(খণ্ড: ১)
আত-তাআয়ুশু মাআ গয়রিল মুসলিমিনা ফিল মুজতামাইল মুসলিম
(পৃষ্ঠা: -)
التعايش مع غير المسلمين في المجتمع المسلم القسم: كتب عامة
الكتاب: التعايش مع غير المسلمين في المجتمع المسلم
المؤلف: منقذ بن محمود السقار
الناشر: رابطة العالم الإسلامي - مكة المكرمة
الطبعة: الأولى، 1427 هـ - 2006 م
عدد الصفحات: 53
[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 26 صفر 1433
মুসলিম সমাজে অমুসলিমদের সাথে সহাবস্থান বিভাগ: সাধারণ গ্রন্থাবলি
বই: মুসলিম সমাজে অমুসলিমদের সাথে সহাবস্থান
লেখক: মুনকিজ বিন মাহমুদ আস-সাক্কার
প্রকাশক: মুসলিম ওয়ার্ল্ড লিগ - মক্কা আল-মুকাররামা
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৭ হিজরি - ২০০৬ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৩
[বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, যা মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২৬ সফর ১৪৩৩
(খণ্ড: ১)
আত-তাআয়ুশু মাআ গয়রিল মুসলিমিনা ফিল মুজতামাইল মুসলিম
(পৃষ্ঠা: -)
التعايش
مع غير المسلمين
في المجتمع المسلم
د. منقذ بن محمود السقار
সহাবস্থান
অমুসলিমদের সাথে
মুসলিম সমাজে
ড. মুনকিজ বিন মাহমুদ আস-সাক্কার
(খণ্ড: ১)
আত-তাআয়ুশু মাআ গয়রিল মুসলিমিনা ফিল মুজতামাইল মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ১)
مقدمةالحمد لله، والصلاة والسلام على رسول الله، وعلى آله وصحبه ومن والاه، وبعد:
فإن مما يشهد بالقيمة الحضارية والثقافية لأمة ما، ما تحققه من مبادئ إنسانية زاهية، تتجاوز حدودها لتعم بإنسانيتها الآخرين، ولو خالفوا في الدين والجنس واللغة.
وقد اصطفى الله نبينا صلى الله عليه وسلم للرسالة، وجعله رحمة إلى الناس أجمعين {وما أرسلناك إلا رحمة للعالمين} (الأنبياء: 107)، فكانت رسالة الإسلام أول رسالة عالمية، تجاوزت حدود الزمان والمكان واللغة والجنس «وكان النبي يبعث إلى قومه خاصة، وبعثتُ إلى الناس عامة» (1).
فرسالته صلى الله عليه وسلم هي الرسالة التي جعلها الله خاتمة الرسالات المهيمنة عليها، ودعا الناس إلى الإيمان بها، لأنها الحق الذي ارتضاه الله للبشرية ديناً {إن الدين عند الله الإسلام} (آل عمران: 19) {ومن يبتغ غير الإسلام ديناً فلن يقبل منه وهو في الآخرة من الخاسرين} (آل عمران: 85).
لكن الله تبارك وتعالى شاء بمشيئته وحكمته أن يخلق الإنسان كائنا فريداً متميزاً بالاختيار، فقدر سبحانه أن ينقسم الناس إلى مؤمن مصدق، وكافر جاحد {هو الذي خلقكم فمنكم كافر ومنكم مؤمن والله بما تعملون بصير} (التغابن: 2)، ولو شاء الله لألزم الإنسانية دينه فطرة وقهراً، فلا تملك في قبوله حولاً ولا طولاً، لكنه سبحانه وتعالى لم يشأ ذلك {ولو شاء ربك لجعل الناس أمةً واحدةً ولا يزالون مختلفين - إلا من رحم ربك ولذلك خلقهم} (هود: 118 - 119).
قال ابن كثير عن قول الله تبارك وتعالى {ولا يزالون مختلفين - إلا من رحم ربك}: "أي: ولا يزال الخلف بين الناس في أديانهم واعتقادات مللهم ونحلهم ومذاهبهم وآرائهم .. " (2).
إذاً فاختلاف الناس في أديانهم قدر الله وسنته الماضية في خلقه {وما أكثر الناس ولو حرصت بمؤمنين} (يوسف: 103).
ولنا أن نتساءل عن مصير أولئك الذين آثروا إرث الأجداد على الهدي المستبان، وقالوا: {إنا وجدنا آباءنا على أمة وإنا على آثارهم مقتدون}، كيف يتعامل الإسلام مع هؤلاء؟ وكيف يحكم فيهم إذا سكنوا ربوعه وتفيؤوا ظلاله؟
وسنهدف للإجابة عن هذه الأسئلة من خلال دراسة نصوص الكتاب والسنة، وتبصر معانيها بهدي العلماء، فقهاء الأمة، وتطبيقات سلفنا الكرام خلال قرون الإسلام الظافرة التي سادوا فيها الدنيا، والتي كانت في مجملها جواباً عملياً عن هذه الأسئلة، فكانت اجتهاداتهم المشكورة تجسيداً لنظام الإسلام العادل في التعامل مع غير المسلمين.
--------------------------------------------
ভূমিকাসকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসুলের ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীবৃন্দ এবং যারা তাঁকে অনুসরণ করেছেন তাঁদের ওপর। অতঃপর:
কোনো জাতির সভ্যতা ও সাংস্কৃতিক মূল্যের অন্যতম সাক্ষ্য হলো সেই জাতি কর্তৃক অর্জিত উজ্জ্বল মানবিক নীতিমালা, যা তার নিজস্ব সীমানা ছাড়িয়ে অন্যদের মাঝেও মানবিকতার পরশ ছড়িয়ে দেয়, এমনকি যদি তারা দ্বীন, বংশ বা ভাষায় ভিন্নও হয়।
আল্লাহ তাআলা আমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে রিসালাতের জন্য মনোনীত করেছেন এবং তাঁকে সকল মানুষের জন্য রহমত হিসেবে পাঠিয়েছেন {আমি আপনাকে বিশ্বজগতের জন্য রহমত হিসেবেই পাঠিয়েছি} (আল-আম্বিয়া: ১০৭)। ফলে ইসলামের বার্তা ছিল প্রথম বিশ্বজনীন বার্তা, যা কাল, স্থান, ভাষা ও বংশের সীমানা অতিক্রম করেছে। "নবীগণ প্রেরিত হতেন কেবল তাঁদের নিজ জাতির কাছে, আর আমি প্রেরিত হয়েছি সমগ্র মানবজাতির কাছে" (১)।
তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আনীত বার্তা সেই রিসালাত যাকে আল্লাহ সকল পূর্ববর্তী রিসালাতের সমাপ্তি ও সেগুলোর ওপর আধিপত্য বিস্তারকারী করেছেন। তিনি মানুষকে এর ওপর ঈমান আনার আহ্বান জানিয়েছেন, কারণ এটিই সেই সত্য যা আল্লাহ মানবতার জন্য দ্বীন হিসেবে পছন্দ করেছেন {নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট একমাত্র দ্বীন হলো ইসলাম} (আলে ইমরান: ১৯) {আর যে কেউ ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো দ্বীন অনুসন্ধান করবে, তার থেকে তা কখনোই কবুল করা হবে না এবং সে আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে} (আলে ইমরান: ৮৫)।
কিন্তু মহান আল্লাহ তাঁর ইচ্ছা ও প্রজ্ঞা অনুযায়ী মানুষকে পছন্দের স্বাধীনতা সম্পন্ন এক অনন্য সত্তা হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। তাই তিনি নির্ধারণ করেছেন যে, মানুষ মুমিন ও বিশ্বাসী এবং কাফির ও অস্বীকারকারী—এই দুই ভাগে বিভক্ত হবে {তিনিই তোমাদের সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তোমাদের মধ্যে কেউ কাফির এবং কেউ মুমিন; আর তোমরা যা করো আল্লাহ তা প্রত্যক্ষ করেন} (আত-তাগাবুন: ২)। আল্লাহ চাইলে সমগ্র মানবজাতিকে তাঁর দ্বীনের ওপর সৃষ্টিগতভাবে ও বাধ্যতামূলকভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারতেন, ফলে তা গ্রহণে তাদের কোনো ভিন্নমত প্রকাশের শক্তি থাকত না। কিন্তু তিনি তা চাননি {আপনার প্রতিপালক চাইলে সমস্ত মানুষকে এক জাতি করতে পারতেন, কিন্তু তারা সর্বদা মতভেদ করতে থাকবে - তারা ব্যতীত যাদের ওপর আপনার প্রতিপালক দয়া করেছেন এবং এজন্যই তিনি তাদের সৃষ্টি করেছেন} (হুদ: ১১৮ - ১১৯)।
ইবনে কাসির মহান আল্লাহর বাণী {এবং তারা সর্বদা মতভেদ করতে থাকবে - তারা ব্যতীত যাদের ওপর আপনার প্রতিপালক দয়া করেছেন} প্রসঙ্গে বলেন: "অর্থাৎ, মানুষের মধ্যে তাদের দ্বীন, আকিদাগত বিশ্বাস, ধর্মীয় গোষ্ঠী, ফেরকা, মাযহাব (مذاهب) ও মতামতের ক্ষেত্রে সর্বদা মতভেদ চলতেই থাকবে..." (২)।
সুতরাং মানুষের দ্বীনের ক্ষেত্রে এই ভিন্নতা আল্লাহর তকদির এবং তাঁর সৃষ্টির মাঝে বিদ্যমান চিরন্তন নিয়ম {আপনি যতই আগ্রহী হোন না কেন, অধিকাংশ মানুষই ঈমান আনবে না} (ইউসুফ: ১০৩)।
আমাদের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে সেইসব লোকেদের পরিণতি সম্পর্কে যারা স্পষ্ট হিদায়াতের ওপর পূর্বপুরুষদের উত্তরাধিকারকে প্রাধান্য দিয়েছে এবং বলেছে: {আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদের এক আদর্শের ওপর পেয়েছি এবং আমরা তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করছি}। ইসলাম এদের সাথে কেমন আচরণ করে? তারা যদি ইসলামের ভূখণ্ডে বসবাস করে এবং এর ছায়াতলে আশ্রয় নেয় তবে তাদের ব্যাপারে ইসলামের বিধান কী?
আমরা কুরআন ও সুন্নাহর ভাষ্যসমূহ অধ্যয়ন, উম্মতের ফকিহ (فقهاء) আলেমগণের নির্দেশিত পথে সেগুলোর মর্মার্থ অনুধাবন এবং ইসলামের বিজয়ী শতাব্দীগুলোতে আমাদের সম্মানিত সালাফ (سلف) গণের বাস্তব প্রয়োগ পর্যালোচনার মাধ্যমে এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি। যে সময়ে তাঁরা বিশ্বে রাজত্ব করেছিলেন এবং তাঁদের সেই সময়কাল ছিল মূলত এই প্রশ্নগুলোর একটি ব্যবহারিক জবাব। তাঁদের প্রশংসনীয় ইজতিহাদ (اجتهادات) ছিল অমুসলিমদের সাথে আচরণের ক্ষেত্রে ইসলামের ন্যায়বিচারপূর্ণ ব্যবস্থার মূর্ত প্রতীক।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাআয়ুশু মাআ গয়রিল মুসলিমিনা ফিল মুজতামাইল মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ২)
وما أحرانا اليوم ونحن نشهد النهضة الإسلامية الجديدة التي جسدتها الصحوة المباركة، ما أحرانا أن نبدد مخاوف الآخرين الذين يعيشون داخل العالم الإسلامي، فصحوتنا وعودتنا إلى ديننا لن تؤدي إلى شيء مما يفرقونه ويحذرونه.
وهذه المخاوف نبددها باستدعاء التجربة التاريخية الفريدة التي عاشها أجدادهم ضمن المجتمع المسلم طوال قرون رغيدة، حفظت للأحفاد حتى اليوم وجودهم وكينونتهم داخل مجتمعنا وضمن حضارتنا.
والموضوع الذي نحن بصدده رسالة نتقدم بها إلى أولئك الذين دأبوا على اتهام الإسلام بالانغلاق، ووصموه بما يكذبه التاريخ، ولا تعشى عن حقائقه الأبصار.
إنه لمن العجب أن يوسم الإسلام بالصفة ونقيضها، فلئن اتهمه بعضهم بالعنف؛ فإن آخرين عابوا عليه نزعته التسامحية ورأوها سبب أفول الدولة الإسلامية، يقول الكونت هنري دي كاستري في كتابه "الإسلام": "تطرف المسلمون في المحاسنة؛ لأنها سهلت العصيان للعصاة، ومهدت لبعض الأسر المستقلة في المغرب الخروج على الجماعة في بلاد الأندلس وبلاد المغرب، وانتهى الأمر - مع المحاسنة - إلى انحلال عناصر المملكة العربية، ومن المرجح أن المسلمين لو عاملوا الأندلسيين كما عامل المسيحيون الأمم السكسونية والواندية؛ لأخلدت إلى الإسلام واستقرت عليه" (1).
ولِمَ نستبق سطور البحث لنصل إلى نتيجته، لِم لا ندع التاريخ يقول كلمته المنصفة في دورتنا الحضارية الفذة التي قدمها أجدادنا الخالدون في تعاملهم مع الآخرين، مستلهمين أسسها وعظمتها من كتاب ربهم وسنة نبيهم صلى الله عليه وسلم وشريعة الإسلام الغراء.
وتنتظم هذه الدراسة في تمهيد ومبحثين وخاتمة:
التمهيد: وفيه أعرّف بأنواع الكافرين في بلاد المسلمين والأحكام العامة لكل منهم.
المبحث الأول: وأذكر فيه حقوق غير المسلمين وضماناتهم في المجتمع المسلم، وأعرض لتطبيقات ذلك في التاريخ الإسلامي.
المبحث الثاني: وأتناول فيه مسألة الجزية في الإسلام، وأبين الحق في هذه الشرعة والمقصود منها.
الخاتمة: وألخص فيها أهم ما توصلت إليه الدراسة من نتائج.
وإذ أشكر الله على توفيقه؛ فإني أنسب توفيق هذا العمل إلى أهله، فأشكر السادة العلماء الذين أفدت من كتبهم وعلمهم وسبقهم إلى معالجة هذا الموضوع المهم، وأشرت إليهم في قائمة المراجع اعترافاً بسبقهم وأستاذيتهم، فقد كانت دراساتهم القيمة شمعة أضاءت ومهدت لي الطريق، وكانت سطورهم المباركة الركن الركين الذي قامت على أساساته هذه الدراسة، فلهم مني الشكر والاعتراف بالجميل والسبق.
وأسأل اللهَ أن يجعل هذا العمل خالصاً لوجهه الكريم، إنه ولي ذلك والقادر عليه، وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين.
د. منقذ بن محمود السقار
مكة المكرمة - صفر - 1427هـ
mongiz@maktoob.com
--------------------------------------------
আজ আমরা যখন বরকতময় জাগরণের রূপায়িত নতুন ইসলামী রেনেসাঁ প্রত্যক্ষ করছি, তখন আমাদের জন্য এটি কতই না সমীচীন যে, আমরা মুসলিম বিশ্বে বসবাসরত অন্যদের ভয়ভীতি দূর করব। কেননা আমাদের এই জাগরণ এবং দ্বীনের পথে ফিরে আসা এমন কিছুর দিকে নিয়ে যাবে না যা নিয়ে তারা আতঙ্কিত ও সতর্ক থাকে।
আর আমরা এই ভয়ভীতি দূর করব সেই অনন্য ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতার অবতারণা করে, যা তাদের পূর্বপুরুষরা দীর্ঘ সুখময় শতাব্দী ধরে মুসলিম সমাজের মাঝে উপভোগ করেছেন। যা আজও আমাদের সমাজ ও সভ্যতার অভ্যন্তরে উত্তরসূরিদের অস্তিত্ব ও সত্তাকে রক্ষা করে চলেছে।
আর আমাদের আলোচ্য বিষয়টি হলো একটি বার্তা, যা আমরা তাদের কাছে পেশ করছি যারা ইসলামকে সংকীর্ণতার দায়ে অভিযুক্ত করতে অভ্যস্ত এবং একে এমন বিশেষণে বিশেষায়িত করে যা ইতিহাস মিথ্যা প্রতিপন্ন করে এবং যার সত্যতা থেকে দৃষ্টি সরিয়ে রাখা যায় না।
এটি অত্যন্ত আশ্চর্যের বিষয় যে, ইসলামকে কোনো গুণ এবং তার বিপরীত গুণ—উভয় দ্বারাই বিশেষায়িত করা হয়। কেউ কেউ যদি একে সহিংসতার দায়ে অভিযুক্ত করে, তবে অন্যরা আবার এর সহনশীলতার প্রবণতাকে ত্রুটি হিসেবে গণ্য করে এবং একেই ইসলামী রাষ্ট্রের পতনের কারণ হিসেবে দেখে। কাউন্ট হেনরি ডি ক্যাস্ট্রি তাঁর 'আল-ইসলাম' গ্রন্থে বলেন: "মুসলিমরা সহনশীলতার ক্ষেত্রে চরমপন্থা অবলম্বন করেছিল; কারণ এটি অবাধ্যদের জন্য অবাধ্যতা সহজ করে দিয়েছিল এবং মাগরিবের কিছু স্বাধীন পরিবারের জন্য আন্দালুস ও মাগরিবের জামাত থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পথ সুগম করেছিল। এই সহনশীলতার পরিণামে আরব সাম্রাজ্যের উপাদানগুলো ভেঙে পড়ে। এটি খুবই সম্ভব যে, খ্রিস্টানরা স্যাক্সন ও ভ্যান্ডাল জাতিগুলোর সাথে যেমন আচরণ করেছিল, মুসলিমরা যদি আন্দালুসীয়দের সাথে তেমন আচরণ করত, তবে তারা ইসলামের ওপর চিরস্থায়ী ও স্থিতিশীল থাকত" (১)।
গবেষণার ফলাফল পাওয়ার জন্য আমরা কেন সময়ের আগেই তাড়াহুড়ো করব? কেন আমরা ইতিহাসকে তার ইনসাফপূর্ণ কথা বলতে দেব না আমাদের সেই অনন্য সভ্যতার পরিক্রমায়, যা আমাদের চিরস্মরণীয় পূর্বপুরুষরা অন্যদের সাথে আচরণের ক্ষেত্রে উপস্থাপন করেছিলেন? তারা এর ভিত্তি ও শ্রেষ্ঠত্ব গ্রহণ করেছিলেন তাদের রবের কিতাব, তাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহ এবং ইসলামের উজ্জ্বল শরীয়ত থেকে।
এই গবেষণাটি একটি ভূমিকা, দুটি পরিচ্ছেদ এবং একটি উপসংহারে বিন্যস্ত করা হয়েছে:
ভূমিকা: এতে আমি মুসলিম দেশগুলোতে অবস্থানরত অমুসলিমদের প্রকারভেদ এবং তাদের প্রত্যেকের সাধারণ বিধানসমূহ সম্পর্কে আলোচনা করেছি।
প্রথম পরিচ্ছেদ: এতে আমি মুসলিম সমাজে অমুসলিমদের অধিকার ও নিরাপত্তা সম্পর্কে উল্লেখ করেছি এবং ইসলামী ইতিহাসে এর প্রয়োগসমূহ তুলে ধরেছি।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: এতে আমি ইসলামের জিজিয়া ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করেছি এবং এই বিধানের যথার্থতা ও এর উদ্দেশ্য স্পষ্ট করেছি।
উপসংহার: এতে আমি গবেষণালব্ধ প্রধান ফলাফলগুলোর সারসংক্ষেপ তুলে ধরেছি।
আল্লাহর তাওফিকের জন্য তাঁর শুকরিয়া আদায় করছি; আমি এই কাজের সফলতাকে এর যোগ্য ব্যক্তিদের সাথে সংশ্লিষ্ট করছি। আমি সেই বিজ্ঞ আলেমদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি যাদের কিতাব ও ইলম থেকে আমি উপকৃত হয়েছি এবং যারা এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি নিয়ে কাজ করার ক্ষেত্রে অগ্রগামী ছিলেন। তাঁদের অগ্রগামিতা ও পাণ্ডিত্যের স্বীকৃতিস্বরূপ আমি তাঁদের নাম তথ্যসূত্রে উল্লেখ করেছি। তাঁদের মূল্যবান গবেষণা ছিল একটি প্রদীপ্ত মোমবাতি যা আমার পথকে আলোকিত ও সুগম করেছে এবং তাঁদের বরকতময় লেখাগুলো ছিল সুদৃঢ় ভিত্তি যার ওপর এই গবেষণার ভিত নির্মিত হয়েছে। তাঁদের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা ও ঋণের স্বীকৃতি রইল।
আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন এই কাজটিকে একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন, নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং এর ওপর ক্ষমতাবান। আমাদের শেষ কথা হলো—সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
ড. মুনকিয বিন মাহমুদ আস-সাক্কার
মক্কা মুকাররমা - সফর - ১৪২৭ হিজরী
mongiz@maktoob.com
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাআয়ুশু মাআ গয়রিল মুসলিমিনা ফিল মুজতামাইল মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ৩)
التمهيدقبل الشروع في تبيان حكم الإسلام في غير المسلمين المقيمين في بلاد المسلمين أرى ضرورة التعريف بأنواعهم وتبيان الملامح الرئيسة والأحكام العامة لكل منهم.
أ. معنى الكفرالكفر: وصف يشمل كل من كذب الرسول عليه الصلاة والسلام، في شيء مما جاء به، أو صدقه وامتنع عن الدخول في الإسلام، يقول ابن تيمية: " الكفر يكون بتكذيب الرسول صلى الله عليه وسلم فيما أخبر به، أو الامتناع عن متابعته مع العلم بصدقه، مثل كفر فرعون واليهود ونحوهم" (1). فالمقصود به من سوى المسلمين من أهل الملل والأديان؛ سواء كانت كتابية أو وثنية؛ فإن حكم الكفر يشملهم جميعاً؛ إذ لا فرق - وفق الرؤية الإسلامية - بين من يعبد العجل ومن يعبد المسيح؛ إذ كلاهما عبد غيرَ الله، ووقع في الشرك والكفر الذي توعد المسيح عليه الصلاة والسلام فاعله بالنار: {وقال المسيح يا بني إسرائيل اعبدوا الله ربي وربكم إنه من يشرك بالله فقد حرم الله عليه الجنة ومأواه النار وما للظالمين من أنصارٍ} (المائدة: 72).
ولا يشكلنَّ على القارئ لآيات القرآن ما يجده من خطاب قرآني رقيق مع أهل الكتاب يميزهم به عن غيرهم من إخوانهم من أهل الشرك، فيظن أن نداءه لهم {يا أهل الكتاب} شهادة لهم بالإيمان، من وهِم ذلك فهو جاهل بطريقة القرآن في الخطاب مع غير المسلمين، إذ لم يرد في القرآن: (يا أيها الذين كفروا) إلا في تصوير حالهم في الآخرة، حين يناديهم الله {يا أيها الذين كفروا لا تعتذروا اليوم إنما تجزون ما كنتم تعملون} (التحريم: 7)، وورد مثله صريحاً في مفاصلة المشركين {قل يا أيها الكافرون * لا أعبد ما تعبدون} (الكافرون: 1 - 2)، إذ لم يكن من أدب الإسلام أن يخاطب من استيقن كفره بقوله: (يا كافر). قال الله تعالى: {وقولوا للناس حسناً} (البقرة: 83).
وكذلك فإن نداء القرآن {يا أهل الكتاب} يفيد في غاية مقصده أنهم قوم نزل فيهم كتاب من كتب الله، ولا يفيد إيمانهم، ولا حتى سلامة كتبهم - التي يناديهم باسمها - من التحريف والتبديل، ومن ظن أن هذا الخطاب القرآني يلحقهم بالمؤمنين، فقد جهل أصول الإسلام التي صرحت بكفر أهل الكتاب كما في قوله تعالى: {لم يكن الذين كفروا من أهل الكتاب والمشركين منفكين حتى تأتيهم البينة} (البينة: 1).
--------------------------------------------
উপক্রমনিকামুসলিম ভূখণ্ডে বসবাসকারী অমুসলিমদের ক্ষেত্রে ইসলামের বিধান বর্ণনা করার পূর্বে আমি তাদের প্রকারভেদ সংজ্ঞায়িত করা এবং প্রত্যেকের প্রধান বৈশিষ্ট্য ও সাধারণ বিধানাবলী স্পষ্ট করা প্রয়োজনীয় মনে করছি।
ক. কুফরের অর্থকুফর (অবিশ্বাস): এটি এমন একটি গুণ যা ঐ প্রত্যেক ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করে, যে রাসুল আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম যা নিয়ে এসেছেন তার কোনো কিছুতে তাঁকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে, অথবা তাঁকে সত্য বলে বিশ্বাস করা সত্ত্বেও ইসলামে প্রবেশ করা থেকে বিরত থেকেছে। ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেন: "রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা সংবাদ দিয়েছেন তাতে তাঁকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার মাধ্যমে অথবা তাঁর সত্যতা জানা সত্ত্বেও তাঁর অনুসরণ করা থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে কুফর সংঘটিত হয়; যেমন ফেরাউন, ইহুদি এবং তাদের সদৃশ ব্যক্তিদের কুফর।" (১)। সুতরাং এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো মুসলিম ব্যতীত অন্যান্য ধর্ম ও মতাদর্শের অনুসারীরা; তারা কিতাবি হোক বা পৌত্তলিক; কুফরের বিধান তাদের সকলকেই অন্তর্ভুক্ত করে। কারণ ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী—যে বাছুর পূজা করে এবং যে মসীহ-এর পূজা করে, তাদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই; কারণ তারা উভয়েই আল্লাহ ব্যতীত অন্যের ইবাদত করেছে এবং শিরক ও কুফরে লিপ্ত হয়েছে, যার কর্তাকে মসীহ আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম জাহান্নামের আগুনের ভয় দেখিয়েছেন: {আর মসীহ বলেছিলেন, হে বনী ইসরাঈল! তোমরা আমার রব ও তোমাদের রব আল্লাহর ইবাদত করো। নিশ্চয়ই যে আল্লাহর সাথে শরিক স্থির করে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাত হারাম করে দিয়েছেন এবং তার আবাসস্থল হবে জাহান্নাম। আর জালেমদের জন্য কোনো সাহায্যকারী নেই} (আল-মায়িদাহ: ৭২)।
কুরআনের আয়াতসমূহের পাঠক যেন আহলে কিতাবদের সাথে কুরআনের কোমল সম্বোধন দেখে বিভ্রান্ত না হন, যেখানে তাদের মুশরিক ভাইদের থেকে পৃথক করা হয়েছে। তিনি যেন এমন ধারণা না করেন যে, তাদের প্রতি {হে কিতাবধারীগণ} এই আহ্বান তাদের ঈমানের সাক্ষ্য দেয়। যে ব্যক্তি এমন ধারণা করবে, সে অমুসলিমদের সাথে কুরআনের সম্বোধন পদ্ধতি সম্পর্কে অজ্ঞ। কারণ কুরআনে {হে কাফের সম্প্রদায়} সম্বোধনটি কেবল পরকালে তাদের অবস্থা বর্ণনার ক্ষেত্রেই এসেছে, যখন আল্লাহ তাদের সম্বোধন করে বলবেন: {হে কাফেরগণ! আজ তোমরা ওজর পেশ করো না, তোমাদের কেবল তা-ই প্রতিদান দেওয়া হচ্ছে যা তোমরা আমল করতে} (আত-তাহরীম: ৭)। অনুরূপভাবে স্পষ্ট সম্বোধন এসেছে মুশরিকদের সাথে সম্পর্কচ্ছেদের ক্ষেত্রে: {বলুন, হে কাফেরগণ! আমি তার ইবাদত করি না যার ইবাদত তোমরা করো} (আল-কাফিরুন: ১-২)। কারণ যাদের কুফর নিশ্চিত, তাদের 'হে কাফের' বলে সম্বোধন করা ইসলামের আদব নয়। মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর মানুষের সাথে সদালাপ করো} (আল-বাকারাহ: ৮৩)।
তেমনিভাবে কুরআনের এই আহ্বান {হে কিতাবধারীগণ} এর চূড়ান্ত উদ্দেশ্য হলো—তারা এমন এক জাতি যাদের নিকট আল্লাহর পক্ষ থেকে কিতাব নাজিল হয়েছে; এটি তাদের ঈমান বা এমনকি তাদের কিতাবসমূহের (যে নামে তাদের সম্বোধন করা হয়েছে) বিকৃতি ও পরিবর্তন থেকে মুক্ত থাকার প্রমাণ দেয় না। আর যে ব্যক্তি মনে করে যে এই কুরআনিক সম্বোধন তাদের মুমিনদের অন্তর্ভুক্ত করে, সে ইসলামের সেই মৌলিক মূলনীতিগুলো সম্পর্কে অজ্ঞ যা আহলে কিতাবদের কুফরের বিষয়টি স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছে, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {আহলে কিতাব ও মুশরিকদের মধ্যে যারা কুফরি করেছে তারা ততক্ষণ পর্যন্ত (নিজেদের অবস্থা থেকে) বিরত হওয়ার ছিল না, যতক্ষণ না তাদের কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণ আসে} (আল-বাইয়্যিনাহ: ১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাআয়ুশু মাআ গয়রিল মুসলিমিনা ফিল মুজতামাইল মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ৪)
وقد صرحت الآيات القرآنية بكفر اليهود منهم {فبما نقضهم ميثاقهم وكفرهم بآيات الله وقتلهم الأنبياء بغير حق وقولهم قلوبنا غلفٌ بل طبع الله عليها بكفرهم فلا يؤمنون إلا قليلاً * وبكفرهم وقولهم على مريم بهتاناً عظيماً} (المائدة: 155 - 156).
وقد أكفر الله نصارى أهل الكتاب بقوله: {لقد كفر الذين قالوا إن الله هو المسيح ابن مريم} (المائدة: 17)، وقوله: {لقد كفر الذين قالوا إن الله ثالث ثلاثةٍ وما من إلهٍ إلا إلهٌ واحدٌ وإن لم ينتهوا عما يقولون ليمسن الذين كفروا منهم عذابٌ أليمٌ} (المائدة: 73).
ب. أنواع الكفارالكفار المستعلنون برفض الإسلام وعقائده وأصوله لا فرق بينهم في أحكام الآخرة، فكلهم متوعد بالنار يوم القيامة {وأن للكافرين عذاب النار} (الأنفال: 14)، وإن اختلفت بواعث كفرهم.
وأما في أحكام الدنيا فالشريعة تفرق بين الكفار بحسب عدائهم للمجتمع المسلم، فلا يستوي فيها أبو طالب وأبو جهل، نعم. كلاهما كفر بدين رسول الله صلى الله عليه وسلم، لكن أحدهما أعلن العداء لدين الحق وحارب الله ورسوله، بينما دافع الآخر عن الحق، وحماه، وذاد عن حياضه؛ وإن لم يؤمن به، فلا سواء في أحكام الدنيا بين هذا وذاك.
والكفار بحسب شريعة المجتمع المسلم على أنواع، أجملهم الإمام ابن القيم بقوله: «الكفار إما أهل حرب وإما أهل عهد؛ وأهل العهد ثلاثة أصناف: أهل ذمة، وأهل هدنة، وأهل أمان» (1).
فأول أنواعهم؛ الحربي، وهو المقيم في بلاد الكفر المحاربة للمسلمين، ولا تعلق له بمبحثنا إلا إذا دخل بلاد المسلمين بهدنة أو أمان، فإنه لا يصير حينذاك حربياً، بل يكون من أهل النوع الثاني؛ أهل العهد، أي يكون معاهداً أو مستأمناً.
والأصل في ألفاظ (الأمان والعهد والذمة) أنها ألفاظ عامة، تشمل أنواع المستأمنين والمعاهدين وغيرهم ممن هم في بلاد الإسلام بعقد ذمة أو هدنة أو أمان، فذمَّة المسلمين وعهودهم وأمانهم ثابتة لكل هذه الأصناف، والأصل في معاملتهم جميعاً قوله تعالى: {يا أيها الذين آمنوا أوفوا بالعقود} (المائدة: 1).
ورغم ترادف ألفاظ الذمة والهدنة والأمان وغيرها؛ فإن الفقهاء فرقوا بينها من الناحية الاصطلاحية، فخصوا كل واحد منها بنوع من الكفار.
فـ (أهل الذمة) هم الكفار المقيمون تحت ولاية المسلمين وفي دولتهم، قال ابن القيم: "ولفظ الذمة والعهد يتناول هؤلاء [أهل الذمة وأهل الهدنة وأهل الأمان] كلهم في الأصل ، وكذلك لفظ الصلح، فإن الذمة من جنس لفظ العهد والعقد.
وقولهم: هذا في ذمة فلان، أصله من هذا، أي: في عهده وعقده .. ولكن صار في اصطلاح كثير من الفقهاء (أهل الذمة) عبارة عمن يؤدي الجزية، وهؤلاء لهم ذمة مؤبدة، وهؤلاء قد عاهدوا المسلمين على أن يجري عليهم حكم الله ورسوله، إذ هم
--------------------------------------------
কুরআনের আয়াতসমূহ তাদের মধ্যে ইয়াহুদিদের কুফরির কথা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছে: {অতঃপর তাদের অঙ্গীকার ভঙ্গের কারণে, আল্লাহর আয়াতসমূহ অস্বীকার করার কারণে, অন্যায়ভাবে নবীদের হত্যা করার কারণে এবং তাদের এই কথা বলার জন্য যে, ‘আমাদের হৃদয় আবৃত’, বরং তাদের কুফরির কারণে আল্লাহ তাতে মোহর মেরে দিয়েছেন, ফলে তাদের অল্প সংখ্যকই ঈমান আনে। এবং তাদের কুফরির কারণে এবং মারিয়ামের বিরুদ্ধে গুরুতর অপবাদ আরোপ করার জন্য} (আল-মায়িদাহ: ১৫৫ - ১৫৬)।
আর আল্লাহ আহলে কিতাব নাসারাদের কাফির সাব্যস্ত করেছেন তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে: {নিশ্চয় তারা কাফির হয়েছে যারা বলে যে, আল্লাহই হলেন মারিয়ামের পুত্র মসীহ} (আল-মায়িদাহ: ১৭), এবং তাঁর বাণী: {অবশ্যই তারা কাফির হয়েছে যারা বলে, ‘আল্লাহ তিনের তৃতীয়জন’, অথচ এক ইলাহ ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই। আর তারা যা বলে তা থেকে যদি বিরত না হয়, তবে তাদের মধ্যে যারা কুফরি করেছে তাদের ওপর অবশ্যই যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি আপতিত হবে} (আল-মায়িদাহ: ৭৩)।
খ. কাফিরদের প্রকারভেদযারা ইসলাম, এর আকিদাহ ও মূলনীতিসমূহ অস্বীকার করার মাধ্যমে প্রকাশ্য কুফরিতে লিপ্ত, পরকালের বিধানের ক্ষেত্রে তাদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। কিয়ামতের দিন তাদের সবার জন্যই জাহান্নামের আগুনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে: {আর নিশ্চয়ই কাফিরদের জন্য রয়েছে আগুনের শাস্তি} (আল-আনফাল: ১৪), যদিও তাদের কুফরির কারণসমূহ ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে।
আর দুনিয়াবি বিধানের ক্ষেত্রে শরিয়ত মুসলিম সমাজের প্রতি কাফিরদের শত্রুতার তারতম্য অনুযায়ী তাদের মধ্যে পার্থক্য করে। এক্ষেত্রে আবু তালিব ও আবু জাহল সমান নয়। হ্যাঁ, তারা উভয়েই রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর দীনের সাথে কুফরি করেছিলেন, কিন্তু তাদের একজন সত্য দীনের বিরুদ্ধে শত্রুতা ঘোষণা করেছিলেন এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলেন; পক্ষান্তরে অপরজন সত্যের প্রতিরক্ষা করেছিলেন, তাকে হেফাযত করেছিলেন এবং এর সুরক্ষা নিশ্চিত করেছিলেন, যদিও তিনি তার ওপর ঈমান আনেননি। সুতরাং দুনিয়াবি বিধানের ক্ষেত্রে এই ব্যক্তি ও ওই ব্যক্তির মধ্যে কোনো সমতা নেই।
মুসলিম সমাজের শরিয়ত অনুযায়ী কাফিররা কয়েক প্রকারের হয়ে থাকে। ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম তাদের সংক্ষেপে এভাবে বর্ণনা করেছেন: «কাফিররা হয় যুদ্ধরত পক্ষ, অথবা চুক্তিবদ্ধ পক্ষ; আর চুক্তিবদ্ধরা তিন প্রকার: জিম্মি, সন্ধিকারী এবং নিরাপত্তাপ্রাপ্ত» (১)।
তাদের প্রথম প্রকার হলো; হারবি (যুদ্ধরত কাফির), সে হলো ওই ব্যক্তি যে মুসলিমদের সাথে যুদ্ধরত কুফরি রাষ্ট্রে বসবাস করে। আমাদের আলোচনার বিষয়ের সাথে তার কোনো সম্পর্ক নেই, যতক্ষণ না সে সন্ধি বা নিরাপত্তার চুক্তিতে মুসলিম দেশে প্রবেশ করে। তখন সে আর হারবি থাকে না, বরং দ্বিতীয় প্রকারের অর্থাৎ চুক্তিবদ্ধদের অন্তর্ভুক্ত হয়; অর্থাৎ সে মুআহিদ (চুক্তিভুক্ত) অথবা মুস্তামিন (নিরাপত্তাপ্রাপ্ত) হিসেবে গণ্য হয়।
মূলত নিরাপত্তা, অঙ্গীকার এবং জিম্মাদারি শব্দগুলো ব্যাপক অর্থবোধক শব্দ। এতে ওই সকল নিরাপত্তাপ্রাপ্ত, চুক্তিবদ্ধ এবং অন্যান্য ব্যক্তিরা অন্তর্ভুক্ত যারা যিম্মাহ চুক্তি, সন্ধি চুক্তি বা নিরাপত্তা চুক্তির মাধ্যমে মুসলিম রাষ্ট্রে অবস্থান করে। মুসলিমদের জিম্মাদারি, অঙ্গীকার এবং নিরাপত্তা এই সকল শ্রেণির জন্য সুসাব্যস্ত। তাদের সবার সাথে আচরণের মূল ভিত্তি হলো মহান আল্লাহর বাণী: {হে মুমিনগণ! তোমরা অঙ্গীকারসমূহ পূর্ণ করো} (আল-মায়িদাহ: ১)।
যদিও জিম্মাহ, সন্ধি এবং আমান ইত্যাদি শব্দগুলো সমার্থক, তবুও ফকিহগণ পারিভাষিক দিক থেকে এগুলোর মধ্যে পার্থক্য করেছেন। তাঁরা এর প্রত্যেকটিকে কাফিরদের একটি নির্দিষ্ট শ্রেণির জন্য বিশেষায়িত করেছেন।
অতএব ‘আহলুয যিম্মাহ’ (জিম্মি) হলো তারা যারা মুসলিমদের কর্তৃত্ব ও রাষ্ট্রের অধীনে বসবাস করে। ইবনুল কাইয়্যিম বলেন: "যিম্মাহ এবং অঙ্গীকার শব্দ দুটি মূলত এদের [জিম্মি, সন্ধিকারী এবং নিরাপত্তাপ্রাপ্ত] সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করে। অনুরূপভাবে সন্ধি শব্দটিও। কারণ যিম্মাহ শব্দটি অঙ্গীকার ও চুক্তির পর্যায়ভুক্ত।
আর তাদের এই কথা: 'অমুক ব্যক্তির জিম্মায় রয়েছে', এর মূল অর্থ এখান থেকেই গৃহীত, অর্থাৎ: তার অঙ্গীকার ও চুক্তিতে রয়েছে... কিন্তু অনেক ফকিহর পরিভাষায় 'আহলুয যিম্মাহ' শব্দটি তাদের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় যারা জিজিয়া প্রদান করে। এদের জন্য স্থায়ী জিম্মাদারি বা নিরাপত্তা রয়েছে। এরা মুসলিমদের সাথে এই মর্মে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে যে, তাদের ওপর আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিধান কার্যকর হবে, যেহেতু তারা
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাআয়ুশু মাআ গয়রিল মুসলিমিনা ফিল মুজতামাইল মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ৫)
مقيمون في الدار التي يجري فيها حكم الله ورسوله" (1)، ومقصوده رحمه الله بجريان أحكام الإسلام أي العامة منها المتعلقة بشؤون الدولة والمجتمع ككل، وإلا فإنه لا يعرض لهم في خاصة أمورهم وما تعلق بدينهم من شرائع، كما سيأتي بيانه. قال المرداوي: "لا يجوز عقد الذمة إلا بشرطين: بذل الجزية والتزام أحكام الملة من جريان أحكام المسلمين عليهم .. يلزم أن يأخذوهم بأحكام المسلمين في ضمان النفس والمال والعرض وإقامة الحدود عليهم فيما يعتقدون تحريمه" (2).
ولقد يعجب المرء وهو يتابع وسائل الإعلام تنفث سمومها حول هذا المصطح (أهل الذمة) حتى تخاله سُبة شنيعة، تطيش عند سماعه عقول كثيرين ممن لم يفهموا المعانى السامية والدقيقة التي تحملها هذه الكلمة، فأهل ذمة المسلمين هم - كما قال سليمان البجيرمي - أهل: "عهدهم وأمانهم وحرمتهم" (3).
و (ذمة الله وذمة رسوله) وصف جميل يشتمل على الكثير من التكريم، وقد أمر به في حق المسلمين الذين عَهِد الله ورسوله بالكف عن دمائهم وأموالهم، قال صلى الله عليه وسلم: «من صلى صلاتنا واستقبل قبلتنا وأكل ذبيحتنا؛ فذلك المسلم الذي له ذمة الله وذمة رسوله، فلا تخفروا الله في ذمته» (4) وكذلك فإن من ذمة الله التي يرقبها المسلم ما لا يعطاه إلا المؤمن الذي يصلي الفجر في جماعة، قال صلى الله عليه وسلم: «من صلى الصبح فهو في ذمة الله، فلا يطلبنكم الله من ذمته بشيء فيدركه فيكبه في نار جهنم» (5)، فمن كان هذا حاله فهو في أمان الله وعهده وضمانه؛ فلا ينبغي أن يتعرض له أحد بالإيذاء.
وهذا المعنى الرفيق هو ما نريده حين نسمي مواطنينا غير المسلمين (أهل ذمة الله ورسوله)، أي لهم عهد من الله ورسوله بالأمان، فينبغي على كل مسلم رعايته وعدم التعرض لهم بالإيذاء، قال صلى الله عليه وسلم: «من قتل معاهَداً له ذمة الله وذمة رسوله ، فلا يرح رائحة الجنة، وإن ريحها لتوجد من مسيرة سبعين عاماً» (6).
وبالعود إلى أصناف الكفار؛ فإن الصنف الثاني منهم (أهل العهد)، وهم الذين صالحهم إمام المسلمين أو هادنهم، قال ابن القيم: "أهل الهدنة فإنهم صالحوا المسلمين على أن يكونوا في دارهم، سواء كان الصلح على مال أو غير مال، لا تجري عليهم
--------------------------------------------
"তারা এমন এক ভূখণ্ডে বসবাসকারী যেখানে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিধান কার্যকর হয়" (১), এবং তাঁর (রহিমাহুল্লাহ) উদ্দেশ্য হলো ইসলামের সাধারণ বিধানগুলো কার্যকর হওয়া, যা রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক সামগ্রিক বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট। অন্যথায়, তাদের ব্যক্তিগত বিষয় এবং তাদের ধর্মের সাথে সংশ্লিষ্ট শরীয়ত সংক্রান্ত বিষয়ে কোনো হস্তক্ষেপ করা হবে না, যেমনটি সামনে বর্ণিত হবে। আল-মারদাওয়ী বলেছেন: "জিজিয়া প্রদান এবং মুসলিমদের বিধিবিধান মেনে চলা—এই দুটি শর্ত ছাড়া যিম্মি চুক্তি (عقد الذمة) করা বৈধ নয়... জান, মাল ও ইজ্জতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং যে কাজগুলোকে তারা হারাম মনে করে সেগুলোর ক্ষেত্রে দণ্ডবিধি (الحدود) প্রয়োগে তাদেরকে মুসলিমদের বিধিবিধানের আওতাভুক্ত করা আবশ্যক" (২)।
গণমাধ্যম যখন এই পরিভাষাটি (আহলুয যিম্মাহ/أهل الذمة) নিয়ে বিষোদ্গার করে, তখন মানুষ আশ্চর্যান্বিত হয়। এমনকি তারা এটিকে একটি জঘন্য গালি হিসেবে মনে করে; এই শব্দের মাঝে যে উচ্চতর ও সূক্ষ্ম অর্থ নিহিত রয়েছে তা না বুঝে অনেকের বুদ্ধিই লোপ পায়। অথচ মুসলিমদের রক্ষণাবেক্ষণে থাকা যিম্মিরা (أهل ذمة) হলেন—যেমনটি সুলায়মান আল-বুজাইরিমী বলেছেন—তাদের: "চুক্তি, নিরাপত্তা ও পবিত্রতা (রক্ষণাবেক্ষণকারী)" (৩)।
এবং (আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের জিম্মাদারি/ذمة الله وذمة رسوله) একটি চমৎকার বিশেষণ যা অনেক সম্মান বহন করে। এটি সেই সব মুসলিমদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হয়েছে যাদের রক্ত ও মালের অনিষ্ট থেকে বিরত থাকার নির্দেশ আল্লাহ ও তাঁর রাসূল দিয়েছেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি আমাদের মতো সালাত আদায় করে, আমাদের কিবলামুখী হয় এবং আমাদের যবেহ করা পশু ভক্ষণ করে; সে-ই সেই মুসলিম যার জন্য আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের জিম্মাদারি (ذمة) রয়েছে। অতএব, আল্লাহর জিম্মাদারির (ذمة) ব্যাপারে তাঁর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করো না» (৪)। একইভাবে আল্লাহর সেই জিম্মাদারির (ذمة) অন্তর্ভুক্ত যা একজন মুসলিম রক্ষা করে, তা কেবল সেই মুমিনই লাভ করে যে জামাতের সাথে ফজরের সালাত আদায় করে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি ফজরের সালাত আদায় করল, সে আল্লাহর জিম্মাদারিতে (ذمة) থাকল। সুতরাং আল্লাহ যেন তাঁর জিম্মাদারির (ذمة) কোনো বিষয়ে তোমাদের পাকড়াও না করেন; কারণ যাকে তিনি পাকড়াও করবেন, তাকে উপুড় করে জাহান্নামের আগুনে নিক্ষেপ করবেন» (৫)। সুতরাং যার অবস্থা এমন, সে আল্লাহর নিরাপত্তা, অঙ্গীকার ও আশ্রয়ে রয়েছে; তাই কারো উচিত নয় তাকে কষ্ট দেওয়া।
আর এই কোমল অর্থটিই আমরা উদ্দেশ্য করি যখন আমাদের অমুসলিম নাগরিকদের 'আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের যিম্মি' (أهل ذمة الله ورسوله) বলে অভিহিত করি। অর্থাৎ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে তাদের জন্য নিরাপত্তার অঙ্গীকার রয়েছে। সুতরাং প্রত্যেক মুসলিমের উচিত তা রক্ষা করা এবং তাদের কোনো প্রকার কষ্ট না দেওয়া। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি কোনো চুক্তিবদ্ধ অমুসলিমকে (معاهداً) হত্যা করল যার জন্য আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের জিম্মাদারি (ذمة) রয়েছে, সে জান্নাতের সুঘ্রাণও পাবে না; যদিও জান্নাতের সুঘ্রাণ সত্তর বছরের দূরত্বের পথ থেকে পাওয়া যায়» (৬)।
অমুসলিমদের প্রকারভেদের দিকে ফিরে তাকালে দেখা যায়, তাদের দ্বিতীয় প্রকার হলো: 'চুক্তিবদ্ধ সম্প্রদায়' (أهل العهد), তারা হলো সেই সব লোক যাদের সাথে মুসলিমদের ইমাম বা শাসক সন্ধি করেছেন। ইবনুল কাইয়্যিম বলেছেন: "সন্ধিভুক্ত সম্প্রদায় হলো তারা, যারা মুসলিমদের সাথে এই মর্মে সন্ধি করেছে যে তারা তাদের নিজ ভূখণ্ডে বসবাস করবে, চাই সেই সন্ধি মালের বিনিময়ে হোক বা অন্য কোনো কিছুর বিনিময়ে, তাদের ওপর কার্যকর হবে না...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাআয়ুশু মাআ গয়রিল মুসলিমিনা ফিল মুজতামাইল মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ৬)
أحكام الإسلام كما تجري على أهل الذمة، ولكن عليهم الكف عن محاربة المسلمين، وهؤلاء يسمون أهل العهد وأهل الصلح وأهل الهدنة" (1).
وأما (المستأمن) فهو من يدخل بلاد المسلمين من أهل بلاد الحرب بأمان لغرض ما، لا على وجه الديمومة، قال النووي: "المستأمن هو الحربي الذي دخل دار الإسلام بأمان" (2).
وفصّل ابن القيم أقسام المستأمنين الذين يدخلون بلاد المسلمين لغير الاستيطان فهم على " أقسام: رسل وتجار ومستجيرون، وحكم هؤلاء ألا يهاجروا ولا يقتلوا، ولا تؤخذ منهم الجزية" (3)، ويندرج في هؤلاء سفراء الدول المعادية ودبلوماسيهم وصحفييهم ومن في حكمهم.
والأصل في الأمان المعطى لهذه الأنواع جميعاً أن يكون من الوالي أو الحاكم المسلم، ولو أعطاه أحد من عامة المسلمين ثبت له، فقد أجارت زينب بنت النبي صلى الله عليه وسلم أبا العاص بن الربيع ، فأمضاه النبي عليه الصلاة والسلام (4).
كما أمضى صلى الله عليه وسلم جوار أم هانىء لأحمائها، فقال لها: «قد أجرنا من أجرتِ يا أم هانىء، إنما يجير على المسلمين أدناهم» (5).
وعليه فأي مسلم أمَّن حربياً دخل بلاد المسلمين ثبت أمانه - كائناً من كان -، لأن «ذمة المسلمين واحدة، يسعى بها أدناهم، فمن أخفر مسلماً فعليه لعنة الله والملائكة والناس أجمعين ، لا يُقبل منهم صرف ولا عدل» (6).
ويلحق بالمستأمن من كان له شبهة عهد، أو ادعاه ولم يقدر على إقامة الحجة عليه، فيلحق بالمستأمن احتياطاً لاحتمال صدقه، فالخطأ أولى من الجور، قال محمد بن الحسن الشيباني: "لو خرج من دار الحرب كافر مع مسلم، فادعى المسلمُ أسرَه، وادعى الآخر الأمان؛ فالقول قول الحربي" (7).
ومثله لو ادعى الحربي الذي دخل بلاد المسلمين أنه رسول، قال ابن قدامة: "إذا دخل حربي دار الإسلام بغير أمان ، وادعى أنه رسول قُبِل منه، ولم يجز التعرض له؛
--------------------------------------------
"ইসলামের বিধানসমূহ জিম্মিদের (أهل الذمة) ক্ষেত্রে যেভাবে প্রযোজ্য হয়, তাদের ক্ষেত্রেও তেমন; তবে শর্ত হলো তারা মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা থেকে বিরত থাকবে। এদেরকে অঙ্গীকারবদ্ধ (أهل العهد), সন্ধিবদ্ধ (أهل الصلح) এবং যুদ্ধবিরতির অন্তর্ভুক্ত (أهل الهدنة) বলা হয়" (১)।
আর মুস্তামিন (المستأمن) বা নিরাপত্তা প্রাপ্ত ব্যক্তি হলো সে, যে কোনো উদ্দেশ্যে নিরাপত্তার সাথে হারবি ভূখণ্ড (بلاد الحرب) থেকে মুসলিম ভূখণ্ডে প্রবেশ করে, কিন্তু তা স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য নয়। ইমাম নববী বলেন: "মুস্তামিন (المستأمن) হলো সেই হারবি (الحربي) ব্যক্তি, যে নিরাপত্তার সাথে ইসলামি ভূখণ্ডে (دار الإسلام) প্রবেশ করেছে" (২)।
ইবনুল কাইয়্যিম সেই সকল মুস্তামিনদের (المستأمنين) প্রকারভেদ বিস্তারিত আলোচনা করেছেন যারা স্থায়ীভাবে বসবাসের উদ্দেশ্য ছাড়া মুসলিম ভূখণ্ডে প্রবেশ করে। তারা কয়েকটি "শ্রেণীতে বিভক্ত: দূত, ব্যবসায়ী এবং আশ্রয়প্রার্থী। তাদের বিধান হলো তাদের দেশত্যাগ করানো হবে না, হত্যা করা হবে না এবং তাদের থেকে জিজিয়া (الجزية) গ্রহণ করা হবে না" (৩)। শত্রু রাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত, কূটনীতিক, সাংবাদিক এবং সমপর্যায়ের ব্যক্তিরা এর অন্তর্ভুক্ত।
এই সকল শ্রেণীর লোকদের প্রদত্ত নিরাপত্তার মূল নীতি হলো তা মুসলিম ওয়ালি (الوالي) বা শাসকের পক্ষ থেকে হতে হবে। তবে সাধারণ মুসলিমদের কেউ যদি কাউকে নিরাপত্তা দেয়, তবে তাও কার্যকর হবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কন্যা জয়নাব আবু আল-আস ইবনুল রাবিকে নিরাপত্তা (أجارت) দিয়েছিলেন এবং নবী আলাইহিস সালাতু ওয়াসাল্লাম তা বহাল রেখেছিলেন (৪)।
অনুরূপভাবে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মে হানির আত্মীয়দের দেওয়া নিরাপত্তা বহাল রেখেছিলেন এবং তাকে বলেছিলেন: «হে উম্মে হানি! তুমি যাকে আশ্রয় দিয়েছ আমরাও তাকে আশ্রয় দিলাম। মুসলিমদের সাধারণ ব্যক্তিও নিরাপত্তা (يجير) দেওয়ার অধিকার রাখে» (৫)।
সুতরাং কোনো মুসলিম যদি কোনো হারবি (حربياً) ব্যক্তিকে নিরাপত্তা দান করে যে মুসলিম ভূখণ্ডে প্রবেশ করেছে, তবে তার নিরাপত্তা কার্যকর হবে—সে যে-ই হোক না কেন। কারণ «মুসলিমদের জিম্মা (ذمة) বা নিরাপত্তা অভিন্ন; তাদের সাধারণ ব্যক্তিও তা পালনে সচেষ্ট থাকে। সুতরাং যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের দেওয়া নিরাপত্তা ভঙ্গ করবে, তার ওপর আল্লাহর লানত এবং ফেরেশতা ও সকল মানুষের লানত। তার কোনো ফরজ (صرف) বা নফল (عدل) ইবাদত কবুল করা হবে না» (৬)।
মুস্তামিনের (المستأمن) বিধান তার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে যার ব্যাপারে চুক্তির অস্পষ্টতা (شبهة عهد) রয়েছে, অথবা যে নিরাপত্তার দাবি করেছে কিন্তু প্রমাণ পেশ করতে পারেনি। তার সত্যবাদী হওয়ার সম্ভাবনার কারণে সতর্কতাবশত তাকে মুস্তামিনের (المستأمن) অন্তর্ভুক্ত করা হবে; কেননা অবিচারের চেয়ে ভুল করা উত্তম। মুহাম্মদ ইবনুল হাসান আল-শাইবানী বলেন: "যদি হারবি ভূখণ্ড (دار الحرب) থেকে কোনো কাফিরের সাথে কোনো মুসলিম বের হয় এবং মুসলিম ব্যক্তি তাকে বন্দী (أسرَه) করার দাবি করে, আর অন্যজন নিরাপত্তার (الأمان) দাবি করে, তবে হারবি (الحربي) ব্যক্তির কথা গ্রহণযোগ্য হবে" (৭)।
অনুরূপভাবে মুসলিম ভূখণ্ডে প্রবেশকারী কোনো হারবি (الحربي) যদি দাবি করে যে সে একজন দূত, তবে ইবনু কুদামা বলেন: "যদি কোনো হারবি (حربي) নিরাপত্তা ছাড়াই ইসলামি ভূখণ্ডে (دار الإسلام) প্রবেশ করে এবং দাবি করে যে সে একজন দূত, তবে তা গ্রহণ করা হবে এবং তার ওপর হস্তক্ষেপ করা বৈধ হবে না;
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাআয়ুশু মাআ গয়রিল মুসলিমিনা ফিল মুজতামাইল মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ৭)
لقول النبي صلى الله عليه وسلم لرسولي مسيلمة: «لولا أن الرسل لا تقتل لقتلتكما» " (1). وذلك أن العادة جارية بذلك.
بل كل ما يشتبه على الحربي أنه أمان أعطاه المسلمون له؛ يصير أماناً له؛ ولو لم يكن كذلك، قال ابن قدامة: "وإن أشار إليه [مسلم] بالأمان فهو آمن .. وإن قال له: قف أو قم أو ألق سلاحك فقال أصحابنا: هو أمان؛ لأن الكافر يعتقده أماناً، فأشبه قوله: لا تخف" (2).
وممن يأمن بأمان المسلمين في بلادهم؛ التجار. قال أحمد: " إذا ركب القوم في البحر، فاستقبلهم فيه تجار مشركون من أرض العدو يريدون بلاد الإسلام لم يعرضوا لهم، ولم يقاتلوهم، وكل من دخل بلاد المسلمين من أهل الحرب بتجارة بويع، ولم يسأل عن شيء" (3).
وهكذا فالكافر إذا دخل بلاد المسلمين بعهد أو أمان، أو أقام بينهم؛ فهو في ذمة المسلمين وعهدهم، والله يقول: {وأوفوا بالعهد إن العهد كان مسئولاً} (الإسراء: 34).
--------------------------------------------
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর এই বাণীর কারণে যা তিনি মুসায়লিমার দুই দূতকে বলেছিলেন: «যদি এমন না হতো যে দূতদের হত্যা করা হয় না, তবে আমি তোমাদের দুজনকে হত্যা করতাম» (১)। আর এটি এ কারণে যে, প্রথা এভাবেই চলে আসছে।
বরং এমন প্রতিটি বিষয় যা একজন হারবি (حربي)-এর নিকট মনে হয় যে মুসলিমরা তাকে নিরাপত্তা (أمان) প্রদান করেছে, তা তার জন্য নিরাপত্তা (أمان) হিসেবে গণ্য হবে; যদিও বিষয়টি বাস্তবে তেমন না হয়। ইবনে কুদামা বলেন: "যদি কোনো [মুসলিম] তাকে নিরাপত্তার ইশারা দেয়, তবে সে নিরাপদ... আর যদি সে তাকে বলে: থামো অথবা দাঁড়াও অথবা তোমার অস্ত্র ফেলে দাও, তবে আমাদের সহচরগণ বলেছেন: এটি একটি নিরাপত্তা (أمان); কারণ কাফির একে নিরাপত্তা (أمان) মনে করে, ফলে এটি তার 'ভয় পেয়ো না' এই উক্তির সদৃশ হয়" (২)।
আর যারা মুসলিমদের দেশে তাদের নিরাপত্তার মাধ্যমে নিরাপদ থাকে, তাদের অন্তর্ভুক্ত হলো ব্যবসায়ীগণ। ইমাম আহমাদ বলেন: "যখন একদল লোক সমুদ্রে যাত্রা করে এবং তাদের সামনে শত্রুর ভূখণ্ড থেকে আগত মুশরিক ব্যবসায়ীগণ পড়ে যারা ইসলামি ভূখণ্ডে আসার ইচ্ছা পোষণ করে, তবে তারা যেন তাদের কোনো ক্ষতি না করে এবং তাদের সাথে যুদ্ধ না করে। আর হারবি (حربي) সম্প্রদায়ের যে কেউ ব্যবসা নিয়ে মুসলিমদের দেশে প্রবেশ করবে, তার সাথে কেনাবেচা করা হবে এবং তাকে কোনো বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে না" (৩)।
এভাবে কোনো কাফির যদি চুক্তি (عهد) বা নিরাপত্তা (أمان) নিয়ে মুসলিমদের দেশে প্রবেশ করে অথবা তাদের মাঝে বসবাস করে, তবে সে মুসলিমদের জিম্মাদারি (ذمة) ও চুক্তির (عهد) অন্তর্ভুক্ত হবে। আর আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর তোমরা অঙ্গীকার পূর্ণ করো, নিশ্চয়ই অঙ্গীকার সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে} (আল-ইসরা: ৩৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাআয়ুশু মাআ গয়রিল মুসলিমিনা ফিল মুজতামাইল মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ৮)
المبحث الأول: حقوق غير المسلمين في المجتمع المسلمتمتع غير المسلمين - المقيمون في بلاد المسلمين - بسلسلة من الضمانات التي منحها لهم المجتمع المسلم بهدي من كتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم.
ولسوف نعرض لأهم هذه الضمانات، ونوثقها بشهادة التاريخ ونصوص الفقهاء، حراس الشريعة، ورثة النبي صلى الله عليه وسلم.
أولاً: ضمان حرية المعتقديعتقد المسلمون أن دينهم هو الحق المبين، وأن ما عداه ديانات إلهية حُرفت ثم نُسخت بالإسلام، أو ضلالات وتخبطات أوجدها البشر جهلاً منهم بحقيقة الدين والمعتقد أو بغياً وهوى، وأن كل ذلك يحيق بأصحابه عذاب النار.
وقد أشفق المسلمون على إخوانهم في البشرية من هذا المصير المؤلم، وعملوا جهدهم على استنقاذهم منه ومن دياجير العيش في ظلال الكفر، ولم يدخروا جهداً في استمالة الأمم والشعوب التي اختلطوا بها إلى الإسلام، وذلك بما آتاهم الله من حجة ظاهرة وخلق قويم ودين ميسر تقبله الفطر، ولا تستغلق عن فهم مبادئه العقولُ.
ولم يعمد المسلمون طوال تاريخهم الحضاري العظيم إلى إجبار الشعوب أو الأفراد الذين تحت ولايتهم، وذلك تطبيقاً لمجموعة من المبادئ الإسلامية التي رسخت فيهم هذا السلوك:
أً. حتمية الخلاف وطبيعتهإن التعدّد في المخلوقات وتنوّعها سنة الله في الكون وناموسه الثابت، فطبيعة الوجود في الكون أساسها التّنوّع والتّعدّد.
والإنسانية خلقها الله وفق هذه السنة الكونية، فاختلف البشر إلى أجناس مختلفة وطبائع شتى، وكلّ من تجاهل وتجاوز أو رفض هذه السُّنة الماضية لله في خلقه، فقد ناقض الفطرة وأنكر المحسوس.
واختلاف البشر في شرائعهم هو أيضاً واقع بمشيئة الله تعالى الكونية ومرتبط بحكمته، يقول الله: {لكل جعلنا منكم شرعة ومنهاجاً ولو شاء الله لجعلكم أمة واحدة ولكن ليبلوكم فيما آتاكم فاستبقوا الخيرات إلى الله مرجعكم جميعاً} (المائدة: 48).
قال ابن كثير: "هذا إخبار عن الأمم المختلفة الأديان باعتبار ما بعث الله به رسله الكرام من الشرائع المختلفة في الأحكام المتفقة في التوحيد" (1).
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: মুসলিম সমাজে অমুসলিমদের অধিকারমুসলিম ভূখণ্ডে বসবাসকারী অমুসলিমগণ একগুচ্ছ নিশ্চয়তা ভোগ করেছেন, যা মুসলিম সমাজ আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের সুন্নাহর দিকনির্দেশনায় তাঁদের প্রদান করেছে।
আমরা এই নিশ্চয়তাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো উপস্থাপন করব এবং ইতিহাসের সাক্ষ্য ও শরীয়াহর প্রহরী ও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উত্তরাধিকারী ফকিহগণের বর্ণনার মাধ্যমে তা প্রামাণ্যরূপে তুলে ধরব।
প্রথমত: ধর্মীয় বিশ্বাসের স্বাধীনতার নিশ্চয়তামুসলিমরা বিশ্বাস করে যে, তাঁদের দ্বীনই একমাত্র সুস্পষ্ট সত্য এবং এটি ব্যতীত অন্যান্য খোদায়ী ধর্মগুলো বিকৃত হয়েছে এবং পরবর্তীতে ইসলাম দ্বারা রহিত হয়েছে, অথবা সেগুলো মানুষের অজ্ঞতা প্রসূত ভ্রষ্টতা ও বিভ্রান্তি যা ধর্ম ও বিশ্বাসের প্রকৃত রূপ সম্পর্কে না জানার কারণে কিংবা সীমালঙ্ঘন ও খেয়ালখুশির বশবর্তী হয়ে তৈরি হয়েছে; আর এর পরিণাম হলো জাহান্নামের আজাব।
মুসলিমরা এই বেদনাদায়ক পরিণতি থেকে মানবজাতির অন্যান্য ভাইদের রক্ষা করতে সহমর্মিতা পোষণ করেছেন এবং তাঁদের কুফর বা অবিশ্বাসের অন্ধকার থেকে উদ্ধার করতে আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন। তাঁরা তাঁদের সাথে মেলামেশার মাধ্যমে বিভিন্ন জাতি ও গোষ্ঠীকে ইসলামের দিকে আকৃষ্ট করতে কোনো প্রচেষ্টার ত্রুটি করেননি; আর এটি সম্ভব হয়েছে আল্লাহর প্রদত্ত সুস্পষ্ট দলিল, উন্নত চরিত্র এবং এমন এক সহজ জীবনবিধানের মাধ্যমে যা মানুষের স্বভাবজাত প্রবৃত্তি গ্রহণ করে এবং যার মূলনীতিগুলো বুঝতে বিবেক কখনো বাধা দেয় না।
মুসলিমরা তাঁদের দীর্ঘ মহান তামাদ্দুনিক ইতিহাসে তাঁদের শাসনাধীন জাতি বা ব্যক্তিদের ওপর কখনো জবরদস্তি করেননি। এটি সম্ভব হয়েছে এমন কিছু ইসলামি মূলনীতির প্রয়োগের ফলে যা তাঁদের মধ্যে এই আচরণকে সুদৃঢ় করেছিল:
(ক) মতপার্থক্যের অনিবার্যতা ও তার প্রকৃতিসৃষ্টিজগতে বৈচিত্র্য ও ভিন্নতা থাকা মহান আল্লাহর এক চিরায়ত নীতি ও শাশ্বত কানুন। মহাবিশ্বের অস্তিত্বের মূল ভিত্তিই হলো বৈচিত্র্য ও বহুত্ব।
আল্লাহ তাআলা মানবজাতিকে এই মহাজাগতিক নিয়মের আলোকেই সৃষ্টি করেছেন; ফলে মানুষ ভিন্ন ভিন্ন জাতি ও বিচিত্র স্বভাবের অধিকারী হয়েছে। যে ব্যক্তি মহান আল্লাহর তাঁর সৃষ্টির ক্ষেত্রে নির্ধারিত এই অতীত নিয়মকে উপেক্ষা করে, অতিক্রম করে কিংবা প্রত্যাখ্যান করে, সে মূলত মানুষের স্বভাবজাত প্রবৃত্তির বিরোধিতা করে এবং বাস্তব সত্যকেই অস্বীকার করে।
মানুষের জীবনবিধানে ভিন্নতা থাকাও মহান আল্লাহ তাআলার মহাজাগতিক ইচ্ছা ও তাঁর হিকমতের সাথে সংশ্লিষ্ট। আল্লাহ তাআলা বলেন: {তোমাদের প্রত্যেকের জন্য আমি একটি শরীয়াহ ও স্পষ্ট পথ নির্ধারণ করে দিয়েছি। আর আল্লাহ যদি চাইতেন তবে তোমাদের এক উম্মত করে দিতেন, কিন্তু তিনি তোমাদের যা দিয়েছেন তা দিয়ে তোমাদের পরীক্ষা করতে চান। সুতরাং তোমরা সৎকাজে প্রতিযোগিতা করো। আল্লাহর দিকেই তোমাদের সকলের প্রত্যাবর্তন।} (সূরা আল-মায়িদাহ: ৪৮)।
ইবনে কাসীর বলেন: "এটি বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী উম্মতগণের সংবাদ, যেখানে মহান আল্লাহ তাঁর সম্মানিত রাসূলগণকে বিভিন্ন বিধিবিধান সম্বলিত শরীয়াহ দিয়ে পাঠিয়েছেন, তবে তাওহীদের ক্ষেত্রে তা ছিল অভিন্ন।" (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাআয়ুশু মাআ গয়রিল মুসলিমিনা ফিল মুজতামাইল মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ৯)
وقال تعالى: {ولو شاء ربك لجعل الناس أمةً واحدةً ولا يزالون مختلفين - إلا من رحم ربك ولذلك خلقهم} (هود: 118 - 119).
قال ابن حزم: "وقد نص تعالى على أن الاختلاف ليس من عنده، ومعنى ذلك أنه تعالى لم يرض به [شرعاً]، وإنما أراده تعالى إرادة كونٍ، كما أراد الكفر وسائر المعاصي" (1)، أي إرادة كونية، إذ لا يقع شيء إلا بعلم الله وقدرته ومشيئته، فلن يعصى الله قهراً.
وقال ابن كثير في شرح قول الله: {ولا يزالون مختلفين - إلا من رحم ربك}: "أي: ولا يزال الخلف بين الناس في أديانهم واعتقادات مللهم ونحلهم ومذاهبهم وآرائهم .. قال الحسن البصري: الناس مختلفون على أديان شتى إلا من رحم ربك، فمن رحم ربك غير مختلف" (2).
ولما كان الاختلاف والتّعدّد آية من آيات الله، فإنّ الذي يسعى لإلغاء هذا التّعدّد كلية، فإنما يروم محالاً ويطلب ممتنعاً، لذا كان لابد من الاعتراف بالاختلاف.
ب. مهمة المسلمين الدعوة إلى الله لا أسلمة الناسأدرك المسلمون أن هداية الجميع من المحال، وأن أكثر الناس - كما أخبر الله - لا يؤمنون {وما أكثر الناس ولو حرصت بمؤمنين} (يوسف: 103)، وأدركوا أيضاً أن واجب الدعاة هو الدأب في دعوة الآخرين وطلب أسباب هدايتهم. فإن مهمتهم هي البلاغ فحسب، والله هو من يتولى حساب المعرضين في الآخرة، قال الله مخاطباً نبيه صلى الله عليه وسلم: {فإن تولوا فإنما عليك البلاغ} (النحل: 82). وقال تعالى: {فإن أسلموا فقد اهتدوا وإن تولوا فإنما عليك البلاغ والله بصيرٌ بالعباد} (آل عمران: 20).
قال الإمام القرطبي: " فإن تولوا أي أعرضوا عن النظر والاستدلال والإيمان؛ فإنما عليك البلاغ، أي ليس عليك إلا التبليغ، وأما الهداية فإلينا" (3).
قال الشوكاني في سياق شرحه لقول الله تعالى: {فإنما عليك البلاغ وعلينا الحساب} (الرعد: 40): " أي: فليس عليك إلا تبليغ أحكام الرسالة، ولا يلزمك حصول الإجابة منهم لما بلّغته إليهم، {وعلينا الحساب} أي: محاسبتهم بأعمالهم ومجازاتهم عليها، وليس ذلك عليك" (4).
وقال تعالى: {فذكر إنما أنت مذكر - لست عليهم بمسيطر} (الغاشية: 21 - 22).
ولذلك فإن المسلم لا يشعر بحالة الصراع مع ذاك الذي تنكب الهداية وأعرض عن أسبابها، فإنما حسابه على الله في يوم القيامة، فقد قال الله تعالى لنبيه صلى الله عليه وسلم: {ليس عليك هداهم ولكن الله يهدي من يشاء} (البقرة: 272). وقال له وللأمة من بعده: {فلذلك فادع واستقم كما أمرت ولا تتبع أهواءهم وقل آمنت بما أنزل الله من كتاب وأمرت لأعدل بينكم الله ربنا وربكم لنا أعمالنا ولكم أعمالكم لا حجة بيننا وبينكم الله يجمع بيننا وإليه المصير} (الشورى: 15).
--------------------------------------------
মহান আল্লাহ বলেন: {আর তোমার প্রতিপালক যদি ইচ্ছা করতেন, তবে অবশ্যই সমস্ত মানুষকে এক জাতিতে পরিণত করতেন, কিন্তু তারা সব সময় ভিন্নমত পোষণ করতে থাকবে—তবে তারা ব্যতীত, যাদের ওপর তোমার প্রতিপালক দয়া করেছেন এবং এই উদ্দেশ্যেই তিনি তাদেরকে সৃষ্টি করেছেন} (হুদ: ১১৮ - ১১৯)।
ইবনে হাজম বলেন: "আল্লাহ তাআলা সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন যে, মতভেদ তাঁর পক্ষ থেকে নয়। এর অর্থ হলো, তিনি এটি [শরিয়তগতভাবে] পছন্দ করেননি; বরং তিনি কেবল মহাজাগতিক ইচ্ছা (إرادة كونٍ) হিসেবেই এটি চেয়েছেন, যেভাবে তিনি কুফর ও অন্যান্য গুনাহ চেয়েছেন" (১); অর্থাৎ মহাজাগতিক ইচ্ছা (إرادة كونية), কেননা আল্লাহর জ্ঞান, ক্ষমতা ও ইচ্ছা ছাড়া কোনো কিছুই সংঘটিত হয় না; সুতরাং আল্লাহর অবাধ্যতা জবরদস্তিমূলকভাবে হতে পারে না।
ইবনে কাসীর আল্লাহর বাণী: {তারা সব সময় ভিন্নমত পোষণ করতে থাকবে—তবে তারা ব্যতীত, যাদের ওপর তোমার প্রতিপালক দয়া করেছেন} এর ব্যাখ্যায় বলেন: "অর্থাৎ, মানুষের মধ্যে তাদের ধর্ম, বিশ্বাস, আদর্শ, মাযহাব এবং মতামতের ক্ষেত্রে অনৈক্য চলতেই থাকবে... হাসান বসরী বলেন: মানুষ ভিন্ন ভিন্ন ধর্মে বিভক্ত, তবে তারা ব্যতীত যাদের ওপর তোমার প্রতিপালক দয়া করেছেন। সুতরাং যাদের ওপর তোমার প্রতিপালক দয়া করেছেন, তারা মতভেদকারী নয়" (২)।
যেহেতু মতভেদ ও বৈচিত্র্য আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্যতম, তাই যে ব্যক্তি এই বৈচিত্র্যকে পুরোপুরি নির্মূল করার চেষ্টা করে, সে মূলত এক অসম্ভব বস্তুর আকাঙ্ক্ষা করে এবং এক দুষ্কর বিষয় প্রার্থনা করে। অতএব, মতভেদকে স্বীকৃতি দেওয়া অপরিহার্য।
খ. মুসলিমদের দায়িত্ব হলো আল্লাহর দিকে আহ্বান করা, মানুষকে ইসলামে দীক্ষিত করা নয়মুসলিমরা উপলব্ধি করেছিলেন যে, সকলকে হেদায়াত দান করা অসম্ভব এবং অধিকাংশ মানুষ—যেমনটি আল্লাহ জানিয়েছেন—ঈমান আনবে না: {আর তুমি যতই চাও না কেন, অধিকাংশ মানুষ ঈমান আনবে না} (ইউসুফ: ১০৩)। তাঁরা আরও বুঝতে পেরেছিলেন যে, দাঈদের দায়িত্ব হলো অন্যদের দাওয়াত দেওয়ার কাজে নিরলস প্রচেষ্টা চালানো এবং তাদের হেদায়াতের পথ অন্বেষণ করা। কেননা তাঁদের দায়িত্ব হলো কেবল পৌঁছে দেওয়া (البلاغ), আর পরকালে বিমুখদের হিসাব নেওয়ার দায়িত্ব আল্লাহর। আল্লাহ তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সম্বোধন করে বলেন: {অতঃপর তারা যদি মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে তোমার দায়িত্ব তো কেবল পৌঁছে দেওয়া (البلاغ)} (আন-নাহল: ৮২)। তিনি আরও বলেন: {অতঃপর তারা যদি ইসলাম গ্রহণ করে, তবে তারা হেদায়াত লাভ করবে; আর যদি মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে তোমার দায়িত্ব তো কেবল পৌঁছে দেওয়া (البلاغ)। আর আল্লাহ বান্দাদের সম্পর্কে সম্যক দ্রষ্টা} (আল-ইমরান: ২০)।
ইমাম কুরতুবী বলেন: "যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, অর্থাৎ যদি তারা পর্যবেক্ষণ, দলিল অন্বেষণ এবং ঈমান থেকে বিমুখ হয়; তবে তোমার দায়িত্ব কেবল পৌঁছে দেওয়া (البلاغ); অর্থাৎ পৌঁছে দেওয়া (التبليغ) ছাড়া তোমার আর কোনো দায়িত্ব নেই, আর হেদায়াত দেওয়ার দায়িত্ব আমাদের" (৩)।
শাওকানী আল্লাহর বাণী: {তোমার দায়িত্ব কেবল পৌঁছে দেওয়া (البلاغ) এবং আমাদের দায়িত্ব হিসাব নেওয়া} (আর-রাদ: ৪০) এর ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে বলেন: "অর্থাৎ, রিসালাতের বিধানসমূহ পৌঁছে দেওয়া (تبليغ) ছাড়া তোমার আর কোনো দায়িত্ব নেই, আর তুমি তাদের কাছে যা পৌঁছে দিয়েছ সে অনুযায়ী তাদের পক্ষ থেকে সাড়া পাওয়া তোমার জন্য আবশ্যক নয়। {আর আমাদের দায়িত্ব হিসাব নেওয়া} অর্থাৎ তাদের আমল অনুযায়ী তাদের হিসাব (الحساب) নেওয়া এবং প্রতিদান দেওয়া, আর এটি তোমার দায়িত্ব নয়" (৪)।
আল্লাহ তাআলা বলেন: {অতএব তুমি উপদেশ দাও, তুমি তো কেবল একজন উপদেশদাতা। তুমি তাদের ওপর কোনো দারোগা নও} (আল-গাশিয়াহ: ২১ - ২২)।
একই কারণে একজন মুসলিম ওই ব্যক্তির সাথে কোনো দ্বন্দ্বে লিপ্ত হন না যে হেদায়াত থেকে বিচ্যুত হয়েছে এবং এর মাধ্যমগুলো থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। কেননা কিয়ামতের দিন তার হিসাব আল্লাহর কাছে। আল্লাহ তাআলা তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলেছেন: {তাদের হেদায়াত প্রদানের দায়িত্ব তোমার নয়, বরং আল্লাহ যাকে ইচ্ছা হেদায়াত দান করেন} (আল-বাকারা: ২৭২)। তিনি নবীকে এবং তাঁর পরবর্তী উম্মতকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন: {সুতরাং তুমি সেই দিকেই দাওয়াত দাও এবং সেভাবেই অবিচল থাকো যেভাবে তুমি আদিষ্ট হয়েছ। তুমি তাদের খেয়ালখুশির অনুসরণ করো না এবং বলো: আল্লাহ যে কিতাব নাজিল করেছেন আমি তাতে ঈমান এনেছি। আর আমি তোমাদের মধ্যে ইনসাফ করার জন্য আদিষ্ট হয়েছি। আল্লাহই আমাদের প্রতিপালক এবং তোমাদেরও প্রতিপালক। আমাদের আমল আমাদের জন্য এবং তোমাদের আমল তোমাদের জন্য। আমাদের ও তোমাদের মধ্যে কোনো বিবাদ নেই। আল্লাহই আমাদের সকলকে একত্রিত করবেন এবং তাঁরই দিকে সকলের প্রত্যাবর্তন} (আশ-শূরা: ১৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাআয়ুশু মাআ গয়রিল মুসলিমিনা ফিল মুজতামাইল মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ১০)
ج. التكريم الإلهي للإنسانخلق الله آدم عليه السلام، وأسجد له ملائكته {وإذ قلنا للملائكة اسجدوا لآدم فسجدوا إلا إبليس قال أأسجد لمن خلقت طيناً} (الإسراء: 61)، وندبه وذريته من بعده إلى عمارة الأرض بمنهج الله: {إني جاعل في الأرض خليفة} (البقرة: 30).
ووفق هذه الغاية كرَّم الله الجنس البشري على سائر مخلوقاته {ولقد كرمنا بني آدم وحملناهم في البر والبحر ورزقناهم من الطيبات وفضلناهم على كثيرٍ ممن خلقنا تفضيلاً} (الإسراء: 70).
وأكد نبينا صلى الله عليه وسلم وصحبه من بعده - احترام النفس الإنسانية ومراعاة كرامتها، ففي الخبر أن سهل بن حنيف وقيس بن سعد كانا قاعدين بالقادسية، فمروا عليهما بجنازة فقاما، فقيل لهما: إنها من أهل الأرض، أي من الفرس. فقالا: إن النبي صلى الله عليه وسلم مرت به جنازة فقام. فقيل له: إنها جنازة يهودي؟! فقال: «أليست نفساً» (1).
ومن تكريم الله للجنس البشري ما وهبه من العقل الذي يميز به بين الحق والباطل {وهديناه النجدين} (البلد: 10)، وبموجبه وهبه الحرية والإرادة الحرة لاختيار ما يشاء {إنا هديناه السبيل إما شاكراً وإما كفوراً} (الإنسان: 3) {ولو شاء ربك لآمن من في الأرض كلهم جميعاً أفأنت تكره الناس حتى يكونوا مؤمنين} (يونس: 99).
د. لا إكراه في الدينوبناء على ما تقدم فإن الإنسان يختار ما يشاء من المعتقد {لا إكراه في الدين قد تبين الرشد من الغي} (البقرة: 256)، والله يتولى في الآخرة حسابه {وقل الحق من ربكم فمن شاء فليؤمن ومن شاء فليكفر إنا أعتدنا للظالمين ناراً أحاط بهم سرادقها} (الكهف: 29).
قال ابن كثير: "أي لا تُكرِهوا أحدًا على الدخول في دين الإسلام، فإنه بَيِّن واضح؛ جليٌ دلائلُه وبراهينه، لا يحتاج إلى أن يكره أحد على الدخول فيه، بل من هداه الله للإسلام وشرح صدره ونور بصيرته؛ دخل فيه على بينة، ومن أعمى الله قلبه وختم على سمعه وبصره؛ فإنه لا يفيده الدخول في الدين مكرهاً مقسوراً" (2)؛ إذ الفائدة المرجوة من إسلام المدعو هي نجاته وهدايته ودخوله الجنة، وأما ادعاء الإسلام - إكراهاً وقهراً - فإنه لا يحقق شيئاً من ذلك، فهو عند الله كافر، بل هو من المنافقين {إن المنافقين في الدرك الأسفل من النار ولن تجد لهم نصيراً} (النساء: 145)، ولا قيمة في أحكام الآخرة لتظاهره بالإسلام، فخسارته للجنة والنجاة هي الخسران العظيم، لذلك يقول الله تعالى: {قل الله أعبد مخلصاً له ديني - فاعبدوا ما شئتم من دونه قل إن الخاسرين الذين خسروا أنفسهم وأهليهم يوم القيامة ألا ذلك هو الخسران المبين} (الزمر: 14 - 15)، ويقول: {وإن جادلوك فقل الله أعلم بما تعملون - الله يحكم بينكم يوم القيامة فيما كنتم فيه تختلفون} (الحج: 68 - 69)، فالإيمان - ابتداء - عمل قلبي،
--------------------------------------------
গ. মানুষের প্রতি মহান আল্লাহর সম্মানআল্লাহ তাআলা আদম (আলাইহিস সালাম)-কে সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁর সামনে সিজদা করার জন্য ফেরেশতাদের নির্দেশ দিয়েছেন: {আর যখন আমি ফেরেশতাদের বললাম, আদমের প্রতি সিজদাবনত হও, তখন ইবলিস ব্যতীত সকলে সিজদা করল; সে বলল, আমি কি তাকে সিজদা করব যাকে আপনি মাটি দিয়ে সৃষ্টি করেছেন?} (বনি ইসরাইল: ৬১)। আল্লাহ তাকে এবং তার পরবর্তী বংশধরদেরকে আল্লাহর নির্দেশিত পন্থায় পৃথিবী আবাদ করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন: {নিশ্চয়ই আমি পৃথিবীতে একজন প্রতিনিধি (خليفة) সৃষ্টি করছি} (বাকারা: ৩০)।
এই লক্ষ্য অনুযায়ী আল্লাহ তাআলা মানবজাতিকে তাঁর অন্যান্য সমস্ত সৃষ্টির ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন: {আর নিশ্চয়ই আমি আদম সন্তানকে সম্মানিত করেছি, তাদেরকে স্থলে ও জলে চলাচলের বাহন দিয়েছি, তাদেরকে উত্তম রিযিক দান করেছেন এবং আমার অনেক সৃষ্টির ওপর তাদেরকে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি} (বনি ইসরাইল: ৭০)।
আমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং তাঁর পরবর্তী সাহাবীগণ মানবিক সত্তার প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং এর মর্যাদা রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। একটি বর্ণনা (الخبر)-এ এসেছে যে, সাহল বিন হুনাইফ এবং কায়েস বিন সাদ ক্বাদিসিয়্যাহ নামক স্থানে বসা ছিলেন, তখন তাদের পাশ দিয়ে একটি জানাজা নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। তা দেখে তারা দাঁড়িয়ে গেলেন। তখন তাদেরকে বলা হলো: এটি এই ভূমির অধিবাসীদের (অর্থাৎ পারসিকদের) জানাজা। তারা বললেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পাশ দিয়ে একবার একটি জানাজা যাচ্ছিল, তখন তিনি দাঁড়িয়ে গিয়েছিলেন। তাকে বলা হলো: এটি তো এক ইহুদির জানাজা! তখন তিনি বললেন: «এটি কি একটি প্রাণ নয়?» (১)।
মানবজাতির প্রতি আল্লাহর বিশেষ সম্মানের অন্যতম নিদর্শন হলো তিনি তাকে বিবেক দান করেছেন, যার মাধ্যমে সে সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য করতে পারে: {আর আমি তাকে দুটি পথ প্রদর্শন করেছি} (বালাদ: ১০)। সেই অনুযায়ী তিনি তাকে তার ইচ্ছামতো পছন্দ করার স্বাধীনতা ও স্বাধীন ইচ্ছা দান করেছেন: {আমি তাকে পথ প্রদর্শন করেছি, হয় সে কৃতজ্ঞ হবে, না হয় সে অকৃতজ্ঞ হবে} (ইনসান: ৩); {আপনার রব যদি ইচ্ছা করতেন তবে জমিনে যারা আছে তারা সবাই ঈমান আনত। তবে কি আপনি মুমিন হওয়ার জন্য মানুষের ওপর জবরদস্তি করবেন?} (ইউনুস: ৯৯)।
ঘ. দ্বীনের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি নেইউপরোক্ত আলোচনার ভিত্তিতে মানুষ তার ইচ্ছামতো বিশ্বাস বা আকিদাহ গ্রহণ করতে পারে: {দ্বীনের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি নেই; ভ্রষ্টতা থেকে সঠিক পথ সুস্পষ্ট হয়েছে} (বাকারা: ২৫৬)। আর পরকালে আল্লাহ নিজেই তাদের হিসাব গ্রহণ করবেন: {বলুন, সত্য তোমাদের রবের পক্ষ থেকে। অতএব যার ইচ্ছা সে ঈমান আনুক আর যার ইচ্ছা সে কুফরি করুক। নিশ্চয়ই আমি জালিমদের জন্য আগুন প্রস্তুত করে রেখেছি, যার বেষ্টনী তাদেরকে পরিবেষ্টন করে থাকবে} (কাহফ: ২৯)।
ইবনে কাসির রহ. বলেছেন: "অর্থাৎ ইসলাম ধর্মে প্রবেশের জন্য কাউকে বাধ্য করো না। কারণ এটি সুস্পষ্ট ও দেদীপ্যমান; এর প্রমাণ ও নিদর্শনগুলো অত্যন্ত উজ্জ্বল, যা কাউকে এতে প্রবেশের জন্য বাধ্য করার প্রয়োজন রাখে না। বরং আল্লাহ যাকে ইসলামের জন্য হিদায়াত দান করেন, যার বক্ষকে উন্মোচিত করে দেন এবং যার অন্তর্দৃষ্টিকে আলোকিত করেন, সে স্বতঃস্ফূর্তভাবেই দলিলে (بينة)-র ভিত্তিতে এতে প্রবেশ করে। আর আল্লাহ যার অন্তরকে অন্ধ করে দিয়েছেন এবং যার কান ও চোখের ওপর মোহর মেরে দিয়েছেন, তাকে জবরদস্তি করে দ্বীনে প্রবেশ করালে কোনো লাভ হবে না" (২); কেননা দাওয়াতপ্রাপ্ত ব্যক্তির ইসলাম গ্রহণের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য হলো তার মুক্তি, হিদায়াত এবং জান্নাতে প্রবেশ। কিন্তু বাধ্যবাধকতা ও জবরদস্তির মাধ্যমে ইসলামের দাবি করা এর কোনোটিই অর্জন করে না; বরং সে আল্লাহর নিকট কাফির হিসেবেই গণ্য হয়, এমনকি সে মুনাফিকদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়: {নিশ্চয়ই মুনাফিকরা জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে থাকবে এবং তুমি তাদের জন্য কোনো সাহায্যকারী পাবে না} (নিসা: ১৪৫)। পরকালের বিধানে তার বাহ্যিক ইসলাম প্রদর্শনের কোনো মূল্য নেই। তার জান্নাত হারানো এবং মুক্তি না পাওয়া হলো চরম ক্ষতি। তাই মহান আল্লাহ বলেন: {বলুন, আমি নিষ্ঠার সাথে আল্লাহর ইবাদত করি। অতএব তোমরা তাঁর পরিবর্তে যার ইচ্ছা ইবাদত করো। বলুন, ক্ষতিগ্রস্ত তারাই যারা কিয়ামতের দিন নিজেদের এবং নিজেদের পরিজনদের ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। জেনে রাখো, এটিই হলো সুস্পষ্ট ক্ষতি} (যুমার: ১৪-১৫)। তিনি আরও বলেন: {তারা যদি তোমার সাথে ঝগড়া করে তবে বলো, তোমরা যা করো সে সম্পর্কে আল্লাহ সম্যক অবগত। তোমরা যে বিষয়ে মতভেদ করছ, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তোমাদের মধ্যে তার ফয়সালা করে দেবেন} (হাজ্জ: ৬৮-৬৯)। মূলত ঈমান হলো একটি আত্মিক বা কলবি আমল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাআয়ুশু মাআ গয়রিল মুসলিমিনা ফিল মুজতামাইল মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ১১)
فليس بمؤمن من لم ينطو قلبه على الإيمان، وتصريحه بلسانه غيرَ ما يعتقد لا يغير في حقيقة قائله ولا حكمه في أحكام الآخرة.
وكذلك لا قيمة في أحكام الدنيا للمكره على الإسلام، فلا تلزمه أحكامه في الدنيا،
قال الإمام محمد بن الحسن الشيباني تلميذ الإمام أبي حنيفة: "لم ينقل عن النبي صلى الله عليه وسلم ولا عن أحد من خلفائه؛ أنه أجبر أحداً من أهل الذمة على الإسلام
… وإذا أُكره على الإسلام من لا يجوز إكراهه كالذمي والمستأمن فأسلم؛ لم يثبت له حكم الإسلام حتى يوجد منه ما يدل على إسلامه طوعاً؛ مثل أن يثبت على الإسلام بعد زوال الإكراه عنه، وإن مات قبل ذلك فحكمه حكم الكفار، وإن رجع إلى دين الكفر لم يجز قتله ولا إكراهه على الإسلام .. ولنا أنه أُكره على ما لا يجوز إكراهه عليه، فلم يثبت حكمه في حقه، كالمسلم إذا أكره على الكفر، والدليل على تحريم الإكراه قول الله تعالى: {لا إكراه في الدين} (البقرة: 256) " (1).
وبمثله قال الفقيه الحنبلي ابن قدامة: "وإذا أكره على الإسلام من لا يجوز إكراهه كالذمي والمستأمن فأسلم؛ لم يثبت له حكم الإسلام حتى يوجد منه ما يدل على إسلامه طوعاً" (2).
وهذا ما حصل بالفعل زمن الحاكم بأمر الله الذي يصفه الدكتور ترتون بالخبل والجنون، وقد كان من خبله أن أكره كثيرين من أهل الذمة على الإسلام، فسمح لهم الخليفة الظاهر بالعودة إلى دينهم، فارتد منهم كثير سنة 418هـ (3).
ولما أُجبر على التظاهر بالإسلام موسى بن ميمون فر إلى مصر، وعاد إلى دينه، ولم يعتبره القاضي عبد الرحمن البيساني مرتداً، بل قال: "رجل يكرَه على الإسلام، لا يصح إسلامه شرعاً"، وعلق عليها ترتون بقوله: "وهذه عبارة تنطوي على التسامح الجميل" (4).
وقد امتثل سلفنا هدي الله عز وجل، فلم يلزموا أحداً بالإسلام إكراهاً، ومن ذلك أن عمر بن الخطاب قال لعجوز نصرانية: أسلمي تسلمي، إن الله بعث محمداً بالحق. فلم تقبل العجوز نصحه، وقالت: أنا عجوز كبيرة، والموت أقرب إليّ! فقال عمر: اللهم اشهد، وتلا: {لا إكراه في الدين} (البقرة: 256) (5).
ومثله صنع مع مملوكه أسبق، فقد روى ابن أبي حاتم بإسناده عن أسبق قال كنت في دينهم مملوكاً نصرانياً لعمر بن الخطاب، فكان يعرض علي الإسلام، فآبى، فيقول: {لا إكراه في الدين} ويقول: (يا أسبق، لو أسلمتَ لاستعنّا بك على بعض أمور المسلمين) (6).
وفي الأثرين الأخيرين المنقولين عن أمير المؤمنين عمر بن الخطاب ما يدل على إحكام الآية، ورد على من زعم أن آية {لا إكراه في الدين} نزلت في وقت ضعف
--------------------------------------------
যার অন্তরে ঈমান বদ্ধমূল নেই সে মুমিন নয়। তার অন্তরের বিশ্বাসের বাইরে মুখে প্রকাশ করাটা তার প্রকৃত অবস্থার কোনো পরিবর্তন ঘটায় না এবং পরকালীন বিধানের ক্ষেত্রেও তা তার হুকুমকে পরিবর্তন করে না।
অনুরূপভাবে, দুনিয়াবী বিধানের ক্ষেত্রেও ইসলাম গ্রহণে বাধ্য করা ব্যক্তির কোনো গুরুত্ব নেই। পার্থিব জীবনে তার ওপর ইসলামের বিধানাবলি আরোপিত হবে না।
ইমাম আবু হানিফার ছাত্র ইমাম মুহাম্মদ ইবনুল হাসান আল-শায়বানি বলেন: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বা তাঁর কোনো খলিফা থেকে এমন কোনো বর্ণনা আসেনি যে, তাঁরা আহলে জিম্মাদের মধ্য থেকে কাউকে ইসলাম গ্রহণে বাধ্য করেছেন
… আর যাকে ইসলাম গ্রহণে বাধ্য করা বৈধ নয় (যেমন জিম্মি ও নিরাপত্তা কামনাকারী), তাকে যদি ইসলাম গ্রহণে বাধ্য করা হয় এবং সে ইসলাম গ্রহণ করে; তবে তার জন্য ইসলামের বিধান সাব্যস্ত হবে না যতক্ষণ না তার পক্ষ থেকে স্বেচ্ছায় ইসলাম গ্রহণের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়। যেমন—বাধ্যবাধকতা দূর হওয়ার পর তার ইসলামের ওপর অটল থাকা। যদি সে এর আগেই মারা যায়, তবে তার হুকুম কাফিরদের হুকুমের মতোই হবে। আর যদি সে পূর্বের কুফরিতে ফিরে যায়, তবে তাকে হত্যা করা বা পুনরায় ইসলাম গ্রহণে বাধ্য করা বৈধ নয়। আমাদের দলিল হলো, তাকে এমন বিষয়ে বাধ্য করা হয়েছে যাতে বাধ্য করা বৈধ নয়, তাই তার ক্ষেত্রে ইসলামের হুকুম সাব্যস্ত হয়নি; ঠিক যেমন কোনো মুসলিমকে কুফরিতে বাধ্য করার মতো। ইসলাম গ্রহণে জবরদস্তি হারাম হওয়ার দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী: {দ্বীনের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি নেই} (আল-বাকারাহ: ২৫৬)।" (১)।
হাম্বলি ফকিহ ইবনে কুদামাও অনুরূপ বলেছেন: "যাকে ইসলাম গ্রহণে বাধ্য করা বৈধ নয় (যেমন জিম্মি ও নিরাপত্তা কামনাকারী), তাকে যদি ইসলাম গ্রহণে বাধ্য করা হয় এবং সে ইসলাম গ্রহণ করে; তবে তার জন্য ইসলামের বিধান সাব্যস্ত হবে না যতক্ষণ না তার পক্ষ থেকে স্বেচ্ছায় ইসলাম গ্রহণের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়" (২)।
আর হাকেম বি-আমরিল্লাহর যুগে বাস্তবে এমনটিই ঘটেছিল, যাকে ডক্টর টারটন মানসিক বিকারগ্রস্ত ও পাগল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার এই পাগলামিরই অংশ ছিল অনেক জিম্মিকে ইসলাম গ্রহণে বাধ্য করা। পরবর্তীতে খলিফা আল-জাহির তাদের নিজ ধর্মে ফেরার অনুমতি দেন এবং তাদের মধ্যে অনেকেই ৪১৮ হিজরিতে পুনরায় পূর্বের ধর্মে ফিরে যান (৩)।
মুসা বিন মাইমুন যখন লোকদেখানো ইসলাম প্রকাশে বাধ্য হলেন, তখন তিনি মিসরে পালিয়ে যান এবং তার পূর্বের ধর্মে ফিরে আসেন। কাজী আবদুর রহমান আল-বাইসানি তাকে মুরতাদ হিসেবে গণ্য করেননি, বরং তিনি বলেছিলেন: "যাকে ইসলাম গ্রহণে বাধ্য করা হয়, শরয়ি দৃষ্টিকোণ থেকে তার ইসলাম শুদ্ধ নয়।" ডক্টর টারটন এর ওপর মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন: "এটি এমন একটি উক্তি যা অত্যন্ত সুন্দর সহনশীলতা বহন করে" (৪)।
আমাদের সালাফগণ মহান আল্লাহর হিদায়াত অনুসরণ করেছিলেন, তাঁরা জবরদস্তি করে কাউকে ইসলাম গ্রহণে বাধ্য করেননি। এরই অংশ হিসেবে ওমর ইবনুল খাত্তাব এক বৃদ্ধা খ্রিস্টান নারীকে বলেছিলেন: "ইসলাম গ্রহণ করো তবে শান্তিতে থাকবে, নিশ্চয়ই আল্লাহ মুহাম্মদকে সত্যসহ পাঠিয়েছেন।" বৃদ্ধা তাঁর উপদেশ গ্রহণ করেননি বরং বলেছিলেন: "আমি একজন বৃদ্ধা নারী, মৃত্যু আমার খুবই সন্নিকটে!" তখন ওমর বললেন: "হে আল্লাহ! আপনি সাক্ষী থাকুন," এবং তিলাওয়াত করলেন: {দ্বীনের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি নেই} (আল-বাকারাহ: ২৫৬) (৫)।
ওমর তাঁর গোলাম আসবাকের সাথেও একই রূপ আচরণ করেছিলেন। ইবনে আবি হাতিম তাঁর সনদ (إسناد) সহ আসবাক থেকে বর্ণনা (روى) করেছেন যে, তিনি বলেছেন, "আমি তাদের ধর্মে থাকাকালীন ওমর ইবনুল খাত্তাবের এক খ্রিস্টান গোলাম ছিলাম। তিনি আমার সামনে ইসলাম পেশ করতেন, কিন্তু আমি অস্বীকার করতাম। তখন তিনি বলতেন: {দ্বীনের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি নেই} এবং বলতেন: (হে আসবাক, তুমি যদি ইসলাম গ্রহণ করতে, তবে আমরা মুসলমানদের কিছু কাজে তোমার থেকে সাহায্য নিতাম)" (৬)।
আমিরুল মুমিনিন ওমর ইবনুল খাত্তাব থেকে বর্ণিত (منقول) শেষোক্ত দুটি আছার (أثر)-এর মধ্যে এই আয়াতের অটল ও সুপ্রতিষ্ঠিত (إحكام) হওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়। এবং এটি তাদের জন্য একটি উত্তর যারা দাবি করে যে, {দ্বীনের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি নেই} আয়াতটি মুসলমানদের দুর্বলতা (ضعف)-এর সময়ে নাযিল হয়েছিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাআয়ুশু মাআ গয়রিল মুসলিমিনা ফিল মুজতামাইল মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ১২)
المسلمين (1)، وأنها منسوخة، إذ النسخ يتضمن رفع حكم شرعي ثبت بدليل شرعي، فلا يصح هذا الرفع والنسخ إلا بدليل معتبر شرعاً، وكما يقول الشاطبي: "إن الأحكام إذا ثبتت على المكلف، فادعاء النسخ فيها لا يكون إلا بأمر محقق، لأن ثبوتها على المكلف أولاً محقق، فرفعها بعد العلم بثبوتها لا يكون إلا بمعلوم محقق .. فلا ينبغي قبول تلك الدعوى فيه إلا مع قاطع بالنسخ، بحيث لا يمكن الجمع بين الدليلين، ولا دعوى الإحكام فيهما. وهكذا يقال في سائر الأحكام، مكية كانت أو مدنية" (2).
ونقل السيوطي عن ابن الحصار الأنصاري قوله: "إنما يرجع في النسخ إلى نقل صريح عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، أو عن صحابي يقول: آية كذا نسخت آية كذا" .. ولا يعتمد في النسخ قول عوامّ المفسرين، بل ولا اجتهاد المجتهدين من غير نقل صحيح، ولا معارضة بيّنة" (3).
شهادات التاريخ في كيفية انتشار الإسلاملقد فقه المسلمون مبدأ عدم الإكراه على الدين ووعوه، فتركوا لرعاياهم من غير المسلمين حرية الاعتقاد وممارسة الشعائر التعبدية، ولم يأمروا أحداً باعتناق الإسلام قسراً وكرهاً، ولن ننقل في هذا شهادات المسلمين؛ إذ لن تقنع الذين مازالوا يهرفون بما لا يعرفون، ويصرون على أن انتشار الإسلام في الأرض في غمضة من الزمان كان بسيف القوة؛ لا الحجة والبرهان، فلهؤلاء نسوق بعض أقوال المؤرخين المنصفين من غير المسلمين:
يقول المؤرخ الإنجليزي توماس آرنولد في كتابه "الدعوة إلى الإسلام": "لم نسمع عن أية محاولة مدبرة لإرغام غير المسلمين على قبول الإسلام أو عن أي اضطهاد منظم قصد منه استئصال الدين المسيحي، ولو اختار الخلفاء تنفيذ إِحدى الخطتين لاكتسحوا المسيحية بتلك السهولة التي أقصى بها فرديناند وإِيزابلا دين الإِسلام من أسبانيا" (4).
ويقول: "نستطيع أن نحكم بحق أن القبائل المسيحية التي اعتنقت الإسلام قد اعتنقته عن اختيار وإرادة حرة، وإن العرب المسيحيين الذين يعيشون في وقتنا هذا بين جماعات المسلمين لشاهد على هذا التسامح" (5).
وينقل شهادة مهمة للبطريك النسطوري يشوع ياف الثالث (عيشو يابه) في رسالته إلى سمعان مطران ريفارشير ورئيس أساقفة فارس ينوح فيها على دخول شعب خراسان في الإسلام، ويقول: «أين أبناءك؛ أيها الأب الذي ثكل أبناءه؟ أين أهل مرو
--------------------------------------------
মুসিলমদের নিকট (১), এবং তা রহিত (منسوخ), কারণ রহিতকরণ (النسخ) বলতে শরিয়তের এমন একটি বিধান প্রত্যাহার করাকে বোঝায় যা শরিয়তের দলিলের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে। সুতরাং শরিয়তসম্মত নির্ভরযোগ্য দলিল ব্যতীত এই প্রত্যাহার বা রহিতকরণ (النسخ) বৈধ নয়। ইমাম শাতবি যেমন বলেন: "বিধানসমূহ যখন মুকাল্লাফ বা আদিষ্ট ব্যক্তির ওপর প্রমাণিত হয়, তখন সেখানে রহিতকরণ (النسخ) এর দাবি কেবলমাত্র কোনো সুনিশ্চিত বিষয়ের মাধ্যমেই করা সম্ভব। কারণ মুকাল্লাফের ওপর বিধানটি বলবৎ থাকা প্রথমত সুনিশ্চিত, তাই বিধানটি প্রমাণিত হওয়ার পর তা প্রত্যাহার করার জন্য অবশ্যই একটি সুনিশ্চিত জ্ঞান থাকতে হবে... সুতরাং রহিতকরণ (النسخ) এর সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ব্যতীত সেই দাবি গ্রহণ করা উচিত নয়, যদি না দলিল দুটির মধ্যে কোনোভাবেই সমন্বয় করা সম্ভব হয় এবং উভয় বিধান বলবৎ থাকার দাবি করাও সম্ভব না হয়। মক্কি বা মাদানি সব ধরনের বিধানের ক্ষেত্রেই এই একই কথা প্রযোজ্য" (২)।
আল-সুয়ুতি ইবনুল হাসসার আল-আনসারি থেকে বর্ণনা করেছেন: "রহিতকরণ (النسخ) এর ক্ষেত্রে কেবল আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে প্রাপ্ত স্পষ্ট বর্ণনা অথবা কোনো সাহাবি (صحابي) এর বক্তব্যের ওপরই নির্ভর করতে হবে যিনি বলেন: অমুক আয়াতটি অমুক আয়াতকে রহিত (منسوخ) করেছে... রহিতকরণ (النسخ) এর ক্ষেত্রে সাধারণ মুফাসসিরদের বক্তব্য নির্ভরযোগ্য নয়, এমনকি সহিহ (صحيح) কোনো বর্ণনা বা স্পষ্ট বিরোধ ব্যতিরেকে কোনো মুজতাহিদের ইজতিহাদও গ্রহণযোগ্য নয়" (৩)।
ইসলাম প্রচারের পদ্ধতির ওপর ইতিহাসের সাক্ষ্যমুসলিমরা ধর্ম পালনে কোনো জবরদস্তি নেই—এই মূলনীতিটি যথাযথভাবে অনুধাবন ও উপলব্ধি করেছিলেন। তাই তারা তাদের অমুসলিম প্রজাদের বিশ্বাসের স্বাধীনতা এবং ধর্মীয় আচার পালনের সুযোগ দিয়েছিলেন। তারা কাউকে জোরপূর্বক ইসলাম গ্রহণ করতে বাধ্য করেননি। এক্ষেত্রে আমরা মুসলিমদের পক্ষ থেকে কোনো সাক্ষ্য দেব না; কারণ যারা এখনও না জেনে বিভ্রান্তিকর কথা বলে বেড়ায় এবং জেদ ধরে বলে যে, ইসলাম পৃথিবীতে চোখের পলকে তলোয়ারের জোরে ছড়িয়ে পড়েছে, যুক্তি বা প্রমাণের মাধ্যমে নয়—মুসলিমদের সাক্ষ্য তাদের সন্তুষ্ট করবে না। বরং তাদের জন্য আমরা অমুসলিম নিরপেক্ষ ঐতিহাসিকদের কিছু বক্তব্য পেশ করছি:
ইংরেজ ঐতিহাসিক থমাস আর্নল্ড তাঁর "দ্য প্রিচিং অব ইসলাম" গ্রন্থে বলেন: "আমাদের জানামতে অমুসলিমদের ইসলাম গ্রহণে বাধ্য করার জন্য সুপরিকল্পিত কোনো প্রচেষ্টা কিংবা খ্রিস্টধর্ম নির্মূল করার জন্য কোনো সুসংগঠিত নিপীড়নের কথা শোনা যায়নি। যদি খলিফারা উপরোক্ত পরিকল্পনা দুটির কোনো একটি বেছে নিতেন, তবে তারা খ্রিস্টধর্মকে ততটা সহজেই মিটিয়ে দিতে পারতেন যতটা সহজে ফার্দিনান্দ ও ইসাবেলা স্পেন থেকে ইসলাম ধর্মকে উচ্ছেদ করেছিলেন" (৪)।
তিনি আরও বলেন: "আমরা যথাযথভাবে বিচার করে বলতে পারি যে, যেসব খ্রিস্টান গোত্র ইসলাম গ্রহণ করেছিল, তারা তা স্বেচ্ছায় এবং স্বাধীন ইচ্ছায় করেছিল। বর্তমান সময়ে মুসলিম সম্প্রদায়ের মাঝে বসবাসকারী আরব খ্রিস্টানরাই এই সহনশীলতার প্রমাণ" (৫)।
তিনি নেস্টোরীয় প্যাট্রিয়ার্ক ইশুয়াব ৩য় এর একটি গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য উল্লেখ করেছেন। প্যাট্রিয়ার্ক তার এক পত্রে পারস্যের বিশপ ও আর্চবিশপ সিমনকে সম্বোধন করে খোরাসানের জনগণের ইসলাম গ্রহণের জন্য বিলাপ করে বলেছিলেন: «হে সন্তানহারা পিতা, তোমার সন্তানরা কোথায়? মার্ভের অধিবাসীরা আজ কোথায়?...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাআয়ুশু মাআ গয়রিল মুসলিমিনা ফিল মুজতামাইল মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ১৩)
العظماء، الذين على الرغم من أنهم لم يشهدوا سيفًا ولا نارًا ولا تعذيبًا .. واحسرتاه على هذه الآلاف المؤلفة التي تحمل اسم المسيحية .. فلماذا إذاً هجر شعبك من أهل مرو عقيدتهم من أجل هؤلاء العرب؟ ولماذا حدث ذلك أيضًا في وقت لم يرغمهم فيه العرب!؟» (1).
وتقول المستشرقة الألمانية زيغريد هونكه: "العرب لم يفرضوا على الشعوب المغلوبة الدخول في الإسلام" (2).
بل على عكس ما يشيعه الغربيون عن إجبار الناس على اعتناق الإسلام فإن المؤرخين الغربيين ينقلون باستغراب بعض الحوادث المشينة في تاريخنا عن كراهية بعض الأمراء دخول الناس في الإسلام، لكنها على كل حال تنقض ما يزعمه المفترون على الإسلام، تقول المؤرخة زيغرد: "لقد عسّر المنتصرون على الشعوب المغلوبة دخول الإسلام حتى لا يقللوا من دخلهم من الضرائب التي كان يدفعها من لم يدخل في الإسلام" (3).
ويقول ول ديورانت في سياق حديثه عن الخليفة عمر بن عبد العزيز: "وبينما كان أسلافه من خلفاء الأمويين لا يشجعون غير المسلمين في بلاد الدولة على اعتناق الإسلام، حتى لا تقل الضرائب المفروضة عليهم، فإن عمر قد شجع المسيحيين، واليهود، والزرادشتيين على اعتناقه، ولما شكا إليه عماله القائمون على شؤون المال من هذه السياسة التي ستفقر بيت المال أجابهم بقولهِ: (والله لوددت أن الناس كلهم أسلموا، حتى نكون أنا وأنت حراثين نأكل من كسب أيدينا) " (4).
ويبين لنا توماس أرنولد أن خراج مصر كان على عهد عثمان اثنا عشر مليون دينار، فنقص على عهد معاوية حتى بلغ خمسة ملايين، ومثله كان في خراسان، فلم يسقط بعض الأمراء الجزية عمن أسلم من أهل الذمة، ولهذا السبب عزل عمر بن عبد العزيز واليه على خراسان الجراح بن عبد الله الحكمي، وكتب: "إن الله بعث محمداً هادياً ولم يبعثه جابياً" (5).
لقد كان انتشار الإسلام السريع في العالم القديم حدثاً مدوياً، تجاوز ما عرفته البشرية من زحف بطيء للأديان، لكن لا حيرة في تفسير هذه الظاهرة عند أحرار الفكر من غير المسلمين، لنستمع إليهم وهم يتحدثون بحقائق التاريخ عن السر في تقبل الشعوب للإسلام وإقبالها عليه.
--------------------------------------------
মহৎ ব্যক্তিগণ, যারা তলোয়ার, আগুন কিংবা নির্যাতনের সম্মুখীন না হওয়া সত্ত্বেও... এই হাজার হাজার মানুষ যারা খ্রিস্টান নাম ধারণ করে আছে তাদের জন্য কতই না আক্ষেপ! কেন তবে মার্ভের অধিবাসী আপনার প্রজারা এই আরবদের কারণে তাদের ধর্মবিশ্বাস ত্যাগ করল? আর কেনই বা এমন এক সময়ে তা ঘটল যখন আরবরা তাদের বাধ্য করেনি? (১)।
জার্মান প্রাচ্যবিদ সিগ্রিড হুনকে বলেন: "আরবরা বিজিত জাতিগুলোর ওপর ইসলাম গ্রহণ বাধ্যতামূলক করেনি" (২)।
বরং পশ্চিমা বিশ্ব ইসলাম গ্রহণে বাধ্য করার যে প্রচারণা চালায়, তার বিপরীতে পশ্চিমা ইতিহাসবিদরাই আমাদের ইতিহাসের কিছু লজ্জাজনক ঘটনার কথা বিস্ময়ের সাথে উল্লেখ করেন যে, কিছু আমির মানুষের ইসলাম গ্রহণকে অপছন্দ করতেন। তবে যা-ই হোক, এই ঘটনাগুলো ইসলামের ওপর মিথ্যাচারকারীদের দাবিকেই খণ্ডন করে। ইতিহাসবিদ সিগ্রিড বলেন: "বিজয়ীরা বিজিত জাতিগুলোর ইসলাম গ্রহণকে বরং কঠিন করে তুলেছিলেন যাতে ইসলাম গ্রহণ করেনি এমন ব্যক্তিদের থেকে প্রাপ্ত করের আয় কমে না যায়" (৩)।
উইল ডুরান্ট খলিফা উমর ইবনে আবদুল আজিজ সম্পর্কে আলোচনার প্রসঙ্গে বলেন: "তার পূর্ববর্তী উমাইয়া খলিফারা যখন রাষ্ট্রের অমুসলিম প্রজাদের ইসলাম গ্রহণে উৎসাহিত করতেন না—যাতে তাদের ওপর ধার্যকৃত কর কমে না যায়—তখন উমর খ্রিস্টান, ইহুদি এবং জরথুস্ট্রীয়দের ইসলাম গ্রহণে উৎসাহিত করেছিলেন। যখন তার অর্থ বিভাগের কর্মচারীরা এই নীতির কারণে বায়তুল মাল (রাষ্ট্রীয় কোষাগার) রিক্ত হয়ে যাওয়ার অভিযোগ করল, তখন তিনি তাদের উত্তরে বললেন: (আল্লাহর কসম, আমি অবশ্যই চাই যে সকল মানুষ ইসলাম গ্রহণ করুক, এমনকি শেষ পর্যন্ত আমি ও আপনি কৃষক হয়ে নিজের হাতের উপার্জনে জীবন ধারণ করি)" (৪)।
থমাস আর্নল্ড আমাদের কাছে স্পষ্ট করেছেন যে, উসমানের যুগে মিশরের খারাজ ছিল বারো মিলিয়ন দিনার, যা মুয়াবিয়ার যুগে কমে পাঁচ মিলিয়নে দাঁড়ায়। খোরাসানের ক্ষেত্রেও একই রকম ঘটেছিল। ফলে কিছু আমির ইসলাম গ্রহণকারী জিম্মিদের ওপর থেকেও জিজিয়া প্রত্যাহার করেননি। এ কারণেই উমর ইবনে আবদুল আজিজ খোরাসানের গভর্নর জাররাহ ইবনে আবদুল্লাহ আল-হাকামিকে পদচ্যুত করেন এবং লিখেছিলেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ মুহাম্মদকে হেদায়েতকারী হিসেবে পাঠিয়েছেন, কর আদায়কারী হিসেবে নয়" (৫)।
প্রাচীন বিশ্বে ইসলামের দ্রুত প্রসার ছিল এক বিস্ময়কর ঘটনা, যা ধর্মের ধীরগতির প্রসারের ক্ষেত্রে মানবতার পূর্ব অভিজ্ঞতার সকল সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছিল। তবে অমুসলিম মুক্তমনা চিন্তাবিদদের কাছে এই রহস্যের ব্যাখ্যায় কোনো দ্বিধা নেই; চলুন আমরা শুনি কীভাবে তারা ইতিহাসের সত্যতা দিয়ে মানুষের ইসলাম গ্রহণ ও এর প্রতি তাদের অনুরাগের রহস্য সম্পর্কে আলোচনা করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাআয়ুশু মাআ গয়রিল মুসলিমিনা ফিল মুজতামাইল মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ১৪)
وينقل الخربوطلي عن المستشرق دوزي في كتابه "نظرات في تاريخ الإسلام" قوله: "إن تسامح ومعاملة المسلمين الطيبة لأهل الذمة أدى إلى إقبالهم على الإسلام، وأنهم رأوا فيه اليسر والبساطة مما لم يألفوه في دياناتهم السابقة " (1).
ويقول غوستاف لوبون: " إن القوة لم تكن عاملاً في انتشار القرآن، فقد ترك العرب المغلوبين أحراراً في أديانهم .. فإذا حدث أن انتحل بعض الشعوب النصرانية الإسلام واتخذ العربية لغة له؛ فذلك لما كان يتصف به العرب الغالبون من ضروب العدل الذي لم يكن للناس عهد بمثله، ولما كان عليه الإسلام من السهولة التي لم تعرفها الأديان الأخرى" (2).
ويقول: "وما جهله المؤرخون من حلم العرب الفاتحين وتسامحهم كان من الأسباب السريعة في اتساع فتوحاتهم وفي سهولة اقتناع كثير من الأمم بدينهم ولغتهم .. والحق أن الأمم لم تعرف فاتحين رحماء متسامحين مثل العرب، ولا ديناً سمحاً مثل دينهم" (3).
ويوافقه المؤرخ ول ديورانت فيقول: "وعلى الرغم من خطة التسامح الديني التي كان ينتهجها المسلمون الأولون، أو بسبب هذه الخطة اعتنق الدين الجديدَ معظمُ المسيحيين وجميع الزرادشتيين والوثنيين إلا عدداً قليلاً منهم .. واستحوذ الدين الإسلامي على قلوب مئات الشعوب في البلدان الممتدة من الصين وأندنوسيا إلى مراكش والأندلس، وتملَك خيالهم، وسيطر على أخلاقهم، وصاغ حياتهم، وبعث آمالاً تخفف عنهم بؤس الحياة ومتاعبها" (4).
ويضيف السير توماس أرنولد إلى التسامح سبباً آخر أخذ بنواصي الناس إلى الإسلام، وهو الإعجاب بحضارة الإسلام ومدنيته وآدابه: «وقد بلغ من تأثير الإِسلام في نفوس معظم الذين تحولوا إليه من مسيحي أسبانيا مبلغاً عظيماً، حتى سحرهم بهذه المدنية الباهرة، واستهوى أفئدتهم بشعره، وفلسفته، وفنه الذي استولى على عقولهم وبهر خيالهم .. أضف إِلى ذلك أن علوم المسيحيين وآدابهم لا بد أن تكون بدت فقيرة ضئيلة إذا ما قيست بعلوم المسلمين وآدابهم التي لا يبعد أن تكون دراستها في حد ذاتها، باعثاً على الدخول في دينهم. هذا إِلى أن الإِسلام في أسبانيا استطاع أن يثير في نفوس الأتقياء الجمال الذي ينشده الورعون والمتحمسون من جماعة إخوان الصفا» (5).
وثمة أسباب لا تتعلق بالإسلام نفسه دعت الناس إلى اعتناق الإسلام، فقد اختار
--------------------------------------------
আল-খারবুতলি তার "নাজারাত ফি তারিখিল ইসলাম" গ্রন্থে প্রাচ্যবিদ দোজির উক্তি উদ্ধৃত করে বলেন: "জিম্মিদের প্রতি মুসলমানদের সহনশীলতা এবং সদয় আচরণ তাদেরকে ইসলামের দিকে আকৃষ্ট করেছিল। তারা এই ধর্মের মাঝে এমন সহজতা ও সরলতা খুঁজে পেয়েছিল যা তাদের পূর্ববর্তী ধর্মগুলোতে অপরিচিত ছিল।" (১)।
গুস্তাভ লে বন বলেন: "কুরআন প্রসারের ক্ষেত্রে শক্তি কোনো প্রভাবক ছিল না। আরব বিজয়ীরা বিজিতদের তাদের নিজ নিজ ধর্মের ওপর স্বাধীনভাবে ছেড়ে দিয়েছিলেন। যদি এমন হয়ে থাকে যে, কোনো খ্রিস্টান জাতি ইসলাম গ্রহণ করেছে এবং আরবি ভাষাকে নিজেদের ভাষা হিসেবে গ্রহণ করেছে; তবে তা ছিল বিজয়কারী আরবদের সেই ইনসাফ বা ন্যায়বিচারের কারণে যার নজির মানুষের কাছে ইতিপূর্বে ছিল না এবং ইসলামের সেই সহজবোধ্যতার কারণে যা অন্য কোনো ধর্মে পরিচিত ছিল না।" (২)।
তিনি আরও বলেন: "বিজয়ী আরবদের সহিষ্ণুতা ও সহনশীলতা সম্পর্কে ঐতিহাসিকরা যা জানতেন না, তা-ই ছিল তাদের বিজয়াভিযান দ্রুত প্রসারিত হওয়ার এবং অনেক জাতির কাছে তাদের ধর্ম ও ভাষাকে সহজে গ্রহণযোগ্য করে তোলার অন্যতম দ্রুততম কারণ। সত্য এই যে, জাতিসমূহ আরবদের মতো এমন দয়ালু ও সহনশীল বিজয়ী এবং ইসলামের মতো এমন উদার ধর্ম আগে কখনও দেখেনি।" (৩)।
ঐতিহাসিক উইল ডুরান্ট এর সাথে একমত পোষণ করে বলেন: "প্রাথমিক যুগের মুসলমানদের অনুসৃত ধর্মীয় সহনশীলতার নীতি সত্ত্বেও, কিংবা সম্ভবত এই নীতির কারণেই অধিকাংশ খ্রিস্টান এবং অল্প কিছু সংখ্যক ব্যতীত সকল জরথুস্ট্রীয় ও পৌত্তলিক এই নতুন ধর্ম গ্রহণ করেছিল। চীন ও ইন্দোনেশিয়া থেকে মরক্কো ও আন্দালুসিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত দেশগুলোর শত শত জাতির অন্তর এই ইসলাম ধর্ম জয় করে নিয়েছিল। এটি তাদের কল্পনাশক্তিকে আবিষ্ট করেছিল, তাদের নৈতিকতাকে নিয়ন্ত্রণ করেছিল, তাদের জীবনকে নতুন রূপ দিয়েছিল এবং এমন আশার সঞ্চার করেছিল যা জীবনের দুঃখ ও কষ্টগুলোকে লাঘব করে।" (৪)।
স্যার থমাস আর্নল্ড সহনশীলতার সাথে আরও একটি কারণ যোগ করেছেন যা মানুষকে ইসলামের দিকে ধাবিত করেছিল, আর তা হলো ইসলামের সভ্যতা, তামাদ্দুন ও সাহিত্যের প্রতি মুগ্ধতা: "স্পেনের যেসব খ্রিস্টান ইসলাম গ্রহণ করেছিল, তাদের অধিকাংশের ওপর ইসলামের প্রভাব এতটাই গভীর ছিল যে, এই চমৎকার সভ্যতা তাদের মুগ্ধ করেছিল। এর কবিতা, দর্শন ও শিল্পকলা তাদের মন জয় করে নিয়েছিল যা তাদের বুদ্ধিবৃত্তিকে আচ্ছন্ন করেছিল এবং কল্পনাকে চমৎকৃত করেছিল। তদুপরি, খ্রিস্টানদের জ্ঞান ও সাহিত্য মুসলমানদের জ্ঞান ও সাহিত্যের তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য মনে হতো, যার অধ্যয়ন সম্ভবত ইসলাম গ্রহণের অন্যতম কারণ ছিল। তাছাড়া স্পেনে ইসলাম ধর্মপ্রাণদের মাঝে এমন এক সৌন্দর্য জাগিয়ে তুলতে সক্ষম হয়েছিল যা ইখওয়ানুস সাফার মতো ধর্মনিষ্ঠ ও উৎসাহীরা অন্বেষণ করত।" (৫)।
এছাড়াও ইসলাম গ্রহণ করার পেছনে এমন কিছু কারণ ছিল যা সরাসরি ইসলামের সাথে সংশ্লিষ্ট নয়, বরং...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাআয়ুশু মাআ গয়রিল মুসলিমিনা ফিল মুজতামাইল মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ১৫)
الكثيرون ترك أديانهم بسبب رجال الدين في هذه الملل، فقد رأى الناس منهم ما قوَّض تعلقهم بأديانهم، إضافة إلى ما لمسوه من قصور في شرائعهم التي عجزت عن تلبية حاجات معتنقيها الروحية، فأسلمتهم للإسلام طوعاً، ففي حديث السير أرنولد عن انتشار الإسلام بين المسيحيين، وبخاصة أهل مصر؛ يرى أن سبب ذلك هو فساد رجال الدين، وتخليهم عن واجبهم الروحي، فيتحدث أرنولد عن تسامح صلاح الدين الأيوبي مع أهل مصر وتخفيفه للضرائب عليهم، ثم يقول: "وفي عهد خلفاء صلاح الدين نعموا بمثل هذا التسامح والرعاية، قرابة قرن من الزمان، لم يكن هناك ما يشكون منه إلا ما اتصف به كهنتهم أنفسهم من الفساد والانحطاط، فقد فشت السيمونية بينهم، فبيعت مناصب القسيسين الذين اتصفوا بالجهل والرذيلة، على حين حيل بين الذين طلبوا التعيين وبين هذا المنصب المقدس بعجزهم عن أداء الأموال المطلوبة في احتقار وازدراء، مع أنهم كانوا من الجديرين بشغل هذا المنصب، وكان من أثر ذلك أن أهمل تثقيف الناس روحياً وخلقياً إهمالاً تاماً، وبلغت الحياة المسيحية درجة محزنة من الانحلال» (1).
ومثل هذا حصل في بلاد النوبة (السودان)، حيث «يظهر أن النوبيين قد انساقوا من المسيحية إلى الإِسلام بالتدريج وفي بطء شديد، وكانت الحياة الروحية في كنيستهم قد انحدرت إلى أقصى دركات الانحطاط.
ولما وجد المسيحيون أن لا أمل في قيام حركة للإِصلاح في مجتمعهم؛ وأنهم قد فقدوا الاتصال بكنائسهم التي تقع فيما وراء حدودهم؛ لم يكن من الطبيعي إلا أن ينشدوا ما يشفي غلتهم ويسد رمقهم الروحي في الدين الإسلامي الذي حمل أتباعه بين هؤلاء الدليل على قوة حيويته وقتاً طويلاً» (2).
ويقول روبرتسون في كتابه "تاريخ شارلكن": "لكنا لا نعلم للإسلام مجمعاً دينياً، ولا رسلاً وراء الجيوش، ولا رهبنة بعد الفتح، فلم يُكرَه أحد عليه بالسيف ولا باللسان، بل دخل القلوب عن شوق واختيار، وكان نتيجة ما أودع في القرآن من مواهب التأثير والأخذ بالأسباب" (3).
إن ما سقناه يذب دعاوى الناعقين بانتشار الإسلام بالسيف والغلبة، وينكأ جروحاً عميقة عن انتشار أديان أخرى ما فتئ بعض قادتها يطعنون في الإسلام، وكأني بهم لم يطلعوا على حقائق التاريخ التي تحدثنا أن الملك شارلمان خيَّر قبائل الألمان بين المعمودية (رمز الدخول في النصرانية) والسيف، فتعمد آلاف المقهورين خوفاً ووجلاً
--------------------------------------------
এই ধর্মাবলম্বীদের যাজক শ্রেণীর আচরণের কারণে অনেকেই তাদের নিজ ধর্ম ত্যাগ করেছেন। কারণ মানুষ তাদের মাঝে এমন সব বিষয় দেখেছিল যা ধর্মের প্রতি তাদের অনুরাগ ধূলিসাৎ করে দিয়েছিল। এর সাথে যুক্ত হয়েছিল তাদের শরিয়তের অসারতা, যা অনুসারীদের আধ্যাত্মিক চাহিদা মেটাতে ব্যর্থ হয়েছিল। ফলে তারা স্বেচ্ছায় ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে আশ্রয় গ্রহণ করে। খ্রিস্টানদের মধ্যে বিশেষ করে মিশরীয়দের মধ্যে ইসলামের প্রসারের বিষয়ে স্যার থমাস আর্নল্ডের বর্ণনায় দেখা যায় যে, এর প্রধান কারণ ছিল যাজকদের দুর্নীতি এবং তাদের আধ্যাত্মিক দায়িত্ব পালনে অবহেলা। আর্নল্ড মিশরের জনগণের প্রতি সালাহউদ্দীন আইয়ুবীর সহনশীলতা এবং কর হ্রাসের কথা উল্লেখ করেছেন। অতঃপর তিনি বলেন: "সালাহউদ্দীনের উত্তরসূরিদের শাসনামলেও তারা প্রায় এক শতাব্দীকাল ধরে এই ধরনের সহনশীলতা ও পৃষ্ঠপোষকতা ভোগ করেছিলেন। তাদের অভিযোগ করার মতো কিছুই ছিল না, কেবল তাদের নিজস্ব যাজকদের দুর্নীতি ও নৈতিক অবক্ষয় ছাড়া। তাদের মধ্যে 'সাইমনি' (ধর্মীয় পদ কেনাবেচা) ছড়িয়ে পড়েছিল; অজ্ঞ ও দুশ্চরিত্র ব্যক্তিদের কাছে যাজকের পদ বিক্রি করা হতো। অন্যদিকে, যারা এই পবিত্র পদের যোগ্য ছিলেন, তাদের নিয়োগের ক্ষেত্রে অর্থ প্রদানে অক্ষমতাকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য ও অবজ্ঞার চোখে দেখা হতো। এর ফলে জনগণের আধ্যাত্মিক ও নৈতিক শিক্ষার বিষয়টি সম্পূর্ণ উপেক্ষিত রয়ে যায় এবং খ্রিস্টীয় জীবন এক শোচনীয় অবক্ষয়ের পর্যায়ে পৌঁছে যায়।" (১)
নুবিয়া (সুদান) অঞ্চলেও অনুরূপ চিত্র দেখা যায়। সেখানে দেখা যায় যে, "নুবিয়ানরা ধীরে ধীরে এবং খুব ধীর গতিতে খ্রিস্টধর্ম থেকে ইসলামের দিকে ধাবিত হয়েছিল। তাদের গির্জার আধ্যাত্মিক জীবন তখন চরম অধঃপতনের সর্বনিম্ন স্তরে নেমে গিয়েছিল।
খ্রিস্টানরা যখন দেখল যে তাদের সমাজে কোনো সংস্কার আন্দোলনের আশা নেই এবং তারা যখন তাদের সীমানার বাইরের গির্জাগুলোর সাথে যোগাযোগ হারিয়ে ফেলল, তখন তাদের জন্য ইসলামের মধ্যে আধ্যাত্মিক তৃষ্ণা মেটানোর সন্ধান করা ছাড়া আর কোনো পথ ছিল না। ইসলাম দীর্ঘকাল ধরে তার অনুসারীদের মাঝে সজীবতার প্রমাণ বহন করে আসছিল।" (২)
রবার্টসন তার 'হিস্ট্রি অফ চার্লস দ্য ফিফথ' গ্রন্থে বলেন: "আমরা ইসলামের ক্ষেত্রে কোনো ধর্মীয় কাউন্সিল, সেনাবাহিনীর পেছনে কোনো ধর্মপ্রচারক কিংবা বিজয়ের পর সন্ন্যাসবাদের অস্তিত্ব জানি না। কাউকে তলোয়ার বা মুখের কথায় ইসলাম গ্রহণে বাধ্য করা হয়নি, বরং এটি মানুষের অন্তরে আকাঙ্ক্ষা ও স্বতঃস্ফূর্ত নির্বাচনের মাধ্যমে প্রবেশ করেছে। এটি ছিল কুরআনের প্রভাব এবং কার্যকারিতারই ফলাফল।" (৩)
আমাদের উপস্থাপিত এই আলোচনা সেইসব উচ্চবাচ্যকারীদের দাবিকে খণ্ডন করে যারা বলে ইসলাম তলোয়ার ও শক্তির জোরে বিস্তার লাভ করেছে। বরং এটি অন্য ধর্মের প্রসারের বিষয়ে গভীর ক্ষতগুলোকেই উন্মোচিত করে, যাদের নেতারা অনবরত ইসলামের সমালোচনা করে থাকেন। মনে হচ্ছে তারা ইতিহাসের সেই সত্যগুলো সম্পর্কে অবগত নন যেখানে বলা হয়েছে যে, রাজা শার্লিমেন জার্মান গোত্রগুলোকে ব্যাপ্টিজম (খ্রিস্টধর্মে প্রবেশের প্রতীক) এবং তলোয়ারের মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নেওয়ার সুযোগ দিয়েছিলেন। ফলে হাজার হাজার মানুষ ভীতি ও ত্রাসের মুখে জোরপূর্বক দীক্ষিত হয়েছিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাআয়ুশু মাআ গয়রিল মুসলিমিনা ফিল মুজতামাইল মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ১৬)
، فقد "استخدم لذلك وسائل عنيفة جداً، فكان يضطر الألوف للدخول في مياه المعمودية تخلصاً من الموت الشنيع" (1).
وأما محاكم التفتيش فقد خيرت يهود أسبانيا بين التنصر والنفي، ولم يظفر الهنود الحمر بفرصة النفي، فقد احتل كولمبوس بلادهم، وكان «هدفه المتعهد به هو تحويل الكفار الهنود إلى إيماننا المقدس»، ولَما لم يستجيبوا له تعرضوا للاستعباد والإبادة، ففي مكسيكو «جرى إحراق السكان المحليين الذين لم يتحولوا إلى المسيحية»، وسوغ مثل هذا الفعل مرسومٌ بابوي صدر عام 1493م، وحكم القاضي إينسيسكو عام 1509 بأن من حق الملك الأستيلاء على أموال الهنود الكفار وأرضهم، وأن يستعبدهم ويقتلهم كما فعل النبي يشوع بأهل كنعان (2) أي وفقاً للكتاب المقدس (3).
--------------------------------------------
، তিনি এর জন্য "অত্যন্ত সহিংস পন্থা অবলম্বন করেছিলেন, যার ফলে বীভৎস মৃত্যু থেকে বাঁচতে হাজার হাজার মানুষ বাপ্তিস্মের পানিতে প্রবেশ করতে বাধ্য হয়েছিল" (১)।
আর ইনকুইজিশন (ধর্মীয় আদালত)-এর পক্ষ থেকে স্পেনের ইহুদিদেরকে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ অথবা নির্বাসনের মধ্য থেকে যেকোনো একটি বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু রেড ইন্ডিয়ানরা নির্বাসনের সেই সুযোগটুকুও পায়নি। কলম্বাস তাদের দেশ দখল করেছিলেন এবং তার «অঙ্গীকারকৃত লক্ষ্য ছিল অবিশ্বাসী ইন্ডিয়ানদেরকে আমাদের পবিত্র বিশ্বাসের দিকে ধাবিত করা»। যখন তারা এতে সাড়া দেয়নি, তখন তারা দাসত্ব ও গণহত্যার শিকার হয়েছিল। মেক্সিকোতে «এমন স্থানীয় অধিবাসীদেরকে পুড়িয়ে মারা হয়েছিল যারা খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেনি»। ১৪৯৩ খ্রিস্টাব্দে জারি করা একটি পোপীয় ডিক্রি এ ধরণের কাজকে বৈধতা দিয়েছিল এবং ১৫০৯ খ্রিস্টাব্দে বিচারক ইনসিসকো রায় দিয়েছিলেন যে, অবিশ্বাসী ইন্ডিয়ানদের ধন-সম্পদ ও ভূমি দখল করা এবং তাদেরকে দাস বানানো ও হত্যা করা রাজার অধিকারভুক্ত, ঠিক যেভাবে নবী ইউশা কেনানবাসীদের সাথে করেছিলেন (২); অর্থাৎ পবিত্র বাইবেল (৩) অনুযায়ী।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাআয়ুশু মাআ গয়রিল মুসলিমিনা ফিল মুজতামাইল মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ১৭)
ثانياً: ضمان سلامة دور العبادةوإذا لم يجبر الإسلام من تحت ولايته على الدخول فيه؛ فإنه يكون بذلك قد ترك للناس حرية البقاء على أديانهم، وأول مقتضياته الإعراض عن ممارسة الآخرين لعباداتهم والسماح بها، وضمان سلامة دور العبادة.
وهذا - بالفعل - ما ضمنه المسلمون في عهودهم التي أعطوها للأمم التي دخلت في ولايتهم أو عهدهم، فقد كتب النبي صلى الله عليه وسلم لأهل نجران أماناً شمل سلامة كنائسهم وعدم التدخل في شؤونهم وعباداتهم، وأعطاهم على ذلك ذمة الله ورسوله، يقول ابن سعد: "وكتب رسول الله صلى الله عليه وسلم لأسقف بني الحارث بن كعب وأساقفة نجران وكهنتهم ومن تبعهم ورهبانهم: أن لهم ما تحت أيديهم من قليل وكثير، من بيعهم وصلواتهم ورهبانهم، وجوار الله ورسوله، لا يغير أسقف عن أسقفيته، ولا راهب عن رهبانيته، ولا كاهن عن كهانته" (1).
ووفق هذا الهدي السمح سار الخلفاء الراشدون من بعده صلى الله عليه وسلم، فقد ضمن الخليفة عمر بن الخطاب نحوه في العهدة العمرية التي كتبها لأهل القدس، وفيها: "بسم الله الرحمن الرحيم؛ هذا ما أعطى عبد الله عمر أمير المؤمنين أهل إيلياء من الأمان، أعطاهم أماناً لأنفسهم وأموالهم، ولكنائسهم وصلبانهم وسقيمها وبريئها وسائر ملتها، أن لا تُسكن كنائسهم، ولا تُهدم، ولا يُنتقص منها ولا من حيزها، ولا من صليبهم، ولا من شيء من أموالهم، ولا يكرهون على دينهم، ولا يُضار أحد منهم .. وعلى ما في هذا الكتاب عهد الله وذمة رسوله وذمة الخلفاء وذمة المؤمنين " (2).
ولما خاف عمر بن الخطاب رضي الله عنه من انتقاض عهده لأهل القدس لم يصل في كنيسة القمامة (3) حين أتاها، وجلس في صحنها، فلما حان وقت الصلاة قال للبترك: أريد الصلاة. فقال له البترك: صل موضعك. فامتنع عمر رضي الله عنه وصلى على الدرجة التي على باب الكنيسة منفرداً، فلما قضى صلاته قال للبترك: (لو صليتُ داخل الكنيسة أخذها المسلمون بعدي، وقالوا: هنا صلى عمر).
وكتب لهم أن لا يجمع على الدرجة للصلاة، ولا يؤذن عليها، ثم قال للبترك: أرني موضعاً أبني فيه مسجداً فقال: على الصخرة التي كلم الله عليها يعقوب، ووجد عليها دماً كثيراً، فشرع في إزالته" (4).
وقد نقل هذه الحادثة بإعجاب المستشرق درمنغم في كتابه " The live of Mohamet" فقال: "وفاض القرآن والحديث بالتوجيهات إلى التسامح، ولقد طبق الفاتحون المسلمون الأولون هذه التوجيهات بدقة، عندما دخل عمر القدس أصدر أمره للمسلمين أن لا يسببوا أي إزعاج للمسيحيين أو لكنائسهم، وعندما دعاه البطريق للصلاة في كنيسة
--------------------------------------------
দ্বিতীয়ত: উপাসনালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণইসলাম যেহেতু তার শাসনাধীন অমুসলিমদের নিজ ধর্ম গ্রহণে বাধ্য করে না, তাই এর মাধ্যমে সে মানুষকে তাদের নিজ নিজ ধর্মে অবিচল থাকার স্বাধীনতা প্রদান করেছে। এর প্রাথমিক দাবি হলো অন্যদের ইবাদত পালনে বাধা না দেওয়া, তা অনুমোদন করা এবং উপাসনালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
মুসলমানরা তাদের শাসনাধীন বা চুক্তিবদ্ধ জাতিগুলোর সাথে সম্পাদিত চুক্তিনামায় প্রকৃতপক্ষে এটিই নিশ্চিত করেছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাজরানবাসীদের জন্য একটি নিরাপত্তা সনদ লিখেছিলেন, যার অন্তর্ভুক্ত ছিল তাদের গির্জাগুলোর নিরাপত্তা এবং তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয় ও ইবাদতে হস্তক্ষেপ না করা। আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে তিনি তাদের এর জিম্মাদারি প্রদান করেছিলেন। ইবনে সাদ বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনু হারিস ইবনে কাবের বিশপ, নাজরানের বিশপবৃন্দ, পুরোহিত এবং তাদের অনুসারী ও সন্ন্যাসীদের অনুকূলে লিখেছিলেন যে, তাদের অধীনে থাকা সামান্য বা অধিক যা কিছু আছে—তাদের গির্জা, সালাত ও সন্ন্যাসীদের ব্যাপারে—তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি পাবে। কোনো বিশপকে তার বিশপ পদ থেকে, কোনো সন্ন্যাসীকে তার সন্ন্যাস জীবন থেকে এবং কোনো পুরোহিতকে তার পৌরোহিত্য থেকে পরিবর্তন করা হবে না" (১)।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই উদার আদর্শ অনুসরণ করেই তাঁর পরবর্তী খুলাফায়ে রাশেদীন পরিচালিত হয়েছেন। খলিফা উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু জেরুজালেমবাসীদের জন্য লিখিত 'আহদিয়া উমরিয়া' (উমরের নিরাপত্তা সনদ)-তে অনুরূপ নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছিলেন। তাতে উল্লেখ ছিল: "বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। এটি আল্লাহর বান্দা উমর, আমিরুল মুমিনীন কর্তৃক ইলিয়া (জেরুজালেম) বাসীদের জন্য প্রদত্ত নিরাপত্তা (أمان)। তিনি তাদের জান, মাল, গির্জা, ক্রুশ, রুগ্ন ও সুস্থ ব্যক্তি এবং তাদের ধর্মের সকল মানুষের নিরাপত্তা প্রদান করেছেন। তাদের গির্জাগুলোতে অন্য কেউ বসবাস করবে না, সেগুলো ধ্বংস করা হবে না, সেগুলো বা তার সীমানা থেকে কোনো কিছু হ্রাস করা হবে না। তাদের ক্রুশ বা সম্পদের কোনো ক্ষতি করা হবে না। তাদের ধর্ম পালনে কোনো বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হবে না এবং তাদের কাউকে কোনো প্রকার কষ্ট দেওয়া হবে না... এই চুক্তিনামায় যা কিছু আছে তার ওপর আল্লাহর অঙ্গীকার, রাসূলের জিম্মাদারি এবং খলিফাগণ ও মুমিনদের জিম্মাদারি রইল" (২)।
উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু যখন জেরুজালেমবাসীদের সাথে কৃত চুক্তি ভঙ্গের আশঙ্কা করলেন, তখন তিনি 'কনিসাতুল কিয়ামাহ' (৩)-তে পৌঁছালে সেখানে সালাত আদায় করলেন না। তিনি তার আঙিনায় বসেছিলেন। যখন সালাতের সময় হলো, তিনি বিশপকে বললেন: আমি সালাত আদায় করতে চাই। বিশপ তাঁকে বললেন: আপনি আপনার অবস্থানেই সালাত আদায় করে নিন। উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু তা করতে অস্বীকৃতি জানালেন এবং গির্জার দরজার সিঁড়িতে একাকী সালাত আদায় করলেন। সালাত শেষ করে তিনি বিশপকে বললেন: "যদি আমি গির্জার ভেতরে সালাত আদায় করতাম, তবে আমার পরে মুসলমানরা এটি দখল করে নিত এবং বলত: এখানে উমর সালাত আদায় করেছেন।"
তিনি তাদের জন্য লিখে দিলেন যে, সেই সিঁড়িতে সালাতের জন্য সমবেত হওয়া যাবে না এবং সেখানে আজানও দেওয়া যাবে না। এরপর তিনি বিশপকে বললেন: আমাকে এমন একটি স্থান দেখান যেখানে আমি একটি মসজিদ নির্মাণ করতে পারি। বিশপ বললেন: সেই পাথরের ওপর, যেখানে আল্লাহ ইয়াকুব আলাইহিস সালামের সাথে কথা বলেছিলেন। সেখানে অনেক ময়লা পাওয়া গেলে তিনি তা অপসারণ শুরু করেন (৪)।
প্রাচ্যবিদ ডারমেনঘেম তাঁর 'The Life of Mahomet' গ্রন্থে বিস্ময়ের সাথে এই ঘটনাটি উদ্ধৃত করেছেন। তিনি বলেন: "কুরআন ও হাদিস সহনশীলতার দিকনির্দেশনায় পরিপূর্ণ। প্রথম যুগের মুসলিম বিজেতাগণ এই দিকনির্দেশনাগুলো অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে প্রয়োগ করেছেন। উমর যখন জেরুজালেমে প্রবেশ করেন, তিনি মুসলমানদের নির্দেশ দেন যেন তারা খ্রিস্টান বা তাদের গির্জার কোনো প্রকার অসুবিধা সৃষ্টি না করে। যখন বিশপ তাঁকে গির্জায় সালাত আদায়ের আহ্বান জানালেন..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাআয়ুশু মাআ গয়রিল মুসলিমিনা ফিল মুজতামাইল মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ১৮)
القيامة امتنع، وعلل امتناعه بخشيته أن يتخذ المسلمون من صلاته في الكنيسة سابقة، فيغلبوا النصارى على الكنيسة"، ومثله فعل ب سميث في كتابه: "محمد والمحمدية" (1).
وبمثل كتاب عمر لأهل أورشليم كتب رضي الله عنه لأهل اللُد في فلسطين.
وبمثله أيضاً كتب عياض بن غنم رضي الله عنه لأهل الرقة، ولأسقف الرها (2).
وحين فتح خالد بن الوليد دمشق كتب لأهلها: "بسم الله الرحمن الرحيم، هذا ما أعطى خالد بن الوليد أهل دمشق إذا دخلها أماناً على أنفسهم وأموالهم وكنائسهم وسور مدينتهم لا يهدم، ولا يسكن شيء من دورهم، لهم بذلك عهد الله وذمة رسول الله صلى الله عليه وسلم والخلفاء والمؤمنين" (3).
وتضمن كتابه رضي الله عنه لأهل عانات عدم التعرض لهم في ممارسة شعائرهم وإظهارها: "ولهم أن يضربوا نواقيسهم في أي ساعة شاءوا من ليل أو نهار، إلا في أوقات الصلاة، وأن يخرجوا الصلبان في أيام عيدهم" (4).
وفي عهد التابعين أكد أمراء المسلمين وفقهاؤهم على ضمان دور العبادة لمواطنيهم من غير المسلمين، فكتب الخليفة الراشد عمر بن عبد العزيز إلى عماله: "لا تهدموا كنيسة ولا بيعة ولا بيت نار" (5).
وحين أخل بعض حكام المسلمين بهذه الحقوق؛ اعتبر المسلمون ذلك ظلماً محرماً، وأمر أئمة العدل بإزالته، وسعوا في إبطاله، ومن ذلك أن الوليد بن عبد الملك أخذ كنيسة يوحنا من النصارى قهراً، وأدخلها في المسجد، فاعتبر المسلمون ذلك من الغصب المحرم، فلما ولي عمر بن عبد العزيز الخلافة؛ شكا إليه النصارى ذلك، فكتب إلى عامله يأمره برد ما زاد في المسجد عليهم، فاسترضاهم المسلمون، وصالحوهم، فرضوا (6).
كما شكا النصارى إلى الخليفة عمر بن عبد العزيز في شأن كنيسة أخرى في دمشق أقطعها بعض أمراء بني أمية لبني نصر، فردها إليهم (7).
وفي القرن الهجري الرابع وقعت فتنة بين المسلمين والنصارى فهدم المسلمون ونهبوا أربع كنائس «فرفع النصارى الأمر إلى المقتدر فوقَّع لهم ببنيان هذه الكنائس» (8).
وفي سرده لأحداث سنة 767هـ ذكر ابن كثير أن الأفرنج دخلوا الإسكندرية، وففعلوا بأهلها الأفاعيل «وعاثوا في أهلها فساداً، يقتلون الرجال، ويأخذون الأموال ويأسرون النساء والأطفال .. وقد أسروا خلقاً كثيراً يقاومون [أي يزيدون على] الأربعة آلاف، وأخذوا من الأموال ذهباً وحريراً وبهاراً وغير ذلك ما لا يحدُّ ولا يوصف ..
--------------------------------------------
কিয়ামাহ গির্জায় (চার্চ অব দ্য হোলি সেপালকার) সালাত আদায় করা থেকে বিরত থাকেন এবং এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন যে, তিনি আশঙ্কা করেছিলেন পাছে মুসলমানরা তাঁর গির্জায় সালাত আদায় করাকে একটি নজির হিসেবে গ্রহণ করে এবং খ্রিস্টানদের ওপর গির্জাটি দখলে নিতে প্রাধান্য বিস্তার করে। আর অনুরূপ কথা বি. স্মিথ তাঁর "মুহাম্মদ অ্যান্ড মোহামেডানিজম" (১) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।
জেরুজালেমবাসীদের প্রতি উমর (রা.)-এর অনুরূপ সন্ধিপত্র তিনি ফিলিস্তিনের লুদবাসীদের জন্যও লিখেছিলেন।
অনুরূপ সন্ধিপত্র ইয়াদ ইবনে গুনম (রা.) রাক্কাবাসী এবং রুহার বিশপের প্রতি লিখেছিলেন (২)।
যখন খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ দামেস্ক জয় করেন, তিনি এর বাসিন্দাদের লিখেছিলেন: "পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। এটি খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ দামেস্কবাসীদের যা প্রদান করেছেন; যখন তিনি এতে প্রবেশ করেন তখন তাদের জীবন, সম্পদ এবং গির্জার নিরাপত্তা দান করেন। তাদের শহরের প্রাচীর ধ্বংস করা হবে না এবং তাদের কোনো গৃহে কেউ বসতি স্থাপন করবে না। এ বিষয়ে তাদের জন্য আল্লাহর অঙ্গীকার, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), খলিফাগণ এবং মুমিনদের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলো" (৩)।
আনাতবাসীদের প্রতি তাঁর (রা.) লিখিত পত্রে তাদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন ও প্রদর্শনে হস্তক্ষেপ না করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল: "তাদের অধিকার থাকবে দিন বা রাতের যেকোনো সময়ে তাদের ঘণ্টা বাজানোর, কেবল সালাতের সময় ব্যতীত; এবং তাদের ঈদের দিনগুলোতে ক্রুশ বের করার" (৪)।
তাবেয়ীগণের যুগে মুসলিম আমির ও ফকিহগণ তাঁদের অমুসলিম নাগরিকদের উপাসনালয়গুলোর নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন। খলিফায়ে রাশেদ উমর ইবনে আবদুল আজিজ তাঁর আমিলদের প্রতি লিখেছিলেন: "তোমরা কোনো গির্জা, সিনাগগ কিংবা অগ্নি উপাসনালয় ধ্বংস করবে না" (৫)।
যখন কিছু মুসলিম শাসক এই অধিকারগুলো ক্ষুণ্ন করেন, তখন মুসলমানরা তাকে হারাম জুলুম হিসেবে গণ্য করেন এবং ন্যায়পরায়ণ ইমামগণ তা দূর করার আদেশ দেন এবং তা বাতিলের প্রচেষ্টা চালান। এর মধ্যে একটি হলো, ওয়ালিদ ইবনে আব্দুল মালিক জোরপূর্বক খ্রিস্টানদের কাছ থেকে সেন্ট জন চার্চ কেড়ে নিয়ে মসজিদে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। মুসলমানরা একে হারাম জবরদখল হিসেবে গণ্য করেন। এরপর যখন উমর ইবনে আব্দুল আজিজ খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তখন খ্রিস্টানরা তাঁর কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ করে। তিনি তাঁর আমিলের কাছে পত্র লিখে নির্দেশ দেন যেন মসজিদে যতটুকু বর্ধিত করা হয়েছে তা তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়। তখন মুসলমানরা তাদের সন্তুষ্ট করেন এবং তাদের সাথে সন্ধি করেন, ফলে তারা সন্তুষ্ট হয় (৬)।
একইভাবে খ্রিস্টানরা খলিফা উমর ইবনে আব্দুল আজিজের কাছে দামেস্কের অন্য একটি গির্জার বিষয়ে অভিযোগ করেন, যা বনু উমাইয়াদের জনৈক আমির বনু নসরের অনুকূলে বরাদ্দ দিয়েছিলেন; তিনি তা তাদের ফিরিয়ে দেন (৭)।
হিজরি চতুর্থ শতাব্দীতে মুসলিম ও খ্রিস্টানদের মধ্যে একটি গোলযোগ সৃষ্টি হয়, ফলে মুসলমানরা চারটি গির্জা ধ্বংস ও লুটতরাজ করে। "তখন খ্রিস্টানরা বিষয়টি আল-মুক্তাদিরের কাছে উত্থাপন করলে তিনি তাদের অনুকূলে এই গির্জাগুলো পুনর্নির্মাণের নির্দেশ প্রদান করেন" (৮)।
৭৬৭ হিজরির ঘটনাবলির বর্ণনায় ইবনে কাসির উল্লেখ করেছেন যে, ফ্রঙ্করা (ইউরোপীয় ক্রুসেডার) আলেকজান্দ্রিয়ায় প্রবেশ করে সেখানকার অধিবাসীদের ওপর অবর্ণনীয় নির্যাতন চালায়। "তারা সেখানকার বাসিন্দাদের মধ্যে বিপর্যয় সৃষ্টি করে, পুরুষদের হত্যা করে, ধনসম্পদ লুট করে এবং নারী ও শিশুদের বন্দি করে... তারা বিশাল এক জনগোষ্ঠীকে বন্দি করে যার সংখ্যা চার হাজারেরও বেশি ছিল। তারা স্বর্ণ, রেশম, মশলা এবং অন্যান্য অগুনতি ও অবর্ণনীয় ধনসম্পদ লুট করে নেয়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাআয়ুশু মাআ গয়রিল মুসলিমিনা ফিল মুজতামাইল মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ১৯)
فسمع للأسارى [وهم في سفن الإفرنج] من العويل والبكاء والشكوى والجأر إلى الله والاستغاثة به وبالمسلمين ما قطع الاكباد، وذرفت له العيون وأصم الاسماع، فإنا لله وإنا إليه راجعون».
وأما هذا الحدث الجلل فقد صدرت مراسيم إلى نائب السلطان في الشام «بمسك النصارى من الشام جملة واحدة، وأن يأخذ منهم ربع أموالهم لعمارة ما خرب من الإسكندرية، ولعمارة مراكب تغزو الفرنج، فأهانوا النصارى وطلبوا من بيوتهم بعنف وخافوا أن يقتلوا، ولم يفهموا ما يراد بهم، فهربوا كل مهرب».
فماهو موقف العلماء وما هو حكم الشريعة في مثل هذا؟ الإفرنج يعتدون على المسلمين في الإسكندرية، والمسلمون يأخذون ربع أموال النصارى ويهينونهم، فهل هذا جائز في شريعة الإسلام؟
يقول ابن كثير: «ولم تكن هذه الحركة شرعية، ولا يجوز اعتمادها شرعاً»، ثم يحكي عن زيارته لنائب السلطان، وأنه قال له: «هذا لا يجوز اعتماده في النصارى .. هذا مما لا يسوغ شرعاً، ولا يجوز لاحد أن يفتي بهذا، ومتى كانوا باقين على الذمة يؤدون إلينا الجزية ملتزمين بالذلة والصغار، وأحكام الملة قائمة، لا يجوز أن يؤخذ منهم الدرهم الواحد - الفرد - فوق ما يبذلونه من الجزية»، ثم ذكر ورود الأمر من السلطان برد الأموال لنساء النصارى دون الرجال، فعقب عليه ابن كثير بما يدل على فرحه المنقوص لعدم إرجاع الكل، فقال: «وإن كان الجميع [أي ما أُخذ من الرجال والنساء] ظلماً، ولكن الأخذ من النساء أفحش وأبلغ في الظلم» (1).
لقد كان التاريخ خير شاهد على التزام المسلمين بالجملة بالمحافظة على دور عبادة أهل الكتاب المبادئ، ويمكننا الاطلاع على شهادته بتقليب بعض الصفحات التي سجلها مؤرخو الغرب والشرق عن سماحة المسلمين مع مواطنيهم، وبخاصة فيما يتعلق بسلامة دور العبادة ومن فيها.
يقول ول ديورانت: "لقد كان أهل الذمة: المسيحيون والزرادشتيون واليهود والصابئون يستمتعون في عهد الخلافة الأموية بدرجة من التسامح، لا نجد لها نظيراً في البلاد المسيحية في هذه الأيام، فلقد كانوا أحراراً في ممارسة شعائر دينهم، واحتفظوا بكنائسهم ومعابدهم" (2).
وينقل ترتون وأرنولد شهادة مهمة للبطريك النسطوري يشوع ياف الثالث (عيشو يابه)، سجلها في رسالته إلى سمعان مطران ريفارشير ورئيس أساقفة فارس: " وإِن العرب الذين منحهم الله سلطان الدنيا .. ومع ذلك فهم لا يحاربون العقيدة المسيحية، بل على العكس، يعطفون على ديننا، ويكرمون قسسنا وقديسي الرب، ويجودن بالفضل على الكنائس والأديار" (3).
--------------------------------------------
বন্দীদের [যারা তখন ফ্রাঙ্কদের জাহাজে ছিল] আর্তনাদ, ক্রন্দন, অভিযোগ, আল্লাহর কাছে বিনীত প্রার্থনা এবং মুসলমানদের কাছে সাহায্য কামনার এমন ধ্বনি শোনা গেল যা কলিজাকে বিদীর্ণ করে দেয়, চোখ থেকে অশ্রু ঝরায় এবং কানকে বধির করে দেয়। আমরা তো আল্লাহরই এবং তাঁরই কাছে আমাদের ফিরে যেতে হবে।
আর এই ভয়াবহ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সিরিয়ায় সুলতানের নায়েবের প্রতি ফরমান জারি করা হলো যে, "সিরিয়ার খ্রিস্টানদেরকে পাইকারিভাবে গ্রেফতার করা হোক এবং তাদের সম্পদের এক-চতুর্থাংশ আলেকজান্দ্রিয়ার বিধ্বস্ত অংশ পুনর্নির্মাণ ও ফ্রাঙ্কদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য রণতরী তৈরির কাজে গ্রহণ করা হোক।" ফলে তারা খ্রিস্টানদের লাঞ্ছিত করল এবং অত্যন্ত কঠোরতার সাথে তাদের ঘরবাড়ি থেকে পাকড়াও করল। তারা বুঝতে পারছিল না তাদের সাথে কী করা হচ্ছে, ফলে তারা প্রাণভয়ে সব দিকে পালিয়ে যেতে লাগল।
এমতাবস্থায় আলেমদের অবস্থান কী এবং এ বিষয়ে শরীয়তের বিধানই বা কী? ফ্রাঙ্করা আলেকজান্দ্রিয়ার মুসলমানদের ওপর আক্রমণ করছে, আর মুসলমানরা (স্থানীয়) খ্রিস্টানদের সম্পদের এক-চতুর্থাংশ কেড়ে নিচ্ছে ও তাদের লাঞ্ছিত করছে; ইসলামের শরীয়তে কি এটি বৈধ?
ইবনে কাসীর বলেন: "এই পদক্ষেপটি শরীয়তসম্মত ছিল না এবং শরীয়তের দৃষ্টিতে এর ওপর নির্ভর করা বৈধ নয়।" এরপর তিনি সুলতানের নায়েবের সাথে তাঁর সাক্ষাতের কথা উল্লেখ করে বলেন যে, তিনি তাকে বলেছিলেন: "খ্রিস্টانদের ব্যাপারে এমন আচরণ গ্রহণ করা বৈধ নয়... এটি শরীয়তসম্মত নয় এবং কারো জন্য এ বিষয়ে ফতোয়া দেওয়া জায়েজ নয়। যতক্ষণ পর্যন্ত তারা জিম্মি (ذمة) হিসেবে চুক্তিবদ্ধ থেকে লাঞ্ছনা ও হীনতা স্বীকার করে আমাদের জিজিয়া প্রদান করবে এবং মিল্লাতের বিধানসমূহ বলবৎ থাকবে, ততক্ষণ তাদের কাছ থেকে নির্ধারিত জিজিয়ার অতিরিক্ত একটি দিরহামও নেওয়া বৈধ নয়।" এরপর তিনি উল্লেখ করেন যে, সুলতানের পক্ষ থেকে পুরুষদের বাদ দিয়ে কেবল খ্রিস্টান নারীদের সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ এসেছে। এর ওপর ইবনে কাসীর মন্তব্য করেন, যা থেকে বোঝা যায় যে সব সম্পদ ফিরিয়ে না দেওয়ায় তিনি আংশিক অসন্তুষ্ট ছিলেন। তিনি বলেন: "যদিও পুরো বিষয়টিই [অর্থাৎ নারী ও পুরুষ সবার কাছ থেকে যা নেওয়া হয়েছে] জুলুম ছিল, তবে নারীদের কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া ছিল আরও জঘন্য এবং চরম পর্যায়ের জুলুম।" (১)।
ইতিহাস এই সাক্ষ্য দেয় যে, মুসলমানরা সামগ্রিকভাবে আহলে কিতাবদের উপাসনালয় রক্ষার মূলনীতি পালনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিল। পশ্চিম ও পূর্বের ঐতিহাসিকরা তাঁদের সমসাময়িক অমুসলিম নাগরিকদের প্রতি মুসলমানদের উদারতা, বিশেষ করে উপাসনালয় এবং সেখানে অবস্থানকারীদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত যে বিবরণ লিপিবদ্ধ করেছেন, তার পাতা উল্টালে আমরা সেই সাক্ষ্য প্রত্যক্ষ করতে পারি।
উইল ডুরান্ট বলেন: "উমাইয়া খিলাফতের যুগে জিম্মিরা (أهل الذمة): খ্রিস্টান, জরথুস্ট্রবাদী, ইহুদি এবং সাবেয়ীরা এমন মাত্রায় সহনশীলতা ভোগ করত, যার নজির বর্তমান সময়ে খ্রিস্টান দেশগুলোতেও পাওয়া যায় না। তারা তাদের ধর্মীয় আচার পালনে স্বাধীন ছিল এবং তারা তাদের গির্জা ও উপাসনালয়গুলো অক্ষুণ্ণ রেখেছিল" (২)।
ট্রিটন এবং আর্নল্ড নেস্টোরিয়ান প্যাট্রিয়ার্ক ইশুয়াব ৩-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য উদ্ধৃত করেছেন, যা তিনি রিভারশিরের বিশপ এবং পারস্যের আর্চবিশপ সিমিয়নের কাছে লেখা চিঠিতে লিপিবদ্ধ করেছিলেন: "নিশ্চয়ই আরবরা, যাদেরকে আল্লাহ জগতের কর্তৃত্ব দান করেছেন... তারা খ্রিস্টীয় বিশ্বাসের বিরুদ্ধে লড়াই করে না; বরং বিপরীতে তারা আমাদের ধর্মের প্রতি সহানুভূতিশীল, আমাদের যাজক ও প্রভুর পুণ্যবান বান্দাদের সম্মান করে এবং গির্জা ও মঠগুলোতে অনুদান প্রদান করে" (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাআয়ুশু মাআ গয়রিল মুসলিমিনা ফিল মুজতামাইল মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ২০)
ويتحدث السير أرنولد عن فتح مصر وما قدمه المسلمون للأقباط: «وقد جلب الفتح الإِسلامي إِلى هؤلاء القبط حياة تقوم على الحرية الدينية التي لم ينعموا بها قبل ذلك بقرن من الزمان، وقد تركهم عمرو أحراراً على أن يدفعوا الجزية، وكفل لهم الحرية في إِقامة شعائرهم الدينية، وخلصهم بذلك من هذا التدخل المستمر الذي أنُّوا من عبئه الثقيل في ظل الحكم الروماني، ولم يضع عمرو يده على شيء من ممتلكات الكنائس، ولم يرتكب عملاً من أعمال السلب والنهب .. وليس هناك شاهد من الشواهد يدل على أن ارتدادهم عن دينهم القديم ودُخولهم في الإِسلام على نطاق واسع كان راجعاً إِلى اضطهاد أو ضغط يقوم على عدم التسامح من جانب حكامهم الحديثين، بل لقد تحول كثير من هؤلاء القبط إِلى الإِسلام قبل أن يتم الفتح» (1).
ويقول المفكر الأسباني بلاسكوا أبانيز في كتابه "ظلال الكنيسة" (ص 64) متحدثاً عن الفتح الإسلامي للأندلس: "لقد أحسنت أسبانيا استقبال أولئك الرجال الذين قدموا إليها من القارة الإفريقية، وأسلمتهم القرى أزمتها بغير مقاومة ولا عداء، فما هو إلا أن تقترب كوكبة من فرسان العرب من إحدى القرى؛ حتى تفتح لها الأبواب وتتلقاها بالترحاب .. كانت غزوة تمدين، ولم تكن غزوة فتح وقهر .. ولم يتخل أبناء تلك الحضارة زمناً عن فضيلة حرية الضمير، وهي الدعامة التي تقوم عليها كل عظمة حقة للشعوب، فقبلوا في المدن التي ملكوها كنائس النصارى وبِيَع اليهود، ولم يخشَ المسجدُ معابدَ الأديان التي سبقته، فعرف لها حقها، واستقر إلى جانبها، غير حاسد لها، ولا راغب في السيادة عليها" (2).
وتقول المستشرقة الألمانية زيغريد هونكه: " المسيحيون والزرادشتية واليهود الذين لاقوا قبل الإسلام أبشع أمثلة للتعصب الديني وأفظعها؛ سمح لهم جميعاً دون أي عائق يمنعهم بممارسة شعائر دينهم، وترك المسلمون لهم بيوت عبادتهم وأديرتهم وكهنتهم وأحبارهم دون أن يمسوهم بأدنى أذى، أو ليس هذا منتهى التسامح؟ أين روى التاريخ مثل تلك الأعمال؟ ومتى؟ " (3).
--------------------------------------------
স্যার আর্নল্ড মিশরের বিজয় এবং মুসলিমরা কিবতিদের জন্য যা পেশ করেছিল সে সম্পর্কে আলোচনা করেন: «ইসলামি বিজয় এই কিবতিদের জন্য এমন এক জীবন বয়ে এনেছিল যা ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর প্রতিষ্ঠিত, যা তারা এর পূর্ববর্তী এক শতাব্দীকাল ভোগ করতে পারেনি। আমর তাদের জিজিয়া প্রদানের বিনিময়ে স্বাধীন হিসেবে ছেড়ে দিয়েছিলেন এবং তাদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছিলেন। এর মাধ্যমে তিনি তাদের সেই নিরবচ্ছিন্ন হস্তক্ষেপ থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন, যার ভারী বোঝার নিচে তারা রোমান শাসনের অধীনে আর্তনাদ করছিল। আমর গির্জার কোনো সম্পত্তিতে হাত দেননি এবং লুণ্ঠন বা অরাজকতার কোনো কাজই করেননি... এমন কোনো প্রমাণ বা সাক্ষী (شاهد) নেই যা নির্দেশ করে যে, তাদের স্বধর্ম ত্যাগ করা এবং ব্যাপক হারে ইসলামে দীক্ষিত হওয়াটা তাদের নতুন শাসকদের পক্ষ থেকে কোনো নিপীড়ন বা অসহিষ্ণুতামূলক চাপের কারণে হয়েছিল; বরং এই কিবতিদের অনেকেই বিজয় সম্পন্ন হওয়ার পূর্বেই ইসলামে দাখিল হয়েছিলেন» (১)।
স্প্যানিশ চিন্তাবিদ ব্লাসকো ইবনেজ তাঁর "গির্জার ছায়াতলে" (পৃষ্ঠা ৬৪) গ্রন্থে আন্দালুসের ইসলামি বিজয় সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন: "আফ্রিকা মহাদেশ থেকে আগত সেই ব্যক্তিদের স্পেন অত্যন্ত চমৎকারভাবে অভ্যর্থনা জানিয়েছিল। গ্রামগুলো কোনো প্রতিরোধ বা শত্রুতা ছাড়াই তাদের হাতে নেতৃত্ব তুলে দিয়েছিল। যখনই আরব অশ্বারোহীদের কোনো একটি দল কোনো গ্রামের কাছে পৌঁছাত, তখনই তাদের জন্য দ্বার উন্মোচন করা হতো এবং তাদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হতো... এটি ছিল সভ্যকরণের অভিযান, কোনো জবরদস্তিমূলক বিজয় বা দমনের অভিযান ছিল না... সেই সভ্যতার সন্তানেরা কখনও বিবেকের স্বাধীনতার গুণটি ত্যাগ করেনি, যা হলো জাতিসমূহের সকল প্রকৃত শ্রেষ্ঠত্বের মূল ভিত্তি। তারা যে শহরগুলো অধিকার করেছিল সেখানে খ্রিস্টানদের গির্জা এবং ইহুদিদের উপাসনালয়গুলো বহাল রেখেছিল। মসজিদ তার পূর্ববর্তী ধর্মগুলোর উপাসনালয়গুলোকে ভয় পায়নি, বরং সেগুলোর অধিকার স্বীকার করেছিল এবং সেগুলোর পাশে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান নিয়েছিল; সেগুলোর প্রতি কোনো ঈর্ষা পোষণ করেনি এবং সেগুলোর ওপর আধিপত্য বিস্তারের লালসাও রাখেনি" (২)।
জার্মান প্রাচ্যবিদ জিগরিড হুনকে বলেন: "খ্রিস্টান, জরথুস্ট্রীয় এবং ইহুদিরা—যারা ইসলামের পূর্বে ধর্মীয় গোঁড়ামির সবচাইতে কুৎসিত এবং ভয়াবহ উদাহরণগুলোর সম্মুখীন হয়েছিল—তাদের সবাইকে কোনো প্রকার বাধা ছাড়াই নিজ নিজ ধর্মীয় আচার পালনের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। মুসলমানরা তাদের উপাসনালয়, মঠ, যাজক এবং পুরোহিতদের বিন্দুমাত্র ক্ষতি না করে তাদের জন্য রেখে দিয়েছিল। এটি কি সহিষ্ণুতার চরম পরাকাষ্ঠা নয়? ইতিহাস কোথায় এমন কাজের বর্ণনা (روى) দিয়েছে? এবং কখন?" (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাআয়ুশু মাআ গয়রিল মুসলিমিনা ফিল মুজতামাইল মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ২১)
ثالثاً: حرية ممارسة العبادةولم يتوقف المسلمون عند المحافظة على دور العبادة وضمان سلامتها، بل طالب الفقهاء المسلمون بتأمين حقوق رعاياهم في العبادة وضمان عدم إشغالهم في أوقاتها، فقرروا أنه "يحرم إحضار يهودي في سبته، وتحريمه باق بالنسبة إليه، فيستثنى شرعاً من عمل في إجازة، لحديث النسائي والترمذي وصححه: «وأنتم يهود عليكم خاصة ألا تعدوا في السبت» (1).
وصوناً لاختيار غير المسلم في فعل ما هو جائز في دينه؛ فإن أمان الذمي في المجتمع المسلم يسري على كل ماله، ولو كان محرَّماً أو مهدر القيمة عند المسلمين وفي شريعتهم، وفي هذا الصدد ينقل الطحاوي إجماع المسلمين على حرية أهل الذمة في أكل الخنازير والخمر وغيره مما يحل في دينهم، فيقول: "وأجمعوا على أنه ليس للإمام منع أهل الذمة من شرب الخمر وأكل لحم الخنازير واتخاذ المساكن التي صالحوا عليها، إذا كان مِصراً ليس فيه أهل إسلام (أي في بلادهم التي هم فيها الكثرة) " (2).
وقال الإمام مالك: "إذا زنى أهل الذمة أو شربوا الخمر فلا يعرض لهم الإمام؛ إلا أن يظهروا ذلك في ديار المسلمين ويُدخلوا عليهم الضرر؛ فيمنعهم السلطان من الإضرار بالمسلمين" (3).
وقال فقيه الأندلس أبو الوليد الباجي: " إن أهل الذمة يقرون على دينهم ويكونون من دينهم على ما كانوا عليه، لا يمنعون من شيءٍ منه في باطن أمرهم، وإنما يمنعون من إظهاره في المحافل والأسواق" (4).
وهذا الذي قرره الفقهاء في زمن عز الدولة الإسلامية وتمكنها؛ امتثله أمراء المسلمين وحكامهم بقدر التزامهم بتعاليم دينهم، فعاش مواطنونا؛ غير المسلمين في كنف الدولة الإسلامية، وهم يتمتعون بحرية العبادة وإقامة شعائرهم الدينية، يقول ول ديورانت: "وكان اليهود في بلاد الشرق الأدنى قد رحبوا بالعرب الذين حرروهم من ظلم حكامهم السابقين .. وأصبحوا يتمتعون بكامل الحرية في حياتهم وممارسة شعائر دينهم .. وكان المسيحيون أحراراً في الاحتفال بأعيادهم علناً، والحجاج المسيحيون يأتون أفواجاً آمنين لزيارة الأضرحة المسيحية في فلسطين .. وأصبح المسيحيون الخارجون على كنيسة الدولة البيزنطية، الذين كانوا يلقون صوراً من الاضطهاد على يد بطاركة القسطنطينية وأورشليم والاسكندرية وإنطاكيا، أصبح هؤلاء الآن أحراراً آمنين تحت حكم المسلمين" (5).
وينقل معرب "حضارة العرب" قول روبرتسن في كتابه "تاريخ شارلكن": "إن المسلمين وحدهم الذين جمعوا بين الغيرة لدينهم وروح التسامح نحو أتباع الأديان
--------------------------------------------
তৃতীয়ত: ইবাদত পালনের স্বাধীনতামুসলমানরা কেবল উপাসনালয় সংরক্ষণ এবং সেগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং মুসলিম ফকিহগণ (فقهاء) তাদের অমুসলিম প্রজাদের ইবাদত করার অধিকার নিশ্চিত করার এবং ইবাদতের সময়ে তাদের অন্য কাজে ব্যস্ত না রাখার দাবি জানিয়েছেন। তারা সিদ্ধান্ত দিয়েছেন যে, "কোনো ইহুদিকে তার শনিবারের দিনে (কাজে) উপস্থিত করা হারাম (حرام), এবং এই নিষেধাজ্ঞা তার ক্ষেত্রে বহাল থাকবে। শরয়িভাবে তাকে ছুটির দিনে কাজ করা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে।" এর সপক্ষে নাসায়ি ও তিরমিযির একটি হাদিস রয়েছে এবং তিনি একে সহিহ (صحيح) হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন: "আর তোমরা ইহুদিরা, বিশেষভাবে তোমাদের জন্য নির্দেশ হলো তোমরা শনিবারের ব্যাপারে সীমালঙ্ঘন করবে না।" (১)
অমুসলিমদের নিজ ধর্মে বৈধ কাজগুলো করার স্বাধীনতা রক্ষার স্বার্থে, মুসলিম সমাজে জিম্মি (ذمي)-র নিরাপত্তা তার সমস্ত সম্পদের ওপর বর্তাবে, এমনকি তা যদি মুসলমানদের দৃষ্টিতে বা তাদের শরিয়তে হারাম (حرام) বা মূল্যহীনও হয়। এই প্রসঙ্গে তহাবি অমুসলিম প্রজাদের শুকরের মাংস খাওয়া, মদ পান করা এবং তাদের ধর্মীয় বিশ্বাসের ভিত্তিতে বৈধ অন্যান্য কাজ করার স্বাধীনতার ব্যাপারে মুসলমানদের ঐক্যমত্য (إجماع) বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: "তারা একমত (أجمعوا) হয়েছেন যে, ইমামের জন্য জিম্মি (ذمي) প্রজাদের মদ পান করা, শুকরের মাংস খাওয়া এবং তাদের চুক্তিকৃত ঘরবাড়ি তৈরি করা থেকে বিরত রাখার অধিকার নেই; যদি তা এমন কোনো শহর বা জনপদ হয় যেখানে মুসলমানরা সংখ্যাগুরু নয় (অর্থাৎ তাদের নিজস্ব জনবসতি যেখানে তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ)।" (২)
ইমাম মালিক বলেন: "যদি জিম্মি (ذمي) প্রজারা ব্যভিচারে লিপ্ত হয় বা মদ পান করে, তবে ইমাম বা শাসক তাদের বাধা দেবেন না; যতক্ষণ না তারা মুসলিম জনপদে তা প্রকাশ্যে করে এবং মুসলমানদের জন্য ক্ষতির কারণ হয়। সে ক্ষেত্রে সুলতান বা শাসক তাদের মুসলমানদের ক্ষতি করা থেকে বিরত রাখবেন।" (৩)
আন্দালুসের ফকিহ (فقيه) আবু ওয়ালিদ আল-বাজি বলেন: "নিশ্চয়ই জিম্মি (ذمي) প্রজাদের তাদের ধর্মের ওপর বহাল রাখা হবে এবং তারা তাদের ধর্মে যা বিশ্বাস করত সেভাবেই থাকবে। তাদের ব্যক্তিগত বা গোপনীয় কোনো বিষয়ে বাধা দেওয়া হবে না। তবে তাদের কেবল হাট-বাজার ও জনসমক্ষে তা প্রকাশ করতে নিষেধ করা হবে।" (৪)
মুসলিম ফকিহগণ (فقهاء) ইসলামী রাষ্ট্রের প্রতাপ ও সক্ষমতার যুগে যা নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন, মুসলিম আমির ও শাসকরা তাদের দ্বীনের শিক্ষার প্রতি দায়বদ্ধ থেকে তা মেনে চলেছিলেন। ফলে আমাদের অমুসলিম নাগরিকরা ইসলামী রাষ্ট্রের আশ্রয়ে বসবাস করেছেন এবং তারা ইবাদত ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করেছেন। উইল ডুরান্ট বলেন: "প্রাচ্যের ইহুদিরা মুসলমানদের স্বাগত জানিয়েছিল কারণ তারা তাদের পূর্ববর্তী শাসকদের অত্যাচার থেকে মুক্ত করেছিল... তারা তাদের জীবনে এবং ধর্মীয় আচার পালনে পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করতে শুরু করেছিল... খ্রিস্টানরা প্রকাশ্যে তাদের উৎসব পালনে স্বাধীন ছিল এবং খ্রিস্টান তীর্থযাত্রীরা ফিলিস্তিনের পবিত্র স্থানগুলো পরিদর্শনের জন্য দলে দলে নিরাপদে আসত... বাইজেন্টাইন রাষ্ট্রীয় গির্জার বাইরে থাকা সেই সব খ্রিস্টানরা, যারা কনস্টান্টিনোপল, জেরুজালেম, আলেকজান্দ্রিয়া এবং আন্তাকিয়ার ধর্মযাজকদের দ্বারা নির্যাতিত হতো, তারা এখন মুসলিম শাসনের অধীনে স্বাধীন ও নিরাপদ হয়ে উঠেছে।" (৫)
আন্দালুসের ইতিহাস গবেষক রবার্টসন তার "হিস্ট্রি অফ চার্লস ফাইভ" গ্রন্থে যা বলেছেন, "হাদারাতুল আরব" (আরব সভ্যতা) গ্রন্থের অনুবাদক তা এভাবে উদ্ধৃত করেছেন: "একমাত্র মুসলমানরাই তাদের নিজ ধর্মের প্রতি নিষ্ঠা এবং অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের প্রতি সহনশীলতার সার্থক সমন্বয় ঘটিয়েছিল।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাআয়ুশু মাআ গয়রিল মুসলিমিনা ফিল মুজতামাইল মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ২২)
الأخرى، وإنهم مع امتشاقهم الحسام نشراً لدينهم، تركوا مَن لم يرغبوا فيه أحراراً في التمسك بتعاليمهم الدينية".
وينقل أيضاً عن الراهب ميشود في كتابه "رحلة دينية في الشرق" (ص 29) قوله: "ومن المؤسف أن تقتبس الشعوب النصرانية من المسلمين التسامح، الذي هو آية الإحسان بين الأمم واحترام عقائد الآخرين وعدم فرض أي معتقد عليهم بالقوة" (1).
وأما المؤرخ الإنجليزي السير توماس أرنولد، فيقول: " لقد عامل المسلمون الظافرون العرب المسيحيين بتسامح عظيم منذ القرن الأول للهجرة، واستمر هذا التسامح في القرون المتعاقبة " (2).
يقول المؤرخ الإسباني الدكتور إغناسيو أولاغي في كتابه المثير للجدل "العرب لم يغزوا إسبانيا": "فخلال النصف الأول من القرن التاسع كانت أقلية مسيحية مهمة تعيش في قرطبة وتمارس عبادتها بحرية كاملة".
ويستشهد بقول القس إيِلُوج: "نعيش بينهم دون أنْ نتعرض إلى أيّ مضايقات فيما يتعلق بمعتقدنا" (3).
ويقول الدكتور فيليب حِتّى: "وقد رحب سكان البلاد الساميون في سوريا وفلسطين والحاميون في مصر بالعرب، واعتبروهم أقرب نسباً إليهم من حكامهم الأغراب الطغاة، وفضلاً عن ذلك فالجزية التي فرضها الفاتحون كانت أقل من التي جباها سابقوهم؛ في حين سمح للمغلوبين على أمرهم بممارسة دينهم بحرية أوسع وطمأنينة أكبر" (4).
ولم يتدخل المسلمون في الشؤون التفصيلية لمواطنيهم من أهل الذمة، ولم يجبروهم على التحاكم أمام المسلمين وإن طلبوا منهم الانصياع للأحكام العامة للشريعة المتعلقة بسلامة المجتمع وأمنه، ونقل العيني عن الزهري قوله: "مضت السنة أن يرد أهل الذمة في حقوقهم ومعاملاتهم ومواريثهم إلى أهل دينهم؛ إلا أن يأتوا راغبين في حكمنا، فنحكم بينهم بكتاب الله تعالى" (5).
كما نقل عن ابن القاسم قوله: " إن تحاكم أهل الذمة إلى حاكم المسلمين ورضي الخصمان به جميعاً؛ فلا يحكم بينهما إلا برضا من أساقفهما، فإن كره ذلك أساقفهم فلا يحكم بينهم، وكذلك إن رضي الأساقفة ولم يرض الخصمان أو أحدهما لم يحكم بينهما" (6).
--------------------------------------------
অন্যান্যদের। যদিও তারা তাদের ধর্ম প্রচারের জন্য তরবারি ধারণ করেছিলেন, তবুও যারা ইসলাম গ্রহণ করতে আগ্রহী ছিল না, তাদের ধর্মীয় অনুশাসন পালনের পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছিলেন।"
পরিব্রাজক মিশদ তার "রিহলা দিনিয়্যা ফিল শারক" (পৃষ্ঠা ২৯) গ্রন্থে আরও উল্লেখ করেন: "এটি দুঃখজনক যে খ্রিস্টান জাতিগুলো মুসলমানদের কাছ থেকে সহনশীলতা শিখতে পারত, যা জাতিগুলোর মধ্যে মহানুভবতা, অন্যদের বিশ্বাসের প্রতি শ্রদ্ধা এবং কারও ওপর জোরপূর্বক কোনো বিশ্বাস চাপিয়ে না দেওয়ার নিদর্শন" (১)।
ইংরেজ ঐতিহাসিক স্যার থমাস আর্নল্ড বলেন: "বিজয়ী মুসলমানরা হিজরি প্রথম শতাব্দী থেকেই আরব খ্রিস্টানদের প্রতি মহানুভবতা প্রদর্শন করেছেন এবং এই সহনশীলতা পরবর্তী শতাব্দীগুলোতেও অব্যাহত ছিল" (২)।
স্পেনীয় ঐতিহাসিক ডক্টর ইগাসিও ওলাগুয়ে তার বিতর্কিত গ্রন্থ "আরবরা স্পেন জয় করেনি"-তে বলেন: "নবম শতাব্দীর প্রথমার্ধে কর্ডোবায় একটি গুরুত্বপূর্ণ খ্রিস্টান সংখ্যালঘু গোষ্ঠী বাস করত এবং তারা পূর্ণ স্বাধীনতার সাথে তাদের উপাসনা সম্পন্ন করত।"
তিনি যাজক ইলুজের উক্তিটি উদ্ধৃত করেন: "আমরা তাদের মধ্যে বাস করি অথচ আমাদের বিশ্বাসের ব্যাপারে কোনো প্রকার হয়রানির সম্মুখীন হই না" (৩)।
ডক্টর ফিলিপ হিট্টি বলেন: "সিরিয়া ও ফিলিস্তিনের সেমেটিক এবং মিশরের হ্যামিটিক অধিবাসীরা আরবদের স্বাগত জানিয়েছিল। তারা তাদের পূর্ববর্তী বিদেশী স্বৈরাচারী শাসকদের তুলনায় আরবদের নিজেদের বংশের নিকটতর মনে করত। অধিকন্তু, বিজয়ীদের দ্বারা আরোপিত জিজিয়া কর তাদের পূর্বসূরিদের সংগৃহীত করের চেয়ে কম ছিল; পাশাপাশি বিজিতদের ব্যাপক স্বাধীনতা ও অধিকতর প্রশান্তির সাথে তাদের ধর্ম পালনের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল" (৪)।
মুসলমানরা তাদের জিম্মি (أهل الذمة) নাগরিকদের বিস্তারিত ব্যক্তিগত বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেননি এবং তাদের মুসলিম বিচারালয়ে বিচারপ্রার্থনা করতে বাধ্য করেননি, যদিও সমাজের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা সংশ্লিষ্ট শরীয়াহর সাধারণ বিধিবিধান মেনে চলতে তাদের প্রতি আহ্বান জানানো হতো। আইনি যুহরি থেকে বর্ণনা করেছেন: "সুন্নাহ (سنة) বা প্রতিষ্ঠিত রীতি এই যে, জিম্মিদের (أهل الذمة) অধিকার, লেনদেন এবং উত্তরাধিকারের বিষয়ে তাদের নিজস্ব ধর্মীয় আইন অনুযায়ী ফয়সালা করা হবে; তবে তারা যদি স্বেচ্ছায় আমাদের বিচারের অধীনে আসতে চায়, তবে আমরা আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী তাদের মধ্যে বিচার করব" (৫)।
ইবনুল কাসিম থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে: "যদি জিম্মিরা (أهل الذمة) মুসলিম বিচারকের নিকট বিচারপ্রার্থী হয় এবং উভয় পক্ষই তাতে সম্মত হয়; তবে তাদের যাজকদের সম্মতি ব্যতীত তাদের মধ্যে বিচার করা যাবে না। যদি যাজকরা তা অপছন্দ করেন তবে তাদের বিচার করা হবে না। একইভাবে, যদি যাজকরা সম্মত হন কিন্তু বিবাদী পক্ষ বা তাদের কেউ অসম্মতি জানায়, তবে তাদের মধ্যে বিচার কার্য সম্পন্ন হবে না" (৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাআয়ুশু মাআ গয়রিল মুসলিমিনা ফিল মুজতামাইল মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وقد سجل المؤرخون هذا البُعد الجميل في تسامح المسلمين، وأنهم تركهم لمواطنيهم حق التحاكم إلى شرائعهم وبواسطة قسسهم ورجال دينهم، يقول آدم متز: "ولما كان الشرع الإسلامي خاصاً بالمسلمين، فقد خلَّت الدولة الإسلامية بين أهل الملل الأخرى وبين محاكمهم الخاصة بهم، والذي نعلمه من أمر هذه المحاكم أنها كانت محاكم كنسية، وكان رؤساء المحاكم الروحيون يقومون فيها مقام كبار القضاة أيضاً، وقد كتبوا كثيراً من كتب القانون، ولم تقتصر أحكامهم على مسائل الزواج، بل كانت تشمل إلى جانب ذلك مسائل الميراث وأكثر المنازعات التي تخص المسيحيين وحدهم مما لا شأن للدولة به" (1).
ويقول أيضاً: "أما في الأندلس، فعندنا من مصدر جدير بالثقة أن النصارى كانوا يفصلون في خصوماتهم بأنفسهم، وأنهم لم يكونوا يلجؤون للقاضي إلا في مسائل القتل" (2).
وأما الدكتور فيليب حتِّى فيقول: "وقد تمتع أهل الذمة في هذا الوضع بقسط وافر من الحرية لقاء تأديتهم الجزية والخراج، وكانوا يرجعون في قضاياهم المدنية والجزائية إلى رؤسائهم الروحيين؛ إلا إذا كانت القضية تمس مسلماً" (3).
لكن مما ينبغي ذكره هنا أن الكثيرين من أهل الذمة رغبوا في التحاكم إلى التشريع الإسلامي، ورغبوا أن تكون مواريثهم حسب ما قررته الشريعة الإسلامية (4)، متذرعين بنقصان تشريعاتهم الدينية وعدم شموليتها وعجزها عن تحقيق المطالب الحياتية للمؤمنين بها، وهذا ما حدا بالجاثليق تيموثاوس في حوالي سنة (200هـ، 800م) إلى تأليف كتاب عن الأحكام القضائية المسيحية، وفرض على من يتحاكم إلى محاكم المسلمين طائعاً أن يتوب ويتصدق ويقوم على المسح والرماد (5).
--------------------------------------------
ঐতিহাসিকগণ মুসলিমদের সহনশীলতার এই চমৎকার দিকটি নথিবদ্ধ করেছেন যে, তারা তাদের অমুসলিম নাগরিকদের নিজেদের ধর্মীয় আইন অনুযায়ী এবং তাদের যাজক ও ধর্মীয় নেতাদের মাধ্যমে বিচার পাওয়ার অধিকার প্রদান করেছিলেন। আদম মেটজ বলেন: "যেহেতু ইসলামি শরিয়ত ছিল মুসলমানদের জন্য নির্দিষ্ট, তাই ইসলামি রাষ্ট্র অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের তাদের নিজস্ব আদালতের ওপর ছেড়ে দিয়েছিল। এই আদালতগুলো সম্পর্কে আমরা যা জানি তা হলো এগুলো ছিল গির্জাভিত্তিক আদালত এবং আধ্যাত্মিক আদালতের প্রধানগণ সেখানে প্রধান বিচারপতির দায়িত্বও পালন করতেন। তারা অনেক আইনগ্রন্থ রচনা করেছিলেন এবং তাদের রায় কেবল বিবাহ সংক্রান্ত বিষয়ে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং উত্তরাধিকার সংক্রান্ত বিষয় এবং খ্রিস্টানদের সাথে সংশ্লিষ্ট অধিকাংশ বিবাদও এর অন্তর্ভুক্ত ছিল, যেগুলোর সাথে রাষ্ট্রের কোনো সম্পর্ক ছিল না" (১)।
তিনি আরও বলেন: "আর আন্দালুসের ক্ষেত্রে আমাদের কাছে একটি নির্ভরযোগ্য (ثقة) সূত্র থেকে তথ্য রয়েছে যে, খ্রিস্টানরা তাদের বিবাদগুলো নিজেদের মধ্যেই মীমাংসা করত এবং তারা কেবল হত্যা সংক্রান্ত বিষয় ছাড়া অন্য কোনো ক্ষেত্রে বিচারকের কাছে যেত না" (২)।
আর ডক্টর ফিলিপ হিট্টি বলেন: "জিম্মিরা এই পরিস্থিতিতে জিজিয়া ও খারাজ প্রদানের বিনিময়ে প্রচুর পরিমাণে স্বাধীনতা ভোগ করত। তারা তাদের দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলাগুলোর জন্য তাদের আধ্যাত্মিক নেতাদের কাছে ফিরে যেত; যদি না মামলাটি কোনো মুসলিমের সাথে সংশ্লিষ্ট হতো" (৩)।
তবে এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, অনেক জিম্মিই ইসলামি বিধান অনুযায়ী বিচার প্রার্থনা করার আকাঙ্ক্ষা পোষণ করতেন এবং তারা চাইতেন যেন তাদের উত্তরাধিকার ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী নির্ধারিত হয় (৪)। তারা তাদের নিজস্ব ধর্মীয় আইনের অপূর্ণতা, ব্যাপকতার অভাব এবং বিশ্বাসীদের জীবনযাত্রার চাহিদা পূরণে ব্যর্থতাকে এর কারণ হিসেবে দেখাতেন। আর এই কারণেই ক্যাথলিকস তিমোথিয়াস আনুমানিক (২০০ হিজরি, ৮০০ খ্রিস্টাব্দ) খ্রিস্টীয় বিচার বিভাগীয় বিধি-বিধানের উপর একটি বই লিখতে উদ্বুদ্ধ হন এবং তিনি বিধান দেন যে, কেউ স্বেচ্ছায় মুসলিমদের আদালতে বিচারপ্রার্থনা করলে তাকে তওবা করতে হবে, দান-সদকা করতে হবে এবং চট ও ভস্ম পরিধান করে প্রায়শ্চিত্ত করতে হবে (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাআয়ুশু মাআ গয়রিল মুসলিমিনা ফিল মুজতামাইল মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ২৪)
رابعاً: حسن العشرة والمعاملة الحسنةأمر الله في القرآن الكريم المسلمين ببر مخالفيهم في الدين، الذين لم يتعرضوا لهم بالأذى والقتال، وذلك ما ينطبق على مواطنينا من اهل الأديان وكذلك أهل سائر البلدان غير المسلمة، فكل هؤلاء يصدق فيهم قول الله: {لا ينهاكم الله عن الذين لم يقاتلوكم في الدين ولم يخرجوكم من دياركم أن تبروهم وتقسطوا إليهم إن الله يحب المقسطين} (الممتحنة: 8).
قال الطبري: "عنى بذلك لا ينهاكم الله عن الذين لم يقاتلوكم في الدين من جميع أصناف الملل والأديان أن تبروهم وتصلوهم وتقسطوا إليهم .. وقوله: {إن الله يحب المقسطين} يقول: إن الله يحب المنصفين الذين ينصفون الناس ويعطونهم الحق والعدل من أنفسهم، فيبرون من برهم، ويحسنون إلى من أحسن إليهم" (1).
والبر أعلى أنواع المعاملة، فقد أمر الله به في باب التعامل مع الوالدين، وقد وضحه رسول الله صلى الله عليه وسلم بقوله: «البر حسن الخلق» (2).
ويعدد الإمام القرافي صوراً للبر يرى أن الآية تأمر المسلم بها، وتحكم من خلالها علاقته مع غير المسلمين ممن لم يحاربهم في الدين ولا الأرض، فيقول: " ولين القول على سبيل اللطف لهم والرحمة، لا على سبيل الخوف والذلة (3)، واحتمال إذايتهم في الجوار مع القدرة على إزالته، لطفاً منا بهم، لا خوفاً وتعظيماً، والدعاء لهم بالهداية، وأن يجعلوا من أهل السعادة، نصيحتهم في جميع أمور دينهم، وحفظ غيبتهم إذا تعرض أحد لأذيتهم .. وكل خير يحسُن من الأعلى مع الأسفل أن يفعله، ومن العدو أن يفعله مع عدوه، فإن ذلك من مكارم الأخلاق .. نعاملهم - بعد ذلك بما تقدم ذكره - امتثالاً لأمر ربنا عز وجل وأمر نبينا صلى الله عليه وسلم " (4).
وقد تجلى حسن الخلق عند المسلمين في تعاملهم مع غيرهم في كثير من تشريعات الإسلام التي أبدعت الكثير من المواقف الفياضة بمشاعر الإنسانية والرفق.
فقد أوجب الإسلام حسن العشرة وصلة الرحم حتى مع الاختلاف في الدين، فقد أمر الله بحسن الصحبة للوالدين؛ وإن بذلا الجهد في رد ابنهما عن التوحيد إلى الشرك، فإن ذلك لا يقطع حقهما في بره وحسن صحبته: {وإن جاهداك على أن تشرك بي ما
--------------------------------------------
চতুর্থত: সুন্দর সাহচর্য এবং উত্তম সদাচারপবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা মুসলমানদেরকে তাদের ভিন্নধর্মাবলম্বীদের সাথে সদাচার করার নির্দেশ দিয়েছেন, যারা তাদের সাথে অনিষ্টসাধন ও যুদ্ধে লিপ্ত হয়নি। এটি আমাদের ভিন্নধর্মাবলম্বী নাগরিক এবং সেইসাথে অন্যান্য অমুসলিম দেশসমূহের জনগণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। তাদের সকলের ক্ষেত্রেই আল্লাহর এই বাণী সত্য হয়: {যারা দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের সাথে যুদ্ধ করেনি এবং তোমাদেরকে তোমাদের ঘর-বাড়ি থেকে বের করে দেয়নি, তাদের সাথে সদাচার করতে এবং তাদের প্রতি ন্যায়বিচার করতে আল্লাহ তোমাদের নিষেধ করেন না। নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়পরায়ণদের ভালোবাসেন} (আল-মুমতাহিনা: ৮)।
তাবারী বলেন: "এর মাধ্যমে তিনি বুঝিয়েছেন যে, যারা দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের সাথে যুদ্ধ করেনি—চাই তারা যে কোনো ধর্ম বা আদর্শের অনুসারী হোক না কেন—তাদের সাথে পুণ্যময় আচরণ করতে, সৌজন্য রক্ষা করতে এবং তাদের প্রতি ন্যায়বিচার করতে আল্লাহ তোমাদের নিষেধ করেন না... এবং তাঁর বাণী: {নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়পরায়ণদের ভালোবাসেন} এর অর্থ হলো: আল্লাহ ঐসব ইনসাফকারীদের ভালোবাসেন যারা মানুষের প্রতি সুবিচার করে এবং নিজের পক্ষ থেকে তাদের ন্যায্য অধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে; ফলে তারা তাদের সাথে সদাচার করে যারা তাদের সাথে ভালো ব্যবহার করেছে এবং তাদের প্রতি ইহসান করে যারা তাদের প্রতি অনুগ্রহ প্রদর্শন করেছে" (১)।
সদাচার হলো আচরণের সর্বোচ্চ স্তর। আল্লাহ তাআলা পিতামাতার সাথে আচরণের ক্ষেত্রে এর নির্দেশ দিয়েছেন এবং রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর বাণীর মাধ্যমে এটি স্পষ্ট করেছেন: ‘সদাচার হলো উত্তম চরিত্র’ (২)।
ইমাম কারাফী সদাচারের এমন কিছু রূপ বর্ণনা করেছেন যা তাঁর মতে উক্ত আয়াতের মাধ্যমে মুসলমানদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে তিনি এমন অমুসলিমদের সাথে সম্পর্ক নির্ধারণ করেছেন যারা দ্বীন বা ভূখণ্ডের কারণে যুদ্ধে লিপ্ত হয়নি। তিনি বলেন: "তাদের সাথে দয়া ও মমতার সাথে নম্রভাবে কথা বলা, ভয় বা হীনম্মন্যতার কারণে নয় (৩); প্রতিবেশী হিসেবে তাদের পক্ষ থেকে কোনো কষ্ট পৌঁছালে তা দূর করার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও আমাদের পক্ষ থেকে দয়াপরবশত তা সহ্য করা, ভয় বা অতি-সম্মানের কারণে নয়; তাদের হিদায়াতের জন্য দোয়া করা এবং তারা যেন সৌভাগ্যবানদের অন্তর্ভুক্ত হয় সেই প্রার্থনা করা; তাদের দ্বীন ও দুনিয়ার সকল বিষয়ে কল্যাণকামিতা বজায় রাখা; কেউ তাদের অনিষ্ট করতে চাইলে তাদের অনুপস্থিতিতে তাদের সম্মান রক্ষা করা... এবং এমন প্রতিটি কল্যাণ যা উচ্চমর্যাদার অধিকারী কোনো ব্যক্তির পক্ষ থেকে নিম্নমর্যাদার ব্যক্তির সাথে করা সমীচীন মনে হয়, অথবা যা কোনো শত্রুর পক্ষ থেকে তার শত্রুর সাথে করা শোভনীয়, তা সবই সচ্চরিত্রের অন্তর্ভুক্ত... আমরা তাদের সাথে—উল্লিখিত বিষয়গুলো অনুযায়ী—আমাদের মহান রবের নির্দেশ এবং আমাদের নবী (সা.)-এর আদেশের আনুগত্যস্বরূপ আচরণ করি" (৪)।
অন্যদের সাথে আচরণের ক্ষেত্রে মুসলমানদের উত্তম চরিত্র ইসলামের অনেক বিধি-বিধানের মাধ্যমেই প্রস্ফুটিত হয়েছে, যা মানবিক অনুভূতি এবং কোমলতায় ভরপুর অনেক নজির সৃষ্টি করেছে।
ইসলাম ধর্মের ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও সুন্দর সাহচর্য এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখাকে আবশ্যক করেছে। আল্লাহ তাআলা পিতামাতার সাথে উত্তম সাহচর্য বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন; এমনকি তারা যদি তাদের সন্তানকে তাওহিদ থেকে সরিয়ে শিরকের দিকে ফিরিয়ে নিতে আপ্রাণ চেষ্টাও করে, তবুও তা তাদের সদাচার এবং সুন্দর সাহচর্য পাওয়ার অধিকারকে ছিন্ন করে না: {আর তারা যদি তোমাকে আমার সাথে শিরক করার জন্য পীড়াপীড়ি করে যে বিষয়ে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাআয়ুশু মাআ গয়রিল মুসলিমিনা ফিল মুজতামাইল মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ২৫)
ليس لك به علم فلا تطعهما وصاحبهما في الدنيا معروفاً} (لقمان: 15).
قال ابن كثير: " إن حرصا عليك كل الحرص، على أن تتابعهما على دينهما؛ فلا تقبل منهما ذلك، ولا يمنعك ذلك أن تصاحبهما في الدنيا {معروفاً} أي محسناً إليهما" (1).
وقد جاءت أسماء بنت الصديق إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم تقول: يا رسول الله، قدمت عليّ أُمّي وهي راغبة، أفأَصِلُ أُمي؟ فأجابها الرحمة المهداة: «صِلِي أُمَّك» (2).
قال الخطابي: "فيه أن الرحم الكافرة توصل من المال ونحوه كما توصل المسلمة، ويستنبط منه وجوب نفقة الأب الكافر والأم الكافرة؛ وإن كان الولد مسلماً" (3).
قال محمد بن الحسن: "يجب على الولد المسلم نفقة أبويه الذميين لقوله تعالى: {وصاحبهما في الدنيا معروفاً} (لقمان: 15)، وليس من المصاحبة بالمعروف أن يتقلب في نعم الله، ويدعهما يموتان جوعاً، والنوازل والأجداد والجدات من قبل الأب والأم بمنزلة الأبوين في ذلك، استحقاقهم باعتبار الولاد بمنزلة استحقاق الأبوين" (4).
وفي مثل آخر لصلة الرحم - وإن كانت كافرة - يقول عبد الله بن مروان: قلت لمجاهد: إن لي قرابة مشركة، ولي عليه دين، أفأتركه له؟ قال: نعم. وصِله (5).
ويمتد البر وصلة الرحم بالمسلم حتى تبلغ الرحم البعيدة التي مرت عليها المئات من السنين، فها هو صلى الله عليه وسلم يوصي أصحابه بأهل مصر خيراً، براً وصلة لرحم قديمة تعود إلى إبراهيم عليه الصلاة والسلام، حيث قال صلى الله عليه وسلم: «إنكم ستفتحون مصر .. فإذا فتحتموها فأحسنوا إلى أهلها؛ فإن لهم ذِمة ورحِماً» (6).
قال النووي: " وأما الذمة فهي الحرمة والحق ، وهي هنا بمعنى الذمام، وأما الرحم فلكون هاجر أم إسماعيل منهم" (7).
ومن البر وصلة الأرحام عيادة المريض، فقد عاد النبي صلى الله عليه وسلم عمه أبا طالب في مرضه (8)، وعاد أيضاً جاراً له من اليهود في مرضه، فقعد عند رأسه (9).
--------------------------------------------
...যার বিষয়ে তোমার কোনো জ্ঞান নেই, তবে তাদের আনুগত্য করো না; আর পৃথিবীতে তাদের সাথে সদ্ভাবে বসবাস করো। (লুকমান: ১৫)।
ইবনে কাসীর বলেন: "তারা যদি তোমাকে তাদের দ্বীনের অনুসরণের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করে, তবে তুমি তাদের সেই প্রস্তাব গ্রহণ করো না; তবে এটি তোমাকে দুনিয়াতে তাদের সাথে সদ্ভাবে অর্থাৎ তাদের প্রতি সদাচরণের মাধ্যমে বসবাস করতে বাধা দেবে না" (১)।
আসমা বিনতে সিদ্দীক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললেন: "হে আল্লাহর রাসূল, আমার মা আমার কাছে এসেছেন এবং তিনি (আমার নিকট কিছু) প্রত্যাশী, আমি কি আমার মায়ের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখব?" রহমতের আধার (রাসূলুল্লাহ) উত্তর দিলেন: "তোমার মায়ের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখো" (২)।
খাত্তাবী বলেন: "এতে প্রমাণিত হয় যে, মুসলিম আত্মীয়ের ন্যায় কাফের আত্মীয়ের সাথেও সম্পদ ও অনুরূপ বিষয়ের মাধ্যমে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে হবে। এখান থেকে আরও সাব্যস্ত হয় যে, সন্তান মুসলিম হলেও কাফের বাবা ও মায়ের ভরণপোষণ করা ওয়াজিব" (৩)।
মুহাম্মদ ইবনুল হাসান বলেন: "আল্লাহ তাআলার বাণী: 'আর পৃথিবীতে তাদের সাথে সদ্ভাবে বসবাস করো' (লুকমান: ১৫)-এর কারণে মুসলিম সন্তানের জন্য তার জিম্মি বাবা-মায়ের ভরণপোষণ করা ওয়াজিব। সদ্ভাবে বসবাসের অন্তর্ভুক্ত এটি নয় যে, সে আল্লাহর নেয়ামতে ডুবে থাকবে আর তাদেরকে ক্ষুধার্ত অবস্থায় মরতে দেবে। এ ক্ষেত্রে অধস্তন বংশধর এবং পিতৃপক্ষ ও মাতৃপক্ষের দাদা-দাদি ও নানা-নানিও বাবা-মায়ের স্থলাভিষিক্ত; জন্মের সম্পর্কের কারণে তাদের অধিকার বাবা-মায়ের অধিকারের মতোই সাব্যস্ত হয়" (৪)।
আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষার আরেকটি উদাহরণ—যদিও তা কাফেরের সাথে হয়—আবদুল্লাহ ইবনে মারওয়ান বলেন: আমি মুজাহিদকে বললাম: "আমার একজন মুশরিক আত্মীয় আছে, যার কাছে আমি ঋণ পাই, আমি কি তা তার জন্য ছেড়ে দেব?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ, এবং তার সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখো" (৫)।
একজন মুসলিমের সদাচরণ ও আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা এমন দূরবর্তী আত্মীয়তা পর্যন্ত বিস্তৃত হয় যার ওপর শত শত বছর অতিবাহিত হয়েছে। এই তো সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের মিশরের অধিবাসীদের সাথে ভালো আচরণের অসিয়ত করেছেন; যা ইবরাহীম আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম পর্যন্ত পৌঁছানো একটি সুপ্রাচীন আত্মীয়তার প্রতি সদাচরণ ও সম্মানস্বরূপ। যেহেতু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমরা অচিরেই মিশর বিজয় করবে... যখন তোমরা তা জয় করবে, তখন সেখানকার অধিবাসীদের সাথে সদাচরণ করো; কেননা তাদের জন্য রয়েছে নিরাপত্তা ও আত্মীয়তার অধিকার" (৬)।
নববী বলেন: "আর 'জিম্মাহ' হলো পবিত্রতা ও অধিকার, যা এখানে নিরাপত্তা ও চুক্তির অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। আর 'রাহিম' বা আত্মীয়তা হলো এ কারণে যে, ইসমাইলের মা হাজেরা তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন" (৭)।
সদাচরণ ও আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষার অন্যতম দিক হলো অসুস্থকে দেখতে যাওয়া। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর চাচা আবু তালিবের অসুস্থতায় তাঁকে দেখতে গিয়েছিলেন (৮), এবং তাঁর একজন ইহুদি প্রতিবেশীর অসুস্থতায়ও তাঁকে দেখতে গিয়েছিলেন এবং তাঁর শিয়রে বসেছিলেন (৯)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাআয়ুশু মাআ গয়রিল মুসলিমিনা ফিল মুজতামাইল মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ২৬)
ومن صور البر التي تهدف إلى كسب القلوب واستلال الشحناء؛ الهدية، وقد أهدى النبي صلى الله عليه وسلم إلى مخالفيه في الدين، من ذلك ما رواه ابن زنجويه أن رسول الله أهدى إلى أبي سفيان تمر عجوة، وهو بمكة، وكتب إليه يستهديه أدماً، فأهدى إليه أبو سفيان (1).
وقبِل صلى الله عليه وسلم في خيبر هدية زينب بنت الحارث اليهودية، لكنها هدية غدر لا مودة، فقد أهدت له شاة مشوية دست له فيها السم (2).
وفي مرة أخرى دعا يهودي النبي صلى الله عليه وسلم إلى خبز شعير وإهالة سنخة، فأجابه صلى الله عليه وسلم (3).
كما قبِل النبي صلى الله عليه وسلم هدايا الملوك إليه، فقِبل هدية المقوقس، وهدية ملك أيلة أكيدر، وهدية كسرى (4).
قال ابن قدامة: "ويجوز قبول هدية الكفار من أهل الحرب لأن النبي صلى الله عليه وسلم قبل هدية المقوقس صاحب مصر" (5).
وأهدى النبيُّ صلى الله عليه وسلم عمر بن الخطاب رضي الله عنه حُلّةً ثمينة، فأهداها عمر رضي الله عنه أخيه بمكة كان يومئذ مشركاً (6).
قال النووي: " وفي هذا دليل لجواز صلة الأقارب الكفار ، والإحسان إليهم، وجواز الهدية إلى الكفار" (7).
ويروي البخاري في الأدب المفرد عن مجاهد أنه سمع عبد الله بن عمرو رضي الله عنه يقول لغلام له يسلخ شاة: يا غلام إذا فرغت فابدأ بجارنا اليهودي. فقال رجل من القوم: اليهودي أصلحك الله!؟ فقال: سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يوصي بالجار، حتى خشينا أنه سيورثه (8).
وحين تحدث الفقهاء عن حقوق الضيف رأوا وجوبها لكل ضيف، سواء كان مسلماً أم غير مسلم، قال أبو يعلى: "وتجب الضيافة على المسلمين للمسلمين والكفار لعموم الخبر، وقد نص عليه أحمد في رواية حنبل، وقد سأله إن أضاف الرجل ضيفان من أهل الكفر؟ فقال: قال صلى الله عليه وسلم: «ليلة الضيف حق واجب على كل مسلم»، دل على أن المسلم والمشرك مضاف .. يعم المسلم والكافر" (9).
ومن حق الضيافة إكرام الضيف على قدر الاستطاعة، وقد صنعه النبي صلى الله عليه وسلم لما
--------------------------------------------
মন জয় করা এবং মনের বিদ্বেষ দূর করার অন্যতম একটি সদাচরণ হলো উপহার প্রদান। নবী (সা.) তাঁর দ্বীনি বিরোধীদেরও উপহার দিয়েছেন। যেমন ইবনে জানজাওয়াহ বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) মক্কায় অবস্থানরত আবু সুফিয়ানকে আজওয়া খেজুর উপহার পাঠিয়েছিলেন এবং তাঁর কাছে চামড়া উপহার চেয়েছিলেন, বিনিময়ে আবু সুফিয়ানও তাঁকে উপহার পাঠিয়েছিলেন (১)।
খায়বারে নবী (সা.) ইয়াহুদি নারী জয়নব বিনতে আল-হারিসের উপহার গ্রহণ করেছিলেন; তবে সেটি ছিল বিশ্বাসঘাতকতার উপহার, ভালোবাসার নয়। সে তাঁকে একটি ভাজা ভেড়ার মাংস উপহার দিয়েছিল যাতে সে বিষ মিশিয়ে রেখেছিল (২)।
অন্য এক সময় এক ইয়াহুদি ব্যক্তি নবী (সা.)-কে যবের রুটি এবং পুরনো চর্বি খাওয়ার আমন্ত্রণ জানালে তিনি তাতে সাড়া দিয়েছিলেন (৩)।
অনুরূপভাবে নবী (সা.) রাজাদের দেওয়া উপহারও গ্রহণ করতেন। তিনি মুকাওকিস, আয়লার রাজা উকিইদির এবং কিসরার উপহার গ্রহণ করেছিলেন (৪)।
ইবনে কুদামা বলেন: "যুদ্ধরত কাফেরদের (আহলুল হারব) পক্ষ থেকে উপহার গ্রহণ করা বৈধ, কারণ নবী (সা.) মিশরের অধিপতি মুকাওকিসের উপহার গ্রহণ করেছিলেন" (৫)।
নবী (সা.) উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-কে একটি মূল্যবান পোশাক উপহার দিয়েছিলেন। উমর (রা.) সেটি মক্কায় অবস্থানরত তাঁর ভাইকে উপহার দেন, যে তখন মুশরিক ছিল (৬)।
ইমাম নববী বলেন: "এতে অমুসলিম আত্মীয়-স্বজনের সাথে সুসম্পর্ক রক্ষা করা, তাদের প্রতি ইহসান করা এবং কাফেরদের উপহার প্রদানের বৈধতার দলিল রয়েছে" (৭)।
বুখারি তাঁর আল-আদাব আল-মুফরাদ গ্রন্থে মুজাহিদ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি আবদুল্লাহ বিন আমর (রা.)-কে তাঁর এক গোলামকে একটি ভেড়া চামড়া ছাড়ানোর সময় বলতে শুনেছেন: হে গোলাম, তোমার কাজ শেষ হলে আমাদের ইয়াহুদি প্রতিবেশী থেকে শুরু করবে। তখন দলের এক লোক বলল: ইয়াহুদি! আল্লাহ আপনার মঙ্গল করুন (তাকে আগে দেবেন?)। তিনি বললেন: আমি নবী (সা.)-কে প্রতিবেশীর ব্যাপারে এমনভাবে উপদেশ দিতে শুনেছি যে, এমনকি আমাদের আশঙ্কা হচ্ছিল তিনি হয়তো তাকে ওয়ারিস (উত্তরাধিকারী) বানিয়ে দেবেন (৮)।
ফকিহগণ যখন মেহমানের অধিকার নিয়ে আলোচনা করেছেন, তখন তাঁরা প্রত্যেক মেহমানের জন্যই এটি অপরিহার্য বলে মনে করেছেন, চাই তিনি মুসলিম হোন বা অমুসলিম। আবু ইয়ালা বলেন: "সাধারণ খবরের (الخبر) ভিত্তিতে মুসলিম ও অমুসলিম নির্বিশেষে মেহমানদারি করা মুসলিমদের ওপর ওয়াজিব। ইমাম আহমদ হানবালের বর্ণনা (رواية)-এ এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। তাকে যখন জিজ্ঞেস করা হয়েছিল যে, কোনো ব্যক্তি যদি কুফর অবলম্বনকারী কাউকে মেহমান হিসেবে গ্রহণ করে? তখন তিনি উত্তর দিলেন: নবী (সা.) বলেছেন: 'মেহমানদারি করা প্রত্যেক মুসলিমের ওপর এক রাতের হক ওয়াজিব'। এটি প্রমাণ করে যে মুসলিম এবং মুশরিক উভয়ই মেহমান হিসেবে আপ্যায়িত হওয়ার যোগ্য... যা মুসলিম ও কাফের উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে" (৯)।
মেহমানদারির হকের অন্তর্ভুক্ত হলো সাধ্যমতো মেহমানকে সম্মান করা, যা নবী (সা.) করেছিলেন যখন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাআয়ুশু মাআ গয়রিল মুসলিমিনা ফিল মুজতামাইল মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ২৭)
جاءه عدي بن حاتم، يقول عدي: "أتيتُ رسولَ الله صلى الله عليه وسلم وهو جالس في المسجد، فقال القوم: هذا عدي بن حاتم. وجئتُ بغير أمان ولا كتاب، فلما دُفعتُ إليه أخذ بيدي .. حتى أتى بي داره، فألقت له الوليدة وسادة، فجلس عليها" (1).
ومن أعظم أنواع البر وصوره؛ دعاءُ النبي صلى الله عليه وسلم لغير المسلمين، وهو بعض رحمته صلى الله عليه وسلم للعالمين، ومنه دعاؤه لقبيلة دوس، وقد قدم عليه الطفيل بن عمرو الدوسي وأصحابه فقالوا: يا رسول الله إن دوساً قد كفرت وأبت؛ فادع الله عليها، فقيل: هلكت دوس - أي ستهلك بدعائه عليها - فقال صلى الله عليه وسلم: «اللهم اهد دوساً، وائت بهم» (2).
ولما قيل له صلى الله عليه وسلم في موطن آخر: يا رسول الله، ادع على المشركين .. قال: «إنّي لم أبعث لعّاناً، وإنّما بعثت رحمةً» (3).
--------------------------------------------
আদি ইবনে হাতিম তাঁর কাছে এলেন, আদি বলেন: "আমি আল্লাহর রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিকট আসলাম যখন তিনি মসজিদে উপবিষ্ট ছিলেন। তখন লোকজন বলল: ইনি আদি ইবনে হাতিম। আমি কোনো নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি বা সন্ধিপত্র ছাড়াই উপস্থিত হয়েছিলাম। যখন আমি তাঁর সামনে পৌঁছালাম, তিনি আমার হাত ধরলেন... এমনকি আমাকে তাঁর বাড়িতে নিয়ে গেলেন। সেখানে এক পরিচারিকা তাঁর জন্য একটি বালিশ রাখল, তিনি সেটির ওপর বসলেন" (১)।
সদাচরণ ও সৌজন্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রকার ও রূপ হলো অমুসলিমদের জন্য নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দোয়া করা, যা বিশ্বজগতের প্রতি তাঁর দয়া ও করুণারই বহিঃপ্রকাশ। এর অন্তর্ভুক্ত হলো দাওস গোত্রের জন্য তাঁর দোয়া। তুফাইল ইবনে আমর আদ-দাওসি ও তাঁর সঙ্গীরা তাঁর নিকট এসে বললেন: হে আল্লাহর রাসুল! দাওস গোত্র কুফরি করেছে এবং (ইসলাম গ্রহণে) অস্বীকৃতি জানিয়েছে; সুতরাং আপনি তাদের বিরুদ্ধে আল্লাহর কাছে বদদোয়া করুন। তখন বলা হলো: দাওস গোত্র ধ্বংস হয়ে গেল—অর্থাৎ তাঁর বদদোয়ার কারণে তারা ধ্বংস হয়ে যাবে। তখন রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: «হে আল্লাহ! দাওস গোত্রকে হেদায়েত দান করুন এবং তাদের (ইসলামে) নিয়ে আসুন» (২)।
যখন অন্য এক স্থানে তাঁকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলা হলো: হে আল্লাহর রাসুল! মুশরিকদের বিরুদ্ধে বদদোয়া করুন... তখন তিনি বললেন: «নিশ্চয়ই আমি অভিশাপকারী হিসেবে প্রেরিত হইনি, বরং আমি কেবল রহমত (দয়া) হিসেবেই প্রেরিত হয়েছি» (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাআয়ুশু মাআ গয়রিল মুসলিমিনা ফিল মুজতামাইল মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ২৮)
خامساً: العدل في معاملتهم ورفع الظلم عنهمبعث الله نبيه صلى الله عليه وسلم بمكارم الأخلاق «إنما بعثت لأتمم صالح الأخلاق» (1)، وهو كما يرى ابن عبد البر «حديث مدني صحيح، ويدخل في هذا المعنى الصلاح والخير كله، والدين والفضل والمروءة والإحسان والعدل؛ فبذلك بعث ليتممه صلى الله عليه وسلم» (2).
وإن من أهم المُثل ومكارم الأخلاق التي جاء محمد صلى الله عليه وسلم لحمايتها وتتميمها؛ العدل، وهو غاية قريبة ميسورة إذا كان الأمر متعلقاً بإخوة الدين أو النسب، وغيرها مما يتعاطف له البشر.
لكن صدق هذه الخُلة إنما يظهر إذا تباينت الأديان وتعارضت المصالح، وهو ما يعنينا في هذا المبحث، فما هو حكم الإسلام في العدل مع غير المسلمين، وهل حقق المسلمون ما دعاهم إليه دينهم أم خالفوه؟
لقد أمر القرآن الكريم بالعدل، وخصَّ - بمزيد تأكيده - على العدل مع المخالفين الذين قد يظلمهم المرء بسبب الاختلاف والنفرة، قال تعالى: {يا أيها الذين آمنوا كونوا قوامين لله شهداء بالقسط ولا يجرمنكم شنآن قوم على أن لا تعدلوا اعدلوا هو أقرب للتقوى} (المائدة: 8).
قال القرطبي: "ودلت الآية أيضاً على أن كفر الكافر لا يمنع من العدل عليه، وأن يُقتصر بهم على المستحق من القتال والاسترقاق، وأن المُثلة بهم غير جائزة، وإن قتلوا نساءنا وأطفالنا، وغمّونا بذلك؛ فليس لنا أن نقتلهم بمثله قصداً لإيصال الغم والحزن إليهم" (3).
وقال البيضاوي: "لا يحملنكم شدة بغضكم للمشركين على ترك العدل فيهم، فتعتدوا عليهم بارتكاب ما لا يحل، كمُثلة وقذف وقتل نساء وصِبية ونقض عهد، تشفياً مما في قلوبكم {اعدلوا هو أقرب للتقوى} أي: العدل أقرب للتقوى " (4).
وتمضي الآيات القرآنية لترسم للمؤمنين طريقة التعامل مع أعدائهم من الكافرين الذين يحاربونهم في دينهم ويصدونهم عن قبلتهم، فتأمر بالعدل مرة أخرى، وتحذر من الاعتداء الذي قد يستدعيه الشنآن {ولا يجرمنكم شنآن قومٍ أن صدوكم عن المسجد الحرام أن تعتدوا وتعاونوا على البر والتقوى ولا تعاونوا على الإثم والعدوان واتقوا
--------------------------------------------
পঞ্চম: তাদের সাথে আচরণে ইনসাফ এবং তাদের ওপর থেকে জুলুম দূর করাআল্লাহ তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মহান চারিত্রিক গুণাবলি দিয়ে পাঠিয়েছেন: "নিশ্চয়ই আমি উত্তম চরিত্রের পূর্ণতা বিধানের জন্য প্রেরিত হয়েছি" (১)। এটি যেমনটি ইবনে আবদুল বার মনে করেন: "এটি একটি মদিনাভিত্তিক (مدني) বিশুদ্ধ (صحيح) হাদিস, এবং এর অর্থের অন্তর্ভুক্ত হলো সমস্ত সদাচার ও কল্যাণ, দ্বীন, মর্যাদা, সৌজন্যবোধ, ইহসান ও ইনসাফ; আর এগুলো পূর্ণ করতেই তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রেরিত হয়েছেন" (২)।
মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেসব মহান আদর্শ ও চারিত্রিক গুণাবলি রক্ষা ও পূর্ণতা দানের জন্য এসেছেন তার মধ্যে অন্যতম হলো ইনসাফ। এটি একটি নিকটবর্তী ও সহজসাধ্য লক্ষ্য যখন বিষয়টি দ্বীনি ভ্রাতৃত্ব বা বংশীয় সম্পর্কের সাথে সম্পর্কিত থাকে, অথবা অন্য কোনো বিষয় যার প্রতি মানুষ সহানুভূতিশীল হয়।
কিন্তু এই গুণের সত্যতা তখনই প্রকাশিত হয় যখন ধর্ম ভিন্ন হয় এবং স্বার্থের সংঘাত ঘটে; আর এই বিষয়টিই এই আলোচনায় আমাদের মূল উদ্দেশ্য। অমুসলিমদের সাথে ইনসাফের ব্যাপারে ইসলামের বিধান কী? এবং মুসলিমরা কি তাদের দ্বীন যে বিষয়ের দিকে আহ্বান জানিয়েছে তা বাস্তবায়ন করেছে নাকি তার বিরুদ্ধাচরণ করেছে?
কুরআন মাজিদ ইনসাফের নির্দেশ দিয়েছে এবং বিরোধীদের সাথে—যাদের প্রতি মানুষ মতভেদ ও বিদ্বেষের কারণে জুলুম করতে পারে—ইনসাফের বিষয়ে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে। আল্লাহ তাআলা বলেন: {হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে ন্যায় সাক্ষ্যদানে অবিচল থাকো এবং কোনো সম্প্রদায়ের শত্রুতা যেন তোমাদেরকে ইনসাফ বর্জন করতে প্ররোচিত না করে। তোমরা ইনসাফ করো, এটি তাকওয়ার অধিকতর নিকটবর্তী} (আল-মায়িদাহ: ৮)।
কুরতুবি বলেন: "এই আয়াতটি এও প্রমাণ করে যে, কাফেরের কুফর তার প্রতি ইনসাফ করতে বাধা দেয় না। আর তাদের সাথে কেবল যুদ্ধ ও দাসত্বের ক্ষেত্রে প্রাপ্য বিষয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে হবে এবং তাদের অঙ্গহানি করা বৈধ নয়, যদিও তারা আমাদের নারী ও শিশুদের হত্যা করে এবং এর মাধ্যমে আমাদের মর্মাহত করে; আমাদের জন্য বৈধ নয় যে, তাদের মনে দুঃখ ও কষ্ট দেওয়ার উদ্দেশ্যে তাদের সাথে অনুরূপ আচরণ করব" (৩)।
বাইদাভি বলেন: "মুশরিকদের প্রতি তোমাদের তীব্র ঘৃণা যেন তোমাদেরকে তাদের প্রতি ইনসাফ বর্জনে প্ররোচিত না করে, যার ফলে তোমরা তাদের ওপর এমন কোনো সীমালঙ্ঘন করে বসো যা বৈধ নয়; যেমন হৃদয়ের জ্বালা মেটানোর জন্য অঙ্গহানি করা, অপবাদ দেওয়া, নারী ও শিশুদের হত্যা করা এবং চুক্তি ভঙ্গ করা। {তোমরা ইনসাফ করো, এটি তাকওয়ার অধিকতর নিকটবর্তী} অর্থাৎ: ইনসাফ তাকওয়ার অধিক নিকটবর্তী" (৪)।
কুরআনের আয়াতগুলো মুমিনদের জন্য তাদের সেই কাফের শত্রুদের সাথে আচরণের পদ্ধতি এঁকে দেয় যারা তাদের দ্বীনের ব্যাপারে যুদ্ধ করে এবং কিবলা থেকে বাধা দেয়। ফলে আয়াতগুলো পুনরায় ইনসাফের নির্দেশ দিচ্ছে এবং সেই সীমালঙ্ঘন থেকে সতর্ক করছে যা বিদ্বেষের কারণে উদ্ভূত হতে পারে: {কোনো সম্প্রদায় তোমাদেরকে মসজিদে হারাম থেকে বাধা দিয়েছিল বলে তাদের প্রতি শত্রুতা যেন তোমাদেরকে কোনোভাবেই সীমালঙ্ঘনে প্ররোচিত না করে। তোমরা নেক কাজ ও তাকওয়ার ক্ষেত্রে একে অপরকে সহযোগিতা করো, গুনাহ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে একে অপরকে সহযোগিতা করো না এবং আল্লাহকে...
--------------------------------------------