(খণ্ড: ১) হালিল আহদুল ক্বদিমু কালিমাতুল্লাহ (পৃষ্ঠা: -)
هل العهد القديم كلمة الله   (منقذ السقار)

القسم: الفرق والردود


الكتاب: هل العهد القديم كلمة الله؟

المؤلف: منقذ بن محمود السقار

الناشر: دار الإسلام للنشر والتوزيع

الطبعة: الأولى، 1428 هـ - 2007 م

عدد الصفحات: 220

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 26 صفر 1433

ওল্ড টেস্টামেন্ট কি আল্লাহর বাণী?   (মুনকিজ আস-সাক্কার)

বিভাগ: সম্প্রদায় ও খণ্ডন


গ্রন্থ: ওল্ড টেস্টামেন্ট কি আল্লাহর বাণী?

লেখক: মুনকিজ বিন মাহমুদ আস-সাক্কার

প্রকাশক: দারুল ইসলাম প্রকাশনা ও বিতরণ

সংস্করণ: প্রথম، ১৪২৮ হিজরি - ২০০৭ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২২০

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২৬ সফর ১৪৩৩

(খণ্ড: ১) হালিল আহদুল ক্বদিমু কালিমাতুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ১)
سلسلة الهدى والنور (1)

 

هل العهد القديم

كلمة الله؟

 

د. منقذ بن محمود السقار
হিদায়াত ও নূর সিলসিলা (১)

 

পুরাতন নিয়ম কি

আল্লাহর বাণী?

 

ড. মুনকিয বিন মাহমুদ আস-সাক্কার
(খণ্ড: ১) হালিল আহদুল ক্বদিমু কালিমাতুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌مقدمة

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على جميع أنبياء الله المرسلين، وعلى نبينا محمد، صلى الله وسلم عليه وعليهم أجمعين.

وبعد:

مازال الصادقون في كل عصر وجيل يبحثون عن الهدى والنور، وقد أرسل الله رسله، حاملين للهدى والبينات والنور {إنا أنزلنا التوراة فيها هدى ونور} (المائدة: 44)، {وقفّينا على آثارهم بعيسى ابن مريم مصدّقاً لما بين يديه من التّوراة وآتيناه الإنجيل فيه هدًى ونورٌ ومصدّقاً لما بين يديه من التّوراة وهدًى وموعظةً للمتّقين} (المائدة: 46).

ثم جاء القرآن الكريم، الكتاب الخاتم أيضاً للدلالة على النور والهدى {يا أهل الكتاب قد جاءكم رسولنا يبيّن لكم كثيراً ممّا كنتم تخفون من الكتاب ويعفو عن كثيرٍ قد جاءكم من الله نورٌ وكتابٌ مبينٌ - يهدي به الله من اتّبع رضوانه سبل السّلام ويخرجهم من الظّلمات إلى النّور بإذنه ويهديهم إلى صراطٍ مستقيمٍ} (المائدة: 15 - 16).

إلا أن كتب الله المنزلة على الأنبياء السابقين فُقدت بسبب ظروف كتابتها وطريقة حفظها، وتعرضت للتحريف والضياع، فضلّ البشر وتاهوا عن الهدى والنور.
উপক্রমনিকা

সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর প্রেরিত সকল নবীগণের প্রতি এবং আমাদের নবী মুহাম্মাদ (সা.)-এর প্রতি; তাঁর এবং তাঁদের সকলের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

অতঃপর:

প্রতিটি যুগে ও প্রজন্মে সত্যসন্ধানী মানুষ হিদায়াত ও আলোর অন্বেষণ করে চলেছে। আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসূলগণকে হিদায়াত, সুস্পষ্ট নিদর্শন এবং নূরসহ প্রেরণ করেছেন। {নিশ্চয়ই আমি তাওরাত অবতীর্ণ করেছি, যাতে ছিল হিদায়াত ও নূর} (আল-মায়িদাহ: ৪৪), {আর আমি তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে মারইয়াম-পুত্র ঈসাকে পাঠিয়েছি তাঁর পূর্ববর্তী তাওরাতের সত্যায়নকারী হিসেবে এবং তাকে ইনজীল প্রদান করেছি যাতে ছিল হিদায়াত ও নূর এবং তা ছিল তার পূর্ববর্তী তাওরাতের সত্যায়নকারী এবং মুত্তাকীদের জন্য হিদায়াত ও উপদেশ} (আল-মায়িদাহ: ৪৬)।

এরপর সর্বশেষ কিতাব হিসেবে আল-কুরআনুল কারীম অবতীর্ণ হলো নূর ও হিদায়াতের দিশারি হয়ে। {হে কিতাবধারীগণ! তোমাদের কাছে আমার রাসূল এসেছেন, তোমরা কিতাবের যা কিছু গোপন করতে তিনি তার অনেক কিছু তোমাদের কাছে স্পষ্ট করছেন এবং অনেক কিছু এড়িয়ে যাচ্ছেন। অবশ্যই আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে নূর ও সুস্পষ্ট কিতাব এসেছে। এর মাধ্যমে আল্লাহ ঐ ব্যক্তিদের শান্তির পথে পরিচালিত করেন যারা তাঁর সন্তুষ্টির অনুসরণ করে এবং আপন অনুমতিক্রমে তাদেরকে অন্ধকার থেকে বের করে আলোর দিকে নিয়ে যান এবং তাদেরকে সরল সঠিক পথে পরিচালিত করেন} (আল-মায়িদাহ: ১৫-১৬)।

তবে পূর্ববর্তী নবীগণের ওপর অবতীর্ণ আল্লাহর কিতাবগুলো সেগুলো লিপিবদ্ধ করার প্রেক্ষাপট ও সংরক্ষণ পদ্ধতির কারণে হারিয়ে গেছে এবং বিকৃতি ও বিলুপ্তির শিকার হয়েছে। ফলে মানবজাতি পথভ্রষ্ট হয়েছে এবং হিদায়াত ও নূর থেকে বিচ্যুত হয়ে লক্ষ্যহীন হয়ে পড়েছে।
(খণ্ড: ১) হালিল আহদুল ক্বদিমু কালিমাতুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
وتوارث الناس كتباً بديلة نُسبت إلى الله، لكنها كتب خالية - إلا قليلاً - من الهدى والنور، فقد حملت هذه الأسفار المكتوبة في طياتها ضعف البشر وجهلهم، فجاءت هذه الكتابات متناقضة غاصّة بالكثير مما لا يرتضي العقلاء نسبته إلى الله ووحيه القويم.

وهذا لا يمنع أن يكون في هذه الأسفار بعض أثارة من هدي الأنبياء وبقايا من وحي السماء، لكنها كما أسلفت غارت في بحور من تخليط البشر وتحريفهم.

هذا مجمل إيمان المسلمين في الكتب السابقة، فهم يؤمنون بالكتب التي أنزلها الله على أنبيائه، لكنهم يرفضون أن يقال عن أسفار العهد القديم، أنها كلمة الله، وإن حوت بعض كلمته وهديه.

أما النصارى واليهود فهم يؤمنون بقدسية هذه الأسفار، ويعتبرونها كلمة الله التي سطرها أنبياؤه، وتناقلها اليهود عبر تاريخهم الطويل.

وإزاء هذا الاختلاف الكبير بين موقفي الفريقين من أسفار العهد القديم، نطرح سؤالنا الهام: "هل العهد القديم كلمة الله؟ "

وهو السؤال الذي نحاول الإجابة عنه في هذه الحلقة من السلسلة التي نتقدم بها للذين مازالوا يبحثون عن الهدى والنور من أهل الكتاب.

وقد نهجتُ في هذه السلسلة منهج الغوص في طيات الكتب المقدسة عند النصارى، لأبحث من خلال الركام الكبير من الباطل عن أثارة الحق الذي نطقت به الأنبياء، لأقيم من خلاله الحجة على أولئك الذين يؤمنون بقدسية هذه الكتب.
মানুষ উত্তরাধিকারসূত্রে আল্লাহর নামে আরোপিত এমন কিছু বিকল্প কিতাব পেয়েছে যা—সামান্য কিছু অংশ ছাড়া—হিদায়াত ও নূর থেকে প্রায় রিক্ত। এই লিখিত গ্রন্থগুলো নিজের ভাঁজে ভাঁজে মানুষের দুর্বলতা ও অজ্ঞতাকে ধারণ করে আছে; ফলে এই রচনাগুলো স্ববিরোধী এবং এমন অনেক বিষয়ে পরিপূর্ণ যা বিবেকবান মানুষ আল্লাহর বাণী ও তাঁর সুদৃঢ় ওহীর অন্তর্ভুক্ত করতে রাজি নন।

তবে এর অর্থ এই নয় যে, এই গ্রন্থগুলোতে নবীদের হিদায়াতের কোনো নিদর্শন বা আসমানি ওহীর কোনো অবশিষ্টাংশ নেই; কিন্তু আমি আগে যেমন বলেছি, তা মানুষের সংমিশ্রণ ও বিকৃতির সমুদ্রে তলিয়ে গেছে।

পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের প্রতি মুসলমানদের বিশ্বাসের সারসংক্ষেপ এটিই। তারা আল্লাহ তাআলা তাঁর নবীদের ওপর যে কিতাবগুলো অবতীর্ণ করেছেন সেগুলোর প্রতি ঈমান রাখে, কিন্তু তারা ওল্ড টেস্টামেন্ট বা পুরাতন নিয়মের কিতাবগুলোকে 'আল্লাহর কালাম' বলতে অস্বীকৃতি জানায়, যদিও তাতে আল্লাহর কিছু বাণী ও হিদায়াত বিদ্যমান রয়েছে।

পক্ষান্তরে খ্রিস্টান ও ইহুদিরা এই গ্রন্থগুলোর পবিত্রতায় বিশ্বাসী এবং এগুলোকে আল্লাহর কালাম মনে করে যা তাঁর নবীগণ লিপিবদ্ধ করেছেন এবং ইহুদিরা তাদের সুদীর্ঘ ইতিহাসে তা বয়ে এনেছে।

ওল্ড টেস্টামেন্টের কিতাবগুলোর ক্ষেত্রে এই দুই পক্ষের অবস্থানের বিশাল পার্থক্যের প্রেক্ষাপটে আমরা আমাদের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি উত্থাপন করছি: "ওল্ড টেস্টামেন্ট কি আল্লাহর কালাম?"

এটিই সেই প্রশ্ন যার উত্তর দেওয়ার প্রচেষ্টা আমরা সিরিজের এই পর্বে চালাচ্ছি, যা আমরা আহলে কিতাবদের মধ্যে যারা এখনো হিদায়াত ও নূরের সন্ধান করছেন তাদের জন্য নিবেদন করছি।

আমি এই সিরিজে খ্রিস্টানদের নিকট পবিত্র কিতাবগুলোর ভেতরে অবগাহন করার পদ্ধতি গ্রহণ করেছি, যাতে বাতিলের বিশাল স্তূপের মধ্য থেকে নবীদের উচ্চারিত সত্যের ছিটেফোঁটা খুঁজে বের করা যায় এবং এর মাধ্যমে ঐ সব মানুষের ওপর দলিল পেশ করা যায় যারা এই কিতাবগুলোর পবিত্রতায় বিশ্বাস করে।
(খণ্ড: ১) হালিল আহদুল ক্বদিমু কালিমাতুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
وقد أيدت ما بين يدي من نصوص بأقوال علماء الكنيسة، ومجامعها ومؤسساتها، كما استأنست بأقوال أحرار الفكر الغربيين الذين أنطقتهم الحقيقة بشيء من الإجابات التي نبحث عنها في هذه السلسلة، سلسلة الهدى والنور.

والله أسأل أن يهدينا جميعاً لما اختلفنا فيه من الحق بإذنه، إنه يهدي من يشاء إلى صراط مستقيم.

 

د. منقذ بن محمود السقار

مكة المكرمة - شعبان - 1423هـ

mongiz@maktoob.com
আমি আমার নিকট উপস্থাপিত পাঠ্যসমূহকে গির্জার বিশেষজ্ঞ পণ্ডিতগণ, তাদের ধর্মীয় মহাসভা ও সংস্থাসমূহের বক্তব্যের মাধ্যমে সমৃদ্ধ করেছি। পাশাপাশি আমি পশ্চিমা মুক্তচিন্তার অনুসারীদের সেই সকল বক্তব্য থেকেও সহায়তা নিয়েছি, সত্য যাঁদেরকে এমন কিছু উত্তর প্রদানে উদ্বুদ্ধ করেছে যা আমরা এই 'আল-হুদা ওয়ান নূর' (হিদায়াত ও আলো) নামক ধারাবাহিক আলোচনায় অন্বেষণ করছি।

আর আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের মধ্যকার মতভেদপূর্ণ বিষয়সমূহে স্বীয় অনুগ্রহে সত্যের দিশা দান করেন। নিশ্চয়ই তিনি যাকে ইচ্ছা সরল পথের পথপ্রদর্শন করেন।

 

ড. মুনকিজ বিন মাহমুদ আল-সাক্কার

মক্কা আল-মুকাররামা - শাবান - ১৪২৩ হিজরি

mongiz@maktoob.com
(খণ্ড: ১) হালিল আহদুল ক্বদিমু কালিমাতুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌معتقد المسلمين في توراة موسى عليه السلام

تبين آيات القرآن الكريم بجلاء موقف المسلمين من التوراة التي أنزلها الله تبارك وتعالى على نبيه موسى عليه الصلاة والسلام، إذ يخبرنا القرآن أنها وحي الله وكتابه وهديه الذي أنزله هدى ونوراً لبني إسرائيل {إنا أنزلنا التوراة فيها هدى ونور يحكم بها النبيون الذين أسلموا} (المائدة: 44)، {وأنزل التوراة والإنجيل - من قبل هدى للناس} (آل عمران: 3 - 4).

ويقول تعالى مخاطباً المؤمنين، داعياً إياهم إلى الإيمان والتصديق بكل ما أنزل على الأنبياء السابقين: {قولوا آمنا بالله وما أنزل إلينا وما أنزل إلى إبراهيم وإسماعيل وإسحاق ويعقوب والأسباط وما أوتي موسى وعيسى وما أوتي النبيون من ربهم لا نفرق بين أحد منهم ونحن له مسلمون} (البقرة: 136) ، ويقول واصفاً المؤمنين: {آمن الرسول بما أنزل إليه من ربه والمؤمنون كل آمن بالله وملائكته وكتبه ورسله لا نفرق بين أحد من رسله} (البقرة: 285).

وقد ذكر القرآن الكريم أن الله وكل إلى أهل الكتاب حفظ كتابهم {بما استحفظوا من كتاب الله وكانوا عليه شهداء} (المائدة: 44)، لكن هل كان بنو إسرائيل أمناء على الأمانة التي وضعها الله في أعناقهم؟

القرآن يخبرنا أن اليهود قد امتدت أيديهم إلى الكتاب تتلاعب بمضامينه ومعانيه، فذكر أنهم {يحرفون الكلم عن مواضعه ونسوا حظاً مما ذكروا به} (المائدة: 13).

كما أخبرنا الله تعالى أنهم كتموا بعضاً مما أنزل الله عليهم، وأن الله بعث نبيه ومعه بيان كثير مما أخفوه، ناهيك عما تجاوزه، فلم يظهره {يا أهل الكتاب قد جاءكم
মুসা আলাইহিস সালাম-এর তাওরাতের প্রতি মুসলিমদের বিশ্বাস

পবিত্র কুরআনের আয়াতসমূহ অত্যন্ত স্পষ্টভাবে নবী মুসা আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের ওপর আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা কর্তৃক অবতীর্ণ তাওরাতের প্রতি মুসলিমদের দৃষ্টিভঙ্গি ফুটিয়ে তোলে। কুরআন আমাদের অবহিত করে যে, এটি আল্লাহর ওহী, তাঁর কিতাব এবং তাঁর পক্ষ থেকে প্রেরিত হিদায়াত, যা তিনি বনী ইসরাঈলের জন্য পথনির্দেশ ও আলো হিসেবে অবতীর্ণ করেছিলেন: {নিশ্চয়ই আমি তাওরাত অবতীর্ণ করেছি, যাতে রয়েছে হিদায়াত ও আলো; তদ্বারা নবীগণ, যারা আল্লাহর অনুগত ছিলেন, ফয়সালা দিতেন} (আল-মায়িদাহ: ৪৪), {এবং ইতিপূর্বে মানুষের হিদায়াতের জন্য তাওরাত ও ইনজিল অবতীর্ণ করেছেন} (আল-ইমরান: ৩-৪)।

মহান আল্লাহ মুমিনদের সম্বোর্ডন করে পূর্ববর্তী নবীগণের ওপর যা কিছু অবতীর্ণ হয়েছে তার প্রতি ঈমান ও সত্যায়ন করার আহ্বান জানিয়ে বলেন: {তোমরা বলো, আমরা ঈমান এনেছি আল্লাহর ওপর এবং যা আমাদের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে এবং যা ইবরাহীম, ইসমাইল, ইসহাক, ইয়াকুব ও তাঁর বংশধরদের ওপর অবতীর্ণ হয়েছিল এবং যা মুসা ও ঈসাকে প্রদান করা হয়েছে এবং যা অন্যান্য নবীগণকে তাঁদের রবের পক্ষ থেকে প্রদান করা হয়েছে। আমরা তাঁদের মধ্য থেকে কারো মধ্যে কোনো তারতম্য করি না এবং আমরা তাঁরই অনুগত মুসলিম} (আল-বাক্বারাহ: ১৩৬)। মহান আল্লাহ মুমিনদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করে এরশাদ করেন: {রাসূল তাঁর রবের পক্ষ থেকে যা তাঁর প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে তার ওপর ঈমান এনেছেন এবং মুমিনগণও। তারা সবাই আল্লাহর ওপর, তাঁর ফেরেশতাদের ওপর, তাঁর কিতাবসমূহের ওপর এবং তাঁর রাসূলদের ওপর ঈমান এনেছে। আমরা তাঁর রাসূলদের মধ্য থেকে কারো মাঝে কোনো পার্থক্য করি না} (আল-বাক্বারাহ: ২৮৫)।

পবিত্র কুরআনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আল্লাহ আহলে কিতাবদেরকে তাদের কিতাব সংরক্ষণের দায়িত্ব অর্পণ করেছিলেন: {যেহেতু তাদেরকে আল্লাহর কিতাব সংরক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল এবং তারা ছিল এর ওপর সাক্ষী} (আল-মায়িদাহ: ৪৪)। কিন্তু বনী ইসরাঈল কি সেই আমানতের প্রতি বিশ্বস্ত ছিল যা আল্লাহ তাদের স্কন্ধে অর্পণ করেছিলেন?

কুরআন আমাদের জানাচ্ছে যে, ইয়াহুদীদের হাত কিতাব পর্যন্ত প্রসারিত হয়েছে এবং তারা এর বিষয়বস্তু ও অর্থ নিয়ে কারসাজি করেছে। তাই আল্লাহ উল্লেখ করেছেন যে, তারা {শব্দগুলোকে তাদের সঠিক স্থান থেকে বিকৃত করে দেয় এবং তাদেরকে যে উপদেশ দেওয়া হয়েছিল তার একটি বড় অংশ তারা ভুলে গেছে} (আল-মায়িদাহ: ১৩)।

তেমনিভাবে আল্লাহ তাআলা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, তারা আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের ওপর যা অবতীর্ণ হয়েছিল তার কিছু অংশ গোপন করেছিল, এবং আল্লাহ তাঁর নবীকে সেই সব বিষয়ের বিশদ বিবরণসহ পাঠিয়েছেন যা তারা লুকাতে চেয়েছিল, আর অনেক বিষয় তো তিনি মার্জনাই করেছেন এবং প্রকাশ করেননি: {হে আহলে কিতাব! তোমাদের কাছে আমাদের রাসূল এসেছেন যা তোমরা}
(খণ্ড: ১) হালিল আহদুল ক্বদিমু কালিমাতুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
رسولنا يبين لكم كثيراً مما كنتم تخفون من الكتاب ويعفو عن كثير} (المائدة: 15).

ثم كانت إحدى أكبر مساوئهم أنهم كانوا يكتبون كتباً من عندهم، ثم ينسبونها إلى الله عز وجل {فويل للذين يكتبون الكتاب بأيديهم ثم يقولون هذا من عند الله ليشتروا به ثمناً قليلاً فويل لهم مما كتبت أيديهم وويل لهم مما يكسبون} (البقرة: 79)، وقال: {وإن منهم لفريقاً يلوون ألسنتهم بالكتاب لتحسبوه من الكتاب وما هو من الكتاب ويقولون هو من عند الله وما هو من عند الله ويقولون على الله الكذب وهم يعلمون} (آل عمران: 78).

ووضح النبي صلى الله عليه وسلم هذا المعتقد حين قال: ((إن بني إسرائيل كتبوا كتاباً، فاتبعوه، وتركوا التوراة)). (1)

واستقر هذا المعنى في نفوس الصحابة والمؤمنين بعدهم، يقول ابن عباس رضي الله عنهما: (كيف تسألون أهل الكتاب عن شيء، وكتابكم الذي أنزل على رسول الله صلى الله عليه وسلم أحدثُ، تقرؤونه محضاً لم يُشب، وقد حدثكم أن أهل الكتاب بدلوا كتاب الله وغيروه، وكتبوا بأيديهم الكتاب وقالوا: هو من عند الله ليشتروا به ثمناً قليلاً). (2)

ولا يمنع هذا من صحة بعض مواضع في التوراة، لما فيها من آثار الأنبياء، ففي التوراة حق وباطل كما أخبر الله ورسوله. ومن النصوص التي أشارت إلى وجود شيء من الحق في كتبهم ألبسوه بالباطل والزور قوله تعالى: {يا أهل الكتاب لم تلبسون

--------------------------------------------

(1) رواه الدارمي ح (480)، والطبراني في الأوسط ح (5548)، وحسنه الألباني في السلسلة الصحيحة ح (2694)، وقال: "الإسناد حسن إن سلم ممن دونه، أو توبع "، وأشار إلى توثيق الهيثمي في المجمع لرواية عزاها إلى الطبراني.

(2) رواه البخاري ح (7363).
...আমাদের রাসূল তোমাদের নিকট কিতাবের এমন অনেক বিষয় স্পষ্ট করছেন যা তোমরা গোপন করতে এবং অনেক বিষয় তিনি উপেক্ষা করেন। (সূরা আল-মায়িদাহ: ১৫)।

এরপর তাদের অন্যতম বড় অপকর্ম ছিল এই যে, তারা নিজেদের পক্ষ থেকে কিতাব লিখত, অতঃপর তা মহান আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার প্রতি আরোপ করত। {অতএব ধ্বংস সেই সব লোকদের জন্য যারা নিজ হাতে কিতাব লিখে, তারপর বলে যে, এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে—যাতে তার বিনিময়ে তুচ্ছ মূল্য গ্রহণ করতে পারে। সুতরাং তাদের হাত যা লিখেছে তার জন্য তাদের ওপর ধ্বংস এবং তারা যা উপার্জন করে তার জন্যও তাদের ওপর ধ্বংস} (সূরা আল-বাক্বারাহ: ৭৯)। এবং তিনি আরও বলেছেন: {আর তাদের মধ্যে এমন একদল রয়েছে যারা কিতাবকে জিহ্বা দ্বারা বিকৃত করে পাঠ করে যাতে তোমরা মনে করো যে তা কিতাবের অংশ, অথচ তা কিতাবের অংশ নয়। আর তারা বলে যে, এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে, অথচ তা আল্লাহর পক্ষ থেকে নয়। আর তারা জেনে-বুঝে আল্লাহর ওপর মিথ্যা আরোপ করে} (সূরা আল-ইমরান: ৭৮)।

এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই বিশ্বাসের বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন যখন তিনি বলেছেন: "নিশ্চয়ই বনী ইসরাঈল একটি কিতাব লিখেছিল, এরপর তারা সেটির অনুসরণ করতে লাগল এবং তাওরাত পরিত্যাগ করল।" (১)

এই মর্মটি সাহাবায়ে কেরাম এবং তাদের পরবর্তী মুমিনদের অন্তরে সুদৃঢ় হয়েছিল। ইবনে আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন: "তোমরা আহলে কিতাবদের কাছে কোনো বিষয়ে কেন জিজ্ঞেস করো? অথচ তোমাদের কিতাব যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর অবতীর্ণ হয়েছে তা সর্বাধুনিক, যা তোমরা একদম বিশুদ্ধ ও নির্ভেজাল অবস্থায় পাঠ করো। আর আল্লাহ তোমাদেরকে জানিয়েছেন যে, আহলে কিতাবরা আল্লাহর কিতাব পরিবর্তন ও বিকৃত করে ফেলেছে এবং তারা নিজ হাতে কিতাব লিখে বলেছে: এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে, যাতে তারা এর বিনিময়ে তুচ্ছ মূল্য গ্রহণ করতে পারে।" (২)

আর এটি তাওরাতের কিছু অংশের সঠিক হওয়াকে বাধা দেয় না, কারণ তাতে নবীদের নিদর্শনসমূহ বিদ্যমান রয়েছে। সুতরাং তাওরাতে সত্য ও মিথ্যা উভয়ই রয়েছে যেমনটি আল্লাহ ও তাঁর রাসূল জানিয়েছেন। তাদের কিতাবসমূহে সত্যের কিছু নিদর্শনের উপস্থিতির প্রতি ইঙ্গিতকারী উদ্ধৃতিগুলোর মধ্যে—যা তারা মিথ্যা ও বাতিল দ্বারা আচ্ছন্ন করে ফেলেছে—মহান আল্লাহর এই বাণী অন্যতম: {হে আহলে কিতাব! তোমরা কেন...

--------------------------------------------

(১) দারেমী (হা: ৪৮০) ও তাবারানি 'আল-আওসাত'-এ (হা: ৫৫৪৮) বর্ণনা করেছেন। আলবানী 'আস-সিলসিলাতুস সহীহাহ'-তে (হা: ২৬৯৪) একে হাসান বলেছেন এবং বলেছেন: "এর সনদ হাসান যদি তার নিচের বর্ণনাকারীদের ত্রুটি থেকে মুক্ত থাকে অথবা সমর্থক কোনো বর্ণনা পাওয়া যায়।" আর তিনি তাবারানির বর্ণনার ক্ষেত্রে মাজমাউয যাওয়াইদ-এ হাইসামীর নির্ভরযোগ্যতার বর্ণনার দিকে ইঙ্গিত করেছেন যা তিনি তাবারানির উদ্ধৃতিতে দিয়েছেন।

(২) বুখারী বর্ণনা করেছেন (হা: ৭৩৬৩)।
(খণ্ড: ১) হালিল আহদুল ক্বদিমু কালিমাতুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
الحقّ بالباطل وتكتمون الحقّ وأنتم تعلمون} (آل عمران: 71)، وكذا قوله: {وكيف يحكمونك وعندهم التوراة فيها حكم الله} (المائدة: 43)، وذلك في مسألة رجم الزاني، وهو مذكور في سفر التثنية، حيث يقول: " إذا كانت فتاة عذراء مخطوبة لرجل، فوجدها رجل في المدينة واضطجع معها، فأخرجوهما كليهما إلى باب تلك المدينة، وارجموهما بالحجارة حتى يموتا، الفتاة من أجل أنها لم تصرخ في المدينة، والرجل من أجل أنه أذل امرأة صاحبه، فتنزع الشر من وسطك" (التثنية 22/ 22 - 23).

وفي صحيح البخاري أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ((لا تصدقوا أهل الكتاب ولا تكذبوهم وقولوا آمنا بالله وما أنزل إلينا وما أنزل إليكم)). (1)

وعلل سبب عدم التكذيب بوجود حق وصدق في كتبهم، حيث قال كما في رواية أبي داود: ((ما حدثكم أهل الكتاب فلا تصدقوهم ولا تكذبوهم، وقولوا آمنا بالله ورسله، فإن كان باطلاً لم تصدقوه، وإن كان حقاً لم تكذبوه)). (2)

وعليه فنحن نؤمن بتوراة موسى كل الإيمان، ونؤمن بأنها حرفت ولم تحفظ، وأن القوم أخفوا شيئاً، وكتبوا أشياء، وضاع منهم الكثير، وما بين يديهم لا يخلو من بعض الحق.

وكثيراً ما نرى النصارى يستشهدون على صحة كتبهم بما جاء في القرآن من ثناء على كتاب موسى عليه السلام، مدعين أنها توثق الأسفار التي بين يديهم، فهل أعجزتهم الحيل أم ضاقت بهم السبل، إنهم يرومون توثيق هذه الكتب والأسفار بنصوص القرآن والسنة التي نطقت بتحريفهم.

--------------------------------------------

(1) رواه البخاري ح (4485).

(2) رواه أبو داود ح (3644).
...সত্যকে মিথ্যার সাথে (মিশ্রিত করো না) এবং তোমরা সত্য গোপন করছ অথচ তোমরা তা জানো} (আল-ইমরান: ৭১)। তদ্রূপ তাঁর বাণী: {তারা আপনাকে কীভাবে বিচারক মান্য করে, অথচ তাদের নিকট তাওরাত রয়েছে যাতে আল্লাহর বিধান বিদ্যমান} (আল-মায়িদাহ: ৪৩)। এটি ব্যভিচারীকে পাথর নিক্ষেপের (রজম) মাসআলার ক্ষেত্রে, যা দ্বিতীয় বিবরণ পুস্তকে বর্ণিত হয়েছে; সেখানে বলা হয়েছে: "যদি কোনো কুমারী কন্যা কোনো পুরুষের সাথে বাগদত্তা হয় এবং কোনো ব্যক্তি তাকে নগরের মধ্যে পেয়ে তার সাথে শয়ন করে, তবে তোমরা তাদের উভয়কে সেই নগরের দ্বারপ্রান্তে বের করে আনবে এবং তারা মারা না যাওয়া পর্যন্ত তাদের পাথর নিক্ষেপ করবে। সেই কন্যাকে এই জন্য যে সে নগরের ভেতরে থেকেও চিৎকার করেনি, আর লোকটিকে এই জন্য যে সে তার প্রতিবেশীর স্ত্রীকে অপমানিত করেছে। এভাবেই তুমি তোমার মধ্য থেকে মন্দের মূলোৎপাটন করবে" (দ্বিতীয় বিবরণ ২২/ ২২ - ২৩)।

সহিহ বুখারিতে বর্ণিত আছে যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা আহলে কিতাবদের (কিতাবধারী) কথায় বিশ্বাস করো না এবং তাদের মিথ্যাবাদীও বলো না; বরং তোমরা বলো, আমরা আল্লাহর ওপর এবং আমাদের প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে ও তোমাদের প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তার ওপর ঈমান এনেছি।" (১)

তাদের কথাকে সরাসরি মিথ্যা প্রতিপন্ন না করার কারণ হিসেবে তিনি তাদের কিতাবসমূহে সত্য ও সঠিক বিষয়ের অস্তিত্ব থাকাকে চিহ্নিত করেছেন। যেমনটি আবু দাউদের বর্ণনায় এসেছে: "আহলে কিতাবগণ তোমাদের কাছে যা বর্ণনা করে তাতে তাদের বিশ্বাস করো না এবং মিথ্যাও বলো না; বরং বলো, আমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলগণের ওপর ঈমান এনেছি। যদি তা মিথ্যা হয় তবে তোমরা তাদের বিশ্বাস করলে না, আর যদি তা সত্য হয় তবে তোমরা তাদের মিথ্যা প্রতিপন্ন করলে না।" (২)

এর ওপর ভিত্তি করে আমরা মুসার তাওরাতের ওপর পরিপূর্ণ বিশ্বাস পোষণ করি এবং বিশ্বাস করি যে, তা বিকৃত করা হয়েছে ও সংরক্ষিত করা হয়নি। তারা কিছু বিষয় গোপন করেছে এবং কিছু বিষয় (নিজেদের পক্ষ থেকে) লিখেছে, আর তাদের থেকে অনেক কিছুই হারিয়ে গেছে। বর্তমানে তাদের নিকট যা বিদ্যমান তা কিছু সত্য বিবর্জিত নয়।

আমরা প্রায়শই দেখি যে খ্রিস্টানরা তাদের কিতাবসমূহের বিশুদ্ধতার স্বপক্ষে কুরআনে মুসা (আলাইহিস সালাম)-এর কিতাবের যে প্রশংসা করা হয়েছে তা উদ্ধৃত করে থাকে। তারা দাবি করে যে, এটি তাদের নিকট বিদ্যমান কিতাবসমূহের সত্যতার প্রমাণ দেয়। তাদের কূটকৌশল কি ফুরিয়ে গেছে নাকি তাদের পথ সংকীর্ণ হয়ে গেছে? তারা কুরআন ও সুন্নাহর ভাষ্য দ্বারা এসব কিতাব ও খণ্ডগুলোর বিশুদ্ধতা প্রমাণ করতে চায়, অথচ সেই কুরআন ও সুন্নাহই তাদের বিকৃতির কথা ঘোষণা করেছে।

--------------------------------------------

(১) বুখারি কর্তৃক বর্ণিত, হাদিস নং (৪৪৮৫)।

(২) আবু দাউদ কর্তৃক বর্ণিত, হাদিস নং (৩৬৪৪)।
(খণ্ড: ১) হালিল আহদুল ক্বদিমু কালিমাতুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
لذا نراهم يقتطعون النصوص القرآنية اعتسافاً، فيوردون بعضها ويتغافلون عن الكثير مما لا يخدم فكرتهم، إنها طريقتهم دوماً {أفتؤمنون ببعض الكتاب وتكفرون ببعض} (البقرة: 85)، وهم بذلك كما وصف الله {فأما الذين في قلوبهم زيغ فيتبعون ما تشابه منه ابتغاء الفتنة وابتغاء تأويله} (آل عمران: 7).

وعند جمع هذه النصوص في مكان واحد يستبين الحق ويستبصر الباحث عن الحق صراط الله المستقيم.

فمما يثبت أن هذه الأسفار ليست توراة موسى أن القرآن نسب إلى أسفار موسى الكثير من المعاني التي نفتقدها في النصوص الحالية، ومن ذلك قوله: {إنّ الله اشترى من المؤمنين أنفسهم وأموالهم بأنّ لهم الجنّة يقاتلون في سبيل الله فيقتلون ويقتلون وعداً عليه حقّاً في التّوراة والإنجيل والقرآن} (التوبة: 111)، ولا وجود لهذا المعنى في العهد القديم ولا الجديد.

ومثله قوله تعالى: {بل تؤثرون الحياة الدّنيا - والآخرة خير وأبقى - إنّ هذا لفي الصّحف الأولى - صحف إبراهيم وموسى} (الأعلى: 16 - 19)، فهذا المعنى لا وجود له في صحف الأسفار المنسوبة لموسى والتي تخلو من الحديث عن الآخرة والقيامة، فضلاً عن المقارنة بينها وبين الدنيا.

ومثله نفتقد في الأسفار الحالية ما نسبه الله إلى توراته وإنجيله في سورة الأعراف من حديث عن النبي الأمي الذي يأمرهم بالمعروف وينهاهم عن المنكر ويحل لهم الطيبات {الّذين يتّبعون الرّسول النّبي الأمّيّ الذي يجدونه مكتوباً عندهم في التّوراة والإنجيل يأمرهم بالمعروف وينهاهم عن المنكر ويحلّ لهم الطّيّبات ويحرّم عليهم الخبائث ويضع عنهم إصرهم والأغلال الّتي كانت عليهم} (الأعراف: 157).
অতএব আমরা দেখি যে, তারা কুরআনের বর্ণনাগুলোকে যথেচ্ছভাবে খণ্ডিত করে উপস্থাপন করে; ফলে তারা কিছু অংশ উল্লেখ করে এবং এমন অনেক কিছু উপেক্ষা করে যা তাদের মতাদর্শের পরিপন্থী। এটিই সর্বদা তাদের পদ্ধতি— "তবে কি তোমরা কিতাবের একাংশে বিশ্বাস করো এবং অন্য অংশকে অস্বীকার করো?" (আল-বাকারাহ: ৮৫)। তারা ঠিক তেমনই, যেমনটি আল্লাহ বর্ণনা করেছেন: "যাদের অন্তরে বক্রতা রয়েছে, তারা ফিতনা সৃষ্টি ও অপব্যাখ্যার উদ্দেশ্যে যা অস্পষ্ট ও রূপক, তার অনুসরণ করে।" (আল-ইমরান: ৭)।

আর যখন এই বর্ণনাগুলোকে একস্থানে একত্রিত করা হয়, তখন সত্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে এবং সত্যের সন্ধানী আল্লাহর সরল পথ প্রত্যক্ষ করতে পারে।

এই পুস্তকগুলো যে মূসা (আ.)-এর তাওরাত নয়, তার অন্যতম প্রমাণ হলো এই যে, কুরআন মূসার সহীফাগুলোর প্রতি এমন অনেক অর্থ ও বিষয় আরোপ করেছে যা বর্তমান পাঠ্যগুলোতে অনুপস্থিত। এর মধ্যে রয়েছে আল্লাহর এই বাণী: "নিশ্চয়ই আল্লাহ মুমিনদের থেকে তাদের জান ও মাল ক্রয় করে নিয়েছেন—এর বিনিময়ে যে, তাদের জন্য জান্নাত রয়েছে। তারা আল্লাহর পথে যুদ্ধ করে; ফলে তারা হত্যা করে ও নিহত হয়। এটি তাওরাত, ইঞ্জিল ও কুরআনে তাঁর দেওয়া একটি সত্য প্রতিশ্রুতি।" (আত-তাওবাহ: ১১১)। এই বক্তব্যের কোনো অস্তিত্ব বর্তমানের পুরাতন নিয়ম কিংবা নতুন নিয়মে নেই।

অনুরূপভাবে মহান আল্লাহর বাণী: "বরং তোমরা পার্থিব জীবনকে প্রাধান্য দাও, অথচ আখিরাত অধিকতর উত্তম ও স্থায়ী। নিশ্চয়ই এটি পূর্ববর্তী সহীফাসমূহে বিদ্যমান—ইব্রাহীম ও মূসার সহীফাসমূহে।" (আল-আ'লা: ১৬-১৯)। এই বক্তব্যের কোনো অস্তিত্ব মূসার প্রতি আরোপিত পুস্তকসমূহে পাওয়া যায় না, যেগুলোতে পরকাল ও পুনরুত্থানের আলোচনা নেই বললেই চলে, পার্থিব জীবনের সাথে পরকালের তুলনার তো প্রশ্নই আসে না।

একইভাবে বর্তমান পুস্তকগুলোতে আমরা সেই বর্ণনার অভাব বোধ করি, যা আল্লাহ সূরা আল-আরাফে তাঁর তাওরাত ও ইঞ্জিলের উদ্ধৃতি দিয়ে সেই নিরক্ষর নবী সম্পর্কে দিয়েছেন, যিনি তাদের সৎকাজের আদেশ দেন, অসৎকাজে নিষেধ করেন এবং তাদের জন্য পবিত্র বস্তুসমূহ হালাল করেন: "যারা অনুসরণ করে সেই রাসূলের—যিনি নিরক্ষর নবী, যার উল্লেখ তারা তাদের নিকট গচ্ছিত তাওরাত ও ইঞ্জিলে লিখিত পায়; তিনি তাদের সৎকাজের নির্দেশ দেন ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখেন এবং তাদের জন্য পবিত্র বস্তুসমূহ হালাল করেন ও অপবিত্র বস্তুসমূহ হারাম করেন এবং তাদের ওপর থেকে সেই বোঝা ও শৃঙ্খল যা তাদের ওপর ছিল, তা অপসারিত করেন।" (আল-আরাফ: ১৫৭)।
(খণ্ড: ১) হালিল আহদুল ক্বদিমু কালিমাতুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
وأمثال هذه الآيات كثير في القرآن، ونفتقدها في الأسفار المقدسة عند اليهود والنصارى اليوم، وذلك مؤذن ببطلان استدلالهم بالقرآن على توثيق ما في أيديهم من الكتب، إذ توثيق القرآن ومدحه، إنما هما لكتاب الله ووحيه، وليس للمحرف من كتبهم، والمنسوب زوراً إلى الله عز وجل.

কুরআনে এই জাতীয় আয়াতের দৃষ্টান্ত বহুবিধ, যা বর্তমানে ইহুদি ও নাসারাদের নিকট বিদ্যমান পবিত্র গ্রন্থসমূহে পাওয়া যায় না। এটি তাদের নিকট রক্ষিত কিতাবসমূহের প্রামাণিকতা প্রমাণের সপক্ষে কুরআন থেকে দলিল পেশ করার অসারতা প্রমাণ করে। কেননা কুরআনের সত্যায়ন ও প্রশংসা কেবল আল্লাহর কিতাব ও তাঁর ওহীর জন্যই প্রযোজ্য, তাদের কিতাবসমূহের সেই বিকৃত অংশের জন্য নয় যা মিথ্যাভাবে মহান আল্লাহর প্রতি আরোপ করা হয়েছে।

(খণ্ড: ১) হালিল আহদুল ক্বদিমু কালিমাতুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌أسفار العهد القديم

التوراة التي يؤمن بها اليهود والنصارى تتكون من أقسام عدة:

أ) الأسفار الخمسة المنسوبة لموسى والتي يقابلها عند المسلمين: التوراة. وهي: سفر التكوين، سفر الخروج، سفر اللاويين، سفر العدد، سفر التثنية.

ويجدر التنبيه إلى أن فرقة السامريين اليهودية لا تؤمن بما سوى الأسفار الخمسة من توراتها السامرية، كما سيأتي بيانه.

ب) الأسفار التاريخية، وهي أسفار منسوبة لعدد من الأنبياء الذين عاصروا هذه المراحل التاريخية من حياة بني إسرائيل، وعددها اثني عشر: (سفر يشوع، سفر القضاة، سفر راعوث، سفر صموئيل الأول، سفر صموئيل الثاني، سفر الملوك الأول، سفر الملوك الثاني، سفر أخبار الأيام الأول، سفر أخبار الأيام الثاني، سفر عِزرا، سفر نحميا، سفر إستير).

ج) أسفار الشعر والحكمة، وهي خمسة أسفار: (سفر أيوب، سفر المزامير، سفر الأمثال، سفر الجامعة، سفر نشيد الإنشاد)، وتنسب هذه المجموعة في غالبها إلى داود وسليمان، ومن المزامير ما ينسب إلى آخرين مجهولين يدعون بني قورح وأساف وإيثان (23 مزموراً)، ومنها المزامير اليتيمة (51 مزموراً)، ولا يعرف قائلها.

د) الأسفار النبوية، وتتكون من سبعة عشر سفراً، وهي: (سفر إشعيا، سفر إرميا، سفر مراثي إرميا، سفر حزقيال، سفر دانيال، سفر هوشع، سفر يؤئيل، سفر عاموس، سفر عوبديا، سفر يونان، سفر ميخا، سفر ناحوم، سفر حبقوق، سفر صفينا، سفر زكريا، سفر حجي، سفر ملاخي). وتسمى الأسفار الستة الأولى أسفار الأنبياء الكبار، والبقية الأنبياء الصغار.
পুরাতন নিয়মের পুস্তকসমূহ

ইহুদি ও খ্রিস্টানরা যে তওরাতের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে, তা বেশ কয়েকটি ভাগে বিভক্ত:

ক) মুসার প্রতি নিসবতকৃত পাঁচটি কিতাব, যা মুসলমানদের নিকট 'তওরাত' হিসেবে পরিচিত। সেগুলো হলো: আদিপুস্তক, যাত্রাপুস্তক, লেবীয় পুস্তক, গণনা পুস্তক এবং দ্বিতীয় বিবরণ।

এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, ইহুদিদের সামেরীয় সম্প্রদায় তাদের নিজস্ব 'সামেরীয় তওরাত'-এর এই পাঁচটি কিতাব ব্যতীত অন্য কোনো পুস্তকে বিশ্বাস করে না, যা সামনে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হবে।

খ) ঐতিহাসিক কিতাবসমূহ: এগুলো বনী ইসরায়েলের ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়ে সমসাময়িক বেশ কিছু নবীর প্রতি নিসবতকৃত। এগুলোর সংখ্যা বারোটি: (যিহোশূয়ের কিতাব, বিচারকর্তৃগণের কিতাব, রূথের কিতাব, প্রথম শামুয়েল, দ্বিতীয় শামুয়েল, প্রথম রাজাবলি, দ্বিতীয় রাজাবলি, প্রথম বংশাবলি, দ্বিতীয় বংশাবলি, ইজরার কিতাব, নহিমিয়ের কিতাব এবং ইষ্টেরের কিতাব)।

গ) কাব্য ও প্রজ্ঞা বিষয়ক কিতাবসমূহ: এগুলো পাঁচটি পুস্তক নিয়ে গঠিত: (আইয়ুবের কিতাব, জবুর বা গীতসংহিতা, হিতোপদেশ, উপদেশক এবং পরমগীত)। এই সংকলনটি মূলত দাউদ ও সুলাইমানের প্রতি নিসবতকৃত। জবুরের কিছু অংশ ‘বনী কোরহ’, ‘আসাফ’ ও ‘ইথান’ নামক অজ্ঞাত ব্যক্তিদের প্রতিও নিসবত করা হয় (২৩টি জবুর), আর কিছু রয়েছে ‘অনাথ জবুর’ (৫১টি জবুর), যেগুলোর রচয়িতার পরিচয় জানা যায় না।

ঘ) ভবিষ্যদ্বাণীমূলক কিতাবসমূহ: এগুলো সতেরোটি পুস্তক নিয়ে গঠিত, সেগুলো হলো: (ইশাইয়ার কিতাব, ইরমিয়ার কিতাব, ইরমিয়ার বিলাপ, হিজকিয়েলের কিতাব, দানিয়েলের কিতাব, হোশেয়ের কিতাব, যোয়েলের কিতাব, আমোষের কিতাব, ওবদিয়ের কিতাব, ইউনুসের কিতাব, মীখার কিতাব, নাহূমের কিতাব, হবক্কূকের কিতাব, সফনিয়ের কিতাব, জাকারিয়ার কিতাব, হগয়ের কিতাব এবং মালাখির কিতাব)। প্রথম ছয়টি পুস্তককে ‘বড় নবীদের কিতাব’ এবং বাকিগুলোকে ‘ছোট নবীদের কিতাব’ বলা হয়।
(খণ্ড: ১) হালিল আহদুল ক্বদিমু কালিমাতুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
هـ) أسفار الأبوكريفا السبعة، وهي: (باروخ، طوبيا، يهوديت، الحكمة، يشوع بن سيراخ، المكابيين الأول، المكابيين الثاني). يسميها البعض الأسفار الخفية، وكانت موضع ارتياب بعض آباء الكنيسة الأوائل، فالقديس جيروم ترجم أسفار الأبوكريفا إلى اللاتينية، لكنه لم يضفها إلى الأسفار القانونية، لكن غيره قبلها، واجتمعت الفرق المسيحية على قبولها في مجمعي هيبو (393م) وقرطاجة (397م)، وبقيت كذلك حتى القرن السادس عشر الميلادي. (1)

وفي ذلك القرن (16م) ظهر البرتستانت، فرفضوا الإيمان بقانونية هذه الأسفار تبعاً لليهود (2)، وأما الأرثوذكس والكاثوليك فقد تمسكوا بها، وإن كان البعض يطبعونها منفردة في بعض النسخ الحديثة حرصاً على الوحدة الدينية للمذاهب النصرانية.

وقد أقر قانونية هذه الأسفار جميعاً مجمع "ترنت" الكاثوليكي سنة 1545 - 1563م، والأرثوذكس في مجمع "بيت المقدس" سنة 1672م.

ويجدر بالذكر أن بعض الكنائس المسيحية تزيد أسفاراً أخرى إلى الكتاب المقدس، كالكنيسة الأثيوبية التي تقول عنها دائرة المعارف الكتابية: "فعلاوة على الأسفار القانونية المعترف بها، فإنهم يقبلون راعي هرماس وقوانين المجامع ورسائل أكليمندس، والمكابيين وطوبيا ويهوديت والحكمة ويشوع بن سيراخ وباروخ، وأسفار أسدراس الأربعة، وصعود إشعياء، وسفر آدم ويوسف بن جوريون وأخنوخ واليوبيل". (3)

وكذلك فإن الرسالة المنسوبة للنبي إرمياء كانت معتبرة عند الآباء الأوائل

--------------------------------------------

(1) انظر: المدخل إلى العهد القديم، القس الدكتور صموئيل يوسف، ص (39).

(2) للوقوف على حجج البرتستانت في رفض هذه الأسفار انظر علم اللاهوت النظامي، جيمس أنس، ص (60 - 65).

(3) دائرة المعارف الكتابية (1/ 82).
ঙ) সাতটি অ্যাপোক্রিফা (Apocrypha) পুস্তক, সেগুলো হলো: (বারুক, টোবিট, জুডিথ, প্রজ্ঞা, যিশু বিন সিরাখ, ১ মক্কাবীয়, ২ মক্কাবীয়)। কেউ কেউ এগুলোকে 'গুপ্ত পুস্তক' নামে অভিহিত করেন। এগুলো প্রাথমিক গির্জার কিছু ধর্মপিতার নিকট সন্দেহের বিষয় ছিল। সেন্ট জেরোম অ্যাপোক্রিফা পুস্তকসমূহ ল্যাটিন ভাষায় অনুবাদ করেছিলেন, তবে তিনি সেগুলোকে প্রামাণিক (Canonical) পুস্তকগুলোর অন্তর্ভুক্ত করেননি। কিন্তু অন্যরা সেগুলো গ্রহণ করেছিলেন এবং খ্রিস্টীয় দলগুলো হিপো (৩৯৩ খ্রি.) ও কার্থেজ (৩৯৭ খ্রি.) কাউন্সিলে এগুলো গ্রহণের ব্যাপারে একমত হয়েছিল। ষোড়শ শতাব্দী পর্যন্ত এই অবস্থাই বজায় ছিল। (১)

সেই শতাব্দীতেই (১৬শ খ্রি.) প্রোটেস্ট্যান্টদের আবির্ভাব ঘটে। তারা ইহুদিদের অনুসরণ করে এই পুস্তকগুলোর প্রামাণিকতায় বিশ্বাস করতে অস্বীকার করে (২)। তবে অর্থোডক্স এবং ক্যাথলিকরা এগুলোকে আঁকড়ে ধরে থাকে, যদিও খ্রিস্টান সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে ধর্মীয় ঐক্য বজায় রাখার স্বার্থে কেউ কেউ আধুনিক কিছু সংস্করণে এগুলোকে আলাদাভাবে মুদ্রণ করেন।

১৫৪৫-১৫৬৩ খ্রিস্টাব্দে ক্যাথলিকদের 'ট্রেন্ট' কাউন্সিল এবং ১৬৭২ খ্রিস্টাব্দে অর্থোডক্সদের 'জেরুজালেম' কাউন্সিলে এই সকল পুস্তকের প্রামাণিকতা স্বীকৃত হয়।

উল্লেখ্য যে, কিছু খ্রিস্টান চার্চ পবিত্র বাইবেলে আরও কিছু পুস্তক সংযোজন করে থাকে, যেমন ইথিওপীয় চার্চ। তাদের সম্পর্কে 'বাইবেল বিশ্বকোষ' (Biblical Encyclopedia) বলছে: "স্বীকৃত প্রামাণিক পুস্তকগুলো ছাড়াও তারা 'হারমাসের মেষপালক' (Shepherd of Hermas), কাউন্সিলসমূহের বিধিমালা, ক্লিমেন্টের পত্রসমূহ, মক্কাবীয়, টোবিট, জুডিথ, প্রজ্ঞা, যিশু বিন সিরাখ, বারুক, এজরা-র চারটি পুস্তক, ঈশাইয়ার স্বর্গারোহণ, আদমের পুস্তক, জোসেফ বিন গুরিয়ন, ইনোক (ইদ্রিস) এবং জুবিলিস (Jubilees) পুস্তকগুলো গ্রহণ করে থাকে।" (৩)

একইভাবে নবী ইয়ারমিয়ার প্রতি আরোপিত পত্রটিও আদি ধর্মপিতাদের নিকট নির্ভরযোগ্য হিসেবে গণ্য ছিল

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-মাদখাল ইলাল আহদিল কাদিদ (ওল্ড টেস্টামেন্টের ভূমিকা), রেভারেন্ড ডক্টর সামুয়েল ইউসুফ, পৃ. (৩৯)।

(২) এই পুস্তকগুলো প্রত্যাখ্যানের ক্ষেত্রে প্রোটেস্ট্যান্টদের যুক্তিগুলো জানতে দেখুন: ইলমুল লাহুত আন-নিজামি (সিস্টেমেটিক থিওলজি), জেমস এনিস, পৃ. (৬০-৬৫)।

(৩) দা’ইরাতুল মাআরিফ আল-কিতাবিয়্যাহ (বাইবেল বিশ্বকোষ), (১/ ৮২)।
(খণ্ড: ১) হালিল আহদুল ক্বদিমু কালিমাতুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
للكنيسة، وقد حوتها أهم المخطوطات اليونانية [الفاتيكانية والسكندرية] وأقدم الترجمات كالسبعينية اليونانية، والبشيطة السريانية، والقبطية والأثيوبية، بل نقلت دائرة المعارف الكتابية أن "الآباء اليونانيين الأوائل يميلون - بوجه عام - إلى اعتبار الرسالة جزءاً من الأسفار القانونية، لذلك تذكر في قوائم الأسفار القانونية لأوريجانوس وأبيفانيوس وكيرلس الأورشليمي وأثناسيوس، وعليه فقد اعترف بها رسمياً في مجمع لاودكية (360م) " (1)، ولكن هذه الرسالة اعتبرت فيما بعد من أسفار الأبوكريفا المدرجة زيفاً في الكتاب المقدس.

ويطلق النصارى _ لا اليهود _ على الأجزاء الأربعة السالف ذكرها اسم العهد القديم، وتسمى أيضاً الكتب والناموس، ويطلق اسم التوراة على الأجزاء الثلاثة الأخيرة تجوزاً.

يرجع أصل هذه التسمية إلى بولس، حين سمى التوراة بالعهد القديم في قوله: " عند قراءة العهد العتيق " (كورنثوس (2) 3/ 14). لتصبح الأناجيل والرسائل الملحقة هي العهد الجديد. (2)

- وقد تم تقسيم أسفار العهد القديم إلى إصحاحات في سنة 1200م على يد أُسقف كانتربري الأسقف ستيفن لانجتون (ت 1228م).

ثم رقمت جمل الإصحاحات في الطبعة الباريسية الصادرة عام 1551م.

وأما ترتيب الأسفار فقد أعيد غير مرة، وكان قد أقر له ترتيب في مجمع روما

--------------------------------------------

(1) دائرة المعارف الكتابية (1/ 189)، وانظر تاريخ الكنيسة، يوسابيوس القيصري، ص (274).

(2) لكن أول من أطلق هذه التسمية حقيقة الأسقف ميليتس أسقف سادرس عام 180م. المدخل إلى العهد القديم، القس الدكتور صموئيل يوسف، ص (17).
গির্জার জন্য, যা গুরুত্বপূর্ণ গ্রিক পাণ্ডুলিপিগুলো [ভ্যাটিকান ও আলেকজান্দ্রিয়ান] এবং প্রাচীনতম অনুবাদগুলোতে অন্তর্ভুক্ত ছিল, যেমন গ্রিক সেপ্টুয়াজিন্ট, সিরীয় পেশিত্তা, কিবতি (কপটিক) ও ইথিওপীয় সংস্করণ। এমনকি 'বাইবেলীয় বিশ্বকোষ' (দাইরাতুল মাআরিফ আল-কিতাবিয়্যাহ) উদ্ধৃত করেছে যে, "প্রারম্ভিক গ্রিক পিতৃপুরুষগণ সাধারণভাবে এই পত্রটিকে পবিত্র শাস্ত্রের প্রামাণিক অংশ (ক্যানোনিকাল) হিসেবে বিবেচনা করার পক্ষপাতী ছিলেন; এই কারণেই ওরিজেন, এপিফানিউস, জেরুজালেমের সিরিল এবং আথানাসিউসের প্রামাণিক শাস্ত্রের তালিকায় এর উল্লেখ পাওয়া যায়। সে অনুযায়ী ৩৬০ খ্রিস্টাব্দে লাউডিশিয়ার কাউন্সিলে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত হয়েছিল" (১)। তবে পরবর্তীকালে এই পত্রটিকে বাইবেলে অন্তর্ভুক্ত জাল বা অপ্রামাণিক (অ্যাপোক্রিফা) পুস্তক হিসেবে গণ্য করা হয়।

খ্রিস্টানরা — ইহুদিরা নয় — উপরিউক্ত চারটি অংশকে 'পুরাতন নিয়ম' (ওল্ড টেস্টামেন্ট) বলে অভিহিত করে। এগুলোকে 'কিতাবসমূহ' ও 'শরীয়ত' (নমুস) নামেও ডাকা হয়। আর শেষ তিনটি অংশকে আলঙ্কারিক অর্থে বা রূপকভাবে 'তওরাত' বলা হয়।

এই নামকরণের উৎস পৌলের (পল) দিকে ফিরে যায়, যখন তিনি তওরাতকে 'পুরাতন নিয়ম' হিসেবে অভিহিত করেছিলেন তাঁর এই উক্তিতে: "পুরাতন নিয়ম পাঠ করার সময়" (২ করিন্থীয় ৩:১৪)। এর মাধ্যমে ইঞ্জিলসমূহ ও এর সাথে যুক্ত পত্রাবলি 'নতুন নিয়ম' (নিউ টেস্টামেন্ট) হিসেবে পরিগণিত হয়। (২)

- পুরাতন নিয়মের পুস্তকগুলোকে ১২০০ খ্রিস্টাব্দে ক্যান্টারবারির আর্চবিশপ স্টিফেন ল্যাংটন (মৃত্যু ১২২৮ খ্রি.) অধ্যায়ে (চ্যাপ্টার) বিভক্ত করেছিলেন।

অতঃপর ১৫৫১ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত প্যারিস সংস্করণে অধ্যায়ের বাক্যগুলোকে সংখ্যায়িত করা হয়।

আর পুস্তকগুলোর বিন্যাস বা ক্রম একাধিকবার পরিবর্তন করা হয়েছে; রোম কাউন্সিলে এর একটি বিন্যাস অনুমোদিত হয়েছিল।

--------------------------------------------

(১) বাইবেলীয় বিশ্বকোষ (১/১৮৯); আরও দেখুন: ইউসেবিয়াস অফ সিজারিয়া রচিত 'গির্জার ইতিহাস' (তারিখুল কানিসাহ), পৃষ্ঠা ২৭৪।

(২) তবে প্রকৃতপক্ষে সর্বপ্রথম এই নামকরণ করেছিলেন ১৮০ খ্রিস্টাব্দে সার্ডিসের বিশপ মেলিতো। দেখুন: রেভারেন্ড ডক্টর স্যামুয়েল ইউসুফ রচিত 'পুরাতন নিয়মের ভূমিকা' (আল-মাদখাল ইলাল আহদিল কদিম), পৃষ্ঠা ১৭।
(খণ্ড: ১) হালিল আহদুল ক্বদিমু কালিমাতুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
382م، ثم عدل في ترنت 1546م، ولهذا التغيير علاقة قوية بقيمة الأسفار وأهميتها ودرجة ثبوتها.

- ولا يؤمن اليهود ولا النصارى بالإلهام الحرفي للكتاب المقدس، بل يعتقدون أن كلاً من كتبة الأسفار قد كتب بأسلوبه كما ألهمه الروح القدس، فهم "لم يتكلموا باسمهم الشخصي، ولم ينهلوا من نبع معرفتهم الشخصية، ولم يعلنوا للناس أفكارهم وآراءهم الخاصة .. الروح القدس أوحى لكتاب الأسفار المقدسة ما كتبوا، وأرشدهم فيما كتبوا، ولكن الروح لم يمح شخصياتهم، بل كتب كل بأسلوبه الخاص" (1)، يقول بطرس: " كل نبوة الكتاب ليست من تفسير خاص، لأنه لم تأت نبوة قط بمشيئة إنسان، بل تكلم أناس الله القديسون مسوقين من الروح القدس" (بطرس (2) 1/ 20 - 21).

- وعن أصحاب هذه الأسفار وكتبتها الأصليين تقول كنيسة دميانة: " لقد كتب العهد القديم في فترة 2500 سنة قبل الميلاد بواسطة أربعين كاتباً، يختلفون في صفاتهم، فمنهم الفلاسفة مثل موسى النبي، ومنهم الراعي البسيط جامع الجميز مثل عاموس، والقائد الحربي يشوع، وساقي الملك نحميا، ومنهم إشعيا رجل القصور، ودانيال رئيس الوزراء، وسليمان الملك صاحب الحكمة ....

كما اختلف الكُتاب عن بعضهم في ظروف تسجيل الوحي الإلهي، فموسى سجل أسفاره في البرية، وأما إرمياء فسجلها في ظلمة الجب، وأما داود النبي فكتب مزاميره عند سفوح التلال، وهو يرعى خرافه … ورغم هذا نجد أن الكتاب المقدس يمتاز بوحدة ترابطية عجيبة لا تناقض فيها ولا خلل". (2)

--------------------------------------------

(1) قاموس الكتاب المقدس، ص (1020 - 1021).

(2) انظر: الكتاب المقدس في الميزان، عبد السلام محمد، ص (92 - 96)، وقاموس الكتاب المقدس، ص (762).
৩৮২ খ্রিস্টাব্দে, অতঃপর ১৫৪৬ খ্রিস্টাব্দে ট্রেন্টে (Trent) এটি সংশোধিত হয়। এই পরিবর্তনের সাথে ধর্মপুস্তকসমূহের (আসফার) মান, গুরুত্ব এবং প্রামাণিকতার স্তরের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে।

- ইহুদি এবং খ্রিস্টানরা বাইবেলের আক্ষরিক ঐশী অনুপ্রেরণায় (Literal Inspiration) বিশ্বাস করে না; বরং তারা মনে করে যে, পবিত্র ধর্মপুস্তকগুলোর প্রত্যেক লেখক পবিত্র আত্মা (রুহুল কুদুস) দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে নিজস্ব শৈলীতে তা রচনা করেছেন। তারা "নিজেদের ব্যক্তিগত নামে কথা বলেননি, নিজেদের ব্যক্তিগত জ্ঞানের উৎস থেকেও কিছু গ্রহণ করেননি এবং মানুষের কাছে তাদের নিজস্ব চিন্তা ও মতামত প্রকাশ করেননি... পবিত্র আত্মা পবিত্র ধর্মপুস্তকগুলোর লেখকদের যা লিখতে হবে তা প্রত্যাদেশ করেছেন এবং তারা যা লিখেছেন তাতে তাদের পথপ্রদর্শন করেছেন, তবে আত্মা তাদের ব্যক্তিত্বকে বিলুপ্ত করে দেননি; বরং প্রত্যেকে নিজ নিজ বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী লিখেছেন" (১)। পিতর বলেন: "পবিত্র শাস্ত্রের কোনো ভাববাণীই ব্যক্তিগত ব্যাখ্যার বিষয় নয়। কারণ কোনো ভাববাণীই কখনো মানুষের ইচ্ছানুসারে আসেনি, বরং পবিত্র আত্মার দ্বারা চালিত হয়ে ঈশ্বরের পবিত্র মানুষেরা কথা বলেছেন" (২ পিতর ১/ ২০ - ২১)।

- এই ধর্মপুস্তকগুলোর রচয়িতা এবং আদি লেখকদের সম্পর্কে সেন্ট ড্যামিয়ানা (Damiana) চার্চ বলে: "পুরাতন নিয়ম (ওল্ড টেস্টামেন্ট) খ্রিস্টপূর্ব ২৫০০ বছরের সময়কালে চল্লিশ জন লেখকের মাধ্যমে লিখিত হয়েছে, যারা চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যে পরস্পর ভিন্ন ছিলেন। তাদের মধ্যে কেউ ছিলেন মুসা নবীর মতো দার্শনিক, কেউ আমোসের মতো সাধারণ মেষপালক ও ডুমুর সংগ্রাহক, কেউ সেনাপতি যিহোশূয়, কেউ রাজা নহিমিয়ের পানপাত্রবাহক; আবার তাদের মধ্যে ছিলেন রাজপ্রাসাদের ব্যক্তিত্ব যিশাইয়, প্রধানমন্ত্রী দানিয়েল এবং প্রজ্ঞাবান রাজা সুলাইমান...

তেমনিভাবে ঐশী বাণী লিপিবদ্ধ করার পরিস্থিতির ক্ষেত্রেও লেখকরা একে অপরের থেকে ভিন্ন ছিলেন। মুসা তার পুস্তকগুলো মরুপ্রান্তরে লিপিবদ্ধ করেছিলেন, পক্ষান্তরে যিরমীয় তা কূয়োর অন্ধকারে লিপিবদ্ধ করেছিলেন, আর দাউদ নবী তার সামীয় সংগীতগুলো পাহাড়ের পাদদেশে মেষ চড়ানোর সময় লিখেছিলেন … এতদসত্ত্বেও আমরা দেখতে পাই যে, পবিত্র বাইবেল এক বিস্ময়কর ঐক্যবদ্ধ সুসমন্বয়ে বিশিষ্ট, যাতে কোনো বৈপরীত্য বা ত্রুটি নেই।" (২)

--------------------------------------------

(১) বাইবেল অভিধান (কামুস আল-কিতাব আল-মুকাদ্দাস), পৃষ্ঠা (১০২০ - ১০২১)।

(২) দেখুন: আল-কিতাব আল-মুকাদ্দাস ফি আল-মিজান, আবদুস সালাম মুহাম্মদ, পৃষ্ঠা (৯২ - ৯৬), এবং বাইবেল অভিধান, পৃষ্ঠা (৭৬২)।
(খণ্ড: ১) হালিল আহদুল ক্বদিমু কালিমাতুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
ويضيف محررو قاموس الكتاب المقدس: " والكتاب أصل الإيمان المسيحي ومصدره، وهو خال من الأخطاء والزلل، وفيه كل ما يختص بالإيمان والحياة الروحية … أوحى الله بكلمته إلى أنبياء ورسل نطقوا بها حسب اصطلاحات اللغات البشرية، فكان الكاتب الملهَم أما أن يكتب بنفسه ما يوحى به إليه، وإما أن يمليه على كاتب يكتبه له، إلا أنه لم يصل إلينا بعد شيء من النسخ الأصلية التي كتبها هؤلاء الملهمون أو كُتّابهم .. ". (1)

فمعتقد النصارى في هذه الكتب - كما رأيتَ - أنها تحمل كلمة الله، وأنه كتبها أنبياء الله بإلهام من الروح القدس، وهذه الدعاوى هي ما سنحاول دراسته والتوثق من صحته في هذه الحلقة من سلسلة الهدى والنور.

--------------------------------------------

(1) قاموس الكتاب المقدس، ص (763).
বাইবেল ডিকশনারির সম্পাদকগণ আরও যোগ করেন: "এই গ্রন্থটি খ্রিস্টীয় বিশ্বাসের মূল ও উৎস এবং এটি ভুল ও বিচ্যুতি থেকে মুক্ত। এতে বিশ্বাস ও আধ্যাত্মিক জীবন সংক্রান্ত সবকিছুই বিদ্যমান … ঈশ্বর তাঁর বাণী সেই সকল নবী ও রাসুলদের কাছে ওহি করেছেন যারা মানবীয় ভাষার রীতি অনুযায়ী তা ব্যক্ত করেছিলেন। ফলে অনুপ্রাণিত লেখক হয় নিজে ওহিপ্রাপ্ত বাণী লিখে নিতেন অথবা অন্য কোনো লেখকের মাধ্যমে তা লিখিয়ে নিতেন। তবে এই সকল অনুপ্রাণিত ব্যক্তি বা তাঁদের লেখকদের দ্বারা লিখিত মূল পাণ্ডুলিপির কোনো অংশই এখন পর্যন্ত আমাদের নিকট পৌঁছেনি..।" (১)

সুতরাং এই গ্রন্থসমূহ সম্পর্কে খ্রিস্টানদের বিশ্বাস—যেমনটি আপনি দেখলেন—হলো এগুলো আল্লাহর বাণী বহন করে এবং আল্লাহর নবীগণ পবিত্র আত্মার অনুপ্রেরণায় এগুলো লিপিবদ্ধ করেছেন। আর এই দাবিগুলোই আমরা 'আল-হুদা ওয়ান-নূর' ধারাবাহিকের এই পর্বে পর্যালোচনা ও এর সত্যতা যাচাই করার চেষ্টা করব।

--------------------------------------------

(১) বাইবেল ডিকশনারি, পৃষ্ঠা (৭৬৩)।
(খণ্ড: ১) হালিল আহদুল ক্বদিমু কালিমাতুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌لمحات من تاريخ بني إسرائيل

وقبل أن نشرع في إبطال نسبة الأسفار إلى الأنبياء نرى أنه يلزمنا أن نستعرض - ولو سريعاً - أبرز المحطات المهمة في تاريخ بني إسرائيل كما تذكرها التوراة والمراجع التي أفادت منها.

يبدأ تاريخ بني إسرائيل بأبيهم يعقوب بن إسحاق بن إبراهيم عليهم السلام، وقد سمي يعقوب فيما بعد "إسرائيل "، ورزق اثني عشر من الولد، وكل واحد منهم ولَد أمة تسمى سبطاً ينسب إليه، فأسباط إسرائيل هم ذرية يعقوب من أبنائه الإثني عشر، وقد دخل يعقوب وأبناؤه مصر إبان سيطرة الهكسوس عليها، فعاشوا فيها، ولما أخرج الهكسوس من مصر، أذل المصريون بني إسرائيل وساموهم أصناف العذاب.

ثم بعث الله فيهم موسى عليه السلام فاستنقذهم من أسر فرعون وذله، وقادهم باتجاه الأرض المقدسة، فجبُنوا عن دخولها، وبقوا في التيه في سيناء أربعين سنة توفي فيها موسى وهارون.

ثم قاد يشوع (وصي موسى) بني إسرائيل فأدخلهم الأرض المقدسة في القرن الثاني عشر قبل الميلاد، وبعد وفاته تفرق بنو إسرائيل إلى مجموعات متناثرة يحكمها عدد من القضاة، واستمر ذلك زهاء قرن ونصف.

ثم اختار لهم النبي صموئيل شاول (طالوت) ملكاً، فحكمهم عشر سنين، ثم ملك بعده داود ثم ابنه سليمان الذي توفي عام 922 ق. م، وولي بعده ابنه رحبعام، وثار عليه يربعام بن ناباط، وتبعه عشرة من الأسباط، وكونوا دولة شمالية سميت: مملكة إسرائيل، وعاصمتها شكيم (نابلس) وبقيت حتى عام 722 ق. م حيث قضى عليها الآشوريون، وحكموا تلك البلاد.
বনী ইসরাঈলের ইতিহাসের এক ঝলক

নবীগণের দিকে আসফার বা কিতাবসমূহের সম্বন্ধীকরণের অসারতা প্রমাণের পূর্বে আমরা প্রয়োজন মনে করছি যে, বনী ইসরাঈলের ইতিহাসের প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়সমূহ—তাওরাত এবং এর থেকে উপকৃত অন্যান্য উৎসসমূহ যেভাবে উল্লেখ করেছে—তা আমরা সংক্ষেপে হলেও পর্যালোচনা করব।

বনী ইসরাঈলের ইতিহাস শুরু হয় তাদের আদি পিতা ইয়াকুব ইবনে ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (তাঁদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক)-এর মাধ্যমে। পরবর্তীকালে ইয়াকুবকে "ইসরাঈল" নামে অভিহিত করা হয়। তাঁকে বারোজন সন্তান দান করা হয়েছিল এবং তাদের প্রত্যেকের থেকে একটি করে জনসমষ্টির উদ্ভব ঘটে যাকে 'সিবত' বা গোত্র বলা হয় এবং যা তাদের দিকেই সম্বন্ধিত। সুতরাং বনী ইসরাঈলের গোত্রসমূহ হলো ইয়াকুবের বারোজন সন্তানের বংশধর। ইয়াকুব ও তাঁর সন্তানরা মিসরে প্রবেশ করেছিলেন যখন সেখানে হিকসোসদের শাসন চলছিল এবং তাঁরা সেখানেই বসবাস করেন। যখন মিসর থেকে হিকসোসরা বিতাড়িত হলো, তখন মিসরীয়রা বনী ইসরাঈলকে লাঞ্ছিত করল এবং তাদের ওপর বিভিন্ন প্রকারের নির্যাতন চালালো।

অতঃপর আল্লাহ তাদের মাঝে মুসা (আলাইহিস সালাম)-কে প্রেরণ করলেন এবং তিনি তাদের ফিরআউনের দাসত্ব ও লাঞ্ছনা থেকে উদ্ধার করলেন। তিনি তাদের পবিত্র ভূমির দিকে নিয়ে চললেন, কিন্তু সেখানে প্রবেশ করতে তারা ভীরুতা প্রদর্শন করল। ফলে তারা সিনাই প্রান্তরে চল্লিশ বছর উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরে বেড়াল, এবং এই সময়েই মুসা ও হারুন ইন্তেকাল করেন।

অতঃপর ইউশা (মুসার উত্তরসূরি) বনী ইসরাঈলের নেতৃত্ব দিলেন এবং খ্রিস্টপূর্ব দ্বাদশ শতাব্দীতে তাদের পবিত্র ভূমিতে প্রবেশ করালেন। তাঁর মৃত্যুর পর বনী ইসরাঈল বিভিন্ন বিচ্ছিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে পড়ে যাদের বেশ কিছু বিচারক শাসন করতেন এবং এই অবস্থা প্রায় দেড় শতাব্দীকাল স্থায়ী হয়েছিল।

এরপর নবী সামুয়েল শাউলকে (তালুত) তাদের রাজা হিসেবে মনোনীত করেন এবং তিনি দশ বছর তাদের শাসন করেন। তাঁর পর দাউদ এবং অতঃপর তাঁর পুত্র সুলায়মান রাজত্ব করেন, যিনি খ্রিস্টপূর্ব ৯২২ অব্দে ইন্তেকাল করেন। তাঁর পর তাঁর পুত্র রেহবোয়াম ক্ষমতায় আসীন হন এবং যারোবয়াম ইবনে নাবাত তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন। দশটি গোত্র তাঁর অনুসারী হয় এবং তারা একটি উত্তর রাজ্য গঠন করে যার নাম দেওয়া হয়: 'ইসরাঈল রাজ্য'; এর রাজধানী ছিল শেখেম (নাবলুস)। এটি খ্রিস্টপূর্ব ৭২২ অব্দ পর্যন্ত টিকে ছিল, যখন আসিরীয়রা একে ধ্বংস করে এবং ওই অঞ্চল শাসন করতে শুরু করে।
(খণ্ড: ১) হালিল আহদুল ক্বদিমু কালিমাতুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
وأما المملكة الجنوبية (يهوذا)، فعاصمتها أورشليم، فبقي الملك فيها في ذرية سليمان حتى جاء بختنصر عام 586 ق. م، فقتل ملكها صدقيا، وأحرق أورشليم وهيكلها، وسبى سكانها إلى بابل، فبقوا هناك حتى أعادهم الملك الفارسي قورش سنة 538 ق. م، ثم بقوا في فلسطين في ظل اليونان ثم الرومان الذين دخلوا أورشليم عام 64 ق. م، واستمرت سيطرتهم على فلسطين حتى ظهور الإسلام.

আর দক্ষিণ রাজ্যের (ইয়াহুদা) কথা বলতে গেলে, এর রাজধানী ছিল জেরুজালেম। সেখানে সুলায়মান (আ.)-এর বংশধরদের রাজত্ব ৫৮৬ খ্রিস্টপূর্বাব্দে বুখত নাসসারের আক্রমণ পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। সে সময় বুখত নাসসার এর রাজা সিদিকিয়াকে হত্যা করেন, জেরুজালেম ও এর উপাসনালয় (হাইকাল) ভস্মীভূত করেন এবং অধিবাসীদের বন্দি করে ব্যাবিলনে নিয়ে যান। তারা সেখানে ৫৩৮ খ্রিস্টপূর্বাব্দে পারস্যরাজ সাইরাস (কুরূশ) কর্তৃক তাদের পুনর্বাসিত করার আগ পর্যন্ত অবস্থান করেন। অতঃপর তারা গ্রিক এবং পরবর্তীতে রোমানদের শাসনাধীনে ফিলিস্তিনে বসবাস করতে থাকেন; যারা ৬৪ খ্রিস্টপূর্বাব্দে জেরুজালেমে প্রবেশ করেছিল। আর ফিলিস্তিনের ওপর তাদের এই আধিপত্য ইসলামের আবির্ভাব পর্যন্ত বলবৎ ছিল।

(খণ্ড: ১) হালিল আহদুল ক্বদিমু কালিমাতুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌النصوص التوراتية الحالية

وصل إلى أيدينا ثلاث نصوص مختلفة للتوراة، ولا نتحدث هنا عن ثلاث ترجمات، بل نعني أنه توجد نصوص ثلاثة يستقل بعضها عن بعض.

وهذه النصوص هي:

1 - الترجمة اليونانية (السبعينية)، والتي كانت نسخها المختلفة أساساً لنسخة القديس جيروم (الفولجاتا) التي ترجمها - مع بعض التعديلات من الأصول العبرانية - إلى اللغة اللاتينية في أواخر القرن الرابع (386م)، وعنها أخذ الكاثوليك والأرثوذكس توراتهم.

2 - العبرانية المعتبرة عند اليهود والبرتستانت.

3 - السامرية المعتبرة عند طائفة السامريين من اليهود فقط.

وهذه النصوص متشابهة في عمودها الفقري، لكنها مختلفة ومتناقضة في بعض التفاصيل الدقيقة، كما ثمة فرقان كبيران يجدر أن ننبه لهما، أولهما: أن الترجمة اليونانية تزيد أسفار الأبوكريفا السبعة عن العبرية، وثانيهما: أنهما تزيدان معاً عن التوراة السامرية، والتي لا تعترف إلا بالأسفار الخمسة.

 

‌‌صور من الاختلاف بين النصوص التوراتية

وقد تحدث النقاد عن صور الاختلاف بين هذه النصوص، وطبقاً للموسوعة البريطانية فإن النص السامري يختلف عن النص اليوناني (في الأسفار الخمسة) بما يزيد على أربعة آلاف اختلاف، ويختلف عن النص العبري القياسي بما يربو على ستة آلاف اختلاف. (1)

--------------------------------------------

(1) انظر: حول موثوقية الأناجيل والتوراة، محمد السعدي، ص (114)، والمدخل إلى العهد القديم، القس الدكتور صموئيل يوسف، ص (52)، وقاموس الكتاب المقدس، ص (451).
বর্তমান তওরাত পাঠসমূহ

আমাদের নিকট তওরাতের তিনটি ভিন্ন পাঠ পৌঁছেছে। আমরা এখানে তিনটি অনুবাদের কথা বলছি না, বরং আমাদের উদ্দেশ্য হলো তওরাতের এমন তিনটি মূল পাঠ বিদ্যমান যা একে অপরের থেকে স্বতন্ত্র।

এই পাঠগুলো হলো:

১ - গ্রিক অনুবাদ (সেপ্টুয়াজিন্ট): এর বিভিন্ন অনুলিপি সেন্ট জেরোম-এর সংস্করণের (ভালগেট) ভিত্তি ছিল, যা তিনি চতুর্থ শতাব্দীর শেষভাগে (৩৮৬ খ্রিষ্টাব্দে) হিব্রু মূল পাঠ থেকে কিছুটা পরিমার্জনসহ ল্যাটিন ভাষায় অনুবাদ করেছিলেন। ক্যাথলিক ও অর্থোডক্স সম্প্রদায় এই সংস্করণ থেকেই তাদের তওরাত গ্রহণ করেছে।

২ - হিব্রু পাঠ: যা ইহুদি ও প্রোটেস্ট্যান্টদের নিকট নির্ভরযোগ্য হিসেবে বিবেচিত।

৩ - সামারিটান (শামিরি) পাঠ: যা কেবল ইহুদিদের সামারিটান সম্প্রদায়ের নিকট নির্ভরযোগ্য।

এই পাঠসমূহ এদের মূল কাঠামোতে সাদৃশ্যপূর্ণ হলেও কিছু সূক্ষ্ম বিবরণ ও খুঁটিনাটি বিষয়ে এগুলো ভিন্ন ও পরস্পরবিরোধী। এছাড়া দুটি বড় পার্থক্যের দিকে লক্ষ্য রাখা জরুরি; প্রথমত: গ্রিক অনুবাদে হিব্রু পাঠের তুলনায় অতিরিক্ত সাতটি 'এপোক্রিফা' (Apocrypha) পুস্তক রয়েছে। দ্বিতীয়ত: এই উভয় পাঠই সামারিটান তওরাতের তুলনায় বড়, কারণ সামারিটান তওরাত কেবল (মূসা আ.-এর প্রতি অবতীর্ণ) প্রথম পাঁচটি পুস্তককে স্বীকার করে।

 

তওরাতের পাঠসমূহের মধ্যে পার্থক্যের কিছু নমুনা

গবেষক ও সমালোচকগণ এই পাঠসমূহের মধ্যস্থিত বিভিন্ন পার্থক্যের কথা উল্লেখ করেছেন। 'এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা' (Encyclopedia Britannica) অনুযায়ী, সামারিটান পাঠটি গ্রিক পাঠের সাথে (প্রথম পাঁচটি পুস্তকে) চার হাজারেরও বেশি স্থানে ভিন্নতা পোষণ করে। আর আদর্শ হিব্রু পাঠের সাথে এর পার্থক্যের সংখ্যা ছয় হাজারেরও বেশি। (১)

--------------------------------------------

(১) দ্রষ্টব্য: হাওলা মাওসুকিয়াতিল আনাজিল ওয়াত তাওরাত, মুহাম্মদ আল-সাদি, পৃষ্ঠা: ১১৪; আল-মাদখাল ইলাল আহদিল কদিম, রেভারেন্ড ডক্টর সামুয়েল ইউসুফ, পৃষ্ঠা: ৫২; এবং কামুসুল কিতাবিল মুকাদ্দাস (বাইবেল ডিকশনারি), পৃষ্ঠা: ৪৫১।
(খণ্ড: ১) হালিল আহদুল ক্বদিমু কালিমাতুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
ونذكر بعض هذه الاختلافات للتمثيل، لا الحصر:

- مما زادت به التوراة الكاثوليكية على العبرية البروتسنتية ما جاء في سفر الخروج حين الحديث عن أبناء موسى من زوجته صفورة المديانية، حيث ذكر النصان ولادة جرشوم ابن موسى، ثم انفرد النص الكاثوليكي، فقال: "وولدت أيضاً غلاماً ثانياً، ودعا اسمه العازر، فقال: من أجل أن إله أبي أعانني وخلصني من يد فرعون" (الخروج 2/ 22)، وهذه الفقرة غير موجودة في التوراة العبرانية التي يؤمن بها اليهود والبرتستانت.

- ومثلها قول إبراهيم في النص اليوناني الذي أثبتته نسخة الرهبانية اليسوعية: "الرب إله السماء وإله الأرض الذي أخذني من بيت أبي" (التكوين 24/ 7)، وقوله: "وإله الأرض" محذوف من نسخة البرتستانت، التي تعتمد النص العبري فقط.

- وكذلك حذف النص البرتستانتي العبري عبارة " وبقي إسحاق صامتاً "، من السياق الوارد في النص اليوناني، وهو: "باركني أنا أيضاً يا أبي، وبقي إسحاق صامتاً، ورفع عيسو صوته " (التكوين 27/ 38).

- وأيضاً لما تحدثت الأسفار التوراتية عن اغتصاب أمنون لأخته ثامار حسب مشورة الحكيم جداً يوناداب، وبلغ الخبر داود، تقول التوراة العبرانية، وهي تصف شعوره: " لما سمع الملك داود بجميع هذه الأمور اغتاظ جداً" (صموئيل (2) 13/ 21)، ثم تنتقل لوصف شعور أبشالوم بن داود.

أما التوراة الكاثوليكية الأرثوذكسية فتقول: "فاغتاظ جداً، ولكنه لم يُحزن نفس أمنون ابنه، لأنه كان يحبه، إذ كان بكره"، وهذه العبارة أسقطتها النسخة العبرانية،
আমরা এই পার্থক্যগুলোর মধ্য থেকে দৃষ্টান্তস্বরূপ কিছু উল্লেখ করছি, যা কোনোভাবেই সীমাবদ্ধ নয়:

- হিব্রু প্রোটেস্ট্যান্ট তওরাতের তুলনায় ক্যাথলিক তওরাতে যা অধিক রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হলো যাত্রাপুস্তকে বর্ণিত মুসা (আ.)-এর মাদইয়ানী স্ত্রী সিপ্পোরার গর্ভজাত সন্তানদের বিবরণ। সেখানে উভয় পাঠ্যেই মুসা (আ.)-এর পুত্র গের্শোমের জন্মের কথা উল্লেখ থাকলেও ক্যাথলিক পাঠ্যটি এককভাবে অতিরিক্ত বর্ণনা করেছে: "এবং তিনি দ্বিতীয় এক পুত্র সন্তানও প্রসব করলেন এবং তাঁর নাম রাখলেন এলিয়েজার; কারণ তিনি বলেছিলেন: আমার পিতার ঈশ্বর আমাকে সাহায্য করেছেন এবং ফেরাউনের হস্ত হতে আমাকে উদ্ধার করেছেন" (যাত্রাপুস্তক ২/ ২২)। এই অনুচ্ছেদটি হিব্রু তওরাতে বিদ্যমান নেই যা ইহুদি ও প্রোটেস্ট্যান্টরা বিশ্বাস করে।

- তদ্রূপ গ্রিক পাঠ্যে ইব্রাহিম (আ.)-এর উক্তি যা জেসুইট সন্ন্যাসীদের সংস্করণে সাব্যস্ত হয়েছে: "আকাশমণ্ডলীর ঈশ্বর এবং পৃথিবীর ঈশ্বর প্রভু, যিনি আমাকে আমার পিতার গৃহ হতে নিয়ে এসেছেন" (আদিপুস্তক ২৪/ ৭)। এখানে "এবং পৃথিবীর ঈশ্বর" কথাটি প্রোটেস্ট্যান্ট সংস্করণ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, যা শুধুমাত্র হিব্রু পাঠ্যের ওপর নির্ভর করে।

- একইভাবে হিব্রু প্রোটেস্ট্যান্ট পাঠ্য থেকে "এবং ইসহাক নীরব রইলেন" বাক্যটি বাদ দেওয়া হয়েছে, যা গ্রিক পাঠ্যের প্রেক্ষাপটে বিদ্যমান ছিল, আর তা হলো: "হে আমার পিতা, আমাকেও আশীর্বাদ করুন; এবং ইসহাক নীরব রইলেন, আর এষৌ উচ্চস্বরে রোদন করে উঠলেন" (আদিপুস্তক ২৭/ ৩৮)।

- এছাড়াও তওরাতের কিতাবগুলোতে যখন অতি চতুর যোনাদবের পরামর্শ অনুযায়ী আমনোন কর্তৃক তাঁর বোন তামারকে লাঞ্ছিত করার কথা আলোচিত হয়েছে এবং দাউদ (আ.)-এর নিকট সেই সংবাদ পৌঁছেছে, তখন হিব্রু তওরাত তাঁর অনুভূতির বর্ণনা দিয়ে বলছে: "রাজা দাউদ যখন এই সকল সংবাদ শুনলেন তখন তিনি অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হলেন" (২ সামুয়েল ১৩/ ২১), অতঃপর পাঠ্যটি দাউদ-পুত্র আবশালোমের অনুভূতির বর্ণনায় চলে যায়।

পক্ষান্তরে ক্যাথলিক অর্থোডক্স তওরাতে বলা হয়েছে: "তিনি অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হলেন, কিন্তু তিনি তাঁর পুত্র আমনোনের মনে কষ্ট দেননি, কারণ তিনি তাকে ভালোবাসতেন যেহেতু সে ছিল তাঁর জ্যেষ্ঠ সন্তান।" এই বাক্যটি হিব্রু সংস্করণ থেকে বিলুপ্ত করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) হালিল আহদুল ক্বদিমু কালিমাতুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
ولعلها رأت أن من المحال أن يقابل أب خبر اغتصاب ابنه لأخته بمثل هذا البرود، وبمثل هذا التعليل البارد.

- وينتهي سفر إستير في توراة اليهود والبرتستانت العبرانية في الإصحاح (10/ 3)، لكنه يستمر تسع صفحات في التوراة الكاثوليكية، وينتهي في الإصحاح (16/ 24)، وأما نسخة الرهبانية اليسوعية فقد اكتفت بإضافة صفحتين: أولاهما: أضافها على الإصحاح العاشر، والثانية: أضافها في الفقرة الأولى من الإصحاح الخامس.

- وكذا ينتهي سفر دانيال في التوراة العبرانية عند نهاية الإصحاح الثاني عشر، فيما يمتد السفر في التوراة الكاثوليكية ليشمل إصحاحين آخرين لم يسجلهما النص العبري، الذي أهمل أيضاً صلاة عزريا، والتي تربو على ثلاث صفحات، ومحلها الإصحاح الثالث من السفر، فيما بين الفقرتين 23 و24 من الإصحاح العبراني.

- ومن الاختلافات بين توراة الكاثوليك والبرتستانت ما جاء في سياق طلب موسى من الله أن يردف معه أخاه هارون نبياً، فيجعل النص العبراني كلام موسى مجافياً للأدب، فقد قال موسى للرب: "استمع أيها السيد، أرسل بيد من ترسل، فحمي غضب الرب على موسى " (الخروج 4/ 14 - 15)، لكن النص الكاثوليكي يقدم صورة محسنة لخطاب موسى للرب، فيقول: " رحماك يا رب، ابعث من أنت باعثه "، لكن الأدب الجم الذي ذكروه لم يمنع من حلول السخط على موسى، إذ يكمل النص الكاثوليكي فيقول: "فاتقد غضب الرب على موسى".

- وتدخل كاتبو النص اليوناني ثانية بغرض إصلاحه وتصحيحه في سياق قصة خيانة أبشالوم لأبيه داود، فقد كتب العبرانيون أنه " وفي نهاية أربعين سنة [أي من عودته من جشور] قال أبشالوم للملك: دعني فأذهب وأوفي نذري الذي نذرته للرب" (صموئيل (2) 15/ 7)، فقوله: "أربعين سنة" عبارة غير صحيحة، فإن "بعض
সম্ভবত তিনি মনে করেছেন যে, কোনো পিতার পক্ষে তার নিজ কন্যার প্রতি পুত্রের ধর্ষণের সংবাদ শোনার পর এমন শীতলতা এবং এমন নিরুত্তাপ যুক্তির মাধ্যমে তা গ্রহণ করা অসম্ভব।

- ইহুদি ও প্রোটেস্ট্যান্টদের হিব্রু বাইবেলে ইষ্টের পুস্তকটি দশম অধ্যায়ের (১০/৩) চরণে শেষ হয়েছে, কিন্তু ক্যাথলিক বাইবেলে এটি আরও নয় পৃষ্ঠা পর্যন্ত প্রলম্বিত হয়েছে এবং ষোড়শ অধ্যায়ের (১৬/২৪) চরণে শেষ হয়েছে। অন্যদিকে, জেসুইট সংস্করণটি কেবল দুই পৃষ্ঠা যোগ করেই ক্ষান্ত হয়েছে: প্রথমটি তারা দশম অধ্যায়ে যুক্ত করেছে এবং দ্বিতীয়টি পঞ্চম অধ্যায়ের প্রথম অনুচ্ছেদে।

- একইভাবে, হিব্রু বাইবেলে দানিয়েল পুস্তকটি দ্বাদশ অধ্যায়ের শেষে সমাপ্ত হয়, যেখানে ক্যাথলিক বাইবেলে এই পুস্তকটি আরও দুটি অধ্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত যা হিব্রু পাঠে সংরক্ষিত হয়নি। হিব্রু পাঠে 'আজারিয়ার প্রার্থনা' অংশটিও বাদ দেওয়া হয়েছে, যা তিন পৃষ্ঠারও বেশি এবং এর স্থান ছিল হিব্রু পাঠের তৃতীয় অধ্যায়ের ২৩ ও ২৪ নম্বর অনুচ্ছেদের মধ্যবর্তী স্থানে।

- ক্যাথলিক ও প্রোটেস্ট্যান্ট বাইবেলের মধ্যে বিদ্যমান পার্থক্যগুলোর একটি হলো আল্লাহর কাছে মূসার তাঁর ভাই হারুনকে নবী হিসেবে সহযোগী চাওয়ার আবেদন সংক্রান্ত। হিব্রু পাঠে মূসার বক্তব্যকে শিষ্টাচার-বিবর্জিত করা হয়েছে; সেখানে মূসা প্রভুকে বললেন: "শুনুন হে প্রভু, আপনি যাকে পাঠাতে চান তাকেই পাঠান, তখন মূসার ওপর প্রভুর ক্রোধ প্রজ্জ্বলিত হলো" (যাত্রাপুস্তক ৪/১৪-১৫)। কিন্তু ক্যাথলিক পাঠে প্রভুর কাছে মূসার আবেদনের একটি মার্জিত চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, সেখানে বলা হয়েছে: "হে প্রভু দয়া করুন, আপনি যাকে পাঠাতে চান তাকেই পাঠান।" তবে তারা যে অতিশয় শিষ্টাচার বর্ণনা করেছে তা মূসার ওপর অসন্তুষ্টি নেমে আসাকে রোধ করতে পারেনি, কারণ ক্যাথলিক পাঠের শেষাংশে বলা হয়েছে: "অতঃপর মূসার ওপর প্রভুর ক্রোধ প্রজ্জ্বলিত হলো।"

- গ্রিক পাঠের রচয়িতারা দাউদের প্রতি তাঁর পুত্র আবশালোমের বিশ্বাসঘাতকতার গল্পের প্রেক্ষাপটে তা সংস্কার ও সংশোধনের উদ্দেশ্যে পুনরায় হস্তক্ষেপ করেছেন। হিব্রু লেখকরা লিখেছিলেন যে, "চল্লিশ বছর পূর্ণ হওয়ার পর [অর্থাৎ গেশুর থেকে তার প্রত্যাবর্তনের পর] আবশালোম রাজাকে বলল: আমাকে যেতে দিন যাতে আমি প্রভুর কাছে করা আমার মানত পূর্ণ করতে পারি" (২ শমূয়েল ১৫/৭)। এখানে "চল্লিশ বছর" কথাটি সঠিক নয়, কারণ "কিছু"
(খণ্ড: ১) হালিল আহদুল ক্বদিমু কালিমাতুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
الدارسين يرى أن الأصح أن نقرأ (صموئيل (2) 15/ 7) على أنها أربع سنوات كما جاءت في النسخ السريانية والسبعينية، وليست أربعين سنة " (1)، ففي النسخ التي تتبع النص السبعيني اليوناني - كالترجمة العربية المشتركة والرهبانية اليسوعية - النص هكذا "وبعد انقضاء أربع سنوات قال أبشالوم للملك: دعني أنطلق إلى حبرون لأوفي نذري الذي نذرته للرب"، وهكذا يطرح السؤال نفسه: من الذي أعطى مترجمي السبعينية وغيرهم الحق في تصحيح أخطاء كلمة الله؟

- ومنها ما ذكرته التوراة العبرانية عن نبي الله أيوب، أنه قال: "وبعد أن يفنى جلدي هذا، وبدون جسدي أرى الله" (أيوب 19/ 26)، فالنص يتحدث عن فناء جلد أيوب، وأنه سيرى الله لكن لا بجسده، وهذه المعاني تغاير تماماً ما جاء في التوراة الكاثوليكية، حيث تقول: "وبعد أن تلبس هذه الأعضاء بجلدي، ومن جسدي أعاين الله" فالجلد لن يفنى، بل سيلبس الأعضاء، وهو سيعاين الله ويراه بجسده، وهكذا فالنصان متناقضان، فأيهما هو كلمة الله؟

- ومن الاختلافات أيضاً ما جاء في النصين العبراني واليوناني عن قصة أهل قرية بيتمش الذين رأوا تابوت الرب، فعاقبهم بقتل ما يربو على خمسين ألف من أهل تلك القرية البائسة، كما يذكر ذلك النص العبراني، حين يقول: " ضرب أهل بيتمش، لأنهم نظروا إلى تابوت الرب، وضَرب من الشعب خمسين ألف رجل وسبعين رجلاً، فناح الشعب، لأن الرب ضرب الشعب ضربة عظيمة " (صموئيل (1) 6/ 19).

لكن هذا الرقم الكبير للقتلى أقضّ مضاجع كتاب النص اليوناني، فأنقصوه من خمسين ألف إلى سبعين شخصاً فقط، حيث يقول نص الكاثوليك: " وضرب الرب

--------------------------------------------

(1) دائرة المعارف الكتابية (مادة أبشالوم).
গবেষকদের মতে, (২ শমূয়েল ১৫/ ৭)-এর পাঠটি 'চার বছর' হওয়া অধিকতর সঠিক, যেমনটি সুরিয়ানি ও সেপটুয়াজিন্ট সংস্করণে এসেছে, 'চল্লিশ বছর' নয় (১)। সুতরাং সেপটুয়াজিন্ট গ্রিক পাঠ অনুসরণকারী সংস্করণগুলোতে—যেমন সাধারণ আরবি অনুবাদ এবং জেসুইট সন্ন্যাসী অনুবাদে—পাঠটি এভাবে রয়েছে: "চার বছর পূর্ণ হওয়ার পর আবশালোম রাজাকে বললেন: আমাকে হিব্রোনে যেতে দিন যেন আমি প্রভুর উদ্দেশ্যে মানত করা আমার মানত পূর্ণ করতে পারি।" এভাবেই প্রশ্নটি সামনে আসে: সেপটুয়াজিন্ট ও অন্যান্য অনুবাদকদের আল্লাহর বাণীর ভুল সংশোধন করার অধিকার কে দিয়েছে?

- এর মধ্যে আরও রয়েছে যা হিব্রু তৌরাতে আল্লাহর নবী আইয়ুব সম্পর্কে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তিনি বলেছিলেন: "এবং আমার এই চর্ম বিনষ্ট হওয়ার পর, আমার দেহ ছাড়াই আমি ঈশ্বরকে দেখব" (আইয়ুব ১৯/ ২৬)। এই পাঠটি আইয়ুবের চর্মের বিনাশ এবং তিনি তাঁর দেহ ব্যতিরেকেই ঈশ্বরকে দেখবেন সে সম্পর্কে বর্ণনা করছে। এই অর্থগুলো ক্যাথলিক তৌরাতে যা এসেছে তার সম্পূর্ণ বিপরীত, যেখানে বলা হয়েছে: "এবং যখন এই অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলো আমার চর্ম দ্বারা আবৃত হবে, তখন আমি আমার দেহের মধ্য থেকেই ঈশ্বরকে প্রত্যক্ষ করব।" ফলে চামড়া ধ্বংস হবে না, বরং তা অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে আবৃত করবে এবং তিনি সশরীরে ঈশ্বরকে প্রত্যক্ষ করবেন ও দেখবেন। এভাবে এই দুটি পাঠ পরস্পরবিরোধী; তাহলে কোনটি আল্লাহর বাণী?

- বৈসাদৃশ্যগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে যা বৈত-শেমশ গ্রামের অধিবাসীদের কাহিনী সম্পর্কে হিব্রু ও গ্রিক পাঠে এসেছে, যারা প্রভুর সিন্দুক দেখেছিল; ফলে তিনি সেই হতভাগা গ্রামের পঞ্চাশ হাজারেরও বেশি মানুষকে সংহার করে শাস্তি দিয়েছিলেন, যেমনটি হিব্রু পাঠে উল্লেখ করা হয়েছে: "তিনি বৈত-শেমশের লোকদের আঘাত করলেন, কারণ তারা প্রভুর সিন্দুকের দিকে তাকিয়েছিল; আর তিনি লোকদের মধ্য থেকে পঞ্চাশ হাজার সত্তর জনকে আঘাত করলেন। ফলে জাতি শোক প্রকাশ করল, কারণ প্রভু লোকদের এক মহা আঘাতে আঘাত করেছিলেন" (১ শমূয়েল ৬/ ১৯)।

কিন্তু নিহতের এই বিশাল সংখ্যা গ্রিক পাঠের লেখকদের বিচলিত করেছিল, তাই তারা এটি পঞ্চাশ হাজার থেকে কমিয়ে মাত্র সত্তর জনে নিয়ে আসেন। যেমনটি ক্যাথলিক পাঠে বলা হয়েছে: "আর প্রভু আঘাত করলেন..."

--------------------------------------------

(১) বাইবেলীয় বিশ্বকোষ (আবশালোম ভুক্তি)।
(খণ্ড: ১) হালিল আহদুল ক্বদিমু কালিমাতুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
أهل بيت شمس، لأنهم نظروا إلى تابوت الرب، وقَتل من الشعب سبعين رجلاً، وكانوا خمسين ألف رجل، فناح الشعب، لأن الرب ضرب هذا الشعب هذه الضربة العظيمة … " (الملوك (1) 6/ 19)، ومثله في الترجمة العربية المشتركة التي جعلت القتلى سبعين، حذفت من النص أي ذكر للخمسين ألف، فقالت: "وضرب الرب أهل بيت شمس، لأنهم نظروا إلى تابوت العهد، فمات منهم سبعون رجلاً، فناحوا لهذه الضربة".

- ويتحدث سفر صموئيل عن ألقانة بن يروحام الأفرايمي، وعما أعطاه لزوجتيه حنّة وفننّة من الأنصبة، فيقول النص العبري: "وأما حنّة فأعطاها نصيب اثنين، لأنه كان يحب حنّة" (صموئيل (1) 1/ 5)، وأما النص اليوناني والنسخ التي تعتمد عليه (كالترجمة العربية المشتركة)، فقد اكتشفوا خطأً في النص فأصلحوه، فقالوا: "وأما حنّة فيعطيها حصة واحدة، مع أنه كان يحبها".

- ويتحدث سفر الأيام عن أشحور، فيذكر النص العبري أنه ولِد بعد وفاة أبيه حصرون في مدينة كالب أفراته، وأن أمه هي أبياه، فيقول: "وبعد وفاة حصرون في كالب أفراتة ولدت له أبيّاه امرأة حصرون أشحور" (الأيام (1) 2/ 24).

لكن النص السبعيني يختلف تماماً في قراءته، فقد جعل اسم أم أشحور أفراته، وليس أبياه، وعليه لم يعد (أفراته) اسماً لمكان، كما جعل أشحور ابناً لكالب بن حصرون، فتحول اسم (كالب) إلى اسم رجل بعد أن كان اسماً لمكان، تقول دائرة المعارف الكتابية: " وترد هذه الفقرة في الترجمة السبعينية على النحو التالي: (وبعد موت حصرون ذهب كالب إلى أفراتة امرأة حصرون أبيه، فولدت له أشحور) ". (1)

--------------------------------------------

(1) دائرة المعارف الكتابية (مادة كالب أفراته، وانظر أيضاً مادة أشحور).
বেত-শেমেশবাসীগণ, কারণ তারা প্রভুর পবিত্র সিন্দুকের দিকে তাকিয়েছিল। তিনি লোকজনের মধ্য থেকে সত্তর জনকে হত্যা করলেন, যেখানে পঞ্চাশ হাজার লোক উপস্থিত ছিল; ফলে প্রজারা বিলাপ করল, কারণ প্রভু এই জনগোষ্ঠীর ওপর এক ভয়াবহ আঘাত হেনেছিলেন ... " (১ রাজাবলি ৬/ ১৯ [১ সামুয়েল ৬: ১৯])। অনুরূপ বর্ণনা 'আরবি কমন ট্রান্সলেশন'-এও পাওয়া যায়, যেখানে নিহতের সংখ্যা সত্তর জন রাখা হয়েছে এবং মূল পাঠ থেকে পঞ্চাশ হাজারের উল্লেখ মুছে ফেলা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে: "আর প্রভু বেত-শেমেশবাসীদের আঘাত করলেন, কারণ তারা নিয়মের সিন্দুকের দিকে তাকিয়েছিল। ফলে তাদের মধ্যে সত্তর জন মারা গেল এবং তারা এই আঘাতের কারণে বিলাপ করল।"

- সামুয়েলের পুস্তকে ইরোমের পুত্র ইফ্রয়িমীয় ইলকানাহ এবং তার দুই স্ত্রী হান্নাহ ও পেনিন্নাহকে প্রদত্ত অংশ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। হিব্রু পাঠে বলা হয়েছে: "কিন্তু হান্নাহকে তিনি দ্বিগুণ অংশ দিলেন, কারণ তিনি হান্নাহকে ভালোবাসতেন" (১ সামুয়েল ১/ ৫)। অন্যদিকে গ্রিক পাঠ এবং এর ওপর নির্ভরশীল সংস্করণসমূহ (যেমন আরবি কমন ট্রান্সলেশন) মূল পাঠে একটি ভুল খুঁজে পায় এবং তা সংশোধন করে। তারা উল্লেখ করেছে: "কিন্তু হান্নাহকে তিনি এক অংশই দিতেন, যদিও তিনি তাকে ভালোবাসতেন।"

- বংশাবলির পুস্তকে আশহূর সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। হিব্রু পাঠে উল্লেখ আছে যে, তিনি তার পিতা হিষ্রোণের মৃত্যুর পর কালেব-ইফ্রাথাহ নামক স্থানে জন্মগ্রহণ করেন এবং তার মাতা ছিলেন আবীয়াহ। পাঠটি হলো: "কালেব-ইফ্রাথাহে হিষ্রোণের মৃত্যুর পর, হিষ্রোণের স্ত্রী আবীয়াহ তার গর্ভে আশহূরের জন্ম দিলেন" (১ বংশাবলি ২/ ২৪)।

কিন্তু সপ্ততি বা সেপটুয়াজিন্ট সংস্করণের পাঠ সম্পূর্ণ ভিন্ন। এতে আশহূরের মাতার নাম আবীয়াহ-র পরিবর্তে ইফ্রাথাহ করা হয়েছে। এর ফলে 'ইফ্রাথাহ' আর কোনো স্থানের নাম হিসেবে থাকেনি। তদুপরি, এতে আশহূরকে হিষ্রোণের পুত্র কালেবের সন্তান হিসেবে গণ্য করা হয়েছে, যার ফলে 'কালেব' শব্দটি একটি স্থানের নাম থেকে ব্যক্তির নামে রূপান্তরিত হয়েছে। 'বাইবেলের এনসাইক্লোপিডিয়া' (দা-ইরাত আল-মাআরিফ আল-কিতাবিয়্যাহ)-তে বলা হয়েছে: "সেপটুয়াজিন্ট অনুবাদে এই অনুচ্ছেদটি নিম্নোক্তভাবে বর্ণিত হয়েছে: (হিষ্রোণের মৃত্যুর পর কালেব তার পিতা হিষ্রোণের স্ত্রী ইফ্রাথাহর কাছে গেলেন এবং তিনি তার গর্ভে আশহূরের জন্ম দিলেন)।" (১)

--------------------------------------------

(১) বাইবেলের এনসাইক্লোপিডিয়া (কালেব-ইফ্রাথাহ ভুক্তি, আরও দেখুন আশহূর ভুক্তি)।
(খণ্ড: ১) হালিল আহদুল ক্বদিমু কালিমাতুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
وأما الترجمة العربية المشتركة فلمحرريها رأي آخر، وهو أن كالب تزوج ابنة أفراته، وليس أفراته زوجة أبيه: "وبعد وفاة حصرون تزوج كالب ابنة أفراتة امرأة أبيه، فولدت له أشحور "، فأي هذه القراءات المتنافرة هو القراءة الصحيحة لما كتبه كاتب سفر الأيام!؟

- مما زادت به التوراة السامرية، وهو غير موجود في العبرية واليونانية " كانت كل أيام سام ستمائة سنة ومات " (التكوين 11/ 11).

- وأيضاً جاء في العبرانية " وقال قابيل لهابيل أخيه، ولما صارا في الحقل قام قابيل " (التكوين 4/ 8) ولم يذكر فيه مقال قابيل، بينما جاء النص تاماً في التوراة السامرية والكاثوليكية، وفيه "قال: نخرج إلى الحقل ".

- ومما زادت به العبرانية واليونانية عن التوراة السامرية الآيات العشر الأُوَل في الإصحاح الثلاثين من سفر الخروج، وقد بدأ الإصحاح الثلاثون في السامرية بالفقرة 11.

- ومن زيادات السامرية عن العبرانية والكاثوليكية الأرثوذكسية ما وقع بين الفقرتين 10 - 11 من (العدد 10)، وفيه: "قال الرب مخاطباً موسى: إنكم جلستم في هذا الجبل كثيراً، فارجعوا، وهلموا إلى جبل الأمورانيين وما يليه إلى العرباء، وإلى أماكن الطور والأسفل قبالة التيمن، وإلى شط البحر أرض الكنعانيين ولبنان، وإلى النهر الأكبر نهر الفرات، هُوذا أعطيتكم فادخلوا، ورِثوا الأرض التي حلف الرب لآبائكم إبراهيم وإسحاق ويعقوب أنه سيعطيكم إياها، ولخلفكم من بعدكم" (العدد 10/ 10)، فهذا النص لا أثر له في التوراة العبرانية واليونانية.

- ومثله ما وقع في (الخروج 11) بين الفقرتين 3 - 4، وهو محذوف من هذا الموضع في النسخة العبرانية والنسخة الكاثوليكية الأرثوذكسية، وفيه: "وقال موسى لفرعون: الرب يقول: إسرائيل ابني، بل بكري، فقلت لك: أطلق ابني ليعبدني،
আর অভিন্ন আরবি অনুবাদের সম্পাদকদের ভিন্ন মত রয়েছে; তাদের মতে কালিব আফ্রাতাহর কন্যাকে বিবাহ করেছিলেন, আফ্রাতাহ তার পিতার স্ত্রী ছিলেন না: "আর হসরোনের মৃত্যুর পর কালিব তার পিতার স্ত্রী আফ্রাতাহর কন্যাকে বিবাহ করেন এবং তিনি তার জন্য আশহুরের জন্ম দেন।" এখন প্রশ্ন হলো, এই পরস্পরবিরোধী পাঠগুলোর মধ্যে কোনটি বংশাবলি পুস্তকের লেখকের লিখিত সঠিক পাঠ?

সামেরীয় তোরাহতে অতিরিক্ত হিসেবে এসেছে, যা হিব্রু ও গ্রিক পাঠে অনুপস্থিত: "শেমের সমগ্র জীবনকাল ছিল ছয়শত বছর এবং এরপর তিনি মৃত্যুবরণ করেন" (আদিপুস্তক ১১/১১)।

তেমনিভাবে হিব্রু পাঠে এসেছে: "কাবিল তার ভাই হাবিলকে বললেন; এবং যখন তারা মাঠে ছিলেন, তখন কাবিল উঠে দাঁড়ালেন" (আদিপুস্তক ৪/৮), কিন্তু এখানে কাবিল কী বলেছিলেন তা উল্লেখ করা হয়নি। পক্ষান্তরে সামেরীয় ও ক্যাথলিক তোরাহতে এই পাঠটি পূর্ণাঙ্গভাবে এসেছে, যেখানে বলা হয়েছে: "তিনি বললেন: চলো আমরা মাঠে যাই।"

আবার হিব্রু ও গ্রিক সংস্করণে সামেরীয় তোরাহর তুলনায় যাত্রাপুস্তক-এর ৩০তম অধ্যায়ের প্রথম দশটি আয়াত অতিরিক্ত রয়েছে; যেখানে সামেরীয় সংস্করণে ৩০তম অধ্যায়টি ১১ নম্বর অনুচ্ছেদ থেকে শুরু হয়েছে।

হিব্রু ও ক্যাথলিক-অর্থোডক্স সংস্করণের বিপরীতে সামেরীয় সংস্করণে গণনাপুস্তক-এর ১০ম অধ্যায়ের ১০ ও ১১ নম্বর অনুচ্ছেদের মধ্যবর্তী স্থানে কিছু অতিরিক্ত অংশ পাওয়া যায়। সেখানে উল্লেখ আছে: "প্রভু মূসাকে সম্বোধন করে বললেন: তোমরা এই পাহাড়ে অনেকদিন অবস্থান করেছ, এখন তোমরা ফিরে যাও এবং আমোরীয়দের পাহাড় ও তার সংলগ্ন আরবাহ অঞ্চলের দিকে যাত্রা করো। এছাড়া পাহাড়ী অঞ্চল, নিম্নভূমি, তৈমান অভিমুখী এলাকা, সমুদ্রতীরবর্তী কেনানীয়দের দেশ, লেবানন এবং মহানদী ফরাত পর্যন্ত অগ্রসর হও। দেখ, আমি তোমাদের এই ভূমি দান করেছি; সুতরাং তোমরা প্রবেশ করো এবং সেই ভূখণ্ডের অধিকার গ্রহণ করো, যা প্রভু তোমাদের পিতৃপুরুষ ইব্রাহিম, ইসহাক ও ইয়াকুবের কাছে শপথ করেছিলেন যে, তিনি তা তোমাদের এবং তোমাদের পরবর্তী বংশধরদের দান করবেন" (গণনাপুস্তক ১০/১০)। হিব্রু ও গ্রিক তোরাহতে এই বক্তব্যের কোনো অস্তিত্ব নেই।

একইভাবে যাত্রাপুস্তক-এর ১১তম অধ্যায়ের ৩ ও ৪ নম্বর অনুচ্ছেদের মধ্যবর্তী অংশেও এমন কিছু রয়েছে যা হিব্রু ও ক্যাথলিক-অর্থোডক্স সংস্করণ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। সেখানে আছে: "মূসা ফেরাউনকে বললেন: প্রভু বলছেন: ইসরায়েল আমার পুত্র, বরং আমার প্রথমজাত সন্তান। আমি তোমাকে বলেছি: আমার পুত্রকে মুক্তি দাও যেন সে আমার উপাসনা করতে পারে।"
(খণ্ড: ১) হালিল আহদুল ক্বদিমু কালিমাতুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
وأنت أبيت أن تطلقه، ها أنا سأقتل ابنك بكرك " (الخروج 11/ 7)، وفي العبرانية واليونانية مثله، ولكن في (الخروج 9/ 1 - 3).

- ومن صور الاختلاف بين نسخ التوراة الخلاف المشهور بين السامريين والعبرانيين في الجبل المقدس الذي أمر الله ببناء الهيكل فيه، فالعبرانيون يقولون: جبل عيبال، لقوله:" تقيمون هذه الحجارة التي أنا أوصيكم بها اليوم في جبل عيبال " (التثنية 27/ 4)، وفي السامرية والترجمة اللاتينية والنسخ الكاثوليكية التي اعتمدت عليها أن الجبل جرزيم، ففيها: "تقيمون الحجارة هذه التي أنا موصيكم اليوم في جبل جرزيم".

- وعند دراسة أعمار الآباء في الإصحاح الخامس من سفر التكوين حسب العبرانية يفهم منه أن طوفان نوح حصل بعد 1656 سنة من خلق آدم، فيما تجعله اليونانية سنة 2262، والسامرية 1307. فكيف يجمع بين النصوص الثلاثة؟

- ثم حسب النص العبراني فإن ميلاد المسيح سنة 4004 من خلق آدم، وهو في اليونانية سنة 5872، وفي السامرية 4700. وقد جرى في هذه المواضع المتعلقة بأعمار الآباء الأوائل التوفيق بين النص اليوناني والعبراني، باعتماد النص الذي ترجمه جيروم (الفولجاتا) في الطبعات الحديثة من التوراة الأرثوذكسية الكاثوليكية.

- ومثله الخلاف في مقدار الزمن بين الطوفان وولادة إبراهيم، فإنه في العبرانية 292 سنة، وهو في اليونانية 1072 سنة، وفي السامرية 932 سنة. (1)

ولا تتوقف صور الاختلاف بين التوراتين عند هذه الصور، بل تصل إلى التناقض السافر والتضاد التام، ومن ذلك قول سفر أيوب: "والله لا ينتبه إلى الظلم" (أيوب

--------------------------------------------

(1) انظر: إظهار الحق، رحمة الله الهندي (3/ 858 - 871).
"এবং তুমি তাকে ছেড়ে দিতে অস্বীকার করেছ, তাই আমি তোমার প্রথমজাত পুত্রকে হত্যা করব" (যাত্রা পুস্তক ১১/ ৭), এবং হিব্রু ও গ্রিক সংস্করণেও এর অনুরূপ রয়েছে, কিন্তু (যাত্রা পুস্তক ৯/ ১ - ৩)-এ অন্যরূপ রয়েছে।

- তাওরাতের পাণ্ডুলিপিগুলোর মধ্যে পার্থক্যের একটি চিত্র হলো পবিত্র পর্বত সম্পর্কে সামেরীয় এবং হিব্রুদের মধ্যকার বিখ্যাত বিরোধ, যেখানে আল্লাহ ইবাদতখানা (হায়কাল) নির্মাণের নির্দেশ দিয়েছিলেন। হিব্রুরা বলে: ঈবাল পর্বত; কারণ পাঠে বলা হয়েছে: "তোমরা আজ এই পাথরগুলো স্থাপন করবে যেগুলোর ব্যাপারে আমি তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছি ঈবাল পর্বতে" (দ্বিতীয় বিবরণ ২৭/ ৪)। কিন্তু সামেরীয় সংস্করণ, ল্যাটিন অনুবাদ এবং ক্যাথলিক সংস্করণসমূহে (যা এর ওপর ভিত্তি করে তৈরি) বলা হয়েছে যে, পর্বতটি হলো 'গেরিজিম'। তাতে রয়েছে: "আজ আমি তোমাদের যে পাথরগুলোর নির্দেশ দিচ্ছি তা তোমরা গেরিজিম পর্বতে স্থাপন করবে"।

- আদিপুস্তকের পঞ্চম অধ্যায়ে হিব্রু সংস্করণ অনুযায়ী পিতৃপুরুষদের বয়সের হিসাব অধ্যয়ন করলে বোঝা যায় যে, নূহের মহাপ্লাবন আদমের সৃষ্টির ১৬৫৬ বছর পর সংঘটিত হয়েছিল; পক্ষান্তরে গ্রিক সংস্করণে এটি ২২৬২ বছর এবং সামেরীয় সংস্করণে ১৩০৭ বছর। তাহলে এই তিনটি পাঠের মধ্যে কীভাবে সমন্বয় করা সম্ভব?

- পুনরায়, হিব্রু পাঠ অনুযায়ী মসীহের জন্ম আদমের সৃষ্টির ৪০০০ বছর পর, গ্রিক পাঠে এটি ৫৮৭২ বছর এবং সামেরীয় পাঠে ৪৭০০ বছর। আদি পিতৃপুরুষদের বয়স সংক্রান্ত এই স্থানগুলোতে আধুনিক অর্থোডক্স ক্যাথলিক তাওরাত সংস্করণে জেরোমের অনূদিত পাঠ (ভালগেট)-এর ওপর নির্ভর করে গ্রিক ও হিব্রু পাঠের মধ্যে সমন্বয় করা হয়েছে।

- একইভাবে মহাপ্লাবন এবং ইব্রাহিমের জন্মের মধ্যবর্তী সময়ের ব্যবধানের ক্ষেত্রেও মতপার্থক্য রয়েছে; হিব্রু সংস্করণে এটি ২৯২ বছর, গ্রিক সংস্করণে ১০৭২ বছর এবং সামেরীয় সংস্করণে ৯৩২ বছর। (১)

তাওরাতসমূহের মধ্যে পার্থক্যের রূপ কেবল এগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা প্রকাশ্য বৈপরীত্য ও সম্পূর্ণ বিরোধ পর্যন্ত গড়ায়। এর মধ্যে আইয়ুবের পুস্তকের এই বক্তব্যটিও রয়েছে: "আর ঈশ্বর অন্যায়ের প্রতি দৃষ্টিপাত করেন না" (আইয়ুব

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ইজহারুল হক, রহমতুল্লাহ আল-হিন্দি (৩/ ৮৫৮ - ৮৭১)।
(খণ্ড: ১) হালিল আহদুল ক্বদিমু কালিমাতুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
24/ 12)، وكلمة (الظلم) غيرتها الترجمة السريانية إلى (الصلاة)، واعتمدت هذه الترجمة الرهبانية اليسوعية، فالنص فيها: "والله لا يلتفت إلى الصلاة". ونبه محققوها في الحاشية إلى اعتمادها النص السرياني، وذكرت أن الكلمة العبرانية المستخدمة هي (الحماقة)، فأي هذه الكلمات أوحاها الله (الصلاة أو الظلم أو الحماقة).

ومثله ما جاء في المزامير: "قدموا للرب مجداً وعزاً" (المزمور 29/ 1)، والنص كما نقلت الرهبانية اليسوعية في هامشها أنه في الترجمتين اليونانية واللاتينية: "قدموا للرب صغار الكباش"، فأي تناسب بين المجد والعز وبين صغار الكباش أو حتى كبارها!

ويترنم كاتب المزمور (102)، فيقول: "اليوم كله عيّرني أعدائي، الحنقون عليّ حلفوا عليّ" (102/ 9)، واعتماداً على النص اليوناني استبدلت الرهبانية اليسوعية قوله: "حلفوا علي" بقولها: "يلعنونني"، وأشارت إلى أنه في الترجمة السريانية: "الذين كانوا يمدحونني"، فأي هذه المعاني المتنافرة هو كلمة الله؟ وهل أعداء المترنم حلفوا عليه أم لعنوه أم مدحوه؟

وفي المزمور (118) يقول المترنم عن أعدائه: "أحاطوا بي مثل النحل، انطفأوا كنار الشوك" (المزمور 118/ 12)، وهو في النسخة اليونانية: "اشتعلوا"، كما بينت الرهبانية اليسوعية في حاشيتها، وشتان شتان بين الاشتعال والانطفاء، فما رأيكم يا معاشر العقلاء؟!

وحسب سفر أيوب العبراني، فإن زوجة النبي أيوب قالت له بعد ما أصابه القرح: "أنت متمسك بعدُ بكمالك، بارك الله ومُت" (أيوب 2/ 9)، بينما يذكر النص اليوناني الذي نقلت عنه الرهبانية اليسوعية أنها قالت: "أإلى الآن متمسك بكمالك، جدِّف على الله ومُت"، ومن المعلوم أن التجديف والبركة نقيضان، فهل
২৪/ ১২), এবং ‘অবিচার’ শব্দটি সিরীয় অনুবাদে ‘প্রার্থনা’ শব্দে পরিবর্তিত হয়েছে। জেসুইট সন্ন্যাস অনুবাদ এই অনুবাদটিই গ্রহণ করেছে, ফলে সেখানে পাঠ্যটি হলো: "আর ঈশ্বর প্রার্থনার দিকে মনোনিবেশ করেন না।" এর সম্পাদকগণ পাদটীকায় সিরীয় পাঠ্য গ্রহণের কথা সতর্ক করেছেন এবং উল্লেখ করেছেন যে, ব্যবহৃত হিব্রু শব্দটি হলো ‘মূর্খতা’। তাহলে এই শব্দগুলোর মধ্যে কোনটি ঈশ্বর ওহী হিসেবে পাঠিয়েছেন (প্রার্থনা, নাকি অবিচার, নাকি মূর্খতা)?

অনুরূপ একটি উদাহরণ গীতসংহিতায় এসেছে: "প্রভুর উদ্দেশে মহিমা ও প্রতাপ উৎসর্গ করো" (গীতসংহিতা ২৯/ ১)। জেসুইট সন্ন্যাস অনুবাদ এর পাদটীকায় উদ্ধৃত করেছে যে, গ্রিক ও ল্যাটিন অনুবাদে পাঠ্যটি হলো: "প্রভুর উদ্দেশে মেষশাবক উৎসর্গ করো।" এখন মহিমা ও প্রতাপের সাথে মেষশাবকের কী সামঞ্জস্য থাকতে পারে!

গীতসংহিতা (১০২)-এর রচয়িতা সুর করে বলেন: "সারাদিন আমার শত্রুরা আমাকে ধিক্কার দেয়, আমার প্রতি ক্রুদ্ধ ব্যক্তিরা আমার বিরুদ্ধে শপথ করে" (১০২/ ৯)। গ্রিক পাঠ্যের ওপর ভিত্তি করে জেসুইট সন্ন্যাস অনুবাদ "আমার বিরুদ্ধে শপথ করে" কথাটির পরিবর্তে "তারা আমাকে অভিশাপ দেয়" কথাটি প্রতিস্থাপন করেছে। তারা আরও উল্লেখ করেছে যে, সিরীয় অনুবাদে রয়েছে: "যারা আমার প্রশংসা করত।" এই পরস্পরবিরোধী অর্থগুলোর মধ্যে কোনটি আল্লাহর বাণী? আর গীত রচয়িতার শত্রুরা কি তার বিরুদ্ধে শপথ করেছিল, নাকি তাকে অভিশাপ দিয়েছিল, নাকি তার প্রশংসা করেছিল?

গীতসংহিতা (১১৮)-এ গীত রচয়িতা তার শত্রুদের সম্পর্কে বলেন: "তারা আমাকে মৌমাছির মতো ঘিরে ধরেছিল, কাঁটাঝোপের আগুনের মতো তারা নিভে গেল" (গীতসংহিতা ১১৮/ ১২)। অথচ গ্রিক সংস্করণে এটি হলো: "তারা প্রজ্বলিত হলো," যেমনটি জেসুইট সন্ন্যাস অনুবাদ তার পাদটীকায় স্পষ্ট করেছে। প্রজ্বলিত হওয়া এবং নিভে যাওয়ার মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য! হে বুদ্ধিমান সম্প্রদায়, এ ব্যাপারে আপনাদের অভিমত কী?!

হিব্রু আইয়ুব কিতাব অনুযায়ী, নবী আইয়ুবের ওপর যখন ক্ষতরোগ আপতিত হলো, তখন তাঁর স্ত্রী তাঁকে বলেছিলেন: "তুমি কি এখনো তোমার সততায় অটল আছ? ঈশ্বরকে ধন্য করো এবং মারা যাও" (আইয়ুব ২/ ৯)। পক্ষান্তরে গ্রিক পাঠ্য, যেখান থেকে জেসুইট সন্ন্যাস অনুবাদ উদ্ধৃত করেছে, সেখানে উল্লেখ আছে যে তিনি বলেছিলেন: "তুমি কি এখনো তোমার সততায় অটল আছ? ঈশ্বরের নিন্দা করো এবং মারা যাও।" এটা সর্বজনবিদিত যে, নিন্দা এবং আশীর্বাদ হলো একে অপরের সম্পূর্ণ বিপরীত। সুতরাং কি...
(খণ্ড: ১) হালিল আহদুল ক্বদিমু কালিমাতুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
طالبت زوجها بالتجديف على الله أم طلب البركة منه، أيهما كتبه الملهم بوحي الروح القدس؟ (1)

وبعد هذا نقرأ في آخر أسفار الكتاب وعيداً شديداً لأولئك الذين يزيدون وينقصون في كلمة الله "لأني أشهد لكل من يسمع أقوال نبوة هذا الكتاب، إن كان أحد يزيد على هذا يزيد الله عليه الضربات المكتوبة في هذا الكتاب، وإن كان أحد يحذف من أقوال كتاب هذه النبوّة يحذف الله نصيبه من سفر الحياة ومن المدينة المقدسة " (الرؤيا 22/ 18 - 19)، فهل سيزيد الله الضربات المكتوبة على الكاثوليك والأرثوذكس الذين زادوا في كتابهم أسفار الأبوكريفا السبعة وغيرها مما زادوه في الكتاب، أم أن الله سيحذف أسماء البرتستانت من سفر الحياة لما حذفوه من كلمة الله التي يصر المؤمنون بها من الفريقين على أنها لا تزول ولا تتبدل " وأما كلمة إلهنا فتثبت إلى الأبد" (إشعيا 40/ 8)!.

ولنا أن نقول: أي هذه النصوص المختلفة كلمة الله؟ وما الدليل الذي يقدم توراة العبرانيين (البروتستانت واليهود) على توراة السامريين أو على توراة الأرثوذكس والكاثوليك اليونانية أو اللاتينية المترجمة عنها، فيجعل هذه مقدسة وتلك محرفة؟ {قل هاتوا برهانكم إن كنتم صادقين} (البقرة:111).

وأخيراً، نتساءل: هل يمكن أن نستعيد النص الأصلي للتوراة من خلال الجمع

--------------------------------------------

(1) ولرؤية المزيد من الصور والاختلافات بين النص اليوناني الكاثوليكي والنص العبري البروتستنتي ندعو القارئ للمقارنة بين نسخة الشرق الأوسط البرتستنتية ونسخة الرهبانية اليسوعية الكاثوليكية في عشرات المواضع، ومنها (التثنية 32/ 14، 43، يشوع 15/ 59، صموئيل (1) 1/ 24، 14/ 41، 28/ 10، صموئيل (2) 15/ 7، المزمور 71/ 15، 80/ 15، 105/ 28، 141/ 7، راعوث 1/ 14، الأيام (1) 7/ 15 - 16).
সে কি তার স্বামীকে আল্লাহর নিন্দা করতে বলেছিল নাকি তাঁর নিকট থেকে আশীর্বাদ প্রার্থনা করতে বলেছিল? পবিত্র আত্মার অনুপ্রেরণায় উদ্দীপ্ত লেখক এর কোনটি লিখেছিলেন? (১)

এরপর আমরা পবিত্র গ্রন্থের সর্বশেষ অধ্যায়ে তাদের জন্য এক কঠোর সতর্কবাণী পাঠ করি যারা আল্লাহর বাণীর মধ্যে সংযোজন বা বিয়োজন করে: "আমি এই কিতাবের নবুওয়তের বাণী শ্রবণকারী প্রত্যেকের প্রতি সাক্ষ্য দিচ্ছি, যদি কেউ এর সাথে কিছু যোগ করে, তবে আল্লাহ তার ওপর এই কিতাবে লিখিত আঘাতসমূহ বৃদ্ধি করবেন। আর যদি কেউ এই নবুওয়তের কিতাবের বাণী থেকে কিছু মুছে ফেলে, তবে আল্লাহ জীবন-পুস্তক ও পবিত্র নগরী থেকে তার অংশ মুছে দেবেন" (প্রকাশিত বাক্য ২২: ১৮-১৯)। তবে কি আল্লাহ ক্যাথলিক ও অর্থোডক্সদের ওপর কিতাবে বর্ণিত সেই আঘাতসমূহ বৃদ্ধি করবেন যারা তাদের কিতাবে সাতটি অ্যাপোক্রিফা গ্রন্থসহ অন্যান্য বিষয় সংযোজন করেছে? নাকি আল্লাহ জীবন-পুস্তক থেকে প্রোটেস্ট্যান্টদের নাম মুছে দেবেন যেহেতু তারা আল্লাহর বাণী থেকে কিছু অংশ বাদ দিয়েছে, অথচ উভয় পক্ষের বিশ্বাসীরাই দাবি করে যে এই বাণী চিরস্থায়ী ও অপরিবর্তনীয়— "কিন্তু আমাদের ইলাহ-এর বাণী চিরকাল অটল থাকবে" (যিশাইয় ৪০: ৮)!

আমাদের প্রশ্ন হলো: এই ভিন্নতর পাঠগুলোর মধ্যে কোনটি আল্লাহর বাণী? হিব্রু তওরাতকে (প্রোটেস্ট্যান্ট ও ইহুদিদের নিকট যা বিদ্যমান) সামারি তওরাত অথবা অর্থোডক্স ও ক্যাথলিকদের নিকট বিদ্যমান গ্রিক বা ল্যাটিন তওরাতের ওপর প্রাধান্য দেওয়ার দলিল কী, যা একটিকে পবিত্র আর অন্যগুলোকে বিকৃত হিসেবে গণ্য করে? "তোমরা যদি সত্যবাদী হও তবে তোমাদের প্রমাণ পেশ করো" (সূরা আল-বাকারাহ: ১১১)।

পরিশেষে, আমরা প্রশ্ন করি: বিভিন্ন পাঠের সমন্বয়ের মাধ্যমে কি তওরাতের মূল পাঠ উদ্ধার করা সম্ভব...

--------------------------------------------

(১) গ্রিক ক্যাথলিক পাঠ এবং হিব্রু প্রোটেস্ট্যান্ট পাঠের মধ্যকার আরও বহু বৈসাদৃশ্য ও পার্থক্যের রূপ দেখার জন্য আমরা পাঠককে প্রোটেস্ট্যান্টদের 'মধ্যপ্রাচ্য সংস্করণ' এবং ক্যাথলিকদের 'জেসুইট সন্ন্যাসী সংস্করণ'-এর মধ্যে বহু স্থানে তুলনা করার আহ্বান জানাই, যার মধ্যে রয়েছে: (দ্বিতীয় বিবরণ ৩২: ১৪, ৪৩; যিহোশূয় ১৫: ৫৯; ১ শামুয়েল ১: ২৪, ১৪: ৪১, ২৮: ১০; ২ শামুয়েল ১৫: ৭; গীতসংহিতা ৭১: ১৫, ৮০: ১৫, ১০৫: ২৮, ১৪১: ৭; রূথ ১: ১৪; ১ বংশাবলি ৭: ১৫-১৬)।
(খণ্ড: ১) হালিল আহদুল ক্বদিমু কালিমাতুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৩২)
بين هذه النصوص المختلفة، وتجيبنا مقدمة الرهبانية اليسوعية في مدخلها للكتاب المقدس: " أي صيغة من النص تختار؟ أو بعبارة أخرى: كيف الوصول إلى نص عبري يكون أقرب نص ممكن إلى الأصل؟ …

الحل العلمي الحقيقي يفرض علينا أن نعامل الكتاب المقدس كما نعامل جميع مؤلفات الحضارة القديمة، أي أن نضع شجرة النسب لكل ما نملكه من الشهود، بعد أن نكون قد درسنا بدقة فائقة مجمل القراءات المختلفة: النص المسوري، ومختلف نصوص قمران، والتوراة السامرية، والترجمات اليونانية السبعينية، وغير السبعينية، وترجمات الترجوم الآرامية، والترجمات السريانية، والترجمات اللاتينية القديمة … الخ، وبهذه المقارنات كلها نستطيع أن نستعيد النموذج الأصلي الكامن في أساس جميع الشهود، والذي يرقى عادة إلى حوالي القرن الرابع قبل المسيح ".

إن غاية ما يمكن أن نصل إليه فيما لو جمعنا كل هذه النصوص، أن نوفق في الوصول إلى نص يعود إلى القرن الرابع قبل الميلاد، أي إلى نص كتب بعد موسى بألف سنة، أما استعادة النص الذي كتبه موسى عليه السلام فدونه خرط القتاد.
এই বিভিন্ন পাঠের মাঝে জেসুইট সন্ন্যাসী সম্প্রদায়ের বাইবেলের ভূমিকা আমাদের উত্তর দেয়: "পাঠের কোন সংস্করণটি আপনি বেছে নেবেন? অথবা অন্য কথায়: মূলের নিকটতম কোনো হিব্রু পাঠে কীভাবে পৌঁছানো সম্ভব? ...

প্রকৃত বৈজ্ঞানিক সমাধান আমাদের ওপর এই কর্তব্য আরোপ করে যে, আমরা বাইবেলের সাথে প্রাচীন সভ্যতার অন্যান্য সকল রচনার ন্যায় আচরণ করব। অর্থাৎ, আমাদের কাছে থাকা সমস্ত প্রমাণের জন্য একটি বংশলতিকা তৈরি করা, যার আগে আমাদের অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে বিভিন্ন পাঠান্তরসমূহ অধ্যয়ন করতে হবে: মাসোরেটিক পাঠ, কুমরানের বিভিন্ন পাঠসমূহ, সামারিটান তোরাহ, গ্রিক সেপটুয়াজিন্ট ও অন্যান্য গ্রিক অনুবাদসমূহ, আরামায়িক টারগুম অনুবাদসমূহ, সিরিয়াক অনুবাদসমূহ এবং প্রাচীন লাতিন অনুবাদসমূহ... ইত্যাদি। এই সমস্ত তুলনামূলক পর্যালোচনার মাধ্যমে আমরা সেই আদি রূপটি পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হব যা সকল প্রমাণের মূলে নিহিত রয়েছে এবং যা সাধারণত খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতাব্দী পর্যন্ত পৌঁছায়।"

যদি আমরা এই সমস্ত পাঠসমূহ একত্রিত করি, তবে সর্বোচ্চ আমরা যা অর্জন করতে পারি তা হলো খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতাব্দীর একটি পাঠে পৌঁছানো, অর্থাৎ যা মুসা (আলাইহিস সালাম)-এর এক হাজার বছর পরে লেখা হয়েছে। আর মুসা (আলাইহিস সালাম) নিজে যা লিখেছিলেন সেই মূল পাঠটি পুনরুদ্ধার করা একেবারেই অসম্ভব ও সাধ্যাতীত ব্যাপার।
(খণ্ড: ১) হালিল আহদুল ক্বদিমু কালিমাতুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
‌‌مخطوطات الكتاب المقدس

يفتخر النصارى اليوم بوجود الآلاف من المخطوطات للكتاب المقدس تملأ جنبات المكتبات العالمية وتزين خزائنها، وهو أمر صحيح لا مراء فيه ولا ريبة، لكن المفاجأة أن هذه الآلاف من المخطوطات لا يعرف كاتبها، ولا يدرى عن مدى موثوقيته وأمانته وتمكنه من عمله.

ويفجأنا أن نعلم أيضاً أن هذه المخطوطات لا يوجد فيها مخطوطان متطابقان، ونكتفي هنا بنقل شهادات ثلاث: أولها جاء في مقدمة الكتاب المقدس لشهود يهوه، وذلك في قولها: " في أثناء نسخ المخطوطات الأصلية باليد تدخّل عنصر الضعف الإنساني، ولذلك فلا توجد من بين آلاف النسخ الموجودة اليوم باللغة الأصلية نسختان متطابقتان ".

كما ننقل شهادة فريدريك جرانت في كتابه " الأناجيل أصلها، ونموها " حيث يقول: " إن أول نص مطبوع من العهد كان ذلك الذي قام به إرازموس عام 1516م، وقبل هذا التاريخ كان يحفظ النص في مخطوطات نسختها أيدٍ مجهدة لكتبة كثيرين، ويوجد اليوم من هذه المخطوطات 4700 ما بين قصاصات من ورق إلى مخطوطات كاملة على رقائق من الجلد أو القماش.

إن نصوص جميع هذه المخطوطات تختلف اختلافاً كبيراً، ولا يمكننا الاعتقاد بأن أياً منها نجا من الخطأ … إن أغلب النسخ الموجودة من جميع الأحجام قد تعرضت لتغييرات أخرى على أيدي المصححين الذين لم يكن عملهم دائماً إعادة القراءة الصحيحة ". (1)

--------------------------------------------

(1) انظر: محاضرات في مقارنة الأديان، إبراهيم خليل أحمد، ص (41 - 42).
পবিত্র বাইবেলের পাণ্ডুলিপিসমূহ

বর্তমানে খ্রিস্টানরা পবিত্র বাইবেলের হাজার হাজার পাণ্ডুলিপির অস্তিত্ব নিয়ে গর্ববোধ করে, যা বিশ্ববিখ্যাত পাঠাগারগুলোর প্রতিটি প্রান্ত পূর্ণ করে রেখেছে এবং তাদের সংগ্রহশালাগুলোকে সুশোভিত করছে। এটি একটি অনস্বীকার্য সত্য যাতে কোনো বিতর্ক বা সন্দেহের অবকাশ নেই; তবে আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, এই হাজার হাজার পাণ্ডুলিপির লেখকদের পরিচয় অজ্ঞাত, এবং তাদের নির্ভরযোগ্যতা, বিশ্বস্ততা কিংবা স্বীয় কর্মে তাদের পারদর্শিতা সম্পর্কে কিছুই জানা যায় না।

আমাদের জন্য আরও আশ্চর্যের বিষয় এই যে, এই পাণ্ডুলিপিগুলোর মধ্যে এমন কোনো দুটি কপি পাওয়া যায় না যা হুবহু এক। এখানে আমরা তিনটি সাক্ষ্য উদ্ধৃত করছি: প্রথমটি পাওয়া যায় 'জেহোভাহ’স উইটনেস' প্রকাশিত বাইবেলের ভূমিকায়, যেখানে বলা হয়েছে: "মূল পাণ্ডুলিপিগুলো হাতে নকল করার সময় মানবীয় দুর্বলতার উপাদান প্রবেশ করেছে। ফলে বর্তমানে মূল ভাষায় বিদ্যমান হাজার হাজার অনুলিপির মধ্যে এমন কোনো দুটি কপি নেই যা পুরোপুরি অভিন্ন।"

অনুরূপভাবে আমরা ফ্রেডরিক গ্রান্টের তাঁর 'দি গসপেলস: দেয়ার অরিজিন অ্যান্ড দেয়ার গ্রোথ' নামক গ্রন্থে প্রদত্ত সাক্ষ্যটি উল্লেখ করছি, যেখানে তিনি বলেন: "নতুন নিয়মের প্রথম মুদ্রিত পাঠ ছিল সেটি যা ১৫১৬ খ্রিস্টাব্দে ইরাসমাস সম্পন্ন করেছিলেন। এই সময়ের পূর্বে পাঠসমূহ অসংখ্য লিপিকারের পরিশ্রান্ত হাতে লিখিত পাণ্ডুলিপি আকারে সংরক্ষিত ছিল। বর্তমানে কাগজের টুকরো থেকে শুরু করে চামড়া বা কাপড়ের ওপর লিখিত পূর্ণাঙ্গ পাণ্ডুলিপি পর্যন্ত এমন ৪৭০০টি অনুলিপি বিদ্যমান রয়েছে।

এই সকল পাণ্ডুলিপির পাঠের মধ্যে ব্যাপক বৈসাদৃশ্য রয়েছে এবং আমরা এমনটি বিশ্বাস করতে পারি না যে এগুলোর কোনোটিই ভুলত্রুটি থেকে মুক্ত থেকেছে … বিভিন্ন আকারের অধিকাংশ বিদ্যমান কপিই পরবর্তীকালে সংশোধকদের হাতে আরও পরিবর্তনের শিকার হয়েছে, যাদের কাজ সর্বদা সঠিক পাঠ পুনরুদ্ধার করা ছিল না।" (১)

--------------------------------------------

(১) দ্রষ্টব্য: মুহাদারাত ফি মুকারানাতিল আদইয়ান, ইবরাহিম খলিল আহমদ, পৃষ্ঠা (৪১ - ৪২)।
(খণ্ড: ১) হালিল আহদুল ক্বদিমু কালিমাতুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৩৪)
وثالث هذه الشهادات صدرت عن دائرة المعارف الأمريكية، إذ تقول: "لم يصلنا أي نسخة بخط المؤلف الأصلي لكتب العهد القديم، أما النصوص التي بين أيدينا، فقد نقلتها إلينا أجيال عديدة من الكتبة والنساخ، ولدينا شواهد وفيرة تبين أن الكتبة قد غيروا - بقصد أو دون قصد منهم - في الوثائق والأسفار، التي كان عملهم الرئيسي هو كتابتها ونقلها.

وقد حدث التغيير دون قصد حين أخطؤوا في قراءة بعض الكلمات … كذلك حين كانوا ينسخون الكلمة أو السطر مرتين، وأحياناً ينسون كتابة كلمات بل فقرات بأكملها.

وأما تغييرهم في النص الأصلي عن قصد فقد مارسوه مع فقرات كاملة، حين كانوا يتصورون أنها كتبت خطأ في الصورة التي بين أيديهم، كما كانوا يحذفون بعض الكلمات أو الفقرات، أو يضيفون على النص الأصلي فقرات توضيحية ..

ولا يوجد سبب يدعو للافتراض بأن أسفار العهد القديم لم تتعرض للأنواع العادية من الفساد في عملية النسخ، على الأقل في الفترة التي سبقت اعتبارها أسفاراً مقدسة ". (1)

وقام مجموعة من العلماء وكبار القسس في ألمانيا في القرن التاسع عشر بجمع كل المخطوطات اليونانية في العالم كله، وقارنوا بينها سطراً سطراً، فوجدوا فيها مائتي ألف اختلاف، كما أعلن مدير المعهد المختص بذلك في جامعة ميونيخ الأستاذ بريستل.

ويزداد أمر هذه المخطوطات سوءاً إذا علمنا أن موسى عليه السلام عاش في القرن الخامس عشر قبل الميلاد، فيما أقدم المخطوطات التوراتية يعود لما بعد ميلاد

--------------------------------------------

(1) انظر: الغفران بين الإسلام والمسيحية، إبراهيم خليل أحمد، ص (38 - 39)، المسيح في القرآن والتوراة والإنجيل، عبد الكريم الخطيب، ص (101 - 102).
এই সাক্ষ্যগুলোর তৃতীয়টি এসেছে আমেরিকান এনসাইক্লোপিডিয়া (দাইরাতুল মা’আরিফ আল-আমরিকিয়্যাহ) থেকে; সেখানে বলা হয়েছে: "পুরাতন নিয়মের (ওল্ড টেস্টামেন্ট) গ্রন্থসমূহের মূল লেখকের হস্তলিখিত কোনো পাণ্ডুলিপি আমাদের কাছে পৌঁছেনি। বরং আমাদের হাতে বর্তমানে যে পাঠ্যসমূহ রয়েছে, তা লিপিকার ও অনুলিপিকারদের বহু প্রজন্ম ধরে আমাদের কাছে স্থানান্তরিত হয়েছে। আমাদের কাছে এমন প্রচুর প্রমাণ রয়েছে যা নির্দেশ করে যে, লিপিকারগণ—ইচ্ছাকৃতভাবে হোক বা অনিচ্ছাকৃতভাবে—সেইসব দলিলাদি ও গ্রন্থসমূহে পরিবর্তন সাধন করেছেন, যা লিপিবদ্ধ ও স্থানান্তর করাই ছিল তাদের মূল কাজ।"

আর অনিচ্ছাকৃত পরিবর্তনগুলো তখন ঘটেছে যখন তারা কিছু শব্দ পড়তে ভুল করেছেন … একইভাবে যখন তারা কোনো শব্দ বা পঙ্ক্তি দুইবার অনুলিপি করেছেন, এবং কখনো কখনো তারা শব্দ এমনকি পুরো অনুচ্ছেদ লিখতে ভুলে গেছেন।

আর মূল পাঠ্যে তাদের ইচ্ছাকৃত পরিবর্তনের বিষয়টি তারা পুরো অনুচ্ছেদের ক্ষেত্রেও ঘটিয়েছেন, যখন তারা ধারণা করতেন যে তাদের সামনে থাকা পাণ্ডুলিপিতে বিষয়টি ভুলভাবে লেখা হয়েছে। তদ্রূপ তারা কিছু শব্দ বা অনুচ্ছেদ মুছে ফেলতেন, অথবা মূল পাঠ্যের সাথে ব্যাখ্যামূলক অনুচ্ছেদ যোগ করতেন।

এবং এমন কোনো কারণ নেই যার ভিত্তিতে এটি ধরে নেওয়া যায় যে, পুরাতন নিয়মের গ্রন্থগুলো অনুলিপি প্রক্রিয়ার সাধারণ বিকৃতিগুলো থেকে মুক্ত ছিল; অন্তত সেই সময় পর্যন্ত তো বটেই যখন সেগুলোকে পবিত্র গ্রন্থ হিসেবে গণ্য করা শুরু হয়নি।" (১)

ঊনবিংশ শতাব্দীতে জার্মানির একদল পণ্ডিত ও উচ্চপদস্থ যাজক বিশ্বের সমস্ত গ্রিক পাণ্ডুলিপি সংগ্রহ করেন এবং সেগুলোর প্রতিটি ছত্র মিলিয়ে দেখেন। সেখানে তারা দুই লক্ষ পার্থক্য খুঁজে পান, যেমনটি মিউনিখ বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক প্রিস্টল ঘোষণা করেছেন।

এই পাণ্ডুলিপিগুলোর অবস্থা আরও শোচনীয় হয়ে ওঠে যখন আমরা জানতে পারি যে, মুসা (আলাইহিস সালাম) খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চদশ শতাব্দীতে জীবিত ছিলেন, অথচ তাওরাতের প্রাচীনতম পাণ্ডুলিপিগুলো ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর জন্মের পরের সময়কার...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-গুফরান বাইনাল ইসলাম ওয়াল মাসিহিয়্যাহ, ইব্রাহিম খলিল আহমদ, পৃষ্ঠা (৩৮-৩৯); আল-মাসিহ ফিল কুরআন ওয়াত তাওরাত ওয়াল ইনজিল, আব্দুল কারিম আল-খাতিব, পৃষ্ঠা (১০১-১০২)।
(খণ্ড: ১) হালিল আহদুল ক্বদিমু কালিমাতুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৩৫)
المسيح - إذا استثنينا مخطوطات قمران المكتشفة حديثاً والتي تعود للقرن الثاني قبل الميلاد - أي أن بين هذه المخطوطات وبين موسى ما يقارب الستة عشر قرناً فقط؟!

ولبيان هذا نذكر أقدم المخطوطات الكتابية، ونوضح أقدم تاريخ مفترض لكتابتها.

- مخطوطات قمران والمكتشفة حديثاً، وترجع للقرن الثاني والثالث قبل الميلاد. واكتشفت عام 1947م بجوار البحر الميت. وما يزال الغموض يلف حقيقة هذه النصوص التي لم يعلن عن محتواها حتى الآن.

- مخطوطة بردي جون ريلندز، وفيها ما يساوي الخمس صفحات من سفر التثنية، وقد كتبت في القرن الثاني قبل الميلاد.

- مخطوطة شيستر بيتي التي عثر عليها العلامة الإنجليزي بيني عام 1929م، وتتضمن أجزاء من تسعة أسفار من أسفار العهد القديم، وقد كتبت بين القرنين الثاني والرابع الميلاديين.

- مخطوطات برلين التي يعتقد أنها كتبت في القرن الميلادي الثالث، وتضم مخطوطة فيها أجزاء من سفر التكوين، وأخرى حملت إلينا أسفار الأنبياء الاثني عشر، وثالثة تضم بعض المزامير وسفر الأمثال.

- مخطوطة الفاتيكان (محفوظة في الفاتيكان)، وتعتبرها مقدمة الرهبانية اليسوعية أجلّ المخطوطات اليونانية لأنها تحوي العهد القديم كاملاً، وقد عثر عليها عام 1481م، وتعود إلى القرن الرابع الميلادي.

- مخطوطة الإسكندرية، وقد حفظت هذه النسخة في المتحف البريطاني في لندن، وتعود إلى القرن الرابع أو الخامس الميلادي، وقيل أكثر من ذلك.
মসীহ — যদি আমরা সম্প্রতি আবিষ্কৃত কুমরান পাণ্ডুলিপিগুলো বাদ দিই যা খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় শতাব্দীর — তবে এর অর্থ হলো, এই পাণ্ডুলিপিগুলো এবং মূসার (আ.) মধ্যবর্তী সময়ের ব্যবধান মাত্র প্রায় ষোলো শতাব্দী?!

বিষয়টি স্পষ্ট করার জন্য আমরা প্রাচীনতম কিতাবী পাণ্ডুলিপিগুলোর কথা উল্লেখ করছি এবং সেগুলো রচনার প্রাচীনতম সম্ভাব্য তারিখগুলো ব্যাখ্যা করছি।

- কুমরান পাণ্ডুলিপিসমূহ: এগুলো সম্প্রতি আবিষ্কৃত হয়েছে এবং খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় ও তৃতীয় শতাব্দীর। ১৯৪৭ সালে মৃত সাগরের নিকটবর্তী স্থান থেকে এগুলো আবিষ্কৃত হয়। এই পাঠ্যগুলোর প্রকৃত স্বরূপ এখনও রহস্যবৃত, কারণ এগুলোর বিষয়বস্তু এখন পর্যন্ত প্রকাশ করা হয়নি।

- জন রাইল্যান্ডস প্যাপিরাস পাণ্ডুলিপি: এতে 'সফরুত তাসনিয়া' (দ্বিতীয় বিবরণ)-এর প্রায় পাঁচ পৃষ্ঠার সমপরিমাণ অংশ রয়েছে এবং এটি খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় শতাব্দীতে লেখা হয়েছে।

- চেস্টার বিটি পাণ্ডুলিপি: ১৯২৯ সালে ইংরেজ পণ্ডিত পেনি এটি খুঁজে পান। এতে ওল্ড টেস্টামেন্ট বা পুরাতন নিয়মের নয়টি খণ্ডের অংশবিশেষ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এবং এটি খ্রিস্টীয় দ্বিতীয় থেকে চতুর্থ শতাব্দীর মধ্যবর্তী সময়ে লেখা হয়েছিল।

- বার্লিন পাণ্ডুলিপিসমূহ: ধারণা করা হয় যে এগুলো খ্রিস্টীয় তৃতীয় শতাব্দীতে লেখা হয়েছে। এতে এমন একটি পাণ্ডুলিপি রয়েছে যাতে 'সফরুত তাকউইন' (আদিপুস্তক)-এর অংশবিশেষ রয়েছে; অন্য একটিতে রয়েছে বারো জন নবীর কিতাব এবং তৃতীয়টিতে কিছু সামসঙ্গীত (যাবুর) ও হিতোপদেশ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

- ভ্যাটিকান পাণ্ডুলিপি: এটি ভ্যাটিকানে সংরক্ষিত। জেসুইট অর্ডারের ভূমিকায় একে গ্রিক পাণ্ডুলিপিগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, কারণ এতে সম্পূর্ণ পুরাতন নিয়ম রয়েছে। এটি ১৪৮১ সালে পাওয়া যায় এবং এর রচনাকাল খ্রিস্টীয় চতুর্থ শতাব্দী।

- আলেকজান্দ্রিয়া পাণ্ডুলিপি: এই কপিটি লন্ডনের ব্রিটিশ মিউজিয়ামে সংরক্ষিত আছে। এটি খ্রিস্টীয় চতুর্থ বা পঞ্চম শতাব্দীর, তবে কেউ কেউ একে আরও প্রাচীনকালের বলে উল্লেখ করেছেন।