(খণ্ড: ১)
কাশফু আসরারিল বাতিনিয়্যাহ ওয়া আখবারুল ক্বারামিতা
(পৃষ্ঠা: -)
كشف أسرار الباطنية وأخبار القرامطة القسم: الفرق والردود
الكتاب: كشف أسرار الباطنية وأخبار القرامطة
المؤلف: أبو عبد الله محمد بن مالك بن أبي الفضائل الحمادي المعافري اليماني (ت نحو 470هـ)
المحقق: محمد عثمان الخشت
الناشر: مكتبة الساعي - الرياض
عدد الصفحات: 75
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 26 صفر 1433
কাশফ আসরারুল বাতিনিয়্যা ওয়া আখবারুল কারামিতা (বাতিনী সম্প্রদায়ের রহস্য উন্মোচন এবং কারামিতাদের ইতিবৃত্ত) বিভাগ: ফিরকা ও খণ্ডন
গ্রন্থ: কাশফ আসরারুল বাতিনিয়্যা ওয়া আখবারুল কারামিতা (বাতিনী সম্প্রদায়ের রহস্য উন্মোচন এবং কারামিতাদের ইতিবৃত্ত)
গ্রন্থকার: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে মালিক ইবনে আবিল ফাদায়েল আল-হাম্মাদি আল-মু'আফিরি আল-ইয়ামানি (মৃত্যু আনুমানিক ৪৭০ হিজরি)
সম্পাদক: মুহাম্মদ উসমান আল-খাশত
প্রকাশক: মাকতাবাতুস সাঈ - রিয়াদ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭৫
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২৬ সফর ১৪৩৩
(খণ্ড: ১)
কাশফু আসরারিল বাতিনিয়্যাহ ওয়া আখবারুল ক্বারামিতা
(পৃষ্ঠা: ১)
كشف أسرار الباطنية وأخبار القرامطة
لأبي عبد الله محمد بن مالك بن أبي القبائل الحمادي المعافري اليماني
বাতেনিয়াদের গোপন রহস্য উন্মোচন ও কারামিতাদের ইতিবৃত্ত
আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন মালিক বিন আবিল কাবায়েল আল-হাম্মাদি আল-মাআফিরি আল-ইয়ামানি বিরচিত
(খণ্ড: ১)
কাশফু আসরারিল বাতিনিয়্যাহ ওয়া আখবারুল ক্বারামিতা
(পৃষ্ঠা: ২১)
- بسم الله الرحمن الرحيم -
قال محمد بن مالك رحمه الله: اعلموا أيها الناس المسلمون - عصمكم الله بالإسلام وجنبنا وإياكم طريق الآثام وأصلحكم وأرشدكم ووفقكم لمرضاة وسددكم - أني كنت أسمع ما يقال عن هذا الرجل الصليحي كما يسمعون وما يتكلم به عليه من سيء الإذاعة وقبح الشناعة، فإذا قال القائل: هو يفعل ويصنع، قلت: أنت تشهد عليه غدا؟ فيقول: ما شهدت ولا عاينت بل أقول كما يقول الناس. فكنت أتعجب من هذا أولا ولا أكاد أصدق ولا أكذب ما قد أجمع عليه الناس ونطقت به الألسن،
- পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে -
মুহাম্মদ বিন মালিক (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: হে মুসলিম সম্প্রদায়! আপনারা অবগত হোন—আল্লাহ তাআলা আপনাদের ইসলামের মাধ্যমে হেফাজত করুন, আমাদের ও আপনাদের পাপের পথ থেকে দূরে রাখুন, আপনাদের সংশোধন করুন, সঠিক পথ প্রদর্শন করুন, তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনে তাওফিক দান করুন এবং আপনাদের সুদৃঢ় রাখুন—আমি এই সুলাইহি নামক ব্যক্তিটি সম্পর্কে মানুষ যা শুনত, আমিও তাই শুনতাম এবং তার বিরুদ্ধে প্রচারিত মন্দ কথা ও জঘন্য অপবাদগুলো সম্পর্কেও অবগত ছিলাম। যখন কোনো ব্যক্তি বলত: "সে এই এই কাজ করে," তখন আমি বলতাম: "তুমি কি পরকালে তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে?" সে উত্তরে বলত: "আমি নিজে তা দেখিনি বা প্রত্যক্ষ করিনি, বরং মানুষ যা বলছে আমিও তাই বলছি।" শুরুতে আমি এই বিষয়ে বিস্মিত হতাম; লোকজন যে বিষয়ে একমত হয়েছিল এবং মুখে মুখে যা ছড়িয়ে পড়েছিল, তা আমি পুরোপুরি বিশ্বাসও করতে পারতাম না, আবার পুরোপুরি মিথ্যাও মনে করতাম না।
(খণ্ড: ১)
কাশফু আসরারিল বাতিনিয়্যাহ ওয়া আখবারুল ক্বারামিতা
(পৃষ্ঠা: ২২)
فتارة أقول: هذا ما لا يفعله أحد من العرب والعجم ولا سمع به فيما تقدم من سالف الأمم، إنما هذه عداوة له من الناس للمآل الذي بلغه من غير أصل ولا أساس، وكنت كثيرا ما أسمعه يقول: "حكم الله لنا على من يظلمنا ويرمينا بما ليس فينا".
فرأيت أن أدخل في مذهبه لأتيقن صدق ما قيل فيه من كذبه، ولأطلع على سرائره وكتبه، فلما تصفحت جميع ما فيه وعرفت معانيها رأيت أن أبرهن على ذلك ليعلم المسلمون عمدة مقالته وأكشف لهم عن كفره وضلالته نصحة لله وللمسلمين وتحذيرا ممن يحاول بغض هذا الدين، والله موهن كيد الكافرين.
فأول ما أشهد به وأشرحه وأبينه للمسلمين وأوضحه أن له نوابا يسميهم الدعاة المأذونين، وآخرين يلقبهم المكلّبين تشبيها لهم بكلاب الصيد لأنهم ينصبون للناس الحبائل ويكيدون لهم بالغوائل، وينقضون على كل عاقل، ويلّبسون على كل جاهل، بكلمة حق يراد بها الباطل، يحضونه على شرائع الإسلام من الصلاة والزكاة والصيام، كالذي ينثر الحب للطير
কখনও আমি বলি: এটি এমন এক বিষয় যা আরব বা অনারবদের কেউ করে না এবং পূর্ববর্তী জাতিসমূহের ইতিহাসেও এমনটি শোনা যায়নি। এটি মূলত সেই মর্যাদার কারণে তাঁর প্রতি মানুষের শত্রুতা যা তিনি কোনো ভিত্তি বা মূল ছাড়াই অর্জন করেছেন। আমি তাঁকে প্রায়ই বলতে শুনতাম: "আমাদের ওপর যারা জুলুম করে এবং আমাদের ওপর এমন অপবাদ দেয় যা আমাদের মাঝে নেই, তাদের বিরুদ্ধে আল্লাহই আমাদের জন্য ফয়সালাকারী।"
অতঃপর আমি তাঁর মতাদর্শে প্রবেশ করা সমীচীন মনে করলাম, যাতে তাঁর সম্পর্কে যা বলা হয় সেটির সত্যতা যাচাই করতে পারি এবং তাঁর গোপন রহস্য ও কিতাবসমূহ সম্পর্কে অবগত হতে পারি। যখন আমি সেখানের বিষয়বস্তুসমূহ আদ্যোপান্ত পাঠ করলাম এবং সেগুলোর গূঢ়ার্থ উপলব্ধি করলাম, তখন আমি তা প্রমাণ করার সিদ্ধান্ত নিলাম যাতে মুসলমানগণ তাঁর বক্তব্যের মূল ভিত্তি সম্পর্কে অবগত হতে পারে। আল্লাহ এবং মুসলিম উম্মাহর প্রতি হিতাকাঙ্ক্ষী হয়ে এবং যারা এই দ্বীনের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করতে চায় তাদের ব্যাপারে সতর্ক করার লক্ষ্যে আমি তাঁদের সামনে তাঁর কুফর ও ভ্রষ্টতা উন্মোচিত করব। আর আল্লাহ কাফিরদের ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দেন।
আমি মুসলমানদের নিকট প্রথম যা সাক্ষ্য দিচ্ছি এবং সবিস্তারে ব্যাখ্যা করছি তা হলো—তাঁর কিছু প্রতিনিধি রয়েছে যাদেরকে তিনি 'অনুমোদিত আহ্বানকারী' বলে অভিহিত করেন, আর অন্য একদলকে 'শিকারী কুকুরসদৃশ' উপাধি দেন; শিকারী কুকুরের সাথে তাদের সাদৃশ্য থাকার কারণেই এই নামকরণ। কারণ তারা মানুষের জন্য জাল বিস্তার করে এবং নানাবিধ কৌশলে তাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে। তারা প্রত্যেক বুদ্ধিমান ব্যক্তিকে আক্রমণ করে এবং প্রত্যেক অজ্ঞ ব্যক্তিকে বিভ্রান্ত করে—এমন এক সত্য বাণীর আড়ালে যার উদ্দেশ্য মূলত অসত্য। তারা তাকে সালাত, জাকাত ও সওমের মতো ইসলামের বিধানাবলির প্রতি উৎসাহিত করে, ঠিক যেমনটি পাখিকে ধরার জন্য দানা ছিটিয়ে প্রলুব্ধ করা হয়।
(খণ্ড: ১)
কাশফু আসরারিল বাতিনিয়্যাহ ওয়া আখবারুল ক্বারামিতা
(পৃষ্ঠা: ২৩)
ليقع في شركه، فيقيم فيه أكثر من سنة يمضون به وينظرون صبره، ويتصفحون أمره، ويخدعونه بروايات عن النبي صلى الله عليه وسلم محرفة وأقوال مزخرفة، ويتلون عليه القرآن على غير وجهه، ويحرفون الكلم عن مواضعه. فإذا رأوا منه الانهماك والركون والقبول والإعجاب بجميع ما يعملونه والانقياد بما يأمرونه قالوا حينئذ: اكشف عن السرائر ولا ترضى لنفسك ولا تقنع بما قد قنع به العوام من الظواهر وتدبر القرآن ورموزه واعرف مثله وممثوله واعرف الصلاة والطهارة وما روي عن النبي صلى الله عليه وسلم بالرموز والإشارة دون التصريح في ذلك والعبارة فإنما جميع ما عليه الناس أمثال مضروبة لممثولات محجوبة، فاعرف الصلاة وما فيها وقف على باطنها ومعانيها لأن العمل بغير العلم لا ينتفع صاحبه به فيقول: عم أسأل؟
যাতে সে তাদের জালে নিপতিত হয়; এরপর তারা তাকে সেখানে এক বছরেরও অধিক কাল অবস্থান করায়, তারা তাকে পর্যবেক্ষণ করে এবং তার ধৈর্য পরীক্ষা করে, আর তার অবস্থা গভীরভাবে পর্যলোচনা করে। তারা তাকে নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নামে আরোপিত বিকৃত বর্ণনা ও অলঙ্কৃত বচনের মাধ্যমে প্রতারিত করে। তারা তার সম্মুখে কুরআনের অপব্যাখ্যা প্রদান করে এবং শব্দাবলিকে তার যথাযথ স্থান থেকে বিচ্যুত করে। অতঃপর যখন তারা তার মধ্যে পূর্ণ একাগ্রতা, সংহতি, গ্রহণযোগ্যতা এবং তাদের সকল কর্মের প্রতি মুগ্ধতা ও তাদের আদেশের প্রতি আনুগত্য দেখতে পায়, তখন তারা বলে: "তুমি গুপ্ত রহস্যসমূহ উন্মোচন করো; তুমি নিজের জন্য কেবল বাহ্যিক বিষয়ে তুষ্ট থেকো না এবং সাধারণ মানুষ যে সকল বাহ্যিক রূপ নিয়ে তুষ্ট রয়েছে তাতে তৃপ্ত হয়ো না। তুমি কুরআন ও এর রহস্যসমূহ নিয়ে গভীর চিন্তা করো এবং এর রূপক ও রূপকার্থ অনুধাবন করো। সালাত, পবিত্রতা এবং নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তা কেবল ইশারা ও প্রতীকের মাধ্যমে জানো, কোনো স্পষ্ট বিবৃতি বা শব্দের মাধ্যমে নয়। কেননা সাধারণ মানুষ যা কিছুর ওপর প্রতিষ্ঠিত রয়েছে তা মূলত পর্দার আড়ালে থাকা গূঢ় বিষয়াবলির জন্য উপস্থাপিত কতিপয় উদাহরণ মাত্র। সুতরাং তুমি সালাত ও এর অন্তর্নিহিত বিষয়াবলি সম্পর্কে জানো এবং এর গূঢ় রহস্য ও মর্মার্থের গভীরে প্রবেশ করো; কারণ জ্ঞানহীন আমল তার আমলকারীর কোনো উপকারে আসে না।" তখন সে বলে: "আমি কী বিষয়ে প্রশ্ন করব?"
(খণ্ড: ১)
কাশফু আসরারিল বাতিনিয়্যাহ ওয়া আখবারুল ক্বারামিতা
(পৃষ্ঠা: ২৪)
فيقول: قال الله تعالى: {َأَقِيمُوا الصَّلاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ}. فالزكاة المفروضة في كل عام مرة وكذلك الصلاة من صلاها مرة في السنة فقد أقام الصلاة بغير تكرار، وأيضا فالصلاة والزكاة لهما باطن، لأن الصلاة صلاتان، والزكاة زكاتان، والصوم صومان، والحج حجان، وما خلق الله سبحانه من ظاهر إلاّ وله باطن، يدل على ذلك: {وَذَرُوا ظَاهِرَ الإِثْمِ وَبَاطِنَهُ} ، و {قُلْ إِنَّمَا حَرَّمَ رَبِّيَ الْفَوَاحِشَ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ} ، ألا ترى أن البيضة لها ظاهر وباطن، فالظاهر ما تساوى به الناس وعرفه الخاص والعام، وأما الباطن فقصر علم الناس به عن العلم به فلا يعرفه إلا القليل، من ذلك قوله: {وَقَلِيلٌ مَا هُمْ} ، وقوله: {وَقَلِيلٌ مِنْ عِبَادِيَ الشَّكُورُ} ، فالأقل من الأكثر الذين لا عقول لهم.
والصلاة والزكاة سبعة أحرف دليل على محمد وعلى صلى الله عليه وسلم عليهما لأنهما سبعة أحرف، فالمعني بالصلاة والزكاة ولاية محمد وعلي، فمن تولاهما فقد أقام الصلاة وآتى الزكاة. فيوهمون على من لا يعرف لزوم الشريعة والقرآن وسنن النبي صلى الله عليه وسلم فيقع هذا من ذلك المخدوع بموقع الاتفاق والموافقة لأنه مذهب الراحة والإباحة، يريحهم مما تلزمهم الشرائع من طاعة الله ويبيح لهم ما حظر عليهم من محارم الله. فإذا قبل منهم ذلك المغرور هذا قالوا له: قرب قربانا يكون لك
তিনি বলেন: আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {তোমরা সালাত কায়েম করো এবং জাকাত প্রদান করো}। সুতরাং জাকাত প্রতি বছর একবার ফরজ করা হয়েছে; একইভাবে সালাতও, যে ব্যক্তি বছরে একবার তা আদায় করল, সে পুনরাবৃত্তি ছাড়াই সালাত কায়েম করল। এছাড়াও সালাত ও জাকাতের অভ্যন্তরীণ বা গুহ্য রহস্য রয়েছে; কেননা সালাত দুই প্রকার, জাকাত দুই প্রকার, সিয়াম দুই প্রকার এবং হজও দুই প্রকার। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বাহ্যিক যা কিছুই সৃষ্টি করেছেন, তার একটি অভ্যন্তরীণ রূপ রয়েছে। এর প্রমাণ হলো: {তোমরা প্রকাশ্য ও গোপন পাপ বর্জন করো} এবং {বলো, আমার প্রতিপালক কেবল প্রকাশ্য ও গোপন অশ্লীল কাজগুলোকেই হারাম করেছেন}। আপনি কি দেখেন না যে ডিমের একটি বহির্ভাগ ও একটি অন্তর্ভাগ রয়েছে? বহির্ভাগ হচ্ছে সেটি যাতে সব মানুষ সমান এবং সাধারণ-বিশেষ নির্বিশেষে সবাই তা জানে। আর অভ্যন্তরীণ জ্ঞান সম্পর্কে মানুষের জ্ঞান অত্যন্ত সীমিত, তাই অল্প সংখ্যক লোক ছাড়া আর কেউ তা জানে না। এ প্রসঙ্গে তাঁর বাণী: {তারা সংখ্যায় অত্যন্ত নগণ্য} এবং তাঁর বাণী: {আমার বান্দাদের মধ্যে অল্প সংখ্যকই কৃতজ্ঞ}। সুতরাং তারা সেই সংখ্যাগুরুদের তুলনায় নগণ্য যাদের কোনো বোধশক্তি নেই।
সালাত এবং জাকাত শব্দ দুটি সাতটি অক্ষর বিশিষ্ট, যা মুহাম্মদ ও আলীর (তাঁদের উভয়ের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) প্রতি ইঙ্গিতবাহী; কারণ তাঁরাও সাতটি অক্ষর। সুতরাং সালাত ও জাকাত দ্বারা উদ্দেশ্য হলো মুহাম্মদ ও আলীর আনুগত্য (বিলায়াত)। অতএব যে ব্যক্তি তাঁদের আনুগত্য করল, সে যেন সালাত কায়েম করল এবং জাকাত প্রদান করল। তারা এমন ব্যক্তিদের বিভ্রান্ত করে যারা শরিয়তের অপরিহার্যতা, কুরআন এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহ সম্পর্কে অবগত নয়। ফলে সেই প্রতারিত ব্যক্তির কাছে এটি গ্রহণযোগ্য মনে হয়, কারণ এটি স্বস্তি ও স্বেচ্ছাচারিতার পথ। এটি তাদের আল্লাহর আনুগত্যের ক্ষেত্রে শরিয়ত কর্তৃক আরোপিত বাধ্যবাধকতা থেকে মুক্তি দেয় এবং আল্লাহর নিষিদ্ধ বিষয়গুলোকে তাদের জন্য বৈধ করে দেয়। যখন সেই বিভ্রান্ত ব্যক্তি তাদের কাছ থেকে এই মতবাদ গ্রহণ করে নেয়, তখন তারা তাকে বলে: "একটি উৎসর্গ পেশ করো যা তোমার জন্য হবে..."
(খণ্ড: ১)
কাশফু আসরারিল বাতিনিয়্যাহ ওয়া আখবারুল ক্বারামিতা
(পৃষ্ঠা: ২৫)
سلّما ونجوى، ونسأل لك مولانا يحط عنك الصلاة ويضع عنك هذا الإصر، فيدفع اثني عشر دينار فيقول ذلك الداعي: يا مولانا! إن عبدك فلان قد عرف الصلاة ومعانيها فاطرح عنه الصلاة وضع عنه هذا الإصر، وهذا نجواه اثنا عشر دينار، فيقول: اشهدوا أني قد وضعت عنه الصلاة، ويقرأ له {وَيَضَعُ عَنْهُمْ إِصْرَهُمْ وَالأَغْلالَ الَّتِي كَانَتْ عَلَيْهِمْ}.
فعند ذلك يقبل عليه أهل هذه الدعوة يهنئونه ويقولون: الحمد لله الذي وضع عنك {وِزْرَكَ الَّذِي أَنْقَضَ ظَهْرَكَ} ، ثم يقول له ذلك الداعي الملعون بعد مدة: قد عرفت الصلاة وهي أول درجة، وأنا أرجو أن يبلغك الله إلى أعلى الدرجات فاسأل وابحث، فيقول: عم أسأل؟ فيقول له: سل عن الخمر والميسر اللذين نهى الله تعالى عنهما أبو بكر وعمر لمخالفتهما على علي وأخذهما الخلافة من دونه، فأما ما يعمل من العنب والزبيب والحنطة وغير ذلك فليس بحرام لأنه مما أنبتت الأرض. ويتلو عليه:
সালাম ও নিবেদনস্বরূপ; এবং আমরা আমাদের প্রভুর নিকট আপনার জন্য প্রার্থনা করছি যেন তিনি আপনার ওপর থেকে সালাতের বাধ্যবাধকতা অপসারিত করেন এবং আপনার ওপর থেকে এই ভারী বোঝা লাঘব করেন। এরপর সে বারো দিনার প্রদান করে এবং সেই দায়ী বলে: "হে আমাদের প্রভু! আপনার এই বান্দা অমুক ব্যক্তি সালাত ও এর নিহিত অর্থসমূহ অনুধাবন করেছে, সুতরাং আপনি তার ওপর থেকে সালাতের আবশ্যকতা রহিত করুন এবং এই গুরুভার নামিয়ে দিন; আর এটি হলো নিবেদনস্বরূপ তার বারো দিনার।" তখন তিনি বলেন: "তোমরা সাক্ষী থাকো যে আমি তার ওপর থেকে সালাতের বিধান তুলে নিয়েছি।" আর তিনি তার জন্য পাঠ করেন: {এবং তিনি তাদের ওপর থেকে তাদের গুরুভার এবং সেই শৃঙ্খলসমূহ অপসারিত করেন যা তাদের ওপর বিদ্যমান ছিল}।
অতঃপর এই দাওয়াতের অনুসারীরা তার দিকে অগ্রসর হয়ে তাকে অভিনন্দন জানায় এবং বলে: "সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আপনার থেকে {আপনার সেই বোঝা অপসারিত করেছেন যা আপনার পিঠকে নুইয়ে দিয়েছিল}।" এরপর সেই অভিশপ্ত দায়ী কিছুকাল অতিবাহিত হওয়ার পর তাকে বলে: "আপনি সালাত সম্পর্কে জেনেছেন এবং এটি হলো প্রথম সোপান। আমি আশা করি আল্লাহ আপনাকে সর্বোচ্চ সোপানসমূহে পৌঁছে দেবেন; অতএব আপনি প্রশ্ন করুন এবং অনুসন্ধান করুন।" সে বলে: "আমি কী সম্পর্কে প্রশ্ন করব?" তখন সে তাকে বলে: "মদ ও জুয়া সম্পর্কে প্রশ্ন করুন—যাদের থেকে আল্লাহ তাআলা নিষেধ করেছেন—তারা হলেন আবু বকর ও উমর; আলীর বিরোধিতা করা এবং তাঁর বিনানুমতিতে খেলাফত দখল করার কারণে। আর যা কিছু আঙ্গুর, কিশমিশ, গম ও অন্য কিছু থেকে তৈরি করা হয় তা হারাম নয়; কেননা তা ভূমি থেকে উৎপন্ন বস্তু।" এরপর সে তার সামনে পাঠ করে:
(খণ্ড: ১)
কাশফু আসরারিল বাতিনিয়্যাহ ওয়া আখবারুল ক্বারামিতা
(পৃষ্ঠা: ২৬)
{قُلْ مَنْ حَرَّمَ زِينَةَ اللَّهِ الَّتِي أَخْرَجَ لِعِبَادِهِ وَالطَّيِّبَاتِ مِنَ الرِّزْقِ} إلى آخر الآية. ويتلو عليه: {لَيْسَ عَلَى الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ جُنَاحٌ فِيمَا طَعِمُوا} إلى آخر الآية، والصوم الكتمان فيتلو عليه: {فَمَنْ شَهِدَ مِنْكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْه} ، يريد كتمان الأئمة في وقت استتارهم خوفا من الظالمين ويتلو عليه: {إِنِّي نَذَرْتُ لِلرَّحْمَنِ صَوْمًا فَلَنْ أُكَلِّمَ الْيَوْمَ إِنْسِيًّا} ، فلو كان عني بالصيام ترك الطعام، لقال: فلن أطعم اليوم شيئا فدل على أن الصيام الصموت. فحينئذ يزداد ذلك المخدوع طغيانا وكفرا، وينهمك إلى قول ذلك الداعي الملعون؛ لأنه أتاه بما يوافق هواه والنفس الأمارة بالسوء.
ثم يقول له: ادفع النجوى تكون سلما ووسيلة حتى نسأل مولانا يضع عنك الصوم. فيدفع اثني عشر دينارا فيمضي به إليه فيقول: يا مولانا، عبدك فلان قد عرف معنى الصوم على الحقيقة فأبح له الأكل برمضان،
"বলুন, কে হারাম করেছে আল্লাহর সেই সৌন্দর্যকে যা তিনি তাঁর বান্দাদের জন্য প্রকাশ করেছেন এবং পবিত্র জীবনোপকরণসমূহকে?" আয়াতের শেষ পর্যন্ত। এবং সে তার সামনে পাঠ করে: "যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে, তারা যা ভক্ষণ করেছে তাতে তাদের কোনো পাপ নেই," আয়াতের শেষ পর্যন্ত। আর (সে দাবি করে যে) সিয়াম হলো গোপন রাখা, অতঃপর সে তার সামনে পাঠ করে: "অতএব তোমাদের মধ্যে যে এই মাসটি পাবে, সে যেন সিয়াম পালন করে," এর দ্বারা সে উদ্দেশ্য নেয় জালেমদের ভয়ে ইমামদের আত্মগোপনকালে তাদের পরিচয় গোপন রাখা। এবং সে তার সামনে আরও পাঠ করে: "আমি পরম করুণাময়ের উদ্দেশ্যে সিয়ামের মানত করেছি, সুতরাং আজ আমি কোনো মানুষের সাথে কথা বলব না।" যদি সিয়াম দ্বারা আহার বর্জন করা উদ্দেশ্য হতো, তবে তিনি অবশ্যই বলতেন: "আজ আমি কিছুই আহার করব না।" সুতরাং এটি প্রমাণ করে যে সিয়াম হলো নীরবতা পালন করা। ফলশ্রুতিতে সেই প্রতারিত ব্যক্তি অবাধ্যতা ও কুফরিতে আরও নিমজ্জিত হয় এবং সেই অভিশপ্ত আহ্বানকারীর কথায় আসক্ত হয়ে পড়ে; কারণ সে তার সামনে এমন বিষয় উপস্থাপন করেছে যা তার প্রবৃত্তি এবং মন্দ কর্মে প্ররোচনা দানকারী আত্মার আকাঙ্ক্ষার অনুকূল।
অতঃপর সে তাকে বলে: তুমি 'নাজওয়া' (গোপন উপঢৌকন) প্রদান করো, যা তোমার জন্য নিরাপত্তা ও মাধ্যম হবে, যাতে আমরা আমাদের মাওলার (নেতার) কাছে আবেদন করতে পারি যেন তিনি তোমার ওপর থেকে সিয়ামের বিধান তুলে নেন। তখন সে বারো দিনার প্রদান করে এবং সে তাকে সাথে নিয়ে তার কাছে যায় ও বলে: হে আমাদের মাওলা, আপনার অমুক বান্দা সিয়ামের প্রকৃত মর্ম অনুধাবন করেছে, সুতরাং তার জন্য রমজান মাসে আহার করা বৈধ করে দিন।
(খণ্ড: ১)
কাশফু আসরারিল বাতিনিয়্যাহ ওয়া আখবারুল ক্বারামিতা
(পৃষ্ঠা: ২৭)
فيقول له: قد وثقته وأمنته على سرائرنا؟ فيقول له: نعم، فيقول: قد وضعت عنك ذلك. ثم يقيم بعد مدة فيأتيه ذلك الداعي الملعون فيقول له: لقد عرفت ثلاث درجات فاعرف الطهارة وما هي وما معنى الجنابة ما هي في التأويل؟ فيقول: فسر لي ذلك؟ فيقول له: اعلم أن معنى الطهارة طهارة القلب، وأن المؤمن طاهر بذاته، والكافر النجس لا يطهره ماء ولا غيره، وأن الجنابة هي موالاة الأضداد، أضداد الأنبياء والأئمة، فأما المني فليس بنجس منه خلق الله الأنبياء والأولياء وأهل الطاعة، وكيف يكون نجسا وهو مبدأ خلق الإنسان وعليه يكون أساس البنيان، فلو كان التطهير منه من أمر الدين لكان الغسل من الغائط والبول أوجب لأنهما نجسان، وإنما معنى {وَإِنْ كُنْتُمْ جُنُبًا فَاطَّهَّرُوا} ، معناه فإن كنتم جهلة بالعلم الباطن فتعلموا واعرفوا العلم الذي هو حياة الأرواح كالماء الذي هو حياة الأبدان. قال الله تعالى: {وَجَعَلْنَا مِنَ الْمَاءِ كُلَّ شَيْءٍ حَيّ}. وقوله: {فَلْيَنْظُرِ الإِنْسَانُ مِمَّ خُلِقَ، خُلِقَ مِنْ مَاءٍ دَافِقٍ} ، فلما سماه الله بهذا دل على طهارته، ويوهمون ذلك المخدوع بهذه المقالة. ثم يأمره ذلك الداعي أن فيدفع اثني عشر دينارا ويقول: يا مولانا، عبدك فلان قد عرف معنى الطهارة الحقيقة، وهذا قربانه إليك. فيقول: اشهدوا أنني قد أحللت له ترك الغسل من الجنابة.
অতঃপর সে তাকে বলে: "তুমি কি তাকে বিশ্বাস করেছ এবং আমাদের গোপনীয় বিষয়ের আমানতদার বানিয়েছ?" সে তাকে উত্তর দেয়: "হ্যাঁ"। তখন সে বলে: "আমি তোমার উপর থেকে সেই দায়ভার সরিয়ে নিলাম।" এরপর কিছুকাল অতিক্রান্ত হলে সেই অভিশপ্ত দাঈ তার কাছে আসে এবং বলে: "তুমি তো তিনটি স্তর অবগত হয়েছ, এবার পবিত্রতা কী এবং রূপক ব্যাখ্যায় (তাউইল) নাপাকি বা জানাবাতের অর্থ কী, তা জেনে নাও।" তখন সে বলে: "আমার কাছে এর ব্যাখ্যা করুন।" সে তাকে বলে: "জেনে রেখো, পবিত্রতার প্রকৃত অর্থ হলো অন্তরের পবিত্রতা। মুমিন তার সত্তাগতভাবেই পবিত্র, আর নাপাক কাফেরকে পানি বা অন্য কোনো বস্তু পবিত্র করতে পারে না। আর জানাবাত বা অপবিত্রতা হলো শত্রুদের অর্থাৎ নবী ও ইমামদের বিরুদ্ধাচরণকারীদের সাথে বন্ধুত্ব করা। আর বীর্যের কথা বললে, তা অপবিত্র নয়; কারণ আল্লাহ তা থেকেই নবী, ওলী এবং অনুগত বান্দাদের সৃষ্টি করেছেন। এটি অপবিত্র হবে কীভাবে, অথচ এটিই মানব সৃষ্টির আদি উৎস এবং এর ওপরই মানব কাঠামোর ভিত্তি? যদি এটি থেকে পবিত্রতা অর্জন করা ধর্মীয় বিধান হতো, তবে মল ও মূত্র ত্যাগের পর গোসল করা আরও বেশি আবশ্যক হতো, কারণ সেগুলো প্রকৃতই নাপাক। আর আল্লাহর বাণী: 'যদি তোমরা অপবিত্র হও তবে পবিত্রতা অর্জন করো'—এর অর্থ হলো: যদি তোমরা গুহ্য জ্ঞান সম্পর্কে অজ্ঞ হও, তবে সেই জ্ঞান শিক্ষা করো এবং তা জেনে নাও যা আত্মার জীবন, যেমন পানি হলো দেহের জীবন। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: 'আমি পানি থেকে প্রতিটি জীবিত প্রাণ সৃষ্টি করেছি।' এবং তাঁর বাণী: 'অতএব মানুষের লক্ষ্য করা উচিত সে কী থেকে সৃষ্টি হয়েছে, সে সৃষ্টি হয়েছে প্রবল বেগে নির্গত পানি হতে।' যখন আল্লাহ একে পানি হিসেবে অভিহিত করেছেন, তখন তা এর পবিত্রতারই প্রমাণ দেয়।" এভাবে তারা সেই প্রতারিত ব্যক্তিকে এই কথার মাধ্যমে বিভ্রান্ত করে। এরপর সেই দাঈ তাকে বারো দিনার প্রদানের আদেশ দেয় এবং বলে: "হে আমাদের অধিপতি, আপনার অমুক বান্দা পবিত্রতার প্রকৃত অর্থ জেনে নিয়েছে, আর এটি আপনার তরে তার নজরানা।" তখন সে বলে: "তোমরা সাক্ষী থেকো, আমি তার জন্য অপবিত্রতার গোসল বা জানাবাতের গোসল পরিত্যাগ করা বৈধ করে দিলাম।"
(খণ্ড: ১)
কাশফু আসরারিল বাতিনিয়্যাহ ওয়া আখবারুল ক্বারামিতা
(পৃষ্ঠা: ২৮)
ثم يقيم مدة فيقول له الداعي الملعون: قد عرفت أربع درجات وبقي لك الدرجة الخامسة فاكشف عنها فإنها منتهي أمرك وغاية سعادتك، ويتلو عليه: {فَلا تَعْلَمُ نَفْسٌ مَا أُخْفِيَ لَهُمْ مِنْ قُرَّةِ أَعْيُنٍ} فيقول له: ألهمني إياه ودلني عليه؟ فيتلو عليه: {لَقَدْ كُنْتَ فِي غَفْلَةٍ مِنْ هَذَا فَكَشَفْنَا عَنْكَ غِطَاءَكَ فَبَصَرُكَ الْيَوْمَ حَدِيدٌ} ، ثم يقول له: أتحب أن تدخل الجنة في الحياة الدنيا؟ فيقول: وكيف لي بذلك؟ فيتلو عليه: {وَإِنَّ لَنَا لَلآخِرَةَ وَالأُولَى} ، ويتلو عليه: {قُلْ مَنْ حَرَّمَ زِينَةَ اللَّهِ الَّتِي أَخْرَجَ لِعِبَادِهِ وَالطَّيِّبَاتِ مِنَ الرِّزْقِ قُلْ هِيَ لِلَّذِينَ آمَنُوا فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا خَالِصَةً يَوْمَ الْقِيَامَةِ كَذَلِكَ نُفَصِّلُ الْآياتِ لِقَوْمٍ يَعْلَمُونَ} ، والزينة هاهنا ما خفي على الناس من أسرار النساء، لا يطلع عليها إلا المخصصون بذلك، وذلك قوله: {وَلا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَاّ لِبُعُولَتِهِنَّ} ، والزينة مستورة غير مشهورة، ثم يتلو عليه: {وَحُورٌ عِينٌ، كَأَمْثَالِ الْلُؤْلُؤِ الْمَكْنُونِ} ، فمن لم ينل الجنة في الدنيا لم ينلها في الآخرة؛ لأن الجنة مخصوص بها ذوو
অতঃপর সে কিছুকাল অবস্থান করে, তখন সেই অভিশপ্ত আহ্বানকারী (দাঈ) তাকে বলে: "তুমি চারটি স্তর অবগত হয়েছ এবং তোমার জন্য পঞ্চম স্তরটি অবশিষ্ট রয়েছে। সুতরাং তা উন্মোচন করো, কেননা এটিই তোমার সকল বিষয়ের পরিসমাপ্তি এবং তোমার পরম সৌভাগ্য।" এরপর সে তার সামনে পাঠ করে: "কোনো সত্তাই জানে না তাদের জন্য তাদের চক্ষু শীতলকারী কী নেয়ামত লুকিয়ে রাখা হয়েছে।" তখন সে তাকে বলে: "আমাকে এটি ইলহাম (অনুপ্রেরণা) করুন এবং এর দিকে পথপ্রদর্শন করুন।" তখন সে তার সামনে পাঠ করে: "অবশ্যই তুমি এ বিষয়ে অসতর্ক ছিলে, এখন আমি তোমার সম্মুখ হতে তোমার পর্দা সরিয়ে দিয়েছি; ফলে আজ তোমার দৃষ্টি সুতীক্ষ্ণ।" অতঃপর সে তাকে বলে: "তুমি কি পার্থিব জীবনেই জান্নাতে প্রবেশ করতে চাও?" সে বলে: "সেটি আমার পক্ষে কীভাবে সম্ভব?" তখন সে তার সামনে পাঠ করে: "আর পরকাল ও ইহকাল অবশ্যই আমাদেরই জন্য।" এবং সে আরও পাঠ করে: "আপনি বলুন, আল্লাহর সেই সৌন্দর্যকে কে হারাম করেছে যা তিনি তাঁর বান্দাদের জন্য বের করেছেন এবং পবিত্র রিযিকসমূহকে? বলুন, পার্থিব জীবনে এগুলো মুমিনদের জন্য এবং কিয়ামতের দিন কেবল তাদেরই জন্য। এভাবেই আমি জ্ঞানবান সম্প্রদায়ের জন্য আয়াতসমূহ বিস্তারিত বর্ণনা করি।" আর এখানে 'সৌন্দর্য' বলতে নারীদের সেই গোপন রহস্যসমূহকে বোঝানো হয়েছে যা মানুষের কাছে অপ্রকাশিত থাকে এবং বিশেষভাবে মনোনীত ব্যক্তিগণ ব্যতীত কেউ তাতে অবগত হয় না। আর এটাই হলো মহান আল্লাহর বাণী: "তারা যেন তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে, কেবল তাদের স্বামীদের নিকট ব্যতীত।" আর এই সৌন্দর্য প্রচ্ছন্ন, যা লোকসমক্ষে পরিচিত নয়। অতঃপর সে তার সামনে পাঠ করে: "এবং আয়তলোচনা হূরগণ, যেন তারা সুরক্ষিত মুক্তাসদৃশ।" সুতরাং যে ব্যক্তি দুনিয়াতে জান্নাত লাভ করতে পারল না, সে পরকালেও তা পাবে না; কারণ জান্নাত কেবল তাদেরই জন্য নির্দিষ্ট যারা...
(খণ্ড: ১)
কাশফু আসরারিল বাতিনিয়্যাহ ওয়া আখবারুল ক্বারামিতা
(পৃষ্ঠা: ২৯)
الألباب وأهل العقول دون الجهال، لأن المستحسن من الأشياء ما خفي، ولذلك سميت الجنة جنة لأنها مستجنّة، وسميت الجن جنا لاختفائهم عن الناس، والمجنة المقبرة لأنها تستر من فيها، والترس المجن لأنه يستتر به، فالجنة هاهنا ما استتر عن هذا الخلق المنكوس الذي لا علم لهم ولا عقول، فحينئذ يزداد هذا المخدوع انهماكا، ويقول لذلك الداعي الملعون: تلطف في حالي وبلغني إلى ما شوقتني إليه، فيقول: ادفع النجوى اثني عشر دينارا تكون لك قربانا وسلما. فيمضي به ويقول: يا مولانا، عبدك فلان قد صحت سريرته وصفت حبرته وهو يريد أن تدخله الجنة، وتبلغه جد الأحكام، وتزوجه حور العين؟ فيقول له: وقد وثقته وأمنته؟ فيقول: يا مولانا قد وثقته وآمنته وخبرته فوجدته على الحق صابرا ولأنعمك شاكرا، فيقول: علمُنا صعب مستصعب لا يحمله إلا نبي مرسل أو ملك مقرب أو عبد امتحن الله قلبه بالإيمان، فإذا صح عندك حاله فاذهب به إلى زوجتك فاجمع بينه وبينها، فيقول: سمعا وطاعة لله ولمولانا، فيمضي به إلى بيته فيبيت مع زوجته حتى إذا أصبح الصباح قرع عليهما الباب وقال: قوما قبل أن يعلم بنا هذا الخلق المنكوس، فيشكر ذلك المخدوع ويدعو له،
প্রাজ্ঞ ও বুদ্ধিমান ব্যক্তিগণ, মূর্খদের ব্যতীত; কারণ বস্তুর মধ্যে তা-ই পছন্দনীয় যা প্রচ্ছন্ন থাকে। একারণেই জান্নাতকে জান্নাত বলা হয় কারণ তা গুপ্ত; জিনদের জিন বলা হয় মানুষের দৃষ্টি থেকে তাদের আড়ালে থাকার কারণে; কবরস্থানকে ‘মাজান্নাহ’ বলা হয় যেহেতু তা তাতে অবস্থানকারীদের ঢেকে রাখে; এবং ঢালকে ‘মিজান’ বলা হয় কারণ এর দ্বারা ব্যক্তি নিজেকে আবৃত করে। সুতরাং এখানে জান্নাত হলো তা-ই যা এই অধঃপতিত সৃষ্টিজীবের নিকট থেকে গোপন রাখা হয়েছে, যাদের কোনো জ্ঞান বা বুদ্ধি নেই। তখন সেই প্রবঞ্চিত ব্যক্তি অধিকতর মগ্ন হয়ে পড়ে এবং সেই অভিশপ্ত আহ্বায়কের প্রতি নিবেদন করে: আমার প্রতি সদয় হোন এবং আমাকে সেই স্তরে পৌঁছে দিন যার প্রতি আপনি আমাকে লালায়িত করেছেন। সে বলে: গোপন শলাপরামর্শের বিনিময় হিসেবে বারো দিনার প্রদান করো, যা তোমার জন্য নৈকট্য লাভের উপায় ও সোপান হবে। অতঃপর সে তাকে নিয়ে অগ্রসর হয় এবং বলে: হে আমাদের মওলা, আপনার অমুক বান্দার অন্তঃকরণ পরিশুদ্ধ হয়েছে এবং তার বাহ্যিক অবস্থা স্বচ্ছ হয়েছে; সে চায় যে আপনি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, তাকে বিধানের চূড়ান্ত গূঢ় রহস্যে পৌঁছে দেবেন এবং হুর-ঈনের সাথে তার বিবাহ সম্পন্ন করবেন। তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করেন: তুমি কি তার ওপর আস্থা স্থাপন করেছ এবং তাকে বিশ্বস্ত সাব্যস্ত করেছ? সে উত্তর দেয়: হে আমাদের মওলা, আমি তাকে নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত হিসেবে পেয়েছি এবং তাকে পরীক্ষা করে সত্যের ওপর ধৈর্যশীল ও আপনার অনুগ্রহের প্রতি কৃতজ্ঞ হিসেবে পেয়েছি। তখন তিনি বলেন: আমাদের এই জ্ঞান অত্যন্ত দুরূহ ও দুঃসাধ্য, যা কেবল একজন প্রেরিত নবী, নৈকট্যপ্রাপ্ত ফেরেশতা অথবা এমন কোনো বান্দা ব্যতীত কেউ ধারণ করতে পারে না যার অন্তরকে আল্লাহ ঈমান দ্বারা পরীক্ষা করেছেন। সুতরাং যেহেতু তার অবস্থা তোমার নিকট সঠিক বলে প্রমাণিত হয়েছে, তাই তাকে তোমার স্ত্রীর নিকট নিয়ে যাও এবং তাদের মাঝে মিলনের ব্যবস্থা করো। সে বলে: আল্লাহ এবং আমাদের মওলার আজ্ঞা শিরোধার্য। অতঃপর সে তাকে নিজ গৃহে নিয়ে যায় এবং সে তার স্ত্রীর সাথে রাত্রি যাপন করে। যখন প্রভাত হয়, তখন সে তাদের দরজায় করাঘাত করে এবং বলে: এই অধঃপতিত সৃষ্টি আমাদের বিষয়ে অবগত হওয়ার আগেই তোমরা উঠে পড়ো। তখন সেই প্রবঞ্চিত ব্যক্তি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে এবং তার জন্য প্রার্থনা করে।
(খণ্ড: ১)
কাশফু আসরারিল বাতিনিয়্যাহ ওয়া আখবারুল ক্বারামিতা
(পৃষ্ঠা: ৩০)
فيقول: هذا ليس من فضلي، هذا من فضل مولانا. فإذا خرج من عنده تسامع به أهل هذه الدعوة الملعونة فلا يبقى منهم أحد إلاّ بات مع زوجته كما فعل ذلك الداعي الملعون، ثم يقول له: لا بد أن تشهد المشهد الأعظم عند مولانا فادفع قربانك. فيدفع اثني عشر دينارا ويصل به ويقول: يا مولانا، إن عبدك فلان يريد أن يشهد المشهد الأعظم وهذا قربانه، حتى إذا جن الليل ودارت الكؤوس وحميت الرؤوس وطابت النفوس أحضر جميع أهل هذه الدعوة الملعونة حريمهم فيدخلن عليهم من كل باب وأطفأوا السرج والشموع، وأخذ كل واحد منهم ما وقع عليه يده، ثم يأمر المقتدي زوجته أن تفعل كفعل الداعي الملعون وجميع المستجيبين، فيشكره ذلك المخدوع على ما فعل، فيقول له: هذا ليس من فضلي هذا من فضل مولانا أمير المؤمنين، فاشكروه ولا تكفروه، ما أطلق من وثاقكم ووضع عنكم أوزاركم وحط عنكم أثقالكم وأحل لكم بعض الذي حرّم عليكم جهّالكم {وَمَا يُلَقَّاهَا إِلاّ الَّذِينَ صَبَرُوا وَمَا يُلَقَّاهَا إِلاّ ذُو حَظٍّ عَظِيمٍ}.
قال محمد بن مالك رحمه الله تعالى: هذا ما اطلعت عليه من كفرهم وضلالتهم، والله تعالى لهم بالمرصاد، والله تعالى عليّ شهيد
অতঃপর সে বলে: এটি আমার কোনো অনুগ্রহ নয়, বরং এটি আমাদের মাওলার অনুগ্রহ। যখন সে তার নিকট থেকে বের হয়, তখন এই অভিশপ্ত দাওয়াতের অনুসারীরা সে সম্পর্কে শুনতে পায়। ফলে তাদের মধ্যে এমন কেউ অবশিষ্ট থাকে না যে তার স্ত্রীর সাথে রাত্রিযাপন করে না, ঠিক যেমনটি সেই অভিশপ্ত দাঈ করেছিল। এরপর সে তাকে বলে: আমাদের মাওলার নিকট তোমাকে অবশ্যই 'মহান দৃশ্য' প্রত্যক্ষ করতে হবে, সুতরাং তোমার নজরানা পেশ করো। তখন সে বারো দিনার প্রদান করে এবং তার মাধ্যমে সংযোগ স্থাপন করে বলে: হে আমাদের মাওলা, আপনার অমুক বান্দা 'মহান দৃশ্য' প্রত্যক্ষ করতে চায় এবং এটি তার নজরানা। অবশেষে যখন রাত গভীর হয়, পানপাত্রগুলো আবর্তিত হয়, মস্তকসমূহ উত্তেজিত হয় এবং প্রবৃত্তিগুলো প্রফুল্ল হয়, তখন এই অভিশপ্ত দাওয়াতের অনুসারী সকলে তাদের নারীদের উপস্থিত করে। তারা প্রতিটি দরজা দিয়ে তাদের নিকট প্রবেশ করে এবং তারা প্রদীপ ও মোমবাতিগুলো নিভিয়ে দেয়। অতঃপর তাদের প্রত্যেকেই হাতের কাছে যাকে পায় তাকেই গ্রহণ করে। তারপর সেই অনুসারী ব্যক্তি তার স্ত্রীকে সেই অভিশপ্ত দাঈ ও অন্যান্য অনুসারীদের মতো আচরণ করার নির্দেশ দেয়। তখন সেই প্রতারিত ব্যক্তি তার কৃতকর্মের জন্য তাকে ধন্যবাদ জানায়। সে তখন তাকে বলে: এটি আমার কোনো অনুগ্রহ নয়, এটি আমাদের মাওলা আমিরুল মুমিনিনের অনুগ্রহ। সুতরাং তোমরা তাঁর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো এবং তাঁকে অস্বীকার করো না। তিনি তোমাদের বন্ধন থেকে মুক্ত করেছেন, তোমাদের পাপের বোঝা নামিয়ে দিয়েছেন, তোমাদের ভার লাঘব করেছেন এবং তোমাদের মূর্খরা যা তোমাদের ওপর হারাম করেছিল তা তোমাদের জন্য হালাল করে দিয়েছেন— "ধৈর্যশীলগণ ব্যতীত এটি অন্য কেউ প্রাপ্ত হয় না এবং মহা ভাগ্যবান ব্যতীত অন্য কেউ এটি পায় না"।
মুহাম্মদ ইবনে মালিক (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বলেন: এটিই তাদের কুফরি ও ভ্রষ্টতা সম্পর্কে আমার অবগত হওয়া বিষয়াদি। আল্লাহ তাআলা তাদের ওপর সতর্ক দৃষ্টি রাখছেন এবং আল্লাহ তাআলা আমার ওপর সাক্ষী।
(খণ্ড: ১)
কাশফু আসরারিল বাতিনিয়্যাহ ওয়া আখবারুল ক্বারামিতা
(পৃষ্ঠা: ৩১)
بجميع ما ذكرته مما اطلعت عليه من فعلهم وكفرهم وجهلهم، والله يشهد على جميع ما ذكرته، عالم به، ومن تكلم عليهم بالباطل فعليه لعنة الله ولعنة اللاعنين والملائكة والناس أجمعين، وأخزي الله من كذب عليهم، وأعد له جهنم وساءت مصيرا، ومن حكى عنهم بغير ما هم عليه فهو يخرج من حول الله وقوته إلى حول الشيطان وقوته، فأديت هذه النصيحة إلى المسلمين حسب ما أوجبه الله علي من حفظ هذه الشهادة ومراعاتها وأدائها إلى من لم يسمعها قال الله تعالى: {سَتُكْتَبُ شَهَادَتُهُمْ وَيُسْأَلونَ}. والله أسأله أن يتوفّانا مسلمين، ولا ينزع عنا الإسلام بعد إذ آتانا الله بمنه ورحمته.
المقالة في أصل الدعوة الملعونة ومبدئهاوقد رأيت أيها الناس وفقنا الله وإياكم للصواب وجنبنا وإياكم طرق الكفر والارتياب أن أذكر أحبال هذه الدعوة الملعونة لئلا يميل إلى مذهبهم مائل ولا يصبو إلى مقالتهم لبيب عاقل ويكون في هذا القدر من الكلام في هذا الكتاب إنذار لمن نظره، وأعذار لمن وقف عليه واعتبره.
باباعلموا يا إخواني في الإسلام أن لكل شيء من أسباب الخير والشر والنفع والضر والداء والدواء أصولا، وللأصول فروعا، وأصل هذه الدعوة الملعونة التي استهوى بها الشيطان أهل الكفر
আমি তাদের কর্মকাণ্ড, কুফরী এবং অজ্ঞতা সম্পর্কে যা কিছু প্রত্যক্ষ করেছি এবং উল্লেখ করেছি, সে বিষয়ে আল্লাহ সাক্ষী; তিনি এসব সম্পর্কে পূর্ণ পরিজ্ঞাত। যে কেউ তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা বলবে, তার ওপর আল্লাহর অভিশাপ, অভিশাপ বর্ষণকারীদের লানত এবং ফেরেশতা ও সকল মানুষের অভিশাপ বর্ষিত হোক। আল্লাহ তাকে লাঞ্ছিত করুন যে তাদের ওপর মিথ্যা আরোপ করে এবং তার জন্য জাহান্নাম প্রস্তুত করুন যা নিকৃষ্টতম গন্তব্য। আর যে ব্যক্তি তাদের সম্পর্কে প্রকৃত সত্য ব্যতীত অন্য কিছু বর্ণনা করবে, সে আল্লাহর ক্ষমতা ও শক্তি থেকে বিচ্যুত হয়ে শয়তানের ক্ষমতা ও শক্তির আশ্রয়ে চলে যাবে। আমি মুসলমানদের প্রতি এই নসিহত পৌঁছে দিয়েছি সেই দায়িত্ববোধ থেকে, যা আল্লাহ আমার ওপর এই সাক্ষ্য সংরক্ষণ, পরিপালন এবং যারা তা শোনেনি তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে অবধারিত করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: "তাদের সাক্ষ্য লিখে রাখা হবে এবং তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।" আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের মুসলিম হিসেবে মৃত্যু দান করেন এবং তাঁর অনুগ্রহ ও রহমতে আমাদের ইসলাম প্রদানের পর তা যেন আমাদের থেকে ছিনিয়ে না নেন।
অভিশপ্ত দাওয়াতের (প্রচারণার) উৎস এবং সূচনালগ্ন বিষয়ক প্রবন্ধহে লোকসকল! আল্লাহ আমাদের ও আপনাদের সঠিক পথের তাওফিক দান করুন এবং কুফর ও সংশয়ের পথ থেকে আমাদের ও আপনাদের দূরে রাখুন। আমি সংকল্প করেছি যে, এই অভিশপ্ত দাওয়াতের শিকল বা কৌশলসমূহ উল্লেখ করব, যাতে কোনো বিচ্যুত ব্যক্তি তাদের মতবাদের দিকে ঝুঁকে না পড়ে এবং কোনো বুদ্ধিমান ও বিবেকবান ব্যক্তি তাদের বক্তব্যের প্রতি আকৃষ্ট না হয়। এই গ্রন্থে আলোচিত কথাগুলো যেন পাঠকের জন্য সতর্কবার্তা এবং যারা তা পাঠ ও বিবেচনা করবে তাদের জন্য চূড়ান্ত দলিল হিসেবে গণ্য হয়।
পরিচ্ছেদহে আমার দ্বীনি ভাইয়েরা! আপনারা জেনে রাখুন যে, প্রতিটি কল্যাণ ও অকল্যাণ, উপকার ও অপকার এবং রোগ ও নিরাময়ের কারণসমূহের কিছু মূল ভিত্তি বা উৎস থাকে এবং সেই মূলের শাখা-প্রশাখা থাকে। আর এই অভিশপ্ত দাওয়াতের মূল ভিত্তি, যার মাধ্যমে শয়তান কুফরি লিপ্ত ব্যক্তিদের প্রলুব্ধ করেছে...
(খণ্ড: ১)
কাশফু আসরারিল বাতিনিয়্যাহ ওয়া আখবারুল ক্বারামিতা
(পৃষ্ঠা: ৩২)
والشقوة ظهور [عبيد الله] بن ميمون القداح في الكوفة، وما كان له من الأخبار المعروفة والمنكرات المشهورة الموصوفة، ودخوله في طرق الفلسفة واستعماله الكتب المزخرفة، وتمشيته إياها على الطغام ومكيدته لأهل الإسلام.
وكان ظهوره في سنة ست وسبعين ومائتين من التاريخ للهجرة النبوية، فنصب للمسلمين الحبائل وبغى لهم الغوائل ولبس الحق بالباطل {وَمَكْرُ أُولَئِكَ هُوَ يَبُورُ}، وجعل لكل آية من كتاب الله تفسيرا ولكل حديث عن رسول الله صلى الله عليه وسلم تأويلا، وزخرف الأقوال وضرب المثال، وجعل لآي القرآن شكلا يوازيه ومثلا يضاهيه. وكان الملعون عارفا بالنجوم معطلا لجميع العلوم {يُرِيدُونَ لِيُطْفِئُوا نُورَ اللَّهِ بِأَفْوَاهِهِمْ وَاللَّهُ مُتِمُّ نُورِهِ وَلَوْ كَرِهَ الْكَافِرُونَ}. فجعل أصل دعوته التي دعاها وأساس بِنْيَتِه التي بناها الدعاء إلى الله وإلى الرسول ويحتج بكتاب الله ومعرفة مثله وممثوله
আর দুর্ভাগ্য ছিল কুফায় [উবায়দুল্লাহ] ইবনে মায়মুন আল-কদ্দাহের আবির্ভাব, এবং তার সেই সুবিদিত সংবাদসমূহ ও বর্ণিত কুখ্যাত গর্হিত কার্যাবলি; দর্শনশাস্ত্রের পথে তার প্রবেশ ও অলঙ্কৃত কিতাবসমূহের ব্যবহার, সাধারণ ইতর শ্রেণির মানুষের মাঝে সেগুলোর প্রচার এবং ইসলাম অনুসারীদের বিরুদ্ধে তার চক্রান্ত।
নবীজির হিজরি বর্ষগণনা অনুযায়ী ২৭৬ হিজরি সনে তার উত্থান ঘটে। সে মুসলমানদের জন্য ফাঁদ পেতেছিল, তাদের জন্য বিপর্যয় অন্বেষণ করেছিল এবং সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশ্রিত করেছিল {আর তাদের চক্রান্তই নস্যাৎ হবে}। সে আল্লাহর কিতাবের প্রতিটি আয়াতের জন্য একটি মনগড়া ব্যাখ্যা এবং আল্লাহর রাসূল (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)-এর প্রতিটি হাদিসের জন্য একটি অপব্যাখ্যা তৈরি করেছিল। সে কথামালাকে চটকদার করেছিল, উদাহরণ পেশ করেছিল এবং কুরআনের আয়াতসমূহের জন্য এমন রূপরেখা তৈরি করেছিল যা সেগুলোর সমান্তরাল এবং এমন দৃষ্টান্ত দিয়েছিল যা সেগুলোর সদৃশ। সেই অভিশপ্ত ব্যক্তিটি জ্যোতিষশাস্ত্রে পারদর্শী ছিল এবং সমস্ত (শরয়ি) জ্ঞানকে অকেজো করে দিয়েছিল {তারা তাদের মুখের ফুৎকারে আল্লাহর নূরকে নিভিয়ে দিতে চায়, কিন্তু আল্লাহ তাঁর নূরকে পূর্ণতা দান করবেন, যদিও কাফিররা তা অপছন্দ করে}। সে তার দাওয়াতের মূল ভিত্তি এবং তার নির্মিত কাঠামোর বুনিয়াদ বানিয়েছিল আল্লাহর দিকে ও রাসূলের দিকে আহবানকে; সে আল্লাহর কিতাব এবং এর রূপক ও রূপকার্থের জ্ঞানকে দলিল হিসেবে উপস্থাপন করত।
(খণ্ড: ১)
কাশফু আসরারিল বাতিনিয়্যাহ ওয়া আখবারুল ক্বারামিতা
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
والاختصاص لعلي بن أبي طالب رضي الله عنه بالتقديم والإمامة والطعن على جميع الصحابة بالسب والأذى، وقد روي عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أنه قال: "لعن الله من سب أصحابي". وقال عليه السلام: "أصحابي كالنجوم بأيهم اقتديتم اهتديتم". وقال صلى الله عليه وسلم: "من سب أصحابي فقد سبني ومن سبني فقد سب الله ومن سب الله كبه الله على وجهه في النار". فأفسد بتمويهه قلوب الجهال وزين لهم الكفر والضلال وله شرح يطول فيه الخطاب غير أني أختصر. وفيما أشرحه كفاية واعتبار لأولي الألباب والأبصار.
وكان هذا الملعون يعتقد اليهودية ويظهر الإسلام، وهو من اليهود من ولد الشلعلع من مدينة بالشام يقال لها سلمية،
এবং আলী ইবনে আবি তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে অগ্রাধিকার ও ইমামতের জন্য বিশিষ্ট করা এবং গালিগালাজ ও কষ্ট দেওয়ার মাধ্যমে সকল সাহাবীর ওপর অপবাদ ও নিন্দা আরোপ করা। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "আল্লাহর লানত ওই ব্যক্তির ওপর যে আমার সাহাবীদের গালি দেয়।" এবং তিনি (আলাইহিস সালাম) বলেছেন: "আমার সাহাবীগণ নক্ষত্রতুল্য, তোমরা তাদের মধ্যে যারই অনুসরণ করবে, হিদায়াত প্রাপ্ত হবে।" এবং তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি আমার সাহাবীদের গালি দিল, সে আমাকেই গালি দিল; আর যে আমাকে গালি দিল, সে আল্লাহকেই গালি দিল। আর যে আল্লাহকে গালি দেয়, আল্লাহ তাকে অধোমুখী করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন।" ফলে সে তার প্রতারণার মাধ্যমে মূর্খদের অন্তরসমূহকে কলুষিত করেছে এবং তাদের কাছে কুফরী ও ভ্রষ্টতাকে সুশোভিত করেছে। এর এমন দীর্ঘ ব্যাখ্যা রয়েছে যাতে আলোচনা দীর্ঘায়িত হবে, তবে আমি সংক্ষেপ করছি। আর আমি যা ব্যাখ্যা করছি, তাতে বুদ্ধিমান ও দূরদৃষ্টিসম্পন্নদের জন্য পর্যাপ্ততা ও উপদেশ রয়েছে।
এই অভিশপ্ত ব্যক্তিটি মনে-প্রাণে ইহুদি ধর্ম বিশ্বাস করত এবং প্রকাশ্যে ইসলাম জাহির করত। সে ছিল সিরিয়ার সালামিয়াহ নামক শহরের শাশলা’ বংশজাত এক ইহুদি।
(খণ্ড: ১)
কাশফু আসরারিল বাতিনিয়্যাহ ওয়া আখবারুল ক্বারামিতা
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
وكان من أحبار اليهود وأهل والفلسفة الذين عرفوا جميع المذاهب وكان صائغا يخدم شيعة إسماعيل بن جعفر الصادق بن محمد الباقر بن علي بن زين العابدين بن الحسين بن علي بن أبي طالب رضي الله عنه.
وكان حريصا على هدم الشريعة المحمدية لما ركّب الله في اليهود من عداوة الإسلام وأهله والبغضاء لرسول الله صلى الله عليه وسلم فلم ير وجها يدخل به على الناس حتى يردهم عن الإسلام ألطف من دعوته إلى أهل بيت الرسول صلى الله عليه وسلم. وكان قد خرج في أيام قرمط البقار، وكان اسمه أو لقبه لأنه كان يقرمط في سيره إذا مشى، ولذلك نسب أهل مذهبه ومذهب بن ميمون إلى قرمط لأنهما اجتمعا وعملا ناموسا يدعوان إليه.
তিনি ছিলেন ইহুদি ধর্মতাত্ত্বিক ও দার্শনিকদের অন্তর্ভুক্ত, যারা সকল মতবাদ সম্পর্কে সম্যক অবগত ছিলেন। তিনি পেশায় একজন স্বর্ণকার ছিলেন এবং আলী ইবনে আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর বংশধর হুসাইন, অতঃপর জয়নুল আবেদিন, অতঃপর আলী, অতঃপর মুহাম্মদ আল-বাকির, অতঃপর জাফর আস-সাদিকের পুত্র ইসমাইলের অনুসারীদের সেবা করতেন।
আল্লাহ তাআলা ইহুদিদের স্বভাবে ইসলাম ও এর অনুসারীদের প্রতি যে শত্রুতা এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি যে বিদ্বেষ নিহিত রেখেছেন, তার কারণে তিনি মুহাম্মাদী শরীয়তকে ধ্বংস করতে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন। মানুষকে ইসলাম থেকে বিচ্যুত করার জন্য রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আহলে বায়ত বা পবিত্র পরিবার-পরিজনের প্রতি অনুরাগের দোহাই দিয়ে দাওয়াত দেওয়ার চেয়ে সূক্ষ্মতর কোনো পথ তিনি খুঁজে পাননি। তিনি কারমাত আল-বাক্কারের সময়ে আবির্ভূত হয়েছিলেন। 'কারমাত' ছিল তার নাম অথবা উপাধি, কারণ তিনি হাঁটার সময় অত্যন্ত সংকুচিত কদমে বা ছোট ছোট পদক্ষেপে চলতেন। এই কারণেই তার অনুসারী এবং ইবনে মায়মুনের অনুসারীদের 'কারমাতি' মতবাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়; কেননা তারা উভয়ে একত্রিত হয়ে একটি বিশেষ সংহিতা বা গুপ্ত বিধান প্রণয়ন করেছিলেন, যার দিকে তারা মানুষকে আহ্বান জানাতেন।
(খণ্ড: ১)
কাশফু আসরারিল বাতিনিয়্যাহ ওয়া আখবারুল ক্বারামিতা
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
وكانا يعرفان النجوم وأحكام الزمان، فدلهما الوقت على تأسيس ما عملاه فخرج ميمون إلى الكوفة وأقام بها مدة وله أخبار يطول شرحها مما كان منه ومن علي بن فضل والمنصور صاحب مسور وأبي سعيد الجنابي. وأنا أشرح ذلك عند انتهائي إليه إن شاء الله تعالى. وأما قرمط البقار فإنه خرج إلى بغداد وقتل هناك لا رحمه الله.
باب ذكر ما كان من القداح وعقبه لعنه الله وتعلق بسببه ودخل ضلالته ومذهبهوكان أول أولاده عبيد وهو المهدي، ثم محمد وهو القائم، ثم الطاهر إسماعيل المنصور، ثم المعز ثم العزيز ثم الحاكم ثم الظاهر ثم معد المستنصر. هؤلاء الذين ينسبون إليه إلى عصرنا هذا، فانتسبوا إلى ولد الحسين بن علي بن أبي طالب رضي الله عنه، وانتحالهم انتحال كاذب وليس لهم في ذلك برهان. وأهل الشرف ينكرون ذلك فإنهم لم
তারা দুজনেই জ্যোতির্বিদ্যা এবং কালের বিধানসমূহ সম্পর্কে জানতেন, ফলে সময় তাদেরকে তারা যা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তার ভিত্তি স্থাপনের পথ দেখিয়েছিল। অতঃপর মাইমুন কুফার উদ্দেশ্যে বের হলেন এবং সেখানে কিছুকাল অবস্থান করলেন। তার সম্পর্কে এমন সব সংবাদ রয়েছে যা বর্ণনা করা দীর্ঘসাধ্য, যা তার এবং আলী ইবনে ফাদল, মাসওয়ারের অধিপতি আল-মানসুর এবং আবু সাঈদ আল-জান্নাবীর সাথে সংশ্লিষ্ট। আর যখন আমি সেই প্রসঙ্গে উপনীত হব, ইনশাআল্লাহ তাআলা আমি তা বিস্তারিত ব্যাখ্যা করব। আর কারমাত আল-বাক্কারের কথা বলতে গেলে, সে বাগদাদের উদ্দেশ্যে বের হয়েছিল এবং সেখানেই নিহত হয়, আল্লাহ তাকে দয়া না করুন।
আল-কাদ্দাহ এবং তার বংশধরদের বৃত্তান্ত—আল্লাহ তাকে অভিশাপ দিন—এবং যারা তার কারণে বিভ্রান্তিতে ও তার মতবাদে জড়িয়েছিল, তাদের আলোচনা সংক্রান্ত অধ্যায়তার সন্তানদের মধ্যে প্রথম ছিলেন উবাইদ, যিনি মাহদী; এরপর মুহাম্মদ, যিনি আল-কায়েম; তারপর আত-তাহির ইসমাইল আল-মানসুর; অতঃপর আল-মুইজ, তারপর আল-আজিজ, তারপর আল-হাকিম, তারপর আজ-জাহির এবং এরপর মাআদ আল-মুস্তানসির। এরাই আমাদের এই সময় পর্যন্ত তার সাথে সম্পৃক্ত; তারা নিজেদের আল-হুসাইন ইবনে আলী ইবনে আবি তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর বংশধর বলে দাবি করে, অথচ তাদের এই দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং এ বিষয়ে তাদের কাছে কোনো প্রমাণ নেই। আর সম্ভ্রান্ত বংশীয় লোকেরা তা অস্বীকার করেন, কেননা তারা...
(খণ্ড: ১)
কাশফু আসরারিল বাতিনিয়্যাহ ওয়া আখবারুল ক্বারামিতা
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
يجدوا لهم في الشرف أصلا مذكورا ولا عرفوا لهم في كتاب الشجرة نسبا مشهورا، بل الكل يقصيهم عن الشرف وينفيهم عن النسب إلا من دخل معهم في كفرهم وضلالتهم فإنه يشهد لهم بالزور ويساعدهم في جميع الأمور. وقد زعموا أنهم ولد محمد إسماعيل بن جعفر الصادق وحاشى لله ما كان لمحمد إسماعيل من ولد ولا عرف ذلك من الناس أحد بل هم {كَشَجَرَةٍ خَبِيثَةٍ اجْتُثَّتْ مِنْ فَوْقِ الأَرْضِ مَا لَهَا مِنْ قَرَارٍ}.
الدليل على ذلك وعلى بطلان ما ذكروه أنهم يقولون معد المستنصر بن الظاهر بن الحاكم بن العزيز بن المعز بن المنصور بن القائم بن المهدي وهو عبيد بن ميمون، ثم يقولون ابن الأئمة المستورين من ولد إسماعيل بن جعفر الصادق فإذا سألهم سائل عن هؤلاء المستورين حادوا عن الجواب وكان للسائل لهم الارتياب.
তারা আভিজাত্যের ক্ষেত্রে তাদের জন্য কোনো উল্লেখযোগ্য মূল খুঁজে পায় না এবং বংশতালিকার কিতাবসমূহেও তাদের জন্য কোনো প্রসিদ্ধ বংশপরিচয় পরিচিত নয়। বরং যারা তাদের কুফরি ও পথভ্রষ্টতায় শামিল হয়েছে তারা ছাড়া প্রত্যেকেই তাদেরকে আভিজাত্য থেকে দূরে সরিয়ে দেয় এবং তাদের বংশপরিচয় অস্বীকার করে; কারণ সে (তাদের সহযোগী) তাদের জন্য মিথ্যা সাক্ষ্য দেয় এবং সকল বিষয়ে তাদের সহায়তা করে। তারা দাবি করেছে যে তারা জাফর আস-সাদিকের পৌত্র মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইলের বংশধর। আল্লাহর পানাহ! মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইলের কোনো সন্তান ছিল না এবং মানুষের মধ্যে কেউই তা জানত না। বরং তারা তো "ঐ নিকৃষ্ট বৃক্ষের ন্যায়, যাকে জমিনের উপর থেকে উপড়ে ফেলা হয়েছে, যার কোনো স্থায়িত্ব নেই।"
এর প্রমাণ এবং তারা যা উল্লেখ করেছে তার অসারতার দলিল হলো এই যে, তারা বলে: মুআদ আল-মুস্তানসির বিন আজ-জাহির বিন আল-হাকিম বিন আল-আজিজ বিন আল-মুইজ বিন আল-মানসুর বিন আল-কাইম বিন আল-মাহদি—আর সে হলো উবাইদ বিন মাইমুন—অতঃপর তারা বলে: তিনি জাফর আস-সাদিকের পুত্র ইসমাইলের বংশোদ্ভূত 'গোপন ইমামদের' সন্তান। যখন কোনো প্রশ্নকারী তাদেরকে এই গোপন ইমামদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে, তখন তারা উত্তর এড়িয়ে যায় এবং প্রশ্নকারীর মনে তাদের প্রতি সন্দেহের উদ্রেক হয়।
(খণ্ড: ১)
কাশফু আসরারিল বাতিনিয়্যাহ ওয়া আখবারুল ক্বারামিতা
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
وقالوا هم أئمة قُهروا فتستروا ولم يؤمروا بإظهارهم ولا ذكرهم لأحد. وهذا من أعظم الشواهد على بطلان ما ذكروه وانتسبوا إليه.
والدليل على أنهم من أولاد اليهود استعمالهم اليهود في الوزارة والرياسة وتفويضهم إليهم تدبير السياسة؛ ما زالوا يحكِّمون اليهود في دماء المسلمين وأموالهم. وذلك مشهور عنهم يشهد بذلك كل أحد.
باب خروج ميمون القداح من سلمية إلى الكوفةوقد ولد له عبيد وهو الذي يسمونه عبيد الله المهدي فأقاما بالكوفة مدة طويلة حتى تهيأ لهما ما كانا يطلبان وإلى أن أجابهما إلى ذلك تسعة رهط يفسدون في الأرض ولا يصلحون منهم علي بن فضل الجدني اليماني، وأبو القاسم بن زاذان الكوفي المسمى المنصور عند كونه باليمن في مسور وأبو سعيد الجنابي صاحب الأحساء والبحرين وأبو عبد الله الشيعي صاحب كتامة في
তারা বলেছিল, তারা এমন ইমাম যাদের ওপর বলপ্রয়োগ করা হয়েছে, ফলে তারা আত্মগোপন করেছেন এবং তাদের প্রকাশ করার কিংবা কারো কাছে তাদের কথা উল্লেখ করার নির্দেশ তাদের দেওয়া হয়নি। তারা যা উল্লেখ করেছে এবং নিজেদের যার সাথে সম্পৃক্ত করেছে, তার অসারতার এটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রমাণ।
তারা যে ইহুদিদের বংশধর, তার প্রমাণ হলো উজির ও উচ্চপদে ইহুদিদের নিয়োগ এবং তাদের কাছে রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণের দায়িত্ব অর্পণ; তারা মুসলিমদের রক্ত ও সম্পদের ব্যাপারে ইহুদিদের কর্তৃত্বারোপ অব্যাহত রেখেছিল। এটি তাদের সম্পর্কে অত্যন্ত প্রসিদ্ধ একটি বিষয়, যার সাক্ষ্য সবাই দেয়।
সালামিয়া থেকে কুফায় মায়মুন আল-কাদ্দাহর বহির্গমনের অধ্যায়তাঁর ঘরে উবাইদ জন্মগ্রহণ করেন, যাকে তারা উবাইদুল্লাহ আল-মাহদি বলে ডাকে। অতঃপর তারা দীর্ঘকাল কুফায় অবস্থান করেন, যতক্ষণ না তাদের উদ্দেশ্য হাসিলের পরিবেশ তৈরি হয় এবং যতক্ষণ না নয়জন ব্যক্তির একটি দল তাদের আহ্বানে সাড়া দেয়—যারা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করে এবং কোনো সংস্কার করে না। তাদের মধ্যে রয়েছে: ইয়ামানের আলি ইবনুল ফাদল আল-জাদানি, কুফার আবুল কাসিম ইবনে জাযান যাকে ইয়ামানের মাসওয়ারে থাকাকালীন আল-মানসুর ডাকা হতো, আল-আহসা ও বাহরাইনের অধিপতি আবু সাঈদ আল-জান্নাবি এবং কুতামার অধিপতি আবু আব্দুল্লাহ আল-শিয়ি—যিনি কুতামার অধিপতি ছিলেন...
(খণ্ড: ১)
কাশফু আসরারিল বাতিনিয়্যাহ ওয়া আখবারুল ক্বারামিতা
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
المغرب والحسن بن مهران المسمى بالمقنع الخارج فيما وراء النهر من خرسان ومحمد بن زكريا الخارج في الكوفة. ولا بد أن أذكر أصح خبر كل منهم مختصرا إن شاء الله تعالى.
باب في ذكر أبي سعيد الجنابي لعنه اللهكان فيلسوفا ملعونا ملك البحرين واليمامة والأحساء وادعى فيها أنه المهدي القائم بدين الله فاستفتح ودخل مكة وقتل الناس في المسجد الحرام ومنع الناس من الحج واقتلع الركن وراح به إلى الأحساء وقال في ذلك شعرا:
ولو كان هذا البيت لله ربنا
… لصب علينا النار من فوقنا صبا
لأنا حججنا حجة جاهلية
… مجللة لم نبق شرقا ولا غربا
মাগরিব এবং হাসান ইবনে মাহরান—যাকে আল-মুকান্না বলা হয়—যিনি খোরাসানের মা ওয়ারা আন-নাহর অঞ্চল থেকে বিদ্রোহ করেছিলেন, এবং মুহাম্মদ ইবনে জাকারিয়া, যিনি কুফায় বিদ্রোহ করেছিলেন। আল্লাহ তায়ালা চাইলে আমি তাদের প্রত্যেকের সম্পর্কে সবচেয়ে বিশুদ্ধ সংবাদ সংক্ষেপে আলোচনা করব।
পরিচ্ছেদ: আবু সাঈদ আল-জান্নাবী (তার ওপর আল্লাহর লানত হোক) প্রসঙ্গেসে ছিল এক অভিশপ্ত দার্শনিক যে বাহরাইন, ইয়ামামা ও আল-আহসা অধিকার করেছিল এবং সেখানে সে নিজেকে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠাকারী মাহদী বলে দাবি করেছিল। অতঃপর সে মক্কা জয় করে সেখানে প্রবেশ করে এবং মসজিদুল হারামে পুণ্যার্থীদের হত্যা করে। সে মানুষকে হজ পালনে বাধা দেয় এবং রুকন (হাজরে আসওয়াদ) উপড়ে ফেলে আল-আহসায় নিয়ে যায়। এ বিষয়ে সে এই কবিতাটি বলেছিল:
আর এই ঘরটি যদি আমাদের প্রতিপালক আল্লাহর হতো
… তবে তিনি অবশ্যই আমাদের ওপর উপর থেকে আগুন বর্ষণ করতেন।
কারণ আমরা এক জাহেলি হজ আদায় করেছি
… এক মহাপ্রলয়ংকারী হজ, যাতে আমরা পূর্ব বা পশ্চিমের কিছুই অবশিষ্ট রাখিনি।
(খণ্ড: ১)
কাশফু আসরারিল বাতিনিয়্যাহ ওয়া আখবারুল ক্বারামিতা
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
وإنا تركنا بين زمزم والصفا
… جنائز لا تبغي سوى ربها ربا
وله لعنه الله أشعار في ذلك تركتها اختصارا. وكان دخوله مكة سنة سبع عشرة وثلاثمائة وقتل فيها ثلاث عشر ألفا، عليه لعنة الله.
باب ذكر الحسن بن مهران المعروف بالمقنعخرج فيما وراء النهر وله أخبار شنيعة. وكان حكيما فيلسوفا ملعونا. ذكروا أنه عمل قمرا بالطلسم يطلع في السنة أربعين ليلة ولقد كنت أكذب ذلك حتى صححه لي جماعة من أهل خراسان وذكروا أنه بنى حصنا وعمل فيه لوالب فكان المسلمون إذا أتوا لقتاله قذفوا بالحجارة ولا يدرون من أين يقذفون فمال إليه خلق كثير حتى بعث الله عليهم بغلام حكيم فأمر المسلمين أن يحفروا حول الحصن فوقعوا على اللوالب فأخرجوها ودخلوا عليه فقتلوه. وقيل إنه أحرق نفسه قبل دخولهم عليه فأمكن الله سبحانه وتعالى منه.
باب ذكر محمد بن زكريا لعنه اللهأحسب أن اسمه زكرويه بن مهرويه القرمطي. وكان قد خرج بالكوفة فخرج إليه المكتفي أمير المؤمنين من بني العباس فقتله، لعنه
এবং আমরা জমজম ও সাফার মধ্যবর্তী স্থানে
… এমন সব জানাযা রেখে এসেছি যারা তাদের প্রতিপালক ব্যতীত অন্য কাউকে রব হিসেবে কামনা করে না।
তার ওপর আল্লাহর অভিশাপ বর্ষিত হোক, এই বিষয়ে তার আরও অনেক কবিতা রয়েছে যা আমি সংক্ষিপ্ত করার উদ্দেশ্যে বর্জন করেছি। মক্কায় তার অনুপ্রবেশ ঘটেছিল তিনশ সতেরো হিজরি সনে এবং সেখানে সে তেরো হাজার মানুষকে হত্যা করেছিল; তার ওপর আল্লাহর লানত বর্ষিত হোক।
হাসান বিন মেহরান, যিনি আল-মুকান্না নামে পরিচিত, তার প্রসঙ্গের পরিচ্ছেদসে মাওয়ারাননহর অঞ্চলে বিদ্রোহ করেছিল এবং তার সম্পর্কে অত্যন্ত জঘন্য সব সংবাদ বিদ্যমান। সে ছিল একজন কুহকী দার্শনিক ও অভিশপ্ত ব্যক্তি। ঐতিহাসিকগণ উল্লেখ করেছেন যে, সে জাদুমন্ত্রের মাধ্যমে একটি কৃত্রিম চাঁদ তৈরি করেছিল যা বছরে চল্লিশ রাত উদিত হতো। আমি বিষয়টি অবিশ্বাস্য মনে করতাম যতক্ষণ না খোরাসানের একদল নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি আমার নিকট এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তারা আরও উল্লেখ করেছেন যে, সে একটি দুর্গ নির্মাণ করেছিল এবং তাতে নানাবিধ যান্ত্রিক কলাকৌশল স্থাপন করেছিল। ফলে মুসলমানরা যখন তার সাথে যুদ্ধ করতে আসত, তখন তাদের ওপর পাথর নিক্ষিপ্ত হতো কিন্তু তারা বুঝতে পারত না পাথর কোথা থেকে আসছে। এর ফলে এক বিশাল জনগোষ্ঠী তার প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিল, অবশেষে আল্লাহ তাদের নিকট একজন প্রাজ্ঞ যুবককে পাঠালেন। সে মুসলমানদের দুর্গের চারপাশ খনন করার নির্দেশ দিল, ফলে তারা সেই যান্ত্রিক সরঞ্জামগুলো খুঁজে পেল এবং সেগুলো উপড়ে ফেলল। অতঃপর তারা দুর্গে প্রবেশ করে তাকে হত্যা করল। আবার বলা হয় যে, তারা ভেতরে প্রবেশের পূর্বেই সে নিজেকে পুড়িয়ে ফেলেছিল; এভাবেই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তার ওপর বিজয় দান করেছিলেন।
মুহাম্মদ বিন যাকারিয়া (তার ওপর আল্লাহর লানত) এর প্রসঙ্গের পরিচ্ছেদআমার ধারণা তার নাম যাকরাওয়াইহ বিন মাহরাওয়াইহ আল-কারমাতি। সে কুফায় বিদ্রোহ করেছিল, তখন আব্বাসীয় খলিফা আমিরুল মুমিনীন আল-মুকতাফি তার বিরুদ্ধে অভিযানে বের হন এবং তাকে হত্যা করেন; তার ওপর অভিশাপ...
(খণ্ড: ১)
কাশফু আসরারিল বাতিনিয়্যাহ ওয়া আখবারুল ক্বারামিতা
(পৃষ্ঠা: ৪০)
الله ولا رحمه.
باب ذكر علي بن فضل الجدني لعنه اللهمن ذرية ذي جدن، والأجدون من سبأ صهيب وأصله من جيشان. وكان في أوله ينتحل الاثني عشرية فخرج للحج ثم زار قبر النبي صلى الله عليه وسلم ثم مضى إلى الكوفة لزيادة قبر الحسين بن علي رضي الله عنه فلما وصل إلى الكوفة وزار قبر الحسين رضي الله عنه بكى على القبر بكاء شديدا وجعل ينوح ويقول بأبي أنت يا ابن الزهراء المضرح بالدماء الممنوع من شرب الماء، وكان ميمون القداح على القبر وولده عبيد فلما بصرا به سرهما وطمعا به وعلما أنه ممن يميل إليهما ويدخل في ناموسهما فقال ميمون: أيها الشاب ما كنت تفعل لو رأيت صاحب هذا القبر؟ قال: إذا والله أضع له خدي وأجاهد بين يديه حتى أموت شهيدا، فقال ميمون: أتظن أن الله قطع هذا الأمر؟ قال له علي بن فضل: لا ولكن لا أعلم ذلك فهل عندك منه خبر أيها الشيخ؟
আল্লাহ এবং তাঁর রহমত নয়।
অভিশপ্ত আলী বিন ফাদল আল-জাদানি সংক্রান্ত আলোচনার পরিচ্ছেদতিনি যি-জাদানের বংশধর ছিলেন। আর 'আজদুন' হলো সাবা-র সুহাইব গোত্রের অন্তর্ভুক্ত এবং তাঁর আদি নিবাস ছিল জাইশান। তিনি প্রারম্ভিক জীবনে ইসনা আশারিয়া (বারো ইমামি) মতবাদ গ্রহণ করেছিলেন। অতঃপর তিনি হজ্জের উদ্দেশ্যে বের হন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পবিত্র রওজা যিয়ারত করেন। এরপর তিনি হুসাইন বিন আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর কবর যিয়ারতের উদ্দেশ্যে কুফায় যাত্রা করেন। যখন তিনি কুফায় পৌঁছে হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর কবর যিয়ারত করলেন, তখন তিনি কবরের নিকট অত্যন্ত করুণভাবে ক্রন্দন করতে লাগলেন এবং বিলাপ করে বলতে থাকলেন— "হে যাহরার সন্তান, আমার পিতা আপনার জন্য উৎসর্গিত হোন! আপনি রক্তে রঞ্জিত হয়েছিলেন এবং আপনাকে পানি পান করা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল।" সে সময় মায়মুন আল-কাদ্দাহ ও তাঁর পুত্র উবাইদ কবরের নিকট অবস্থান করছিল। যখন তারা তাঁকে দেখল, তখন তারা আনন্দিত হলো এবং তাঁর প্রতি লালায়িত হলো। তারা বুঝতে পারল যে, এই ব্যক্তি তাদের মতবাদের দিকে ঝুঁকে পড়বে এবং তাদের গোপন রহস্যের অন্তর্ভুক্ত হবে। মায়মুন বলল: "হে যুবক! আপনি যদি এই কবরের অধিপতিকে সচক্ষে দেখতেন, তবে কী করতেন?" তিনি উত্তর দিলেন: "আল্লাহর কসম! তবে আমি তাঁর চরণে আমার গাল রাখতাম এবং তাঁর সম্মুখে আমৃত্যু জিহাদ করে শহীদ হতাম।" তখন মায়মুন বলল: "আপনি কি মনে করেন যে, আল্লাহ এই বিষয়টি ছিন্ন করে দিয়েছেন?" আলী বিন ফাদল তাঁকে বললেন: "না, তবে এ বিষয়ে আমার জ্ঞান নেই। হে শায়খ! আপনার কাছে কি এ সংক্রান্ত কোনো সংবাদ আছে?"
(খণ্ড: ১)
কাশফু আসরারিল বাতিনিয়্যাহ ওয়া আখবারুল ক্বারামিতা
(পৃষ্ঠা: ৪১)
فقال: أخبرك به إن شاء الله عند الإمكان، ثم قام ميمون فتعلق به، فقال ميمون: تقف بهذا المسجد إلى غد، فوقف أياما فلم ير له خبرا، فودع أصحابه وقال لهم: أما أنا فلا أبرح هاهنا حتى أنتجز وعدا قد وعدته، فأخذ له من المؤونة ما يكفيه فوق أربعين يوما وميمون وولده يرمقانه من حيث لا يعلم بهما، فلما رأى ميمون صبره أعجبه وعلم أنه لا يخالفه في شيء من دعوته والميل إلى كفره وضلالته. فأتاه عبيد فوثب إليه فاعتنقه، وقال: سبحان الله يا سيدي وعدني الشيخ وعدا فأخلفني، فقال: لم يخلفك، وإنما قال: أنا آتيك غدا إن شاء الله، وله في هذا مخرج على ضميره، ثم جلسا وجرى بينهما الكلام، وقال له: يا أخي اعلم أن ذلك الشيخ أبي وقد سره ما رأى من صبرك وعلو همتك وهو يبلغك محبوبك إن شاء الله، ثم أخذه بيده فأوصله إلى الشيخ. فلما رآه قال: الحمد لله الذي رزقني رجلا نحريرا مثلك أستعين به على أمري وأكشف له مكنون سري، ثم كشف له أمر مذهبه لعنهما الله. فأصغى إليه واشرأب قلبه وتلقى كلامه بالقبول، وقال له علي: والله إن الفرصة ممكنة في اليمن، وإن الذي تدعو إليه
অতঃপর তিনি বললেন: ইনশাআল্লাহ, সুযোগ হওয়ামাত্রই আমি তোমাকে এ বিষয়ে অবহিত করব। এরপর মায়মুন উঠে তাঁকে জড়িয়ে ধরলেন এবং বললেন: আপনি আগামীকাল পর্যন্ত এই মসজিদে অপেক্ষা করুন। তিনি সেখানে কয়েক দিন অবস্থান করলেন কিন্তু তাঁর কোনো খবর পেলেন না। তখন তিনি তাঁর সঙ্গীদের বিদায় দিলেন এবং তাঁদের বললেন: আমাকে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে তা পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত আমি এখান থেকে নড়ব না। অতঃপর তিনি চল্লিশ দিনেরও অধিক সময়ের জন্য পর্যাপ্ত রসদ সংগ্রহ করলেন। মায়মুন ও তাঁর পুত্র তাঁকে অলক্ষ্যে পর্যবেক্ষণ করছিলেন। যখন মায়মুন তাঁর ধৈর্য দেখলেন, তা তাঁকে মুগ্ধ করল এবং তিনি বুঝতে পারলেন যে তিনি তাঁর দাওয়াত গ্রহণ এবং কুফর ও ভ্রষ্টতার দিকে ঝুঁকে পড়ার ক্ষেত্রে কোনো বিরোধিতা করবেন না। অতঃপর উবাইদ তাঁর নিকট আসলেন, তখন তিনি লাফিয়ে উঠে তাঁকে আলিঙ্গন করলেন এবং বললেন: সুবহানাল্লাহ, হে আমার সরদার! শায়খ আমাকে একটি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি তা ভঙ্গ করেছেন। তিনি বললেন: তিনি আপনার সাথে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেননি; বরং তিনি বলেছিলেন যে, ইনশাআল্লাহ আমি আগামীকাল আসব, আর এ বিষয়ে তাঁর মনে একটি ব্যাখ্যা বা অবকাশ ছিল। এরপর তাঁরা বসলেন এবং তাঁদের মধ্যে কথাবার্তা চলল। তিনি তাঁকে বললেন: হে আমার ভাই! জেনে রাখুন যে, ঐ শায়খ আমার পিতা। আপনার ধৈর্য ও উচ্চ মনোবল দেখে তিনি অত্যন্ত প্রীত হয়েছেন এবং ইনশাআল্লাহ তিনি আপনার অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছে দেবেন। অতঃপর তিনি তাঁর হাত ধরে তাঁকে শায়খের কাছে নিয়ে গেলেন। শায়খ তাঁকে দেখে বললেন: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাকে আপনার মতো একজন তীক্ষ্ণবুদ্ধি সম্পন্ন প্রাজ্ঞ ব্যক্তি দান করেছেন, যাঁর মাধ্যমে আমি আমার কাজে সহায়তা পাব এবং যাঁর নিকট আমার নিগূঢ় রহস্য উন্মোচন করব। অতঃপর তিনি তাঁর নিকট নিজ মাযহাব বা মতাদর্শের কথা ব্যক্ত করলেন—আল্লাহ তাঁদের উভয়কে লানত করুন। তিনি অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে তাঁর কথা শুনলেন, তাঁর অন্তর তা গ্রহণে উন্মুখ হয়ে উঠল এবং তিনি তা সানন্দে কবুল করলেন। তখন আলী তাঁকে বললেন: আল্লাহর কসম, বর্তমানে ইয়েমেনে সুবর্ণ সুযোগ বিদ্যমান, আর আপনি যে বিষয়ের দিকে আহ্বান করছেন...
(খণ্ড: ১)
কাশফু আসরারিল বাতিনিয়্যাহ ওয়া আখবারুল ক্বারামিতা
(পৃষ্ঠা: ৪২)
جائز هناك وناموسنا يمشي عليهم وذلك لما أعرف فيهم من ضعف الأحلام وتشتيت الرأي وقلة المعرفة بأحكام الشريعة المحمدية، فقال له ميمون: أنا موجهك إلى المنصور الحسن بن زاذان، وكان ينسب إلى ولد مسلم بن عقيل بن أبي طالب، وكان أبوه ممن ينتحل مذهب الشيعة الإثنى عشرية، وكان من أهل الضلالة، وكان من أهل الكوفة، فلما دخل ميمون الكوفة وظفر بالحسن بن زاذان علم أنه مسعود وأنه ينال ملكا وشرفا، وذلك من طريق معرفته بالنجوم والفلسفة. فجعل ميمون يلطف به ويرفق فيكشف له مذاهب الفلسفة ومقالهم، فلم يزل به حتى قبل منه وركن إلى قوله، وما زال به حتى مال إلى معتقده وصار من دعاته الذين يدعون إليه وإلى ولده. فعند ذلك قال ميمون: يا أبا القاسم إن الدين يماني والحكمة يمانية، وكل أمر يكون مبدأه من قبل اليمن فإنه يكون ثابتا ثبوت نجم النجم، وذلك أن إقليم اليمن أعلى أقاليم الدنيا، ولا بد من خروجك إلى هنالك أنت وأخوك علي بن فضل اليماني فسيكون لكما شأن وملك وسلطان في اليمن، فكونا على أهبة.
সেখানে এটি অনুমোদিত এবং আমাদের প্রবর্তিত নীতি তাদের ওপর কার্যকর হবে; আর এটি এজন্য যে, আমি তাদের মধ্যে চিন্তাশক্তির দুর্বলতা, মতামতের অনৈক্য এবং মুহাম্মদী শরীয়তের বিধান সম্পর্কে জ্ঞানের স্বল্পতা লক্ষ্য করেছি। তখন মাইমুন তাকে বললেন: আমি তোমাকে আল-মানসুর আল-হাসান ইবনে জাযানের নিকট প্রেরণ করছি। তিনি মুসলিম ইবনে আকিল ইবনে আবি তালিবের বংশধর হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার পিতা দ্বাদশ ইমামপন্থী শিয়া মতাদর্শের অনুসারী ছিলেন এবং তিনি ছিলেন কুফাবাসী ও পথভ্রষ্টদের অন্তর্ভুক্ত। অতঃপর মাইমুন যখন কুফায় প্রবেশ করলেন এবং হাসান ইবনে জাযানের সান্নিধ্য লাভে সফল হলেন, তখন তিনি জ্যোতির্বিদ্যা ও দর্শন শাস্ত্রের জ্ঞানের মাধ্যমে বুঝতে পারলেন যে, হাসান একজন সৌভাগ্যবান ব্যক্তি এবং তিনি অচিরেই রাজত্ব ও মর্যাদা লাভ করবেন। মাইমুন তার সাথে অত্যন্ত নম্র ও সদয় আচরণ করতে লাগলেন এবং তার নিকট দর্শনের বিভিন্ন মতবাদ ও তাদের বক্তব্যসমূহ উন্মোচন করলেন। তিনি অবিরত চেষ্টা চালিয়ে গেলেন যতক্ষণ না হাসান তার কথা গ্রহণ করলেন এবং তার মতাদর্শের প্রতি আশ্বস্ত হলেন। এভাবে তিনি তাকে প্রভাবিত করতে থাকলেন যতক্ষণ না হাসান তার আকিদার দিকে ধাবিত হলেন এবং তার ও তার সন্তানদের দিকে আহ্বানকারী দাঈদের অন্তর্ভুক্ত হলেন। সেই সময় মাইমুন বললেন: হে আবুল কাসিম! নিশ্চয়ই দ্বীন ইয়েমেনি এবং হিকমাহ (প্রজ্ঞা) ইয়েমেনি। আর যে বিষয়ের সূচনা ইয়েমেন থেকে হয়, তা নক্ষত্রের ন্যায় সুদৃঢ় ও অটল থাকে। কারণ ইয়েমেন অঞ্চল বিশ্বের শ্রেষ্ঠতম অঞ্চলসমূহের অন্তর্ভুক্ত। তোমাকে এবং তোমার ভাই আলী ইবনে ফাদল আল-ইয়ামানিকে অবশ্যই সেখানে গমন করতে হবে। অচিরেই ইয়েমেনে তোমাদের এক বিশেষ মর্যাদা, রাজত্ব ও আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হবে। সুতরাং তোমরা সদা প্রস্তুত থাকো।
(খণ্ড: ১)
কাশফু আসরারিল বাতিনিয়্যাহ ওয়া আখবারুল ক্বারামিতা
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
فقال له: الأمر إليك يا سيدي، قال المنصور: فكنت أنا وعلي بن فضل وعبيد لا نزال نكثر المذاكرة في مجلس الشيخ، وكان يقول: عند تمام الوقت ومضي ستة أدوار من الهجرة المحمدية أبعثكما إلى اليمن تدعوان إلى ولدي هذا فسيكون له ولذريته عز وسلطان. وأخذ عليّ وعلى علي بن فضل العهود والمواثيق لولده.
فلما كان أوان خروجنا، قال لنا ميمون: هذا هو الوقت الذي كنا ننتظره، فاخرجا في هذا الموسم ثم وجهنا بالحج وعهد إلينا، ثم خلا بي وأوصاني بالاستتار حتى أبلغ مرادي، وقال لي: الله الله بصاحبك فاحفظه وأكرمه بجهدك، ومره بحسن السيرة في أمره فإنه شاب ولا آمن نبوته، وخلا بعلي بن فضل وقال: الله بصاحبك وقره واعرف له حقه ولا تخالفه فيما يراه لك إنه أعرف منك، وإنك إن خالفته لم ترشد.
قال المنصور: فلما صرت في بعض الطريق لحقني كمد عظيم لحال الغربة وإذا بحاد يقول:
يا أيها الحادي المليح الزجر
… نشر مطاياك بضوء الفجر
تدرك ما أملته من أمر
قال: فلما سمعت ذلك سررت به واستبشرت،
অতঃপর তিনি তাকে বললেন: "হে আমার হুজুর, বিষয়টি আপনার ইচ্ছাধীন।" আল-মানসুর বলেন: "আমি, আলী বিন ফজল এবং উবাইদ—আমরা নিয়মিত শায়খের মজলিসে জ্ঞানচর্চায় লিপ্ত থাকতাম। তিনি বলতেন: 'যখন সময় পূর্ণ হবে এবং মুহাম্মদী হিজরতের ছয়টি যুগচক্র অতিক্রান্ত হবে, তখন আমি তোমাদের দুজনকে ইয়ামেনে প্রেরণ করব আমার এই সন্তানের দিকে আহ্বান জানানোর জন্য; তার এবং তার বংশধরদের জন্য প্রতিপত্তি ও রাজত্ব নির্ধারিত হবে।' অতঃপর তিনি আমার এবং আলী বিন ফজলের নিকট থেকে তাঁর সন্তানের জন্য আনুগত্যের শপথ ও অঙ্গীকার গ্রহণ করলেন।"
অতঃপর যখন আমাদের প্রস্থানের সময় সমাগত হলো, মায়মুন আমাদের বললেন: "এ-ই সেই সময় যার প্রতীক্ষায় আমরা ছিলাম, সুতরাং তোমরা এই মৌসুমেই যাত্রা করো।" অতঃপর তিনি আমাদের হজের উদ্দেশ্যে প্রেরণ করলেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিলেন। এরপর তিনি আমার সাথে একান্তে কথা বললেন এবং গন্তব্যে পৌঁছানো পর্যন্ত আমাকে আত্মগোপন করে থাকার নির্দেশ দিলেন। তিনি আমাকে বললেন: "তোমার সঙ্গীর বিষয়ে আল্লাহকে ভয় করো; তাকে রক্ষা করো এবং তোমার সাধ্যমতো সম্মান করো। তাকে তার বিষয়াবলীতে উত্তম আদর্শ অবলম্বনের নির্দেশ দিও, কেননা সে একজন যুবক এবং তার বিচ্যুতি সম্পর্কে আমি শঙ্কামুক্ত নই।" অতঃপর তিনি আলী বিন ফজলের সাথে নিভৃতে কথা বললেন এবং বললেন: "তোমার সঙ্গীর বিষয়ে আল্লাহকে ভয় করো, তাকে সম্মান করো এবং তার মর্যাদা উপলব্ধি করো। সে তোমার জন্য যা সমীচীন মনে করে তাতে তার অবাধ্য হয়ো না, কারণ সে তোমার অপেক্ষা অধিক অভিজ্ঞ। তুমি যদি তার বিরুদ্ধাচরণ করো, তবে সঠিক পথের দিশা পাবে না।"
আল-মানসুর বলেন: "পথের এক পর্যায়ে প্রবাস জীবনের কারণে আমি গভীর বিষণ্ণতায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়লাম। এমন সময় একজন উষ্ট্রচালকের এই গীতি শুনলাম:"
হে সুললিত কণ্ঠের অধিকারী চালক
… উষার আলোয় তোমার বাহনগুলো দ্রুত ধাবিত করো
তুমি যা প্রত্যাশা করেছ, তা শীঘ্রই প্রাপ্ত হবে
তিনি বলেন: "আমি যখন তা শ্রবণ করলাম, অত্যন্ত আনন্দিত হলাম এবং একে শুভলক্ষণ হিসেবে গণ্য করলাম।"
(খণ্ড: ১)
কাশফু আসরারিল বাতিনিয়্যাহ ওয়া আখবারুল ক্বারামিতা
(পৃষ্ঠা: ৪৪)
فوصلت مكة مع الحاج وذلك في أيام محمد بن يعفر الحوالي. ثم أقبلنا نسأل عن أخبار اليمن، فقيل لنا: إن الأمير محمد بن يعفر رد المظالم واعتزل عن الناس ورجع إلى التنسك والعبادة، فقلنا: ولم فعل ذلك؟ فقيل لنا: إنه قيل له إن في هذه السنة يخرج عليه خارجي فيكون زوال أمره على يديه، ويقال إنه رد في يوم واحد ألف دينار، وكان في بني حوال رجل يقال له إبراهيم فقال:
يا ذا حوال يا مصابيح الأفق
… تداركوا عزكم لا ينفتق
فتطلبون رتق مالا يرتتق
… فأيكم قام بها فقد سبق
فقام ولد محمد بن جعفر.
قال محمد بن مالك الحمادي رحمه الله: فلما خرج علي بن فضل مع الحاج هو والمنصور وصارا في غلافقة، افترقا وقال كل واحد منهما لصاحبه: أعلمني بأمرك وما يكون منك. فوصل المنصور إلى الجند، وصاحب الأمر يومئذ جعفر بن
আমি হাজীদের সাথে মক্কায় পৌঁছলাম, আর তা ছিল মুহাম্মদ বিন ইয়াফুর আল-হাওয়ালির শাসনামলে। এরপর আমরা ইয়েমেনের খবরাখবর সম্পর্কে অনুসন্ধান করতে লাগলাম। আমাদের বলা হলো: আমির মুহাম্মদ বিন ইয়াফুর হরণকৃত অধিকার ও সম্পদসমূহ ফিরিয়ে দিয়েছেন, জনবিচ্ছিন্ন হয়ে নির্জনতা অবলম্বন করেছেন এবং কৃচ্ছ্রসাধন ও ইবাদতে মগ্ন হয়েছেন। আমরা জিজ্ঞেস করলাম: তিনি কেন এমনটি করলেন? আমাদের বলা হলো: তাকে জানানো হয়েছে যে, এই বছরই তার বিরুদ্ধে এক বিদ্রোহীর উত্থান ঘটবে যার হাতে তার শাসনের অবসান হবে। বলা হয়ে থাকে যে, তিনি একদিনেই এক হাজার দিনার ফেরত দিয়েছিলেন। বনু হাওয়াল গোত্রে ইব্রাহিম নামক এক ব্যক্তি ছিলেন, তিনি বললেন:
হে হাওয়াল বংশীয়রা, হে দিগন্তের প্রদীপসমূহ!
… তোমাদের সম্মান ও মর্যাদা ছিন্ন হওয়ার আগেই তা রক্ষা করো।
নতুবা তোমরা এমন কিছু জোড়া লাগাতে চাইবে যা আর জোড়া লাগবে না
… তোমাদের মধ্যে যে এই দায়িত্ব পালনে আগে এগিয়ে আসবে, সে-ই সফল হবে।
অতঃপর মুহাম্মদ বিন জাফরের পুত্র দণ্ডায়মান হলেন।
মুহাম্মদ বিন মালিক আল-হাম্মাদি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: যখন আলী বিন ফাদল ও আল-মানসুর হাজীদের সাথে বের হলেন এবং গুলাফিকা নামক স্থানে পৌঁছালেন, তখন তারা একে অপরের থেকে পৃথক হয়ে গেলেন। তারা প্রত্যেকেই তার সঙ্গীকে বললেন: তোমার অবস্থা এবং তোমার গতিবিধি সম্পর্কে আমাকে অবহিত করবে। অতঃপর আল-মানসুর আল-জানাদে পৌঁছালেন, আর সেই সময়ে শাসনকর্তা ছিলেন জাফর বিন
(খণ্ড: ১)
কাশফু আসরারিল বাতিনিয়্যাহ ওয়া আখবারুল ক্বারামিতা
(পৃষ্ঠা: ৪৫)
إبراهيم المناخي، وخرج علي بن فضل إلى ناحية جيشان. فأما المنصور فإن ميمونا كان قال له: لا يظهر أمرك إلا من موضع يقال له عدن لاع، فإنه أقوى لأمرك وأمضى لناموسك، وإنما دله على ذلك الفلسفة وعرف ما سطره في كتبهم من تسمية الأقاليم والبلدان وتقويم الكواكب السبعة. فلما صار المنصور إلى الجند سأل عن عدن لاعة؟ فقالوا: لانعرف إلا عدن أبين بتجارة تصلح لعدن كما يفعل التجار، فأقام أياما فيها يسأل عن عدن لاعة مدة بقائه هنالك فبصر به شيخ من تجار عدن فأنكره فسأله عن حاله؟ فقال: أنا رجل من أهل العراق وكنت حاجا في هذه السنة، قال: فهل عندك خبر؟ فقال: لست صاحب أخبار وعما تريد أن أخبرك عنه؟ قال له العدني: هل حدثت في الشام أحداث؟ فقال: لا علم لي بشيء، فلم يزل به حتى أعلمه ما في ضميره، فعاهده المنصور على كتمان سره، وسأله عن عدن لاعة؟ فقال: هي معروفة ولا يزال أهلها من التجار يصلون إلينا وأنا أعلمك بهم إذا وصلوا. يقال إن هذا العدني جد بني الوزان فاسدي المذهب، وبنو الوزان إلى اليوم رفضة شيع.
ইব্রাহিম আল-মুনাখি, এবং আলি বিন ফাদল জাইশান অঞ্চলের দিকে বেরিয়ে গেলেন। আর মানসুরের ক্ষেত্রে বিষয়টি ছিল এই যে, মায়মুন তাকে বলেছিলেন: আদান লা’আ নামক স্থানটি ব্যতীত তোমার মিশন প্রকাশ পাবে না; কারণ এটি তোমার মিশনের জন্য অধিক শক্তিশালী এবং তোমার প্রভাব বিস্তারের জন্য অধিক কার্যকর হবে। মূলত দর্শনশাস্ত্রই তাকে এই পথ দেখিয়েছিল এবং তিনি তাদের গ্রন্থসমূহে অঞ্চল ও দেশসমূহের নামকরণ এবং সপ্তগ্রহের অবস্থান সংক্রান্ত যা কিছু লিপিবদ্ধ ছিল, তা জানতেন। অতঃপর মানসুর যখন আল-জানাদে পৌঁছালেন, তখন তিনি আদান লা’আ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তারা বলল: আমরা ব্যবসায়ীদের ন্যায় বাণিজ্যের জন্য উপযুক্ত আদান আবইয়ান ছাড়া আর কিছু চিনি না। সেখানে থাকাকালীন তিনি বেশ কয়েকদিন অবস্থান করলেন এবং আদান লা’আ সম্পর্কে অনুসন্ধান করতে থাকলেন। তখন আদানের একজন বয়স্ক ব্যবসায়ী তাকে দেখতে পেলেন এবং তাকে অচেনা মনে করে তার অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি বললেন: আমি ইরাকবাসী এক ব্যক্তি এবং এই বছর হজ্জ আদায় করেছি। সে বলল: আপনার কাছে কি কোনো সংবাদ আছে? তিনি উত্তর দিলেন: আমি সংবাদ সংগ্রাহক নই, আর আপনি কী বিষয়ে সংবাদ জানতে চান? সেই আদানি ব্যক্তি তাকে বললেন: শাম দেশে কি কোনো নতুন ঘটনা ঘটেছে? তিনি বললেন: আমার এ বিষয়ে কোনো জ্ঞান নেই। কিন্তু সে অনবরত তাকে প্রশ্ন করতে থাকল, যতক্ষণ না তিনি তার মনের সংকল্প তাকে জানালেন। তখন মানসুর তার গোপন কথাটি গোপন রাখার জন্য তার কাছ থেকে অঙ্গীকার নিলেন এবং তাকে আদান লা’আ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। সে বলল: এটি একটি পরিচিত স্থান এবং সেখান থেকে ব্যবসায়ীরা প্রতিনিয়ত আমাদের কাছে আসে। তারা যখন পৌঁছাবে, তখন আমি আপনাকে সে সম্পর্কে অবহিত করব। কথিত আছে যে, এই আদানি ব্যক্তিই ছিলেন ভ্রান্ত মতাদর্শী বনু আল-ওয়াজ্জানের পূর্বপুরুষ; আর বনু আল-ওয়াজ্জান আজ অবধি রাফেযী শিয়া মতাবলম্বী।
(খণ্ড: ১)
কাশফু আসরারিল বাতিনিয়্যাহ ওয়া আখবারুল ক্বারামিতা
(পৃষ্ঠা: ৪৬)
فلما وصل التجار من عدن لاعة، ومن عيان، فسألهم عن الموضع فأخبروه عنه وأنه في ناحية بلادهم، وهي قرية صغيرة، فمن أعلمك من الناس بها؟ قال: الناس يسمعون بذكر البلدان، فلما عزموا على الرحيل تأهب للخروج معهم، وقال: أنا رجل من أهل العلم، وقد رغبت بالخروج معكم إلى بلدكم، ففرحوا به وأكرموه، وقالوا: مرحبا بك نحن أحوج إلى من يبصرنا في أمر ديننا، ونحن نكفيك المئونة ونحملك، فأثنى عليهم وشكرهم وقال: لا حاجة لي فيما عندكم، وإنما أردت وجه الله تعالى، فارتحل معهم فكان يسامرهم ويروي لهم أحسن الأخبار، فأحبوه وأصغوا إليه وإلى قوله. فكانوا يحدقون به إكراما له وتبجيلا حتى قدموا لاعة، فادعى الفقه في مذهب السنة والجماعة، فتسامع به الناس وأقبلوا إليه من كل ناحية وهو مستعمل الورع وحسن السيرة، حتى مالت إليه مخاليف المغرب لاعة وادران وحجة وعيان وبلدان البياض، فأمرهم بجمع الزكاة عن أموالهم فاستعمل عليهم منهم ثقات وعدولا يقبضون أعشار أموالهم على ما يوجبه الفقه. فأقام سنتين بعد قتل محمد بن يعفر، واختلاف بني حوال فيما بينهم، فقال لهم: قد رأيت أن تبنوا موضعا منيعا يكون لبيت مال
অতঃপর যখন আদন লা‘আহ এবং আইয়ান থেকে বণিকেরা আসলেন, তিনি তাদের সেই স্থানটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তারা তাকে স্থানটি সম্পর্কে অবহিত করলেন এবং জানালেন যে এটি তাদেরই জনপদের একটি ক্ষুদ্র গ্রাম। তারা তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, "লোকদের মধ্যে কে আপনাকে এই গ্রামটি সম্পর্কে অবহিত করল?" তিনি বললেন, "মানুষ তো বিভিন্ন জনপদের নাম শুনেই থাকে।" যখন তারা প্রস্থানের সংকল্প করলেন, তখন তিনিও তাদের সাথে বের হওয়ার প্রস্তুতি নিলেন এবং বললেন, "আমি একজন ইলম চর্চাকারী ব্যক্তি, আমি আপনাদের সাথে আপনাদের দেশে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছি।" এতে তারা আনন্দিত হলেন এবং তাকে যথাযোগ্য সম্মান দান করলেন। তারা বললেন, "আপনাকে স্বাগতম; আমাদের দ্বীনি বিষয়ে প্রজ্ঞা দান করার জন্য আপনার ন্যায় একজন ব্যক্তির প্রতি আমরা অত্যন্ত মুখাপেক্ষী। আমরাই আপনার যাবতীয় ব্যয়ভার বহন করব এবং বাহনের ব্যবস্থা করব।" তিনি তাদের প্রশংসা ও শুকরিয়া জ্ঞাপন করে বললেন, "আপনাদের জাগতিক কোনো সম্পদের প্রয়োজন আমার নেই, আমি কেবল মহান আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টির প্রত্যাশী।" অতঃপর তিনি তাদের সাথে যাত্রা করলেন; তিনি তাদের সাথে নৈশকালীন আলাপচারিতা করতেন এবং চমৎকার সব ঘটনাবলি শোনাতেন। ফলে তারা তাকে ভালোবেসে ফেলল এবং তার বক্তব্যের প্রতি নিবিষ্ট হলো। তারা সম্মান ও শ্রদ্ধাবোধ থেকে তাকে সর্বদা পরিবেষ্টন করে রাখত, যতক্ষণ না তারা লা‘আহ-তে উপনীত হলেন। সেখানে তিনি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের মাযহাব অনুযায়ী ফিকহশাস্ত্রে পাণ্ডিত্যের প্রকাশ ঘটালেন। চতুর্দিক থেকে মানুষ তার কথা শুনতে পেল এবং তার সমীপে সমবেত হতে লাগল। তিনি অত্যন্ত পরহেজগারিতা ও উত্তম চরিত্রের পরিচয় দিতেন, যার ফলে মাগরিবের মিখলাফসমূহ তথা লা‘আহ, আদান, হাজ্জাহ, আইয়ান এবং বায়াদ অঞ্চলের জনপদগুলো তার অনুগত হয়ে পড়ল। তিনি তাদের সম্পদের যাকাত সংগ্রহের নির্দেশ দিলেন এবং তাদের মধ্য থেকে নির্ভরযোগ্য ও ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিদের আমিল হিসেবে নিয়োগ দিলেন, যারা ফিকহী বিধান মোতাবেক সম্পদের উশর (দশমাংশ) সংগ্রহ করতেন। মুহাম্মদ ইবনে ইয়া‘ফুরের হত্যাকাণ্ড এবং বনু হাওয়ালের অভ্যন্তরীণ বিরোধের পর তিনি সেখানে দুই বছর অবস্থান করলেন। অতঃপর তিনি তাদের বললেন, "আমি সঙ্গত মনে করি যে, আপনারা একটি সুরক্ষিত দুর্গ নির্মাণ করুন যা বায়তুল মাল হিসেবে ব্যবহৃত হবে।"
(খণ্ড: ১)
কাশফু আসরারিল বাতিনিয়্যাহ ওয়া আখবারুল ক্বারামিতা
(পৃষ্ঠা: ৪৭)
المسلمين، فعزموا على ذلك ولم يخالفوه فيما أمرهم به، فأجمعوا على بناء موضع يقال له: عبر محرم، وهو جبل تحت مسور وهو موضع بني العرجي قوم من سلاطين المغرب همدان، فلما بنى الجبل وحصنه حمل إليه كل ما يحتاج إليه بعد أن ساعده إلى إرادته خمسمائة رجل، وأخذ عليهم العهود والمواثيق، ثم إنه بعد ذلك ارتكب الحصن هو وأصحابه ونقلوا حريمهم وأموالهم بعد أن أخرج الحوالي عسكرا في جنح الليل إلى موضع كانوا فيه يقال له الحيفة في ناحية لاعة فقتل من أصحاب المنصور اثنى عشر وارتكب الجبل عبر محرم بمعاملة لبني العرجي، وأنكر الناس أمره وأضرموا النار لحربه، فكتب إليهم أني ما طلعت هذا الجبل إلا لأحصن به نفسي من السلطان، فلم يقبلوا منه وجاسوا إليه فقاتلوه فهزمهم وقتل منهم بشرا كثيرا، فعظم حينئذ شأنه وشاع إلى جميع العشائر ذكره، وبلغ الأمير ذلك فكتب إلى جميع العشائر حوله يحرضهم على قتاله فقاتلوه مرارا وهو ينتصر عليهم.
ثم استنجدوا عليه رجلا من سلاطين شارو يقال له: أبو إسماعيل، وبالحوالي صاحب صنعاء، فأمدهم بالعساكر الكثيرة فهزمهم وقتل منهم قتلا كثيرا، فازداد بذلك ذكره وعظم أمره ودخل في طاعته من كان حوله طوعا وكرها واستعمل الطبول والرايات وأظهر مذهبه ودعا إلى عبيد بن ميمون وكان يقول: والله ما أخذت هذا الأمر بمالي
মুসলমানগণ, তারা এই বিষয়ে সংকল্পবদ্ধ হলেন এবং তিনি তাদের যা যা নির্দেশ প্রদান করেছিলেন তার কোনো বিরোধিতা করলেন না। অতঃপর তারা ‘আবর মুহরাম’ নামক একটি স্থানে নির্মাণের বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করলেন; এটি মিসওয়ারের পাদদেশে অবস্থিত একটি পাহাড় এবং হামদানের মাগরিবী সুলতানদের অন্তর্ভুক্ত বনী আল-আরজীদের একটি এলাকা। যখন তিনি পাহাড়ে নির্মাণকাজ সম্পন্ন ও তা সুদৃঢ় করলেন, তখন পাঁচশত ব্যক্তি তার ইচ্ছার অনুকূলে সাহায্য করার পর তিনি সেখানে তার প্রয়োজনীয় যাবতীয় রসদপত্র বহন করে নিয়ে গেলেন এবং তাদের নিকট থেকে সুদৃঢ় অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করলেন। এরপর তিনি ও তার সঙ্গীরা সেই দুর্গে আরোহণ করলেন এবং তাদের পরিবার-পরিজন ও ধন-সম্পদ সেখানে সরিয়ে নিলেন; এর আগে আল-হাওয়ালী রাতের অন্ধকারে লা'আহ পার্শ্ববর্তী ‘আল-হাইফাহ’ নামক স্থানে অবস্থানরত তাদের ওপর একদল সৈন্য পাঠিয়েছিলেন। সেখানে আল-মনসুরের বারোজন সঙ্গী নিহত হন এবং তিনি বনী আল-আরজীদের সাথে সমঝোতার ভিত্তিতে আবর মুহরাম পাহাড়ে অবস্থান গ্রহণ করেন। সাধারণ মানুষ তার এই কর্মকাণ্ডকে প্রত্যাখ্যান করল এবং তার বিরুদ্ধে যুদ্ধের দাবানল প্রজ্বলিত করল। তিনি তাদের নিকট লিখে পাঠালেন, “আমি সুলতানের রোষানল থেকে নিজেকে রক্ষা করার উদ্দেশ্যেই কেবল এই পাহাড়ে আশ্রয় নিয়েছি।” কিন্তু তারা তার কথা গ্রাহ্য করল না এবং তার দিকে অগ্রসর হয়ে যুদ্ধ শুরু করল; তিনি তাদের শোচনীয়ভাবে পরাজিত করলেন এবং তাদের বহু লোক নিহত হলো। সেই সময় তার শান-শওকত বৃদ্ধি পেল এবং সকল গোত্রের মাঝে তার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ল। আমীর যখন এই সংবাদ পেলেন, তখন তিনি চারপাশের সকল গোত্রকে তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে প্ররোচিত করে পত্র লিখলেন; ফলে তারা বারবার তার সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হলো, কিন্তু প্রতিটি ক্ষেত্রেই তিনি তাদের বিরুদ্ধে জয়লাভ করতে থাকলেন।
অতঃপর তারা তার বিরুদ্ধে শারুর সুলতানদের মধ্য হতে আবু ইসমাইল নামক এক ব্যক্তি এবং সানার অধিপতি আল-হাওয়ালীর সাহায্য প্রার্থনা করল। তিনি (হাওয়ালী) তাদের বিশাল সৈন্যবাহিনী পাঠিয়ে সহায়তা করলেন, কিন্তু তিনি (মনসুর) তাদের পরাজিত করলেন এবং তাদের বিপুল সংখ্যক সৈন্যকে হত্যা করলেন। এর মাধ্যমে তার নাম-ডাক আরও ছড়িয়ে পড়ল এবং তার ক্ষমতা সুসংহত হলো; ফলে আশেপাশের লোকজন স্বেচ্ছায় কিংবা অনিচ্ছায় তার আনুগত্যের ছায়াতলে প্রবেশ করল। তিনি যুদ্ধের দামামা ও পতাকাসমূহের প্রচলন করলেন এবং নিজ মাযহাব (মতবাদ) প্রকাশ করলেন ও উবাইদ বিন মায়মুনের দিকে আহ্বান জানালেন। তিনি বলতেন, “আল্লাহর কসম, আমি পার্থিব সম্পদের লোভে এই দায়িত্বভার গ্রহণ করিনি...”
(খণ্ড: ১)
কাশফু আসরারিল বাতিনিয়্যাহ ওয়া আখবারুল ক্বারামিতা
(পৃষ্ঠা: ৪৮)
ولا بكثرة رجالي وإنما أنا داعي المهدي الذي بشر به النبي صلى الله عليه وسلم فانهمك إليه عامة الناس ودخلوا في بيعته. ثم سمت به همته إلى ارتكاب جبل مسور حصن يقال له فائس، فيه خمسمائة رجل ومأمور للحوالي، فلم يزل الملعون يتلطف حتى عامل مع عشرين رجلا منهم فارتكب الجبل بالليل فأصبح في رأسه وقصد من كان في بيت فائس وفتحوا له العشرون الذين عاملوه وقالوا: ادخلوها بسلام آمنين، فقال: المنصور اخرجوا منها فإنا داخلون.
وسأل صاحب الحصن الأمان على نفسه ومن معه فأمنهم، فلما رأى المنصور صاحب الحصن مقبلا نزل عن دابته ومشى إليه واعتنقه فزال عنه الرعب، وقال له: إن معي مالا للسلطان فمن يقبضه، فقال المنصور لعنه الله: لسنا ممن يرغب في مال السلطان وما طلعت هذا الجبل لأخذ أموال الناس، وإنما طلعت لإصلاح الإسلام والمسلمين، خذ مال صاحبك فأده إليه.
فذكروا أنه لعنه الله طلع جبل مسور في ثلاثة آلاف رجل ومعه ثلاثون طبلا، فكانت طبوله إذا ضربت سمعت إلى المواضع البعيدة من المغرب.
ثم إنه بعد ذلك حصن الحصن ودربه وبنى فيه دار الإمرة وهو بيت ريب وهو أول من أسسه وجعل فيه من يثق به من أهل مذهبه، ثم بنى بيت ريبة ودرب الجبل من كل ناحية وجعل له بابين،
আমার লোকবলের প্রাচুর্যের কারণে নয়, বরং আমি সেই মাহদীর আহ্বানকারী (দাঈ), যাঁর সুসংবাদ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রদান করেছেন। ফলশ্রুতিতে সাধারণ মানুষ তাঁর দিকে ঝুঁকে পড়ে এবং তাঁর বায়আত গ্রহণ করে। অতঃপর তার উচ্চাকাঙ্ক্ষা তাকে মাসওয়ার পাহাড়ের ‘ফায়েস’ নামক দুর্গের দিকে ধাবিত করে, যেখানে পাঁচশত ব্যক্তি এবং হাওয়ালীদের একজন প্রশাসক নিয়োজিত ছিল। সেই অভিশপ্ত ব্যক্তি সুকৌশলে অগ্রসর হতে থাকে যতক্ষণ না সে তাদের মধ্য থেকে বিশজন লোকের সাথে আঁতাত করে। সে রাতের অন্ধকারে পাহাড়ে আরোহণ করে ভোরে এর চূড়ায় পৌঁছে যায় এবং ফায়েস দুর্গে অবস্থানরতদের লক্ষ্য করে অগ্রসর হয়। যে বিশজন তার সাথে চুক্তি করেছিল, তারা তার জন্য পথ খুলে দেয় এবং বলে: ‘তোমরা এখানে শান্তিতে ও নিরাপদে প্রবেশ করো।’ তখন মনসুর বলে: ‘তোমরা এখান থেকে বের হয়ে যাও, কেননা আমরা প্রবেশ করছি।’
দুর্গাধিপতি নিজের এবং তার সঙ্গীদের জন্য নিরাপত্তা প্রার্থনা করলে সে তাদের অভয় দান করে। যখন মনসুর দুর্গাধিপতিকে এগিয়ে আসতে দেখল, তখন সে তার সওয়ারি থেকে নেমে তার দিকে হেঁটে গেল এবং তাকে আলিঙ্গন করল, যার ফলে তার ভীতি দূর হলো। সে মনসুরকে বলল: ‘আমার কাছে সুলতানের কিছু সম্পদ আছে, তা কে গ্রহণ করবে?’ তখন মনসুর—আল্লাহ তাকে অভিশাপ দিন—বলল: ‘আমরা সুলতানের সম্পদের প্রতি লালায়িত নই, আর মানুষের ধনসম্পদ লুণ্ঠন করার জন্য আমি এই পাহাড়ে আরোহণ করিনি। আমি কেবল ইসলাম ও মুসলমানদের সংশোধনের জন্য এসেছি। তোমার সঙ্গীর সম্পদ তুমিই নাও এবং তাকে তা বুঝিয়ে দাও।’
বর্ণিত আছে যে, সে—আল্লাহ তাকে অভিশাপ দিন—তিন হাজার সৈন্য এবং ত্রিশটি রণভেরি নিয়ে মাসওয়ার পাহাড়ে আরোহণ করেছিল। তার সেই রণভেরিগুলো যখন বাজানো হতো, তখন মাগরিবের (পশ্চিমের) দূরবর্তী স্থানগুলো থেকেও তা শোনা যেত।
এরপর সে দুর্গটিকে আরও সুরক্ষিত করে এবং এর পথসমূহ নির্মাণ করে সেখানে প্রশাসনিক ভবন তৈরি করে, যা ‘বাইত রাইব’ নামে পরিচিত। সে-ই প্রথম এর ভিত্তি স্থাপন করে এবং সেখানে তার মতাদর্শের অনুসারী বিশ্বস্ত ব্যক্তিদের নিয়োজিত করে। অতঃপর সে ‘বাইত রাইবা’ নির্মাণ করে এবং পাহাড়ের চারপাশ থেকে সুরক্ষিত পথ তৈরি করে এতে দুটি প্রবেশদ্বার স্থাপন করে।