(খণ্ড: ১) হাল ইফ্তাদানা আল-মাসিহু আলাস সলিব (পৃষ্ঠা: -)
هل افتدانا المسيح على الصليب   (منقذ السقار)

القسم: الفرق والردود


الكتاب: هل افتدانا المسيح على الصليب؟

المؤلف: منقذ بن محمود السقار

الناشر: دار الإسلام للنشر والتوزيع

الطبعة: الأولى، 1428 هـ - 2007 م

عدد الصفحات: 241

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 26 صفر 1433

মসীহ কি ক্রুশের ওপর আমাদের মুক্তিপণ হয়েছেন?   (মুনকিজ আস-সাক্কার)

বিভাগ: বিভিন্ন ধর্মতাত্ত্বিক মতবাদ ও তাদের খণ্ডন


বই: মসীহ কি ক্রুশের ওপর আমাদের মুক্তিপণ হয়েছেন?

লেখক: মুনকিজ বিন মাহমুদ আস-সাক্কার

প্রকাশক: দারুল ইসলাম প্রকাশনা ও বিতরণ

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৮ হিজরি - ২০০৭ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৪১

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২৬ সফর ১৪৩৩

(খণ্ড: ১) হাল ইফ্তাদানা আল-মাসিহু আলাস সলিব (পৃষ্ঠা: ১)
سلسلة الهدى والنور (4)

 

هل افتدانا

المسيح على الصليب؟

 

د. منقذ بن محمود السقار
হেদায়েত ও নূর ধারাবাহিক (৪)

 

মসীহ কি ক্রুশবিদ্ধ হয়ে

আমাদের প্রায়শ্চিত্ত করেছেন?

 

ড. মুনকিয বিন মাহমুদ আস-সাক্কার
(খণ্ড: ১) হাল ইফ্তাদানা আল-মাসিহু আলাস সলিব (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌مقدمة

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على رسل الله أجمعين، عليهم وعلى نبينا أفضل الصلاة وأزكى التسليم، وبعد:

انتهينا في الحلقات الماضية من سلسلتنا - سلسلة الهدى والنور - إلى حقيقة واضحة وساطعة كما الشمس في رابعة النهار، وهي أن الكتاب المقدس - وكما رأينا - عمل بشري لا يمثل كلمة الله بحال من الأحوال، وعليه فلا يصح الاستدلال به على أي من العقائد أو الأحداث الهامة، ومن ذلك الصلب والفداء.

وتنزلاً مع النصارى في الحوار، ورغبة في عدم غلق هذا الباب نعود لطرح سؤالين هامين، أحدهما تاريخي، والآخر عقدي، أولهما: هل صلب المسيح عليه السلام كما تذكر الأناجيل، وكما تجمع الفرق النصرانية المعاصرة؟

والسؤال الثاني، وهو متعلق بالسؤال الأول، ونطرحه جدلاً - إن قلنا بصلب المسيح -: فهل كان صلبه فداء لنا وللبشرية؟

وتثور تبعاً لهذا السؤال أسئلة كثيرة: مم الخلاص؟ من دينونة جهنم أم من نكد الدنيا وعثراتها؟ وهل الخلاص متعلق بذنب أبوينا (آدم وحواء) فقط أم يسري إلى كافة ذنوبنا وخطايانا؟ وهل الخلاص مشروط أم أنه منحة محبة من الله ومسيحه، وهي أعظم من أن يطلب لها مقابل؟

ثم هل الخلاص لليهود الذين اختص المسيح بهم في رسالته أم يمتد ليشمل الجنس البشري الذي ولد مسربلاً بالخطيئة؟
উপস্থাপনা

সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর সকল রাসূলগণের প্রতি, তাঁদের ওপর এবং আমাদের নবীর ওপর সর্বোত্তম সালাত ও পবিত্রতম সালাম বর্ষিত হোক। অতপর:

আমাদের ধারাবাহিক আলোচনা—'সিলসিলাতুল হুদা ওয়ান নূর' (হিদায়াত ও আলোর ধারাবাহিকতা)—এর গত পর্বগুলোতে আমরা একটি দিবালোকের মতো স্পষ্ট ও উজ্জ্বল সত্যে উপনীত হয়েছি; আর তা হলো, আমরা যেমনটি দেখেছি, বাইবেল একটি মানবীয় কর্ম যা কোনোভাবেই আল্লাহর বাণীর প্রতিনিধিত্ব করে না। সুতরাং, এর মাধ্যমে কোনো আকিদাহ বা গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, যেমন ক্রুশবিদ্ধকরণ ও প্রায়শ্চিত্তের স্বপক্ষে দলিল পেশ করা সঠিক নয়।

খ্রিস্টানদের সাথে আলোচনার খাতিরে এবং এই আলোচনার পথ উন্মুক্ত রাখার আকাঙ্ক্ষায় আমরা দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপন করছি, যার একটি ঐতিহাসিক এবং অন্যটি বিশ্বাসগত। প্রথমটি হলো: ঈসা (আলাইহিস সালাম) কি সত্যিই ক্রুশবিদ্ধ হয়েছিলেন, যেমনটি ইঞ্জিলসমূহে উল্লেখ করা হয়েছে এবং বর্তমানের খ্রিস্টান সম্প্রদায়গুলো যে বিষয়ে একমত পোষণ করে?

দ্বিতীয় প্রশ্নটি প্রথমটির সাথে সংশ্লিষ্ট, যা আমরা তর্কের খাতিরে উত্থাপন করছি—যদি আমরা ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার কথা মেনেও নেই—তবে কি তাঁর এই ক্রুশবিদ্ধ হওয়া আমাদের জন্য এবং সমগ্র মানবজাতির জন্য পাপের প্রায়শ্চিত্ত ছিল?

এই প্রশ্নের প্রেক্ষিতে আরও অনেক প্রশ্ন জাগে: মুক্তি কিসের থেকে? জাহান্নামের দণ্ড থেকে, নাকি দুনিয়ার দুঃখ-কষ্ট ও প্রতিকূলতা থেকে? এই মুক্তি কি কেবল আমাদের আদিপিতা-মাতা (আদম ও হাওয়া)-এর পাপের সাথেই সংশ্লিষ্ট, নাকি তা আমাদের সকল প্রকার পাপ ও অপরাধের ক্ষেত্রেও কার্যকর? আর এই মুক্তি কি শর্তসাপেক্ষ, নাকি এটি আল্লাহ ও তাঁর মাসীহের পক্ষ থেকে ভালোবাসার এক বিশেষ দান, যা কোনো প্রতিদান বা বিনিময়ের ঊর্ধ্বে?

পরিশেষে, এই মুক্তি কি কেবল সেই ইহুদিদের জন্য যাদের কাছে মাসীহ বিশেষভাবে তাঁর বার্তা নিয়ে প্রেরিত হয়েছিলেন, নাকি এটি সমগ্র মানবজাতির জন্য প্রসারিত যারা জন্মগতভাবে পাপের আবরণে আবৃত?
(খণ্ড: ১) হাল ইফ্তাদানা আল-মাসিহু আলাস সলিব (পৃষ্ঠা: ৬)
هذه الأسئلة وغيرها نجيب عنها في حلقتنا الرابعة من سلسلة الهدى والنور، ونجملها في سؤال يلُم شعثها: هل افتدانا المسيح على الصليب؟

نجيب عنه بموضوعية ومنهجية علمية، نقلب صفحات الأسفار المقدسة عند النصارى، ونحتكم وإياهم إلى العقل المجرد والفطرة السوية، مستشهدين بدلالة التاريخ وحكمة عقلائه من النصارى.

اللهم اهدنا لما اختلفنا فيه من الحق بإذنك، إنك تهدي من تشاء إلى صراط مستقيم.

 

د. منقذ بن محمود السقار

مكة المكرمة - شعبان - 1424هـ

mongiz@maktoob.com
এই সকল প্রশ্ন এবং অন্যান্য বিষয়ের উত্তর আমরা 'আল-হুদা ওয়ান-নূর' সিরিজের চতুর্থ পর্বে প্রদান করছি। এই সমস্ত প্রশ্নের সারমর্ম আমরা একটি কেন্দ্রীয় জিজ্ঞাসায় নিহিত করেছি: মসীহ কি ক্রুশে বিদ্ধ হয়ে আমাদের পাপমোচন করেছিলেন?

আমরা এর উত্তর দেব বস্তুনিষ্ঠতা ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণের মাধ্যমে; যেখানে আমরা খ্রিষ্টানদের নিকট পবিত্র বিবেচিত ধর্মগ্রন্থসমূহের পাতাগুলো উল্টাবো এবং তাদের সাথে নিয়ে নিছক বিবেক ও সুস্থ স্বভাবের নিরিখে ফয়সালা করব। এক্ষেত্রে আমরা ইতিহাসের সাক্ষ্য এবং খ্রিষ্টানদের মধ্যকার প্রাজ্ঞ ব্যক্তিদের প্রজ্ঞাকে প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করব।

হে আল্লাহ, সত্যের যে বিষয়ে আমাদের মাঝে মতভেদ সৃষ্টি হয়েছে, আপনার অনুমতিক্রমে সে ব্যাপারে আমাদের সঠিক পথ প্রদর্শন করুন। নিশ্চয়ই আপনি যাকে ইচ্ছা সরল পথের দিশা দান করেন।

 

ড. মুনকিয বিন মাহমুদ আস-সাক্কার

মক্কা আল-মুকাররামা - শাবান - ১৪২৪ হিজরি

mongiz@maktoob.com
(খণ্ড: ১) হাল ইফ্তাদানা আল-মাসিহু আলাস সলিব (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌صلب المسيح عند النصارى:

يعتبر النصارى حادثة صلب المسيح أحد أهم أحداث المعمورة، حيث يعتقدون أن الله أنزل ابنه السيد المسيح، ليموت على الصليب ليطهر البشر من أغلال خطيئة أبيهم آدم، بل وخطاياهم جميعاً.

وتؤكد الأناجيل - في إصحاحات مطولة - صلب المسيح، ذاكرةً الكثير من تفاصيل القبض عليه، ومحاكمته، وصلبه، ثم دفنه، ثم قيامته، فصعوده إلى السماء.

ومما يؤكد أهمية مسألة الصلب في الفكر النصراني أن النصارى يرون أن تجسد الإله في المسيح، هذا الحدث العظيم، إنما كان من أجل أن يصلب الإله، ويصور هذا القس الكاثوليكي الشهير توماس الأكويني (الملقب بالدكتور الملائكي) فيقول: " توجد أراء مختلفة، فيزعم البعض أن ابن الله كان سيتجسد حتى لو لم يخطئ آدم، ويرى البعض خلاف ذلك، ويبدو من الأصوب الانتماء إلى الرأي الثاني … الكتاب يقول لنا دائماً: إن خطية الإنسان الأول هي الدافع لتجسد ابن الله، وعليه يظهر أن هذا السر إنما رتبه الله كدواء للخطيئة؛ بحيث إنه لولا الخطيئة لما كان التجسد ". (1)

ويصور الكاردينال الإنجليزي منينغ أهمية حادثة الصلب في كتابه " كهنوت الأبدية" فيقول: "لا تخفى أهمية هذا البحث الموجب للحيرة، فإنه إذا لم تكن وفاة المسيح صلباً حقيقية، فحينئذ يكون بناء عقيدة الكنيسة قد هدم من الأساس، لأنه إذا لم يمت المسيح على الصليب، لا توجد الذبيحة، ولا النجاة، ولا التثليث .. فبولس والحواريون وجميع الكنائس، كلهم يدعون هذا، أي أنه إذا لم يمت المسيح لا تكون قيامة أيضاً ".

--------------------------------------------

(1) المسيح إنسان أم إله، محمد مجدي مرجان، ص (150).
খ্রিস্টানদের নিকট মসিহের ক্রুশবিদ্ধকরণ:

খ্রিস্টানগণ মসিহের ক্রুশবিদ্ধকরণের ঘটনাকে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করে। তারা বিশ্বাস করে যে, ঈশ্বর তাঁর পুত্র প্রভু মসিহকে প্রেরণ করেছেন যাতে তিনি ক্রুশের ওপর মৃত্যুবরণ করেন এবং এর মাধ্যমে মানবজাতিকে তাদের আদিপিতা আদমের পাপের শৃঙ্খল তথা তাদের যাবতীয় পাপাচার থেকে পবিত্র করেন।

সুসমাচারসমূহ (ইঞ্জিল)—দীর্ঘ অধ্যায় জুড়ে—মসিহের ক্রুশবিদ্ধকরণের বিষয়টি নিশ্চিত করে। এতে তাঁকে গ্রেফতার, তাঁর বিচারকার্য, ক্রুশবিদ্ধকরণ, তৎপরবর্তী দাফন, পুনরুত্থান এবং অবশেষে স্বর্গে আরোহণের বহু খুঁটিনাটি বিবরণ উল্লিখিত হয়েছে।

খ্রিস্টীয় চিন্তাধারায় ক্রুশবিদ্ধকরণের গুরুত্বের একটি প্রমাণ হলো, খ্রিস্টানরা মনে করে মসিহের মধ্যে ঈশ্বরের অবতারত্ব গ্রহণের এই মহান ঘটনাটি ঘটেছিল মূলত ঈশ্বরের ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার নিমিত্তে। প্রখ্যাত ক্যাথলিক পাদ্রি থমাস অ্যাকুইনাস (যিনি 'ডক্টর অ্যাঞ্জেলিকাস' বা স্বর্গীয় পণ্ডিত উপাধিতে ভূষিত) এই বিষয়টি চিত্রায়িত করে বলেন: "ভিন্ন ভিন্ন মত বিদ্যমান রয়েছে; কেউ কেউ দাবি করেন যে, আদম যদি পাপ নাও করতেন তবুও ঈশ্বরের পুত্র অবতার রূপ ধারণ করতেন। আবার কেউ কেউ এর ভিন্ন মত পোষণ করেন। তবে দ্বিতীয় মতটি গ্রহণ করাই অধিকতর সঠিক বলে প্রতীয়মান হয় … পবিত্র ধর্মগ্রন্থ আমাদের সর্বদা এটাই বলে যে: আদি মানবের পাপই হলো ঈশ্বরের পুত্রের অবতারত্ব গ্রহণের মূল প্রেরণা। সুতরাং এটি স্পষ্ট যে, ঈশ্বর এই রহস্যটিকে পাপের প্রতিষেধক হিসেবে নির্ধারিত করেছেন; এমতাবস্থায় যদি পাপ না থাকত, তবে অবতারত্বও সংঘটিত হতো না।" (১)

ইংরেজ কার্ডিনাল ম্যানিং তাঁর "পুরোহিত্য ও অনন্তকাল" নামক গ্রন্থে ক্রুশবিদ্ধকরণের গুরুত্ব বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন: "এই বিস্ময়কর পর্যালোচনার গুরুত্ব অনস্বীকার্য। কেননা, যদি ক্রুশবিদ্ধ হয়ে মসিহের মৃত্যু বাস্তবিক না হয়ে থাকে, তবে গির্জার ধর্মীয় বিশ্বাসের ভিত্তি বা ইমারত গোড়া থেকেই ধসে পড়বে। কারণ যদি মসিহ ক্রুশের ওপর মৃত্যুবরণ না করে থাকেন, তবে উৎসর্গ, মুক্তি কিংবা ত্রিত্ববাদের কোনো অস্তিত্ব থাকে না... পৌল, শিষ্যগণ এবং সকল গির্জা—সবাই এই দাবিই করে থাকে; অর্থাৎ মসিহ যদি মৃত্যুবরণ না করতেন, তবে তাঁর পুনরুত্থানও সম্ভব হতো না।"

--------------------------------------------

(১) মসিহ কি মানুষ নাকি ঈশ্বর?, মুহাম্মদ মাজদি মারজান, পৃষ্ঠা (১৫০)।
(খণ্ড: ১) হাল ইফ্তাদানা আল-মাসিহু আলাস সলিব (পৃষ্ঠা: ৮)
ويقول جوردن مولتمان في كتابه " الإله المصلوب ": " إن وفاة عيسى على الصليب هي عصب كل العقيدة المسيحية، إن كل النظريات المسيحية عن الله، وعن الخليقة، وعن الخطيئة، وعن الموت، تستمد محورها من المسيح المصلوب ". (1)

وهذا ما أكد عليه بولس حين ألغى دور الناموس معتمداً على أن المسيح صلب مكفراً بصلبه الخطيئة، فافتدانا بذلك من لعنة الناموس، فيقول: " وإن لم يكن المسيح قد قام، فباطل كرازتنا، وباطل أيضاً إيمانكم " (كورنثوس (1) 15/ 14).

وعليه نرى جلياً أهمية هذا الحدث التاريخي في الفكر النصراني، إذ يعتبره النصارى المحور الذي تدور حوله الحياة الإنسانية على وجه هذه البسيطة.

--------------------------------------------

(1) انظر: مسألة صلب المسيح بين الحقيقة والافتراء، أحمد ديدات، ص (10).
জুরগেন মল্টম্যান তাঁর "দ্য ক্রুসিফাইড গড" গ্রন্থে বলেন: "ক্রুশের ওপর ঈসার মৃত্যু হলো সমগ্র খ্রিস্টীয় ধর্মবিশ্বাসের প্রাণকেন্দ্র। ঈশ্বর, সৃষ্টিজগত, পাপ এবং মৃত্যু সম্পর্কে সমস্ত খ্রিস্টীয় তত্ত্ব তাদের মূল ভিত্তি এই ক্রুশবিদ্ধ মসীহ থেকেই গ্রহণ করে।" (১)

আর এটিই পৌল নিশ্চিত করেছেন যখন তিনি শরিয়তের ভূমিকা রহিত করে দিয়েছিলেন এই বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে যে, মসীহ ক্রুশবিদ্ধ হয়ে তাঁর আত্মত্যাগের মাধ্যমে পাপের প্রায়শ্চিত্ত করেছেন এবং এর মাধ্যমে তিনি আমাদের শরিয়তের অভিশাপ থেকে উদ্ধার করেছেন। তিনি বলেন: "আর যদি মসীহ পুনরুত্থিত না হয়ে থাকেন, তবে আমাদের প্রচার বৃথা এবং তোমাদের বিশ্বাসও বৃথা।" (১ করিন্থীয় ১৫:১৪)।

এর প্রেক্ষিতে আমরা খ্রিস্টীয় চিন্তাধারায় এই ঐতিহাসিক ঘটনার গুরুত্ব স্পষ্টভাবে অনুধাবন করতে পারি; কারণ খ্রিস্টানরা একে এমন একটি কেন্দ্রবিন্দু মনে করে যাকে ঘিরেই এই ধরণীতে মানবজীবন আবর্তিত হয়।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: মাসয়ালাতু সলবিল মাসিহ বাইনাল হাকিকতি ওয়াল ইফতিরা (খ্রিস্টের ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি: সত্য ও অপবাদের মাঝে), আহমদ দিদাত, পৃষ্ঠা (১০)।
(খণ্ড: ১) হাল ইফ্তাদানা আল-মাসিহু আলাস সলিব (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌صلب المسيح عند المسلمين

وأما الرأي الإسلامي فيتلخص في أن المسيح عليه السلام لم يصلب كما يدعي اليهود والنصارى.

وقد استند المسلمون - في هذا الرأي المخالف لما أجمعت عليه الأناجيل - إلى آيات القرآن الكريم وهي تقرر ذلك.

فقد أشارت الآيات إلى المؤامرة التي جرت للمسيح، وقررت أموراً يلحظها قارئ الآيات، فقد تحدثت الآيات عن نجاة المسيح من مؤامرة أعدائه، فقد قال تعالى - في معرض تعداده لنعم الله على المسيح -: {وإذ كففت بني إسرائيل عنك} (المائدة: 110).

وذلك ولا ريب في ذلك اليوم العصيب الذي جرت فيه مؤامرة الرومان مع اليهود بغية قتل المسيح وصلبه عليه السلام، ولكن الله مكر بهم فلم تفلح المؤامرة {ومكروا ومكر الله والله خير الماكرين} (آل عمران: 54)، فقد أنجى الله نبيه - المسيح - من مؤامرتهم وكيدهم.

وتخبر الآيات عن بعض ملامح هذه المؤامرة التي حاكها اليهود {وقولهم إنا قتلنا المسيح عيسى بن مريم رسول الله وما قتلوه وما صلبوه ولكن شبه لهم وإن الذين اختلفوا فيه لفي شك منه ما لهم به من علم إلا اتباع الظن وما قتلوه يقيناً - بل رفعه الله إليه وكان الله عزيزاً حكيماً} (النساء: 157 - 158).

وثمة آية أخرى تشير إلى رفعه ونجاته، وهي قوله تعالى: {إني متوفيك ورافعك إلى ومطهرك من الذين كفروا وجاعل الذين اتبعوك فوق الذين كفروا
মুসলিমদের নিকট মসীহের ক্রুশবিদ্ধকরণ

আর ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গির সারকথা হলো এই যে, মসীহ (আলাইহিস সালাম) ক্রুশবিদ্ধ হননি, যেমনটি ইহুদি ও নাসারারা দাবি করে থাকে।

সুসমাচারসমূহ (ইনজিল) যে বিষয়ে একমত পোষণ করেছে, তার বিপরীত এই মতের ক্ষেত্রে মুসলিমগণ পবিত্র কুরআনের আয়াতসমূহের ওপর ভিত্তি করেছেন, যা বিষয়টি নিশ্চিত করে।

আয়াতসমূহ মসীহের বিরুদ্ধে পরিচালিত ষড়যন্ত্রের প্রতি ইঙ্গিত করেছে এবং এমন কিছু বিষয় সাব্যস্ত করেছে যা আয়াত পাঠকারী লক্ষ্য করতে পারেন। আয়াতসমূহ তাঁর শত্রুদের ষড়যন্ত্র থেকে মসীহের মুক্তি পাওয়ার বিষয়ে আলোচনা করেছে। মহান আল্লাহ মসীহের ওপর তাঁর নেয়ামতসমূহের বর্ণনাকালে ইরশাদ করেছেন: {আর যখন আমি বনী ইসরাঈলকে তোমার থেকে নিবৃত্ত রেখেছিলাম} (আল-মায়িদাহ: ১১০)।

আর এটি নিঃসন্দেহে সেই কঠিন দিনের ঘটনা, যেদিন ইহুদিদের সাথে রোমানদের ষড়যন্ত্র সম্পন্ন হয়েছিল মসীহ (আলাইহিস সালাম)-কে হত্যা ও ক্রুশবিদ্ধ করার উদ্দেশ্যে। কিন্তু আল্লাহ তাদের বিরুদ্ধে কৌশল অবলম্বন করেন, ফলে ষড়যন্ত্র সফল হয়নি {আর তারা কৌশল অবলম্বন করেছিল এবং আল্লাহও কৌশল অবলম্বন করেন; আর আল্লাহ হলেন শ্রেষ্ঠ কৌশলী} (আলে ইমরান: ৫৪)। বস্তুত আল্লাহ তাঁর নবী মসীহকে তাদের চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র থেকে রক্ষা করেছেন।

আয়াতসমূহ ইহুদিদের দ্বারা রচিত সেই ষড়যন্ত্রের কিছু দিক সম্পর্কে সংবাদ দেয় {এবং তাদের এই কথার কারণে যে, ‘আমরা আল্লাহর রাসূল মারইয়াম-পুত্র মসীহ ঈসাকে হত্যা করেছি’; অথচ তারা তাকে হত্যা করেনি এবং ক্রুশেও দেয়নি, বরং তাদের জন্য (একজনকে) সদৃশ করা হয়েছিল। আর যারা এ বিষয়ে মতভেদ করেছে, তারা অবশ্যই এ ব্যাপারে সন্দেহের মধ্যে রয়েছে। ধারণা অনুসরণ করা ছাড়া এ বিষয়ে তাদের কোনো জ্ঞান নেই। আর তারা তাকে নিশ্চিতভাবে হত্যা করেনি—বরং আল্লাহ তাকে তাঁর নিজের কাছে তুলে নিয়েছেন এবং আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়} (আন-নিসা: ১৫৭ - ১৫৮)।

আরও একটি আয়াত রয়েছে যা তাঁর ঊর্ধ্বগমন ও মুক্তির প্রতি ইঙ্গিত করে, আর তা হলো মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই আমি তোমাকে পূর্ণরূপে গ্রহণ করব এবং তোমাকে আমার কাছে তুলে নেব এবং যারা কুফরি করেছে তাদের থেকে তোমাকে পবিত্র করব এবং যারা তোমার অনুসরণ করে তাদের কাফেরদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করব...}
(খণ্ড: ১) হাল ইফ্তাদানা আল-মাসিহু আলাস সলিব (পৃষ্ঠা: ১০)
إلى يوم القيامة} (آل عمران: 55).

كما أشارت الآيات إلى نجاته في قوله: {ويكلم الناس في المهد وكهلاً} (آل عمران: 46) والمعلوم أن المسيح رفع وهو في الثلاثينيات من عمره، والكهولة في اللغة مقترنة بالمشيب، ولما يدركه المسيح حال وجوده الأول، فدل على أنه سيعيش ويبلغ الكهولة، ويكلم الناس حينذاك، ولو صرفت عن هذا المعنى لما بقي لذكر الكهولة - وكلامه فيها - وجه، إذ ذكرت بين معجزات المسيح، والكلام في الكهولة كل أحد يطيقه، ولا معجزة في ذلك.

وقد ذكر القرآن في آية أخرى إشارة إلى نزوله عليه الصلاة والسلام في آخر الزمان وهي قوله تعالى: {وإنه لَعِلْم للساعة فلا تمترن بها} (الزخرف: 61).

ومثله قوله تعالى: {وإن من أهل الكتاب إلا ليؤمنن به قبل موته ويوم القيامة يكون عليهم شهيداً} (النساء: 159).

ولا تذكر النصوص القرآنية ولا النبوية أي تفصيل عن كيفية نجاة المسيح، لذا فقد حاول المحققون المسلمون تلمس الحقيقة التي أخبر عنها القرآن في النقول التي نقلها إلينا مسلمة أهل الكتاب أو نقبوا بحثاً عن الحقيقة في طيات أسفار أهل الكتاب، بحثاً عن هذه الكيفية التي نجى بها السيد المسيح من مؤامرة اليهود.

ولقد أفاد القرآن الكريم وقوع الصلب، ولكن على غير المسيح، وبين القرآن جهل اليهود وغيرهم بحقيقة المصلوب واختلافهم في شخصه، لما وقع من شبه المسيح عليه، وذلك في قوله تعالى: {وما قتلوه وما صلبوه ولكن شبّه لهم وإنّ الذين اختلفوا فيه لفي شك منه ما لهم به من علم إلا اتباع الظن} (النساء: 157).فالشك في الآية منصرف إلى شخصية المصلوب، ولم يحدد القرآن شخص هذا المصلوب، لكنه أكد
...কিয়ামত দিবস পর্যন্ত} (আলে ইমরান: ৫৫)।

যেমন আয়াতসমূহে তাঁর পরিত্রাণ লাভের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে মহান আল্লাহর এই বাণীতে: {এবং তিনি দোলনায় থাকা অবস্থায় ও পূর্ণ বয়সে মানুষের সাথে কথা বলবেন} (আলে ইমরান: ৪৬)। এটি সর্বজনবিদিত যে, মসীহ (আ.) যখন আকাশে উত্তোলিত হন, তখন তাঁর বয়স ছিল ত্রিশের কোঠায়। আর ভাষাগতভাবে 'কাহুলাহ' বা পূর্ণ বয়স বার্ধক্যের প্রাথমিক পর্যায়ের সাথে সংশ্লিষ্ট, যা মসীহ (আ.) তাঁর প্রথম পার্থিব জীবনে থাকাকালীন প্রাপ্ত হননি। সুতরাং এটি প্রমাণ করে যে, তিনি পুনরায় জীবিত থাকবেন এবং পূর্ণ বয়সে উপনীত হবেন এবং তৎকালীন সময়ে মানুষের সাথে কথা বলবেন। যদি এই অর্থ থেকে বিচ্যুত হওয়া হয়, তবে পূর্ণ বয়সের উল্লেখ এবং সেই সময়ে তাঁর কথা বলার বর্ণনার কোনো যৌক্তিকতা অবশিষ্ট থাকে না; কেননা এটি মসীহ (আ.)-এর মুজিজাসমূহের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে বর্ণিত হয়েছে, অথচ পূর্ণ বয়সে কথা বলা তো স্বাভাবিক বিষয় যা যে কেউ করতে পারে, এতে অলৌকিকত্বের কিছু নেই।

কুরআন মাজীদের অন্য একটি আয়াতে শেষ জামানায় তাঁর (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) অবতরণ সম্পর্কে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, যা হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আর নিশ্চয়ই তিনি কিয়ামতের একটি নিদর্শন, সুতরাং তোমরা এতে সন্দেহ পোষণ করো না} (আয-যুখরুফ: ৬১)।

অনুরূপভাবে মহান আল্লাহর বাণী: {আর আহলে কিতাবদের মধ্যে প্রত্যেকেই তাঁর মৃত্যুর পূর্বে তাঁর প্রতি অবশ্যই ঈমান আনবে এবং কিয়ামতের দিন তিনি তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষী হবেন} (আন-নিসা: ১৫৯)।

কুরআনের বর্ণনা বা নববী হাদীসসমূহে মসীহ (আ.)-এর পরিত্রাণ লাভের প্রক্রিয়া সম্পর্কে কোনো বিস্তারিত বিবরণ উল্লেখ করা হয়নি। এই কারণে মুসলিম গবেষকগণ কুরআনে বর্ণিত সেই সত্যটি অনুসন্ধানের চেষ্টা করেছেন সেই সকল বর্ণনার মাধ্যমে যা আহলে কিতাব থেকে ইসলাম গ্রহণকারীগণ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, অথবা তাঁরা আহলে কিতাবদের ধর্মগ্রন্থসমূহের পাতায় পাতায় সত্যের সন্ধান করেছেন; মূলত ইহুদিদের ষড়যন্ত্র থেকে ঈসা মসীহ (আ.)-এর রক্ষা পাওয়ার সেই প্রক্রিয়াটি অনুসন্ধানের উদ্দেশ্যেই তাঁরা এটি করেছেন।

আল-কুরআনুল কারীম ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার ঘটনাটি সাব্যস্ত করেছে, তবে তা মসীহ (আ.) ব্যতীত অন্য ব্যক্তির ক্ষেত্রে। কুরআন ইহুদি ও অন্যদেরকে যাকে ক্রুশবিদ্ধ করা হয়েছিল তার প্রকৃত পরিচয় সম্পর্কে অজ্ঞ হিসেবে বর্ণনা করেছে এবং সেই ব্যক্তির পরিচয় নিয়ে তাদের মতভেদের কথা উল্লেখ করেছে; কেননা মসীহ (আ.)-এর সদৃশ রূপ অন্য একজনের ওপর আপতিত হয়েছিল। মহান আল্লাহ বলেন: {অথচ তারা তাঁকে হত্যা করেনি এবং তাঁকে ক্রুশবিদ্ধও করেনি, বরং তাদের জন্য (অন্য একজনকে) তাঁর সদৃশ করা হয়েছিল। আর নিশ্চয়ই যারা তাঁর সম্পর্কে মতভেদ করেছে, তারা এ বিষয়ে সংশয়ে রয়েছে। ধারণা অনুসরণ করা ছাড়া এ বিষয়ে তাদের কোনো জ্ঞান নেই} (আন-নিসা: ১৫৭)। সুতরাং এই আয়াতে সংশয়টি ক্রুশবিদ্ধ ব্যক্তির পরিচয় সম্পর্কিত। কুরআন এই ক্রুশবিদ্ধ ব্যক্তির সুনির্দিষ্ট পরিচয় নির্ধারণ করেনি, তবে এটি নিশ্চিত করেছে যে...
(খণ্ড: ১) হাল ইফ্তাদানা আল-মাসিহু আলাস সলিব (পৃষ্ঠা: ১১)
على نجاة المسيح عليه الصلاة والسلام ورفعه للسماء {وما قتلوه يقيناً - بل رّفعه الله إليه وكان الله عزيزاً حكيماً} (النساء: 157 - 158).

إذاً القرآن ناطق بنجاة المسيح من مكر الماكرين، ورفعه إلى السماء، وأن أعداءه الذين أرادوا صلبه وقعوا في الشك وأخذوا غيره فصلبوه، فرفع الله المسيح عليه السلام، ولسوف يعود قبيل الساعة، فيكون مجيئه علامة على قرب انقضاء الدنيا صلى الله عليه وسلم.

 

‌‌أهمية إبطال صلب المسيح عند المسلمين.

يعتقد المسلمون أن الأنبياء كسائر البشر يموتون، وقد يكون موتهم قِتلةَ، ويحكي القرآن عن بني إسرائيل بأنهم كانوا يقتلون الأنبياء بغير حق، وعليه فلا حرج عندنا في موت نبي بأي قتلة قتله بها سفهاء قومه ومجرموهم، فالقتل لا يضير النبي المقتول، بل هو من اصطفاء الله له، إذ هو شهادة في سبيل الله ودينه.

فلماذا ذكر القرآن نجاة المسيح، وأصر على تكذيب النصارى في هذه المسالة؟

إن القرآن الكريم ذكر نجاة المسيح لمجرد إثبات الحقيقة، وإثبات ضعف وعجز اليهود عن بلوغ مرامهم، والمسلمون حين يتحدثون عن نجاة المسيح إنما يريدون إثبات هذه الحقيقة التي بشر بها كتابهم.

وأيضاً أدرك المسلمون الخطر التي تركته حادثة الصلب، والتي تحولت من حدث تاريخي إلى عقيدة عظيمة الشأن عند النصارى، فتقويضها يعني خواء النصرانية عن كل معنى، لذا يؤكد العلامة ديدات أن النصرانية لا تستطيع أن تقدم للناس أي فضيلة، سوى ما تزعمه من الخلاص بدم المسيح، فهي مثلاً لا تستطيع أن تقدم لنا نحن المسلمين الكرم أو النظافة أو .... فإذا ما بطل صلب المسيح، لم يبق للنصرانية مبرر للدعوة والوجود.
মসীহ (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর মুক্তি এবং আসমানে তাঁর আরোহন প্রসঙ্গে: {আর তারা তাঁকে নিশ্চিতভাবে হত্যা করেনি—বরং আল্লাহ তাঁকে নিজের কাছে তুলে নিয়েছেন এবং আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়} (আন-নিসা: ১৫৭-১৫৮)।

অতএব, কুরআন মসীহের ষড়যন্ত্রকারীদের কূটচাল থেকে মুক্তি এবং আসমানে তাঁর আরোহনের বিষয়ে সুস্পষ্ট ঘোষণা দিচ্ছে। তাঁর যেসব শত্রু তাঁকে ক্রুশবিদ্ধ করতে চেয়েছিল, তারা সন্দেহে নিপতিত হয়েছিল এবং অন্য একজনকে ধরে ক্রুশবিদ্ধ করেছিল। অতঃপর আল্লাহ মসীহ (আলাইহিস সালাম)-কে ঊর্ধ্বে তুলে নেন এবং অচিরেই কিয়ামতের প্রাক্কালে তিনি পুনরায় পৃথিবীতে প্রত্যাবর্তন করবেন। তাঁর এই আগমন হবে দুনিয়ার সমাপ্তি নিকটবর্তী হওয়ার একটি নিদর্শন। তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

 

‌‌মুসলিমদের নিকট মসীহের ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি নাকচ করার গুরুত্ব.

মুসলিমরা বিশ্বাস করে যে, অন্যান্য মানুষের মতো নবীরাও মৃত্যুবরণ করেন এবং তাঁদের মৃত্যু হত্যাকাণ্ডও হতে পারে। কুরআন বনী ইসরাঈল সম্পর্কে বর্ণনা করেছে যে, তারা অন্যায়ভাবে নবীদের হত্যা করত। সেই হিসেবে আমাদের নিকট কোনো নবীর তাঁর সম্প্রদায়ের নির্বোধ ও অপরাধীদের হাতে কোনো প্রকারে নিহত হওয়ায় কোনো বাধা নেই। কারণ হত্যাকাণ্ড নিহত নবীর কোনো ক্ষতি করে না, বরং তা আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর জন্য একটি বিশেষ নির্বাচন, কেননা এটি আল্লাহর পথে ও তাঁর দ্বীনের জন্য শাহাদাতস্বরূপ।

তবে কুরআন কেন মসীহের মুক্তির কথা উল্লেখ করেছে এবং এই বিষয়ে খ্রিস্টানদের দাবি অস্বীকার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে?

মূলত পবিত্র কুরআন মসীহের মুক্তির কথা উল্লেখ করেছে কেবল সত্য প্রতিষ্ঠার জন্য এবং ইহুদিদের হীনম্মন্যতা ও তাদের অশুভ উদ্দেশ্য সাধনে ব্যর্থতা প্রমাণের জন্য। মুসলিমরা যখন মসীহের মুক্তির বিষয়ে কথা বলে, তখন তারা কেবল তাদের কিতাবে বর্ণিত এই সত্যটিকেই প্রতিষ্ঠিত করতে চায়।

এছাড়াও মুসলিমগণ ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার ঘটনার দ্বারা সৃষ্ট বিপদটি উপলব্ধি করেছেন, যা খ্রিস্টানদের নিকট কেবল একটি ঐতিহাসিক ঘটনা থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক আকিদায় পরিণত হয়েছে। সুতরাং এই বিশ্বাসটি ভেঙে দেওয়ার অর্থ হলো খ্রিস্টধর্মকে তার যাবতীয় অর্থ থেকে শূন্য করে দেওয়া। এজন্য আল্লামা দিদাত জোর দিয়ে বলেছেন যে, মসীহের রক্তের বিনিময়ে তথাকথিত নাজাত বা মুক্তির দাবি ছাড়া খ্রিস্টধর্ম মানুষকে অন্য কোনো বিশেষ গুণ বা মহত্ত্ব উপহার দিতে সক্ষম নয়। উদাহরণস্বরূপ, তারা আমাদের অর্থাৎ মুসলিমদের বদান্যতা কিংবা পরিচ্ছন্নতা বা এ জাতীয় কিছু শেখাতে পারে না। সুতরাং মসীহের ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি বাতিল হয়ে গেলে খ্রিস্টধর্মের প্রচার ও টিকে থাকার আর কোনো যৌক্তিক ভিত্তি থাকে না।
(খণ্ড: ১) হাল ইফ্তাদানা আল-মাসিহু আলাস সলিব (পৃষ্ঠা: ১২)
وفي الآثار العقدية السلبية لفكرة الصلب ما يجعلها هدفاً للمسلمين ينبغي التركيز عليه، ومن هذه الآثار الاضطراب في نظرة المسيحية للإله.

فقد ظهر في القرن الثاني الميلادي تلميذ شهير لبولس، اسمه مركيون، وكان يعتقد بأن إله اليهود الذي أعطى الناموس لموسى، وخالق العالم كان شريراً، وأما إله المحبة فقد ظهر في المسيح، وهو معارض تماماً لخالق العالم.

ويتصور مركيون محاكمة من المسيح لخالق العالم ورب السماوات والأرض، فيقول: " نزل يسوع إلى رب المخلوقات في هيئة لاهوته، ودخل معه في قصاص بسبب موته على الصليب قتلاً … قال له يسوع: إن الدينونة بيني وبينك، لا تدع أي شخص آخر يكون قاضياً، إنما شرائعك ذاتها تقضي لي … ألم تكتب في ناموسك أن من قتل يقتل؟

وعندئذٍ أجاب (إله المخلوقات): لقد كتبت هذا .. قال له يسوع: سلم نفسك إذن ليدي .. قال خالق العالم: لأني قد ذبحتك، فإني أعطيك عوضاً، كل أولئك الذين يؤمنون بك، تستطيع أن تفعل بهم ما يرضيك.

عندئذٍ تركه يسوع، وحمل بولس بعيداً، وأراه الثمن، وأرسله ليكرز بأننا اشتُرينا بهذا الثمن، وأن كل من يؤمن بيسوع قد بيعوا عن طريق هذا الإله العادل إلى الإله الطيب ". (1)

فهذا الشطط في المعتقد إفراز طبيعي متجدد. يسببه تناقض العدل والرحمة، وأما القول بنجاة المسيح من القتل فيضع الأمور في ميزانها الصحيح، فتعبد البشرية ربها، وهي موقنة بأنها تعبد الرب العفُوّ الرحيم الكريم.

--------------------------------------------

(1) المسيح في مصادر العقائد المسيحية، أحمد عبد الوهاب، ص (279 - 280) نقلاً عن أدولف هنكر في كتابه "تاريخ العقيدة "، وانظر: "الإنجيل الرابع" هنري ديلافوس، ص (30 - 36).
ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার ধারণার আকিদাগত নেতিবাচক প্রভাবসমূহের মধ্যে এমন কিছু বিষয় রয়েছে যা একে মুসলিমদের জন্য একটি লক্ষ্যবস্তু করে তোলে যার ওপর গুরুত্বারোপ করা আবশ্যক। আর এসব প্রভাবের অন্যতম হলো ঈশ্বর সম্পর্কে খ্রিস্টধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে বিদ্যমান বিশৃঙ্খলা বা বিভ্রান্তি।

খ্রিস্টীয় দ্বিতীয় শতাব্দীতে পলের একজন বিখ্যাত শিষ্য আবির্ভূত হন, যার নাম ছিল মার্সিয়ন। তিনি বিশ্বাস করতেন যে, ইহুদিদের ঈশ্বর—যিনি মুসাকে শরিয়ত প্রদান করেছিলেন এবং বিশ্বজগত সৃষ্টি করেছিলেন—তিনি ছিলেন অশুভ বা অনিষ্টকারী। পক্ষান্তরে ভালোবাসার ঈশ্বর মসীহের মাঝে আত্মপ্রকাশ করেছেন, যিনি এই বিশ্বজগতের স্রষ্টার সম্পূর্ণ বিরোধী।

মার্সিয়ন মসীহের পক্ষ থেকে বিশ্বজগতের স্রষ্টা এবং আসমান ও জমিনের রবের একটি বিচারকার্য কল্পনা করেন। তিনি বলেন: "যিশু তাঁর ঐশ্বরিক সত্তার অবয়বে সৃষ্টির রবের কাছে অবতরণ করলেন এবং ক্রুশে হত্যার মাধ্যমে তাঁর মৃত্যুর কারণে তাঁর সাথে বিচারে লিপ্ত হলেন … যিশু তাঁকে বললেন: বিচার হবে আমার আর আপনার মাঝে, অন্য কাউকে বিচারক করবেন না; বরং আপনার নিজস্ব আইনই আমার পক্ষে রায় দেয় … আপনি কি আপনার বিধানে লিখে রাখেননি যে, যে ব্যক্তি হত্যা করে তাকেও হত্যা করা হবে?

তখন (সৃষ্টির ঈশ্বর) উত্তর দিলেন: আমি এটি লিখেছি... যিশু তাঁকে বললেন: তাহলে নিজেকে আমার হাতে সমর্পণ করুন... বিশ্বজগতের স্রষ্টা বললেন: যেহেতু আমি আপনাকে হত্যা করেছি, তাই আমি আপনাকে এর বিনিময় হিসেবে ঐ সকল ব্যক্তিকে প্রদান করছি যারা আপনার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে; আপনি তাদের সাথে আপনার ইচ্ছামতো আচরণ করতে পারেন।

তখন যিশু তাঁকে ছেড়ে দিলেন এবং পলকে দূরে নিয়ে গিয়ে তাঁকে এই মূল্য দেখালেন। অতঃপর তাকে এই প্রচার করার জন্য পাঠালেন যে, আমরা এই মূল্যের বিনিময়ে ক্রীত হয়েছি এবং যিশুর প্রতি বিশ্বাসী সকল ব্যক্তিকে এই ন্যায়পরায়ণ ঈশ্বর কর্তৃক দয়ালু ঈশ্বরের কাছে বিক্রি করা হয়েছে।" (১)

বিশ্বাসের ক্ষেত্রে এই বিচ্যুতি হলো একটি স্বাভাবিক ও পুনরাবৃত্তিমূলক পরিণতি, যা ন্যায়বিচার এবং করুণার মধ্যে কৃত্রিম স্ববিরোধিতার কারণে সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে, মসীহের হত্যার হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার বিষয়টি বিষয়গুলোকে সঠিক ভারসাম্যে স্থাপন করে। ফলে মানবজাতি তার রবের ইবাদত করে এই সুদৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে যে, তারা পরম ক্ষমাশীল, দয়ালু ও মহানুভব রবের ইবাদত করছে।

--------------------------------------------

(১) আল-মসীহ ফি মাসাদিরিল আকাইদ আল-মাসিহিয়্যাহ, আহমাদ আব্দুল ওয়াহহাব, পৃষ্ঠা (২৭৯ - ২৮০), অ্যাডলফ হারনাক-এর 'তاريخ العقيدة' (হিস্ট্রি অফ ডগম) গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃত। আরও দেখুন: 'الإنجيل الرابع' (দি ফোর্থ গসপেল), হেনরি ডিলাফোস, পৃষ্ঠা (৩০ - ৩৬)।
(খণ্ড: ১) হাল ইফ্তাদানা আল-মাসিহু আলাস সলিব (পৃষ্ঠা: ১৩)
وقصة النصارى في الخطيئة والفداء والشريعة يشبهها الأستاذ محمد حسن عبد الرحمن في كتابه "براهين تحتاج إلى تأمل في ألوهية المسيح"، يشبهها بقصة ملك تمرد عليه شعبه، فأرسل إليهم رسلاً يدعونهم إلى الخير والرجوع لسلطانه والإذعان لقوانين العدل والسلام التي وضعها.

لكن هؤلاء قتلوا رسله واستهزءوا بهم، وزادوا عتواً، فزاد غضب الملك عليهم، ثم ما لبث الملك أن أصدر قراراً بأنه سيبعث ابنه الوحيد ليضربوه ويقتلوه ويهينوه كفارة عن معاصيهم، فمن صدق ذلك فهو عنده الكريم المغفور له.

كما أصدر أمراً آخر بإلغاء كل قوانين العدل والرخاء السابقة.

وأصدر أمراً باعتبار الرضا بالقرارات السابقة كافياً للحكم على الراضي بأنه مواطن صالح مهما ارتكب من آثام وموبقات وجرائم.

وقد كانت حيثيات هذا القرار: أن الملك عادل، ومن عدله يقتص من المجرمين المخربين المفسدين في مملكته، ولكنه حباً لهم، وحتى لا يهلك كل من في المملكة رضي بأن يقتص من ابنه الوحيد البريء، الذي يعدل القصاص منه كل جرائم شعبه، وأمر بأن يعذب ثم يصلب. فما رأي النصارى بهذا الملك؟

ومثل هذا الملك لا يقال في حقه عادل أو ظالم، وإنما الأليق به أن يقال عنه بأنه غبي سفيه معتوه.

هذه كما يرى الأستاذ محمد حسن هي صورة الإله الذي تريد النصرانية المحرفة أن نعبده. (1)

وعقيدة الصلب والخطيئة والفداء وما تعلق بها سبب لنفور الناس من الدين

--------------------------------------------

(1) انظر: براهين تحتاج إلى تأمل في ألوهية المسيح، محمد حسن عبد الرحمن، ص (128 - 130).
পাপ, প্রায়শ্চিত্ত এবং শরীয়ত বিষয়ে খ্রিস্টানদের আকিদা বা বিশ্বাসকে উস্তাদ মুহাম্মদ হাসান আবদুর রহমান তাঁর "খ্রিস্টের ঈশ্বরত্ব বিষয়ে গভীর চিন্তার দাবীদার প্রমাণাদি" শীর্ষক গ্রন্থে এমন এক রাজার কাহিনীর সাথে তুলনা করেছেন, যার বিরুদ্ধে তাঁর প্রজারা বিদ্রোহ করেছিল। ফলে তিনি তাদের নিকট একদল বার্তাবাহক প্রেরণ করলেন, যারা তাদেরকে কল্যাণের পথে, তাঁর সার্বভৌমত্বের অধীনে ফিরে আসতে এবং তাঁর প্রতিষ্ঠিত ন্যায়বিচার ও শান্তির আইনের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শনের আহ্বান জানান।

কিন্তু তারা তাঁর বার্তাবাহকদের হত্যা করল ও উপহাস করল এবং তাদের অবাধ্যতা আরও বৃদ্ধি পেল। এতে প্রজাদের ওপর রাজার ক্রোধ চরমে পৌঁছাল। এরপর রাজা শীঘ্রই এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করলেন যে, তিনি তাঁর একমাত্র পুত্রকে প্রেরণ করবেন যাতে তারা তাঁকে প্রহার করে, হত্যা করে এবং লাঞ্ছিত করে; আর এটিই হবে তাদের পাপের কাফফারা বা প্রায়শ্চিত্ত। সুতরাং যে ব্যক্তি এই বিষয়টি বিশ্বাস করবে, সে রাজার নিকট সম্মানিত ও ক্ষমাপ্রাপ্ত বলে গণ্য হবে।

পাশাপাশি তিনি পূর্ববর্তী সকল ন্যায়বিচার ও জনকল্যাণমূলক আইন বাতিল করার আরেকটি আদেশ জারি করলেন।

তিনি আরও আদেশ দিলেন যে, পূর্বোক্ত সিদ্ধান্তগুলোর প্রতি কেবল সন্তুষ্টি পোষণ করাই সেই ব্যক্তিকে একজন সুনাগরিক হিসেবে গণ্য করার জন্য যথেষ্ট হবে, চাই সে যত বড় অপরাধ, অন্যায় বা ধ্বংসাত্মক কর্মেই লিপ্ত হোক না কেন।

এই সিদ্ধান্তের যৌক্তিক ভিত্তি ছিল এই যে: রাজা অত্যন্ত ন্যায়পরায়ণ, আর তাঁর ন্যায়বিচারের দাবি হলো তাঁর রাজ্যের অপরাধী, অনিষ্টকারী ও ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের শাস্তি প্রদান করা। কিন্তু প্রজাদের প্রতি ভালোবাসার বশবর্তী হয়ে এবং রাজ্যের আবালবৃদ্ধবনিতা যাতে সমূলে বিনাশ না হয়, সেজন্য তিনি তাঁর একমাত্র নিরপরাধ পুত্রের ওপর দণ্ড কার্যকর করতে সম্মত হলেন; যার শাস্তি ভোগ করাটা তাঁর প্রজাদের সমস্ত অপরাধের দণ্ডের সমতুল্য। তিনি আদেশ দিলেন যেন তাঁর পুত্রকে নির্যাতন করা হয় এবং অতঃপর ক্রুশবিদ্ধ করা হয়। এমন রাজার ব্যাপারে খ্রিস্টানদের ধারণা কী?

এই ধরনের রাজার ক্ষেত্রে ন্যায়পরায়ণ বা অন্যায়কারী—কোনটিই বলা প্রযোজ্য নয়, বরং তাঁর ক্ষেত্রে এটি বলাই অধিকতর সমীচীন যে, সে একজন নির্বোধ, কাণ্ডজ্ঞানহীন এবং বিকৃতমস্তিষ্ক।

উস্তাদ মুহাম্মদ হাসানের দৃষ্টিতে, এটিই হলো সেই উপাস্যের চিত্রকল্প, বিকৃত খ্রিস্টধর্ম যার ইবাদত করতে আমাদের আহ্বান জানায়। (১)

বস্তুত ক্রুশবিদ্ধকরণ, আদিপাপ ও প্রায়শ্চিত্তের আকিদা এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো মানুষের ধর্মবিমুখ হওয়ার অন্যতম কারণ।

--------------------------------------------

(১) দ্রষ্টব্য: বারাহিনু তাহতাজু ইলা তআম্মুলিন ফি উলুহিয়্যাতিল মাসিহ, মুহাম্মদ হাসান আবদুর রহমান, পৃষ্ঠা (১২৮ - ১৩০)।
(খণ্ড: ১) হাল ইফ্তাদানা আল-মাসিহু আলাস সলিব (পৃষ্ঠা: ১৪)
وانتشار الإلحاد، إذ لم يرضَ الناس بعبادة رب ظالم، أو رب مصلوب كالذي تريد الكنيسة من الناس أن يعبدوه.

ولعل من صور هذا الشطط ما نراه من انتشار الإلحاد الذي سببته عقيدة موت الإله بسبب الفداء كما قال نيتشة: " إن كان من شأن فكرة الله أن تسقط ضلال الخطيئة على براءة الأرض، فإنه لابد للمؤمنين بالحس الأرضي أن يهووا بمعاولهم على تلك الفكرة ".

ويقول: " طوبى لأتقياء القلب، لأنهم لا يعاينون الله … لقد صرنا بشراً، ولهذا فإننا لا نريد إلا ملكوت الأرض، إلى أين مضى الله؟ سأقول لكم إلى أين مضى؟ لقد قتلناه، أنتم وأنا، أجل، نحن الذين قتلناه، نحن جميعاً قاتلوه، ألا تشمون رائحة العفن الإلهي؟ إن الآلهة أيضاً تتعفن، لقد مات الله وسيظل ميتاً ". (1)

بل إن سذاجة فكرة الخطيئة والفداء وغرابتها جعلها محلاً للسخرية والهزء كما يقول ج. ر سنوت في كتابه " المسيحية الأصلية": " ومن المدهش أن هذه القضية الخاصة بيسوع ابن الله ليس محبوباً في العصر الحاضر، ويقال عن حمله خطايانا، ورفعه قصاصها عنا: إنه عمل غير عادل وغير أدبي وغير لائق، ويمكن تحويله إلى سخرية وهزء ". (2)

--------------------------------------------

(1) مسيحية بلا مسيح، كامل سعفان، ص (76).

(2) المسيح في القرآن والتوراة والإنجيل، عبد الكريم الخطيب، ص (372).
এবং নাস্তিক্যবাদের বিস্তার; কেননা মানুষ কোনো অন্যায্য উপাস্য কিংবা এমন কোনো ক্রুশবিদ্ধ ঈশ্বরের উপাসনায় তুষ্ট হতে পারেনি, গির্জা মানুষকে যার উপাসনা করার আহ্বান জানায়।

সম্ভবত এই বিচ্যুতির অন্যতম বহিঃপ্রকাশ হলো নাস্তিক্যবাদের সেই ব্যাপ্তি, যার মূলে রয়েছে প্রায়শ্চিত্তের ধারণার ফলে 'ঈশ্বরের মৃত্যু'র মতবাদ। যেমন নিৎসে বলেছিলেন: "যদি ঈশ্বরের ধারণা জাগতিক নিষ্কলঙ্কতার ওপর পাপের কলঙ্ক লেপন করে, তবে পার্থিব চেতনায় বিশ্বাসীদের জন্য অপরিহার্য হলো তাদের কুঠারাঘাতে সেই ধারণাকে চূর্ণবিচূর্ণ করে দেওয়া।"

তিনি আরও বলেন: "সেই নির্মল হৃদয়ের অধিকারীদের জন্য শুভকামনা, কারণ তারা ঈশ্বরের দর্শন পাবে না … আমরা মানুষে রূপান্তরিত হয়েছি, ফলে আমরা কেবল মর্ত্যের রাজত্বই কামনা করি। ঈশ্বর কোথায় প্রস্থান করেছেন? আমি তোমাদের বলছি তিনি কোথায় গিয়েছেন। আমরাই তাঁকে হত্যা করেছি—আমি এবং আপনারা। হ্যাঁ, আমরাই তাঁর হন্তারক, আমরা সকলেই তাঁর খুনি। আপনারা কি ঈশ্বরীয় পচনের দুর্গন্ধ পাচ্ছেন না? দেবতারাও পচে যায়। ঈশ্বর মৃত্যুবরণ করেছেন এবং তিনি মৃতই থাকবেন।" (১)

এমনকি পাপ ও প্রায়শ্চিত্তের ধারণার এই সারল্য ও অদ্ভুত প্রকৃতি একে উপহাস ও বিদ্রূপের বিষয়ে পরিণত করেছে। যেমনটি জে. আর. স্নোট তাঁর 'অরিজিনাল ক্রিশ্চিয়ানিটি' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন: "এটি বিস্ময়কর যে, ঈশ্বরের পুত্র হিসেবে যিশুর এই বিষয়টি বর্তমান যুগে সমাদৃত নয়। আমাদের পাপভার গ্রহণ এবং আমাদের ওপর থেকে এর দণ্ড লাঘব করার বিষয়টি সম্পর্কে বলা হয় যে: এটি একটি অন্যায্য, অনৈতিক ও অসংগত কর্ম, যা উপহাস ও বিদ্রূপের বস্তুতে পরিণত হতে পারে।" (২)

--------------------------------------------

(১) মাসিহিয়্যাহ বিলা মাসিহ, কামিল সা'ফান, পৃষ্ঠা (৭৬)।

(২) আল-মাসিহ ফিল কুরআন ওয়াত তাওরাহ ওয়াল ইনজিল, আবদুল করিম আল-খাতিব, পৃষ্ঠা (৩৭২)।
(খণ্ড: ১) হাল ইফ্তাদানা আল-মাসিহু আলাস সলিব (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌نقد الروايات الإنجيلية لحادثة الصلب

تناقل النصارى روايات صلب المسيح جيلاً بعد جيل، حتى إذا جاء القرن الميلادي السابع، أعلن محمد صلى الله عليه وسلم بطلان وقوع الصلب على المسيح.

ويتساءل النصارى كيف له أن يقول ذلك، وأن يكذب الحواريين وشهود العيان الذين سجلوا لنا بشهاداتهم الخطية ما رأوه؟

فالأناجيل التي كتبها الإنجيليون الأربعة هي برهان القوم لو سئلوا، وقيل لهم: {قل هاتوا برهانكم إن كنتم صادقين} (البقرة: 111)، فالكتاب المقدس وفي أكثر من ألف لغة إنسانية يتحدث عن صلب المسيح. وهذا هو البرهان.

ويرى العلامة ديدات أنه يفرض علينا تفحص هذا البرهان، والنظر في حال الشهود الأربعة الذين يشهدون بوقوع صلب المسيح.

وهنا يسجل ديدات أول ملاحظات المسلمين على الشهود، وهي أن اثنين من الشهود الأربعة لم يروا المسيح، ولم يكونوا من تلاميذه، فكيف يعتبرون شهوداً؟ ويقصد مرقس ولوقا.

والملاحظة الثانية: أن شهود الإثبات جميعاً لم يحضروا الواقعة التي يشهدون فيها، كما قال مرقس: " فتركه الجميع وهربوا " (مرقس 14/ 50)، ومثل هذه القضية لو عرضت على أي محكمة متحضرة لسارعت إلى رد شهادة هؤلاء الشهود في أقل من دقيقتين.

ثم هذه الشهادة مسجلة على أكثر من خمسة آلاف مخطوط يتفاخر بكثرتها النصارى، ولا يوجد منها مخطوطتان متطابقتان، ثم لو تطابقت جميعها، فإن أياً منها لم يسجَّل بخط مؤلفه، وإن نُسب إليه. (1)

--------------------------------------------

(1) انظر: مسألة صلب المسيح بين الحقيقة والافتراء، أحمد ديدات، ص (18 - 20).
ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা সংক্রান্ত ইঞ্জিলীয় বর্ণনাগুলোর পর্যালোচনা

খ্রিস্টানরা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে মসীহের ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার বিবরণগুলো বর্ণনা করে আসছিল, অবশেষে যখন সপ্তম খ্রিস্টীয় শতাব্দী এলো, তখন মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মসীহের ওপর ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটার অসারতা ঘোষণা করেন।

খ্রিস্টানরা প্রশ্ন করে যে, তিনি কীভাবে এ কথা বলতে পারেন এবং সেই হাওয়ারি (শিষ্য) ও প্রত্যক্ষদর্শীদের কীভাবে মিথ্যা প্রতিপন্ন করতে পারেন যারা তাদের লিখিত সাক্ষ্যের মাধ্যমে যা দেখেছিলেন তা আমাদের জন্য নথিবদ্ধ করেছেন?

কেননা চারজন সুসমাচার লেখক কর্তৃক রচিত ইঞ্জিলসমূহ হলো সেই জাতির দলিল যদি তাদের জিজ্ঞাসা করা হয় এবং তাদের বলা হয়: {তোমরা যদি সত্যবাদী হও তবে তোমাদের প্রমাণ পেশ করো} (আল-বাকারাহ: ১১১)। সুতরাং পবিত্র বাইবেল এক হাজারেরও বেশি মানব ভাষায় মসীহের ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার কথা বলে। আর এটিই হলো প্রমাণ।

আল্লামা দিদাত মনে করেন যে, আমাদের ওপর এই প্রমাণটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করা এবং মসীহের ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার ঘটনার সাক্ষ্যদানকারী চারজন সাক্ষীর অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা আবশ্যক।

এখানে দিদাত সাক্ষীদের ব্যাপারে মুসলমানদের প্রথম পর্যবেক্ষণটি লিপিবদ্ধ করেছেন, আর তা হলো চারজন সাক্ষীর মধ্যে দুইজন মসীহকে দেখেননি এবং তাঁর শিষ্যদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না, তবে কীভাবে তাদের সাক্ষী হিসেবে গণ্য করা হয়? এর দ্বারা তিনি মার্ক ও লুককে বুঝিয়েছেন।

দ্বিতীয় পর্যবেক্ষণ: প্রমাণের সাক্ষীদের কেউই সেই ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলেন না যে বিষয়ে তারা সাক্ষ্য দিচ্ছেন, যেমনটি মার্ক বলেছেন: "তখন সবাই তাঁকে ছেড়ে পালিয়ে গেল" (মার্ক ১৪/ ৫০)। এই ধরনের মামলা যদি কোনো সভ্য আদালতে পেশ করা হতো, তবে আদালত দুই মিনিটেরও কম সময়ে এই সাক্ষীদের সাক্ষ্য প্রত্যাখ্যান করতে সচেষ্ট হতো।

তদুপরি, এই সাক্ষ্য পাঁচ হাজারেরও বেশি পাণ্ডুলিপিতে নথিবদ্ধ রয়েছে যেগুলোর আধিক্য নিয়ে খ্রিস্টানরা গর্ব করে থাকে, অথচ সেগুলোর মধ্যে এমন দুটি পাণ্ডুলিপি নেই যা সম্পূর্ণ অভিন্ন। আবার যদি সেগুলো সব একও হতো, তবুও সেগুলোর কোনটিই মূল লেখকের স্বহস্তে লিখিত নয়, যদিও তা তাঁদের দিকেই সম্বন্ধযুক্ত করা হয়। (১)

--------------------------------------------

(১) দেখুন: মাসআলাতু সলবিল মাসিহ বাইনাল হাকিকাহ ওয়াল ইফতিরা (মসীহের ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি: সত্য ও মিথ্যার মাঝে), আহমদ দিদাত, পৃষ্ঠা (১৮ - ২০)।
(খণ্ড: ১) হাল ইফ্তাদানা আল-মাসিহু আলাস সলিব (পৃষ্ঠা: ১৬)
يقول اينوك باول في كتابه " تطور الأناجيل ": قصة صلب الرومان للمسيح لم تكن موجودة في النص الأصلي للأناجيل. وقد استند في ذلك على إعادته ترجمة نسخة متى اليونانية، فتبين له أن هناك أجزاء وردت مكررة في هذا الإنجيل، مما يوحي بأنه أعيدت كتابتها في مرحلة تالية. (1)

ومن التغيرات التي لاحظها علماء الغرب في مخطوطات الكتاب وهي تتحدث عن الصلب أنه قد تمت إضافة أجزاء للقصة حسب رؤية النساخ وتقديرهم، فقد جاء في مرقس: " وفي اليوم الأول من الفطير، حين كانوا يذبحون الفصح، قال له تلاميذه: أين تريد أن نمضي ونعد لتأكل الفصح؟ فأرسل اثنين من تلاميذه، وقال لهما: اذهبا إلى المدينة، فيلاقيكما إنسان حامل جرة ماء اتبعاه .. " (مرقس 14/ 12 - 16).

ويرى دنيس نينهام مفسر مرقس في تفسيره (ص 376) أن أغلب المفسرين يعتقدون أن هذه الفقرات أضيفت فيما بعد لرواية مرقس. وأنهم قد استندوا لأمرين: أولهما: أنه وصف اليوم الذي قيلت فيه القصة بأسلوب لا يستخدمه يهودي معاصر للمسيح. والثاني: أن كاتب العدد 17 " ولما كان المساء جاء مع الإثني عشر .. " (مرقس 14/ 17) فهو يتحدث عن جلوس المسيح مع تلاميذه الإثني عشر، وهو لا يعلم شيئاً عن رحلة اثنين منهم [بطرس ويوحنا حسب لوقا 22/ 8] لإعداد الفصح، فلو كان كاتب العدد 17 يعلم محتويات تلك الفقرة، لكان عليه أن يتحث عن العشرة، وليس عن الاثني عشر، أي أن العدد 17 كان يجب أن يقرأ هكذا: (ولما كان المساء جاء مع العشرة).

ومن التلاعب الذي تعرضت له نسخ الأناجيل أيضاً؛ ما ذكره جورج كيرد شارح إنجيل لوقا، فقد جاء في لوقا أن المسيح قال على الصليب: " يا أبتاه اغفر لهم،

--------------------------------------------

(1) مخطوطات البحر الميت، أحمد عثمان، ص (139 - 144).
ইনোক পাওয়েল তাঁর 'ইভোলিউশন অফ দ্য গসপেলস' (সুসমাচারসমূহের বিবর্তন) গ্রন্থে বলেন: রোমানদের দ্বারা মসিহের ক্রুশারোহণের কাহিনী সুসমাচারসমূহের মূল পাঠে বিদ্যমান ছিল না। তিনি মথির গ্রিক পাণ্ডুলিপির পুনঃঅনুবাদ করার মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন। তাঁর নিকট প্রতীয়মান হয়েছে যে, এই ইঞ্জিলে এমন কিছু অংশ রয়েছে যা পুনরাবৃত্ত হয়েছে, যা ইঙ্গিত দেয় যে এটি পরবর্তী কোনো এক পর্যায়ে পুনর্লিখিত হয়েছিল। (১)

ক্রুশারোহণ প্রসঙ্গে ধর্মগ্রন্থের পাণ্ডুলিপিগুলোতে পশ্চিমা পণ্ডিতগণ যে সকল পরিবর্তন লক্ষ্য করেছেন, তার মধ্যে অন্যতম হলো—লিপিকারদের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি ও অনুমান অনুযায়ী কাহিনীর কিছু অংশ এতে সংযোজন করা হয়েছে। মার্কের বর্ণনায় এসেছে: "তাড়ীশূন্য রুটির উৎসবের প্রথম দিনে, যখন নিস্তারপর্বের মেষ বলি দেওয়া হত, তখন তাঁর শিষ্যরা তাঁকে বললেন, 'আমরা কোথায় গিয়ে আপনার জন্য নিস্তারপর্বের ভোজ প্রস্তুত করব, তা আপনি চান?' তখন তিনি তাঁর শিষ্যদের মধ্য থেকে দু’জনকে পাঠিয়ে দিলেন এবং তাঁদের বললেন, 'শহরে যাও, সেখানে জলের কলস নিয়ে এক ব্যক্তির সাথে তোমাদের দেখা হবে, তোমরা তার পিছু নিও...'" (মার্ক ১৪: ১২-১৬)।

মার্কের ভাষ্যকার ডেনিস নাইনহ্যাম তাঁর তাফসিরে (পৃষ্ঠা ৩৭৬) উল্লেখ করেছেন যে, অধিকাংশ ব্যাখ্যাকারী মনে করেন এই অনুচ্ছেদগুলো পরবর্তীকালে মার্কের বর্ণনায় যুক্ত করা হয়েছে। তাঁরা এক্ষেত্রে দুটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করেছেন: প্রথমত, কাহিনীটি যে দিনের বর্ণনায় বলা হয়েছে, সেখানে এমন শব্দশৈলী ব্যবহৃত হয়েছে যা মসিহের সমসাময়িক কোনো ইহুদির পক্ষে ব্যবহার করা সম্ভব নয়। দ্বিতীয়ত, ১৭ নম্বর আয়াতের লেখক ("সন্ধ্যা হলে তিনি বারোজনকে নিয়ে আসলেন..." মার্ক ১৪: ১৭) এখানে মসিহের তাঁর বারোজন শিষ্যের সাথে বসার কথা বলছেন; অথচ নিস্তারপর্বের ভোজ প্রস্তুত করতে যাওয়া সেই দুই শিষ্যের [লূক ২২: ৮ অনুযায়ী পিতর ও যোহন] যাত্রা সম্পর্কে তাঁর কোনো ধারণা নেই। যদি ১৭ নম্বর আয়াতের লেখক সেই অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু সম্পর্কে জানতেন, তবে তিনি দশজন শিষ্যের কথা বলতেন, বারোজন নয়। অর্থাৎ ১৭ নম্বর আয়াতটি এমন হওয়া উচিত ছিল: (সন্ধ্যা হলে তিনি দশজনকে নিয়ে আসলেন)।

সুসমাচারসমূহের পাণ্ডুলিপিগুলোতে যে সকল বিকৃতি বা হস্তক্ষেপ ঘটেছে, তার মধ্যে লূক লিখিত সুসমাচারের ব্যাখ্যাকারী জর্জ কেয়ার্ড কর্তৃক বর্ণিত বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত। লূকের বর্ণনায় এসেছে যে, ক্রুশে থাকাকালীন মসিহ বলেছিলেন: "হে পিতা, এদের ক্ষমা করুন,"

--------------------------------------------

(১) মৃত সাগরের পাণ্ডুলিপি (ডেড সি স্ক্রলস), আহমদ ওসমান, পৃষ্ঠা (১৩৯ - ১৪৪)।
(খণ্ড: ১) হাল ইফ্তাদানা আল-মাসিহু আলাস সলিব (পৃষ্ঠা: ১৭)
لأنهم لا يعلمون ماذا يفعلون " (لوقا 23/ 33 - 34)، ولم يذكرها غيره من الإنجيليين، كما أغفلتها أهم المخطوطات كالفاتيكانية وواشنطن، يقول كيرد (ص 251): " لقد قيل إن هذه الصلاة ربما تكون قد محيت من إحدى النسخ الأولى للإنجيل بواسطة أحد كتبة القرن الثاني، الذي ظن أنه شيء لا يمكن تصديقه أن يغفر الله لليهود، وبملاحظة ما حدث من تدمير مزدوج لأورشليم في عامي 70م و 135م صار من المؤكد أن الله لم يغفر لهم". (1)

 

‌‌أولاً: تناقضات روايات الصلب في الأناجيل

وتتحدث الأناجيل الأربعة - وهي المصدر الأساس لقصة الصلب - عن تفاصيل كثيرة في رواية الصلب، والمفروض لو كانت هذه الروايات وحياً كما يدعي النصارى، أن تتكامل روايات الإنجيليين الأربعة وتتطابق.

ولكن عند تفحص هذه الروايات نجد كثيراً من التناقضات والاختلافات التي لا يمكن الجمع بينها، ولا جواب عنها إلا التسليم بكذب بعض هذه الروايات، أو تكذيب رواية متى في مسألة، وتكذيب مرقس في أخرى …

من هذه التناقضات:

 

‌‌هل ذهب رؤساء الكهنة للقبض على المسيح؟

مَن الذي ذهب للقبض على يسوع؟ يقول متى: " جمع كثير بسيوف وعصي من عند رؤساء الكهنة وشيوخ الشعب " (متى 26/ 47)، وزاد مرقس بأن ذكر أن من الجمع الكتبةَ والشيوخ (انظر مرقس 14/ 43)، فيما ذكر يوحنا أن الآتين هم جند الرومان وخدم من عند رؤساءَ الكهنة (انظر يوحنا 18/ 3) ولم يذكر أي من الثلاثة

--------------------------------------------

(1) انظر: المسيح في مصادر العقائد المسيحية، أحمد عبد الوهاب، ص (133 - 136، 170).
"কারণ তারা জানে না তারা কী করছে" (লূক ২৩/ ৩৩ - ৩৪), এবং অন্য কোনো সুসমাচার লেখক এটি উল্লেখ করেননি। এমনকি ভ্যাটিকান ও ওয়াশিংটনের মতো গুরুত্বপূর্ণ পাণ্ডুলিপিগুলো থেকেও এটি বাদ পড়েছে। কেয়ার্ড (পৃ. ২৫১) বলেন: "বলা হয়ে থাকে যে, এই প্রার্থনাটি সম্ভবত দ্বিতীয় শতাব্দীর কোনো একজন লিপিকার দ্বারা ইঞ্জিলের প্রাথমিক অনুলিপিগুলোর একটি থেকে মুছে ফেলা হয়েছে, যিনি মনে করেছিলেন যে ঈশ্বর ইহুদিদের ক্ষমা করবেন—এটি একটি অবিশ্বাস্য বিষয়। ৭০ খ্রিস্টাব্দ এবং ১৩৫ খ্রিস্টাব্দে জেরুসালেমের দ্বৈত ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনাটি পর্যবেক্ষণ করলে এটি নিশ্চিত হওয়া যায় যে, ঈশ্বর তাদের ক্ষমা করেননি।" (১)

 

‌‌প্রথমত: সুসমাচারসমূহে ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার বর্ণনার বৈপরীত্যসমূহ

চারটি সুসমাচার—যা ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার কাহিনীর মূল উৎস—ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার বিবরণে অনেক বিশদ তথ্য প্রদান করে। খ্রিস্টানদের দাবি অনুযায়ী যদি এই বর্ণনাগুলো ওহী বা প্রত্যাদেশ হতো, তবে চার সুসমাচার লেখকের বর্ণনাসমূহ একে অপরের পরিপূরক এবং পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ার কথা ছিল।

কিন্তু এই বর্ণনাগুলো গভীরভাবে পরীক্ষা করলে আমরা এমন অনেক বৈপরীত্য ও ভিন্নতা দেখতে পাই যেগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধন করা অসম্ভব। এর একমাত্র উত্তর হতে পারে এই যে, এই বর্ণনাগুলোর কোনো কোনোটিকে মিথ্যা বলে স্বীকার করে নেওয়া অথবা কোনো বিষয়ে মথির বর্ণনাকে এবং অন্য বিষয়ে মার্কের বর্ণনাকে অস্বীকার করা …

এই বৈপরীত্যগুলোর মধ্যে রয়েছে:

 

‌‌প্রধান যাজকরা কি মসীহকে গ্রেপ্তার করতে গিয়েছিলেন?

ঈসাকে গ্রেপ্তার করতে কে গিয়েছিল? মথি বলছেন: "প্রধান যাজক ও জনগণের প্রাচীনবর্গের পক্ষ থেকে তলোয়ার ও লাঠিসোঁটাসহ এক বিশাল জনতা" (মথি ২৬/ ৪৭)। মার্ক এই তালিকায় শাস্ত্রবিদ ও প্রাচীনবর্গের নাম যোগ করেছেন (দেখুন: মার্ক ১৪/ ৪৩)। অন্যদিকে ইউহান্না উল্লেখ করেছেন যে, যারা এসেছিল তারা ছিল রোমান সৈন্য এবং প্রধান যাজকদের পক্ষ থেকে আসা সেবক (দেখুন: ইউহান্না ১৮/ ৩)। কিন্তু এই তিনজনের কেউই উল্লেখ করেননি

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-মসীহ ফী মাসাদির আল-আকাইদ আল-মাসীহিয়্যাহ, আহমদ আব্দুল ওয়াহাব, পৃষ্ঠা (১৩৩ - ১৩৬, ১৭০)।
(খণ্ড: ১) হাল ইফ্তাদানা আল-মাসিহু আলাস সলিব (পৃষ্ঠা: ১৮)
مجيء رؤساء الكهنة، ولو كانوا قد حضروا لما صح إغفال ذكرهم مع الحاضرين، فهم ليسوا أقل أهمية من الكتبة والشيوخ والدهماء.

ولكن لوقا ذكر أن رؤساء الكهنة جاءوا بأنفسهم للقبض على المسيح إذ يقول: " قال يسوع لرؤساء الكهنة وقواد جند الهيكل والشيوخ المقبلين عليه " (لوقا 22/ 52). فالتناقض بين لوقا والباقين ظاهر.

 

‌‌متى حوكم المسيح في مجمع اليهود؟

وتذكر الأناجيل محاكمة المسيح في مجمع اليهود، وتتفق في وصف الكثير مما جرى في أثناء المحاكمة، كاستفسار كبير الكهنة عن شخص الماثل بين يديه، وإجابته له أن ابن الإنسان عن يمين قوة الله، وأنه سوف يأتي في سحاب السماء. (انظر لوقا 22/ 67 - 69، ومرقس 14/ 61 - 63، ومتى 26/ 63 - 64).

ولكنهم اختلفوا في موعد هذه الجلسة من جلسات المحاكمة، إذ يجعلها لوقا صباح الليلة التي قبض عليه فيها فيقول: " ولما كان النهار اجتمعت مشيخة الشعب رؤساء الكهنة والكتبة، وأَصعدوه إلى مجمعهم قائلين: إن كنت أنت المسيح فقل لنا؟ .... " (لوقا 22/ 66 - 67).

وأما الإنجيليون الثلاثة فإنهم يجعلون هذه المحاكمة في ليلة القبض عليه، فيقول مرقس: " فمضوا بيسوع إلى رئيس الكهنة، فاجتمع معه جميع رؤساء الكهنة والشيوخ والكتبة .... " (مرقس 14/ 53) (وانظر: متى 26/ 57، ويوحنا 18/ 3).

 

‌‌كم مرة سيصيح الديك؟

وتبع بطرس المسيح من بعيد ليرى محاكمته، وقد أخبره المسيح بأنه سينكره في تلك الليلة ثلاث مرات قبل أن يصيح الديك مرتين حسب مرقس " قبل أن يصيح
প্রধান যাজকদের আগমন; আর যদি তারা উপস্থিত থাকতেন, তবে অন্যান্য উপস্থিতদের সাথে তাদের নাম উল্লেখ না করা সমীচীন হতো না। কারণ তারা শাস্ত্রজ্ঞ, প্রাচীনবর্গ এবং সাধারণ জনতা অপেক্ষা কোনোভাবেই কম গুরুত্বপূর্ণ নন।

কিন্তু লূক উল্লেখ করেছেন যে, প্রধান যাজকরা মসীহকে গ্রেফতার করার জন্য নিজেরাই এসেছিলেন। তিনি বলেন: "যীশু তাঁর নিকটবর্তী হওয়া প্রধান যাজকগণ, মন্দিরের রক্ষীবাহিনীর সেনাপতিগণ এবং প্রাচীনবর্গকে বললেন" (লূক ২২: ৫২)। সুতরাং লূক এবং অবশিষ্টদের বর্ণনার মধ্যে বৈপরীত্য সুস্পষ্ট।

 

‌ইহুদি মহাসভায় মসীহের বিচার কখন হয়েছিল?

ইঞ্জিলসমূহ ইহুদি মহাসভায় মসীহের বিচারের কথা উল্লেখ করে এবং বিচার চলাকালীন ঘটে যাওয়া অনেক ঘটনার বর্ণনায় তারা একমত পোষণ করে, যেমন বিচারকের সামনে দণ্ডায়মান ব্যক্তির পরিচয় সম্পর্কে প্রধান যাজকের জিজ্ঞাসাবাদ এবং তাঁর উত্তর যে, মনুষ্যপুত্র আল্লাহর শক্তির ডান পাশে থাকবেন এবং তিনি আকাশের মেঘে চড়ে আসবেন। (দেখুন লূক ২২: ৬৭-৬৯, মার্ক ১৪: ৬১-৬৩, এবং মথি ২৬: ৬৩-৬৪)।

কিন্তু বিচারের এই অধিবেশনের সময় নিয়ে তাদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। লূক একে গ্রেফতারের রাতের পরের দিন সকালে নির্ধারণ করেছেন। তিনি বলেন: "দিন হলে পর জনগণের প্রাচীনবর্গ, প্রধান যাজকগণ এবং শাস্ত্রজ্ঞগণ সমবেತ হলেন এবং তাঁকে তাদের মহাসভায় নিয়ে গেলেন এবং বললেন: যদি তুমি মসীহ হও, তবে আমাদের বলো..." (লূক ২২: ৬৬-৬৭)।

পক্ষান্তরে অন্য তিন ইঞ্জিল রচয়িতা এই বিচারকে গ্রেফতারের রাতেই সংঘটিত হয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন। মার্ক বলেন: "তারা যীশুকে প্রধান যাজকের নিকট নিয়ে গেল এবং সেখানে সকল প্রধান যাজক, প্রাচীনবর্গ ও শাস্ত্রজ্ঞগণ সমবেত হলো..." (মার্ক ১৪: ৫৩) (আরও দেখুন: মথি ২৬: ৫৭ এবং যোহন ১৮: ৩)।

 

‌মোরগ কতবার ডাকবে?

পিতর দূর থেকে মসীহকে অনুসরণ করছিলেন যেন তাঁর বিচার দেখতে পারেন। মসীহ তাঁকে জানিয়েছিলেন যে, সেই রাতে তিনি তাঁকে তিনবার অস্বীকার করবেন; আর মার্কের বর্ণনা অনুযায়ী—মোরগ দুইবার ডাকার আগে, "মোরগ ডাকার পূর্বে...
(খণ্ড: ১) হাল ইফ্তাদানা আল-মাসিহু আলাস সলিব (পৃষ্ঠা: ১৯)
الديك مرتين تنكرني ثلاث مرات" (مرقس 14/ 72) ومَرةً حسب الثلاثة، يقول لوقا: " قبل أن يصيح الديك تنكرني ثلاث مرات" (لوقا 22/ 61) (انظر: متى 26/ 74، يوحنا 18/ 27) وقد ذكر الثلاثة خلال القصة صياحاً واحداً فقط، خلافاً لما زعمه مرقس، فقد ذكر صياحين للديك.

 

‌‌أين تعرفت الجارية على بطرس أول مرة؟

وأثناء متابعة بطرس للمحاكمة تعرف بعض الموجودين في المحاكمة عليه، وعرفوا أنه من أتباع المسيح، مما اضطر بطرس لإنكار ذلك ثلاث مرات.

وتتفق الأناجيل في أنه تعرفت عليه في المرة الأولى جارية، وتختلف في تحديد المكان الذي تعرفت فيه على بطرس، فقد ذكر الإنجيليون الثلاثة أنه كان جالساً في ساحة الدار عند النار يستدفئ، يقول لوقا: "ولما أضرموا ناراً في وسط الدار، وجلسوا معاً جلس بطرس بينهم، فرأته جارية جالساً عند النار، فتفرست فيه، وقالت: وهذا كان معه .. " (لوقا 22/ 55 - 56)، و (انظر متى 26/ 69)، و (مرقس 14/ 66)، وخالفوا يوحنا الذي أخبرنا أن الجارية تعرفت عليه عند البوابة، فهذه الجارية مسؤولة عن البوابة، وقد صرح به يوحنا حين أخبرنا أن تلميذاً من تلاميذ المسيح توسط لبطرس
"...মোরগ দুইবার ডাকার আগেই তুমি আমাকে তিনবার অস্বীকার করবে" (মার্ক ১৪/ ৭২)। বাকি তিনজনের বর্ণনা অনুযায়ী লূক বলেন: "মোরগ ডাকার আগেই তুমি আমাকে তিনবার অস্বীকার করবে" (লূক ২২/ ৬১) (দেখুন: মথি ২৬/ ৭৪, যোহন ১৮/ ২৭)। মার্কের দাবির বিপরীতে এই তিনজন বর্ণনার সময় মোরগের ডাক একবারই উল্লেখ করেছেন, যেখানে মার্ক মোরগের দুইবার ডাকার কথা উল্লেখ করেছেন।

 

‌‌পরিচারিকা প্রথমবার কোথায় পিতরকে চিনতে পেরেছিল?

পিতর যখন বিচারকার্য পর্যবেক্ষণ করছিলেন, তখন সেখানে উপস্থিত কিছু লোক তাকে চিনে ফেলে এবং তারা বুঝতে পারে যে তিনি মসীহের অনুসারীদের একজন, যার ফলে পিতর তিনবার তা অস্বীকার করতে বাধ্য হন।

ইঞ্জিলসমূহ এই বিষয়ে একমত যে, প্রথমবার একজন পরিচারিকা তাকে চিনেছিল, তবে পিতরকে ঠিক কোন স্থানে চিনেছিল সে বিষয়ে তারা ভিন্নমত পোষণ করেছে। তিন ইঞ্জিল রচয়িতা উল্লেখ করেছেন যে, তিনি আঙিনায় আগুনের পাশে বসে তাপ নিচ্ছিলেন। লূক বলেন: "যখন তারা আঙিনার মাঝে আগুন জ্বালাল এবং একত্রে বসল, পিতরও তাদের মাঝে বসলেন। এক পরিচারিকা তাকে আগুনের পাশে বসে থাকতে দেখে তার দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকাল এবং বলল: এই লোকটিও তাঁর সাথে ছিল..." (লূক ২২/ ৫৫-৫৬), (আরও দেখুন মথি ২৬/ ৬৯), এবং (মার্ক ১৪/ ৬৬)। তারা যোহনের বর্ণনার বিরোধিতা করেছেন, যিনি আমাদের জানিয়েছেন যে পরিচারিকাটি তাকে প্রবেশদ্বারের কাছে চিনেছিল; কারণ সেই পরিচারিকাটি ছিল প্রবেশদ্বারের দায়িত্বে নিয়োজিত। যোহন বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন যখন তিনি জানিয়েছেন যে মসীহের শিষ্যদের মধ্যে একজন পিতরের জন্য সুপারিশ করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) হাল ইফ্তাদানা আল-মাসিহু আলাস সলিব (পৃষ্ঠা: ২০)
عند رئيس الكهنة ليدخله إلى الدار، "فأدخل بطرس، فقالت الجاريةُ البوابةُ لبطرس: ألست أنت أيضاً من تلاميذ هذا الإنسان؟ " (يوحنا 18/ 17)، إذاً اكتشف أمر بطرس عند البوابة، خلافاً لما ذكره الإنجيليون الثلاثة الذين أخبرونا بأنه كان جالساً عند النار في ساحة الدار.

 

‌‌من الذي تعرف على بطرس في المرة الثانية والثالثة؟

وأما المرة الثانية، فقد تعرفت عليه حسب مرقس نفس الجارية التي تعرفت عليه في المرة الأولى، يقول: " فرأته الجارية أيضاً، وابتدأت تقول للحاضرين: إن هذا منهم" (مرقس 14/ 69).

ولكن حسب متى فإن الذي تعرف عليه جارية أخرى غير الأولى " ثم إذ خرج إلى الدهليز رأته أخرى فقالت للذين هناك: وهذا كان مع يسوع الناصري" (متى 26/ 71).

ويخالفهما جميعاً لوقا الذي ذكر أن الذي تعرف عليه هذه المرة رجل من الحضور وليس جارية، فيقول: " وبعد قليل رآه آخر وقال: وأنت منهم، فقال بطرس: يا إنسان، لست أنا" (لوقا 22/ 58).

ويحاول يوحنا الخروج من الخلاف والجمع بين الأقوال المتناقضة للثلاثة الذين سبقوه، فيستعير قصة الإنكار الثالث لبطرس حين أشار جمع إليه، فيجعلها في الإنكار الثاني، فيقول: "سمعان بطرس كان واقفاً يصطلي، فقالوا له: ألست أنت أيضاً من تلاميذه؟ فأنكر ذاك، وقال: لست أنا" (يوحنا 18/ 25).

وهذه الصيغة في التعرف على بطرس بواسطة الجموع ذكرها مرقس ومتى في سياق الإنكار الثالث، حيث يقول مرقس: " وبعد قليل أيضاً قال الحاضرون لبطرس: حقاً أنت منهم، لأنك جليلي أيضاً، ولغتك تشبه لغتهم. فابتدأ يلعن ويحلف: إني لا أعرف هذا الرجل الذي تقولون عنه" (مرقس 14/ 70 - 71).
প্রধান যাজকের নিকট তাকে প্রাসাদে প্রবেশ করানোর সময়, "অতঃপর পিতর ভেতরে প্রবেশ করল; তখন দ্বাররক্ষী দাসী পিতরকে বলল: তুমিও কি এই লোকটির শিষ্যদের একজন নও?" (যোহন ১৮/ ১৭)। সুতরাং, পিতরের বিষয়টি প্রবেশদ্বারেই প্রকাশ হয়ে পড়ে, যা অন্য তিনজন সুসমাচার লেখকের বর্ণনার বিপরীত; তারা আমাদের জানিয়েছিলেন যে, সে প্রাসাদের আঙিনায় আগুনের পাশে বসে ছিল।

 

‌‌দ্বিতীয় ও তৃতীয়বার পিতরকে কে চিনতে পেরেছিল?

আর দ্বিতীয়বারের ক্ষেত্রে মার্কের বর্ণনা অনুযায়ী, সেই একই দাসী তাকে চিনতে পেরেছিল যে প্রথমবার তাকে চিনেছিল। তিনি বলেন: "সেই দাসী তাকে পুনরায় দেখতে পেল এবং উপস্থিত লোকদের বলতে লাগল: এ ব্যক্তি তাদেরই একজন" (মার্ক ১৪/ ৬৯)।

কিন্তু মথির বর্ণনা অনুসারে, প্রথম জন ব্যতীত অন্য এক দাসী তাকে চিনতে পেরেছিল: "অতঃপর সে যখন বারান্দায় বের হয়ে গেল, তখন অন্য এক নারী তাকে দেখতে পেল এবং সেখানে উপস্থিত লোকদের বলল: এ ব্যক্তিও নাসরতীয় ঈসার সাথে ছিল" (মথি ২৬/ ৭১)।

আর লূক তাদের উভয়েরই বিরোধিতা করেছেন; তিনি উল্লেখ করেছেন যে, এবার তাকে কোনো দাসী নয় বরং উপস্থিত ব্যক্তিদের মধ্য থেকে একজন পুরুষ চিনতে পেরেছিল। তিনি বলেন: "অল্প সময় পর অন্য একজন তাকে দেখে বলল: তুমিও তাদের একজন। তখন পিতর বলল: হে ব্যক্তি, আমি নই" (লূক ২২/ ৫৮)।

যোহন এই মতভেদ থেকে বেরিয়ে আসতে এবং তার পূর্ববর্তী তিনজনের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের মধ্যে সমন্বয় করতে চেষ্টা করেছেন। তাই তিনি পিতরের তৃতীয়বার অস্বীকার করার ঘটনাটি ধার করেছেন—যেখানে একটি জনসমষ্টি তার দিকে ইঙ্গিত করেছিল—এবং সেটিকে দ্বিতীয়বার অস্বীকার করার ঘটনায় স্থান দিয়েছেন। তিনি বলেন: "শিমোন পিতর দাঁড়িয়ে আগুন পোহাচ্ছিল। তখন তারা তাকে বলল: তুমিও কি তার শিষ্যদের একজন নও? সে তা অস্বীকার করল এবং বলল: আমি নই" (যোহন ১৮/ ২৫)।

আর জনসমষ্টির মাধ্যমে পিতরকে চিনে ফেলার এই বর্ণনাটি মার্ক ও মথি তৃতীয়বার অস্বীকার করার প্রেক্ষাপটে উল্লেখ করেছেন। সেখানে মার্ক বলেন: "অল্প সময় পর উপস্থিত লোকেরা পুনরায় পিতরকে বলল: নিশ্চিতভাবেই তুমি তাদের একজন; কারণ তুমিও একজন গালীলীয় এবং তোমার ভাষাও তাদের ভাষার মতো। তখন সে অভিশাপ দিতে ও কসম খেতে শুরু করল: তোমরা যে লোকের কথা বলছ, আমি তাকে চিনি না" (মার্ক ১৪/ ৭০ - ৭১)।
(খণ্ড: ১) হাল ইফ্তাদানা আল-মাসিহু আলাস সলিব (পৃষ্ঠা: ২১)
وكذا ذكرها متى في الإنكار الثالث، فقال: " بعد قليل جاء القيام وقالوا لبطرس: حقاً أنت أيضاً منهم، فإن لغتك تظهرك، فابتدأ حينئذ يلعن ويحلف: إني لا أعرف" (متى 26/ 73 - 74).

وأما لوقا ويوحنا فجعلا المتعرف على بطرس هذه المرة (الثالثة) رجل واحد، وليس مجموعة من الموجودين في المحكمة، يقول لوقا: " ولما مضى نحو ساعة واحدة أكّد آخر قائلاً: بالحق إن هذا أيضاً كان معه، لأنه جليلي أيضاً، فقال بطرس: يا إنسان لست أعرف ما تقول" (لوقا 22/ 59 - 60).

ويصادق على كلامه يوحنا، فيذكر أن هذا الرجل أحد عبيد رئيس الكهنة " قال واحد من عبيد رئيس الكهنة، وهو نسيب الذي قطع بطرس أذنه: أما رأيتك أنا معه في البستان؟ فأنكر بطرس أيضاً" (يوحنا 18/ 26).

فهل الذي تعرف على بطرس في المرة الثانية نفس الجارية؟ أم جارية أخرى؟ أم رجل؟ وهل أنكر بطرس المسيح في المرة الثالثة بسبب تعرف الجمع على لهجته؟ أم بسبب عبد رئيس الكهنة الذي رأى بطرس في البستان مع تلاميذ المسيح؟

ويعترف بهذا التضارب بين الروايات الأب متى المسكين، فيقول: "أقوال القديس لوقا اختلفت عن أقوال القديس مرقس في المضمون وأنواع الأفراد الذين تصدوا لبطرس وأسباب كل مرة". (1)

 

‌‌لماذا حبس بارباس؟

وتختلف الأناجيل في تحديد السبب الذي من أجله حبس باراباس في سجن بيلاطس، فيذكر يوحنا بأنه كان لصاً "وكان باراباس لصاً" (يوحنا 18/ 40).

--------------------------------------------

(1) الإنجيل بحسب القديس لوقا، الأب متى المسكين، ص (705).
অনুরূপভাবে মথিও তৃতীয় অস্বীকারের বর্ণনায় এটি উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেন: "কিছুক্ষণ পর যারা দাঁড়িয়ে ছিল তারা নিকটবর্তী হলো এবং পিতরকে বলল: সত্যই তুমিও তাদের একজন, কেননা তোমার কথাবার্তাই তোমাকে চিনিয়ে দিচ্ছে। তখন সে অভিশাপ দিতে ও কসম করতে শুরু করল: আমি তাকে চিনি না" (মথি ২৬/ ৭৩ - ৭৪)।

পক্ষান্তরে লূক এবং যোহন এই (তৃতীয়) বারের ক্ষেত্রে পিতরকে শনাক্তকারী হিসেবে আদালতের উপস্থিত জনসমষ্টির পরিবর্তে একজন ব্যক্তিকে উল্লেখ করেছেন। লূক বলেন: "প্রায় এক ঘণ্টা পার হওয়ার পর অন্য একজন জোর দিয়ে বলল: সত্যই এই লোকটিও তার সাথে ছিল, কারণ সেও গালীলীয়। তখন পিতর বলল: হে মানুষ, তুমি কী বলছো আমি তা জানি না" (লূক ২২/ ৫৯ - ৬০)।

যোহন তার বক্তব্যকে সমর্থন করেন এবং উল্লেখ করেন যে, এই লোকটি ছিল প্রধান যাজকের দাসদের একজন। "প্রধান যাজকের দাসদের মধ্যে একজন, যে ছিল সেই ব্যক্তির আত্মীয় যার কান পিতর কেটে ফেলেছিল, সে বলল: আমি কি তোমাকে বাগানে তার সাথে দেখিনি? তখন পিতর পুনরায় অস্বীকার করল" (যোহন ১৮/ ২৬)।

তাহলে দ্বিতীয়বার পিতরকে শনাক্তকারী কে ছিল? সেই একই দাসী? নাকি অন্য কোনো দাসী? নাকি কোনো পুরুষ? আর পিতর কি তৃতীয়বার মসীহকে অস্বীকার করেছিল জনসমষ্টি কর্তৃক তার আঞ্চলিক ভাষা চিনে ফেলার কারণে? নাকি প্রধান যাজকের সেই দাসের কারণে যে পিতরকে বাগানে মসীহের শিষ্যদের সাথে দেখেছিল?

বর্ণনাসমূহের মধ্যকার এই বৈপরীত্যের কথা ফাদার মাত্তা আল-মিসকিনও স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন: "সেন্ট লূকের বক্তব্য সেন্ট মার্কের বক্তব্যের চেয়ে বিষয়বস্তু, পিতরের মুখোমুখি হওয়া ব্যক্তিদের ধরন এবং প্রতিবারের কারণের ক্ষেত্রে ভিন্নতা প্রদর্শন করে।" (১)

 

‌‌বারাব্বাসকে কেন কারারুদ্ধ করা হয়েছিল?

পিলাতের কারাগারে বারাব্বাসকে কেন বন্দি করা হয়েছিল, সেই কারণ নির্ধারণে ইঞ্জিলসমূহ মতভেদ করে। যোহন উল্লেখ করেছেন যে সে ছিল একজন দস্যু: "আর বারাব্বাস ছিল এক দস্যু" (যোহন ১৮/ ৪০)।

--------------------------------------------

(১) সেন্ট লূক লিখিত ইঞ্জিল, ফাদার মাত্তা আল-মিসকিন, পৃষ্ঠা (৭০৫)।
(খণ্ড: ১) হাল ইফ্তাদানা আল-মাসিহু আলাস সলিব (পৃষ্ঠা: ২২)
واتفق مرقس ولوقا على أنه صاحب فتنة، وأنه حصل فيها قتل، فاستوجب حبسه، يقول لوقا: "أطلق لنا باراباس، وذاك كان قد طرح في السجن لأجل فتنة حدثت في المدينة وقتل" (لوقا 23/ 19، وانظر: مرقس 15/ 7).

وأما سفر أعمال الرسل فينصُّ على أن بارباس كان قاتلاً، وليس مجرد لص أو مشارك في الفتنة، إذ يقول: " أنتم أنكرتم القدوس البار، وطلبتم أن يوهب لكم رجل قاتل" (أعمال 3/ 14).

 

‌‌من الذي حمل الصليب المسيح أم سمعان؟

وصدر حكم بيلاطس بصلب المسيح، وخرج به اليهود لتنفيذ الحكم، وفيما هم خارجون لقيهم رجل يقال له سمعان، فجعلوه يحمل صليب المسيح يقول مرقس: " ثم خرجوا لصلبه، فسخروا رجلا مجتازاً كان آتياً من الحقل، وهو سمعان القيرواني أبو الكسندروس وروفس ليحمل صليبه " (مرقس 15/ 20 - 22) و (انظر: متى 27/ 32، لوقا 23/ 26).

لكن يوحنا يخالف الإنجيليين الثلاثة، فيجعل المسيح حاملاً لصليبه بدلاً من سمعان، يقول يوحنا:

" فأخذوا يسوع ومضوا به، فخرج وهو حامل صليبه إلى الموضع الذي يقال له: الجمجمة "

(يوحنا 19/ 17)، ولم يذكر يوحنا شيئاً عن سمعان القيرواني، فمن الذي حمل الصليب، سمعان أم المسيح عليه السلام؟

 

‌‌قصة نهاية يهوذا

ويتحدث العهد الجديد عن نهايتين مختلفتين للتلميذ الخائن يهوذا الأسخريوطي الذي خان المسيح، وسعى في الدلالة عليه وتسليمه مقابل ثلاثين درهماً من الفضة، فيقول متى: " لما رأى يهوذا الذي أسلمه أنه قد دين ندم وردّ الثلاثين من الفضة إلى رؤساء الكهنة والشيوخ، قائلاً: قد أخطأت، إذ سلمت دماً بريئاً. فقالوا: ماذا علينا؟
মার্ক এবং লূক এই বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, সে (বারাব্বা) ছিল এক বিদ্রোহের হোতা এবং সেই বিদ্রোহে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছিল, যার ফলে তাকে কারাবরণ করতে হয়েছিল। লূক বলেন: "আমাদের জন্য বারাব্বাকে মুক্তি দিন, যাকে নগরে সংঘটিত একটি বিদ্রোহ ও হত্যাকাণ্ডের দায়ে কারাগারে নিক্ষেপ করা হয়েছিল" (লূক ২৩/ ১৯, এবং দেখুন: মার্ক ১৫/ ৭)।

আর প্রেরিতদের কার্যবিবরণীতে (Acts) উল্লেখ করা হয়েছে যে, বারাব্বা ছিল একজন ঘাতক, কেবল চোর বা বিদ্রোহের অংশীদার নয়; সেখানে বলা হয়েছে: "তোমরা সেই পবিত্র ও ধার্মিককে অস্বীকার করলে এবং তোমাদের কাছে একজন খুনিকে মুক্তি দেওয়ার জন্য আবেদন করলে" (প্রেরিত ৩/ ১৪)।

 

‌‌কে ক্রুশ বহন করেছিলেন, মসিহ না কি শিমোন?

মসিহকে ক্রুশবিদ্ধ করার জন্য পীলাতের রায় ঘোষিত হলো এবং ইহুদিরা সেই দণ্ড কার্যকর করার জন্য তাঁকে নিয়ে বের হলো। তারা যখন বাইরে যাচ্ছিল, তখন শিমোন নামক এক ব্যক্তির সাথে তাদের সাক্ষাৎ হলো এবং তারা তাকে মসিহ-এর ক্রুশ বহন করতে বাধ্য করল। মার্ক বলেন: "অতঃপর তারা তাঁকে ক্রুশবিদ্ধ করার জন্য নিয়ে গেল। তারা আলেকজান্ডার ও রুফাসের পিতা শিমোন নামক কীনীয় এক পথচারীকে, যে মাঠ থেকে আসছিল, তাঁর ক্রুশ বহন করতে বাধ্য করল" (মার্ক ১৫/ ২০-২২) এবং (দেখুন: মথি ২৭/ ৩২, লূক ২৩/ ২৬)।

কিন্তু যোহন অন্য তিন সুসমাচার লেখকের সাথে দ্বিমত পোষণ করেছেন; তিনি শিমোনের পরিবর্তে মসিহকেই তাঁর নিজের ক্রুশ বহনকারী হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। যোহন বলেন:

"অতঃপর তারা যীশুকে গ্রহণ করল এবং নিয়ে গেল। তিনি নিজের ক্রুশ বহন করে সেই স্থানের দিকে বের হলেন যাকে 'করোটি' (মাথার খুলি) বলা হয়।"

(যোহন ১৯/ ১৭)। যোহন কীনীয় শিমোন সম্পর্কে কিছুই উল্লেখ করেননি। তবে প্রকৃতপক্ষে কে ক্রুশ বহন করেছিলেন, শিমোন না কি মসিহ (আলাইহিস সালাম)?

 

‌‌যিহূদার পরিণতির কাহিনী

নতুন নিয়ম (ইঞ্জিল শরীফ) বিশ্বাসঘাতক শিষ্য যিহূদা ঈষ্করিয়োতীয়-এর দুটি ভিন্ন পরিণতির কথা বর্ণনা করে, যে মসিহ-এর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল এবং ত্রিশটি রৌপ্যমুদ্রার বিনিময়ে তাঁকে ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। মথি বলেন: "যখন যিহূদা, যে তাঁকে ধরিয়ে দিয়েছিল, দেখল যে তাঁর দণ্ডাজ্ঞা হয়েছে, তখন সে অনুতপ্ত হলো এবং প্রধান যাজক ও প্রাচীনদের কাছে সেই ত্রিশটি রৌপ্যমুদ্রা ফেরত দিয়ে বলল: আমি নিষ্পাপ রক্ত ধরিয়ে দিয়ে পাপ করেছি। তারা বলল: তাতে আমাদের কী?"
(খণ্ড: ১) হাল ইফ্তাদানা আল-মাসিহু আলাস সলিব (পৃষ্ঠা: ২৩)
أنت أبصر. فطرح الفضة في الهيكل وانصرف، ثم مضى وخنق نفسه، فأخذ رؤساء الكهنة الفضة، وقالوا: لا يحل أن نلقيها في الخزانة، لأنها ثمن دم. فتشاوروا واشتروا بها حقل الفخاري مقبرة للغرباء. لهذا سمي ذلك الحقل حقل الدم إلى هذا اليوم" (متى 27/ 2 - 5).

ولكن سفر أعمال الرسل يحكي نهاية أخرى ليهوذا وردت في سياق خطبة بطرس، حيث قال: "أيها الرجال الإخوة، كان ينبغي أن يتم هذا المكتوب الذي سبق الروح القدس فقاله بفم داود عن يهوذا الذي صار دليلاً للذين قبضوا على يسوع، إذ كان معدوداً بيننا، وصار له نصيب في هذه الخدمة، فإن هذا اقتنى حقلاً من أجرة الظلم، وإذ سقط على وجهه انشق من الوسط، فانسكبت أحشاؤه كلها، وصار ذلك معلوماً عند جميع سكان أورشليم، حتى دعي ذلك الحقل في لغتهم حقل دما، أي حقل دم" (أعمال 1/ 16 - 20).

فقد اختلف النصان في جملة من الأمور:

- كيفية موت يهوذا، فإما أن يكون قد خنق نفسه ومات "ثم مضى وخنق نفسه"، وإما أن يكون قد مات بسقوطه، حيث انشقت بطنه وانسكبت أحشاؤه فمات "وإذ سقط على وجهه انشق من الوسط فانسكبت أحشاؤه كلها"، ولا يمكن أن يموت يهوذا مرتين، كما لا يمكن أن يكون قد مات بالطريقتين معاً، ويجدر هنا أن نذكر أن المؤرخ الأسقف بابياس (155م) ذكر أن يهوذا مات دهساً بعربة فانسكبت أحشاؤه!

- من الذي اشترى الحقل، هل هو يهوذا "فإن هذا اقتنى حقلاً من أجرة الظلم"، أم الكهنة الذين أخذوا منه المال "فتشاوروا واشتروا بها حقل الفخاري"؟

- هل مات يهوذا نادماً " لما رأى يهوذا الذي أسلمه أنه قد دين ندم … قد أخطأت، إذ سلمت دماً بريئاً" أم معاقباً بذنبه كما يظهر من كلام بطرس؟
"তুমিই বোঝ। অতঃপর সে মন্দিরে রৌপ্যমুদ্রাগুলো ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে চলে গেল এবং গিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করল। প্রধান যাজকরা সেই রৌপ্যমুদ্রাগুলো গ্রহণ করে বলল: 'এটি ভাণ্ডারে রাখা বিধিসম্মত নয়, কারণ এটি রক্তের মূল্য।' তারা পরামর্শ করে তা দিয়ে বিদেশীদের কবরের জন্য কুম্ভকারের জমি ক্রয় করল। এজন্যই সেই জমিকে আজ পর্যন্ত 'রক্তের ভূমি' বলা হয়" (মথি ২৭/ ২ - ৫)।

কিন্তু 'প্রেরিতগণের কার্যবিবরণী' পুস্তকে পিতরের বক্তৃতার প্রেক্ষাপটে যিহূদার আরেকটি পরিণতির কথা বর্ণিত হয়েছে, যেখানে তিনি বলেন: "হে ভাইগণ, যিহূদা সম্পর্কে পবিত্র আত্মা দাউদের মুখ দিয়ে আগে যা বলেছিলেন, সেই শাস্ত্রবাণী পূর্ণ হওয়া আবশ্যক ছিল; সেই যিহূদা, যে যীশুকে গ্রেপ্তারকারীদের পথপ্রদর্শক হয়েছিল। সে আমাদেরই একজন হিসেবে গণ্য ছিল এবং এই সেবাকার্যে অংশীদার হয়েছিল। এই ব্যক্তি অন্যায়ের পারিশ্রমিক দিয়ে একটি জমি ক্রয় করেছিল, এবং সে উপুড় হয়ে পড়ে গিয়ে মাঝখান থেকে ফেটে গেল এবং তার নাড়িভুঁড়ি সব বেরিয়ে এল। যিরূশালেমের সকল অধিবাসী তা জানতে পারল, ফলে তাদের ভাষায় সেই জমির নাম রাখা হলো 'আকেলদামা', যার অর্থ 'রক্তের ভূমি'" (প্রেরিত ১/ ১৬ - ২০)।

উক্ত পাঠদ্বয় বেশ কিছু বিষয়ে পরস্পর ভিন্নমত পোষণ করে:

- যিহূদার মৃত্যুর ধরন: হয় সে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে মারা গেছে—"অতঃপর সে চলে গেল এবং নিজেকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করল"—অথবা সে পড়ে গিয়ে মারা গেছে, যেখানে তার পেট ফেটে নাড়িভুঁড়ি বেরিয়ে এসেছিল—"সে উপুড় হয়ে পড়ে গিয়ে মাঝখান থেকে ফেটে গেল এবং তার নাড়িভুঁড়ি সব বেরিয়ে এল"। যিহূদা তো দুবার মরতে পারে না, আবার এই উভয় পদ্ধতিতে একসাথে মরাও সম্ভব নয়। এখানে উল্লেখ্য যে, ঐতিহাসিক বিশপ পপিয়াস (১৫৫ খ্রি.) বর্ণনা করেছেন যে, যিহূদা রথের নিচে পিষ্ট হয়ে মারা গিয়েছিল এবং তার নাড়িভুঁড়ি বেরিয়ে এসেছিল!

- জমিটি কে ক্রয় করেছিল? যিহূদা কি জমিটি ক্রয় করেছিল—"এই ব্যক্তি অন্যায়ের পারিশ্রমিক দিয়ে একটি জমি ক্রয় করেছিল"—নাকি যাজকরা, যারা তার কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ করেছিল—"তারা পরামর্শ করল এবং তা দিয়ে কুম্ভকারের জমি ক্রয় করল"?

- যিহূদা কি অনুতপ্ত অবস্থায় মারা গিয়েছিল—"যখন যিহূদা, যে তাকে ধরিয়ে দিয়েছিল, দেখল যে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে, তখন সে অনুতপ্ত হলো … আমি পাপ করেছি, কারণ আমি নির্দোষ রক্ত বিসর্জন দিয়েছি"—নাকি পিতরের কথা থেকে যা প্রতীয়মান হয় সেই অনুযায়ী নিজের অপরাধের শাস্তি হিসেবে মারা গিয়েছিল?
(খণ্ড: ১) হাল ইফ্তাদানা আল-মাসিহু আলাস সলিব (পৃষ্ঠা: ২৪)
- هل رد يهوذا المال للكهنة " وردّ الثلاثين من الفضة إلى رؤساء الكهنة والشيوخ "، أم أخذه واشترى به حقلاً "فإن هذا اقتنى حقلاً من أجرة الظلم "؟

- هل كان موت يهوذا قبل صلب المسيح وبعد المحاكمة "ودفعوه إلى بيلاطس البنطي الوالي، حينئذ لما رأى يهوذا الذي أسلمه أنه قد دين ندم … فطرح الفضة في الهيكل وانصرف ثم مضى وخنق نفسه" أم أن ذلك كان فيما بعد، حيث مضى واشترى حقلاً ثم مات في وقت الله أعلم متى كان؟

- هل سمي الحقل حقل دم لأنه كان ثمناً لدم المسيح " فأخذ رؤساء الكهنة الفضة وقالوا: لا يحل أن نلقيها في الخزانة، لأنها ثمن دم، فتشاوروا واشتروا بها حقل الفخاري مقبرة للغرباء، لهذا سمي ذلك الحقل حقل الدم إلى هذا اليوم"، أم سمي بذلك لأن دم يهوذا قد سال فيه لما انشق بطنه " فإن هذا اقتنى حقلا من أجرة الظلم، وإذ سقط على وجهه انشق من الوسط، فانسكبت أحشاؤه كلها، وصار ذلك معلوماً عند جميع سكان أورشليم، حتى دعي ذلك الحقل في لغتهم حقل دما، أي حقل دم".

 

‌‌ما موقف المصلوبين من جارهما على الصليب؟

وتتحدث الأناجيل عن تعليق المسيح على الصليب، وأنه صلب بين لصين أحدهما عن يمينه، والآخر عن يساره، ويذكر متى ومرقس أن اللصين استهزءا بالمسيح، يقول متى: " بذلك أيضاً كان اللصّان اللذان صلبا معه يعيّرانه" (متى 27/ 44، ومثله في مرقس 15/ 32).

بينما ذكر لوقا بأن أحدهما استهزء به، بينما انتهره الآخر، ولم يوافقه في استهزائه وسخريته بالمسيح، يقول لوقا: " وكان واحد من المذنبين المعلقين يجدف عليه قائلاً: إن كنت أنت المسيح فخلّص نفسك وإيانا. فأجاب الآخر، وانتهره قائلاً: أولا تخاف الله .. فقال له يسوع: الحق أقول لك: إنك اليوم تكون معي في الفردوس" (لوقا 23/ 39 - 43).
যিহূদা কি যাজকদের কাছে অর্থ ফেরত দিয়েছিলেন "এবং তিনি সেই ত্রিশটি রৌপ্যমুদ্রা প্রধান যাজক ও প্রাচীনদের কাছে ফেরত দিলেন", নাকি তিনি তা গ্রহণ করেছিলেন এবং তা দিয়ে একটি জমি ক্রয় করেছিলেন "কেননা এই ব্যক্তি অন্যায়ের পারিশ্রমিক দিয়ে একটি ভূমি ক্রয় করেছিল"?

যিহূদার মৃত্যু কি মসীহ্-এর ক্রুশারোহণের পূর্বে এবং বিচারের পরে হয়েছিল "এবং তারা তাকে দেশাধিপতি পন্তীয় পীলাতের কাছে সমর্পণ করল, তখন যিহূদা, যে তাকে ধরিয়ে দিয়েছিল, যখন দেখল যে তাকে দণ্ডিত করা হয়েছে, তখন সে অনুতপ্ত হল … ফলে সে রৌপ্যমুদ্রাগুলো মন্দিরে ফেলে দিয়ে চলে গেল এবং গিয়ে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করল" নাকি তা পরবর্তী কোনো সময়ে ছিল, যখন সে গিয়ে একটি জমি ক্রয় করল এবং তারপর মারা গেল যার সময়কাল আল্লাহ্ই ভালো জানেন?

উক্ত জমির নাম কি 'রক্তের জমি' এই কারণে রাখা হয়েছিল যে এটি ছিল মসীহ্-এর রক্তের বিনিময়মূল্য "তখন প্রধান যাজকেরা সেই রৌপ্যমুদ্রাগুলো গ্রহণ করল এবং বলল: এগুলো ভাণ্ডারে রাখা বৈধ নয়, কারণ এটি রক্তের মূল্য। অতঃপর তারা পরামর্শ করে তা দিয়ে বিদেশীদের কবর দেওয়ার জন্য কুম্ভকারের জমি ক্রয় করল, এই কারণে সেই জমিকে আজ পর্যন্ত রক্তের জমি বলা হয়", নাকি এর নামকরণ করা হয়েছিল এই কারণে যে সেখানে যিহূদার পেট ফেটে গিয়ে রক্ত প্রবাহিত হয়েছিল "কেননা এই ব্যক্তি অন্যায়ের পারিশ্রমিক দিয়ে একটি জমি ক্রয় করেছিল, এবং সে অধোমুখে পড়ে গিয়ে মাঝখান থেকে ফেটে গেল, ফলে তার নাড়িভুঁড়ি সব বেরিয়ে এল। আর যিরূশালেমের সমস্ত অধিবাসীর কাছে এটি পরিচিত হল, এমনকি সেই জমি তাদের ভাষায় হাকল-দামা, অর্থাৎ রক্তের জমি নামে অভিহিত হল"৷

 

‌‌ক্রুশবিদ্ধ ব্যক্তিদ্বয়ের অবস্থান তাদের পার্শ্ববর্তী সহযাত্রীর প্রতি কেমন ছিল?

ইঞ্জিলসমূহ মসীহ্-কে ক্রুশে ঝুলানোর কথা বর্ণনা করে যে, তাকে দুই দস্যুর মাঝখানে ক্রুশবিদ্ধ করা হয়েছিল, যাদের একজন ছিল তার ডানে এবং অন্যজন তার বামে। মথি ও মার্ক উল্লেখ করেছেন যে, উভয় দস্যুই মসীহ্-কে উপহাস করেছিল। মথি বলেন: "তেমনিভাবে যে দুই দস্যু তার সাথে ক্রুশবিদ্ধ হয়েছিল, তারাও তাকে তিরস্কার করছিল" (মথি ২৭/৪৪, এবং মার্ক ১৫/৩২-এ অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে)।

অন্যদিকে লূক বর্ণনা করেছেন যে, তাদের একজন তাকে উপহাস করেছিল, কিন্তু অন্যজন তাকে ধমক দিয়েছিল এবং মসীহ্-র প্রতি তার উপহাস ও বিদ্রূপের সাথে একমত হয়নি। লূক বলেন: "ক্রুশে ঝুলানো অপরাধীদের একজন তাকে অপমান করে বলছিল: তুমি যদি মসীহ্ হও তবে নিজেকে এবং আমাদের রক্ষা করো। কিন্তু অন্যজন উত্তর দিয়ে তাকে ধমক দিয়ে বলল: তুমি কি ঈশ্বরকেও ভয় করো না... অতঃপর ঈসা তাকে বললেন: আমি তোমাকে সত্য বলছি, আজই তুমি আমার সাথে জান্নাতে থাকবে" (লূক ২৩/ ৩৯ - ৪৩)।
(খণ্ড: ১) হাল ইফ্তাদানা আল-মাসিহু আলাস সলিব (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌من الذي طلب ترك المسيح ليحقق المعجزات؟

ويحدثنا مرقس أن المسيح لما كان على الصليب صرخ يطلب الماء "فركض واحد، وملأ إسفنجة خلاً، وجعلها على قصبة، وسقاه قائلاً: اتركوا، لنر هل يأتي إيليا لينزله" (مرقس 15/ 36)، فقائل العبارة السابقة هو ذلك الذي سقى المسيح، ويوجه خطابه للآخرين قائلاً: " اتركوا، لنر هل يأتي إيليا لينزله".

وهذا وصف ناقضه فيه متى حيث كتب: " وللوقت ركض واحد منهم، وأخذ إسفنجة، وملأها خلاً، وجعلها على قصبة وسقاه. وأما الباقون فقالوا: اترك، لنرى هل يأتي إيليا يخلّصه" (متى 27/ 48 - 49)، فجعل القائل لتلك العبارة الآخرون، فقد طلبوا من الذي يسقي المسيح أن يتركه "اترك"، فمن القائل؟ ومن المخاطَب؟.

 

‌‌ما آخر ما قاله المصلوب قبل موته؟

أما اللحظات الأخيرة في حياة المسيح فتذكرها الأناجيل، وتختلف في وصف المسيح حينذاك، فيصور متى ومرقس حاله حال اليائس القانط ينادي ويصرخ: " إلهي إلهي لماذا تركتني " ثم يُسلم الروح. (متى 27/ 46 - 50، ومرقس 15/ 34 - 37).

وأما لوقا فيرى أن هذه النهاية لا تليق بالمسيح، فيصوره بحال القوي الراضي بقضاء الله حيث قال: " يا أبتاه في يديك أستودع روحي، ولما قال هذا أسلم الروح " (لوقا 23/ 46).

ويتجنب يوحنا وصف مشاعر المسيح دفعاً للحرج، لكنه يسجل مقالة أخرى ينسبها إلى المسيح ويجعلها آخر كلماته على الصليب، فيقول: "فلما أخذ يسوع الخل قال: قد أكمل. ونكس رأسه، وأسلم الروح" (يوحنا 19/ 30)، فأي الكلمات كانت آخر كلام المسيح، وأي الحالين كان حاله على الصليب؟
অলৌকিক কর্ম সম্পাদনের উদ্দেশ্যে মসীহকে ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ কে করেছিল?

মার্কাস আমাদের জানান যে, মসীহ যখন ক্রুশে ছিলেন তখন তিনি পানির জন্য উচ্চস্বরে রোদন করেছিলেন, "তখন একজন দৌড়ে গিয়ে একটি স্পঞ্জ সিরকায় ভিজিয়ে নলের মাথায় রাখল এবং তাঁকে পান করতে দিয়ে বলল: থামো, দেখি ইলিয়া তাকে নামিয়ে আনতে আসে কি না" (মার্কাস ১৫/ ৩৬)। এখানে পূর্বোক্ত বাক্যটির বক্তা হলেন সেই ব্যক্তি যিনি মসীহকে পান করতে দিয়েছিলেন এবং তিনি অন্যদের উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন: "থামো, দেখি ইলিয়া তাকে নামিয়ে আনতে আসে কি না।"

এই বর্ণনার সাথে মথি বর্ণিত বিবরণটি সাংঘর্ষিক, যেখানে তিনি লিখেছেন: "আর তৎক্ষণাৎ তাদের মধ্যে একজন দৌড়ে গিয়ে একটি স্পঞ্জ নিয়ে সিরকায় পূর্ণ করল এবং নলের মাথায় দিয়ে তাঁকে পান করতে দিল। কিন্তু বাকিরা বলল: থাক, দেখি ইলিয়া তাকে রক্ষা করতে আসে কি না" (মথি ২৭/ ৪৮ - ৪৯)। এখানে উক্ত বাক্যটির বক্তা হিসেবে অন্যদের উল্লেখ করা হয়েছে; তারা মসীহকে পানীয় দানকারী ব্যক্তিকে বিরত থাকতে বলেছিল। তাহলে প্রকৃত বক্তা কে? আর সম্বোধিত ব্যক্তিই বা কে?

 

ক্রুশারোহীর মৃত্যুর পূর্বে শেষ উক্তি কী ছিল?

মসীহের জীবনের শেষ মুহূর্তগুলোর কথা ইঞ্জিলসমূহে বর্ণিত হয়েছে, তবে তৎকালীন মসীহের অবস্থা বর্ণনায় সেগুলোর মধ্যে মতভেদ পরিলক্ষিত হয়। মথি ও মার্কাস তাঁর অবস্থাকে একজন হতাশ ও নিরাশ ব্যক্তির ন্যায় চিত্রিত করেছেন, যিনি উচ্চস্বরে রোদন করে বলছেন: "হে আমার ঈশ্বর, হে আমার ঈশ্বর, কেন তুমি আমাকে পরিত্যাগ করলে?" এরপর তিনি প্রাণত্যাগ করেন। (মথি ২৭/ ৪৬ - ৫০ এবং মার্কাস ১৫/ ৩৪ - ৩৭)।

অন্যদিকে লূক মনে করেন যে, এমন পরিণতি মসীহের জন্য শোভনীয় নয়। তাই তিনি তাঁকে আল্লাহর ফয়সালায় সন্তুষ্ট ও শক্তিশালী একজন ব্যক্তি হিসেবে চিত্রিত করেছেন, যেখানে তিনি বলেছেন: "হে পিতা, তোমার হাতে আমি আমার আত্মা সমর্পণ করছি। একথা বলে তিনি প্রাণত্যাগ করলেন" (লূক ২৩/ ৪৬)।

আর যোহন বিব্রতকর পরিস্থিতি এড়াতে মসীহের আবেগীয় অবস্থা বর্ণনা করা থেকে বিরত থেকেছেন; তবে তিনি মসীহের সাথে সম্পর্কিত অন্য একটি উক্তি লিপিবদ্ধ করেছেন এবং সেটিকে ক্রুশে তাঁর শেষ কথা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন: "অতঃপর ঈসা সিরকা গ্রহণ করে বললেন: সব সম্পন্ন হলো। এরপর তিনি মাথা নত করলেন এবং প্রাণত্যাগ করলেন" (যোহন ১৯/ ৩০)। সুতরাং মসীহের শেষ কথা কোনটি ছিল এবং ক্রুশে থাকাকালীন তাঁর প্রকৃত অবস্থাটিই বা কেমন ছিল?
(খণ্ড: ১) হাল ইফ্তাদানা আল-মাসিহু আলাস সলিব (পৃষ্ঠা: ২৬)
‌‌متى انشق حجاب الهيكل؟

ويرى الإنجيليون أنه لا يليق أن تكون نهاية المسيح عادية كسائر الأموات، بل لابد أن تصحبها بعض الأحداث الكبيرة، والتي يختلفون في نسجها وفقاً لخيالاتهم الخصبة، لكنهم على أي حال يتفقون على واحدة منها، وهي انشقاق حجاب الهيكل، من غير أن يتفقوا على لحظة حصوله، فمرقس يجعله بعد وفاة المسيح، فيقول: "فصرخ يسوع بصوت عظيم، وأسلم الروح، وانشق حجاب الهيكل إلى اثنين، من فوق إلى أسفل" (مرقس 15/ 37 - 38).

أما لوقا المتتبع لكل شيء بتدقيق فإنه يخالف البشير مرقس أول الإنجيلين تأليفاً، ويرى أن تلك الأعجوبة كانت قبل موت المسيح، فيقول: "وكان نحو الساعة السادسة، فكانت ظلمة على الأرض كلها إلى الساعة التاسعة، وأظلمت الشمس، وانشقّ حجاب الهيكل من وسطه، ونادى يسوع بصوت عظيم وقال: يا أبتاه، في يديك استودع روحي، ولما قال هذا، أسلم الروح" (لوقا 23/ 44 - 46)، فانشقاقه كان قبل موت المسيح خلافاً لما زعمه مرقس.

 

‌‌ثانياً: تناقضات قصة القيامة

وتتحدث الأناجيل الأربع عن قيامة المسيح بعد دفنه، وتمتلاء قصص القيامة في الأناجيل بالمتناقضات التي تجعل من هذه القصة أضعف قصص الأناجيل.

 

‌‌متى أتت الزائرات إلى القبر؟

تتحدث الأناجيل عن زائرات للقبر في يوم الأحد، ويجعله مرقس بعد طلوع الشمس، فيقول: "وباكراً جداً في أول الأسبوع أتين إلى القبر، إذ طلعت الشمس، وكنّ يقلن فيما بينهنّ من يدحرج لنا الحجر عن باب القبر، فتطلعن، ورأين أن الحجر قد دحرج " (مرقس 16/ 2 - 3).
উপাসনালয়ের পর্দা কখন বিদীর্ণ হয়েছিল?

সুসমাচার লেখকদের মতে, মসীহ-এর জীবনের সমাপ্তি অন্যান্য মৃতদের মতো সাধারণ হওয়া সমীচীন নয়; বরং এর সাথে কিছু মহিমান্বিত ঘটনার অবতারণা হওয়া আবশ্যক। তাঁরা তাঁদের উর্বর কল্পনাপ্রসূত সেসব ঘটনার বিবরণে একে অপরের থেকে ভিন্ন মত পোষণ করলেও, একটি বিষয়ে তাঁরা সবাই একমত, আর তা হলো উপাসনালয়ের পর্দা বিদীর্ণ হওয়া। তবে এটি ঠিক কখন ঘটেছিল, সে ব্যাপারে তাঁরা একমত হতে পারেননি। মার্কের বর্ণনায় এটি মসীহ-এর মৃত্যুর পরে ঘটেছিল; তিনি বলেন: "অতঃপর যিশু উচ্চস্বরে চিৎকার করে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন এবং উপাসনালয়ের পর্দা ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত দুই ভাগে ছিঁড়ে গেল" (মার্ক ১৫: ৩৭-৩৮)।

অন্যদিকে লূক, যিনি প্রতিটি বিষয় অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে পর্যবেক্ষণ করার দাবি করেন, তিনি প্রথম সুসমাচার রচয়িতা মার্কের বর্ণনার বিরোধিতা করেছেন। তাঁর মতে, এই অলৌকিক ঘটনাটি মসীহ-এর মৃত্যুর পূর্বেই সংঘটিত হয়েছিল। তিনি বলেন: "তখন প্রায় ষষ্ঠ ঘটিকা ছিল এবং নবম ঘটিকা পর্যন্ত সমগ্র পৃথিবী অন্ধকারে আচ্ছন্ন হয়ে রইল। সূর্য অন্ধকার হয়ে গেল এবং উপাসনালয়ের পর্দা মাঝখান দিয়ে বিদীর্ণ হলো। যিশু উচ্চস্বরে চিৎকার করে বললেন: 'হে পিতা, তোমার হাতে আমি আমার আত্মা সমর্পণ করছি'; এই কথা বলে তিনি প্রাণ ত্যাগ করলেন" (লূক ২৩: ৪৪-৪৬)। সুতরাং মার্কের দাবির বিপরীতে, পর্দার এই বিদীর্ণ হওয়ার ঘটনাটি মসীহ-এর মৃত্যুর পূর্বেই ঘটেছিল।

 

দ্বিতীয়ত: পুনরুত্থানের কাহিনীর বৈপরীত্যসমূহ

চারটি সুসমাচারই মসীহ-কে দাফন করার পর তাঁর পুনরুত্থানের কথা বর্ণনা করে। তবে এই পুনরুত্থানের কাহিনীগুলোতে এত অধিক বৈপরীত্য বিদ্যমান যে, তা এই ঘটনাটিকে সুসমাচারগুলোর মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল উপাখ্যানে পরিণত করেছে।

 

দর্শনার্থী মহিলারা কখন কবরের নিকট এসেছিলেন?

সুসমাচারগুলোতে রবিবার দিন কবরের নিকট আসা কয়েকজন নারী দর্শনার্থীর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। মার্ক একে সূর্যোদয়ের পরের ঘটনা বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন: "সপ্তাহের প্রথম দিনের খুব ভোরে সূর্যোদয়ের সময় তারা কবরের কাছে এলেন। তারা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করছিলেন, 'কবরের প্রবেশপথ থেকে আমাদের জন্য পাথরটি কে সরিয়ে দেবে?' কিন্তু তারা তাকিয়ে দেখলেন যে, পাথরটি সরানো হয়েছে" (মার্ক ১৬: ২-৩)।
(খণ্ড: ১) হাল ইফ্তাদানা আল-মাসিহু আলাস সলিব (পৃষ্ঠা: ২৭)
لكن لوقا ومتَّى يجعلون الزيارة عند الفجر، وينصُّ يوحنا على أن الظلام باقٍ، يقول يوحنا: "في أول الأسبوع جاءت مريم المجدلية إلى القبر باكراً، والظلام باق، فنظرت الحجر مرفوعاً عن القبر" (يوحنا 20/ 1)، (انظر: متى 28/ 1، لوقا 24/ 1).

ولنقرأ محاولة الأب متى المسكين في الجمع بين الفجر وطلوع الشمس، فقد قال: "فالاختلاف ناتج أن النسوة قمن باكراً جداً والظلام باق، وأتين إلى الباب، باب غربي المدينة، وانتظرن هناك إلى أن فتحوا الباب الذي لا يفتح إلا في شروق الشمس، وهكذا بين أن قمن ووصلن في الفجر عند الباب وخرجن والشمس قد طلعت؛ كانت المفارقة". (1)

ولا ريب أن القارئ يدرك أن أحداً من الإنجيليين أو المؤرخين لا يدري شيئاً عما يكتبه الأب المسكين عن باب المدينة المغلق، كما يدرك أن تفسير الأب للقصة يكذب ما قاله يوحنا الذي يقول: " جاءت مريم المجدلية إلى القبر باكراً، والظلام باق"، لقد وصلت المجدلية إلى القبر والظلام باق، وليس إلى باب المدينة الغربي الذي لا يفتح إلا بعد شروق الشمس!

 

‌‌من زار القبر؟

أما الزائرات والزوار، فهم حسب يوحنا مريم المجدلية وحدها كما في النص السابق " جاءت مريم المجدلية إلى القبر باكراً " (يوحنا 20/ 1 - 3).

وأضاف متى مريمَ أخرى أبهمها " جاءت مريم المجدلية ومريم الأخرى لتنظرا القبر " (متى 28/ 1).

لكن مرقس يخبر قراءه أن الزائرات هن مريم المجدلية وأم يعقوب وسالومة،

--------------------------------------------

(1) الإنجيل بحسب القديس متى (دراسة وتفسير وشرح)، الأب متى المسكين، ص (830).
কিন্তু লূক এবং মথি এই আগমনকে ভোরের সময়কার বলে বর্ণনা করেছেন, অন্যদিকে যোহন স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে তখনও অন্ধকার ছিল। যোহন বলেন: "সপ্তাহের প্রথম দিনে মগ্দলিনী মারীয়াম খুব ভোরে কবরের কাছে এলেন, যখন তখনও অন্ধকার ছিল; তিনি দেখলেন যে কবরের মুখ থেকে পাথরটি সরানো হয়েছে" (যোহন ২০:১), (দেখুন: মথি ২৮:১, লূক ২৪:১)।

এবার ভোরবেলা এবং সূর্যোদয়ের মধ্যে সমন্বয় সাধনের ক্ষেত্রে ফাদার মাত্তা আল-মিসকিনের প্রচেষ্টাটি পাঠ করা যাক। তিনি বলেছেন: "পার্থক্যটি এই কারণে যে, মহিলারা খুব ভোরে উঠেছিলেন যখন অন্ধকার ছিল এবং তারা শহরের পশ্চিম ফটকে এসেছিলেন। সেখানে তারা ফটক খোলা পর্যন্ত অপেক্ষা করেছিলেন, যা সূর্যোদয়ের আগে খোলা হয় না। এভাবেই তাদের ভোরে ঘুম থেকে ওঠা ও ফটকে পৌঁছানো এবং সূর্যোদয়ের পর বের হওয়ার মধ্যকার সময়ের ব্যবধান বা বৈপরীত্য তৈরি হয়েছিল"। (১)

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, পাঠক উপলব্ধি করতে পারবেন যে সুসমাচার লেখক বা ঐতিহাসিকদের কেউই ফাদার মিসকিনের উল্লিখিত শহরের বন্ধ ফটক সম্পর্কে কিছুই জানেন না। তেমনিভাবে পাঠক এটিও বুঝতে পারবেন যে ফাদারের এই ব্যাখ্যা যোহনের বর্ণনাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে, যিনি বলেছিলেন: "মগ্দলিনী মারীয়াম খুব ভোরে কবরের কাছে এলেন, যখন তখনও অন্ধকার ছিল"। মগ্দলিনী যখন কবরে পৌঁছেছিলেন তখন অন্ধকারই ছিল, তিনি শহরের পশ্চিম ফটকে পৌঁছাননি যা কেবল সূর্যোদয়ের পরেই খোলা হয়!

 

‌‌কবরে কে এসেছিলেন?

পরিদর্শনকারীদের কথা বলতে গেলে, যোহনের বর্ণনা অনুযায়ী তিনি কেবল মগ্দলিনী মারীয়াম ছিলেন, যেমনটি পূর্বোক্ত পাঠ্যে রয়েছে: "মগ্দলিনী মারীয়াম খুব ভোরে কবরের কাছে এলেন" (যোহন ২০:১-৩)।

মথি অপর এক মারীয়ামের কথা যোগ করেছেন যার পরিচয় তিনি অস্পষ্ট রেখেছেন: "মগ্দলিনী মারীয়াম এবং অন্য মারীয়াম কবরটি দেখতে এলেন" (মথি ২৮:১)।

তবে মার্ক তাঁর পাঠকদের জানাচ্ছেন যে, পরিদর্শনকারী মহিলারা ছিলেন মগ্দলিনী মারীয়াম, যাকোবের মাতা মারীয়াম এবং শালোমি।

--------------------------------------------

(১) সেন্ট মথির সুসমাচার (অধ্যয়ন, ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ), ফাদার মাত্তা আল-মিসকিন, পৃষ্ঠা (৮৩০)।
(খণ্ড: ১) হাল ইফ্তাদানা আল-মাসিহু আলাস সলিব (পৃষ্ঠা: ২৮)
فيقول: "اشترت مريم المجدلية ومريم أم يعقوب وسالومة حنوطاً ليأتين ويدهنّه " (مرقس 16/ 1).

وأما لوقا فيخبر أن القادمات للزيارة كن نساء كثيرات ومعهن أناس، يقول لوقا: "وتبعته نساء كنّ قد أتين معه من الجليل ونظرن القبر وكيف وضع جسده. ثم في أول الأسبوع أول الفجر أتين إلى القبر حاملات الحنوط الذي أعددنه ومعهنّ أناس، فوجدن الحجر مدحرجاً عن القبر" (لوقا 23/ 55 - 24/ 1). وهذا كله إنما كان في زيارة واحدة.

 

‌‌متى دحرج الحجر؟

ثم هل وجد الزوار الحجر الذي يسد القبر مدحرجاً أم دُحرج وقت الزيارة؟

يقول متى: " وإذا زلزلة عظيمة حدثت، لأن ملاك الرب نزل من السماء، جاء ودحرج الحجر عن الباب، وجلس عليه " (متى 28/ 2)، فيفهم منه أن الدحرجة حصلت وقتذاك.

بينما يذكر الثلاثة أن الزائرات وجدن الحجر مدحرجاً، يقول لوقا: "أتين إلى القبر حاملات الحنوط الذي أعددنه ومعهنّ أناس. فوجدن الحجر مدحرجاً عن القبر" (لوقا 24/ 2) (وانظر: مرقس 16/ 4، يوحنا 20/ 1).

 

‌‌ماذا رأت الزائرات؟

وقد شاهدت الزائرات في القبر شاباً جالساً عن اليمين، لابساً حُلة بيضاء حسب مرقس (انظر: مرقس 16/ 5)، ومتى جعل الشاب ملاكاً نزل من السماء. (انظر: متى 28/ 2)، ولوقا جعلهما رجلين بثياب براقة. (انظر: لوقا 24/ 4).

وأما يوحنا فقد جعلهما ملَكين بثياب بيضٍ، أحدهما عند الرأس، والآخر عند الرجلين. (انظر يوحنا 20/ 12).
তিনি বলেন: "মরিয়ম মগদলীনী, যাকোবের মাতা মরিয়ম এবং সালোমী সুগন্ধি দ্রব্য ক্রয় করলেন যেন তাঁরা এসে তাঁকে অভিষেক করতে পারেন" (মার্ক ১৬/ ১)।

পক্ষান্তরে লূক বর্ণনা করছেন যে, দর্শনার্থী হিসেবে আগতরা ছিলেন অনেক নারী এবং তাঁদের সাথে অন্য লোকেরাও ছিল। লূক বলেন: "আর গালীল থেকে তাঁর সাথে যে নারীরা এসেছিলেন, তাঁরা পিছে পিছে গিয়ে সেই সমাধিটি এবং তাঁর দেহটি কীভাবে রাখা হয়েছিল তা দেখলেন। অতঃপর সপ্তাহের প্রথম দিনে খুব ভোরে তাঁরা নিজেদের প্রস্তুত করা সুগন্ধি দ্রব্য নিয়ে সমাধিতে উপস্থিত হলেন এবং তাঁদের সঙ্গে আরও কিছু লোক ছিল; তাঁরা দেখলেন যে সমাধি থেকে পাথরটি গড়িয়ে সরানো হয়েছে" (লূক ২৩/ ৫৫ - ২৪/ ১)। আর এই সমস্ত কিছুই ছিল মাত্র একটি সফরের ঘটনা।

 

‌পাথরটি কখন সরানো হয়েছিল?

অতঃপর, দর্শনার্থীরা কি সমাধিমুখের পাথরটিকে আগে থেকেই সরানো অবস্থায় পেয়েছিলেন নাকি সেটি দর্শনের সময় সরানো হয়েছিল?

মথি বলেন: "আর দেখ, এক মহাকম্পন হলো; কারণ প্রভুর এক দূত স্বর্গ থেকে নেমে এলেন এবং কাছে গিয়ে প্রবেশদ্বার থেকে পাথরটি সরিয়ে দিলেন ও তার উপরে বসলেন" (মথি ২৮/ ২); এর থেকে বোঝা যায় যে, পাথর সরানোর ঘটনাটি সেই মুহূর্তেই ঘটেছিল।

পক্ষান্তরে অপর তিনজন উল্লেখ করেছেন যে, নারী দর্শনার্থীরা পাথরটিকে সরানো অবস্থায় পেয়েছিলেন। লূক বলেন: "তাঁরা নিজেদের প্রস্তুত করা সুগন্ধি দ্রব্য নিয়ে সমাধিতে উপস্থিত হলেন এবং তাঁদের সঙ্গে আরও কিছু লোক ছিল। তাঁরা দেখলেন যে সমাধি থেকে পাথরটি গড়িয়ে সরানো হয়েছে" (লূক ২৪/ ২) (আরও দেখুন: মার্ক ১৬/ ৪, যোহন ২০/ ১)।

 

‌দর্শনার্থীরা কী দেখেছিলেন?

মার্কের বর্ণনা অনুযায়ী নারী দর্শনার্থীরা সমাধির ভেতরে ডান দিকে একজন যুবককে বসে থাকতে দেখেছিলেন, যিনি শুভ্র পোশাক পরিহিত ছিলেন (দেখুন: মার্ক ১৬/ ৫)। মথি সেই যুবককে স্বর্গ থেকে অবতীর্ণ একজন দূত হিসেবে উল্লেখ করেছেন (দেখুন: মথি ২৮/ ২)। আবার লূক তাঁদের বর্ণনা করেছেন উজ্জ্বল পরিচ্ছদধারী দুইজন পুরুষ হিসেবে (দেখুন: লূক ২৪/ ৪)।

আর যোহন তাঁদের শুভ্র বস্ত্র পরিহিত দুইজন স্বর্গদূত হিসেবে অভিহিত করেছেন, যাঁদের একজন মাথার দিকে এবং অন্যজন পায়ের দিকে উপবিষ্ট ছিলেন (দেখুন: যোহন ২০/ ১২)।
(খণ্ড: ১) হাল ইফ্তাদানা আল-মাসিহু আলাস সলিব (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌أين لقيت المجدلية المسيح؟ ومن الذي بشرها بقيامة المسيح؟

لقد كانت زائرات القبر أول من رأين المسيح، فأين حصل هذا اللقاء.

يجيب يوحنا بأنه كان داخل قبر المسيح، حين كانت المجدلية (وهي الزائرة الوحيدة حسب يوحنا) تتحدث إلى الملائكة، "فقالا لها: يا امرأة لماذا تبكين؟ قالت لهما: إنهم أخذوا سيدي، ولست أعلم أين وضعوه، ولما قالت هذا التفتت إلى الوراء، فنظرت يسوع واقفاً، ولم تعلم أنه يسوع، قال لها يسوع: يا امرأة لماذا تبكين؟ من تطلبين؟ فظنت تلك أنه البستاني؛ فقالت له: يا سيد إن كنت أنت قد حملته؛ فقل لي: أين وضعته؟ وأنا آخذه، قال لها يسوع: يا مريم. فالتفتت تلك، وقالت له: ربوني الذي تفسيره يا معلّم" (يوحنا 20/ 14 - 16)، ونلحظ هنا أنها اكتشفت أن المسيح مازال حياً من غير إخبار الملائكة لها، فقد رأته وتعرفت عليه بعد برهة من حديثه معها.

وأما إجابة متى عن السؤال فهي مختلفة، فإنه يرى أن المجدلية وصاحبتها قد لقيتاه خارج القبر، بل بعيداً عنه، فقد قال لهما الملاك مبشراً بنجاة المسيح: " لا تخافا أنتما. فإني أعلم أنكما تطلبان يسوع المصلوب، ليس هو ههنا، لأنه قام كما قال. هلم انظرا الموضع الذي كان الرب مضطجعاً فيه، واذهبا سريعاً، قولا لتلاميذه أنه قد قام من الأموات … فخرجتا سريعا من القبر بخوف وفرح عظيم راكضتين لتخبرا تلاميذه، وفيما هما منطلقتان لتخبرا تلاميذه؛ إذا يسوع لاقاهما، وقال: سلام لكما. فتقدمتا وأمسكتا بقدميه وسجدتا له. فقال لهما يسوع: لا تخافا. اذهبا، قولا لإخوتي أن يذهبوا إلى الجليل وهناك يرونني" (متى 28/ 8 - 10).

وهكذا فحسب متى كان اللقاء بعيداً عن القبر، وكانت البشارة بقيامته من قبل الملائكة، لا المسيح نفسه، ليتجدد السؤال: أي الإنجيلين أصاب كبد الحقيقة وأيهما أخطأها؟ وهل يمكن أن يكون مصدر ذا وذاك الله؟
মগ্দলীনী মরিয়ম কোথায় মসীহের সাক্ষাৎ পেয়েছিলেন? এবং কে তাঁকে মসীহের পুনরুত্থানের সুসংবাদ দিয়েছিলেন?

কবর পরিদর্শিকারাই ছিলেন প্রথম ব্যক্তি যারা মসীহকে দেখেছিলেন, তবে এই সাক্ষাৎটি কোথায় ঘটেছিল?

ইউহোন্না এর উত্তরে বলেন যে, এটি মসীহের কবরের অভ্যন্তরে হয়েছিল, যখন মগ্দলীনী (যিনি ইউহোন্নার মতে একমাত্র পরিদর্শিকা ছিলেন) ফেরেশতাদের সাথে কথা বলছিলেন, "তারা তাকে বলল: হে নারী, তুমি কেন কাঁদছ? সে তাদের বলল: তারা আমার প্রভুকে নিয়ে গেছে, এবং আমি জানি না তারা তাঁকে কোথায় রেখেছে। এ কথা বলে সে পিছন ফিরে তাকাল এবং যীশুকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখল, কিন্তু সে চিনতে পারেনি যে তিনি যীশু। যীশু তাকে বললেন: হে নারী, তুমি কেন কাঁদছ? কাকে খুঁজছ? সে তাঁকে মালী মনে করে বলল: হে মহাশয়, আপনি যদি তাঁকে সরিয়ে থাকেন, তবে আমাকে বলুন কোথায় রেখেছেন, আমি তাঁকে নিয়ে যাব। যীশু তাকে বললেন: মরিয়ম। সে ফিরে তাকিয়ে তাঁকে বলল: রবূনী, যার অর্থ হে শিক্ষক" (ইউহোন্না ২০/ ১৪-১৬)। আমরা এখানে লক্ষ্য করি যে, সে ফেরেশতাদের পক্ষ থেকে কোনো সংবাদ ছাড়াই মসীহ জীবিত আছেন বলে জানতে পেরেছিল; কারণ সে তাঁকে দেখেছিল এবং তাঁর সাথে সামান্য আলাপের পরেই তাঁকে চিনতে পেরেছিল।

অন্যদিকে এই প্রশ্নের ব্যাপারে মাত্তার উত্তর ভিন্ন। তিনি মনে করেন যে, মগ্দলীনী ও তাঁর সঙ্গিনী কবরের বাইরে, বরং কবর থেকে বেশ দূরে তাঁর দেখা পেয়েছিলেন। ফেরেশতা মসীহের পুনরুত্থানের সুসংবাদ দিয়ে তাঁদের বলেছিলেন: "তোমরা ভয় পেয়ো না। আমি জানি তোমরা ক্রুশবিদ্ধ যীশুকে খুঁজছ। তিনি এখানে নেই, কারণ তিনি যেমন বলেছিলেন ঠিক সেভাবেই পুনরুত্থিত হয়েছেন। এসো, সেই স্থানটি দেখে নাও যেখানে প্রভু শায়িত ছিলেন। এবং দ্রুত গিয়ে তাঁর শিষ্যদের বলো যে তিনি মৃতদের মধ্য থেকে জীবিত হয়ে উঠেছেন … অতঃপর তারা ভয় ও মহা আনন্দের সাথে দ্রুত কবর থেকে বেরিয়ে তাঁর শিষ্যদের খবর দিতে দৌড়ে গেল। তারা যখন খবর দিতে যাচ্ছিল, তখনই যীশু তাঁদের সামনে আবির্ভূত হলেন এবং বললেন: তোমাদের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক। তখন তারা এগিয়ে গিয়ে তাঁর পা জড়িয়ে ধরল এবং তাঁকে সিজদা করল। যীশু তাঁদের বললেন: ভয় পেয়ো না। যাও, আমার ভাইদের গালীলে যেতে বলো, সেখানেই তারা আমাকে দেখতে পাবে" (মাত্তাতা ২৮/ ৮-১০)।

এভাবে মাত্তার বর্ণনা মতে, সাক্ষাৎটি হয়েছিল কবর থেকে দূরে এবং পুনরুত্থানের সুসংবাদটি মসীহ নিজে দেননি বরং ফেরেশতারা দিয়েছিলেন। এমতাবস্থায় প্রশ্নটি পুনরায় উত্থাপিত হয়: এই দুই ইঞ্জিলের মধ্যে কোনটি ধ্রুব সত্য উপস্থাপন করেছে আর কোনটি ভুল করেছে? এবং এটা কি সম্ভব যে, এই উভয় বর্ণনার উৎস মহান আল্লাহ?
(খণ্ড: ১) হাল ইফ্তাদানা আল-মাসিহু আলাস সলিব (পৃষ্ঠা: ৩০)
‌‌هل أسرت الزائرات الخبر أم أشاعته؟

ويتناقض مرقس مع لوقا في مسألة: هل أخبرت النساء أحداً بما رأين أم لا؟ فمرقس يقول: "ولم يقلن لأحد شيئاً، لأنهن كن خائفات " (مرقس 16/ 8)، ولوقا يقول: " ورجعن من القبر، وأخبرن الأحد عشر وجميع الباقين بهذا كله " (لوقا 24/ 9).

 

‌‌لمن ظهر المسيح أول مرة؟

وتختلف الأناجيل مرة أخرى في عدد مرات ظهور المسيح لتلاميذه، وفيمن لقيه المسيح في أول ظهور؟ فمرقس ويوحنا يجعلان الظهور الأول لمريم المجدلية. (انظر: مرقس 16/ 9، يوحنا 20/ 14). ويضيف متى: مريم الأخرى. (انظر: متى 28/ 9).

بينما يعتبر لوقا أن أول من ظهر له المسيح هما التلميذان المنطلقان لعمواس (انظر: لوقا 24/ 13).

 

‌‌كم مرة ظهر المسيح؟ وأين؟

ويجعل يوحنا ظهور المسيح للتلاميذ مجتمعين ثلاث مرات. (انظر: يوحنا 20/ 19، 26) بينما يذكر الثلاثة للمسيح ظهوراً واحداً (انظر: متى 28/ 16، مرقس 16/ 14، لوقا 24/ 36).

ويجزم لوقا المتتبع لكل شيء بتدقيق أن المسيح ظهر للتلاميذ مرة واحدة، وقد رُفع في نهاية هذه المقابلة، فيقول: "وفيما هم يتكلمون بهذا وقف يسوع نفسه في وسطهم، وقال لهم: سلام لكم، فجزعوا وخافوا، وظنوا أنهم نظروا روحاً .. وأخرجهم خارجاً إلى بيت عنيا، ورفع يديه وباركهم، وفيما هو يباركهم انفرد عنهم، وأُصعد إلى السماء" (لوقا 24/ 36 - 51).

وهذا اللقاء الأول والأخير بين المعلم وتلاميذه يرى لوقا أنه قد تم في أورشليم،
পরিদর্শক নারীরা কি সংবাদটি গোপন করেছিলেন নাকি প্রচার করেছিলেন?

নারীরা যা দেখেছিলেন তা কাউকে জানিয়েছিলেন কি না—এই বিষয়ে মার্কের বর্ণনা লূকের সাথে সাংঘর্ষিক। মার্ক বলেন: "তারা কাউকে কিছু বলেনি, কারণ তারা ভীত ছিল" (মার্ক ১৬: ৮); পক্ষান্তরে লূক বলেন: "তারা সমাধি থেকে ফিরে এসে সেই এগারোজন এবং বাকি সবাইকে এই সব কথা জানাল" (লূক ২৪: ৯)।

 

মসীহ কার কাছে প্রথম আবির্ভূত হয়েছিলেন?

মসীহ তাঁর শিষ্যদের কাছে কতবার আবির্ভূত হয়েছিলেন এবং প্রথম আবির্ভাবে কার সাথে তাঁর দেখা হয়েছিল—এই বিষয়ে ইঞ্জিলসমূহ পুনরায় ভিন্ন মত প্রকাশ করে। মার্ক এবং যোহন মসীহের প্রথম আবির্ভাব হিসেবে মরিয়ম মগদলিনীকে উল্লেখ করেন (দ্রষ্টব্য: মার্ক ১৬: ৯, যোহন ২০: ১৪)। মথি এর সাথে অন্য মরিয়মকেও যুক্ত করেন (দ্রষ্টব্য: মথি ২৮: ৯)।

অথচ লূকের মতে, মসীহ যাঁদের নিকট প্রথম আবির্ভূত হয়েছিলেন তাঁরা হলেন ইম্মায়ূসের পথে প্রস্থানকারী দুই শিষ্য (দ্রষ্টব্য: লূক ২৪: ১৩)।

 

মসীহ কতবার আবির্ভূত হয়েছিলেন? এবং কোথায়?

যোহনের বর্ণনা অনুযায়ী মসীহ সমবেত শিষ্যদের কাছে তিনবার আবির্ভূত হয়েছিলেন (দ্রষ্টব্য: যোহন ২০: ১৯, ২৬); যেখানে অন্য তিন ইঞ্জিল লেখক মসীহের মাত্র একটি আবির্ভাবের কথা উল্লেখ করেন (দ্রষ্টব্য: মথি ২৮: ১৬, মার্ক ১৬: ১৪, লূক ২৪: ৩৬)।

প্রতিটি বিষয় সূক্ষ্মভাবে পর্যবেক্ষণকারী লূক দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেছেন যে, মসীহ শিষ্যদের কাছে একবারই আবির্ভূত হয়েছিলেন এবং এই সাক্ষাতের শেষেই তাঁকে ঊর্ধ্বে তুলে নেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন: "তারা যখন এই সব কথা বলছিল, তখন ঈসা স্বয়ং তাদের মাঝে এসে দাঁড়ালেন এবং তাদের বললেন: তোমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। তাতে তারা বিচলিত ও ভীত হলো এবং মনে করল যে তারা কোনো আত্মা দেখছে... এরপর তিনি তাদের বৈথনিয়া পর্যন্ত বাইরে নিয়ে গেলেন এবং হাত তুলে তাদের আশীর্বাদ করলেন। তাদের আশীর্বাদ করার সময় তিনি তাদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলেন এবং আকাশে তুলে নেওয়া হলেন" (লূক ২৪: ৩৬-৫১)।

শিক্ষক ও তাঁর শিষ্যদের মধ্যকার এই প্রথম ও শেষ সাক্ষাৎটি জেরুজালেমে সম্পন্ন হয়েছিল বলে লূক অভিমত ব্যক্ত করেন।
(খণ্ড: ১) হাল ইফ্তাদানা আল-মাসিহু আলাস সলিব (পৃষ্ঠা: ৩১)
فيقول: "ورجعا إلى أورشليم، ووجدا الأحد عشر مجتمعين هم والذين معهم، وهم يقولون: إن الرب قام بالحقيقة وظهر لسمعان … وفيما هم يتكلمون بهذا وقف يسوع نفسه في وسطهم، وقال لهم: سلام لكم" (لوقا 24/ 33 - 36).

بينما يقول صاحباه (متى ومرقس) بأن ذلك كان في الجليل " أما الأحد عشر تلميذاً، فانطلقوا إلى الجليل إلى الجبل، حيث أمرهم يسوع، ولما رأوه سجدوا له" (متى 28/ 16)، (وانظر مرقس 16/ 7)، فهل كان لقاؤهم الأول مع المسيح في الجليل أم في أورشليم؟

 

‌‌هل حضر توما اللقاء مع الأول مع المسيح؟

وعند غض الطرف عن عدد ظهورات المسيح للتلاميذ فإنا نتساءل عن الحضور الذين رأوا المسيح في اللقاء الأول حيث كان التلاميذ مجتمعين في أورشليم أو الجليل، هل كانوا جميعاً موجودين أم أن أحدهم وهو توما الشكاك كان غائباً عن هذا اللقاء؟

متّى يرى أن التلاميذ الاثني عشر كانوا موجودين خلا يهوذا الخائن، فيقول: "وأما الأحد عشر تلميذاً، فانطلقوا إلى الجليل، إلى الجبل، حيث أمرهم يسوع، ولما رأوه سجدوا له، ولكن بعضهم شكّوا" (متى 28/ 16 - 17)، يفهم منه أن توما كان أحد أولئك الساجدين حينذاك، ولعله هو من عناه متى حين قال: "ولكن بعضهم شكوا".

لكن يوحنا يجزم بغياب توما عن اللقاء الأول، ويقول: "أما توما أحد الاثني عشر الذي يقال له التوأم، فلم يكن معهم حين جاء يسوع، فقال له التلاميذ الآخرون: قد رأينا الرب " (يوحنا 20/ 19 - 25)، والحديث بالطبع عن اللقاء الأول، وقد لقيه بعد ذلك بثمانية أيام، وشكّ في شخص من يراه، وأراه المسيح يديه ورجليه كما قال يوحنا. (انظر يوحنا 20/ 26 - 27).
তিনি বলেন: "অতঃপর তারা জেরুসালেমে ফিরে গেল এবং সেই এগারোজন ও তাঁদের সঙ্গীদের সমবেত অবস্থায় দেখতে পেল। তাঁরা বলছিলেন: প্রভু প্রকৃতপক্ষে পুনরুত্থিত হয়েছেন এবং শিমোনের নিকট আবির্ভূত হয়েছেন … যখন তাঁরা এসব বিষয়ে কথা বলছিলেন, তখন যিশু স্বয়ং তাঁদের মাঝে এসে দাঁড়ালেন এবং তাঁদের বললেন: তোমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক" (লূক ২৪/ ৩৩-৩৬)।

পক্ষান্তরে তাঁর অপর দুই সঙ্গী (মথি ও মার্ক) বলেন যে, সেই ঘটনাটি গালীলে ঘটেছিল: "অতঃপর এগারোজন শিষ্য গালীলের সেই পাহাড়ে চলে গেলেন, যেখানে যিশু তাঁদের যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। যখন তাঁরা তাঁকে দেখলেন, তখন তাঁরা তাঁকে সিজদা করলেন" (মথি ২৮/ ১৬), (আরও দেখুন মার্ক ১৬/ ৭)। সুতরাং মসীহের সাথে তাঁদের প্রথম সাক্ষাৎ কি গালীলে হয়েছিল নাকি জেরুসালেমে?

 

‌‌থমাস কি মসীহের সাথে প্রথম সাক্ষাতে উপস্থিত ছিলেন?

শিষ্যদের নিকট মসীহের আবির্ভাবের সংখ্যার বিষয়টি এড়িয়ে গেলেও আমরা সেই উপস্থিত ব্যক্তিদের সম্পর্কে প্রশ্ন তুলি, যাঁরা প্রথম সাক্ষাতে মসীহকে দেখেছিলেন যখন শিষ্যরা জেরুসালেম বা গালীলে সমবেত হয়েছিলেন; তাঁরা কি সবাই সেখানে উপস্থিত ছিলেন, নাকি তাঁদের একজন—অর্থাৎ সন্দেহপ্রবণ থমাস—সেই সাক্ষাতে অনুপস্থিত ছিলেন?

মথি মনে করেন যে, বিশ্বাসঘাতক যিহূদা ব্যতীত বারোজন শিষ্যের বাকি সবাই সেখানে উপস্থিত ছিলেন; তিনি বলেন: "অতঃপর এগারোজন শিষ্য গালীলের সেই পাহাড়ে চলে গেলেন, যেখানে যিশু তাঁদের যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। যখন তাঁরা তাঁকে দেখলেন, তখন তাঁরা তাঁকে সিজদা করলেন, কিন্তু কেউ কেউ সন্দেহ করল" (মথি ২৮/ ১৬-১৭)। এর দ্বারা বোঝা যায় যে, থমাস তখন সেই সিজদাকারীদেরই একজন ছিলেন, এবং সম্ভবত মথি যখন বলেছিলেন "কিন্তু কেউ কেউ সন্দেহ করল", তখন তাঁকেই উদ্দেশ্য করেছিলেন।

কিন্তু যোহন প্রথম সাক্ষাতে থমাসের অনুপস্থিতির ব্যাপারে নিশ্চিত করে বলেন: "বারোজন শিষ্যের একজন থমাস, যাকে দিদিমাস (যমজ) বলা হয়, যিশু যখন আসলেন তখন তিনি তাঁদের সাথে ছিলেন না। তাই অন্য শিষ্যরা তাঁকে বললেন: 'আমরা প্রভুকে দেখেছি'" (যোহন ২০/ ১৯-২৫)। এই আলোচনাটি অবশ্যই প্রথম সাক্ষাৎ সম্পর্কে। এরপর আট দিন অতিবাহিত হলে থমাস তাঁর দেখা পান এবং তিনি যা দেখছিলেন তা নিয়ে সন্দেহ পোষণ করেন; তখন মসীহ তাঁকে নিজের হাত ও পা দেখান, যেমনটি যোহন বর্ণনা করেছেন। (দেখুন যোহন ২০/ ২৬-২৭)।
(খণ্ড: ১) হাল ইফ্তাদানা আল-মাসিহু আলাস সলিব (পৃষ্ঠা: ৩২)
لكن العجب كل العجب فيما أضافه بولس في اللقاء الأول، لقد أضاف ضيفاً غريباً ثقيلاً، وهو يهوذا الأسخريوطي، التلميذ الخائن الهالك، فقد قال: "قام في اليوم الثالث حسب الكتب، وإنه ظهر لصفا، ثم للاثني عشر " (كورنثوس (1) 15/ 4)، إنه تناقض صارخ آخر من تناقضات هذه الرواية التي تعتبر بحق أضعف أجزاء العهد الجديد.

 

‌‌كم بقي المسيح في الأرض قبل رفعه؟

ونشير أخيراً إلى تناقض كبير وقعت فيه الأناجيل، وهي تتحدث عن ظهور المسيح، ألا وهو مقدار المدة التي قضاها المسيح قبل رفعه.

ويفهم من متى ومرقس أن صعوده كان في يوم القيامة (انظر: متى 28/ 8 - 20، مرقس 16/ 9 - 19، ولوقا 24/ 1 - 53).

بيد أن مؤلف أعمال الرسل - والمفترض أنه لوقا - جعل صعود المسيح للسماء بعد أربعين يوماً من القيامة. (انظر: أعمال 1/ 13).

وبهذه التناقضات وغيرها سقطت شهادة الشهود في هذه المسألة، وصح لأي محكمة أن تعتبرهم شهود زور، وهل يُعرف شهود الزور إلا بمثل هذه التناقضات، أو أقل منها؟

أما الأب متى المسكين فأعياه أن يواجه تناقضات قصة القيامة، فبدلاً عنه رأى أن يقدم "رجاء وتوعية لكل قارئ أن لا يعثر من الاختلافات الواضحة في قصة القيامة، لأن الذي يتحدث عن القيامة إنما يتحدث عن أمور ليست تحت ضبط العقل والفكر والحواس والتمييز البصري .. فكل ما يخص القيامة لا يدخل تحت النقد أو الفحص أو التحقيق والإيضاح". (1)

--------------------------------------------

(1) الإنجيل بحسب القديس متى (دراسة وتفسير وشرح)، الأب متى المسكين، ص (832).
তবে সর্বাধিক বিস্ময়ের ব্যাপার হলো প্রথম সাক্ষাতে পৌল যা যোগ করেছেন; তিনি সেখানে একজন অদ্ভুত ও অনাকাঙ্ক্ষিত অতিথিকে যুক্ত করেছেন, আর তিনি হলেন বিশ্বাসঘাতক ও ধ্বংসপ্রাপ্ত শিষ্য যিহূদা ঈষ্করিয়োত। পৌল বলেছেন: "শাস্ত্রানুসারে তিনি তৃতীয় দিনে উত্থাপিত হয়েছেন, এবং তিনি কৈফাকে ও পরে সেই বারো জনকে দর্শন দিলেন" (১ করিন্থীয় ১৫: ৪)। এটি এই বর্ণনার বৈপরীত্যসমূহের মধ্যে আরেকটি চরম বৈপরীত্য, যা যথার্থই নতুন নিয়মের দুর্বলতম অংশ হিসেবে বিবেচিত।

 

‌‌উত্তোলনের পূর্বে মসীহ পৃথিবীতে কতদিন অবস্থান করেছিলেন?

পরিশেষে আমরা ইঞ্জিলসমূহে বিদ্যমান একটি বড় বৈপরীত্যের প্রতি ইঙ্গিত করছি, যা মসীহের আত্মপ্রকাশ বা দর্শন দান সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে উত্থাপিত হয়েছে; আর তা হলো তাঁর উত্তোলনের পূর্বে অতিক্রান্ত সময়ের পরিমাণ।

মথি ও মার্কের বর্ণনা থেকে বোঝা যায় যে, তাঁর ঊর্ধ্বগমন পুনরুত্থানের দিনেই হয়েছিল (দেখুন: মথি ২৮: ৮ - ২০, মার্ক ১৬: ৯ - ১৯, এবং লূক ২৪: ১ - ৫৩)।

অথচ প্রেরিতদের কার্যবিবরণী (অ্যাক্টস অফ দ্য অ্যাপোস্টলস) গ্রন্থের লেখক—যিনি সম্ভবত লূক—মসীহের আকাশে আরোহণকে পুনরুত্থানের চল্লিশ দিন পর সাব্যস্ত করেছেন। (দেখুন: প্রেরিত ১: ১৩)।

এই সকল বৈপরীত্য ও অন্যান্য কারণে এই বিষয়ে সাক্ষীদের সাক্ষ্য অসার প্রমাণিত হয়েছে। যেকোনো আদালতের পক্ষে তাদেরকে মিথ্যা সাক্ষী হিসেবে গণ্য করা সংগত হবে; কেননা মিথ্যা সাক্ষীদের কি এই ধরনের বা এর চেয়েও সামান্য বৈপরীত্যের মাধ্যমেই চেনা যায় না?

পক্ষান্তরে ফাদার মথি আল-মিসকিন পুনরুত্থানের কাহিনীর বৈপরীত্যসমূহের মোকাবিলা করতে গিয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন; তাই তিনি এর পরিবর্তে প্রত্যেক পাঠকের জন্য এই "আশা ও সচেতনতা" উপস্থাপন করা সমীচীন মনে করেছেন যে, তারা যেন পুনরুত্থানের কাহিনীর স্পষ্ট পার্থক্যগুলো দেখে বিভ্রান্ত না হয়। কারণ যে ব্যক্তি পুনরুত্থান নিয়ে কথা বলে, সে এমন সব বিষয় নিয়ে কথা বলে যা বুদ্ধি, চিন্তা, অনুভূতি এবং চাক্ষুষ পার্থক্যের নিয়ন্ত্রণে নেই... সুতরাং পুনরুত্থান সংক্রান্ত কোনো কিছুই সমালোচনা, পরীক্ষা, অনুসন্ধান বা স্পষ্টীকরণের আওতাভুক্ত নয়। (১)

--------------------------------------------

(১) সেন্ট মথি লিখিত ইঞ্জিল (অধ্যয়ন, ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ), ফাদার মথি আল-মিসকিন, পৃষ্ঠা (৮৩২)।