(খণ্ড: ১) হালিল আহদুল জাদিদু কালিমাতুল্লাহ (পৃষ্ঠা: -)
هل العهد الجديد كلمة الله   (منقذ السقار)

القسم: الفرق والردود


الكتاب: هل العهد الجديد كلمة الله؟

المؤلف: منقذ بن محمود السقار

الناشر: دار الإسلام للنشر والتوزيع

الطبعة: الأولى، 1428 هـ - 2007 م

عدد الصفحات: 243

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 26 صفر 1433

নতুন নিয়ম কি আল্লাহর বাণী   (মুনকিয আস-সাক্কার)

বিভাগ: ফিরকা ও খণ্ডন


গ্রন্থ: নতুন নিয়ম কি আল্লাহর বাণী?

লেখক: মুনকিয বিন মাহমুদ আস-সাক্কার

প্রকাশক: দারুল ইসলাম প্রকাশনী ও বিতরণ

সংস্করণ: প্রথম، ১৪২৮ হিজরি - ২০০৭ খ্রিষ্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৪৩

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রণ কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২৬ সফর ১৪৩৩

(খণ্ড: ১) হালিল আহদুল জাদিদু কালিমাতুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ১)
سلسلة الهدى والنور (2)

 

هل العهد الجديد

كلمة الله؟

 

د. منقذ بن محمود السقار
হিদায়াহ ও নূর ধারাবাহিক (২)

 

নতুন নিয়ম কি

আল্লাহর বাণী?

 

ড. মুনকিজ বিন মাহমুদ আস-সাক্কার
(খণ্ড: ১) হালিল আহদুল জাদিদু কালিমাতুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌مقدمة

أرسل الله رسله - رسولاً تلو رسول- بالبينات والهدى والنور، يتعاقبون على بلاغ الحق وتبيانه للمؤمنين.

وكان من أواخر هؤلاء الأنبياء الأبرار النبي العظيم المسيح عيسى عليه السلام، وقد آتاه الله الإنجيل {وقفّينا على آثارهم بعيسى ابن مريم مصدّقاً لما بين يديه من التّوراة وآتيناه الإنجيل فيه هدًى ونورٌ ومصدّقاً لما بين يديه من التّوراة وهدًى وموعظةً للمتّقين} (الحديد: 27).

ودعا الله المؤمنين للإيمان بكل ما أنزله على أنبيائه من الهدى والنور {قولوا آمنا بالله وما أنزل إلينا وما أنزل إلى إبراهيم وإسماعيل وإسحاق ويعقوب والأسباط وما أوتي موسى وعيسى وما أوتي النبيون من ربهم لا نفرق بين أحد منهم ونحن له مسلمون} (البقرة: 136).

وقال واصفاً المؤمنين: {آمن الرسول بما أنزل إليه من ربه والمؤمنون كل آمن بالله وملائكته وكتبه ورسله لا نفرق بين أحد من رسله} (البقرة: 285).

والإنجيل الذي أنزله الله على عيسى عليه السلام ليس هو بالضرورة ما يقدسه النصارى من أسفار العهد الجديد والتي كتبها أصحابها من تلاميذ المسيح أو من بعدهم بعد رفع المسيح، فتلك القصص والسير والرسائل البشرية، ليست وحي الله تبارك وتعالى المنزل على عيسى عليه السلام.
ভূমিকা

মহান আল্লাহ তাঁর রাসূলগণকে—একের পর এক রাসূল—সুস্পষ্ট প্রমাণাদি, হেদায়েত এবং নূরসহ প্রেরণ করেছেন; তাঁরা মুমিনদের নিকট সত্য পৌঁছে দিতে এবং তা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করতে একে অপরের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন।

আর এই পুণ্যবান নবীগণের মধ্যে অন্যতম সর্বশেষ নবী ছিলেন মহান নবী মাসীহ ঈসা আলাইহিস সালাম। আল্লাহ তাঁকে ইনজীল দান করেছিলেন। {এবং আমি তাঁদের পশ্চাতে মারইয়াম-তনয় ঈসাকে প্রেরণ করেছি, তাঁর পূর্ববর্তী তাওরাতের সত্যায়নকারী হিসেবে; আর আমি তাঁকে ইনজীল দান করেছি, যাতে রয়েছে হেদায়েত ও নূর, এবং যা তাঁর পূর্ববর্তী তাওরাতকে সত্যায়ন করে আর তা মুত্তাকীদের জন্য হেদায়েত ও উপদেশস্বরূপ} (আল-হাদীদ: ২৭)।

আল্লাহ মুমিনদেরকে তাঁর নবীগণের ওপর অবতীর্ণ যাবতীয় হেদায়েত ও নূরের প্রতি ঈমান আনার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন: {তোমরা বলো, আমরা আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছি এবং যা আমাদের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে, আর যা ইবরাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকুব ও তাঁর বংশধরদের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে, এবং যা মূসা ও ঈসাকে প্রদান করা হয়েছে আর যা অন্যান্য নবীগণকে তাঁদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে প্রদান করা হয়েছে। আমরা তাঁদের মধ্যে কোনো পার্থক্য করি না এবং আমরা তাঁরই অনুগত (মুসলিম)} (আল-বাকারা: ১৩৬)।

মুমিনদের বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেছেন: {রাসূল তাঁর প্রতিপালকের পক্ষ থেকে যা অবতীর্ণ হয়েছে তার ওপর ঈমান এনেছেন এবং মুমিনগণও। প্রত্যেকেই আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাগণের প্রতি, তাঁর কিতাবসমূহের প্রতি এবং তাঁর রাসূলগণের প্রতি ঈমান এনেছেন। আমরা তাঁর রাসূলগণের মধ্যে কোনো পার্থক্য করি না} (আল-বাকারা: ২৮৫)।

আর মহান আল্লাহ ঈসা আলাইহিস সালামের ওপর যে ইনজীল অবতীর্ণ করেছিলেন, তা মূলত খ্রিস্টানদের পবিত্র জ্ঞান করা ‘নিউ টেস্টামেন্ট’ বা নতুন নিয়মের পুস্তকসমূহ নয়; যা মাসীহ আলাইহিস সালাম-এর শিষ্যগণ কিংবা মাসীহকে তুলে নেওয়ার পরবর্তীকালের লেখকরা রচনা করেছেন। কারণ, সেই সব কাহিনী, জীবনচরিত এবং মানবীয় পত্রাবলি আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার পক্ষ থেকে ঈসা আলাইহিস সালামের ওপর অবতীর্ণ ওহী নয়।
(খণ্ড: ১) হালিল আহদুল জাদিদু কালিমাতুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
فكيف يعمد البشر إلى كتابات بعضهم، فينسبوه إلى الله زوراً وبهتاناً {فويل للذين يكتبون الكتاب بأيديهم ثم يقولون هذا من عند الله ليشتروا به ثمناً قليلاً فويل لهم مما كتبت أيديهم وويل لهم مما يكسبون} (البقرة: 79).

والآية كما رأينا بيان إلهي واضح يعلن فيه القرآن أن أهل الكتاب من يهود ونصارى قد حرفوا كلمة الله، وأضافوا فيها ما ليس منها، فما بين أيديهم من أسفار العهد القديم والجديد ليس كلمة الله.

ولا يمنع أن تكون بعض فقرات العهد الجديد صادقة، وهي تخبرنا عن بعض سيرة السيد المسيح عليه السلام أو تنقل إلينا بعض هديه وقوله وفعله. هذا مجمل اعتقاد المسلمين في هذه المسألة.

أما المسيحية فهي تؤمن أن أسفار العهد الجديد هي كلمة الله التي كتبها رجال الله القديسون بإلهام من الروح القدس.

ويبقى السؤال: هل تؤيد الشواهد العلمية والأدلة التاريخية بل والنصوص الكتابية، ما قاله القرآن عن تحريف هذه الكتب وزور نسبتها إلى الله أم أن العهد الجديد سلم من التحريف والتبديل والعبث البشري كما يؤمن النصارى؟

كنا في حلقتنا الأولى قد أثبتنا أن أسفار العهد القديم ليست كلمة الله.

وفي هذه الرسالة، وهي رسالتنا الثانية من سلسلة الهدى والنور نجيب عن سؤال آخر، وهو: هل العهد الجديد كلمة الله؟

وفي إجابتنا نستنطق ثانية الكتاب المقدس ورجال الكهنوت والمحققين من أهل العلم والتاريخ، نستنطقهم جميعاً، لنجيب عن هذا السؤال بموضوعية ومنهجية علمية رصينة.
মানুষ কীভাবে একে অপরের লেখাকে আল্লাহর নামে মিথ্যা ও অপবাদ হিসেবে আরোপ করতে পারে? "সুতরাং সেই সব লোকদের জন্য ধ্বংস অনিবার্য, যারা নিজ হাতে কিতাব লিখে আর বলে যে, 'এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে', যাতে তারা এর বিনিময়ে তুচ্ছ মূল্য গ্রহণ করতে পারে। সুতরাং তাদের হস্ত যা লিখেছে তার জন্য তাদের ওপর ধ্বংস নেমে আসুক এবং তারা যা উপার্জন করছে তার জন্যও তাদের ওপর ধ্বংস আসুক।" (আল-বাকারা: ৭৯)।

আমরা যেমনটি দেখলাম, এই আয়াতটি হলো একটি সুস্পষ্ট ঐশ্বরিক ঘোষণা, যেখানে কুরআন ঘোষণা করছে যে ইয়াহুদি ও খ্রিস্টান আহলে কিতাবগণ আল্লাহর বাণীতে বিকৃতি ঘটিয়েছে এবং এমন কিছু যোগ করেছে যা এর অংশ নয়। সুতরাং তাদের হাতে বিদ্যমান 'ওল্ড টেস্টামেন্ট' ও 'নিউ টেস্টামেন্ট'-এর পুস্তকসমূহ আল্লাহর বাণী নয়।

অবশ্য এটি অসম্ভব নয় যে নিউ টেস্টামেন্টের কিছু অনুচ্ছেদ সঠিক হতে পারে, যা আমাদের জনাব ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর জীবনীর কিছু অংশ সম্পর্কে অবহিত করে অথবা আমাদের কাছে তাঁর কিছু হিদায়াত, বাণী ও কার্যাবলি পৌঁছে দেয়। এই বিষয়টি নিয়ে মুসলিমদের সামগ্রিক বিশ্বাস মূলত এমনই।

পক্ষান্তরে, খ্রিস্টধর্ম বিশ্বাস করে যে নিউ টেস্টামেন্টের পুস্তকসমূহ আল্লাহর বাণী, যা পবিত্র আত্মার অনুপ্রেরণায় আল্লাহর মনোনীত পবিত্র ব্যক্তিবর্গ লিপিবদ্ধ করেছেন।

তবে প্রশ্ন থেকে যায়: বৈজ্ঞানিক প্রমাণাদি, ঐতিহাসিক সাক্ষ্য এবং কিতাবের নিজস্ব পাঠ কি কুরআনের এই দাবিকেই সমর্থন করে যে—এই কিতাবসমূহ বিকৃত করা হয়েছে এবং মিথ্যাভাবে আল্লাহর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে; নাকি নিউ টেস্টামেন্ট বিকৃতি, পরিবর্তন ও মানুষের হস্তক্ষেপ থেকে মুক্ত রয়েছে, যেমনটি খ্রিস্টানরা বিশ্বাস করে?

আমরা আমাদের প্রথম পর্বে প্রমাণ করেছি যে ওল্ড টেস্টামেন্টের পুস্তকসমূহ আল্লাহর বাণী নয়।

আর এই পুস্তিকাটিতে—যা আমাদের 'আল-হুদা ওয়ান নূর' সিরিজের দ্বিতীয় পুস্তিকা—আমরা অন্য একটি প্রশ্নের উত্তর দেব, আর তা হলো: 'নিউ টেস্টামেন্ট' কি আল্লাহর বাণী?

আমাদের উত্তরের ক্ষেত্রে আমরা পুনরায় পবিত্র বাইবেল, যাজক সম্প্রদায় এবং জ্ঞান ও ইতিহাসের গবেষকদের সাক্ষ্য গ্রহণ করব; এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য আমরা নিরপেক্ষতা ও সুদৃঢ় বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির মাধ্যমে তাদের সকলের মতামত যাচাই করব।
(খণ্ড: ১) হালিল আহদুল জাদিদু কালিমাতুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
هذا الجهد نهديه إلى كل باحث عن الحقيقة، ظامئ إليها، سائلين الله أن يفتح قلوبنا للحق وأن يهدينا إليه، إنه ولي ذلك والقادر عليه.

 

د. منقذ بن محمود السقار

مكة المكرمة - ذو الحجة - 1423هـ

mongiz@maktoob.com
এই প্রচেষ্টা আমরা উৎসর্গ করছি সত্যের প্রত্যেক অন্বেষীর প্রতি, যারা এর জন্য পিপাসার্ত; আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের অন্তরসমূহকে সত্যের জন্য উন্মুক্ত করে দেন এবং আমাদের সেদিকে পরিচালিত করেন। নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং এতে পূর্ণ সক্ষম।

 

ড. মুনকিয বিন মাহমুদ আস-সাক্কার

মক্কা আল-মুকাররামা - যিলহজ - ১৪২৩ হিজরি

মুনকিয@মাকতুব.কম
(খণ্ড: ১) হালিল আহদুল জাদিদু কালিমাতুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌تمهيد

العهد الجديد هو مجموعة الأناجيل الأربعة والرسائل الملحقة بها، وينسب إلى ثمانية من المحررين ينتمون إلى الجيل الأول والثاني من النصرانية، وهم متى ومرقس ولوقا ويوحنا أصحاب الأناجيل، ثم بولس صاحب الأربع عشرة رسالة (1)، ثم بطرس ويعقوب ويهوذا، تلاميذ المسيح الذين تنسب إليهم القليل من الرسائل.

وهؤلاء الكتبة الثمانية بعضهم تتلمذ على يد السيد المسيح عليه السلام (متى - يوحنا - بطرس - يعقوب - يهوذا)، بعضهم تنصر بعد المسيح ولم يلقه (بولس، ومرقس تلميذ بطرس)، وبعضهم تنصر على يد من لم يلق المسيح (لوقا تلميذ بولس).

وسمى ترتليان عام 225م هذا الجزء من الكتاب المقدس (العهد الجديد) (2) في مقابل تسمية التوراة وأسفار الأنبياء (العهد القديم) كما جاء في إنجيل متى في وصف رسالة المسيح " لأن هذا هو دمي الذي للعهد الجديد الذي يسفك من أجل كثيرين لمغفرة الخطايا " (متى 26/ 28).

وتشتمل الأناجيل على سيرة مقتضبة للمسيح عليه السلام، إذ لا تكاد تذكر شيئاً عن طفولته ونشأته، فيما تتحدث بإسهاب عن بعض الحوادث التي تلت نبوته من معجزات وأحاديث للمسيح وعظات للتلاميذ واليهود، كما تحكي الأناجيل باهتمام بالغ عن تفاصيل قصة صلبه المزعوم، ولا تكاد تذكر شيئاً من المعتقد الذي اهتمت به الرسائل الملحقة بها.

وكلمة (الإنجيل) كلمة مشتقة من الكلمة اليونانية " إفنجليون"، وتعني: "الخبر السار " أو " البشارة ".

--------------------------------------------

(1) إذا وافقنا بعض الشراح الذين نسبوا متشككين رسالة العبرانيين إلى بولس.

(2) انظر: المدخل إلى العهد القديم، القس الدكتور صموئيل يوسف، ص (25).
ভূমিকা

নিউ টেস্টামেন্ট বা নতুন নিয়ম হলো চারটি ইঞ্জিল এবং তৎসংলগ্ন পত্রাবলির সমষ্টি। এটি আটজন লেখকের প্রতি সম্পৃক্ত করা হয়, যারা খ্রিস্টধর্মের প্রথম ও দ্বিতীয় প্রজন্মের অন্তর্ভুক্ত। তাঁরা হলেন ইঞ্জিল চতুষ্টয়ের লেখক মথি, মার্ক, লুক ও যোহন; অতঃপর চৌদ্দটি পত্রের লেখক পৌল (১); এরপর পিতর, যাকোব ও যিহূদা—মসীহের এই শিষ্যদের প্রতি সামান্য কিছু পত্র সম্পৃক্ত করা হয়।

এই আটজন লেখকের মধ্যে কয়েকজন সরাসরি ঈসা আলাইহিস সালামের শিষ্যত্ব লাভ করেছিলেন (মথি, যোহন, পিতর, যাকোব ও যিহূদা); কেউ কেউ মসীহের পর খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত হয়েছেন এবং তাঁর সাক্ষাৎ পাননি (যেমন পৌল এবং পিতরের শিষ্য মার্ক); আবার কেউ কেউ এমন ব্যক্তির হাতে ধর্ম গ্রহণ করেছেন যিনি মসীহের সাক্ষাৎ পাননি (যেমন পৌলের শিষ্য লুক)।

২২৫ খ্রিস্টাব্দে টারটুলিয়ান পবিত্র বাইবেলের এই অংশটিকে ‘নিউ টেস্টামেন্ট’ (২) নামে অভিহিত করেন; যার বিপরীতে তওরাত ও নবীদের কিতাবসমূহকে ‘ওল্ড টেস্টামেন্ট’ (পুরাতন নিয়ম) বলা হয়। যেমন মথির ইঞ্জিলে মসীহের বাণীর বর্ণনায় এসেছে: “কারণ এটি হলো নতুন নিয়মের আমার সেই রক্ত, যা অনেকের পাপক্ষমার জন্য উৎসর্গ করা হচ্ছে।” (মথি ২৬/ ২৮)।

ইঞ্জিলসমূহ ঈসা আলাইহিস সালামের একটি সংক্ষিপ্ত জীবনী ধারণ করে, তবে এতে তাঁর শৈশব ও বেড়ে ওঠা সম্পর্কে তেমন কিছুই উল্লেখ করা হয়নি। পক্ষান্তরে, এতে তাঁর নবুওয়াত পরবর্তী কিছু ঘটনা—যেমন মসীহের মুজিজা, বাণী এবং শিষ্য ও ইহুদিদের প্রতি প্রদত্ত উপদেশমালা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। পাশাপাশি ইঞ্জিলসমূহ তাঁর তথাকথিত ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার গল্পের বিবরণ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বর্ণনা করে, অথচ এর সাথে যুক্ত পত্রাবলিতে যে সকল আকিদা বা বিশ্বাসগত বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, সে সম্পর্কে ইঞ্জিলগুলোতে তেমন কিছুই উল্লেখ পাওয়া যায় না।

‘ইঞ্জিল’ শব্দটি গ্রিক শব্দ ‘ইভানজেলিওন’ থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ হলো: ‘সুসংবাদ’ বা ‘শুভবার্তা’।

--------------------------------------------

(১) যদি আমরা সেই সব ব্যাখ্যাকারীদের সাথে একমত হই যারা সংশয়ের সাথে হিব্রুদের প্রতি প্রেরিত পত্রটিকে পৌলের প্রতি নিসবত করেছেন।

(২) দ্রষ্টব্য: আল-মাদখাল ইলাল আহদিল কাদীম (পুরাতন নিয়মের ভূমিকা), রেভারেন্ড ডক্টর স্যামুয়েল ইউসুফ, পৃষ্ঠা (২৫)।
(খণ্ড: ১) হালিল আহদুল জাদিদু কালিমাতুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
وأصول هذه الأناجيل كتب باللغة اليونانية فيما عدا " متى " الذي يصر الآباء على أنه كتب بالعبرانية.

ومن المعلوم أن أياً من اللغتين لم تكن لغة للمسيح، الذي كان يتكلم الآرامية - كما دلت على ذلك الأناجيل - وهي تنسب إلى المسيح عبارات آرامية، ومنه ما نقله مرقس "أمسك بيد الصبيبة، وقال لها: طليثا قومي. الذي تفسيره: يا صبية: لك أقول قومي " (مرقس 5/ 41).

ويقول مرقس أيضاً: "وقال له: إفثا. أي انفتح " (مرقس 7/ 34).

ويذكر متى أن المسيح المصلوب - بزعمه - صرخ على الصليب: " ايلي ايلي لم شبقتني. أي إلهي إلهي لماذا تركتني " (متى 27/ 46).

وتسهيلاً على قراء العهد الجديد تم تقسيمه إلى إصحاحات في القرن الثالث عشر الميلادي على يد الكاردينال "هوجو دو سنكتو كارو "، ورقمت فقرات كل إصحاح عام 1551م. (1)

--------------------------------------------

(1) انظر: الأسفار المقدسة قبل الإسلام، صابر طعيمة، ص (274).
এই ইঞ্জিলগুলোর মূল পাণ্ডুলিপি গ্রিক ভাষায় রচিত হয়েছিল, তবে ‘মথি’র ইঞ্জিল এর ব্যতিক্রম; কারণ গির্জার ধর্মীয় পিতৃবর্গ (চার্চ ফাদার্স) জোর দিয়ে বলেন যে এটি হিব্রু ভাষায় লেখা হয়েছিল।

এটি সর্বজনবিদিত যে, এই দুই ভাষার কোনোটিই মসীহ-এর ভাষা ছিল না। তিনি আরামীয় ভাষায় কথা বলতেন—যেমনটি ইঞ্জিলগুলোতে নির্দেশ করা হয়েছে—এবং সেখানে মসীহ-এর প্রতি কিছু আরামীয় অভিব্যক্তি আরোপ করা হয়েছে। এর একটি উদাহরণ মার্ক বর্ণনা করেছেন: “তিনি মেয়েটির হাত ধরলেন এবং তাকে বললেন: ‘তালিতা কুমি’; যার অর্থ: ‘হে বালিকা, আমি তোমাকে বলছি, ওঠো’।” (মার্ক ৫:৪১)।

মার্ক আরও উল্লেখ করেছেন: “এবং তাকে বললেন: ‘এফফাতা’, অর্থাৎ ‘উন্মুক্ত হও’।” (মার্ক ৭:৩৪)।

মথি উল্লেখ করেছেন যে, ক্রুশবিদ্ধ মসীহ—তার দাবি অনুযায়ী—ক্রুশের ওপর চিৎকার করে বলেছিলেন: “এলী, এলী, লামা শাবাকতানি? অর্থাৎ, ‘আমার ঈশ্বর, আমার ঈশ্বর, কেন তুমি আমাকে পরিত্যাগ করলে?’” (মথি ২৭:৪৬)।

‘নতুন নিয়মে’র পাঠকদের সুবিধার জন্য ত্রয়োদশ শতাব্দীতে কার্ডিনাল ‘হুগো ডি সানক্টো কারো’-এর মাধ্যমে একে বিভিন্ন অধ্যায়ে বিভক্ত করা হয়েছিল এবং ১৫৫১ খ্রিস্টাব্দে প্রতিটি অধ্যায়ের অনুচ্ছেদগুলোকে নম্বরযুক্ত করা হয়েছিল। (১)

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-আসাফার আল-মুকাদ্দাসা কাবলাল ইসলাম (ইসলাম-পূর্ব পবিত্র ধর্মগ্রন্থসমূহ), সাবের তুয়াইমাহ, পৃষ্ঠা: (২৭৪)।
(খণ্ড: ১) হালিল আহদুল জাদিদু কালিমাতুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌العهد الجديد عند النصارى:

يقر النصارى بأن الأناجيل كتبت على يد تلاميذ المسيح عليه السلام وتلاميذهم، فكيف أضحت كتابات بعض البشر مقدسة؟

تبنت الكنيسة في مجمع الفاتيكان المنعقد عام 1869 - 1870م قراراً يقول عن أسفار الكتاب المقدس بعهديه " كتبت بإلهام من الروح القدس، مؤلفها الله، وأعطيت هكذا للكنيسة".

وقبل أن يمضي قرن كامل عقد مجمع آخر في الفاتيكان 1962 - 1965م، وقرر هذا المجمع - الذي بحث المشكلة الصعبة التي تواجه الدراسات النقدية للكتاب المقدس - بأغلبية 2344 مجتمعاً، وبمعارضة ستة فقط - قرر الاعتراف بعجز التوراة، وأن " امتيازاً بارزاً مستحقاً للأناجيل .. وقد نقلوها إلينا بإلهام إلهي من الروح.

تؤكد الكنيسة بحزم ومثابرة عظمى أن الأناجيل الأربعة - التي أكدت دونما تردد صفتها التاريخية - تنقل بأمانة ما فعله وعلمه المسيح ابن الله … فالكتاب المقدسون ألفوا الأناجيل الأربعة، بحيث يكشفون لنا دوماً عن المسيح أشياء حقيقية وصادقة ". (1)

لقد غيروا بعض الشيء، فالكتاب ليس مؤلفه الله، بل الإنجيليون، ولكن بإلهام من روح القدس، وهو ما يؤكده " موجز تاريخ الأمة القبطية " حين يقول: "الكتاب المقدس هو مجموع الأسفار التي كتبها رجال الله القديسون بإلهام من الروح القدس في أوقات مختلفة ".

ولا يعتقد المسيحيون بالوحي الحرفي الذي يعتقده المسلمون في القرآن، فهم لا

--------------------------------------------

(1) اختلافات في تراجم الكتاب المقدس، أحمد عبد الوهاب، ص (91 - 92).
খ্রিস্টানদের নিকট নতুন নিয়ম:

খ্রিস্টানরা স্বীকার করে যে, ইঞ্জিলসমূহ মসীহ (আলাইহিস সালাম)-এর শিষ্যবর্গ এবং তাঁদের শিষ্যদের হাতে লিখিত হয়েছে। তবে সাধারণ মানুষের লেখা কীভাবে পবিত্র গ্রন্থে পরিণত হলো?

১৮৬৯ - ১৮৭০ খ্রিস্টাব্দে অনুষ্ঠিত ভ্যাটিকান কাউন্সিলে চার্চ পবিত্র বাইবেলের উভয় নিয়মের (পুরাতন ও নতুন নিয়ম) পুস্তকসমূহ সম্পর্কে একটি প্রস্তাব গ্রহণ করে যেখানে বলা হয়েছে: "এগুলো পবিত্র আত্মার অনুপ্রেরণায় লিখিত হয়েছে, এর রচয়িতা ঈশ্বর, এবং এভাবেই তা চার্চকে প্রদান করা হয়েছে।"

এক শতাব্দী পূর্ণ হওয়ার আগেই ১৯৬২ - ১৯৬৫ খ্রিস্টাব্দে ভ্যাটিকানে আরেকটি কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। এই কাউন্সিল—যা বাইবেলের সমালোচনামূলক গবেষণার ক্ষেত্রে উদ্ভূত কঠিন সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা করেছিল—২৩৪৪ জন সদস্যের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে এবং মাত্র ছয় জনের বিরোধিতায় তাওরাতের অক্ষমতা স্বীকার করার সিদ্ধান্ত নেয় এবং ঘোষণা করে যে, "ইঞ্জিলসমূহ একটি বিশেষ মর্যাদার দাবিদার... এবং তাঁরা পবিত্র আত্মার ঐশ্বরিক অনুপ্রেরণায় তা আমাদের নিকট পৌঁছে দিয়েছেন।"

চার্চ অত্যন্ত দৃঢ়তা ও নিষ্ঠার সাথে নিশ্চিত করে যে, চারটি ইঞ্জিল—যাদের ঐতিহাসিক সত্যতা সম্পর্কে চার্চ কোনো দ্বিধা ছাড়াই স্বীকৃতি দিয়েছে—আল্লাহর পুত্র মসীহ যা করেছিলেন ও শিক্ষা দিয়েছিলেন তা বিশ্বস্ততার সাথে বর্ণনা করে … সুতরাং পবিত্র লেখকগণ চারটি ইঞ্জিল এমনভাবে রচনা করেছেন যাতে তাঁরা মসীহ সম্পর্কে সর্বদা আমাদের নিকট সত্য ও সঠিক বিষয়গুলো উন্মোচন করেন।" (১)

তারা বিষয়টিকে কিছুটা পরিবর্তন করেছে; কেননা গ্রন্থটির রচয়িতা স্বয়ং ঈশ্বর নন, বরং ইঞ্জিল রচয়িতাগণ, তবে তা পবিত্র আত্মার অনুপ্রেরণায় হয়েছে। "কিবতি জাতির ইতিহাসের সংক্ষিপ্তসার" গ্রন্থেও এটি নিশ্চিত করে বলা হয়েছে: "পবিত্র বাইবেল হলো সেই সকল পুস্তকের সমষ্টি যা আল্লাহর পবিত্র ব্যক্তিগণ বিভিন্ন সময়ে পবিত্র আত্মার অনুপ্রেরণায় লিখেছিলেন।"

আর খ্রিস্টানরা কুরআনের ক্ষেত্রে মুসলমানদের বিশ্বাসের মতো আক্ষরিক ওহীতে বিশ্বাস করে না, কারণ তারা

--------------------------------------------

(১) ইখতিলাফাত ফি তারাইউমিল কিতাবিল মুকাদ্দাস (বাইবেলের অনুবাদসমূহের বৈচিত্র্য), আহমদ আব্দুল ওয়াহাব, পৃ. (৯১ - ৯২)।
(খণ্ড: ১) হালিল আহদুল জাদিদু কালিমাতুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
يقولون بأن الأناجيل نزلت على كاتبيها من الله أو الملائكة حرفاً حرفاً، وكلمة كلمة، بل " نريد أن الله عز وجل إذا ما قصد بسمو لطفه وحكمته أن يبلغ البشر شيئاً من أسراره، حرك باطناً كاتباً يختاره، فيبعثه على كتابة السفر المقصود، ثم يمده بأيده الخاص ونعمته الممتازة، ويلهمه اختيار الحوادث والظروف والأعمال والأقوال التي شاء سبحانه وتعالى رقمها لفائدة عباده.

وكان له رقيباً ومرشداً، وعصمه من الخطأ في نقلها وتسطيرها إفراداً وإجمالاً، بحيث إنه لا ينقل إلا ما ألهمه الله إياه … وهذا كافٍ لأن يعزى الكتاب إلى الله ".

ويشرح المنصر كارل جوتليب بافندر اعتقاد النصارى في الوحي فيقول: "واعتقادنا: أن الأنبياء والحواريين وإن كانوا قابلي السهو والنسيان في جميع الأمور، لكنهم معصومون في التبليغ والتحرير، إن ظهر لأحد في موضع من المواضع في تحريرهم اختلاف أو محال عقلي، فذلك دليل نقصان علمه وفهمه". (1)

ويتلخص الرأي النصراني باعتبار الأناجيل والرسائل كلمة الله التي ألهمها الروح القدس لبعض تلاميذ المسيح وتلاميذهم، فكانت هذه الكتابات مقدسة بهذا الاعتبار.

--------------------------------------------

(1) إظهار الحق، رحمة الله الهندي (1/ 39 - 42).
তারা দাবি করে যে, ইঞ্জিলসমূহ এর লেখকদের নিকট আল্লাহর পক্ষ থেকে কিংবা ফেরেশতাদের মাধ্যমে অক্ষরে অক্ষরে এবং শব্দে শব্দে অবতীর্ণ হয়েছে; বরং "আমাদের বক্তব্য হলো, মহান আল্লাহ যখন তাঁর সুউচ্চ অনুগ্রহ ও প্রজ্ঞার মাধ্যমে মানবজাতিকে তাঁর রহস্যের কোনো অংশ অবহিত করতে চান, তখন তিনি তাঁর মনোনীত কোনো লেখকের অন্তরাত্মাকে আন্দোলিত করেন। অতঃপর তাকে উদ্দিষ্ট কিতাবটি লিখতে উদ্বুদ্ধ করেন, এরপর তাকে তাঁর বিশেষ শক্তি ও অনন্য নিআমত দ্বারা সাহায্য করেন এবং তাকে সেইসব ঘটনা, পরিস্থিতি, কর্ম ও বাণী নির্বাচনে ইলহাম (প্রত্যাদেশ) করেন যা মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের কল্যাণের জন্য লিপিবদ্ধ করতে চেয়েছেন।

আর তিনি তার জন্য একজন পর্যবেক্ষক ও পথপ্রদর্শক হিসেবে ছিলেন এবং তা বিস্তারিত বা সংক্ষিপ্তভাবে বর্ণনা ও লিপিবদ্ধ করার ক্ষেত্রে তাকে ভুল-ভ্রান্তি থেকে সুরক্ষিত রেখেছেন, ফলে সে কেবল তা-ই বর্ণনা করে যা আল্লাহ তাকে ইলহাম করেছেন ... আর এই কিতাবটিকে আল্লাহর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করার জন্য এটিই যথেষ্ট।"

খ্রিষ্টান ধর্মপ্রচারক কার্ল গটলিব ফান্দার ওহী সম্পর্কে নাসারাদের বিশ্বাস ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন: "আমাদের বিশ্বাস হলো: নবী ও হাওয়ারীগণ যদিও সকল জাগতিক বিষয়ে ভুল ও বিস্মৃতির ঊর্ধ্বে নন, তবে আল্লাহর বাণী প্রচার ও তা লিপিবদ্ধ করার ক্ষেত্রে তাঁরা নিষ্পাপ (মাসুম)। যদি কারো দৃষ্টিতে তাদের লেখনীর কোনো স্থানে বৈপরীত্য কিংবা যুক্তিবিরোধী কিছু প্রকাশ পায়, তবে তা কেবল সেই ব্যক্তির জ্ঞান ও উপলব্ধির স্বল্পতারই প্রমাণ।" (১)

খ্রিষ্টানদের মতামতের সারকথা হলো, ইঞ্জিলসমূহ ও পত্রাবলিকে আল্লাহর বাণী হিসেবে গণ্য করা হয় যা পবিত্র আত্মা (রুহুল কুদুস) মসীহ্-এর কিছু শিষ্য ও তাঁদের অনুসারীদের হৃদয়ে ইলহাম করেছিলেন। ফলে এই দৃষ্টিকোণ থেকে এই রচনাগুলো পবিত্র হিসেবে বিবেচিত।

--------------------------------------------

(১) ইজহারুল হক, রহমতুল্লাহ আল-হিন্দি (১/ ৩৯ - ৪২)।
(খণ্ড: ১) হালিল আহদুল জাদিদু কালিমাতুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌مخطوطات العهد الجديد

وصلت أسفار العهد الجديد إلينا عبر آلاف المخطوطات التي يفتخر النصارى بكثرتها، ويرون في هذه الكثرة دليلاً ساطعاً على حفظ كلمة الله التي سجلها تلاميذ المسيح عليه السلام.

ولندرك أهمية كثرة هذه المخطوطات عند النصارى وتاريخ كتابتها ننقل ما يقوله القس سويجارت في مناظرته الشهيرة للعلامة ديدات: " يوجد ما يقرب من أربعة وعشرين ألف مخطوط يدوي قديم من كلمة الرب من العهد الجديد … وأقدمها يرجع إلى ثلاثمائة وخمسين عاماً بعد الميلاد، والنسخة الأصلية أو المنظورة، أو المخطوط الأول لكلمة الرب لا وجود لها .. ".

ولو فصلنا أكثر في ذكر ما وصل إلينا من مخطوطات العهد الجديد، فإنا نقول: إنها تنقسم إلى ثلاثة أقسام:

أ) مخطوطات البردي، والكتابة على ورق البردي، وكانت تستخدم في القرن الثاني والثالث الميلادي. وقد وصل إلينا في أقدمها قطعتان فقط من العهد الجديد.

الأولى: تضم جملتين من إنجيل يوحنا 18/ 31، 18/ 37 - 38، وقد كتبتا في القرن الثاني وهي محفوظة في مانشستر.

والثانية: وتضم مقطعين من إنجيل متى 1/ 1 - 9، 12/ 14 - 20.

كما يوجد العديد من مخطوطات البردي والتي تحوي نصوصاً إنجيلية صغيرة، وتعود للقرون اللاحقة.

ب) مخطوطات إغريقية مكتوبة على رقوق الحيوانات، ولم تعرف هذه الطريقة في الكتابة إلا في القرن الميلادي الرابع، ويوجد منها عدد كبير من المخطوطات أهمها النسخة الإسكندرية والفاتيكانية والسينائية.
নতুন নিয়মের পাণ্ডুলিপিসমূহ

নতুন নিয়মের কিতাবসমূহ আমাদের নিকট হাজার হাজার পাণ্ডুলিপির মাধ্যমে পৌঁছেছে, যেগুলোর আধিক্য নিয়ে খ্রিষ্টানরা গর্ব করে থাকেন। তাঁরা এই সংখ্যাধিক্যকে আল্লাহর কালাম বা বাণী সংরক্ষিত থাকার এক উজ্জ্বল প্রমাণ হিসেবে গণ্য করেন, যা মসিহ (আলাইহিস সালাম)-এর শিষ্যগণ লিপিবদ্ধ করেছিলেন।

খ্রিষ্টানদের নিকট এই পাণ্ডুলিপিসমূহের প্রাচুর্যের গুরুত্ব এবং এগুলোর রচনার ইতিহাস অনুধাবনের জন্য আমরা আল্লামা দিদাতের সাথে পাদ্রি সোয়াগার্টের বিখ্যাত বিতর্কের বক্তব্য উদ্ধৃত করছি: "প্রভুর বাণী নতুন নিয়মের প্রায় চব্বিশ হাজার প্রাচীন হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপি বিদ্যমান … এবং এগুলোর মধ্যে প্রাচীনতমটি খ্রিস্টীয় ৩৫০ অব্দের। তবে প্রভুর বাণীর মূল সংস্করণ বা চাক্ষুষ কপি অথবা প্রথম পাণ্ডুলিপিটির কোনো অস্তিত্ব নেই..."।

নতুন নিয়মের যেসব পাণ্ডুলিপি আমাদের নিকট পৌঁছেছে, সেগুলোকে আরও বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করলে আমরা বলতে পারি যে, এগুলো তিন ভাগে বিভক্ত:

ক) প্যাপিরাস পাণ্ডুলিপি: প্যাপিরাস কাগজের ওপর এই লিখন পদ্ধতি খ্রিস্টীয় দ্বিতীয় ও তৃতীয় শতাব্দীতে ব্যবহৃত হতো। এর মধ্যে প্রাচীনতম হিসেবে আমাদের নিকট নতুন নিয়মের মাত্র দুটি অংশ পৌঁছেছে।

প্রথমটি: এতে ইউহান্না (যোহন) লিখিত ইঞ্জিলের ১৮/৩১ এবং ১৮/৩৭-৩৮ অধ্যায়ের দুটি বাক্য রয়েছে। এটি দ্বিতীয় শতাব্দীতে লেখা হয়েছিল এবং বর্তমানে ম্যানচেস্টারে সংরক্ষিত আছে।

দ্বিতীয়টি: এতে মথি (মাথিউ) লিখিত ইঞ্জিলের ১/১-৯ এবং ১২/১৪-২০ এর দুটি অংশ রয়েছে।

এছাড়াও প্যাপিরাসের আরও অনেক পাণ্ডুলিপি রয়েছে যাতে ইঞ্জিলের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পাঠ বিদ্যমান এবং সেগুলো পরবর্তী শতাব্দীগুলোর সময়কালের।

খ) পশুর চামড়ায় (পার্চমেন্ট) লিখিত গ্রিক পাণ্ডুলিপিসমূহ: লিখনশিল্পের এই পদ্ধতিটি খ্রিস্টীয় চতুর্থ শতাব্দীর আগে পরিচিত ছিল না। এই ধরণের পাণ্ডুলিপি বিপুল সংখ্যায় বিদ্যমান, যার মধ্যে প্রধান হলো আলেকজান্দ্রীয় সংস্করণ, ভ্যাটিকান সংস্করণ এবং সিনাই সংস্করণ।
(খণ্ড: ১) হালিল আহদুল জাদিদু কালিমাতুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
ج) مخطوطات متأخرة ترجع للقرن 13 - وما بعده. (1)

وأهم المخطوطات المكتوبة على رقوق الحيوانات المخطوطة الفاتيكانية والسينائية والإسكندرانية، وهي مخطوطات كتبت في القرن الرابع الميلادي على أقل تقدير، وقد سبق لنا التعريف بها في حديثنا عن العهد القديم، لذا نكتفي هنا بذكر بعض ما يتعلق بالعهد الجديد في هذه المخطوطات.

1) النسخة الفاتيكانية: جاء في مقدمة العهد الجديد للكاثوليك: " وأقدم كتب الخط التي تحتوي على معظم العهد الجديد أو نصه الكامل كتابان مقدسان يعودان إلى القرن الرابع، وأجلّهما المجلد الفاتيكاني .. وهذا الكتاب الخط مجهول المصدر، وقد أصيب بأضرار لسوء الحظ، ولكنه يحتوي على العهد الجديد ما عدا الرسالة إلى العبرانيين (9/ 14 - 13/ 25) والرسالتين الأولى والثانية إلى تيموثاوس والرسالة إلى تيطس، والرسالة إلى فليمون، والرؤيا".

وقد أضاف ناسخ مجهول في القرن الخامس عشر الميلادي هذه الرسائل.

وينتهي إنجيل مرقس في هذه النسخة عند الجملة 16/ 9، وترك بعده بياض.

2) النسخة السينائية: ويقول عنها المدخل الفرنسي: " والعهد الجديد كامل في الكتاب الخط الذي يقال له المجلد السينائي .. لا بل أضيف إلى العهد الجديد الرسالة إلى برنابا وجزء من (الراعي) لهرماس، وهما مؤلفان لم يحفظا في قانون العهد الجديد في صيغته الأخيرة ".

ولا تتضمن هذه النسخة خاتمة مرقس (16/ 9 - 20)، ولا يوجد فيها بياض عند هذه الخاتمة، بل يبدأ على الفور إنجيل لوقا.

--------------------------------------------

(1) انظر: في مقارنة الأديان، محمد عزت الطهطاوي، ص (47 - 51).
গ) ত্রয়োদশ শতাব্দী এবং তার পরবর্তী সময়ের পরবর্তীকালীন পাণ্ডুলিপিসমূহ। (১)

পশুর চামড়ার (পার্চমেন্ট) ওপর লিখিত পাণ্ডুলিপিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ভ্যাটিকান, সিনাই এবং আলেকজান্দ্রিয়া পাণ্ডুলিপি। এগুলো অন্তত চতুর্থ শতাব্দীতে লিখিত পাণ্ডুলিপি। পুরাতন নিয়ম (ওল্ড টেস্টামেন্ট) সংক্রান্ত আলোচনায় আমরা ইতিপূর্বেই এগুলোর পরিচয় প্রদান করেছি; তাই এখানে আমরা এই পাণ্ডুলিপিগুলোতে কেবল নতুন নিয়ম (নিউ টেস্টামেন্ট) সংশ্লিষ্ট কিছু বিষয়ের উল্লেখ করেই ক্ষান্ত হব।

১) ভ্যাটিকান সংস্করণ: ক্যাথলিকদের 'নিউ টেস্টামেন্ট'-এর ভূমিকায় এসেছে: "অধিকাংশ নতুন নিয়ম বা এর পূর্ণাঙ্গ পাঠ্য সংবলিত প্রাচীনতম হস্তলিখিত গ্রন্থ দুটি হলো চতুর্থ শতাব্দীর পবিত্র গ্রন্থ, যার মধ্যে ভ্যাটিকান ভলিউমটি সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ... এই পাণ্ডুলিপিটির উৎস অজ্ঞাত এবং দুর্ভাগ্যবশত এটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এতে ইব্রীয়দের প্রতি পত্র (৯/১৪ - ১৩/২৫), তিমথিকে লেখা প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র, তীতকে লেখা পত্র, ফিলীমনকে লেখা পত্র এবং প্রকাশিত বাক্য (রেভেলেশন) ব্যতীত বাকি সমস্ত নতুন নিয়ম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।"

পঞ্চদশ শতাব্দীতে একজন অজ্ঞাত অনুলিপিকারক এই পত্রগুলো সংযোজন করেছিলেন।

এই সংস্করণে মার্কিলীয় সুসমাচার (গসপেল অব মার্ক) ১৬/৯ আয়াতে সমাপ্ত হয়েছে এবং এরপর কিছু ফাঁকা স্থান রাখা হয়েছে।

২) সিনাই সংস্করণ: এ সম্পর্কে ফরাসি ভূমিকা (ইন্ট্রোডাকশন) বলে: "সিনাই ভলিউম নামক পাণ্ডুলিপিতে নতুন নিয়ম পূর্ণাঙ্গভাবে রয়েছে... এমনকি নতুন নিয়মের সাথে বার্নাবাসের পত্র এবং হারমাসের 'দ্য শেফার্ড'-এর একটি অংশও যুক্ত করা হয়েছে। এই দুটি রচনা নতুন নিয়মের চূড়ান্ত সংকলনে (ক্যানন) সংরক্ষিত হয়নি।"

এই সংস্করণে মার্কিলীয় সুসমাচারের উপসংহার (১৬/৯-২০) নেই এবং এই উপসংহারের স্থানে কোনো ফাঁকা জায়গাও নেই, বরং সরাসরি লূকীয় সুসমাচার শুরু হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) দ্রষ্টব্য: ফি মুকারানাতিল আদইয়ান (তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব), মুহাম্মদ ইজ্জত আল-তাহতাউয়ি, পৃ. (৪৭-৫১)।
(খণ্ড: ১) হালিল আহদুল জাদিদু কালিমাতুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
3) النسخة الإسكندرانية: وتحوي العهد الجديد مع النقص الواضح فيه، ومن النقص الموجود فيها من أول متى - 25/ 6، وأيضاً في يوحنا من 6/ 51 - 8/ 52.

وتضم أيضاً رسالتي كلمنتس اللتين لم تضما إلى العهد الجديد، كما فيه أشياء أخرى لم تدخل في الكتاب المقدس.

4) النسخة الإفرايمية: وتحوي هذه النسخة العهد الجديد فقط، وهي محفوظة في باريس في المكتبة الوطنية، ويرى المحققون أنها كتبت في القرن السادس أو السابع، وقال بعضهم: بل في القرن الخامس.

5) نسخة بيزا: وتعود للقرن الخامس، وتحوي الأناجيل الأربعة وأعمال الرسل، وهي محفوظة في جامعة كمبرج، وتخلو من كثير من النصوص مثل مقدمة يوحنا. وقد تحرر ناسخها من المخطوطات القديمة التي ينقل عنها أيما تحرر، فقد قام بكتابة نسب المسيح كما أورده متى، ثم لما نسخ إنجيل لوقا ولاحظ الفوارق الكبيرة بين قائمتي لوقا ومتى، أعاد قائمة متى في إنجيل لوقا، ولما كانت قائمة متى ناقصة لكثير من الأسماء أضاف الناسخ أسماء إضافية من عنده.

6) النسخة البازلية: ويفترض تدوينها في القرن الثامن، وهي محفوظة بجامعة بازل بسويسرا، وتضم الأناجيل الأربعة بنقص كبير.

7) نسخة لاديانوس: وترجع هذه النسخة للقرن التاسع، وهي محفوظة في بولديانا بأكسفورد، وتضم سفر أعمال الرسل فقط. (1)

--------------------------------------------

(1) انظر: في مقارنة الأديان، محمد عزت الطهطاوي، ص (47 - 51)، الكتاب المقدس في الميزان، عبد السلام محمد، ص (91)، قراءات في الكتاب المقدس، عبد الرحيم محمد (2/ 269 - 270).
৩) আলেকজান্দ্রীয় পাণ্ডুলিপি: এতে সুস্পষ্ট ঘাটতিসহ নতুন নিয়ম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে বিদ্যমান উল্লেখযোগ্য ঘাটতিগুলো হলো মথির শুরু থেকে ২৫/৬ পর্যন্ত এবং ইউহান্না-এর ৬/৫১ থেকে ৮/৫২ পর্যন্ত অংশ।

এতে ক্লিমেন্টের দুটি পত্রও রয়েছে যা নতুন নিয়মে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, এছাড়াও এতে আরও এমন কিছু বিষয় রয়েছে যা বাইবেলের অন্তর্ভুক্ত নয়।

৪) এফ্রায়েমি পাণ্ডুলিপি: এই পাণ্ডুলিপিতে শুধুমাত্র নতুন নিয়ম রয়েছে এবং এটি প্যারিসের ন্যাশনাল লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত। গবেষকদের মতে এটি ষষ্ঠ বা সপ্তম শতাব্দীতে রচিত, আবার কেউ কেউ একে পঞ্চম শতাব্দীর বলে মনে করেন।

৫) বেজা পাণ্ডুলিপি: এটি পঞ্চম শতাব্দীর এবং এতে চারটি সুসমাচার ও প্রেরিতদের কার্যাবলি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এটি ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে সংরক্ষিত আছে এবং এতে ইউহান্না-এর প্রস্তাবনার মতো অনেক পাঠ্য অনুপস্থিত। এর অনুলিপিকারক প্রাচীন পাণ্ডুলিপি থেকে নকল করার ক্ষেত্রে চরম স্বাধীনতা অবলম্বন করেছিলেন; তিনি মথিতে বর্ণিত ঈসার বংশতালিকা লিপিবদ্ধ করেন, এরপর যখন লূকের সুসমাচার অনুলিপি করছিলেন এবং লূক ও মথির তালিকার মধ্যে ব্যাপক পার্থক্য লক্ষ্য করলেন, তখন তিনি লূকের সুসমাচারেও মথির তালিকাই পুনরায় লিখে দিলেন। যেহেতু মথির তালিকায় অনেক নামের ঘাটতি ছিল, তাই অনুলিপিকারক নিজের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত কিছু নাম এতে যোগ করে দিয়েছিলেন।

৬) বাজেল পাণ্ডুলিপি: ধারণা করা হয় এটি অষ্টম শতাব্দীতে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। এটি সুইজারল্যান্ডের বাজেল বিশ্ববিদ্যালয়ে সংরক্ষিত এবং এতে বিশাল ঘাটতিসহ চারটি সুসমাচার বিদ্যমান।

৭) লডিয়ানুস পাণ্ডুলিপি: এই পাণ্ডুলিপিটি নবম শতাব্দীর এবং এটি অক্সফোর্ডের বোডলিয়ান লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত। এটি শুধুমাত্র প্রেরিতদের কার্যাবলি পুস্তকটি ধারণ করে। (১)

--------------------------------------------

(১) দেখুন: তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব (মুকারানাতুল আদিয়ান), মুহাম্মদ ইজ্জত আল-তাহতাভি, পৃষ্ঠা (৪৭-৫১); তুলাদণ্ডে বাইবেল (আল-কিতাবুল মুকাদ্দাস ফিল মিজান), আবদুস সালাম মুহাম্মদ, পৃষ্ঠা (৯১); বাইবেলে পঠন (কিরাআত ফিল কিতাবিল মুকাদ্দাস), আবদুর রহিম মুহাম্মদ (২/২৬৯-২৭০)।
(খণ্ড: ১) হালিল আহদুল জাদিদু কালিমাতুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌اختلاف مخطوطات العهد الجديد

نلحظ أولاً أن هذه النسخ جميعاً ليست من خط كاتبها أو ليس منها شيء كتب في وجوده، بل إن أولها كتب بعد وفاة كُتاب الأناجيل بما لا يقل عن قرنين من الزمان.

ولا يستطيع النصارى أن يثبتوا سنداً لهذه المخطوطات إلى كتبتها، واعترف بذلك القسيس فرنج في مناظرته للعلامة الهندي، فقال معتذراً: " إن سبب فقدان السند عندنا وقوع المصائب والفتن على المسيحيين إلى مدة ثلاثمائة وثلاث عشرة سنة "، ويعتبره رحمة الله الهندي تفسيراً مقبولاً لا يقيلهم من إحضار سند هذه الكتب، فمثل هذه المسائل لا تقبل من طريق الظن والتخمين. (1)

وهذه المخطوطات وغيرها التي يتحدث النصارى عن كثرتها لا يتفق منها مخطوطان، فقد تعرضت جميعها للزيادة والنقصان حسب أهواء النساخ، وهو ما يعترف به النصارى ومنهم سويجارت الذي يحاول التقليل من أهمية هذه الاختلافات فيقول: " المبادئ العلمية تخبرنا أنه فيما يختص بكتب العهود القديمة إذا توفر لدينا عشر نسخ منها، فإننا لا نحتاج بالضرورة إلى الأصل لنضمن تحققنا من النسخة الأصلية، وعندما نفكر أن لدينا أربعة وعشرين ألف نسخة، وأن بعض الاختلافات موجودة فيما بين هذه النسخ، وهذا ما نعترف به، فالمهم أن جوهر النص لم يتغير".

لكن الدكتور روبرت في بحثه " حقيقة الكتاب المقدس " يرد ذلك ويخالفه، وكان روبرت قد أعد لمطبعة " تسفنجلي " مذكرة علمية تطبع مع الكتاب المقدس، ثم منع من طبعها، ولما سئل عن السبب في منعها قال: " إن هذه المذكرة ستفقد الشعب إيمانه بهذا الكتاب ".

--------------------------------------------

(1) انظر: المناظرة الكبرى بين الشيخ رحمة الله والمنصر بافندر، ص (372).
নতুন নিয়মের পাণ্ডুলিপিগুলোর বৈসাদৃশ্য

আমরা প্রথমেই লক্ষ্য করি যে, এই সকল পাণ্ডুলিপির কোনোটিই তার মূল লেখকের হস্তাক্ষরে নয়, এমনকি তাদের জীবদ্দশায়ও এগুলোর কোনো অংশ লেখা হয়নি। বরং এগুলোর মধ্যে প্রাচীনতমটি ইঞ্জিলসমূহের লেখকদের মৃত্যুর অন্তত দুই শতাব্দী পরে লেখা হয়েছে।

খ্রিস্টানরা এই পাণ্ডুলিপিগুলো যে তাদের মূল লেখকদের থেকে প্রাপ্ত, তার কোনো অবিচ্ছিন্ন সূত্র (সনদ) প্রমাণ করতে সক্ষম নয়। পাদ্রি ফ্রেঞ্চ আল্লামা হিন্দির (রহমতুল্লাহ কীরানভি) সাথে তার বিতর্কে এটি স্বীকার করেছেন এবং কৈফিয়ত হিসেবে বলেছেন: "আমাদের কাছে সূত্রের অনুপস্থিতির কারণ হলো খ্রিস্টানদের ওপর তিনশ তেরো বছর যাবত আপতিত বিপদ-আপদ ও বিপর্যয়সমূহ।" রহমতুল্লাহ আল-হিন্দি একে একটি গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা হিসেবে বিবেচনা করলেও তা তাদের এই কিতাবগুলোর সূত্র উপস্থাপনের দায় থেকে মুক্তি দেয় না। কারণ এ জাতীয় বিষয়গুলো অনুমান ও অনুমিতির ভিত্তিতে গ্রহণ করা যায় না। (১)

খ্রিস্টানরা এসব পাণ্ডুলিপির যে বিশাল প্রাচুর্যের কথা বলে থাকে, এগুলোর মধ্যে কোনো দুটি পাণ্ডুলিপিও হুবহু এক নয়। বরং অনুলিপিকারীদের খেয়ালখুশি অনুযায়ী এই সবকটিই সংযোজন ও বিয়োজনের শিকার হয়েছে। এটি খ্রিস্টানরা নিজেরাও স্বীকার করে, যাদের মধ্যে সুইগার্ট অন্যতম; তিনি এসব বৈসাদৃশ্যের গুরুত্ব কমানোর চেষ্টা করে বলেন: "বৈজ্ঞানিক মূলনীতি আমাদের জানায় যে, প্রাচীন যুগের কিতাবসমূহের ক্ষেত্রে আমাদের কাছে যদি সেগুলোর দশটি কপি থাকে, তবে মূল পাণ্ডুলিপিটি নিশ্চিত করার জন্য আমাদের আবশ্যিকভাবে আদি কপির প্রয়োজন পড়ে না। আর যখন আমরা ভাবি যে আমাদের কাছে চব্বিশ হাজার কপি রয়েছে এবং এগুলোর মধ্যে কিছু বৈসাদৃশ্য বিদ্যমান—যা আমরা স্বীকার করি—তখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মূল পাঠের নির্যাস পরিবর্তিত হয়নি।"

কিন্তু ডক্টর রবার্ট তার "বাইবেলের বাস্তবতা" শীর্ষক গবেষণায় এটি প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং এর বিরোধিতা করেছেন। রবার্ট "জুইংলি" প্রকাশনীর জন্য একটি বৈজ্ঞানিক টীকা প্রস্তুত করেছিলেন যা বাইবেলের সাথে মুদ্রিত হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু পরবর্তীতে তা মুদ্রণ করা হতে বিরত থাকা হয়। যখন তাকে এটি মুদ্রণ না করার কারণ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো, তিনি বললেন: "এই টীকাটি সাধারণ মানুষকে এই কিতাবের ওপর থেকে বিশ্বাস হারিয়ে ফেলতে বাধ্য করবে।"

--------------------------------------------

(১) দেখুন: শাইখ রহমতুল্লাহ এবং ধর্মপ্রচারক ফন্ডারের মধ্যকার মহাবিতর্ক, পৃষ্ঠা (৩৭২)।
(খণ্ড: ১) হালিল আহদুল জাদিদু কালিমাতুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
يقول د. روبرت: " لا يوجد كتاب على الإطلاق به من التغييرات والأخطاء والتحريفات مثل ما في الكتاب المقدس "، وينقل روبرت أن آباء الكنيسة يعترفون بوقوع التحريف عن عمد، وأن الخلاف بينهم محصور فيمن قام بهذا التحريف.

ويقول كينرايم: إن علماء الدين اليوم على اتفاق واحد يقضي بأن الكتاب المقدس وصل إلينا منه أجزاء ضئيلة جداً فقط هي التي لم يتم تحريفها.

ويقول الدكتور روبرت: " لن يدعي أحداً أبداً: أن الله هو مؤلف كل أجزاء هذا الكتاب قد أوحى إلى الكتبة هذه التحريفات ". (1)

يقول موريس نورن في " دائرة المعارف البريطانية ": " إن أقدم نسخة من الأناجيل الرسمية الحالية كتب في القرن الخامس بعد المسيح، أما الزمان الممتد بين الحواريين والقرن الخامس فلم يخلف لنا نسخة من هذه الأناجيل الأربعة الرسمية، وفضلاً عن استحداثها وقرب عهد وجودها منا، فقد حرفت هي نفسها تحريفاً ذا بال، خصوصاً منها إنجيل مرقس وإنجيل يوحنا".

وعن إنجيل مرقس، يتحدث مفسره دنيس نينهام في تفسيره لإنجيل مرقس (ص 11)، فيقول: "لقد وقعت تغييرات تعذر اجتنابها، وهذه حدثت بقصد أو بدون قصد، ومن بين مئات المخطوطات لإنجيل مرقس، والتي لا تزال باقية حتى اليوم لا نجد نسختان تتفقان تماماًً". (2)

ويقول: " ليس لدينا أي مخطوطات يدوية يمكن مطابقتها مع الآخرين "، ويستعين بما ذكره القس شورر عن مخطوطات الأناجيل، وأن بها 50000 اختلاف،

--------------------------------------------

(1) انظر: الكتاب المقدس في الميزان، عبد السلام محمد، ص (94 - 95)، إظهار الحق، رحمة الله الهندي (2/ 542 - 543).

(2) انظر: المسيح في مصادر العقائد المسيحية، أحمد عبد الوهاب، ص (55).
ড. রবার্ট বলেন: "সমগ্র বিশ্বে এমন কোনো গ্রন্থ নেই যাতে বাইবেলের মতো এতো পরিবর্তন, ভুল ও বিকৃতি বিদ্যমান।" রবার্ট আরও উল্লেখ করেন যে, গির্জার আদিপিতৃগণ (Church Fathers) ইচ্ছাকৃতভাবে বিকৃতি ঘটানোর কথা স্বীকার করেছেন; তাদের মধ্যে মতভেদ কেবল এটি নিয়ে যে, এই বিকৃতি কে ঘটিয়েছে।

কেনরাইম বলেন: বর্তমান সময়ের ধর্মতাত্ত্বিকগণ এই বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেন যে, বাইবেলের অতি সামান্য অংশই আমাদের নিকট অবিকৃত অবস্থায় পৌঁছেছে।

ড. রবার্ট বলেন: "কেউ কখনো এমন দাবি করবে না যে, আল্লাহ এই গ্রন্থের সকল অংশের রচয়িতা এবং তিনিই লেখকদের এই বিকৃতিগুলোর প্রত্যাদেশ দিয়েছেন।" (১)

মরিস নর্ন ‘এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা’-তে বলেন: "বর্তমানে প্রচলিত আনুষ্ঠানিক ইঞ্জিলসমূহের প্রাচীনতম পাণ্ডুলিপিটি খ্রিস্টীয় পঞ্চম শতাব্দীতে লিখিত। কিন্তু রাসূলদের (হাওয়ারি) যুগ থেকে পঞ্চম শতাব্দী পর্যন্ত সময়ের এই চারটি আনুষ্ঠানিক ইঞ্জিলের কোনো পাণ্ডুলিপি আমাদের হাতে নেই। এগুলো আধুনিক ও অপেক্ষাকৃত নিকটবর্তী সময়ের হওয়া সত্ত্বেও এতে ব্যাপক বিকৃতি ঘটানো হয়েছে, বিশেষ করে মার্ক ও ইউহান্নার ইঞ্জিলে।"

মার্কের ইঞ্জিল সম্পর্কে এর ভাষ্যকার ডেনিস নিনহাম তার ‘কমেন্টারি অন দ্য গসপেল অফ মার্ক’ (পৃ. ১১)-এ বলেন: "অপরিহার্য কিছু পরিবর্তন এতে প্রবেশ করেছে, যা সচেতনভাবে কিংবা অবচেতনভাবে করা হয়েছে। মার্কের ইঞ্জিলের শত শত পাণ্ডুলিপি আজ পর্যন্ত অবশিষ্ট রয়েছে, কিন্তু সেগুলোর মধ্যে এমন দুটি অনুলিপি পাওয়া যাবে না যা একে অপরের সাথে হুবহু মিলে যায়।" (২)

তিনি আরও বলেন: "আমাদের কাছে এমন কোনো হাতে লেখা পাণ্ডুলিপি নেই যা অন্যটির সাথে পুরোপুরি মিলে যায়।" তিনি ইঞ্জিলের পাণ্ডুলিপি সম্পর্কে যাজক শোরারের বক্তব্য উদ্ধৃত করেন যে, এতে ৫০,০০০ বৈসাদৃশ্য রয়েছে।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-কিতাবুল মুকাদ্দাস ফিল মিজান, আবদুস সালাম মুহাম্মদ, পৃ. (৯৪-৯৫); ইজহারুল হক, রহমতুল্লাহ আল-হিন্দি (২/ ৫৪২-৫৪৩)।

(২) দেখুন: আল-মাসিহ ফি মাসাদিরিল আকাইদিল মাসিহিয়্যাহ, আহমাদ আবদুল ওয়াহহাব, পৃ. (৫৫)।
(খণ্ড: ১) হালিল আহদুল জাদিদু কালিমাতুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
فيما قال كريسباخ بأنها 150000 اختلاف، وتؤكد ذلك دائرة المعارف البريطانية بقولها: " إن مقتبسات آباء الكنيسة من العهد الجديد والتي تغطي كله تقريباً تظهر أكثر من مائة وخمسين ألف من الاختلافات بين النصوص".

وممن اعترف بكثرة هذه الاختلافات العالم جون ميل، وذكر بأنها ثلاثون ألفاً من الاختلافات التي أثبتها في هوامش النسخة التي أصدرها عام 1707م بعد ثلاثين سنة من الدراسة المعمقة في مائة مخطوط يوناني فقط، ولاشك أن العدد سيتضاعف فيما لو زاد في عينة الدراسة مخطوطات أخرى؛ إذ ستفرز قراءات أخرى تزيد على رقم الثلاثين ألفاً الذي وافقه عليها القس باركر البروتستانتي، وأوصل هذه الاختلافات يوهان ياكوب فتستاين (ت 1747م) إلى أزيد من ألف ألف.

ويقول شميت: "لا توجد صفحة واحدة من الأناجيل العديدة التي لا تحتوي نصها الأقدم على اختلافات عديدة".

ويحاول النصارى تبرير هذه الاختلافات الكثيرة بين المخطوطات فيقول دكتور سمعان كهلون في كتابه "مرشد الطالبين": " لا تعجب من وجود اختلافات في نسخ الكتب المقدسة، لأن قبل ظهور صناعة الطبع في القرن الخامس عشر من الميلاد كانت تنسخ بالخط، فكان بعض النساخ جاهلاً وبعضهم غافلاً وساهياً ". (1)

وهذا الكلام صحيح، لكنه يمثل نصف الحقيقة فحسب، إذ هو يغفل وقوع التحريف المتعمد من قبل النساخ، وهو ما أقر به المدخل الفرنسي للعهد الجديد، فقد جاء فيه: " إن نسخ العهد الجديد التي وصلت إلينا ليست كلها واحدة. بل يمكن المرء أن يرى فيها فوارق مختلفة الأهمية .. هناك فوارق أخرى بين الكتب الخط تتناول معنى فقرات برمتها واكتشاف مصدر هذه الفوارق ليس بالأمر العسير.

فإن نص العهد الجديد قد نسخ طوال قرون كثيرة بيد نساخ صلاحهم للعمل متفاوت، وما من واحد منهم معصوم من مختلف الأخطاء … يضاف إلى ذلك أن بعض

--------------------------------------------

(1) انظر: مرشد الطالبين إلى الكتاب الثمين، دكتور سمعان كهلون، ص (13).
এদিকে গ্রিসবাখ একে ১,৫০,০০০টি পাঠভেদ বলে উল্লেখ করেছেন এবং এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা এটি নিশ্চিত করে বলেছে: "চার্চ ফাদারদের নিউ টেস্টামেন্টের উদ্ধৃতিসমূহ, যা এর প্রায় পুরোটাকেই অন্তর্ভুক্ত করে, তা মূল পাঠগুলোর মধ্যে এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজারেরও বেশি পাঠভেদ প্রদর্শন করে।"

এই পাঠভেদের আধিক্য স্বীকারকারীদের মধ্যে অন্যতম হলেন পণ্ডিত জন মিল। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি ১৭০৭ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত তার সংস্করণের টীকা অংশে ত্রিশ হাজার পাঠভেদ প্রমাণ করেছেন, যা তিনি মাত্র একশটি গ্রিক পাণ্ডুলিপির ওপর ত্রিশ বছর গভীর গবেষণার পর লাভ করেছিলেন। নিঃসন্দেহে পাণ্ডুলিপির নমুনা সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে এই সংখ্যা আরও বহুগুণ বেড়ে যেত; কারণ তখন আরও নতুন নতুন পাঠ পরিলক্ষিত হতো যা এই ত্রিশ হাজার সংখ্যাকে অতিক্রম করত—যার সাথে প্রোটেস্ট্যান্ট যাজক পার্কার একমত হয়েছেন। আর জোহান জ্যাকব ওয়েটস্টাইন (মৃত্যু ১৭৪৭ খ্রি.) এই পাঠভেদের সংখ্যাকে দশ লক্ষেরও বেশিতে উন্নীত করেছেন।

স্মিড্ট বলেন: "বিভিন্ন ইঞ্জিলসমূহের এমন একটি পৃষ্ঠাও নেই, যার প্রাচীন পাঠে একাধিক পাঠভেদ বিদ্যমান নেই।"

খ্রিস্টানরা পাণ্ডুলিপিগুলোর মধ্যে বিদ্যমান এই ব্যাপক পাঠভেদের যৌক্তিকতা প্রমাণের চেষ্টা করেন। ডক্টর সিমেওন ক্যালহুন তার 'মুরশিদুত তালিবিন' গ্রন্থে বলেন: "পবিত্র কিতাবসমূহের অনুলিপিগুলোতে পাঠভেদের উপস্থিতিতে আশ্চর্য হয়ো না; কারণ খ্রিস্টীয় পঞ্চদশ শতাব্দীতে মুদ্রণশিল্পের আবির্ভাবের পূর্বে এগুলো হাতে অনুলিপি করা হতো। ফলে কিছু লিপিকার ছিলেন অজ্ঞ এবং কেউ কেউ ছিলেন অসতর্ক ও অমনোযোগী।" (১)

এই কথাটি সত্য, তবে এটি কেবল সত্যের অর্ধেকটা প্রকাশ করে। কারণ এটি লিপিকারদের দ্বারা সংঘটিত উদ্দেশ্যমূলক বিকৃতির বিষয়টি উপেক্ষা করে। আর এটিই নিউ টেস্টামেন্টের ফরাসি অনুবাদ বা পাঠের মুখবন্ধে (ইন্ট্রোডাকশন) স্বীকার করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে: "নিউ টেস্টামেন্টের যে অনুলিপিগুলো আমাদের নিকট পৌঁছেছে সেগুলো সব এক নয়। বরং সেখানে বিভিন্ন মাত্রার পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়... হাতে লেখা বইগুলোর মধ্যে আরও কিছু পার্থক্য রয়েছে যা সম্পূর্ণ অনুচ্ছেদের অর্থকে প্রভাবিত করে এবং এই পার্থক্যগুলোর উৎস খুঁজে বের করা মোটেও কঠিন কাজ নয়।

নিউ টেস্টামেন্টের মূল পাঠ বহু শতাব্দী ধরে এমন সব লিপিকারদের মাধ্যমে অনুলিপিত হয়েছে যাদের কর্মদক্ষতা ছিল ভিন্ন ভিন্ন এবং তাদের কেউই বিভিন্ন প্রকার ভুলভ্রান্তি থেকে সুরক্ষিত ছিলেন না … এর সাথে যোগ করা যায় যে কিছু

--------------------------------------------

(১) দেখুন: মুরশিদুত তালিবিন ইলাল কিতাবিল সামিন, ডক্টর সিমেওন ক্যালহুন, পৃষ্ঠা (১৩)।
(খণ্ড: ১) হালিল আহদুল জাদিদু কালিমাতুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
النساخ حاولوا أحياناً عن حسن نية أن يصوبوا ما جاء في مثالهم، وبدا لهم أنه يحتوي أخطاء واضحة أو قلة دقة في التعبير اللاهوتي، وهكذا أدخلوا إلى النص قراءات جديدة تكاد تكون كلها خطأ.

ثم يمكن أن يضاف إلى ذلك كله أن الاستعمال لكثير من الفقرات من العهد الجديد في أثناء إقامة شعائر العبادة أدى أحياناً إلى إدخال زخارف غايتها تجميل الطقس أو إلى التوفيق بين نصوص مختلفة ساعدت على التلاوة بصوت عال.

ومن الواضح أن ما أدخله النساخ من التبديل على مرِّ القرون تراكم بعضه على بعضه الآخر، فكان النص الذي وصل آخر الأمر إلى عهد الطباعة مُثقلاً بمختلف ألوان التبديل .. والمثال الأعلى الذي يهدف إليه علم نقد النصوص هو أن يمحص هذه الوثائق المختلفة، لكي يقيم نصاً يكون أقرب ما يمكن من الأصل الأول، ولا يمكن في حال من الأحوال الوصول إلى الأصل نفسه".

ويؤكد هذا كله فردريك كلفتن جرانت أستاذ الدراسات اللاهوتية في الكتاب المقدس بمعهد اللاهوت الاتحادي بنيويورك في كتابه "الأناجيل أصلها وتطورها" (ص 32) بقوله: " كان يحفظ النص في مخطوطات نسختها أيدي مجهدة لكتبة كثيرين، ويوجد اليوم من هذه المخطوطات 4700 ما بين قصاصات من ورق إلى مخطوطات كاملة على رقائق من الجلد أو القماش.

إن نصوص جميع هذه المخطوطات تختلف اختلافاً كبيراً، ولا يمكننا الاعتماد بأن أياً منها قد نجا من الخطأ .. إن أغلب النسخ الموجودة من جميع الأحجام قد تعرضت لتغييرات أخرى على يد المصححين الذين لم يكن عملهم دائماً إعادة القراءة الصحيحة ". (1)

--------------------------------------------

(1) انظر: الكتاب المقدس في الميزان، عبد السلام محمد، ص (94 - 95)، إظهار الحق، رحمة الله الهندي (2/ 542 - 543)، المسيح في مصادر العقائد المسيحية، أحمد عبد الوهاب، ص (41).
লিপিকারগণ কখনও কখনও সদিচ্ছার বশবর্তী হয়ে তাদের সম্মুখে বিদ্যমান পাণ্ডুলিপির পাঠ সংশোধন করার চেষ্টা করতেন; তাদের নিকট মনে হতো যে এতে সুস্পষ্ট ভুল রয়েছে অথবা ধর্মতাত্ত্বিক অভিব্যক্তিতে সূক্ষ্মতার অভাব আছে। এভাবে তারা মূল পাঠে নতুন কিছু পাঠান্তর যুক্ত করেন, যার প্রায় সবটুকুই ছিল ত্রুটিপূর্ণ।

এর সাথে আরও যোগ করা যেতে পারে যে, উপাসনা পালনের সময় 'নতুন নিয়মের' (ইঞ্জিল শরিফ) অনেক অনুচ্ছেদের ব্যবহার অনেক ক্ষেত্রে এমন কিছু অলঙ্করণ অন্তর্ভুক্ত করার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেগুলোর লক্ষ্য ছিল ধর্মীয় আচারকে সুন্দর করা অথবা উচ্চস্বরে পাঠের সুবিধার্থে বিভিন্ন পাঠের মধ্যে সমন্বয় সাধন করা।

এটি সুস্পষ্ট যে, শতাব্দীকাল ধরে লিপিকারদের মাধ্যমে অন্তর্ভুক্ত হওয়া এই পরিবর্তনগুলো একটির ওপর অন্যটি পুঞ্জীভূত হয়েছে। ফলে মুদ্রণ যুগে যে পাঠটি শেষ পর্যন্ত পৌঁছেছে, তা বিভিন্ন ধরণের পরিবর্তনের ভারে ভারাক্রান্ত ছিল। পাঠ্যসমালোচনা বিদ্যার (Textual Criticism) আদর্শ লক্ষ্য হলো এই বিভিন্ন দলিলসমূহ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা, যাতে এমন একটি পাঠ নির্ধারণ করা যায় যা মূল লিপির সম্ভাব্য সর্বোচ্চ নিকটবর্তী হয়; তবে কোনো অবস্থাতেই স্বয়ং মূল লিপিতে পৌঁছানো সম্ভব নয়।

নিউ ইয়র্কের ইউনিয়ন থিওলজিক্যাল সেমিনারির বাইবেলীয় ধর্মতত্ত্বের অধ্যাপক ফ্রেডরিক ক্লিফটন গ্রান্ট তাঁর "দি গসপেলস: দেয়ার অরিজিন অ্যান্ড দেয়ার গ্রোথ" (পৃ. ৩২) গ্রন্থে এই বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন: "এই পাঠসমূহ এমন সব পাণ্ডুলিপিতে সংরক্ষিত ছিল যা অসংখ্য লিপিকারের ক্লান্ত হাতে অনুলিপি করা হয়েছিল। বর্তমানে এই পাণ্ডুলিপিগুলোর সংখ্যা ৪৭০০-এর মতো, যার মধ্যে কাগজের টুকরো থেকে শুরু করে চামড়া বা কাপড়ের ওপর লেখা পূর্ণাঙ্গ পাণ্ডুলিপিও রয়েছে।

এই সকল পাণ্ডুলিপির পাঠের মধ্যে ব্যাপক পার্থক্য বিদ্যমান এবং আমরা নিশ্চিত হতে পারি না যে এদের কোনোটিই ভুল থেকে রক্ষা পেয়েছে। সকল আকারের বিদ্যমান অধিকাংশ অনুলিপিই সংশোধনকারীদের হাতে আরও পরিবর্তনের শিকার হয়েছে, যাদের কাজ সবসময় সঠিক পাঠটি পুনরুদ্ধার করা ছিল না।" (১)

--------------------------------------------

(১) দ্রষ্টব্য: আল-কিতাব আল-মুকাদ্দাস ফি আল-মিজান, আবদুস সালাম মুহাম্মদ, পৃ. (৯৪-৯৫); ইযহারুল হক, রহমতুল্লাহ আল-হিন্দি (২/ ৫৪২-৫৪৩); আল-মাসিহ ফি মাসাদির আল-আকাইদ আল-মাসিহিয়্যাহ, আহমদ আব্দুল ওয়াহাব, পৃ. (৪১)।
(খণ্ড: ১) হালিল আহদুল জাদিদু কালিমাতুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
والنص المنشور للعهد الجديد ليس نصاً نهائياً، إذ هو رهين اكتشاف المزيد من المخطوطات، تقول مقدمة العهد الجديد للرهبانية اليسوعية: "وبوسعنا اليوم أن نعد نص العهد الجديد نصاً مثبتاً إثباتاً حسناً، وما من داع إلى إعادة النظر فيه إلا إذا عثر على وثائق جديدة". إنه عهد جديد مؤقت حتى إشعار آخر.

 

‌‌أمثلة لتحريف النساخ

والمتأمل في النصوص الإنجيلية لن يجد كبير صعوبة في رؤية بعض ما أضافه النساخ في النص عن عمد، ومنه ما جاء في متى " متى نظرتم رجسة الخراب التي قال عنها دانيال قائمة في المكان المقدس، ليفهم القارئ، فحينئذ ليهرب الذي في اليهود إلى الجبال " (متى 24/ 15 - 16)، فعبارة " ليفهم القارئ " من زيادة الناسخ الذي أراد التنبيه على أهمية الموضوع الذي يكتبه، ولم يقلها المسيح وهو يخاطب تلاميذه.

ومثله ما جاء في آخر يوحنا " هذا هو التلميذ الذي يشهد بهذا، وكتب هذا، ونعلم أن شهادته حق " (يوحنا 21/ 24) فقوله " نعلم أن شهادته حق " من زيادة النساخ، وقد اعترف بذلك طابعو الرهبانية اليسوعية، إذ تعلق عليه بقولها: "إن الجماعة التي دونت هذا الإنجيل ترى فيه شهادة دائمة وموافقة للحاضر أتى بها التلميذ الحبيب".

ومثله ما جاء في يوحنا " للوقت خرج دم وماء، والذين عاين شهد، وشهادته حق، وهو يعلم أنه يقول الحق لتؤمنوا أنتم " (يوحنا 19/ 34 - 36)، فالجملة الأخيرة أراد الناسخ من خلالها التأكيد والتنبيه على صدق يوحنا، وهي ليست من كتابته.

ومما أضافه النساخ في إنجيل لوقا ما نسبوه على المسيح في سياق جوابه على التلميذين يوحنا ويعقوب حين اقترحا عليه أن ينزلا نارا من السماء فتفني السامريين، فالتفت إليهما وانتهرهما، وهنا يضيف نساخ المخطوطات العبارة التالية: "وقال: لستما
নিউ টেস্টামেন্ট বা ইনজিলের বর্তমান প্রকাশিত পাঠ কোনো চূড়ান্ত পাঠ নয়, কারণ এটি অধিকতর পাণ্ডুলিপি আবিষ্কারের ওপর নির্ভরশীল। জেসুইট সন্ন্যাসীদের (Jesuit Order) ইনজিলের ভূমিকায় বলা হয়েছে: “বর্তমানে আমরা ইনজিলের পাঠকে সুপ্রতিষ্ঠিত বলে গণ্য করতে পারি, এবং নতুন কোনো দলিল পাওয়া না যাওয়া পর্যন্ত তা পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন নেই।” এটি পরবর্তী ঘোষণা না আসা পর্যন্ত একটি সাময়িক পাঠ মাত্র।

 

‌‌অনুলিপিকারীদের বিকৃতির কিছু উদাহরণ

ইনজিলের পাঠসমূহ গভীর অভিনিবেশ সহকারে পর্যবেক্ষণ করলে অনুলিপিকারীদের মাধ্যমে ইচ্ছাকৃতভাবে সংযোজিত বিষয়গুলো খুঁজে পাওয়া খুব একটা কঠিন হবে না। এর একটি উদাহরণ হলো মথি লিখিত ইনজিলের সেই বক্তব্য: “দানিয়েলের বর্ণিত সেই ধ্বংসের ঘৃণ্য রূপ যখন তোমরা পবিত্র স্থানে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখবে—পাঠক বুঝে নিক—তখন যারা ইহুদিয়াতে থাকবে তারা যেন পাহাড়ের দিকে পালিয়ে যায়।” (মথি ২৪: ১৫-১৬)। এখানে “পাঠক বুঝে নিক” বাক্যাংশটি অনুলিপিকারীর পক্ষ থেকে একটি সংযোজন, যিনি তার লিখিত বিষয়ের গুরুত্বের দিকে মনোযোগ আকর্ষণ করতে চেয়েছিলেন। মসীহ (আ.) তাঁর শিষ্যদের সাথে কথা বলার সময় এটি বলেননি।

অনুরূপ একটি উদাহরণ হলো যোহন লিখিত ইনজিলের শেষে বলা হয়েছে: “এই সেই শিষ্য যে এসবের সাক্ষ্য দিচ্ছে এবং এসব লিখেছে, আর আমরা জানি যে তার সাক্ষ্য সত্য।” (যোহন ২১: ২৪)। এখানে “আমরা জানি যে তার সাক্ষ্য সত্য” কথাটি অনুলিপিকারীদের সংযোজন। জেসুইট সন্ন্যাসীদের প্রকাশকরাও এটি স্বীকার করেছেন। তারা মন্তব্য করেছেন: “যে গোষ্ঠীটি এই ইনজিলটি সংকলন করেছে, তারা এতে এমন এক চিরন্তন ও সমসাময়িক সাক্ষ্য দেখতে পায় যা প্রিয় শিষ্যের মাধ্যমে প্রাপ্ত।”

অনুরূপ একটি উদাহরণ যোহন লিখিত ইনজিলে এসেছে: “তৎক্ষণাৎ রক্ত ও জল বের হয়ে এলো। যে তা দেখেছে সে-ই সাক্ষ্য দিয়েছে এবং তার সাক্ষ্য সত্য; আর সে জানে যে সে সত্য বলছে যাতে তোমরা বিশ্বাস করতে পারো।” (যোহন ১৯: ৩৪-৩৬)। শেষ বাক্যটির মাধ্যমে অনুলিপিকারীর উদ্দেশ্য ছিল যোহনের সত্যবাদিতাকে সুনিশ্চিত করা এবং সেদিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করা, এটি যোহনের মূল লেখা নয়।

লুক লিখিত ইনজিলেও অনুলিপিকারীরা কিছু বিষয় যুক্ত করেছে যা মসীহ (আ.)-এর প্রতি আরোপ করা হয়েছে। যোহন ও ইয়াকুব (যাকোব) যখন প্রস্তাব দিলেন যে আকাশ থেকে আগুন নামিয়ে শমোরীয়দের ধ্বংস করে দেওয়া হোক, তখন মসীহ (আ.) তাদের দিকে ফিরে ধমক দিলেন। এখানে পাণ্ডুলিপির অনুলিপিকারীরা এই বাক্যটি যোগ করেছেন: “এবং তিনি বললেন: তোমরা জানো না...”
(খণ্ড: ১) হালিল আহদুল জাদিদু কালিমাতুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
تعلمان من أي روح أنتما" (لوقا 9/ 55)، يقول الأب متى المسكين: "اتفق هنا جميع العلماء وبلا استثناء أن هذه الآية أضيفت مبكراً جداً بواسطة أحد النساخ، لأن النص الأقدم لم يحتويها، على كل حال هي توافق الموقف والمعنى، والكلام ينتهي في المخطوطات القديمة عند: (وانتهرهما) ". (1)

وقد حُذفت هذه الزيادة من عدد من الترجمات والطبعات الحديثة، من بينها الترجمة العربية المشتركة والرهبانية اليسوعية التي أعدها الآباء اليسوعيون.

ومثله أخطأ النساخ وسهوا، فأضافوا أو حذفوا فقرة في الإصحاح الخامس من إنجيل يوحنا، فقد ورد فيه حسب الترجمة الفانديك المشهورة التي اعتمدناها في هذه السلسلة: " كان مضطجعاً جمهور كثير من مرضى وعمي وعرج وعسم، يتوقعون تحريك الماء، لأن ملاكاً كان ينزل أحياناً في البركة ويحرك الماء، فمن نزل أولاً بعد تحريك الماء كان يبرأ من أي مرض اعتراه، وكان هناك إنسان به مرض منذ ثمان وثلاثين سنة … " (يوحنا 5/ 3 - 6)، فقوله: " يتوقعون تحريك الماء .... أي مرض اعتراه" غير موجود في معظم المخطوطات الهامة - كما أفادنا الأب متى المسكين (2) والآباء اليسوعيون - الذين حذفوا هذه الزيادة من نسختهم فقالوا: "يضجع فيها جمهور من المرضى بين عميان وعرج وكسحان، وكان هناك رجل عليل منذ ثمان وثلاثين سنة". وهكذا تحار النسخ المطبوعة وتتردد في قبول هذا النص ورفضه تباعاً للنساخ الذين أخطؤوا بإلحاق الزيادة أو حذفها.

--------------------------------------------

(1) الإنجيل بحسب القديس لوقا، الأب متى المسكين، ص (428).

(2) انظر: شرح إنجيل القديس يوحنا، الأب متى المسكين (1/ 328)، والنص غير موجود في أهم المخطوطات الكتابية القديمة كالبرديتين 66 و 75.
"তোমরা জানো না তোমরা কোন আত্মার অধিকারী" (লূক ৯/ ৫৫), ফাদার মাত্তা আল-মিসকিন বলেন: "এখানে সকল বিশেষজ্ঞ কোনো ব্যতিক্রম ছাড়াই একমত যে, এই আয়াতটি অত্যন্ত প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো একজন লিপিকারের মাধ্যমে যুক্ত করা হয়েছে, কেননা প্রাচীনতম পাঠ্যটিতে এটি ছিল না। যা-ই হোক, এটি প্রেক্ষাপট ও অর্থের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। প্রাচীন পাণ্ডুলিপিগুলোতে বক্তব্যটি ‘এবং তিনি তাদের ধমক দিলেন’ বাক্যেই শেষ হয়ে যায়।" (১)

এবং বেশ কিছু আধুনিক অনুবাদ ও সংস্করণ থেকে এই বর্ধিত অংশটি বাদ দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে 'আল-তারজামাহ আল-আরাবিয়্যাহ আল-মুশতারাকাহ' (যৌথ আরবি অনুবাদ) এবং জেসুইট ফাদারদের প্রস্তুতকৃত 'আল-রাহবানিয়্যাহ আল-ইয়াসুয়্যিয়াহ' অনুবাদ উল্লেখযোগ্য।

অনুরূপভাবে, লিপিকাররা ভুল ও অসাবধানতাবশত ইউহান্না (যোহন) ইঞ্জিলের পঞ্চম অধ্যায়ে একটি অনুচ্ছেদ সংযোজন বা বিয়োজন করেছেন। এই সিরিজে আমরা যে বিখ্যাত 'ভ্যান ডাইক' অনুবাদের ওপর ভিত্তি করেছি, তাতে উল্লিখিত হয়েছে: "সেখানে প্রচুর সংখ্যক রুগ্ন, অন্ধ, খোঁড়া ও পঙ্গু মানুষ শুয়ে ছিল, তারা পানি নড়াচড়া করার অপেক্ষায় ছিল। কারণ মাঝে মাঝে একজন স্বর্গদূত কুণ্ডে নেমে পানি আলোড়িত করতেন; পানি আলোড়িত হওয়ার পর যে ব্যক্তি প্রথম নামত, সে যে কোনো রোগে আক্রান্ত হোক না কেন সুস্থ হয়ে যেত। সেখানে এমন একজন লোক ছিল যে আটত্রিশ বছর ধরে অসুস্থ ছিল … " (যোহন ৫/ ৩-৬)। কিন্তু "তারা পানি নড়াচড়া করার অপেক্ষায় ছিল... যে কোনো রোগে আক্রান্ত হোক না কেন" অংশটুকু অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ পাণ্ডুলিপিতে নেই—যেমনটি ফাদার মাত্তা আল-মিসকিন (২) এবং জেসুইট ফাদাররা আমাদের জানিয়েছেন। তাঁরা তাঁদের সংস্করণ থেকে এই বাড়তি অংশটি বাদ দিয়েছেন এবং বলেছেন: "সেখানে অন্ধ, খোঁড়া ও পঙ্গু রোগীদের এক বিশাল দল শুয়ে থাকত। সেখানে এমন এক ব্যক্তি ছিল যে আটত্রিশ বছর ধরে রুগ্ন ছিল।" এভাবেই মুদ্রিত সংস্করণগুলো এই পাঠ্যটি গ্রহণ বা বর্জনের ক্ষেত্রে বিভ্রান্তি ও দ্বিধার মধ্যে রয়েছে, যা মূলত ওইসব লিপিকারদের অনুসরণ করার ফলে হয়েছে যারা এই সংযোজন বা বিয়োজনের ভুলটি করেছিলেন।

--------------------------------------------

(১) সেন্ট লূক লিখিত ইঞ্জিল, ফাদার মাত্তা আল-মিসকিন, পৃষ্ঠা: (৪২৮)।

(২) দেখুন: সেন্ট ইউহান্না (যোহন) ইঞ্জিলের ব্যাখ্যা, ফাদার মাত্তা আল-মিসকিন (১/ ৩২৮); এই পাঠ্যটি প্রাচীনতম ও গুরুত্বপূর্ণ কিতাবিয়া পাণ্ডুলিপি যেমন—প্যাপিরাস ৬৬ ও ৭৫-এ বিদ্যমান নেই।
(খণ্ড: ১) হালিল আহদুল জাদিদু কালিমাতুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌إبطال دعوى الإلهام لكتبة العهد الجديد

إن أحداً من كتاب العهد الجديد - سوى بولس - لم يدع لنفسه الإلهام، بل سجلت كتاباتهم اعترافات أن هذا العمل جهد بشري خالص لم يقصد كاتبوه أن يسجلوا من خلاله كتباً مقدسة.

فها هو لوقا في مقدمة إنجيله يقول: " إذ كان كثيرون قد أخذوا بتأليف قصة في الأمور المتيقنة عندنا، كما سلمها إلينا الذين كانوا منذ البدء معاينين وخداماً للكلمة، رأيت أنا أيضاً - إذ قد تتبعت كل شيء من الأول بتدقيق - أن أكتب على التوالي إليك أيها العزيز ثاوفيلس، لتعرف صحة الكلام الذي علِّمتَ به " (لوقا 1/ 1 - 4).

فيفهم من هذه المقدمة أمور، منها: أن إنجيله خطاب شخصي، وأنه دوّنه بدافع شخصي، وأن له مراجع نقل عنها بتدقيق، وأن كثيرين كتبوا غيره، ولم يذكر لوقا في مقدمته شيئاً عن إلهام إلهي ألهمه الكتابة أو وحي من روح القدس نزل عليه، فهو لا يدعي الإلهامية، ولا يعلم أنه ملهم!.

وهذه الملاحظة ليست خاصة بلوقا، بل جميع كتبة العهد الجديد غفلوا عن إلهاميتهم، ولم يعرفوا أنهم ملهمون فيما يكتبون، يقول القس الدكتور منيس عبد النور: "لم يكن يخطر ببال واحد من هؤلاء جميعاً أن ما كتبه عن المسيح سيكون كتاب المسيحية المقدس الذي سيتناقله الناس في كل العصور والبلاد". (1)

وإذا كان الحواريون والتلاميذ غير عارفين بإلهامية ذواتهم وبعضهم، فكيف عرف النصارى ما جهله أصحاب الشأن؟ لا دليل في الأناجيل على إلهامية أحد منهم، إلا ما ادعاه بولس لنفسه.

 

‌‌رسائل شخصية لا علاقة للإلهام والوحي بها

لكن المتأمل في رسائل بولس خصوصاً والحواريين عموماً يجد عشرات المواضع التي تشهد لهذه الرسائل بأنها شخصية لا علاقة للوحي بها، ومن ذلك: "يسلم عليك أولاد أختك " (يوحنا (2) 13).

ويرسل يوحنا المزيد من السلامات لأحبابه " غايس الحبيب الذي أحبه بالحق. أيها الحبيب في كل شيء أروم أن تكون ناجحاً وصحيحاً … سلام لك، يسلم عليك

--------------------------------------------

(1) شبهات وهمية حول الكتاب المقدس، القس منيس عبد النور، ص (42).
নতুন নিয়মের লেখকদের জন্য ঐশী প্রেরণা বা ইলহামের দাবি খণ্ডন

নতুন নিয়মের লেখকদের মধ্যে—পল ব্যতীত—অন্য কেউ নিজের জন্য ঐশী প্রেরণা বা ইলহামের দাবি করেননি। বরং তাঁদের লেখনিসমূহ এই স্বীকারোক্তিই ধারণ করে যে, এই কাজগুলো ছিল নিছক মানবিক প্রচেষ্টা, যার মাধ্যমে লেখকরা কোনো পবিত্র গ্রন্থ লিপিবদ্ধ করার সংকল্প করেননি।

লূক তাঁর ইঞ্জিলের ভূমিকায় বলেন: "যেহেতু আমাদের মধ্যে সুনিশ্চিত বিষয়গুলো নিয়ে একটি বিবরণ সংকলন করতে অনেকেই হাত দিয়েছেন, যেভাবে সেগুলো আমাদের কাছে হস্তান্তর করেছেন তাঁরা—যাঁরা শুরু থেকে প্রত্যক্ষদর্শী ও বাণীর সেবক ছিলেন; তাই হে মহামান্য থেওফিলাস, আমিও প্রথম থেকে সবকিছু পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অনুসন্ধান করে আপনার জন্য ধারাবাহিকভাবে তা লেখা সমীচীন মনে করলাম, যেন আপনি যে শিক্ষাগুলো পেয়েছেন তার সত্যতা নিশ্চিতভাবে জানতে পারেন।" (লূক ১/ ১-৪)।

এই ভূমিকা থেকে বেশ কিছু বিষয় অনুভূত হয়, যার মধ্যে রয়েছে: তাঁর ইঞ্জিলটি একটি ব্যক্তিগত পত্র, তিনি ব্যক্তিগত তাগিদ থেকে এটি লিপিবদ্ধ করেছেন, তাঁর কাছে এমন কিছু তথ্যসূত্র ছিল যা থেকে তিনি নিবিড়ভাবে উদ্ধৃত করেছেন এবং তাঁর আগে আরও অনেকেই লিখেছেন। লূক তাঁর ভূমিকায় তাঁকে লিখতে উদ্বুদ্ধকারী কোনো ঐশী প্রেরণা বা তাঁর ওপর পবিত্র আত্মার অবতীর্ণ হওয়ার ব্যাপারে কিছুই উল্লেখ করেননি। সুতরাং তিনি ইলহামের দাবি করছেন না এবং তিনি জানতেনও না যে তিনি ঐশীভাবে অনুপ্রাণিত বা 'মুলহাম'।

এই পর্যবেক্ষণটি কেবল লূকের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য নয়, বরং নতুন নিয়মের সকল লেখকই তাঁদের তথাকথিত ঐশী অনুপ্রেরণা সম্পর্কে অজ্ঞাত ছিলেন এবং তাঁরা জানতেন না যে তাঁরা যা লিখছেন তা ঐশী প্রেরণা প্রসূত। যাজক ডক্টর মেনিস আব্দুল নূর বলেন: "তাদের কারো মনেই এই ধারণা আসেনি যে, তারা খ্রীষ্ট সম্পর্কে যা লিখছেন তা খ্রীষ্টধর্মের পবিত্র গ্রন্থ হবে যা সর্বকালের ও সর্বদেশের মানুষ পরম্পরাক্রমে বহন করবে।" (১)

যদি হাওয়ারি বা শিষ্যগণ নিজেদের এবং অন্যদের ঐশী প্রেরণা সম্পর্কে অবগত না থাকেন, তবে খ্রিস্টানরা কীভাবে তা জানলেন যা স্বয়ং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাই জানতেন না? ইঞ্জিলগুলোতে তাদের কারোরই ঐশী অনুপ্রেরণার কোনো প্রমাণ নেই, কেবল পল নিজের জন্য যা দাবি করেছেন তা ব্যতীত।

 

ব্যক্তিগত পত্রসমূহ—যার সাথে ঐশী প্রেরণা বা ওহীর কোনো সম্পর্ক নেই

কিন্তু বিশেষভাবে পলের এবং সাধারণভাবে হাওয়ারিদের পত্রসমূহ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে এমন অসংখ্য স্থান পাওয়া যায় যা সাক্ষ্য দেয় যে এই পত্রগুলো ছিল ব্যক্তিগত, যার সাথে ওহীর কোনো সম্পর্ক নেই। এর মধ্যে রয়েছে: "তোমার বোনের সন্তানরা তোমাকে সালাম জানাচ্ছে।" (২ যোহন ১৩)।

যোহন তাঁর প্রিয়জনদের জন্য আরও অভিবাদন পাঠাচ্ছেন: "প্রিয় গায়াসকে, যাকে আমি সত্যের পথে ভালোবাসি। হে প্রিয়, আমি প্রার্থনা করি যেন তুমি সর্ববিষয়ে সফল ও সুস্থ থাকো... তোমার মঙ্গল হোক, তোমাকে সালাম জানাচ্ছে..."

--------------------------------------------

(১) শুুবুহাতুন ওয়াহমিয়্যাহ হাওলাল কিতাবিল মুকাদ্দাস, যাজক মেনিস আব্দুল নূর, পৃ. (৪২)।
(খণ্ড: ১) হালিল আহদুল জাদিদু কালিমাতুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
الأحباء، سلم على الأحباء بأسمائهم" (يوحنا (3) 1 - 14).

وفي رسائل بولس مثل ذلك، ومنه: " تسلم عليكم كنائس آسيا، يسلم عليكم … أكيلا وبريسكلا .. يسلم عليكم الإخوة أجمعون، سلموا بعضكم على بعض بقبلة مقدسة " (كورنثوس (1) 16/ 19 - 20).

ويسجل بولس مشاعره الحميمة لصديقه تيموثاوس في مطلع رسالته إليه، فيقول: "أذكرك بلا انقطاع في طلباتي ليلاً ونهاراً، مشتاقاً أن أراك، ذاكراً دموعك، لكي امتلئ فرحاً، إذ أتذكر الإيمان العديم الرياء الذي فيك، الذي سكن أولاً في جدتك لوئيس وأمك أفنيكي، ولكني موقن أنه فيك أيضاًً" (تيموثاوس (2) 1/ 3 - 5).

ثم يسجل بعض رغباته الشخصية ويخبر صديقه تيموثاوس بأخبار أصدقائه في كورنثوس، فيقول: " الرداء الذي تركته في تراوس عند كابرس أحضره متى جئت، والكتب أيضاً لاسيما الرقوق … سلم على ريسكا وأكيلا وبيت أنيسيفورس، اراستس بقي في كورنثوس، وأما تروفيمس فتركته في ميليتس مريضاً. بادر أن تجيء قبل الشتاء … " (تيموثاوس (2) 4/ 13 - 21).

وهكذا تستمر رسائل بولس وسلاماته إلى أصدقائه وأقربائه، وتطول كما في رسالة رومية، وفيها: " أوصي إليكم بأختنا فيبي التي هي خادمة الكنيسة التي في كنخريا، كي تقبلوها في الرب كما يحق للقديسين وتقوموا لها في أي شيء احتاجته منكم، لأنها صارت مساعدة لكثيرين ولي أنا أيضاً.

سلموا على بريسكلا وأكيلا العاملين معي في المسيح يسوع، اللذين وضعا عنقيهما من أجل حياتي، اللذين لست أنا وحدي أشكرهما، بل أيضاً جميع كنائس الأمم، وعلى الكنيسة التي في بيتهما. سلموا على أبينتوس حبيبي الذي هو باكورة إخائية للمسيح.
"প্রিয়জনরা, নাম ধরে প্রিয়জনদের অভিবাদন জানাও" (৩ যোহন ১: ১৪)।

পৌলের পত্রগুলোতেও এর অনুরূপ উদাহরণ রয়েছে, যার মধ্যে একটি হলো: "এশিয়ার মণ্ডলীসমূহ তোমাদের অভিবাদন জানাচ্ছে, আকুয়িলা ও প্রিস্কিলা তোমাদের অভিবাদন জানাচ্ছে … সকল ভ্রাতৃবৃন্দ তোমাদের অভিবাদন জানাচ্ছে। তোমরা পবিত্র চুম্বনের মাধ্যমে একে অপরকে অভিবাদন জানাও" (১ করিন্থীয় ১৬: ১৯-২০)।

পৌল তাঁর বন্ধু তীমথিয়ের কাছে প্রেরিত পত্রের শুরুতে তাঁর আন্তরিক অনুভূতি এভাবে লিপিবদ্ধ করেন: "আমি রাত-দিন আমার প্রার্থনায় তোমাকে অবিরাম স্মরণ করি, তোমার অশ্রুর কথা মনে করে তোমাকে দেখার জন্য ব্যাকুল হয়ে আছি, যেন আমি আনন্দে পূর্ণ হতে পারি। কারণ আমি তোমার সেই অকৃত্রিম বিশ্বাসের কথা স্মরণ করছি, যা প্রথমে তোমার মাতামহী লোয়ী ও তোমার মা উনীকীর হৃদয়ে ছিল এবং আমি নিশ্চিত যে তা তোমার মধ্যেও বিদ্যমান" (২ তীমথিয় ১: ৩-৫)।

অতঃপর তিনি তাঁর কিছু ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষা লিপিবদ্ধ করেন এবং বন্ধু তীমথিয়কে করিন্থের বন্ধুদের সংবাদ জানিয়ে বলেন: "আমি ত্রোয়া নগরে কার্পাসের কাছে যে চাদরটি রেখে এসেছি, তুমি আসার সময় সেটি নিয়ে এসো; আর বইগুলোও, বিশেষ করে চর্মপত্রগুলো … প্রিস্কা ও আকুয়িলাকে এবং অনীষিফরসের পরিবারকে অভিবাদন জানাও। ইরাস্তাস করিন্থে রয়ে গিয়েছে, আর ত্রফিমকে অসুস্থ অবস্থায় মিলীতাসে রেখে এসেছি। শীতের আগেই আসার চেষ্টা করো … " (২ তীমথিয় ৪: ১৩-২১)।

এভাবেই পৌলের পত্রসমূহ এবং তাঁর বন্ধুদের ও আত্মীয়দের প্রতি অভিবাদন জ্ঞাপন অব্যাহত থাকে এবং তা দীর্ঘ হতে থাকে, যেমনটি রোমীয়দের প্রতি পত্রে দেখা যায়; তাতে বলা হয়েছে: "আমি আমাদের বোন ফৈবীর জন্য তোমাদের কাছে সুপারিশ করছি, যিনি কেন্খ্রিয়ার মণ্ডলীর একজন সেবিকা। তোমরা তাঁকে প্রভুর নামে গ্রহণ করো, যেমনটি পবিত্রগণের জন্য শোভনীয়, এবং তাঁর যে কোনো প্রয়োজনে তোমরা তাঁকে সাহায্য করো। কারণ তিনি অনেকের সাহায্যকারী হয়েছেন এবং আমার নিজেরও।

প্রিস্কিলা ও আকুয়িলাকে অভিবাদন জানাও, যারা খ্রীষ্ট যীশুতে আমার সহকর্মী। তাঁরা আমার জীবনের জন্য নিজেদের জীবন বাজি রেখেছিলেন, যার জন্য কেবল আমিই নই, বরং পরজাতিদের সকল মণ্ডলীও তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞ। আর তাঁদের গৃহস্থিত মণ্ডলীকেও অভিবাদন জানাও। আমার প্রিয় এপেনীতাসকে অভিবাদন জানাও, যিনি খ্রীষ্টের উদ্দেশ্যে আখায়ার প্রথম ফল।"
(খণ্ড: ১) হালিল আহদুল জাদিদু কালিমাতুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
سلموا على مريم التي تعبت لأجلنا كثيراً. سلموا على أندرونكوس ويونياس نسيبيّ المأسورين معي اللذين هما مشهوران بين الرسل، وقد كانا في المسيح قبلي. سلموا على أمبلياس حبيبي في الرب. سلموا على أوربانوس العامل معنا في المسيح وعلى أستاخيس حبيبي. سلموا على أبلّس المزكى في المسيح. سلموا على الذين هم من أهل أرستوبولوس.

سلموا على هيروديون نسيبي. سلموا على الذين هم من أهل نركيسوس الكائنين في الرب. سلموا على تريفينا وتريفوسا التاعبتين في الرب. سلموا على برسيس المحبوبة التي تعبت كثيراً في الرب. سلموا على روفس المختار في الرب وعلى أمه أمي. سلموا على اسينكريتس فليغون هرماس بتروباس وهرميس وعلى الإخوة الذين معهم. سلموا على فيلولوغس وجوليا ونيريوس وأخته وأولمباس وعلى جميع القديسين الذين معهم.

سلموا بعضكم على بعض بقبلة مقدسة. كنائس المسيح تسلم عليكم، … يسلم عليكم تيموثاوس العامل معي ولوكيوس وياسون وسوسيباترس أنسبائي. أنا ترتيوس كاتب هذه الرسالة أسلم عليكم في الرب. يسلم عليكم غايس مضيفي ومضيف الكنيسة كلها. يسلم عليكم اراستس خازن المدينة وكوارتس الأخ " (رومية 16/ 1 - 21)، ولعل القارئ الكريم قد لاحظ مشاركة الكاتب ترتيوس، والذي لم ينس هو أيضاً أن يسجل تحياته وأشواقه في رسالته التي لم يدر في خلده أنها ستعتبر يوماً من الأيام جزء من كلمة الله.

وأرسل بولس إلى تيطس قائلاً: "حينما أرسل إليك ارتيماس أو تيخيكس بادر أن تأتي إليّ إلى نيكوبوليس، لأني عزمت أن أشتي هناك، جهز زيناس الناموسي وأبلّوس باجتهاد للسفر حتى لا يعوزهما شيء " (تيطس 3/ 12 - 13)، ولعل القارئ لاحظ أن بولس - الملهم لكتابة هذا النص كما يدعي المؤمنون بقدسية رسائله - لا يدري من سيرسل من أصدقائه لاستدعاء تيطس إلى نيكوبوليس، حيث يقضي بولس فصل الشتاء.
মরিয়মকে অভিবাদন জানাও, যিনি আমাদের জন্য অনেক পরিশ্রম করেছেন। আমার আত্মীয় এবং আমার সাথে কারাবন্দী আন্দ্রোনিকাস ও জুনিয়াসকে অভিবাদন জানাও, যারা প্রেরিতদের মধ্যে সুপরিচিত এবং আমার আগেই খ্রিষ্টে বিশ্বাসী হয়েছিলেন। প্রভুর প্রিয় আম্প্লিয়াতাসকে অভিবাদন জানাও। খ্রিষ্টে আমাদের সহকর্মী আরবানাস এবং আমার প্রিয় স্তাখিসকে অভিবাদন জানাও। খ্রিষ্টে পরীক্ষিত আপেল্লাসকে অভিবাদন জানাও। আরিস্তবুলুসের পরিবারের সদস্যদের অভিবাদন জানাও।

আমার আত্মীয় হেরোদিওনকে অভিবাদন জানাও। নারকিসাসের পরিবারের যারা প্রভুর বিশ্বাসী তাদের অভিবাদন জানাও। প্রভুর কাজে কঠোর পরিশ্রমী ত্রুফৈণা ও ত্রুফোষাকে অভিবাদন জানাও। প্রিয় পার্সিসকে অভিবাদন জানাও, যিনি প্রভুর জন্য অনেক পরিশ্রম করেছেন। প্রভুর মনোনীত রুফাস এবং তার মাকে, যিনি আমারও মা, অভিবাদন জানাও। এসিন্ক্রিতাস, ফ্লোগোন, হার্মাস, পাত্রোবাস, হার্মিস এবং তাদের সাথে থাকা ভাইদের অভিবাদন জানাও। ফিললগাস, জুলিয়া, নিরিয়াস ও তার বোন এবং অলুম্পাসসহ তাদের সাথে থাকা সকল পবিত্র ব্যক্তিকে অভিবাদন জানাও।

তোমরা পবিত্র চুম্বনের মাধ্যমে একে অপরকে অভিবাদন জানাও। খ্রিষ্টের মণ্ডলীসমূহ তোমাদের অভিবাদন জানাচ্ছে। … আমার সহকর্মী তিমথি এবং আমার আত্মীয় লুসিয়াস, জাসোন ও সোসিপাত্রাস তোমাদের অভিবাদন জানাচ্ছে। আমি তের্তিয়াস, এই পত্রের লেখক, প্রভুর নামে তোমাদের অভিবাদন জানাচ্ছি। আমার এবং সমগ্র মণ্ডলীর আতিথেয়তাকারী গায়াস তোমাদের অভিবাদন জানাচ্ছে। নগরের কোষাধ্যক্ষ ইরাস্তাস এবং ভাই কুয়ার্তাস তোমাদের অভিবাদন জানাচ্ছে" (রোমীয় ১৬: ১-২১)। সম্ভবত সম্মানিত পাঠক লেখক তের্তিয়াসের অংশগ্রহণ লক্ষ্য করেছেন, যিনি নিজেও তার এই পত্রে নিজের অভিবাদন ও আকুলতা লিপিবদ্ধ করতে ভোলেননি; অথচ তার কল্পনাতেও ছিল না যে, একদিন এই লেখাটি আল্লাহর বাণীর অংশ হিসেবে গণ্য হবে।

এবং পৌল তীতের কাছে লিখেছিলেন: "যখন আমি তোমার কাছে আর্তিমাস অথবা তুখিকাসকে পাঠাব, তখন নিকোপলিসে আমার কাছে আসার জন্য সচেষ্ট হয়ো, কারণ আমি সেখানে শীতকাল কাটানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তুমি আইনজীবী জিনাস ও আপোল্লোসকে তাদের যাত্রার জন্য যত্নসহকারে প্রস্তুত করে দিও যেন তাদের কোনোকিছুর অভাব না হয়" (তীত ৩: ১২-১৩)। সম্ভবত পাঠক লক্ষ্য করেছেন যে, পৌল—যাকে এই পাঠ্য রচনার জন্য অনুপ্রাণিত বলে দাবি করা হয় যারা তার পত্রাবলির পবিত্রতায় বিশ্বাসী—তিনি নিজেই জানেন না যে তার বন্ধুদের মধ্যে কাকে তিনি তীতকে নিকোপলিসে ডাকার জন্য পাঠাবেন, যেখানে পৌল শীতকাল কাটাবেন।
(খণ্ড: ১) হালিল আহদুল জাদিদু কালিমাতুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
وتتكرر المشاهد الشخصية في رسالة فيلبي، حيث يقول: " أنا أيضاً سآتي إليكم سريعاً، ولكني حسبت من اللازم أن أرسل إليكم ابفرودتس أخي والعامل معي والمتجند معي ورسولكم والخادم لحاجتي، إذ كان مشتاقاً إلى جميعكم ومغموماً، لأنكم سمعتم أنه كان مريضاً .. فأرسلته إليكم بأوفر سرعة، حتى إذا رأيتموه تفرحون أيضاً، وأكون أنا أقل حزناً " (فيلبي 2/ 26 - 28).

ولا ينسى بولس أن يسجل هنا أيضاً بعض تحياته، فيقول: " سلموا على كل قديس في المسيح يسوع. يسلم عليكم الإخوة الذين معي، يسلم عليكم جميع القديسين، ولا سيما الذين من بيت قيصر .. كتبت إلى أهل فيلبي من رومية على يد ابفرودتس " (فيلبي 4/ 21 - 22).

ومثل هذا كثير، انظر (كورنثوس (1) 16/ 20)، و (فيلمون 1/ 21 - 24)، فهل هذه العبارات من إلهام الله ووحيه؟!

 

‌‌عبارات لا يمكن أن تكون وحياً

لو تتبعنا الأناجيل لما وجدنا ما يشعر بأن أياً منها صادر من مُلهَم يكتب وحياً، فمثلاً لم يستطع يوحنا تقدير المسافة التي قطعها التلاميذ في البحر قبل أن يروا المسيح فقال: "فلما كانوا قد جذفوا نحو خمس وعشرين أو ثلاثين غلوة نظروا يسوع ماشياً على البحر " (يوحنا 6/ 19)، ولو كان يلهم ما يكتب من الوحي لما وقع في مثل هذا.
ফিলিপীয়দের কাছে লেখা পত্রে ব্যক্তিগত ঘটনাবলির পুনরাবৃত্তি দেখা যায়, যেখানে তিনি বলেন: "আমি নিজেও শীঘ্রই তোমাদের কাছে আসব, তবে আমি আমার ভাই, সহকর্মী, সহযোদ্ধা এবং তোমাদের প্রেরিত ও আমার প্রয়োজনে সেবাকারী ইপাফ্রোদিতাসকে তোমাদের কাছে পাঠানো প্রয়োজন মনে করলাম; কারণ তিনি তোমাদের সকলের জন্য অত্যন্ত ব্যাকুল ছিলেন এবং ব্যথিত ছিলেন, কেননা তোমরা শুনেছ যে তিনি অসুস্থ ছিলেন... তাই আমি তাকে অতি দ্রুত তোমাদের কাছে পাঠালাম, যেন তাকে দেখে তোমরা পুনরায় আনন্দিত হও এবং আমার দুঃখ লাঘব হয়" (ফিলিপীয় ২: ২৬-২৮)।

পৌল এখানেও তাঁর কিছু শুভেচ্ছা বাণী নথিবদ্ধ করতে ভোলেননি, তিনি বলেন: "খ্রিস্ট যীশুতে প্রত্যেক পবিত্র ব্যক্তিকে শুভেচ্ছা জানাও। আমার সাথে থাকা ভাইয়েরা তোমাদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছে, সকল পবিত্র ব্যক্তিরা তোমাদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছে, বিশেষ করে কৈসরের প্রাসাদের লোকেরা... রোম থেকে ইপাফ্রোদিতাসের মাধ্যমে ফিলিপীয়দের কাছে এটি লেখা হয়েছে" (ফিলিপীয় ৪: ২১-২২)।

এবং এর অনুরূপ আরও অনেক উদাহরণ রয়েছে, দেখুন (১ করিন্থীয় ১৬: ২০), এবং (ফিলীমন ১: ২১-২৪); সুতরাং এই বাক্যগুলো কি আল্লাহর পক্ষ থেকে ইলহাম ও ওহী হতে পারে?!

 

‌‌এমন কিছু বাক্য যা ওহী হওয়া অসম্ভব

আমরা যদি সুসমাচার (ইনজিল) সমূহের অনুসন্ধান করি, তবে এমন কোনো কিছুর সন্ধান পাব না যা থেকে অনুভুত হয় যে এর কোনোটি ওহী লিপিবন্ধকারী কোনো ইলহামপ্রাপ্ত ব্যক্তির পক্ষ থেকে এসেছে। উদাহরণস্বরূপ, যোহন যীশুকে দেখার আগে শিষ্যরা সমুদ্রে কতটা পথ পাড়ি দিয়েছিল তা নিরূপণ করতে পারেননি, তাই তিনি বলেছেন: "যখন তারা প্রায় পঁচিশ কি ত্রিশ স্তাদিয়া নৌকা বেয়েছিল, তখন তারা যীশুকে সমুদ্রের উপর দিয়ে হেঁটে আসতে দেখল" (যোহন ৬: ১৯)। তিনি যা লিখছিলেন তা যদি ওহীর মাধ্যমে ইলহামপ্রাপ্ত হতো, তবে তিনি এমন অনিশ্চয়তায় পড়তেন না।
(খণ্ড: ১) হালিল আহদুল জাদিদু কালিমাতুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
ومثله في خاتمة يوحنا يقول: " وأما هذه فقد كتبت لتؤمنوا أن يسوع هو المسيح ابن الله" (يوحنا 20/ 30 - 31)، وقد كتبه بطلب من أساقفة آسيا لا الروح القدس، وهو لا يقول بأن الله ألهمه ذلك.

ويقول: " هذا هو التلميذ الذي يشهد بهذا، وكتب هذا، ونعلم أن شهادته حق " فلم يذكر شيئاً عن إلهام هذا الإنجيل، ثم قال بعدها ما أثبت صفة البشرية لكلامه "وأشياء أخرى كثيرة صنعها يسوع، إن كتبت واحدة واحدة فلست أظن أن العالم نفسه يسع الكتب المكتوبة " (يوحنا 21/ 24 - 25)، فمثل هذه المبالغة لا يغيب أنها صنعة بشرية لعادة البشر في ذلك. (1)

وعلاوة على هذا كله فإن في الرسائل فقرات تنفي هي عن نفسها دعوى الإلهام وتكذبه، وتشهد لصاحبها بأنه يتحدث ببشرية تامة، وأن الوحي لا علاقة له بما يكتب.

ومن ذلك قول بولس عن المتزوج بغير المؤمنة: " أقول لهم أنا، لا الرب … " (كورنثوس (1) 7/ 12)، فكلامه في هذه المسألة لا علاقة له بالوحي، لكنهم مع ذلك يعتبرونه جزءاً من كلمة الله.

ويقول عن أمر آخر: "وأما العذارى فليس عندي أمر من الرب فيهنّ، ولكنني أعطي رأياً" (كورنثوس (1) 7/ 25)، فهل نصدق بولس، وهو يصف كلامه هنا بأنه رأي شخصي أم نصدق النصارى الذين يقولون عن هذه العبارات أنها أيضاً ملهمة من قبل الله ووحيه؟

ويؤكد بولس ثانية أن بعض ما يصدر عنه هو محض رأي بشري واجتهاد شخصي منه، فيقول: "لست أقول على سبيل الأمر، بل باجتهاد … أعطي رأياً في هذا

--------------------------------------------

(1) انظر: إظهار الحق، رحمة الله الهندي (2/ 362)، مناظرتان في استكهولم، أحمد ديدات، ص (27 - 28).
অনুরূপভাবে ইউহান্নার (যোহন) শেষাংশে বলা হয়েছে: "আর এই বিষয়গুলো এ জন্য লেখা হয়েছে যাতে তোমরা বিশ্বাস করো যে, ঈসা-ই সেই মসীহ, আল্লাহর পুত্র" (ইউহান্না ২০/ ৩০-৩১)। তিনি এটি এশিয়ার বিশপদের অনুরোধে লিখেছিলেন, পবিত্র আত্মার নির্দেশে নয়; আর তিনি এটিও বলেননি যে, আল্লাহ তাঁকে এটি লিখতে অনুপ্রাণিত করেছেন।

এবং তিনি বলেন: "এই সেই শিষ্য যে এ সম্পর্কে সাক্ষ্য দিচ্ছে এবং এগুলো লিখেছে, আর আমরা জানি যে তার সাক্ষ্য সত্য।" তিনি এই ইঞ্জিলটির ঐশী প্রেরণা (ইলহাম) সম্পর্কে কিছুই উল্লেখ করেননি। অতঃপর তিনি এমন কথা বলেছেন যা তার বক্তব্যের মানবিক বৈশিষ্ট্যকে প্রমাণ করে: "ঈসা আরও অনেক কাজ করেছেন, যা যদি একে একে লেখা হতো, তবে আমার মনে হয় না যে, সেই লিখিত বইগুলো রাখার জায়গা এই জগতেও হতো" (ইউহান্না ২১/ ২৪-২৫)। এই ধরনের অতিরঞ্জন যে মানুষের চিরাচরিত স্বভাবজাত একটি মানবিক সৃষ্টি, তা কোনোভাবেই অস্পষ্ট নয়। (১)

এসব কিছুর পাশাপাশি, পত্রগুলোতে (এপিসল) এমন কিছু অনুচ্ছেদ রয়েছে যা নিজেরাই তাদের ঐশী প্রেরণা বা ইলহামের দাবিকে অস্বীকার ও মিথ্যা প্রতিপন্ন করে। এবং এগুলো সাক্ষ্য দেয় যে, এর লেখক সম্পূর্ণ মানবিক অবস্থান থেকে কথা বলছেন এবং তিনি যা লিখছেন তার সাথে ওহীর কোনো সম্পর্ক নেই।

এর একটি উদাহরণ হলো অবিশ্বাসী নারীকে বিবাহকারীর বিষয়ে পৌল-এর বক্তব্য: "আমি তাদের বলছি, প্রভু নন ..." (১ করিন্থীয় ৭/ ১২)। সুতরাং এই বিষয়ে তার বক্তব্যের সাথে ওহীর কোনো সম্পর্ক নেই, কিন্তু তা সত্ত্বেও তারা এটিকে আল্লাহর বাণীর অংশ হিসেবে গণ্য করে।

তিনি অন্য একটি বিষয়ে বলেন: "আর কুমারীদের বিষয়ে প্রভুর পক্ষ থেকে আমার কাছে কোনো আদেশ নেই, তবে আমি আমার মত দিচ্ছি" (১ করিন্থীয় ৭/ ২৫)। এখন প্রশ্ন হলো, আমরা কি পৌলকে বিশ্বাস করব, যিনি এখানে নিজের কথাকে ব্যক্তিগত মত হিসেবে বর্ণনা করছেন, নাকি আমরা সেই খ্রিস্টানদের বিশ্বাস করব যারা দাবি করে যে এই কথাগুলোও আল্লাহর পক্ষ থেকে ইলহাম ও ওহী?

পৌল পুনরায় নিশ্চিত করেছেন যে, তার পক্ষ থেকে যা প্রকাশ পায় তার কিছু অংশ নিছক মানবিক মতামত এবং তার ব্যক্তিগত ইজতিহাদ বা গবেষণা। তিনি বলেন: "আমি আদেশের সুরে এটি বলছি না, বরং ইজতিহাদ হিসেবে ... আমি এ বিষয়ে মত দিচ্ছি।"

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ইযহারুল হক, রহমতুল্লাহ আল-হিন্দি (২/ ৩৬২); স্টকহোমে দুটি বিতর্ক, আহমেদ দিদাত, পৃ. (২৭-২৮)।
(খণ্ড: ১) হালিল আহদুল জাদিদু কালিমাতুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
أيضاً " (كورنثوس (2) 8/ 8 - 10).

ويقول بولس أيضاً وهو ينفي عن كلامه صفة القداسة: " الذي أتكلم به لست أتكلم به بحسب الرب، بل كأنه في غباوة في جسارة الافتخار هذه " (كورنثوس (2) 11/ 16 - 17).

وقد وردت هذه الكلمات ضمن سياق مهم يصرخ بأن هذا الكلام رسالة شخصية لا علاقة لله به، إذ يقول: " أقول أيضاً: لا يظن أحد أني غبي، وإلا فاقبلوني ولو كغبي، لأفتخر أنا أيضاً قليلاً. الذي أتكلم به لست أتكلم به بحسب الرب، بل كأنه في غباوة في جسارة الافتخار هذه. بما أن كثيرين يفتخرون حسب الجسد، أفتخر أنا أيضاً.

فإنكم بسرور تحتملون الأغبياء، إذ أنتم عقلاء. لأنكم تحتملون إن كان أحد يستعبدكم. إن كان أحد يأكلكم. إن كان أحد يأخذكم. إن كان أحد يرتفع. إن كان أحد يضربكم على وجوهكم.

على سبيل الهوان أقول: كيف أننا كنا ضعفاء. ولكن الذي يجترئ فيه أحد أقول في غباوة، أنا أيضاً اجترئ فيه. أهم عبرانيون؟ فأنا أيضاً، أهم إسرائيليون؟ فأنا أيضاً. أهم نسل إبراهيم؟ فأنا أيضاً، أهم خدام المسيح؟

أقول كمختل العقل: فأنا أفضل، في الأتعاب أكثر، في الضربات أوفر" (كورنثوس (2) 11/ 15 - 24)، فهل أوحي إليه أن يصف نفسه حال بلاغه للوحي أنه مختل العقل وأنه غبي ....

ويقول متحدثاً إلى مستمعيه متلطفاً لهم: " ليتكم تحتملون غباوتي قليلاً" (كورنثوس (2) 11/ 1)، فهل أوحى الله له أن يصف نفسه بالغباء، وهل يعتذر الله ويخشى أن يكون ملهَمه قد أثقل على أولئك الذين يقرؤون رسالته.
আরও "(২ করিন্থীয় ৮: ৮-১০)।

পৌল আরও বলেন, তার বক্তব্যের পবিত্রতার বৈশিষ্ট্য অস্বীকার করে: "আমি যা বলছি, তা প্রভুর পক্ষ থেকে বলছি না, বরং এই আত্মশ্লাঘার ধৃষ্টতায় মূর্খের মতো বলছি" (২ করিন্থীয় ১১: ১৬-১৭)।

এই শব্দগুলো এমন এক গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপটে এসেছে যা উচ্চস্বরে ঘোষণা করছে যে, এই কথাগুলো একটি ব্যক্তিগত বার্তা যার সাথে আল্লাহর কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি বলেন: "আমি আবারও বলছি, কেউ যেন আমাকে মূর্খ মনে না করে; আর যদি তা-ই মনে করেন, তবে আমাকে মূর্খ হিসেবেই গ্রহণ করুন, যাতে আমিও সামান্য গর্ব করতে পারি। আমি যা বলছি, তা প্রভুর পক্ষ থেকে বলছি না, বরং এই আত্মশ্লাঘার ধৃষ্টতায় মূর্খের মতো বলছি। যেহেতু অনেকেই জাগতিক বিষয়ে গর্ব করে, তাই আমিও গর্ব করব।

কেননা আপনারা জ্ঞানবান হওয়া সত্ত্বেও আনন্দের সাথে মূর্খদের সহ্য করে থাকেন। কারণ কেউ যদি আপনাদের দাস বানিয়ে রাখে, কেউ যদি আপনাদের গ্রাস করে ফেলে, কেউ যদি আপনাদের সম্পদ কেড়ে নেয়, কেউ যদি আপনাদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে, অথবা কেউ যদি আপনাদের চপেটাঘাত করে, তবে আপনারা তা সহ্য করেন।

আমি অপমানের সাথে বলছি, যেন আমরা দুর্বল ছিলাম। কিন্তু কেউ যদি কোনো বিষয়ে সাহস দেখায়—আমি মূর্খের মতো বলছি—আমিও তাতে সাহস দেখাব। তারা কি ইবরানি? আমিও তাই। তারা কি ইসরায়েলি? আমিও তাই। তারা কি ইব্রাহিমের বংশধর? আমিও তাই। তারা কি মসীহ-এর সেবক?

আমি উন্মত্তের ন্যায় বলছি: আমি তাদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ; পরিশ্রমে অধিক, প্রহারে অনেক বেশি" (২ করিন্থীয় ১১: ১৫-২৪)। তবে কি তাঁর প্রতি ওহি বা প্রত্যাদেশ অবতীর্ণ হয়েছিল যে, তিনি ওহি প্রচারের সময় নিজেকে উন্মত্ত এবং মূর্খ হিসেবে বর্ণনা করবেন?

তিনি শ্রোতাদের প্রতি নমনীয় হয়ে বলছেন: "আশা করি আপনারা আমার সামান্য মূর্খতা সহ্য করবেন" (২ করিন্থীয় ১১: ১)। তবে কি আল্লাহ তাঁর প্রতি ওহি পাঠিয়েছিলেন যে, তিনি নিজেকে নির্বুদ্ধিতার বিশেষণে বিশেষিত করবেন? আর আল্লাহ কি ওজর পেশ করেন এবং এই আশঙ্কা করেন যে, তাঁর অনুপ্রাণিত ব্যক্তি হয়তো সেই পাঠকদের ওপর বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছেন যারা তাঁর পত্র পাঠ করছেন?
(খণ্ড: ১) হালিল আহদুল জাদিদু কালিমাতুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
ويقول معتذراً، والمفروض أن القائل وحي الله الذي يسجله بولس: "لقد اجترأت كثيراً فيما قلت أيها الإخوة" (رومية 15/ 15).

 

‌‌أحداث مهمة لا يصح أن يذهل عنها الملهَم

ومما يردّ دعوى الإلهام ذهول بعض الإنجيليين عن ذكر أحداث هامة رغم اجتماعهم على ذكر أحداث لا قيمة لها.

ومن ذلك أن الإنجيليين أجمعوا على ذكر حادثة ركوب المسيح على الجحش وهو يدخل أورشليم، لكن الإنجيليين ذهلوا عن تسجيل أحداث مهمة، فلم يسجل أول معجزات المسيح - وهو معجزة تحويل الماء إلى خمر - على أهميتها إلا واحد منهم (انظر يوحنا 2/ 1 - 11)، فهل كان ركوب المسيح الجحش أهم من هذه المعجزة الباهرة؟!

وهل هو أيضاً أهم من معجزة إحياء لعاذر أمام الجموع الكثيرة التي آمنت به بعد ذلك، فقد ذهل عن تسجيله الإنجيليون فيما عدا يوحنا (انظر يوحنا 11/ 1 - 46).

ولن يكون ركوب المسيح الجحش وهو يدخل أورشليم - بحال من الأحوال - أهم من وصيته التي تضمنت دعوة الأمم إلى اتباع الشريعة وتعميدهم باسم الآب والابن والروح القدس، وهو عمدة النصارى في إثبات عقيدة التثليث، فقد انفرد بذكره متى العشار (انظر متى 28/ 19)، دون بقية الإنجيليين الذين لم يسجلوا هذا النص الفريد والمهم.

وصعود المسيح إلى السماء حدث بالغ الأهمية، ومع أهميته لم يذكره التلميذان متى ويوحنا اللذان يفترض أنهما شاهدا المسيح وهو يصعد للسماء، بينما ألهم لوقا ومرقس - الغائبان يومذاك - ذكر هذا الخبر!!

والحقيقة أن أحداً من الإنجيلين لم يلهم كتابة خبر الصعود، لأن خبر الصعود (انظر لوقا 24/ 51) قد
তিনি ক্ষমা প্রার্থনাকারী হিসেবে বলেন—অথচ ধারণা করা হয় যে, এর প্রবক্তা হলেন আল্লাহর ওহী যা পৌল লিপিবদ্ধ করছেন: "হে ভ্রাতৃগণ, আমি যা বলেছি তাতে অনেক সাহসী হয়েছি" (রোমীয় ১৫/১৫)।

 

‌‌গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলি যা ঐশীভাবে অনুপ্রাণিত ব্যক্তির বিস্মৃত হওয়া অনুচিত

ঐশী অনুপ্রেরণার (ইলহাম) দাবিকে যা খণ্ডন করে তা হলো, কিছু ইঞ্জিল লেখকের এমন সব গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা উল্লেখ করতে বিস্মৃত হওয়া, অথচ তারা মূল্যহীন ঘটনাগুলো বর্ণনার ক্ষেত্রে ঐকমত্য পোষণ করেছেন।

এর উদাহরণ হলো, ইঞ্জিল লেখকরা জেরুজালেমে প্রবেশের সময় মসীহের গাধার শাবকের ওপর আরোহণের ঘটনা বর্ণনায় একমত হয়েছেন, কিন্তু তাঁরা গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলি লিপিবদ্ধ করতে বিস্মৃত হয়েছেন। মসীহের প্রথম অলৌকিক কাজ—যা পানিকে মদে রূপান্তরিত করার মোজেজা—এর গুরুত্ব সত্ত্বেও মাত্র একজন ছাড়া আর কেউ তা লিপিবদ্ধ করেননি (দেখুন ইউহান্না ২/১-১১)। মসীহের গাধার শাবকে আরোহণ করা কি এই বিস্ময়কর মোজেজার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল?

এবং এটি কি বিশাল জনসমুদ্রের সামনে লাজারাসকে পুনর্জীবিত করার মোজেজার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল, যার পর বহু লোক তাঁর ওপর বিশ্বাস স্থাপন করেছিল? অথচ ইউহান্না ব্যতীত অন্য ইঞ্জিল লেখকরা তা লিপিবদ্ধ করতে ভুলে গেছেন (দেখুন ইউহান্না ১১/১-৪৬)।

জেরুজালেমে প্রবেশের সময় মসীহের গাধার শাবকে আরোহণ করা কোনো অবস্থাতেই তাঁর সেই ওসিয়তের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে না, যাতে জাতিসমূহকে শরীয়ত অনুসরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে এবং পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে বাপ্তিস্ম দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এটি খ্রিস্টানদের ত্রিত্ববাদ (ট্রিনিটি) প্রমাণ করার প্রধান ভিত্তি। কেবল কর আদায়কারী মথি এটি এককভাবে উল্লেখ করেছেন (দেখুন মথি ২৮/১৯), অন্য ইঞ্জিল লেখকরা এই অনন্য ও গুরুত্বপূর্ণ পাঠটি লিপিবদ্ধ করেননি।

মসীহের আকাশে আরোহণ করা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, কিন্তু এর গুরুত্ব সত্ত্বেও শিষ্য মথি এবং ইউহান্না—যাঁদের সম্পর্কে ধারণা করা হয় যে তাঁরা মসীহকে আকাশে আরোহণ করতে দেখেছিলেন—তা উল্লেখ করেননি; অথচ লূক এবং মার্ক—যাঁরা সেদিন অনুপস্থিত ছিলেন—তাঁদেরকে এই সংবাদটি উল্লেখ করার জন্য অনুপ্রাণিত করা হয়েছে!!

সত্য তো এই যে, ইঞ্জিল লেখকদের কেউই আরোহণের সংবাদটি লিখতে অনুপ্রাণিত হননি, কারণ আরোহণের সংবাদটি (দেখুন লূক ২৪/৫১) মূলত...
(খণ্ড: ১) হালিল আহদুল জাদিদু কালিমাতুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
أضيف فيما بعد بحسب الكثير من المحققين، وكما اعترفت بذلك لجنة تنقيح الكتاب المقدس التي أصدرت النسخة ( R. S. V) . (1)

وكذلك ذهل الكتاب الملهمون عن ذكر قدرة التلاميذ على مغفرة الذنوب، فيما عدا يوحنا (انظر يوحنا 20/ 23)، يوحنا الذي يستغرب منه أنه لم يذكر شيئاً عن العشاء الأخير على أهميته وشهوده له إبان حياة المسيح.

وكذلك لم يسجلوا زيارة المجوس للمسيح وسجودهم له، بينما سجلها متى (انظر متى 2/ 1 - 12)، وكان الوحيدَ الذي كتب عن سفر المسيح وأمه لمصر. (انظر متى 2/ 14)، وكل هذا مما ينقض دعوى الإلهام، إذ لا يليق بالملهِم أن يغفل عن إلهام التلاميذ هذه الأمور المهمة.

 

‌‌إنكار المحققين لإلهامية كتبة العهد الجديد

وهذه المواضع التي ذكرناها وغيرها دفعت بعض فرق النصارى وبعض مقدميهم وغيرهم من المحققين لإنكار إلهامية الأناجيل والرسائل.

ويقول مؤلفو الترجمة المسكونية: " جمع المبشرون، وحرروا، كل حسب وجهة نظره الخاصة ما أعطاهم إياه التراث الشفهي " فليس ثمة إلهام إذن.

ويقول لوثر مؤسس مذهب البرتستانت عن رسالة يعقوب: "إنها كلّاء .. هذه الرسالة وإن كانت ليعقوب .. إن الحواري ليس له أن يعين حكماً شرعياً من جانب نفسه، لأن هذا المنصب كان لعيسى عليه السلام فقط "، فقول لوثر هذا، يفهم منه عدم اعتباره ليعقوب الحواري ملهماً.

ويقول ريس في دائرة معارفه: " والكتب التي كتبها تلاميذ الحواريين - مثل

--------------------------------------------

(1) انظر: هل الكتاب المقدس كلام الله، أحمد ديدات، ص (26 - 29).
অনেক গবেষকের মতে এটি পরবর্তীতে সংযোজিত হয়েছে, যেমনটি বাইবেল সংশোধনকারী কমিটিও স্বীকার করেছে যারা (R. S. V) সংস্করণটি প্রকাশ করেছিল। (১)

তদ্রূপ তথাকথিত ঐশী অনুপ্রেরণাপ্রাপ্ত লেখকরা শিষ্যদের পাপ ক্ষমা করার ক্ষমতার কথা উল্লেখ করতে বিস্মৃত হয়েছেন, কেবল যোহন ব্যতীত (দেখুন: যোহন ২০/ ২৩)। যোহনের ক্ষেত্রে বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, তিনি ‘শেষ ভোজ’ (Last Supper)-এর গুরুত্ব এবং মসীহ্র জীবদ্দশায় এর প্রত্যক্ষদর্শী হওয়া সত্ত্বেও সে সম্পর্কে কিছুই উল্লেখ করেননি।

তেমনিভাবে মসীহ্র নিকট পারস্যের জ্ঞানীদের (মাজুস) আগমন এবং তাঁকে সিজদা করার বিষয়টিও তারা লিপিবদ্ধ করেননি, অথচ মথি তা লিপিবদ্ধ করেছেন (দেখুন: মথি ২/ ১ - ১২)। মথিই একমাত্র লেখক যিনি মসীহ্ এবং তাঁর মাতার মিসর সফরের কথা লিখেছেন (দেখুন: মথি ২/ ১৪)। এই সবকিছুই ঐশী অনুপ্রেরণার (ইলহাম) দাবিকে নস্যাৎ করে দেয়, কারণ অনুপ্রেরণাদাতার পক্ষে শিষ্যদের এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো জানাতে গাফেল হওয়া সমীচীন নয়।

 

‌‌নতুন নিয়মের লেখকদের ঐশী অনুপ্রেরণার বিষয়ে গবেষকদের অস্বীকৃতি

আমাদের উল্লিখিত এই বিষয়গুলো এবং অন্যান্য আরও অনেক কারণ খ্রিস্টানদের কিছু দল, তাদের কতিপয় ধর্মগুরু এবং অন্যান্য গবেষকদের ইঞ্জিলসমূহ ও পত্রাবলির ঐশী অনুপ্রেরণাকে অস্বীকার করতে বাধ্য করেছে।

ইকুমেনিকাল ট্রান্সলেশন (Ecumenical Translation)-এর রচয়িতারা বলেন: "সুসমাচার প্রচারকরা মৌখিক ঐতিহ্যের মাধ্যমে যা লাভ করেছেন, তা প্রত্যেকে নিজ নিজ দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী সংগ্রহ ও সম্পাদনা করেছেন।" সুতরাং এখানে কোনো ঐশী অনুপ্রেরণার অস্তিত্ব নেই।

প্রোটেস্ট্যান্ট মতবাদের প্রতিষ্ঠাতা লুথার ইয়াকুবের পত্র সম্পর্কে বলেন: "এটি অসার খড়কুটো মাত্র... এই পত্রটি যদিও ইয়াকুবের বলা হয়... তবুও কোনো শিষ্যের নিজের পক্ষ থেকে কোনো বিধান নির্ধারণ করার অধিকার নেই, কারণ এই মর্যাদা কেবল ঈসা আলাইহিস সালামেরই ছিল।" লুথারের এই উক্তি থেকে বোঝা যায় যে, তিনি ইয়াকুব শিষ্যকে ঐশী অনুপ্রেরণাপ্রাপ্ত বলে গণ্য করতেন না।

রিস তাঁর বিশ্বকোষে বলেন: "শিষ্যদের অনুসারীদের লেখা বইগুলো—যেমন

--------------------------------------------

(১) দেখুন: বাইবেল কি আল্লাহর বাণী?, আহমেদ দিদাত, পৃ. (২৬ - ২৯)।
(খণ্ড: ১) হালিল আহদুল জাদিদু কালিমাতুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
إنجيل مرقس ولوقا وكتاب الأعمال - توقف ميكايلس في كونها إلهامية ".

ويتحدث حبيب سعيد عن تشابه رسائل بولس بالرسائل التي كان يكتبها اليونان حينذاك من حيث ديباجتها ةخاتمتها وصياغتها منبهاً إلى حقيقة هامة وصحيحة عن بولس: " لم يدر بخلده عند كتابتها - أو على الأصح عند إملائها - أنه يسطر ألفاظاً ستبقى ذخراً ثميناً تعتز به الأجيال القادمة .. وقد كتب رسائله بموحيات الساعة الناشئة عن حاجات عاجلة حاتمة" (1)، ويا للعجب، بولس لا يعلم بقدسية كلماته، بينما النصارى عنه يناضلون، وينسبون إليه ما لم ينسبه هو إلى نفسه.

وفي الفاتيكان شكل البابا جون لجنة لدراسة الإنجيل برئاسة العلامة الشاب هانز كونج، وبعد دراسة متأنية، قررت اللجنة: " أن الإنجيل كلام بشر، وأنه لا يوجد دليل على أن الإنجيل ينحدر مباشرة عن الله ". (2)

 

‌‌إبطال دعوى النبوة لكتبة العهد الجديد

بداية لا يسلم المسلمون بأن أحداً من الحواريين كان رسولاً، كما لم يصرح الإنجيليون فيما سوى بولس بذلك.

والمسلمون لا يؤمنون بالشهادات التي جعلت النصارى يقولون بنبوتهم، كما لا يؤمنون بغشيان روح القدس لهم بعد خمسين يوماً من صعود المسيح، ذاك الحدث الغريب الذي سجله لوقا، حين قال: " وامتلأ الجميع من الروح القدس، وابتدءوا يتكلمون بألسنة أخرى كما أعطاهم الروح أن ينطقوا " (أعمال 2/ 4).

كما لا يؤمن المسلمون بالمعجزات التي تنسبها إليهم تلك الأسفار، فكل هذه الأخبار لم ترد في دليل له اعتبار عندنا.

وننبه إلى أن بولس ولوقا ليسا من أولئك الذين تزعم النصارى حلول الروح القدس فيهم يوم الخمسين، إذ لم يكونا يومئذ من المؤمنين.

--------------------------------------------

(1) سيرة بولس الرسول، حبيب سعيد، ص (121).

(2) انظر: مناظرتان في استكهولم، أحمد ديدات، ص (27).
মার্ক, লূক ও প্রেরিতদের কার্যাবলি—মিকাইলিস এগুলোর ঐশী অনুপ্রেরণালব্ধ হওয়ার বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন।

হাবীব সাঈদ পৌলের পত্রাবলির সাথে তৎকালীন গ্রিকদের লিখিত পত্রসমূহের ভূমিকা, উপসংহার ও শৈলীর সাদৃশ্য নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে পৌল সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সঠিক সত্যের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন: "এগুলো লেখার সময়—বা আরও স্পষ্টভাবে বললে, এগুলো মুখে বলার সময়—তাঁর মনে কখনও এমন চিন্তা আসেনি যে, তিনি এমন কিছু শব্দ লিপিবদ্ধ করছেন যা অনাগত প্রজন্মের কাছে এক অমূল্য সম্পদ হিসেবে সংরক্ষিত থাকবে... তিনি তাঁর পত্রগুলো লিখেছিলেন সেই সময়ের জরুরি ও অনিবার্য প্রয়োজনে সৃষ্ট তাৎক্ষণিক তাড়না থেকে" (১)। আশ্চর্যের বিষয় হলো, পৌল নিজেই তাঁর কথাগুলোর পবিত্রতা সম্পর্কে জানতেন না, অথচ খ্রিস্টানরা তাঁর পক্ষ নিয়ে বিতর্ক করছে এবং তাঁর প্রতি এমন কিছু আরোপ করছে যা তিনি নিজের জন্য দাবি করেননি।

ভ্যাটিকানে পোপ জন তরুণ পণ্ডিত হ্যান্স কুং-এর নেতৃত্বে বাইবেল অধ্যয়নের জন্য একটি কমিটি গঠন করেন। গভীর পর্যালোচনার পর কমিটি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয় যে: "বাইবেল মানুষের কথা, এবং বাইবেল সরাসরি ঈশ্বরের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ হওয়ার কোনো প্রমাণ নেই।" (২)

 

‌‌নতুন নিয়মের লেখকদের নবুওয়াতের দাবির অসারতা

শুরুতেই উল্লেখ্য যে, মুসলমানরা হাওয়ারিদের (শিষ্যদের) কাউকেই রসূল বা নবী হিসেবে স্বীকার করে না; তদ্রূপ পৌল ছাড়া সুসমাচার লেখকদের অন্য কেউও সরাসরি এমন দাবি করেননি।

খ্রিস্টানরা যাদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে তাঁদের নবুওয়াত দাবি করে, মুসলমানরা তাতে বিশ্বাস করে না। এমনকি মসীহের ঊর্ধ্বারোহণের পঞ্চাশ দিন পর তাঁদের ওপর পবিত্র আত্মার অবতীর্ণ হওয়ার সেই অদ্ভুত ঘটনায়ও তারা বিশ্বাস রাখে না, যার বর্ণনা লূক এভাবে দিয়েছেন: "তাঁরা সকলে পবিত্র আত্মায় পূর্ণ হলেন এবং আত্মা তাঁদের যেভাবে বাকশক্তি দান করলেন, সেই অনুযায়ী তাঁরা বিভিন্ন ভাষায় কথা বলতে শুরু করলেন" (প্রেরিত ২/৪)।

তদ্রূপ এই পুস্তকসমূহ তাঁদের প্রতি যেসব অলৌকিক ক্ষমতা বা মুজিজা আরোপ করে, মুসলমানরা তাতেও বিশ্বাস করে না। কারণ, এসব সংবাদের কোনোটিই আমাদের নিকট গ্রহণযোগ্য কোনো দলিলের মাধ্যমে প্রমাণিত নয়।

আমরা এই বিষয়েও সতর্ক করতে চাই যে, পৌল ও লূক সেই ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত নন যাদের মধ্যে পঞ্চাশতম দিনে পবিত্র আত্মা প্রবেশ করেছিল বলে খ্রিস্টানরা দাবি করে; কারণ তাঁরা তখন পর্যন্ত বিশ্বাসীদের অন্তর্ভুক্তই ছিলেন না।

--------------------------------------------

(১) সিরাত বুলাস আর-রাসুল (প্রেরিত পৌলের জীবনী), হাবীব সাঈদ, পৃষ্ঠা (১২১)।

(২) দেখুন: স্টকহোমে দুটি বিতর্ক, আহমেদ দিদাত, পৃষ্ঠা (২৭)।
(খণ্ড: ১) হালিল আহদুল জাদিদু কালিমাতুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৩২)
ثم عند تفحص هذه الكتب والرسائل نجدها ناطقة بأن هؤلاء التلاميذ لم يكونوا رسلاً بالمعنى الاصطلاحي للكلمة، إذ هم بشر كسائر البشر، لا يتميزون سوى برفقتهم للمسيح، وأنه طلبهم أن يبلغوا دعوته بعده.

وأما المنسوب إلى بطرس في رسالته الثانية " لأنه لم تأت نبوة قط بمشيئة إنسان، بل تكلم أناس الله القديسون مسوقين من الروح القدس" (بطرس (2) 1/ 21)، وهو النص الذي يعتبره النصارى أصرح أدلتهم على إلهامية الكتبة ونبوتهم، فلا يصلح في الدلالة على إلهام الإنجيليين لأمور: أهمها أن هذه الرسالة لا تثبت نسبتها إلى بطرس ولا إلى أحد من أبناء الجيل المسيحي الأول، وسيمر معنا تفصيله.

وأيضاً لو سلمنا بصدق نسبة الرسالة إلى التلميذ بطرس، فإن بطرس قد مات قبل أن يدون مرقس (أول الإنجيليين تدويناً) - ثم بقية الإنجيليين - كتاباتهم، فليس هؤلاء مَن تحدث عنه بطرس، إذ لا يعقل أن يوثق بطرس كتابات لم تكن قد كتبت بعد.

كما أن بطرس لم ينص على أسماء الإنجيليين، ولا يُدرى مقصوده، فلعله كان يقصد بعض الكثيرين الذين كتبوا حينذاك، ثم اعتبرت الكنيسة كتاباتهم مزيفة.

 

‌‌أولاً: هل كتبة الأسفار أنبياء؟

وتمتلئ الأناجيل والأسفار بالدلائل التي تكذب القول بإلهامية هؤلاء الذين ينبغي أن تعرض نبوتهم على الميزان الذي اقتبسه تلاميذ المسيح من معلمهم، فقد جاء في رسالة يوحنا الأولى: "فلا تؤمنوا أيها الأحباء بكل روح من الأرواح، بل امتحنوا الأرواح حتى تعلموا هل هي من عند الله أم لا؟ لأن كثيرين من الأنبياء الكذبة برزوا إلى هذا العالم " (يوحنا (1) 4/ 1).

ثم كيف للنصارى أن يعتبروا بولس أو غيره من التلاميذ رسلاً معصومين وأمناء على الوحي والنبوة، ومن هؤلاء الرسل الذين أرسلهم المسيح يهوذا الخائن، يهوذا
এরপর যখন এই বই ও পত্রসমূহ পরীক্ষা করা হয়, তখন আমরা সেগুলোকে এই সাক্ষ্য দিতে দেখি যে, এই শিষ্যগণ শব্দের পারিভাষিক অর্থে কোনো ‘রাসূল’ ছিলেন না; বরং তাঁরা অন্যান্য সাধারণ মানুষের মতোই মানুষ ছিলেন। মসীহের সহচর হওয়া ছাড়া অন্য কোনো বিশেষ বৈশিষ্ট্য তাঁদের ছিল না, আর তিনি কেবল তাঁদের নির্দেশ দিয়েছিলেন যেন তাঁরা তাঁর পর তাঁর আহ্বান পৌঁছে দেন।

আর পিতরের দ্বিতীয় পত্রে তাঁর প্রতি যা সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে যে, "কেননা কোনো ভবিষ্যদ্বাণী মানুষের ইচ্ছানুসারে আসেনি, বরং পবিত্র আত্মার দ্বারা পরিচালিত হয়ে ঈশ্বরের পবিত্র মানুষেরা কথা বলেছেন" (২ পিতر ১:২১); এটি এমন এক বক্তব্য যাকে খ্রিস্টানরা লেখকদের ঐশী অনুপ্রেরণা ও নবুওয়াতের স্বপক্ষে তাদের সবচেয়ে স্পষ্ট দলিল হিসেবে গণ্য করে। কিন্তু এটি ইঞ্জিল লেখকদের ঐশী অনুপ্রেরণার প্রমাণ হিসেবে ব্যবহারের উপযোগী নয় কয়েকটি কারণে: যার মধ্যে প্রধান হলো, এই পত্রটি পিতর বা প্রথম খ্রিস্টান প্রজন্মের কোনো ব্যক্তির দিকেই নির্ভরযোগ্যভাবে প্রমাণিত নয়, যার বিস্তারিত বিবরণ সামনে আসবে।

তাছাড়া, যদি আমরা এই পত্রটি শিষ্য পিতরের বলে মেনেও নিই, তবুও মার্ক (ইঞ্জিল লেখকদের মধ্যে যিনি সর্বপ্রথম লিখেছেন) এবং অন্যান্য ইঞ্জিল লেখকদের পাণ্ডুলিপি প্রস্তুত করার আগেই পিতরের মৃত্যু হয়েছিল। সুতরাং এঁরা সেই ব্যক্তি নন যাঁদের সম্পর্কে পিতর কথা বলেছিলেন; কারণ পিতর এমন কিছু লেখার সত্যতা নিশ্চিত করবেন যা তখনো লেখাই হয়নি—তা বুদ্ধিগ্রাহ্য নয়।

তেমনি পিতর ইঞ্জিল লেখকদের নামও স্পষ্ট করেননি এবং তাঁর উদ্দেশ্যও নিশ্চিতভাবে জানা যায় না। হতে পারে তিনি সে সময়ে লিখেছিলেন এমন অনেক ব্যক্তির মধ্য থেকে কাউকে বুঝিয়েছেন, যাঁদের লেখাকে পরবর্তীকালে চার্চ বানোয়াট হিসেবে গণ্য করেছিল।

 

‌‌প্রথমত: গ্রন্থসমূহের (আসফার) লেখকরা কি নবী ছিলেন?

ইঞ্জিলসমূহ এবং অন্যান্য ধর্মগ্রন্থ এমন সব প্রমাণে পরিপূর্ণ যা এই লেখকদের ঐশী অনুপ্রেরণার দাবিকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে। তাঁদের নবুওয়াত বা ঐশী দাবিকে এমন এক মানদণ্ডে যাচাই করা উচিত যা মসীহের শিষ্যরা তাঁদের শিক্ষকের কাছ থেকে গ্রহণ করেছেন। ইউহান্নার প্রথম পত্রে বলা হয়েছে: "হে প্রিয়তমগণ, তোমরা প্রতিটি আত্মাকে বিশ্বাস করো না, বরং আত্মাগুলোকে পরীক্ষা করে দেখো যে সেগুলো আল্লাহর পক্ষ থেকে কি না; কারণ জগতে অনেক মিথ্যা নবীর আবির্ভাব হয়েছে" (১ ইউহান্না ৪:১)।

অতঃপর, খ্রিস্টানরা কীভাবে পৌল বা অন্যান্য শিষ্যদের নিষ্পাপ এবং ওহী ও নবুওয়াতের বিশ্বস্ত আমানতদার ‘রাসূল’ হিসেবে গণ্য করতে পারে, যখন মসীহ কর্তৃক প্রেরিত সেই শিষ্যদের মধ্যেই ছিলেন বিশ্বাসঘাতক ইহুদা? ইহুদা...
(খণ্ড: ১) হালিল আহদুল জাদিদু কালিমাতুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
الذي عُد من الاثني عشر تلميذاً الذين أرسلهم المسيح؟ فمثل هذه الخيانة لا تصدر عن الرسل، وهي دليل يمنع دعوى نبوة ورسالة التلاميذ.

كما لا يصدر عن الأنبياء والرسل ما فعله بطرس عندما تخلى عن المسيح وأنكره في ليلة من أصعب الليالي ثلاث مرات (انظر لوقا 22/ 34)، ولوقا يقول على لسان المسيح: " من أنكرني قدام الناس ينكر قدام ملائكة الله " (لوقا 12/ 9)، إن هذا الإنكار دعا القس إبراهيم سعيد إلى وصف بطرس بأنه "الغارق في بحر الكفر" (1)، ولم يشفع له طول صحبته للمسيح.

ويبقى السؤال: كيف ينكر المسيحَ الملهمُ الرسولُ الممتلئ من الروح القدس الذي سماه المسيح في نص آخر شيطاناً؟ " فالتفت وقال لبطرس: اذهب عني يا شيطان. أنت معثرة لي، لأنك لا تهتم بما لله، لكن بما للناس" (متى 16/ 23).

ونلحظ أن النصوص الإنجيلية تشكك في إيمان أخصّ تلاميذ المسيح مما يجعلهم غير جديرين بحمل أمانة الإنجيل، فضلاً عن الرسالة والنبوة، إذ يقول المسيح عن بطرس: "يا قليل الإيمان لماذا شككت " (متى 14/ 31)، لذا اندفع القديس أغستين للقول عن بطرس: " إنه كان غير ثابت، لأنه كان يؤمن أحياناً ويشك أحياناً ". (2)

وإذا قيل هذا في بطرس فماذا عساه يقال عن بقية التلاميذ والحواريين؟ وهل كانوا أفضل حظاً وأحسن شأناً؟

العهد الجديد يخبرنا بأنهم هم أيضاً كانوا قليلي الإيمان، فقد وصفهم المسيح بذلك مراراً، يقول متى: "فتقدم تلاميذه وأيقظوه قائلين: يا سيد نجنا فإننا نهلك،

--------------------------------------------

(1) شرح بشارة لوقا، د. إبراهيم سعيد، ص (580).

(2) إظهار الحق، رحمة الله الهندي (1/ 234).
যাকে মসীহ কর্তৃক প্রেরিত বারোজন শিষ্যের অন্তর্ভুক্ত গণ্য করা হতো? এই ধরনের বিশ্বাসঘাতকতা রাসূলদের থেকে প্রকাশ পেতে পারে না; আর এটি এমন একটি প্রমাণ যা শিষ্যদের নবুয়ত ও রিসালাতের দাবিকে নাকচ করে দেয়।

অনুরূপভাবে, নবি ও রাসূলদের থেকে এমন কাজ প্রকাশ পাওয়া সম্ভব নয় যা পিতর করেছিলেন; যখন তিনি এক কঠিনতম রাতে মসীহকে পরিত্যাগ করেছিলেন এবং তিনবার তাঁকে অস্বীকার করেছিলেন (দেখুন: লূক ২২/৩৪)। আর লূক মসীহের জবানিতে উদ্ধৃত করেন: "যে কেউ মানুষের সামনে আমাকে অস্বীকার করবে, তাকে আল্লাহর ফেরেশতাদের সামনে অস্বীকার করা হবে" (লূক ১২/৯)। এই অস্বীকারের কারণেই যাজক ইব্রাহিম সাঈদ পিতরকে "কুফরির সমুদ্রে নিমজ্জিত" (১) বলে বর্ণনা করতে বাধ্য হয়েছেন, এবং মসীহের দীর্ঘ সাহচর্যও তাঁর জন্য কোনো সুপারিশ হিসেবে কাজ করেনি।

প্রশ্ন থেকে যায়: পবিত্র আত্মা দ্বারা পূর্ণ অনুপ্রাণিত যে রাসূলকে মসীহ অন্য এক পাঠে শয়তান বলে অভিহিত করেছেন, তিনি কীভাবে মসীহকে অস্বীকার করতে পারেন? "অতঃপর তিনি ফিরে পিতরকে বললেন: দূর হও আমার সামনে থেকে, হে শয়তান! তুমি আমার জন্য বিঘ্নস্বরূপ, কারণ তুমি আল্লাহর বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রাখছ না, বরং মানুষের বিষয়ের প্রতি রাখছ" (মথি ১৬/২৩)।

আমরা লক্ষ্য করি যে, ইঞ্জিলের পাঠসমূহ মসীহের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ শিষ্যদের ঈমান সম্পর্কেও সন্দেহ পোষণ করে, যা তাঁদেরকে রিসালাত ও নবুয়ত তো দূরের কথা, ইঞ্জিলের আমানত বহনের ক্ষেত্রেও অযোগ্য করে তোলে। যেহেতু মসীহ পিতর সম্পর্কে বলেন: "হে অল্পবিশ্বাসী, কেন সন্দেহ করলে?" (মথি ১৪/৩১)। এ কারণেই সেন্ট অগাস্টিন পিতর সম্পর্কে বলতে বাধ্য হয়েছেন: "তিনি সুদৃঢ় ছিলেন না, কারণ তিনি কখনও বিশ্বাস করতেন আবার কখনও সন্দেহ করতেন।" (২)

যদি পিতর সম্পর্কে এই কথা বলা হয়, তবে বাকি শিষ্য ও অনুসারীদের ব্যাপারে কী বলা যেতে পারে? তাঁদের অবস্থা কি আরও ভালো বা শ্রেষ্ঠতর ছিল?

নতুন নিয়ম আমাদের জানায় যে, তাঁরাও অল্পবিশ্বাসী ছিলেন; মসীহ বারবার তাঁদের এই বিশেষণে বিশেষায়িত করেছেন। মথি বলেন: "তখন তাঁর শিষ্যরা এগিয়ে এসে তাঁকে জাগিয়ে বললেন: হে প্রভু, আমাদের রক্ষা করুন, আমরা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছি...

--------------------------------------------

(১) লূক সুসমাচারের ব্যাখ্যা, ড. ইব্রাহিম সাঈদ, পৃ. (৫৮০)।

(২) ইযহারুল হক, রহমতুল্লাহ কিরানবী (১/২৩৪)।
(খণ্ড: ১) হালিল আহদুল জাদিদু কালিমাতুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৩৪)
فقال لهم: ما بالكم خائفين يا قليلي الإيمان؟ " (متى 8/ 25 - 26).

ولما أمرهم بالتحرز من خمير اليهود خاطب التلاميذ "قال: لماذا تفكرون في أنفسكم يا قليلي الإيمان، إنكم لم تأخذوا خبزاً، أحتى الآن لا تفهمون؟ " (متى 16/ 8).

وفي موطن آخر قال لهم: "فإن كان العشب الذي يوجد اليوم في الحقل ويطرح غداً في التنور يلبسه الله هكذا، فكم بالحري يلبسكم أنتم يا قليلي الإيمان" (لوقا 12/ 28)، (وانظر مرقس 4/ 40، ومتى 6/ 30)، فهل مثل هؤلاء يعتد بروايتهم وتأليفاتهم فضلاً عن اعتبارها من وحي الله؟

لكن الداهية الدهياء في شهادة المسيح عليهم لما عجزوا عن شفاء المصروع، وجاءوا للمسيح عليه السلام شاكين مستفسرين: "لماذا لم نقدر نحن أن نخرجه؟ فقال لهم يسوع: لعدم إيمانكم. فالحق أقول لكم: لو كان إيمان مثل حبة خردل لكنتم تقولون لهذا الجبل: انتقل من هنا إلى هناك فينتقل، ولا يكون شيء غير ممكن لديكم " (متى 17/ 19 - 20)، فهل هؤلاء الذين لا يملكون من الإيمان حبة خردل أنبياء وأمناء على تسجيل وحي الله؟

 

‌‌ثانياً: معجزات التلاميذ لا تصلح دليلاً على النبوة

وإذا كان اعتبار النصارى لهؤلاء التلاميذ أنبياء لمجرد أن قاموا ببعض المعجزات التي لم تقترن بدعوى النبوة منهم، فهذا لا يكفي في تقرير نبوتهم وعصمتهم، فالأسفار المقدسة تذكر أن المعجزات والآيات قد تعطى للكاذبين الذين يدعون النبوة، فالمسيح قال: " سيقوم مسحاء كذبة، وأنبياء كذبة، ويُعطون آيات عظيمة وعجائب، حتى يُضلوا - لو أمكن - المختارين أيضاً. ها أنا قد سبقت وأخبرتكم " (متى 24/ 24 - 25)،

وقد حذر المسيح عليه السلام من خداع هؤلاء الكذبة للعوام بما يزعمونه من معجزات وإيمان بالمسيح وادعاء أنهم على دينه، وبين المسيح كيفية معرفة هؤلاء الكذبة حين قال:
তিনি তাদের বললেন: "হে অল্প-বিশ্বাসীগণ, তোমরা কেন ভীত হয়েছ?" (মথি ৮: ২৫-২৬)।

আর যখন তিনি তাদের ইহুদিদের খামির থেকে সতর্ক হওয়ার নির্দেশ দিলেন, তখন শিষ্যদের সম্বোধন করে বললেন: "হে অল্প-বিশ্বাসীগণ, তোমরা কেন নিজেদের মধ্যে চিন্তা করছ যে তোমাদের কাছে রুটি নেই? তোমরা কি এখনও বুঝতে পারছ না?" (মথি ১৬: ৮)।

অন্য এক স্থানে তিনি তাদের বললেন: "মাঠের ঘাস যা আজ আছে এবং আগামীকাল চুল্লিতে ফেলে দেওয়া হবে, আল্লাহ যদি তাকে এমনভাবে সুসজ্জিত করেন, তবে হে অল্প-বিশ্বাসীগণ, তিনি তোমাদের আরও কত বেশি না সাজাবেন!" (লূক ১২: ২৮), (আরও দেখুন মার্ক ৪: ৪০ এবং মথি ৬: ৩০)। সুতরাং, যাদের অবস্থা এমন, তাদের বর্ণনা ও সংকলন কি নির্ভরযোগ্য হতে পারে, সেগুলোকে আল্লাহর ওহি (প্রত্যাদেশ) হিসেবে গণ্য করা তো দূরের কথা?

কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে মসীহের সাক্ষ্যের সবচেয়ে অকাট্য প্রমাণটি প্রকাশিত হয় তখন, যখন তারা মৃগী রোগীকে সুস্থ করতে ব্যর্থ হয় এবং তারা মসীহ (আলাইহিস সালাম)-এর কাছে অভিযোগ ও জিজ্ঞাসার সুরে এসে বলে: "আমরা কেন তাকে বের করতে পারলাম না?" তখন ঈসা তাদের বললেন: "তোমাদের বিশ্বাসের অভাবের কারণে। আমি তোমাদের সত্য বলছি, যদি তোমাদের একটি সরিষার দানার সমানও বিশ্বাস থাকত, তবে তোমরা যদি এই পাহাড়কে বলতে: 'এখান থেকে ওখানে সরে যাও', তবে তা সরে যেত; আর তোমাদের জন্য অসম্ভব বলে কিছুই থাকত না।" (মথি ১৭: ১৯-২০)। সুতরাং, যাদের সরিষার দানার সমানও বিশ্বাস নেই, তারা কি নবী হতে পারেন এবং আল্লাহর ওহি লিপিবদ্ধ করার ক্ষেত্রে আমানতদার হতে পারেন?

 

‌‌দ্বিতীয়ত: শিষ্যদের অলৌকিক ঘটনাসমূহ নবুওয়তের প্রমাণ হিসেবে গণ্য হওয়ার যোগ্য নয়

যদি খ্রিস্টানরা এই শিষ্যদের কেবল কিছু অলৌকিক ঘটনা প্রদর্শনের কারণে নবী হিসেবে গণ্য করে—যা তারা নিজেরা কখনো নবুওয়তের দাবি হিসেবে পেশ করেননি—তবে এটি তাদের নবুওয়ত ও নিষ্পাপত্ব (ইসমাত) প্রমাণের জন্য যথেষ্ট নয়। কারণ পবিত্র গ্রন্থসমূহ উল্লেখ করে যে, অলৌকিক নিদর্শন ও আলামত সেই মিথ্যাবাদীদেরও দেওয়া হতে পারে যারা নবুওয়তের দাবি করে। মসীহ বলেছিলেন: "ভণ্ড মসীহগণ এবং ভণ্ড নবীগণ আবির্ভূত হবে এবং তারা মহান নিদর্শন ও আশ্চর্যজনক কাজ দেখাবে, যেন তারা সম্ভব হলে মনোনীতদেরও বিভ্রান্ত করতে পারে। দেখ, আমি আগেভাগেই তোমাদের এ বিষয়ে জানিয়ে রাখলাম।" (মথি ২৪: ২৪-২৫)।

মসীহ (আলাইহিস সালাম) সাধারণ মানুষদের এই মিথ্যাবাদীদের প্রতারণা থেকে সতর্ক করেছেন, যা তারা অলৌকিকতা প্রদর্শন, মসীহের ওপর বিশ্বাস এবং তাঁর ধর্মের অনুসারী হওয়ার দাবির মাধ্যমে করে থাকে। মসীহ এই মিথ্যাবাদীদের চেনার উপায় বর্ণনা করে বলেছিলেন: