(খণ্ড: ১)
তায়াররাফ আলাল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: -)
تعرف على الإسلام القسم: كتب عامة
الكتاب: تعرف على الإسلام
المؤلف: منقذ بن محمود السقار
الناشر: رابطة العالم الإسلامي - مكة المكرمة
عدد الصفحات: 116
[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 26 صفر 1433
ইসলামকে জানুন বিভাগ: সাধারণ গ্রন্থসমূহ
গ্রন্থ: ইসলামকে জানুন
লেখক: মুনকিজ বিন মাহমুদ আস-সাক্কার
প্রকাশক: রাবেতাতুল আলম আল-ইসলামি - মক্কা মুকাররামা
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১১৬
[গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত করা হয়েছে, যা মুদ্রিত সংস্করণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২৬ সফর ১৪৩৩
(খণ্ড: ১)
তায়াররাফ আলাল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: -)
هدية إلى كل باحث عن الحق من غير المسلمين
تعَرَّف على
الإسلام
د. منقذ بن محمود السقار
অমুসলিমদের মধ্য থেকে প্রত্যেক সত্যসন্ধানীর জন্য একটি উপহার
পরিচয় লাভ করুন
ইসলাম সম্পর্কে
ড. মুনকিজ বিন মাহমুদ আস-সাক্কার
(খণ্ড: ১)
তায়াররাফ আলাল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১)
مقدمةالحمد لله والصلاة والسلام على رسل الله، وبعد
فإن دين الأنبياء جميعاً واحد، حيث أرسل الله رسله وأنزل كتبه بدعوة جوهرها واحد، وهي الدعوة إلى توحيده وعبادته والتمسك بطيب الاخلاق وحسن السلوك.
ولما بعث الله محمداً صلى الله عليه وسلم أمره بما أمر به إخوانه من الانبياء، وأرسله إلى الناس أجمعين، وارتضى دينه للعالمين ديناً، فكمل به الدين، وتم ببعثته الفضل العميم.
ولأن الإسلام دين الله الخاتم، فقد امتاز بخصائص ذاتية جعلته في الماضي وتجعله اليوم أسرع الأديان انتشاراً على وجه الأرض، فقد غطى الإسلام نصف الأرض بحضارته، وتسابقت الأمم إلى الدخول فيه لما قرأت فيه من توافق مع الفطرة ومواءمة مع العقول، وسماحة في المعاملة، ويسر في المعتقد.
لكن هذا النجاح الذي حققه المسلمون بإسلامهم دفع البعض للإساءة إلى الإسلام، فما من دين ولا نحلة أصيب بما تعرض له الإسلام العظيم من تشويه أسهمت به جيوش من المفكرين الذين تعمدوا أحياناً الإساءة إليه بطمس حقائقه وإلصاق النقائص به زوراً وبهتاناً، في حين أخطأوا في أحيان أخر في فهمه، فانحرفوا بعيداً عن حقائقه وأصوله.
ولسنا نبرئ أنفسنا نحن المسلمين من الإساءة إلى ديننا بتصرفات بعضنا التي يبرأ منها الإسلام الذي أضحى أسيراً بين مطرقة أعدائه وسندان جهل محيط ببعض أبنائه.
والواجب على العاقل الحصيف إذا ما أراد التعرف على دين ما؛ النظر في أصوله بعيداً عن تصرفات أبنائه واتهامات أعدائه، فما من دين ولا فكر إلا ويوجد خطأ وجنوح في بعض المنتسبين إليه، من غير أن يجنح أحد إلى تعميم الأحكام، فالحكم على الهيئات فضلاً عن الأديان إنما يرجع فيه إلى الأصول، لا إلى السلوك الأرعن أو الخاطئ من بعض الأتباع، لذا كان من الواجب أن نفهم الإسلام كما هو، كما أنزله الله بعيداً عن الأحكام المسبقة المثقلة بأوهام الاستشراق وإفكه.
ভূমিকাসকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং আল্লাহর রাসূলগণের প্রতি দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক। অতঃপর,
নিশ্চয়ই সকল নবীর ধর্ম এক; কেননা আল্লাহ তাঁর সকল রাসূলকে প্রেরণ করেছেন এবং তাঁর কিতাবসমূহ অবতীর্ণ করেছেন এমন এক দাওয়াতের মাধ্যমে যার মূল নির্যাস এক, আর তা হলো—তাঁর একত্ববাদ (توحيد) ও ইবাদতের প্রতি আহ্বান জানানো এবং উত্তম চরিত্র ও সুন্দর আচরণের ওপর অটল থাকা।
অতঃপর যখন আল্লাহ মুহাম্মদ (সা.)-কে প্রেরণ করলেন, তখন তাঁকে তা-ই আদেশ করলেন যা তাঁর পূর্ববর্তী নবী ভাইদের আদেশ করেছিলেন; এবং তাঁকে সমগ্র মানবজাতির নিকট প্রেরণ করলেন এবং তাঁর ধর্মকে বিশ্ববাসীর জন্য দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলেন। ফলে তাঁর মাধ্যমে দ্বীন পূর্ণতা লাভ করল এবং তাঁর প্রেরণের মাধ্যমে ব্যাপক অনুগ্রহ সম্পন্ন হলো।
যেহেতু ইসলাম আল্লাহর সর্বশেষ দ্বীন, তাই এটি এমন কিছু স্বকীয় বৈশিষ্ট্যে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত যা একে অতীতে এবং বর্তমানেও পৃথিবীর বুকে দ্রুততম বিস্তার লাভকারী ধর্মে পরিণত করেছে। ইসলাম তার সভ্যতার মাধ্যমে পৃথিবীর অর্ধেক ভূখণ্ডকে আবৃত করেছে এবং বিভিন্ন জাতি এতে প্রবেশের জন্য প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছে; কারণ তারা এতে ফিতরাতের (প্রকৃতি) সাথে সংগতি, বুদ্ধিবৃত্তিক সামঞ্জস্য, আচার-ব্যবহারে উদারতা এবং আকিদাগত সহজতা খুঁজে পেয়েছে।
কিন্তু মুসলমানরা তাদের ইসলামের মাধ্যমে যে সাফল্য অর্জন করেছিল, তা কিছু মানুষকে ইসলামের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করতে প্ররোচিত করেছে। কোনো ধর্ম বা মতবাদই মহিমান্বিত ইসলামের মতো এমন বিকৃতির শিকার হয়নি, যার পেছনে বুদ্ধিজীবীদের এক বিশাল বাহিনী নিয়োজিত ছিল। তারা কখনও ইচ্ছাকৃতভাবে ইসলামের প্রকৃত রূপকে আড়াল করে এবং মিথ্যা ও অপবাদের মাধ্যমে এতে নানা ত্রুটি আরোপ করে একে অবমাননা করার চেষ্টা করেছে; আবার কখনও কখনও তারা ইসলাম বুঝতে ভুল করেছে, ফলে তারা এর প্রকৃত সত্য ও মূলনীতি (أصول) থেকে বিচ্যুত হয়েছে।
তবে আমরা মুসলিমরাও নিজেদের ধর্মকে অবমাননা করার দায় থেকে নিজেদের মুক্ত মনে করি না। আমাদের কারো কারো এমন কিছু আচরণ রয়েছে যা থেকে ইসলাম সম্পূর্ণ পবিত্র; ইসলাম আজ তার শত্রুদের হাতুড়ি এবং তার কিছু অনুসারীর অজ্ঞতার নেহাইয়ের মাঝে বন্দী হয়ে পড়েছে।
একজন বুদ্ধিমান ও বিচক্ষণ ব্যক্তির কর্তব্য হলো—যখন সে কোনো ধর্ম সম্পর্কে জানতে চায়, তখন যেন সে সেই ধর্মের অনুসারীদের আচরণ এবং শত্রুদের অভিযোগের ঊর্ধ্বে উঠে তার মূল উৎস বা মূলনীতি (أصول) নিয়ে গবেষণা করে। এমন কোনো ধর্ম বা আদর্শ নেই যার অনুসারীদের মধ্যে ভুল বা বিচ্যুতি নেই; তবে এর অর্থ এই নয় যে, কেউ ঢালাওভাবে রায় প্রদান করবে। কোনো সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের বিচার করা, এমনকি ধর্মের বিচার করার ক্ষেত্রেও তার মূলনীতির (أصول) দিকেই প্রত্যাবর্তন করতে হয়, অনুসারীদের হঠকারী বা ভুল আচরণের দিকে নয়। তাই ইসলামকে সঠিকভাবে বোঝা আমাদের জন্য অপরিহার্য, যেভাবে আল্লাহ তাআলা এটি অবতীর্ণ করেছেন—প্রাচ্যতত্ত্বের বিভ্রান্তি ও মিথ্যার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা কোনো পূর্বনির্ধারিত ধারণা ছাড়াই।
(খণ্ড: ১)
তায়াররাফ আলাল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২)
وإذا أردنا التعرف على الإسلام عن طريق أصوله؛ فإنا لن نجد مدخلاً أفضل من تدبر الحوار الذي جرى بين جبريل عليه السلام أمين الوحي من أهل السماء، والنبي محمد صلى الله عليه وسلم أمين الوحي من أهل الأرض، حيث أتى جبريل النبي صلى الله عليه وسلم فسأله عن مراتب الدين، ليُسمع الصحابة إجابته، فيفقهوا دينهم، قال جبريل: يا محمد أخبرني عن الإسلام؟ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((الإسلام: أن تشهد أن لا إله إلا الله، وأن محمداً رسول الله صلى الله عليه وسلم، وتقيم الصلاة، وتؤتي الزكاة، وتصوم رمضان، وتحج البيت إن استطعت إليه سبيلاً)). قال: صدقت. قال عمر: فعجبنا له يسأله ويصدقه!.
قال جبريل: فأخبرني عن الإيمان؟ فأجابه صلى الله عليه وسلم: ((أن تؤمن بالله وملائكته وكتبه ورسله واليوم الآخر وتؤمن بالقدر خيره وشره)) قال: صدقت.
قال جبريل: فأخبرني عن الإحسان؟ فقال صلى الله عليه وسلم: أن تعبد الله كأنك تراه، فإن لم تكن تراه فإنه يراك)). (1)
فهذه أصول الإسلام بإجمال، فأي شيء يعاب منها؟
ولسوف نشرع في التعريف والتفصيل في شرح هذه الأصول، لنقف على الأبعاد الأخلاقية والحكم الإلهية في تأسيس الإسلام والإيمان على هذه القواعد.
كما سنعرض بالشرح والبيان لكشف حقيقة ما يردده البعض عن اتهام الإسلام بالإرهاب والحض على الكراهية، وبأنه ظلم المرأة وعطل طاقتها، فنجيب في هذا الصدد عن بعض ما يثار عن الإسلام، ونهديه لمن أراد التعرف على الإسلام عن طريق أصوله ومبادئه.
ونتقدم بهذه الرسالة التي تبتغي منها التعريف بالحق الذي انشرحت به صدورنا، وارتضته عقولنا، فهي دعوة للتأمل في تعاليم الإسلام ثم اللحاق برهط المؤمنين الفائزين عند الله {إن الذين آمنوا وعملوا الصالحات أولئك هم خير البرية
--------------------------------------------
যদি আমরা ইসলামের মূলনীতি (أصول)-এর মাধ্যমে ইসলাম সম্পর্কে জানতে চাই; তবে আসমানি অধিবাসীদের মধ্য থেকে ওহির আমানতদার জিবরাইল (আলাইহিস সালাম) এবং যমিনের অধিবাসীদের মধ্য থেকে ওহির আমানতদার নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মধ্যকার কথোপকথনটি অনুধাবন করার চেয়ে উত্তম কোনো প্রবেশপথ খুঁজে পাব না। যেখানে জিবরাইল নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট আগমন করলেন এবং তাঁকে দ্বীনের স্তরসমূহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন, যাতে সাহাবীগণ তাঁর উত্তর শুনতে পান এবং নিজ দ্বীন সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান লাভ করতে পারেন। জিবরাইল বললেন: হে মুহাম্মাদ, আমাকে ইসলাম সম্পর্কে বলুন? রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: ((ইসলাম হলো: আপনি সাক্ষ্য দেবেন যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), সালাত কায়েম করবেন, জাকাত প্রদান করবেন, রমজানের রোজা পালন করবেন এবং সামর্থ্য থাকলে বায়তুল্লাহর হজ করবেন))। তিনি বললেন: আপনি সত্য বলেছেন। ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বললেন: আমরা তাঁর বিষয়ে আশ্চর্য হলাম যে, তিনি নিজেই তাঁকে জিজ্ঞাসা করছেন আবার নিজেই তাঁর সত্যায়ন করছেন!
জিবরাইল বললেন: তবে আমাকে ইমান সম্পর্কে বলুন? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উত্তর দিলেন: ((আপনি বিশ্বাস স্থাপন করবেন আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাগণের প্রতি, তাঁর কিতাবসমূহের প্রতি, তাঁর রাসূলগণের প্রতি, পরকালের প্রতি এবং তাকদিরের ভালো ও মন্দের প্রতি))। তিনি বললেন: আপনি সত্য বলেছেন।
জিবরাইল বললেন: তবে আমাকে ইহসান সম্পর্কে বলুন? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: ((আপনি আল্লাহর এমনভাবে ইবাদত করবেন যেন আপনি তাঁকে দেখছেন, আর যদি আপনি তাঁকে দেখতে না পান তবে তিনি নিশ্চয়ই আপনাকে দেখছেন))। (১)
এগুলোই হলো ইসলামের মূলনীতি (أصول) সমূহের সংক্ষিপ্ত রূপ, এর মধ্যে কোন বিষয়টি সমালোচনার যোগ্য হতে পারে?
আমরা এই মূলনীতি (أصول) সমূহের পরিচয় ও বিস্তারিত ব্যাখ্যার আলোচনা শুরু করব, যাতে ইসলামের ভিত্তি এবং এই নিয়মগুলোর ওপর ইমান আনয়নের নৈতিক দিক ও ঐশী প্রজ্ঞাসমূহ অনুধাবন করতে পারি।
অনুরূপভাবে আমরা সেই বাস্তবতাকে উন্মোচন করার জন্য ব্যাখ্যা ও বর্ণনা পেশ করব, যা ইসলামের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদ এবং বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগ হিসেবে কেউ কেউ বারবার বলে থাকেন; এবং ইসলাম নারীকে জুলুম করেছে ও তার শক্তিকে অবদমিত করেছে বলে যা রটানো হয়। সুতরাং আমরা এই প্রসঙ্গে উত্থাপিত কিছু বিষয়ের উত্তর দেব এবং যারা ইসলামের মূলনীতি (أصول) ও আদর্শের মাধ্যমে ইসলামকে চিনতে চায়, তাদের জন্য এটি উপহার স্বরূপ পেশ করব।
আমরা এই বার্তার মাধ্যমে সেই সত্যকে তুলে ধরছি যার দ্বারা আমাদের অন্তরসমূহ প্রশান্ত হয়েছে এবং আমাদের বিবেক যা গ্রহণ করে নিয়েছে। এটি ইসলামের শিক্ষা সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করার এবং অতঃপর আল্লাহর নিকট সফলকাম মুমিনদের দলভুক্ত হওয়ার একটি আহ্বান। {নিশ্চয় যারা ইমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে, তারাই সৃষ্টির সেরা।}
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তায়াররাফ আলাল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৩)
- جزاؤهم عند ربهم جنات عدنٍ تجري من تحتها الأنهار خالدين فيها أبداً رضي الله عنهم ورضوا عنه ذلك لمن خشي ربه} (البينة: 7 - 8).
والله نسأل أن يجعل هذا العمل خالصاً لوجهه الكريم، إنه ولي ذلك والقادر عليه.
{তাদের প্রতিদান তাদের প্রতিপালকের নিকট রয়েছে চিরস্থায়ী বসবাসের জান্নাত, যার পাদদেশ দিয়ে নহরসমূহ প্রবাহিত, সেখানে তারা চিরকাল অবস্থান করবে; আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তারাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছে। এটি তার জন্য, যে তার প্রতিপালককে ভয় করে।} (আল-বাইয়্যিনাহ: ৭-৮)।
আর আমরা আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি এই আমলটিকে একান্তই তাঁর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কবুল করেন; নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং এর ওপর পূর্ণ ক্ষমতাবান।
(খণ্ড: ১)
তায়াররাফ আলাল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৪)
الإسلام وأركانهوقبل الشروع في تبيان حقائق الإسلام وأركانه؛ فإن من الواجب أن نتحدث عن اسم (الإسلام).
لفظة الإسلام في اللغة مصدره من أسلم يسلم، ومنه السلامة والسلام.
وحين نتحدث في هذه الدراسة عن الإسلام، فإنا نعني الدين الذي أنزله على نبيه محمد صلى الله عليه وسلم، وسماه بذلك لما تضمنه من الدعوة إلى الاستسلام لله وحده والانقياد والخضوع له بالطاعة.
وهذا الاسم لا يستمد اسمه من اسم نبي أو وطن، بل مشتق من خصيصته الأساس التي لم تفارقه في طور من أطواره طوال تاريخ الإنسانية، فهو الاستسلام لله تبارك وتعالى وحده دون سواه.
والإسلام هو دين الله الذي أنزله على جميع الأنبياء، فقد دعوا جميعاً إلى أصول واحدة، تقوم على توحيد الله وتعظيمه وعبادته والاستسلام لأوامره والخضوع لأحكامه والدعوة إلى حراسة فضائل الأخلاق والارتقاء بالسلوك الإنساني.
وأما ما نجده اليوم من تباعد واختلاف بين أتباع الأديان؛ فسببه اندراس الحق وما مرج في رسالات الله السابقة من الباطل.
وقد أطلق الله هذا الاسم الشريف (الإسلام) على المؤمنين في كل حين، كما قال تعالى: {هو سماكم المسلمين من قبل} (الحج: 78)، لأن المسلم - المؤمن بأي نبي من أنبياء الله - يمتثل حقيقة الإسلام، فيستسلم لله، وينقاد له بالطاعة، ويقف عند حدوده وشرائعه.
فأبو الأنبياء نوح عليه السلام يقول لقومه: {وأمرت أن أكون من المسلمين} (يونس: 72).
وما فتئ إبراهيم وابنه إسماعيل عليهما السلام يدعوان الله أن يجعلهما من المسلمين: {ربنا واجعلنا مسلمين لك ومن ذريتنا أمةً مسلمةً لك} (البقرة: 128).
ইসলাম ও এর রোকনসমূহ (أركان)ইসলামের হাকীকত (حقائق) ও এর রোকনসমূহ (أركان) বর্ণনায় প্রবৃত্ত হওয়ার আগে ইসলাম নামটি নিয়ে আলোচনা করা আবশ্যক।
ভাষাগতভাবে ইসলাম শব্দটি 'আসলামা-ইউসলিমু' থেকে উদ্ভূত একটি ক্রিয়ামূল (مصدر), যা থেকে 'সালামাহ' ও 'সালাম' শব্দদুটিও এসেছে।
আমরা যখন এই গবেষণায় ইসলাম নিয়ে আলোচনা করি, তখন আমরা সেই দীনকে বোঝাই যা আল্লাহ তাঁর নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর নাজিল করেছেন। একে এই নামে নামকরণ করা হয়েছে কারণ এতে এক আল্লাহর প্রতি আত্মসমর্পণ, তাঁর আনুগত্য এবং বশ্যতা স্বীকারের দাওয়াত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এই নামটি কোনো নবী বা ভূখণ্ডের নাম থেকে নেওয়া হয়নি, বরং এটি তার সেই মৌলিক বৈশিষ্ট্য থেকে উদ্ভূত যা মানব ইতিহাসের কোনো পর্যায়েই তার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়নি; আর তা হলো একমাত্র আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার সামনে আত্মসমর্পণ করা।
ইসলাম হলো আল্লাহর সেই দীন যা তিনি সমস্ত নবীদের ওপর নাজিল করেছেন। তাঁরা সকলেই অভিন্ন মূলনীতির (أصول) দাওয়াত দিয়েছেন, যা আল্লাহর তাওহিদ, তাঁর মাহাত্ম্য বর্ণনা ও ইবাদত, তাঁর নির্দেশের প্রতি আত্মসমর্পণ, তাঁর বিধানের প্রতি আনুগত্য এবং নৈতিক শ্রেষ্ঠত্ব রক্ষা ও মানবিক আচরণের উৎকর্ষ সাধনের দাওয়াতের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
বর্তমানে বিভিন্ন ধর্মের অনুসারীদের মধ্যে আমরা যে দূরত্ব ও মতভেদ দেখতে পাই, তার কারণ হলো সত্যের বিলুপ্তি এবং আল্লাহর পূর্ববর্তী রিসালাতসমূহের (رسالات) মধ্যে বাতিলের সংমিশ্রণ।
আল্লাহ তাআলা এই সম্মানিত নাম 'ইসলাম' সব সময়ের মুমিনদের জন্য নির্ধারণ করেছেন, যেমনটি তিনি ইরশাদ করেছেন: “তিনিই পূর্ব থেকে তোমাদের নামকরণ করেছেন মুসলিম” (হজ: ৭৮)। কারণ একজন মুসলিম—যিনি আল্লাহর প্রেরিত যেকোনো নবীর ওপর ঈমান আনেন—তিনি ইসলামের হাকীকত (حقيقة) বাস্তবায়ন করেন; ফলে তিনি আল্লাহর প্রতি আত্মসমর্পণ করেন, তাঁর অনুগত হন এবং তাঁর নির্ধারিত সীমা ও বিধানসমূহের (شرائع) ওপর অটল থাকেন।
নবীকুল শিরোমণি নূহ (আলাইহিস সালাম) তাঁর কওমকে বলেছিলেন: “আর আমাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত হই” (ইউনুস: ৭২)।
ইবরাহিম ও তাঁর পুত্র ইসমাইল (আলাইহিমাস সালাম) নিরন্তর আল্লাহর কাছে দোয়া করতেন যেন তিনি তাঁদেরকে মুসলিম হিসেবে কবুল করেন: “হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদের উভয়কে আপনার একান্ত অনুগত (মুসলিম) করুন এবং আমাদের বংশধর থেকেও আপনার এক অনুগত (মুসলিম) উম্মত তৈরি করুন” (বাকারা: ১২৮)।
(খণ্ড: ১)
তায়াররাফ আলাল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৫)
وقبيل وفاة يعقوب عليه السلام جمع أبناءه، وأوصاهم بالاستمساك بملة إبراهيم الحنيف المسلم {إذ قال له ربه أسلم قال أسلمت لرب العالمين - ووصى بها إبراهيم بنيه ويعقوب يا بني إن الله اصطفى لكم الدين فلا تموتن إلا وأنتم مسلمون - أم كنتم شهداء إذ حضر يعقوب الموت إذ قال لبنيه ما تعبدون من بعدي قالوا نعبد إلهك وإله آبائك إبراهيم وإسماعيل وإسحق إلهاً واحداً ونحن له مسلمون} (البقرة:131 - 133).
كما طلب موسى عليه السلام من قومه الإذعان لمقتضيات الإسلام الذي دخلوا فيه، فقال: {يا قوم إن كنتم آمنتم بالله فعليه توكلوا إن كنتم مسلمين} (يونس: 84)، فاستجاب لندائه سحرة فرعون وقالوا: {ربنا أفرغ علينا صبراً وتوفنا مسلمين} (الأعراف: 126).
وبمثل هذا دعا يوسف عليه السلام ربه حين طلب من الله أن يميته ويحشره مع المسلمين الصالحين: {توفني مسلماً وألحقني بالصالحين} (يوسف: 101).
ولما دخلت ملكة سبأ بلاط سليمان، ورأت علامات نبوته؛ نادت بنداء الإيمان فقالت: {رب إني ظلمت نفسي وأسلمت مع سليمان لله رب العالمين} (النمل: 44).
وقد أوضح خاتم النبيين محمد صلى الله عليه وسلم وحدة دين الأنبياء فقال: ((أنا أولى الناس بعيسى ابن مريم في الدنيا والآخرة، والأنبياء إخوة لعَلات، أمهاتهم شتى، ودينهم واحد)). (1)
وهكذا فإن دين الأنبياء جميعاً واحد، بني على أساس واحد يدعو إلى توحيد الله وإفراده وحده بالعبادة، والاستسلام لأوامره، فهو الإسلام دين الله تعالى: {إن الدين عند الله الإسلام} (آل عمران: 19)، وهو الدين الذي لا يقبل الله من الناس ديناً سواه {ومن يبتغ غير الإسلام ديناً فلن يقبل منه وهو في الآخرة من الخاسرين} (آل عمران: 85).
--------------------------------------------
ইয়াকুব (আলাইহিস সালাম) তাঁর মৃত্যুর ঠিক পূর্বমুহূর্তে তাঁর সন্তানদের সমবেত করেন এবং তাঁদেরকে একনিষ্ঠ (حنيف) আত্মসমর্পণকারী (مسلم) ইব্রাহিমের আদর্শ আঁকড়ে ধরার নির্দেশ দেন: {স্মরণ করো, যখন তাঁর প্রতিপালক তাঁকে বলেছিলেন, ‘আত্মসমর্পণ করো (أسلم)’; তিনি বলেছিলেন, ‘আমি বিশ্বজগতের প্রতিপালকের নিকট আত্মসমর্পণ করলাম (أسلمت)’। আর ইব্রাহিম ও ইয়াকুব তাঁদের সন্তানদের এই নির্দেশই দিয়েছিলেন যে, ‘হে আমার প্রিয় সন্তানগণ, আল্লাহ তোমাদের জন্য এই দ্বীনকে (الدين) মনোনীত করেছেন; সুতরাং তোমরা আত্মসমর্পণকারী (مسلمون) না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না’। তোমরা কি তখন উপস্থিত ছিলে যখন ইয়াকুবের মৃত্যু উপস্থিত হয়েছিল? যখন তিনি তাঁর সন্তানদের জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘আমার পর তোমরা কার ইবাদত করবে?’ তারা বলেছিল, ‘আমরা আপনার ইলাহ্ ও আপনার পিতৃপুরুষ ইব্রাহিম, ইসমাইল ও ইসহাকের ইলাহ্—সেই অদ্বিতীয় ইলাহ্-এর ইবাদত করব এবং আমরা তাঁরই প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণকারী (مسلمون)’} (আল-বাকারা: ১৩১-১৩৩)।
অনুরূপভাবে, মূসা (আলাইহিস সালাম) তাঁর কওমকে তাঁদের গ্রহণকৃত ইসলামের দাবি অনুযায়ী অনুগত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছিলেন: {হে আমার কওম, যদি তোমরা আল্লাহর ওপর ঈমান এনে থাকো, তবে তাঁরই ওপর ভরসা করো—যদি তোমরা আত্মসমর্পণকারী (مسلمين) হয়ে থাকো} (ইউনুস: ৮৪)। তাঁর এই আহ্বানে ফেরাউনের জাদুকররা সাড়া দিয়ে বলেছিল: {হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদের ওপর ধৈর্য ঢেলে দিন এবং আমাদের আত্মসমর্পণকারী (مسلمين) হিসেবে মৃত্যু দান করুন} (আল-আ’রাফ: ১২৬)।
ইউসুফ (আলাইহিস সালাম)-ও তাঁর প্রতিপালকের নিকট এই দোয়াই করেছিলেন, যখন তিনি আল্লাহর কাছে তাঁর মৃত্যু এবং সৎকর্মশীল মুসলিমদের সাথে তাঁর হাশর কামনা করেছিলেন: {আপনি আমাকে আত্মসমর্পণকারী (مسلماً) হিসেবে মৃত্যু দান করুন এবং আমাকে সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত করুন} (ইউসুফ: ১০১)।
যখন সাবার রানি সুলায়মানের রাজপ্রাসাদে প্রবেশ করলেন এবং তাঁর নবুওয়াতের নিদর্শনসমূহ প্রত্যক্ষ করলেন, তখন তিনি ঈমানের ঘোষণা দিয়ে বললেন: {হে আমার প্রতিপালক, নিশ্চয়ই আমি নিজের প্রতি জুলুম করেছি এবং আমি সুলায়মানের সাথে বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পণ (أسلمت) করলাম} (আন-নামল: ৪৪)।
সর্বশেষ নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নবীদের দ্বীনের একত্বের বিষয়টি স্পষ্ট করে বলেছেন: ((দুনিয়া ও আখিরাতে ঈসা ইবনে মারিয়ামের সবচেয়ে নিকটবর্তী মানুষ হলাম আমি। আর নবীগণ হলেন পরস্পর বৈমাত্রেয় ভাই (إخوة لعلات), তাঁদের মায়েরা ভিন্ন ভিন্ন কিন্তু তাঁদের দ্বীন (دينهم) এক।)) (১)
এভাবে সকল নবীর দ্বীন মূলত একই, যা এক অনন্য ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। এই দ্বীন আল্লাহর তাওহিদ বা একত্ববাদ, এককভাবে কেবল তাঁরই ইবাদত এবং তাঁর নির্দেশের প্রতি আনুগত্যের দাওয়াত দেয়। আর তা হলো ইসলাম—আল্লাহ তাআলার মনোনীত দ্বীন (دين): {নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট একমাত্র দ্বীন (الدين) হলো ইসলাম} (আলে ইমরান: ১৯)। এটিই সেই দ্বীন, যা ব্যতীত অন্য কোনো দ্বীন আল্লাহ মানুষের পক্ষ থেকে কবুল করবেন না: {আর যে ব্যক্তি ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো দ্বীন অনুসন্ধান করবে, তার পক্ষ থেকে তা কখনোই কবুল করা হবে না এবং আখিরাতে সে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে} (আলে ইমরান: ৮৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তায়াররাফ আলাল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৬)
وقد صدق الله إذ قال لنبيه صلى الله عليه وسلم {قل ما كنت بدعاً من الرسل} (الأحقاف: 9) فأصول جميع ما أتى به النبي صلى الله عليه وسلم قد سبقه إلى الإتيان بها إخوانه من الأنبياء {إنا أوحينا إليك كما أوحينا إلى نوحٍ والنبيين من بعده وأوحينا إلى إبراهيم وإسماعيل وإسحق ويعقوب والأسباط وعيسى وأيوب ويونس وهارون وسليمان وآتينا داوود زبوراً} (النساء: 163).
আল্লাহ সত্যই বলেছেন যখন তিনি তাঁর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে উদ্দেশ্য করে বলেছেন: {বলুন, ‘আমি তো রাসূলদের মধ্যে কোনো অভিনব কেউ নই’} (আল-আহকাফ: ৯)। সুতরাং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যা কিছু নিয়ে এসেছেন তার সকল মূলনীতি (أصول) উপস্থাপনের ক্ষেত্রে তাঁর পূর্ববর্তী নবী ভ্রাতৃগণ তাঁর অগ্রগামী ছিলেন: {নিশ্চয়ই আমি আপনার প্রতি ওহি পাঠিয়েছি যেমন ওহি পাঠিয়েছিলাম নূহ এবং তাঁর পরবর্তী নবীগণের প্রতি। আর আমি ওহি পাঠিয়েছিলাম ইবরাহিম, ইসমাইল, ইসহাক, ইয়াকুব ও তাঁর বংশধরগণ এবং ঈসা, আইয়ুব, ইউনুস, হারুন ও সুলাইমানের প্রতি; আর আমি দাউদকে যাবুর প্রদান করেছি।} (আন-নিসা: ১৬৩)।
(খণ্ড: ১)
তায়াররাফ আলাল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৭)
أركان الإسلامإن الإسلام بنيان كبير يشمل الحياة الإنسانية برُمتِّها، وهو يقوم على أركان خمسة، ويوضحها النبي صلى الله عليه وسلم بقوله: ((بني الإسلام على خمس: شهادة أن لا إله إلا الله، وأن محمداً عبده ورسوله، وإقام الصلاة، وإيتاء الزكاة، وحج البيت، وصوم رمضان)). (1)
وسوف نمضي سراعاً مع هذه الأركان ومقاصدها، ونتجاوز تفصيلاتها وأحكامها التي يمكن للقارئ أن يطلع عليها في مظانها من كتب التوحيد والفقه.
الركن الأول: الشهادة لله بالتوحيد، ولرسوله محمد صلى الله عليه وسلم بالرسالةأولاً: الشهادة لله بالتوحيدإن أهم مسألة توافق الأنبياء على الدعوة إليها وتعريف الناس بها؛ هي الشهادة لله رب العالمين بالوحدانية، والتعريف بصفات الإله العظيم الذي أبدع الكون وخلقه على هذا النسق المذهل العجيب، ومن ثم التأكيد على استحقاقه وحده للعبادة دون سواه.
وبداية؛ فإن مسألة إثبات وجود الله لم تشغل حيزاً كبيراً في القرآن الكريم، ذلك أنها قضية بدهية وحقيقة يجدها المسلم وغيره في أعماق كيانه، فكل شيء في هذا الكون المحيط بنا يدعونا - ضرورة - للاعتقاد الجازم بوجود خالق حكيم مدبر متصف بصفات الكمال، فكل مخلوق حولنا هو في حقيقته شهادة لله على وجوده، بل على عظمته وكماله.
إن البشرية لم تنكر يوماً وجود هذا الإله -وإن اختلفت في تسميته ووصفه -، فقد اتفقت معتقداتها على وجود خالق مبدع للكون، سماه البعض بواجب الوجود الذي أوجد هذه الممكنات جميعاً.
--------------------------------------------
ইসলামের রুকনসমূহনিশ্চয়ই ইসলাম একটি সুবিশাল ইমারত যা সামগ্রিকভাবে মানবজীবনকে বেষ্টন করে আছে এবং এটি পাঁচটি রুকনের ওপর প্রতিষ্ঠিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বাণীর মাধ্যমে তা স্পষ্ট করেছেন: ((ইসলাম পাঁচটি স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত: এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল, সালাত কায়েম করা, জাকাত প্রদান করা, বায়তুল্লাহর হজ করা এবং রমজানের সিয়াম পালন করা))। (১)
আমরা এই রুকনসমূহ এবং এগুলোর উদ্দেশ্যাবলি নিয়ে সংক্ষেপে আলোচনা করব এবং এগুলোর বিস্তারিত বিবরণ ও বিধিবিধানগুলো এড়িয়ে যাব, যা পাঠক তাওহিদ ও ফিকহ শাস্ত্রের কিতাবসমূহের সংশ্লিষ্ট উৎসগুলো থেকে অবগত হতে পারবেন।
প্রথম রুকন: আল্লাহর একত্ববাদের সাক্ষ্য প্রদান এবং তাঁর রাসুল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রিসালাতের সাক্ষ্য প্রদানপ্রথমত: আল্লাহর তাওহিদের সাক্ষ্য প্রদানআম্বিয়ায়ে কেরাম যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি দাওয়াতের ক্ষেত্রে এবং মানুষকে তা জানানোর ক্ষেত্রে ঐকমত্য পোষণ করেছেন, তা হলো রব্বুল আলামিন আল্লাহর একত্ববাদের সাক্ষ্য প্রদান এবং সেই মহান ইলাহ-এর গুণাবলি সম্পর্কে পরিচয় দান, যিনি এই মহাবিশ্বকে অত্যন্ত বিস্ময়কর ও চমৎকার বিন্যাসে সৃষ্টি করেছেন; অতঃপর তিনি ছাড়া অন্য কাউকে বাদ দিয়ে একমাত্র তাঁরই ইবাদত পাওয়ার যোগ্যতার ওপর গুরুত্বারোপ করা।
শুরুতেই বলা প্রয়োজন, আল্লাহর অস্তিত্ব প্রমাণের বিষয়টি পবিত্র কুরআনে খুব বেশি জায়গা দখল করেনি; কারণ এটি একটি স্বতঃসিদ্ধ বিষয় এবং এমন এক ধ্রুব সত্য যা একজন মুসলিম ও অমুসলিম নির্বিশেষে প্রত্যেকেই তার সত্তার গভীরে খুঁজে পায়। আমাদের চারপাশের এই মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তু আমাদের অনিবার্যভাবে একজন প্রজ্ঞাবান, পরিচালক ও পূর্ণতাগুণের অধিকারী স্রষ্টার অস্তিত্বের ওপর দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপনের আহ্বান জানায়। বস্তুত আমাদের চারপাশের প্রতিটি সৃষ্টিই মূলত আল্লাহর অস্তিত্বের সাক্ষ্য, বরং তাঁর মহিমা ও পূর্ণতারই প্রমাণ।
মানবজাতি কোনোদিন এই ইলাহ-এর অস্তিত্ব অস্বীকার করেনি—যদিও তাঁর নামকরণ এবং গুণাবলির বর্ণনায় তারা ভিন্নমত পোষণ করেছে—তাদের বিশ্বাসসমূহ মহাবিশ্বের একজন সৃজনশীল স্রষ্টার অস্তিত্বের ব্যাপারে একমত হয়েছে, যাকে কেউ কেউ ‘ওয়াজিবুল ওজুদ’ (অপরিহার্য অস্তিত্ব) বলে অভিহিত করেছেন, যিনি এই সমস্ত সম্ভবপর বস্তুকে অস্তিত্ব দান করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তায়াররাফ আলাল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৮)
وحتى ما يسمى بالمذاهب المادية الإلحادية هي في حقيقتها لا تنكر وجود هذه القوة الإلهية التي نسجت الكون وفق قوانين محكمة، بيد أنها هربت من الاسم الذي تدعيه الكنيسة لهذه القوة العظيمة (الله)، ونسبتها إلى تسمية مبتدعة تفتقر إلى الوضوح (الطبيعة وقوانينها)، فاسم الطبيعة لا يدل على شيء محدد، إذ لا يمكن أن يفهم منه أن الإنسان الأول خلق نفسه وهو أحد مكونات الطبيعة، ولا أن ما نراه من بحار زاخرة قد أبدعت نفسها في زمن ما، بينما عمدت الطيور والحيوانات إلى إنتاج الأجناس الحيوانية الأولى، بل وحتى المخلوقات الأبسط كالبكتيريا لا تستطيع أن تهب نفسها وقود الحياة الذي يدبُّ فيها.
إن أحداً لا يخالف في أن هذا الكون من خلق وإبداع خالق عظيم حكيم، هو ربنا {الأعلى - الذي خلق فسوى - والذي قدر فهدى} (الأعلى: 1 - 3)، ولو صدقوا في تسميته لأسموه خالق الطبيعة ومدبر شؤونها {أم خلقوا من غير شيءٍ أم هم الخالقون - أم خلقوا السموات والأرض بل لا يوقنون - أم عندهم خزائن ربك أم هم المسيطرون} (الطور: 35 - 37).
ولما سمع الصحابي جبير بن مطعم هذه الآية قال: (كاد قلبي أن يطير). (1)
إن الإلحاد المتمثل في إنكار الخالق شذوذ يستبشعه العقل البشري وتأباه الفطرة السوية، فما الإنسان بخالق نفسه، وإذا كان الإنسان الذي يتميز عن كل الموجودات بما يمتاز به من العقل والإرادة والتسخير عاجزاً عن خلق نفسه؛ فغيره من المخلوقات أعجز، لذا فلا مناص من التسليم بوجود الإله العظيم، ففي كل زاوية من زوايا الكون آية تدل على وجوده، لا بل تشهد له بالكمال والجلال والعظمة.
وأهم ما توافق الأنبياء على الدعوة إليه؛ وحدانية الله وإفراده بالعباده دون سواه، فهو جوهر رسالاتهم جميعاً {وما أرسلنا من قبلك من رسولٍ إلا نوحي إليه أنه لا إله إلا أنا فاعبدون} (الأنبياء: 25).
--------------------------------------------
এমনকি তথাকথিত বস্তুুবাদী নাস্তিক্যবাদী মতাদর্শগুলোও প্রকৃতপক্ষে সেই ঐশ্বরিক শক্তির অস্তিত্বকে অস্বীকার করে না, যা এক সুনিপুণ নিয়মের অধীনে মহাবিশ্বকে সুসংগঠিত করেছে। তবে তারা এই মহান শক্তির (আল্লাহ) জন্য গির্জা কর্তৃক দাবিকৃত নাম থেকে বিচ্যুত হয়েছে এবং একে এমন এক নবউদ্ভাবিত সংজ্ঞার দিকে নিস্পন্ন করেছে যাতে স্পষ্টতার অভাব রয়েছে (প্রকৃতি এবং এর নিয়মাবলি)। কারণ 'প্রকৃতি' নামটি নির্দিষ্ট কোনো কিছুকে নির্দেশ করে না; কেননা এখান থেকে এটি অনুধাবন করা সম্ভব নয় যে, আদি মানুষ নিজেই নিজেকে সৃষ্টি করেছে—অথচ সে তো প্রকৃতিরই একটি উপাদান মাত্র। আবার আমরা যে উত্তাল সমুদ্ররাশি দেখি, সেগুলোও কোনো এক সময়ে নিজেরাই নিজেদের সৃষ্টি করেনি; আর না পক্ষীকুল ও পশুপাখিরা আদি প্রাণীজ প্রজাতিসমূহ উৎপাদনে সচেষ্ট হয়েছিল। এমনকি ব্যাকটেরিয়ার মতো অত্যন্ত সাধারণ সৃষ্টিগুলোও নিজেদেরকে জীবনের সেই রসদটুকু দান করতে সক্ষম নয়, যা তাদের মধ্যে সঞ্চারিত হয়।
এই মহাবিশ্ব যে একজন মহান ও প্রজ্ঞাবান স্রষ্টার সৃষ্টি এবং অনবদ্য উদ্ভাবন, এ ব্যাপারে কারো কোনো দ্বিমত নেই। তিনিই আমাদের রব: {যিনি সর্বোচ্চ—যিনি সৃষ্টি করেছেন ও সুবিন্যস্ত করেছেন—এবং যিনি পরিমিত নির্ধারণ করেছেন ও পথপ্রদর্শন করেছেন} (আল-আলা: ১-৩)। তারা যদি এই সত্তার নামকরণে সত্যনিষ্ঠ হতো, তবে তারা তাঁকে প্রকৃতির স্রষ্টা এবং এর সকল বিষয়ের ব্যবস্থাপক হিসেবেই অভিহিত করত: {তারা কি কোনো কিছু ছাড়াই সৃষ্টি হয়েছে, না কি তারা নিজেরাই স্রষ্টা? না কি তারা আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছে? বরং তারা দৃঢ় বিশ্বাস পোষণ করে না। না কি তাদের নিকট তোমার রবের ভান্ডারসমূহ রয়েছে? না কি তারা এগুলোর নিয়ন্ত্রক?} (আত-তূর: ৩৫-৩৭)।
যখন সাহাবী (صحابي) জুবায়ের ইবনে মুতঈম এই আয়াতটি শুনলেন, তখন তিনি বললেন: (আমার অন্তর যেন উড়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল)। (১)
স্রষ্টাকে অস্বীকার করার মাধ্যমে প্রকাশিত এই নাস্তিক্যবাদ হলো একটি বিকৃতি যা মানবীয় বিবেক ঘৃণা করে এবং সুস্থ স্বভাবজাত প্রকৃতি প্রত্যাখ্যান করে। মানুষ নিজে নিজের স্রষ্টা নয়; আর মানুষ—যে তার বিবেক, ইচ্ছা এবং নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতার মাধ্যমে সমস্ত বিদ্যমান বস্তু থেকে অনন্য হওয়া সত্ত্বেও—যদি নিজেকে সৃষ্টি করতে অক্ষম হয়, তবে অন্যান্য সৃষ্টি তো আরও বেশি অক্ষম। সুতরাং মহান ইলাহ-র অস্তিত্ব স্বীকার করে নেওয়া ছাড়া কোনো গত্যান্তর নেই। মহাবিশ্বের প্রতিটি কোণে এমন নিদর্শন রয়েছে যা তাঁর অস্তিত্বের প্রমাণ দেয়, বরং তাঁর পূর্ণতা, মহিমা এবং শ্রেষ্ঠত্বের সাক্ষ্য দেয়।
নবীগণ যে বিষয়ের দাওয়াতের ক্ষেত্রে ঐকমত্য পোষণ করেছেন তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আল্লাহর একত্ববাদ এবং কেবল তাঁরই ইবাদত করা। এটিই ছিল তাঁদের সকল বাণীর মূল নির্যাস: {তোমার পূর্বে আমি এমন কোনো রাসূল পাঠাইনি যার নিকট আমি এই ওহী অবতীর্ণ করিনি যে, আমি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই; সুতরাং তোমরা কেবল আমারই ইবাদত করো} (আল-আম্বিয়া: ২৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তায়াররাফ আলাল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৯)
وسجل القرآن الكريم مضمون هذه الدعوة على لسان عدد من الأنبياء، فهاهم رسل الله - نوح وهود وصالح وشعيب وغيرهم - يقولون بلسان واحد: {يا قوم اعبدوا الله ما لكم من إلهٍ غيره} (المؤمنون: 23)، (هود: 50، 60)، (الأعراف: 85).
وكما دعا الأنبياء إلى توحيد الله الواحد؛ فإنهم حذروا أقوامهم من الشرك - سواء أكان المعبود مع الله بشراً أم حجراً أم حيواناً أم ملاكاً - لأن الله أوحى إليهم جميعاً بذلك {ولقد أوحي إليك وإلى الذين من قبلك لئن أشركت ليحبطن عملك ولتكونن من الخاسرين - بل الله فاعبد وكن من الشاكرين} (الزمر: 65 - 66).
وكان المسيح عليه السلام من هؤلاء الأنبياء الذين حذروا أقوامهم من الشرك: {وقال المسيح يا بني إسرائيل اعبدوا الله ربي وربكم إنه من يشرك بالله فقد حرم الله عليه الجنة ومأواه النار وما للظالمين من أنصار} (المائدة: 72).
ولما كانت معرفة أسماء الله وصفاته تعجز عن التنبؤ بها العقول وتحار في إدراكها الأفهام وتختلف؛ فإن الله تبارك وتعالى بمنِّه وفضله - خلّص البشرية من حيرتها، فعرّفها بأسمائه وصفاته حين بعث بوحيه أنبياءه وأنزل على العالمين كتبه، فكان أهم ما حملته النبوات إلى الإنسانية تعريفها بخالقها.
وقد ذكر الله في كتابه الأخير، القرآن الكريم، أن له تبارك وتعالى أسماء حسنى، غاية في الحسن والجلال والكمال {الله لا إله إلا هو له الأسماء الحسنى} (طه: 8)، وهي تدل جميعها على ذات واحدة يدعوها المسلم في صلاته ودعائه {ولله الأسماء الحسنى فادعوه بها} (الأعراف: 180).
ومن أسماء الله الحسنى ما جاء في قوله تعالى: {هو الله الذي لا إله إلا هو عالم الغيب والشهادة هو الرحمن الرحيم - هو الله الذي لا إله إلا هو الملك القدوس السلام المؤمن المهيمن العزيز الجبار المتكبر سبحان الله عما يشركون
পবিত্র কুরআন বেশ কয়েকজন নবীর ভাষায় এই দাওয়াতের মূলকথা লিপিবদ্ধ করেছে। আল্লাহর রাসূলগণ—নূহ, হুদ, সালিহ, শুআইব ও অন্যান্যরা—সকলে এক স্বরে বলেছেন: {হে আমার জাতি! তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তিনি ছাড়া তোমাদের অন্য কোনো উপাস্য নেই} (আল-মুমিনুন: ২৩), (হুদ: ৫০, ৬০), (আল-আরাফ: ৮৫)।
যেহেতু নবীগণ এক আল্লাহর একত্ববাদের (توحيد) দিকে আহ্বান জানিয়েছেন, তেমনি তারা তাদের কওমকে শিরক (شرك) থেকেও সতর্ক করেছেন—সেটি আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো মানুষ, পাথর, প্রাণী বা ফেরেশতা যারই উপাসনা করা হোক না কেন। কারণ আল্লাহ তাদের সকলকে এই মর্মে ওহী পাঠিয়েছিলেন: {আপনার প্রতি এবং আপনার পূর্ববর্তীদের প্রতি ওহী পাঠানো হয়েছে যে, যদি আপনি শিরক (شرك) করেন, তবে আপনার আমল অবশ্যই বিফল হবে এবং আপনি ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবেন। বরং আপনি আল্লাহরই ইবাদত করুন এবং কৃতজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত হোন} (আয-যুমার: ৬৫-৬৬)।
ঈসা মাসীহ আলাইহিস সালামও সেই নবীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যারা নিজ কওমকে শিরক (شرك) থেকে সতর্ক করেছিলেন: {মাসীহ বলেছিলেন, হে বনী ইসরাইল! তোমরা আমার ও তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহর ইবাদত করো। নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে শিরক (شرك) করে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাত হারাম করে দেন এবং তার আবাস হয় জাহান্নাম। আর জালেমদের জন্য কোনো সাহায্যকারী নেই} (আল-মায়েদাহ: ৭২)।
যেহেতু আল্লাহর নাম ও গুণাবলি (صفات) সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা মানুষের সাধারণ বিবেকের পক্ষে সম্ভব নয় এবং তা অনুধাবনে মানবীয় উপলব্ধি বিভ্রান্ত ও দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়ে, সেহেতু আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা তাঁর অনুগ্রহ ও দয়ায় মানবজাতিকে এই বিভ্রান্তি থেকে মুক্তি দিয়েছেন। তিনি ওহীর মাধ্যমে নবীদের পাঠিয়ে এবং বিশ্ববাসীর জন্য কিতাব অবতীর্ণ করে নিজের নাম ও গুণাবলি (صفات) সম্পর্কে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন। সুতরাং নবুওয়াতসমূহ মানবজাতির কাছে যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বার্তা নিয়ে এসেছে, তা হলো তাদের স্রষ্টার পরিচয় প্রদান।
আল্লাহ তাঁর শেষ কিতাব পবিত্র কুরআনে উল্লেখ করেছেন যে, তাঁর রয়েছে অত্যন্ত সুন্দর ও মহিমান্বিত সুন্দর নামসমূহ (أسماء حسنى), যা সৌন্দর্য, প্রতাপ ও পূর্ণতার চূড়ান্ত শিখরে অধিষ্ঠিত। {আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তাঁর জন্যই রয়েছে সুন্দরতম নামসমূহ (أسماء حسنى)} (তহা: ৮)। এ সমস্ত নাম একটিমাত্র সত্তাকেই নির্দেশ করে, যাঁর কাছে একজন মুসলিম তার সালাত ও দোয়ায় প্রার্থনা করে: {আর আল্লাহর জন্য রয়েছে সুন্দরতম নামসমূহ (أسماء حسنى), অতএব তোমরা তাঁকে সেসব নামেই ডাকো} (আল-আরাফ: ১৮০)।
আল্লাহর সুন্দর নামসমূহের (أسماء حسنى) মধ্যে রয়েছে যা তাঁর এই বাণীতে বর্ণিত হয়েছে: {তিনিই আল্লাহ, তিনি ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই; তিনি দৃশ্য ও অদৃশ্যের পরিজ্ঞাত, তিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু। তিনিই আল্লাহ, তিনি ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই; তিনিই অধিপতি, অতি পবিত্র, শান্তিদানকারী, নিরাপত্তা দানকারী, রক্ষক, পরাক্রমশালী, মহাপ্রতাপশালী, অতীব মহিমান্বিত। তারা যা শিরক (شرك) করে, আল্লাহ তা থেকে পবিত্র।}
(খণ্ড: ১)
তায়াররাফ আলাল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১০)
- هو الله الخالق البارئ المصور له الأسماء الحسنى يسبح له ما في السموات والأرض وهو العزيز الحكيم} (الحشر: 22 - 24).
وهذه الأسماء الإلهية مع دلالتها على الذات الإلهية فإنها تثبت لله تبارك وتعالى غاية ما تدل عليه من أوصاف الكمال والتنزيه، فهو الملِك الذي لا نِدَّ له في ملكه، وهو الحكيم الذي لا يُدانى في حكمته، إنه الله العظيم الذي جلَّ عن النظير والمثيل والشبيه {ليس كمثله شيء وهو السميع البصير} (الشورى: 11)، وهو الله الواحد الأحد {قل هو الله أحدٌ - الله الصمد - لم يلد ولم يولد - ولم يكن له كفواً أحدٌ} (سورة الإخلاص)، {فلا تضربوا لله الأمثال إن الله يعلم وأنتم لا تعلمون} (النحل: 74).
إن الإيمان بالله الموصوف بصفات العظمة والكمال يهذب السلوك الإنساني، حين يستحضر معية الرب له، فيعلم باطلاع الرب عليه، وهو العليم المحيط القادر على كل شيء، فيستحي المؤمن به أن يراه ربه ومولاه على حال المعصية؛ وهو القوي ذو البأس والبطش الشديد، وأولى منه أن نعبده ونسعى في مراضيه، لنفوز بجنته وعظيم جزاء الرب العفو الغفور الكريم الودود.
وهكذا فالمؤمن يستقيم سلوكه خوفاً من الله وعقابه، وطمعاً في ثوابه وجزائه، وهذا هو حال المؤمنين الذين امتدحهم ربهم {إنهم كانوا يسارعون في الخيرات ويدعوننا رغباً ورهباً وكانوا لنا خاشعين} (الأنبياء: 90).
إن المسلم حين يؤمن بالله الواحد الخالق الرازق الذي بيده مقادير الأمور؛ فإنه يلجأ إليه وحده في السراء والضراء، في الصغير من أموره والكبير، ليقينه بمعية الله تعالى للمؤمنين وقربه منهم وإطلاعه على سرائرهم وأعمالهم، وأنه تعالى وحده القدير الذي بيده مقاليد الأمور {إنما أمره إذا أراد شيئاً أن يقول له كن فيكون - فسبحان الذي بيده ملكوت كل شيءٍ وإليه ترجعون} (يس: 82 - 83)، وهو تبارك وتعالى الذي {له مقاليد السموات والأرض يبسط الرزق لمن يشاء ويقدر إنه بكل شيءٍ عليمٌ} (الشورى: 12).
{তিনিই আল্লাহ; সৃষ্টিকর্তা, উদ্ভাবক, রূপদানকারী, তাঁর জন্যই রয়েছে সকল সুন্দর নাম। আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে, সবই তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে; আর তিনি মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।} (আল-হাশর: ২৪)।
আল্লাহর এই ঐশ্বরিক নামসমূহ তাঁর পবিত্র সত্তাকে নির্দেশ করার পাশাপাশি আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার জন্য সেই সকল পূর্ণতা ও পবিত্রতার গুণাবলির চূড়ান্ত পর্যায়কে সাব্যস্ত করে যেগুলোর প্রতি নামগুলো ইঙ্গিত প্রদান করে। সুতরাং তিনি এমন এক অধিপতি যাঁর রাজত্বে কোনো সমকক্ষ নেই, এবং তিনি এমন এক প্রজ্ঞাময় যাঁর প্রজ্ঞার ধারেকাছে কেউ পৌঁছাতে পারে না। নিশ্চয়ই তিনি মহান আল্লাহ, যিনি সদৃশ, সমতুল্য ও সাদৃশ্য থেকে ঊর্ধ্বে; {তাঁর সদৃশ কিছুই নেই এবং তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।} (আশ-শুরা: ১১)। এবং তিনি আল্লাহ, যিনি এক ও অদ্বিতীয়; {বলুন, তিনিই আল্লাহ, অদ্বিতীয়। আল্লাহ অমুখাপেক্ষী। তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাঁকেও জন্ম দেওয়া হয়নি। আর তাঁর সমতুল্য কেউই নেই।} (সুরা আল-ইখলাস)। {সুতরাং আল্লাহর জন্য কোনো উদাহরণ পেশ করো না; নিশ্চয়ই আল্লাহ জানেন আর তোমরা জানো না।} (আন-নাহল: ৭৪)।
মহত্ত্ব ও পূর্ণতার গুণাবলিতে গুণান্বিত আল্লাহর প্রতি এই ঈমান মানুষের আচরণকে পরিশীলিত করে, যখন সে তার সাথে রবের সান্নিধ্য অনুভব করে। সে তখন অবগত হয় যে, রব তাকে পর্যবেক্ষণ করছেন; আর তিনি সর্বজ্ঞ, সর্ববেষ্টনকারী এবং সবকিছুর ওপর ক্ষমতাশীল। ফলে মুমিন তার রব ও মাওলার সামনে অবাধ্য অবস্থায় লজ্জিত হয়। তিনি অত্যন্ত শক্তিশালী, কঠোর শাস্তিদাতা ও প্রবল পাকড়াওকারী। বরং আমাদের উচিত তাঁর ইবাদত করা এবং তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনে সচেষ্ট হওয়া, যাতে আমরা তাঁর জান্নাত এবং ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু, দাতা ও পরম স্নেহময় রবের মহান প্রতিদান লাভে ধন্য হতে পারি।
এভাবেই মুমিনের আচরণ আল্লাহর ভয় ও তাঁর শাস্তির আশঙ্কায় এবং তাঁর সওয়াব ও প্রতিদানের লোভে সঠিক পথে পরিচালিত হয়। আর এটিই সেই মুমিনদের অবস্থা যাদের প্রশংসা করে তাদের রব বলেছেন: {নিশ্চয়ই তারা সৎকাজে প্রতিযোগিতা করত এবং আশা ও ভীতি নিয়ে আমাকে ডাকত, আর তারা ছিল আমার প্রতি বিনীত।} (আল-আম্বিয়া: ৯০)।
একজন মুসলিম যখন এক অদ্বিতীয় আল্লাহ, সৃষ্টিকর্তা ও রিজিকদাতার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে, যাঁর হাতে যাবতীয় বিষয়ের নিয়ন্ত্রণ; তখন সে সুখে-দুঃখে, ছোট-বড় সকল বিষয়ে কেবল তাঁরই শরণাপন্ন হয়। কারণ আল্লাহর সান্নিধ্য, মুমিনদের প্রতি তাঁর নৈকট্য এবং তাদের গোপন বিষয় ও আমল সম্পর্কে তাঁর অবগতি সম্পর্কে সে নিশ্চিত থাকে। তিনি একাই সর্বশক্তিমান যাঁর হাতে যাবতীয় বিষয়ের চাবিকাঠি। {তিনি যখন কোনো কিছু ইচ্ছা করেন, তখন কেবল বলেন: ‘হও’, অমনি তা হয়ে যায়। অতএব পবিত্র সেই সত্তা, যাঁর হাতে প্রতিটি বিষয়ের সার্বভৌম ক্ষমতা এবং তাঁরই কাছে তোমরা ফিরে যাবে।} (ইয়াসিন: ৮২-৮৩)। আর তিনি বরকতময় ও সুমহান সেই সত্তা যাঁর জন্য {আসমান ও জমিনের চাবিকাঠি রয়েছে, তিনি যার জন্য ইচ্ছা রিজিক প্রশস্ত করেন অথবা সংকুচিত করেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্ববিষয়ে সর্বজ্ঞ।} (আশ-শুরা: ১২)।
(খণ্ড: ১)
তায়াররাফ আলাল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১১)
فإذا نظر المرء إلى ما أولاه الله من نعمه وآلائه التي لا تحصى؛ فإنه يفيض قلبه بمحبته {والذين آمنوا أشد حباً لله} (البقرة: 165)، وكيف لا يحبه، والله العظيم قد سبق فأحب عباده المؤمنين الطائعين {إن الله يحب المحسنين} (البقرة: 195)، {إن الله يحب التوابين ويحب المتطهرين} (البقرة: 222) {والله يحب الصابرين} (آل عمران: 146) {إنه هو يبدئ ويعيد - وهو الغفور الودود} (البروج: 13 - 14).
وهذه المحبة لله تجعل المسلم معلق القلب بالله، يرجو رضاه، ومن أعظم ما يتطلع إليه المؤمن نوال الجنة دار الخلود التي أعدها الله لمن أحبه من عباده {فلا تعلم نفسٌ ما أخفي لهم من قرة أعينٍ جزاءً بما كانوا يعملون} (السجدة: 17).
ومحبة المسلم لربه تجعله يمتنع عن كل ما يغضب الرب الذي يحبه، فيكره ما كرهه محبوبه، والله لا يكره ولا يمقت إلا السيء من القول والعمل والخلق {إن الله لا يحب من كان خواناً أثيماً} (النساء: 107) {والله لا يحب المفسدين} (المائدة: 64) {ولا تعتدوا إن الله لا يحب المعتدين} (المائدة: 87).
ثانياً: الشهادة بأن محمداً رسول اللهحتى تقوم حجة الله على خلقه أرسل الله الرسل، وختمهم بمحمد صلى الله عليه وسلم، وجعله رسوله إلى العالمين {وما أرسلناك إلا كافةً للناس بشيراً ونذيراً} (سبأ: 28)، فهي مزيته صلى الله عليه وسلم على سائر إخوانه من الأنبياء ((كان النبي يبعث إلى قومه خاصة، وبعثت إلى الناس كافة)). (1)
والنبي صلى الله عليه وسلم هو محمد بن عبد الله بن عبد المطلب القرشي، ولد يتيماً بمكة المكرمة عام 571م، ونشأ فيها، وحين بلغ الأربعين من العمر آتاه الله النبوة، حين نزل عليه الملاك جبريل بالوحي وهو في غار حراء شرق مكة المكرمة، فدعا قومه إلى الإسلام، فآمن به رهط قليل، وامتنع عن الإيمان به سادة قبيلته (قريش) الذين
--------------------------------------------
সুতরাং মানুষ যখন তার প্রতি আল্লাহর দানকৃত অগণিত নেয়ামত ও অনুগ্রহের দিকে তাকায়, তখন তার অন্তর তাঁর প্রতি ভালোবাসায় উদ্বেলিত হয়ে ওঠে: {আর যারা ঈমান এনেছে তারা আল্লাহর প্রতি ভালোবাসায় সুদৃঢ়} (আল-বাকারা: ১৬৫)। আর কেনই বা সে তাঁকে ভালোবাসবে না, অথচ মহান আল্লাহ পূর্বেই তাঁর মুমিন ও অনুগত বান্দাদের ভালোবেসেছেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহ সৎকর্মশীলদের ভালোবাসেন} (আল-বাকারা: ১৯৫), {নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবাকারীদের ভালোবাসেন এবং পবিত্রতা অর্জনকারীদের ভালোবাসেন} (আল-বাকারা: ২২২), {আর আল্লাহ ধৈর্যশীলদের ভালোবাসেন} (আলে ইমরান: ১৪৬), {নিশ্চয়ই তিনি প্রথমবার সৃষ্টি করেন এবং পুনরায় সৃষ্টি করবেন। আর তিনি পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু} (আল-বুরুজ: ১৩-১৪)।
আল্লাহর প্রতি এই ভালোবাসা মুসলিমের অন্তরকে আল্লাহর সাথে সংশ্লিষ্ট করে দেয়, সে তাঁর সন্তুষ্টি কামনা করে। আর মুমিন ব্যক্তি যা অর্জনের প্রবল আকাঙ্ক্ষা রাখে তার মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলো জান্নাত লাভ করা—যা চিরস্থায়ী নিবাস এবং আল্লাহ তা তাঁর প্রিয় বান্দাদের জন্য প্রস্তুত রেখেছেন: {কেউ জানে না তাদের জন্য চোখ জুড়ানো কী জিনিস লুকিয়ে রাখা হয়েছে তাদের কৃতকর্মের পুরস্কার স্বরূপ} (আস-সাজদাহ: ১৭)।
আপন রবের প্রতি মুসলিমের ভালোবাসা তাকে এমন সব বিষয় থেকে বিরত রাখে যা তার প্রিয় রবের ক্রোধ উদ্রেক করে। ফলে তার প্রিয়তম যা অপছন্দ করেন, সেও তা অপছন্দ করে। আর আল্লাহ কেবল মন্দ কথা, কাজ ও চরিত্রকেই অপছন্দ ও ঘৃণা করেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহ তাকে পছন্দ করেন না, যে বিশ্বাসঘাতক ও পাপী} (আন-নিসা: ১০৭), {আর আল্লাহ ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের পছন্দ করেন না} (আল-মায়েদা: ৬৪), {আর তোমরা সীমালঙ্ঘন করো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ সীমালঙ্ঘনকারীদের পছন্দ করেন না} (আল-মায়েদা: ৮৭)।
দ্বিতীয়ত: মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল—একথা সাক্ষ্য দেওয়াযাতে সৃষ্টির ওপর আল্লাহর প্রমাণ (حجة) প্রতিষ্ঠিত হয়, সেজন্য আল্লাহ রাসূলগণকে প্রেরণ করেছেন এবং মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মাধ্যমে তাঁদের সমাপ্তি ঘটিয়েছেন। তাঁকে সমগ্র বিশ্বজগতের জন্য তাঁর রাসূল হিসেবে নিযুক্ত করেছেন: {আমি তো আপনাকে সমগ্র মানবজাতির জন্য সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে প্রেরণ করেছি} (সাবা: ২৮)। এটি নবীগণের মধ্যে তাঁর অন্যান্য ভাইদের ওপর তাঁর একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য: ((নবীগণ কেবল তাঁদের নিজ সম্প্রদায়ের প্রতি প্রেরিত হতেন, আর আমি প্রেরিত হয়েছি সমগ্র মানবজাতির প্রতি।)) (১)
আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হলেন মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল মুত্তালিব আল-কুরাইশি। তিনি ৫৭১ খ্রিস্টাব্দে মক্কাতুল মোকাররমায় এতিম অবস্থায় জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানেই বেড়ে ওঠেন। যখন তাঁর বয়স চল্লিশ বছর হলো, তখন আল্লাহ তাঁকে নবুওয়াত দান করেন; সে সময় মক্কাতুল মোকাররমার পূর্ব দিকে অবস্থিত হেরা গুহায় ফেরেশতা জিবরাঈল ওহী নিয়ে তাঁর কাছে অবতরণ করেন। এরপর তিনি তাঁর কওমকে ইসলামের দাওয়াত দেন, তখন অল্প কিছু লোক তাঁর ওপর ঈমান আনেন এবং তাঁর গোত্র কুরাইশের নেতৃবৃন্দ ঈমান আনতে অস্বীকৃতি জানায় যারা
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তায়াররাফ আলাল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১২)
خافوا من ذهاب زعامتهم وزوال امتيازاتهم، فكذبوه وآذوه، وعذبوا بعضاً من أصحابه بأشد أنواع النكال والعذاب، بل قتلوا بعضهم، رضوان الله على الجميع.
فهاجر النبي صلى الله عليه وسلم والمؤمنون معه إلى يثرب (المدينة المنورة)، وأقام فيها المجتمع الإسلامي الممتثل بهدي الله، وكان أول ما صنعه النبي صلى الله عليه وسلم فيها أن بنى مسجده فيها وآخى بين المسلمين بآصرة العقيدة على اختلاف أجناسهم وأوطانهم، ثم عقد مع يهود المدينة معاهدة للتعايش المشترك الآمن والتعاضد على حماية المدينة.
وفي المدينة المنورة دعا النبي صلى الله عليه وسلم العرب والعجم إلى الإيمان به، فأرسل الرسل إلى ملوك الأرض وحكامها يشرح لهم مبادئ دينهم، فآمن به بعضهم، وناوأه غيرهم، وأرسلوا إليه الجيوش، فقاتل صلى الله عليه وسلم من عاداه وأعاق دعوته، حتى نصره الله بنصره، وقبل أن يغادر النبي صلى الله عليه وسلم الدنيا عام 633م أقر الله عينيه بانتشار الإسلام في سائر الجزيرة العربية.
وقد أيد الله النبيَّ صلى الله عليه وسلم بما يشهد على نبوته من دلائل وبراهين، كما أُيد بذلك من سبقه من إخوانه من الأنبياء والمرسلين، وخصه الله عنهم بدليل ساطع يدوم بدوام رسالته صلى الله عليه وسلم، فلا تنقضي دلالته بتقادم الأزمان، ولا تبلى بتصرم الأيام، وهو القرآن العظيم، الكتاب المعجِز الذي بهر العالمين، وعجز عن الإتيان بمثله الأولون، ولن يأتي بسورة من مثله الآخرون {قل لئن اجتمعت الإنس والجن على أن يأتوا بمثل هذا القرآن لا يأتون بمثله ولو كان بعضهم لبعضٍ ظهيراً} (الإسراء: 88)، يقول صلى الله عليه وسلم: ((ما من الأنبياء من نبي، إلا قد أُعطي من الآيات، ما مثلُه آمن عليه البشر، وإنما كان الذي أُوتيتُ وحياً أَوحى اللهُ إليّ، فأرجو أن أكون أكثرَهم تابعاً يوم القيامة)). (1)
فقد حوى القرآن من العلوم ما حير بأسبقيته وعمقه العلماء، كيف لا وقد أنزله الله العليم بكل شيء {لكن الله يشهد بما أنزل إليك أنزله بعلمه والملائكة يشهدون وكفى بالله شهيداً} (النساء: 166).
--------------------------------------------
তারা তাদের নেতৃত্ব হারানো এবং সুযোগ-সুবিধা বিলুপ্ত হওয়ার ভয় পেয়েছিল, তাই তারা তাঁকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিল এবং কষ্ট দিয়েছিল। তারা তাঁর কয়েকজন সাহাবীকে অত্যন্ত কঠোর শাস্তি ও যাতনা প্রদান করেছিল, এমনকি তাঁদের মধ্য থেকে কাউকে কাউকে হত্যাও করেছিল। আল্লাহ তাদের সকলের ওপর সন্তুষ্ট হোন।
অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং তাঁর সাথে মুমিনগণ ইয়াসরিবে (মদিনা মুনাওয়ারা) হিজরত করেন এবং সেখানে আল্লাহর নির্দেশিত পথ অনুসারী একটি ইসলামি সমাজ প্রতিষ্ঠা করেন। সেখানে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সর্বপ্রথম যে কাজটি করেছিলেন তা হলো সেখানে তাঁর মসজিদ নির্মাণ করা এবং জাতি ও দেশ নির্বিশেষে আকিদার বন্ধনে মুসলিমদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব স্থাপন করা। এরপর তিনি মদিনার ইহুদিদের সাথে নিরাপদ সহাবস্থান এবং মদিনা রক্ষার জন্য পারস্পরিক সহযোগিতার একটি চুক্তি সম্পাদন করেন।
মদিনা মুনাওয়ারায় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আরব ও অনারবদের তাঁর প্রতি ঈমান আনার আহ্বান জানান। তিনি বিশ্বের রাজা ও শাসকদের কাছে তাঁর দ্বীনের মূলনীতিসমূহ ব্যাখ্যা করার জন্য দূত প্রেরণ করেন। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ ঈমান এনেছিলেন, আবার অন্যরা তাঁর বিরোধিতা করেছিলেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে সৈন্যবাহিনী পাঠিয়েছিলেন। অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর শত্রুদের এবং দাওয়াতের পথে বাধা দানকারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন, যতক্ষণ না আল্লাহ তাঁকে সাহায্য দ্বারা বিজয়ী করেন। ৬৩৩ খ্রিস্টাব্দে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইহধাম ত্যাগ করার পূর্বে আল্লাহ সমগ্র আরব উপদ্বীপে ইসলামের প্রসারের মাধ্যমে তাঁর চক্ষু শীতল করেছিলেন।
আল্লাহ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে এমন সব নিদর্শনাদি ও প্রমাণের মাধ্যমে শক্তিশালী করেছেন যা তাঁর নবুয়তের সাক্ষ্য দেয়, যেমনটি তাঁর পূর্ববর্তী নবী ও রাসুলগণের ক্ষেত্রে করা হয়েছিল। তবে আল্লাহ তাঁকে তাঁদের তুলনায় এমন এক উজ্জ্বল প্রমাণের মাধ্যমে বিশিষ্ট করেছেন যা তাঁর রিসালাতের স্থায়িত্বের সাথে সাথে স্থায়ী থাকবে। সময়ের বিবর্তনে যার প্রমাণ শেষ হবে না এবং দিন অতিবাহিত হওয়ার সাথে সাথে যা পুরনো হবে না; আর তা হলো মহান কুরআন। এটি একটি অলৌকিক (معجز) কিতাব যা বিশ্ববাসীকে বিস্মিত করেছে, যার অনুরূপ কিছু আনয়নে পূর্ববর্তীরা অক্ষম ছিল এবং পরবর্তীরাও এর অনুরূপ কোনো সূরা আনতে পারবে না। {বলুন, যদি এই কুরআনের অনুরূপ আনার জন্য মানুষ ও জিন সমবেত হয়, তবুও তারা এর অনুরূপ আনতে পারবে না, যদিও তারা একে অপরের সাহায্যকারী হয়।} (ইসরা: ৮৮)। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন: "নবীগণের মধ্যে এমন কোনো নবী গত হননি যাঁকে এমন সব নিদর্শন প্রদান করা হয়নি যার ওপর ভিত্তি করে মানুষ ঈমান এনেছে। আর আমাকে যা প্রদান করা হয়েছে তা হলো ওহি (وحياً) যা আল্লাহ আমার প্রতি অবতীর্ণ করেছেন। তাই আমি আশা করি কিয়ামতের দিন আমি তাঁদের মধ্যে সর্বাধিক অনুসারীর অধিকারী হবো।" (১)
কুরআন এমন সব জ্ঞান ধারণ করেছে যার অগ্রগামিতা ও গভীরতা আলেমদের বিস্মিত করেছে। কেনই বা করবে না, অথচ সর্বজ্ঞাতা আল্লাহ এটি অবতীর্ণ করেছেন। {বরং আল্লাহ সাক্ষ্য দিচ্ছেন যা তিনি আপনার প্রতি অবতীর্ণ করেছেন সে সম্পর্কে; তিনি তা স্বীয় ইলম দ্বারা অবতীর্ণ করেছেন এবং ফেরেশতারাও সাক্ষ্য দিচ্ছে। আর সাক্ষী হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট।} (নিসা: ১৬৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তায়াররাফ আলাল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১৩)
فقد سبق القرآن العلم الحديث إلى وصف نشأة الخلق في الماضي السحيق، حين أشار إلى ما يسميه العلماء اليوم بنظرية الانفجار الكبير ( bang Big)، فقال تعالى: {ثم استوى إلى السماء وهي دخانٌ فقال لها وللأرض ائتيا طوعاً أو كرهاً قالتا أتينا طائعين} (فصلت: 11)، وقال تعالى: {أولم يرَ الذين كفروا أن السموات والأرض كانتا رتقاً ففتقناهما وجعلنا من الماء كل شيءٍ حي أفلا يؤمنون} (الأنبياء: 30).
كما تحدث القرآن عن اتساع الكون وتمدده في قوله تعالى: {والسماء بنيناها بأييدٍ وإنا لموسعون} (الذاريات: 47)، وذكر دوران الشمس والقمر والأرض في أفلاك مستديرة {والشمس تجري لمستقر لها ذلك تقدير العزيز العليم - والقمر قدرناه منازل حتى عاد كالعرجون القديم - لا الشمس ينبغي لها أن تدرك القمر ولا الليل سابق النهار وكل في فلكٍ يسبحون} (سورة يس: 38 - 40)، فهذه الأخبار وغيرها علوم دقيقة لم تعرفها البشرية قبله ولا بعده إلا في أواسط القرن المنصرم.
ومما يبهر العقول من أخبار القرآن التي سبق فيها العلم الحديث؛ إخباره بمراحل تطور الجنين في بطن أمه وصور تخلقه: {يا أيها الناس إن كنتم في ريب من البعث فإنا خلقناكم من ترابٍ ثم من نطفةٍ ثم من علقةٍ ثم من مضغة مخلقةٍ وغير مخلقة لنبين لكم ونقر في الأرحام ما نشاء إلى أجلٍ مسمى ثم نخرجكم طفلاً ثم لتبلغوا أشدكم ومنكم من يتوفى ومنكم من يرد إلى أرذل العمر لكيلا يعلم من بعد علم شيئاً وترى الأرض هامدةً فإذا أنزلنا عليها الماء اهتزت وربت وأنبتت من كل زوجٍ بهيج} (الحج: 5).
إن هذا الوصف الدقيق لمراحل الجنين أذهل البرفسور مارشال جونسون رئيس قسم التشريح ومدير معهد دانيال بجامعة توماس جيفرسون بفلادلفيا بالولايات المتحدة الأمريكية، فقال: "إنني كعالم أستطيع فقط أن أتعامل مع أشياء أستطيع أن أراها بالتحديد، أستطيع أن أفهم علم الأجنة وتطور علم الأحياء، أستطيع أن أفهم الكلمات التي تترجم لي من القرآن .. إنني لا أرى شيئاً، لا أرى سبباً، لا أرى
কুরআন আধুনিক বিজ্ঞানের অনেক পূর্বেই সুদূর অতীতে সৃষ্টির উৎপত্তির বর্ণনা প্রদান করেছে, যখন এটি বর্তমানে বিজ্ঞানীদের দেওয়া মহাবিস্ফোরণ তত্ত্ব (বিগ ব্যাং) এর দিকে ইঙ্গিত করেছে। মহান আল্লাহ বলেন: {অতঃপর তিনি আকাশের দিকে মনোনিবেশ করলেন, যা ছিল ধোঁয়া বিশেষ। এরপর তিনি তাকে ও পৃথিবীকে বললেন, 'তোমরা উভয়ে আসো ইচ্ছায় অথবা অনিচ্ছায়।' তারা বলল, 'আমরা আসলাম অনুগত হয়ে।'} (সূরা ফুসসিলাত: ১১), এবং আল্লাহ তাআলা বলেন: {কাফিররা কি দেখে না যে, আসমানসমূহ ও পৃথিবী মিলিত ছিল, অতঃপর আমি উভয়কে পৃথক করে দিলাম এবং প্রাণবান সবকিছু আমি পানি থেকে সৃষ্টি করলাম? তবুও কি তারা ঈমান আনবে না?} (সূরা আল-আম্বিয়া: ৩০)।
অনুরূপভাবে কুরআন মহাবিশ্বের প্রশস্ততা ও প্রসারণ সম্পর্কে আলোচনা করেছে মহান আল্লাহর এই বাণীতে: {আমি আকাশ নির্মাণ করেছি আমার ক্ষমতাবলে এবং আমিই একে সম্প্রসারিত করি।} (সূরা আয-যারিয়াত: ৪৭)। এছাড়া সূর্য, চন্দ্র ও পৃথিবীর নির্দিষ্ট কক্ষপথে ঘূর্ণন সম্পর্কে উল্লেখ করে আল্লাহ বলেন: {আর সূর্য ভ্রমণ করে তার জন্য নির্দিষ্ট গন্তব্যের দিকে, এটা মহাপরাক্রমশালী, সর্বজ্ঞের নিয়ন্ত্রণ। আর চন্দ্রের জন্য আমি নির্দিষ্ট করেছি বিভিন্ন মঞ্জিল, অবশেষে তা শুষ্ক বাঁকা খেজুর শাখার মতো হয়ে যায়। সূর্যের পক্ষে সম্ভব নয় চন্দ্রকে ধরা এবং রাতের পক্ষে সম্ভব নয় দিনকে অতিক্রম করা; আর প্রত্যেকেই নিজ নিজ কক্ষপথে বিচরণ করে।} (সূরা ইয়াসিন: ৩৮-৪০)। এই সকল সংবাদ (أخبار) এবং অন্যান্য সূক্ষ্ম বিজ্ঞান এমন বিষয় যা মানবজাতি এর আগে কিংবা পরে গত শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ের আগে জানতে পারেনি।
কুরআনের সেই সকল সংবাদ (أخبار) যা মানুষের বুদ্ধিকে স্তম্ভিত করে দেয় এবং যে ক্ষেত্রে এটি আধুনিক বিজ্ঞানের চেয়ে অগ্রগামী হয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম হলো মায়ের জরায়ুতে ভ্রূণের বিকাশের পর্যায়সমূহ এবং তার সৃষ্টির রূপরেখা প্রদান: {হে লোকসকল! পুনরুত্থান সম্পর্কে যদি তোমরা সন্দেহে থাকো, তবে (ভেবে দেখো) আমি তোমাদেরকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছি, এরপর বীর্য থেকে, এরপর জমাট রক্ত থেকে, এরপর পূর্ণাকৃতি বা অপূর্ণাকৃতি গোশতপিণ্ড থেকে—যাতে আমি তোমাদের কাছে সত্য ব্যক্ত করি। আর আমি যা ইচ্ছা করি তা এক নির্দিষ্ট কাল পর্যন্ত জরায়ুতে স্থিত রাখি, এরপর আমি তোমাদেরকে শিশু অবস্থায় বের করি, পরে যাতে তোমরা তোমাদের পূর্ণ শক্তিতে পদার্পণ করো। তোমাদের মধ্যে কারো মৃত্যু হয় এবং তোমাদের কাউকে নিকৃষ্টতম বয়সে উপনীত করা হয়, যাতে সে জানার পর আবার কিছুই না জানে। আর তুমি ভূমিকে শুষ্ক-উষর দেখতে পাও, অতঃপর আমি যখন তাতে পানি বর্ষণ করি, তখন তা আন্দোলিত ও স্ফীত হয় এবং তা সর্বপ্রকার সুদৃশ্য উদ্ভিদ উৎপন্ন করে।} (সূরা আল-হাজ্জ: ৫)।
ভ্রূণের পর্যায়সমূহের এই সূক্ষ্ম বর্ণনা আমেরিকার ফিলাডেলফিয়ার থমাস জেফারসন বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যানাটমি বিভাগের প্রধান এবং ড্যানিয়েল ইনস্টিটিউটের পরিচালক প্রফেসর মার্শাল জনসনকে বিস্মিত করেছিল। তিনি বলেন: "একজন বিজ্ঞানী হিসেবে আমি কেবল সেই বিষয়গুলো নিয়েই কাজ করতে পারি যা আমি সুনির্দিষ্টভাবে দেখতে পাই। আমি ভ্রূণতত্ত্ব এবং জীববিজ্ঞানের বিবর্তন বুঝতে সক্ষম। কুরআন থেকে আমার কাছে অনুবাদ করা শব্দগুলো আমি বুঝতে পারছি... আমি এমন কিছু দেখছি না, আমি কোনো কারণ দেখছি না, আমি দেখছি না..."
(খণ্ড: ১)
তায়াররাফ আলাল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১৪)
دليلاً على حقيقة تفند مفهوم هذا الفرد محمد [صلى الله عليه وسلم] الذي لابُد وأنه يتلقى هذه المعلومات من مكان ما، ولذلك إنني لا أرى شيئاً يتضارب مع مفهوم: أن التدخل الإلهي كان مشمولاً فيما كان باستطاعته أن يبلغه".
ويضيف البرفسور كيث ل مور مؤلف الكتاب الشهير "أطوار خلق الإنسان" ( The Developing Human) الذي يعتبر مرجعاً معتمداً في كليات الطب العالمية: "يتضح لي أن هذه الأدلة حتماً جاءت لمحمد من عند الله، لأن كل هذه المعلومات لم تكشف إلا حديثاً وبعد قرون عدة، وهذا يثبت لي أن محمداً رسول الله". (1)
{قل أنزله الذي يعلم السر في السموات والأرض إنه كان غفوراً رحيماً} (الفرقان: 6).
وهكذا فإن هذه الأخبار الغيبية العلمية - وغيرها مما يطول الحديث بذكره - دليل الله الساطع على نبوة النبي صلى الله عليه وسلم، فمثل هذه العلوم يستحيل تحصيلها في تلك الأزمنة، وخاصة من رجل أميّ نشأ في بيئة جاهلة {ويرى الذين أوتوا العلم الذي أنزل إليك من ربك هو الحق ويهدي إلى صراط العزيز الحميد} (سبأ: 6).
ومما يشهد له بالنبوة صلى الله عليه وسلم ما أوتيه من حسن سيرة وخلق عظيم، فقد وصفه ربه تبارك وتعالى: {وإنك لعلى خلقٍ عظيمٍ} (القلم: 4)، وقد غلب لقبه (الصادق الأمين) على اسمه، فصار علماً عليه بين أهل مكة، لذا قال ملكُ الروم هرقل لأبي سفيان عدو النبي صلى الله عليه وسلم حينذاك: "أعرف أنه لم يكن ليذر الكذب على الناس ويكذب على الله .. يأمركم أن تعبدوا الله ولا تشركوا به شيئاً، وينهاكم عن عبادة الأوثان، ويأمركم بالصلاة والصدق والعفاف .. فإن كان ما تقول حقاً فسيملك موضع قدميَّ هاتين، وقد كنت أعلم أنه خارج، لم أكن أظن أنه
--------------------------------------------
"মুহাম্মাদ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] নামক এই ব্যক্তি সম্পর্কে প্রচলিত (ভ্রান্ত) ধারণাকে খণ্ডনকারী সত্যের একটি দলিল; যিনি অবশ্যই কোনো না কোনো উৎস থেকে এই তথ্যসমূহ লাভ করতেন। তাই আমি এমন কিছু দেখছি না যা এই ধারণার সাথে সাংঘর্ষিক যে: ঐশী হস্তক্ষেপ সেই বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত ছিল যা তিনি পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছিলেন।"
বিখ্যাত গ্রন্থ 'দ্য ডেভেলপিং হিউম্যান' (The Developing Human)-এর লেখক অধ্যাপক কিথ এল. মুর, যা বিশ্বজুড়ে চিকিৎসা মহাবিদ্যালয়গুলোতে একটি নির্ভরযোগ্য রেফারেন্স হিসেবে বিবেচিত, যোগ করেন: "আমার কাছে এটি স্পষ্ট যে এই প্রমাণগুলো অবশ্যই আল্লাহর পক্ষ থেকে মুহাম্মাদের কাছে এসেছে, কারণ এই সমস্ত তথ্য কেবল সাম্প্রতিককালে এবং বহু শতাব্দী পরে উন্মোচিত হয়েছে। এটি আমার কাছে প্রমাণ করে যে মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসুল।" (১)
{বলুন, এটি তিনিই নাজিল করেছেন যিনি আসমান ও জমিনের সকল রহস্য জানেন। নিশ্চয়ই তিনি পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।} (আল-ফুরকান: ৬)।
এভাবেই এই বৈজ্ঞানিক অদৃশ্যের সংবাদসমূহ—এবং এ জাতীয় অন্যান্য বিষয় যা বর্ণনা করতে গেলে দীর্ঘ হবে—নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুওয়াতের স্বপক্ষে আল্লাহর প্রোজ্জ্বল প্রমাণ। কারণ সেই যুগে এই জাতীয় জ্ঞান অর্জন করা অসম্ভব ছিল, বিশেষত এমন একজন নিরক্ষর ব্যক্তির পক্ষ থেকে যিনি একটি অজ্ঞ পরিবেশে বেড়ে উঠেছেন। {যাদেরকে জ্ঞান দান করা হয়েছে তারা দেখতে পায় যে, আপনার রবের পক্ষ থেকে আপনার প্রতি যা নাজিল করা হয়েছে তা সত্য এবং তা পরাক্রমশালী, প্রশংসিত আল্লাহর পথের দিশা দেয়।} (সাবা: ৬)।
তাঁর নবুওয়াতের আরেকটি সাক্ষ্য হলো তাঁর মহান জীবনচরিত ও শ্রেষ্ঠ চরিত্র যা তাঁকে দান করা হয়েছে। তাঁর প্রতিপালক তাবারাকা ওয়া তাআলা তাঁকে বর্ণনা করে বলেছেন: {নিশ্চয়ই আপনি মহান চরিত্রের অধিকারী} (আল-কলম: ৪)। তাঁর নামের চেয়ে তাঁর উপাধি 'সত্যবাদী (الصادق) ও বিশ্বস্ত (الأمين)' অধিক প্রসিদ্ধি লাভ করেছিল এবং মক্কাবাসীদের নিকট এটি তাঁর বিশেষ পরিচায়ক হয়ে উঠেছিল। এ কারণেই রোম সম্রাট হিরাক্লিয়াস তৎকালীন সময়ে নবীর শত্রু আবু সুফিয়ানকে বলেছিলেন: "আমি জানি যে, তিনি মানুষের ওপর মিথ্যা আরোপ করা পরিহার করে আল্লাহর ওপর মিথ্যা বলতে পারেন না... তিনি তোমাদের নির্দেশ দেন যে তোমরা এক আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাঁর সাথে কোনো কিছু শরিক করো না, এবং তিনি তোমাদের মূর্তিপূজা করতে নিষেধ করেন, আর সালাত কায়েম করার, সত্যবাদিতা ও চারিত্রিক পবিত্রতা রক্ষার আদেশ দেন... তুমি যা বলছ তা যদি সত্য হয়, তবে অচিরেই তিনি আমার এই দুই পায়ের নিচের স্থানের মালিক হবেন। আমি জানতাম যে তাঁর আবির্ভাব ঘটবে, তবে আমি ভাবিনি যে তিনি..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তায়াররাফ আলাল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১৫)
منكم، فلو أني أعلم أني أخلُص إليه لتجشمتُ لقاءه، ولو كنتُ عنده لغسلتُ عن قدمه". (1)
إن مدعيي النبوة إنما ينتحلونها سعياً وراء الكسب الدنيوي الرخيص، سواء أكان هذا الكسب مالاً يسابقون إلى جمعه ليستمتعوا به أو ليورثوه إلى أهليهم من بعدهم، أم كان جاهاً بين الناس يرفع من قدرهم، فيشار لهم بالبنان، ويوسع لهم في المجالس ....
فهل كان النبي صلى الله عليه وسلم من هذا الصنف أو ذاك؟
إن نظرة سريعة على سمته صلى الله عليه وسلم تكشف لنا ما كان عليه النبي محمد صلى الله عليه وسلم من تواضع وزهد في الدنيا جمعهما النبي صلى الله عليه وسلم، فأوضح خلالهما نبل أخلاقه وطهر سلوكه، بل ودلل على نبوته ورسالته.
ومن زهده صلى الله عليه وسلم أنه: (ما ترك عند موته درهماً ولا ديناراً ولا عبداً ولا أمَة ولا شيئاً؛ إلا بغلتَه البيضاء وسلاحَه، وأرضاً جعلها صدقة). (2)
وهذه الأرض هي أرض فدك التي منعها خليفة النبي صلى الله عليه وسلم أبو بكر الصديق من ورثته، وقال لهم: إن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ((لا نورث، ما تركنا صدقة))، وأضاف الصديق: "لست تاركاً شيئاً كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يعمل به إلا عملت به، فإني أخشى إن تركت شيئاً من أمره أن أزيغ". (3)
إن الذي تركه النبي صلى الله عليه وسلم ليس ميراثاً يغتنون به من بعده، بل دَيْناً يؤدونه من بعده، فقد مات صلى الله عليه وسلم، ودرعه مرهونة عند يهودي على ثلاثين صاعاً من شعير. (4)
لقد كان صلى الله عليه وسلم يحذر أن يغادر الدنيا وقد أخذ منها مغنماً، إذ تذكر زوجته عائشة رضي الله عنها أنه كان في بيتها بعضُ قطعٍ من ذهب، فقال لها رسول الله
--------------------------------------------
...তোমাদের মধ্য থেকে। আমি যদি জানতাম যে আমি তাঁর কাছে পৌঁছাতে পারব, তবে তাঁর সাথে সাক্ষাতের জন্য আমি অবশ্যই চরম কষ্ট বরণ করে নিতাম; আর আমি যদি তাঁর কাছে থাকতাম, তবে অবশ্যই তাঁর পা ধুইয়ে দিতাম।" (১)
নবুওয়তের মিথ্যা দাবিদাররা কেবল পার্থিব সস্তা স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যেই তা করে থাকে; চাই তা সম্পদ সংগ্রহের প্রতিযোগিতা হোক—যা তারা ভোগ করার জন্য বা তাদের পরবর্তী উত্তরসূরিদের জন্য রেখে যাওয়ার জন্য জমা করে, অথবা মানুষের মাঝে মর্যাদা লাভের উদ্দেশ্যে হোক—যাতে তাদের দিকে আঙুল দিয়ে ইশারা করা হয় এবং মজলিসগুলোতে তাদের জন্য স্থান প্রশস্ত করা হয়...
তবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি এই শ্রেণির বা ওই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত ছিলেন?
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্বভাব-চরিত্রের ওপর এক পলক দৃষ্টি দিলেই আমাদের সামনে ফুটে ওঠে যে, নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মধ্যে বিনয় ও দুনিয়াবিমুখতার (زهد) সমন্বয় ঘটিয়েছিলেন। এর মাধ্যমে তিনি তাঁর উন্নত চারিত্রিক মাধুর্য ও আচরণের পবিত্রতা ফুটিয়ে তুলেছেন, বরং এটি তাঁর নবুওয়ত ও রিসালাতের প্রমাণও পেশ করে।
তাঁর দুনিয়াবিমুখতার (زهد) অন্যতম নিদর্শন হলো: (তিনি তাঁর মৃত্যুর সময় কোনো দিরহাম, দিনার, দাস, দাসী বা অন্য কিছু রেখে যাননি; কেবল তাঁর সাদা খচ্চরটি, তাঁর অস্ত্র এবং কিছু জমি রেখে গিয়েছিলেন যা তিনি সদকা (صدقة) হিসেবে দান করে গিয়েছিলেন)। (২)
আর এই জমিটি ছিল ফাদাকের জমি, যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খলিফা আবু বকর সিদ্দিক তাঁর উত্তরাধিকারীদের প্রদান করা থেকে বিরত রেখেছিলেন এবং তাদের বলেছিলেন: নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ((আমাদের কোনো উত্তরাধিকারী রাখা হয় না, আমরা যা রেখে যাই তা সদকা (صدقة))), সিদ্দিক আরও যোগ করেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা আমল করতেন আমি তার কিছুই পরিত্যাগ করব না বরং তা আমল করব। কারণ আমি যদি তাঁর নির্দেশের কোনো কিছু বর্জন করি তবে আমার পথভ্রষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।" (৩)
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা রেখে গিয়েছিলেন তা এমন কোনো মিরাস বা উত্তরাধিকার সম্পদ ছিল না যার মাধ্যমে তাঁর পরবর্তীগণ সম্পদশালী হবে, বরং তা ছিল একটি ঋণ যা তাঁর পরবর্তীতে পরিশোধ করা হয়েছে। এমনকি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ইন্তেকাল করেন, তখন তাঁর বর্মটি ত্রিশ সা' যবের বিনিময়ে জনৈক ইহুদির কাছে বন্ধক রাখা ছিল। (৪)
তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুনিয়া থেকে কোনো পার্থিব সম্পদ লাভ করে বিদায় নিতে অত্যন্ত সতর্ক ছিলেন। তাঁর স্ত্রী আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন যে, তাঁর ঘরে কিছু স্বর্ণের টুকরো ছিল, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তায়াররাফ আলাল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১৬)
- صلى الله عليه وسلم: ((ما فعلتْ الذهبُ .. ما ظن محمد بالله لو لقي الله عز وجل وهذه عنده؟ أنفقيها)). (1)
وليس تعففه صلى الله عليه وسلم عن شهوة الجاه بأقل من تعففه عن شهوة المال، فقد قال له رجل: يا سيدَنا وابنَ سيدِنا، ويا خيرَنا وابنَ خيرِنا. فقال عليه الصلاة والسلام: ((يا أيها الناس عليكم بتقواكم، ولا يستهوينكم الشيطان، أنا محمد بنُ عبدِ الله، عبدُ الله ورسولُه، والله ما أحب أن ترفعوني فوق منزلتي التي أنزلني الله عز وجل). (2)
وكان صلى الله عليه وسلم يمقت كل مظاهر الكِبْر والترفع على الناس، ومنه كراهيته أن يقوم له أصحابُه إذا دخل المجلس، يقول صاحبه أنس بن مالك: (ما كان شخصٌ أحبَّ إليهم من رسول الله صلى الله عليه وسلم، وكانوا إذا رأوه لم يقوموا؛ لِما يعلمون من كراهيته لذلك). (3)
إنه رسول تتلألأ عليه صفات الكمال الإنساني، أتاه رجل فجعلت فرائصُه ترْعَد، فقال له صلى الله عليه وسلم: ((هون عليك، فإني لست بملِكٍ، إنما أنا ابن امرأةٍ تأكل القديد)). (4)
وتحكي زوجه عائشة رضي الله عنها عن حاله داخل بيته، فتكشف لنا أن تواضعه صلى الله عليه وسلم ليس خلقاً يتزين به أمام الناس، بل خَلَّة شريفة لم تفارقه، فقد سُئلت: ما كان صلى الله عليه وسلم يصنع في بيته؟ فقالت: (كان يكون في مهنة أهله - تعني: خدمة أهله - فإذا حضرت الصلاة خرج إلى الصلاة)، وفي رواية: (كان بشراً من البشر، يَفْلي ثوبه، ويحلِب شاته، ويخدِمُ نفسَه). (5)
--------------------------------------------
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: "স্বর্ণগুলোর কী হলো? মুহাম্মাদ মহান আল্লাহর প্রতি কী ধারণা পোষণ করে যদি সে আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করে এমতাবস্থায় যে এগুলো তার নিকট গচ্ছিত আছে? এগুলো ব্যয় (দান) করে দাও।" (১)
পদমর্যাদার মোহের ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর বিমুখতা সম্পদের মোহের ব্যাপারে তাঁর বিমুখতার চেয়ে কোনো অংশে কম ছিল না। জনৈক ব্যক্তি তাঁকে বলেছিল: "হে আমাদের নেতা এবং আমাদের নেতার পুত্র! হে আমাদের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি এবং আমাদের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তির পুত্র!" তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন: "হে লোকসকল! তোমরা তোমাদের তাকওয়া (আল্লাহভীতি) অবলম্বন করো, শয়তান যেন তোমাদের প্রলুব্ধ না করতে পারে। আমি আব্দুল্লাহর পুত্র মুহাম্মাদ; আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আল্লাহর কসম! মহান আল্লাহ আমাকে যে মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছেন তার ঊর্ধ্বে তোমরা আমাকে তুলে ধরো—এটা আমি পছন্দ করি না।" (২)
রাসূলুল্লাহ ﷺ মানুষের মাঝে অহংকার এবং আভিজাত্য প্রদর্শনের সকল রূপকে ঘৃণা করতেন। এর অন্তর্ভুক্ত ছিল মজলিশে তাঁর আগমনে তাঁর সাহাবীদের দাঁড়িয়ে যাওয়া অপছন্দ করা। তাঁর সহচর আনাস বিন মালিক (রা.) বলেন: "রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর চেয়ে অধিক প্রিয় কোনো ব্যক্তি তাঁদের নিকট ছিল না; তাসত্ত্বেও যখন তাঁরা তাঁকে দেখতেন তখন তাঁরা উঠে দাঁড়াতেন না, কারণ তাঁরা জানতেন যে তিনি এটি অপছন্দ করেন।" (৩)
তিনি এমন একজন রাসূল যাঁর মাঝে মানবীয় পূর্ণতার গুণাবলী উজ্জ্বল হয়ে ফুটে উঠত। জনৈক ব্যক্তি তাঁর নিকট এল এবং (ভয়ে) তার কাঁধের মাংসপেশি কাঁপতে লাগল। তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ তাকে বললেন: "শান্ত হও, আমি কোনো রাজা নই; আমি তো কেবল এমন এক মহিলার সন্তান যিনি শুকনো গোশত খেতেন।" (৪)
তাঁর স্ত্রী আয়েশা (রা.) ঘরের ভেতরে তাঁর অবস্থা সম্পর্কে বর্ণনা করেন; যা আমাদের নিকট প্রকাশ করে যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর বিনয় কেবল মানুষের সামনে সুশোভিত হওয়ার কোনো আচরণ ছিল না, বরং এটি ছিল এক মহান চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য যা তাঁর থেকে কখনো বিচ্ছিন্ন হয়নি। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল: রাসূলুল্লাহ ﷺ ঘরে কী করতেন? তিনি বললেন: "তিনি তাঁর পরিবারের খিদমতে (কাজকর্মে) নিয়োজিত থাকতেন। আর যখন নামাজের সময় হতো তখন নামাজের জন্য বেরিয়ে যেতেন।" অন্য বর্ণনায় এসেছে: "তিনি ছিলেন সাধারণ মানুষের মতোই একজন মানুষ; তিনি নিজের কাপড় পরিষ্কার করতেন, বকরির দুধ দোহন করতেন এবং নিজের কাজ নিজেই সম্পন্ন করতেন।" (৫)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তায়াররাফ আলাল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১৭)
وأما صاحبه ابن مسعود، فيحكي عن تناوب النبي صلى الله عليه وسلم على الراحلة - وهو منطلق إلى بدر – مع اثنين من أصحابه، وكانا يودان لو بقي النبي على الراحلة، وأنهما يمشيان عنه، لكنه صلى الله عليه وسلم كان يقول لهما: ((ما أنتما بأقوى مني، وما أنا بأغنى عن الأجر منكُما)). (1)
وهنا نسأل: ماذا أفاده دعواه النبوة من متاع الدنيا؟ أفهكذا يصنع الأدعياء؟!
وإن من دلائل نبوته صلى الله عليه وسلم ما آتاه الله من المعجزات الحسية التي خرق الله فيها لنبيه نواميس الكون إظهاراً لنبوته، وقد فاقت هذه المعجزات في عددها الألف، منها أن الله أطعم ببركته يوم الخندق زهاء ألف رجل من بهيمة واحدة وجِراب فيه صاعٌ من شعير لا يربو وزنه على ثلاث كيلوات. (2)
كما تفجر الماء من بين أصابعه، حتى سقى الله من يديه الجموع الكثيرة من أصحابه. (3)
وشفى الله على يديه المرضى، ومنهم محمد بن حاطب، فقد انكفأ على ذراعه قدر ماء يغلي، فتفل النبي صلى الله عليه وسلم في فيه، ومسح على رأسه، ودعا له، فقام صحيحاً ما به بأس ولا علة (4)، وكذلك مسح على رجل عبد الله بن عتيك الأنصاري لما كُسرت، فقام من بين يديه وقد شفيت. (5)
ومما يشهد بالنبوة لمحمد صلى الله عليه وسلم بشارة الكتب السابقة به، فهذه الكتب رغم ما تعرضت له من تغيير وتبديل؛ فإنها ما تزال تحمل شهادات صادقة تدل على نبوة النبي محمد صلى الله عليه وسلم، ومن ذلك بشارة النبيين موسى وحبقوق به صلى الله عليه وسلم، حين بشرا بنبي قدوس طاهر يخرج من بلاد فاران، ففي سفر التثنية المنسوب إلى موسى عليه السلام أنه قال لبني إسرائيل قبيل وفاته: "جاء الرب من سيناء، وأشرق لهم من
--------------------------------------------
আর তাঁর সঙ্গী ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণিত, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বদর অভিমুখে যাত্রাকালে তাঁর দুইজন সঙ্গীর সাথে পর্যায়ক্রমে উট পরিবর্তনের বিষয়টি বর্ণনা করেন। তাঁরা চেয়েছিলেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সওয়ারিতেই থাকুন এবং তাঁরা তাঁর বদলে পদব্রজে চলুন। কিন্তু তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদের বলতেন: "তোমরা আমার চেয়ে অধিক শক্তিশালী নও, আর আমিও সওয়াবের ব্যাপারে তোমাদের চেয়ে অমুখাপেক্ষী নই।" (১)
আর এখানে আমরা প্রশ্ন করি: নবুওয়াতের দাবির মাধ্যমে তিনি পার্থিব ভোগবিলাসের কী লাভ করেছিলেন? ভণ্ডরা কি এমনটি করে থাকে?
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নবুওয়াতের অন্যতম নিদর্শন হলো মহান আল্লাহ প্রদত্ত ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য মুজিজাসমূহ, যার মাধ্যমে আল্লাহ তাঁর নবীর নবুওয়াতের সত্যতা প্রকাশের উদ্দেশ্যে মহাবিশ্বের প্রাকৃতিক নিয়মাবলিকে পরিবর্তন করে দিয়েছেন। এই মুজিজাসম্মূহের সংখ্যা হাজারের অধিক। তার মধ্যে অন্যতম হলো, খন্দকের যুদ্ধের দিন তাঁর বরকতে মহান আল্লাহ প্রায় এক হাজার মানুষকে একটি পশু এবং একটি চামড়ার থলেতে থাকা এক সা‘ পরিমাণ যব দ্বারা আহার করান, যার ওজন তিন কেজির বেশি ছিল না। (২)
একইভাবে তাঁর আঙুলগুলোর মধ্য থেকে পানির ধারা প্রবাহিত হয়েছিল, এমনকি আল্লাহ তাঁর হাত মুবারক থেকে বিশাল সাহাবী দলকে পানি পান করান। (৩)
এবং আল্লাহ তাঁর হাত মুবারকের মাধ্যমে অসুস্থদের আরোগ্য দান করেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মুহাম্মাদ ইবন হাতিব; তাঁর হাতের ওপর ফুটন্ত পানির পাত্র উল্টে পড়েছিল, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মুখে থুতু মুবারক দিলেন, তাঁর মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন এবং তাঁর জন্য দোয়া করলেন। ফলে তিনি সুস্থ হয়ে উঠলেন এবং তাঁর কোনো কষ্ট বা ব্যাধি অবশিষ্ট থাকল না (৪)। একইভাবে তিনি আবদুল্লাহ ইবন আতিক আনসারীর পায়ে হাত বুলিয়ে দেন যখন তা ভেঙে গিয়েছিল, ফলে তিনি তাঁর সামনেই এমনভাবে উঠে দাঁড়ালেন যেন তিনি আরোগ্য লাভ করেছেন। (৫)
মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নবুওয়াতের সাক্ষ্য প্রদানকারী বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত হলো পূর্ববর্তী কিতাবসমূহে তাঁর সুসংবাদ। এই কিতাবগুলো পরিবর্তন ও পরিমার্জনের শিকার হওয়া সত্ত্বেও এখনও তাতে এমন সত্য সাক্ষ্য বিদ্যমান যা নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নবুওয়াতের প্রতি নির্দেশ করে। এর মধ্যে রয়েছে নবী মূসা ও হাবাক্কুক (আ.)-এর পক্ষ থেকে তাঁর সম্পর্কে সুসংবাদ, যখন তাঁরা ফারাণ ভূমি থেকে একজন পবিত্র ও পুত-পবিত্র নবীর আগমনের সুসংবাদ দিয়েছিলেন। মূসা (আ.)-এর প্রতি সম্বন্ধযুক্ত ‘দ্বিতীয় বিবরণ’ (Deuteronomy) পুস্তকে উল্লিখিত হয়েছে যে, তিনি তাঁর মৃত্যুর পূর্বে বনী ইসরাঈলদের বলেছিলেন: "প্রভু সীনয় থেকে আসলেন এবং তাদের সামনে উদিত হলেন..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তায়াররাফ আলাল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১৮)
سعير، وتلألأ من جبل فاران" (التثنية 33/ 2)، فقد أخبرهم عليه السلام بأنه كما جاءت رسالة الله إليه على جبل الطور في سيناء، فإن النبوة ستشرق من جبل سعير في وسط فلسطين، وذلك بنبوة عيسى عليه السلام، ثم ستتلألأ النبوة من فوق جبل فاران بنبي عظيم يخرج فيها.
وأكد سفر النبي حبقوق البشارةَ بالنبي المبعوث في فاران، فقال: "والقدوس من جبل فاران، جلاله غطى السماوات، والأرض امتلأت من تسبيحه" (حبقوق 3/ 3)، فمن هو هذا العبد الطاهر ذو الهيبة الذي يخرج من فاران، وتمتلئ الأرض من تسبيحه وتسبيح أتباعه؟ وأين هي فاران التي تلألأت النبوة على جبلها؟
وحتى لا نتيه بعيداً نذكر أن اسم فاران تستخدمه التوراة في حديثها عن مكة المكرمة، فقد جاء في سفر التكوين أن إسماعيل عليه السلام نشأ وتربى في برية فاران، يقول السِّفر عن إسماعيل: " كان الله مع الغلام فكبر .. وسكن في برية فاران " (التكوين 21/ 21)، ففاران هي الحجاز التي لا تختلف المصادر التاريخية على نشأة إسماعيل في ربوعها.
وبهذا وأمثاله قامت حجة الله على خلقه في نبوة محمد صلى الله عليه وسلم.
والإقرار بنبوته صلى الله عليه وسلم يستلزم من المسلم الاعتراف باطناً وظاهراً أنه عبد الله ورسوله إلى الناس كافة، والعمل بمقتضى ذلك، بطاعته فيما أمر، وتصديقه فيما أخبر، واجتناب ما نهى عنه وزجر، وألا يُعبد الله إلا بما شرع، {وأرسلناك للناس رسولاً وكفى بالله شهيداً - من يطع الرسول فقد أطاع الله ومن تولى فما أرسلناك عليهم حفيظاً} (النساء: 79 - 80)، وقال تعالى: {يا أيها الذين آمنوا أطيعوا الله وأطيعوا الرسول وأولي الأمر منكم فإن تنازعتم في شيءٍ فردوه إلى الله والرسول إن كنتم تؤمنون بالله واليوم الآخر ذلك خيرٌ وأحسن تأويلاً} (النساء: 59).
ومن مقتضيات الإيمان به صلى الله عليه وسلم التأسي بهديه وسلوكه وأخلاقه صلى الله عليه وسلم {لقد كان لكم في رسول الله أسوةٌ حسنةٌ لمن كان يرجو الله واليوم الآخر وذكر الله كثيراً} (الأحزاب: 21).
"সেইর এবং পারান পর্বত থেকে দীপ্তি বিকিরণ করেছে" (দ্বিতীয় বিবরণ ৩৩/২)। তিনি (আলাইহিস সালাম) তাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, যেভাবে সিনাইয়ের তুর পাহাড়ে তাঁর কাছে আল্লাহর রিসালাত এসেছিল, ঠিক সেভাবে ফিলিস্তিনের মধ্যস্থলে অবস্থিত সেইর পর্বত থেকে নবুয়ত উদিত হবে—যা ছিল ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর নবুয়ত। অতঃপর পারান পর্বত থেকে এক মহান নবীর আগমনের মাধ্যমে নবুয়ত দীপ্তি ছড়াবে যিনি সেখান থেকে আবির্ভূত হবেন।
নবী হাবাক্কুক-এর পুস্তক পারান থেকে প্রেরিত নবীর সুসংবাদকে নিশ্চিত করে বলেছে: "এবং পবিত্র সত্তা পারান পর্বত থেকে আসবেন, তাঁর মহিমা আসমানসমূহকে ঢেকে দিয়েছে এবং পৃথিবী তাঁর প্রশংসাগানে পূর্ণ হয়েছে" (হাবাক্কুক ৩/৩)। তাহলে পারান থেকে আবির্ভূত হওয়া এই পবিত্র ও মহিমান্বিত বান্দা কে, যাঁর প্রতাপ আকাশ ছুঁয়েছে, আর পৃথিবী যাঁর তাসবিহ এবং যাঁর অনুসারীদের তাসবিহতে পূর্ণ হয়ে যাবে? আর সেই পারান কোথায়, যার পাহাড়ে নবুয়ত দীপ্তিমান হয়েছিল?
আমরা যাতে বিভ্রান্ত না হই সেজন্য উল্লেখ করছি যে, তওরাত মক্কা মুকাররমার বর্ণনায় 'পারান' নামটি ব্যবহার করেছে। আদিপুস্তকে এসেছে যে, ইসমাইল (আলাইহিস সালাম) পারান মরুভূমিতে লালিত-পালিত ও বড় হয়েছেন। ইসমাইল সম্পর্কে সেই পুস্তকটি বলছে: "আল্লাহ সেই বালকের সাথে ছিলেন, ফলে সে বড় হলো... এবং সে পারান মরুভূমিতে বসবাস করল" (আদিপুস্তক ২১/২১)। সুতরাং পারান হলো হিজাজ, যেখানে ইসমাইলের বেড়ে ওঠার ব্যাপারে ঐতিহাসিক উৎসগুলোতে কোনো দ্বিমত নেই।
এর মাধ্যমে এবং এই জাতীয় প্রমাণাদির দ্বারা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নবুয়তের সপক্ষে সৃষ্টির ওপর আল্লাহর প্রমাণ (حجة) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নবুয়তকে স্বীকার করে নেওয়ার দাবি হলো একজন মুসলিমের জন্য অন্তরে ও প্রকাশ্যে এই স্বীকৃতি দেওয়া যে, তিনি সমগ্র মানবজাতির প্রতি আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল এবং সেই অনুযায়ী আমল করা; অর্থাৎ তিনি যা নির্দেশ দিয়েছেন তাতে তাঁর আনুগত্য করা, তিনি যা সংবাদ দিয়েছেন তা সত্য বলে বিশ্বাস করা, আর যা কিছু তিনি নিষেধ ও বারণ করেছেন তা বর্জন করা। আর আল্লাহ তাআলার ইবাদত কেবল সেই বিধান অনুযায়ী করা যা তিনি প্রবর্তন করেছেন। "আমি আপনাকে মানুষের জন্য রাসূল হিসেবে প্রেরণ করেছি এবং সাক্ষী হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট। যে ব্যক্তি রাসূলের আনুগত্য করল, সে মূলত আল্লাহরই আনুগত্য করল; আর যারা মুখ ফিরিয়ে নিল, আমি আপনাকে তাদের ওপর রক্ষক হিসেবে পাঠাইনি" (আন-নিসা: ৭৯-৮০)। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: "হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসূলের আনুগত্য করো আর তোমাদের মধ্যকার উলুল আমরের (কর্তৃত্বশীলদের)। যদি কোনো বিষয়ে তোমাদের মধ্যে মতভেদ সৃষ্টি হয়, তাহলে তা আল্লাহ ও রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও, যদি তোমরা আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান রাখো। এটিই উত্তম এবং পরিণামে অতি উৎকৃষ্ট" (আন-নিসা: ৫৯)।
তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রতি ঈমান আনার অন্যতম আবশ্যকতা হলো তাঁর প্রদর্শিত পথ, আচরণ ও চরিত্রের অনুসরণ করা। "তোমাদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও শেষ দিবসের আশা রাখে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে, তাদের জন্য রাসূলুল্লাহর মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ" (আল-আহযাব: ২১)।
(খণ্ড: ১)
তায়াররাফ আলাল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১৯)
الركن الثاني: إقام الصلاةالصلاة هي الركن الثاني من أركان الإسلام، وهي عمود الدين وركنه الركين.
وقد فرضها الله عز وجل على المسلمين، ومنها ما شرع وجوباً، وهو الصلوات الخمس، فهي أول حق الله على عباده، ومنها ما يؤديه المسلم تطوعاً وتحبباً إلى الله الذي خلقه وأنعم عليه بآلائه التي لا تحصى.
والصلاة لما لها من الأثر العظيم البالغ في تهذيب النفوس وتقويم السلوك وفي تقوية الإيمان؛ فرضها الله على الأنبياء والأمم السابقة، فلم تخل منها شريعة من الشرائع، وقد حكى القرآن وصاة الله بها لأنبيائه وأقوامهم، فقد دعا إبراهيم أبو الأنبياء ربه فقال: {ربّ اجعلني مقيم الصّلاة ومن ذرّيتي} (إبراهيم:40)، فاستجاب الله دعاءه فكان ابنه إسماعيل من المصلين {وكان يأمر أهله بالصّلاة والزّكاة وكان عند ربّه مرضيّاً} (مريم: 55).
ومن بعدهما خاطب الله نبيه موسى عليه السلام فقال: {إنّني أنا الله لا إله إلا أنا فاعبدني وأقم الصّلاة لذكري} (طه: 14)، وأوصى العذراء البتول بالصلاة فقال: {يا مريم اقنتي لربّك واسجدي واركعي مع الركعين} (آل عمران: 42)، وبيَّن المسيح عليه السلام أمر الله تعالى له بالصلاة، فقال وهو في المهد: {إني عبد الله آتاني الكتاب وجعلني نبياً - وجعلني مباركاً أين ما كنت وأوصاني بالصّلاة والزّكاة ما دمت حيّاً} (مريم: 30 - 31).
وأخذ الله الميثاق على بني إسرائيل أن يحافظوا على الصلاة {وإذ أخذنا ميثاق بني إسرائيل لا تعبدون إلاّ الله وبالوالدين إحساناً وذي القربى واليتامى والمساكين وقولوا للنّاس حسناً وأقيموا الصّلاة وآتوا الزّكاة} (البقرة: 83).
ومن بعدهم جاء نبينا صلى الله عليه وسلم يدعو إلى ما دعا إليه إخوانه الأنبياء من تعظيم الله وعبادته والصلاة له، وقد أمره الله بها، فقال: {وأمُر أهلك بالصّلاة واصطبر عليها} (طه: 132)، وامتدح الله في وحيه إليه عباده المصلين فقال: {الّذين يقيمون
দ্বিতীয় রুকন (ركن): সালাত কায়েম করাসালাত হলো ইসলামের রুকনসমূহের মধ্যে দ্বিতীয় রুকন (ركن), আর এটি দ্বীনের স্তম্ভ এবং এর সুদৃঢ় ভিত্তি।
মহান আল্লাহ মুসলিমদের ওপর এটি ফরজ করেছেন। এর মধ্যে কিছু সালাত বাধ্যতামূলক (واجب) হিসেবে বিধান করা হয়েছে, আর তা হলো পাঁচ ওয়াক্ত সালাত; যা বান্দার ওপর আল্লাহর প্রথম হক। আর কিছু সালাত এমন রয়েছে যা একজন মুসলিম ঐচ্ছিক (تطوع) এবং মহান আল্লাহর প্রতি ভালোবাসার নিদর্শনস্বরূপ আদায় করে, যিনি তাকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁর অগণিত নেয়ামত দ্বারা তাকে ধন্য করেছেন।
সালাত যেহেতু আত্মশুদ্ধি, আচরণের সংশোধন এবং ঈমান বৃদ্ধিতে অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী ও মহান প্রভাব রাখে, তাই আল্লাহ তা পূর্ববর্তী নবীগণ এবং উম্মতদের ওপরও ফরজ করেছিলেন। ফলে কোনো শরীয়ত (شريعة) এ থেকে মুক্ত ছিল না। কুরআন মজিদ আল্লাহ কর্তৃক তাঁর নবীগণ ও তাঁদের কওমের প্রতি সালাত সম্পর্কে প্রদত্ত নির্দেশের কথা উল্লেখ করেছে। নবীদের পিতা ইব্রাহিম তাঁর রবের কাছে প্রার্থনা করে বলেছিলেন: "হে আমার রব! আমাকে সালাত কায়েমকারী করুন এবং আমার বংশধরদের মধ্য থেকেও।" (ইব্রাহিম: ৪০)। আল্লাহ তাঁর দোয়া কবুল করেছিলেন, ফলে তাঁর পুত্র ইসমাইল মুসল্লিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন: "আর তিনি তাঁর পরিবারবর্গকে সালাত ও জাকাতের আদেশ দিতেন এবং তিনি তাঁর রবের কাছে অত্যন্ত পছন্দনীয় ছিলেন।" (মারইয়াম: ৫৫)।
তাঁদের পরবর্তীকালে আল্লাহ তাঁর নবী মুসা আলাইহিস সালামকে সম্বোধন করে বলেছিলেন: "নিশ্চয়ই আমিই আল্লাহ, আমি ছাড়া কোনো মাবুদ নেই; অতএব আমার ইবাদত করো এবং আমার স্মরণে সালাত কায়েম করো।" (ত্বহা: ১৪)। আর তিনি কুমারী মারইয়ামকে সালাতের নির্দেশ দিয়ে বলেছিলেন: "হে মারইয়াম! তোমার রবের আনুগত্য করো এবং সিজদা করো ও রুকুকারীদের সাথে রুকু করো।" (আল-ইমরান: ৪২)। ঈসা আলাইহিস সালামের প্রতি আল্লাহর সালাতের নির্দেশের কথা বর্ণনা করে তিনি দোলনায় থাকা অবস্থাতেই বলেছিলেন: "নিশ্চয়ই আমি আল্লাহর বান্দা, তিনি আমাকে কিতাব দিয়েছেন এবং আমাকে নবী করেছেন। আর যেখানেই আমি থাকি না কেন তিনি আমাকে বরকতময় করেছেন এবং আমৃত্যু আমাকে সালাত ও জাকাতের নির্দেশ দিয়েছেন।" (মারইয়াম: ৩০-৩১)।
আল্লাহ বনী ইসরাঈলের কাছ থেকেও অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলেন যেন তারা সালাতের প্রতি যত্নশীল হয়: "এবং যখন আমি বনী ইসরাঈলের অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলাম যে, তোমরা আল্লাহ ছাড়া আর কারো ইবাদত করবে না এবং পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজন, এতিম ও মিসকিনদের সাথে সদাচরণ করবে এবং মানুষের সাথে উত্তম কথা বলবে এবং সালাত কায়েম করবে ও জাকাত প্রদান করবে।" (আল-বাকারা: ৮৩)।
তাঁদের পরবর্তীকালে আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আগমন করেন এবং তিনি তাঁর ভ্রাতৃপ্রতিম নবীগণ যা কিছুর দাওয়াত দিয়েছিলেন, অর্থাৎ আল্লাহর মহিমা কীর্তন, তাঁর ইবাদত এবং তাঁর জন্য সালাত আদায় করা—সেই একই দাওয়াত প্রদান করেন। আল্লাহ তাঁকে সালাতের নির্দেশ দিয়ে বলেছেন: "আর আপনি আপনার পরিবারবর্গকে সালাতের আদেশ দিন এবং এর ওপর অবিচল থাকুন।" (ত্বহা: ১৩২)। আল্লাহ তাঁর প্রতি প্রেরিত ওহি (وحي)-তে তাঁর সালাত আদায়কারী বান্দাদের প্রশংসা করে বলেছেন: "যারা কায়েম করে...
(খণ্ড: ১)
তায়াররাফ আলাল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২০)
الصّلاة ويؤتون الزّكاة وهم بالآخرة هم يوقنون - أولئك على هدًى من ربهم وأولئك هم المفلحون} (لقمان: 4 - 5)، ووعدهم بالجنة جزاء عليها: {والذين هم على صلواتهم يحافظون - أولئك هم الوارثون - الّذين يرثون الفردوس هم فيها خالدون} (المؤمنون: 9 - 11).
وما زال النبي صلى الله عليه وسلم يوصي بالصلاة لله وعبادته حتى فاضت روحه إلى باريها، يقول خادمه وصاحبه أنس: كان آخر وصية رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو يُغرغر بها في صدره، وما كان يفيض بها لسانه: ((الصلاة الصلاة، اتقوا الله فيما ملكت أيمانكم)). (1)
وحين شرع الله الصلاة وغيرها من العبادات؛ فإنه تبارك وتعالى لم يكن يستكثر بها من قلة، ولا يستقوِ بها من ضعف، فهو عز وجل لا تزيده طاعة الطائعين، ولا تنقصه معصية العاصين، وإنما شرعها لمنفعة العباد وتزكية أنفسهم وتهذيب ضمائرهم وتقويم سلوكهم وصلاح دنياهم وأخراهم.
وأول ما تحققه الصلاة في المؤمن أنها تنير حياته وتؤنسها بذكر الله، فقد وصفها النبي صلى الله عليه وسلم بأنها نور، فقال: ((من حافظ عليها كانت له نوراً وبرهاناً ونجاةً يوم القيامة)). (2)
وقال: ((والصلاة نور، والصدقة برهان، والصبر ضياء)). (3)
وقوله صلى الله عليه وسلم: ((والصلاة نور)) معناه: أنها تمنع المصلي من المعاصي، وتنهاه عن الفحشاء والمنكر، وتهديه إلى الصواب كما النور الذي يستضاء به.
فأما اجتناب المسلم للكبائر من الذنوب والفواحش، فسببه أن الصلاة تذكره - فينة بعد فينة -بحق الله عليه وبمراقبته له، فيرعوي وينزجر عن محارمه،
--------------------------------------------
{যারা সালাত কায়েম করে এবং জাকাত প্রদান করে আর তারা আখিরাত সম্পর্কে নিশ্চিত বিশ্বাস রাখে - এরাই তাদের রবের পক্ষ থেকে হিদায়াতের ওপর প্রতিষ্ঠিত এবং এরাই সফলকাম} (লুকমান: ৪ - ৫), এবং তাদের এর প্রতিদানস্বরূপ জান্নাতের ওয়াদা করেছেন: {আর যারা তাদের সালাতসমূহের হিফাজত করে - তারাই হবে উত্তরাধিকারী - যারা উত্তরাধিকার হিসেবে ফিরদাউস লাভ করবে, সেখানে তারা চিরস্থায়ী হবে} (আল-মুমিনুন: ৯ - ১১)।
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মহান আল্লাহর জন্য সালাত আদায় এবং তাঁর ইবাদত করার অসিয়ত শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত করতে থাকেন যতক্ষণ না তাঁর রুহ তাঁর স্রষ্টার সান্নিধ্যে পাড়ি জমায়। তাঁর খাদেম ও সাহাবী আনাস (রা.) বলেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর শেষ অসিয়ত যখন তাঁর কণ্ঠনালীতে প্রাণ উথলে উঠছিল এবং তাঁর জিহ্বা দিয়ে তা উচ্চারিত হচ্ছিল না, তখন তিনি বলছিলেন: ((সালাত, সালাত; আর তোমাদের অধীনস্থদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো))। (১)
যখন আল্লাহ সালাত ও অন্যান্য ইবাদত বিধিবদ্ধ করেছেন; তখন তিনি বরকতময় ও সুউচ্চ সত্তা হিসেবে কোনো স্বল্পতা থেকে সংখ্যাবৃদ্ধির জন্য বা কোনো দুর্বলতা থেকে শক্তি সঞ্চয়ের জন্য তা করেননি। কেননা তিনি অত্যন্ত পরাক্রমশালী ও মর্যাদাবান, আনুগত্যকারীদের আনুগত্য তাঁর মহিমা বৃদ্ধি করে না এবং অবাধ্যদের অবাধ্যতা তাঁর কোনো কমতি করে না। বরং তিনি এটি বিধিবদ্ধ করেছেন বান্দাদের উপকারের জন্য, তাদের নফসকে পরিশুদ্ধ করার জন্য, তাদের বিবেককে মার্জিত করার জন্য, তাদের আচরণ সংশোধন করার জন্য এবং তাদের ইহকাল ও পরকাল সংশোধন করার জন্য।
মুমিনের জীবনে সালাত সর্বপ্রথম যা অর্জন করে তা হলো, এটি তার জীবনকে আলোকিত করে এবং আল্লাহর স্মরণে তাকে প্রশান্তি দান করে। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একে 'নূর' বা আলো হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: ((যে ব্যক্তি এর হিফাজত করবে, তা কিয়ামতের দিন তার জন্য নূর, দলিল ও নাজাতের কারণ হবে))। (২)
তিনি আরও বলেন: ((সালাত হলো নূর, সদকা হলো দলিল এবং ধৈর্য হলো আলোকবর্তিকা))। (৩)
তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বাণী: ((সালাত হলো নূর)) এর অর্থ হলো: এটি সালাত আদায়কারীকে পাপাচার থেকে বিরত রাখে, তাকে অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে বাধা প্রদান করে এবং তাকে সঠিক পথের দিশা দেয় যেমনটি আলো দ্বারা মানুষ পথ খুঁজে পায়।
আর মুসলমানের কবিরা গুনাহ ও অশ্লীল কাজ পরিহার করার কারণ হলো, সালাত তাকে ক্ষণে ক্ষণে তার ওপর আল্লাহর হক এবং তাঁর পর্যবেক্ষণের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়, ফলে সে আল্লাহর নিষিদ্ধ কাজগুলো থেকে নিবৃত্ত হয় এবং বিরত থাকে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তায়াররাফ আলাল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২১)
قال تعالى: {اتل ما أوحي إليك من الكتاب وأقم الصلاة إن الصلاة تنهى عن الفحشاء والمنكر ولذكر الله أكبر والله يعلم ما تصنعون} (العنكبوت: 45).
ولما أُخبر النبي صلى الله عليه وسلم عن رجل يصلي بالليل، فإذا أصبح سرق؛ قال عليه الصلاة والسلام: ((إنه سينهاه ما يقول)). (1) أي في صلاته ما سيزجره ويقوِّم سلوكه.
وكما تبعد الصلاة المؤمن عن الكبائر والفواحش؛ فإنها سبب في مغفرة الله للصغائر من الذنوب التي يلم بها المرء عامداً أو جاهلاً، فيعود بصلاته قريباً من الله العفو الكريم، لأن الصلاة صلة بين العبد وربه، فقد كان صلى الله عليه وسلم يقول: ((الصلوات الخمس، والجمعة إلى الجمعة، ورمضان إلى رمضان مكفراتٌ ما بينهنَّ؛ إذا اجتنب الكبائر)). (2)
وفي حديث آخر سأل النبي صلى الله عليه وسلم أصحابه: ((أرأيتم لو أن نهراً بباب أحدكم يغتسل منه كل يومٍ خمس مرات هل يبقى من درنه شيء؟)) فقالوا: لا يبقى من درنه شيء، فقال صلى الله عليه وسلم: ((فذلك مثلُ الصلوات الخمس يمحو الله بهن الخطايا)). (3)
والصلاة فرصة للمسلم للاستجمام من أتعاب الدنيا، فالمسلم حين يقوم للصلاة يناجي ربه ومولاه؛ يطمئن قلبه بهذه الصلة مع ربه {الذين آمنوا وتطمئن قلوبهم بذكر الله ألا بذكر الله تطمئن القلوب} (الرعد: 28)، لذلك كان صلى الله عليه وسلم يقول لمؤذنه بلال: ((يا بلال أرحنا بالصلاة)). (4) وكان يفزع إليها كلما حزبه أمر، ويقول: ((جعلت قرة عيني في الصلاة)). (5)
وأخيراً؛ فلأهمية هذه العبادة سماها النبي صلى الله عليه وسلم عمود الدين، وأخبر أنها أول ما يحاسب الله الناس عليه يوم القيامة، فقال: ((إنّ أول ما يُحاسبُ به العبدُ يوم
--------------------------------------------
আল্লাহ তাআলা বলেন: {আপনার প্রতি কিতাবের যা ওহী করা হয়েছে তা পাঠ করুন এবং সালাত কায়েম করুন। নিশ্চয়ই সালাত অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে। আর আল্লাহর স্মরণই সর্বশ্রেষ্ঠ। তোমরা যা করো আল্লাহ তা জানেন} (আল-আনকাবুত: ৪৫)।
যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জানানো হলো যে রাতে সালাত আদায় করে, কিন্তু ভোর হলে চুরি করে; তখন তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "নিশ্চয়ই সে যা বলে (সালাতে যা পাঠ করে) তা অচিরেই তাকে বিরত রাখবে।" (১) অর্থাৎ তার সালাতে এমন কিছু রয়েছে যা তাকে পাপাচার থেকে বাধা দেবে এবং তার আচরণ সংশোধন করবে।
আর সালাত যেভাবে মুমিনকে বড় পাপ (الكبائر) এবং অশ্লীল কাজ থেকে দূরে রাখে; তেমনি এটি মানুষের ইচ্ছাকৃত বা অজ্ঞতাবশত করা ছোট পাপ (الصغائر) সমূহের জন্য আল্লাহর ক্ষমার সোপান। ফলে সে তার সালাতের মাধ্যমে পরম ক্ষমাশীল ও দয়ালু আল্লাহর নৈকট্য লাভ করে, কারণ সালাত হলো বান্দা ও তার রবের মধ্যে একটি সুদৃঢ় সংযোগ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন: "পাঁচ ওয়াক্ত সালাত, এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা এবং এক রমজান থেকে পরবর্তী রমজান—এদের মধ্যবর্তী সময়ের পাপসমূহের মোচনকারী; যখন বড় পাপ (الكبائر) থেকে বেঁচে থাকা হয়।" (২)
অন্য এক হাদিসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের জিজ্ঞেস করলেন: "তোমরা কী মনে করো, যদি তোমাদের কারো দরজায় একটি নদী থাকে এবং সে তাতে প্রতিদিন পাঁচবার গোসল করে, তবে কি তার শরীরে কোনো ময়লা অবশিষ্ট থাকবে?" তাঁরা বললেন: তার শরীরে কোনো ময়লাই অবশিষ্ট থাকবে না। তখন তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "এটাই হলো পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের উদাহরণ, যার মাধ্যমে আল্লাহ পাপসমূহ মিটিয়ে দেন।" (৩)
আর সালাত হলো মুসলিমের জন্য দুনিয়াবি ক্লান্তি থেকে প্রশান্তি লাভের এক সুযোগ। কেননা মুসলিম যখন সালাতে দাঁড়ায়, সে তার রব ও মওলার সাথে নিভৃতে কথা বলে; রবের সাথে এই সংযোগের মাধ্যমে তার হৃদয় প্রশান্ত হয় {যারা ঈমান এনেছে এবং আল্লাহর স্মরণে যাদের চিত্ত প্রশান্ত হয়; জেনে রেখো, আল্লাহর স্মরণেই কেবল চিত্ত প্রশান্ত হয়} (আর-রাদ: ২৮)। এই কারণেই তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মুয়াজ্জিন বিলালকে বলতেন: "হে বিলাল! সালাতের মাধ্যমে আমাদের প্রশান্তি দাও।" (৪) আর যখনই তিনি কোনো কঠিন সমস্যার সম্মুখীন হতেন, তখন সালাতের দিকে ধাবিত হতেন এবং বলতেন: "সালাতেই আমার চোখের শীতলতা রাখা হয়েছে।" (৫)
পরিশেষে; এই ইবাদতের গুরুত্বের কারণেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একে দ্বীনের স্তম্ভ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং জানিয়েছেন যে কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা মানুষের আমলের মধ্যে সর্বপ্রথম যেটির হিসাব নেবেন তা হলো সালাত। তিনি বলেছেন: "নিশ্চয়ই কিয়ামতের দিন বান্দার আমলের মধ্যে সর্বপ্রথম যেটির হিসাব নেওয়া হবে তা হলো...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তায়াররাফ আলাল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২২)
القيامة من عمله صلاته، فإن صلحت فقد أفلح وأنجح، وإن فسدت فقد خاب وخسر)). (1)
الركن الثالث: إيتاء الزكاةيتقلب الناس في هذه الدنيا في نعم الله التي آتاهم، ويستمتعون فيها بما منحهم الله من المال والسعة واليسار الذي به تزدان الحياة وتزهو.
وحتى يسعد الجميع في أرض الله؛ فإن الله جعل النصيب الأوفر من رزقه لبعض الناس ابتلاء واختباراً، وأوجب لإخوانهم من الفقراء والمساكين وغيرهم حقاً معلوماً في أموال الأغنياء التي آتاهم الله إياها {وآتوهم من مال الله الذي آتاكم} (النور: 33)، وهذا الحق المعلوم هو الزكاة، وهي الركن الثالث من أركان الإسلام.
وما يدفعه المسلم من ماله فإنما هو طهرة له من ذنوبه وآثامه، وهو سبب في تزكية نفسه وسموها في معارج الطاعة {خذ من أموالهم صدقة تطهرهم وتزكيهم بها} (التوبة: 103).
وأما الامتناع عن أداء الزكاة فهو خيانة لحق الفقير، يتوعد الله فاعله بأليم العذاب: {والذين يكنزون الذهب والفضة ولا ينفقونها في سبيل الله فبشرهم بعذابٍ أليمٍ - يوم يحمى عليها في نار جهنم فتكوى بها جباههم وجنوبهم وظهورهم هذا ما كنزتم لأنفسكم فذوقوا ما كنتم تكنزون} (التوبة: 34 - 35).
وفي الحديث أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((ما من صاحب كنز لا يؤدي زكاته إلا أحمي عليه في نار جهنم، فيجعل صفائح، فيكوى بها جنباه وجبينه حتى يحكم الله بين عباده في يوم كان مقداره خمسين ألف سنة، ثم يرى سبيله، إما إلى الجنة، وإما إلى النار)). (2)
--------------------------------------------
কিয়ামতের দিন তার আমলসমূহের মধ্য থেকে [সর্বপ্রথম] সালাতের হিসাব নেওয়া হবে। যদি তা সঠিক হয় তবে সে সফলকাম ও কামিয়াব হবে, আর যদি তা ত্রুটিপূর্ণ হয় তবে সে ব্যর্থ ও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। (১)
তৃতীয় রুকন: জাকাত প্রদান করামানুষ এই দুনিয়াতে আল্লাহর দেওয়া নিয়ামতসমূহের মধ্যে বিচরণ করে এবং আল্লাহ তাকে যে ধন-সম্পদ, সচ্ছলতা ও প্রাচুর্য দান করেছেন তা ভোগ করে, যা দ্বারা জীবন সুশোভিত ও প্রদীপ্ত হয়।
আর আল্লাহর যমীনে যেন সবাই সুখে থাকতে পারে, সেজন্য আল্লাহ তাঁর রিজিকের বড় একটি অংশ কিছু মানুষের জন্য পরীক্ষা ও যাচাইস্বরূপ নির্ধারণ করেছেন। এবং তাদের দরিদ্র ও মিসকিন ভাইদের জন্য ধনীদের সেই সম্পদে একটি সুনির্দিষ্ট হক বা অধিকার আবশ্যক করেছেন যা আল্লাহ তাদের দান করেছেন: {আর আল্লাহ তোমাদেরকে যে সম্পদ দিয়েছেন, তা থেকে তোমরা তাদেরকে দান করো} (আন-নূর: ৩৩)। আর এই সুনির্দিষ্ট হকই হলো জাকাত, যা ইসলামের রুকনসমূহের মধ্যে তৃতীয় রুকন।
একজন মুসলিম তার সম্পদ থেকে যা প্রদান করে, তা মূলত তার পাপ ও গুনাহ থেকে পবিত্র হওয়ার মাধ্যম। আর এটি তার আত্মশুদ্ধি এবং আনুগত্যের সোপানে উচ্চ শিখরে আরোহণের কারণ: {তাদের সম্পদ থেকে সদকা গ্রহণ করুন, যার মাধ্যমে আপনি তাদেরকে পবিত্র করবেন এবং পরিশুদ্ধ করবেন} (আত-তাওবাহ: ১০৩)।
আর জাকাত প্রদানে বিরত থাকা হলো দরিদ্রের হকের প্রতি খেয়ানত। আল্লাহ তাআলা এই কাজ সম্পাদনকারীকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন: {আর যারা সোনা ও রূপা পুঞ্জীভূত করে এবং তা আল্লাহর পথে ব্যয় করে না, তাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির সুসংবাদ দাও। যেদিন জাহান্নামের আগুনে তা উত্তপ্ত করা হবে, অতঃপর তা দিয়ে তাদের কপাল, পার্শ্বদেশ ও পিঠে দাগ দেওয়া হবে। (বলা হবে) এটিই তা, যা তোমরা নিজেদের জন্য জমা করে রেখেছিলে। সুতরাং তোমরা যা জমা করতে, তার স্বাদ আস্বাদন করো} (আত-তাওবাহ: ৩৪-৩৫)।
হাদিসে এসেছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ((যে কোনো সম্পদের মালিক তার জাকাত আদায় করে না, তার সেই সম্পদকে জাহান্নামের আগুনে উত্তপ্ত করা হবে এবং তা ধাতব পাত বা তক্তা বানানো হবে। অতঃপর তা দিয়ে তার পার্শ্বদেশ ও কপালে দাগ দেওয়া হবে। যতক্ষণ না আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মধ্যে বিচার সম্পন্ন করেন এমন এক দিনে, যার পরিমাণ হবে পঞ্চাশ হাজার বছর। এরপর সে তার পথ দেখতে পাবে, হয় জান্নাতের দিকে অথবা জাহান্নামের দিকে))। (২)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তায়াররাফ আলাল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وكما أوجب الله هذا الحق؛ فإنه بيَّن أنصبته ومقاديره والأموال التي يجب فيها، ولم يترك الأمر إلى أذواق الأغنياء وسعة إحسانهم {والذين في أموالهم حق معلوم - للسائل والمحروم} (المعارج: 24 - 25).
وقد راعى الإسلام في مقدار الزكاة مصلحة الغني والفقير، فالغني إنما يدفع 2.5% فقط من أمواله النقدية وتجاراته التي مر عليها عام وهي في حوزه، أي هي مما زاد عن حاجاته ومصروفاته، فهذا هو الحق المعلوم، وأما ما عداه فهو الصدقات غير الواجبة التي يستبق بها المسلمون إلى محبة الله وعظيم رضوانه.
وأما الأموال التي أوجب الله فيها الزكاة فهي الذهب والفضة وما يقابلهما من النقود والأسهم والتجارات، وكذلك ما يعطيه الله للمسلم من زروع وثمار وأنعام {يا أيها الذين آمنوا أنفقوا من طيبات ما كسبتم ومما أخرجنا لكم من الأرض} (البقرة: 267).
وأما المستحقون لأخذ الزكاة فهم أصناف ثمانية، جمعتهم الآية القرآنية: {إنما الصدقات للفقراء والمساكين والعاملين عليها والمؤلفة قلوبهم وفي الرقاب والغارمين وفي سبيل الله وابن السبيل فريضةً من الله والله عليمٌ حكيمٌ} (التوبة: 60).
وأداء الزكاة ينبغي أن يصان بضوابط أخلاقية عالية تجعل من هذا الإنفاق عبادة سامية لله لا يخالطها كِبر ولا استعلاء ولا مِنَّة على الفقير، فقد وصف الله المؤمنين بقوله: {الذين ينفقون أموالهم في سبيل الله ثم لا يتبعون ما أنفقوا مناً ولا أذًى لهم أجرهم عند ربهم ولا خوفٌ عليهم ولا هم يحزنون - قولٌ معروفٌ ومغفرةٌ خيرٌ من صدقةٍ يتبعها أذًى والله غني حليمٌ} (البقرة: 262 - 263).
والمسلم يقصد بصدقاته وزكاته مرضات الله وجميل ثوابه، وأما المنفق للسمعة والمفاخرة فإن نفقته مردودة عليه، لا بل هو متوعد بالعذاب في الآخرة، ففي الحديث عن النبي صلى الله عليه وسلم أن أول من تسعر بهم النار يوم القيامة ثلاثة، فذكر منهم
আল্লাহ যেভাবে এই অধিকারটি (যাকাত) বাধ্যতামূলক করেছেন, তেমনি তিনি এর নিসাব ও পরিমাণ এবং যে সব সম্পদে এটি আবশ্যক হবে তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন। তিনি এ বিষয়টি ধনীদের রুচি বা তাদের মহানুভবতার ওপর ছেড়ে দেননি। {আর যাদের ধন-সম্পদে নির্ধারিত অধিকার রয়েছে— সাহায্যপ্রার্থী ও বঞ্চিতদের জন্য} (আল-মা'আরিজ: ২৪-২৫)।
ইসলাম যাকাতের পরিমাণের ক্ষেত্রে ধনী ও দরিদ্র উভয়ের কল্যাণের প্রতি লক্ষ্য রেখেছে। ধনী ব্যক্তি তার নগদ অর্থ ও ব্যবসায়িক সম্পদের মাত্র ২.৫% প্রদান করবে যা এক বছর পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত তার অধিকারে ছিল; অর্থাৎ যা তার মৌলিক প্রয়োজন ও ব্যয়ের অতিরিক্ত। এটাই সেই সুনির্দিষ্ট অধিকার। আর এর অতিরিক্ত যা কিছু রয়েছে তা হলো নফল দান, যার মাধ্যমে মুসলিমরা আল্লাহর ভালোবাসা ও সুমহান সন্তুষ্টি অর্জনে প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হয়।
আর যেসব সম্পদে আল্লাহ যাকাত ফরজ করেছেন তা হলো সোনা, রুপা এবং এগুলোর সমতুল্য নগদ অর্থ, শেয়ার ও ব্যবসা। অনুরূপভাবে আল্লাহ মুসলিমকে যা দান করেছেন— যেমন শস্য, ফলমূল ও গবাদিপশু। {হে ঈমানদারগণ! তোমরা যা উপার্জন করেছ এবং আমি তোমাদের জন্য ভূমি থেকে যা উৎপন্ন করেছি, তা থেকে পবিত্র বস্তুসমূহ ব্যয় করো} (আল-বাকারাহ: ২৬৭)।
যাকাত গ্রহণের উপযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন আট শ্রেণির, যাদের কথা কুরআনের আয়াতে একত্রিত করা হয়েছে: {সদকা তো কেবল অভাবগ্রস্ত, নিঃস্ব, যাকাত সংশ্লিষ্ট কাজে নিয়োজিত কর্মচারী, যাদের চিত্ত আকর্ষণ করা প্রয়োজন, দাসমুক্তি, ঋণগ্রস্ত, আল্লাহর পথে এবং মুসাফিরদের জন্য। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে এক নির্ধারিত বিধান; আর আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়} (আত-তাওবাহ: ৬০)।
যাকাত আদায় উচ্চ নৈতিক মানদণ্ডের মাধ্যমে রক্ষা করা উচিত যা এই ব্যয়কে আল্লাহর এক মহিমান্বিত ইবাদতে পরিণত করে; যাতে অহংকার, শ্রেষ্ঠত্ব বা দরিদ্রের প্রতি কোনো অনুগ্রহ প্রদর্শনের মানসিকতা না থাকে। আল্লাহ মুমিনদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করে বলেছেন: {যারা আল্লাহর পথে নিজেদের সম্পদ ব্যয় করে, অতঃপর যা ব্যয় করল তার পেছনে খোঁটা দেয় না এবং কোনো কষ্টও দেয় না, তাদের জন্য তাদের রবের নিকট প্রতিদান রয়েছে। তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না। উত্তম কথা ও ক্ষমা সেই সদকা অপেক্ষা উত্তম যার পেছনে কষ্ট দেওয়া হয়। আর আল্লাহ অভাবমুক্ত, পরম সহনশীল} (আল-বাকারাহ: ২৬২-২৬৩)।
একজন মুসলিম তার সদকা ও যাকাতের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও উত্তম প্রতিদান লাভের সংকল্প করে। কিন্তু যে ব্যক্তি সুখ্যাতি ও দম্ভের উদ্দেশ্যে ব্যয় করে, তার সেই ব্যয় তার ওপরই প্রত্যাখ্যাত (مردود); বরং আখেরাতে তার জন্য শাস্তির হুঁশিয়ারি রয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে যে, কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম যাদের দিয়ে জাহান্নামের আগুন প্রজ্বলিত করা হবে তারা হলো তিনজন, যাদের মধ্যে তিনি উল্লেখ করেছেন...
(খণ্ড: ১)
তায়াররাফ আলাল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২৪)
رجل تصدق لا ليرضى عنه الله، بل ليقال عنه جواد (1)، وهو ما يحبط هذه العبادة، ويوجب العقوبة عليها بدلاً من المثوبة {من كان يريد الحياة الدنيا وزينتها نوف إليهم أعمالهم فيها وهم فيها لا يبخسون - أولئك الذين ليس لهم في الآخرة إلا النار وحبط ما صنعوا فيها وباطلٌ ما كانوا يعملون} (هود: 15 - 16).
إن هذه الشرعة الربانية صورة من صور التراحم والتلاحم، تحفظ للمجتمع وحدته وتحقق تماسكه، حتى يكون الجميع فيه كالجسد الواحد، قال صلى الله عليه وسلم: ((مثل المؤمنين في توادهم وتراحمهم وتعاطفهم مثل الجسد الواحد؛ إذا اشتكى منه عضو تداعى له سائر الجسد بالسهر والحمى)). (2)
الركن الرابع: صوم رمضانالصيام هو رابع أركان الإسلام، وهو عبادة فرضها الله في شهر رمضان (3)، وفيه يمتنع المسلم عن الطعام والشراب والجماع ومقدماته من طلوع الفجر إلى غروب الشمس.
والصيام فرضه الله على المسلمين وعلى الأمم قبلهم لغاية عظيمة، يجليها قول الله تعالى: {يا أيها الذين آمنوا كتب عليكم الصيام كما كتب على الذين من قبلكم لعلكم تتقون} (البقرة: 183)، فغاية هذه العبادة تدريب المؤمن على حياة التقوى واجتناب المناهي، وتربيته على السيطرة على إرادته وضبطها، وعدم الانسياق وراء الرغبات الجسدية، وتحريره من أسر الشهوات والعبودية للملذات، فالمسلم الذي يترك في نهار رمضان الحلال من الطعام والشراب والمتع؛ فإنه من باب أولى يمتنع عن الحرام منها في ليل رمضان وفي سائر الأيام والليالي.
وقد أخبر النبي صلى الله عليه وسلم بأثر الصيام في ضبط الغرائز بقوله: ((من كان منكم ذا طول فليتزوج؛ فإنه أغض للبصر وأحصن للفرج، ومن لا فالصوم له وجاء)). (4)
--------------------------------------------
একজন ব্যক্তি দান করল আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য নয়, বরং তাকে যেন দানশীল বলা হয় সে জন্য (১), আর এটিই এই ইবাদতকে বিনষ্ট করে দেয় এবং সওয়াবের পরিবর্তে শাস্তিকে অবধারিত করে। {যারা পার্থিব জীবন ও তার সৌন্দর্য কামনা করে, আমি তাদের দুনিয়াতেই তাদের আমলের পূর্ণ প্রতিদান দিয়ে দেই এবং সেখানে তাদের কোনো কমতি করা হয় না। এরাই তারা, পরকালে যাদের জন্য আগুন ছাড়া আর কিছুই নেই এবং তারা যা করেছিল তা সেখানে বিফল হয়েছে এবং তারা যা করত তা অসার।} (হুদ: ১৫ - ১৬)।
নিশ্চয়ই এই রব্বানী শরীয়ত হলো পারস্পরিক দয়া ও সংহতির একটি রূপ, যা সমাজের ঐক্য রক্ষা করে এবং এর দৃঢ়তা নিশ্চিত করে, যাতে সমাজের সবাই একটি দেহের মতো হয়। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "মুমিনদের পারস্পরিক ভালোবাসা, দয়া ও সহমর্মিতার উদাহরণ হলো একটি দেহের মতো; যখন দেহের কোনো একটি অঙ্গ ব্যথিত হয়, তখন পুরো দেহ অনিদ্রা ও জ্বরে আক্রান্ত হয়ে তার সাথে শরিক হয়।" (২)
চতুর্থ রুকন: রমজানের রোজারোজা হলো ইসলামের চতুর্থ রুকন, এবং এটি এমন এক ইবাদত যা আল্লাহ রমজান মাসে (৩) ফরজ করেছেন। এতে একজন মুসলিম সুবহে সাদেক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার, যৌন মিলন ও এর আনুষঙ্গিক কার্যাবলী থেকে বিরত থাকেন।
আল্লাহ মুসলিমদের ওপর এবং তাদের পূর্ববর্তী জাতিগুলোর ওপর এক মহান উদ্দেশ্যে রোজা ফরজ করেছেন, যা আল্লাহ তাআলার এই বাণীতে স্পষ্ট হয়: {হে মুমিনগণ, তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর ফরজ করা হয়েছিল, যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পারো} (বাকারা: ১৮৩)। সুতরাং এই ইবাদতের উদ্দেশ্য হলো মুমিনকে তাকওয়াপূর্ণ জীবন যাপন এবং নিষিদ্ধ বিষয়গুলো বর্জনের প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং তাকে নিজের ইচ্ছাশক্তি নিয়ন্ত্রণ ও তা সংহত করার ওপর গড়ে তোলা। এটি তাকে শারীরিক কামনা-বাসনার পেছনে না চলা এবং প্রবৃত্তির দাসত্ব ও লালসা থেকে মুক্ত করে। একজন মুসলিম যে ব্যক্তি রমজানের দিনে হালাল খাবার, পানীয় ও ভোগবিলাস ত্যাগ করে, তার জন্য তো রমজানের রাতে এবং অন্যান্য দিন ও রাতে হারাম বস্তু থেকে বিরত থাকা আরও বেশি বাঞ্ছনীয়।
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রবৃত্তির তাড়না নিয়ন্ত্রণে রোজার প্রভাব সম্পর্কে তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে সংবাদ দিয়েছেন: "তোমাদের মধ্যে যার সামর্থ্য আছে সে যেন বিবাহ করে; কারণ এটি দৃষ্টিকে অধিক অবনত রাখে এবং লজ্জাস্থানকে অধিক হেফজত করে। আর যার সামর্থ্য নেই, তার জন্য রোজা রাখা আবশ্যক, কারণ এটি তার জন্য যৌন উত্তেজনা প্রশমনকারী (وجاء)।" (৪)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তায়াররাফ আলাল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২৫)
ويصف النبي صلى الله عليه وسلم الصيام بأنه وقاية للمسلم، بما يحتمه عليه من معاني فاضلة وأخلاق سامية: ((والصيام جُنة، وإذا كان يوم صوم أحدكم فلا يرفث ولا يصخب، فإن سابه أحد أو قاتله فليقل: إني امرؤ صائم)). (1) وفي حديث آخر: ((الصوم جُنة ما لم يخرقها)). (2)
وقد فقه الصحابي جابر بن عبد الله قول النبي صلى الله عليه وسلم فقال: (إذا صُمتَ؛ فليصم سمعك وبصرك، ولسانك عن الكذب والمآثم، ودع أذى الخادم، وليكن عليك وقار وسكينة يوم صيامك، ولا تجعل يوم فطرك ويوم صيامك سواء). (3)
وأما إذا لم يعطِ الصيام ثمرته السلوكية فقد أضحى عملاً ميتاً لا روح فيه، وقد قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((من لم يدع قول الزور والعمل به فليس لله حاجة في أن يدع طعامه وشرابه)). (4)
وهذا العمل الذي لا روح فيه لا يؤجر المسلم عليه ((رُبَّ صائم حظه من صيامه الجوع والعطش، ورُبَّ قائم حظه من قيامه السهر)). (5)
ومما يتعلمه المسلم في مدرسة رمضان تحسس مشاعر الفقراء والإحساس بمعاناتهم، وما يستجيشه ذلك من بذل وكرم وإنفاق في سبيل الله، فقد حكى ابن عباس ابن عم النبي صلى الله عليه وسلم عنه، فقال: (كان رسول الله صلى الله عليه وسلم أجود الناس، وكان أجود ما يكون في رمضان .. فلَرسول الله صلى الله عليه وسلم أجود بالخير من الريح المرسلة). (6)
وقد شرع الإسلام لأولئك الذين لا يقدرون على مشاركة المسلمين صيامهم لمرض ونحوه، شرع لهم إطعام المساكين فدية للصيام الذي عجزوا عنه، فلئن
--------------------------------------------
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সিয়ামকে একজন মুসলিমের জন্য সুরক্ষা হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যা তার ওপর মহৎ ভাবধারা ও উন্নত নৈতিকতাকে আবশ্যক করে তোলে: ((সিয়াম হলো ঢাল; তোমাদের কেউ যখন সিয়াম পালন করে, তখন সে যেন অশ্লীল কথা না বলে এবং উচ্চবাচ্য না করে। যদি কেউ তাকে গালি দেয় বা তার সাথে বিবাদে জড়াতে চায়, তবে সে যেন বলে: আমি একজন সিয়াম পালনকারী ব্যক্তি))। (১) অন্য একটি হাদিসে এসেছে: ((সিয়াম একটি ঢাল, যতক্ষণ না সে তা বিদীর্ণ করে))। (২)
সাহাবী (صحابي) জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণীর মর্ম অনুধাবন করে বলেছিলেন: (যখন তুমি সিয়াম পালন করবে, তখন তোমার কান, চোখ এবং জিহ্বা যেন মিথ্যা ও পাপ কাজ থেকে বিরত থাকে। অধীনস্থ কর্মচারীকে কষ্ট দেওয়া ত্যাগ করো। তোমার সিয়ামের দিনে তোমার মধ্যে গাম্ভীর্য ও প্রশান্তি থাকা উচিত। তুমি তোমার সিয়ামের দিন এবং সিয়ামহীন দিনকে এক করে ফেলো না)। (৩)
আর যদি সিয়াম তার আচরণগত সুফল বয়ে না আনে, তবে তা একটি প্রাণহীন কর্মে পরিণত হয় যার কোনো রূহ নেই। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ((যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা ও তদনুযায়ী আমল করা বর্জন করল না, তার পানাহার বর্জন করাতে আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই))। (৪)
আর এই রূহহীন কাজের জন্য মুসলিম কোনো প্রতিদান পায় না: ((অনেক সিয়াম পালনকারী এমন আছে যাদের সিয়ামের প্রাপ্তি কেবল ক্ষুধা ও তৃষ্ণা, আবার অনেক রাত জাগরণকারী এমন আছে যাদের ইবাদতের প্রাপ্তি কেবল অনিদ্রা))। (৫)
রমজান মাদ্রাসা থেকে একজন মুসলিম যা শেখে, তা হলো দরিদ্রদের দুঃখ-দুর্দশা ও তাদের কষ্ট অনুভব করা; যা আল্লাহর পথে দান-সদকা ও ব্যয়ের মানসিকতা জাগ্রত করে। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর চাচাতো ভাই ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) তাঁর সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন: (রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ছিলেন মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ দানবীর, আর রমজানে তিনি আরও বেশি দানশীল হতেন... নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কল্যাণ বিতরণে প্রবাহমান বায়ুর চেয়েও অধিক দানশীল ছিলেন)। (৬)
ইসলাম ঐ সকল ব্যক্তিদের জন্য, যারা অসুস্থতা বা অনুরূপ কারণে মুসলিমদের সাথে সিয়াম পালনে অংশ নিতে অক্ষম, তাদের জন্য সিয়ামের বিনিময় (ফিদিয়া) হিসেবে মিসকিনদের অন্নদানের বিধান দিয়েছে, কেননা যদি
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তায়াররাফ আলাল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২৬)
فاتهم مشاركة الفقراء والمحرومين في ألم الجوع، فلن يفوتهم المساهمة في إطعامهم ورفع جوعهم {وعلى الذين يطيقونه فديةٌ طعام مسكين فمن تطوع خيراً فهو خير له وأن تصوموا خيرٌ لكم إن كنتم تعلمون} (البقرة: 184).
ولتعدد حكم هذه العبادة فإن النبي صلى الله عليه وسلم ما فتئ يوصي بها أصحابه، فقد قال له أبو أمامة: مُرني بأمر آخذه عنك؟ فقال صلى الله عليه وسلم: ((عليك بالصيام؛ فإنه لا مِثل له)). (1)
الركن الخامس: حج بيت الله الحرامالحج عبادة بدنية فرضها الله على المسلم في العمر مرة واحدة، حيث يفد المسلمون من أصقاع الأرض إلى قبلتهم في مكة المكرمة، ليؤدوا مناسك حجهم في أيام معلومات، يحققون فيها المقاصد التي أرادها الله من تشريع هذه العبادة التي أمر بها أبا الأنبياء إبراهيم عليه السلام حين قال له: {وأذن في الناس بالحج يأتوك رجالاً وعلى كل ضامرٍ يأتين من كل فج عميقٍ - ليشهدوا منافع لهم ويذكروا اسم الله في أيامٍ معلوماتٍ على ما رزقهم من بهيمة الأنعام فكلوا منها وأطعموا البائس الفقير} (الحج: 27 - 28).
فنادى إبراهيم، ولبى المؤمنون من كل حدب وصوب، وأدوا المناسك كما أداها إبراهيم عليه السلام، وحافظوا على سنة الخليل إبراهيم عليه السلام، كما قال صلى الله عليه وسلم للمسلمين في مناسك الحج: ((كونوا على مشاعركم؛ فإنكم اليوم على إرث من إرث إبراهيم)). (2)
والحج دورة تدريبية للمسلم على ممارسة السلام، فمناسكه تؤدى في البلد الحرام الذي يأمن فيه الطير والشجر والإنسان، قال صلى الله عليه وسلم: ((إن هذا البلد حرمه الله، لا يعضد شوكه، ولا ينفر صيده، ولا يلتقط لقطته إلا من عرفها)). (3)
--------------------------------------------
যদ্রিও ক্ষুধার যন্ত্রণায় দরিদ্র ও বঞ্চিতদের সাথে অংশগ্রহণ করা তাদের পক্ষে সম্ভব হয়নি, তবুও তাদের আহার করানো এবং তাদের ক্ষুধা নিবারণে অবদান রাখা থেকে তারা বঞ্চিত হবে না। {আর যারা এটি করতে অক্ষম, তারা যেন এর বিনিময়ে একজন মিসকিনকে আহার করায়। যে স্বতঃস্ফূর্তভাবে কোনো সৎকাজ করে, তা তার জন্য কল্যাণকর। আর সিয়াম পালন করাই তোমাদের জন্য অধিকতর উত্তম, যদি তোমরা জানতে} (আল-বাকারাহ: ১৮৪)।
এই ইবাদতের বহুমুখী হিকমতের কারণে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিরন্তর তাঁর সাহাবীদের এর উপদেশ দিতেন। আবু উমামা (রা.) তাঁকে বললেন: আমাকে এমন একটি কাজের নির্দেশ দিন যা আমি আপনার কাছ থেকে গ্রহণ করব? তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: ((তুমি রোজা পালন করো; কারণ এর কোনো সমতুল্য নেই))। (১)
পঞ্চম রুকন: আল্লাহর পবিত্র ঘর হজ করাহজ একটি শারীরিক ইবাদত যা আল্লাহ মুসলিমদের ওপর জীবনে একবার ফরজ করেছেন। এতে বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে মুসলিমরা মক্কা মুকাররামায় তাদের কিবলার অভিমুখে সমবেত হন, যাতে নির্ধারিত দিনগুলোতে হজের আহকামসমূহ পালন করতে পারেন। এর মাধ্যমে তারা সেই উদ্দেশ্যসমূহ অর্জন করেন যা আল্লাহ এই ইবাদত প্রবর্তনের মাধ্যমে নির্ধারণ করেছেন। তিনি আম্বিয়া কিরামের পিতা ইব্রাহিম আলাইহিস সালামকে এর নির্দেশ দিয়ে বলেছিলেন: {আর মানুষের মধ্যে হজের ঘোষণা দাও; তারা তোমার কাছে আসবে পায়ে হেঁটে এবং সব ধরনের কৃশকায় উটের পিঠে চড়ে, তারা আসবে দূর-দূরান্তের গভীর পথ অতিক্রম করে। যাতে তারা তাদের কল্যাণের স্থানগুলোতে উপস্থিত হতে পারে এবং নির্দিষ্ট দিনগুলোতে আল্লাহর নাম স্মরণ করতে পারে সেই সব পশুদের ওপর যা তিনি তাদের রিজিক হিসেবে দিয়েছেন। অতঃপর তোমরা তা থেকে আহার করো এবং অভাবগ্রস্ত দরিদ্রদের আহার করাও} (আল-হজ: ২৭ - ২৮)।
সুতরাং ইব্রাহিম (আ.) আহ্বান করলেন এবং মুমিনরা সকল দিক থেকে সে আহ্বানে সাড়া দিলেন। তারা হজের কার্যাবলি সেভাবেই সম্পাদন করলেন যেভাবে ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম করেছিলেন। তারা খলিল ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের সুন্নাহর হিফাজত করলেন, যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজের আহকাম পালনের সময় মুসলিমদের বলেছিলেন: ((তোমরা তোমাদের এই হজের স্থানগুলোতে অবস্থান করো; কারণ তোমরা আজ ইব্রাহিমের উত্তরাধিকারের ওপর প্রতিষ্ঠিত আছ))। (২)
হজ হলো একজন মুসলিমের জন্য শান্তি চর্চার একটি প্রশিক্ষণ কোর্স। কারণ এর কার্যাবলি এমন এক পবিত্র নগরীতে সম্পাদিত হয় যেখানে পাখি, গাছপালা এবং মানুষ নিরাপদ থাকে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ((নিশ্চয়ই এই শহরকে আল্লাহ পবিত্র (হারাম) করেছেন। এর কাঁটাযুক্ত গাছ কাটা যাবে না, এর শিকার তাড়িয়ে দেয়া যাবে না এবং এর পড়ে থাকা বস্তু কুড়িয়ে নেয়া যাবে না কেবল সেই ব্যক্তি ছাড়া যে এর মালিকের সন্ধান করবে))। (৩)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তায়াররাফ আলাল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২৭)
والحج أيضاً مظهر من مظاهر المساواة والوحدة بين المسلمين، حيث يجتمع فيه المسلمون من كل حدب وصوب، في لباس واحد، على صعيد واحد، لا يتقدم فيهم غني على فقير، ولا أبيض على أسود، وقد خطب النبي صلى الله عليه وسلم أصحابه في أيام الحج، فقال: ((يا أيها الناس ألا إن ربكم واحد، وإن أباكم واحد، ألا لا فضل لعربي على أعجمي، ولا لعجمي على عربي، ولا لأحمر على أسود، ولا أسود على أحمر إلا بالتقوى)). (1)
ومن مقاصد الحج ذكر الله تعالى وتعظيمه واستغفاره مما سلف من الذنوب والعصيان {فاذكروا الله عند المشعر الحرام واذكروه كما هداكم وإن كنتم من قبله لمن الضالين - ثم أفيضوا من حيث أفاض الناس واستغفروا الله إن الله غفور رحيم} (البقرة: 198 - 199).
وكما كان المشعر الحرام لذكر الله، فإن أيام مِنى هي أيضاً كذلك {واذكروا الله في أيام معدودات فمن تعجل في يومين فلا إثم عليه ومن تأخر فلا إثم عليه لمن اتقى} (البقرة: 203).
فإذا انتهت مناسك الحج؛ فإن المسلم مطالب بلزوم ذكر الله في سائر أيامه {فإذا قضيتم مناسككم فاذكروا الله كذكركم آباءكم أو أشد ذكراً} (البقرة: 200).
ومن مناسك الحج وشعائره ذبح الهدي قرباناً لله عز وجل، قال تعالى: {والبُدْن جعلناها لكم من شعائر الله لكم فيها خير} (الحج: 36)، وفي مقدمة هذا الخير تحقيق تقوى الله وتمثلها في حياتنا السلوكية {لن ينال اللهَ لحومُها ولا دماؤها ولكن يناله التقوى منكم} (الحج: 37).
ومن أعظم مقاصد الحج تهذيب سلوك المسلم الحاج، قال تعالى: {الحج أشهرٌ معلوماتٌ فمن فرض فيهن الحج فلا رفث ولا فسوق ولا جدال في الحج وما تفعلوا من خيرٍ يعلمه الله وتزودوا فإن خير الزاد التقوى واتقون يا أولي الألباب} (البقرة: 197)، فالحاج ينبغي عليه اجتناب المعاصي ليتحقق له الغفران والخلوص من
--------------------------------------------
হজ মুসলিমদের মধ্যে সাম্য ও ঐক্যের অন্যতম একটি বহিঃপ্রকাশ, যেখানে বিশ্বের প্রতিটি প্রান্ত থেকে মুসলিমরা অভিন্ন পোশাকে, একই ময়দানে সমবেত হয়। সেখানে কোনো ধনীর ওপর গরিবের, কিংবা শ্বেতাঙ্গের ওপর কৃষ্ণাঙ্গের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হজের দিনগুলোতে সাহাবীদের উদ্দেশ্যে খুতবা প্রদানকালে বলেছিলেন: "হে লোকসকল! জেনে রেখো, তোমাদের রব একজন এবং তোমাদের পিতাও একজন। মনে রেখো, তাকওয়া ছাড়া কোনো আরবের ওপর অনারবের, কিংবা কোনো অনারবের ওপর আরবের, অথবা কোনো লালের ওপর কালোর, কিংবা কালোর ওপর লালের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই।" (১)
হজের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো মহান আল্লাহর জিকির করা, তাঁর মহিমা ঘোষণা করা এবং অতীতের গুনাহ ও অবাধ্যতা থেকে ক্ষমা প্রার্থনা করা। {অতঃপর যখন তোমরা মাশআরে হারাম (মুজদালিফা) থেকে প্রত্যাবর্তন করবে, তখন আল্লাহর জিকির করো এবং তাঁকে সেভাবে স্মরণ করো যেভাবে তিনি তোমাদের পথ দেখিয়েছেন, যদিও এর আগে তোমরা পথভ্রষ্টদের অন্তর্ভুক্ত ছিলে। তারপর তোমরা সেখান থেকেই প্রস্থান করো যেখান থেকে অন্য মানুষেরা করে এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো; নিশ্চয়ই আল্লাহ অতিশয় ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু} (বাকারা: ১৯৮-১৯৯)।
মাশআরে হারাম যেমন আল্লাহর জিকিরের স্থান, তেমনি মিনার দিনগুলোও তদ্রূপ। {আর তোমরা নির্দিষ্ট দিনগুলোতে আল্লাহকে স্মরণ করো। অতঃপর যে ব্যক্তি তাড়াহুড়ো করে দুই দিনে চলে আসবে তার কোনো গুনাহ নেই, আর যে বিলম্ব করবে তারও কোনো গুনাহ নেই; এটি তার জন্য যে তাকওয়া অবলম্বন করে} (বাকারা: ২০৩)।
হজের কার্যাদি শেষ হওয়ার পর একজন মুসলিমের কর্তব্য হলো তার অবশিষ্ট দিনগুলোতেও আল্লাহর জিকিরে অবিচল থাকা। {অতঃপর যখন তোমরা হজের কার্যাদি সম্পন্ন করবে, তখন আল্লাহকে স্মরণ করো যেমন তোমরা তোমাদের পিতৃপুরুষদের স্মরণ করতে অথবা তার চেয়েও বেশি গভীর আবেগে স্মরণ করো} (বাকারা: ২০০)।
হজের বিধিবিধান ও নিদর্শনাবলির মধ্যে একটি হলো মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে হাদি (কুরবানির পশু) জবাই করা। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর কুরবানির উটগুলোকে আমি তোমাদের জন্য আল্লাহর নিদর্শনাবলির অন্তর্ভুক্ত করেছি, তোমাদের জন্য তাতে কল্যাণ রয়েছে} (হজ: ৩৬)। এই কল্যাণের মূলে রয়েছে আল্লাহর তাকওয়া অর্জন এবং তা আমাদের জীবন আচরণে প্রতিফলিত করা। {আল্লাহর কাছে সেগুলোর গোশত বা রক্ত পৌঁছায় না, বরং তাঁর কাছে পৌঁছায় তোমাদের পক্ষ থেকে তাকওয়া} (হজ: ৩৭)।
হজের অন্যতম মহান উদ্দেশ্য হলো হাজি মুসলিমের আচরণকে মার্জিত ও সুসংস্কৃত করা। আল্লাহ তাআলা বলেন: {হজ হয় কতিপয় নির্দিষ্ট মাসে। সুতরাং যে ব্যক্তি এই মাসগুলোতে হজের সংকল্প করবে, সে হজের সময় যেন কোনো প্রকার অশালীন কথা, পাপাচার ও ঝগড়া-বিবাদে লিপ্ত না হয়। তোমরা ভালো যা কিছু করো আল্লাহ তা জানেন। আর তোমরা পাথেয় গ্রহণ করো, নিশ্চয়ই সর্বোত্তম পাথেয় হলো তাকওয়া। আর হে বুদ্ধিমানগণ! তোমরা আমাকেই ভয় করো} (বাকারা: ১৯৭)। সুতরাং একজন হাজির উচিত পাপাচার পরিহার করা যাতে তার জন্য ক্ষমা ও পবিত্রতা অর্জন নিশ্চিত হয়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তায়াররাফ আলাল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২৮)
الذنوب والمعاصي، قال صلى الله عليه وسلم: ((من حج فلم يرفث ولم يفسق؛ رجع كيوم ولدته أمه)). (1)
والحج الذي تتوافر فيه هذه الشروط ويحقق تلك المعاني يسميه الرسول صلى الله عليه وسلم بالحج المبرور، فيقول: ((الحج المبرور ليس له جزاء إلا الجنة)). قيل: وما بره؟ قال: ((إطعام الطعام وطيب الكلام)). (2)
وهكذا فإن أركان الإسلام تهدف جميعاً إلى تزكية المسلم وتهذيب سلوكه وربط قلبه بربه تبارك وتعالى.
لكن الإسلام ليس هذه الأركان فحسب، إنه هبة الله للبشرية، إنه الدين الذي يعالج مشكلات الإنسانية على اختلافها، فينظم علاقة الإنسان بربه، ثم بأخيه الإنسان، ثم بالكون من حوله، وهو الدين الذي يقوم على تحقيق التوازن بين مطالب الجسد ومطالب الروح، ويشبع العقل ويروي العاطفة.
ولسوف يتجلى لنا بهاء هذه الحقيقة ونحن نتحدث عن مفهوم العبودية في الإسلام.
--------------------------------------------
পাপ ও পাপাচার; রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে হজ করল এবং তাতে কোনো অশ্লীল কথা বা কাজ করল না এবং কোনো পাপাচারও করল না; সে (গুনাহমুক্ত হয়ে) এমনভাবে ফিরে এল যেন আজই তার মা তাকে জন্ম দিয়েছেন।" (১)
আর যে হজের মধ্যে এই শর্তাবলি বিদ্যমান থাকে এবং যা ওই অর্থগুলো বাস্তবায়িত করে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে মকবুল (مبرور) হজ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন: "মকবুল (مبرور) হজের প্রতিদান জান্নাত ছাড়া আর কিছু নয়।" জিজ্ঞেস করা হলো: তার 'বির' বা কল্যাণ কী? তিনি বললেন: "অন্যকে অন্নদান করা এবং নম্রভাবে কথা বলা।" (২)
এভাবেই ইসলামের স্তম্ভসমূহ সবকটিই একজন মুসলিমের আত্মশুদ্ধি, তার আচরণের উৎকর্ষ সাধন এবং তার মহান ও বরকতময় রবের সাথে তার হৃদয়ের বন্ধন সুদৃঢ় করার লক্ষ্য রাখে।
তবে ইসলাম কেবল এই স্তম্ভগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি মানবজাতির জন্য আল্লাহর এক বিশেষ উপহার। এটি এমন এক দ্বীন যা মানবতার বিবিধ সমস্যার সমাধান করে; এটি মানুষের সাথে তার রবের সম্পর্ক, এরপর তার ভ্রাতৃপ্রতিম মানুষের সাথে সম্পর্ক এবং তার চারপাশের মহাবিশ্বের সাথে মানুষের সম্পর্ককে সুশৃঙ্খল করে। এটি এমন এক দ্বীন যা দেহের চাহিদা ও আত্মার চাহিদার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে এবং যা বিবেককে তৃপ্ত করার পাশাপাশি আবেগকেও সিক্ত করে।
আমরা যখন ইসলামে দাসত্বের (عبودية) ধারণা নিয়ে আলোচনা করব, তখন এই সত্যের মহিমা আমাদের কাছে আরও স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হবে।
--------------------------------------------