أكون له أباً، وهو يكون لي ابناً، وإن تعوج أودبه بقضيب الناس وبضربات بني آدم
… كذلك كلم ناثان داود" (صموئيل (2) 7/ 8 - 17).
فالمتنبئ عنه يخرج من أحشاء داود، وليس من أحفاده، وهو يملك على بني إسرائيل بعد اضطجاع داود مع آبائه أي موته، وهو باني بيت الله، وهو متوعد بالعذاب إن مال عن دين الله، وكل هذا قد تحقق في سليمان كما تذكر التوراة.
إن أياً من تلك المواعيد لم يتحقق في المسيح عليه السلام، فهو عندهم إله لا يصح أن يتوعد بالعذاب من الله، لأنه لا يخطئ أصلاً، كما أنه لم يبن لله بيتاً، ولم يملك على بني إسرائيل يوماً واحداً، ولم يثبت كرسي مملكته، لأنه لا مملكة له أصلاً في هذا العالم، كما أخبر هو، فقال: "أجاب يسوع: مملكتي ليست من هذا العالم، لو كانت مملكتي من هذا العالم لكان خدامي يجاهدون لكي لا أسلّم إلى اليهود، ولكن الآن ليست مملكتي من هنا" (يوحنا 18/ 36).
كما وقد جاء في سفر أخبار الأيام الأول أن اسم صاحب النبوءة يكون سليمان، فقد قال لداود: "هوذا يولد لك ابن، يكون صاحب راحة، وأريحه من جميع أعدائه حواليه، لأن اسمه يكون سليمان، فأجعل سلاماً وسكينة في إسرائيل في أيامه، هو يبني بيتاً لاسمي، وهو يكون لي ابناً، وأنا له أباً، وأثبت كرسي ملكه على إسرائيل إلى الأبد" (الأيام (1) 22/ 9).
ومن تحريف الإنجيليين لنبوءات التوراة أو خطئهم في فهمها ما صنعه متى في
তবে এই উদ্ধৃতিটি সঠিক নয়; কেননা মূল পাঠটি দাঊদ (আ.)-এর সাথে কথোপকথনের প্রেক্ষাপটে এসেছে। আল্লাহ নবী নাথানকে দাঊদ (আ.)-এর উদ্দেশ্যে বলতে আদেশ করেন: "আমার দাস দাঊদকে এভাবে বলো
… যখন তোমার আয়ু পূর্ণ হবে এবং তুমি তোমার পিতৃপুরুষদের সাথে শায়িত হবে, তখন আমি তোমার পরে তোমারই ঔরসজাত তোমার এক বংশধরকে দাঁড় করাব এবং আমি তার রাজ্যকে সুপ্রতিষ্ঠিত করব। সে-ই আমার নামের উদ্দেশ্যে একটি গৃহ নির্মাণ করবে এবং আমি তার রাজসিংহাসনকে চিরকালের জন্য অটল রাখব। আমি হব তার পিতা এবং সে হবে আমার পুত্র; সে যদি অন্যায় করে তবে আমি তাকে মানুষের দণ্ড দিয়ে এবং আদম সন্তানদের প্রহার দিয়ে শাসন করব
… এভাবেই নাথান দাঊদের সাথে কথা বলেছিলেন" (২ শমূয়েল ৭/ ৮-১৭)।
সুতরাং যার সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছে, তিনি দাঊদ (আ.)-এর সরাসরি ঔরস থেকে জন্ম নেবেন, তাঁর পরবর্তী বংশধরদের থেকে নয়। তিনি দাঊদ (আ.)-এর তিরোধানের পর বনী ইসরায়েলের রাজত্ব করবেন, তিনিই আল্লাহর ঘর নির্মাণ করবেন এবং আল্লাহর দ্বীন থেকে বিচ্যুত হলে তাঁর প্রতি শাস্তির হুশিয়ারি রয়েছে। তৌরাতের বর্ণনা অনুযায়ী এর প্রতিটি বিষয় সুলায়মান (আ.)-এর ক্ষেত্রে বাস্তবায়িত হয়েছে।
সেই প্রতিশ্রুতিগুলোর কোনোটিই মসীহ (আ.)-এর ক্ষেত্রে পূর্ণ হয়নি। কারণ খ্রিস্টানদের নিকট তিনি ঈশ্বর, তাই তাঁর ক্ষেত্রে আল্লাহর পক্ষ থেকে শাস্তির ভীতি প্রদর্শন করা সংগত নয়; কেননা তাদের মতে তিনি একেবারেই নিষ্পাপ। তদুপরি তিনি আল্লাহর কোনো ঘর নির্মাণ করেননি এবং বনী ইসরায়েলের ওপর একদিনের জন্যও রাজত্ব করেননি। তাঁর রাজসিংহাসনও সুপ্রতিষ্ঠিত হয়নি, কারণ মূলত এই জগতে তাঁর কোনো রাজত্বই নেই। যেমনটি তিনি নিজেই জানিয়েছেন: "যিশু উত্তর দিলেন: আমার রাজ্য এই জগতের নয়; যদি আমার রাজ্য এই জগতের হতো, তবে আমার অনুসারীরা যুদ্ধ করত যেন আমাকে ইহুদিদের হাতে সোপর্দ করা না হয়; কিন্তু আমার রাজ্য এখান থেকে নয়" (যোহন ১৮/ ৩৬)।
একইভাবে প্রথম বংশাবলি পুস্তকেও উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই ভবিষ্যদ্বাণীর অধিকারী ব্যক্তির নাম হবে সুলায়মান। সেখানে দাঊদ (আ.)-কে বলা হয়েছে: "দেখো, তোমার একটি পুত্র জন্মাবে, সে হবে শান্তিকামী ব্যক্তি এবং আমি তাকে চারপাশের সকল শত্রু থেকে শান্তিতে রাখব; কারণ তার নাম হবে সুলায়মান। আমি তার দিনগুলোতে ইসরায়েলে শান্তি ও নিস্তব্ধতা বজায় রাখব। সে-ই আমার নামের উদ্দেশ্যে একটি গৃহ নির্মাণ করবে, সে হবে আমার পুত্র এবং আমি হব তার পিতা। আর আমি ইসরায়েলের ওপর তার রাজসিংহাসনকে চিরকালের জন্য সুপ্রতিষ্ঠিত করব" (১ বংশাবলি ২২/ ৯)।
তৌরাতের ভবিষ্যদ্বাণীর ক্ষেত্রে সুসমাচার লেখকদের বিকৃতি সাধন অথবা তা অনুধাবনের ক্ষেত্রে তাদের ভুলের একটি দৃষ্টান্ত হলো মথি যা করেছেন...
(খণ্ড: ১)
হাল বাশশারাল কিতাবুল মুক্বদ্দাসু বি-মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২২)
قوله عن المسيح وعودته من مصر إبان طفولته: " كان هناك إلى وفاة هيرودس، لكي يتم ما قيل من الرب بالنبي القائل: من مصر دعوتُ ابني " (متى 2/ 14 - 15)، فقد زعم أن ذلك يحقق النبوءة التوراتية التي في سفر هوشع (11/ 1 - 2).
لكن النص الذي في هوشع لا علاقة له بالمسيح، فالنص يتحدث عن عودة شعب إسرائيل من مصر مع موسى، والحديث في أصل السياق عن يعقوب، ثم ينتقل للحديث عن أبنائه وعودتهم من مصر ثم عبادتهم للأوثان بعد ذلك وإعراضهم عن دعوات الله لهم، فيقول: " لما كان إسرائيل غلاماً أحببته، ومن مصر دعوت ابني، كلما دعوا ولوا وجوههم، وذبحوا لبعاليم، وقربوا للأصنام" (هوشع 11/ 1 - 2).
فالنص لا علاقة له بالمسيح عليه السلام، فعبادة الأصنام التي يتحدث عنها النص حصلت قبل المسيح، ولا تنطبق على معاصري المسيح، لأن اليهود تابوا عن عبادة الأوثان قبل ميلاد المسيح بقرون، بعدما أطلقوا من أسر بابل، ثم لم يعودوا إليها بعد تلك التوبة كما هو معلوم في كتب التاريخ.
واستخدام هذه الصيغة (ابني) في شعب بني إسرائيل معهود في التوارة، فقد جاء فيها: "عندما تذهب لترجع إلى مصر
… فتقول لفرعون: هكذا يقول الرب: إسرائيل ابني البكر، قلت لك: أطلق ابني ليعبدني " (الخروج 4/ 21 - 23).
لقد عانى المسيح عليه السلام طويلاً من سوء فهم التلاميذ لكلامه، وإبان حياته صحح لهم مراراً الكثير من أخطائهم في فهم النبوءات، بل وسائر الكلام. لقد عجزوا عن فهم البسيط من كلامه، فأنى لهم أن يفهموا النبوءات؟
فذات مرة " أوصاهم قائلاً: انظروا وتحرزوا من خمير الفريسيين وخمير هيرودس، ففكروا قائلين بعضهم لبعض: ليس عندنا خبز. فعلم يسوع، وقال لهم: لماذا تفكرون أن ليس عندكم خبز؟ ألا تشعرون بعد ولا تفهمون؟ أحتى الآن قلوبكم غليظة؟ ألكم
মসীহ এবং তাঁর শৈশবে মিশর থেকে প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে তাঁর উক্তি: "হেরোদসের মৃত্যু পর্যন্ত তিনি সেখানে ছিলেন, যাতে ভাববাদীর মাধ্যমে প্রভুর বলা এই কথা পূর্ণ হয়: 'মিশর থেকে আমি আমার পুত্রকে আহ্বান করেছি' " (মথি ২: ১৪-১৫)। তিনি দাবি করেছেন যে, এটি হোশেয় (১১: ১-২) পুস্তকের তোরাতীয় ভবিষ্যদ্বাণীকে পূর্ণ করে।
কিন্তু হোশেয় পুস্তকের এই পাঠের সাথে মসীহের কোনো সম্পর্ক নেই। এই পাঠটি মূলত মূসার সাথে বনী ইসরাঈল জাতির মিশর থেকে প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে আলোকপাত করে। মূল প্রেক্ষাপটে ইয়াকুবের কথা আলোচিত হয়েছে, এরপর তাঁর সন্তানদের এবং তাদের মিশর থেকে প্রত্যাবর্তন, অতঃপর মূর্তিপূজায় লিপ্ত হওয়া এবং আল্লাহর আহ্বানে তাদের বিমুখতার কথা বর্ণিত হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে: "যখন ইসরাঈল বালক ছিল, তখন আমি তাকে ভালোবেসেছিলাম, এবং মিশর থেকে আমি আমার পুত্রকে আহ্বান করেছিলাম। তাদের যতই ডাকা হয়েছে, তারা ততই মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে; তারা বাল-দেবতাদের উদ্দেশ্যে পশু বলি দিয়েছে এবং প্রতিমার সামনে ধূপ জ্বালিয়েছে" (হোশেয় ১১: ১-২)।
সুতরাং এই পাঠের সাথে মসীহ আলাইহিস সালামের কোনো সম্পর্ক নেই। এখানে যে মূর্তিপূজার কথা বলা হয়েছে, তা মসীহের আগমনের পূর্বেই ঘটেছিল এবং এটি মসীহের সমসাময়িকদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। কারণ ইহুদিরা মসীহের জন্মের কয়েক শতাব্দী পূর্বেই মূর্তিপূজা থেকে তওবা করেছিল—ব্যাবিলনীয় বন্দিদশা থেকে মুক্তির পর—এবং ইতিহাসের গ্রন্থসমূহে যেমনটি সুপরিচিত, সেই তওবার পর তারা আর কখনো মূর্তিপূজায় ফিরে যায়নি।
আর বনী ইসরাঈল জাতির ক্ষেত্রে এই (আমার পুত্র) সম্বোধনটির ব্যবহার তোরাতে অত্যন্ত পরিচিত। এতে এসেছে: "যখন তুমি মিশরে ফিরে যাবে
… তখন তুমি ফিরআউনকে বলবে: প্রভু এরূপ বলেন: ইসরাঈল আমার জ্যেষ্ঠ পুত্র। আমি তোমাকে বলেছি: আমার পুত্রকে ছেড়ে দাও যেন সে আমার ইবাদত করতে পারে" (যাত্রাপুস্তক ৪: ২১-২৩)।
মসীহ আলাইহিস সালাম তাঁর শিষ্যদের পক্ষ থেকে তাঁর কথার ভুল ব্যাখ্যার কারণে দীর্ঘকাল কষ্ট ভোগ করেছেন। তাঁর জীবদ্দশায় তিনি ভবিষ্যদ্বাণী এবং অন্যান্য বক্তব্যের ক্ষেত্রে তাদের অসংখ্য ভুল বারবার সংশোধন করে দিয়েছেন। তারা যখন তাঁর সহজ কথাগুলোই বুঝতে অক্ষম ছিল, তখন তারা কীভাবে ভবিষ্যদ্বাণীগুলো অনুধাবন করবে?
একবার তিনি "তাদের সতর্ক করে বললেন: দেখ এবং ফরিশীদের তাড়ানি ও হেরোদসের তাড়ানি থেকে সাবধান থাক। তারা একে অপরের সাথে আলোচনা করে বলতে লাগল: আমাদের কাছে কোনো রুটি নেই। ঈসা তা বুঝতে পেরে তাদের বললেন: তোমাদের কাছে রুটি নেই বলে কেন আলোচনা করছ? তোমরা কি এখনো বুঝতে পারছ না বা অনুধাবন করছ না? তোমাদের অন্তর কি এখনো পাষাণ হয়ে আছে? তোমাদের কি..."
(খণ্ড: ১)
হাল বাশশারাল কিতাবুল মুক্বদ্দাসু বি-মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২৩)
أعين ولا تبصرون؟ ولكم آذان ولا تسمعون ولا تذكرون؟ " (مرقس 8/ 15 - 18)، كيف لا تفهمون أني ما عنيت الخبز الحقيقي بكلامي؟
وفي مرة أخرى كلمهم، فلم يفهموه " فقال كثيرون من تلاميذه إذ سمعوا: إن هذا الكلام صعب، من يقدر أن يسمعه؟ " (يوحنا 6/ 60).
لقد كانوا يسيئون فهم البسيط من كلامه، ثم يستنكفون عن سؤاله عما أعجم عليهم، من ذلك ما زعمه مرقس حين قال: "كان يعلّم تلاميذه ويقول لهم: إن ابن الإنسان يسلم إلى أيدي الناس، فيقتلونه، وبعد أن يقتل يقوم في اليوم الثالث، وأما هم فلم يفهموا القول، وخافوا أن يسألوه" (مرقس 9/ 31 - 32).
ويمتد سوء الفهم وغلظة الذهن في فهم كلام الناموس حتى إلى أولئك المتعلمين والصفوة من بني إسرائيل، فها هو نيقوديموس يسيء فهم كلام المسيح عليه السلام حين قال له: " الحق الحق أقول لك، إن كان أحد لا يولد من فوق، لا يقدر أن يرى ملكوت الله. قال له نيقوديموس: كيف يمكن الإنسان أن يولد وهو شيخ؟ ألعله يقدر أن يدخل بطن أمه ثانية ويولد؟ .. أجاب يسوع وقال له: أنت معلّم إسرائيل ولست تعلم هذا! " (يوحنا 3/ 3 - 10)، لم يفهم معنى الولادة الروحية الجديدة وظن أن الولادة من فوق تقتضي أن يدخل الرجل مرة أخرى في بطن أمه!
فلئن كان هذا حال معلم إسرائيل فماذا عساه يكون حال متى العشار أو يوحنا صياد السمك وبطرس، وهما تلميذان عاميان عديما العلم، كما شهد بذلك سفر أعمال الرسل " فلما رأوا مجاهرة بطرس ويوحنا، ووجدوا أنهما إنسانان عديما العلم وعاميان تعجبوا " (أعمال 4/ 13)، فإن تلاميذ المسيح جهال العالم كما أخبر بولس عن المسيح "يختار جهال العالم ليخزي الحكماء" (كورنثوس (1) 1/ 27).
وكثير من كلام المسيح عليه السلام وأفعاله لم يفهم التلاميذ - إبان حياة المسيح - صلته
চোখ থাকতেও কি তোমরা দেখতে পাচ্ছ না? কান থাকতেও কি তোমরা শুনতে পাচ্ছ না এবং স্মরণ করছ না?" (মার্ক ৮: ১৫-১৮), তোমরা কেন বুঝতে পারছ না যে আমি আমার কথার দ্বারা প্রকৃত রুটির কথা বোঝাতে চাইনি?
অন্য এক সময়ে তিনি তাদের সাথে কথা বললেন, কিন্তু তারা তা বুঝতে পারল না। "তাঁর শিষ্যদের মধ্যে অনেকেই তা শুনে বলল: 'এই কথাটি অত্যন্ত কঠিন, কে তা শুনতে পারে?'" (যোহন ৬: ৬০)।
তারা তাঁর সহজ কথাগুলোও ভুল বুঝত, অতঃপর যা তাদের কাছে অস্পষ্ট রয়ে যেত সে সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞাসা করতেও তারা কুণ্ঠাবোধ করত। মার্ক যা উল্লেখ করেছেন তা এর অন্তর্ভুক্ত, তিনি বলেছেন: "তিনি তাঁর শিষ্যদের শিক্ষা দিচ্ছিলেন এবং তাদের বলছিলেন: 'মনুষ্যপুত্রকে মানুষের হাতে সোপর্দ করা হবে এবং তারা তাঁকে হত্যা করবে, আর তাঁকে হত্যা করার পর তৃতীয় দিনে তিনি পুনরুত্থিত হবেন।' কিন্তু তারা এই কথাটি বুঝতে পারল না এবং তাঁকে জিজ্ঞাসা করতেও ভয় পেল।" (মার্ক ৯: ৩১-৩২)।
শরীয়তের বাণী অনুধাবনের ক্ষেত্রে এই ভুল বুঝাবুঝি ও বোধশক্তির স্থূলতা বনী ইসরাঈলের সেই শিক্ষিত ও অভিজাত শ্রেণী পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। এই তো নিকোদেমাস মসীহ আলাইহিস সালামের কথা ভুল বুঝেছিলেন যখন তিনি তাঁকে বলেছিলেন: "আমি তোমাকে সত্য সত্যই বলছি, যদি কেউ ওপর থেকে (নতুনভাবে) জন্মগ্রহণ না করে, তবে সে আল্লাহর রাজ্য দেখতে পাবে না। নিকোদেমাস তাঁকে বললেন: একজন মানুষ বৃদ্ধ হয়ে কীভাবে জন্মগ্রহণ করতে পারে? সে কি পুনরায় তার মায়ের গর্ভে প্রবেশ করে জন্ম নিতে পারে? ... ঈসা উত্তর দিয়ে তাঁকে বললেন: তুমি ইসরাঈলের শিক্ষক হয়েও কি এই বিষয়টি জানো না!" (যোহন ৩: ৩-১০)। তিনি নতুন আধ্যাত্মিক জন্মের অর্থ বুঝতে পারেননি এবং ধারণা করেছিলেন যে, ওপর থেকে জন্ম নেওয়ার অর্থ হলো কোনো পুরুষকে পুনরায় তার মায়ের গর্ভে প্রবেশ করতে হবে!
যদি 'ইসরাঈলের শিক্ষকের' এই অবস্থা হয়, তবে করগ্রাহী মথি কিংবা মৎস্যজীবী যোহন ও পিতরের অবস্থা কেমন হতে পারে? তারা দুজন ছিলেন অশিক্ষিত ও সাধারণ স্তরের শিষ্য, যেমনটি 'প্রেরিতদের কার্যাবলি' পুস্তকে সাক্ষ্য দেওয়া হয়েছে: "যখন তারা পিতর ও যোহনের সাহসিকতা দেখল এবং বুঝতে পারল যে তারা অশিক্ষিত ও সাধারণ মানুষ, তখন তারা বিস্মিত হলো।" (প্রেরিত ৪: ১৩)। মসীহ-এর শিষ্যগণ ছিলেন জাগতিক মূর্খদের অন্তর্ভুক্ত, যেমনটি পৌল মসীহ সম্পর্কে জানিয়েছেন: "জ্ঞানী লোকদের লজ্জিত করার জন্য তিনি জগতের মূর্খদেরই মনোনীত করেন।" (১ করিন্থীয় ১: ২৭)।
মসীহ আলাইহিস সালামের অনেক কথা ও কাজ এমন ছিল, যা তাঁর জীবদ্দশায় শিষ্যরা এর প্রকৃত তাৎপর্য বুঝতে পারেনি।
(খণ্ড: ১)
হাল বাশশারাল কিতাবুল মুক্বদ্দাসু বি-মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২৪)
بالنبوءات التوراتية، ثم ظنوا بعد رفعه أنه كان نبوءات عن المسيح "ووجد يسوع جحشاً، فجلس عليه كما هو مكتوب: لا تخافي يا ابنة صهيون، هوذا ملكك يأتي جالساً على جحش أتان، وهذه الأمور لم يفهمها تلاميذه أولاً، ولكن لما تمجد يسوع حينئذ تذكروا أن هذه كانت مكتوبة عنه، وأنهم صنعوا هذه له" (يوحنا 12/ 14 - 16). (1)
فقد غلب على كثير من بني إسرائيل لفرط شوقهم إلى المخلص الغالب المظفر، غلب على ظنهم أنه المسيح عيسى عليه السلام، "فكثيرون من الجمع لما سمعوا هذا الكلام قالوا: هذا بالحقيقة هو النبي، آخرون قالوا: هذا هو المسيح، وآخرون قالوا: ألعل المسيح من الجليل يأتي؟ ألم يقل الكتاب: إنه من نسل داود ومن بيت لحم القرية التي كان داود فيها يأتي المسيح؟ " (يوحنا 7/ 38 - 41).
فالجموع أيضاً على اختلاف ثقافاتها كانت تحاول البحث عن الخلاص من خلال المسيح عليه السلام "أما أنت يا بيت لحم أفراتة وأنت صغيرة أن تكوني بين ألوف يهوذا، فمنك يخرج لي، الذي يكون متسلطاً على إسرائيل، ومخارجه منذ القديم، منذ أيام الأزل، لذلك يسلّمهم إلي حينما تكون قد ولدت والدة، ثم ترجع بقية إخوته إلى بني إسرائيل، ويقف ويرعى بقدرة الرب بعظمة اسم الرب إلهه ويثبتون، لأنه الآن يتعظم إلى أقاصي الأرض، ويكون هذا سلاماً، إذا دخل أشور في أرضنا، وإذا داس في قصورنا نقيم عليه سبعة رعاة وثمانية من أمراء الناس، فيرعون أرض أشور بالسيف وأرض نمرود في أبوابها، فينقذ من أشور إذا دخل أرضنا وإذا داس تخومنا" (ميخا 5/ 2 - 6).
ومن المعلوم أن المسيح عليه السلام لم يحقق هذه النبوءة التي كانوا يريدون، فقد كانوا يبحثون عمن يملك عليهم وينتقم ويخلص شعبه من الأشوريين، ويحل السلام في
--------------------------------------------
তৌরাতের ভবিষ্যদ্বাণীসমূহ দ্বারা, অতঃপর তাঁর ঊর্ধ্বগমনের পর তারা ধারণা করল যে এগুলো মসীহ সম্পর্কিত ভবিষ্যদ্বাণী ছিল: "আর যিশু একটি গাধার শাবক পেয়ে তার উপরে বসলেন, যেমনটি লেখা আছে: হে সিয়োন-কন্যা, ভয় পেয়ো না; দেখো, তোমার রাজা গাধার শাবকের পিঠে চড়ে আসছেন। তাঁর শিষ্যরা প্রথমে এসব কথা বুঝতে পারেনি, কিন্তু যখন যিশু মহিমান্বিত হলেন, তখন তাদের মনে পড়ল যে তাঁর বিষয়ে এগুলি লেখা হয়েছিল এবং তারা তাঁর জন্য এসব করেছিল" (যোহন ১২/ ১৪-১৬)। (১)
বনী ইসরাঈলের অনেকের মধ্যেই বিজয়ী ও সফলকাম ত্রাণকর্তার প্রতি অত্যধিক আকাঙ্ক্ষার কারণে এই প্রবল ধারণা জন্ম নিয়েছিল যে, তিনিই হলেন মসীহ ঈসা (আ.)। "অতঃপর জনতাদের মধ্য থেকে অনেকেই যখন এই কথাগুলো শুনল, তখন তারা বলল: ইনিই প্রকৃতপক্ষে সেই নবী। অন্যেরা বলল: ইনিই মসীহ। আবার কেউ কেউ বলল: মসীহ কি গালীল থেকে আসবেন? কিতাব কি বলেনি যে: মসীহ দাউদের বংশ থেকে এবং দাউদ যে গ্রামে থাকতেন সেই বৈৎলেহম থেকেই আসবেন?" (যোহন ৭/ ৩৮-৪১)।
সুতরাং বিভিন্ন সংস্কৃতির জনসমষ্টিও মসীহ (আ.)-এর মাধ্যমে মুক্তি খোঁজার চেষ্টা করছিল: "হে বৈৎলেহম ইফ্রাথাহ্, যিহূদার সহস্রগণের মধ্যে গণ্য হওয়ার জন্য তুমি ক্ষুদ্র হলেও, তোমার মধ্য থেকেই আমার কাছে সেই জন বের হয়ে আসবে, যে ইসরাঈলের উপরে শাসনকর্তা হবে; তাঁর উৎপত্তি প্রাচীনকাল থেকে, অনাদিকাল থেকে। অতএব তিনি তাদের পরিত্যাগ করবেন ততক্ষণ পর্যন্ত, যতক্ষণ না প্রসবকারিণী প্রসব করেন; এরপর তাঁর অবশিষ্ট ভাইয়েরা বনী ইসরাঈলের কাছে ফিরে আসবে। তিনি দাঁড়াবেন এবং প্রভুর শক্তিতে, তাঁর ঈশ্বর প্রভুর নামের মহিমায় পালকের ন্যায় তত্ত্বাবধান করবেন; আর তারা নিরাপদে বাস করবে, কারণ তখন তিনি পৃথিবীর প্রান্ত পর্যন্ত মহিমান্বিত হবেন। আর ইনিই হবেন শান্তি। যখন অশূরীয়রা আমাদের দেশে প্রবেশ করবে এবং আমাদের প্রাসাদে পদার্পণ করবে, তখন আমরা তাদের বিরুদ্ধে সাতজন মেষপালক ও আটজন রাজপুত্রকে দাঁড় করাব। তারা তলোয়ার দিয়ে অশূর দেশ এবং নিমরোদের দেশের প্রবেশদ্বারসমূহ শাসন করবে। এভাবে তিনি আমাদের অশূরীয়দের হাত থেকে রক্ষা করবেন যখন তারা আমাদের দেশে প্রবেশ করবে এবং আমাদের সীমানায় পদার্পণ করবে" (মীখা ৫/ ২-৬)।
এটা সুপরিজ্ঞাত যে, মসীহ (আ.) সেই ভবিষ্যদ্বাণীটি পূরণ করেননি যা তারা প্রত্যাশা করেছিল। কারণ তারা এমন একজনকে খুঁজছিল যিনি তাদের ওপর রাজত্ব করবেন, প্রতিশোধ নেবেন এবং তাঁর জাতিকে অশূরীয়দের হাত থেকে রক্ষা করবেন, এবং সেই শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাল বাশশারাল কিতাবুল মুক্বদ্দাসু বি-মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২৫)
ربوع اليهود.
يقول بري عن المسيح عليه السلام فيما نقله عنه أحمد شلبي -: واستطاع بفصاحته أن يجذب له كثيراً من أتباعه (الذين هم في الأصل يهوداً ينتظرون المسيح)، وهم منحوه هذا اللقب.
لقد منحوه من عندياتهم ما لم يقله، كما سيمر معنا في حينه.
ইহুদি জনপদ।
বেরি মসীহ (আলাইহিস সালাম) সম্পর্কে বলেন—যা আহমদ শালবি তাঁর থেকে উদ্ধৃত করেছেন—: তিনি তাঁর বাগ্মিতার মাধ্যমে তাঁর অনেক অনুসারীকে আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছিলেন (যারা মূলত মসীহের অপেক্ষায় থাকা ইহুদি ছিল), এবং তারা তাঁকে এই উপাধি প্রদান করেছিল।
তারা নিজেদের পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি এমন বিষয় আরোপ করেছে যা তিনি বলেননি, যেমনটি যথাসময়ে আমাদের আলোচনায় আসবে।
(খণ্ড: ১)
হাল বাশশারাল কিতাবুল মুক্বদ্দাসু বি-মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২৭)
هل ادعى المسيح عيسى عليه السلام أنه المسيح المنتظر؟
وإذا كان كثيرون من معاصري المسيح ادعوا أن عيسى عليه السلام هو المسيا المنتظر، كما قالوا من قبل عن يوحنا المعمدان، فهل ادعى عيسى أو قال لتلاميذه أنه المنتظر، وهل حقق عليه السلام نبوءات المسيح المنتظر؟
ذات يوم سأل تلاميذه عما يقوله الناس عنه، ثم سألهم " فقال لهم: وأنتم من تقولون إني أنا؟ فأجاب بطرس وقال له: أنت المسيح، فانتهرهم كي لا يقولوا لأحد عنه، وابتدأ يعلّمهم أن ابن الإنسان ينبغي أن يتألم كثيراً، ويرفض من الشيوخ ورؤساء الكهنة والكتبة ويقتل" (مرقس 8/ 29 - 31)، لقد نهرهم ونهاهم أن يقولوا ذلك عنه، وأخبرهم بأنه سيتعرض للمؤامرة والقتل، وهي بلا ريب عكس ما يتوقع من المسيح الظافر. أي أنه أفهمهم أنه ليس هو المسيح المنتصر الذي تنتظرون، والذي يوقنون أن من صفاته الغلبة والظفر والديمومة، لا الألم والموت.
وفي رواية لوقا تأكيد ذلك "فأجاب بطرس وقال: مسيح الله، فانتهرهم، وأوصى أن لا يقولوا ذلك لأحد، قائلاً: إنه ينبغي أن ابن الإنسان يتألم" (لوقا 9/ 20 - 21)، وانتهاره التلاميذ ونهيهم عن إطلاق اللقب عليه ليس خوفاً من اليهود، فقد أخبر تلاميذه عن تحقق وقوع المؤامرة والألم، وعليه فلا فائدة من إنكار حقيقته لو كان هو المسيح المنتظر، لكنه منعهم لأن ما يقولونه ليس هو الحقيقة.
لكن بطرس كبير الحواريين رفض الإذعان لهذه الحقيقة، وهي أن المسيح هو العبد المتألم المتعرض للقتل، ليس الملك الظافر المنتظَر، فاندفع يؤنب المسيح على ما يسوقه من خبر عن نفسه، ولندع الكلام لمتى وهو ينقل لنا هذا المشهد بقوله: "ابتدأ يسوع يظهر لتلاميذه أنه ينبغي أن يذهب إلى أورشليم ويتألم كثيراً من الشيوخ ورؤساء الكهنة والكتبة، ويقتل، وفي اليوم الثالث يقوم، فأخذه بطرس إليه، وابتدأ ينتهره قائلاً:
মসীহ ঈসা (আলাইহিস সালাম) কি নিজেকে প্রতীক্ষিত মসীহ বলে দাবি করেছিলেন?মসীহের সমসাময়িকদের মধ্যে অনেকেই যদি দাবি করে থাকেন যে ঈসা (আলাইহিস সালাম)-ই সেই প্রতীক্ষিত মসীহ—যেমনটি তারা ইতিপূর্বে ইয়াহিয়া (আলাইহিস সালাম) সম্পর্কে বলেছিল—তবে ঈসা (আলাইহিস সালাম) কি নিজে বা তাঁর শিষ্যদের কাছে দাবি করেছিলেন যে তিনি প্রতীক্ষিত মসীহ? এবং তিনি কি প্রতীক্ষিত মসীহ সংক্রান্ত ভবিষ্যদ্বাণীগুলো পূরণ করেছিলেন?
একদিন তিনি তাঁর শিষ্যদের জিজ্ঞাসা করলেন যে, লোকেরা তাঁর সম্পর্কে কী বলে। তারপর তিনি তাঁদের প্রশ্ন করলেন: "তিনি তাঁদের বললেন: তোমরা কী বলো আমি কে? পিতর উত্তর দিয়ে তাঁকে বললেন: আপনিই সেই মসীহ। তখন তিনি তাঁদের ধমক দিলেন যেন তাঁরা এ কথা কাউকে না বলেন। এবং তিনি তাঁদের শিক্ষা দিতে লাগলেন যে, মনুষ্যপুত্রের অনেক কষ্ট পাওয়া, প্রাচীনবর্গ, প্রধান যাজক ও অধ্যাপকদের দ্বারা প্রত্যাখ্যাত হওয়া এবং নিহত হওয়া আবশ্যক।" (মার্ক ৮/ ২৯-৩১)। তিনি তাঁদের ধমক দিয়েছিলেন এবং তাঁর সম্পর্কে এ কথা বলতে নিষেধ করেছিলেন। তিনি তাঁদের জানিয়েছিলেন যে, তিনি ষড়যন্ত্র ও হত্যাকাণ্ডের শিকার হবেন, যা নিঃসন্দেহে সেই বিজয়ী মসীহের প্রত্যাশার সম্পূর্ণ বিপরীত। অর্থাৎ তিনি তাঁদের বুঝিয়েছিলেন যে, তিনি সেই বিজয়ী মসীহ নন যাঁর প্রতীক্ষায় তারা রয়েছে এবং যাঁর গুণাবলি হিসেবে তারা বিজয়, সাফল্য ও স্থায়িত্বের ব্যাপারে নিশ্চিত ছিল, যন্ত্রণা ও মৃত্যুর ব্যাপারে নয়।
লূক-এর বর্ণনায় এর সমর্থন পাওয়া যায়: "পিতর উত্তর দিয়ে বললেন: আল্লাহর মসীহ। তখন তিনি তাঁদের ধমক দিলেন এবং কাউকে এ কথা না বলার নির্দেশ দিয়ে বললেন: মনুষ্যপুত্রের অনেক কষ্ট পাওয়া আবশ্যক।" (লূক ৯/ ২০-২১)। শিষ্যদের ধমক দেওয়া এবং এই উপাধি গ্রহণে তাঁদের নিষেধ করার বিষয়টি ইহুদিদের ভয়ে ছিল না; কারণ তিনি তো তাঁর শিষ্যদের ষড়যন্ত্র ও কষ্টের নিশ্চিত বাস্তবায়ন সম্পর্কে জানিয়েই দিয়েছিলেন। সুতরাং তিনি যদি সত্যিই প্রতীক্ষিত মসীহ হতেন, তবে তাঁর প্রকৃত পরিচয় অস্বীকার করার কোনো প্রয়োজন ছিল না। বরং তিনি তাঁদের বারণ করেছিলেন কারণ তাঁরা যা বলছিল তা সত্য ছিল না।
কিন্তু প্রধান শিষ্য পিতর এই সত্যটি মেনে নিতে অস্বীকার করলেন যে, মসীহ হলেন একজন যন্ত্রণাক্লিষ্ট ও হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়া বান্দা, কোনো প্রতীক্ষিত বিজয়ী সম্রাট নন। তাই তিনি মসীহ তাঁর নিজের সম্পর্কে যা বলছিলেন তার জন্য তাঁকে তিরস্কার করতে উদ্যত হলেন। মথি এই দৃশ্যটি যেভাবে বর্ণনা করেছেন তা দেখা যাক: "যিশু তাঁর শিষ্যদের কাছে প্রকাশ করতে লাগলেন যে, তাঁর জেরুজালেমে যাওয়া এবং প্রাচীনবর্গ, প্রধান যাজক ও অধ্যাপকদের হাতে অনেক কষ্ট পাওয়া, নিহত হওয়া এবং তৃতীয় দিনে পুনরুত্থিত হওয়া আবশ্যক। তখন পিতর তাঁকে একপাশে নিয়ে গিয়ে ধমক দিতে শুরু করলেন এই বলে:"
(খণ্ড: ১)
হাল বাশশারাল কিতাবুল মুক্বদ্দাসু বি-মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২৮)
حاشاك يا رب، لا يكون لك هذا".
فواجهه المسيح بصرامة تناسب أهمية الموضوع الذي يحتج عليه "فالتفت وقال لبطرس: اذهب عني يا شيطان، أنت معثرة لي، لأنك لا تهتم بما لله، لكن بما للناس" (متى 16/ 21 - 23).
هذا الذهول الذي وقع لبطرس أصاب سائر التلاميذ، فقد سمعوه يقول: " وأنا إن ارتفعت عن الأرض أجذب إليّ الجميع، قال هذا مشيراً إلى أية ميتة كان مزمعاً أن يموت" فاندفعوا يعبرون عن استنكارهم لفكرة المسيح المتألم المقتول، وتساءلوا مستنكرين: هل كان المسيح يتحدث عن نفسه، "أجابه الجمع: نحن سمعنا من الناموس أن المسيح يبقى إلى الأبد، فكيف تقول أنت: إنه ينبغي أن يرتفع ابن الإنسان، من هو هذا ابن الإنسان؟! " (يوحنا 12/ 34)، لقد صدمتهم الحقيقة التي يصرح لهم بها المسيح، إنها تهدم كل أوهامهم عنه في أنه المسيا العظيم الظافر الذي طال انتظار اليهود إليه.
ويوافقنا القس الخضري في أن المسيح عليه السلام ليس المسيّا الظافر الذي ينتظره اليهود، لكنه المسيا الروحي، ثم يلفت أنظارنا "إلى حقيقة في غاية الأهمية، وهي أن يسوع كان يحاول جاهداً أن يخفي نفسه كمسيا عن الجماهير، لذلك عندما كان يلاحظ وجود بعض الثغرات التي من خلالها كان يمكن للجماهير أن تراه كمسيا؛ كان يسرع لإغلاقها". (1)
يقول الأب متى المسكين: "التلاميذ جمعوا من الأدلة في حياة المسيح ما يؤكد لهم أنه المسيا، ولكن كل مرة يحاولون أن يثيروا هذا الافتراض يمنعهم المسيح .. فإخفاء
--------------------------------------------
"হে প্রভু, আপনার এমনটা কখনোই না হোক!"
মসীহ বিষয়টির গুরুত্বের প্রতি লক্ষ্য রেখে অত্যন্ত কঠোরতার সাথে তাঁর মুখোমুখি হলেন; "তিনি ঘুরে পিতরকে লক্ষ্য করে বললেন: হে শয়তান, আমার সামনে থেকে দূর হও, তুমি আমার জন্য অন্তরায়; কারণ তোমার চিন্তা আল্লাহর বিষয়ের দিকে নয়, বরং মানুষের বিষয়ের দিকে।" (মথি ১৬/ ২১-২৩)।
পিতরের মধ্যে যে বিস্ময় ও কিংকর্তব্যবিমূঢ়তা দেখা দিয়েছিল, তা অন্য সকল শিষ্যদেরও গ্রাস করেছিল; কেননা তারা তাঁকে বলতে শুনেছিল: "আর আমি যদি পৃথিবী হতে উপরে উত্তোলিত হই, তবে সকলকে আমার দিকে আকর্ষণ করব। তিনি কেমন মৃত্যুবরণ করবেন, সেদিকে ইঙ্গিত করার জন্যই তিনি এ কথা বলেছিলেন।" ফলে তারা মসীহের কষ্টভোগ ও নিহত হওয়ার ধারণার ব্যাপারে তাদের তীব্র অস্বীকৃতি জানাতে শুরু করল এবং বিস্ময়ের সাথে প্রশ্ন তুলল: মসীহ কি নিজের সম্পর্কে কথা বলছিলেন? "জনতা তাঁকে উত্তর দিল: আমরা শরিয়ত থেকে শুনেছি যে মসীহ চিরকাল থাকবেন; তবে আপনি কেন বলছেন যে মানবপুত্রকে অবশ্যই উত্তোলিত হতে হবে? এই মানবপুত্র কে?!" (যোহন ১২/ ৩৪)। মসীহ তাদের কাছে যে সত্যটি প্রকাশ করেছিলেন তা তাদের স্তম্ভিত করে দিয়েছিল; কারণ এটি তাঁর সম্পর্কে তাদের সেই সমস্ত বিভ্রমকে ধূলিসাৎ করে দিয়েছিল যে, তিনি হবেন সেই মহান ও বিজয়ী মসীহ, যার অপেক্ষায় ইহুদিরা দীর্ঘকাল ধরে উন্মুখ হয়ে রয়েছে।
পাদ্রী আল-খুদারি আমাদের সাথে একমত পোষণ করেন যে, মসীহ (আ.) সেই বিজয়ী মসীহ নন যার অপেক্ষায় ইহুদিরা বসে আছে, বরং তিনি হলেন আধ্যাত্মিক মসীহ। এরপর তিনি আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন "একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সত্যের প্রতি, তা হলো যিশু জনগণের কাছে নিজেকে মসীহ হিসেবে গোপন রাখার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছিলেন। তাই যখনই তিনি দেখতেন যে এমন কোনো ছিদ্রপথ তৈরি হয়েছে যার মাধ্যমে জনগণ তাঁকে মসীহ হিসেবে দেখতে পারে, তখনই তিনি দ্রুত তা বন্ধ করে দিতেন।" (১)
ফাদার মাত্তা আল-মিসকিন বলেন: "শিষ্যরা মসীহের জীবনে এমন অনেক প্রমাণ সংগ্রহ করেছিলেন যা তাদের কাছে নিশ্চিত করছিল যে তিনিই মসীহ, কিন্তু প্রতিবারই তারা যখন এই ধারণাটি উত্থাপন করার চেষ্টা করতেন, মসীহ তাদের বাধা দিতেন... সুতরাং নিজেকে গোপন রাখা..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাল বাশশারাল কিতাবুল মুক্বদ্দাসু বি-মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২৯)
المسيح لمسيانيته أرهق العلماء للغاية، وقالوا فيه ما قالوا". (1)
وهو عليه السلام حرص على نفي كونه المسيا مرة بعد مرة "فلما رأى الناس الآية التي صنعها يسوع قالوا: إن هذا هو بالحقيقة النبي الآتي إلى العالم، وأما يسوع فإذ علم أنهم مزمعون أن يأتوا ويختطفوه ليجعلوه ملكاً انصرف أيضاً إلى الجبل وحده" (يوحنا 6/ 14 - 15). لماذا هرب؟ لأنه ليس الملك المنتظر، وهم مصرون على تمليكه لما يرونه من معجزاته عليه السلام، ولما يجدونه في أنفسهم من شوق وأمل بالخلاص من ظلم الرومان.
يقول القس الخضري: "إن جماعة الغيورين كانت تنتظر المسِيّا السياسي، وعندما رأت يسوع الذي يعظ بملكوت الله القريب؛ ظنت أنه هو فعلاً ذلك المسيا السياسي، ولذلك أرادت أن تختطفه، وتنصبه ملكاً على حزب الغيورين، لكي يكون زعيماً لهم، فيجمع شملهم ويدعم صفوفهم، ولكن المسيا يسوع ينصرف وحده إلى الجبل، لأن ملكوته ليس من هذا العالم، ولا يريد هذا الملك الذي يتقاتل ويتحارب عليه الناس". (2)
وذات مرة قال فيلبس لصديقه نثنائيل: "وجدنا الذي كتب عنه موسى في الناموس والأنبياء يسوع ابن يوسف الذي من الناصرة".
فجاء نثنائيل إلى المسيح عليه السلام وسأله " وقال له: يا معلّم أنت ابن الله؟ أنت ملك إسرائيل؟ أجاب يسوع وقال له: هل آمنت لأني قلت لك: إني رأيتك تحت التينة، سوف ترى أعظم من هذا" (يوحنا 1/ 45 - 50)، فقد أجابه بسؤال، وأعلمه أنه سيرى المزيد من المعجزات، ولم يصرح له أنه الملك المنتظر.
وفي بلاط بيلاطس نفى أن يكون الملك المنتظر لليهود، كما زعموا وأشاعوا
--------------------------------------------
মসীহ তাঁর মসীহত্বের কারণে আলেমদের চরম পরিশ্রান্ত করেছেন এবং তাঁরা তাঁর সম্পর্কে যা বলার তা বলেছেন।" (১)
এবং তিনি (আলাইহিস সালাম) বারবার তাঁর মসীহ হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করার ব্যাপারে সচেষ্ট ছিলেন: "যখন মানুষেরা ঈসার কৃত অলৌকিক চিহ্ন দেখল, তখন তারা বলল: 'প্রকৃতপক্ষে তিনিই সেই নবী যিনি পৃথিবীতে আসছেন।' কিন্তু ঈসা যখন বুঝলেন যে তারা এসে তাঁকে জোরপূর্বক রাজা বানানোর জন্য নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা করছে, তখন তিনি আবার একাকী পাহাড়ে চলে গেলেন" (যোহন ৬/ ১৪-১৫)। তিনি কেন পালিয়ে গেলেন? কারণ তিনি সেই প্রতীক্ষিত রাজা নন, অথচ তাঁর অলৌকিক মুজিজা দেখে এবং রোমানদের জুলুম থেকে মুক্তির তীব্র আকাঙ্ক্ষা ও আশায় তারা তাঁকে রাজা বানানোর জন্য জিদ করছিল।
পাদ্রী আল-খুদরি বলেন: "উগ্রপন্থীদের (জিলট) দলটি একজন রাজনৈতিক মসীহের অপেক্ষায় ছিল; আর যখন তারা ঈসাকে দেখল যে তিনি আল্লাহর নিকটবর্তী রাজ্যের দাওয়াত দিচ্ছেন, তখন তারা ভেবে নিল যে তিনিই প্রকৃতপক্ষে সেই রাজনৈতিক মসীহ। তাই তারা তাঁকে ছিনিয়ে নিতে চেয়েছিল এবং উগ্রপন্থীদের দলের রাজা হিসেবে মনোনীত করতে চেয়েছিল যাতে তিনি তাদের নেতা হয়ে তাদের ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী করতে পারেন। কিন্তু মসীহ ঈসা একাকী পাহাড়ে চলে যান, কারণ তাঁর রাজত্ব এই জগতের নয়, এবং তিনি এমন রাজত্ব চান না যা নিয়ে মানুষ লড়াই ও যুদ্ধ-বিগ্রহে লিপ্ত হয়।" (২)
একবার ফিলিপ তাঁর বন্ধু নাথানিয়েলকে বললেন: "মূসা শরীয়তে এবং নবীরা যাঁর সম্পর্কে লিখেছেন আমরা তাঁকে খুঁজে পেয়েছি; তিনি হলেন নাসরতের ইউসুফের পুত্র ঈসা।"
তখন নাথানিয়েল মসীহ (আলাইহিস সালাম)-এর কাছে আসলেন এবং তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন: "এবং তাঁকে বললেন: হে শিক্ষক, আপনি কি আল্লাহর পুত্র? আপনি কি ইসরায়েলের রাজা? ঈসা উত্তরে তাঁকে বললেন: আমি তোমাকে ডুমুর গাছের নিচে দেখেছি—একথা বলেছি বলেই কি তুমি বিশ্বাস করলে? তুমি এর চেয়েও বড় বড় বিষয় দেখতে পাবে" (যোহন ১/ ৪৫-৫০)। তিনি তাঁকে একটি প্রশ্নের মাধ্যমে উত্তর দিলেন এবং তাঁকে জানালেন যে তিনি আরও অলৌকিক বিষয় দেখতে পাবেন, কিন্তু তিনি তাঁর কাছে সরাসরি প্রকাশ করেননি যে তিনি সেই প্রতীক্ষিত রাজা।
এবং পীলাতের আদালতে তিনি ইহুদীদের প্রতীক্ষিত রাজা হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন, যা তারা দাবি ও প্রচার করেছিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাল বাশশারাল কিতাবুল মুক্বদ্দাসু বি-মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৩০)
"أجاب يسوع: مملكتي ليست من هذا العالم، لو كانت مملكتي من هذا العالم لكان خدامي يجاهدون لكي لا أسلّم إلى اليهود، ولكن الآن ليست مملكتي من هنا" (يوحنا 18/ 36)، فمملكته روحانية، في الجنة، وليست مملكة اليهود المنتظرة، المملكة الزمانية المادية، التي يخشاها الرومان، و"المعروف من النبوات أن مسِيا سيكون ملكاً وكاهناً". (1)
لذلك ثبتت براءته من هذه التهمة في بلاط بيلاطس الذي سأله قائلاً ": أنت ملك اليهود؟ فأجابه وقال: أنت تقول، فقال بيلاطس لرؤساء الكهنة والجموع: إني لا أجد علّة في هذا الإنسان" (لوقا 23/ 2 - 4)، فجواب المسيح لا يمكن اعتباره بحال من الأحوال إقراراً، فهو يقول له: أنت الذي تقول ذلك، ولست أنا، وقد اقتنع بيلاطس ببراءته فقال: " أنا لست أجد فيه علة واحدة" (يوحنا 18/ 38).
وفي إنجيل يوحنا أن المسيح بيّن لبيلاطس أن سبب إرساليته الشهادة للحق وليس التملك على البشر، فقد قال: " أنت تقول: إني ملك، لهذا قد ولدت أنا، ولهذا قد أتيت إلى العالم، لأشهد للحق، كل من هو من الحق يسمع صوتي" (يوحنا 18/ 37).
وممن أدرك أن عيسى عليه السلام ليس المسيح المنتظر يهوذا الأسخريوطي الذي يرى القس الخضري أن سبب خيانته للمسيح أنه كان من طائفة الغيورين التي تحلم بمجيء المسيا القادم الظافر، فتبددت آماله، وساورته شكوك في مسيانية المسيح " بعد أن سمع في كفر ناحوم عظة السيد عن خبز الحياة الذي سيكون طعاماً للآخرين، فكيف يمكن أن يكون المسيا ذبيحة، ونحن نريد مسيا عسكرياً قوياً يحرر من العدو؟ ولقد ازدادت شكوكه في مسيانية يسوع عندما سمعه يأمر بطرس بدفع الجزية للمستعمر
--------------------------------------------
যিশু উত্তর দিলেন: "আমার রাজ্য এই জগতের নয়। আমার রাজ্য যদি এই জগতের হতো, তবে আমার সেবকরা লড়াই করত যেন আমাকে ইহুদিদের হাতে সোপর্দ করা না হয়। কিন্তু এখন আমার রাজ্য এখানকার নয়" (যোহন ১৮/ ৩৬)। সুতরাং তাঁর রাজ্য হলো আধ্যাত্মিক, জান্নাতে; তা ইহুদিদের প্রত্যাশিত সেই জাগতিক ও পার্থিব রাজ্য নয় যা রোমানরা ভয় করত। এবং "ভবিষ্যদ্বাণীগুলো থেকে এটি সুপরিচিত যে, মসিহ একজন রাজা ও যাজক হবেন।" (১)
এ কারণে পীলাতের আদালতে এই অভিযোগ থেকে তাঁর নির্দোষিতা প্রমাণিত হয়েছিল, যিনি তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন: "তুমি কি ইহুদিদের রাজা?" তিনি উত্তরে তাকে বললেন: "আপনিই বলছেন।" তখন পীলাত প্রধান যাজক ও জনতাকে বললেন: "আমি এই লোকটির মধ্যে কোনো দোষ খুঁজে পাচ্ছি না" (লূক ২৩/ ২-৪)। মসিহের এই উত্তরকে কোনোভাবেই স্বীকৃতি হিসেবে গণ্য করা যায় না; কারণ তিনি তাকে বলছেন: আপনিই তা বলছেন, আমি নই। পীলাত তাঁর নির্দোষিতার ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েছিলেন এবং বলেছিলেন: "আমি তাঁর মধ্যে কোনো একটি দোষও খুঁজে পাচ্ছি না" (যোহন ১৮/ ৩৮)।
যোহনের সুসমাচারে বর্ণিত হয়েছে যে, মসিহ পীলাতের কাছে স্পষ্ট করেছিলেন যে তাঁর প্রেরিত হওয়ার উদ্দেশ্য হলো সত্যের সাক্ষ্য দেওয়া, মানুষের ওপর রাজত্ব করা নয়। তিনি বলেছিলেন: "আপনি বলছেন যে আমি একজন রাজা। এই উদ্দেশ্যেই আমার জন্ম এবং এই কারণেই আমি পৃথিবীতে এসেছি, যেন সত্যের সাক্ষ্য দিই। যারা সত্যের অনুসারী, তারা আমার কথা শোনে" (যোহন ১৮/ ৩৭)।
যারা অনুধাবন করেছিলেন যে ঈসা (আলাইহিস সালাম) সেই প্রত্যাশিত মসিহ নন, তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন যিহূদা ঈষ্করিয়োতীয়। যাজক আল-খুদরি মনে করেন যে, মসিহের সাথে তার বিশ্বাসঘাতকতার কারণ ছিল এই যে, তিনি সেই 'জিলট' (ধর্মান্ধ/ক্যানানীয়) গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যারা একজন বিজয়ী মসিহের আগমনের স্বপ্ন দেখত। ফলে তার আশা ধূলিসাৎ হয়ে যায় এবং মসিহের মসিহত্ব সম্পর্কে তার মনে সন্দেহের উদ্রেক হয়, "যখন তিনি কফরনাহূমে 'জীবনের রুটি' সম্পর্কে প্রভুর সেই ভাষণ শুনলেন যা অন্যদের জন্য খাদ্য হবে। মসিহ কীভাবে একটি উৎসর্গ হতে পারেন, যেখানে আমরা একজন শক্তিশালী সামরিক মসিহ চাই যিনি শত্রুর হাত থেকে মুক্ত করবেন?" যিশুর মসিহত্ব সম্পর্কে তার সন্দেহ আরও বৃদ্ধি পায় যখন তিনি তাঁকে পিতরকে দখলদার বাহিনীকে কর প্রদানের নির্দেশ দিতে শুনলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাল বাশশারাল কিতাবুল মুক্বদ্দাসু বি-মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৩১)
(متى 17/ 24 - 27) ". (1)
وثمة آخرون أدركوا أنه ليس المسيح المنتظر مستدلين بمعرفتهم بأصل المسيح عيسى ونسبه وقومه، بينما المنتظر القادم غريب لا يعرفه اليهود "قال قوم من أهل أورشليم: أليس هذا هو الذي يطلبون أن يقتلوه، وها هو يتكلم جهاراً، ولا يقولون له شيئاً، ألعل الرؤساء عرفوا يقيناً أن هذا هو المسيح حقاً؟ ولكن هذا نعلم من أين هو، وأما المسيح فمتى جاء لا يعرف أحد من أين هو" (يوحنا 7/ 25 - 27)، ذلك أن المسيح القادم غريب عن بني إسرائيل.
وقد أكد المسيح صدق العلامة التي ذكروها للمسيح الغائب، فقال في نفس السياق: "فنادى يسوع وهو يعلّم في الهيكل قائلاً: تعرفونني، وتعرفون من أين أنا، ومن نفسي لم آت، بل الذي أرسلني هو حق، الذي أنتم لستم تعرفونه، أنا أعرفه لأني منه وهو أرسلني
… فآمن به كثيرون من الجمع، وقالوا: ألعل المسيح متى جاء يعمل آيات أكثر من هذه التي عملها هذا! " (يوحنا 7/ 25 - 31)، فذكر المسيح أنه رسول من عند الله، وأنه ليس الذي ينتظرونه، فذاك لا يعرفونه.
وقد آمن به الذين كلمهم، وفهم من المؤمنون أنه ليس المسيح المنتظر، فتأمل قول يوحنا: "فآمن به كثيرون من الجمع، وقالوا: ألعل المسيح متى جاء يعمل آيات أكثر من هذه التي عملها هذا؟ " (يوحنا 7/ 30 - 31).
وعيسى عليه السلام هو ابن داود كما في نسبه الذي ذكره متى ولوقا، وقد دعي مراراً " يا يسوع ابن داود" (مرقس 10/ 47)، (وانظر متى 1/ 1، 20/ 31، ولوقا 18/ 28، وغيرها).
--------------------------------------------
(মথি ১৭/ ২৪ - ২৭)। (১)
আরও অনেকে উপলব্ধি করেছিলেন যে, তিনি সেই প্রতীক্ষিত মসীহ নন; তারা ঈসা মসীহের উৎস, বংশপরিচয় এবং তাঁর কওম সম্পর্কে তাদের জ্ঞানের মাধ্যমে এই প্রমাণ পেয়েছিলেন। অপরদিকে, আগত প্রতীক্ষিত মসীহ হবেন একজন অপরিচিত আগন্তুক, যাকে ইহুদিরা চিনবে না। "জেরুজালেমের অধিবাসীদের কেউ কেউ বলল: ইনি কি সেই ব্যক্তি নন যাকে তারা হত্যা করতে চাইছে? আর দেখ, তিনি প্রকাশ্যে কথা বলছেন, অথচ তারা তাঁকে কিছুই বলছে না; তবে কি শাসকরা নিশ্চিতভাবে জেনেছেন যে ইনিই প্রকৃত মসীহ? কিন্তু আমরা জানি এই ব্যক্তি কোথা থেকে এসেছেন; আর মসীহ যখন আসবেন তখন তিনি কোথা থেকে এসেছেন তা কেউ জানবে না" (যোহন ৭/ ২৫ - ২৭)। এর কারণ হলো, আগত মসীহ বনী ইসরায়েলের কাছে অপরিচিত হবেন।
মসীহ (ঈসা) অনুপস্থিত মসীহের ব্যাপারে তারা যে চিহ্নের কথা উল্লেখ করেছিল তার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি একই প্রসঙ্গে বললেন: "ঈসা যখন মন্দিরে শিক্ষা দিচ্ছিলেন তখন উচ্চস্বরে বললেন: তোমরা আমাকে চেনো এবং আমি কোথা থেকে এসেছি তাও জানো। আমি নিজে থেকে আসিনি, বরং যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন তিনি সত্য, যাঁকে তোমরা চেনো না। আমি তাঁকে জানি কারণ আমি তাঁর নিকট থেকে এসেছি এবং তিনিই আমাকে পাঠিয়েছেন
… তখন জনমণ্ডলীর মধ্য থেকে অনেকে তাঁর ওপর ঈমান আনল এবং তারা বলল: মসীহ যখন আসবেন, তিনি কি এই ব্যক্তির প্রদর্শিত নিদর্শনের চেয়েও অধিক অলৌকিক নিদর্শন দেখাবেন?" (যোহন ৭/ ২৫ - ৩১)। এখানে মসীহ উল্লেখ করেছেন যে তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত একজন রাসূল এবং তিনি সেই ব্যক্তি নন যার প্রতীক্ষা তারা করছে, কারণ সেই প্রতীক্ষিত ব্যক্তিকে তারা চেনে না।
যাদের সাথে তিনি কথা বলেছিলেন তারা তাঁর ওপর বিশ্বাস স্থাপন করেছিলেন এবং মুমিনরা বুঝতে পেরেছিলেন যে তিনি সেই প্রতীক্ষিত মসীহ নন। যোহনের বক্তব্যটি লক্ষ্য করুন: "জনমণ্ডলীর মধ্য থেকে অনেকে তাঁর ওপর ঈমান আনল এবং তারা বলল: মসীহ যখন আসবেন, তিনি কি এই ব্যক্তির প্রদর্শিত নিদর্শনের চেয়েও অধিক অলৌকিক নিদর্শন দেখাবেন?" (যোহন ৭/ ৩০ - ৩১)।
আর ঈসা আলাইহিস সালাম হলেন দাউদ (আ.)-এর বংশধর, যেমনটি মথি ও লূক বর্ণিত তাঁর বংশতালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁকে বারবার "হে ঈসা, দাউদ-সন্তান" বলে সম্বোধন করা হয়েছে (মার্ক ১০/ ৪৭), (আরও দেখুন মথি ১/ ১, ২০/ ৩১, লূক ১৮/ ২৮ ইত্যাদি)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাল বাশশারাল কিতাবুল মুক্বদ্দাসু বি-মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৩২)
أما المسيح المنتظر، الملك القادم فليس من ذرية داود، كما شهد المسيح بذلك "فيما كان الفريسيون مجتمعين سألهم يسوع قائلاً: ماذا تظنون في المسيح، ابن من هو؟ قالوا له: ابن داود، قال لهم: فكيف يدعوه داود بالروح رباً قائلاً: قال الرب لربي: اجلس عن يميني حتى أضع أعداءك موطئاً لقدميك؟ فإن كان داود يدعوه رباً فكيف يكون ابنه؟ فلم يستطع أحد أن يجيبه بكلمة، ومن ذلك اليوم لم يجسر أحد أن يسأله بتة" (متى 22/ 41 - 46)، فالمسيح عليه السلام يشهد بصراحة أنه ليس المسيح المنتظر.
والمسيح عليه السلام لا يمكن أن يحقق النبوءات المبشرة بالملك العظيم القادم، ولا يمكن أن يصبح ملكاً على كرسي داود وغيره، لأنه من ذرية الملك الفاسق يهوياقيم بن يوشيا، أحد أجداد المسيح كما في سفر الأيام الأول " بنو يوشيا: البكر يوحانان، الثاني يهوياقيم، الثالث صدقيا، الرابع شلّوم. وابنا يهوياقيم: يكنيا ابنه، وصدقيا ابنه" (الأيام (1) 3/ 14 - 15)، فيهوياقيم جد للمسيح (حسب روايات الكتاب المقدس)، واسم يهوياقيم أسقطه متى من نسبه المزعوم للمسيح، بين يوشيا وحفيده يكنيا.
وقد حرم الله الملك على ذريته كما ذكرت التوراة " قال الرب عن يهوياقيم ملك يهوذا: لا يكون له جالس على كرسي داود، وتكون جثته مطروحة للحر نهاراً وللبرد ليلاً
… " (إرميا 36/ 30)، فكيف يقول النصارى - الذين يزعمون أن المسيح من ذرية يكينيا ابن الفاسق يهوياقيم - بأن الذي سيملك ويحقق النبوءات هو المسيح؟!
ثم إن التأمل في سيرة المسيح عليه السلام وأقواله وأحواله يمنع أن يكون هو الملك القادم، الملك المنتظر، فالمسيح لم يملك على بني إسرائيل يوماً واحداً، وما حملت رسالته أي خلاص دنيوي لبني إسرائيل، كذاك النبي الذي ينتظرونه، بل كثيراً ما هرب المسيح خوفاً من بطش اليهود، فأين هو من الملك الظافر الذي يوطِئه الله هامات أعدائه، وتدين الأرض له ولأمته.
পক্ষান্তরে প্রত্যাশিত মসীহ্ তথা আগত সম্রাট দাউদের বংশধর নন, যেমনটি মসীহ্ নিজেই সাক্ষ্য দিয়েছেন: "যখন ফরীশীরা একত্রিত হয়েছিল, তখন ঈসা তাদের জিজ্ঞাসা করলেন: মসীহ্ সম্পর্কে তোমাদের ধারণা কী? তিনি কার সন্তান? তারা তাঁকে বলল: দাউদের সন্তান। তিনি তাদের বললেন: তবে দাউদ রূহানিভাবে তাঁকে কীভাবে প্রভু বলে সম্বোধন করেছেন যখন তিনি বলেছিলেন: 'প্রভু আমার প্রভুকে বললেন: আমার ডানপাশে বসো, যে পর্যন্ত না আমি তোমার শত্রুদের তোমার পদতলে রাখি?' দাউদ যদি তাঁকে প্রভু বলে ডাকেন, তবে তিনি কীভাবে তাঁর সন্তান হতে পারেন? কেউ তাঁকে একটি শব্দ দিয়েও উত্তর দিতে পারল না এবং সেদিন থেকে আর কেউ তাঁকে কোনো প্রশ্ন করার সাহস করল না।" (মথি ২২: ৪১-৪৬)। সুতরাং মসীহ্ (আ.) স্পষ্টভাবে সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, তিনি সেই প্রত্যাশিত মসীহ্ নন।
আর মসীহ্ (আ.)-এর পক্ষে আগত মহান সম্রাট সম্পর্কিত সুসংবাদবাহী ভবিষ্যদ্বাণীগুলো পূর্ণ করা সম্ভব নয় এবং তিনি দাউদ বা অন্য কারও সিংহাসনে রাজা হতে পারেন না; কারণ তিনি পাপাচারী রাজা যিহোয়াকীম বিন ইউশিয়ার বংশধর, যিনি বাইবেলের বংশাবলির প্রথম পুস্তক অনুযায়ী মসীহ্-এর অন্যতম পূর্বপুরুষ: "ইউশিয়ার পুত্রগণ: প্রথম যোহানন, দ্বিতীয় যিহোয়াকীম, তৃতীয় সিদিকিয়, চতুর্থ শল্লূম। আর যিহোয়াকীমের পুত্রগণ: তাঁর পুত্র যিকনিয় এবং তাঁর পুত্র সিদিকিয়।" (১ বংশাবলি ৩: ১৪-১৫)। সুতরাং যিহোয়াকীম হলেন মসীহ্-এর একজন পূর্বপুরুষ (বাইবেলের বর্ণনা অনুযায়ী), আর মথি ইউশিয়া এবং তাঁর পৌত্র যিকনিয়ের মাঝখান থেকে যিহোয়াকীমের নাম তাঁর দাবিকৃত মসীহ্-এর বংশতালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন।
অথচ আল্লাহ তাআলা তাঁর বংশধরদের জন্য রাজত্ব নিষিদ্ধ করেছেন, যেমনটি তাওরাতে বর্ণিত হয়েছে: "যিহূদার রাজা যিহোয়াকীম সম্পর্কে প্রভু বলেন: দাউদের সিংহাসনে বসার মতো তাঁর কেউ থাকবে না এবং তাঁর মৃতদেহ দিনের তাপে এবং রাতের ঠান্ডায় পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকবে
… " (যিরমিয় ৩৬: ৩০)। এমতাবস্থায় খ্রিস্টানরা—যারা দাবি করে যে মসীহ্ পাপাচারী যিহোয়াকীমের পুত্র যিকনিয়ের বংশধর—কীভাবে বলে যে, মসীহ্-ই রাজত্ব করবেন এবং ভবিষ্যদ্বাণীগুলো পূর্ণ করবেন?!
অধিকন্তু, মসীহ্ (আ.)-এর জীবনী, তাঁর বাণী এবং জীবনকাল নিয়ে চিন্তা করলে দেখা যায় যে, তাঁর পক্ষে আগত সম্রাট বা প্রত্যাশিত রাজা হওয়া অসম্ভব। কেননা মসীহ্ ইসরাঈল সন্তানদের ওপর একদিনের জন্যও রাজত্ব করেননি এবং তাঁর রিসালাত বনী ইসরাঈলের জন্য সেই নবীর মতো কোনো পার্থিব মুক্তি আনেনি যার প্রতীক্ষায় তারা ছিল। বরং মসীহ্ প্রায়শই ইহুদিদের নিপীড়ন থেকে বাঁচতে পলায়ন করতেন; সুতরাং সেই বিজয়ী সম্রাটের সাথে তাঁর তুলনা কোথায়, যাঁর পদতলে আল্লাহ শত্রুদের মস্তক লুটিয়ে দেবেন এবং পৃথিবী যাঁর ও যাঁর উম্মতের আনুগত্য স্বীকার করবে!
(খণ্ড: ১)
হাল বাশশারাল কিতাবুল মুক্বদ্দাসু বি-মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
فالنبي الآتي يسحق ملوك وشعوب زمانه كما أخبر يعقوب "يأتي شيلون، وله يكون خضوع شعوب" (التكوين 49/ 10)، وقال عنه داود: "تقلد سيفك على فخذك أيها الجبار، جلالك وبهاءك، وبجلالك اقتحم. اركب من أجل الحق والدعة والبر، فتريك يمينك مخاوف، نبلك المسنونة في قلب أعداء الملك، شعوب تحتك يسقطون. كرسيك يا الله إلى دهر الدهور، قضيب استقامة قضيب ملكك " (المزمور 45/ 1 - 6).
أما المسيح عيسى عليه السلام فكان يدفع الجزية للرومان "ولما جاءوا إلى كفر ناحوم تقدم الذين يأخذون الدرهمين إلى بطرس وقالوا: أما يوفي معلمكم الدرهمين؟ قال: بلى، فلما دخل البيت سبقه يسوع قائلاً: ماذا تظن يا سمعان، ممن يأخذ ملوك الأرض الجباية أو الجزية أمن بنيهم أم من الأجانب؟ قال له بطرس: من الأجانب، قال له يسوع: فإذاً البنون أحرار، ولكن لئلا نعثرهم اذهب إلى البحر، وألق صنارة، والسمكة التي تطلع أولاً خذها، ومتى فتحت فاها تجد أستاراً، فخذه وأعطهم عني وعنك" (متى 17/ 24 - 27)، فأين حال دافع الجزية من الملك الذي تسقط تحت قدميه شعوب خاضعة ذليلة لسلطانه.
والمسيح عليه السلام رفض أن يكون قاضياً بين اثنين يختصمان، فهل تراه يدعي الملك والسلطان، "قال له واحد من الجمع: يا معلّم، قل لأخي أن يقاسمني الميراث، فقال له: يا إنسان من أقامني عليكما قاضياً أو مقسّماً!؟ " (لوقا 12/ 13 - 14).
ولئن أصر النصارى على مخالفة الكتاب فقالوا: المسيح هو الملك الموعود الظافر الذي تخضع له الشعوب، وأن ذلك سيحققه حال عودته الثانية، فإن ذلك مما تدحضه النبوءة التي ذكرها الملاك لمريم، حيث أخبرها أن المسيح سيملك على بيت يعقوب فحسب، فغاية ما يمكن أن يملك عليه هو شعب إسرائيل، فقد قال لها الملاك:
অতএব আগমনকারী নবী তাঁর যুগের রাজা ও জাতিসমূহকে চূর্ণ করবেন, যেমনটি ইয়াকুব (আ.) সংবাদ দিয়েছিলেন: "শীলোহ আসবেন, এবং তাঁরই প্রতি জাতিসমূহের আনুগত্য হবে" (আদিপুস্তক ৪৯: ১০)। তাঁর সম্পর্কে দাউদ (আ.) বলেছেন: "হে মহাবীর, তোমার উরুর ওপর তোমার তরবারি ধারণ করো, তোমার মহিমা ও প্রতাপের সাথে; এবং তোমার প্রতাপে তুমি অগ্রসর হও। সত্য, নম্রতা ও ন্যায়পরায়ণতার নিমিত্তে তুমি আরোহণ করো, তখন তোমার ডান হাত তোমাকে ভয়াবহ বিষয়সমূহ দেখাবে। তোমার শাণিত বাণসমূহ রাজার শত্রুদের হৃদয়ে বিদ্ধ হবে; জাতিসমূহ তোমার পদতলে পতিত হবে। হে আল্লাহ, তোমার সিংহাসন অনন্তকালস্থায়ী; তোমার রাজত্বের রাজদণ্ড হলো ন্যায়পরায়ণতার রাজদণ্ড" (গীতসংহিতা ৪৫: ১-৬)।
পক্ষান্তরে মসীহ ঈসা (আ.) রোমানদের কর প্রদান করতেন, "আর যখন তারা কফরনাহূমে আসল, তখন যারা দুই দিরহাম সংগ্রহ করত তারা পিতরের কাছে এসে বলল: 'তোমাদের শিক্ষক কি দুই দিরহাম দেন না?' তিনি বললেন: 'হ্যাঁ'। অতঃপর তিনি যখন ঘরে প্রবেশ করলেন, তখন ঈসা তাঁকে আগে ভাগেই বললেন: 'হে শিমোন, তোমার কী মনে হয়? পৃথিবীর রাজারা কাদের কাছ থেকে কর বা টোল গ্রহণ করে? তাদের সন্তানদের কাছ থেকে নাকি অন্যদের কাছ থেকে?' পিতর তাঁকে বললেন: 'অন্যদের কাছ থেকে'। ঈসা তাঁকে বললেন: 'তাহলে তো সন্তানরা মুক্ত। কিন্তু যাতে আমরা তাদের বিঘ্ন না ঘটাই, সেজন্য তুমি সমুদ্রের তীরে যাও এবং বড়শি ফেলো; আর যে মাছটি প্রথমে উঠবে তা ধরো। যখন তুমি তার মুখ খুলবে, তখন একটি মুদ্রা পাবে; তা নিয়ে আমার ও তোমার পক্ষ থেকে তাদের দিয়ে দিও'" (মথি ১৭: ২৪-২৭)। সুতরাং সেই কর প্রদানকারীর অবস্থার সাথে সেই রাজার তুলনা কোথায়, যাঁর পদতলে তাঁর কর্তৃত্বের অনুগত হয়ে জাতিসমূহ লুটিয়ে পড়ে?
তদুপরি মসীহ (আ.) বিবাদমান দুই ব্যক্তির মধ্যে বিচারক হতে অস্বীকার করেছিলেন; তবে কি আপনি মনে করেন তিনি রাজত্ব ও কর্তৃত্বের দাবিদার ছিলেন? "জনৈক ব্যক্তি ভিড়ের মধ্য থেকে তাঁকে বলল: 'হে শিক্ষক, আমার ভাইকে বলুন যেন সে আমার সাথে উত্তরাধিকার বণ্টন করে দেয়'। তিনি তাকে বললেন: 'হে মানুষ, কে আমাকে তোমাদের ওপর বিচারক বা বণ্টনকারী নিযুক্ত করেছে?'" (লূক ১২: ১৩-১৪)।
খ্রিস্টানরা যদি কিতাবের বিরুদ্ধাচরণ করে এই দাবিতে অনড় থাকে যে, মসীহ-ই হলেন সেই প্রতিশ্রুত বিজয়ী রাজা যার বশ্যতা জাতিসমূহ স্বীকার করবে, এবং তিনি তাঁর দ্বিতীয় আগমনের সময় তা পূর্ণ করবেন; তবে তাদের এই দাবি সেই ভবিষ্যদ্বাণী দ্বারা খণ্ডিত হয় যা ফেরেশতা মরিয়মকে দিয়েছিলেন। সেখানে তিনি তাঁকে সংবাদ দিয়েছিলেন যে, মসীহ কেবল ইয়াকুবের বংশের ওপর রাজত্ব করবেন। সুতরাং বড়জোর তিনি বনী ইসরায়েল জাতির ওপর রাজত্ব করতে পারেন। ফেরেশতা তাঁকে বলেছিলেন:
(খণ্ড: ১)
হাল বাশশারাল কিতাবুল মুক্বদ্দাসু বি-মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
" ويعطيه الرب الإله كرسي داود أبيه، ويملك على بيت يعقوب إلى الأبد، ولا يكون لملكه نهاية" (لوقا 1/ 33)، فيما المسيح الموعود "له يكون خضوع شعوب" (التكوين 49/ 10)، و " شعوب تحتك يسقطون " (المزمور 45/ 5)، فملكه أعظم من مملكة بني إسرائيل.
ويجدر هنا أن ننبه إلى أن وعد الله لبني إسرائيل بالملك القادم على كرسي داود وعد مشروط بطاعتهم لله وعملهم وفق مشيئته، كسائر وعود الله لبني إسرائيل، فالله لا يحابي أحداً من خلقه، فيخصهم بما لا يستحقونه.
لقد نقض بنو إسرائيل عهودهم مع الله مراراً وتكراراً، فرفضهم الله إلى الأبد "لماذا رفضتنا يا الله إلى الأبد! لماذا يدخن غضبك على غنم مرعاك! اذكر جماعتك التي اقتنيتها منذ القدم وفديتها " (المزمور 74/ 1 - 2)، لقد رفض الله هذه الأمة العاتية القاسية، وكان رفضه لها أبدياً، فلن يكون لهم الملك الموعود، لأنهم لم يوفوا بشرط وميثاق الله العظيم.
وقد يشكل في هذا الباب ما جاء في قصة المرأة السامرية التي أتت المسيح ورأت أعاجيبه وآياته، فأخبرته بإيمانها بمجيء المسيا، فكان جوابه لها أنه هو المسيا، " قالت له المرأة: أنا أعلم أن مسيا الذي يقال له المسيح يأتي، فمتى جاء ذاك يخبرنا بكل شيء، قال لها يسوع: أنا الذي أكلمك هو" (يوحنا 4/ 25 - 26).
ولست أشك في وقوع التحريف في هذه العبارة، بدليل أن هذا النص يخالف ما عهدناه من المسيح، وبدليل أن أحداً من التلاميذ - بما فيهم يوحنا كاتب القصة - لم يكن يسمع حديثه، وهو يتحدث مع المرأة، فلا يعرفون عن موضوع الحديث بينهما " قال لها يسوع: أنا الذي أكلمك هو، وعند ذلك جاء تلاميذه وكانوا يتعجبون أنه يتكلم مع امرأة. ولكن لم يقل أحد: ماذا تطلب؟ أو لماذا تتكلم معها " (يوحنا 4/ 26 - 27)،
"প্রভু ঈশ্বর তাকে তার পিতা দাউদের সিংহাসন দান করবেন এবং তিনি চিরকাল ইয়াকুবের বংশের ওপর রাজত্ব করবেন, আর তাঁর রাজত্বের কোনো শেষ হবে না" (লূক ১/৩৩)। অথচ প্রতিশ্রুত মসীহ সম্পর্কে বলা হয়েছে, "জাতিসমূহ তাঁর বশীভূত হবে" (আদিপুস্তক ৪৯/১০) এবং "জাতিসমূহ তোমার পদতলে পতিত হবে" (সামসঙ্গীত ৪৫/৫)। সুতরাং তাঁর রাজত্ব বনী ইসরায়েলের রাজ্যের চেয়েও মহান।
এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, দাউদের সিংহাসনে বনী ইসরায়েলের জন্য আসন্ন রাজত্বের যে ঐশ্বরিক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা আল্লাহর প্রতি তাদের আনুগত্য এবং তাঁর ইচ্ছানুযায়ী কর্মসম্পাদনের ওপর শর্তযুক্ত ছিল—যেমনটি বনী ইসরায়েলের প্রতি আল্লাহর অন্যান্য প্রতিশ্রুতির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। কেননা আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির কারোর প্রতি পক্ষপাতিত্ব করেন না যে, তিনি কাউকে এমন কিছু প্রদান করবেন যার সে যোগ্য নয়।
বনী ইসরায়েল বারবার আল্লাহর সাথে কৃত অঙ্গীকার ভঙ্গ করেছে, ফলে আল্লাহ তাদের চিরতরে বর্জন করেছেন: "হে আল্লাহ, কেন আপনি আমাদের চিরতরে পরিত্যাগ করলেন? আপনার চারণভূমির মেষদের ওপর কেন আপনার ক্রোধ ধূমায়িত হচ্ছে! আপনার সেই সম্প্রদায়ের কথা স্মরণ করুন যা আপনি প্রাচীনকাল থেকে অর্জন করেছিলেন এবং উদ্ধার করেছিলেন" (সামসঙ্গীত ৭৪/১-২)। আল্লাহ এই উদ্ধত ও কঠোর হৃদয়ের জাতিকে প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং তাঁর এই প্রত্যাখ্যান ছিল চিরস্থায়ী। তাই তারা প্রতিশ্রুত রাজত্ব লাভ করবে না, কারণ তারা আল্লাহর মহান শর্ত ও অঙ্গীকার পূরণ করেনি।
এই প্রসঙ্গে সামেরীয় নারীর কাহিনীটি একটি সংশয় সৃষ্টি করতে পারে, যিনি মসীহের নিকট এসেছিলেন এবং তাঁর অলৌকিক নিদর্শনসমূহ প্রত্যক্ষ করেছিলেন। তিনি মসীহের আগমনের প্রতি তাঁর বিশ্বাসের কথা ব্যক্ত করলে উত্তরে মসীহ জানান যে, তিনিই সেই কাঙ্ক্ষিত ব্যক্তি: "নারীটি তাঁকে বলল: আমি জানি যে মসিহ আসছেন, যাঁকে খ্রীষ্ট বলা হয়; তিনি যখন আসবেন তখন আমাদের সব কিছু জানাবেন। ঈসা তাকে বললেন: আমি, যে তোমার সাথে কথা বলছি, সেই ব্যক্তি" (যোহন ৪/২৫-২৬)।
এই বাক্যের মধ্যে বিকৃতি (তাহরিফ) ঘটার ব্যাপারে আমার কোনো সন্দেহ নেই। এর প্রমাণ হলো, এই পাঠটি মসীহের সাধারণ রীতিনীতির পরিপন্থী। অধিকন্তু, ঘটনার বর্ণনাকারী যোহনসহ কোনো শিষ্যই সেই আলাপচারিতা শোনেননি যখন তিনি নারীটির সাথে কথা বলছিলেন; ফলে তাঁদের দুজনের কথোপকথনের বিষয়বস্তু সম্পর্কে শিষ্যদের জানা থাকার কথা নয়: "ঈসা তাকে বললেন: আমি, যে তোমার সাথে কথা বলছি, সেই ব্যক্তি। এমন সময় তাঁর শিষ্যরা ফিরে এলেন এবং তিনি একজন নারীর সাথে কথা বলছেন দেখে তাঁরা বিস্মিত হলেন। কিন্তু কেউ জিজ্ঞেস করলেন না: আপনি কী চান? অথবা কেন আপনি তাঁর সাথে কথা বলছেন?" (যোহন ৪/২৬-২৭),
(খণ্ড: ১)
হাল বাশশারাল কিতাবুল মুক্বদ্দাসু বি-মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
فهم لم يسمعوا حديثهما ولم يسألوه عما جرى بينهما.
وأوضح الأدلة على وقوع التحريف في هذه القصة أن المرأة التي رأت أعاجيبه، وقال لها هذا القول المدعى، لم تكن تؤمن أنه المسيح المنتظر، لأنها لم تسمع منه ذلك، ولو سمعته لآمنت وصدقت، فقد انطلقت تبشر به، وهي غير متيقنة أنه المسيح المنتظر "فتركت المرأة جرتها، ومضت إلى المدينة وقالت للناس: هلموا انظروا إنساناً قال لي كل ما فعلت، ألعل هذا هو المسيح؟ " (يوحنا 4/ 28 - 29).
ومما تقدم ظهر جلياً أن المسيح عليه السلام لم يدع أنه المسيح الذي تنتظره اليهود، وإن زعم ذلك بعض معاصريه، الذين كانوا يتوقون للمخلص العظيم الذي يسلطه الله على أعدائه.
وقد صدق بولتمان في كتابه "يسوع" حين قال: "إن يسوع لم يعتبر نفسه المسيا"، ووافقه الكثير من العصريين كما نقل عنهم الأسقف برنار بارتمان، فقالوا " بأن يسوع لم يعتبر نفسه المسيا، بل إن التلاميذ هم الذين أعطوه هذا اللقب بعد موته وقيامته من الاموات، الأمر الذي كان يرفضه بشدة أثناء حياته على الأرض".
ونختم بقول شارل جنيبر: "والنتيجة الأكيدة لدراسات الباحثين، هي: أن المسيح لم يدع قط أنه هو المسيح المنتظر، ولم يقل عن نفسه إنه ابن الله ". (1)
--------------------------------------------
তারা তাদের মধ্যকার কথোপকথন শোনেনি এবং তাদের মধ্যে কী ঘটেছে সে সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞাসাও করেনি।
এই কাহিনীতে বিকৃতির সংমিশ্রণ ঘটার স্পষ্টতম প্রমাণ হলো, যে নারী তাঁর অলৌকিক নিদর্শনগুলো দেখেছিলেন এবং যাঁকে এই দাবিকৃত কথাটি বলা হয়েছিল, তিনি বিশ্বাস করতেন না যে তিনিই প্রতীক্ষিত মসীহ। কারণ তিনি তাঁর কাছ থেকে এমন কিছু শোনেননি; যদি শুনতেন তবে অবশ্যই বিশ্বাস ও সত্যায়ন করতেন। তিনি যখন তাঁর সুসংবাদ প্রচার করতে বেরিয়েছিলেন, তখনও তিনি নিশ্চিত ছিলেন না যে তিনিই প্রতীক্ষিত মসীহ। "তখন সেই নারী নিজের কলস ফেলে রেখে শহরে চলে গেলেন এবং লোকজনকে বললেন: এসো, এমন এক ব্যক্তিকে দেখে যাও যিনি আমি যা কিছু করেছি তার সবই আমাকে বলে দিয়েছেন; এই ব্যক্তিই কি সেই মসীহ হতে পারেন?" (যোহন ৪/ ২৮-২৯)।
উপরোক্ত আলোচনা থেকে এটি স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, মসীহ আলাইহিস সালাম কখনোই নিজেকে ইহুদিদের প্রতীক্ষিত মসীহ হিসেবে দাবি করেননি, যদিও তাঁর সমসাময়িক কিছু লোক এমনটি দাবি করেছিল—যারা সেই মহান ত্রাণকর্তার জন্য অধীরভাবে প্রতীক্ষমাণ ছিল যাকে আল্লাহ তাদের শত্রুদের ওপর আধিপত্য দান করবেন।
বুল্টম্যান তাঁর 'যিশু' গ্রন্থে যথার্থই বলেছেন: "যিশু নিজেকে মসীহ মনে করতেন না।" বিশপ বার্নার্ড হার্টম্যানের বর্ণনা অনুযায়ী অনেক আধুনিক গবেষক তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন। তাঁরা বলেছেন, "যিশু নিজেকে মসীহ মনে করতেন না, বরং তাঁর মৃত্যু ও পুনরুত্থানের পর শিষ্যরাই তাঁকে এই উপাধি দিয়েছিলেন; অথচ পৃথিবীতে থাকাকালীন তিনি কঠোরভাবে এটি প্রত্যাখ্যান করতেন।"
পরিশেষে আমরা চার্লস গুইনিবার্টের উক্তি দিয়ে শেষ করছি: "গবেষকদের গবেষণার নিশ্চিত ফলাফল হলো—মসীহ কখনোই দাবি করেননি যে তিনি প্রতীক্ষিত মসীহ, আর তিনি নিজের সম্পর্কে এ কথাও বলেননি যে তিনি ঈশ্বরের পুত্র।" (১)
--------------------------------------------